পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা’আলার অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

وَلِلهِ الْأَسْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوْهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِيْنَ يُلْحِدُوْنَ فِى اسْمَائِه

অর্থাৎ- ’’মহান আল্লাহ সুব্হানাহূ ওয়াতা’আলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। সুতরাং তোমরা সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকো আর যারা আল্লাহর নামের বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে বর্জন করো।’’ (সূরা আল আ’রাফ ৭ : ১৮০)

’আল্লামা কুরতুবী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর নাম যদিও অনেকগুলো তথাপি তার সত্তাগত অস্তিত্ব অনেকগুলো নয়। বরং আল্লাহর সত্তা একটিই।

ইমাম হুলায়মী (রহঃ) বলেন, আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা’আলার যত নাম পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে তা মোটামুটি ৫টি ’আক্বীদাহ্ সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।

১. কিছু নাম রয়েছে যেগুলো معطلة সম্প্রদায়ের বিপরীত, অর্থাৎ- সে নামগুলো আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা’আলার চিরস্থায়ী ও চিরঞ্জীবতার প্রমাণবাহী। যেমনঃالحي والباقي والوارث (আল হাইয়্যু, আল বা-ক্বী, আল ওয়া-রিস্)

২. কিছু নাম যা আল্লাহর তাওহীদের উপর তথা তিনি যে শির্ক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তার প্রমাণ বহন করে। যেমনঃالكافي والعلي والقادر (আল কা-ফী, আল ’আলিয়্যু, আল ক-দির)

৩. কিছু নাম রয়েছে যা (مشبهة ’মুশাব্বিহাহ্’ সম্প্রদায়ের বিপরীত) আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে, অর্থাৎ- مشبهة এই সম্প্রদায়টি মহান আল্লাহকে বিভিন্ন কিছুর সাথে তুলনা করে থাকে কিন্তু আল্লাহ তা’আলা যে, কারো মতো নন তার প্রমাণেও কিছু নাম রয়েছে। যেমনঃ القدوس والمجيد والمحيط (আল কুদ্দুস, আল মাজীদ, আল মুহীত্ব)

৪. আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা’আলা যে, সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এ বিষয়ের প্রমাণ স্বরূপও কিছু নাম রয়েছে। যেমনঃالخالق والباري والمصور (আল খ-লিক্ব, আল বা-রী, আল মুসাব্বির)

৫. তিনিই যে, সবকিছুর আইনদাতা বিধানদাতা এবং একমাত্র পরিচালনাকারী এর প্রমাণেও কিছু নাম রয়েছে। যেমনঃالعليم والحكيم (আল ’আলীম, আল হাকীম) ইত্যাদি।


২২৮৭-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই-এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বিজোড়, (তাই) বিজোড়কে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ» . وَفِي رِوَايَة: «وَهُوَ وتر يحب الْوتر»

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لله تعالى تسعة وتسعين اسما ماىة الا واحدا من احصاها دخل الجنة» . وفي رواية: «وهو وتر يحب الوتر»

ব্যাখ্যা: (إِنَّ لِلّٰهِ تَعَالٰى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا) ‘আল্লামা খাত্ত্বাবী বলেছেনঃ হাদীসের এ অংশটি থেকে বুঝা যায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার পবিত্র নামসমূহের মধ্যে ‘‘আল্লাহ’’ নামটিই অন্যান্য নাম থেকে বেশী প্রসিদ্ধ। এ মর্মে অবশ্য কিছু বর্ণনাও আছে বটে যেখানে বলা হয়েছে ‘‘আল্লাহ’’ হচ্ছে মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলার ইসমে আ‘যম তথা সর্বাধিকা বড় মাহাত্ম্যপূর্ণ নাম।

আল্লামা ইবনু মালিক (রহঃ) বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ’’ নামটি মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলার স্বত্বাগত নাম, এটা গুণবাচক নাম নয়। ‘‘আল্লাহ’’ নামটি ব্যতীত অন্য যত নাম রয়েছে সবগুলো নামকে ‘‘আল্লাহ’’ নামের দিকে সম্পর্কিত করা হয়। যেমন- বলা হয়, ‘‘আল্ কারীম’’ এটা আল্লাহর নাম, ‘‘আর্ রহীম’’ এটা আল্লাহর নাম কিন্তু এ কথা বলা হয় না যে, ‘‘আল্লাহ’’ আর্ রহীম-এর বা আল্ কারীম-এর নাম। ‘আল্লামা ইবনু জারীর আত্ব ত্ববারী ও ‘আল্লামা ইমাম নাবাবী (রহঃ)-ও এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

আল্লামা কুস্তুলানী (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলা নাম ও গুণাবলীসমূহ যেহেতু তাওফীকি, অর্থাৎ- এগুলো জানার মাধ্যমটি ওহীর উপর নির্ভরশীল। কোন নাম বা গুণাবলী আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করতে হলে তা অবশ্যই কুরআন ও সহীহ হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান যতই বেশী হোক না কেন এখানে জ্ঞানের বিন্দু পরিমাণ দখল নেই। এ ক্ষেত্রে ভুল করাটা এক জঘন্য ভুল হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অনুমানভিত্তিক কোন কথা বলা ঠিক নয়।

আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলার নাম ও গুণাবলীর সংখ্যার ক্ষেত্রে কেউ কেউ (تسعة وتسعين ৯৯) আবার কেউ কেউ (بسبعة وسبعين ৭৭) অথবা (سبعة وتسعين ৯৭) অথবা (تسعة وسبعين ৭৯) এ বলেছেন, এটি আসলে লেখকের ভুল হয়েছে। কারণ এ সংখ্যাগুলো ‘‘আরাবীতে দেখতে একই রকম দেখায়, তাই বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে যে বর্ণনাটিতে مائة إلا واحدا তথা ১০০ থেকে একটি কম আছে সে বর্ণনাটি উপরোক্ত সন্দেহের অবসান ঘটিয়েছে এবং স্পষ্ট প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, এ সংখ্যায় আসলে ৯৭, ৭৯, ৭৭ ইত্যাদি কোনটি নয় বরং সংখ্যাটি হলো ৯৯।

একটি মতবিরোধ ও তার সমাধানঃ অত্র হাদীসটি কি মহান আল্লাহর নামের সীমাবদ্ধতা তথা মহান আল্লাহর নাম ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ এমন বুঝাচ্ছে? না-কি মহান আল্লাহর এতদ্ব্যতীত আরো নাম ও গুণাবলী রয়েছে? তবে এ ৯৯ নিরানব্বইটি মুখস্থ করলে এবং সেগুলো সম্পর্কে ‘আক্বীদাহ্-বিশ্বাস ঠিক রেখে যথাযথ ‘আমল করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে- এ কথা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের ফাতওয়াহ হচ্ছে দ্বিতীয় মতটি অর্থাৎ- আল্লাহর নাম ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ নয় বরং তার আরো সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী রয়েছে যা কোন সৃষ্টি জানে না।

যেমন- এ ব্যাপারে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) তার মুসনাদে রিওয়ায়াত করেছেন আর ইমাম ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন, হাদীসটি হলো, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك أو أنزلته في كتابك أو علمته أحداً من خلقك أو استأثرت به في علم الغيب عندك.

অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই তোমার নিজের জন্য তোমার রাখা নামের মাধ্যমে অথবা যেগুলো তুমি তোমার কিতাবে অবতীর্ণ করেছ সেগুলোর মাধ্যমে অথবা যা তোমার কোন বানদাকে শিখিয়েছে অথবা যেগুলো তুমি কাউকে জানাওনি সেগুলোর মাধ্যমে।

ইমাম মালিক (রহঃ) তার মুয়াত্ত্বা-তে কা‘ব আল্ আহবার থেকে বর্ণনা করেন, যে কা‘ব আল্ আহবার দু‘আর ক্ষেত্রে বলতেন,

وَأَسْاَلُكَ بِأَسْمَائِكَ الْحُسْنٰى مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ.

অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার সুন্দর সুন্দর নামের মাধ্যমে দু‘আ করছি, যে নামগুলো আমি জানি আর যেগুলো জানি না সবগুলোর মাধ্যমে।

ইমাম ইবনু মাজাহ (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করে বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতেও এরূপ দু‘আ করতেন।

‘আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণ হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলী এগুলো এবং এর সংখ্যা ৯৯, কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, এর উপর আরো কত নাম ও গুণাবলী আছে- এ হাদীস সেগুলোকে নিষেধ করছে। বিশেষ করে এগুলোর কথা উল্লেখ করার কারণ হলো এগুলো হচ্ছে বেশী ব্যবহৃত অর্থগতভাবে বেশী স্পষ্ট।

‘আল্লামা কুরতুবী তার আল্ মুফহাম ও ‘আল্লামা তুরবিশতী তার শারহে মাসাবীহ-তে এমনই বলেছেন। কেউ কেউ আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্য করেছেন।

এমনকি ইবনুল ‘আরাবী তার আত্ তিরমিযীর ব্যাখ্যায় কিছু ‘আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন। যে, কিতাব সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর সংখ্যা ১,০০০ (এক হাজার)।

আমি (‘উবায়দুল্লাহ মুবারাকপূরী) বলব, অনেকেই মহান আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলীর সংখ্যা ৯৯-তে সীমাবদ্ধ করেছেন।

আল্লামা ইবনু হাযম (রহঃ) বলেন, যারা মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর সংখ্যা ৯৯-এর বেশী বলার পক্ষে তারা এ ক্ষেত্রে সীমাতিরিক্ত করে থাকেন। তিনি দলীল হিসেবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা مائة إلا واحدا কে পেশ করেন। তিনি গবেষণা করে বলেন, যদি আল্লাহর নাম ৯৯-এর অধিক থাকত, তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম مائة إلا واحدا না বলে শুধুমাত্র (مائة ১০০) ব্যবহার করতেন।

অত্র হাদীসে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী ৯৯-টিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার হিকমাহ্/রহস্য বর্ণনা করতে গিয়ে ‘উলামায়ে কিরাম বিভিন্ন কথা বলেছেন।

(১) ইমাম ফখরুদ্দীন আর্ রাযী বলেন, অধিকাংশ ‘আলিম বলেছেন, (أنه تعبد لا يعقل معناه) অর্থাৎ- এটা এমন ধরনের ‘ইবাদাত যার অর্থ বুঝার প্রয়োজন নেই।

(২) কেউ কেউ বলেছেন হাদীসে এরূপ কথা হলেও কুরআন কারীমে তা বর্ণনা করা হয়েছে।

(৩) অপর একদল ‘আলিম বলেন, আসমায়ে হুসনায় সংখ্যা ১০০, তবে একটি আল্লাহ কাউকে জানাননি আর সেটি হচ্ছে ইসমে আ‘যম।

(৪) তবে কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহর নাম ১০০টি- এ বিষয়টি স্পষ্ট আর ১০০ নম্বরটি হলো الله ‘‘আল্লাহ’’ নামটি ‘আল্লামা সুহায়লী এ কথা দৃঢ়তার সাথে বলেছেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আল্লাহর নামও ১০০টি। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلِلهِ الْأَسْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوهُ بِهَا

‘‘আল্লাহর রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর নাম যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা তাকে ডাকো।’’ (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ১৮০)

(مَنْ أَحْصَاهَا) মুসলিম-এর এক বর্ণনায় (من حفظها) আছে, আর বুখারীর এক বর্ণনায় আছে (لا يحفظها أحد إلا دخل الجنة) যে কেউ এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। ‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, এ রিওয়ায়াতগুলো (مَنْ أَحْصَاهَا)-এর ব্যাখ্যাস্বরূপ, তাই إحصاء অর্থ الحفظ। আবার কেউ কেউ বলেছেন أَحْصَاهَا অর্থ হলো (قرأها كلمة كلمة كأنه يعدها) অর্থাৎ- শব্দে শব্দে পড়বে গণনার ন্যায়।

আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা করা।

আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার দাবী অনুপাতে ‘আমল করা। তবে প্রথম তাফসীরটিই প্রাধান্য, কারণ তা আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশী মিল আছে।

‘আল্লামা ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, ইমাম বুখারী (রহঃ) ও অনুরূপ আরো অনেক বিশ্লেষক বলেছেন إحصاء এর অর্থ الحفظ হওয়াই বেশী স্পষ্ট কারণ তা অপর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আল আযকার প্রণেতা বলেন, এটাই অধিকাংশ ‘আলিমের মতামত।

‘আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, الإحصاء এখানে কয়েকটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে।

(১) সবগুলো নামই যপে কোনটি যেন বাদ না দেয়।

(২) الإحصاء অর্থ إلا طاقة তথা সামর্থ/সক্ষমতা। যেমন- আল্লাহ বলেন, عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ

অর্থাৎ- ‘‘নামগুলো যখন পড়বে তখন সাধ্যমত এর হাক্বীকাত সম্পর্কে চিন্তা করবে।’’ (সূরা আল মুযযাম্মিল ৭৩ : ২০)

যেমন- যখন الرزاق নাম ডাকবে তখন رزق তথা রিয্ক আল্লাহই দেন- এ কথা বিশ্বাস করবে।

(৩) الأسماء দ্বারা উদ্দেশ্য হলো العقل তথা জ্ঞান যেমন- ‘আরবদের কা‘বা فلان ذو حصاة অর্থাৎ- অমুক ব্যক্তি জ্ঞানী বুঝাতে, ‘‘আরবরা فلان ذو حصاة শব্দ ব্যবহার করে থাকে।

আবার কেউ বলেছেন, من أحصاها অর্থ হলো, عرفها অর্থাৎ- নামগুলো বুঝল আর যে এ নামগুলো বুঝাল সে মু’মিন না হয়ে থাকতে পারে না আর মু’মিন জান্নাতেই যাবে জাহান্নামে নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৮৮-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে নামগুলোর মধ্যে একটি নাম আল্ল-হ- যিনি ছাড়া আর কোন মা’বূদ নেই। আর্ রহমান- দয়াময় বা মেহেরবান। যার দয়া বা মেহেরবানী সাড়া বিশ্বকে ছেয়ে আছে। আর্ রহীম- করুণা বা বিশেষ দয়ার অধিকারী, যে করুণা শুধু মু’মিনদের প্রতি করা হয়। আল মালিক- রাজাধিরাজ, বাদশাহ। আল কুদ্দূস- অতি পাক-পবিত্র, ধ্বংস বা কোন অপশক্তি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আস্ সালা-ম- শান্তিময় ও নিরাপদ, কোনরূপ অশান্তি তাঁকে ছুঁতে পারে না। আল মু’মিন- নিরাপত্তাদাতা বা নিরাপদকারী। আল মুহায়মিনু- রক্ষণাবেক্ষণকারী। আল ’আযীয- প্রভাবশালী, অন্যের ওপর বিজয়ী। আল জাব্বা-র- কঠিন-কঠোর, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংশোধনকারী। আল মুতাকাব্বিরু- অহংকারের অধিকারী, যাঁর জন্য অহংকার করাই শোভা পায়।

আল খ-লিক্ব- স্রষ্টা। আল বা-রী- ত্রুটিহীন সৃষ্টিকারী। আল মুসাব্বির- প্রকল্পক ও নকশা অংকনকারী, ডিজাইনার। আল গাফফা-র- বড় ক্ষমাশীল, যিনি অপরাধ ঢেকে রাখেন এবং অসংখ্য অপরাধ ক্ষমা করতে দ্বিধাবোধ করেন না। আল কহহা-র- সকল বস্ত্ত যাঁর ক্ষমতার অধীন, অর্থাৎ- ক্ষমতা প্রয়োগে যাঁর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আল ওয়াহহা-ব- বড় দাতা, যাঁর দান অসীম। আর্ রাযযা-ক- রিযকদাতা। আল ফাত্‌তা-হ- যিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সৃষ্টির মীমাংসাকারী, বিপদমুক্তকারী। আল ’আলীম- বড় জ্ঞাতা, যিনি পূর্বাপর সবকিছু জানেন। আল, ক্ব-বিয- রিযক ইত্যাদির সংকোচনকারী। আল বা-সিত্ব- রিযকসহ ইত্যাদির সম্প্রসারণকারী। আল খ-ফিয- যিনি নীচে নামান। আর্ র-ফি’উ- যিনি উপরে উঠান। আল মু’ইযযু- সম্মান ও পূর্ণতা দানকারী। আল মুযিল্লু- অপমান ও অপূর্ণতা দানকারী। আস্ সামী’উ- সর্বশ্রোতা, উচ্চস্বর-নিম্বস্বর সকল স্বরের শ্রোতা। আল বাসীর- দর্শক, ছোট-বড় সকল বস্ত্তর।

আল হাকাম- নির্দেশ দানকারী, বিধানকর্তা। আল ’আদলু- ন্যায়বিচারক, যিনি যা উচিত তা-ই করেন। আল লাত্বীফ- যিনি সৃষ্টির যখন যা আবশ্যক তা করে দেন; অনুগ্রহকারী, সূক্ষ্মদর্শী বা যিনি অতি সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কেও অবগত। আল খবীর- যিনি গুপ্ত রহস্যাদি সম্পর্কে অবগত। আল হালীম- ধৈর্যশীল, যিনি অপরাধ জেনেও সহজে শাস্তি দেন না। আল ’আযীম- বিরাট মহাসম্মানী। আল গাফূর- যিনি অপরাধ গোপন রাখেন এবং অতি জঘন্য অপরাধও ক্ষমা করেন। আশ্ শাকূর- কৃতজ্ঞ, যিনি অল্পে বেশী পুরস্কার দেন। আল ’আলীয়্যু- সর্বোচ্চ সমাসীন; সর্বোপরি। আল কাবীর- বিরাট, মহান, ধারণার ঊর্ধে বড়। আল হাফীয- বড় রক্ষাকারী, যিনি বান্দাদের সব বিষয় লক্ষ্য রাখেন। আল মুক্বীতু- খাদ্যদাতা; দৈহিক ও আত্মিক শক্তিদাতা। আল হাসীবু- যিনি অন্যের জন্য যথেষ্ট হন; যিনি যার জন্য যা যথেষ্ট তা দান করেন।

আল জালীলু- গৌরবান্বিত, মহিমান্বিত; যাঁর মহিমা অতুলনীয়। আল কারীমু- বড় দাতা, আশার অধিক দাতা; যিনি বিনা চাওয়ায় দান করেন। আর্ রক্বীবু- যিনি সকলের সকল বিষয় লক্ষ্য রাখেন এবং সর্বদা নখদর্পণে থাকেন। আল মুজীবু- উত্তরদাতা, যিনি ডাকে সাড়া দেন। আল ওয়া-সি’উ- সম্প্রসারণকারী; যাঁর দান, জ্ঞান, দয়া ও রাজ্য বিপুল ও সম্প্রসারিত। আল হাকীমু- প্রজ্ঞাবান তত্ত্বজ্ঞানী, যিনি প্রতিটি বিষয় উত্তমরূপে ও নিখুঁতভাবে সমাধা করেন। আল ওয়াদূদু- যিনি বান্দার কল্যাণকে পছন্দ করেন। আল মাজীদু- অসীম অনুগ্রহকারী। আল বা-’ইসু- প্রেরক, রসূল প্রেরণকারী, রিযক প্রেরণকারী, কবর থেকে হাশরে প্রেরণকারী। আশ্ শাহীদু- বান্দার প্রতিটি কাজের সাক্ষী, যিনি প্রকাশ্য বিষয় অবগত, আল হাক্কু- সত্য ও সত্য প্রকাশকারী, যিনি প্রজ্ঞা অনুসারে কাজ করেন। আল ওয়াকীলু- কার্যকারক, যিনি বান্দাদের কাজের যোগানদাতা। আল কবিয়্যু- শক্তিবান, শক্তির অধিকারী। আল মাতীনু- বড় ক্ষমতাবান, যার ওপর কারো কোন প্রকার ক্ষমতা নেই। আল ওয়ালিয়্যু- যিনি মু’মিনদের অভিভাবক, ভালবাসেন ও সাহায্য করেন।

আল হামীদু- প্রশংসিত, একমাত্র প্রশংসার যোগ্য। আল মুহসী- হিসাবরক্ষক, বান্দারা যা করে তিনি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখেন। আল মুব্‌দিউ- বিনা নমুনায় স্রষ্টা, যিনি মডেল না দেখে সৃষ্টি করেন। আল মু’ঈদু- মৃত্যুর পর পুনঃসৃষ্টিকারী। যার পুনঃ সৃষ্টি, যিনি বিনা মডেলে সৃষ্টি করেন। আল মুহীউ- পুনরায় জীবিতকারী, আল মুমীতু- পুনরায় মৃত্যু দানকারী, যার পুনরায় সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে। আল হাইয়্যু- চিরঞ্জীব, আল কইয়্যূমু- স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত, চিরস্থায়ী। আল ওয়া-জিদু- যিনি যাই চান তাই পান। আল মা-জীদু- বড় দাতা। আল ওয়া-হিদুল আহাদু- একক ও অদ্বিতীয়, যাঁর কোন শারীক নেই। আস্ সামাদু- প্রধান, প্রভু; যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন কিন্তু সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। আল ক-দিরু- ক্ষমতাবান, যিনি ক্ষমতা প্রয়োগে কারো মুখাপেক্ষী নন। আল মুকতাদিরু- সকলের ওপর যাঁর ক্ষমতা রয়েছে, সার্বভৌম, যাঁর বিধান চরম। আল মুকদ্দিমু- যিনি যাকে চান নিকটে করেন এবং আগে বাড়ান। আল মুআখখিরু- যিনি যাকে চান দূরে রাখেন বা পিছনে করেন। আল আও্ওয়ালু- প্রথম, অনাদি। আল আ-খিরু- সর্বশেষ, অনন্ত। আয্ যা-হিরু- যিনি ব্যক্ত, প্রকট গুণে ও নিদর্শনে। আল বা-ত্বিনু- যিনি গুপ্ত সত্তাতে। আল ওয়া-লিয়্যু- অভিভাবক, মুরুব্বী।

আল মুতা’আ-লিয়্যু- সর্বোপরি। আল বাররু- মুহসিন, অনুগ্রহকারী। আত্ তাও্ওয়া-বু- তওবা্ কবূলকারী, যিনি অপরাধে অনুশোচনাকারীর প্রতি পুনঃঅনুগ্রহ করেন। আল মুনতাকিমু- প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আল আফুব্বু- বড়ই ক্ষমাশীল। আর্ রঊফু- বড়ই দয়ালু। মালিকুল মুল্‌ক- রাজাধিরাজ, যাঁর রাজ্যে তিনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। যুল্ জালা-লি ওয়াল ইকর-ম- মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আল মুকসিত্বু- অত্যাচার দমনকারী, উৎপীড়ক থেকে উৎপীড়িতের প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আল জা-মি’উ- কিয়ামতে বান্দাদের একত্রকারী অথবা সর্বগুণের অধিকারী।

আল গনিয়্যু- বেনিয়াজ, যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। আল মুগনিয়্যু- যিনি কাউকেও কারো মুখাপেক্ষী হতে বাঁচিয়ে রাখেন। আল মা-নি’উ- বিপদে বাধাদানকারী। আয্ যাররু- যিনি ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন। আন্ না-ফি’উ- উপকারী, যিনি উপকারের ক্ষমতা রাখেন। আন্ নূরু- আলোকোজ্জ্বল, প্রভা, প্রভাকর। আল হা-দিয়ু- পথপ্রদর্শক (যারা তাঁর অনুসরণ করে তাদের)। আল বাদী’উ- অদ্বিতীয়, অনুপম অথবা যিনি বিনা আদর্শে গড়েন। আল বা-ক্বী- যিনি সর্বদা আছেন, সৃষ্টি ধ্বংসের পরেও যিনি থাকবেন। আল ওয়া-রিসু- উত্তরাধিকারী, সকল শেষ হবে আর তিনি সকলের উত্তরাধিকারী হবেন। আর্ রশীদু- কারো পরামর্শ বা জিজ্ঞাসু ছাড়া যাঁর কাজ উত্তম ও ভাল হয়। আস্ সাবূরু- বড়ই ধৈর্যশীল। (তিরমিযী, বায়হাক্বী-দা’ওয়াতুল কাবীর; তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَه هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ الشَّكورُ العَلِيُّ الكَبِيرُ الحَفيظُ المُقِيتُ الْحَسِيبُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ الْوَدُودُ الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّهِيدُ الْحَقُّ الْوَكِيلُ الْقَوِيُّ الْمَتِينُ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ الْمُحْصِي الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ الْمُحْيِي المُميتُ الحَيُّ القَيُّومُ الواجِدُ الماجِدُ الواحِدُ الأحَدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ الْمُؤَخِّرُ الْأَوَّلُ الْآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِي الْمُتَعَالِي الْبَرُّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ العَفُوُّ الرَّؤوفُ مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ الْغَنِيُّ الْمُغْنِي الْمَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الْهَادِي الْبَدِيعُ الْبَاقِي الْوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ والبيهقيُّ فِي الدَّعواتِ الْكَبِير. وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لله تعالى تسعة وتسعين اسما من احصاها دخل الجنة هو الله الذي لا اله هو الرحمن الرحيم الملك القدوس السلام المومن المهيمن العزيز الجبار المتكبر الخالق البارى المصور الغفار القهار الوهاب الرزاق الفتاح العليم القابض الباسط الخافض الرافع المعز المذل السميع البصير الحكم العدل اللطيف الخبير الحليم العظيم الغفور الشكور العلي الكبير الحفيظ المقيت الحسيب الجليل الكريم الرقيب المجيب الواسع الحكيم الودود المجيد الباعث الشهيد الحق الوكيل القوي المتين الولي الحميد المحصي المبدى المعيد المحيي المميت الحي القيوم الواجد الماجد الواحد الاحد الصمد القادر المقتدر المقدم الموخر الاول الاخر الظاهر الباطن الوالي المتعالي البر التواب المنتقم العفو الرووف مالك الملك ذو الجلال والاكرام المقسط الجامع الغني المغني المانع الضار النافع النور الهادي البديع الباقي الوارث الرشيد الصبور» . رواه الترمذي والبيهقي في الدعوات الكبير. وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: (مَنْ أَحْصَاهَا) ‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেছেন, এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করলো তার অর্থ অনুধাবন করলো। কোন কোন বিশিষ্ট ‘আলিম বলেন, এর অর্থ হলো একটি একটি করে গণনা করলো।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেছেন, ইমাম বুখারী (রহঃ) সহ অনেকেই বলেছেন এর অর্থ হলো, মুখস্থ করলো, এটাই অধিকাংশদের কথা। আর এটাই সঠিক।

আবূ যায়দ আল বালখী (রহঃ) বলেছেন, মহান আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন ব্যাখ্যায় ‘আমল করলে জান্নাতে যাওয়া যায় এমন কথা বলেছেন। সুতরাং এখানে এরূপ ৯৯টি নাম মুখস্থ করলেই সহজভাবে জান্নাতে যাওয়ার যে কথাটি বলা হয়েছে তার সম্পর্কে একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

এ প্রশ্নের উত্তর হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেছেন, হাদীস যেহেতু সহীহ সেহেতু তা আমরা মেনে নিব। আল্লাহর অনুগ্রহ খুবই প্রশস্ত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৮৯-[৩] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ’হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারো থেকে জন্মও নন। যার কোন সমকক্ষ নেই।’ তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলাকে তার ইস্‌মে আ’যম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن بُرَيْدَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ: «دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

وعن بريدة: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلا يقول: اللهم اني اسالك بانك انت الله لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا احد فقال: «دعا الله باسمه الاعظم الذي اذا سىل به اعطى واذا دعي به اجاب» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: (الَّذِىْ إِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى وَإِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ) কোন কোন ‘আলিম বলেছেন, السؤال অর্থ হলো বান্দার এ কথা বলা, হে আল্লাহ! আমাকে অমুক জিনিস দান করুন আল্লাহ তাকে তার কথা অনুপাতে দিয়ে দিলেন এর নাম হলো السؤال। পক্ষান্তরে دعاء হলো, বান্দা আল্লাহকে ডাক দিবেন এই বলে যে, হে আল্লাহ, হে রহমান! ইত্যাদি, আর তিনি তার ডাকে সাড়া দিবেন। তবে কোন কোন ‘আলিম এর মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য করেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৯০-[৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মসজিদে নাবাবীতে বসে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি সালাত আদায় করছিল এবং সালাতের পর বলছিল, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড় দাতা। তুমিই আসমান জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক! হে চিরঞ্জীব, হে প্রতিষ্ঠাতা! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আল্লাহকে ইস্মে আ’যম-এর সাথে ডাকে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তখন তিনি তা দান করেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ وَرَجُلٌ يُصَلِّي فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ أَسْأَلُكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن انس قال: كنت جالسا مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد ورجل يصلي فقال: اللهم اني اسالك بان لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السماوات والارض يا ذا الجلال والاكرام يا حي يا قيوم اسالك فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «دعا الله باسمه الاعظم الذي اذا دعي به اجاب واذا سىل به اعطى» . رواه الترمذي وابو داود والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত দু‘আটি নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলিহি ওয়াসাল্লাম ইসমে আ‘যম নামে আখ্যা দিয়েছেন। অন্য হাদীসে (لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ) (يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ) -কেও ইসমে আ‘যম বলা হয়েছে বলে বর্ণিত আছে। মোট কথা হলো আমরা যদি আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামের মাধ্যমে ডাকি তাহলে তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। যেমনঃ তিনি বলেছেন, وَلِلّٰهِ الْأَسْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوْهُ بِهَا অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে তোমরা সেগুলোর মাধ্যমে তাকে ডাক।’’ (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ১৮০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৯১-[৫] আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর ইস্‌মে আ’যম এই দু’ আয়াতের মধ্যে রয়েছে, ওয়া ইলা-হুকুম ইলা-হূ ওয়া-হিদ, লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়ার রহমা-নুর রহীম

এছাড়াও সূরা আ-লি ’ইমরান-এর শুরুতে আলিফ লা-ম মী-ম আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ: (وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحيمُ)
وفاتحة (آل عمرانَ)
: (آلم اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

وعن اسماء بنت يزيد رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: اسم الله الاعظم في هاتين الايتين: (والهكم اله واحد لا اله الا هو الرحمن الرحيم) وفاتحة (ال عمران) : (الم الله لا اله الا هو الحي القيوم) رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা শামী (রহঃ) বলেন, আমি আল্লাহর ইসমে আ‘যম খুজেছিলাম, তারপর কোন এক সময় তা পেয়ে যাই আর তা হলো, الْحَيُّ الْقَيُّومُ।

 ইমাম জাযরী তাঁর ‘হিসনুল মুসলিম’ কিতাবে বলেন, ইসমে আ‘যম হলো, اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ।

‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, ইসমে আ‘যম হলো, لا إله إلا هو الرحمن الرحيم الحي القيوم।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৯২-[৬] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাছওয়ালা নবী ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে গিয়ে যখন দু’আ পড়েছিলেন তা হলো এই ’’লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যোয়া-লিমীন’’ অর্থাৎ- ’’তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তুমি পবিত্র, আমি হচ্ছি যালিম বা অত্যাচারী অপরাধী’’- (সূরা আম্বিয়া ২১:৮৭)।

যে কোন মুসলিমই যে কোন ব্যাপারে এ দু’আ পাঠ করবে, তার দু’আ নিশ্চয়ই গৃহীত হবে। (আহমদ, তিরমিযী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ سَعْدَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذا دَعَا رَبَّهُ وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظالمينَ)
لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ إلاَّ استجابَ لَهُ . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: دعوة ذي النون اذا دعا ربه وهو في بطن الحوت (لا اله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين) لم يدع بها رجل مسلم في شيء الا استجاب له . رواه احمد والترمذي

ব্যাখ্যা: (إلاَّ استجابَ) অর্থাৎ- আল্লাহর নাবী ইউনুস (আঃ) মৎস পেটে বসে যে দু‘আটি করেছিলেন তার মাধ্যমে, অর্থাৎ- لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ এর মাধ্যমে কেউ দু‘আ করে তার দু‘আ আল্লাহ কবূল করে নিবেন।

জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেছিলেন, হে আল্লাহর নাবী! এ দু‘আটি ইউনুস (আঃ)-এর জন্য খাস বা নির্দিষ্ট ছিল? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি কুরআন পড়োনি? যেখানে আল্লাহ বলেছেনঃ

وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذٰلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِيْنَ

‘‘আমি তাকে মুক্তি দিলাম এমনিভাবে আমি মু’মিনদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।’’ (সূরা আল আম্বিয়া ২১ : ৮৮)

অর্থাৎ- দু‘আটি আল্লাহর নাবী ইউনুস (আঃ)-এর জন্য খাস বা নির্দিষ্ট নয় তা সমস্ত মু’মিনের জন্য প্রযোজ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২২৯৩-[৭] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ’ইশার সালাতের সময় মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন দেখি জনৈক ব্যক্তি (সালাতে) কুরআন পড়ছেন এবং তার নিজের গলার স্বর উচ্চ করছেন। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এভাবে (সালাতে) কুরআন পড়াকে কি আপনি রিয়া বা প্রদর্শনী বলবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। বরং এ ব্যক্তি একজন বিনয়ী মু’মিন। বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, আবূ মূসা আল আশ্’আরীই কুরআন পড়ছিলেন এবং তা উচ্চস্বরে পড়ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কিরাআত শুনছিলেন। তারপর আবূ মূসা বসে এ দু’আ করতে লাগলেন, ’’হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তুমি এক ও তুমি সকলের নির্ভরস্থল, অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্মও দেননি, কারো থেকে জন্মও নন এবং যার কোন সমকক্ষও নেই।’’

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর ঐ নামের সাথে তাঁর কাছে প্রার্থনা করল, যে নাম ধরে যখন যা প্রার্থনা করা হয়, তখন তিনি তা দান করেন এবং ঐ নামের সাথে যখন তাঁকে ডাকে, তখন তিনি সে ডাকে সাড়া দেন। বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে এটা বলব, যা আপনার কাছে শুনলাম? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ (বলো)। অতঃপর আমি তাঁকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা বলে শুনালাম। তখন আবূ মূসা (রাঃ) আমাকে বললেন, আজ থেকে আপনি আমার প্রিয় ভাই। কারণ আপনি আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সব কথা শুনালেন। (রযীন)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ عِشَاءً فَإِذَا رَجُلٌ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَقُولُ: هَذَا مُرَاءٍ؟ قَالَ: «بَلْ مُؤْمِنٌ مُنِيبٌ» قَالَ: وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَسَمَّعُ لِقِرَاءَتِهِ ثُمَّ جَلَسَ أَبُو مُوسَى يَدْعُو فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَحَدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أُحُدٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُخْبِرُهُ بِمَا سَمِعْتُ مِنْكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي: أَنْتَ الْيَوْمَ لِي أَخٌ صَدِيقٌ حَدَّثْتَنِي بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ رزين

عن بريدة رضي الله عنه قال: دخلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المسجد عشاء فاذا رجل يقرا ويرفع صوته فقلت: يا رسول الله اتقول: هذا مراء؟ قال: «بل مومن منيب» قال: وابو موسى الاشعري يقرا ويرفع صوته فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يتسمع لقراءته ثم جلس ابو موسى يدعو فقال: اللهم اني اشهدك انك انت الله لا اله الا انت احدا صمدا لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا احد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد سال الله باسمه الذي اذا سىل به اعطى واذا دعي به اجاب» قلت: يا رسول الله اخبره بما سمعت منك؟ قال: «نعم» فاخبرته بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لي: انت اليوم لي اخ صديق حدثتني بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه رزين

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, উল্লেখিত দু‘আপাঠকারী ব্যক্তি হলেন আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ)। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু‘আ পাঠের উচ্চ আওয়াজ শুনে বললেন, যে ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করে আর ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করলে তা বিফলে যায় না বরং কবূল হয়।

‘উলামাহমগণ মতবিরোধ করেছেন, একদল বলেছেন, আল্লাহর সব নামই ইসমে আ‘যম-এর কোন সুনির্দিষ্টতা নেই। তবে অধিকাংশ ‘আলিমগণের মত হচ্ছে ইসমে আ‘যম সুনির্দিষ্ট যা উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

মহা পরাক্রমশালী, মহীয়ান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ের ব্যাপক আলোচনার পর খাস আলোচনার অধ্যায়। উদ্দেশ্য ঐ সকল হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেগুলোতেاَللهُ أَكْبَر (আল্ল-হু আকবার),لَاۤ إِلٰهِ اِلَّا اللهُ (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ (আলহামদুলিল্লা-হ), سُبْحَانَ اللهِ (সুবহা-নাল্ল-হ) বলার মর্যাদা ও পুণ্য সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।

التسبيح (তাসবীহ)-এর অর্থ হল সেই সব ত্রুটি থেকে আল্লাহ তা’আলাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা যা তাঁর সত্তার সাথে মানায় না।

সুতরাং সাধারণভাবে আল্লাহর জন্য অংশীদার, স্ত্রী, সন্তান, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয়াবলী এবং নতুনত্ব সাব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কখনো তাসবীহকে ব্যবহার করে তার দ্বারা যিকিরের সকল শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয় আবার কখনো নফল সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়।

ইবনুল আসীর বলেন, তাসবীহের মূল অর্থ হল সকল প্রকার ঘাটতি, ত্রুটি বা কমতি থেকে কোন কিছুকে পবিত্র সাব্যস্ত করা। অতঃপর তাসবীহকে এমন স্থানসমূহে প্রয়োগ করা হয়েছে, যে স্থানগুলো পরিব্যাপ্ত এর দিক থেকে তাসবীহ এর কাছাকাছি।


২২৯৪-[১] সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম (মর্যাদাপূর্ণ) কালাম বা বাক্য হলো চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ [আল্লাহ পবিত্র], (২) ওয়াল হামদুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], (৩) ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই], (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান]।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় বাক্য চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ, (২) আল হামদুলিল্লা-হ, (৩) লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ও (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার। এ চারটি কালিমার যে কোন একটি প্রথমে (আগ-পিছ করে) বললে তাতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। (মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفْضَلُ الْكَلَامِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
وَفِي رِوَايَةٍ: أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ . رَوَاهُ مُسلم

عن سمرة بن جندب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: افضل الكلام اربع: سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر وفي رواية: احب الكلام الى الله اربع: سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر لا يضرك بايهن بدات . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (أَفْضَلُ الْكَلَامِ) অর্থাৎ- মানুষের কথা, পক্ষান্তরে আল্লাহর সকল কথাই সর্বোত্তম। আর বিশেষ সময়ে জিকির করা ছাড়া সাধারণত কুরআন নিয়ে ব্যস্ত হওয়াই সর্বোত্তম। আর বিশেষ সময়ের জিকির করা কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকা অপেক্ষা উত্তম। সুতরাং (كلام) বা কথা দু’টি স্থানে ব্যবহৃত হয় একটি হুবহু কথা আরেকটি ব্যস্ত হওয়া, অর্থাৎ- সময় ব্যয় করা।

নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীস এবং এর অনুরূপ হাদীসকে মানুষের কথার উপর প্রয়োগ করা হবে অন্যথায় কুরআনই সর্বোত্তম কালাম। এমনিভাবে কুরআন পাঠ করা সাধারণ তাসবীহ তাহলীল থেকে উত্তম। পক্ষান্তরে কোন সময় বা অবস্থাতে বর্ণিত দু‘আগুলো নিয়ে ব্যস্ত হওয়া সর্বোত্তম।

কারী বলেন, সর্বোত্তম কথা চারটি অর্থাৎ- মানুষের কথার মাঝে সর্বোত্তম কথা। (كلام) ‘‘কালাম’’ থেকে মানুষের কথা উদ্দেশ্য করার কারণ হল দু’টি। প্রথমত যেহেতু চতুর্থ নম্বর কালামটি কুরআনে পাওয়া যায়নি। আর কুরআনের বাণীর উপর অন্য বাণীকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না।

আর দ্বিতীয়ত যেহেতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এগুলো কুরআনের পর সর্বোত্তম কথা’’। আর এগুলো কুরআনেরই অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ - এদের অধিকাংশ তথা প্রথম তিনটি যদিও কুরআনে পাওয়া গেছে কিন্তু চতুর্থটি কুরআনে পাওয়া যায়নি। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘‘আর এগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত’’- এ উক্তিটি আধিক্যের উপর নির্ভর করছে। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, কারী ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি’’ দ্বারা মুসনাদে আহমাদে সামুরাহ্ হতে বর্ণিত হাদীসটি বুঝিয়েছেন যার ভাষ্য হল, ‘‘কুরআনের পর সর্বোত্তম কালাম চারটি আর এগুলো কুরআনেরই অন্তর্ভুক্ত তুমি এগুলোর যেটি শুরু করবে তা তোমার ক্ষতি করবে না’’।

এক মতে বলা হয়েছে, ‘‘এগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত’’- এ কথার মর্ম হল এ বাক্যগুলো কুরআনে আলাদাভাবে এসেছে একত্রিতভাবে আসেনি। যেহেতু কুরআনে বর্ণিত হয়েছে فَسُبْحَانَ اللّٰهِ حِينَ تُمْسُونَ ‘‘অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর’’- (সূরা আর্ রূম ৩০:১৭)। (الحمد لله كثيرا) বাক্যটি এসেছে। আল্লাহর অপর বাণীতে এসেছে فَاعْلَمْ أَنَّهٗ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ ‘‘কাজেই জেনে রেখ, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই’’- (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯)। পক্ষান্তরে (الله أكبر) উক্তি, এ গঠনে কুরআনে অবিদ্যমান। তবে এর অর্থটি নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে পাওয়া যায়। আল্লাহর বাণী সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:১১১ নং আয়াতে وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا এবং সূরা আল মুদ্দাস্সির ৭৪:৩ নং আয়াতে وَرَبَّكَ فَكَبِّر হতে তা লাভ করা যায়। আর তা আল্লাহর বাণী সূরা আল ‘আনকাবূত ২৯:৪৫ নং আয়াতে وَلَذِكْرُ اللّٰهِ أَكْبَرُ وَاللهُ এবং অপর বাণী সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯:৭২ নং আয়াত وَرِضْوَانٌ مِنَ اللّٰهِ أَكْبَرُ মূল কথা হল, এ ধারাবাহিকতায় সংগৃহীত কথাগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত না। এজন্যই জাযরী বলেন, এগুলো থেকে প্রত্যেকটি কুরআনে এসেছে।

কারী বলেন, সম্ভাবনা রাখছে- হাদীসে তাঁর উক্তি ‘‘সর্বোত্তম কালাম’’ কথাটি আল্লাহর কালামকেও অন্তর্ভুক্ত করবে, কেননা এগুলো শাব্দিকভাবে আল্লাহর কালামে পাওয়া যায় তবে চতুর্থটি ছাড়া, যেহেতু তা আল্লাহর কালামে অর্থগতভাবে বিদ্যমান। আর স্বাভাবিকভাবেও এগুলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করছে। কেননা এগুলো ত্রুটি মুক্তকরণ, তাওহীদ গুণকীর্তন এবং প্রশংসাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এগুলোর প্রতিটি শব্দই আল্লাহর কালামের মাঝে গণ্য। এগুলো থেকে প্রতিটি কুরআনের অন্তর্ভুক্ত- এ বর্ণনার আলোকে অর্থগতভাবে স্পষ্ট।

(وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) মা'নাবী বলেন, এ চারটি কালাম সর্বোত্তম এ কারণে যে, প্রত্যেক এমন গুণ যেগুলো আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা অসম্ভব সেগুলো থেকে আল্লাহর পবিত্র সাব্যস্ত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যে সব পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক সে সবের সাথে আল্লাহকে গুণান্বিত হওয়াকে, একত্ববাদের সাথে তাঁর একক হওয়াকে এবং মহত্বের সাথে বিশেষিত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে আল্লাহর বড়ত্ব হওয়া থেকে দু’টি অর্থ লাভ করা গেছে। শায়খ ইযযুদ্দীন বিন ‘আবদুস্ সালাম বলেন, আল্লাহর উত্তম নামসমূহ যার মাধ্যমে তিনি তাঁর কিতাবে ও তাঁর রসূলের কিতাবে নিজের নামকরণ করেছেন। যেগুলো চারটিঃ কালিমার মাঝে প্রবিষ্ট আর এগুলো-ই কুরআনের (الباقيات الصالحات) দ্বারা উদ্দেশ্য। প্রথম কালিমাহ্ঃ (سبحان الله) ‘আরবদের ভাষাতেই এর অর্থ পবিত্র সাব্যস্তকরণ, দূর করা। এগুলো আল্লাহর গুণাবলী ও সত্তা থেকে ঘাটতি ও দোষ-ত্রুটি দূর করার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং তার যে নামগুলো থেকে বিদূরীত হওয়ার অর্থ পাওয়া যাবে সেগুলো এ কালিমার অধীনে প্রবিষ্ট।

যেমন (القدوس) অর্থাৎ- যিনি প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং (السلام) যা প্রত্যেক বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ। দ্বিতীয় শব্দঃ (الحمد لله) আর এটা আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গতা বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং তাঁর যে নাম যেগুলো ইতিবাচককে অন্তর্ভুক্ত করবে যেমন (سميع - قدير- عليم- بصير) এগুলো দ্বিতীয় শব্দের অধীনে প্রবিষ্ট। আমরা (سبحان الله) উক্তির মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি এবং আমাদের বুঝ অনুযায়ী প্রত্যেক ঘাটতিকে দূর করেছি। আর (الحمد لله) এর মাধ্যমে আমরা আমাদের জানা অনুযায়ী প্রত্যেক পূর্ণাঙ্গতা এবং অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক সম্মানকে সাব্যস্ত করেছি। আমরা যা দূর করেছি এবং যা সাব্যস্ত করেছি তার পেছনে মহা গুরুত্ব-মর্যাদা রয়েছে যা আমাদের থেকে অদৃশ্য এবং আমরা যা জানি না তাই আমরা সেগুলো আমাদের (الله أكبر) উক্তির মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে বাস্তবরূপ দিব আর এটি তৃতীয় কালিমার অর্থ- আমরা যা নিষেধ করেছি ও যা সাব্যস্ত করেছি তার অপেক্ষা তিনি অধিক সম্মানিত।
আর এটিই হল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমি তোমার গুণকীর্তন পরিসংখ্যান করে শেষ করতে পারব না, তুমি তেমন যেমনটি তুমি নিজের প্রশংসা করেছ। অতঃপর তার নামসমূহ থেকে যা আমাদের জ্ঞান ও বুঝের পর পর্যায়ের মর্যাদাকে অন্তর্ভুক্ত করবে যেমন (الأعلى) এবং (التعالى) অর্থাৎ- সর্বোচ্চ। তাহলে তা আমাদের উক্তি (الله أكبر) এর অধীনে প্রবিষ্ট হবে। অতঃপর আমরা যখন অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তার সদৃশ বা অনুরূপ কিছু সাব্যস্ত হওয়াকে নাফি করলাম তখন আমরা তা (لا إله الا الله) এ উক্তির মাধ্যমে সুনিশ্চিত করলাম। আর এটি চতুর্থ শব্দ। কেননা প্রভুত্ব উপাসত্বের উত্তরাধিকারের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। আর উপাসত্বের অধিকার রাখেন একমাত্র ঐ সত্তা ছাড়া আমরা যা বর্ণনা করেছি তার প্রতি যে ন্যায় বিচার করবে। সুতরাং তার নামসমূহ থেকে যা সামষ্টিকতার পূর্বক্ত বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে তা একক সত্তার ন্যায় যিনি এক, মর্যাদার অধিকারী অনুগ্রহের অধিকারী, আর তা আমাদের (لا إله الا الله) এর অধীনে প্রবিষ্ট। উপাসত্বের অধিকার কেবল ঐ সত্তা রাখে যার জন্য সুন্দর গুণাবলী ও ঐ সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী নির্দিষ্ট যেগুলো বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করতে পারে না এবং গণনাকারীগণ গণনা করতে পারে না।

এভাবে আস্ সাবাকী ত্ববাকতে শাফি‘ঈয়্যাহ্ আল কুবরা-তে উল্লেখ করেছেন। (৫ম খণ্ড- ৮৬-৮৭ পৃষ্ঠা) হাদীসটিতে আছে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কালাম এ চারটি কালাম। হাদীসটির বাহ্যিক দিক অচিরেই আগত আবূ যার (রাঃ) এর হাদীসের পরিপন্থী। যে হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল কোন কথা সর্বোত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (سبحان الله وبحمده) আর অচিরেই ২য় পরিচ্ছেদে আগত জাবির-এর হাদীসেরও বিরোধিতা করছে যাতে আছে (لا إله الا الله) সর্বোত্তম জিকির। সাধারণভাবে আবূ যার-এর হাদীস তাসবীহ এর শ্রেষ্ঠত্বের উপরও প্রমাণ বহন করছে। আর সেটাও জাবির-এর হাদীসের বিপরীত। যা সাধারণভাবে (لا إله الا الله) এর শ্রেষ্ঠত্বের উপর প্রমাণ বহন করছে। কুরতুবী এভাবে সমন্বয় সাধন করেছেন যার সারাংশ হল, নিশ্চয়ই এ জিকিরগুলোর কতকের উপর যখন কতকে সাধারণভাবে ব্যবহার করা হবে (অর্থাৎ- সর্বোত্তম কালাম বা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কালামকে), তখন এগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হবে যখন এগুলো মুসলিমে বিদ্যমান সামুরার [সর্বাধিক প্রিয় কালাম চারটি এগুলোর যে কোনটি দ্বারা তুমি শুরু করবে তোমার কোন ক্ষতি করবে না আর তা হল سبحان الله و الحمد لله ولا إله الا الله الله أكبر] এ হাদীসের দলীল কর্তৃক তার সমগোত্রীয়দের সাথে মিলিত হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থের উপর নির্ভরশীল হওয়ারও সম্ভাবনা রাখছে। সুতরাং যে এগুলোর কতকের উপর সীমাবদ্ধ থাকবে তার জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা এগুলোর সারাংশ হল সম্মান প্রদর্শন করা, পবিত্র সাব্যস্তকরণ। যে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করল সে তাঁর বড়ত্ব সাব্যস্ত করল আর যে তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করল সে তার পবিত্রতা সাব্যস্ত করল। কেউ কেউ বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি أَفْضَلُ الْكَلَامِ، أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلٰهَ إِلَّا الله এবং আগত أَحَبُّ الْكَلَامِ এর পূর্বে একটি من অব্যয় উহ্য মানার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব। কারণ أَفْضَلُ (সর্বোত্তম) ও أَحَبُّ (সর্বাধিক প্রিয়) শব্দদ্বয় অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে সমার্থক। ভাষ্যকার বলেন, মুসনাদে আহমাদে (৫ম খণ্ড, ১১ পৃষ্ঠা) বর্ণিত

(أربع من أطيب الكلام وهن من القرآن لا يضرك بأيهن بدأت سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر)

হাদীসটি এ অভিমতটিকে শক্তিশালী করছে। যেহেতু সেখানে من অব্যয়টি প্রকাশ্য এসেছে। হাদীসে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ আছে, নিশ্চয়ই এ চারটি কালিমাহ্ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, অচিরেই যা আসতেছে তা এর পরিপন্থী না আর তা হল (سبحان الله وبحمده) আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কালাম। কেননা এখানে এ চারটিরই অন্তর্ভুক্ত।

(وفى رواية أحب الكلام إلى الله أربع) অর্থাৎ- চারটি কালিমাহ্।

(سبحان الله) অর্থাৎ- আমি প্রত্যেক এমন জিনিস থেকে তাঁর পবিত্র সাব্যস্ত হওয়াতে বিশ্বাসী যা তার সত্তার সৌন্দর্য ও তার গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গতার সাথে বেমানান আর তা মুক্ত করার স্থল নিয়ে এসেছেন যা ঐ অবস্থার উপর প্রমাণ বহন করে যে, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীর সাথে গুণান্বিত এবং শুকরিয়া ও গুণকীর্তন প্রকাশের জন্য উপযুক্ত। আর তা গুণ বর্ণনা করার স্থল আর এজন্যই তিনি (الحمد لله) বলেছেন।

এরপর তিনি যে তাঁর ইতিবাচক ও নেতিবাচক গুণাবলীতে একক এদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন (لا إله إلا الله)। অতঃপর তিনি ঐ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, তাঁর বড়ত্বের পরিধি এবং ইযার ও রিদার মহত্ত্বকে পরিকল্পনা করা যায় না। যা হাদীসে (الله أكبر) দ্বারা স্পষ্ট।

(لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ) অর্থাৎ- পাঠক তাসবীহগুলোর যে কোনটি দিয়ে শুরু করলে এগুলো পাঠের সাওয়াব সংরক্ষণে কোন ক্ষতি হবে না, কেননা কালিমাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ব ও পূর্ণতার যে অর্থ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে এগুলোর প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র। কিন্তু হাদীসে যেভাবে এসেছে সে ধারাবাহিকতাটিই উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ। কারণ সেখানে প্রথমে আল্লাহর পবিত্রতা সাব্যস্তকরণ সূচক কালিমাহ্ سبحان الله এসেছে, পরে তাঁর প্রশংসাজ্ঞাপক কালিমাহ্ الحمد لله এসেছে। অতঃপর তাসবীহ ও তাহমীদযুক্ত কালিমাহ্ لا إله الا الله দ্বারা উভয়ের মাঝে সমন্বয় কর হয়েছে, এরপর তাঁর বড়ত্বজ্ঞাপক কালিমাহ্ الله أكبر দ্বারা শেষ করা হয়েছে।

ইবনুল মালিক বলেন, অর্থাৎ- সুবহা-নাল্ল-হ বা আলহামদুলিল্লা-হ বা লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ অথবা আল্ল-হু আকবার যে কোনটি দ্বারা তাসবীহ পাঠ শুরু করা বৈধ আছে। আর এটাই প্রমাণ করে যে, এগুলোর প্রতিটি বাক্যই স্বয়ংসম্পন্ন, উল্লেখিত সাজানো অনুযায়ী এগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক না। তবে উল্লেখিত সাজানো অনুযায়ী উল্লেখ করা উত্তম।

শাওকানী বলেন, জানা উচিত যে, নিশ্চয়ই এ শব্দাবলীর মাঝে পতিত و এদের কতকে কতকের উপর আতফ করার জন্য আনা হয়েছে। যেমন অন্যান্য আতফ করা বিষয়াবলী। সুতরাং و ছাড়া এগুলোর উল্লেখ করা অতঃপর জিকিরকারী (سبحان الله الحمد لله ولا إله إلا الله الله أكبر) বলা অথবা এগুলো و সহ উল্লেখ হওয়া অতঃপর জিকিরকারী (سبحان الله الحمد لله ولا إله إلا الله الله أكبر) এভাবে বলা উল্লেখিত পদ্ধতিদ্বয়ের মাঝে প্রথমটি স্পষ্ট। কেননা নাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে খবর দিয়েছেন তারা এভাবে বলবে। সুতরাং উক্ত বিষয়টি হবে উল্লেখিত (واو) ছাড়া পদ্ধতি। যেমন নাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল শিক্ষাসমূহ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৫-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুবহা-নাল্ল-হ [আল্লাহ পবিত্র], ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই], ওয়াল্ল-হু আকবার [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান] বলা, আমার কাছে সমগ্র বিশ্ব অপেক্ষাও বেশি প্রিয়। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَأَنْ أَقُولَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْس . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لان اقول: سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر احب الي مما طلعت عليه الشمس . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ) অর্থাৎ- দুনিয়া এবং তাতে সম্পদ ও অন্যান্য যা কিছু আছে সবকিছু আছে সব কিছু অপেক্ষা উত্তম। একমতে বলা হয়েছে তা সকল সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে ইঙ্গিত। ইবনুল ‘আরাবী বলেন, এ সকল শব্দসমূহ এবং পৃথিবীর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করা হয়েছে। আর শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করার শর্ত হল, দু’টি বস্ত্ত মূল অর্থে এক হওয়া। অতঃপর একটি অপরটির উপর প্রাধান্য পায়। ইবনুল ‘আরাবী এর উত্তরে বলেন, যার সারাংশ হল নিশ্চয়ই أفعل ওযন দ্বারা কখনো মূল ক্রিয়াকে উদ্দেশ্য করা হয়; শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা উদ্দেশ্য করা হয় না। যেমন আল্লাহর বাণী,

أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيْلًا (সূরা আল ফুরকান ২৫ : ২৪) অর্থাৎ- সেদিন জান্নাতবাসীরা বাসস্থানের দিক দিয়ে উৎকৃষ্ট ও বিশ্রামস্থলের দিক দিয়ে মনোরম হবে। অর্থাৎ- উল্লেখিত আয়াতে জান্নাতের ক্ষেত্রে (أفعل) এর ওযন তুলনা করা হয়নি। অথবা সম্বোধনটি অধিকাংশ মানুষের অন্তরে যা আছে তার উপর প্রয়োগ হবে। কেননা অধিকাংশ মানুষ এ বিশ্বাস করে থাকে যে, দুনিয়ার মতো কোন কিছু নেই আর দুনিয়াটাই মূল উদ্দেশ্য। অতঃপর আল্লাহ খবর দিয়েছেন, নিশ্চয়ই জান্নাত তাঁর নিকট তোমরা যা ধারণা করে থাক তার অপেক্ষা উত্তম। নিশ্চয়ই তাঁর মতো কোন কিছু নেই বা তার অপক্ষো উত্তম কোন কিছু নেই। এক মতে বলা হয়েছে এ উদ্দেশ্য হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এ সকল শব্দাবলী আমার নিকট দুনিয়ার মালিক হয়ে তা দান করা অপেক্ষা উত্তম। সারাংশ হল এ শব্দাবলী বলার যে সাওয়াব দেয়া হয় তার পরিমাণ দুনিয়ার মালিক হওয়া, অতঃপর তা দান করা অপেক্ষা অধিক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৬-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক একশ’বার পড়বে ’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- তার গুনাহসমূহ যদি সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয় তবুও তা মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: سبحان الله وبحمده في يوم ماىة مرة حطت خطاياه وان كانت مثل زبد البحر

ব্যাখ্যা: (سُبْحَانَ اللّٰهِ) অর্থাৎ- আমি যথার্থভাবে আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, অর্থাৎ- আমি তাঁকে প্রত্যেক ঘাটতি থেকে পবিত্র সাব্যস্ত করতেছি।

(وَبِحَمْدِه) কারী বলেন, অর্থাৎ- আমি তাঁর প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

(فِىْ يَوْمٍ) ইমাম ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ- ব্যাপক সময়ে এতে নির্দিষ্ট কোন সময় জানা যায়নি। সুতরাং এ সময়সমূহ থেকে কোন সময়কে নির্দিষ্ট করা যাবে না।

মাযহার বলেন, শব্দ প্রয়োগের ব্যাপকতা থেকে বাহ্যত অনুভব করা যাচ্ছে, যে ব্যক্তি দিনে এটা একশতবার পাঠ করবে সে উল্লেখিত সাওয়াব পাবে চাই তা একসাথে পাঠ করুক বা আলাদাভাবে বিভিন্ন মাজলিসে পাঠ করুক। অথবা এগুলোর কতক দিনের প্রথমাংশে পাঠ করুক এবং কতক দিনের শেষাংশে পাঠ করুক। তবে উত্তম হল এগুলো দিনের প্রথমাংশে পরস্পরভাবে পাঠ করা।

(خَطَايَاهُ) অর্থাৎ- তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। কারী বলেন, গুনাহ বলতে সগীরাহ্ কাবীরাহ্ সকল গুনাহ সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘আয়নী বলেন, অর্থাৎ- এমন গুনাহ যা আল্লাহর অধিকার সংক্রান্ত কেননা মানুষের অধিকারসমূহ অধিকারীর সন্তুষ্ট ছাড়া মাফ হয় না।

ইমাম বাজী বলেন, এগুলো পাঠকারী ব্যক্তির গুনাহ মোচনের কাফফারা স্বরূপ হয়ে যাবে। যেমন তাঁর বাণী, ‘‘নিশ্চয়ই পুণ্য কাজসমূহ পাপ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয়।’’ (সূরা হূদ ১১ : ১১৪)

(وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ) الزبد বলা হয় ফেনা বা ফেনা জাতীয় পদার্থকে যা প্রবল তরঙ্গের সময় পানির উপর ভেসে উঠে। এর মাধ্যমে আধিক্যতার দিকে ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য। কাযী ‘ইয়ায বলেন, (لا إله إلا الله) সম্পর্কে ৯ম অধ্যায়ের আবূ হুরায়রার হাদীসে ‘‘তার থেকে একশত গুনাহকে মিটিয়ে দেয়া হবে’’ এ উক্তির সাথে ‘‘যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয় তথাপিও তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’’- এ উক্তি (لا إله إلا الله) পাঠের উপর (سبحان الله) পাঠের শ্রেষ্ঠত্বকে জানিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ- যেহেতু সমুদ্রের ফেনার সংখ্যা শত শত গুণ। অথচ (لا إله إلا الله) এর হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি (لا إله إلاالله) এর ‘আমল করবে তার অপেক্ষা উত্তম ‘আমল আর কেউ করতে পারবে না। সুতরাং উভয়ের মাঝে এভাবে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে যে, উল্লেখিত (لا إله إلا الله) পাঠ সর্বোত্তম এবং তাতে পুণ্যসমূহ লিপিবদ্ধকরণ ও গুনাহসমূহ মিটানোর যে অতিরিক্ততা আছে তা, অতঃপর এ সত্ত্বেও দাস মুক্ত করার যে মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তা তাসবীহ পাঠের শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়ার উপর এক অতিরিক্ত অর্জন। কেননা প্রমাণিত আছে, যে ব্যক্তি একটি দাস মুক্ত করবে আল্লাহ ঐ মুক্ত দাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারীর একটি করে অঙ্গ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। একটি দাস মুক্ত করার কারণে তার থেকে গুনাহ মোচনের বিশেষ সংখ্যা সীমাবদ্ধের পর ব্যাপকভাবে সমস্ত গুনাহ মোচন অর্জন হল। সেই সাথে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া, অতিরিক্ত একশত মর্যাদা লাভের সাথে (لا إله إلا الله) পাঠের মাধ্যমে একের অধিক দাস মুক্ত করবে তার কোন গুনাহ থাকতে পারে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৭-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশ’বার পড়বে ’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- কিয়ামতের দিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বাক্য নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না, সে ব্যক্তি ব্যতীত যে এর সমপরিমাণ বা এর চেয়ে বেশি পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال حين يصبح وحين يمسي: سبحان الله وبحمده ماىة مرة لم يات احد يوم القيامة بافضل مما جاء به الا احد قال مثل ما قال او زاد عليه)

ব্যাখ্যা: (مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِىْ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه مِائَةَ مَرَّةٍ) কারী বলেন, অর্থাৎ- সকাল সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি এ তাসবীহ এর কতক সকালে এবং কতক সন্ধায় পাঠ করবে অথবা এগুলোর সবটুকু উভয় সময়ে পাঠ করবে আর এ অর্থটিই সর্বাধিক স্পষ্ট।

(إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ) লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, অর্থ বর্ণনাতে কৌশল অবলম্বন করা আবশ্যক, অর্থাৎ- এভাবে বলা (তার মত এবং তার অপেক্ষা উত্তম ‘আমল কেউ করতে পারে না তবে যে ব্যক্তি তার মতো তাসবীহ পাঠ করবে সে তার মতো সাওয়াব লাভ করবে অথবা যে ব্যক্তি তার অপেক্ষা বেশি পাঠ করবে সে তার অপেক্ষা বেশি সাওয়াব লাভ করবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

ইমাম ত্বীবী বলেন, উল্লেখিত তাসবীহ পাঠকারী যে ‘আমল করবে তা সর্বোত্তম ‘আমল ঐ সকল ‘আমল অপেক্ষা যা তাসবীহ পাঠকারী ছাড়া অন্য কেউ করবে। তবে যে ব্যক্তি তাসবীহ পাঠকারীর মতো ‘আমল করবে বা তার অপেক্ষা বেশি ‘আমল করবে তার কথা আলাদা।

এখন কেউ যদি বলে বৃদ্ধি করা কিরূপে বৈধ অথচ বিদ্বানগণ বলেছে, সংখ্যার ক্ষেত্রে শারী‘আতের সীমারেখা অতিক্রম করা বৈধ না? উত্তরে আমরা বলবঃ যখন হাদীস বৃদ্ধি পাওয়ার ধরণটি সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হল তখন জানা গেল যে, এটি সে পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত না যেমন সালাতের রাক্‘আত বা অনুরূপ কিছুর সংখ্যা। সুতরাং সংখ্যাতে একেবারেই বৃদ্ধি করা বৈধ হবে না বিষয়টি এমনটি নয়। অথবা হাদীসে বৃদ্ধি করা থেকে কল্যাণকর কাজে বৃদ্ধি করা উদ্দেশ্য। অনুরূপ লাম্‘আতে আছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৮-[৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি খুব সংক্ষিপ্ত বাক্য যা বলতে সহজ অথচ (সাওয়াবের) পাল্লায় ভারী এবং আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়, তা হলো ’’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, সুবহা-নাল্ল-হিল ’আযীম’’। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ: سُبْحَانَهُ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَهُ الله الْعَظِيم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كلمتان خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان حبيبتان الى الرحمن: سبحانه الله وبحمده سبحانه الله العظيم

ব্যাখ্যা: (كَلِمَتَانِ) অর্থাৎ- দু’টি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। আর (الكلمة) শব্দকে বাক্য বুঝানোর জন্য প্রয়োগ হয়। যেমন বলা হয় (كلمة الإخلاص) এবং (كلمة الشهادة)। সিনদী বলেন, হাদীসে (كلمة) দ্বারা আভিধানিক দৃষ্টিকোণ উদ্দেশ্য বা সমাজের মানুষ সাধারণত (كلمة) বলতে যা বুঝে থাকে তা উদ্দেশ্য। নাহুর দৃষ্টিকোণ উদ্দেশ্য না।

আলোচ্য হাদীসে বিধেয়কে উদ্দেশের আগে এনে শ্রোতার আগ্রহ আকর্ষণ করা হয়েছে। আর বিধেয়-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে বাক্য যখনই দীর্ঘতা লাভ করবে তখন তাকে উদ্দেশের পূর্বে আনা উত্তম হবে। কেননা সুন্দর গুণাবলীর আধিক্যতা উদ্দেশের ব্যাপারে শ্রোতার আগ্রহ বৃদ্ধি করে। ফলে তা অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং গ্রহণযোগ্যতায় অধিক উপযোগী। সিনদী বলেন, বাহ্যিক দিক থেকে বুঝা যায় (كلمتان) উক্তিটি (سبحان الله) শেষ পর্যন্ত। এর খবর বা বিধেয়। তার দিকে শ্রোতার আগ্রহ সৃষ্টির জন্য তাকে উদ্দেশের আগে আনা হয়েছে।

(خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ) অর্থাৎ- বাক্যদ্বয়ের অক্ষরসমূহ নরম হওয়ার দরুন জিহ্বাতে সহজেই উচ্চারিত হয়ে থাকে। কেননা বাক্যদ্বয়ে ‘আরবীয়দের নিকট পরিচিত কোন শক্ত অক্ষর নেই।

(ثَقِيلَتَانِ فِى الْمِيزَانِ) অর্থাৎ- প্রকৃতপক্ষেই তা সাওয়াবের পাল্লায় ভারী। হাফেয বলেন, ‘আমলের স্বল্পতা ও সাওয়াবের আধিক্যতার বর্ণনা দেয়ার্থে পাল্লাকে হালকা ও ভারত্বের মাধ্যমে বিশেষিত করা হয়েছে।

‘আল্লামা সিনদী বলেন, বাক্যদ্বয়ের উত্তম শৃঙ্খলা, অক্ষরের কমতি হওয়ার দরুন জিহ্বাতে এদের উচ্চারণে সহজতা থাকায় তা হালকা। হালকা হওয়ার অপর কারণ বাক্যদ্বয় আল্লাহর সম্মানিত নামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যার জিকিরে মেজাজ অনুগত হয়। আর আল্লাহর কাছে সম্মানের দিক থেকে বাক্যদ্বয়ের শব্দের বড়ত্বের কারণে তা দাড়িপাল্লায় ভারি। ইমাম ত্বীবী বলেন, ‘‘হালকা’’ কথাটিকে সহজ অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ভারি বলতে আহলুস্ সুন্নাহ এর কাছে মূল অর্থই উদ্দেশ্য, কেননা ‘আমলসমূহ মাপার সময় দাড়িপাল্লাতে অবয়ব দান করা হবে। আর মীযান বা দাড়িপাল্লা ঐ জিনিস কিয়ামতের দিন যার মাঝে বান্দাদের ‘আমলসমূহ ওযন দেয়া হবে। আর পাল্লার ধরণ সম্পর্কে অনেক উক্তি আছে তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত নিশ্চয়ই তা অনুভূতিশীল গঠনের কাটা বিশিষ্ট ও দু’টি পাল্লা বিশিষ্ট হবে। আল্লাহ তা‘আলা ‘আমলসমূহকে বাহ্যিক ওযনে পরিণত করবেন। এক মতে বলা হয়েছে, আমলের খাতাসমূহ ওযন করা হবে। পক্ষান্তরে ‘আমল হল সম্মান আর সম্মানকে ওযন করা অসম্ভব। কেননা সম্মান মূলত ওযনযোগ্য না। সুতরাং ‘আমলসমূহকে ভারত্ব বা হালকার সাথে গুণান্বিত করা যাবে না। আর একে সমর্থন করছে (بطاقة) তথা কার্ডের হাদীস। যা ইমাম তিরমিযী সংকলন করেছেন ও হাসান বলেছেন। ইমাম হাকিমও একে সংকলন করেছেন ও সহীহ বলেছেন। তার বর্ণনাতে আছে ‘‘অতঃপর খাতাসমূহ এক পাল্লাতে এবং কার্ড আরেক পাল্লাতে রাখা হবে’’।

আবার কারো মতে, ‘আমলসমূহকে অবয়ব দান করা হবে অতঃপর তা উত্তম আকৃতিতে আনুগত্যশীলদের ‘আমলে পরিণত হবে এবং নিকৃষ্ট আকৃতিতে পাপীদের ‘আমলে পরিণত হবে। এরপর ওযন দেয়া হবে। হাফেয বলেন, বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ‘আমলসমূহকেই ওযন দেয়া হবে। ইবনু হিব্বান আবূ দারদা (রাঃ) থেকে একে মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাতে আছে ‘‘কিয়ামতের দিন সচ্চরিত্র অপেক্ষা ভারী কোন জিনিস মীযানের পাল্লায় পরিমাপ করা হবে না’’।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, ‘আমল যেহেতু স্থির থাকে না বরং নিঃশেষ হয়ে যায়- এ ত্রুটি সাব্যস্ত করে ‘আমলসমূহ ওযন করা অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে কৃত উক্তি খুবই দুর্বল। বরং তা বাতিল। বর্তমানে প্রাকৃতিক বিদ্যার অধিকারীরা একে বাতিল বলে ঘোষণা দিয়েছে। আর তারা নিশ্চিত করেছে উক্তিসমূহ শেষ হয়ে যায় না বরং তা শূন্যে বিদ্যমান থাকে যাকে সংরক্ষণ করা সম্ভব। আর তারা কথা ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেক্ট্রিক যন্ত্র আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। হাদীসে ঐ দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সকল দায়িত্ব অর্পণমূলক নির্দেশ কষ্টকর, আবার অন্তরের উপরেও ভারী। তবে এ ‘আমলসমূহ দাড়িপাল্লাতে ভারি হওয়া সত্ত্বেও নাফসের উপর সহজ হালকা, সুতরাং এ ক্ষেত্রে শিথিলতা উচিত না। আসারে (তথা সাহাবীদের উক্তি) আছে, ‘ঈসা (আঃ)-কে প্রশ্ন করা হল পুণ্য ভারি হবে এবং পাপ হালকা হবে, তার কারণ কি? উত্তরে তিনি বললেন, কেননা পুণ্যসমূহের তিক্ততা উপস্থিত এবং তার মিষ্টতা অনুপস্থিত থাকে, সুতরাং তা ভারি। অতএব তার ভারত্ব যেন তা বর্জনের ব্যাপারে তোমাকে উৎসাহিত না করে। পক্ষান্তরে পাপের মিষ্টতা উপস্থিত, তিক্ততা অনুপস্থিত (সাধারণত তা পরকালে দেয়া হয়ে থাকে) এজন্য পাপ তোমাদের ওপর হালকা, সুতরাং তার হালকা হওয়া তাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তোমাদের যেন উৎসাহিত না করে। কেননা পাপের কাজের মাধ্যমে কিয়ামতের দিন মীযানসমূহ হালকা হয়ে যাবে।

সিনদী বলেন, (حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمٰنِ) এর অর্থ হল নিশ্চয়ই এ দু’টি বাক্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে অধিক প্রিয় হওয়ার সাথে গুণান্বিত। অন্যান্য হাদীসগুলো থেকে যা বুঝা যাচ্ছে। যেমন আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হল (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ)। অন্যথায় সকল জিকির আল্লাহর কাছে প্রিয়। এক মতে বলা হয়েছে, এ বাক্যদ্বয়ের পাঠকারী আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া উদ্দেশ্য আর বান্দাকে আল্লাহর ভালবাসা বলতে বান্দার প্রতি কল্যাণ পৌঁছানোর ইচ্ছা করা এবং তাকে সম্মান দান করা। বাক্যে আল্লাহর উত্তম নামসমূহ থেকে রহমান নামকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কারণ এর দ্বারা বান্দার ওপর আল্লাহর রহমাতের প্রশস্ততা বর্ণনা করে দেয়া উদ্দেশ্য। যেমন অল্প কাজের জন্য তিনি অফুরন্ত প্রতিদান দিয়ে থাকেন। হাদীসে তাহমীদ বা আল্লাহর প্রশংসার বাণী পাঠ অপেক্ষা পবিত্রতা ঘোষণার বাণীতে অধিক মনোযোগ দেয়া হয়েছে আর তা আল্লাহকে পবিত্র সাব্যস্তকারীদের বিরোধিতাকারীর আধিক্যতার কারণে। আর এটা বুঝা গেছে আল্লাহর (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ) এ বাণীতে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা বারংবার করার কারণে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৯-[৬] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কেউ কি একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে সক্ষম? তার সাথে বসা লোকদের কেউ বললেন, আমাদের কেউ কিভাবে একদিনে এক হাজার নেকী আদায় করতে সক্ষম হবেন? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেউ যদি একদিনে একশ’বার ’’সুবহা-নাল্ল-হ’’ পড়ে তাহলে এতে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা তার এক হাজার গুনাহ মাফ করা হবে। (মুসলিম)[1]

সহীহ মুসলিমে মূসা আল জুহানী-এর সকল বর্ণনায়,أَوْ يُحَطُّ শব্দ উল্লেখ আছে عَنهُ শব্দটি নেই। তবে আবূ বকর আল বারকানী বলেন, শু’বাহ্, আবূ ’আওয়ানাহ্ এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ, কাত্তান, জুহানী হতে যেসব বর্ণনা করেছেন তাতে وَيُحَطُّ রয়েছে। এতে وَ -এর আগে ألفُ অক্ষরটি নেই। হুমায়দী-এর কিতাবেও অনুরূপ রয়েছে।

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ: قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ؟» فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ: كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ؟ قَالَ: «يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنهُ ألفُ خطيئةٍ» . رَوَاهُ مُسلم
وَفِي كِتَابه: فِي جَمِيعِ الرِّوَايَاتِ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ: «أَوْ يُحَطُّ» قَالَ أَبُو بكر البرقاني وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقطَّان عَن مُوسَى فَقَالُوا: «ويحُطُّ» بِغَيْر ألف هَكَذَا فِي كتاب الْحميدِي

وعن سعد بن ابي وقاص: قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «ايعجز احدكم ان يكسب كل يوم الف حسنة؟» فساله ساىل من جلساىه: كيف يكسب احدنا الف حسنة؟ قال: «يسبح ماىة تسبيحة فيكتب له الف حسنة او يحط عنه الف خطيىة» . رواه مسلم وفي كتابه: في جميع الروايات عن موسى الجهني: «او يحط» قال ابو بكر البرقاني ورواه شعبة وابو عوانة ويحيى بن سعيد القطان عن موسى فقالوا: «ويحط» بغير الف هكذا في كتاب الحميدي

ব্যাখ্যা: (لَه أَلْفُ حَسَنَةٍ) কেননা একটি পুণ্য কর্ম সম্পাদনে তার দশগুণ সাওয়াব দেয়া হয়। আর এটি হল কুরআনে ‘‘যে ব্যক্তি একটি পুণ্য কাজ সম্পাদন করবে তার জন্য থাকবে সে পুণ্যের দশগুণ সাওয়াব আর যাকে ইচ্ছা তাকে আরও বেশি দান করেন’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৬)। এ উক্তি দ্বারা বর্ণিত সর্বনিম্ন গুণ বৃদ্ধি।

(أَوْ يُحَطُّ عَنهُ أَلْفُ خَطِيْئَةٍ) এটি মূলত আল্লাহর (‘‘নিশ্চয়ই পুণ্যসমূহ পাপকে দূর করে দেয়’’- সূরা হূদ ১১ : ১১৪) এ উক্তির কারণে। আর এতে ঐ ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পুণ্য পাপসমূহকে মিটিয়ে দেয়। ইয়াহ্ইয়ার বর্ণনাতে কিছুটা ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর মুহাম্মাদ বিন বাশশার তিরমিযীতে তার থেকে ‘‘ওয়াও’’ বর্ণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আর ইমাম আহমাদ ‘আলিফ’ বর্ণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর আমার কাছে (‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী) দু’টি বর্ণনার একটিকে অপরটির উপর প্রাধান্য দেয়ার বিষয় স্পষ্ট হয়নি। সম্ভবত দু’টি বিষয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করা একটিকে অপরটির উপর প্রাধান্য দেয়া অপেক্ষা উত্তম। কারী মিরকাতে বলেন, ‘‘ওয়াও’’ কখনো ‘‘আও’’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, সুতরাং উভয় বর্ণনার মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। হাদীসের ভাব এভাবে হবে, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এ তাসবীহগুলো পাঠ করবে এমতাবস্থায় তার গুনাহ না থাকলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখা হবে আর পাপ থাকলে কিছু পাপ মিটানো হবে এবং পুণ্য লিখা হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০০-[৭] আবূ যার গিফারী(রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ কালাম (বাক্য) সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে কালাম আল্লাহ তা’আলা তাঁর মালায়িকাহ’র (ফেরেশতাগণের) জন্য পছন্দ করেছেন তা হলো, ’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’। (মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْكَلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَا اصْطَفَى اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي ذر قال: سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم اي الكلام افضل؟ قال: ما اصطفى الله لملاىكته: سبحان الله وبحمده . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (لِمَلَائِكَتِه) তিনি তার মালায়িকাহর (ফেরেশতাদের) জন্য যে জিকির নির্বাচন করেছেন এবং যার উপর অটল থাকতে তাদেরকে আদেশ করেছেন তা অধিক মর্যাদাযুক্ত হওয়ার কারণে। এ হাদীসে এমন কিছু নেই যা সীমাবদ্ধতার উপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং যা বলা হয়ে থাকে যে, হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে নিশ্চয়ই ফেরেশতারা শুধুমাত্র এ বাণী দ্বারা কথা বলে থাকে তা বিদূরীত হল। যেহেতু মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) থেকে আরও অনেক জিকির তাসবীহ, দু‘আ প্রমাণিত রয়েছে।

(سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه) ইমাম ত্বীবী বলেন, এতে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) সম্পর্কে বর্ণনা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আমরা আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি ও সাব্যস্ত করি।’’

(সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ৩০)

এ উক্তির দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। আর (سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه) বিগত হওয়া চারটি বাক্য (سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر) এর সংক্ষিপ্ত রূপ হতে পারে, কেননা (سُبْحَانَ اللّٰهِ) আল্লাহর মর্যাদার সাথে উপযুক্ত না এমন বিষয় থেকে আল্লাহর সত্তাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা, সকল অপূর্ণাঙ্গতা থেকে তার গুণাবলীকে পবিত্র সাব্যস্ত করা নিশ্চিত করে। সুতরাং এর মাঝে (لا إله إلا الله) এর অর্থ প্রবেশ করবে এবং তার (بحمده) উক্তি (الحمد لله) এর অর্থের ক্ষেত্রে স্পষ্ট। যা (الله أكبر) এর অর্থকে আবশ্যক করে নিচ্ছে, কেননা প্রত্যেক মর্যাদা এবং মর্যাদাসমূহ যখন আল্লাহর জন্য ও আল্লাহর তরফ থেকে হবে এবং এ থেকে কোন কিছু তিনি ছাড়া অন্য কারো থেকে হবে না তখন তার অপেক্ষা বড়ও কেউ হতে পারে না। যদি তুমি বল এর মাধ্যমে তো তাসবীহ তাহলীল অপেক্ষা উত্তম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ছে? উত্তরে আমি বলব, এটা আবশ্যক হয়ে পড়ছে না। কেননা তাহলীল তাওহীদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট পক্ষান্তরে তাসবীহ তাহলীলকে অন্তর্ভুক্তকারী।

হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের অপর এক বর্ণনাতে আছে আবূ যার (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য সম্পর্কে সংবাদ দিব না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য সম্পর্কে সংবাদ দিন তখন তিনি বললেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হল (سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০১-[৮] উম্মুল মু’মিনীন জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর খুব ভোরে তাঁর নিকট হতে বের হলেন। তখন জুওয়াইরিয়্যাহ্ নিজ সালাতের জায়গায় বসা। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন তখন সূর্য বেশ উপরে উঠে এসেছে। আর জুওয়াইরিয়্যাহ্ তখনো সালাতের জায়গায় বসে আছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় তুমি ছিলে, এখনো কি সে অবস্থায় আছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি মাত্র চারটি কালিমাহ্ তিনবার পড়েছি, যদি তুমি এ পর্যন্ত যা পড়েছ তার সাথে আমার পড়া কালাম ওযন দেয়া হয় তাহলে এর ওযনই বেশি হবে। (বাক্যগুলো হলো)

’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ’আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ’আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ তা’আলার পূত-পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ, তার ’আরশের ওযন পরিমাণ ও তাঁর বাক্যসমূহের সংখ্যা পরিমাণ।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَن جوَيْرِية أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ قَالَ: «مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَاءَ نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاته . رَوَاهُ مُسلم

وعن جويرية ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج من عندها بكرة حين صلى الصبح وهي في مسجدها ثم رجع بعد ان اضحى وهي جالسة قال: «ما زلت على الحال التي فارقتك عليها؟» قالت: نعم قال النبي صلى الله عليه وسلم: لقد قلت بعدك اربع كلمات ثلاث مرات لو وزنت بما قلت منذ اليوم لوزنتهن: سبحان الله وبحمده عدد خلقه ورضاء نفسه وزنة عرشه ومداد كلماته . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَهِىَ جَالِسَةٌ) অর্থাৎ- সে তার সালাতের স্থানেই আছে। আবূ দাঊদের এক বর্ণনাতে আছে, অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এমতাবস্থায় জুওয়াইরিয়্যাহ্ তার সালাতের স্থানে ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার যখন ফিলে আসলেন তখনও জুওয়াইরিয়্যাহ্ তার সালাত আদায়স্থলে ছিলেন। আহমাদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক বর্ণনাতে আছে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে জুওয়াইরিয়্যাহ্’র পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এমতাবস্থায় জুওয়াইয়রিয়্যাহ্ মসজিদে দু‘আ করছিলেন, এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধ দিবসের সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছেন।

ইবনু মাজাতে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়্যাহ্’র পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করলেন অথবা ফজরের সালাত আদায়ের পর। এমতাবস্থায় জুওয়াইরিয়্যাহ্ আল্লাহর জিকির করছিলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলেন যখন বেলা উপরে উঠে গেল অথবা বলেছেন অর্ধ দিবসে, এমতাবস্থাতে জুওয়াইরিয়্যাহ্ ঐভাবেই ছিলেন।

(وَمِدَادَ كَلِمَاتِه) কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হল সংখ্যাতে তার সমান। আবার কারো মতে নিঃশেষ না হওয়ার ক্ষেত্রে তার সমান। কেউ কেউ এটি বলেছেন যে, আধিক্যতার ক্ষেত্রে তার সমান। مَدَدٌ-এর ন্যায় (المداد) শব্দটি ক্রিয়ামূল অর্থ আধিক্যতা।

নিহায়াহ্ গ্রন্থে আছে তার সংখ্যার সমান। কেউ কেউ বলেছেন, আধিক্যতার ক্ষেত্রে কাইল, ওযন, আযান বা সীমাবদ্ধকরণ ও পরিমাপকরণের অন্যান্য মানদণ্ডের মতো বা সমান একটি মাপ। এটা একটি উপমা পেশকরণ যার মাধ্যমে নিকটবর্তীকরণ উদ্দেশ্য করা হয়। কেননা কথা পরিমাপ ও ওযনের মাঝে প্রবেশ করে না। তা কেবল সংখ্যাতে প্রবেশ করে।

বিদ্বানগণ বলেন, এখানে সংখ্যার ব্যবহার রূপক। কেননা আল্লাহর বাণীসমূহ সংখ্যা এবং অন্য কিছু দ্বারা পরিসংখ্যান করা যায় না। উদ্দেশ্য আধিক্যতার ক্ষেত্রে বেশি করা, কেননা প্রথমে সৃষ্টির সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে এমন অধিক সংখ্যা উল্লেখিত হয়েছে। অতঃপর এর অপেক্ষা আরও বড় কিছুর দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ- কোন সংখ্যা দ্বারা যাকে পরিসংখ্যান করা যায় না। যেমন আল্লাহর বাণীসমূহ পরিসংখ্যান করা যায় না। একে ইমাম নাবাবী বর্ণনা করেছেন। লাম্‘আত প্রণেতা বলেন, এটা একটি দাবীকরণ এবং আধিক্যতাতে বেশিকরণ।

সিনদী বলেন, যদি তুমি বল নিশ্চয়ই তাসবীহ সর্বাধিক পবিত্র সত্তার সাথে উপযুক্ত না এমন সকল কিছু থেকে তাকে পবিত্র সাব্যস্তকরণ বুঝানো সত্ত্বেও উল্লেখিত সংখ্যার সাথে তাসবীহকে জড়িয়ে দেয়া কিরূপে বিশুদ্ধ হতে পারে? অথচ তা তার সত্তার ক্ষেত্রে একই বিষয় যা সংখ্যাকে গ্রহণ করে না। বক্তা থেকে তা প্রকাশের বিবেচনায় তাতে এ সংখ্যা বিবেচনা করা সম্ভব না। কেননা বক্তা এ ব্যাপারে ক্ষমতা রাখে না আর যদিও ঐ ব্যাপারে বক্তার সক্ষমতাকে ধরেও নেয়া হয় তাহলে অবশ্যই তাসবীহের সাথে এ সংখ্যার সম্পর্ক বিশুদ্ধ হবে না তবে বক্তা থেকে এ সংখ্যার মাধ্যমে এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশের পর। পক্ষান্তরে (سبحان الله) একবার বললে এ সংখ্যা অর্জন হবে না। আমি বলব, সম্ভবত এ সীমাবদ্ধতাটি বক্তা থেকে এ সংখ্যার মাধ্যমে তাসবীহ প্রকাশ পাওয়া সর্বাধিক পবিত্র সত্তার অধিকারের লক্ষ্যের সাথে জড়িত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০২-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান)

তার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দু’আ ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশী পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: من قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير في يوم ماىة مرة كانت له عدل عشر رقاب وكتبت له ماىة حسنة ومحيت عنه ماىة سيىة وكانت له حرزا من الشيطان يومه ذلك حتى يمسي ولم يات احد بافضل مما جاء به الا رجل عمل اكثر منه

ব্যাখ্যা: (فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ) এক সাথে অথবা আলাদাভাবে। (عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ) ত্বীবী বলেন, এ হাদীসে (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ করাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ গুনাহ মোচনকারী করা হয়েছে, পক্ষান্তরে তাসবীহ এর হাদীসে তাসবীহ পাঠ করাকে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মোচনকারী করা হয়েছে। সুতরাং তাসবীহ পাঠ করা সর্বোত্তম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ছে। অথচ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠকারী তা পাঠ করে যে সাওয়াব অর্জন করবে অন্য কোন ‘আমলকারী তার অপেক্ষা উত্তম ‘আমল করতে পারবে না। এ ব্যাপারে কাযী ‘ইয়ায উত্তর প্রদান করেছেন যে, এ হাদীসে উল্লেখিত (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ সর্বোত্তম, কেননা এর প্রতিদান গুনাহসমূহ মোচন করা, দশজন দাস মুক্ত করা একশত পুণ্য সাব্যস্ত করা এবং শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। (حَتّٰى يُمْسِىَ) ইবনু হাজার এক বর্ণনাতে আছে, ঐ দিন রাত পর্যন্ত। অর্থাৎ- অবশিষ্ট দিন বা পূর্ণাঙ্গ দিন। কারী বলেন, পারস্পরিক বিপরীতমুখী এর বাহ্যিক দিক হল, যখন রাত্রে বলবে তখন (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ ঐ ব্যক্তির জন্য ঐ রাতে সকালে উপনীত হওয়া পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার কারণ হবে। অতঃপর হাদীসের ভাষ্য বর্ণনাকারী থেকে সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে অথবা বিপরীত দিক স্পষ্ট হওয়ার কারণে তিনি তা ছেড়ে দিয়েছেন।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ হাফেয ফাতহুল বারীতে বলেছেন, তার উক্তি ‘‘আর سبحان الله পাঠ ঐ ব্যক্তির জন্য শয়তান থেকে বাঁচার কারণ হবে’’। ইবনুস্ সুন্নী এর ২৫ পৃষ্ঠাতে ‘আব্দুল্লাহ সা‘ঈদ-এর বর্ণনাতে আছে, ‘‘সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সংরক্ষণ করবেন’’ তাতে একটু বেশি উল্লেখ করেছেন যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় অনুরূপ বলবে তার জন্যও অনুরূপ হবে।

ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসটি প্রয়োগের বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই হাদীসটিতে উল্লেখিত এ সাওয়াব ঐ ব্যক্তির জন্য অর্জন হবে যে ব্যক্তি এ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) ঐ দিনে একশতবার বলবে চাই সে তা ধারাবাহিকভাবে বলুক, চাই বৈঠকসমূহে বিচ্ছিন্নভাবে বলুক চাই এর কতক দিনের শুরুতে পাঠ করুক আর কতক দিনের শেষে পাঠ করুক। তবে উত্তম হল এগুলো দিনের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে এক সাথে পাঠ করা যাতে সমস্ত দিন শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এমনিভাবে রাত্রের শুরুতে যাতে সমস্ত রাত শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

(إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ) অর্থাৎ- এমন ব্যক্তি ছাড়া যে তার অপেক্ষা বেশি ‘আমল করবে সে তার উপর অধিক শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে। ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, হাদীসটিতে ঐ ব্যাপারে অবহিতকরণ রয়েছে, যে একশত সংখ্যা যিকিরের ক্ষেত্রে শেষ সীমা এবং খুব কম লোকই এর বেশি বলতে পারবে। এ সংখ্যার উপর বৃদ্ধি করবে। তিনি ব্যতিক্রমের বর্ণনা দিয়েছেন যাতে এ ধারণা না হয় যে, এ সংখ্যার উপর বৃদ্ধি করা নিষেধ। যেমন ঊযূর ক্ষেত্রে বারবার ‘আমল করা। তবে উদ্দেশ্য এটিও হতে পারে যে, সকল প্রকারের পুণ্য হতে কেউ তার অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এ ব্যাপারে তার অপেক্ষা বেশি ‘আমল করবে। কাযী ‘ইয়ায-এর কথা অনুরূপ। হাদীসে একশত সংখ্যায় জিকির উল্লেখ ঐ ব্যাপারে দলীল যে, তা উল্লেখিত সাওয়াবের শেষ সীমা।

ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসে দলীল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি এ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) দিনে একশতবার এর অধিক পাঠ করে তাহলে একশত সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এ ব্যক্তির জন্য হাদীসটিতে উল্লেখিত সাওয়াব থাকবে এবং একশত এর উপর বৃদ্ধি করার কারণে তার জন্য আরো সাওয়াব থাকবে। আর এটা এমন সীমাবদ্ধ সংখ্যা না যা অতিক্রম করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং সে সীমা বৃদ্ধি করতে কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অথবা বৃদ্ধি করলে মূলটিকেই বাতিল করে দিবে। যেমন পবিত্রতা অর্জনের সংখ্যার ক্ষেত্রে এবং সালাতের রাক্‘আতের সংখ্যার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করা যা মূলকে বাতিল করে দেয়। আরো সম্ভাবনা আছে কল্যাণকর ‘আমলে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হুবহু (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের সংখ্যা বৃদ্ধি করা না। বৃদ্ধি করা থেকে সাধারণ বৃদ্ধি করাও উদ্দেশ্য হতে পারে চাই তা (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের সংখ্যা হোক অথবা (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) এর সাথে অন্যান্য কিছু বৃদ্ধি করা উদ্দেশ্য হোক। এ সম্ভাবনাটিই সর্বাধিক স্পষ্ট, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞাত। বুখারী একে (সৃষ্টির সূচনা থেকে ইবলীসের বৈশিষ্ট্য) এতে এবং দা‘ওয়াতে উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিমও তাতে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৩-[১০] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। লোকেরা তখন উচ্চস্বরে তাকবীর বলছিল। (তাকবীর শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের নাফসের উপর রহম করো। কেননা তোমরা তাকবীরের মাধ্যমে কোন বধিরকে বা কোন অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না, তোমরা ডাকছ এমন সত্তাকে যিনি তোমাদের সব কথা শুনেন ও দেখেন। তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। তোমরা যাঁকে ডাকছ তিনি তোমাদের প্রত্যেকের বাহনের গর্দান থেকেও বেশি নিকটে। আবূ মূসা আল আশ্’আরী বলেন, আমি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে চুপে চুপে বলছিলাম ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার কোন উপায় নেই)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! (আবূ মূসার ডাক নাম) আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারগুলোর একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই দেবেন, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা হলো ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا وَهُوَ مَعَكُمْ وَالَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ» قَالَ أَبُو مُوسَى: وَأَنَا خَلْفَهُ أَقُولُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ فِي نَفْسِي فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟» فَقُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»

وعن ابي موسى الاشعري قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فجعل الناس يجهرون بالتكبير فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا ايها الناس اربعوا على انفسكم انكم لا تدعون اصم ولا غاىبا انكم تدعون سميعا بصيرا وهو معكم والذي تدعونه اقرب الى احدكم من عنق راحلته» قال ابو موسى: وانا خلفه اقول: لا حول ولا قوة الا بالله في نفسي فقال: «يا عبد الله بن قيس الا ادلك على كنز من كنوز الجنة؟» فقلت: بلى يا رسول الله قال: «لا حول ولا قوة الا بالله»

ব্যাখ্যা: (كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ سَفَرٍ) অন্য এক বর্ণনাতে যুদ্ধের কথা আছে আর এ যুদ্ধ খায়বারের যুদ্ধ। যেমন এ ব্যাপারে বুখারীর বর্ণনাতে মাগাযী পর্বে খায়বারের যুদ্ধ অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে এসেছে।

(فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ) অর্থাৎ- যখনই তারা উঁচু স্থানে আরোহণ করল তাকবীরের মাধ্যমে আওয়াজ উঁচু করতেছিল এবং আওয়াজ প্রকাশে বাড়াবাড়ি করতেছিল। তাকবীর দ্বারা উদ্দেশ্য (لا إله إلا الله الله أكبر) বলা। বুখারীর এক বর্ণনাতে আছে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে যুদ্ধ করলেন মানুষ উপত্যকার উপর উঠে দেখল অতঃপর (الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله) তাকবীরের মাধ্যমে তাদের আওয়াজ উঁচু করল।

(ارْبَعُوا عَلَى انْفُسِكُمْ) অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের আওয়াজ নীচু করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতি সদয় হও, নিজের উপর কষ্ট প্রয়োগ করো না। অর্থাৎ- তাকবীর প্রকাশে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। অথবা নাফসের প্রতি সদয় হওয়া, তার ওপর কঠোরতা আরোপ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তোমাদের নিজেদের ওপর অনুগ্রহ কর। কারী বলেন, নিজেদের প্রতি সদয় হও এবং তোমাদের ক্ষতি সাধন করে এমন আওয়াজ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাক। এতে ঐ ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা আওয়াজ প্রকাশ ও উঁচু করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছিল। এতে সাধারণভাবে আওয়াজ উঁচু করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ছে না।

(لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا) কিরমানী বলেন, তুমি যদি বল হাদীসে (ولا أعمى) টি বলা যথোপযুক্ত ছিল। তাহলে আমি বলব, অন্ধ ব্যক্তি দৃষ্টি দ্বারা অনুভব করা থেকে গায়ব বা অন্তরায় এবং অনুপস্থিত ব্যক্তি দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিকে না দেখার ক্ষেত্রে অন্ধ ব্যক্তির মতো। সুতরাং তা নাফিকে (নিষেধকে) আবশ্যক করে নিয়েছে যাতে তার প্রয়োগ পূর্ণাঙ্গ, ব্যাপক হয় এবং নিকটবর্তীকে বৃদ্ধি করে। (অর্থাৎ- অন্য এক বর্ণনাতে আসছে) কেননা অনেক শ্রবণকারী ও দর্শনকারী আছে অনুভূতি থেকে দূরে থাকার কারণ শুনতে পায় না, দেখতে পায় না। সুতরাং এর মাধ্যমে তিনি নিকটবর্তী হওয়াকে সাব্যস্ত করলেন যাতে চাহিদা এবং প্রতিবন্ধক না থাকা স্পষ্ট হয়ে যায়। আর নিকটবর্তী দ্বারা পরিসীমার নিকটবর্তীতাকে উদ্দেশ্য করেননি। বরং বিদ্যার মাধ্যমে নিকটবর্তী হওয়াকে উদ্দেশ্য করেছেন। হাফেয বলেন, আওয়াজ উঁচু করা থেকে নিষেধ করার কারণে বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে (غائب) শব্দের প্রয়োগ অনুকূল হয়েছে। (سميعا بصيرا) অনুরূপভাবে বুখারীর বর্ণনাতে দু‘আ শেষে যখন উপরে আরোহণ করবে তখন দু‘আ অধ্যায়ে এবং কদর পর্বে এসেছে এবং বুখারীতে মাগাযী পর্বে (سميعا قريبا) এসেছে। এভাবে মুসলিমে তাওহীদে (سميعا بصيرا قريبا) এসেছে। তিনি লাম্‘আতে বলেন, তার (سميعا) উক্তির অনুকূল হওয়ার কারণে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তার (بصيرا) উক্তি বৃদ্ধি করার, কারণ শব্দদ্বয় অধিকাংশ স্থানে এক সাথে উল্লেখ হয়েছে। অথবা আওয়াজ প্রকাশ করা, উঁচু করার প্রয়োজন নেই- এ কথা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য তা অতিরিক্ত করা হয়েছে। কেননা তিনি আওয়াজ প্রকাশ ও উঁচু না করলেও শোনেন, এ ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দেখেন এবং তোমাদের আকৃতি গঠনের অবস্থা তিনি জানেন।

ইমাম ত্বীবী বলেন, (بصيرا) উক্তি বৃদ্ধি করার উপকারিতা হল নিশ্চয়ই (السميع) এবং (البصير) শব্দদ্বয় (السميع الأعمى) হতে অধিক অনুভূতিশীল। ইবনু হাজার বলেন, (سميعا) শব্দটি (أصم) এর বিপরীতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং (بصيرا) কে নিয়ে আসা হয়েছে, কেননা যিকিরের ক্ষেত্রে (السميع) কে আবশ্যকীয়। যাদের পরস্পরের মাঝে অনুভূতি সম্পর্ক আছে।

(وَهُوَ مَعَكُمْ) অর্থাৎ- ব্যাপকভাবে বিদ্যা, ক্ষমতা ও আয়ত্বের মাধ্যমে বিশেষভাবে অনুগ্রহ দয়ার মাধ্যমে। কারী বলেন, তোমরা যেখানেই থাক না কেন চাই প্রকাশ্যে থাক চাই গোপনে থাক তিনি তোমাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, বিদ্যার মাধ্যমে তোমাদের সাথে আছে। আর বাহ্যিকভাবে এটি (ولا غائبا) এর বিপরীত। অতঃপর তিনি চূড়ান্ত মর্যাদার উপর প্রমাণ বহনকারী ‘‘সাথে’’ অর্থের বিশ্লেষণ (আর তোমরা যাকে আহবান করছ তিনি তোমাদের কারো বাহনের গর্দান অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী) এ উক্তিকে বৃদ্ধি করেছেন। আর এ বাক্যটি মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, বুখারী এটি উল্লেখ করেননি। আর এটি একটি উপমা পেশকরণ ও বুঝ শক্তির নিকটবর্তীকরণ, অন্যথায় তিনি শাহরগ (গ্রীবাদেশের প্রধান রগ) থেকেও অধিক নিকটবর্তী।

ইমাম নাবাবী বলেন, তার উক্তি (هُوَ مَعَكُمْ) অর্থাৎ- বিদ্যা ও আয়ত্বের মাধ্যমে তিনি তোমাদের সাথে আছেন এবং তার উক্তি (والذى تدعونه أقرب) শেষ পর্যন্ত বিগত হয়ে যাওয়া অর্থে ব্যবহৃত। এর সারাংশ হচ্ছে নিশ্চয়ই তা রূপক যেমন আল্লাহর বাণী, وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ অর্থাৎ- ‘‘আমি বিদ্যার মাধ্যমে তার শাহরগ হতেও অধিক নিকটবর্তী’’- (সূরা কাফ ৫০ : ১৬)। তার গোপনীয় বিষয় থেকে আমার কাছে কোন কিছু গোপন থাকে না। যেন তার সত্তা তার অপেক্ষা নিকটবর্তী, এর সারাংশ হল বিদ্যার নিকটবর্তী অপেক্ষা সত্তার নিকটবর্তী হওয়া বৈধ। ইমাম যাহাবী কিতাবুল উলুব্বি-তে আবূল হাসান আল আশ্‘আরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ যেভাবে ইচছা তার সৃষ্টির নিকটবর্তী হন, যেমন তিনি বলেন, (ونحن أقرب إليه من حبل الوريد)

তার উক্তি (فى نفسى) ইমাম বুখারী একে এককভাবে বর্ণনা করেছেন আর তা দা‘ওয়াতে ও তাওহীদে আছে। আর বুখারীতে মাগাযীতে আছে, আর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের পিছনে ছিলাম।

(يَا عَبْدَ اللّٰهِ) এটি আবূ মূসার নাম।

(أَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟) উক্ত জিকির পাঠ গচ্ছিত সম্পদ এভাবে যে, নিশ্চয়ই তা জিকির পাঠকারীর জন্য প্রস্ত্তত রাখা হবে এবং পাঠকারীর জন্য তা সাওয়াব হিসেবে সঞ্চয় করে রাখা হবে। যা ব্যক্তি জান্নাতে পাবে আর তা দুনিয়ার গচ্ছিত সম্পদের মতো সারাংশ, নিশ্চয়ই তা জান্নাতের সঞ্চয় বা জান্নাতের উৎকৃষ্ট অর্জন।

(لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ) বাক্যটি উহ্য উদ্দেশের বিধেয়। যার মূলরূপ (هو أو كنز الجنة)

অর্থাৎ- এ কালিমা পাঠ করাটাই জান্নাতের গচ্ছিত সম্পদ। আর তা হলঃ لا حول ولا قوة إلا بالله

ইমাম নাবাবী বলেনঃ বিদ্বানগণ বলেন, এর কারণ হল নিশ্চয়ই এটি আত্মসমর্পণ, নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়া, তার আনুগত্য স্বীকার করা। নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোন স্রষ্টা নেই, তার নির্দেশের কোন প্রত্যাখ্যানকারী নেই, নিশ্চয়ই বান্দা কোন জিনিসের ক্ষমতা রাখেন না। আর এখানে (كنز) এর অর্থ হল নিশ্চয়ই তা জান্নাতের সঞ্চয় করা পুণ্য আর তা উৎকৃষ্ট পুণ্য, যেমন গচ্ছিত সম্পদ তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ। অভিধানবেত্তাগণ বলেন, (الحول) এর অর্থ কৌশল করা, অর্থাৎ- আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন গতি নেই, কোন সক্ষমতা নেই, কৌশল নেই।

এক মতে বলা হয়েছে, এর অর্থ কল্যাণ অর্জনে আল্লাহ ছাড়া কোন পরিবর্তনকারী নেই, কোন ক্ষমতা নেই। একমতে বলা হয়েছে, আল্লাহর সংরক্ষণ ছাড়া তাঁর অবাধ্যতা থেকে পরিবর্তনকারী কেউ নেই আর তাঁর সাহায্য ছাড়া তাঁর আনুগত্যের ব্যাপারে কোন শক্তি নেই। এ মতটি ‘আবদুল্লাহ বিন মাস্‘ঊদ থেকে বর্ণিত আছে বাযযার গ্রন্থে যা মারফূ‘ সূত্রে। হাদীসটিকে ইমাম বুখারী জিহাদ, মাগাযী, দা‘ওয়াত, কদর ও তাওহীদে সংকলন করেছেন। মুসলিম কাছাকাছি শব্দে দা‘ওয়াতে। তবে উল্লেখিত বাচনভঙ্গি বুখারী, মুসলিমের কারো না বরং তথা বুখারী মুসলিমের উভয়ের সামষ্টিকতা থেকে গৃহীত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৪-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ’’সুবহা-নাল্ল-হিল ’আযীম ওয়া বিহামদিহী’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হবে। (তিরমিযী)[1]

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قال سبحان الله العظيم وبحمده غرست له نخلة في الجنة» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (نَخْلَةٌ) অর্থাৎ- প্রত্যেকবার বলার কারণে একটি করে খেজুর বৃক্ষ লাগানো হয়। নাসায়ীর বর্ণনাতে খেজুর বৃক্ষের পরিবর্তে বৃক্ষের উল্লেখ এসেছে, তবে এ সাধারণ বর্ণনাটিকে খেজুর বৃক্ষের নির্দিষ্ট বর্ণনার উপর চাপিয়ে দিতে হবে। ফলে এ ক্ষেত্রে জান্নাতের রোপণ করা বৃক্ষটি খেজুর বৃক্ষ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

(فِى الْجَنَّةِ) যা উল্লেখিত জিকির পাঠকারীর জন্য প্রস্ত্তত থাকবে। উদ্ধৃত অংশ থেকে বুঝা যাচ্ছে নিশ্চয়ই খেজুর জান্নাতী ফলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘‘উদ্যানদ্বয়ে থাকবে ফল-মূল, খেজুর ও আনার’’- (সূরা আর্ রহমান ৫৫ : ৬৮)। এখানে খেজুরকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে অধিক উপকার, উত্তম স্বাদ এবং এর প্রতি ‘আরববাসীদের ঝোঁক থাকার কারণে। বিদ্বানগণ আরো বলেছেন, এখানে কেবল খেজুর বৃক্ষকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কেননা তা সর্বাধিক উপরকারী ও উত্তম বৃক্ষ। আর এ কারণেই আল্লাহ মু’মিন এবং তার ঈমানের দৃষ্টান্ত খেজুর বৃক্ষ ও তার ফল দ্বারা দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘‘আপনি লক্ষ্য করেননি কিভাবে আল্লাহ একটি উত্তম বাণীর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন’’- (সূরা ইব্রাহীম ১৪ : ২৪)। আর তা হল একত্ববাদের বাণী, ‘‘যেমন উত্তম বৃক্ষ’’- (সূরা ইব্রাহীম ১৪ : ২৪)। আর তা হল খেজুর বৃক্ষ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৫-[১২] যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রভাত যাতে আল্লাহর বান্দারা উঠেন, তাতে একজন মালাক (ফেরেশতা) এরূপ আহবান করেন যে, ’’পবিত্র বাদশাহকে পবিত্রতার সাথে স্মরণ করো’’। (তিরমিযী)[1]

وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ صَبَاحٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلَّا مُنَادٍ يُنَادِي سَبِّحُوا الْمَلِكَ القدوس» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن الزبير قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من صباح يصبح العباد فيه الا مناد ينادي سبحوا الملك القدوس» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (الْمَلِكَ الْقُدُّوْسَ) অর্থাৎ- তিনি ছাড়া যা আছে তা থেকে তিনি পবিত্র। অর্থাৎ- তোমরা বিশ্বাস রাখ নিশ্চয়ই তিনি তা থেকে পবিত্র। এখানে পবিত্রতা সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য না, কেননা তিনি স্থায়ীভাবে পবিত্র। অথবা তোমরা তাকে পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে স্মরণ কর। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর যে কোন বস্ত্ত তার প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা করে’’- (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৪)। এ কারণে ইমাম ত্বীবী বলেন, তোমরা (سبحان الملك القدوس) বল অথবা (سبوح قدوس رب الملائكة والروح) বল। অর্থাৎ- (سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم) এ উক্তির ন্যায়। (سبحان الملك القدوس) এর ব্যাপারে মালায়িকাহর (ফেরেশতার) আহবান করা থেকে উদ্দেশ্য হল মানুষকে ঐ তাসবীহ পাঠের ব্যাপারে উৎসাহিত করা।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৬-[১৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম জিকির হলো, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ আর সর্বোত্তম দু’আ হলো, ’’আলহামদুলিল্লা-হ’’। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفْضَلُ الذِّكْرِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: افضل الذكر: لا اله الا الله وافضل الدعاء: الحمد لله . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (أَفْضَلُ الذِّكْرِ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) কেননা এটি তাওহীদ তথা একত্ববাদের বাণী আর কোন কিছু একত্ববাদের বাণীর সমপর্যায়ের হতে পারে না। আর তা কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্যকারী এবং তা ইসলামের সেই দরজা যা দিয়েই ইসলামে প্রবেশ করতে হয়। আর কেননা তা আল্লাহর সাথে অন্তরকে সর্বাধিক সংযুক্তকারী এবং অন্যকে সর্বাধিক অস্বীকারকারী আত্মাকে সর্বাধিক পবিত্রকারী, মনকে সর্বাধিক স্বচ্ছকারী, আত্মার ময়লাজনিত উদ্দেশ্যকে সর্বাধিক পরিষ্কারকারী এবং শয়তানকে সর্বাধিক বিতাড়নকারী।

ইমাম ত্বীবী বলেন, কতক বিশেস্নষক বলেন, (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির এজন্য করা হয়েছে যে, কেননা গোপনে এমন কিছু নিন্দনীয় গুণাবলী সম্পর্কে তার প্রভাব রয়েছে যেগুলো জিকিরকারীর আভ্যন্তরীণ উপাস্যসমূহ। আল্লাহ বলেন, ‘‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যে তার প্রবৃত্তিকে তার উপাস্য স্বরূপ গ্রহণ করেছে’’- (সূরা আল ফুরকান ২৫ : ৪৩)। সুতরাং (لَا إِلٰهَ) দ্বারা সকল উপাস্যকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং (إِلَّا اللّٰهُ) দ্বারা এক উপাস্যকে সাব্যস্ত করা হচ্ছে। জিকির তার জবানের প্রকাশ্য দিক থেকে তার অন্তরের গভীরে প্রত্যার্বতন করছে, অতঃপর অন্তরে তা দৃঢ় হচ্ছে এবং তা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করছে, আর যে তার স্বাদ আস্বাদন করেছে সে এর মিষ্টতা পেয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, কেননা এ ছাড়া ঈমান বিশুদ্ধ হয় না। আর এ ছাড়া আরো যত জিকির আছে এটি তার অন্তর্ভুক্ত না।

(وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ: الْحَمْدُ لِلّٰهِ) সম্ভবত এখানে দু‘আ দ্বারা সূরা আল ফাতিহাহ্ পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য। যেন এ শব্দটি সূরা ফাতিহার কেন্দ্রের স্থানে আছে। ইমাম ত্বীবী বলেন, আল্লাহর বাণী (الحمد لله) তাঁর বাণী اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এর দিকে ইঙ্গিত বা ইশারা করা অধ্যায়ের আওতাভুক্ত হতে পারে। আর কোন দু‘আটি এর অপেক্ষা বেশি উত্তম, সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাধিক জামি‘ হতে পারে? আবার এটিও হতে পারে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বয়ং (الحمد لله) আর এর উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। এখানে (الحمد لله) এর উপর দু‘আর প্রয়োগ রূপক অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত একে সর্বোত্তম দু‘আ নির্ধারণ করা হয়েছে এ দৃষ্টিকোণ থেকে যে, তা সূক্ষ্ম চাওয়া যার পথ যথার্থ।

মাযহার বলেন, (حمد)-কে কেবল এজন্য দু‘আ বলা হয়েছে, কেননা তা আল্লাহর জিকির ও তাঁর থেকে প্রয়োজন অনুসন্ধান করা সম্পর্কে একটি ভাষ্য আর (حمد) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, কেননা যে আল্লাহর হাম্দ প্রকাশ করল সে কেবল তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করল। আর নিয়ামতের উপর (حمد) পেশ করা হলো অধিক চাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আমি তোমাদেরকে আরো বেশি দিব’’- (সূরা ইব্রাহীম ১৪ : ৭)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৭-[১৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’আলহামদুলিল্লা-হ’’ বা প্রশংসা করা হলো সর্বোত্তম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না।[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَمْدُ رَأْسُ الشُّكْرِ مَا شَكَرَ اللَّهَ عَبْدٌ لَا يحمده»

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الحمد راس الشكر ما شكر الله عبد لا يحمده»

