পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

আত্ব ত্বহা-রাহ্(الطَّهَارَةِ) এর শাব্দিক অর্থ- প্রত্যেক শারীরিক অনুভূতি সম্বন্ধীয় অথবা মানসিক দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা।

পরিভাষাগতভাবে দেহকে নাজাসাতে হুকমী এবং দেহ, কাপড় ও ’ইবাদাতের স্থানকে নাজাসাতে হাকীকি তথা পায়খানা-প্রস্রাব ও বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা হতে মুক্ত রাখা। উল্লেখ্য যে, ’আমল যেহেতু ’ইলমের ফল এবং ’ইলমের পর ’আমলের স্থান তখন কিতাবুল ’ইলমকে লেখক আগে নিয়ে এসেছেন। পক্ষান্তরে ’ইলমের পর ’আমলের স্থান ও দৈহিক ’আমলের মাঝে সর্বোত্তম হচ্ছে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এবং পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাতে শামিল হওয়া যায় না; তাই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারীর শর্তস্বরূপ ’ইলমের পরই পবিত্রতা অধ্যায়কে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রত্যেক ’ইলম অন্বেষণকারীর জন্য দায়িত্ব হচ্ছে দীনের হাকীকাত ও তার কল্যাণকর হুকুম-আহকাম জানার জন্য ইমাম ইবনুল ক্বাইয়ূম-এরإِعْلَامُ الْمُوَقِّعِيْنَ নামক গ্রন্থ এবংحُجَّةُ اللهُ الْبَالِغَةِ ও হাফিয ’ইরাক্বীর তাখরীজুল আহাদীসসহإِحْيَاءُ عُلُوْمُ الدِّيْنِ গ্রন্থ এবং জাস্‌র-এরالحصون الحميدية এবং এ বিষয়ের আরো অন্যান্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করা।


২৮১-[১] আবূ মালিক আল আশ্’আরী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক। ’আলহামদু লিল্লা-হ’ মানুষের ’আমলের পাল্লাকে ভরে দেয় এবং ’সুবহানাল্লাহ-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হ’ সাওয়াবে পরিপূর্ণ করে দেয় অথবা বলেছেন, আকাশমণ্ডলী ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তা পরিপূর্ণ করে দেয়। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হলো নূর বা আলো। দান-খয়রাত (দানকারীর পক্ষে) দলীল। সবর বা ধৈর্য হলো জ্যোতি। কুরআন হলো তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক মানুষ ভোরে ঘুম হতে উঠে নিজের আত্মাকে তাদের কাজে ক্রয়-বিক্রয় করে- হয় তাকে সে আযাদ করে দেয় অথবা জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। (মুসলিম)[1]

আর এক বর্ণনায় এসেছে, ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা­-হু আল্লা­-হু আকবার’ আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সব পরিপূর্ণ করে দেয়।[2] মিশকাতুল মাসাবীহ-এর সংকলক বলেছেন, আমি এ বর্ণনাটি বুখারী-মুসলিম কিংবা হুমায়দী বা জামিউল উসূলে কোথাও পাইনি। অবশ্য দারিমী এ বর্ণনাটিকে ’সুবহানাল্লাহ­-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি’ এর স্থলে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

عَن أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَآنِ - أَوْ تَمْلَأُ - مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تَمْلَآنِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . لَمْ أَجِدْ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيِّ وَلَا فِي «الْجَامِعِ» وَلَكِنْ ذَكَرَهَا الدَّارِمِيُّ بدل «سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله»

عن ابي مالك الاشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطهور شطر الايمان والحمد لله تملا الميزان وسبحان الله والحمد لله تملان - او تملا - ما بين السماوات والارض والصلاة نور والصدقة برهان والصبر ضياء والقران حجة لك او عليك كل الناس يغدو فباىع نفسه فمعتقها او موبقها» . رواه مسلم وفي رواية: «لا اله الا الله والله اكبر تملان ما بين السماء والارض» . لم اجد هذه الرواية في الصحيحين ولا في كتاب الحميدي ولا في «الجامع» ولكن ذكرها الدارمي بدل «سبحان الله والحمد لله»

