২৩০১

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০১-[৮] উম্মুল মু’মিনীন জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর খুব ভোরে তাঁর নিকট হতে বের হলেন। তখন জুওয়াইরিয়্যাহ্ নিজ সালাতের জায়গায় বসা। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন তখন সূর্য বেশ উপরে উঠে এসেছে। আর জুওয়াইরিয়্যাহ্ তখনো সালাতের জায়গায় বসে আছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় তুমি ছিলে, এখনো কি সে অবস্থায় আছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি মাত্র চারটি কালিমাহ্ তিনবার পড়েছি, যদি তুমি এ পর্যন্ত যা পড়েছ তার সাথে আমার পড়া কালাম ওযন দেয়া হয় তাহলে এর ওযনই বেশি হবে। (বাক্যগুলো হলো)

’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ’আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ’আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ তা’আলার পূত-পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ, তার ’আরশের ওযন পরিমাণ ও তাঁর বাক্যসমূহের সংখ্যা পরিমাণ।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَن جوَيْرِية أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ قَالَ: «مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَاءَ نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاته . رَوَاهُ مُسلم

وعن جويرية أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج من عندها بكرة حين صلى الصبح وهي في مسجدها ثم رجع بعد أن أضحى وهي جالسة قال: «ما زلت على الحال التي فارقتك عليها؟» قالت: نعم قال النبي صلى الله عليه وسلم: لقد قلت بعدك أربع كلمات ثلاث مرات لو وزنت بما قلت منذ اليوم لوزنتهن: سبحان الله وبحمده عدد خلقه ورضاء نفسه وزنة عرشه ومداد كلماته . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَهِىَ جَالِسَةٌ) অর্থাৎ- সে তার সালাতের স্থানেই আছে। আবূ দাঊদের এক বর্ণনাতে আছে, অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এমতাবস্থায় জুওয়াইরিয়্যাহ্ তার সালাতের স্থানে ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার যখন ফিলে আসলেন তখনও জুওয়াইরিয়্যাহ্ তার সালাত আদায়স্থলে ছিলেন। আহমাদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক বর্ণনাতে আছে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে জুওয়াইরিয়্যাহ্’র পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এমতাবস্থায় জুওয়াইয়রিয়্যাহ্ মসজিদে দু‘আ করছিলেন, এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধ দিবসের সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছেন।

ইবনু মাজাতে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়্যাহ্’র পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করলেন অথবা ফজরের সালাত আদায়ের পর। এমতাবস্থায় জুওয়াইরিয়্যাহ্ আল্লাহর জিকির করছিলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলেন যখন বেলা উপরে উঠে গেল অথবা বলেছেন অর্ধ দিবসে, এমতাবস্থাতে জুওয়াইরিয়্যাহ্ ঐভাবেই ছিলেন।

(وَمِدَادَ كَلِمَاتِه) কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হল সংখ্যাতে তার সমান। আবার কারো মতে নিঃশেষ না হওয়ার ক্ষেত্রে তার সমান। কেউ কেউ এটি বলেছেন যে, আধিক্যতার ক্ষেত্রে তার সমান। مَدَدٌ-এর ন্যায় (المداد) শব্দটি ক্রিয়ামূল অর্থ আধিক্যতা।

নিহায়াহ্ গ্রন্থে আছে তার সংখ্যার সমান। কেউ কেউ বলেছেন, আধিক্যতার ক্ষেত্রে কাইল, ওযন, আযান বা সীমাবদ্ধকরণ ও পরিমাপকরণের অন্যান্য মানদণ্ডের মতো বা সমান একটি মাপ। এটা একটি উপমা পেশকরণ যার মাধ্যমে নিকটবর্তীকরণ উদ্দেশ্য করা হয়। কেননা কথা পরিমাপ ও ওযনের মাঝে প্রবেশ করে না। তা কেবল সংখ্যাতে প্রবেশ করে।

বিদ্বানগণ বলেন, এখানে সংখ্যার ব্যবহার রূপক। কেননা আল্লাহর বাণীসমূহ সংখ্যা এবং অন্য কিছু দ্বারা পরিসংখ্যান করা যায় না। উদ্দেশ্য আধিক্যতার ক্ষেত্রে বেশি করা, কেননা প্রথমে সৃষ্টির সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে এমন অধিক সংখ্যা উল্লেখিত হয়েছে। অতঃপর এর অপেক্ষা আরও বড় কিছুর দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ- কোন সংখ্যা দ্বারা যাকে পরিসংখ্যান করা যায় না। যেমন আল্লাহর বাণীসমূহ পরিসংখ্যান করা যায় না। একে ইমাম নাবাবী বর্ণনা করেছেন। লাম্‘আত প্রণেতা বলেন, এটা একটি দাবীকরণ এবং আধিক্যতাতে বেশিকরণ।

সিনদী বলেন, যদি তুমি বল নিশ্চয়ই তাসবীহ সর্বাধিক পবিত্র সত্তার সাথে উপযুক্ত না এমন সকল কিছু থেকে তাকে পবিত্র সাব্যস্তকরণ বুঝানো সত্ত্বেও উল্লেখিত সংখ্যার সাথে তাসবীহকে জড়িয়ে দেয়া কিরূপে বিশুদ্ধ হতে পারে? অথচ তা তার সত্তার ক্ষেত্রে একই বিষয় যা সংখ্যাকে গ্রহণ করে না। বক্তা থেকে তা প্রকাশের বিবেচনায় তাতে এ সংখ্যা বিবেচনা করা সম্ভব না। কেননা বক্তা এ ব্যাপারে ক্ষমতা রাখে না আর যদিও ঐ ব্যাপারে বক্তার সক্ষমতাকে ধরেও নেয়া হয় তাহলে অবশ্যই তাসবীহের সাথে এ সংখ্যার সম্পর্ক বিশুদ্ধ হবে না তবে বক্তা থেকে এ সংখ্যার মাধ্যমে এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশের পর। পক্ষান্তরে (سبحان الله) একবার বললে এ সংখ্যা অর্জন হবে না। আমি বলব, সম্ভবত এ সীমাবদ্ধতাটি বক্তা থেকে এ সংখ্যার মাধ্যমে তাসবীহ প্রকাশ পাওয়া সর্বাধিক পবিত্র সত্তার অধিকারের লক্ষ্যের সাথে জড়িত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)