ব্যাখ্যা: (الْحَمْدُ رَأْسُ الشُّكْرِ) কেননা শুকরিয়া আদায় অনুগ্রহকারীকে সম্মান প্রদর্শন এবং জবানের কাজ এ ব্যাপারে যা সর্বাধিক স্পষ্ট ও সর্বাধিক প্রমাণবহ। পক্ষান্তরে অন্তরের কাজ হল গোপনীয়। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর কর্মের উপরও প্রমাণে ঘাটতি রয়েছে। কতিপয় ব্যাখ্যাকার বলেন, (الحمد) শুকরিয়ার মূল অর্থাৎ- তার কতক বৈশিষ্ট্য ও সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য, কেননা (حمد) শুধু জবানের মাধ্যমে এবং (شكر) জবান, অন্তর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসূমহের মাধ্যমে আদায় হয়। কেননা (شكر) আল্লাহ যার মাধ্যমে বান্দার ওপর অনুগ্রহ করেছেন সে সকল কিছু বান্দা নিজ সৃষ্টি উদ্দেশের দিকে ফিরিয়ে দেয়। সুতরাং (حمد) হল (شكر) এর শাখা-প্রশাখার একটি। আর বস্ত্তর মূল সে বস্ত্তর কিছু। সুতরাং তা এ দৃষ্টিকোণ থেকে (شكر) এর কিছু। আর (حمد) কে (شكر) এর মাথা করা হয়েছে, কেননা মাথা শরীরের অংশসমূহের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত। আর জবানে গুণকীর্তন করা (شكر) এর অংশসমূহের মাঝে সর্বাধিক সম্মানিত, কেননা জবানে নিয়ামতের উল্লেখ এবং অভিমুখীকারীর উপর গুণকীর্তন নিয়ামতের সর্বাধিক প্রকাশকারী এবং গোপন বিশ্বাসের কারণে নিয়ামতের স্থানের উপর সর্বাধিক প্রমাণবহ এবং জবানের ‘আমলের বিপরীতের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ‘আমলের ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা আছে তার কারণে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৮-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি যারা সুখে-দুঃখে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করেন। (এ হাদীস দু’টি বায়হাক্বী শু’আবূল ঈমানে বর্ণনা করেছে)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَّلُ مَنْ يُدْعَى إِلَى الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اول من يدعى الى الجنة يوم القيامة الذين يحمدون الله في السراء والضراء» . رواهما البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: (الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللّٰهَ فِى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ) অর্থাৎ- স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল এবং প্রত্যেক অবস্থাতে। কেননা মানুষ সুখ-দুঃখ থেকে মুক্ত না আর সুখের বিপরীত চিন্তা এবং দুঃখের বিপরীত উপকার এবং সুখ-দুঃখে বৈপরীত্য সৃষ্টি হওয়াতে অনেক ব্যাপকতা এবং বৈপরীতপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণে আয়ত্ব শক্তি রয়েছে যেন তিনি বলেছেন আনন্দের ক্ষেত্রে, চিন্তার ক্ষেত্রে, উপকারের ক্ষেত্রে, ক্ষতির ক্ষেত্রে। কেননা প্রত্যেকের উল্লেখ করা তার বিপরীত দিক উল্লেখ করাকে দাবী করে এবং সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যেকের উল্লেখকে অন্তর্ভুক্ত করে আর এটা বর্ণনার এক পদ্ধতি ভাষাবিদগণ যা অবলম্বন করে থাকেন। আর এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এক মতে বলা হয়েছে, ধনী হোক, দরিদ্র হোক, অস্বচ্ছলতা হোক, স্বচ্ছলতা হোক যারা তাদের ওপর আরোপিত হুকুমের ব্যাপারে তাদের মুনীবের প্রতি সন্তুষ্ট। সুতরাং এখানে স্থায়িত্ব অর্থ উদ্দেশ্য। এক মতে বলা হয়েছে, আনন্দের ক্ষেত্রে (حمد) স্পষ্ট, পক্ষান্তরে দুঃখের ক্ষেত্রে (حمد) এ কারণে যে, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং এর অপেক্ষা বড় বিপদ তার প্রতি অবতীর্ণ করেননি। অথবা দুঃখের ক্ষেত্রে সে যে সাওয়াব ও গুনাহ মোচন প্রত্যক্ষ করে সে কারণে। হাফেয ফাতহে বলেন, ত্ববারী ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর বিন ‘আস কর্তৃক ‘আবদুল্লাহ বিন বাবাহ-এর বর্ণনার মাধ্যমে সংকলন করেন, ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই ব্যক্তি যখন (لا إله إلا الله) বলে তখন (لا إله إلا) নিষ্ঠার বা ইখলাসের বাণী তা না বলা পর্যন্ত আল্লাহ ‘আমল কবূল করবেন না। আর বান্দা যখন (الحمد لله) বলে তখন তা শুকরিয়ার বাণী স্বরূপ। যতক্ষণ বান্দা এটা না বলবে ততক্ষণ সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০৯-[১৬] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমাকে এমন একটি কালাম বা বাক্য শিখিয়ে দাও, যা দিয়ে আমি তোমার জিকির করতে পারি। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমার কাছে দু’আ করতে পারি। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ হে মূসা! তুমি বলো, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে রব! তোমার প্রত্যেক বান্দাই তো এটা (কালিমা) বলে থাকে। আমি তো তোমার কাছে আমার জন্য একটি বিশেষ ’কালিমা’ চাচ্ছি। আল্লাহ তা’আলা তখন বললেন, হে মূসা! সাত আকাশ ও আমি ছাড়া এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে অবশ্যই ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’-এর পাল্লা ভারী হবে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ: يَا رَبِّ عَلِّمْنِي شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِهِ وَأَدْعُوكَ بِهِ فَقَالَ: يَا مُوسَى قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَالَ: يَا رَبِّ كلُّ عبادكَ يقولُ هَذَا إِنَّما أيد شَيْئًا تَخُصُّنِي بِهِ قَالَ: يَا مُوسَى لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِي وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ وُضِعْنَ فِي كِفَّةٍ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ لَمَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال موسى عليه السلام: يا رب علمني شيىا اذكرك به وادعوك به فقال: يا موسى قل: لا اله الا الله فقال: يا رب كل عبادك يقول هذا انما ايد شيىا تخصني به قال: يا موسى لو ان السماوات السبع وعامرهن غيري والارضين السبع وضعن في كفة ولا اله الا الله في كفة لمالت بهن لا اله الا الله . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: (قُلْ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) নিশ্চয়ই (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) অংশটুকু আল্লাহর সত্তার একত্ববাদের উপর এবং তার একক গুণাবলীর উপর অধিক প্রমাণ করা সত্ত্বেও তা (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) ছাড়া প্রত্যেক দু‘আ ও জিকিরকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

(قَالَ: يَا مُوسٰى لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ الخ) ইমাম ত্বীবী বলেন, যদি তুমি বল মূসা (আঃ) এমন কিছু অনুসন্ধান করেছেন যার মাধ্যমে জিকির ও দু‘আর দিক দিয়ে তিনি অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব হওয়ার ইচছা করেছেন তাহলে প্রশ্নোত্তরের অনুকূল কোথায়? আমি বলব, যেন সে বলেছে আমি অসম্ভব জিনিস অনুসন্ধান করেছি, কেননা এর অপেক্ষা উত্তম দু‘আ ও জিকির আর নেই। ইমাম ত্বীবী বলেন, উত্তরের সারাংশ হল, নিশ্চয়ই তোমার সাথে নির্দিষ্ট বিষয় হতে তুমি যা অনুসন্ধান করেছ তা সকল যিকিরের উপর শ্রেষ্ঠ অসম্ভবকর, কেননা এ কালিমাটিকে আকাশ ও তার বাসিন্দাগণ জমিন এবং তার বাসিন্দাগণের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয়।

(وَالْأَرَضِيْنَ السَّبْعَ) অর্থাৎ- ‘স্তরসমূহ সীবাবদ্ধ ব্যবহারের কারণে জমিনে আবাদকারী’ কথাটি উল্লেখ করেননি অথবা আকাশের আবাদকারী উক্তি উল্লেখ করে পর্যাপ্ত পথ অবলম্বন করেছেন।

(لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ فِىْ كِفَّةٍ) অর্থাৎ- এর সাওয়াব বা কার্ড এক পাল্লাতে। হাফেয ফাত্হ-এ এ হাদীস উল্লেখের পর বলেন, এ হাদীস থেকে মাসআলাহ্ গ্রহণ করা যাচ্ছে যে, (لا إله إلا الله) দ্বারা জিকির করা (الحمد لله) দ্বারা জিকির করা অপেক্ষা প্রাধান্য পাবে। আবূ মালিক আল আশ্‘আরী-এর মারফূ' হাদীস (আল হামদুলিল্লা-হ দাড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়) এর বিরোধিতা করবে না। কেননা পূর্ণাঙ্গ সমতার উপর প্রমাণ বহন করে, পক্ষান্তরে (رجحان) স্পষ্টভাবে আধিক্যতাকে বুঝায়। সুতরাং (لا إله إلا الله) দ্বারা জিকির করাই উত্তম। আর দাড়িপাল্লা পরিপূর্ণ হওয়া এর অর্থ হল (لا إله إلا الله) এর জিকিরকারী সাওয়াব দ্বারা দাড়িপাল্লাকে পূর্ণ করবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১০-[১৭] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই এবং আল্লাহ সুমহান) বলেন, আল্লাহ তা’আলা তার কথা সমর্থন করে বলেন, হ্যাঁ, ’’লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা-, ওয়া আনা- আকবার’’ (অর্থাৎ- আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই এবং আমি অতি মহান)। আর যখন বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই)। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- ওয়াহদী, লা- শারীকা লী’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি একক, আমার কোন শারীক নেই)। আর যখন কোন বান্দা বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তাঁরই রাজ্য ও তাঁরই প্রশংসা)। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লিয়াল মুলকু ওয়া লিয়াল হামদু’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, আমারই রাজ্য এবং আমারই প্রশংসা)।

কোন বান্দা যখন বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বী’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই এবং আমার সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলতেন, যে ব্যক্তি এসব কালিমাগুলো নিজের অসুস্থতার সময়ে পড়ে, তারপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা পাবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ صَدَّقَهُ رَبُّهُ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا وَأَنَا أَكْبَرُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ يَقُولُ اللَّهُ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا وَحْدِي لَا شَرِيكَ لِي وَإِذَا قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا لِيَ الْمُلْكُ وَلِيَ الْحَمْدُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَلَا وحول وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِي وَكَانَ يَقُولُ: «مَنْ قَالَهَا فِي مَرَضِهِ ثُمَّ مَاتَ لَمْ تَطْعَمْهُ النَّارُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

وعن ابي سعيد وابي هريرة رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: لا اله الا الله والله اكبر صدقه ربه قال: لا اله الا انا وانا اكبر واذا قال: لا اله الا الله وحده لا شريك له يقول الله: لا اله الا انا وحدي لا شريك لي واذا قال: لا اله الا الله له الملك وله الحمد قال: لا اله الا انا لي الملك ولي الحمد واذا قال: لا اله الا الله ولا وحول ولا قوة الا بالله قال: لا اله الا انا لا حول ولا قوة الا بي وكان يقول: «من قالها في مرضه ثم مات لم تطعمه النار» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ وَأَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ) তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও হাকিমে আছে, নিশ্চয়ই তারা উভয়ে আল্লাহর রসূলের কাছে পৌঁছল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ..... শেষ পর্যন্ত। ইবনুত্ তীন বলেন, এ শব্দের মাধ্যমে বর্ণনার তাকীদ নিয়ে এসেছেন, আমি বলব, এটি হল হাদীস আদায়ের ধরন। সুয়ূত্বী তাদরীবুর্ রাবী কিতাবের ১৩৫ পৃষ্ঠাতে বলেন, রামহুরমুযী হাদীস আদায় ও গ্রহণের শব্দসমূহের শ্রেণী বিন্যাসের ক্ষেত্রে একাধিক অধ্যায় বেঁধেছেন। সে অধ্যায়গুলো থেকে একটি হল, শাহাদাত শব্দকে নিয়ে আসা যেমন আবূ সা‘ঈদ-এর উক্তি আমি আল্লাহর রসূলের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি جر (জার) বা কলসিতে নাবীয ভিজানো থেকে নিষেধ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ বিন ত্বাউস-এর উক্তি আমি আমার পিতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তিনি বলেনঃ আমি জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ-এর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রসূলের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তিনি বলেনঃ আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। ইবনু ‘আব্বাস-এর উক্তি আমার নিকট কিছু সন্তুষ্টচিত্ত লোক সাক্ষ্য দিল এবং আমার কাছে তাদেরকে সন্তুষ্ট করল। ‘আসরের এবং ফজরের পরে সালাতে।

(صَدَّقَه رَبُّه) অর্থাৎ- তার পালনকর্তা তার কথার সমর্থন বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন, (لا إله إلا أنا وأنا أكبر) কারীর উক্তি ‘‘এ পদ্ধতি আমি সত্যায়ন করেছি’’ বলা অপেক্ষা পরিপূরক। তিরমিযীতে আছে (صدقة ربه وقال) অর্থাৎ- (قال) এর পূর্বে (واو) বৃদ্ধি করে। তারগীবে আছে, (صدقة ربه فقال) অর্থাৎ- (واو) বর্ণের পরিবর্তে (فاء) বর্ণ দ্বারা, ইবনু মাজাতে আছে বান্দা যখন (لا إله إلا الله الله أكبر) বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ ‘আযযা ওয়াজাল্লা বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আমিই সর্বাধিক বড়।

(لَمْ تَطْعَمْهُ النَّارُ) অর্থাৎ- আগুন তাকে স্পর্শ করবে না অথবা তাকে জ্বালিয়ে দিবে না। অর্থাৎ- তাকে খাবে না। অর্থের আধিক্যতা বুঝানোর জন্য খাদ্যকে জ্বালিয়ে দেয়ার অর্থে (استعارة) করা হয়েছে যেন মানুষ তার খাদ্য যাকে সে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর মাধ্যমে শক্তি অর্জন করে। ইবনু মাজাতে আছে, এ শব্দগুলো যাকে মৃতের সময় দান করা হবে আগুন তাকে স্পর্শ করবে না। সিনদী বলেন, এ শব্দগুলো যাকে তার মৃত্যুর সময় দান করা হবে এবং এগুলো বলার তাওফীক যাকে দেয়া হবে আগুন তাকে স্পর্শ করবে না বরং শুরুতেই পুণ্যবানদের সাথে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

হাদীসে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে যে, হাদীসে এ উল্লেখিত শব্দসমূহ বান্দা যখন তার ঐ অসুস্থতাতে বলবে এবং ঐ শব্দসমূহের উপর ঐ অসুস্থতাতে মারা যাবে, অর্থাৎ- সুস্থ বিবেকে এ শব্দসমূহ তার শেষ কথা হবে তাহলে আগুন তাকে স্পর্শ করবে না এবং তার কৃত অবাধ্যতার কাজ তার কোন ক্ষতি করবে না। নিশ্চয়ই এ শব্দাবলী সমস্ত গুনাহকে ক্ষমা করে দিবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১১-[১৮] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জনৈকা মহিলার কাছে গেলেন। তখন মহিলার সামনে কিছু খেজুরের বিচি; অথবা তিনি বলেছেন, কিছু কাঁকর ছিল, যা দিয়ে মহিলা গুণে গুণে তাসবীহ পড়ছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আমি কি এর চেয়ে তোমার পক্ষে সহজ তাসবীহ; অথবা বলেছেন, উত্তম তাসবীহ তোমাকে বলে দিব না? আর তা হচ্ছে,

’’সুবহা-নাল্ল-হি ’আদাদা মা- খলাকা ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ’আদাদা মা- খলাকা ফিল আরযি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ’আদাদা মা- বায়না যা-লিকা ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ’আদাদা মা-হুওয়া খ-লিকুন ওয়াল্ল-হু আকবার মিসলা যা-লিকা ওয়াল হামদুলিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা’’

(অর্থাৎ- আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা, যে পরিমাণ তিনি আসমানে সৃষ্টিজগত করেছেন। আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা তাঁর ওই সৃষ্টিজগতের অনুরূপ যা আসমান ও জমিনের মধ্যে আছে। আর আল্লাহর জন্য সব পাক-পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। আর অনুরূপভাবে ’’আল্ল-হু আকবার’’’’আলহামদুলিল্লা-হি’’ ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ এবং ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ও পড়বে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ; তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[1]

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عليكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ؟ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن سعد بن ابي وقاص انه دخل مع النبي صلى الله عليه وسلم على امراة وبين يديها نوى او حصى تسبح به فقال: «الا اخبرك بما هو ايسر عليك من هذا او افضل؟ سبحان الله عدد ما خلق في السماء وسبحان الله عدد ما خلق في الارض وسبحان الله عدد ما بين ذلك وسبحان الله عدد ما هو خالق والله اكبر مثل ذلك والحمد لله مثل ذلك ولا اله الا الله مثل ذلك ولا حول ولا قوة الا بالله مثل ذلك» . رواه الترمذي وابو داود وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: হাদীসে বিচি অথবা কঙ্কর দ্বারা তাসবীহ গণনা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে। এক মতে বলা হয়েছে, এভাবে তাসবীহ এর দানা দ্বারা তাসবীহ গণনা বৈধ রয়েছে আর তা গাঁথা দানা ও বিক্ষিপ্ত দানার মাঝে পার্থক্য না থাকার কারণে। আর বৈধতার কারণ মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাকে হুকুমের দিকে দিক-নির্দশনা করা বৈধতার পরিপন্থী না। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টি দেয়ার আছে, কেননা হাদীসটি দুর্বল। যদিও ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, ইমাম হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন কিন্তু কঙ্কর অথবা বিচি দ্বারা তাসবীহ গণনা করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম, উক্তি অথবা তার মৌনসম্মতি কর্তৃক মারফূ' সূত্রে কোন হাদীস প্রমাণিত হয়নি। আর কল্যাণ কেবল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে তার অনুসরণার্থে; পরবর্তীদের নবআবিষ্কারে না।

(أَلَا أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هٰذَا أَوْ أَفْضَلُ؟) ইমাম ত্বীবী বলেন, নিশ্চয়ই তা সর্বোত্তম; কেননা তাতে শিথিলতা সম্পর্কে স্বীকৃতি রয়েছে, কেননা সে তার গুণকীর্তন পরিসংখ্যান করার ব্যাপারে সক্ষম না, আর বিচি দ্বারা তাসবীহ গণনাতে ঐ ব্যাপারে ঝুঁকি রয়েছে যে, সে পরিসংখ্যানের ব্যাপারে সক্ষম। কারী বলেন, হাদীসে বিচি দ্বারা তাসবীহ গণনা করতে ঝুঁকি আবশ্যক হয়ে যায় না, এরপর কারী শ্রেষ্ঠত্বের অন্যান্য দিকসমূহ উল্লেখ করেছেন যেগুলোর কোনটিই জখমমুক্ত নয় এবং চিন্তাশীলের কাছে যা গোপন না।

(عَدَدَ مَا بَيْنَ ذٰلِكَ) অর্থাৎ- আকাশ, জমিন, বাতাস, পাখি, মেঘমালা এবং এগুলো ছাড়া অন্যান্যদের হতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মাঝে যা আছে তা।

(عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ) অর্থাৎ- এরপর যা তিনি সৃষ্টি করবেন। ইবনু হাজার একেই পছন্দ করেছেন এবং এটিই সর্বাধিক প্রকাশ্যমান। তবে সবাধিক সূক্ষ্ম ও গোপনীয় ত্বীবী যা বলেছেন, অর্থাৎ- অনাদী হতে অনন্ত পর্যন্ত তিনি যা সৃষ্টি করবেন তা। উদ্দেশ্য নিরবিচ্ছিন্নতা বিশ্লেষণের পরে অস্পষ্টতা। কেননা (اسم الفاعل) কে যখন আল্লাহ তা‘আলার দিকে সম্বন্ধ করা হবে তখন তা সৃষ্টির শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্থায়িত্বের উপকারিতা দিবে। উদাহরণ স্বরূপ কেউ যদি বলে আল্লাহ ক্ষমতাবান, জ্ঞানী তখন সে কোন এক কালকে বাদ দিয়ে অপর কালকে উদ্দেশ্য করতে পারবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১২-[১৯] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ’সুবহা-নাল্ল-হ’ পড়বে, সে তাঁর মতো হবে (সাওয়াবের দিক দিয়ে) যে একশ’বার হজ করবে। যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ’আলহামদুলিল্লা-হ’ পড়বে, সে আল্লাহর পথে একশ’ ঘোড়ায় একশ’ মুজাহিদ রওনা করে দেয়া ব্যক্তির মতো হবে। যে সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ পড়বে, সে নবী ইসমা’ঈল (আঃ)-এর বংশের একশ’ লোক মুক্ত করে দেয়া ব্যক্তির সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ’আল্ল-হু আকবার’ পড়বে, সেদিন তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে অনুরূপ ’আমল করেছে অথবা এর চেয়ে বেশি করেছে- (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ حَجَّ مِائَةَ حَجَّةٍ وَمَنْ حَمِدَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ حَمَلَ عَلَى مِائَةِ فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ هَلَّلَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ مِائَةَ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَمَنْ كَبَّرَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِيِّ لَمْ يَأْتِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ أَحَدٌ بِأَكْثَرِ مِمَّا أَتَى بِهِ إِلَّا مَنْ قَالَ مِثْلَ ذَلِكَ أَوْ زَادَ عَلَى مَا قَالَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من سبح الله ماىة بالغداة وماىة بالعشي كان كمن حج ماىة حجة ومن حمد الله ماىة بالغداة وماىة بالعشي كان كمن حمل على ماىة فرس في سبيل الله ومن هلل الله ماىة بالغداة وماىة بالعشي كان كمن اعتق ماىة رقبة من ولد اسماعيل ومن كبر الله ماىة بالغداة وماىة بالعشي لم يات في ذلك اليوم احد باكثر مما اتى به الا من قال مثل ذلك او زاد على ما قال. رواه الترمذي. وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: (بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِىِّ) অর্থাৎ- দিনের শুরুতে এবং রাতের শুরুতে অথবা দিনে ও রাত্রে।

(كَانَ كَمَنْ حَجَّ مِائَةَ حَجَّةٍ) অর্থাৎ- নফল হজ। হাদীসটি ঐ ব্যাপারে প্রমাণ বহন করছে, যে আল্লাহর সাথে আন্তরিক সম্পর্ক ঠিক রেখে সহজ-সাবলীলভাবে ‘ইবাদাত করা উদাসীনতার সাথে জটিলভাবে ‘ইবাদাত করা অপেক্ষা উত্তম। হাদীসটি অধিক উৎসাহিতকরণে এবং বহুগুণ সাওয়াব অর্জন হয় এমন তাসবীহের মাঝে, বহুগুণ সাওয়াব অর্জন হয় এমন অন্যান্য হাজ্জের সাথে সমতা রদকরণে নাকিসকে কামিলের সাথে মিলিয়ে দেয়া অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব।

(عَلٰى مِائَةِ فَرَسٍ فِىْ سَبِيلِ اللّٰهِ) অর্থাৎ- জিহাদের মতো ক্ষেত্রে চাই দান স্বরূপ হোক, চাই ধার স্বরূপ হোক। তিরমিযীতে এর পরে আছে অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে একশতটি যুদ্ধ করল। এটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ।

(كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ مِائَةَ رَقَبَةٍ) উল্লেখিত অংশে আর্থিক ‘ইবাদাতের সাথে নির্দিষ্ট ধনীদের সম্পর্কে নিঃস্ব মুহাজির জিকিরকারীদের সান্তবনা দেয়া হয়েছে।

(مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ) ইসমা‘ঈলের সন্তান থেকে দাস আযাদ করাকে নির্দিষ্ট করার কারণ হল কেননা ইসমা‘ঈল বংশের দাসদের অন্যান্য বংশের দাসদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

আর এটা এ কারণে যে, মুহাম্মাদ, ইসমা‘ঈল, ইব্রাহীম এরা একে অপর থেকে উদ্ভূত। ত্বীবী বলেন, তাঁর উক্তি (مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ) দাস আযাদের ক্ষেত্রে পূর্ণতা দান, কেননা দাস আযাদ করা মহৎ উদ্দেশ্য। আর তা ইসমা‘ঈল (আঃ)-এর বংশধর থেকে হওয়া আরো গুরুত্বের দাবীদার। যা সৃষ্টির মাঝে বংশের দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানিত মহৎ, দৃষ্টান্তপূর্ণ বংশ।

(لَمْ يَأْتِ فِىْ ذٰلِكَ الْيَوْمِ أَحَدٌ) অর্থাৎ- কিয়ামতের দিন উদ্দেশ্য।

(بِأَكْثَرَ) অর্থাৎ- অধিক সাওয়াব নিয়ে, বা (উদ্দেশ্য) সর্বোত্তম ‘আমল নিয়ে আর এখানে (أكثر) দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, কেননা তা (أفضل) অর্থে ব্যবহৃত।

(مِمَّا أَتٰى بِه) অর্থাৎ- সে যা সম্পাদন করেছে অথবা তার মত। এক মতে বলা হয়েছে এর বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই এটা এর পূর্বে যা আছে তার অপেক্ষা উত্তম। অনেক বিশুদ্ধ হাদীস যা প্রমাণ করেছে তা হল, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হল এ (لا إله إلا الله), অতঃপর (الحمد لله), তারপর (الله أكبر), তারপর (سبحان الله) পাঠ করা। সুতরাং তখন এ বলে ব্যাখ্যা করতে হবে (لا إله إلا الله) পাঠকারী এবং উল্লেখিত জিকির পাঠকারীগণ ছাড়া অন্য কেউ তাদের অপেক্ষা ঐ দিন উত্তম ‘আমল সম্পাদন করতে পারবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৩-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’সুবহা-নাল্ল-হ’ হলো পাল্লার অর্ধেক, ’আলহামদুলিল্লা-হ’ একে পূর্ণ করে, আর ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’-এর সামনে কোন পর্দা নেই, যে পর্যন্ত না তা আল্লাহর কাছে গিয়ে না পৌঁছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব, এর সানাদ সবল নয়)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَؤُهُ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَيْسَ لَهَا حِجَابٌ دُونَ اللَّهِ حَتَّى تَخْلُصَ إِلَيْهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَاده بِالْقَوِيّ

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «التسبيح نصف الميزان والحمد لله يملوه ولا اله الا الله ليس لها حجاب دون الله حتى تخلص اليه» . رواه الترمذي. وقال: هذا حديث غريب وليس اسناده بالقوي

ব্যাখ্যা: (التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ) অর্থাৎ- তাসবীহ বর্ণনার সাওয়াবকে আকৃতি দেয়ার পর তা অর্ধেক দাড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে নিবে। এখানে উদ্দেশ্য হল প্রতিষ্ঠিত দাড়িপাল্লাতে পুণ্য রাখার কারণে তার দু’ পাল্লার এক পাল্লাকে তা পূর্ণ করে নিবে।

(وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ يَمْلَؤُه) অর্থাৎ- যদি (الْحَمْدُ لِلّٰهِ) দাড়িপাল্লার এক পাল্লাতে রাখা হয় তাহলে তা এক পাল্লাকে পূর্ণ করে নিবে। সুতরাং (الحمد) তাসবীহ অপেক্ষা উত্তম। তার সাওয়াব তাসবীহের সাওয়াবের দ্বিগুণ, কেননা তাসবীহ দাড়িপাল্লার এক পাল্লার অর্ধেক পূর্ণ করে। পক্ষান্তরে (الْحَمْدُ لِلّٰهِ) দাড়িপাল্লার দু’ পাল্লার একটিকে একাই পূর্ণ করে দেয়। অথবা উদ্দেশ্য এও হতে পারে যে, (الْحَمْدُ لِلّٰهِ) দাড়িপাল্লার বাকী অর্ধেককে পূর্ণ করে দিবে। অর্থাৎ- যদি তাসবীহের সাওয়াবকে দাড়িপাল্লার এক পাল্লাতে রাখার পর অন্য পাল্লাতে (الْحَمْدُ لِلّٰهِ) এর সাওয়াব রাখা হয় তাহলে দাড়িপাল্লা পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন (الحمد) এর সাওয়াব তাসবীহের সাওয়াবের সমান হবে, কেননা (الحمد) এবং (تسبيح) থেকে প্রত্যেকটি দাড়িপাল্লার অর্ধেককে গ্রহণ করে এক সাথে দাড়িপাল্লাকে পূর্ণ করে দিবে তখন (الحمد) এবং (تسبيح) উভয়টি সমান হবে।

ত্বীবী বলেন, হাদীসে দু’টি দিক আছে। দু’টি দিকের একটি হল (تسبيح) এবং (تحميد) এর মাঝে সমতা উদ্দেশ্য করা আর তা এভাবে যে, (تسبيح) এবং (تحميد) প্রত্যেকটি অর্ধেক পাল্লা করে এক সাথে সম্পূর্ণ পাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়। আর এটা এ কারণে যে, কেননা ঐ সকল জিকির যা দৈহিক ‘ইবাদাতের মূল তা দু’ প্রকারে সীমাবদ্ধ। দু’ প্রকারের একটি হল, পবিত্রতা বর্ণনা করা অপরটি প্রশংসা করা। (تسبيح) প্রথম প্রকারকে আয়ত্ব করে এবং (تحميد) দ্বিতীয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। দু’টির দ্বিতীয়টি দ্বারা (الحمد) কে (تسبيح)-এর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা উদ্দেশ্য। এর সাওয়াব (تسبيح)-এর সাওয়াবের দ্বিগুণ। কেননা (تسبيح) এর দাড়িপাল্লার অর্ধেক আর (تحميد) একাই তাকে পূর্ণ করে আর এটা এ কারণে যে, কেননা সাধারণ (حمد)-এর অধিকারী হবে কেবল ঐ সত্তা যে সকল ঘাটতি থেকে মুক্ত সম্মান মর্যাদার গুণে গুণান্বিত। সুতরাং (حمد) দু’টি বিষয়কে এবং দু’টি প্রকারের সর্বোচ্চ প্রকারকে শামিল করতেছে। প্রথমটির দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (বাণী দু’টি জবানে হালকা এবং দাড়িপাল্লাতে ভারি) এ উক্তি দ্বারা এবং দ্বিতীয়টির দিকে (আমার হাতে থাকবে حمد-এর পতাকা) এ উক্তি দ্বারা ইঙ্গিত করা হচ্ছে।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (لا إله إلا الله)-এর কোন পর্দা নেই (কেবল হওয়ার ক্ষেত্রে) এ উক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঊর্ধ্বগতির অর্থকে সমর্থন করা হচ্ছে। কেননা (لا إله إلا الله)-এর বাণী আল্লাহর পবিত্রতা সাব্যস্তকরণ এবং প্রশংসাকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে যেমন অতিবাহিত হয়েছে। আর আল্লাহ ছাড়া যা কিছু রয়েছে তাদের পবিত্রতা ও প্রশংসাকরণকে সাব্যস্ত করে না। এখান থেকে এটিকে অন্য জাতের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। কেননা প্রথম দু’টি ‘আমলের ক্ষেত্রে ওযন এবং পরিমাণের অর্থের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। এ থেকে বিনা বাধাতে আল্লাহর নৈকট্যতা অর্জন হল।

হাদীসের বাহ্যিক অর্থ জটিলতা সৃষ্টি করেছে। কেননা (حمد) পাঠ করা যখন দাড়িপাল্লাকে পূর্ণ করবে তখন অবশিষ্ট ‘আমলকে কিভাবে ওযন করা হবে? পুণ্য এবং পাপ ওযনের ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহের বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই সমস্ত পুণ্য কর্মসমূহকে এক পাল্লাতে রাখা হবে এবং সকল পাপসমূহকে অন্য পাল্লাতে রাখা হবে। আরো উত্তর দেয়া হয়েছে যে, ঐ ‘আমলসমূহ এবং জিকিরসমূহ ওযন করার সময় বহু আকৃতি ও ছোট আকৃতিতে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সত্ত্বেও এদের ওযনে ত্রুটি সৃষ্টি হবে না এবং একে অন্যের সাথে গাদাগাদি সৃষ্টি করবে না। আর আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞানী।

(وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ لَيْسَ لَهَا حِجَابٌ دُونَ اللّٰهِ) অর্থাৎ- (لا إله إلا الله) কবূল হওয়ার জন্য এমন কোন পর্দা নেই যা (لا إله إلا الله) কবূল হওয়াকে বাধা দিবে। আর তা পবিত্রতা ও প্রশংসা সাব্যস্ত করার কারণে এবং আল্লাহর সাথে অন্যের সমতা সাব্যস্তকে পরিষ্কারভাবে নিষেধ করার কারণে।

(حَتّٰى تَخْلُصَ إِلَيْهِ) অর্থাৎ- তাঁর পর্যন্ত ও কবূলের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এটা এবং এর মতো আরো বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য হল, দ্রুত কবূল হওয়া ও অধিক সাওয়াব লাভ করা। উল্লেখিত হাদীসাংশে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, নিশ্চয়ই (لا إله إلا الله) হল (سبحان الله) এবং (الحمد لله) অপেক্ষা উত্তম।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৪-[২১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন বান্দা খালেস মনে ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলবে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হবে, যতক্ষণ না তা আল্লাহর ’আরশে না পৌঁছে, তবে যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহ হতে বিরত থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا قَالَ عَبْدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا قَطُّ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ حَتَّى يُفْضِيَ إِلَى الْعَرْشِ مَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما قال عبد لا اله الا الله مخلصا قط الا فتحت له ابواب السماء حتى يفضي الى العرش ما اجتنب الكباىر» . رواه الترمذي. وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: (إِلَّا فُتِحَتْ لَه أَبْوَابُ السَّمَاءِ) অর্থাৎ- কালিমাহ্ শাহাদাত সর্বদা উপরে উঠতে থাকবে পরিশেষে তা ‘আরশ পর্যন্ত পৌঁছবে।

(مَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ) অর্থাৎ- (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ)-এর পাঠক কাবীরাহ্ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সময়। ত্বীবী বলেন, পূর্বক্ত হাদীসটি প্রমাণ বহন করছে (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ করার সাওয়াব ‘আরশ অতিক্রম করে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, দ্রুত কবূল হওয়া আর কাবীরাহ্ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা দ্রুত দু‘আ কবূলের শর্ত; সাওয়াব অর্জন ও দু‘আ কবূলের শর্ত না। অথবা পূর্ণ সাওয়াব অর্জন এবং দু‘আ কবূলের স্তরের জন্য শর্ত। কেননা মন্দ কর্ম পুণ্য কর্মকে বাদ করতে পারে না, পক্ষান্তরে পুণ্য কর্ম মন্দ কর্মকে দূর করে দেয়। হাদীসটিতে কবীরাহ্ গুনাহে জড়িত হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং আল্লাহর বাণী (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ১০) إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهٗ এ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৫-[২২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি’রাজের রাতে ইব্রাহীম (আঃ)-এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার উম্মাতকে আমার সালাম বলবেন এবং খবর দিবেন যে, জান্নাত হলো সুগন্ধ মাটি ও সুপেয় পানিবিশিষ্ট। কিন্তু এতে কোন গাছপালা নেই (অর্থাৎ- জান্নাত হলো সমতল ভূমি)। এর গাছপালা হলো ’’সুবহা-নাল্ল-হি, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’। (তিরমিযী; তিনি বলেন, সানাদগত দিক থেকে হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ لَيْلَةَ أُسَرِيَ بِي فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلَامَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ الْجَنَّةَ طَيِّبَةُ التُّرْبَةِ عَذْبَةُ الْمَاءِ وَأَنَّهَا قِيعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لقيت ابراهيم ليلة اسري بي فقال: يا محمد اقرى امتك مني السلام واخبرهم ان الجنة طيبة التربة عذبة الماء وانها قيعان وان غراسها سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر . رواه الترمذي. وقال: هذا حديث حسن غريب اسنادا

ব্যাখ্যা: (فَقَالَ) অর্থাৎ- ইব্রাহীম (আঃ) বলেন, এমতাবস্থায় তিনি স্বস্থানে সপ্তাকাশে বায়তুল মা‘মূর এর সাথে পিঠ হেলান দেয়াবস্থায় ছিলেন। (أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّى السَّلَامَ) বলা হয়ে থাকে (أقرأ فلان فلانا السلام) এবং (أقرأ عليه السلام) অর্থাৎ- আমি তার ওপর সালাম পাঠ করছি, অর্থাৎ- সালাম তারই কাছে পৌঁছাচ্ছি।

(طَيِّبَةُ التُّرْبَةِ) কেননা তার মাটি মিস্‌ক আম্বার, জা‘ফরান এবং এদের অপেক্ষা সুগন্ধিময় কিছু নেই।

(قِيعَانٌ) যা (قاع) শব্দের বহুবচন, অর্থাৎ- বৃক্ষমুক্ত সমতল ভূমি।

(وَأَنَّ غِرَاسَهَا) অর্থাৎ- যা (غرس)-এর বহুবচন। কারী বলেন, তা এমন বস্ত্ত যা রোপণ করা হয় অর্থাৎ- জমিনের মাটি, বীজ হতে যা ঢেকে নেয় যাতে পরে তা গজায়। আর যখন ঐ মাটি উত্তম হবে এবং তার পানি মিষ্টি হবে তখন স্বভাবত চারা উত্তম হবে আর চারা বলতে উত্তম বাক্যাবলী আর এগুলো হল নিষ্ঠাপূর্ণ অবশিষ্ট কালিমাহ্, অর্থাৎ- তাদের জানিয়ে দিন এ বাক্যাবলী এবং এদের মতো আরো কিছুর উক্তিকারী জান্নাতে প্রবেশের কারণ এবং জান্নাতে তার বাসস্থানের বৃক্ষ অধিক হওয়ার কারণে, কেননা যখনই উক্তিকারী এগুলো বারংবার পাঠ করবে তখনই তার জন্য জান্নাতে তার পাঠের সংখ্যা পরিমাণ বৃক্ষ গজাবে।

তুরবিশতী বলেন, চারা কেবল উত্তম মাটিতে ভাল হয়ে থাকে। মিষ্টি পানি দ্বারা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। অর্থাৎ- আপনি তাদেরকে জানিয়ে দিন নিশ্চয়ই এ বাক্যাবলী এদের উক্তিকারীকে জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেয় এবং এগুলো অর্জনের চেষ্টাকারীর চেষ্টা নষ্ট হয় না, কেননা রোপণকারী সে তার গুদামজাত করা বস্ত্ত একত্র করে রাখে না। শায়খ দেহলবী বলেন, বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করছে যে, নিশ্চয়ই আলোচনা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহনকারী যে, নিশ্চয়ই জান্নাতের মাটি বৃক্ষ ও প্রাসাদমুক্ত যা প্রমাণিত জান্নাতের বিপরীত। এ ব্যাপারে উত্তর প্রদান করা হয়েছে যে, আলোচ্য বিষয়টি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে না যে, এখনও সে জান্নাত বৃক্ষ ও প্রাসাদমুক্ত, বরং ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, মূলত জান্নাত বৃক্ষ, প্রাসাদমুক্ত এবং বৃক্ষসমূহ তাতে কর্মের বদলা স্বরূপ রোপণ করা হয়। অথবা উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই জান্নাতে বৃক্ষসমূহ যা ‘আমলের কারণে হয়েছে তা যেন ‘আমলের কারণে রোপণ করা হয়েছে।

ইমাম ত্বীবী বলেন, এ হাদীসে জটিলতা রয়েছে, কেননা হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, জান্নাতের জমিন বৃক্ষ, প্রাসাদমুক্ত। পক্ষান্তরে আল্লাহর বাণী (جنات تجرى من تحتها الأنهار) এবং অপর বাণী (أعدت للمتقين) ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, নিশ্চয়ই জান্নাত বৃক্ষ, প্রাসাদমুক্ত না। কেননা জান্নাতকে জান্নাত নামকরণ করা হয়েছে তার ছায়া বিশিষ্ট ঘন বৃক্ষসমূহের ডাল-পালা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার কারণে এবং তা জান্নাতের গঠন ঢেকে নেয়া অর্থের উপর আবর্তনশীল হওয়ার কারণে আর নিশ্চয়ই তা তৈরি করে প্রস্ত্তত করে রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উত্তর হল নিশ্চয়ই জান্নাত বৃক্ষ, প্রাসাদমুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ তার কৃপা ও তার অনুগ্রহের প্রশস্ততার মাধ্যমে ‘আমলকারীদের ‘আমল অনুপাতে তাতে বৃক্ষ ও প্রাসাদ সৃষ্টি করেছেন। যা প্রত্যেক ‘আমলকারীর জন্য তার ‘আমল অনুযায়ী নির্দিষ্ট। অতঃপর নিশ্চয়ই আল্লাহ সাওয়াব দানের জন্য যাকে যে ‘আমলের জন্য সৃষ্টি করেছেন তার জন্য তা যখন সহজ করে দিলেন তখন ‘আমলকারীকে রূপকার্থে বৃক্ষ রোপণকারীর ন্যায় করে দিলেন। অর্থাৎ- (سبب) কে (مسبب) এর উপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

আরো উত্তর দেয়া হয়েছে যে, হাদীসে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ নেই যে, জান্নাত সম্পূর্ণরূপে বৃক্ষ ও প্রাসাদমুক্ত। কেননা জান্নাত বৃক্ষ ও প্রাসাদমুক্ত হওয়ার অর্থ হল জান্নাতের অধিকাংশ চারা রোপণ করা, এছাড়া বাকী যা আছে তা প্রশস্ত স্থান রোপণহীন যাতে ঐ বাণীর কারণে চারা রোপণ করা হয় যাতে বিনা কারণে প্রকৃত চারা রোপণ এবং ঐ বাণীর কারণে চারা রোপণ। ত্ববারানী অত্যন্ত দুর্বল সানাদে সালমান ফারিসী-এর হাদীস কর্তৃক বর্ণনা করেন যার শব্দ হল ‘‘তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই জান্নাতে বৃক্ষ, প্রাসাদহীন ভূমি রয়েছে, সুতরাং বেশি করে চারা রোপণ কর। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! চারা রোপণ কি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر)।’’


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৬-[২৩] ইউসায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মুহাজির রমণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকদীস (সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস) নিজের আঙ্গুলে গুণে গুণে পড়বে। কারণ আঙ্গুলকে কথা বলার শক্তি দিয়ে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে এবং আল্লাহর জিকির করা হতে গাফিল হয়ো না, যাতে তোমরা আল্লাহর রহমতকে ভুলে না যাও। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ يُسَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ قَالَتْ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّقْدِيسِ واعقِدْنَ بالأناملِ فإِنهنَّ مسؤولات مُسْتَنْطَقَاتٌ وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

وعن يسيرة رضي الله عنها وكانت من المهاجرات قالت: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عليكن بالتسبيح والتهليل والتقديس واعقدن بالانامل فانهن مسوولات مستنطقات ولا تغفلن فتنسين الرحمة» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: (قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ) অর্থাৎ- আমাদের মহিলাদের দলকে বললেন, মুসনাদে এরপর একটু বেশি আছে, হে মু’মিনাহ্ নারীরা! (بِالتَّسْبِيحِ) অর্থাৎ- (سبحان الله والتهليل) অর্থাৎ- (لا إله الا الله، والتقديس سبحان الملك القدوس) অথবা (سبوح قدوس رب الملائكة والروح)

(وَاعْقِدَنَّ بِالْأَنَامِلِ) ত্বীবী বলেন, এর মাধ্যমে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল দ্বারা ঐ শব্দ বাক্যসমূহ গণনার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন যাতে এর মাধ্যমে অর্জিত গুনাহসমূহ মুছে দেয়া হয় হাদীসাংশটুকু ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করতেছে যে, ‘আরবরা হিসাব করা জানত।

(فَإِنَّهُنَّ مَسْؤُوْلَاتٌ) কেননা কিয়ামতের দিন এগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে এগুলো যা উপার্জন করেছে এবং কোন জিনিসের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে।

(مُسْتَنْطَقَاتٌ) অর্থাৎ- এগুলোর মাঝে উচ্চারণ শক্তি দেয়ার কারণে এগুলো তাদের সাথীর পক্ষে অথবা বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে ভাল অথবা মন্দ কর্ম করার কারণে। আল্লাহ বলেন, ‘‘যেদিন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের জিহবা, তাদের হাত, তাদের পা তাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে।’’ (সূরা আন্ নূর ২৪ : ২৪)

অন্যত্র বলেন, ‘‘আর তোমরা গোপন করতে পারতে না তোমাদের চক্ষু, কর্ণ, তোমাদের দৃষ্টি, তোমাদের চামড়া তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেয়া থেকে’’- (সূরা ফুসসিলাত ৪১ : ২২)। এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর সন্তুষ্টজনিত কাজে ব্যবহারে সতর্ক করা হয়েছে।

(فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ) রহমাতকে ভুলে যাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য রহমাত লাভের উপকরণসমূহ ভুলে যাওয়া, অর্থাৎ- তোমরা জিকির ছেড়ে দিও না, কেননা তোমরা যদি জিকির ছেড়ে দাও তাহলে অবশ্যই তোমাদেরকে তার সাওয়াব থেকে মাহরুম করা হবে। শাওকানী বলেন, হাদীসটি ঐ ব্যাপারে প্রমাণ বহন করছে যে, আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করা শারী‘আত সম্মত। আবূ দাঊদ একে সংকলন করেছেন এবং তিরমিযী একে সংকলন করে একে হাসান বলেছেন, ইমাম নাসায়ী একে সংকলন করেছেন এবং হাকিম একে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর থেকে সংকলন করে একে সহীহ বলেছেন।

‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর হাত দ্বারা তাসবীহ গণনা করতে দেখেছি। আবূ দাঊদ এবং অন্যান্যের বর্ণনাতে একটু বেশি এসেছে, তা হল ডান হাতের কথা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুসায়রার হাদীসে এর কারণ উল্লেখ করেছেন যে, আঙ্গুলসমূহকে বাকশক্তি দেয়া হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবে, অর্থাৎ- আঙ্গুলসমূহ এ ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করবে। সুতরাং এভাবে তাসবীহ গণনা করা তাসবীহের দানা এবং কঙ্কর অপেক্ষা উত্তম। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস-এর পূর্বক্ত হাদীস এবং সফিয়্যাহ্’র হাদীস আটি এবং কঙ্কর দ্বারা তাসবীহ গণনা বৈধ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে। সফিয়্যাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, এমতাবস্থায় আমার সামনে চার পাত্র আঁটি ছিল তার মাধ্যমে আমি তাসবীহ পাঠ করতাম। তিরমিযী, হাকিম একে সংকলন করেছেন সুয়ূত্বী একে বিশুদ্ধ বলেছেন।

ইমাম শাওকানী বলেছেন, এ হাদীস দু’টি আটি এবং কঙ্কর দ্বারা তাসবীহ পাঠ বৈধ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে। এমনিভাবে খেজুরের আঁটি, পাথর এবং তাসবীহের দানার নামে পার্থক্য না থাকার কারণে, এ ব্যাপারে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদ্বয়কে সমর্থন করার কারণে, অসম্মতি না জানানোর কারণে এবং যা উত্তম তার প্রতি দিক-নির্দেশনা যা উত্তম না তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা না করার কারণে তাসবীহের দানা দ্বারা তাসবীহ পাঠ বৈধ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, ইতিপূর্বে আমরা সা‘দ-এর হাদীস সম্পর্কে বলেছি যে, তা দুর্বল। অপরদিকে সফিয়্যাহ্ এর হাদীসও দুর্বল, ইমাম তিরমিযী একে তার উক্তি ‘‘এ হাদীসটি গরীব, একে হাশিম বিন সা‘ঈদ আলকূফী সফিয়্যাহ্-এর আযাদকৃত দাস কিনানাহ্ থেকে, আর কিনানাহ্ সফিয়্যাহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন আর এ সানাদ ছাড়া অন্য কোন সানাদে হাদীসটি জানা যায় না। এ দ্বারা দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। এর সানাদ মা‘রুফ না। পক্ষান্তরে হাকিম একে সহীহ বলেছেন হাফেয যাহাবী তার সমর্থন করেছেন আর সুয়ূত্বী তার মুতাবায়াত নিয়ে এসেছেন শাওকানী এ ক্ষেত্রে ধোঁকা খেয়েছেন আর এটা তাদের ক্ষেত্রে আশ্চর্যের বিষয়। কেননা হাশিম বিন সা‘ঈদকে যাহাবী মীযান গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেন, ইবনু মা‘ঈন হাশিম বিন সা‘ঈদ সম্পর্কে বলেন, ليس بشيئ অর্থাৎ- তার হাদীস কম। ইবনু ‘আদী বলেন, তিনি যা বর্ণনা করেন তার পরিমাণ এমন যার মুতাবায়াত পাওয়া যায় না, এজন্য হাফেয তাকরীর গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৭-[২৪] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কিছু দু’আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে

’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ, আল্ল-হু আকবার কাবীরা- ওয়াল হামদুলিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি রব্বিল ’আ-লামীন, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ’আযীযিল হাকীম’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান)।

(রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেখানো দু’আ শুনে) সে বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে

’’আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ার হামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া ’আ-ফিনী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর, আমাকে রিযক দাও ও আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ)।

শেষ শব্দ عَافِنِىْ (’আ-ফিনী) [অর্থাৎ- আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ] সম্বন্ধে বর্ণনাকারী সন্দেহ রয়েছে যে, এ শব্দটি রসূলের কথার মধ্যে আছে কিনা? (মুসলিম)[1]

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: عَلِّمْنِي كَلَامًا أَقُولُهُ قَالَ: «قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» . فَقَالَ فَهَؤُلَاءِ لِرَبِّي فَمَا لِي؟ فَقَالَ: «قُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي» . شَكَّ الرَّاوِي فِي «عَافِنِي» . رَوَاهُ مُسلم

عن سعد بن ابي وقاص قال: جاء اعرابي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: علمني كلاما اقوله قال: «قل لا اله الا الله وحده لا شريك له الله اكبر كبيرا والحمد لله كثيرا وسبحان الله رب العالمين لا حول ولا قوة الا بالله العزيز الحكيم» . فقال فهولاء لربي فما لي؟ فقال: «قل اللهم اغفر لي وارحمني واهدني وارزقني وعافني» . شك الراوي في «عافني» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: বাযযার-এর অপর বর্ণনাতে আছে (العلى العظيم) যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধ। ইমাম মুসলিম আবূ মালিক আল আশ্‘আরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই তার পিতা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন একজন লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যখন আমি আমার পালনকর্তার কাছে চাইব তখন কিভাবে বলব? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলবে হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, তুমি আমার প্রতি দয়া কর, তুমি আমাকে নিরাপত্তা দাও এবং আমাকে দান কর, কেননা এগুলো তোমার ইহকাল ও পরকালকে একত্রিত করবে।

হাদীস থেকে বুঝা যায়, একজন ব্যক্তির সর্বদায় ও প্রাথমিক অবলম্বনীয় বিষয় তাওহীদ। আরো বুঝা যাচ্ছে দু‘আর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা, তারপর ব্যক্তির যা চাওয়া পাওয়া তা আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৮-[২৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাবিশিষ্ট গাছের কাছে গেলেন এবং নিজের হাতের লাঠি দিয়ে এতে আঘাত করলেন। এতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’আলহামদুলিল্লা-হ, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হ, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’-এ বাক্যগুলো বান্দার গুনাহ এভাবে ঝরিয়ে দেয় যে, যেভাবে ঐ গাছের পাতা ঝরছে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى شَجَرَةٍ يَابِسَةِ الْوَرَقِ فَضَرَبَهَا بِعَصَاهُ فَتَنَاثَرَ الْوَرَقُ فَقَالَ: «إِنَّ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تُساقطُ ذُنوبَ العَبدِ كَمَا يتَساقطُ وَرَقُ هَذِهِ الشَّجَرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حديثٌ غَرِيب

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على شجرة يابسة الورق فضربها بعصاه فتناثر الورق فقال: «ان الحمد لله وسبحان الله ولا اله الا الله والله اكبر تساقط ذنوب العبد كما يتساقط ورق هذه الشجرة» . رواه الترمذي. وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা যায়, (الْحَمْدُ لِلّٰهِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) পাঠ করা গুনাহ মাফের অতি সহজ একটি মাধ্যম। ইমাম আহমাদ আ‘মাশ-এর সানাদ ছাড়া আরেক সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যা নিম্নরূপ ‘‘নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ডাল ধরলেন, অতঃপর তাকে ঝাড়া দিলেন কিন্তু পাতা ঝড়ল না, আবার তাকে ঝাড়া দিলেন তাতেও পাতা ঝড়ল না, আবার তাকে ঝাড়া দিলেন, তখন পাতা ঝড়ল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই (وَسُبْحَانَ اللّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) গুনাহসমূহকে ঝেড়ে দেয় যেভাবে বৃক্ষ তার পাতাকে ঝেড়ে দেয়।’’ ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, ইমাম বুখারীও একে আদাবুল মুফরাদে আ‘মাশ-এর সানাদ ভিন্ন অন্য সানাদে আহমাদ-এর মতো বর্ণনা করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩১৯-[২৬] মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ বেশি বেশি করে পড়তে। কেননা এ বাক্যটি জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের বিশেষ বাক্য।

মাকহূল (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পড়বে ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি ওয়ালা- মানজাআ মিনাল্ল-হি ইল্লা- ইলায়হি’’- আল্লাহ তার সত্তরটি কষ্ট দূর করে দিবেন, যার সর্বনিম্ন হলো দারিদ্র্যতা। (তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসের সানাদ মুত্তাসিল নয়। মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি শুনেননি।)[1]

وَعَن مَكحولِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ . قَالَ مَكْحُولٌ: فَمَنْ قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا مَنْجًى مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ كَشَفَ اللَّهُ عَنْهُ سَبْعِينَ بَابًا مِنَ الضُّرِّ أَدْنَاهَا الْفَقْرُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ وَمَكْحُولٌ لَمْ يَسْمَعْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

وعن مكحول عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اكثر من قول: لا حول ولا قوة الا بالله فانها من كنز الجنة . قال مكحول: فمن قال: لا حول ولا قوة الا بالله ولا منجى من الله الا اليه كشف الله عنه سبعين بابا من الضر ادناها الفقر. رواه الترمذي. وقال: هذا حديث ليس اسناده بمتصل ومكحول لم يسمع عن ابي هريرة

ব্যাখ্যা: (فَإِنَّهَا مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ) অর্থাৎ- হাদীসে বর্ণিত দু‘আটি জান্নাতের উৎকৃষ্ট অর্জনের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসে বর্ণিত দু‘আটি পাঠ করাতে উৎকৃষ্ট সাওয়াব অর্জন হয়। যা উক্ত দু‘আ পাঠকারীর জন্য জান্নাতে সঞ্চয় করে রাখা হয়।

(أَدْنَاهَا الْفَقْرُ) কারী বলেন, হাদীসে الفقر বলতে অন্তরের নিঃস্বতা। যে ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, তাসবীহ পাঠকারী যখন এ বাক্যের অর্থ পরিকল্পনা করবে তখন তার নিকট স্থির হবে, তার অন্তরে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হবে নিশ্চয়ই নির্দেশ সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। আর নিশ্চয়ই উপকার এবং ক্ষতি তার নিকট থেকেই হয়ে থাকে। কোন কিছু দান করা বা বারণ করা তার মাধ্যমেই হয়ে থাকে আর তখন হাদীসে বর্ণিত তাসবীহ পাঠকারী বিপদে ধৈর্যধারণ করে এবং অনুগ্রহের ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তার বিষয়কে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে। আর কদরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, নিঃস্বতা কুফরীতে পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম- এ হাদীসটিকে আবূ নু‘আয়ম হিল্ইয়াহ্ গ্রন্থে, বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ, ইবনুদ্ দায়বা' আশ্ শায়বানী তাম‘ঈযুত্ব ত্বীব-এ বলেন, হাদীসটি খাবীসের অন্তর্ভুক্ত (১৪৪ পৃষ্ঠা)-এর সানাদে ইয়াযীদ আর্ রক্কাশী আছে, সে দুর্বল এবং এ হাদীসের দুর্বল অনেক শাহিদ/সমর্থনকারী হাদীস আছে। মাজমাউল বিহার গ্রন্থের লেখক তাযকিরাতুল মাওযূ‘আতে (১৭৪ পৃষ্ঠা) একে দুর্বল বলেছেন। তবে আবূ সা‘ঈদ-এর উক্তি কর্তৃক এটি সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে।

হাকিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারসমূহ থেকে কোন ধন ভাণ্ডার সম্পর্কে অবহিত করব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, তুমি বলবে (لا حول ولا قوة إلا بالله ولا ملجأ وفجأ من الله إلا أليه) অর্থাৎ- আল্লাহর আনুগত্য থেকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিবে এমন পরিবর্তনকারী নেই, আল্লাহর ‘ইবাদাত করার তাওফীক দিবে এমন কোন শক্তি নেই এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং আল্লাহ থেকে মুক্তি লাভের কোন উপায় নেই তবে একমাত্র তাঁর নিকটেই।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, ইমাম হাকিম-এর এ বর্ণনা ইমাম আহমাদ তাঁর কিতাবের ২য় খণ্ডে ৩০৯ পৃষ্ঠাতে সংকলন করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরশীল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩২০-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’লা- হাওলা ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ হলো নিরানব্বইটি রোগের ঔষধ, তন্মধ্যে সহজটা হলো চিন্তা।[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ دَوَاءٌ مِنْ تِسْعَةٍ وَتِسْعِينَ دَاء أيسرها الْهم»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا حول ولا قوة الا بالله دواء من تسعة وتسعين داء ايسرها الهم»

ব্যাখ্যা: (مِنْ تِسْعَةٍ وَتِسْعِينَ) অর্থাৎ- এ সংখ্যা নির্দিষ্ট করার কৌশল আল্লাহ ও তাঁর রসূল ছাড়া কেউ জানে না। ইমাম শাওকানী বলেন, এর বাহ্যিক দিক হল, নিশ্চয়ই এ জিকিরে উল্লেখিত সংখ্যার আরোগ্যদানকারী এ সংখ্যার প্রয়োগ আধিক্যতার উপরও হতে পারে। যেমন, আল্লাহ সূরা আল হা-ক্কাহ এর ৩২ নং আয়াতে বলেন, (ذرعها سبعون ذراعا)। সুতরাং তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে উদ্দেশ্য হবে নিশ্চয়ই ঐ বাণী পাঠ সকল রোগ ও ত্রুটি থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায়। আর সে ত্রুটিগুলোর মাঝে একান্ত স্বাভাবিক চিন্তা দূর হওয়া।

(دَاءً) অর্থাৎ- গোপনীয় রোগের ঔষধ যেমন, দম্ভ, অহংকার, গোপনীয় শিরক, প্রবৃত্তির আনুগত্য অথবা বিষয়টি এর চাইতেও ব্যাপক এবং তা স্পষ্ট। কারী বলেন, অর্থাৎ- ইহকালীন ও পরকালীন রোগসমূহকে আরোগ্যদানকারী।

(الْهُمُّ) দীন ও দুনিয়ার সাথে সর্ম্পক রাখে এমন চিন্তা বা যা দুনিয়ার জীবন-যাপন ও পরকালের দিকে প্রত্যাবর্তনের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন। মানাবী বলেন, এটা এ কারণে যে, বান্দা যখন কোন কিছুর উপকরণসমূহ থেকে মুক্ত থাকবে তখন তার বক্ষ প্রশস্ত হবে এবং ঐ ব্যাপারে তার চিন্তা দূর হবে তার মাঝে শক্তি সাহায্য আসবে এবং গোপনীয় রোগ-ব্যাধির ব্যাপারে তার মন হালকা হবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩২১-[২৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কী তোমাকে ’আরশের নীচের ও জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ’কালিমাহ্ বলে দেবো না? (সেটি হলো) ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’। (যখন এ কালিমাটি কেউ পড়ে) আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা সর্বাত্মকভাবে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (উক্ত হাদীস দু’টি বায়হাক্বী দা’ওয়াতুল কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন)।[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَسلَمَ عَبدِي واستسلم . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي الدَّعْوَات الْكَبِير

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الا ادلك على كلمة من تحت العرش من كنز الجنة لا حول ولا قوة الا بالله يقول الله تعالى: اسلم عبدي واستسلم . رواهما البيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: (مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ) অর্থাৎ- নিশ্চয়ই তা ‘আরশী আভ্যন্তরীণ গচ্ছিত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত এবং সুউচ্চ জান্নাতের উন্নত ধনভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত। ধ্বংসশীল, ইন্দ্রিয়প্রবণ, নিম্ন গচ্ছিত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত না।

একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- এমন কালিমাহ্ বা বাক্য যা ‘আরশের তলদেশের গচ্ছিত সম্পদ স্বরূপ।

(يَقُولُ اللّٰهُ تَعَالٰى) ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, আল্লাহ তাঁর মালায়িকাহকে (ফেরেশতাদেরকে) শিক্ষা দেয়ার্থে এ বাণী এর পাঠকারী বা যা এর অর্থকে শামিল করে তা পাঠকারী এর পূর্ণাঙ্গতা সম্পর্কে বলেন।

কারী বলেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (يَقُولُ اللّٰهُ) উক্তি এর বাহ্যিক দিক হল, এটি কালিমাহ্ ও তার পাঠকারীর মর্যাদা বর্ণনার জন্য নতুন।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, হাকিমে (তুমি বলবে, (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ) তখন আল্লাহ বলেন, (أَسلَمَ عَبْدِىْ) শেষ পর্যন্ত) এ শব্দে আছে আর ত্বীবীর উক্তি একে সমর্থন করেছে।

(أَسلَمَ عَبْدِىْ) অর্থাৎ- সে উপাসনীয় হুকুম আহকামের অনুস্মরণ করল এবং নিষ্ঠার পথাবলম্বন করল।

(وَاسْتَسْلَمَ) অর্থাৎ- সে যথার্থ আনুগত্য করল। ত্বীবী বলেন, (أَسلَمَ عَبْدِىْ وَاسْتَسْلَمَ) এর অর্থ হল, সংঘটিত হবে এমন সকল বিষয়কে আল্লাহর নিকট সম্পূর্ণভাবে সোপর্দ করল এবং দীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য খাঁটি সাব্যস্ত করে আল্লাহর আনুগত্য করল। এ অধ্যায়ে আরো অনেক হাদীস আছে যার কতক কতককে শক্তিশালী করবে তার একটি ত্ববারানী এর আওসাতে জাবির-এর হাদীস, ইবনু আসাকিরে ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীস, ত্ববারানী এর আওসাতে বাহয বিন হাকিম-এর হাদীস যা তিনি তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে কয়েক স্থানে নিয়ে এসেছেন, তার মাঝে একটি তার মুসনাদের ২য় খণ্ডে ২৯৮ পৃষ্ঠাতে এবং বাযযার বর্ণনা করেছেন, হাকিম তার কিতাবের ১ম খণ্ডে ২১ পৃষ্ঠাতে এবং তিনি বলেন, এটি বিশুদ্ধ হাদীস, এর কোন ত্রুটি পাওয়া যায় না এবং যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। মুনযিরী তারগীবে হাকিমের কথা নকল করে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

হায়সামী তাঁর কিতাবের ১০ম খণ্ডে ৯৯ পৃষ্ঠাতে উক্ত বাণীকে ইমাম আহমাদ ও বাযযারের দিকে সম্পৃক্ত করার পর বলেন, আবূ বালাজ আল কাবীর ছাড়া সকলেই সহীহ এর লেখক। আবূ বালাজ আল কাবীর বলতে ইয়াহ্ইয়া বিন সুলায়ম আর তিনি নির্ভরশীল।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩২২-[২৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’’সুবহা-নাল্ল-হ’’ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগতের সালাত। ’’আলহামদুলিল্লা-হ’’ হলো কালিমাতুশ্ শুক্‌র, অর্থাৎ- কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বাক্য। ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ হলো তাওহীদের কালিমাহ্, আর ’’আল্ল-হু আকবার’’ আকাশ ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তাকে পূর্ণ করে দেয়। যখন বান্দা বলে, ’’লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’, তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, এ বান্দা সম্পূর্ণরূপে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (রযীন)

وَعَن ابْن عمر أَنَّهُ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ هِيَ صَلَاةُ الْخَلَائِقِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَلِمَةُ الشُّكْرِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أسلم عَبدِي واستَسلَم. رَوَاهُ رزين

وعن ابن عمر انه قال: سبحان الله هي صلاة الخلاىق والحمد لله كلمة الشكر ولا اله الا الله كلمة الاخلاص والله اكبر تملا ما بين السماء والارض واذا قال العبد: لا حول ولا قوة الا بالله قال الله تعالى: اسلم عبدي واستسلم. رواه رزين

ব্যাখ্যা: (سُبْحَانَ اللّٰهِ هِىَ صَلَاةُ الْخَلَائِقِ) অর্থাৎ- সৃষ্টিজীবের ‘ইবাদাত। যেমন, আল্লাহ বলেন, وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهٖ ‘‘যে কোন বস্ত্ত তার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করে’’- (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৪)। সূরা আন্ নূর-এর ৪১ নং আয়াতে বলা হয়েছে ‘‘প্রতিটি বস্ত্ত তাঁর ‘ইবাদাত ও তাঁর পবিত্রতা ঘোষণাকে জেনে নিয়েছে’’।

এক মতে বলা হয়েছে, পবিত্রতা বর্ণনা মৌখিকভাবেও হতে পারে অথবা অবস্থার মাধ্যমেও হতে পারে, যা প্রমাণ করে তাঁর স্রষ্টা হওয়ার উপর, তাঁর ক্ষমতার উপর, তাঁর কৌশলের উপর এবং ঐ জিনিস থেকে তাঁর পবিত্র হওয়ার উপর যার সাথে তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করা বৈধ না।

(وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَلِمَةُ الشُّكْرِ) অর্থাৎ- কৃতজ্ঞতার খুঁটি, মূল।

(وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ) অর্থাৎ- لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ তাওহীদের বাণী তার পাঠককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি আবশ্যক করে দেয় অথবা তা এমন এক বাণী যা সত্য ও নিষ্ঠাসহ পাঠ ছাড়া কোন উপকারে আসবে না।

(وَاللّٰهُ أَكْبَرُ تَمْلَأُ) অর্থাৎ- তার সাওয়াব পূর্ণ হয়ে যায়।

(مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ) এক মতে বলা হয়েছে, আকাশ ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তা দ্বারা সকল জগতের প্রতি ইঙ্গিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

হাফেয বলেনঃ الاستغفار শব্দটি الغفران থেকে, যার মূল الغفر আর তা হল কোন জিনিসকে এমন কিছু পরিধান করানো যা তাকে ময়লাযুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। আর আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাকে ক্ষমা করা বলতে বান্দাকে তাঁর শাস্তি থেকে রক্ষা করা।

কারী বলেন, الاستغفار শব্দটি কখনো তাওবাকে শামিল করে আবার কখনো তাওবাকে শামিল করে না। এ জন্য الاستغفار শব্দের পর التوبة শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা الاستغفار তথা ক্ষমা প্রার্থনা জবান দিয়ে হয়, পক্ষান্তরে তওবা্ অন্তর দিয়ে হয় আর তা হল অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা আর আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাকে ক্ষমা করা বলতে ইহকালে বান্দার গুনাহ কাউকে অবহিত করা থেকে গোপন করে রাখা এবং পরকালে সে গুনাহের কারণে তাকে শাস্তি না দেয়া।

ইমাম ত্বীবী বলেন, শারী’আতের পরিভাষায় তওবা্ হল, পাপ দোষণীয় হওয়ার কারণে তা বর্জন করা, এবং কৃত বাড়াবাড়ির কারণে লজ্জিত হওয়া, অভ্যস্ত বিষয় বর্জন ও কর্মের ক্ষতিপূরণে নিজেকে দৃঢ় করে এমন কাজ করা। এটি রাগিবের উক্তি। ইমাম নাবাবী এক্ষেত্রে একটু বেশি বলেছেন, তিনি বলেন, গুনাহ যদি আদম সন্তানের সাথে সম্পর্কিত হয় তাহলে তার আরেকটি শর্ত আছে। আর তা হল, অবিচার করা পরিমাণ বিষয় তার মালিকের কাছে ফেরত দিতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে।

ইবনুল কইয়্যিম মাদারিজুস্ সালিকীন-এ ১ম খণ্ড- ১৬৯ পৃষ্ঠাতে সাধারণ তাওবার তাফসীরের আলোচনাতে বলেন, অনেক মানুষ তাওবার তাফসীর করে থাকেন কোন গুনাহ দ্বিতীয়বার না করার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা এবং অবিলম্বে সে কাজ থেকে সরে আসা। অতীতের কাজের ব্যাপারে লজ্জিত হওয়া আর যদি ঐ গুনাহটি আদম সন্তানের অধিকার সংক্রান্ত হয় তাহলে চতুর্থ আরেকটি বিষয় প্রয়োজন তা হল আদম সন্তান থেকে ক্ষমা নেয়া।

কতকে এ বিষয়টি তাওবার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন বরং একে শর্ত করেছেন। আমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কালামের ক্ষেত্রে তওবা্ হল, তা যেমন অনেক মানুষের উল্লেখিত সংজ্ঞাকে শামিল করে তেমনিভাবে নির্দেশিত কাজের ব্যাপারে দৃঢ়তাকে ও তা আঁকড়িয়ে ধরাকে শামিল করে। সুতরাং শুধুমাত্র কোন কাজ করা থেকে সরে আসা, কোন কাজ না করার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা, কোন কৃতকর্মের ব্যাপারে লজ্জিত হওয়ার মাধ্যমে তওবা্ সংঘটিত হয় না বরং যতক্ষণ না কর্তার তরফ থেকে নির্দেশিত কাজের ব্যাপারে দৃঢ়তা পাওয়া যায়। এটিই হল তাওবার প্রকৃত রূপ। আর তা হল দু’টি বিষয়ের সমষ্টির নাম। কিন্তু তওবা্ যখন নির্দেশিত কাজের সাথে শামিল হবে তখন তা পূর্বে অনেকের উল্লেখিত সংজ্ঞার ভাষ্য হবে আর যখন তা আলাদাভাবে আসবে তখন তা দু’টি বিষয়কে শামিল করবে আর তা ঐ তাকওয়া শব্দের মতো যা একাকী বা আলাদা প্রয়োগ হলে তা আল্লাহর নির্দেশিত কাজ করা এবং নিষেধ করা কাজ বর্জন করাকে বুঝায়।

পক্ষান্তরে তা নির্দেশিত কাজের সাথে শামিল হওয়ার সময় নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকাকে দাবী করবে। কেননা তাওবার প্রকৃত রূপ হল আল্লাহ যা ভালবাসেন সে কাজ অবলম্বন এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তা বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। সুতরাং প্রিয় বস্ত্তর দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাওবার একটি অংশ এবং অপছন্দনীয় জিনিস হতে ফিরে আসা তাওবার আরেকটি অংশ আর এজন্য আল্লাহ সাধারণ সফলতাকে তাওবার মাধ্যমে নির্দেশিত কাজ করা ও নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যেমন আল্লাহ বলেন, ’’হে মু’মিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা্ কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’’- (সূরা আন্ নূর ২৪ : ৩১)। সুতরাং প্রত্যেক তওবাকারী সফলকাম। আর নির্দেশিত কাজ করা এবং নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করা ছাড়া কেউ সফলকাম হতে পারবে না। আল্লাহ আরো বলেন, ’’আর যারা তওবা্ করেনি তারাই অবিচারকারী’’- (সূরা আল হুজুরাত ৪৯ : ১১)। নির্দেশিত কাজ বর্জনকারী যালিম যেমন নিষিদ্ধ কাজ সম্পাদনকারী যালিম। আর দু’টি বিষয়কে সমন্বয়কারী তওবা্ এর মাধ্যমে যুলমের অপসারণ হয়। তিনি বলেন, তওবাকারীকে তওবাকারী বলে নামকরণ করার কারণ তওবাকারী আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ থেকে তাঁর নির্দেশিত কাজের দিকে প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে ফিরে আসে।

আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ কেবল তাকে ভালবাসেন যে তাঁর নির্দেশিত বিষয় সম্পাদন করে এবং তাঁর নিষেধ করা বিষয় থেকে দূরে থাকে। সুতরাং তওবা্ হল, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহর নিষেধ করা বিষয় থেকে ফিরে আসা এবং তাঁর পছন্দনীয় বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। এমতাবস্থায় তাওবার নামের মাঝে ইসলাম, ঈমান, ইহসানও প্রবেশ করবে এবং তওবা্ পূর্বোক্ত সকল সংজ্ঞাগুলোকে শামিল করবে।

তওবা্ দ্বারা বান্দা আল্লাহর অনুগত হয়। আর এ আনুগত্যের স্তর চারটিঃ

প্রথম স্তরঃ সৃষ্টির মাঝে অংশিদারিত্ব আর তা হল প্রয়োজনের অনুগত এবং আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষীতা। সুতরাং আকাশবাসী এবং জমিনবাসী সকলেই তাঁর নিকট মুখাপেক্ষী তাঁর নিকট নিঃস্ব। আর তিনি আল্লাহই একমাত্র সত্তা যিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। আকাশবাসী এবং জমিনবাসী প্রত্যেকেই তার কাছে চায় পক্ষান্তরে তিনি কারো কাছে চান না।

দ্বিতীয় স্তরঃ আনুগত্য ও দাসত্বের স্তর আর তা স্বেচ্ছাধীন অনুগত আর এটি হল তার অনুগতদের সাথে নির্দিষ্ট আর এটি দাসত্বের গোপন।

তৃতীয় স্তরঃ ভালবাসার অনুগত কেননা যে ভালবাসে সে প্রিয় সত্তার অনুগত। সত্তার প্রতি ব্যক্তির ভালবাসার পরিমাণ অনুপাতে তার ভালবাসা সাব্যস্ত হয় সুতরাং ভালবাসাকে ভিত্তি দেয়া হয়েছে ভালবাসার পাত্রের প্রতি বিনয় প্রদর্শনের উপর।

চতুর্থ স্তরঃ অবাধ্যতা ও অপরাধের বশ্যতা।

সুতরাং এ চারটি স্তর যখন একত্রিত হয় তখন বিনয় নম্রতা একমাত্র আল্লাহর জন্য ও পূর্ণাঙ্গভাবে সাব্যস্ত হয়। কেননা ব্যক্তি তার ভয়ে, আশংকায়, ভালবাসায়, প্রত্যাবর্তন, আনুগত্যের সাথে এবং তার দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে বিনয় প্রকাশ করে।


২৩২৩-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তওবা্ করি। (বুখারী)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ إِنِّي لِأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سبعينَ مرَّةً» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والله اني لاستغفر الله واتوب اليه في اليوم اكثر من سبعين مرة» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (إِنِّىْ لِأَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ) এখানে استغفار এর হুবহু শব্দ উদ্দেশিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে আর ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) থেকে মুজাহিদের জাইয়িদ (উত্তম) সানাদে নাসায়ী সংকলন করেছেন তা একে সমর্থন করছে। আর তা হল নিশ্চয়ই ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বৈঠক থেকে দাঁড়ানোর পূর্বে একশত বার (استغفر الله الذى لا إله إلا هو الحى القيوم وأتوب إليه) এ দু‘আটি বলতে শুনেছেন। সম্ভাবনা রয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আটির দ্বারা ক্ষমা অনুসন্ধান করতেন এবং তাওবার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করতেন ও তাওবাহ্ করতেন। আর অচিরেই ‘আবদুল্লাহ ‘উমার (রাঃ)-এর হাদীস কর্তৃক দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের শেষে যা আসছে তা একে সমর্থন করছে। সে হাদীসে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমরা বৈঠকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (رب اغفرلى وتب على إنك أنت التواب الغفور) এ দু‘আটি একশতবার গণনা করতাম। একে আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ মুহাম্মাদ বিন সূকহ্’র সানাদে সংকলন করেছেন আর সূকহ্ নাফি' থেকে আর নাফি' ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার থেকে বর্ণনা করেন।

(أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً) এভাবে বুখারীতে শু‘আয়ব-এর বর্ণনাতে আছে, শু‘আয়ব যুহরী থেকে আর যুহরী আবূ সালামাহ্ থেকে, আবূ সালামাহ্ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে। তিরমিযীতে এবং ইবনুস্ সিন্নীতে মা‘মার-এর বর্ণনাতে আছে, মা‘মার যুহরী থেকে যুহরী আবূ সালামাহ্ থেকে বর্ণনা করেন। তাতে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি দিনে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি। অনুরূপভাবে আবূ ইয়া‘লা আল বাযযার ‘ত্ববারানী’ গ্রন্থে আনাস-এর হাদীসে এসেছে। সুতরাং এখানে সংখ্যা আধিক্যতা উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘আরবরা সাত, সত্তর, সাতশত সংখ্যাকে আধিক্যতার স্থলে প্রয়োগ করে থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যা উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিতাবের বর্ণনাতে أكثر শব্দটি অস্পষ্ট। সুতরাং তা ইবনু ‘উমারের উল্লেখিত হাদীস দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, আর নিশ্চয়ই তা শতকে পৌঁছবে। নাসায়ীতে মুহাম্মাদ বিন ‘আমর-এর বর্ণনাতে আছে, তিনি আবূ সালামাহ্ থেকে আর তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। ইবনু মাজাতে (إنى لأستغفر الله وأتوب إليه كل يوم مائة مرة) অবশ্যই আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তার কাছে তাওবাহ্ করে থাকি, প্রত্যেক দিন একশতবার আর আগার্-এর আগত হাদীসে আছে, (وإنى لأستغفر الله كل يوم مائة مرة) আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক দিন আল্লাহর কাছে একশতবার তাওবাহ্ করে থাকি। তিনটি বর্ণনা উল্লেখের পর ইমাম শাওকানী বলেন, সর্বাধিক সংখ্যাকে গ্রহণ করাই উচিত হবে আর তা হল শতকের বর্ণনা। সুতরাং ব্যক্তি প্রত্যেক দিন একশত বার (اللهم إنى أستغفرك فاغفرلى وأتوب إليك فتب على) পাঠ করে তাহলে সে চাওয়ার দু’টি প্রান্তকে অবলম্বন করল। আর আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলা বলেন, غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِِ ‘‘গুনাহ ক্ষমাকারী ও তাওবাহ্ কবূলকারী’’- (সূরা গাফির/আল মু’মিন ৪০ : ৩)।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ক্ষমা প্রার্থনা সংঘটিত হওয়া মুশকিল, কেননা তিনি গুনাহ থেকে সুরক্ষিত। পক্ষান্তরে ক্ষমা প্রার্থনা অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়াকে দাবী করে। এ প্রশ্নের কয়েকটি উত্তর দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা উদ্দেশ্য হল তার ঐ প্রকৃত ক্ষমা প্রার্থনা যা আগত আগার্-এর হাদীসে সংঘটিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হল, ইবনুল জাওযীর উক্তি আর তা হল মানবিক বৈশিষ্ট্যের অপরাধ যা থেকে কেউ বাঁচতে পারে না, নাবীগণ যদিও কাবীরাহ্ গুনাহ থেকে বাঁচতে পারে কিন্তু তারা সগীরাহ্ গুনাহ থেকে বাঁচতে পারে না আর তা ইচ্ছার বিপরীতে অবস্থিত, তবে প্রাধান্যযোগ্য কথা হল সগীরাহ্ গুনাহ থেকেও নাবীগণ বেঁচে থাকা। সে উত্তরগুলোর আরেকটি হল, ইবনু বাত্ত্বাল-এর উক্তি আর তা হল আল্লাহ নাবীদেরকে আল্লাহর পরিচিতি থেকে যা দান করেছেন তার কারণে তারা মানুষের মাঝে ‘ইবাদাতে সর্বাধিক চেষ্টাকারী। তারা সর্বদা তার কৃতজ্ঞতায় লিপ্ত। তারা তার কাছে অক্ষমতা স্বীকারকারী।

নিশ্চয়ই আল্লাহর উদ্দেশে যা ওয়াজিব এমন হক আদায়ের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রার্থনা অক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। আরো সম্ভাবনা রয়েছে, একজন নাবীর ক্ষমা প্রার্থনা মূলত বৈধ বিষয়াবলী তথা খাওয়া, পান করা, সহবাস করা, ঘুম, শান্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে অথবা কথোপকথনের কারণে, তাদের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দেয়া, কখনো তাদের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করা, কখনো শত্রুর সাথে কোমল আচরণ করা এবং অন্যান্য কাজ করা যা তাকে আল্লাহর যিকিরের প্রতি ব্যস্ত হওয়া ও তার নিকট অনুনয়-বিনয় করা থেকে বাধা দেয় এবং এমন সকল কাজ বিচক্ষণতার সাথে লক্ষ্য করে সুউচ্চ স্থানের দিকে লক্ষ্য করে তা পাপ মনে করা আর এ কারণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর সে উত্তরগুলো থেকে আরেকটি হল নিশ্চয়ই ক্ষমা প্রার্থনা উম্মাতকে শিক্ষাদান ও শারী‘আত প্রণয়নের উদ্দেশে। অথবা তার উম্মাতের গুনাহের কারণে, সুতরাং তা উম্মাতের জন্য সুপারিশ স্বরূপ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৪-[২] আগার আল মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার অন্তরে মরিচা পড়ে, আর (ওই মরিচা পরিষ্কার করার জন্য) আমি দিনে একশ’বার করে ইস্তিগফার করি। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنِ الْأَغَرِّ الْمُزَنِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْم مائَة مرّة» . رَوَاهُ مُسلم

وعن الاغر المزني رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انه ليغان على قلبي واني لاستغفر الله في اليوم ماىة مرة» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: কারী বলেন, ‘আরবদের মাঝে বলা হয় غين عليه অর্থাৎ- বস্ত্তটি তার উপর আচ্ছাদন করে নিয়েছে।

(عَلٰى قَلْبِىْ) অর্থাৎ- যা অন্তরকে আচ্ছাদন করে নেয়, ভুল এবং খাদ্য সম্বন্ধীয় বিষয়, জৈবিক চাহিদা সম্বন্ধীয় বিষয় ও অনুরূপ চাহিদা সম্বন্ধীয় বিষয় নাফসের অনুকূলের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কারণে যা হতে মানুষ মুক্ত থাকতে পারে না। নিশ্চয়ই তা আবরণ ও মেঘমালার মত যা অন্তরকে আচ্ছাদন করে নেয় ফলে তার মাঝে ও উচ্চ পরিষদবর্গের মাঝে আড়াল সৃষ্টি করে, অতঃপর অন্তর স্বচ্ছকরণ ও আচ্ছাদনকে দূরীকরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর তা যদিও গুনাহ নয় কিন্তু তা তার সমস্ত অবস্থার প্রতি সম্বন্ধ করে ঘাটতি ও মানবিক নিম্ন অবস্থার দিকে অবতরণ যা গুনাহের সাথে সাদৃশ্য রাখে ফলে তার পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করা উপযোগী হয়ে যায়।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, বিদ্বানগণ এ হাদীসের অর্থ বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নিশ্চল হয়ে গেছেন। এমনকি ইমাম সুয়ূত্বী বলেন, এ হাদীস মুতাশাবিহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ জানা যায় না। এ হাদীসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আসমা‘ঈ অভিধানের সামনে থমকে গেছেন এবং বলেছেন, ব্যাপারটি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর ছাড়া অন্যের অন্তর সম্পর্কে হত, অবশ্যই তার ব্যাপারে আমি উক্তি করতাম এবং তার ব্যাখ্যা করতাম তবে ‘আরবগণ الغين বলতে পাতলা মেঘমালাকে বুঝায়।

সিনদী বলেন, এর প্রকৃত রূপকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরের দিকে দৃষ্টি দিয়ে জানা যায় না, আর নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান অনেক ধারণাতে যা জাগ্রত হয় তার অপেক্ষা মহত্তর ও সুমহান। সুতরাং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তা সোপর্দ করে দেয়াই উত্তম। আর তা হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ একটি অবস্থা অর্জন হত যা ক্ষমা প্রার্থনার দিকে আহবান করত। অতঃপর তিনি প্রত্যেক দিন একশতবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যের ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রয়োজন হতে পারে? এ বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

(فِى الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ) মানাবী বলেন, এখানে مائة বা শতবার দ্বারা আধিক্যতা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এটি سبعين বর্ণনার পরিপন্থী নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৫-[৩] উক্ত রাবী [আগার আল মুযানী (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মানবমন্ডলী! আল্লাহর কাছে তওবা্ করো। আর আমিও প্রতিদিন একশ’বার করে আল্লাহর কাছে তওবা্ করি। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ مائةَ مرِّةٍ» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا ايها الناس توبوا الى الله فاني اتوب اليه في اليوم ماىة مرة» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللّٰهِ) উল্লেখিত বাণীতে আল্লাহর অপর বাণী وَتُوْبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيْعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ ‘‘আর হে বিশ্বাসীরা! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ কর’’- (সূরা আন্ নূর ২৪ : ৩১) এর দিকে। সুতরাং তাওবাহ্ সকল মানুষের ওপর আবশ্যক। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, তাওবার ব্যাপারে এ নির্দেশটি আল্লাহ তা‘আলার ‘‘আর হে বিশ্বাসীরা! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ কর’’ এ বাণী এবং আল্লাহ তা‘আলার ‘‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে যথার্থ তাওবার কর’’- (সূরা আত্ তাহরীম ৬৬ : ৮) আয়াতের অনুকূল। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, তাওবার আবশ্যকতা আগার-এর এ হাদীস, অন্যান্য হাদীসসমূহ এবং উল্লেখিত আয়াতদ্বয় দ্বারা স্পষ্ট।

কারী বলেন, (يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللّٰهِ) আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে الناس দ্বারা মু’মিনগণ উদ্দেশ্য। আর তা আল্লাহ তা‘আলার وَتُوْبُوْا إِلَى اللّٰهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ (সূরা আন্ নূর ২৪ : ৩১) এ বাণীর কারণে। নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি তার স্বস্থান থেকে তার পূর্ণাঙ্গতা সংরক্ষণের জন্য তাওবার মুখাপেক্ষী। আয়াত ও হাদীসে এ ব্যাপারে দলীল আছে। আর প্রত্যেকেই ‘ইবাদাত সম্পাদনে কমতি করে যেমন আল্লাহ তার তাকদীরে লিখেছেন। আল্লাহ বলেন, كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَا أَمَرَه অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ তাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা সে পালন করেনি’’- (সূরা ‘আবাসা ৮০ : ২৩) এর উপর আরো প্রমাণ বহন করছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (فإنى أتوب إليه) এ বাণী। অর্থাৎ- আল্লাহর কাছে উপস্থিত হওয়া এবং তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য উপযুক্ত বা তাঁর সামনে নিঃস্বতা প্রকাশের জন্য উপযুক্ত এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করি (فى اليوم مائة مرة) অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দিনে একশতবার ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন তাহলে অন্যদের পক্ষে এক মুহূর্তে হাজারবার ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রয়োজন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৬-[৪] আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার নাম করে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন তার একটি হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারক ওয়াতা’আলা বলেনঃ হে আমার বান্দাগণ! আমি আমার ওপর যুলম করাকে হারাম করে দিয়েছি। (যুলম করা আমার জন্য যা, তোমাদের জন্যও তা) তাই আমি তোমাদের জন্যও যুলম করা হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর (পরস্পরের প্রতি) যুলম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কিন্তু আমি যাকে পথ দেখাই (সে-ই পথের সন্ধান পায়)। সুতরাং তোমরা আমার নিকট পথের সন্ধান কামনা কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে পথের সন্ধান দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমি যাকে খাবার দেই (সে খাবার পায়)। তাই তোমরা আমার কাছে খাবার চাও। আমি তোমাদেরকে খাবার দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই উলঙ্গ। কিন্তু আমি যাকে পোশাক পরাই (সে পোশাক পরে)। তাই তোমরা আমার নিকট পোশাক চাও। আমি তোমাদেরকে (পোশাক) পরাব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাতদিন গুনাহ (অপরাধ) করে থাকো। আর আমি তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেই। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা ক্ষতিসাধন করার সাধ্য রাখো না যে, আমার ক্ষতি করবে। এভাবে তোমরা আমার কোন উপকার করারও শক্তি রাখো না যে, আমার কোন উপকার করবে। তাই হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে হতে সর্বাপেক্ষা পরহেযগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়ে পরহেযগার হয়ে যায়। তাও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অত্যাচারী-অনাচারী ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়েও অত্যাচার-অনাচার করে তাদের এ কাজও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ একই মাঠে দাঁড়িয়ে একসাথে আমার কাছে প্রার্থনা করে। আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তাদের চাওয়া জিনিস দান করি তাহলে আমার কাছে যা আছে, তার কিছুই কমাতে পারবে না। শুধু এতখানি ছাড়া যতটি একটি সূঁই যখন সমুদ্রে ডুবিয়ে আবার উঠিয়ে নেয়া হলে যতটুকু সমুদ্রের পানি কমায়। হে আমার বান্দাগণ! এখন বাকী রইল তোমাদের (কৃতকর্মের) ’আমল, যা আমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব। অতঃপর এর প্রতিদান আমি পরিপূর্ণভাবে দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন ভাল (ফল) লাভ করে, সে যেন আল্লাহর শুকর আদায় করে। আর যে মন্দ (ফল) লাভ করে, সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্যকে দোষারোপ না করে (কেননা তা তারই কৃতকর্মের ফল)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِي عَنِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُهُ فَاسْتَطْعِمُونِي أُطْعِمْكُمْ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُهُ فَاسْتَكْسُونِي أَكْسُكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُونِي أَغْفِرْ لَكُمْ يَا عِبَادِي إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّي فَتَضُرُّونِي وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفْعِي فَتَنْفَعُونِي يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وإنسكم وجنكم كَانُوا أَتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذَلِكَ فِي مُلْكِي شَيْئًا يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أفجر قلب وَاحِد مِنْكُم مَا نقص مِنْ مُلْكِي شَيْئًا يَا عِبَادِي لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ قَامُوا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلُونِي فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ مَسْأَلَتَهُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِمَّا عِنْدِي إِلَّا كَمَا يَنْقُصُ الْمِخْيَطُ إِذَا أُدْخِلَ الْبَحْرَ يَا عِبَادِي إِنَّمَا هِيَ أَعمالكُم أحصها عَلَيْكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمِنْ وَجَدَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَا يَلُومن إِلَّا نَفسه» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يروي عن الله تبارك وتعالى انه قال: «يا عبادي اني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا يا عبادي كلكم ضال الا من هديته فاستهدوني اهدكم يا عبادي كلكم جاىع الا من اطعمته فاستطعموني اطعمكم يا عبادي كلكم عار الا من كسوته فاستكسوني اكسكم يا عبادي انكم تخطىون بالليل والنهار وانا اغفر الذنوب جميعا فاستغفروني اغفر لكم يا عبادي انكم لن تبلغوا ضري فتضروني ولن تبلغوا نفعي فتنفعوني يا عبادي لو ان اولكم واخركم وانسكم وجنكم كانوا اتقى قلب رجل واحد منكم ما زاد ذلك في ملكي شيىا يا عبادي لو ان اولكم واخركم وانسكم وجنكم كانوا على افجر قلب واحد منكم ما نقص من ملكي شيىا يا عبادي لو ان اولكم واخركم وانسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد فسالوني فاعطيت كل انسان مسالته ما نقص ذلك مما عندي الا كما ينقص المخيط اذا ادخل البحر يا عبادي انما هي اعمالكم احصها عليكم ثم اوفيكم اياها فمن وجد خيرا فليحمد الله ومن وجد غير ذلك فلا يلومن الا نفسه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (قَالَ: يَا عِبَادِىْ) ইমাম ত্বীবী বলেন, জিন্ এবং মানব উভয়কে সম্বোধন করা হয়েছে, তাদের মাঝে পাপ-পুণ্য পর্যায়ক্রম হওয়ার কারণে। অত্র সম্বোধনে মালায়িকাহ্ও (ফেরেশতারাও) সম্বোধিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং গোপনীয়তা লাভের দিক থেকে মালায়িকার আলোচনা জীনদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করে করা সম্ভব। আর এ সম্বোধন প্রয়োগ হওয়ার ক্ষেত্রে তা পাপ প্রকাশ এবং তার সম্ভাব্যতার উপর অবস্থান করবে না। গ্রন্থকার বলেন, আমাদের শায়খ (ইমাম ত্বীবী) বলেন, তবে প্রথম সম্ভাবনাটি প্রকাশমান।

(حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلٰى نَفْسِىْ) অর্থাৎ- যুলম বা অবিচার আমার জন্য হারাম করেছি।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, বিদ্বানগণ বলেন, (حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلٰى نَفْسِىْ) এর অর্থ হল আমি অন্যায় থেকে পবিত্র। আর আল্লাহর ক্ষেত্রে যুুলম অসম্ভব। আর আল্লাহ কিভাবে সীমালঙ্ঘন করবেন অথচ তার ওপর এমন কেউ নেই যার আনুগত্য তাকে করতে হবে, আর কিভাবে তিনি অন্যের মালিকানাতে হস্তক্ষেপ করবেন অথচ সমগ্র বিশ্ব তার মালিকানাতে। আভিধানিক অর্থে তাহরীমের মূল হল বিরত থাকা। কোন কিছু থেকে বিরত থাকার সাথে হারামের সাদৃশ্য থাকার কারণে অবিচার থেকে আল্লাহর পবিত্র হওয়াকে হারাম বলা হয়েছে।

(فَلَا تَظَالَمُوا) অর্থাৎ- আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর অবিচারকে হারাম করে দিয়েছেন এবং তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি অবিচার করবে- এ থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক বান্দার ওপর আবশ্যক একে অন্যের প্রতি অবিচার না করা।

(يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُه) অর্থাৎ- যে ব্যক্তির সুপথের দিশা অর্জন হয়েছে তা কেবল আল্লাহর তরফ থেকে, তার নিজের তরফ থেকে নয়। এমনিভাবে খাদ্য, বস্ত্র যার যতটুকু অর্জিত হয়েছে তা কেবল আল্লাহর তরফ থেকে নিজের তরফ থেকে নয়। আর এ বিশ্বাস দাবী করছে সকল সৃষ্টি তাদের দীন ও দুনিয়াতে কল্যাণ আনয়ন ও ক্ষতি প্রতিহতকরণে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আর নিশ্চয়ই বান্দাগণ এ সবের কিছুই নিজেরা করার ক্ষমতা রাখে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুপথের দিক নির্দেশনা ও দানের মাধ্যমে যাকে দয়া করেননি দুনিয়াতে সে এ দু’টি জিনিস থেকে মাহরুম হবে।

মাযূরী বলেন, এর বাহ্যিক দিক হল, নিশ্চয়ই তাদেরকে পথভ্রষ্টতার উপরে সৃষ্টি করা হয়েছে তবে আল্লাহ যাকে সুপথের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন সে ছাড়া। প্রসিদ্ধ হাদীসে আছে, প্রত্যেক ভূমিষ্ঠ সন্তান সনাতন ধর্মের উপর জন্মগ্রহণ করে। তিনি বলেন, অতঃপর প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের কাছে পাঠানোর পূর্বে তারা যে অবস্থার উপর ছিল সে ব্যাপারে তাদের বর্ণনা দেয়া অথবা যদি তাদেরকে ও তাদের স্বভাবে যে প্রবৃত্তি, আরাম ও অবকাশগত ঢিলেমি আছে তা ছেড়ে দেয়া হয় অবশ্যই তারা পথভ্রষ্ট হবে আর এ দ্বিতীয়টিই হল সর্বাধিক স্পষ্ট। মানাবী বলেন, كلكم ضال অর্থাৎ- তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট, অর্থাৎ- রসূলদেরকে প্রেরণ করার পূর্বে তোমাদের প্রত্যেকেই শারী‘আত সম্বন্ধে উদাসীন ছিলে, তবে আল্লাহ যাকে ঈমান আনার তাওফীক দিয়েছেন সে হিদায়াত পেয়েছে।

কারী বলেন, এটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (كل مولود يولد على الفطرة) অর্থাৎ- ‘‘প্রত্যেক ভূমিষ্ঠ সন্তান সনাতন ধর্মের উপর জন্ম গ্রহণ করে’’ এ উক্তির পরিপন্থী না। কেননা الفطرة দ্বারা তাওহীদ উদ্দেশ্য। আর الضلالة দ্বারা ঈমানের বিধিবিধান ও ইসলামের দণ্ডবিধির বিশ্লেষণ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা উদ্দেশ্য। আর এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী, وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدٰى অর্থাৎ- ‘‘আর তিনি আপনাকে পথহারা পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।’’ (সূরা আয্ যুহা- ৯৩ : ৭)

ইবনু রজব বলেন, কতক মনে করেন নিশ্চয়ই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (كلكم ضال إلا من هديته) এ বাণী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ‘ইয়ায-এর (আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি আমার বান্দাদেরকে তাওহীদবাদী করে সৃষ্টি করেছি’’) এ হাদীসের পরিপন্থী এবং অন্য বর্ণনাতে (মুসলিমদের থেকে শয়তান পৃথক হয়ে গেছে) এ বাণীর পরিপন্থী। অথচ এরূপ নয়। কেননা আল্লাহ আদম সন্তানদের সৃষ্টি করে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের উপযোগী করেছেন এবং তার দিকে তাদেরকে ঝুকিয়ে দিয়েছেন এবং ক্ষমতা দ্বারা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রস্ত্তত করেছেন কিন্তু বান্দার জন্য আবশ্যক কর্মের মাধ্যমে ইসলামকে শিখে নেয়া, কেননা বান্দা শিক্ষা গ্রহণের পূর্বে মূর্খ থাকে তখন সে কিছু জানে না। যেমন আল্লাহ বলেন, وَاللهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُوْنِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ شَيْئًا অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতার পেট থেকে বের করেছেন এমতাবস্থায় তোমরা কিছু জানতে না’’- (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ৭৮)। আর তার নাবীকে বলেন, وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدٰى অর্থাৎ- ‘‘আর তিনি আপনাকে পথহারা পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।’’ (সূরা আয্ যুহা- ৯৩ : ৭)

অত্র আয়াতে وَوَجَدَكَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কিতাব এবং কৌশলের যা কিছু আল্লাহ নাবীকে শিক্ষা দিয়েছেন তার পূর্বে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতেন না। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘‘আর এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আমার তরফ থেকে রূহ তথা কুরআন প্রত্যাদেশ করেছি ইতিপূর্বে আপনি জানতে না কিতাব কি ও ঈমান কি কিন্তু আমি একে করেছি জ্যোতিস্বরূপ, আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা এর মাধ্যমে আমি তাকে পথপ্রদর্শন করি।’’ (সূরা আশ্ শূরা ৪২ : ৫২)

(يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُه) অর্থাৎ- ‘‘হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই ক্ষুধার্ত তবে আমি যাকে খাইয়েছি সে ছাড়া।’’ ‘আলকামাহ্ বলেন, এটা এ কারণে যে, মানুষ কোন কিছুর মালিক নয় আর রিযক্বের ভাণ্ডার আল্লাহর হাতে। সুতরাং আল্লাহ অনুগ্রহপূর্বক যাকে খাওয়াবেন না আল্লাহর ন্যায়-ইনসাফ হিসেবে সে ক্ষুধার্ত থাকবে। কেননা কাউকে খাওয়ানো তার ওপর আবশ্যক না। এখন কেউ যদি বলেন কি করে এটা হতে পারে অথচ আল্লাহ বলেছেন, وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللهِ رِزْقُهَا অর্থাৎ- ‘‘পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে সকল প্রাণীর খাদ্যভার একমাত্র আল্লাহর ওপর’’- (সূরা হূদ ১১ : ৬)। উত্তরে বলা হবে, এটা আল্লাহর তরফ থেকে অনুগ্রহ। মূলত প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহর ওপর কোন দায়িত্ব আছে এমন না। অতঃপর যদি বলা হয়, খাদ্যদানকে কিভাবে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হল? অথচ আমরা স্বচক্ষে পেশা, কর্ম এবং উপার্জনের বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা খাদ্যসমূহ আগমন করতে দেখতে পাই। উত্তরে বলা হবে, তা আল্লাহর ক্ষমতা ও তাঁর গোপন কৌশলের মাধ্যমে প্রকাশ্য উপকরণসমূহের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

কারী বলেন, (إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُه) অর্থাৎ- যাকে আমি খাওয়াব, যার রিযককে আমি প্রশস্ত করে দেব এবং যাকে আমি ধনী করব একমাত্র সেই তো পাবে।

(فَاسْتَطْعِمُونِىْ) অর্থাৎ- তোমরা খাদ্য ও খাদ্যের সহজতা আমার থেকে অনুসন্ধান কর। (أُطْعِمْكُمْ) অর্থাৎ- আমি তোমাদের জন্য খাদ্য অর্জনের উপকরণ সহজ করে দিব।

(أَكْسُكُمْ) অর্থাৎ- আমি তোমাদের জন্য তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকা সহজ করে দিব এবং তোমাদের থেকে তোমাদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়ার অপমান দূর করে দিব।

(فَتَنْفَعُونِىْ) ‘‘অতঃপর তোমরা আমার উপকার করবে’’। অর্থাৎ- বান্দাগণ আল্লাহর কোন ধরনের উপকার ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না, কেননা আল্লাহ তিনি নিজে ধনী, প্রশংসিত, বান্দার আনুগত্যের প্রয়োজন তাঁর নেই। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যেমে তার কোন উপকার সাধিত হয় না, বরং তারা নিজেরাই একে অপরের মাধ্যমে পরস্পর লাভবান হয়। তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ ক্ষতিগ্রস্ত হন না, তারা নিজেরাই কেবল অবাধ্যতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘আর যারা কুফরীতে তরান্বিত করে নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর ক্ষতি সাধন করতে পারবে না’’- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১৭৬)। আর আল্লাহ মূসা (আঃ) সম্পর্কে বর্ণনা দিতে যেয়ে বলেন, মূসা (আঃ) বলেছেনঃ অর্থাৎ- ‘‘তোমরা এবং সমস্ত জমিনবাসী যদি কুফরী কর তাহলে জেনে রেখ অবশ্যই আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, ধনী’’- (সূরা ইব্রাহীম ১৪ : ৮)।

কারী বলেন, অর্থাৎ- তোমাদের দ্বারা আমার কোন ক্ষতি করা এবং উপকার করা সম্ভব হবে না, কেননা তোমরা সকলে যদি আমার চূড়ান্ত ‘ইবাদাত করার দিকে সংঘবদ্ধ হও তাহলেও আমার রাজত্বে কোন উপকার পৌঁছানো সম্ভব হবে না আর যদি তোমরা আমার কোন চূড়ান্ত অবাধ্যতার উপর একত্রিত হও তাহলেও তোমরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। বরং ‘‘যদি ভাল ‘আমল কর তাহলে তোমাদের নিজেদের উপকারার্থেই তা করলে আর যদি মন্দ ‘আমল কর তাহলে তোমাদের নিজেদের অকল্যাণের জন্যই তা করলে’’- (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ৭)। আর এটি হল আল্লাহর (لو أن أولكم وأخركم-থ حديث قدسى) এ বাণীর মর্ম।

(كَانُوْا عَلٰى اَفْجَرِ قَلْبِ وَاحِدٍ مِنْكُمْ) অর্থাৎ- তোমরা যদি তোমাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক ভীতিপূর্ণ ব্যক্তির হৃদয়ের উপর অবস্থান করে চূড়ান্ত আল্লাহ ভীতির অধিকারী হয়ে যাও। কবাযী বলেন, অর্থাৎ- তোমরা যদি কোন ব্যক্তির সর্বাধিক আল্লাহ ভীতি অবস্থার উপর অবস্থান কর, অর্থাৎ- তোমাদের থেকে প্রত্যেকেই এ অবস্থার উপর অবস্থান করে এভাবে মিরকাতে আছে।

(مَا زَادَ ذٰلِكَ فِىْ مُلْكِىْ شَيْئًا) অর্থাৎ- তোমরা আমার উপকার করার জন্য উপকার করার অবস্থানেই পৌঁছাতে পারবে না।

(مَا نَقَصَ مِنْ مُلْكِىْ شَيْئًا) অর্থাৎ- সামান্যতমও কমাতে পারবে না। অত্র হাদীসে شيئا অর্থাৎ- নাকেরা বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য আনা হয়েছে অতি নগণ্য বুঝানোর জন্য। আর এটা বুঝা যাচ্ছে, আগত হাদীসে এর পরিবর্তে (جناح بعوضة) দ্বারা। আর এটি আল্লাহর (لن تبلغوا ضرى فتضرونى) ‘‘তোমরা কখনো আমার ক্ষতিসাধন করার জন্য আমার ক্ষতি সাধন করার স্থানে পৌঁছাতে পারবে না।’’ এ বাণীর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে। অর্থাৎ- আল্লাহর রাজত্ব সৃষ্টজীবের আনুগত্যের কারণে বৃদ্ধি পায় না যদিও তাদের প্রত্যেকেই পুণ্যবান হয়ে যায় এবং অবাধ্যদের অবাধ্যতার কারণে রাজ্যে কোন কিছু হ্রাসও পায় না যদিও জিন্ ও মানব প্রত্যেকইে অবাধ্য হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ সুবহানাহূ সত্তাগতভাবে অন্যান্যদের থেকে অমুখাপেক্ষী। তাঁর গুণাবলী, তাঁর কর্মে ও তাঁর সত্তাতে রয়েছে সাধারণ পূর্ণাঙ্গতা। সুতরাং তাঁর রাজত্ব পূর্ণাঙ্গ রাজত্ব। তাঁর রাজত্বে কোন দিক দিয়ে কোন কারণে অপূর্ণাঙ্গতা নেই।

(فِىْ صَعِيدٍ وَاحِدٍ) অর্থাৎ- একই জমিনে একই স্থানে। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, الصعيد শব্দটি মাটি ও ভূ-পৃষ্ঠ উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং এখানে ভ-ূপৃষ্ঠ উদ্দেশ্য।

(فَسَأَلُونِىْ) অর্থাৎ- তারা প্রত্যেকে আমার কাছে চায়। ইমাম ত্বীবী বলেন, চাওয়াকে একই স্থানে একত্রিত হওয়ার সাথে আওতাভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। কেননা যার কাছে একত্রিতভাবে চাওয়া হয় সেই চাওয়া তাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয় এবং তা চাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করে এবং তার কাছে তাদের লক্ষ্যের সফলতা এবং তাদের দাবী উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যায়।

(فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ) অতঃপর আমি প্রত্যেক মানুষকেই দান করি, এমনিভাবে প্রত্যেক জিনকেও।

(مَا نَقَصَ ذٰلِكَ مِمَّا عِنْدِىْ) ‘‘এতে আমার নিকট যা আছে তার কিছুই কমবে না’’ এর দ্বারা তাঁর ক্ষমতার পূর্ণাঙ্গতা এবং তাঁর রাজত্বের পূর্ণাঙ্গতা উদ্দেশ্য। তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর ধনভাণ্ডার শেষ হবে না এবং দানের কারণে তা কমবে না। যদিও পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে, একই স্থানে তারা যা চায় সব কিছু দেয়া হয়।

(إِذَا أُدْخِلَ الْبَحْرَ) একটি সুঁই যখন সমুদ্রে ডুবিয়ে আবার উঠিয়ে নেয়া হলে সমুদ্রের পানি যতটুকু কমায়। এখানে এ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট যা কিছু তা কমে না এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তা শেষ হয়ে যাবে আর আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে তা অবশিষ্ট থাকবে’’- (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ৯৬)। কেননা সমুদ্রে যখন কোন সুঁই প্রবেশ করানোর পর বের করা হবে তখন এ কারণে সমুদ্রে কিছু কমবে না। ত্বীবী বলেন, সুঁই সমুদ্র থেকে যা কমায় তা যখন অনুভূতিশীল না, জ্ঞানের কাছে তা যখন গণ্য না বরং তা না কমার হুকুমের মাঝে গণ্য তখন তা সৃষ্টিজীবের প্রয়োজনাদি পূর্ণাঙ্গভাবে দান করার সাথে আরো বেশি অনুভূতিশীল ও সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা তাঁর কাছে যা আছে তা কমে না।

নাবাবী বলেন, বিদ্বানগণ বলেছেন, এ উপমা অবলম্বন একটি বিষয় বুঝিয়ে দেয়ার নিকটবর্তী একটি মাধ্যম। এর অর্থ হল, প্রকৃতপক্ষে তা কিছু কমায় না। যেমন অন্য হাদীসে এসেছে, কোন খরচ তাকে কমায় না। কেননা আল্লাহর কাছে যা আছে তাতে অসম্পূর্ণতা প্রবেশ করে না। অসম্পূর্ণতা কেবল প্রবেশ করে ধ্বংসশীল সীমাবদ্ধ জিনিসের মাঝে। আর আল্লাহর দান তাঁর রহমাত ও তাঁর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। আর এ দু’টি হল সিফাতের কদীম যাতে অসম্পূর্ণতা প্রবেশ করতে পারে না। অতঃপর সমুদ্রে সুঁইয়ের মাধ্যমে উপমা পেশ করা হয়েছে, কেননা স্বল্পতার ক্ষেত্রে উপমা হিসেবে যা বর্ণনা করা হয় তার মাঝে এটি চূড়ান্ত পর্যায়। উদ্দেশ্য হল মানুষ যা স্বচক্ষে দেখে তা উপলব্ধি করার কাছাকাছি করে দেয়া। কেননা সমুদ্র দর্শনীয় জিনিসের মাঝে সর্বাধিক বড়, পক্ষান্তরে সুঁই অস্তিত্বশীল জিনিসের মাঝে সর্বাধিক ছোট। সেই সাথে তা মসৃণ। পানি তার সাথে সম্পৃক্ত হয় না।

(فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে কল্যাণের তাওফীক পাবে এবং নিজের তরফ থেকে কল্যাণের কাজ পাবে। (فليحمد الله) অর্থাৎ- আল্লাহ তাকে কল্যাণকর কাজে তাওফীক দেয়ার কারণে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, কেননা তিনি পথপ্রদর্শক।

(وَمِنْ وَجَدَ غَيْرَ ذٰلِكَ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি অকল্যাণকর কিছু পাবে, অকল্যাণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি তা তুচ্ছ হওয়ার জন্য এবং তার সংস্পর্শ থেকে বেঁচে থাকার লক্ষ্যে।

(فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَه) ‘‘সে যেন নিজেকে ব্যতীত অন্য কাউকে দোষারোপ না করেন’’। কেননা অকল্যাণ তার নিজ থেকে প্রকাশ পেয়েছে অথবা সে তার এ পথভ্রষ্টতার উপর আছে যে দিকে আল্লাহর (كلكم ضال তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট) এ বাণী দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি কারীর উক্তি। ‘আলক্বমাহ্ বলেন, নিশ্চয়ই ঐ আনুগত্যসমূহ যার ওপর সাওয়াব দেয়া হয় এবং আল্লাহর তাওফীক্বে ঐ কল্যাণ যার কারণে আল্লাহর প্রশংসা করা আবশ্যক এবং ঐ অবাধ্যতার কাজসমূহ যার ওপর শাস্তি আরোপ করা হয় এবং অকল্যাণ আরোপ করা হয়। যদিও সে অবাধ্যতার বিষয়গুলো আল্লাহর তাকদীর এবং বান্দাকে তার লাঞ্ছিত করার নিমিত্তে হয়ে থাকে তবুও তা বান্দার অর্জন। সুতরাং মন্দ উপার্জনের ক্ষেত্রে তার বাড়াবাড়ির কারণে সে যেন নিজকে তিরস্কার করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৭-[৫] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষ হত্যা করেছিল। তারপর সে শার’ঈ বিধান জানার জন্য একজন আল্লাহভীরুর কাছে জিজ্ঞেস করল, এ ধরনের মানুষের জন্য তাওবার কোন অবকাশ আছে কিনা? তিনি বললেন, নেই। তারপর সে তাকেও (’আলিমকেও) হত্যা করল। এভাবে সে লোকদেরকে অনবরত জিজ্ঞেস করতে থাকল। এক ব্যক্তি শুনে বলল, অমুক গ্রামে গিয়ে অমুককে জিজ্ঞেস করো। এমন সময়েই সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং মৃত্যুর সময় সে ওই গ্রামের দিকে নিজের সিনাকে বাড়িয়ে দিলো। তারপর রহমতের মালাক (ফেরেশতা) ও ’আযাবের মালাক পরস্পর ঝগড়া করতে লাগল, কারা তার রূহ নিয়ে যাবে। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ওই গ্রামকে বললেন, তুমি মৃত ব্যক্তির কাছে আসো। আর নিজ গ্রামকে বললেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর আল্লাহ মালায়িকাহকে (ফেরেশতাদের) বললেন, তোমরা উভয় দিকের পথের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখো। মাপের পর মৃতকে এ গ্রামের দিকে এক বিঘত নিকটে পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ: أَلَهَ تَوْبَةٌ قَالَ: لَا فَقَتَلَهُ وَجَعَلَ يَسْأَلُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَنَاءَ بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي وَإِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَهُمَا فَوُجِدَ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَغُفِرَ لَهُ

وعن ابي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كان في بني اسراىيل رجل قتل تسعة وتسعين انسانا ثم خرج يسال فاتى راهبا فساله فقال: اله توبة قال: لا فقتله وجعل يسال فقال له رجل اىت قرية كذا وكذا فادركه الموت فناء بصدره نحوها فاختصمت فيه ملاىكة الرحمة وملاىكة العذاب فاوحى الله الى هذه ان تقربي والى هذه ان تباعدي فقال قيسوا ما بينهما فوجد الى هذه اقرب بشبر فغفر له

ব্যাখ্যা: (كَانَ فِىْ بَنِىْ إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ) হাফেয বলেন, আমি লোকটির নাম সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি এবং ঘটনাতে উল্লেখ করা কোন লোকের নাম সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি।

(قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا) আবূ মু‘আবিয়াহ্ বিন আবূ সুফ্ইয়ান-এর হাদীসে ত্ববারানী একটু বেশি উল্লেখ করেছেন আর তা হল হাদীসে হত্যাকারী নিহতদের প্রত্যেককে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিলেন।

(ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ) ‘‘অতঃপর সে বেরিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকলো’’। অর্থাৎ- তাওবাহ্ ও ক্ষমা প্রার্থনা করার সুযোগ আছে কিনা। আর মুসলিমে কাতাদাহ্ থেকে হিশাম-এর এক বর্ণনাতে আছে, লোকটি পৃথিবীবাসীদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। অতঃপর তাকে এক পাদ্রী সম্পর্কে বলে দেয়া হল।

(فَأَتٰى رَاهِبًا) বলতে আল্লাহ ভীতিসম্পন্ন, ‘ইবাদাতকারী ও সৃষ্টি থেকে যিনি আলাদা থাকেন, খিষ্টানদের ধর্মযাজক। আর হাদীসে ইঙ্গিত আছে, উল্লেখিত ঘটনাটি ঈসা (আঃ)-কে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেয়ার পর ঘটেছিল। কেননা সন্ন্যাসী পন্থার আবিষ্কার তার পরে হয়েছিল যেমন কুরআনে এ ব্যাপারে ভাষ্য এসেছে।

(فَسَأَلَه فَقَالَ: أَلَهَ تَوْبَةٌ) অর্থাৎ- এ ধরনের অপরাধের পর এ ধরনের কর্মের জন্য কি কোন তাওবাহ্ আছে? (أَلَهَ تَوْبَةٌ) কারী বলেন, মিশকাতের এক কপিতে আছে (ألى توبة) ‘‘আমরা কি তাওবাহ্ করার কোন সুযোগ আছে’’। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, বূলাক-এর (জায়গা) ১২৯৪ সনের ছাপা অনুযায়ী আমাদের কাছে বিদ্যমান মাসাবীহের এক কপিতে আছে (فقال له هل لى توبة) অর্থাৎ- অতঃপর লোকটি পাদ্রীকে বলল, আমার কি কোন তাওবার সুযোগ আছে? ‘আয়নী এবং কুসতুলানী-এর মূলকপিতে আছে, (ففال له هل من توبة) ‘আয়নী বলেন, অতঃপর লোকটি পাদ্রীকে বলল, আমার কি তাওবাহ্ করার কোন সুযোগ আছে? মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, নিশ্চয়ই লোকটি নিরানব্বই লোককে হত্যা করেছে, এখন তার কি কোন তাওবাহ্ করার সুযোগ আছে?

