২৩০২

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২৩০২-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে

’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান)

তার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দু’আ ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশী পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: من قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير في يوم ماىة مرة كانت له عدل عشر رقاب وكتبت له ماىة حسنة ومحيت عنه ماىة سيىة وكانت له حرزا من الشيطان يومه ذلك حتى يمسي ولم يات احد بافضل مما جاء به الا رجل عمل اكثر منه

ব্যাখ্যা: (فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ) এক সাথে অথবা আলাদাভাবে। (عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ) ত্বীবী বলেন, এ হাদীসে (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ করাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ গুনাহ মোচনকারী করা হয়েছে, পক্ষান্তরে তাসবীহ এর হাদীসে তাসবীহ পাঠ করাকে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মোচনকারী করা হয়েছে। সুতরাং তাসবীহ পাঠ করা সর্বোত্তম হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ছে। অথচ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠকারী তা পাঠ করে যে সাওয়াব অর্জন করবে অন্য কোন ‘আমলকারী তার অপেক্ষা উত্তম ‘আমল করতে পারবে না। এ ব্যাপারে কাযী ‘ইয়ায উত্তর প্রদান করেছেন যে, এ হাদীসে উল্লেখিত (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ সর্বোত্তম, কেননা এর প্রতিদান গুনাহসমূহ মোচন করা, দশজন দাস মুক্ত করা একশত পুণ্য সাব্যস্ত করা এবং শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। (حَتّٰى يُمْسِىَ) ইবনু হাজার এক বর্ণনাতে আছে, ঐ দিন রাত পর্যন্ত। অর্থাৎ- অবশিষ্ট দিন বা পূর্ণাঙ্গ দিন। কারী বলেন, পারস্পরিক বিপরীতমুখী এর বাহ্যিক দিক হল, যখন রাত্রে বলবে তখন (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠ ঐ ব্যক্তির জন্য ঐ রাতে সকালে উপনীত হওয়া পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার কারণ হবে। অতঃপর হাদীসের ভাষ্য বর্ণনাকারী থেকে সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে অথবা বিপরীত দিক স্পষ্ট হওয়ার কারণে তিনি তা ছেড়ে দিয়েছেন।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ হাফেয ফাতহুল বারীতে বলেছেন, তার উক্তি ‘‘আর سبحان الله পাঠ ঐ ব্যক্তির জন্য শয়তান থেকে বাঁচার কারণ হবে’’। ইবনুস্ সুন্নী এর ২৫ পৃষ্ঠাতে ‘আব্দুল্লাহ সা‘ঈদ-এর বর্ণনাতে আছে, ‘‘সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সংরক্ষণ করবেন’’ তাতে একটু বেশি উল্লেখ করেছেন যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় অনুরূপ বলবে তার জন্যও অনুরূপ হবে।

ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসটি প্রয়োগের বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই হাদীসটিতে উল্লেখিত এ সাওয়াব ঐ ব্যক্তির জন্য অর্জন হবে যে ব্যক্তি এ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) ঐ দিনে একশতবার বলবে চাই সে তা ধারাবাহিকভাবে বলুক, চাই বৈঠকসমূহে বিচ্ছিন্নভাবে বলুক চাই এর কতক দিনের শুরুতে পাঠ করুক আর কতক দিনের শেষে পাঠ করুক। তবে উত্তম হল এগুলো দিনের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে এক সাথে পাঠ করা যাতে সমস্ত দিন শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এমনিভাবে রাত্রের শুরুতে যাতে সমস্ত রাত শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

(إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ) অর্থাৎ- এমন ব্যক্তি ছাড়া যে তার অপেক্ষা বেশি ‘আমল করবে সে তার উপর অধিক শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে। ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, হাদীসটিতে ঐ ব্যাপারে অবহিতকরণ রয়েছে, যে একশত সংখ্যা যিকিরের ক্ষেত্রে শেষ সীমা এবং খুব কম লোকই এর বেশি বলতে পারবে। এ সংখ্যার উপর বৃদ্ধি করবে। তিনি ব্যতিক্রমের বর্ণনা দিয়েছেন যাতে এ ধারণা না হয় যে, এ সংখ্যার উপর বৃদ্ধি করা নিষেধ। যেমন ঊযূর ক্ষেত্রে বারবার ‘আমল করা। তবে উদ্দেশ্য এটিও হতে পারে যে, সকল প্রকারের পুণ্য হতে কেউ তার অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এ ব্যাপারে তার অপেক্ষা বেশি ‘আমল করবে। কাযী ‘ইয়ায-এর কথা অনুরূপ। হাদীসে একশত সংখ্যায় জিকির উল্লেখ ঐ ব্যাপারে দলীল যে, তা উল্লেখিত সাওয়াবের শেষ সীমা।

ইমাম নাবাবী বলেন, হাদীসে দলীল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি এ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) দিনে একশতবার এর অধিক পাঠ করে তাহলে একশত সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এ ব্যক্তির জন্য হাদীসটিতে উল্লেখিত সাওয়াব থাকবে এবং একশত এর উপর বৃদ্ধি করার কারণে তার জন্য আরো সাওয়াব থাকবে। আর এটা এমন সীমাবদ্ধ সংখ্যা না যা অতিক্রম করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং সে সীমা বৃদ্ধি করতে কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অথবা বৃদ্ধি করলে মূলটিকেই বাতিল করে দিবে। যেমন পবিত্রতা অর্জনের সংখ্যার ক্ষেত্রে এবং সালাতের রাক্‘আতের সংখ্যার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করা যা মূলকে বাতিল করে দেয়। আরো সম্ভাবনা আছে কল্যাণকর ‘আমলে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হুবহু (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের সংখ্যা বৃদ্ধি করা না। বৃদ্ধি করা থেকে সাধারণ বৃদ্ধি করাও উদ্দেশ্য হতে পারে চাই তা (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) পাঠের সংখ্যা হোক অথবা (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) এর সাথে অন্যান্য কিছু বৃদ্ধি করা উদ্দেশ্য হোক। এ সম্ভাবনাটিই সর্বাধিক স্পষ্ট, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞাত। বুখারী একে (সৃষ্টির সূচনা থেকে ইবলীসের বৈশিষ্ট্য) এতে এবং দা‘ওয়াতে উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিমও তাতে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)