২৩৪৬

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্

২৩৪৬-[২৪] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى يَنْقَطِع التَّوْبَةُ وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ

وعن معاوية قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تنقطع الهجرة حتى ينقطع التوبة ولا تنقطع التوبة حتى تطلع الشمس من مغربها» . رواه أحمد وأبو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: (لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) হাদীসের এ অংশে হিজরত বন্ধ না হওয়ার ব্যাপারে দলীল। আর বুখারী ও মুসলিম-এ ইবনু ‘আব্বাস-এর একটি হাদীস আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ মক্কা বিজয়ের পর কোন হিজরত নেই। অর্থাৎ- মক্কা বিজয়ের পর সে হিজরত শেষ হয়ে গেছে। উভয় হাদীসের মাঝে সামঞ্জস্য বিধানে মতানৈক্য রয়েছে। অতঃপর লাম্‘আত গ্রন্থকার বলেন, এখানে হিজরত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নাফস্, স্বভাবের দখল থেকে বের হয়ে পাপ-পঙ্কিলতা ও মন্দ চরিত্র ত্যাগ করা।

(حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) উক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য, অর্থাৎ- তাওবাহ্ গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম ও তার শারী‘আতের পরিসমাপ্তি ঘটা। আর তা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠার সময় ঘটবে।

ইবনুল মালিক বলেন, এখানে হিজরত দ্বারা কুফর থেকে ঈমানের দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য এবং শিরক রাষ্ট্র থেকে ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে, অবাধ্যতা থেকে তাওবার দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য। ইমাম ত্বীবী বলেন, এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনার দিকে হিজরত করা উদ্দেশ্য করেননি। কেননা তা শেষ হয়ে গেছে। পাপ থেকে হিজরত করাও উদ্দেশ্য নয়। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মুহাজির ঐ ব্যক্তি যে গুনাহ এবং পাপ কাজ ত্যাগ করেছে। কেননা এটি প্রকৃত তাওবাহ্। সুতরাং তা বারংবার তাকে আবশ্যক করছে। সুতরাং বিষয়টিকে এমন স্থান থেকে হিজরত করার উপর চাপিয়ে দেয়া আবশ্যক হবে যেখানে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা, সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎকাজের নিষেধ করা সম্ভব নয়।

খাত্ত্বাবী বলেন, ইসলামের শুরুতে হিজরত ফরয ছিল, এরপর তা মুস্তাহাবে পরিণত হয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনাতে হিজরতের সময় মুসলিমদের ওপর তা ওয়াজিব হল এবং মুসলিমদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হিজরত করতে নির্দেশ দেয়া হল যাতে যখন কোন বিপদ সংঘটিত হবে তখন যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী হতে পারে। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে তাদের দীনের বিষয় শিক্ষালাভ করতে পারে। আর ঐ যুগে বড় ভয় ছিল মক্কাবাসীর তরফ থেকে। অতঃপর যখন মক্কা নগরী বিজিত হল এবং আনুগত্যে নতি স্বীকার করল তখন ঐ উদ্দেশ্য রহিত হয়ে গেল, হিজরতের আবশ্যকতা উঠে গেল এবং হিজরতের ব্যাপারটি মুস্তাহাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করল। সুতরাং বাতিল হয়ে যাওয়া হিজরত বলতে হিজরতের আবশ্যকতা বাতিল হয়ে গেছে এবং ইবুন ‘আব্বাস-এর হাদীসের সানাদ পরম্পরা ও বিশুদ্ধ হওয়ার উপর ভিত্তি করে হিজরত মুস্তাহাব হওয়ার হুকুম বাকী আছে।

(وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ) অর্থাৎ- তাওবার বিশুদ্ধতা ও তার গ্রহণযোগ্যতা অথবা তাওবাহ্ গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর শারী‘আত রহিত হয়নি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১০: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ (كتاب اسماء الله تعالٰى)