(قالا) অর্থাৎ- নিরানব্বই জন ব্যক্তি হত্যা করার পর তার বা তোমার তাওবাহ্ করার কোন সুযোগ নেই। পাদ্রীর মনে লোকটির ব্যাপারে ব্যাপক ভয়ের কারণে এবং এত অধিক পরিমাণ লোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করার পর তার তাওবাহ্ যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে তা অসম্ভবপর ব্যাপার মনে করে লোকটিকে তিনি এমন ফাতাওয়া দিয়েছিলেন। (فقتله) অর্থাৎ- পাদ্রীকে হত্যা করে একশত হত্যা পূর্ণ করল। কারী বলেন, সম্ভবত লোকটি তার এ ধারণার কারণে এমন কাজ করেছিল যে, তার তাওবাহ্ কবূল করা হবে না যদিও তার কাছে প্রাপ্যদাবীদাররা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।

এক মতে বলা হয়েছে, পাদ্রীর ফাতাওয়া লোকটির নিকট এ ভাব প্রকাশ করেছে যে, তার কোন মুক্তি নেই। সুতরাং সে রহমাত থেকে নিরাশ হয়ে গেল, অতঃপর আল্লাহ তাকে অনুভূতি শক্তি দিলে সে কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল।

(وَجَعَلَ يَسْأَلُ) অতঃপর লোকটি যার কাছে যেয়ে তার তাওবাহ্ কবূল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, এমন লোকের অন্বেষণে জিজ্ঞেস করতে থাকলো। অবশেষে লোকটি এক ‘আলিম ব্যক্তিকে বলল, ‘‘নিশ্চয়ই আমি একশত লোককে হত্যা করেছি এখন আমার কি কোন তাওবাহ্ আছে?’’ এ কথা বলার পর ‘আলিম ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ, আপনার ও আপনার তাওবার মাঝে কে বাধা দিবে? হিশাম-এর বর্ণনাতে আছে, অতঃপর লোকটি পৃথিবীর সর্বাধিক জ্ঞানী সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তাকে এক বিদ্বান ব্যক্তি সম্পর্কে বলে দেয়া হল, অতঃপর লোকটি বিদ্বান ব্যক্তির কাছে বলল, নিশ্চয়ই সে একশত জন লোককে হত্যা করেছে, এখন কি তার কোন তাওবার সুযোগ আছে? উত্তরে ‘আলিম ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ, তার মাঝে ও তাওবার মাঝে কোন জিনিস বাধা দিবে?

(ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا) অর্থাৎ- তুমি এমন গ্রামে যাও যার অধিবাসীগণ সৎ এবং আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করে ও তাদের সাথে ‘ইবাদাত কর অতঃপর লোকটি ঐ গ্রামের দিকে যেতে থাকলো। হিশাম-এর বর্ণনাতে আছে, লোকটি এ রকম গ্রামের দিকে চলল, অর্থাৎ- ‘‘যে গ্রামের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছিল’’। কেননা সে গ্রামে কিছু মানুষ আছে তারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। সুতরাং তাদের সাথে আল্লাহর ‘ইবাদাত কর এবং তোমার গ্রামের দিকে প্রত্যাবর্তন করিও না, কেননা তা মন্দ গ্রাম। অতঃপর সে চলতে থাকলো এমনকি যখন সে অর্ধপথ অতিক্রম করল তখন তাকে মৃত্যু গ্রাস করল। আর এ গ্রামের নাম ছিল নুসরা, পক্ষান্তরে যে গ্রামের দিক থেকে এসেছিল সে তার নাম কুফরাহ্। যেমন ত্ববরানীতে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর হাদীস জাইয়িদ সানাদে আছে। নাবাবী বলেন, তার উক্তি (انطلق إلى أرض كذا الخ) অর্থাৎ- সে এ ধরনের গ্রামের দিকে চলল শেষ পর্যন্ত। এতে আছে তাওবাহকারীর ঐ সমস্ত স্থান থেকে আলাদা থাকা মুস্তাহাব যাতে গুনাহ সংঘটিত হয়েছে এবং ঐ বন্ধু থেকে আলাদা থাকা যারা এ ব্যাপারে সহযোগিতা যোগায় এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যতক্ষণ তারা এ অবস্থার উপর থাকে। আর তাদের পরিবর্তে ভালো, সৎ, বিদ্বান, আল্লাহভীরু ‘ইবাদাতকারীদের বন্ধুত্ব গ্রহণ করা এবং এর মাধ্যমে তার তাওবাতে গুরুত্ব দেয়া।

(فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ) অর্থাৎ- অতঃপর মরণের আলামাত বা মরণ যন্ত্রণা তাকে গ্রাস করল, অর্থাৎ- লোকটি ঐ গ্রামের দিকে যেতে ইচ্ছা করে তার মাঝপথে পৌঁছল তখন মরণ তাকে পেয়ে গেল।

(فَنَاءَ بِصَدْرِه) অর্থাৎ- অতঃপর সে তার বক্ষকে ঐ গ্রামের দিকে হেলিয়ে দিল তাওবার জন্য যে গ্রামের দিকে যাচ্ছিল।

(فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ) হিশাম-এর বর্ণনাতে একটু বেশি এসেছে, তাতে আছে, অতঃপর রহমাতের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) বলল, লোকটি তাওবাহ্ করার উদ্দেশে তার অন্তরকে আল্লাহমুখী করে এসেছে। পক্ষান্তরে ‘আযাবের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) বলল, নিশ্চয়ই সে কোন ভালো ‘আমল করেনি। অতঃপর তাদের কাছে মানুষের আকৃতিতে একজন মালাক (ফেরেশতা) এলো, অতঃপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) তাকে তাদের মাঝে স্থাপন করল, অতঃপর মানুষরূপী মালাক দলকে বলল, তোমরা দু’ জমির মাঝে মেপে দেখ মৃত লোকটি যে জমির অধিক নিকটবর্তী হবে তাকে ঐ জমির লোক হিসেবেই গণ্য করা হবে। নাবাবী বলেন, দুই গ্রামের মাঝে মালায়িকাহর (ফেরেশতার) মাপা এবং মালাক দল যাকে তাদের মাঝে ফায়সালাকারী নিয়োগ করেছিল তার ফায়সালা ঐ ব্যাপারে সম্ভাবনা রাখছে যে, মালাক দলের কাছে মৃত লোকটির অবস্থা সংশয়পূর্ণ ছিল এবং তার ব্যাপারে মতানৈক্য হওয়ার সময় আল্লাহ মালাক দলকে নির্দেশ করেছিল তাদের পাশ দিয়ে যারা অতিক্রম করবে তাদের একজনকে বিচারক নিয়োগ করতে। অতঃপর একজন মালাক মানুষের আকৃতিতে অতিক্রম করলে মালাক দল তাকে ঐ ফায়সালার ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়।

(فَوُجِدَ إِلٰى هٰذِه) অর্থাৎ- ঐ গ্রামের দিকে যে দিকে লোকটি যাওয়ার ইচ্ছা করেছিল আর তার নাম হল নুসরাহ্।

(وَإِلٰى هٰذِه) অর্থাৎ- ঐ গ্রামের দিকে তাওবার উদ্দেশে যে গ্রাম থেকে বের হয়েছিল আর তার নাম কুফ্রাহ্ এবং বুখারীতে (وأوحى) এসেছে।

(أَنْ تَبَاعَدِىْ) অর্থাৎ- মৃত ব্যক্তি থেকে দূর হও।

(فَوُجِدَ إِلٰى هٰذِه أَقْرَبَ) হিশাম-এর বর্ণনাতে আছে, অতঃপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) মেপে মৃত লোকটিকে ঐ জমির অধিক নিকটবর্তী পেল যে জমির দিকে সে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৮-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لو لم تذنبوا لذهب الله بكم ولجاء بقوم يذنبون فيستغفرون الله فيغفر لهم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ) অর্থাৎ- অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ে চলে যেতেন এবং তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিতেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই বা তোমাদের ছাড়া অন্যদের থেকে অন্য আরেকটি সম্প্রদায় বের করতেন। (يُذْنِبُونَ) অর্থাৎ- তাদের থেকে গুনাহ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হত।

(فَيَغْفِرُ لَهُمْ) অর্থাৎ- غفار এবং غفور সিফাতের কারণে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা অত্যন্ত ক্ষমাশীল’’- (সূরা নূহ ৭১ : ১০)। উপাস্যগত বৈশিষ্ট্যের আবশ্যকতার কারণে মানব জাতির মাঝে অবাধ্যতার উপস্থিতি। অর্থাৎ- তোমরাও যদি মালায়িকাহর (ফেরেশতাদের) মতো গুনাহমুক্ত থাকতে তাহলে আল্লাহ তোমাদের এ পৃথিবী থেকে নিয়ে চলে যেতেন এবং এমন জাতি নিয়ে আসতেন যাদের থেকে গুনাহ সংঘটিত হত যাতে الغفران এবং العفو গুণের অর্থ নষ্ট না হয়। সুতরাং এ হাদীসে গুনাহে ডুবে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়নি।

তুরবিশতী বলেনঃ এ হাদীস থেকে উদ্দেশ্য হল, নিশ্চয়ই আল্লাহ যেমন দয়াকারীর প্রতি দয়া করতে ভালবাসেন তেমনি পাপীর পাপ এড়িয়ে চলাও পছন্দ করেন। আর এর উপর প্রমাণ বহন করে আল্লাহর একাধিক নাম, গাফফার, তাওয়াব, হালীম এবং ‘আফুব্যু। সুতরাং আল্লাহ এমন নন যে, বান্দাদেরকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে মালায়িকাহর (ফেরেশতার) মতো তাদেরকে একই গুণের উপর সৃষ্টি করবেন। বরং তাদের মাঝে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে তার স্বভাব অনুযায়ী প্রবৃত্তির দিকে ঝুকবে ফিতনাহগ্রস্ত হবে এবং প্রবৃত্তির প্রতি সংশয়পূর্ণ হবে। অতঃপর তাকে তা থেকে বেঁচে থাকতে তাকে দায়িত্ব দিবেন, অপরাধী হওয়া থেকে তাকে সতর্ক করবে। পরীক্ষায় পতিত করার পর তাকে তাওবার সাথে পরিচিত করবো। সুতরাং বান্দা যদি আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে তাহলে তার পুণ্য আল্লাহর কাছে থাকবে। পক্ষান্তরে পথ ভুল করলে তার সামনে তাওবাহ্ করার সুযোগ থাকবে।

সুতরাং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)’কে যে বৈশিষ্ট্যের উপর তৈরি করেছেন তোমাদেরকে যদি সে বৈশিষ্ট্যের উপর তৈরি করা হত, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ এমন জাতি নিয়ে আসতেন যাদের দ্বারা গুনাহ সম্পাদিত হত। অতঃপর আল্লাহ কৌশলের চাহিদা মোতাবেক তাদের কাছে ঐ সমস্ত গুণাবলী নিয়ে প্রকাশ পেতেন, কেননা তিনি গাফফার যার বৈশিষ্ট্য ক্ষমা করা, যেমনি তিনি রাজ্জাক যার বৈশিষ্ট্য দান করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩২৯-[৭] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা রাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের বেলায় গুনাহকারীর তওবা্ করতে পারেন। আবার দিনের বেলায় তিনি তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের বেলায় গুনাহকারীর তওবা্ করতে পারেন। এভাবে তিনি হাত প্রসারিত করতে থাকবেন যতদিন না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ابي موسى رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله يبسط يده بالليل ليتوب مسيء النهار ويبسط يده بالنهار ليتوب مسيء الليل حتى تطلع الشمس من مغربها» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (إِنَّ اللّٰهَ يَبْسُطُ يَدَه) বলা হয়েছে, হাদীসাংশে হাত প্রশস্ত করা এর দ্বারা উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করা। কেননা মানুষের স্বভাব হল তাদের কেউ যখন কারো কাছ থেকে কিছু সন্ধান করে তখন সে তার দিকে নিজ হাতের তালুকে বিস্তৃত করে, অর্থাৎ- আল্লাহ পাপীদেরকে তাওবার দিকে আহবান করছেন।

(لِيَتُوبَ مُسِىْءُ النَّهَارِ) অর্থাৎ- তাদের শাস্তির ব্যাপারে তিনি তাড়াতাড়ি করেন না বরং তাদেরকে তিনি ঢিল দেন যাতে তারা তাওবাহ্ করে।

(وَيَبْسُطُ يَدَه بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِىْءُ اللَّيْلِ) নাবাবী বলেন, এর অর্থ হল, তিনি পাপীদের থেকে দিনে রাত্রে তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিম দিক থেকে সূর্য না উদিত হবে। আর তিনি তার তাওবাহ্ গ্রহণ কোন সময়ের সাথে নির্দিষ্ট করেননি। সুতরাং তাওবাহ্ গ্রহণের ক্ষেত্রে হাত বিস্তৃতকরণ রূপকার্থবোধক। মাযুরী বলেন, হাত বিস্তৃতকরণ দ্বারা তাওবাহ্ গ্রহণ উদ্দেশ্য। হাদীসে কেবল হাত বিস্তৃতকরণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, কেননা ‘আরবরা যখন কোন জিনিসের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে তখন সে তার হাতকে তা গ্রহণের জন্য বিস্তৃত করে এবং যখন কোন জিনিসকে অপছন্দ করে তখন তার হাতকে সে জিনিস থেকে গুটিয়ে নেয়। অতএব তাদেরকে ইন্দ্রিয়ানুভূত বিষয় দ্বারা সম্বোধন করা হয়েছে যা তারা বুঝে আর তা রূপকার্থবোধক, কেননা আল্লাহর ক্ষেত্রে দোষণীয় হাত সাব্যস্ত করা অসম্ভব, আল্লাহর হাত আল্লাহর মতো।

(حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا) অর্থাৎ- ‘‘তখন তাওবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে’’। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘যেদিন আপনার পালনকর্তার কিছু নিদর্শন আগমন করবে তখন কোন আত্মার ঈমান আনয়ন তার কোন কাজে আসবে না’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৮৫)।

ইবনুল মালিক বলেন, এ হাদীসের অর্থ এবং এর মতো অন্যান্য হাদীস ঐ ব্যাপারে প্রমাণ বহন করছে যে, পশ্চিম দিকে সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে নিয়ে কিয়ামাত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাওবাহ্ গ্রহণ করা হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩০-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন গুনাহ করার পর তা স্বীকার করে (অনুতপ্ত হয়) আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ الْعَبَدَ إِذَا اعْتَرَفَ ثُمَّ تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ»

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان العبد اذا اعترف ثم تاب تاب الله عليه»

ব্যাখ্যা: (إِنَّ الْعَبَدَ إِذَا اعْتَرَفَ) অর্থাৎ- ‘‘তার গুনাহের ব্যাপারে যখন স্বীকার করবে’’। কারী বলেন, অর্থাৎ- বান্দা তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে স্বীকার করবে এবং তার গুনাহ সে জানবে।

(ثُمَّ تَابَ) অর্থাৎ- তার গুনাহ হতে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করবে।

কারী বলেন, বান্দা যখন তাওবার সকল রুকন বাস্তবায়ন করবে।

(تَابَ الله عَلَيْهِ) অর্থাৎ- আল্লাহ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন। আর তা মূলত ‘‘তিনিই তার বান্দাদের থেকে তাওবাহ্ কবূল করেন’’- (সূরা আশ্ শূরা ৪২ : ২৫) আল্লাহর এ বাণীর কারণে। ত্বীবী বলেন, এর হাক্বীকত হল নিশ্চয়ই আল্লাহ তার দয়া সহকারে তার বান্দার কাছে ফিরবেন।

হাদীসটি অপবাদজনিত দীর্ঘ একটি হাদীসের অংশ যার পূর্বের অংশ হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! তোমার সম্পর্কে আমার কাছে এ রকম এ রকম কথা পৌঁছেছে, অর্থাৎ- ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে যে ব্যাপারে অপবাদ দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ইঙ্গিত। সুতরাং তুমি যদি নির্দোষী হও তাহলে অচিরেই আল্লাহ তোমাকে অপবাদ থেকে মুক্ত করবেন আর যদি তুমি গুনাহে জড়িত হয়ে থাক তাহলে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ কর এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর, কেননা বান্দা যখন তার গুনাহ সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দেয় ... হাদীসের শেষ পর্যন্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩১-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদয়ের (কিয়ামতের) আগে তওবা্ করবে আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবূল করবেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ الله عَلَيْهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تاب قبل ان تطلع الشمس من مغربها تاب الله عليه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি [অর্থাৎ- ‘‘যেদিন আপনার পালনকর্তার কিছু নির্দশন আগমন করবে তখন কোন আত্মার ঈমান আনয়ন তার কোন কাজে আসবে না’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)] আল্লাহর এ বাণীর ব্যাখ্যা। তবে আয়াতটি ঈমান কবূল না হওয়ার সাথে নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে হাদীসটি স্বাভাবিকভাবে তাওবাহ্ গ্রহণ না হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে, চাই তাওবাহ্ কুফরীর ক্ষেত্রে হোক চাই অবাধ্যতার ক্ষেত্রে হোক। আর এ ব্যাপারে বিদ্বানদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। সুতরাং চিন্তার প্রয়োজন। এভাবে লাম্‘আতে আছে।

(تَابَ الله عَلَيْهِ) অর্থাৎ- আল্লাহ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করেছেন, তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হওয়া তাওবাহ্ গ্রহণের সীমা।

বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে, নিশ্চয়ই তাওবাহ্ গ্রহণের একটি খোলা দরজা আছে, সর্বদা তাওবাহ্ গ্রহণ হতেই থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দরজা বন্ধ না করা হবে। অতঃপর যখন পশ্চিম দিক হতে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে তাওবাহ্ করেনি তার তাওবাহ্ গ্রহণ বাধাপ্রাপ্ত হবে। আর এটি হল আল্লাহর [অর্থাৎ- ‘‘যেদিন আপনার পালনকর্তার কিছু নির্দশন আগমন করবে তখন কোন আত্মার ঈমান আনয়ন তার কোন কাজে আসবে না। যদি ইতোপূর্বে সে ঈমান এনে না থাকে অথবা তার ঈমানের সমর্থনে কোন কল্যাণ উপার্জন করে না থাকে’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)] এ বাণীর মর্মার্থ।

তাওবার দ্বিতীয় একটি সীমা আছে, আর তা হল মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তি তার গলাতে মৃত্যুর গড়গড়া আসার পূর্বে তাওবাহ্ করা। যেমন বিশুদ্ধ হাদীসে এরূপ এসেছে। গড়গড়া হল আত্মা ছিনিয়ে নেয়ার মুহূর্ত। সুতরাং ঐ মুহূর্তে তাওবাহ্ বা কোন কিছু গ্রহণ করা হবে না। কেননা এগুলো বিবেচনার বিষয় অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে। আর এমন মুহূর্তে তার কৃত কোন ওয়াসিয়্যাত এবং অন্য কোন কিছু বাস্তবায়ন করা হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩২-[১০] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তার বান্দার তওবা্ করায় অত্যন্ত আনন্দিত হন যখন সে তাঁর কাছে তওবা্ করে। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুশীর চেয়ে অধিক খুশী হন, যে ব্যক্তির আরোহণের বাহন মরুভূমিতে তার কাছ থেকে ছুটে পালায়, আর এ বাহনের উপর আছে তার খাবার ও পানীয়। এ কারণে সে হতাশ-নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আরোহণের বাহন সম্পর্কে একেবারেই নিরাশ হয়ে একটি গাছের কাছে এসে সে এর ছায়ায় শুয়ে পড়ে। এমন সময় সে হঠাৎ দেখে, বাহন তার কাছে এসে দাঁড়ানো। সে বাহনের লাগাম ধরে আর আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু। সে আনন্দের আতিশয্যে এ ভুল করে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كانَ رَاحِلَتُهُ بِأَرْضٍ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَبَيْنَمَا هُوَ كذلكَ إِذ هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ: اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ . رَوَاهُ مُسلم

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لله اشد فرحا بتوبة عبده حين يتوب اليه من احدكم كان راحلته بارض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه فايس منها فاتى شجرة فاضطجع في ظلها قد ايس من راحلته فبينما هو كذلك اذ هو بها قاىمة عنده فاخذ بخطامها ثم قال من شدة الفرح: اللهم انت عبدي وانا ربك اخطا من شدة الفرح . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (أَشَدُّ فَرَحًا) এক মতে বলা হয়েছে, এ রকম ক্ষেত্রে আনন্দ বলতে সন্তুষ্টি, দ্রুত কবূল এবং উত্তম প্রতিদানকে বুঝায়। (بِتَوْبَةِ عَبْدِه) অর্থাৎ- তিনি তার মু’মিন বান্দার তাওবায় সর্বাধিক সন্তুষ্ট ও সর্বাধিক গ্রহণকারী।

(حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ) অর্থাৎ- ‘‘তোমাদের কারো আনন্দ ও সন্তুষ্টি অপেক্ষা’’। একমতে বলা হয়েছে, আদম সন্তানের গুণসমূহের ক্ষেত্রে পরিচিত আনন্দ, আল্লাহর ওপর প্রয়োগ বৈধ নয়। কেননা তা এমন আনন্দ যা বিজয় লাভের সময় কোন ব্যক্তি নিজ অন্তরে অনুভব করে থাকে, যার মাধ্যমে ব্যক্তির ঘাটতি পূর্ণতা লাভ করে, অথবা এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার ত্রুটিকে বাধা দেয় অথবা এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজ থেকে ক্ষতি অথবা ঘাটতিকে প্রতিহত করে। আর এটা আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য নয়, কেননা তিনি সত্তাগতভাবে পরিপূর্ণ, অস্তিত্বের দিক দিয়ে অমুখাপেক্ষী, যার সাথে কোন ঘাটতি বা অসম্পূর্ণতা শামিল হয় না। অতএব এর অর্থ কেবল সন্তুষ্টি। সালাফগণ এ থেকে এবং এ ধরনের অন্যান্য বাণী থেকে ‘আমলসমূহের ক্ষেত্রে উৎসাহিতকরণ এবং আল্লাহর কৃপা সম্পর্কে খবর প্রদান উদ্দেশ্য করেছেন। তারা আল্লাহর জন্য এ সকল গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন এবং আল্লাহ তার সৃষ্টজীবের গুণাবলী থেকে পবিত্র তাদের বিশ্বাস থাকার কারণে এ সমস্ত গুণাবলীর ব্যাখ্যা নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত হননি।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তা‘বীল বা অপব্যাখ্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়েছে তার দু’টি পন্থা আছে। দু’টির একটি হল, নিশ্চয়ই তাশবীহ বা সাদৃশ্য যৌগিকের এককের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তা জ্ঞানগত যৌগিক। বরং সামষ্টিকভাবে সারাংশ গ্রহণ করা হবে আর তা চূড়ান্ত সন্তুষ্টি। তাশবীহ-এর দৃষ্টিতে এর প্রকাশ কেবল শ্রোতার অন্তরে সন্তুষ্টির অর্থ স্থির করা ও পরিকল্পনা করা। আর দু’টি পথের দ্বিতীয়টি হল, উপমা পেশকরণ আর তা হল মুশাব্বাহের জন্য এমন অবস্থাসমূহ পরিকল্পনা করা যে অবস্থাগুলো মুশাব্বাহবিহীর আছে আর সে অবস্থাগুলো থেকে মুশাব্বাহের জন্য উপস্থাপন করা, যা সময়ে সময়ে তার সাথে অনুকূল। আর তা এমনভাবে যে, সেগুলো থেকে কোন বিশৃঙ্খলা হয় না, অর্থাৎ- নিশ্চয়ই তা উপমা পেশকরণ অধ্যায়ের আওতাভুক্ত। আর তা হল অর্জিত অবস্থাকে সন্তুষ্টি সম্পাদনের সাথে সাদৃশ্য দেয়। হাদীসে উল্লেখিত ধরনে যারা সফলতায় রয়েছে তাদের অবস্থার সাথে তাওবাহকারী বান্দার প্রতি অগ্রগামী হওয়াকে সাদৃশ্য দেয়া। অতঃপর মুশাব্বাহকে ছেড়ে মুশাব্বাহবিহীকে উল্লেখ করা।

কুরতুবী (রহঃ) বলেন, এটা এমন এক উদাহরণ যার মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক তার তাওবাহকারী বান্দার তাওবাহ্ দ্রুত গ্রহণের বর্ণনাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই তিনি বান্দার প্রতি ক্ষমা নিয়ে আগমন করেন এবং যার ‘আমলের প্রতি সন্তুষ্টি হন তার সাথে যথার্থ লেনদেন করেন। এ উপমার করণ হল নিশ্চয়ই শয়তানের কব্জাতে এবং বন্দিদশাতে পড়ে অবাধ্যতার দরুন এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। কখনো ধ্বংসের মুখোমুখী হয়। অতঃপর আল্লাহ যখন তার প্রতি দয়া করেন এবং তাকে তাওবাহ্ করার তাওফীক দেন তখন সে ঐ অবাধ্যতার অকল্যাণ থেকে বেরিয়ে আসে, শয়তানের বন্দিদশা এবং ঐ ধ্বংস থেকে মুক্তি পায় যার উপক্রম সে হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তার করুণা ও ক্ষমা নিয়ে বান্দার দিকে অগ্রগামী হয়। পক্ষান্তরে ঐ আনন্দ যা সৃষ্টিজীবের গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত তা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। কিন্তু এ আনন্দ শেষ ফলাফলের মুহূর্তে আর তা হল যার প্রতি আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে তার অভিমুখী হওয়া এবং তার জন্য সুউচ্চ স্থান অনুমোদন করা। আর এটি আল্লাহর ক্ষেত্রে সঠিক। সুতরাং ফারহ বা আনন্দ বলে আনন্দের শেষ ফলাফলকে বুঝানো হয়েছে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি সম্পর্কে ফারহ তথা আনন্দের প্রয়োগ রূপকার্থে। কখনো কখনো বস্ত্ত সম্পর্কে তার কারণ দ্বারা বিশ্লেষণ করতে হয় অথবা তার থেকে অর্জিত অবস্থা সম্পর্কে। কেননা যে কোন কিছুর প্রতি আনন্দিত হয় তিনি তার কর্তাকে চাওয়া অনুযায়ী দান করেন সে যা অনুসন্ধান করে তা তার জন্য ব্যয় করে। সুতরাং ফারহ বা আনন্দ দ্বারা আল্লাহর দান এবং তার করুণার প্রশস্ততা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ইমাম ত্বীবী বলেনঃ এর উদ্দেশ্য পূর্ণ সন্তুষ্টি। কেননা পরিচিত ফারহ বা আনন্দ আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা বৈধ নয়। পূর্ববর্তী আহলে হাদীসগণ এ ধরনের উদাহরণ থেকে সৎকর্মসমূহে উৎসাহ প্রদান এবং সৃষ্টির গুণাবলী থেকে পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহের উন্মোচন বুঝাতেন এবং তারা এ শব্দসমূহের অর্থ ও এ নিরাপদ পথ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালায়নি। এর থেকে পণ্ডিতের পা পিছলে যাবে এটা খুব কম। তুরবিশতী বলেন, অতঃপর এ উক্তি এবং এর মত আরো উক্তি যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। অথচ আল্লাহ জানেন, নিশ্চয়ই এটি এ স্থান ছাড়া যা গত হয়েছে তাতে আদম সন্তানের গুণাবলী সম্পর্কে মানুষ পরস্পর যা জানে তার অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অদৃশ্যময় উদ্দেশ্য বর্ণনার ইচ্ছা করেন তখন ঐ ব্যাপারে ঐ বিষয়ের জন্য কোন অর্থবোধক শব্দ তার অনুগত না হলে তখন সে ক্ষেত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুযোগ রয়েছে এমন এক শব্দ নিয়ে আসার যা উদ্দেশিত অর্থ অপেক্ষা নিম্ন স্তরের। নিশ্চয়ই আদম সন্তান থেকে তাওবাহ্ আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম স্থানে সংঘটিত হয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ বিষয়ে বর্ণনা করার ইচ্ছা করলেন তখন সে সম্পর্কে الفرح (আনন্দ) শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছেন যা তারা তাদের নিজেদের মাঝে অর্থের দিক নির্দেশনা পায়। আর ওটা মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেয়ার পর যে, ঐ সমস্ত শব্দের প্রয়োগ আল্লাহর গুণাবলীর ক্ষেত্রে জায়িয নয়। আর ঐ সমস্ত শব্দ বলতে তারা তাদের নিজেদের গুণাবলীর ক্ষেত্রে পারস্পরিক যা জেনে থাকে। আর কারো পক্ষে তার কথাবার্তায় এ ধরনের শব্দ গ্রহণ ও সুযোগ গ্রহণ করা একমাত্র নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারো পক্ষে তা হবে না। কেননা তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সামনে বাড়তেন না। আর এটা এমন মর্যাদা যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যের জন্য প্রযোজ্য নয়।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেন, আমি বলব, প্রত্যেক ঐ সমস্ত গুণ যে ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ বা তার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা দিয়েছেন তা প্রকৃত গুণ রূপক না। আল্লাহ তিনি শুনেন, দেখেন, তিনি যা চান সে ব্যাপারে কথা বলেন এবং যখন চান কথা বলেন, সন্তুষ্ট হন, রাগান্বিত হন, আশ্চর্যান্বিত হন, তার বান্দার তাওবায় আনন্দিত হন। এসব কিছুরই অর্থ জানা তবে তার ধরন অজানা। সুতরাং আমরা এ সমস্ত কিছু তার জন্য সাব্যস্ত করব, তার ধরন বর্ণনা করব না, সৃষ্টজীবের গুণাবলীর সাথে তাঁকে সাদৃশ্য দিব না, তাঁর অপব্যাখ্যা করব না এবং তাঁর অর্থের ত্রুটি করব না।

(كانَ رَاحِلَتُه) কারী বলেন, মিশকাতের অন্য এক কপিতে আছে, (كانت راحلته) ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন : আমি বলব, সহীহ মুসলিমে যা আছে তা হল, (كان راحلته) মুনযীর এবং জাযারী এভাবে নকল করেছেন রাহিলাহ্ বলতে ঐ উট যার উপর মানুষ আরোহণ করে ও সামগ্রী বহন করে।

(طَعَامُه وَشَرَابُه) অর্থাৎ- বাহন চলে যাওয়ার কারণে চূড়ান্ত বিপদের দিকে চিন্তা হবে এবং পাথেয়, পানি না থাকার কারণে নিজের ধ্বংসের আশংকা।

(ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ عَبْدِىْ وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ) অর্থাৎ- আল্লাহ তার বাহন তার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে তার প্রতি যে দয়া করেছেন সে কারণে প্রশংসা করার ইচ্ছা করল এবং বলতে ইচ্ছা করল, হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু আমি তোমার বান্দা। অর্থাৎ- সঠিক পদ্ধতি থেকে তার জবান বিচ্যুত হল, ভুল করে বসল এবং ব্যাপক আনন্দের কারণে বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা এবং আমি তোমার প্রভু। অতঃপর নিশ্চয়ই এ লোকটির আনন্দ চূড়ান্ত পর্যায়ের এমনিভাবে বান্দার তাওবাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। ‘ইয়ায বলেন, এ রকম অবস্থাতে হতভম্ব হয়ে মানুষ যা বলে তার কারণে তাকে পাকড়াও করা হবে না। এর প্রমাণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ঘটনা বর্ণনা করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৩-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা গুনাহ করে বলে, ’হে আমার রব! আমি গুনাহ করে ফেলেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করে দাও।’ তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, (হে আমার মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)!) আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ’রব’ আছেন? যে ’রব’ গুনাহ মাফ করেন অথবা (এর জন্য) তাকে শাস্তি দেন? (তোমরা সাক্ষী থেক) আমি তাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর যতদিন আল্লাহ চাইলেন, সে গুনাহ না করে থাকল। তারপর আবার সে গুনাহ করল ও বলল, ’হে রব’! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমার এ গুনাহ মাফ করো। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ’রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা এর জন্য শাস্তি দেন। আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে কোন গুনাহ না করে থাকল। তারপর সে আবারও গুনাহ করল এবং বলল, হে রব! আমি আবার গুনাহ করেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ’রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা অপরাধের জন্য শাস্তি দেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করলাম। সে যা চায় করুক। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عَبْدًا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْهُ فَقَالَ رَبُّهُ أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا فَاغْفِرْهُ فَقَالَ رَبُّهُ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنبا قالَ: رب أذنبت ذَنبا آخر فَاغْفِر لِي فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان عبدا اذنب ذنبا فقال: رب اذنبت فاغفره فقال ربه اعلم عبدي ان له ربا يغفر الذنب وياخذ به؟ غفرت لعبدي ثم مكث ما شاء الله ثم اذنب ذنبا فقال: رب اذنبت ذنبا فاغفره فقال ربه: اعلم عبدي ان له ربا يغفر الذنب وياخذ به؟ غفرت لعبدي ثم مكث ما شاء الله ثم اذنب ذنبا قال: رب اذنبت ذنبا اخر فاغفر لي فقال: اعلم عبدي ان له ربا يغفر الذنب وياخذ به؟ غفرت لعبدي فليفعل ما شاء

ব্যাখ্যা: (فَلْيَفْعَلْ مَا شَآءَ) অর্থাৎ- এমন গুনাহ করতে থাকুক যার পর বিশুদ্ধ তাওবাহ্ থাকে। হাদীসটিতে আছে দ্বিতীয়বার পাপের কারণে প্রথমবারের বিশুদ্ধ তাওবার কোন ক্ষতি সাধন করবে না। বরং তাওবাহ্ তার বিশুদ্ধতার উপর অব্যাহত থাকবে এবং ব্যক্তি দ্বিতীয় অবাধ্যতা থেকে তাওবাহ্ করবে। আর মুনযিরী এমনটিই বলেছেন, (فَلْيَفْعَلْ مَا شَآءَ) এর অর্থ ব্যক্তির অবস্থা যখন এমন হবে যে, সে গুনাহ করবে অতঃপর তাওবাহ্ করবে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবে তখন সে যা ইচ্ছা তা যেন করে। কেননা যখনই সে গুনাহ করবে তখন তার তাওবাহ্ ও ক্ষমা প্রার্থনা তার ঐ গুনাহ মোচনের কারণ হবে, তখন গুনাহ তার ক্ষতি সাধন করবে না। ব্যক্তি গুনাহ করবে, অতঃপর ঐ গুনাহ থেকে অন্তর দ্বারা ক্ষমা প্রার্থনা না করে শুধু মৌখিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতঃপর গুনাহতেই আবার লিপ্ত হবে নিশ্চয়ই এ বাক্য দ্বারা তা উদ্দেশ্য নয়। কেননা এ ধরনের তাওবাহ্ মিথ্যাবাদীদের তাওবাহ্।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, (فَلْيَفْعَلْ مَا شَآءَ) অর্থাৎ- সে যা ইচ্ছা তাই করুক। এ বাণীর অর্থ অনেকের কাছে জটিল হয়ে পড়েছে যেমননিভাবে হাত্বিব বিন বালতা‘আহ্-এর হাদীসে উল্লেখিত বাণীর অর্থ জটিল অনুভূত হয়েছে। কেননা বাণীটির বাহ্যিক রূপ দেখে মনে হচ্ছে বাদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য প্রত্যেক ধরনের ‘আমল বৈধ এবং ‘আমলসমূহ থেকে তারা যা চায় তা তাদের ইচ্ছাধীন অথচ তা নিষিদ্ধ। এ সম্পর্কে কয়েকভাবে উত্তর দেয়া হয়েছে। আর সে উত্তরসমূহ থেকে ফাওয়ায়িদ গ্রন্থের ১৬ পৃষ্ঠাতে যা বলেছেন, তা এই নিশ্চয়ই এটা এমন এক সম্প্রদায়কে সম্বোধন যাদের ব্যাপারে আল্লাহ জেনেছেন যে, নিশ্চয়ই তারা তাদের ধর্ম থেকে আলাদা হবে না বরং তারা ইসলামের উপর মারা যাবে তবে কখনো কখনো তারা খারাপ কাজে জড়িত হবে যেমন অন্যান্যরা মন্দ গুনাহের কাজে জড়িত হয়ে থাকে। তবে আল্লাহ তাদেরকে গুনাহের উপর স্থায়ীভাবে ছেড়ে রাখবেন না। বরং তাদেরকে খাঁটি তাওবাহ্ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং পুণ্য কাজ করার তাওফীক দিবেন যা ঐ গুনাহের প্রভাবকে মুছে দিবে। আর এ ব্যাপারে তাদেরকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে অন্যদেরকে নয়, কেননা এটি তাদের মাঝে সুনিশ্চিত হয়ে গেছে। তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে আর তাদের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এমন উপকরণসমূহ দ্বারা অর্জিত ক্ষমা এ ক্ষমা থেকে বাধা দিতে পারবে না যে, তা ক্ষমার প্রতি নির্ভরশীল হয় ফরযসমূহ নষ্ট করে দেয়ার দাবী করে না। নির্দেশসমূহের সম্পাদনের উপর স্থায়িত্ব হওয়া ছাড়াই যদি ক্ষমা অর্জন হত তাহলে অবশ্যই তারা এরপর সালাত, সিয়াম, হজ, যাকাত ও জিহাদের প্রতি প্রয়োজনমুখী হত না, অথচ এটা অসম্ভব গুনাহের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব হল তাওবাহ্ করা। সুতরাং ক্ষমার শামিল ক্ষমার উপকরণসমূহ নষ্ট করে দেয়াকে আবশ্যক করে না। এর দৃষ্টান্ত হল, অন্য হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (বান্দা গুনাহ করে অতঃপর বলে হে আমার প্রভু আমি গুনাহ করেছি, সুতরাং তুমি আমাকে তা ক্ষমা কর, অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন) এ উক্তি। আর এ হাদীসে আছে, (قد غفرت لعبدى فليعمل ما شاء) অর্থাৎ- ‘‘আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম, সুতরাং সে যা চায় তা করুক।’’ অত্র হাদীসে আল্লাহর তরফ থেকে বান্দাকে হারাম ও অপরাধে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়নি।

হাদীসটি কেবল ঐ ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে যে, বান্দাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করে দেয়া হবে যতক্ষণ সে গুনাহ করার পর তাওবাহ্ করতে থাকবে। আর এ বান্দাকে এ ক্ষমার ব্যাপারে নির্দিষ্ট করার কারণ হল, আল্লাহ এ বান্দার ব্যাপারে জেনে নিয়েছেন যে, সে কোন গুনাহের উপর স্থায়ী হবে না। বরং যখন সে পাপ করবে তখনই তাওবাহ্ করবে। এমনিভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন অথবা খবর দিয়েছেন যে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ধরনের উক্তি থেকে ঐ সাহাবী বা অন্য কোন সাহাবী এ ধরনের মনে করেননি যে, তাকে তার গুনাহ এবং অবাধ্যতা ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং ওয়াজিবসমূহ ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে তার প্রতি উদারতা প্রকাশ করা হয়েছে। বরং এ সুসংবাদ পাওয়ার পরে পূর্বাপেক্ষা চেষ্টা, সাধনা, সতর্কতা ও ভয়ে আরো বেশি কঠোর ছিল। যেমন জান্নাতের সংবাদ প্রাপ্ত দশজন। আর এদের মাঝে আবূ বাকর  ছিলেন অধিক সতর্ক ও ভয়কারী, এমনিভাবে ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। কারণ তারা জানতেন সাধারণ সুসংবাদ কিছু শর্ত এবং মরণ অবধি সেগুলোর উপর স্থায়ী হওয়ার দ্বারা গন্ডিবদ্ধ এবং সেগুলোর প্রতিবন্ধকসমূহ থেকে বিরত থাকা। তাদের কেউ এ ক্ষেত্রে কর্মে স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপারে অনুমতি প্রদান বুঝেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৪-[১২] জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা’আলা অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, এমন কে আছে যে আমাকে কসম দিতে পারে যে, (আমার নামে শপথ করতে পারে) আমি অমুককে ক্ষমা করব না। যাও, আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার ’আমল নষ্ট করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ বাক্য অথবা অনুরূপ বাক্য বলেছেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ جُنْدُبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَ: أَنَّ رَجُلًا قَالَ: وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلَانٍ وَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنِّي لَا أَغْفِرُ لِفُلَانٍ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ . أَوْ كَمَا قَالَ. رَوَاهُ مُسلم

وعن جندب رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حدث: ان رجلا قال: والله لا يغفر الله لفلان وان الله تعالى قال: من ذا الذي يتالى علي اني لا اغفر لفلان فاني قد غفرت لفلان واحبطت عملك . او كما قال. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (أَنَّ رَجُلًا) নিশ্চয়ই ব্যক্তিটি এ উম্মাত বা এ উম্মাত ছাড়া অন্য উম্মাত হওয়ারও সম্ভাবনা রাখছে।

(قَالَ: وَاللّٰهِ لَا يَغْفِرُ اللّٰهُ لِفُلَانٍ) লোকটি অপর সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেছিল অপরের গুনাহকে বেশি বা বড় মনে করে অথবা লোকটি নিজের সম্মানার্থে এ ধরনের কথা বলেছিল যখন সে অন্যকে ক্ষতিসাধন করতে দেখেছিল। যেমন কতিপয় সূফীপন্থী মূর্খদের থেকে এমন কথা প্রকাশ পেয়ে থাকে। ‘আল্লামা কারী এমনটিই বলেছেন।

(قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِىْ يَتَأَلّٰى عَلَىَّ) অর্থাৎ- কে আমার ওপর ফায়সালা করে এবং আমার নামে শপথ করে?

(أَنِّىْ لَا أَغْفِرُ لِفُلَانٍ) ‘‘আমি অমুককে ক্ষমা করব না’’ এটি অস্বীকারসূচক প্রশ্ন। সুতরাং কোন ব্যক্তির জন্য জান্নাত অথবা জাহান্নামের অথবা ক্ষমাপ্রাপ্ত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করা বৈধ নয়, তবে যে ব্যক্তির ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য এসেছে তার কথা আলাদা।

(فَإِنِّىْ قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ) অর্থাৎ- তোমার অপমানার্থে আমি অমুককে ক্ষমা করে দিলাম।

(وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ) ‘‘আমি তোমার ‘আমল নষ্ট করে দিলাম’’। মাযহার বলেন, অর্থাৎ- আমি তোমার কসমকে বিনষ্ট করে দিলাম এবং তোমার শপথকে মিথ্যায় পরিণত করলাম। আর এটা ঐ হাদীসের কারণে যে হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে শপথ করবে আল্লাহ তাকে মিথ্যুকে পরিণত করবেন। অর্থাৎ- যে ব্যক্তি এভাবে ফায়াসালা করবে এবং শপথ করবে যে, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আল্লাহ অমুককে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ এ ধরনের ব্যক্তি কসমকে বাতিল করবেন এবং শপথকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবেন। সুতরাং মু‘তাযিলাদের পথ অবলম্বনের কোন সুযোগ নেই যে, কাবীরাহ্ গুনাহকারী কাবীরাকে হালাল না মনে করা সত্ত্বেও সে জাহান্নামে স্থায়ী হবে যেমন কুফরীর কারণে ‘আমল বাতিল হয়ে যায়।

ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসে বিনা তাওবাতে গুনাহ মাফ হওয়ার ক্ষেত্রে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের দলীল আছে, আর তা যখন আল্লাহ চাইবেন। আর মু‘তাযিলা সম্প্রদায় এ হাদীসের মাধ্যমে কাবীরাহ গুনাহের কারণে ‘আমল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। আহলুস্ সুন্নাতের মাযহাব হল, কুফরী ছাড়া ‘আমলসমূহ ধ্বংস হয় না। আর এ ‘আমল ধ্বংস হওয়াকে ঐ কথার উপর ব্যাখ্যা করা হবে, পাপের কারণে তার পুণ্যসমূহ ঝড়ে গেছে। সুতরাং একে রূপকভাবে ‘আমল ধ্বংস করা বুঝানো হয়েছে। আরো সম্ভাবনা রয়েছে যে, তার হতে অন্য কোন বিষয় সংঘটিত হয়েছে যা কুফরীকে আবশ্যক করে দিয়েছে। আরো সম্ভাবনা রয়েছে এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের শারী‘আতে ছিল আর এটা ছিল তাদের হুকুম।

(أَوْ كَمَا قَالَ) বর্ণনাকারীর সন্দেহ, অর্থাৎ- আমি যা উল্লেখ করেছি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্য কেউ বলেছেন অথবা অনুরূপ বলেছেন। আর এটা অর্থগত বর্ণনার ব্যাপারে সতর্কতা স্বরূপ যাতে কেউ তা শব্দগত বর্ণনা মনে না করে। নাবাবী বলেন, বর্ণনাকারী এবং হাদীস পাঠকের জন্য উচিত হবে যখন কোন শব্দ তার কাছে সন্দেহপূর্ণ হবে তখন সন্দেহ স্বরূপ তা পাঠকালে তার পেছনে (أَوْ كَمَا قَالَ) ভাষ্যটুকু বলবে অথবা (أو نحو هذا) অংশটুকু বলতে হবে। যেমন সহাবায়ে কিরাম এবং তাদের পরবর্তীরা এরূপ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৫-[১৩] শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাইয়্যিদুল ইসতিগফার এভাবে পড়বে,

’’আল্ল-হুম্মা আনতা রব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা খলাকতানী, ওয়া আনা- ’আবদুকা, ওয়া আনা- ’আলা- ’আহদিকা, ওয়া ওয়া’দিকা মাস্‌তাত্ব’তু, আ’ঊযুবিকা মিন শার্‌রি মা- সনা’তু, আবূউলাকা বিনি’মাতিকা ’আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্‌বী ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আনতা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন মা’বূদ নেই; তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি স্বীকার করি, আমার প্রতি তোমার দানকে এবং স্বীকার করি আমার গুনাহকে। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।)।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি এ সাইয়্যিদুল ইসতিগফারের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে দিনে পড়বে আর সন্ধ্যার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে এ দু’আ রাতে পড়বে আর সকাল হবার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (বুখারী)[1]

بَابُ الْاِسْتِغْفَارِ وَالتَّوْبَةِ

وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعَتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ . قَالَ: «وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن شداد بن اوس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سيد الاستغفار ان تقول: اللهم انت ربي لا اله الا انت خلقتني وانا عبدك وانا على عهدك ووعدك ما استطعت اعوذ بك من شر ما صنعت ابوء لك بنعمتك علي وابوء بذنبي فاغفر لي فانه لا يغفر الذنوب الا انت . قال: «ومن قالها من النهار موقنا بها فمات من يومه قبل ان يمسي فهو من اهل الجنة ومن قالها من الليل وهو موقن بها فمات قبل ان يصبح فهو من اهل الجنة» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ) ‘আযীযী বলেন, অর্থাৎ- ক্ষমা প্রার্থনার শব্দাবলীর মাঝে এটি সর্বোত্তম, অর্থাৎ- আল্লাহর নিকট সাওয়াবের দিক দিয়ে অধিক। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, ইমাম বুখারী তাঁর (সর্বোত্তম ক্ষমা প্রার্থনার অধ্যায়) এ উক্তি দ্বারা এ হাদীসটির অধ্যায় বেঁধেছেন। হাফেয বলেন, সর্বোত্তম তা শব্দ দ্বারা অধ্যায় বেঁধেছেন অথচ হাদীসটি শুরু হয়েছে السيادة বা নেতৃত্ব শব্দ দ্বারা। সুতরাং তিনি যেন এর মাধ্যমে ঐ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, السيادة বা নেতৃত্ব দ্বারা الأفضلية বা সর্বোত্তম উদ্দেশ্য। এর উদ্দেশ্য হল যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনার এ দু‘আটি পাঠ করবে তার জন্য দু‘আটি অধিক উপকারী হবে। অর্থাৎ- এর মাধ্যমে উপকার এবং সাওয়াব ক্ষমা প্রার্থনাকারীর জন্য। স্বয়ং استغفار তথা ক্ষমা প্রার্থনার জন্য না। অর্থাৎ- এ শব্দ দ্বারা ক্ষমা প্রার্থনাকারী অন্য শব্দ দ্বারা ক্ষমা প্রার্থনাকারী অপেক্ষা অধিক সাওয়াব লাভ করবে। আর মাদানী অপেক্ষা মক্কা শ্রেষ্ঠ হওয়ার মতো। অর্থাৎ- মক্কাতে ‘ইবাদাতকারীর সাওয়াব মাদানীতে ‘ইবাদাতকারী অপেক্ষা বেশি। এ استغفار এ ধরনের হওয়ার কারণ জ্ঞান দ্বারা অনুভব করা যায় না। তা কেবল ঐ সত্তার কাছে সোপর্দকৃত যিনি ‘আমল অনুযায়ী সাওয়াব নির্ধারণ করেছেন।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ দু‘আটি তাওবার সকল অর্থকে শামিল করার কারণে একে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

(فَاغْفِرْ لِىْ فَإِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ) এ বাণী থেকে গ্রহণ করা হয় যে, যে ব্যক্তি তার গুনাহের ব্যাপারে স্বীকার করবে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর অপবাদারোপিত দীর্ঘ হাদীসে স্পষ্ট এসেছে। আর তাতে আছে যেমন চারটি হাদীস পূর্বে গত হয়েছে। (العبد إذا اعترف بذنبه وتاب تاب الله إليه) অর্থাৎ- ‘‘বান্দা যখন তার গুনাহ স্বীকার করবে এবং তাওবাহ্ করবে তখন আল্লাহ তার তাওবাহ্কে গ্রহণ করবেন।’’ আর এ স্বীকারোক্তি বান্দার এবং তার প্রভুর মাঝে সীমাবদ্ধ, মানুষের কাছে তা প্রকাশ করা উচিত নয়। কেননা বান্দা যখন কোন গুনাহ করে তা গোপন করতে সক্ষম হয় তখন আল্লাহ তা মানুষের কাছে গোপন করতে ভালবাসেন।

(مِنَ النَّهَارِ) অর্থাৎ- দিনের কোন অংশে। নাসায়ীর বর্ণনাতে আছে, অতঃপর সে যদি তা সকালে উপনীত হওয়াবস্থায় পাঠ করে। তিরমিযীতে আছে, তোমাদের যে কেউ সন্ধ্যায় উপনীত হওয়াবস্থায় এ দু‘আ পাঠ করবে। অতঃপর সকালে উপনীত হওয়ার পূর্বে তার নির্দিষ্ট মৃত্যু সময় ঘনিয়ে আসবে অথবা যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হওয়া অবস্থায় এ দু‘আ পাঠ করবে, এরপর সন্ধ্যায় উপনীত হওয়ার পূর্বে তার নির্দিষ্ট মৃত্যু সময় ঘনিয়ে আসবে।

(مُوقِنًا بِهَا) অর্থাৎ- খাঁটি অন্তরে, পুণ্যের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে।

কারী বলেন, অর্থাৎ- সংক্ষিপ্ত অথবা বিস্তারিতভাবে সকল প্রমাণযোগ্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে।

(فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ) অর্থাৎ- সে বিশ্বাসী অবস্থায় মারা যাবে, অতঃপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে অথবা শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে প্রবেশ করবে অথবা শাস্তি ছাড়াই অথবা তা উত্তম পরিসমাপ্তির প্রতি শুভসংবাদ।

তিরমিযীর বর্ণনাতে আছে, (إلا وجبت له الجنة) অর্থাৎ- ‘‘তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে’’। নাসায়ীর বর্ণনাতে আছে, (دخل الجنة) অর্থাৎ- ‘‘সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। সিনদী বলেন, সূচনাতেই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে অন্যথায় প্রত্যেক মু’মিন তার ঈমানের দরুন জান্নাতে প্রবেশ করবে এটি আল্লাহর তরফ থেকে কৃপা। কিরমানী বলেন, যদি বলা হয় মু’মিন ব্যক্তি এ দু‘আটি পাঠ না করেই শুরুতে সে জান্নাতের অধিবাসী। আমি বলব, সে জাহান্নামে প্রবেশ না করেই শুরুতেই সে জান্নাতে প্রবেশ করা উদ্দেশ্য। কেননা অধিকাংশ সময় এ দু‘আর প্রকৃত অবস্থার প্রতি বিশ্বাসী ব্যক্তি সামষ্টিকভাবে মু’মিন, সে আল্লাহর অবাধ্য হয় না। অথবা আল্লাহ এ ক্ষমা প্রার্থনার বারাকাতে তার গুনাহ মোচন করেছেন। যদি কেউ বলে যে, এ দু‘আটি سيد الاستغفار হওয়ার হিকমাত কি? আমি বলব, এ দু‘আ এবং এর মতো অন্যান্য দু‘আ দ্বারা ‘ইবাদাতের বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবন উদ্দেশ্য। আর আল্লাহই এ সম্পর্কে সর্বাধিক জানেন। তবে এতে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর জিকির আছে এবং বান্দার নিজের সংকীর্ণ অবস্থার বর্ণনা আছে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর তা হল এমন এক সত্তার জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের বিনয় যার অধিকার একমাত্র তিনি ছাড়া কেউ রাখেন না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৬-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। (তিরমিযী)[1]

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي يَا ابنَ آدمَ إِنَّك لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ لَقِيتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مغْفرَة . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

عن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى: يا ابن ادم انك ما دعوتني ورجوتني غفرت لك على ما كان فيك ولا ابالي يا ابن ادم انك لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتني غفرت لك ولا ابالي يا ابن ادم انك لو لقيتني بقراب الارض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيىا لاتيتك بقرابها مغفرة . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِىْ وَرَجَوْتَنِىْ) অর্থাৎ- তুমি আমাকে ডাকবে ও আমার কাছে আশা করবে। অর্থাৎ- তোমার দু‘আ করার সময়টুকু ও আশা করা সময়টুকুতে আমি তোমাকে ক্ষমা করব।

(عَلٰى مَا كَانَ فِيكَ) অর্থাৎ- যত বেশি গুনাহ তোমার মাঝে থাকুক।

(وَلَا أُبَالِىْ) অর্থাৎ- তোমার গুনাহের অধিকতার কারণে আমি পরোয়া করি না, তা আমার কাছে বড় মনে হয় না এবং তা আমি বেশি মনে করি না, অর্থাৎ- তোমাকে ক্ষমা করা আমার কাছে বড় মনে হয় না। যদিও তোমার বা বান্দার গুনাহ অনেক হয়ে থাকে। যদিও গুনাহ অনেক বা বড় হয়ে থাকুক না কেন? কেননা আল্লাহর ক্ষমা এর অপেক্ষাও বড়। তা বড় হলেও আল্লাহর ক্ষমার ক্ষেত্রে তা ছোট।

‘আল্লামা কারী বলেন, অবস্থা এমন যে, আমি তোমার ক্ষমার বিষয়টা আমার কাছে বড় মনে করি না যদিও তা বড় বা পরিমাণে বেশি হোক না কেন?

(لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ) অর্থাৎ- তোমার মাথা যখন আকাশের দিকে উঠাবে ও দৃষ্টি দিবে এবং তোমার দৃষ্টিসীমা আকাশের যে পর্যন্ত পৌঁছবে তোমার গুনাহের পরিমাণ যদি সে পর্যন্তও পৌঁছে যায়।

আর ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ- তোমার গুনাহগুলোকে যদি দেহের আকার দেয়া হয় আর আধিক্যতা ও বড়ত্বের কারণে তা যদি জমিন ও শূন্যকে পূর্ণ করে নেয় এমনকি তা আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

(ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِىْ غَفَرْتُ لَكَ) এ বাক্যটি, অর্থাৎ- ‘‘আর যে ব্যক্তি মন্দ কর্ম করবে অথবা নিজের প্রতি অবিচার করবে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবে পাবে’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১১০) আল্লাহর এ বাণীর অনুরূপ।

(لَوْ لَقِيتَنِىْ) মিশকাতের বর্তমান সকল কপিতে এভাবে আছে আর তিরমিযীতে যা আছে, তা হল, (لو أتيتنى) এভাবে মাসাবীহ, তারগীব, হিসন, জামিউস্ সগীর, কানয এবং মাদারিযুস্ সালিকীন গ্রন্থে আছে। এ ধরনের বর্ণনা হতে যা প্রকাশ পাচ্ছে তা হল, নিশ্চয়ই মিশকাতে যা উল্লেখ হয়েছে তা কপি তৈরিকারীর পক্ষ থেকে ভুল।

(بِقُرَابِ الْأَرْضِ) অর্থাৎ- যা জমিন পরিপূর্ণ হওয়ার কাছাকাছি।

একমতে বলা হয়েছে, তা জমিনকে পূর্ণ করে দিবে আর এটি সর্বাধিক সামঞ্জস্যশীল। অর্থাৎ- এখানে তাই উদ্দেশ্য। কেননা আলোচনাটি আধিক্যতার বাচনভঙ্গিতে। আর আহমাদে আবূ যার-এর হাদীসের শেষে যা উল্লেখিত হয়েছে তা একে সমর্থন করেছে, তা হল قراب الأرض বলতে জমিন পরিপূর্ণ।

(لَا تُشْرِكُ بِىْ شَيْئًا) অর্থাৎ- আমার একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং আমার রসূল-মুহাম্মাদ এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি সমর্থন করাবস্থায়। আর তা হল ঈমান। ‘আল্লামা কারী বলেন, (لا تشرك بى شيئا) বাক্যটি আল্লাহর সামনে সাক্ষাতের সময় শির্ক না থাকার ব্যাপারে অতীত অবস্থার বর্ণনা বুঝানো হয়েছে।

(لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً) হাদীস থেকে উদ্দেশ্য হল, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবার ব্যাপারে উৎসাহ দান। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাহ্কারীর তাওবাহ্ গ্রহণ করেন এবং তাকে ক্ষমা করেন যদিও তার গুনাহ অধিক হয়।

ইবনু রজাব ‘‘শারহুল আরবা‘ঈন’’-এ বলেন, আনাস (রাঃ)-এর এ হাদীসটি ঐ কথাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে, এ তিনটি উপকরণের মাধ্যমে ক্ষমা অর্জন হয়। তিনটির একটি হল আশা-আকাঙ্খার সাথে দু‘আ করা। দ্বিতীয় ক্ষমা প্রার্থনা করা যদিও গুনাহ বড় এবং তার আধিক্যতা আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তৃতীয় তাওহীদ আর এটাই হল সর্বাধিক বড় উপকরণ। সুতরাং যে এটিকে হারিয়ে ফেলবে সে ক্ষমা হারিয়ে ফেলবে, পক্ষান্তরে যে এটিকে সম্পন্ন করবে সে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বাধিক বড় উপকরণকে সম্পন্ন করবে। আল্লাহ বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শির্কের গুনাহ ক্ষমা করেন না এছাড়া আরো যত গুনাহ আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১১৬)। সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহীদের সাথে জমিন ভরপুর গুনাহ নিয়ে আসবে আল্লাহ তার সাথে জমিন ভরপুর ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাত করবেন। তবে এটি আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। যদি তিনি চান তাকে ক্ষমা করবেন আর যদি চান তাকে তার গুনাহের দরুন পাকড়াও করবেন তার শাস্তি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না বরং জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, অতঃপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

কেউ কেউ বলেন, একত্ববাদী বান্দাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে না। যেমন কাফিরকে নিক্ষেপ করা হবে এবং একত্ববাদী বান্দা জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তাতে স্থায়ী হবে না। যেমন কাফিররা স্থায়ী হবে। সুতরাং বান্দা যদি তাওহীদ এবং তার মাঝে আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠা পূর্ণতা লাভ করে এবং ঈমানের সকল শর্তগুলো অন্তর, জবান ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে অথবা মরণের মুহূর্তে অন্তর এবং জবান দিয়ে সম্পন্ন করে তাহলে তার এ ধরনের ‘আমল অতীতের সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়াকে আবশ্যক করে দিবে। অথবা পূর্ণাঙ্গভাবে তাকে জাহান্নামে প্রবেশ থেকে বাধা দিবে। সুতরাং যার অন্তর তাওহীদের বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তার অন্তর থেকে আল্লাহ ছাড়া যত ভালবাসা আছে, সম্মান প্রদর্শন, ভয় করা, আশা-আকাঙ্খা করা, আশা করা ও ভরসা করা সকল কিছুকে বের করে দেয়া হবে এবং তখন তার সকল গুনাহসমূহ জ্বলে যাবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয় এবং কখনো এ তাওহীদী বাণী সে গুনাহসমূহকে পুণ্যে পরিণত করে দিবে, কেননা এ তাওহীদ হল সর্বাধিক বড় সঞ্জীবনী। সুতরাং এ তাওহীদের অনুপরিমাণ যদি গুনাহের পাহাড়ের উপর রাখা হয় অবশ্যই এ তাওহীদ সে গুনাহসমূহকে পুণ্যে পরিণত করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৭-[১৫] আহমাদ ও দারিমী আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[1]

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ
وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

ورواه احمد والدارمي عن ابي ذر وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ তাঁর কিতাবের ৫ম খণ্ডে ১৬৭, ১৭২ পৃষ্ঠাতে বর্ণনা করেছেন, দারিমী রিকাক-এ (৩৭৫) পৃষ্ঠাতে বর্ণনা করেন, উভয়ে শাহর বিন হাওশাব-এর কাছ থেকে আর শাহর মা‘দীকারাব এর কাছ থেকে, মা‘দীকারাব আবূ যার (রাঃ) থেকে, আবূ যার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পালনকর্তা থেকে বর্ণনা করেন। আর আহমাদ, দারিমী উভয়ে এ ক্ষেত্রে আনাস-এর হাদীসের অর্থ বর্ণনা করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৮-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, যে জানে আমি গুনাহ মাফ করে দেয়ার মালিক। আমি তাকে মাফ করে দেবো এবং আমি কারো পরোয়া করি না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার সাথে কাউকে শারীক না করবে। (শারহুস্ সুন্নাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: مَنْ عَلِمَ أَنِّي ذُو قُدْرَةٍ عَلَى مَغْفِرَةِ الذُّنُوبِ غَفَرْتُ لَهُ وَلَا أُبَالِي مَا لم تشرك بِي شَيْئا . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعن ابن عباس رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: قال الله تعالى: من علم اني ذو قدرة على مغفرة الذنوب غفرت له ولا ابالي ما لم تشرك بي شيىا . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: (عَلٰى مَغْفِرَةِ الذُّنُوبِ غَفَرْتُ لَه) ত্বীবী বলেন, এ হাদীসটি ঐ ব্যাপারে প্রমাণ বহন করছে যে, এ ব্যাপারে বান্দার স্বীকৃতি গুনাহ মাফের কারণ। আর তা আল্লাহর (أنا عند ظن عبدى بى) অর্থাৎ- ‘‘আমি আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণার কাছে থাকি।’’ এ বাণীর দৃষ্টান্ত বা নযীর।

এ কথার বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন যদিও সে ক্ষমা প্রার্থনা না করে থাকে। একমতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জানবে আমি গুনাহসমূহ ক্ষমা করার ব্যাপারে শক্তিশালী, অর্থাৎ- সে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, ইমাম শাওকানী (রহঃ) প্রথম মতের দিকে ঝুঁকেছেন যেমনটি এর উপর প্রমাণ বহন করে ‘তুহফাতুয্ যাকিরীন’-এ যা আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। বিগত হাদীস ব্যাখ্যার সময় শাওকানীর উক্তি। যেমন তিনি বলেন, বরং এমন হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করে যে, বান্দা যখন গুনাহ করবে অতঃপর জানবে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ যদি তাকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে শাস্তি দিবেন পক্ষান্তরে যদি চান তাকে ক্ষমা করতে তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর শুধু তার এটুকু বিশ্বাস আল্লাহর তরফ থেকে অনুগ্রহ, দয়া স্বরূপ ক্ষমা প্রদর্শনকে আবশ্যক করে দিবে যেমন ত্ববারানীর আওসাত গ্রন্থে আনাস (রাঃ)-এর হাদীসে আছে। নিশ্চয়ই তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি গুনাহ করল অতঃপর জানল আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করতে পারেন তাহলে আল্লাহর ওপর হক হয়ে যায় তাকে ক্ষমা করা। এর সানাদে জাবির বিন মারফূক আল জাদ্দী আছে সে দুর্বল।

(وَلَا أُبَالِىْ) ‘আলকামাহ্ বলেন, অর্থাৎ- তোমার পাপের কারণে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলা তিনি যা করেন সে ক্ষেত্রে তার কোন বাধাদানকারী নেই, তার ফায়সালার কোন সমালোচনাকারী নেই, তার দানের কোন বাধাদানকারী নেই।

(مَا لَمْ يُشْرِكْ بِىْ شَيْئًا) কেননা শির্কের গুনাহ তাওবাহ্ এবং ঈমান গ্রহণ ছাড়া ক্ষমা করা হবে না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৩৯-[১৭] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ» . رَوَاهُ أحمدُ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لزم الاستغفار جعل الله له من كل ضيق مخرجا ومن كل هم فرجا ورزقه من حيث لا يحتسب» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ) অর্থাৎ- যে অবাধ্যতা প্রকাশের মুহূর্তে ক্ষমা প্রার্থনা অবলম্বন করবে অথবা সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করবে তাহলে সে ঐ ব্যক্তির মাঝে গণ্য হবে যে ক্ষমা প্রার্থনার মুখাপেক্ষী। এজন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে তার ‘আমলনামাতে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা পাবে। অচিরেই এটি তৃতীয় অনুচ্ছেদে আসবে।

উল্লেখিত শব্দ আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও ইবনু হিব্বান-এর। ইমাম আহমাদ, নাসায়ী, ইবনুস্ সুন্নী এবং হাকিম একে (من أكثر من الاستغفار) অর্থাৎ- যে বেশি করে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।) এ শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর এটি দ্বিতীয় অর্থটিকে সমর্থন করছে।

(مَخْرَجًا) অর্থাৎ- এমন এক পথ যা ব্যক্তিকে অধিক হারে ক্ষমা প্রার্থনা করার দরুন সুপ্রশস্ততা ও উপকার লাভের দিকে বের করে আনবে।

(وَرَزَقَه) অর্থাৎ- পবিত্র হালাল বস্ত্ত তাকে দান করবেন।

(مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ) অর্থাৎ- এমন এক দিক থেকে যার ধারণা ও আশা সে করত না এবং তার অন্তরে তা জাগত না। জাযারী বলেন, অর্থাৎ- এমনভাবে তাকে রিযক দেয়া হবে যা সে জানতো না এবং তার হিসাবে তা ছিল না।

হাদীসটিতে আল্লাহর এ বাণীর দিকে ইঙ্গিত আছে, অর্থাৎ- ‘‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ বের করবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযক দান করবেন যার পরিকল্পনাও সে করত না আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট’’- (সূরা আত্ব ত্বলাক ৬৫ : ২-৩)। মুত্তাক্বী এবং অন্যান্যগণ যখন ত্রুটিমুক্ত নন যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, প্রত্যেক আদম সন্তান ভুলকারী আর ভুলকারী বা পাপীদের মাঝে সর্বোত্তম হল তাওবাহকারীগণ তখন এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশ্লেষণ তার দিকে ক্ষমা প্রার্থনা অবলম্বনের বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছেন। আরো ঐ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, অবাধ্য ব্যক্তি যখন ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন মুত্তাক্বীতে পরিণত হয়। আর এটি মুত্তাকবী ব্যক্তির আবশ্যকীয় প্রতিদান।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং ক্ষমা প্রার্থনার হক আদায় করবে সে মুত্তাক্বীতে পরিণত হবে। আর এটি মূলত আল্লাহ এ বাণীর দিকে লক্ষ্য করে, অর্থাৎ- ‘‘অতঃপর আমি বললাম তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তাহলে তিনি তোমাদের ওপর অজস্র ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদেরকে দান করবেন উদ্যানসমূহ আরো দান করবেন ঝরণাসমূহ’’- (সূরা নূহ ৭১ : ১০-১২) । আর এতে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে যে, ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সবকিছু অর্জন হয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪০-[১৮] আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার করে একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, (ক্ষমা চাওয়ার কারণে) সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

وعن ابي بكر الصديق رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما اصر من استغفر وان عاد في اليوم سبعين مرة» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: (مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি অবাধ্যতার কাজ করবে, অতঃপর ঐ ব্যাপারে লজ্জিত হবে এবং তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করবে সে অবাধ্যতার উপর স্থায়ী হওয়ার হুকুম থেকে বেরিয়ে আসবে, কেননা অবাধ্যতার উপর স্থায়ী ঐ ব্যক্তি যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি এবং পাপের ব্যাপারে লজ্জিত হয়নি।

নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, اصر على الشر অর্থাৎ- সে মন্দকে আঁকড়িয়ে ধরেছে এবং তার ওপর স্থায়ী হয়েছে বলে গণ্য হবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে اصرار শব্দটি অকল্যাণ এবং পাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার গুনাহের পর ক্ষমা প্রার্থনা করে তার হুকুম হল, সে পাপের উপর স্থায়ী না যদিও সে পাপ তার থেকে বারংবার হয়ে থাকে।

(سَبْعِينَ مَرَّةً) নিশ্চয়ই এর মাধ্যমে আধিক্যতা, বারংবারতা এবং অতিরিক্ততা উদ্দেশ্য, সীমাবদ্ধতা তথ্য সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়। استغفار দ্বারা استغفر الله উচ্চারণ করা উদ্দেশ্য নয়, বরং অবাধ্য কাজে লিপ্ত না হওয়া এবং পাপ কাজ না দোহরানোর ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা।

মানাবী এ হাদীসের ব্যাখ্যাতে বলেন, যে ব্যক্তি খাঁটি তাওবাহ্ করবে তার হুকুম গুনাহের উপর স্থায়ী না হওয়া যদিও সে দিনে সত্তরবার ঐ গুনাহের পুনরাবৃত্তি করে, কেননা আল্লাহর দয়ার শেষ নেই। সুতরাং আল্লাহর ক্ষমার কাছে সমস্ত বিশ্বের গুনাহসমূহ ধ্বংসশীল।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪১-[১৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তওবা্ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كل بني ادم خطاء وخير الخطاىين التوابون» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: ইমাম সিন্দী (রহঃ) বলেন, الخطأ দ্বারা ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা উদ্দেশ্য এবং الخطأ যেহেতু الصواب তথা সঠিকতার বিপরীত সে হিসেবে সাধারণভাবে الخطأ দ্বারা অনিচ্ছাকৃত গুনাহ।

কারী বলেন, كل শব্দের দিকে দৃষ্টি দিয়ে خطاء শব্দটি একবচন নেয়া হয়েছে। এক বর্ণনাতে خطاؤن বহুবচন আছে সেখানে كل শব্দের অর্থের দিকে লক্ষ্য করে خطاؤن শব্দটি বহুবচন নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নাবীদের বিষয়টি স্বতন্ত্র বা আলাদা অথবা তারা সগীরাহ্ গুনাহের অধিকারী তবে প্রথমটি উত্তম। অথবা নাবীদের বিষয়গুলোকে পদস্খলন বলা যেতে পারে, অর্থাৎ- যাতে তাদের কোন ইচ্ছা ছিল না। একমতে বলা হয়েছে, كل بنى ادم خطاء এর অর্থ হল তাদের অধিকাংশ অধিক ভুলকারী।

(وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ) অর্থাৎ- যারা তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে অধিক প্রত্যাবর্তনশীল তথা অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। এর সমর্থনে আল্লাহর বাণী, অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাহকারীদের ভালবাসেন’’- (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২২)। অর্থাৎ- যারা সগীরাহ্ গুনাহে স্থায়ী হয় না, কেননা সগীরাহ্ গুনাহে স্থায়িত্ব সগীরাহ্ গুনাহকে কাবীরাহ্ গুনাহে পরিণত করে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪২-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তওবা্ করল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, ’’এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে’’- (সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪)। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ زَادَ زَادَتْ حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ فَذَلِكُمُ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى (كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يكسِبونَ)
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان المومن اذا اذنب كانت نكتة سوداء في قلبه فان تاب واستغفر صقل قلبه وان زاد زادت حتى تعلو قلبه فذلكم الران الذي ذكر الله تعالى (كلا بل ران على قلوبهم ما كانوا يكسبون) رواه احمد والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যা: (فِىْ قَلْبِه) অর্থাৎ- তার অন্তরের মাঝে ঐ দাগের ন্যায় সমান প্রভাব পড়ে যা আয়না, তরবারি এবং অনুরূপ বস্ত্তর মতো উজ্জ্বলতার মাঝে পতিত ময়লার সাথে সাদৃশ্য রাখে।

কারী বলেন, অর্থাৎ- কালির ফোটার মতো যা কাগজে পতিত হয় এবং অবাধ্যতা ও তার পরিমাণ অনুপাতে তা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আর বিষয়টিকে উপমা এবং সাদৃশ্য উপস্থাপন অধ্যায়ের আওতাভুক্ত করা অপেক্ষা বাস্তবতার উপর চাপিয়ে দেয়া উত্তম। যেমন বলা হয়েছে, চূড়ান্ত স্বচ্ছতা ও শুভ্রতার ক্ষেত্রে কাপড়ের সাথে অন্তরকে সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে এবং অবাধ্যতাকে ঐ চূড়ান্ত কালো বস্ত্তর সাথে সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে যা ঐ সাদা কাপড়ে গেলে আটকে গেছে।

উল্লেখিত শব্দ আহমাদ, ইবনু মাজাহ এবং হাকিম-এর এবং তিরমিযীর শব্দ (إن العبد إذا أخطأ خطيئة نكتت فى قلبه نكتة سوداء)

(فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ) অতঃপর যদি সে গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। এবং মুসনাদ, ইবনু মাজাহ ও মুসতাদরাক দ্বিতীয় খণ্ড ৫১৭ পৃষ্ঠাতে تاب শব্দের পর نزع শব্দ পতিত হয়েছে। একমতে বলা হয়েছে, استغفر অর্থাৎ- সে এখান থেকে উঠে এসেছে এবং তা ছেড়ে দিয়েছে। তিরমিযীর শব্দ فإذا هو نزع واستغفر و تاب বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝা যাচ্ছে মিশকাত গ্রন্থে نزع শব্দের বিলুপ্তি সাধন হয়েছে মাসাবীহ গ্রন্থের অনুসরণার্থে আর আল্লাহই সর্বাধিক ভাল জানেন।

(صُقِلَ قَلْبُه) অর্থাৎ- আল্লাহ তার অন্তর থেকে ঐ দাগ মুছে দেবেন। অর্থাৎ- আল্লাহ তার অন্তরের আয়নাকে পরিচ্ছন্ন করে দেবেন কেননা তাওবাহ্ পরিচ্ছন্ন করার স্থানে অবস্থান করছে যা বাহ্যিকভাবে বা রূপকভাবে অন্তরের ময়লাকে দূর করে দেয়। (وإن زاد زادت) অর্থাৎ- একই রূপ গুনাহের মাধ্যমে বা ভিন্ন ভিন্ন গুনাহের মাধ্যমে যদি গুনাহ বৃদ্ধি পায় তাহলে ঐ কালো দাগ বৃদ্ধি পায় অথবা প্রত্যেক গুনাহের জন্য দাগ প্রকাশ পায়।

(حَتّٰى تَعْلُوَ قَلْبَه) অর্থাৎ- পরিশেষে ঐ কালো দাগ তার অন্তরের উপর আবরণ স্বরূপ বিজয়লাভ করে এবং তার সমস্ত অন্তরকে ঢেকে নেয় এবং সমস্ত অন্তরকে অন্ধকারে পরিণত করে, ফলে সে অন্তর কল্যাণ অর্জন করতে পারে না এবং সৎ পথ দেখতে পায় না এবং সে অন্তরে কল্যাণ স্থির হয় না। তিরমিযীর বর্ণনাতে আছে, (وإن عاد زيد فيها ختى تعلو قلبه অর্থাৎ- যে পাপ সে কামাই করেছে সে পাপে যদি প্রত্যাবর্তন করে অথবা অন্য কোন পাপে প্রত্যাবর্তন করে। আর পাপ কালোর দাগের মাঝে অন্য দাগ বৃদ্ধি করে আর এভাবে ঐ দাগগুলো ব্যক্তির অন্তরের আলোকে নিভিয়ে দেয় এবং তার অন্তর্দৃষ্টিকে ঢেকে নেয়। (فذلكم) একমতে বলা হয়েছে, এটি সাহাবীগণকে সম্বোধন, অর্থাৎ- এটি হল প্রাধান্য পাওয়া মন্দ প্রভাব।

(الرَّانُ الَّذِىْ ذَكَرَ اللّٰهُ) আবূ ‘উবায়দ বলেন, প্রত্যেক ঐ বস্ত্ত যা তোমার ওপর প্রাধান্য পায় তা তোমার ওপর ময়লা বা মরিচা স্বরূপ।

مَا كَانُوا يَكْسِبُوْنَ অর্থাৎ- তারা যে সমস্ত গুনাহ কামিয়েছে।

ইমাম ত্বীবী বলেন, আয়াতটি কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ, তবে মু’মিন ব্যক্তি গুনাহে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে অন্তর কালো হওয়ার ক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এবং গুনাহ বৃদ্ধির কারণে সে দাগও বৃদ্ধি পায়।

ইমাম মালিক বলেন, এ আয়াতটি কাফিরদের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’মিনদেরকে ভয় দেখানোর জন্য এ আয়াতটি উল্লেখ করেছেন যাতে অধিক গুনাহ করা থেকে তারা সতর্ক হয়, যাতে কাফিরদের কালো অন্তরের ন্যায় তাদের অন্তর কালো না হয়। এজন্য একমতে বলা হয়েছে, المعاصى দ্বারা কুফর উদ্দেশ্য, এভাবে মিরকাতে আছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৩-[২১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ (রূহ) ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তওবা্ কবূল করেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله يقبل توبة العبد ما لم يغرغر» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (إِنَّ اللّٰهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ) কারী বলেন, বাহ্যিক দৃষ্টিতে হাদীসাংশে তাওবাহ্ কবূলের ব্যাপারটি মুত্বলাক বা সাধারণভাবে, আর কতিপয় হানাফী একে কাফিরের সাথে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন।

আমাদের শায়খ বলেন, বাহ্যিকদৃষ্টিতে প্রথমটি নির্ভরযোগ্য।

(مَا لَمْ يُغَرْغِرْ) অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত তার আত্মা কণ্ঠনালীতে না পৌঁছবে, অতঃপর তা ঐ বস্ত্তর স্থানে পরিণত না হবে যার কারণে রুগী গড়গড় বা প্রতিধ্বনি করে থাকে। غر غرة বলা হয় পানীয় বস্ত্তকে মুখের মাঝে রাখা এবং কণ্ঠনালীর গোড়া পর্যন্ত পৌঁছানো এবং কণ্ঠনালীর ভিতরে না যাওয়া এবং ঐ বস্ত্ত যার কারণে প্রতিধ্বনি কারী প্রতিধ্বনি করে থাকে তাকে ‘আরবদের ভাষায় লাদূদ, লা‘ঊক এবং সা‘ঊত্ব বলা হয়। উদ্দেশ্য যতক্ষণ পর্যন্ত পরকালের অবস্থাসমূহ প্রত্যক্ষ না করবে।

‘আল্লামা কারী বলেন, অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত সে মৃত্যু সম্পর্কে সুনিশ্চিত না হবে। কেননা মৃত্যু সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার পর ব্যক্তির তাওবাহকে তাওবাহ্ গণ্য করা হবে না।

এর সমর্থনে আল্লাহর বাণী, ‘‘আর যারা পাপ কর্ম করে এমনকি তাদের কাছে যখন মৃত্যু আগমন করে তখন বলে আমি এখন তাওবাহ্ করব তাদের কোন তাওবাহ্ নেই এবং কাফির অবস্থায় যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের কোন তাওবাহ্ নেই।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৮)

তুরবিশতী বলেন, (مَا لَمْ يُغَرْغِرْ) এর অর্থ হল, যতক্ষণ পর্যন্ত তার কাছে মৃত্যু আগমন না করবে। কেননা ব্যক্তির কাছে যখন মৃত্যু আগমন করে তখন সে প্রতিধ্বনি করে থাকে। অতঃপর যখন সে মৃত্যু, জীবন অবসান সম্পর্কে জানতে পারে, সুনিশ্চিত হতে পারে তখন তার তাওবাহ্ গ্রহণীয় নয়। তিনি বলেন, যদিও আমরা মৃত্যু উপস্থিত হওয়া ব্যক্তির দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন অসম্ভব সম্পর্কে নিশ্চিত এবং তার তাওবাহ্ কবূলের বিষয়টি অস্বীকার করি রহমাতের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এবং ব্যক্তি ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তথাপিও আমরা আল্লাহর তরফ থেকে ঐ ব্যক্তির জন্য ক্ষমার আশা করব। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শির্ক করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না তবে শির্ক ছাড়া আরো যত গুনাহ আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮)। বুঝা গেল, স্বচক্ষে মৃত্যু দেখার সময় তাওবাহ্ উপকারে আসবে না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আল্লাহর কাছে কেবল ঐ সমস্ত লোকেদের তাওবাহ্ গ্রহণ করা হবে যারা অজ্ঞতাবশত মন্দকর্ম করে, অতঃপর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল সুকৌশলী। আর ঐ সমস্ত লোকেদের তাওবাহ্ গ্রহণ করা হবে না যারা মন্দকর্ম করে এমনকি তাদের কাছে যখন মৃত্যু আগমন করে তখন বলে যে, আমি এখন তাওবাহ্ করব।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৭-১৮)

জমহূর মুফাসসিরীনদের নিকটে অনতিবিলম্বে তাওবাহ্ বলতে, স্বচক্ষে মৃত্যু দেখার পূর্বে তাওবাহ্ করা, অর্থাৎ- মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার পূর্বে তাওবাহ্ করা। ‘ইকরিমাহ্ বলেন, মরণের পূর্বে। যাহহাক বলেন, মালাকুল মাওতকে স্বচক্ষে দেখার পূর্বে। এ হল অনতিবিলম্বে তাওবাহকারীর অবস্থা। পক্ষান্তরে মৃত্যু সংঘটিত হওয়াকালে যে ব্যক্তি বলবে, আমি এখন তাওবাহ্ করব তার তাওবাহ্ গ্রহণ করা হবে না। কেননা ওটা আবশ্যকীয় তাওবাহ্ স্বেচ্ছাধীন না। কেননা সেই তাওবাহ্ পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পর, কিয়ামতের দিন এবং আল্লাহর শাস্তি স্বচক্ষে দেখার পর তাওবাহ্ করার মতো। একমতে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে তাওবাহ্ করার অর্থ হল, গুনাহের উপর স্থির না হয়ে গুনাহের পরপরই তাওবাহ্ করা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৪-[২২] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান (আল্লাহ তা’আলার কাছে) বলল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার ইজ্জত, আমার মর্যাদা ও আমার সুউচ্চ অবস্থানের কসম! আমার বান্দা আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি সর্বদা তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব। (আহমদ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ: وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّ لَا أَبْرَحُ أُغْوِي عِبَادَكَ مَا دَامَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِي أَجْسَادِهِمْ فَقَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي وَارْتِفَاعِ مَكَانِي لَا أَزَالُ أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِي رَوَاهُ أَحْمَدُ

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الشيطان قال: وعزتك يا رب لا ابرح اغوي عبادك ما دامت ارواحهم في اجسادهم فقال الرب عز وجل: وعزتي وجلالي وارتفاع مكاني لا ازال اغفر لهم ما استغفروني رواه احمد

ব্যাখ্যা: (إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ: وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّ) অর্থাৎ- আপনার শক্তি, ক্ষমতার শপথ। আমি আপনার এমন ক্ষমতার শপথ করছি যার আশা করা যায় না।

আহমাদ-এর অপর বর্ণনাতে আছে, নিশ্চয়ই ইবলীস তার পালনকর্তাকে বলল, তোমার ইজ্জত এবং তোমার জালাল তথা মর্যাদার শপথ।

‘আল্লামা কারী বলেন, এতে ইঙ্গিত আছে ঐ দিকে যে, ইবলীস পথভ্রষ্টতার প্রধান এবং সম্মান প্রকাশকারী, যেমনিভাবে আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনোযোগ ও সৌন্দর্য প্রকাশকারী পথপ্রদর্শন ও পূর্ণতার নেতা। (عبادك) আহমাদের এক বর্ণনাতে আছে, (بنى ادم) অর্থাৎ- আদম সন্তান, সর্বদাই আমি আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব তবে তাদের থেকে যারা নিষ্ঠাবান তারা ছাড়া। বর্ণনাটি ব্যাপকতারও সম্ভাবনা রাখে।

(فَقَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِىْ وَجَلَالِىْ) কারী বলেন, সম্ভবত পারস্পরিক সাদৃশ্যতার জন্য উভয় শব্দকে উল্লেখ করেছেন অন্যথায় বৈপরীত্যের দাবী হল, رحمتى এবং جمالى বলা। (وارتفاع مكانى) আবূ সা‘ঈদ-এর মুসনাদে ইমাম আহমাদে এ শব্দ পাইনি। জাযারী একে ‘হিসন’ গ্রন্থে মুনযিরী একে ‘তারগীব’ গ্রন্থে ‘আলী আল মুত্তাক্বী ‘কানয’ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। তবে এটি ইমাম বাগাবীর ‘শারহুস্ সুন্নাহ’ গ্রন্থে আছে। আর এ অতিরিক্ত অংশটুকু মুনকার হাদীস।

(أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِىْ) অর্থাৎ- স্বেচ্ছাধীন সময়ে ক্ষমা অনুসন্ধানের মুহূর্তে। হাদীসটিতে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে যে, শয়তানের পথভ্রষ্টতা, পাপকর্মকে চাকচিক্য করার কারণে যে সকল গুনাহ সংঘটিত হয় ক্ষমা প্রার্থনা তা প্রতিহত করতে পারে। আর ক্ষমা প্রার্থনা যতক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে ক্ষমা প্রদর্শনও ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, কেউ যদি বলে এ হাদীস এবং আল্লাহর বাণী (অর্থাৎ- ‘‘অবশ্যই আমি তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব তবে তাদের থেকে তোমার নিষ্ঠাবান বান্দারা ছাড়া তিনি বলেন, তবে এটাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি। অব্যশই আমি তোমাকে দিয়ে এবং তাদের থেকে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব’’- সূরা সোয়াদ ৩৮ : ৮৫) এ উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য কিভাবে? উত্তরে বলা হবে, নিশ্চয়ই আয়াতটি এ কথার উপর প্রমণ বহন করছে যে, নিষ্ঠাবানরাই কেবল মুক্তি পাবে, পক্ষান্তরে হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, যারা নিষ্ঠাবান না তারাও মুক্তি পাবে।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ আমি বলব, আল্লাহ (ممن تبعك) এ বাণীর গন্ডিবদ্ধতা ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে আজমা‘ঈন এর আওতাভুক্ত হওয়া থেকে বের করে দিয়েছে যারা পাপ করার পর ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আয়াতে تبعك এর অর্থ হল যারা শয়তানের অনুসরণ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে না বরং অবিরাম শয়তানের অনুসরণ করতে থাকে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৫-[২৩] সফ্ওয়ান ইবনু ’আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তওবা্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তা’আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ’’যেদিন (কিয়ামতের পূর্বে) তোমার ’রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্’আম ৬ : ১৫৮)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَعَلَ بِالْمَغْرِبِ بَابًا عَرْضُهُ مَسِيرَةُ سَبْعِينَ عَامًا لِلتَّوْبَةِ لَا يُغْلَقُ مَا لم تطلع عَلَيْهِ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِهِ وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: (يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قبل)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن صفوان بن عسال رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله تعالى جعل بالمغرب بابا عرضه مسيرة سبعين عاما للتوبة لا يغلق ما لم تطلع عليه الشمس من قبله وذلك قول الله عز وجل: (يوم ياتي بعض ايات ربك لا ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل) رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى جَعَلَ بِالْمَغْرِبِ بَابًا) ‘‘যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ’’। অর্থাৎ- অনুভবযোগ্য দরজা। একমতে বলা হয়েছে, আধ্যাত্মিক।

(عَرْضُه مَسِيرَةُ سَبْعِينَ عَامًا) অর্থাৎ- সুতরাং তার দৈর্ঘ্যতা কেমন? একমতে বলা হয়েছে, سبعين শব্দটি আধিক্যতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, সীমাবদ্ধতার জন্য নয়। লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, একমতে বলা হয়েছে, سبعين দ্বারা তাওবার দরজা উন্মুক্ত থাকার ক্ষেত্রে আধিক্যতা এবং তাওবার ক্ষেত্রে মানুষ সুপ্রশস্ততার মাঝে থাকা উদ্দেশ্য। আর এটি হল অপব্যাখ্যা। তবে স্পষ্ট ঈমান হল, কোন অপব্যাখ্যা ছাড়াই এর প্রতি ঈমান আনা। প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছে।

(لِلتَّوْبَةِ) ‘‘তাওবার জন্য’’, অর্থাৎ- দরজাটি তাওবাহ্কারীদের জন্য খোলা অথবা দরজা খোলা। তাওবাহ্ বিশুদ্ধ হওয়া ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার চিহ্ন।

(مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِه) ইবনুল মালিক বলেন, এটি প্রকৃত দরজা হওয়ার সম্ভাবনা আছে আর এটিই প্রকাশমান অর্থ। আর দরজা বন্ধ থাকার উপকারিতা হল, মালায়িকাহ্-কে (ফেরেশতাগণকে) তাওবার দরজা বন্ধ হওয়া সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া। দরজার বিষয়টি উদাহরণস্বরূপও হতে পারে।

ইমাম ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ- নিশ্চয়ই তাওবার দরজা মানুষের জন্য খোলা এমতাবস্থায় তারা প্রশস্ততার মাঝে অবস্থান করছে যতক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত না হবে। অতঃপর যখন পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হবে তখন তাওবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে তখন তাদের থেকে ঈমান, তাওবাহ্ কোন কিছু গ্রহণ করা হবে না। কেননা যখন তারা প্রত্যক্ষভাবে তা দেখবে, তখন ঈমান আনতে বাধ্য হয়ে যাবে এবং তাওবার প্রতি বাধ্য হয়ে যাবে তাই ঐ তাওবাহ, ঈমান কোন কাজে আসবে না যেমনিভাবে মৃত্যু উপস্থিত হওয়া ব্যক্তির তাওবাহ্, ঈমান কোন কাজে আসবে না। আর দরজা বন্ধের বিষয়টি যখন পশ্চিম দিকে তখন দরজা খোলার বিষয়টিও পশ্চিম দিকেই হবে।

(وَذٰلِكَ) অর্থাৎ- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া তাওবাহ্ গ্রহণের জন্য প্রতিবন্ধক।

يَوْمَ يَأْتِىْ بَعْضُ اٰيَاتِ رَبِّكَ অর্থাৎ- কিয়ামতের ব্যাপারে প্রমাণ বহনকারী তার কতিপয় নিদর্শন। অথবা কিয়ামাত যখন নিকটবর্তী হবে তখন তোমার পালনকর্তা কতিপয় নিদর্শনাবলী প্রকাশ করবেন। আর তা হল, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া।

لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ ‘‘যে আত্মা ইতোপূর্বে ঈমান আনেনি’’। অর্থাৎ- তার কতিপয় নিদর্শন আসার পূর্বে। আর তা হল উল্লেখিত উদয় এবং নিদর্শনের পূর্ণতা। অথবা যদি সে তার ঈমানের ক্ষেত্রে কল্যাণ অর্জন করে না থাকে, অর্থাৎ- তার ঈমান গ্রহণের সুযোগ থাকাবস্থায় তাওবাহ্ করে না থাকে। আর এ নিরূপণের মাধ্যমে হাদীস এবং আয়াতের মাঝে পূর্ণ সামঞ্জস্যতা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ঈমান ও তাওবাহ্ অর্জনের সময় ঈমান ও তাওবাহ্ উপকারে না আসার এবং সূর্য উদিত হওয়াকে স্বচক্ষে অবলোকন করা মৃত্যু উপস্থিত হওয়াকে স্বচক্ষে অবলোকন করার মতো- এ উক্তিটি কারীর।

ইমাম ত্বীবী বলেন, কোন নাফসের উপকারে আসবে না তার ঈমান আনয়ন করা যে নাফস্ ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি। অথবা ঈমানের ক্ষেত্রে তার কোন কল্যাণ অর্জন করা কাজে আসবে না যদি ইতিপূর্বে ঈমান এনে না থাকে। অথবা ঈমানের ক্ষেত্রে কোন কল্যাণ অর্জন করে না থাকে।

সফ্ওয়ান থেকে যির কর্তৃক ইবনু মাজাহ্’র শব্দ। সফ্ওয়ান বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই সূর্য অস্তমিত হওয়ার দিকে একটি খোলা দরজা আছে যার প্রশস্ততা সত্তর বছর পথ অতিক্রমের সমান। সেই দরজা সর্বদা তাওবার জন্য খোলা থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হবে। আর যখন সূর্য পশ্চিমদিক থেকে উদিত হবে। তখন ঐ নাফসে্র জন্য ঈমান কোন কাজে আসবে না যদি ইতিপূর্বে ঈমান এনে না থাকে। অথবা তার ঈমানের ক্ষেত্রে কল্যাণ উপার্জন না করে থাকে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৬-[২৪] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى يَنْقَطِع التَّوْبَةُ وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ

وعن معاوية قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تنقطع الهجرة حتى ينقطع التوبة ولا تنقطع التوبة حتى تطلع الشمس من مغربها» . رواه احمد وابو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: (لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) হাদীসের এ অংশে হিজরত বন্ধ না হওয়ার ব্যাপারে দলীল। আর বুখারী ও মুসলিম-এ ইবনু ‘আব্বাস-এর একটি হাদীস আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ মক্কা বিজয়ের পর কোন হিজরত নেই। অর্থাৎ- মক্কা বিজয়ের পর সে হিজরত শেষ হয়ে গেছে। উভয় হাদীসের মাঝে সামঞ্জস্য বিধানে মতানৈক্য রয়েছে। অতঃপর লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, এখানে হিজরত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নাফস্, স্বভাবের দখল থেকে বের হয়ে পাপ-পঙ্কিলতা ও মন্দ চরিত্র ত্যাগ করা।

(حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) উক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য, অর্থাৎ- তাওবাহ্ গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম ও তার শারী‘আতের পরিসমাপ্তি ঘটা। আর তা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠার সময় ঘটবে।

ইবনুল মালিক বলেন, এখানে হিজরত দ্বারা কুফর থেকে ঈমানের দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য এবং শিরক রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে, অবাধ্যতা থেকে তাওবার দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য। ইমাম ত্বীবী বলেন, এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনার দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য করেননি। কেননা তা শেষ হয়ে গেছে। পাপ থেকে হিজরত করাও উদ্দেশ্য নয়। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মুহাজির ঐ ব্যক্তি যে গুনাহ এবং পাপ কাজ ত্যাগ করেছে। কেননা এটি প্রকৃত তাওবাহ্। সুতরাং তা বারংবার তাকে আবশ্যক করছে। সুতরাং বিষয়টিকে এমন স্থান থেকে হিজরত করার উপর চাপিয়ে দেয়া আবশ্যক হবে যেখানে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা, সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎকাজের নিষেধ করা সম্ভব নয়।

খাত্ত্বাবী বলেন, ইসলামের শুরুতে হিজরত ফরয ছিল, এরপর তা মুস্তাহাবে পরিণত হয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনাতে হিজরতের সময় মুসলিমদের ওপর তা ওয়াজিব হল এবং মুসলিমদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হিজরত করতে নির্দেশ দেয়া হল যাতে যখন কোন বিপদ সংঘটিত হবে তখন যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী হতে পারে। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে তাদের দীনের বিষয় শিক্ষালাভ করতে পারে। আর ঐ যুগে বড় ভয় ছিল মক্কাবাসীর তরফ থেকে। অতঃপর যখন মক্কা নগরী বিজিত হল এবং আনুগত্যে নতি স্বীকার করল তখন ঐ উদ্দেশ্য রহিত হয়ে গেল, হিজরতের আবশ্যকতা উঠে গেল এবং হিজরতের ব্যাপারটি মুস্তাহাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করল। সুতরাং বাতিল হয়ে যাওয়া হিজরত বলতে হিজরতের আবশ্যকতা বাতিল হয়ে গেছে এবং ইবুন ‘আব্বাস-এর হাদীসের সানাদ পরম্পরা ও বিশুদ্ধ হওয়ার উপর ভিত্তি করে হিজরত মুস্তাহাব হওয়ার হুকুম বাকী আছে।

(وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) অর্থাৎ- তাওবার বিশুদ্ধতা ও তার গ্রহণযোগ্যতা অথবা তাওবাহ্ গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর শারী‘আত রহিত হয়নি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৭-[২৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে দু’ ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় ’আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। ’আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব (গুনাহের) কাজে লিপ্ত আছো তা হতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার ’রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন ’আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলল, বিরত থাকো। সে বলল, আমাকে আমার ’রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? ’আবিদ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর ’আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করতে বাধা দিতে পারো? সে বলল, ’না, হে রব’। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مُتَحَابَّيْنِ أَحدهمَا مُجْتَهد لِلْعِبَادَةِ وَالْآخَرُ يَقُولُ: مُذْنِبٌ فَجَعَلَ يَقُولُ: أَقْصِرْ عَمَّا أَنْتَ فِيهِ فَيَقُولُ خَلِّنِي وَرَبِّي حَتَّى وَجَدَهُ يَوْمًا عَلَى ذَنْبٍ اسْتَعْظَمَهُ فَقَالَ: أَقْصِرْ فَقَالَ: خَلِّنِي وَرَبِّيَ أَبُعِثْتَ عَلَيَّ رَقِيبًا؟ فَقَالَ: وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ أَبَدًا وَلَا يُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِمَا مَلَكًا فَقَبَضَ أَرْوَاحَهُمَا فَاجْتَمَعَا عِنْدَهُ فَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي وَقَالَ لِلْآخَرِ: أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تَحْظِرَ عَلَى عَبْدِي رَحْمَتِي؟ فَقَالَ: لَا يَا رَبِّ قَالَ: اذْهَبُوا بِهِ إِلَى النَّار . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان رجلين كانا في بني اسراىيل متحابين احدهما مجتهد للعبادة والاخر يقول: مذنب فجعل يقول: اقصر عما انت فيه فيقول خلني وربي حتى وجده يوما على ذنب استعظمه فقال: اقصر فقال: خلني وربي ابعثت علي رقيبا؟ فقال: والله لا يغفر الله لك ابدا ولا يدخلك الجنة فبعث الله اليهما ملكا فقبض ارواحهما فاجتمعا عنده فقال للمذنب: ادخل الجنة برحمتي وقال للاخر: اتستطيع ان تحظر على عبدي رحمتي؟ فقال: لا يا رب قال: اذهبوا به الى النار . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (مُتَحَابَّيْنِ) আবূ দাঊদ-এর বর্ণনাতে আছে, (متواخيين) অর্থাৎ- একে অপরের বন্ধু হওয়া, একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা। একমতে বলা হয়েছে, ইচ্ছা এবং চেষ্টায় একে অন্যের বিপরীত ছিল। সুতরাং একজন কল্যাণের ইচ্ছাকারী ও চেষ্টাকারী, পক্ষান্তরে অন্যজন অকল্যাণের ইচ্ছাকারী ও চেষ্টাকারী।

(وَالْاٰخَرُ يَقُولُ: مُذْنِبٌ) অন্যের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে পাপী। ত্বীবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি مُجْتَهِدٌ لِلْعِبَادَةِ এর সামঞ্জস্য হওয়ার্থে কথাটি এভাবে বলাও সম্ভব যে, والاخر منهمك فى الذنب অর্থাৎ- পক্ষান্তরে অন্য ব্যক্তি গুনাহে নিমজ্জিত। মাযহার বলেন, অন্যজন বলেন, انا مذنب অর্থাৎ- গুনাহের স্বীকারকারী। কারী এবং শায়খ দেহলবী বলেন, আমি বলব, হাদীসের বাচনভঙ্গি অনুপাতে এটিই স্পষ্ট। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, (فكان أحدهما يذنب والاخر مجتهد فى العبادة অতঃপর তাদের একজন পাপ করত অন্যজন ‘ইবাদাত চেষ্টাকারী।) এ অংশটুকু যা আবূ দাঊদে রয়েছে তা প্রথম মতটিকে সমর্থন করছে।

(فَجَعَلَ يَقُولُ: أَقْصِرْ) অর্থাৎ- ‘ইবাদাতে চেষ্টাকারী পাপীকে বলত তুমি পাপ কাজে হ্রাস কর, বর্জন করা। অর্থাৎ- মাজ্‘উল ইকসার গ্রন্থকার বলেন, الإقصار কোন জিনিসের উপর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা করা থেকে বিরত থাকা। পক্ষান্তরে যে জিনিস করার ব্যাপারে ব্যক্তি অক্ষম সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি আলিফ ছাড়া قصرت শব্দ প্রয়োগ করে। আবূ দাঊদে আছে, অতঃপর ‘ইবাদাতে চেষ্টাকারী ব্যক্তি সর্বদা অপর ব্যক্তিকে পাপে লিপ্ত দেখে বলত তুমি তোমার পাপে হ্রাস কর, অর্থাৎ- বর্জন কর।

(أَبُعِثْتَ عَلَىَّ رَقِيبًا) অর্থাৎ- আল্লাহ কি তোমাকে আমার ওপর সংরক্ষণকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন? লোকটি যেন যখন গুনাহ করত তখন তার প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত ও ওযর পেশ করত। এ কারণে এই হাদীসটি ক্ষমা প্রার্থনা অধ্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যশীল। হাদীসটির বাচনভঙ্গির বাহ্যিক দিক হল, লোকটিকে কেবল তার রবের অনুগ্রহ, দয়ার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। সুতরাং এ হাদীসটিকে ঐ অধ্যায়ে উল্লেখ করাই সামঞ্জস্য হবে যা এ অধ্যায়ের কাছাকাছি অধ্যায়। কেননা তাতে উল্লেখিত হাদীসসমূহ আল্লাহ তা‘আলার রহমাতের প্রশস্ততার উপর প্রমাণ বহন করে। যেমন তা গোপন নয়। (فقال) অর্থাৎ- অতঃপর ‘ইবাদাতে চেষ্টাকারী ব্যক্তি তার সাথীর ‘আমলসমূহে আশ্চর্যান্বিত হয়ে এবং বড় অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে তার সাথীকে তুচ্ছ ভেবে বলল।

(وَلَا يُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ) আবূ দাঊদের কপিতে আছে, (أولا يدخلك الله الجنة) অথবা আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না। এভাবে কানয গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডের ১৪২ পৃষ্ঠাতে উল্লেখিত সংঘটিত হয়েছে।

(فَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: اُدْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِىْ) অর্থাৎ- আমার প্রতি তোমার ভাল ধারণার বদলা স্বরূপ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

(وَقَالَ لِلْاٰخَرِ) উল্লেখিত অংশে মুজতাহিদ সম্পর্কে বিশ্লেষণ ত্যাগ করাতে দাগ রয়েছে যা গোপন নয়। আর তা হল, নিশ্চয়ই ‘ইবাদাতে তার চেষ্টা করা, তার অল্প ‘আমল, তার রবের গুণাবলী সম্পর্কে অল্প পরিচিতি, অপরাধীর ‘আমলের ব্যাপারে তার আশ্চর্যান্বিত হওয়া, তার কসম খাওয়া এবং আল্লাহর ওপর তার হুকুম দেয়া যে, তিনি অপরাধীকে ক্ষমা করবেন না- এ সকল কারণে তার ‘আমল নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে তার বিষয়টি পরিবর্তিত হয়ে অন্যের জন্য হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে পাপী ব্যক্তি তার ভাল ‘আক্বীদাহ্ তার রব সম্পর্কে ভাল ধারণা, অবাধ্য কাজের মাধ্যমে কমতির ব্যাপারে তার স্বীকারোক্তির দ্বারা ‘ইবাদাতে চেষ্টাকারীর মর্যাদা দখল করেছে।

(عَلٰى عَبْدِىْ رَحْمَتِىْ) অর্থাৎ- যা দুনিয়াতে প্রতিটি বস্ত্তকে পরিব্যাপৃত করে নিয়েছে এবং পরকালে বিশেষভাবে মু’মিনদেরকে। (اذْهَبُوْا بِه) অর্থাৎ- জাহান্নামের ব্যাপারে নিয়োজিত মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)’কে (ফেরেশতাগণকে) বলা হবে।

(إِلَى النَّارِ) আমার ওপর তার দুঃসাহস দেখানো, তার কসম খাওয়া, আমার ওপর তার ফায়সালা করা যে, আমি অপরাধীকে ক্ষমা করব না, অপরাধীর ‘আমলের ব্যাপারে তার আশ্চর্য হওয়া এবং তার সাথীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে বদলাস্বরূপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হল। ব্যক্তিটি জাহান্নামের চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য ব্যক্তির কুফরের ব্যাপারে হাদীসে কোন দলীল নেই। আর আবূ দাঊদের শব্দ, অতঃপর তিনি ‘ইবাদাতে চেষ্টাকারীকে বললেন, তুমি কি আমার ব্যাপারে জানতে (যার কারণে তুমি শপথ করে কসম খেয়েছ যে, আমি তাকে ক্ষমা করব না এবং আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব না)। অর্থাৎ- আমার হাতে যা আছে সে ব্যাপারে তুমি কি আমার ওপর ক্ষমতাবান (ফলে তা থেকে তুমি আমাকে বাধা দিবে) এবং পাপীকে বললেন, তুমি যাও, আমার রহমাতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ কর এবং অপর ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, তোমরা একে জাহান্নামে নিয়ে যাও। ইমাম আহমাদ একে বর্ণনা করেছেন, আবূ দাঊদও একে শিষ্টাচার পর্বের ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা অধ্যায়ে সংকলন করেছেন যা ‘আলী বিন সাবিত আল জাযারী ‘ইকরিমাহ্ বিন ‘আম্মার  থেকে আর ‘ইকরিমাহ্ যমযম বিন জাওস থেকে আর যমযম আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আর এ সানাদ সহীহ অথবা হাসান। আবূ দাঊদ এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। ‘আলী বিন সাবিত আল জাযারী নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী। আযদী (রহঃ) একে বিনা প্রমাণে দুর্বল বলেছেন। ‘ইকরিমাহ্ বিন ‘আম্মার আল ‘আযলী সত্যবাদী, যমযম বিন জাওস আল হাফানী ইয়ামামী নির্ভরযোগ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৮-[২৬] আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনেছি, ’’ইয়া- ’ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ ’আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামী’আ-’’ (অর্থাৎ- ’’হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।)

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। (আহমদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় রয়েছে يَقْرَأ (পড়েছেন) এর পরিবর্তে يَقُولُ (বলেছেন)। [1]

وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يقْرَأ: (يَا عبَادي الَّذِي أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا)
وَلَا يُبَالِي
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَفِي شَرْحِ السُّنَّةِ يَقُولُ: بَدَلَ: يقْرَأ

وعن اسماء بنت يزيد قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا: (يا عبادي الذي اسرفوا على انفسهم لا تقنطوا من رحمة الله ان الله يغفر الذنوب جميعا) ولا يبالي رواه احمد والترمذي وقال هذا حديث حسن غريب وفي شرح السنة يقول: بدل: يقرا

ব্যাখ্যা: الَّذِىْ أَسْرَفُوْا عَلَى انْفُسِهِمْ অর্থাৎ- যারা অবাধ্যতায় সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে অপরাধের ক্ষেত্রে নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছে। একমতে বলা হয়েছে, তারা কুফরী এবং অধিক পরিমাণে অবাধ্যতার মাধ্যমে নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছে। একমতে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছে এবং প্রত্যেক নিন্দনীয় কাজে সীমালঙ্ঘন করেছে। مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ অর্থাৎ- তার ক্ষমা থেকে।

يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا অর্থাৎ- তাওবার মাধ্যমে কাফিরদের গুনাহসমূহ এবং তাওবাহ্ অথবা স্বেচ্ছায় মুসলিমদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন। জানা দরকার ‘আলিম সম্প্রদায় মতানৈক্য করেছে এ আয়াতটি কি তাওবার সাথে শর্তযুক্ত যে, তাওবাহকারীদের গুনাহ ছাড়া কারো গুনাহ ক্ষমা করা হবে না, নাকি আয়াতটি মুত্বলাকব বা বাঁধনমুক্ত? তাফসীরকারদের একটি দল প্রথমটির দিকে গিয়েছেন।

হাফেয ইবনু কাসীর বলেন, এ আয়াতটি সমস্ত অবাধ্যদেরকে কুফর এবং অন্যান্য পাপ থেকে তাওবাহ্ প্রত্যাবর্তন এবং সংবাদ দেয়ার দিকে আহবান করছে যে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করে এবং ফিরে আসে। সে গুনাহ যা-ই হোক না কেন, যতই বেশি হোক না কেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়ে থাকে। এ আয়াতটিকে তাওবাহ্ ছাড়া ‘আম্ অবস্থার উপর চাপিয়ে দেয়া বিশুদ্ধ হবে না। কেননা শির্ক এমন এক গুনাহ যে ব্যক্তি এর থেকে তাওবাহ্ করবে না তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে না।

এরপর ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু মুশরিক অধিক পরিমাণ হত্যা কাজ সংঘটিত করে অধিক পরিমাণ যিনা-ব্যভিচার করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। অতঃপর তারা বলল, নিশ্চয়ই আপনি যা বলছেন এবং যে দিকে আহবান করছেন তা অবশ্যই ভাল। আপনি যদি আমাদেরকে অবহিত করেন যে, আমরা যা ‘আমল করেছি তার কাফফারা আছে। তখন এ আয়াত (অর্থাৎ- ‘‘আর যারা আল্লাহর পথে অন্য উপাস্যকে আহবান করে না, হারাম পন্থায় কোন নাফসকে হত্যা করে না তবে ন্যায়সঙ্গত কারণে এবং ব্যভিচার করে না’’- সূরা আল ফুরকান ২৫ : ৬৮) এবং এ আয়াত (অর্থাৎ- ‘‘হে নাবী! আপনি বলুন, হে বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ তোমরা আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩) অবতীর্ণ হয়। বুখারী, মুসলিম, আবূ দাঊদ, নাসায়ী একে সংকলন করেছেন।

ইবনু কাসীর বলেন, প্রথম আয়াতটির উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর তা‘আলার বাণী (অর্থাৎ- ‘‘তবে যে ব্যক্তি তাওবাহ্ করবে ঈমান আনবে, সৎকর্ম করবে’’- সূরা আল ফুরকান ২৫ : ৭০)। এরপর তিনি তৃতীয় অনুচ্ছেদে আগত সাওবান-এর হাদীস এবং আসমা-এর হাদীস যার ব্যাখ্যাতে ইবনু কাসীর বলেনঃ এ সকল হাদীসসমূহ ঐ উদ্দেশের উপর প্রমাণ বহন করে যে, তিনি তাওবার মাধ্যমে সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন। এমতাবস্থায় কোন বান্দা আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হতে পারে না যদিও তার গুনাহ বড় এবং অধিক হয়। কেননা রহমাত এবং তাওবার দরজা প্রশস্ত। অতঃপর ইবনু কাসীর ঐ সকল আয়াত ও হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন যা ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাওবার দিকে উৎসাহ প্রদান করে। জামাল বলেন, (৭২৪ পৃষ্ঠা) এ আয়াতটি প্রত্যেক ঐ কাফির ব্যক্তির ব্যাপারে ব্যাপক যে তাওবাহ্ করে এবং ঐ অবাধ্য মু’মিন ব্যক্তির ব্যাপারে যে তাওবাহ্ করে, অতঃপর তার তাওবাহ্ তার গুনাহকে মুছে দেয়। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, ঐ ব্যাপারে সতর্ক করা যে, পাপীর জন্য এ ধারণা করা উচিত হবে না যে, শাস্তি থেকে তার পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস রাখবে সে আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ, কেননা যে কোন অবাধ্য ব্যক্তি যখনই তাওবাহ্ করবে তার শাস্তি দূর হয়ে যাবে এবং সে ক্ষমা ও দয়াপ্রাপ্তদের আওতাভুক্ত হবে। সুতরাং إِنَّ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا এ আয়াতের অর্থ হল যখন সে তাওবাহ্ করবে এবং তার তাওবাহ্ বিশুদ্ধ হবে তখন তার গুনাহসমূহ মুছে যাবে। আর যে ব্যক্তি তাওবার করার পূর্বে মারা যাবে সে এ ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে ন্যস্ত। তাকে তার গুনাহ পরিমাণ শাস্তি দিবেন এরপর নিজ কৃপা অনুযায়ী তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সুতরাং প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক তাওবাহ্ করা। কেননা শাস্তির আশংকা বিদ্যমান। এরপর হতে পারে আল্লাহ তাকে শর্তহীনভাবে ক্ষমা করবেন আবার হতে পারে তাকে শাস্তি দেয়ার পর ক্ষমা করবেন।