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত شَطْرُ الْإِيْمَانِ থেকে উদ্দেশ্য ঈমানের অর্ধেক। এক মতে বলা হয়েছে- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া ও এর বিশাল সাওয়াব বর্ণনা করা যেন তা ঈমানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এ ধরনের আরো মত আছে, তবে شطر থেকে نصف অর্থ নেয়াটাই শক্তিশালী মত। যা বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির হাদীসে ‘‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক’’। এভাবে আভিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে شَطْرُ শব্দের অর্থ نصف -ই জানা যায়। الإيمان থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে সাওয়াবের বিশালত্বের বিবরণ দেয়া।

(اَلصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ) অর্থাৎ- সদাক্বাহ্ (সাদাকা) সদাক্বাকারীর ঈমানী দাবীর সত্যতার স্পষ্ট প্রমাণ। কেননা ব্যক্তির সম্পদ ব্যয় সাধারণত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে, অতএব সম্পদ ব্যয় তার ঈমানের ব্যাপারে সত্যতার প্রমাণকারী ছাড়া কিছু না।

(اَلصَّبْرُ ضِيَاءٌ) অর্থাৎ- ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশসূচক কাজের আনুগত্য করে ও তাঁর নিষেধসূচক ও অবাধ্য কাজ থেকে বেঁচে থেকে সঠিক পথের উপর ধৈর্য ধারণ করা, এছাড়া সকল প্রকার বিপদে ও দুনিয়াবী সকল অপছন্দনীয় কষ্টদায়ক বিষয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা ব্যক্তির জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন বহু পথের এমন এক জ্যোতি লাভ করে যার মাধ্যমে ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা পায়। হাদীসে ধৈর্য ধরাকে ضياء বা জ্যোতি বলা হয়েছে যা نور অপেক্ষাও শক্তিশালী। صبر ধৈর্য ধরাকে ضياء বলার ও صلاة কে نور বলার কারণ হচ্ছে- যেহেতু صبر -এর বিষয়টি صلاة অপেক্ষা প্রশস্ত। ব্যক্তি তার জীবনে প্রত্যেক ওয়াজিব কাজ করতে গিয়েও নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকতে গিয়ে ধৈর্যের মুখাপেক্ষী হয়। দীনের প্রতিটি বিষয়ই ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল।

হাদীসটিতে একজন মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তাসবীহ, তাহলীল ও ‘আমলের উল্লেখ করা হয়েছে যা তাকে ‘আমলের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগাবে। হাদীসটি থেকে আরো বুঝা যায়, কুরআন অনুযায়ী ‘আমল করলে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে কুরআন ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য হবে, পক্ষান্তরে তা হতে মুখ ফিরিয়ে রাখলে কুরআন ব্যক্তির বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। হাদীসের শেষাংশ থেকে বুঝা যায় মানুষের সামনে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে আছে অথচ মানুষের অবস্থা এই যে, প্রত্যেকে তার নিজের ব্যাপারে চেষ্টা করে, অতঃপর তাদের কেউ এমন, যে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয় এবং এভাবে নিজেকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করে। আর কেউ এমন আছে, যে শায়ত্বন (শয়তান) ও প্রবৃত্তির অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে শায়ত্বন (শয়তান) ও প্রবৃত্তির কাছে বিক্রি করে দেয় এবং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অতএব এ অংশে মানুষের শিক্ষণীয় দিক হলো- সদা-সর্বদা যেন নিজের প্রতি খেয়াল রাখা যে, সে প্রতিনিয়ত কোন ‘আমল করে সে নিজেকে কার কাছে বিক্রি করছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮২-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীগণের উদ্দেশ করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি কথা বললো না আল্লাহ তা’আলা যা দিয়ে তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দিবেন এবং (জান্নাতেও) পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন? সাহাবীগণ আবেদন করলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! অবশ্যই। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কষ্ট হলেও পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা, মসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ রাখা এবং এক ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের পর আর এক ওয়াক্ত সালাতের প্রতীক্ষায় থাকা। আর এটাই হলো ’রিবাত্ব’ (প্রস্তুতি গ্রহণ)।[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَى إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاة فذلكم الرِّبَاط»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الا ادلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات؟ قالوا بلى يا رسول الله قال: «اسباغ الوضوء على المكاره وكثرة الخطى الى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة فذلكم الرباط»

