পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৭৯-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: এ (দীন-শারী’আতের) ব্যাপারে লোকজন কুরায়শদের অনুসারী। তাদের মুসলিমরা তাদের মুসলিমদেরই অনুসারী এবং তাদের কাফির তাদের কাফিরদেরই অনুকরণকারী। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ فِي هَذَا الشَّأْن مسلمهم تبع مسلمهم وكافرهم تبع لكافرهم» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3495) و مسلم (2 / 1818)، (4702) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ) অর্থাৎ নেতৃত্ব কুরায়শদের মধ্যে চলে আসছে। অতএব তা তাদের মধ্য হতে বের হয়ে অন্যত্র যাওয়া উচিত বা কল্যাণকর হবে না। আল্লামাহ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অবশেষে কুরায়শদের একজনও কুফরের মধ্যে থেকে যায়নি। ফলে জাহিলী যুগে তারা যেভাবে নেতৃত্বে ছিলেন, ইসলামী যুগেও তা বহাল ছিল। তাদের মুসলিমগণ তাদের মুসলিমদেরই অনুসারী’- এ কথাটির তাৎপর্য সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ‘আরবের বুকে ইসলামের ডাক দিয়েছিলেন, তখন অধিকাংশ গোত্রের লোকেরা এই বলে ইসলাম গ্রহণ হতে বিরত থাকে, দেখা যাক, কুরায়শরা কি বলে? অতঃপর যখন মক্কাহ্ বিজয় হলো, আর কুরায়শরা ইসলাম গ্রহণ করল, তখন সমস্ত গোত্র দলে দলে তাদের অনুসরণ করল।
(فِي هَذَا الشَّأْن) এ (দীন-শারী'আতের) ব্যাপারে। হাদীসের বাহ্যিক বর্ণনা প্রসঙ্গ দ্বারা বুঝা যায় যে, ‘এ ব্যাপার' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দীন ও শারী'আত চাই তার অস্তিত্বের বিশ্বাস হোক বা অনস্তিত্বের বিশ্বাস হোক। অর্থাৎ দীন গ্রহণ করা বা গ্রহণ না করা তথা ঈমান ও কুফরের ব্যাপারে সকল লোক কুরায়শদের অনুসারী এবং তারা কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। তা এভাবে যে, একদিকে দীনের আবির্ভাব সর্বপ্রথম করায়শদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় এবং সর্বপ্রথম কুরায়শরা ঈমান এনেছে, অতঃপর তাদের অনুসরণ করে অন্যান্য লোকেরাও ঈমান আনতে শুরু করে। অন্যদিকে ঐ কুরায়শের লোকেরাই সর্বপ্রথম দীনের বিরোধিতা করে এবং মুসলিমদেরকে বাধা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিল আর এভাবেই কাফিররা কুরায়শদের অনুসারী হলো।
অতএব ইসলামের ইতিহাসবিদরা ভালো করেই জানেন যে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে সকল ‘আরবের লোকেরা মক্কার কুরায়শদের ইসলাম গ্রহণের অপেক্ষায় ছিল। যখন মুসলিমদের হাতে মক্কা বিজয় হলো এবং মক্কার কুরায়শরা মুসলিম হয়ে গেল তখন সকল ‘আরবের লোকেরাও দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করল তথা ইসলাম গ্রহণ করল যেমন সূরাহ্ নাসর-এ এসেছে। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮০-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: লোকজন ভালো এবং মন্দে (উভয় অবস্থায়) কুরায়শদের অনুসারী। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ فِي الْخَيْرِ وَالشَّر» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (3 / 1819)، (4703) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: লোকজন ভালো ও মন্দে কুরায়শদের অনুসারী অর্থাৎ ইসলামে ও কুফরীতে। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা কুরায়শ মুসলিমদের অনুসারী। আর যারা ঈমান আনেনি বরং কুফরী অবস্থায় থেকে গেছে তারা কুরায়শ কাফিরদের কুফরীর অনুগামী হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮১-[৩] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: এ দায়িত্ব (শাসন-কর্তৃত্ব) কুরায়শদের মাঝে থাকবে, যতদিন (দুনিয়াতে) তাদের দু’জন লোকও অবশিষ্ট থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَزَالُ هَذَا الْأَمْرُ فِي قُرَيْشٍ مَا بَقِيَ مِنْهُمُ اثْنَان» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3501) و مسلم (4 / 1820)، (4704) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: সর্বদা এই বিষয় তথা খিলাফাতের বিষয়টি মানুষের মধ্যে বাকী থাকবে। যদি তাদের মাঝে দু’জন বাকী থাকে তবে একজন খলীফাহ্ হবে আর একজন তার অনুসারী হবে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীস ছাড়াও এই জাতীয় যত হাদীস আছে তা স্পষ্টভাবে দলীল যে, খিলাফাত কুরায়শদের সাথে নির্দিষ্ট। অতএব তা অন্যদের জন্য গ্রহণ করা জায়িয হবে না। আর এ বিষয়টির উপর সাহাবীদের এবং তাদের পরবর্তীদের মাঝে ইজমা হয়েছিল। আর যারা এ মতের বিরোধিতা করেছিল তারা হলো বিদআতপন্থী। তারা সাহাবীদের ইজমা'-এর বিরোধী কাজ সম্পন্নকারী। আর নবী (সা.) বলেছেন, এ বিষয়টি চলতে থাকবে শেষ যুগ পর্যন্ত যতদিন দু’জন লোকও বাকী থাকবে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ হুকুম বর্তমানেও বলবৎ আছে। আর এটা এমন সংবাদ যা আদেশের অর্থে। অর্থাৎ যারা মুসলিম তারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের অনুসরণ থেকে বের হবে না। আর তারা তাদের অনুসরণ না করলে এ আদেশ থেকে বের হয়ে যাবে। ইমাম সুয়ূত্নী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, যতদিন দীন প্রতিষ্ঠিত থাকে ততদিন এ হুকুম জারি থাকবে। কথিত আছে যে, এ হাদীসের অর্থ বাহ্যিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। আর এখানে নাস তথা মানুষ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কতিপয় মানুষ। অর্থাৎ সকল আরব। এটা ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮২-[৪] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, এ বিষয়টি (অর্থাৎ শাসন-কর্তৃত্ব) কুরায়শদের হাতেই থাকবে। যতদিন তারা দীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে লিপ্ত থাকবে, যে কেউ তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তার মুখের উপর উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন। (অর্থাৎ লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন) (বুখারী)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ لَا يُعَادِيهِمْ أَحَدٌ إِلَّا كَبَّهُ اللَّهُ عَلَى وَجهه مَا أَقَامُوا الدّين» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3500) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: খিলাফতের আসল উদ্দেশ্য যেহেতু দীনকে প্রতিষ্ঠা করা এবং ইসলামের পতাকা সমুন্নত করা, এজন্য কুরায়শগণ যে পর্যন্ত দীন ও শারী'আতের প্রচার ও প্রসারে লেগে থাকবে এবং ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তারা খিলাফাতের পদমর্যাদার অধিকারী হবে এবং মহান আল্লাহও তাদের শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। কিন্তু যখন তারা তাদের মূল দায়িত্ব অর্থাৎ দীন ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা হতে গাফিল হয়ে যাবে এবং খিলাফতের মূল চাহিদাগুলো পূরণ করা হতে পিছপা হবে তখন তারা উপেক্ষিত হবে এবং খিলাফত ও কর্তৃত্বের লাগাম তাদের থেকে ছিনিয়ে নেয়া হবে।
কতক ব্যাখ্যাকার লিখেছেন যে, দীন প্রতিষ্ঠা করার দ্বারা উদ্দেশ্য সালাত প্রতিষ্ঠা করা। যেমনিভাবে এক বর্ণনায় এসেছে, “যতদিন তারা সালাত প্রতিষ্ঠিত রাখবে"। তদ্রুপ কতক স্থানে দীন ও ঈমানের প্রয়োগ সালাতের উপর হয়েছে। এ কথার উপর ভিত্তি করে কতক ‘আলিমের বক্তব্য হলো, উক্ত মূল্যবান ঘোষণার আসল উদ্দেশ্য কুরায়শগণকে সালাত প্রতিষ্ঠার নির্দেশ ও উৎসাহ দান এবং এ কথা থেকে ভয় দেখানো যে, যদি তারা সালাত প্রতিষ্ঠিত না রাখে তাহলে সম্ভাবনা আছে যে, খিলাফাত ও কর্তৃত্বের পদমর্যাদা তাদের আয়ত্ব বর্হিভূত হবে এবং অন্য লোকেরা তাদের ওপর কর্তৃত্বেও ছড়ি ঘুরাবে। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২৭-২২৮ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৩-[৫] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, বারোজন খলীফাহ্ অতিবাহিত হওয়া অবধি ইসলাম শক্তিশালী থাকবে। তারা সকলই হবেন কুরায়শ বংশোদ্ভূত। অপর এক বর্ণনাতে আছে, মানুষের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সঠিকভাবে চলতে থাকবে বারোজন খলীফাহ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। তারা সকলেই হবে কুরায়শ বংশের।
অপর আরেক বর্ণনাতে আছে, [নবী (সা.) বলেছেন:] দীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যে অবধি না কিয়ামত আসে এবং তাদের ওপর বারোজন খলীফার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। যারা সকলেই হবেন কুরায়শী। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَزَالُ الْإِسْلَامُ عَزِيزًا إِلَى اثْنَيْ عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا يَزَالُ أَمْرُ النَّاسِ مَاضِيًا مَا وَلِيَهُمُ اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا يَزَالُ الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَة أَو يَكُونُ عَلَيْهِمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْش» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (7222) و مسلم (7 / 1821 و الروایۃ الثانیۃ : 6 / 1821 و الروایۃ الثالثۃ : 10 / 1822)، (4708 و 4706 و 4711) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (لَا يَزَالُ الْإِسْلَامُ عَزِيزًا) অর্থাৎ ইসলাম সর্বদা খুবই শক্তিশালী অথবা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতদিন বার জন খলীফাহ্ থাকবে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই বর্ণনা ও অন্য বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, দীন সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থাকবে এমনকি তাদের নিকট বার জন খলীফাহ্ আগমন করবে।
(كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ) কতিপয় মুহাক্কিক বলেন, এদের মধ্যে চার খলীফাহ্ অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর বাকীগুলো কিয়ামতের আগে পূর্ণ হবেন। কেউ কেউ বলেন, তারা সবাই একই যুগে হবেন আর মানুষ তাদেরকে আলাদা করবে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর শারহে মুসলিমে কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে একটি প্রশ্ন আছে, তা হলো- হাদীসে এসেছে, আমার পরে খিলাফত হবে ত্রিশ বছর। এর পর হবে রাজত্ব। এটা তো এ হাদীসের বিপরীত। এর উত্তরে বলা হয়েছে, ত্রিশ বছর দ্বারা উদ্দেশ্য নুবুওয়্যাতের খিলাফাত। এ কথা বিস্তারিতভাবে কতিপয় বর্ণনায় এসেছে। আমার পরে নুবুওয়্যাতের খিলাফাত হবে ত্রিশ বছর। এর পরে হবে মুলক বা রাজত্ব। আর রাজত্বের ক্ষেত্রে তিনি বারো জনকে শর্ত করেননি। কথিত আছে যে, বারো জন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খিলাফাতের যোগ্য হবেন যারা ন্যয়পরায়ণ তারা। এদের মধ্যে অনেকে অতিক্রম করেছেন বলে জানা গেছে। আর বাকীগুলো কিয়ামাতের পূর্বে পূর্ণ হবেন।
শী'আরা মনে করেন যে, বারোজন খলীফাহ ধারাবাহিকভাবে আহলে বায়তদের মধ্যে থেকে হবে। তাদের প্রথমজন হলেন ‘আলী (রাঃ), হাসান, হুসায়ন, যায়নুল আবিদীন, মুহাম্মাদ বাকির, জাফার সাদিক, মূসা কাযিম, ‘আলী রিযা, মুহাম্মাদ আত্ তাক্বী, ‘আলী আত্ তাক্বী, হাসান আসকারী, মুহাম্মাদ মাহদী (আঃ) এটা উল্লেখ করেছেন খাজা মুহাম্মাদ ইয়ারসা ফাসলুল খিত্বাব গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৪-[৬] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: গিফার গোত্র আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মার্জনা করুন, আসলাম গোত্র- আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে নিরাপদে রাখুন আর ’উসাইয়্যাহ্ গোত্র তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَعُصَيَّةُ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3513) و مسلم (187 / 2518)، (6435) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে এসেছে, রাসূল (সা.) গিফার গোত্রের লোকেদের জন্য ক্ষমার দু'আ করার কারণ হলো তারা ইসলাম কবুল করেছিলেন। আর তাদের ইসলামে প্রবেশ করাটা কোন যুদ্ধ বা রক্তপাত করা ছাড়াই হয়েছিল। আর ইতোপূর্বে এ গিফার গোত্রের লোকজন হাজীদের মালামাল চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। তাই রাসূল (সা.) তাদের জন্য দু'আ করলেন যেন তারা এ অপরাধের গুনাহ থেকে পরিত্রাণ লাভ করে। আর ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্রের লোক তারা বি’রে মা'ঊনাতে কুরআনের কারীদেরকে হত্যা করেছিল। ফলে নবী (সা.) তাদের বিরুদ্ধে কুনূতে নাযিলাহ্ পড়েছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৫-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কুরায়শ, আনসার, জুহায়নাহ্, মুযায়নাহ্, আসলাম, গিফার ও আশজা গোত্রসমূহ আমার বন্ধু। বস্তুত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া তাদের আর কোন বন্ধু নেই। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُرَيْشٌ وَالْأَنْصَارُ وَجُهَيْنَةُ وَمُزَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارُ وَأَشْجَعُ مَوَالِيَّ لَيْسَ لَهُمْ مَوْلًى دُونَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3512) و مسلم (189 / 2520)، (6439) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (موالِىَّ) শব্দটি ‘ইয়া মুতাকাল্লিম’-এর দিকে মুযাফ হয়েছে, যা ‘মাওলা-এর বহুবচন।
অন্য এক বর্ণনায় এ শব্দটি “ইয়া মুতাকাল্লিম ছাড়া মাওয়াল বর্ণিত হয়েছে। এ অবস্থায় অনুবাদ হবে উক্ত গোত্ৰসমূহের মুসলিমগণ পরস্পর একে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতাকারী ও বন্ধু। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৬-[৮] আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আসলাম, গিফার, মুযায়নাহ্ ও জুহায়নাহ্ গোত্রসমূহ বানূ তামীম ও বানূ ’আমির এবং উভয় সহযোগী তথা বানূ আসাদ ও গাত্বফান হতেও শ্রেয়। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْلَمُ وَغِفَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ خَيْرٌ مِنْ بني تَمِيم وَبني عَامِرٍ وَالْحَلِيفَيْنِ بَنِي أَسْدٍ وَغَطَفَانَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3523) و مسلم (190 / 2521)، (6441) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (وَالْحَلِيفَيْنِ) ‘উভয় সহযোগী গোত্র’ বানূ আসাদ ও বানূ গাত্বফান দুটি গোত্রের নাম। এ দুটি গোত্র পরস্পর একটি অন্যটির সহযোগী ছিল। যেরূপ সে যুগের 'আরবদের সাধারণ নিয়ম ছিল- ঐ গোত্রদ্বয় একে অন্যের সম্মুখে শপথ ও অঙ্গীকার করেছিল যে, পরস্পর একে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে উল্লেখিত গোত্রসমূহকে এজন্য উত্তম বলা হয়েছে যে, এ সকল গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতার সৌভাগ্য অর্জন করেছে এবং নিজেদের ভালো অবস্থা ও আচার-আচরণে প্রশংসার যোগ্য হওয়া প্রমাণ করতে পেরেছে।
(মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৭-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা তখন হতে বানূ তামীম-কে ভালোবেসে আসছি, যখন হতে তাদের তিনটি গুণের কথা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ হতে শুনেছি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, ১. আমার উম্মতের মধ্যে বানূ তামীমই দাজ্জালের বিরোধিতায় অধিক কঠোর প্রমাণিত হবে। ২. একবার তাদের সাদাকা্ এসে পৌছলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এটা আমার গোত্রের সাদাকা্। ৩. ’আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর কাছে বানূ তামীমের একটি দাসী ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি তাকে মুক্ত করে দাও। কেননা সে ইসমাঈল আলায়হিস সালাম-এর বংশধর। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: مَا زِلْتُ أُحِبُّ بَنِي تَمِيمٍ مُنْذُ ثلاثٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِيهِمْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «هُمْ أَشَدُّ أُمَّتِي عَلَى الدَّجَّالِ» قَالَ: وَجَاءَتْ صَدَقَاتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذِهِ صَدَقَاتُ قَوْمِنَا» وَكَانَتْ سَبِيَّةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَ: «اعْتِقِيهَا فَإِنَّهَا مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2543) و مسلم (198 / 2525)، (6451) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (هُمْ أَشَدُّ أُمَّتِي عَلَى الدَّجَّالِ) “আমার উম্মতের মধ্যে বানূ তামীমই দাজ্জালের মোকাবেলায় অধিক কঠোর প্রমাণিত হবে।” অর্থাৎ অভিশপ্ত দাজ্জাল যখন প্রকাশ পাবে তখন বানূ তামীমের লোকেরাই সবচেয়ে বেশি তার মোকাবেলা করবে এবং তাকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাবে এবং তাকে প্রত্যাখান ও মিথ্যা সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রগামী হবে। এ জাতীয় ঘোষণার মধ্যেই বানূ তামীমের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব পরিদৃষ্ট হয়। সাথে সাথে তাদের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণীও আছে যে, বানূ তামীম-এর সন্তান-সন্ততি দাজ্জাল প্রকাশিত হওয়ার সময়ও অত্যধিক থাকবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৮-[১০] সা’দ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: যে লোক কুরায়শকে অপমানিত করার ইচ্ছা পোষণ করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে অপমানিত করবেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
عَنْ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ يُرِدْ هَوَانَ قُرَيْشٍ أَهَانَهُ الله» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3905 وقال : غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: সর্বক্ষেত্রে কুরায়শদেরকে সম্মান-মর্যাদা দেয়া আবশ্যক। কুরায়শদেরকে অসম্মান করা ও তাদের অপমানের ইচ্ছা পোষণ করা প্রকারান্তরে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ক্রয় করা। এমতাবস্থায় তারা ইমামতে কুবরা তথা খিলাফাত অধিষ্ঠিত থাকুক বা না থাকুক। তারা খলীফাহ্ ও আমীর পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় তাদের অসম্মান ও অপমানের নিষেধাজ্ঞা ও ভৎসনার কারণ তো সুস্পষ্ট। তবে যে অবস্থায় তারা খিলাফাত ও ইমামতের পদে অধিষ্ঠিত থাকবে না সেক্ষেত্রেও তাদের অসম্মান ও অপমানের নিষেধাজ্ঞা এ হিসেবে মনে করা হবে যে, রাসূল (সা.) -এর সাথে বংশীয় দিক দিয়ে তাঁদের সম্পৃক্ততার সৌভাগ্য রয়েছে, আর তাদের এ বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা এ কথারই দাবি করে যে, তাদেরকে অসম্মান ও অপমান করা যাবে না।)। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২৩৩ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৮৯-[১১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হে আল্লাহ! তুমি কুরায়শদের প্রথম শ্রেণিকে প্রথমে দুঃখের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছ, এখন তাদের পরবর্তী শ্রেণিকে সুখ ভোগের সুযোগ দান কর। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ أَذَقْتَ أَوَّلَ قُرَيْشٍ نَكَالًا فَأَذِقْ آخِرَهُمْ نَوَالًا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
حسن ، رواہ الترمذی (3908 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(حسن صَحِيحٌ)
ব্যাখ্যা: কুরায়শদের প্রথম শ্রেণির লোকেরা নবী (সা.) -এর সাথে বিরোধিতার কারণে তার সাথে লড়াই করে বদর, উহুদ ও খন্দক যুদ্ধে নিহত হয়ে দুনিয়াতে ও আখিরাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। আর তাদের পরবর্তীগণকে তোমার সম্মান ও মর্যাদা হতে দান কর। কারণ মক্কা বিজয়ের পর তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ফলে নবী (সা.) তাদের সুখ আনন্দের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯০-[১২] আবূ ’আমির আল আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আসদ ও আশ’আর গোত্রদ্বয় খুবই ভালো। তারা লড়াইয়ের ময়দান হতে পলায়ন করে না এবং আমানত বা গনীমতের সম্পদের খিয়ানত করে না। অতএব তারা আমার দলের অন্তর্ভুক্ত আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এবং তিনি বলেছেন হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن أبي عَامر الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعْمَ الْحَيُّ الْأَسْدُ وَالْأَشْعَرُونَ لَا يَفِرُّونَ فِي الْقِتَالِ وَلَا يَغُلُّونَ هُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3947) و اخطا من ضعفہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আসদ হলো ইয়ামানের এক গোত্রের প্রধান পুরুষের নাম। আর গোত্রটি এ নামের সাথেই বেশি পরিচিত ও সুপ্রসিদ্ধ ছিল। এ গোত্রকে আযদ ও আযদ শানূআহ্-ও বলা হত। মদীনার সকল আনসার এ গোত্রের সাথে বংশীয় দিক দিয়ে সম্পৃক্ত ছিল।
আশ'আর মূলত ‘আমর ইবনু হারিসাহ আল আসাদী-এর উপাধি ছিল। যিনি স্বীয় যুগে ইয়ামানের বিশেষ সম্মানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনিও তাঁর গোত্রের প্রধান পুরুষ ছিলেন। তার উপাধির সাথে সম্পৃক্ত করে তার গোত্রকে আশআরী নামকরণ করা হয়েছিল। এ গোত্রের লোকেদেরকে আশ'আরীয়ুন ও আশ’আরূনও বলা হত। প্রখ্যাত সাহাবী আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) এবং তার বংশের লোক এ গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
‘তারা আমার দলের অন্তর্ভুক্ত’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তারা আমার অনুসারী এবং আমার সুন্নাত ও তরীকার অনুসারী। অথবা এ গোত্রের লোক আমার বন্ধু ও সাহায্য সহযোগিতাকারী। এমনিভাবে ‘আমি তাদের বন্ধু দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমিও তাদের বন্ধু ও সাহায্য-সহযোগিতাকারী- এ কথা দ্বারা যেন এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এ গোত্রের মুমিন ও মুসলিমরা তাকওয়া ও পরহেযগারী অবলম্বনকারী। আর এ কথা কুরআনের ভাষ্য দ্বারাও প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ তার সকল বন্ধু মুত্তাক্বী ও পরহেযগার। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২৩৪ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯১-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আদ গোত্র জমিনের উপর আল্লাহর (দীনের সাহায্যকারী) আযদ। লোকেরা তাদেরকে খাটো করে রাখতে চায়, অথচ আল্লাহ’ তা’আলা তার বিপরীত তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করতে চান। মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, কোন লোক আক্ষেপের সাথে বলবে, হায়! আমার পিতা কিংবা বলবে, আমার মতো যদি আযদ বংশীয় হতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْأَزْدُ أَزْدُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ يُرِيدُ النَّاسُ أَنْ يَضَعُوهُمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يَرْفَعَهُمْ وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَقُولُ الرَّجُلُ: يَا لَيْتَ أَبِي كَانَ أَزْدِيًا وَيَا لَيْتَ أُمِّي كَانَتْ أَزْدِيَّةً رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3937) ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আযদ বলতে আযদে শানূয়াহ্ উদ্দেশ্য। আর এটা হলো ইয়ামানের একটি গোত্র। তারা আযদ ইবনুল গাওস ইবনি লায়স ইবনু মালিক ইবনু কাহলান ইবনু সাবা-এর সন্তানাদি। আর আল্লাহ তাদেরকে নিজের সাথে সম্পর্কিত করার কারণ হলো তারা হলো আল্লাহর দল। আর তারা রসূলের সাহায্যকারী। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবদুল্লাহ বলার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে প্রথমত- তাদের এ নামে প্রসিদ্ধতার কারণে, তারা যুদ্ধের ময়দানে প্রতিষ্ঠিত থাকত তারা পলায়ন করত না। যা ইতোপূর্বে হাদীসে গত হয়েছে। তার উপর ভিত্তি করেই কাযী (রহিমাহুল্লাহ)ও অনুরূপ মন্তব্য করেছিলেন। দ্বিতীয়ত- এই সম্পর্কিত বিষয়টি হলো নির্দিষ্ট ও সম্মানের জন্য। যেমন বায়তুল্লাহ ও নাকাতুল্লাহ, যা তার কথার দ্বারা বুঝা যায়। মানুষ তাদেরকে হেয় করতে চায়..”। তৃতীয়ত- এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হলো বীর পুরুষ। আর কথাটি তাসবীহ বা সাদৃশ্যের মতো। যেমন- আসাদ বা সিংহ, আসাদুল্লাহ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯২-[১৪] “ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) (’আরবের) তিনটি গোত্রের ওপর অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গোত্রত্রয় হলো সাকীফ, বানূ হানীফাহ্ ও বানূ উমাইয়্যাহ্। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن عمرَان بن حُصَيْن قَالَ: مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَكْرَهُ ثَلَاثَةَ أَحْيَاءٍ: ثَقِيفٌ وَبَنِي حَنِيفَةَ وَبَنِي أُمَيَّةَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3943) * فیہ ھشام بن حسان و الحسن البصری مدلسان و عنعنا ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: সাকীফ হলো হাওয়াযিন গোত্রের গোত্র প্রধান। তাঁর নাম কুসায় ইবনু মুনাব্বিহ ইবনু বাকর ইবনু হাওয়াযিন যেমনটি কামূসে আছে। আর বানূ হানীফাহ্ হলো আসাল ইবনু লুজায়ম-এর উপাধি। তাদের গোত্র প্রধান হলো খাওলাহ্ ইবনু জা'ফার আল হানাফিয়াহ্। তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু আবূ ত্বালিব এর মা। আর বানূ উমাইয়্যাহ্ হলো কুরায়শদের একটি গোত্র। “উলামাগণ বলেছেন, নবী (সা.) এক সাকীফ সম্প্রদায়কে অপছন্দ করতেন হাজ্জাজের কারণে, আর বানী হানীফাকে অপছন্দ করতেন মুসায়লামাহ্ এর কারণে, আর বানূ উমায়্যাহ্ কে অপছন্দ করতেন ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর কারণে।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু সীরীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ যখন হুসায়ন (রাঃ)-এর মাথা নিয়ে আসলো, আর একটি গামলায় রেখে সেটিকে ডাণ্ডা দিয়ে গুতা দিচ্ছিল।
তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) জামি আত্ তিরমিযীতে বলেন, “উমারাহ্ ইবনু উমায়র বলেন, যখন ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ ও তার সাথিদের কর্তিত মাথা নিয়ে এসে মসজিদের খোলা জায়গায় রাখা হয়েছিল, তখন আমি সে অবস্থা দেখছিলাম। তারপর তারা বলল, তার কর্তিত মাথাটা রাখা হলে একটা সাপ এসে ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর নাকে ঢুকে যায়, তারপর কিছু সময় থেকে আবার বের হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়। এভাবে দু’বার বা তিনবার করেছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৩-[১৫] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সাকীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী এবং আর এক ধ্বংসকারীর জন্ম হবে। অধঃস্তন রাবী ’আবদুল্লাহ ইবনু ইসমাহ্ বলেন, মানুষের কাছে স্পষ্ট - সেই মিথ্যাবাদী হলো, মুখতার ইবনু আবূ উবায়দ। আর ধ্বংসকারী হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ। হিশাম ইবনু হাসসান বলেছেন, লোকেরা গণনা করে দেখেছে, হাজ্জাজ যে সমস্ত লোকদেরকে (যুদ্ধের ময়দান ব্যতীত) শুধু বন্দি করে হত্যা করেছে, তার সংখ্যা এক লক্ষ বিশ হাজার। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي ثَقِيفٍ كَذَّابٌ وَمُبِيرٌ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِصْمَةَ يُقَالُ: الْكَذَّابُ هُوَ الْمُخْتَارُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ وَالْمُبِيرُ هُوَ الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ وَقَالَ هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ: أَحْصَوْا مَا قَتَلَ الْحَجَّاجُ صَبْرًا فَبَلَغَ مِائَةَ ألفٍ وَعشْرين ألفا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (2220) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: মুখতার ইবনু আবূ উবায়দ আস্ সাকাফী। তিনি মুখতার ইবনু আবূ ‘উবায়দ ইবনু মাসউদ আস সাকাফী। হুসায়ন (রাঃ)-এর শাহাদাত বরণের পর তাঁর অভ্যুত্থান হয়। সে মানুষকে তার প্রভাবপ্রতিপত্তির প্রতি আহ্বান জানায়। আর এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য ছিল সে তার দিকে মানুষের মনোযোগ স্থাপন করবে। আর তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে জনগণের ওপর। সে তা দ্বারা দুনিয়া অর্জন করতে চেয়েছিল। কাযী (রহিমাহুল্লাহ) এমনটাই জানিয়েছেন। কথিত আছে যে, সে ‘আলী (রাঃ) -কে ঘৃণা করত, এও কথিত আছে যে, সে কূফাতে নুবুওয়্যাতের দাবী করেছিল। অতএব তাকে কায্যাব বা অধিক মিথ্যুক নামকরণ করা হয়। তাঁর মিথ্যার সর্বশেষ নমুনা হলো সে বলেছিল জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর কাছে ওয়াহী নিয়ে আসে। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) তা উল্লেখ করেছেন।
ইবনু আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, তাঁর পিতা ছিলেন একজন সাহাবী। মুখতার হিজরতের বছরে জন্মগ্রহণ করে। তবে সে কোন সাহাবী না। সে নবী (সা.) -কে দেখেনি, বা তার থেকে কোন হাদীসও বর্ণনা করেনি। তার সংবাদ সন্তোষজনক নয়। হিজরী ৭২ সনে মুসআব ইবনু উমায়র-এর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সে সামনে আসে। এর আগে সে সাহাবী ও তাবিঈদেরকে শত্রু মনে করত। আর তার এ সকল গুমরাহী প্রকাশ পায় ইবনুয যুবায়র-এর মৃত্যুর পরে। তখন তাঁর একমাত্র চাওয়া-পাওয়া হয়ে যায় শাসন ক্ষমতায় যাওয়া। তখন এ উদ্দেশ্য নিয়ে মুখতার হুসায়ন (রাঃ)-কে যারা শহীদ করেছিল তাদের অনেককে হত্যা করে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। তবে এর পিছনে তার উদ্দেশ্য ছিল কেবলমাত্র দুনিয়া অর্জন। দুনিয়ার ক্ষমতা লাভ করা। তারপর তার থেকে মিথ্যা ও পাগলামী সব কার্যকলাপ প্রকাশ পায়। তাঁর রাজত্ব ছিল মাত্র ১৭ মাস। কথিত আছে যে, সে প্রথমে খারিজী ছিল। এরপরে সে যুবায়রী হয়ে যায়। তারপর সে রাফিযী হয়ে যায়। সে ভিতরে ভিতরে ‘আলী (রাঃ)-কে শত্রু মনে করত। তাঁর নির্বুদ্ধিতার কারণে এটা মাঝে মাঝে প্রকাশ পেত। মীরাক সহীহ সূত্রে এমনটাই বর্ণনা করেছেন।
হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ: হাজ্জাজ অর্থ অধিক দলীল পেশকারী। ইরাক ও খুরাসানে সে বাদশা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান-এর গভর্নর ছিল। তারপর তার ছেলে ওয়ালীদেরও গভর্নর ছিল। সে হিজরী ৭৫ সনে শাওয়াল মাসে ওয়াসিতে মারা যায়। তখন তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৪-[১৬] আর সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, হাজ্জাজ যখন ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে শহীদ করল, তখন তার মাতা আসমা (রাঃ) বললেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, সাকীফ গোত্র হতে এক চরম মিথ্যাবাদী এবং এক রক্তপিপাসুর আবির্ভাব ঘটবে। অতএব সে জঘন্য মিথ্যাবাদী-কে আমরা দেখেছি। আর (হে হাজ্জাজ!) আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমিই সেই রক্তপিপাসু লোকে। পূর্ণ হাদীস তৃতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত হবে।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَرَوَى مُسْلِمٌ فِي «الصَّحِيحِ» حِينَ قَتَلَ الْحَجَّاجُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ قَالَتْ أَسْمَاءَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا «أَن فِي ثَقِيف كذابا ومبيرا» فَأَما الْكذَّاب فَرَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلَا إِخَالُكَ إِلَّا إِيَّاهُ. وَسَيَجِيءُ تَمام الحَدِيث فِي الْفَصْل الثَّالِث
رواہ مسلم (229 / 2545 و سیاتی : 6003) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: কাযযাব তথা মিথ্যুক ব্যক্তি হলো মুখতার ইবনু আবূ ‘উবায়দ। আর মুবীর বা রক্তপিপাসু হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ। যেমনটি পূর্বের হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৫-[১৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সাকীফ গোত্রের তীর আমাদেরকে জ্বালাতন করে রেখেছে। অতএব তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদদু’আ করুন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! সাকীফ গোত্রকে হিদায়াত দান কর। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن جَابر قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحْرَقَتْنَا نِبَالُ ثَقِيفٍ فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهِمْ. قَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ ثقيفا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3942 وقال : صحیح غریب) ابو زبیر عنعن و رواہ عبد الرحمن بن سابط عن جابر بہ مختصرًا (مسند احمد : 3 / 343) و عبد الرحمن لم یسمع من جابر رضی اللہ عنہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: সম্ভবত এটা ছিল ত্বায়িফ যুদ্ধের পরের ঘটনা। ত্বায়িফের যুদ্ধে সাকীফ গোত্রের তীর নিক্ষেপ সহ্য না করতে পেরে কতিপয় সাহাবী পিছনে সরে গিয়েছিল। তাই তারা রাসূল (সা.) -এর কাছে পরবর্তীতে এ আবেদন জানায়। ফলে রাসূল (সা.) তাদের ধ্বংসের পরিবর্তে তাদের হিদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেন। যাতে তারা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৬-[১৮] ’আবদুর রযযাক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতার মাধ্যমে মীনা’ হতে, আর তিনি আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী (সা.) -এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক লোক আসলো। আমার ধারণা লোকটি কায়স গোত্রীয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ’হিমইয়ার’ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত করুন। এ কথা শুনে নবী (সা.) মুখখানি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলেন। সে আবার সেদিকে হয়ে তার সম্মুখে দাঁড়াল। তিনি (সা.) আবার মুখখানি ঘুরিয়ে নিলেন। এবারও সেদিকে হতে সামনে এসে দাঁড়াল। সেবারও তিনি (সা.) মুখখানি ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর নবী (সা.) বললেন, আল্লাহ তা’আলা হিমইয়ার গোত্রের প্রতি রহমত নাযিল করুন। তাদের মুখে রয়েছে সালাম এবং হাতে আছে খাদ্য। আর তারা শান্তি ও ঈমানের অধিকারী। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন হাদীসটি গরীব। আমরা ’আবদুর রযযাক ছাড়া আর কারো কাছ হতে এ হাদীস শুনতে পাইনি এবং এই মীনা’ হতে বহু মুনকার হাদীস বর্ণিত রয়েছে]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مِينَاءَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فجَاء رَجُلٌ أَحْسَبُهُ مِنْ قَيْسٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْعَنْ حِمْيَرًا فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ جَاءَهُ من الشقّ الآخر فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ جَاءَهُ مِنَ الشِّقِّ الْآخَرِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَحِمَ اللَّهُ حِمْيَرًا أَفْوَاهُهُمْ سَلَامٌ وَأَيْدِيهِمْ طَعَامٌ وَهُمْ أَهْلُ أَمْنٍ وَإِيمَانٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ويُروى عَن ميناءَ هَذَا أَحَادِيث مَنَاكِير
اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (3939) * میناء : متروک و رمی بالرفض و کذبہ ابو حاتم ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসটিতে হিম্ইয়ার গোত্রের লোকেদের চারটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো- মানুষকে বেশি বেশি করে সালাম করা, অভুক্ত মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে খবর দান করা, অন্যকে ক্ষতি হতে নিরাপদে রাখ এবং ঈমানের দৃঢ়তা। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৭-[১৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কোন বংশের লোক? বললাম, আমি দাওস গোত্রের। তখন নবী (সা.) বললেন, দাওসের কোন লোকের মাঝেও কল্যাণ আছে বলে ইতোপূর্বে আমি ধারণা করতাম না। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مِمَّنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ دَوْسٍ. قَالَ: «مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّ فِي دَوْسٍ أحدا فِيهِ خير» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3838 وقال : غریب صحیح) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসটিতে আবূ হুরায়াহ্ (রাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। তার কারণে দাস বংশের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আর হাদীসটিতে দাওস সম্প্রদায়কে নিন্দা করা হয়েছে। তবে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর সম্প্রদায়ের মান-মর্যাদার কারণ হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৮-[২০] সালমান (ফারসী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তুমি আমার সাথে বিদ্বেষ রেখ না, তাহলে দীন ইসলাম হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। উত্তরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিরূপে আপনার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করতে পারি? অথচ আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ’আরবদের প্রতি হিংসা পোষণ করাই আমার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করার নামান্তর। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن سلمَان قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُبْغِضُنِي فَتُفَارِقَ دِينَكَ» قَلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أُبْغِضُكَ وَبِكَ هَدَانَا اللَّهُ؟ قَالَ: «تُبْغِضُ الْعَرَبَ فَتُبْغِضُنِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3927) * قابوس : فیہ لین ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: “যদি তুমি আরবদের সাথে শত্রুতা কর তবে আমার সাথে শত্রুতা করা হবে।” অর্থাৎ যখন তুমি আমভাবে 'আরবদের সাথে শত্রুতা রাখবে তখন তাদের সাথে আমাকেও শামিল করে ফেলবে। আর যদি নির্দিষ্টভাবে তুমি আরব জাতিকে ঘৃণা কর তবে আমাকেও তো তুমি ঘৃণা করলে। নাঊযুবিল্লাহ। মোটকথা হলো ‘আরবদের ঘৃণা করা মানে সৃষ্টির সেরা মানুষকে ঘৃণা করা। অতএব খুবই সাবধানতা অবলম্বন কর যাতে তুমি ক্ষতির সম্মুখীন না হয়ে পড়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৫৯৯৯-[২১] ’উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক ’আরবদের সাথে ছলনা করবে, সে আমার শাফা’আতের অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং আমার ভালোবাসাও লাভ করতে পারবে না। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব, হুসায়ন ইবনু উমার ছাড়া আর কেউ তা বর্ণনা করেননি, অথচ মুহাদ্দিসীনদের কাছে তিনি নির্ভরযোগ্য নন]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن عُثْمَان بن عَفَّان قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَشَّ الْعَرَبَ لَمْ يَدْخُلْ فِي شَفَاعَتِي وَلَمْ تَنَلْهُ مَوَدَّتِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ حُصَيْنِ بْنِ عُمَرَ وَلَيْسَ هُوَ عِنْدَ أهل الحَدِيث بِذَاكَ الْقوي
اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (3928) * حصین بن عمر : متروک ۔
(مَوْضُوع)
ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে অর্থাৎ ঘৃণা করবে সে নবী (সা.) -এর শাফা'আতে সুগরা পাবে না। তবে শাফা'আতে কুবরার বিষয়টি আম। এর সাথে সাথে সে আমার ভালোবাসা লাভ করতে পারবে না। এখানে নাহী কামাল বা পূর্ণ নিষেধকে বুঝানো হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০০-[২২] ত্বলহাহ্ ইবনু মালিক-এর মুক্ত দাসী উম্মু হারীর বলেন, আমি আমার মালিক (ত্বলহাহ্) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত কাছাকাছি হওয়ার আলামতসমূহের মাঝে একটি হলো ’আরবদের পতন হওয়া। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن أم حَرِير مولاة طَلْحَة بن مَالك قَالَتْ: سَمِعْتُ مَوْلَايَ يَقُولَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «مِنِ اقْتِرَابِ السَّاعَةِ هَلَاكُ الْعَرَبِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3929) * فیہ ام محمد بن ابی رزین : لم اجد من وثقھا ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার ‘আলামতসমূহের মধ্যে একটি হলো- ‘আরবদের ধ্বংস অর্থাৎ তাদের মুসলিমদের ধ্বংস অথবা এখানে ‘আরব জাতিকে বোঝানো হয়েছে। আর এখানে ইঙ্গিত আছে যে, পৃথিবীর অন্যান্যরা তাদের অনুসারী। আর যেহেতু খারাপ মানুষ ছাড়া কিয়ামত কায়িম হবে না। বরং অবস্থা এমন হবে যে, পৃথিবীতে আল্লাহ তথা লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলার মতো কোন লোককে পাওয়া যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০১-[২৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শাসন-কর্তৃত্ব কুরায়শদের মাঝে, বিচার আনসারদের মধ্যে, আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতকারী আযদ তথা ইয়ামানীদের মাঝে। (ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াই অধিক সহীহ)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُلْكُ فِي قُرَيْشٍ وَالْقَضَاءُ فِي الْأَنْصَارِ وَالْأَذَانُ فِي الْحَبَشَةِ وَالْأَمَانَةُ فِي الْأَزْدِ» يَعْنِي الْيَمَنَ. وَفِي رِوَايَةٍ مَوْقُوفًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا أصح
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3936) ۔
(مَوْقُوف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০২-[২৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুত্বী (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মক্কাহ্ বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আজকের পর হতে কিয়ামত অবধি কোন কুরায়শী বন্দি অবস্থায় হত্যা করা যাবে না। (মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «لَا يُقْتَلُ قُرَشِيٌّ صَبْرًا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (88 / 1782)، (4627) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ عَنْ أَبِيهِ) মুল্লা আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবদুল্লাহ হলেন কুরায়শী, তিনি মদীনায় বসবাস করতেন। তিনি নবী (সা.) -এর যুগে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা তাকে নবী (সা.) -এর নিকট নিয়ে গেলেন। তার পিতার নাম ছিল ‘আস, তাই নবী (সা.) তার নাম পরিবর্তন করে মুত্বী রাখেন। আবদুল্লাহ ছিলেন কুরায়শদের সর্দার। মদীনাবাসী তাকে আমীর বানান যখন তারা ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়ার নেতৃত্ব অস্বীকার করে।
‘আবদুল্লাহ-কে ৭৩ হিজরীতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র-এর সাথে হত্যা করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র তাকে কুফার গভর্নর বানিয়ে ছিলেন কিন্তু মুখতার ইবনু আবূ ‘উবায়দ সেখান থেকে তাকে বের করে দেয়।
(لَا يُقْتَلُ قُرَشِيٌّ صَبْرًا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ) মক্কা বিজয়ের পরে কোন কুরায়শকে যুদ্ধের ময়দানে কুফরী অবস্থায় হত্যা করা হবে না।
হুমায়দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে অর্থ হলো আজকের দিনের পর হতে এমন কোন কুরায়শীকে হত্যা করা হবে না, যে ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেছে এবং কুফরীর উপর অটল রয়েছে।
অতএব নবী (সা.) -এর যুগ হতে এ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে কিন্তু এমন কোন কুরায়শীকে পাওয়া যায়নি যে মুরতাদ হয়েছে ও কুফরীর উপর অটল রয়েছে যার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
কেউ কেউ বলেন, এমন কোন কুরায়শীকে পাওয়া যাবে না যাকে মুরতাদ হওয়ার কারণে হত্যা করা হবে। এ কথাকে আরো শক্তিশালী করে একটি হাদীস যেমন নবী (সা.) বলেছেন, শয়তান ‘আরব উপদ্বীপ হতে নিরাশ হয়ে গেছে। তাই কোন কুরায়শী মুরতাদ হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০৩-[২৫] আবূ নাওফাল মু’আবিয়াহ্ ইবনু মুসলিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনামুখী মক্কার গিরিপথে আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে (অর্থাৎ তাঁর মৃত লাশ) দেখতে পাই। তিনি বলেন, তাঁর কাছ দিয়ে কুরায়শ ও অন্যান্য বহু লোকই অতিক্রম করে যাচ্ছিল, অবশেষে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) তার পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার বেলায় দাঁড়িয়ে বললেন, ’আস্সালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব। অতঃপর বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা হয়েছে, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর কসম! আমার জানা মতে তুমি ছিলে অধিক সিয়ামদার, খুব বেশি “ইবাদত ও তাহাজ্জুদগুযার এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সদ্ব্যবহারকারী। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! যে দলের ’আক্বীদাহ্ ও ধারণা মন্দ তাদের নিকট প্রকৃতপক্ষে তুমি মন্দ নও। তিনি এটা বলেছিলেন উপহাসস্বরূপ।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, হ্যা, তারা খুব চমৎকার একটি গোষ্ঠী। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তথা হতে চলে গেলেন। অতঃপর ’আবদুল্লাহ-এর উক্ত স্থানে দাঁড়ানো এবং উল্লিখিত কথাগুলো বলার সংবাদটি হাজ্জাজ-এর কাছে পৌছল। অতঃপর সে ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর লাশের কাছে লোক পাঠালেন এবং শূলির কাষ্ঠ হতে লাশটি নামিয়ে ইয়াহুদীদের কবরস্থানে ফেলে দিলো। এরপর হাজ্জাজ তাঁর মাতা আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) -কে তার কাছে ডেকে পাঠাল; কিন্তু আসমা’ (রাঃ) তার কাছে আসতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর হাজ্জাজ এ কথা বলে আবার লোক পাঠাল যে, তাকে গিয়ে বল! হয়তো তুমি স্বেচ্ছায় আমার কাছে আসবে অথবা আমি তোমার কাছে এমন লোককে পাঠাব, যে তোমার চুলের বেণি চেপে ধরে তোমাকে হেঁচড়িয়ে টেনে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাঃ) এবারও আসতে অস্বীকার জানিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমার কাছে ততক্ষণ অবধি আসব না, যে পর্যন্ত তুমি এমন লোককে আমার কাছে পাঠাবে, যে আমার চুলের বেণি ধরে আমাকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে হাজ্জাজ বলল, তোমরা আমার জুতা দাও। অতঃপর সে তার জুতা পরিধান করল এবং দ্রুত রওয়ানা হলো এবং আসমা’ (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আল্লাহর দুশমন আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র -এর সাথে আমি যে আচরণ করেছি। এ ব্যাপারে তুমি আমাকে কেমন পেলে? উত্তরে তিনি বললেন, “আমি দেখেছি, তুমি তার দুনিয়াকে ধ্বংস করেছ, আর সে তোমার আখিরাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার কাছে এ খবরও পৌছেছে, তুমি নাকি তাকে (উপহাসস্বরূপ) বলেছ, হে দুই ফিতাওয়ালী সন্তান! আল্লাহর শপথ! আমিই সেই দুই ফিতাওয়ালী মহিলা। জেনে রাখ, তার (আমার কোমরে বাঁধবার দো-পাট্টার) একখণ্ড দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আবূ বকর (রাঃ) -এর সফরের খাদ্য বেঁধে উপরে ঝুলিয়ে রাখতাম এ আশঙ্কায় যাতে ইঁদুর বা অন্য কোন জীবজন্তু কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং অপর খণ্ড ঐ কাজে ব্যবহার করতাম যা হতে কোন নারী অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে না। জেনে রাখ, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, সাকীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী ও এক মহা অত্যাচারী জন্মগ্রহণ করবে। অতএব সে চরম মিথ্যুক (মুখতার)-কে আমরা এর আগে দেখেছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমিই সেই মহা অত্যাচারী যালিম। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা’(রাঃ) -এর মুখে উপরিউক্ত কথাগুলো শুনে হাজ্জাজ কোন প্রত্যুত্তর না করে চলে গেল। (মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنْ أَبِي نَوْفَلٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ قَالَ فَجَعَلَتْ قُرَيْشٌ تَمُرُّ عَلَيْهِ وَالنَّاسُ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَوقف عَلَيْهِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنْ كُنْتَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا وَصُولًا لِلرَّحِمِ أَمَا وَاللَّهِ لَأُمَّةٌ أَنْتَ شَرُّهَا لَأُمَّةُ سَوْءٍ - وَفِي رِوَايَةٍ لَأُمَّةُ خَيْرٍ - ثُمَّ نَفَذَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقِفُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَوْلُهُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُنْزِلَ عَنْ جِذْعِهِ فَأُلْقِيَ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ فَأَعَادَ عَلَيْهَا الرَّسُولَ لَتَأْتِيَنِّي أَوْ لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مَنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ. قَالَ: فَأَبَتْ وَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَا آتِيكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَيَّ من يسحبُني بقروني. قَالَ: فَقَالَ: أَرُونِي سِبْتِيَّ فَأَخَذَ نَعْلَيْهِ ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ: كَيْفَ رَأَيْتِنِي صَنَعْتُ بِعَدُوِّ اللَّهِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُولُ لَهُ: يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَنَا وَاللَّهِ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكُنْتُ أَرْفَعُ بِهِ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَعَامَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ الدَّوَابِّ وَأَمَّا الْآخَرُ فنطاق المرأةِ الَّتِي لَا تَسْتَغْنِي عَنهُ أما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدثنَا: «أَن فِي ثَقِيف كذابا ومبيرا» . فَأَما الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلَا إِخَالُكَ إِلَّا إِيَّاه. قَالَ فَقَامَ عَنْهَا وَلم يُرَاجِعهَا. رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (229 / 2545)، (6496) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ) (মদীনার ‘আকাবাহ্) এটি মূলত মক্কায় অবস্থিত। মদীনাবাসী যে পথ দিয়ে মক্কায় আগমন করে সেই পথে এই ‘আকাবাহ্ অবস্থিত। তাই তাদের সাথে সম্পৃক্ত করে “আকাবাতুল মদীনাহ্” বলা হয়েছে। আকাবার পাশেই “হাজুন” নামক স্থানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সমাধি ছিল যা বর্তমানে সেখানে নেই।
বলা হয়েছে, এই ‘আকাবাতেই ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র-কে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি ছাড়া আরো অসংখ্য সাহাবীদের কবর মক্কায় ছিল। রসূলের স্ত্রী খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর কবরও ছিল কিন্তু এ সকল কবরের কোন নির্দিষ্ট চিহ্নিত স্থান নেই। বলা হয়ে থাকে যে, মক্কায় যে সকল কবরস্থ স্থাপনা রয়েছে তা কতিপয় পরহেযগার লোকের স্বপ্নের ভিত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছিল।
(أَبَا خُبَيْبٍ) “আবূ খুবায়ব” ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর উপনাম ছিল। তাঁর তিনজন ছেলে ছিল। তাদের তিনজনের বড়জনের নাম ছিল খুবায়ব।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বাকিদের নাম তারীখে উল্লেখ করেছেন। তাদের নাম হলো বাকর এবং বুকায়র।
(السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ) উক্ত হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফনের আগে এবং পরে উভয় জায়গায় তিনবার সালাম দেয়া ‘মুস্তাহাব।
উক্ত হাদীসে আরো একটি বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো, মৃত ব্যক্তির ওপরে তার পরিচিত কোন গুণের মাধ্যমে তার প্রশংসা করা যায়।
এ হাদীসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর জনসম্মুখে সত্য বলার সাহসিকতা ফুটে উঠেছে। তিনি হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ-এর ক্ষমতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। তিনি জানতেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র সম্পর্কে তার মন্তব্য হাজ্জাজ-এর কাছে পৌছে যাবে তবুও তিনি সত্য বলতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি ইচ্ছা করেই এসব কথা বলেছিলেন যাতে করে হাজ্জাজ ইবনুয যুবায়র-কে মুক্তি দেয়।
আহনুল হকের মতে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) মাযলুম ছিলেন আর হাজ্জাজ ও তার সহচররা অত্যাচারী ছিল।
(لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ)-কে দীর্ঘদিন যাবৎ চলমান সংঘাত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
(هَذَ) এর (الْمُشَارُإِلَيْهِ) তথা উদ্দেশ্য হলো (الصلب) বা শূল।
এখানে নিষেধাজ্ঞার অর্থ হল, “আমি তোমাকে যে অবস্থায় দেখেছি সে অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে তোমাকে নিষেধ করেছিলাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
(صَوَّامًا) অর্থাৎ দিনের বেলায় অধিক সিয়াম পালনকারী।
(قَوَّامًا) অর্থাৎ রাতের বেলায় অধিক সালাত আদায়কারী।
(وَصُولًا لِلرَّحِمِ) অর্থাৎ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী। সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) সম্পর্কে কতিপয় তথ্য প্রদানকারীর (মনগড়া) কথার চাইতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার-এর এ কথাটিই অধিক সঠিক। তিনি ইবনু যুবায়র-কে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী গুণে গুণান্বিত করেছেন।
‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) (صَوَّامًا قَوَّامًا وَصُولًا لِلرَّحِمِ) এ কথাটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র-কে হাজ্জাজ-এর অত্যাচার ও অপবাদ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশে বলেছিলেন।
হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি আল্লাহর শত্রু এবং যালিম ইত্যাদি। ইবনু উমার (রাঃ) চেয়েছিলেন যেন লোকেরা জানতে পারে যে, ইবনুয যুবায়র সঠিক পথে ছিলেন আর তাঁকে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছিল।
(لَأُمَّةٌ أَنْتَ شَرُّهَا لَأُمَّةُ سَوْءٍ) ব্যাখ্যাও মূলত এ রকম ছিল।
(لَأُمَّةٌأَنْتَ أكْثَرُمِنْ وَصَلَ إِلَيْهِ شَرُّالنَّاسِ لَأُمَّةُ سَوْء) অর্থাৎ, উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তির নিকট নিকৃষ্ট জাতির মানুষের অনিষ্ট সবচেয়ে বেশি পৌছবে সে ব্যক্তিটি হলো তুমি। এটা হাসি-ঠাট্টার স্বরে বলা হয়েছে। কতিপয় লোক এর সুন্দর একটি উপমা এভাবে দিয়ে থাকেন যে, আবূ ইয়াযীদ আল বুসতামী-কে যখন তার দেশ হতে বের করে দেয়া হয় তখন তিনি বলেন, আবূ ইয়াযীদ-এর দেশের লোকেরা খুব নিকৃষ্ট কিন্তু দেশটি কতই না উত্তম হাসি-ঠাট্টা স্বরূপ।
(قُبُورِ الْيَهُودِ) এখানে ইয়াহুদীদের কবরস্থান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সেই জায়গা যেখানে মক্কাবাসী অথবা মক্কার বহিরাগত ইয়াহুদীদের কবর ছিল।
(أَرُونِي سِبْتِيَّ) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (سبت) শব্দের অর্থ হলো, (نعل) তথা জুতা (سبت) এমন জুতাকে বলা হয় যার উপর কোন পশম নেই।
অন্য এক সহীহ নুসখাতে শব্দটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, (سِبْتِيَّتَيَّ) তথা “সিবতিয়্যাতাইয়্যা”।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, (السِّبْتُ) হলো দাবাগত বা ঘসামাজার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পশমহীন চামড়া দ্বারা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে জুতা তৈরি করা হয়।
(السِّبْتُ) তথা সিবত্ব-এর শাব্দিক ক্রিয়াগত অর্থ হলো ন্যাড়া করা বা দূর করা। যেহেতু চামড়া থেকে পশম দূর করে জুতা তৈরি করা হয় সেহেতু এর নাম দেয়া হয়েছে সিবত্ব।
ইমাম আবূ দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (السِّبْتُ) দ্বারা ঐ স্থানের দিকে সম্বোধন করা হয়েছে যেই স্থানকে (سُوقُ السِّبْتُ) বা “সিবত্বের বাজার” বলা হয়।
অতএব ইমাম আবূ দাউদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, সিবত্ব একটি জায়গার নাম যার নামানুসারে জুতার নামকরণ করা হয়েছে।
(ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ) يَتَوَذَّفُ শব্দের ব্যাখ্যা আবূ ‘উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো (يُسْرِعُ) - অর্থাৎ সে দ্রুত বেগে চলতে লাগল। আর আবূ উমার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো, (يَتَبَخْتَرُ) অর্থাৎ, সে অহংকার আর গর্বভরে চলতে লাগল।
(ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ) শব্দের পরিচয় (نطاق) শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হলো ফিতা, বেল্ট বা কোমর বন্ধনী।
পরিভাষায় (نطاق) বলা হয় সেই (কাপড়ের তৈরি) ফিতাকে যা দ্বারা একজন মহিলা কর্মব্যস্ততার সময় কাপড় উপরে না উঠার জন্য কোমরে বেঁধে রাখে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী ১৬ খণ্ড, হা. ২৫৪৪/২২৯)
(ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ) একটি উপাধি। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বাকর (রাঃ) -এর কন্যা আসমা (রাঃ)' -কে সম্বোধন করে বলেছিলেন। রাসূল (সা.) যখন আবূ বাকর (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে হিজরতের সময় পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তখন আসমা' (রাঃ) তাদের জন্য সেখানে খাবার নিয়ে যেতেন। রাস্তা খানিকটা দূর হবার কারণে এবং খাদ্য নিয়ে পাহাড়ে উঠার সহজের জন্য নিজের কোমরের ফিতা দুই ভাগ করে একভাগ কোমরে বাঁধতেন আর অপরটা দিয়ে খাদ্য বাঁধতেন। এজন্য রাসূল (সা.) ও হাসির ছলে তাঁকে (ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ) বলেছিলেন, অত্র হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আসমা’ (রাঃ)-কে কটুক্তি করে নিন্দার জন্য এ কথা বলেছিল। (সম্পাদকীয়)
(فَأَما الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ) এখানে (كذاب) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখতার ইবনু ‘আদী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০৪-[২৬] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ)-এর যুগে সৃষ্ট ফিতনার সময় দুই লোক ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, লোকজন যা কিছু করছে তা তো আপনি দেখেছেন। অথচ আপনি একদিকে ’উমার (রাঃ)-এর পুত্র এবং অপর দিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর একজন সাহাবী। এতদসত্ত্বেও আপনাকে বের হতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি উত্তর দিলেন, এটা আমাকে বাধা দিচ্ছে যে, আল্লাহ তা’আলা আমার ওপর মুসলিম ভাইয়ের রক্ত অবৈধ করে দিয়েছেন। তারা বলল, আল্লাহ তা’আলা কি বলেননি যে, ফিতনাহ্ নির্মূল না হওয়া অবধি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর? ইবনু উমার (রাঃ) বললেন, আমরা যুদ্ধ করেছি, যাতে ফিতনাহ্ মিটে যায় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত হয়। আর আজ তোমরা যুদ্ধ করতে চাও, যাতে ফিতনাহ সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্যের দীন প্রতিষ্ঠিত হয়। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن نَافِع عَن ابْنَ عُمَرَ أَتَاهُ رَجُلَانِ فِي فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَا: إِنَّ النَّاسَ صَنَعُوا مَا تَرَى وَأَنْتَ ابْنُ عُمَرَ وَصَاحِبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَخْرُجَ؟ فَقَالَ: يَمْنعنِي أنَّ اللَّهَ حرم دَمَ أَخِي الْمُسْلِمِ. قَالَا: أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ: [وقاتلوهم حَتَّى لَا تكونَ فتْنَة] فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: قَدْ قَاتَلْنَا حَتَّى لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّينُ لِلَّهِ وَأَنْتُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا حَتَّى تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لغيرِ اللَّهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (4513) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (أَتَاهُ رَجُلَانِ) আগন্তক লোকের একজন হলেন ‘আলা ইবনু আরার, আর অপরজন হলেন হিব্বান আস সুলামী। (ফাতহুল বারী ৮ম খণ্ড)।
(وقاتلوهم حَتَّى لَا تكونَ فتْنَة) এখানে (فِتْنَةٌ) দ্বারা মুরাদ হলো শিরক।
(وَأَنْتُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا حَتَّى تَكُونَ فِتْنَةٌ) এখানে (فِتْنَةٌ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের সাথে দাঙ্গা হাঙ্গামা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০৫-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তুফায়ল ইবনু ’আমর আদ দাওসী রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, দাওস গোত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। অতএব আপনি তাদের ওপর আল্লাহর কাছে বদদু’আ করুন। তখন লোকেরা ধারণা করল, রাসূল (সা.) তাদের ওপর বদদু’আ করবেন, কিন্তু তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান কর এবং তাদেরকে নিয়ে আসো। (বুখারী ও মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: جَاءَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وسل فَقَالَ: إِنَّ دَوْسًا قَدْ هَلَكَتْ عَصَتْ وَأَبَتْ فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهِمْ فَظَنَّ النَّاسُ أَنَّهُ يَدْعُو عَلَيْهِمْ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَأْتِ بِهِمْ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6397) و مسلم (197 / 2524)، (6450) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ) তুফায়ল ইবনু ‘আমর (রাঃ)-কে যুননুর বলা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, একবার তুফায়ল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে দীন প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানোর সময় তাকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের বাণী পৌছে দাও। তখন তুফায়ল (রাঃ) বললেন, আমি যে আপনার কাছ থেকে দা'ওয়াত নিয়ে যাচ্ছি এর জন্য একটা আলামত বা প্রমাণ দিয়ে দেন। তখন রাসূল (সা.) তার জন্য দু'আ করলেন। তিনি (সা.) বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি তাকে আলোকিত কর।” ফলে তার দু' চোখের মাঝখানে আলো চমকাতে লাগল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওরা তো আমাকে অঙ্গ বিকৃতির অপবাদ দেবে। কাজেই আমার ভয় হচ্ছে। অতঃপর সেই আলো তার চাবুকের একপার্শে স্থানান্তরিত করে দেয়া হলো যা অন্ধকার রাতে আলো ছড়াত। তিনি সম্প্রদায়কে দাওয়াত দিলেন। তার দা'ওয়াতে তার বাবা ইসলাম কবুল করলেন কিন্তু মা করলেন না। অন্যদের মধ্যে শুধুমাত্র আবূ হুরায়রা (রাঃ) তার দাওয়াতে ইসলাম কবুল করলেন। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে, তিনি অনেক পূর্বে ইসলাম কবুল করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَأْتِ بِهِمْ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি দাওস গোত্রকে ইসলামের পথ দেখাও এবং মদীনায় মুহাজির বানিয়ে নিয়ে আসো। অথবা ইসলাম কবুলের জন্য তাদের অন্তরসমূহকে অগ্রগামী করে দাও। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, ইবনুল কালবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হুবায়ব ইবনু আমর ইবনু হাসমা আদ্ দাওসী দাস গোত্রের শাসনকর্তা ছিলেন। তার পূর্বে তার বাবাও ছিলেন। তাদের শাসনকার্য ছিল ৩০০ বছর হুবায়ব ইবনু ‘আমর একদিন বললেন, আমি জানি এই সৃষ্টিজগতের একজন স্রষ্টা আছেন কিন্তু তিনি কে তা আমি জানি না। অতঃপর তিনি তখন রাসূল (সা.) -এর কথা শুনলেন তখন তাঁর নিকট নিজ গোত্রের পঁচাত্তর জন লোকসহ আসলেন এবং সকলে মিলে ইসলাম কবুল করলেন।
ইবনু ইসহক উল্লেখ করেছেন, নবী (সা.) ‘আমর ইবনু হাসমা-এর প্রতিমা পুড়িয়ে দেয়ার জন্য তুফায়ল ইবনু ‘আমর-কে পাঠালেন এবং তিনি তা পুড়িয়ে দিলেন।
ইবনু শিহাব-এর সূত্রে মুফা ইবনু ‘উকবাহ্ উল্লেখ করেছেন। তুফায়ল ইবনু ‘আমর (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে অজ্ঞাতের হাতে শহীদ হয়েছেন। ইবনু সা'দ বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। আবার কেউ বলেছেন, ইয়ারমূকের যুদ্ধে শহীদ হন। (ফাতহুল বারী হা. ৮)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি
৬০০৬-[২৮] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা তিন কারণে ’আরবকে ভালোবাসবে। প্রথমত আমি হলাম ’আরবী, দ্বিতীয়ত কুরআন মাজীদের ভাষা হলো ’আরবী এবং তৃতীয়ত জান্নাতবাসীদের কথাবর্তার মধ্যস্থতা হবে ’আরবী। (বায়হাক্বী তাঁর শুআবূল ঈমান গ্রন্থে)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ قُرَيْشٍ وَذِكْرِ الْقَبَائِلِ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَحِبُّوا الْعَرَبَ لِثَلَاثٍ: لِأَنِّي عَرَبِيٌّ وَالْقُرْآنُ عَرَبِيٌّ وَكَلَامُ أَهْلِ الْجَنَّةِ عربيٌّ «. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الْإِيمَان
اسنادہ موضوع ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (1610 ، 1433 ، نسخۃ محققۃ : 1364 ، 1496) [و الحاکم (4 / 87) و العقیلی فی الضعفاء الکبیر (3 / 348)] * فیہ العلاء بن عمرو الحنفی : کذاب ، و علل أخری ۔
(مَوْضُوع)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০০৭-[১] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। কেননা তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর পথে খরচ করে, তবুও তাঁদের মর্যাদার এক মুদ কিংবা অর্ধ মুদ (যব গম খরচ)-এর সমান সাওয়াব পৌছতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
عَن أبي سعيدٍ الْخُدْرِيّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نصيفه» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3673) و مسلم (222 / 2541)، (6488) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي) হাদীসের শানে অরুদ: রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দু’জন প্রসিদ্ধ সাহাবী খালিদ ইবনু ওয়ালীদ এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ -এর মধ্যে কোন বিষয়ে বিতর্ক হচ্ছিল। এক পর্যায়ে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-কে গালি দেয়। তখন রাসূল (সা.) সাহাবীদেরকে গালি না দেয়ার ব্যাপারে এ কথা বললেন। এখানে (أَصْحَابِي) দ্বারা মুরাদ হলো বিশেষ কজন সাহাবী যারা ইসলাম গ্রহণে সাবিকীনও অগ্রগামী ছিলেন। অথবা (لَا تَسُبُّوا) দ্বারা উদ্দেশ্য সে সব বিদ্আতী যাদের পরবর্তীতে আগমন ঘটবে এবং তারা সাহাবীগণকে গালি দিবে যা নবী (সা.) নূরে নুবুওয়্যাত দ্বারা আগত হয়েছিলেন। ইমাম সুয়ূত্নী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন এখানে সাহাবীদেরকে খিতাব করা হয়নি। বরং ব্যাপক আকারে উম্মতের সবাইকে খিতাব করা হয়েছে।
মুসলিমের শরাহতে বলা হয়েছে, সাহাবীদের গালি দেয়া সবচেয়ে বড় কাবীরা গুনাহ। কিছু কিছু মালিকী মাযহাবের ‘আলিম বলেছেন, যে গালি দিবে তাকে হত্যা করতে হবে। কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, সাহাবীদের গালি দেয়া কাবীরাহ গুনাহ। কোন কোন ‘আলিম বলেছেন, শায়খায়ন তথা আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-কে যে গালি দিবে তাকে হত্যা করা আবশ্যক।
“আল আশবাহ ওয়া নাযায়ির” গ্রন্থের লেখক যায়ন ইবনু নাজিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কাফির যদি দুনিয়ায় তার কুফরীর কারণে তাওবাহ্ করে তবে তা কবুল হয় কিন্তু যেই কাফিররা নবী ও সাহাবীদের গালি দিবে তাদের তাওবাহ্ কবুল হয় না। তিনি আরো বলেন কেউ যদি আবূ বাকর এবং “উমার (রাঃ)-এর ওপর ‘আলী (রাঃ) -এর মর্যাদা বর্ণনা করে তাহলে সে বিদ্আত করল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ) ইমাম বুরকানী (রহিমাহুল্লাহ) (الْمُصَافَحَةِ) গ্রন্থে “আবূ বাকর ইবনু ‘আইয়্যাশ থেকে” এই সূত্রে (كُلَّ يَوْمٍ) অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন। আর তিনি বলেছেন, এটা উত্তম বৃদ্ধি।
(مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نصيفه) ইমাম খত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ কথা বলার উদ্দেশ্য হলো মর্যাদা এবং প্রকারতা।
ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদীসের তৎপর্য হলো এই যে, কোন সাহাবী যদি এক মুদ অথবা অর্ধ মুদ পরিমাণ খাদ্য আল্লাহর রাস্তায় সদাকাহ করে, তাহলে সেই সদাকাহ্ সমপরিমাণ হবে না যদিও সাধারণ কোন মুসলিম উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ দান করে। এই মর্যাদা পার্থক্যের কারণ হলো সাহাবীদের ইখলাস এবং বিশুদ্ধ নিয়্যাত সবার চাইতে বেশি ছিলেন। (ফাতহুল বারী ৭)
মিরকাতুল মাফাতীহে বলা হয়েছে, ইসলামের পতাকা উড্ডিন করার জন্য সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ার পরেও বৃহৎ প্রয়োজনের স্বার্থে তাদের এই সদাকাহ এবং ত্যাগ অনেক কল্যাণ ও বরকত অর্জনের কারণ ছিল, বিধায় তাদের সদাকার এত মর্যাদা।
ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাহাবীদের অত্যধিক মর্যাদার পিছনে কারণ ছিল তাদের দান সদাকাহ্। মহান আল্লাহ সূরাহ্ আল হাদীদ-এর ১০ নং আয়াতে বলেন,
(لَا یَسۡتَوِیۡ مِنۡکُمۡ مَّنۡ اَنۡفَقَ مِنۡ قَبۡلِ الۡفَتۡحِ وَ قٰتَلَ ؕ اُولٰٓئِکَ اَعۡظَمُ دَرَجَۃً مِّنَ الَّذِیۡنَ اَنۡفَقُوۡا مِنۡۢ بَعۡدُ وَ قٰتَلُوۡا) “তোমাদের মধ্যে যে লোক মক্কা বিজয়ের পূর্বে সদাকাহ করেছে এবং জিহাদ করেছে সে সমান নয়। এই সমস্ত লোকেদের মর্যাদা অনেক বেশি ঐসব ঈমানদার লোকেদের চেয়ে যারা পরে সদাকাহ করেছে এবং জিহাদ করেছে”- (সূরা আল হাদীদ ৫৭:১০)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০০৮-[২] আবূ বুরদাহ্ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) , আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকালেন। বস্তুত তিনি (সা.) প্রায় আসমানের দিকে মাথা তুলে দেখতেন। অতঃপর বললেন, তারকারাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যেদিন এ সমস্ত গ্রহগুলো চলে যাবে, সেদিন আকাশের তাই ঘটবে, যার প্রতিশ্রুতি পূর্বেই দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যাবে)। আর আমি হলাম আমার সাহাবীদের ওপর নিরাপত্তাস্বরূপ। অতএব আমি যখন চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের মধ্যে তাই সংঘটিত হবে, যার প্রতিশ্রুতি আগেই দেয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ হলেন আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের ওপর তাই নেমে আসবে, আগেই যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে (শারী’আহ্ পরিপন্থী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে)। (মুসলিম)।
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَن أبي بردة عَن أَبيه قَالَ: رَفَعَ - يَعْنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم - رَأسه إِلَى السَّمَاء وَكَانَ كثيرا مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومَ أَتَى السَّمَاءَ مَا توعَدُ وَأَنا أَمَنةٌ لِأَصْحَابِي فَإِذَا ذَهَبْتُ أَنَا أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لِأُمَّتِي فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمتي مَا يُوعَدُون» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (207 / 2531)، (6466) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ) এখানে (أَمَنَةٌ)-এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেছেন, (أَمَنٌ وَمَرْحَمَةٌ) অর্থাৎ নিরাপত্তা ও অনুগ্রহ। আবার কেউ বলেছেন, হিফাযতকারী।
(أَتَى السَّمَاءَ مَا توعَدُ) অর্থাৎ, আসমানের অঙ্গীকার হলো কিয়ামতের দিন তা বিদীর্ণ হবে এবং গুটিয়ে যাবে।
(ذَهَبَتِ النُّجُومَ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারকারাজি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া।
(وَأَنا أَمَنةٌ لِأَصْحَابِي) আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (أَمَنةٌ) শব্দটিকে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সম্পৃক্ত করা হবে তখন তার দুই রকম অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একটি হলো, অত্যধিক পরিমাণ অর্থে ব্যবহৃত হয় যেমন বলা হয়ে থাকে (رَجُلٌ عَدْلٌ) অর্থাৎ অধিক ন্যায়পরায়ণ লোক। আর অপরটি হলো বহুবচন অর্থে যেমন আল্লাহ বলেন, (شِهَابًا رَصَدً) অর্থাৎ (رَاصدٍينَ)। অনুরূপ আল্লাহ বলেন, (إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قًانِتًا) এখানে (أُمَّةً) বহুবচনের অর্থে এসেছে। অতএব রাসূল (সা.) তার সাহাবীর জন্য নিরাপত্তার দিক থেকে একটি জামা'আতের মতো।
(أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ) অর্থাৎ বিভিন্ন ফিতনাহ, মতানৈক্য দ্বন্দ্ব, সংঘাত, হত্যা ইত্যাদির সাথে সাহাবীগণ জড়িয়ে যাবে।
(أَتَى أُمتي مَا يُوعَدُون) এর অর্থ হলো সৎ লোকগুলো মারা যাবে। তাদের স্থানে অযোগ্য এবং অসৎ লোক আসবে দীনের মাঝে বিদ্আত, কুসংস্কার আর অপসংস্কৃতি সয়লাব করবে, চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। শয়তানের শিং উদিত হবে, রোমবাসীর উত্থান হবে, মক্কাহ মদীনাহ সহ পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদাহানী হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী ১৬)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০০৯-[৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, যে বহুসংখ্যক লোকে জিহাদের যোগদান করবে। তখন তারা একে অপরকে প্রশ্ন করবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন লোক আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহচর্য অর্জন করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। অতঃপর লোকেদের ওপর এমন এক সময় আসবে যে, তাদের বহুসংখ্যক লোক জিহাদে যোগদান করবে। তখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন লোক রয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, রয়েছেন। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। তারপর লোকেদের ওপর এমন এক যামানা আসবে যে, তাদের বহুসংখ্যক লোক জিহাদে যোগদান করবে। তখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভকারীদের (তাবিঈদের) সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, রয়েছেন। তখন তাদের (উক্ত তাবি তাবি’ঈদের বরকতে) জয়যুক্ত করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম-এর অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, তাদের মধ্য হতে একটি সেনাদলকে অভিযানে পাঠানো হবে, তখন মুজাহিদগণ বলবে, তালাশ করে দেখ তো তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের কাউকেও পাও নাকি? তখন এক ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে। অতএব তাদেরকে জয়যুক্ত করা হবে। পরবর্তী যুগে দ্বিতীয় আরেকটি সেনাদল পাঠানো হবে। তখন তারা পরস্পর বলবে, তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদেরকে দেখেছেন? তখন তাদেরকেও বিজয় দান করা হবে। এর পরবর্তী সময়ে তৃতীয় সেনাদল প্রেরণ করা হবে। তখন বলা হবে, খোঁজ করে দেখ তো তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীকে দেখেছেন, বা তাকে দেখেছেন? তারপর চতুর্থ সেনাদলকে পাঠানো হবে, তখন বলা হবে, অনুসন্ধান করে দেখ! তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি যিনি এমন কোন লোককে দেখেছেন যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীকে দর্শনকারী কোন লোককে দেখেছেন। তখন এক ব্যক্তিকে সন্ধান করে পাওয়া যাবে। অতএব তাদেরকেও তার কারণে জয়যুক্ত করা হবে।
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيَقُولُونَ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُبْعَثُ مِنْهُمُ الْبَعْثُ فَيَقُولُونَ: انْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ فِيكُمْ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّانِي فَيَقُولُونَ: هَلْ فِيهِمْ مَنْ رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّالِثُ فَيُقَالُ: انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ مَنْ رَأَى مَنْ رَأَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ ثُمَّ يَكُونُ الْبَعْثُ الرَّابِعُ فَيُقَالُ: انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ أَحَدًا رَأَى مَنْ رَأَى أَحَدًا رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُم بِهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3649) و مسلم (208 / 2532 و الروایۃ الثانیۃ 209 / 2532)، (6467) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মু'জিযাহ্, সাহাবী, তাবিঈ, তাবি-তাবিঈদের মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৬, মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ
৬০১০-[৪] “ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম লোক হলো আমার যুগের লোক (সাহাবীদের যুগ)। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, তাদের পর এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষ্য দিবে অথচ তাদের কাছ হতে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। তারা খিয়ানত করবে, তাদের আমানাতদারীর উপর বিশ্বাস করা যাবে না। তারা মানৎ করবে; কিন্তু তা পূর্ণ করবে না, তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে। অপর এক বর্ণনাতে আছে, তারা (নিষ্প্রয়োজনে) শপথ করবে, অথচ তাদের কাছ হতে শপথ চাওয়া হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ إِنَّ بَعْدَهُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ وَيَنْذُرُونَ وَلَا يفون وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَيَحْلِفُونَ وَلَا يستحلفون» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3650) و مسلم (214 / 2535 و الروایۃ الثانیۃ 215 / 2535)، (6475) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي) হাদীসে বর্ণিত (قَرْنِي) শব্দটির অর্থ হলো যুগ, দীর্ঘকাল, শতাব্দী ইত্যাদি। এই (قَرْنِي) শব্দের ব্যাখ্যায় ‘আলিমদের মতানৈক্য রয়েছে। সহীহ মুসলিমে ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর-এর হাদীসে এসেছে কারণ হলো একশত বছর। (এটিই প্রসিদ্ধ মত)
(الْطَالِعِ) গ্রন্থকার বলেন, (قَرْنِي) হলো এমন দীর্ঘ সময় যে সময়ে তখন জীবিত কোন জাতির সবাই মারা যায়। হাদীসে বর্ণিত (قَرْنِي) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাহাবীদের যুগ।
অর্থাৎ, সাহাবীরা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন ছিল সর্বোত্তম (قَرْنِي) বা শতাব্দী।
(ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ) এখানে (الَّذِينَ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাবিঈ। যারা সাহাবীদের অনুসারী ছিলেন তাদেরকে তাবি'ঈ বলে এবং ঈমানী হালতে মৃত্যুবরণ করেছে।
(ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ) এখানে (لَّذِينَ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাবি তাবিঈ। অর্থাৎ যারা তাবিঈদের অনুসারী ছিলেন এবং ঈমানী হালতে মৃত্যুবরণ করেছে।
(يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ) উল্লেখিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এক শ্রেণির লোকেদেরকে নিন্দাবাদ ব্যক্ত করেছেন যারা আগ বাড়িয়ে সাক্ষ্য দিবে অথচ তাদের কাছে সাক্ষ্য চাওয়া হয়নি। অন্য এক সহীহ হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজ থেকে সাক্ষ্য দিবে তার প্রশংসা করেছেন। বাহ্যত সাংঘর্ষিক মনে হলেও ‘উলামাগণ এর সঠিক সমাধান দিয়েছেন। সমাধান হলো এই, রাসূল (সা.) যেই সাক্ষ্যদাতাকে উৎকৃষ্ট সাক্ষ্যদানকারী বলে প্রশংসা করেছেন, তার কারণ হলো যে, সেই লোক জানে, সে ছাড়া অন্য কেউ বিষয়টি জানে না। কাজেই সে যদি এখানে সাক্ষ্য না দেয় তাহলে একজন ব্যক্তির হক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সে ঐ লোকটির হক ফিরে পাওয়ার জন্য আগ বাড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে। এ অবস্থায় সাক্ষ্য দান করা উৎকৃষ্ট।
আর উক্ত হাদীসে যাদের তিরস্কার করা হয়েছে তাদের বিষয়টি হলো এমন যে, যার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে সে তার হক সম্পর্কে আগেই জানত, কিন্তু লোকের কারণে এবং খুব দ্রুত হাতে পাওয়ার জন্য অন্য কেউ তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে দেয় অথচ তার কাছে সাক্ষ্য চাওয়াই হয়নি।
কোন কোন সালাফ বলেছেন, (يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ) দ্বারা তাদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা সাক্ষ্য দেয়ার যোগ্য নয়। আমানাতদার বা বিশ্বস্ত নয়।
কেউ কেউ বলেছেন, প্রশংসনীয় সাক্ষ্য হলো আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে আর নিন্দনীয় সাক্ষ্য হলো বান্দার হকের ক্ষেত্রে।
(وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ) السِّمَنُ শব্দের ব্যাখ্যায় ‘আন্ নিহায়াহ্’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন, এখানে (السِّمَنُ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শেষ যামানায় এমন একটি সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে যারা এমন কিছু নিয়ে অহংকার করবে যা তাদের ভিতরে নেই এবং এমন কিছুর অধিকারী বলে দাবী করবে যাতে কোন সম্মান নেই। কেউ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বারা সম্পদ জমা করে রাখার কথা বুঝিয়েছেন। আবার কেউ বলেন, অধিক ভোজন প্রিয় হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন যা মোটা বা স্বাস্থ্যবান হওয়ার কারণ।
‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথার দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসলাম সম্পর্কে গুরুত্বহীন ও অবহেলা প্রকাশের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কেননা অধিকাংশ সময়ই স্বাস্থ্যবান লোকেরা দীনের কাজের প্রতি গুরুত্ব দেয় না বরং অলসতা আর ঘুমে আগ্রহী হয়ে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা. ৭)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১১-[৫] আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, অতঃপর এমন লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, যারা স্কুলদেহী হওয়া পছন্দ করবে।
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «ثُمَّ يخلف قوم يحبونَ السمانة»
رواہ مسلم (213 / 2534)، (6473) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১২-[৬] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার সাহাবীদেরকে সম্মান কর। কেননা তারা তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম লোক। অতঃপর তৎপরবর্তী লোকেদেরকে, অতঃপর তৎপরবর্তী লোকেদেরকে, এরপর প্রকাশ্যে মিথ্যা চলতে থাকবে। এমনকি কোন লোক কসম করবে, অথচ তার নিকট হতে কসম চাওয়া হবে না। সে সাক্ষ্য দিবে, অথচ তার কাছ হতে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। সাবধান! যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলের আকাঙ্ক্ষী, সে যেন জামা’আতকে ধরে রাখে। (অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ, তাবি তাবিঈন ও সালাফে সালিহীনদের অনুসরণ করে চলে) কেননা শয়তান একক লোকের সাথে থাকে। আর সে দুজনের জামা’আত হতে বেশি দূরে থাকে। তোমাদের কেউ যেন কোন বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে। কেননা শয়তান তৃতীয় লোক হিসেবে তাদের সাথে উপস্থিত থাকে। আর যার ভালো কাজে মনের মধ্যে আনন্দ জাগে এবং বদকাজ তাকে চিন্তিত করে ফেলে সে-ই প্রকৃত ঈমানদার।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْرِمُوا أَصْحَابِي فَإِنَّهُمْ خِيَارُكُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَظْهَرُ الْكَذِبُ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَحْلِفُ وَلَا يُسْتَحْلَفُ وَيَشْهَدُ وَلَا يُسْتَشْهَدُ أَلَا مَنْ سَرَّهُ بُحْبُوحَةُ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمْ وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سيئته فَهُوَ مُؤمن»
صحیح ، رواہ [النسائی فی الکبری (5 / 387 ۔ 388 ح 9222 ۔ 9224) و عبد بن حمید (23) ولہ طریق آخر عند الحمیدی (32) و الترمذی (2165 وقال : حسن صحیح غریب)] ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৩-[৭] জাবির (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এমন কোন মুসলিমকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, যে আমাকে দেখেছে বা আমাকে যে দেখেছে- তাকে দেখেছে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا رَآنِي أَو رأى من رَآنِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3858) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৪-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহকে ভয় কর আমার সাহাবীদের ব্যাপারে। আমার (ওফাতের পরে তাদেরকে সমালোচনার পাত্র বানিও না। যে লোক তাদেরকে ভালোবাসে, সে আমার মুহাব্বাতেই তাদেরকে মুহাব্বাত করল। পক্ষান্তরে যে লোক তাদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা রাখে, সে আমার প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা রাখল। আর যে লোক তাদেরকে দুঃখ বা কষ্ট দিল, সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল। অতএব যে আল্লাহ তা’আলাকে কষ্ট দিল, আল্লাহ তা’আলা তাকে শীঘ্রই পাকড়াও করবেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا مِنْ بَعْدِي فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3862) * عبد الرحمن بن زیاد اختلفوا فی اسمہ ولم یوثقہ غیر ابن حبان وھو مجھول الحال ولم یثبت عن الترمذی بانہ قال فی حدیثہ : حسن : وقال البخاری : فیہ نظر (التاریخ الکبیر 5 131 ت 389) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (اللَّهُ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي) উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। কোন ক্রমেই যেন তাদের সম্মান এতটুকুও নষ্ট না হয় এজন্য দু’বার ‘আল্লাহ’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন। অতএব (اللَّهُ اللَّهَ) এ কথার অর্থ হলো, (اِتَّقِ اللَّهَ،اِتَّقِ اللَّهَ) অর্থাৎ, “তোমরা আল্লাহকে পূর্ণাঙ্গরূপে ভয় কর” (ي أَصْحَابِي) সাহাবীদের হক সংরক্ষণের ব্যাপারে সাহাবীদের হক সংরক্ষণ করার অর্থ হলো, তাদেরকে পূর্ণ মর্যাদা দেয়া গালি-মন্দ না করা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(ا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا مِنْ بَعْدِي) অর্থাৎ, আমার মৃত্যুর পর তোমরা তাদের সমালোচনা করবে না। তাদেরকে অপবাদ দিবে না তাদের ব্যাপারে মন্দ কথা ও ঘৃণা ছড়াবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৫-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে আমার সাহাবীগণ হলেন খাদ্যের মাঝে লবণের মতো। মূলত লবণ ছাড়া খাদ্য সুস্বাদু হয় না। হাসান বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমাদের লবণ চলে গেছে, অতএব আমরা কেমন করে সংশোধিত হব। (শারহুস সুন্নাহ)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ أَصْحَابِي فِي أُمَّتِي كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ لَا يَصْلُحُ الطَّعَامُ إِلَّا بِالْمِلْحِ» قَالَ الْحَسَنُ: فَقَدْ ذَهَبَ مِلْحُنَا فَكَيْفَ نصلح؟ رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»
اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 72 ۔ 73 ح 3863) * فیہ اسماعیل بن مسلم المکی وھو ضعیف و فی السند علۃ أخری ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৬-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুরয়দাহ্ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ভূমিতে আমার কোন একজন সাহাবী মৃত্যুবরণ করবেন, কিয়ামতের দিন তাঁকে এভাবে উঠানো হবে যে, তিনি সে জমিনের অধিবাসীগণকে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবেন এবং তিনি হবেন তাদের জন্য জ্যোতি।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব। আর ইবনু মাস’উদ-এর হাদীস (لَا يُبَلِّغُنِي أَحَدٌ) “আমাকে কেউ সংবাদ দেয়নি” বাক্যটি ’হিফযুল লিসান “জিহ্বার হিফাযাত” অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي يَمُوتُ بِأَرْضٍ إِلَّا بُعِثَ قَائِدًا وَنُورًا لَهُمْ يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَذُكِرَ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ «لَا يُبَلِّغُنِي أَحَدٌ» فِي بَاب «حفظ اللِّسَان»
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3865) * فیہ عثمان بن ناجیۃ : مستور ۔ 0 حدیث ابن مسعود تقدم (4852) ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৭-[১১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমরা ঐ সমস্ত লোকদেরকে দেখবে, যারা আমার সাহাবীদেরকে গালি দেয়, তখন তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত তোমাদের এ মন্দ আচরণের জন্য। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: إِذا رَأَيْتُمْ الَّذِينَ يَسُبُّونَ أَصْحَابِي فَقُولُوا: لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى شركم . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3866) * نصر بن حماد : ضعیف و سیف بن عمر : ضعیف فی الحدیث و ضعیف فی التاریخ علی الراجح ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৮-[১২] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তিনি (সা.) বলেছেন: আমি আমার প্রভুকে আমার মৃত্যুর পর আমার সাহাবীদের মধ্যে মতবিরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ওয়াহীর মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দিলেন, হে মুহাম্মাদ! আমার নিকট তোমার সাহাবীদের মর্যাদা হলো আকাশের তারকারাজির ন্যায়। যার একটি আরেকটি থেকে অধিক উজ্জ্বল। অথচ প্রত্যেকটির মধ্যে আলো রয়েছে। এরূপই আমার সাহাবীগণ। অতএব তাদের (সাহাবীদের) মতভেদ হতে যে কোন লোক কোন একটি অভিমত গ্রহণ করবে, সে আমার সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, আমার সাহাবীগণ হলেন তারকারাজির মতো। অতএব তোমরা তাদের যে কাউকে অনুসরণ করবে হিদায়াত পাবে। (রযীন)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب الصَّحَابَة)
وَعَن عمر بن الْخطاب قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: سَأَلْتُ رَبِّي عَنِ اخْتِلَافِ أَصْحَابِي مِنْ بَعْدِي فَأَوْحَى إِلَيَّ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ أَصْحَابَكَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةِ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ بَعْضُهَا أَقْوَى مِنْ بَعْضٍ وَلِكُلٍّ نُورٌ فَمَنْ أَخَذَ بِشَيْءٍ مِمَّا هُمْ عَلَيْهِ مِنِ اخْتِلَافِهِمْ فَهُوَ عِنْدِي عَلَى هُدًى قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ فَبِأَيِّهِمُ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ» . رَوَاهُ رزين
ضعیف جذا ، رواہ رزین (لم اجدہ) [و الخطیب فی الفقیہ و المتفقہ (1 / 177) و فیہ نعیم بن حماد صدوق حسن الحدیث و لکن عبد الرحیم بن زید العمی کذاب و ابوہ ضعیف ، و للحدیث شواھد باطلۃ و مردودۃ] ۔
(بَاطِل)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০১৯-[১] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: লোকেদের মধ্যে নিজস্ব সম্পদ ও সাহচর্য দ্বারা আমার প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন আবূ বকর (রাঃ) আর বুখারীতে (أَبُو بَكْرٍ) -এর স্থলে (أَبَا بَكْ) রয়েছে। যদি আমি কাউকে বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকর-কেই বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, কিন্তু তাঁর সাথে ইসলামী ভ্রাতত্ব ও (দীনী) মুহাব্বাত রয়েছে। (অতঃপর তিনি ঘোষণা দিলেন,) মসজিদে আবূ বকর-এর দরজা ব্যতীত আর কোন দরজা যেন অবশিষ্ট না থাকে। অপর এক রিওয়ায়াতে আছে- [নবী (সা.) বলেছেন] যদি আমি আমার রব্ ব্যতীত আর কাউকে বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকর-কেই আমি বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍ - وَعِنْدَ الْبُخَارِيِّ أَبَا بَكْرٍ - وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الْإِسْلَامِ وَمَوَدَّتُهُ لَا تُبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةَ أَبِي بَكْرٍ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا غَيْرَ رَبِّي لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3904 و الروایۃ الثانیۃ : 3654) و مسلم (2 / 2382)، (6170) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا) এ প্রসঙ্গে কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, খলীল বলা হয় সেই প্রিয় ব্যক্তিকে যার উপর বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনের তাগিদে নির্ভরশীল হতে হয়। এখানে (خَلِيلًا) শব্দের উৎস বা মূল হলো (الخلة) যার অর্থ হলো হাজত বা প্রয়োজন। অতএব এর ভাবার্থ হলো এই, যদি আমি সৃষ্টজীবের মধ্য হতে কাউকে বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে বিভিন্ন প্রয়োজনে তার কাছে যেতাম এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার উপর নির্ভরশীল হতাম।
(لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلً) তাহলে আমি আবূ বাকরকেই বিশেষ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম। যেহেতু সার্বিক অবস্থায় এবং সকল কাজে আল্লাহর উপরই নির্ভরশীল হতে হয় এবং তার দিকেই ফিরে যেতে হয় তাই সৃষ্টিজীবের কাউকে আমি খলীল হিসেবে গ্রহণ করিনি।
উল্লেখ্য যে, ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে খলীলুল্লাহ বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর খলীল বা বন্ধু। এখানে (خَلِيلًا) শব্দটি (الخصلة) বা চরিত্র অর্থে এসেছে। কারণ ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে বিশেষভাবে উত্তম চরিত্র দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
ইবরাহীম আলায়হিস সালাম আল্লাহর খলীল হওয়ার ব্যাপারে আরো কিছু মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, এর কারণ হলো তিনি আল্লাহর জন্যই মানুষকে ভালোবাসতেন এবং তার জন্যই মানুষের সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। আবার কেউ বলেছেন, তাঁকে উত্তম চরিত্র আর উন্নত গুণাবলি দিয়ে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। অতএব ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর ওপর আল্লাহর বন্ধুত্বের অর্থ হলো আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন এবং পরবর্তী সকল জাতির জন্য ইমাম বা পথপ্রদর্শক বানিয়েছেন।
ইবনু ফুরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, (الخلة) বা খলীলের অর্থ হলো, আড়াল বা অদৃশ্যতার সাথে থেকেও আল্লাহর জন্য স্বচ্ছ ভালোবাসা প্রদর্শন করা। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা. ৬০১৯)
(خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةَ أَبِي بَكْ) শব্দের অর্থ হলো ঘরের ভেতর আলো প্রবেশের জন্য দেয়ালের উপরে ছাদ বরাবর ছোট জানালা বিশেষ। যাকে আমরা ভেন্টিলেটর বলি। কেউ কেউ বলেছেন, একঘর থেকে অন্য ঘরে বা একরুম থেকে অন্যরুমে চলাচলের জন্য ছোট দরজা।
‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে তাঁর সর্বশেষ খুত্ববায় আবূ বাকর (রাঃ) সম্পর্কে এ কথা বলেছিলেন। অতএব এখান থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, আবূ বাকর (রাঃ)-ই হবেন রসূলের পরে মুসলিমদের খলীফাহ্। কোন কোন মুহাদ্দিস (خَوْخَةٌ) এর উদ্দেশ্য ধরেছেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর কন্যা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -কে। কারণ রাসূল (সা.) তাঁর সকল স্ত্রীর ঘরের দরজা বন্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন শুধু ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে আদেশ করেননি।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা, ৬০১৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২০-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: যদি আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকর-কেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার (দীনী) ভাই ও সাথি। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সাথিকে খলীফারূপে গ্রহণ করেছেন। (মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَلَكِنَّهُ أَخِي وَصَاحِبِي وَقَدِ اتَّخَذَ اللَّهُ صَاحِبَكُمْ خَلِيلًا» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (3 / 2383)، (6172) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২১-[৩] ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর রোগশয্যায় আমাকে বললেন, তোমার পিতা আবূ বকর এবং তোমার ভাইকে আমার কাছে ডেকে আন, আমি তাদেরকে বিশেষ একটি লেখা লিখে দেব। কেননা আমার ভয় হচ্ছে যে, আমিই হকদার, অথচ সে তার হকদার নয়। আল্লাহ তা’আলা এবং ঈমানদার লোকেরা আবূ বকর ছাড়া কাউকে খলীফাহ্ হিসেবে মেনে নেবেন না। [মুসলিম তার হুমায়দী-এর কিতাবে (أَنا أولى) “আমি অধিক যোগ্য”-এর পরিবর্তে (أَنا وَلَا) “আমি যোগ্যতম” বর্ণিত হয়েছে৷]
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ: ادْعِي لِي أَبَا بَكْرٍ أَبَاكِ وَأَخَاكِ حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنٍّ وَيَقُولَ قَائِلٌ: أَنَا وَلَا وَيَأْبَى اللَّهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ «. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي» كِتَابِ الْحميدِي : «أَنا أولى» بدل «أَنا وَلَا»
رواہ مسلم (11 / 2387)، (6181) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا) রাসূলুল্লাহ (সা.) আয়িশাহ (রাঃ) -কে আদেশ করলেন, আবূ বাকর এবং তার ভাই আবদুর রহমান-কে ডেকে আনার জন্য। ঐ সময় রাসূল (সা.) অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। হয়তোবা তিনি খুব শীঘ্রই ইন্তিকাল করবেন এমন সংবাদ আল্লাহর পক্ষ হতে পেয়েছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী খলীফার দায়িত্ব আবূ বাকর (রাঃ)-কে দেয়ার জন্য মনস্থির করলেন। এজন্য লিখিত আকারে রসূলের পক্ষ হতে খলীফার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আবূ বাকর (রাঃ) এবং তাঁর পুত্র আবদুর রহমানকে ডাকলেন।
লিখিত আকারে দায়িত্ব অর্পণের হিকমত ছিল এই যে, কোন লোক যেন এ কথা বলতে না পারে আমিই খিলাফতের অধিক হকদার এবং যোগ্য। অথবা আমি আবূ বাকর -এর কথা বিশ্বাস করি না এবং তাকে মানিও না।
তাই খিলাফতের ব্যাপারে মুনাফিক এবং রাফিযীদের মতানৈক্য চিরতরে বাতিল করার জন্য রাসূল (সা.) এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
মুসলিমের শারহতে আরো বলা হয়েছে যে, 'আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর ভাই আবদুর রহমান-কে ডাকা হয়েছিল খলীফার নিয়োগপত্র লেখার জন্য।
এ হাদীস থেকে আমরা কতগুলো বিষয় স্পষ্ট হতে পারি যেগুলো ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে রয়েছে যেমন,
১. উক্ত হাদীসে আবূ বাকর (রাঃ)-এর মর্যাদা ও সম্মানের প্রকাশ্য দলীল রয়েছে।
২. এ হাদীসে রসূলের মৃত্যুর পর যে সকল মতানৈক্য এবং বিশৃঙ্খলা ঘটবে তারও ইঙ্গিত রয়েছে।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুন্ নাবাবী ১৫শ হা, ২৩৮৭)
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফত সম্পর্কে বলেছেন, উক্ত হাদীসটি আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের জন্য প্রমাণ বহন করে যে, আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফত সরাসরি রাসূল (সা.) এর পক্ষ হতে স্পষ্ট কোন নস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। বরং আবূ বাকর (রাঃ)-এর মর্যাদা ও অগ্রগামিতার কারণে তাঁর কাছে খিলাফতের বায়'আতের জন্য সকল সাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেন।
এখানে যদি কোন স্পষ্ট দলীল বা সে থাকত তাহলে খিলাফতের দায়িত্ব নিয়ে আনসারদের ও অন্যদের মাঝে দ্বন্দ্ব হত না।
পক্ষান্তরে ‘আলী (রাঃ) সম্পর্কে শী'আদের যে নস রয়েছে তা সকল মুসলিমের ঐকমত্যে বাতিল এবং প্রত্যাখ্যাত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২২-[৪] জুবায়র ইবনু মুত্বইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক মহিলা নবী (সা.) এর কাছে আসলো এবং তার সাথে কোন বিষয়ে কথাবার্তা বলল। তিনি (সা.) তাকে আবার আসতে বললেন। তখন মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আচ্ছা বলুন তো, আমি আবার এসে যদি আপনাকে না পাই তখন কি করব? মহিলাটি যেন তাঁর [নবী (সা.) -এর] ইন্তিকালের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। উত্তরে তিনি বললেন, তুমি যদি আমাকে না পাও তবে আবূ বকর -এর কাছ এসো। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ: أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ فَكَلَّمَتْهُ فِي شَيْءٍ فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْهِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ جِئْتُ وَلَمْ أَجِدْكَ؟ كَأَنَّهَا تُرِيدُ الْمَوْتَ. قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدِينِي فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3659) و مسلم (10 / 2386)، (6179) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (فَإِنْ لَمْ تَجِدِينِي فَأْتِي أَبَا بَكْ) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখিত হাদীসাংশের ব্যাপারে বলেন, এখানে আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফত লাভের ব্যাপারে কোন নস বা প্রমাণ নেই। বরং গায়িবের ব্যাপারে আল্লাহ তাকে যা জানিয়েছেন সেটাই সংবাদ দিয়েছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৩-[৫] ’আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) তাঁকে যাতুস সালাসিল-এর সৈন্যবাহিনীর ওপর নেতা নিযুক্ত করে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে নবী (সা.) -এর কাছ এসে প্রশ্ন করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সর্বাধিক প্রিয়? তিনি (সা.) বললেন, আয়িশা। আমি বললাম পুরুষদের মধ্য থেকে? তিনি বললেন তাঁর পিতা [আবূ বকর (রাঃ)]। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? তিনি (সা.) বললেন, ’উমার। অতঃপর আমি এভাবে প্রশ্ন করতে থাকলে তিনি (সা.) আরো কয়েকজন লোকের নাম উল্লেখ করলেন। এরপর আমি চুপ হয়ে গেলাম এ আশঙ্কায় যে, সম্ভবত আমার নাম সকলের শেষে পড়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَهُ عَلَى جَيْشِ ذَاتِ السَّلَاسِلِ قَالَ: فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ: أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «عَائِشَةُ» . قُلْتُ: مِنِ الرِّجَالِ؟ قَالَ: «أَبُوهَا» . قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «عُمَرُ» . فَعَدَّ رِجَالًا فَسَكَتُّ مَخَافَةَ أَنْ يَجْعَلَنِي فِي آخِرهم. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4358) و مسلم (8 / 2384)، (6177) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৪-[৬] মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে প্রশ্ন করলাম, নবী (সা.) -এর পর কোন্ লোকটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, আবূ বকর (রাঃ)। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কোন্ লোক? তিনি বললেন, ’উমার (রাঃ)। আমার আশঙ্কা হলো এবার তিনি উসমান (রাঃ)-এর কথা বলবেন। তাই আমি বললাম, অতঃপর তো আপনিই (উত্তম)। তিনি বললেন, আমি তো অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে একজন সাধারণ লোক। (বুখারী)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: أَبُو بَكْرٍ. قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: عُمَرُ. وَخَشِيتُ أَنْ يَقُولَ: عُثْمَانُ. قُلْتُ: ثُمَّ أَنْتَ قَالَ: «مَا أَنَا إِلَّا رجلٌ من الْمُسلمين» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3671) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ) মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফী তিনি ‘আলী (রাঃ)-এর ছেলে। তিনি ফাতিমাহ্ (রাঃ)-এর ঔরসজাত নন তবে অন্য স্ত্রী বা দাসীর গর্ভে জন্মলাভ করেন।
قَالَ: «مَا أَنَا إِلَّا رجلٌ من الْمُسلمين» বর্ণিত হাদীসটি আবূ বাকর (রাঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কিত একটি হাদীস। উক্ত হাদীসটিতে রাসূল (সা.) -এর মৃত্যুর পর অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পর উত্তম ব্যক্তি হিসেবে রাসূল (সা.) যেভাবে বিভিন্ন সময় ইঙ্গিত বা সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন অনুরূপভাবে সাহাবীরাও আবূ বাকর (রাঃ)-কে রসূলের পর সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসেবে মান্য এবং গণ্য করতেন।
বর্ণিত হাদীসে সাহাবায়ে কিরামের বিনয়াবনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা একে অপরের প্রতি যথেষ্ট সম্মান এবং বিনয় প্রকাশ করতেন। অহংকার বা লোভ তাদের ভেতরে ছিল না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী হা. ৩৬৭১)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৫-[৭] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর যামানায় আমরা কাউকেও আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর সমতুল্য মনে করতাম না। তারপর ’উমার (রাঃ)-কে এবং তারপর ’উসমান (রাঃ)-কে মর্যাদা দিতাম। অতঃপর নবী (সা.) -এর অন্যান্য সাহাবীদের সম্মান সম্পর্কিত আলোচনা পরিহার করতাম। তাদের মাঝে একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিতাম না। (বুখারী)
আর আবূ দাউদ-এর এক বর্ণনাতে আছে, ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন: নবী (সা.) -এর জীবদ্দশায় আমরা বলতাম, নবী (সা.) -এর উম্মতের মধ্যে তাঁর পরে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান লোক হলেন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তারপর ’উমার, তারপর ’উসমান।