আর ইবনুল কইয়্যিম সূরা আয্ যুমার-এর আয়াতটি তাওবার সাথে শর্তযুক্ত হওয়ার প্রতি মতামত ব্যক্ত করেছেন। যেমন তিনি ‘‘আল জাওয়াব আল কাফী’’ গ্রন্থের ১৬ পৃষ্ঠাতে বলেছেন। মাদারিজুস সালিক্বীন-এ (১ম খণ্ডে ৩৯৪ পৃষ্ঠাতে) নিশ্চয়ই এ আয়াতটি তাওবাহকারীদের ব্যাপারে এবং আল্লাহর বাণী إِنَّ اللّٰهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُّشْرَكَ بِه ‘‘নিশ্চয়ই শির্কের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।’’ তাওবাহকারী ছাড়া অন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেউ ঐ দিকে গিয়েছেন যে, আয়াতটি মুত্বলাক বা বাঁধনমুক্ত। ‘আল্লামা আল কানূজী আল ভূপালী ফাতহুল বায়ানে (৮ম খণ্ডে ১৬৬ পৃষ্ঠাতে) বলেন, আর হক হল, আয়াতটি তাওবার সাথে শর্তযুক্ত নয়, বরং তা মুত্বলাক বা বাঁধনমুক্ত। ইমাম শাওকানীও এ মত ব্যক্ত করেছেন। যেমন তিনি ফাতহুল কাদীরে বলেন, (৪র্থ খণ্ড- ৪৫৬,৪৫৭ পৃষ্ঠা) ألف এবং لام বহুবচনে পরিণত হয়েছে। ألفلام যে ذنوب শব্দের উপর প্রবেশ করেছে মূলত তা ذنوب শব্দের জাত বুঝানোর জন্য, যা ذنوب শব্দের এককসমূহের পরিব্যাপ্তকে আবশ্যক করছে। সুতরাং ‘‘তা’’ নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক গুনাহ যা-ই হোক না কেন ক্ষমা করবেন- এ কথাকে শক্তিশালী করছে। তবে কুরআনী ভাষ্য যা বর্ণনা করছে তা ছাড়া। আর তা হল (অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শির্ক করার গুনাহ ক্ষমা করেন না তবে এ ছাড়া অন্য যত গুনাহ আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন’’- সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮। এ আয়াতে উল্লেখিত শির্ক ক্ষমা করেন না। এর অর্থ হলো শির্ক গুনাহ তাওবাহ্ ছাড়া ক্ষমা করেন না। অতঃপর তিনি প্রত্যেক গুনাহ ক্ষমা করার ব্যাপারে বান্দাদেরকে যে সংবাদ দিয়েছেন তাতে যথেষ্ট হননি বরং একে তিনি তার جميعا উক্তি দ্বারা গুরুত্বারোপ করেছেন। শাওকানী বলেন, এ আয়াত এবং আল্লাহর إِنَّ اللّٰهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهٖ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَّشَآءُ এ বাণীর সমন্বয় বিধান হল, শির্ক ছাড়া যত গুনাহ আছে সকল গুনাহ আল্লাহ যাকে চান তাকে ক্ষমা করেন। আর তা নিশ্চয়ই আমাদেরকে আল্লাহর দেয়া সংবাদ যে, তিনি সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন- এ সংবাদটুকু আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করার ইচ্ছা করেন উপর প্রমাণ বহন করছে। এ কথা বলা এর সম্ভব হওয়ার উপর ভিত্তি করছে। আর এটি আবশ্যক করছে যে, আল্লাহ তিনি প্রত্যেক মুসলিম অপরাধীকে ক্ষমা করবেন। সুতরাং এ দৃষ্টিকোণ থেকে দু’ আয়াতের মাঝে মতবিরোধ অবশিষ্ট থাকল না। তিনি বলেন, যদি এই মহাশুভ সংবাদ তাওবার সাথে সংযুক্ত থাকত তাহলে তাওবার অধিক ক্ষেত্র থাকত না। কেননা মুসলিমদের ঐকমত্যে মুশরিক যে পরিমাণ শির্ক করে তা আল্লাহ তার তাওবাহ্ করার কারণে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বলেন, إِنَّ اللّٰهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهٖ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَّشَآءُ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮) সুতরাং ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাওবাহ্ করা যদি শর্তযুক্ত হত তাহলে শির্কের ব্যাপারে আলাদা ভাষ্য আনার কোন প্রয়োজনীয়তা বা উপকারিতা থাকত না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, নিশ্চয়ই আপনার প্রভু মানুষদেরকে তাদের অন্যায়ের ব্যাপারে ক্ষমাকারী।

ওয়াহিদী বলেন, তাফসীরকারকগণ বলেন, নিশ্চয়ই এ আয়াতটি এমন এক সম্প্রদায়ের ব্যাপারে যারা ভয় করেছিল যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাদের ঐ সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে না যা তারা শির্ক, মানুষ হত্যা এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রুতা পোষণ করার মতো বড় বড় গুনাহ করেছে।

ওয়াহিদী আরো বলেন, আল্লাহর এ বাণী (অর্থাৎ- ‘‘আর তোমরা তোমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তন কর এবং তার কাছে আত্মসমর্পণ কর তোমাদের কাছে শাস্তি আসার পূর্বে, অতঃপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৪) এসেছে। এতে এমন কিছু নেই যা তাওবার মাধ্যমে প্রথম আয়াতের গন্ডিবদ্ধ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করে। বরং এ আয়াতে যা আছে তার চূড়ান্ত পর্যায় হল, নিশ্চয়ই তিনি তাদেরকে ঐ মহা শুভসংবাদের মাধ্যমে শুভসংবাদ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে কল্যাণের প্রতি এবং অকল্যাণকে ভয় করার প্রতি আহবান করেছেন।

مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ অর্থাৎ- দুনিয়ার শাস্তি। অর্থাৎ- হত্যা, বন্দী, কঠোরতা, ভয়, দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে শাস্তি। পরকালের শাস্তি উদ্দেশ্য নয়। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, আয়াতটি দু’টি উক্তির সম্ভাবনা রাখছে তবে আয়াতের বাচনভঙ্গি ইবনু কাসীর এবং তার সমর্থকগণ যা বলেছেন তাকে সমর্থন করে। পক্ষান্তরে ইমাম শাওকানী ঐ বাচনভঙ্গির অপব্যাখ্যাতে যা উল্লেখ করেছেন তাতে স্পষ্ট কৃত্রিমতা রয়েছে। তবে আমার কাছে প্রণিধানযোগ্য উক্তি হল মুসলিমদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা তাওবার সাথে শর্তযুক্ত নয়, বরং তা তাওবাহ্ এবং স্বেচ্ছাধীন উভয়ভাবে ক্ষমা করা হবে।

(وَلَا يُبَالِىْ) অর্থাৎ- কাউকে তিনি পরোওয়া করেন না, কেননা আল্লাহর ওপর কোন কিছু আবশ্যক নয়। একমতে বলা হয়েছে, তিনি তার প্রশস্ততা করুণা থাকা এবং তার পরোওয়া না থাকার কারণে সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে তিনি কাউকে পরোওয়া করেন না। আহমাদ তার বর্ণনাতে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন আর তা হল (إنه هو الغفور الرحيم) এ বর্ণনা থেকে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা হল (ولا يبالى) উক্তি কুরআনের আওতাভুক্ত ছিল, এজন্য মাদারিক গ্রন্থকার এ আয়াতের অধীনে এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাআতে (يغفر الذنوب جميعا ولا يبالى) অংশটুকু বলেছেন। কারী বলেন, তা আরো সম্ভাবনা রাখছে যে, তা আয়াতের আওতাভুক্ত ছিল, অতঃপর তা রহিত করা হয়েছে এবং আয়াতের তাফসীরস্বরূপ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকে অতিরিক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৯-[২৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আল্লাহর কালামের এ বাণী, ’’ইল্লাল্লামামা’’ অর্থাৎ- ’’সগীরাহ্ গুনাহ ছাড়া’’। এক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি তুমি ক্ষমা করো, ক্ষমা করো বড় গুনাহ। কেননা এমন কোন বান্দা আছে কি, যে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[1]

وَعَن ابْن عَبَّاس: فِي قَوْله تَعَالَى: (إِلَّا اللمم)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
إِنْ تَغْفِرِ اللَّهُمَّ تَغْفِرْ جَمَّا وَأَيُّ عَبْدٍ لَكَ لَا أَلَمَّا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب

وعن ابن عباس: في قوله تعالى: (الا اللمم) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان تغفر اللهم تغفر جما واي عبد لك لا الما رواه الترمذي. وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب

ব্যাখ্যা: فِىْ قَوْلِه تَعَالٰى: (إِلَّا اللَّمَمَ) এ বাণীটি (সূরা আন্ নাজম ৫৩ : ৩২) الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ এ বাণীর তাফসীরস্বরূপ। কাবীরাহ্ গুনাহ প্রত্যেক এমন গুনাহকে বলা হয় যে ব্যাপারে আল্লাহ জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন অথবা যার জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেছেন অথবা যার কর্তার ব্যাপক দোষ বর্ণনা করা হয়েছে। আর কাবীরাহ্ গুনাহের বিশ্লেষণে বিদ্বানদের দীর্ঘ আলোচনা আছে। আর তারা যেমনিভাবে কাবীরাহ্ গুনাহের অর্থ এবং তার সারবস্ত্ত সম্পর্কে মতানৈক্য করেছেন তেমনিভাবে তারা তার সংখ্যা সম্পর্কে মতানৈক্য করেছেন আর فواحش বলতে কাবীরাহ্ গুনাহসমূহ থেকে যা অশ্লীল যেমন যিনা অনুরূপ। একমতে বলা হয়েছে, তা প্রত্যেক এমন গুনাহ যাতে হুমকি রয়েছে অথবা বিশেষ করে যিনা। (إلا اللمم) সগীরাহ্ গুনাহসমূহ, কেননা তারা সগীরাহ্ গুনাহ থেকে বাঁচতে অক্ষম। আভিধানিক অর্থে اللمم এর মূল হল যা কম এবং ছোট, আর এ কারণে (ألمم بالمكان) যার অর্থ : স্থানটিতে তার অবস্থান কম হয়েছে। ألمم بالطعام অর্থাৎ- খাদ্য থেকে তার খাওয়া কম হয়েছে। আরো বলা হয়ে থাকে অবাধ্যতায় আপতিত না হয়ে অবাধ্যতার কাছাকাছি হওয়া।

(قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ) অর্থাৎ- মু’মিন ব্যক্তি সগীরাহ্ গুনাহ থেকে মুক্ত না এর সমর্থন, (إِنْ تَغْفِرْ اَللّٰهُمَّ تَغْفِرْ جَمَّا) অর্থাৎ- অনেক বড় (وأى عبد لك لا ألما), অর্থাৎ- কোন বান্দা নিষ্পাপ নয়। পংতিটি উমাইয়্যাহ্ বিন আবিস্ সালত-এর জাহিলী যুগে যে ‘ইবাদাতগুজার ছিল, পুনরুত্থানে বিশ্বাসী ছিল ইসলামী যুগ পেয়েছিল তবে ইসলাম গ্রহণ করেনি। তার কবিতা বিভিন্ন উপদেশাবলী ও বাস্তবতাকে শামিল করার দরুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবিতাকে ভালবাসতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবিতাংশকে উচ্চারণ করার দরুন তা হাদীসে পরিণত হয়েছে। وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِيْ لَه (সূরা ইয়াসীন ৩৬ : ৬৯) আল্লাহর এ বাণীতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবিতার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞারোপ করা হয়েছে আর তা দ্বারা উদ্দেশ্য কবিতা তৈরি করা আবৃত্তি করা নয়। আর এটিই বিশুদ্ধ। অর্থাৎ- আপনার ব্যাপার হল বড়, অনেক গুনাহসমূহ ক্ষমা করা, উপরন্তু ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করা। কেননা ছোট গুনাহসমূহ থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না। আর নিশ্চয়ই তা পুণ্য কর্মের মাধ্যমে মোচন হয়ে যায়।

ইমাম ত্বীবী বলেন, হে আল্লাহ! আপনার মর্যাদা হল বড় বড় গুনাহ থেকে অনেক গুনাহ ক্ষমা করা। পক্ষান্তরে ছোট অপরাধসমূহ আপনার দিকে সম্বন্ধ করা হয় না, কেননা তা থেকে কেউ মুক্ত নয়, নিশ্চয়ই তা কাবীরাহ্ গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে মোচন হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫০-[২৮] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই পথহারা, কিন্তু তারা ছাড়া যাদেরকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের সকলেই অভাবগ্রস্ত, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি অভাবমুক্ত করেছি। অতএব তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদেরকে রিযক দান করব। তোমাদের সকলেই পাপী, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি নিরাপদে রেখেছি। অতঃপর তোমাদের যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আমি ক্ষমা করে দেয়ার শক্তি রাখি, সে যেন আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো, আর (এ ব্যাপারে) আমি কারো পরোয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের কাঁচা ও শুকনো (শিশু ও বৃদ্ধ) সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর হয়ে যায়, তথাপিও তা আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না।

আর যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের মতো এক অন্তর হয়ে যায়, তাও আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই যদি এক প্রান্তসীমায় জমা হয়, এরপর তোমাদের প্রত্যেকে তার ইচ্ছানুযায়ী আমার কাছে চায় (প্রার্থনা করে)। আর আমি তোমাদের প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে (প্রত্যাশা অনুযায়ী) দান করি, তা আমার সাম্রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবে না। যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের কাছে গিয়ে যদি ওতে একটি সুঁই ডুবিয়ে ওঠায়। এটা এ কারণে যে, আমি বড় দাতা, প্রশস্ত দাতা; আমি যা ইচ্ছা তাই করি। আমার দান হলো, আমার কালাম মাত্র। আমার শাস্তি হলো, আমার হুকুম মাত্র। আর আমি কোন কিছু করতে চাইলে শুধু বলি, ’হয়ে যাও’, তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُ فَاسْأَلُونِي الْهُدَى أَهْدِكُمْ وَكُلُّكُمْ فُقَرَاءُ إِلَّا مَنْ أَغْنَيْتُ فَاسْأَلُونِي أُرْزَقْكُمْ وَكُلُّكُمْ مُذْنِبٌ إِلَّا مَنْ عَافَيْتُ فَمَنْ عَلِمَ مِنْكُمْ أَنِّي ذُو قُدْرَةٍ عَلَى الْمَغْفِرَةِ فَاسْتَغْفَرَنِي غَفَرْتُ لَهُ وَلَا أُبَالِي وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوا عَلَى أَتْقَى قَلْبِ عَبْدٍ مِنْ عبَادي مَا زَاد فِي ملكي جنَاح بعوضةولو أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوا عَلَى أَشْقَى قَلْبِ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي جَنَاحَ بَعُوضَةٍ. وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ مَا بَلَغَتْ أُمْنِيَّتُهُ فَأَعْطَيْتُ كُلَّ سَائِلٍ مِنْكُمْ مَا نَقَصَ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِي إِلَّا كَمَا لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ مَرَّ بِالْبَحْرِ فَغَمَسَ فِيهِ إِبْرَةً ثُمَّ رَفَعَهَا ذَلِكَ بِأَنِّي جَوَادٌ مَاجِدٌ أَفْعَلُ مَا أُرِيدُ عَطَائِي كَلَامٌ وَعَذَابِي كَلَامٌ إِنَّمَا أَمْرِي لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ لَهُ (كُنْ فَيَكُونُ)
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن ابي ذر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول الله تعالى يا عبادي كلكم ضال الا من هديت فاسالوني الهدى اهدكم وكلكم فقراء الا من اغنيت فاسالوني ارزقكم وكلكم مذنب الا من عافيت فمن علم منكم اني ذو قدرة على المغفرة فاستغفرني غفرت له ولا ابالي ولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اتقى قلب عبد من عبادي ما زاد في ملكي جناح بعوضةولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا على اشقى قلب عبد من عبادي ما نقص ذلك من ملكي جناح بعوضة. ولو ان اولكم واخركم وحيكم وميتكم ورطبكم ويابسكم اجتمعوا في صعيد واحد فسال كل انسان منكم ما بلغت امنيته فاعطيت كل ساىل منكم ما نقص ذلك من ملكي الا كما لو ان احدكم مر بالبحر فغمس فيه ابرة ثم رفعها ذلك باني جواد ماجد افعل ما اريد عطاىي كلام وعذابي كلام انما امري لشيء اذا اردت ان اقول له (كن فيكون) رواه احمد والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُ) অর্থাৎ- তোমাদের প্রত্যেকেই হিদায়াতমুক্ত, অস্তিত্বগতভাবেই তার কোন হিদায়াত নেই। বরং হিদায়াত বান্দার রবের তরফ থেকে দয়া। আর এটি ‘‘নিশ্চয়ই ভূমিষ্ঠ সন্তান পথভ্রষ্টতার কারণ মুক্ত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে’’- এ অর্থে প্রত্যেক ভূমিষ্ঠ সন্তান ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে। এ হাদীসের পরিপন্থী নয়। আর হাদীসটিতে আছে, নিশ্চয়ই বান্দা প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেউ কারো জন্য সামান্য কাজে আসবে না। সুতরাং বান্দার দায়িত্ব হল অন্যায়কে পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে বিনয়ী হওয়া।

(إِلَّا مَنْ أَغْنَيْتُ) অর্থাৎ- আর ধনী ব্যক্তিও প্রত্যেক মুহূর্তে আবিষ্কার এবং সাহায্য দানের মুখাপেক্ষী হওয়ার দরুন মুহূর্তের জন্যও আল্লাহ থেকে অমুখাপেক্ষী হয় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আর আল্লাহ ধনী এবং তোমরা দরিদ্র।’’ (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ : ৩৮)

(إِلَّا مَنْ عَافَيْتُ) অর্থাৎ- নাবী এবং ওয়ালীদের মধ্য থেকে আমি যাকে রক্ষা করেছি সে ছাড়া। আর এটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, عافية বলতে গুনাহ থেকে নিরাপদে থাকা। আর গুনাহ থেকে নিরাপদে থাকা নিরাপত্তাসমূহের মাঝে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ।

হাদীসটিতে কেবল ঐ ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য عافيت বলা হয়েছে যে, গুনাহ অস্তিত্বগত রোগ এবং তার সুস্থতা হল, গুনাহ থেকে ব্যক্তিকে আল্লাহ রক্ষা করা। অথবা কর্মের মাধ্যমে তোমাদের প্রত্যেকেই পাপী আর প্রত্যেকের পাপ তার স্থান অনুপাতে তবে ক্ষমা, রহমাত এবং তাওবার মাধ্যমে আমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছি সে ছাড়া।

(وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ) অর্থাৎ- তোমাদের যুবক এবং বৃদ্ধরা অথবা তোমাদের মাঝে জ্ঞানী এবং মূর্খ অথবা তোমাদের মাঝে আনুগত্যশীল এবং অবাধ্য। একমতে বলা হয়েছে, উল্লেখিত শব্দদ্বয় দ্বারা সমুদ্র এবং স্থল, অর্থাৎ- সমুদ্র এবং স্থলের অধিবাসী। অথবা সমুদ্র এবং স্থলে বৃক্ষ, পাথর, মাছ এবং সকল প্রাণী থেকে যা কিছু আছে সব যদি এক হয়ে যায়।

একমতে বলা হয়েছে, উল্লেখিত শব্দদ্বয় দ্বারা মানুষ এবং জিন উভয় উদ্দেশ্য হতে পারে আর তা ঐ অবস্থার উপর ভিত্তি করে যে, তিনি জিনকে আগুন থেকে এবং মানুষকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর প্রথম অনুচ্ছেদে আবূ যার (রাঃ)থেকে বর্ণিত হাদীসে যে جنكم وإنسكم বর্ণনা এসেছে তা একে সমর্থন করছে।

ইমাম ত্বীবী বলেন, উল্লেখিত শব্দদ্বয় পূর্ণাঙ্গ আয়ত্ব সম্পর্কে দু’টি্ ভাষ্য। যেমন (অর্থাৎ- ‘‘আর্দ্র, শুষ্ক সব কিছু আল্লাহর কিতাবে স্পষ্টভাবে লিখা আছে’’- সূরা আল আন্‘আম ৬ : ৫৯) আল্লাহর এ বাণীতে গন্ডিবদ্ধ।

(اجْتَمَعُوْا عَلٰى اَتْقٰى قَلْبِ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِىْ) উল্লেখিত বাক্যাংশে أشقى বলতে অভিশপ্ত ইবলীস।

(بِأَنِّىْ جَوَادٌ) অনেক দানকারী। আর আহমাদের ৫ম খণ্ডে ১৭৭ পৃষ্ঠাতে এবং তিরমিযীতে এর পরে (واجد) আছে। আর واجد বলতে ঐ সত্তা যিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন, তিনি সাধারণ সর্বপ্রাপক কোন কিছু তার হাত ছাড়া হয় না।

(عَطَائِىْ كَلَامٌ وَعَذَابِىْ كَلَامٌ) অর্থাৎ- ‘‘আমার দান কথা বলা মাত্র, আমার শাস্তি কথা বলা মাত্র’’- এ বাণীর ব্যাখ্যা।

কাযী বলেন, অর্থাৎ- আমি শাস্তি অথবা দান হতে বান্দার নিকট যা পৌঁছাতে চাই সেক্ষেত্রে আমি ক্লান্তি এবং ‘আমল চর্চা করার মুখাপেক্ষী নই, বরং তা অর্জন ও পৌঁছানোর জন্য সে ব্যাপারে কেবল ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫১-[২৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি (আল্লাহ তা’আলার) এ আয়াত পড়লেন, ’’হুওয়া আহলুত্ তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরহ্’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ হলেন ভয়ের অধিকারী ও মাগফিরাত করার মালিক)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের রব বলেন, আমি লোকের ভয় করার অধিকারী। তাই যে আমাকে ভয় করল, আমি তাকে মাফ করারও অধিকারী। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَرَأَ (هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَة)
قَالَ:
قَالَ رَبُّكُمْ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَمَنِ اتَّقَانِي فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه والدارمي

وعن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قرا (هو اهل التقوى واهل المغفرة) قال: قال ربكم انا اهل ان اتقى فمن اتقاني فانا اهل ان اغفر له . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: هُوَ أَهْلُ التَّقْوٰى অর্থাৎ- তার অবাধ্য হওয়া বর্জন এবং তার আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহভীরুগণ তাকে ভয় করার ক্ষেত্রে তিনিই একমাত্র যোগ্য। وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ অর্থাৎ- যে সকল গুনাহ মু’মিনদের থেকে ঘটেছে সে ব্যাপারে মু’মিনদেরকে ক্ষমাকরণে তিনিই একমাত্র যোগ্য এবং অবাধ্য তাওবাহকারীদের তাওবাহ্ গ্রহণেরও যোগ্য, আর তাদেরকে ক্ষমা করার যোগ্য একমাত্র তিনিই। এটি শাওকানীর উক্তি। আর ইমাম বায়যাবী বলেন, هُوَ أَهْلُ التَّقْوٰى অর্থাৎ- তার শাস্তিকে ভয় করার ক্ষেত্রে তিনিই উপযুক্ত। وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ বান্দাদেরকে বিশেষ করে বান্দাদের থেকে যারা আল্লাহভীরু তাদেরকে ক্ষমা করণে তিনিই একমাত্র যোগ্য। কাতাদাহ্ বলেন, তাকে ভয় করার মতো আর যে তার কাছে তাওবাহ্ করে এবং প্রত্যাবর্তন করে তিনি তাকে ক্ষমা করার যোগ্য।

(أنا أهل أن اتقى) আহমাদ, ইবনু মাজাহ (فلا يجعل معى إلها أخر) এ অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন। ইবনু মাজাহ অপর বর্ণনাতে আছে, (أن اتبى فلا يشرك بى غيرى)।

(فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَه) অর্থাৎ- যে আমাকে ভয় করে চলবে তাকে। আহমাদ এবং ইবনু মাজাতে আছে, (فمن اتقى أن يجعل معى إلها أخر فأنا أهل أغفر له) ইবনু মাজার অপর বর্ণনাতে আছে, (وانا أهل لمن اتقى أن يشرك بى أن أغفر له) আর এটি আল্লাহর (إن الله لا يغفر أن يشرك به ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء) এ বাণীকে শামিল করছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫২-[৩০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশ’বার গণনা করতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ’’রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ ’আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর’’ (অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তওবা্ কবূল করো। কেননা তুমি তওবা্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن ابْن عمر قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ» مِائَةَ مَرَّةٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابن عمر قال: ان كنا لنعد لرسول الله صلى الله عليه وسلم في المجلس يقول: «رب اغفر لي وتب علي انك انت التواب الغفور» ماىة مرة. رواه احمد والترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (رَبِّ اغْفِرْ لِىْ) এটি যেন আল্লাহর وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا অর্থাৎ- ‘‘আপনি তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি তাওবাহ্ গ্রহণকারী’’- (সূরা আন্ নাসর ১১০ : ৩)। এ বাণীর প্রতি ‘আমল করণার্থে এবং আল্লাহর إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাহ্কারীদের ভালবাসেন।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২২)

এ বাণী অবলম্বনার্থে বলছেন। হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষমা প্রার্থনা করা দু‘আ শব্দের মাধ্যমে ছিল। বিদ্বানগণ এটিকে (استغفر الله) উক্তিকারীর উক্তির উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা যদি সে ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকে বা প্রস্ত্তত না থাকে তাহলে তার ক্ষমা প্রার্থনা মিথ্যায় পরিণত হবে যা দু‘আর বিপরীত। কেননা কখনো দু‘আতে সাড়া দেয়া হয় যখন তা সময়ের অনুকূলে হয় যদিও তা উদাসীনতার সাথে সম্পন্ন হয়। এভাবে বিদ্বানগণ উক্তি করেছেন। আর এটি ঐ অবস্থার উপর নির্ভর করছে যে, উক্তিকারীর উক্তি (استغفر الله) খবর বা সংবাদ এবং তা অনুসন্ধানমূলক হওয়াও জায়িয। আর বাহ্যিকভাবে তাই বুঝা যাচ্ছে। আর সহীহ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ) বর্ণিত হয়েছে। হ্যাঁ, এ উক্তিকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যান্যদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে। লাম্‘আহ্-তে এভাবে আছে।

(إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ) উভয় শব্দের মধ্যে আধিক্যতার অর্থের সমাবেশ আছে আর এটি আহমাদ এবং তিরমিযীর শব্দ এবং আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ এবং ইবনুস্ সুন্নীতে الغفور এর পরিবর্তে الرحيم শব্দ আছে। নাসায়ী ও ইবনু হিব্বান-এর এক বর্ণনাতেও এভাবে এসেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৩-[৩১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্ত করা গোলাম বিলাল ইবনু ইয়াসার ইবনু যায়দ বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল,

"আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি"

(অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তওবা্ করি।)।

আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

وَعَن بِلَال بن يسَار بن زيدٍ مَوْلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ قَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ لَكِنَّهُ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ هِلَالُ بْنُ يَسَارٍ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن بلال بن يسار بن زيد مولى النبي صلى الله عليه وسلم قال: حدثني ابي عن جدي انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من قال: استغفر الله الذي لا اله الا هو الحي القيوم واتوب اليه غفر له وان كان قد فر من الزحف . رواه الترمذي وابو داود لكنه عند ابي داود هلال بن يسار وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: (وَأَتُوبُ إِلَيْهِ) কারী বলেন, ব্যক্তির উচিত এ বাক্যটি এভাবে উচ্চারণ না করা তবে যখন সে এ বাক্যের ক্ষেত্রে সত্যবাদী হবে তখন উচ্চারণ করবে। আরো উচিত হবে আল্লাহর সামনে মিথ্যাবাদী না সাজা। আর এজন্য বর্ণণা করা হয়েছে গুনাহের উপর অটল থেকে গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনাকারী নিজ প্রভুর সাথে ঠাট্টাকারীর ন্যায়।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) কিতাবুল আযকার-এ রবী' বিন খয়সাম থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রবী‘ বিন খায়সাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন (استغفر الله) এবং (اتوب اليه) না বলে, কারণ যদি সে তা না করে তাহলে তা পাপের কাজ ও মিথ্যায় পরিণত হবে। বরং সে বলবে (اللهم اغفرلى وتب على) অর্থৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার ওপর তাওবাহ্ কবূল কর।

নাবাবী (রহঃ) বলেন, আর এটি যা তিনি তার (اللهم اغفرلى وتب على) উক্তি থেকে বলেছেন তা ভাল। পক্ষান্তরে (استغفر الله) অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি- এ কথা বলার অপছন্দনীয়তা এবং তাকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে আমরা একমত নই। কেননা (استغفر الله) এর অর্থ হল আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি বা অনুসন্ধান করছি। এতে কোন মিথ্যার আশ্রয় নেই। এ ধরনের মত প্রত্যাখ্যানকরণে যে ব্যক্তি এ হাদীসটি বলবে, (استغفر الله الذى لا اله الا هو الخ ‘‘আমি ঐ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই ..... শেষ পর্যন্ত’’) অর্থাৎ- বিলাল বিন ইয়াসার-এর ঐ হাদীস যার ব্যাখ্যাতে আমরা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছি।

হাফেয বলেন, এ আলোচনা ছিল (استغفر الله الذى لا اله الا هو الحى القيوم) এ শব্দের ব্যাপারে। পক্ষান্তরে (اتوب اليه) এর ক্ষেত্রে তাই উদ্দেশ্য যা রবী‘আহ্ উদ্দেশ্য করেছেন; অর্থাৎ, নিশ্চয়ই সে মিথ্যা বলল আর তা এভাবে যে, ব্যক্তি যখন (اتوب اليه) বলবে অথচ পৃকতপক্ষে সে তাওবাহ্ করবে না। রবী‘আহ্-এর কথা প্রত্যাখ্যানকরণে রবী‘আহ্-এর বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করাতে দৃষ্টি দেয়ার আছে। আর তা এজন্য যে উক্তিকারী (اتوب اليه) থেকে তাওবাহ্ করা এবং তাওবার শর্তসমূহ সম্পন্ন করা উদ্দেশ্য নেয়াও জায়িয আছে। আরো সম্ভাবনা আছে, রবী‘আহ্ উভয় শব্দের সমষ্টিকে উদ্দেশ্য করেছেন বিশেষভাবে (استغفر الله)-কে উদ্দেশ্য করেননি। তখন তার সম্পূর্ণ কথা বিশুদ্ধ হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত। এরপর হাফেয হালাবিয়াত থেকে সুবকী-এর কথা উল্লেখ করেছেন আর তা ২৩৫৮ নং হাদীসের ব্যাখ্যাতে উল্লেখ করা হয়েছে (من الزحف), অর্থাৎ- জিহাদ এবং যুদ্ধে শত্রুর সাক্ষাৎ থেকে। যদিও সে কাবারীহ্ গুনাহে লিপ্ত হয়ে থাকে। কেননা যুদ্ধের ময়দান থেকে পালয়ন করা কাবীরাহ্ গুনাহ। এ ব্যাপারে আল্লাহ উল্লেখিত আয়াত দ্বারা ধমক দিয়েছেন- وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهٗ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلٰى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللّٰهِ অর্থাৎ- ‘‘আর সেদিন যে ব্যক্তি পৃষ্ঠপদর্শন করে পলায়ন করবে যুদ্ধ কৌশল বা স্বীয় কেন্দ্রস্থলে স্থান করে নেয়া ব্যতীত সে আল্লাহর ক্রোধ অর্জন করবে’’- (সূরা আল আনফাল ৮ : ১৬)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৪-[৩২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[1]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَنَّى لِي هَذِهِ؟ فَيَقُولُ: باستغفار ولدك لَك . رَوَاهُ أَحْمد

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله عز وجل ليرفع الدرجة للعبد الصالح في الجنة فيقول: يا رب انى لي هذه؟ فيقول: باستغفار ولدك لك . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (وَلَدِكَ لَكَ) শব্দটি ছেলে, মেয়ে উভয়ের উপর প্রয়োগ করা হয়। এখানে ولد দ্বারা মু’মিন সন্তান উদ্দেশ্য। আর এটি বিবাহের উপকারসমূহের একটি উপকার ও সর্বাপেক্ষা বড় উপকার এবং ঐ বস্ত্তসমূহের একটি যা পুণ্য এবং কর্ম থেকে মরণের পর মু’মিন ব্যক্তির সাথে মিলিত হয়। যেমন হাদীসে এসেছে। ইমাম ত্বীবী বলেন, পূর্বোক্ত হাদীসটি এ প্রমাণ বহন করছে যে, ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা বড় বড় গুনাহ মুছে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৫-[৩৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু’আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু’আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু’আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াবাসীদের দু’আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ (উপহার) হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। (বায়হাক্বী- শু’আবূল ঈমান)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا الْمَيِّتُ فِي الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيقِ الْمُتَغَوِّثِ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُهُ مِنْ أَبٍ أَوْ أُمٍّ أَوْ أَخٍ أَوْ صَدِيقٍ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيُدْخِلُ عَلَى أَهْلِ الْقُبُورِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الِاسْتِغْفَارُ لَهُمْ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن عبد الله بن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما الميت في القبر الا كالغريق المتغوث ينتظر دعوة تلحقه من اب او ام او اخ او صديق فاذا لحقته كان احب اليه من الدنيا وما فيها وان الله تعالى ليدخل على اهل القبور من دعاء اهل الارض امثال الجبال وان هدية الاحياء الى الاموات الاستغفار لهم» . رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: (الْمُتَغَوِّثِ) অর্থাৎ- সাহায্য প্রার্থনাকারী, মুক্তির আশায় সর্বোচ্চ আওয়াজে আহবানকারী।

(أَوْ صَدِيقٍ) আর এটা এমন কতিপয়ের সাথে নির্দিষ্ট যার কাছ থেকে সাহায্যের আশা করা যায় এবং অন্য অপেক্ষা যার কাছ থেকে অধিক দু‘আ ও ক্ষমা প্রার্থনার আশা করা যায়। অন্যথায় হুকুম ব্যাপক। যেমন হাদীসের শেষে বলেছেন। অন্যান্য হাদীসসমূহে ولد এর উল্লেখ থাকার কারণে এ হাদীসে তা উল্লেখ করা হয়নি।

(أَمْثَالَ الْجِبَالِ) অর্থাৎ- ঐ দু‘আকে যদি আকৃতি দেয়া হয় তাহলে তা দয়া ও ক্ষমার পাহাড়সদৃশ হবে।


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৬-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার ’আমলনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। (ইবনু মাজাহ। আর ইমাম নাসায়ী তাঁর ’আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ ’’একদিন ও একরাতের ’আমল [কাজ]’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।)[1]

وَعَن عبد الله بن يسر قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى النَّسَائِيُّ فِي «عملِ يَوْم وَلَيْلَة»

وعن عبد الله بن يسر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «طوبى لمن وجد في صحيفته استغفارا كثيرا» . رواه ابن ماجه وروى النساىي في «عمل يوم وليلة»

ব্যাখ্যা: (طُوبٰى) এটি الطيب থেকে একটি ক্রিয়া। আর তা জান্নাতের একটি নাম অথবা জান্নাতে একটি বৃক্ষ। একমতে বলা হয়েছে, আরাম এবং উত্তম জীবন-যাপন। কারী বলেন, طوبى অর্থাৎ- উত্তম অবস্থা, সন্তোষজনক জীবন-যাপন অথবা সুউচ্চ জান্নাতে প্রসিদ্ধ বৃক্ষ।

(اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا) ত্বীবী বলেন, যদি বলা হয় (طوبى لمن استغفر كثيرا) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করবে তার জন্য طوبى। কথাটি এভাবে কেন বলা হয়নি? আর এভাবে পরিবর্তন করে কেন বলা হল? আমি বলব, এটি ঐ ব্যাপারেই একটি ইঙ্গিতসূচক বিষয় ফলে তা দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার সাথে অর্জন হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে। কেননা ক্ষমা প্রার্থনাকারী যখন তার ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে নিষ্ঠাবান না হবেন তখন তার ক্ষমা প্রার্থনা নিরর্থক হবে তখন সে তার ‘আমলনামাতে তার বিপক্ষে দলীল এবং তার প্রতিকূল হয় এমন বিষয় ছাড়া আর কিছুই পাবে না। ত্ববারানী আওসাত গ্রন্থে যুবায়র বিন ‘আও্ওয়াম থেকে মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার ‘আমলনামা তাকে আনন্দ দিক সে যেন তার ‘আমলনামাতে ক্ষমা প্রার্থনাকে বৃদ্ধি করে। হায়সামী বলেন, এর সানাদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বায়হাক্বীও একে বর্ণনা করেছেন। মুনযিরী বলেন, এর সানাদে কোন দোষ নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৭-[৩৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذا أحْسَنوا استبشَروا وإِذا أساؤوا اسْتَغْفَرُوا» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِير

وعن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم اجعلني من الذين اذا احسنوا استبشروا واذا اساووا استغفروا» . رواه ابن ماجه والبيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: (اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِىْ مِنَ الَّذِينَ إِذا أحْسَنُوْا) অর্থাৎ- ভাল বিদ্যা অর্জন করে ও ভাল ‘আমল করে।

(اِسْتَبْشَرُوْا) অর্থাৎ- ভাল বিদ্যা ও ভাল ‘আমলের তাওফীক পেয়ে তারা আনন্দিত হয়।

আল্লাহ বলেন, قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا

অর্থাৎ- ‘‘(হে নাবী!) বলুন, তারা যেন আল্লাহর রহমাতে তথা কুরআন ও তার অনুগ্রহের প্রতি আনন্দিত হয়।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ৫৮)

(وَإِذَا أَسَاؤُوْا) আর বিদ্যা ও ‘আমলে যখন ঘাটতি করে, অর্থাৎ- মন্দ বিদ্যা অর্জন ও মন্দ কাজ করে। (اِسْتَغْفَرُوْا) বাহ্যিকভাবে বিপরীতে যা বলা দরকার তা হল, (واذا اساؤا حزنوا) অর্থাৎ- যখন তারা মন্দ কর্ম করে চিন্তিত হয়। তা না বলে এ ধরনের বলার কারণ মূলত ঐ দিকে ইঙ্গিত করার জন্য যে, শুধুমাত্র চিন্তিত হওয়া কোন উপকারে আসে না। চিন্তা কেবল তখনই উপকারে আসে যখন পাপী ঐ পাপ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করে যা গুনাহের উপর স্থায়ী হওয়াকে দূরীভূত করে। এভাবে মিরকাতে আছে।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, যখন তারা ভাল কাজ করে আনন্দিত হয়। অর্থাৎ- যখন তারা নিষ্ঠার সাথে কোন ভাল কাজ করে, অতঃপর সে কাজে তাকে বদলা দেয়া হয়, ফলে সে জান্নাত লাভ করে আনন্দিত হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, وَأَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ অর্থাৎ- ঐ জান্নাতের ব্যাপারে তোমরা খুশি হও যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে’’- (সূরা ফুসসিলাত ৪১ : ৩০)। এটি ইঙ্গিতসূচক বাণী।

(وَإِذَا أَسَاؤُوْا اِسْتَغْفَرُوْا) অর্থাৎ- তাদেরকে ধীরে ধীরে পাকড়াওয়ের মাধ্যমে কষ্ট দিবেন না। পক্ষান্তরে যারা নিজেদের মন্দ কর্মকে ভাল মনে করে তারা এক সময় ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ বলেন, أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهٗ سُوْءُ عَمَلِهٖ فَرَاٰهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللّٰهَ يُضِلُّ مَنْ يَّشَآءُ অর্থাৎ- ‘‘যার কাছে তার মন্দ কর্মকে চাকচিক্য করে দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা ভাল মনে করে তাহলে তার জানা উচিত আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন’’- (সূরা আর ফা-ত্বির ৩৫ : ৮)।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন জাতিকে শিক্ষা দেয়ার্থে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করার আবশ্যকীয়তার দিকে দিক নির্দেশনা দেয়ার্থে। অন্যথায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল উত্তম ব্যক্তিদের অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৮-[৩৬] হারিস ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ) বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) আমাকে দু’টো কথা বলেছেন- একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মু’মিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো।

এরপর তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল। অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে (আমৃত্যু) শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে।

হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়। (ইমাম মুসলিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ’ অংশ এবং ইমাম বুখারী ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) থেকে মাওকূফ ও মারফূ’ উভয় অংশ বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَن الْحَارِث بن سُويَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ حَدِيثَيْنِ: أحدُهما عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْآخِرُ عَنْ نَفْسِهِ قَالَ: إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ بِهِ هَكَذَا أَيْ بِيَدِهِ فَذَبَّهُ عَنْهُ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ نَزَلَ فِي أَرْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَوَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ نَوْمَةً فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُهُ فَطَلَبَهَا حَتَّى إِذَا اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحَرُّ وَالْعَطَشُ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ قَالَ: أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُهُ عِنْدَهُ عَلَيْهَا زَادُهُ وَشَرَابُهُ فَاللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ . رَوَى مُسْلِمٌ الْمَرْفُوع إِلَى رَسُول صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُ فَحَسْبُ وَرَوَى البُخَارِيّ الموقوفَ على ابنِ مَسْعُود أَيْضا

وعن الحارث بن سويد قال: حدثنا عبد الله بن مسعود حديثين: احدهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والاخر عن نفسه قال: ان المومن يرى ذنوبه كانه قاعد تحت جبل يخاف ان يقع عليه وان الفاجر يرى ذنوبه كذباب مر على انفه فقال به هكذا اي بيده فذبه عنه ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لله افرح بتوبة عبده المومن من رجل نزل في ارض دوية مهلكة معه راحلته عليها طعامه وشرابه فوضع راسه فنام نومة فاستيقظ وقد ذهبت راحلته فطلبها حتى اذا اشتد عليه الحر والعطش او ما شاء الله قال: ارجع الى مكاني الذي كنت فيه فانام حتى اموت فوضع راسه على ساعده ليموت فاستيقظ فاذا راحلته عنده عليها زاده وشرابه فالله اشد فرحا بتوبة العبد المومن من هذا براحلته وزاده . روى مسلم المرفوع الى رسول صلى الله عليه وسلم منه فحسب وروى البخاري الموقوف على ابن مسعود ايضا

ব্যাখ্যা: (إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرٰى ذُنُوبَه) অর্থাৎ- মু’মিন ব্যক্তি তার গুনাহকে সে বড় ও ভারি মনে করে।

(كَأَنَّه قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ) ‘‘যেন সে এমন এক পাহাড়ের নীচে যা তার উপর ভেঙ্গে পরার আশংকা করে’’। ইবনু আবী জামরাহ্ বলেন, ভয় করার কারণ হল, মু’মিন ব্যক্তির অন্তর আলোকিত। সুতরাং সে যখন তার নিজ থেকে এমন কিছু দেখতে পায় সে যার আশংকা করে যে আশংকার কারণে তার অন্তর আলোকিত হয় তখন সে বিষয়টি তার কাছে বড় মনে হয়। পাহাড়ের সাথে উপমা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে হিকমাত হল, পাহাড় ছাড়া অন্যান্য ধ্বংসযজ্ঞ বিষয় থেকে কখনো মুক্তি লাভের উপায় অর্জন হয় কিন্তু পাহাড়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। পাহাড় যখন কোন ব্যক্তির ওপর পতিত হয় তখন স্বভাবত ব্যক্তি তা থেকে মুক্তি পায় না। সারাংশ হল মু’মিন ব্যক্তি তার ঈমানী শক্তির কারণে তার ওপর ভয় প্রাধান্য পায়। ফলে শাস্তির আশংকা থেকে সে নিরাপদে থাকে না। আর এটি হল মু’মিন ব্যক্তির অবস্থা। সর্বদা সে ভীত থাকে ও সতর্ক দৃষ্টি রাখে। সে তার ভাল কর্মকে ছোট মনে করে এবং ছোট পাপ কর্মের কারণে ভয় করে। কারী বলেন, এটি এমন এক উপমা যার অবস্থাকে পাপের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ব্যক্তি মনে করে যখন সে পাহাড়ের নিচে থাকবে তখন তার ধ্বংস আছে, পাহাড়ী ধ্বংসের ব্যাপারে সে ভয় করে। সুতরাং হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, মু’মিন ব্যক্তি চূড়ান্ত ভয় এবং গুনাহ থেকে চূড়ান্ত সতর্কতার মাঝে অবস্থান করে।

(يَرٰى ذُنُوبَه كَذُبَابٍ) ইসমা‘ঈলী বর্ণনাতে আছে, (يرى ذنوبه كأنها ذباب)

(عَلَى انْفِه) অর্থাৎ- তার গুনাহ তার কাছে সহজ ব্যাপার, ফলে গুনাহের ব্যাপারে সে এ বিশ্বাসে পরোওয়া করে না যে, ঐ গুনাহের কারণে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হতে পারে। যেমন মাছির ক্ষতি তার কাছে সহজ ব্যাপার।

 (ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ) জামি‘উল উসূল এবং তারগীবে এভাবেই এসেছে। বুখারীতে ইবনু মাস্‘ঊদ-এর হাদীস মারফূ' হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু সংঘটিত হয়নি।

(اَللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ) অর্থাৎ- বান্দা অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে আনন্দিত হন।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, পাপীর অবস্থার ধরনকে যখন চিন্তা করা হবে ঐ আংশিক ধরনের সাথে তখন তা ঐ দিকে ইঙ্গিত করবে যে, আশ্রয়স্থল হল তাওবাহ্ করা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। অর্থাৎ- তখনই দু’ হাদীসে মারফূ ও মাওকুফ দু’ হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধন হবে। এটা বুখারীর শব্দ। মুসলিমে আছে, (لله اشد فرحا بتوبة عبده)।

(الْمُؤْمِنِ) এ শব্দটি মুসলিমের বৃদ্ধি, এটি বুখারীতে নেই। (نزل) এটা বুখারীর বৃদ্ধি, মুসলিমে নেই।

(فِى ارْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ) অর্থাৎ- دوية তৃণলতামুক্ত মরুভূমি। ইবনুল আসীর বলেন, الدو অর্থ মরুভূমি। আর ياء সম্বন্ধ করার জন্য এসেছে।

(فَأَنَامُ حَتّٰى اَمُوْتَ) অর্থাৎ- অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বাহন আমার কাছে ফিরে না আসে। আর জীবনের দিক অসম্ভব মনে করে এবং বাহন ফিরে আসা থেকে নিরাশ হয়ে ব্যক্তি যা উল্লেখ করেছে তা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছে। الذى كنت فيه فأنام থেকে শুরু করে হাদীসের শেষ পর্যন্ত মুসলিমের শব্দ এবং قال ارجع إلى مكانى فرجع فنام نومه ثم رفع رأسه فإذا راحلته عنده এ অংশটুকু বুখারীর। আর তিরমিযীতে আছে,

 قال ارجع إلى مكانى الذى اضللتها فيه فأموت فيه فرجع إلى مكانه فغلبته عينه فاستيقظ فاذا راحلته عند راسه، عليها طعامه و شرابه وما يصلحه.

অর্থাৎ- লোকটি বলল, আমি আমার ঐ স্থানে ফিরে যাব যেখানে আমি ঐ বাহনটিকে হারিয়েছি, অতঃপর সেখানে মৃত্যুবরণ করব। এরপর লোকটি তার ঐ স্থানে ফিরে গেলে তার চক্ষু তার ওপর বিজয় লাভ করল। এরপর ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ তার কাছে তার বাহন উপস্থিত পেল যার উপর তার খাদ্য, পানি এবং যা তার কল্যাণে আসে এমন কিছু রয়েছে। আহমাদেও এভাবে এসেছে। আর হাদীসটিতে আল্লাহর এ বাণীর দিকে ইঙ্গিত আছে- إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাহকারীদেরকে ভালবাসেন’’- (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২২)। আর নিশ্চয়ই তারা তাদের সম্মানিত, দয়াময়, করুণাশীল পালনকর্তার কাছে মহা স্থানে আছে।

সতর্কতাঃ মুসলিম বারা এর হাদীস থেকে এ হাদীসে মারফূ'- এর কারণস্বরূপ উল্লেখ করেছেন এবং তার হাদীসের শুরু হচ্ছে,

كيف تقولون فى رجل انفلتت عنه راحلته بأرض قفر ليس بها طعام ولا شراب وعليها له طعام وشراب فطلبها حتى شق عليه فذكر معناه.

অর্থাৎ- ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কেমন বল? যাকে ছেড়ে তার বাহন তৃণলতাহীন ভূখণ্ডে পলায়ন করেছে। যেখানে কোন খাদ্য নেই, পানীয় বস্ত্ত নেই, এমতাবস্থায় সেই বাহনের উপর আছে তার খাদ্য, তার পানীয় বস্ত্ত। সুতরাং লোকটি তার বাহনের অনুসন্ধানে চলল। পরিশেষে লোকটির ওপর নিজ অবস্থা কঠিন আকার ধারণ করল, এরপর হাদীসটির বাকী অংশ অর্থগতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনু হিব্বান এ হাদীসটিকে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে সংকলন করেছেন। সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে লোকটির আনন্দের কথা উল্লেখ করল, এমতাবস্থায় যে লোকটি তার হারানো বস্ত্ত খুঁজে পায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (لله اشد فرحا) অবশ্যই আল্লাহ এর অপেক্ষাও বেশি আনন্দিত হন। (আল হাদীস) হাফেয একে ফাত্হ-এ উল্লেখ করেছেন।

(رَوٰى مُسْلِمٌ الْمَرْفُوْعَ) অর্থাৎ- হাদীসে মারফূ‘টি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 (وَرَوَى البُخَارِىُّ الْمَوْقُوْفَ عَلَى ابْنِ مَسْعُوْدٍ أَيْضًا) আর তা হল, ان المؤمن হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।

সারাংশ নিশ্চয়ই মারফূ', হাদীসটি বুখারী, মুসলিমের ঐকমত্যে বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে মাওকূফ হাদীসটি বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫৯-[৩৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ওই মু’মিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তওবা্ করে।[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ المؤمنَ المفتَّنَ التوَّابَ»

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله يحب العبد المومن المفتن التواب»

ব্যাখ্যা: (إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ الْمُفْتَّنَ التَّوَّابَ) অর্থাৎ- পাপে পরীক্ষিত ব্যক্তি।

(التَّوَّابَ) অর্থাৎ- অধিক তাওবাহকারী এবং আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। আর তা কেবল তাওবার দৃষ্টিকোণ থেকে। নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, ফিতনাতে পতিত পরীক্ষিত ব্যক্তিকে আল্লাহ গুনাহের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, এরপর পাপী তাওবাহ্ করলে, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করলে আল্লাহ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করেন। মানাবী বলেন, এটা এ কারণে যে, তা আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়ন, তাঁর মহত্ত্বের প্রকাশ ও তাঁর রহমাতের প্রশস্ততার স্থান।

ইবনুল কইয়্যিম (রহঃ) বলেন, ফিতনায় পতিত অধিক তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি গুনাহের ফিতনাতে পতিত হওয়া মাত্রই তা থেকে তাওবাহ্ করে। কুরতুবী বলেন, এর অর্থ হল, যার থেকে বারংবার গুনাহ এবং তাওবাহ্ সংঘটিত হয়, যখনই সে গুনাহে পতিত হয় তখনই তাওবাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। কারী বলেন, المفتن অর্থাৎ- পাপ, উদাসীনতা অথবা সার্বক্ষণিক আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হওয়া থেকে ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অধিক হারে পরীক্ষিত হয়। এটা এ কারণে যে, যাতে সে অহংকার এবং প্রতারণার মাধ্যমে পরীক্ষিত না হয়। যা গুনাহসমূহের মাঝে সর্বাধিক গুনাহ এবং সর্বাধিক দোষ।

গুনাহে পুনরায় প্রত্যাবর্তন সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও তাওবাহ্ বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে হাদীসটি স্পষ্ট। যে ব্যক্তি তাওবাহ্ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্বোক্ত গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন না করাকে শর্ত করেছে এবং বলেছে যদি ব্যক্তি পূর্বোক্ত গুনাহের দিকে ফিরে যায় তাহলে তার তাওবাহ্ বাতিল। এ হাদীসটিতে তাদের উক্ত শর্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাওবাহ্ বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কি গুনাহের দিকে কখনো প্রত্যাবর্তন না করাকে শর্ত করা হবে? নাকি এটা কোন শর্ত না? অতঃপর বলেছেন, তাওবাহকারী যখন গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন স্পষ্ট হবে তার তাওবাহ্ বাতিল বিশুদ্ধ না। অধিকাংশগণ ঐ মতের উপরে যে, এটি কোন শর্ত না। তাওবার বিশুদ্ধতা কেবল গুনাহ থেকে সরে আসা, তার ব্যাপারে লজ্জিত হওয়া এবং বারংবার প্রত্যাবর্তন বর্জনের ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করার উপর নির্ভর করে। অতঃপর তাওবাহ্ যদি মানুষের অধিকারের ব্যাপারে হয় তাহলে কি সে অধিকারের ব্যাপারে দায়মুক্ত হতে হবে? এক্ষেত্রে বিশদ ব্যাখ্যা আছে। অচিরেই আল্লাহ চাহেতো তা উল্লেখ করব।

অতঃপর তাওবাহ্ করাবস্থায় পূর্বের গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন না করার উপর দৃঢ়তা ব্যক্ত করা সত্ত্বেও যদি প্রত্যাবর্তন করে তাহলে সে ঠিক ঐ ব্যক্তির মতো যে নতুনভাবে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে এবং তার পূর্বোক্ত তাওবাহ্ বাতিল হবে না। আর মাস্আলাটি মৌলিকতার উপর নির্ভরশীল। আর তা হল, নিশ্চয়ই বান্দা যখন কোন গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করার পর ঐ গুনাহের দিকে আবারও প্রত্যাবর্তন করবে এমতাবস্থায় কি তার নিকট ঐ গুনাহের পাপ প্রত্যাবর্তন করবে যা থেকে সে তাওবাহ্ করেছিল? এরপর যদি সে ঐ গুনাহের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তার উপর স্থির থেকে মারা যায় তাহলে কি সে প্রথম গুনাহ এবং পরবর্তী গুনাহের উপর উভয় গুনাহেরই শাস্তিযোগ্য হবে? নাকি পূর্বের গুনাহ পূর্ণাঙ্গভাবে বাতিল হয়ে যাবে । তাকে কেবল পরবর্তী গুনাহের শাস্তি দেয়া হবে? এ মৌলিকতার ক্ষেত্রে দু’টি উক্তি আছে। এরপর দু’টি উক্তিকে তিনি বিস্তারিতভাবে তার কিতাবের ১ম খণ্ডে ১৫২-১৫৬ পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। সুতরাং কেউ চাইলে তা অধ্যয়ন করতে পারে।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৬০-[৩৮] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ’’ইয়া- ’ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ’আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।[1]

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي الدُّنْيَا بِهَذِهِ الْآيَةِ (يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرفُوا على أنْفُسِهم لَا تَقْنَطوا)
الْآيَةَ» فَقَالَ رَجُلٌ: فَمَنْ أَشْرَكَ؟ فَسَكَتَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «أَلا وَمن أشرَكَ» ثَلَاث مرَّاتٍ

وعن ثوبان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما احب ان لي الدنيا بهذه الاية (يا عبادي الذين اسرفوا على انفسهم لا تقنطوا) الاية» فقال رجل: فمن اشرك؟ فسكت النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: «الا ومن اشرك» ثلاث مرات

ব্যাখ্যা: (مَا أُحِبُّ أَنَّ لِى الدُّنْيَا بِهٰذِهِ الْاٰيَةِ) ‘‘আমি পছন্দ করি না এ আয়াতের বিনিময়ে দুনিয়া আমার জন্য হাসিল হোক’’। অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ তোমরা আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩) এ আয়াতের পরিবর্তে সমগ্র দুনিয়াতে যা কিছু আছে তা যদি আমার অর্জিত হয় আর আমি তা দান-খয়রাত করি অথবা তা আমি উপভোগ করি তবুও তা আমার নিকট পছন্দনীয় ও প্রিয় নয়। কেননা এ আয়াতে সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে এ আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন। নতুবা কুরআনের সকল আয়াতই এ রকম, অর্থাৎ- তাঁর বিনিময়ে দুনিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া যায় না।

ইমাম শাওকানী বলেনঃ কুরআন কারীমের এ আয়াতটি সর্বাধিক আশাপ্রদ আয়াত। কেননা এতে সর্বাধিক শুভসংবাদ রয়েছে। প্রথমত আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে তার নিজের দিকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ يَا عِبَادِىَ ‘‘হে আমার বান্দাগণ!’’ এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন। এরপর বলেছেন যে, যারা অধিক বাড়াবাড়ি করেছে এবং অধিক পরিমাণ গুনাহতে লিপ্ত হয়েছে তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের তাঁর রহমাত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। অতএব যারা গুনাহ করেছে তবে বাড়াবাড়ি করেনি তাদের প্রতি নিরাশ না হওয়ার বাণী আরো অধিক কার্যকর।

এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সকল প্রকারের গুনাহ ক্ষমা করবেন’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এতে বুঝা গেল যে, গুনাহের ধরন যাই হোক না কেন আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। তবে আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আল্লাহ তা‘আলা শির্ক গুনাহ ক্ষমা করেন না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮)। এ শির্ক গুনাহকারী ব্যক্তি যদি তাওবাহ্ করে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসে তাহলে তিনি তাও ক্ষমা করেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)।

(فَقَالَ رَجُلٌ: فَمَنْ أَشْرَكَ؟) ‘‘এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তাকে কি ক্ষমা করা হবে?’’ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বললেনঃ (أَلَا وَمَنْ أَشْرَكَ) ‘‘হ্যাঁ, যে শির্ক করেছে তাকেও তিনি ক্ষমা করবেন (যদি সে তাওবাহ্ করে)।

ইমাম ত্বীবী বলেনঃ শির্কে লিপ্ত ব্যক্তিও لَا تَقْنَطُوْا مِن رَّحْمَةِ اللّٰهِ ‘‘তোমরা আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩) এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৬১-[৩৯] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা।

উপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ’’কিতাবিল বা’সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[1]

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيَغْفِرُ لِعَبْدِهِ مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْحِجَابُ؟ قَالَ: «أَنْ تَمُوتَ النَّفْسُ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ»
رَوَى الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ أَحْمَدُ وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ الْأَخِيرَ فِي كِتَابِ الْبَعْثُ والنشور

وعن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله تعالى ليغفر لعبده ما لم يقع الحجاب» . قالوا: يا رسول الله وما الحجاب؟ قال: «ان تموت النفس وهي مشركة» روى الاحاديث الثلاثة احمد وروى البيهقي الاخير في كتاب البعث والنشور

ব্যাখ্যা: (مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ) ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত পর্দা না পড়ে’’। অর্থাৎ- আল্লাহর রহমাত ও বান্দার মাঝে পর্দা না পড়ে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ক্ষমা করতে থাকেন। পর্দা পড়ে গেলে আর ক্ষমা করেন না।

(وَمَا الْحِجَابُ؟) ‘‘পর্দা কি?’’ অর্থাৎ- আল্লাহর রহমাত ও বান্দার মাঝে কিভাবে পর্দা পতিত হয় যাতে তার গুনাহ ক্ষমা করা বন্ধ হয়ে যায়।

(قَالَ: أَنْ تَمُوتَ النَّفْسُ وَهِىَ مُشْرِكَةٌ) ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন ব্যক্তি যখন শির্কে লিপ্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে’’। অর্থাৎ- শির্ক গুনাহ করার পর তাওবাহ্ না করেই মারা যায় তখন তার মাঝে এবং আল্লাহর রহমাতের মাঝে পর্দা পড়ে যায়, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তখন আর তার গুনাহ ক্ষমা করেন না। শির্কের অনুরূপ সকল প্রকার কুফরী গুনাহ, অর্থাৎ- বান্দা যদি কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার পর তা থেকে তাওবাহ্ না করে মারা যায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৬২-[৪০] উক্ত রাবী [আবূ যার (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কাউকেও আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। (বায়হাক্বী ’’কিতাবিল বা’সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يَعْدِلُ بِهِ شَيْئًا فِي الدُّنْيَا ثُمَّ كَانَ عَلَيْهِ مِثْلَ جِبَالٍ ذُنُوبٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الْبَعْث والنشور

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لقي الله لا يعدل به شيىا في الدنيا ثم كان عليه مثل جبال ذنوب غفر الله له» . رواه البيهقي في كتاب البعث والنشور

ব্যাখ্যা: (مَنْ لَقِىَ اللّٰهَ لَا يَعْدِلُ بِه شَيْئًا فِى الدُّنْيَا) ‘‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন কিছুকেই আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করে’’। অর্থাৎ- দুনিয়াতে থাকাবস্থায় আল্লাহর সাথে শির্ক না করে মারা যায়। ঈমান আনা আর না আনা দুনিয়ার ব্যাপার। কেননা মৃত্যুর পরে বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়ার পরে সকলেই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে ঈমান কারো উপকারে আসবে না যদি সে দুনিয়াতে ঈমান না এনে থাকে।

(كَانَ عَلَيْهِ مِثْلَ جِبَالٍ ذُنُوبٌ غَفَرَ اللّٰهُ لَه) ‘‘তার ওপর পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন’’। অর্থাৎ- আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। যেমন- আল্লাহ বলেনঃ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَن يَّشَآءُ ‘‘শির্ক ব্যতীত অন্য গুনাহ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮)।

ত্ববারানীতে বর্ণিত, নাহ্ওয়াস ইবনু সাম্‘আন (রাঃ) বর্ণিত হাদীসও অত্র হাদীসকে সমর্থন করে। তাতে আছে ‘‘যে ব্যক্তি শির্ক না করে মৃত্যুবরণ করবে তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা বৈধ হয়ে যাবে’’।


হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৬৩-[৪১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হতে তওবাকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।)

আর বায়হাক্বী শু’আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [’আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [’আবদুল্লাহ] বলেছেন, ’’অনুশোচনাই হলো তওবা্, আর তওবাকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّائِبَ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ تَفَرَّدَ بِهِ النَّهْرَانَيُّ وَهُوَ مَجْهُولٌ. وَفِي (شَرْحِ السُّنَّةِ)
رَوَى عَنْهُ مَوْقُوفًا قَالَ: النَّدَمُ تَوْبَةٌ والتَّائبُ كمن لَا ذَنْبَ لَهُ

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «التاىب من الذنب كمن لا ذنب له» . رواه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان وقال تفرد به النهراني وهو مجهول. وفي (شرح السنة) روى عنه موقوفا قال: الندم توبة والتاىب كمن لا ذنب له

ব্যাখ্যা: (اَلتَّائِبَ مِنَ الذَّنْبِ) অর্থাৎ- বিশুদ্ধ তাওবাহ্। আর গুনাহের ব্যাপকতার ব্যবহার সকল প্রকার গুনাহকে অন্তর্ভুক্ত করছে। সুতরাং হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তাওবাহ্ যে কোন গুনাহের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। আর হাদীসটির বাহ্যিকতা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তাওবাহ্ যখন তার সকল শর্তসহ বিশুদ্ধতা লাভ করবে তখন তা গৃহীত হবে।

(كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه) অর্থাৎ- ক্ষতি সাধন না হওয়ার ক্ষেত্রে বেগুনাহ ব্যক্তির মতো। সিনদী বলেন, এর বাহ্যিক দিক হল গুনাহকে তওবাহকারীর ‘আমলনামা থেকে উঠিয়ে দেয়া হবে অথবা শাস্তি না হওয়ার ক্ষেত্রে গুনাহমুক্ত ব্যক্তির সাথে সাদৃশ্য। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

ইমাম ত্বীবী বলেন, এটা হল, আধিক্যতা স্বরূপ অপূর্ণাঙ্গকে পূর্ণাঙ্গের সাথে মিলিয়ে দেয়া অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যেমন বলা হয়, যায়দ সিংহের মতো। কেননা কোন সন্দেহ নেই যে, তাওবাহকারী মুশরিক ব্যক্তি গুনাহমুক্ত নাবীর মতো না।

ইবনু হাজার আসকালানী এ কথার পেছনে ঐ কথা টেনেছেন যে, যার কোন গুনাহ নেই- এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যে ব্যক্তি গুনাহের সম্মুখীন হবে তবে গুনাহ থেকে তাকে সংরক্ষণ করা হবে। সুতরাং এ ধরনের তাশবীহ থেকে নাবী এবং মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বের হয়ে গেছে, এ ধরনের তাশবীহ বা সাদৃশ্য দ্বারা তারা উদ্দেশ্য না।

কারী বলেন, সুতরাং মতানৈক্য শাব্দিক। যে ব্যক্তি গুনাহ করে তা থেকে তাওবাহ্ করবে এবং যে ব্যক্তি মূলত গুনাহ্ই করবে না এদের দু’জনের ক্ষেত্রে বিদ্বানগণ মতানৈক্য করেছেন যে, এদের দু’জনের মাঝে কে উত্তম? লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, এর দৃষ্টিকোণ বিভিন্ন ধরনের।

ইবনুল কইয়্যিম মাদারিজুস্ সালিক্বীনের ১ম খণ্ডে ১৬৩ পৃষ্ঠাতে বলেন, অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়নি এমন আনুগত্যশীল ব্যক্তি কি ঐ অবাধ্য ব্যক্তি হতে উত্তম, যে আল্লাহর কাছে প্রকৃত তাওবাহ্ করেছে? মোটকথা এ তাওবাহকারী কি এ অবাধ্যতায় লিপ্ত না হওয়া ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম? এ ব্যাপারে মতানৈক্য করা হয়েছে। অতঃপর একদল অবাধ্যতায় লিপ্ত না হওয়া ব্যক্তিকে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে বিশুদ্ধ তাওবাহকারী ব্যক্তির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে তারা দলীল দিয়েছেন এরপর তা উল্লেখ করেছেন যার সীমা দশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর ইবনুল কইয়্যিম বলেন, একদল তাওবাহকারীকে প্রাধান্য দিয়েছেন যদিও এ দল প্রথম ব্যক্তির অধিক পুণ্যের অধিকারী হওয়াকে অস্বীকার করেনি। তারাও এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রমাণ স্বরূপ তা উল্লেখ করেছেন যার পরিমাণও দশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে বিধায় সে আলোচনা এখানে ছেড়ে দেয়া হল। মাস্আলাটি অতি সূক্ষ্ম ও মহৎ মাস্আলাহ্। সুতরাং ব্যক্তির উপর আবশ্যক মাদারিজ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা যাতে এ ব্যাপারে তার নিকটে অন্য একটি মাস্আলাহ্ স্পষ্ট হয়ে যায়। সে ব্যাপারেও মতানৈক্যকারীরা মতানৈক্য করেছেন। আর তা হল বান্দা যখন গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করবে তখন সে কি ঐ মর্যাদার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে গুনাহের পূর্বে যে মর্যাদার উপর ছিল, যে মর্যাদা থেকে তার গুনাহ তাকে নামিয়ে দিয়েছে? নাকি প্রত্যাবর্তন করবে না?

ইবনুল কইয়্যিম মাদারিজুস্ সালিক্বীনে ১ম খণ্ড- ১৬১ পৃষ্ঠাতে বলেন, একদল বলেন, সে তার পূর্ব মর্যাদায় ফিরে যাবে। কেননা তাওবাহ্ তার গুনাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাতিল করে দিবে এবং গুনাহকে এমন করে দিবে যেন গুনাহ ছিল না। মর্যাদার কারণে ব্যক্তির পূর্বের ঈমান ও সৎ ‘আমলকে দাবী করা হবে। সুতরাং ব্যক্তি তাওবার কারণে পূর্বের মর্যাদায় ফিরে আসবে। তারা বলেন, কেননা তাওবাহ্ একটি মহা পুণ্য এবং সৎ ‘আমল। সুতরাং ব্যক্তির গুনাহ যখন ব্যক্তিকে তার মর্যাদা থেকে নামিয়ে দিয়েছিল এখন তাওবার কারণে তার পুণ্য তাকে সে মর্যাদায় আরোহণ করাবে। আর এটা ঐ ব্যক্তির মতো যে ব্যক্তি কোন কূপে পতিত হল, এমতাবস্থায় তার একজন দয়ালু সাথী আছে সে তার কাছে একটি রশি ফেলল, ফলে কূপে পতিত ব্যক্তি সে রশি ধরে তার স্বস্থানে উঠে আসলো। এভাবে তাওবাহ্ হল সৎ ‘আমল যা এ সৎসাথী এবং দয়ালু ভাইয়ের মতো। একদল বলেন, সে তার পূর্বের অবস্থা ও মর্যাদায় ফিরে যেতে পারবে না, কেননা সে গুনাহতে থেমে ছিল না, সে গুনাহতে আরোহণ করছিল। সুতরাং গুনাহের কারণে সে নিম্নের দিকে যাবে।

অতঃপর বান্দা যখন তাওবাহ্ করবে তখন ঐ গুনাহের পরিমাণ কমে যাবে, যা তাকে উন্নতির দিকে আরোহণে প্রস্ত্তত করবে। তারা বলেন, এর উদাহারণ হল একটি পথে একই ভ্রমণে ভ্রমণকারী দু’ব্যক্তির ন্যায় যাদের একজনের সামনে এমন কিছু জিনিস উপস্থিত হল যা তাকে পেছনের দিকে ফিরিয়ে দিল অথবা তাকে থামিয়ে দিল এমতাবস্থায় তার সাথী অবিরাম চলছেই। অতঃপর যখন এ ব্যক্তি তার সাথীর প্রত্যাবর্তন ও বিরতি কামনা করল এবং তার সাথীর পেছনে চলল, কিন্তু কোন মতেই তার সাথীকে পেল না। কেননা যখনই সে একধাপ ভ্রমণ করে তখন তার সাথী আরো একধাপ এগিয়ে যায়। তারা বলেন, প্রথম ব্যক্তি সে তার ‘আমলসমূহ এবং ঈমানের শক্তিতে ভ্রমণ করে। যখন সে বেশি ভ্রমণ করে তখন তার শক্তিও বৃদ্ধি হয় এবং ঐ থামা ব্যক্তি যে ভ্রমণ থেকে বিরত ছিল তার থেমে থাকার কারণে তার ভ্রমণ ও ঈমানের শক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

(تَوْبَةٌ) এর অর্থ হল, নিশ্চয়ই লজ্জিত হওয়া তাওবার একটি বড় অংশ এবং তাতে স্বভাবত তাওবার অবশিষ্ট অংশগুলোকে আবশ্যককারী। কেননা লজ্জিত ব্যক্তি স্বভাবত বর্তমানকালে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে ঐ গুনাহতে প্রত্যাবর্তন না করার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করে আর এ অনুসারে তাওবাহ্ পূর্ণতা লাভ করে। তবে ঐ ফরযসমূহের ক্ষেত্রে ছাড়া যা পূরণ করা আবশ্যক। তখন ফরযসমূহের ক্ষেত্রে তাওবাহ্ ফরযসমূহ আদায় করার মুখাপেক্ষী হবে। অন্যথায় বান্দার অধিকারসমূহের ক্ষেত্রে তাওবাহকারী বান্দার অধিকারসমূহ ফেরত দেয়ার এবং লজ্জিত হওয়ার মুখাপেক্ষী হবে। এ উক্তিটি সিনদী করেছেন।

কারী বলেন, (النَّدَمُ تَوْبَةٌ) অর্থাৎ- তাওবার সর্বাধিক বড় রুকন হল লজ্জিত হওয়া। কেননা পাপ কাজ বর্জন করা এবং তার দিকে পুনরায় প্রত্যাবর্তন না করার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করার মাধ্যমে তাওবার অবশিষ্ট রুকনগুলোকে এর উপর ধার্য করা হয়। আর সম্ভব অনুযায়ী বান্দার অধিকারসমূহের ক্ষতিপূরণ দেয়া, ঠিক ঐ রুকন যেমন হাজ্জের রুকনসমূহের ক্ষেত্রে ‘আরাফায় অবস্থান করা তবে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বিপরীত। আর অবাধ্য কাজের ব্যাপারে লজ্জিত হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হল সেটি অবাধ্য কাজ, এ দৃষ্টিকোণ থেকে লজ্জিত হওয়া অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে না।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, বিদ্বানগণ তাওবার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতানৈক্য করেছেন। অতঃপর তাদের কেউ বলেছেন, নিশ্চয়ই তা হল লজ্জিত হওয়া। কেউ বলেন, নিশ্চয়ই তা হল পুনরায় অবাধ্যতায় জড়িত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা। কেউ বলেন, তা হল গুনাহ থেকে সরে আসা। তাদের কেউ আবার তাওবাকে তিনটি বিষয়ের মাঝে একত্র করেন আর তা হল তাওবার মাঝে পূর্ণাঙ্গ তাওবাহ্। হাফেয এবং অন্য কেউ বলেন, তাওবার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে গুনাহ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে ব্যক্তি লজ্জিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া কেননা লজ্জা গুনাহ থেকে সরে আসা এবং পুনরায় সে গুনাহতে লিপ্ত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্তকে আবশ্যক করে- এ বিষয় দু’টি লজ্জা থেকেই সৃষ্টি হয়। এ দু’টি লজ্জার সাথে কোন মৌলিক বিষয় না। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই হাদীসে এসেছে, (النَّدَمُ تَوْبَةٌ) আর এটি ইবনু মাস্‘ঊদ-এর হাদীস কর্তৃক একটি হাসান হাদীস।

(والتَّائبُ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه) অর্থাৎ- বান্দা যখন বিশুদ্ধ তাওবাহ্ করবে তখন সে গুনাহ থেকে ঐ দিনের ন্যায় বের হয়ে যায় যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। ইমাম হাকিম তার কিতাবের ৪র্থ খণ্ডে ২৪৩ পৃষ্ঠাতে সংক্ষিপ্তভাবে একে সংকলন করেছেন, অর্থাৎ- (والتَّائبُ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه) এ অংশটুকু ছাড়া।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

অত্র অধ্যায়ের অধিকাংশ হাদীস অবাধ্যতা থেকে তওবা্ করা, আশা করার পরিণাম এবং ক্ষমা থেকে নিরাশ না হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানকারী দয়াময় আল্লাহর রহমতে সম্পর্কে। এটি কারীর উক্তি। ’উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, কতিপয় কপিতে (আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা সম্পর্কে অধ্যায়) এভাবে এসেছে এবং তাতে উল্লেখিত হাদীসের সাথে এর সামঞ্জস্যতা অস্পষ্ট নয়।


২৩৬৪-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা মাখলূকাত (সৃষ্টিজগত) সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা ’আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর (রহমত) জয়ী হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ كِتَابًا فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي «. وَفِي رِوَايَةٍ» غَلَبَتْ غَضَبي

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما قضى الله الخلق كتب كتابا فهو عنده فوق عرشه: ان رحمتي سبقت غضبي «. وفي رواية» غلبت غضبي

ব্যাখ্যা: (لَمَّا قَضَى اللّٰهُ الْخَلْقَ) অর্থাৎ- যখন তিনি সকল সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করলেন। যেমন তার বাণী, فقضاهن سبع سماوات অর্থাৎ- তিনি এগুলোকে সৃষ্টি করলেন।

কারী বলেন, (لَمَّا قَضَى اللّٰهُ الْخَلْقَ) অর্থাৎ- যখন আল্লাহ সকল সৃষ্টিজীবের সৃষ্টিকে নির্ধারণ করলেন, অস্তিত্বসমূহের প্রকাশ সম্পর্কে ফায়সালা দিলেন অথবা যখন আল্লাহ অঙ্গীকার গ্রহণের দিন সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করলেন অথবা তাদেরকে সৃষ্টি করতে শুরু করলেন।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, বুখারীর এক বর্ণনাতে তাওহীদ পর্বে আল্লাহর বাণী, وَيُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ২৮) এ অধ্যায়ে এসেছে, (لما خلق الله الخلق) অর্থাৎ- আল্লাহ যখন সকল সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করলেন। এভাবে আহমাদ এবং মুসলিমের এক বর্ণনাতে এবং তিরমিযীতে এসেছে, (ان الله حين خلق الخلق) অর্থাৎ- নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন সকল সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করলেন। আর বুখারী ও মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, (كتب فى كتاب) অর্থাৎ- লাওহে মাহফূযে মালায়িকাহকে (ফেরেশতাগণকে) অথবা কলমকে লিখতে নির্দেশ দেয়ার মাধ্যমে। আর একে সমর্থন করছে ‘উবায়দাহ্ বিন সামিত-এর (اول ما خلق الله القلم) অর্থাৎ- সর্বপ্রথম আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা হল কলম। এ হাদীস, অর্থাৎ- ‘আরশ এবং পানি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তার দিকে সম্বন্ধ করে। এরপর আল্লাহ কলমকে বললেন, তুমি লিখ তখন কলম কিয়ামাত পর্যন্ত যা হবে তা লিখতে শুরু করল। আরো সমর্থন করছে (جف القلم بما هو كائن إلى يوم القيامة) অর্থাৎ- কিয়ামাত পর্যন্ত যা হবে সে সম্পর্কে অথবা লেখা সম্পর্কে কলম শুকিয়ে গেছে। এ হাদীস তিরমিযী এবং ইবনু মাজাহতে (كتب بيده على نفسه) এসেছে। অর্থাৎ- তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতির দাবী অনুযায়ী নিজের ওপর তা আবশ্যক করে নিয়েছেন। এখানে আল্লাহ যে কিতাব শব্দের উল্লেখ করেছেন তা মূলত তাঁর সাহায্যার্থে নয়। কারণ তিনি তা ভুলে যায় না, কেননা এ সব থেকে তিনি পবিত্র। তার নিকট কোন কিছু গোপন নয়। আর তা কেবল শারী‘আতের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে এমন সৃষ্টি দায়িত্বশীল মালায়িকাহর (ফেরেশতার) কারণে। অতঃপর যদি বলা হয়, কলম প্রতিটি জিনিসকে লিখে রেখেছে এ সত্ত্বেও আলোচনাতে এ বিষয়টি নির্দিষ্ট করার কারণ কি? ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, এতে যেই পূর্ণাঙ্গ আশা রয়েছে তা এবং নিশ্চয়ই তার রহমাতে প্রতিটি জিনিসকে পরিব্যাপৃত করে নিয়েছে তা প্রকাশ করার জন্য এ নির্দিষ্টতা। যা অন্যান্য বিষয়ের বিপরীত।

(فَهُوَ) অর্থাৎ- ঐ কিতাব যা লিখিত অর্থে ব্যবহৃত। একমতে বলা হয়েছে, তার বিদ্যা অথবা তার আলোচনা। (عِنْدَه) অর্থাৎ- সাধারণ অর্থ তার নিকটে। তবে এখানে এর অর্থ তাঁর নিকটে তথা স্থান উদ্দেশ্য নয় বরং তাঁর মর্যাদা উদ্দেশ্য, কেননা তিনি শুরু বা প্রারম্ভের লক্ষণ থেকে পবিত্র।

(فَوْقَ عَرْشِه) সকল সৃষ্টিজীব থেকে সুরক্ষিত, অনুভূতি থেকে দূরে। হাফেয বলেন, এখানে عند এর অর্থ ‘স্থান’ হবে না বরং তা সৃষ্টিজীব থেকে পূর্ণাঙ্গ গোপন হওয়ার দিকে ইঙ্গিত, তাদের অনুভূতিশক্তি থেকে দূরে। এতে বিষয়াবলীকে মর্যাদা দানের ব্যাপারে মহা সম্মানের ব্যাপারে সতর্কতা রয়েছে।

ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন, الكتاب দ্বারা দু’টি বিষয়ের একটি উদ্দেশ্য আর তার একটি হল সম্পন্ন করা যা আল্লাহ সম্পন্ন করেছেন। যেমন তাঁর বাণী, كَتَبَ اللّٰهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِيْ অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ সম্পন্ন করে দিয়েছেন বা রায় দিয়েছেন, অবশ্যই আমি এবং আমার রসূলগণ বিজয় লাভ করবে’’- (সূরা আল মুজাদালাহ্ ৫৮ : ২১)। অর্থাৎ- ঐ বিষয়টি সম্পন্ন করে তিনি বলেছেন। আর রসূলের উক্তি (فوق العرش) এর অর্থ হল তার নিকটে আছে তার জ্ঞান, তিনি তা ভুলেন না এবং পরিবর্তনও করেন না। যেমন আল্লাহর বাণী, ‘‘কিতাবে রয়েছে আমার প্রভু পথভ্রষ্ট হন না এবং ভুলেও যান না’’- (সূরা ত্ব-হা- ২০ : ৫২)। পক্ষান্তরে লাওহে মাহফূয, যাতে রয়েছে সৃষ্টির প্রকারসমূহের বর্ণনা, তাদের বিষয়াবলী, তাদের মৃত্যু নির্দিষ্ট সময়, তাদের রিযক ও তাদের অবস্থাসমূহের বর্ণনা। আর (فَهُوَ عِنْدَه فَوْقَ عَرْشِه) এর অর্থ হল, তাঁর জিকির ও তাঁর জ্ঞান এবং ব্যাখ্যা ক্ষেত্রে এ প্রত্যেকটি বৈধ। একমতে বলা হয়েছে, আল্লাহ এর ক্ষেত্রে (عند) এর সুপরিচিত ‘‘স্থান’’ অর্থ নেয়া অসম্ভব। সুতরাং আল্লাহর ক্ষেত্রে (عند) এর অর্থ ঠিক সেভাবে গ্রহণ করতে হবে যেভাবে তার সাথে মানানসই বা এর অর্থ তাঁরই দিকে সোপর্দ করতে হবে। ‘উবায়দল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, এটা এমন এক বিষয় যে ব্যাপারে চুপ থাকা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং এ খবর সম্পর্কে আমরা বলব, তবে এর ধরন বর্ণনা থেকে আমরা বিরত থাকব। কেননা তার মতো কোন কিছু নেই। সুতরাং উত্তম হল বরং সুনির্দিষ্ট হল, বিষয়টিকে তাঁর বাহ্যিকতার দিকে ঘুরিয়ে দেয়া এবং কোন ধরনের পরিবর্তন না করা।

(سَبَقَتْ غَضَبِىْ وَفِىْ رِوَايَةٍ غَلَبَتْ غَضَبِىْ) দ্বিতীয় বর্ণনাটি শুধু বুখারীর, তিনি এটা সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কিত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের শব্দ (تغلب) এভাবে বুখারীতে আল্লাহর বাণী, (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ২৮ আয়াত) وَيُحَذِّرُكُمُ اللهُ نَفْسَهٗ এ অধ্যায়ে এসেছে।

কারী বলেন, (غَلَبَتْ غَضَبِىْ) অর্থাৎ- আমার রহমাত আমার রাগের উপর বিজয় লাভ করেছে। এর উদ্দেশ্য হল, আমার রহমাতের প্রভাবসমূহ আমার রাগের প্রভাবসমূহের উপর বিজয় লাভ করেছে, এটি এর পূর্ববর্তী অংশের ব্যাখ্যা। উদ্দেশ্য হল, রহমাতের প্রশস্ততা, তার আধিক্যতা এবং তা সমস্ত সৃষ্টিকে শামিল করে নেয়া এমনকি যেন তা অগ্রগামী ও বিজয়ী যেমন একজন ব্যক্তির স্বভাব বৈশিষ্ট্যের মাঝে যখন দয়ার পরিমাণ অধিক হয় তখন সে ক্ষেত্রে (غلب على فلان الكرم) অর্থাৎ- অমুকের উপর দয়ার দিক প্রাধান্য পেয়েছে- এ কথা বলা হয়। অন্যথায় আল্লাহর (رحمة) অর্থাৎ- দয়া, এবং (غضب) অর্থাৎ- রাগ। দু’টি আলাদা বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহর পুণ্যদান ও শাস্তিদান ইচ্ছার দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। আর তাঁর গুণসমূহের ব্যাপারে তাদের একটিকে অপরটির উপর বিজয় লাভের বর্ণনা করা হয় না। তা কেবল আধিক্যতার পদ্ধতিতে রূপকতার জন্য ব্যবহার করা হয়।

আর (سَبَقَتْ رَحْمَتِىْ) এর অর্থ ক্রোধের উপর রহমাতের আধিক্যতার জন্য পণ করা। যেমন বলা হয়, (تسابقتا فسبقت احداهما على الأخرى) ঘোড়া দু’টি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হল, অতঃপর দু’টির একটি অপরটির উপর অগ্রগামী হল।

লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, ওটা এজন্য যে, কেননা আল্লাহর রহমাতের প্রভাবসমূহ তাঁর উদারতা এবং অনুগ্রহ সকল সৃষ্টিজীবকে ব্যাপক করে নিয়েছে আর তা সীমাবদ্ধ নয় যা غضب তথা ক্রোধের প্রভাবের বিপরীত। কেননা তা কিছু কারণবশত কতিপয় আদম সন্তানের ওপর প্রকাশ পেয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘আর যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গণনা কর তোমরা তা পরিসংখ্যান করতে পারবে না’’- (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ১৮)। তিনি আরো বলেন, অর্থাৎ- ‘‘আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছা তাকে পৌঁছিয়ে থাকি, এবং আমার রহমাত প্রতিটি জিনিসকে পরিব্যাপৃত করে নিয়েছে’’- (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ১৫৬)। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের অন্যায়ের কারণে পাকড়াও করতেন তাহলে জমিনের উপর কোন প্রাণী ছেড়ে দিতেন না’’- (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ৬১)। সুতরাং তিনি তাঁর রহমাতকে তাদের মাঝে অবশিষ্ট রাখবেন এবং বাহ্যিকভাবে তাদেরকে দান করবেন ও তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন, এজন্য তাদেরকে দুনিয়াতে পাকড়াও করবেন না। সুতরাং এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর রহমাত তাঁর عضب এর উপর অগ্রগামী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৫-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার একশটি রহমত রয়েছে, তন্মধ্যে মাত্র একটি রহমত তিনি (দুনিয়ার) জিন্, মানুষ, পশু ও কীট-পতঙ্গের জন্যে অবতীর্ণ করেছেন। এই একটি রহমত দিয়ে তারা পরস্পরকে স্নেহ-মমতা করে, এ রহমত দিয়ে তারা পরস্পরকে দয়া করে। এর দ্বারাই বন্য প্রাণীরা এদের সন্তান-সন্ততিকে ভালবাসে। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ তা’আলা পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিয়েছেন। যা দিয়ে তিনি কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদেরকে রহম করবেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ للَّهِ مائةَ رَحْمَةٍ أَنْزَلَ مِنْهَا رَحْمَةً وَاحِدَةً بَيْنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَالْبَهَائِمِ وَالْهَوَامِّ فَبِهَا يَتَعَاطَفُونَ وَبِهَا يَتَرَاحَمُونَ وَبِهَا تَعْطُفُ الْوَحْشُ عَلَى وَلَدِهَا وَأَخَّرَ اللَّهُ تِسْعًا وَتِسْعِينَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَهُ يَوْمَ الْقِيَامَة»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لله ماىة رحمة انزل منها رحمة واحدة بين الجن والانس والبهاىم والهوام فبها يتعاطفون وبها يتراحمون وبها تعطف الوحش على ولدها واخر الله تسعا وتسعين رحمة يرحم بها عباده يوم القيامة»

ব্যাখ্যা: হাদীসটির অনেক সানাদ এবং শব্দ রয়েছে তবে এখানে উল্লেখিত শব্দ মুসলিমের, তিনি একে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে ‘আত্বার সানাদে তাওবার অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে (علاء) ‘আলা- এর একটি বর্ণনাও আছে, যা তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)  থেকে পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন আর তা হল, (خلق الله مائة رحمة فوضع واحدة بين خلقه وخبأ عنده مائة الا واحدة) অর্থাৎ- আল্লাহ একশতটি রহমাত তৈরি করেছেন, অতঃপর একটি তার সৃষ্টির মাঝে স্থাপন করেছেন এবং তাঁর কাছে তিনি একশতটি গোপন রেখেছেন একটি ছাড়া। এভাবে মুসলিমে তাওবাহ্ অধ্যায়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)  থেকে সা‘ঈদ বিন মুসাইয়্যাব এর বর্ণনাতে আছে,

 جعل الله مائة جزء فأمسك عنده تسعة وتسعين جزءا وانزل فى الأرض جزءا واحدا فمن ذلك الجزء يتراحم الخلق حتى ترفع الفرس حافرها عن ولدها خشية ان تصيبه

অর্থাৎ- আল্লাহ রহমাতকে একশতটি অংশে বিভক্ত করেছেন, অতঃপর তার কাছে তিনি ৯৯ টি অংশ অবশিষ্ট রেখেছেন জমিনে মাত্র একটি অংশ অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর ঐ একটি অংশের কারণে সৃষ্টিজীব একে অপরের প্রতি দয়া করে থাকে। এমনকি ঘোড়া তার খুরকে তার সন্তান থেকে দূরে রাখে এ আশংকায় যে, তা তার সন্তানের গায়ে লেগে যাবে।

আর বুখারীতে আবূ হুরায়রাহ  থেকে সা‘ঈদ মাকবূরীর সানাদে ‘রিকাক’ অধ্যায়ে আছে,

(ان الله خلق الرحمة يوم خلقها مائة رحمة فأمسك عنده تسعة و تسعين رحمة وأرسل فى خلقه كلهم رحمة واحد)

অর্থাৎ- নিশ্চয়ই আল্লাহ যে দিন রহমাতেকে সৃষ্টি করেছেন সেদিন একশতটি রহমাত সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাঁর কাছে নিরানববইটি রহমাত মজুদ রেখেছেন এবং একটি রহমাত তাঁর প্রত্যেক সৃষ্টির মাঝে অবতীর্ণ করেছেন।

(أَنْزَلَ مِنْهَا رَحْمَةً وَاحِدَةً) এক বর্ণনাতে (وارسل فى خلقه كلهم رحمة واحدة) এসেছে। কারী বলেন, রহমাত অবতীর্ণ করা এমন এক উপমা যা ঐ দিকে ইঙ্গিত করছে যে, তা স্বভাবজনিত বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা আসমানী বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত যা সৃষ্টির যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টিত।

(وَأَخَّرَ اللّٰهُ) ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ অংশটুকুকে (انزل منها رحمة) এর উপর সংযোজন করা হয়েছে এবং আল্লাহর পরকালীন রহমাতের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য স্পষ্টকরণ স্বরূপ লুকায়িত বিষয়কে প্রকাশ করা হয়েছে। এক বর্ণনাতে আছে, فأمسك عنده আর সুলায়মান-এর হাদীসে আছে, وخبأ عنده

(يَوْمَ الْقِيَامَةِ) জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে এবং পরে। এতে মু’মিন বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রশস্ত অনুগ্রহের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। আরো ঐ দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি অনুগ্রহকারীদের মাঝে সর্বাধিক অনুগ্রহকারী। ইবনু আবী হামযাহ্ বলেন, হাদীসে মু’মিনদের ওপর আনন্দের প্রবিষ্টকরণ আছে। কেননা স্বভাবত নাফসকে যা দান করা হয় সে ব্যাপারে নাফসের আনন্দ তখনই পূর্ণতা লাভ করবে যখন প্রতিশ্রুত বিষয়টি জানা থাকবে। হাদীসটিতে ঈমানের ব্যাপারে এবং আল্লাহর সঞ্চিত রহমাতের ক্ষেত্রে সুপ্রশস্ত আশার ব্যাপারে উৎসাহ রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৬-[৩] মুসলিম-এর এক বর্ণনায় সালমান ফারসী (রাঃ) হতে অনুরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে। এর শেষের দিকে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ঐ সকল রহমত দিয়ে তাকে পূর্ণতা দান করবেন।[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ سَلْمَانَ نَحْوُهُ وَفِي آخِرِهِ قَالَ: «فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا بِهَذِهِ الرَّحْمَة»

وفي رواية لمسلم عن سلمان نحوه وفي اخره قال: «فاذا كان يوم القيامة اكملها بهذه الرحمة»

ব্যাখ্যা: (فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا) অর্থাৎ- কিয়ামতের দিন ঐ একটি রহমাতকে তিনি পূর্ণতা দান করবেন যা তিনি দুনিয়াতে অবতীর্ণ করেছেন।

(بِهٰذِهِ الرَّحْمَةِ) অর্থাৎ- যা তিনি পিছিয়ে রেখেছেন তা দিয়ে। পরিশেষে যা একশত রহমাতে পরিণত হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাঁর মু’মিন বান্দাদের প্রতি তিনি দয়া করবেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৭-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে কি শাস্তি রয়েছে মু’মিন বান্দা যদি তা জানত, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি জানত আল্লাহর কাছে কি দয়া রয়েছে, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাত হতে নিরাশ হত না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ وَلَوْ يُعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنَطَ من جنته أحد»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو يعلم المومن ما عند الله من العقوبة ما طمع بجنته احد ولو يعلم الكافر ما عند الله من الرحمة ما قنط من جنته احد»

ব্যাখ্যা: (لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ) এক মতে বলা হয়েছে, মাজীর সিগাহ্ ছাড়া মুজারের বিশ্লেষণ হিকমাত হল, ঐ দিকে ইঙ্গিত করা যে, এ বিষয়ের জ্ঞান তার অর্জন হয়নি এবং অর্জন হবেও না, আর এ থেকে ভবিষ্যতে যখন বাধাগ্রস্ত হবে যখন অতীতে আরো ভালভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

(مَا قَنَطَ مِنَ جَنَّتِه) অর্থাৎ- মু’মিনদের মধ্য থেকে কেউ জান্নাতের আশা করতো না। অর্থাৎ- কাফির দূরের কথা কোন মু’মিনই জান্নাতের আশা করত না। এ অংশে আল্লাহর শাস্তির আধিক্যতার বর্ণনা রয়েছে যাতে মু’মিন ব্যক্তি তাঁর আনুগত্যের কারণে বা তাঁর রহমাতের উপর নির্ভর করে ধোঁকায় না পড়ে ফলে নিজেকে নিরাপদ ভাববে অথচ আল্লাহর কৌশল থেকে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না।

(مَا قَنَطَ مِنَ جَنَّتِه أَحَدٌ) অর্থাৎ- কাফিরদের থেকে কেউ নিরাশ হত না, উপরন্তু মু’মিনদের থেকে কেউ। ত্বীবী বলেন, হাদীসটি আল্লাহ তা‘আলার দয়া এবং কঠোরতা দু’টি গুণের বর্ণনা সম্পর্কে। অতঃপর আল্লাহর গুণাবলীর যেমন সীমাবদ্ধতা নেই, তাঁর গোপন করা গুণাবলী কেউ জানতে পারে না। এমনিভাবে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর রহমাত, যদি ধরে নেয়া হয় নিশ্চয়ই মু’মিন ব্যক্তি তার গোপন করা কঠোরতা সম্বন্ধীয় গুণের ব্যাপারে অবহিত হয়েছে অবশ্যই তখন ঐ গুণ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাবে যা ঐ সমস্ত ধারণা থেকে নিরাশ করবে ফলে তাঁর জান্নাত সম্পর্কে কেউ লালায়িত হবে না।

হাদীসটির সারাংশ হল, নিশ্চয়ই বান্দার উচিত হবে সৌন্দর্যমণ্ডিত গুণাবলী গবেষণার মাধ্যমে এবং কঠোরতা গুণাবলী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আশা এবং ভয়ের মাঝে থাকা। লামআত গ্রন্থকার বলেন, হাদীসটির বাচনভঙ্গি দয়া এবং ক্রোধ এ দু’টি গুণ বর্ণনার জন্য এবং এ দু’টির গোপনীয়তা পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে না পারার বর্ণনা করা। ঐ সমস্ত মু’মিনগণ যারা আল্লাহর রহমাতের বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে অবহিত তারা যদি জানত আল্লাহর কাছে কি পরিমাণ কঠোরতা আছে তাহলে তাদের কেউ জান্নাতের আশা করত না। এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। অর্থাৎ- তারা আল্লাহর দয়ার কথা বলতে পারলে তাঁর জান্নাত পাওয়া থেকে নিরাশ হত না। এটা আল্লাহর রহমাত তাঁর ক্রোধের উপর অগ্রগামী হওয়ার পরিপন্থী নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৮-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত তোমাদের কারো জন্য জুতার ফিতা হতেও বেশি কাছে, আর জাহান্নামও ঠিক অনুরূপ। (বুখারী)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ وَالنَّارُ مِثْلُ ذَلِكَ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الجنة اقرب الى احدكم من شراك نعله والنار مثل ذلك» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلٰى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِه) উল্লেখিত অংশে شراك বলতে জুতার ফিতা উদ্দেশ্য যা জুতার সামনে থাকে। একমতে বলা হয়েছে, তা হল, এমন এক ফিতা যাতে পায়ের আঙ্গুল প্রবেশ করে এবং তা প্রত্যেক ঐ ফিতার উপরও প্রয়োগ করা হয় যার দ্বারা পা কে জমিন থেকে রক্ষা করা হয়। ত্বীবী বলেন, ‘আরবদের কর্তৃক জুতার ফিতার মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করার কারণ হল পুণ্য এবং শাস্তি অর্জন বান্দার চেষ্টার মাধ্যমে হয় আর চেষ্টা পায়ের মাধ্যমে সম্পাদন হয়ে থাকে। প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যে ভাল ‘আমল করবে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে জান্নাতের উপযুক্ত হবে, পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে সে তার শাস্তির হুমকি অনুযায়ী জাহান্নামের উপযুক্ত হবে। আর আল্লাহ যা প্রতিশ্রুতি ও হুমকি দিয়েছেন তা সম্পন্ন হবে যেন সেগুলো অর্জন হয়ে গেছে।

(وَالنَّارُ مِثْلُ ذٰلِكَ) অর্থাৎ- তা তোমাদের কারো জুতার ফিতা অপেক্ষাও তার কাছাকাছি।

কারী বলেনঃ উল্লেখিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত, অর্থাৎ- জুতার ফিতা অপেক্ষা কাছাকাছি হওয়ার দিক দিয়ে জাহান্নাম জান্নাতের মতো। সুতরাং অল্প কল্যাণ সম্পাদনের ব্যাপারে কেউ যেন বিমুখ না হয়। হয়ত অল্প কল্যাণই ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর রহমাতের কারণ হবে এবং অল্প অকল্যাণকর ‘আমল থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ও যেন অমনোযোগী না হয়। হয়ত কখনো অল্প অকল্যাণকর কাজে আল্লাহর ক্রোধ থাকবে। কোন ব্যক্তি জান্নাতে ও জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হল, সৎ ‘আমল ও অসৎ ‘আমল আর তা ব্যক্তির জুতার ফিতা অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী। কেননা ‘আমল তার পাশেই থাকে এবং তার মাধ্যমেই তা সম্পাদিত হয়। ইবনু বাত্তাল বলেন, হাদীসটিতে এ বর্ণনা রয়েছে যে, নিশ্চয়ই আনুগত্য জান্নাতে পৌঁছায় এবং অবাধ্যতা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে। নিশ্চয়ই পাপ এবং পুণ্য কখনো অধিকতর হালকা হয়ে থাকে তখন ব্যক্তির উচিত হবে অল্প কল্যাণকর কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে এবং অল্প অকল্যাণকর কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে অবহেলা না করা। কেননা সে ঐ পুণ্য কর্মের ব্যাপারে জানে না যার কারণে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং ঐ পাপের ব্যাপারেও সে জানে না যার দরুন আল্লাহ তার ওপর ক্রোধান্বিত হবেন। ইবনুল জাওযী বলেন, হাদীসটির অর্থ হল, নিশ্চয়ই বিশুদ্ধ নিয়্যাত ও আনুগত্যমূলক কাজের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করা সহজ। এভাবে প্রবৃত্তির অনুকূল এবং অবাধ্যকর কাজের মাধ্যমে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৯-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে বলল, কোন সময় সে কোন ভাল কাজ করেনি। আর এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি নিজের ওপর অবিচার করেছে। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে নিজের সন্তান-সন্ততিকে ওয়াসিয়্যাত করল, যখন সে মারা যাবে তাকে যেন পুড়ে ফেলা হয়। অতঃপর মৃতদেহের ছাইভস্মের অর্ধেক স্থলভাগে, আর অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর কসম! যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে ধরতে পারেন তাহলে এমন শাস্তি দিবেন, যা দুনিয়ার কাউকেও কক্ষনো দেননি। সে মারা গেলে তার সন্তানেরা তার নির্দেশ মতই কাজ করল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা সমুদ্রকে হুকুম করলেন, সমুদ্র তার মধ্যে যা ছাইভস্ম পড়েছিল সব একত্র করে দিলো। ঠিক এভাবে স্থলভাগকে নির্দেশ করলেন, স্থলভাগ তার মধ্যে যা ছাইভস্ম ছিল সব একত্র করে দিলো। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এরূপ কাজ করলে? (উত্তরে বললো) তোমার ভয়ে ’হে রব!’ তুমি তো তা জানো। তার এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ لِأَهْلِهِ وَفِي رِوَايَةٍ أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ ثُمَّ اذْرُوا نِصْفَهُ فِي الْبَرِّ وَنِصْفَهُ فِي الْبَحْرِ فو الله لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لَا يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ فَلَمَّا مَاتَ فَعَلُوا مَا أَمَرَهُمْ فَأَمَرَ اللَّهُ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ: لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبِّ وَأَنْتَ أَعْلَمُ فَغَفَرَ لَهُ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال رجل لم يعمل خيرا قط لاهله وفي رواية اسرف رجل على نفسه فلما حضره الموت اوصى بنيه اذا مات فحرقوه ثم اذروا نصفه في البر ونصفه في البحر فو الله لىن قدر الله عليه ليعذبنه عذابا لا يعذبه احدا من العالمين فلما مات فعلوا ما امرهم فامر الله البحر فجمع ما فيه وامر البر فجمع ما فيه ثم قال له: لم فعلت هذا؟ قال: من خشيتك يا رب وانت اعلم فغفر له

ব্যাখ্যা: (قَالَ رَجُلٌ) অর্থাৎ- আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝ থেকে। বুখারীতে আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে আছে, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বে এক লোক ছিল, আল্লাহ তাকে প্রচুর সম্পদ দিয়েছিলেন।

বুখারীর অন্য বর্ণনাতে আছে, (ذكر رجلا فيمن سلف أو فيمن كان قبلكم) অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোকের উল্লেখ করেছেন যে অতীত হয়ে গেছে অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝে। ত্ববারানীতে হুযায়ফাহ্ এবং আবূ মাস্‘ঊদ এর হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, (انه كان من بنى اسرائيل) নিশ্চয়ই লোকটি ছিল বানী ইসরাঈল গোত্রের। আর এ কারণেই বুখারী বানী ইসরাঈলের আলোচনায় আবূ সা‘ঈদ, হুযায়ফাহ্ এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে, এ লোকটির নাম ছিল জুহায়নাহ্। সুহায়লী বর্ণনা করেন তার কাছে এসেছে লোকটির নাম হুনাদ।

(خَيْرًا قَطُّ) অর্থাৎ- ইসলামের পরে সৎ ‘আমল। মুসলিমের এক বর্ণনাতে এসেছে, (لم يعمل حسنة قط) সে কখনো ভাল কাজ করেনি। বাজী বলেন, স্পষ্ট যে, যে ‘আমল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পর্ক রাখে সেটাই প্রকৃত ‘আমল। যদিও রূপকভাবে ‘আমলকে বিশ্বাসের উপর প্রয়োগ করা সম্ভব। এ লোকটি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার ব্যাপকতা যে, কোন পুণ্যকাজ করেনি এ থেকে উদ্দেশ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ‘আমল। হাদীসটিতে কুফরীর বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি, এ হাদীসটি কেবল ঈমানী বিশ্বাসের উপর প্রমাণ বহন করছে। তবে লোকটি তার শারী‘আত থেকে কোন কিছুর উপর ‘আমল করেনি। অতঃপর লোকটির কাছে যখন মরণ উপস্থিত হল তখন সে নিজ বাড়াবাড়ির ব্যাপারে ভয় করল, অতঃপর সে তা পরিবারকে তার দেহ জালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিল।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ আমি বলব, আহমাদ-এর এক বর্ণনাতে (দ্বিতীয় খণ্ডে ৩০৪ পৃষ্ঠা) এসেছে, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝে এক লোক ছিল যে একমাত্র তাওহীদ তথা আল্লাহ একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া ছাড়া কোন ভাল ‘আমল করেনি।

(أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلٰى نَفْسِه) অর্থাৎ- অবাধ্যকর কাজে বাড়াবাড়ি করল। এটা মসলিমের শব্দ এবং বুখারীতে আছে, (كان رجل يسرف على نفسه) অর্থাৎ- লোকটি তার নিজের উপর বাড়াবাড়ি করত। বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসে আছে, (انه كان يسيئ الظن بعمله) অর্থাৎ- লোকটি তার আমলের মাধ্যমে মন্দ ধারণা করত। বুখারী, মুসলিমে আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে এসেছে, (فإنه لم ييترأ عند الله خيرا فسرها قتادة لم يدخر) অর্থাৎ- সে আল্লাহর কাছে কোন ভাল কাজ করেনি। কাতাদাহ্ এর ব্যাখ্যা করেছেন ‘‘সঞ্চয় করেনি’’ বুখারীতে হুযাইফার হাদীসের শেষে এসেছে। ‘উকবাহ্ বিন ‘আমর (আবূ মাস্‘ঊদ) বলেন, আমি তাঁকে (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি লোকটি কবর খুড়ত (অর্থাৎ- কবর খুঁড়ে মৃত ব্যক্তিরদের কাফন চুরি করত)।

(فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ) এখানে মৃত্যুকে তার নিকটবর্তী অবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেননা ঐ অবস্থাতে তার কাছে যা উপস্থিত হয়েছে তা মৃত্যুর আলামাত উপস্থিত হয়েছে; স্বয়ং মৃত্যু না।

(أَوْصٰى بَنِيهِ) এটা মুসলিমের শব্দ। বুখারীতে আছে, অতঃপর তার কাছে যখন মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার সন্তানদেরকে বলল। বুখারীতে আবূ সাঈ‘দ-এর হাদীসে আছে, অতঃপর তার কাছে যখন মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার সন্তানদেরকে বলল, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলল, ভাল পিতা। সে বলল, শেষ পর্যন্ত।

(إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ) এটা মুসলিমে আছে আর বুখারীতে আছে, فأحرقوه অর্থাৎ- الإحراق থেকে। এখানে বাচনভঙ্গির দাবী এভাবে বলা, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে দিবে। তবে মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এভাবে বলা হয়েছে।

(نِصْفَه فِى الْبَرِّ وَنِصْفَه فِى الْبَحْرِ) এবং বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসের বানী ইসরাঈলের আলোচনার শুরুতে আছে, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করবে এবং তাতে আগুন জ্বালাবে এমনকি আগুন যখন আমার গোশতকে খেয়ে নিবে, আমার হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, অতঃপর তা জ্বলে উঠবে তখন তোমারা তা নিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে এরপর এক বাতাসযুক্ত দিনের অপেক্ষা করবে (অর্থাৎ- প্রবল বায়ুর) অতঃপর তা দরিয়াতে নিক্ষেপ করবে। (আল হাদীস) আর রিকাক অধ্যায়ে আবূ সাঈ‘দ-এর হাদীসেও আছে, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে দিবে এমনকি যখন আমি কয়লাতে পরিণত হব তখন আমাকে তোমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। রাবীর সন্দেহ এক্ষেত্রে লোকটি فاسحقونى অথবা فاسهكونى বলেছে।

অতঃপর যখন প্রবল বায়ু প্রবাহের দিন হবে তখন তোমরা তা তাতে নিক্ষেপ করবে এভাবে লোকটি তার সন্তানদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করল। বাজী বলেন, এটা দু’ভাবে হতে পারে। দু’টির একটি হল, আল্লাহর ধরা থেকে সে মুক্তি পাবে না। এ বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পলায়নের মাধ্যমে যেমন ব্যক্তি সিংহের সামনে থেকে পলায়ন করে এ বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও যে, সে দৌড়িয়ে সিংহ থেকে পলায়ন করতে পারবে না তবে সে এটা তার চূড়ান্ত সম্ভব অনুযায়ী করে থাকে।

দ্বিতীয়টি হল, এটা স্রষ্টার ভয়ে করে থাকে এবং বিনয় ও এ আশায় করে থাকে যে, এটি তার প্রতি রহমাতের কারণ হবে এবং সম্ভবত এটি তার ধর্মে শারী‘আতসম্মত ছিল।

(لَا يُعَذِّبُه أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ) এ হাদীসটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে, কেননা লোকটির কাজ এবং উক্তি পুনরুত্থান ও জীবিত করার উপর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে স্পষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি করছে। আর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করা কুফর। আর লোকটি হাদীসের শেষে বলেছে তোমার ভয়ে এবং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। অথচ কাফির ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না এবং তাকে ক্ষমাও করা হবে না। এখানে হাদীসটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতানৈক্য করা হয়েছে। একমতে বলা হয়েছে, (قدر) শব্দটি তাশদীদ ছাড়া সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী, وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُه অর্থাৎ- ‘‘আর আল্লাহ যার ওপর রিযককে সংকীর্ণ করে দেন’’- (সূরা আত্ ত্বলা-ক ৬৫ : ৭)। অপর বাণী যা এ ধরনের বাণীসমূহের একটি। আর তা হল, অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ যদি তার ওপর সংকীর্ণ অবস্থা করেন এবং কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে হিসাব নেন’’- (সূরা আল আম্বিয়া ২১ : ৮৭)।

একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- যদি আল্লাহ তার ওপর শাস্তি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে قدر শব্দটির راء বর্ণে তাশদীদ ও তাশদীদ ছাড়া উভয়ভাবে পড়া যায়। উভয় ক্ষেত্রে অর্থ এক, অভিন্ন, অর্থাৎ- আল্লাহ যদি তার ওপর শাস্তি ধার্য করেন তাহলে অবশ্যই তাকে শাস্তি দিবেন। তবে এটিও অর্থগতভাবে পূর্বের মতো যা মূলত বাচনভঙ্গির অনুকূল নয়। যদিও এটি আহমাদ-এর চতুর্থ খণ্ড- ৪৪৭ পৃষ্ঠাতে মু‘আবিয়াহ্ বিন হুমায়দাহ্-এর হাদীসে এসেছে এবং ৫ম খণ্ড- ৩-৪ পৃষ্ঠাতে এসেছে, আর তা এভাবে, ‘‘অতঃপর তোমরা বাতাসের মাঝে আমাকে ছেড়ে দিবে যাতে আমি আল্লাহ থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি তাঁর ধরা হতে মুক্তি পেতে পারি।’’ আর অদৃশ্য হওয়ার এ বর্ণনাটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তার উক্তি (لئن قدر الله عليه) তার বাহ্যিকতার উপর প্রমাণ বহন করছে এবং লোকটি তার নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা প্রত্যাহারের উদ্দেশ্য করছে। এ সত্ত্বেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির ক্ষমার ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন।

সুতরাং এমন একটি দিক অবশ্যই থাকা চাই যার মাধ্যমে লোকটি ঈমানদার হওয়ার ব্যাপারে উক্তি করা সম্ভব। অতঃপর একমতে বলা হয়েছে, লোকটির এ ধরনের নাসীহাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সন্তানেরা যদি আমার অংশগুলোকে স্থলে এবং জলে এমনভাবে ছড়িয়ে দেয় যে, তাতে সে অংশগুলো একত্র করার কোন পথ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা থাকবে যে, লোকটি মনে করেছে তখন তাকে একত্র করা অসম্ভব আর ক্ষমতা অসম্ভবতার সাথে সম্পর্ক রাখে না। আর এ কারণেই লোকটি বলেছে যদি আল্লাহ তার ওপর ক্ষমতা খাটান, এতে ক্ষমতা অস্বীকার করা বা ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করা আবশ্যক হচ্ছে না। সুতরাং এ কারণে কাফির হয়ে যাচ্ছে না, অতএব কিভাবে তাকে ক্ষমা করা হবে এ ধরনের কথা বলারও কোন সুযোগ নেই। লোকটি যা অস্বীকার করেছে তা হল সম্ভব বিষয়ের উপর ক্ষমতা। লোকটি অসম্ভব নয় এমন বিষয়কে অসম্ভব মনে করেছে যে ব্যাপারে তার কাছে কোন প্রমাণ সাব্যস্ত হয়নি যে, তা জরুরীভাবে দীনের সম্ভব বিষয়। প্রথমটিকে অস্বীকার করা হয়েছে দ্বিতীয়টিকে না। একমতে বলা হয়েছে, লোকটি ধারণা করেছিল যখন সে এ কাজ করবে তখন তাকে ছেড়ে দেয়া হবে, তাকে জীবিত করা হবে না এবং শাস্তিও দেয়া হবে না। পক্ষান্তরে তার لئن قدر الله এবং فلعلى اضل الله উক্তি উচ্চারণ করার কারণ হল, সে এ ব্যাপারে মূর্খ ছিল। তার ব্যাপারে মতানৈক্য করা হয়েছে এতে কি সে কাফির হয়ে যাবে নাকি হবে না? উত্তর- তার অবস্থান আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারীর বিপরীত।

ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন, লোকটি পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেনি, লোকটি কেবল অজ্ঞ ছিল ফলে সে ধারণা করল তার সাথে যদি এ আচরণ করা হয় তাহলে তাকে জীবিত করা হবে না এবং শাস্তিও দেয়া হবে না। সে কেবল আল্লাহর ভয়ে এটি করেছে- এ স্বীকৃতির মাধ্যমে ব্যক্তির ঈমান প্রকাশ পেয়েছে।

(فَأَمَرَ اللّٰهُ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ) অর্থাৎ- লোকটির অংশসমূহ থেকে। বুখারীর অন্য বর্ণনাতে আছে, অতঃপর আল্লাহ জমিনকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, তুমি তার থেকে যা তোমার মাঝে আছে তা একত্র কর, অতঃপর তাই করলে লোকটি সুপ্রতিষ্ঠিত হল। বুখারীতেই আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে আছে, অতঃপর আল্লাহ বললেন, হও তখনই লোকটির পুড়ে ফেলা অংশগুলো একত্রিত হয়ে মানবে রূপ নিল। হাফেয বলেন, আবূ ‘আওয়ানাহ্-এর সহীহাতে সালমান ফারিসীর হাদীসে আছে, অতঃপর আল্লাহ তাকে বললেন, হও অতঃপর তা চোখের পলকের ন্যায় দ্রুত হয়ে গেল।

(ثُمَّ قَالَ لَه: لِمَ فَعَلْتَ هٰذَا؟) অর্থাৎ- অতঃপর আল্লাহ লোকটিকে বললেন, তুমি এটা কেন করেছ? অর্থাৎ- লোকটি উপদেশবাণী থেকে যা উল্লেখ করেছে তা। অন্য এক বর্ণনাতে আছে, তুমি যা করেছ সে ব্যাপারে কোন জিনিস তোমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছে? (قال من خشيتك رب) বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসে আছে, সে ব্যাপারে একমাত্র তোমার ভয়ই আমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছে। (وانت اعلم) অর্থাৎ- আপনি অধিক জানেন যে, এটা কেবল আপনার ভয়ের জন্যই করেছি।

ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, এটা ঈমানের ব্যাপারে দলীল। কেননা ভয় মু’মিন ছাড়া কারো সৃষ্টি হয় না বরং বিদ্বান ব্যক্তিরই কেবল ভয় সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই ‘আলিমরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে’’- (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ২৮)। যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে না তার দ্বারা আল্লাহকে ভয় করা অসম্ভব। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন : আমি বলব, ভয়-ভীতি ঈমানের আবশ্যকীয়তার অন্তর্ভুক্ত। আর ঐ ব্যক্তি এ কাজ যখন আল্লাহর ভয়ে করেছে, সুতরাং তখন ব্যক্তির ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া আবশ্যক।