ব্যাখ্যা: (يَمْحُو اللّهُ بِهِ الْخَطَايَا) ‘‘যা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহসমূহ মুছে দিবেন।’’ অর্থাৎ- গুনাহ লিপিবদ্ধকারী লেখকদের দফতর থেকে গুনাহসমূহ মুছে ফেলবেন। আর এ মুছে ফেলাটাই আল্লাহ তাকে তা মাফ করে দিয়েছেন তার দলীল। এ গুনাহ দ্বারা ঐ সগীরাহ গুনাহ উদ্দেশ্য যা আল্লাহর হাক্বের সাথে সম্পৃক্ত।

(وَيَرْفَعُ بِه الدَّرَجَاتِ) ‘‘আর তা দ্বারা পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন।’’ অর্থাৎ- জান্নাতে তাকে উঁচু মর্যাদা দান করবেন। অনুরূপভাবে দুনিয়াতেও তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

(كَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ) ‘‘মসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ রাখা।’’ (الْخُطَا) বলা হয়, পায়ে হেঁটে চলার সময় দু’পায়ের মধ্যবর্তী জায়গাকে। যাকে আমরা বাংলা ভাষায় পদক্ষেপ বলি। অধিক পদক্ষেপ দু’টি কারণে হতে পারে। যথা- (১) মাসজিদ থেকে বাসস্থানের অবস্থান দূরবর্তী স্থানে হওয়ার কারণে, (২) বারবার মসজিদে আগমনের কারণে। কারণ যাই থাক না কেন মসজিদে অধিক যাতায়াতকারীর ব্যক্তির জন্য হাদীসে বর্ণিত মর্যাদা তার জন্য নির্ধারিত আছে।

(انْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ) ‘‘এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষা করা।’’ অর্থাৎ- এক সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার পর পরবর্তী সালাত আদায় করার উদ্দেশে মসজিদে বসে থাকা অথবা সালাত আদায় করে স্বীয় কর্মস্থলে ফিরে যাবার পর পরবর্তী সালাত আদায়ের জন্য মনে মনে সংকল্প করা এবং এজন্য প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা যাতে মসজিদে গিয়ে পরবর্তী সালাত আদায়ে কোন ব্যাঘাত না ঘটে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৩-[৩] মালিক ইবনু আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে, ’এটাই রিবা-ত্ব, এটাই রিবা-ত্ব’ দু’বার বলা হয়েছে। (মুসলিম, আর তিরমিযীতে তা তিনবার উল্লিখিত হয়েছে)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَفِي حَدِيث مَالك بن أنس: «فَذَلِك الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ» . رَدَّدَ مَرَّتَيْنِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَة التِّرْمِذِيّ ثَلَاثًا

وفي حديث مالك بن انس: «فذلك الرباط فذلكم الرباط» . ردد مرتين. رواه مسلم. وفي رواية الترمذي ثلاثا

ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি ঠাণ্ডা পানি কিংবা শরীরে ব্যথা বা অন্যান্য সমস্যা সত্ত্বেও দুনিয়ার সকল বিষয়ের প্রতি খেয়াল বর্জন করে উযূর অঙ্গগুলোকে তিনবার করে ধৌত করে এবং ঘর্ষণের মাধ্যমে ও উযূর অঙ্গগুলোর শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উদ্দেশে উযূর প্রতি ব্যাস্ত থাকে তাহলে এ ধরনের ব্যক্তির ‘আমলনামা থেকে আল্লাহ তার সগীরাহ্ গুনাহসমূহ মিটিয়ে দিবেন এবং ইহজীবন ও পরজীবনে তার মর্যাদা উন্নীত করবেন এবং এটিই আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ياَيُّهَا الَّذِيْنَ امَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ অর্থাৎ- ‘‘হে মু’মিনগণ! ধৈর্য অবলম্বন কর, দৃঢ়তা প্রদর্শন কর, নিজেদের প্রতিরক্ষাকল্পে পারস্পরিক বন্ধন মজবুত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো’’- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩ : ২০০)। এর মাঝে উল্লিখিত প্রকৃত রিবাত্ব। কারণ এ ধরনের উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  একজন ব্যক্তিকে শায়ত্বনী পথসমূহ থেকে বাধা দেয়। আত্মাকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে এবং নাফসের শত্রু ও শায়ত্বন (শয়তান) হতে দূরে রাখে।

পরিশেষে বলা যায়, মুসলিমে উল্লিখিত হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ কথাটি দু’বার এবং তিরমিযীর বর্ণনাতে তিনবার এসেছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব দান অথবা বিষয়টির মর্যাদা বুঝানো এবং এ ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ প্রদানের জন্য একাধিকবার বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৪-[৪] ’উসমান (রাঃ) হতে বণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে এবং উত্তমভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে, তার শরীর হতে তার সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ হতেও তা বের হয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تخرج من تَحت أَظْفَاره»

عن عثمان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من توضا فاحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت اظفاره»

ব্যাখ্যা: গুনাহের একটি নিজস্ব আকার-আকৃতি আছে যা মানব দেহের সাথে ঝুলন্ত বা লেগে থাকে কিংবা দেহ হতে আলাদাও থাকতে পারে। কথাটিকে উপেক্ষা করা যায় না যেমন বলা হয়েছে ‘আল্লামা সুয়ূত্বী তাঁর قوت المغتذي গ্রন্থে বলেন- হাদীসটির বাহ্যিক দৃষ্টি-ভঙ্গি হাক্বীক্বাতের উপর। অতঃপর এ কথাটি এমন হাদীস দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন যা প্রমাণ করে নিশ্চয়ই গুনাহের আকার-আকৃতি আছে। হাদীসটি প্রত্যেক মু’মিনকে বেশি বেশি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার প্রতি উৎসাহ দিচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৫-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম অথবা মু’মিন বান্দা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে এবং তার চেহারা ধুয়ে নেয়, তখন তার চেহারা হতে পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার চোখের দ্বারা কৃত সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে চোখ দিয়ে দেখেছে। যখন সে তার দুই হাত ধোয় তখন তার দুই হাত দিয়ে করা গুনাহ পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় যা তার দু’ হাত দিয়ে ধরার কারণে সংঘটিত হয়েছে। অনুরূপভাবে সে যখন তার দুই পা ধোয়, তার পা দ্বারা কৃত গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় যে পাপের জন্যে তার দু’ পা হাঁটছে। ফলে সে (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) র জায়গা হতে উঠার সময়) সকল গুনাহ হতে পাক-পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ المَاء مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خرجت من يَدَيْهِ كل خَطِيئَة بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوب)
(رَوَاهُ مُسلم)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا توضا العبد المسلم او المومن فغسل وجهه خرج من وجهه كل خطيىة نظر اليها بعينيه مع الماء مع اخر قطر الماء فاذا غسل يديه خرجت من يديه كل خطيىة بطشتها يداه مع الماء او مع اخر قطر الماء فاذا غسل رجليه خرج كل خطيىة مشتها رجلاه مع الماء او مع اخر قطر الماء حتى يخرج نقيا من الذنوب) (رواه مسلم)