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَن ابْن عمرٍ قَالَ: كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا ثُمَّ عُمَرَ ثُمَّ عُثْمَانَ ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ قَالَ: كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيٌّ: أَفْضَلُ أُمَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَهُ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عمر ثمَّ عُثْمَان رَضِي الله عَنْهُم
رواہ البخاری (3697) و ابوداؤد (4628) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ) ইমাম খত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) ‘আলী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এখানে ইবনু উমার (রাঃ) বয়সের দিকে থেকে ঐসব প্রবীণ এবং মান্যবর সিনিয়র সাহাবীদের নামের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যাদের নিয়ে রাসূল (সা.) বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। তাছাড়া ‘আলী (রাঃ) নবী (সা.) -এর যুগে বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন: ইবনু উমার (রাঃ)-এর দ্বারা তাঁকে অবজ্ঞা করতে চাননি এবং উসমান (রাঃ)-এর পরে-ই যে তার মর্যাদা এতেও তিনি কোন তারতম্য করেননি। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৯৭, মিরক্বাতুল মাফাতীহ হা. ৬০২৫)
এখানে সুস্পষ্ট যে, ইবনু উমার (রাঃ) এই নাফী দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, তারা মর্যাদার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করতেন। অতএব তাদের কাছে তিনজনের মর্যাদা বেশি স্পষ্ট হত, তাই তারা এই তিনজনের মর্যাদা দঢ়তার সাথে বলতেন কিন্তু তখন তারা অন্য কোন দলীলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। ইমাম বাযযার “উমার (রাঃ), একটি বর্ণনা উক্ত কথাকে আরো শক্তিশারী করে ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করতাম মদীনাবাসীর সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন ‘আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ)।
(كنانترك) ইমাম কারমানী বলেন, এমনটি হতে পারে যে, ইবনু উমার (রাঃ) উদ্দেশ্য নিয়েছেন। উক্ত ঘটনা নবী (সা.) -এর যুগে কিছু সময়ের জন্য ছিল পরবর্তীতে যখন সব কিছু স্পষ্ট হয়ে গেল তখন আর এমনটি ঘটেনি। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৯৭)
(أَفْضَلُ أُمَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ যারা হলেন নবীগণের পর উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি অথবা নবী (সা.) জীবিত থাকা অবস্থায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৬-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে কোন লোক আমাদের প্রতি যে কোন ধরনের দয়া করেছে, আমরা তার প্রতিদান দিয়েছি, আবূ বকর-এর দয়া ছাড়া। তিনি আমাদের প্রতি যে দয়া করেছেন, আল্লাহ তা’আলাই কিয়ামতের দিন তাঁকে তার প্রতিদান প্রদান করবেন। আর কারো ধন-সম্পদ আমাকে ততখানি উপকৃত করতে পারেনি, যতখানি আবূ বকর -এর মাল আমাকে উপকৃত করেছে। আর আমি যদি (আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কাউকে) খলীল বা অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকর -কেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। জেনে রাখ! তোমাদের সাথি [রাসূল (সা.)] আল্লাহর খলীল (বন্ধু)। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا لِأَحَدٍ عِنْدَنَا يَدٌ إِلَّا وَقَدْ كَافَيْنَاهُ مَا خَلَا أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا يَدًا يُكَافِيهِ اللَّهُ بهَا يومَ الْقِيَامَة وَمَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا أَلَا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3661 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (94) * داود بن یزید ضعیف ولہ طریق آخر عند ابن ماجہ (94) و فیہ الاعمش مدلس و عنعن
ব্যাখ্যা: (أَنْتَ صَاحِبِي فِي الْغَارِ) মক্কায় অবস্থিত “সাওর” নামক গুহার সাথি, কাফিরদের ভূখণ্ড হতে হিজরতের সময় উভয়ে এ গুহায় অবস্থান নিয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ সূরাহ্ আত্ তাওবার ৪০নং আয়াতে বলেন, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন, বিষন্ন হয় না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
এখানে সঙ্গী হওয়ার দু'টি অর্থ হতে পারে:
১) বিশেষ করে গুহায় অবস্থান করার সময় সঙ্গী।
২) আল্লাহর সাক্ষ্য দানের ক্ষেত্রে সঙ্গী। মুফাসিরগণ একমত হয়েছেন যে, আয়াতে সঙ্গী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবূ বাকর। এ সুহবাত বা সঙ্গী হওয়াকে যে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে, কেননা সে স্পষ্ট দলীল অস্বীকার করল। অর্থাৎ কুরআনী দলীল অস্বীকার করল।
‘উমার (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ) ও ‘আলী (রাঃ)-এর সুহবাত অস্বীকার করার কথা ভিন্ন। কেননা তাঁদের ব্যাপারে কুরআনী দলীল নেই।
(على الْحَوْض) এখানে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি উভয় জগতে তার [নবী (সা.) -এর] সঙ্গী। যেমন- তিনি এখন কবরের জগতে তাঁর সঙ্গী। যেমন মুসনাদুল ফিরদাওসে বর্ণিত আছে, ১নং খণ্ড, ৪৩৭ পৃষ্ঠা, হা, ১৭৮০। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন, দুনিয়া ও আখিরাতে আবূ বাকর আমার ভাই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৭-[৯] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাদের সরদার, আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং আমাদের সকলের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَبُو بَكْرٍ سَيِّدُنَا وَخَيْرُنَا وَأَحَبُّنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3656 وقال : صحیح غریب) [و اصلہ فی البخاری (3668)] ۔
(إِسْنَاده جيد)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৮-[১০] ইবনু উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন, তুমি আমার (সাওর) গুহার সঙ্গী এবং হাওযে কাওসারে আমার সাথি। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَن ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ: «أَنْتَ صَاحِبِي فِي الْغَارِ وصاحبي على الْحَوْض» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3670 وقال : حسن صحیح غریب) * کثیر النواء : ضعیف و جمیع بن عمیر : ضعیف رافضی ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০২৯-[১১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে দলে বা সমাবেশে আবূ বকর উপস্থিত থাকবেন, সেখানে তিনি ছাড়া অন্য কারো ইমামতি করা উচিত হবে না। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْبَغِي لِقَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3673) * فیہ عیسی بن میمون : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لَا يَنْبَغِي لِقَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ) তাঁর চেয়ে উত্তম লোক দ্বিতীয় আর কেউ নেই আর তাদেরকে নবী (সা.) এরূপ কথা বলেছেন। অতঃপর যখন এটা সাব্যস্ত হয়ে গেল তিনিই সকল সাহাবীর চেয়ে উত্তম। তখন এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল, তিনিই প্রকৃত খিলাফতের হকদার। অতএব ফায়েল তথা উত্তম ইমামের উপস্থিতিতে মাফযুল ইমামকে খলীফাহ বানানো সমিচীন নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
(قال:نعم) এমন একটি দল থাকবে যাদেরকে জান্নাতের সকল দরজা হতে ডাকা হবে। তাদের সম্মান ও মহত্ত্বের দরুন এবং অধিক পরিমাণ সালাত, জিহাদ, সিয়াম ও বিভিন্ন প্রকারের ভালো কর্ম থাকার কারণে।
(وَأَرْجُو أَنْتَكُونَ مِنْهُمْ) ‘আলিমগণ বলেছেন: আশা আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ এবং তাঁর নবী (সা.) হতে প্রমাণিত সত্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৬৮২)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩০-[১২] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করার জন্য নির্দেশ করলেন। (সৌভাগ্যবশত) সে সময় আমার কাছে প্রচুর সম্পদ ছিল। তখন আমি (মনে মনে) বললাম, (দানের প্রতিযোগিতায়) যদি আমি কোনদিন আবূ বকর -এর উপর পারি, তবে আজকের দিনেই আবূ বকর -এর উপরই জিতে যাব।
“উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি আমার সমস্ত সম্পদের অর্ধেক নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করলেন, পরিবারপরিজনের জন্য কি (পরিমাণ) রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ অর্থাৎ এর অর্ধেক। আর আবূ বকর -এর কাছে যা কিছু ছিল তিনি সম্পূর্ণ নিয়ে উপস্থিত হলেন।
এবার রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ বকর! পরিবার-পরিজনের জন্য আপনি কি রেখে এসেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি (মনে মনে বললাম, আর আমি কখনো কোন ক্ষেত্রে তার উপর জিততে পারব না। (তিরমিযী ও আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَن عُمَرَ قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَصَدَّقَ وَوَافَقَ ذَلِكَ عِنْدِي مَالًا فَقُلْتُ: الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا. قَالَ: فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» فَقُلْتُ: مِثْلَهُ. وَأَتَى أَبُو بَكْرٍ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ. فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ؟ مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» . فَقَالَ: أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. قُلْتُ: لَا أَسْبِقُهُ إِلَى شَيْءٍ أَبَدًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3675 وقال : حسن صحیح) و ابوداؤد (1678) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا) হলো শারতিয়্যা যেটা প্রমাণ বহন করে পূর্বের কোন বিষয়ের বদলা গ্রহণ করাকে।
অথবা ইবারতে গোপন আছে, আমি যদি আজ দানে তার অগ্রগামী হতে পারি তাহলে এটা হবে পূর্বেকার বদলা। কেউ কেউ বলেন (إِنْ) হলো নাফিয়া তখন অর্থ হবে ইতোপূর্বে আমি দানে কখনো তার অগ্রগামী হতে পরিনি। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৬৮৪)
(أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ) আমি পরিবারের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি রেখে এসেছি। একটি বর্ণনায় এসেছে যে, নবী (সা.) তাদের উভয়কে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের মাঝে ব্যবধান হলো যেমন ব্যবধান রয়েছে তোমাদের সাক্ষ্য দানে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
(لَا أَسْبِقُهُ إِلَى شَيْءٍ) মর্যাদার দিক হতে আমি কখনো তার অগ্রে যেতে পারব না। কেননা যখন তার কাছে অঢেল পরিমাণ সম্পদ ছিল আর আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে স্বল্প পরিমাণ সম্পদ ছিল তখনই তার অগ্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য অবস্থায় তো অধিক যুক্তিসঙ্গত যে তার অগ্রে যেতে পারবেন না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৬৮৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩১-[১৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাঁকে (লক্ষ্য করে) বললেন, আপনি জাহান্নামের আগুন হতে আল্লাহর ’আতীক (আযাদপ্রাপ্ত)। সেদিন হতে তিনি আতীক উপাধিতে প্রসিদ্ধ হন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَنْت عتيقُ اللَّهِ من النَّار» . فَيَوْمئِذٍ سمي عتيقا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3679 وقال : غریب) * اسحاق بن یحیی بن طلحۃ ضعیف و للحدیث شاھد عند ابن الاعرابی فی المعجم (409) و سندہ صحیح فالحدیث صحیح
ব্যাখ্যা: (فَيَوْمئِذٍ سمي عتيقا) ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) তালক্বিহ নামক গ্রন্থে আবূ বাকর (রাঃ)-কে ‘আতীক উপাধি দেয়ার ব্যাপারে তিনটি উক্তি উল্লেখ করেছেন,
১) নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জাহান্নাম হতে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেখতে চায় সে যেন আবূ বাকর (রাঃ) -কে দেখে।
২) মূসা ইবনু তলহাহ বলেন, ‘আতীক নামটি তার মা রেখেছিলেন। ৩) রায়সি ইবনু সা'দ বলেন, তার সুন্দর চেহারার জন্য এ নাম রাখা হয়।
ইবনু কুতায়বাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) তাকে এ উপাধি দেন তার সুন্দর চেহারার জন্য। লেখক বলেন, প্রথম উক্তিটিই গ্রহণযোগ্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৬৮৮)।
«أَنْت عتيقُ اللَّهِ من النَّار» . فَيَوْمئِذٍ سمي عتيقا. ইমাম রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আতীক হলো যে ব্যক্তি সময় স্থান অথবা উঁচু স্তরের দিক হতে অগ্রগামী। এ জন্যই পুরাতন ও মূল্যবান কিছুকে ‘আতীক বলা হয় এবং যারা দাসত্ব হতে মুক্ত হয় তাদেরকেও ‘আতীক বলা হয়।
বায়তুল্লাহ বা কা'বাহ ঘরক ‘আতীক বলা হয় তার সম্মানের জন্য অথবা প্রাচীনতম হওয়ার দিক থেকে অথবা উঁচু স্থানে হওয়ার দিক থেকে, কেননা তাকে তুফানে তলিয়ে যাওয়া হতে মুক্ত রাখা হয়েছে এবং অত্যাচারী শাসকের হস্তক্ষেপ হতে রক্ষা করা হয়েছে।
(فَيَوْمئِذٍ سمي عتيقا) ঐ দিন হতে আবূ বাকর -এর উপাধি দেয়া হয় ‘আতীক।
লেখক বলেন, তার নাম হলো ‘আবদুল্লাহ ইবনু উসমান আবূ কুহাফা সপ্তম পূর্বপুরুষ গিয়ে নবীর বংশের সাথে মিলেছে। তিনি ইসলাম গ্রহণকারী সর্বপ্রথম পুরুষ। তিনি শুভ্র ছিলেন, হালকা পাতলা গঠনের, উজ্জ্বল চেহারার ডাবা চক্ষু বিশিষ্ট গালদ্বয় ক্ষীণকায়।
জন্ম: তিনি ফীলের ঘটনার দুই বছর চার মাস পর বা কিছুদিন বাকী থাকতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যু: তিনি তের হিজরী জুমাদাল আখেরা মাসের আটদিন অবশিষ্ট থাকতে মঙ্গলবার রাতে মাগরিব ও ‘ইশার মধ্যবর্তী সময়ে ৬৩ বছর বয়সে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার স্ত্রী আসমা বিনতু ‘উমায়স-কে গোসলের জন্য ওয়াসিয়্যাত করেন। উমার ইবনুল খত্তাব (রাঃ) তার জানাযার সালাত আদায় করান। তার খিলাফতকাল ছিল দুই বছর চার মাস ১০দিন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩২-[১৪] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (কিয়ামতের দিন) জমিন বিদীর্ণ হয়ে যারা উত্থিত হবে, তাদের মাঝে আমি হব প্রথম, তারপর আবূ বকর, তারপর ’উমার। অতঃপর আমি বাক্বী কবরস্থানবাসীদের কাছে আসব এবং তাদের সকলকে আমার সাথে একত্রিত করা হবে। এরপর মক্কাবাসীদের আগমনের প্রতীক্ষায় থাকব। পরিশেষে উভয় হারামায়নের তথা মক্কাহ্ ও মদীনার মাঝামাঝি সকলকে আমার সাথে একত্রিত করা হবে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ ثُمَّ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ آتِي أَهْلَ الْبَقِيعِ فَيُحْشَرُونَ مَعِي ثُمَّ أَنْتَظِرُ أَهْلَ مَكَّةَ حَتَّى أحشرَ بَين الْحَرَمَيْنِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3692 وقال : حسن غریب) * فیہ عاصم بن عمر العمری : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৩-[১৫] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: একদিন জিবরীল আলায়হিস সালাম আমার কাছে আসলেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে জান্নাতের ঐ দরজাটি দেখালেন, যেটি দিয়ে আমার উম্মত প্রবেশ করবে। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কতই না খুশি হতাম হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি আপনার সাথে থেকে ঐ প্রবেশদ্বারটি দেখতে পারতাম। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, জেনে রাখ, হে আবূ বকর! আমার উম্মতের মাঝে তুমিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَرَانِي بَابَ الْجَنَّةِ الَّذِي يَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ مَعَكَ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا إِنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4652) * فیہ ابو خالد مولی آل جعدۃ : مجھول ۔
(ضَعِيفٌ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৪-[১৬] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তাঁর সামনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর আলোচনা উঠল। তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আমি অন্তর থেকে এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি যে, হায়! আমার গোটা জীবনের ’আমলসমূহের যদি আবূ বকর-এর জীবনের দিনসমূহের এক দিনের ’আমলের সমান হত এবং তাঁর জীবনের রাত্ৰসমূহের মধ্য হতে এক রাত্রির ’আমলের সমান হত। তার ঐ রাত্র হলো সে রাত্র, যে রাত্রিতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সঙ্গে গারে সাওরের দিকে যাত্রা করেন। তারা উভয়ে যখন ঐ গুহার নিকটে পৌছলেন, তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর শপথ! আপনি এখন গুহার ভিতরে প্রবেশ করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি আপনার আগে তার ভিতরে প্রবেশ করি, আক্রমণকারী কোন শত্রু বা কীটপতঙ্গের আক্রমণ হলে তা আপনার পরিবর্তে আমার উপর দিয়েই যাক। এই বলে তিনি গুহার ভিতরে ঢুকে পড়লেন এবং তার ভিতরাংশকে ঝাড়পোছ করে পরিষ্কার করে নিলেন।
অতঃপর তার এক পার্শ্বে কয়েকটি ছিদ্র দেখতে পেলেন, তখন তিনি নিজের ইজার ছিড়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিলেন; কিন্তু তন্মধ্যে দুটি ছিদ্র অবশিষ্ট থেকে গেল। ঐ ছিদ্র দু’টির মুখে তিনি নিজের পা দুটি রেখে বন্ধ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে তিনি বললেন, প্রবেশ করুন। অতঃপর রাসূল (সা.) তার ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) -এর উরুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় ঐ ছিদ্র হতে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর পা (সাপ বা বিচ্ছু কর্তৃক) দংশিত হলো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ঘুম ভেঙ্গে যাবে এ আশঙ্কায় তিনি এতটুকুও নড়াচড়া করলেন না। তবে তাঁর চোখের পানি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারাতে পড়ল। তখন তিনি বললেন, হে আবূ বকর! তোমার কি হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর কুরবান হোক। আমি দংশিত হয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ক্ষতস্থানে স্বীয় থুথু লাগিয়ে দিলেন। ফলে তিনি যে বিষ-যন্ত্রণায় ভুগছিলেন, তা দূর হয়ে গেল। এরপর উক্ত বিষক্রিয়া তাঁর উপর আবার দেখা দিল এবং এটাই তার মৃত্যুর কারণ হলো। আর তাঁর সে দিনটি হলো- যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর ’আরববাসীরা মুরতাদ হয়ে গেল এবং তারা বলল, আমরা যাকাত প্রদান করব না। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি তারা একটি রশি প্রদানেও অস্বীকার করে, আমি নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।
তখন আমি বলেছিলাম, হে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খলীফাহ্! মানুষের সাথে হৃদ্যতা প্রদর্শন করুন এবং তাদের সাথে কোমল আচরণ করুন। উত্তরে তিনি আমাকে বলেছিলেন, অন্ধকার যুগে তুমি তো ছিলে বড়ই বাহাদুর, এখন ইসলামের পর কি তুমি কাপুরুষ হয়ে পড়লে? জেনে রাখ, নিশ্চয় ওয়াহী আসার ধারা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে এবং দীন পূর্ণ হয়ে গেছে। দীন হ্রাস পাবে আর আমি জীবিত? (তা কখনো হতে পারে না)। (রযীন)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب أبي بكر)
عَن عمر ذُكِرَ عِنْدَهُ أَبُو بَكْرٍ فَبَكَى وَقَالَ: وَدِدْتُ أَنَّ عَمَلِي كُلَّهُ مِثْلُ عَمَلِهِ يَوْمًا وَاحِدًا مِنْ أَيَّامِهِ وَلَيْلَةً وَاحِدَةً مِنْ لَيَالِيهِ أَمَّا لَيْلَتُهُ فَلَيْلَةٌ سَارَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْغَار فَلَمَّا انتهينا إِلَيْهِ قَالَ: وَاللَّهِ لَا تَدْخُلُهُ حَتَّى أَدْخُلَ قَبْلَكَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ شَيْءٌ أَصَابَنِي دُونَكَ فَدَخَلَ فَكَسَحَهُ وَوَجَدَ فِي جَانِبِهِ ثُقْبًا فَشَقَّ إزَاره وسدها بِهِ وَبَقِي مِنْهَا اثْنَان فألقمها رِجْلَيْهِ ثُمَّ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْخُلْ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُضِعَ رَأسه فِي حجره وَنَامَ فَلُدِغَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِجْلِهِ مِنَ الْجُحر وَلم يَتَحَرَّك مَخَافَة أَن ينتبه رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَقَطَتْ دُمُوعُهُ عَلَى وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟» قَالَ: لُدِغْتُ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي فَتَفِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَهَبَ مَا يَجِدُهُ ثُمَّ انْتَقَضَ عَلَيْهِ وَكَانَ سَبَبَ مَوْتِهِ وَأَمَّا يَوْمُهُ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْتَدَّتِ الْعَرَبُ وَقَالُوا: لَا نُؤَدِّي زَكَاةً. فَقَالَ: لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا لَجَاهَدْتُهُمْ عَلَيْهِ. فَقُلْتُ: يَا خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَأَلَّفِ النَّاسَ وَارْفُقْ بِهِمْ. فَقَالَ لِي: أَجَبَّارٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَخَوَّارٌ فِي الْإِسْلَامِ؟ إِنَّهُ قَدِ انْقَطَعَ الْوَحْيُ وَتَمَّ الدِّينُ أَيَنْقُصُ وَأَنا حَيّ؟ . رَوَاهُ رزين
اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ رزین (لم اجدہ) [و البیھقی فی دلائل النبوۃ (2 / 477)] * فیہ فرات بن السائب عن میمون بن مھران ، و الفرات ھذا ضعیف جدًا متروک ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে কিছু লোক মুহাদ্দাস ছিল। এমন কেউ আমার উম্মতের মধ্যে যদি থাকে, তবে সে ’উমারই হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الْأُمَمِ مُحَدَّثُونَ فَإِنْ يَكُ فِي أمّتي أحدٌ فإِنَّه عمر» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3689) و مسلم (23 / 2398)، (6204) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (مُحَدَّثُونَ) ‘আলিমগণ উক্ত শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে ইখতিলাফ করেছেন:
১. অধিকাংশ ‘আলিম বলেন, এমন ব্যক্তি যাকে ইলহাম করা হয়।
২. কেউ কেউ বলেন, এমন ব্যক্তি যে ভালো ও সৎ ধারণা করে থাকে।
৩. আবূ আহমাদ আল আসকারী দৃঢ়তার সাথে বলেন, এমন ব্যক্তি যার অন্তরে উচ্চপদস্থ মালায়িকার (ফেরেশতাদের) হতে কোন কিছু জাগিয়ে দেয়া হয় আর সেটা এমন হয়ে যায় যেন অন্য কেউ বলেছে।
৪. বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তির কথায় উদ্দেশ্য ছাড়াই সত্য বের হয়ে আসে।
৫. কেউ কেউ বলেন, নুবুওয়্যাত ছাড়া মালাক (ফেরেশতা) যার সাথে কথা বলে।
উক্ত উক্তির সমর্থনে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে সে কথা বলে থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, মালাক তার ভাষায় কথা বলে।
৬. ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর হাদীসে রয়েছে, (محدث) হলো যাকে সঠিক ইলহাম করা হয় আর যেটা সে মুখ দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৯)
(১) (وَإِنْ يَكُ فِىْ أُمَّتِيْ) উক্ত উক্তিটি সন্দেহ পোষণের উদ্দেশে বর্ণিত হয়নি। কেননা তার উম্মত হলো সকল উম্মতের মাঝে শ্রেষ্ঠ। অতএব যখন অন্যান্য উম্মতের মাঝে মুহাদ্দিসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তখন তাঁর উম্মতের মাঝে পাওয়া যাওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত।
(২) কেউ কেউ বলেছেন, আলোচ্য অংশটুকু দৃঢ়তা বুঝানোর জন্য বর্ণিত হয়েছে। যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, আমার যদি কোন বন্ধু থেকে থাকে তাহলে অমুক আমার বন্ধু। এ বাক্য দ্বারা সে তার বন্ধুগণের সম্পর্ক দূর করতে চেয়েছে, যাতে কোন কোন সন্দেহ নেই। কারণ বানী ইসরাঈলের মাঝে এরূপ লোকের অস্তিত্ব থাকা যুক্তিসঙ্গত ছিল। কেননা যখন তাদের মাঝে কোন নবী থাকতেন না তখন তারা এ সকল লোকের দিকে মুখাপেক্ষি হতেন। কিন্তু এই উম্মত এ সকল লোকের প্রতি মুখাপেক্ষী নয়। কুরআনের উপস্থিতি ও নতুন নবীর আগমনের সম্ভবনা না থাকায়।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুহাদ্দাস হলো যাকে পরিপূর্ণ ইলহাম করা হয় এবং সততার ক্ষেত্রে নবী-এর স্তরে পৌঁছে যায়। এর অর্থ হলো, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে কিছু নবী ছিলেন যাদের প্রতি ইলহাম করা হত। যদি আমার উম্মতের মাঝে এরূপ কেউ হয়ে থাকে তাহলে তিনি হলেন উমার (রাঃ)। হাদীসের উদ্দেশ্য হলো ‘উমার (রাঃ) -এর মর্যাদা বর্ণনা করা। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৯, মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ২৩৯৮)
(فإِنَّه عمر) ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুহাদ্দাস হলো যাদের কথা বার্তায় প্রকাশ পায় তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি সত্য চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যার অন্তরে কোন কিছু জাগিয়ে দেয়া হয় মর্যাদা সম্পন্ন মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) পক্ষ হতে আর সেটা এমন হয়ে যায় যেমন কোন ব্যক্তি কথা বলে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৬-[২] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে (তার কক্ষে) উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চাইলেন। তখন কুরায়শ গোত্রের কতক মহিলা (নবীর বিবিগণ) তার কাছে বসে কথাবার্তা বলছিলেন এবং তারা অতি উচ্চৈঃস্বরে তার কাছ থেকে অধিক (খোরপোষ) দাবি করছিলেন। যখন ’উমার ফারূক (রাঃ) অনুমতি চাইলেন, তখন মহিলাগণ উঠে জলদি পর্দার আড়ালে চলে গেলেন। এরপর ’উমার ফারূক (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হেসেছিলেন। উমার ফারূক (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা আপনাকে সদা খুশি রাখুন। (তবে আপনার হাসার কারণ কি?)
তখন নবী (সা.) বললেন, আমি অবাক হয়েছি ঐ সকল মহিলাদের আচরণে, যারা এতক্ষণ আমার কাছে ছিল এবং তারা যখনই তোমার ধ্বনি শুনতে পেল, দ্রুত পর্দার আড়ালে চলে গেল। তখন ’উমার ফারূক (রাঃ) বললেন, ওহে স্বীয় জানের দুশমনেরা! তোমরা আমাকে ভয় কর, আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ভয় করো না? তাঁরা উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। তুমি যে অধিকতর রুক্ষ ও কঠোরভাষী। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে খত্তাব-এর পুত্র। এদের কথা ছাড়। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখতে পায়, সে তোমার রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা অবলম্বন করে। (বুখারী ও মুসলিম)
হুমায়দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম বারকানী (রহিমাহুল্লাহ) বৃদ্ধি করেছেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সা.)” শব্দের পর “কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?” বাক্যটিকে বলেছেন।
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: اسْتَأْذن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ نِسْوَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُكَلِّمْنَهُ وَيَسْتَكْثِرْنَهُ عَالِيَةً أَصْوَاتُهُنَّ فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ عُمَرُ قُمْنَ فَبَادَرْنَ الْحِجَابَ فَدَخَلَ عُمَرُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضْحَكُ فَقَالَ: أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَجِبْتُ مِنْ هَؤُلَاءِ اللَّاتِي كُنَّ عِنْدِي فَلَمَّا سَمِعْنَ صَوْتَكَ ابْتَدَرْنَ الْحِجَابَ» قَالَ عُمَرُ: يَا عَدُوَّاتِ أَنْفُسِهِنَّ أَتَهَبْنَنِي وَلَا تَهَبْنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم؟ قُلْنَ: نَعَمْ أَنْتَ أَفَظُّ وَأَغْلَظُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيهٍ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ سَالِكًا فَجًّا قَطُّ إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَقَالَ الْحُمَيْدِيُّ: زَادَ الْبَرْقَانِيُّ بَعْدَ قَوْلِهِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: مَا أَضْحَكَكَ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3683) و مسلم (22 / 2396)، (6202) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (وَعِنْدَهُ نِسْوَةٌ) তাঁর নিকট মহিলাদের একটি দল ছিল।
(مِنْ قُرَيْشٍ) ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা হলেন ‘আয়িশাহ্, হাফসাহ, উম্মু সালামাহ্, যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) ও অন্যান্য মহিলাবৃন্দ।
তিনি আরো বলেন, তাঁরা ছিলেন নবী (সা.) -এর স্ত্রী। এটাও সম্ভাব্য যে, তাঁদের সাথে অন্যান্য মহিলারাও ছিলেন।
(يُكَلِّمْنَهُ وَيَسْتَكْثِرْنَهُ) ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা নবী (সা.) -এর নিকট আবেদন করছিলেন যে, তাদের ভরণ-পোষণ বাড়িয়ে দেয়া হোক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৩, শারহুন নাবাবী হা, ২৩৯৬)
(أَصْوَاتُهُنَّ) কাযী ইযায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা হতে পারে নবী (সা.) -এর আওয়াজের উপর আওয়াজ উঁচু করা নিষেধ হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা।
এটাও হতে পারে যে, তাদের একত্রিত হওয়ার কারণে উচ্চশব্দ হচ্ছিল। এটা নয় যে, প্রত্যেকে তার আওয়াজ নবী (সা.)-এর ওপর উঁচু করছিলেন।
আমি বলব: উক্ত কথার দলীল নয়, যে তাদের কথার শব্দ নবীর কথার শব্দের চেয়ে উঁচু ছিল। কেননা আল্লাহ তা'আলার বাণী দ্বারা এ সন্দেহ দূর হয়ে যায়। তিনি বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর সামনে উঁচু গলায় কথা বলো না।” (সূরা আল হুজুরাত ৪৯: ২)।
এখানে উদ্দেশ্য হলো ঐ অবস্থায় তারা তাদের অভ্যাসের তুলনায় নিচু থেকে একটু উঁচু গলায় কথা বলছিল নবী (সা.) -এর সাথে তবে শিষ্টাচার ও ভদ্রতা বজায় রেখে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী হা, ২৩৯৬)
ইবনুত্ তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত ঘটনা ছিল নিষেধাজ্ঞার পূর্বের। কেউ কেউ বলেন, নিষেধাজ্ঞা ছিল পুরুষদের জন্য খাস। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ছিল সাবধানতা। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৩)।
(أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ) উক্ত বাক্য দ্বারা বেশি হাসার জন্য দু'আ করা হয়নি বরং সর্বদা যেন আনন্দে থাকেন এরূপ দু'আ করা হয়েছে, এ বাক্যটির প্রমাণ নেই। তুমি কথা বলো, তাদের উত্তরের প্রতি লক্ষ করো না।
(إِيهٍ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ) ভাষাবিদগণ বলেন, যখন (إِيهٍ) শব্দটি যের ও তানভীনসহ হবে তখন অর্থ হবে কোন কথার সূচনা করো না। আর তানভীন ছাড়া অর্থ হবে কথা বলা হতে বিরত হও। যের এবং তানভীনসহ অর্থ হবে তুমি যা বলতে চাও আমাকে বল।
ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তানভীন ছাড়া অর্থ হবে তাদের তিরস্কার করা হতে বিরত হও।
‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মিতব্যয়ী হওয়ার বিষয়টি তাঁর সত্ত্বাগত দাবী তবে তার চেয়ে বেশি হওয়াটাকে প্রশংসা করেছেন। যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন () শব্দ দ্বারা মিতব্যয়ী থেকে বেশি করা আর এদিকটাকে বড় করে তুলেছেন, যার কারণে এর পরেই বলেছেন ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৩)
(إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ) এখানে ‘উমার (রাঃ)-এর মহা মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, কেননা উক্ত বাক্য সাক্ষ্য দেয় যে, তার ওপর শয়তানের কোন ক্ষমতা চলে না। আরো বলা হয় যে, শয়তান হতে রক্ষা করা হয়েছে। কারণ যখন তারা এক রাস্তায় চলে তখন শয়তানের পলায়ন ছাড়া উপায় থাকে না। তবে এ কথা
অস্বীকার করা হয় না যে তার সাধ্য অনুযায়ী সুযোগ পেলে তাকে কুমন্ত্রণা দিবে না। যদি এ কথা বলা হয় যে, তাকে কুমন্ত্রণা দেয়ার সাহস নেই, তাহলে বুঝে নিতে হবে যেহেতু শয়তান একই রাস্তায় চলতে বাধাগ্রস্ত হয় সেহেতু তার সাথে মিলিত হতে পারবে না ও কুমন্ত্রণা দিতে পারবে না, এটা অধিক যুক্তিসঙ্গত। (ফাতহুল বারী হা, ৩৬৮৩)।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীস তার বাহ্যিক বিষয়ের উপর ধরা হবে। শয়তান যখন তাকে প্রশস্ত রাস্তায় দেখে তখন সে ‘উমার (রাঃ)-এর ভয়ে পলায়ন করে এবং এই রাস্তা ছেড়ে যায় অধিক কষ্টের কারণে।
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, শয়তান ও তার ধোঁকা দ্বারা একটি উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। আর ‘উমার (রাঃ) শয়তানের পথ ছেড়ে দেন এবং সঠিক পথে চলেন অথবা শয়তান যা আদেশ করে তার বিপরীত চলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৭-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (স্বপ্নযোগে অথবা মিরাজের রাতে) আমি যখন জান্নাতে প্রবেশ করলাম, এমন মুহূর্তে হঠাৎ আবূ ত্বলহাহ্-এর স্ত্রী রুমায়সাহ-কে দেখতে পেলাম এবং কারো পায়ে হাঁটার শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি প্রশ্ন করলাম, এ লোক কে? উত্তরে (ফেরেশতা) বললেন, ইনি বিলাল। এরপর আমি একটি প্রাসাদও অবলোকন করলাম, যার আঙ্গিনায় একজন কিশোরী বসা ছিল। আমি প্রশ্ন করলাম; এই দালানটি কার? তখন (সঙ্গী) মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বললেন, এটা ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব-এর। তখন আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, ভিতরে প্রবেশ করে প্রাসাদটি দেখি, কিন্তু হে ’উমার! ঐ সময় তোমার আত্মমর্যাদার কথা আমার মনে পড়ে গেল (তাই প্রবেশ করলাম না)। তখন ’উমার ফারূক (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি কি আপনার ওপর আত্মমর্যাদাবোধ করব? (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: دخلتُ الجَنَّةَ فإِذا أَنا بالرُميضاء امْرَأَةِ أَبِي طَلْحَةَ وَسَمِعْتُ خَشَفَةً فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالَ: هَذَا بِلَالٌ وَرَأَيْتُ قَصْرًا بِفِنَائِهِ جاريةٌ فَقلت: لمن هَذَا؟ فَقَالُوا: لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَهُ فَأَنْظُرَ إِليه فذكرتُ غيرتك فَقَالَ عمر: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعَلَيْكَ أغار؟ . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3679) و مسلم (20 / 2394)، (6198) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (دخلتُ الجَنَّةَ) মি'রাজের রাত্রে অথবা উন্মোচনের জগতে অথবা স্বপ্নে । (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
(فإِذا أَنا بالرُميضاء امْرَأَةِ أَبِي طَلْحَةَ) হাদীসে উল্লেখিত মহিলা হলেন উম্মু সুলায়ম আর রুমায়সাহ্ হলো তার সিফাত তার নাম হলো সাহলা।
কেউ কেউ বলেন, রুমায়লা। কেউ কেউ বলেন তার বোনের নাম উম্মু হারাম। আবূ দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উম্মু সুলায়ম-এর দুধ বোনের নাম।
ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে উদ্দেশ্য হলো আবূ তলহাহ-এর অন্য কোন স্ত্রী।
(سَمِعْتُ خَشَفَةً) আবূ উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (خَشَفَةً) হলো হালকা ও ক্ষীণ শব্দকে বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, প্রকৃতপক্ষে সাপের চলার শব্দকে (خَشَفَةً) বলা হয়। অতএব এখানে হাদীসের অর্থ হলো পায়ে চলার যে অনুভূতি শ্রবণ করা যায়।
ইমাম যাররা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, একটি আওয়াজ মিরক্বাতের ব্যাখ্যাকার বলেন, জুতার আঘাতের শব্দ প্রকৃতপক্ষে নড়াচড়া করা অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(فذكرتُ غيرتك) ইবনু বাত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে বিজ্ঞতা হলো প্রত্যেক ব্যক্তির ঐ গুণ যা তার চরিত্র হতে জানা যায় তা বলা যায়। উমার (রাঃ) কথাটি শুনে কাঁদতে লাগলেন। তিনি বললেন, এ কান্নার কারণ হতে পারে সেটা আনন্দে অথবা বিনয় বা আগ্রহ প্রকাশের জন্য ছিল। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৭৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৮-[৪] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকেদেরকে আমার সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে। তাদের গায়ে জামা ছিল। তাদের কারো জামা বুক অবধি পৌছেছিল। আবার কারো জামা ছিল তার নিম্নে। এরপর আমার সম্মুখে ’উমার ইবনুল খাত্তাবকে উপস্থিত করা হয়। তার দেহে এমন একটি দীর্ঘ জামা ছিল যে, তিনি তা হেঁচড়িয়ে চলছিলেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর ব্যাখ্যা কি করেছেন? তিনি (সা.) বললেন, তা হলো দীন। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنِ اَبِیْ سَعِیْدٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3691) و مسلم (15 / 2390)، (6189) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কাপড় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দীনের উপর অটল থাকা আর তা টেনে নিয়ে যাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার মৃত্যুর পর মুসলিমদের মাঝে তার সুন্দর সুন্দর প্রভাব ও সুন্নাতগুলো অবশিষ্ট থাকা যাতে করে মৃত্যুর পরও যেন তার অনুসরণ করা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী হা, ২৩৯০)
হাদীসের সারমর্ম হলো: ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে দীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। তার শাসনকাল দীর্ঘ হবে। তার বিজয়ের প্রভাবটা জীবিত অবস্থায় অবশিষ্ট থাকবে এবং মৃত্যুর পরও। কেননা দীন হলো মানুষকে একত্রিত করে ও রক্ষা করে এবং মতবিরোধ হতে বাঁচিয়ে রাখে, যেমন কাপড় মানুষকে রক্ষা করে ও বেষ্টন করে রাখে।
(وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ) এখানে কাপড়ের স্তর বর্ণনা করা হয়েছে। তাছাড়া (دُونَ) শব্দের অর্থে দু'টি সম্ভাবনা রয়েছে, ১. তার চেয়ে ছোট কাপড়, ২. বড় কাপড়।
(يَجُرُّهُ) কাপড় লম্বা হওয়ার দরুন জমিনে হেঁচড়াচ্ছিল।
(قَالُوا) কতিপয় সাহাবী যারা তখন উপস্থিত ছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৩৯-[৫] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন দেখলাম, আমার কাছে একটি দুধের পাত্র আনা হয়েছে। আমি তা এত তুষ্ট হয়ে পান করলাম যে, আমি লক্ষ্য করলাম, তপ্তি যেন আমার নখগুলো হতে বের হচ্ছে। অতঃপর আমি পাত্রের অবশিষ্ট দুধ ’উমার ইবনুল খত্ত্বাবকে দিলাম। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ স্বপ্নের তা’বীর (ব্যাখ্যা) আপনি কি করেছেন? তিনি বললেন, “ইলম। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ فَشَرِبْتُ حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ فِي أَظْفَارِي ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْعِلْمَ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3681) و مسلم (16 / 2391)، (6190) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (لَأَرَى الرِّيَّ) দুধের তরল চিহ্ন দেখতে পেলাম।
قَالَ: «الْعِلْمَ» ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য দীনী জ্ঞান।
‘আলিমগণ বলেন, কায়িক ও আত্মার জগতের মাঝে অন্য একটি জগত রয়েছে সেটি হলো সদৃশ জগত। এটি হলো আলোকিত জগত যা কায়িক জগতের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। ঘুম হলো আত্মা সদৃশ জগতে গিয়ে আলোকিত হওয়ার কারণ। স্বপ্ন হলো, শরীর ছাড়া যাতে শুধু আকৃতি থাকে। আর “ইলম সদৃশ জগতে গিয়ে দুধের আকৃতি ধারণ করে, কারণ দুধ হলো শরীরের প্রথম খাদ্য এবং শরীরকে সুস্থ রাখার কারণ। তেমনিভাবে ‘ইলম হলো আত্মার প্রথম খাদ্য এবং আত্মাকে সুস্থ রাখার কারণ।
কেউ কেউ বলেন, আলোকিত জগত চারটি আকৃতি ধারণ করে, ১) পানি, ২) দুধ, ৩) মদ, ৪) মধু। এছাড়াও একটি আয়াত পাওয়া যায় যাতে জান্নাতে চার প্রকার নদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব যে ব্যক্তি স্বপ্নে পানি পান করবে তাকে ‘ইলমে লাদুনী দেয়া হবে। যে ব্যক্তি দুধ পান করবে তাকে শারী'আতের রহস্যের জ্ঞান দেয়া হবে। যে ব্যক্তি মদ পান করবে তাকে পরিপূর্ণ জ্ঞান দান করা হবে আর যে ব্যক্তি মধু পান করবে তাকে ওয়াহীর পদ্ধতিতে জ্ঞান দেয়া হবে। কতিপয় পণ্ডিত বলেন, চারটি নহর চার খলীফার ব্যাখ্যা। আর দুধ শুধু ‘উমার (রাঃ)-এর খাস, যেমনটি হাদীস হতে পাওয়া যায়। আর “ইলম পরিতপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আলিমগণ মতানৈক্য করেছেন:
১) প্রথম দল বলেন, “ইলম দ্বারা পরিতপ্ত হওয়া এর অস্তিত আছে। কেননা “ইলম বৃদ্ধি হয় না যখন তা গ্রহণ করা হয় না যা হলে পরিতৃপ্তি আসে।
২) ইলম দ্বারা পরিতৃপ্ত হওয়ার কোন অস্তিত্ব নেই। দলীল: আল্লাহ বলেন, “বলুন! হে আমার প্রতিপালক আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।” (সূরা হা- ২০:১১৪)
এখানে “ইলম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে কিন্তু কোন শেষ সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এজন্যই বলা হয় যাতে বৃদ্ধি নেই তাতে কমতি আছে।
আরো বলা হয়ে থাকে, জ্ঞান অন্বেষণকারী সমুদ্রের পানি পানকারীর ন্যায় যত পানি পান বৃদ্ধি পায় তত পিপাসা বেড়ে যায়।
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, যদি সকল আরব গোত্রের জ্ঞান এক পাল্লায় রাখা হয় আর ‘উমার (রাঃ) -এর জ্ঞান আরেক পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে ‘উমার (রাঃ)-এর পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। তারা আরো মনে করতেন ‘উমার (রাঃ) একাই নয় গোত্রের জ্ঞান রাখেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
আর দুধকে ‘ইলম দ্বারা ব্যাখ্যা করার কারণ হলো উভয়টিতে প্রচুর পরিমাণ উপকার বিদ্যমান এবং উভয়টি সুস্থ থাকার বড় মাধ্যম। অতএব দুধ হলো শিশুদের খাদ্য ও তাদের সুস্থ থাকার বড় কারণ, এরপর শরীরের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। আর ইলম বা জ্ঞান হলো ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে ঝামেলামুক্ত থাকার বড় হাতিয়ার। (ফাতহুল বারী হা. ৩৬৪১, শারহুন নাবাবী হা. ১৮৫৯)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪০-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, (স্বপ্নে) আমি নিজেকে একটি কূপের পাশে দেখতে পেলাম। কূপটির পাশে একটি বালতিও ছিল। আমি ঐ বালতি দ্বারা যতটা আল্লাহর ইচ্ছা কূপ হতে পানি উঠালাম। তারপর ইবনু আবূ কুহাফাহ্ [আবূ বকর (রাঃ)] ঐ বালতিটা নিলেন এবং এক বালতি বা দুই বালতি পানি টেনে উঠালেন। তাঁর ঐ বালতি টানার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তা’আলা তাঁর এ দুর্বলতা ক্ষমা করুন। এরপর বালতিটি বড় হয়ে গেল এবং ইবনুল খত্ত্বাব (উমার) তা নিলেন। আমি কোন শক্তিশালী বাহাদুর লোককেও ’উমারের মতো টেনে তুলতে দেখিনি। এমনকি লোকজন ঐ স্থানকে উটশালা বানাতে উদ্বুদ্ধ হলো।”
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ عَلَيْهَا دَلْوٌ؟ فَنَزَعْتُ مِنْهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَخَذَهَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَنَزَعَ مِنْهَا ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ ضَعْفَهُ ثُمَّ اسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَأَخَذَهَا ابْنُ الْخَطَّابِ فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَنْزِعُ نَزْعَ عُمَرَ حَتَّى ضرب النَّاس بِعَطَن»
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3664) و مسلم (17 / 2392)، (6192) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ عَلَيْهَا دَلْوٌ) قَلِيبٍ বলা হয় এমন কূপ যা সঙ্কুচিত নয়। (دَلْوٌ) বলা হয় বড় বালতিকে। (শারহুন নাবাবী হা. ২৩৯২)
(فَنَزَعَ مِنْهَا ذَنُوبًا) ذَنُوب এমন বালতি যার মধ্যে পানি থাকে, পরিপূর্ণ হোক বা অপরিপূর্ণ। (আল কামূস)
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে কূপ দ্বারা দীনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা হলো উৎপত্তিস্থল এবং তার দ্বারা প্রাণ সঞ্চার হয় ও জীবনোপকরণ পূর্ণতা লাভ করে।
পানি উঠানো দ্বারা এই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, উক্ত বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে শেষ হয়ে আবূ বাকর (রাঃ) পর্যন্ত চলবে। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) হতে ‘উমার (রাঃ) পর্যন্ত চলবে। আর আবূ বাকর (রাঃ) -এর এক বালতি অথবা দুই বালতি পানি উঠানো দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, তার খিলাফতকাল কম হবে। আর এ বিষয়টি তার হাতে এক অথবা দুই থাকবে, এরপর ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে হস্তান্তরিত হবে। আমরা জানি তার খিলাফতকাল ছিল দুই বছর তিন মাস।
তার দুর্বলতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার খিলাফতকালে যে ব্যাপক পরিবর্তন, মুরতাদ ও মতানৈক্য দেখা দেয় ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অথবা মানুষদের সাথে তার নমনীয় ব্যবহার ও খিলাফতকাল অল্পের প্রতি ইঙ্গিত।
আর বালতি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট হস্তান্তরিত হয় সেটা এমন বড় বালতি যা হতে উট পানি পান করে থাকে। এটা দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাঁর যুগে ইসলামের মহত্ব, আল্লাহর কালিমার বিজয় ও তাঁর ক্ষমতার বিস্তার ঘটবে।
উত্তমভাবে পানি তোলা দ্বারা ইঙ্গিত হলো তিনি দীন ইসলামের বিজয়ের জন্য যে প্রচেষ্টা করেছেন এবং পৃথিবীর প্রাচ্যে ও পশ্চাতে ইসলাম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন যেটা ইতোপূর্বে কেউ সক্ষম হননি।
(أَرَ عَبْقَرِيًّ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রচুর শক্তিমত্তা। আরো বলা হয়: (عَبْقَرِيًّ) হলো একটি উপত্যকার নাম। আরবগণ মনে করতেন সে উপত্যকায় জিন বসবাস করে, তাই তারা কোন আশ্চর্যপূর্ণ কোন বিষয় দেখলে সেদিকে সম্বোধন করত।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ বাকর (রাঃ), পানি উত্তোলনে দুর্বল- এটা দ্বারা তার মর্যাদাকে খাটো করা হয়নি। উমার (রাঃ) -এর মর্যাদা আবূ বাকর (রাঃ) -এর উপরে প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য নয়। এখানে শুধু তাদের শাসনকালের ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হয়েছে। উমার (রাঃ)-এর শাসনকালে মানুষ বেশি উপকৃত হবে। তার শাসনকাল দীর্ঘ হওয়ার কারণে ইসলামের বিস্তার ঘটবে, দিকসমূহ বিজয় হওয়া ও অনেক গনীমত ও সম্পদ অর্জন হওয়ার কারণ হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪১-[৭] ইবনু উমার (রাঃ)-এর এক বর্ণনাতে আছে, অতঃপর ইবনুল খত্তাব বালতিটা আবূ বকর এর হাত হতে নিজের হাতে নিলেন। বালতিটি তার হাতে পৌছেই বৃহদাকারে পরিণত হয়ে গেল। আর আমি কোন শক্তিশালী যুবককেও দেখিনি ’উমার-এর মতো পানি তুলতে যে, তাতে সমস্ত লোক পরিতপ্ত হয়ে গেল এবং পানির প্রাচুর্যের কারণে লোকেরা ঐ স্থানকে উটশালা বানিয়ে নিল। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «ثُمَّ أَخَذَهَا ابْنُ الْخَطَّابِ مِنْ يَدِ أَبِي بَكْرٍ فَاسْتَحَالَتْ فِي يَدِهِ غَرْبًا فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا يَفْرِي فَرْيَهُ حَتَّى رَوِيَ النَّاسُ وَضَرَبُوا بعَطَنٍ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (7019) و مسلم (19 / 2393)، (6196) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪২-[৮] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা ’উমার-এর মুখে এবং তাঁর হৃদয়ে হক কথা রেখে দিয়েছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3682 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৩-[৯] আর আবূ দাউদে রয়েছে, আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা ’উমারের মুখে হক রেখেছেন, কাজেই তিনি হক কথাই বলে থাকেন।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَان عمر يَقُول بِهِ»
صحیح ، رواہ ابوداؤد (2962) ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৪-[১০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এটা অসম্ভব মনে করতাম না যে, মালাক (ফেরেশতা) “উমার (রাঃ)-এর মুখে কথা বলে থাকেন। (বায়হাকী’র দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَا كُنَّا نُبْعِدُ أَنَّ السَّكِينَةَ تَنْطِقُ عَلَى لِسَانِ عمر. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»
صحیح ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 369 ۔ 370) [و عبداللہ بن احمد (1 / 106 ح 834 و سندہ حسن) و عبد الرزاق (11 / 222 ح 20380) و البغوی فی شرح السنۃ (14 / 86 ح 3877) و للحدیث طرق کثیرۃ عند احمد بن حنبل فی فضائل الصحابۃ (310 ، 522 ، 523 ، 601 ، 614 ، 634 ، 707 ، 711) وغیرہ فالحدیث صحیح] ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৫-[১১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) (দু’আয়) বলেছেন, “হে আল্লাহ! আবূ জাহল ইবনু হিশাম অথবা ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব দ্বারা তুমি ইসলামকে শক্তিশালী কর। এ দু’আর পরদিন ভোরে ’উমার (রাঃ) নবী (সা.) -এর কছে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর নবী (সা.) মসজিদে (মসজিদুল হারামে) প্রকাশ্যে সালাত আদায় করেছেন। (আহমাদ ও তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ» فَأَصْبَحَ عُمَرُ فَغَدَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمَ ثُمَّ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ظَاهرا. رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ
ضعیف ، رواہ احمد فی فضائل الصحابۃ (1 / 249 ۔ 250 ح 311) [و الترمذی (3683 وقال : غریب) و سندہ ضعیف] * سندہ ضعیف جدًا ، نضر بن عبد الرحمن الخزاز ابو عمر : متروک ، و روی الترمذی (3681) بسند حسن عن ابن عمر ان رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم قال :’’ اللھم اعز الاسکام باحب ھذہ الرجلین الیک : بابی جھل او بعمر بن خطاب ‘‘ وقال :’’ ھذا حدیث حسن صحیح ‘‘ وھو یغنی عنہ ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: (اللَّهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ) ইসলামকে শক্তিশালী কর, সাহায্য কর এবং কাফিরদের ওপর বিজয় দান কর। আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের পর হতে আমরা সর্বদা মর্যাদাবান ছিলাম। তিনি আরো বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল সম্মান, তার হিজরত ছিল সাহায্য, শাসন ছিল দয়ার কারণ আল্লাহর শপথ করে বলছি ‘উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের আগ পর্যন্ত আমরা কা'বায় প্রকাশ্যে সালাত আদায় করতে সক্ষম ছিলাম না। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৬৯০)
(أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ) ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অন্যত্রে শুধু 'উমার (রাঃ)-এর কথা বলা হয়েছে আবূ জাহল-এর কথা বলা হয়নি।
ইবনু আসাকির-এর চমৎকার সমাধান দিয়েছেন। তিনি বলেন, নবী (সা.) প্রথমে উভয়ের জন্য দু'আ করেন। পরে যখন ওয়াহী করা হয় যে, আবূ জাহল কখনো ইসলাম গ্রহণ করবে না। তখন শুধু “উমার (রাঃ) এর জন্য দু'আ করেন এবং তা কবুল হয়ে যায়।
দাউদ ইবনু হাসিন ও ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম অবতরণ করে বলেন, 'উমার-এর ইসলাম গ্রহণে আকাশবাসী অত্যন্ত খুশি হয়েছে।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “উমার (রাঃ) হলেন কুরায়শী গোত্রের, কুনিয়াত হলো আবূ হাফস্।
তিনি নুবুওয়্যাতের ৬ষ্ঠ অথবা ৫ম বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন। চল্লিশ জন পুরুষ ও এগার জন মহিলা ইসলাম গ্রহণের পর আরো বলা হয় তিনি চল্লিশ পূর্ণ করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৬-[১২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, হে সর্বোত্তম মানুষ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পর। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যদি তুমি আমার সম্পর্কে এ কথা বল, তবে তুমি জেনে রাখ যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ’উমার অপেক্ষা উত্তম কোন লোকের ওপর সূর্য উদিত হয়নি।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ لِأَبِي بَكْرٍ: يَا خَيْرَ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَمَا إِنَّكَ إِنْ قُلْتَ ذَلِكَ فَلَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ عَلَى رَجُلٍ خَيْرٍ مِنْ عُمَرَ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3684) * فیہ عبداللہ الواسطی : ضعیف و شیخہ : مجھول و الحدیث ضعفہ الذھبی جدًا بقولہ :’’ و الحدیث شبہ الموضوع ‘‘ ۔
(بَاطِل)
ব্যাখ্যা: (إِنَّكَ إِنْ قُلْتَ ذَلِكَ) আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, যখন তুমি আমাকে এরূপ কথা বললে এবং সমস্ত মানুষের মধ্যে আমার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরলে তখন আমিও তোমাকে অনুরূপ প্রতিদান দিব, অর্থাৎ সুসংবাদ দিয়ে যে, আমিও রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি যে, এমন কোন লোকের ওপর সূর্য উদিত হয়নি। যে, সে ‘উমার (রাঃ) থেকে উত্তম হবে।
ইমাম মানাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অচিরেই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ হবেন আগত কিছু সময়ের জন্য। সে সময় হলো খিলাফত অধিষ্ঠিত হওয়া থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, কেননা তখন তিনিই হবেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
(مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ عَلَى رَجُلٍ خَيْرٍ مِنْ عُمَرَ) মুল্লা ‘আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা হতে পারে যে, তিনি তার খিলাফতকালে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হবেন। এটাও সম্ভব যে, এখানে শর্ত করা হয়েছে আবূ বাকর (রাঃ)-এর পরে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য ন্যায়পরায়ণতা বা রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।
একই সাথে সংবাদ ও অস্বীকার এ ব্যাপারে তিনি কুরআন হতে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। আল্লাহ বলেন, (وَ مَا بِکُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰهِ) “যে নি'আমাতই তোমরা পেয়েছ তাতো আল্লাহর নিকট হতেই”- (সূরাহ আন্ নাহল ১৬: ৫৩)।
লুম'আতে তিনি বলেন, শ্রেষ্ঠ হওয়ার দিক বিভিন্ন ধরনের ও প্রকারের হয়ে থাকে, আবূ বাকর (রাঃ) এর সাওয়াব বেশি হওয়ার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ; তাই এর অর্থ এই নয় যে, তারা উভয়ে শ্রেষ্ঠ নয় বরং প্রত্যেকে স্ব স্ব স্থানে শ্রেষ্ঠ। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৬৯৩, মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৭-[১৩] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন, তাহলে ’উমার ইবনুল খত্ত্বাবই হতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لوكان بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3686) ۔
(حَسَنٌ)
ব্যাখ্যা: (لوكان بَعْدِي نَبِيٌّ لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ) আলোচ্য হাদীসে ‘উমার (রাঃ) -এর মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যে নবী রাসূলগণের গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৬৯৫)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৮-[১৪] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন এক যুদ্ধে বের হলেন, তিনি যখন ফিরে আসলেন, তখন এক হাবশী মেয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানৎ করেছিলাম যে, আল্লাহ তা’আলা যদি আপনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন, তাহলে আমি দফ বাজিয়ে আপনার সামনে গান গাইব। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, যদি তুমি এরূপ মানৎ করেই থাক তবে দফ বাজাতে পার। অন্যথা তা করো না। অতঃপর সে দফ বাজাতে লাগল। ইতোমধ্যে আবূ বকর (রাঃ) সেখানে প্রবেশ করলেন, আর মেয়েটি দফ বাজাতে থাকল। তারপর আসলেন ’আলী (রাঃ), তখনো সে দফ বাজাতে থাকল, অতঃপর ’উসমান (রাঃ) আসলেন, অথচ তখনো সে দফ বাজাতে থাকল, তবে তারপর যখন ’উমার (রাঃ) প্রবেশ করলেন, তখন সে দফ বাজানো বন্ধ করে দিয়ে দফটি স্বীয় নিতম্বের নিচে রেখে দিয়ে তার উপর বসে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে ’উমার! শয়তান তোমাকে ভয় করে। আমি বসা ছিলাম, আর মেয়েটি দফ বাজাতে লাগল। এরপর আবূ বকর আসলেন, তারপর ’আলী আসলেন, পরে ’উসমান আসলেন, অথচ সে অবিরাম দফ বাজাচ্ছিল। আর হে ’উমার! তুমি যখন প্রবেশ করলে, তখন সে দফটি ফেলে দেয়। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি বলেছেন: হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَن بُرَيْدَة قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ جَاءَتْ جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ. فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كنتُ نذرت إِن ردك الله سالما أَنْ أَضْرِبَ بَيْنَ يَدَيْكَ بِالدُّفِّ وَأَتَغَنَّى. فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنْ كُنْتِ نَذَرْتِ فَاضْرِبِي وَإِلَّا فَلَا» فَجَعَلَتْ تَضْرِبُ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عَلِيٌّ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَأَلْقَتِ الدُّفَّ تَحْتَ اسْتِهَا ثُمَّ قَعَدَتْ عَلَيْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَخَافُ مِنْكَ يَا عُمَرُ إِنِّي كُنْتُ جَالِسًا وَهِيَ تَضْرِبُ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عَلِيٌّ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ وَهِيَ تَضْرِبُ فَلَمَّا دَخَلْتَ أَنْتَ يَا عُمَرُ أَلْقَتِ الدُّفَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3690) ۔
(حسن صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (بِالدُّف) এখানে অর্থ হলো যার দ্বারা দফ (এক মুখ খোলা তবলা ধরনের) বাজানো হয়। আর (دف) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে দফগুলো পূর্বেকার যুগে পাওয়া যেত। যে দফে বাজনা হয় সকলের ঐকমত্যে সেটা (مكروه) বা হারাম।
উক্ত হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা হয় যে, মানৎ দ্বারা নৈকট্য অর্জন হয় তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। নবী (সা.) -এর সামনে আনন্দ করা নৈকট্যের বিষয়। বিশেষ করে যখন যুদ্ধের ময়দান হতে ফিরে আসেন, কেননা যুদ্ধে অনেক বিনাশ হয়ে থাকে। তাছাড়া উক্ত হাদীসকে কেন্দ্র করে দফ বাজানো বৈধ বলা হয় ।
(أَتَغَنَّى) এটা প্রমাণিত যে, ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে মহিলার কণ্ঠে গান শ্রবণ করা বৈধ।
(إِنْ كُنْتِ نَذَرْتِ فَاضْرِبِي وَإِلَّا فَلَا) এখানে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, দফ বাজানো বৈধ নয় মানৎ ছাড়া অনুরূপভাবে তা বাজানো বৈধ নয় শারী'আত প্রণেতার অনুমতি ব্যতীত যেমন বিবাহের ঘোষণা দেয়ার জন্য দফ বাজানো বৈধ।
আর ইয়ামানের শায়খরা যিকর করা অবস্থায় যে দফ বাজিয়ে থাকেন তা ঘৃণিত কাজসমূহের অন্যতম। আল্লাহ তাঁর দীনের রক্ষক ও সাহায্যকারী। [মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য]
ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) -এর সামনে দফ বাজানো সম্ভব হয়েছিল ঐ মহিলার মানতের জন্য। অতএব তার মানৎ প্রমাণ করে যে, স্বাভাবিক অবস্থায় মানৎ ছিল তার ওপর আল্লাহর নিআমাতসমূহ হতে একটি নি'আমাত। এ ক্ষেত্রে তার কাজটি রূপান্তরিত হয়ে গেল অনর্থক কাজ হতে ভালোর দিকে এবং মাকরূহ কাজ হতে মুস্তাহাবের দিকে। তার মানৎ পূর্ণের জন্য এটা তিনি অপছন্দ মনে করলেন না। তার মানৎপূর্ণ করা হাসিল হয়েছে, অল্প কয়েকবার দফ পিটানো দ্বারা। এরপর বিষয়টি বেশি হয়ে গেলে মাকরূহ-এর পর্যায়ে চলে গেল, কিন্তু তিনি নিষেধ করা সমিচীন মনে করলেন না। কেননা যদি তিনি (সা.) নিষেধ করতেন তাহলে হারামের পর্যায় চলে যেত, এজন্য তিনি চুপ ছিলেন। আর তিনি (সা.) শ্রেষ্ঠ বিষয়টি প্রশংসা করলেন ‘উমার (রাঃ) আসার কারণে মেয়েটি যে অবস্থায় ছিল অর্থাৎ দফ বাজানো থেকে বিরত থাকা।
মুল্লা আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাঁর নিষেধাজ্ঞা সাধারণ নিষেধ থাকত হারামের পর্যায় যেত না।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীস তার বাহ্যিকের উপর ধরা হবে, কেননা শয়তান যখন তাকে [উমার (রাঃ)] দেখে তখন পলায়ন করে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৬৯৯, মিরকাতুল মাফাতীহ)
(إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَخَافُ مِنْكَ يَا عُمَرُ) এখানে শয়তান দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ কালো মহিলা, কেননা সে হলো মানুষ শয়তান আর সে শয়তানের কাজই করছিল। অথবা শয়তান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ মহিলার শয়তান যে তাকে খারাপ কর্ম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার সে খারাপ কর্ম হলো অতিরিক্ত দফ বাজানো যেটা অনর্থক কর্মের অন্তর্ভুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৪৯-[১৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বসা ছিলেন। এমন মুহূর্তে আমরা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের শোরগোল ও হৈ চৈ শুনতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উঠে সেদিকে গেলেন। তিনি (সা.) গিয়ে দেখলেন, এক হাবশী (সুদানী) বালিকা নাচছে আর ছেলেমেয়েরা তাকে ঘিরে তামাশা দেখছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে ’আয়িশাহ্! এদিকে আসো এবং তামাশা দেখ। [আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন] অতএব আমি গেলাম এবং আমার থুতনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাঁধের উপর রেখে তাঁর কাঁধ ও মাথার মাঝখান দিয়ে ঐ বালিকাটির নাচ দেখতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরে তিনি (সা.) আমাকে বললেন, তোমার কি তৃপ্তি হয়নি, তোমার কি তৃপ্তি হয়নি? আমি বলতে লাগলাম, না। আমার এই ’না’ বলার কারণ ছিল, দেখি তার অন্তরে আমার স্থান কতটুকু আছে। ঠিক এমন সময় হঠাৎ ’উমার (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হলেন। উমার (রাঃ) -কে দেখামাত্রই লোকজন তাঁর কাছ থেকে এদিক-সেদিক সরে পড়ল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি দেখছি, জিন ও ইনসানের শয়তানগুলো ’উমারের ভয়ে পলায়ন করেছে। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি চলে আসলাম। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا فَسَمِعْنَا لَغَطًا وَصَوْتَ صِبْيَانٍ. فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا حَبَشِيَّةٌ تَزْفِنُ وَالصِّبْيَانُ حَوْلَهَا فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ تَعَالَيْ فَانْظُرِي» فَجِئْتُ فَوَضَعْتُ لَحْيَيَّ عَلَى مَنْكِبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهَا مَا بَيْنَ الْمَنْكِبِ إِلَى رَأْسِهِ. فَقَالَ لِي: «أَمَا شَبِعْتِ؟ أَمَا شَبِعْتِ؟» فَجَعَلْتُ أَقُولُ: لَا لِأَنْظُرَ مَنْزِلَتِي عِنْدَهُ إِذ طلع عمر قَالَت فَارْفض النَّاس عَنْهَا. قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لأنظر إِلَى شَيَاطِينِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ قَدْ فَرُّوا مِنْ عُمَرَ» قَالَتْ: فَرَجَعْتُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3691) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫০-[১৭] আনাস এবং ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। “উমার (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত আমার প্রভুর সিদ্ধান্তের অনুরূপ হয়েছে-
১. আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর স্থানটিকে আমরা যদি সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নিতাম। তখন অবতীর্ণ হলো (وَ اتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰهٖمَ مُصَلًّی) “সালাত আদায় করার জন্য ইব্রাহীম-এর দাঁড়ানোর স্থানটিকে তোমরা সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নাও” (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ১২৫)।
২. আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার স্ত্রীদের ঘরে নেককার ও বদকার হরেক রকমের লোক আসে। তাই আপনি যদি তাদেরকে পর্দা করার আদেশ করতেন। এর পর পরই পর্দার আয়াত নাযিল হলো।
৩. একবার নবী (সা.) -এর স্ত্রীগণ আত্মাবশানবশত এক জোট হয়েছিলেন। তখন আমি বললাম, তোমরা নিজ আচরণ বর্জন কর, অন্যথায় যদি নবী (সা.) তোমাদেরকে তালাক দিয়ে দেন, তবে শীঘ্রই তাঁর প্রভু তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী তাঁকে প্রদান করতে পারেন। তার পর পরই অনুরূপ আয়াত অবতীর্ণ হলো।”
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
عَن أنس وَابْن عمر أَن عمر قَالَ: وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى؟ فَنَزَلَتْ [وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى] . وَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ يَدْخُلُ عَلَى نِسَائِكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَهُنَّ يَحْتَجِبْنَ؟ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ وَاجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْغَيْرَةِ فَقُلْتُ [عَسَى رَبُّهُ إِنْ طلَّقكنَّ أَن يُبدلهُ أَزْوَاجًا خيرا منكنَّ] فَنزلت كَذَلِك
رواہ البخاری (402 ، 4483) [و احمد (1 / 23)] ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫১-[১৮] ইবনু উমার (রাঃ)-এর এক বর্ণনাতে আছে, প্রভুর সাথে ঐকমত্য হয়েছি- ১. মাকামে ইবরাহীম-এর ব্যাপারে। ২. পর্দার ব্যাপারে। ৩. বদরের কয়েদিদের ব্যাপারে। (বুখারী ও মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَفِي رِوَايَةٍ لِابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ: وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ: فِي مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ وَفِي الْحِجَابِ وَفِي أُسَارَى بَدْرٍ. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (24 / 2399)، (6206) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫২-[১৯] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চারটি বিশেষ কারণে ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব সকল মানুষের ওপর সম্মানপ্রাপ্ত হয়েছেন।
১. বদর যুদ্ধের বন্দীদের আলোচনা প্রসঙ্গে তাদের তিনি হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলো (আয়াতের অনুবাদ) যদি আগে থেকে আল্লাহর কাছে তা লেখা না থাকত, তাহলে যে বিনিময় গ্রহণ করেছ, তজ্জন্য তোমরা কঠিন ’আযাবে লিপ্ত হতে।
২. পর্দার ব্যাপারে তিনি নবী (সা.) -এর বিবিগণকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তারা যেন পর্দা মেনে চলে। তা শুনে নবী (সা.) পত্নী যায়নাব (রাঃ) বলে উঠলেন, হে খত্ত্বাব-এর পুত্র! তুমি আমাদের ওপর পর্দার আদেশ জারি করছ, অথচ আমাদের ঘরেই ওয়াহী অবতীর্ণ হয়। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন (আয়াতের অনুবাদ) “হে মানুষ! তোমরা যখন নবীর স্ত্রীদের নিকট হতে কোন জিনিস চাবে, তখন আড়ালে থেকে চাবে।
৩. ’উমার -এর জন্য নবী (সা.) দু’আ করেন, হে আল্লাহ! ’উমার-এর দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী কর।
৪. আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফত সম্পর্কে তাঁর (’উমার-এর) অভিমত এবং তিনিই সর্বপ্রথম লোক, যিনি তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছেন। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَن ابْن مَسْعُود قَالَ: فُضِّلَ النَّاسَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِأَرْبَعٍ: بِذِكْرِ الْأُسَارَى يَوْمَ بَدْرٍ أَمَرَ بِقَتْلِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُم عَذَاب عَظِيم] وَبِذِكْرِهِ الْحِجَابَ أَمَرَ نِسَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَحْتَجِبْنَ فَقَالَتْ لَهُ زَيْنَبُ: وَإِنَّكَ عَلَيْنَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالْوَحْيُ يَنْزِلُ فِي بُيُوتِنَا؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعا فَاسْأَلُوهُنَّ من وَرَاء حجاب] وَبِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ أَيِّدِ الْإِسْلَامَ بِعُمَرَ» وَبِرَأْيِهِ فِي أَبِي بَكْرٍ كَانَ أول نَاس بَايعه. رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 456 ح 3662) * فیہ ابو نھشل : مجھول و ابو النضر ھاشم بن القاسم سمع من المسعودی بعد اختلاطہ ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৩-[১৯] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জান্নাতের মাঝে ঐ লোকের মর্যাদাই হবে আমার উম্মতের সকলের ওপরে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! ঐ ব্যক্তি দ্বারা আমরা ’উমার ইবনুল খাত্তাব ছাড়া অন্য কাউকেও ধারণা করতাম না। এমনকি তাঁর মৃত্যু অবধি আমাদের (সাহাবীদের) মাঝে এ ধারণা বিদ্যমান ছিল। (ইবনু মাজাহ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَاكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ» . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلَّا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ. رَوَاهُ ابْن مَاجَه
اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4077 ب) * فیہ عطیۃ العوفی ضعیف و مدلس و عبید اللہ بن الولید الوصافی : ضعیف ۔
(واه)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৪-[২০] আসলাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) আমাকে তার অর্থাৎ ’উমার (রাঃ)-এর গুণাগুণ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, তখন আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর আমি ’উমার (রাঃ) তুলনায় দীনের কাজে অধিক দৃঢ় ও সঠিক কর্মপরায়ণ আর কোন লোককে দেখিনি। তিনি তাঁর শেষ বয়স অবধি একই অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَن أسلم قَالَ: سَأَلَنِي ابْنُ عُمَرَ بَعْضَ شَأْنِهِ - يَعْنِي عُمَرَ - فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا قَطُّ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حِينِ قُبِضَ كَانَ أَجَدَّ وَأَجْوَدَ حَتَّى انْتهى من عمر. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3687) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (عَن أسلم) আসলাম হলেন ‘উমার (রাঃ)-এর দাস, তার উপনাম আবূ খালিদ, তিনি হাবশী গোলাম ছিলেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি ইয়ামানী গোলাম ছিলেন, হজ্জ পালনের জন্য আবূ বাকর (রাঃ) তাকে হজ্জের নেতা বানিয়ে পাঠান। যখন খলীফাহ্ মারওয়ান মৃত্যুবরণ করেন তখন তার বয়স ছিল ১১৪ বছর।
(سَأَلَنِي ابْنُ عُمَرَ بَعْضَ شَأْنِهِ - يَعْنِي عُمَرَ) সম্ভবত এখানে ঐ সকল গুণাগুণ উদ্দেশ্য যেগুলো মানুষের জানা নেই এবং পার্থিব ঐ সকল বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ ও তার মাঝে বন্ধন সৃষ্টি করেছিল ইখলাসের ভিত্তিতে।
(مَا رَأَيْتُ أَحَدًا قَطُّ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে: ১. রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর, ২. অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পর।
(حَتَّى انْتهى من عمر) ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরোক্ত উক্তি ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে। এ কথা দ্বারা আবূ বাকর (রাঃ) বের হয়ে গেলেন।
(أَجَدَّ وَأَجْوَدَ) দীন পালনে অধিক প্রচেষ্টা থাকা। (أَجَدَّ) অধিক দানশীল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা. ৩৬৮৭)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৫-[২১] মিসওয়ার ইবনু মাখারামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (যুদ্ধে) উমার (রাঃ) আক্রান্ত হন, তখন তিনি তার ব্যথা ভোগ করতে থাকেন, এ সময় ইবনু আব্বাস (রাঃ) যেন তার অস্থিরতা চলমান করার সুরে তাকে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি এত বেশি অস্থির হবেন না। কেননা আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের অধিকার উত্তমরূপে পালন করেছেন। অতঃপর তিনি আপনার কাছ থেকে এমতাবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তারপর আপনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর সাহচর্যের অধিকারও উত্তমরূপে আদায় করেছেন। আর তিনি আপনার কাছ হতে এমতাবস্থায় বিচ্ছিন্ন হলেন যে, তিনিও আপনার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট ছিলেন। অতঃপর আপনি মুসলিমদের সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাদের সাথে সহ-অবস্থানের হকও উত্তমরূপে আদায় করেছেন। আর এ মুহূর্তে যদি আপনি তাদের কাছ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, তবে নিশ্চিতভাবে আপনি তাদের নিকট হতে এমতাবস্থায় বিচ্ছিন্ন হবেন যে, তারা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে।
এ সকল কথা শুনার পর ’উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহচর্য ও তাঁর সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করেছ, তা তো ছিল আল্লাহ তা’আলার বিশেষ একটি দয়া, যা তিনি আমার ওপর করেছেন। আর আবূ বকর (রাঃ)-এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টি সম্পর্কে যা তুমি উল্লেখ করলে তাও শুধুমাত্র আল্লাহর বিশেষ একটি অনুগ্রহ, যা তিনি আমার ওপর করেছেন, কিন্তু আমার মাঝে এখন যে অস্থিরতা তুমি লক্ষ্য করছ, তা তোমার জন্য এবং তোমার সাথিদের জন্য।
অর্থাৎ আবার তোমরা ফিতনায় পড়ে যাবে। আল্লাহর শপথ! যদি আমার কাছে দুনিয়াপূর্ণ স্বর্ণ থাকত, তবে আল্লাহর শাস্তি (স্বচক্ষে) অবলোকন করার পূর্বেই তা হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমি তার বিনিময় হিসেবে দান করে দিতাম। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب مَنَاقِب عمر)
وَعَن المِسور بن مَخْرَمةَ قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ جَعَلَ يَأْلَمُ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكَأَنَّهُ يُجَزِّعُهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَلَا كُلُّ ذَلِكَ لَقَدْ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ ثُمَّ فَارَقَكَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ ثُمَّ صَحِبْتَ أَبَا بَكْرٍ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ ثُمَّ فَارَقَكَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ ثُمَّ صَحِبْتَ الْمُسْلِمِينَ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُمْ وَلَئِنْ فَارَقْتَهُمْ لَتُفَارِقَنَّهُمْ وَهُمْ عَنْكَ رَاضُونَ. قَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَرضَاهُ فَإِنَّمَا ذَاك مَنٌّ مِنَ اللَّهِ مَنَّ بِهِ عَلَيَّ وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ أَبِي بَكْرٍ وَرِضَاهُ فَإِنَّمَا ذَلِك من من الله جلّ ذكره مَنَّ بِهِ عَلَيَّ. وَأَمَّا مَا تَرَى مِنْ جزعي فَهُوَ من أَجلك وَأجل أَصْحَابِكَ وَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِي طِلَاعَ الْأَرْضِ ذَهَبا لافتديت بِهِ من عَذَاب الله عز وَجل قبل أَن أرَاهُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3692) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ) উমার (রাঃ)-কে আহত করে মদীনায় মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ্-এর গোলাম আবূ লুলুআহ্ মঙ্গলবারে ২৩ হিজরীতে।
(جَعَل عُمَرُ يَأْلَمُ) উমার (রাঃ)-এর কান্নার মাধ্যমে যন্ত্রণা পাওয়ার প্রভাব প্রকাশ পেল।
(يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَلَا كُلُّ ذَلِكَ) শায়খ মায়রক এবং কুশমিহানী (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেন, আলোচ্য বাক্যের অর্থ হলো আপনি যা ভয় পাচ্ছেন তা ঘটবে না অথবা ঐ আঘাতে মৃত্যু ঘটবে না।
(لَوْ أَنَّ لِي طِلَاعَ الْأَرْضِ ذَهَبا) জমিন ভর্তি স্বর্ণ থাকত।
(لافتديت بِهِ من عَذَاب الله عز وَجل قبل أَن أرَاهُ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) যেন আশার তুলনায় ভয়ের দিকটা বেশি প্রধান্য দিলেন। তারপরে রাসূল (সা.) -এর সাথিদের মাঝে যে ফিতনাহ্ পতিত হবে সেটা উপলব্ধি করতে পেরে তিনি তাদের ওপর খুব উৎকণ্ঠিত হলেন ও আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করলেন আর আল্লাহ বিশ্বাসী হতে মুখাপেক্ষীহীন। যেমন ‘ঈসা আলায়হিস সালাম বলেন, যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন তাহলে তারা তো আপনার বান্দা। (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১১৮)
এখানেও ‘ঈসা আলায়হিস সালাম আর ভয়ের দিকটা বেশি ছিল আশার চেয়ে। (ফাতহুল বারী ৭/৩৬৯২)
লেখক মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “উমার (রাঃ)-কে দাফন দেয়া হয় রবিবার মুহাররম মাসের দশ তারিখে ২৪ হিজরীতে তখন তার বয়স ছিল ৬৩ বছর। তার জানাযা আদায় করান সুহায়ব (রাঃ)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৬-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: একদিন এক লোক একটি গাভী হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। যখন লোকটি ক্লান্ত হয়ে পড়ল, তখন সে তার উপর আরোহণ করল। তখন গাভীটি বলল, এ কাজের জন্য আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়নি; বরং আমাদেরকে জমিনে কৃষি কাজের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তখন লোকজন (বিস্ময়ে) বলে উঠল, সুবহা-নাল্ল-হ! গাভীও কথা বলছে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি এ বিষয়ে বিশ্বাস রাখি আর আবূ বকর এবং ’উমারও এ বিষয়ে বিশ্বাস রাখেন। অথচ তাঁরা দুজন কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন: একদিন এক রাখাল তার বকরির পালের কাছে ছিল। হঠাৎ এক নেকড়ে বাঘ থাবা মেরে পাল হতে একটি বকরি নিয়ে গেল। কিছু পরেই রাখাল বাঘটির কবল হতে বকরিটিকে উদ্ধার করে ফেলল। তখন বাঘটি রাখালকে বলল, হিংস্র জন্তুর রাজ্যের দিন এ বকরির রক্ষাকারী কে থাকবে? যেদিন আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ তার রাখাল থাকবে না। তখন লোকজন (বিস্ময়ে) বলে উঠল, সুবহা-নাল্ল-হ! নেকড়ে বাঘও কথা বলতে পারে? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি তার উপর বিশ্বাস রাখি আর আবূ বকর এবং ’উমারও বিশ্বাস রাখেন। অথচ তারা দু’জন কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। (বুখারী ও মুসলিম)।
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: بَينا رجل يَسُوق بقرة إِذْ أعيي فَرَكِبَهَا فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا إِنَّمَا خُلِقْنَا لِحِرَاثَةِ الْأَرْضِ. فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ بَقَرَةٌ تَكَلَّمُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَإِنِّي أومن بِهَذَا أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» . وَمَا هُمَا ثَمَّ وَقَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ فِي غَنَمٍ لَهُ إِذْ عدا الذِّئْب فَذهب عَلَى شَاةٍ مِنْهَا فَأَخَذَهَا فَأَدْرَكَهَا صَاحِبُهَا فَاسْتَنْقَذَهَا فَقَالَ لَهُ الذِّئْبُ: فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبْعِ يَوْمَ لَا رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي؟ فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ الله ذِئْب يتَكَلَّم؟ . قَالَ: أُومِنُ بِهِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَمَا هما ثمَّ. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3471) و مسلم (13 / 2388)، (6183) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا) হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখান থেকে বুঝা যায় চতুষ্পদ জন্তু সাধারণত যে কাজে ব্যবহার করা হয় সে কাজ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা ঠিক না। এটাও সম্ভব হতে পারে যে, আমরা সৃষ্ট হয়েছি কৃষিকাজের জন্য এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য তাকে যে মহান কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করা। শুধু কৃষিকাজের জন্য সীমাবদ্ধ উদ্দেশ্য নয়, কেননা সকলের ঐকমত্য যে তাকে অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন: যাবাহ করা ও ভক্ষণ করা।
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَإِنِّي أومن بِهَذَا أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে, ১) হতে পারে তিনি তাদের সংবাদ দিয়েছেন তারা সাথে সাথে বিশ্বাস করে নিয়েছে। ২) অথবা তারা যখন উক্ত ঘটনা শুনবে সাথে সাথে বিশ্বাস করে নিবে কোন বাধা ছাড়াই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আওয়ামী ৯/৩৬৮৬)
ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি উক্ত ঘটনা সত্যায়নের ব্যাপারে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-কে খাস করেছেন, কেননা তাদের নবী (সা.)-এর নিশ্চিত জ্ঞান রয়েছে যে, তারা বলার সাথে সাথে বিশ্বাস করে নিবে।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি বিশ্বাস করি গরুর কথা বলার ব্যাপারে আমাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে এবং আবূ বাকর ও ‘উমার তারাও বিশ্বাস করে, কেননা আমি তাদের যে সংবাদ দেই না কেন। তারা তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে থাকে। কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (يَوْمَ السَّبْعِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যেদিন মানুষ মৃত্যুবরণ করবে এবং চতুষ্পদ জন্তুগুলো অবশিষ্ট থাকবে। কেউ কেউ বলেন, জাহিলীদের একটা ঈদের দিন হিসেবে যেদিন তারা একটি স্থানে একত্রিত হয়ে খেল-তামাশায় মত্ত থাকত, আর পশুগুলো বাড়ী রেখে আসত এবং হিংস্র প্রাণী তা খেয়ে নিত। কেউ কেউ বলেন, এমন স্থান যেখানে সকলে উপস্থিত হবে এটা দ্বারা কিয়ামতের দিন উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
(مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ) কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাক্যের অর্থ হলো তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন কোন প্রকার হিসাব ছাড়া এবং খারাপ ‘আমলের কোন যাচাই বাছাই ছাড়া, কেননা শুধু ঈমানের দাবী হলো আল্লাহর অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ করা। ১. ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মানুষ বাঘের ও গরুর কথা বলার ঘটনা শুনে আশ্চর্য হবে কিন্তু আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) তার বিপরীত তারা শুনার সাথে সাথে বিশ্বাস করে নিবে। নবী (সা.) তাদের ব্যাপারে এ কথা বলেছেন তাদের নির্ভরযোগ্য দৃঢ় ও শক্তিশালী বিশ্বাস থাকার কারণে এবং আল্লাহর মহান রাজত্ব ও ক্ষমতার ব্যাপারে তাদের জ্ঞান থাকার কারণে।
ইমাম দাউদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (يَوْمَ السَّبْعِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যেদিন হিংস্র প্রাণী তোমাকে তাড়া করবে আর তোমার পলায়নের কারণে আর কোন রাখাল অবশিষ্ট থাকবে না। হে রাখাল! তখন আমি যা ইচ্ছা তাই করব তোমার পশুর সাথে। ইবনুল আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কিয়ামতের দিন অথবা আতঙ্কের দিন। (শারহুন নাবাবী হা. ১৫/২৩৮৮)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৭-[২] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ)-কে তাঁর খাটে (মৃত) রাখা অবস্থায় যারা তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করছিলেন, আমিও তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় আমার পিছন হতে একজন লোক তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে বলতে লাগলেন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। অবশ্যই আমি এই আকাক্ষা করি যে, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আপনার দুই সাথির সাথেই রাখবেন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রায়ই এরূপ বলতে শুনতাম, আমি, আবূ বকর এবং ’উমার ছিলাম। আমি, আবূ বকর এবং ’উমার অমুক কাজ করেছি এবং আমি, আবূ বকর এবং ’উমার অমুক কাজ করেছি এবং আমি, আবূ বকর ও ’উমার চললাম। আমি, আবূ বকর এবং ’উমার অমুক জায়গায় প্রবেশ করেছি। আমি, আবূ বকর এবং ’উমার (অমুক স্থান হতে) বের হয়েছি। তখন আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি, তিনি হলেন ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنِّي لَوَاقِفٌ فِي قَوْمٍ فَدَعَوُا اللَّهَ لِعُمَرَ وَقَدْ وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ إِذَا رَجُلٌ مِنْ خَلَفِي قد وضع مِرْفَقُهُ عَلَى مَنْكِبِي يَقُولُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ لِأَنِّي كَثِيرًا مَا كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «كُنْتُ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَفَعَلْتُ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَانْطَلَقْتُ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَدَخَلْتُ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجْتُ وَأَبُو بكر وَعمر» . فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3677) و مسلم (14 / 2389)، (6187) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (أَنْ يَجْعَلَكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ) ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সাথি নবী (সা.) ও আবূ বাকর-এর সঙ্গী করুন কবরের জগতে অথবা জান্নাতে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পুণ্যশীলতার জগতে আল্লাহ আপনাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ) উমার (রাঃ)-কে তারা বেষ্টন করে রেখেছিল। আর এখানে (السّأرِير) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লাশ বা মৃতদেহ যখন গোসলের জন্য খাটনিতে রাখা হয়েছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলোচ্য হাদীসে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে এবং উভয়ের সুন্দর গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে এবং ‘উমার (রাঃ)-এর প্রতি যে ধারণা করতেন তার মৃত্যুর পূর্বে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। (শারহুন নাবাবী হা. ১৫/২৩৮৯)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৮-[৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: জান্নাতীগণ উচ্চ সম্মানের অধিবাসীগণকে এমনিভাবে (মাথা তুলে) পরস্পরকে দেখতে থাকবে, যেমনিভাবে তোমরা আকাশের প্রান্তে উজ্জ্বল তারকা দেখতে পাও। আর আবূ বকর এবং ’উমার তাদের মাঝে হবেন, বরং তদপেক্ষা উচ্চস্থানে। (শারহুস্ সুন্নাহ্, আর ইমাম আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহও হাদীসটি ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন)
* তিরমিযী ৩৬৫৮, ইবনু মাজাহ ৯৬ হাদিসটিকে সহিহ বলা হয়েছে (হাদিসবিডি এডমিন)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِن أهل الْجنَّة ليراءون أهلَ عِلِّيِّينَ كَمَا تَرَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ فِي أُفُقِ السَّمَاءِ وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ مِنْهُمْ وَأَنْعَمَا» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَرَوَى نَحْوَهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
سندہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 100 ح 3893) و ابوداؤد (3987) و الترمذی (3658 وقال : حسن) و ابن ماجہ (96) * عطیۃ العوفی ضعیف مدلس و للحدیث شواھد ضعیفۃ و روی الطبرانی فی الاوسط (7 / 6 ح 6003) بلفظ : ((ان الرجل من اھل علیین یشرف علی اھل الجنۃ کانہ کوکب دری و ان ابا بکر و عمر منھما و انعما۔)) و سندہ حسن ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৫৯-[৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আবূ বকর এবং ’উমার নবী-রাসূলগণ ছাড়া দুনিয়ার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জান্নাতবাসী প্রৌঢ়দের সরদার হবেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ إِلَّا النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3664 وقال : غریب) و للحدیث شواھد وھوبھا حسن ۔
(صَحِيح لشواهده)
ব্যাখ্যা: (أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ) كُهُولِ শব্দটি (كُهُولِ) এর (جَمْعُ) যার অর্থ হলো যে ব্যক্তি ত্রিশ অথবা চৌত্রিশ থেকে একান্ন বছর বয়সী তাকে (كُهلً) বলে।
‘আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জান্নাতের প্রবেশের সময় পরিণত বয়সী হবে এবং তাদের সরদার হবে। কেউ কেউ বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা পরিণত বয়সে মারা যাবে। আর তারা জান্নাতী হবে এবং তাদের সরদার হবে।
অতঃপর জান্নাতে প্রবেশ করে তাদের সরদার হবেন আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)। কেননা সেখানে কোন (كُهل) থাকবে না, বরং প্রত্যেকেই ৩৩ বছর বয়সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেখানে তারা কুহলদের সরদার হবেন সেখানে যুবকদের সর্দার হওয়া আরো বেশি যুক্তিসঙ্গত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
(مِنَ الْأَوَّلِينَ) এ প্রসঙ্গে কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পূর্ববর্তী সকল জাতিসমূহের ওয়ালীদের তারা সরদার। তারা উভয়ে আসহাবে কাহফদের চেয়ে উত্তম। ফি‘আওনের যুগের মুমিনদের চেয়ে উত্তম এবং খিযির আলায়হিস (আঃ)-এর চেয়ে। যারা তাকে নবী না বলে ওয়ালী বলেন সে মতের উপর ভিত্তি করে।
(وَالْآخِرِينَ) তারা দু'জন এই উম্মতের সকল ওয়ালী, ‘আলিম ও শহীদগণের চেয়ে উত্তম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬০-[৫] আর ইমাম ইবনু মাজাহ (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ
حسن ، رواہ ابن ماجہ (97) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬১-[৬] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন: আমি জানি না কতদিন আমি তোমাদের মাঝে থাকব। অতএব আমার পরে তোমরা আবূ বকর এবং ’উমার-এর অনুকরণ কর। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لَا أَدْرِي مَا بَقَائِي فِيكُمْ؟ فَاقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي: أَبِي بكر وَعمر . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3663) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (إِنِّي لَا أَدْرِي مَا بَقَائِي فِيكُمْ؟) এ প্রসঙ্গে ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে مَا টা প্রশ্নবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব বাক্যের অর্থ হবে আমি জানি না কত সময় আমি তোমাদের মাঝে অবস্থান করব কম নাকি বেশি।
হাফিয আবূ নাসরুল কসসার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কেননা তারা উভয়ে (অর্থাৎ আবূ বাকর ও ‘উমার রা.) আল্লাহর প্রসারিত রশি। অতএব যে ব্যক্তি তাদের আঁকড়ে ধরবে সে ব্যক্তি এমন দৃঢ় রশি আঁকড়ে ধরল যার বন্ধন বিচ্ছেদ হওয়ার নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬২-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন আবূ বকর এবং ’উমার ছাড়া আর কেউই মাথা উঠাতেন না। তাঁরা উভয়ে তাঁর দিকে চেয়ে হালকা হাসতেন এবং তিনিও তাঁদের প্রতি চেয়ে হালকা হাসতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ لَمْ يَرْفَعْ أَحَدٌ رَأْسَهُ غَيْرُ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانَا يَتَبَسَّمَانِ إِلَيْهِ وَيَتَبَسَّمُ إِلَيْهِمَا رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3668) * فیہ الحکم بن عطیۃ ضعیف ضعفہ الجمھور و روی عنہ ابوداؤد (الطیالسی) احادیث منکرۃ (راجع تھذیب التھذیب وغیرہ) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (فَلَا يَرْفَعُ إِلَيْهِ أَحَدٌ مِنْهُمْ بَصَرَهُ) সাহাবীদের কেউ শ্রদ্ধায় তার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারতেন না।
(يَتَبَسَّمَانِ إِلَيْهِ وَيَتَبَسَّمُ إِلَيْهِمَا) লুম'আতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এটা হলো স্বভাবগত ভালোবাসা। বিশেষ করে, তাদের উভয়ে যখন একে অপরের দিকে তাকাতেন তখন তারা মুচকি হাসতেন।
মিরকাতুল মাফাতীহে বলা হয়েছে, তাদের উভয়ের মাঝে পূর্ণ প্রফুল্লতাকে রূপকভাবে বলা হয়েছে মুচকি হাসি। হাফিয আদ দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী (সা.) -এর সামনে এমনভাবে বসে থাকতাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি এসে বসেছে আর আমাদের মাঝে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) ছাড়া কেউ কথা বলতেন না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আওয়ামী ৯/৩৬৭৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৩-[৮] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) হুজরা হতে বের হয়ে এমন অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করলেন যে, আবূ বকর এবং ’উমার (রাঃ) তারা দুজনের একজন তার ডানে এবং অপরজন তাঁর বামে ছিলেন। আর তিনি তাদের উভয়ের হাত ধরে রেখেছিলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমাদের এ অবস্থায় উঠানো হবে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আর তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ وَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ وَهُوَ آخِذٌ بِأَيْدِيهِمَا. فَقَالَ: «هَكَذَا نُبْعَثُ يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3669) [و ابن ماجہ (99)] * فیہ سعید بن مسلمۃ : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (خَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ) কোন একদিন বের হলেন।
(أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ) কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে একটি আরবী কায়দা প্রয়োগ হয়েছে যাকে ‘আরবীতে বলা হয় (لَفَّ وَنَشْرٌ مُرَتَّبٌ) যার দাবী হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
উল্লেখিত হাদীসে বলা হয়েছে তাদের দুজনের একজন তাঁর ডানে বসেছে, শ্রোতা এ কথা শ্রবণ করার সাথে সাথে উপরোক্ত ফায়েদানুযায়ী বুঝতে সক্ষম হবেন যে, ডানদিকে বলা ব্যক্তি হচ্ছেন আবূ বাকর (রাঃ) এবং বামদিকে বলা ব্যক্তি হচ্ছেন ‘উমার ইবনুল খড়াব (রাঃ)।
نُبْعَثُ কবর থেকে বের হব এবং হাশরের মাঠে উপস্থিত হব। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/৩৬৭৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৪-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু হানত্বাব (রহ.) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) আবূ বকর এবং ’উমার (রাঃ)-কে দেখে বললেন, এ দু’জন হলো কান ও চোখসম। (তিরমিযী, মুরসাল হিসেবে)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَالَ: «هَذَانِ السَّمْعُ وَالْبَصَرُ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ مُرْسلا
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3671) * المطلب بن عبداللہ بن حنطب مدلس و عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند الحاکم (3 / 369 ح 4432) و الخطیب (8 / 460 ، فیہ ابن عقیل ضعیف) وغیرھما
ব্যাখ্যা: (هَذَانِ السَّمْعُ وَالْبَصَرُ) তারা উভয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির ন্যায় অথবা তারা মুসলিমদের জন্য ও দীনের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ, যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য কর্ণ ও চক্ষুর গুরুত্ব রয়েছে। অথবা তারা উভয়ে মর্যাদার দিক থেকে আমার নিকট চক্ষু ও কর্ণের মর্যাদায়।
ক্বাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, সম্ভবত নবী (সা.) তাদের এ নামে ডেকেছেন সত্যকে অধিক আগ্রহের সাথে শ্রবণ ও পালন করার জন্য এবং আয়াতসমূহের প্রতি প্রফুল্লতার সাথে গবেষণা করা, চিন্তা-ভাবনা করা ও গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত হওয়ার দরুন এরূপ বলেছেন।
উক্ত হাদীস হতে এটা প্রমাণিত হয়, যে চক্ষুর চেয়ে কর্ণের মর্যাদা বেশি। এ কথাকে আরো শক্তিশালী করে আল্লাহর বাণী, (وَّ جَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَ الۡاَبۡصَارَ) “তিনি তোমাদের কর্ণ ও চক্ষু দান করেছেন।” (সূরা আন্ নাহল ১৬: ৭৮)
ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে জামিউস্ সগীরে বলেন, আবূ বাকর ও ‘উমার আমার নিকট তেমনি মর্যাদাবান যেমনি মানুষের মাথায় কর্ণ ও চক্ষু মর্যাদাবান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/৩৬৮০)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৫-[১০] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক নবীর জন্য আকাশবাসী হতে দু’জন পরামর্শদাতা ছিলেন এবং জমিনবাসী হতে দু’জন পরামর্শদাতা ছিলেন। আকাশবাসী হতে আমার দু’জন পরামর্শদাতা হলেন, জিবরীল ও মীকাঈল আর জমিনবাসী হতে পরামর্শদাতা দুজন হলেন আবূ বকর এবং ’উমার । (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَلَهُ وَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ وَوَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ فَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ فَجِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ وَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ فَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3680 وقال : حسن غریب) * فیہ تلید : رافضی ضعیف و عطیۃ العوفی شیعی ضعیف مدلس ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَلَهُ وَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ وَوَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ) উজিরকে উজির বলা হয় এজন্য যে, উজির আমির বা নেতার ভারী বোঝা বহন করে।
অতএব হাদীসের অর্থ হবে যখন নবী (সা.) কোন বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তেন তখন আবূ বাকর ও ‘উমার এই উভয়ের সাথে পরামর্শ করতেন যেমন বাদশাহ কোন বিপদে বা কষ্টে পড়লে তার উজিরের সাথে পরামর্শ করে থাকে যেমন আল্লাহ বলেন,
وَ اجۡعَلۡ لِّیۡ وَزِیۡرًا مِّنۡ اَهۡلِیۡ ﴿ۙ۲۹﴾ هٰرُوۡنَ اَخِی ﴿ۙ۳۰﴾ اشۡدُدۡ بِهٖۤ اَزۡرِیۡ ﴿ۙ۳۱﴾ “আমার পরিবার হতে আমার ভাই হারুনকে আমার উজির বানিয়ে দিন। তার দ্বারা আমাকে শক্তিশালী করুন।” (সূরা ত্ব-হা- ২০: ২৯-৩১)
এ প্রসঙ্গে আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, উজির হলো যে ব্যক্তি কারো হতে বোঝা বহন করে তাকে সাহায্য করে। আর আমির হলো যার মতামত ও বোধশক্তি গ্রহণ করা হয়।
(فَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ فَجِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ) এখানে সুস্পষ্টভাবে নবী (সা.) -এর মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে জিবরীল ও মীকাঈল (আঃ)-এর ওপর। এখানে আরো ইঙ্গিত রয়েছে জিবরীল-এর মর্যাদা মীকাঈলএর ওপর।
(وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ فَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ) এখানে সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) সকল সাহাবী ও সকল উম্মতের চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ। (তুহফাতুল আওয়ামী ৯/৩৬৭৯
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৬-[১১] আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি, আকাশ হতে যেন একটি পাল্লা অবতীর্ণ হলো। তাতে আপনাকে ও আবূ বকর (রাঃ) -কে ওযন করা হলো, এতে আপনার দিক ভারী হলো। এরপর আবূ বকর (রাঃ) এবং ’উমার (রাঃ)-কে ওযন করা হলো, এতে আবূ বকর-এর দিক ভারী হলো। এরপর ’উমার এবং উসমান (রাঃ)-কে ওযন করা হলো, এতে ’উমার -এর পাল্লা ভারী হলো। অতঃপর পাল্লাটি উঠিয়ে নেয়া হলো। (বর্ণনাকারী বলেন) এ কথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অর্থাৎ এ স্বপ্নের ঘটনা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, এটা খিলাফতে নুবুওয়্যাত, তারপর আল্লাহ তা’আলা যাকে চাবেন, রাজত্ব দান করবেন। (তিরমিযী ও আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
إِن سلم من عنعنة الْحسن الْبَصْرِيّ) وَعَن أبي بكرَة أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَأَيْتُ كَأَنَّ مِيزَانًا نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ فَوُزِنْتَ أَنْتَ وَأَبُو بَكْرٍ فَرَجَحْتَ أَنْتَ وَوُزِنَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَرَجَحَ أَبُو بَكْرٍ وَوُزِنَ عُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَحَ عُمَرُ ثُمَّ رُفِعَ الْمِيزَانُ فَاسْتَاءَ لَهَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فَسَاءَهُ ذَلِكَ. فَقَالَ: «خِلَافَةُ نُبُوَّةٍ ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2287 وقال : حسن صحیح) و ابوداؤد (4634) * الحسن البصری مدلس و عنعن
ব্যাখ্যা: (فَرَجَحَ عُمَرُ ثُمَّ رُفِعَ الْمِيزَانُ) দাড়িপাল্লা উঠিয়ে নেয়ার ব্যাখ্যা হলো ধারাবাহিক বিষয়ের অবনতি ঘটার জন্য এবং ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালের পর হতে ফিতনার আবির্ভাব ঘটার প্রতি ইঙ্গিত। উসমান ও ‘আলী (রাঃ) মাপা হয়নি, কেননা আলী (রাঃ) -এর খিলাফত নিয়ে সাহাবীরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কেউ ছিলেন আলী (রাঃ)-এর সাথে, আবার কেউ মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর সাথে, অর্থাৎ খিলাফতের কোন স্থিরতা ছিল না। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত কথাগুলো তুলে ধরেন। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-ও এরূপ বলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৭-[১২] ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) বললেন, এমন এক লোক তোমাদের সামনে আগমন করবে, যে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপরেই আবূ বকর (রাঃ) আগমন করলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, তোমাদের সামনে আরেক লোক আগমন করবে, যে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এবার ’উমার (রাঃ) এসে প্রবেশ করলেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَطَّلِعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» . فَاطَّلَعَ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ قَالَ: «يَطَّلِعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» فَاطَّلَعَ عُمَرُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3694) * عبداللہ بن عبد القدوس : ضعیف ، ضعفہ الجمھور ولہ متابعۃ ضعیفۃ مردودۃ عند الطبرانی فی الکبیر (10 / 206 ح 10344) و الاعمش مدلس و عنعن ۔ ان صح السند الیہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (يَطَّلِعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ) طلع মাসদার হতে নির্গত যার অর্থ প্রবেশ করবে, প্রকাশ ঘটবে, আগমন করবে ইত্যাদি উক্ত হাদীসে আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-এর ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এবং দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৯/৩৭০৩)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আবূ বাকর সিদ্দীক ও ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৮-[১৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক জোৎস্না রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথা আমার কোলে ছিল। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আকাশে যতগুলো তারকা আছে এ পরিমাণ কারো পুণ্য হবে কি? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, হবে। “উমার -এর পুণ্য এ পরিমাণ হবে। আমি বললাম, তবে আবূ বকর-এর পুণ্য কোথায়? তখন তিনি (সা.) বললেন, ’উমার -এর সমস্ত পুণ্য, আবূ বকর -এর পুণ্যসমূহের মধ্য হতে মাত্র একটি পুণ্যের সমান। (রযীন)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا)
وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: بَيْنَا رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حجري لَيْلَةٍ ضَاحِيَةٍ إِذْ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَكُونُ لِأَحَدٍ مِنَ الْحَسَنَاتِ عَدَدُ نُجُومِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: «نَعَمْ عُمَرُ» . قُلْتُ: فَأَيْنَ حَسَنَاتُ أَبِي بَكْرٍ؟ قَالَ: «إِنَّمَا جَمِيعُ حَسَنَاتِ عُمَرَ كَحَسَنَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْ حَسَنَاتِ أَبِي بَكْرٍ» رَوَاهُ رزين
اسنادہ موضوع ، رواہ رزین (لم اجدہ) [و رواہ الخطیب فی تاریخ بغداد (7 / 135) و فیہ بریہ بن محمد : کذاب ، حدث عن اسماعیل الصنعانی احادیث باطلۃ موضوعۃ ، وقال الخطیب :’’ حدیث موضوع ‘‘] ۔
(مَوْضُوع)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৬৯-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) উরু অথবা গোড়ালি হতে কাপড় খোলা অবস্থায় নিজ গৃহে শুয়ে ছিলেন। এমন সময় আবূ বা সিদ্দীক্ব (রাঃ) গৃহে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁকে প্রবেশের সম্মতি দিলেন এবং সেই অবস্থায় তাঁর সাথে কথাবার্তা বললেন। অতঃপর “উমার ফারূক (রাঃ) এসে সম্মতি চাইলেন। তাঁকেও সম্মতি দিলেন। তখন তিনি ঐ অবস্থায়ই তার সাথে কথাবার্তা বললেন। এরপর ’উসমান গনী (রাঃ) এসে সম্মতি চাইলেন। এবার রাসূলুল্লাহ (সা.) বসে পড়লেন। এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। এরপর যখন ’উসমান (রাঃ) চলে গেলেন, তখন ’আয়িশাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে প্রশ্ন করলেন, আবূ বকর আসলেন, তখনো আপনি তার জন্য একটু নড়েননি এবং তাঁর প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। তারপর ’উমার আসলেন, তখনো আপনি তার জন্য নড়েননি এবং ভ্রুক্ষেপও করেননি তাঁর প্রতি। অতঃপর ’উসমান আসলেন, তখন আপনি বসে পড়লেন এবং নিজ কাপড়চোপড় ঠিক করলেন? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমি কি সেই লোক হতে লজ্জাবোধ করব না, যাকে দেখলে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ)-ও লজ্জাবোধ করেন?