(فَغَفَرَ لَه) ‘‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’’ লোকটিকে ক্ষমা করা হয়েছে কেবলমাত্র আল্লাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে ভয় করার কারণে, কেননা ভয় করা সুউচ্চ স্থানের অন্তর্ভুক্ত এবং তা যখন তাওবার চূড়ান্ত স্তরের উপর প্রমাণ বহন করেছে যদিও তা মৃত্যুর আলামাত প্রকাশ পাওয়ার অবস্থায় অর্জন হয়েছে তথাপিও তা সমস্ত গুনাহসমূহ মোচনের কারণে পরিণত হয়েছে এবং সকল গুনাহ ক্ষমা হওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে অংশীস্থাপন করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া অন্য যত গুনাহ আছে তা যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করবেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮)। ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, আল্লাহর ভয় ঈমানের আবশ্যকতার অন্তর্ভুক্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭০-[৭] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী এলো। তখন দেখা গেল, একটি মহিলার বুকের দুধ ঝরে পড়ছে, আর সে শিশু সন্তানের সন্ধানে দৌড়াদৌড়ি করছে। হঠাৎ বন্দীদের মধ্যে একটি শিশু দেখতে পেল। তাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে সে দুধ পান করাল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমাদের কি মনে হয় এ মহিলাটি স্বীয় সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? উত্তরে আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! কক্ষনো না। যদি সে নিক্ষেপ না করার সামর্থ্য রাখে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই এ মহিলার সন্তানের প্রতি মায়া-মমতার চেয়ে বান্দার ওপর আল্লাহ তা’আলার মায়া-মমতা অনেক বেশি। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيٌ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ السَّبْيِ قَدْ تَحَلَّبَ ثديُها تسْعَى إِذا وَجَدَتْ صَبِيًّا فِي السَّبْيِ أَخَذَتْهُ فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا وَأَرْضَعَتْهُ فَقَالَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُرَوْنَ هَذِهِ طَارِحَةً وَلَدَهَا فِي النَّارِ؟» فَقُلْنَا: لَا وَهِيَ تَقْدِرُ عَلَى أَنْ لَا تَطْرَحَهُ فَقَالَ: «لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ هَذِهِ بِوَلَدِها»

وعن عمر بن الخطاب قال: قدم على النبي صلى الله عليه وسلم سبي فاذا امراة من السبي قد تحلب ثديها تسعى اذا وجدت صبيا في السبي اخذته فالصقته ببطنها وارضعته فقال لنا النبي صلى الله عليه وسلم: «اترون هذه طارحة ولدها في النار؟» فقلنا: لا وهي تقدر على ان لا تطرحه فقال: «لله ارحم بعباده من هذه بولدها»

ব্যাখ্যা: (فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ السَّبِىِّ) ‘‘বন্দীদের মাঝে একজন মহিলা দেখা গেল’’। হাফেয মহিলাটির নাম উল্লেখ করেননি।

(قَدْ تَحَلَّبَ ثَدْيُهَا) অর্থাৎ- নিজ সন্তান সঙ্গে না থাকায় দুধের আধিক্যতার কারণে স্তনের দুধ বয়ে যাচ্ছিল। হাফেয বলেন, সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য প্রস্ত্তত।

(تسْعٰى) শব্দটি (السعى) থেকে, অর্থাৎ- মহিলাটি তার সন্তানের অনুসন্ধানে দৌড়ে যাচ্ছিল। এক বর্ণনাতে আছে যা ابتغاء থেকে এসেছে অর্থ, অনুসন্ধান করা। ‘ইয়ায বলেন, তা ধারণা মাত্র আর বুখারীর বর্ণনাতে السعى থেকে যে تسعى এসেছে তা সঠিক। তবে ইমাম নাবাবী (রহঃ) এভাবে পর্যালোচনা করেছেন যে, উভয় বর্ণনাই সঠিক, তাতে কোন সন্দেহ নেই, মোট কথা মহিলা দৌড়াচ্ছিল ও তার সন্তানকে অনুসন্ধান করছিল।

কুরতুবী বলেন, تسعى বর্ণনার উত্তমতা ও স্পষ্টতা কারো কাছে গোপন নয়। তবে تبتغى বর্ণনার একটি বিশেষ দিক আছে, তা হল মহিলাটি তার সন্তানকে অনুসন্ধান করছিল। এখানে কর্ম সম্পর্কে জানা থাকার কারণে তা বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনাকারী ভুল করছে না।

(أَخَذَتْهُ فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا) ‘‘মহিলাটি শিশুকে স্বীয় পেটের সাথে মিলিয়ে নিন’’। হাফেয বলেন, এখান থেকে কোন কিছুকে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। ইসমা‘ঈলী-এর বর্ণনা যা প্রমাণ করছে। আর তার শব্দ হল, মহিলাটি যখন বাচ্চা পেল তখন তাকে নিয়ে দুধ পান করালো। অতঃপর আরেকটি বাচ্চা পেল তাকে ধরে নিজ পেটের সাথে মিলিয়ে নিল। হাদীসটির বাচনভঙ্গি থেকে বুঝা গেল, নিশ্চয়ই মহিলাটি তার শিশুকে হারিয়ে ফেলেছিল এবং স্তনে দুধ জমা হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অতঃপর যখন কোন শিশু পেয়েছিল হালকা হওয়ার জন্য তাকে দুধ পান করিয়েছিল, অতঃপর যখন নিজ সন্তান বাস্তবে পেয়েছিল তখন তাকে জড়িয়ে ধরেছিল এবং সন্তান পাওয়াতে আনন্দের কারণে এবং সন্তানের প্রতি চূড়ান্ত ভালোবাসার কারণে তাকে নিজ পেটের সাথে মিলিয়ে নিয়েছিল।

(وَهِىَ تَقْدِرُ عَلٰى اَنْ لَا تَطْرَحَه) অর্থাৎ- স্বেচ্ছায় কখনো তাকে নিক্ষেপ করবে না। কারী বলেন, এখানে واو বর্ণটি অবস্থা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর একে এখানে ব্যবহারের উপকারিতা হল, মহিলাটি যদি নিরুপায় হয়ে যায় তাহলে সে তার সন্তানকে নিক্ষেপ করবে। তবে আল্লাহ নিরুপায় থেকে পবিত্র, সুতরাং তিনি কখনো তার বান্দাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না।

(لله) এখানে শুরুতে যবর বিশিষ্ট লামটি তাকীদ তথা গুরুত্ব বুঝানের জন্য এসেছে, ইসমাঈলী বর্ণনাতে কসম দ্বারা আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তাতে আছে, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আল্লাহ আরো দয়ালু ..... শেষ পর্যন্ত। (بعباده من هذه بوالدها) অর্থাৎ- মু’মিনদের প্রতি অথবা মুত্বলাকভাবে সকলের প্রতি। হাফেয বলেন, এখানে العباد দ্বারা যেন ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য যে ইসলামের উপর মারা গেছে। ইমাম আহমাদ, হাকিম সহীহ সানাদে আনাস থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা এই, আনাস  বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একটি দল এবং পথে একটি শিশুর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর মা যখন সম্প্রদায়কে দেখলেন তখন তার সন্তানের ব্যাপারে তিনি আশংকা করলেন অথবা সম্প্রদায়ে মাড়ানোর ব্যাপারে তিনি আশংকা করে দৌড়ে সামনের দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আমার ছেলে! হে আমার ছেলে! এ বলে মহিলাটি দৌড়াল এবং সন্তানকে ধরল। এরপর সম্প্রদায় বলল, হে আমার রসূল! এ মা এমন নয় যে, সে তার ছেলেটিকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহও তার বন্ধুকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না। ‘বন্ধু’ শব্দ দ্বারা বিশ্লেষণ করাতে কাফির ব্যক্তি বেরিয়ে যাবে, এভাবে কাবীরাহ্ গুনাহে জড়িত হওয়ার পর তাওবাহ্ করেনি এমন ব্যক্তি থেকে যাদেরকে আল্লাহ জাহান্নামে প্রবেশ করানোর ইচ্ছা করেন। শায়খ আবূ মুহাম্মাদ আবূ হামযাহ্ বলেন, العباد শব্দটি ব্যাপক এবং এর অর্থ দ্বারা মু’মিনগণ নির্দিষ্ট। এর সমর্থনে আল্লাহর বাণীঃ অর্থাৎ- ‘‘আর আমার দয়া প্রতিটি জিনিসকে পরিব্যাপৃত করে নিয়েছে অচিরেই আমি সে দয়া ঐ সকল লোকদের জন্য লিখে রাখব যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে।’’ (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ১৫৬)

অতএব রহমাতটি কার্যকারিতার দিক থেকে ব্যাপক, কিন্তু যার জন্য লিখা হয়েছে তার জন্য নির্দিষ্ট। অতঃপর ইবনু আবূ হামযাহ্ উল্লেখ করেন এ বাণী, অর্থাৎ- রহমাতের ব্যাপকতার সম্ভাবনা প্রাণীকুলের মাঝেও বিরাজ করছে। এ মতটিকে ‘আয়নী প্রাধান্য দিয়েছেন যেমন তিনি বলেন, স্পষ্ট যে, রহমাত ঐ ব্যক্তির জন্য ব্যাপক যার হুকুম গত হয়ে গেছে। রহমাতের একটি অংশ যে কোন বান্দার জন্য এমনকি প্রাণীকুলের জন্য। আর তা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর এ হাদীস অনুযায়ী (وانزل فى الأرض جزءا واحدا الخ) অর্থাৎ- আর রহমাত থেকে একটি অংশ জমিনের মাঝে অবতীর্ণ করেছেন আর ঐ অংশের সৃষ্টিজীব একে অপরের প্রতি দয়া করে থাকে।

ইবনু আবূ হামযাহ্ বলেন, হাদীসটিতে এমন বিষয়ের মাধ্যমে উদাহরণ দেয়া হয়েছে, মূলত ঐ জিনিসের যথার্থ পরিচিতির জন্য ঐ উদাহরণ দ্বারা বুঝা যায় না। আর উদাহরণটি যার জন্য পেশ করা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে আয়ত্ব করা যায় না। কেননা আল্লাহর রহমাত জ্ঞান দ্বারা অনুভব করা যায় না। এ সত্ত্বেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখিত মহিলার অবস্থার মাধ্যমে শ্রোতা ব্যক্তিদের উপমাটি পেশ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭১-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ’আমল (’ইবাদাত-বন্দেগী) মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেও না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকেও নয়। অবশ্য যদি আল্লাহ তা’আলা তাঁর রহমত দিয়ে আমাকে ঢেকে নেন। তবুও তোমরা সঠিকভাবে ’আমল করতে থাকবে ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতে কিছু ’আমল করবে। সাবধান! তোমরা (’ইবাদাতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। তাতে তোমরা তোমাদের মঞ্জীলে মাকসূদে পৌঁছে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يُنْجِيَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ» قَالُوا: وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِرَحْمَتِهِ فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا واغْدُوا وروحوا وشيءٌ من الدُّلْجَةِ والقَصدَ القصدَ تبلغوا»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لن ينجي احدا منكم عمله» قالوا: ولا انت يا رسول الله؟ قال: «ولا انا الا ان يتغمدني الله منه برحمته فسددوا وقاربوا واغدوا وروحوا وشيء من الدلجة والقصد القصد تبلغوا»

ব্যাখ্যা: (لَنْ يُنْجِىَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُه) আবূ দাঊদ আত্ ত্বয়ালিসী এর বর্ণনাতে আছে, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে, তার ‘আমল তাকে মুক্তি দিবে। বুখারী ও মুসলিম উভয়ের বর্ণনাতে আছে, তোমাদের কারো ‘আমল কখনো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। মুসলিমের বর্ণনাতে আছে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, তার ‘আমল তাকে মুক্তি দিবে। মুসলিমের অন্য বর্ণনাতে আছে, তোমাদের কেউ কখনো তার বিদ্যার মাধ্যমে মুক্তি পাবে না। এ হাদীস এবং অনুরূপ হাদীস আল্লাহর وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِيْ أُورِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ [অর্থাৎ- ‘‘আর ঐ জান্নাত যার উত্তরাধিকারী তোমাদেরকে করা হয়েছে তা তোমাদের কর্মের বিনিময়ে’’- (সূরা আয্ যুখরুফ ৪৩ : ৭২)] এ বাণীর কারণে জটিলতা সৃষ্টি করছে। এর উত্তরে বলা হয়েছে, আয়াতটি ঐ ব্যাপারে উৎসাহিত করছে যে, জান্নাতের মাঝে স্তরসমূহ ‘আমলের বিনিময়ে অর্জন করা হবে। কেননা ‘আমলের বিভিন্নতা অনুযায়ী জান্নাতের স্তরসমূহও বিভিন্ন হয়ে থাকে। হাদীসটি জান্নাতে প্রবেশের মৌলিকতা এবং তাতে স্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করছে। অতঃপর যদি কেউ বলে নিশ্চয়ই আল্লাহর [অর্থাৎ- ‘‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ণিত হোক, তোমরা যে ‘আমল করতে তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ কর’’- (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ৩২)] এ বাণীটি ঐ ব্যাপারে স্পষ্ট যে, জান্নাতে প্রবেশ করাও ‘আমলের মাধ্যমে সাব্যস্ত। উত্তরে বলা হবে আল্লাহর বাণীটি সংক্ষিপ্ত হাদীস তাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। ‘উহ্য’ বাক্যটি এভাবে হবে, তোমরা তোমাদের ‘আমলের মাধ্যমে জান্নাতের স্তরসমূহে ও তার প্রাসাদসমূহে প্রবেশ কর, এর দ্বারা প্রবেশের মৌলিকতা উদ্দেশ্য নয়। হাদীসটি আয়াতের তাফসীরকারী হওয়াও সম্ভব। ‘উহ্য’ বাক্য হল, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর রহমাতে ও তোমাদের প্রতি আল্লাহর কৃপার দরুন তোমাদের কর্মের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। কেননা জান্নাতের স্তরসমূহের বিভক্তি তার রহমাত অনুসারে। এভাবে জান্নাতে প্রবেশের মৌলিকতাও তাঁর রহমাত অনুসারে যেমন আল্লাহর বাণী ‘আমলকারীদেরকে উৎসাহিত করেছে, যার কারণে তারা তা অর্জন করেছে এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর পুরস্কারসমূহ থেকে কোন কিছু তাঁর রহমাত ও কৃপা মুক্ত নয়। শুরুতেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের সৃষ্টি করার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, অতঃপর তাদেরকে রিযক দেয়ার মাধ্যমে, এরপর তাদেরকে জ্ঞান দান করার মাধ্যমে। এটি হল হাদীসদ্বয় এবং অধ্যায়ের হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধনে ইবনু বাত্ত্বাল-এর কথার সারাংশ।

কাযী ‘ইয়ায বলেন, সমন্বয়ের দিক হল নিশ্চয়ই হাদীসটি আয়াতের মাঝে যা সংক্ষেপিত তার ব্যাখ্যা করেছে। আর নিশ্চয়ই ‘আমলের তাওফীক পাওয়া, আনুগত্যের দিক নির্দেশনা পাওয়া আল্লাহর রহমাতের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রতিটি ক্ষেত্রকে ‘আমলকারী তার ‘আমলের মাধ্যমে লাভ করতে পারেনি।

ইবনুল জাওযী বলেন, এ থেকে চারটি উত্তর অর্জন হচ্ছে।

প্রথমত ‘আমল করার তাওফীক লাভ আল্লাহর রহমাতের অন্তর্ভুক্ত। যদি আল্লাহর পূর্বোক্ত রহমাত না থাকত তাহলে ঈমান এবং ঐ আনুগত্য অর্জন হত না যার মাধ্যমে মুক্তি অর্জন হয়।

দ্বিতীয়ত নিশ্চয়ই মুনীবের প্রতি বান্দার কল্যাণ হচ্ছে, বান্দার ‘আমল তার মুনীবকে লাভ করবে। সুতরাং তিনি প্রতিদানের মাধ্যমে বান্দার ওপর যাই নিয়ামত দান করেছেন তা তাঁর অনুগ্রহের আওতাভুক্ত।

তৃতীয়ত কতিপয় হাদীসে এসেছে, খোদ জান্নাতে প্রবেশ আল্লাহর রহমাতের মাধ্যমে এবং জান্নাতের স্তরসমূহের বিন্যাস ‘আমলসমূহের মাধ্যমে।

চতুর্থত নিশ্চয়ই আনুগত্যের ‘আমলসমূহ অল্প সময়, পক্ষান্তরে তার পুণ্য শেষ হওয়ার নয়। সুতরাং ঐ পুরস্কার যা বদলার ক্ষেত্রে শেষ হওয়ার না, তা ‘আমলের মুকাবালাতে কৃপাপ্রদর্শনের ক্ষেত্রেও শেষ হওয়ার না।

কিরমানী বলেন,بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ আল্লাহর এ বাণীতে الباء অক্ষর কারণসূচক অর্থ বর্ণনার জন্য নয়, বরং সাথে অথবা সাথী অর্থ বুঝানোর জন্য, অর্থাৎ- তোমাদেরকে যে জান্নাতের অধিকারী করা হয়েছে সঙ্গ বা ঘনিষ্ঠতা স্বরূপ। অথবা মুকাবালার জন্য ব্যবহৃত। যেমন দিরহামের বিনিময়ে আমি বকরী দান করেছি এবং এ শেষটির ব্যাপারে শায়খ জামালুদ্দীন বিন হিশাম আল মুগনী গ্রন্থে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। অতঃপর তিনি ১ম খণ্ডে ৯৭ পৃষ্ঠাতে বলেন, الباء অক্ষর মুকাবালার জন্য ব্যবহার আর তা বিনিময়সমূহের উপর প্রবেশ করে যেমন (اشتريته بألف) অর্থাৎ- আমি তা এক হাজার এর বিনিময়ে ক্রয় করেছি এবং (كا فأت احسانه بضعف) অর্থাৎ- আমি তার ইহসানের বিনিময় বহুগুণে দিয়েছি। ‘আরবদের এ কথার সমর্থনে কুরআনের আয়াত ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ অর্থাৎ- ‘‘তোমরা যা করতে তার বিনিময় স্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ কর’’- (সূরা আন্ নাহ্ল ১৬ : ৩২)। আমরা এ الباء অক্ষরকে কারণসূচক الباء হিসেবে সাব্যস্ত করিনি, যেমন মু‘তাযিলাহ্ সম্প্রদায় বলেছে (কেননা তারা বলে থাকে সৎ ‘আমল জান্নাতকে ওয়াজিব করার কারণ) যেমন সকল আহলুস্ সুন্নাহগণ বলে থাকেন কেউ কখনো তার ‘আমলের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, কেননা দাতা কখনো বদলার ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও কিছু দিয়ে থাকে যা السبب এর বিপরীত যা السبب তথা কারণ ছাড়া পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, باء এর দু’টি সম্ভাবনাময় অর্থের মতানৈক্যের কারণে দলীলসমূহের মাঝে সমন্বয় সাধনকরণে হাদীস ও আয়াতের মাঝে কোন বিরোধ নেই।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, এ ব্যাপারে ইবনুল কইয়্যিম পূর্বেই মত ব্যক্ত করেছেন। যেমন হাফেয বলেন, (مفتاح دار السعادة) কিতাব থেকে তার আলোচনা বর্ণনা করা হয়েছে।

হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, আয়াত এবং হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধনে আমার কাছে আরেকটি দিক স্পষ্ট হচ্ছে আর তা হল হাদীসটিকে ঐ দিকে চাপিয়ে দেয়া যে ‘আমল, যেহেতু সেটা এমন ‘আমল যা জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘আমলকারীর কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তা গ্রহণযোগ্য ‘আমল না হবে। আর তা যখন এমনই তখন গ্রহণের বিষয় আল্লাহর কাছে ন্যস্ত। আর তা কেবল আল্লাহ যার থেকে ‘আমল গ্রহণ করবেন তার জন্য আল্লাহর রহমাতের মাধ্যমে অর্জন হবে।

এ উত্তরটির সারাংশ হল, হাদীসটিতে গ্রহণযোগ্যতা মুক্ত ‘আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে পক্ষান্তরে আয়াতে গ্রহণযোগ্য ‘আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। আর ‘আমলের গ্রহযোগ্যতা কেবল আল্লাহর তরফ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ হয়ে থাকে।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ আয়াতসমূহের অর্থ হল জান্নাতে প্রবেশ ‘আমলসমূহের কারণে। আয়াতসমূহ ও হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধন এভাবে যে, ‘আমলসমূহের ক্ষেত্রে ‘আমল করার তাওফীক লাভ, নিষ্ঠার প্রতি দিক নির্দেশনা এবং ‘আমলসমূহের গ্রহণযোগ্যতা কেবল আল্লাহর রহমাত ও করুণাস্বরূপ। সুতরাং এ কথা বিশুদ্ধ যে, শুধুমাত্র ‘আমলসমূহের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না এটিই হাদীসের উদ্দেশ্য এবং এ কথাও বিশুদ্ধ যে ব্যক্তি ‘আমলসমূহের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর তাও আল্লাহর রহমাতের অন্তর্ভুক্ত। তবে শেষ মতটিকে কিরমানী প্রত্যাখ্যান করেছেন কেননা তা স্পষ্ট বিরোধী।

তুরবিশতী বলেন, এ হাদীস থেকে ‘আমল করাকে নিষেধ করা এবং ‘আমলের বিষয়কে শিথিলভাবে দেখা উদ্দেশ্য নয়। বরং বান্দাদেরকে ঐ ব্যাপারে অবহিত করা যে, ‘আমল কেবল আল্লাহর রহমাত ও তার কৃপার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে আর এটা এ কারণে যে, যাতে তারা ‘আমলের ব্যাপারে ধোঁকা খেয়ে ‘আমলের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। কেননা মানুষ স্পষ্ট উদাসীনতা ও বিপদের সম্মুখীন হয়ে ভুলে যায়। তার পক্ষে অসৎ উদ্দেশ্য, বিশৃঙ্খলা নিয়্যাত, সূক্ষ্ম প্রবৃত্তি বা লোক দেখানো ‘আমলের ময়লা থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ কমই হয়ে থাকে। অতঃপর যদি তার ‘আমল সমস্ত কিছুর ময়লা থেকে নিরাপদও হয় তথাপিও তা আল্লাহর রহমাতের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। কেননা বান্দার ‘আমলসমূহ থেকে সর্বাধিক আশাপূর্ণ ‘আমল আল্লাহর নিয়ামতসমূহ থেকে নিয়ামতস্বরূপ সর্বনিম্ন কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে পূর্ণ হয় না। সুতরাং যে ‘আমলের সে দিক-নির্দেশনাই পায়নি আল্লাহর রহমাত ছাড়া সে ‘আমলের মাধ্যমে তার সাহায্য প্রার্থনা করা কি সম্ভব?

ইমাম ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ- শাস্তি থেকে মুক্তি এবং পুণ্যের মাধ্যমে সফল হওয়া আল্লাহর কৃপা ও রহমাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ‘আমল আবশ্যকীয়ভাবে এগুলোতে কোন প্রভাব ফেলে না। বরং এর চূড়ান্ত পর্যায় হল ‘আমলকারীর উপর করুণাপ্রদর্শন ও রহমাতকে তার নিকটবর্তী করার বিবেচনা করা হয়। আর এজন্যই (فسددوا الخ) অর্থাৎ- ‘‘তোমরা সঠিক পন্থা অবলম্বন কর’’ এ কথা বলেছেন।

সাহাবীদেরকে সম্বোধন করা হলেও এর উদ্দেশ্য আদম সন্তানের দল। মাযুরী বলেন, আহলুস্ সুন্নাহর মত হল, যে আল্লাহর আনুগত্য করবে আল্লাহ অনুগ্রহের মাধ্যমে তাকে সাওয়াব দান করবেন, পক্ষান্তরে যে তার অবাধ্য হবে তিনি ন্যায় ইনসাফস্বরূপ তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। আর আনুগত্যশীলকে শাস্তি দেয়া এবং অবাধ্যের প্রতি অনুগ্রহ করার ক্ষমতা আল্লাহর আছে। কেননা সমগ্র বিশ্বে তার মালিকত্বে, ইহকাল এবং পরকাল তাঁর কর্তৃত্বের মাঝে, উভয় জগতে তিনি যা ইচ্ছা করতে পারেন, সুতরাং তিনি যদি আনুগত্যশীলদেরকে শাস্তি দেন এবং তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করান তাহলে সেটা তার তরফ থেকে ইনসাফস্বরূপ হবে। পক্ষান্তরে যখন তিনি তাদেরকে সম্মানিত করবেন তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তখন তা তার তরফ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ হবে। আর যদি তিনি কাফিরদেরকে অনুগ্রহ করেন এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান তাহলে তাঁর সে অধিকার আছে তবে তিনি সংবাদ দিয়েছেন আর তার সংবাদ সত্য যাতে কোন বৈপরীত্য নেই যে, তিনি এটা করবেন না বরং তিনি মু’মিনদেরকে ক্ষমা করবেন এবং তাদেরকে নিজ রহমাতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং কাফিরদেরকে শাস্তি দিবেন এবং তাঁর তরফ থেকে ইনসাফস্বরূপ তাদেরকে জাহান্নামে স্থায়ী করবেন।

এ হাদীসটি মু‘তাযিলাহ্ সম্প্রদায়ের কথাকে প্রত্যাখ্যান করছে। যেমন তারা বিবেকের মাধ্যমে বদলা সাব্যস্ত করে থাকে, ‘আমলসমূহের পুণ্য আবশ্যক করে থাকে, সঠিকতর দিককে আবশ্যক করে থাকে, এ ব্যাপারে তাদের অনেক অপ্রকৃতিস্থতা ও দীর্ঘ ব্যাখ্যা আছে।

(وَلَا أَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ؟) অর্থাৎ- মহাসম্মান থাকা সত্ত্বেও আপনার ‘আমল আপনাকে মুক্তি দিবে না। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, এক লোক বলল আপনাকেও না হে আল্লাহর রসূল? কিরমানী বলেন, যখন প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর রহমাতে আচ্ছাদিত হওয়া ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না তখন আলোচনাতে রসূলকে খাস করার কারণ হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে প্রবেশ করবেন- এ বিষয়টি যখন অকাট্য হওয়ার পরও তিনি যদি আল্লাহর রহমাত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করতে না পারেন তাহলে তিনি ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরো জটিল হওয়াই স্বাভাবিক। রাফি‘ঈ বলেন, আনুগত্যের ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পারিশ্রমিক যেমন বড়, ‘ইবাদাতে তার ‘আমল যেমন সঠিক তখন এদিকে দৃষ্টি দিয়েই বলা হয়েছে, আপনিও নন হে আল্লাহর রসূল? অর্থাৎ- মহামর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আপনার ‘আমলও কি আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (ولا انا) আমিও না। কথাটি (ولا انت) তথা আপনিও না কথাটির অনুকূল। অর্থাৎ- যাকে তার ‘আমল মুক্তি দিবে আমি তার অন্তর্ভুক্ত না। মুসলিমে এক বর্ণনাতে এ বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত দেয়া আছে, যেমন- قال و لا إياى অর্থাৎ- তিনি বলেন, আমাকেও না।

(إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِى اللّٰهُ) অর্থাৎ- তবে আল্লাহ যদি আমাকে আচ্ছাদিত করে নেন। মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, الا ان يتداركنى অর্থাৎ- তবে তিনি যদি আমাকে সংশোধন করে নেন।

(مِنْهُ بِرَحْمَتِه) উভয়ের বর্ণনাতে আছে, بفضل ورحمته তথা তাঁর কৃপা ও তাঁর দয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ- তাঁর দয়া ও তাঁর ক্ষমার মাধ্যমে কথা বলা আছে। আবূ ‘উবায়দ বলেন, التغمد দ্বারা আচ্ছাদিত করা উদ্দেশ্য। আমি মনে করি এটি غمد السيف তথা তরবারিকে আচ্ছাদিত করা- এ কথা থেকে এসেছে।

কারী বলেন, التغمد এর অর্থ আড়াল করা, অর্থাৎ- তিনি আমাকে তার রহমাত দিয়ে আড়াল করবেন এবং আমাকে ঐভাবে সংরক্ষণ করবেন যেভাবে তরবারিকে কোষ বা খাপ দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়।

শায়খ দেহলবী বলেন, পৃথকীকরণ এর অর্থ হল, আমার ‘আমল আমাকে মুক্তি দিতে পারবে না তবে আল্লাহ যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন আমার ‘আমল আমাকে মুক্তি এবং আমার মুক্তির ক্ষেত্রে তা কারণ হতে পারবে, ‘আমল ছাড়া তখন কোন কিছু মুক্তির কারণ হতে পারবে না। কেননা প্রকৃতপক্ষে ‘আমল মুক্তিলাভকে আবশ্যক করে দেয়ার মতো কোন কারণ না।

(فَسَدِّدُوْا) উক্তি দ্বারা তিনি ‘আমলের ইতিবাচকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, অর্থাৎ- তোমরা বিষয়টির সঠিক দিক অবলম্বন কর। আর এটিই হল ‘আরবদের (سدد السهم اذا تحرى الهدف) যখন লক্ষ্যস্থলের ইচ্ছা করল তখন তিরটিকে সোজা করল বা ঠিক করল- এ উক্তির দিক থেকে সঠিক। অর্থাৎ- তোমরা কাজ সম্পাদন কর এবং সঠিক দিক অনুসন্ধান কর এবং ‘আমলে বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা প্রদর্শন না করে মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর। সুতরাং বেশিও করবে না ও কমও করবে না। মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, ولكن سددوا অর্থাৎ- তবে সঠিক দিক অবলম্বন কর। হাফেয বলেন, এ استدراك এর অর্থ হল, উল্লেখিত নেতিবাচক থেকে ‘আমলের উপকারিতার নেতিবাচক বুঝা যায়, অতঃপর যেন বলা হয়েছে বরং ‘আমলের উপকারিতা আছে আর তা হল, নিশ্চয়ই ‘আমল রহমাতের অস্তিত্বের ব্যাপারে আলামাত বা চিহ্ন যা ‘আমলকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। সুতরাং তোমরা ‘আমল কর এবং তোমাদের ‘আমলের মাধ্যমে সঠিকতা উদ্দেশ্য কর আর তা হল নিষ্ঠা ও সুন্নাতের অনুসরণ যাতে তোমাদের ‘আমল গ্রহণ করা হয় এবং তোমাদের ওপর রহমাত বর্ষণ করা হয়।

(وقاربوا) অর্থাৎ- তোমরা নৈকট্য অনুসন্ধান কর। আর তা হল কোন বিষয়ে মধ্যম পন্থাবলম্বন কর যাতে কোন বাড়াবাড়ি নেই, ঘাতটিও নেই। একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- তোমরা যদি কোন বিষয়কে পূর্ণাঙ্গভাবে অবলম্বন করতে সক্ষম না হও তাহলে পূর্ণাঙ্গের যা কাছাকাছি সে অনুপাতে ‘আমল কর। অর্থাৎ- তোমরা সোজাভাবে ‘আমল কর, অতঃপর যদি তোমরা তা করতে অক্ষম হয়ে যাও তাহলে তোমরা তার কাছাকাছি ‘আমল কর। হাফেয বলেন, তোমরা বাড়াবাড়ি করবে না, করলে তোমরা নিজেদেরকে ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে কষ্টে পতিত করবে। এটা এ কারণে যে, যাতে এ পরিস্থিতি তোমাদেরকে বিরক্তির দিকে ধাবমান না করে, পরিশেষে যা তোমাদের ‘আমল বর্জন ও বাড়াবাড়ি করার কারণ হয়।

(وَرُوْحُوْا) উল্লেখিত ক্রিয়াটি الروح থেকে এসেছে। আর তা দিনের দ্বিতীয় অর্ধেকের শুরু অংশে চলা। জাযারী বলেনঃ الغدو শব্দের অর্থ সকাল সকাল বের হওয়া আর الروح শব্দের অর্থ বিকাল বেলাতে প্রত্যাবর্তন করা। উদ্দেশ্য দিনের অংশসমূহে সময়ে সময়ে তোমরা ‘আমল কর।

(وَشَىْءٌ مِنَ الدُّلْجَةِ) অর্থাৎ- রাতে চলা, উদ্দেশ্য রাতে ‘আমল করা। এখানে রাতর কিছু সময় বলা হয়েছে তার কারণ হল, সমস্ত রাত চলাচল কঠিন। অতএব এতে সমস্তকে বাদ দিয়ে স্বল্পতার দিকে এবং সহানুভূতির উপর উৎসাহ প্রদানের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। হাদীসটিতে شيئ-কে লক্ষ্য করে কথা বলা হয়েছে আর তার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা গোপন আছে, অর্থাৎ- তোমরা তাতে ‘আমল কর অথবা তাতে তোমাদের ‘আমলকে উদ্দেশ্য করা হয়। কারো মতে গোপনীয় অংশটুকু হল ‘তবে রাতের কিছু অংশে’। একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- তোমরা সকাল সন্ধায় ‘আমল কর এবং রাত্রের কিছু অংশে অথবা অর্থটি এমন হবে ‘তোমরা রাতের কিছু অংশের মাধ্যমে সাহায্য নাও’।

(والقَصْدَ الْقَصْدَ) অর্থাৎ- তোমরা সমতাপূর্ণ মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর। জাযারী বলেন, তোমরা কাজে ও কথায় সমতাপূর্ণ মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর।

(تَبْلُغُوْا) অর্থাৎ- তোমরা ঐ স্তরে পৌঁছতে পারবে যা তোমাদের লক্ষ্য। হাদীসে ‘ইবাদাতকারীকে মুসাফির তথা ভ্রমণকারীদের সাথে সাদৃশ্য দেয়ার কারণ হল ‘ইবাদাতকারী ভ্রমণকারীর ন্যায় তার অবস্থানস্থলের দিকে ভ্রমণকারী। আর তা হল জান্নাত। যেন তিনি বলেছেন তোমরা ভ্রমণের মাধ্যমে সমস্ত সময়কে আয়ত্ত করিও না। বরং তোমরা প্রাণবন্ততার সময়সমূহকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাও। আর তা হল দিনের শুরু, শেষ ও রাত্রের কিছু অংশ এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে তাতে তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রতি রহম কর যাতে করে তা ‘ইবাদাত ছেড়ে দিয়ে ‘ইবাদাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণ না হয়। মহান আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘তোমরা দিনের দু’প্রান্তে এবং রাতের একটি অংশে সালাত প্রতিষ্ঠা কর’’- (সূরা হূদ ১১ : ১১৪)।

ইমাম ত্বীবী বলেন, প্রথমে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই ‘আমল আবশ্যকীয়ভাবে কাউকে মুক্তি দেয় না, এ বর্ণনার কারণ যাতে মানুষ ‘আমলের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। শেষে ‘আমল করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে যাতে করে মানুষ ‘আমলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি সমান, এর উপর ভিত্তি করে বাড়াবাড়ি না করে। বরং মুক্তির ক্ষেত্রে ‘আমল সর্বনিম্ন কার্যকরী হিসেবে গণ্য; যদিও তা মুক্তির পথ আবশ্যক না করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭২-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ’আমল (’ইবাদাত-বন্দেগী) জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না এবং তাকে জাহান্নাম হতেও মুক্তি দিতে পারবে না, এমনকি আল্লাহর রহমত ছাড়া আমাকেও নয়। (মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُدْخِلُ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُهُ الْجَنَّةَ وَلَا يُجِيرُهُ مِنَ النَّارِ وَلَا أَنا إِلا برحمةِ الله» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يدخل احدا منكم عمله الجنة ولا يجيره من النار ولا انا الا برحمة الله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (إِلَّا بِرَحْمَةِ اللهِ) অর্থাৎ- আল্লাহর রহমাতজনিত ‘আমল ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না। অতএব পৃথককৃত অংশটুকু যার থেকে পৃথক করা হয়েছে তার জাতেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব জান্নাতে প্রবেশ করা কেবল কৃপার মাধ্যমেই সাব্যস্ত। আর জান্নাতের স্তরসমূহ ইনসাফের দাবী অনুযায়ী ‘আমলকারীর ‘আমল অনুপাতে সাব্যস্ত। ইমাম আহমাদ একে তাঁর কিতাবের ৩য় খণ্ড-র ৩৩৭ পৃষ্ঠাতে জাবির থেকে আবূ সুফ্ইয়ান কর্তৃক সানাদে (قاربواو سددوا فإنه ليس احدكم ينجيه عمله، قالوا ولا اياك يا رسول الله، قال ولا اياى الا ان يتغمدنى الله برحمة) অর্থাৎ- ‘‘তোমরা ‘আমলে মধ্যম পন্থা ও সোজা পন্থা অবলম্বন কর, কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই যে, তার ‘আমল তাকে মুক্তি দিতে পারে। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেও না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকেও না তবে আল্লাহ যদি তাঁর রহমাতের মাধ্যমে আমাকে আচ্ছাদিত করে নেয় তবে আলাদা কথা।’’ এ শব্দের মাধ্যমে সংকলন করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৩-[১০] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন ইসলাম কবূল করে, তার ইসলাম খাঁটি হয়। (ইসলাম গ্রহণের কারণে) তার প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেন। অতঃপর তার এক একটি নেক কাজের তার দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং অনেক গুণ পর্যন্ত লেখা হয়। আর পাপ কাজের জন্য একগুণ মাত্র। তবে আল্লাহ যাকে (ইচ্ছা) এ পাপ কাজকে ছেড়ে যান। (বুখারী)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَسْلَمَ الْعَبْدُ فَحَسُنَ إِسْلَامُهُ يُكَفِّرُ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ سَيِّئَةٍ كَانَ زَلَفَهَا وَكَانَ بَعْدَ الْقِصَاصِ: الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَالسَّيِّئَةُ بِمِثْلِهَا إِلَّا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهَا . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا اسلم العبد فحسن اسلامه يكفر الله عنه كل سيىة كان زلفها وكان بعد القصاص: الحسنة بعشر امثالها الى سبعماىة ضعف الى اضعاف كثيرة والسيىة بمثلها الا ان يتجاوز الله عنها . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (إِذَا أَسْلَمَ الْعَبْدُ) ‘‘বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে’’। এ হুকুমের মাঝে পুরুষ এবং মহিলা সকলে শামিল। এখানে প্রাধান্যের দিক বিবেচনায় (الْعَبْدُ) শব্দটিকে পুঃলিঙ্গ শব্দের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

(فَحَسُنَ إِسْلَامُه) এখানে حسن ক্রিয়ার سين বর্ণে পেশ দিয়ে হালকা উচ্চারণে। অর্থাৎ- বাহ্যিক ও গোপন সব মিলে তার ইসলাম উত্তমতায় পরিণত হল। سين বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়াও সম্ভব যাতে তা (اَحْسَنُ اَحَدَكُمْ اِسْلَامِه) এ বর্ণনার অনুকূল হতে পারে। অর্থাৎ- উল্লেখিত বাহ্যিক ও গোপন সব মিলে তার ইসলামকে সুন্দর করল। ‘আয়নী বলেন, ‘ইসলাম সুন্দর হওয়া’ এর উদ্দেশ্য হল, বাহ্যিক ও গোপন সব দিক দিয়ে ইসলামে প্রবেশ করা। কেউ যখন পৃকতপক্ষে ইসলামে প্রবেশ করে তখন শারী‘আতের পরিভাষায় বলা হয় অমুকের ইসলাম সুন্দর হয়েছে। অর্থাৎ- বিশ্বাস ও নিষ্ঠায়, মুনাফিক না হয়ে বাহ্যিক ও গোপনে ইসলামে প্রবেশ করে তার ইসলাম উত্তমতায় পরিণত হয়েছে।

(كُلَّ سَيِّئَةٍ) ‘‘যা সে করেছে’’। অর্থাৎ- সগীরাহ্, কাবীরাহ্ প্রত্যেক গুনাহ।

(كَانَ زَلَفَهَا) খাত্ত্বাবী এবং তিনি ছাড়াও অন্যান্যগণ বলেন, অর্থাৎ- ইসলামের পূর্বে যা করেছে। মুহকাম-এ আছে, أَزْلَفُ الشَّيئ অর্থাৎ- সে তাকে নিকটবর্তী করল। আর তাশদীদ দ্বারা زلفه সে যা আগে করেছে। জামি‘তে আছে, ألزلفه কল্যাণ, অকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। মাশারিক্বে বলেন, زلف তাশদীদবিহীন হালকা উচ্চারণে, অর্থাৎ- সে একত্রিত করল, উপার্জন করল- এটি দু’টি বিষয়কে শামিল করে। পক্ষান্তরে القرية শুধু কল্যাণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

(وَكَانَ بَعْدَ) অর্থাৎ- ভালভাবে ইসলাম গ্রহণের পর অথবা গুনাহসমূহ মোচনের পর। بعد উক্তিটি মিশকাত, মাসাবীহ এর সকল কপিতে এসেছে। আর সহীহাতে যা আছে তা হল, وكان بعد ذلك এভাবে الجامع الصغير এর মাঝে এসেছে।

(الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا) অর্থাৎ- পুণ্যের বদলা তার দশগুণ লেখা হবে। বাক্যটি নুতন যা قصاص এর ব্যাখ্যাস্বরূপ আর (الحسنة) এর মাঝে لام ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য এসেছে যা (كتاب الإيمان) এ বিগত হওয়া আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত ৪৪ নং হাদীসে كل حسنة বাণীর উপর প্রমাণ বহন করছে। (إلى سبع مائة ضعف) অর্থাৎ- সাতশত গুণ পর্যন্ত তার পরিসমাপ্তি। (الى أضعاف كثيرة) অর্থাৎ- আল্লাহর তরফ থেকে তা অনুগ্রহ ও নিয়ামতস্বরূপ বহুগুণে সুবিস্তৃত। (والسيئة بمثلها) ‘‘গুনাহ তার সমপরিমাণ’’, অর্থাৎ- অধিক না করে সমতা ও রহমাতস্বরূপ। যেমন বলেছেন কেবল তার সমপরিমাণ বদলা তাকে দেয়া হবে।

(إِلَّا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللّٰهُ عَنْهَا) অর্থাৎ- তবে আল্লাহ যদি তাওবাহ্ গ্রহণের মাধ্যমে তার পাপ থেকে পাশ কাটিয়ে যান অথবা ক্ষমা করার মাধ্যমে যদিও সে তাওবাহ্ না করে। এতে আহলুস্ সুন্নাহ্’র দলীল আছে যে, বান্দা আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে যদি তিনি চান তাহলে তার পাপরাশিকে পাশ কাটিয়ে চলবেন, আর চাইলে তাকে পাকড়াও করবেন। আর কাবীরাহ্ গুনাহকারীদের জাহান্নামী হওয়ার বিষয় অকাট্যভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যেমন মু‘তাযিলাহ্ সম্প্রদায় মনে করে থাকে। অতঃপর (الى اضعاف كثيرة) এভাবে মিশকাতের সকল কপিতে এসেছে আর তা লেখক অথবা কপি তৈরিকারীর অতিরিক্ত এবং বিনা সন্দেহে তা ভুল, কেননা তা সহীহুল বুখারীতে নেই, সুনানে নাসায়ীতেও তা আসেনি এবং তা জামি‘উস্ সগীর, মাসাবীহ এবং কান্য-এও (১ম খণ্ড ৬০ পৃষ্ঠাতে) তা আসেনি। ইমাম নাসায়ী তাঁর সুনানে কিতাবুল ঈমানে মাওসূলভাবে বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন সুফ্ইয়ান তাঁর মুসনাদে, বাযযার বায়হাক্বী শু‘আবে ও ইসমা‘ঈলীতে। আর তা শব্দ ‘আবদুল্লাহ বিন নাফি‘-এর সানাদে তিনি মালিক থেকে, আর মালিক যায়দ বিন আসলাম থেকে আর তিনি ‘আত্বা বিন ইয়াসার থেকে আর ‘আত্বা আবূ সাঈ‘দ আল খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করবে তখন আল্লাহ তার জন্য প্রত্যেক ঐ পুণ্য কাজ লেখবেন যা সে পূর্বে করেছে এবং তার থেকে প্রত্যেক ঐ গুনাহসমূহ মিটিয়ে দিবেন যা সে পূর্বে করেছে। এরপর যখনই সে ভাল ‘আমল করবে তখন তার সাওয়াব দশগুণ থেকে সাতশত গুণ লিখতে বলা হবে। পক্ষান্তরে পাপের বদলা সে পরিমাণেই লিখতে বলা হবে। তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলে তা আলাদা কথা। দারাকুত্বনী একে ‘মালিকিল গারায়িব’-এ নয়টি সানাদ কর্তৃক বর্ণনা করেছেন।

আর মালিক থেকে তালহা বিন ইয়াহ্ইয়া-এর সানাদে এর শব্দ হল, যে কোন বান্দা ইসলাম গ্রহণ করবে অতঃপর তার ইসলামকে সুন্দর করবে তাহলে আল্লাহ তার প্রত্যেক ঐ পুণ্য লিখবেন যা সে পূর্বে করেছিল এবং তার থেকে প্রত্যেক ঐ গুনাহ মিটিয়ে দিবেন যা সে পূর্বে করেছিল। নাসায়ীতেও অনুরূপ আছে, কিন্তু সেখানে زلف নেই ازلفها আছে যা সকল বর্ণনাতে প্রমাণিত হয়েছে, যা বুখারীর বর্ণনা থেকে পড়ে গিয়েছে। আর তা হল ইসলামের পূর্বে পূর্বোক্ত পুণ্যসমূহের লিখনী। আর তাঁর উক্তি كتب الله অর্থাৎ- আল্লাহ লিখার নির্দেশ দিবেন। দারাকুত্বনীতে মালিক থেকে ইবনু শু‘আয়ব-এর সানাদে আছে, আল্লাহ মালায়িকাহকে (ফেরেশতাকে) (ফেরেশতাগণের উদ্দেশে) বলবেন, তোমরা লিখ।

এক মতে বলা হয়েছে, বুখারী একে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যেরা যা বর্ণনা করেছে তিনি তা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছেন। কেননা তা নীতিমালা অনুযায়ী জটিল। অতঃপর আল মাযিরী বলেন, এরপর কাযী ‘ইয়ায ও অন্যান্যগণ বলেন, কাফির ব্যক্তি কর্তৃক নৈকট্যলাভ বিশুদ্ধ হবে না। সুতরাং শির্কের যুগে তার সৎকাজের উপর ভিত্তি করে তাকে সাওয়াব দেয়া হবে না। কেননা নৈকট্যলাভকারী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হল সে যার নৈকট্য লাভ করে তার সম্পর্কে তার জ্ঞাত থাকা। আর কাফির এ রকম না। সুতরাং তার নৈকট্যলাভ আশা করা যায় না। আর নাবাবী একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতঃপর বলেছেন সঠিক ঐ মতটি যার উপর বিশ্লেষকগণ আছেন। বরং তাদের কতকে নকল করেছেন যাতে সকলের ঐকমত্য আছে যে, কাফির ব্যক্তি যখন আল্লাহর নৈকট্যলাভ করার জন্য সুন্দর কাজ করবে, যেমন- সদাকাহ্ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা, দাস মুক্ত করা ইত্যাদি। অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করবে ও ইসলামের উপর মারা যাবে তখন নিশ্চয়ই তার সাওয়াব তার জন্য লিখা হবে। এর দলীল, নাসায়ী, দারাকুত্বনী ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে আবূ সাঈ‘দ আল খুদরীর হাদীস এবং সহীহায়নে হাকীম ইবনে হিযাম-এর হাদীস, নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রসূলকে বললেন, আপনি কি ঐ বিষয়াবলীর কথা ভেবেছেন? জাহিলী যুগে আমি যে পুণ্য কাজ করতাম, তাতে আমার কি কিছু চাওয়া-পাওয়ার আছে? তখন আল্লাহর রসূল তাকে বললেন, তুমি অতীতে যা পুণ্য কাজ করেছ তার উপরই তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।

কাফির অবস্থাতে ব্যক্তি থেকে যা প্রকাশ পেত যা ব্যক্তি ভাল হিসেবে ধারণা করত তার সাওয়াব ইসলামী যুগে আল্লাহ তার ভাল কাজের দিকে সম্বন্ধ করবেন। এ থেকে বাধাদানকারী কেউ নেই। যেমন সূচনালগ্নেই যদি কোন ‘আমল ছাড়াই তার ওপর অনুগ্রহ করতে পারেন যেমন অপরাগ ব্যক্তির ওপর ঐ সাওয়াবের মাধ্যমে যা সে সুস্থাবস্থায় করত। অতএব ব্যক্তি যা করেনি তার সাওয়াব তার জন্য লিপিবদ্ধ করা যদি সম্ভব হয় তাহলে সে শর্তপূরণ ছাড়াবস্থায় যা করেছে তার সাওয়াব তার জন্য লেখা সম্ভব হবে। আর ইবনু বাত্তাল আবূ সাঈ‘দ-এর (নিজ ইচ্ছানুযায়ী বান্দার ওপর অনুগ্রহ করা আল্লাহর ক্ষমতার অধীন এ ব্যাপারে কারো কোন আপত্তি নেই।) এ হাদীস উল্লেখের পর বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (‘আয়িশাহ্ (রাঃ) যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইবনু জাদ্‘আন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন সে যা কল্যাণকর কাজ করত তা কি তার উপকারে আসবে? এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কোন দিন বলেনি হে আমার প্রভু! তুমি বিচারের দিন আমাকে ক্ষমা করে দিও) এ উক্তির দ্বারা অনেকে দলীল গ্রহণ করেছেন। অতএব এ উক্তিটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, ইবনু জাদ্‘আন যদি ইসলাম গ্রহণের পর কোন দিন বলত, হে আমার প্রভূ! তুমি বিচারের দিন আমার পাপ ক্ষমা করে দিও তাহলে সে কুফরী অবস্থায় যা করেছিল তা তার উপকারে আসত। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, যারা এ ধরনের উক্তি করেনি তারা হাকীম বিন হিযাম-এর হাদীসের কয়েক দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন।

১. (اسلمت على ما اسلفت من خير) এর অর্থ হল, নিশ্চয়ই তুমি তোমার ঐ কাজের মাধ্যমে সুন্দর স্বভাব অর্জন করেছ। ঐ স্বভাব কর্তৃক তুমি উপকৃত হবে। আনুগত্যের কাজে তোমার যে প্রশিক্ষণ লাভ হবে সে কারণে তুমি নতুন চেষ্টার মুখাপেক্ষী হবে না। অতএব তোমার ইসলাম গ্রহণের পর তার কারণে তোমার উপকৃত হওয়ার দ্বারা যে ‘আমলগত হয়েছে সে সম্পর্কে আল্লাহর কৃপা কর্তৃক তোমাকে সাওয়াব দেয়া হবে।

২. তার মাধ্যমে তুমি ইসলামে উত্তম প্রশংসা অর্জন করেছ, সুতরাং তা ইসলামে তোমার ওপর স্থায়ী থাকবে।

৩. নিশ্চয়ই সে ইসলামে যে পুণ্যকর্মগুলো করেছে তাতে সাওয়াব বেশি দেয়া এবং পূর্বে তার যে সমস্ত প্রশংসিত কাজ অতিবাহিত হয়েছে তার সাওয়াব বেশি করে দেয়া অসম্ভব নয়। এটাও এসেছে যে, কাফির ব্যক্তি যখন ভাল কাজ করে ঐ কাজের কারণে তার থেকে শাস্তি হালকা করা হয়। সুতরাং ঐ ভাল কাজের দরুন তার সাওয়াবে বৃদ্ধি করে দেয়া অসম্ভব নয়।

৪. তোমাকে তোমার বিগত হওয়া কল্যাণকর কাজের বারাকাতে ইসলামের দিকে পথপ্রদর্শন করা হয়েছে, কেননা সূচনা শেষের উদাহরণ।

৫. নিশ্চয়ই ঐ কর্মসমূহের কারণেই তোমাকে প্রশস্ত রিযক দান করা হয়েছে।

ইবনুল জাওযী বলেন, একমতে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর থেকে গোপন করেছেন কেননা হাকীম বিন হিযাম তাকে প্রশ্ন করল তাতে কি আমার কোন সাওয়াব আছে? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কল্যাণ থেকে যা অতিবাহিত হয়েছে তুমি তার উপর ইসলাম গ্রহণ করেছ; আর মুক্তি হল কল্যাণকর কাজ এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন উদ্দেশ্য করেছেন, নিশ্চয়ই তুমি ভাল কাজ করেছ আর ভাল কাজের কর্তার প্রশংসা করা হয় এবং দুনিয়াতে তার বদলা দেয়া হয় মুসলিম মারফূ' সূত্রে আনাস-এর হাদীস বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই কাফির ব্যক্তি যে সমস্ত ভাল কাজ করে তার উপর ভিত্তি করে তাকে রিযক্বের মাধ্যমে ইহজীবনে সাওয়াব দেয়া হয়। আর কারো কাছে গোপন না যে ব্যাখ্যাকারীগণ যে সকল উক্তির মাধ্যমে হাকীম বিন হিযাম-এর হাদীসের ব্যাখ্যা করেছে তাতে কৃত্রিমতা আছে, যা বাহ্যিকতার বিপরীত। সুতরাং প্রণিধানযোগ্য বিশ্বস্ত উক্তি হল, ওটা যে উক্তি ইমাম নাবাবীও তার অনুকূলকারীগণ করেছেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৪-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সৎ-অসৎ চিহ্নিত করে রেখেছেন। যে ব্যক্তি সৎ কাজের সংকল্প করে, কিন্তু তা করেনি আল্লাহ তা’আলা তার জন্য একটি পূর্ণ নেকী লিখে নেন। আর যদি সৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবায়ন করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাকে এই একটি সৎ কাজের জন্য দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং বহুগুণ পর্যন্ত সৎ কাজ হিসেবে লিখে রাখেন। আর যে ব্যক্তি অসৎ কাজের সংকল্প করে, কিন্তু বাস্তবে তা না করে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য একে একটি পূর্ণ নেক কাজ হিসেবে লিখে নেন। আর যদি অসৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবে করে, তাহলে আল্লাহ এর জন্য তার একটি মাত্র গুনাহ লিখে রাখেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الحسناتِ والسيِّئاتِ: فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لهُ عندَهُ حَسَنَة كَامِلَة فَإِن هم بعملها كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بسيئة فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِن هُوَ هم بعملها كتبهَا الله لَهُ سَيِّئَة وَاحِدَة

وعن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله كتب الحسنات والسيىات: فمن هم بحسنة فلم يعملها كتبها الله له عنده حسنة كاملة فان هم بعملها كتبها الله له عنده عشر حسنات الى سبعماىة ضعف الى اضعاف كثيرة ومن هم بسيىة فلم يعملها كتبها الله عنده حسنة كاملة فان هو هم بعملها كتبها الله له سيىة واحدة

ব্যাখ্যা: (وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؓ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ) আহমাদ ১ম খণ্ডে ৩১০ পৃষ্ঠাতে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। হাফেয বলেন, আমি এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু ‘আব্বাস-এর শ্রবণ সম্পর্কে স্পষ্টতা কোন সানাদে দেখিনি।

বুখারী, মুসলিম এবং মুসনাদে (فيما يروى عن ربه عزوجل) এভাবে এসেছে। অর্থাৎ- এটি হাদীসে কুদসীর আওতাভুক্ত। অতঃপর এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব থেকে বিনা মধ্যস্থতায় বর্ণনা করেছেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা মালাকের (ফেরেশতার) মধ্যস্থতায় গ্রহণ করেছেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে। হাফেয বলেন, এটিই প্রণিধানযোগ্য। কিরমানী বলেন, এটা মূলত ঐ কথা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য যে, তা হাদীসে কুদসীসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

অথবা যাতে আল্লাহ তা‘আলা পর্যন্ত স্পষ্ট সানাদ আছে তা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য। যেমন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ লিখে রেখেছেন এবং তা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য হতে পারে বলে সম্ভাবনা আছে। তাতে এমন কিছু নেই যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ এমন নন। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী ছাড়া কথা বলতেন না, তিনি যা বলতেন তা তাঁর কাছে ওহী মারফতই অবতীর্ণ হত।

(إِنَّ اللّٰهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئاتِ) বুখারীতে আছে, যা তিনি তার পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান প্রভূ থেকে বর্ণনা করেন নিশ্চয়ই তিনি বলেন, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ লিখে রেখেছেন... শেষ পর্যন্ত। হাফেয বলেন, (ان الله كتب الخ) এটি আল্লাহ তা‘আলার কথা হওয়ার সম্ভাবনা আছে তখন উহ্য বাক্য (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ লিখে রেখেছেন) এরূপ হবে এবং তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যাতে তিনি আল্লাহর কাজ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তখন উহ্য বাক্য (ইবনু ‘আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ লিখে রেখেছেন)। আহমাদ ১ম খণ্ডে ২৭৯ পৃষ্ঠাতে

 عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما روى عن ربه قال : قال رسول الله ان ربكم تبارك وتعالى رحيم من هم بحسنة

অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব থেকে যা বর্ণনা করেন সে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু ‘আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু বারাকাতময়, সুউচ্চ যে পুণ্যের ইচ্ছা করেছে তার প্রতি দয়ালু) এ শব্দে এসেছে। বুখারীতে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)  থেকে

عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : يقول الله عزوجل اذا اراد عبدى ان يعمل

অর্থাৎ- ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি বলেন, পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যখন ‘আমল করার ইচ্ছা করবে’’ এ শব্দে এসেছে। মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যখন ইচ্ছা করবে।

(كتب الخ) অর্থাৎ- ঘটনা অনুপাতে তিনি পাপ ও পুণ্যকে ‘ইল্মে আযালীতে প্রমাণ করে রেখেছেন। অথবা كتب এর অর্থ হল আল্লাহ পাপ ও পুণ্য লাওহে মাহফূযে লিখে রাখার ব্যাপারে মালায়িকাহর (ফেরেশতাগণের) নির্দেশ করেছেন অথবা পুণ্যসমূহ লিখে রেখেছেন, অর্থাৎ- পুণ্যের ব্যাপারটি ফায়সালা করে রেখেছেন, পুণ্য হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছেন। এভাবে পাপের বিষয়টিও পাপ হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছেন। অথবা উভয়কে লিখার মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে পাপ, পুণ্যকে বা তাদের খাতাগুলোকে কিয়ামতের দিন ওযন করা যায়। আর বুখারী, মুসলিমে এবং মুসনাদে ১ম খণ্ডে ৩৬১ পৃষ্ঠাতে এরপরে (ثم بين ذلك) আছে। অর্থাৎ- অতঃপর আল্লাহ তাঁর (كتب الحسنات والسيئات) এ উক্তি যা সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন তা তাঁর (فمن هم) এ উক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।

(فَمَنْ هَمَّ) ত্বীবী বলেন, এখানে الفاء বর্ণটি বিশ্লেষণের জন্য, কেননা كتب الحسنات উক্তিটি অস্পষ্ট এ অংশ থেকে লিখনীর পদ্ধতি জানা যায়নি। আর الهم বলতে কাজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া। সুতরাং هممت بكذا অর্থাৎ- আমি হিম্মাতের সাথে ইচ্ছা করেছি আর তা অন্তরে হঠাৎ কোন কিছু জাগ্রত হয়ে চলে যাওয়ার উপর পর্যায়ের। আর মুসলিমে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (من هم) এসেছে। বুখারীতে তাওহীদ পর্বে اذا اراد এসেছে। পক্ষান্তরে মুসলিমে اذا هم এসেছে। এ শব্দগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। অর্থাৎ- পুণ্য কাজের উপর তার ইচ্ছা দৃঢ় হল। এমন বর্ণনা এসেছে যা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করে যে, সাধারণ ইচ্ছা যথেষ্ট নয়।

(كَتَبَهَا اللّٰهُ) অর্থাৎ- আল্লাহ তা নির্ধারণ করে ফায়সালা করে রেখেছেন অথবা বুখারীতে কিতাবুত্ তাওহীদে 

(اذا اراد عبدى ان يعمل سيئة فلا تكتبوها عليه حتى يعملها)

অর্থাৎ- ‘‘আমার বান্দা যখন মন্দ কর্ম করার ইচ্ছা করবে তখন তার ওপর তোমরা ঐ পাপ কাজটি লিখবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর সে ‘আমল না করে।’’

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ হিফাযাতকারী মালায়িকাহকে (ফেরেশতাদেরকে) তা লিখার ব্যাপারে নির্দেশ করেছেন। মুসলিমও এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তাতে ঐ ব্যাপারে দলীল আছে যে, মানুষের হৃদয়ে যা আছে মালাক সে ব্যাপারে অবগত। হয়ত আল্লাহ তাকে জানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে অথবা তার কোন চিহ্ন তৈরির মাধ্যমে যার মাধ্যমে তা বুঝা যেতে পারে। প্রথমটিকে সমর্থন করেছেন ইবনু আবিদ্ দুন্ইয়া আবূ ‘ইমরান আল জাওনী থেকে যা বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)’কে ডাক দিয়ে বলেন, তুমি অমুকের জন্য এরূপ এরূপ লিখ তখন মালাক বলেন, হে আমার পালনকর্তা! নিশ্চয়ই সে তা ‘আমল করেনি। তখন আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সে তার নিয়্যাত করেছে। একমতে বলা হয়েছে, বরং মন্দ কর্মের ইচ্ছার সময় মালাক পঁচা গন্ধ পেয়ে থাকে, পক্ষান্তরে ভালো কর্মের ইচ্ছার সময় ভালো গন্ধ পেয়ে থাকেন। ত্ববারী এটিকে আবূ মা‘শার আল মাদানী থেকে সংকলন করেছেন।

(عِنَدَه) অর্থাৎ- আল্লাহর নিকট, এতে মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত আছে।

(حَسَنَةً) আর এটা এ কারণে যে, ‘আমল নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল, আর মু’মিন ব্যক্তির নিয়্যাত তার ‘আমল অপেক্ষা উত্তম। নিয়্যাতের উপর নির্ভর করেই তার সাওয়াব দেয়া হয়, ‘আমলের কারণে নয়। আর নিয়্যাত ছাড়া ‘আমলের উপর সাওয়াব দেয়া হয় না। কিন্তু শুধু নিয়্যাতের কারণে পুণ্যের সাওয়াব বৃদ্ধি করা হয় না। এভাবে মিরকাতে এসেছে, ত্বওফী বলেনঃ কেবল ইচ্ছার কারণে পুণ্য লিখা হয়, কেননা পুণ্যের ইচ্ছা ‘আমলের কারণ। আর কল্যাণের ইচ্ছা করাও কল্যাণ, কেননা কল্যাণের ইচ্ছা করা অন্তরের ‘আমলের অন্তর্গত। জটিল হয়ে পড়েছে যে, অন্তরের ‘আমল যখন পুণ্য অর্জনের ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে তখন কি করে পাপ অর্জনের ব্যাপারে চিন্তা করা হবে না? উত্তরঃ যে পাপের ব্যাপারে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে ঐ পাপ বর্জন করা অর্জিত পাপকে মিটিয়ে দিবে। কেননা এতে পাপের ক্ষেত্রে তা বিবেচনা রহিত হয়ে যায় এবং প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা হয়।

(كَامِلَةً) অর্থাৎ- তাতে কোন কমতি নেই। যদিও তা কেবল ইচ্ছা থেকে সৃষ্টি হয়। সুতরাং হাদীসে পুণ্যের ঘাতটির প্রতি ধারণাকে দূর করে দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, কেননা ঐ পাপে ইচ্ছা কেবল ইচ্ছার মাধ্যমে সৃষ্ট এবং বহুগুণ সাওয়াব দেয়ার সম্ভাবনাকেও দূর করে দেয়ার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা তা কাজের সাওয়াবের মতো না। যে কাজে বহুগুণ সাওয়াব দেয়ার কথা আছে যার সর্বনিম্ন পরিমাণ দশগুণ।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, তিনি তার عنده উক্তি দ্বারা তার উক্তির প্রতি অধিক মনোযোগের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং كاملة উক্তি দ্বারা পুণ্যের মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন ও তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সুতরাং كمال দ্বারা মহা মর্যাদা উদ্দেশ্য দশগুণে গুণান্বিত করা উদ্দেশ্য নয়। যেমন তাদের কতকে ধারণা করেছে যে, كاملة ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, পুণ্যের বদলা তার দশগুণ দেয়া হবে, কেননা এটিই হল পূর্ণাঙ্গ। এটি ঠিক নয়, কেননা এতে কল্যাণের ইচ্ছাকারী ও কর্তার মাঝে সমতা আবশ্যক হয়ে যাচ্ছে। অথচ বহুগুণ শুধু ‘আমলকারীর সাথে নির্দিষ্ট। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অর্থাৎ- ‘‘যে ব্যক্তি পুণ্য কাজ করবে তাকে সে পুণ্য কাজের দশগুণ সাওয়াব দেয়া হবে।’’ (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৬)

বহুগুণ সাওয়াবের জন্য শর্ত হল কাজটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পাদন হওয়া। পক্ষান্তরে নিয়্যাতকারীর ব্যাপারে কেবল পুণ্য লিপিবদ্ধের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হল, তার জন্য পুণ্য কর্মের সাওয়াবের মতো সাওয়াব লিখা। আর تضعيف বলতে বহুগুণ, অর্থাৎ- পুণ্যকর্মের মূল সাওয়াবের উপর অতিরিক্ত পরিমাণ।

হাফেয বলেন, হাদীসের বাহ্যিক দিক হল, শুধু পাপের ইচ্ছা বর্জনের কারণেই সাওয়াব অর্জন হয়। চাই পাপ বর্জনের ব্যাপারটি কোন প্রতিবন্ধকতার কারণে হোক বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই হোক। এ কথা বলারও দিক রয়েছে যে, প্রতিবন্ধক অনুপাতে পুণ্যের মর্যাদাও বিভিন্ন হয়ে থাকে। অতঃপর যে ব্যক্তি পুণ্য কাজের প্রতি ইচ্ছা করেছে তার ইচ্ছার অবশিষ্টতার সাথে সাথে তার প্রতিবন্ধকটি বাহ্যিক হয় তাহলে সে পুণ্য মহামর্যাদাকর। আর বিশেষ করে পুণ্য কাজের বিচ্যুতি ঘটার কারণে ব্যক্তির পুণ্যের সাথে যদি লজ্জা শামিল হয় এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি নিয়্যাত স্থির হয়, আর কল্যাণকর কাজের বর্জন যদি ইচ্ছাকারীর তরফ থেকে হয় তাহলে তা মহামর্যাদার কিছুটা নিম্নের পর্যায়ের। তবে পুণ্যকর কাজের ক্ষেত্রে যদি পুণ্যকর কাজ থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নেয়া উদ্দেশ্য হয় তাহলে আলাদা কথা। আর কল্যাণকর কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া বিশেষ করে ‘আমল যদি কল্যাণের বিপরীতে সংঘটিত হয় উদাহরণস্বরূপ কেউ একটি দিরহাম দান করার ইচ্ছা করল, অতঃপর স্বচক্ষে তা অবাধ্য কাজে ব্যয় করল শেষ মতানুযায়ী যা প্রকাশ পাচ্ছে তা হল মূলত তার জন্য কোন পুণ্য লেখা হবে না। পক্ষান্তরে এর পূর্বের মতানুযায়ী পুণ্য লিখার বিষয়টি সম্ভাবনার উপর নির্ভরশীল।

(عَشْرَ حَسَنَاتٍ) ‘‘দশটি সাওয়াব’’। আল্লাহ বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে তার জন্য সে ভাল কাজের দশগুণ সাওয়াব থাকবে’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৬০)। আল্লাহ পুণ্যের বহুগুণ সাওয়াবের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার মাঝে এটা সর্বনিম্ন সংখ্যা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি অতঃপর ব্যক্তি পুণ্যের প্রতি ইচ্ছা করে যদি ‘আমল করে আল্লাহ তার জন্য দশগুণ নেকি লেখবেন। আল্লাহ মূলত পুণ্যকাজের ইচ্ছাকারীর সাওয়াবকে দশগুণে গুনান্বিত করবেন। সুতরাং সব মিলে এগারো সংখ্যায় পরিণত হবে। অতঃপর নিশ্চয়ই এ ব্যাখ্যাটি এ হাদীসের বাহ্যিকতার বিপরীত।

(إِلٰى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ) অর্থাৎ- নিষ্ঠা, ইচ্ছার সততা, আন্তরিক উপস্থিতি, উপকার ছড়িয়ে পড়া, যেমন- সদাকায়ে জারিয়াহ্, উপকারী বিদ্যা, উত্তম সুন্নাত, উত্তম ‘আমল ইত্যাদি ক্ষেত্রে আধিক্যতা অনুপাতে।

(وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا) ‘‘যে ব্যক্তি পাপ করার ইচ্ছা করল, অতঃপর তা বাস্তবে করল না।’’ অর্থাৎ- পাপের উপর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর তদারকির কারণে ও তাঁর ভয়ে। যা বুখারীতে কিতাবুত্ তাওহীদে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর হাদীসে এসেছে। আর বান্দা যদি তা আমার কারণে বর্জন করে তাহলে তার জন্য একটি পুণ্য লিখ। আর মুসলিমে আছে, আর সে যদি তা বর্জন করে থাকে তাহলে তার জন্য একটি পুণ্য লিখ সে কেবল তা আমার কারণেই ছেড়ে দিয়েছে।

হাফেয বলেন, অবাধ্যতার ইচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের কারণে পাকড়াও করা হবে না যখন ইচ্ছাকৃত বিষয়ের প্রতি ‘আমল না করা হবে। এটা করা হবে ইচ্ছা ও মধ্যস্ততার মাঝে পার্থক্য সাধনের জন্য। কতকে অন্তরে পতিত হওয়া বিষয়কে কয়েক প্রকারে বিভক্ত করেছেন যা তার থেকে প্রকাশ পায়। অবাধ্যতার ইচ্ছাসমূহের মাঝে যা। হঠাৎ জাগ্রত হয়ে মুহূর্তের মাঝে চলে যায়। এটা কুমন্ত্রণা বা ওয়াস্ওয়াসার অন্তর্ভুক্ত। আর ক্ষমা করে দেয়া হবে। এটা সিদ্ধান্তহীনতার নিম্নের পর্যায়ে। আর তা এর উপরে হল কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা, অতঃপর সে ব্যাপারে ইচ্ছা করা পুনরায় সে ইচ্ছা দূর হয়ে যাওয়াতে ঐ কাজ বর্জন করা। অতঃপর আবার ইচ্ছা করে আবার এভাবে বর্জন করা, তার ইচ্ছার উপর স্থির না হওয়া। এটিই হল, تردد বা সিদ্ধান্তহীনতা, এটিও ক্ষমা করে দেয়া হবে। এর উপর পর্যায় হল, ব্যক্তি অবাধ্যতার ইচ্ছার প্রতি ঝুঁকবে তা এড়িয়ে যাবে না তবে কাজের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করবে না এটাই হল الهم (হাম্) এ ক্ষেত্রেও ক্ষমা করা হবে। এর উপর পর্যায় হল, ব্যক্তি মন্দের প্রতি ঝুঁকবে, তা এড়িয়ে চলবে না বরং সে মন্দ কাজের প্রতি দৃঢ় সংকল্প করবে এটাই হল العزم (‘আযম), এটাই হল الهم এর চূড়ান্ত পর্যায়। العزم আবার দু’ প্রকার প্রথম প্রকার হলঃ এটি কেবল অন্তরের ‘আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন একত্ববাদ, নবূওয়্যাত ও পুনরুত্থানে সন্দেহ করা। এটি কুফর। এ কারণেই তাকে নিশ্চিতভাবে শাস্তি দেয়া হবে। এর নিম্নে হল ঐ অবাধ্যতা যা কুফর পর্যন্ত পৌঁছে না যেমন ঐ ব্যক্তি আল্লাহর বিদ্বেষ পোষণ করা জিনিসকে ভালবাসে, পক্ষান্তরে আল্লাহ যা ভালবাসেন তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, অন্যায়ভাবে মুসলিম ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়া পছন্দ করে এ ব্যক্তি এর মাধ্যমে গুনাহ করবে। এর সাথে আরো শামিল হবে অহংকার, বড়াই, অবিচার, চক্রান্ত ও হিংসা।

দ্বিতীয় প্রকারঃ তা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ‘আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- যিনা, চুরি করা, আর এটি এমন যাতে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর এক দল মত পেশ করেছেন এ কারণে মূলত পাকড়াও করা হবে না। এটি ইমাম শাফি‘ঈর ভাষ্য কর্তৃক বর্ণিত। খারীম বিন ফাতিক-এর হাদীসে যা এসেছে তা একে সমর্থন করছে। যেখানে তিনি পুণ্য কাজের প্রতি ইচ্ছার কথা উল্লেখ সেখানে তিনি (খারীম) বলেছেন, আল্লাহ জানেন তিনি বান্দার অন্তরের পুণ্যের ব্যাপারে অবহিত করেছেন ও সে ব্যাপারে তাকে লালায়িত করেছেন, পক্ষান্তরে যেখানে পাপ কাজের প্রতি ইচ্ছার কথা বর্ণনা করেছেন সেখানে ইচ্ছাকে কোন শর্তের সাথে জোড়ে দেননি। বরং সেখানে বলেছেন, যে ব্যক্তি পাপ কাজের প্রতি ইচ্ছা করবে তার উপর কিছুই লিখা হবে না। স্থানটি কৃপা প্রদর্শনের স্থান, সুতরাং এ ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা প্রদর্শন মানানসই নয়। পাপ কাজের প্রতি দৃঢ় সংকল্পের কারণে ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখী করা হবে অনেক বিদ্বানগণ এ মত পোষণ করেছেন।

ইবনুল মুবারক সুফ্ইয়ান সাওরীকে প্রশ্ন করল বান্দা যে পাপ কাজের প্রতি ইচ্ছা করে সে কারণে কি তাকে পাকড়াও করা হবে? উত্তরে তিনি বলেন, যখন বান্দা সে ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করবে। আর তাদের অনেকে আল্লাহর [অর্থাৎ- ‘‘তবে তোমাদের অন্তর যা অর্জন করেছে সে কারণে তোমাদেরকে পাকড়াও করা হবে’’- (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২৫)] এ বাণী দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছে আর তারা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর

 (ان الله تجاوز لأمتى عما حدثت به انفسها مالم تعمل به او تتكلم) অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মাতের অন্তরে যা সৃষ্টি হয় তা থেকে তিনি পাশ কেটে চলেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে ঐ ব্যাপারে ‘আমল না করে অথবা কথা না বলে।’’ এ সহীহ মারফূ‘ হাদীসটিকে কুমন্ত্রণাসমূহের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।

(كَتَبَهَا اللهُ لَه سَيِّئَةً وَاحِدَةً) ‘‘আল্লাহ একটি পাপ লিখবেন’’। এটি বুখারীর বর্ণনা, মুসলিম আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর হাদীসে আছে (فاكتبوها له بمثلها) অর্থাৎ- তোমরা তার জন্য তার অনুরূপ পাপ লিখ। আর মুসলিমে আবূ যার-এর হাদীসে আছে (فجزاءه بمثلها او اغفرله) অর্থাৎ- তার বদলা তার অনুরূপ অথবা তাকে আমি ক্ষমা করে দিব।

মুসলিমে ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীসের শেষে (او محاها الله) অথবা গুনাহ মুছতে পারে এমন পুণ্য ‘আমল দ্বারা তার গুনাহ মুছে দিবেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৫-[১২] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অসৎ কাজ করার পর আবার সৎ কাজ করে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মতো, যার গায়ে সংকীর্ণ বর্ম রয়েছে এবং তা তার গলা কষে ধরেছে। অতঃপর সে কোন সৎ কাজ করল যাতে তার একটি গিরা খসে পড়ল। অতঃপর আর একটি সৎ কাজ করল এতে আর একটি গিরা খুলে গেল। পরিশেষে বর্মটি খুলে মাটিতে পড়ে গেল। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ
عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مَثَلَ الَّذِي يعْمل السَّيئَة ثُمَّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ كَمَثَلِ رَجُلٍ كَانَتْ عَلَيْهِ دِرْعٌ ضَيِّقَةٌ قَدْ خَنَقَتْهُ ثُمَّ عَمِلَ حَسَنَةً فَانْفَكَّتْ حَلْقَةٌ ثُمَّ عَمِلَ أُخْرَى فَانْفَكَّتْ أُخْرَى حَتَّى تَخْرُجَ إِلَى الْأَرْضِ»
رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة

عن عقبة بن عامر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان مثل الذي يعمل السيىة ثم يعمل الحسنات كمثل رجل كانت عليه درع ضيقة قد خنقته ثم عمل حسنة فانفكت حلقة ثم عمل اخرى فانفكت اخرى حتى تخرج الى الارض» رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: (كَانَتْ عَلَيْهِ دِرْعٌ) এটি এমন একটি জামা যা বোতাম ও লোহা দ্বারা তৈরি। শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার্থে যা পরিধান করা হয়।

(حَتّٰى تَخْرُجَ إِلَى الْأَرْضِ) অর্থাৎ- পরিশেষে ঐ বর্মটি খুলে পড়ে যায়। ইমাম ত্বীবী বলেন, পরিশেষে সম্পূর্ণরূপে খুলে যায় এবং পরিধানকারী তার সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসে।

হাদীস থেকে উদ্দেশ্য হল, নিশ্চয়ই পাপ কাজ করা কর্তার অন্তরকে সংকীর্ণ করে, তাকে তার বিষয়ে পেরেশানী করে, তাকে সে বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে ফলে তার বিষয়াবলী তার কাছে সহজ হয় না, তার অন্তর কালো হয়ে যায়, তার ওপর তার রিযক সংকীর্ণ হয়ে যায় ও তাকে মানুষের কাছে ঘৃণিত করে। আর যখন ভালো কাজ করে তখন ভালো কাজ তার মন্দ কর্মের পাপকে দূর করে। যেমন আল্লাহ বলেন, إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই ভালো কাজ পাপসমূহকে দূর করে’’- (সূরা হূদ ১১ : ১১৫)। আর যখন পাপ দূর হয়ে যায় তখন তার অন্তর ও তার রিযক প্রশস্ত হয়। তার অন্তর শান্তি পায়, তার বিষয়াবলী সহজ হয় এবং মানুষের অন্তরে সে প্রিয় হয়ে যায়। সুতরাং হাদীসটি আল্লাহর إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ এ বাণীর ব্যাখ্যা ও উপমা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৬-[১৩] আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দানকালে বলতে শুনেছেন, ’’যে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন হিসাব দেবার জন্য) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’- (সূরা আর্ রহমান ৫৫ : ৪৬)। বর্ণনাকারী [আবূ দারদা (রাঃ)] বলেন, আমি (এ কথা শুনে) জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি (সে দু’টি জান্নাত পাবে)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয়বার বললাম, ’’যে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’। আমি দ্বিতীয়বার বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তৃতীয়বারও বললেন, ’’যে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) নিজের রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য দু’টি জান্নাত রয়েছে’’। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! সে ব্যক্তি যিনা করে অথবা চুরি করে, তারপরও কি? এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, যদি আবূ দারদার নাকও কাটা যায় (ধূলায়িত হয়)। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُصُّ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُول: (ولِمنْ خافَ مقامَ رَبِّهِ جنَّتانِ)
قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الثَّانِيَةَ: (وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جنَّتان)
فقلتُ الثانيةَ: وإِنْ زنى وسرق؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الثَّالِثَةَ: (وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ)
فَقُلْتُ الثَّالِثَةَ: وَإِنْ زَنَى وسرق؟ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أبي الدَّرْدَاء» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابي الدرداء: انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقص على المنبر وهو يقول: (ولمن خاف مقام ربه جنتان) قلت: وان زنى وان سرق؟ يا رسول الله فقال الثانية: (ولمن خاف مقام ربه جنتان) فقلت الثانية: وان زنى وسرق؟ يا رسول الله فقال الثالثة: (ولمن خاف مقام ربه جنتان) فقلت الثالثة: وان زنى وسرق؟ يا رسول الله قال: «وان رغم انف ابي الدرداء» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: وَلِمَنْ خَافَ অর্থাৎ- ভয়কারী এককসমূহ থেকে প্রত্যেকের জন্য অথবা তাদের সামষ্টিকের জন্য। অর্থাৎ- আলোচনা বণ্টন পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। সুতরাং দু’ জান্নাতের একটি মানুষ জাতির ভয়কারীর জন্য। অন্যটি জিন্ জাতির ভয়কারীর জন্য। অতএব প্রত্যেক ভয়কারীর জন্য একটি করে জান্নাত। প্রথমটিই নির্ভরযোগ্য।

مَقَامَ رَبِّهٗ আল্লাহ তা‘আলার সামনে দাঁড়ানো বলতে ঐ অবস্থানস্থল বান্দারা যেখানে হিসাবের জন্য দাড়াবে অথবা ভয়কারী তার প্রভুর কাছে হিসাবের জন্য দাঁড়ানো। অর্থাৎ- যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে তার জন্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অর্থাৎ- ‘‘যেদিন মানুষ সকল জগতের পালনকর্তা আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে’’- (সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ৬)। একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- সে তার ব্যাপারে তার রবের অবস্থানের ভয় করে। আর তা হল বান্দার অবস্থাসমূহের ব্যাপারে তার রবের পর্যবেক্ষণ এবং তার কর্ম ও উক্তিসমূহের ব্যাপারে অনুসন্ধান করা যে, সত্তা তার ব্যাপারে তত্ত্বাবধান করছে কেননা তিনি তার (বান্দার) পর্যবেক্ষণ করেছেন। যেমন তাঁর বাণীতে আছে, أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلٰى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ অর্থাৎ- ‘‘প্রত্যেক আত্মা যা উপার্জন করেছে সে ব্যাপারে প্রত্যেক আত্মার উপর যিনি পর্যবেক্ষণকারী তিনিই কি?’’ (সূরা আর্ র‘দ ১৩ : ৩৩) এর সারাংশ হল المقام এর ব্যাখ্যাতে তিনটি সম্ভাবনা।

প্রথমটি হল, নিশ্চয়ই তা স্থান সম্বন্ধীয় বিশেষ্য। দ্বিতীয়ত নিশ্চয়ই তা ক্রিয়ামূল। তার অধীনে দু’টি সম্ভাবনা আছে, একটি হল তা আল্লাহর সামনে সৃষ্টিজীবের দাঁড়ানো- এ অর্থে ব্যবহৃত। অথবা সৃষ্টিজীবের সামনে আল্লাহর অবস্থান- এ অর্থে ব্যবহৃত। তিনি مقام শব্দটিকে সম্মানপ্রদর্শন ও ভীতিপ্রদর্শন এর উদ্দেশে الرب শব্দের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- যে তার রবকে ভয় করে তার জন্য আধিক্যতাকে জড়িয়েছে এমন এক স্থান এটি। যেমন উক্তি তুমি তার থেকে বাঘের অবস্থান বা ভয় দূর করলে। মুজাহিদ ও নাখ্‘ঈ বলেন, সেটা এমন এক লোক যে অবাধ্যতার ইচ্ছা করে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ হলে তাঁর ভয়ে ঐ পাপ ছেড়ে দেয়। এতে রয়েছে একই বিষয়ে দু’টি জান্নাত লাভের কারণের প্রতি ইঙ্গিত। আর তা শুধু ভয় নয় বরং আল্লাহ সম্পর্কে সৃষ্ট ভয়ে অবাধ্যতা বর্জন। আর ইবনু জারীর ইবনু ‘আব্বাস থেকে এ আয়াত সম্পর্কে সংকলন করেন, নিশ্চয়ই তিনি বলেন, আল্লাহ ঐ সকল মু’মিনদেরকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা তাঁর অবস্থানকে ভয় করছে ও তাঁর ফরয করা বিষয়সমূহ আদায় করেছে। ইবনু জারীর ইবনু ‘আব্বাস থেকে আরো সংকলন করেন, ইবনু ‘আব্বাস বলেন, প্রথমে ব্যক্তি ভয় করে, অতঃপর সে মুত্তাক্বী হয়; আর ভয়কারী বলতে যে আল্লাহর আনুগত্যে জড়িত হয় এবং অবাধ্যতাকে বর্জন করে।

جَنَّتٰنِ অর্থাৎ- অনেক শাখা পল্লব বিশিষ্ট দু’টি উদ্যান; কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখিত দু’টি গুণের শেষ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই জান্নাতসমূহ থেকে উল্লেখিত জান্নাতদ্বয় এদের পরে উল্লেখিত জান্নাতদ্বয় অপেক্ষা উঁচুমানের। এ কারণেই তিনি বলেছেন, এ ছাড়াও দু’টি উদ্যান আছে যা স্তর, নিয়ামত ও সম্মানে এদের নিম্নে। আর উল্লেখিত জান্নাতদ্বয়ের ক্ষেত্রে মতানৈক্য করা হয়েছে, প্রথমত একমতে বলা হয়েছে, আনুগত্যমূলক কাজের জন্য একটি জান্নাত এবং অপরটি অবাধ্যতা বর্জনের জন্য। একমতে বলা হয়েছে, একটি বিশ্বাসের জন্য অপরটি ‘আমলের জন্য। একমতে বলা হয়েছে, একটি ‘আমলের মাধ্যমে অপরটি অনুগ্রহস্বরূপ। স্পষ্ট যে, জান্নাত দু’টি স্বর্ণের হবে এদের পাত্র, এদের প্রাসাদ, এদের অলংকার এবং এদের মাঝে যা আছে সবকিছু স্বর্ণের। আর এদের অপেক্ষা নিম্নমানের দু’টি জান্নাত আছে যা রৌপ্যের। ইবনু কাসীরও এ মত পোষণ করেছেন। যেমন তিনি বলেন, বিশুদ্ধ মত হল, নিশ্চয়ই এ আয়াতটি ব্যাপক। যেমন ইবনু ‘আব্বাস ও অন্যান্যগণ আল্লাহর বাণী وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهٗ جَنَّتَانِ (সূরা আর্ রহমা-ন ৫৫ : ৪৬) কিয়ামতের দিন পরাক্রমশালী ও মহা মর্যাদাবান আল্লাহর সামনে وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰى (সূরা আন্ না-যি‘আ-ত ৭৯ : ৪০) আর সীমালঙ্ঘন করেনি, পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়নি, নিশ্চয়ই পরকাল উত্তম ও স্থায়ী এ কথা জেনেছে, অতঃপর আল্লাহর ফরয করা বিষয়সমূহ আদায় করেছে এবং তার হারাম বিষয়সমূহ থেকে বিরত থেকেছে। তার জন্য কিয়ামতের দিন তার রবের কাছে দু’টি জান্নাত থাকবে। এর ব্যাখ্যায় বলেছেন। যেমন ইমাম বুখারী (তার সানাদে) আবূ মূসা আল আশ্‘আরী থেকে মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেন স্বর্ণের এবং রৌপ্যের দু’টি জান্নাত এবং তাদের পাত্র ও তাদের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু রৌপ্যের।

 (قُلْتُ: وَإِنْ زَنٰى وَإِنْ سَرَقَ؟ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ) অর্থাৎ- যদিও যিনা ও চুরি করে থাকে তথাপিও ভয়কারীর জন্য দু’টি জান্নাত। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, যদিও এ ভয়ের পূর্বে তার কর্তৃক যিনা ও চুরির মতো কোন পাপ পূর্বে হয়ে থাকে এবং পরে বলাও বিশুদ্ধ হবে, যদি এ ভয় সত্ত্বেও কর্মদ্বয় করে থাকে। আর ভয়ের পরবর্তী দিক হল, এ ভয় তোমার গুনাহের কাজ এবং এদের অনুরূপ কাজ একত্র হওয়া।

একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে তা ছেড়ে দিবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দু’টি বাগান দান করবেন যদিও কোন সময় সে চুরি, যিনা করে থাকে এবং তাওবাহ্ করে থাকে এ ক্ষেত্রে তার চুরি ও যিনা ঐ যিনা এবং চুরি ছাড়া অন্য কোন অবাধ্যতার কারণে তার আল্লাহর ভয়ের পুণ্যকে বাতিল করবে না।

(وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أبِى الدَّرْدَاءِ) অর্থাৎ- যদিও অপমানের কারণে আবূ দারদা (রাঃ) এর নাক মাটির সাথে লেগে যায়। কারী বলেন, হাদীসটির বাহ্যিক দিক হল, নিশ্চয়ই (مَنْ) শব্দটি তার ব্যাপকতার উপর আছে। হাদীসে ভয়কারী বলতে মু’মিন উদ্দেশ্য। এ ধরনের একটি হাদীস বুখারী, মুসলিম আবূ যার (রাঃ) থেকে মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেন, যে কোন বান্দা لا اله الا الله বলবে, অতঃপর এর উপরই মারা যাবে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে তথাপিও কি? অতঃপর তৃতীয়বার অথবা চতুর্থবার বললেন, আবূ যার-এর নাক ধূলায় ধূসরিত হলেও। (আল হাদীস)

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, আমি বলব, ইমাম আহমাদ অনুরূপ হাদীস তার কিতাবের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৪২ পৃষ্ঠাতে আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (لا اله الا الله وحده لا شريك له) পাঠ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে তথাপিও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদিও সে যিনা করে এবং চুরি করে। অতঃপর তৃতীয়বার বললেন, আবূ দারদা (রাঃ) এর নাক ধূলায় ধূসরিত হলেও। তিনি বলেন, এরপর আমি বের হলাম যাতে এ ব্যাপারে মানুষের মাঝে ঘোষণা দিতে পারি। তিনি বললেন, অতঃপর ‘উমার আমার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বললেন, তুমি ফিরে যাও কেননা মানুষ যদি এ ব্যাপারে জানে তাহলে এর উপর তারা ভরসা করে নিবে। সুতরাং আমি সেখান থেকে ফিরে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জানালে তিনি বললেন, ‘উমার সত্য বলেছে। হাদীসটি হাফেয ইবনু কাসীর তার তাফসীর গ্রন্থে এনেছেন এবং ইমাম আহমাদ-এর দিকে কোন সম্বন্ধ করেননি বরং একে ইবনু জারীর ও নাসায়ীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর তিনি বলেন, এটিকে আবূ দারদা (রাঃ) এর ব্যাপারে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, তার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার রবের অবস্থানের ভয় করল, যিনা করেনি, চুরি করেনি, হাদীসটিকে ইমাম হায়সামী তাঁর ‘‘মাজমা‘উয্ যাওয়ায়িদ’’ গ্রন্থে ৭ম খণ্ডে ১১৮ পৃষ্ঠাতে ইমাম আহমাদ ও ত্ববারানীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন আহমাদ-এর রাবীগণ সহীহ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৭-[১৪] ’আমির্ আর্ রম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি আসলো, যার গায়ে একটি চাদর জাতীয় জিনিস জড়ানো ছিল, আর তার হাতে কোন কিছু ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময়ে পাখির বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বাচ্চাগুলোকে আমার চাদরে রাখলাম। হঠাৎ এদের মা এসে আমার মাথার উপর ঘুরতে লাগল। অবস্থাদৃষ্টে আমি তার জন্য বাচ্চাগুলোকে উন্মুক্ত করলাম, এমন সময় মা পাখিটি ওদের মধ্যে এসে মিলে গেল। তখন আমি এদের সকলকে আমার চাদরে জড়িয়ে ফেললাম। এগুলো এখনো আমার সাথে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এদেরকে ছেড়ে দাও। আমি সাথে সাথে ছেড়ে দিলাম, কিন্তু তাদের মা বাচ্চাদের ছেড়ে গেল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাচ্চাদের ওপর তাদের মায়ের মমত্ববোধ দেখে তোমরা কী আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ? সেই সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, বাচ্চাগুলোর ওপর তাদের মায়ের দয়ার চেয়েও অবশ্যই আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর বেশি দয়াবান। এগুলোকে নিয়ে যাও এবং যেখান থেকে নিয়ে এসেছ যথাস্থানে তাদের মায়ের সাথে রেখে এসো। তাই সে (বাচ্চাগুলো) নিয়ে গেল। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَامِرٍ الرَّامِ قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ يَعْنِي عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ عَلَيْهِ كِسَاءٌ وَفِي يَدِهِ شَيْءٌ قَدِ الْتَفَّ عَلَيْهِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَرَرْتُ بَغِيضَةِ شَجَرٍ فَسَمِعْتُ فِيهَا أَصْوَاتَ فِرَاخِ طَائِرٍ فَأَخَذْتُهُنَّ فَوَضَعْتُهُنَّ فِي كِسَائِي فَجَاءَتْ أُمُّهُنَّ فَاسْتَدَارَتْ عَلَى رَأْسِي فَكَشَفْتُ لَهَا عَنْهُنَّ فَوَقَعَتْ عَلَيْهِنَّ فَلَفَفْتُهُنَّ بِكِسَائِي فَهُنَّ أُولَاءِ مَعِي قَالَ: «ضَعْهُنَّ» فَوَضَعْتُهُنَّ وَأَبَتْ أُمُّهُنَّ إِلَّا لُزُومَهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أتعجبون لرحم أم الْفِرَاخ فراخها؟ فو الَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ: لَلَّهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ أُمِّ الْفِرَاخ بِفِرَاخِهَا ارْجِعْ بِهِنَّ حَتَّى تَضَعَهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُنَّ وَأُمُّهُنَّ مَعَهُنَّ . فَرَجَعَ بِهِنَّ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عامر الرام قال: بينا نحن عنده يعني عند النبي صلى الله عليه وسلم اذ اقبل رجل عليه كساء وفي يده شيء قد التف عليه فقال: يا رسول الله مررت بغيضة شجر فسمعت فيها اصوات فراخ طاىر فاخذتهن فوضعتهن في كساىي فجاءت امهن فاستدارت على راسي فكشفت لها عنهن فوقعت عليهن فلففتهن بكساىي فهن اولاء معي قال: «ضعهن» فوضعتهن وابت امهن الا لزومهن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اتعجبون لرحم ام الفراخ فراخها؟ فو الذي بعثني بالحق: لله ارحم بعباده من ام الفراخ بفراخها ارجع بهن حتى تضعهن من حيث اخذتهن وامهن معهن . فرجع بهن. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (فَكَشَفْتُ لَهَا عَنْهُنَّ) ‘‘আমি তার জন্য বাচ্চাগুলোকে উন্মুক্ত করলাম’’। অর্থাৎ- বাচ্চার মা যাতে বাচ্চাগুলো দেখতে পারে সেজন্য কাপড় কিছুটা সরিয়ে বাচ্চাগুলোর চেহারা তাদের মায়ের সামনে প্রকাশ করলাম।

(فَوَقَعَتْ) ‘‘মা তাতে পতিত হলো’’। অর্থাৎ- বাচ্চাগুলোর মা বাচ্চার সাথে গিয়ে মিলিত হলো।

(فَلَفَفْتُهُنَّ) অতঃপর আমি সবগুলো জড়িয়ে নিলাম। অর্থাৎ- বাচ্চার মা সহ বাচ্চাগুলোকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে এসেছি।

(ارْجِعْ بِهِنَّ حَتّٰى تَضَعَهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُنَّ) ‘‘তুমি সেগুলো যেখান থেকে নিয়ে এসেছ সেখানে নিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে আসো’’। বাচ্চাগুলোকে মা সহ সে স্থানে ফিরিয়ে দিতে বললেন যেখান থেকে তা নিয়ে এসেছে। এজন্য যে, ঐ স্থানটি ঐ পাখীর পরিচিত এবং ঐ জায়গার প্রতি তাদের ভালোবাসা আছে, তাই সেখানে ফিরিয়ে দিতে বললেন।

হাদীসের শিক্ষাঃ

১. অনর্থক পশু-পাখীকে কষ্ট দেয়া অবৈধ।

২. মানুষ যেমন স্বীয় আবাসস্থলকে ভালোবাসে, তদ্রূপ পাখীও তাদের আবাসস্থলকে ভালোবাসে।

৩. পশু-পাখীর প্রতি দয়া করা একটি উত্তম গুণ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৮-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি একদল লোকের পাশ দিয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন্ জাতি? তারা উত্তরে বলল, আমরা মুসলিম। জনৈকা মহিলা তখন তার পাতিলের নীচে আগুন ধরাচ্ছিল, তার সাথে ছিল তারই একটি শিশু সন্তান। হঠাৎ আগুনের একটি ফুলকি উপরের দিকে জ্বলে উঠলে তখনই সে তার সন্তানকে দূরে সরিয়ে দিলো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মহিলাটি এসে বলল, আপনিই কী আল্লাহর রসূল? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আপনার জন্য আমার মাতাপিতা কুরবান হোক। বলুন! আল্লাহ তা’আলা কি সবচেয়ে বড় দয়ালু নন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই। মহিলাটি বলল, তবে আল্লাহ তা’আলা কি তাঁর বান্দাদের ওপর সন্তানের প্রতি মায়ের দয়ার চেয়ে বড় দয়ালু নন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই। তখন মহিলাটি বলল, মা তো কক্ষনো তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে না। মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীচের দিকে মাথা নুইয়ে কাঁদতে লাগলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঠিয়ে মহিলার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে একান্ত অবাধ্য ছাড়া কাউকেও ’আযাব (শাস্তি) দেন না- যে আল্লাহর সাথে অবাধ্যতা করে ও যারা ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই) বলতেও অস্বীকার করে। (ইবনু মাজাহ)[1]

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ فَمَرَّ بِقَوْمٍ فَقَالَ: «مَنِ الْقَوْمُ؟» قَالُوا: نَحْنُ الْمُسْلِمُونَ وَامْرَأَةٌ تَحْضِبُ بِقِدْرِهَا وَمَعَهَا ابْنٌ لَهَا فَإِذَا ارْتَفَعَ وَهَجٌ تَنَحَّتْ بِهِ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَتْ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَلَيْسَ اللَّهُ أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ؟ قَالَ: «بَلَى» قَالَتْ: أَلَيْسَ اللَّهُ أَرْحَمَ بِعِبَادِهِ مِنَ الْأُم على وَلَدهَا؟ قَالَ: «بَلَى» قَالَتْ: إِنَّ الْأُمَّ لَا تُلْقِي وَلَدَهَا فِي النَّارِ فَأَكَبَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْكِي ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهَا فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الْمَارِدَ الْمُتَمَرِّدَ الَّذِي يَتَمَرَّدُ عَلَى اللَّهِ وَأَبَى أَنْ يَقُولَ: لَا إِلَهَ إِلَّا الله . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

عن عبد الله بن عمر قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في بعض غزواته فمر بقوم فقال: «من القوم؟» قالوا: نحن المسلمون وامراة تحضب بقدرها ومعها ابن لها فاذا ارتفع وهج تنحت به فاتت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: انت رسول الله؟ قال: «نعم» قالت: بابي انت وامي اليس الله ارحم الراحمين؟ قال: «بلى» قالت: اليس الله ارحم بعباده من الام على ولدها؟ قال: «بلى» قالت: ان الام لا تلقي ولدها في النار فاكب رسول الله صلى الله عليه وسلم يبكي ثم رفع راسه اليها فقال: ان الله لا يعذب من عباده الا المارد المتمرد الذي يتمرد على الله وابى ان يقول: لا اله الا الله . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: (فَقَالَ: مَنِ الْقَوْمُ؟ قَالُوا: نَحْنُ الْمُسْلِمُونَ) যেন তারা ধারণা করেছে অথবা আশংকা করেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অমুসলিম ধারণা করেছেন। ইবনু হাজার ত্বীবীর অনুসরণার্থে বলেন, বাহ্যিক দিক হল, উত্তরে বলা, আমরা মুযার গোত্রের অথবা আমরা কুরায়শী গোত্রের অথবা আমরা ত্বই গোত্রের, অতঃপর তারা বাহ্যিকতা থেকে দূরে সরে পড়েছে এবং তারা সীমাবদ্ধভাবে সংবাদ প্রদান করেছে, অর্থাৎ- আমরা এমন সম্প্রদায় যে, আমরা ইসলামকে অতিক্রম করব না। ধারণাস্বরূপ যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অমুসলিম ধারণা করেছেন। কারী বলেন, এটা কৃতিমতা। তিনি বলেন, তার উক্তি من القوم অর্থাৎ- তোমরা অথবা তারা কাফির শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত নাকি মুসলিম প্রিয় লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

(إِنَّ اللّٰهَ لَا يُعَذِّبُ مِنْ عِبَادِه) অর্থাৎ- তার সকল বান্দাদের মধ্য থেকে। সুতরাং এখানে সম্বন্ধ ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য। ইমাম সিনদী (রহঃ) বলেন, তাঁর উক্তি لا يعذب অর্থাৎ- স্থায়ীভাবে শাস্তি দিবেন না। বাহ্যিক দিক হল, এরা ছাড়া কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যেহেতু আলোচনা জাহান্নামে প্রবেশ করানো নিয়ে স্থায়ী হওয়া সম্পর্কে নয়। আর আল্লাহ সর্বাধিক ভাল জানেন। সামষ্টিকভাবে অবাধ্যতা কদর্যতা ও অশ্লীলতাকে বৃদ্ধি করে। আর তা অবাধ্য ব্যক্তির তুচ্ছতা, অবাধ্যতার মাধ্যমে যিনি অবাধ্য করেন তাঁর বড়ত্ব, অবাধ্যতার ক্ষেত্রে তাঁর দয়ার আধিক্যতার পরিমাণ অনুযায়ী হয়ে থাকে। সুতরাং ঐ কারণে তার বদলাও বড় আঁকড়ে দেন। অর্থাৎ- তা অবাধ্য বান্দার পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করে এবং নিশ্চয়ই সে কোন জিনিস সৃষ্ট ও কোন জিনিস তার নির্ধারণ সে দিক লক্ষ করে। আকাশ জমিনের স্রষ্টার বড়ত্বের প্রতি লক্ষ্য করে যার নির্দেশে আকাশসমূহ প্রতিষ্ঠিত। তার নিয়ামতসমূহ ও দয়ার আধিক্যতার প্রতি লক্ষ্য করে যা সর্বনিম্ন অবাধ্যতাকে বড় করে তোলে পরিশেষে তা পাহাড়, সমুদ্রকে ছাড়িয়ে যায় এবং তা এমন এক বাস্তব অবস্থায় রূপ নেয় যার বদলা জাহান্নামের চিরস্থায়ী হওয়াকে আবশ্যক করে। যদি সম্মানিত, ক্ষমাশীল, অতি ক্ষমাশীল, দয়ালু সত্তার দয়া না হত তাহলে এ অবাধ্যের পরিস্থিতি কি হত যে পাথরসমূহের সাথে সাদৃশ্য যা সৃষ্টির মাঝে সর্বাধিক হীনতর। সুতরাং আল্লাহ এ সকল কিছু থেকে সুউচ্চ। আর এ সমস্ত কিছুর বাস্তবতা অদৃশ্যের জান্তা ছাড়া কেউ জানে না। অতঃপর হাদীসের বাহ্যিক দিক দাবী করছে যে, নবূওয়্যাতের অস্বীকারকারী তাওহীদী কালিমাহ্ যথার্থভাবে স্বীকার করে না। আর এটিই এখানে উদ্দেশ্য।

(أَنْ يَقُولَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ) ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই- এ কথা বলতে যে অস্বীকার করে’’ এ বাণীটুকু ঐ সন্তানের স্থানে হবে, যে তার মাকে বলে তুমি আমার মা না আমার মা অন্য কেউ; এমতাবস্থায় সে মাতার অবাধ্য হয় এবং মাকে কুকুর ও শুকরের আকৃতির সাথে পরিকল্পনা করে। এ মুহূর্তে কোন সন্দেহ নেই যে, মা তার থেকে এমন আচরণের কারণে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যায়, তার ব্যাপারে সক্ষম হলে, তাকে শাস্তি দেয়। সারাংশ হল, নিশ্চয়ই কাফির ব্যক্তি দাসত্ব থেকে বহির্ভূত। সে আল্লাহর বান্দার নামে নামকরণ থেকে বহির্ভূত। আর এ কারণেই তাকে শাস্তি দেয়া হবে। আর আল্লাহ মূলত এমন নন যে, তাদের প্রতি অবিচার করবেন কিন্তু তারা নিজেরাই নিজের প্রতি অবিচার করে।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৭৯-[১৬] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায় আর সাধ্যাতীত চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। তাই আল্লাহ তা’আলা জিবরীলকে বলেন, আমার অমুক বান্দা আমাকে সন্তুষ্ট করতে চায়। জেনে রাখো, তার প্রতি আমার রহমত আছে। তখন জিবরীল বলেন, অমুকের প্রতি আল্লাহর রহমত আছে, এ কথা বলতে থাকেন ’আরশ বহনকারী মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ), তাদের আশেপাশের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)-ও। অবশেষে সপ্ত আকাশের অধিবাসীগণও অনুরূপ কথা বলেন। অতঃপর তার জন্য রহমত জমিনের দিকে নেমে আসতে থাকে। (আহমদ)[1]

وَعَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الْعَبْدَ لَيَلْتَمِسُ مَرْضَاةَ اللَّهِ فَلَا يَزَالُ بِذَلِكَ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لجبريل: إِن فلَانا عَبدِي يتلمس أَنْ يُرْضِيَنِي أَلَا وَإِنَّ رَحْمَتِي عَلَيْهِ فَيَقُولُ جِبْرِيلُ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى فُلَانٍ وَيَقُولُهَا حَمَلَةُ العرشِ ويقولُها مَن حَولهمْ حَتَّى يَقُولُهَا أَهْلُ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ثُمَّ تَهْبِطُ لَهُ إِلى الأَرْض . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ثوبان عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ان العبد ليلتمس مرضاة الله فلا يزال بذلك فيقول الله عز وجل لجبريل: ان فلانا عبدي يتلمس ان يرضيني الا وان رحمتي عليه فيقول جبريل: رحمة الله على فلان ويقولها حملة العرش ويقولها من حولهم حتى يقولها اهل السماوات السبع ثم تهبط له الى الارض . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (مَرْضَاةَ اللّٰهِ) ‘‘আল্লাহর সন্তুষ্টি’’। অর্থাৎ- বিভিন্ন প্রকার আনুগত্যের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি। (عَبْدِىْ) অর্থাৎ- মু’মিন ব্যক্তি (وَإِنَّ رَحْمَتِىْ) অর্থাৎ- আমার পরিপূর্ণ রহমাত।

(ثُمَّ تَهْبِطُ لَه إِلَى الْأَرْضِ) অর্থাৎ- জমিনবাসীর প্রতি রহমাত অবতীর্ণ হয়। কারী বলেন, তার প্রতি আল্লাহর ভালবাসা, অতঃপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়। ইমাম ত্বীবী বলেন, এ হাদীসটি এবং ভালবাসার হাদীসটি কাছাকাছি।

ইমাম ত্বীবী ভালোবাসার হাদীস দ্বারা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ' সূত্রে বুখারী, মুসলিমে বর্ণিত হাদীস উদ্দেশ্য করেছেন। আর তা হল, নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালোবাসেন তখন জিবরীলকে আহবান করে বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুককে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস। অতঃপর জিবরীল তাকে ভালোবাসেন এরপর আকাশে ঘোষণা করে দেয়া হয় নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন। সুতরাং তোমরা তাকে ভালোবাস। অতঃপর আকাশবাসীরা তাকে ভালোবাসে, এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৮০-[১৭] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তা’আলার এ কালাম, ’’ফামিনহুম যা-লিমুন লিনাফসিহী, ওয়া মিনহুম মুকতাসিদুন্, ওয়া মিনহুম সা-বিকুন বিল্ খইর-ত’’ (অর্থাৎ- বান্দাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি যুলম করে, তাদের মধ্যে কেউ ভালো মন্দ উভয়ই করে, আবার কেউ কল্যাণের দিকে অগ্রবর্তী হয়।)- (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩২)। এরা সকলেই জান্নাতে যাবে। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ’’কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: (فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سابقٌ بالخيراتَ)
قَالَ: كُلُّهُمْ فِي الْجَنَّةِ . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُورِ

وعن اسامة بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله عز وجل: (فمنهم ظالم لنفسه ومنهم مقتصد ومنهم سابق بالخيرات) قال: كلهم في الجنة . رواه البيهقي في كتاب البعث والنشور

ব্যাখ্যা: وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ অধিকাংশ অবস্থায় এবং অধিকাংশ সময়ে ‘আমল করে।

وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتَ অর্থাৎ- ‘‘আমলের বিষয়ের প্রতি মানুষকে শিক্ষা এবং দিক-নির্দেশনা দেয়।’’ একমতে বলা হয়েছে, নিজের প্রতি অবিচারকারী বলতে কতক ওয়াজিব কাজে বাড়াবাড়িকারী, কতক হারাম কাজে জড়িত। আর ‘‘মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী’’ বলতে যে ব্যক্তি ওয়াজিবসমূহকে আদায় করে, হারামসমূহকে বর্জন করে, কখনো কতক মুস্তাহাব বিষয়কে বর্জন করে এবং কতক মাকরূহ বিষয় সম্পাদন করে। আর ‘‘কল্যাণে অগ্রগামী’’ বলতে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কাজ সম্পাদনকারী এবং হারাম, মাকরূহ ও কতক বৈধ কাজ বর্জনকারী। এক মতে বলা হয়েছে, অবিচারকারী বলতে যে সৎ ‘আমল ও অসৎ ‘আমলকে মিশিয়ে দেয়। নাসাফী বলেন, এ ব্যাখ্যাটি কুরআনের অনুকূল, কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আর মুহাজিরদের থেকে যারা অগ্রগামী প্রথম’’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১০০)। এরপর বলেন, ‘‘আর অন্যরা তাদের গুনাহসমূহের ব্যাপারে স্বীকৃতি দিল’’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১০২)। অতঃপর বলেন, ‘‘আর অন্যরা আল্লাহর নির্দেশ পালনে বিলম্বকারী’’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১০৬)।

একমতে বলা হয়েছে, ‘‘নিজের প্রতি অবিচার করা’’ বলতে নাফসে্র উপর অবিচার করাকে সমর্থন করা, নাফসকে কেবল প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা এবং নাফসে্র জন্য যা কল্যাণকর তা নষ্ট করা। সুতরাং অধিক আনুগত্যকে বর্জনকারী বর্জন পরিমাণ সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিবেচনায় নিজের প্রতি অবিচারকারী, আল্লাহ তার ওপর যা আবশ্যক করেছেন যদিও সে তা সম্পাদন করে থাকে এবং যা থেকে আল্লাহ তাকে নিষেধ করেছেন যদিও তা বর্জন করে থাকে। আর (مقتصد) বা মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী বলতে যে ব্যক্তি ধর্মের বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে, বাড়াবাড়ি ও শিথিলতার দিকে ধাবমান হয় না। পক্ষান্তরে ‘‘অগ্রগামী’’ বলতে ঐ ব্যক্তি যে ধর্মের বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে অন্যের অগ্রগামী হয়েছে আর এ ব্যক্তিই তিন ব্যক্তির মাঝে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। এ তিন ব্যক্তির তাফসীরে আরো অনেক উক্তি আছে, সা‘লাবী ও অন্যান্যগণ যা উল্লেখ করেছেন।

(قَالَ: كُلُّهُمْ فِى الْجَنَّةِ) সর্বনামটি তিন ব্যক্তির দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। হাদীসটি হাফেয ইবনু কাসীর ত্ববারানীর রিওয়ায়াতে এ অর্থে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ- ‘‘তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের প্রত্যেকেই এ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত।’’

শাওকানী একে ফাতহুল কদীরে (৪র্থ খণ্ডে ৩৪১ পৃষ্ঠাতে) উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এটিকে ত্ববারানী ও ইবনু মারদুওয়াইহি-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর বায়হাক্বী (তাদের প্রত্যেকে এ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের প্রত্যেকে জান্নাতে যাবে।) এ অর্থে উল্লেখ করেছেন।

ইবনু কাসীর বলেন, ‘আলী বিন আবূ তালহা ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِيْنَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ক্ষেত্রে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্বাস থেকে বলেন, তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাত। তাদেরকে আল্লাহ প্রত্যেক এমন কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছেন যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন। অতঃপর তাদের মাঝে যে অবিচারকারী তাকে তিনি ক্ষমা করবেন এবং তাদের মাঝে যে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী তার হিসাব সহজভাবে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের মাঝে যে কল্যাণে অগ্রগামী সে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বিশুদ্ধ কথা হল নিজের প্রতি অবিচারকারী এ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত। এটাই ইবনু জারীর এর নির্বাচন। যেমন তা আয়াতের বাহ্যিক দিক। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক হাদীস এসেছে। আর তা এমন সানাদে যার কতক কতককে শক্তিশালী করে। অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তার থেকে একটি হল, উসামাহ্ বিন যায়দ-এর হাদীস যার ব্যাখ্যায় আমরা রত আছি। আরো একটি হল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ সাঈ‘দ-এর হাদীস। নিশ্চয়ই তিনি

ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِيْنَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِه وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللّٰهِ

এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, এরা প্রত্যেকে একই স্তরের এবং তাদের প্রত্যেকে জান্নাতে যাবে। একে আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু জারীর এবং ইবনু আবী হাতিম সংকলন করেছেন, প্রত্যেকের সানাদে এমন বর্ণনাকারী আছে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইবনু কাসীর বলেন, بمنزلة واحدة উক্তির অর্থ হল, অর্থাৎ- নিশ্চয়ই তারা এ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা জান্নাতের অধিবাসী। যদিও জান্নাতে স্তরসমূহের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে পার্থক্য আছে। সেগুলো থেকে আরো একটি হাদীস হল, আবূ দারদা (রাঃ)-এর হাদীস, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِيْنَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِه وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللّٰهِ

সুতরাং যারা কল্যাণে অগ্রগামী তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, পক্ষান্তরে যারা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছে তারা ঐ সকল লোক যাদের সহজ হিসাব নেয়া হবে। আর যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছে তারা ঐ সকল লোক হাশরের মাঠে যাদের দীর্ঘ সময় হিসাব নেয়া হবে। অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে তার রহমাতের মাধ্যমে সংশোধন করেছেন তারাই বলে থাকে [অর্থাৎ- ‘‘সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের থেকে চিন্তা দূর করেছেন, নিশ্চয়ই আমাদের প্রভু অত্যন্ত ক্ষমাশীল, বড়ই কৃতজ্ঞ’’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৪)] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আহমাদ, ইবনু জারীর, ইবনু আবী হাতিম, ইবনুল মুনযির, ত্ববারানী এবং ইবনু মারদুওয়াইহি একে সংকলন করেছেন, আর বায়হাক্বী একে (البعث) কিতাবে সংকলন করেছেন। এ হাদীসগুলোর কতক কতককে শক্তিশালী করে এবং এ হাদীসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। আর এগুলোর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির উক্তিকে প্রতিহত করা দরকার যে ব্যক্তি ‘‘নিজের প্রতি অবিচারকারী’’ উক্তিকে কাফিরের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আর অধ্যায়টিতে ‘উমার, ‘উসমান, ‘আলী, ‘আয়িশাহ্, ইবনু মাস্‘ঊদ ও অন্যান্যগণ থেকে অনেক আসার আছে।

