২৩৬৯

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ব্যাপকতা

২৩৬৯-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে বলল, কোন সময় সে কোন ভাল কাজ করেনি। আর এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি নিজের ওপর অবিচার করেছে। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে নিজের সন্তান-সন্ততিকে ওয়াসিয়্যাত করল, যখন সে মারা যাবে তাকে যেন পুড়ে ফেলা হয়। অতঃপর মৃতদেহের ছাইভস্মের অর্ধেক স্থলভাগে, আর অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর কসম! যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে ধরতে পারেন তাহলে এমন শাস্তি দিবেন, যা দুনিয়ার কাউকেও কক্ষনো দেননি। সে মারা গেলে তার সন্তানেরা তার নির্দেশ মতই কাজ করল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা সমুদ্রকে হুকুম করলেন, সমুদ্র তার মধ্যে যা ছাইভস্ম পড়েছিল সব একত্র করে দিলো। ঠিক এভাবে স্থলভাগকে নির্দেশ করলেন, স্থলভাগ তার মধ্যে যা ছাইভস্ম ছিল সব একত্র করে দিলো। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এরূপ কাজ করলে? (উত্তরে বললো) তোমার ভয়ে ’হে রব!’ তুমি তো তা জানো। তার এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ سَعْةِ رَحْمَةِ اللهِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ لِأَهْلِهِ وَفِي رِوَايَةٍ أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ ثُمَّ اذْرُوا نِصْفَهُ فِي الْبَرِّ وَنِصْفَهُ فِي الْبَحْرِ فو الله لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لَا يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ فَلَمَّا مَاتَ فَعَلُوا مَا أَمَرَهُمْ فَأَمَرَ اللَّهُ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ: لِمَ فَعَلْتَ هَذَا؟ قَالَ: مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبِّ وَأَنْتَ أَعْلَمُ فَغَفَرَ لَهُ

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال رجل لم يعمل خيرا قط لأهله وفي رواية أسرف رجل على نفسه فلما حضره الموت أوصى بنيه إذا مات فحرقوه ثم اذروا نصفه في البر ونصفه في البحر فو الله لئن قدر الله عليه ليعذبنه عذابا لا يعذبه أحدا من العالمين فلما مات فعلوا ما أمرهم فأمر الله البحر فجمع ما فيه وأمر البر فجمع ما فيه ثم قال له: لم فعلت هذا؟ قال: من خشيتك يا رب وأنت أعلم فغفر له

ব্যাখ্যা: (قَالَ رَجُلٌ) অর্থাৎ- আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝ থেকে। বুখারীতে আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে আছে, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বে এক লোক ছিল, আল্লাহ তাকে প্রচুর সম্পদ দিয়েছিলেন।

বুখারীর অন্য বর্ণনাতে আছে, (ذكر رجلا فيمن سلف أو فيمن كان قبلكم) অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোকের উল্লেখ করেছেন যে অতীত হয়ে গেছে অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝে। ত্ববারানীতে হুযায়ফাহ্ এবং আবূ মাস্‘ঊদ এর হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, (انه كان من بنى اسرائيل) নিশ্চয়ই লোকটি ছিল বানী ইসরাঈল গোত্রের। আর এ কারণেই বুখারী বানী ইসরাঈলের আলোচনায় আবূ সা‘ঈদ, হুযায়ফাহ্ এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে, এ লোকটির নাম ছিল জুহায়নাহ্। সুহায়লী বর্ণনা করেন তার কাছে এসেছে লোকটির নাম হুনাদ।

(خَيْرًا قَطُّ) অর্থাৎ- ইসলামের পরে সৎ ‘আমল। মুসলিমের এক বর্ণনাতে এসেছে, (لم يعمل حسنة قط) সে কখনো ভাল কাজ করেনি। বাজী বলেন, স্পষ্ট যে, যে ‘আমল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পর্ক রাখে সেটাই প্রকৃত ‘আমল। যদিও রূপকভাবে ‘আমলকে বিশ্বাসের উপর প্রয়োগ করা সম্ভব। এ লোকটি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার ব্যাপকতা যে, কোন পুণ্যকাজ করেনি এ থেকে উদ্দেশ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ‘আমল। হাদীসটিতে কুফরীর বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি, এ হাদীসটি কেবল ঈমানী বিশ্বাসের উপর প্রমাণ বহন করছে। তবে লোকটি তার শারী‘আত থেকে কোন কিছুর উপর ‘আমল করেনি। অতঃপর লোকটির কাছে যখন মরণ উপস্থিত হল তখন সে নিজ বাড়াবাড়ির ব্যাপারে ভয় করল, অতঃপর সে তা পরিবারকে তার দেহ জালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিল।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ আমি বলব, আহমাদ-এর এক বর্ণনাতে (দ্বিতীয় খণ্ডে ৩০৪ পৃষ্ঠা) এসেছে, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের মাঝে এক লোক ছিল যে একমাত্র তাওহীদ তথা আল্লাহ একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া ছাড়া কোন ভাল ‘আমল করেনি।

(أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلٰى نَفْسِه) অর্থাৎ- অবাধ্যকর কাজে বাড়াবাড়ি করল। এটা মসলিমের শব্দ এবং বুখারীতে আছে, (كان رجل يسرف على نفسه) অর্থাৎ- লোকটি তার নিজের উপর বাড়াবাড়ি করত। বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসে আছে, (انه كان يسيئ الظن بعمله) অর্থাৎ- লোকটি তার আমলের মাধ্যমে মন্দ ধারণা করত। বুখারী, মুসলিমে আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে এসেছে, (فإنه لم ييترأ عند الله خيرا فسرها قتادة لم يدخر) অর্থাৎ- সে আল্লাহর কাছে কোন ভাল কাজ করেনি। কাতাদাহ্ এর ব্যাখ্যা করেছেন ‘‘সঞ্চয় করেনি’’ বুখারীতে হুযাইফার হাদীসের শেষে এসেছে। ‘উকবাহ্ বিন ‘আমর (আবূ মাস্‘ঊদ) বলেন, আমি তাঁকে (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি লোকটি কবর খুড়ত (অর্থাৎ- কবর খুঁড়ে মৃত ব্যক্তিরদের কাফন চুরি করত)।

(فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ) এখানে মৃত্যুকে তার নিকটবর্তী অবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেননা ঐ অবস্থাতে তার কাছে যা উপস্থিত হয়েছে তা মৃত্যুর আলামাত উপস্থিত হয়েছে; স্বয়ং মৃত্যু না।

(أَوْصٰى بَنِيهِ) এটা মুসলিমের শব্দ। বুখারীতে আছে, অতঃপর তার কাছে যখন মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার সন্তানদেরকে বলল। বুখারীতে আবূ সাঈ‘দ-এর হাদীসে আছে, অতঃপর তার কাছে যখন মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার সন্তানদেরকে বলল, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলল, ভাল পিতা। সে বলল, শেষ পর্যন্ত।

(إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ) এটা মুসলিমে আছে আর বুখারীতে আছে, فأحرقوه অর্থাৎ- الإحراق থেকে। এখানে বাচনভঙ্গির দাবী এভাবে বলা, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে দিবে। তবে মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এভাবে বলা হয়েছে।

(نِصْفَه فِى الْبَرِّ وَنِصْفَه فِى الْبَحْرِ) এবং বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসের বানী ইসরাঈলের আলোচনার শুরুতে আছে, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করবে এবং তাতে আগুন জ্বালাবে এমনকি আগুন যখন আমার গোশতকে খেয়ে নিবে, আমার হাড্ডি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, অতঃপর তা জ্বলে উঠবে তখন তোমারা তা নিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে এরপর এক বাতাসযুক্ত দিনের অপেক্ষা করবে (অর্থাৎ- প্রবল বায়ুর) অতঃপর তা দরিয়াতে নিক্ষেপ করবে। (আল হাদীস) আর রিকাক অধ্যায়ে আবূ সাঈ‘দ-এর হাদীসেও আছে, আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে দিবে এমনকি যখন আমি কয়লাতে পরিণত হব তখন আমাকে তোমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। রাবীর সন্দেহ এক্ষেত্রে লোকটি فاسحقونى অথবা فاسهكونى বলেছে।

অতঃপর যখন প্রবল বায়ু প্রবাহের দিন হবে তখন তোমরা তা তাতে নিক্ষেপ করবে এভাবে লোকটি তার সন্তানদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করল। বাজী বলেন, এটা দু’ভাবে হতে পারে। দু’টির একটি হল, আল্লাহর ধরা থেকে সে মুক্তি পাবে না। এ বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পলায়নের মাধ্যমে যেমন ব্যক্তি সিংহের সামনে থেকে পলায়ন করে এ বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও যে, সে দৌড়িয়ে সিংহ থেকে পলায়ন করতে পারবে না তবে সে এটা তার চূড়ান্ত সম্ভব অনুযায়ী করে থাকে।

দ্বিতীয়টি হল, এটা স্রষ্টার ভয়ে করে থাকে এবং বিনয় ও এ আশায় করে থাকে যে, এটি তার প্রতি রহমাতের কারণ হবে এবং সম্ভবত এটি তার ধর্মে শারী‘আতসম্মত ছিল।

(لَا يُعَذِّبُه أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ) এ হাদীসটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে, কেননা লোকটির কাজ এবং উক্তি পুনরুত্থান ও জীবিত করার উপর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে স্পষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি করছে। আর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করা কুফর। আর লোকটি হাদীসের শেষে বলেছে তোমার ভয়ে এবং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। অথচ কাফির ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না এবং তাকে ক্ষমাও করা হবে না। এখানে হাদীসটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতানৈক্য করা হয়েছে। একমতে বলা হয়েছে, (قدر) শব্দটি তাশদীদ ছাড়া সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী, وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُه অর্থাৎ- ‘‘আর আল্লাহ যার ওপর রিযককে সংকীর্ণ করে দেন’’- (সূরা আত্ ত্বলা-ক ৬৫ : ৭)। অপর বাণী যা এ ধরনের বাণীসমূহের একটি। আর তা হল, অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ যদি তার ওপর সংকীর্ণ অবস্থা করেন এবং কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে হিসাব নেন’’- (সূরা আল আম্বিয়া ২১ : ৮৭)।

একমতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ- যদি আল্লাহ তার ওপর শাস্তি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে قدر শব্দটির راء বর্ণে তাশদীদ ও তাশদীদ ছাড়া উভয়ভাবে পড়া যায়। উভয় ক্ষেত্রে অর্থ এক, অভিন্ন, অর্থাৎ- আল্লাহ যদি তার ওপর শাস্তি ধার্য করেন তাহলে অবশ্যই তাকে শাস্তি দিবেন। তবে এটিও অর্থগতভাবে পূর্বের মতো যা মূলত বাচনভঙ্গির অনুকূল নয়। যদিও এটি আহমাদ-এর চতুর্থ খণ্ড- ৪৪৭ পৃষ্ঠাতে মু‘আবিয়াহ্ বিন হুমায়দাহ্-এর হাদীসে এসেছে এবং ৫ম খণ্ড- ৩-৪ পৃষ্ঠাতে এসেছে, আর তা এভাবে, ‘‘অতঃপর তোমরা বাতাসের মাঝে আমাকে ছেড়ে দিবে যাতে আমি আল্লাহ থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি তাঁর ধরা হতে মুক্তি পেতে পারি।’’ আর অদৃশ্য হওয়ার এ বর্ণনাটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তার উক্তি (لئن قدر الله عليه) তার বাহ্যিকতার উপর প্রমাণ বহন করছে এবং লোকটি তার নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা প্রত্যাহারের উদ্দেশ্য করছে। এ সত্ত্বেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির ক্ষমার ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন।

সুতরাং এমন একটি দিক অবশ্যই থাকা চাই যার মাধ্যমে লোকটি ঈমানদার হওয়ার ব্যাপারে উক্তি করা সম্ভব। অতঃপর একমতে বলা হয়েছে, লোকটির এ ধরনের নাসীহাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, সন্তানেরা যদি আমার অংশগুলোকে স্থলে এবং জলে এমনভাবে ছড়িয়ে দেয় যে, তাতে সে অংশগুলো একত্র করার কোন পথ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা থাকবে যে, লোকটি মনে করেছে তখন তাকে একত্র করা অসম্ভব আর ক্ষমতা অসম্ভবতার সাথে সম্পর্ক রাখে না। আর এ কারণেই লোকটি বলেছে যদি আল্লাহ তার ওপর ক্ষমতা খাটান, এতে ক্ষমতা অস্বীকার করা বা ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করা আবশ্যক হচ্ছে না। সুতরাং এ কারণে কাফির হয়ে যাচ্ছে না, অতএব কিভাবে তাকে ক্ষমা করা হবে এ ধরনের কথা বলারও কোন সুযোগ নেই। লোকটি যা অস্বীকার করেছে তা হল সম্ভব বিষয়ের উপর ক্ষমতা। লোকটি অসম্ভব নয় এমন বিষয়কে অসম্ভব মনে করেছে যে ব্যাপারে তার কাছে কোন প্রমাণ সাব্যস্ত হয়নি যে, তা জরুরীভাবে দীনের সম্ভব বিষয়। প্রথমটিকে অস্বীকার করা হয়েছে দ্বিতীয়টিকে না। একমতে বলা হয়েছে, লোকটি ধারণা করেছিল যখন সে এ কাজ করবে তখন তাকে ছেড়ে দেয়া হবে, তাকে জীবিত করা হবে না এবং শাস্তিও দেয়া হবে না। পক্ষান্তরে তার لئن قدر الله এবং فلعلى اضل الله উক্তি উচ্চারণ করার কারণ হল, সে এ ব্যাপারে মূর্খ ছিল। তার ব্যাপারে মতানৈক্য করা হয়েছে এতে কি সে কাফির হয়ে যাবে নাকি হবে না? উত্তর- তার অবস্থান আল্লাহর সিফাত অস্বীকারকারীর বিপরীত।

ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন, লোকটি পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেনি, লোকটি কেবল অজ্ঞ ছিল ফলে সে ধারণা করল তার সাথে যদি এ আচরণ করা হয় তাহলে তাকে জীবিত করা হবে না এবং শাস্তিও দেয়া হবে না। সে কেবল আল্লাহর ভয়ে এটি করেছে- এ স্বীকৃতির মাধ্যমে ব্যক্তির ঈমান প্রকাশ পেয়েছে।

(فَأَمَرَ اللّٰهُ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ) অর্থাৎ- লোকটির অংশসমূহ থেকে। বুখারীর অন্য বর্ণনাতে আছে, অতঃপর আল্লাহ জমিনকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, তুমি তার থেকে যা তোমার মাঝে আছে তা একত্র কর, অতঃপর তাই করলে লোকটি সুপ্রতিষ্ঠিত হল। বুখারীতেই আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে আছে, অতঃপর আল্লাহ বললেন, হও তখনই লোকটির পুড়ে ফেলা অংশগুলো একত্রিত হয়ে মানবে রূপ নিল। হাফেয বলেন, আবূ ‘আওয়ানাহ্-এর সহীহাতে সালমান ফারিসীর হাদীসে আছে, অতঃপর আল্লাহ তাকে বললেন, হও অতঃপর তা চোখের পলকের ন্যায় দ্রুত হয়ে গেল।

(ثُمَّ قَالَ لَه: لِمَ فَعَلْتَ هٰذَا؟) অর্থাৎ- অতঃপর আল্লাহ লোকটিকে বললেন, তুমি এটা কেন করেছ? অর্থাৎ- লোকটি উপদেশবাণী থেকে যা উল্লেখ করেছে তা। অন্য এক বর্ণনাতে আছে, তুমি যা করেছ সে ব্যাপারে কোন জিনিস তোমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছে? (قال من خشيتك رب) বুখারীতে হুযায়ফার হাদীসে আছে, সে ব্যাপারে একমাত্র তোমার ভয়ই আমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছে। (وانت اعلم) অর্থাৎ- আপনি অধিক জানেন যে, এটা কেবল আপনার ভয়ের জন্যই করেছি।

ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, এটা ঈমানের ব্যাপারে দলীল। কেননা ভয় মু’মিন ছাড়া কারো সৃষ্টি হয় না বরং বিদ্বান ব্যক্তিরই কেবল ভয় সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই ‘আলিমরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে’’- (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ২৮)। যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে না তার দ্বারা আল্লাহকে ভয় করা অসম্ভব। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন : আমি বলব, ভয়-ভীতি ঈমানের আবশ্যকীয়তার অন্তর্ভুক্ত। আর ঐ ব্যক্তি এ কাজ যখন আল্লাহর ভয়ে করেছে, সুতরাং তখন ব্যক্তির ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া আবশ্যক।

(فَغَفَرَ لَه) ‘‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’’ লোকটিকে ক্ষমা করা হয়েছে কেবলমাত্র আল্লাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে ভয় করার কারণে, কেননা ভয় করা সুউচ্চ স্থানের অন্তর্ভুক্ত এবং তা যখন তাওবার চূড়ান্ত স্তরের উপর প্রমাণ বহন করেছে যদিও তা মৃত্যুর আলামাত প্রকাশ পাওয়ার অবস্থায় অর্জন হয়েছে তথাপিও তা সমস্ত গুনাহসমূহ মোচনের কারণে পরিণত হয়েছে এবং সকল গুনাহ ক্ষমা হওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে অংশীস্থাপন করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া অন্য যত গুনাহ আছে তা যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করবেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮)। ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, আল্লাহর ভয় ঈমানের আবশ্যকতার অন্তর্ভুক্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)