অপর এক বর্ণনাতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: উসমান হলেন একজন অত্যধিক লজ্জাশীল লোক। অতএব আমি আশঙ্কা করলাম, যদি আমি তাঁকে এ অবস্থায় প্রবেশের অনুমতি প্রদান করি, তাহলে তিনি লজ্জায় আগমনের উদ্দেশ্য আমার কাছে উল্লেখ করতে পারবে না। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِهِ كَاشِفًا عَنْ فَخِذَيْهِ - أَوْ سَاقَيْهِ - فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَوَّى ثِيَابَهُ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ عَائِشَةُ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَان فَجَلَست وسوَّيت ثِيَابك فَقَالَ: «أَلا أستحي من رجل تَسْتَحي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ؟» وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالَةِ أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَيَّ فِي حَاجته» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (26 / 2401) و الروایۃ الثانیۃ ، رواھا مسلم (27 / 2402)، (6209 و 6210) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِهِ كَاشِفًا عَنْ فَخِذَيْهِ) ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করে থাকে মালিকী মাযহাব ও অন্যান্যরা। যারা বলে থাকেন উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীস হুজ্জত বা দলীল হতে পারে না। কেননা হাদীসে রাবীর সন্দেহ পরিলক্ষিত হয় তা হলো নবী (সা.) -এর দুই উরু অথবা দুই নলার কোন একটি খোলা অবস্থায় ছিল কিনা। অতএব দৃঢ়ভাবে বলা যায় না যে, উরু খুলে রাখা জায়িয আছে। আমি বলব, উরু খুলে রাখা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার নিচে কোন কাপড় তথা লুঙ্গি ছিল যা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর পরবর্তী কথা হতে অনুধাবন করা যায়।
(وَسَوَّى ثِيَابَهُ) তিনি উঠে বসলেন কাপড় ঠিক করলেন। এখানেই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি (সা.) দুই উরু হতে কাপড় খোলা অবস্থায় ছিলেন না বরং উভয় উরুর উপর কাপড় তথা লুঙ্গি রাখা ছিল। এজন্য হাদীসে এ কথা বলা হয়নি যে, তিনি তার উরু ঢাকলেন। অতএব এ বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকল না। আল্লাহ ভালো জানেন।
(أَلا أستحي من رجل تَسْتَحي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ؟) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে ‘উসমান (রাঃ)-এর সুস্পষ্ট মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। আর লজ্জা হলো সুন্দর একটি গুণ মালায়িকার (ফেরেশতাদের)।
ইমাম ইবনু মাজাহ (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, উক্ত হাদীস প্রমাণ বহন করে যে, রাসূল (সা.) -এর নিকট ‘উসমান (রাঃ) কতটা মর্যাদাবান ছিলেন। হাসান (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ)-এর লজ্জা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি যখন বাড়ীর ভিতরে দরজা বন্ধ করে কাপড় খুলে গোসল করতে ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে শরীরে পানি ঢালতে লজ্জা পেতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুনন নাবাবী ১৫/২৪০২)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, “উসমান (রাঃ) যখন পথ চলতেন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) তাকে দেখে লজ্জা পেত।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আমার উম্মতের সর্বাধিক লজ্জাশীল ব্যক্তি হলো ‘উসমান ইবনু আফফান। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, আমি আল্লাহর কাছে চাইলাম যেন তার হিসাব গোপনে নেয়া হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭০-[২] ত্বলহাহ্ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক নবীরই এক একজন রফীক (সাথি) রয়েছেন, আর জান্নাতে আমার রফীক উসমান। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
عَن طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِكُلِّ نَبِيٍّ رَفِيقٌ وَرَفِيقِي - يَعْنِي فِي الْجنَّة - عُثْمَان» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3698 وقال : غریب ، لیس اسنادہ بالقوی ‘‘ الخ) و انظر الحدیث الآتی (6062) * فیہ شیخ من بنی زھرۃ : لم اعرفہ ، و شیخہ حارث بن عبد الرحمن بن ابی ذباب لم یدرک طلحۃ رضی اللہ عنہ (انظر تحفۃ الاشراف 4 / 212) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لِكُلِّ نَبِيٍّ رَفِيقٌ) বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে ব্যক্তি তোমার সাথে বন্ধুত্ব করে বা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে।
(وَرَفِيقِي - يَعْنِي فِي الْجنَّة - عُثْمَان) নবী (সা.) -এর কথা ছিল ব্যাপকতার ভিত্তিতে যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কালকে শামিল করে। উক্ত হাদীস দ্বারা অন্যান্যদের বন্ধুত্ব সম্পর্ক অস্বীকার করা হয় না বরং এ কথা থেকে উপকার হাসিল হয় যে, প্রত্যেক নবীর বন্ধু একজন আর নবী (সা.) -এর বন্ধু একাধিক। আর হাদীসটি শুধুমাত্র ‘উসমান (রাঃ)-এর আলোচনায় তাঁর সম্মান ও মর্যাদাকে উঁচু করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৯ম খণ্ড, হা. ৩৭০৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭১-[৩] আর ইবনু মাজাহ হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব। এর সূত্র সুদৃঢ় নয় এবং তা মুনকাত্বি বা বিচ্ছিন্ন।]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَرَاه ابْنُ مَاجَهْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَهُوَ مُنْقَطع
ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (109) و سندہ ضعیف جدًا ، فیہ عثمان بن خالد : متروک الحدیث ۔ و انظر الحدیث السابق (6061) ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭২-[৪] ’আবদুর রহমান ইবনু খব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। সে সময় তিনি (সা.) জায়শুল ’উসরাহ (তাবুক) যুদ্ধের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য মানুষদেরকে উৎসাহ প্রদান করছিলেন। (তার উৎসাহবাণী শুনে) উসমান (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাস্তায় গদি ও পালানসহ একশত উট আমার দায়িত্বে। এরপরও নবী (সা.) উৎসাহ প্রদান করতে লাগলেন, উসমান (রাঃ) আবার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহর রাস্তায় গদি ও পালানযুক্ত দুইশত উট আমার দায়িত্বে। এরপরও নবী (সা.) সাহায্যের জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। উসমান (রাঃ) আবারও উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহর পথে গদি ও পালানযুক্ত তিনশত উট আমার দায়িত্ব। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথা বলতে বলতে মিম্বার হতে অবতরণ করলেন এই ’আমলের পর ’উসমান যে ’আমলই করেন, তার জন্য তা ক্ষতিকর হবে না। এই ’আমলের পর ’উসমান যে ’আমলই করেন, তা তাঁর জন্য ক্ষতিকর হবে না। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَبَّابٍ قَالَ: شَهِدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَحُثُّ عَلَى جَيْشِ الْعُسْرَةِ فَقَامَ عُثْمَانُ فَقَالَ: يَا رَسُول الله عَلَيَّ مِائَتَا بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ حَضَّ عَلَى الْجَيْشِ فَقَامَ عُثْمَانُ فَقَالَ: عَلَيَّ مِائَتَا بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ حَضَّ فَقَامَ عُثْمَانُ فَقَالَ: عَلَيَّ ثَلَاثُمِائَةِ بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْزِلُ عَنِ الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ: «مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3700 وقال : غریب) * فرقد ابو طلحۃ مجھول و حدیث الترمذی (3701) یغنی عنہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (وَهُوَ يَحُثُّ عَلَى جَيْشِ الْعُسْرَةِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাবুক যুদ্ধ। তাকে এ নামে নামকরণের কারণ হলো তাবুক যুদ্ধের সময় প্রচণ্ড রোদ ছিল। দুর্ভিক্ষ চলছিল, পাথেয়, পানি ও যানবাহন এতই কম ছিল যে, তাদের বের হওয়া একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া অনেক সাহাবীর অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হলো। যখন শুনতে পেল শত্রুদের সৈন্য, শক্তি, সামর্থ্য মুসলিমদের তুলনায় অনেক বেশি।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, নবী (সা.) -এর সাথে বদূরের যুদ্ধে ৩১৩ জন সৈন্য ছিল। উহুদ যুদ্ধে ছিল ৭০০ জন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ছিল ১৫০০ জন। মক্কাহ্ বিজয়ের সময় ছিল ১০,০০০ জন এবং হুনায়ন যুদ্ধে ছিল ১২,০০০ জন। নবী (সা.)-এর জীবনে এরাই ছিল সর্বশেষ সৈন্যবাহিনী।
(مِائَتَا بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا) ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (أَحْلَاسِ) শব্দটি (حِلْس) এর বহুবচন যার অর্থ হলো এমন পাতলা কাপড় যা গদির নিচে দেয়া হয়। (أَقْتَابِ) শব্দটি (قَتَبٍ) এর বহুবচন। উটের কুঁজ পরিমাণ ছোট পালানকে (قَتَبٍ) বলা হয়।
(عَلَيَّ ثَلَاثُمِائَةِ بَعِيرٍ بِأَحْلَاسِهَا وَأَقْتَابِهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ) মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কথটি ঠিক নয়। কেননা তিনি মোট ৩০০টি উট দান করেছিলেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ১০/৩৯৪০)
(مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ) প্রথম مَا টা নাফিয়া বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ করে। দ্বিতীয় مَا টা মাওসূলাহ্। অতএব বাক্যের অর্থ হলো ‘উসমান (রাঃ)-এর কোন ক্ষতি হবে না এই ভালো ‘আমল করার পর সারাজীবন যে 'আমল-ই করুক না কেন। সামষ্টিক অর্থ হলো তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা হয়ে যাবে সাথে সাথে অতিরিক্ত হিসেবে আগত পাপগুলোও ক্ষমা হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যাকার বলেন, আল্লাহর পথে এই বিশাল দান করার পর সে যেই ‘আমল করুক না কেন তার ওপর কোন দোষারোপ নেই। যদি مَا টা ইসমে মাওসূলাহ্ হয় তাহলে এ অর্থ হবে। আর যদি مَا টা মাসদারিয়া হয় তাহলে অর্থ হবে এই দানের পর উসমানের কোন নফল ‘আমল করার প্রয়োজন নেই। কেননা এই ভালো ‘আমল-ই তার সমস্ত না ‘আমলের স্থলাভিষিক্ত হবে।
ইমাম মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, এরপর হতে সে যদি কোন না ‘আমল না করে ফারয বাদে, তাহলে তার ওপর কোন দোষ নেই। কেননা ঐ ভালো ‘আমল তার সমস্ত নফলের জন্য যথেষ্ট।
ইমাম ইবনু শিহাব জুহরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাবূক যুদ্ধে ‘উসমান (রাঃ) নয়শত ষাটটি উট ও চল্লিশটি ঘোড়া মোট ১০০০টি বাহন দান করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/৩৭০৯)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৩-[৫] ’আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) যখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ’উসমান (রাঃ) নিজ জামার আস্তিনে ভরে এক হাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) নিয়ে নবী (সা.) -এর কাছে আসলেন এবং দীনারগুলো রাসূল (সা.) -এর কোলে ঢেলে দিলেন। আমি দেখলাম, নবী (সা.) নিজ কোলের মুদ্রাগুলো উলট-পালট করে বলতে লাগলেন, আজকের পরে ’উসমান-কে কোন ক্ষতি করবে না। তিনি যে আমলই করেন না কেন- এ কথাটি তিনি (সা.) দু’বার বলেছেন। (আহমাদ)।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: جَاءَ عُثْمَانُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَلْفِ دِينَارٍ فِي كُمِّهِ حِينَ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَنَثَرَهَا فِي حِجْرِهِ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَلِّبُهَا فِي حِجْرِهِ وَيَقُولُ: «مَا ضَرَّ عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ الْيَوْمِ» مرَّتَيْنِ. رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 63 ح 20906) [و الترمذی (3701 وقال : حسن غریب) و صححہ الحاکم (3 / 102) و وافقہ الذھبی] ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৪-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন (লোকেদেরকে) “বায়’আতে রিযওয়ান”-এর আদেশ দিলেন, সে সময় ’উসমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দূত হিসেবে মক্কায় গিয়েছিলেন। লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বায়’আত করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ’উসমান, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের কাজে (মক্কায়) গিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ’উসমান-এর বায়’আতস্বরূপ নিজেরই এক হাত অন্য হাতে রাখলেন। অতএব রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হাত উসমান (রাঃ)-এর হাতস্বরূপ হয়ে যাওয়াটা সাহাবীগণের নিজেদের হাতের চেয়ে অতি উত্তম। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَن أنسٍ قَالَ: لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَيْعَةِ الرِّضْوَانِ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَسُولُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مَكَّةَ فَبَايَعَ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِن عُثْمَانَ فِي حَاجَةِ اللَّهِ وَحَاجَةِ رَسُولِهِ» فَضَرَبَ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى فَكَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُثْمَانَ خَيْرًا من أَيْديهم لأَنْفُسِهِمْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3702 وقال : حسن صحیح غریب) * الحکم بن عبدالملک ضعیف و حدیث ابی داود (2726) یغنی عنہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَيْعَةِ الرِّضْوَانِ) এটা এমন একটি বায়'আত ছিল যা হুদায়বিয়াহ্ নামক স্থানে একটি গাছের নিচে সংঘটিত হয় আর এ বায়'আতের বিষয় ছিল তারা কুরায়শদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে কিন্তু পলায়ন করতে পারবে না।
‘রিযওয়া’ নামকরণের কারণ হলো আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে আয়াত অবতীর্ণ করে বলেন, (لَقَدۡ رَضِیَ اللّٰهُ عَنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ یُبَایِعُوۡنَکَ تَحۡتَ الشَّجَرَۃِ) “আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা আপনার কাছে শপথ গ্রহণ করে গাছের নিচে।” (সূরাহ আল ফাতহ ৪৮ : ১৮)
(انَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَسُولُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مَكَّةَ) নবী (সা.)-এর দূত। তাদের দিকে প্রেরিত হয়েছেন হুদায়বিয়াহ্ হতে মক্কাহ্ অভিমুখে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-তাকে আবূ সুফইয়ান ও কুরায়শদের বড় বড় নেতাদের নিকট এই সংবাদ দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন যে, তিনি যুদ্ধের জন্য আসেননি। তিনি এই কা'বার যিয়ারত ও সম্মানার্থে এসেছেন। এ সংবাদ নিয়ে ‘উসমান (রাঃ) মক্কাহ্ অভিমুখে বের হয়ে গেলেন এবং রাসূল (সা.) -এর সংবাদ পৌছে দিলেন।
(إِن عُثْمَانَ فِي حَاجَةِ اللَّهِ وَحَاجَةِ رَسُولِهِ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলোচ্য বাক্য আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: (اِنَّ الَّذِیۡنَ یُؤۡذُوۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ) “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়।” (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৫৭)
আয়াত হতে স্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর নিকট দু'টি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আর আল্লাহর প্রয়োজন বলতে তাঁর দীনের স্বার্থে প্রয়োজন, আল্লাহর জন্য নয়। আল্লাহ মুখাপেক্ষী হওয়া হতে অনেক উর্ধ্বে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আওয়ামী ৯/৩৭১১)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৫-[৭] সুমামাহ্ ইবনু হাযন আল কুশায়রী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন তাঁর গৃহের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন উসমান (রাঃ) গৃহের উপর হতে লোকেদের প্রতি তাকিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলা এবং ইসলামের হক স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করছি- তোমরা কি এ ব্যাপারে অবহিত আছ যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরত করে যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন ’রূমার কূপ’ ছাড়া অন্য কোথাও লবণমুক্ত পানি পাওয়া যেত না?
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে রূমার কূপটি ক্রয় করে মুসলিমদের অবাধে ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দেবে, বিনিময়ে সে জান্নাত তদপেক্ষা উত্তম কূপ অর্জন করবে। তখন আমি উক্ত কূপটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত অর্থে ক্রয় করি। অথচ আজ তোমরা আমাকে উক্ত কূপের পানি পান করা হতে বাধা দিচ্ছ। এমনকি আমি সমুদ্রের লোনা পানি পান করছি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, আমরা জানি।
এরপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের হক স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করছি- তোমরা কি জান যে, যখন মসজিদে নাবাবী মুসল্লীদের তুলনায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, যে লোক অমুকের বংশধর হতে এ জমিনটি ক্রয় করে মসজিদখানি বৃদ্ধি করে দেবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তাকে তা হতে উত্তম ঘর জান্নাতে দান করবেন। তখন আমিই তা আমার ব্যক্তিগত অর্থ হতে ক্রয় করি, অথচ আজ তোমরা আমাকে সেই মসজিদে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করা হতেও বাধা দিচ্ছ। উত্তরে লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, আমরা জানি।
অতঃপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের হক স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করছি- তোমরা কি অবগত আছ যে, ভীষণ কষ্টের অভিযানে (তাবুক যুদ্ধে) সৈন্যদেরকে আমি আমার নিজস্ব সম্পদ হতে যুদ্ধের সামান দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলাম? লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, আমরা জানি। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের হক স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করছি- তোমরা এ কথাটিও অবগত আছ কি, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কার অনতিদূরে ’সাবীর’ পাহাড়ের উপর দণ্ডায়মান ছিলেন, তাঁর সঙ্গে সেখানে আবূ বকর, ’উমার এবং আমিও ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়টি নড়াচড়া করতে লাগল। এমনকি তা হতে কিছু পাথর নিচের দিকে পড়তে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাতে স্বীয় পা ঠুকে বললেন, স্থির হয়ে যাও, হে সাবার!
তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দুজন শহীদ রয়েছে। উত্তরে লোকেরা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহ! আমরা জানি। অতঃপর তিনি তিনবার বললেন, কাবার প্রভুর শপথ! নিশ্চয় আমি একজন শহীদ লোক। (তিরমিযী, নাসায়ী ও দারাকুত্বনী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَن ثُمامة بن حَزْنٍ الْقشيرِي قَالَ: شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ عُثْمَانُ فَقَالَ: أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرُ بِئْرِ رُومَةَ؟ فَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ يَجْعَلُ دَلْوَهُ مَعَ دِلَاءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟» فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي وَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونَنِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ؟ قَالُوا: اللَّهُمَّ نعم. فَقَالَ: أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلَانٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِد بِخَير مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ؟» . فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونَنِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهَا رَكْعَتَيْنِ؟ فَقَالُوا: اللَّهُمَّ نعم. قَالَ: أنْشدكُمْ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي؟ قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ: أَنْشُدُكُمُ بِاللَّه وَالْإِسْلَامَ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى ثَبِيرِ مَكَّةَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ حَتَّى تَسَاقَطَتْ حِجَارَتُهُ بِالْحَضِيضِ فَرَكَضَهُ بِرِجْلِهِ قَالَ: «اسْكُنْ ثَبِيرُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيُّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ» . قَالُوا: اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ شَهِدُوا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلَاثًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيّ وَالدَّارَقُطْنِيّ
حسن دون قولہ ’’ ثبیر ‘‘ ، رواہ الترمذی (3703 وقال : حسن) و النسائی (6 / 235 ۔ 236 ح 3638) و الدارقطنی (4 / 196)
ব্যাখ্যা: (شَهِدْتُ الدَّارَ) আমি ‘উসমান (রাঃ)-এর ঐ বাড়ীতে উপস্থিত ছিলাম যেখানে তাকে বন্দী করা হয়।
(بِئْرَ رُومَةَ) হলো একটি কুপের নাম যা একটি ছোট উপত্যকায় অবস্থিত ছিল। উসমান (রাঃ) কূপটি একশত হাজার দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেন। ইমাম বাগাবী (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ করেন, যখন মুহাজির সাহাবীগণ মদীনায় আগমন করলেন তখন তাদের পানি পানে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আর গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির একটি ঝরনা ছিল যাকে রূমাহ্ বলা হত। তিনি তা হতে এক মশক পানি বিক্রি করতেন এক মুদ্দের বিনিময়ে।
নবী (সা.) তাকে বললেন, কূপটি আমার কাছে বিক্রি কর জান্নাতের একটি ঝরনার বিনিময়ে। ব্যক্তিটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমার ও আমার পরিবারের জন্য এটাই একমাত্র সম্বল। এ সংবাদ যখন ‘উসমান (রাঃ) এর কাছে পৌছল তখন তিনি ৩৫ হাজার দিরহামের বিনিময়ে কূপটি ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, আমার জন্য কি সেই সুযোগ করে দিবেন যে সুযোগ ঐ ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন উসমান (রাঃ) বললেন, আমি কূপটি মুসলিমদের জন্য দান করে দিলাম।
(أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى ثَبِيرِ مَكَّةَ) মিসবাহুল লুগাতে (ثَبِيرِ) সম্পর্কে বলা হয়েছে, সাবীর হলো মক্কাহ্ ও মীনার মাঝে অবস্থিত একটি পাহাড় যা মীনা থেকে দেখা যায় এবং মীনা থেকে মক্কাহ অভিমুখী ব্যক্তির হাতের ডানে পড়ে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, সাবীর হলো মুযদালিফার একটি পাহাড়, মীনা অভিমুখী ব্যক্তির হাতের বামে। এটা হলো মক্কাহ্ ও মীনায় অবস্থিত সকল পাহাড়ের চেয়ে বড় ও উঁচু। আর সেখানে অবস্থিত সকল পাহাড়ের নাম সাবীর।
ইমাম ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাবীর হলো মীনা অভিমুখী ব্যক্তির হাতের বামে।
ইবনু জামা'আহ্ (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, মুযদালিফায় অবস্থিত বড় পাহাড় যা ‘আরাফাহ্ অভিমুখী ব্যক্তির হাতের ডানে অবস্থিত।
ইমাম বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাবীর হলো মক্কার সবচেয়ে বড় পাহাড় যা হুযায়ল গোত্রের একটি ব্যক্তির নামে পরিচিতি লাভ করে, ব্যক্তিটির নাম ছিল সাবির এবং তাকে এখানে দাফন করা হয়।
ইমাম আল জাওহারী, সুহায়লী ও মুত্বাররাযী (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেন, সাবীর হলো মক্কার পাহাড়সমূহ হতে একটি পাহাড়। কেউ কেউ বলেন, হেরা পাহাড়ের সামনে অবস্থিত একটি পাহাড়।
উক্ত হাদীস দ্বারা উসমান (রাঃ) -এর মর্যাদা সুস্পষ্ট হয়। আরো স্পষ্ট হয় যে, একজন ব্যক্তি তার মর্যাদার কথা বলতে পারে অপবাদ দূর করা এবং উপকার হাসিলের জন্য, আর এটা অপছন্দ করা হয়েছে গর্ব অহংকারের ক্ষেত্রে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওযাযী ৯/৩৭১১)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৬-[৮] মুররাহ্ ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে একদিন ফিতনাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। আর তা যে অতি কাছাকাছি তিনি তাও বর্ণনা করেছেন। এমন সময় এক লোক মাথার উপর কাপড় দিয়ে সে পথে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি সে লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ঐ যে লোকটি যাচ্ছে, সে ঐ ফিতনার দিনের সঠিক পথের উপর থাকবে। (বর্ণনাকারী মুরারাহ্ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কথা শুনে আমি লোকটির দিকে গিয়ে দেখলাম, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)।
অতঃপর ’উসমান-এর চেহারাখানি আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দিকে ফিরিয়ে বললাম, ইনিই কি তিনি? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ।
[তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَن مرّة بن كَعْب قَالَ: سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذكر الْفِتَن فقر بهَا فَمَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ فِي ثَوْبٍ فَقَالَ: «هَذَا يَوْمئِذٍ على هدى» فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ. قَالَ: فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ. فَقُلْتُ: هَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح
حسن ، رواہ الترمذی (3704) و ابن ماجہ (11) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (يقال له مرّة بن كَعْب) তাকরীব গ্রন্থে বলা হয়েছে, ঐ ব্যক্তিটির নাম হলো কা'ব ইবনু মুররাহ্ কিন্তু তাকে বলা হয় মুররাহ্ ইবনু কা'ব আস্ সুলামী।
তিনি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী ছিলেন। তিনি প্রথমে বাসরায় বসবাস করতেন, পরবর্তীতে জর্ডানে কিছুকাল অবস্থান করেন। তিনি ৫৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(فَقُمْتُ إِلَيْهِ) আমি ঐ ব্যক্তির কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম, হঠাৎ দেখি তিনি হলেন ‘উসমান (রাঃ)।
(هَذَا الرجل يَوْ مَئِذٍ عَلَ الْهُدَى) এই মুখ ঢেকে রাখা ব্যক্তি ঐ ফিতনাহ্ সংঘটিত হওয়ার সময় সঠিক পথের উপর অটল থাকবে। যেমন আল্লাহ বলেন, (اُولٰٓئِکَ عَلٰی هُدًی مِّنۡ رَّبِّهِمۡ) “ঐ সকল লোকেরা তাদের রবের পক্ষ হতে সঠিক পথের উপর রয়েছে”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ৫)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৩৭১৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৭-[৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) ’উসমান (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, হে ’উসমান। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাকে একটি জামা পরিধান করাবেন। পরে লোকেরা তোমার জামাটি খুলে ফেলতে চাইবে, তখন তুমি তাদের দিক জামাটি খুলবে না। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ হাদীস প্রসঙ্গে একটি দীর্ঘ ঘটনা আছে]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَا عُثْمَانُ إِنَّهُ لَعَلَّ اللَّهَ يُقَمِّصُكَ قَمِيصًا فَإِنْ أَرَادُوكَ عَلَى خَلْعِهِ فَلَا تَخْلَعْهُ لَهُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ فِي الحَدِيث قصَّة طَوِيلَة
صحیح ، رواہ الترمذی (3705 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (112) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (فَإِنْ أَرَادُوكَ عَلَى خَلْعِهِ فَلَا تَخْلَعْهُ لَهُمْ) যদি তারা তোমাকে জোরপূর্বক খিলাফতের আসন হতে নামাতে চায় তখন তুমি খিলাফতের আসন ছেড়ে দিবে না।
কারণ তুমি সঠিক পথে আছো আর তারা হলো ভ্রান্ত তথা বাতিলপন্থী। উক্ত হাদীসের দরুন ‘উসমান (রাঃ) -কে যেদিন অবরোধ করা হয় সেদিন তিনি স্ব-জ্ঞানে, স্ব-ইচ্ছায় খিলাফতের মসনদ হতে পদত্যাগ করেননি।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এ হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, কাপড় দ্বারা খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। পরবর্তী শব্দ তার ব্যাখ্যা করছে, (عَلَى خَلْعِهِ) অর্থাৎ কাপড় খোলা বলতে ক্ষমতা হতে অব্যাহতি নেয়া। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৯/৩৭১৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৮-[১০] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ ফিতনাহ্ সম্পর্কে আলোচনাকালে ’উসমান (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এ লোকটি ফিতনায় নির্যাতিত অবস্থায় নিহত হবে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটির সনদ হাসান ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِتْنَةً فَقَالَ: «يُقْتَلُ هَذَا فِيهَا مَظْلُومًا» لِعُثْمَانَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3708) * سنان بن ھارون البرجمی ضعیف ضعفہ الجمھور
ব্যাখ্যা: (ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِتْنَةً) মিরক্বাতুল মাফাতীহের ব্যাখ্যাকার বলেন, অত্যন্ত ভয়াবহ ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন।
(يُقْتَلُ هَذَا فِيهَا مَظْلُومًا) এই ব্যক্তিকে সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হবে এ কথা শুনে আমি ঐ ব্যক্তির দিকে তাকালাম এবং দেখতে পাই তিনি হলেন ‘উসমান (রাঃ)। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/৩৭১৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৭৯-[১১] আবূ সাহলাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাঃ) যে সময় গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন, তখন তিনি আমাকে বলেছেন, আমার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ ওয়াসিয়্যাত করেছেন, অতএব আমি উক্ত ওয়াসিয়্যাতের উপর ধৈর্যধারণ করব। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَنْ أَبِي سَهْلَةَ قَالَ: قَالَ لِي عُثْمَانُ يَوْمَ الدَّارِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ عَهِدَ إِلَيَّ عَهْدًا وَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
صحیح ، رواہ الترمذی (3711) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (قَدْ عَهِدَ إِلَيَّ عَهْدً) তিরমিযী ব্যাখ্যায় বলেন, 'উসমান (রাঃ) বলেন, আমাকে উপদেশ দেন আমি যেন পদত্যাগ না করি।
সে উপদেশটি ছিল (وَإِنْ أَرَادُوكَ عَلَى خَلْعِهِ فَلَا تَخْلَعْهُ لَهُمْ) অর্থ যদি তারা তোমার ক্ষমতা কেড়ে নিতে চায় তাহলে তুমি পদত্যাগ করবে না।
(فَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ) আমি উক্ত অঙ্গীকারের উপর ধৈর্যধারণ করছি। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/৩৭২০)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮০-[১২] ’উসমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মিসরের এক লোক হজ্জে বায়তুল্লাহর উদ্দেশে (মক্কায়) আসলো। তখন সে সেখানে একদল লোককে উপবিষ্ট দেখে প্রশ্ন করল, এরা কে? লোকেরা বলল, এরা কুরায়শ। সে আবার প্রশ্ন করল, এদের মাঝে এ প্রবীণ বয়স্ক লোক কে? লোকেরা বলল, ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)।
তখন সে বলল, হে ইবনু ’উমার! আমি আপনাকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করতে চাই। আপনি আমাকে বলুন আপনি কি জানেন যে, উহুদ যুদ্ধের দিন ’উসমান (রাঃ) (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি আবার প্রশ্ন করল, আপনি কি এটাও জানেন যে, উসমান (রাঃ) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি পুনরায় প্রশ্ন করল, আপনি কি জানেন যে, উসমান (রাঃ) বায়’আতে রিযওয়ান (হুদায়বিয়াতে অনুষ্ঠিত বায়’আত) হতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে যোগদান করেননি। তিনি বললেন, হ্যাঁ। [’উসমান (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষীস্বরূপ আনন্দে] সে বলে উঠল, ’আল্ল-হু আকবার’। তখন ইবনু ’উমার (রাঃ) বললেন, এবার আসো। প্রকৃত বিষয়টি তোমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি। উহুদের দিন তাঁর পলায়নের ব্যাপারটি- সে সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাঁর সে ত্রুটিটি আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দিয়েছেন। আর বদর যুদ্ধ হতে তার অনুপস্থিতির ব্যাপার হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কন্যা রুকাইয়্যাহ্ ছিলেন উসমান (রাঃ) এর স্ত্রী। আর তিনি ছিলেন ঐ সময় রোগশয্যায়। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) ’উসমান-কে বলেছিলেন, এ যুদ্ধে যারা যোগদান করবে, তুমি তাদের সমপরিমাণ পুণ্য লাভ করবে এবং (অনুরূপভাবে) গনীমাতের অংশ হতেও তাদের সমপরিমাণ অংশ তুমি লাভ করবে। আর “বায়’আতে রিযওয়ান” হতে অনুপস্থিতির ব্যাপার হলো মাক্কার অধিবাসীদের কাছে উসমান অপেক্ষা অধিকতর সম্মানিত ব্যক্তি যদি অপর কেউ থাকত, তাহলে রাসূলুল্লাহ (সা.) উসমান (রাঃ)-এর স্থলে নিশ্চয় তাকেই পাঠাতেন। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) উসমান (রাঃ) -কেই পাঠিয়েছিলেন। উসমান (রাঃ) -এর মাক্কায় চলে যাওয়ার পর বায়’আতুর রিযওয়ান সংঘটিত হয়। তখন রাসূলল্লাহ (সা.) আপন ডান হাতের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এটা ’উসমান-এর হাত। তারপর তিনি সে হাতটি নিজের অপর হাতের উপর রেখে বললেন, ’এটা ’উসমান-এর বায়’আত’।
অতঃপর ইবনু ’উমার (রাঃ) লোকটিকে বললেন, ’এখন তুমি এ বর্ণনা সঙ্গে নিয়ে যাও। কেননা তাতে যাদের ’উসমান (রাঃ) সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা আছে, তাদের বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে। আর ’উসমান (রাঃ) সম্পর্কে তোমার ভ্রান্ত বিশ্বাস হতে তোমার কোন উপকারে আসবে না, বরং তা বাতিল বলে গণ্য হবে। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ مِصْرَ يُرِيدُ حَجَّ الْبَيْتِ فَرَأَى قَوْمًا جُلُوسًا فَقَالَ: مَنْ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ؟ قَالُوا: هَؤُلَاءِ قُرَيْشٌ. قَالَ فَمَنِ الشَّيْخُ فِيهِمْ؟ قَالُوا: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ. قَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ شَيْءٍ فَحَدِّثْنِي: هَلْ تَعْلَمُ أَنَّ عُثْمَانَ فَرَّ يَوْمَ أُحُدٍ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: هَلْ تَعْلَمُ أَنَّهُ تَغَيَّبَ عَنْ بَدْرٍ وَلَمْ يَشْهَدْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: هَلْ تَعْلَمُ أَنَّهُ تَغَيَّبَ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ فَلَمْ يَشْهَدْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ؟ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ ابْنُ عُمَرَ: تَعَالَ أُبَيِّنْ لَك أما فِراره يَوْم أُحد فأشهدُ أَن اللَّهَ عَفَا عَنْهُ وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ عَنْ بَدْرٍ فَإِنَّهُ كَانَتْ تَحْتَهُ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ مَرِيضَةً فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لَكَ أَجْرَ رَجُلٍ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا وَسَهْمَهُ» . وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ فَلَوْ كَانَ أَحَدٌ أَعَزَّ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ عُثْمَانَ لَبَعَثَهُ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُثْمَان وَكَانَت بَيْعةُ الرضْوَان بعدَ مَا ذَهَبَ عُثْمَانُ إِلَى مَكَّةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ الْيُمْنَى: «هَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ» فَضَرَبَ بِهَا عَلَى يَدِهِ وَقَالَ: «هَذِه لعُثْمَان» . فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: اذْهَبْ بِهَا الْآنَ مَعَكَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3698) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ مِصْرَ يُرِيدُ حَجَّ الْبَيْتِ) হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি ব্যক্তির নাম জানি না এবং কোন গোত্র হতে এসেছিল সে গোত্রের নাম কি তাও জানি না।
(وَ قٰتِلُوۡهُمۡ حَتّٰی لَا تَکُوۡنَ فِتۡنَۃٌ) ফিতনাহ্ দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত”- (সূরা আল বাকারাহ ২ : ১৯৩)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছে তাতে মনে হয় ব্যক্তিটির নাম ছিল 'আলা ইবনু আরার। কিন্তু সূরা আল আনফাল-এর ব্যাখ্যায় বলা প্রশ্নকারী ব্যক্তির নাম ছিল হাকিম।
(قَالَ ابْنُ عُمَرَ: تَعَالَ أُبَيِّنْ لَك) ইবনু উমার (রাঃ) তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেন কেন সে এ বিষয়টিকে বড় করে দেখছে। তিনটি বিষয়ে ব্যক্তিটি দোষ তুলে ধরল, তাই ইবনু 'উমার (রাঃ) -এর নিকট তিনটি ওযর ব্রেনে উপস্থিত হলো এবং উপস্থাপন করে তার সন্দেহ দূর করল।
১) উহুদ যুদ্ধ হতে পলায়ন করা, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
২) বদর যুদ্ধ হতে পিছিয়ে থাকা নবী (সা.) -এর আদেশ ছিল। তার জন্য দুটি বিষয় অর্জিত হয়েছে। দুনিয়াতে গনীমাতের অংশ আর পরকালে উত্তম প্রতিদান।
৩) আর বায়'আত থেকে পিছিয়ে থাকার ব্যাপারে নবী (সা.)-এর অনুমতি ছিল। আর 'উসমান (রাঃ) এর জন্য নবী (সা.) -এর হাত উত্তম ছিল তার নিজের হাতের চেয়ে।
(فَإِنَّهُ كَانَتْ تَحْتَهُ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) নবী (সা.) যখন বদর যুদ্ধে বের হলেন তখন রুকাইয়্যাহ (রাঃ) অসুস্থ ছিলেন, তাই তার শুশ্রূষা করার জন্য উসমান ও উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) কে রেখে যান।
যায়দ ইবনু হারিস (রাঃ), যখন সুসংবাদ নিয়ে পৌছান তখন রুকাইয়্যাহ (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আর তারপরে তার ছেলে আবদুল্লাহ ৪র্থ হিজরীতে ছয় বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসের একটি সারমর্মে বলেন, ইবনু 'উমার (রাঃ) লোকটিকে বলল, 'উসমান (রাঃ) সম্পর্কে তোমার কোন ভ্রান্ত ধারণা থাকবে না যখন আমি যথার্থ উত্তরের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বর্ণনা করব।
(وَكَانَت بَيْعةُ الرضْوَان بعدَ مَا ذَهَبَ عُثْمَانُ إِلَى مَكَّةَ) মুসলিমদের মাঝে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে, মুশরিকরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তখন মুসলিমরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করল এবং তারা নবী (সা.) - এর হাতে বায়'আত গ্রহণ করল যে, তারা যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করবে না।
কেউ কেউ বলেন যে, মুসলিমদের নিকট খবর আসলো ‘উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ৭/৩৬৯৮)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮১-[১৩] ’উসমান (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আবূ সাহলাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) ’উসমান (রাঃ)-কে চুপে চুপে কিছু কথা বলছিলেন, আর ’উসমান (রাঃ)-এর চেহারার রং পরিবর্তন হতে লাগল। অতঃপর যখন গৃহের (অবরোধের ঘটনার দিন আসলো, তখন আমরা বললাম, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না? উত্তরে তিনি বললেন, না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে একটি ওয়াসিয়্যাত করেছেন। অতএব আমি তদনুযায়ী ধৈর্যধারণ করে অবিচল থাকব।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَن أبي سلهة مولى عُثْمَان رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسِرُّ إِلَى عُثْمَانَ وَلَوْنُ عُثْمَانَ يَتَغَيَّرُ فَلَمَّا كَانَ يَوْم الدَّار قُلْنَا: أَلا نُقَاتِل؟ قَالَ: لَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهِدَ إِلَيَّ أَمْرًا فَأَنَا صَابِرٌ نَفسِي عَلَيْهِ
صحیح ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 391 بزیادۃ :’’ عن عائشۃ ‘‘) [و ابن ماجہ (113) بدون ذکر عائشۃ رضی اللہ عنھا] و للحدیث شواھد ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উসমান (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮২-[১৪] আবূ হাবীবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি ’উসমান (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। এ সময় উসমান (রাঃ) তথায় গৃহবন্দি ছিলেন। তখন তিনি (আবূ হাবীবাহ্) শুনতে পেলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কিছু কথা বলার জন্য ’উসমান (রাঃ)-এর কাছে আসার সম্মতি চাইছেন। অতএব তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তখন আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, নিশ্চয় তোমরা শীঘ্রই আমার মৃত্যুর পরে বিরাট ফিতনাহ্ ও মতানৈক্যে পতিত হবে। অথবা বলেছেন, ভয়ানক মতানৈক্য ও বিপর্যয়ে লিপ্ত হয়ে পড়বে। তখন উপস্থিত লোকেদের মধ্য হতে জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আমরা কি করব? অথবা বলল, তখন আমাদেরকে কি করতে আদেশ করেন? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, তখন তোমরা আমীর ও তাঁর সাথিদের আনুগত্য দৃঢ়ভাবে করতে থাকবে। ’আমীর’ শব্দটি বলবার সময় তিনি (সা.) উসমান (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করলেন। উপরিউক্ত হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عُثْمَان)
وَعَن أبي حبيبةَ أَنَّهُ دَخَلَ الدَّارَ وَعُثْمَانُ مَحْصُورٌ فِيهَا وَأَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَسْتَأْذِنُ عُثْمَانَ فِي الْكَلَامِ فَأَذِنَ لَهُ فَقَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي فِتْنَةً وَاخْتِلَافًا - أَوْ قَالَ: اخْتِلَافًا وَفِتْنَةً - فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مِنَ النَّاسِ: فَمَنْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ أَوْ مَا تَأْمُرُنَا بِهِ؟ قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِالْأَمِيرِ وَأَصْحَابِهِ» وَهُوَ يُشِيرُ إِلَى عُثْمَانَ بِذَلِكَ. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النبوَّة»
اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 393) [و احمد (2 / 344 ۔ 345 ح 8522)] ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - (আবূ বাকর সিদ্দীক, ‘উমার ফারূক এবং উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তিনজনের একত্রে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৩-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) ও আবূ বকর, ’উমার এবং উসমান (রাঃ)-সহ উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন, (খুশিতে) পাহাড় তাদেরকে নিয়ে দুলতে লাগল। তখন নবী (সা.) পা দ্বারা আঘাত করে বললেন, উহুদ স্থির থাক। কেননা একমাত্র তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة)
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَعِدَ أُحُدًا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ فَقَالَ: «اثْبُتْ أُحُدُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (3686) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (مَازِلْنَاأعِزَّةًمُنْذُأَسْلَمَ) কেননা তিনি ছিলেন আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল ও দৃঢ়।
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, “উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল সম্মান, হিজরত ছিল সাহায্য, শাসন ছিল দয়া। কারণ আল্লাহর শপথ ‘উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের আগ পর্যন্ত আমরা কা'বার চারপার্শ্বে প্রকাশ্যে সালাত আদায় করতে পারিনি।
(فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ فَقَالَ: اثْبُتْ أُحُدُ) মিরক্বাত ব্যাখ্যাকার বলেন: পাহাড়কে বলছেন আগন্তুকের কারণে তোমার পৃষ্ঠে কোন চিহ্ন প্রকাশ করো না, দৃঢ়চেতা ব্যক্তির ন্যায় অটল থাক। এ ব্যাপারে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়ে থাকে। জুনায়দ নামক এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ভিতরগত কোন অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে বাহ্যিক কোন বিষয় শ্রবণের সময় তোমার মাঝে কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়? তখন তিনি সূরাহ্ আন্ নামল-এর ৮৮নং আয়াত পাঠ করে শুনান। আয়াতটি হলো, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
(وَ تَرَی الۡجِبَالَ تَحۡسَبُهَا جَامِدَۃً وَّ هِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ) “তুমি পাহাড়কে দেখতে পাও অনঢ় অথচ তা মেঘমালার ন্যায় চলে।” (২৭:৮৮)
(فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ) মর্যাদাবান ও সম্মানিত সাথিগণ তার উপর উঠার কারণে পাহাড়কেও সকল প্রকার বিরক্তিভাব প্রকাশ করা হতে মুক্ত থাকা অবশ্যক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ৭/৩৬৮৪)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - (আবূ বাকর সিদ্দীক, ‘উমার ফারূক এবং উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তিনজনের একত্রে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৪-[২] আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী (সা.) -এর সাথে মদীনার কোন একটি বাগানে ছিলাম। তখন এক লোক এসে (বাগানের) দরজা খুলে দিতে অনুরোধ করল। নবী (সা.) বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অতঃপর আমি দরজা খুলে দিতেই দেখলাম, তিনি আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)। তখন আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথানুযায়ী (জান্নাতের) সুসংবাদ দিলাম। তিনি আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলেন।
অতঃপর আরেক লোক এসে দরজা খুলে দিতে অনুরোধ করল। নবী (সা.) বললেন, আগন্তুক ব্যক্তির জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান কর। আমি গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলাম, আগন্তুক “উমার ফারূক (রাঃ)। তখন আমি তাঁকে নবী (সা.) -এর দেয়া সুসংবাদটি জানালাম। তিনিও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খুলতে অনুরোধ করল। তখন নবী (সা.) আমাকে বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তার ওপর মারাত্মক বিপদের আগমনসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান কর। আমি দরজা খুলে দিতেই দেখলাম, তিনি হলেন উসমান গনী (রাঃ)।
আমি তাঁকে নবী (সা.) যা বলেছেন তা জানিয়ে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহই (আমার) সাহায্যকারী। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَحَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» فَفَتَحْتُ لَهُ فَإِذَا أَبُو بَكْرٍ فَبَشَّرْتُهُ بِمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَحَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» . فَفَتَحْتُ لَهُ فَإِذا هُوَ عُمَرُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ فَقَالَ لِي: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تُصِيبُهُ» فَإِذَا عُثْمَانُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثمَّ قَالَ: الله الْمُسْتَعَان. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3693) و مسلم (28 / 2403)، (6212) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: ‘উমার (রাঃ) -এর সময়েও পরীক্ষা ছিল তবে ‘উসমান (রাঃ)-কে খাস করার কারণ হলো তার পরীক্ষা বড় ছিল। আর তার সময়ও বেশি ছিল, কিন্তু তার উত্তম সঙ্গী কম ছিল।
(فَحَمِدَ اللَّهَ ثمَّ قَالَ: الله الْمُسْتَعَان) অর্থাৎ যাবতীয় কাজে তার সহযোগিতা কামনা করেছেন। আর ঐ সকল বিপদাপদে ধৈর্য ধরার জন্য চেষ্টা করতে চেয়েছেন। এর ফলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করবেন। আর সে আল্লাহর নিকটে অবস্থানের সুযোগ লাভে ধন্য হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - (আবূ বাকর সিদ্দীক, ‘উমার ফারূক এবং উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তিনজনের একত্রে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৫-[৩] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জীবদ্দশায় আমরা বলতাম, আবূ বকর, ’উমার এবং উসমান (রাঃ), ’আল্লাহ তা’আলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة)
عَن ابْن عمر قَالَ: كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيٌّ: أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ رَضِي الله عَنْهُم. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3707 وقال : حسن صحیح غریب) [و اصلہ فی صحیح البخاری (3698)] ۔
(حسن صَحِيح)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ) -এর ব্যাপারে অন্যান্য সাহাবীগণ আলোচনা করতেন যে, তাদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন।
অত্র হাদীসের আরো একটি বর্ণনায় এসেছে যে, আমরা আল্লাহর রসূলের যুগেই তাদেরকে মর্যাদার দিক থেকে অগ্রাধিকার দিতাম। আমরা প্রথমে আবূ বাকর, তারপর ‘উমার, তারপর ‘উসমান (রাঃ)-কে গণ্য করতাম। আর এভাবে করাকে নবী (সা.) অপছন্দ করতেন না।
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আনসার ও মুহাজিরগণ একত্রিত হয়েছে যে, নবী (সা.) - এর পরে এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উসমান (রাঃ)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - (আবূ বাকর সিদ্দীক, ‘উমার ফারূক এবং উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তিনজনের একত্রে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৬-[8] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আজ রাতে পুণ্যবান একজন ভালো লোককে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে, যেন আবূ বকর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সংযুক্ত, ’উমার আবূ বকর-এর সাথে সংযুক্ত এবং উসমান ’উমার-এর সাথে সংযুক্ত।
জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছ হতে উঠে আসলাম, তখন আমরা নিজেদের ধারণানুযায়ী এ মন্তব্য করলাম যে, সেই পুণ্যবান লোক হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) আর যাদের পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ঐ দীন-ইসলামের শাসনকর্তা, যে দীনসহ আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। (আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة)
عَن جابرن أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُرِيَ اللَّيْلَةَ رَجُلٌ صَالِحٌ كَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ نِيطَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنِيطَ عُمَرُ بِأَبِي بَكْرٍ وَنِيطَ عُثْمَانُ بِعُمَرَ» قَالَ جَابِرٌ: فَلَمَّا قُمْنَا مِنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْنَا: أَمَّا الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَرَسُولُ اللَّهِ وَأَمَّا نَوْطُ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ فَهُمْ وُلَاةُ الْأَمْرِ الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
سندہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4636) [و صححہ الحاکم (3 / 71 ۔ 72) و وافقہ الذھبی] * الزھری مدلس و عنعن ولہ شاھد ضعیف تقدم (6057) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে তিনি বলেন, আমি আমার নিজেকে ও আবূ বাকর (রাঃ)-কে একই রশিতে বাঁধা দেখলাম। পরে তিনি নিজেকে মুক্ত করলেন, কেননা তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)। আর তার বন্ধু একজন সৎ লোক। তারপর রাসূল (সা.) আরেক ব্যক্তির জায়গা রাখলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৭-[১] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রাঃ)-কে কেন্দ্র করে বলেছেন, মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে হারূন আলায়হিস সালাম-এর যে মর্যাদা ছিল, তুমিও আমার কাছে সে পর্যায়ে রয়েছ। তবে তারতম্য এটা যে, আমার পরে আর কোন নবী নেই। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
عَن سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِيٍّ: «أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3706) و مسلم (30 / 2404)، (6217) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى) অর্থাৎ আখিরাতে আর মর্তবায় তাঁর নিকটবর্তী হবে। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলী (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে নবী (সা.) এ কথাটি বলেছিলেন তাবুকের যুদ্ধে বের হওয়াকে কেন্দ্র করে। তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর পরিবারের নিকটে ছেড়ে যান এবং সেখানে থাকতে বলেন। এদিকে মুনাফিকরা তাঁকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়াতে লাগল যে, তাঁকে তিনি (সা.) ছেড়ে গেছেন। কারণ তিনি তাকে ভারী মনে করেছিলেন। এটা তার জন্য বিপদের কারণ জেনে তিনি তাকে ছেড়ে গেছেন। এ কথা শুনে তিনি তার তরবারি বের করে যুদ্ধে বেরিয়ে পড়েন। তখন নবী (সা.) জুরফ নামক স্থানে ছিলেন। তিনি নবী (সা.) -এর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, মুনাফিকরা এই এই কথা বলছে। তখন নবী (সা.) তাকে সান্তনা দিতে গিয়ে বলেন, তারা মিথ্যা কথা বলেছে। আমি তোমাকে আমার পিছনে রেখে এসেছি যাতে তুমি আমার অনুপস্থিতে আমার স্থলাভিষিক্ত হতে পার। তুমি আমার ও তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও। হে ‘আলী! তুমি কি পছন্দ কর না যে, তুমি আমার স্থানে থাক যেভাবে হারূন আলায়হিস সালাম মূসা আলায়হিস সালাম-এর জায়গায় ছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
এ হাদীস দ্বারা ‘আলী (রাঃ) নবী (সা.) -এর পরে খলীফাহ্ হবেন এরূপ বুঝায় না; বরং তিনি তাঁর কাছের লোক। তাকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসেন এটাই বুঝায়। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৮[২] যির ইবনু হুবায়শ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) বলেছেন, সেই মহান পবিত্র সত্তার শপথ। যিনি বীজ ফাটিয়ে অঙ্কুর বের করেন এবং বীর্য হতে প্রাণী সৃষ্টি করেন, নবীয়ে উম্মী - আমাকে এ অসিয়ত করেছেন যে, মু’মিনই আমাকে ভালোবাসবে এবং মুনাফিকই আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ: أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مؤمنٌ وَلَا بيغضني إِلَّا مُنَافِق. رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (131 / 78)، (240) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ) অর্থাৎ নবী (সা.) তা গুরুত্বারোপ করেছেন ও আর তা আমার কাছে পৌছেছেন যেন তিনি আমাকে অঙ্গীকার করেছেন।
(إِلَّا مؤمنٌ) অর্থাৎ পূর্ণ ঈমানদার নয়। যেমন কেউ যদি তাকে ভালোবাসে আর শায়খায়ন তথা আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-কে ঘৃণা করে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তাহলে সেও পূর্ণ মু'মিন নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৯-[৩] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বার যুদ্ধের সময় বললেন, আগামীকাল আমি এ পতাকা এমন এক লোকের হাতে প্রদান করব, যার হাতে আল্লাহ তা’আলা (খায়বার দূর্গ) জয় করাবেন, যিনি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন। অতঃপর ভোর হতেই লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে উপস্থিত হলো। তারা প্রত্যেকেই (মনে মনে) এ আশা পোষণ করছিল যে, পতাকা তাকেই প্রদান করা হবে। কিন্তু নবী (সা.)- প্রশ্ন করলেন, ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব কোথায়? লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর চোখে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। তিনি (সা.) বললেন, তাঁকে ডেকে আনার জন্য কাউকে পাঠাও। অতঃপর আলী (রাঃ)-কে আনা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দু’চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন। তাতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তার চোখে কোনরূপ রোগ-ব্যথাই ছিল না।
অতঃপর তিনি (সা.) পতাকা তাঁর হাতেই প্রদান করলেন। পতাকা হাতে নিয়ে ’আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের (শত্রুদের) বিরুদ্ধে আমি সেই অবধি লড়ে যাব যে পর্যন্ত তারা আমাদের মতো (মুসলিম) না হবে। নবী (সা.) বললেন, তুমি ধীরে-সুস্থে চল, এমনকি যখন তুমি তাদের অঞ্চলে পৌছবে, তখন সর্বপ্রথম তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবে এবং ইসলামের মধ্যে আল্লাহর সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ! তোমার দ্বারা যদি একটি লোককেও আল্লাহ তা’আলা হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উট অপেক্ষাও অধিকতর উত্তম হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
আর ’আলী (রাঃ)-এর হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে ’আলী (রাঃ)-কে কেন্দ্র করে বলেছিলেন- (أَنْت مني وَأَنا مِنْك) “তুমি ’আমর এবং আমি তোমার” بَاب «بُلُوغ الصَّغِير» ’শিশুর বয়ঃপ্রাপ্তি অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
الفصل الاول (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ: «لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلًا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهَ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ» . فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كلهم يَرْجُو أَنْ يُعْطَاهَا فَقَالَ: «أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ؟» فَقَالُوا: هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ. قَالَ: «فَأَرْسِلُوا إِلَيْهِ» . فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَيْنَيْهِ فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ الله أقاتلهم حَتَّى يَكُونُوا مثلنَا؟ فَقَالَ: «انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيهِ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِي اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَذكر حَدِيث الْبَراء قَالَ لعَلي: «أَنْت مني وَأَنا مِنْك» فِي بَاب «بُلُوغ الصَّغِير»
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2942) و مسلم (34 / 2406)، (6223) 0 حدیث البراء تقدم (3377) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি চোখের অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিত থাকার পরও নবী (সা.) তাকে ডেকে এনে খায়বার যুদ্ধের পতাকা দিয়ে দিলেন। আর তার হাতে খায়বার বিজয়ের সুসংবাদও আগাম বলে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) মু'জিযাহ্ দেখিয়ে তার চোখে থুথু লাগিয়ে তার চোখের সমস্যা সমাধান করে দিলেন। সুবহা-নাল্ল-হ! তারপরে তাকে যুদ্ধের কিছু নীতিমালা শিখিয়ে তাকে মানুষকে হত্যা করার আগে তাদেরকে দা'ওয়াত দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আর দাওয়াতি কাজের ফলাফল বর্ণনা করেন। (সম্পাদকীয়)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯০-[৪] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: ’আলী আমার হতে আর আমি ’আলী হতে। আর সে প্রত্যেক মুমিনের বন্ধু। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3712 وقال : غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (إِنَّ عَلِيًّا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ) অর্থাৎ বংশের সূত্রে, বৈবাহিক সূত্রে, অগ্রগামিতার দিক থেকে, ভালোবাসার দিক থেকে ও অন্যান্য দিক থেকে। এটা কেবলমাত্র তার আত্মীয় দিক থেকে নিকটবর্তী নয়। তাহলে এ বিষয়ে অনেকেই তাঁর শরীক হয়ে যাবে।
(وَهُوَ وَلِيُّ كُلِّ مُؤْمِنٍ) অর্থাৎ তার প্রিয়। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি ইঙ্গিত আছে, তা হলো-
(اِنَّمَا وَلِیُّکُمُ اللّٰهُ وَ رَسُوۡلُهٗ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ هُمۡ رٰکِعُوۡنَ) “তোমাদের অভিভাবক কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এবং যারা ঈমান এনেছে, সালাত কায়িম করে ও যাকাত দেয় এবং যারা রুকু করে”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ ৫: ৫৫)।
তাফসীরে কাশশাফে বলা হয়ে হয়েছে, এ আয়াতটি ‘আলী (রাঃ)-এর ব্যাপারে নাযিল করা হয়েছে। যদি তুমি বল, এটা কিভাবে সঠিক যে তা ‘আলী (রাঃ)-এর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে? এখানে তো বহুবচনের শব্দ এসেছে। আমি বলব, তার কাজের মতো করে মানুষকে উৎসাহ দেয়ার জন্য এটা এসেছে। যেন তারা তার সাওয়াবের মত সাওয়াব লাভ করতে পারে। আর মু'মিন ব্যক্তির আগ্রহ এমনটাই হওয়া চায় সৎ ও কল্যাণের কাজে। বায়যাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা রুকূ'কারী অর্থাৎ তারা তাদের সালাতে ও যাকাতে বিনয়ী। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৯ম খণ্ড, হা. ৩৭১, মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯১-[৫] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.)-বলেছেন: আমি যার বন্ধু, ’আলীও তার বন্ধু। (আহমাদ ও তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَن زيد بن أَرقم أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (4 / 368 ح 19494) و الترمذی (3713 وقال : حسن غریب) * و للحدیث طریق کثیرۃ جدًا فھو من الاحادیث المتواترۃ ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: আমি যাকে ভালোবাসি ‘আলীও তাকে ভালোবাসে। আর আমি যাকে ঘৃণা করি ‘আলীও তাকে ঘৃণা করে। আর আমি যার দায়িত্ব নেই ‘আলীও তার দায়িত্ব নেয়। আলী (রাঃ)-এর সাথে যারা ইয়ামানে ছিল তারা তার সম্পর্কে কিছু বলল, নবী (সা.) যখন হজ্জ আদায় করলেন তখন খুত্ববাহ দিয়ে সতর্ক করলেন। যারা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললেন, তিনি (সা.) তাদেরকে খণ্ডন করলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯২-[৬] হুবশী ইবনু জুনাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ’আলী আমা হতে, আর আমি ’আলী হতে। আর আমার তরফ হতে কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না, আমি অথবা ’আলী ছাড়া। [তিরমিযী, আর ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি জুনাদাহ হতে বর্ণনা করেছেন।]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَن حبشِي بن جُنَادَة قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلِيٌّ مِنِّي وَأَنَا مِنْ عَلِيٍّ وَلَا يُؤَدِّي عني إِلَّا أَنا وَعلي» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد عَن أبي جُنَادَة
حسن ، رواہ الترمذی (3719 وقال : حسن غریب صحیح) و احمد (4 / 164 ح 17645) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (عَلِيٌّ مِنِّي وَأَنَا مِنْ) অর্থাৎ ‘আরবদের অভ্যাস ছিল যদি তাদের মাঝে কোন ওয়াদা ভঙ্গ করা, কোন কথা, কোন চুক্তি, কোন ওয়াদা ভঙ্গ করার সময় হয় তখন তা কেবল ভঙ্গ করতে পারে সে সম্প্রদায়ের নেতা। অথবা যে তার খুব নিকটাত্মীয় বা কাছের লোক। তার থেকে ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। যে বছর রাসূল (সা.) আবূ বাকর (রাঃ)-কে হজ্জ সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন তার পিছনে পিছনে ‘আলী (রাঃ) কে পাঠালেন মুশরিকদের সাথে করা চুক্তিকে ভঙ্গ করার জন্য। তিনি তাদের সামনে সূরাহ্ আত্ তাওবার আয়াত পাঠ করলেন।
(اِنَّمَا الۡمُشۡرِکُوۡنَ نَجَسٌ فَلَا یَقۡرَبُوا الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ بَعۡدَ عَامِهِمۡ هٰذَا) “মুশরিকরা অপবিত্র, তারা যেন এ বছরের পর আর মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়”(সূরাহ আত্ তাওবাহ ৯: ২৮)। এছাড়াও অন্যান্য বিধানাবলী দ্বারা তাকে পাঠানো হয়েছিল। এটা ছিল ‘আলী (রাঃ)-এর বিরাট বড় একটা মর্যাদা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৩-[৭] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতত্ব স্থাপন করেন। এ সময় ’আলী (রাঃ) অশ্রুসজল চোখে এসে বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) আপনি আপনার সাহাবীদের পরস্পরে মাঝে ভ্রাতত্ব বন্ধন স্থাপন করলেন, অথচ আমাকে কারো সাথে ভ্রাতত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, ইহকাল ও পরকালে উভয় স্থানেই তুমি আমার ভাই। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব]।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: آخَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ عَلِيٌّ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ فَقَالَ: آخَيْتَ بَيْنَ أَصْحَابِكَ وَلم تُؤاخِ بَيْنِي وَبَيْنَ أُحُدٍ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتَ أَخِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3720) * حکیم بن جبیر : ضعیف رمی بالتشیع ، و جمیع بن عمیر : ضعیف ضعفہ الجمھور ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: নবী (সা.) সব সাহাবীদের মাঝে ভ্রাতত্ব স্থাপন করে দিলে ‘আলী (রাঃ) তাকে বললেন, আমাকে কারো সাথে ভাই বানিয়ে দিলেন না কেন? নবী (সা.) তখন বললেন, তুমি কি জান আমি তোমাকে কারো সাথে ভাই বানিয়ে দেয়নি কেন? আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। তুমি আমার ভাই আর আমি তোমার ভাই। যদি তোমাকে কেউ বলে তবে তুমি বল, আমি আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহর রসূলের ভাই। আর আমার পরে যদি কেউ তা দাবী করে তবে সে হবে মহা মিথ্যুক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৪-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) -এর সামনে (খাওয়ার জন্য) একটি (ভুনা) পাখি রাখা ছিল। তখন তিনি (সা.) (দু’আয়) বললেন, হে আল্লাহ! তোমার সৃষ্টিজীবের মাঝে যে লোকটি তোমার কাছে অধিকতর প্রিয়, তাকে তুমি পাঠিয়ে দাও, যেন সে আমার সাথে এ পাখিটি (’র মাংস) খেতে পারে। এর পরক্ষণেই ’আলী (রাঃ) আসলেন এবং তাঁর সাথে খেলেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَيْرٌ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِي هَذَا الطَّيْرَ» فجَاء عَلِيٌّ فَأَكَلَ مَعَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
حسن ، رواہ الترمذی (3721) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَيْرٌ) অর্থাৎ নবী (সা.) -এর নিকট একটি ভুনা বা রান্না করা পাখি ছিল যা তাকে হাদিয়্যাহ্ দেয়া হয়েছিল। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) -কে এক আনসারী মহিলা দু’টি পাখি হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিল।
আমরা ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদাকে অস্বীকার করি না। তিনি আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসূল (সা.) -এর অধিক নিকটবর্তী ছিলেন তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। তিনি কয়েক দিক থেকে নবী (সা.) -এর আত্মীয় হতেন। আর তিনি তার দীনী ভাইও ছিলেন। আর তিনি (সা.) তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তবে মূর্খরা তাঁর মর্যাদা নিয়ে যেমন বাড়াবাড়ি করে তা হতে তিনি মুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৫-[৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে যখন কোন কিছু চাইতাম, তিনি আমাকে তা দান করতেন। আর যখন চুপ থাকতাম, তখন নিজের তরফ হতে দিতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব]।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنْتُ إِذَا سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَانِي وَإِذَا سَكَتُّ ابْتَدَأَنِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ «حَسَنٌ غَرِيبٌ»
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3722) * عبداللہ بن عمرو بن ھند لم یسمع من علی رضی اللہ عنہ ، وجاء فی المستدرک (3 / 125 ح 463) قال :’’ سمعت علیًا رضی اللہ عنہ ‘‘ !! ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: (وَإِذَا سَكَتُّ ابْتَدَأَنِي) অর্থাৎ কথা বলা বা দানের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, উত্তম আদব হলো চুপ থাকা। আর অধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে আগে সুযোগ দেয়া। আর একে শক্তিশালী করে অন্য একটি হাদীস তা হলো- যাকে আমার কাছে চাওয়া থেকে আমার স্মরণে ব্যস্ত রাখবে আমি তাকে আমার কাছে প্রার্থনাকারীর চেয়ে বেশি দিয়ে থাকি। আলী (রাঃ)-এর দুনিয়াবিমুখতার কথা উল্লেখ করেছেন অনেক জীবনী লেখকগণ। তারা ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার স্মরণ আছে যে, আমি নবী (সা.)-এর সাথে ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেটে পাথর বেঁধেছিলাম, আর আজ আমি যাকাত দিচ্ছি চল্লিশ হাজার। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আর আজ আমার সম্পদের যাকাত পৌছেছে চল্লিশ হাজার দীনার। হাদীস দুটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদিন ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)- ফাতিমাহ্ (রাঃ) -এর কাছে গিয়ে হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে কান্নারত পেয়ে তাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করেন। তখন ফাতিমাহ্ (রাঃ) বলেন, তাঁরা ক্ষুধার জ্বালায় কান্না করছে। ‘আলী (রাঃ), ঘর থেকে বের হয়ে বাজারে গিয়ে পতিত অবস্থায় একটি দীনার পেলেন। তিনি দীনারটি ফাতিমাহ (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে এসে বিষয়টি তাকে জানালেন। ফাতিমা (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি দীনারটি নিয়ে অমুক ইয়াহুদীর কাছে গিয়ে আমাদের জন্য আটা ক্রয় করুন। অতঃপর আলী (রাঃ) ইয়াহূদীর কাছে গিয়ে আটা ক্রয় করলেন। ইয়াহুদী বলল, আপনি তো ঐ লোকের জামাতা, যিনি নিজেকে আল্লাহর রাসূল দাবী করেন। তখন ‘আলী (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন ইয়াহুদী বলল, আপনি দীনারটি ফেরত নিন এবং এই আটাও নিয়ে যান (আটার মূল্য দিতে হবে না)।
আলী (রাঃ) আটা নিয়ে ফাতিমা (রাঃ)-এর কাছে এসে তাকে বিষয়টি জানালেন। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আপনি উমুক কসাইয়ের কাছে গিয়ে আমাদের জন্য এক দিরহামের গোশত ক্রয় করুন। তিনি সেখানে গিয়ে দীনারটি বন্ধক রেখে এক দিরহাম মূল্যের গোশত কিনে ঘরে ফিরলেন।
ফাতিমাহ্ (রাঃ) আটা দিয়ে রুটি বানালেন এবং গোশত রান্না করলেন। নবী (সা.) তাদের কাছে আসলে ফাহিমাহ্ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে ঘটনাটি খুলে বলছি। আপনি যদি এটা আমাদের জন্য হালাল মনে করেন তাহলে আমরা তা খাবো এবং আমাদের সাথে আপনিও খাবেন। ঘটনা এরূপ, তিনি (সা.) বললেন, তোমরা বিসমিল্লাহ বলে খাও। তারা যখন খাচ্ছিলেন তখন এক যুবক আল্লাহ ও ইসলামের নামে শপথ উচ্চারণ করে দীনারটি খুঁজছিল। তখন রাসূল (সা.) -এর নির্দেশ মোতাবেক তাকে ডেকে দীনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। সে বলল, দীনারটি আমার নিকট থেকে বাজারে পড়ে গেছে।
নবী (সা.) বললেন: হে ‘আলী! তুমি কসাইয়ের নিকট গিয়ে বল, আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনাকে দীনারটি আমার কাছে ফেরত দিতে বলেছেন। আর তিনি আপনার দিরহাম দিয়ে দিবেন। অতঃপর কসাই তা ফেরত দিলে রাসূল (সা.) সেটি ঐ যুবককে ফিরিয়ে দিলেন- (আবূ দাউদ ১৭১৬: হাসান)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৬-[১০] উক্ত রাবী [’আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি বিদ্যার ঘর আর ’আলী হলেন সে গৃহের দরজা।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।
তিনি আরো বলেছেন, কোন কোন বর্ণনাকারী হাদীসটি শারীক নামক বর্ণনাকারী হতে বর্ণনা করেছেন। তারা তাতে সুনাবিহী বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেননি এবং শারীক ছাড়া অন্য কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হতে এ হাদীস আমরা জানতে পারিনি।]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا دَارُ الْحِكْمَةِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَقَالَ: رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ شَرِيكٍ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ وَلَا نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الثِّقَاتِ غَيْرَ شَرِيكٍ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3723) * شریک القاضی مدلس و عنعن ولم یثبت تصریح سماعہ فی ھذا الحدیث و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (أَنَا دَارُ الْحِكْمَةِ) অন্য বর্ণনায় আছে, (أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ) মাসাবীহ-এর অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, (أَنَا دَارُ الْعِلْمِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا) অর্থাৎ আমি ‘ইলমের ঘর আর ‘আলী (রাঃ) হলো তার দরজা।
অন্য আরেকটি বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে, (فَمَنْ أَرَادَالْعِلْمَ فَلْيَأْتِهِ مِنْ بَابِهِ) অর্থাৎ যে ‘ইলম চায় সে যেন তার কাছে তার দরজা দিয়ে আসে। এর অর্থ হলো, ‘আলী (রাঃ) তার দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা। তবে এখানে নির্দিষ্ট করা মানে এক প্রকার সম্মান দেয়া। তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করার কারণ হলো তিনি কতিপয় সাহাবীর চেয়ে বেশি সম্মানিত ও জ্ঞানী ছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৭-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ত্বায়িফ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ’আলী (রাঃ)- কে কাছে ডেকে চুপে চুপে কিছু কথা বললেন। লোকেরা বলল, রাসূলুল্লাহ (সা.) যে তার চাচার পুত্রের সাথে দীর্ঘসময় অবধি চুপে চুপে কথাই বলছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, চুপে চুপে আমি কথা বলিনি, বরং স্বয়ং আল্লাহই তার সাথে চুপে চুপে কথা বলেছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا يَوْمَ الطَّائِفِ فَانْتَجَاهُ فَقَالَ النَّاسُ: لَقَدْ طَالَ نَجْوَاهُ مَعَ ابْنِ عَمِّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا انْتَجَيْتُهُ وَلَكِنَّ اللَّهَ انْتَجَاهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3726 وقال : حسن غریب ) * ابو الزبیر مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (فَقَالَ النَّاسُ) অর্থাৎ মুনাফিকগণ, অথবা সাধারণ সাহাবীগণ গোপন বৈঠক করেছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৮-[১২] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, হে আলী! আমি ও তুমি ছাড়া এ মসজিদে জুনুবী (নাপাকী) অবস্থায় অন্য কারো প্রবেশ করা বৈধ নয়।
(অধস্তন বর্ণনাকারী) আলী ইবনুল মুনযির বলেন, আমি যিরার ইবনু সুরাদ-কে হাদীসটির ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নাপাকী অবস্থায় আমি ও তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য এই মসজিদের ভিতর দিয়ে পথ অতিক্রম করা বৈধ নয়। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব]।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِيٍّ: «يَا عَلِيُّ لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ يُجْنِبُ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ غَيْرِي وَغَيْرَكَ» قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ: فَقُلْتُ لِضِرَارِ بْنِ صُرَدٍ: مَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ؟ قَالَ: لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ يَسْتَطْرِقُهُ جُنُبًا غَيْرِي وَغَيْرَكَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3727) * فیہ عطیۃ العوفی : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: এখানে তাদের দুজনের বিষয়টি খাস করার অর্থ হলো, তাদের দুজনের ঘরের দরজা মসজিদের ভেতর দিয়ে ছিল। নবী (সা.)-এর ঘরের দরজা তো মসজিদের ভিতর দিকে ছিল। তার ঘরের দরজা খুললেই মসজিদ তার সামনে পড়ত। অনুরূপ ‘আলী (রাঃ)-এর ঘরের দরজাও ছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৯৯-[১৩] উম্মু ’আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন এক অভিযানে সেনাদল পাঠালেন। তাদের মধ্যে ’আলী (রাঃ)-ও ছিলেন। উম্মু ’আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) বলেন, সেনাদল পাঠাবার পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আমি দুই হাত তুলে এরূপ দু’আ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, হে আল্লাহ! ’আলীকে আবার আমাকে না দেখাবার আগ পর্যন্ত তুমি আমার মৃত্যু দান করো না। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَن أم عطيَّة قَالَتْ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشًا فِيهِمْ عَلِيٌّ قَالَتْ: فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لَا تُمِتْنِي حَتَّى تُرِيَنِي عليّاً» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3737 وقال : حسن) * ام شراحیل و ابو الجراح المھری : مجھولا الھال ، لم یوثقھما غیر الترمذی ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: নবী (সা.) ‘আলী (রাঃ)-কে কোন একটি সফরে সৈন্যবাহিনীর সাথে পাঠিয়েছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে পাঠানোর সময় বা তাঁর ফিরে আসা নিশ্চিত করতে তাঁর দু’হাত উঁচু করে বলেন, “হে আল্লাহ! ‘আলীকে দেখার আগে আমার মৃত্যু দিও না।”
নবী (সা.) যখন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করছিলেন তখন তার ডানদিকে জিবরাইল আর মীকাঈল তার বামদিকে ছিলেন। আর তিনি তার বিজয় নিশ্চিত না করে ফিরে যাননি- (আহমাদ)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০০-[১৪] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কোন মুনাফিক ’আলী-কে ভালোবাসে না এবং কোন মু’মিন ’আলী-এর প্রতি বিদ্বেষ রাখে না। [আহমাদ ও তিরমিযী এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান এবং সনদের দিক দিয়ে গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُحِبُّ عَلِيًّا مُنَافِقٌ وَلَا يُبْغِضُهُ مُؤْمِنٌ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيب إِسْنَادًا
ضعیف ، رواہ احمد (6 / 282 ح 27040) و الترمذی (2 / 3717 و حسنہ و سندہ ضعیف) * مساور الحمیری مجھول و حدیث الترمذی (3736) و مسلم (78) یغنی عنہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ)-কে পূর্ণ মু'মিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ ভালোবাসে না, আর পূর্ণ মুনাফিক ছাড়া কেউ তাকে ঘৃণা করে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০১-[১৫] উক্ত রাবী [উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক ’আলীকে গালি দিল, সে যেন আমাকে গালি দিল। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَبَّ عَلِيًّا فَقَدْ سَبَّنِي» . رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 323 ح 27284) [و صححہ الحاکم (3 / 121) و وافقہ الذھبی] * ابو اسحاق مدلس و عنعن ، و روی ابو یعلی (7013) من حدیث السدی (اسماعیل بن عبد الرحمن) عن ابی عبداللہ الجدلی قال :’’ قالت ام سلمۃ : ایسب رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم علی المنابر ؟ قلت : و انی ذلک ؟ قالت : الیس یسب علی و من یحبہ ؟ فاشھد ان رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم کان یحبہ ‘‘ و سندہ حسن ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি ‘আলী (রাঃ)-কে গালি দিল সে যেন নবী (সা.) -কে গালি দিল। কারণ তিনি তার বংশের লোক। এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে, ‘আলী (রাঃ)-কে গালি দেয়া কুফরী কাজ। আর এ কাজটি যেন ধমক ও সতর্কতাস্বরূপ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে তবারানী বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদেরকে গালি দিবে, তার ওপর আল্লাহর লা'নাত, মালায়িকাহ’র (ফেরেশতাদের) লা'নাত ও সকল মানুষের লা'নাত।
‘আলী (রাঃ) থেকে তবারানী-এর এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি নবীদের গালি দিবে তাকে হত্যা করা হবে, আর যে সাহাবীদেরকে গালি দিবে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০২-[১৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমার মাঝে ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সাদৃশ্য রয়েছে। ইয়াহূদীরা তাঁর প্রতি এমনভাবে বিদ্বেষ রাখে যে, তাঁর মায়ের উপর অপবাদ রচনা করে ছাড়ে। অপরদিকে খ্রিষ্টানরা তাকে ভালোবাসতে গিয়ে তাকে এমন স্থানে পৌছিয়ে দেয়, যা তার জন্য শোভনীয় নয়। অতঃপর ’আলী (রাঃ) বললেন, আমার ব্যাপারে দুই দল ধ্বংস হবে। (একদল) অতি ভক্তিকারী বন্ধু যারা আমার ক্ষেত্রে এমন উচ্চ প্রশংসা করে যা আমার মধ্যে নেই। হিংসুকের দল, যারা আমার প্রতি হিংসার বশীভূত হয়ে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ রচনা করবে। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِيكَ مَثَلٌ مِنْ عِيسَى أَبْغَضَتْهُ الْيَهُودُ حَتَّى بَهَتُوا أُمَّهُ وَأَحَبَّتْهُ النَّصَارَى حَتَّى أَنْزَلُوهُ بِالْمَنْزِلَةِ الَّتِي لَيْسَتْ لَهُ» . ثُمَّ قَالَ: يَهْلِكُ فِيَّ رَجُلَانِ: مُحِبٌّ مُفْرِطٌ يُقَرِّظُنِي بِمَا لَيْسَ فِيَّ وَمُبْغِضٌ يَحْمِلُهُ شَنَآنِي عَلَى أَنْ يَبْهَتَنِي. رَوَاهُ أَحْمَدُ
اسنادہ ضعیف ، رواہ [عبداللہ] احمد (1 / 160 ح 1376) * فیہ الحکم بن عبد الملک : ضعیف ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ)-কে কেন্দ্র করে যে দু’দল লোকে পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা হলেন, রাফেযী ও খারেযী। নুসায়রিয়্যাহ সম্প্রদায় ‘আলী (রাঃ)-কে সকল সাহাবীর ওপর তাকে মর্যাদা দেয়। আলী (রাঃ) বলেন, আমাকে কিছু লোক ভালোবাসে আর এ ভালোবাসা তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে, আর আমাকে কিছু লোক ঘৃণা করে আর এ কারণে তারা জাহান্নামে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৩-[১৭] বারা’ ইবনু ’আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন খুম্ নামক স্থানে ঝিলের কাছে অবতরণ করলেন, তখন তিনি ’আলী (রাঃ)-এর হাত ধরে বললেন, এটা কি তোমরা জান না, আমি মুমিনদের কাছে তাদের আত্মা অপেক্ষা অধিক প্রিয়? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। তিনি (সা.) আবার বললেন, তোমরা কি জান না, আমি প্রত্যেক মুমিনের কাছে তার প্রাণ অপেক্ষা অধিক প্রিয়? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! আমি যার বন্ধু ’আলীও তার বন্ধু। (তারপর তিনি এ দু’আ করলেন,) হে আল্লাহ! যে লোক ’আলীকে ভালোবাসে তুমিও তাকে ভালোবাস। আর যে লোক তাকে শত্রু ভাবে, তুমিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ কর। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর যখন ’আলী (রাঃ)-এর সাথে ’উমার (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি তাকে বললেন, ধন্যবাদ হে আবূ ত্বালিব-এর পুত্র! তুমি সকাল-সন্ধ্যা (অর্থাৎ সবসময়) প্রত্যেক ঈমানদার নারী-পুরুষদের বন্ধু হয়েছ। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا نَزَلَ بِغَدِيرِ خُمٍّ أَخَذَ بِيَدِ عَلِيٍّ فَقَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ؟» قَالُوا: بَلَى قَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ؟» قَالُوا: بَلَى قَالَ: «اللَّهُمَّ مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ اللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ» . فَلَقِيَهُ عُمَرُ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ: هَنِيئًا يَا ابْنَ أَبِي طَالِبٍ أَصْبَحْتَ وَأَمْسَيْتَ مَوْلَى كلَّ مُؤمن ومؤمنة. رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (4 / 281 ح 18671 من حدیث البراء بن عازب رضی اللہ عنہ) * فیہ علی بن زید بن جدعان : ضعیف ، و رواہ احمد (4 / 368 ، 370 ، 372) من طرق عن زید بن ارقم رضی اللہ عنہ بہ دون قول عمر رضی اللہ عنہ و المرفوع صحیح ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: গাদীরে খুম্ হলো মক্কাহ্-মদীনার মধ্যবর্তী একটি জায়গায় নাম। যা জুহফাহ্ থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। এখানে একটি প্রসিদ্ধ পুকুর আছে যাকে বনের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়।
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তুমি তাকে ভালোবাসো যে তাকে ভালোবাসে, আর তাকে ঘৃণা কর যে তাকে ঘৃণা করে, আর তাকে সাহায্য করো যে তাকে সাহায্য করে, আর তাকে অপমানিত কর যে তাকে অপমানিত করে, আর সে যেখানেই থাকুক যেন সে হাকের ওপর থাকতে পারে সে তাওফীকৃ তাকে দাও। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৪-[১৮] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর এবং ’উমার (রাঃ) [একজনের পর আরেকজন রাসূল (সা.) দুহিতা] ফাতিমাহ্ (রাঃ)-কে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে ছোট। (তাঁদের বয়সের তুলনায়) অতঃপর যখন ’আলী (রাঃ) প্রস্তাব পাঠালেন, তখন তিনি ফাতিমাহ-কে তাঁর সাথে বিবাহ দিলেন। (নাসায়ী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَن بُرَيْدَة قَالَ: خطب أبي بَكْرٍ وَعُمَرُ فَاطِمَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا صَغِيرَةٌ» ثُمَّ خَطَبَهَا عليٌّ فزوَّجها مِنْهُ. رَوَاهُ النَّسَائِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ النسائی (6 / 62 ح 3223) و السند صحیح علی شرط مسلم ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ‘আলী (রাঃ) তাদের দু'জনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আসলে বিষয়টি তেমন নয়। বিষয়টি এমন হতে পারে যে, তারা দুজন তথা আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) যখন তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন তখন সে ছোট ছিল। এরপর যখন তার বয়স পনের বছর হলো আর সে বড় হয়ে গেল তখন ‘আলী (রাঃ) তাকে প্রস্তাব দিলে নবী (সা.) তার সাথে তার মেয়ে ফাতিমা (রাঃ)-কে বিবাহ দেন। হতে পারে তাদের দুজনের বয়সের তুলনায় তার বয়স কম ছিল। অথবা ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে তার বিবাহ দেয়ার জন্য হয়তো ওয়াহী করা হয়েছিল। আর এ মতটিকে শক্তিশালী করে নবী (সা.) -এর বাণী তা হলো, তিনি আবূ বাকর ও ‘উমার ও অন্যান্য সাহাবী যারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, এখনও ফায়সালা নাযিল হয়নি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৫-[১৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ’আলী-এর গৃহের দরজা ছাড়া অন্যান্য সকল দরজা বন্ধ করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِسَدِّ الْأَبْوَابِ إِلَّا بَابَ عَلِيٍّ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
حسن ، رواہ الترمذی (3732)
ব্যাখ্যা: সকলের দরজা বন্ধ থাকবে কেবল ‘আলী (রাঃ) এর দরজা খোলা থাকবে। আর এ কারণেই নবী (সা.) বলেছিলেন, আমি আর ‘আলী ছাড়া কেউ এ মসজিদে যুনুবী বা অপবিত্র অবস্থায় অতিক্রম করতে পারবে না। এ রকমভাবে অন্য হাদীসে আছে, আবূ বাকর (রাঃ)-এর ঘরের দরজা ব্যতীত সকলের দরজা বন্ধ রাখতে বললেন। এটা ছিল নবী (সা.) -এর মৃতুর অসুস্থতার সময় যাতে তিনি তার খোঁজ-খবর নিতে পারেন। এটা তার পরে তিনি খলীফাহ্ হবেন সেজন্য ইঙ্গিত করে না। আর এ হাদীসটি অধিক সহীহ যা বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা দ্বারা স্বীকৃত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৬-[২০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আমার এমন একটি বিশেষ সম্মান ছিল, যা সৃষ্টিজীবের মধ্যে আর কারো জন্য ছিল না। আমি সাহরীর প্রথমভাগে তাঁর কাছে আসতাম এবং বাহিরে দাঁড়িয়ে বলতাম, (السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ) “হে আল্লাহর নবী! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক”। অতঃপর যদি তিনি (সালামের জবাব না দিয়ে) গলা খাকরাতেন, তখন আমি স্বীয় গৃহে ফিরে চলে যেতাম (বুঝতাম, তিনি কোন কাজে ব্যস্ত আছেন, এখন প্রবেশের অনুমতি নেই) অন্যথায় তাঁর কাছে প্রবেশ করতাম। (নাসায়ী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَن عَليّ قَالَ: كَانَتْ لِي مَنْزِلَةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ تَكُنْ لِأَحَدٍ مِنَ الْخَلَائِقِ آتِيهِ بِأَعْلَى سَحَرٍ فَأَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَإِنْ تَنَحْنَحَ انْصَرَفْتُ إِلَى أَهْلِي وَإِلَّا دَخَلْتُ عَلَيْهِ. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ
اسنادہ حسن ، رواہ النسائی (3 / 12 ح 1214) [و ابن خزیمۃ (902)] ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (بِأَعْلَى سَحَرٍ) অর্থাৎ তার সময়গুলোর প্রথমে। তা হলো, ছয় ভাগের শেষ ভাগে যেমনটা কাশশাফে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর আমি সালাম দিয়ে তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি (সা.) গলা খাকর দিলে আমি ফিরে যেতাম। তিনি (সা.) গলা খাকর দিতেন সালামের উত্তর দেয়ার পরে বা আগে। কারণ অনুমতির সালামের উত্তর দেয়া জরুরী বা জরুরী নয়। অতঃপর আমি শারঈ কোন বাধা আছে মনে করে বাসায় পরিবারের কাছে ফিরে আসতাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৭-[২১] উক্ত রাবী [আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি অসুস্থ ছিলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার কাছে দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন আমি বলছিলাম, হে আল্লাহ! যদি আমার হায়াত ফুরিয়ে যায়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে রোগ-যন্ত্রণা হতে শান্তি দান কর। আর যদি হায়াত থাকে, তাহলে শান্তির জীবন দান কর। আর তা যদি আমার জন্য পরীক্ষা হয়, তবে ধৈর্যধারণের তাওফীক দাও। তখন রাসূল (সা.) তাকে স্বীয় পা দ্বারা টোকা দিয়ে বললেন, নিরাময় দান কর। বর্ণনাকারীর সন্দেহ। আলী (রাঃ) বলেন, এরপর আর আমি কখনো এই রোগে ভুগিনি। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب مَنَاقِب عَليّ بن أبي طَالب)
وَعَنْهُ قَالَ: كُنْتُ شَاكِيًا فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَجَلِي قَدْ حَضَرَ فَأَرِحْنِي وَإِن كَانَ متأخِّراً فارفَعْني وَإِنْ كَانَ بَلَاءً فَصَبِّرْنِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ قُلْتَ؟» فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَا قَالَ فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ وَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَافِهِ - أَوِ اشْفِهِ -» شَكَّ الرَّاوِي قَالَ: فَمَا اشْتَكَيْتُ وَجَعِي بَعْدُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3564) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (كُنْتُ شَاكِيًا فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ আমি অসুস্থ ছিলাম। আর নবী (সা.) যাচ্ছিলেন বা আসতেছিলেন। আমি বলছিলাম, হে আল্লাহ! আমার যদি বয়স শেষ হয়ে যায়, আর আমার মৃত্যুর সময় এসে যায়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে আরাম দাও। আর যদি আমার মৃত্যুর সময় বাকী থাকে তবে আমাকে সুস্থ করে আমাকে মুক্ত কর। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৮-[১] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে (খিলাফতের ব্যাপারে) এ কয়েকজন ছাড়া আমি অন্য আর কাউকেও যোগ্যতম মনে করি না, যাঁদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.) - মৃত্যুর সময় খুশি থেকে গেছেন। অতঃপর তিনি [’উমার (রাঃ)] ’আলী, ’উসমান, যুবায়র, ত্বলহাহ্, সা’দ ও আবদুর রহমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নাম উল্লেখ করেন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَا أَحَدٌ أَحَقَّ بِهَذَا الْأَمْرِ مِنْ هَؤُلَاءِ النَّفَرِ الَّذِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ فَسَمَّى عَلِيًّا وَعُثْمَانَ وَالزُّبَيْرَ وَطَلْحَةَ وَسَعْدًا وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (3700) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (مَا أَحَدٌ أَحَقَّ بِهَذَا الْأَمْرِ) অর্থাৎ খিলাফতের বিষয়ে। আর নাফার বলা হয়, তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাকে।
(وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ) অর্থাৎ তিনি তাদের প্রতি পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ তিনি তাদের সকলকে খুব ভালোভাবে চিনতেন। অথবা এখানে সন্তুষ্ট দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সন্তুষ্টি। আর তা হলো তারা সকলে খলীফাহ হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। অথচ তিনি তো সকল সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তবে এটার সম্ভাবনা আছে যে, তিনি তাদেরকে একটু বেশি ভালোবাসতেন। কারণ তারা দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। আর তারা সকলে ছিলেন কুরায়শ বংশের। আর খলীফাও তাদের মধ্যে থেকে ছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১০৯-[২] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ত্বলহাহ (রাঃ) -এর ঐ হাতখানা বিকল অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দ্বারা তিনি উহুদের দিন নবী (সা.) -কে (কাফিরদের আক্রমণ হতে) রক্ষা করেছিলেন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن قيس بن حازِم قَالَ: رَأَيْتُ يَدَ طَلْحَةَ شَلَّاءَ وَقَى بِهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (4063) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (رَأَيْتُ يَدَ طَلْحَةَ شَلَّاءَ) অর্থাৎ তা হলো হাতের কব্জিতে কমতি বা অবশ হওয়া। কাজ করতে না পারা। এর অর্থ এটা নয় যে, হাত কাটা হয়েছে, যা অনেকেই মনে করে। তিনি হাত দিয়ে নবী (সা.) -কে উহুদ যুদ্ধের দিন হিফাযাত করেছিলেন। ফলে তিনি নিজে আহত হয়েছিলেন। তিনি উহুদের দিন ২৪টি আঘাত পেয়েছিলেন। কথিত আছে যে, তার শরীরে মোট ৭৫টি ক্ষত পাওয়া গিয়েছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১০-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) আহযাব (খন্দক) যুদ্ধের সময় বললেন, এমন কে আছে, যে শত্রুদলের প্রকৃত অবস্থা জেনে আমাকে দিতে পারে? তখন যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি। অতঃপর নবী (সা.) বললেন, প্রত্যেক নবীর ’হাওয়ারী থাকে। নিশ্চয় যুবায়র আমার হাওয়ারী। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَأْتِينِي بِخَبَرِ الْقَوْمِ يَوْمَ الْأَحْزَابِ؟» قَالَ الزُّبَيْرُ: أَنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيَّاً وحَوَاريَّ الزبيرُ» مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2846) و مسلم (48 / 2415)، (6243) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস থেকে যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ) -এর মর্যাদা বুঝা গেল। তিনি নবী (সা.) -এর ফুফাতো ভাই ছিলেন। খন্দকের যুদ্ধের দিন নবী (সা.) শত্রুদের খবর আনার কথা বললে যুবায়র (রাঃ) তিনবার বললেন, আমি খবর আনব। তখন নবী (সা.) তার প্রতি খুশি হয়ে বলেন, প্রত্যেক নবীর সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী হলো যুবায়র ইবনুল আওয়াম। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১১-[8] যুবায়র (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন কে আছে, যে বানূ কুরায়যা গোত্রে গিয়ে আমাকে তাদের বাস্তব অবস্থা এনে দিতে পারে? তখন আমি গেলাম। অতঃপর যখন আমি ফিরে আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর পিতামাতা উভয়কে একত্রে উল্লেখ করে আমার লক্ষ্যে বললেন, আমার পিতা ও মাতা তোমার জন্য কুরবান হোক। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَأْتِي بَنِي قُرَيْظَةَ فَيَأْتِينِي بِخَبَرِهِمْ؟» فَانْطَلَقْتُ فَلَمَّا رَجَعْتُ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ فَقَالَ: «فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3720) و مسلم (49 / 2416)، (6245) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: কে বানু কুরায়যার কাছে গিয়ে তাদের সংবাদ নিয়ে আসবে? বানু কুরায়যাহ্ মদীনার পাশে বসবাসকারী ইয়াহুদী সম্প্রদায় ছিল। যুবায়র (রাঃ) তাদের খবর জানতে পেরে এসে নবী (সা.) -কে বললে তিনি তাঁর উদ্দেশে বললেন, আমার পিতা মাতা তোমার জন্য কুরবান হোক। এ কথা দ্বারা তিনি (সা.) তাকে সম্মান করতে চাইলেন। আর তাঁর কাজটি যে মহান তা বুঝাতে চাইলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১২-[৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) উহুদ যুদ্ধের দিন সা’দ ইবনু মালিক (আবূ ওয়াক্কাস) ছাড়া আর কারো উদ্দেশে নিজের পিতামাতাকে একত্রিত করতে আমি শুনিনি। আমি শুনেছি, উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি (সা’দকে লক্ষ্য করে) বলেছেন, হে সা’দ (শত্রুদের প্রতি) তীর নিক্ষেপ কর। আমার পিতা ও মাতা তোমার জন্য কুরবান। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن عليٍّ قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ أَبَوَيْهِ لِأَحَدٍ إِلَّا لِسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ: «يَا سَعْدُ ارْمِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4059) و مسلم (41 / 2411)، (6233) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: কথিত আছে যে, তিনি তার পিতা মাতাকে যুবায়র (রাঃ)-এর ঘটনায়ও একত্রিত করেছিলেন। কিন্তু ‘আলী (রাঃ) তা জানতেন না। অথবা তিনি উহুদের দিন এটা দ্বারা তাকে শক্তিশালী করতে চাইলেন। এখানে অন্য কারো জন্য বলেননি দ্বারা নবী (সা.) -এর বলাটাকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি বিষয়টি জানতেন না। এটাই বুঝা যাচ্ছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৩-[৬] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আরবদের (ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম লোক, যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: إِنِّي لَأَوَّلُ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيل الله. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3728) و مسلم 16 / 2966)، (7433) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে সা'দ (রাঃ) যে বীর পুরুষ ছিলেন তার একটি নিদর্শন ফুটে উঠেছে। তিনি কাপুরুষ ছিলেন না। অন্য একটি সহীহ হাদীসে আছে, যখন তাঁর বিরুদ্ধে কাপুরুষের অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছিল তখন তিনি তাদের জবাব দেয়ার জন্য এ কথা বলেছিলেন। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৪-[৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (কোন এক অভিযান হতে) মদীনায় আগমনের পর রাত্রিতে (দুশমনের আশঙ্কায়) জেগে রইলেন এবং বললেন, যদি কোন সৎ লোক (এ রাত্রটি) আমাকে পাহারা দিত (তবে কতই না উত্তম হত!)। এমন সময় হঠাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি (সা.) প্রশ্ন করলেন, এই আগন্তক কে? বললেন, আমি সা’দ। তিনি (সা.) প্রশ্ন করলেন, এ সময় এখানে আগমনের উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন, আমার অন্তরে শত্রুদের তরফ হতে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি ভয় সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমি তাকে পাহারা দিতে এসেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর (নির্বিঘ্নে) ঘুমিয়ে পড়লেন। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْدِمَهُ الْمَدِينَةَ لَيْلَةً فَقَالَ: «لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا يَحْرُسُنِي» إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ سِلَاحٍ فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» قَالَ: أَنَا سَعْدٌ قَالَ: «مَا جَاءَ بِكَ؟» قَالَ: وَقَعَ فِي نَفْسِي خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ نَامَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2885) و مسلم (40 / 2410)، (6231) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْدِمَهُ الْمَدِينَةَ لَيْلَةً) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) কোন এক যুদ্ধ হতে মদীনাহ্ আগমনের সময় শত্রুর ভয়ে রাত্র জাগরণ করেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
(لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا يَحْرُسُنِي) মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, বাক্যটির অর্থ হলো অবশিষ্ট রাতগুলো আমাকে পাহারা দিবে যাতে আমি আত্মতৃপ্তি ও প্রশান্তির সাথে ঘুমাতে পারি এমনকি কোন মহৎ ব্যক্তি আছে? (মিরকাতুল মাফাতীহ)
হাফিয ইবনে হাজার ‘আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত বাক্য দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, শত্রুর ভয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও পাহারাদার নিযুক্ত করা বৈধ। আর মানুষের ওপর দায়িত্ব হলো তাদের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার নিহত হওয়ার ভয় থাকলে তাকে পাহারা দেয়া। যে ব্যক্তি উক্ত গুরুদায়িত্ব পালন করে তাকে হাদীসের ভাষায় “সালিহ” বা উত্তম ব্যক্তি বলা হয়েছে।
পাহারাদার নিযুক্ত করা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। ইবরাহীম আলায়হিস সালাম বলেছিলেন, (وَ لٰکِنۡ لِّیَطۡمَئِنَّ قَلۡبِیۡ) “...কিন্তু আমার আত্মতপ্তির জন্য..."- (সূরা আল বাকারাহ্ ২: ২৬০)।
আর নবী (সা.) বলেন, (اعقلها وتوكل) “আগে উটের রশি বাঁধ”, তারপর আল্লাহর প্রতি ভরসা কর।
‘আলিমগণ বলেন, উক্ত হাদীসটি নিম্নে উল্লেখিত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা, আয়াতটি হলো: (وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ)“...আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত হতে রক্ষা করবেন...”- (সূরাহ আল মায়িদাহ্ ৫: ৬৭)। নবী (সা.) পাহারাদার ছেড়ে দিয়েছেন যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (শারহুন নাবাবী হা, ২৪১০)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৫-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক উম্মতেরই একজন আমীন থাকে। আর এ উম্মতের সেই আমীন হলেন আবূ উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ্। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينٌ وَأَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجراح. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4382) و مسلم (53 / 2419)، (6252) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (وَأَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجراح) হাফিয ইবন হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে আবূ উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ -কে বিশেষভাবে আমানতের বা বিশ্বস্ততার গুণে গুনান্বিত করা হয়েছে, যদিও উক্ত গুণ অন্যান্য সাহাবীদের মাঝেও ছিল। কিন্তু তার মাঝে এই গুণটি অন্যান্য সাহাবীদের তুলনায় বেশি ছিল এটা বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, তাঁর মাঝে যতগুলো গুণ ছিল, তন্মধ্যে এ গুণটি বেশি ছিল। তাছাড়া নবী (সা.) - প্রত্যেক সাহাবীকে ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা ও গুণে গুণান্বিত করেছেন। যেমন 'উসমান (রাঃ)-কে লজ্জার গুণে গুনান্বিত করেছেন। আলী (রাঃ)-কে বিচারকের গুণে গুনান্বিত করেছেন। অনুরূপভাবে অন্যান্য সাহাবীদের ক্ষেত্রেও।
হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ ‘উবায়দাহ্ (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করার পূর্বে উপস্থিত সকল সাহাবী উদগ্রীব হয়েছিলেন যে, ঐ বিশ্বস্ততার গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিটি যেন আমি হই বা আমার নাম উল্লেখ করা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৭৬৭, শারহুন নাবাবী হা. ২৪১৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৬-[৯] ইবন আবূ মুলায়কাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে শুনেছি, যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সা.) যদি কাউকে খলীফাহ্ নিযুক্ত করে যেতেন, তাহলে কাকে নিযুক্ত করতেন? উত্তরে ’আয়িশাহ্ বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) -কে, এরপর কাকে? তিনি বললেন, ’উমার ফারূক (রাঃ) -কে। আবার প্রশ্ন করা হলো, আচ্ছা, “উমার ফারূক (রাঃ) -এর পর কাকে? তিনি বললেন, আবূ উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن ابْن أبي مليكَة قَالَ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ وَسُئِلَتْ: مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَخْلِفًا لَوِ اسْتَخْلَفَهُ؟ قَالَت: أَبُو بكر. فَقيل: ثُمَّ مَنْ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ؟ قَالَتْ: عُمَرُ. قِيلَ: مَنْ بَعْدَ عُمَرَ؟ قَالَتْ: أَبُو عُبَيْدَةَ بن الْجراح. رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (9 / 2385)، (6178) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৭-[১০] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বকর, উমার, উসমান, ’আলী, ত্বলহাহ্ ও যুবায়র (রাঃ) -সহ হেরা পর্বতের উপর ছিলেন। এমন সময় সেই পাথরটি হেলতে লাগল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, শান্ত হয়ে যাও। তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং শহীদ ছাড়া আর কেই নেই। আর কোন কোন বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস-এর নাম বাড়িয়েছেন এবং ’আলীর নাম উল্লেখ করেননি। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى حِرَاءٍ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ فَتَحَرَّكَتِ الصَّخْرَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اهْدَأْ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ» . وَزَادَ بَعْضُهُمْ: وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَلَمْ يَذْكُرْ عَلِيًّا. رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (50 / 2417)، (6247) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (اهْدَأْ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে নবী (সা.) মু'জিযাহ্ প্রকাশ পেয়েছে। কেননা নবী (সা.) ও আবূ বাকর (রাঃ) ব্যতীত সকল সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন, ‘উমার, ‘উসমান ও ‘আলী (রাঃ) সকলে শহীদ হয়েছিলেন যা খুব প্রসিদ্ধ। আর যুবায়র (রাঃ) বাসরার নিকটবর্তী সিবা' উপত্যকায় নিহত হন, অনুরূপভাবে তলহাহ (রাঃ)-কে লোকেরা যুদ্ধের ময়দানে ছেড়ে যায় এবং একটি তীরের আঘাতে তার মৃত্যু ঘটে। আর এটা প্রমাণিত যে, কোন ব্যক্তি অত্যাচারিত অবস্থায় মারা গেলে সে ব্যক্তি শহীদ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারা পরকালে মহাপ্রতিদান পাবেন আর দুনিয়াতে মালাক (ফেরেশতা) কর্তৃক গোসল ও দু'আপ্রাপ্ত হবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী হা. ২৪১৭)
(وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ) কেউ কেউ বলেন, সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তাঁর নিজ প্রাসাদে মৃত্যুবরণ করেন।
সাইয়িদ জামালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হতে পারে তিনি এমন কোন রোগে মৃত্যুবরণ করেন যা শহীদী হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।
‘রিয়ায’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি মদীনায় নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত মতের সমাধান দেয়া হয় এভাবে যে,
১) তিনি হুকমি শহীদ। [কেননা তিনি ও আবদুর রহমান (রাঃ) নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করেন]
২) অথবা তারা উভয়ে সিদ্দীক গুণের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ বলেন, (وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖۤ اُولٰٓئِکَ هُمُ الصِّدِّیۡقُوۡنَ ٭ۖ وَ الشُّهَدَآءُ عِنۡدَ رَبِّهِمۡ) “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করে তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ বলে গণ্য...”- (সূরা আল হাদীদ ৫৭: ১৯)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৮-[১১] ’আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: আবূ বকর জান্নাতবাসী, ’উমার জান্নাতী, ’উসমান জান্নাতী, ’আলী জান্নাতী, ত্বলহাহ্ জান্নাতী, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস জান্নাতী, সা’ঈদ ইবনু যায়দ জান্নাতী এবং আবূ ’উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ জান্নাতী । (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3747) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১১৯-[১২] আর ইমাম ইবনু মাজাহ (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি সা’ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ
صحیح ، رواہ ابن ماجہ (133) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২০-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মাঝে আবূ বকর উম্মতের জন্য সর্বাধিক দয়ালু। আর উম্মতের মধ্যে আল্লাহর বিধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর ’উমার। আর উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে প্রকৃত লাজুক ’উসমান। আর উম্মতের মধ্যে মীরাস সম্পর্কিত ব্যাপারে সর্বজ্ঞ যায়দ ইবনু সাবিত। আর উম্মতের মাঝে সর্বোত্তম কুরআন মাজীদের ক্বারী উবাই ইবনু কা’ব। আর উম্মতের মধ্যে হালাল ও হারাম সম্পর্কে সবচেয়ে জ্ঞানী মু’আয ইবনু জাবাল। আর প্রত্যেক উম্মতের মাঝে একজন আমীন থাকেন। এ উম্মতের আমীন হলেন আবূ ’উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ।
[আহমাদ ও তিরমিযী এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ]
আর এ হাদীসটি মামার সূত্রে কতাদাহ্ হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাতে রয়েছে, উম্মতের সর্বোত্তম বিচারক ’আলী (রাঃ)।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَرْحَمُ أُمَّتِي بِأُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ وَأَشَدُّهُمْ فِي أَمْرِ اللَّهِ عُمَرُ وَأَصْدَقُهُمْ حَيَاءً عُثْمَانُ وَأَفْرَضُهُمْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَقْرَؤُهُمْ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ وَأَعْلَمُهُمْ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينٌ وَأَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح وروى مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ مُرْسَلًا وَفِيهِ: «وَأَقْضَاهُمْ عَلِيٌّ»
اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (3 / 281 ح 14035) و الترمذی (3791) * حدیث معمر عن قتادۃ : رواہ عبد الرزاق (11 / 225 ح 20387) و سندہ ضعیف لارسالہ ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২১-[১৪] যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী (সা.) -এর দেহে দুটি লৌহবর্ম ছিল। তিনি একটি পাথরের উপর উঠতে চাইলেন, কিন্তু (বর্মের ভারী ওযনের দরুন) উঠতে পারছিলেন না। তখন ত্বলহাহ্ (রাঃ) রাসূল (সা.)-এর নিচে বসে গেলেন। এমনকি নবী (সা.) তার উপরে ভর দিয়ে পাথরটির উপরে উঠলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, ত্বলহাহ্ নিজের জন্য (জান্নাত) আবশ্যক করে নিয়েছে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ عَلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَقَعَدَ طَلْحَةُ تَحْتَهُ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَوْجَبَ طَلْحَةُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3738 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২২-[১৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ত্বলহাহ্ ইবনু ’উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, যদি কেউ এমন কোন লোককে জমিনের উপর চলাফেরা করতে দেখতে চায়, যে তার মৃত্যু-প্রতিজ্ঞাপূর্ণ করেছে, সে যেন এই লোকটির দিকে চেয়ে দেখে।
অপর এক বর্ণনায় আছে, যদি কেউ এমন শহীদকে দেখতে চায়, যে জমিনের উপর বিচরণ করেছে, সে যেন ত্বলহাহ্ ইবনু উবায়দুল্লাহ-কে দেখে নেয়। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقَدْ قَضَى نَحْبَهُ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا» . وَفِي رِوَايَةٍ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى شَهِيدٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ الله» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ضعیف ، رواہ الترمذی (3739 وقال : غریب) [و ابن ماجہ (125)] * الصلت بن دینار : متروک و للحدیث شواھد ضعیفۃ ولم اجد لہ طریقًا صحیحًا ولا حسنًا
ব্যাখ্যা: (فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ الله) উক্ত হাদীস নবী (সা.)-এর মু'জিযার অন্তর্ভুক্ত, কেননা ত্বলহাহ্ (রাঃ) উষ্ট্রির যুদ্ধে শহীদ হন যেটা শতসিদ্ধ।
মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হতে পারে এই ইশারা ত্বলহা (রাঃ)-এর শাহাদাত অর্জন ও শেষ পরিণতি সুন্দর ও ভালো হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৪৮, ইবনু মাজাহ ১২৫, মুসতাদরাক ৫৬১২, সহীহাহ্ ১২৬),
ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) মুখতাসারুন্ নিহায়াহ্” গ্রন্থে বলেন, যেন নবী (সা.) ত্বলহাহ্ (রাঃ)-কে আবশ্যক করে দিলেন যে, তিনি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন এবং শহীদ হবেন।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, ত্বলহাহ্ (রাঃ) উহুদ যুদ্ধের দিন নিজেকে নবী (সা.) -এর রক্ষক বানিয়ে ছিলেন। তিনি নিজ সম্পর্কে বলেন, উহুদের দিন আমার শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এমনকি আমার লজ্জাস্থানেও।
সাহাবীগণ তাঁর সম্পর্কে বলতেন, উহুদের দিন সম্পূর্ণটাই ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এর। আবূ হাফস্ সোহরাওয়ার্দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসের মতন কোন রূপক অর্থ প্রকাশ করে না, বরং প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৩-[১৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জবান হতে বলতে শুনেছে, ত্বলহাহ্ ও যুবায়র (রাঃ) তারা দু’জন জান্নাতে আমার প্রতিবেশী।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ أُذُنِي مِنْ فِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ جَارَايَ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3741) * فیہ عقبۃ بن علقمۃ و عبدالرحمن بن منصور العنزی : ضعیفان ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: (طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ جَارَايَ فِي الْجَنَّةِ) তুহফা প্রণেতা ‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে তুলহাহ ও যুবায়র (রাঃ) উভয়কে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে এবং সেই সাথে উভয়ের অতিরিক্ত মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে যে, উভয়ে জান্নাতে নবী (সা.) -এর প্রতিবেশী হবেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৫০)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৪-[১৭] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেদিন অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধের দিন বললেন, হে আল্লাহ! তার তীর নিক্ষেপ সঠিক ও দৃঢ় কর এবং তার দু’আ গ্রহণ কর। (শারহুস্ সুন্নাহ্)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَئِذٍ يَعْنِي يَوْمَ أُحُدٍ: «اللَّهُمَّ اشْدُدْ رَمْيَتَهُ وَأَجِبْ دعوتَه» . رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»
اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 124 ۔ 125 ح 3922) [و الحاکم (3 / 499 ۔ 500) و ابن حبان (2215)] * فیہ ابراھیم بن یحیی الشجری و ابوہ ضعیفان و اسماعیل بن ابی خالد مدلس و عنعن ان صح السند الیہ ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৫-[১৮] উক্ত রাবী [সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি সা’দ-এর দু’আ গ্রহণ কর যখনই সে দু’আ করে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اسْتَجِبْ لِسَعْدٍ إِذَا دَعَاكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3751) * اسماعیل بن ابی خالد مدلس و عنعن و للحدیث شواھد
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৬-[১৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর মা-বাপকে একত্রে উৎসর্গ হওয়ার কথা সা’দ ছাড়া আর কারো জন্য উচ্চারণ করেননি। তিনি উহুদের দিন তাকে কেন্দ্র করে বললেন, তীর নিক্ষেপ কর হে বাহাদুর যুবক! আমার পিতা ও আমার মাতা তোমার জন্য কুরবান হোন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَاهُ وَأُمَّهُ إِلَّا لِسَعْدٍ قَالَ لَهُ يَوْمَ أُحُدٍ: «ارْمِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» وَقَالَ لَهُ: «ارْمِ أَيهَا الْغُلَام الحزور» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3753 ، 2829 وقال : حسن صحیح) * فیہ سفیان بن عیینۃ وھو مدلس عنعن وکان یدلس عن الثقات و الضعفاء و المدلسین کما حققتہ فی تخریج الفتن و الملاحم ، و قولہ :’’ ارم ایھا الغلام الحزور ‘‘ سندہ ضعیف و باقی الحدیث صحیح بالشواھد
ব্যাখ্যা: (ارْمِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي) আবদুর রহমান মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পিতা-মাতা উভয়কে একত্রে ‘ফিদা বা উৎসর্গ করা বৈধ। এ মত পোষণ করেন জমহুর বা অধিকাংশ ‘আলিমগণ। কিন্তু এ মতের বিরোধিতা করেছেন ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ), হাসান বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) ও কতিপয় ‘আলিমবৃন্দ এবং কোন মুসলিম তার পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করুক এটা তারা অপছন্দ করেছেন। তবে সঠিক মত হলো সাধারণত এমনটি করা বৈধ। কেননা এর দ্বারা প্রকৃত উৎসর্গ করা হয় না। এটা শুধুমাত্র একটি কথা, সম্পর্ক ও তার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাধারণত ‘ফিদা বা উৎসর্গ সংক্রান্ত অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা বৈধতার প্রতি প্রমাণ বহন করে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৬৪)
(ارْمِ أَيهَا الْغُلَام الحزور) নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, গোলাম হলো যে ব্যক্তি বালেগের কাছাকাছি বয়সে পৌছে।
সাইয়িদ জামালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে প্রকৃত অর্থ হলো যুবক, কেননা সা'দ যুদ্ধের সময় বালেগ বয়স পার করেছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৭-[২০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সা’দ (রাঃ) নবী (সা.) -এর সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তখন নবী (সা.) বললেন, ইনি হলেন আমার মামা, অতএব কারো যদি এমন মামা থেকে থাকেন, তবে সে আমাকে দেখাক। (তিরমিযী)
ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সা’দ (রাঃ) ছিলেন যুহরাহ্ বংশের লোক আর নবী (সা.) -এর মাতাও ছিলেন সে বানী যুহরাহ্-এর কন্যা। এ হিসেবে নবী (সা.) (সা’দকে) বলেছেন, “ইনি আমার মামা। মাসাবীহ-এর গ্রন্থকার (فَلْيُرني) ’তবে সে আমাকে দেখবে’-এর পরিবর্তে (فلْيُكرمَنَّ) অর্থাৎ ’অবশ্যই তার সম্মান করা উচিত’ শব্দ বর্ণনা করেছেন।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن جَابر قَالَ: أَقْبَلَ سَعْدٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَالِي فَلْيُرِنِي امْرُؤٌ خَالَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: كَانَ سَعْدٌ مِنْ بَنِي زهرَة وَكَانَتْ أُمُّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَنِي زُهْرَةَ فَلِذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَالِي» . وَفِي «الْمَصَابِيحِ» : «فلْيُكرمَنَّ» بدل «فَلْيُرني»
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3752 وقال : حسن) * مجالد ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند الحاکم (3 / 491) وغیرہ
ব্যাখ্যা: (هَذَا خَالِي فَلْيُرِنِي) মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার মামার মত অন্য কারো মামা হতে পারে না। এ কথা প্রকাশার্থে নবী (সা.) এমনটি বলেছেন। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাক্যের প্রকাশভঙ্গি হলো এমন যে, তাকে নিয়ে অবশ্যই আমি মানুষের কাছে গর্ব করি, অতএব প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার মামাকে আমার মতো করে দেখায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৭৬১)
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ), সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর “মানাকিব”-এ বলেন, যুহরাহ্ গোত্রের সন্তানেরা নবী (সা.)-এর মামা।
ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কেননা নবী (সা.) -এর মা যুহরাহ্ গোত্রের ছিলেন। আর মায়ের পিতৃ গোত্রও নিকটবর্তী লোক মামা সমতুল্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৬১)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৮-[২১] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ’আরবদের মাঝে আমিই সর্বপ্রথম লোক, যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। আর আমরা নিজেদেরকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে জিহাদে বের হয়েছি এবং আমাদের কাছে কোন খাদ্যদ্রব্য ছিল না, শুধু গাছের গোটা এবং বাবলার পাতা ছাড়া। যার ফলে আমাদের প্রতিটি লোক বকরির মলের মতো বড়ি বড়ি আকারে মল ত্যাগ করত। অতঃপর (পরবর্তীকালে) বানী আসাদ গোত্র আমাকে ইসলাম (সালাত) সম্পর্কে তিরস্কার করছে, এমতাবস্থায় তো আমি খুবই হতভাগা হব এবং আমার সকল ’আমল অহেতুক সাব্যস্ত হবে। আর (সা’দ এজন্য এ কথা বললেন যে,) বানূ আসাদ ’উমার (রাঃ)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে কটাক্ষ করেছিল এবং তারা অভিযোগে করেছিল যে, তিনি সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে জানেন না। (বুখারী ও মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
عَن قيس بن حَازِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ: إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَرَأَيْتُنَا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لَنَا طَعَامٌ إِلَّا الْحُبْلَةَ وَوَرَقَ السَّمُرِ وَإِنْ كَانَ أَحَدنَا ليضع كَمَا تضع الشَّاة مَاله خِلْطٌ ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ تُعَزِّرُنِي عَلَى الْإِسْلَامِ لَقَدْ خِبْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي وَكَانُوا وَشَوْا بِهِ إِلَى عُمَرَ وَقَالُوا: لَا يُحْسِنُ يُصَلِّي. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3728) و مسلم (12 / 2966)، (7433) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ) হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত ঘটনাটি ঘটেছিল ‘উবায়দাহ্ ইবনু হারিস ইবনু মুত্ত্বালিব-এর ‘সারিয়া’য় (বা ছোট যুদ্ধ যার লোক সংখ্যা থাকে ৩-৬ জন) এটি প্রথম যুদ্ধ ছিল যা মুসলিম ও মুশরিকদের মাঝে সংঘটিত হয়েছিল। এটি প্রথম হিজরীতে সংঘটিত হয়। তিনি মুসলিমদের একটি দল “রাবেগ’ নামক অঞ্চলে পাঠান এবং সেখানে কুরায়শদের কাফিলার সাথে সাক্ষাৎ হয় ও পরস্পরের মাঝে তীর নিক্ষেপ হয়। আর সা'দ (রাঃ) সেখানে সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপ করেন। (ফাতহুল বারী হা, ৩৭২৮)
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে সা'দ (রাঃ)-এর স্পষ্ট মর্যাদা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং মানুষ প্রয়োজনে নিজের প্রশংসা করতে পারে ইসলামে তার বৈধতা রয়েছে। (শারহুন নাবাবী হা, ২৯৬৬)।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে সালাতকে ইসলাম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেমন কুরআনে সালাতকে ঈমান দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, (وَ مَا کَانَ اللّٰهُ لِیُضِیۡعَ اِیۡمَانَکُمۡ)...আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না...।” (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২: ১৪৩) এখানে ঈমান দ্বারা সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
প্রেক্ষিত ঘটনা: সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর নেতত্বে খলীফাহ্ ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ‘ইরাক বিজয় হয়। খলীফাহ্ সা'দ-কে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করলে কতিপয় লোক খলীফার নিকট সা'দ-এর বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা অভিযোগ করে; তন্মধ্যে একটি অভিযোগ এই যে, তিনি সঠিক সালাত আদায় করতে জানে না। অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শিখানো সময় ও পদ্ধতিতেই সালাত আদায় করতেন। তার ওপর এই মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন: (لَقَدْ خِبْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي) “তাহলে আমি তো হব হতভাগা, আমার সব ‘আমল হবে ব্যর্থ।” এ বাক্যটি সেদিকে ইশারা করেছে। (আসহাবে রসূলের জীবন কথা ১ম খণ্ড)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১২৯-[২২] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমাকে এ অবস্থায় দেখতে পেয়েছি যে, আমি ছিলাম ইসলামের তৃতীয় লোক। তিনি আরো বলেন, আমি যে সময় ইসলাম গ্রহণ করেছি, তখন আর কেউই ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং [পর] সাত দিন অবধি আমি ইসলামের এক-ততীয়াংশ হিসেবে ছিলাম। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ سَعْدٍ قَالَ: رَأَيْتُنِي وَأَنَا ثَالِثُ الْإِسْلَامِ وَمَا أَسْلَمَ أَحَدٌ إِلَّا فِي الْيَوْمِ الَّذِي أَسْلَمْتُ فِيهِ وَلَقَدْ مَكَثْتُ سَبْعَةَ أَيَّامٍ وَإِنِّي لثالث الْإِسْلَام. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3727) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩০-[২৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীগণকে বলতেন, আমার পর তোমাদের অবস্থা কি হবে, তা আমাকে চিন্তিত রাখে। আর একমাত্র সাবির ও সিদ্দীকগণই তোমাদের ব্যাপারে সবরের পরিচয় দেবে। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যারা দান-সদাক্বাহ করেন। অতঃপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ) আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার আব্বাকে জান্নাতের ’সালসাবীল’ নহর হতে তুষ্ট করুন। এই ’আবদুর রহমান ইবনু আওফ উম্মহাতুল মু’মিনীনের জন্য একটি বাগান দিয়েছিলেন, যা চল্লিশ হাজারে (দীনারে) বিক্রয় হয়েছে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ لِنِسَائِهِ: «إِنَّ أَمْرَكُنَّ مِمَّا يَهُمُّنِي مِنْ بَعْدِي وَلَنْ يَصْبِرَ عَلَيْكُنَّ إِلَّا الصَّابِرُونَ الصِّدِّيقُونَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: يَعْنِي الْمُتَصَدِّقِينَ ثُمَّ قَالَتْ عَائِشَةُ لِأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَقَى اللَّهُ أَبَاكَ مِنْ سَلْسَبِيلِ الْجَنَّةِ وَكَانَ ابنُ عوفٍ قَدْ تَصَدَّقَ عَلَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِحَدِيقَةٍ بِيعَتْ بِأَرْبَعِينَ ألفا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3749 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (إِنَّ أَمْرَكُنَّ مِمَّا يَهُمُّنِي مِنْ بَعْدِي) তুহফা প্রণেতা বলেন, নবী (সা.) উক্ত কথা তার স্ত্রীদের সম্বোধন করে বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমার মৃত্যুর পর তোমাদের কি অবস্থা হবে তা আমাকে চিন্তিত করে রাখে। কেননা তাদের জন্য কোন ‘মীরাস' বা উত্তরাধিকার সম্পদ রেখে জাননি। কারণ তাঁর স্ত্রীদের যখন দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন হতে কোন একটিকে চয়ন করতে বলা হয় তখন তারা পরকালের জীবনকে পছন্দ করে নেয় বা প্রধান্য দেয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৫৮)
ইমাম তাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ (রাঃ)-এর ‘মীরাস' ষোল ভাগে ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেক মহিলা দুই লক্ষ দিরহাম করে ভাগে পান। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩১-[২৪] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে তাঁর বিবিদের লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি, আমার (ওফাতের) পর যে লোক তোমাদেরকে অঞ্জলি ভরে দান করবে, সে সাচ্চা (ঈমানদার) এবং সৎ। হে আল্লাহ! তুমি আবদুর রহমান ইবনু আওফ-কে জান্নাতের সালসাবীল হতে পান করাও। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَزْوَاجِهِ: «إِنَّ الَّذِي يَحْثُو عَلَيْكُنَّ بَعْدِي هُوَ الصَّادِقُ الْبَارُّ اللَّهُمَّ اسْقِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ مِنْ سلسبيلِ الجنةِ» . رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 299 ح 27094) [و الحاکم (3 / 311)] * محمد بن اسحاق مدلس و عنعن و محمد بن عبد الرحمن بن عبداللہ بن الحصین و ثقہ ابن حبان وحدہ ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩২-[২৫] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাজরানবাসীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একজন আমানতদার (বিশ্বস্ত) শাসক পাঠান। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য একজন অতি বিশ্বস্ত আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠাব। অতঃপর সাহাবীগণ এই মর্যাদা লাভের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ-কে পাঠালেন। (বুখারী ও মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: جَاءَ أَهْلُ نَجْرَانَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ إِلَيْنَا رَجُلًا أَمِينًا. فَقَالَ: «لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ» فَاسْتَشْرَفَ لَهَا الناسُ قَالَ: فَبعث أَبَا عبيدةَ بن الْجراح. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3745) و مسلم (55 / 2420)، (6254) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৩-[২৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার পর কাকে আমাদের আমির নিযুক্ত করব? উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, যদি তোমরা আবূ বকর-কে নিজেদের আমীর নিযুক্ত কর, তখন তাকে পাবে অতি বিশ্বস্ত, আমানতদার, দুনিয়াত্যাগী, পরকালমুখী। আর তোমরা যদি ’উমারকে নিজেদের আমীর নিযুক্ত কর, তখন তাকে পাবে শক্তিশালী, আমানতদার, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে সে কারো তিরস্কারের প্রতি গুরুত্ব দিবে না। আর তোমরা যদি ’আলীকে নিজেদের আমির নিযুক্ত কর, তবে আমার ধারণা তোমরা এরূপ করবে না, তখন তোমরা তাকে সরল পথপ্রদর্শক এবং সঠিক পথের অনুসারী পাবে, আর তোমাদেরকেও সে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَن عَليّ قَالَ: قيل لرَسُول اللَّهِ: مَنْ نُؤَمِّرُ بَعْدَكَ؟ قَالَ: «إِنْ تُؤَمِّرُوا أَبَا بَكْرٍ تَجِدُوهُ أَمِينًا زَاهِدًا فِي الدُّنْيَا رَاغِبًا فِي الْآخِرَةِ وَإِنْ تُؤَمِّرُوا عُمَرَ تَجِدُوهُ قَوِيًّا أَمِينًا لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ وَإِنْ تُؤَمِّرُوا عَلِيًّا - وَلَا أَرَاكُمْ فَاعِلِينَ - تَجِدُوهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا يَأْخُذُ بِكُمُ الطَّرِيقَ الْمُسْتَقِيمَ» . رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 109 ح 859) * فیہ ابو اسحاق السبیعی مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশারাহ্ মুবাশশারা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৪-[২৭] উক্ত রাবী [’আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা আবূ বকর-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি স্বীয় কন্যাকে আমার কাছে বিবাহ দিয়েছেন, নিজের উটে আমাকে সওয়ার করিয়ে ’দারুল হিজরতে’ নিয়ে এসেছেন, সাওর গুহায় আমার সাথে ছিলেন এবং নিজের সম্পদ দ্বারা বিলাল-কে ক্রয় করে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ তা’আলা ’উমার-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি সত্যবাদী ছিলেন, যদিও তা (কারো কাছে) তিক্ত হত। সত্যবাদিতা তাঁকে এমন পর্যায়ে পৌছিয়েছেন যে, তাঁর কোন বন্ধু নেই। আল্লাহ তা’আলা ’উসমান-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন, ফেরেশতাও তাঁকে দেখে লজ্জা পায়। আল্লাহ তা’আলা ’আলী-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। হে আল্লাহ! হককে ’আলী-এর সাথে করে দাও, যেদিকে ’আলী থাকেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ الْعَشَرَةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَحِمَ اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ زَوَّجَنِي ابْنَتَهُ وَحَمَلَنِي إِلَى دَارِ الْهِجْرَةِ وَصَحِبَنِي فِي الْغَارِ وَأَعْتَقَ بِلَالًا مِنْ مَالِهِ. رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ يَقُولُ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا تَرَكَهُ الْحَقُّ وَمَا لَهُ مِنْ صَدِيقٍ. رَحِمَ اللَّهُ عُثْمَانَ تَسْتَحْيِيهِ الْمَلَائِكَةُ رَحِمَ اللَّهُ عَلِيًّا اللَّهُمَّ أَدِرِ الْحَقَّ مَعَهُ حَيْثُ دَارَ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3714) * فیہ مختار بن نافع : ضعیف ۔
(ضَعِيفٌ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৫-[১] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (ندْعُ أبناءنا وأبناءكم) “আসো আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে”- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩: ৬১); আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ’আলী, ফাতিমা ও হাসান এবং হুসায়ন (রাঃ)-কে আহ্বান করে বললেন, হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার আহলে বায়ত। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: لَمَّا نزلت هَذِه الْآيَة [ندْعُ أبناءنا وأبناءكم] دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ: «اللَّهُمَّ هَؤُلَاءِ أهل بَيْتِي» رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (32 / 2404)، (6220) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৬-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে নবী (সা.)- একখানা কালো রঙের পশমি নকশী কম্বল গায়ে দিয়ে বের হলেন। এমন সময় হাসান ইবনু ’আলী সেখানে আসলেন, তিনি (সা.) তাঁকে কম্বলের ভিতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপর হুসায়ন আসলেন, তাঁকেও হাসান-এর সাথে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর ’আলী আসলেন, তাঁকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন- “হে আমার আহলে বায়ত! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের গুনাহের অপবিত্রতা হতে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চান”- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৩৩)। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلَيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ: [إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أهل الْبَيْت وَيُطَهِّركُمْ تَطْهِيرا] رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (61 / 2424)، (6261) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: ইমাম আযহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (رجْسَ) 'রিযসা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক ঘৃণিত কাজ। কেউ কেউ বলেন, অন্তরের সন্দেহ। এর শাব্দিক অর্থ নোংরা কাজ, পঙ্কিলতা। এভাবে পাপকর্ম বা পাপের পঙ্কিলতাকে বুঝানো হয়েছে।
অনেকে বলেন, এর অর্থ শান্তি। (শারহুন নাবাবী হা. ২৪২৫)
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (ذَنْبٌ) শব্দের ভাষার অলঙ্কার করে (رِجْسٌ) শব্দ বলা হয়েছে।
মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) -এর স্ত্রীগণ আহলে বায়তের মধ্যে শামিল হবেন আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে। তিনি বলেন, (یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسۡتُنَّ کَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ) “হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য কোন স্ত্রীদের মতো নও..”- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৩২)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৭-[৩] বারা’ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ছেলে ইবরাহীম (রাঃ) যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয় তার জন্য জান্নাতে একজন ধাত্রী রয়েছে। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن الْبَراء قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ إِبْرَاهِيمُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجنَّة» رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (1382) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৮-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.) -এর স্ত্রীগণ তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় ফাতিমা আসলেন। তাঁর চলার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চলার ভঙ্গির সাথে পরিষ্কার মিল ছিল। তিনি (সা.) তাঁকে দেখে বললেন, হে আমার কন্যা! তোমার আগমন মুবারক হোক। অতঃপর তিনি (সা.) তাঁকে নিজের কাছে বসালেন, তারপর চুপে চুপে তাকে কিছু বললেন। এতে ফাতিমাহ্ (রাঃ) ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর যখন তার অস্থিরতা দেখলেন, তখন তিনি (সা.) আবার তার কানে চুপে চুপে কিছু বললেন, এবার তিনি হাসতে লাগলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সেখান থেকে উঠে গেলেন, তখন আমি ফাতিমাকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) চুপে চুপে তোমার সাথে কি কথা বলেছেন? উত্তরে ফাতিমাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গোপনীয়তা ফাস করতে চাই না। রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর ওফাতের পর আমি ফাতিমাহ্-কে বললাম, তোমার ওপর আমার যে অধিকার রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, সে রহস্য সম্পর্কে তুমি আমাকে অবশ্যই অবহিত করবে।
ফাতিমাহ্ (রাঃ) বললেন, এখন সে কথাটি প্রকাশ করতে কোন আপত্তি নেই। প্রথমবার যখন তিনি চুপি চুপি আমাকে কিছু কথা বললেন, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর (রমযানে) একবার পুরো কুরআন মাজীদকে আমার কাছ থেকে শুনতেন, আমাকে শুনাতেন, কিন্তু এ বছর তিনি তা দু’বার দাওর করেছেন। তাতে আমি ধারণা করি যে, আমার ওফাতের সময় নিকটবর্তী হয়ে গেছে। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। আমি তোমার জন্য শ্রেয় অগ্রযাত্রী। এ কথা শুনে আমি কাঁদতে লাগলাম। অতঃপর যখন তিনি (সা.) আমাকে অস্থির দেখলেন তখন চুপে চুপে বললেন, হে ফাতিমাহ্! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি হবে জান্নাতের নারীকুলের নেতা অথবা মু’মিন নারীদের নেত্রী? অপর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (সা.) চুপে চুপে আমাকে এ খবরটি দিয়েছেন যে, এই অসুখেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তারপর (দ্বিতীয়বার) তিনি চুপে চুপে আমাকে এ সংবাদটি দিলেন যে, তাঁর পরিজনদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর পশ্চাদগামী হব, তখন আমি হেসে ফেললাম। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَائِشَةَ: قَالَتْ: كُنَّا - أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عِنْدَهُ. فَأَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ مَا تَخْفَى مِشْيَتُهَا مِنْ مِشْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَآهَا قَالَ: «مَرْحَبًا بِابْنَتِي» ثُمَّ أَجْلَسَهَا ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكَتْ بُكَاءً شَدِيدًا فَلَمَّا رَأَى حُزْنَهَا سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَإِذَا هِيَ تَضْحَكُ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلْتُهَا عَمَّا سَارَّكِ؟ قَالَتْ: مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرَّهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ قُلْتُ: عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لي عَلَيْك مِنَ الْحَقِّ لِمَا أَخْبَرْتِنِي. قَالَتْ: أَمَّا الْآنَ فَنَعَمْ أَمَّا حِينَ سَارَّ بِي فِي الْأَمْرِ الأوَّل فإِنه أَخْبرنِي: «إِنَّ جِبْرِيل كَانَ يُعَارضهُ بِالْقُرْآنِ كل سنة مرّة وَإنَّهُ قد عَارَضَنِي بِهِ الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أَرَى الْأَجَلَ إِلَّا قَدِ اقْتَرَبَ فَاتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي فَإِنِّي نعم السّلف أَنا لَك» فَلَمَّا رَأَى جَزَعِي سَارَّنِيَ الثَّانِيَةَ قَالَ: «يَا فَاطِمَةُ أَلَا تَرْضِينَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَوْ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ؟» وَفِي رِوَايَةٍ: فَسَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ يُقْبَضُ فِي وَجَعِهِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِ بَيْتِهِ أتبعه فَضَحكت. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6285 ۔ 6286 و الروایۃ الثانیۃ : 3626) و مسلم (98 / 2450 و الروایۃ الثانیۃ : 97 / 2450)، (6313) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (سَأَلْتُهَا عَمَّا سَارَّكِ؟) আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাঁর জিজ্ঞাসার প্রকৃত প্রকাশভঙ্গি ছিল, “আমি তোমার কাছে একমাত্র সেই বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, যে বিষয়টি নবী (সা.) তোমার কাছে গোপনে বলেছিলেন।
উক্ত হাদীসের বাহ্যিকটা এটা প্রমাণ করে যে, ফাতিমাহ্ (রাঃ) সকল মহিলাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বা মহিলা, এমনকি খাদীজাহ্, ‘আয়িশাহ্, মারইয়াম ও আসিয়াহ (রাঃ) থেকেও। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
হাফিয ইবনু বাত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কারো গোপন কথা প্রকাশ করা উচিত নয়। যদি গোপনকারী ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে। ফাতিমাহ (রাঃ) যদি নবী (সা.) -এর গোপন কথা তাঁর স্ত্রীদের কাছে বলে দিতেন তাহলে তাদের চিন্তা আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হত। তিনি (সা.) যদি বলে দিতেন যে, তিনি মুমিন মহিলাদের নেত্রী হবেন। তাহলে তাদের এ বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হত। তাদের মৃত্যুর পর যখন তিনি এ আশঙ্কা হতে মুক্ত হলেন তখন তিনি উক্ত বিষয়টি বলে দিলেন। (ফাতহুল বারী হা. ৬২৮৫ ও ৬২৮৬)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৩৯-[৫] মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফাতিমা আমার (দেহেরই) একটি টুকরা, যে তাকে ক্রোধান্বিত করবে, সে নিশ্চয় আমাকে ক্রোধান্বিত করবে।
অপর এক বর্ণনায় আছে, সে যা ঘৃণা করে আমি তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن المِسور بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي» وَفِي رِوَايَةٍ: «يُرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذاها» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3767 و الروایۃ الثانیۃ : 5230) و مسلم (93 / 2449)، (6307) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (بَضْعَةٌ مِنِّي) কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো গোশতের টুকরা। ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.)-এর গোশতের টুকরার চেয়ে কেউ অধিক উত্তম হতে পারে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা, ৩৭৬৭)
(فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي) সুহায়ল (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত বাক্য হতে দলীল গ্রহণ করেছেন, যে ব্যক্তি ফাতিমাহ (রাঃ)-কে গালি দিবে সে ব্যক্তি কাফির, কেননা যে ব্যক্তি ফাতিমা (রাঃ)-কে গালি দিল সে যেন নবী (সা.) -কে গালি দিল। আর যে ব্যক্তি নবী (সা.)-কে গালি দিল সে কাফির।
‘আলিমগণ বলেন, এ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়, নবী (সা.)-কে সকল অবস্থায় ও মুহূর্তে কষ্ট দেয়া হারাম। এখানে আরো স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর নবীর মেয়ে ও আল্লাহর শত্রুর মেয়ে একত্রে বিবাহ করা হারাম।
উক্ত হাদীসে নবী (সা.)-এর দুটি মু'জিযাহ্ প্রকাশ পেয়েছে, (১) নবী (সা.) -এর মৃত্যুর পর ফাতিমাহ্ (রাঃ)-এর কিছুকাল জীবিত থাকা। (২) তাঁর পরিবার হতে সর্বপ্রথম ফাতিমা (রাঃ) তার সাথে সাক্ষাত লাভ। (শারহুন নাবাবী হা, ২৪৪৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪০-[৬] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - মক্কাহ্ ও মদীনার মাঝামাঝি ’খুম নামক জলাশয়ের কাছে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে ভাষণ দান করলেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নাসীহত করলেন, অতঃপর বললেন, এটা (আম্মা বা’দ) সাবধান! হে লোকসকল! নিশ্চয় আমি একজন মানুষই, শীঘ্রই আমার কাছে আল্লাহর দূত (মালাকুল মাওত) আসবে, তখন আমি আমার রবের আহ্বানে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, আল্লাহর কিতাব’, এর মধ্যে রয়েছে হিদায়াত ও জ্যোতি। অতএব, তোমরা আল্লাহর কিতাবকে খুব শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং দৃঢ়তার সাথে তার বিধি-বিধান মেনে চল। (বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কিতাবের নির্দেশাবলী শক্তভাবে মেনে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। এরপর তিনি বললেন, (দ্বিতীয়টি হলো) আমার আহলে বায়ত সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষ নসীহত করছি। অপর এক বর্ণনাতে আছে, আল্লাহর কিতাব হলো আল্লাহর রশি। যে লোক তার আনুগত্য করবে, সে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। আর যে তাকে পরিত্যাগ করবে, সে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ হয়ে যাবে। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فِينَا خَطِيبًا بِمَاءٍ يُدْعَى: خُمًّا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ: أمَّا بعدُ أَلا أيُّها النَّاس فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَنِي رَسُولُ رَبِّي فَأُجِيبَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ: أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ اللَّهِ وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ: «وَأَهْلُ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي» وَفِي رِوَايَة: «كتاب الله عز وَجل هُوَ حَبْلُ اللَّهِ مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الْهُدَى وَمَنْ تَرَكَهُ كَانَ عَلَى الضَّلَالَةِ» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (36 / 2408)، (6225) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (أَنَا تَارِكٌ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ) এখানে দুটি ভারী জিনিসের কথা বলা হয়েছে: (১) আল্লাহর কিতাব, (২) তার পরিবারবর্গ। এ দুটিকে ভারী বলার কারণে হলো, উভয়ের প্রতি আমল করা ও অনুসরণ করা খুবই কঠিন। ফায়িক গ্রন্থকার বলেন, ভারী জিনিস হলো ঐ পণ্য সামগ্রী যা বহন করা হয় চতুষ্পদ জন্তুর উপর। মানুষ ও জিন্কে ভারী বলা হয়, কারণ জমিনের উপর এরাই সবচেয়ে ভারী জিনিস।
শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল্লাহর কিতাব ও আহলে বায়তকে ভারী বলার কারণে হলো, এ দু’টি গ্রহণ ও এর প্রতি দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন। অথবা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অধিক কষ্ট ছাড়া পালন করা সম্ভব হয় না।
(أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي) আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আহলে বায়তের মর্যাদার প্রতি আমি তোমাদের সতর্ক করছি। আর আমি তোমাদের বলছি, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাদের কোন কষ্ট দিও না, আর তাদের মান-সম্মান সংরক্ষণ কর।
যায়দ (রাঃ)-কে আহলে বায়ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় নবী (সা.) -এর স্ত্রীগণ কি আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত নয়? উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ। কিন্তু পরবর্তীতে যাদের ওপর সদাক্বার মাল হারাম করা হয়েছিল তাদেরকে আহলে বায়ত বলে গণ্য করা হত। তাকে বলা হলো তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হলেন (১) ‘আলী (রাঃ) (২) জা'ফার (রাঃ) (৩) “উকায়ল (রাঃ) ও (৪) ‘আব্বাস (রাঃ) -এর পরিবারবর্গ। তাকে বলা হলো, তাদের সকলের ওপর কি সদাক্বার মাল হারাম করা হয়েছিল? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
শারহে মুসলিমে বলা হয়েছে, নবী (সা.) তাদের, সম্মান করতে বলেছেন এবং তাদের অধিকারের ব্যাপারে উপদেশ দিয়েছেন।
ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আহলে বায়ত হলো শুধু বানী হাশিম। অনেকে বলেন, বানূ হাশিম ও বানূ মুত্তালিব।
(كتاب الله عز وَجل هُوَ حَبْلُ اللَّهِ) মহান আল্লাহর কিতাব হলো আল্লাহর রশি’ এ বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর অঙ্গীকার।
কেউ কেউ বলেন, এমন একটি যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সঠিক পথের দিকে পৌছে দেয়। অনেকে বলেন, আল্লাহর আলো, যার দ্বারা সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। (শারহুন নাবাবী হা. ২৪০৮)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪১-[৭] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যখনই ’আবদুল্লাহ ইবনু জাফরকে সালাম করতেন, তখন (এভাবে) বলতেন, হে দুই ডানাবিশিষ্ট লোকের পুত্র! আসসালামু আলাইকা। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن ابْن عمر أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَلَّمَ عَلَى ابْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: السَّلَام عَلَيْك يَا ابْن ذِي الجناحين. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3709) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (ذِي الجناحين) কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) জাফার (রাঃ)-কে জান্নাতে মালায়িকার (ফেরেশতাদের) সাথে উড়তে দেখেছেন। যার দরুন তাকে “যুল যানাহায়ন” বা (দুই ডানাওয়ালা) উপাধিত ভূষিত করেছেন। এ কারণে তার নামকরণ করা হয়েছে তয়্যার (যে অধিক উড়ে)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪২-[৮] বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে দেখেছি যে, তিনি হাসান ইবনু ’আলীকে স্বীয় কাঁধের উপর রেখে বলছেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ عَلَى عَاتِقِهِ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ» مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3749) و مسلم (58 / 2422)، (6258) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৩-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন দিনের একাংশে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে বের হলাম। অবশেষে তিনি (সা.) ফাতিমা (রাঃ) -এর গৃহের কাছে এসে বললেন, খোকা এখানে আছে কি? খোকা এখানে আছে কি? অর্থাৎ ’হাসান। অনতিবিলম্বে তিনি দৌড়িয়ে এসে গলা জড়িয়ে ধরলেন একে অন্যের। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! আমি তাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো। আর যে তাকে ভালোবাসবে তুমি তাকেও ভালোবাসো। (বুখারী ও মুসলিম)।
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةٍ مِنَ النَّهَارِ حَتَّى أَتَى خِبَاءَ فَاطِمَةَ فَقَالَ: «أَثَمَّ لُكَعُ؟ أَثَمَّ لُكَعُ؟» يَعْنِي حَسَنًا فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ جَاءَ يَسْعَى حَتَّى اعْتَنَقَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2122) و مسلم (57 / 2421)، (6257) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (أَثَمَّ لُكَعُ؟ أَثَمَّ لُكَعُ؟) নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, (لُكَعُ) (লুকা') শব্দ দ্বারা আরবগণ দাসকে বুঝাতেন। পরবর্তীতে নির্বোধ ও তুচ্ছ বিষয়কে বুঝাতে লুকা ব্যবহার করা হয় এবং কখনো কখনো ছোট শিশুকে নির্দেশ করে। যদি উক্ত শব্দ কোন বড় জিনিসের প্রতি ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে স্বল্প জ্ঞানী ও নির্বোধ। ইমাম কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ছোটদের আদর ও স্নেহ করা। ইমাম ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, “মুআনাকা” করা বা ঘাড়ের সাথে ঘাড় মিলানো বৈধ।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুআনাকা করার ক্ষেত্রে ছোটদের স্পর্শ করা ও তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা বৈধ। ছোট শিশু ও অন্যান্যদের সাথে বিনয় নম্র ব্যবহার করা মুস্তাহাব।
(اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ) “হে আল্লাহ! আমি তাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো আর যে তাকে ভালোবাসবে তুমি তাকেও ভালোবাসো।”
মিরকাতুল মাফাতীহ প্রণেতা এ কথার ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তার প্রেমিক ও বন্ধু বানাও। আমাদের তার শত্রু ও দুশমন বানিও না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৪-[১০] আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে এমন অবস্থায় মিম্বারের উপর দেখলাম যে, তাঁর পাশে রয়েছেন হাসান ইবনু ’আলী। আর নবী (সা.) কখনো লোকেদের প্রতি তাকাচ্ছেন, আবার কখনো হাসানের দিকে তাকিয়ে বলছেন, আমার এ পুত্র নেতা এবং সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা মুসলিমদের দু’টি বিরোধমান বড় দলের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেবেন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أبي بكرَة قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ إِلَى جَنْبِهِ وَهُوَ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ مَرَّةً وَعَلَيْهِ أُخْرَى وَيَقُولُ: «إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ عَظِيمَتَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (2704) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ) ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাসান (রাঃ)-কে নবী (সা.) যে সাইয়িদ বা নেতা নামে নামকরণ করেছেন তা তার মর্যাদা ও সম্মানের জন্য যথেষ্ট। তিনি বড় দুটি দলের গুণ বর্ণনা করেছেন, কেননা মুসলিমরা সেদিন দু'টি দলে বিভক্ত হবে, একটি দল হাসান (রাঃ)-এর পক্ষে থাকবে। অপরটি মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর পক্ষে থাকবে। আর সেদিন হাসান (রাঃ) এ দায়িত্বের সবচেয়ে হকদার হবে।
শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, এ হাদীস প্রমাণ করে ঐ দু'টি দলের একটি দলও ফিতনার সময় কথা ও কর্মের মাধ্যমে ইসলাম হতে বের হয়ে যায়নি। কেননা একটি দল বিপদগ্রস্ত ও অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নবী (সা.) সকলকে মুসলিম বলে সম্বোধন করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৫-(১১) আবদুর রহমান ইবনু আবূ নু’ম (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যখন জনৈক (ইরাকী) লোক মুহরিম সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করল। শুবাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার ধারণা, মাছি মারলে (কি হবে) তিনি উত্তরে বললেন, যে ’ইরাকবাসী রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দৌহিত্রকে হত্যা করেছে, আমাকে তারা মাছি সম্পর্কে প্রশ্ন করছে? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এরা দু’জন (হাসান ও হুসায়ন) দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুলবিশেষ। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعْمٍ قَالَ: سمعتُ عبدَ اللَّهِ بن عُمَرَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنِ الْمُحْرِمِ قَالَ شُعْبَةُ أَحْسَبُهُ يَقْتُلُ الذُّبَابَ؟ قَالَ: أَهْلُ الْعِرَاقِ يَسْأَلُونِي عَنِ الذُّبَابِ وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ بِنْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُمَا رَيْحَانَّيَّ مِنَ الدُّنْيَا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3753) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (يَسْأَلُونِي عَنِ الذُّبَابِ) এই জিজ্ঞাসার ভাবার্থ হলো, তারা বা ‘ইরাকবাসী তাদের চরিত্রে পূর্ণ “তাক্বওয়া” প্রকাশ করছে অথচ এর চেয়ে শত বড় কাণ্ড ঘটিয়েছে সেদিকে তারা বেখবর রয়েছে।
‘দাখায়ির' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) নবী (সা.)-এর সুঘ্রাণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটা এক প্রকারের রিযক যা তাকে দান করা হয়েছিল দুনিয়াতে।
কেউ কেউ বলেন, তারা উভয়ে নবী (সা.) -এর জান্নাতী সুঘ্রাণ ছিল দুনিয়াতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
জারীর ইবন হাযম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-এর মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যা কাপড়ে লেগে যায়। অপরদিকে হাদীসে এসেছে, মাছি হত্যা। এর সমাধান হলো প্রশ্ন প্রকৃতপক্ষে দুই বিষয়েই করা হয়েছিল। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৫৩)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৬-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.)-এর সাথে ’আলী তনয় হাসান (রাঃ) হতে আকৃতিতে অধিক সাদৃশ্য আর কারো ছিল না। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) হুসায়ন (রাঃ) সম্পর্কেও বলেছেন যে, তিনি সকলের মাঝে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে অধিক সাদৃশ্য ছিলেন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَشْبَهَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْحَسَنِ بن عليّ وَقَالَ فِي الْحسن أَيْضًا: كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (3752 ، 3748) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) হুসায়ন (রাঃ) নবী (সা.) -এর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য ছিল আহলে বায়তদের মধ্য হতে। তাঁকে যিয়াদ-এর ছেলে ‘উবায়দুল্লাহ ৬১ হিজরীতে ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়াহ্ খিলাফতকালে হত্যা করে। উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়: (১) হুসায়ন (রাঃ)-এর মর্যাদা। (২) নবী (সা.) -এর সাথে হুসায়ন (রাঃ)-এর মিল। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৪৭)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৭-[১৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) আমাকে একদিন তার বুকের সাথে জড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ! একে হিকমাত শিক্ষা দান করুন। অপর এক বর্ণনায় আছে, একে কিতাব (কুরআন)-এর জ্ঞান দান করুন। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: ضَمَّنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى صَدْرِهِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْحِكْمَةَ» وَفِي رِوَايَة: «علمه الْكتاب» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3756) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৮-[১৪] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) টয়লেটে প্রবেশ করলেন। এ সময় তাঁর জন্য আমি উযূর পানি রেখে দিলাম। অতঃপর তিনি (সা.) বাইরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, এ পানি এখানে কে রেখেছে? তাঁকে অবহিত করা হলো তখন তিনি (সা.) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাকে দীনের জ্ঞান দান কর। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْخَلَاءَ فَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا فَلَمَّا خَرَجَ قَالَ: «مَنْ وَضَعَ هَذَا؟» فَأُخْبِرَ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ فقهه فِي الدّين» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (143) و مسلم (138 / 2477)، (6368) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৪৯-[১৫] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) তাঁকে এবং হাসান (রাঃ)-কে একত্রে কোলে রেখে বলতেন, হে আল্লাহ! আমি এ দু’জনকে ভালোবাসি, আপনিও এদেরকে ভালোবাসুন।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, উসামাহ্ (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে নিয়ে তাঁর এক উরুতে (রানে) বসাতেন এবং হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ)-কে অপর রানের উপর বসাতেন, অতঃপর দুজনকে একত্রে মিলিয়ে দু’আ করতেন, হে আল্লাহ! আপনি এদের প্রতি রহম করুন, আমিও এদের প্রতি অনুগ্রহশীল। (বুখারী)
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَأْخُذُهُ وَالْحَسَنَ فَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَحِبَّهُمَا فَإِنِّي أُحبُّهما» وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُنِي فَيُقْعِدُنِي عَلَى فَخِذِهِ وَيُقْعِدُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ عَلَى فَخِذِهِ الْأُخْرَى ثُمَّ يَضُمُّهُمَا ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ ارْحَمْهُمَا فَإِنِّي أرحمُهما» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3735) و الروایۃ الثانیۃ ، رواھا البخاری (6003) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (اللَّهُمَّ ارْحَمْهُمَا فَإِنِّي أرحمُهما) হাদীস হতে অনুধাবন করা যায়, নবী (সা.) একমাত্র আল্লাহর জন্য ও আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসতেন। এ কারণে আল্লাহর ভালোবাসা তাঁর ভালোবাসার সাথে যুক্ত করেছেন। এ হাদীসে আরো হাসান (রাঃ) ও উসামাহ্ (রাঃ) -এর মহা মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৩৫, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তাদের উভয়ের প্রতি পরিপূর্ণ দয়া করুন এমন দয়া যা উভয়কে অমুখাপেক্ষী রাখবে অন্যদের দয়া থেকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫০-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন এক যুদ্ধের উদ্দেশে একদল সৈন্য পাঠান এবং উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাদের নেতা মনোনীত করলেন। তখন কিছু লোক উসামার নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, তোমরা আজ উসামার নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরূপ সমালোচনা করছে, ইতোপূর্বে তোমরা তো তার পিতার [অর্থাৎ যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)-এর] নেতৃত্ব সম্পর্কেও বিরূপ সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর শপথ! তিনি (যায়দ) নিশ্চয় নেতৃত্বের যোগ্য ছিলেন এবং তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় লোকেদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তার পরে (তাঁর পুত্র) উসামাহ্ আমার সর্বাধিক প্রিয় লোকেদের মাঝে একজন। (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম-এর এক বর্ণনার মধ্যে অনুরূপ বর্ণিত হওয়ার পর হাদীসটির শেষাংশে বলা হয়েছে, তার নেতৃত্ব মেনে নেয়ার জন্য আমি তোমাদেরকে নাসীহত করছি। কেননা সে (উসামাহ্) তোমাদের মাঝে একজন সৎ লোক।
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ بَعْثًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَطَعَنَ بَعْضُ النَّاسِ فِي إِمَارَتِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمَارَتِهِ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمَارَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلُ وَأَيْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لِلْإِمَارَةِ وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ نَحْوُهُ وَفِي آخِره: «أوصيكم بِهِ فَإِنَّهُ من صالحيكم»
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3730) و مسلم (63 / 2426 و الروایۃ الثانیۃ : 64 / 2426)، (6264 و 6265) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ بَعْثًا) এটা সেই দল যে দলটি নবী (সা.)- মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের প্রস্তুত করতে আদেশ দেন আর আবূ বাকর (রাঃ) এ কাজটি বাস্তবায়ন করেন নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর।
(فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمَارَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلُ) এখানে মুতা’ যুদ্ধে উসামাহ্ (রাঃ)-এর পিতা যায়দ ইবনু হারিসাহ্-এর নেতত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত হাদীসে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয় সেগুলো নিম্নরূপ, (১) আযাদকৃত দাসের নেতৃত্ব বৈধ, (২) বড়দের ওপর ছোট ব্যক্তির নেতৃত্ব বৈধ, (৩) সাধারণ ব্যক্তির নেতৃত্ব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর বৈধ। কেননা উসামাহ (রাঃ)-এর সৈন্যের অধীনে আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ) ছিলেন। (ফাতহুল বারী হা, ৩৭৩০)।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উসামাহ্ (রাঃ)-এর নেতত্বের ক্ষেত্রে সমালোচনা করার একটি কারণ রয়েছে আর সেটা হলো জাহিলী যুগের অভ্যাস।
ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যারা উভয়ের নেতত্বের ব্যাপারে সমালোচনা করেছিল। তারা কারণ হিসেবে তুলে ধরেন যে, তারা উভয়ে দাস ছিল। আর আরবরা মনে করত কোন দাস নেতা হতে পারে না, আর তারা দাসে অনুসরণ করা হতে সম্পূর্ণভাবে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখত। যখন আল্লাহ ইসলাম নিয়ে আসলেন তখন এ সমস্ত মিথ্যা প্রাচীরগুলো সরিয়ে দিলেন।
নবী (সা.) যায়দ ইবনু হারিসাহ-এর নেতত্বে অনেক যুদ্ধ প্রেরণ করেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় সৈন্যবাহিনী ছিল মুতার যুদ্ধে। এ সমস্ত যুদ্ধে তার অধীনে অনেক বড় মর্যাদাপূর্ণ সাহাবী ছিলেন। তাদের মধ্য হতে জা'ফার ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) যিনি সকল দিক হতে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং নবী (সা.) -এর নিকটবর্তী হওয়ার দিক থেকেও। এরপর উসামাহ (রাঃ)-এর নেতত্বে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। তার অধীনেও অনেক মর্যাদাপূর্ণ সাহাবী ছিলেন। এসব কিছু করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কেউ যেন আনুগত্যের হাত গুটিয়ে না রাখে এবং জাহিলী যুগের ভ্রান্ত অভ্যাস পরিত্যাগ করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫১-[১৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বাধীন দাস। আমরা তাকে যায়দ ইবনু মুহাম্মাদ (অর্থাৎ মুহাম্মাদ -এর পুত্র) বলে ডাকতাম। অতঃপর যখন কুরআনের এ আয়াত (أُدعوهم لِآبَائِهِمْ) “তাদেরকে তাদের প্রকৃত বাপের পরিচয়ে ডাকো”- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৫); অবতীর্ণ হয়, তখন আমরা যায়দ ইবনু মুহাম্মাদ বলা হতে ক্ষান্ত হয়েছি। (বুখারী ও মুসলিম)
বারা’ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, নবী (সা.) ’আলী (রাঃ)-কে বলেছেন, (أَنْتَ مِنِّي) (হে ’আলী!) তুমি আমার হতে, এটা শিশুর বয়ঃপ্রাপ্তি ও তার প্রতিপালন’ অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
الفصل الاول (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ زَيْدٍ بْنِ حَارِثَةَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كُنَّا نَدْعُوهُ إِلَّا زَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نزل الْقُرْآن [أُدعوهم لِآبَائِهِمْ] مُتَّفق عَلَيْهِ وَذكر حَدِيث الْبَراء قَالَ لعليّ: «أَنْتَ مِنِّي» فِي «بَابِ بُلُوغِ الصَّغِيرِ وَحَضَانَتِهِ»
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4782) و مسلم (62 / 2425)، (6262) 0 حدیث البراء تقدم (3377) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫২-[১৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে দেখেছি, তিনি (বিদায়) হজে ’আরাফাতের দিন তাঁর ’কসওয়া’ নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করা অবস্থায় ভাষণ দান করেছেন। আমি শুনেছি, ভাষণে তিনি (সা.) বলেছেন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন বস্তু রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্তভাবে ধরে রাখ, তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার ইতরত অর্থাৎ আমার আহলে বায়ত। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حِجَّتِهِ يَوْمَ عَرَفَةَ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ يَخْطُبُ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا: كِتَابَ اللَّهِ وعترتي أهل بيتِي . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3786 وقال : غریب حسن) * زید بن الحسن ضعیف و حدیث مسلم (2408) و ابن ماجہ (1558) یغنی عنہ
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৩-[১৯] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্ত করে ধরে রাখ, তবে আমার পরে তোমরা আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার মধ্যে একটি আরেকটির তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো আল্লাহর কিতাব, তা একটি লম্বা রশিস্বরূপ। যা আকাশ হতে জমিন অবধি বিস্তীর্ণ। আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আপন আহলে বায়ত। এ বস্তু দুটি কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। তারা হাওযে কাওসারে আমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করছ তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখবে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ مَا إِنْ تَمَسَّكْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدِي أَحَدُهُمَا أَعْظَمُ مِنَ الْآخَرِ: كِتَابُ اللَّهِ حَبْلٌ مَمْدُودٌ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ وَعِتْرَتِي أَهْلُ بَيْتِي وَلَنْ يَتَفَرَّقَا حَتَّى يَرِدَا عَلَيَّ الْحَوْضَ فَانْظُرُوا كَيْفَ تَخْلُفُونِي فِيهِمَا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
ضعیف ، رواہ الترمذی (3788 وقال : حسن غریب) ۔ عطیۃ العوفی ضعیف و الاعمش مدلس و عنعن و حدیث مسلم : (2408) و الطحاوی (مشکل الآثار : 5 / 13 ، ح : 1760) یغنی عنہ
ব্যাখ্যা: (كِتَابُ اللَّهِ حَبْلٌ مَمْدُودٌ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ وَعِتْرَتِي أَهْلُ بَيْتِي) ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কোন ব্যক্তির “ইতরাত” বলতে বুঝায় তার পরিবারবর্গের লোক ও তার নিকটস্থ লোকবৃন্দ। ‘ইতরত’ বিভিন্ন দিক থেকে হতে পারে। নবী (সা.) সেটা “আহলে বায়ত” শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন (১) তাঁর বংশধর (২) নিকটস্থ সকল লোক, (৩) তাঁর স্ত্রীবর্গ।
মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের (আহলে বায়তদের) আঁকড়ে ধরা দ্বারা উদ্দেশ্য (১) তাদের ভালোবাসা, (২) তাদের সম্মান রক্ষা করা, (৩) তাদের মতাদর্শে ‘আমল করা, (৪) তাদের কথাগুলোর উপর নির্ভর করা।
ইমাম ইবন মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- (১) এতে যা রয়েছে তার উপর আমল করা, (২) আল্লাহর নির্দেশগুলো পালন করা, (৩) নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হতে বিরত থাকা। আর ‘ইতরত’ আঁকড়ে ধরা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, (১) তাদের ভালোবাসা (২) তাদের দেখানো পথে চলা, (৩) তাদের চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া।
সাইয়িদ জামালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যতক্ষণ দীনের বিপরীত কাজ সংঘটিত না হয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৯৮)
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: উক্ত হাদীসে ইঙ্গিত রয়েছে যে, নবী (সা.) -এর মৃত্যুর পর কিতাবুল্লাহ ও আহলে বায়ত- এ দুটি জিনিসের সাথে সদাচরণ করতে ও নিজেদের ওপর এ দুটিকে প্রধান্য দিতে উপদেশ দিয়েছেন। যেমন পিতা তার সন্তানদের অধিকারের প্রতি উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিতাবুল্লাহ হলো আকাশ হতে জমিন পর্যন্ত প্রসারিত একটি রশি। যে ব্যক্তি উক্ত রশি আঁকড়ে ধরল সে মুক্তি পেল আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে পড়ে থাকল উক্ত রশি আঁকড়ে ধরল না সে ধ্বংস হলো।
যে ব্যক্তি নবী (সা.) -এর উপদেশ পালন করল, আর ঐ দু'টি বিষয়ের সাথে সদাচরণ করল তারা হাওযে কাওসারে নবী (সা.) -এর সাথে থাকবে। যারা বিপরীত কাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে বিপরীত প্রতিদান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৪-[২০] উক্ত রাবী [যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী, ফাতিমাহ্, হাসান এবং হুসায়ন (রাঃ) সম্পর্কে বলেছেন, যে কেউ তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আমি তাদের দুশমন। অন্যদিকে যে তাঁদের সাথে (আপনজনের মতো) সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করব। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَلِيٍّ وَفَاطِمَةَ وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ: «أَنَا حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبَهُمْ وَسِلْمٌ لِمَنْ سَالَمَهُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3870 وقال : غریب) [و ابن ماجہ (145)] * صبیح مولی ام سلمۃ : لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৫-[২১] জুমাই ইবনু উমায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আমার ফুফুর সাথে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে কোন মানুষটি সর্বাপেক্ষা প্রিয় ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেন, ফাতিমাহ্। এবার প্রশ্ন করা হলো, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার স্বামী। আর তিনি ছিলেন অধিক পরিমাণে সিয়াম পালনকারী ও রাতের সালাত আদায়কারী। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ جُمَيْعِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ عَمَّتِي عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلْتُ: أَيُّ النَّاسِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: فَاطِمَةُ. فَقِيلَ: مِنَ الرِّجَالِ؟ قَالَتْ: زَوْجُهَا إِنْ كَانَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3874 وقال : حسن غریب) * جمیع بن عمیر ضعیف ضعفہ الجمھور و لحدیثہ شواھد ضعیفۃ عند الترمذی (2868) وغیرہ ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে ফাতিমাহ্ ও ‘আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে আরো স্পষ্ট হয় যে, মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল ফাতিমা (রাঃ) এবং পুরুষদের মধ্যে ‘আলী (রাঃ)। হাদীসে আহলে বায়তের মর্যাদাকেও স্পষ্ট করা হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৮৮৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৬-[২২] ’আবদুল মুত্তালিব ইবনু রবীআহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন আব্বাস (রাঃ) ভীষণ ক্ষুব্ধ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসলেন। আমি তখন তাঁর কাছে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করলেন, কিসে আপনাকে এমনভাবে ক্ষুব্ধ করেছে? তখন তিনি [আব্বাস (রাঃ)] বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের (অর্থাৎ বানূ হাশিম) এবং কুরায়শের মধ্যে কি (ব্যবধান) রয়েছে? তারা যখন একে অপরের দেখা সাক্ষাৎ করে, তখন তারা হাশিখুশি অবস্থায় মেলামেশা করে। অপরদিকে আমাদের সাথে যখন দেখা-সাক্ষাৎ করে, তখন তারা সেভাবে মিলে না। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে রাগান্বিত হলেন যে, তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! কোন লোকের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির উদ্দেশে তোমাদেরকে (অর্থাৎ আহলে বায়তকে) ভালোবাসবে। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে লোকসকল! যে লোক আমার চাচাকে কষ্ট দেয়, সে যেন আমাকে কষ্ট দিল। কেননা কোন লোকের চাচা হলো তার পিতার সমতুল্য। (তিরমিযী, মাসাবীহ গ্রন্থে হাদীসটির বর্ণনাকারীর নাম ’মুত্তালিব’ উল্লেখ রয়েছে)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
إِلَّا الْجُمْلَة الْأَخِيرَة فصحيحة) وَعَنْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ أَنَّ الْعَبَّاسَ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُغْضَبًا وَأَنَا عِنْدَهُ فَقَالَ: «مَا أَغْضَبَكَ؟» قَالَ: يَا رَسُول الله مَا لَنَا وَلِقُرَيْشٍ إِذَا تَلَاقَوْا بَيْنَهُمْ تَلَاقَوْا بِوُجُوهٍ مُبْشَرَةٍ وَإِذَا لَقُونَا لَقُونَا بِغَيْرِ ذَلِكَ؟ فَغَضِبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى احْمَرَّ وَجْهُهُ ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَدْخُلُ قَلْبَ رَجُلٍ الْإِيمَانُ حَتَّى يحبكم لله وَلِرَسُولِهِ» ثمَّ قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ آذَى عَمِّي فَقَدْ آذَانِي فَإِنَّمَا عَمُّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَفِي «المصابيح» عَن الْمطلب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3758 وقال : حسن صحیح) * فیہ یزید بن ابی زیاد : ضعیف مشھور ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে ‘আব্বাস (রাঃ)-এর রাগান্বিত হওয়ার কারণ হলো আবূ জাহল তাঁকে বলেছিল, বানূ হাশিম গোত্র যুদ্ধের পতাকা গ্রহণ করে, হাজীদের পানি পান করায়, নুবুওয়্যাত ও রিসালাত তাদের মাঝে তাহলে অন্যান্য কুরায়শদের মাঝে কি অবশিষ্ট থাকল? (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৭৭০)
হাদীসে ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। এটাই প্রকৃত উদ্দেশ্য। তাছাড়া হাদীস হতে বুঝা যায়, কোন ব্যক্তির চাচার মর্যাদা কতটুকু। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৭-[২৩] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আব্বাস আমার সাথে জড়িত আর আমি তাঁর সাথে জড়িত। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْعَبَّاسُ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3759 وقال : حسن صحیح غریب) * فیہ عبد الاعلی الثعلبی : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (الْعَبَّاسُ مِنِّي) এর তিনটি অর্থ হতে পারে- (১) আমার নিকটস্থ ব্যক্তি, (২) আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত, (৩) আমার সাথে সম্পৃক্ত। 'আব্বাস (রাঃ) নবী (সা.) -এর দুই বছরের বড় ছিলেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হত আপনি বড় নাকি রাসূল! উত্তরে তিনি বিনয়-নম্রতা, শিষ্টাচার প্রকাশার্থে বলতেন, নবী (সা.) বড় আর আমি অনেক ছোট। মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আব্বাস (রাঃ)-এর মা নামির ইবনু কাসিত-এর মেয়ে ছিলেন। নামির ইবনু কাসিত হলেন ‘আরবের প্রথম ব্যক্তি, যে কা'বা ঘরে রেশমী কাপড় পরান। এর কারণ হলো ‘আব্বাস (রাঃ) ছোট থাকতে হারিয়ে যান। তাই তিনি মানৎ করেন যদি তাকে খুঁজে পান তাহলে কা'বাহ্ ঘরে কাপড় পরাবেন। 'আব্বাস (রাঃ) জাহিলী যুগে নেতা ছিলেন। তাঁর দায়িত্বে ছিল হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ।
মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আব্বাস (রাঃ) মৃত্যুর সময় ৭০টি দাস মুক্ত করেন। তিনি আসহাবে ফিলের বা “হস্তিবাহিনী” ঘটনার ১ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২ হিজরীতে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বাকী' নামক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি অনেক পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন কিন্তু গোপন রাখেন। বদর যুদ্ধে তিনি মুশরিকদের সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বের হন। তাই নবী (সা.) বলেছেন, যার সাথে ‘আব্বাস -এর সাক্ষাৎ হবে সে যেন তাঁকে হত্যা না করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৮-[২৪] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আব্বাস (রাঃ) কে বললেন, সোমবার সকালে আপনি আপনার সন্তানসহ আমার কাছে আসবেন। তখন আমি আপনাদের জন্য এমন কিছু বিশেষ দু’আ করব, যাতে আল্লাহ তাআলা আপনাকে ও আপনার সন্তানকে উপকৃত করেন। অতএব তিনি ও তাঁর সাথে আমরাও সকালে উপস্থিত হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর চাদর আমাদের দেহে জড়িয়ে দিলেন, অতঃপর এভাবে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি ’আব্বাস ও তার সন্তানদের ক্ষমা করে দাও, তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক হতে পবিত্র রাখ। তাদের কোন প্রকারের গুনাহই অবশিষ্ট রেখো না। হে আল্লাহ! আব্বাস-কে তাঁর সন্তানদের মাঝে নিরাপদে রাখ।’ (তিরমিযী)
আর রযীন এ বাক্যটি বাড়িয়ে বলেছেন, [রাসূলুল্লাহ (সা.) দু’আর মধ্যে বলেছেন,] খিলাফত ও রাজত্ব তাঁর সন্তানদের মাঝে বহাল রাখ। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَزِيَادَة رزين مُنكرَة) وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعَبَّاسِ: «إِذَا كَانَ غَدَاةَ الِاثْنَيْنِ فَأْتِنِي أَنْتَ وَوَلَدُكَ حَتَّى أَدْعُوَ لَهُمْ بِدَعْوَةٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا وَوَلَدَكَ» فَغَدَا وَغَدَوْنَا مَعَهُ وَأَلْبَسَنَا كِسَاءَهُ ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْعَبَّاسِ وَوَلَدِهِ مَغْفِرَةً ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً لَا تُغَادِرُ ذَنْبًا اللَّهُمَّ احْفَظْهُ فِي وَلَدِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَزَادَ رَزِينٌ: «وَاجْعَلِ الْخِلَافَةَ بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ» وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3762) و رزین (لم اجدہ) * فیہ عبدالوھاب بن عطاء مدلس و عنعن و روی عن ابن معین بانہ قال :’’ ھذا موضوع و عبد الوھاب : لم یقل فیہ حدثنا ثور و لعلہ دلّس فیہ وھو ثقۃ ‘‘ و فیہ علۃ أخری
ব্যাখ্যা: ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীসে নবী (সা.) ইঙ্গিত করেছেন যে, ‘আব্বাস (রাঃ) ও তার পরিবারবর্গ তাঁর নিকট খুব কাছের লোক ও বিশেষ ব্যক্তি যেন তারা একটি ব্যক্তি যা ঢেকে রেখেছে একটি কাপড়। তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দু'আ করছেন যেন তাদের ওপর অনুগ্রহ প্রসারিত করা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৭৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৫৯-[২৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি জিবরীল (আঃ)-কে দু’বার দেখেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য দু’বার দু’আ করেছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعنهُ أَنه رأى جِبْرِيل مَرَّتَيْنِ وَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مرَّتَيْنِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3822) * فیہ لیث بن ابی سلیم : ضعیف و الثوری مدلس و عنعن و السند منقطع ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬০-[২৬] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যেন আমাকে জ্ঞান দান করেন, এ উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার জন্য দু’বার দু’আ করেছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: دَعَا لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُؤْتِيَنِي اللَّهُ الْحِكْمَة مرَّتَيْنِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3823 وقال : حسن غریب) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬১-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা’ফার (ইবনু আবূ ত্বালিব) (রাঃ) মিসকীনদেরকে খুব বেশি ভালোবাসতেন, তাদের সাথে বসতেন এবং আলাপ করতেন তারাও জা’ফার-এর সাথে দ্বিধাহীনচিত্তে আলাপ-আলোচনা করত। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ’আবূল মাসাকিন’ উপনামে আহ্বান করতেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ جَعْفَرٌ يُحِبُّ الْمَسَاكِينَ وَيَجْلِسُ إِلَيْهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ وَيُحَدِّثُونَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَنِّيهِ بِأَبِي الْمَسَاكِين. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3766) [و ابن ماجہ (4125 مختصرًا)] * فیہ ابراھیم المخزومی : متروک ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: হাদীসে যে বিষয়গুলো প্রতীয়মান হয়, তা নিম্নরূপ: (১) এ হাদীস প্রমাণ করে বড়দের ভালোবাসা, (২) সম্মান ও মর্যাদা লাভের মাধ্যম হলো দরিদ্র ব্যক্তিবর্গ। তারা আছে বলে ধনীদের এত সম্মান। (৩) তাদের সাথে বিনয় আচরণ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৭৭৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬২-[২৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি জান্নাতে জা’ফার-কে মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) সাথে উড়তে দেখেছি। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ جَعْفَرًا يَطِيرُ فِي الْجَنَّةِ مَعَ الْمَلَائِكَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
حسن ، رواہ الترمذی (3763) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সিরিয়ায় মুতার যুদ্ধের সময় যায়দ ইবনু হারিসাহ- এর শাহাদাতের পর তার হাতে ইসলামের ঝাণ্ডা ছিল। তিনি আল্লাহর পথে শহীদ হন। এমনকি তার দুই হাত ও দুই পা কেটে ফেলা হয়। নবী (সা.) স্বপ্নে দেখেন যে, জাফার এই রক্তমিশ্রিত দুটি ডানা নিয়ে জান্নাতে মালায়িকার (ফেরেশতাদের) সাথে উড়ছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৩-[২৯] আবূ সাঈদ (আল খুদরী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হাসান ও হুসায়ন দু’জনই যুবক জান্নাতীদের নেতা। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شباب أهل الْجنَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3768 وقال : صحیح حسن) ۔
(حسن صَحِيحٌ)
ব্যাখ্যা: ইমাম মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(১) আল্লাহর পথে যে সমস্ত যুবক মৃত্যুবরণ করেছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তাদের সকলের চেয়ে উত্তম হলো, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)। এখানে যুবকদের বয়স বর্ণনা করা হয়নি।
(২) অথবা নবীগণ ও খুলাফায়ে রাশিদীন ব্যতীত সকল জান্নাতীদের সরদার হলেন, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)। কেননা সকল জান্নাতী ব্যক্তি যুবকও একই বয়সের হবে। তাদের মধ্যে কোন বৃদ্ধ ও শিশু থাকবে না।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ উদ্দেশ্য হওয়াও সম্ভব যে, বর্তমান যুগে যে সমস্ত যুবক মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে যাচ্ছে, তাদের নেতা হলেন হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৮০)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৪-[৩০] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হাসান এবং হুসায়ন তাঁরা দুজন দুনিয়াতে আমার দু’টি সুগন্ধময় ফুলস্বরূপ। [তিরমিযী, এ হাদীসটি (শাব্দিক সামান্য পরিবর্তনসহ) প্রথম অনুচ্ছেদেও বর্ণিত হয়েছে]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ هُمَا رَيْحَانَيَّ مِنَ الدُّنْيَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَدْ سبَق فِي الْفَصْل الأول
صحیح ، رواہ الترمذی (3770 وقال : صحیح) [وھو فی صحیح البخاری (3753)] * و انظر الحدیث السابق (6136) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৫-[৬১] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কোন এক প্রয়োজনে রাতের বেলায় আমি নবী (সা.) -এর কাছে গেলাম। তখন নবী (সা.) এমন অবস্থায় গৃহ হতে বের হলেন যে, (মনে হলো) তিনি চাদর দ্বারা দেহের সাথে কি একটি জিনিস জড়িয়ে রেখেছেন, কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি সে জিনিসটি কি? অতঃপর যখন আমি প্রয়োজন সেরে তাঁর কাছ হতে অবসর হলাম, তখন প্রশ্ন করলাম, (হে আল্লাহর রাসূল!) আপনি চাদরের ভিতরে কি জিনিস জড়িয়ে রেখেছেন? তখন তিনি চাদরখানা সরিয়ে ফেললে দেখলাম, হাসান ও হুসায়ন দু’জন তাঁর দুই উরুতে বসে রয়েছেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, এরা দু’জন আমার পুত্র এবং তনয়ার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দুজনকেই ভালোবাসি। অতএব আপনিও তাদের দু’জনকে ভালোবাসুন। আর যারা এ দু’জনকে ভালোবাসবে, আপনি তাদেরকেও ভালোবাসুন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أسامةَ بنِ زيدٍ قَالَ: طَرَقْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي بَعْضِ الْحَاجَةِ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُشْتَمِلٌ عَلَى شَيْء وَلَا أَدْرِي مَا هُوَ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ حَاجَتِي قُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي أَنْتَ مُشْتَمِلٌ عَلَيْهِ؟ فَكَشَفَهُ فَإِذَا الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عَلَى وَرِكَيْهِ. فَقَالَ: «هَذَانِ ابْنَايَ وَابْنَا ابْنَتِي اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فأحبهما وَأحب من يحبهما» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3769 وقال : حسن غریب) و سندہ حسن و للحدیث شواھد