হাফেয ইবনু কাসীর এবং শাওকানী তাদের তাফসীরদ্বয়ে এ সকল আসার উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোর প্রত্যেকটি আয়াতের তাফসীরে জমহূর যে মত পেশ করেছেন তাকে সমর্থন করছে। নিশ্চয়ই তিনটি স্তর বলতে তারা উদ্দেশ্য করেছে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের থেকে যাদেরকে নির্বাচন করেছেন। আর তারাই হল এ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত ঈমানের অধিকারী, তাদের প্রত্যেকেই মুক্তি পাবে, জান্নাতে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

الصباح বা সকাল হলো- ফজর উদিত হওয়া থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। আর সন্ধ্যা সূর্য অস্ত হওয়া থেকে। যেমনটি রাগিব (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।

নাফি’ ইবনু আযরাক (রহঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে বললেনঃ আপনি কুরআনুল কারীমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিলাওয়াত করলেনঃفَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ তিনি বলেন, এর দ্বারা মাগরিব ও ’ইশার সালাত উদ্দেশ্য।وَحِيْنَ تُصْبِحُوْنَ এর দ্বারা ফজরের সালাত উদ্দেশ্য, وَعَشِيًّا এর দ্বারা ’আসরের সালাত এবং وَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَ এর দ্বারা যুহরের সালাত উদ্দেশ্য। (সূরা আর্ রূম ৩০ : ১৭-১৮)

আর এ হলো সাহাবায়ে কিরামদের صباح (সকাল) مساء (সন্ধ্যা)-এর ব্যাখ্যা। আর মুজাহিদ (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ব্যতীত المساء বা সন্ধ্যা হবে না। অতএব উক্ত সময়ের জিকিরগুলো(أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ) এরূপ হবে। ’আল্লামা নাবাবী (রহঃ) এ অধ্যায়ের অধীনে উল্লেখিত জিকির-আযকার সম্পর্কে বলেনঃ আমি জানি যে, নিশ্চয় এ অধ্যায়টি অত্যন্ত ব্যাপক, এ অধ্যায়ের তুলনায় ব্যাপক কোন অধ্যায় কিতাবটি (মিশকাতুল মাসাবীহ)-তে নেই। আর আমি এ ব্যাপকতার মাঝেও সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে কিছু আলোচনা করব ইনশা-আল্ল-হ। সুতরাং যে তার সমস্ত ’আমল (অধ্যায়ে উল্লেখিত সমস্ত জিকির-আযকার) করতে সক্ষম হবে এটা তার জন্য নিয়ামত, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে অনুগ্রহ এবং তার জন্য সুখবর। আর যে সমস্ত জিকির-আযকার করতে অক্ষম, সে যেন সংক্ষিপ্তাকারে হলেও এ জিকির-আযকারগুলো করে, এমনকি একটি জিকির হলেও। অতঃপর ’আল্লামা নাবাবী (রহঃ) সকাল-সন্ধ্যা, ইশরাক, সূর্য উদিত হওয়ার আগে এবং অস্ত যাওয়ার পরের জিকির, তাসবীহ ও দু’আর নির্দেশ সংক্রান্ত কুরআনুল কারীমের আয়াতে কারীমাগুলো উল্লেখ করলেন।


২৩৮১-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যার সময় বলতেন,

’’আম্‌সায়না- ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন খয়রি হা-যিহিল লায়লাতি ওয়া খয়রি মা- ফীহা- ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন শার্‌রিহা- ওয়া শার্‌রি মা- ফীহা- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াসূয়িল কিবারি ওয়া ফিত্‌নাতিদ্ দুন্ইয়া- ওয়া ’আযা-বিল কবরি’’

(অর্থাৎ- আমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম এবং সন্ধ্যায় প্রবেশ করল সাম্রাজ্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক, তার কোন শারীক নেই। তাঁরই সাম্রাজ্য। তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ রাতের কল্যাণ চাই এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ। আর আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে রাতের অকল্যাণ হতে আর এতে যা আছে তার অকল্যাণ হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, অলসতা, বার্ধক্য ও বার্ধক্যের অপকারিতা এবং দুনিয়ার বিপদাপদ ও কবরের ’আযাব হতে।)।

আর যখন ভোর হতো তখনও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ বলতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ’’আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুলকু লিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আমরা ভোরে প্রবেশ করলাম, ভোরে প্রবেশ করল সাম্রাজ্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশে)। আর এক বর্ণনায় রয়েছে, ’’রব্বি ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন ’আযা-বিন ফিন্‌না-রি ওয়া ’আযা-বিন ফিল কবরি’’ (অর্থাৎ- হে রব! আমি আশ্রয় চাই তোমার কাছে জাহান্নামের ’আযাব ও কবরের শাস্তি হতে)। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

عَن عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمْسَى قَالَ: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ»
وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّار وَعَذَاب فِي الْقَبْر» . رَوَاهُ مُسلم

عن عبد الله قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا امسى قال: «امسينا وامسى الملك لله والحمد لله ولا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير اللهم اني اسالك من خير هذه الليلة وخير ما فيها واعوذ بك من شرها وشر ما فيها اللهم اني اعوذ بك من الكسل والهرم وسوء الكبر وفتنة الدنيا وعذاب القبر» واذا اصبح قال ايضا: «اصبحنا واصبح الملك لله» . وفي رواية: «رب اني اعوذ بك من عذاب في النار وعذاب في القبر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসটিতে রুবূবিয়্যাতের দিকে দাসত্ব ও মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটেছে। নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি বিষয়ের ভাল ও মন্দ আল্লাহ তা‘আলার হাতেই রয়েছে। আর বান্দার হাতে তার কিছুই নেই এবং এখানে মুসলিম মিল্লাতের জন্য দু‘আ করার আদব জানার ব্যাপারেও শিক্ষা রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮২-[২] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর সময় গালের নীচে হাত রাখতেন আর বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি ও তোমার নামেই জীবিত হই)। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে বলতেন, ’’আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করলেন এবং তারই দিকে আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন)। (বুখারী)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا» . وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ: «الْحَمْدُ الله الَّذِي أَحْيَانًا بَعْدَمَا مَا أماتنا وَإِلَيْهِ النشور» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن حذيفة قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اخذ مضجعه من الليل وضع يده تحت خده ثم يقول: «اللهم باسمك اموت واحيا» . واذا استيقظ قال: «الحمد الله الذي احيانا بعدما ما اماتنا واليه النشور» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ উল্লেখিত দু‘আয় (...أَحْيَانًا) অর্থাৎ- ‘‘মৃত্যুর পর জীবিত করলেন’’ এটি মাজায, কেননা ঘুমের সময় জীবন আলাদা হয় না। কিন্তু ঘুমের সময় নড়াচড়া বন্ধ ও শক্তি দূরীভূত হয়, যা মৃত্যুরই নামান্তর। অতঃপর তিনি বলেনঃ (بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا) অর্থাৎ- ঘুমের পরবর্তীতে তিনি আমাদের ওপর শক্তি ও চলাফেরার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে, এগুলো (নড়াচড়া ও চলাফেরার শক্তি) দূর হয়ে যাওয়ার পর। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) মুত্বলাকভাবে (সাধারণভাবে) ঘুমের উপর মৃত্যু উল্লেখ করার হিকমাত সম্পর্কে বলেন যে, নিশ্চয় মানুষের উপকৃত হওয়াটা জীবিত থাকার সাথে সম্পৃক্ত, আর তা হলো আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর রাগ ও শাস্তি থেকে বেঁচে থাকা। সুতরাং যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন এ সকল উপকার তার থেকে দূর হয়ে যায় এবং জীবনের কোন অংশই সে গ্রহণ করতে পারে না, কাজেই তা তো মৃত্যুর মতই।

অতএব নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা (اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ) অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য। এটা নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা, যা জীবিত থাকার উপকারগুলো দূর হওয়ার পর ফিরিয়ে পাবার কৃতজ্ঞতা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৩-[৩] আর ইমাম মুসলিম বারা (রাঃ) হতে (বর্ণনা করেন)।[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَمُسلم عَن الْبَراء

ومسلم عن البراء

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলায়হি তথা বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। তবে সাহাবীদের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। আমি বলব, (মির্‘আত প্রণেতা) মুহাদ্দিসীনাদের পরিভাষা অনুযায়ী তা মুত্তাফাকুন আলায়হি-এর নয়। কারণ মুত্তাফাকুন আলায়হি তথা বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা (اتحاد الصحابى) বা সাহাবীদের ঐকমত্য হওয়া শর্ত করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৪-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বিছানায় ঘুমানোর সময় যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের ভিতর দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না, তারপর বিছানায় কি এসে পড়েছে। অতঃপর সে যেন এ দু’আ পড়ে,

’’বিস্‌মিকা রব্বী ওয়া য’তু জাম্‌বী ওয়াবিকা আরফা’উহ ইন্ আম্‌সাকতা নাফসী ফারহাম্‌হা- ওয়া ইন্ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহী ’ইবা-দাকাস্ স-লিহীন’’

(অর্থাৎ- হে রব! তোমার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং তোমার নামেই আবার তা উঠাব। যদি তুমি আমার আত্মাকে (মৃত্যু হতে) ফিরিয়ে রাখো, তবে তুমি আমার আত্মার উপর দয়া করো। আর যদি একে ছেড়ে দাও, তাহলে এর রক্ষা করো, যা দিয়ে তুমি তোমার নেক বান্দাদেরকে রক্ষা করে থাকো।)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর সে যেন নিজের ডান পাশে ঘুমায়, তারপর বলে, ’’বিসমিকা’’ (অর্থাৎ- তোমারই নামে)। (বুখারী, মুসলিম) [1]

অন্য আর এক বর্ণনায় আছে, ’’তারপর সে যেন পরিধেয় বস্ত্রের ভিতরের দিক দিয়ে (বিছানা) তিনবার ঝেড়ে নেয়, আর তুমি যদি আমার আত্মাকে রেখে দাও, তবে ক্ষমা করে দিও।’’

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا خَلَفَهُ عَلَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ: بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أرفعه إِن أَمْسَكت نَفسِي فارحمهما وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ . وَفِي رِوَايَةٍ: ثُمَّ لْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمن ثمَّ ليقل: بِاسْمِك
وَفِي رِوَايَةٍ: «فَلْيَنْفُضْهُ بِصَنِفَةِ ثَوْبِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَإِن أَمْسَكت نَفسِي فَاغْفِر لَهَا»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا اوى احدكم الى فراشه فلينفض فراشه بداخلة ازاره فانه لا يدري ما خلفه عليه ثم يقول: باسمك ربي وضعت جنبي وبك ارفعه ان امسكت نفسي فارحمهما وان ارسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين . وفي رواية: ثم ليضطجع على شقه الايمن ثم ليقل: باسمك وفي رواية: «فلينفضه بصنفة ثوبه ثلاث مرات وان امسكت نفسي فاغفر لها»

ব্যাখ্য: ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেনঃ তদানীন্তন সময়ে ‘আরবদের নিকট লুঙ্গি বা চাদর ছাড়া অন্য কোন কাপড় ছিল না বিধায় বিছানা ঝাড়া বা পরিষ্কার করার সাথে পরিধেয় বস্ত্রকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর এটাই সহজ ছিল এবং এতে আবরু খুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও এতে কম থাকে। ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ বিছানায় যাওয়ার পূর্বে তা ঝাড়া মুস্তাহাব। কেননা তাতে সাপ, বিচ্ছু বা অন্য কোন কষ্টদায়ক বস্ত্ত থাকতে পারে যা সে জানে না, কাজেই বিছানা ঝাড়াটা জরুরী। আর পরিধেয় বস্ত্র দ্বারা হাত আবৃত থাকবে যাতে বিছানায় খারাপ কিছু থাকলেও তা দ্বারা অনিষ্ট সাধিত না হয়।

উল্লেখ্য যে, আলোচ্য হাদীসটি আল্লাহ তা‘আলার কথারই সমর্থক।

اللّٰهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِيْنَ مَوْتِهَا وَالَّتِىْ لَمْ تَمُتْ فِىْ مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِىْ قَضٰى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الأُخْرٰى إِلٰى أَجَلٍ مُّسَمًّى

অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ তা‘আলা মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না তার নিদ্রাকালে.....।’’ (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৫-[৫] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় ডান কাত হয়ে ঘুমাতেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা আস্‌লামতু নাফসী ইলায়কা ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলায়কা ওয়া ফাও্ওয়াযতু আমরী ইলায়কা ওয়া আলজা’তু যহরী ইলায়কা রগবাতান ওয়া রহ্বাতান ইলায়কা লা- মালজাআ ওয়ালা- মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলায়কা আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম, তোমার দিকে চেয়ে থাকলাম, আমার কাজ তোমার ওপর সমর্পণ করলাম এবং ভয়ে ও আগ্রহ ভরে তোমার সাহায্যের উপর ভরসা করলাম। তুমি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় ও মুক্তি পাওয়ার কোন স্থান নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ ও যে নবী তুমি পাঠিয়েছ, সম্পূর্ণরূপে আমি এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করি।)। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এ দু’আ পড়বে তারপর ঐ রাতেই মারা যাবে, সে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, বর্ণনাকারী [বারা (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, হে অমুক! তুমি বিছানায় ঘুমানোর সময় সালাতের ওযূর মতো ওযূ করবে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাবে, অতঃপর বলবে, ’’আল্ল-হুম্মা আস্‌লামতু নাফসী ইলায়কা.....আরসালতা’’ (অর্থাৎ- ’হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম ...... পাঠিয়েছ’ পর্যন্ত।) অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি তুমি এ রাতেই মৃত্যুবরণ করো, তাহলে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে। আর যদি ভোরে (জীবিত) ওঠো, তাহলে কল্যাণের উপর উঠবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفَسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ» . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَهُنَّ ثُمَّ مَاتَ تَحْتَ لَيْلَتِهِ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ»
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ: يَا فُلَانُ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الْأَيْمَنِ ثُمَّ قُلِ: اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفَسِي إِلَيْكَ إِلَى قَوْلِهِ: أَرْسَلْتَ وَقَالَ: «فَإِنْ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ مِتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ وإِن أصبحتَ أصبتَ خيرا»

وعن البراء بن عازب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اوى الى فراشه نام على شقه الايمن ثم قال: «اللهم اسلمت نفسي اليك ووجهت وجهي اليك وفوضت امري اليك والجات ظهري اليك رغبة ورهبة اليك لا ملجا ولا منجا منك الا اليك امنت بكتابك الذي انزلت ونبيك الذي ارسلت» . وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قالهن ثم مات تحت ليلته مات على الفطرة» وفي رواية قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل: يا فلان اذا اويت الى فراشك فتوضا وضوءك للصلاة ثم اضطجع على شقك الايمن ثم قل: اللهم اسلمت نفسي اليك الى قوله: ارسلت وقال: «فان مت من ليلتك مت على الفطرة وان اصبحت اصبت خيرا»

ব্যাখ্যা: তিরমিযীতে রাফি' ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, (ইমাম আত্ তিরমিযী উক্ত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন) যদি ঐ রাতে সে মারা যায় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আহমাদ-এর অপর বর্ণনায় আলোচ্য হাদীসে উল্লেখিত শব্দের পরিবর্তে রয়েছে সে ফিতরাতের উপর মৃত্যুবরণ করবে, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবে।

‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত রয়েছে যা পালন করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।

১. ঘুমানোর সময় উযূ করা। যদি সে উযূ অবস্থায় থাকে তবে সে উযূই তার যথেষ্ট। কেননা রাতে মৃত্যুর আশংকায় পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো উদ্দেশ্য, যাতে সত্য স্বপ্ন দেখা যায় এবং ঘুমন্ত অবস্থায় শয়তানের খেলনা হওয়া থেকে বেঁচে থাকা যায়।

২. ডান কাতে ঘুমানো। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কাজ ডান দিক থেকে করা ভালবাসতেন।

৩. ঘুমানোর সময় আল্লাহর জিকির করা, যাতে জিকিরই তাঁর শেষ ‘আমল হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৬-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন,

’’আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব’আমানা- ওয়া সাকা-না- ওয়া কাফা-না- ওয়াআ-ওয়া-না- ফাকাম মিম্‌মান্ লা-কা-ফিয়া লাহূ ওয়ালা- মু’বিয়া’’

(অর্থাৎ- প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন, পান করালেন, আমাদের প্রয়োজন পূরণ করলেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন। অথচ এমন অনেক লোক আছে যাদের না আছে কেউ প্রয়োজন মিটাবার আর না আছে কোন আশ্রয়দাতা।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ: «الحمدُ للَّهِ الَّذِي أطعمنَا وَسَقَانَا وكفانا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مؤوي» . رَوَاهُ مُسلم

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اوى الى فراشه قال: «الحمد لله الذي اطعمنا وسقانا وكفانا واوانا فكم ممن لا كافي له ولا مووي» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: বলা যায় যে, ঘুমানোর সময় খাদ্য, পানীয় ও পূর্ণতার উপর আল্লাহর প্রশংসা করার উদ্দেশ্য এই যে, নিশ্চয় ঘুম পরিতৃপ্ত হওয়ারই একটি অংশ, কেননা ঘুমের মাধ্যমে ব্যস্ততা থেকে অবসর এবং অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৭-[৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ফাতিমা (রাঃ) (আটার) চাক্কি পিষতে পিষতে তার হাতের কষ্ট অনুভূত হওয়ার অভিযোগ স্বরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি [ফাতিমা (রাঃ)] জানতে পেরেছিলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যুদ্ধবন্দী গোলাম এসেছে। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রসূলের দেখা না পেয়ে মা ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে এ কথা বললেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন ’আয়িশাহ্ ফাত্বিমার কথা তাঁকে জানালেন। ’আলী (রাঃ) বলেন, অতঃপর খবর পেয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমাদের এখানে আসলেন, তখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়ছিলাম। তাঁকে দেখে আমরা উঠতে চাইলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাকো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এসে আমার ও ফাত্বিমার মাঝে বসে গেলেন। এমনকি আমি আমার পেটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা যা আমার কাছে চেয়েছ এর (গোলামের) চেয়ে অনেক উত্তম এমন কথা আমি কি তোমাদেরকে বলে দেবো না? আর তা হলো যখন তোমরা ঘুমাবে তখন তেত্রিশবার ’সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ’আলহামদুলিল্লা-হ’ এবং চৌত্রিশবার ’আল্ল-হু আকবার’ পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদিম (গোলাম) হতে অনেক উত্তম হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَن عَليّ: أَن فَاطِمَة أَنْت النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَشْكُو إِلَيْهِ مَا تَلْقَى فِي يَدِهَا مِنَ الرَّحَى وَبَلَغَهَا أَنَّهُ جَاءَهُ رَقِيقٌ فَلَمْ تُصَادِفْهُ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ فَلَمَّا جَاءَ أَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ قَالَ: فَجَاءَنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا فَذَهَبْنَا نَقُومُ فَقَالَ: عَلَى مَكَانِكُمَا فَجَاءَ فَقَعَدَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمِهِ عَلَى بَطْنِي فَقَالَ: «أَلَا أَدُلُّكُمَا عَلَى خَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَا؟ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضْجَعَكُمَا فَسَبِّحَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَاحْمَدَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبِّرَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَهُوَ خير لَكمَا من خَادِم»

وعن علي: ان فاطمة انت النبي صلى الله عليه وسلم تشكو اليه ما تلقى في يدها من الرحى وبلغها انه جاءه رقيق فلم تصادفه فذكرت ذلك لعاىشة فلما جاء اخبرته عاىشة قال: فجاءنا وقد اخذنا مضاجعنا فذهبنا نقوم فقال: على مكانكما فجاء فقعد بيني وبينها حتى وجدت برد قدمه على بطني فقال: «الا ادلكما على خير مما سالتما؟ اذا اخذتما مضجعكما فسبحا ثلاثا وثلاثين واحمدا ثلاثا وثلاثين وكبرا ثلاثا وثلاثين فهو خير لكما من خادم»

ব্যাখ্যা: অপর বর্ণনায় ‘আল্লামা ‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী (রহঃ) বলেনঃ অপর বর্ণনায় আত্ তাকবীর ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ৩৩ বার উল্লেখ রয়েছে, আবার অপর বর্ণনায় ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ ৩৪ বার রয়েছে। আবার অন্য বর্ণনায় ‘‘আলহামদু লিল্লা-হ’’ ৩৪ বার রয়েছে। তবে অধিকাংশ বর্ণনার ঐকমত্যে ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ৩৪ বার বলাই অগ্রগণ্য।

‘আল্লামা ইবনুল বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেনঃ ঘুমের সময় এ ধরনের জিকির করা বা সম্ভব মতো উল্লেখিত সমস্ত জিকির করা তাঁর উম্মাতের জন্য যথেষ্ট হবে, আর এ মর্মে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর এর অর্থ হলো এটি মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।

‘আল্লামা ‘ইয়ায (রহঃ) বলেনঃ অবস্থা ও সময়ভেদে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন জিকির বর্ণিত হয়েছে। আর এ প্রতিটি তাসবীহ বা জিকির উল্লেখিত সময়ে পড়লেই হবে।

আলোচ্য হাদীস থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, তরকারী পাকানো, রুটি বানানো বা বাড়ীর কাজে সক্ষম মহিলার বাবার বাড়ীতে থাকা অবস্থায় যদি তার খাদেম না থাকে তবে স্বামীর উপর তার জন্য খাদেম নিয়োগ দেয়া আবশ্যক নয়। কেননা ফাতিমা (রাঃ) খাদিম চাওয়ার পরও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মর্মে ‘আলী (রাঃ) তার খিদমাত করার কোন খাদিম নিয়োগের নির্দেশ দেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৮-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ফাতিমা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন খাদিম চাইতে আসলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন পথ দেখাবো না, যা তোমার জন্য খাদিমের চেয়ে অনেক উত্তম হবে? তা হলো প্রত্যেক সালাতের সময় ও ঘুমানোর সময় পড়বে তেত্রিশবার ’সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ’আলহামদুলিল্লা-হ’ ও চৌত্রিশবার ’আল্ল-হু আকবার’। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يَقُوْلُ عِنْدَ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ وَالْمَنَامِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْأَلُهُ خَادِمًا فَقَالَ: «أَلَا أَدُلُّكِ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ خَادِمٍ؟ تُسَبِّحِينَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدِينَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرِينَ اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَعِنْدَ مَنَامِكِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ابي هريرة قال: جاءت فاطمة الى النبي صلى الله عليه وسلم تساله خادما فقال: «الا ادلك على ما هو خير من خادم؟ تسبحين الله ثلاثا وثلاثين وتحمدين الله ثلاثا وثلاثين وتكبرين الله اربعا وثلاثين عند كل صلاة وعند منامك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে এ মর্মে দলীল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় অধ্যবসার সাথে এ জিকির করবে, তাকে ক্লান্তি ধরবে না। কেননা এখানে ফাতিমা (রাঃ) কাজের কষ্টের কথা বললেন, আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এটা পূর্ণ করতে বললেন। ইমাম ইবনু তায়মিয়্যাহ্ (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ‘আল্লামা হাফেয আসকালানী (রহঃ) বলেনঃ এতে লক্ষণীয় বিষয় রয়েছে, আর এখানে কষ্ট দূর হওয়ার ব্যাপারটি নির্দিষ্ট করা হয়নি। বরং যে সেটার (উল্লেখিত দু‘আ) প্রতি যত্নবান হবে, কাজের আধিক্যের কারণে তার কষ্ট না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কাজ তার ওপর কঠিন হবে না, যদিও তাতে কষ্ট সাধিত হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৮৯-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে ঘুম থেকে উঠে বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা বিকা আসবাহনা-, ওয়াবিকা আমসায়না-, ওয়াবিকা নাহ্ইয়া-, ওয়াবিকা নামূতু, ওয়া ইলায়কাল মাসীর’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্যে সকালে [ঘুম থেকে] উঠি, তোমারই সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় পৌঁছি। তোমারই নামে আমরা জীবিত হই [ঘুম থেকে উঠি] ও তোমারই নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি [ঘুমাতে যাই]। আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব।)।

সন্ধ্যার সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা বিকা আমসায়না-, ওয়াবিকা আসবাহনা-, ওয়াবিকা নাহ্ইয়া-, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলায়কান্ নুশূর’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্যে সন্ধ্যা বেলায় এসে পৌঁছি, তোমারই সাহায্যে সকালে উঠি। তোমারই নামে আমরা জীবিত হই, তোমারই নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি। আর তোমারই দিকে আমরা পুনঃএকত্রিত হব।)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ: «اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ» . وَإِذَا أَمْسَى قَالَ: «اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

عن ابي هريرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اصبح قال: «اللهم بك اصبحنا وبك امسينا وبك نحيا وبك نموت واليك المصير» . واذا امسى قال: «اللهم بك امسينا وبك اصبحنا وبك نحيا وبك نموت واليك النشور» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: আত্ তিরমিযী’র অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে এটা বলা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ ভোরে ঘুম থেকে উঠবে সে যেন (এ দু‘আ) বলবে।

ইবনু মাজার বর্ণনায় রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমরা সকাল করবে তখন এ দু‘আ বলো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯০-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দু’আ বলে দিন যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে,

’আল্ল-হুম্মা ’আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্‌শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ওয়া মালীকাহূ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আ’ঊযুবিকা মিন্ শাররি নাফ্‌সী, ওয়ামিন শার্‌রিশ্ শায়ত্ব-নি, ওয়া শিরকিহী’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে আমার মনের মন্দ হতে, শয়তানের মন্দ ও তাঁর শির্ক হতে আশ্রয় চাই।)

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এ দু’আ সকালে-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর সময় পড়বে।’’ (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعنهُ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِشَيْءٍ أَقُولُهُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ قَالَ: «قُلِ اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مضجعك» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد والدارمي

وعنه قال: قال ابو بكر: قلت يا رسول الله مرني بشيء اقوله اذا اصبحت واذا امسيت قال: «قل اللهم عالم الغيب والشهادة فاطر السماوات والارض رب كل شيء ومليكه اشهد ان لا اله الا انت اعوذ بك من شر نفسي ومن شر الشيطان وشركه قله اذا اصبحت واذا امسيت واذا اخذت مضجعك» . رواه الترمذي وابو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: নিশ্চয় আলোচ্য হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর বর্ণনায় সরাসরি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এবং তিনি [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] আবূ বাকর (রাঃ)-এর জিজ্ঞাসার সময় উপস্থিত ছিলেন। কতিপয় অনুলিপিতে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তবে কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে যে, আবূ বাকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি বললাম, (قُلْتُ) ‘ছাড়া’ এ কথাটি উল্লেখ করা। জামি' আল মাখরাজাইনেও অনুরূপ রয়েছে, ‘আল্লামা বাগাবী (রহঃ) মাসাবীহতেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। নাবাবী (রহঃ) ‘‘আল আযকার’’-এ, আল জাযরী ‘‘জামি' আল উসূল’’-এ, ‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) ‘‘তুহফাতুয্ যাকিরীন’’-এ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯১-[১১] আবান ইবনু ’উসমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বান্দা প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে, ’’বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াযুররু মা’আইস্‌মিহী শায়উন ফিল আরযি ওয়ালা- ফিস্‌সামা-য়ি, ওয়া হুওয়াস্ সামী’উল ’আলিম’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে শুরু করছি, যে নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব শুনেন ও জানেন)- কোন কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারে না। বর্ণনাকারী বলেন, আবান পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এজন্য যারা হাদীস শুনছিলেন তারা তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। আবান তখন বললেন, আমার দিকে কী দেখছ? নিশ্চয়ই হাদীস যা আমি বর্ণনা করছি তাই, তবে যেদিন আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি সেদিন এ দু’আ পড়িনি। এ কারণে আল্লাহ আমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছিলেন তা কার্যকরী হয়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ। কিন্তু আবূ দাঊদ-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে, সে রাতে তাঁর ওপর কোন আকস্মিক বিপদাপদ ঘটবে না যে পর্যন্ত না ভোর হয়, আর যে তা ভোরে বলবে তার ওপর কোন আকস্মিক বিপদাপদ সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না সন্ধ্যা উপনীত হয়।)[1]

وَعَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَيَضُرَّهُ شَيْءٌ» . فَكَانَ أَبَانُ قَدْ أَصَابَهُ طَرَفُ فَالَجٍ فَجَعَلَ الرَّجُلَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أَبَانُ: مَا تَنْظُرُ إِلَيَّ؟ أَمَا إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا حَدَّثْتُكَ وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ يَوْمَئِذٍ لِيُمْضِيَ اللَّهُ عَلَيَّ قَدَرَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه وَأَبُو دَاوُد وَفِي رِوَايَته: «لَمْ تُصِبْهُ فُجَاءَةُ بَلَاءٍ حَتَّى يُصْبِحَ وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُصْبِحُ لَمْ تُصِبْهُ فُجَاءَةُ بَلَاءٍ حَتَّى يُمسيَ»

وعن ابان بن عثمان قال: سمعت ابي يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من عبد يقول في صباح كل يوم ومساء كل ليلة بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الارض ولا في السماء وهو السميع العليم ثلاث مرات فيضره شيء» . فكان ابان قد اصابه طرف فالج فجعل الرجل ينظر اليه فقال له ابان: ما تنظر الي؟ اما ان الحديث كما حدثتك ولكني لم اقله يومىذ ليمضي الله علي قدره. رواه الترمذي وابن ماجه وابو داود وفي روايته: «لم تصبه فجاءة بلاء حتى يصبح ومن قالها حين يصبح لم تصبه فجاءة بلاء حتى يمسي»

ব্যাখ্যা: আল বুখারী (রহঃ) আল আদাবুল মুফরাদে এ শব্দে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিন তিনবার করে (بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِىْ لَا يَضُرُّ مَعَ اِسْمِه شَىْءٌ فِى الْأَرْضِ وَلَا فِى السَّمَآءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ) এ দু‘আ পড়বে, ঐ দিন এবং রাতে কোন কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। আলোচ্য হাদীসে এ মর্মে দলীল রয়েছে যে, নিশ্চয় এ (দু‘আয় উল্লেখিত) শব্দগুলো তা পাঠকারী থেকে সকল ক্ষতি প্রতিহত করবে, রাত ও দিনে তার উপর কোন ক্ষতি পৌঁছবে না, যখন সে তা রাত ও দিনের প্রথমভাগে পড়বে।

আবূ দাঊদ-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, লোকটি তার (আবান) নিকট হাদীস শুনার পর তার দিকে তাকাতে লাগল। অতঃপর তিনি (আবান) বললেন, আমার দিকে তাকাচ্ছ কেন? আল্লাহর কসম! আমি ‘উসমান -এর উপর মিথ্যা বলছি না এবং ‘উসমান  নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর মিথ্যা বলেননি.....।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯২-[১২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যা হলে বলতেন,

’আম্‌সায়না- ওয়া আম্‌সাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, রব্বী আস্আলুকা খয়রা মা- ফী হা-যিহিল লায়লাতি ওয়া খয়রা মা- বা’দাহা- ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ শার্‌রি মা- ফী হা-যিহিল লায়লাতি ওয়াশার্‌রি মা- বা’দাহা- রব্বী আ’ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়ামিন্ সূয়িল কিবারি আউইল কুফরি’’

(অর্থাৎ- আমরা সন্ধ্যায় এসে পৌঁছলাম এবং সমগ্র সাম্রাজ্য সন্ধ্যায় এসে পৌঁছল আল্লাহর উদ্দেশে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁরই রাজত্ব ও শাসন, তাঁরই জন্য সব প্রশংসা। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমি তোমার কাছে চাই এ রাতে যা কল্যাণ আছে তা হতে, এরপরে যা আছে তার কল্যাণ হতে। আর আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতে। এরপরে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতেও। হে রব! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা হতে ও বার্ধক্যের অকল্যাণ হতে; অথবা বলেছেন, কুফরীর অনিষ্টতা হতে।)।

আর অপর এক বর্ণনায় আছে, বার্ধক্যের অকল্যাণ ও দাম্ভিকতা হতে। হে পরওয়ারদিগার! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সকালে উঠতেন তখনও এ দু’আ পড়তেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পড়তেন, ’’আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুলকু লিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আমরা সকালে এসে উপনীত হলাম। আর সমগ্র সাম্রাজ্যও আল্লাহর উদ্দেশে এসে উপনীত হলো।) (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী; তবে ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায়مِنْ سُوْءِ الْكُفْرِ বাক্যটির উল্লেখ নেই)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَمْسَى: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَمِنْ سُوءِ الْكِبَرِ أَوِ الْكُفْرِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «مِنْ سُوءِ الْكِبَرِ وَالْكِبْرِ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ» . وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذَلِكَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَفِي رِوَايَتِهِ لم يذكر: «من سوءِ الكفرِ»

وعن عبد الله ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول اذا امسى: «امسينا وامسى الملك لله والحمد لله لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير رب اسالك خير ما في هذه الليلة وخير ما بعدها واعوذ بك من شر ما في هذه الليلة وشر ما بعدها رب اعوذ بك من الكسل ومن سوء الكبر او الكفر» . وفي رواية: «من سوء الكبر والكبر رب اعوذ بك من عذاب في النار وعذاب في القبر» . واذا اصبح قال ذلك ايضا: «اصبحنا واصبح الملك لله» . رواه ابو داود والترمذي وفي روايته لم يذكر: «من سوء الكفر»

ব্যাখ্যা: (أَوِ الْكُفْرِ) এখানে রাবীর সন্দেহ রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহংকারের অনিষ্টতা বলেছেন, না-কি কুফরীর অনিষ্টতার কথা বলেছেন। জামি‘ আল উসূলে (والْكُفْرِ) উল্লেখ রয়েছে, অর্থাৎ- أَوِ -এর পরিবর্তে واو রয়েছে। অর্থাৎ- سُوْءِ الْكِبَرِ যাতে কুফরী রয়েছে তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই। ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেনঃ কুফর, তার পাপ ও তার অশুভ পরিণতি থেকে আশ্রয় চাই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৩-[১৩] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন কন্যা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে শিখাতেন এভাবে, যখন তুমি ভোরে বিছানা হতে উঠবে তখন বলবে,

’’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি, মা-শা-আল্ল-হু কা-না, ওয়ামা-লাম ইয়াশা’লাম ইয়াকুন, আ’লামু আন্‌নাল্ল-হা ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, ওয়া আন্‌নাল্ল-হা কদ আহা-ত্বা বিকুল্লি শাইয়িন ’ইলমা-’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ তা’আলার প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর শক্তি-সামর্থ্য ছাড়া কারো কোন শক্তি নেই। আল্লাহ যা চান তাই হয়, যা তিনি চান না তা হয় না। আমি জানি, আল্লাহ সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাবান। আর সব জিনিসই আল্লাহ তার জ্ঞানের মাধ্যমে ঘিরে রেখেছেন।)।

যে ভোরে উঠে এ দু’আ পড়বে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত সে (আল্লাহর) হিফাযাতে থাকবে। আর যে সন্ধ্যা হবার পর এ দু’আ পড়বে সে সকাল হওয়া (ঘুম হতে ওঠা) পর্যন্ত হিফাযাতে থাকবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ بَعْضِ بَنَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهَا فَيَقُولُ: قُولِي حِينَ تُصْبِحِينَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا فَإِنَّهُ مَنْ قَالَهَا حِينَ يُصْبِحُ حُفِظَ حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي حُفِظَ حَتَّى يصبح . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن بعض بنات النبي صلى الله عليه وسلم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يعلمها فيقول: قولي حين تصبحين: سبحان الله وبحمده ولا قوة الا بالله ما شاء الله كان وما لم يشا لم يكن اعلم ان الله على كل شيء قدير وان الله قد احاط بكل شيء علما فانه من قالها حين يصبح حفظ حتى يمسي ومن قالها حين يمسي حفظ حتى يصبح . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাফেয আসকালানী (রহঃ) আত্ তাকরীব গ্রন্থে বলেনঃ তার নামের উপর হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা থেমে থাকবে না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাগণ সকলেই সাহাবী ছিলেন, কাজেই নামের অজ্ঞতায় কোন ক্ষতি নেই। এ হাদীসটি নাসায়ী তার আল কুবরা গ্রন্থে এবং ইবনু সিনাইও বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেকেই বানী হাশিম-এর দাস ‘আবদুল হামিদ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক কন্যার খিদমাত করতেন (খাদিমাহ্ ছিলেন)। অতএব নিশ্চয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা (উল্লেখিত দু‘আ) শিক্ষা দিতেন.....।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৪-[১৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম হতে) উঠে এ আয়াতটি পড়বে,

’’ফাসুবহা-নাল্ল-হি হীনা তুম্‌সূনা ওহীনা তুসবিহূন, ওয়া লাহুল হাম্‌দু ফিস্‌সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, ওয়া ’আশিয়্যাও ওহীনা তুযহিরূন..... ওয়াকাযা-লিকা তুখরাজূন’’

(অর্থাৎ- অতএব আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর তোমরা সন্ধ্যায় ও সকালে এবং আসমান ও জমিনে প্রশংসা একমাত্র তারই জন্য, আর বিকালে ও দুপুরে উপনীত হও..... এভাবে বের হবে’’ পর্যন্ত’’- (সূরা আর্ রূম ৩০ : ১৭-১৯)। সে লাভ করবে ঐদিন যা তার ছুটে গেছে। আর যখন এ দু’আ সন্ধ্যায় পড়বে তখন সে লাভ করবে যা তার ঐ রাতে ছুটে গেছে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ: (فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ ولهُ الحمدُ فِي السمواتِ والأرضِ وعشيَّاً وحينَ تُظهرون)
إِلى قَوْله: (وَكَذَلِكَ تُخْرَجونَ)
أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ وَمَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يُمْسِي أَدْرَكَ مَا فَاتَهُ فِي ليلتِهِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال حين يصبح: (فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون وله الحمد في السموات والارض وعشيا وحين تظهرون) الى قوله: (وكذلك تخرجون) ادرك ما فاته في يومه ذلك ومن قالهن حين يمسي ادرك ما فاته في ليلته . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: নাফি' ইবনু আল আরযাক ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি কুরআনুল কারীমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছেন কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ এবং এ দু’টি আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং বললেনঃ এ আয়াত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও তার সময়কে একত্র করেছে।

وَكَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ এটি الإخراج মাসদার হতে মাজহূলের সিগাহ্। এটি রাবী কর্তৃক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, আর এটি সূরা আর্ রূম-এর আয়াত। يُخْرِجُ الْحَىَّ مِنَ الْمَيِّتِ অর্থাৎ- তিনি মৃত থেকে জীবন বের করেন। যেমন ডিম থেকে পাখি, শুক্রবিন্দু থেকে প্রাণী, বীজ থেকে উদ্ভিত, কাফির থেকে মু’মিন, গাফিল থেকে জিকিরকারী, মূর্খ থেকে জ্ঞানী, অসৎ থেকে সৎ। يُخْرِجُ الْحَىَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَىِّ وَيُحْىِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ অর্থাৎ- তোমাদের কবর থেকে জীবিত বের করবেন হিসাব, শাস্তি এবং নিয়ামতের (জান্নাত) জন্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৫-[১৫] আবূ ’আইয়্যাশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে বলবে,

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, প্রশংসাও তাঁর এবং তিনি সকল জিনিসের উপর সবচেয়ে শক্তিশালী।)।

তার জন্য এ দু’আ ইসমা’ঈল বংশীয় একটি চাকর মুক্ত করার সমতুল্য হবে এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখা হবে ও তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, আর তার দশটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং (সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত) সে শয়তান হতে হিফাযাতে থাকবে।

আর যদি সে ব্যক্তি এ দু’আ সন্ধ্যায় পড়ে তাহলে আবার সকালে (ঘুম হতে) ওঠার পূর্ব পর্যন্ত অনুরূপ সাওয়াব ও মর্যাদা পেতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আবূ ’আইয়্যাশ আপনার নাম করে এসব কথা বলে। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আবূ ’আইয়্যাশ সত্য কথা বলছে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي عَيَّاشٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَالَ إِذَا أَصْبَحَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَانَ لَهُ عَدْلُ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَكُتِبَ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَحَطَّ عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرفع عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَكَانَ فِي حِرْزٍ مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَالَهَا إِذَا أَمْسَى كَانَ لهُ مثلُ ذَلِك حَتَّى يُصبحَ . قَالَ حَمَّاد بن سَلمَة: فَرَأَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا عَيَّاشٍ يُحَدِّثُ عَنْكَ بِكَذَا وَكَذَا قَالَ: «صَدَقَ أَبُو عَيَّاشٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابي عياش ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من قال اذا اصبح: لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير كان له عدل رقبة من ولد اسماعيل وكتب له عشر حسنات وحط عنه عشر سيىات ورفع عشر درجات وكان في حرز من الشيطان حتى يمسي وان قالها اذا امسى كان له مثل ذلك حتى يصبح . قال حماد بن سلمة: فراى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرى الناىم فقال: يا رسول الله ان ابا عياش يحدث عنك بكذا وكذا قال: «صدق ابو عياش» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: ইবনুস্ সিনায় রয়েছে, লোকটি বলল যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, আবূ ‘আইয়্যাশ সত্য বলেছে, আবূ ‘আইয়্যাশ সত্য বলেছে, আবূ ‘আইয়্যাশ সত্য বলেছে। (فَرَأَى رَجُلٌ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ অর্থাৎ- এক লোক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখল) এটি উল্লেখ করা হয়েছে তা জাহির করার জন্য স্বপ্নের স্থায়িত্ব বুঝানো ও অন্তরের প্রশান্তির জন্য। সেটার (স্বপ্নের) বিশুদ্ধতার উপর দলীল গ্রহণের জন্য নয়। কারণ এ মর্মে সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, স্বপ্নের মাধ্যমে হুকুম এবং হাদীস কোনটি সাব্যস্ত হবে না। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তি মুখস্থ করতে পারবে না। সুতরাং সে তার শ্রবণের বিপরীত বর্ণনা করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৬-[১৬] হারিস ইবনু মুসলিম আত্ তামীমী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। একদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃদুস্বরে বললেন, তুমি মাগরিবের সালাত আদায় শেষে কারো সাথে কথা বলার আগে সাতবার পড়বে, ’’আল্ল-হুম্মা আজিরনী মিনান্‌না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো)। তুমি এ দু’আ পড়ার পর ঐ রাতে মারা গেলে, তোমার জন্য জাহান্নাম হতে ছাড়পত্র লেখা হবে। একইভাবে তুমি ফজরের সালাত আদায়ের পর এ দু’আ পড়বে, তারপর তুমি ঐ দিন মারা গেলে, তোমাকে জাহান্নাম হতে ছাড়পত্র লেখা হবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ الْحَارِثِ بْنِ مُسْلِمٍ التَّمِيمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَسَرَّ إِلَيْهِ فَقَالَ: «إِذَا انْصَرَفْتَ مِنْ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذَلِكَ ثُمَّ مِتَّ فِي لَيْلَتِكَ كُتِبَ لَكَ جَوَازٌ مِنْهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن الحارث بن مسلم التميمي عن ابيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه اسر اليه فقال: «اذا انصرفت من صلاة المغرب فقل قبل ان تكلم احدا اللهم اجرني من النار سبع مرات فانك اذا قلت ذلك ثم مت في ليلتك كتب لك جواز منها» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা মানাবী (রহঃ) ‘‘ফায়যুল কদীর’’ গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ৩৯৩ পৃষ্ঠা) বলেনঃ ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন যে, এখানে সমষ্টিগত দলীল গ্রহণ করা যায় যে, নিশ্চয় সালাত, তারপর নফল সালাত থাকুক অথবা না থাকুক। প্রথমত যে সালাতের শেষে নফল সালাত (নিয়মিত সুন্নাত) থাকে, যেমন- যুহর, মাগরিব ও ‘ইশা- সেসব সালাতে নফল সালাতের পূর্বে হাদীসে উল্লেখিত জিকিরসহ অন্যান্য জিকির-আযকারে ব্যস্ত থাকবে। অতঃপর নফল সালাত আদায় করবে? না-কি এর বিপরীত করবে। (অর্থাৎ- নফল সালাত আদায় করার পর জিকির-আযকার করবে) এ ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। জমহূর ‘উলামাগণ প্রথম মত গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ- ফরয সালাতের পর জিকির-আযকার করতে হবে। অতঃপর নফল সালাত আদায় করতে হবে। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) দ্বিতীয় মত গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ- ফরয সালাতের পর পরই নফল সালাত আদায় করতে হবে। অতঃপর জিকির-আযকার করতে হবে। তবে নফল সালাতের পূর্বে জিকির-আযকার করাই প্রাধান্য পাবে। কারণ একাধিক সহীহ হাদীসে ফরয সালাতের পর সেটা (জিকির-আযকার) নির্ধারিত রয়েছে। হাম্বালী মাযহাবে কেউ কেউ মনে করেন যে, এখানে সালাতের পর বলতে সালামের পূর্বে বুঝানো হয়েছে। এ মর্মেও একাধিক হাদীস বর্ণিত রয়েছে। দ্বিতীয়ত যে সকল সালাতে নফল সালাত (নিয়মিত সুন্নাত) নেই, সে সকল সালাতে ইমাম এবং মুক্তাদী সকলেই ফরয সালাতের পর জিকির-আযকারে ব্যস্ত থাকবে। আর এর জন্য কোন স্থান নির্ধারিত নেই, বরং যদি তারা চায় সেখান থেকে চলে যেতে পারে, অথবা তাতে (সালাতের স্থানে) অবস্থান করে জিকির করতে পারে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৭-[১৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কক্ষনো সকাল-সন্ধ্যায় এ দু’আটি না পড়ে ছাড়েননি। (দু’আটি হলো)

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ’আ-ফিয়াতা ফিদ্ দুন্ইয়া- ওয়াল আ-খিরাতি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ’আফ্ওয়া, ওয়াল ’আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়া দুন্ইয়া-ইয়া ওয়া আহলী, ওয়ামা-লী। আল্ল-হুমাসতুর ’আওর-তী, ওয়া আ-মিন রও’আ-তী। আল্ল-হুম্মাহ্ ফাযনী, মিন বায়নি ইয়াদী ওয়ামিন খলফী, ওয়া ’আন ইয়ামীনী, ওয়া ’আন শিমা-লী, ওয়ামিন ফাওক্বী। ওয়া আ’ঊযু বি’আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতী’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার দীন, দুনিয়া, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সম্পর্কে নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার দোষ-ত্রুটিগুলো গোপন রাখো এবং ভীতিকর বিষয় হতে আমাকে নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার সামনের দিক হতে, পেছনের দিক হতে, আমার ডান দিক হতে, আমার বাম দিক হতে, আমার উপর হতে আমাকে হিফাযাত করো। হে আল্লাহ! আমি মাটিতে ধসে যাওয়া হতে তোমার মর্যাদার কাছে আশ্রয় চাই।)। ওয়াকী’ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ- ’ভূমিধ্বস হতে’। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَعُ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ حِينَ يُمْسِي وَحِينَ يُصْبِحُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدِي وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَن أُغتالَ من تحتي» . قَالَ وَكِيع يَعْنِي الْخَسْف رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عمر قال: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يدع هولاء الكلمات حين يمسي وحين يصبح: «اللهم اني اسالك العافية في الدنيا والاخرة اللهم اني اسالك العفو والعافية في ديني ودنياي واهلي ومالي اللهم استر عوراتي وامن روعاتي اللهم احفظني من بين يدي ومن خلفي وعن يميني وعن شمالي ومن فوقي واعوذ بعظمتك ان اغتال من تحتي» . قال وكيع يعني الخسف رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ওয়াকী' (রহঃ)-এর কথা (يَعْنِى الْخَسْفَ) সকল অনুলিপিতে অনুরূপ রয়েছে, হাকিম এবং আল মুসনাদে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে। আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ এবং ইবনু হিব্বানে রয়েছে, ওয়াকী' (হাদীসের রাবী) বলেনঃ (يَعْنِى الْخَسْفَ)। আর ইবনুস্ সিনায় রয়েছে যে, (জুবায়র, অর্থাৎ- ইবনু সুলায়মান ইবনু জুবায়র ইবনু মুত্‘ইম ইবনু ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের রাবী) (وهو الخسف)। ‘উবাদাহ্  বলেনঃ ওয়াকী' (রহঃ)-এর উস্তায ও জুবায়র (রাঃ) এর ছাত্র) আমি জানি না এটি, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা নাকি জুবায়র (রাঃ)-এর কথা। অর্থাৎ- তিনি তা বর্ণনা করেছেন? না-কি নিজের পক্ষ হতে বলেছেন।

হাফেয আসকালানী (রহঃ) বলেনঃ ওয়াকী' (রহঃ) এটি (يَعْنِى الْخَسْفَ) মুখস্থ করেননি, বরং তিনি নিজের পক্ষ হতে বলেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৮-[১৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে বলবে,

’’আল্ল-হুম্মা আসবাহনা- নুশহিদুকা, ওয়া নুশহিদু হামালাতা ’আরশিকা, ওয়া মালা-য়িকাতাকা, ওয়া জামী’আ খলক্বিকা, আন্‌নাকা আনতাল্ল-হু, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু আন্‌তা ওয়াহদাকা, লা- শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুকা ওয়া রসূলুকা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি ভোরে তোমাকে এবং তোমার ’আরশের বহনকারীদেরকে, তোমার মালায়িকাহকে [ফেরেশতাগণকে], তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে। নিশ্চয়ই তুমিই আল্লাহ! তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই। তুমি একক, তোমার কোন শারীক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বান্দা ও রসূল।)।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ঐ দিনে তার যে গুনাহ হবে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর সে যদি এ দু’আ সন্ধ্যায় পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ঐ রাতে যে গুনাহ সংঘটিত হবে তা ক্ষমা করে দেবেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেন)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ: اللَّهُمَّ أَصْبَحْنَا نُشْهِدُكَ وَنُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا أَصَابَهُ فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ مِنْ ذَنْبٍ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال حين يصبح: اللهم اصبحنا نشهدك ونشهد حملة عرشك وملاىكتك وجميع خلقك انك انت الله لا اله الا انت وحدك لا شريك لك وان محمدا عبدك ورسولك الا غفر الله له ما اصابه في يومه ذلك من ذنب . رواه الترمذي وابو داود وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন তবে কাবীরাহ্ গুনাহ তা থেকে আলাদা হবে। অর্থাৎ- কাবীরাহ গুনাহ ব্যতীত আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর বান্দার অধিকারের সাথে সম্পর্কে গুনাহটাও কাবীরাহ্ গুনাহের অনুরূপ। তবে এখানে দিন বা রাতের সমস্ত গুনাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ মর্মে উৎসাহিত করার জন্য যে, আল্লাহ তা‘আলা শির্ক ব্যতীত সকল গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করতে পারেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৩৯৯-[১৯] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম বান্দা সন্ধ্যার সময় ও ভোরে উঠে তিনবার বলবে, ’’রযীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে পেয়ে খুশি হয়েছি)- নিশ্চয়ই এ দু’আ কিয়ামতের দিন তাকে খুশী করানো আল্লাহর জন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে। (আহমদ, তিরমিযী)[1]

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَقُولُ إِذَا أَمْسَى وَإِذَا أَصْبَحَ ثَلَاثًا رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُرْضِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَة» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من عبد مسلم يقول اذا امسى واذا اصبح ثلاثا رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد نبيا الا كان حقا على الله ان يرضيه يوم القيامة» . رواه احمد والترمذي

ব্যাখ্যা: আত্ তিরমিযী’র শব্দে আবূ সালামাহ্ এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় বলবে- (رَضِيتُ بِاللّٰهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا) অর্থাৎ- রব বা প্রতিপালক হিসেবে আল্লাহ পেয়ে, দীন হিসেবে ইসলামকে পেয়ে এবং নাবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়ে সন্তুষ্ট রয়েছি। তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকাও আল্লাহ তা‘আলার উপর কর্তব্য, আর আবী সালামাহ্ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদিম থেকে বর্ণিত রয়েছে, সেখানে (وبمحمد رسولًا) বা রসূল হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি) নাবী’র পরিবর্তে রসূল বলা হয়েছে। ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) ‘আল আযকার’-এ দু’টি হাদীস উল্লেখ করার পর বলেনঃ উভয় বর্ণনার মাঝে সমন্বয় করা মানুষের জন্য মুস্তাহাব।

অতএব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রে (نبيًا رسولًا) (নাবিয়্যান রসূলান) বলতে হবে। তবে যদি এ দু’টোর একটি বলেন অর্থাৎ- نبيًا অথবা رسولًا তাহলে আলোচ্য হাদীসের উপর ‘আমল হবে। কারো মতে (نبيًا ورسولًا) বলা বিশুদ্ধ হবে। কারণ উভয় হাদীসের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘আমলে দু’টি গুণ সাব্যস্ত করাই হলো মূল উদ্দেশ্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০০-[২০] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন হাত মাথার নীচে রাখতেন, অতঃপর বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা কিনী ’আযা-বাকা ইয়াওমা তাজমা’উ ’ইবা-দাকা, আও তাব্’আসু ’ইবা-দাকা’’ [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে তোমার শাস্তি হতে বাঁচিয়ে রেখ, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনঃএকত্র করবে; অথবা (বলেছেন) যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে কবর হতে উঠাবে।]। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ رَأْسِهِ ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ عِبَادَكَ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن حذيفة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد ان ينام وضع يده تحت راسه ثم قال: «اللهم قني عذابك يوم تجمع عبادك او تبعث عبادك» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (يَوْمَ تَجْمَعُ عِبَادَكَ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ) অর্থাৎ- কিয়ামতের দিন, এখানে أَوْ বা অথবা এর ব্যবহার রাবীর সংশয়ের জন্য। রাবী সংশয় প্রকাশ করছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম تَجْمَعُ বলেছেন? নাকি تَبْعَثُ বলেছেন?

অবশ্য আহমাদে ইবনু মাস্‘ঊদণ্ডএর বর্ণনায় কোন সংশয় ছাড়াই تَجْمَعُ উল্লেখ রয়েছে, আর হাফসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রাবীর সংশয় ছাড়াই تَبْعَثُ উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং যে শব্দেই উল্লেখিত দু‘আ বলবে সেটাই তার জন্য বৈধ হবে। আর ঘুম যখন মৃত্যুর মতো আর জাগ্রত হওয়া পুনরায় জীবিত হওয়ার মতো, তখন এ দু‘আ উল্লেখিত অবস্থায় পড়তে হবে। তবে এ দু‘আ তিনবার বলা মুস্তাহাব। যেমন- হাফসা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস অচিরেই আসবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০১-[২১] ইমাম আহমদ (রহঃ) বারা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ أَحْمد عَن الْبَراء

ورواه احمد عن البراء

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসটি ইমাম আত্ তিরমিযী (রহঃ) তাঁর সুনান এবং আশ্ শামা-য়িল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ‘আল্লামা বাগাবী (রহঃ) তার শারহে সুন্নাহ্’য় (৫ম খণ্ড, ৯৭ পৃঃ) ইমাম নাসায়ী (রহঃ) তাঁর ‘আল ইয়ামু ওয়াল লায়লা’ গ্রন্থে এবং ইবনু হিব্বান (রহঃ) তাঁর ‘সহীহাহ্’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তার সানাদ সহীহ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০২-[২২] হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর ইচ্ছা করলে ডান হাত গালের নীচে রাখতেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা কিনী ’আযা-বাকা ইয়াওমা তাব্’আসু ’ইবা-দাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি যেদিন তোমার বান্দাদেরকে কবর হতে উঠাবে, তোমার ’আযাব হতে আমাকে রক্ষা করবে)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن حَفصةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ» . ثَلَاثَ مَرَّاتٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن حفصة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد ان يرقد وضع يده اليمنى تحت خده ثم يقول: «اللهم قني عذابك يوم تبعث عبادك» . ثلاث مرات رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (قِنِىْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ) অর্থাৎ- এক্ষেত্রে প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির জন্য জানা উচিত হলো, ঘুমকে আল্লাহ মাধ্যম বানিয়েছেন মৃত্যু ও পুনরুত্থানের কথা স্মরণ করার জন্য, যা মৃত্যুর পরে সংঘটিত হবে।

কোন কোন বর্ণনায় (مَرَّاتٍ) ‘‘একবার’’ এর পরিবর্তে مِرَارً ‘‘একাধিকবার’’ বলার কথা উল্লেখ রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৩-[২৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর সময় বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযু বিওয়াজহিকাল কারীম, ওয়া কালিমা-তিকা তা-ম্‌মা-তি মিন্ শাররি মা- আন্‌তা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহী, আল্ল-হুম্মা আন্‌তা তাকশিফুল মাগরামা, ওয়াল মা’সামা। আল্ল-হুম্মা লা- ইউহযামু জুনদুকা, ওয়ালা- ইউখলাফু ওয়া’দুকা ওয়ালা- ইয়ানফা’উ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। সুবহা-নাকা, ওয়াবিহাম্‌দিকা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার অধীনে যা আছে আমি তার অনিষ্ট হতে তোমার মহান সত্তার ও তোমার পূর্ণ কালামের স্মরণ করে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমিই ঋণগ্রস্ততা ও গুনাহের ভার দূর করে দাও। হে আল্লাহ! তোমার দল পরাভূত হয় না, কক্ষনো তোমার ওয়া’দা ভঙ্গ হয় না এবং কোন সম্পদশালীর সম্পদ তাকে তোমা হতে রক্ষা করতে পারে না। তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ مَضْجَعِهِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بناصيتهِ اللهُمَّ أَنْت تكشِفُ المغرمَ والمأْثمَ اللهُمَّ لَا يُهْزَمُ جُنْدُكَ وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن علي رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول عند مضجعه: «اللهم اني اعوذ بوجهك الكريم وكلماتك التامات من شر ما انت اخذ بناصيته اللهم انت تكشف المغرم والماثم اللهم لا يهزم جندك ولا يخلف وعدك ولا ينفع ذا الجد منك الجد سبحانك وبحمدك» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (إِنِّىْ أَعُوذُ بِوَجْهِكَ) অর্থাৎ- আপনার সত্তার সাথে, এখানে وجه বা চেহারা বলতে সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তা‘আলার কথা- ‘‘তার চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল’’- (সূরা আল কাসাস ২৮ : ৮৮)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৪-[২৪] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিছানায় ঘুমানোর সময় তিনবার পড়বে, ’’আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তার কাছে আমি তওবা্ করি।)-

এ দু’আয় আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা অথবা বালুর স্তূপ অথবা গাছের পাতার সংখ্যা অথবা দুনিয়ার দিনগুলোর সংখ্যার চেয়েও বেশি হয়। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ حِينَ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِله إِلا هوَ الحيَّ القيومَ وأتوبُ إِليهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبُهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ أَوْ عَدَدَ رَمْلِ عَالَجٍ أَوْ عَدَدَ وَرَقِ الشَّجَرِ أَوْ عَدَدَ أَيَّامِ الدُّنْيَا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال حين ياوي الى فراشه: استغفر الله الذي لا اله الا هو الحي القيوم واتوب اليه ثلاث مرات غفر الله له ذنوبه وان كانت مثل زبد البحر او عدد رمل عالج او عدد ورق الشجر او عدد ايام الدنيا . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে উল্লেখিত জিকির তিনবার পাঠ করার মাধ্যমে পাঠক বা জিকিরকারীর গুনাহ মাফের ব্যাপারে বড় ফাযীলাত ও মাহাত্ম্য রয়েছে। যদি অগণিতবার এটি পাঠ করা হয়, তবে আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত প্রশস্ত, আর তাকে সে অনুযায়ী অনেক সাওয়াব দিবেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৫-[২৫] শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম কুরআন মাজীদের যে কোন একটি সূরা পড়ে বিছানায় যাবে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য অবশ্যই একজন মালাক (ফেরেশতা) নিয়োজিত করে দেবেন। অতঃপর কোন ক্ষতিকারক জিনিস তার কাছে পৌঁছতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘুম থেকে সে জেগে ওঠে। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مَا من مُسْلِمٍ يَأْخُذُ مَضْجَعَهُ بِقِرَاءَةِ سُورَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ إِلَّا وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ مَلَكًا فَلَا يَقْرَبُهُ شَيْءٌ يُؤْذِيهِ حَتَّى يَهُبَّ مَتَى هَبَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن شداد بن اوس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مسلم ياخذ مضجعه بقراءة سورة من كتاب الله الا وكل الله به ملكا فلا يقربه شيء يوذيه حتى يهب متى هب» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (...بِقِرَاءَةِ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা। (بِقِرَاءَةِ) মিশকাতের অধিকাংশ অনুলিপিতে অনুরূপ রয়েছে, মাসাবীহতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে, আর মিশকাতের কতিপয় অনুলিপিতে (يقرأ) অর্থাৎ- মুজারি দ্বারা রয়েছে এবং আত্ তিরমিযীতে অনুরূপ রয়েছে। আর জামি‘উল উসূলে (فيقرأ) অর্থাৎ- ‘ফা’ বৃদ্ধিতে মুজারি’র সিগাহ্’র মাধ্যমে রয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৬-[২৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম দু’টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, সে নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে। জেনে রাখো, এ বিষয় দু’টো সহজ, কিন্তু এর ’আমলকারী কম। (তা হলো) প্রত্যেক সালাত আদায়ের পর পড়বে ’সুবহা-নাল্ল-হ’ দশবার, ’আল হাম্‌দুলিল্লা-হ’ দশবার, ’আল্ল-হু আকবার’ দশবার। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু’আ পড়ার সময় হাতে গুণতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এ দু’আ মুখে (পাঁচ বেলায়) একশ’ পঞ্চাশবার কিয়ামতে মীযানের (পাল্লায়) এক হাজার পাঁচশ’বার।

আর যখন বিছানায় যাবে, ’সুবহা-নাল্ল-হ’’আলহাম্‌দুলিল্লা-হ’ ’আল্লা-হু আকবার’ (তিনটি দু’আ মিলিয়ে) একশ’বার পড়বে। এ দু’আ মুখে একশ’বার বটে; কিন্তু মীযানে একহাজার বার। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ একদিন এক রাতে দু’ হাজার পাঁচশ’ গুনাহ করে? সাহাবীগণ বললেন, আমরা কেন এ দু’টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এজন্য পারবে না যে, তোমাদের কারো কারো কাছে সালাত আদায় অবস্থায় শয়তান এসে বলে, ঐ বিষয় চিন্তা করো, ঐ বিষয় স্মরণ করো। এভাবে (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসা চলতে থাকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত। অতঃপর সে হয়ত তা (পরিপূর্ণ) না করেই উঠে যায়। এভাবে শয়তান তার ঘুমানোর সময় এসে তাকে ঘুম পাড়াতে থাকবে, যতক্ষণ না সে তা (আদায় না) করে ঘুমিয়ে পড়ে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)

আবূ দাঊদ-এর আর এক বর্ণনায় আছে, ’’যে কোন মুসলিম দু’টি বিষয়ে লক্ষ্য করবে।’’ এভাবে তার বর্ণনায় আছে, ’’মীযানের পাল্লায় একহাজার পাঁচশ’’-এ শব্দের পর আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সে ঘুমাতে যায় তখন পড়বে, ’আল্ল-হু আকবার’ চৌত্রিশবার ’আলহাম্‌দুলিল্লা-হ’ তেত্রিশবার ও ’সুবহা-নাল্ল-হ’ তেত্রিশবার।[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَلَّتَانِ لَا يُحْصِيهِمَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ أَلَا وَهُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ يُسَبِّحُ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُهُ عَشْرًا ويكبِّرهُ عَشراً» قَالَ: فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْقِدُهَا بِيَدِهِ قَالَ: «فَتِلْكَ خَمْسُونَ وَمِائَةٌ فِي اللِّسَان وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ وَإِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ يُسَبِّحُهُ وَيُكَبِّرُهُ وَيَحْمَدُهُ مِائَةً فَتِلْكَ مِائَةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَمِائَةِ سَيِّئَةٍ؟» قَالُوا: وَكَيْفَ لَا نُحْصِيهَا؟ قَالَ: يَأْتِي أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ وَهُوَ فِي صِلَاتِهِ فَيَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا حَتَّى يَنْفَتِلَ فَلَعَلَّهُ أَنْ لَا يَفْعَلَ وَيَأْتِيهِ فِي مَضْجَعِهِ فَلَا يَزَالُ يُنَوِّمُهُ حَتَّى يَنَامَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: «خَصْلَتَانِ أَوْ خَلَّتَانِ لَا يُحَافِظُ عَلَيْهِمَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ» . وَكَذَا فِي رِوَايَتِهِ بَعْدَ قَوْلِهِ: «وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ» قَالَ: «وَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ» وَيَحْمَدُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَيُسَبِّحُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ . وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ المصابيح عَن: عبد الله بن عمر

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلتان لا يحصيهما رجل مسلم الا دخل الجنة الا وهما يسير ومن يعمل بهما قليل يسبح الله في دبر كل صلاة عشرا ويحمده عشرا ويكبره عشرا» قال: فانا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يعقدها بيده قال: «فتلك خمسون وماىة في اللسان والف وخمسماىة في الميزان واذا اخذ مضجعه يسبحه ويكبره ويحمده ماىة فتلك ماىة باللسان والف في الميزان فايكم يعمل في اليوم والليلة الفين وخمسماىة سيىة؟» قالوا: وكيف لا نحصيها؟ قال: ياتي احدكم الشيطان وهو في صلاته فيقول: اذكر كذا اذكر كذا حتى ينفتل فلعله ان لا يفعل وياتيه في مضجعه فلا يزال ينومه حتى ينام . رواه الترمذي وابو داود والنساىي وفي رواية ابي داود قال: «خصلتان او خلتان لا يحافظ عليهما عبد مسلم» . وكذا في روايته بعد قوله: «والف وخمسماىة في الميزان» قال: «ويكبر اربعا وثلاثين اذا اخذ مضجعه» ويحمد ثلاثا وثلاثين ويسبح ثلاثا وثلاثين . وفي اكثر نسخ المصابيح عن: عبد الله بن عمر

ব্যাখ্যা: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি ওয়াক্তে (১০ বার ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’, ১০ বার ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’, ১০ বার ‘‘আল্ল-হু আকবার’’) ৩০ বার, যা পাঁচ ওয়াক্ত মিলে ৩০ × ৫ = ১৫০ বার। অর্থাৎ- রাত ও দিনে প্রতি ওয়াক্তের ৩০ বার মিলে নেকী অর্জিত হয় ১৫০, আর এ সংখ্যানুপাতে প্রতিটি হবে তার দশগুণ, কিতাবুল্লাহ ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহয় তা ওয়া‘দা রয়েছে।

(وَإِذَا أَخَذَ مَضْجَعَه) আত্ তিরমিযীতে রয়েছে যে, যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে তখন ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’, ‘‘আল্ল-হু আকবার’’‘‘আলহামদু লিল্লা-হ’’ বলবে। এটি দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যের বিবরণ।

(يُسَبِّحُه وَيُكَبِّرُه وَيَحْمَدُه مِائَةً) অর্থাৎ- ১০০ বার, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ ৩৩ বার, ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ৩৪ বার এবং ‘‘আলহামদু লিল্লা-হ’’ ৩৩ বার। এর সম্মিলিত সংখ্যা হলো ১০০ বার, আর এর উপর প্রমাণ করে নাসায়ী’র বর্ণনা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৭-[২৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু গন্নাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে (ঘুম থেকে) উঠে এ দু’আ পড়বে, ’’আল্ল-হুম্মা মা- আস্‌বাহা বী মিন্ নি’মাতিন, আও বিআহাদিম মিন খলকিকা, ফামিনকা ওয়াহদাকা লা- শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্‌দু ওয়ালাকাশ্ শুকরু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! ভোরে আমার ওপর ও তোমার অন্য যে কোন সৃষ্টির ওপর যে নিয়ামত পৌঁছেছে তা একা তোমার পক্ষ থেকেই, এতে তোমার কোন শারীক নেই। সুতরাং তোমারই প্রশংসা ও তোমারই কৃতজ্ঞতা।)- সে ব্যক্তি তার ঐ দিনের কৃতজ্ঞতা আদায় করল। আর যে সন্ধ্যায় এ দু’আ পড়ল, সে তার ঐ রাতের কৃতজ্ঞতা আদায় করল। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَنَّامٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: من قَالَ حِينَ يُصْبِحُ: اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ فَقَدْ أَدَّى شُكْرَ يَوْمِهِ وَمَنْ قَالَ مِثْلَ ذَلِكَ حِينَ يُمْسِي فَقَدْ أَدَّى شُكْرَ ليلته . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الله بن غنام قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال حين يصبح: اللهم ما اصبح بي من نعمة او باحد من خلقك فمنك وحدك لا شريك لك فلك الحمد ولك الشكر فقد ادى شكر يومه ومن قال مثل ذلك حين يمسي فقد ادى شكر ليلته . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীসে এ সকল সহজ শব্দগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি আবশ্যকীয় কৃতজ্ঞতা আদায় করার বড় ফাযীলাত ও মাহাত্ম্য রয়েছে। নিশ্চয় কেউ যদি সকালে উল্লেখিত দু‘আ পাঠ করে, তবে সে উক্ত দিনের শুকরিয়া আদায় করল। আর সন্ধ্যায় সেটা পাঠকারী রাতের শুকরিয়া আদায় করল। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না’’- (সূরা ইব্রা-হীম ১৪ : ৩৪)। যখন তাঁর নিয়ামত গণনা করা সম্ভব হবে না, তখন বান্দা উক্ত নিয়ামতের উপর শুকরিয়াই বা কিভাবে পরিমাপ করবে? অতএব ‘ইলমের খুনি বা সাগর হতে সংগৃহীত এ মহা ফায়িদার জন্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৮-[২৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়া রববাল আরযি ওয়া রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ফালিকল হাব্বি ওয়ান্ নাওয়া- মুনযিলাত্ তাওরা-তি, ওয়াল ইঞ্জীলি ওয়াল কুরআ-নি। আ’ঊযুবিকা মিন শাররি কুল্লি যী শাররি। আন্‌তা আ-খিযুন বিনা-সিয়াতিহী, আন্‌তাল আও্ওয়ালু, ফালায়সা কবলাকা শায়উন, ওয়া আন্‌তাল আ-খিরু, ফালায়সা বা’দাকা শায়উন, ওয়া আন্‌তায্ যা-হিরু, ফালায়সা ফাওককা শাইউন। ওয়া আন্‌তাল বা-ত্বিনু, ফালায়সা দূনাকা শায়উন, ইকযি ’আন্‌নিদ্‌দায়না, ওয়া আগ্‌নিনী মিনাল ফাকরি’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি আসমানের রব, জমিনের রব, তথা প্রতিটি জিনিসের রব, শস্যবীজ ও খেজুর দানা ফেড়ে গাছ-পালা উৎপাদনকারী; তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী, আমি তোমার কাছে এমন প্রতিটি অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই যা তোমার অধিকারে রয়েছে। তুমিই প্রথম- তোমার আগে কেউ ছিল না। তুমিই শেষ- তোমার পরে আর কেউ থাকবে না। তুমি প্রকাশ্য- তোমার চেয়ে প্রকাশ্য আর কিছু নেই। তুমি অন্তর্যামী- তোমার চেয়ে গোপনীয়তা আর কিছু নেই। তুমি আমাকে ঋণমুক্ত করে দাও এবং দারিদ্র্যতা হতে বাঁচিয়ে রেখ [স্বচ্ছলতা দাও])। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; কিছু ভিন্নতাসহ মুসলিমেও)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ: «اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى مُنْزِلَ التوراةِ والإِنجيل والقرآنِ أعوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَاغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَاهُ مُسلم مَعَ اخْتِلَاف يسير

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يقول اذا اوى الى فراشه: «اللهم رب السماوات ورب الارض ورب كل شيء فالق الحب والنوى منزل التوراة والانجيل والقران اعوذ بك من شر كل ذي شر انت اخذ بناصيته انت الاول فليس قبلك شيء وانت الاخر فليس بعدك شيء وانت الظاهر فليس فوقك شيء وانت الباطن فليس دونك شيء اقض عني الدين واغنني من الفقر» . رواه ابو داود والترمذي وابن ماجه ورواه مسلم مع اختلاف يسير

ব্যাখ্যা: সহীহ মুসলিম ও ইবনুস্ সুন্নী সুহায়ল  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সলিহ আমাদের নির্দেশ দিতেন, যখন আমাদের কেউ ঘুমাতে ইচ্ছা করবে, সে তার ডান কাতের উপর শয়ন করবে, অতঃপর বলবেঃ (...اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ) আর তিনি (সুহায়ল) এটা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)  থেকে, আর হুরায়রাহ্  নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী এবং মুসলিমে সুহায়ল (রহঃ) থেকে, তিনি তার বাবা থেকে, তার বাবা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিনের প্রতিপালক। অর্থাৎ- উভয়ের মালিক এবং উভয়ের অধিবাসীদের পরিচালনাকারী এবং তারপরই তাঁর (আল্লাহর) কথা (لفالق الحب والنوى) উল্লেখ করলেন, স্রষ্টা ও রাজত্বের অর্থ প্রকাশ করার জন্য। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ তিনি মৃত থেকে জীবন বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃত বের করেন। (لفالق الحب والنوى) -এর অর্থ হলোঃ তিনি প্রাণীগুলোকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেন, বীজ থেকে দানা বের করেন এবং জীবন থেকে মৃত বের করেন। অর্থাৎ- এ সকল প্রাণী সৃষ্টি করেন।

‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেন, উল্লেখ্য হাদীসে দীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলোঃ আল্লাহ তা‘আলার হকসমূহ ও বান্দার যাবতীয় অধিকার।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪০৯-[২৯] আবূল আযহার আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বিছানায় ঘুমানোর সময় বলতেন, ’’বিস্‌মিল্লা-হি ওয়াযা’তু যাম্‌বী লিল্লা-হি, আল্ল-হুম্‌মাগফিরলী যাম্‌বী ওয়াখসা’ শায়ত্ব-নী ওয়া ফুক্কা রিহা-নী, ওয়াজ্’আল্‌নী ফিন্ নাদিয়্যিল আ’লা-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, আল্লাহর উদ্দেশে আমি পার্শ্ব রাখলাম। হে আল্লাহ! তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা করো। আমার কাছ থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দাও। আমার ঘাড়কে মুক্ত করো এবং আমাকে উচ্চাসনে সমাসীন করো।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن أبي الْأَزْهَر الأيماري أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «بسمِ اللَّهِ وضعْتُ جَنْبي للَّهِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَاخْسَأْ شَيْطَانِي وَفُكَّ رِهَانِي وَاجْعَلْنِي فِي النَّدِيِّ الْأَعْلَى» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي الازهر الايماري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اخذ مضجعه من الليل قال: «بسم الله وضعت جنبي لله اللهم اغفر لي ذنبي واخسا شيطاني وفك رهاني واجعلني في الندي الاعلى» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ দু‘আ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ সমন্বয় করে। অর্থাৎ- এ দু‘আতে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং ঘুমানোর সময় এ দু‘আর প্রতি যত্নবান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তা শার‘ঈ দু‘আগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং তার নিকট এটির প্রাধান্যও রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১০-[৩০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর সময় বলতেন,

’’আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী কাফা-নী, ওয়াআ-ওয়া-নী, ওয়া আত্ব’আমানী, ওয়া সাকা-নী, ওয়াল্লাযী মান্না ’আলাইয়্যা ফাআফযালা ওয়াল্লাযী আ’ত্বা-নী ফাআজ্‌যালা, আলহাম্‌দুলিল্লা-হি ’আলা- কুল্লি হা-ল, আল্ল-হুম্মা রব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহূ, ওয়া ইলা-হা কুল্লি শাইয়িন আ’ঊযুবিকা মিনান্‌না-র’’

(অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পূরণ করলেন, আমাকে রাতে আশ্রয় দিলেন, আমাকে খাওয়ালেন, আমাকে পান করালেন, যিনি আমার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করলেন, অনেক অনুগ্রহ করলেন, যিনি আমাকে দান করলেন এবং যথেষ্ট দান করলেন। তাই সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকর। হে আল্লাহ! যিনি প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও এর অধিকারী এবং প্রত্যেক বস্ত্তর উপাস্য। আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আগুন হতে আশ্রয় চাই। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَآوَانِي وَأَطْعَمَنِي وَسَقَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأَفْضَلَ وَالَّذِي أَعْطَانِي فَأَجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَيْءٍ أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عمر: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اخذ مضجعه من الليل قال: «الحمد لله الذي كفاني واواني واطعمني وسقاني والذي من علي فافضل والذي اعطاني فاجزل الحمد لله على كل حال اللهم رب كل شيء ومليكه واله كل شيء اعوذ بك من النار» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ كَفَانِىْ) অর্থাৎ- মহান আল্লাহ আমার প্রতি সৃষ্টিজীবের অনিষ্টতা প্রতিহত করেন। আর আমার প্রতি তিনি শক্তিদানে যথেষ্ট এবং তিনি আমার প্রয়োজন পূর্ণ করেন। আর সৃষ্টিজীবের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করেন।

(وَاٰوَانِىْ) অর্থাৎ- তিনি আমাকে হতদরিদ্র থেকে আশ্রয় দিলেন, তিনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন ঠাণ্ডা ও গরম হতে বাঁচিয়ে এবং তাতে আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করেছেন।

(الْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلٰى كُلِّ حَالٍ) অর্থাৎ- সকল অবস্থাতেই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই।

ইবনুস্ সুন্নাহর অপর বর্ণনায় রয়েছে, (اللهم فلك الحمد على كل حال) অর্থাৎ- হে আল্লাহ তা‘আলা! প্রতিটি অবস্থাতেই আপনার জন্যই প্রশংসা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১১-[৩১] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অভিযোগ করলেন, হে আল্লাহর রসূল! (স্বপ্নের কারণে) রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। (এ কথা শুনে) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বিছানায় ঘুমাতে গেলে এ দু’আ পড়বে,

’’আল্ল-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব্’ই, ওয়ামা- আযল্লাত, ওয়া রব্বাল আরযীনা ওয়ামা- আকল্লাত, ওয়া রব্বাশ্ শায়া-ত্বীনি ওয়ামা- আযল্লাত, কুল্লী জা-রম্ মিন্ শাররি খলকিকা কুল্লিহিম জামী’আন আই ইয়াফ্‌রুত্বা ’আলাইয়্যা আহাদুম্ মিনহুম আও আই ইয়াবগিয়া ’আযযা জা-রুকা ওয়া জাল্লা সানা-উকা, ওয়ালা- ইলা-হা গইরুকা, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! সাত আকাশের এবং এ সাত আকাশ যাকে ছায়া দিয়েছে তার রব! আর জমিনসমূহ ও তা যাকে ধারণ করেছে তার রব! সকল শয়তান ও তারা যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদের রব! তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর, তোমার সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে; তাদের কেউ যে আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করুক অথবা আমার ওপর অবিচার করুক তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান করো। বিজয়ী সে যাকে তুমি নিরাপত্তা দান করেছ। মহান প্রশংসা তোমার, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসের সানাদ দুর্বল। কোন কোন হাদীস বিশারদ এর রাবী হাকাম ইবনু যুহায়র-কে মাতরূক বা পরিত্যাজ্য বলেছেন।)[1]

وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: شَكَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُول الله مَا أَنَام من اللَّيْلَ مِنَ الْأَرَقِ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَقُلْ: اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الْأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيّ والحكَمُ بن ظُهيرٍ الرَّاوِي قد ترَكَ حديثَهُ بعضُ أهل الحَدِيث

وعن بريدة قال: شكا خالد بن الوليد الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ما انام من الليل من الارق فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم: اذا اويت الى فراشك فقل: اللهم رب السماوات السبع وما اظلت ورب الارضين وما اقلت ورب الشياطين وما اضلت كن لي جارا من شر خلقك كلهم جميعا ان يفرط علي احد منهم او ان يبغي عز جارك وجل ثناوك ولا اله غيرك لا اله الا انت . رواه الترمذي وقال هذا حديث ليس اسناده بالقوي والحكم بن ظهير الراوي قد ترك حديثه بعض اهل الحديث

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদ য‘ঈফ। মুনযিরী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসের সানাদে দুর্বলতা রয়েছে। ত্ববারানী আল আওসাত গ্রন্থে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেন- নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দেবো কি, যা তুমি ঘুমানোর সময় বলবে, তাহলে বলো- (...اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ) ‘আল্লামা মুনযিরী (রহঃ) বলেনঃ এটির সানাদ জাইয়্যিদ (‘আমলযোগ্য)।

‘আল্লামা আল হায়সামী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসের রাবীগুলো বিশুদ্ধ, তবে ‘আবদুর রহমান ইবনুস্ সাবিত ছাড়া, কারণ তিনি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ  থেকে হাদীসটি শুনেননি।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১২-[৩২] আবূ মালিক আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তখন যেন বলে,

"আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুল্‌কু লিল্লা-হি রব্বিল ’আ-লামীন। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রা হা-যাল ইয়াওমি ফাত্হাহূ ওয়া নাসরাহূ, ওয়া নূরাহূ, ওয়া বারাকাতাহূ, ওয়া হুদা-হু। ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ শার্‌রি মা- ফীহি, ওয়া মিন্ শার্‌রি মা- বা’দাহূ। সুম্মা ইযা- আমসা-, ফাল্ইয়াকুল মিসলা যা-লিকা"

(অর্থাৎ- আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ’আলামীনের উদ্দেশে রাজ্যও ভোরে এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ দিনের কল্যাণ চাই, এর সফলতা ও সাহায্য, এর জ্যোতি, এর বারাকাত ও এর হিদায়াত এবং এতে যা অকল্যাণ রয়েছে তা হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং এর পরে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে আশ্রয় চাই।)। অতঃপর সে সন্ধ্যায় উপনীত হলেও যেন অনুরূপ দু’আ করে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن أَبِي مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ وَنَصْرَهُ وَنُورَهُ وَبِرْكَتَهُ وَهُدَاهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ وَمِنْ شَرِّ مَا بَعْدَهُ ثُمَّ إِذَا أَمْسَى فَلْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا اصبح احدكم فليقل: اصبحنا واصبح الملك لله رب العالمين اللهم اني اسالك خير هذا اليوم فتحه ونصره ونوره وبركته وهداه واعوذ بك من شر ما فيه ومن شر ما بعده ثم اذا امسى فليقل مثل ذلك . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এখানে (فَتْحَه) বা তার বিজয় এবং তারপরের অংশ তার কথা خير هذا اليوم এর বর্ণনা।

এখানে فتح শব্দের অর্থ হলো বিজয় অর্জন করা, তা সন্ধির মাধ্যমে অথবা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে হতে পারে। আর النصر-এর অর্থ হলো শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় এবং সাহায্য, আর এটাই শব্দ দু’টির মৌলিক অর্থ।

(وَمِنْ شَرِّ مَا بَعْدَه) মিশকাতের অধিকাংশ অনুলিপিতে অনুরূপ শব্দ রয়েছে। তবে কতিপয় অনুলিপিতে (وَمِنْ شَرِّ مَا بَعْدَه) উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ- (مِنْ) এর উল্লেখ ছাড়া, আবূ দাঊদেও অনুরূপ রয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১৩-[৩৩] ’আবদুর রহমন ইবনু আবূ বকরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আমার পিতা! আপনাকে প্রতিদিন ভোরে বলতে শুনি,

’’আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী সাম্’ঈ, আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী বাসারী লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে শারীরিকভাবে নিরাপত্তায় রাখো, আমাকে শ্রবণশক্তিতে নিরাপত্তায় রাখো। হে আল্লাহ! আমাকে দৃষ্টিশক্তিতে নিরাপদে রাখো। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই।)

এ দু’আ ভোরে তিনবার ও বিকালে তিনবার বলেন। তখন তার পিতা বললেন, হে বৎস! আমি এ বাক্যগুলো দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’আ করতে শুনেছি। অতএব আমি তাঁর সুন্নাত পালন করাকে পছন্দ করি। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ أَسْمَعُكَ تَقُولُ كُلَّ غَدَاةٍ: «اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» تُكَرِّرُهَا ثَلَاثًا حِينَ تُصْبِحُ وَثَلَاثًا حِين تمسي فَقَالَ: يَا بُنَيَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو بِهِنَّ فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أستن بسننه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الرحمن بن ابي بكرة قال: قلت لابي: يا ابت اسمعك تقول كل غداة: «اللهم عافني في بدني اللهم عافني في سمعي اللهم عافني في بصري لا اله الا انت» تكررها ثلاثا حين تصبح وثلاثا حين تمسي فقال: يا بني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعو بهن فانا احب ان استن بسننه. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে উল্লেখিত জিকিরে শরীর উল্লেখ করার পর আলাদাভাবে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ এ দু’টি তো শরীরের সাথে সম্পৃক্ত, (অতএব আলাদাভাবে তা উল্লেখ করার কারণ কি?)

এর কারণ হলোঃ শ্রবণশক্তিটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিলকৃত আয়াতে কারীমা দ্বারা পাওয়া যায়। আর চক্ষু এটিও আল্লাহর আয়াতে পাওয়া যায়, যা দিগন্তের ন্যায় প্রমাণিত। অতএব এ দু’টি কুরআনুল কারীমে পাওয়ার কারণেই একত্র করে উল্লেখ করা হয়েছে (وتكررها); আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমাদ, আল আদাবুল মুফরাদে (تعيدها) উল্লেখ রয়েছে। ‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) তাঁর ‘‘আযকার’’ ও ‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) তাঁর ‘‘তুহফাতু আয্ যাকিরীন’’-এ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১৪-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে ঘুম হতে উঠে বলতেন,

"আস্‌বাহনা- ওয়া আস্‌বাহাল মুলকু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হি ওয়াল কিব্‌রিয়া-উ ওয়াল ’আযামাতু লিল্লা-হি ওয়াল খলক্বু ওয়াল আমরু ওয়াল্ লায়লু ওয়ান্ নাহা-রু ওয়ামা- সাকানা ফীহিমা- লিল্লা-হি আল্ল-হুম্মাজ্’আল আও্ওয়ালা হা-যান্ নাহা-রি সলা-হান ওয়া আওসাত্বাহূ নাজা-হান ওয়া আ-খিরাহূ ফালা-হান ইয়া- আর্‌হামার্ র-হিমীন"

(অর্থাৎ- আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম, আর ভোরে এসে উপনীত হলো আল্লাহরই উদ্দেশে আল্লাহর রাজ্য। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আল্লাহরই জন্য সব অহংকার ও সম্মান। সমগ্র সৃষ্টি ও কর্তৃত্ব, রাত ও দিন এবং এতে যা বসবাস করে সবই আল্লাহর। হে আল্লাহ! তুমি এ দিনের প্রথমাংশকে কল্যাণকর করো, মধ্যাংশকে সাফল্যের ওয়াসীলাহ্ করো, আর শেষাংশকে সাফল্যময় করো। হে সর্বাধিক রহমকারী।’’ (নাবাবী কিতাবুল আযকার- ইবনুস্ সুন্নী’র বর্ণনার দ্বারা)[1]

وَعَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَالْكِبْرِيَاءُ وَالْعَظَمَةُ لِلَّهِ وَالْخَلْقُ وَالْأَمْرُ وَاللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَمَا سَكَنَ فِيهِمَا لِلَّهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوَّلَ هَذَا النَّهَارِ صَلَاحًا وَأَوْسَطَهُ نَجَاحًا وَآخِرَهُ فَلَاحًا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ» . ذَكَرَهُ النَّوَوِيُّ فِي كِتَابِ الْأَذْكَارِ بِرِوَايَةِ ابْنِ السّني

وعن عبد الله بن ابي اوفى قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اصبح قال: «اصبحنا واصبح الملك لله والحمد لله والكبرياء والعظمة لله والخلق والامر والليل والنهار وما سكن فيهما لله اللهم اجعل اول هذا النهار صلاحا واوسطه نجاحا واخره فلاحا يا ارحم الراحمين» . ذكره النووي في كتاب الاذكار برواية ابن السني

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেন, আর এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

(قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ) (أُوْلٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُوْنَ * الَّذِيْنَ يَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ)

অর্থাৎ- ‘‘ঈমানদারগণ সফল হয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা শীতল ছায়াময় জান্নাতের উত্তরাধিকার লাভ করবে।’’ (সূরা আল মু’মিনূন ২৩ : ১, ১০, ১১)

আর উল্লেখিত দু‘আর শেষে (يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ) ‘‘ইয়া- আরহামার্ র-হিমীন’’ উল্লেখ প্রসঙ্গে ‘আল্লামা আল কারী (রহঃ) বলেনঃ উল্লেখিত দু‘আ এ বাক্য দ্বারা এজন্যই শেষ করা হয়েছে, কারণ এটি দ্রুত দু‘আ কবূলের কারণ। যেমনটি হাদীসে এসেছে এবং ইমাম হাকিম (রহঃ) তাঁর মুসতাদরাকে আবী ‘উমামাহ্ থেকে মারফূ‘ভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সহীহ বলেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার জন্যই রাজত্ব। যে ব্যক্তি বলবেঃ ‘‘ইয়া- আরহামার্ র-হিমীন’’। অতঃপর এটা তিনবার বলবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন- নিশ্চয় দয়াবানদের দয়াবান তোমার সামনে আগমন করেছে, অতএব তুমি চাও।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলোঃ এখানে তিন সংখ্যাটি নির্ধারণ করা হয়েছে এ কারণে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি এটা তিনবার বলে সে তার অন্তর ও কামনা রবের নিকট উপস্থিত করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে

২৪১৫-[৩৫] ’আবদুর রহমন ইবনু আবযা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে উঠে বলতেন,

’’আস্‌বাহনা- ’আলা- ফিত্বরাতিল ইস্‌লা-মি ওয়া কালিমাতিল ইখলা-সি ওয়া ’আলা- দীনি নাবিয়্যিনা- মুহাম্মাদিন ওয়া ’আলা- মিল্লাতি আবীনা- ইব্‌রা-হীমা হানীফাওঁ ওয়ামা- কা-না মিনাল মুশরিকীন’’

(অর্থাৎ- আমরা ইসলামের ফিত্বরাতের উপর ও কালিমায়ে তাওহীদের সাথে ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দীনের উপর ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর মিল্লাতের উপর, আর তিনি মুশরিক ছিলেন না।)। (আহমদ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ: «أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ

وعن عبد الرحمن بن ابزى قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا اصبح: «اصبحنا على فطرة الاسلام وكلمة الاخلاص وعلى دين نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملة ابينا ابراهيم حنيفا وما كان من المشركين» . رواه احمد والدارمي

ব্যাখ্যা: এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠা রাখুন। এটাই আল্লাহ তা‘আলার প্রকৃতি যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন’’- (সূরা আর্ রূম ৩০ : ৩০) এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস প্রতিটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে প্রকৃতির উপর (كَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ)। আল মুসনাদে রয়েছে- (على كلمة الإخلاص) অর্থাৎ- একনিষ্ঠ তাওহীদ, আর তা হলো ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ এবং (عَلٰى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ) এটি তাঁর পূর্ববর্তীদের থেকে খাস। কারণ সকল নাবী-রসূলগণের মিল্লাতের নামকরণটি ইসলামই করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার কথাঃ ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট একনিষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম’’- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১৯) এবং ইব্রাহীম (আঃ)-এর কথা, ‘‘বিশ্ব প্রতিপালকের জন্যই ইসলাম কবূল করলাম (মুসলিম হলাম)’’- (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ১৩১) এবং সন্তানদের প্রতি ইয়া‘কূব (আঃ)-এর ওয়াসিয়্যাত, ‘‘তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’’- (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ১৩২)। উল্লেখ্য যে, এটি তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যদের শিক্ষা দেয়ার জন্য বলেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

বিভিন্ন সময়ে পাঠ করার জন্য আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন দু’আ রয়েছে, শারী’আত কর্তৃক যা নির্ধারিত। আর এখানে সময় হলো কাজের জন্য নির্ধারিত কাল বা সময়। যেমন- সালাত, যাকাত ও হাজ্জের সময়। এছাড়াও অবস্থাভেদে বিভিন্ন দু’আ শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত। অর্থাৎ- বিভিন্ন অবস্থার জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দু’আগুলো শারী’আত কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে। যেমন- রাগের অবস্থা ও যুদ্ধের জন্য শত্রুর মুখোমুখি সারিবদ্ধ অবস্থা এবং আরো অনুরূপ অনেক অবস্থা রয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়গুলোতে পঠিতব্য দু’আগুলো বর্ণিত রয়েছে, শারী’আত যা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে।


২৪১৬-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছা পোষণ করলে সে যেন বলে, ’’বিস্‌মিল্লা-হি আল্ল-হুম্মা জান্‌নিবনাশ্ শায়ত্ব-না ওয়া জান্‌নিবিশ্ শায়ত্ব-না মা- রযাকতানা-’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান হতে দূরে রাখো এবং আমাদের জন্য তুমি যা নির্ধারিত করে রেখেছ শয়তানকেও তা হতে দূরে রাখো।)।

এ মিলনের ফলে তাদের জন্য যদি কোন সন্তান দেয়া হয় তাহলে কক্ষনো শয়তান তার কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو ان احدكم اذا اراد ان ياتي اهله قال: بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا فانه ان يقدر بينهما ولد في ذلك لم يضره شيطان ابدا

ব্যাখ্যা: মুসনাদে আহমাদ-এর বর্ণনায় (১ম খণ্ড, ২১৭ পৃঃ) রয়েছে যে, শয়তান উক্ত সন্তানের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তাঁর অপর বর্ণনায় (১ম খণ্ড, ২৮৭ পৃঃ), মুসলিম ও ইবনু মাজাহ্’র বর্ণনায় রয়েছে যে, শয়তান তার (সন্তানের) ওপর কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না অথবা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর অনুরূপ বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে।

আলোচ্য হাদীসে কয়েকটি উপকারিতাও রয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থাতে যেমন সহবাসেও আল্লাহর নাম নেয়া, দু‘আ করা মুস্তাহাব এবং এতে এটাও রয়েছে যে, আল্লাহর জিকির, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে প্রার্থনা করা, তাঁর (আল্লাহ তা‘আলার) নামের সাথে বারাকাত কামনা করা এবং যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় কামনা করা জরুরী। আর এখানে এ ইঙ্গিতও রয়েছে যে, এ দু‘আ পাঠ উক্ত কাজ সহজ করবে এবং তার ওপর সাহায্য করবে। এছাড়া এ হাদীসে এ ইঙ্গিতও রয়েছে যে, শয়তান মানুষের সাথে সবসময় লেগে থাকে। একমাত্র আল্লাহর স্মরণই তার থেকে মুক্ত করতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪১৭-[২] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, বিপদের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ’আযীমুল হালীম, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুল ’আর্‌শিল ’আযীম; লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি, ওয়া রব্বুল আরযি রব্বুল ’আর্‌শিল কারীম’’

(অর্থাৎ- মহান ধৈর্যশীল আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। মহান ’আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, যিনি সমগ্র আকাশম-লীর রব, মহান ’আরশের রব।)। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيم»

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول عند الكرب: «لا اله الا الله العظيم الحليم لا اله الا الله رب العرش العظيم لا اله الا الله رب السماوات ورب الارض رب العرش الكريم»

ব্যাখ্যা: সহীহুল বুখারীর অপর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুঃশ্চিন্তার সময় দু‘আ করতেন। সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শব্দগুলোর দ্বারা দু‘আ করতেন এবং এগুলো চিন্তার সময় বলতেন। অপর বর্ণনায় রয়েছে, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুরুত্বপূর্ণ কাজের ইচ্ছা করতেন, তখন এ দু‘আ পড়তেন। ‘আল্লামা ত্ববারানী (রহঃ) বলেনঃ (কতিপয় বর্ণনায়) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কথা, (يدعوا) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু‘আ করতেন। এর অর্থ হলোঃ লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, সুবহা-নাল্ল-হ বলতেন, যাতে পূর্ণাঙ্গ কোন দু‘আ নয়।

এতে দু’টি বিষয় হতে পারেঃ

১. দু‘আ করার পূর্বে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল জিকিরগুলো করতেন, এরপর ইচ্ছামত দু‘আ করতেন। যেরূপ মুসনাদ আবী ‘আওয়ানাহ্ হতে বর্ণিত রয়েছে এবং হাদীসের শেষে রয়েছে যে, এরপর তিনি দু‘আ করতেন। ‘আবদ ইবনু হুমায়দীর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজের ইচ্ছা করলে প্রাধান্যযোগ্য জিকিরগুলো করতেন। এরপর দু‘আ করতেন।

২. যে বিষয়ের উত্তর ইবনু ‘উআয়নাহ্  দিয়েছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফায় অধিক যে দু‘আ পড়তেন তা হলোঃ ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ’’। ‘আল্লামা সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেনঃ এটা জিকির, এতে কোন দু‘আ নেই। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার প্রার্থনার ব্যস্ততা থেকে আমার যিকিরের জন্য যা দেয়া হয় তা প্রার্থনাকারীদের যা দেয়া হয় তার চেয়ে উত্তম।

হাফেয আসকালানী (রহঃ) বলেনঃ ছয়টি অগ্রগণ্য। কেননা সা‘দ ইবনু আবী ওয়াককাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে মাছওয়ালার (ইউনুস (আঃ)-এর) দু‘আর ব্যাপারে বর্ণনা রয়েছে। তিনি যখন মাছের পেটে ছিলেন তখন দু‘আ করেছিলেন- ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা -আন্‌তা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্‌তু মিনায্ যোয়ালিমীন’’


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪১৮-[৩] সুলায়মান ইবনু সুরাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দু’ ব্যক্তি পরস্পরকে গাল-মন্দ বলতে লাগল, আমরা তখন তাঁর পাশে বসা ছিলাম। তন্মধ্যে একজন তার সাথীকে খুব রাগতস্বরে গাল-মন্দ করছিল। এতে তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এটা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি কালাম (বাক্য) জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার রাগ চলে যাবে। সেটা হলো ’’আ’ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় চাই)। তখন সাহাবীগণ লোকটিকে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলছেন, তুমি কী শুনছ না? লোকটি বলল, নিশ্চয়ই আমি ভূতগ্রস্ত (পাগল) নই। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدَ قَالَ: اسْتَبَّ رَجُلَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ عِنْدَهُ جُلُوسٌ وَأَحَدُهُمَا يَسُبُّ صَاحِبَهُ مُغْضَبًا قَدِ احْمَرَّ وَجْهُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ» . فَقَالُوا لِلرَّجُلِ: لَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: إِنِّي لستُ بمجنون

وعن سليمان بن صرد قال: استب رجلان عند النبي صلى الله عليه وسلم ونحن عنده جلوس واحدهما يسب صاحبه مغضبا قد احمر وجهه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اني لاعلم كلمة لو قالها لذهب عنه ما يجد اعوذ بالله من الشيطان الرجيم» . فقالوا للرجل: لا تسمع ما يقول النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: اني لست بمجنون

ব্যাখ্যা: বুখারী’র বর্ণনা রয়েছে, যদি কেউ ‘‘আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’ বলে তাহলে যে রাগ তাকে পেয়ে বসেছে তা দূরীভূত হবে। যেমন- সহীহুল বুখারী’র অপর বর্ণনাতেও রয়েছে।

মু‘আয কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, নিশ্চয় আমি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কতগুলো কালিমাহ্ শিক্ষা দিব যদি কেউ তা রাগের সময় বলে, তবে তার রাগ দূরীভূত হয়ে যাবে। আর সে শব্দগুলো হলোঃ (اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْم) অর্থাৎ- ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাশ্ শায়ত্ব-নির রজীম’’

এ হাদীসটি আল্লাহ তা‘আলার কথারই উৎসঃ ‘‘আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহ তা‘আলার শরণাপন্ন হও। তিনি শ্রবণকারী মহাজ্ঞানী।’’ (সূরা আল আ‘রাফ ৭ : ২০০)

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললঃ ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাকে নাসীহাত করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ‘‘রাগ করো না।’’ কথাটি তিনবার ফিরিয়ে বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কোন নাসীহাত না করে শুধু রাগ বারণ করতে বললেন বার বার। আর এটাই এ মর্মে দলীল যে, রাগ একটি বড় বিপর্যয় যা তার থেকে প্রকাশ পায়।

‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসে এই বিষয়ে দলীল রয়েছে যে, রাগ, গালি এগুলো শয়তানের কাজ। আর এ কারণে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া রাগ বিদূরিত করে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে বিনা কারণে রাগ করে তার জানা উচিত যে, নিশ্চয় শয়তান তার সাথে খেলায় মেতেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪১৯-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন মোরগের আওয়াজ শুনবে, আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রত্যাশা করবে। কারণ মোরগ মালাক (ফেরেশতা) দেখেছে। আর তোমরা যখন গাধার চিৎকার শুনবে, তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কারণ সে শয়তান দেখেছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَسَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ فَإِنَّهُ رَأَى شَيْطَانا»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا سمعتم صياح الديكة فسلوا الله من فضله فانها رات ملكا واذا سمعتم نهيق الحمار فتعوذوا بالله من الشيطان الرجيم فانه راى شيطانا»

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস থেকে এটি গ্রহণ করা যায় যে, সৎকর্মশীল বান্দাদের নিকট তাদের বারাকাতের মাধ্যমে দু‘আ করা মুস্তাহাব। সহীহ ইবনু হিব্বান, আবূ দাঊদ এবং আহমাদ-এর বর্ণনায় যায়দ ইবনু খালিদ কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে যে, তোমরা মোরগকে গালি দিও না। কেননা সে সালাতের দিকে ডাকে।

অপর বর্ণনায় রয়েছে, সালাতের জন্য (মানুষদের) জাগ্রত করে। এ হাদীসে এই মর্মে প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মোরগ-এর জন্য সৃষ্টি করেছেন উপলব্ধি। এর মাধ্যমে সে পবিত্র আত্মার অস্তিত্ব পায়। অনুরূপ গাধা বা কুকুরের জন্য সৃষ্টি করেছেন উপলব্ধি, যার দ্বারা সে অনিষ্ট আত্মার অস্তিত্ব পায়। আর সৎকর্মশীলদের উপস্থিতিতে রহমাত নাযিল হয় এবং নাফরমানদের উপস্থিতিতে গযব নাযিল হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২০-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হবার সময় উটের উপর ধীর-স্থিরতার সাথে বসার পর তিনবার ’’আল্ল-হু আকবার’’ বলতেন। তারপর বলতেন,

’’সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না লাহূ মুকরিনীন। ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা লামুন্ ক-লিবূন। আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাস্আলুকা ফী সাফারিনা- হা-যাল বির্‌রা ওয়াত্‌তাকওয়া-, ওয়া মিনাল ’আমলি মা- তার্‌যা-। আল্ল-হুম্মা হাওবিন ’আলায়না- সাফারানা- হা-যা- ওয়াত্বি লানা- বু’দাহু। আল্ল-হুম্মা আন্‌তাস্ স-হিবু ফিস্‌সাফারি ওয়াল খলীফাতু ফিল আহ্‌লি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন ওয়া’সা-য়িস্ সাফারি ওয়া কা-বাতিল মান্‌যরি ওয়াসূয়িল মুনক্বলাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্‌লি।’’

(অর্থাৎ- ওই সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি একে আমাদের অধীন করেছেন, অথচ আমরা তাকে অধীন করতে পারতাম না এবং আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে আসি। হে আল্লাহ! আমরা আমাদের এ ভ্রমণে তোমার কাছে পুণ্য ও সংযম চাই এবং এমন কাজ যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এ ভ্রমণকে সহজ করো এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই ভ্রমণে আমাদের সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভ্রমণের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ধন-সম্পদে অশুভ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় চাই।)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর থেকে ফিরে এসেও এ দু’আগুলো পড়তেন এবং এর মধ্যে বেশি বেশি বলতেন, ’’আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ’আ-বিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূন’’ (অর্থাৎ- আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তওবাকারী, ’ইবাদাতকারী এবং আমাদের মহান রবের প্রশংসাকারীরূপে)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى السَّفَرِ كَبَّرَ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ)
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَهُ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ والأهلِ . وإِذا رجعَ قالَهنَّ وزادَ فيهِنَّ: «آيِبُونَ تائِبُونَ عابِدُونَ لربِّنا حامدون» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا استوى على بعيره خارجا الى السفر كبر ثلاثا ثم قال: (سبحان الذي سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين وانا الى ربنا لمنقلبون) اللهم انا نسالك في سفرنا هذا البر والتقوى ومن العمل ما ترضى اللهم هون علينا سفرنا هذا واطو لنا بعده اللهم انت الصاحب في السفر والخليفة في الاهل والمال اللهم اني اعوذ بك من وعثاء السفر وكابة المنظر وسوء المنقلب في المال والاهل . واذا رجع قالهن وزاد فيهن: «ايبون تاىبون عابدون لربنا حامدون» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: তিরমিযী এবং দারিমীতে রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সফরে বের হতেন তখন তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তিনবার ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ বলতেন। সম্ভবত এতে হিকমাহ্ রয়েছে যে, উঁচু স্থানে এক ধরনের সম্মান রয়েছে যা তার সৃষ্টিকর্তার মাহাত্ম্যকে উপস্থিত করতে চায়। আর এর সমর্থনে হাদীসও রয়েছে যে, মুসাফির ব্যক্তি যখন উঁচু স্থানে উঠবে তখন তাকবীর দিবে এবং যখন নিচে অবতরণ করবে তখন ‘‘সুব্হা-নাল্ল-হ’’ বলবে। আর সওয়ার হওয়ার সময় এ দু‘আটি পড়া সুন্নাত। আর তা সফর কিংবা অন্য কোন ক্ষেত্রে যে কোন সওয়ারীতে আরোহণের ব্যাপারে হতে পারে। আলোচ্য হাদীস থেকে এ মর্মে দলীল পাওয়া যায় যে, প্রত্যেক সফরের শুরুতে উল্লেখিত জিকির করা মুস্তাহাব এবং এ মর্মে অনেক জিকির-আযকার বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২১-[৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে রওনা হতেন, তখন সফরের কষ্ট, প্রত্যাবর্তনের অনিষ্ট, কল্যাণের পর অকল্যাণ, মাযলূমের দু’আ ও পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে খারাপ দৃশ্য দেখা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْل وَالْمَال. رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الله بن سرجس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سافر يتعوذ من وعثاء السفر وكابة المنقلب والحور بعد الكور ودعوة المظلوم وسوء المنظر في الاهل والمال. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَدَعْوَةِ الْمَظْلُوْمِ) অর্থাৎ- আমি তোমার নিকট যুলম করা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। কেননা মাযলূমের দু‘আ আল্লাহর নিকট সরাসরি পৌঁছে যায় এবং মাযলূমের দু‘আ ও আল্লাহ তা‘আলার মাঝে কোন আবরণ থাকে না।

‘আল্লামা বাজী (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলার কাছে কু-দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, পরিবার-পরিজন ও সম্পত্তির প্রতি যে কুদৃষ্টি দেয়া হয় (পরিবারে ক্ষতি সাধন, সম্পদ হরণ, চুরি ইত্যাদি) তা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২২-[৭] খাওলাহ্ বিনতু হাকীম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন জায়গায় অবতরণ করে বলে, ’’আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)। তাহলে তাকে কোন জিনিস অনিষ্ট করতে পারবে না তার ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَن خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يرحل من منزله ذَلِك . رَوَاهُ مُسلم

وعن خولة بنت حكيم قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من نزل منزلا فقال: اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق لم يضره شيء حتى يرحل من منزله ذلك . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা আল কারী (রহঃ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীস জাহিলী জামানার লোকদের মাঝে যে রেওয়াজ ছিল তা প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করছে। যখন তারা কোন স্থানে অবতরণ করত তখন বলতঃ আমরা এ উপত্যকার নেতার আশ্রয় চাই এবং তারা বড় বড় জীনদের আশ্রয় নিত। আর এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘অনেক মানুষ অনেক জিনের নিকট আশ্রয় নিত। ফলে তারা জীনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত’’- (সূরা আল জিন্ ৭২ : ৬)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৩-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! গত রাতে আমি বিচ্ছুর দংশনে আক্রান্ত হয়েছি। এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যদি সন্ধ্যার পর বলতে, ’’আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই)- তাহলে তোমাকে তা ক্ষতিসাধন করতে পারত না। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَقِيتُ مِنْ عَقْرَبٍ لَدَغَتْنِي الْبَارِحَةَ قَالَ: أَمَا لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خلق لم تَضُرك . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله ما لقيت من عقرب لدغتني البارحة قال: اما لو قلت حين امسيت: اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق لم تضرك . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা ইবনুস্ সুন্নী (রহঃ) (তিনবার) বৃদ্ধি করেছেন, অর্থাৎ- যে এ দু‘আটি তিনবার বলবে সাপ-বিচ্ছু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৪-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকতেন ভোর হলে বলতেন,

’’সামি’আ সা-মি’উন বিহাম্‌দিল্লা-হি ওয়া হুসনি বিলা-য়িহী ’আলায়না- ওয়া রব্বানা- স-হিবনা- ওয়া আফযিল ’আলায়না- ’আ-য়িযান বিল্লা-হি মিনান্ না-র’’

(অর্থাৎ- সর্বশ্রোতা শ্রবণ করুক, আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি, আমাদের প্রতি তাঁর মহা অবদানের স্বীকৃতি ঘোষণা করছি। হে আমাদের রব! তুমি আমাদের সাথী হও ও আমাদের প্রতি দয়া করো। আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ وَأَسْحَرَ يَقُولُ: «سمع سامع يحمد الله وَحسن بلائه علينا وربنا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا كان في سفر واسحر يقول: «سمع سامع يحمد الله وحسن بلاىه علينا وربنا صاحبنا وافضل علينا عاىذا بالله من النار» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা তুরবিশতী (রহঃ) বলেনঃ এখানে بلاء (পরীক্ষা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিয়ামত। আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের পরীক্ষা করেন কোন ক্ষতি দিয়ে যাতে তারা ধৈর্য ধারণ করে। আত্মমর্যাদা বা সম্মান দিয়ে পরীক্ষা করেন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে’’- (সূরা আল আম্বিয়া- ২১ : ৩৫)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৫-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন যুদ্ধ, হজ্জ বা ’উমরাহ্ হতে ফিরে আসতেন, তখন প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করে তাকবীর দিতেন। আর বলতেন,

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর। আ-য়িবূনা, তা-য়িবূনা ’আ-বিদূনা ’সা-জিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূনা। সদাকল্ল-হু ওয়া’দাহূ, ওয়া নাসারা ’আবদাহূ ওয়া হাযামাল আহযা-বা ওয়াহদাহূ।’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। সাম্রাজ্য তাঁরই, তাঁরই প্রশংসা। তিনি সব জিনিসের উপরই ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তন করছি তওবাকারী, ’ইবাদাতকারী, সিজদাকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী হিসেবে। আল্লাহ তার ওয়া’দাকে সত্যে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং শত্রুর সমন্বিত শক্তিকে একাই পরাজিত করেছেন।)। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْوٍ أَوْ حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنَ الْأَرْضِ ثَلَاثَ تَكْبِيرَاتٍ ثُمَّ يَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كلِّ شيءٍ قديرٌ آيِبونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ»

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قفل من غزو او حج او عمرة يكبر على كل شرف من الارض ثلاث تكبيرات ثم يقول: «لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير ايبون تاىبون عابدون ساجدون لربنا حامدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده»

ব্যাখ্যা: এখানে الْأَحْزَابَ ‘আহযাব’-এর শব্দের বিষয়ে উলামাগণের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছে। কারো মতে কুরায়শ কাফিররা ও ‘আরবদের মধ্য যারা তাদের সহযোগী এবং ইয়াহূদীরা, যারা খন্দক যুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল তারাই আহযাব বা বহুজাতিক বাহিনী। আর তাদের ব্যাপারেই সূরা আল আহযাব নাযিল হয়েছে। কারো মতে এটি ‘আম্ বা ব্যাপক। অর্থাৎ- আহযাব যুদ্ধের সমস্ত দিনগুলো ও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল রাষ্ট্র এবং এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সমস্ত কুফার সৈন্যরা সকলেই আহযাবের অন্তর্ভুক্ত।

‘আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ প্রথম মতটি প্রসিদ্ধ। ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একত্রিত কাফিরেরা ছিল বারো হাজার (১২,০০০)। তারা মক্কা হতে মদীনায় আগমন করল এবং মদীনার চারপাশে তারা একত্রিত হলোঃ আর এ অবস্থায় প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলো, কিন্তু শুধু তীর-ধনুক আর পাথর নিক্ষেপ ব্যতীত তাদের মাঝে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হলো না।

তাদের এ ধারণা ছিল যে, মুসলিমগণ তাদের মুকাবিলা করতে পারবে না বিধায় তারা (মুসলিমগণ) পরাজিত হবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা শীতের রাতে তাদের ওপর তীব্র বাতাস পাঠালেন, ফলে তাদের চেহারায় ধূলা হানা দিলো, তাদের বাতিগুলো নিভে গেল, তাদের তাঁবুর খুঁটিগুলো উপড়ে গেল ও তাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে হয়ে গেল। অন্যদিকে আল্লাহ তা‘আলা এক হাজার মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। অতঃপর তারা (ফেরেশতাগণ) তাদের বিপরীত প্রান্ত দিয়ে তাকবীর ধ্বনি তুলল এবং ঘোড়া হাকিয়ে দিলো এবং তাদের অন্তরে ভয় হানা দিলো। ফলশ্রুতিতে কাফিরেরা পরাজিত হলো ও পলায়ন করল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার বাণী নাযিল হলোঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল। অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঞ্চা বায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন’’- (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ৯)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৬-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের সময় মুশরিকদের জন্য বদ্দু’আ করে বলেছিলেন, ’’আল্ল-হম্মা মুনযিলাল কিতা-বি, সারী’আল হিসা-বি, আল্ল-হুম্মা আহযিমিল আহযা-বা, আল্ল-হুম্মা আহযিমহুম, ওয়া যালজিলহুম’’ (অর্থাৎ- হে কিতাব নাযিলকারী ও তড়িৎ বিচার ফায়সালাকারী [হিসাব গ্রহণকারী] আল্লাহ! হে আল্লাহ! তুমি শত্রুর সম্মিলিত শক্তিকে পরাজিত করো। হে আল্লাহ! তাদেরকে তুমি পরাজিত করো এবং তাদেরকে পর্যদস্ত-বিচলিত করে দাও।)। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ عَلَى الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ اللَّهُمَّ اهْزِمِ الأحزابَ اللهُمَّ اهزمهم وزلزلهم»

