২২৯৯

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্‌দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব

২২৯৯-[৬] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কেউ কি একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে সক্ষম? তার সাথে বসা লোকদের কেউ বললেন, আমাদের কেউ কিভাবে একদিনে এক হাজার নেকী আদায় করতে সক্ষম হবেন? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেউ যদি একদিনে একশ’বার ’’সুবহা-নাল্ল-হ’’ পড়ে তাহলে এতে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা তার এক হাজার গুনাহ মাফ করা হবে। (মুসলিম)[1]

সহীহ মুসলিমে মূসা আল জুহানী-এর সকল বর্ণনায়,أَوْ يُحَطُّ শব্দ উল্লেখ আছে عَنهُ শব্দটি নেই। তবে আবূ বকর আল বারকানী বলেন, শু’বাহ্, আবূ ’আওয়ানাহ্ এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ, কাত্তান, জুহানী হতে যেসব বর্ণনা করেছেন তাতে وَيُحَطُّ রয়েছে। এতে وَ -এর আগে ألفُ অক্ষরটি নেই। হুমায়দী-এর কিতাবেও অনুরূপ রয়েছে।

بَابُ ثَوَابُ التَّسْبِيْحِ وَالتَّحْمِيْدِ وَالتَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ: قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ؟» فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ: كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ؟ قَالَ: «يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنهُ ألفُ خطيئةٍ» . رَوَاهُ مُسلم
وَفِي كِتَابه: فِي جَمِيعِ الرِّوَايَاتِ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ: «أَوْ يُحَطُّ» قَالَ أَبُو بكر البرقاني وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقطَّان عَن مُوسَى فَقَالُوا: «ويحُطُّ» بِغَيْر ألف هَكَذَا فِي كتاب الْحميدِي

وعن سعد بن أبي وقاص: قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «أيعجز أحدكم أن يكسب كل يوم ألف حسنة؟» فسأله سائل من جلسائه: كيف يكسب أحدنا ألف حسنة؟ قال: «يسبح مائة تسبيحة فيكتب له ألف حسنة أو يحط عنه ألف خطيئة» . رواه مسلم وفي كتابه: في جميع الروايات عن موسى الجهني: «أو يحط» قال أبو بكر البرقاني ورواه شعبة وأبو عوانة ويحيى بن سعيد القطان عن موسى فقالوا: «ويحط» بغير ألف هكذا في كتاب الحميدي

ব্যাখ্যা: (لَه أَلْفُ حَسَنَةٍ) কেননা একটি পুণ্য কর্ম সম্পাদনে তার দশগুণ সাওয়াব দেয়া হয়। আর এটি হল কুরআনে ‘‘যে ব্যক্তি একটি পুণ্য কাজ সম্পাদন করবে তার জন্য থাকবে সে পুণ্যের দশগুণ সাওয়াব আর যাকে ইচ্ছা তাকে আরও বেশি দান করেন’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৬)। এ উক্তি দ্বারা বর্ণিত সর্বনিম্ন গুণ বৃদ্ধি।

(أَوْ يُحَطُّ عَنهُ أَلْفُ خَطِيْئَةٍ) এটি মূলত আল্লাহর (‘‘নিশ্চয়ই পুণ্যসমূহ পাপকে দূর করে দেয়’’- সূরা হূদ ১১ : ১১৪) এ উক্তির কারণে। আর এতে ঐ ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পুণ্য পাপসমূহকে মিটিয়ে দেয়। ইয়াহ্ইয়ার বর্ণনাতে কিছুটা ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর মুহাম্মাদ বিন বাশশার তিরমিযীতে তার থেকে ‘‘ওয়াও’’ বর্ণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আর ইমাম আহমাদ ‘আলিফ’ বর্ণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর আমার কাছে (‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী) দু’টি বর্ণনার একটিকে অপরটির উপর প্রাধান্য দেয়ার বিষয় স্পষ্ট হয়নি। সম্ভবত দু’টি বিষয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করা একটিকে অপরটির উপর প্রাধান্য দেয়া অপেক্ষা উত্তম। কারী মিরকাতে বলেন, ‘‘ওয়াও’’ কখনো ‘‘আও’’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, সুতরাং উভয় বর্ণনার মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। হাদীসের ভাব এভাবে হবে, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এ তাসবীহগুলো পাঠ করবে এমতাবস্থায় তার গুনাহ না থাকলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখা হবে আর পাপ থাকলে কিছু পাপ মিটানো হবে এবং পুণ্য লিখা হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)