ব্যাখ্যা: (فَكَشَفَهُ) নবী (সা.) -এর কাপড় সরিয়ে নেয়ার কারণে যার দরুন হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে, দেখা গেল। তিনি উভয়ের জন্য এই দু'আ প্রকাশ করলেন। এটা তখন ঘটল যখন উসামাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) - কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাপড়ে কি পেচিয়ে রেখেছেন। হাদীসে হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হাদীসের উদ্দেশ্য হলো উক্ত দু'আ প্রকাশ করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৮১)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৬-[৩২] সালমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) -এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি কাঁদছেন। প্রশ্ন করলাম, আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি, অর্থাৎ স্বপ্নে তাঁর মাথা ও দাড়ি ধুলাবালিতে মিশ্রিত। অতঃপর আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ অবস্থা কেন, কি হয়েছে আপনার? তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র হুসায়ন-এর শাহাদাতের স্থানে উপস্থিত হয়েছিলাম।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ سَلْمَى قَالَتْ: دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ وَهِي تبْكي فَقلت: مَا بيكيك؟ قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - تَعْنِي فِي الْمَنَامِ - وَعَلَى رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ التُّرَابُ فَقُلْتُ: مَا لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «شَهِدْتُ قَتْلَ الْحُسَيْنِ آنِفًا» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3771) * سلمی : لاتعرف و حدیث احمد (1 / 283) عن ابن عباس قال :’’ رایت رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فی النوم نصف النھار اشعث اغبر و بیدہ قارورۃ فیھا دم ، قلت : یا رسول اللہ ما ھذا ؟ قال : ھذا دم الحسین و اصحابہ ، لم ازل الیوم التقطہ ‘‘ سندہ حسن ، وھو یغنی عن ھذا الحدیث الضعیف ، و فی صحیح الحدیث شغل عن سقیمہ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (عَلَى رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ التُّرَابُ) অর্থাৎ- নবী (সা.) -এর মাথা ও দাড়ি ধূলিময় দেখলেন।
(آنِفًا) নিকটবর্তী সময়, কাছাকাছি সময় বা কিছুক্ষণ পূর্বে যা ঘটেছে তা বুঝানোর জন্য আনা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা, ৩৭৮৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৭-[৩৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে প্রশ্ন করা হলো, আপনি আপনার আহলে বায়তের মাঝে কাকে সর্বাধিক ভালোবাসেন? তিনি বললেন, হাসান ও হুসায়নকে। আর তিনি (সা.) ফাতিমাহ্ -এর উদ্দেশে বলতেন, আমার পুত্রদ্বয়কে আহ্বান করো। তারা আসলে তিনি তাদেরকে শুঁকতেন (চুমা দিতেন) এবং উভয়কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরতেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَي بَيْتِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ» وَكَانَ يَقُولُ لِفَاطِمَةَ: «ادْعِي لِي ابْنَيَّ» فَيَشُمُّهُمَا وَيَضُمُّهُمَا إِلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3772) * فیہ یوسف بن ابراھیم : ضعیف ۔
(ضَعِيف)
وعن أنس قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي بيتك أحب إليك؟ قال: «الحسن والحسين» وكان يقول لفاطمة: «ادعي لي ابني» فيشمهما ويضمهما إليه. رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৮-[৩৪] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) এলেন আর তাদের উভয়ের দেহে ছিল লাল বর্ণের দু’টি জামা। তাঁরা এমনভাবে চলছিলেন যেন পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বার হতে অবতরণ করলেন এবং তাঁদেরকে উঠিয়ে এনে নিজের সম্মুখে বসিয়ে রাখলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ সত্যই বলেছেন, “তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিগণ ফিতনাহ্।’ আমি এ বাচ্চা দু’টির দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, এরা হাঁটছে এবং পড়ে যাচ্ছে, অতএব আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। সবশেষে আমি আলোচনা বন্ধ করে দিলাম এবং তাদেরকে উঠিয়ে আনলাম। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও নাসায়ী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُنَا إِذْ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عَلَيْهِمَا قَمِيصَانِ أَحْمَرَانِ يَمْشِيَانِ وَيَعْثُرَانِ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الْمِنْبَرِ فَحَمَلَهُمَا وَوَضَعَهُمَا بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «صَدَقَ اللَّهُ [إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ] نَظَرْتُ إِلَى هَذَيْنِ الصَّبِيَّيْنِ يَمْشِيَانِ وَيَعْثُرَانِ فَلَمْ أَصْبِرْ حَتَّى قَطَعْتُ حَدِيثِي وَرَفَعْتُهُمَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3774 وقال : حسن غریب) و ابوداؤد (1109) و النسائی (3 / 108 ح 1414) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (وَيَعْثُرَانِ) তাঁরা (হাসান ও হুসায়ন রাঃ) উভয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল হাঁটার সময় ছোট ও কম বয়স হওয়ার দরুন।
(فِتْنَةٌ) এটা মানবকুলের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত পরীক্ষা। যাতে তিনি জানতে পারেন কে তাঁর অনুসরণ করে ও কে অবাধ্য হয়।
হাদীস হতে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয় তা নিম্নরূপ- (১) নবী (সা.) -এর অন্তর খুব নরম ছিল। তাই তিনি বক্তব্য ছেড়ে তাদের কাছে আসলেন। (২) সন্তান ও সম্পদ পরীক্ষাস্বরূপ। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৭৮৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৬৯-[৩৫] ইয়া’লা ইবনু মুররাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হুসায়ন আমার হতে আর আমি হুসায়ন হতে। যে হুসায়নকে ভালোবাসবে আল্লাহ তা’আলা তাকে ভালোবাসবেন। হুসায়ন বংশসমূহের মাঝে একটি বংশ। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن يعلى بن مرَّة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حُسَيْنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْ حُسَيْنٍ أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا حُسَيْنٌ سِبَطٌ مِنَ الأسباط» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3775 وقال : حسن)
ব্যাখ্যা: (أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا) ভালোবাসা ও সম্মান অবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে যেন মানুষ [নবী (সা.) ও হুসায়ন (রাঃ)]-কে একই হুকুমে রাখে।
উক্ত বিষয়টাকে পরবর্তী বাক্য গুরুত্বারোপ করে তুলে (أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا) “যে ব্যক্তি হুসায়ন-কে ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন”। কেননা হুসায়ন (রাঃ)-কে ভালোবাসা রাসূল (সা.) -কে ভালোবাসার নামান্তর, আর নবী (সা.)-কে ভালোবাসা আল্লাহকে ভালোবাসার নামান্তর।
(سِبَطٌ مِنَ الأسباط) অর্থাৎ- এমন গাছ যার মূল কাণ্ড একটি ও শাখা-প্রশাখা অনেক। অনুরূপভাবে পিতা হলো গাছের কাণ্ডের ন্যায় ও সন্তানেরা হলো গাছের শাখা-প্রশাখার ন্যায়। কেউ কেউ বলেন, হুসায়ন (রাঃ) উম্মতসমূহের মধ্য হতে একটি উম্মত। যারা সকলে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল কামূস অভিধান প্রণেতা বলেন, (سِبَطٌ) “সিবাতুন বলতে মেয়ের ছেলেকে বুঝায়।
কেউ কেউ বলেন, (سِبَطٌ) এর অর্থ হলো গোত্র। গোত্র অর্থটি কয়েকভাবে সম্ভব হতে পারে। (১) অনেক শাখা-প্রশাখা হয়ে একটি গোত্র তৈরি হয়ে গেছে। (২) হতে পারে তার বংশে অনেক লোক বৃদ্ধি পাবে। হাদীসে এই দ্বিতীয় বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা লোক বৃদ্ধির কারণে বংশ স্থায়ী হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তিরমিযী হা. ৩৭৭৫)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭০-[৩৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। হাসান হলেন (চেহারা-আকৃতি-অবয়বে) মাথা হতে বক্ষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সদৃশ। আর হুসায়ন হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বুকের নিচের অংশের সদৃশ। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: الْحَسَنُ أَشْبَهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ وَالْحُسَيْنُ أَشْبَهَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ أَسْفَل من ذَلِك. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3779 وقال : حسن غریب) * فیہ ابو اسحاق السبیعی : مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: মিরক্বাত ভাষ্যকার বলেন, হাদীসের বাচনভঙ্গি থেকে মনে হচ্ছে যে, বড়জন অঙ্গের সাদৃশ্য পেয়েছে পৃথিবীতে আগে আসার দরুন। আর অবশিষ্টাংশ ছোটজনের জন্য পরে আসার দরুন। হাদীসে আরো স্পষ্ট হয় যে, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) তারা কেউই তাদের পিতা-মাতার সাদৃশ্য পাননি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭১-[৩৭] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আমার আম্মাকে বললাম, আমাকে সম্মতি দিন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গিয়ে তাঁর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করি এবং নিজের ও আপনার ক্ষমার জন্য তার কাছে দু’আর আবেদন করি। (অনুমতিক্রমে) অতঃপর আমি নবী (সা.) - এর কাছে এসে তার সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। এরপর তিনি (সা.) (নফল) সালাত আদায় করতে থাকেন। অবশেষে ইশার সালাত আদায় করে যখন গৃহাভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন আমিও তার পিছনে পিছনে যাত্রা করলাম। তিনি (সা.) আমার (পায়ের) আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, কে, হুযায়ফাহ্? বললাম, হ্যাঁ। তিনি (সা.) বললেন, কি প্রয়োজনে এসেছ? আল্লাহ তা’আলা তোমাকে এবং তোমার মাতাকে ক্ষমা করুন। (হে হুযায়ফাহ!) ইনি মালাক (ফেরেশতা), যিনি এ রাত্রির পূর্বে আর কখনো ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করেননি। তিনি তার প্রভুর কাছে অনুমতি চান যে, আমাকে সালাম করবেন এবং আমাকে এ সুসংবাদটি জানিয়ে দেবেন যে, ফাতিমাহ্ জান্নাতী মহিলাদের সরদার আর হাসান এবং হুসায়ন দু’জনই জান্নাতী যুবকদের সরদার।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: قُلْتُ لِأُمِّي: دَعِينِي آتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُصَلِّي مَعَهُ الْمَغْرِبَ وَأَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي وَلَكِ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الْمَغْرِبَ فَصَلَّى حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ انْفَتَلَ فَتَبِعْتُهُ فَسَمِعَ صَوْتِي فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟ حُذَيْفَةُ؟» قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: «مَا حَاجَتُكَ؟ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ وَلِأُمِّكِ إِنَّ هَذَا مَلَكٌ لَمْ يَنْزِلِ الْأَرْضَ قَطُّ قَبْلَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيَّ وَيُبَشِّرَنِي بِأَنَّ فَاطِمَةَ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3781) ۔
(إِسْنَاده جيد)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭২-[৩৮] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ইবনু ’আলীকে স্বীয় কাঁধের উপর বসিয়ে রেখেছিলেন। তখন এক লোক বলে উঠল, হে বালক! কত উত্তম বাহনে তুমি আরোহণ করেছ? তখন নবী (সা.) বললেন, আরে! আরোহীও তো উত্তম বটে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَامِلًا الْحَسَنَ بْنَ عليٍّ على عَاتِقه فَقَالَ رَجُلٌ: نِعْمَ الْمَرْكَبُ رَكِبْتَ يَا غُلَامُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَنِعْمَ الرَّاكِبُ هُوَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3784 وقال : حسن صحیح) * فیہ زمعۃ بن صالح : ضعیف ، و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৩-[৩৯] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর জন্য (বাৎসরিক ভাতা) সাড়ে তিন হাজার দিরহাম ধার্য করলেন এবং (নিজের পুত্র) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর জন্য ধার্য করলেন তিন হাজার। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তাঁর পিতাকে বললেন, কেন আপনি উসামাকে আমার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! কোন অভিযানেই উসামাহ্ আমার অগ্রগামী ছিলেন না।
উত্তরে ’উমার (রাঃ) বললেন, তার কারণ হলো এই যে, তোমার পিতার (আমি ’উমার-এর) তুলনায় তার পিতা (যায়দ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন। তোমার অপেক্ষা উসামাহ্ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বেশি প্রিয় ছিলেন। অতএব আমি আমার প্রিয়জনের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রিয়জনকে প্রাধান্য দিয়েছি। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ فَرَضَ لِأُسَامَةَ فِي ثَلَاثَةِ آلَافٍ وَخَمْسِمِائَةٍ وَفَرَضَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي ثَلَاثَةِ آلَافٍ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لِأَبِيهِ: لِمَ فَضَّلْتَ أُسَامَة عَليّ؟ فو الله مَا سَبَقَنِي إِلَى مَشْهَدٍ. قَالَ: لِأَنَّ زَيْدًا كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَبِيكَ وَكَانَ أُسَامَةُ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْكَ فَآثَرْتُ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حبي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3813 وقال : حسن غریب) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: হাদীসে স্পষ্ট হয় যে, ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে কর্মচারীদের জন্য বেতন নির্ধারণ করেছিলেন।
(مَا سَبَقَنِي إِلَى مَشْهَدٍ) কেউ কেউ বলেন, “মাশহাদ” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন ও ‘আমল করার মতো ভালো কাজে এগিয়ে থাকা।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত থাকা এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।
(كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَبِيكَ) অত্র বাক্য প্রমাণ করে যে, কেউ অধিক প্রিয় হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, সে সর্বশ্রেষ্ঠ।
‘উমার (রাঃ) নিজ ছেলের ওপর উসামাহ্-কে প্রধান্য দিলেন রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসার প্রতি লক্ষ্য করে। যদিও কাজটি ছিল মনের বিরুদ্ধে, তারপরও তিনি সকল কিছুর উপর নবী (সা.) -এর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৪-[৪০] জাবালাহ্ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাই যায়দ-কে আমার সাথে পাঠিয়ে দিন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এই তো যায়দ। যদি সে তোমার সাথে চলে যেতে চায়, আমি তাকে বাধা দেব না। এ কথা শুনে যায়দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আপনার ওপর আমি অন্য আর কাউকেও প্রাধান্য দেব না। (যায়দ-এর এ কথা শুনে) জাবালাহ্ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারলাম, আমার সিদ্ধান্তের তুলনায় আমার ভাই যায়দ-এর সিদ্ধান্তই ছিল শ্রেয়। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن جبلة بن حارثةَ قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ مَعِي أَخِي زَيْدًا. قَالَ: «هُوَ ذَا فَإِنِ انْطَلَقَ مَعَكَ لَمْ أَمْنَعْهُ» قَالَ زَيْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَا أَخْتَارُ عَلَيْكَ أَحَدًا. قَالَ: فَرَأَيْتُ رَأْيَ أَخِي أَفْضَلَ مِنْ رَأْيِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3815 وقال : حسن غریب) * اسماعیل بن ابی خالد مدلس و عنعن و للحدیث شواھد
ব্যাখ্যা: যায়দ ইবনু হারিসা মায়ের সাথে নানা বাড়ী যাওয়ার পথে মরুদস্যু কর্তৃক লুষ্ঠিত হয়ে উকায মেলায় বিক্রিত হয়। বিভিন্ন স্তর পাড়ি দিয়ে সে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাতে আসে। মক্কায় আগত দূর-দূরান্তের হাজীদের মাধ্যমে খবর চেয়ে তার পিতা, ভাই প্রমুখ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট এসে তার মুক্তিপণ, উপঢৌকন ইত্যাদি পেশ করে তাকে ফেরত চান। রাসূলুল্লাহ (সা.) - তখন বিনা শর্তে যায়দ-কে চলে যাওয়ার স্বাধীনতা দিলেন। প্রকৃত কথা হলো, তিনি হারিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হাতে কৃতদাস হিসেবে নিত হন। অত্র হাদীসে উক্ত ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বিধৃত হয়েছে।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জাবালাহ্ (রাঃ) তার ভাই, রাসূল (সা.) -এর আযাদকৃত দাস, যায়দ ইবনু হারিসাহ-এর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।
(فَرَأَيْتُ رَأْيَ أَخِي أَفْضَلَ مِنْ رَأْيِي) জাবালাহ্ ইবনু হারিসাহ্ বলেছেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু হারিসাহ্ নবী (সা.) -এর সাথে থাকতে চেয়েছে, আর সে যা চেয়েছে সেটা দুনিয়া ও পরকালের উত্তম বিষয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৫-[৪১] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন আমি ও অন্যান্য লোকেরা মদীনায় অবতরণ করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি (সা.) নীরব হয়ে গিয়েছিলেন, কথাবার্তা বলতে পারছিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার দেহের উপর তাঁর উভয় হাত রাখলেন। তারপর হাত দুটি উপরে উঠালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি (সা.) আমার জন্য দু’আ করছেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَبَطْتُ وَهَبَطَ النَّاسُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أُصْمِتَ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ عَليّ يَدَيْهِ وَيَرْفَعُهُمَا فَأَعْرِفُ أَنَّهُ يَدْعُو لِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3817) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (هَبَطْتُ وَهَبَطَ النَّاسُ الْمَدِينَةَ) অর্থাৎ- উসামাহ্ (রাঃ) ও সকল সাহাবী তাদের বাসা বাড়ী হতে মদীনায় নামলেন। কারণ তাদের বাসাগুলো উঁচু অঞ্চলে ছিল। আর মদীনাহ্ ছিল নিচু অঞ্চলে অবস্থিত।
ব্যাখ্যাকারগণ বলেন, উসামাহ্ (রাঃ) উঁচু অঞ্চলে বাস করতেন। আর যে কোন দিক হতে মদীনার দিকে আসা হোক না কেন তাতে নামা বা অবতরণ অর্থ সঠিক। কেননা মদীনাহ্ এমন নিচু ভূমিতে অবস্থিত ছিল, যার দিকে সকল পার্শ্ব ও সকল দিক হতে পানি প্রবাহিত হয়ে আসত। অর্থাৎ সকল অঞ্চল উঁচু ছিল। অবতরণ অর্থ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) - উসামাহ ইবনু যায়দ-এর নেতত্বে সর্বশেষ যে সারিয়া প্রেরণ করেছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসুস্থতার প্রচণ্ডতায় কথা বিবেচনা করে সাহাবীগণের যুদ্ধ যাত্রা স্থগিত করা এবং নিজ নিজ বাহন থেকে অবতরণ করা। (সম্পাদকীয়)
(فَأَعْرِفُ أَنَّهُ يَدْعُو لِي) অর্থাৎ- উসামাহ্ (রাঃ) বুঝতে পারলেন যে, তাকে নবী (সা.) ডাকছেন। এটা দুটি পদ্ধতিতে হতে পারে-
(১) বিশেষ কোন নূর (আলোর) মাধ্যমে, (২) বিচক্ষণতার মাধ্যমে। উসামাহ্ (রাঃ) অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে ডাকার কয়েকটি উদ্দেশ্য হতে পারে (১) তার প্রতি ভালোবাসা থাকার জন্য। (২) তার অমায়িক ব্যবহার ও সেবার জন্য। হাদীসে উসামাহ্ (রাঃ)-এর মর্যাদা ফুটে উঠেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮২৯)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৬-[৪২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, একদিন নবী (সা.) উসামার নাকের শ্লেষ্মা দূর করতে চাইলে ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আপনি এটা রাখুন! আমিই এ কাজটি করব। তখন নবী (সা.) বললেন, হে ’আয়িশাহ! তুমি উসামাকে স্নেহ করো। কেননা আমি তাকে খুবই ভালোবাসি। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُنَحِّي مُخَاطَ أُسَامَةَ. قَالَتْ عَائِشَةُ: دَعْنِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّذِي أَفْعَلُ. قَالَ: «يَا عَائِشَةُ أَحِبِّيهِ فَإِنِّي أُحِبُّهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3818 وقال : حسن غریب) ۔
(حسن)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৭-[৪৩] উসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি [নবী (সা.) -এর ঘরের দরজায়] বসা ছিলাম। এমন সময় সহসা ’আলী ও আব্বাস (রাঃ) এসে ভিতরে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন তাঁরা দুজনে উসামাকে বললেন, আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে যাওয়ার সম্মতি নিয়ে আসো। (উসামাহ্ বলেন,) আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ’আলী ও আব্বাস আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, (হে উসামাহ্) তুমি কি জানো, কেন তারা দুজন এসেছে? আমি বললাম, জ্বি-না, আমি জানি না। তিনি (সা.) বললেন, কিন্তু আমি জানি, আচ্ছা তাদেরকে আসতে বল। অতঃপর তারা উভয়ে প্রবেশ করলেন। এবার তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে এ কথাটি প্রশ্ন করতে এসেছি, আপনার আহলে বায়তের মাঝে কে আপনার কাছে প্রিয়? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ। তাঁরা বললেন, আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা প্রশ্ন করতে আসিনি। তিনি (সা.) বললেন, আমার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে সে লোকই আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমিও তার প্রতি দয়া করেছি, সে হলো উসামাহ্ ইবনু যায়দ। তাঁরা আবার প্রশ্ন করলেন, তাঁর পরে কে? তিনি বললেন, অতঃপর ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব। অতঃপর ’আব্বাস (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চাচাকে আপনি সকলের শেষে রাখলেন? তিনি (সা.) বললেন, ’আলী তো হিজরতে আপনার অগ্রগামী রয়েছে। (তিরমিযী)
আর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাও উল্লেখ করলেন যে, “কোন ব্যক্তির চাচা হলো পিতার সমকক্ষ”। হাদীসটি যাকাত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أُسَامَة قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا إِذْ جَاءَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يستأذنان فَقَالَا لِأُسَامَةَ: اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ الله عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَسْتَأْذِنَانِ. فَقَالَ: «أَتَدْرِي مَا جَاءَ بهما؟» قلت: لَا. قَالَ: «لكني أَدْرِي فَأذن لَهما» فدخلا فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ أَيُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ» فَقَالَا: مَا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ أَهْلِكَ قَالَ: أَحَبُّ أَهْلِي إِلَيَّ مَنْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ: أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ قَالَا: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «ثُمَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ» فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلْتَ عَمَّكَ آخِرَهُمْ؟ قَالَ: «إِنَّ عَلِيًّا سَبَقَكَ بِالْهِجْرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ فِي «كتاب الزَّكَاة»
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3819 وقال : حسن) * حدیث ’’ ان عم الرجل صنو ابیہ ‘‘ تقدم (6147) ولم اجدہ فی کتاب الزکاۃ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (مَا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ أَهْلِكَ قَالَ) অর্থাৎ- আমরা আপনাকে আপনার স্ত্রী ও সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে আসিনি। আমরা এসেছি আপনার নিকটস্থ ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে।
উক্ত হাদীস সুস্পষ্ট প্রমাণ করে যে, প্রিয় হওয়াটা মর্যাদা সম্পূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ হওয়া বুঝায় না। কেননা ‘আলী (রাঃ) সকলের ঐকমত্যে যায়দ (রাঃ) ও উসামাহ্ (রাঃ)-এর চেয়ে অনেক মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (أَيُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ) বাক্যটি “মুতলাক” (সাধারণভাবে) বলা হয়েছে কিন্তু এখানে “মুকাইয়্যাদ” (নির্দিষ্ট করা) উদ্দেশ্য। আর সেটা হলো পুরুষদের মধ্য হতে কে অধিক প্রিয়।
(قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ) উক্ত বাক্যের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআনে প্রতিধ্বনিত হয়। আল্লাহ বলেন, (وَ اِذۡ تَقُوۡلُ لِلَّذِیۡۤ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَیۡهِ وَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡهِ) “যখন তুমি বল যার উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমি অনুগ্রহ করেছি।” (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৩৭)
আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ) এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
যদিও আয়াতটি যায়দ (রাঃ)-এর জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। তবে এ কথা দূরে সরিয়ে দেয়া যায় না যে, উসামাহ্ (রাঃ) তার পিতার পর বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।
হাদীসে উসামাহ (রাঃ)-এর মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাছাড়া হাদীসে প্রিয় হওয়া বিষয়টিকে আগে আনা হয়েছে শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেয়ে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৮৩১)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৮-[৪৪] ’উকবাহ্ ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (তাঁর খিলাফতকালে) একদিন আসরের সালাতের পর বের হয়ে হাঁটছিলেন, তাঁর সাথে ’আলী (রাঃ)-ও ছিলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) দেখলেন, হাসান অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করছেন, তখন তিনি তাঁকে তুলে স্বীয় কাঁধে নিয়ে বললেন, আমার পিতা কুরবান হোন, ইনি তো নবী (সা.) -এর অবিকল সদৃশ, ’আলীর সাথে কোন সাদৃশ্য নেই, তখন ’আলী (রাঃ) হাসছিলেন। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
عَن عقبةَ بن الْحَارِث قَالَ: صَلَّى أَبُو بَكْرٍ الْعَصْرَ ثُمَّ خَرَجَ يَمْشِي وَمَعَهُ عَلِيٌّ فَرَأَى الْحَسَنَ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَحَمَلَهُ عَلَى عَاتِقِهِ. وَقَالَ: بِأَبِي شَبِيهٌ بِالنَّبِيِّ لَيْسَ شَبِيهًا بِعَلِيٍّ وَعَلِيٌّ يَضْحَكُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (3750) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: অন্য বর্ণনায় আছে, এ হাদীসের রাবী ‘উবাহ্ ইবনুল হারিস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর মৃত্যুর পর একবার ‘আসরের সালাতের পর আমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সাথে বের হলাম। আর ‘আলী (রাঃ) ও আবূ বাকর (রাঃ)-এর পাশে হাঁটছিলেন। সে সময় আবূ বাকর (রাঃ) হাসান (রাঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে হাসান (রাঃ) শিশুদের সাথে খেলছিল। আবূ বাকর (রাঃ) তাকে দেখে ঘাড়ে তুলে নিয়ে বললেন, হাসান তো নবী (সা.)-এর সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। আলীর সাথে তো তার তেমন সাদৃশ্য নেই। এ কথা শুনে ‘আলী (রাঃ) হাসলেন।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, এ হাদীসের মাধ্যমে রাফিযীদের দাবীকে প্রত্যাখান করা হয়েছে। কারণ তারা এই দাবী করে থাকে যে, মুহাম্মাদ (সা.) আলীর সাথে একেবারে পরিপূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। যেমন একটি কাক আরেকটি কাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে থাকে। তাই আল্লাহ যখন জিবরীলকে ওয়াহী দিয়ে ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন তখন সে ভুল করে মুহাম্মাদ (সা.) -এর কাছে চলে যায় বলে তারা বিশ্বাস করে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৭৯-[৪৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুসায়ন (রাঃ)-এর পবিত্র শির (কূফার আমীর) উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর কাছে আনা হলো এবং তা একটি বড় চিলমচিতে রাখা হলো, তখন (হতভাগা) ইবনু যিয়াদ তাঁর মুখের মধ্যে (কাঠি দ্বারা) খোটা দিতে লাগল এবং তার সৌন্দর্য সম্পর্কে অসন্তুষ্টজনক মন্তব্য করল। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! হুসায়ন-এর আকৃতি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তখন তার চুল ও দাড়ির মধ্যে ওয়াসিমাহ্ ঘাসের খিযাব লাগানো ছিল। (বুখারী)
আর তিরমিযী বর্ণনাতে আছে, আনাস (রাঃ) বলেন, আমি ইবনু যিয়াদ-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় হুসায়ন (রাঃ)-এর পবিত্র শির আনা হলো, তখন ইবনু যিয়াদ হাতের কাঠি দিয়ে তার নাকের মধ্যে আঘাত করতে করতে তিরস্কারের সুরে বলল, এত সুন্দর চেহারা আমি কক্ষনো দেখিনি। [আনাস (রাঃ) বলেন,] তখন আমি তার কথার আপত্তি জানিয়ে বললাম, সাবধান! হুসায়ন (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতির সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। [আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি সহীহ, হাসান ও গরীব]।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أنس قَالَ: أَتَى عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجُعِلَ فِي طَسْتٍ فَجَعَلَ يَنْكُتُ وَقَالَ فِي حُسْنِهِ شَيْئًا قَالَ أَنَسٌ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مَخْضُوبًا بِالْوَسِمَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ زِيَادٍ فَجِيءَ بِرَأْسِ الْحُسَيْنِ فَجَعَلَ يَضْرِبُ بِقَضِيبٍ فِي أَنْفِهِ وَيَقُولُ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَذَا حسنا. فَقلت: أما إِنَّهُ كَانَ أَشْبَهَهُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ غَرِيب
رواہ البخاری (3748) و الترمذی (3778) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ-এর কাছে হুসায়ন (রাঃ)-এর মাথা নিয়ে আসা হলো। মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ উল্লেখ করেছেন যে, সে ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়া কর্তৃক কুফার আমীর নিযুক্ত থাকাকালীন সময়ে হুসায়ন (রাঃ)-কে হত্যা করার জন্য সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিল। ৬২ হিজরীতে মুখতার ইবনু আবূ ‘উবায়দ-এর শাসনকালে ইব্রাহীম ইবনু মালিক ইবনু আশতার আন্ নাখ'ঈ-এর হাতে মুসলের ভূমিতে নিহত হয়।
বাযযার-এর বর্ণনায় আছে, আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, হুসায়ন-এর মাথার যে অংশে তুমি তোমার লাঠি রেখেছ সেই অংশ থেকে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘ্রাণ নিয়েছেন। তা আমি দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে তার লাঠি সরিয়ে ফেলল, ফাতহুল বারীতেও এরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। সাথে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি তোমার লাঠি উঠাও। কারণ তুমি হুসায়ন (রাঃ)- এর যে স্থানে তোমার লাঠি রেখেছ সেই স্থানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ রাখতে দেখেছি।
বাযযার-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি হুসায়ন (রাঃ)-এর যে স্থানে তোমার লাঠি রেখেছ সেই স্থান রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে আমি চুম্বন দিতে দেখেছি। তারপর সে তার লাঠি সরিয়ে নিলো। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, হা. ৩৭৪৮, ১১০ পৃ.)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৮০-[৪৬] উম্মুল ফাযল বিনতু আল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাত্রে আমি মন্দ একটি স্বপ্ন দেখেছি। তিনি (সা.) বললেন, সে স্বপ্নটা কি? উম্মুল ফাযল (রাঃ) বললেন, তা অতি ভয়ানক। তিনি (সা.) আবার বললেন, আরে বল না, সে স্বপ্নটা কি? তখন উম্মুল ফাযল (রাঃ) বললেন, আমি দেখেছি, আপনার দেহ হতে যেন এক টুকরা মাংস কর্তন করা হয়েছে এবং তা আমার কোলে রাখা হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি খুব উত্তম ও চমৎকার স্বপ্ন দেখেছ। ইনশা-আল্ল-হ কন্যা ফাতিমা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করবে, যা তোমার কোলেই রাখা হবে। অতএব কিছু দিন পর ফাতিমার গর্ভে হুসায়ন জন্মগ্রহণ করলেন এবং তাঁকে আমার কোলেই রাখা হলো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছিলেন।
[উম্মুল ফাযল (রাঃ) বলেন,] এরপর একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গেলাম এবং বাচ্চাটিকে (শিশু হুসায়নকে) তার কোলে রাখলাম। অতঃপর আমি (অন্যমনস্কে) আরেক দিকে দেখছিলাম। সহসা এদিকে ফিরে তাকাতেই দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। উম্মুল ফাযল (রাঃ) বলেন, তখন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক আপনার কি হয়েছে? তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে বলে গেলেন যে, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতেরা আমার এ পুত্রটিকে হত্যা করবে। নবী (সা.) বলেন, আমি বিস্ময় প্রকাশে জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমার এ পুত্রটিকে কি তারা হত্যা করবে? জিবরীল (আঃ) বললেন, হ্যাঁ এবং ঐ স্থানের লাল মাটি এনেও আমাকে দেখিয়েছেন, যেখানে তাঁকে হত্যা করা হবে।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أمِّ الْفضل بنت الْحَارِث أَنَّهَا دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُ حُلْمًا مُنْكَرًا اللَّيْلَةَ. قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: إِنَّهُ شَدِيدٌ قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قَالَتْ: رَأَيْتُ كَأَنَّ قِطْعَةً مِنْ جَسَدِكَ قُطِعَتْ وَوُضِعَتْ فِي حِجْرِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتِ خَيْرًا تَلِدُ فَاطِمَةُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غُلَامًا يَكُونُ فِي حِجْرِكِ» . فَوَلَدَتْ فَاطِمَةُ الْحُسَيْنَ فَكَانَ فِي حِجْرِي كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَدَخَلْتُ يَوْمًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حِجْرِهِ ثُمَّ كَانَتْ مِنِّي الْتِفَاتَةٌ فَإِذَا عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَهْرِيقَانِ الدُّمُوعَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا نبيَّ الله بِأبي أَنْت وَأمي مَالك؟ قَالَ: أَتَانِي جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ أُمَّتِي سَتَقْتُلُ ابْنِي هَذَا فَقُلْتُ: هَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ وَأَتَانِي بِتُرْبَةٍ من تربته حَمْرَاء
اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 469) [و صححہ الحاکم علی شرط الشیخین (3 / 176 ۔ 177 ، 179) فقال الذھبی :’’ قلت : بل منقطع ضعیف فان شدادًا لم یدرک ام الفضل و محمد بن مصعب : ضعیف ‘‘]
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসের সমর্থনে ‘যাখায়ির’ গ্রন্থে সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করে দেখলাম যে, তিনি কাঁদছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি উত্তরে বললেন, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথায় ও দাড়িতে মাটি দেখেছি। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি হয়েছে? তখন তিনি বললেন, এখনই আমি হুসায়ন (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৮১-[৪৭] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘুমন্ত লোক যেভাবে কিছু দেখে, সেভাবে আমি নবী (সা.) -কে দ্বিপ্রহরে স্বপ্নে দেখলাম। তখন তিনি (সা.) ছিলেন এলোমেলো ও চেহারায় ধূলি মাখা অবস্থায় তার হাতের মাঝে রক্তে পরিপূর্ণ একটি শিশি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার প্রতি কুরবান হোন। এটা কি? তিনি বললেন, এটা হুসায়ন এবং তার সাথিদের রক্ত, যা আমি আজকের দিন অত্র শিশিতে উঠিয়ে রাখছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, স্বপ্নের সে সময়টি আমি স্মরণে রাখি। পরে দেখতে পেলাম, হুসায়ন ঠিক সে সময়েই নিহত হয়েছেন। (উপরিউক্ত হাদীস দুটি বায়হাক্বী’র দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে ও আহমাদ শেষের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: رَأَيْت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وسل فِيمَا يَرَى النَّائِمُ ذَاتَ يَوْمٍ بِنِصْفِ النَّهَارِ أَشْعَثَ أَغْبَرَ بِيَدِهِ قَارُورَةٌ فِيهَا دَمٌ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا هَذَا؟ قَالَ: «هَذَا دَمُ الْحُسَيْنِ وَأَصْحَابِهِ وَلَمْ أَزَلْ أَلْتَقِطُهُ مُنْذُ الْيَوْم» فأحصي ذَلِك الْوَقْت فأجد قبل ذَلِكَ الْوَقْتِ. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ» وَأحمد الْأَخير
اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 471) و احمد (1 / 242 ح 2165) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: ইমাম আহমাদ এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে ‘আলী (রাঃ) থেকে আরো একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সা.) -এর কাছে প্রবেশ করে দেখলাম যে, তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। তখন আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর নবী! কেউ কি আপনাকে রাগান্বিত করেছে? কি হলো যে, আপনার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, তোমার আর আমার মাঝে কথাবার্তা হওয়ার একটু আগেই জিবরীল (আঃ) আমাকে জানিয়ে গেলেন যে, ফুরাত নদীর তীরে হুসায়ন-কে হত্যা করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি তার মাটির ঘ্রাণ নিতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (সা.) তাঁর হাত প্রসারিত করে এক মুষ্টি মাটি নিয়ে আমাকে দিলেন। তখন আমিও আমার চোখ সামলাতে পারলাম না। আমার চোখ দিয়েও অশ্রু বেয়ে পড়ল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৮২-[৪৮] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো। কেননা তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে দয়া করে থাকেন। আর আমার আহলে বায়তকে ভালোবাসো আমার ভালোবাসায়। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحِبُّوا اللَّهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ مِنْ نِعَمِهِ فَأَحِبُّونِي لِحُبِّ اللَّهِ وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لحبِّي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3789 وقال : حسن غریب) ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে তোমরা তোমাদেরকে তাঁর নি'আমাতের মাধ্যমে রিযক দান করেন। এখানে নি'আমাত বলতে সর্বপ্রকার নি'আমাতকে বুঝানো হয়েছে। কারণ সকল প্রকার নি'আমাত আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। যেমন তিনি বলেন, (وَ مَا بِکُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰهِ) “তোমাদের প্রতি সর্বপ্রকার নি'আমাত আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।” (সূরা আন্ নাহল ১৬: ৫৩)।
উল্লেখিত হাদীসে আল্লাহকে এভাবে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, তার কারণ হলো আল্লাহ সত্তাগতভাবেই ভালোবাসার পাত্র। সৃষ্টিকুলের প্রতি তার যে অনুগ্রহ ও ভালোবাসা রয়েছে সেজন্যই তিনি সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য। তাদেরকে তিনি নি'আমাত দান করুন বা না করুন। যেহেতু তারপরেও তিনি অবিরত নি'আমাত দান করছেন। অতএব এই নি'আমাত দান করার জন্য হলেও তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো।
হাদীসের পরের অংশ বলা হয়েছে যে, আল্লাহকে ভালোবাসার জন্যই তোমরা আমাকে ভালোবাসো। এর কারণ হলো যেহেতু তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো আর আল্লাহ আমাকে ভালোবাসেন। অতএব আল্লাহর ভালোবাসার দাবিই হলো যে, তোমরা আমাকে ভালোবাসবে। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলা নিজে বলেন, (اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰهُ) “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।” (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩: ৩১)
হাদীসের শেষাংশে বলা হয়েছে যে, তোমরা আহলে বায়তকে ভালোবাসো। (যেহেতু আমি আহলে বায়তকে ভালোবাসি।) তাই আহলে বায়তের প্রতি আমার ভালোবাসার দাবি হলো যে, তোমরাও আহলে বায়তকে ভালোবাসবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৮৩-[৪৯] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কাবা ঘরের দরজা ধরে বললেন, আমি নবী (সা.) - কে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার আহলে বায়ত হলো তোমাদের জন্য নূহ (আঃ)-এর নৌকার মতো। যে তাতে আরোহণ করবে, সে পরিত্রাণ পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে, সে ধ্বংস হবে। (আহমাদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابِ مَنَاقِبِ أَهْلِ)
وَعَن أبي ذرٍ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ آخِذٌ بِبَابِ الْكَعْبَةِ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَلَا إِنَّ مِثْلَ أَهْلِ بَيْتِي فِيكُمْ مِثْلُ سَفِينَةِ نُوحٍ مَنْ رَكِبَهَا نَجَا وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هلك» . رَوَاهُ أَحْمد
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد فی فضائل الصحابۃ (2 / 785 ح 1402 ، زیادات القطیعی ، لیس فیہ احمد ولا ابنہ) [و الحاکم (3 / 150 ، 2 / 343)] * فیہ المفضل بن صالح النخاس الاسدی : ضعیف ، وابوہ اسحاق السبیعی مدلس و عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে (وَهُوَ آخِذٌ بِبَابِ الْكَعْبَةِ) অর্থাৎ তিনি কাবা ঘরের দরজা ধরে বললেন। এ অংশটি যুক্ত করা হয়েছে হাদীসের বিষয়বস্তুকে শক্তিশালী করার জন্য। আর আবূ যার (রাঃ) এ কাজটি করেছেন যেন মানুষেরা তার কথায় গুরুত্ব দেয় এবং তা মনে প্রাণে গ্রহণ করে।
(مَنْ رَكِبَهَا نَجَا وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هلك) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে আর যে তা থেকে পিছনে থেকে যাবে সেই ধ্বংস হবে।
এ কথার মাধ্যমে উপমা দিয়ে বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসবে এবং তাদের অনুসরণ করবে সেই দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি পাবে। পক্ষান্তরে যে তা করবে না সেই দুনিয়া ও আখিরাতে ধ্বংস হবে।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক বর্ণনায় আবূ যার বলেন, যে আমাকে চিনার সে তো চিনেছে আর যে চেনার সে চিনে রাখুক যে, আমি আবূ যার। আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তোমরা শুনে রাখ নিশ্চয়, তোমাদের মাঝে আমার পরিবারের উদাহরণ হলো নূহ (আঃ)-এর কিশতির ন্যায়। এখানেও আবূ যার (রাঃ) তার এ কথার মাধ্যমে হাদীসের সত্যতা ও বিশ্বস্ততার প্রতি তাগিদ করেছেন।
দুনিয়ার কুফরী দ্রষ্টতা বিদ্আত মূখতা এবং বক্র প্রবৃত্তির অনুসরণের দৃষ্টান্ত হলো এমন উত্তাল সাগরের ন্যায় যার মাঝে বিশাল বিশাল ঢেউ একটি আরেকটির উপর আছড়ে পরছে। তার উপরে রয়েছে, বিশাল কালো অন্ধকার মেঘমালা তা যেন একেবারে পুরা পৃথিবীকে ছেয়ে ফেলেছে। সেই উত্তাল সাগরের মাঝ থেকে বাঁচার কোন পথ নেই, শুধুমাত্র একটি কিশতি ছাড়া আর কিছু নেই, কীশতিটিই হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পরিবার তথা আহলে বায়তের ভালোবাসা।
ইমাম ফাখরুদ্দীন রাযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরের মধ্যে কতই না উত্তম কথা বলেছেন যে, আমরা আল্লাহর রহমতে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের অনুসারী। আমরা আহলে বায়তদের ভালোবাসার কিশতিতে আরোহণ করেছি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের নির্দেশিত পথে চলছি। তাই আমরা কিয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে এবং জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির আশা করছি। সাথে সাথে আমরা এমন সঠিক পথের কামনা করছি যে, পথে চললে জান্নাতের স্থায়ী নি'আমাত অবধারিত।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা কিশতির ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরো বলেন, সেই কিশতিতে যে সকল দল আরোহণ করেনি তাদের মধ্যে অন্যতম হলো খাওয়ারিজ এবং রাফিযীগণ। তারা প্রথমবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এমন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে যে, সেখান থেকে আর বের হয়ে আসতে পারছে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৪-[১] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মারইয়াম বিনতু ’ইমরান ছিলেন সকল নারীর মাঝে শ্রেষ্ঠ। আর খাদীজাহ্ বিনতু খুওয়াইলিদ (রাঃ) হলেন (বর্তমান উম্মতের) সমগ্র নারী সমাজের মধ্যে শ্রেয়। (বুখারী ও মুসলিম)
অপর এক বর্ণনাতে আছে- আবূ কুরায়ব (রাঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ওয়াকী আকাশ ও জমিনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ: وَأَشَارَ وَكِيعٌ إِلَى السَّمَاء وَالْأَرْض
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3432) و مسلم (69 / 2430)، (6271) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত বিষয়ে হারিস ‘উরওয়াহ্ থেকে মুরসাল সূত্রে আরো একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেটি হলো যে, খাদীজাহ্ (রাঃ) তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা। মারইয়াম তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা। ফাতিমাহ্ তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা।
ওয়াকী' এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তারা আসমান জমিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু অনেক ব্যাখ্যাকারী তার এই বক্তব্য সমর্থন করেননি। কারণ হলো যে, তারা জমিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হতে পারে কিন্তু আসমানে কিভাবে শ্রেষ্ঠ হয়?
অন্যদিকে ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) তার এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে বলেন, হ্যাঁ, এটিও হতে পারে। কারণ ‘আরবীতে এরূপ ব্যবহার আছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, (اِنَّ اللّٰهَ لَا یَخۡفٰی عَلَیۡهِ شَیۡءٌ فِی الۡاَرۡضِ وَ لَا فِی السَّمَآءِ) “নিশ্চয় ভূমণ্ডলের ও নভোমণ্ডলের কোন জিনিসই আল্লাহর নিকট গোপন থাকে না”- (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩: ৫)। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে বিশ্বের কোন কিছুই গোপন থাকে না। এখানে আল্লাহর কাছে বিশ্বের কোন কিছুই গোপন থাকে না, অর্থাৎ আল্লাহ জমিনের সাথে আসমান শব্দ ব্যবহার করেছেন।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা প্রত্যেকেই তাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ মহিলা ছিলেন। তবে তাদের মাঝে কার তুলনায় কার মর্যাদা বেশি তা জানা যায়নি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ফাতহুল বারীতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে সহীহ সনদে নাসায়ীর বরাতে এ সম্পর্কে আরো একটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি হলো জান্নাতবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম মহিলা হলো খাদীজাহ্, ফাতিমাহ্, মারইয়াম ও ‘আসিয়াহ্। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫৩০ পৃ., হা. ৩৪৩২)।
শারহুন নাবাবীতেও বলা হয়ে তারা প্রত্যেকেই ছিলেন তাদের যুগের শ্রেষ্ঠ মহিলা। তাতে এই প্রসঙ্গে আরো একটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে। তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, পুরুষের মধ্যে অনেকেই পরিপূর্ণতা লাভ করেছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে শুধু মারইয়াম বিনতু ‘ইমরান এবং ফির'আওনের স্ত্রীই পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।
এ হাদীসটিকে কেন্দ্র করে কিছু লোক বলে যে, মারইয়াম এবং ‘আসিয়াহ্ নবী ছিলেন। কিন্তু না তারা কোন নবী ছিলেন না। এটি জমহুর ‘উলামার মত। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, ১৭৮ পৃ., হা, ২৪৩০)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৫-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল (আঃ) নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদীজাহ্ একটি পাত্র নিয়ে আসছেন। তাতে তরকারি এবং খাওয়ার সামগ্রী রয়েছে। তিনি (সা.) যখন আপনার কাছে আসবেন, তখন আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ হতে এবং আমার পক্ষ হতে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতের মধ্যে মুক্তাখচিত এমন একটি ভবনের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যেখানে না কোন হৈ-হুল্লোড় আছে আর না কোন দুঃখ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا رسولَ اللَّهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدام وَطَعَام فَإِذَا أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ وَلَا نَصَبَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3820) و مسلم (71 / 2432)، (6273) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, যখন খাদীজাহ্ (রাঃ) আপনার কাছে আসবে তখন তার প্রভুর পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে আপনি তার কাছে সালাম পৌঁছে দিবেন। শারহে মুসলিম গ্রন্থকার বলেন, এ কথার মাধ্যমে খাদীজা (রাঃ)-এর বাহ্যিক মর্যাদা প্রকাশ করা হয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, ১৭৯ পৃ., হা. ২৪৩১)
ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন হেরা গুহায় ছিলেন তখন খাদীজাহ্ (রাঃ) তাঁর জন্য খাবার নিয়ে যেতেন। তারই ধারাবাহিকতায় একদিন খাবার নিয়ে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে জিবরীল (আঃ) এসে তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে খাদীজাহ্ (রাঃ) খাবার ও তরকারির পাত্র নিয়ে আসছেন। অতএব যখন সে আপনার কাছে এসে যাবে তখন আপনি তার প্রতিপালক ও আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন।
তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) খাদীজাহ (রাঃ) কে আল্লাহ ও জিবরীল (আঃ)-এর পক্ষ থেকে সালাম জানালেন তখন উত্তরে খাদীজাহ্ বললেন, (إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ وَعَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ السَّلَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ) নাসায়ীতে আরো অতিরিক্ত উল্লেখ করা হয়েছে, (وَعَلَى مَنْ سَمِعَ السَّلَامُ إِلَّا الشَّيْطَانَ)
‘আলিমগণ বলেন, খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর সালামের উত্তরের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, তার তাৎক্ষণিক বুঝ ছিল অনেক বেশি। তাই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আল্লাহ হলেন নিজেই (السَّلَامُ) তথা শান্তিদাতা। তাহলে তার ওপর কিভাবে শান্তি বর্ষিত হবে। তাই তিনি বলেছেন, (إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ) তথা নিশ্চয় আল্লাহই শান্তিদাতা।
কিন্তু ইসলামের প্রাথমিক যুগে অনেক সাহাবীই এ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তাই তারা সালাতে তাশাহুদের সময় বলতেন, (السَّلَامُ عَلَى اللهِ) তথা আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। নবী (সা.) যখন বিষয়টি শুনলেন তখন বললেন, তোমরা (السَّلَامُ عَلَى اللهِ) বলো না। কেননা (السَّلَامُ) হলো আল্লাহরই একটি নাম। অতএব তোমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রশংসা জ্ঞাপন করো এবং তার জন্য অভিবাধন বর্ণনা করো। অতএব বলো, (التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ)।
আবূ দাউদ ও নাসায়ীতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে খাদীজাহ্ (রাঃ) -এর মর্যাদা সম্পর্কে আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন ইবনু আব্বাস (রাঃ) মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন। জান্নাতী নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী হলেন খাদীজা বিনতু খুয়াইলিদ এবং ফাতিমাহ্ বিনতু মুহাম্মাদ। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১৫৯ পৃ., হা. ৩৮২০)
মিরকাতে খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর বাড়ির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, তা হবে এমন বাড়ি যেখানে কোন শোরগোল চিল্লাচিল্লি ও কষ্ট-ক্লান্তি থাকবে না। আর তাতে এমন কোন কিছু থাকবে না যা জান্নাতের সুখময় জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।
কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জান্নাতের বাড়িকে শোরগোল এবং কষ্ট ক্লেশ থেকে মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। কারণ দুনিয়াতে এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে মানুষ বসবাস করে আর তাতে শোরগোল হয় না এবং কোন কষ্ট-ক্লেশ থাকে না। তা ছাড়াও দুনিয়ার বাড়ি তৈরি করতেও রয়েছে অনেক কষ্ট-ক্লান্তি। কিন্তু জান্নাতের বাড়ি এসব কিছু থেকেই মুক্ত।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জান্নাতের বাড়ি তৈরি হয়েছে আল্লাহর () (হয়ে যাও) বলার মাধ্যমে। তাই তাতে কোন কষ্ট-ক্লান্তির বিষয় নেই। পক্ষান্তরে দুনিয়ার বাড়ি তৈরি করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৬-[৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাদীজাহ্ (রাঃ) -এর প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হত, ততটা ঈর্ষা নবী (সা.) -এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি আমি পোষণ করতাম না। অথচ তাকে আমি দেখিনি। কিন্তু নবী (সা.) অধিকাংশ সময় তাঁর কথা আলোচনা করতেন। সচরাচর ছাগল যাবাহ করে তার বিভিন্ন অঙ্গ কেটে তা খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের কাছে (হাদিয়াস্বরূপ) পাঠাতেন। আমি কখনো কখনো রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতাম, মনে হয় যেন দুনিয়াতে খাদীজাহ্ ছাড়া আর কোন স্ত্রীলোকই নেই।’ তখন তিনি উত্তরে বলতেন, “নিশ্চয় সে এরূপই ছিল, এরূপই ছিল। আর তাঁর তরফ হতেই আমার সন্তান-সন্ততি রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا غِرْتُ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَمَا رَأَيْتُهَا وَلَكِنْ كَانَ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُمَّ يُقَطِّعُهَا أَعْضَاءً ثُمَّ يَبْعَثُهَا فِي صدائق خَدِيجَة فَيَقُول: «إِنَّهَا كَانَت وَكَانَت وَكَانَتْ وَكَانَ لِي مِنْهَا وُلْدٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3818) و مسلم (75 / 2435)، (6278) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, খাদীজাহ ছাড়া কি দুনিয়াতে আর কোন নারী নেই। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে বললেন, (إِنَّهَا كَانَت وَكَانَت) অর্থাৎ তিনি এমন এমন ছিলেন। এর ব্যাখ্যায় মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, খাদীজাহ্ (রাঃ) ছিলেন দিনে সিয়াম পালনকারী এবং রাতের ইবাদাতকারী, তিনি সুন্দরী, সুন্দর চরিত্রের অধিকারী স্নেহশীল, অন্যের প্রতি দয়াবান। এছাড়াও আরো অনেক গুণে গুণান্বিত।
খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ ইবনু আসাদ আল কুরাইশিয়াহ্ ছিলেন আবূ হালাহ ইবনু বারারাহ্-এর প্রথম স্ত্রী। তারপর তাকে বিবাহ করে ‘আতীক ইবনু আবিদ। সর্বশেষে তার তৃতীয় বিবাহ হয় রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর সাথে যখন খাদীজাহ্ -এর বয়স ছিল ৪০ আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স ২৫ বছর। তার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা.) আর কোন বিবাহ করেননি এবং তার বর্তমানেও (জীবিত থাকা কালীন) অন্য কোন নারীকে বিবাহ করেননি। তিনি নারী পুরুষদের মাঝে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। ইব্রাহীম ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সকল সন্তান তার গর্ভে জন্ম লাভ করেছে। হিজরতের দশ বছর পূর্বে তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তাকে হাজুন নামক স্থানে দাফন করা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৭-[৪] আবূ সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, হে ’আয়িশাহ্! এই যে জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আয়িশাহ্ (রাঃ) (জবাবে) বললেন, তাঁর ওপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যা আমি দেখতে পাই না, তিনি [অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সা.)] তা দেখতে পান। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَن أبي سَلمَة أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَائِشُ هَذَا جِبْرِيلُ يُقْرِئُكِ السَّلَامَ» . قَالَتْ: وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ. قَالَتْ: وَهُوَ يَرَى مَا لَا أَرَى مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3768) و مسلم (90 / 2447)، (6301) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর চেয়ে খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর মর্যাদা বেশি। কেননা খাদীজাহ্ (রাঃ)-কে জিবরীল আলাহিস সালাম জানিয়েছেন তার রবের পক্ষ থেকে। আর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে সালাম জানিয়েছেন জিবরীল (আঃ) নিজের পক্ষ থেকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১২৩ পৃ., হা. ৩৭৬৮)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৮-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তোমাকে তিন রজনীতে স্বপ্নযোগে আমাকে দেখানো হয়েছে। একজন মালাক (ফেরেশতা) তোমাকে রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে এসে আমাকে বলেন, ইনি আপনার স্ত্রী। তখন আমি তোমার চেহারার কাপড় খুললাম। তখন দেখতে পেলাম, তুমিই। অতঃপর আমি (মনে মনে) বললাম, এটা যদি আল্লাহর তরফ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই পূর্ণ হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: أُريتُكِ فِي الْمَنَامِ ثَلَاثَ لَيَالٍ يَجِيءُ بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقَالَ لِي: هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَكَشَفْتُ عَنْ وَجْهِكِ الثَّوْبَ فَإِذَا أَنْتِ هِيَ. فَقُلْتُ: إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3895) و مسلم (79 / 2438)، (6283) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: শারহুন নাবাবীর গ্রন্থে কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ স্বপ্নটি যদি তাঁর নুবুওয়্যাতের পূর্বে হয়ে থাকে এবং অনর্থক স্বপ্ন থেকে মুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তার অর্থ হলো এটি একটি সত্য স্বপ্ন। আর যদি নুবুওয়্যাতের পরে হয় তাহলে তার তিনটি অর্থ হতে পারে।
১) স্বপ্নটা যদি প্রত্যক্ষ হয় তাহলে তার কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি পরোক্ষ হয় তাহলে তার ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। এখন সন্দেহ হলো যে, এই স্বপ্নটি কি প্রত্যক্ষ ছিল নাকি পরোক্ষ?
২) “আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বিবাহ দ্বারা কি দুনিয়ার বিবাহ উদ্দেশ্য নাকি জান্নাতের বিবাহ? যদি দুনিয়ার বিবাহ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে তো আল্লাহ তা বাস্তবায়ন করেছেন। এখন সন্দেহ হলো যে, এই স্বপ্নের মাধ্যমে কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ‘আয়িশার সাথে দুনিয়ার বিবাহ উদ্দেশ্য নাকি জান্নাতের বিবাহ?
৩) কোন সন্দেহ নেই। প্রত্যক্ষভাবেই এই সংবাদ দেয়া হয়েছে যা বাস্তবায়িত হয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, ১৮২ পৃ., হা, ২৪৩৮)
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বিবাহের ব্যপারে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং নুবুওয়্যাতের দশম বছরে শাওয়াল মাসে মক্কায় তাকে বিবাহ করেছেন। দ্বিতীয় হিজরীতে শাওয়াল মাসে মদীনায় তার সাথে বাসর করেন। তখন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বয়স ছিল ৮ বছর ১০ মাস। আবার কেউ কেউ বলেন, হিজরতের ৭ মাস পরেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সাথে বাসর করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সাথে ৯ বছর জীবনযাপন করেন। তারপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বয়স ছিল ১৮ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আয়িশাহ্ ছাড়া আর কোন কুমারী নারীকে বিবাহ করেননি।
‘আয়িশাহ (রাঃ) ছিলেন একজন ফকীহ জ্ঞানী বিশুদ্ধভাষিণী এবং অনেক মর্যাদার অধিকারিণী। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকেও অনেক সাহাবী ও তাবি'ঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আয়িশাহ (রাঃ) ১৭ই রমাযানে মঙ্গলবার রাতে ৫৭/৫৮ বছর বয়সে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। রাতেই তাকে দাফন করার আদেশ করা হয়। অতঃপর তাকে বাক্বী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর জানাযার সালাত আদায় করিয়ে ছিলেন আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)- (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৮৯-[৬] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সন্তুষ্টি লাভের জন্য লোকেরা তাদের হাদিয়্যাহ্ বা উপহার পাঠাবার জন্য আমি ’আয়িশার দিনের (পালার) প্রতি খেয়াল রাখত। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্ত্রীগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। এক দলে ছিলেন ’আয়িশাহ্, হাফসাহ, সফিয়্যাহ্ ও সাওদাহ্ (রাঃ)। আর অন্য দলে ছিলেন উম্মু সালামাহ্ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ।
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর দলের স্ত্রীগণ উম্মু সালামাহ্-কে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আলাপ করুন, তাঁকে বলুন, তিনি যেন সকল মানুষকে বলে দেন যে, কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে হাদিয়্যাহ্ দিতে চাইলে তিনি তাঁর যেই স্ত্রীর কাছেই অবস্থান করুন না কেন, সেখানেই যেন পাঠিয়ে দেয়। অতঃপর উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বললেন, হে উম্মু সালামাহ্! আয়িশাহ’র সম্পর্কে তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ো না। কেননা একমাত্র ’আয়িশাহ্ ছাড়া আর কোন স্ত্রীর সাথে এক কাপড়ে থাকাকালে আমার কাছে ওয়াহী আসেনি। উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে কষ্ট দেয়া হতে আল্লাহ তা’আলার কাছে তাওবাহ্ করছি। অতঃপর স্ত্রীগণ ফাতিমাহ্ (রাঃ) -এর কাছে গিয়ে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলে তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পাঠালেন। অতএব ফাতিমাহ্ (রাঃ) গিয়ে তাঁর সাথে কথাবার্তা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে স্নেহময়ী! যা আমি পছন্দ করি, তুমি কি তা পছন্দ কর না? ফাতিমাহ্ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যাই। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি তাহলে আয়িশাহ্-কে ভালোবাস। (বুখারী ও মুসলিম)
বাদী’উল খালক্ক “সৃষ্টির সূচনা” অধ্যায়ে সকল নারীদের উপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত আনাস (রাঃ)-এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।
الفصل الاول (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ مَرْضَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَتْ: إِنَّ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ حِزْبَيْنِ: فَحِزْبٌ فِيهِ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ وَصَفِيَّةُ وَسَوْدَةُ وَالْحِزْبُ الْآخَرُ أُمُّ سَلَمَةَ وَسَائِرُ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَ حِزْبُ أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْنَ لَهَا: كَلِّمِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَيَقُولُ: مَنْ أَرَادَ أَنْ يُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيُهْدِهِ إِلَيْهِ حَيْثُ كَانَ. فَكَلَّمَتْهُ فَقَالَ لَهَا: «لَا تُؤْذِينِي فِي عَائِشَةَ فَإِنَّ الْوَحْيَ لَمْ يَأْتِنِي وَأَنَا فِي ثَوْبِ امْرَأَةٍ إِلَّا عَائِشَةَ» . قَالَتْ: أَتُوب إِلَى الله من ذَاك يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ إِنَّهُنَّ دَعَوْنَ فَاطِمَةَ فَأَرْسَلْنَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَتْهُ فَقَالَ: «يَا بُنَيَّةُ أَلَا تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ؟» قَالَتْ: بَلَى. قَالَ: «فَأَحِبِّي هَذِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَذَكَرَ حَدِيثُ أَنَسٍ «فَضْلَ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ» فِي بَابِ «بَدْءِ الْخَلْقِ» بِرِوَايَةِ أبي مُوسَى
متفق علیہ ، رواہ البخاری (2581) و مسلم (83 / 2442)، (6290) 0 حدیث انس تقدم (5724) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীদের মাঝে দুটি দল ছিল। একদলে ছিল ‘আয়িশাহ্, হাফসাহ, সফিয়্যাহ এবং সাওদাহ (রাঃ)। অন্য আরেক দলে ছিল উম্মু সালামাহ্, যায়নাব, উম্মু হাবীবাহ্, জুওয়াইরিয়াহ্ এবং মায়মূনাহ্ (রাঃ)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্ত্রীদের মধ্য হতে খাদীজাহ্ ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখন বাকী স্ত্রীদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু বলা হবে।
হাফসাহ (রাঃ) তিনি হলেন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কন্যা। তার মা হলেন যায়নাব বিনতু মাযু'উন। প্রথমে তার খুনায়স আস্ সাহমী (রাঃ)-এর সাথে বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু তিনি বদর যুদ্ধে আহত হয়ে মারা যান। তারপর তৃতীয় হিজরীতে রাসূল (সা.)-এর সাথে তার বিবাহ হয়। হাফসাহ (রাঃ) ৪৫ হিজরীতে ৬০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে অনেক সাহাবী এবং তাবিঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সফিয়্যাহ (রাঃ) তিনি হলেন, বানী ইসরাঈলের হুয়াই ইবনু আখতাব-এর কন্যা। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল বনী ইসরাঈলের আরেক অন্যতম সর্দার কিনানাহ্ ইবনু আবূল হুকায়ক-এর সাথে। তার পিতা ও স্বামী উভয়ে খায়বার যুদ্ধে নিহত হয়। তখন সে বন্দি অবস্থায় মুসলিমদের কাছে আসে। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর সাহাবীদের প্রস্তাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে আযাদ করে বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। তিনি ৫০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর। তার থেকে আনাস ও ইবনু উমার (রাঃ) ছাড়াও আরো অনেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সাওদাহ (রাঃ) তিনি হলেন যম'আহ-এর কন্যা। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল সফওয়ান ইবনু আমর এর সাথে। তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তার স্বামী সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পরে মক্কায় ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিবাহ করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৫০ বছর এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বয়সও ছিল ৫০ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সাথে ১৪ বছর জীবনযাপন করেন। তিনি ১৯ হিজরীতে ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে ৫টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) তিনি হলেন আবূ উমাইয়্যাহ্-এর কন্যা। তার আসল নাম হলো হিন্দ। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আপন ফুফাতো ভাই আবূ সালামাহ্-এর সাথে। তিনি উহুদ যুদ্ধে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারপর ৪র্থ হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে তার দাম্পত্যকাল ছিল ৭ বছর। তিনি ৮৪ বছর বয়সে ৫৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে অনেক সাহাবী এবং তাবিঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যায়নাব (রাঃ) তিনি হলেন জাহশ-এর কন্যা তার মা হলেন উমাইয়্যাহ্ বিনতু আবদুল মুত্তালিব। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফাতো বোন। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পোষ্যপুত্র যায়দ ইবনু হারিস-এর সাথে। উভয়ের মাঝে ভালো সম্পর্ক না হওয়ার কারণে তার স্বামী তাকে তালাক দেন। তারপর ৫ম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি ২০ হিজরীতে ৫১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে আয়িশাহ্, উম্মু হাবীবাহ্ আরো অনেকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ) তার নাম হলো রমলাহ। তার পিতা হলেন আবূ সুফইয়ান ইবনু সখর। তার মা হলেন সফিয়্যাহ বিনতু আবূল আস। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু জাহশ-এর সাথে। স্বামী স্ত্রী উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করে হাবশায় হিজরত করেন। কিন্তু তার স্বামী হাবশায় গিয়ে খ্রিষ্টান হয়ে যায় এবং সেখানেই মারা যায়। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে তার দাম্পত্যকাল ছিল ৬ বছর। তিনি ৭২ বছর বয়সে ৪৪ হিজরীতে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে ৬৫টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
জুওয়াইরিয়াহ্ (রাঃ) তার পিতা হলেন বানূ মুস্তালিক গোত্রের সর্দার হারিস ইবনু হিযাম। প্রথমে তার বিবাহ হয়েছিল মুসাফিহ ইবনু সুফইয়ান মুস্তালিকীর সাথে। সে যুদ্ধে বন্দি হয়েছিল এবং দাসী হিসেবে সাবিত ইবনু কায়স-এর ভাগে এসেছিল। সে তার মুনীবের সাথে মুকতাবাত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার চুক্তির মূল্য পরিশোধ করেন এবং তাকে আযাদ করেন। অতঃপর তাকে বিবাহ করেন। তখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তার দাম্পত্যকাল ছিল ৬ বছর। তিনি ৬৫ বছর বয়সে ৫৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে ৭টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
মায়মূনাহ (রাঃ) তার পিতা হলেন হারিস আল হিলালিয়্যাহ্ আল আমিরিয়াহ্। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে বিবাহ হওয়ার পূর্বে তার আরো দু'জনের সাথে বিবাহ হয়েছিল সর্বশেষে তার বিবাহের জন্য ‘আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রস্তাব করলেন। অতঃপর তিনি তাকে বিবাহ করলেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তার দাম্পত্যকাল ছিল সোয়া তিন বছর। তিনি ৫১/৬১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে অনেক সাহাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বিশেষভাবে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর অনেক মর্যাদা ও গুণাবলির কথা বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি বিষয় হলো যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সাথে শয়নকালে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন কিতাবুল খামিসে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে লেপের নিচে ছিলাম তখন এই আয়াত নাযিল হয়।
(اِنَّکَ لَا تَهۡدِیۡ مَنۡ اَحۡبَبۡتَ) “নিশ্চয় আপনি যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করতে পারেন না”- (সূরাহ আল কাসাস ২৮: ৫৬)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯০-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন, সারা বিশ্বের মহিলাদের মধ্য হতে এই চারজন মহিলার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়াই তোমার জন্য যথেষ্ট। তাঁরা হলেন মারইয়াম বিনতু ’ইমরান, খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ, ফাতিমাহ্ বিনতু মুহাম্মাদ এবং ফি’আওনের পত্নী আসিয়াহ্। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَسْبُكَ مِنْ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ محمَّد وآسية امْرَأَة فِرْعَوْن» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3878 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, এ হাদীস হয়তো ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) পরিপূর্ণতা অর্জন করা ও বর্তমান অবস্থায় পৌঁছার পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এজন্য সবাইকে একই সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) নিকায়াহ গ্রন্থে বলেন, আমরা এটা বিশ্বাস করি যে, নারীদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন মারইয়াম এবং ফাতিমাহ আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন খাদীজাহ্ এবং ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)। তাদের মর্যাদার বিষয় বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি মত হলো তাদের কাউকে কারো ওপর প্রাধান্য না দিয়ে নিরবতা অবলম্বন করা। কেননা এই অকাট্য কোন দলীল পাওয়া যায় না। হাকিম তার মুস্তাদরাকে ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে এ বিষয়ে হাদীস উল্লেখ করেন। তা হলো জান্নাতে নারীদের সর্দারণী হলেন চারজন- ১) মারইয়াম, ২) ফাতিমাহ, ৩) খাদীজাহ্ ও ৪) আসিয়াহ্। (মিরাতুল মাফাতীহ)
তুহফাতুল আহওয়াযীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনু তায়মিয়াহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: খাদীজাহ্ এবং আয়িশাহ এ এদের মর্যাদা কাছাকাছি পর্যায়ের।
ইবনুল কাইয়ুম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের মাঝে যদি আমল ও প্রতিদানের ব্যাপারে শ্রেষ্ঠত্বের বিবেচনা করা হয় তাহলে এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কেননা এ বিষয়ে মানুষ অবগত হতে পারে না। কিন্তু যদি ইলমের দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তাহলে অবশ্যই আয়িশাহ (রাঃ) উত্তম। আর যদি সর্দারণী হওয়ার বিবেচনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে ফাতিমাহ্ (রাঃ) হলেন উত্তম। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৯ম খণ্ড, ৩৬৫ পৃ., হা. ৩৮৯০)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯১-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন জিবরীল (আঃ) তাঁর (আয়িশাহ্ রাঃ এর) আকৃতির একটি জিনিসের উপর সবুজ বর্ণের রেশমি কাপড়ে পেঁচিয়ে এনে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বললেন, ইনি ইহকালের ও পরকালের আপনার স্ত্রী হবেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَن عَائِشَة أَن جِبْرِيل جَاءَ بِصُورَتِهَا فِي خِرْقَةِ حَرِيرٍ خَضْرَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3880 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯২-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর স্ত্রী সফিয়্যাহ্-এর কাছে এ কথাটি পৌছেছে যে, হাফসাহ (রাঃ) তাঁকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছেন। এ কথা শুনে সফিয়্যাহ কাঁদতে লাগলেন। এমন সময় নবী (সা.) তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। প্রশ্ন করলেন কি কারণে তুমি কাঁদছ? সফিয়্যাহ্ (রাঃ) বললেন, হাফসাহ আমাকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তো এক নবীর কন্যা, আরেক নবী তোমার চাচা এবং তুমি আরেক নবীর স্ত্রী। অতএব হাফসা কোন কথায় তোমার ওপর গর্ব করতে পারে? অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে হাফসা! আল্লাহকে ভয় কর। (তিরমিযী ও নাসায়ী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: بَلَغَ صَفِيَّةَ أَنَّ حَفْصَةَ قَالَتْ: بِنْتُ يَهُودِيٍّ فَبَكَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» فَقَالَتْ: قَالَتْ لِي حَفْصَةُ: إِنِّي ابْنَةُ يَهُودِيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّك ابْنة نَبِيٍّ وَإِنَّ عَمَّكِ لَنَبِيٌّ وَإِنَّكِ لَتَحْتَ نَبِيٍّ فَفِيمَ تَفْخَرُ عَلَيْكِ؟» ثُمَّ قَالَ: «اتَّقِي اللَّهَ يَا حَفْصَة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3894 وقال : حسن صحیح غریب) و النسائی فی الکبری (8919) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-কে শিখিয়ে দিলেন যে, তুমি হলে একজন নবীর মেয়ে। তার পূর্ব পুরুষ ইসহাক অথবা হারূন (আঃ)-এর দিকে সম্পৃক্ত করে এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন।
তিনি তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন যে, তোমার চাচাও একজন নবী। আর তিনি হলেন ইসমাঈল অথবা মূসা (আঃ)। তিনি তাকে এটিও স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, বর্তমানে তুমি একজন নবীর স্ত্রী হিসেবে আছ। অতএব তোমার মর্যাদা কোনভাবেই কম নয়।
এখানে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর তিনটি মর্যাদার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্য থেকে প্রথম ও শেষটি হাফসার মাঝে আছে। কিন্তু দ্বিতীয়টি শুধু সফিয়্যার মাঝে আছে যা হাফসার মাঝে নেই। এটি হলো সফিয়্যার অতিরিক্ত মর্যাদার বিষয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) হাফসাহ্ (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে হাফসাহ্! তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং এ জাতীয় জাহিলী যুগের কথাবার্তা ছেড়ে দাও। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯৩-[১০] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের পর একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ফাতিমাহকে নিজের কাছে নিয়ে চুপে চুপে কিছু কথা বললেন। তা শুনে ফাতিমাহ্ কেঁদে দিলেন। অতঃপর তিনি আবার তার সাথে কথা বললেন, এবার ফাতিমাহ্ হেসে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর আমি ফাতিমাকে (ঐ দিন) কাঁদার ও হাসার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, শীঘ্রই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, এটা শুনে আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি (সা.) আমাকে বললেন, আমি মারইয়াম বিনতু ’ইমরান ছাড়া জান্নাতী সমস্ত নারীদের সরদার হব। এটা শুনে আমি হেসেছি। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا فَاطِمَةَ عَامَ الْفَتْحِ فَنَاجَاهَا فَبَكَتْ ثُمَّ حَدَّثَهَا فَضَحِكَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلْتُهَا عَنْ بُكَائِهَا وَضَحِكِهَا. قَالَتْ: أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ يَمُوتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَّا مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3873) ۔
(إِسْنَاده جيد)
ব্যাখ্যা: মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসের ঘটনাটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কিছুটা সংশয় ঘটেছে। কেননা সিরাত বিশারদগণের কাছে এই ঘটনাটি মক্কা বিজয়ের বছর ঘটেছে বলে প্রমাণিত নয়। বরং তারা বলেন যে, এ ঘটনাটি ঘটেছে বিদায় হজ্জের বছর অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মুমূর্ষ অবস্থায়।
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর একটি হাদীসে পূর্বেই বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তিনি ফাতিমাকে তার হাসা ও কাঁদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু তখন তিনি তাকে উত্তর দেননি। তারপর আবার যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তখন তিনি এভাবে তার উত্তর দিলেন। যা উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর এই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, ফাতিমাহ্ (রাঃ) -এর হাসার কারণ হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এখন তাকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আমার পরিবারের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম তোমার সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, হ্যাঁ, এটিও হতে পারে। আর এতে পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথেও কোন বৈপরীত্য নেই। হতে পারে দুটি বিষয় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জানিয়েছেন।
তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে, এ হাদীসে মারইয়াম বিনতু ‘ইমরান-কে বাদ দেয়ার কয়েকটি কারণ হতে পারে। সেগুলো হলো-
- তাকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে যে, মর্যাদার ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সমান।
- ফাতিমার মর্যাদার চেয়ে মারইয়াম বিনতু “ইমরান-এর মর্যাদা বেশি।
লুম'আহ্ গ্রন্থে রয়েছে যে, এ হাদীসটি সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়টি জানানোর পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ফাতিমাহ (রাঃ) হলেন বিশ্বের নারীদের ওপর সবচেয়ে মর্যাদাবান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ১ম খণ্ড, ৩৭৭ পৃ., হা, ৩৯০৫)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯৪-[১১] আবূ মূসা আল আ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীগণ যখনই কোন মাসআলায় সন্দেহ বা সমস্যায় পড়তাম, “আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলে তার কাছে তার সঠিক উত্তর বা সমাধান পেয়ে যেতাম।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
عَن أبي مُوسَى قَالَ: مَا أُشْكِلَ عَلَيْنَا أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ قَطُّ فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيب
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3883) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا) অর্থাৎ অবশ্যই আমরা তার কাছে সেই বিষয়ে কোন না কোন জ্ঞান পেতাম।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, হয়তো সে বিষয় তাঁর কাছে সরাসরি কোন হাদীস পাওয়া যেত অথবা এমন কোন হাদীস পাওয়া যেত যার ব্যাখ্যা করে উক্ত মাসআলার সমাধান দেয়া যেত।
তবে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ব্যাপারে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা হলো যে, তোমরা হুমায়রাহ্ থেকে তোমাদের দীনের অর্ধেক গ্রহণ করো। [হুমায়রাহ্ বলতে এখানে আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে]
এ হাদীসটির ব্যাপারে ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর সনদ সম্পর্কে আমি অবগত হতে পারিনি এবং এটি হাদীসের কোন কিতাবে নেই। তবে ইবনুল আসির নিহায়াহ্ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এটি বলেননি যে, কে এই হাদীসের রাবী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা
৬১৯৫-[১২] মূসা ইবনু ত্বলহাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর চেয়ে শুদ্ধভাষী আর কাউকে দেখিনি। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ مَنَاقِبِ أَزْوَاجِ)
وَعَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَفْصَحَ مِنْ عَائِشَةَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3884) * فیہ عبد الملک بن عمیر مدلس و عنعن و المفھوم صحیح
ব্যাখ্যা: তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে, বিশুদ্ধভাষী বলতে বুঝানো হয় এমন ব্যক্তিকে যে, এমন বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলে যা মানুষের কাছে বিশুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। আর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এ জাতীয় বিশুদ্ধভাষিণী ছিলেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৯ম খণ্ড, হা. ৩৮৯৬)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৯৬-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার হাতে যেন এক টুকরা রেশমি কাপড়। আমি জান্নাতের মাঝে যে কোথাও যেতে ইচ্ছা করি, তখনই ঐ কাপড় খণ্ডটি আমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আমি এই স্বপ্নের কথা হাফসার কাছে বললাম, তখন হাফসাহ (রাঃ) তা নবী (সা.) -এর কাছে বললে তিনি উত্তরে বললেন, তোমার ভাই অথবা বলেছেন, ’আবদুল্লাহ একজন সৎ লোক। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
عَن عبد الله بن عمر قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ فِي يَدِي سراقَة مِنْ حَرِيرٍ لَا أَهْوِي بِهَا إِلَى مَكَانٍ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا طَارَتْ بِي إِلَيْهِ فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ أَخَاكِ رَجُلٌ صَالِحٌ - أَوْ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَجُلٌ صَالح -» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (7015) و مسلم (139 / 2478)، (6369) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি ছোট অবস্থায় তার পিতার সাথে মক্কাতেই ইসলাম গ্রহণ করেন। খন্দক যুদ্ধের পর থেকে সব যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন আল্লাহভীরু, জ্ঞানী, দুনিয়াত্যাগী এবং অনেক সতর্কবান লোক ছিলেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই দুনিয়ার প্রতি কিছু না কিছু ঝোঁক ছিল কিন্তু ‘উমার এবং তার ছেলে আবদুল্লাহ ব্যতীত। তাদের দুনিয়ার প্রতি কোন ঝোঁক ছিল না।
নাফি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) মৃত্যুবরণ করতে না করতেই এক হাজারের বেশি মানুষকে আযাদ করে দেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ওয়াহী আসার এক বছর পূর্বে। আর তার মৃত্যু হয়েছে ৭৩ হিজরীতে ইবনু যুবায়রকে হত্যা করার ৩ মাস অথবা ৬ মাস পর।
তিনি ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন যেন তাকে হিল্লা এলাকায় দাফন করা হয়। কিন্তু হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফএর কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই তাকে যে তুয়ায় মুহাজিরদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার থেকে অনেক মানুষ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(لَا أَهْوِي بِهَا إِلَى مَكَانٍ فِي الْجَنَّةِ إِلَّا طَارَتْ بِي إِلَيْهِ) অর্থাৎ জান্নাতের যে স্থানেই আমি যেতে ইচ্ছা করি সেখানে তা আমাকে জড়িয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, যেন সেই রেশমের টুকরাটি তার জন্য পাখির ডানার মতো হয়েছিল।
মাসাবীহের ব্যাখ্যাকারী বলেন, তাঁর স্বপ্নটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তাঁর হাতের রেশমের টুকরাটি হলো তার সৎ ‘আমল। আর সেই টুকরাটির সাদা হওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত।
এছাড়াও মাসাবীহ গ্রন্থে হাদীসটি এভাবে আছে যে, (سَرَقَةً مِنْ حَرِ يرٍ بَيْضَاءَ) অর্থাৎ সাদা রেশমের টুকরা এখান থেকেও স্বপ্নের ব্যাখ্যাটি নেয়া যেতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৯৭-[২] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গাম্ভীর্য, চালচলন এবং পথ চলার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে অধিকতর সদৃশ ছিলেন ইবনু উম্মু আবদ গৃহ হতে বের হওয়ার পর আবার গৃহে প্রত্যাবর্তন করা অবধি। তবে যখন তিনি গৃহের অভ্যন্তরে একাকী থাকতেন, তখন কি অবস্থায় থাকতেন, তা আমাদের জানা নেই। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن حذيفةَ قَالَ: إِنَّ أَشْبَهَ النَّاسِ دَلًّا وَسَمْتًا وَهَدْيًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَابْنُ أم عبدٍ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى أَنْ يرجع إِلَيْهِ لَا تَدْرِي مَا يصنع أَهله إِذا خلا. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (6097) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের উল্লেখিত কিছু শব্দের ব্যাখ্যা (دَلَّا) এ শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে, কথাবার্তা ও চালচলনের ক্ষেত্রে উত্তমতা অবলম্বন করা।
(سَمْتًا) এ শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে, দীনের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে পালন করা। আবার কখনো এই শব্দটি বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করাকেও বুঝায়।
(هَدْيًا) এ শব্দটি বুঝায় দীনের ক্ষেত্রে এবং কোন কল্যাণের বিষয়ে গাম্ভীর্যতা ও প্রশান্তি অবলম্বন করা। উক্ত হাদীসে (ابْنُ أم عبدٍ) দ্বারা আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। উক্ত হাদীসে ইবনু মাস্'উদ (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) কর্তৃক তার ব্যাপারে এই সাক্ষ্য দেয়ার মাধ্যমে যে, উল্লেখিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সবচেয়ে বেশি তিনি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।
আবূ উবায়দ গরীবুল হাদীসে বর্ণনা করে যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ)-এর ছাত্ররা তার চালচলন, গাম্ভীর্যতার সাথেও সাদৃশ্য রাখত, হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস যেন তাদেরকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করত। ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) আদাবুল মুফরাদে যায়দ ইবনু ওয়াহব-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাউদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা যেন শেষ যামানায় উত্তম চাল-চলন কর্তৃক ‘আমল থেকে উত্তম রাখ। এসব হাদীসের মাধ্যমেও ইবনু মাস্'উদ (রাঃ)-এর মর্যাদা প্রকাশ পায়।
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। আর ‘উমার-এর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু উমার। বাহ্যিকভাবে এখানে উভয় হাদীসের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে।
হাদীস দুটির মাঝে দাউদী সমন্বয় সাধন করেছেন এভাবে যে, ইবনু মাসউদ (রাঃ) চাল-চলনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। আর ‘উমার অন্য দীন মানার বিষয়ে দৃঢ় হওয়ার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। অথবা, এটিও হতে পারে যে, হুযায়ফাহ্ (রাঃ) ইবনু মা'উদ (রাঃ) সম্পর্কে এ কথা বলেছেন ‘উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর। (ফাতহুল বারী ১০ম খণ্ড, ৫৭৪ পৃ., হা, ৬০৯৭)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৯৮-[৩] আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই ইয়ামান হতে (মদীনায়) আগমন করে বেশ কিছুদিন বাস করলাম। আমরা এটাই মনে করতাম যে, ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) নবী (সা.) -এর পরিবারেই একজন সদস্য। কেননা আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাতাকে নবী (সা.) - এর গৃহে যাতায়াত করতে প্রায়ই দেখতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَدِمْتُ أَنَا وَأَخِي مِنَ الْيَمَنِ فَمَكَثْنَا حِينًا مَا نَرَى إِلَّا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا نُرَى مِنْ دُخُولِهِ وَدُخُولِ أُمِّهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3763) و مسلم (110 / 2460)، (6326) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা ইবনু মাস'উদ (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তার কুনিয়াত ছিল আবূ ‘আবদুর রহমান। তিনি নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে ‘উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ করার কিছু আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তখনও রাসূলুল্লাহ (সা.) দারুল আরকামে প্রবেশ করেননি।
কেউ কেউ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি হলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কাছে সফরে মিসওয়াক, জুতা ও উযূর পান রাখতেন। তিনি হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধে এবং তার পরে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ব্যাপারে জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, আমি আমার উম্মতের প্রতি সেই বিষয়ে সন্তুষ্ট যে বিষয়ে ইবনু মাসউদ (ابْنُ أُمِّ عَبْدٍ) সন্তুষ্ট। আর আমি আমার উম্মতের জন্য সেই বিষয়ে অসন্তুষ্ট যেই বিষয়ে ইবনু মা'সঊদ (ابْنُ أُمِّ عَبْدٍ) অসন্তুষ্ট।
ইবনু মাঊদ (রাঃ) ছিলেন, ক্ষীণকায় এবং খাটো। তিনি কুফায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং “উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ও ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালের প্রথম দিকে বায়তুল মালের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি মদীনায় থাকতেন এবং সেখানেই ৩২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছরের কিছু বেশি। তাকে বাক্বী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আবূ বাকর, “উমার, উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-সহ তাদের পরবর্তী অনেক সাহাবী এবং তাবি'ঈ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, চার খলীফার পর সাহাবীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড় ফক্বীহ ছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ) ও তার মা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে বেশি বেশি যাতায়াত করাটা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তাদের অনেক ভালো একটা সম্পর্কে ছিল। যা তাদের জন্য মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৯ম খণ্ড, ৩১১ পৃ., হা. ৩৮১৮)
শারহুন নাবাবী গ্রন্থে বলা হয়েছে, এ হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, “ইলম অন্বেষণের জন্য সফর করা এবং এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গমন করা মুস্তাহাব। (শারহুন নাবাবী ১৬ খণ্ড, ১৪ পৃ., হা, ২৪৬০)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬১৯৯-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা চার লোকের কাছে কুরআন অধ্যয়ন কর- ১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, ২. আবূ হুযায়ফাহ’র স্বাধীন দাস সালিম, ৩. উবাই ইবনু কা’ব ও ৪. মু’আয ইবনু জাবাল । (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: استقرؤوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ: مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْب ومعاذ بن جبل . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3706) و مسلم (117 / 2464)، (6335) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, ‘আলিমগণ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই চারজনের থেকে বিশেষভাবে কুরআন শিখতে বললেন, তার কারণ হলো চারজন বেশি স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। আর যেভাবে কথা শুনতেন সেভাবই হুবহু শব্দ ঠিক রেখে অন্যের কাছে পৌছাতে পারতেন। যদিও কুরআনের অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে অনেকেই তাদের থেকে অধিক পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু কুরআন শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা চারজনই ছিলেন বেশি দক্ষ।