وعن عبد الله بن ابي اوفى قال: دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاحزاب على المشركين فقال: «اللهم منزل الكتاب سريع الحساب اللهم اهزم الاحزاب اللهم اهزمهم وزلزلهم»

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা আসকালানী (রহঃ) বলেনঃ উল্লেখিত দু‘আয় তিনটি নিয়ামতের মাহাত্ম্যের উপর সতর্কবাণী রয়েছে।

১. আল্লাহর কিতাব নাযিল হওয়ার মাধ্যমে পরকালীন নিয়ামত অর্জন হয়েছে। ২. মেঘ চলমানের কারণে দুনিয়াবী নিয়ামত অর্জন হয়েছে। আর তা হলোঃ জীবিকা। ৩. বহুজাতিক বাহিনী পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে দু’টি নিয়ামতের (মক্কা-মদীনাহ্) সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে।

‘আল্লামা কুসতুলানী বলেনঃ উল্লেখিত দু‘আয় তাদের বিরুদ্ধে ধ্বংসের দু‘আ না করে তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও কম্পন কামনা করা হয়েছে। এর কারণ হলোঃ মদীনাহ্ তাদের আত্মার জন্য ছিল নিরাপদ। এছাড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন আকাঙ্খাও হতে পারে যে, তারা (কাফিররা) তাওবাহ্ করতে পারে এবং ইসলামে প্রবেশ করতে পারে। আর ধ্বংসের দু‘আ করলে তাদের মৃত্যু ছিল অবধারিত। আর এটাই ছিল মুখ্য ও সঠিক উদ্দেশ্য। আর ‘আল্লামা ইসমা‘ঈলী (রহঃ)-এর অপর বর্ণনায় অন্যভাবে রয়েছে। সেখানে দু‘আতে কিছু বর্ধিত রয়েছে। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের প্রতিপালক এবং তাদেরও প্রতিপালক, আমরা আপনার দাস এবং তারাও আপনার দাস, আমাদেরকে ও তাদেরকে করুণা করেছেন আপনার স্বহস্তে। অতএব (আজ) তাদেরকে লাঞ্ছিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৭-[১২] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার কাছে আসলেন। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাদ্য ও হায়স (খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত এক জাতীয় মিষ্টান্ন) দিলাম। এর থেকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু খেলেন, তারপর তাঁর কাছে আরও কিছু খেজুর আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খেতে লাগলেন। তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুরের মধ্যখান দিয়ে বিচি বের করতে লাগলেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের পিঠের দিক দিয়ে বিচি ফেলতে থাকলেন। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু পানীয় আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পান করলেন। [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে রওনা হলে] আমার পিতা তাঁর আরোহীর লাগাম ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ’’আল্ল-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা- রযাকতাহুম ওয়াগফির লাহুম, ওয়ারহামহুম’’ (অথাৎ- হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে যা দান করেছো তাতে বারাকাত দাও এবং তাদেরকে ক্ষমা করো ও তাদের ওপর অনুগ্রহ করো)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الدَّعْوَاتِ فِى الْأَوْقَاتِ

وَعَن عبد الله بن يسر قَالَ: نَزَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا وَوَطْبَةً فَأَكَلَ مِنْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِتَمْرٍ فَكَانَ يَأْكُلُهُ وَيُلْقِي النَّوَى بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ وَيَجْمَعُ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى وَفِي رِوَايَةٍ: فَجَعَلَ يُلْقِي النَّوَى عَلَى ظَهْرِ أُصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى ثُمَّ أُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ فَقَالَ أَبِي وَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ: ادْعُ اللَّهَ لَنَا فَقَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ واغفرْ لَهُم وارحمهم» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الله بن يسر قال: نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابي فقربنا اليه طعاما ووطبة فاكل منها ثم اتي بتمر فكان ياكله ويلقي النوى بين اصبعيه ويجمع السبابة والوسطى وفي رواية: فجعل يلقي النوى على ظهر اصبعيه السبابة والوسطى ثم اتي بشراب فشربه فقال ابي واخذ بلجام دابته: ادع الله لنا فقال: «اللهم بارك لهم فيما رزقتهم واغفر لهم وارحمهم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: কাযী ‘ইয়ায বলেনঃ হায়স এমন সব খেজুরগুলোকে বলা হয় যার বিচি বের করে দুধের সাথে মিশ্রিত করা হয়।

 (اُدْعُ اللّٰهَ لَنَا) এখান থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, মেযবানের জন্য মেহমানদের নিকট দু‘আ চাওয়া উচিত এবং সম্মানিত ব্যক্তির নিকট দু‘আ চাওয়া ও মেহমানদের কাছে জীবিকার প্রশস্ততা, মাগফিরাত ও রহমাতের দু‘আ চাওয়া মুস্তাহাব। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আয় দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ সন্নিবেশিত করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৮-[১৩] তালহা ইবনু ’উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা আহিল্লাহূ ’আলায়না- বিল আম্‌নি ওয়াল ঈমা-নি, ওয়াস্‌সালা-মাতি ওয়াল ইসলা-মি রব্বী ওয়া রব্বুকাল্ল-হু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের প্রতি চাঁদকে উদয় করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের উপর। [হে চাঁদ!] আমার রব ও তোমার রব এক আল্লাহ।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

عَن طلحةَ بنِ عبيدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

عن طلحة بن عبيد الله ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا راى الهلال قال: «اللهم اهله علينا بالامن والايمان والسلامة والاسلام ربي وربك الله» . رواه الترمذي. وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: চন্দ্র মাসের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাতের চাঁদকে الْهِلَالَ ‘‘আল হিলাল’’ বলা হয়। এর পরবর্তী রাতের চন্দ্রকে القمر ‘‘আল কামার’’ বলা হয়। ‘আল কামূস’-এ রয়েছে ‘‘আল হিলাল’’ হলো চন্দ্রের উজ্জ্বলতা অথবা দু’রাত থেকে তিন রাত অথবা সাত রাত পর্যন্ত এবং মাসের শেষের দু’রাত যথাক্রমে ২৬ ও ২৭তম রাত। এ ব্যতীত অন্যান্য রাতের চন্দ্রগুলোকে আল কামার বলা হয়। এ হাদীসে এ মর্মে সতর্কবাণী রয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা নিদর্শনমালা প্রকাশ পাওয়ার সময় ও কোন অবস্থার পরিবর্তনে দু‘আ করা মুস্তাহাব। তাতে মস্তক অবনমিত হবে প্রতিপালকের দিকে, কখনোই প্রতিপালিতের দিকে নয়। আর এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করতে হবে উদ্ভাবকের উদ্ভাবনের দিকে, উদ্ভাবিত বস্ত্তর দিকে নয়।

‘আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীস থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, নতুন চাঁদ দেখার সময় দু‘আ করা শারী‘আতসম্মত। যার উপর এ হাদীস সম্পৃক্ত রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪২৯-[১৪] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়েই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত লোককে দেখে বলবে,

’’আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী ’আ-ফা-নী মিম্মাব্ তালা-কা বিহী ওয়া ফায্‌যালানী ’আলা- কাসীরিম্ মিম্মান্ খলাকা তাফযীলা’’

(অর্থাৎ- আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, যিনি তোমাকে এতে পতিত করেছেন, তা হতে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন। আর আমাকে তাঁর সৃষ্টির বহু জিনিস হতে বেশি মর্যাদা দান করেছেন।)। সে যেখানেই থাকুক না কেন তার ওপর এ বিপদ কক্ষনো পতিত হবে না। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ رَجُلٍ رَأَى مُبْتَلًى فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا إِلَّا لَمْ يُصِبْهُ ذَلِكَ الْبَلَاءُ كَائِنا مَا كانَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عمر بن الخطاب وابي هريرة قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من رجل راى مبتلى فقال: الحمد لله الذي عافاني مما ابتلاك به وفضلني على كثير ممن خلق تفضيلا الا لم يصبه ذلك البلاء كاىنا ما كان . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: নিশ্চয় সুস্থ থাকা বিপদগ্রস্ত থাকার চেয়ে অধিক প্রশস্ত। কেননা অসুস্থতা একটি অস্বস্তিকর বিষয় ও ফিতনা, আর ঐ সময় তা পরীক্ষাও বটে। আর দৃঢ় মু’মিন বা ঈমানদার দুর্বল ঈমানদারদের তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। যেমন- বর্ণিত রয়েছে,

আবূ জা‘ফার মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখবে তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করতে হবে এবং এ দু‘আটি মনে মনে বলতে হবে। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে শুনানো যাবে না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩০-[১৫] ইবনু মাজাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গরীব এবং তার রাবী ’আমর ইবনু দীনার সবল নয়।[1]

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنِ ابْنِ عُمَرَ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الرَّاوِي لَيْسَ بِالْقَوِيّ

ورواه ابن ماجه عن ابن عمر. وقال الترمذي هذا حديث غريب وعمرو بن دينار الراوي ليس بالقوي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের সানাদে ‘আমর ইবনু দীনার রয়েছেন এবং উক্ত হাদীসটি ত্ববারানী তাঁর ‘আল আওসাত’ গ্রন্থে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের শব্দে বর্ণনা করেছেন।

‘আল্লামা আল হায়সামী (রহঃ) বলেনঃ এতে যাকারিয়্যা ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু আইয়ূব আয্ যারীর রয়েছেন। আমি তাকে চিনি না। আর অন্য রাবীগুলো নির্ভরযোগ্য রয়েছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩১-[১৬] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক বাজারে প্রবেশ করে এ দু’আ পড়ে,

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াহুওয়া হায়য়ুন, লা- ইয়ামূতু, বিয়াদিহিল খয়রু, ওয়াহুয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর হাতেই কল্যাণ এবং তিনি সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল।)।

আল্লাহ তা’আলা তার জন্য দশ লক্ষ সাওয়াব লিখবেন, দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেন, এছাড়া তার জন্য দশ লক্ষ মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করবেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব। আর শারহুস্ সুন্নাহয় ’বাজার’ শব্দের স্থলে ’বড় বাজার’ রয়েছে যেখানে ক্রয়-বিক্রয় হয়।)[1]

وَعَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفَ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفَ سَيِّئَةٍ وَرَفَعَ لَهُ أَلْفَ أَلْفَ دَرَجَةٍ وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَفِي شَرْحِ السُّنَّةِ: «مَنْ قَالَ فِي سُوقٍ جَامِعٍ يباعُ فِيهِ» بدل «من دخل السُّوق»

وعن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من دخل السوق فقال: لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو حي لا يموت بيده الخير وهو على كل شيء قدير كتب الله له الف الف حسنة ومحا عنه الف الف سيىة ورفع له الف الف درجة وبنى له بيتا في الجنة . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب وفي شرح السنة: «من قال في سوق جامع يباع فيه» بدل «من دخل السوق»

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ বাজারের সঙ্গে জিকির বা দু‘আ নির্দিষ্ট করার কারণ হলোঃ বাজার আল্লাহর জিকির হতে উদাসীন থাকার জায়গা ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জায়গা। সুতরাং তা শয়তানের রাজত্বের ও তার সৈন্য সমাগমের স্থান। কাজেই সেখানে আল্লাহর জিকিরকারী শয়তানের সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তার সৈন্যদের পরাভূত করে। অতএব সে উল্লেখিত সাওয়াবের উপযুক্ত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩২-[১৭] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে দু’আ করতে শুনলেন, লোকটি বলছেনঃ ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা তামা-মান্ নি’মাহ্’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পূর্ণ নিয়ামত চাই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পূর্ণ নিয়ামত কি? সে বললো, এই দু’আ দিয়ে আমি সম্পদ প্রাপ্তির (অধিক উত্তম বস্ত্ত) আশা করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পূর্ণ নিয়ামত তো হলো জান্নাতে প্রবেশ করা ও জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভ করা (দুনিয়াপ্রাপ্তি উদ্দেশ্য নয়)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ’’ইয়া- যাল জালা-লি ওয়াল ইক্‌র-ম’’ (অর্থাৎ- হে মহত্ব ও মর্যাদার অধিকারী)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার দু’আ কবূল করা হবে, তুমি দু’আ করো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, সে বলছে, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাস্ সব্‌রা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধৈর্যধারণের শক্তি চাই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে বিপদ চাইলে, বরং তুমি তাঁর কাছে নিরাপত্তা প্রত্যাশা করো। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يَدْعُو يَقُولُ: اللهُمَّ إِني أسألكَ تمامَ النعمةِ فَقَالَ: «أيُّ شَيْءٍ تَمَامُ النِّعْمَةِ؟» قَالَ: دَعْوَةٌ أَرْجُو بِهَا خَيْرًا فَقَالَ: «إِنَّ مِنْ تَمَامِ النِّعْمَةِ دُخُولَ الْجَنَّةِ وَالْفَوْزَ مِنَ النَّارِ» . وَسَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ فَقَالَ: «قَدِ اسْتُجِيبَ لَكَ فَسَلْ» . وَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَّبْرَ فَقَالَ: «سَأَلْتَ اللَّهَ الْبَلَاءَ فَاسْأَلْهُ الْعَافِيَةَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن معاذ بن جبل قال: سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا يدعو يقول: اللهم اني اسالك تمام النعمة فقال: «اي شيء تمام النعمة؟» قال: دعوة ارجو بها خيرا فقال: «ان من تمام النعمة دخول الجنة والفوز من النار» . وسمع رجلا يقول: يا ذا الجلال والاكرام فقال: «قد استجيب لك فسل» . وسمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلا وهو يقول: اللهم اني اسالك الصبر فقال: «سالت الله البلاء فاساله العافية» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেনঃ সর্বোপরি কথা হলো লোকটি নিয়ামত দ্বারা দুনিয়ার নিয়ামত উদ্দেশ্য করেছে। যা আবশ্যকীয়ভাবে ধ্বংসশীল। আর দু‘আর মাঝে তার পূর্ণতা, অর্থাৎ- পূর্ণ নিয়ামত চাচ্ছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রমাণ দিলেন যে, আখিরাতের স্থায়ী নিয়ামত ছাড়া কোন (পূর্ণ) নিয়ামত নেই।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৩-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মাজলিসে (বৈঠকে) বসে অনর্থক কথা বলল, আর বৈঠক হতে ওঠার আগে বলে,

’’সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহাম্‌দিকা, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা আস্‌তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পাক-পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার কাছে তওবা্ করছি।)।

তাহলে ঐ মাজলিসে সে যা (ত্রুটি-বিচ্যুতি) করেছে আল্লাহ তা’আলা তা ক্ষমা করে দেবেন। (তিরমিযী, বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّعْوَات الْكَبِير

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من جلس مجلسا فكثر فيه لغطه فقال قبل ان يقوم: سبحانك اللهم وبحمدك اشهد ان لا اله الا انت استغفرك واتوب اليك الا غفر له ما كان في مجلسه ذلك . رواه الترمذي والبيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: (...سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ) এটা আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করুন, যখন আপনি দন্ডায়মান হন।’’ (সূরা আত্ তূর ৫২ : ৪৮)

‘আত্বা (রহঃ) বলেনঃ প্রতিটি বৈঠকে, অর্থাৎ- যে কোন বৈঠক (ভাল কাজের) শেষে এ দু‘আটি পাঠ করতে হয়। মুসতাদরাক আল হাকিম-এ রয়েছে- কোন দল কোন বৈঠকে বসল, অতঃপর সেখানে দীর্ঘ সময় কথা বলল। এরপর কতক লোক দাঁড়ানোর পূর্বেই এ দু‘আটি (সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আসতাগফিরুকা, ওয়া আতূবু ইলাইক) একজন বলল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৪-[১৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আরোহণ করার জন্য তাঁর কাছে একটি আরোহী আনা হলো। তিনি রিকাবে পা রেখে বললেন, ’’বিসমিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে)। যখন এর পিঠে আরোহিত হলেন তখন বললেন, ’’আলহাম্‌দুলিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর প্রশংসা)। এরপর বললেন, ’’সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহূ মুকরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনক্ব লিবূন’’ (অর্থাৎ- প্রশংসা আল্লাহর, যিনি [আরোহণের জন্য] এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন)। তারপর তিনি তিনবার বললেন, ’’আলহাম্‌দুলিল্লা-হ’’, তিনবার বললেন, ’’ওয়াল্ল-হু আকবার’’; এরপর বললেন, ’’সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাফসী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আন্‌তা’’ (অর্থাৎ- তোমার পবিত্রতা, আমি আমার ওপর যুলম করেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও)।

অতঃপর তিনি হেসে ফেললেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! কি কারণে আপনি হাসলেন? তিনি জবাবে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, আমি যেভাবে করলাম, তিনি ঐভাবে করলেন অর্থাৎ- হাসলেন। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কি কারণে আপনি হাসলেন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যখন সে বলে, ’’রব্বিগ্ ফিরলী যুনূবী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার অপরাধসমূহ ক্ষমা করো)। আল্লাহ বলেন, সে বিশ্বাস করে আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অপরাধসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ: أَنَّهُ أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وضَعَ رِجْلَه فِي الركابِ قَالَ: بسمِ اللَّهِ فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثُمَّ قَالَ: (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبنَا لمنُقلِبون)
ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ ثُمَّ ضَحِكَ فَقِيلَ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَقُولُ: يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن علي: انه اتي بدابة ليركبها فلما وضع رجله في الركاب قال: بسم الله فلما استوى على ظهرها قال: الحمد لله ثم قال: (سبحان الذي سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين وانا الى ربنا لمنقلبون) ثم قال: الحمد لله ثلاثا والله اكبر ثلاثا سبحانك اني ظلمت نفسي فاغفر لي فانه لا يغفر الذنوب الا انت ثم ضحك فقيل: من اي شيء ضحكت يا امير المومنين؟ قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم صنع كما صنعت ثم ضحك فقلت: من اي شيء ضحكت يا رسول الله؟ قال: ان ربك ليعجب من عبده اذا قال: رب اغفر لي ذنوبي يقول: يعلم انه لا يغفر الذنوب غيري رواه احمد والترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: মিশকাতের সকল অনুলিপিতে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং মাসাবীহ, শারহ আস্ সুন্নাহ ও মুস্তাদরাকেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। সহীহ ইবনু হিব্বানেও অনুরূপ রয়েছে।

তবে আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় এভাবে রয়েছে- অতঃপর তিনি আল হামদুলিল্লা-হ তিনবার বললেন, এরপর আল্ল-হু আকবার তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি সুবহা-নাকা..... (উল্লেখিত দু‘আ) পড়লেন। আহমাদ, ইবনুস্ সুন্নী ও আল হাকিম-এর বর্ণনায় কিছু বর্ধিত রয়েছে। তা হলোঃ তিনি ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা’’ একবার পড়লেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৫-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন লোককে বিদায় দিতেন তার হাত ধরে রাখতেন, তা ছাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ছেড়ে না দিতেন। আর হাত ছেড়ে দেবার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ’’আস্‌তাও দি’উল্ল-হা দীনাকা ওয়া আমা-নাতাকা ওয়া আ-খিরা ’আমলিকা’’ (অর্থাৎ- তোমার দীন, তোমার আমানাত, তোমার শেষ ’আমলকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করলাম)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু শেষ দু’জনের বর্ণনায় ’সর্বশেষ কাজ’ শব্দের উল্লেখ নেই)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وَدَّعَ رَجُلًا أَخَذَ بِيَدِهِ فَلَا يَدَعُهَا حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ يَدَعُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَقُولُ: «أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ» وَفِي رِوَايَة «خَوَاتِيم عَمَلِكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي روايتهما لم يذكر: «وَآخر عَمَلك»

وعن ابن عمر قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا ودع رجلا اخذ بيده فلا يدعها حتى يكون الرجل هو يدع يد النبي صلى الله عليه وسلم ويقول: «استودع الله دينك وامانتك واخر عملك» وفي رواية «خواتيم عملك» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه وفي روايتهما لم يذكر: «واخر عملك»

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ এখানে أمانة (আমানাত) দ্বারা মুসাফির ব্যক্তি পরিবার-পরিজন, যাদের সে রেখে এসেছে এবং সম্পদ উদ্দেশ্য। যেগুলোর দেখভাল ও সংরক্ষণ করে তার কোন প্রতিনিধি। আর কারো মতে সমস্ত দায়িত্বই আমানাত। যার ব্যাখ্যায় আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আমি আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এ আমানাত (দায়িত্ব) পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা এটা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো কিন্তু মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে যালিম অজ্ঞ’’- (সূরা আল আহযা-ব ৩৩ : ৭২)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৬-[২১] ’আবদুল্লাহ আল খত্বমী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈন্যবাহিনীকে বিদায় দেবার সময় বলতেন, ’’আস্‌তাও দি’উল্ল-হা দীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খওয়া-তীমা আ’মা-লিকুম’’ (অর্থাৎ- তোমাদের দীন, তোমাদের আমানাত ও তোমাদের শেষ আ’মাল আল্লাহর হাতে সমর্পণ করলাম)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْخَطْمِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْتَوْدِعَ الْجَيْشَ قَالَ: «أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكُمْ وأمانتكم وخواتيم أَعمالكُم» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الله الخطمي قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اراد ان يستودع الجيش قال: «استودع الله دينكم وامانتكم وخواتيم اعمالكم» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ‘আবদুল্লাহ আল খত্বমী, তিনি আবূ মূসা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু যায়দ ইবনু হুসায়ন ইবনু ‘আমর ইবনুল হারিস ইবনু খত্বমাহ্ আল আওসী আনসারী, তিনি ছোট সাহাবী ছিলেন, তিনি ছোট অবস্থায় হুদায়বিয়ায় উপস্থিত হয়েছিলেন। অনুরূপ বর্ণনা আত্ তাহযীবে রয়েছে। ‘আল্লামা আল খাররাজী (রহঃ) বলেনঃ তিনি ১৭ বছর বয়সে হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি উষ্ট্রির যুদ্ধ ও সিফফীনের যুদ্ধে ‘আলী (রাঃ) এর পক্ষ নিয়েছিলেন। ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ) এর সময় কুফার গভর্নর ছিলেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৭-[২২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরের ইচ্ছা করেছি, আমাকে কিছু পাথেয় (উপদেশ) দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া অবলম্বনের পাথেয় দান করুন (ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বাঁচান)। লোকটি বললো, আমাকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করুন। লোকটি আবার বললো, আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমাকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণকর কাজ করা সহজ করে দেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ سَفَرًا فَزَوِّدْنِي فَقَالَ: «زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى» . قَالَ: زِدْنِي قَالَ: «وَغَفَرَ ذَنْبَكَ» قَالَ: زِدْنِي بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي قَالَ: «وَيَسَّرَ لكَ الْخَيْر حيثُما كُنْتَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

وعن انس قال: جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم قال: يا رسول الله اني اريد سفرا فزودني فقال: «زودك الله التقوى» . قال: زدني قال: «وغفر ذنبك» قال: زدني بابي انت وامي قال: «ويسر لك الخير حيثما كنت» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: قَالَ: وَغَفَرَ ذَنْبَكَ এ কথা বলার উদ্দেশ্য হল- তাকওয়ার বিশুদ্ধতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর তার ওপর অটল থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

(وَيَسَّرَ لكَ الْخَيْرَ) অর্থাৎ- দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তোমার জন্য সহজ করুন।

মানাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসে মুসাফির ব্যক্তিকে বিদায় জানানোর বিধান বা দলীল বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হল, কোন মুসাফির ব্যক্তিকে বিদায় দেয়ার সময় এ দু‘আ পাঠ করা। মোটকথা আলোচ্য হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, মুসাফিরের জন্য এ দু‘আগুলো পাঠ করা শার‘ঈভাবে স্বীকৃত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৮-[২৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি সফরে যাবার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সবসময় আল্লাহর ভয় মনে পোষণ করবে এবং (পথিমধ্যে) প্রতিটি উঁচু জায়গায় অবশ্যই ’’আল্ল-হু আকবার’’ বলবে। সে লোকটি যখন চলে গেল তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’আল্ল-হুম্মা আত্ববিলাহুল বু’দা ওয়া হাওবিন্ ’আলায়হিস্ সাফার’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! লোকটির সফরের দূরত্ব কমিয়ে দাও এবং তার জন্য সফর সহজ করে দাও)। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُسَافِرَ فَأَوْصِنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كل شرف» . قَالَ: فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ قَالَ: «اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبعد وهون عَلَيْهِ السّفر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي هريرة قال: ان رجلا قال: يا رسول الله اني اريد ان اسافر فاوصني قال: «عليك بتقوى الله والتكبير على كل شرف» . قال: فلما ولى الرجل قال: «اللهم اطو له البعد وهون عليه السفر» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (عَلَيْكَ) এটি ইসমে ফে‘ল, এটি خُذْ বা গ্রহণ করো- এ অর্থে ব্যবহার হয়। এর অর্থ হলোঃ তাকওয়া বা আল্লাহভীতিতে অটল থাকা, তাকওয়ার সকল স্তরের উপর সর্বদা অটুট থাকা। নিশ্চয় এটি একটি নির্দেশ, যা আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের প্রতি করেছেন। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘বস্ত্ততঃ আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থধারীদেরকে এবং তোমাদেরকে যে, তোমরা সবাই আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করো’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৩১)।

(اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ) অর্থাৎ- তিনি তাঁর সফরের দূরত্বকে নিকটবর্তী করে দেন। এ ব্যাপারে ইমাম জাযারী (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার সফরকে সহজ ও নিকটবর্তী করে দেন যাতে সফর দীর্ঘ না হয়। আর মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেনঃ অর্থগতভাবে ও উপলব্ধিগতভাবে সফরকে নিকটবর্তী করার মাধ্যমে সফরের কষ্টকে দূরীভূত করেন।

(وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ) অর্থাৎ- একই কথা আবার বলার মাধ্যমে নির্দিষ্টতাকে আরো বেশী প্রশস্ততা করা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৩৯-[২৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হবার সময় রাত হয়ে গেলে বলতেন,

’’ইয়া- আরযু রব্বী ওয়া রব্বুকিল্লা-হু আ’ঊযুবিল্লা-হি মিন শাররিকি ওয়া শাররি মা- ফীকি ওয়া শাররি মা- খুলিকা ফীকি ওয়া শাররি মা- ইয়াদিব্বু ’আলায়কি ওয়া আ’ঊযুবিল্লা-হি মিন্ আসাদিন ওয়া আস্ওয়াদা ওয়া মিনাল হাইয়্যাতি ওয়াল ’আকরাবি ওয়ামিন্ শাররি সা-কিনিল বালাদি ওয়ামিন্ ওয়া-লিদিন ওয়ামা- ওয়া-লিদ’’

(অর্থাৎ- হে জমিন! আমার প্রতিপালক ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। সুতরাং আমি তোমার অনিষ্ট হতে, তোমার মধ্যে যা আছে তার অনিষ্ট হতে, তোমার মধ্যে যা সৃষ্টি করা হয়েছে এর অনিষ্ট হতে এবং যা তোমার ওপর চলাফেরা করে তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমি আল্লাহর কাছে আরো আশ্রয় চাই সিংহ, বাঘ, কালো সাপ ও সাপ-বিচ্ছু হতে, শহরের অধিবাসী ও পিতা-পুত্র হতে।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ فَأَقْبَلَ اللَّيْلُ قَالَ: «يَا أَرْضُ رَبِّي وَرَبُّكِ اللَّهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّكِ وَشَرِّ مَا فِيكِ وَشَرِّ مَا خُلِقَ فِيكِ وَشَرِّ مَا يَدِبُّ عَلَيْكِ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ أَسَدٍ وَأَسْودَ وَمِنَ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَمِنْ شَرِّ سَاكِنِ الْبَلَدِ وَمِنْ والدٍ وَمَا ولد» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سافر فاقبل الليل قال: «يا ارض ربي وربك الله اعوذ بالله من شرك وشر ما فيك وشر ما خلق فيك وشر ما يدب عليك واعوذ بالله من اسد واسود ومن الحية والعقرب ومن شر ساكن البلد ومن والد وما ولد» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (...إِذَا سَافَرَ) আহমাদ এবং হাকিম-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ করতেন অথবা ভ্রমণ করতেন। অতঃপর রাত আসলে তিনি বলতেন। এখানে (يَا أَرْضُ) বলে জমিনকে সম্বোধন করা হয়েছে এবং তিনি তাকে প্রশস্ততার ভিত্তিতে এবং খাস করার উদ্দেশে আহবান করেছেন।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) এটা উল্লেখ করেছেন। কারো মতে (مِنْ شَرِّ سَاكِنِ الْبَلَدِ)-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলোঃ মানুষ, এখানে তাদের নাম উল্লেখ করার কারণ হলোঃ বেশীরভাগ ভূ-খণ্ডে তারা বসবাস করে। অথবা তারা শহর নির্মাণ করে এবং তারা সেটা দেশ বানিয়ে নেয়। আবার কারো মতে তারা জিন্, যারা জমিনে বাস করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪০-[২৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে বের হবার সময় বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা আন্‌তা ’আযুদী ওয়া নাসীরী বিকা আহূলু ওয়াবিকা আসূলু ওয়াবিকা উকাতিলু’’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার শক্তি-বল। তুমি আমার সাহায্যকারী। তোমার সাহায্যেই আমি শত্রুর ষড়যন্ত্র পর্যুদস্ত করি। তোমার সাহায্যেই আমি আক্রমণে অগ্রসর হই এবং তোমারই সাহায্যে আমি যুদ্ধ পরিচলনা করি।)। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا غَزَا قَالَ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِي وَنَصِيرِي بِكَ أَحُولُ وَبِكَ أَصُولُ وَبِكَ أُقَاتِلُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

وعن انس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا غزا قال: «اللهم انت عضدي ونصيري بك احول وبك اصول وبك اقاتل» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে এ মর্মে দলীল রয়েছে যে, যুদ্ধের সময় এ দু‘আ এবং এর সমার্থক অনুরূপ দু‘আ পাঠ করা শার‘ঈভাবে প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪১-[২৬] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন দলের ব্যাপারে ভয় করতেন, তখন বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাজ্’আলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়ানা’ঊযুবিকা মিন্ শুরূরিহিম’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে তাদের মোকাবেলা করলাম [তুমিই তাদের প্রতিহত কর] এবং তাদের অনিষ্টতা হতে তোমার কাছে আশ্রয় নিলাম)। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ من شرورهم» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن ابي موسى: ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا خاف قوما قال: «اللهم انا نجعلك في نحورهم ونعوذ بك من شرورهم» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা:  (كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا) অর্থাৎ- কোন সম্প্রদায়ের অনিষ্টতা নিয়ে আশঙ্কা করতেন।

(اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِىْ نُحُورِهِمْ) অর্থাৎ- বুকে সাহস ও শত্রুর মুকাবিলায় শক্তি সঞ্চার করা। যাতে করে যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে সাহসের সাথে মুকাবিলা করতে পারে।

(وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ) অর্থাৎ- তাদের মুকাবিলায় বুকে শক্তি দাও, আর শত্রুদের চক্রান্ত মুকাবিলা করার তাওফীক দাও। আমি আশ্রয় চাচ্ছি তাদের চক্রান্তের অনিষ্টতা থেকে।

অতএব অত্র হাদীসের দলীল রয়েছে যে, শত্রুর ভয়ে এ দু‘আ পড়া শার‘ঈভাবে প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪২-[২৭] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বের হবার সময় বলতেন, ’’বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ’আলাল্ল-হি, আল্ল-হুম্মা ইন্না- না’ঊযুবিকা মিন্ আন্ নাযিল্লা আও নাযিল্লা আও নাযলিমা আও নুযলামা আও নাজহালা আও ইউজহালা ’আলায়না-’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই পদস্খলিত হওয়া, বিপথগামী হওয়া, উৎপীড়ন করা, উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং কারো অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে।)। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী; তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ)

আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহর অন্য বর্ণনায় আছে, উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ঘর হতে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা আন্ আযিল্লা আও উযল্লা, আও আযলিমা আও উযলামা, আও আজহালা আও ইউজহালা ’আলাইয়্যা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই বিপথগামী হওয়া, বিপথগামী করা, উৎপীড়ন করা, উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে।)।[1]

وَعَنْ أُمُّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ نُظْلَمَ أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ وَابْنِ مَاجَهْ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: مَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَيْتِي قَطُّ إِلَّا رَفَعَ طَرْفَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَو يجهل عَليّ»

وعن ام سلمة رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا خرج من بيته قال: «بسم الله توكلت على الله اللهم انا نعوذ بك من ان نزل او نضل او نظلم او نظلم او نجهل او يجهل علينا» . رواه احمد والترمذي والنساىي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وفي رواية ابي داود وابن ماجه قالت ام سلمة: ما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من بيتي قط الا رفع طرفه الى السماء فقال: «اللهم اني اعوذ بك ان اضل او اضل او اظلم او اظلم او اجهل او يجهل علي»

ব্যাখ্যা: (اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ) অর্থাৎ- খারাপ বা পাপাচার পতিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেনঃ ইচ্ছা ছাড়াই সত্য পথ হতে বিচ্যুত হওয়া। অথবা ইচ্ছা ছাড়াই পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া।

(أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا) অর্থাৎ- আল্লাহর হক বা বান্দার হাক্বের ব্যাপারে কোন অন্যায় করা। অথবা, মানুষের উপায়ে কোন কষ্টদায়ক বস্ত্ত চালিয়ে দেয়া।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ ইচ্ছা ছাড়াই কোন পাপ কাজ পতিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া। অথবা, মানুষের সাথে লেনদেন বা চলাফেরায় কষ্ট দেয়া বা তাদের উপর অত্যাচার করা।

নাসায়ী’র শব্দে রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাড়ী থেকে বের হতেন, বলতেন, (بسم الله رب أعوذ بك من أن أزل، أو أضل، أو أظلم أو أظلم، أو أجهل أو يجهل علي) অর্থাৎ- আল্লাহর নামে শুরু করছি- হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট লাঞ্ছনা, গোমরাহ্ হওয়া অথবা অত্যাচার করা, অত্যাচারিত হওয়া, অজ্ঞ হওয়া ও আমার ওপর অজ্ঞতার আরোপ থেকে আশ্রয় চাই। অনুরূপ বর্ণনা করেছেন- হাকিম (১ম খণ্ড, ৫১৯ পৃঃ), আহমাদ (৩য় খণ্ড, ৩১৮, ৩৩২ পৃঃ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৩-[২৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঘর হতে বের হবার সময় যখন বলে, ’’বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ’আলাল্ল-হি, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর নামে বের হলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোন উপায় নেই, ক্ষমতা নেই)- তখন তাকে বলা হয়, পথ পেলে, উপায়-উপকরণ পেলে এবং নিরাপদ থাকলে। সুতরাং শয়তান তার কাছ হতে দূর হয়ে যায় এবং অন্য এক শয়তান এই শয়তানকে বলে, যে ব্যক্তিকে পথ দেখানো হয়েছে, উপায়-উপকরণ দেয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে- তাকে তুমি কি করতে পারবে? (আবূ দাঊদ; আর তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে ’শয়তান বিদূরিত হয়ে যায়’ পর্যন্ত)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ: بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ يُقَالُ لَهُ حِينَئِذٍ هُدِيتَ وَكُفِيتَ وَوُقِيتَ فَيَتَنَحَّى لَهُ الشَّيْطَانُ وَيَقُولُ شَيْطَانٌ آخَرُ: كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِيَ وَكُفِيَ وَوُقِيَ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وروى التِّرْمِذِيّ إِلى قَوْله: «الشَّيْطَان»

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا خرج الرجل من بيته فقال: بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة الا بالله يقال له حينىذ هديت وكفيت ووقيت فيتنحى له الشيطان ويقول شيطان اخر: كيف لك برجل قد هدي وكفي ووقي . رواه ابو داود وروى الترمذي الى قوله: «الشيطان»

ব্যাখ্যা: যখন বান্দা আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় তার বারাকাতপূর্ণ নামের সাথে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে হিদায়াত দেন, সঠিক পথ দেখান এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কর্মগুলোতে সাহায্য করেন। বান্দা যখন আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা রাখবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। অতএব তিনি তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনি তার জন্য যথেষ্ঠ’’- (সূরা আত্ব ত্বলা-ক ৬৫ : ৩)। আর যে ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ পড়বে আল্লাহ তাকে শয়তানের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত করবেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৪-[২৯] আবূ মালিক আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করবে সে যেন বলে, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রল মাওলিজি ওয়া খয়রল মাখর-জি বিস্‌মিল্লা-হি ওয়ালাজনা- ওয়া ’আলাল্ল-হি রব্বিনা- তাওয়াক্কালনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঘরে প্রবেশ ও ঘর হতে বের হওয়ার কল্যাণ চাই। তোমার নামেই আমি প্রবেশ করি (ও বের হই)। হে আমাদের বর! আল্লাহর নামে ভরসা করলাম।)। অতঃপর সে যেন নিজ পরিবারের লোকদেরকে সালাম দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا وَلَجَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا ثُمَّ لْيُسَلِّمْ عَلَى أَهْلِهِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي مالك الاشعري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم اني اسالك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وعلى الله ربنا توكلنا ثم ليسلم على اهله . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা : মিরকাতে ইমাম সুয়ূত্বী (রহঃ) ব্যাখ্যা করেছেন, তাতে আল্লাহ তা‘আলার কথার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, তার শিক্ষার জন্য। হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে।

এখানে আয়াতে কারীমা সব ধরনের প্রবেশ ও বের হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যদিও আয়াতটি মক্কা বিজয়ের দিনে নাযিল হয়েছে। কেননা শিক্ষা তো ‘আম্ শব্দ দ্বারা সাব্যস্ত হয়, নির্দিষ্ট কোন কারণে নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৫-[৩০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি বিয়ে করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলতেন, ’’বা-রকাল্ল-হ লাকা ওয়া বা-রকা ’আলায়কুমা- ওয়া জামা’আ বায়নাকুমা- ফী খায়রিন’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দিন, তোমাদের উভয়ের ওপর বারাকাতময় করুন এবং তোমাদেরকে [সর্বদা] কল্যাণের সাথে একত্রিত রাখুন)। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَفَّأَ الْإِنْسَانَ إِذَا تَزَوَّجَ قَالَ: «بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا رفا الانسان اذا تزوج قال: «بارك الله لك وبارك عليكما وجمع بينكما في خير» رواه احمد والترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: নব দুলালের জন্য সুখী জীবন ও অধিক সন্তানের দু‘আকারী- এ কথাগুলো জাহিলী জামানার লোকেরা বলত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করলেন। যেমন- বাক্বী ইবনু মিখলাদ বর্ণনা করেছেন গালিব (রহঃ)-এর সূত্রে, তিনি হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বানু তামীম গোত্রের এক লোক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমরা জাহিলী যুগে নব বিবাহিত দুলালের প্রতি সুখী-জীবন ও অধিক সন্তান জন্মের দু‘আ করতাম, যখন ইসলাম আসলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা বলো- (بارك الله لكم وبارك فيكم وبارك عليكم) অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাদের জন্য বারাকাত দান করুন, তোমাদের মাঝে বারাকাত দান করুন, তোমাদের ওপর বারাকাত দান করুন। (নাসায়ী, ত্ববারানী)

ইবনুস্ সুন্নীর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, ‘আক্বীল ইবনু আবী ত্বলিব বাসরাহ্ গমন করলেন। অতঃপর এক নারীকে বিয়ে করলেন। অতঃপর তারা তাকে সুখী জীবন ও অধিক সন্তানের দু‘আ করল। তিনি বললেন, এরূপ বলো না, তোমরা তাই বলো যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (اللهم بارك لهم وبارك عليهم) ‘‘হে আল্লাহ! তাদেরকে বারাকাত দান করো ও তাদের ওপর বারাকাত নাযিল করো।’’


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৬-[৩১] ’আমর ইবনু শু’আয়ব হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার মাধ্যমে দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোন মহিলাকে বিয়ে অথবা কোন চাকর ক্রয় করে তখন সে যেন বলে,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রহা- ওয়া খয়রা মা- জাবালতাহা- ’আলায়হি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ শাররিহা- ওয়া শাররি মা- জাবালতাহা- ’আলায়হি’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তার কল্যাণ এবং তাকে যে সৎ চরিত্রের সাথে সৃষ্টি করেছো তার কল্যাণ চাই। আর তোমার কাছে আমি তার অনিষ্ট ও তাকে যে খারাপ স্বভাবের সাথে সৃষ্টি করেছো তা হতে আশ্রয় চাই।)।

আর যখন কোন ব্যক্তি উট ক্রয় করে, তখন যেন ঠোঁটের চূড়া ধরে আগের মতো দু’আ পড়ে। অন্য এক বর্ণনায় মহিলা ও চাকর সম্বদ্ধে বলা হয়েছে, তখন সে যেন তার সামনের চুল ধরে বারাকাতের জন্য দু’আ করে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَزَوَّجَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوِ اشْتَرَى خَادِمًا فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَإِذَا اشْتَرَى بَعِيرًا فليأخُذْ بِذروةِ سنامِهِ ولْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ» . وَفِي رِوَايَةٍ فِي الْمَرْأَةِ وَالْخَادِمِ: «ثُمَّ لْيَأْخُذْ بِنَاصِيَتِهَا وَلْيَدْعُ بِالْبَرَكَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا تزوج احدكم امراة او اشترى خادما فليقل اللهم اني اسالك خيرها وخير ما جبلتها عليه واعوذ بك من شرها وشر ما جبلتها عليه واذا اشترى بعيرا فلياخذ بذروة سنامه وليقل مثل ذلك» . وفي رواية في المراة والخادم: «ثم لياخذ بناصيتها وليدع بالبركة» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: ইবনু মাজাহ্, ইবনুস্ সুন্নী ও হাকিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, সে যেন তার কপাল ধারণ করে। অতঃপর দু‘আ বলবে। এখানে কপাল দ্বারা মাথার অগ্রভাগের চুল উদ্দেশ্য, যেমন ‘‘আস্ সিহাহ’’-তে বর্ণিত রয়েছে। তবে মোদ্দা কথা হলো- এর দ্বারা মাথার অগ্রভাগ উদ্দেশ্য, চাই তাতে চুল থাকুক বা না থাকুক। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) (بِذَرْوَةِ سَنَامِه) উল্লেখের পর বলেনঃ আবূ সা‘ঈদ অর্থাৎ- সা‘ঈদ ইবনু ‘আবদিল্লাহ, (যিনি তার একজন উস্তায ছিলেন) তিনি এ হাদীসের বর্ণনায় কিছু বর্ধিত করেছেন যে, অতঃপর সে যেন তার কপাল ধারণ করে। অতঃপর নারী ও খাদিমের জন্য বারাকাতের দু‘আ করবে।

এ হাদীসে দলীল রয়েছে যে, বিবাহ, খাদিম কিংবা কোন পশু ক্রয়ের সময় এ দু‘আ পড়া শার‘ঈভাবে প্রমাণিত-সুন্নাত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৭-[৩২] আবূ বকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদগ্রস্ত লোকের দু’আ হলো,

’’আল্ল-হুম্মা রহমতাকা আরজূ ফালা- তাকিলনী ইলা- নাফসী ত্বরফাতা ’আয়নিন, ওয়া আসলিহ লী শা’নী কুল্লা-হূ, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমত প্রত্যাশা করি। তুমি আমাকে আমার নিজের ওপর ক্ষণিকের জন্যও ছেড়ে দিও না। বরং তুমি নিজে আমার সকল বিষয়াদি সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা’বূদ নেই।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعَوَاتُ الْمَكْرُوبِ اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعوات المكروب اللهم رحمتك ارجو فلا تكلني الى نفسي طرفة عين واصلح لي شاني كله لا اله الا انت» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ) এ দু‘আর শেষে ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা’’ এর উল্লেখ করা। এটাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। কেননা তা একক মা‘বূদের ফায়দা দেয়। অর্থাৎ- ‘ইবাদাতের যোগ্য মাত্র একজনই এটা জানিয়ে দেয়।

‘আল্লামা মানাবী (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলার হাজির-নাজির ও স্বাক্ষর শব্দ দ্বারা এটি শেষ করার দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নিশ্চয় এ দু‘আ চিন্তিত ব্যক্তির উপকার করবে এবং চিন্তা দূর করবে। আর যে ব্যক্তি তাওহীদের সাক্ষ্য দিবে সে পার্থিব জীবনে চিন্তা দূর হওয়ার মাধ্যমে মুক্ত হয়ে যাবে এবং আখিরাতে রহমাত ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৮-[৩৩] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি বড় দুশ্চিন্তায় আছি, আমার ঘাড়ে ঋণ চেপে আছে। (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি কালাম (বাক্য) বলে দেবো না, যা পড়লে আল্লাহ তোমার চিন্তা দূর করবেন ও ঋণ পরিশোধ করবেন। সে বললো, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই বলুন, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়বে,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি, ওয়াল হুযনি, ওয়া আ’ঊযুবিকা মিনাল ’আজযি, ওয়াল কাসালি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ গলাবাতিদ্ দায়নি ওয়া কহরির রিজা-ল’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি চাই। আশ্রয় চাই অপারগতা ও অলসতা এবং কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের কঠোরতা হতে।)।

সে বললো, পরিশেষে আমি তা-ই করলাম। আর আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা মুক্ত করে দিলেন এবং ঋণও পরিশোধ করে দিলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: هُمُومٌ لَزِمَتْنِي وَدُيُونٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلَامًا إِذَا قُلْتَهُ أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّكَ وَقَضَى عَنْكَ دَيْنَكَ؟» قَالَ: قُلْتُ: بَلَى قَالَ: قُلْ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ . قَالَ: فَفعلت ذَلِك فَأذْهب الله همي وَقضى عَن ديني. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رجل: هموم لزمتني وديون يا رسول الله قال: «افلا اعلمك كلاما اذا قلته اذهب الله همك وقضى عنك دينك؟» قال: قلت: بلى قال: قل اذا اصبحت واذا امسيت: اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن واعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال . قال: ففعلت ذلك فاذهب الله همي وقضى عن ديني. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একদিন মসজিদে প্রবেশ করলেন, দেখলেন আনসারী একজন লোক, যাকে আবূ উমামাহ্ বলা হত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ উমামাহ্! তোমার কি হয়েছে যে, আমি তোমাকে অসময়ে মসজিদে দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেনঃ চিন্তা এবং ঋণ আমায় বাধ্য করছে। অর্থাৎ- অসময়ে মসজিদে আমার বসে থাকার কারণ হলো চিন্তা এবং ঋণ। সুতরাং আমি আমার প্রতিপালকের কাছে তারই ঘরে বসে মুক্তি চাই। এটা স্পষ্ট যে, নিশ্চয় হাদীসটি আবূ উমামার বর্ণনা এবং তার অনুরূপ কথা। তিনি বলেন, আমি তাই করলাম। অর্থাৎ- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা মতো এ দু‘আ পড়লাম। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে চিন্তা মুক্ত করলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করলেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৪৯-[৩৪] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তাঁর কাছে একজন মুকাতাব (চুক্তিবদ্ধ দাস) এসে বললো, আমি আমার কিতাবাতের (মুনিবের সাথে সম্পদের লিখিত চুক্তিপত্রের) মূল্য পরিশোধ করতে পারছি না, আমাকে সাহায্য করুন। উত্তরে তিনি [’আলী (রাঃ)] বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালাম (বাক্য) শিখিয়ে দেবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছেন? (এ দু’আর মাধ্যমে) যদি তোমার ওপর বড় পাহাড়সম ঋণের বোঝাও থাকে, আল্লাহ তা পরিশোধ করে দেবেন। তুমি পড়বে,

’’আল্ল-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ’আন্ হারা-মিকা, ওয়া আগ্‌নিনী বিফাযলিকা ’আম্মান্ সিওয়াক’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হালাল [জিনিসের] সাহায্যে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখো এবং তুমি তোমার রহমতের মাধ্যমে আমাকে পরমুখাপেক্ষী হতে রক্ষা করো।)। (তিরমিযী, বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

আর জাবির (রাঃ)-এর(إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلَابِ) ’’যখন তোমরা কুকুরের আওয়াজ শুনতে পাবে’’ বর্ণিত হাদীসটিتَغْطِيَةِ الْأَوَانِىْ ’’পাত্র ঢেকে রাখা’’ অনুচ্ছেদে আমরা উল্লেখ করব ইনশা-আল্ল-হ।

وَعَن عليّ: أَنَّهُ جَاءَهُ مُكَاتَبٌ فَقَالَ: إِنِّي عَجَزْتُ عَنْ كتابي فَأَعِنِّي قَالَ: أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ عَلَّمَنِيهِنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْكَ مِثْلُ جَبَلٍ كَبِيرٍ دَيْنًا أَدَّاهُ اللَّهُ عَنْكَ. قُلْ: «اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِيرِ
وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ جَابِرٍ: «إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلَابِ» فِي بَابِ «تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي» إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وعن علي: انه جاءه مكاتب فقال: اني عجزت عن كتابي فاعني قال: الا اعلمك كلمات علمنيهن رسول الله صلى الله عليه وسلم لو كان عليك مثل جبل كبير دينا اداه الله عنك. قل: «اللهم اكفني بحلالك عن حرامك واغنني بفضلك عمن سواك» . رواه الترمذي والبيهقي في الدعوات الكبير وسنذكر حديث جابر: «اذا سمعتم نباح الكلاب» في باب «تغطية الاواني» ان شاء الله تعالى

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাব গোলাম সম্পদ চাইল আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দু‘আ শিক্ষা দিলেন। কেননা তাকে সাহায্য করার মতো কোন সম্পদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিল না। কাজেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সর্বোত্তম কিছু দিয়ে ফিরিয়ে দিলেন, ‘আমল ফিরে দিলেন, আল্লাহ তা‘আলা কথার ভিত্তিতে ‘‘ভাল কথা বলা ও ক্ষমা করা সদাকাহ্ অপেক্ষা উত্তম’’। (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৬৩)

অথবা তাকে সঠিক পথ দেখালেন। এটি এদিকে ইঙ্গিত করে যে, নিশ্চয় উত্তম ও অধিক বিশুদ্ধ বিষয় হলো তা (মালিকের পাওনা) আদায় করার জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া এবং অন্যের ওপর নির্ভর না করা। আর আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫০-[৩৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মাজলিসে (বৈঠকে) বসতেন অথবা সালাত আদায় করতেন, তখন কিছু কালাম (বাক্য) পড়তেন। একদিন আমি ঐ সব কালাম সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (মাজলিসে) যদি কল্যাণকামী আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ’মুহর’ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি (মাজলিসে) অকল্যাণকর আলোচনা হয় তবে তা তার জন্য কাফফারার মধ্যে গণ্য হবে। কালামটি হলো, ’’সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা ওয়া বিহাম্‌দিকা, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আস্‌তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই ও তওবা্ করি।)। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا جَلَسَ مَجْلِسًا أَوْ صَلَّى تكلَّم بِكَلِمَاتٍ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْكَلِمَاتِ فَقَالَ: إِنْ تُكُلِّمَ بِخَيْرٍ كَانَ طَابَعًا عَلَيْهِنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنْ تُكُلِّمَ بِشَرٍّ كَانَ كَفَّارَةً لَهُ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن عاىشة قالت: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا جلس مجلسا او صلى تكلم بكلمات فسالته عن الكلمات فقال: ان تكلم بخير كان طابعا عليهن الى يوم القيامة وان تكلم بشر كان كفارة له: سبحانك اللهم وبحمدك لا اله الا انت استغفرك واتوب اليك . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: (كَانَ كَفَّارَةً لَه) অর্থাৎ- বৈঠকে যে আপত্তিকর, ভুল, অনিষ্টতা ভুল কথা বলেছে। অর্থাৎ- উক্ত বৈঠকে যে পাপ অর্জিত হয়েছে তার ক্ষমা হবে এ দু‘আ বলার মাধ্যমে। অতএব কোন বৈঠক অর্থাৎ- যে কোন বৈঠক শেষে মানুষের জন্য মুস্তাহাব হবে উল্লেখিত দু‘আ ‘‘সুবহা-নাকা.....’’ পাঠ করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫১-[৩৬] কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর কাছে বিশ্বস্তসূত্রে খবর এসেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে এ বাক্যটি তিনবার বলতেন, ’’হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন হিলা-লু খয়রিন ওয়া রুশদিন আ-মানতু বিল্লাযী খলাকক’’ (অর্থাৎ- কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ, কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ, কল্যাণ ও হিদায়াতের চাঁদ। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তার ওপর আমি ঈমান আনলাম।)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ’’আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী যাহাবা বিশাহরি কাযা- ওয়াজা-আ বিশাহরি কাযা-’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি [বিগত] মাস শেষ করলেন এবং এই মাস আনলেন)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن قَتَادَة: بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ: «هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ آمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ذَهَبَ بِشَهْرِ كَذَا وَجَاء بِشَهْر كَذَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن قتادة: بلغه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا راى الهلال قال: «هلال خير ورشد هلال خير ورشد هلال خير ورشد امنت بالذي خلقك» ثلاث مرات ثم يقول: «الحمد لله الذي ذهب بشهر كذا وجاء بشهر كذا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: চাঁদ আল্লাহ তা‘আলার ‘ইবাদাতের সাথে কিয়ামের সঠিক নির্দেশনা দেয় এবং তা হজ, সিয়াম ও অন্যান্য ‘ইবাদাতের সময় নির্ণয়ক। যেমন- আল্লাহ তা‘আলার কথাঃ ‘‘তারা আপনাকে চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস.....।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ১৮৯)

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) এর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন বলতেনঃ هِلَالُ خَيْرٌ وَّرُشْدٌ ثَلَاثُ مَرَّاتٍ ‘‘চাঁদ কল্যাণকর ও সঠিক পথের দিশা।’’ এটি তিনবার বলতেন।

اٰمَنْتُ بِالَّذِىْ خَلَقَكَ ثَلَاثُ مَرَّاتٍ ‘‘আমি ঈমান এনেছি ঐ সত্তার প্রতি যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’’, তিনবার বলতেন। অতঃপর বলতেনঃ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ جَاءَ بِالشَّهْرِ وَذَهَبَ بِالشَّهْرِ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি (নতুন) মাস নিয়ে এলেন এবং (বিগত) মাস নিয়ে গেলেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫২-[৩৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বেশি চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সে যেন বলে, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী ’আবদুকা, ওয়াবনু ’আবদিকা ওয়াবনু আমাতিকা, ওয়াফী কবযাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা মা-যিন ফী হুকমুকা ’আদলুন ফি কযা-উকা আস্আলুকা বিকুল্লি ইসমিন, হুওয়া লাকা সাম্‌মায়তা বিহী নাফসাকা, আও আনযালতাহূ ফী কিতা-বিকা, আও ’আল্লামতাহূ আহাদাম্ মিন্ খলকিকা, আও আলহামতা ’ইবা-দাকা, আউইস্‌তা’সারতা বিহী ফী মাকনূনিল গয়বি ’ইনদাক আন্ তাজ্’আলাল কুরআ-না রবী’আ কলবী ওয়াজালা-আ হাম্মী ওয়া গম্মী’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমার বান্দার পুত্র, তোমার দাসীর পুত্র। আমি তোমার হাতের মুঠে, আমার অদৃষ্ট তোমার হাতে। তোমার হুকুম আমার ওপর কার্যকর, তোমার আদেশ আমার পক্ষে ন্যায়। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার সেসব নামের ওয়াসীলায় যাতে তুমি নিজেকে অভিহিত করেছো, অথবা তুমি তোমার কিতাবে নাযিল করেছো অথবা তুমি তোমার সৃষ্টির কাউকেও তা শিক্ষা দিয়েছো, অথবা তুমি তোমার বান্দাদের ওপর ইলহাম করেছো (অদৃশ্য অবস্থায় থেকে অন্তরে কথা বসিয়ে দেয়া) অথবা তুমি গায়বের পর্দায় তা তোমার কাছে অদৃশ্য রেখেছো- তুমি কুরআনকে আমার অন্তরের বসন্তকাল স্বরূপ চিন্তা-ফিকির দূর করার উপায় স্বরূপ গঠন করো।)। যে বান্দা যখনই তা পড়বে আল্লাহ তার চিন্তা-ভাবনা দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে মনে নিশ্চিন্ততা (প্রশান্তি) দান করবেন। (রযীন)[1]

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ كَثُرَ هَمُّهُ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ وَفِي قَبْضَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَلْهَمْتَ عِبَادَكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي مَكْنُونِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قلبِي وجِلاء هَمِّي وغَمِّي مَا قَالَهَا عَبْدٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ غمه وأبدله فرجا . رَوَاهُ رزين

وعن ابن مسعود ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من كثر همه فليقل: اللهم اني عبدك وابن عبدك وابن امتك وفي قبضتك ناصيتي بيدك ماض في حكمك عدل في قضاوك اسالك بكل اسم هو لك سميت به نفسك او انزلته في كتابك او علمته احدا من خلقك او الهمت عبادك او استاثرت به في مكنون الغيب عندك ان تجعل القران ربيع قلبي وجلاء همي وغمي ما قالها عبد قط الا اذهب الله غمه وابدله فرجا . رواه رزين

ব্যাখ্যা: এখানে দলীল রয়েছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার ৯৯টি নাম ছাড়াও আরো অনেক নাম রয়েছে। আর এ নামগুলোর মাঝে কতকগুলো বান্দার জানা এবং কতকগুলোর ব্যাপারে বান্দা অজানা। আর আল্লাহর নামগুলোর মাধ্যমে ওয়াসীলাহ্ নেয়া বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫৩-[৩৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন উপরের দিকে উঠতাম, ’আল্ল-হু আকবার’ ও যখন নীচের দিকে নামতাম ’সুবহা-নাল্ল-হ’ বলতাম। (বুখারী)[1]

وَعَن جابرٍ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا وَإِذَا نَزَلْنَا سبحنا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن جابر قال: كنا اذا صعدنا كبرنا واذا نزلنا سبحنا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: উঁচু স্থানে আরোহণের সময় ‘আল্ল-হু আকবার’ বলার সম্পর্ক হলো, উঁচু স্থান অন্তরের জন্য অতি প্রিয়, যাতে অহংকার দানা বাধে। সুতরাং তিনি নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি উঁচু ভূমি অতিক্রম করবে সে আল্লাহ তা‘আলার বড়ত্বকে স্মরণ করবে। তিনি সবকিছু থেকে বড়। যাতে সে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অতঃপর তিনি তাকে তার অনুগ্রহ বৃদ্ধি করে দিবেন। আর নিচে নামার সাথে সুব্হা-নাল্ল-হ বলার সম্পর্ক হলোঃ নিম্ন জায়গাটা সংকীর্ণ স্থান।

কাজেই তার জন্য তিনি তাসবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কেননা তা (তাসবীহ) প্রশস্ততার কারণ। যেমন- ইউনুস (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণিত রয়েছে, যখন তিনি অন্ধকারে তাসবীহ পড়তেন, অতঃপর তিনি দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলেন। আল্লাহ তা‘আলার কথাঃ ‘‘যদি তিনি আল্লাহর তাসবীহ পাঠ না করতেন তবে তাকে কিয়ামাত পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।’’ (সূরা আস্ স-ফফা-ত ৩৭ : ১৪৩-১৪৪)

অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে মাছের পেটের অন্ধকার থেকে পরিত্রাণ দিলেন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাসবীহের বাস্তবায়ন করতেন, যাতে তিনি তাঁর অনিষ্টতা থেকে মুক্তি পান এবং তাকে শত্রু পেয়ে বসা থেকে মুক্তি পান।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫৪-[৩৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিষয়ে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লে বলতেন, ’’ইয়া- হাইয়্যু, ইয়া কইয়ূমু বিরহমতিকা আস্‌তাগীস’’ (অর্থাৎ- হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! তোমার রহমতের সাথে আমি প্রার্থনা করছি)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব ও গায়রে মাহফূয)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَرَبَهُ أَمْرٌ يَقُولُ: «يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ بِمَحْفُوظٍ

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا كربه امر يقول: «يا حي يا قيوم برحمتك استغيث» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب وليس بمحفوظ

ব্যাখ্যা: ইবনু আল কইয়্যূম তাঁর ‘‘আত্ব ত্বিববীন্ নাবাবী’’তে এ রোগ প্রতিহতের ক্ষেত্রে তার কথার প্রভাবের ব্যাপারে বলেনঃ (يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ) কেননা জীবনটা তার আবশ্যকীয় সমস্ত পরিপূর্ণ গুণাবলীর জিম্মাদার। আর চিরঞ্জীবির গুণটা সমস্ত কর্মের গুণাবলীর জিম্মাদার। এজন্য আল্লাহ তা‘আলার মহিমান্বিত নাম, যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, তিনি তাতে সাড়া দেন। যখন যে নামের মাধ্যমে যা-ই চাওয়া হবে তিনি তা দিবেন। তিনি ও তার নাম চিরঞ্জীব ও চিরপ্রতিষ্ঠিত। পূর্ণ জীবনে সকল ধরনের অসুস্থতা ও যন্ত্রণাকে প্রতিহত করে। আর এজন্য যখন জান্নাতবাসীদের জীবন পূর্ণতা লাভ করবে তখন তাদের চিন্তা, দুঃশ্চিন্তা বা কোন ধরনের বিপদ স্পর্শ করবে না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫৫-[৪০] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের দিন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে কি কিছু বলবেন? আমাদের প্রাণ তো ওষ্ঠাগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ আছে। তোমরা বল, ’’আল্ল-হুম্মাসতুর ’আওর-তিনা- ওয়া আ-মিন রও’আ-তিনা-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দোষ-ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখো, আমাদের ভয়-ভীতি নিরাপত্তায় পরিণত করো। বর্ণনাকারী [আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)] বলেন, অতএব আল্লাহ তা’আলা তার শত্রুদের ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়ে দমন করলেন এবং এ ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়েই তাদেরকে পরাজিত করলেন। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قُلْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ مِنْ شَيْءٍ نَقُولُهُ؟ فَقَدْ بَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ قَالَ: «نَعَمْ اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا» قَالَ: فَضَرَبَ اللَّهُ وُجُوهَ أَعْدَائِهِ بِالرِّيحِ وَهَزَمَ اللَّهُ بِالرِّيحِ. رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابي سعيد الخدري قال: قلنا يوم الخندق: يا رسول الله هل من شيء نقوله؟ فقد بلغت القلوب الحناجر قال: «نعم اللهم استر عوراتنا وامن روعاتنا» قال: فضرب الله وجوه اعداىه بالريح وهزم الله بالريح. رواه احمد

ব্যাখ্যা: আহযা-ব যুদ্ধের দিন মদীনায়, খন্দক খননের কারণ হলোঃ যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খবর পৌঁছল যে, মক্কাহ্বাসীরা যুদ্ধে প্রস্ত্ততি নিচ্ছে এবং তারা ‘আরবের মুশরিক ও আহলে কিতাব (ইয়াহূদী-নাসারা)-দের একত্রিত করছে, যাদের মুকাবিলা করার সামর্থ্য মুসলিমদের নেই। অতঃপর সহাবায়ে কিরামগণ পরামর্শ করলেন এবং সালমান আল ফারিসী খন্দক খননের পরামর্শ দিলেন, যা তিনি তার নিজ দেশ থেকে জেনেছেন। আর শত্রুদের ধারণা ছিল যে, তারা (মুসলিমরা) মদীনার চারপাশে তাদের মুকাবিলা করতে পারবে না, বিধায় তারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নিরাপত্তা চাইবে। অতঃপর তিনি ও তার সাথীগণ ১০ দিনের অধিক সময় ধরে খন্দক খনন করলেন। আর তারা সে খননের কাজে দেখতে পেতেন কষ্ট, ক্ষুধা ও অক্ষমতা, আর এজন্যই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলছিলেন, আমাদের কিছু বলবেন? উল্লেখ্য যে, খন্দাকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ৫ম হিজরীর শাওয়াল মাসে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দু‘আ

২৪৫৬-[৪১] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাজারে প্রবেশ করলে বলতেন,

’’বিস্‌মিল্লা-হি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খয়রা হা-যিহিস্ সূকি ওয়া খয়রা মা- ফীহা-, ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ শাররিহা- ওয়া শাররি মা- ফীহা-। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা আন্ উসীবা ফীহা- সফক্বতান খ-সিরাতান’’

(অর্থাৎ- আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে বাজারের কল্যাণ এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ চাই। আমি আশ্রয় চাই এর অকল্যাণ হতে এবং এতে যা আছে তার অকল্যাণ হতে। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, এতে যেন কোন ক্ষয়-ক্ষতি ও ক্রয়-বিক্রয়ের ফাঁদে না পড়ি।)। (বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَن بُرَيْدَة قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ السُّوقَ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ السُّوقِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُصِيبَ فِيهَا صَفْقَةً خَاسِرَةً» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِير

وعن بريدة قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا دخل السوق قال: «بسم الله اللهم اني اسالك خير هذه السوق وخير ما فيها واعوذ بك من شرها وشر ما فيها اللهم اني اعوذ بك ان اصيب فيها صفقة خاسرة» . رواه البيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা আল মানাবী (রহঃ) বলেনঃ নিশ্চয় (বাজারে গমনকারী ব্যক্তি) সে বাজারের কল্যাণ চাইবে এবং তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে তার অন্তর থেকে উদাসীনতা দূর করার জন্য। সুতরাং সে এ বাক্যগুলো পড়বে উদাসীন অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য। অতএব যে বাজারে প্রবেশ করবে তার জন্য এ কথাগুলো (উল্লেখিত দু‘আ) মুখস্থ করা মুস্তাহাব। যখন এতে প্রবেশকারীগণ এ কালিমাগুলো বলবে তখন অন্তরে যে উদাসীনতা ভর করবে তা দূর হয়ে যাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৫৭-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বিপদাপদে কষ্ট-ক্লিষ্ট ও দুর্ভাগ্যের আক্রমণ, ভাগ্যের অনিষ্টতা এবং বিপদগ্রস্তে শত্রুর উপহাস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ القضاءِ وشَماتة الْأَعْدَاء»

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «تعوذوا بالله من جهد البلاء ودرك الشقاء وسوء القضاء وشماتة الاعداء»

ব্যাখ্যা: এখানে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার আদেশ করার দ্বারা এর বৈধতা সাব্যস্ত হয়। বিপদ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া তাকদীর (ভাগ্যের)-এর বিশ্বাসে পরিপন্থী নয়। আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ও দু‘আ করাও ভাগ্যের বহিঃপ্রকাশ। যেমন কোন ব্যক্তির বিপদে পতিত হলো আর তার ভাগ্যে লেখা ছিল- যে এর থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে তাই সে দু‘আ করল এবং মুক্তি লাভ করল। আর আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ও দু‘আ করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বান্দার প্রয়োজন ও ভীত-সন্ত্রস্ত ভাব প্রকাশ পায় (যা আল্লাহর কাম্য)।

অত্র হাদীসে যে বিষয় বা অবস্থাসমূহ থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোর প্রথমটি হলো বিপদের কষ্ট। এখানে এমন বিপদের অবস্থা থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে- যে অবস্থায় বান্দাকে পরীক্ষা করা হয় এবং মৃত্যু কামনা করার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ- এমন অবস্থা যখন মৃত্যু ও ঐ কঠিন অবস্থার মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ঐ কঠিন অবস্থা থেকে বাঁচতে মৃত্যুকে বেছে নেবে। কেউ কেউ বলেছেনঃ কঠিন বিপদ দ্বারা এমন বিপদ বুঝানো হয়েছে যা সহ্য করার কিংবা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ব্যক্তির নেই। কারো মতে এর দ্বারা স্বল্প অর্থ সম্পদ ও অধিক পরিবার-পরিজন বুঝানো হয়েছে।

মূলত এটি একটি ব্যাপক অবস্থা। এর মধ্যে সকল বিপদই অন্তর্ভুক্ত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এ অবস্থা ব্যক্তিকে দীনের অনেক বিষয় পালনে অপারগ করে এবং বিপদ সহ্য করতে বাধা দেয়। ফলে সে বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে না পেরে গুনাহে লিপ্ত হয়।

দুর্ভাগ্যের আক্রমণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খারাপ। ইমাম আশ্ শাওকানী (রহঃ) বলেন, দুর্ভাগ্যের আক্রমণ হলো পার্থিব বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হওয়া ও সংকীর্ণ জীবন-যাপন করা। নিজের শরীরের, পরিবারের কিংবা সম্পদের অনিষ্ট সাধিত হওয়া। এটা কখনো পরকালীন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্তও হয়। পার্থিব জীবনে কৃত গুনাহের কারণেও এরূপ শাস্তি দেয়া হতে পারে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এটি বিপদ-আপদ বা পরীক্ষার সর্বশেষ অবস্থা। এক্ষেত্রে যাকে পরীক্ষা করা হয় সে সাধারণত ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। কারো কারো মতে, (وَدَرْكِ الشَّقَاءِ) বলতে জাহান্নামের একটি স্তরকে বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ হলো দুর্ভাগ্যবানদের আবাসস্থল; জাহান্নামের এমন স্তর যেখানে দুর্ভাগ্যবানরা বসবাস করবে।

আশ্রয় চাওয়া তৃতীয় বিষয়টি হলো, ব্যক্তির ভাগ্যে নির্ধারিত এমন বিষয় যা তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। এটা হতে পারে তার দীনের পার্থিব, ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভাগ্যের খারাপী থেকে আশ্রয় চাওয়া দ্বারা ভাগ্যের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রমাণ হয় না। কেননা ভাগ্যের খারাপ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টিও আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য এটিকে বৈধ করেছেন। একই প্রেক্ষিতে বিতরের সালাতের কুনূতে পড়া হয় (وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْتُ) ‘‘এবং তোমার নির্ধারিত ভাগ্যের খারাপ দিক থেকে আমাকে রক্ষা করো’’।

বান্দার ক্ষেত্রে ভাগ্য (কাযা) দু’ ভাগে বিভক্ত; ভাল ও মন্দ। আর আল্লাহ মন্দ ভাগ্য থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। এটি ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাই ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাসী মু’মিন ব্যক্তি ভাগ্যের মন্দ দিক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে কোন নিষেধ নেই। কারণ ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস সম্পর্কিত হাদীস দ্বারা ভাগ্যের দু’টো দিকের প্রতি বিশ্বাসের কথাই বলা হয়েছে।

অপরদিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভাগ্যের মন্দ দিক থেকে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বুঝা যায় যে, আমাদের ঈমান ও আশ্রয় চাওয়া উভয়টিই শারী‘আত প্রণেতা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের অধীন। ‘আল্লামা সিন্দী (রহঃ) বলেন, এখানে ভাগ্য পরিবর্তন দ্বারা অস্থায়ী ভাগ্য উদ্দেশ্য করা হয়েছে; চিরস্থায়ী ভাগ্য নয়। চতুর্থ বিষয় হলো, শত্রুর হাসা বা খুশি হতে আশ্রয় চাওয়া। এখানে শত্রু দ্বারা দীনের এবং দীনের সাথে সম্পৃক্ত দুনিয়ার শত্রু বুঝানো হয়েছে। শত্রুর আনন্দ থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে এজন্য যে, শত্রুর আনন্দ মানবমনে কঠিন প্রভাব বিস্তার করে।

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্য রচনা করা মাকরূহ নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৫৮-[২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল ’আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া যলা’ইদ্ দায়নি ওয়া গলাবাতির্ রিজা-ল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা, শোক-তাপ, অক্ষমতা-অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের জোর-জবরদস্তি হতে আশ্রয় চাই)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ»

وعن انس قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن والعجز والكسل والجبن والبخل وضلع الدين وغلبة الرجال»

ব্যাখ্যা: (اَلْعَجْزِ) বা অক্ষমতা বলতে ইমাম নাবাবী (রহঃ) কল্যাণকর কাজ করার ক্ষমতা না থাকাকে বুঝিয়েছেন। (اَلْكَسَلِ) বা অলসতা দ্বারা মূলত কল্যাণকর কাজ করতে উদ্দীপনা অনুভব না করা এবং তা করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করতে আগ্রহ না থাকা। (اَلْجُبْنِ) বা কাপুরুষতা দ্বারা সাহসহীনতা বুঝানো হয়েছে। কারো মতে এর দ্বারা প্রাণভয়ে যুদ্ধে যেতে না চাওয়া কিংবা আবশ্যক অধিকার আদায় থেকে নিজের জীবন ও সম্পদকে বিরত রাখা। (اَلْبُخْلِ) বা কৃপণতা দ্বারা দানশীলতার বিপরীত স্বভাবকে বুঝানো হয়েছে। শারী‘আতের দৃষ্টিতে কৃপণতা বলতে আবশ্যক দান না করাকে বুঝায়।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এগুলো ইসলামের ওয়াজিব কাজগুলো আদায় করতে, আল্লাহর হকসমূহ পালন করতে, অন্যায় দূরীকরণে, আল্লাহদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে অক্ষম করে। সাহসিকতার দ্বারা ব্যক্তি ‘ইবাদাতসমূহ সঠিকভাবে পালন করতে পারে, মাযলূমকে সহযোগিতা করতে ও জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং কৃপণতা থেকে নিরাপদ থাকলে ব্যক্তি আর্থিক হকসমূহ আদায় করতে পারে এবং আল্লাহর পথে খরচ করতে, দানশীল হতে ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনে উদ্দীপ্ত হয়। নিজের নয় এমন জিনিসের প্রতি লোভ করা থেকে বিরত হয়।

(ضَلَعِ الدَّيْنِ) বা ঋণের বোঝা দ্বারা ঋণের ভারে জর্জরিত হওয়া এবং এর কাঠিন্যকে বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা মূলত এমন অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে যখন কোন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের জন্য কিছুই পায় না; বিশেষ করে মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করার পরও। এজন্যই পূর্ববর্তী অনেক পণ্ডিত বলেছেন, (ما دخل هم الدين قلبًا إلا أذهب من العقل ما لا يعود إليه) অর্থাৎ- ‘‘ঋণের দুশ্চিন্তা ঋণী ব্যক্তির অন্তরে প্রবেশ করে জ্ঞান-বুদ্ধির এমন কিছু দূর করে দেয় যা তার নিকট আর ফেরত আসে না।’’


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৫৯-[৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াল মাগ্‌রামি ওয়াল মা’সামি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন্ ’আযা-বিন্ না-রি ওয়া ফিত্‌নাতিন্ না-রি ওয়া ওয়া ফিতনাতিল কব্‌রি ’আযা-বিল কব্‌রি ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল গিনা-, ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল ফাকরি ওয়ামিন্ শার্‌রি ফিত্‌নাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-লি, আল্ল-হুম্মাগসিল খত্বা-ইয়া-ইয়া বিমা-য়িস্ সালজি ওয়াল বারাদি ওয়া নাক্কি কলবী কামা- ইউনাক্কাস্ সাওবুল আবয়াযু মিনাদ্দানাসি ওয়াবা-’ইদ্ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা’আদ্তা বায়নাল মাশরিকি ওয়াল মাগ্‌রিব’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অলসতা, বার্ধক্য, ঋণ ও গুনাহ থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আগুন, জাহান্নামের পরীক্ষা, কবরের পরীক্ষা ও শাস্তি হতে, স্বচ্ছলতার পরীক্ষার মন্দাভাব ও দারিদ্রের পরীক্ষার মন্দাভাব হতে এবং মাসীহুদ (কানা) দাজ্জালের পরীক্ষার অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফের ও শিলার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও। আমার অন্তরকে পরিষ্কার করে দাও যেভাবে সাদা কাপড়, ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয় এবং আমার ও আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান তৈরি করে দাও যেমনভাবে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে রেখেছো।)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْمَغْرَمِ وَالْمَأْثَمِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَايَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمغْرب»

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الكسل والهرم والمغرم والماثم اللهم اني اعوذ بك من عذاب النار وفتنة النار وفتنة القبر وعذاب القبر ومن شر فتنة الغنى ومن شر فتنة الفقر ومن شر فتنة المسيح الدجال اللهم اغسل خطاياي بماء الثلج والبرد ونق قلبي كما ينقى الثوب الابيض من الدنس وباعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب»

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসের (اَلْهَرَمِ) ‘‘আল হারাম’’ বলতে বার্ধক্যকে বুঝানো হয়েছে। যখন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ক্রমশ লোপ পেতে থাকে, আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজকর্ম পালনে অক্ষমতা আসে, কিছু ‘ইবাদাত পালনে অলসতা আসে, ইন্দ্রিয় শক্তি দুর্বল হতে থাকে। এমতাবস্থায় ইন্দ্রিয় শক্তির সুস্থতা ও সঠিক বুঝ ক্ষমতা থাকাসহ দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার প্রতি এ হাদীসে দু‘আ করতে বলা হয়েছে।

এখানে আগুনের শাস্তি দ্বারা এর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘আল্লামা কারী বলেছেনঃ এর অর্থ হলো আমি জাহান্নামী বা আগুনের অধিবাসী হওয়া থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। (فِتْنَةِ النَّارِ) বা আগুনের ফিতনা দ্বারা এমন ফিতনাহ্ বা পরীক্ষাকে বুঝানো হয়েছে যা আগুনের শাস্তির দিকে নিয়ে যায়। এর দ্বারা জাহান্নামের প্রহরীদের প্রশ্নকেও বুঝানো হতে পারে, যার কথা ৬৭ নং সূরার ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে। ফিতনা দ্বারা মূলত পরীক্ষা, কাঙ্ক্ষিত বহু অর্জনে গাফলতি, দীন থেকে প্রত্যাবর্তন করার জন্য বাধ্য করা; বিভ্রান্তি, গুনাহ, কুফর, ‘আযাব ইত্যাদি বুঝানো হয়। কবরের ফিতনা বলতে কবরে নিয়োজিত দু’জন মালাকের (ফেরেশতার) করা প্রশ্নের উত্তরে বেদিশা হয়ে যাওয়া।

ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, শয়তান মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে কুমন্ত্রণা দেয় যাতে করে সে মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) করা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারে।

ধনীর ফিতনার অনিষ্টতা হচ্ছে অহংকার, অবাধ্যতা, হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও গুনাহের কাজে তা খরচ করা, সম্পদের ও সম্মানের অহংকার করা, সম্পদের যে ফরয ও নফল হক রয়েছে তা হকদারকে প্রদান করতে কৃপণতা করা।

দারিদ্র্যতার ফিতনার অনিষ্টতা হচ্ছে বিরক্ত হওয়া, অধৈর্য হওয়া, প্রয়োজনে হারাম কিংবা এর সদৃশ কোন কর্মে পতিত হওয়া। কারীর মতে, এটা হচ্ছে ধনীদের হিংসা করা, তাদের ধন-সম্পদ কামনা করা, আল্লাহ তার জন্য যা বণ্টন করেছেন তাতে অসন্তুষ্ট হওয়া ইত্যাদি সহ এমন সকল কর্ম যার শেষ পরিণতি প্রশংসনীয় নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬০-[৪] যায়দ ইবনু আরক্বম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল ’আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া ’আযা-বিল কবরি, ’আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা- ওয়াযাক্কিহা- আন্‌তা খয়রু মিন্ যাক্কা-হা- আন্‌তা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়ামাও লা- হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন্ ’ইল্‌মিন লা- ইয়ানফা’উ ওয়ামিন্ কলবিন লা- ইয়াখশা’উ ওয়ামিন্ নাফসিন লা- তাশবা’উ ওয়ামিন্ দা’ওয়াতিন্ লা- ইউসতাজা-বু লাহা-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের ’আযাব হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার আত্মাকে সংযমী করো ও একে পবিত্র করো। তুমিই শ্রেষ্ঠ পুতঃপবিত্রকারী, তুমি তার অভিভাবক ও রব। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ঐ জ্ঞান লাভ হতে আশ্রয় চাই, যে জ্ঞান (আত্মার) কোন উপকারে আসে না, ঐ অন্তর হতে মুক্তি চাই যে অন্তর তোমার ভয়ে ভীত হয় না। ঐ মন হতে আশ্রয় চাই যে মন তৃপ্তি লাভ করে না এবং ঐ দু’আ হতে, যে দু’আ কবূল করা হয় না।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَاب لَهَا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن زيد بن ارقم قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اعوذ بك من العجز والكسل والجبن والبخل والهرم وعذاب القبر اللهم ات نفسي تقواها وزكها انت خير من زكاها انت وليها ومولاها اللهم اني اعوذ بك من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعوة لا يستجاب لها» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে (الْجُبْنُ) ‘‘জুবন’’ বা কাপুরুষতা বলতে মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক শার‘ঈ বড় বড় ও কষ্টসাধ্য কাজ যেমন ফাতাওয়া ও নেতৃত্ব দেয়ার মতপর্যায়ের শার‘ঈ জ্ঞান অর্জন করার যোগ্যতাকে বুঝানো হয়েছে। তবে কারো যদি মেধা, বুঝ-ব্যবস্থা, মুখস্থশক্তি কম থাকে কিংবা দৈনন্দিন জীবিকা অর্জনের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাহলে তার ক্ষেত্রে ঐ পর্যায়ে না পৌঁছতে পারাটা কাপুরুষতা বলে গণ্য হবে না। আর এখানে (الْبُخْلُ) ‘‘বুখল’’ বা কৃপণতা বলতে মানুষের দীনী কোন বিষয়ে মানুষ কিছু জানতে চাইলে তা তাদেরকে না জানানোকে বুঝানো হয়েছে।

কবরের ‘আযাব বলতে কবর সংকীর্ণ হওয়া, অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া, নিঃসঙ্গতা, হাতুড়ির পিটুনি, সাপ-বিচ্ছুর দংশন ও এ জাতীয় অন্যান্য শাস্তিকে বুঝানো হয়েছে। তবে এখানে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার দ্বারা যেসব কাজ কবরের ‘আযাবের কারণ। যেমন- চোগলখোরী, একের কথা অপরের কাছে বলা (নেতিবাচক অর্থে), প্রসাব থেকে যথাযথভাবে পবিত্র না হওয়া ইত্যাদি থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আত্মার তাকওয়া বা সংযম দ্বারা মূলত সকল বর্জনীয় কথা ও কর্ম থেকে আত্মাকে সংরক্ষিত রাখাকে বুঝানো হয়েছে। আর অন্তরকে পবিত্র করার দ্বারা একে সকল গুনাহ থেকে পবিত্র করা, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত করা এবং অন্তরকে ঈমানের আলোয় পূর্ণভাবে আলোকিত করে পবিত্র করার আহবান জানানো হয়েছে।

ওলী বলতে ব্যবস্থাপক, সংস্কারক, সৌন্দর্যকারক বা সাহায্যকারী বুঝানো হয়েছে। মাওলা অর্থও একই।

অত্র হাদীসে এমন জ্ঞান যা উপকারে আসে না সে জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর সে জ্ঞান হলো ঐ জ্ঞান যে জ্ঞান অনুযায়ী বাস্তব কর্ম সম্পাদিত হয় না। অর্থাৎ- ‘আমলে পরিণত হয় না, যা মানুষকে শিক্ষা দেয়া হয় না, যে জ্ঞানের বারাকাত আমার অন্তরে প্রবেশ করে না; যে জ্ঞান আমার কর্ম, কথা, খারাপ চরিত্রকে পরিবর্তন করে আল্লাহর দিকে ধাবিত করে না এবং চরিত্রকে সভ্য ও মার্জিত করে না।

ঐ জ্ঞান দ্বারা এটাও বুঝানো হতে পারে, যে জ্ঞান অর্জনের কোন প্রয়োজন দীনে নেই কিংবা যে জ্ঞান অর্জনে শারী‘আত অনুমতি দেয় না।

এমন অন্তর থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যে অন্তর আল্লাহকে ভয় করে না, আল্লাহর স্মরণে বা তাঁর কালাম তথা কথা শুনে ভীত হয় না। এ অন্তর হলো কঠোর অন্তর। কারী বলেনঃ এ অন্তর হলো ঐ অন্তর যা আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে প্রশান্ত হয় না।

এমন আত্মা থেকেও আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যে আত্মা তার প্রতি আল্লাহর দেয়া রিযক-এর প্রতি সন্তুষ্টি হতে পারে না। অর্থ-সম্পদের অধিক লোভ থেকে যে মুক্ত হতে পারে না। এমন ব্যক্তি, যে বেশি বেশি খায় এবং বেশি খাওয়ার কারণে বেশি বেশি ঘুমায়, অলস থাকে, শায়ত্বনী কুমন্ত্রণা অন্তরে উদিত হয়, অন্তরের ব্যাধি সৃষ্টি হয় যা ক্রমশ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। ইবনুল মালিক বলেনঃ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সকল সম্পদের প্রতি লোভ (যা দেখে তাই সংগ্রহ করতে চায়) এবং দুনিয়ার বিভিন্ন পদ পদবী অর্জনের লোভ। এখানে ঐসব অন্তর থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যেগুলোর পেটের ক্ষুধার চেয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষুধা (চোখের ক্ষুধা) বেশি।

এমন দু‘আ থেকেও আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যে দু‘আ কবূল হয় না এজন্য যে, ঐ দু‘আর মধ্যে গুনাহ থাকে অথবা সত্যের অনুকূলে থাকে না। তবে এখানে সাধারণভাবে সকল দু‘আ কবূল না হওয়ার কথাই বলা হয়েছে।

ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে জ্ঞান উপকারে আসে না সে জ্ঞান থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, ঐ জ্ঞান জ্ঞানীর জন্য বিপদের কারণ হবে এবং তার বিরুদ্ধে দলীল হিসেবে দাঁড়াবে। যে অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না তা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এ অন্তর হয় কঠিন ও শক্ত। কোন ওয়াজ, নাসীহাত, ভয়-ভীতি, আশার বাণী কোন কিছুই এ অন্তরের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। যে আত্মা পরিতৃপ্ত হয় না না থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এ আত্মা সামান্য তুচ্ছ বস্ত্ত অর্জনেও কুকুরের মতো ঝাঁপিয়ে পরে এবং হারাম অর্থ-সম্পদ অর্জনে দুঃসাহস দেখায়, আল্লাহ তা‘আলার দেয়া রিযক্বে তুষ্ট থাকে না, সে দুনিয়ার পরিশ্রমে সর্বদা ডুবে থাকে এবং আখিরাতের শাস্তিতে নিমজ্জিত থাকবে।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আ কবূল হয় না তা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, আল্লাহ এমন রব যিনি দানকারী, প্রশস্ত হাতের অধিকারী এবং বান্দার উপকার সাধনকারী। বান্দা যখন তাঁর কাছে দু‘আ করে আর সে দু‘আ যদি কবূল না হয় তাহলে ঐ দু‘আকারীর জন্য ধ্বংস ছাড়া আর কোন পথ নেই। কারণ সে এমন সত্তার নিকট থেকে খালি হাতে বিতাড়িত হয়েছে যে ছাড়া আর কারো কাছ থেকে কল্যাণ আশা করা যায় না এবং সে ছাড়া কারো কাছ থেকে অনিষ্টের প্রতিরোধ আশা করা যায় না। হে আল্লাহ! আমরাও তোমার কাছে ঐসব জিনিস ও বিষয় থেকে আশ্রয় চাই যেগুলো থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চেয়েছেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬১-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আগুলোর মধ্যে এটাও ছিল, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন্ যাওয়া-লি নি’মাতিকা ওয়া তাহাওউলি ’আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজা-আতি নিকমাতিকা ওয়া জামী’ই সাখাত্বিকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই [আমার ওপর] তোমার নিয়ামতের ঘাটতি, [আমার ওপর হতে] তোমার নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা, [আমার ওপর] তোমার শাস্তির অকস্মাৎ আক্রমণ এবং তোমার সমস্ত অসন্তুষ্ট হতে।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَن عبد بنِ عمرَ قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ سوسلم: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد بن عمر قال: كان من دعاء رسول الله صلى الله عليه سوسلم: «اللهم اني اعوذ بك من زوال نعمتك وتحول عافيتك وفجاءة نقمتك وجميع سخطك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে বান্দার ওপর আল্লাহর দেয়া দীনী ও পার্থিব অনুগ্রহ যেগুলো আখিরাতের কাজের জন্য উপকারী এবং সেগুলোর পরিবর্তে ভাল কিছু দেয়া ছাড়া তা উঠিয়ে নেয়া থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অনুগ্রহ প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য হতে পারে। ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর অনুগ্রহ চলে যাওয়া থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এরূপ অবস্থা তখনই হয় যখন বান্দা নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না এবং যে কাজ করলে নিয়ামত আসে তার চর্চা করে না। (এটা খুবই খারাপ অবস্থা।)

(تَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ)-এর অর্থ হলো- কান, চোখসহ সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা চলে গিয়ে সেগুলো অসুস্থ হয়ে যাওয়া।

হঠাৎ শাস্তি বলতে এমন অবস্থায় শাস্তি আসা যে, যার ওপর শাস্তি আসছে সে শাস্তি আসার পূর্বে জানছে না যে, তার ওপর শাস্তি আসছে। এখানে শাস্তি বলতে সাধারণভাবে আল্লাহর অসন্তোষ ও শাস্তি বুঝানো হলেও বিশেষভাবে ‘‘হঠাৎ শাস্তি’’ শব্দের উল্লেখের মাধ্যমে এটা বুঝানো হচ্ছে যে, ধীরে ধীরে শাস্তি আসার থেকে হঠাৎ শাস্তি চলে আসা বেশি বিপজ্জনক।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হঠাৎ শাস্তি থেকে এজন্য আশ্রয় চেয়েছেন যে, শাস্তি হঠাৎ চলে আসলে সে ব্যক্তি তাওবাহ্ করার কোন সুযোগ পায় না। আল্লাহ যখন কোন বান্দা থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চান তখন তিনি ঐ বান্দার ওপর এমন শাস্তি দেন যা প্রতিরোধ করার কোন ক্ষমতা কারো থাকে না। এমনকি সারা দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টি মিলে চেষ্টা করলেও তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। যেমন কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহর রাগ থেকে আশ্রয় চাওয়ার মাধ্যমে ঐ সমস্ত কাজ থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে যেগুলো আল্লাহর রাগের কারণ হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর রাগের প্রভাব থেকে আশ্রয় চাওয়া। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাগ থেকে এজন্য আশ্রয় চেয়েছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়াতা‘আলা যখন কোন বান্দার ওপর রাগান্বিত হন তখন ঐ বান্দার ধ্বংস অনিবার্য। যদিও তা কোন তুচ্ছ বিষয়ে অথবা কোন ছোট কারণে হয়ে থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬২-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু’আ করতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন শাররি মা- ’আমিলতু ওয়ামিন্ শাররি মা-লাম আ’মাল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি তার অনিষ্টতা বা অপকারিতা হতে)। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أعمَلْ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اعوذ بك من شر ما عملت ومن شر ما لم اعمل» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, যেসব জিনিস থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুক্ত রাখা হয়েছে সেসব জিনিস থেকে আশ্রয় চাওয়ার কারণ হলো, এর দ্বারা তিনি বুঝাচ্ছেন যে, আল্লাহকে যেন ভয় করা হয়, তাঁর মহত্ব ঘোষণা করা হয়, তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হয়, তাকে যেন অনুসরণ করা হয় এবং আল্লাহর নিকট কিভাবে, কোন্ দু‘আ করতে হয় তা বর্ণনা করা।

ইমাম শাওকানীও বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আগুলো এজন্য বলেছেন যে, তিনি তাঁর উম্মাতকে দু‘আ শিক্ষা দিচ্ছেন। তাছাড়া তার সমস্ত ‘আমলের মধ্যেই ভাল রয়েছে; কোন খারাপ নেই।

হাদীসে ব্যক্তির কৃতকর্মের মধ্য থেকে যেসব কাজ থেকে আল্লাহর নিকট মাফ চাওয়া প্রয়োজন হয় সেগুলো থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।

তারপর আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক যেসব কাজ ভবিষ্যতে করা হবে তার অনিষ্ট থেকেও আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে। যাতে করে ভবিষ্যতে করা হবে এমন খারাপ কাজ থেকে আল্লাহ হিফাযাত করেন। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ছাড়া কেউ নিজেকে আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ মনে করে না। তাই প্রত্যেকের উচিত অতীত ও ভবিষ্যতের খারাপ কাজ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া। ইমাম সিন্দী (রহঃ) বলেনঃ ‘‘কৃতকর্মের খারাপী থেকে’’ বলতে অতীতে যেসব গুনাহের কাজ করা হয়েছে এবং যেসব সাওয়াবের কাজ বর্জন করেছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৩-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা লাকা আস্‌লাম্‌তু, ওয়াবিকা আ-মান্‌তু, ওয়া ’আলায়কা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলায়কা আনাবতু, ওয়াবিকা খ-সমতু, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযু বি’ইয্যাতিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আন্ তুযিল্লানী। আন্‌তাল হাইয়্যুল্লাযী লা- ইয়ামূতু, ওয়াল জিন্‌নু ওয়াল ইন্‌সু ইয়ামূতূনা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমারই কাছে সমর্পণ করলাম, তোমারই ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম, তোমারই ওপর ভরসা করলাম এবং তোমারই দিকে নিজকে ফিরালাম এবং তোমারই সাহায্যে [শত্রুর সাথে] লড়লাম। হে আল্লাহ! আমি পথভ্রষ্টতা হতে তোমার মর্যাদার আশ্রয় গ্রহণ করছি। তুমি ছাড়া সত্য আর কোন মা’বূদ নেই, তুমি চিরঞ্জীব, তুমি মৃত্যুবরণ করবে না, আর মানুষ আর জিন্ মৃত্যুবরণ করবে।)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِسْتِعَاذَةِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يموتون»

وعن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم لك اسلمت وبك امنت وعليك توكلت واليك انبت وبك خاصمت اللهم اني اعوذ بعزتك لا اله الا انت ان تضلني انت الحي الذي لا يموت والجن والانس يموتون»

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে আল্লাহ কর্তৃক পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো দীনের সরল, সঠিক পথ তথা হিদায়াতের পথ থেকে ও ভ্রষ্ট হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে। ইমাম কারী বলেনঃ এ দু‘আর অর্থ হলো ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দেয়ার পর এবং তোমার বিধি-বিধান ও সিদ্ধান্তসমূহের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের তাওফীক দেয়ার পর তা থেকে ভ্রষ্ট হওয়া থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’’ এদিকেই ইশারা দেয়া হয়েছে কুরআনে বর্ণিত নিম্নোক্ত দু‘আতে। আল্লাহ বলেনঃ

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا

‘‘হে আমাদের রব! তুমি আমাদের হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিও না।’’ (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ৮)

‘‘জিন্ ও মানুষ মৃত্যুবরণ করবে’’- এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য যে, এ দু’ জাতিই শারী‘আতের বিধান পালনে দায়িত্বপ্রাপ্ত। অনেকে এর দ্বারা দলীল পেশ করেন যে, মালাক (ফেরেশতা) মারা যাবেন না। তবে এখানে মালায়িকাহর (ফেরেশতাদের) কথা পৃথকভাবে উল্লেখ না করা হলেও আল্লাহর বাণী ‘‘আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল’’- (সূরা আল কাসাস ২৮ : ২৮৮) দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মালায়িকাহ্ও (ফেরেশতাগণও) মারা যাবেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৪-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল আরবা’ই: মিন্ ’ইলমিন লা- ইয়ানফা’উ মিন্ কলবিন লা- ইয়াখশা’উ ওয়ামিন্ নাফসিন লা- তাশবা’উ ওয়ামিন দু’আ-য়িন লা- ইউসমা’উ’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি চারটি বিষয়ে তোমার কাছে আশ্রয় চাইঃ যে জ্ঞান কোন উপকারে আসে না, যে অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হয় না, যে আত্মা তৃপ্ত হয় না এবং যে দু’আ কবূল হয় না।)। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْأَرْبَعِ: مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ . رَوَاهُ أحمدُ وَأَبُو دَاوُد وابنُ مَاجَه

عن ابي هريرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: اللهم اني اعوذ بك من الاربع: من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعاء لا يسمع . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: ‘জ্ঞান উপকারে না আসা’ অর্থ হচ্ছে যে, জ্ঞান নিজের বা অপরের উপকারে আসে না; ঐ জ্ঞান অনুযায়ী ‘আমলের মাধ্যমে দুনিয়ায়ও সে উপকৃত হতে পারে না আর আখিরাতেও ঐ জ্ঞান অনুযায়ী ‘আমলের সাওয়াব দ্বারা উপকৃত হবে না। আর অনুপকারী জ্ঞান হলো ঐ জ্ঞান যা আল্লাহর উদ্দেশে অর্জিত হয় না এবং যে জ্ঞানের সাথে তাকওয়া সম্পৃক্ত থাকে না, সে জ্ঞান।

দুনিয়ার প্রতি লোভী অন্তর কখনো পরিতৃপ্ত হয় না। তবে জ্ঞান অর্জন ও উত্তম কাজের প্রতি আগ্রহ প্রশংসিত। এজন্যই আল্লাহ দু‘আ শিক্ষা দিয়েছেন,وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِيْ عِلْمًا ‘‘বলো, হে রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও’’- (সূরা ত্ব-হা- ২০ : ১১৪)।

জ্ঞানের দাবী হলো, তা থেকে উপকৃত হতে হবে। যদি ঐ জ্ঞান দ্বারা উপকৃত না হওয়া যায় তাহলে ঐ জ্ঞান জ্ঞানীর জন্য বিপদের কারণ হবে। তাই তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত। অন্তরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এ উদ্দেশে যে, তা তার স্রষ্টার ভয়ে ভীত হবে, তার জন্যে প্রসারিত হবে এবং আলো বিচ্ছুরণ ঘটাবে। যদি কোন অন্তর এরূপ না করে তাহলে বুঝতে হবে ঐ অন্তর কঠোর হয়ে গেছে। তাই প্রত্যেকের উচিত এমন অন্তর থেকে আশ্রয় চাওয়া।

আত্মাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এজন্যে যে, তা প্রতারণাপূর্ণ এ দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে স্থায়ী বাসস্থান (জান্নাত)-এর দিকে ধাবিত হবে। যখন এ আত্মা দুনিয়ার প্রতি লোভী হয় এবং অতৃপ্ত হয় তখন ঐ আত্মা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রুতে রূপান্তরিত হয়। তখন এ জাতীয় আত্মা থেকে আশ্রয় চাওয়া কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

আর যখন কোন দু‘আকারীর দু‘আ কবূল করা হয় না তখন প্রমাণিত হয় যে, তার জ্ঞান ও ‘আমল দ্বারা সে উপকৃত হতে পারেনি এবং তার অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়নি এবং পরিতৃপ্তও হয়নি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৫-[৯] তিরমিযী ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে এবং নাসায়ী উভয় হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. وَالنَّسَائِيّ عَنْهُمَا

ورواه الترمذي عن عبد الله بن عمرو. والنساىي عنهما

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৬-[১০] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি বিষয় হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেনঃ ভীরুতা, কৃপণতা, বয়সের অনিষ্টতা, অন্তরের কুমন্ত্রণা ও কবরের ’আযাব। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ: مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَسُوءِ الْعُمُرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ القَبرِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن عمر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوذ من خمس: من الجبن والبخل وسوء العمر وفتنة الصدر وعذاب القبر. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে যে পাঁচটি বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর তিনটি সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা হয়েছে। এখানে বাড়তি দু’টির প্রথমটি হলো বয়সের অনিষ্টতা। এখানে বয়সের অনিষ্টতা বলতে বৃদ্ধাবস্থা বা বৃদ্ধাবস্থার শেষ স্তরের কথা বলা হচ্ছে যখন ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তির বুদ্ধি-বিবেচনা লোপ পায়, বুঝ-ব্যবস্থা হ্রাস পায়, শারীরিক শক্তি কমে, তখন সে শিশুর মতো আচরণ করে। এ বয়সটির জীবন কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ বয়স থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা এজন্যও বলা হতে পারে যে, তখন ঐ ব্যক্তির পক্ষে ‘আমলে সালিহ করা সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি তা হলো অন্তরের ফিতনা। অন্তরের ফিতনা বলতে শয়তান যার দ্বারা ব্যক্তির অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় তা বুঝানো হয়েছে। কারো মতে এর দ্বারা অন্তরের কাঠিন্যতা, কঠোরতা, দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ইত্যাদি বুঝাচ্ছে। কারো মতে অন্তরের মৃত্যু, ভ্রান্তি, হিংসা, খারাপ চরিত্র, বাতিল ‘আক্বীদাহ্ পোষণ, সত্য গ্রহণে বাধা দেয়া, দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও আখিরাত থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বুঝানো হচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৭-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেনঃ ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি ওয়ায্ যিল্লাতি ওয়া মিন্ আন্ আযলিমা আও উযলামা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অস্বচ্ছলতা, স্বল্পতা, অপমান-অপদস্ত হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং আমি অত্যাচারী অথবা অত্যাচারিত হওয়া হতেও তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الفقر والقلة والذلة واعوذ من ان اظلم او اظلم» رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (الْفَقْرِ) ‘‘আল ফাকর’’ বা দরিদ্রতা বলতে এখানে সম্পদহীনতা বা সম্পদের স্বল্পতাকে বুঝানো হচ্ছে। সম্পদ না থাকলে বা কম থাকলে ধৈর্য ধারণ করতে না পারা এক ধরনের ফিতনা। তাই এ থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। তবে কারো মতে এখানে অন্তরের দারিদ্র্যতাকে বুঝানো হয়েছে। সম্পদশালী ব্যক্তি যখন সম্পদের প্রতি লোভী হয়ে আরো বেশি অর্থ-সম্পদ অর্জনে ঝাপিয়ে পড়ে তখন সে মূলত ধনী হলেও অন্তরের দিক থেকে ফকীর।

(الْقِلَّةِ) ‘‘আল কিল্লাহ্’’ বা স্বল্পতা দ্বারা এখানে সম্পদের এমন স্বল্পতা বুঝানো হয়েছে যতটুকু সম্পদ না থাকায় সে সঠিকভাবে ‘ইবাদাত পালন করতে পারে না। কারো মতে এর দ্বারা ধৈর্যের স্বল্পতা বা সাহায্যকারীর স্বল্পতা বুঝাচ্ছে। কারো কারো মতে, এর দ্বারা সৎ কাজের সুযোগের ও উত্তম স্বভাবের স্বল্পতা বুঝানো হচ্ছে।

(الذِّلَّةِ) ‘‘আয্ যিল্লাহ্’’ বা অপমান হতে আশ্রয় চাওয়া অর্থাৎ মানুষের চোখে অপমানিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া। কারো কারো মতে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে গুনাহের কারণে যে অপমানের সম্মুখীন হতে হয় তা।

উল্লেখ্য যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ‘‘হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন হিসেবে বাঁচিয়ে রাখুন’’- এর সাথে অত্র হাদীসে দারিদ্র্যতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কোন বিরোধ নেই। কারণ ঐ হাদীসে মিসকীন বলতে বিনয়, নম্রতা, অহংকারী না হওয়াকে বুঝানো হয়েছে; ফকীর হওয়াকে নয়।

এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার জন্য মূল গ্রন্থ ‘‘মির্‘আত’’-এ সংশিস্নষ্ট হাদীসের আলোচনা দেখুন।

অত্যাচার করা বলতে যে কোন ধরনের অত্যাচার (যুলম) হোক তা নিজের ওপর কিংবা অপরের ওপর। আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে নিজের ওপর যে যুলম করা হয় তাও এর অন্তর্ভুক্ত। যুলম বলতে মূলত কোন বস্ত্তকে ঐ বস্ত্তর জন্যে নির্ধারিত স্থানে না রাখা অথবা অন্য কারো অধিকার লঙ্ঘন করা। নিজে অত্যাচারিত হওয়া বলতে অন্য কারো দ্বারা যুল্মের শিকার হওয়া। (অত্যাচার করা যেমন অন্যায় অত্যাচারিত হওয়াও ঠিক তেমনই অন্যায়।)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৮-[১২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাশ্ শিকা-কি, ওয়ান্ নিফা-কি ওয়া সূয়িল আখলা-ক’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি সত্যের বিরুদ্ধাচরণ, মুনাফিক্বী ও চরিত্রহীনতা হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই)। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَسُوءِ الْأَخْلَاقِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الشقاق والنفاق وسوء الاخلاق» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (شِقَاقِ) ‘শিকা-ক’ বলতে এখানে সত্যের বিরোধিতা করাকে বুঝানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ

‘‘কিন্তু কাফিরগণ ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে।’’ (সূরা সাদ ৩৮ : ০২)

(النِّفَاقِ) ‘‘আন্ নিফাক’’ অর্থ অন্তরে কুফরকে গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করা। এখানে ‘নিফাক’ বলতে বেশি বেশি মিথ্যা কথা বলা, আমানাতের খিয়ানাত করা, ওয়া‘দা ভঙ্গ করা, ঝগড়ার সময় গালি-গালাজ করাকেও বুঝানো হতে পারে।

‘‘চরিত্রের অসাধুতা’’ (سُوْءِ الْأَخْلَاقِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে উদারতা ও চেহারার প্রফুল্লতার বিপরীত কিছু। ইবনুল মালিক-এর মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সত্যানুসারীদের কষ্ট দেয়া, পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের কষ্ট দেয়া, তাদের ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে কঠোর আচরণ করা এবং তাদের থেকে কোন ভুল বা পাপ প্রকাশিত হলে তা ক্ষমাসুন্দর চোখে না দেখা।

উল্লেখ্য যে, অত্র হাদীসে উল্লিখিত প্রথম দু’টি বিষয়ও তৃতীয় বিষয়টির অন্তর্ভুক্ত মনে হলেও তৃতীয় বিষয়টি দ্বারা গোপন গুণাবলী বুঝানো হচ্ছে আর প্রথম দু’টি প্রকাশ্য খারাপ গুণ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৬৯-[১৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেনঃ

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা, মিনাল জূ’ই ফাইন্নাহূ বি’সায্ যজী’উ, ওয়া আ’ঊযুবিকা মিনাল খিয়া-নাতি ফাইন্নাহা- বি’সাতিল বিত্বা-নাহ্’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অভুক্ত হতে আশ্রয় চাই, কেননা তা মানুষের কতই না খারাপ নিদ্রা-সাথী এবং তোমার কাছে আশ্রয় চাই বিশ্বাসঘাতকতা হতে, কেননা বিশ্বাসঘাতকতা কতই না মন্দ অদৃশ্য স্বভাব।)। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الجوع فانه بىس الضجيع واعوذ بك من الخيانة فانها بىست البطانة» . رواه ابو داود والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসের প্রথমে ক্ষুধা থেকে আশ্রয় চাওয়া অর্থ হচ্ছে পেটে খাবার না থাকার কারণে প্রাণীরা যে কষ্ট অনুভব করে সে কষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া। এর থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে এ জন্যে যে, ব্যক্তির শরীরের উপর ক্ষুধার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ক্ষুধাহীনতা ব্যক্তিকে বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী করে এবং ক্ষুধা আল্লাহর আনুগত্যমূলক ও কল্যাণ কাজ থেকে বিরত রাখে। ক্ষুধাকে ঘুমের মন্দ সাথী বলা হয়েছে এজন্য যে, এটি ব্যক্তিকে ‘ইবাদাত পালনে বাধা দেয়, মস্তিষ্ককে বিশৃঙ্খল করে, বিভ্রান্তিমূলক চিন্তা ও বাতিল ধ্যান-ধারণার উদ্রেক ঘটায় এবং সর্বোপরি রাতে ঘুমাতে দেয় না।

খিয়ানাত হলো আমানাতের বিপরীত। ইমাম ত্বীবী বলেনঃ খিয়ানাত হলো গোপনে অঙ্গীকার ভঙ্গের মাধ্যমে সত্যের বিরোধিতা করা। বাহ্যিকভাবে এটি সমস্ত শার‘ঈ দায়িত্বকে শামিল করে। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন। (দেখুন: সূরা আল আহযা-ব ৩৩ : ৭২, সূরা আল আনফাল ৮ : ২৭)

যখন মানুষ থেকে খিয়ানাতকে আড়াল রাখা হয়, প্রকাশ করা হয় না। তখন তাকে (بِطَانَةُ) ‘‘বিত্বা-নাহ্’’ বলে। ইমাম ত্বীবী বলেন, ‘‘বিত্বা-নাহ্’’ হলো প্রকাশ্যের বিপরীত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭০-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেনঃ

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুযা-মি, ওয়াল জুনূনি, ওয়ামিন্ সাইয়্যিয়িল আসক্বা-ম’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি শ্বেতরোগ, কুষ্ঠরোগ, উম্মাদনা ও কঠিন রোগসমূহ হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি)। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُذَامِ وَالْجُنُونِ وَمِنْ سَيِّئِ الأسقام» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللهم اني اعوذ بك من البرص والجذام والجنون ومن سيى الاسقام» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে খারাপ রোগ দ্বারা সকল নিকৃষ্ট রোগকে বুঝানো হয়েছে। সেসব রোগ থেকে মানুষ পলায়ন করে। যেমন- শোথ (স্ফীতিরোগ), পক্ষাঘাত, যক্ষ্মা বা দীর্ঘ কোন রোগ।

হাদীসে উল্লিখিত তিনটি রোগ যদিও শেষোক্ত নিকৃষ্ট রোগের অন্তর্ভুক্ত তারপরও ঐ রোগগুলো শুধু ‘আরবদের নিকট নয়, বরং সকল মানুষের নিকট নিকৃষ্ট রোগ হিসেবে পরিচিত বিধায় সেগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে সকল রোগ থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং ঐ সকল রোগ থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে যেগুলো নিকৃষ্ট। তাছাড়া এ নিকৃষ্ট রোগগুলো হলে কাছের সাথীও ছেড়ে চলে যায়। যেমন- কোন ব্যক্তি পাগল হলে তার সাথীকে সে হত্যাও করে ফেলতে পারে। সে ভয়ে সে তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। তাই এ ধরনের রোগ থেকে আশ্রয় চাওয়ার দু‘আ শিখানো হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭১-[১৫] কুত্ববাহ্ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ) বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন্ মুনকারা-তিল আখলা-কি, ওয়াল আ’মা-লি, ওয়াল আহ্ওয়া-য়ি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে মন্দ স্বভাব, অসৎ কাজ ও খারাপ আশা-আকাঙ্খা হতে আশ্রয় চাই)। (তিরমিযী)[1]

وَعَن قُطْبةَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاق والأعمال والأهواء» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن قطبة بن مالك قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اعوذ بك من منكرات الاخلاق والاعمال والاهواء» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: ‘‘মুনকার’’ বলা হয় ঐ কথা ও কাজকে শারী‘আতের দৃষ্টিতে যার কোন ভাল গুণ নেই অথবা শারী‘আতের দৃষ্টিতে যার খারাপ দিক স্পষ্ট। ‘‘আখলাক’’ বলতে অপ্রকাশ্য কর্মকে বুঝায়। যেমন- বিদ্বেষ, হিংসা, ঘৃণা, কৃপণতা, কাপুরুষতা বা এ জাতীয় কোন কর্মকান্ড। মন্দ চরিত্র থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে এজন্যে যে, এগুলো সকল খারাপকে টেনে আনে এবং সকল ভালকে দূরে ঠেলে দেয়।

মন্দ কাজ বলতে সকল সগীরাহ্ ও কাবীরাহ্ গুনাহের কাজ। যেমন- হত্যা, ব্যভিচার, মদপান, চুরি ইত্যাদি বুঝানো হচ্ছে।

মন্দ আকাঙ্খা বা মন্দ প্রবৃত্তি বলতে কুরআন ও সুন্নাহ বর্জিত যে কোন ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্-বিশ্বাসকে বুঝানো হচ্ছে। যেমন- জাবারিয়্যাহ্, কদারিয়্যাহ্, খারিজী, শী‘আ বা তাদের মতো অন্যান্য প্রবৃত্তির অনুসারীদের ‘আক্বীদাহ্। এগুলো থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭২-[১৬] শুতায়র ইবনু শাকাল ইবনু হুমায়দ (রহঃ) তাঁর পিতা শাকাল (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একদিন বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন একটি দু’আ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে পারি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পড়-

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন্ শাররি সাম্’ঈ, ওয়ামিন্ শাররি বাসারী, ওয়া শাররি লিসা-নী ওয়া শাররি কলবী ওয়া শাররি মানিয়্যি’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই- আমার কানের [মন্দ শোনার] অনিষ্টতা, চোখের [দেখার] অনিষ্টতা, আমার মুখের [বলার] অনিষ্টতা, আমার কলবের [অন্তরের চিন্তা-ভাবনার] অনিষ্টতা ও বীর্যের [যিনা-ব্যভিচারের] অনিষ্টতা হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।)। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ أَبِيه قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ عَلِّمْنِي تَعْوِيذًا أَتَعَوَّذُ بِهِ قَالَ: «قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بك من شَرّ سَمْعِي وَمن شَرّ بَصَرِي وَشَرِّ لِسَانِي وَشَرِّ قَلْبِي وَشَرِّ مَنِيِّي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

وعن شتير بن شكل بن حميد عن ابيه قال: قلت: يا نبي الله علمني تعويذا اتعوذ به قال: «قل اللهم اني اعوذ بك من شر سمعي ومن شر بصري وشر لساني وشر قلبي وشر منيي» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: দু‘আটির ব্যাখ্যা এরূপ হতে পারে যে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই আমার কানের অনিষ্টতা থেকে যাতে আমি এমন কিছু না শুনি যা শুনা অপছন্দনীয়। যেমন- মিথ্যা কথা, অপবাদ, গীবত সহ যে কোন অবাধ্যতামূলক (গুনাহের) কথা। আবার যা শুনা উচিত। যেমন- সত্য কথা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ ইত্যাদি শোনা থেকে যেন বঞ্চিত না হই।

চোখের অনিষ্টতা বলতে অপছন্দনীয় কিছু দেখা। যেমন- হারাম কিছু দেখা। মুখের অনিষ্টতা বলতে অনুপকারী কিছু বলা, কারণ বেশিরভাগ ভুল মুখের দ্বারাই সংঘটিত হয়। উপরোক্ত অঙ্গসমূহের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা এজন্যে বলা হয়েছে যে, এগুলো হচ্ছে সকল স্বাদ ও যৌন আসক্তির উৎস মূল।