ব্যাখ্যা: হাদীসটি বেশি বেশি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানকারী এবং নিয়্যাত খালিস করে কুরআন তিলাওয়াত অথবা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কায়িম করার উদ্দেশে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলে শরীরের সমস্ত সগীরাহ্ গুনাহ মাফ হয়ে যায় এটা নিশ্চিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৬-[৬] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ফরয সালাতের সময় হলে উত্তমভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে, বিনয় ও ভয় সহকারে রুকূ’ করে (সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে তার এ সালাত), তা তার সালাতের পূর্বের গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্ (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করে থাকে। আর এভাবে সর্বদাই চলতে থাকবে। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عثمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من امرى مسلم تحضره صلاة مكتوبة فيحسن وضوءها وخشوعها وركوعها الا كانت كفارة لما قبلها من الذنوب ما لم يوت كبيرة وذلك الدهر كله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি উযূর সুন্নাত ও তার নিয়ম-কানুন সংরক্ষণের মাধ্যমে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে এবং সালাতের প্রতিটি রুকনকে সর্বাধিক বিনয়-নম্রতার সাথে, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণভাবে, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে যথার্থভাবে আদায় করে তাহলে আল্লাহ তার পূর্বের সগীরাহ্ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তবে শর্ত হলো যদি কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) গুনাহ মাফের কারণ হওয়াকে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার সঙ্গে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। অতএব কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহতে লিপ্ত হলে সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করা হবে না এবং এটিই আল্লাহর আয়াত اِن تَجْتَنِبُوْا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ থেকে বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে।

তবে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন- শর্তারোপ ছাড়াই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহসমূহ ছাড়া, কেননা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ইমাম নাবাবী বলেন, এটাই উদ্দেশিত অর্থ। প্রথম অর্থটি যদিও ইবারত থেকে সম্ভাবনাময় অর্থ কিন্তু হাদীসের বাচনভঙ্গি তা অস্বীকার করছে। কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের ক্ষমা কেবল তাওবা-ই করতে পারে। অথবা আল্লাহর রহমাত ও দয়া। কখনো কখনো বলা হয়, উযূই যখন গুনাহ মোচন করে দিবে তাহলে সালাতে আর কি কাজ? আবার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) যখন গুনাহ মোচন করে দিবে তখন জামা‘আত এবং হাদীসসমূহে গুনাহ মোচনের আরো যত কারণ বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলো কি মোচন করবে?

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে- এগুলোর প্রত্যেকটি গুনাহ মোচনের জন্য উপযুক্ত। অতএব সগীরাহ্ গুনাহ হয়েছে এমন কোন ‘আমল তা ছোট গুনাহকে ক্ষমা করবে আর যদি ব্যক্তি এমন হয় যে, সে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি, কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করেছে তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তার কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকে হালকা করবেন। অন্যদিকে সগীরাহ্ বা কাবীরাহ্ (কবিরা) কোন গুনাহই যদি না করে থাকেন তাহলে এসব ‘আমলের কারণে আল্লাহ তার জন্য পুণ্য লিখবেন এবং এর মাধ্যমে তার মর্যাদাকে আরো উন্নীত করবেন।

উল্লেখ্য যে, এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু রুকূ‘র আলোচনা করেছেন সাজদার আলোচনা করেননি। এর কারণ হচ্ছে- যেহেতু সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ও রুকূ‘ পারস্পরিক দু’টি রুকন, তাই যখন উভয়ের একটিকে সুন্দরভাবে আদায় করতে বলেছেন তখন এমনিতেই বুঝা যাচ্ছে অপরটিও সুন্দরভাবে আদায় করতে হবে এবং ‘‘রুকূ‘কে’’ যিকর দ্বারা খাস করাতে একটি সতর্কতাও পাওয়া যাচ্ছে যে, রুকূ‘র ব্যাপারে নির্দেশটি অত্যন্ত কঠিন, ফলে রুকূ‘টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কেননা রুকূ‘কারী রুকূ‘তে নিজেকে পুরোপুরি বহন করে কিন্তু সাজদাতে সে জমিনের উপর ভর করে থাকে।