আরেকটি কারণ হলো যে, তারা চারজন সর্বদা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ থেকে শুনতেন। কিন্তু অন্যরা মাঝে মধ্যে একে অপরের থেকে শুনেও মুখস্থ করে নিতেন। এছাড়াও তারা নিজেদেরকে অবসর করে রাখতেন যেন অন্যরা তাদের থেকে কুরআন শিক্ষা করতে পারে। অথবা এটিও একটি কারণ হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জানিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর যেন কুরআন শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে এই চারজনকে আগে রাখা হয়। কারণ তারা অন্যদের তুলনায় ভালোভাবে কুরআন পড়তে পারে। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ১৮ পৃ., হা. ২৪৬২)
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা সালিম সম্পর্কে বলেন যে, তিনি হলেন আবূ হুযায়ফাহ্ ইবনু 'উতবাহ্ ইবনু রবী'আহ্-এর আযাদকৃত দাস সালিম ইবনু মা'কাল। তিনি পারস্যের অধিবাসী আযাদকৃত দাসদের মধ্যে অনেক সম্মানিত ও বড় মাপের সাহাবী ছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার থেকে সাবিত ইবনু কায়স এবং ইবনু উমার ছাড়াও অনেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০০-[৫] ’আলকামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সিরিয়া গেলাম এবং (সেখানকার মসজিদে) দু রাকআত সালাত আদায় করলাম। অতঃপর আমি দুআ করলাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দাও। তারপর আমি একদল লোকের কাছে এসে বসলাম। সহসা দেখলাম, একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি লোকেদেরকে প্রশ্ন করলাম, ইনি কে? তারা বলল, ইনি আবূদ দারদা (রাঃ)। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে একজন সৎ সাথি মিলিয়ে দেয়ার জন্য দু’আ করেছিলাম। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আমার জন্য মিলিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? বললাম, আমি কূফার অধিবাসী। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কি ইবনু উম্মু ’আবদ (অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ) নেই? যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা, বালিশ ও উযূর পাত্র বহনকারী ছিলেন এবং তোমাদের মধ্যে কি ঐ লোক নেই? নবী (সা.) -এর মুখের দু’আয় আল্লাহ তা’আলা যে লোকটিকে শয়তান হতে পানাহ দিয়েছেন, অর্থাৎ ’আম্মার (ইবনু ইয়াসীর) (রাঃ)। আর তোমাদের মাঝে কি ঐ লোক নেই? যিনি ছাড়া [নবী (সা.) -এর] গোপন তথ্যাদি আর কেউই জানে না অর্থাৎ হুযায়ফাহ্ (রাঃ)। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن علقمةَ قَالَ: قَدِمْتُ الشَّامَ فَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قُلْتُ: اللَّهُمَّ يَسِّرْ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَأَتَيْتُ قَوْمًا فَجَلَسْتُ إِلَيْهِمْ فَإِذَا شَيْخٌ قَدْ جَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَى جَنْبِي قُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو الدَّرْدَاءِ. قُلْتُ: إِنِّي دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَيَسَّرَكَ لِي فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ. قَالَ: أَو لَيْسَ عنْدكُمْ ابْن أمِّ عبد صَاحب النَّعْلَيْنِ وَالْوِسَادَةِ وَالْمَطْهَرَةِ وَفِيكُمُ الَّذِي أَجَارَهُ اللَّهُ مِنَ الشَّيْطَانِ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ؟ يَعْنِي عَمَّارًا أَوْ لَيْسَ فِيكُمْ صَاحِبُ السِّرِّ الَّذِي لَا يعلمُه غيرُه؟ يَعْنِي حُذَيْفَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3742) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে আবূ দারদা (রাঃ) বললেন, (أَو لَيْسَ عنْدكُمْ ابْن أمِّ عبد) অর্থাৎ তোমাদের কাছে কি ইবনু উম্মু আবদ তথা ইবনু মাস'উদ নেই? এই প্রশ্ন দ্বারা আবূ দারদার উদ্দেশ্য হলো তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, তারা ‘ইলম অন্বেষণ করার জন্য এসেছেন। তাই তিনি তাদেরকে বলে দিলেন যে, তাদের কাছেই তো এমন বড় বড় জ্ঞানী ব্যক্তিরা আছেন যাদেরকে ছাড়া অন্য কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজন। নেই।
উক্ত হাদীস থেকে এটিও বুঝা যায় যে, মুহাদ্দিসের একটি আদব হলো যে, তারা নিজের শহরের শায়খদের কাছে সব জ্ঞান না শিখে অন্য শহরে যায় না। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১০৫ পৃ., হা. ৩৭৪২)
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ)-এর সাথে বিভিন্ন গুণাবলি যুক্ত করে বুঝানো হয়েছে যে, তিনি সবসময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেবা করতেন। বিভিন্ন বৈঠকে তার সাথে যেতেন এবং তার জুতা নিয়ে যেতেন এবং তার জুতা নিয়ে রাখতেন। আবার যখন বৈঠক শেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) এই উঠে পড়তেন তখন তিনি তাঁর জুতা নিয়ে তাঁকে দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন একা থাকতেন তখনও তিনি তাঁর সাথে থাকতেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি তার বিছানা, বালিশ ঠিক করে দিতেন। তাঁর উযূর সময় উযূর পানি এনে দিতেন। মোটকথা হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে এত অধিক সময় থেকেছেন যে, তাতে ধারণা হয়, তিনি অবশ্যই তার থেকে অনেক জ্ঞান শিখেছেন। অতএব শারী'আতের জ্ঞান শিখার জন্য তাঁর আর অন্য কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা ‘আম্মার (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন মাখযুম গোত্রের আযাদকৃত দাস ‘আম্মার ইবনু ইয়াসার আল ‘আব্বাসী। তিনি নুবুওয়্যাতের প্রাথমিক যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ঐ সকল দুর্বল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে মক্কায় অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি মুশরিকরা তাকে আগুনে পুড়িয়েছে। সে সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং তার শরীরে হাত বুলিয়ে বললেন, হে আগুন! তুমি ‘আম্মার-এর জন্য ঠাণ্ডা এবং শান্তিদায়ক হয়ে যাও যেমন ইব্রাহীম (আঃ)-এর জন্য হয়েছিলে। তিনি প্রথম হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদর সহ অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার নাম দিয়েছিলেন আত্ তায়্যিবুল মুতায়্যিব। তিনি ৩৭ হিজরীতে ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-এর দলে থেকে সিফফীনের যুদ্ধে নিহত হন।
মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৯৩ বছর। তার থেকে ‘আলী ইবনু আব্বাস (রাঃ) ছাড়াও আরো অনেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মিরকাতল মাফাতীহ প্রণেতা হুযায়ফাহ (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন ইয়ামানের অধিবাসী। তার নাম হলো হুসায়ল। আর ইয়ামান হলো তার লকব এবং তার কুনিয়াত হলো হুযায়ফাহ্ আবূ আবদুল্লাহ আল ‘আব্বাসী।
তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তার কাছে মুনাফিকদের বিষয়ে বিভিন্ন গোপন কথা এবং এই উম্মতের মাঝে ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে বিষয়ে অনেক গোপন কথা বলতেন।
তিনি মাদায়িনে ৩৫/৩৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তার কবর রয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তুহফাতুল আহওয়াযীতে ‘আম্মার-এর মর্যাদা সম্পর্কে আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত। ‘আম্মারকে যদি দুটি বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয় তাহলে সে দুটির থেকে সঠিক বিষয়টি গ্রহণ করে। (তুহফাতুল আহওযায়ী ৯ম খণ্ড, ৩১৪ পৃ., হা. ৩৮২৩)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০১-[৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমাকে জান্নাত দেখানো হয় (মিরাজে অথবা স্বপ্নে,) সেখানে আমি আবূ ত্বলহাহ্-এর স্ত্রীকে দেখলাম এবং আমার সামনে কারো (চলার) পায়ের খসখস শব্দ শুনতে পাই, লক্ষ্য করে দেখি তিনি বিলাল। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُرِيْتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ امْرَأَةَ أَبِي طَلْحَةَ وَسَمِعْتُ خَشْخَشَةً أَمَامِي فَإِذَا بِلَالٌ» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (106 / 2457)، (6321) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, আবূ ত্বলহার স্ত্রীর হলেন, উম্মু সুলায়ম (রাঃ) প্রথমে তাকে বিবাহ করেছিলেন আনাস ইবনু মালিক-এর পিতা মালিক ইবনু নাযর। তার মাধ্যমেই আনাস (রাঃ)-এর জন্ম হয়। কিন্তু তার স্বামী মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তারপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর আবূ তুলহাহ তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ হলো আবূ ত্বলহাহ্ তখনও মুশরিক ছিলেন। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন। সেই দাওয়াতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তাকে বললেন, আমি আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হব কিন্তু কোন মোহর নিব না। আপনার ইসলাম গ্রহণ করাটাই হলো আমার জন্য মোহর। তারপর আবূ ত্বলহাহ্ তাকে বিবাহ করেন।
উম্মু সুলায়ম থেকে অনেক মানুষ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সামনে বিলাল (রাঃ)-এর পায়ের/জুতার আওয়াজ শুনতে পেলেন। বিলাল (রাঃ) হলেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর আযাদকৃত দাস ইবনু রবাহ। নুবুওয়্যাতের প্রথম যুগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কায় তিনিই প্রথম তার ইসলামের কথা প্রকাশ করেন। তিনি ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন, যাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে মক্কায় অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে সবচেয়ে বেশি যে কষ্ট দিতো সে হলো তার মুনীব উমাইয়্যাহ ইবনু খলফ আল জুমাহী আর আল্লাহর কি ইচ্ছা বদর যুদ্ধে বিলাল (রাঃ) নিজে তাকে হত্যা করেন। বিলাল (রাঃ) ২০ হিজরীতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বাবে সগীরে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৩ বছর।
জাবির (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলতেন। আবূ বাকর (রাঃ) আমাদের নেতা তিনি আমাদের আরেক নেতা বিলাল (রাঃ)-কে আযাদ করেছেন।
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেন যে, সর্বপ্রথম তাদের ইসলাম গ্রহণ করার কথা প্রকাশ করেছিলেন সাতজন। তারা হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), আবূ বাকর, ‘আম্মার তার মা সুমাইয়া, সুহায়ব, বিলাল এবং মিক্বদাদ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আল্লাহ মুশরিকদের কষ্টের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তার চাচা আবূ তালিব-এর মাধ্যমে। আবূ বাকর (রাঃ)-কে আল্লাহ মুশরিকদের কষ্টের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তার সম্প্রদায়ের মাধ্যমে। কিন্তু বাকীদের ওপর মুশরিকরা চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন আর পৈশাচিক তাণ্ডবের স্টিম রোলার। পাশাপাশি তাদের কাউকে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর প্রচণ্ড রোদে বেঁধে রেখেছে। অসহ্য নির্যাতনের কারণে তারা তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করেছেন, কিন্তু বিলাল (রাঃ) ব্যতীত। তিনি আল্লাহর জন্য নিজেকে তুচ্ছ করে দিয়েছিলেন। অতঃপর মুশরিকরা তাকে নিয়ে মক্কার উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা তাকে মক্কার পথে পথে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে চলত তখন তিনি শুধু বলতেন ‘আহাদ আহাদ' তথা আল্লাহ এক আল্লাহ এক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০২-[৭] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা ছয়জন নবী (সা.) -এর কাছে বসা ছিলাম। তখন মুশরিকরা নবী (সা.) -কে বলল, এ সমস্ত লোকেদেরকে সরিয়ে দিন, যাতে তারা আমাদের ওপর সাহসী না হয়ে পড়ে। সা’দ বলেন, সে ছয়জনের মধ্যে ছিলাম আমি, ইবনু মাস’উদ, হুযায়ল গোত্রের এক লোক, বিলাল ও আরো দু’জন যাদের নাম আমি বলতে চাই না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মনে তাই উদ্ভব হয়, যা উদ্ভব করতে আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা হয়েছে। এ সম্পর্ক নবী (সা.) মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন, ঠিক এমন সময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, “সে সকল লোকেদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রভুকে আহ্বান করে। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن سعد قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِتَّةَ نَفَرٍ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: اطرد هَؤُلَاءِ لَا يجترؤون عَلَيْنَا. قَالَ: وَكُنْتُ أَنَا وَابْنُ مَسْعُودٍ وَرَجُلٌ مِنْ هُذَيْلٍ وَبِلَالٌ وَرَجُلَانِ لَسْتُ أُسَمِّيهِمَا فَوَقَعَ فِي نَفْسِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقَعَ فَحَدَّثَ نَفْسَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: [وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ] . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (46 / 2413)، (6241) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে ছয়জন ব্যক্তির কথা বলা হলেও শুধু চারজনের নাম তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আর দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেই দুজনের নাম উল্লেখ না করার পিছনে মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা দু'টি কারণ উল্লেখ করেছেন। যথা
১) উক্ত হাদীসের রাবী কথা বলার সময় সেই দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করার মাঝে কোন কল্যাণ মনে করেননি। তাই তিনি তাদের নাম বলেননি।
২) তিনি হয়তো তাদের নাম বলতে ভুলে গিয়েছিলেন।
আযহার গ্রন্থের লেখক বলেন, তাদের দুজনের নাম হলো খাব্বাব ও ‘আম্মার (রাঃ)।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা খব্বাব (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন খব্বাব ইবনুল আরত। তার কুনিয়াত হলো আবূ আবদুল্লাহ আত্ তামিমী। তিনি জাহিলী যুগে বন্দী হয়েছিলেন। অতঃপর খুযা গোত্রের এক মহিলা তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দেয়। নবী (সা.) -এর দারুল আরক্বামে প্রবেশ করার পূর্বেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে অনেক কষ্ট দেয়া হয়েছে। তিনি কুফায় বসবাস করেছেন এবং সেখানেই ৩৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তার থেকে অনেকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে ঐ প্রস্তাব করল তখন তিনি মনে মনে ভাবলেন যে, বাহ্যিকভাবে তাদেরকে এখানে উঠিয়ে দিবেন যখন সেই নেতারা আসবে তখন তাদের সম্মানার্থে যেন এরা এখান থেকে উঠে যায় কারণ তিনি ভেবেছিলেন যে, তারা হয়তো তার কাছে এসে কথা শুনে ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু আল্লাহ তা পছন্দ করেননি। তাই তিনি আয়াত নাযিল করে জানিয়ে দেন যে, আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েন না।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে যে, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলল, যদি আপনি এদেরকে আপনার নিকট থেকে তাড়িয়ে দেন তাহলে আমরা আপনার সাথে বসে কথা বলব। তখন নবী (সা.) বললেন, আমি মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দিতে পারি না।
তারপর তারা বলল, তাহলে আমরা যখন আপনার কাছে আসব তখন আপনি তাদেরকে আপনার নিকট থেকে উঠিয়ে দিবেন। তখন নবী (সা.) বললেন, হ্যাঁ। এই আশায় যে, তারা হয়তো ঈমান আনবে। তারপরেই আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করার মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি যেন এরূপ না করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৩-[৮] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছেন, হে আবূ মূসা! দাউদ এর কণ্ঠস্বর তোমাকে দান করা হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «يَا أَبَا مُوسَى لَقَدْ أُعْطِيْتَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آل دَاوُد» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (5048) و مسلم (235 / 793)، (1852) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ মুসা (রাঃ)-কে এমন সুন্দর কণ্ঠস্বর দেয়া হয়েছে যা কিছুটা দাউদ (আঃ)-এর কণ্ঠস্বরের সাথে সাদৃশ্য রাখে। এখানে দাউদ পরিবার দ্বারা স্বয়ং দাউদ (আঃ)-কে উদ্দেশ্য। যেহেতু এমন কোন প্রসিদ্ধতা নেই যে, দাউদ (আঃ)-এর পরিবারের কণ্ঠস্বর সুন্দর ছিল।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা আবূ মূসা (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনু কায়স আল আশআরী। তিনি মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করে হাবাশায় হিজরত করেছিলেন। তারপর জাহাজের লোকেদের সাথে তিনি মদীনায় চলেন আসেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বারে ছিলেন।
‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর শাসনকালে ২০ হিজরীতে তাকে বাসরার গভর্নর নিযুক্ত করেন। অতঃপর আবূ মূসা (রাঃ) আহওয়ায অঞ্চল বিজয় করেন। তারপর ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালের প্রাথমিক যুগ পর্যন্ত তিনি বাসরার গভর্নর হিসেবেই থেকে যান। অতঃপর তাকে সেখান থেকে কুফায় এনে গভর্নর বানানো হয়। 'উসমান (রাঃ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি এই দায়িত্ব পালন করে তারপর তিনি মক্কায় চলে আসেন এবং ৫২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই থেকে যান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৪-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সময়ে এ চার ব্যক্তি পূর্ণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ করেছিলেন- উবাই ইবনু কা’ব, মু’আয ইবনু জাবাল, যায়দ ইবনু সাবিত ও আবূ যায়দ। আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, আমার এক চাচা। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن أنس قَالَ: جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَةٌ: أُبَيُّ بْنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبُو زَيْدٍ قِيلَ لِأَنَسٍ: مَنْ أَبُو زَيْدٍ؟ قَالَ: أحد عمومتي. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3810) و مسلم (119 / 2460)، (6340) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত চারজন ব্যক্তি দ্বারা আনাস (রাঃ) খাযরাজ গোত্রের চারজন ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন। যেহেতু মুহাজিরদের মাঝেও অনেকে কুরআন জমা করেছিলেন। কুরআন জমা করার বিষয়টি শুধু এই চারজনের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
ফাতহুল বারীতে আবূ যায়দ-এর নামের ব্যাপারে কিছুটা মতানৈক্য উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- ‘আলী ইবনু মাদীনী বলেন, তার নাম হলো আওস। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন বলেন, তার নাম হলো, সাবিত ইবনু যায়দ। আরো কেউ কেউ বলেন, তার নাম হলো সা'দ ইবনু উবায়দ ইবনু নুমান। ইমাম তবারানী (রহিমাহুল্লাহ) এই নামকেই বেশি সঠিক হিসেবে তার শায়খ আবূ বাকর ইবনু সদাক্বাহ থেকে উল্লেখ করেছেন। আবূ যায়দকেও কারী বলা হত। তিনি কাদিসিয়্যাতে ছিলেন এবং সেখানেই শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছিলেন ‘উমায়র ইবনু সা'দ-এর পিতা। ওয়াকিদী বলেন, তার নাম ছিল কায়স ইবনু সাকান। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১৪৬ পৃ., হা. ৩৮১০)
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, উক্ত হাদীসের সারকথা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় যারা পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছেন তাদের মধ্য থেকে চারজন হলেন আনসার সাহাবী।
শারহুন নাবাবী গ্রন্থে মাযিরী বলেন, এই হাদীসকে কেন্দ্র করে কিছু নাস্তিক বলে থাকে যে, কুরআন তাওয়াতুর সূত্রে বর্ণিত হয়নি। তাদের এ কথার উত্তর দু’ভাবে দেয়া হয়ে থাকে।
এমন কোন বর্ণনা নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, এই চারজন ছাড়া আর কেউ কুরআন জমা করেননি। বরং এমন অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে বলা হয়েছে যে, অনেক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কুরআন মুখস্থ করে জমা করেছেন। মাযিরী নিজেই তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনের কথা উল্লেখ করেছেন। যারা মুখস্থ করার মাধ্যমে কুরআন জমা করেছিলেন। এছাড়াও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়ামামার যুদ্ধের দিন সত্তর জন হাফিয শাহাদাত বরণ করেন। আর ইয়ামামার যুদ্ধ তো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই ঘটেছে।
তাহলে নিশ্চিত এটা বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যুগেও অনেক হাফিয সাহাবী ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কিছু হাফিয সাহাবী ইমামার যুদ্ধে মারা গেছেন।
এছাড়া এ হাদীসে কুরআন জমাকারীদের মধ্যে আবূ বাকর ‘উমার, উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ তারা সর্বপ্রকার কল্যাণের প্রতি ব্যাপক আগ্রহী ছিলেন। অতএব, এটা কিভাবে ধারণা করা যায় যে, এত আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তারা কুরআন মুখস্থ করেননি।
এমনকি বর্তমানেও বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ কুরআন মুখস্থ করে আসছে। অতএব কুরআন তাওয়াতুর সূত্রে বর্ণিত হয়নি এমন দাবী একেবারেই ভ্রান্ত এবং অবান্তর।
দুই, যদি ধরেও নেয়া হয় যে, শুধুমাত্র এই চারজনই কুরআন মুখস্থ করে জমা করেছেন। তারপরেও এটি তাওয়াতুর সূত্রের পরিপন্থী নয়। কারণ তাওয়াতুর সূত্র হওয়ার জন্য এটি শর্ত নয় যে, প্রত্যেক স্তরে সকলে সকলের থেকে বর্ণনা করতে হবে। বরং প্রত্যেক স্তরে তাওয়াতুর সংখ্যক রাবী থাকলেই তা তাওয়াতুর হিসেবে গণ্য হবে। আর তাওয়াতুর সূত্র বা সনদ হওয়ার জন্য শর্ত হলো প্রত্যেক স্তরে তিনের অধিক রাবী থাকতে হবে। এখানে তো তিনের অধিক হিসেবে চারজন আছেই। অতএব, তাওয়াতুর হওয়ার ক্ষেত্রে কোন সন্দেহ নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ১৮-১৯ পৃ., হা. ২৪২৫)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৫-[১০] খব্বাব ইবনুল আরত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে হিজরত করেছি, অতএব আমাদের পুরস্কার আল্লাহর কাছে সাব্যস্ত হয়েছে। তবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের পুরস্কারের কিছুই ভোগ না করে (দুনিয়া হতে) চলে গেছেন। মুসআব ইবনু উমায়র (রাঃ) তাঁদের অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলে তাকে কাফন দেয়ার জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। যখন ঐ চাদরটি দিয়ে আমরা তার মাথা ঢাকতাম তখন তাঁর উভয় পা বের হয়ে পড়ত, আবার যখন পা দুটি ঢাকতাম তখন তার মাথা বের হয়ে পড়ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, চাদর দ্বারা তার মাথাটি ঢেকে দাও এবং পা দুটির উপর কিছু ইযখির ঘাস রাখ, আর আমাদের মাঝে কেউ এমনও রয়েছেন, যার ফল পেকেছে এবং তিনি তা আহরণ করছেন। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن خبّاب بن الأرتِّ قَالَ: هَاجَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبْتَغِي وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى فَوَقَعَ أَجْرُنَا عَلَى اللَّهِ فَمِنَّا مَنْ مَضَى لَمْ يَأْكُلْ مَنْ أَجْرِهِ شَيْئًا مِنْهُمْ: مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلَّا نَمِرَةٌ فَكُنَّا إِذَا غطينا بهَا رَأْسَهُ خَرَجَتْ رِجْلَاهُ وَإِذَا غَطَّيْنَا رِجْلَيْهِ خَرَجَ رَأْسُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غطوا بهَا رَأسه وَاجْعَلُوا على رجلَيْهِ الْإِذْخِرِ» . وَمِنَّا مَنْ أَيْنَعَتْ لَهُ ثَمَرَتُهُ فَهُوَ يهدبها. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ، رواہ البخاری (3898) و مسلم (44 / 940)، (2177) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের রাবী বলেন, আমরা তাঁর সাথে হিজরত করেছি। এতে আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান সাব্যস্ত হয়েছে। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা দুনিয়ার কোন ফল ভোগ করতে পারেনি। আবার অনেক সাহাবী দুনিয়ার ফলও ভোগ করেছেন। যারা ইসলামের বিজয়কাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তারা বিভিন্ন সময় গনীমতের মাল পেয়েছেন এবং তারা স্বাচ্ছন্দময় জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু যারা বিজয়ের আগেই মারা গেছেন তাঁরা দুনিয়ার কোন ফলই ভোগ করতে পারেননি। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মু'আব ইবনু 'উমায়র। যিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
এ হাদীসের মাধ্যমে মুসআব ইবনু উমায়র (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ তিনি দুনিয়াতে কোন প্রতিদান লাভ করেননি, এজন্য তার সব প্রতিদান আখিরাতের জন্য অবশিষ্ট আছে। এ বিষয়ে মুসলিমের একটি হাদীস রয়েছে। আর সেটি হলো, যে কোন গাজী আল্লাহর পথে জিহাদ করে যদি গনীমাতের সম্পদ পায় তাহলে সে তার আখিরাতের প্রতিদানের দুই-ততীয়াংশ দুনিয়াতে পেয়ে গেল। আর এক-ততীয়াংশ তার জন্য আখিরাতে অবশিষ্ট থাকল।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা মু'আব ইবনু উমায়র (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, মুস্'আব কুরশী ‘আবদারী অনেক মর্যাদাবান ও বড় মাপের সাহাবী ছিলেন। নবী (সা.) দারুল আরক্বামে প্রবেশ করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমেই হাবশায় হিজরত করেন। তারপর তিনি আবার মক্কায় ফিরে আসেন কুরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য এবং ইসলাম শিখানোর জন্য দ্বিতীয় ‘আকাবার পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে মদীনায় পাঠান। তবে কেউ কেউ বলেন, প্রথম আকাবার বায়'আতের পরেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে মদীনায় পাঠান। সেখানে তিনি আনসারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এতে দুই একজন করে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। এভাবে তাদের মাঝে ইসলাম প্রসার লাভ করে।
এক সময় সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পত্র লিখে অনুমতি চাইলেন যে, তিনি সেখানে মুসলিমদেরকে একত্রিত করতে চান। তখনি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে অনুমতি দিলেন। হিজরতের পূর্বে তিনিই প্রথম জুমু'আর সালাতের জন্য মদীনায় লোকদেরকে একত্রিত করেন। দ্বিতীয় ‘আকাবায় সত্তরজন মুসলিমদের সাথে তিনি নবী (সা.)-এর কাছে আগমন করেন। তারপর মক্কায় কিছুকাল অবস্থান করেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, (رِجَالٌ صَدَقُوۡا مَا عَاهَدُوا اللّٰهَ عَلَیۡهِ ۚ) “তারা এমন লোক যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে।” (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ২৩)
ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে জাহিলী যুগে তিনি খুব আরাম-আয়েশে ও স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার পরে তিনি একেবারে দুনিয়াত্যাগী হয়ে যান এবং সকল আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। অবশেষে উহুদ যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৬-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, সা’দ ইবনু মু’আয-এর মৃত্যুতে ’আরশ কেঁপে উঠে।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, সা’দ ইবনু মু’আয-এর মৃত্যুতে রহমানের ’আরশ কেঁপে উঠেছিল। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اهْتَزَّ الْعَرْشُ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ» وَفِي رِوَايَةٍ: «اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بن معَاذ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3803) و مسلم (124 / 2466)، (6346) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (اهْتَزَّ الْعَرْشُ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ) অর্থাৎ সা'দ ইবনু মু'আয-এর মৃত্যুর কারণে রহমানের ‘আরশ কেঁপে উঠেছে।
এ বিষয়টির ব্যাখ্যা নিয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। কিছু ‘আলিম বলেন, সা'দ-এর রূহের আগমনের খুশিতে রহমানের ‘আরশ বাস্তবিকভাবেই কেঁপে উঠেছে। শারহুন নাবাবী গ্রন্থকার বলেন, এটিই হলো উত্তম কথা।
মাযিরী বলেন, এই মতের পক্ষে অনেকেই বলেন যে, এ বিষয়টি জ্ঞান দিয়েও বুঝা সম্ভব। কারণ ‘আরশের একটি অবয়ব আছে। যার কারণে নড়াচড়া করা তার পক্ষে সম্ভব। কিন্তু শুধুমাত্র এটি বলার দ্বারা সা'দ-এর মর্যাদা প্রকাশ পায় না যে, রহমানের ‘আরশ নড়ে উঠেছে। বরং সা’দ-এর মর্যাদা তখনই প্রকাশ পাবে। যখন বলা হবে যে, 'আরশের নড়াচড়াকে আল্লাহ মালায়িকার (ফেরেশতাদের) জন্য সা'দ-এর মৃত্যুর আলামত বানিয়েছেন।
কিছু ‘আলিম বলেন, রহমানের ‘আরশ বাস্তবিকভাবে কেঁপে উঠেনি। বরং হাদীসের এই কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, আরশের বাসিন্দারা তথা ‘আরশ বহনকারী মালাক (ফেরেশতা) এবং অন্যান্য মালায়িকা কেঁপে উঠেছেন। এই বাক্যের মধ্যে (مُضَاف) তথা উহ্য রাখা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, জানাযার খাট কেঁপে উঠেছে।
পরের এ ব্যাখ্যাগুলো সবই বাতিল। কারণ ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবে যে স্পষ্ট বর্ণনাগুলো এনেছেন, সেগুলো প্রমাণ করে যে, প্রকৃতপক্ষেই রহমানের ‘আরশ কেঁপে উঠেছে। অতএব যারা এ ব্যাখ্যাগুলো দিয়েছেন তাদের কাছে হয়তো মুসলিমের বর্ণনাগুলো পৌছায়নি। প্রকৃত বিষয়ে আল্লাহই অধিক অবগত (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১৪১ পৃ., হা. ৩৮০৩; শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ২১ পৃ. হা. ২৪৬৭)
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা সা'দ ইবনু মু'আয সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন সা'দ ইবনু মু'আয আল আনসারী আল আশহাল আল আওসী। প্রথম ‘আকাবা ও দ্বিতীয় ‘আকাবার মাঝের সময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণ করার কারণে ‘আবদুল আশহাল গোত্রও ইসলাম গ্রহণ করে। আনসারদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম তার বাড়ির লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার নাম দিয়েছিলেন (سَيِّدُ الْأَنْصَرِ) - তথা আনসারদের নেতা।
তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে নম্র-ভদ্র ও অনুসরণীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন সম্মানিত মর্যাদাবান ও বড় মাপের একজন সাহাবী। বদর ও উহুদ যুদ্ধে তিনি দৃঢ়তার সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পাশে ছিলেন। খন্দক যুদ্ধের সময় তার চোখের কোণে তীর লাগলে তিনি আহত হয়ে পড়েন। কিন্তু সেখান থেকে রক্ত পড়া আর বন্ধ হয়নি। যার ফলে এক মাস পর ৫ম হিজরীর যুল ক'আদাহ্ মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর। তাকে বাক্বী কবরস্থানে দাফন করা হয়। অনেক সাহাবী তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৭-[১২] বারা’ (ইবনু ’আযিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে উপহারস্বরূপ রেশমি পোশাক পেশ করা হলো। তখন সাহাবীগণ তা স্পর্শ করে তার কোমলতায় আশ্চর্যবোধ করতে লাগলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তোমরা তার কোমলতা দেখে আশ্চর্য হচ্ছ? অথচ সা’দ ইবনু মু’আয-এর রুমাল যা জান্নাতে তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন, এর চেয়ে অধিক উত্তম এবং আরো অনেক কোমল। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلَّةُ حَرِيرٍ فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَمَسُّونَهَا وَيَتَعَجَّبُونَ مِنْ لِينِهَا فَقَالَ: «أَتَعْجَبُونَ مِنْ لِينِ هَذِهِ؟ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الجنَّةِ خيرٌ مِنْهَا وألين» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3802) و مسلم (126 / 2468)، (6348) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, জান্নাতে সা'দ যে রুমাল দিয়ে হাত মুছে তা এই মোলায়েম ও সুন্দর কাপড় থেকে অনেক উত্তম। এখানে বুঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম বস্তুও জান্নাতের সর্বনিম্ন বস্তুর সমান হতে পারে না।
খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে রুমালের দ্বারা উপমা দেয়া হয়েছে। কারণ রুমাল হচ্ছে সবচেয়ে নিম্নমানের কাপড়। যা দিয়ে মানুষ হাত মুছে এবং ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকে। অতএব, জান্নাতের সবচেয়ে নিম্নমানের কাপড়ই যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে উৎকৃষ্ট মানের কাপড়ের কি অবস্থা হবে।
‘আলিমগণ বলেন, এ হাদীসের মাধ্যমে জান্নাতে সা’দ-এর মর্যাদার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আর এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, সা'দ জান্নাতী। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ২২ পৃ., হা. ২৪৬৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৮-[১৩] উম্মু সুলায়ম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তিনি (রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সেবক আনাস-এর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি (সা.) এভাবে দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান বাড়িয়ে দাও। আর তুমি তাকে যা কিছু দান করেছ তাতে বরকত প্রদান কর।” আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার ধন-সম্পদ প্রচুর এবং আমার সন্তান-সন্ততির সংখ্যা আজ প্রায় একশত অতিক্রম করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسٌ خَادِمُكَ ادْعُ اللَّهَ لَهُ قَالَ: «اللهمَّ أَكثر مَاله وَولده وَبَارك فِيمَا أَعْطيته» قَالَ أنس: فو الله إِنَّ مَالِي لَكَثِيرٌ وَإِنَّ وَلَدِي وَوَلَدَ وَلَدِي لَيَتَعَادُّونَ عَلَى نَحْوِ الْمِائَةِ الْيَوْمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6334) و مسلم (143 / 2481)، (6376) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘শামায়িল' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় বলেন, হাদীস বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত আনাস (রাঃ) -এর দুই একজন কম ১২৫ জন সন্তান ও নাতি-নাতনি হয়েছিল আর আনাস (রাঃ)-এর জমিনে বছরে দুবার ফল দিতো।
ইবনু আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আনাস (রাঃ)-এর ১০০ জন সন্তান ছিল, এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত। আবার কেউ কেউ বলেন, তার সন্তান ছিল ৮০ জন। তাদের মধ্য থেকে ৭৮ জন হলো পুরুষ আর দু’জন হলো নারী। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ব্যাপারে দু'আ করার সাথে সাথে বরকতেরও দু'আ করেছেন। অতএব, এখান থেকে বুঝা যায় যে, দু'আর অন্যতম একটি আদব হলো কারো জন্য কোন কিছু বৃদ্ধি হওয়ার দু'আ করলে সাথে বরকতেরও দু'আ করা। কারণ হলো উক্ত বিষয়ের মধ্যে বরকত থাকলেই কেবল তা টিকে থাকবে এবং তাতে কোন ক্ষতি ও বিপদ সাধিত হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৩৫ পৃ., হা, ২৪৮০)
মিক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা আনাস (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন, আনাস ইবনু মালিক ইবনু নাবীর আল- খাযরামী। তাঁর কুনিয়াত হলো আবু হামযাহ্। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন হিজরত করে মাদীনায় আসেন, তখন তার বয়স ছিল দশ বছর। উমার (রাঃ)-এর শাসন আমলে দীন শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি বাসরায় গিয়ে ছিলেন, বাসরায় মৃত্যুবরণকারী সাহাবীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ। যিনি ৯১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। আবার কেউ কেউ বলেন, ৯৯ বছর। তার থেকে অনেক মানুষ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২০৯-[১৪] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ছাড়া ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন লোকের জন্য আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনিনি “নিশ্চয় সে জান্নাতবাসী’। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَحَدٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ «إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» إِلَّا لِعَبْدِ اللَّهِ بن سَلام. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3812) و مسلم (147 / 2483)، (6380) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা : এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ঐ হাদীসের সাথে কোন বিরোধ নেই যেখানে বলা হয়েছে আবূ বাকর জান্নাতী, ‘উমার জান্নাতী তথা এদেরকে নিয়ে সব মিলিয়ে দশজন জান্নাতী। কেননা সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) এর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিলেও অন্যদের ব্যাপারে তিনি তা নিষেধ করেননি।
এ প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে এই কারণে যে, যেহেতু সা'দ (রাঃ) বলেছেন, আমি এমন কারো ব্যাপারে নবী (সা.) -কে বলতে শুনিনি যে, সে জান্নাতী আর এখনো সে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ব্যতীত।
তিনি তার এ কথাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন, তার বিভিন্ন কারণ হতে পারে। যেমন- যখন সা'দ (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেন তখন শুধুমাত্র তিনি ছাড়া জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সকল সাহাবী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই তিনি বিশেষভাবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম-এর কথা এভাবে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও আরবী ভাষার অন্যতম একটি নিয়ম হলো যে, যখন কোন ‘হ্যা-বাচক এবং ‘না’-বাচক কথা একসাথে আসে তখন ‘হ্যা’-বাচক কথাই প্রাধান্য পায়। অতএব এটিই গ্রহণযোগ্য কথা যে, তিনি শুধুমাত্র ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম-এর কথা এভাবে বর্ণনা করলেও অন্যদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ১৪৮ পৃ., হা. ৩৮১২)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১০-[১৫] কায়স ইবনু উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মদীনায় মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় এক লোক মসজিদে প্রবেশ করলেন, যার মুখমণ্ডলে নম্রতার ছাপ। (তাকে দেখে) লোকেরা বলে উঠল, এ লোকটি জান্নাতী। (আগন্তুক) লোকটি সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর মসজিদ হতে বের হলেন। (বর্ণনকারী কায়স বলেন,) আমিও তার পিছনে পিছনে চলে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন, তখন লোকেরা বলেছিল, এ লোক জান্নাতী। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! কোন লোকের পক্ষে এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানে না। আসল ব্যাপারটি আমি তোমাকে পুরোপুরি বলছি, লোকেরা আমার সম্পর্কে এমন ধারণা কেন করে।
নবী (সা.) -এর সময়ে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং তা নবী (সা.) -এর কাছে বর্ণনা করলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন একটি বাগানের মাঝে। এই বলে তিনি ঐ বাগানের বিশালতা ও তার সবুজ-শ্যামল শোভা-দৃশ্যের কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর বললেন, বাগানের মধ্যভাগে ছিল লোহার একটি খুঁটি। খুঁটিটির নিম্নাংশ মাটিতে এবং তার উপরের অংশ আকাশ পর্যন্ত। সে খুঁটিটির উপরের প্রান্তে রয়েছে একটি হাতল। আমাকে বলা হলো, এ খুঁটিতে আরোহণ কর আর আমি আরোহন করতে লাগলাম। অবশেষে খুঁটিটির উপরের প্রান্তে পৌছে আমি হাতলটি ধরে ফেললাম। তখন আমাকে বলা হলো, শক্তভাবে ধরে রাখ। অতঃপর ঐ কড়াটি আমার হাতে ধরা অবস্থায় আমি ঘুম হতে জেগে উঠলাম।
তারপর আমি নবী (সা.) -এর কাছে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করলে তিনি (তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে) বললেন, ঐ বাগানটি হলো ’ইসলাম’, ঐ খুঁটিটি হলো ইসলামের খুঁটি, আর ঐ হাতলটি হলো ইসলামের সুদৃঢ় কড়া। অতএব তুমি মৃত্যু অবধি ইসলামের উপর অটল থাকবে। (রাবী বলেন,) আর ঐ লোকটি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ فَدَخَلَ رَجُلٌ عَلَى وَجْهِهِ أَثَرُ الْخُشُوعِ فَقَالُوا: هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ تَجَوَّزَ فِيهِمَا ثُمَّ خَرَجَ وَتَبِعْتُهُ فَقُلْتُ: إِنَّكَ حِينَ دَخَلْتَ الْمَسْجِدَ قَالُوا: هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ. قَالَ: وَاللَّهِ مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ مَا لَا يَعْلَمُ فَسَأُحَدِّثُكَ لِمَ ذَاكَ؟ رَأَيْتُ رُؤْيَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَصَصْتُهَا عَلَيْهِ وَرَأَيْتُ كَأَنِّي فِي رَوْضَةٍ - ذَكَرَ مِنْ سَعَتِهَا وَخُضْرَتِهَا - وَسَطَهَا عَمُودٌ مِنْ حَدِيدٍ أَسْفَلُهُ فِي الْأَرْضِ وَأَعْلَاهُ فِي السَّمَاءِ فِي أَعْلَاهُ عُرْوَةٌ فَقِيلَ لِيَ: ارْقَهْ. فَقُلْتُ: لَا أَسْتَطِيعُ فَأَتَانِي مِنْصَفٌ فَرَفَعَ ثِيَابِي مِنْ خَلْفِي فرقِيتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَاهُ فَأَخَذْتُ بِالْعُرْوَةِ فَقِيلَ: اسْتَمْسِكْ فَاسْتَيْقَظْتُ وَإِنَّهَا لَفِي يَدِي فَقَصَصْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «تِلْكَ الرَّوْضَةُ الْإِسْلَامُ وَذَلِكَ الْعَمُودُ عَمُودُ الْإِسْلَامِ وَتِلْكَ العروة الْعُرْوَةُ الْوُثْقَى فَأَنْتَ عَلَى الْإِسْلَامِ حَتَّى تَمُوتَ وَذَاكَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3813) و مسلم (148 / 2484)، (6381) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাদের কথাকে অস্বীকার করেছেন, এই কারণে যে, তারা তার জান্নাতী হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে বলছিল। আর হতে পারে যে, সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস-এর হাদীসটি তখনো তিনি শুনেননি। যে হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম জান্নাতী।
অথবা এটিও হতে পারে যে, তিনি নিজের প্রশংসা শুনতে চাননি। তাই বিনয়ের সাথেই এ বিষয়টি কায়স ইবনু 'উবাদ-এর সাথে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন তখনও তা তার হাতেই ছিল। এই কথাটির ব্যাখ্যা হতে পারে এভাবে যে, যদি সরাসরি ধরে নেয়া হয় যে, তা তার হাতে তখনও ছিল। তাহলে এটিও হতে পারে। কারণ আল্লাহর কাছে অসম্ভব কিছু নেই। কিন্তু এটি একটি অভ্যাস পরিপন্থী বিষয় হয়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাখ্যাকারী বলেছেন, তিনি যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন তখন দেখেন তার হাত মুষ্টিবদ্ধই আছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহঃ শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৩৮ পৃ., হা. ২৪৮৪)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১১-[১৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ) ছিলেন আনসারদের মুখপাত্র। যখন আল্লাহর বাণী, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কণ্ঠস্বরকে নবীর কণ্ঠস্বরের উপরের উঁচু করো না”- (সূরাহ্ আল হুজুরাত ৪৯ : ২); অবতীর্ণ হলো, তখন সাবিত (রাঃ) স্বীয় গৃহের মধ্যে বসে রইলেন এবং নবী (সা.)-এর কাছে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দিলেন। নবী (সা.) সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ) কে সাবিত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, সাবিত-এর কি হয়েছে, সে কি অসুস্থ? অতঃপর সা’দ তাঁর কাছে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথাটিও তাঁর কাছে বললেন। উত্তরে সাবিত বললেন, এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, আর তোমরা জান যে, তোমাদের মধ্যে আমার কণ্ঠস্বর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আওয়াজ হতে উঁচু। অতএব আমি তো জাহান্নামী হয়ে গিয়েছি। অতঃপর সা’দ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে সাবিত-এর অনুপস্থিতির ব্যাপারটি জানালে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আরে না, সে তো জান্নাতী। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
عَن أَنَسٍ قَالَ: كَانَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شماس خطيب الْأَنْصَار فَلَمَّا نزلت هَذِه الْآيَة: [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوق صَوت النَّبِي] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ جَلَسَ ثَابِتٌ فِي بَيْتِهِ وَاحْتَبَسَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ فَقَالَ: «مَا شَأْنُ ثَابِتٍ أَيَشْتَكِي؟» فَأَتَاهُ سَعْدٌ فَذَكَرَ لَهُ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ثَابِتٌ: أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَقَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي مِنْ أَرْفَعِكُمْ صَوْتًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَذَكَرَ ذَلِكَ سَعْدٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلْ هُوَ من أهل الْجنَّة» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (188 ، 187 / 219)، (314 و 315) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে যে, কায়স ইবনু শাম্মাস ছিলেন আনসারদের বক্তা, তার মানে হলো তিনি ছিলেন কথাবার্তায় বিশুদ্ধভাষী। যেমন কবীরা তাদের কবিতায় বিশুদ্ধভাষী হয়ে থাকে। তিনি ছিলেন খাযরাজ গোত্রের লোক। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাক্ষী দিয়েছেন যে, তিনি হলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং আনসারদের খত্বীব। ১২শ হিজরীতে ইয়ামামায় মুসায়লামাতুল কাযযাব-এর সাথে যুদ্ধ করার সময় তিনি শহীদ হন। তার থেকে আনাস ইবনু মালিক ছাড়াও আরো অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসকে কেন্দ্র করে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, আর তা হলো হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর কায়স ইবনু শাম্মাস-কে কয়েকদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার মাজলিসে দেখতে পেলেন না, তাই তিনি সা'দ ইবনু মু'আয-কে জিজ্ঞেস করলেন। সে কি অসুস্থ? এখন কথা হলো সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ) মারা গেছেন ৫ম হিজরীতে। আর সূরাহ্ আল হুজুরাত-এর প্রথম দিকের আয়াত নাযিল হয়েছে ৯ম হিজরীতে। তাহলে এটি কিভাবে সম্ভব?
উত্তর হলো, সূরাহ্ আল হুজুরত-এর প্রথম আয়াত (لَا تُقَدِّمُوۡا بَیۡنَ یَدَیِ) নাযিল হয়েছে ৯ম হিজরীতে। কিন্তু দ্বিতীয় এ আয়াত- (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَرۡفَعُوۡۤا اَصۡوَاتَکُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ النَّبِیِّ) নাযিল হয়েছে অনেক আগেই।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জান্নাতী হিসেবে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এটির প্রতিফলন দেখা গেছে ইয়ামামার যুদ্ধে। কারণ তিনি সেখানে শহীদ হয়েছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১২-[১৭] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর নিকট বসা ছিলাম, ঠিক এমন সময় সূরাহ্ আল জুমু’আহ্ অবতীর্ণ হলো। (উক্ত সূরার মধ্যে) যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (وَّ اٰخَرِیۡنَ مِنۡهُمۡ لَمَّا یَلۡحَقُوۡا بِهِمۡ) “আর তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি”- (সূরাহ আল জুমু’আহ্ ৬২: ৩)। তখন লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? বর্ণনাকারী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেন, সে সময় আমাদের মাঝে সালমান ফারসী (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তখন নবী (সা.) সালমান ফারসী (রাঃ)-এর দেহে হাত রেখে বললেন, যদি ঈমান ধ্রুব তারকার কাছেও থাকে, এ সকল লোকেদের কতিপয় লোক নিশ্চয় তথা হতে তাকে অর্জন করবে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ نَزَلَتْ سُورَةُ الْجُمُعَةِ فَلَمَّا نَزَلَتْ [وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يلْحقُوا بهم] قَالُوا: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَفِينَا سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَالَ: فَوَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ: «لَوْ كَانَ الْإِيمَانُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَنَالَهُ رجالٌ من هَؤُلَاءِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4897) و مسلم (231 / 2546)، (6498) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: হাদীসে বলা হয়েছে, (وَّ اٰخَرِیۡنَ مِنۡهُمۡ لَمَّا یَلۡحَقُوۡا بِهِمۡ) অর্থাৎ তাদের মধ্য থেকে আরো কিছু লোক যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তিনি বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা'আলা নবী (সা.)-কে এক উম্মী জাতির কাছে পাঠিয়েছেন। যারা এখনো তার সাথে বিদ্যমান আছে। এছাড়া আরো উম্মী জাতি আছে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তবে অচিরেই তারা তাদের সাথে মিলিত হবে। আর তারা আসবে সাহাবীদের পরে।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা সালমান আল ফারসী সম্পর্ক বলেন, তাঁর কুনিয়াত হলো আবূ ‘আবদুল্লাহ, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আযাদকৃত দাস। তিনি পারস্যের রামহুরমুয-এর বাসিন্দা। আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি ইস্পাহানের হাই নামক একটি এলাকার বাসিন্দা। সঠিক ধর্মের অনুসন্ধানে তিনি অনেক সফর করেছেন। খৃষ্ট ধর্মের অনুসন্ধানে প্রথমে তিনি ফাদ্দানে সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন কিতাব পড়েন এবং এই অনুসন্ধানের পথে অনেক কষ্ট সহ্য করেন।
ঘটনাক্রমে একদল ‘আরব তাকে ধরে নিয়ে ইয়াহূদীদের কাছে বিক্রয় করে দেয়। তারপর সে ইয়াহূদী মালিক থেকে মুক্তি লাভ করার জন্য কিতাবাত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার এই চুক্তিতে অর্থ প্রদানে সহায়তা করেন। কেউ কেউ বলেন, সালমান আল ফারসী অন্য দশজন মালিকের হাত বদল হয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সান্নিধ্যে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় আগমন করেন তখন সে ইসলাম গ্রহণ করে। সালমান আল ফারসী নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। কেউ তাকে কিছু দান করলে তা সদাক্বাহ করে দিতেন। তিনি অনেক সম্মানিত ও মর্যাদাবান সাহাবী ছিলেন। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তার প্রশংসা করেছেন। তিনি হলেন এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের প্রতি জান্নাত অধিক আগ্রহী হয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে কোন মতই সহীহ নয়। আসল কথা হচ্ছে, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। (দেখুন- সিয়ারু আ'লামীন নুবালাহ্) তার থেকে আবূ হুরায়রাহ ও আনাস (রাঃ) ছাড়াও আরো অনেক সাহাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
শারহুন নাবাবী গ্রন্থকার বলেন, এ হাদীসের মাধ্যমে সালমান আল ফারসী (রাঃ) -এর ব্যাপক ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে।
অতএব, তিনি ছিলেন অনেক মর্যাবান ও সম্মানিত সাহাবী। যিনি সত্য ধর্মের জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন এবং সর্বশেষে সঠিক ধর্ম ইসলামকে খুঁজে পেয়েছেন। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৮৬ পৃ., হা. ২৫৪৬)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৩-[১৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (দু’আয়) বললেন, হে আল্লাহ! তোমার নগণ্য এই বান্দা আবূ হুরায়রাকে এবং তার মাতাকে সকল ঈমানদারদের জন্য প্রিয়তর বানিয়ে দাও। আর সকল ঈমানদারদেরকেও এদের কাছে প্রিয়তর বানিয়ে দাও।’ (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا» يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ «وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِليهم الْمُؤمنِينَ» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (158 / 2491)، (6396) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে দু'আ করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করেছেন। অথচ তারা হলেন দু’জন। ১) আবূ হুরায়রাহ্, ২) তার মা।
মিরুক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা এর উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করেছেন হয়তো এদিক লক্ষ্য করে যে, দুআর মধ্যে যেন তাদের পরিবার ও সন্তান-সন্ততি সবাই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৪-[১৯] ’আয়িয ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন আবূ সুফইয়ান (রাঃ), সালমান, সুহায়ব ও বিলাল (রাঃ) প্রমুখের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলেন। এ সময় তাঁরা বললেন, আল্লাহর তলোয়ার কি এখনো আল্লাহর এ শত্রুর ঘাড়টি উড়িয়ে দেইনি? তখন আবূ (রাঃ) সিদ্দীক বললেন, তোমরা কি কুরায়শদের দলপতি এবং তাদের নেতা সম্পর্কে এরূপ উক্তি করছ? অতঃপর তিনি নবী (সা.) -এর কাছে এসে তাঁকেও অবগত করলেন। তাঁর কথা শুনে নবী (সা.) বললেন, হে আবূ বকর! তুমি সম্ভবত তাদের মনে দুঃখ দিয়েছ। তাদের মনে যদি তুমি দুঃখ দিয়ে থাক, তাহলে নিশ্চয় তুমি তোমার প্রভুকে অসন্তুষ্ট করেছ। এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) সালমান ও তাঁর সঙ্গীদের কাছে এসে বললেন, হে আমার ভাইসব! আমি তোমাদের মনে ব্যথা দিয়েছি। জবাবে তারা বললেন, হে আমাদের ভাই! আমাদের মনে কোন দুঃখ-ব্যথা নেই। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে ক্ষমা করুন। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن عَائِذ بن عَمْرو أَن أَبَا سُفْيَان أَتَى عَلَى سَلْمَانَ وَصُهَيْبٍ وَبِلَالٍ فِي نَفَرٍ فَقَالُوا: مَا أَخَذَتْ سُيُوفُ اللَّهِ مِنْ عُنُقِ عَدُوِّ اللَّهِ مَأْخَذَهَا. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَتَقُولُونَ هَذَا لِشَيْخِ قُرَيْشٍ وَسَيِّدِهِمْ؟ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ لَئِنْ كُنْتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ فَأَتَاهُمْ فَقَالَ: يَا إِخْوَتَاهْ أَغْضَبْتُكُمْ قَالُوا: لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أَخِي. رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (170 / 2504)، (6412) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ সুফইয়ান সে সময় কাফির অবস্থায় হুদনাহ নামক জায়গায় এসেছিল। আর তা ছিল হুদায়বিয়াহ্ সন্ধির পরে।
হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি যদি তাদেরকে রাগান্বিত করে থাকো তাহলে তুমি তোমার প্রতিপালককে রাগান্বিত করেছ।
এ কথা বলার কারণ হলো, যেহেতু তারা মু'মিন এবং আল্লাহকে ভালোবাসে আর আল্লাহও তাদেরকে ভালোবাসেন। তাই তাদেরকে রাগান্বিত করলে আল্লাহকে রাগান্বিত করা হবে।
তাছাড়াও এদিক থেকে তুমি কাফিরের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছ।
মিরকাতুল মাফাতীহ প্রণেতা সুহায়ব (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনু জাদ'আন আত্ তা'মিমী (রাঃ)-এর আযাদকৃত দাস সুহায়ব ইবনু সিনান। তার কুনিয়াত হলো আবূ ইয়াহইয়া। আর বাড়ি ছিল টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মাঝে মুসল এলাকায়। রোমের লোকেরা আকষ্মিক তাদের এলাকায় আক্রমণ করে এবং ছোট অবস্থায় তাকে বন্দি করে নিয়ে যায়, তখন তিনি রোমেই লালিত-পালিত হন। তারপর কালব নামক এক ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে মক্কায় নিয়ে আসেন। আবদুল্লাহ ইবনু জাদ'আন তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দেন। তারপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তার সাথেই থেকে যান।
কেউ কেউ বলে থাকেন যে, তিনি রোমে বড় হয়েছেন। যখন তিনি বুঝতে শিখলেন তখন সেখান থেকে পালিয়ে মক্কায় চলে আসেন। তারপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু জাদ’আন-এর সাথে মৈত্রি চুক্তিতে আবদ্ধ হন। তিনি মক্কায় নুবুওয়্যাতের প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেন।
কেউ কেউ বলেন, তিনি এবং ‘আম্মার ইবনু ইয়াসীর একই দিনে ইসলাম গ্রহণ করেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) দারুল আরক্বামে ছিলেন। তিনি ছিলেন ঐ সকল লোকেদের অন্যতম ইসলাম গ্রহণ করার কারণে যাদের সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। তিনি ৮০ হিজরীতে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তার থেকে অনেক লোক হাদীস বর্ণনা। করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
শারহুন্ নাবাবী গ্রন্থে কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এভাবে দু'আ করতে নিষেধ করেছেন। যেমন, তারা বলেছেন (لا يغفر الله لك) অর্থাৎ না, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।
বরং আবূ বাকর (রাঃ) শিখিয়েছেন যে, তোমরা এভাবে বল (عَافَاكَ اللهُ) অথবা (رَحِمَكَ اللهُ) ইত্যাদি। তিনি এখানে বুঝিয়েছেন যে, তোমরা দু'আ করার ক্ষেত্রে নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করো না। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৫৬ পৃ., হা. ২৫০৪)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৫-[২০] আনাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন, আনসারদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের লক্ষণ, আর আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ মুনাফিক্বীর (কপটতার) আলমত। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ الْإِيمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الْأَنْصَارِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3784) و مسلم (128 / 74)، (235) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনুত তীন বলেন, আনসারদের ভলোবাসার অর্থ হলো সকল আনসারকে ভালোবাসা। অতএব, কেউ যদি কিছু আনসারকে ভালোবাসে আর কিছুকে ভালো না বাসে তাহলে সে আনসারদের ভালোবাসে বলে গণ্য হবে না। এছাড়াও কুরআনে আনসারদের বিভিন্নভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সাথে সাথে তাদের সন্তানদেরকে, তাদের মিত্রদেরকে ও অভিভাবকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এই স্তরে তাদের পৌছার কারণ হলো যে, তারা নবী (সা.)-কে আশ্রয় দিয়েছে এবং সহযোগিতা করেছে। এজন্য তারা তাদের ধন-সম্পদ ও ঘর-বাড়ি মুহাজিরদের সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছে এবং মদীনাকে মুসলিমদের জন্য স্বদেশ ও আশ্রয়স্থল বানিয়েছে। আর এটিই ছিল অন্যান্য আরব ও অনারবদের শত্রুতার কারণ। যেহেতু তারা অমুসলিম ছিল তাই তারা আনসারদের কাজ পছন্দ করেনি। অতএব যারা আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে এবং তাদের সাথে শত্রুতা করবে, তারাও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ঈমানের আলামত হলো আনসারদেরকে ভালোবাসা আর নিফাকের আলামত হলো আনসারাদের ঘৃণা করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৬-[২১] বারা’ [ইবনু ’আযিব (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আনসারদেরকে একমাত্র মু’মিনরাই ভালোবাসে আর মুনাফিক মাত্রই তাদের প্রতি হিংসা করে। অতএব যে লোক তাদেরকে ভালোবাসবে, তাঁকে আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসবেন। আর যে লোক তাঁদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে, তার প্রতি আল্লাহ তা’আলা শত্রুতা রাখবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْأَنْصَارُ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يَبْغَضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ فَمَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللَّهُ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللَّهُ» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3783) و مسلم (129 / 75)، (237) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আনসারদেরকে পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসতে পারে তারাই যারা পূর্ণ মু'মিন। আর আনসারদের প্রতি যারা বিদ্বেষ রাখে তারা হলো মুনাফিক। অতএব শারী'আতী কোন কারণ ছাড়া তাদেরকে কারো প্রতি বিদ্বেষ রাখা যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৭-[২২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর রাসূল (সা.)-কে হাওয়াযিন গোত্রের সম্পদরাজি গনীমাত আকারে হস্তগত করালেন, তখন তিনি তা হতে কুরায়শদের বিশেষ বিশেষ লোককে একশত করে উট প্রদান করলেন। এটা দেখে আনসারদের কিছু লোক বলল, আল্লাহ তাঁর রাসূল-কে মাফ করুন, তিনি আমাদেরকে না দিয়ে কুরায়শদেরকে প্রদান করছেন, অথচ আমাদের তরবারি হতে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে। তাদের এ কথা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হলে তিনি লোক পাঠিয়ে আনসারদেরকে ডেকে চামড়ায় তৈরি একটি তাঁবুর মাঝে সমবেত করলেন এবং তাঁরা (আনসারগণ) ছাড়া আর কাউকেও সেখানে ডাকলেন না।
অতঃপর যখন তাঁরা সমবেত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানে গিয়ে বললেন, এটা কেমন কথা, যা আমি তোমাদের তরফ হতে শুনতে পেয়েছি? তখন তাদের জ্ঞানী লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের বুদ্ধিমান লোকেরা কিছুই বলেননি, অবশ্য কিছু সংখ্যক অল্প বয়স্ক তরুণ বলেছে যে, আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.) -কে মাফ করুন তিনি আনসারদের রেখে কুরায়শদেরকে প্রদান করছেন। অথচ আমাদের তরবারি হতে তাদের রক্ত এখনো ঝরছে।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এইমাত্র কুফর পরিত্যাগ করেছে এমন কিছু লোককে (ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ও তাদের মনোতুষ্টির জন্য) ধন-সম্পদ প্রদান করছি। তোমরা কি এতে তুষ্ট নও যে, এ সমস্ত লোকেরা অর্থ-সম্পদ নিয়ে চলে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে সাথে করে বাড়ি ফিরে যাও? তাঁর এ কথা শুনে আনসারগণ সকলেই বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা বলেছেন, এতে আমরা সন্তুষ্ট। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: إِنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ قَالُوا حِينَ أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَمْوَالِ هَوَازِنَ مَا أَفَاءَ فَطَفِقَ يُعْطِي رِجَالًا مِنْ قُرَيْشٍ الْمِائَةَ مِنَ الْإِبِلِ فَقَالُوا: يَغْفِرُ اللَّهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي قُرَيْشًا وَيَدَعُنَا وَسُيُوفُنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ فَحَدَّثَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَقَالَتِهِمْ فَأَرْسَلَ إِلَى الْأَنْصَارِ فَجَمَعَهُمْ فِي قُبَّةٍ مَنْ أَدَمٍ وَلَمْ يَدْعُ مَعَهُمْ أَحَدًا غَيْرَهُمْ فَلَمَّا اجْتَمَعُوا جَاءَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: «مَا كَانَ حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكُمْ؟» فَقَالَ فُقَهَاؤُهُمْ: أَمَّا ذَوُو رَأْيِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلَمْ يَقُولُوا شَيْئًا وَأَمَّا أُنَاسٌ مِنَّا حَدِيثَةٌ أَسْنَانُهُمْ قَالُوا: يَغْفِرُ اللَّهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي قُرَيْشًا وَيَدَعُ الْأَنْصَارَ وَسُيُوفُنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي أُعْطِي رِجَالًا حَدِيثِي عَهْدٍ بِكُفْرٍ أَتَأَلَّفُهُمْ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالْأَمْوَالِ وَتَرْجِعُونَ إِلَى رِحَالِكُمْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قد رَضِينَا. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3147) و مسلم (132 / 1059)، (2436) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত সম্পদ বণ্টন করছিলেন, জি'রানা নামক স্থানে। আর যাদেরকে তিনি (সা.) বেশি বেশি সম্পদ দিচ্ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন মু'আবিয়াহ্-এর পিতা আবূ সুফইয়ান ও সেই মুহাজির কুরায়শদেরকে বেশি বেশি সম্পদ দিচ্ছিলেন তাদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য। কিন্তু তাদের তুলনায় তিনি আনসার সাহাবীদেরকে কম দিচ্ছিলেন। তখন আনসারদের মধ্য থেকে কম বুদ্ধিসম্পন্ন কিছু লোক বলে উঠল, আল্লাহ রাসূল (সা.) কে ক্ষমা করুন। তিনি শুধু তার সম্প্রদায় কুরায়শের লোকেদেরকেই দিচ্ছেন।
তারা যুক্তি দেখিয়ে আরো বলল, (وَسُيُوفُنَا تَقْطُرُ مِنْ دِمَائِهِمْ) অর্থাৎ এখন আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত ঝরছে। মিরকাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, এ কথার ব্যাখ্যা এরূপ হতে পারে যে, আমরা বেশি যুদ্ধ করেছি এবং রক্ত ঝরিয়েছি। অতএব, গনীমতের মালের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন আনসার সাহাবীদেরকে একত্র করে বুঝিয়ে বললেন, আমি তাদেরকে সম্পদ দিয়েছি তাদেরকে শুধু ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য। তারা কুরায়শ বা অন্য কোন উদ্দেশে তাদেরকে দেয়া হয়নি।
হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে আরো বুঝালেন, এতে তারা বুঝতে পারল এবং নিজেদের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হলো।
এক ‘আরব কবি কতই না চমৎকার বলেছেন,
رَضِينَا قِسْمَةَ الْجَنَّارِ فِينَا.... لَنَا عِلْمٌ وَلِلْأَعْدَاءِمَالُ
فَأِنَّ الْمَالَ يَفْنَى عَنْ قَرِيبٍ .... وَإِنَّ الْعِلْمَ يَبْقَى لَايَزَالُ.
অর্থাৎ আমাদের মাঝে মহা প্রতাপশালীর বণ্টনে আমরা রাজী। আমাদের জন্য ‘ইলম আর শত্রুদের সম্পদ। সম্পদ তো অচিরেই ফুরিয়ে যাবে। আর ইলম তো চিরকালই রয়ে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৮-[২৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যদি হিজরত হত, তাহলে আমি আনসারদের একজন হতাম। যদি লোকজন কোন উপত্যকায় চলে, আর আনসারগণ অন্য কোন উপত্যকায় চলে, তবে অবশ্যই আমি আনসারদের উপত্যকায় চলব। আনসারগণ হলো ভিতরের পোশাকস্বরূপ আর অন্যান্য লোকেরা হলো বাইরের পোশাকস্বরূপ। আমার পরে অনতিবিলম্বে তোমরা পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে। কাজেই তোমরা হাওযে কাওসারের কাছে আমার সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করবে। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَءًا مِنَ الْأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَتِ الْأَنْصَارُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الْأَنْصَارِ وشعبها وَالْأَنْصَار شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4330) و مسلم (139 / 1061)، (2446) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে। (لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَءًا مِنَ الْأَنْصَارِ) অর্থাৎ যদি হিজরতের মতো ঘটনা না ঘটতো তাহলে আমি আনসারদের একজন হতাম।
আনসারদের মধ্যে হওয়ার আকাক্ষা দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য এটা নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম যদি কুরায়শদের মধ্যে না হয়ে আনসারদের মধ্যে হত তাহলে ভালো হত। কেননা এটা হারাম। আর কেনইবা রাসূলুল্লাহ (সা.) এটা আকাক্ষা করবেন। তাঁর বংশই তো অনেক উঁচু ও সম্রান্ত। বরং তিনি (সা.) এর দ্বারা বুঝিয়েছেন এলাকাগত সম্পর্ককে যার অর্থ দাড়ায় যদি দীনের কারণে হিজরত করতে না হত এবং স্বদেশ ত্যাগ করতে না হত তাহলে আমি তোমাদের মতোই আনসার এলাকায় থাকতাম এবং তোমাদের নাম আনসার (সাহায্যকারী) নামেই পরিচিত হতাম। অর্থাৎ মানুষদেরকে সাহায্য করতাম।
কেউ কেউ বলেন, এ কথার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)- আনসারদের মর্যাদা বুঝিয়েছেন। কারণ হিজরত করার পর সবচেয়ে মর্যাদার কাজ হলো সাহায্য করা বা আনসার হওয়া। অতএব যদি হিজরতের ঘটনা না ঘটত তাহলে আল্লাহর কাছে এই সম্মান ও মর্যাদা কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতেন।
সারকথা হলো যদি হিজরতের কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা আনসারদের থেকে বেশি না হত তাহলে তিনি তাদেরই একজন হয়ে যেতেন। এটি তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পক্ষ থেকে বিনয় প্রকাশ। তিনি মানুষদেরকে উৎসাহিত করেছেন। যেন তারা আনসারদের সম্মান করে। কিন্তু তারা ঐ সকল মুহাজিরদের মর্যাদার স্তরে পৌছতে পারবে না, যাদেরকে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয় মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্বদেশ ভূমি ও নিজেদের ধন-সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির জন্য এবং দীন ইসলামকে উঁচু করার জন্য তারা যা করেছেন আল্লাহ তাতে তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।
যদিও আনসারদের ত্যাগ ও কুরবানী সাহায্য ও সহযোগিতা, মমতা ও ভালোবাসা কোন অংশেই কম ছিল না। কিন্তু তারপরেও তারা নিজেদের প্রিয়জনদের সাথে, স্বদেশের মাটিতে থাকতে পেরেছেন। এজন্যই আনসারদের তুলনায় মুহাজিরদের মর্যাদা বেশি।
(لَسَلَكْتُ وَادِيَ الْأَنْصَارِ وشعبها) অর্থাৎ তাহলে অবশ্যই আমি আনসারদের উপত্যকায় বা তাদের গিরিপথে চলতাম।
ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হিজায ভূমিতে আছে অনেক উপত্যকা ও গিরিপথ। যদি সকলে চলার কারণে পথ সংকুচিত হয়ে যায়। আর সে সময় যদি আনসারগণ একটি গিরিপথ বা উপত্যকা দিয়ে চলে তাহলে আমিও আনসারদের সাথেই সেই পথে চলবো।
অথবা এটিও হতে পারে যে, তিনি উপত্যকা দ্বারা মত বা সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্য নিয়েছেন। যেমন- ‘আরবরা বলে থাকে (فُلَانٌ فِي وَادٍ وَأَنَافِي وَادٍ) অমুক (সে) ঐ উপত্যকায় আর আমি এই উপত্যকায় অর্থাৎ সে ঐ মতে আর আমি এই মতে।
অথবা এটিও হতে পারে যে, আনসারদের চালচলন, কথা-বার্তা ও আচার-ব্যবহার তাঁর কাছে অনেক ভালো লেগেছে। তাই তিনি তাদের সাথে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি বুঝাননি যে, তিনি তাদের অনুসরণ করবেন। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই অনুসরণীয় ব্যক্তি। সকল মু'মিনের জন্য আবশ্যক হলো তার অনুসরণ করা।
(الْأَنْصَار شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ) অর্থাৎ আনসারগণ হলো ভিতরের আবরণ আর অন্য লোকেরা হলো বাহিরের আবরণ। এখানে আনসারদেরকে ভিতরের আবরণ বলে বুঝানো হয়েছে যে, তাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গভীর বন্ধুত্ব ও খাটি ভালোবাসি রয়েছে। যার মানে হলো তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক কাছের লোক। যেমন সন্তানেরা তাদের পিতার কাছের লোক হয়ে থাকে।
(إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً) অর্থাৎ অচিরেই আমার পরে পক্ষপাতিত্বমূলক তোমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখতে পাবে। সেই সময় তোমাদের শাসকেরা দুনিয়ার গনীমাত ও মালে ফাইয়ের ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর অন্যদেরকে এবং নিজেদেরকে প্রাধান্য দিবে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে হাওযে কাওসারে আমার সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত। তারপর তোমরা সেখান থেকে তোমাদের ক্ষতিপূরণ করে নিতে পারবে এমন হাওযে কাওসারের পানি পান করার মাধ্যমে যা পান করলে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২১৯-[২৪] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ছিলাম। এ সময় তিনি (সা.) ঘোষণা দিলেন, যে লোক আবূ সুফইয়ান-এর গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদে, আর যে লোক অস্ত্র ফেলে দেবে সেও নিরাপদ। তখন আনসরাগণ বলতে লাগল, লোকটির মাঝে স্বীয় আত্মীয়স্বজনের মায়া ও স্বীয় জন্মস্থানের প্রতি আকর্ষণ দেখা দিয়েছে। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা রাসূল (সা.)-এর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা তো আমার সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করেছ যে, লোকটিকে আত্মীয়স্বজন ও জন্মভূমির মায়া গ্রাস করে ফেলেছে। কখনো নয়! নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহ পথে এবং তোমাদের দিকে হিজরত করেছি। তোমাদের মাঝেই আমার জীবন আর তোমাদের মাঝেই আমার মরণ। এ কথা শুনে তারা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা উক্ত কথাটি শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ব্যাপারে নিজ কার্পণ্য হিসেবে বলেছি। তখন তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের সত্যবাদিতা গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের আপত্তি গ্রহণ করেছেন। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَقَالَ: «مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَلْقَى السِّلَاحَ فَهُوَ آمِنٌ» . فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: أَمَّا الرَّجُلُ فَقَدْ أَخَذَتْهُ رَأْفَةٌ بِعَشِيرَتِهِ وَرَغْبَةٌ فِي قَرْيَتِهِ. وَنَزَلَ الْوَحْيُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «قُلْتُمْ أَمَّا الرَّجُلُ فَقَدْ أَخَذَتْهُ رَأْفَةٌ بِعَشِيرَتِهِ وَرَغْبَةٌ فِي قَرْيَتِهِ كَلَّا إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ هَاجَرْتُ إِلَى الله وإليكم فالمحيا مَحْيَاكُمْ وَالْمَمَاتُ مَمَاتُكُمْ» قَالُوا: وَاللَّهِ مَا قُلْنَا إِلَّا ضِنًّا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ. قَالَ: «فَإِنَّ اللَّهَ وَرَسُوله يصدقانكم ويعذرانكم» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (86 / 1780)، (4624) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: হাদীসটির ব্যাখ্যায় ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ সুফইয়ান যখন ইসলাম গ্রহণ করল তখন ‘আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, সে তো এমন লোক যে গর্ব করতে পছন্দ করে তো আপনি তার জন্য কিছু একটা করে দেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, যে আবূ সুফইয়ান-এর বাড়িতে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা আবূ সুফইয়ান সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন, মুআবিয়াহ (রাঃ)-এর পিতা আবূ সুফইয়ান ইবনু সাখর ইবনু হারূব আল উমাবী আল কুরায়শী। জাহিলী যুগে হস্তির ঘটনা ঘটার দশ বছর পূর্বে সম্ভ্রান্ত কুরায়শ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কুরায়শ বংশের নেতা। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হুনায়নের যুদ্ধে শরীক হন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে সেই যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত গনীমতের মাল থেকে ১০০টি উট এবং ৪০ উক্বিয়্যাহ্ দিয়েছিলেন। ত্বায়িফ যুদ্ধের দিন তিনি এক চোখে আঘাত পান। তারপর ইয়ারমূক যুদ্ধ পর্যন্ত তার এক চোখ অন্ধই ছিল। অতঃপর তার আরেক চোখে একটি পাথর লাগে। এতে তিনি একেবারে অন্ধ হয়ে যান। ৩৪ হিজরীতে তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তারপর তাকে বাক্বী কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার থেকে ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আনসারগণ যখন ধারণা করল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) হয়তো মক্কায় থেকে যাবেন। তখন অনেকেই পরস্পর বলতে লাগল যে, মক্কার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা এবং আত্মীয়-স্বজনের মায়া ছেড়ে তিনি হয়তো আর মদীনায় যাবেন না।
সে সময় আল্লাহ ওয়াহী নাযিল করে তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিষয়টি জানিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আনসারদের জানিয়ে দিলেন, কক্ষনোই না। আমার মক্কাহ থেকে মদীনায় হিজরত করাটা ছিল শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে। অতএব, যে ভূমির মায়া ছেড়ে তোমাদের কাছে চলে গেছি সেখান থেকে আর এখানে ফিরে আসব না। অতএব যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন তোমাদের সাথে থাকব। আর যখন মারা যাবো তখন তোমাদের ভূমিতেই মারা যাব। আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি এই ধারণা করেছিলেন, কারণ হলো মানুষ প্রকৃতিকভাবেই স্বদেশের প্রতি এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। তাই তারা আশঙ্কা করলেন যে, হয়তো তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে হাতছাড়া করছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে যেন না ছাড়তে হয় এই আশা ও আকাক্ষা নিয়ে তারা এসব কথাও বলছিলেন।
উক্ত হাদীস থেকে এটিও পাওয়া যায় যে, ‘আলিমগণকে ও নেককার লোকেদেরকে নিজেদের সাথে রাখা এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকার কারণে তাদের বিচ্ছেদে অসন্তুষ্ট হওয়া জায়িয। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২০-[২৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) দেখলেন, (আনসারীদের) কতিপয় শিশু ও মহিলা কোন এক বিবাহ উৎসব হতে আসছে। তখন নবী (সা.) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ! (তুমি সাক্ষী থাক!) তোমরা (আনসারগণ) সকল মানুষের তুলনায় আমার কাছে অধিক প্রিয়। হে আল্লাহ! তোমরা (আনসারগণ) আমার কাছে সমস্ত মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى صِبْيَانًا وَنِسَاءً مُقْبِلِينَ مِنْ عُرْسٍ فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ» يَعْنِي الْأَنْصَار. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3785) و مسلم (174 / 2508)، (6417) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বর্ণিত (عُرْسٌ) শব্দের কয়েকটি অর্থ রয়েছে। যেমন- ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো, ওয়ালীমার খাবার। আবার কেউ কেউ বলেন, (عُرْسٌ) অর্থ হলো এমন খাবার যা দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, (اللَّهُمَّ أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমরা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, এই বাক্যে কিছু অংশ উহ্য আছে। আর তা হলো, হে আল্লাহ! তুমি তো সত্য জানো যে, আমি আনসারদের ব্যাপারে যা বলছি। তারা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। আর তারা বলতে এখানে উদ্দেশ্য হলো আনসারগণ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২১-[২৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক ও ’আব্বাস (রাঃ) একদিন আনসারদের কোন এক বৈঠকের কাছ দিয়ে গমন করেন। এ সময় তারা কাঁদছিল। তা দেখে এঁরা উভয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তারা বললেন, আমাদের সাথে নবী (সা.)-এর উঠাবসার কথা আমরা স্মরণ করছিলাম। অতঃপর তাঁদের একজন নবী (সা.) -এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করলেন। তখন নবী (সা.) একটি চাদরের এক প্রান্ত মাথায় বাঁধা অবস্থায় ঘর হতে বাইরে এসে মিম্বারে আরোহণ করলেন। ঐ দিনের পর তিনি আর মিম্বারে আরোহণ করেননি। অতঃপর তিনি (সা.) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলি উল্লেখ করলেন, তারপর বললেন, আনসারদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদেরকে আমি ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি। কেননা তারা আমার অন্তরঙ্গ এবং আমার বিশ্বস্ত। তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব তারা যথাযথ সম্পাদন করেছেন, কিন্তু তাদের উত্তম লোকেদের (উত্তম কাজকে) তোমরা সানন্দে গ্রহণ কর এবং তাঁদের মন্দ লোকেদের (মন্দকে) তোমরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখ। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: مَرَّ أَبُو بَكْرٍ وَالْعَبَّاسُ بِمَجْلِسٍ من مجَالِس الْأَنْصَار وهم يَبْكُونَ فَقَالَ: مَا يُبْكِيكُمْ؟ قَالُوا: ذَكَرْنَا مَجْلِسَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَّا فَدَخَلَ أَحَدُهُمَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ عَصَّبَ عَلَى رَأْسِهِ حَاشِيَةَ بُرْدٍ فَصَعِدَ الْمِنْبَر وَلم يَصْعَدهُ بعد ذَلِك الْيَوْم. فَحَمدَ الله وَأَثْنَى عَلَيْهِ. ثُمَّ قَالَ: «أُوصِيكُمْ بِالْأَنْصَارِ فَإِنَّهُمْ كَرِشِي وَعَيْبَتِي وَقَدْ قَضَوُا الَّذِي عَلَيْهِمْ وَبَقِيَ الَّذِي لَهُمْ فَاقْبَلُوا مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَتَجَاوَزُوا عَنْ مسيئهم» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3799) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, (ذَكَرْنَا مَجْلِسَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বৈঠকের কথা মনে করছি। এ কথার মাধ্যমে আনসারগণ বুঝিয়েছেন যে, আমরা আশঙ্কা করছি যদি আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভাগ্যে মৃত্যু লিখে রাখেন তাহলে তো আমরা আর তার বৈঠকে বসতে পারব না। তারপর তাদের দুজনের একজন তথা ‘আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কছে প্রবেশ করে আনসারদের বিষয়টি জানালেন। তখন প্রচণ্ড ব্যথার কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) মাথায় পট্টি বেঁধে বের হয়ে মিম্বারে আরোহণ করে ভাষণ দিলেন।
হাদীসে উল্লেখিত ( كَرِشِي) শব্দের অর্থ নিয়ে কয়েকটি মত আছে। যেমন- তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো মানুষের নির্ভরতার স্থান। নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে এর অর্থ হলো, গোপন রহস্যের স্থান। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো দল বা জামা'আত। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৫৮ পৃ., হা, ২৫১০)
আর (كَرِشِىْ) শব্দের অর্থ হলো বিশেষ গোপন তথ্যের স্থান।
(وَقَدْ قَضَوُا الَّذِي عَلَيْهِمْ وَبَقِيَ الَّذِي لَهُمْ) অর্থাৎ তাদের ওপর যে দায়িত্ব ছিল তারা তা পালন করেছে। এখন তাদের জন্য প্রতিদান বাকী আছে। আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে বুঝানো হয়েছে যে, আনসারগণ ‘আকাবার রাতে যা ওয়াদা করেছিল, যেমন- তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে সর্বাত্মক সাহায্য করবে। তা তারা করেছে এবং তাদের ওয়াদা ঠিক রেখেছে। এখন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাওয়াব ও প্রতিদান বাকী আছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২২-[২৭] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে অসুস্থতায় নবী (সা.) মৃত্যুবরণ করেছেন, সে পীড়ার সময় তিনি একদিন ঘর হতে বের হয়ে এসে (মসজিদের) মিম্বারে বসলেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও তার গুণাবলি বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, আম্মা বা’দ (হে লোকসকল! শোন! মুমিন) লোকেদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে আর আনসারদের সংখ্যা কমতে থাকবে। পরিশেষে তাঁরা খাদ্যের মধ্যকার লবণতুল্য হয়ে দাঁড়াবে। অতএব, তোমাদের কেউ যদি কোন ক্ষমতার অধিকারী হয়, যার ফলে সে (ইচ্ছা করলে) কোন গোত্রের ক্ষতিও করতে পারে কিংবা উপকারও করতে পারে, তার উচিত হবে যেন সে আনসারদের ভালো লোকেদের (সৎকর্মকে) সাদরে গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ লোকেদের (অন্যায় আচরণকে) ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ حَتَّى جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ النَّاسَ يَكْثُرُونَ وَيَقِلُّ الْأَنْصَارُ حَتَّى يَكُونُوا فِي النَّاسِ بِمَنْزِلَةِ الْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ فَمَنْ وَلِيَ مِنْكُمْ شَيْئًا يَضُرُّ فِيهِ قَوْمًا وَيَنْفَعُ فِيهِ آخَرين فليقبل عَن محسنهم وليتجاوز عَن مسيئهم» رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3628) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে বলা হয়েছে যে, আনসারদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তার কারণ হলো, আনসার তো হলেন শুধু তারাই যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আশ্রয় দিয়েছেন এবং তার দুর্বল ও কঠিন অবস্থায় সাহায্য করার সময় তো চলে গেছে যা আর আসবে না। যেহেতু সেই সময়টি আর আসবে না, তাই আর কেউ তাদের মতো আনসারও হতে পারবে না। এজন্যই দিন দিন আনসারদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কেউ তাদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারছে না।
আনসারদেরকে লবণের সাথে তুলনা করা হয়েছে এদিক থেকে যে, খাবারের মধ্যে যেমন- লবণের পরিমাণ অন্যান্য জিনিসের তুলনায় কম থাকে ঠিক মুহাজিরদের তুলনায় আনসারদের সংখ্যা তেমন কম থাকবে যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৩-[২৮] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (দু’আয়) বলেছেন, ’হে আল্লাহ! আনসার ও আনসারদের সন্তান-সন্ততি এবং তাদের সন্তানদের সন্তান-সন্ততিদেরকে তুমি মাফ করে দাও।’ (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «الله اغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَلِأَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ وَأَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (172 / 2506)، (6414) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) আনসারদের জন্য দু'আ করেছেন। তারা হলেন সাহাবী। তিনি তাদের সন্তানদের জন্য দু'আ করেছেন। যাদের অনেকেই হলেন তাবিঈ। তিনি তাদের নাতী-নাতনীদের জন্য দু'আ করেছেন। যাদের অনেকেই হলেন আতবা। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সর্বশ্রেষ্ঠ তিন যুগের আনসারাদের জন্য দু'আ করেছেন। এটিও অসম্ভব নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দু'আর অন্তর্ভুক্ত তারাও হতে পারে কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই সকল আনসারদের মাধ্যমে দুনিয়াতে আসবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৪-[২৯] আবূ উসায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আনসার গোত্রসমূহের মাঝে উত্তম হলো বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ ’আবূদ আল আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনুল খাযরাজ এবং অতঃপর বানূ সাইদাহ্। মূলত আনসারদের প্রতিটি পরিবাবেরই কল্যাণ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي أُسَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ دُورِ الْأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الْأَشْهَلِ ثُمَّ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ وَفَى كُلِّ دُورِ الْأَنْصَارِ خَيْرٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3789) و مسلم (177 / 2511)، (6421) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের বিভিন্ন আনসার গোত্রের এলাকার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আর সর্বশেষে বলা হয়েছে যে, সব আনসার গোত্রের এলাকার মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। এটি বলা হয়েছে মদীনার অন্যান্য গোত্রের এলাকার বিবেচনায়।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আনসারদের সর্বোত্তম এলাকা হলো, যে এলাকার আনসার গোত্র সর্বোত্তম। সে সময় প্রতিটি ক্ষেত্রে একেকটি এলাকায় বসবাস করত। আর যে এলাকায় যে গোত্র বসবাস করত, সেই এলাকাই সেই গোত্রের নামেই ডাকা হত। এজন্যই বিভিন্ন হাদীসে এলাকার নাম বাদ দিয়ে শুধু গোত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের বিবেচনা করা হত আগে ইসলাম গ্রহণ করার দিক দিয়ে এবং ইসলামে তাদের অবদানের দিক দিয়ে। উক্ত হাদীস থেকে এটিও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, বিশেষ বিবেচনায় বিশেষ কোন গোত্রকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা বৈধ আছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৫-[৩০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে এবং যুবায়র ও মিক্বদাদ-কে, অপর এক বর্ণনায় মিকদাদ-এর পরিবর্তে আছে, আবূ মারসাদ-কে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা ’রওযাহ্ খাখ’ নামক স্থানে যাও, সেখানে গিয়ে এক উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পাবে। তার কাছে একটি পত্র আছে। অতএব তোমরা তার কাছ হতে উক্ত পত্রখানা নিয়ে আসবে। (আলী রাঃ বলেন,) আমরা সকলে খুব দ্রুত ঘোড়া দৌড়িয়ে যাত্রা করলাম। অবশেষে উক্ত রওযাহ নামক স্থানে পৌছে আমরা উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পেলাম। অতঃপর আমরা বললাম, ’পত্রটি বের কর’। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, স্বেচ্ছায় পত্রটি বের করে দাও, নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে সন্ধান চালাব। শেষ পর্যন্ত সে তার চুলের বেণির ভিতর হতে পত্রখানা বের করে দিল। অতঃপর আমরা তা নিয়ে নবী (সা.) -এর কাছে এসে পৌছলাম। চিঠিখানা খুলতেই দেখা গেল, (উক্ত চিঠিখানা) মক্কার মুশরিকদের কতিপয় লোকেদের প্রতি হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা’আহ্-এর তরফ থেকে। এতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কিছু সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত্বিবকে (ডেকে) প্রশ্ন করলেন, হে হাত্বিব! এটা কি ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বিরুদ্ধে তড়িৎ কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমি হলাম কুরায়শদের মধ্যে একজন বহিরাগত লোক। আমি তাদের বংশের অন্তর্ভুক্ত নই। আর আপনার সাথে যে সকল মুহাজির রয়েছেন, তাঁদের বংশীয় আত্মীয়স্বজন সেখানে (মক্কায়) রয়েছেন, ফলে মক্কার মুশরিকগণ উক্ত আত্মীয়তার প্রেক্ষিতে ঐ সমস্ত মুহাজিরদের ধন-সম্পদ এবং অবশিষ্ট আপনজনদের হিফাযাত করে থাকে। কুরায়শদের মাঝে যখন আমার কোন আত্মীয়-আপনজন নেই, তখন আমি এটাই চেয়েছি যে, মক্কার শত্রু সম্প্রদায়ের প্রতি কিছু ইহসান করি, যাতে তারা আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয় এবং তাদের অনিষ্ট হতে আমার আত্মীয়স্বজন নিরাপদে থাকে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির কিংবা দীন হতে মুরতাদ হয়ে গেছি। আর না ইসলাম গ্রহণ করার পর আমি কুফরীর দিকে আকৃষ্ট থেকে এরূপ করেছি।
তাঁর বক্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হাত্বিব তোমাদের সামনে সত্য কথাই বলেছে। “উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয় ইনি একজন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। তুমি প্রকৃত বিষয়টি কি জান? সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করেই বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।’ অন্য বর্ণনায় আছে, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। এরপর হাত্বিব ও অন্যান্যদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন- “হে ঈমানদারগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুদের (কাফির-মুশরিকদের) সাথে কোন প্রকারের বন্ধুত্ব স্থাপন করো না....."- (সূরা আল মুমতাহিনাহ ৬০ : ১)। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَالزُّبَيْر والمقداد - وَفِي رِوَايَة: أَبَا مَرْثَدٍ بَدَلَ الْمِقْدَادِ - فَقَالَ: «انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوا مِنْهَا» فَانْطَلَقْنَا تَتَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَة فَإِذا نَحن بِالظَّعِينَةِ قُلْنَا لَهَا: أَخْرِجِي الْكتاب قَالَت: مَا معي كِتَابٍ. فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَتُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِيهِ: مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَاطِبُ مَا هَذَا؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَكَانَ مَنْ مَعَك من الْمُهَاجِرين من لَهُم قَرَابَات يحْمُونَ بهَا أَمْوَالهم وأهليهم بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي وَمَا فَعَلْتُ كفرا وَلَا ارْتِدَادًا عَن ديني وَلَا رضى بِالْكُفْرِ بَعْدَ الْإِسْلَامِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ» فَقَالَ عُمَرُ: دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُم فقد وَجَبت لكم الجنةُ « وَفِي رِوَايَة فقد غَفَرْتُ لَكُمْ» فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ] . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6259 و الروایۃ الثانیۃ : 4274) و مسلم (161 / 2494)، (6401) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত ব্যক্তি মিক্বদাদ সম্পর্কে মিরকাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, তিনি হলেন, মিকদাদ ইবনু আমর আল কিনদী। তাকে কিনদী নামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এজন্য যে, তার পিতা কিন্দীর সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। তিনি হলেন, প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ষষ্ঠ ব্যক্তি। মদিনাহ থেকে তিন মাইল দূরে জারফ নামক স্থানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারপর মানুষেরা তাকে কাঁধে বহন করে এনে বাক্বী কবরস্থানে দাফন করে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তার থেকে ‘আলী তা তারিক ইবনু শিহাব ছাড়াও আরো অনেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদীসে বর্ণিত আরেক ব্যক্তি আবূ মারসাদ সম্পর্কে মিরক্বাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বলেন, তিনি হলেন, কিনায় ইবনু হুসায়ন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার ছেলে মারসাদ একজন বড় মাপের সাহাবী। সাইয়্যিদ জামালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি এবং তার ছেলে মারসাদ হামযাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব-এর সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। ওয়াকিদী এবং ইবনু ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলল্লাহ (সা.) তার মাঝে এবং ‘উবাদাহ ইবনু সামিত-এর মাঝে ভাতত্ব বন্ধন তৈরি করে দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ বলেন, আবূ মারসাদ বদর, উহুদ, খন্দক যুদ্ধসহ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৬৬ বছর বয়সে আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।
উক্ত হাদীসের এক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী, যুবায়র এবং মিকদাদকে পাঠিয়েছেন। আবার অপর বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ যুবায়র ও আবূ মারসাদ-কে পাঠিয়েছেন, এখানে উভয় বর্ণনায় বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে আসল ব্যাপার হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) চারজনকেই পাঠিয়েছেন। শারহুন্ নাবাবী গ্রন্থেও বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত চারজনকেই সেই কাজে পাঠিয়েছিলেন।