অন্তরে অনিষ্টতা বলতে কোন ভ্রান্ত বিশ্বাস লালন করা বা হিংসা, বিদ্বেষ, দুনিয়ার প্রতি আসক্তি, সৃষ্টিকে ভয় করা, জীবিকা বন্ধ হওয়ার ভয় ইত্যাদি বুঝায়।

বীর্যের অনিষ্টতা বলতে যিনার প্রাথমিক স্তরসমূহ যেমন দেখা, স্পর্শ, চুমু দেয়া, একসাথে পথ চলা ইত্যাদির কোনটিতে সম্পৃক্ত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ক্রমশ যিনা পর্যন্ত পৌঁছা।

বিশেষ করে উপর্যুক্ত জিনিসগুলো থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে এজন্য যে, এগুলো সকল অনিষ্টের মূল বা কর্মসূচি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৩-[১৭] আবূল ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু’আ করতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিনাত্ তারাদ্দী ওয়ামিনাল গরাকি ওয়াল হারক্বি ওয়াল হারামি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ আন্ ইয়াতাখব্বাত্বানিশ্ শায়ত্ব-নু ’ইন্‌দাল মাওতি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ আন্ আমূতু ফী সাবীলিকা মুদবিরান ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন্ আন্ আমূতা লাদীগা-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই [আমার ওপর] কিছু ধসে পড়া হতে। হে আল্লাহ! উপর হতে পড়া, পানিতে ডুবা, আগুনে পোড়া ও বার্ধক্য হতেও আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আরো আশ্রয় চাই তোমার কাছে মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনায় নিমজ্জিত হওয়া হতে। আর তোমার পথ হতে পৃষ্ঠপ্রদর্শনরত [জিহাদের ময়দান হতে পিছ পা] অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হতেও আশ্রয় চাই। আরো আশ্রয় চাই দংশিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা হতে।)। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী; নাসায়ীর অপর এক বর্ণনায় আরো রয়েছে ’’এবং শোক’’ হতে)[1]

وَعَن أبي الْيُسْر أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَمِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرْقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا»
رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى «الْغم»

وعن ابي اليسر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو: «اللهم اني اعوذ بك من الهدم واعوذ بك من التردي ومن الغرق والحرق والهرم واعوذ بك من ان يتخبطني الشيطان عند الموت واعوذ بك من ان اموت في سبيلك مدبرا واعوذ بك من ان اموت لديغا» رواه ابو داود والنساىي وزاد في رواية اخرى «الغم»

ব্যাখ্যা: (هَدْمِ) ‘‘হাদম’’ অর্থ হচ্ছে কোন কিছু যেমন বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়া। (تَرَدِّىْ) ‘‘তারদ্দী’’ অর্থ হচ্ছে কোন উঁচু স্থান হতে নিচে পতিত হওয়া। যেমন উঁচু পাহাড় বা সুউচ্চ ছাদ থেকে নিচে পড়া। এর দ্বারা কূপের মধ্যে পড়ে যাওয়াও বুঝায়।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্র হাদীসে উল্লিখিত প্রথম চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এজন্য যে, এগুলো ব্যক্তির উপর হঠাৎ করে চলে আসে। এমতাবস্থায় হয়তো ঐ ব্যক্তি ওয়াসিয়্যাত, দান কিছুই করার সুযোগ পায় না।

শয়তানের গোমরাহী বলতে শয়তান কর্তৃক দীনী ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রাট তৈরি করা। ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, শয়তান কারো মৃত্যুর সময় ঐ ব্যক্তিকে ফিতনায় ফেলার চেষ্টা করে, তার জন্য যা খারাপ তাকে তার সামনে ভাল হিসেবে এবং তার জন্যে ভালকে খারাপ হিসেবে উপস্থাপন করে। খাত্ত্বাবীর মতে শয়তান কারো মৃত্যুর সময় তাকে পথভ্রষ্ট করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। ঐ ব্যক্তি যেন তাওবাহ্ না করতে পারে এবং সংশোধন না হতে পারে সে চেষ্টা করে। তাকে আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ করে অথবা মৃত্যুকে তার নিকট অপ্রিয় করে তোলে, দুনিয়ার জীবনের প্রতি বিতশ্রুদ্ধ হয়। দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতের পানে চলে যাওয়ার আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারে না। ফলে তার জীবনটি শেষ হয় খারাপভাবে এবং আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটে এমতাবস্থায় যে, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন।

যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় সেখান থেকে পিঠ ফিরিয়ে পালিয়ে যাওয়া হারাম। তাই এরূপ হারাম কাজ থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এখানে হক থেকে মুখ ফিরানোও উদ্দেশ্য হতে পারে।

দংশিত হওয়া বলতে সাপ, বিচ্ছু বা এ জাতীয় যেসব প্রাণীর দংশনে বিষ থাকে সেসব প্রাণীর দংশনে মৃত্যু হওয়া থেকেও আশ্রয় চাওয়া উচিত। কারণ এরূপ হঠাৎ মৃত্যু কাম্য নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৪-[১৮] মু’আয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর কাছে লোভ-লালসা হতে আশ্রয় চাও, যে লোভ-লালসা মানুষকে দোষ-ত্রুটির দিকে এগিয়ে দেয়। (আহমাদ, বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَنْ مُعَاذٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أستعيذُ بِاللَّهِ مِنْ طَمَعٍ يَهْدِي إِلَى طَبَعٍ)
رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّعْوَات الْكَبِير

وعن معاذ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: استعيذ بالله من طمع يهدي الى طبع) رواه احمد والبيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে লালসা বলতে কোন জিনিসের প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক, আগ্রহ, লোভকে বুঝানো হয়েছে। এর থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে এজন্যে যে, এ লালসা ব্যক্তিকে ক্রমশ প্রবৃত্তির অনুসরণ, দোষ-ত্রুটি, গুনাহের কাজ, গোপন খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায়। যেমন- দুনিয়ার বিনয়ী হওয়া, মানুষকে শুনানোর জন্যে ও দেখানোর জন্যে কাজ করা ইত্যাদি যা মানুষ তার প্রবৃত্তির লোভের বশবর্তী হয়ে করে। এজন্যই বলা হয়,  الطمع فساد الدين والورع صلاحه

অর্থাৎ- ‘‘লালসা দীনকে ধ্বংস করে আর পরহেজগারিতা দীনকে সংরক্ষণ করে।’’


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৫-[১৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ’’হে ’আয়িশাহ্! আল্লাহর কাছে এর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাও। কারণ এটা হলো সেই গ-সিক বা অস্তগামী যখন তা অন্ধকার হয়ে যায়।’’ (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ اسْتَعِيذِي بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا فَإِنَّ هَذَا هُوَ الْغَاسِقُ إِذا وَقب» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم نظر الى القمر فقال: «يا عاىشة استعيذي بالله من شر هذا فان هذا هو الغاسق اذا وقب» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে (غَاسِقُ) ‘‘গ-সিক’’ তথা অন্ধকারাচ্ছন্ন চাঁদ থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ‘‘গ-সিক’’ বলতে দু’টি জিনিস বুঝানো হতে পারে। প্রথমত চন্দ্র গ্রহণের সময়, চন্দ্র যখন নিস্প্রভ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় সে সময়, দ্বিতীয়ত চন্দ্র ডুবে গেলে, পৃথিবী যখন অন্ধকারাচ্ছনণ হয়ে যায় সে সময়। এখানে যে গা-সিক থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে তা থেকেই সূরা আল ফালাক-এর তৃতীয় আয়াতে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। সেখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

‘‘(আমি আশ্রয় চাই) রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট হতে, যখন তা গভীর হয়।’’ (সূরা আল ফালাক ১১৩ : ৩)

এখানে মূলত গ-সিক বলতে অন্ধকার রাতকে বুঝানো হয়েছে। অন্ধকার রাত থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ এজন্য দেয়া হয়েছে যে, ঐ সময় যাদু করা হয়, রোগ-বিপদ ছড়িয়ে পড়ে। এখানে ঐ অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৬-[২০] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা হুসায়নকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এখন কতজন মা’বূদের পূজা করছো? আমার পিতা বললেন, সাতজনের- তন্মধ্যে ছয়জন মাটিতে আর একজন আকাশে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আশা-নিরাশার ও ভয়-ভীতির সময় কাকে মানো (কোন্ মা’বূদকে ডাকো)? আমার পিতা বললেন, যিনি আকাশে আছেন তাকে মানি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তবে শুন হুসায়ন! যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ করো, আমি তোমাকে দু’টি কালিমা শিখাবো, যা তোমার উপকারে (পরকালীন মুক্তি) আসবে। বর্ণনাকারী [’ইমরান (রাঃ)] বলেন, আমার পিতা হুসায়ন ইসলাম গ্রহণ করার পর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ঐ কালিমা দু’টি শিখিয়ে দিন, যার কথা আপনি আমাকে ওয়া’দা দিয়েছিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি (সেই আসমানের মা’বূদকে) বলো, ’’আল্ল-হুম্মা আলহিম্‌নী রুশদী, ওয়া আ’ইযনী মিন শাররি নাফসী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে সত্য পথের সন্ধান দাও এবং আমার নাফসের অপকারিতা হতে রক্ষা করো)। (তিরমিযী)[1]

وَعَن عمرانَ بنِ حُصينٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأبي: «يَا حُصَيْن كم تعبد الْيَوْم إِلَهًا؟» قَالَ أَبِي: سَبْعَةً: سِتًّا فِي الْأَرْضِ وواحداً فِي السَّماءِ قَالَ: «فَأَيُّهُمْ تَعُدُّ لِرَغْبَتِكَ وَرَهْبَتِكَ؟» قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ قَالَ: «يَا حُصَيْنُ أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَسْلَمْتَ عَلَّمْتُكَ كَلِمَتَيْنِ تَنْفَعَانِكَ» قَالَ: فَلَمَّا أَسْلَمَ حُصينٌ قَالَ: يَا رسولَ الله علِّمني الكلمتينِ اللَّتينِ وَعَدتنِي فَقَالَ: «قل اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عمران بن حصين قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم لابي: «يا حصين كم تعبد اليوم الها؟» قال ابي: سبعة: ستا في الارض وواحدا في السماء قال: «فايهم تعد لرغبتك ورهبتك؟» قال: الذي في السماء قال: «يا حصين اما انك لو اسلمت علمتك كلمتين تنفعانك» قال: فلما اسلم حصين قال: يا رسول الله علمني الكلمتين اللتين وعدتني فقال: «قل اللهم الهمني رشدي واعذني من شر نفسي» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবী ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)-কে যে ছোট দু‘আটি শিক্ষা দিয়েছেন তার প্রথম অংশের (الرُشْدِ) ‘‘রুশ্দ’’ বলতে মূলত সত্যের পথকে শক্তভাবে ধরে তার উপর দৃঢ় থাকা। ‘আল্লামা কারী বলেনঃ প্রথম অংশের অর্থ হলোঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রুশ্দ তথা সততার অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন।

দু‘আটির দ্বিতীয় অংশের অর্থ হলো, ‘হে আল্লাহ! অন্তরের অনিষ্ট বা অপকারিতা থেকে আমাকে রক্ষা করো’, নিশ্চয়ই অন্তরই হচ্ছে সকল অনিষ্টের মূল বা উৎস। ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘‘জাওয়ামি‘উল কালিম’’ (স্বল্প কথায় বেশি অর্থবোধক বাক্য)-এর অন্যতম। এ ছোট দু‘আটিতে তিনি রুশদ তথা সত্য পথের নির্দেশনা চেয়েছেন। যার মাধ্যমে সকল ভ্রান্তি, পথভ্রষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকা যায় এবং তিনি অন্তর থেকে উৎসারিত অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যার মাধ্যমে অধিকাংশ আল্লাহদ্রোহী কাজ সংঘটিত হয়। আর অধিকাংশ আল্লাহদ্রোহী কাজ খারাপ কাজের আদেশদাতা অন্তর (النفس الأمارة بالسوء) ‘‘আন নাফ্সুল আম্মারাহ্ বিস্সূয়ি’’ এর দ্বারা প্ররোচনা লাভ করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৭-[২১] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুমের মধ্যে ভয় পায় সে যেন বলে,

’’আ’ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ গাযাবিহী ওয়া ’ইকাবিহী ওয়া শার্‌রি ’ইবা-দিহী ওয়ামিন্ হামাযা-তিশ্ শায়া-ত্বীনি ওয়া আন্ ইয়াহ্‌যুরূন’’

(অর্থাৎ- আমি আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই, আল্লাহর ক্রোধ ও তার শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অপকারিতা হতে এবং শয়তানের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব হতে। আর তারা যেন আমার কাছে উপস্থিত হতে না পারে।)। এতে শয়তানের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তার ক্ষতি করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেনঃ ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর তাঁর সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হতেন তাদেরকে এই দু’আ শিখিয়ে দিতেন, আর যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক এ দু’আ কাগজে লিখে তাদের গলায় লটকিয়ে দিতেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী; হাদীসটি তিরমিযীর ভাষ্য)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي النَّوْمِ فَلْيَقُلْ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ «وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو يُعَلِّمُهَا مَنْ بَلَغَ مِنْ وَلَدِهِ وَمَنْ لَمْ يَبْلُغْ مِنْهُمْ كَتَبَهَا فِي صَكٍّ ثُمَّ عَلَّقَهَا فِي عُنُقِهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيّ وَهَذَا لَفظه

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا فزع احدكم في النوم فليقل: اعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وان يحضرون فانها لن تضره «وكان عبد الله بن عمرو يعلمها من بلغ من ولده ومن لم يبلغ منهم كتبها في صك ثم علقها في عنقه» . رواه ابو داود والترمذي وهذا لفظه

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর নামসহ রক্ষাকবচ শিশুদের গলায় ঝুলানো জায়িয। তবে এ ব্যাপারে আরো কথা রয়েছে। প্রথম কথা হচ্ছে যেসব রক্ষাকবচ ও তাবীয জাহিলী যুগের কুসংস্কার হিসেবে ঝুলানো হয় সেগুলো হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই। তবে যেসব তাবীযে আল্লাহর নাম, তাঁর গুণাবলী, কুরআনের আয়াত এবং হাদীসে বর্ণিত দু‘আসমূহ থাকে তা ঝুলানোর ক্ষেত্রে ‘আলিমগণ মতানৈক্য করেছেন। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল ওয়াহ্ব (রহঃ)-এর নাতি ‘আল্লামা শায়খ ‘আবদুর রহমান ইবনু হাসান (রহঃ) তার ‘‘ফাতহুল মাজীদ শারহি কিতাবুত্ তাওহীদ’’ গ্রন্থে বলেছেন,

‘‘জেনে রাখো! সাহাবী, তাবি‘ঈ ও তাদের পরবর্তী ‘আলিমগণ কুরআন এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সমেত তাবীয ঝুলানো বৈধ হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন। তাদের একদলের মত হচ্ছে এরূপ তাবীয জায়িয। যারা এ মত দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)। এ মতের পক্ষের দলীল হলো ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীস, যেখানে তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, (إن الرقى والتولة والتمائم شرك)

অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয় ঝাড়ফুঁক, তাবীয-কবয শির্ক।’’ (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্, ইবনু হিব্বান, হাকিম)

তাদের মতে এ হাদীসে উল্লিখিত তাবীয বলতে শির্কযুক্ত তাবীয উদ্দেশ্য, যা হারাম।

অপরপক্ষের মত হলো, এরূপ তাবীয ঝুলানোও জায়িয নয়। এ মতের অন্যতম হলেন ইবনু মাস্‘ঊদ, ইবনু ‘আব্বাস, হুযায়ফাহ্, ‘উকবাহ্ ইবনু ‘আমির ইবনু ‘উকায়ম (রাঃ), তাবি‘ঈদের একটি বিশাল দল, ইমাম আহমাদ এবং পরবর্তী ‘উলামায়ে কিরাম (রহঃ)। তারা উপরোক্ত হাদীসও এ অর্থ প্রকাশ করে এমন অন্যান্য হাদীস (যেমন- ইবনু হিব্বানে বর্ণিত ‘উকবাহ্ ইবনু ‘আমির-এর হাদীস, আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও হাকিমে বর্ণিত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উকায়ম -এর হাদীস) দ্বারা দলীল পেশ করেন।

শায়খ ‘আবদুর রহমান ইবনু হাসান বলেনঃ তিনটি কারণে এ শেষোক্ত মতটিই বিশুদ্ধ।

[এক] হাদীসে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকার্থক (‘আম)। এ নিষেধাজ্ঞার কোন বিশেষ (খাস) হুকম নেই।

[দুই] অন্যায়ের পথ বন্ধ করা। কারণ এ পথ খুলে রাখলে এ শর্ত না মেনে অন্যকিছু মানুষ ঝুলাবে যা বৈধ নয়।

[তিন] যদি কেউ এগুলো ঝুলায়ও তাহলে তাকে ঐ জিনিসকে অপমান করতে হয় যেমন সে ঐ তাবীযসহ বাথরুম, প্রসাবখানাসহ এরূপ অপবিত্র স্থানে যায়। যার মাধ্যমে সে প্রকারন্তরে আল্লাহর নাম ও কুরআনকে অপমানিত করে।

লেখক বলেনঃ ঐ উপরোক্ত তিনটি কারণের সাথে কেউ কেউ চতুর্থ একটি কারণ যুক্ত করেছেন যে, কুরআনের আয়াত যদি কেউ তাবীয হিসেবে ঝুলায় তাহলে সে মূলত আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করল এবং কুরআন যে বিধান নিয়ে এসেছে তার বিপরীত কাজ করল।

আল্লাহ তা‘আলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন মানবজাতির হিদায়াতের জন্য, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে এবং মানুষের অন্তরের ব্যাধি দূর করার জন্য। এ কুরআন মুত্তাক্বীদের জন্য স্মরণিকাও বটে। কুরআন এজন্য অবতীর্ণ হয়নি যে, এ কুরআনকে মানুষ তাবীয-কবয হিসেবে ব্যবহার করবে। আর কিছু ব্যবসায়ী এর দ্বারা অর্থ উপার্জন করবে। কবরস্থানে এটি পাঠ করা হবে এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ করা হবে যেগুলো কুরআনের সম্মানের/মর্যাদার বিরোধী। ‘উলামায়ে কিরাম তাবীয ঝুলানোর পক্ষে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর হাদীসের জবাবে কিছু কথা বলেছেনঃ

[এক] এ হাদীসটির সানাদ য‘ঈফ। কারণ এ সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক নামক ব্যক্তি রয়েছেন; যিনি মুদাল্লাস। যদিও এ সানাদকে ইমাম তিরমিযী হাসান এবং ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন।

[দুই] এ হাদীস যদি সহীহ হিসেবে ধরেও নেই তাহলে এর দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না। কারণ এ হাদীসে এ প্রমাণ নেই যে, ঐ কাজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেছেন এবং সমর্থন করেছেন।

[তিন] এটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত ‘আমল। তার এ একক ‘আমলের মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস ও প্রধান সাহাবীগণের ‘আমলকে বর্জন করা যাবে না; যারা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর ‘আমল অনুসরণ করেননি।

ইমাম শাওকানী ‘‘তুহফাতুয্ যাকিরীন’’ গ্রন্থে (পৃঃ ৮৯) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর এ হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, তাবীয ঝুলানো বৈধ হওয়ার বিপক্ষে যে দলীল বর্ণিত হয়েছে তার বিপরীতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

উপরোক্ত জবাবগুলো ছাড়াও লেখক বেশকিছু জবাব-যুক্তি-মত উল্লেখ করে শেষে বলেছেনঃ যদিও কিছু ‘আলিম আল্লাহর নাম ও কুরআনের আয়াতওয়ালা তাবীয ঝুলানো জায়িয বলেছেন তারপরও ইখলাসের দাবী ও অধিক উত্তম হলো সকল রকমের তাবীজ বর্জন করা। কারণ হাদীসে ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) লোক হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা ঝাড়ফুঁক করেনি এবং করায়নি। অথচ ঝাড়ফুঁক ইসলামে জায়িয। যে ব্যাপারে হাদীস এবং আসার বর্ণিত হয়েছে। সঠিক মত সম্পর্কে আল্লাহই অধিক জানেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৮-[২২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা করে; জান্নাত বলবে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করবে; জাহান্নাম বলবে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও। (তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ: اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيّ

وعن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من سال الله الجنة ثلاث مرات قالت الجنة: اللهم ادخله الجنة ومن استجار من النار ثلاث مرات قالت النار: اللهم اجره من النار رواه الترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করল, অর্থাৎ- সততা, নিশ্চিত বিশ্বাস ও উত্তম নিয়্যাত সহকারে তিনবার আল্লাহর নিকট জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইল। জান্নাত চাওয়ার জন্য এভাবে দু‘আ করতে পারে (اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْاَلُكَ الْجَنَّةَ) ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্ আলুকাল জান্নাহ্’’। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাত চাই। অথবা বলতে পারে, (اَللّٰهُمَّ أَدْخِلْنِى الْجَنَّةَ) ‘‘আল্ল-হুম্মা আদখিলনিল জান্নাহ্’’। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে কোন দু‘আ তিনবার করে বলা উত্তম ও দু‘আর আদবের অন্তর্ভুক্ত। এ হাদীস দ্বারা আরো প্রমাণ হয় যে, জড়বস্ত্তও কথা বলতে পারে। তবে এখানে কারো মতে, জান্নাত বলতে জান্নাতের অধিবাসী যেমন- হূর, শিশু, রক্ষীগণকে বুঝানো হয়েছে।

জাহান্নাম থেকে আশ্রয় বা পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এ দু‘আ পড়া যেতে পারে, (اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ) ‘‘আল্ল-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র’’। অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আগুন থেকে রক্ষা কর। আগুন থেকে রক্ষা করা অর্থ হচ্ছে এতে প্রবেশ করা ও স্থায়ী হওয়া থেকে রক্ষা করা। এ হাদীসে বেশি বেশি জান্নাত চাওয়ার প্রতি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৭৯-[২৩] ক’ক’ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা’ব আল আহবার বলেছেন, যদি আমি এ বাক্যগুলো না বলতাম, তবে ইয়াহূদীরা নিশ্চয়ই আমাকে গাধা বানিয়ে ফেলতো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সে বাক্যগুলো কি? তিনি বলেন,

’’আ’ঊযু বিওয়াজ্ হিল্লা-হিল ’আযীম আল্লাযী লায়সা শাইউন আ’যমা মিনহু, ওয়াবিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তিল্লাতি লা- ইউজা-বিযুহুন্না বাররুন ওয়ালা- ফা-জিরুন, ওয়াবি আসমা-য়িল্লা-হিল হুসনা-, মা- ’আলিমতু মিনহা-, ওয়ামা- লাম্ আ’লাম মিন্ শাররি মা- খলাকা ওয়া যারাআ ওয়া বারাআ’’

(অর্থাৎ- আমি মহান আল্লাহর সত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর অপেক্ষা মহান আর কেউ নেই এবং আমি আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি যা অতিক্রম করার শক্তি ভালো-মন্দ কোন লোকের নেই। আমি আরো আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর ’আসমা-য়ি হুসনা-’ বা উত্তম নামসমূহের, যা আমি জানি আর যা আমি জানি না তাঁর সৃষ্টির অনিষ্টতা হতে যাদেরকে তিনি সৃষ্টি করেছেন ও পৃথিবীতে ছড়িয়ে রেখেছেন।)। (মালিক)[1]

عَنِ الْقَعْقَاعِ: أَنَّ كَعْبَ الْأَحْبَارِ قَالَ: لَوْلَا كَلِمَاتٌ أَقُولُهُنَّ لَجَعَلَتْنِي يَهُودُ حِمَارًا فَقِيلَ لَهُ: مَا هُنَّ؟ قَالَ: أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ وَبِكَلِمَاتِ اللَّهِ التامَّاتِ الَّتِي لَا يُجاوزُهنَّ بَرٌّ وَلَا فاجرٌ وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وبرأ. رَوَاهُ مَالك

عن القعقاع: ان كعب الاحبار قال: لولا كلمات اقولهن لجعلتني يهود حمارا فقيل له: ما هن؟ قال: اعوذ بوجه الله العظيم الذي ليس شيء اعظم منه وبكلمات الله التامات التي لا يجاوزهن بر ولا فاجر وباسماء الله الحسنى ما علمت منها وما لم اعلم من شر ما خلق وذرا وبرا. رواه مالك

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে কা‘ব আল আহবার-এর উক্তি ইয়াহূদীরা আমাকে গাধা বানাবে বলে তিনি ইয়াহূদী কর্তৃক অপমানিত হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। কারণ গাধার সাথে কাউকে তুলনা করা মানে তাকে অপমানিত করা। তাছাড়া এর ব্যাখ্যা এমনও হতে পারে যে, ইয়াহূদীরা আমাকে যাদু করে সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্ত করত। এমনকি যাদুর প্রভাবে আমি গাধার মতো আচরণ করতাম (এমন আচরণ যে কিছুই বুঝতে পারছি না)। বিভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায় যে, ইয়াহূদীরা যাদুবিদ্যায় পারদর্শী ছিল।

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যাদু সত্য। যখন কাউকে যাদু করা হয় তখন তার খেয়াল, বুদ্ধি-বিবেচনা নষ্ট হয়ে যায়, মাথার মধ্যে খারাপ, ভ্রষ্ট চিন্তা আসে।

এ হাদীসে বর্ণিত দু‘আটি যাদুর হাত থেকে বাঁচার জন্য ও অপমানিত হওয়ার থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৮০-[২৪] মুসলিম ইবনু আবূ বকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আবূ বকরা (রাঃ) সালাত আদায় শেষে বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্ আ’ঊযুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি ওয়া ’আযা-বিল কবরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী, পরমুখাপেক্ষিতা ও কবর ’আযাব হতে আশ্রয় চাই)। আর আমিও তাই বলতাম। একবার তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি এটা (দু’আটি) কার থেকে গ্রহণ করেছো? আমি বললাম, আপনার কাছে থেকেই তো। তখন তিনি বললেন, তবে শুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্য সালাত শেষ হবার পর বলতেন। (তিরমিযী; নাসায়ী ’সালাত শেষে’ শব্দ ছাড়া, আহমাদ শুধু দু’আটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে ’প্রতিটি সালাত শেষে’)[1]

وَعَن مُسلم بن أبي بَكرةَ قَالَ: كَانَ أَبِي يَقُولُ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ: اللَّهُمَّ إِن أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ فَكُنْتُ أَقُولُهُنَّ فَقَالَ: أَيْ بُنَيَّ عَمَّنْ أَخَذْتَ هَذَا؟ قُلْتُ: عَنْكَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يقولهُنَّ فِي دُبرِ الصَّلاةِ. رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يُذْكَرْ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ
وَرَوَى أَحْمَدُ لَفْظَ الْحَدِيثِ وَعِنْدَهُ: فِي دُبُرِ كل صَلَاة

وعن مسلم بن ابي بكرة قال: كان ابي يقول في دبر الصلاة: اللهم ان اعوذ بك من الكفر والفقر وعذاب القبر فكنت اقولهن فقال: اي بني عمن اخذت هذا؟ قلت: عنك قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقولهن في دبر الصلاة. رواه النساىي والترمذي الا انه لم يذكر في دبر الصلاة وروى احمد لفظ الحديث وعنده: في دبر كل صلاة

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে কুফর বলতে সকল প্রকার কুফরকে (ছোট বা বড়, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য) বুঝানো হচ্ছে। ফাকর বা দারিদ্র্য বলতে এমন দারিদ্র্য যার মধ্যে কোন কল্যাণ বা পরহেজগারিতা নেই। এ জন্যই বর্ণিত হয়েছে, (كاد الفقر أن يكون كفرًا) অর্থাৎ- দারিদ্র্য কুফরীর দিকে নিয়ে যায়। হাদীসটি আবূ না‘ঈম তার ‘‘আল হুলিয়্যাহ্’’ গ্রন্থে এবং ইমাম বায়হাক্বী তার ‘‘শু‘আবূল ঈমান’’ গ্রন্থে আনাস (রাঃ) থেকে মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সানাদ য‘ঈফ। ‘আল্লামা সান্‘আনী বলেন, এ মর্মে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, দারিদ্র্য ব্যক্তিকে কুফরীতে পতিত হওয়ার নিকটবর্তী করে দেয়। কারণ দারিদ্র্য আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করায় এবং আল্লাহ প্রদত্ত রিযক্বের প্রতি অসন্তুষ্ট করে। এভাবে ক্রমশ তা কুফরীর দিকে নিয়ে যায়- না‘ঊযুবিল্লাহ।

‘আল্লামা কারী বলেন, এখানে দারিদ্রের ফিতনা থেকে অথবা অন্তরের দারিদ্র্যতা; যা আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করার দিকে ব্যক্তিকে নিয়ে যায়; তা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে দারিদ্র্যকে কুফরীর সাথে একত্রে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এ হতে পারে যে, দারিদ্রের ফলে দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রতি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বণ্টনের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারে না এবং আল্লাহ তাকে যে নিয়ামত (অনুগ্রহ) দিয়েছেন তার জন্যে তাঁর শুকরিয়া আদায় করে না। ফলে তার এ দারিদ্র্যতা তাকে ক্রমশ কুফরীর দিকে নিয়ে যায়। এক সময় সে আল্লাহকে অস্বীকার করে বসে- না‘ঊযুবিল্লাহ।

অত্র হাদীসে উল্লিখিত দু‘আটি প্রত্যেক ফরয বা নফল সালাতের সালাম ফিরানোর পূর্বে বা পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা

২৪৮১-[২৫] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ’’আ’ঊযুবিল্লা-হি মিনাল কুফরি ওয়াদ্দায়নি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী ও ঋণ হতে আশ্রয় চাই)। এটা শুনে জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলো, হে আল্লাহ রসূল! আপনি ঋণকে কুফরীর সমান মনে করেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফরী ও পরমুখাপেক্ষিতা হতে আশ্রয় চাই)। তখন এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রসূল! এ দু’টো কি সমান (এক বিষয়)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْكُفْرِ وَالدَّيْنِ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْدِلُ الْكُفْرَ بِالدَّيْنِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» . وَفِي رِوَايَةٍ «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ» . قَالَ رَجُلٌ: وَيُعْدَلَانِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن ابي سعيد قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اعوذ بالله من الكفر والدين» فقال رجل: يا رسول الله اتعدل الكفر بالدين؟ قال: «نعم» . وفي رواية «اللهم اني اعوذ بك من الكفر والفقر» . قال رجل: ويعدلان؟ قال: «نعم» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: প্রশ্নকারী ব্যক্তি স্পষ্টভাবে বুঝতে চেয়েছেন যে, কুফরী ও ঋণকে কেন একসাথে উল্লেখ করা হলো? এ দু’টোর মধ্যে কি সমান অনিষ্ট বিরাজমান যা দু’টিকে সমান করেছে? ঋণের দায় কি এতই কঠিন যে, সেটা কুফরীর সমান হলো? তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কৌতুহল দূর করে উত্তর বুঝিয়ে দিলেন, হ্যাঁ। ঋণ ঋণী ব্যক্তির জন্য কুফরীর মতো জান্নাতে প্রবেশের পথে স্থায়ী বাধা যতক্ষণ না ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি তা ঋণদাতাকে পরিশোধ না করে। (অর্থাৎ- ঋণী ব্যক্তি যতক্ষণ না ঋণদাতাকে ঋণ পরিশোধ না করবে ততক্ষণ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।)

ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি কাফির ও মুনাফিক্বের মতো। কারণ যখন ব্যক্তির ওপর ঋণের বোঝা থাকে তখন সে মিথ্যা বলে এবং ওয়া‘দা দিলে তা ভঙ্গ করে। এগুলো মুনাফিক্বের বৈশিষ্ট্য ও নিফাক্বের চিহ্ন। আর দরিদ্র ব্যক্তি (ফকীর) কখন অধৈর্য হয়ে যায়। ফলে তার দারিদ্র্যই তাকে কুফরীর দিকে নিয়ে যায়। এর এটা ঋণী ব্যক্তির থেকেও খারাপ অবস্থা।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮২-[১] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন কোন সময় এরূপ দু’আ করতেন,

’’আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী খত্বীআতী ওয়া জাহলী ওয়া ইস্‌রা-ফী ফী আম্‌রী ওয়ামা- আন্‌তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্‌লী জিদ্দী ওয়া হাযলী ওয়া খত্বায়ি ওয়া ’আম্‌দী ওয়া কুল্লু যা-লিকা ’ইনদী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী মা- কদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা- আসরারতু ওয়ামা- আ’লানতু ওয়ামা- আনতা বিহী আ’লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু ওয়া আনতা ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ মাফ করো, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজে সীমালঙ্ঘন, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ মাফ করো যা আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, খামখেয়ালী করা, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় করা আর যা সবগুলোই আমার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গুনাহ মাফ করে দাও, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। তুমিই আগে বাড়াও, তুমিই পেছনে হটাও এবং প্রত্যেকটি ব্যাপারেই তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جَدِّي وَهَزْلِي وَخَطَئِي وَعَمْدِي وكلُّ ذلكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أعلنت وَمَا أَنْت بِهِ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنت على كل شَيْء قدير»

عن ابي موسى الاشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم: انه كان يدعو بهذا الدعاء: «اللهم اغفر لي خطيىتي وجهلي واسرافي في امري وما انت اعلم به مني اللهم اغفر لي جدي وهزلي وخطىي وعمدي وكل ذلك عندي اللهم اغفر لي ما قدمت وما اخرت وما اسررت وما اعلنت وما انت به اعلم به مني انت المقدم وانت الموخر وانت على كل شيء قدير»

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত দু‘আটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখন পড়তেন তার নিশ্চিত কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন বর্ণনায় যা পাওয়া যায় তার সারমর্ম হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু‘আটি সালাতের শেষ বৈঠকে পড়তেন। তবে সালামের পূর্বে না পরে পড়তেন তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। পূর্বে বা পরে যে কোন সময়ে পড়ার সম্ভাবনার কথাই হাদীসের বর্ণনায় পাওয়া যায়।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পূর্ণ মা‘সূম তথা নিষ্পাপ এবং তার আগের এবং পরের সকল গুনাহ থেকে তাকে মুক্ত বা ক্ষমাপ্রাপ্ত ঘোষণার পরেও তিনি এরূপ দু‘আ কেন করতেন? এর উত্তরে বলা যায়, প্রথমত তিনি আল্লাহর প্রতি বিনয় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করণার্থে এরূপ দু‘আ করতেন। দ্বিতীয়ত তিনি এর মাধ্যমে তার দ্বারা কৃত অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অলসতা থেকে মাফ চাইতেন। তৃতীয়ত তিনি নবূওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে কৃতকর্মের প্রতি ইশারা করেছেন। চতুর্থত তিনি শুধু তার উম্মাতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এ দু‘আ করেছিলেন। মূলকথা হলো তিনি এ দু‘আ আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশ করণার্থেই করেছিলেন। কারণ দু‘আও ‘ইবাদাত। ইমাম নাবাবী (রহঃ) এরূপ মত পোষণ করেছেন।

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা সকল রকমের গুনাহ পূর্বের এবং পরের গোপন ও প্রকাশ্য জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে যেভাবেই সংঘটিত হোক না কেন তা ক্ষমা করার জন্য ক্ষমার ডালি নিয়ে সকল গুনাহকে ঘিরে রেখেছেন। অর্থাৎ- কোন গুনাহই আল্লাহর ক্ষমার আওতার বাইরে নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৩-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা আস্‌লিহ লী দীনিল্লাযী হুওয়া ’ইস্‌মাতু আম্‌রী ওয়া আস্‌লিহ লী দুন্ইয়া- ইয়াল্লাতী ফীহা- মা’আ-শী ওয়া আস্‌লিহ লী আ-খিরাতিল্লাতী ফীহা- মা’আ-দী ওয়াজ্’আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান লী ফী কুল্লি খয়রিন ওয়াজ্’আলিল মাওতা রা-হাতান লী মিন কুল্লি শাররিন’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার দীন [ধর্ম]-কে ঠিক করে দাও, যা ঠিক করে দেবে আমার কার্যাবলী। তুমি ঠিক করে দাও আমার দুনিয়া [ইহকাল], যাতে রয়েছে আমার জীবন। তুমি ঠিক করে দাও আমার আখিরাত [পরকাল], যেখানে আমি [অবশ্যই] ফিরে যাবো। আমার হায়াত [আয়ুষ্কাল] প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের জন্য বাড়িয়ে দাও, আর আমার মৃত্যুকে আমার জন্য প্রত্যেক অকল্যাণ হতে শান্তিস্বরূপ কর।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اصلح لي ديني الذي هو عصمة امري واصلح لي دنياي التي فيها معاشي واصلح لي اخرتي التي فيها معادي واجعل الحياة زيادة لي في كل خير واجعل الموت راحة لي من كل شر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: আমার দীনকে ঠিক করে দাও যাতে তা আমাকে জাহান্নামের আগুন ও আল্লাহর অসন্তোষ থেকে আমাকে রক্ষা করে। ইমাম মানাবী বলেন, যার দীন-ধর্ম ঠিক থাকে না তার সমস্ত কর্মই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে ধ্বংসের মুখোমুখি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আমার ইহকালকে ঠিক করে দাও যাতে রয়েছে আমার জীবনোপকরণ। এর অর্থ হলো আমার প্রয়োজনীয় বিষয় ও দ্রব্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে এবং হালাল উপায়ে প্রদান করে আমার ইহকালকে ঠিক করে দাও। এর অর্থ এও হতে পারে যে, দুনিয়ায় আমার প্রয়োজনীয় বিষয়াদিতে বিদ্যমান সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করো।

‘ইবাদাত করার তাওফীক (শক্তি), আনুগত্যে ইখলাস ও সুন্দর সম্মতির মাধ্যমে আমার আখিরাতকে ঠিক করে দাও। অর্থাৎ- আমার প্রত্যাবর্তনস্থল তথা আখিরাতের স্বার্থে তোমার আনুগত্য করার তাওফীক আমাকে দান করো।

ইখলাস, আনুগত্য ও ‘ইবাদাতে অধিক কল্যাণ অর্জনে আমার জীবনকে ব্যাপৃত রাখো। অর্থাৎ- যে কাজ তুমি ভালোবাস ও পছন্দ করো সে কাজ আমার জীবনকে ব্যস্ত রাখো আর যে কাজ তুমি অপছন্দ করো তা থেকে আমাকে দূরে রাখো।

আমার মৃত্যুকে আমার পক্ষে প্রত্যেক অকল্যাণ হতে শান্তিস্বরূপ করো। এর অর্থ হলো, আমার মৃত্যুর সময় আমাকে সঠিক বিশ্বাস, সাক্ষ্য ও তাওবার উপরে রাখো। যাতে করে আমার মৃত্যু দুনিয়ার কষ্ট থেকে পরিত্রাণের ও চূড়ান্ত প্রশান্তি অর্জনের উপায় হয়।

ইমাম শাওকানী (রহঃ) তাঁর ‘‘তুহফাতুয যাকিরীন’’ গ্রন্থে (পৃঃ ২৮৪) এ হাদীস সম্পর্কে লিখেছেনঃ

এ হাদীসটি ব্যাপক অর্থবোধক একটি হাদীস। কারণ এর মধ্যে দীন ও দুনিয়া উপকারিতার সকল দিক আলোচিত হয়েছে। দীনের সঠিক বুঝ ও ‘আমল হলো বান্দার সকল সম্পদের মূল এবং তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য। অত্র হাদীসে দুনিয়াকে জীবনোপকরণের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে আখিরাতের উপকারিতা অর্জনের দু‘আ করা হয়েছে যে, আখিরাতই হচ্ছে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনস্থল। দীনের সঠিকতার প্রার্থনা এজন্যই করা হয়েছে যে, আল্লাহ যখন কারো দীনকে ঠিক করে দেন তখন তার আখিরাতকেও ঠিক করে দেন। এখানে প্রত্যেক ভাল কাজে জীবনকে বৃদ্ধি করে দেয়ার দু‘আ করা হয়েছে এজন্য যে, যার জীবনকে আল্লাহ অধিক কল্যাণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেন তার জীবন কল্যাণ ও সফলতায় ভরপুর হয়। আর মৃত্যুকে সকল অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণের উপায় করার অর্থ হলো মৃত্যুর মাধ্যমেই অকল্যাণের দরজা বন্ধ হয়। এর মধ্যে বান্দার জন্যে অনেক কল্যাণ রয়েছে। তবে এ জন্যে সরাসরি মৃত্যু কামনা না করে, বরং এ দু‘আ করা উচিত যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন,

(اَللّٰهُمَّ أَحْيَنِيْ مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّيْ، وَتَوَفَّنِيْ إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرً لِّيْ)

অর্থাৎ- ‘‘হে আল্লাহ! আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখো যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে মৃত্যু দান করো যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর।’’ (সহীহ মুসলিম হাঃ ২৬৮০)

এ দু‘আটি সবকিছুকে শামিল করে। আর এ কথা সবারই জানা যে, যার সারাটা জীবন শুধু অকল্যাণে ভরপুর তার জন্য জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুই উত্তম ও প্রশান্তিদায়ক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৪-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা- ওয়াত্তুকা- ওয়াল ’আফা-ফা ওয়াল গিনা-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত [সঠিক পথ], তাকওয়া [পরহেযগারিতা], হারাম থেকে বেঁচে থাকা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রত্যাশা করি)। (মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يقول: «اللهم اني اسالك الهدى والتقى والعفاف والغنى» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসে (الْهُدٰى) ‘‘হুদা-’’ বলতে হিদায়াত এবং (التُقٰى) ‘‘তুকা-’’ বলতে তাকওয়া বুঝানো হয়েছে। (الْعَفَافَ) ‘‘আফাফ’’ বলতে গুনাহ ও অনুচিত কর্ম থেকে বিরত থাকাকে বুঝানো হয়েছে। (الْغِنٰى) ‘‘গিনা-’’ বলতে মূলত অন্তরের ধনাঢ্যতা বা প্রাচুর্যতা বুঝানো হয়েছে; সম্পদের ধনাঢ্যতা নয়। অন্তরের প্রাচুর্যতা এমন সম্পদ থেকে ব্যক্তিকে আড়ালে রাখে যে সম্পদ ব্যক্তিকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে এবং আল্লাহ তা‘আলা থেকে ভিন্ন কাজে অন্তরকে ব্যস্ত রাখে। তবে প্রশংসিত ধনাঢ্যতা হলো ঐ ধনাঢ্যতা যা ব্যক্তিকে দুনিয়ামুখী হওয়া ও দুনিয়ার প্রতি বেশি গুরুত্ব প্রদান থেকে বিরত রাখে।

তিনি বলেন, সাধারাণত ‘হুদা-’ ও ‘তুকা’ বলতে দুনিয়ার জীবনোপকরণ, আখিরাতের উপকরণ ও চরিত্রের মহৎ দিকসমূহ যা অর্জন করা উচিত তার সন্ধান পাওয়া এবং শির্ক, অবাধ্যতা ও চরিত্রের খারাপ দিকসমূহ যা বর্জন করা উচিত তা বর্জনে করাকে বুঝায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৫-[৪] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি (দু’আ) বল,

’’আল্ল-হুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী ওয়াযকুর বিলহুদা- হিদা-য়াতাকাত্ব ত্বরীকা ওয়াবিস্ সাদা-দি সাদা-দাস্ সাহমি’’

(অর্থাৎ- ’হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াতের পথ দেখাও এবং আমাকে সরল-সোজা রাখো।’ আর ’হিদায়াত’ বলতে মনে করবে তুমি আল্লাহর পথ, আর ’সোজা’ বলতে খেয়াল করবে তীরের মতো সোজা।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُلْ اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي وَاذْكُرْ بِالْهُدَى هِدَايَتَكَ الطَّرِيقَ وبالسداد سداد السهْم» . رَوَاهُ مُسلم

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قل اللهم اهدني وسددني واذكر بالهدى هدايتك الطريق وبالسداد سداد السهم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান করো’’ এর অর্থ হলো কল্যাণকর কাজে আমাকে পথ দেখাও। এর অর্থ এও হতে পারে সিরাতে মুস্‌তাক্বীম-এর দিকে হিদায়াতের উপর আমাকে দৃঢ় রাখো অথবা আমাকে কামালিয়্যাত তথা পূর্ণ মু’মিন হওয়ার পথে অতিরিক্ত যোগ্যতা ও গুণাবলী দান করো।

‘‘আমাকে সোজা রাখো’’ এর অর্থ হলো আমার সকল কর্মে দৃঢ়তার সাথে সঠিক পথ অবলম্বনকারী বানাও। ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এর মধ্যেই আল্লাহর ঐ কথার অর্থ পাওয়া যায় যেখানে আল্লাহ বলেছেন, فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ অর্থাৎ- ‘‘সুতরাং তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ তাতে স্থির থাকো’’- (সূরা হূদ ১১ : ১১২)।

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ‘‘আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করো’’- (সূরা আল ফাতিহাহ্ ১ : ৫)। অর্থাৎ- আমাকে এমন হিদায়াত দান করো যাতে করে আমি বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত শৈথিল্য বা অলসতা এ দু’টির কোনটির দিকে ঝুঁকে না পড়ি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৬-[৫] আবূ মালিক আল আশ্’জা’ঈ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, যখন কোন লোক ইসলাম গ্রহণ করতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথম সালাত শিক্ষা দিতেন। তারপর তাকে এ পূর্ণ বাক্যগুলো পড়ে দু’আ করতে আদেশ করতেন,

’’আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া ’আ-ফিনী, ওয়ারযুকনী’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে পথ দেখাও, আমাকে শান্তিতে রাখো এবং আমাকে রিযক দান করো)। (মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ الرجل إِذا أسلم علمه النَّبِي صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ ثُمَّ أَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي مالك الاشجعي عن ابيه قال: كان الرجل اذا اسلم علمه النبي صلى الله عليه وسلم الصلاة ثم امره ان يدعو بهولاء الكلمات: «اللهم اغفر لي وارحمني واهدني وعافني وارزقني» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম তাকে সালাতের শর্ত ও রুকনসমূহ শিক্ষা দিতেন অথবা যে সালাত তার তৎকালে উপস্থিত সে সালাত শিক্ষা দিতেন কারণ তখন সালাত আদায় করা তার জন্য ফারযে আইন। অতঃপর তাকে হাদীসে উল্লিখিত শব্দগুলো শিক্ষা দিতেন এজন্য যে, এ শব্দসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণকে ধারণ করে। সে শব্দসমূহ হলো, হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ মুছে দেয়ার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমা করো, আমার দোষ-ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখার মাধ্যমে আমার ওপর দয়া করো, আমাকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে পরিচালিত করো অথবা সরল প্রশস্ত পথের উপর আমাকে দৃঢ় রাখো, সমস্ত বিপদ ও ভুল-ভ্রান্তি থেকে আমাকে মুক্ত রাখো এবং আমাকে হালাল রিযক (জীবিকা) দান করো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৭-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময়ই এ দু’আ করতেন, ’’আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- ’আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো। আর জাহান্নামের ’আযাব [শাস্তি] হতে বাঁচাও)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ جَامِعِ الدُّعَاءِ

وَعَن أنسٍ قَالَ: كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وقنا عَذَاب النَّار»

وعن انس قال: كان اكثر دعاء النبي صلى الله عليه وسلم «اللهم اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار»

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আটি এজন্যে সবচেয়ে বেশি পড়তেন যে, এ দু‘আটি ব্যাপক অর্থবোধক ও কুরআন থেকে চয়নকৃত। দু‘আটির শুরু বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্ন শব্দে এসেছে। কোথাও ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা-’’, কোথাও ‘‘আল্ল-হুম্মা রব্বানা- আ-তিনা-’’, কোথাও ‘‘রব্বানা- আ-তিনা-’’ শব্দে এসেছে। সবগুলো বর্ণনাই সহীহ।

অত্র হাদীসে মৃত্যুর পূর্বে দুনিয়ায় হাসানাহ্ বলতে এবং মৃত্যুর পরে আখিরাতে হাসানাহ্ বলতে কী বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে মুফাসসির ও ‘আলিমগণের বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। নিম্নে মতসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলোঃ কারো মতে, দুনিয়ায় হাসানাহ্ বলতে দুনিয়ায় ব্যক্তির ইচ্ছা ও স্বভাব অনুযায়ী জীবনোপকরণ, স্বচ্ছলতা, সুস্থতা, সুন্দরী মহিলা; এছাড়াও তার মন হালাল যা চায় ও তার চোখ হালাল যা কিছুর স্বাদ নিতে চায় তা। আর আখিরাতে হাসানাহ্ বলতে ঐসব কিছুকে বুঝানো হচ্ছে যা কোন মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়াই ব্যক্তি পাবে তা। কারো মতে দুনিয়ায় হাসানাহ্ বলতে নেক্কার স্ত্রী ও আখিরাতে হাসানাহ বলতে জান্নাতী হূর এবং জাহান্নামের আগুনের ‘আযাব বলতে খারাপ নারীকে বুঝানো হয়েছে।

হাসান বাসরী (রহঃ)-এর মতে, দুনিয়াতে হাসানাহ্ বলতে উপকারী জ্ঞান, ‘ইবাদাত, পবিত্র রিযক এবং আখিরাতে হাসানাহ্ বলতে জান্নাত বুঝানো হয়েছে। কাতাদাহ্’র মতে, এর দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা বুঝানো হয়েছে।

সুদ্দী ও মুকাতিল-এর মতে, দুনিয়ার হাসানাহ্ দ্বারা প্রশস্ত হালাল রিযক (জীবিকা), সৎ ‘আমল এবং আখিরাতের হাসানাহ্ দ্বারা ক্ষমা ও সাওয়াব উদ্দেশ্য। ‘আত্বিয়্যাহ্-এর মতে আখিরাতের হাসানাহ দ্বারা হিসাব সহজকরণ ও জান্নাতে প্রবেশকে বুঝানো হয়েছে। কারো মতে দুনিয়ার হাসানাহ্ হলো, সুস্থতা, ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতা এবং আখিরাতের হাসানাহ্ হলো পরকালে আল্লাহর নিকট থেকে সাওয়াব ও রহমাতপ্রাপ্তি।

হাফেয ইবনু কাসীর (রহঃ) তাঁর তাফসীরে বলেন, এ দু‘আটির মধ্যে দুনিয়ার সকল কল্যাণকেও একত্র করা হয়েছে এবং সকল মন্দকে দূর করা হয়েছে। এখানে ‘দুনিয়ার হাসানাহ্’ শব্দ ঐ সবকিছুকেই শামিল করে যা দুনিয়ার কাঙ্ক্ষিত বিষয় ও বস্ত্ত। যেমন- সুস্থতা বা সুস্বাস্থ্য, প্রশস্ত ঘর, সুন্দরী স্ত্রী, সৎকর্মশীল সন্তান, প্রশস্ত রিযক, উপকারী জ্ঞান, সৎ ‘আমল, হালকা বাহন, উত্তম প্রশংসা ইত্যাদি। এর কোনটিই দুনিয়ার হাসানার বাইরে নয়। অপরদিকে আখিরাতের হাসানাহ্ বলতে যা বুঝাচ্ছে তার সর্বোচ্চ হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ। এছাড়াও যা বুঝাচ্ছে তা হলো, খোলা মাঠে সর্বাধিক ভীতিপ্রদ চিৎকার থেকে নিরাপদ থাকা, হিসাব সহজ করা এবং আখিরাতের উত্তম কর্মসমূহ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি। জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষার অর্থ হলো তা থেকে রক্ষাকারী কাজ। যেমন- হারাম ও গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকা এবং হারাম ও সন্দেহপূর্ণ বিষয়াবলী বর্জন করা।

ইমাম কুরতুবী বলেন, বেশিরভাগ ‘আলিমের মতে দুনিয়া ও আখিরাতের হাসানাহ্ বলতে এ দু’ স্থানের নিয়ামতসমূহ বুঝানো হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ‘আল্লামা কারী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য এ দু‘আটি সর্বাধিক পড়তেন যে, এটি ছিল একটি ব্যাপক দু‘আ; যা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণকে শামিল করেছে। আর দু‘আর শেষাংশে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাওয়ার দু‘আ করা হয়েছে যার অর্থ হচ্ছে হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ঐ আগুন থেকে রক্ষা করো এবং যেসব বিষয় আগুনের নিকটবর্তী করে তা থেকেও আমাদের রক্ষা করো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৮-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন,

’’রব্বি আ’ইন্নী ওয়ালা- তু’ইন্ ’আলাইয়্যা ওয়ানসুরনী ওয়ালা- তানসুর ’আলাইয়্যা ওয়াম্‌কুরলী ওয়ালা- তাম্‌কুর ’আলাইয়্যা ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াস্‌সিরিল হুদা- লী ওয়ানসুরনী ’আলা- মান্ বাগা- ’আলাইয়্যা রব্বিজ্’আলনী লাকা শা-কিরান লাকা যা-কিরান লাকা র-হিবান লাকা মিত্বওয়া-’আন লাকা মুখবিতান ইলায়কা আও্ওয়া-হান মুনীবান রব্বি তাকব্বাল তাওবাতী ওয়াগসিল হাওবাতী ওয়াআজিব্ দা’ওয়াতী ওয়া সাব্বিত্ হুজ্জাতী ওয়া সাদ্দিদ্ লিসা-নী ওয়াহদি কলবী ওয়াসলুল সাখীমাতা সদরী’’

(অর্থাৎ- হে রব! আমাকে সাহায্য করো, আমার বিপক্ষে সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না। আমার পক্ষে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো, আমার বিরুদ্ধে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো না। আমাকে পথ দেখাও, আমার জন্য পথ সহজ করে দাও। যে আমার ওপর জবরদস্তি করে, তার ওপর আমাকে বিজয়ী করো। হে রব! আমাকে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ বানাও। আমাকে তোমার জিকিরকারী করো, তোমার ভয়ে আমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করো। তোমার প্রতি অনুগত করো, তোমারই প্রতি বিনম্র করো। [অনুতপ্তের জন্য] তোমার কাছে মনের দুঃখ জানাতে শিখাও, তোমার প্রতি আমাকে ঝুকাও। হে রব! তুমি আমার তওবা্ কবূল করো, আমার গুনাহ ধুয়ে দাও। আমার ডাকে সাড়া দাও, আমার ঈমান দৃঢ় করো, আমার মুখ ঠিক রাখো, আমার অন্তরকে হিদায়াত দান করো এবং আমার অন্তরের কলুষতা দূরীভূত করো।)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو يَقُولُ: «رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ ربِّ اجعَلني لكَ شَاكِرًا لَكَ ذَاكِرًا لَكَ رَاهِبًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

عن ابن عباس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يدعو يقول: «رب اعني ولا تعن علي وانصرني ولا تنصر علي وامكر لي ولا تمكر علي واهدني ويسر الهدى لي وانصرني على من بغى علي رب اجعلني لك شاكرا لك ذاكرا لك راهبا لك مطواعا لك مخبتا اليك اواها منيبا رب تقبل توبتي واغسل حوبتي واجب دعوتي وثبت حجتي وسدد لساني واهد قلبي واسلل سخيمة صدري» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: দীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে অন্তর, শয়তান, জিন্, মানুষ যে কারো পক্ষ থেকে আসা শত্রুতার মুকাবেলায় আমাকে সাহায্য করো। নিজের বিরুদ্ধে আল্লাহ কর্তৃক কৌশল উদ্ভাবন অর্থ হলো কোন ব্যক্তি হয়তো বাহ্যিকভাবে দেখবে যে, সে আল্লাহর নিয়ামত পাচ্ছে, দীর্ঘ জীবন, সুস্থতা ইত্যাদি পাচ্ছে। সে মনে করবে এগুলো তার ভাল কর্মের বিনিময়ে পাচ্ছে। মূলত সর্বদা তা নয়। সে যদিও ধারণা করছে যে, তার ‘ইবাদাত কবূল হয়েছে। বাস্তবে তার ‘ইবাদাতে রিয়া (লোক দেখানো), সুম্‘আহ (লোক শুনানো) ইত্যাদি থাকার কারণে তা আল্লাহর নিকট কবূল হয়নি। এর মাধ্যমে সে আল্লাহর কৌশলের শিকার হচ্ছে।

অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা সর্বদা প্রকাশ করতে হয়। আল্লাহর নিয়ামতসমূহের কৃতজ্ঞতা জানানো জরুরী। সাথে সাথে গুনাহের কাজ, আল্লাহর রাগ ও অসন্তোষ থেকে সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকা উচিত। কৃতজ্ঞতা তিনভাবে প্রকাশ করা যায়-

[এক] অন্তরের মাধ্যমে, আর তা হলো মনে মনে এ কথা জানা যে, আমার ওপর আসা সকল নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।

[দুই] কর্মের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা; আর তা হলো আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি নিয়ামত তার যথাযথ স্থানে রাখা।

[তিন] মুখের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পর আল্লাহর প্রশংসাসূচক কথা মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

(مِطْوَاعًا) ‘‘মিত্বওয়া-‘আন’’ অর্থ হলো আল্লাহর আদেশের বেশি বেশি আনুগত্য করা, তার আদেশসমূহ যথাযথভাবে পালন করা আর নিষেধ থেকে দূরে থাকা।

(مُخْبِتًا) ‘‘মুখবিতান’’ অর্থ হলো চরম বিনয়ী, বিনম্র ও ভীত হওয়া। এ শব্দটি কুরআনে এসেছে সূরা আল হজ ২২ : ৩৫ আয়াতে। মুনীব অর্থ হলো তাওবাহকারী, অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যে ফিরে আসা, গাফলতি ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসা। কুরআনে ইব্রাহীম (আঃ)-কে মুনীব বলে আখ্যায়িত করা হয়- (দ্রঃ সূরা হূদ ১১ : ৭৫)। আমার ঈমান দৃঢ় রাখো দুনিয়া ও আখিরাতে আমার শত্রুর বিরুদ্ধে এবং কবরে সওয়াল-জবাবে। সত্য বলার ক্ষেত্রে আমার মুখকে ঠিক রাখো এবং আমার অন্তরকে সিরাতে মুস্তাক্বীমের প্রতি পরিচালিত করো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৮৯-[৮] আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললেন, অতঃপর বললেনঃ তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং শান্তি চাও। কেননা ঈমান আনার পর কাউকেও শান্তির চেয়ে উত্তম আর কিছু দেয়া হয় না। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান তবে সানাদ হিসেবে গরীব)[1]

وَعَن أبي بكرٍ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ بَكَى فَقَالَ: «سَلُوا اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فَإِنَّ أَحَدًا لَمْ يُعْطَ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْعَافِيَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيب إِسْنَادًا

وعن ابي بكر قال: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر ثم بكى فقال: «سلوا الله العفو والعافية فان احدا لم يعط بعد اليقين خيرا من العافية» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب اسنادا

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্যে কাঁদলেন যে, তিনি জানতে পেরেছিলেন তার উম্মাত বিভিন্ন ফিতনা, মনোবৃত্তি পূরণ, সম্পদ জমা করার লোভ ও সম্মান-মর্যাদা, খ্যাতি অর্জনের ভুল পথে পতিত হবে। তাই তিনি ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও শান্তি কামনা করতে আদেশ দিয়েছেন।

(الْعَفْوَ) ‘‘আফ্ওয়া’’ অর্থ হচ্ছে গুনাহ থেকে বাঁচা, গুনাহের ক্ষমা পাওয়া ও গুনাহের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া। (الْعَافِيَةَ) ‘‘আ-ফিয়াহ্’’ অর্থ হলো দীনের ক্ষেত্রে সকল ফিতনাহ্, পরীক্ষা থেকে এবং শারীরিকভাবে সকল রোগ ও ক্লান্তি থেকে নিরাপদ থাকা।

‘আ-ফিয়াহ্’ অর্থ এও হয় যে, আল্লাহ স্বয়ং বান্দার পক্ষ থেকে সকল বিপদ, বালা-মুসীবাত, রোগ-শোককে প্রতিরোধ করবেন। এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, দুনিয়ার সকল কাজ সঠিকভাবে করতে পারা এবং দুনিয়ার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা। এ দু‘আটি অন্যতম ব্যাপক দু‘আ। অনেক দু‘আতেই ‘আ-ফিয়াহ্ বা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে বুঝা যায়, প্রত্যেক বান্দার উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ‘আ-ফিয়াহ্ (চাওয়া)। এ দু‘আতে অনেক ফায়দা রয়েছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯০-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দু’আ সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার রবের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করো। অতঃপর সেই ব্যক্তি আবার দ্বিতীয় দিন এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দু’আ সর্বোত্তম? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আগের মতো বললেন। আবার সেই ব্যক্তি তৃতীয় দিন আসলো (একই প্রশ্ন করলে), তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগের মতই উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দুনিয়া ও আখিরাতে যখন শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করলে, তখন মুক্তি লাভ করলে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান তবে সানাদের দিক দিয়ে তা গরীব)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «سَلْ رَبَّكَ الْعَافِيَةَ وَالْمُعَافَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ: «فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعَافِيَةَ وَالْمُعَافَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَقَدْ أَفْلَحْتَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيب إِسْنَادًا

وعن انس ان رجلا جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله اي الدعاء افضل؟ قال: «سل ربك العافية والمعافاة في الدنيا والاخرة» ثم اتاه في اليوم الثاني فقال: يا رسول الله اي الدعاء افضل؟ فقال له مثل ذلك ثم اتاه في اليوم الثالث فقال له مثل ذلك قال: «فاذا اعطيت العافية والمعافاة في الدنيا والاخرة فقد افلحت» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب اسنادا

ব্যাখ্যা: (الْعَافِيَةَ) ‘‘আ-ফিয়াহ্’’-এর চেয়ে যে দু‘আ করা হয় সে দু‘আ সকল দু‘আর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দু‘আ। কারণ এ দু‘আর মধ্যে সকল কল্যাণ ও উপকারিতা অর্জন ও সকল অনিষ্ট ও খারাপী বর্জনের কামনা রয়েছে। জাযারী তাঁর নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলেছেন, ‘আ-ফিয়াহ্ হলো সকল রোগ ও বিপদ থেকে নিরাপদ থেকে সুস্থ থাকা। (الْمُعَافَاةَ) ‘‘মু‘আ-ফা-হ্’’ অর্থ হলো অন্যান্য মানুষের অনিষ্টতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা, অন্যের থেকে নিজেকে অমুখাপেক্ষী রাখা, অন্যরা যেন আমার থেকে কষ্ট না পায় এবং আমিও যেন অন্যদের থেকে কষ্ট না পাই এমন অবস্থা। লুম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, এখানে ‘আ-ফিয়াহ্ বলতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকাশ্য ও গোপন বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার কথা বুঝিয়েছেন।

এ হাদীস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ‘আ-ফিয়াহ্ চেয়ে দু‘আ করা সর্বোত্তম দু‘আ। বিশেষ করে প্রশ্নকারী ব্যক্তি তিনদিন সর্বোত্তম দু‘আ কোনটি তা জিজ্ঞেস করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই এ দু‘আটির কথা বলেছেন। বারবার এ দু‘আটিকে সর্বোত্তম দু‘আ হিসেবে বলাই প্রমাণ করে এটি সর্বোত্তম দু‘আ। তাছাড়া হাদীসের শেষাংশে ‘‘যখন তোমাকে ‘আ-ফিয়াহ্ দেয়া হলো তখন তুমি সফলতা লাভ করলে’’ এ বক্তব্য দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ‘আ-ফিয়াহ্ চেয়ে যে দু‘আ করা হয় সে দু‘আ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে শামিল করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯১-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল খত্বমী (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’আ করার সময় বলতেন, ’’আল্ল-হুম্মার্ যুকনী হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইয়ানফা’উনী হুব্বুহূ ’ইন্‌দাকা, আল্ল-হুম্মা মা- রযাকতানী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্’আলহু ক্যুওয়াতান লী ফীমা- তুহিব্বু, আল্ল-হুম্মা মা যাওয়াইতা ’আন্নী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্’আলহু ফারা-গান লী ফীমা- তুহিব্বু’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার ভালোবাসা এবং যার ভালোবাসা তোমার কাছে আমার জন্য কল্যাণকর হবে মনে করো তার ভালোবাসা আমাকে দান করো। হে আল্লাহ! আমি ভালোবাসি এমন যা তুমি আমাকে দিয়েছো, একে তুমি আমার অনুকূল করে দাও যা তুমি তার জন্য ভালোবাসো। হে আল্লাহ! আমি যা ভালোবাসি তার যতখানি তুমি আমার কাছ হতে দূরে রেখেছো, তাকে তুমি যা আমার পক্ষে ভালোবাসো তা করার জন্য সুযোগ-সুবিধা দান করো।)। (তিরমিযী)[1]

وَعَن عبد الله يزِيد الخطمي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ: «اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يَنْفَعُنِي حُبُّهُ عِنْدَكَ اللَّهُمَّ مَا رَزَقْتَنِي مِمَّا أُحِبُّ فَاجْعَلْهُ قُوَّةً لِي فِيمَا تُحِبُّ اللَّهُمَّ مَا زَوَيْتَ عَنِّي مِمَّا أحب فاجعله فراغا ي فِيمَا تحب» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عبد الله يزيد الخطمي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه كان يقول في دعاىه: «اللهم ارزقني حبك وحب من ينفعني حبه عندك اللهم ما رزقتني مما احب فاجعله قوة لي فيما تحب اللهم ما زويت عني مما احب فاجعله فراغا ي فيما تحب» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার ভালবাসা দান করো। কারণ কোন সৌভাগ্য, স্বাদ, নিয়ামত অনুগ্রহ কোন কিছুই কোন মু’মিন বান্দার নিকট আল্লাহর ভালবাসার থেকে অধিক প্রিয় হতে পারে না। তাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহর ভালবাসা। আল্লাহর ভালবাসাই মু’মিনের একান্ত কাম্য বিষয়। তোমার নিকট যার ভালবাসা আমার জন্য উপকারে আসবে তার ভালবাসা আমাকে দান করো। যেমন- মালাক (ফেরেশতা), নাবীগণ, আল্লাহর বন্ধু ও মুত্তাক্বীদের ভালবাসা।

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দান করেছ এমন যা কিছু আমি ভালবাসী, যেমন- শারীরিক সুস্থতা ও শক্তি-সামর্থ্য, পার্থিব ভোগের সামগ্রী, সম্পত্তি, সম্মান, খ্যাতি, সন্তান-অবসর ও অন্যান্য সমস্ত নিয়ামত। এগুলোকে তুমি যা ভালবাস যেমন তোমার আনুগত্য ও ‘ইবাদাত ইত্যাদির জন্য আমার পক্ষে অবলম্বনস্বরূপ করো। (অর্থাৎ- এসব পার্থিব নিয়ামতকে ব্যবহার করে আমি যেন তোমার ‘ইবাদাত ও আনুগত্যমূলক কাজ যথাযথভাবে করতে পারি সে তাওফীক দাও।)

হে আল্লাহ! তুমি আমার থেকে যা দূরে রেখেছ বা আমাকে দাওনি অথচ আমি তা ভালবাসি; তুমি সেগুলোকে আমার অবসরে তোমার আনুগত্য, ‘ইবাদাত, জিকির-আযকার করার উপায় হিসেবে গ্রহণ করো, যা করা তুমি ভালবাস।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯২-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাজলিস (বৈঠক) হতে খুব কমই উঠতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাহাবীগণের জন্য এ দু’আ না করতেন-

’’আল্ল-হুম্মাকসিম লানা- মিন্ খশ্ইয়াতিকা মা- তাহূলু বিহী বায়নানা- ওয়া বায়না মা’আ-সীকা ওয়ামিন্ ত্ব-’আতিকা মা- তুবাল্লিগুনা- বিহী জান্নাতাকা ওয়ামিনাল ইয়াক্বীনি মা- তুহাওবিনু বিহী ’আলায়না- মুসীবা-তিদ্ দুন্ইয়া- ওয়া মাত্তি’না- বিআসমা-’ইনা- ওয়া আবস-রিনা- ওয়া ক্যুওয়াতিনা- মা- আহ্ইয়াইতানা- ওয়াজ্’আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না- ওয়াজ্’আল সা’রানা- ’আলা- মান্ যলামনা- ওয়ানসুরনা- ’আলা- মান ’আ-দা-না ওয়ালা- তাজ্’আল মুসীবাতানা- ফী দীনিনা- ওয়ালা- তাজ্’আলিদ্ দুন্ইয়া- আকবারা হাম্মিনা- ওয়ালা- মাব্‌লাগা ’ইলমিনা- ওয়ালা- তুসাল্লিত্ব ’আলায়না- মান্ লা- ইয়ার্‌হামুনা-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মধ্যে ঐ পরিমাণ তোমার ভীতি-সঞ্চার করো যা দিয়ে তুমি আমাদের মাঝে ও তোমার নাফরমানীর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তোমার ’ইবাদাত-আনুগত্যের ঐ পরিমাণ আমাদেরকে দান করো, যা দিয়ে তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং তোমার ওপর ঈমানের ঐ পরিমাণ দান করো যা দিয়ে তুমি দুনিয়ার বিপদাপদ সহজ করে দেবে। হে আল্লাহ! আমাদের উপকার সাধন করো আমাদের কানের মাধ্যমে, আমাদের চোখের মাধ্যমে ও আমাদের শক্তির মাধ্যমে, যতক্ষণ না তুমি আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উত্তরাধিকারী জারী রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিশোধ-প্রতিরোধকে সীমাবদ্ধ রাখো তাদের ওপর, যারা আমাদের ওপর যুলম [অত্যাচার-অবিচার] করেছে এবং আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করো তাদের বিরুদ্ধে, যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে। হে আল্লাহ! আমাদের দীন সম্পর্কে আমাদেরকে কোন বিপদে ফেলো না এবং দুনিয়াকে আমাদের মৌলিক চিন্তার বিষয় ও জ্ঞানের পরিসীমা করো না। হে আল্লাহ! যারা আমাদের ওপর দয়া প্রদর্শন করবে না, তাদেরকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلَاءِ الدَّعَوَاتِ لِأَصْحَابِهِ: «اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيْبَاتِ الدُّنْيَا وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلَا تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلَا مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلَا تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لَا يَرْحَمُنَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

وعن ابن عمر قال: قلما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم من مجلس حتى يدعو بهولاء الدعوات لاصحابه: «اللهم اقسم لنا من خشيتك ما تحول به بيننا وبين معاصيك ومن طاعتك ما تبلغنا به جنتك ومن اليقين ما تهون به علينا مصيبات الدنيا ومتعنا باسماعنا وابصارنا وقوتنا ما احييتنا واجعله الوارث منا واجعل ثارنا على من ظلمنا وانصرنا على من عادانا ولا تجعل مصيبتنا في ديننا ولا تجعل الدنيا اكبر همنا ولا مبلغ علمنا ولا تسلط علينا من لا يرحمنا» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: বলা হয়, অন্তর যখন আল্লাহর ভয়ে পরিপূর্ণ থাকে তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর অবাধ্যমূলক কাজ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহর ভয়ের অনুপাতে গুনাহের কাজ থেকেও বিরত থাকা বাড়ে-কমে। যখন ভয় একেবারে কমে যায় এবং চরম গাফলতিতে অন্তর নিমজ্জিত হয় তখন তা ব্যক্তির দুর্ভাগ্যের চিহ্ন প্রকাশ করে। এজন্যই বিদ্বানগণ বলেছেন যে, আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজ মূলত কুফরীর দূত যেমনভাবে চুম্বন হচ্ছে যৌনমিলনের দূত, গান হচ্ছে যিনার (ব্যভিচার) দূত, দৃষ্টি হচ্ছে যৌন উত্তেজনার দূত, রোগ হচ্ছে মৃত্যুর দূত। দুনিয়া ও আখিরাতে এবং ব্যক্তির শরীর ও বুদ্ধি-বিবেচনাশক্তির উপর গুনাহের খুবই খারাপ ও ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে, যে প্রভাব আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারবে না।

এখানে দুনিয়ার মুসীবাত বা বিপদাপদসমূহ বলতে, রোগ-বালাই, আঘাত, সম্পদ বিনষ্ট হওয়া, সন্তান মারা যাওয়া ইত্যাদি বুঝাচ্ছে। যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে নিশ্চিতভাবে জানবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়ায় যে বিপদাপদ দিচ্ছেন তার বিনিময়ে আখিরাতে তাকে সাওয়াব দান করবেন, তার গুনাহসমূহ মাফ করবেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। তাই কোন বিপদাপদে তার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও হতাশ না হয়ে বরং শেষ পর্যন্ত এর বিনিময়ে সাওয়াব পাওয়ার কারণে তার খুশি হওয়া উচিত।

এ দু‘আর শেষ অংশে বলা হয়েছে- ‘‘তুমি দুনিয়াকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ বানাবেন না’’। এর অর্থ হলো, পার্থিব সম্পত্তি ও সম্মান অর্জনকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ বানিও না, বরং আখিরাতকেই আমাদের চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণ বানাও।

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দুনিয়ার জীবনে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্জনের যতটুকু চিন্তা না করলেই নয় ততটুকু করা অন্যায় নয় বরং অনুমোদিত এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মুস্তাহাব বা ওয়াজিবও।

হাদীসের সর্বশেষ অংশে অত্যাচারী বা কাফিরদের অধীনস্ত না বানাতে দু‘আ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কাফির ও যালিমদেরকে আমাদের ওপর শাসক বা বিচারক নিয়োগ করো না। কেননা যালিমরা অধীনস্তদের ওপর রহম বা দয়া করে না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৩-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আ) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মান্ ফা’নী বিমা- ’আল্লামতানী ওয়া ’আল্লিমনী মা- ইয়ানফা’উনী ওয়া যিদ্‌নী ’ইলমা-, আলহামদু লিল্লা-হি ’আলা- কুল্লি হা-লিন্ ওয়া আ’ঊযুবিল্লা-হি মিন হা-লি আহলিন্‌না-র’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছো তা আমাদের উপকারে লাগাও এবং আমাদের উপকারে আসে এমন শিক্ষা দান করো, আর আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করো। প্রত্যেক অবস্থায়ই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি জাহান্নামীদের অবস্থা হতে এবং আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটির সানাদ গরীব)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي وَزِدْنِي عِلْمًا الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا

وعن ابي هريرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم انفعني بما علمتني وعلمني ما ينفعني وزدني علما الحمد لله على كل حال واعوذ بالله من حال اهل النار» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب اسنادا

ব্যাখ্যা: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন জ্ঞান দান করো যা আমার উপকার করবে’। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, উপকারী জ্ঞান ছাড়া অন্য কোন জ্ঞান চাওয়া যাবে না। আর উপকারী জ্ঞান হলো দীনের জ্ঞান এবং দুনিয়ার ততটুকু জ্ঞান যতটুকু দীনের উপকারে আসবে। এ দু’টি ছাড়া বাকী সব জ্ঞান ঐ জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হবে যে জ্ঞান অর্জনকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

وَيَتَعَلَّمُوْنَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ

‘‘তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতি সাধন করত এবং কোন উপকারে আসত না।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ১০২)

এ আয়াতে যাদুবিদ্যা শিক্ষা করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ এ বিদ্যা তো আখিরাতে তাদের উপকারে আসবেই না বরং তাদের ক্ষতি করবে। যদিও এ জ্ঞান দুনিয়ায় তাদেরকে উপকার করবে কিন্তু এ উপকার শারী‘আতের দৃষ্টিতে কোন উপকারই নয়।

হাদীসে জ্ঞান বৃদ্ধির দু‘আ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী ‘আমল করবে তাকে আল্লাহ এমন জ্ঞান দিবেন যা সে জানে না। এর দ্বারা আরো বুঝা যায় যে, জ্ঞান হলো ‘আমলের মাধ্যম। একটি অপরটির পরিপূরক।

এ দু‘আ দ্বারা আরো একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল জ্ঞান বৃদ্ধি করার দু‘আ ছাড়া অন্য কোন কিছু বৃদ্ধির বা অতিরিক্ত চাইতে দু‘আ করতে শিক্ষা দেননি। শুধু জ্ঞানই অতিরিক্ত বা বেশি চাওয়া মুস্তাহাব। (তাই সকল জিনিসের উপর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত)।

দুঃখ-কষ্টসহ সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা এ জন্য করতে হবে যে, আল্লাহ এর চেয়ে কঠিন বিপদ বা কষ্ট দেননি। কখনো কখনো কষ্ট-দুর্দশার শেষ পরিণতি হয় সুখকর ও আনন্দময়। তখন ঐ ব্যাপারে প্রশংসা করা বাঞ্ছনীয় হয়। যেমন- মহান আল্লাহ বলেন,

وَعَسٰى أَنْ تَكْرَهُوْا شَيْئًا وَّهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

‘‘সম্ভবত তোমরা এমন কিছুকে অপছন্দ করো যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’’

(সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২১৬)

ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেছেন, এমন কোন দুঃখণ্ডকষ্ট নেই যার অপর পাশে আল্লাহর অনুগ্রহ নেই। তাই ঐসব অনুগ্রহের কথা ভেবেই আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আর জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে আশ্রয় চাওয়ার অর্থ হলো, দুনিয়ায় কুফরী ও ফাসিক্বী থেকে বেঁচে থাকা এবং আখিরাতে ‘আযাব বা শাস্তি থেকে বেঁচে থাকা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৪-[১৩] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো তাঁর মুখে মৌমাছির গুন্ গুন্ শব্দের মতো আওয়াজ শোনা যেতে। এভাবে একদিন তাঁর ওপর ওহী নাযিল করা হলো। আমরা কিছু সময় তাঁর কাছে অপেক্ষা করলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বাভাবিক হয়ে কিবলার দিকে ফিরলেন এবং হাত উঠিয়ে বললেন,

’’আল্ল-হুম্মা যিদনা- ওয়ালা- তানক্বুসনা- ওয়া আকরিমনা- ওয়ালা- তুহিন্না- ওয়া আ’ত্বিনা- ওয়ালা- তাহ্‌রিম্‌না- ওয়া আ-সির্‌না- ওয়ালা- তু’সির ’আলায়না- ওয়া আর্‌যিনা- ওয়ার্‌যা ’আন্না-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য [তোমার দান] বাড়িয়ে দাও, কম করো না। আমাদেরকে সম্মানিত করো, অপমানিত করো না। আমাদেরকে দান করো, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে ক্ষমতা দাও, কাউকেও আমাদের বিপক্ষে ক্ষমতা দিও না। তুমি আমাদেরকে খুশী করো, আমাদের প্রতিও তুমি খুশী থাকো।)।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন আমার ওপর দশটি আয়াত নাযিল হলো, যে ব্যক্তি এ আয়াত বাস্তবায়ন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করতে লাগলেন, (সূরা মু’মিনূন-এর শুরু হতে) ’’কদ্ আফলাহাল মু’মিনূন’’ (অর্থাৎ- মু’মিনগণ কৃতকার্য হয়েছে)- এভাবে দশটি আয়াত (তিলাওয়াত) শেষ করলেন। (আহমাদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ سُمِعَ عِنْدَ وَجْهِهِ دوِي كَدَوِيِّ النَّحْل فأنل عَلَيْهِ يَوْمًا فَمَكَثْنَا سَاعَةً فَسُرِّيَ عَنْهُ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ: «اللَّهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنْقُصْنَا وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا وَأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا وَآثِرْنَا وَلَا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا وَأَرْضِنَا وَارْضَ عَنَّا» . ثُمَّ قَالَ: «أُنْزِلَ عَلَيَّ عَشْرُ آيَاتٍ مَنْ أَقَامَهُنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ» ثُمَّ قَرَأَ: (قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ)
حَتَّى خَتَمَ عَشْرَ آيَاتٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيّ

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا انزل عليه الوحي سمع عند وجهه دوي كدوي النحل فانل عليه يوما فمكثنا ساعة فسري عنه فاستقبل القبلة ورفع يديه وقال: «اللهم زدنا ولا تنقصنا واكرمنا ولا تهنا واعطنا ولا تحرمنا واثرنا ولا توثر علينا وارضنا وارض عنا» . ثم قال: «انزل علي عشر ايات من اقامهن دخل الجنة» ثم قرا: (قد افلح المومنون) حتى ختم عشر ايات. رواه احمد والترمذي

ব্যাখ্যা: (دَوِىٌّ) ‘‘দাভিয়্যু’’ বলতে মূলত এমন আওয়াজকে বুঝায় যে আওয়াজ বুঝা যায় না। এটা ছিল জিবরীল (আঃ)-এর আওয়াজ। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওহী পৌঁছে দিতেন এবং এমতাবস্থায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশে-পাশে উপস্থিত সাহাবীগণ ঐ আওয়াজের কিছুই বুঝতে পারতেন না।

তুমি আমাদের সম্মানিত করো। এর অর্থ হলো তুমি দুনিয়ায় আমাদের প্রয়োজন পূরণ ও আখিরাতে আমাদের স্থান উচ্চে উঠানোর মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করো।

তুমি আমাদেরকে সন্তুষ্ট করো। অর্থাৎ- আমাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে যা নির্ধারণ করেছ তার প্রতি ধৈর্য ধারণ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের শক্তি, আনুগত্য বজায় রাখা ও আমাদের জন্য যা বণ্টন করে দিয়েছ তার প্রতি তুষ্ট হওয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে তোমার প্রতি সন্তুষ্ট রাখো।

আমাদের সাধ্য অনুযায়ী যে সামান্য ও তুচ্ছ চেষ্টা ও আনুগত্য করি তার প্রতি তুমি সন্তুষ্ট থাকো এবং আমাদের খারাপ কাজের জন্য আমাদেরকে পাকড়াও করো না।

শেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি এ সূরা আল মু’মিনূন-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে এবং এগুলোর বিধিবিধানের উপর স্থায়ীভাবে ‘আমল করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৫-[১৪] ’উসমান ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে আরোগ্য (দৃষ্টিশক্তি) দান করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করবো। কিন্তু তুমি যদি চাও ধৈর্যধারণ করতে পারো, আর এটাই তোমার জন্য উত্তম হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য দু’আ করুন। বর্ণনাকারী [’উসমান (রাঃ)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকটিকে উত্তমরূপে উযূ করতে ও এ দু’আ পড়তে বললেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহূ ইলায়কা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির্ রহমতি ইন্নী তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা- রব্বী লিইয়াকযিয়া লী ফী হা-জাতী হা-যিহী আল্ল-হুম্মা ফাশাফ্‌ফি’হু ফিয়্যা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার নবী মুহাম্মাদ, যিনি রহমতের নবী। তাঁর ওয়াসীলায় আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে ফিরছি। হে নবী! আমি আপনার ওয়াসীলায় আমার রবের দিকে ফিরছি, তিনি যেন আমার এ প্রয়োজন পূরণ করেন। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্যে তাঁর সুপারিশ কবূল করো।)। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[1]

عَن عثمانَ بنِ حُنَيفٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا ضَرِيرَ الْبَصَرِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَنِي فَقَالَ: «إِنْ شِئْتَ دَعَوْتُ وَإِنْ شِئْتَ صَبَرْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ» . قَالَ: فَادْعُهُ قَالَ: فَأَمَرَهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ فَيُحْسِنَ الْوُضُوءَ وَيَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِ إِنِّي تَوَجَّهْتُ بِكَ إِلَى رَبِّي لِيَقْضِيَ لِي فِي حَاجَتِي هَذِهِ اللهُمَّ فشفّعْه فيَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب

عن عثمان بن حنيف قال: ان رجلا ضرير البصر اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ادع الله ان يعافيني فقال: «ان شىت دعوت وان شىت صبرت فهو خير لك» . قال: فادعه قال: فامره ان يتوضا فيحسن الوضوء ويدعو بهذا الدعاء: «اللهم اني اسالك واتوجه اليك بنبيك محمد نبي الرحمة اني توجهت بك الى ربي ليقضي لي في حاجتي هذه اللهم فشفعه في» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তির চোখের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্ন অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। নাসায়ী’র বর্ণনায় ‘‘অন্ধ ব্যক্তি’’, মুসনাদে আহমাদণ্ডএর বর্ণনায় ‘‘এমন ব্যক্তি যার চোখের দৃষ্টি চলে গিয়েছে’’, ত্ববারানী ও ইবনুস্ সুন্নীর বর্ণনা মতে ‘‘রোগগ্রস্ত ব্যক্তি’’ এমন অভিধায় ব্যক্তিকে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার চোখের সমস্যা দূর করার নিমিত্তে আল্লাহর নিকট দু‘আ করার জন্য আবেদন জানালে তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি চাইলে দু‘আ করতে পারো কিংবা তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, আর ধৈর্য ধারণ করাটাই তোমার জন্য উত্তম হবে। দু‘আ না করাটা তার জন্য উত্তম হবে- এমন কথা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য বললেন যে, অন্য হাদীসে কুদ্সীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

إذا ابتليت عبدي بحبيبتيه ثم صبر عوضته منهما الجنة

‘‘আমার কোন বান্দাকে যখন তার দু’ চোখ দ্বারা পরীক্ষা করি, অর্থাৎ- অন্ধ করি, অতঃপর সে এ বিপদে ধৈর্য ধারণ করে তাহলে তাকে আমি ঐ দু’ চোখের বিনিময়ে জান্নাত দান করি।’’

তারপর লোকটি ধৈর্য ধারণ না করে তার জন্য দু‘আ করতে বললেন। আহমাদ, ইবনু মাজাহ্ ও হাকিম-এর বর্ণনা মতে, এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তমরূপে উযূ করে দু’ রাক্‘আত নফল সালাত আদায় করে হাদীসে উল্লিখিত দু‘আটি পড়তে বললেন। এ হচ্ছে হাদীসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা।

এ হাদীস দ্বারা অনেকে দলীল পেশ করতে চান যে, নাবী, সৎ ব্যক্তি বা মৃত কোন ব্যক্তির সত্তাকে ওয়াসীলাহ্ করে অল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া বৈধ। অথচ তাদের এ দাবী সার্বিক বিবেচনায় অসত্য। কারণ নাবী বা সৎ ব্যক্তিগণ জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের ওয়াসীলায় দু‘আ করা বৈধ হলেও তাদের মৃত্যুর পর তাদের ওয়াসীলাহ্ ব্যবহার করা বৈধ নয়। যেমন- ‘উমার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর বৃষ্টির জন্য তাঁর চাচা ‘আব্বাস (রাঃ)-এর ওয়াসীলায় দু‘আ চেয়েছেন; নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াসীলায় নয়। যদি মৃত ব্যক্তির ওয়াসীলায় দু‘আ করা বৈধ হত তাহলে ‘উমার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াসীলায় দু‘আ চাইতেন। তাছাড়া গুহায় আটকে পড়া তিন ব্যক্তি তাদের নিজ নিজ ‘আমলের ওয়াসীলাহ্ করে দু‘আ করে মুক্তি পেয়েছিলেন। তারা অন্য কোন ব্যক্তির বা কারো ‘আমলের ওয়াসীলাহ্ করে দু‘আ করেননি।

উপরোক্ত দু’টি দলীল ছাড়াও আরো দলীল, যুক্তি ও বিশ্লেষণ লেখক মূল গ্রন্থে আলোচনা করেছেন যার সার কথা হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তার ওয়াসীলাহ্ ব্যবহার করে দু‘আ করা বৈধ নয়। বিস্তারিত জানতে মূল গ্রন্থ দেখুন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৬-[১৫] আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাঊদ (আঃ)-এর দু’আ ছিল এটা, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইউহিব্বুকা ওয়াল ’আমলাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুব্বাকা, আল্ল-হুম্মাজ্’আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন্ নাফসী ওয়ামা- লী ওয়া আহলী ওয়ামিনাল মা-য়িল বা-রিদ’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা প্রত্যাশা করি, আর যে তোমাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসা চাই এবং আমি ঐ কাজের শক্তি চাই, যে শক্তি আমাকে তোমার ভালোবাসার দিকে নিয়ে যাবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার কাছে আমার জীবন, আমার ধন-সম্পদ, আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাণ্ডা পানির চেয়েও বেশি পছন্দনীয় করে তোলো।)

বর্ণনাকারী [আবূ দারদা (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঊদ (আঃ)-কে স্মরণ করতেন, তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, দাঊদ (আঃ) তাঁর যুগের সর্বাধিক ’ইবাদাতগুজার ছিলেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ دَاوُدَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَمَالِي وَأَهْلِي وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ» . قَالَ: وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَكَرَ دَاوُدَ يُحَدِّثُ عَنْهُ يَقُولُ: «كَانَ أَعْبَدَ الْبَشَرِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

وعن ابي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كان من دعاء داود يقول: «اللهم اني اسالك حبك وحب من يحبك والعمل الذي يبلغني حبك اللهم اجعل حبك احب الي من نفسي ومالي واهلي ومن الماء البارد» . قال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ذكر داود يحدث عنه يقول: «كان اعبد البشر» رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, দাঊদ (আঃ) তার সমসাময়িক যুগের মানুষদের মধ্যে সর্বাধিক ‘ইবাদাতকারী ব্যক্তি ছিলেন। তবে কারী বলেন, তিনি শুধু তার যুগেরই নন বরং সকল যুগের সর্বাধিক ‘ইবাদাতকারী ব্যক্তি ছিলেন। তবে কারো কারো মতে, তিনি সর্বাধিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী ব্যক্তি ছিলেন।

যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اعْمَلُوا آلَ دَاوُوْدَ شُكْرًا

‘‘হে দাঊদ পরিবার! কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করতে থাকো’’- (সূরা সাবা ৩৪ : ১৩)। অর্থাৎ- আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছ এবং এ ক্ষেত্রে তোমার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখো।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৭-[১৬] ’আত্বা ইবনুস্ সায়িব (রহঃ) তার পিতা সায়িব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন সাহাবী ’আম্মার ইবনু ইয়াসির আমাদেরকে এক সালাত আদায় করালেন। এতে তিনি (সূরা-কিরাআত) সংক্ষেপ করলেন। তখন সালাত আদায়কারীদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, আপনি এত তাড়াতাড়ি সালাত আদায় করালেন ও সংক্ষেপ করলেন। তিনি বললেন, এতে আমার অসুবিধা হবে না। কেননা এতে আমি যেসব দু’আ পড়েছি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেছি। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি তার অনুকরণ করলো। ’আত্বা বলেন, তিনি হলেন আমারই পিতা সায়িব, তবে তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করে ইশারায় বললেন। তিনি ’আম্মারকে দু’আটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন এবং পরে এসে লোকদেরকে তা জানালেন। দু’আটি হলো,

’’আল্ল-হুম্মা বি’ইলমিকাল গয়বা ওয়া ক্বুদরতিকা ’আলাল খলকি আহয়িনী মা- ’আলিমতাল হায়া-তা খয়রল লী, আল্ল-হুম্মা ওয়া আস্আলুকা খশ্ইয়াতাকা ফিল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি ওয়া আস্আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফিররিযা- ওয়াল গযাবি ওয়া আস্আলুকাল কসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা- ওয়া আস্আলুকা না’ঈমাল লা- ইয়ানফাদু ওয়া আস্আলুকা ক্বুররতা ’আয়নিল লা- তানক্বত্বি’উ ওয়া আস্আলুকার্ রিযা- বা’দাল কযা-য়ি ওয়া আস্আলুকা বার্‌দাল ’আয়শি বা’দাল মাওতি ওয়া আস্আলুকা লায্যাতান্ নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা ওয়াশ্ শাওকা ইলা- লিকা-য়িকা ফী গয়রি যররা-আ মুযির্‌রতিন ওয়ালা- ফিত্‌নাতিন মুযিল্লাতিন, আল্ল-হুম্মা যায়ইয়ানা- বিযীনাতিল ঈমা-নি ওয়াজ্’আলনা- হুদা-তান মাহদীয়্যিন’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার গায়বের ’ইলম ও সৃষ্টির উপর তোমার ক্ষমতা রাখার দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাকে ততদিন জীবিত রাখবে, যতদিন আমার জীবন আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করবে। আর আমাকে মৃত্যুদান করবে, যখন তুমি মৃত্যুকে আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করবে। হে আল্লাহ! আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে যেন তোমাকে ভয় করি, তোমার কাছে সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট অবস্থায় সত্য বলার সাহস চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে স্বচ্ছলতা ও অভাবে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফীক চাই। তোমার নিকট চাই এমন নিয়ামত যা কক্ষনো নিঃশেষ হবে না। আমি তোমার কাছে আরো চাই চোখ জুড়াবার বিষয়, যা কক্ষনো বন্ধ হবে না। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার হুকুমের উপর পরিতুষ্ট থাকতে চাই। তোমার কাছে চাই মৃত্যুর পরের উত্তম জীবন। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে (জান্নাতে) তোমার প্রতি দৃষ্টি দেবার স্বাদ গ্রহণ করতে চাই এবং ক্ষতিকর কষ্ট ও পথভ্রষ্টকারীর ফাসাদে পড়া ছাড়া তোমার সাক্ষাতের আশা-আকাঙ্খা করি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের বলে বলীয়ান করো আর হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াত প্রদর্শনকারী করো।)। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: صَلَّى بِنَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ صَلَاةً فَأَوْجَزَ فِيهَا فَقَالَ لَهُ بَعْضُ الْقَوْمِ: لَقَدْ خَفَّفْتَ وَأَوْجَزْتَ الصَّلَاةَ فَقَالَ أَمَا عَلَيَّ ذَلِكَ لَقَدْ دَعَوْتُ فِيهَا بِدَعَوَاتٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَامَ تَبِعَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هُوَ أَبِي غَيْرَ أَنَّهُ كَنَّى عَنْ نَفْسِهِ فَسَأَلَهُ عَنِ الدُّعَاءِ ثُمَّ جَاءَ فَأَخْبَرَ بِهِ الْقَوْمَ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وقُدرتِكَ على الخَلقِ أَحْيني مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَى وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَى بَعْدَ الْقَضَاءِ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقِ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اللَّهُمَّ زِيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مَهْدِيِّينَ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ

وعن عطاء بن الساىب عن ابيه قال: صلى بنا عمار بن ياسر صلاة فاوجز فيها فقال له بعض القوم: لقد خففت واوجزت الصلاة فقال اما علي ذلك لقد دعوت فيها بدعوات سمعتهن من رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما قام تبعه رجل من القوم هو ابي غير انه كنى عن نفسه فساله عن الدعاء ثم جاء فاخبر به القوم: «اللهم بعلمك الغيب وقدرتك على الخلق احيني ما علمت الحياة خيرا لي وتوفني اذا علمت الوفاة خيرا لي اللهم واسالك خشيتك في الغيب والشهادة واسالك كلمة الحق في الرضى والغضب واسالك القصد في الفقر والغنى واسالك نعيما لا ينفد واسالك قرة عين لا تنقطع واسالك الرضى بعد القضاء واسالك برد العيش بعد الموت واسالك لذة النظر الى وجهك والشوق الى لقاىك في غير ضراء مضرة ولا فتنة مضلة اللهم زينا بزينة الايمان واجعلنا هداة مهديين» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে উল্লিখিত দু‘আর মধ্যে আল্লাহর বেশ কিছু গুণের কথা উল্লেখ রয়েছে। যার ওয়াসীলায় দু‘আ করা হয়েছে। তাই এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর গুণাবলী দ্বারা তাঁর নিকট ওয়াসীলা করে দু‘আ করা বৈধ।

হাদীসের উল্লিখিত দু‘আয় যে চোখ জুড়াবার বিষয় কামনা করা হয়েছে এর দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। কারো মতে এখানে সন্তানাদির কথা বুঝানো হয়েছে, যার প্রসঙ্গ কুরআনের এ দু‘আয় বর্ণিত হয়েছে, ‘‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করো যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর।’’ (সূরা আল ফুরকা-ন ২৫ : ৭৪)

কারো মতে এর দ্বারা নিয়মিত সালাত আদায় করা ও তা সংরক্ষণ করাকে বলা হয়েছে। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, وجعلت قرة عيني في الصلاة ‘‘এবং সালাতে আমার চোখ জুড়াবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ কারো মতে এর দ্বারা জান্নাতের নিয়ামত বুঝানো হয়েছে যা কখনো শেষ হবে না। কারো মতে এর দ্বারা সর্বদা আল্লাহর জিকির করা, তাকে পূর্ণভাবে ভালোবাসা বুঝানো হচ্ছে।

এ দু‘আয় পরকালে আল্লাহকে দেখার কামনা করার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, আখিরাতে নির্বাচিত কিছু মানুষ আল্লাহকে দেখতে পারবে। আর এটাই আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘আক্বীদাহ্।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৮-[১৭] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ’ইলমান না-ফি’আন ওয়া ’আমলান মুতাকব্বালান ওয়া রিযকন ত্বইয়্যিবা-’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, কবূলযোগ্য ’আমল ও হালাল রিযক চাই)। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ صَلَاةِ الْفَجْرِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا وَرِزْقًا طَيِّبًا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّعوات الْكَبِير

وعن ام سلمة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر صلاة الفجر: «اللهم اني اسالك علما نافعا وعملا متقبلا ورزقا طيبا» . رواه احمد وابن ماجه والبيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের সালাম ফিরানোর পরে এ দু‘আ করতেন যে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী জ্ঞান; যে জ্ঞান অনুযায়ী করা ‘আমল আখিরাতে আমার পক্ষে দলীল হবে; বিপক্ষে নয়, এমন জ্ঞান কামনা করছি এবং এমন ‘আমল করার শক্তি চাচ্ছি যে, ‘আমল ইখলাসপূর্ণ হবে এবং তোমার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে এবং হালাল রিযক চাই, যে রিযক শক্তি যোগাবে এবং তোমার আনুগত্যমূলক কাজে সহায়ক হবে।

ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ জ্ঞানকে উপকারের সাথে, রিযককে হালাল হওয়ার সাথে এবং ‘আমলকে মাকবূল হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে এজন্য যে, যে জ্ঞান উপকারে আসে না সে জ্ঞান আখিরাতের কোন কাজে আসবে না। কখনো কখনো এ অনুপকারী জ্ঞান দুর্ভাগ্যের কারণ হয়। এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপকারী জ্ঞান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। আর প্রত্যেক হালাল নয় এমন রিযক শাস্তির মুখোমুখি করবে এবং আল্লাহর নিকট মাকবূল নয় এমন ‘আমল করে শুধু আত্মাকেই কষ্ট দেয়া হয়, শেষ পর্যন্ত তা উপকারে আসে না।

এ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, ফরয সালাতের সালামের পরে দু‘আ করা শারী‘আহ্ সম্মত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৪৯৯-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একটি দু’আ মুখস্থ করেছি, যা আমি কক্ষনো পরিত্যাগ করি না- (দু’আটি হলো) ’’আল্ল-হুম্মাজ্’আলনী উ’যিমু শুক্‌রাকা ওয়া উকসিরু যিক্‌রাকা ওয়া আত্তাবি’উ নুস্‌হাকা ওয়া আহফাযু ওয়াসিয়্যাতাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন তাওফীক দাও, যাতে আমি তোমার শুকর-গুজার হতে পারি, বেশি বেশি তোমার জিকির [স্মরণ] করতে পারি, তোমার নাসীহাত [উপদেশ] পালন করতে পারি এবং তোমার হুকুম রক্ষা করতে পারি।)। (তিরমিযী)[1]

وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: دُعَاءٌ حَفِظْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أَدَعُهُ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي أُعْظِمُ شُكْرَكَ وَأُكْثِرُ ذِكْرَكَ وَأَتَّبِعُ نُصْحَكَ وَأَحْفَظُ وصيتك» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي هريرة قال: دعاء حفظته من رسول الله صلى الله عليه وسلم لا ادعه: «اللهم اجعلني اعظم شكرك واكثر ذكرك واتبع نصحك واحفظ وصيتك» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: হে আল্লাহ! তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কারণে আমাকে মহান করো। অর্থাৎ- বেশি বেশি তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এবং সর্বদা তোমাকে স্মরণে রাখার তাওফীক দান করো। তোমার প্রদত্ত অগণিত নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারীর উপর যেসব কাজ করা আবশ্যক সেসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার তাওফীক দাও।

তোমার নাসীহাতের অনুসরণ করার তাওফীক দাও। অর্থাৎ- তোমার সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে দেয় এমন কাজ যথাযথভাবে করা এবং তোমার অসন্তোষ সৃষ্টি করে এমন সবকিছু থেকে দূরে থাকার তাওফীক দাও। নাসীহাত বলতে মূলত আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতা এবং কারো জন্য কল্যাণ কামনা করাকে বুঝায়।

তোমার ওয়াসিয়্যাতসমূহ সংরক্ষণ তথা আদেশসমূহ প্রতিপালন ও নিষেধাজ্ঞাসমূহ বর্জন যেন আমি করতে পারি সে তাওফীক দাও।

তাছাড়া নিমেণাক্ত আয়াতে যা বলা হয়ে তা পালনের তাওফীক দাও। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللهِ

‘‘তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৩১)

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষের জন্য একটিই ওয়াসিয়্যাত। আর তা হলো তাকওয়া অথবা সকল সময়ে সকল কাজ-কর্মে আল্লাহর নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং তার বণ্টন ব্যবস্থার (তাকদীরের) উপর সন্তুষ্ট থাকা।

ইমাম ত্বীবী বলেন, নাসীহাত হলো কারো জন্য কল্যাণ কামনা করা। এর দ্বারা বান্দার হককে বুঝানো হচ্ছে। অপরদিকে ওয়াসিয়্যাত দ্বারা আল্লাহর হাক্বের অন্তর্ভুক্ত আদেশ পালন এবং নিষেধ বর্জন করাকে বুঝায়। আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৫০০-[১৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’আয়) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাস্ সিহহাতা ওয়াল ’ইফফাতা ওয়াল আমা-নাতা ওয়া হুস্‌নাল খুলুকি ওয়ার্ রিযা- বিল কদার’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুস্বাস্থ্য, পবিত্রতা, আমানাতদারী, উত্তম চরিত্র এবং তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক কামনা করছি)।[1]

وَعَن عبدِ الله بنِ عَمْروٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ والأمانةَ وحُسنَ الْخلق والرضى بِالْقدرِ»

وعن عبد الله بن عمرو قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم اني اسالك الصحة والعفة والامانة وحسن الخلق والرضى بالقدر»

ব্যাখ্যা: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সকল রোগ-ব্যাধি থেকে শারীরিক সুস্থতা চাই অথবা সর্বাবস্থায় সুস্থ থাকা, সঠিক কথা বলা এবং সঠিক কাজ করার তাওফীক চাই।

অত্র হাদীসে সংযম অর্থ হচ্ছে অবৈধ সকল কিছু পরিত্যাগ করা ও তা থেকে বিরত থাকা। মানাবী বলেন, এখানে সকল হারাম ও মাকরূহ এবং মুরুয়াহ্’র (শিষ্টাচারিতা বা আমানাতদারিতার) ঘাটতি তৈরি করে এমন সকল বস্ত্ত ও বিষয় থেকে সংযম চাই।

এখানে (الأمانةَ) ‘‘আমা-নাহ্’’ বলতে ব্যক্তির কাছে থাকা আল্লাহ ও জনগণ; উভয়ের আমানাত সংরক্ষণের কথা বুঝানো হয়েছে।

(حُسنَ الْخلق) ‘‘হুসনুল খুলক্ব’’ বা সচ্চরিত্র বলতে সৃষ্টির সাথে সহৃদয় আচরণ ও তাদের দেয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করা। কারী বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের সাথে সদাচরণ করা। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকলে বান্দা ‘ইবাদাত করার সময়ে মনোযোগী হতে পারবে না। কারণ ‘ইবাদাতের সময় তার মাথায় বারবার চিন্তা আসবে যে, এটি কেন সে পেল না? ঐ কাজটি কেন এমন হলো? ইত্যাদি। তাই সে যদি তার পাওয়া না পাওয়া আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত- এমন বিশ্বাস রাখে এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে তাহলে সে ‘ইবাদাতে মশগুল থাকতে পারবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৫০১-[২০] উম্মু মা’বাদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, [তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’আ করতেন]

’’আল্ল-হুম্মা ত্বহ্‌হির কলবী মিনান্ নিফা-কি ওয়া ’আমলী মিনার্ রিয়া-য়ি ওয়া লিসা-নী মিনাল কাযিবি ওয়া ’আয়নী মিনাল খিয়া-নাতি ফাইন্নাকা তা’লামু খ-য়িনাতাল আ’ইউনি ওয়ামা- তুখফিস্ সুদূর’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে মুনাফিক্বী হতে, আমার কাজকে লোক দেখানো হতে, আমার জবানকে মিথ্যা বলা হতে এবং [আমার] চোখকে খিয়ানাত করা হতে পাক-পবিত্র করো। তুমি অবশ্যই জানো চোখ যা খিয়ানাত করে এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে। (বায়হাক্বী- দা’ওয়াতুল কাবীর)[1]

وَعَن أُمِّ مَعْبدٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِي مِنَ النِّفَاقِ وَعَمَلِي مِنَ الرِّيَاءِ وَلِسَانِي مِنَ الْكَذِبِ وَعَيْنِي مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّكَ تَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِيرِ

وعن ام معبد قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اللهم طهر قلبي من النفاق وعملي من الرياء ولساني من الكذب وعيني من الخيانة فانك تعلم خاىنة الاعين وما تخفي الصدور» . رواهما البيهقي في الدعوات الكبير

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ শিক্ষা দিচ্ছেন এভাবে যে, হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে নিফাক তথা কপটতা থেকে পবিত্র করো। এখানে নিফাক বলতে অন্তরে এক আর বাহিরে আরেক এমন বৈপরীত্যকে বুঝানো হয়েছে। এ দু‘আর অর্থ হলো, হে আল্লাহ! তুমি দীনের ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন ও মুসলিমদের মাঝে প্রকাশ্য ও গোপন; সকল কাজে সমানভাবে করার মাধ্যমে আমার অন্তরকে কপটতা থেকে পবিত্র করো। উল্লেখ্য যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা‘সূম তথা নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও এমন দু‘আ করেছেন এজন্য যে, তিনি এর মাধ্যমে তার উম্মাতকে শেখাতে চেয়েছেন যে, তারা কিভাবে আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। আমার ‘আমলকে রিয়া থেকে পবিত্র করো। রিয়া হলো মানুষ দেখুক, শুনুক এবং প্রশংসা করুক- এমন মানসিক অবস্থা নিয়ে কোন কাজ করা। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে প্রতিটি ‘আমল পূর্ণ ইখলাসের সাথে সম্পাদন করা।

হাদীসে মিথ্যা কথা বলতে মিথ্যা কথার সাথে সাথে এ রকম যে কোন কাজ যেমন গীবত, চোগলখোরী ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে মুখের দ্বারা যে গুনাহ করা হয় তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য যে, এটি আল্লাহর নিকট এবং সৃষ্টির নিকট সকল পাপের মধ্যে অন্যতম বড় নিকৃষ্ট পাপ।

চোখকে খিয়ানাত থেকে পবিত্র করো। এর অর্থ হলো, চোখ দিয়ে আমি যেন এমন কিছু না দেখি যা দেখা আমার জন্য বৈধ নয়। আর চোখ দ্বারা যেসব ফাসাদ সৃষ্টি হয় তা যে সৃষ্টি না করি এবং তুমি আমার অন্তর যা গোপন করে, অর্থাৎ- শয়তানের কুমন্ত্রণা, খিয়ানাত ইত্যাদি থেকে আমাকে পবিত্র করো।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৫০২-[২১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রোগীকে দেখতে গেলেন, যে পাখির বাচ্চার মতো শুকিয়ে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ে দু’আ করেছিলে অথবা তা তাঁর কাছে কামনা করেছিলে? উত্তরে সে বললো, হ্যাঁ, আমি বলতাম, ’’হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা আগেই দুনিয়াতে দিয়ে দাও। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহা-নাল্ল-হ! আখিরাতের শাস্তি তুমি দুনিয়াতে সহ্য করতে পারবে না এবং আখিরাতেও সহ্য করতে পারবে না। তুমি এভাবে বলনি কেন- ’’আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- ’আযা-বান্না-র’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা কর)। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বলেন, পরে ঐ ব্যক্তি এভাবে দু’আ করলো এবং আল্লাহ তা’আলা তাকে আরোগ্য দান করলেন। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ رَجُلًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَدْ خَفَتَ فَصَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ كُنْتَ تَدْعُو اللَّهَ بِشَيْءٍ أَوْ تَسْأَلُهُ إِيَّاهُ؟» . قَالَ: نَعَمْ كُنْتُ أَقُولُ: اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي بِهِ فِي الْآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سُبْحَانَ اللَّهِ لَا تُطِيقُهُ وَلَا تَسْتَطِيعُهُ أَفَلَا قُلْتَ: اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ . قَالَ: فَدَعَا الله بِهِ فشفاه الله. رَوَاهُ مُسلم

وعن انس: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد رجلا من المسلمين قد خفت فصار مثل الفرخ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هل كنت تدعو الله بشيء او تساله اياه؟» . قال: نعم كنت اقول: اللهم ما كنت معاقبي به في الاخرة فعجله لي في الدنيا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سبحان الله لا تطيقه ولا تستطيعه افلا قلت: اللهم اتنا في الدنيا حسنة وفي الاخرة حسنة وقنا عذاب النار . قال: فدعا الله به فشفاه الله. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত অসুস্থ ব্যক্তি প্রথমে যে দু‘আ করেছিলেন সেটি যথার্থ ছিল না বিধায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু‘আ পরিবর্তন করে ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাহ্.....‘আযা-বান্ নার’’ দু‘আটি তাকে বলতে বলেছেন। এর অর্থ হলো, ঐ ব্যক্তি যদি এ দু‘আটি বলত তাহলে আল্লাহ ঐ ব্যক্তির পাপরাশি ক্ষমা করে দিতেন এবং রোগ থেকে আরোগ্য দান করতেন। এরপর ঐ ব্যক্তি এ দু‘আটি বললে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসে আখিরাতের শাস্তি দুনিয়ায় পাওয়ার কিংবা শাস্তি প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে ‘‘আল্ল-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাহ্.....‘আযা-বান্ নার’’ দু‘আটির ফাযীলাত প্রমাণিত হয়েছে।

এ হাদীস দ্বারা আরো প্রমাণিত হয় যে, আশ্চর্য হওয়ার পর আশ্চর্য প্রকাশক অভিব্যক্তি হিসেবে ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ বলা জায়িয। রোগীকে দেখতে যাওয়া, তার সেবা করা ও তার জন্য দু‘আ করা মুস্তাহাব কাজ হিসেবে এবং রোগ-বিপদ কামনা করা মাকরূহ কাজ হিসেবে পরিগণিত হবে। হাদীসে উল্লিখিত দুনিয়ায় হাসানাহ্ বলতে ‘ইবাদাত ও সুস্থতাকে বুঝানো হয়েছে এবং আখিরাতে হাসানাহ্ বলতে জান্নাত ও ক্ষমাকে বুঝানো হয়েছে। তবে কারো মতে হাসানাহ্ বলতে দুনিয়া ও আখিরাতের নিয়ামতরাজিকে বুঝানো হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৫০৩-[২২] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের কাম্য নয় সে নিজেকে লাঞ্ছিত করা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! নিজেকে লাঞ্ছিত করে কিভাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এমন বিপদাপদ কামনা করা যা সহ্য করা সাধ্যাতীত। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী- শু’আবূল ইমান; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْبَغِي لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يُذِلَّ نَفْسَهُ» . قَالُوا: وَكَيْفَ يُذِلُّ نَفْسَهُ؟ قَالَ: «يَتَعَرَّضُ مِنَ الْبَلَاءِ لِمَا لَا يُطِيقُ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا ينبغي للمومن ان يذل نفسه» . قالوا: وكيف يذل نفسه؟ قال: «يتعرض من البلاء لما لا يطيق» رواه الترمذي وابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان. وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনভাবেই নিজেকে অপমানের মুখে ঠেলে দেয়া জায়িয নয়। আর নিজেকে অপমানের মুখে ঠেলে দেয়ার অন্যতম পদ্ধতি হচ্ছে, নিজের বিরুদ্ধে দু‘আ করা অথবা এমন কোন কাজ করা যা তার অপমানের কারণ হবে। যে শাস্তি বা বিপদ সহ্য করার ক্ষমতা নিজের নেই তা কামনা করার মাধ্যমে নিজেকে অপমানিত করা উচিত নয়। কারণ ঐ ব্যক্তি ঐ সময় তা আর সহ্য করতে পারবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৌলিক দু‘আসমূহ

২৫০৪-[২৩] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ দু’আটি শিখিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ তুমি বল,

’’আল্ল-হুম্মাজ্’আল সারীরতী খয়রান মিন্ ’আলা-নিয়াতী ওয়াজ্’আল ’আলা-নিয়াতী স-লিহাতান, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন্ স-লিহি মা- তু’তিন্না-সা মিনাল আহলি ওয়াল মা-লি ওয়াল ওয়ালাদি গয়রিয্ য-ল্লি ওয়ালা-ল মুযিল্লি’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার ভিতরকে বাহির হতে উত্তম করো এবং আমার বাহিরকে মার্জিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভালো চাই যা তুমি মানুষকে দিয়েছো- পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, যারা পথভ্রষ্ট বা পথভ্রষ্টকারী নয়।) (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قُلْ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلَانِيَتِي وَاجْعَلْ عَلَانِيَتِي صَالِحَةً اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ صَالِحِ مَا تُؤْتِي النَّاسَ مِنَ الْأَهْلِ وَالْمَالِ وَالْوَلَدِ غَيْرِ الضَّالِّ وَلَا الْمُضِلِّ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

وعن عمر رضي الله عنه قال: علمني رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: قل: اللهم اجعل سريرتي خيرا من علانيتي واجعل علانيتي صالحة اللهم اني اسالك من صالح ما توتي الناس من الاهل والمال والولد غير الضال ولا المضل رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: প্রথমে ভিতরকে বাহিরের চেয়ে উত্তম বানানোর দু‘আ করা হয়েছে। পরক্ষণেই ভিতরকে সৎ বানানোর দু‘আ করা হয়েছে। ব্যক্তির ভিতর তার বাহির থেকে উত্তম হওয়া সত্ত্বেও অসৎ হতে পারে। তাই ভিতরকে বাহির থেকে উত্তম বানানোর। দু‘আ করার সাথে সাথে ভিতরকেও শুধু বাহিরের তুলনায় উত্তম নয়, বরং স্বতন্ত্রভাবে সৎ বানানোর দু‘আ করতে বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২১৮ পর্যন্ত, সর্বমোট ২১৮ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে