২৩৫২

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৫২-[৩০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশ’বার গণনা করতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ’’রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ ’আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর’’ (অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তওবা্ কবূল করো। কেননা তুমি তওবা্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن ابْن عمر قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ» مِائَةَ مَرَّةٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابن عمر قال: إن كنا لنعد لرسول الله صلى الله عليه وسلم في المجلس يقول: «رب اغفر لي وتب علي إنك أنت التواب الغفور» مائة مرة. رواه أحمد والترمذي وأبو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (رَبِّ اغْفِرْ لِىْ) এটি যেন আল্লাহর وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا অর্থাৎ- ‘‘আপনি তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি তাওবাহ্ গ্রহণকারী’’- (সূরা আন্ নাসর ১১০ : ৩)। এ বাণীর প্রতি ‘আমল করণার্থে এবং আল্লাহর إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ التَّوَّابِيْنَ অর্থাৎ- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাহ্কারীদের ভালবাসেন।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২২)

এ বাণী অবলম্বনার্থে বলছেন। হাদীসটি ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষমা প্রার্থনা করা দু‘আ শব্দের মাধ্যমে ছিল। বিদ্বানগণ এটিকে (استغفر الله) উক্তিকারীর উক্তির উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা যদি সে ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকে বা প্রস্ত্তত না থাকে তাহলে তার ক্ষমা প্রার্থনা মিথ্যায় পরিণত হবে যা দু‘আর বিপরীত। কেননা কখনো দু‘আতে সাড়া দেয়া হয় যখন তা সময়ের অনুকূলে হয় যদিও তা উদাসীনতার সাথে সম্পন্ন হয়। এভাবে বিদ্বানগণ উক্তি করেছেন। আর এটি ঐ অবস্থার উপর নির্ভর করছে যে, উক্তিকারীর উক্তি (استغفر الله) খবর বা সংবাদ এবং তা অনুসন্ধানমূলক হওয়াও জায়িয। আর বাহ্যিকভাবে তাই বুঝা যাচ্ছে। আর সহীহ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ) বর্ণিত হয়েছে। হ্যাঁ, এ উক্তিকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যান্যদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে। লাম্‘আহ্-তে এভাবে আছে।

(إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ) উভয় শব্দের মধ্যে আধিক্যতার অর্থের সমাবেশ আছে আর এটি আহমাদ এবং তিরমিযীর শব্দ এবং আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ এবং ইবনুস্ সুন্নীতে الغفور এর পরিবর্তে الرحيم শব্দ আছে। নাসায়ী ও ইবনু হিব্বান-এর এক বর্ণনাতেও এভাবে এসেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)