(رَوْضَةَ خَاخٍ) একটি জায়গার নাম যা মদীনার অদূরে মক্কাহ্ ও মদীনার পথে অবস্থিত। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৪৮ পৃ., হা. ২৪৯৪)
হাদীসে উল্লেখিত দাসীর নাম হলো সারাহ। সে হলো, ‘ইমরান ইবনু আবূ সায়ফি আল কুরায়শী-এর আযাদকৃত দাসী।
উক্ত চিঠিতে হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা'আহ্ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কিছু সংবাদ এবং মদীনার কিছু খবর লিখে পাঠাচ্ছিল। সে সময় জিবরীল (আঃ) এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) কে তা জানিয়ে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে পাঠালেন। হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা'আহ্ -এর কথা বলা শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তা সত্যায়ন করলেন।
তারপর ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন যে, আপনি অনুমতি দেন। আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। এখন প্রশ্ন হলো, তার কথা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সত্যায়ন করার পরেও কেন ‘উমার তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলেন। এর উত্তর হলো, ‘উমার (রাঃ) ছিলেন দীনের ক্ষেত্রে খুবই কঠোর। আর তিনি ধারণা করেছিলেন যে, যে ব্যক্তিই রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আদেশের বিপরীত কোন কাজ করবে সেই হত্যার যোগ্য হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে হত্যা করার অনুমতি দেননি। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে তো বদরের যুদ্ধে শরীক হয়েছে। যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে আল্লাহ তাদের দিকে দয়া ও ক্ষমার বিশেষ দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন। তাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।
তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বললেন, তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো ও উপকারী ‘আমল করে যাও। তা পরিমাণে কম হোক অথবা বেশি হোক। তোমরা যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছ তাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।
এখানে একটি প্রশ্ন হলো, যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তারা কি যে কোন অপরাধ করলেই ছাড় পেয়ে যাবে? যেমন এখানে হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা'আহ্ ছাড় পেয়ে গেল।
উত্তর হলো না। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা দুনিয়াতে যে কোন অপরাধ করলে তার শাস্তি হবে। যেমন মিথ্যা অপরাধে শরীক থাকার কারণে মিসতাহ-এর ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করা হয়েছিল। অথচ সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। এখানে হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা'আহ্-কে ছাড় দেয়া হয়নি। বরং তার প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
উক্ত হাদীস থেকে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) আরো কিছু বিষয় প্রমাণ করেছেন। তা হলো –
- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এটি একটি স্পষ্ট মু'জিযাহ্ যে, তিনি তথ্য পাচারের ঘটনা জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে আগেই জানতে পেরেছেন।
- বিশেষ স্বার্থে গোয়েন্দাদের গোপন বিষয় পড়ে প্রকাশ করা বৈধ আছে।
- গোপন বিষয় প্রকাশ করার মাঝে যদি কোন ক্ষতি না থাকে। বরং তাতে কোন কল্যাণ থাকে তাহলে তা প্রকাশ করা ভালো।
- বিচারকের অনুমতি ছাড়া কোন অপরাধীকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
- গোপন তথ্য পাচার করা হলো কবীরাহ গুনাহ। কিন্তু সেজন্য কেউ কাফির হয়ে যায় না। কেউ এ জাতীয় কাজ করলে তাকে কি শাস্তি দেয়া হবে তা নিয়ে ইমামদের মাঝে মতানৈক্য আছে। ইমাম শাফিঈ-এর মতে, মুসলিম গোয়েন্দাকে শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু তাকে হত্যা করা বৈধ হবে না। মালিকিদের মতে তাকে তাওবাহ্ করতে বলা হবে। যদি সে তাওবাহ্ না করে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। কেউ কেউ বলেন, তাওবাহ্ করলেও তাকে হত্যা করা হবে। ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বিচারক চিন্তা-ভাবনা করে রায় দিবেন। (শারহুন নাবাবী ১৬শ খণ্ড, ৪৮-৪৯ পৃ., হা, ২৪৯৪, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
মিরকাতুল মাফাতীহ প্রণেতা বিফা'আহ্ সম্পর্কে বলেন, তিনি হলেন, রিফা'আহ্ ইবনু রাফি। তার কুনিয়াত হলো আবূ মু'আয, যুরকী আল আনসারী, তিনি বদর উহুদসহ সকল যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে থেকে উষ্ট্রের যুদ্ধে ও সিফীনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মু'আবিয়ার রাজত্বকালের প্রথম দিকেই মৃত্যুবরণ করেন। তার থেকে তার সন্তানেরা ‘উবায়দ, মু'আয এবং তার ভাইয়ের ছেলে ইয়াহইয়া ইবনু খল্লাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জিবরীল (আঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনারা বদরী সাহাবীদের কিভাবে মূল্যায়ন করেন? তখন তিনি উত্তরে বললেন, তাঁরা হলো শ্রেষ্ঠ মুসলিম। তারপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আমাদের মধ্য হতে যেসব মালাক (ফেরেশতা) বদরে অংশগ্রহণ করেছেন তারাও অন্যসব মালায়িকার (ফেরেশতাদের) চেয়ে উত্তম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৬-[৩১) রিফা’আহ্ ইবনু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জিবরীল (আঃ) নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে আপনারা কেমন মনে করেন? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমরা তাদেরকে সবচেয়ে উত্তম মুসলিম বলে মনে করি। অথবা তিনি (সা.) জাতীয় কোন বাক্য বললেন, প্রত্যুত্তরে জিবরীল (আঃ) বললেন, যে সকল মালাক (ফেরেশতা) বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কেও আমরা অনুরূপ ধারণা পোষণ করি। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا تَعُدُّونَ أَهْلَ بَدْرٍ فِيكُمْ» . قَالَ: «مِنْ أَفْضَلِ الْمُسْلِمِينَ» أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَ: «وَكَذَلِكَ مَنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (3992) ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৭-[৩২] হাফসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আশা করি, ইনশা-আল্ল-হ বদর এবং হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারী কেউই জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে না। [হাফসাহ (রাঃ) বলেন,] আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা কি এ কথা বলেননি? (অর্থাৎ) ’অবশ্যই তোমাদের তা প্রত্যেকেই অতিক্রম করবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি শুননি, আল্লাহ তা’আলা এটাও তো বলেছেন, অতঃপর আমি তাদেরকে মুক্তি দিব, যারা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করেছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, ’আসহাবে শাজারাহ’ যারা ঐ গাছের নিচে বায়’আত গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কেউই ইনশা-আল্ল-হ জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে না। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا يَدْخُلَ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ أَحَدٌ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: [وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا واردها] قَالَ: فَلَمْ تَسْمَعِيهِ يَقُولُ: [ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتقَوا] وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا يَدْخُلُ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ - أَحَدُ - الَّذِينَ بَايَعُوا تحتهَا» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (163 / 2496)، (6404) ۔
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বদর এবং হুদায়বিয়াতে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে জান্নাতী হওয়ার আশা ব্যক্ত করলেন তখন হাফসাহ্ (রাঃ) জানার জন্য বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, (اِنۡ مِّنۡکُمۡ اِلَّا وَارِدُهَا) অর্থাৎ “তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে”- (সূরা মারইয়াম ১৯ : ৭১)। এখানে হাফসাহ্ (রাঃ) (وَارِدُهَا) এর অর্থ বুঝে ছিলেন যে, তাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে অন্য আয়াতের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন যে, না আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাদেরকে মুক্তি দিবেন।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) শারহুন্ নাবাবী গ্রন্থে বলেন, উক্ত আয়াত বলা হয়েছে, তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে। এখানে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জাহান্নামের উপর স্থাপিত একটি পুল। যা সবাইকে অতিক্রম করতে হবে। সে সময় জাহান্নামীরা তখনই তাতে পড়ে যাবে। আর মুত্তাকী বান্দারা মুক্তি পেয়ে যাবে। (শারহুন নাবাবী ১৬শ, ৫০ পৃ., হা. ২৪৯৬)
উক্ত হাদীসটি সম্পর্কে মিরাক বলেন, হাদীসটি দেখে মনে হয় যে, তা হাফসাহ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। বরং এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে উম্মু মুবাশশির আল আনসারিয়্যাহ্ সূত্রে।
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি আশা করি আল্লাহ চাহে তো যারা গাছের নিচে বায়'আত করেছে তারা কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তখন উম্মু মুবাশশির বললেন, অবশ্যই আল্লাহর রাসূল (সা.)। হাফসাহ্ (রাঃ) তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছেই ছিল। সে উম্মু মুবাশশির-কে ধমক দিয়ে বলল, আল্লাহ বলেছেন, (اِنۡ مِّنۡکُمۡ اِلَّا وَارِدُهَا) অর্থাৎ “তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে"- (সূরা মারইয়াম ১৯ : ৭১)। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, (ثُمَّ نُنَجِّی الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّ نَذَرُ الظّٰلِمِیۡنَ فِیۡهَا جِثِیًّا) অর্থাৎ “তারপর আমি মুক্তাক্বীদেরকে মুক্তি দিব আর যালিমদেরকে তাতে উপুড় করে ফেলে দিব”- (সূরা মারইয়াম ১৯: ৭২)। তারপর হাফসাহ্ (রাঃ) বিষয়টি বুঝতে পারলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৮-[৩৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার ঘটনার সময় আমরা চৌদ্দশত মুসলিম উপস্থিত ছিলাম। তখন নবী (সা.) আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আজ জমিনবাসীর মধ্যে তোমরাই শ্রেষ্ঠ। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كُنَّا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ. قَالَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرُ أَهْلِ الأَرْض» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4154) و مسلم (71 / 1856)، (4811) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসকে কেন্দ্র করে কিছু ‘আলিমগণ বলে থাকেন, তাদের মধ্যে মর্যাদার ক্ষেত্রে স্তর রয়েছে। যেমন- সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন চার খলীফাহ্। তারপর বাকী আশারায়ে মুবাশশারাহগণ। তারপর উহুদে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ। তারপর হুদায়বিয়াতে গাছের নিচে বায়'আত গ্রহণকারী সাহাবীগণ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২২৯-[৩৪] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হুদায়বিয়ার সফরকালে) রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এমন কে আছ যে মুরার গিরিপথে আরোহণ করবে, এতে তার কৃত গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর হবে যেমনটি দূরীভূত হয়েছিল বানী ইসরাঈল হতে। অতএব আমাদের অর্থাৎ মদীনার খাযরাজ গোত্রীয়দের ঘোড়ায় সর্বপ্রথম উক্ত গিরিপথে আরোহণ করল। অতঃপর অন্যান্য লোকেরা অনুসরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, লাল বর্ণের উটের মালিক ছাড়া তোমাদের সকলকে মাফ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা সে লাল উটের মালিকের কাছে এসে বললাম, তুমি চল, রাসূলুল্লাহ (সা.) তোমার জন্যও মাফ চাইবেন। সে বলল, তোমাদের বন্ধুর তরফ হতে আমার জন্য ক্ষমা চাওয়া অপেক্ষা আমার হারানো জিনিসটা পাওয়াই আমার কাছে অধিক প্রিয়। (মুসলিম)
আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস, রাসূলুল্লাহ (সা.) উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-কে বলেছেন, আমাকে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ করেছেন, ’আমি যেন তোমাকে কুরআন পড়ে শুনাই।’ ফাযায়িলে কুরআনের পরের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
الفصل الاول (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَصْعَدِ الثَّنِيَّةَ ثَنِيَّةَ الْمُرَارِ فَإِنَّهُ يُحَطُّ عَنْهُ مَا حُطَّ عَنْ بَنِي إِسرائيل» . وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ صَعِدَهَا خَيْلُنَا خَيْلُ بَنِي الْخَزْرَجِ ثُمَّ تَتَامَّ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّكُمْ مَغْفُورٌ لَهُ إِلَّا صَاحِبَ الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ» . فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا: تَعَالَ يَسْتَغْفِرْ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَأَنْ أَجِدَ ضَالَّتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي صَاحِبُكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذَكَرَ حَدِيثَ أَنَسٍ قَالَ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: «إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ» فِي «بَابٍ» بعدَ فَضَائِل الْقُرْآن
رواہ مسلم (12 / 2880)، (7038) 0 حدیث انس لابی بن کعب رضی اللہ عنھما تقدم (2196) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত (الثَّنِيَّةَ) হলো পাহাড়ের একটি উঁচু পথের নাম। যা মদীনার পথে মক্কাহ্ ও হুদায়বিয়ার মাঝে অবস্থিত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) - তাতে উঠার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন এজন্য যে, তা ছিল একটি কঠিন যখন তারা মক্কায় হুদায়বিয়ার বছর তারা মক্কায় প্রবেশ করতে চেয়েছিল এখন তারা রাতে সেই স্থানে গিয়েছিলেন। যেন এখন অন্যান্য লোকেরা তাতে আরোহণ করে তাদের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারে।
হাদীসে উল্লেখিত লাল উটের মালিক ছিল মুনাফিক্বদের সরদার ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই। সাহাবীগণ যখন গিয়ে তাকে বলল, আপনি আসুন যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তখন সে না এসে বলল, আমার হারিয়ে যাওয়া কোন উট অথবা ঘোড়া ফিরে পাওয়াটা আমার কাছে অধিক প্রিয় তোমাদের সাথির আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে। তার এই কথা হলো স্পষ্ট কুফরী। এদিকেই ইশারাই করেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন - وَ اِذَا قِیۡلَ لَهُمۡ تَعَالَوۡا یَسۡتَغۡفِرۡ لَکُمۡ رَسُوۡلُ اللّٰهِ لَوَّوۡا رُءُوۡسَهُمۡ وَ رَاَیۡتَهُمۡ یَصُدُّوۡنَ وَ هُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ ﴿۵﴾ سَوَآءٌ عَلَیۡهِمۡ اَسۡتَغۡفَرۡتَ لَهُمۡ اَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ لَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰهُ لَهُمۡ.. ﴿۶﴾
“তাদেরকে যখন বলা হয়, এসো আল্লাহর রাসূল (সা.) তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন তখন তারা মাথা নেড়ে অস্বীকৃতি জানায় তখন তুমি তাদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা অহংকারবশত আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছে। তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর উভয়টিই, তাদেরকে তিনি কিছুতেই ক্ষমা করবেন। ”- (সূরাহ্ আল মুনাফিকুন ৬৩: ৫-৬)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩০-[৩৫] ইবনু মাসউদ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমার পরে তোমরা আমার সাহাবীদের মধ্য হতে এ দু’জনের- আবূ বকর ও ’উমার-এর অনুকরণ করো। আম্মার-এর চরিত্র অবলম্বন করো এবং ইবনু উম্মু ’আবদ-এর (ইবনু মাস্উদ-এর) নির্দেশ দৃঢ়তার সাথে মেনে চলে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي مِنْ أَصْحَابِي: أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَاهْتَدُوا بِهَدْيِ عمّارٍ وَتَمَسَّكُوا بِعَهْدِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3663)
ব্যাখ্যা: (وَاهْتَدُوا بِهَدْيِ عمّارٍ) অর্থাৎ ‘আম্মার ইবনু ইয়াসীর (রাঃ) (الهَدْى) ‘হা’ বর্ণে যবরসহ এবং ‘দাল’ বর্ণে সুকূন যোগে অর্থ চরিত্র, পদ্ধতি। অর্থাৎ তোমরা তার চরিত্র গ্রহণ কর ও তার পথকে মনোনীত করো। মনে হয় যেন (إقتداء) শব্দটি (إهتداء) থেকে বেশি ব্যাপক। যেহেতু (إقتداء)-এর সাথে (فول) এবং (فعل) তথা কথা ও কর্ম উভয় যুক্ত থাকে। পক্ষান্তরে (إهتداء) শুধু (فعل) (কাজ) এর সাথে যুক্ত। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১১)
এ বাক্যে আমাদের সর্দার আমীরুল মু'মিনীন আলী (রাঃ)-এর খিলাফত সত্য ও সঠিক হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মা'ঊদ (রাঃ)-এর উপনাম হলো ইবনু উম্মু আবদ। তাঁদের যুগ থেকে উদ্দেশ্য হলো তাদের খিলাফতকাল। এ কারণে তার উদ্দেশ্য হলো তাদের খিলাফতকাল। এ কারণে তারা আমাদের নেতা আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তার ওপর এ দলীল পেশ করেন যে, আমরা তাঁকে পিছনে ফেলে রাখতে পারি না। যাকে স্বয়ং রাসূল (সা.) আমাদের দীনের কাজে অর্থাৎ সালাতে অগ্রগামী করেছেন। আমরা কি তাদের দুনিয়ার জন্য পছন্দ করব না? (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩১-[৩৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলিমদের সাথে পরামর্শ ছাড়া যদি আমি কাউকে আমীর বানাতাম তাহলে ইবনু উম্মু ’আবদ-কে লোকেদের ওপর আমীর নিযুক্ত করতাম। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كُنْتُ مُؤَمِّرًا مِنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لَأَمَّرْتُ عَلَيْهِمُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3808) و ابن ماجہ (137) * فیہ الحارث الاعور : ضعیف و ابو اسحاق السبیعی مدلس و عنعن ۔
(واه)
ব্যাখ্যা: (فَوُفِّقْتَ) আপনাকে আমাদের সাথে মিলানো হয়েছে। যেমন বলা হয়: (أتانا لتيفاق الهلال وميفاقه) অর্থাৎ সে আমাদের নিকট এসেছে যখন নতুন চাঁদ উদিত হয়েছে। এর আগে নয়, না পরেও। যেন সেটা মিলিত হওয়ার একটি বাস্তব কেন্দ্রকে বুঝাচ্ছে। (لَوْ كُنْتُ مُؤَمِّرًا) অর্থাৎ কাউকে আমীর নিযুক্ত করা।
(مِنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ) তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসটি যে সনদেই বর্ণনা হোক না কেন তা এভাবে তা'বীল করা দরকার যে, অবশ্য রাসূল (সা.) তাকে নির্দিষ্ট সৈন্যদলের আমীর নিয়োগ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। অথবা তাঁর জীবদ্দশায় কোন কাজের খলীফাহ্ বানিয়েছিলেন আর এ হাদীসকে খুলাফায়ে রাশিদার ওপর ধরা ঠিক হবে না। যা নবী (সা.)-এর ওফাতের পর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কারণ তা কুরায়শ বংশের সাথে নির্দিষ্ট যেমনটি রাসূল (সা.) হাদীসে বর্ণনা করেন। আর আমাদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) কুরায়শ বংশের অন্তর্ভুক্ত নন।
সে কারণে খিলাফতে রাশিদাকে কুরায়শ বংশের সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া অন্য কারো সাথে যুক্ত করা ঠিক হবে না। যেমন আমরা আলোচনা করলাম। তবে তাঁর “ইলম ও ‘আমলের কারণে একটা অন্যতম মর্যাদা রয়েছে। রয়েছে অগ্রাধিকার পাওয়ার একটা বড় অংশ। আবার তিনি অধিক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮২১, মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৩-২৭৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩২-[৩৭] খায়সামাহ্ ইবনু আবূ সাবরাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মদীনায় এসে আল্লাহর কাছে এই বলে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দাও। এরপর আল্লাহ তা’আলা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিয়েছেন। আমি তার কাছে বসলাম। অতঃপর আমি বললাম, আমি আল্লাহর কাছে একজন সৎ সাথি জুটিয়ে দেয়ার জন্য দু’আ করছিলাম। ফলে তিনি আপনাকেই আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি [আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)] আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কোথাকার লোক? বললাম, আমি কূফার অধিবাসী। আমি কল্যাণের আকাক্ষী। অতএব তার অন্বেষণে কূফা হতে এসেছি। তখন (আমার কথার জবাবে) আবূ হুরায়রাহ্ বললেন, তোমাদের মধ্যে কি নেই সা’দ ইবনু মালিক- যার দু’আ আল্লাহ তা’আলার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর ইবনু মাস’উদ, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উযূর পানি-পাত্র ও জুতা বহনকারী। আর হুযায়ফাহ, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গোপন তথ্যের অভিজ্ঞ। আর ’আম্মার (ইবনু ইয়াসির) যাঁকে নবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা শয়তান হতে আশ্রয় দিয়েছেন। আর সালমান (ফারিসী), যিনি উভয় কিতাব অর্থাৎ ইঞ্জীল ও কুরআনের উপর ঈমান আনয়নকারী। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ خَيْثَمَةَ بْنِ أَبِي سَبْرَةَ قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَسَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَيَسَّرَ لِي أَبَا هُرَيْرَةَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ: إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يُيَسِّرَ لِي جَلِيسًا صَالِحًا فَوُفِّقْتَ لِي فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قُلْتُ: مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ جِئْتُ أَلْتَمِسُ الْخَيْرَ وَأَطْلُبُهُ. فَقَالَ: أَلَيْسَ فِيكُمْ سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ مُجَابُ الدَّعْوَةِ؟ وَابْنُ مَسْعُودٍ صَاحِبُ طَهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَعْلَيْهِ؟ وَحُذَيْفَةُ صَاحِبُ سِرِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ وَعَمَّارٌ الَّذِي أَجَارَهُ اللَّهُ مِنَ الشَّيْطَانِ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ وَسَلْمَانُ صَاحِبُ الْكِتَابَيْنِ؟ يَعْنِي الْإِنْجِيلَ وَالْقُرْآنَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3811) * قتادۃ مدلس و عنعن و للحدیث شواھد معنویۃ
ব্যাখ্যা: (جَلِيسًا صَالِحًا) এমন বৈঠক যা বসার জন্য উপযুক্ত এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়।
(أَلْتَمِسُ الْخَيْرَ) অর্থাৎ আমলের সাথে সম্পৃক্ত ইলম। আমলযুক্ত ‘ইলম থেকে উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
(یُّؤۡتِی الۡحِکۡمَۃَ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنۡ یُّؤۡتَ الۡحِکۡمَۃَ فَقَدۡ اُوۡتِیَ خَیۡرًا کَثِیۡرًا ؕ) “যাকে ইচ্ছে তিনি হিকমাত দান করেন এবং যে ব্যক্তি এ জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়, নিঃসন্দেহে সে মহাসম্পদ প্রাপ্ত হয়..."- (সূরাহ আল বাক্বারাহ ২: ২৬৯)।
কখনো বলা হয়, এ হিকমাতের চাইতে অধিক কল্যাণকর কিছুই নেই। অথবা বলা হয়, এছাড়া কোন কল্যাণ নেই।
(صَاحِبُ طَهُورِ) অর্থাৎ যার মাধ্যমে পবিত্রতা লাভ করা যায়। কারণ তিনি নবী (সা.)-কে এবং তাঁর জুতাদ্বয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতেন। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর বালিশ ইত্যাদির সাথি ছিলেন। যাতে প্রমাণিত হয় তাঁর পূর্ণ খিদমাতের ও একেবারে কাছের ব্যক্তির। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) ছিলেন রাসূল (সা.)-এর রহস্যবিদ। কারণ রাসূল (সা.) তাকে স্বীয় ওফাতের পর উম্মতের মাঝে ঘটিতব্য বিষয়সমূহ ও মুনাফিকদের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে অবগত করেছিলেন। আর তিনি সেগুলোকে তার ও রাসূল (সা.) -এর মাঝে গোপন রাখতেন।
(عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ) ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাণী:
(وَيْحَ عَمَّارٍيَدْعُوهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ وَيَدْعُونَهُ إِلَى النَّارِ) ‘আম্মার (রাঃ)-এর বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, তিনি তাদেরকে আহ্বান করছেন জান্নাতের পথে আর তারা তাঁকে ডাকে জাহান্নামের পথে।
হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ ব্যাখ্যা সম্ভাবনার বাইরে নয়। হয়তো এ থেকে উদ্দেশ্য ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর মারফু হাদীসটিও হতে পারে। যেমন নবী (সা.) বলেন, (مَاخُيِّرَعَمَّارٌبَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَأَرْشَدَهُمَا) ‘আম্মার (রাঃ) দুটি বিষয়ের মধ্যে অধিক সঠিকটাকে বেছে নিতেন। মুসনাদে আহমাদে ইবনু মাস'উদ (রাঃ)-এর হাদীসে রয়েছে, ‘আম্মার (রাঃ) -এর দুটি বিষয়ের মধ্যে উত্তমটাকে বেছে নেয়ার প্রবণতা থাকা দাবী করে যে, তাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ইবনু সা'দ-এর “তবাকাত”-এ হাসান সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আম্মার (রাঃ) বলেন, আমরা এক জায়গায় উপনীত হলাম এবং পানি পানের জন্য মশক ও বালতি নিয়ে গেলাম। নবী (সা.) বললেন, শীঘ্রই তোমাকে একজন লোক পানি থেকে বাধা প্রদান করবে।
অতঃপর যখন আমি পানির নিকটে চলে এসেছি হঠাৎ একজন কালো লোক এসে পড়ল, যেন সে একজন শাবক। আমি তাকে আছাড় দিলাম। অতঃপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন। এ হাদীসে রয়েছে, (ذَاكَ الشَّيْطَانُ) “ওটা শয়তান”। হয়তো ইবনু মাস্'উদ (রাঃ) এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আবার রক্ষা করার দ্বারা ইঙ্গিত তার ঈমানের উপর অবিচল থাকার প্রতি হতে পারে। যখন তাকে মুশরিকরা কুফরী কথা বলার জন্য বাধ্য করেছিল। এ প্রসঙ্গেই নাযিল হয়, (...اِلَّا مَنۡ اُکۡرِهَ وَ قَلۡبُهٗ مُطۡمَئِنٌّۢ بِالۡاِیۡمَانِ..) “...কুফরীর জন্য স্বীয় হৃদয় খুলে দিলে তার ওপর আল্লাহর গযব পতিত হবে...”- (সূরা আন নাহল ১৬ : ১০৬)। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৮১১)
(صَاحِبُ الْكِتَابَيْنِ) অর্থাৎ, ইঞ্জীল ও কুরআনের ধারক বা এটা এভাবে যে, তারা কুরআন নাযিল হওয়ার পূর্বে ইঞ্জীল পড়েছে ও তার উপর ঈমান এনেছে এবং সে মতো ‘আমল করেছে। অতঃপর কুরআনের উপর ঈমান এনেছে রসূলের বরকতপূর্ণ খিদমাতে হাযির হয়ে। সালমান ফারসী (রাঃ) -এর বয়স ছিল ৮৬ বছর। তাঁর উপাধি ছিল সালমান আল খায়র। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৪)
তিনি স্বহস্তে খেজুর পাতার কাজ করে জীবিকা উপার্জন করে খেতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৩-[৩৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আবূ বকর একজন খুবই উত্তম লোক, ’উমার খুব উত্তম লোক, আবূ উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ খুবই উত্তম লোক, উসায়দ ইবনু হুযায়র খুবই উত্তম লোক, সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস খুবই উত্তম লোক, মু’আয ইবনু জাবাল খুবই উত্তম লোক এবং মু’আয ইবনু আমর ইবনুল জুমূহ খুবই উত্তম লোক। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نِعْمَ الرَّجُلُ أَبُو بَكْرٍ نِعْمَ الرَّجُلُ عُمَرُ نِعْمَ الرَّجُلُ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ نِعْمَ الرَّجُلُ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ نِعْمَ الرَّجُلُ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3795) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: সম্ভবত এসব বড় বড় মুহাজির ও আনসারগণ (রাঃ) এক মাজলিসে সমবেত হলে তাঁদের প্রত্যেকের সাথে প্রশংসা ও সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা কোন অনুষ্ঠানে এভাবে তাদের আলোচনা করা হয়েছে। আবূ উবায়দাহ্ ইবনু জাররাহ উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এমন ব্যক্তি যার হাত ধরে নবী (সা.) বলেন, এ হচ্ছে উম্মতের আমানাতদার। এ হাদীস আশারায়ে মুবাশশিরাদের ফাযীলাতের অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) আওস বংশের একজন আনসারী ব্যক্তি ছিলেন।
তিনি এমন সবল সাহাবীদের গণ্য ছিলেন যারা ‘আকাবাহ, বদরসহ পরবর্তী সকল জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে সাহাবীদের একটি দল হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি ৩০ হিজরী সনে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে কবরস্থ হন। সাবিত ইবনু কায়স ও মু'আয ইবনু জাবাল-এর আলোচনা পূর্বে হয়েছে আর মু'আয ইবনু ‘আমর খাযরাজ গোত্রের আনসারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ও ‘আকাবাহ ও বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। পরপারে পাড়ি জমান উসমান -এর যুগে। (মিশকাতুল মাসাবীহ- মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৫)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৪-[৩৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তিন লোকের জন্য জান্নাত উদগ্রীব রয়েছে- ’আলী, ’আম্মার ও সালমান (রাঃ)। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ الْجَنَّةَ تَشْتَاقُ إِلَى ثَلَاثَةٍ عَلِيٍّ وَعَمَّارٍ وسلمان» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3797 وقال : حسن غریب) * فیہ الحسن البصری مدلس مشھور و عنعن
ব্যাখ্যা: (إِنَّ الْجَنَّةَ تَشْتَاقُ إِلَى ثَلَاثَةٍ) -এর মমার্থ হলো যে, তারা অবশ্যই জান্নাতী। এখানে এতে জোরদার করে বলা হয়েছে। কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, জান্নাতের অধিবাসীরা তিনটি জিনিসের প্রতি খুব আগ্রহী হবে। [এক] (حوارى) (সঙ্গী-সাথি), [দুই] চাকর, [তিন] মালাক (ফেরেশতা), যেমনটি (اللمعات) -এ বর্ণিত হয়েছে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ তিনজনের প্রতি জান্নাতের আগ্রহের উদাহরণ হলো, সা'দ ইবনু মা'আরিয (রাঃ) এর মৃত্যুতে আল্লাহর ‘আরশ কেঁপে উঠার মতো। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮০৯)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৫-[৪০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’আম্মার (রাঃ) নবী (সা.) -এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তাঁকে অনুমতি দাও। পূত-পবিত্র লোকটি মুবারক হোক। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: اسْتَأْذَنَ عَمَّارٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «ائْذَنُوا لَهُ مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3798 وقال : حسن صحیح) ۔
(حَسَنٌ)
ব্যাখ্যা: (مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ) বলা হয়ে থাকে (مَرْحَبًابه) (তাকে খোশ আমদেদ) অর্থাৎ সে খোলা ময়দান ও অবকাশ পেয়েছে। এর দ্বারা পরোক্ষভাবে প্রফুল্লতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
(طَيِّبِ الْمُطَيَّبِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো (الطاهر) ও (الطهر) অর্থাৎ পবিত্র ও পবিত্রকারী। এখানে পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন বলা হয়- (ظل طليل) (ছায়া ও ছায়াময়) (اللمعات)-তে বলা হয়েছে যে, হয়তো বিষয়টি এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মণি এমনিতে সুরভি ছড়ায়।
আবার তাকে শারী'আত পরিমার্জিত ও সুবাসিত কাজ করলে তা যেন (نور على النور) অর্থাৎ আলোকজ্যোতিতে পরিণত হয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১০)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৬-[৪১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ’আম্মার -কে যখন দুটি কাজের যে কোন একটি করার ইচ্ছাধীন করা হয়েছে, তখন তিনি উভয়ের মধ্যে মজবুতটিকে গ্রহণ করেছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا خُيِّرَ عَمَّارٌ بَيْنَ أمرينِ إِلا اخْتَار أرشدهما» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ضعیف ، رواہ الترمذی (3799) [و ابن ماجہ (148) و الحاکم (3 / 388 ح 5665) و احمد (6 / 113)] * فیہ حبیب بن ابی ثابت مدلس و عنعن و للحدیث شاھد عند احمد (1 / 389 ، 445) و الحاکم (3 / 388 ح 5664) من حدیث سالم بن ابی الجعد عن ابن مسعود رضی اللہ عنہ بہ و سندہ منقطع وقال علی بن المدینی :’’ سالم ابن ابی الجعد : لم یلق ابن مسعود ‘‘ فالحدیث ضعیف من جمیع الطریقین
ব্যাখ্যা: (مَا خُيِّرَ عَمَّارٌ) অর্থাৎ ‘আম্মার-কে বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। কিন্তু তিনি দুটির মধ্যে যোগ্যতর অধিক সঠিক ও হকের কাছাকাছি যা সেটাই গ্রহণ করতেন। কোন কোন সূত্রে (أسرهما) রয়েছে। অধিক কঠিনকে পছন্দ করতে না। কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা তাঁর বিবেচনায়।
অতএব (مَا اخْتِيرَ عَمَّارٌبَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا) এ বর্ণনাটি তার বিপরীত নয়। কারণ এটা অন্যের দৃষ্টিতে। এসব বর্ণনাগুলো একত্রিত করলে যেটা ফুটে উঠে তা হলো এই যে, তিনি যেটার প্রধান্য প্রকাশিত হত তার মধ্যে অধিক সঠিক ও যোগ্য বিষয়টিকে মনোনীত করতেন। এছাড়া দুটোর মধ্যে অধিক সহজটিকে পছন্দ করতেন। কেউ বলেন, এ হাদীসে এ কথার দলীল পাওয়া যায় যে, ‘আলী (রাঃ) তাঁর খিলাফতে সঠিক বুঝের উপর ছিলেন। পক্ষান্তরে মু'আরিয়াহ্ (রাঃ) ইজতিহাদে ভুল করেছিলেন। তিনি সঠিক বুঝের উপর ছিলেন না। কারণ ‘আম্মার (রাঃ) ‘আলী (রাঃ)-এর সম্মতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাই তিনি তাঁর সাথে সিফফীনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১১)
সবসময় সালাফে সালিহীনদের এ নিয়ম জারি ছিল যে, তারা নিজের জন্য সংরক্ষিত বিষয়কে গ্রহণ করতেন এবং অন্যকে এমন পথের দিশা দিতেন যা তার নিকটে অধিক সহজ ও সোজা হয়। এজন্য যে, নবী (সা.) বর্ণনা করেন, তোমাদেরকে সহজ সরল করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। প্রেরণ করা হয়নি কঠিন ও সংকীর্ণতায় ফেলে দেয়ার জন্য। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৭-[৪২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর জানাযাহ্ উঠানো হলো, তখন মুনাফিকরা তিরস্কারের ভঙ্গিতে উক্তি করল, কতই হালকা তার লাশ। তাদের এই মন্তব্য ছিল বানূ কুরায়যার ব্যাপারে তাঁর ফায়সালার কারনে। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এ কথাটা পৌছলে তিনি বললেন, প্রকৃত বিষয় হলো মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার লাশ বহন করছিলেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا حُمِلَتْ جِنَازَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ قَالَ الْمُنَافِقُونَ: مَا أَخَفَّ جِنَازَتَهُ وَذَلِكَ لِحُكْمِهِ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَلَائِكَة كَانَت تحمله» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
صحیح ، رواہ الترمذی (3849 وقال : حسن صحیح) و اصلہ فی صحیح مسلم (2467) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (لَمَّا حُمِلَتْ جِنَازَةُ سَعْدِ) অর্থাৎ যখন মানুষেরা তার জানাযাকে বহন করছিল তখন তাঁকে হালকা পেয়েছিল। (مَاأخَفَّ) এখানে (مَا) আশ্চর্যের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। বানূ কুরায়যাহ্ ‘হালকা’ তাকে তুচ্ছ ও হেয়জ্ঞান করার জন্য বলেছিল। কারণ তিনি তাদের ব্যাপারে ফায়সালা দিয়েছিলেন যে, বানূ কুরায়যাহ্’র যোদ্ধাদের হত্যা করতে হবে ও তাদের সন্তানদের বন্দি করতে হবে। সে কারণে মুনাফিকরা তার ফয়সালাকে যুলমবশত বা শত্রুতাবশত বলে আখ্যা দেয়। অথচ রাসূল (সা.) তার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাদ (রাঃ)-এর জানাযাহ্ হালকা সম্পর্কে মুনাফিকদের মন্তব্য যখন রাসূল (সা.) শুনলেন, তখন তিনি বললেন যে, তার জানাযাকে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বহন করছে, তাই মানুষের নিকটে হালকা হয়েছে।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুনাফিকরা তাদের মন্দ মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে অপমান ও হেয়জ্ঞান করতে চেয়েছে। ফলে রাসূল (সা.) তার জবাবে বলেন যে, তার বড় শান ও মর্যাদার ব্যাপারটি হালকা হওয়ার ঘটনার সাথে যুক্ত। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮৬১)
বানু কুরায়যাহ মদীনার নিকটের ইয়াহুদী ছিল। নবী (সা.)-এর সাথে তাদের সন্ধি ছিল। হিজরী সালের ৫ম বছরে যখন খন্দক যুদ্ধ সংঘটিত হয় তখন বানূ কুরায়যাহ্ রাসূল (সা.) -এর সন্ধি-চুক্তিকে ভঙ্গ করে কাফিরদের সাথে যোগ দেয়। যখন মুশরিকরা মক্কায় ফিরে গেল তখন নবী (সা.) বানূ কুরায়যাহ্-কে পনের দিন ঘেরাও করে রাখলেন। তারা সঙ্কীর্ণতায় পড়ে প্রস্তাব পাঠাল যে, আমরা দুর্গ থেকে নেমে এসে আমাদের সর্দার সা'দ ইবনু মুআয-এর ফায়সালা মেনে নিব। তখন সা'দ (রাঃ) সিদ্ধান্ত দিলেন, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হবে এবং শিশু ও নারীদেরকে দাস-দাসী হিসেবে রাখা হবে। নবী (সা.) বললেন, হে সাদ! তুমি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হুকুম ফায়সালা করেছ। তবে যেসব মুনাফিক ইয়াহূদীদের ভাইস্বরূপ ছিল তারা সা'দ (রাঃ)-এর সমালোচনা করত। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৬)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৮-[৪৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আবূ যার (রাঃ)-এর তুলনায় সত্যবাদী আর কাউকে নীল আকাশ ছায়া দান করেনি এবং ধুলা-ধূসর জমিনও তার পিঠে বহন করেনি। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ أَصْدَقَ مِنْ أبي ذَر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3801 وقال : حسن غریب) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (الْخَضْرَاءُ)-এর দ্বারা উদ্দেশ্য আকাশ। (الْغَبْرَاءُ) থেকে উদ্দেশ্য হলো জমিন। (أَصْدَقَ مِنْ أبي ذَر) -শব্দটি (أَقَلَّتِ) এর (مَفْعُولُ) (কর্ম) এবং উহ্য (أَحَد)-এর সিফাত।
এভাবে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে তার প্রতি তাগিদ ও অধিক সত্যবাদিতার কথায় বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি চূড়ান্ত সত্যবাদিতার আসনে অধিষ্ঠিত। তবে তিনি সাধারণভাবে অন্য সবার চাইতে সত্যবাদী নন। কারণ তাঁর ব্যাপারে এভাবে বলা ঠিক নয় যে, আবূ যার (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর চাইতে অধিক সত্যবাদী। তিনি হলেন, নবী (সা.)-এর পরে উম্মতের মধ্যে অধিক সত্যবাদী ও উত্তম। আর নবী (সা.) ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ) অন্যদের চাইতে সত্যবাদী (যেমনটি সাহাবীগণ বর্ণনা করেন)।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিশ্চয় রাসূল (সা.) এবং সমস্ত নবী (আঃ) গন বিধানগতভাবে পূর্ব বিষয়ের বাহিরে। আর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) স্বীয় অধিক সত্যবাদিতার কারণে সিদ্দীক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। এ ব্যাপারটি এটি বাঁধা দেয় না যে, আর কেউ স্বীয় কথায় সত্যবাদিতার গুণে বিভূষিত হোক।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের মধ্যে বড় পাঠক হলো- আবূ যার (রাঃ) বড় বিচারক হলেন ‘আলী (রাঃ)। আর অবশ্যই (مَفْضُول) (যার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে) এর মধ্যে এমন বস্তু উপস্থিত থাকা দরকার যা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে। অথবা সে এবং সর্বাধিক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ব্যক্তি গুণসমূহের মধ্যে কোন গুণে সমানভাবে শরীক হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৩৯-[৪৪] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আবূ যার -এর তুলনায় সত্যভাষী ও ওয়া’দা পূরণকারী নীল আকাশ কারো উপর ছায়া দান করেনি এবং ধুলাবালির জমিন তার পিঠে বহন করেনি। দুনিয়াবিমুখীতায় তিনি হলেন ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর সদৃশ। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ مِنْ ذِي لَهْجَةٍ أَصْدَقَ وَلَا أَوْفَى مِنْ أَبِي ذَرٍّ شِبْهِ عِيسَى بن مَرْيَم» يَعْنِي فِي الزّهْد. فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كَالْحَاسِدِ: يَا رَسُولَ الله أفتعرف ذَلِك لَهُ؟ قَالَ: «نعم فَاعْرِفُوهُ لَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: حَدِيث حسن غَرِيب
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3802) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (ذِي لَهْجَةٍ) অর্থাৎ- এর অর্থ জিহ্বা। কেউ বলেন, এর অর্থ জিহ্বার কিনারা। অর্থ উচ্চারণে সক্ষম ব্যক্তি।
কেউ বলেন, (اللِّسَانِ) হলো যা বলা হয়। অর্থাৎ যিনি কথা বলতে পারেন।
(أصْدَقَ وَلَا أَوْفَى) অধিক সত্যবাদী, ওয়া'দা ও প্রতিশ্রুতির কথায়।
(شِبْهِ عِيسَى بن مَرْيَم) জের সহকারে (بَدَلٌ) হবে। অর্থাৎ তার সদৃশ। সাদৃশ্য ধারণ করা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, (مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى تواضع عيسى بن مَرْيَمَ فَلْيَنْظُرْ إِنِى ذَرٍّ) “ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) এর নম্বতা দেখে যে খুশি হতে চায়, সে যেন আবূ যার (রাঃ) -এর দিকে লক্ষ্য করে- (ইবনু আবী শায়রাহ ৬/৩৮৮: সহীহ হাদীস), (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১৪)।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তুলনা হলো নম্রতা, বিনয়ীতার দিক থেকে। বর্ণনাকারীর কথা (يَعْنِي فِي الزّهْد) থেকে এ দিক ফুটে উঠে যে, তিনি হাদীসটি উপলব্ধি করতে পারেননি। অথচ (مُتَوَاصِع) (নম্রতা) ও (زَاهِدًا) (দুনিয়াবিমুখ) এর মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। বরং (زُهْدُ) তথা সংসার ত্যাগী চেতনার জন্য বিনয় নম্রতা ওয়াজিব। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪০-[৪৫] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় কাছাকাছি হয়ে আসলো, তখন তিনি (উপস্থিত লোকেদের উদ্দেশে) বললেন, এ চারজনের কাছ হতে (কুরআন, সুন্নাহ অথবা হালাল হারাম সম্পৰ্কীয়) ইলম অর্জন কর। তারা হলেন, ’উওয়াইমির- যার কুনিয়াত আবূ দারদা, সালমান ফারিসী, ইবনু মাস্’উদ ও ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম। এই ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম প্রথমে ছিলেন ইয়াহূদী, পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তিনি জান্নাতে দশজনের দশম লোক। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ قَالَ: الْتَمِسُوا الْعِلْمَ عِنْدَ أَرْبَعَةٍ: عِنْدَ عُوَيْمِرٍ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَعِنْدَ سَلْمَانَ وَعِنْدَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَعِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ الَّذِي كَانَ يَهُودِيّا فَأسلم فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ عَاشِرُ عَشَرَةٍ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3804 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (الْتَمِسُوا الْعِلْمَ) অর্থাৎ- “ইলম সন্ধান কর। ‘ইলম থেকে উদ্দেশ্য কিতাব ও সুন্নাহর ‘ইলম। অথবা হালাল-হারামের জ্ঞান এটাই বেশি সঠিক যেমনটি নবী (সা.) -এর বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়।
(عند اربعة رهط) ছোট দল, (الرهط) বলা হয় দশের কম সংখ্যক পুরুষের দলকে। তাতে কোন মহিলা থাকে না।
(الَّذِي كَانَ يَهُودِيّا فَأسلم) এটা পার্থক্যকরণের গুণস্বরূপ। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা ‘আবদুল্লাহর (صِفَةٌ مُمَيِّزَةٌ) তথা বিশেষ গুণসূচক নয়। এটা এজন্য যে, যাতে তার নামের সাথে অন্য কারো নাম মিশে না যায়। তবে জ্ঞান অনুসন্ধানের উপদেশে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। কারণ তিনি দুই কিতাব তথা কুরআন ও তাওরাতের উভয়ের উপর ঈমান এনেছেন ও ‘আমল করেছেন।
(عَاشِرُ عَشَرَةٍ فِي الْجَنَّةِ) অর্থাৎ- আশারায়ে মুবাশশিরার ন্যায়। যেমন আবূ ইউসুফ ও আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) আশারায়ে মুবাশশিরার মধ্যকার নন। যেমনটি মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা আবার ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এরও মত।
সাইয়্যিদ জামালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, পরে নয়টি সাহাবী (রাঃ) এর দল জান্নাতে প্রবেশ করে।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে এ বিষয়টি ধরা যায় যে, তিনি কোন কোন আশারায়ে মুবাশশারার অগ্রগামী। এ সম্ভাবনার বাইরে নয় যে, হয়তো তিনি আশারায়ে মুবাশশারাহ্ ছাড়া যারা ইসলাম কবুল করেছে অথবা ইয়াহূদীদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে দশম। এভাবে আশারায় মুবাশশারার পরে উনিশজন সাহাবী জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হন। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮১৬, মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪১-[৪৬] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ি কিরামগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি (আপনার জীবদ্দশায় কাউকে) একজন খলীফাহ্ নিযুক্ত করতেন। তিনি (সা.) বললেন, আমি যদি কাউকে তোমাদের ওপর খলীফাহ্ নিযুক্ত করি আর তোমরা তার বিরুদ্ধাচরণ কর, তাহলে তোমরা শাস্তি ভোগ করবে। হুযায়ফাহ্ তোমাদেরকে যা বলে, তা সত্য মনে করো এবং আবদুল্লাহ (ইবনু মাউদ) যা কিছু তোমাদেরকে পড়ায় তোমরা তা পড়। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اسْتَخْلَفْتَ؟ قَالَ: «إِنِ اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْكُمْ فَعَصَيْتُمُوهُ عُذِّبْتُمْ وَلَكِنْ مَا حَدَّثَكُمْ حُذَيْفَةُ فَصَدِّقُوهُ وَمَا أقرأكم عبد الله فاقرؤوه» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3812 وقال : حسن) * فیہ ابو الیقظان عثمان بن عمیر : ضعیف و شریک القاضی مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لَوِ اسْتَخْلَفْتَ) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (لَوِ) হরফটি আকাঙ্ক্ষা অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ (ليتنا) (যদি আমাদের জন্য হত)। অথবা (امْتِنَاعِيَّة) বিরত থাকা অর্থে ব্যবহৃত। যেন নবী (সা.) বলেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী হলো, তোমরা আমার নিকট খলীফাহ্ নির্বাচনের আবেদন করো না। কারণ তা তোমাদের সম্মতি ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে হবে। এর জবাব উহ্য রয়েছে। যথা- (لَكَانَ خَيْرًا)
(عُذِّبْتُمْ) التَّعْذِيبِ মাসদার থেকে মাজহূলের সীগাহ। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (عُذِّبْتُمْ) হচ্ছে শর্তের জবাব। তখন জবাব হবে (فَعَصَيْتُمُوهُ)। তবে প্রথম নীতি ঠিক হবে যেমনটি দ্বিতীয়টি দাবী করে। আর তা হলো খলীফাহ্ নির্বাচন করাটা গুনাহের কারণ হবে। এর অর্থ হলো, খলীফাহ্ নির্বাচনের পরে গুনাহ হয়ে গেলে সেটা শাস্তির কারণ হবে। (وَلَكِنْ مَا حَدَّثَكُمْ حُذَيْفَةُ فَصَدِّقُوهُ وَمَا أقرأكم عبد الله فاقرؤوه) অর্থাৎ, জ্ঞানগর্ভ নীতি। কারণ তিনি জবাব দানে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। যেন এ কথা বলা যে, আমার খলীফাহ্ নির্বাচনের বিষয়টি তোমাদেরকে চিন্তায় না ফেলে। অতএব এটা ছাড়ো। তবে তোমাদেরকে যেন কিতাব ও সুন্নাতের প্রতি আমল চিন্তিত করে। অতএব এ দুটোকে মজবুতভাবে ধারণ কর। আর বিশেষভাবে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) উল্লেখ করেছেন, কারণ তিনি রাসূল (সা.) -এর সহস্যবিদ এবং দুনিয়াবী ফিতনাহ্ থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী। আবদুল্লাহ ইবনু মা'উদ (রাঃ) হলেন পরকালের অবস্থা সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শনকারী।
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অধিক স্পষ্ট ব্যাপার হলো, এটা পূর্বের অর্থের সংশোধনী। যার অর্থ এ রকম (مَا أَسْتَخْلِفُ عَلَيْكُمْ أَحَدًا وَلَكِنْ إِلَخْ)। এখানে উক্ত দু’জন সাহাবীকে বিশেষভাবে উল্লেখের কারণ হলো তাঁরা দু’জন আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফতের সাক্ষী। এতে খিলাফতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, ইবাদাতের প্রতি নয়। যাতে করে শাস্তি ওয়াজিবকারী গুনাহ দ্বিতীয়টির সাথে সাব্যস্ত না হয়। যা প্রথমটির বিপরীত। কারণ সেটা ইজতিহাদের অবকাশ বাকী রাখে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮২৪, মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪২-[৪৭] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই কোন ফিতনাহ্ মানুষের মাঝে দেখা দেয়, তখন আমি সকলের ব্যাপারে ভয় করি যে, সে তাতে লিপ্ত হতে পারে, একমাত্র মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ্ ছাড়া। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, (হে মাসলামাহ্!) ফিতনাহ তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: مَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ تُدْرِكُهُ الْفِتْنَةُ إِلَّا أَنَا أَخَافُهَا عَلَيْهِ إِلَّا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْلَمَةَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تَضُرُّكَ الْفِتْنَةُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
سندہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4663) * ھشام بن حسان مدلس و عنعن ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (تُدْرِكُهُ الْفِتْنَةُ) অর্থাৎ দুনিয়াবী মুসীবাত। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ্ বলতে মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ আল আনসারী খাযরাজী ছিলেন। তাবুক ছাড়া অন্যান্য সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কেউ কেউ বলেন, তাবুক যুদ্ধের বছর নবী (সা.) তাকে খলীফাহ্ বানিয়েছিলেন। তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের অন্যতম ছিলেন। মদীনায় বিখ্যাত সাহাবী মু'আব ইবনু উমায়র -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূল (সা.) - এর নির্দেশ থাকার কারণে ফিতনার সময় তিনি নির্জনতাকে পছন্দ করতেন এবং ফিতনার অনিষ্টতা ও ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৭৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৩-[৪৮] ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) (অসময়ে) যুবায়র (রাঃ)-এর গৃহে বাতি জ্বলতে দেখলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, হে ’আয়িশাহ্! আমার মনে হয়, আসমা প্রসব করেছে। অতএব আমি তার নাম না রাখা অবধি তোমরা তার নাম রাখবে না। অতঃপর তিনি তার নাম রাখলেন ’আবদুল্লাহ এবং একটি খুরমা চিবিয়ে নিজ হাতে তার মুখের তালুতে লাগিয়ে দিলেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَيْتِ الزُّبَيْرِ مِصْبَاحًا فَقَالَ: «يَا عَائِشَة ماأرى أَسْمَاءَ إِلَّا قَدْ نُفِسَتْ وَلَا تُسَمُّوهُ حَتَّى أُسَمِّيَهُ» فَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ وَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ بِيَدِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3826 وقال : حسن غریب) * فیہ عبداللہ بن مؤمل : ضعیف ، و حدیث مسلم (2146) ھو المحفوظ
ব্যাখ্যা: (رَأَى فِي بَيْتِ الزُّبَيْرِ) অর্থাৎ যুবায়র ইবনু আওয়াম (রাঃ)। আসমা’ (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর বোন এবং যুবায়র (রাঃ)-এর স্ত্রী। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮৩৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৪-[৪৯] ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ ’আমীরাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। [নবী (সা.)] মু’আবিয়াহ্ -এর জন্য এভাবে দু’আ করেছেন- ’হে আল্লাহ! তুমি তাকে সঠিক পথপ্রদর্শনকারী, সত্য পথের অনুসারী কর এবং তার কর্তৃক মানুষদেরকে হিদায়াত কর।’ (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمِيرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِمُعَاوِيَةَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا وَاهْدِ بِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3842 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যাঃ (عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِمُعَاوِيَةَ) এখানে সাধারণভাবে স্পষ্ট মনে উদয় হয় যে, তিনি হলেন মু'আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুফইয়ান। এছাড়া মু'আবিয়াহ্ ইবনুল হাকাম, মু'আবিয়াহ্ ইবনু জাহিমাহ্ ও অন্যতম সাহাবী (রাঃ) ছিলেন। যেমনটি সম্মানিত লেখক তার রিজালশাস্ত্রে উল্লেখ করেন।
(اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا) অর্থাৎ মানুষের পথপ্রদর্শক অথবা কল্যাণের পথনির্দেশক।
(وَاهْدِ بِهِ) অর্থাৎ মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর মাধ্যমে মানুষকে হিদায়াত দান করুন। এতে (الْهِدَايَةِ) শব্দটি যে (مُتَعَدَّي) সে অর্থের তাগিদ রয়েছে। জেনে রাখ! (الْهِدَايَةِ) শব্দটি শুধু পথপ্রদর্শন অর্থে অথবা এমন নির্দেশনা অর্থে ব্যবহার হয় যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছিয়ে দেয়।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, (فَهَدَيْنَاهُمْ) অর্থ –( دَلَلْنَاهُمْ عَلَى الْخَيْرِ وَالشَّرِّ) অর্থাৎ কল্যাণ এবং অকল্যাণের পথ দেখালাম। যেমন- আল্লাহ তা'আলার বাণী: (وَ هَدَیۡنٰهُ النَّجۡدَیۡنِ) “আর আমি তাকে (পাপ ও পুণ্যের) দুটো পথ দেখিয়েছি”- (সূরা আল বালাদ ৯০: ১০)।
আর (الْهَدْي) (পথপ্রদর্শন) অর্থে ব্যবহার হয় তা (إِرْشَادِ) (সৌভাগ্যবান করা) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। সে অর্থে মহান আল্লাহর বাণী: (اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ هَدَی اللّٰهُ فَبِهُدٰىهُمُ اقۡتَدِهۡ) “ওরা হলো তারা যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছিলেন, তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর...”- (সূরাহ্ আল আ'আম ৬: ৯০)।
আরো কেউ বলেন, (الْهِدَايَةِ) শব্দের আভিধানিক অর্থ (الدَّلَالَةُ) (পথ প্রদর্শন)। যখন কাউকে পথ দেখানো হয় তখন বলা হয় (هَدَاهُ فِي الدِّينِ يَهْدِ يهِ هِدَايَةً) الْإرْشَادِ এর আসল অর্থে ব্যবহারের জন্য (الْهَدْي) -কে উল্লেখ করা হয়। সে কারণ হ্যাঁ-বোধক ও না-বোধক উভয় জায়িয। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (اِنَّکَ لَا تَهۡدِیۡ مَنۡ اَحۡبَبۡتَ) “তুমি যাকে ভালোবাস তাকে সৎপথ দেখাতে পারবে না...”- (সূরাহ আল কাসাস ২৮: ৫৬)।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, (وَ اِنَّکَ لَتَهۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ)“...তুমি নিশ্চিতই (মানুষদেরকে) সঠিক পথের দিকে নির্দেশ করছ”- (সূরা আশ শূরা- ৪২: ৫২)।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যদি রাসূল (সা.) -এর বাণী: (هَادِيًا)-কে প্রথম অর্থে ধরা হয়, তাহলে (مَهْدِيَّا) তার পূর্ণাঙ্গতা হিসেবে ধরতে হবে। কারণ তিনি পথপ্রদর্শক হতে পারেন, কিন্তু সুপথপ্রাপ্ত করতে পারেন না। আর (وَاهْدِ بِهِ)-কে তার পূর্ণতা হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু যার পথপ্রদর্শনে সফলতা পাওয়া যায় তাকে প্রত্যেকে অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গতাকে সুসম্পন্ন করে। তবে যখন দ্বিতীয় অর্থে ধরা হয়, তখন (مَهْدِيَّا) -কে তাগিদ হিসেবে ধরা হবে। আর (اهْدِبِهِ) হবে তার পরিপূর্ণতাস্বরূপ, অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গতায় পরিপূর্ণ। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রাসূল (সা.) -এর দু'আ কবুলযোগ্য। অবস্থা যখন এই তখন তার ব্যাপারে কিভাবে সন্দেহ পোষণ করা যায়? আর যে ব্যক্তি (الْهِدَايَةِ) -এর আরো অর্থ বের করতে চাইবে তার জন্য অদৃশ্য খুলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেখানে তার জন্য যথেষ্ট কিছু রয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৫-[৫০] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। অপরদিকে ’আমর ইবনুল আস ঈমান এনেছে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব উপরন্তু তার সনদটিও সুদৃঢ় নয়]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْلَمَ النَّاسُ وآمن عَمْرو بنُ الْعَاصِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وقا ل: هَذَا حَدِيث غَرِيب وَلَيْسَ إِسْنَاده بِالْقَوِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3844) و للحدیث شاھد ۔
(حسن لشاهده)
ব্যাখ্যা: (أَسْلَمَ النَّاسُ) এতে মক্কাবাসীদের নিকট থেকে মুসলিমদের বিজয়ের সময় ও প্রথাগত রীতির পরিচয় ফুটে উঠেছে। আর ইবনুল আস (রাঃ)- মক্কা বিজয়ের এক বছর অথবা দুই বছর পূর্বে স্বেচ্ছায় মদীনায় হিজরত করে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাণী দ্বারা এ কথা জানাতে চেয়েছেন যে, মক্কাবাসীরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য হয়ে ভয়ে ইসলাম কবুল করেছে। আর ‘আমর (রাঃ) আগ্রহ নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্যরা বলেন, এর কারণ ইসলামে এ সম্ভাবনা আছে যে, তাকে অপছন্দবশত উত্তপ্ত করে তুলবে। তবে ঈমানের ব্যাপারটা স্বেচ্ছায় ও উৎসাহ ছাড়া হতে পারে না। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আগ্রহের সাথে ঈমান গ্রহণকে ‘আমর (রাঃ)-এর সাথে বিশেষভাবে বলার কারণ হলো যখন নাজাশী হাবাশায় নবী (সা.)-এর নুবুওয়্যাতকে স্বীকার করেছিলেন তখন ঈমান ‘আমর (রাঃ)-এর হৃদয়ে জায়গা গ্রহণ করে। অতঃপর কারো ডাক ছাড়াই তিনি বিশ্বাস করে রসূলের উদ্দেশে গমন করেন। আর তৎক্ষণাৎ মদীনায় তাড়াতাড়ি পৌছে ঈমান আনেন। রাসূল (সা.) তাঁকে একদল সাহাবীর আমীর নিযুক্ত করেন। এসব সাহাবীদের মধ্যে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) ও উমার ফারূক (রাঃ) অন্যতম।
এটা এজন্য করেছিলেন যে, ‘আমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নবীর প্রতি শত্রুতা পোষণ ও সাহাবীদের বিনাশ সাধনে চরমে পৌছে ছিলেন। যখন তিনি ঈমান আনলেন তখন নবী (সা.) তাঁর অন্তর থেকে পূর্ববর্তী বশ্যতা দূর করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। যাতে সে এসব দিক থেকে নিরাপদ থাকে এবং আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ না হয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮৫৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৬-[৫১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি (সা.) বললেন, হে জাবির! কি ব্যাপার? তোমাকে আমি চিন্তাযুক্ত দেখছি? আমি বললাম, আমার পিতা শহীদ হয়েছেন এবং রেখে গেছেন পরিবার-পরিজন ও ঋণ। তখন তিনি (সা.) বললেন, আমি কি তোমাকে এ সুসংবাদ দেব না যে, আল্লাহ তা’আলা তোমার পিতার সাথে কি আচরণ করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ অবধি যার সাথেই কথাবার্তা বলেছেন, তা পর্দার আড়াল হতে বলেছেন, কিন্তু তিনি তোমার পিতাকে জীবিত করেছেন এবং আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, হে আমার বান্দা! তোমার মনে যা ইচ্ছা আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে তা প্রদান করব। তোমার পিতা বললেন, হে প্রভু! আমাকে জীবিত করে দিন, যাতে আমি দ্বিতীয়বার আপনার পথে শহীদ হই। আল্লাহ তাবারাক ওয়া তা’আলা বললেন, আমার এ বিধান পূর্বেই সাব্যস্ত রয়েছে যে, একবার মৃত্যুর পর কোন লোক আবার দুনিয়াতে ফিরে আসবে না। অতঃপর কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- “যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তোমরা তাঁদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত।” (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا جَابِرُ مَا لي أَرَاك منكسراً» قلت يَا رَسُول الله اسْتشْهد أبي قتل يَوْم أحد وَتَرَكَ عِيَالًا وَدَيْنًا قَالَ أَفَلَا أُبَشِّرُكَ بِمَا لَقِي الله بِهِ أَبَاك قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا قَطُّ إِلَّا مِنْ وَرَاءِ حجاب وَأَحْيَا أَبَاك فَكَلمهُ كفاحا فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَيَّ أُعْطِكَ قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلُ فِيكَ ثَانِيَةً قَالَ الرَّبُّ عز وَجل إِنَّه قد سبق مني أَنهم إِلَيْهَا لَا يرجعُونَ قَالَ وأنزلت هَذِهِ الْآيَةِ [وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا] الْآيَة. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3010) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (كفاحا) ‘কাফ বর্ণে যেরসহ। অর্থাৎ সামনাসামনি, উভয়ের মাঝে কোন পর্দা বা কোন দূত ছাড়াই। (تَمَنَّ عَلَيَّ أُعْطِكَ) বাহ্যিক দিক থেকে (مفعول) (কর্ম) টি (عام) হরফ করাতে বা প্রসঙ্গ উহ্য করা। অতএব এখানে এ জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে যে, প্রতিশ্রুতির ব্যাপকতা জীবিতকরণকে শামিল করে। আর তিনি তো ওয়াদার ব্যতিক্রম করেন না। তাই তাকে যে জীবিত করবেন না- এটা কিভাবে হতে পারে? এ জটিলতার সমাধান এভাবে সম্ভব যে, স্বাভাবিক প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা ব্যাপকতার বাইরের বিষয়। কারণ স্বভাবত রীতিই হলো বৈশিষ্ট্যতার একটি পদ্ধতি। যেমনটি নীতি নির্ধারকগণ বলে থাকেন।
(تُحْيِينِي) এর মাধ্যমে চূড়ান্ত আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রসঙ্গ দাবী করে এখানে (احينى) হোক। অর্থাৎ পৃথিবীতে আবার আমাকে জীবিত করুন। পক্ষান্তরে শহীদরা তো জীবিতদের মতো কথা বলে। তাহলে কিভাবে তারা পুনঃজীবিত হতে চাইবে? এটা তো পুনরুক্তি মাত্র। (হাশিয়ায়ে সিনদী, ইবনু মাজাহ, “জামিউল কুতুবুত তিস্'আহ্” এ্যাপ, হা. ১৯০)
(لايرجعون) তারা দুনিয়ায় এভাবে পুনরায় প্রত্যাবর্তিত হবে না যে, সেখানে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে ও আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগী উত্তমরূপে সম্পাদন করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৭-[৫২] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার জন্য পঁচিশবার ক্ষমা প্রার্থনার দু’আ করেছেন। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعنهُ قا ل: اسْتَغْفَرَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خمْسا وَعشْرين مرّة. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3852 وقال : حسن غریب صحیح) * فیہ ابو الزبیر مدلس و عنعن و اخرج مسلم (ح 715 بعد ح 1599) من حدیث ابی الزبیر بغیر ھذا اللفظ وھو الصحیح المحفوظ ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (اسْتَغْفَرَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خمْسا وَعشْرين مرّة) সম্ভবত এ ক্ষমা প্রার্থনা এক মাজলিসে অথবা একাধিক মাজলিসে হতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কোন এক সফরে রাসূল (সা.) -এর সাথে ছিলেন। এক রাতে রাসূল (সা.) তাকে বললেন, তোমার পানি বহনকারী উটটি বিক্রি করো। উটটি পানি বহনের কাজে যুক্ত থাকায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অতঃপর রাসূল (সা.) তার গায়ে আঘাত করলে তা অভূতপূর্ব দ্রুতগামী হয়ে গেল। রাসূল (সা.) তার কাছে উটটি কিনতে চাইলে, তিনি রসূলের নিকট এ শর্তে বিক্রি করলেন যে, তাকে মদীনায় পৌছে দিতে হবে। আবূন নাযর (রাঃ)-এর সূত্রে ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেন: তুমি কি তোমার পানি বহনকারী উটটি বিক্রি করবে? আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন। মুসনাদে আহমাদ-এর বর্ণনায় সুলায়মান বলেন, আমি জানি না যে, তিনি (সা.) তাকে কতবার (والله يغفرلك) বলেছিলেন।
নাসায়ী’র বর্ণনায় রয়েছে, জাবির (রাঃ) বলেন, উট বিক্রির রাত্রিতে রাসূল (সা.) আমার জন্য পঁচিশবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জাবির (রাঃ)-এর উপনাম আবূ আবদুল্লাহ। তিনি সালিম গোত্রের আনসারী ব্যক্তি ছিলেন। তাকে অধিক হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে গণ্য করা হয়। বদর যুদ্ধসহ পরবর্তী সকল যুদ্ধে রসূলের সাথে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তাঁর যুদ্ধ সংখ্যা ১৮টি, তাঁর পিতা বদরযুদ্ধে নিহত হন এবং একাধিক মেয়ে রেখে যান, যাদের দেখা-শোনা ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তিনি নিজে বহন করতেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার প্রতি সদয় হন ও অনুগ্রহ করেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ৩৮৬৪, মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩২৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৮-[৫৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অনেক লোক এমনও আছে, যার মাথার কেশ এলোমেলো, ধুলাবালি জড়িত, দু’খানা পুরাতন কাপড় পরিহিত, যার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় না, যদি সে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কোন বিষয়ে শপথ করে, আল্লাহ তা’আলা তার শপথ পূরণ করেন। এ সকল লোকের মধ্য হতে বারা ইবনু মালিক হলেন অন্যতম। (তিরমিযী ও বায়হাক্বীর “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্")
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَمْ مِنْ أَشْعَثَ أَغْبَرَ ذِي طِمْرَيْنِ لَا يَؤُبَّهُ لَهُ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ مِنْهُمُ الْبَرَاءُ بْنُ مَالِكٍ» رواء التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3854 وقال : حسن غریب) و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 368) [و صححہ الحاکم (3 / 292) و وافقہ الذھبی)] ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (لَوْ أَقْسَمَ) অর্থাৎ কসম করে যে, আল্লাহ এটা করব। তখন আল্লাহ তাকে কসমে সত্যবাদী করে দেন। আর তার কাজ করার ব্যবস্থা করেন। অথবা সে নিজের কোন কাজে কসম করে বলে যে, এরূপ কিছু করবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তার কাজের উপরে প্রস্তুত করে দেন এবং তাকে সে কাজ সম্পাদন করার তাওফীক দান করেন। আমাদের সরদার বারা ইবনু মালিক উভয়ে এক মাতা ও পিতার সন্তান ছিলেন। ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবীদের অন্যতম। উহুদের যুদ্ধে বীরত্বের সাথে মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হন। উহুদ যুদ্ধের পর সমস্ত যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সাহসী ছিলেন। মুশরিকদের সাথে মোকাবিলা করার সময় তারা একযোগে তাকে মারলে তিনি অন্য কারো সাথে শরীক হওয়া ছাড়াই তাদের মারের সঠিক জবাব দেন। ইয়ামামার যুদ্ধে তার তুমুল যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠে। তিনি শাহাদাত বরণ করেন হিজরী বিশ সালে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮০)
কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি কঠিন সাহসীদের অন্যতম ছিলেন। কারো সাথে যুক্ত না হয়েও একশত দ্বন্দ্ব যোদ্ধাকে হত্যা করেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৪৯-[৫৪] আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সাবধান! আমার বিশেষ আস্থাভাজন, যাঁদের ওপর আমি নির্ভর করে থাকি, তাঁরা হলেন আমার আহলে বায়ত। আর আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হলেন আনসারগণ। অতএব তাঁদের অন্যায়কে তোমরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে এবং তাঁদের ভালো কাজকে সাদরে গ্রহণ করবে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا إِنَّ عَيْبَتِيَ الَّتِي آوِي إِلَيْهَا أَهْلُ بَيْتِي وَإِنَّ كَرِشِيَ الأنصارُ فاعفوا عَن مسيئهم واقبلوا من مُحْسِنِهِمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3904) * فیہ عطیۃ العوفی : ضعیف مشھور مع التدلیس القبیح ۔
(ضَعِيف)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫০-[৫৫] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: আল্লাহ এবং পরকালে উপর যে লোক বিশ্বাস রাখে, সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ أَحَدٌ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
صحیح ، رواہ الترمذی (3906)
ব্যাখ্যা: (لَا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ) অর্থাৎ আনসারদের সকলকে অথবা আল্লাহর প্রতি ও বিচার দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নকারী আনসার শ্রেণির ব্যক্তিদের। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৯১৭)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬৫-[৭০] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ভাতা পাঁচ হাজার দিরহাম (বায়তুল মাল হতে) নির্ধারণ ছিল। উমার (রাঃ) বলেন, আমি অবশ্যই তাঁদেরকে পরবর্তী সকলের ওপর মর্যাদা দেব। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن قيس بن حَازِم قَالَ: كَانَ عَطَاءُ الْبَدْرِيِّينَ خَمْسَةُ آلَافٍ. وَقَالَ عُمَرُ: لَأُفَضِّلَنَّهُمْ على مَنْ بَعدَهم. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (4022) * تسمیۃ من سمی من اھل البدر ، فی صحیح البخاری (کتاب المغازی باب : 13 بعد ح 4027) ۔ بخاری ، کتاب المغازی ، باب تسمیۃ من سمی من اھل بدر ۔
(صَحِيح)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫১-[৫৬] আনাস (রাঃ) ও আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়কে আমার সালাম পৌছিয়ে দাও। কেননা আমার জানা মতে তারা সচ্চরিত্র ও ধৈর্যধারণকারী। (তিরমিযী)
সহীহ তবে (أَقْرِأقَوْمَكَ السَّلَامَ) অংশটুকু ছাড়া
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن أنس وَأبي طَلْحَةَ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَقْرِئْ قَوْمَكَ السَّلَامَ فَإِنَّهُمْ مَا علمت أَعِفَّةٌ صُبُرٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3903 وقال : حسن صحیح) * فیہ محمد بن ثابت البنانی : ضعیف ، و تابعہ الضعیف : الحسن بن ابی جعفر
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫২-[৫৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন হাত্বিব (ইবনু আবূ বালতা’আহ্)-এর একটি দাস নবী (সা.) -এর কাছে এসে হাত্বিব-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হাতিব তো নিশ্চয় জাহান্নামে যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ। সে জাহান্নামে যাবে না। কেননা সে বদর ও হুদায়বিয়ায় শরীক ছিল। (মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ عَبْدًا لِحَاطِبٍ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَشْكُو حَاطِبًا إِلَيْهِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيَدْخُلَنَّ حَاطِبٌ النَّار فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كذبت لَا يدخلهَا فَإِنَّهُ شهد بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَة» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (162 / 2195)، (6403) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (كذبت) অর্থাৎ- “নিশ্চয় হাত্বিব জাহান্নামে প্রবেশ করবে তোমার এ কথা মিথ্যা। (الكذب) বলা হয়, ইচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে হোক কোন কিছুকে বাস্তবতার বিপরীতভাবে সংবাদ দেয়া। চাই সে সংবাদদান অতীতকাল বা ভবিষ্যকাল সম্পর্কে হোক।
মু'তাযিলা সম্প্রদায় (الكذب) -কে শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃতের সাথে নির্দিষ্ট করে। তবে এ হাদীস তাদের মতকে রদ করে। কোন ভাষাবিদ বলেন, অতীতকালের কোন জিনিসকে আসলের বিপরীত করে প্রকাশ করাকে বলে। অথচ এ হাদীস তাদের মতকে খণ্ডন করে। এ হাদীস বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মর্যাদা ফুটে উঠেছে। আর হাতিব-এর মর্যাদা বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো তিনিও তাদের অন্যতম। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী হা. ৩৮৬৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৩-[৫৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন- “আর যদি তোমরা (ঈমান আনা হতে) পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর, তাহলে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না।’ সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কে? যাদের কথা আলোচনা করে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, ’যদি আমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করি, তাহলে তিনি এমন সম্প্রদায়কে আমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, যারা আমাদের মতো হবে না। তখন তিনি সালমান আল ফারিসী (রাঃ)-এর উরুতে হাত মেরে বললেন, ইনি এবং তাঁর সম্প্রদায়। যদি এ দীন ধ্রুবতারার (দূরত্ব) স্থানেও থাকে, তবুও পারস্যের কতিপয় লোক তাকে সেখান হতে অর্জন করবে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: [وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أمثالكم] قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ ذَكَرَ اللَّهُ إِنْ تَوَلَّيْنَا اسْتُبْدِلُوا بِنَا ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَنَا؟ فَضَرَبَ عَلَى فَخِذِ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ ثُمَّ قَالَ: «هَذَا وَقَوْمُهُ وَلَوْ كَانَ الدِّينُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَتَنَاوَلَهُ رِجَالٌ مِنَ الْفُرْسِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3260) * شیخ من اھل المدینۃ مجھول
ব্যাখ্যা: (وَإِنْ تَتَوَلَّوْا) অর্থাৎ নবী (সা.) মুহাম্মাদ -এর প্রতি ঈমান আনা ও তাঁর ধর্মকে সাহায্য করা থেকে যদি তোমরা বিমুখ হও এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো। (قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أمثالكم) বরং তারা তোমাদের চাইতে উত্তম হবে। (يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ ذَكَرَ اللَّهُ إِنْ تَوَلَّيْنَا اسْتُبْدِلُوا بِنَا ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَنَا؟) এ হাদীসে ইবনুল মালিক-এর মত খণ্ডন রয়েছে। যেমন তিনি বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরায়শী নেতবৃন্দ।
ثُمَّ قَالَ: «هَذَا وَقَوْمُهُ وَلَوْ كَانَ الدِّينُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَتَنَاوَلَهُ رِجَالٌ مِنَ الْفُرْسِ» অর্থাৎ সাধারণত অনারবের একটি দল। অথবা যাদের ভাষা ফার্সী অথবা যাদের দেশ হলো ফারেস বা পারস্য। এটা একটি অঞ্চল। এর মধ্যে (شيراز) অন্যতম। তবে পরবর্তী হাদীস থেকে যা বুঝা যায় সে দিক থেকে প্রথম মতটি বেশি স্পষ্ট। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
সুরাইয়া ও পারভীন এমন ধরনের তারকাকে বলা হয় যা খুব ভালোভাবে মিলিত হয়ে থাকে। যেমন (كُلْدَسْتَهُ) (কুলদাসতাহ) যা বলেন, যদি ঈমান এমন দূরে থাকে যেখানে দৃষ্টি পৌছে না তবুও পারস্যবাসীদের সূক্ষ্মদৃষ্টি ও ঈমানের প্রস্তুতি সম্পর্কে বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে। কাজেই প্রকৃতপক্ষে পারস্য রাজ্যে বড় বড় কামিল স্পষ্ট ও আধ্যাত্মিক ‘আলিম সৃষ্টি হয়েছে। যেমন কুতুবুস সিত্তার মুসান্নিফগণ (রহিমাহুমাল্লাহ)। (মিশকাতুল মাসাবীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৪-[৫৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আযমী (অনারব) লোকেদের আলোচনা উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমাদের, অথবা বললেন, তোমাদের কিছু সংখ্যক অপেক্ষা সেই আযমীগণ অথবা বললেন, তাদের কতিপয় লোক আমার কাছে অধিক নির্ভরযোগ্য। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: ذُكِرَتِ الْأَعَاجِمُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَأَنَا بِهِمْ أَوْ بِبَعْضِهِمْ أَوْثَقُ مِنِّي بِكُمْ أَوْ بِبَعْضِكُمْ رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3932 وقال : غریب) * صالح بن ابی صالح مھران ضعیف (انظر تقریب التھذیب : 2867) و سفیان بن وکیع خعیف ایضًا ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لَأَنَا بِهِمْ أَوْ بِبَعْضِهِمْ) এটা রাবীর সন্দেহের কারণে। (بِهِمْ) দ্বারা তাদের সবাই উদ্দেশ্য হওয়া বেশি স্পষ্ট। অতএব (أَوْ بِبَعْضِهِمْ أَوْثَقُ) তার বিরোধী নয়। অর্থাৎ দীন তলবে তাদের ওপর নির্ভর করা বেশি প্রত্যাশিত। (مِنِّي بِكُمْ أَوْ بِبَعْضِكُمْ) কেউ বলেন, এতে অনারবদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে। আমি বলব, এর ভাবার্থ আল্লাহর বাণী: وَ لَوۡ نَزَّلۡنٰهُ عَلٰی بَعۡضِ الۡاَعۡجَمِیۡنَ ﴿۱۹۸﴾ فَقَرَاَهٗ عَلَیۡهِمۡ مَّا کَانُوۡا بِهٖ مُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۱۹۹﴾ “আমি যদি তা কোন অনারবের প্রতি অবতীর্ণ করতাম; অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাস আনত না”- (সূরা আশ শুআরা ২৬: ১৯৮-১৯৯)।
তিনি আরো বলেন, (وَ لَوۡ جَعَلۡنٰهُ قُرۡاٰنًا اَعۡجَمِیًّا لَّقَالُوۡا لَوۡ لَا فُصِّلَتۡ اٰیٰتُهٗ ؕ ءَؔاَعۡجَمِیٌّ وَّ عَرَبِیٌّ ؕ) “আমি যদি একে অনারব ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত- এর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হলো না কেন? আশ্চর্য ব্যাপার। কিতাব হলো অনারব দেশীয় আর শ্রোতারা হলো ‘আরবীভাষী...”- (সূরাহ্ ফুসসিলাত ৪১: ৪৪)।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (بِكُمْ) অথবা (بَعْدُكُمْ) থেকে উদ্দেশ্য হলো এক বিশেষ দল। যাদের আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য আহ্বান করা হলে তারা না করে বসে পড়ত। এটা তাদের ওপর ভৎসনা ও নিন্দাস্বরূপ যা প্রমাণিত। হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর এ বাণী দ্বারা:
(وَ اِنۡ تَتَوَلَّوۡا یَسۡتَبۡدِلۡ قَوۡمًا غَیۡرَکُمۡ) “...তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবে..."- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭: ৩৮)। কারণ এরপরে তা বর্ণিত হয়েছে, (هٰۤاَنۡتُمۡ هٰۤؤُلَآءِ تُدۡعَوۡنَ لِتُنۡفِقُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ۚ فَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یَّبۡخَلُ) “দেখ, তোমরা তো তারাই, তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য ডাক দেয়া হচ্ছে, তখন তোমাদের কিছু লোকে কৃপণতা করছে...”- (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭: ৩৮)।
অর্থাৎ তোমরা এমন প্রত্যক্ষদর্শী যার অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও আল্লাহর পথে খরচ করা তোমাদের জন্য কল্যাণকর তা জানার পরেও তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা বিরত থাকছ এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছ। যদি তোমাদের এ পৃষ্ঠপ্রদর্শন চলতে থাকে তাহলে আল্লাহ তোমাদের পরিবর্তে এমন জাতির উত্থান ঘটাবেন যারা স্বীয় জান ও মালকে আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। আর তারা তোমাদের মতো চূড়ান্ত বখিলতা দেখাবে না। এটা তাদের জন্য খরচ করার প্রতি উৎসাহ দান ও উপস্থাপনাস্বরূপ। অতএব এতে অগ্রাধিকার প্রদান আবশ্যক হয় না। আমি বলব, যদি সেটা সাধারণভাবে অগ্রাধিকার প্রদানকে আবশ্যক করে তাহলে তা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীত হবে। যেহেতু এ অর্থ শব্দের ব্যপকতার মাধ্যমে ফুটে উঠছে। বিশেষ কোন কারণে নয়। আর যদি এর মর্মার্থ সাধারণভাবে অগ্রাধিকার প্রদানকে আবশ্যক না করে তবুও সঠিক। কারণ তারা কোন কোন গুণে ‘আরবদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
আর এটা নতুন কিছু নয় যে, পাওয়া যাবে (مفضول) (যার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে) এর মধ্যে বেশি মর্যাদা (فاضل) তথা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির তুলনায় অতএব নিঃসন্দেহে অনারব জাতির চাইতে ‘আরব জাতিই অধিক শ্রেষ্ঠ। বস্তুত আলোচনা হলো কোন কোন লোকের ব্যাপারে আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৫-[৬০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক নবীর জন্য সাতজন বিশেষ মর্যাদাবান রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিলেন। আর আমাকে দেয়া হয়েছে চৌদ্দজন। আমরা ’আলী (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, তারা কারা? তিনি বললেন, আমি স্বয়ং আমার পুত্রদ্বয় (হাসান ও হুসায়ন), জা’ফার, হামযাহ্, আবূ বকর, ’উমার, মুস’আব ইবনু উমায়র, বিলাল, সালমান, ’আম্মার, আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ, আবূ যার ও মিকদাদ । (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ سَبْعَةَ نُجَبَاءَ رُقَبَاءَ وَأُعْطِيْتُ أَنَا أَرْبَعَةَ عشرَة قُلْنَا: مَنْ هُمْ؟ قَالَ: أَنَا وَابْنَايَ وَجَعْفَرٌ وَحَمْزَةُ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَمُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَبِلَالٌ وَسَلْمَانُ وَعَمَّارٌ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَأَبُو ذَر والمقداد. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3785) [و صححہ الحاکم (3 / 199) فتعقبہ الذھبی بقولہ :’’ بل کثیر واہ ‘‘] * فیہ کثیر النواء : ضعیف ۔
ব্যাখ্যা: (حَمْزَةُ) হামযাহ্ ইবনু 'আবদুল মুত্ত্বালিব। তাঁর উপনাম আবূ ‘উমারাহ্ তথা রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর চাচা এবং দুধ ভাই।
হাদীসে উল্লেখিত তাদের উভয়কে আবূ লাহাব-এর দাসী সুওয়াইবাহ্ দুধ পান করিয়েছেন। তিনি আসাদুল্লাহ নামে খ্যাত হয়েছেন। নুবুওয়্যাতের দ্বিতীয় বছরে আগের দিনে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁকে ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে মহা সম্মানিত করেছেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ওয়াহশী ইবনু হারব। তিনি রাসূল (সা.) থেকে চার বছরের বড় ছিলেন।
ইবনু ‘আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটা আমার মতে সঠিক নয়, কারণ তিনি রাসূল (সা.) -এর দুধ ভাই। আর সুওয়াইবাহ্ উভয়কে দু' সময়ে দুধ পান করিয়ে থাকতে পারেন। তবে কেউ বলেন, তিনি রাসূল (সা.) -এর চাইতে দুই বছরের বড়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৬-[৬১] খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমার ও ’আম্মার ইবনু ইয়াসির-এর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হলো। এতে আমি তাকে শক্ত কথা বললাম। তখন ’আম্মার গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগে করলেন। এমন সময় খালিদও নবী (সা.) -এর কাছে এসে আম্মারএর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন খালিদ (রাঃ) তাঁকে শক্ত কথা বলতে লাগলেন এবং তাঁর কঠোরতা আরো বাড়তে লাগল। তখন নবী (সা.) চুপ করে ছিলেন। কোন কথা বলছিলেন না। তখন এ অবস্থায় দেখে ’আম্মার কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি খালিদ-এর আচরণ দেখছেন না। এবার নবী (সা.) মস্তক উঠিয়ে বললেন, যে লোক ’আম্মার-এর সাথে শত্রুতা রাখবে, আল্লাহও তার সাথে শত্রুতা রাখবেন এবং যে ব্যক্তি ’আম্মার-এর সাথে বিদ্বেষভাব পোষণ করবে, আল্লাহও তার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন। খালিদ (রাঃ) বলেন, তখনই আমি সেখান হতে বের হয়ে পড়লাম এবং যে কোনভাবে ’আম্মার-কে সন্তুষ্ট করা অপেক্ষা কোন কিছুই আমার কাছে প্রিয়তর ছিল না। অতঃপর আমি এমনভাবে তার সাথে মিলিত হলাম যাতে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। পরিশেষে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ كَلَامٌ فَأَغْلَظْتُ لَهُ فِي الْقَوْلِ فَانْطَلَقَ عَمَّارٌ يَشْكُونِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ خَالِدٌ وَهُوَ يشكوه إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَجَعَلَ يُغْلِظُ لَهُ وَلَا يَزِيدُهُ إِلَّا غِلْظَةً وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاكِتٌ لَا يَتَكَلَّمُ فَبَكَى عَمَّارٌ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَرَاهُ؟ فَرَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَسَهُ وَقَالَ: «مَنْ عَادَى عَمَّارًا عَادَاهُ اللَّهُ وَمَنْ أَبْغَضَ عَمَّارًا أَبْغَضَهُ اللَّهُ» . قَالَ خَالِدٌ: فَخَرَجْتُ فَمَا كَانَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيَّ من رضى عمار فَلَقِيته بِمَا رَضِي فَرضِي
اسنادہ حسن ، رواہ احمد (4 / 89 ح 16938) [و الحاکم (3 / 390 ۔ 391) و صححہ و للسند علۃ ذکرھا الذھبی و لکنھا غیر قادحۃ] ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: মীরাক বলেন, (قَالَ خَالِدٌ: فَخَرَجْتُ) এ বাক্যটি আমাদের সরদার খালিদ (রাঃ)-এর তরফ থেকে হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন এটা (إلتفات) এর ভিত্তিতে। অতঃপর খালিদ-এর কঠোরতা স্বীয় ধৈর্যের কমতি, অধিক রাগ ও নবী (সা.)-এর চুপ থাকার কারণে আম্মার কেঁদে ফেলেন।
(مَنْ عَادَى عَمَّارً) যে ব্যক্তি ‘আম্মার-এর সাথে শত্রুতা করে অর্থাৎ তাঁর কথার সাথে। (وَمَنْ أَبْغَضَ عَمَّارً) যে ব্যক্তি ‘আম্মার-এর সাথে বিদ্বেষ রাখে অর্থাৎ অন্তর থেকে বিদ্বেষ পোষণ করে। (فَخَرَجْتُ) বাহিরে বের হলাম। অর্থাৎ ‘আম্মার-কে সম্পূর্ণভাবে রাজি-খুশি করার জন্য নবী (সা.) -এর নিকট থেকে বের হলাম।
(مَا كَانَ شَيْءٌ أَحَبَّ) অর্থাৎ আমার এটা ইচ্ছা ছিল যে, আমি এমন কাজ করব যাতে আম্মার আমার প্রতি খুশি হয়ে যায়। তাহলে আমার ও আম্মার-এ মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যাবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৩)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৭-[৬২] আবূ উবায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে খালিদ সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, খালিদ হলো মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর তলোয়ারসমূহের একটি তলোয়ার এবং সে তার স্বীয় বংশের একজন উত্তম যুবক। [উক্ত হাদীস দুটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) রিওয়ায়াত করেছেন।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن أبي عُبَيدةَ أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَالِدٌ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَنِعْمَ فَتَى الْعَشِيرَةِ» . رَوَاهُمَا أَحْمد
سندہ ضعیف ، رواہ احمد (4 / 90 ح 16948) * فیہ عبد الملک بن عمیر : مدلس ولم اجد تصریح سماعہ فالسند ضعیف وقال رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فی خالد بن الولید رضی اللہ عنہ :’’ حتی اخذ الرایۃ سیف من سیوف اللہ حتی فتح اللہ علیھم ‘‘ رواہ البخاری فی صححہ (4262) و ھذا الحدیث یغنی عنہ
সহীহ: মুসনাদে আহমাদ ১৬৮৬৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৩৯, সহীহুল জামি' ৩২০৮।
ব্যাখ্যা: (سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ) এক তলোয়ার যাকে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের জন্য বের করেছেন ও কাফিরদের ওপর বিজয় করেছেন। উদ্দেশ্য যে, তিনি আল্লাহর পথে কাফিরদের সাথে তুমুলভাবে যুদ্ধ করবেন।
(نِعْمَ فَتَى الْعَشِيرَةِ) বংশের উত্তম যুবক। খালিদ বানী মাখযুম গোত্রের ও কুরায়শের জনক ছিলেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৩-৮৪)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৮-[৬৩] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: চার ব্যক্তির সাথে ভালোবাসার জন্য সুমহান বরকতময় আল্লাহ তা’আলা আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমাকে এটাও জানিয়েছেন যে, তিনিও তাদেরকে ভালোবাসেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! (অনুগ্রহপূর্বক) আমাদেরকে তাদের নামগুলো বলে দিন। তিনি বললেন, তাঁদের মধ্যে ’আলীও রয়েছেন। এ কথাটি তিনি (সা.) তিনবার বললেন এবং (বাকি তিনজন হলেন) আবূ যার, মিক্বদাদ ও সালমান। তাদেরকে ভালোবাসার জন্য আমাকে তিনি হুকুম করেছেন এবং আমাকে এ সংবাদও দিয়েছেন যে, তিনি তাঁদেরকে ভালোবাসেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَمرنِي بِحُبِّ أَرْبَعَةٍ وَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ يُحِبُّهُمْ» . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِّهِمْ لَنَا قَالَ: «عَلِيٌّ مِنْهُمْ» يَقُولُ ذَلِكَ ثَلَاثًا «وَأَبُو ذَرٍّ وَالْمِقْدَادُ وَسَلْمَانُ أَمرنِي بحبِّهم وَأَخْبرنِي أَنه يحبُّهم» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3718) [و ابن ماجہ (149)] * شریک القاضی صرح بالسماع عند احمد (5 / 351 ح 22968) و حدیثہ حسن اذا صرح بالسماع و حدث قبل اختلاطہ
ব্যাখ্যা: (بِحُبِّ أَرْبَعَةٍ) বিশেষভাবে ভালোবাসার জন্য। (يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِّهِمْ لَنَا) যাতে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (সা.) -এর ভালোবাসার কারণে আমরাও তাদেরকে ভালোবাসতে পারি। (يَقُولُ ذَلِكَ ثَلَاثًا) এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য যে, তিনি তাদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম। অথবা তিনি তাকে তাদের তিনজনের সমপরিমাণে ভালোবাসতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
সুবহা-নাল্লহ তাদের কী মর্যাদা যে, আল্লাহ নিজে তাদের ভালোবাসেন এবং তাঁর হাবীবকে ভালোবাসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৪)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৫৯-[৬৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) বলতেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাদের নেতা। তিনি আমাদের আরেকজন নেতাকে স্বাধীন করেছেন, অর্থাৎ বিলাল (রাঃ) -কে। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن جَابر قا ل: كَانَ عُمَرُ يَقُولُ: أَبُو بَكْرٍ سَيِّدُنَا وَأَعْتَقَ سَيِّدَنَا يَعْنِي بِلَالًا. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3754) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অবশ্যই বিলাল (রাঃ) ছিলেন নেতাদের একজন। তবে এ কথা বর্ণিত হয়নি যে, তিনি ‘উমার (রাঃ) থেকে অধিক শ্রেষ্ঠ। অন্যান্যরা বলেন, প্রথম (السيد) বাস্তবে অর্থে ব্যবহার হয়েছে। দ্বিতীয় (السيد) তার উদ্দেশে রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। অথবা নেতৃত্ব শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে না। যেমন ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমি মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর চাইতে বড় নেতা দেখিনি। অথচ তিনি আবূ বাকর (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে দেখেছেন। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৫৪)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬০-[৬৫] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) বলেন, বিলাল (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে বললেন, আপনি যদি আমাকে নিজের জন্য ক্রয় করে থাকেন, তাহলে আমাকে আপনি নিজ সেবায় আটকিয়ে রাখুন। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্রয় করে থাকেন, তবে আমাকে আল্লাহর কাজে স্বাধীন ছেড়ে দিন। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ أَنَّ بِلَالًا قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ: إِنْ كُنْتَ إِنَّمَا اشْتَرَيْتَنِي لِنَفْسِكَ فَأَمْسِكْنِي وَإِنْ كُنْتَ إِنَّمَا اشْتَرَيْتَنِي لِلَّهِ فَدَعْنِي وَعمل الله. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3755) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (أَنَّ بِلَالًا قَالَ) যখন আমাদের সর্দার বিলাল (রাঃ) মসজিদে নাবাবী দেখাশোনায় অধৈর্য হওয়ার কারণে শাম দেশে যাত্রা করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন আবূ বাকর (রাঃ) তার নিকট আবেদন করলেন যে, নবী (সা.) -এর সময় যেমন তুমি আযান দিতে তেমনিভাবে আমার সাথে থাকো ও আযান দাও।
(فَدَعْنِي وَعمل الله) অর্থাৎ আমাকে ছেড়ে দিন আমি আল্লাহর ‘আমল করতে থাকব এবং মানুষের সাথে কোন সম্বন্ধ রাখব না।
কোন বর্ণনায় এসেছে, বিলাল (রাঃ) বলেন, আমার মধ্যে রসূলের স্থান দেখার ধৈর্য নেই, আর তিনি (সা.) ব্যতীত আমি এখানে অবস্থান করতে পারব না। তখন বিলাল (রাঃ) এক সৈন্যদলের সঙ্গ গ্রহণ করল যারা শাম দেশে যাচ্ছিল। তিনি তাদের সাথে গেলেন এবং দামিশকে মৃত্যুবরণ করেন। আবার সেই হাদীসে বিলাল (রাঃ)-এর মদীনায় ফিরে আসার কথা উল্লেখ হয়েছে এবং তার আযান দেয়া ও আযানে মদীনাহ্ কেঁপে উঠার কথা উল্লেখ হয়েছে সে হাদীসের কোন ভিত্তি নেই। সেটা জাল হাদীস হতে পারে। আল্লামাহ্ সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) সেটাকে পরবর্তীতে উল্লেখ করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৪)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬১-[৬৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক লোক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, আমি অতিশয় ক্ষুধার্ত। তখন তিনি (সা.) কোন এক লোককে তার একজন স্ত্রীর কাছে আঠালেন। তিনি (বিবি) এই বলে উত্তর পাঠালেন যে, সে মহান সত্তার শপথ। যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমার কাছে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। অতঃপর তিনি (সা.) আরেক স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। তিনিও অনুরূপ উত্তর পাঠালেন। এভাবে সকল স্ত্রীগণ সেই একই কথা বলে পাঠালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, কে এই লোকটির মেহমানদারি করবে? আল্লাহর তা’আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন। তখন আনসারদের একজন- যাকে আবূ ত্বলহাহ্ ডাকা হত, তিনি বললেন, আমি, হে আল্লাহর বসল! এই বলে তিনি লোকটিকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে প্রশ্ন করলেন, তোমার কাছে (খাওয়ার) কোন কিছু আছে কি? স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের খাবার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বিবিকে বললেন, বাচ্চাদেরকে কোন একটি জিনিস দ্বারা ভুলিয়ে ঘুম পাড়াও। আর মেহমান যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তাকে এমন ভাব দেখাবে যে, আমরাও তার সাথে খানা খাচ্ছি। অতঃপর মেহমান যখন খাওয়ার জন্য হাত বাড়াবে, তখন তুমি দাড়িয়ে প্রদীপটি ঠিক করছ ভান করে তা নিভিয়ে ফেলবে। অতএব (স্বামীর কথানুযায়ী) স্ত্রী তাই করলেন। অতঃপর যখন সকাল হলো। আবূ ত্বলহাহ্ সকাল বেলায় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তা’আলা অমুক পুরুষ ও অমুক মহিলার ক্রিয়াকলাপকে অতিশয় পছন্দ করেছেন অথবা বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন।
অপর একটি বর্ণনাতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, তবে তাতে আবূ তলহাহ-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এবং হাদীসটির শেষাংশে বর্ণিত হয়েছে, তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, অর্থাৎ ’আনসারদের অন্যতম গুণ এই যে, তারা নিজেদের ওপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেন, অভাবগ্রস্ততা এবং দারিদ্র্য তাঁদের সাথে হলেও।’ (বুখারী ও মুসলিম)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ إِنِّي مَجْهُودٌ فَأَرْسَلَ إِلَى بَعْضِ نِسَائِهِ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا عِنْدِي إِلَّا مَاءٌ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُخْرَى فَقَالَتْ مِثْلَ ذَلِكَ وَقُلْنَ كُلُّهُنَّ مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «من يضيفه وي» فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو طَلْحَةَ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى رَحْلِهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ قَالَتْ لَا إِلَّا قُوتُ صِبْيَانِي قَالَ فَعَلِّلِيهِمْ بِشَيْءٍ وَنَوِّمِيهِمْ فَإِذَا دَخَلَ ضَيْفُنَا فَأَرِيهِ أَنا نَأْكُل فَإِذا أَهْوى لِيَأْكُلَ فَقُومِي إِلَى السِّرَاجِ كَيْ تُصْلِحِيهِ فَأَطْفِئِيهِ فَفعلت فقعدوا وَأكل الضَّيْف فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ عَجِبَ اللَّهُ أَوْ ضَحِكَ اللَّهُ مِنْ فُلَانٍ وَفُلَانَةٍ» وَفِي رِوَايَةٍ مِثْلَهُ وَلَمْ يُسَمِّ أَبَا طَلْحَةَ وَفِي آخِرِهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ] مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4889) و مسلم (172 / 2054)، (5359) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (إِنِّي مَجْهُودٌ) অর্থাৎ ক্ষুধার কষ্ট আমাকে পেয়েছে। এ ঘটনা ইসলামের প্রথম যুগে খায়বার ও অন্যান্য যুদ্ধে বিজয় ও গনীমাত লাভ করার পূর্বের সময়ের। ইবনুত্ তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আনসারী ব্যক্তির নাম ছিল সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ) ইসমাঈল কাযী আহকামুল কুরআনে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তবে তার বর্ণনা প্রসঙ্গ ইঙ্গিত করে যে, সেটা অন্য ঘটনা ছিল। সে বর্ণনা হলো - (ان رجلامن الأنصار عبد عليه ثه أيام لا يجد ما يفطر عليه و يصبح صائما حتى فطن ر جل من الأ نصار يقال اله ثابت بن قيس) এক আনসারী ব্যক্তি তিনদিন যাবৎ ইফত্বার করার কিছু না পেয়ে সকাল করে সিয়াম অবস্থায় (অবশেষে অপর আনসারী ব্যক্তি বুঝতে পেরেছিলেন, যার নাম সাবিত ইবনু কায়স)। অতঃপর তিনি ঘটনা বর্ণনা করলেন। এ আয়াত নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপটও মেহমানের ওপর অনুগ্রহ করার একাধিক ঘটনাকে বাধা দেয় না।
ইবনু বাশকুয়াল বলেন, কেউ বলেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্। তবে তিনি এ কথা আস্থার সাথে উল্লেখ করেননি। য'ঈফ মাতরূক রাবীদের অন্যতম কাযী আবূ বুখতারী তাঁর “কিতাবুয যু'আফাতুন্ নবী (সা.)” গ্রন্থে বলেন, তিনি হলেন হাদীস বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)। সঠিক হল যা মুসলিমে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর হাদীসে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। যেমন তাতে উল্লেখ হয়েছে (فقام ر جل من الأ نصار يقال له أبو طلحة) অর্থাৎ আনসারীদের মধ্যে হতে একব্যক্তি বলল; যাকে আবূ ত্বলহাহ্ বলা হয়। খত্বীব সাহেব নিশ্চিতভাবে এটাই বলেছেন। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মনে হয় তিনি প্রসিদ্ধ আবূ ত্বলহাহ্ যায়দ ইবনু সাহল নন। এটা দুটো কারণে সুদূর পরাহত মনে করা হয়।
(এক) প্রসিদ্ধ আবূ ত্বলহাহু যায়দ ইবনু সাহল-এর ব্যাপারে এভাবে বলা ভালো মনে হয় না যে, (فقام ر جل من الأنصار يقال له أبوطلحت) অর্থাৎ এক ব্যক্তি দাঁড়ালেন, তার নাম আবূ ত্বলহাহ্।
(দুই) ঘটনার বর্ণনায় বুঝা যায় যে, তাঁর নিকটে কিছু ছিল না যে, তার দ্বারা তিনি এবং তার পরিবার রাতের আহার করবেন, ফলে বাতি নিভানোর প্রয়োজন হবে। অথচ মদীনায় আনসারদের মধ্যে আবূ ত্বলহাহ যায়দ ইবনু সাহল-এর সম্পদ সবচাইতে বেশি ছিল। অতএব তার ব্যাপারে কম সম্পদের কথা উল্লেখ করা দূরের ব্যাপারে। এ দু' অসম্ভব বিষয়ই তার উত্তরের জন্য সম্ভাবনা আছে, আল্লাহ অধিক জানেন। (إِلَّا قُوتُ صِبْيَانُىْ) “কিন্তু আমার সন্তানদের খাবার রয়েছে। সম্ভবত তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রাতের আহার করছিলেন। আর তার সন্তানরা ব্যস্ত ছিল অথবা ঘুমন্ত ছিল। তাই তাদের প্রয়োজন মতো খাবার রাখলেন। অথবা রাতের খাবারকে তারা সন্তান বলে অভিহিত করেছেন। কারণ তাদের জন্য রাতের খাবারের খুবই দরকার এটা নির্ভরযোগ্য কথা। যেহেতু আবূ উসামার বর্ণনায় এসেছে, (ونطوبطوننا الليلة) “রাতে আমাদের পেটকে ক্ষুধার্ত রেখেছি”। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, (فاصبحا طاويين) “তার নিকট শুধুমাত্র নিজের ও স্বীয় সন্তানদের খাবার রয়েছে”।
সহীহ মুসলিমে ওয়াক্বী’র বর্ণনায় রয়েছে, (فَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلَّاقُوتُهُ وَقُوتُ صِبْيَانِهِ) “তাঁর কাছে তাঁর ও সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাদ্য ব্যতীত আর কিছু ছিল না।”
(لَقَدْ عَجِبَ اللَّهُ أَوْ ضَحِكَ اللَّهُ مِنْ فُلَانٍ وَفُلَانَةٍ) এ হাদীস দ্বারা মহান আল্লাহর হাসির গুণ তাঁর অন্যান্য গুণের মতো প্রমাণিত হয় যা পূর্বে একাধিক জায়গায় উল্লেখ হয়েছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৬)
(وَ یُؤۡثِرُوۡنَ عَلٰۤی اَنۡفُسِهِمۡ وَ لَوۡ کَانَ بِهِمۡ خَصَاصَۃٌ ؕ۟ وَ مَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِهٖ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ) ...আর তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়- নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন। বস্তুত যাদেরকে হৃদয়ের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম।” (সূরাহ্ আল হাশর ৫৯: ৯)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার সর্বাধিক বিশুদ্ধ ঘটনা এটাই। ইবনু মারদুওয়াইহ-এর বর্ণনায় আছে, “এক ব্যক্তিকে একটি ছাগলের মাথা হাদিয়্যাহ্ দেয়া হলে তিনি বলেন, এটা আমাদের চাইতে আমার ভাই ও তার পরিবারে বেশি প্রয়োজন। অতঃপর তিনি তা পাঠিয়ে দেন। এভাবেই একজন অপরজনের নিকটে পাঠাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তা সাতজনের কাছে ঘুরার পর প্রথমজনের নিকটে ফিরে চলে আসে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়াত নাযিল হয়। সম্ভবত এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এটা নাযিল হয়।
কেউ বলেন, অল্প ক্ষতি করে ছোট ছেলেদের অভুক্ত রেখে পিতার এমন আচরণ করার প্রমাণ এ হাদীসে রয়েছে। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৯৮)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬২-[৬৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে এক স্থানে, মানজিল করলাম। তখন লোকজন (সম্মুখ দিয়ে) যাতায়াত করছিল। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ (এক ব্যক্তি সম্পর্কে) প্রশ্ন করলেন, হে আবূ হুরায়রাহ! এ লোক কে? আমি বললাম, অমুক। তখন তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর এই বান্দা খুব ভালো লোক। আরেক লোক সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, এ লোকটি কে? বললাম, অমুক। তখন তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর এই বান্দা খুবই মন্দ। এমন সময় খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) অতিক্রম করলেন। তিনি (সা.) প্রশ্ন করলেন, এ লোকটি কে? আমি বললাম, খালিদ ইবন ওয়ালীদ। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দা খালিদ ইবনু ওয়ালীদ খুবই চমৎকার লোক। ইনি আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য হতে একখানা তলোয়ার। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْهُ قَالَ: نَزَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْزِلًا فَجَعَلَ النَّاسُ يَمُرُّونَ فَيَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ هَذَا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟» فَأَقُولُ: فُلَانٌ. فَيَقُولُ: «نِعْمَ عَبْدُ اللَّهِ هَذَا» وَيَقُولُ: «مَنْ هَذَا؟» فَأَقُولُ: فُلَانٌ. فَيَقُولُ: «بِئْسَ عَبْدُ اللَّهِ هَذَا» حَتَّى مَرَّ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» فَقُلْتُ: خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ. فَقَالَ: «نِعْمَ عَبْدُ اللَّهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ سَيْفٌ مِنْ سيوف الله» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3846)
ব্যাখ্যা: (فَاقوتُ:خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ) এখানে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, অবশ্যই রাসূল (সা.) ছিলেন এক তাঁবুতে এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ছিলেন তাঁবুর বাহিরে। এছাড়া খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) রাসূল (সা.) -এর নিকট অস্পষ্ট থাকত না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
(سَيْفٌ مِنْ سيوف الله) কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি একটি তলোয়ার যাকে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের জন্য বের করে নিয়ে এসেছেন এবং তাকে কাফিরদের ওপর বিজয় দান করেছেন। অথবা তিনি আল্লাহ তা'আলার তলোয়ারসমূহের মধ্য থেকে এক তলোয়ার প্রাপ্ত। এভাবেই তিনি আল্লাহর পথে তার দীনের শত্রুদের সাথে তুমুল যুদ্ধ করেছেন। মানাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ দ্রুত পালনের ক্ষেত্রে তিনি স্বয়ং এক তলোয়ার সদৃশ্য। এতে তিনি কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৮৪৬ - “জামিউল কিতাবুত তিস্'আহ্” এ্যাপ)
ফাতহুল বারীর ভাষ্যকার বলেন, আবূ কতাদাহ্’র হাদীসে রয়েছে, মূতার যুদ্ধে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) ঝাণ্ডা ধারণ করলেন। তিনি আমীরের মধ্যকার ছিলেন না। তিনি ছিলেন নিজেই আমীর। অতঃপর রাসূল (সা.) বলেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয় সে আপনার তরবারিসমূহের একটি। অতএব আপনি তাকে সাহায্য করুন। তাই তিনি সেদিন থেকে (سيوف الله) (আল্লাহ তরবারি) নামে ভূষিত হন। (ফাতহুল বারী হা, ৪২৬২, ৩৮৪৬ - “জামিউল কিতাবুত তিস্'আহ” এ্যাপ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬৩-[৬৮] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার আনসারগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বললেন, হে আল্লাহর নবী! প্রত্যেক নবীরই একদল অনুসরণকারী থাকে। (অনুরূপভাবে) আমরাও আপনার অনুকরণ করে আসছি। অতএব, আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাদের অনুসারীদেরকেও আমাদের দলভুক্ত করেন। তখন তিনি (সা.) সেই মতো দু’আ করলেন। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَتِ الْأَنْصَارُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ لِكُلِّ نَبِيٍّ أَتْبَاعٌ وَإِنَّا قَدِ اتَّبَعْنَاكَ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَ أَتْبَاعَنَا منا فَدَعَا بِهِ رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3787) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (وَإِنَّا قَدِ اتَّبَعْنَاكَ) অর্থাৎ আমরা বেশি বেশি আপনার অনুসরণ করব। (فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَ أَتْبَاعَنَا منا) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রত্যেক নবীর অনুসারী থাকে। আমরা আপনার অনুসারী অবশ্যই আমরা আপনার অনুসরণ করব। অতএব আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যাতে আমাদের মধ্য থেকেই আমাদের অনুসারী হয়। যারা আমাদের সাথে মিলিত থাকবে ও যথাযথভাবে আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُمۡ بِاِحۡسَانٍ) ...আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট...”- (সূরাহ আত্ তাওবাহ্ ৯: ১০০)। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড)
ফাতহুল বারী ভাষ্যকার বলেন, তাদেরকে বলা হয় আনসার। যাতে তারা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা ও অনুরূপ কিছু করার ওয়াসিয়্যাত গ্রহণ করে। (ফাতহুল বারী হা. ৩৭৮৭)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬৪-[৬৯] কতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আরবের গোত্ৰসমূহের কোন গোত্রের শহীদের সংখ্যা কিয়ামতের দিন আনসারদের তুলনায় অধিক এবং প্রিয়তর হবে বলে আমাদের জানা নেই। কতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন, তাঁদের মধ্য হতে সত্তরজন ’উহুদের দিন’, সত্তরজন “বী’রি মা’উনার দিন” এবং আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফত ’আমলে, আর সত্তরজন ’ইয়ামামার দিন’ শহীদ হয়েছেন। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ مَا نَعْلَمُ حَيًّا مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ أَكْثَرَ شَهِيدًا أَعَزَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْأَنْصَارِ. قَالَ: وَقَالَ أَنَسٌ: قُتِلَ مِنْهُمْ يَوْمَ أُحُدٍ سَبْعُونَ وَيَوْمَ بِئْرِ مَعُونَةَ سَبْعُونَ وَيَوْمَ الْيَمَامَةِ عَلَى عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ سَبْعُونَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (4078) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (قُتِلَ مِنْهُمْ يَوْمَ أُحُدٍ سَبْعُونَ) তারা সবাই ছিলেন আনসার যেমনটি বলা যায়। মাত্র কিছু সংখ্যক ব্যতীত। উহুদের যুদ্ধে যেসব মুসলিম শহীদ হয়েছিলেন তাদের যে নাম ইবনু ইসহাক বর্ণনা করেছেন তাতে পঁয়ষট্টি জনে দাঁড়ায়। তন্মধ্যে চার জন হলেন মুহাজির। যারা হলেন- ১) হামযাহ্ ২) আবদুল্লাহ ইবনু জাহশ ৩) শাম্মাস ইবনু উসমান ৪) মু'আব ইবনু উমায়র। বেশি বাদ পড়েছেন হাত্বিব-এর দাস সা'দ। অবশ্য মূসা ইবনু উকবাহ্ তার নাম উল্লেখ করেছেন।
হাকিম (الاكليل) গ্রন্থে ও ইবনু মুনদিহ উবাই ইবনু কা'ব-এর হাদীসে বলেন, উহুদে নিহত আনসারদের সংখ্যা চৌষট্টি জন এবং মুহাজির ছয় জন। সম্ভবত ষষ্ঠ জন হবেন বানী ‘আবদ শামসের মিত্র সাকীফ ইবনু ‘আমর আল আসলামী। তাকে ওয়াকিদী তাদের মধ্যে গণ্য করেন। যারা উহুদে শহীদ হন তাদের মধ্যে আনসার নয় এমন ব্যক্তি হিসেবে হারিস ইবনু উবাহ্ ইবনু কুবস আল মুযানী, তাঁর চাচা ওয়াহব ইবনু কুবস, বান্ সা'দ ইবনু লায়স-এর ক্ষুদ্রতম শাখার আল হাবীব এর দুই একত্ববাদী সন্তান আবদুল্লাহ ও ‘আবদুর রহমান, খলফ ইবনু আওফ আল আসলামী-এর তনয়দ্বয় মালিক ও নু'মান-কে ইবনু সা'দ ধরেন। এ দু’জন ছিলেন রসূলের প্রথম সারির লোক। উভয়ে নিহত হন।
আমি বলি, সম্ভবত তারা আনসারদের মিত্র, তাদেরকেই গণ্য করা হয়েছে যদি তারা প্রথমেই গণনার বাহিরে থাকেন তবুও আনসারদের সংখ্যা সত্তর জনে পূর্ণ হবেন। আর নিহত মুসলিমদের মোট সংখ্যা সত্তরের চাইতে অধিক হবে। যে তাদের সত্তর জন শহীদ হয়েছেন বলে মত ব্যক্ত করেছেন, তিনি খুচরাদের সংখ্যাকে বাদ দিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(يَوْمَ بِئْرِ مَعُونَةَ سَبْعُونَ) স্পষ্টতই বলা যায় তাদের সকলেই আনসারী ছিলেন না। বরং তাদের কেউ কেউ মুহাজির ছিলেন। যেমন আবূ বাকর (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আমির ইবনু ফাহীরাহ, নাফি ইবনু ওরাকা আল খুযা'ঈ প্রমুখ ব্যক্তিরা মুহাজির ছিলেন।
(وَيَوْمَ الْيَمَامَةِ عَلَى عَهْدِ أَبِي بَكْرٍ سَبْعُونَ) যারা রিদ্দার যুদ্ধে তরবারির মতো তেজস্বী ও শক্তিশালীদের শ্রেণিভুক্ত হয়েছিলেন তাদের নাম বর্ণিত হয়েছে। (ফাতহুল বারী হা, ৪০৭৮)।
ইয়ামামার যুদ্ধের দিন বলতে যারা আবূ বাকর (রাঃ)-এর সময় মুসায়লামাহ্ কাযযাব-এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়েছিলেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮৭)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬২৬৫-[৭০] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ভাতা পাঁচ হাজার দিরহাম (বায়তুল মাল হতে) নির্ধারণ ছিল। উমার (রাঃ) বলেন, আমি অবশ্যই তাঁদেরকে পরবর্তী সকলের ওপর মর্যাদা দেব। (বুখারী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب جَامع المناقب)
وَعَن قيس بن حَازِم قَالَ: كَانَ عَطَاءُ الْبَدْرِيِّينَ خَمْسَةُ آلَافٍ. وَقَالَ عُمَرُ: لَأُفَضِّلَنَّهُمْ على مَنْ بَعدَهم. رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (4022) * تسمیۃ من سمی من اھل البدر ، فی صحیح البخاری (کتاب المغازی باب : 13 بعد ح 4027) ۔ بخاری ، کتاب المغازی ، باب تسمیۃ من سمی من اھل بدر ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (كَانَ عَطَاءُ الْبَدْرِيِّينَ خَمْسَةُ) উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) ও তার পরবর্তী যুগ পর্যন্ত প্রত্যেক বদরী সাহাবীকে বায়তুল মাল থেকে যে সম্পদ দেয়া হত তার পরিমাণ বছরে পাঁচ হাজার দিরহাম।
(وَقَالَ عُمَرُ: لَأُفَضِّلَنَّهُمْ) তাদেরকে অন্যদের চাইতে বেশি প্রদান করব।
‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মালিক ইবনু আওস-এর হাদীসে রয়েছে, তিনি মুহাজিরদেরকে পাঁচ হাজার পাঁচ হাজার করে দান করতেন এবং আনসরাদেরকে চার চার হাজার করে প্রদান করতেন। আর নবী (সা.) এর সহধর্মিণীদেরকে আরো বেশি প্রদান করতেন। তাঁদের প্রত্যেককে বারো হাজার দিরহাম প্রদান করতেন। (ফাতহুল বারী হা, ৪০২২)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের নামের তালিকা ইমাম বুখারীর আল জামি’-তে যেভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
(১) নবী মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল হাশিমী (সা.) (২) আবদুল্লাহ ইবনু উসমান আবূ বকর সিদ্দীক্ব আল কুরাশী, (৩) উমার ইবনুল খত্তাব আল ’আদাভী, (৪) উসমান ইবনু ’আফফান; নবী (সা.) তাঁকে তাঁর অসুস্থ কন্যা রুক্বাইয়্যাহ্ [উসমান (রাঃ)-এর স্ত্রী]-এর দেখাশুনার জন্য মদীনায় রেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু [বদর] যুদ্ধলব্ধ মালের অংশ তাকেও দিয়েছিলেন, (৫) আলী ইবনু আবূ ত্বালিব আল হাশিমী, (৬) ইয়াস ইবনু বুকায়র, (৭) বিলাল ইবনু রবাহ আবূ বা সিদ্দীক (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম, (৮) হামযাহ্ ইবনু ’আবদুল মুত্ত্বালিব আল হাশিমী, (৯) হাত্বিব ইবনু আবূ বালতা’আহ- কুরায়শদের মিত্র, (১০) আবূ হুযায়ফাহ্ ইবনু ’উতবাহ্ ইবনু রবী’আহ্ আল কুরাশী, (১১) হারিসাহ্ ইবনুর রবী’ আল আনসারী- ইনি হারিসাহ্ ইবনু সুরাকাহ্ নামেও পরিচতি, তিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, তিনি এ যুদ্ধে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন; (১২) খুবায়ব ইবনু ’আদী আল আনসারী, (১৩) খুনায়স ইবনু হুযাফাহ আস্ সাহমী, (১৪) রিফা’আহ্ ইবনু রাফি আল আনসারী, (১৫) রিফা’আহ্ ইবনু ’আবদুল মুনযির- আবূ লুবাবাহ্ আল আনসারী নামেও পরিচিত, (১৬) যুবায়র ইবনুল আওয়াম আল কুরাশী, (১৭) যায়দ ইবনু সাল আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী, (১৮) আবূ যায়দ আল আনসারী, (১৯) সা’দ ইবনু মালিক আয যুহরী, (২০) সা’দ ইবনু খাওলাহ্ আল কুরাশী, (২১) সা’ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ’আমর ইবনু নুফায়ল আল কুরাশী, (২২) সাহল ইবনু হুনায়ফ আল আনসারী, (২৩) যুহায়র ইবনু রাফি আল আনসারী, (২৪) তাঁর ভাই, (২৫) ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ আল হুযালী, (২৬) আবদুর রহমান ইবনু আওফ আয যুহরী, (২৭) ’উবায়দাহ্ ইবনুল হারিস আল কুরাশী, (২৮) ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত আল আনসারী, (২৯) আমর ইবনু আওফ- হালীফ বানী আমির ইবনু লুআয়ঈ-এর মিত্র, (৩০). ’উকবাহ্ ইবনু আমর আল আনসারী, (৩১) আমির ইবনু রবী’আহ আল ’আনাযী, (৩২) ’আসিম ইবনু সাবিত আল আনসারী, (৩৩) ’উওয়াইম ইবনু সা’ইদাহ্ আল আনসারী, (৩৪) ’ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী, (৩৫) কুদামাহ্ ইবনু মা’উন, (৩৬) কতাদাহ্ ইবনুন নু’মান আল আনসালী, (৩৭) মু’আয ইবনু আমর ইবনু জামূহ, (৩৮) মু’আব্বি ইবনু ’আফরা’, (৩৯) তাঁর ভাই, (৪০) মালিক ইবনু রবী’আহ্ আবূ উসায়দ আল আনসারী, (৪১) মিসত্বাহ ইবনু উসাসাহ্ ইবনু আব্বাদ ইবনুল মুত্তালিব ইবনু ’আব্দ মানাফ, (৪২) মুরারাহ্ ইবনু রবী’ আল আনসারী, (৪৩) মান ইবনু ’আদী আল আনসারী, (৪৪) মিকদাদ ইবনু ’আমর আল কিনদী- বান্ যুহরাহ্-এর মিত্র, (৪৫) হিলাল ইবনু উমাইয়্যাহ্ আল আনসারী।
৬২৬৬-[৭১] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইয়ামান দেশ হতে এক লোক তোমাদের কাছে আসবে। তার নাম হবে ’ওয়াইস’। একজন মাতা ছাড়া ইয়ামান দেশে তাঁর আর কোন নিকটতম আত্মীয়স্বজন থাকবে না। তার দেহে শ্বেত-রোগ থাকবে। এর জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন। ফলে এক দিরহাম অথবা এক দীনার পরিমাণ জায়গা ছাড়া আল্লাহর তা’আলা তাঁর সেই রোগটি দূর করে দিয়েছেন। অতএব তোমাদের যে কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পাবে, সে যেন নিজের ক্ষমার জন্য তাঁর দ্বারা দু’আ করায়।
অপর বর্ণনায় আছে, ’উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তাবিঈদের মধ্যে সর্বোত্তম একজন রয়েছেন, এবং তাঁর শরীরে শ্বেত দাগ থাকবে। অতএব তোমরা নিজেদের মাগফিরাতের দু’আর জন্য তার কাছে অনুরোধ করবে। (মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
عَن عمر بن الْخطاب أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ: أُوَيْسٌ لَا يَدَعُ بِالْيَمَنِ غَيْرَ أُمٍّ لَهُ قَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللَّهَ فَأَذْهَبَهُ إِلَّا مَوْضِعَ الدِّينَارِ أَوِ الدِّرْهَمِ فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُولُ: إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: أُويس وَله والدةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاض فَمُرُوهُ فليستغفر لكم . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (223 / 2542)، (6490) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: এ উওয়াইস (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঘটনায় রাসূল (সা.) -এর স্পষ্ট মু'জিযাহ্ রয়েছে। তিনি হলেন উওয়াইস ইবনু ‘আমির যেমনটি ইমাম মুসলিম এখানে বর্ণনা করেন। এটাই প্রসিদ্ধ মত।
ইবনু মাকূলা বলেন, তাকে উওয়াইস ইবনু আমর বলা হয়। তারা বলেন, তার উপনাম আবূ ‘আমর। কেউ বলেন, তিনি সিফফীন যুদ্ধে নিহত হন। তিনি (قَرَنىْ) গোত্রের দিক নিসবত করে (القَرَنِى) (করানী) নামে খ্যাত। এটা মুরাদ গোত্রের শাখা গোত্র। তিনি ছিলেন করান ইবনু রাযমান ইবনু নাজিয়া ইবনু মুরাদ।
কালবী বলেন, মুরাদ-এর নাম ছিল জাবির ইবনু মালিক ইবনু আদাদ ইবনু সহাব ইবনু ইয়ারুব ইবনু যায়দ ইবনু কাহলান ইবনু সাব্বাদ। তিনি মুরাদ গোত্রের উপগোত্র হওয়ায় আমরা এ বংশ-পরম্পরা তুলে ধরলাম। এদিকেই তাকে সম্বন্ধ করা হয়, যা সঠিক। এতে কোন দ্বিমত নেই।
জাওহারীর সিহাহ গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, তিনি নাজদবাসীর ইহরাম বাঁধার জন্য নির্দিষ্ট মীকাত কারণে মানাযিল পর্বতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটা গুরুতর ভুল। এ সতর্কতা আগেই দেয়া হয়েছে যাতে তা নিয়ে ধোঁকায় না পড়ে। তাকে মানুষের মধ্যে তুচ্ছ জ্ঞান করা হত। এটাই প্রমাণ যে, তার প্রকৃত অবস্থা গোপন ছিল। তার মাঝেও আল্লাহর মধ্যকার রহস্য গোপন ছিল। এটা কোন কিছুতেই প্রকাশিত হয়নি। যা অভিজ্ঞদের নীতি ও ওয়ালীদের বৈশিষ্ট্য।
(لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, (قال بعمرإن استطعت ان يستغفر لك فافعل) যদি সক্ষম হও যে, সে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাহলে করো। এটা উওয়াইস (রহিমাহুল্লাহ) এর স্পষ্ট কৃতিত্ব। এতে সকর্মশীল ব্যক্তির নিকট থেকে দু'আ ও ক্ষমা চাওয়ার বৈধতা রয়েছে, যদি প্রার্থী তার থেকে শ্রেষ্ঠ হয়। (ان خير التابعين ر جل يقال له أويس) দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, তিনি শ্রেষ্ঠ তাবিঈ।
কখনো বলা হয়, আহমাদ ইবনু হাম্বাল। অপর ব্যক্তি বলেন, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব শ্রেষ্ঠ তাবি'ঈ। এর উত্তর হলো তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সা'ঈদ-এর শারঈ জ্ঞান যেমন তাফসীর হাদীস, ফিকহ ইত্যাদিতে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। আল্লাহ তা'আলার নিকট মর্যাদায় নয়। আর এ কথায় সুস্পষ্ট মু'জিযাহ্ রয়েছে। (শারহুন নাবাবী হা, ২২৩-২৫৪২)
উওয়াইস তাবিঈ ছিলেন, সাহাবী নয়। যদিও তিনি নবী (সা.)-এর সময় মওজুদ ছিলেন কিন্তু মায়ের খিদমাতের কারণে এতটুকু সুযোগ পাননি যে, নবী (সা.) -এর দরবারে হাজির হবেন। এতে সাহাবীর চাইতে তাবিঈর মর্যাদা বেশি হবে তা নয়। কারণ স্বয়ং নবী (সা.) নিজের জন্য মানুষের নিকট দু'আ চাইতেন।
উপরন্তু পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে আযানের সময় সমস্ত উম্মতের নিকট থেকে স্বীয় মাকামে মাহমুদ হাসিলের জন্য দু'আ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯০)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৬৭-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বললেন: ইয়ামানবাসীগণ (স্বেচ্ছায়) তোমাদের কাছে এসেছেন। তাদের অন্তর খুবই নরম এবং অত্যধিক কোমল। ঈমান ইয়ামানবাসীদের মাঝে এবং কৌশল (বুদ্ধিমত্তা) ও ইয়ামানবাসীদের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। আর গর্বঅহমিকা রয়েছে উটের রাখালের কাছে, অপরদিকে স্বস্তি ও শান্তি বিদ্যমান রয়েছে বকরি পালকদের মাঝে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَاكُم أهلُ الْيمن هم أَرقُّ أفئدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَصْحَابِ الْإِبِلِ وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ فِي أهل الْغنم» . مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (4388) و مسلم (86 ۔ 84 / 52)، (184 و 186) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (الإمان يمان و الفقه يمان والحكمة يمانية) সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, হাফিয তাঁর ‘ফাতহ’ গ্রন্থে বলেন, স্পষ্টভাবে ঈমানকে ইয়ামানের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে কারণ (يمان) মূলত (يمنى) ছিল। জাওহারী ও অপর ব্যক্তি বিশিষ্ট নাহুবিদ সিবওয়াইহ থেকে বর্ণনা করে বলেন: তিনি সুর করে গাইতেন (يَمَانِيًّا يَظَلُّ يَشُدُّ كِيرًا و ينفخ دائما لهب الشواط) “ইয়ামানীরা হাঁপরকে শক্তিশালী করতে থাকে এবং সদা অগ্নিশিখায় ফুঁক দেয়"। এর মমার্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, তার তাৎপর্য হলো ঈমানকে মক্কার দিকে নিসবত করে বলার কারণ হলো এর সূচনা মক্কাহ থেকে। আর মদীনাহ হিসেবে মক্কাহ ডানে। কেউ বলেন, ঈমানকে মক্কাহ্-মদীনার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর এ দুটো শামের ডানদিকে পড়ে এর ভিত্তি হলো এ কথা রসূলের মুখনিঃসৃত বাণী যা তিনি তাবূকে অবস্থানকালে বলেছিলেন। কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আনসারগণ। তাদের সৃষ্টি হয়েছে ইয়ামান থেকে। ঈমানকে তাদের প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে। এর কারণ হলো যে অভ্রান্ত ধর্ম নিয়ে রাসূল (সা.) আগমন করেছে সে ধর্মের মূলে ছিলে তারা। এসব বর্ণনা করেছেন আবূ উবায়দাহ তার গরীব হাদীসে। তার সমর্থনে ইবনুস সলাহ বলেন, পূর্বের বক্তব্যকে বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ করতে কোন বাধা নেই।
সহীহুল বুখারী (হা. ৩৪৯৯)-তে রয়েছে, ইয়ামানের নাম রাখার কারণ হলো তা কা'বার ডানদিকে এবং শাম কাবার বামদিকে অবস্থিত। প্রাচ্যবাসীদের মধ্যে ইয়ামানীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কারণ হলো মুসলিমদেরকে বড় কষ্ট দেয়া ব্যতীত তারা ঈমানের নিকটে বশ্যতা স্বীকার করেছে। যেমনটি প্রাচ্যবাসীরা ও অন্যান্যরা ছিল না। ইয়ামানের লোকেরা এ কথাকে হাকীকী অর্থে ব্যবহার করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য তৎকালীন থাকা মু'মিন ব্যক্তিবর্গরা। সব যুগের ইয়ামানী ব্যক্তি নয়। কারণ হাদীসের শব্দ তা দাবী করে না।
তিনি আরো বলেন, (الفقه) হলো দীনের বুঝ। (حكمة) থেকে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পরিচিতির সাথে যুক্ত ‘ইলম। (الفتح)-এর বক্তব্য এখানে সমাপ্ত।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) মুসলিমের শারাহ-এর মধ্যে ইবনু সলাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন, (الحكمة)-এর বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম অর্থ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে তিনি বলেন, (الحكمة) বলা হয় এমন জ্ঞানকে যা মহান আল্লাহর পরিচিতির সাথে সংযুক্ত হুকুম আহকাম দ্বার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, দূরদর্শিতা বাস্তবায়ন, অন্তর পরিশুদ্ধকরণ, হককে কার্যকরণ ও তার প্রতি আমল করা, বাতিল ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকার সাথে সম্পৃক্ত। এসব গুণ যার রয়েছে তাকে (الحكمة) বলা হয়। আবূ বাকর ইবনুদ দারীদ বলেন, যেসব শব্দ তোমাকে নাসীহত করে, সতর্ক করে, ভালো কিছুর প্রতি আহ্বান করে ও মন্দ বিষয় থেকে নিষেধ করে সেটাই (حكمة) এবং (حكم) যেমন রাসূল (সা.)-এর বাণী (أن من الشعر حكمة)। কোন বর্ণনায় রয়েছে, (حكما)। (তুহফাতুল আহওয়াযী –এ্যাপ, হা. ৩৯৩৫)
এ হাদীস দ্বারা ইয়ামানবাসীদের বড় মর্যাদা প্রকাশিত হয়। রাসূল (সা.) সত্যই বলেছেন, যে কারণে ইয়ামানে সর্বদা বড় বড় বিজ্ঞ দুনিয়াবিমুখ আলিম জন্মেছে। এখনো এর ব্যতিক্রম নয়।
(الْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ) নবী (সা.) -এর সময়ে ‘আরবে দুটি শ্রেণি ছিল। তাই তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন যে, উটওয়ালার বদ-মেজাজের অধিকারী এবং বকরির রাখালরা সাদাসিধে। এটা সাহচর্যের প্রভাবে হয়ে থাকে। কারণ অধিকাংশ উটই দুষ্ট প্রকৃতির হয় এবং বকরি হয় নিরীহ প্রকৃতির। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯১)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৬৮-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কুফরের উৎপত্তি হবে পূর্বদিক হতে। গর্ব-অহমিকা রয়েছে পশমি তাঁবুর অধিবাসী ঘোড়া ও উট চালকদের মাঝে। আর শান্তি রয়েছে বকরি চালকদের মাঝে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَسُ الْكُفْرِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَهْلِ الْخَيْلِ وَالْإِبِلِ وَالْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ» مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3301) و مسلم (85 / 52)، (185) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (رَأَسُ الْكُفْرِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ) কুশমীহানী-এর বর্ণনায় রয়েছে, (فَدَّادُونَ) কফ বর্ণে যের ও ‘বা বর্ণে যবর সহকারে অর্থাৎ সে দিক থেকে। এতে অগ্নিপূজকদের অধিক কুফরীর লক্ষণ রয়েছে। কারণ ‘আরবের পারস্যবাসী ও তাদের অনুসারীরা মদীনার পূর্বদিকে অবস্থান করছে। তারা অত্যন্ত কঠোর, অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারী। এখানেই শেষ নয়, এমনকি তাদের সম্রাট রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চিঠি টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলেছিল। ফিতনাসমূহ পূর্বদিক থেকে অব্যাহতভাবে বের হয়েছে।
(الْفَدَّادِينَ) খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ চাষের যন্ত্র বা লাঙ্গলের ফলা। প্রথম মতে, (فَدَّدُونَ) হলো (فَدَّانٍ) এর বহুবচন। (فَدَّانٍ) বলা হয়, যে ব্যক্তি তার উট, ঘোড়া বা চাষে ইত্যাদির জন্য আওয়াজকে উঁচু করে। (فَدِيدُ) হলে কঠিন আওয়াজ। আখফাশ (রহিমাহুল্লাহ) দুর্বলভাবে বর্ণনা করেন। (الْفَدَّادِينَ) থেকে উদ্দেশ্য হলো, যারা জনমানবহীন উন্মুক্ত মরু অঞ্চলে বসবাস করে। এ অর্থ সুদূর পরাহত।
আবূ ‘উবায়দাহ্ মা'মার ইবনুল মুসান্না বলেন, যাতে দু’শত থেকে হাজারের অধিক সংখ্যক উট রয়েছে তাদেরকে (الْفَدَّادِينَ) বলা হয়। আবূ ‘আমর শায়বানী-এর বর্ণনার ভিত্তিতে এটা মূলত (أَصْحَابُ الْفَدَّادِينَ) ছিল। অর্থাৎ এখানে (مُضَافٍ)-কে বিলুপ্ত করা হয়েছে। আবূল আব্বাস বলেন, উটওয়ালা ও রাখালাদেরকে (فَدَّادُونَ) বলা হয়। খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা যে বিশ্বাস মনে লালন করত সেসব আলোচনায় তাদের ব্যস্ত থাকার কারণে তাদেরকে মন্দ বলা হয়েছে। এতে তাদের অন্তর রূঢ় হয়েছে।
(وَالسَّكِينَةُ) নম্রতা, সহনশীলতা, স্থিরতা ও প্রশান্তি অর্থে (السَّكِينَةُ)-এর ব্যবহার হয়ে থাকে। বকরি ওয়ালাদেরকে খাস করার কারণ তার অর্থে ও আধিক্যে উটের মালিকদের চাইতে নিচে। আর এ দুটো গর্ব ও অহমিকার মাধ্যম। কেউ কেউ বলেন, বকরিওয়ালা থেকে উদ্দেশ্য হলো ইয়ামানের অধিবাসী। কারণ তাদের অধিকাংশ চতুষ্পদ জন্তু হলো বকরি। কিন্তু রবী'আহ্ ও মুযার গোত্র এর বিপরীত। কারণ তাদের উট বেশি। (ফাতহুল বারী হা. ৩৩০১)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৬৯-[৪] আবূ মাস্’উদ আল আনসারী (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এই দিক অর্থাৎ পূর্বদিক হতে ফিতনা-ফ্যাসাদের উৎপত্তি হবে। কঠোর ভাষা ও হৃদয়ের কাঠিন্য, উট ও গরুর লেজের পাশে চিৎকারকারী, পশমি তাঁবুর অধিবাসী রবী’আহ্ ও মুযার গোত্রের মধ্যে রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مِنْ هَهُنَا جَاءَتِ الْفِتَنُ - نَحْوَ الْمَشْرِقِ - وَالْجَفَاءُ وَغِلَظُ الْقُلُوبِ فِي الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ عِنْدَ أُصُولِ أَذْنَابِ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ فِي رَبِيعَةَ وَمُضَرَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3498) و مسلم (81 / 51)، (181) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (مِنْ هَهُنَا) অর্থাৎ (المشرق) (পূর্ব) থেকে। (جَاءَتِ الْفِتَنُ) যদিও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অতি শীঘ্রই আসবে। কিন্তু এখানে তা সুনিশ্চিতভাবে সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারটিকে চূড়ান্তভাবে বলার জন্য (فعل ماضى) এর সীগাহ্ ব্যবহার করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
আল কিরমানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রবী'আহ্ ও মুযার গোত্রদ্বয়ের নাম উল্লেখের কারণ যা সুস্পষ্ট তা হলো ‘আরবের অধিকাংশ মানুষই এ মূল দু' বংশের সাথে যুক্ত হয়। আর তারা ছিল পূর্ববাসীদের জন্য কারণস্বরূপ। যেসব কুরায়শীদের মাঝে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) -এর আগমন ঘটেছে তারা হলো মুযার গোত্রের একটি শাখা। আর ইয়ামানবাসীদের ব্যাপারে সরাসরি পরবর্তী হাদীসে উল্লেখ হয়েছে। যার শিরোনাম হলো- (مِنْ نَسَبِ الْعَرَبِ كُلِّهِمْ إِلَى إِسْمَاعِيلَ) অর্থাৎ সমস্ত ‘আরব বংশধর ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশ। (ফাতহুল বারী হা. ৩৪৯৮)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭০-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অন্তরের কঠোরতা ও ভাষায় কর্কশতা পূর্বদিকে রয়েছে এবং ঈমান রয়েছে হিজাযবাসীদের মাঝে। (মুসলিম)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غِلَظُ الْقُلُوبِ وَالْجَفَاءُ فِي الْمَشْرِقِ وَالْإِيمَانُ فِي أَهْلِ الْحِجَازِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
رواہ مسلم (92 / 53)، (193) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (فِي أَهْلِ الْحِجَازِ) অর্থাৎ মক্কাহ্ ও মদীনার চারপাশে। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য হলো আনসারগণ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ) হিজাবাসীদের মধ্যে ঈমান রয়েছে। হিজায এমন ভূখণ্ডের নাম যেখানে মক্কাহ্-মদীনাহ অবস্থিত। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯২)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭১-[৬] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) (দু’আয়) বললেন, “হে আল্লাহ! শাম দেশে আমাদের জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! ইয়ামান দেশে আমাদের জন্য বরকত দান করুন।” তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নাজদের জন্যও (দু’আ করুন)। তিনি (সা.) আবারও বললেন, “হে আল্লাহ! শাম দেশে আমাদের জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামান দেশে আমাদের জন্য বরকত দান করুন। এবারও সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নাজদের জন্যও। বর্ণনাকারী [ইবনু উমার (রাঃ)] বলেন, আমার ধারণা, তিনি তৃতীয়বারে বললেন, সেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। (বুখারী)
الفصل الاول ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَفِي نَجْدِنَا؟ فَأَظُنُّهُ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ: «هُنَاكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ وَبِهَا يَطْلُعُ قرن الشَّيْطَان» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (7095) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: বরকতের জন্য দুটি স্থানকে বিশেষিত করার স্পষ্ট কারণ হলো, মদীনাবাসীর খাদ্যদ্রব্য ইয়ামান ও নাজদ- এ দু' স্থান থেকে আমদানী করা হয়। আশরাফ বলেন, মূলত রাসূল (সা.) - এ দু' স্থানের জন্য বরকতের দু'আ করেছেন, এর কারণ হলো মক্কাহ্ রাসূল (সা.) -এর জন্মভূমি। আর তা ইয়ামানের সাথে সম্পৃক্ত। মদীনাহ্ হলো তাঁর বসবাসের ও দাফনের স্থান। সেটা শামের সাথে সম্পর্কযুক্ত। বাহ! কি চমৎকার দু'দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব যে, তার একটি জন্মস্থান, অন্যটি তাঁর দাফনস্থান। তিনি (সা.) দু’টিকে নিজের সাথে যুক্ত করেছেন। মর্যাদা বুঝানোর জন্য তিনি (সা.) বহুবচনের যামীর ব্যবহার করেছেন এবং বারংবার দু'আ করেছেন।
(وَفِي نَجْدِنَا) খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নাজদ পূর্বদিকে। যে ব্যক্তি মদীনায় অবস্থান করে, নাজদ তার নিকটে ‘ইরাকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেটা মদীনাবাসীর পূর্বে। মূলত উঁচু ভূমিকে নাজদ বলা হয়। এটা নিচুর বিপরীত। কারণ তা তুলনামূলকভাবে নিচু। পুরো তিহামাহ্ নিম্নাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। মক্কাহ্ তিহামাহর অন্তর্ভুক্ত।
হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: দাউদী বর্ণনা করেন, নাজদ ‘ইরাকের প্রান্তে অবস্থিত। তিনি কল্পনা করে বলেন, নাজদ একটি নির্দিষ্ট স্থান, অথচ এমনটি নয়। বরং তুলনায় অপেক্ষাকৃত উঁচু সব স্থান কে নাজদ বলা হয় এবং অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গাকে (غور) (গওর) বলা হয়।
(الزَّلَازِلُ) অর্থাৎ বাহ্যিক বোধগম্য অথবা অভ্যন্তরীণ প্রকম্পন। সেটা হলো মনের টলমলতা এবং মানুষের দোদুল্যমানতা।
(وَالْفِتَنُ) বিপদ মুসীবাত যাতে দীন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধর্মীয় হ্রাস ঘটে। সে কারণে তার জন্য দু'আ করা তাঁর জন্য সমিচীন নয়। মুহাল্লাব বলেন, আসলে রাসূল (সা.) পূর্ববাসীদের জন্য দু'আ বাদ দিয়েছেন যাতে তারা অকল্যাণ থেকে দুর্বল হয়ে যায়, যা সেদিকে শয়তানের প্রভাবের কারণে ফিতনাহ্ হিসেবে সৃষ্ট।
(قرن الشَّيْطَان) সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো শয়তানের সে সময়ের অনুসারী ও সাহায্যকারী দলবল। কেউ কেউ বলেন, (قرن) থেকে উদ্দেশ্য হলো শয়তানী শক্তি বা এমন সহযোগী যার দ্বারা সে বিপথগামী করতে পারে। সে সময় পূর্ববাসীরা কাফির ছিল। তাই রাসূল (সা.) বর্ণনা করেন যে, ফিতনাহ্ সৃষ্টি হবে সেখান থেকে। যেমন তিনি জানিয়েছিলেন পরে তাই হয়েছে প্রথম ফিতনাহ্ পূর্বদিক থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এ ফিতনাহ্ ছিল মুসলিমদের বিভক্ত হওয়ার কারণ। এটা ছিল শয়তানের আনন্দের বিষয়। এতে শয়তান খুশি হয়। অনুরূপভাবে বিদ'আতও সেখান থেকে সৃষ্টি হয়। যেমনটি উল্লেখ আছে ফাতহুল বারীতে। অনুরূপভাবে উট যুদ্ধের ঘটনা সিফফীনের যুদ্ধ। খারিজীদের উদ্ভব ঘটেছে পূর্বদিকের নাজদ, ‘ইরাক ও তার পিছনের এলাকায়। ফাসাদের মূল বড় ফিনাহ যেটা তাদের মাঝে সংঘটিত হয়েছিল, তা হলো ‘উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাত। সে কারণে রাসূল (সা.) এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সংঘটনের পূর্বে তা জানিয়ে, দিয়েছেন। এটা হলো নবী (সা.) -এর নুবুওয়্যাতের লক্ষণ। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৯৬৫)।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭২-[৭] আনাস (রাঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। নবী (সা.) ইয়ামান দেশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ! ইয়ামানবাসীদের অন্তর আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দাও এবং আমাদের জন্য সা’ ও মুদের মধ্যে বরকত দাও।” (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
عَنْ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَظَرَ قِبَلَ الْيَمَنِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَقْبِلْ بِقُلُوبِهِمْ وَبَارِكْ لَنَا فِي صاعِنا ومُدِّنا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (3934 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (اللَّهُمَّ أَقْبِلْ) আসলে তিনি (সা.) এ দু'আ করেছেন এজন্য যে, মদীনাবাসীর খাদ্যদ্রব্য আমদানী হয় ইয়ামান থেকে। এজন্য পরে মদীনাবাসীর জন্য ইয়ামান থেকে আমদানীকৃত খাবারের মধ্যেও সা'-এ বরকতের দু'আ করেছেন।
(وَبَارِكْ لَنَا فِي صاعِنا ومُدِّنا) এ দুটো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরিমাপ করা যায় এমন খাদ্যদ্রব্য। এখানে পাত্রের এবং পাত্রস্থ বস্তুর কথা বলা হয়েছে।
তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দুই সীমানার মিলের কারণ হলো, মদীনাবাসীরা সর্বদা সংকটময় জীবনযাপন ও পাথয়ের আশ্রয় প্রার্থনায় থাকতে হয়। তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য থাকে না। অতএব যখন তিনি (সা.) দারুল হিজরতে ইয়ামানবাসীর মনোযোগ ঝুঁকে পড়ার জন্য দু'আ করলেন। আর তারা ছিল বিপুল সংখ্যক মানুষ। তখন তিনি (সা.) মদীনাবাসীর খাদ্যের বরকতের জন্য দু'আ করলেন। যাতে তথাকার অধিবাসীর এবং আগন্তুক ব্যক্তিদের স্বচ্ছলতা আসে। আগমনকারীদের কারণে স্থায়ী বাসিন্দারা বিরক্ত না হয় এবং মুহাজিরদের সেথায় অবস্থান করা কঠিন না হয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৯৪৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৩-[৮] যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শাম (সিরিয়া) দেশের জন্য মুবারকবাদ। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কারণ কি? তিনি বললেন, আল্লাহর (রহমাতের) মালায়িক’র (ফেরেশতাগণ) তার ওপর নিজেদের পাখা বিস্তৃত করে রেখেছেন। (আহমাদ ও তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طُوبَى لِلشَّامِ» قُلْنَا: لِأَيٍّ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِأَنَّ مَلَائِكَةَ الرَّحْمَنِ بَاسِطَةٌ أَجْنِحَتَهَا عَلَيْهَا» رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 184 ۔ 185 ح 21942) و الترمذی (3954 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (لِأَنَّ مَلَائِكَةَ الرَّحْمَنِ) এখানে এ কথার ইঙ্গিতে মালাক (ফেরেশতা) থেকে উদ্দেশ্য হলো রহমাতের মালাক।
(اسِطَةٌ أَجْنِحَتَهَا عَلَيْهَا) অর্থাৎ শাম ভূখণ্ড ও তার অধিবাসীদেরকে কুফর থেকে রক্ষার জন্য মালায়িকা (ফেরেশতামণ্ডলী) তাদের ডানাকে বিছিয়ে দেন। যেমনটি কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন।
মানাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ মালায়িকাহ্ ক্ষতিকর ও ধ্বংসকারী বস্তুকে দূরীভূত করা ও বরকত নাযিল করার মাধ্যমে শামকে পরিবর্তন করে এবং বেষ্টন করে রাখে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩৯৬৬)
মালাকের (ফেরেশতার) ডানাকে পাখির ডানার সাথে তুলনা করা ঠিক নয়। কারণ পাখির তিন চার ডানার ব্যতিক্রম হয় না।
বলা হয়, নবী (সা.) - দু’বার জিবরীল (আঃ)-এর দু'শত ডানা দেখেছেন। মোটকথা মালাকের ডানা প্রমাণিত, কিন্তু তার আকৃতি বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৪-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে হাযরামাতের দিক হতে, অথবা বলেছেন, “হাযরামাওত’ হতে একটি আগুন বের হবে, তা মানুষদেরকে একত্রিত করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আমাদেরকে আপনি কি নির্দেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, তোমরা তখন অবশ্যই সিরিয়ায় চলে যাবে। (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَخْرُجُ نَارٌ مِنْ نَحْوِ حَضْرَمَوْتَ أَوْ مِنْ حَضْرَمَوْتَ تَحْشُرُ النَّاسَ» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا تَأْمُرنَا؟ قَالَ: «عَلَيْكُم بِالشَّام» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2217 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (عَلَيْكُم بِالشَّام) অর্থাৎ শামের পথ এবং তার পথে যাওয়া দলের সাথে গ্রহণ কর। কারণ সে সময় শাম প্রকৃত আগুন বা রূপক আগুন সেখানে পৌঁছা থেকে নিরাপদ। যেহেতু রহমতের মালাক (ফেরেশতা) তাকে সংরক্ষণ করেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ২২১৭, জামিউল কুতুবি তিস্'আহ্ এ্যাপ)
তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো আগুন চোখে দেখা যাবে যা এর আসল অর্থ। অথবা এ আগুন থেকে উদ্দেশ্য হলো ফিতনাহ্। দু' হিসেবেই এর উদ্দেশ্য হলো যে, তা হবে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে। কারণ তারা বলেছিল, আমাদের কি নির্দেশ দিবেন? অর্থাৎ তারা তা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৫-[১০] আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, অদূর ভবিষ্যতে এক হিজরতের পর আরেকটি হিজরত সংঘটিত হবে। তখন উত্তম মানুষ তারাই হবে, যারা ঐ স্থানে হিজরত করবে, যে স্থানে (সিরিয়ায়) ইবরাহীম (আঃ) হিজরত করেছিলেন। অপর এক বর্ণনাতে আছে, এ ধরাপৃষ্ঠে তারাই সর্বোত্তম যারা ইবরাহীম (আঃ)-এর হিজরতের স্থানকে নিজেদের হিজরত স্থান বানাবে। এ সময় ধরাপৃষ্ঠে শুধুমাত্র খারাপ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে। তাদেরকে তাদের দেশ বিতাড়িত করবে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে অপছন্দ করবেন। (অতঃপর) একটি আগুন তাদেরকে বানর ও শূকরের দলসহ হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে, আগুনও সেখানে রাত্র কাটাবে এবং তারা যেখানে দ্বিপ্রহরে বিশ্রাম নিবে, আগুনও সেখানে বিশ্রাম নিবে। (আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهَا سَتَكُونُ هِجْرَةٌ بَعْدَ هِجْرَةٍ فَخِيَارُ النَّاسِ إِلَى مُهَاجَرِ إِبْرَاهِيمَ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فَخِيَارُ أَهْلِ الْأَرْضِ أَلْزَمُهُمْ مُهَاجَرَ إِبْرَاهِيمَ وَيَبْقَى فِي الْأَرْضِ شِرَارُ أَهْلِهَا تَلْفِظُهُمْ أَرَضُوهُمْ تَقْذَرُهُمْ نَفْسُ الله تَحْشُرهُمْ النَّارُ مَعَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ تَبِيتُ مَعَهُمْ إِذَا بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ إِذَا قَالُوا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
حسن ، رواہ ابوداؤد (2482)
ব্যাখ্যা: (هِجْرَةٌ بَعْدَ هِجْرَةٍ) খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দ্বিতীয় হিজরত থেকে উদ্দেশ্য হলো শামের হিজরত করা। শাম দেশে অবস্থান করার জন্য এখানে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এটা ইবরাহীম (আঃ)-এর হিজরতের স্থান।
(تَقْذَرُهُمْ نَفْسُ الله) খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তা'আলা তাদের সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হওয়া এবং তথায় অবস্থান করাকে অপছন্দ করেন। সে কারণে আল্লাহ তাদেরকে সে ক্ষমতা দেন না। এতে তারা মানুষ যা অপছন্দ করে এবং বিরত থাকে তা গ্রহণ না করার উপযুক্ত হয়ে যায় ও বাদ পড়ে যায়।
নিহায়ায় রয়েছে, যখন কোন বস্তুকে অপছন্দ করা হয় এবং তা থেকে বিরত থাকে তখন বলা হয় ()। ('আওনুল মা'বুদ - “জামিউল কিতাবিত্ তিস্'আহ” এ্যাপ, হা. ২৪৮২)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৬-[১১] ইবনু হাওয়ালাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শীঘ্রই অবস্থা এমন হবে যে, তোমরা বিভিন্ন দলে আলাদা হয়ে পড়বে। একদল সিরিয়ায়, আরেক দল ইয়ামানে এবং আরেক দল ’ইরাকে হবে। ইবনু হাওয়ালাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সে যুগ পাই, তখন আমি কোন দলের সাথে থাকব তা আপনি নির্বাচন করে দিন। তিনি (সা.) বললেন, তুমি সিরিয়াকে গ্রহণ করবে। কারণ সিরিয়া হলো আল্লাহর পছন্দনীয় জমিন। শেষ যামানায় আল্লাহ তা’আলা তাঁর ভালো ও পুণ্যবান লোকেদেরকে সেখানে সমবেত করবেন। যদি তোমরা সেখানে যেতে না চাও, তাহলে ইয়ামানে চলে যাবে। তোমাদের (গবাদিপশুকে) নিজেদের হাওয হতে পানি পান করাবে। কেননা আল্লাহ তা’আলা আমার ওয়াসীলায় সিরিয়া এবং সিরিয়াবাসীর জন্য জিম্মাদার হয়ে গেছেন। (আহমাদ ও আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
عَن ابْنِ حَوَالَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «سيصير الْأَمر إِلَى أَنْ تَكُونُوا جُنُودًا مُجَنَّدَةً جُنْدٌ بِالشَّامِ وَجُنْدٌ بِالْيَمَنِ وَجُنْدٌ بِالْعِرَاقِ» . فَقَالَ ابْنُ حَوَالَةَ: خِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ. إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ. فَقَالَ: «عَلَيْك بِالشَّامِ فَإِنَّهَا خِيَرَةُ اللَّهِ مِنْ أَرْضِهِ يَجْتَبِي إِلَيْهَا خِيَرَتَهُ مِنْ عِبَادِهِ فَأَمَّا إِنْ أَبَيْتُمْ فَعَلَيْكُمْ بِيَمَنِكُمْ وَاسْقُوا مِنْ غُدَرِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَوَكَّلَ لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد
حسن ، رواہ احمد (4 / 110 ح 17130) و ابوداؤد (2483) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখা: (سيصير الْأَمر) অর্থাৎ ইসলাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে অথবা ইসলামের যুদ্ধ ব্যাপক হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(تَوَكَّلَ لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ) শামবাসীর জন্য আমার কারণে দায়িত্ব নিবেন যে, সেখানে ফিতনাহ্ পৌছবে এবং ফিতনার দ্বারা তথাকার অধিবাসীকে ধ্বংস করবেন না। (আওনুল মা'বুদ - “জামিউল কিতাবিত্ তিস’আহ্” এ্যাপ, হা. ২৪৮৩)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৭-[১২] শুরায়হ ইবনু ’উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’আলী (রাঃ)- এর সামনে শাম (সিরিয়া)-বাসীদের আলোচনা হয়। তখন কেউ বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! তাদের ওপর লা’নাতের বদ’দুআ করুন। উত্তরে ’আলী (রাঃ) বললেন, না, (লা’নাত করব না)। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, ’আবদাল সিরিয়াতেই হয়। তাঁরা চল্লিশ লোক। যখনই তাঁদের কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা তাঁর স্থানে আরেকজনকে নিযুক্ত করেন। তাঁদের বরকতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তাঁদের ওয়াসীলায় শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য পাওয়া যায় এবং তাঁদের বরকতে সিরিয়াবাসীদের ওপর হতে শাস্তি দূর করা হয়।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: ذُكِرَ أَهْلُ الشَّام عِنْد عليٍّ [رَضِي الله عَنهُ] وَقِيلَ الْعَنْهُمْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ: لَا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْأَبْدَالُ يَكُونُونَ بِالشَّامِ وَهُمْ أَرْبَعُونَ رَجُلًا كُلَّمَا مَاتَ رَجُلٌ أَبْدَلَ اللَّهُ مَكَانَهُ رَجُلًا يُسْقَى بِهِمُ الْغَيْثُ وَيُنْتَصَرُ بِهِمْ عَلَى الأعداءِ وَيصرف عَن أهل الشَّام بهم الْعَذَاب»
اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 112 ح 896) * شریح بن عبید عن علی رضی اللہ عنہ : منقطع ، فالسند ضعیف لانقطاعہ ۔ وقال سیدنا علی رضی اللہ عنہ :’’ ستکون فتنۃ یحصل الناس منھا کما یحصل الذھب فی المعدن فلا تسبوا اھل الشام و سبوا ظلمتھم فان فیھم الابدال و سیر سل اللہ الیھم سیبًا من السماء فیغرقھم ،،، ‘‘ الخ رواہ الحاکم (4 / 553 ح 8658) و صححہ و وافقہ الذھبی و سندہ صحیح ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (ذُكِرَ أَهْلُ الشَّام) এখানে শামের অধিবাসী বলতে ‘আলী (রাঃ)-এর বিরোধীদেরকে বুঝানো হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) এবং তার সাথে যারা শামদেশে ছিলেন। যিনি ‘উমার (রাঃ) এর শাসনকালের শেষ পর্যন্ত শামের শাসনকর্তা ছিলেন। সে কারণে ‘আলী (রাঃ)-এর সামনে তাদের মন্দ আলোচনা করা হয়েছে। এর জবাবে ‘আলী (রাঃ) বললেন, তাদের প্রতি অভিশম্পাত নয়। কারণ তারা আমাদের ভাই, যারা আমাদের বিরোধিতা করেছে। অন্যান্য বর্ণনায় এ কথায় স্পষ্টতাই উল্লেখ হয়েছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৫)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৮-[১৩] জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে সিরিয়া বিজয় হবে। অতএব যখন তোমাদেরকে সে স্থানে অবস্থানের সুযোগ দেয়া হবে, তখন তোমরা ’দামিশক’ নামীয় শহরকেই গ্রহণ করবে। কারণ তা হবে যুদ্ধ হতে মুসলিমদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং শামের তাঁবু। সেখানে আরেকটি মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে, যার নাম হলো ’গূত্বাহ্’। [উক্ত হাদীস দুটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ رَجُلٍ مِنَ الصَّحَابَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: سَتُفْتَحُ الشَّامُ فإِذا خُيِّرْتم المنازلَ فِيهَا فَعَلَيْكُم بِمَدِينَة يُقَال لَهُ دِمَشْقُ فَإِنَّهَا مَعْقِلُ الْمُسْلِمِينَ مِنَ الْمَلَاحِمِ وَفُسْطَاطُهَا مِنْهَا أَرْضٌ يُقَالُ لَهَا: الْغُوطَةُ . رَوَاهُمَا أَحْمَدُ
صحیح ، رواہ احمد (4 / 160 ح 17609 فیہ ابوبکر بن ابی مریم ضعیف و لحدیثہ شواھد عند ابی داود (4298) و سندہ صحیح) وغیرہ وبھا صح الحدیث ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (عَنْ رَجُلٍ) সাহাবীদের মধ্যকার এক ব্যক্তি। তার নাম জানা যায় না। কোন সাহাবীর নাম সম্পর্কে বর্ণনাকারীর না অবগত হওয়া সাহাবীর মর্যাদার কমতি হয় না। কারণ সমস্ত সাহাবী ন্যায়পরায়ণ।
(دِمَشْقُ) অধিকাংশ ও বিশুদ্ধ মতে ‘শাম’ দেশের রাজধানীর নাম। এ নামকরণের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ শহরটি দিমাশক ইবনু নমরূদ ইবনু কিন’আন স্থাপন করেন। তাই তাঁর নামে এ শহরের নাম দিমাশক রাখা হয়। 'আযীযী বলেন, তিনি ইবরাহীম (আঃ) ও সারাহ্-এর ওপর ঈমান এনেছিলেন। যখন তাঁর পিতা নমরূদ ইবরাহীম (আঃ)-এর নিদর্শনসমূহ দেখতে পেয়েছিলেন, তখন তিনি ছেলেকে তাঁর কাছে প্রেরণ করেন।
(مَعْقِلُ الْمُسْلِمِينَ) যুদ্ধের সময় মুসলিমদের আশ্রয় নেয়ার জায়গা। যেখানে মুসলিম প্রবেশ করে আশ্রয় গ্রহণ করবে। যেমন আশ্রয় নেয় বকরি পাহাড়ের চূড়ায়। (আওনুল মা'বুদ - “জামি'উল কিতাবিত্ তিস্'আহ্” এ্যাপ, হা. ৪২৯৮; মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৫)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৭৯-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: খিলাফত মদীনাতে এবং বাদশাহী হলো সিরিয়ায়।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخِلَافَةُ بِالْمَدِينَةِ وَالْمُلْكُ بِالشَّام»
اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 447) [و الحاکم (3 / 72 ح 4440 ۔ فیہ سلیمان بن ابی سلیمان الھاشمی مولی ابن عباس : لایعرف و ھیشم مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيفٌ)
ব্যাখ্যা: (لْخِلَافَةُ بِالْمَدِينَةِ) খিলাফত মদীনায় থাকে অর্থাৎ অধিকাংশ সময়ে। এজন্য যে, ‘আলী (রাঃ) স্বীয় খিলাফতের সময় কূফায় থাকতেন। অথবা এর অর্থ হলো মদীনায় খিলাফত স্থায়ী থাকবে।
(وَالْمُلْكُ بِالشَّام) বাদশাহী বা রাজত্ব থাকবে শামে। এ হাদীসে ‘আলী (রাঃ)-এর খিলাফত ও মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর রাজত্বের ইঙ্গিত রয়েছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৬)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৮০-[১৫] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি (স্বপ্নে) দেখেছি, একটি আলোর খুঁটি আমার নিচ হতে বের হয়ে উপরে আলোকিত হয়েছে- অবশেষে তা সিরিয়ায় গিয়ে স্থির হয়ে গেছে। [উক্ত হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ عَمُودًا مِنْ نُورٍ خَرَجَ مِنْ تَحْتِ رَأْسِي سَاطِعًا حَتَّى اسْتَقَرَّ بِالشَّامِ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»
سندہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 449) من طریق یعقوب بن سفیان الفارسی وھو فی کتاب المعرفۃ و التاریخ لہ (2 / 311) * فیہ نصر بن محمد بن سلیمان الحمصی ضعیف ضعفہ الجمھور و ابوہ مجھول الحال فالسند ضعیف ، و للحدیث شواھد ضعیفۃ ، انظر تنقیح الرواۃ (3 / 274) وغیرہ
ব্যাখ্যা: “শামে গিয়ে স্থির হলো” এ হাদীস শামে তাঁর বিজয়, দীন তথায় দৃঢ় ও স্থায়ী হওয়া প্রমাণ করে। মায়ের পেট থেকে নবী (সা.) -এর জন্মের সময় সেদিকে নূর বের হয়েছিল এবং এতে শাম অঞ্চল আলোময় হয়েছিল। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৬)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৮১-[১৬] আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (দাজ্জাল ও তার বাহিনীর সাথে) যুদ্ধের দিন মুসলিমদের সমবেত স্থান (দুর্গ) হবে ’গূত্বাহ্। তা দামিশক শহরের এক কিনারায় অবস্থিত। মূলত সিরিয়ার শহরসমূহের মাঝে দিমাশকই সর্বোত্তম শহর। (আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ بِالْغُوطَةِ إِلَى جَانِبِ مَدِينَةٍ يُقَالُ لَهَا: دِمَشْقُ مِنْ خَيْرِ مَدَائِنِ الشَّامِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4298) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (بِالْغُوطَةِ) যেখানে অনেক গাছপালা ও পানি বিদ্যমান রয়েছে। আলকামী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসের শেষ যামানায় দিমাশকের মর্যাদা ও তথাকার অধিবাসীর মর্যাদা প্রমাণিত হয়েছে। এ স্থান ফিতনাহ্ থেকে রক্ষা পাওয়ার দুর্গ স্বরূপ।
‘আযীযী শরহে জামিউস্ সগীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ইবনু আসাকির বলেন, এর অন্যতম ফযীলত হলো যে, এখানে দশ হাজার প্রহরী প্রবেশ করবেন, যারা নবী (সা.) -কে দেখেছেন। নবী (সা.) সেখানে নুবুওয়্যাতের আগে প্রবেশ করেছেন। আর পরে তাবুক যুদ্ধের সময় মিরাজের রাত্রিতে প্রবেশ করেন। (আওনুল মাবুদ হা. ২৪৯৮, “জামিউল কিতাবিত্ তিস্'আহ্” এ্যাপ)
(يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ) বলতে দাজ্জালের সাথে যুদ্ধকে বুঝানো হয়েছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৬)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইয়ামান ও শাম (সিরিয়া) দেশের বর্ণনা এবং উওয়াইস করানী-এর আলোচনা
৬২৮২-[১৭] ’আবদুর রহমান ইবনু সুলায়মান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে আজমী বাদশাহদের মাঝে হতে একজন বাদশাহর আগমন ঘটবে। অতঃপর দামিশক ব্যতীত সমস্ত শহরগুলোতে তার আধিপত্য স্থাপিত হবে। (আবূ দাউদ)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب تَسْمِيَة من سمي من أهل الْبَدْر فِي «الْجَامِعِ لِلْبُخَارِيِّ» )
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ: سَيَأْتِي مَلِكٌ مِنْ مُلُوكِ الْعَجَمِ فَيَظْهَرُ عَلَى الْمَدَائِنِ كلِّها إِلا دمشق. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4639) * فیہ عبد العزیز : لم اجدہ لہ ترجمۃ و لعلہ عبداللہ بن العلاء کما یظھر من تھذیب الکمال و ان صح فالسند صحیح
ব্যাখ্যা: (فَيَظْهَرُ عَلَى الْمَدَائِنِ) সব শহরকে দখল করবে শুধুমাত্র দিমাশক ব্যতীত।
ভাষ্যকারগণ স্পষ্টভাবে বলেননি যে, উক্ত রাজা কে? জেনে রাখা উচিত যে, শাম, বায়তুল মাকদিস, সখরাহা, আসক্বালান, কাযবীন, স্পেন এবং দিমাশক ছাড়া ও অন্য জায়গার ফযীলত সম্পর্কে অনেক বর্ণনা এসেছে। তবে মুহাদ্দিসগণ এগুলোর অধিকাংশকে য'ঈফ বলে মত পেশ করেন। আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত, যেমনটি (سفر السعادت) -এ উল্লেখ হয়েছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৬)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
অন্য উম্মতের তুলনায় রহমাতপ্রাপ্ত এ উম্মতের আধিক্য, ও সীমাহীন ফযীলত ও নেকীর বর্ণনা প্রমাণিত। এর প্রমাণে আল্লাহ তা’আলা বলেন, (کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ) অর্থাৎ “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের উত্থান ঘটেছে মানব জাতির জন্য...”- (সূরা আ-লি ইমরান ৩:১১০)। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন, (وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنٰکُمۡ اُمَّۃً وَّسَطًا لِّتَکُوۡنُوۡا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ) “আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত করেছি, যাতে তোমরা লোকেদের ওপর সাক্ষী হও এবং নবী তোমাদের ওপর সাক্ষী হয়...”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ১৪৩)। অতএব শ্রেষ্ঠ উম্মত বলতে এ উম্মতে মুহাম্মাদী-এর হওয়া এটাই যথেষ্ট। যিনি হলেন সৃষ্টির সেরা, নবী সর্দার ও সর্বশেষ নবী। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৭)
৬২৮৩-[১] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অতীত জাতিসমূহের সাথে তোমাদের জীবনের তুলনা হলো, ’আসরের সালাতের সময় হতে সূর্যাস্ত অবধি। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের এবং ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের উপমা হলো ঐ লোকেদের মত, যে শ্রমিকদেরকে কাজে নিযুক্ত করে বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক এক কীরাত্বের (বিশেষ মুদ্রা) বিনিময়ে দ্বিপ্রহর অবধি আমরা কাজ করব? ফলে ইয়াহূদীরা দ্বিপ্রহর অবধি এক এক কীরাত্বের শর্তে কাজ করল। অতঃপর ঐ লোক আবার বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক এক কীরাত্বের বিনিময়ে দ্বিপ্রহর হতে ’আসর অবধি আমার কাজ করবে? এবার খ্রিস্টানরা দ্বিপ্রহর হতে ’আসর অবধি এক এক কীরাকের বিনিময়ে কাজ করল। লোকটি অতঃপর বলল, তোমাদের কে ’আসর হতে সূর্যাস্ত অবধি দুই দুই কীরাত্বের বিনিময়ে আমার কাজ করবে? জেনে রাখ! লোক তোমরাই, যারা আসরের সালাত হতে সূর্যাস্ত অবধি কাজ করবে এবং জেনে রাখ! পারিশ্রমিক তোমাদের জন্য দ্বিগুণ। এতে ইয়াহুদী এবং খ্রিষ্টান উভয় দল ভীষণভাবে রাগান্বিত হলো এবং বলল, আমাদের কাজ বেশি এবং পারিশ্রমিক কম। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমি কি তোমাদের পাওনা হক সম্পর্কে সামান্যটুকুও যুলম করেছি? তারা বলল, না। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বললেন, এটা আমার অনুকম্পা যাকে ইচ্ছা দান করি। (বুখারী)
الفصل الاول (بَاب ثَوَاب هَذِه)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّمَا أَجَلُكُمْ فِي أَجَلِ مَنْ خَلَا مِنَ الْأُمَمِ مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ وَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى كَرَجُلٍ اسْتَعْمَلَ عُمَّالًا فَقَالَ: من يعْمل إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ فَعَمِلَتِ الْيَهُودُ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ فَعَمِلَتِ النَّصَارَى مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ. ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ عَلَى قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ؟ أَلَا فَأَنْتُمُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ أَلَا لَكُمُ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ فَغَضِبَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالُوا: نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَأَقَلُّ عَطَاءً قَالَ الله تَعَالَى: هَل ظَلَمْتُكُمْ مِنْ حَقِّكُمْ شَيْئًا؟ قَالُوا: لَا. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: فَإِنَّهُ فَضْلِي أُعْطِيهِ مَنْ شِئْتُ . رَوَاهُ البُخَارِيّ
رواہ البخاری (3459) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَأَقَلُّ عَطَاءً) উদ্দেশ্য হলো এই যে, ইয়াহুদী ও নাসারার প্রত্যেক দলের বয়স অধিক ছিল এবং ‘ইবাদাতও ছিল অনেক। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মাদীর বয়স কম হওয়ার কারণে ও স্বল্প “ইবাদাতে তাদের সাওয়াব দ্বিগুণ, এটা আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ। এ হাদীসের মতো বর্ণনা ইঞ্জীলেও রয়েছে। যেমন মাত্তার ইঞ্জীলের বিশতম অধ্যায়ে এক আয়াতে ‘ঈসা (আঃ) বলেন, এক মালিক সকালে একজন দিনমজুরকে এক দীনারের বিনিময়ে নিয়োগ করে স্বীয় বাগানে প্রেরণ করেন। কিছুক্ষণ পরে আবার আরো এক শ্রমিককে একই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়োগ করেন।
প্রথম শ্রমিক অভিযোগ করে বলল, আমাদের সারা দিনের শ্রম ও এ ব্যক্তির অল্প শ্রমের বিনিময় সমান হয়ে গেল না? মালিক জবাবে বললেন, আমি কি তোমাদের ওপর যুলম করেছি, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তোমাদেরকে নির্ধারণ করেছি তাতে তোমাদের পাওনা কম হয়েছে কি? নিজের সম্পদে আমার স্বাধীনতা রয়েছে। যাকে যেমন ইচ্ছা তেমন দেয়। এর ভিত্তিতে অগ্রবর্তীরা পেছনে পড়ে যায় এবং পূর্ববর্তীরা পশ্চাৎভাগে চলে আসে। মানুষ তো অনেক কিন্তু গ্রহণযোগ্য ও পুণ্যবান কমই থাকে। শুধু ইঞ্জীলের আলোচনা থেকে এ কথা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত যে, উম্মতে মূসা ও ‘ঈসা (আঃ) থেকে উম্মতি মুহাম্মাদী সম্মানে ও সাওয়াবে শ্রেষ্ঠ। সর্বশেষ উম্মত কিন্তু এটা আল্লাহর তা'আলার মহা অনুগ্রহ। ইয়াহূদী ও নাসারাদের শোরগোলে কী হবে? (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৮)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৪-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মাঝে আমার প্রতি অত্যধিক ভালোবাসা পোষণকারী লোক তারা হবে, যারা আমার পরে জন্মগ্রহণ করবে। তাদের কেউ এই আকাক্ষা রাখবে, যদি সে আমাকে দেখতে পায়, তাহলে আমার জন্য নিজেদের পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ কুরবান করে দেবে। (মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَشَدِّ أمتِي لي حُبَّاً نَاسا يَكُونُونَ بَعْدِي يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ رَآنِي بِأَهْلِهِ وَمَاله» . رَوَاهُ مُسلم
رواہ مسلم (12 / 2832)، (7145) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (إِنَّ مِنْ أَشَدِّ أمتِي لي حُبَّاً) অথাৎ নবী (সা.) -কে দর্শনের আকাঙ্ক্ষায় স্বীয় পরিবার-পরিজন ও সহায় সম্পদকে উৎসর্গ করার আগ্রহ ব্যক্ত করবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৮) সেকালে অন্যদের তুলনায় তারা তাঁর প্রতি অসামান্য ভালোবাসা দেখানোর মতো মানুষ।
(يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ رَآنِي بِأَهْلِهِ وَمَاله) মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো, যদি আমার সাথে তাদের দর্শন ও মিলিত হওয়ার সময় আসে তবে তারা পরিবার ও সম্পদকে কুরবান করার আকাক্ষা পোষণ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৫-[৩] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একদল লোক সর্বদা আল্লাহর হুকুমের উপর অটল থাকবে। যারা তাদেরকে অপমানিত করতে চাইবে এবং যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে, এরা তাঁদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমনকি তাঁরা কিয়ামত অবধি এ অবস্থায় বিদ্যমান থাকবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
আনাস (রাঃ)-এর হাদীস (إِنَّ مِنْ عِبَادِ الله) “আল্লাহর বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত” “কিসাস’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
الفصل الاول (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَن مُعَاوِيَة قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَزَالُ مِنْ أُمَّتِي أُمَّةٌ قَائِمَةٌ بِأَمْرِ اللَّهِ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ وَلَا مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ عَلَى ذَلِكَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَذُكِرَ حَدِيثُ أَنَسٍ «إِنَّ مِنْ عِبَادِ الله» فِي «كتاب الْقصاص»
متفق علیہ ، رواہ البخاری (3641) و مسلم (174 / 1037)، (4955) و حدیث انس :’’ ان من عباد اللہ ‘‘ تقدم (3460) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা: (أُمَّةٌ قَائِمَةٌ بِأَمْرِ اللَّهِ) এ দল থেকে হাদীসের অনুসারীকে বুঝানো হয়েছে। যেমন ‘আলী ইবনু মাদীনী (রহিমাহুল্লাহ) তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যে, এ দল হচ্ছে আসহাবুল হাদীস তথা হাদীসের অনুসারীর দল। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৮)।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর অর্থ হলো আমার উম্মত সব একেবারে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এমনটি নয়। বরং একটি দল তখনো অবশ্যই হাকের উপর কায়েম থাকবে। আর এটা হাদীসের অনুসারী দল। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) এ কথা খুবই সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। অনেক ‘আলিম পরিষ্কারভাবে লিখেছেন যে, উপরোক্ত আলোচনার প্রমাণিত দল বলতে এমন লোকেদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা মানুষের মতামত ও অসার বলাবলি থেকে দূরে থেকে শুধু কিতাব ও সুন্নাতের প্রকাশ্য অর্থকে নিজেদের ‘আমলের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সাহাবা, তাবিঈ, তাবি তাবি'ঈন, মুহাদ্দিসীন ও আয়িমায়ে মুজতাহিদীনদের ‘আমলকে স্বীয় ‘আমলরূপে পরিগ্রহণ করেন। দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, উল্লেখিত ইসলামী বুযুর্গরা বর্তমানের অন্ধ তাক্বলীদকে মানতেন না। না তাদের মাযহাবের নামে আলাদা আলাদা কোন দল ছিল, যেমন পরবর্তীতে কা'বা ঘরের চারপাশে চার মুসল্লার মতো নিন্দনীয় ভাগে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে, হাদীসের অনুসারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে আজ মুসলিম আবার কিতাব ও সুন্নাতের এক ও অভিন্ন পথে অগ্রসর হচ্ছে। (সহীহুল বুখারী - ৫ম খণ্ড, হা. ৩৬৪১, দারুল ইলম, মুম্বাই)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৬-[8] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত হলো বৃষ্টির মতো, যার সম্পর্কে (দৃঢ়তার সাথে) বলা যায় না, তার প্রথমাংশ উত্তম, নাকি শেষাংশ? (তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ أُمَّتِي مَثَلُ الْمَطَرِ لَا يُدْرَى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَمْ آخِرُهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
حسن ، رواہ الترمذی (2869 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح لطرقه)
ব্যাখ্যা: (لَا يُدْرَى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَمْ آخِرُهُ) নবী (সা.) -এর সমস্ত উম্মতের জন্য এটা উদাহরণ নয়। বরং সাহবায়ে কিরাম উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে কুরআন ও সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। এ দৃষ্টান্ত অন্যান্য উম্মত ছাড়া কল্যাণের যুগের সাথে সম্পৃক্ত সাহাবীদের জন্য প্রযোজ্য। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৯)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৭-[৫] জা’ফার তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে) বলেছেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর, সুসংবাদ গ্রহণ কর! আমার উম্মতের উপমা হলো মুষলধারে বৃষ্টির মতো। যার সম্পর্কে বলা যায় না, তার প্রথমাংশ শ্রেয় নাকি শেষাংশ? অথবা ঐ উদ্যানের মতো, একদল লোক এক বছর তা হতে ভোগ করল, অতঃপর আরেক দল লোক পরবর্তী বছর তা হতে ভোগ করল। এমনও তো হতে পারে, শেষে যারা ঐ বাগান হতে উপকৃত হয়েছে তারা বেশি প্রসার ও প্রভাব লাভ করবে, গুণাবলিতেও অধিক হবে। সে উম্মত কিভাবে ধ্বংস হতে পারে, যাদের প্রথমে রয়েছি আমি? মাঝে ইমাম মাহদী এবং শেষে মাসীহ ’ঈসা (আঃ)। অবশ্য তার মধ্যবর্তী সময়ে এমন বক্র দল প্রকাশ পাবে, আমার সাথে যাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং আমিও তাদের সাথে সম্পর্কিত নই। (রযীন)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْشِرُوا إِنَّمَا مَثَلُ أُمَّتِي مَثَلُ الْغَيْثِ لَا يُدْرَى آخِرُهُ خَيْرٌ أَمْ أَوَّلُهُ؟ أَوْ كَحَدِيقَةٍ أُطْعِمَ مِنْهَا فَوْجٌ عَامًا لَعَلَّ آخِرَهَا فَوْجًا أَنْ يكون أعرَضَها عرضا وَأَعْمَقَهَا عُمْقًا وَأَحْسَنَهَا حُسْنًا كَيْفَ تَهْلِكُ أُمَّةٌ أَنَا أَوَّلُهَا وَالْمَهْدِيُّ وَسَطُهَا وَالْمَسِيحُ آخِرُهَا وَلَكِنْ بَين ذَلِك فَيْجٌ أَعْوَج لَيْسُوا وَلَا أَنا مِنْهُم» رَوَاهُ رزين
لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) و انظر الحدیث المقدم (3340) * و للحدیث شاھد منکر فی تاریخ دمشق (50 / 365 ، 5 / 380) سندہ مظلم (انظر الضعیفۃ للالبانی : 2349) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (لَا يُدْرَى آخِرُهُ خَيْرٌ أَمْ أَوَّلُهُ؟) এ হাদীসের প্রকাশ্য অর্থে বুঝা যায়, এতে এ সংশয় ও অনিশ্চয়তা আছে যে, প্রথম উম্মতেরা উত্তম না শেষ উম্মতেরা উত্তম। মূলত এখানে সমস্ত উম্মত উত্তম। যেমন সব বৃষ্টি উপকারী ও উত্তম হয়। কল্যাণ ও উপকারে সব সমান।
প্রথম দিকের উম্মতেরা নবী (সা.) -এর সান্নিধ্য লাভ করে ইসলামের প্রতি তাঁর আহ্বানে এবং দিক নির্দেশনায় তাঁর অনুসরণ করেছে। তাঁর দীনের মূলনীতিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং নবী (সা.) -কে সাহায্য করেছে। আর পরবর্তীরা সে নীতিকে সমর্থন করে রক্ষা করেছে। তার কাঠামোকে পূর্ণতা দান করে তার রুকনগুলোকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মশালকে উন্নত করে তার আলোকে ছড়িয়েছে এবং এর নিশানকে প্রকাশ করেছে।
(لَيْسُوامِنِّيْ) তারা আমার পথের পথিক নয়। (وَلَا أَنا مِنْهُم) আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ আমি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট নই, না আমি তাদের সাহায্য করব। বরং আমি তাদের যুলম পাপাচারিতার কারণে তাদের প্রতি নারাজ ও অসন্তুষ্ট। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৯-৩০০)।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৮-[৬] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামকে প্রশ্ন করলেন, আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মাঝে ঈমানের দিক দিয়ে কাকে তোমরা অধিক পছন্দ কর? তারা বললেন, মালায়িকা (ফেরেশতাদের)-কে। নবী (সা.) বললেন, তাঁরা ঈমান আনবে না কেন, তারা তো তাঁদের প্রভুর কাছেই আছেন। এবার সাহাবীগণ বললেন, তবে নবীগণ। তিনি (সা.) বললেন, তারা ঈমানদার হবে না কেন, তাঁদের ওপর তো ওয়াহী অবতীর্ণ হয়ে থাকে। এবার তারা বললেন, তবে আমরা। তিনি (সা.) বললেন, তোমরা ঈমান আনয়ন করবে না কেন, অথচ আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান আছি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমার কাছে ঈমানের দিক দিয়ে সবচেয়ে পছন্দনীয় ঐ সম্প্রদায়, যারা আমার পরে জন্মগ্রহণ করবে। যারা সহীফাহ্ (কুরআন) পাবে, এতে আল্লাহর যে সকল বিধাসমূহ লিপিবদ্ধ রয়েছে, তার ওপর তারা ঈমান আনবে।
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّ الْخَلْقِ أَعْجَبُ إِلَيْكُمْ إِيمَانًا؟» قَالُوا: فالنبيون قَالَ: «ومالهم لَا يُؤْمِنُونَ وَالْوَحْيُ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ؟» قَالُوا: فَنَحْنُ. قَالَ: «ومالكم لَا تُؤْمِنُونَ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ؟» قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِن أَعْجَبَ الْخَلْقِ إِلَيَّ إِيمَانًا لَقَوْمٌ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي يَجِدُونَ صُحُفًا فِيهَا كِتَابٌ يُؤْمِنُونَ بِمَا فِيهَا»
اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 548) * و المغیرۃ بن قیس : ذکرہ ابن حبان فی الثقات (9 / 168) وقال ابو حاتم الرازی :’’ منکر الحدیث ‘‘ (الجرح و التعدیل 8 / 228) و الجرح فیہ مقد
ব্যাখ্যা: (أَيُّ الْخَلْقِ أَعْجَبُ) সৃষ্টিজীবের মধ্যে থেকে কাদের ঈমান অধিক উত্তম ও মজবুত উত্তরে সাহাবীগণ বললেন, মালাকের (ফেরেশতার) ঈমান। রাসূল (সা.) বলেন, কিভাবে তা হয় অথচ তারা আল্লাহ তা'আলার নিকটে অবস্থান করে তার বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক বস্তু দেখেছে ও ঈমান এনেছে?
(قَالُوا: فالنبيون) তারা বললেন, রাসূল (সা.) বলেন, কিভাবে? তাদের ওপর ওয়াহী নাযিল হয়, তাঁদের নিকট রুহুল আমীন মালাক (ফেরেশতা) আগমন করেন। তাদের নিকটে বিনা মাধ্যমে আল্লাহর পয়গাম এসেছে। আল্লাহ তা'আলার প্রত্যক্ষ ও চাক্ষুষ ক্ষমতা দর্শন করেছেন।
(قَالُوا: فَنَحْنُ) তারা বললেন, আমাদের ঈমান। রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের মজবুত ঈমানের কি শান রয়েছে? অথচ তোমরা নুবুওয়্যাতের নিদর্শনাবলী এবং ঈমান ও ওয়াহীর প্রভাবকে একেবারে প্রত্যক্ষ করেছ।
(لَقَوْمٌ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي) আমার পরে অর্থাৎ আমার মৃত্যুর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আমার আনুগত্যকারীরা।
(يَجِدُونَ صُحُفًا) তারা পাবে কুরআন ও হাদীস যাতে দীনের বিধি-বিধান লিপিবদ্ধ রয়েছে।
(يُؤْمِنُونَ بِمَا فِيهَا) রসূলের মুখের হাদীসের খবর এবং কুরআনের বিভিন্ন অদৃশ্য সংবাদ শুনে দেখে না দেখে অদৃশ্য বস্তুর প্রতি ঈমান নিয়ে আসে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩০০)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৮৯-[৭] ’আবদুর রহমান ইবনু ’আলা আল হাযরামী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এমন এক লোক বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছেন, তিনি (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে এ উম্মতের শেষলগ্নে এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যাঁদের ভালো ’আমলের সাওয়াব তাদের প্রথম যুগের লোকেদের বরাবর হবে। তাঁরা মানুষদেরকে ভালো কাজ করতে আদেশ করবেন এবং মন্দকাজ হতে বারণ করবেন। আর ফিতনাবাজদের সাথে যুদ্ধ করবেন। [উক্ত হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَلَاءِ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي آخِرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَوْمٌ لَهُمْ مِثْلُ أَجْرِ أَوَّلِهِمْ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقَاتِلُونَ أَهْلَ الْفِتَنِ» رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة
اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 513) * السند حسن الی عبد الرحمن بن العلاء الحضرمی و ذکرہ ابن حبان فی الثقات (5 / 100) وحدہ فھو مجھول الحال ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা: (مِثْلُ أَجْرِ أَوَّلِهِمْ) অর্থাৎ সাহাবীদের এবং নেকীর ন্যায়।
(وَيُقَاتِلُونَ أَهْلَ الْفِتَنِ) ফিতনাবাজদের সাথে যবান দিয়ে ও হাত দ্বারা যুদ্ধ করবে। ফিতনাবাজ থেকে উদ্দেশ্য হলো অত্যাচারী খারিজী, রাফিজী ও অন্যান্য বিদ'আতী লোক। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩০১)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৯০-[৮] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তাঁদের জন্য সুসংবাদ যাঁরা আমাকে দেখেছে (এবং ঈমান এনেছে) এবং সাতবার সুসংবাদ ঐ সকল লোকের জন্য, যারা আমাকে না দেখে আমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। (আহমাদ)।
নোটঃ وَطُوبَى سَبْعَ مَرَّاتٍ অর্থাৎ সাতবার সুসংবাদ এই অংশটুকু আমরা আমাদের নেয়া মুল আরবীতে পাইনি – হাদিসবিডি এডমিন
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «طُوبَى لِمَنْ رَآنِي [وَآمَنَ بِي] وَطُوبَى لِمَنْ لَمْ يَرَنِي وَآمَنَ بِي» . رَوَاهُ أَحْمد
سندہ ضعیف ، احمد (5 / 248 ح 22490 ، 5 / 257) * فیہ قتادۃ مدلس و عنعن عن ایمن بن مالک الاشعری ولہ طریق آخر ضعیف عند ابن حبان (الموارد : 2303) و حدیث ابن حبان (الموارد : 2302) بلفظ :’’ طوبی لمن رانی و آمن بی و طوبی ثم طوبی لمن آمن بی ولم یرنی ‘‘ و سندہ حسن فھو یغنی عنہ
ব্যাখ্যা: (وَطُوبَى سَبْعَ مَرَّاتٍ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক বুঝানো, সীমাবদ্ধকরণ নয়। এ হাদীসে নির্ধারিত সাত সংখ্যাকে শারী'আত প্রণেতা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জ্ঞানের উপর সোপর্দ করতে হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৯১-[৯] আবূ মুহায়রীয (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ জুমু’আহ্ (রাঃ) নামক এক সাহাবীকে বললাম, আমাকে এমন একটি হাদীস বলুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে শুনেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তোমাকে খুবই চমৎকার একটি হাদীস বর্ণনা করব। একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সকালের খানা খাচ্ছিলাম। আবূ উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-ও আমাদের সাথে ছিলেন। তখন আবূ উবায়দাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের চেয়েও কোন উত্তম লোক আছে কি? কেননা আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার সঙ্গে থেকে জিহাদ করেছি। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তারা এমন এক কওম, যারা তোমাদের পরে দুনিয়াতে আসবে। আমার ওপর ঈমান আনবে, অথচ আমাকে তারা দেখেনি। [আহমাদ ও দারিমী, আর রযীন আবূ উবায়দাহ্ হতে (يَا رَسُولَ اللَّهِ. أَحَدٌ خَيْرٌ) হতে শেষ পর্যন্ত কথাটি বর্ণনা করেছেন]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَن أبي مُحَيْرِيزٍ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي جُمُعَةَ رَجُلٌ مِنَ الصَّحَابَةِ: حَدِّثْنَا حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: نَعَمْ أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا جَيِّدًا تَغَدَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ. أَحَدٌ خَيْرٌ منَّا؟ أسلمْنا وَجَاهَدْنَا مَعَكَ. قَالَ: «نَعَمْ قَوْمٌ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِكُمْ يُؤْمِنُونَ بِي وَلَمْ يَرَوْنِي» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ وَرَوَى رَزِينٌ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ مِنْ قَوْلِهِ: قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ. أَحَدٌ خَيْرٌ مِنَّا إِلى آخِره
حسن ، رواہ احمد (4 / 106 ح 17102) و الدارمی (2 / 308 ح 2747) و رزین (لم اجدہ) [و صححہ الحاکم (4 / 85) و وافقہ الذھبی و سندہ حسن] ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (وَمَعَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ) আবূ ‘উবায়দাহ্ ইবনু জাররাহ হলেন আশারায়ে মুবাশশারাহ এর অন্যতম একজন।
(أَحَدٌ خَيْرٌ منَّا؟) আমাদের সাথে যারা মিলিত হবে অথবা আমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে কিংবা পরবর্তীতে আসা লোকেরা আমাদের চাইতে উত্তম? যারা আপনার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং সংগ্রাম করেছে তাদের চাইতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমাদের পরবর্তী দল তোমাদের চাইতে উত্তম হবে, কারণ তারা আমাকে না দেখে ঈমান আনয়ন করবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ হবে। যদিও তোমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, নিজ চোখে দেখাতে ও সংগ্রামে তাদের চাইতে তোমরাই উত্তম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৯২-[১০] মু’আবিয়াহ্ ইবনু কুররাহ্ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সিরিয়াবাসীগণ যখন ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন আর তোমাদের মাঝে কোন কল্যাণ থাকবে না। আর আমার উম্মতের একদল লোক সর্বদা কিয়ামত অবধি শত্রুদের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের সাহায্য করবে না। তারা তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। ইবনুল মাদানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এঁরা হলেন মুহাদ্দিসীনের দল। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا فَسَدَ أَهْلُ الشَّامِ فَلَا خَيْرَ فِيكُمْ وَلَا يَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ» قَالَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ: هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2192) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (إِذَا فَسَدَ أَهْلُ الشَّامِ فَلَا خَيْرَ فِيكُمْ) অর্থাৎ, সেখানে বসে অবস্থান করাতে অথবা সে অভিমুখে যাত্রা করাতে কোন কল্যাণ নেই।
(طَائِفَةٌ) কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الُ طَائِفَةٌ) বলতে একটি নির্দিষ্ট দলকে বুঝানো হয়েছে। নিহায়ায় বর্ণিত হয়েছে, (الُ طَائِفَةٌ مَنْصُورِينَ) হলো মানুষের একটি দল। এটি একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়। যেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খোদ এক শ্রেণি। (مَنْصُورِينَ) অর্থাৎ দীনের শত্রুদের ওপর বিজয়ী। (لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ) তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা না করাতে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। কিয়ামত সংগঠিত হওয়া বলতে ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কিয়ামত সন্নিকটে আসা পর্যন্ত। আর তা হলো (خريج الريح) তথা মৃদু হাওয়া বয়ে যাওয়া।
কুসত্বলানী (রহিমাহুল্লাহ) বুখারীর ব্যাখ্যায় বলেন, এ হাদীসটি মুসলিমে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক বা পরস্পর বিরোধী। এর উত্তরে বলা যায় যে, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নিকৃষ্ট মানুষের ওপর কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে (شرارالناس) থেকে উদ্দেশ্য হলো, তারা এমন মানুষ যারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করবে। অপর স্থানে থাকবে একদল যারা হকের পথে যুদ্ধ করবে। তবারানীতে আবূ উমামাহ্-এর হাদীসে আছে, জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কোথায় থাকবে। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, তারা বায়তুল মাক্বদিসে থাকবে। যাদেরকে দাজ্জাল বের হয়ে ঘিরে ফেলবে। অতঃপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম নেমে আসবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। হতে পারে এটা হবে দাজ্জাল বের হওয়ার সময় অথবা ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর মৃত্যুর পর যার পূর্বে এক হাওয়া বয়ে যাবে। যে হাওয়াতে যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র ঈমান রয়েছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। প্রত্যেকে মৃত্যুবরণ করবে। শুধুমাত্র থাকবে পৃথিবীর নিকৃষ্ট মানুষেরা। তাদের ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে। এভাবেই মুসলিমমুক্ত পৃথিবী নিশ্চিত হবে। অধিকন্ত এ সম্মানিত দল থেকে তো বটেই। এভাবেই ফাতহুল বারীতে দুই হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধন করা হয়, যা গ্রহণে নির্ভরযোগ্য।
(أَضحَابُ الْحَدِيثَ) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেন, তারা হলো (اهل العلم) অর্থাৎ ‘আলিম উলামা।
‘আল্লামাহ্ হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর (الفتح) গ্রন্থে বলেন, হাকাম ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সহীহ সনদে উলূমুল হাদীসে বলেন, (إِنْ لَمْ يَكُونُواأَهْلَ الْحَدِيثِ فَلَا أَدُرِي مَنْ هُمْ) অর্থাৎ এ দল যদি আহলে হাদীস না হয়, তাহলে আমার জানা নেই তারা কারা।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মূলত ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর দ্বারা আহলে হাদীস আদর্শের অনুসারী বা তাদের আক্বীদায় বিশ্বাসীদেরকে এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতকে বুঝাতে চেয়েছেন। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হতে পারে এরা মু'মিনদের বিভিন্ন দল। যাদের মধ্যে বীর যোদ্ধা, ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, দুনিয়াত্যাগী সৎকাজের নির্দেশ দাতা ও মন্দ কাজের নিষেধকারী রয়েছে। আরো বিভিন্ন প্রকার কল্যাণকামী দল তাদের একত্রিত থাকা আবশ্যক নয়। বরং তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত থাকবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী - “জামিউল কিতাবিত তিস্'আহ” এ্যাপ, হা, ২১৯২)
(حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ) কিয়ামত সংগঠিত হওয়া পর্যন্ত। অর্থাৎ কিয়ামত নিকটে চলে আসবে। আসহাবুল হাদীস অর্থাৎ হাদীসের অনুসারীদের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন ও হাদীসের পথে কায়িম থাকবে, মানুষেরা তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে। কিন্তু তাদের শত্রুতায় কোনই ক্ষতি হবে না। কিয়ামত পর্যন্ত এ দল কায়িম থাকবে এমনকি ইমাম মাহদীর সাথে মিলিত হবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩০২)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৯৩-[১১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মতের ভুল-ভ্রান্তিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সে কাজটিও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে কাজটি তাদের দ্বারা জোরপূর্বক করানো হয়। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ
صحیح ، رواہ ابن ماجہ (2043) و البیھقی فی السنن الکبری (7 / 356) ۔
(صَحِيح لطرقه)
ব্যাখ্যা: ইবনু মাজাহ এ হাদীসের উপর বাধ্য ও ভুলকারী ব্যক্তির ত্বলাক্ব শিরোনামে অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি বলেন, (باب طلاق المكره والناسى) অতঃপর এ হাদীসকে উল্লেখ করেন। এ হাদীস থেকে বুঝা গেল যে, বাধ্য ও ভুলকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করেন। দুনিয়াবী ক্ষেত্রেও তা ক্ষমার্হ। ভুলক্রমে তালাক দিলে অথবা বাধ্য হয়ে ত্বলাক্ব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুরূপভাবে ভুলক্রমে ঘটে গেলেও। যেমন, মুখে আলহামদুলিল্লা-হ বলার ইচ্ছা করেছে, কিন্তু বের হয়েছে (انتطالق) এক্ষেত্রেও তালাক হবে না। যারা ভুল-ক্রটিকেও ত্বলাক পড়ার পক্ষে মতামত দেন, তাদের সিদ্ধান্ত এ হাদীসের আলোকে সঠিক নয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩০২)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - এ উম্মতের [উম্মতে মুহাম্মাদী (সা.)-এর] সাওয়াবের বিবরণ
৬২৯৪-[১২] বাহয ইবনু হাকীম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি আল্লাহর কালাম (كُنْتُمْ خير أُمَّةٍ أًّخرجت للنَّاس) “তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (সর্বাত্মক কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে...”- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩: ১১০); এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তোমরাই সত্তরতম উম্মতকে পরিপূর্ণ করলে। তোমরাই সকল উম্মতের মাঝে আল্লাহ তা’আলার দৃষ্টিতে সর্বোত্তম ও মর্যাদাবান উম্মত। [তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান]
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب ثَوَاب هَذِه)
وَعَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: [كُنْتُمْ خير أُمَّةٍ أًّخرجت للنَّاس] قَالَ: «أَنْتُمْ تُتِمُّونَ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3001) و ابن ماجہ (4288) و الدارمی (2 / 313 ح 2763) ۔
(حسن)
ব্যাখ্যা: (تُتِمُّونَ سَبْعِينَ أُمَّةً) অর্থাৎ তোমাদের দ্বারা সত্তর সংখ্যা পূর্ণ হবে। মানাবী বলেন, এর দ্বারা আধিক্যতা বুঝানো হয়েছে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সত্তর সংখ্যা থেকে উদ্দেশ্য হলো অধিক সংখ্যক। সীমিত অর্থে নয়। কারণ, (الْخَيْرِ) শব্দটিকে (نكره مفرد) তথা অনির্দিষ্ট এককের প্রতি (إِضَافَةَ) (সম্বন্ধ) করা হয়েছে। যেহেতু সীমাবদ্ধ সংখ্যার দিক থেকে বাকী থাকা উম্মত হিসেবে তারা এর পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ হলো যখন পূর্ববর্তী উম্মত কম হয়েছে তখন তোমরা হয়েছ (শ্রেষ্ঠ উম্মত)। আর শ্রেষ্ঠত্বের কারণকে তোমরাই পূর্ণ করেছ। কারণ এ থেকে উদ্দেশ্য হলো সর্বশেষ আগমন করা যেমন তোমাদের নবী হলেন সর্বশেষ নবী। তেমনিভাবে তোমরা হলে সর্বশেষ উম্মত। আল্লাহ তা'আলার বাণী (کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ) থেকে উদ্দেশ্য হাদীস থেকে বুঝা গেল তারা হলো নবী (সা.) -এর সমস্ত উম্মত।
হাফিয ইবনু কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ উম্মতে মুহাম্মাদী সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। মহান আল্লাহ বলেন, (کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ) অর্থাৎ “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের উত্থান ঘটেছে মানব জাতির জন্য...”- (সূরাহ্ আলি ‘ইমরান ৩: ১১০)।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মানব জাতির নিকটে তোমরা উত্তম জাতি। তোমরা তাদেরকে দলে দলে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছ। তাই তারা ইসলামের ছায়ায় দাখিল হয়েছে। অনুরূপভাবে ইবনু আব্বাস, মুজাহিদ, ‘আতিয়্যাহ্ আল আওফী, ইকরিমাহ্, ‘আত্বা, রবী ইবনু আনাস প্রমুখ সাহাবীগণ এ আয়াতে ব্যাখ্যায় বলেন, তারা হলো শ্রেষ্ঠ জাতি এবং মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উপকারী। কারণ, আল্লাহ বলেন, (تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ) “...তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ কর ও আল্লাহর প্রতি ঈমান রক্ষা করে চল..."- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩:১১০)।
আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসনাদে, নাসায়ী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনানে, হাকিম তার ‘মুসতাদরাকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য হলো, যারা রাসূল (সা.) -এর সাথে মক্কাহ্ থেকে মদীনায় হিজরত করেছে। তবে সঠিক কথা হলো, সাধারণত এ আয়াত প্রত্যেক যুগের সব উম্মতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ যুগ হলো, যাদের মাঝে রাসূল (সা.) প্রেরিত হয়েছেন। অতঃপর পরের যুগ, তার পরবর্তী যুগ। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنٰکُمۡ اُمَّۃً وَّسَطًا) “আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত করেছি...”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ১৪৩); অর্থাৎ- শ্রেষ্ঠত্ব।
মূলত এ উম্মত তাঁদের নবী (সা.) -এর মাধ্যমে কল্যাণের দিকে অগ্রবর্তীতা অর্জন করেছে। কারণ, তিনি আল্লাহর সেরা সৃষ্টি এবং আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল। তাঁকে আল্লাহ মহান পূর্ণ শারী'আত দিয়ে পাঠিয়েছেন। যা পূর্বের কোন নবী বা রাসূল-কে দেননি। তাঁর পথ ও পদ্ধতির উপর আমল কম সংখ্যকরা করেছে। যে স্থানে অন্যদের ‘আমল বেশি ছিল না। ইবনু কাসীর-এর আলোচনা সংক্ষেপে এ পর্যন্তই। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩০০১, “জামি'উল কিতাবিস্ তিস্'আহ” এ্যাপ)