একমতে বলা হয়েছে রুকূ‘কে সাজদার অধীন করার জন্যই বিশেষভাবে রুকূ‘র উল্লেখ করেছেন। কারণ রুকূ‘ এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘ইবাদাত নয়। অথচ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইবাদাত, যেমন- তিলাওয়াতে সিজদা্, শুকরিয়া আদায়ের সিজদা্ ইত্যাদি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৭-[৭] উক্ত রাবী [’উসমান (রাঃ)] হতে বর্ণিত। একদা তিনি এরূপে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন, তিনবার নিজের দু’ হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন, তারপর তিনবার কুলি করলেন, নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে পরিষ্কার করলেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধুলেন, এভাবে বাম হাতও কনুই পর্যন্ত ধুলেন। এরপর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর ডান পা তিনবার ও বাম পা তিনবার করে ধুলেন। এরপর তিনি [’উসমান (রাঃ)] বললেন, আমি যেভাবে উযূ করলাম এভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ করতে দেখেছি। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আমার ন্যায় উযূ করবে ও মনোযোগ সহকারে দুই রাক্’আত (নফল) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার পূর্বেকার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। মুত্তাফাকুন ’আলায়হি; এ বর্ণনার শব্দসমূহ ইমাম বুখারীর।[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْهُ أَنَّهُ تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلَاثًا ثُمَّ الْيُسْرَى ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفسه فيهمَا بِشَيْء إِلَّا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه» . وَلَفظه للْبُخَارِيّ

وعنه انه توضا فافرغ على يديه ثلاثا ثم تمضمض واستنثر ثم غسل وجهه ثلاثا ثم غسل يده اليمنى الى المرفق ثلاثا ثم غسل يده اليسرى الى المرفق ثلاثا ثم مسح براسه ثم غسل رجله اليمنى ثلاثا ثم اليسرى ثلاثا ثم قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضا نحو وضوىي هذا ثم قال: «من توضا وضوىي هذا ثم يصلي ركعتين لا يحدث نفسه فيهما بشيء الا غفر له ما تقدم من ذنبه» . ولفظه للبخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত (فَأَفْرَغَ عَلـى يَدَيْهِ) দ্বারা উদ্দেশ হলোঃ দু’ কব্জি পর্যন্ত হাত ধোয়া, এ অংশের মাঝে ঐ ব্যাপারে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, পাত্রে দু’হাত প্রবেশের পূর্বে সতর্কতা স্বরূপ দু’ হাত ধুয়ে নিতে হবে যদিও ঘুম থেকে উঠার পর না হয়। উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে যা হাদীসে ব্যবহৃত ثُمَّ শব্দটি দ্বারা বুঝা যায়। হাদীসে পরস্পর وَاسْتَنْفَقَ وَاسْتَنْثَرَ শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয়। এর উদ্দেশ্য হলোঃ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে পানি নাকের শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ে তা পুনরায় ঝেড়ে ফেলতে হবে। (ثُمَّ صَلّى رَكْعَتَيْنِ) অংশ থেকে বুঝা যায় প্রত্যেক উযূর পর দু’ রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা মুসতাহাব। উযূর পর কেউ যদি ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শুরু করে দেয় তাহলে তার জন্য এ সাওয়াব অর্জন হয়ে যাবে। যেমন মসজিদে ঢোকার পর কেউ সরাসরি ফরয সালাতে শামিল হলে বা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শুরু করলে তার জন্য তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় হয়ে যায়। হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, ঐ ব্যক্তির গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) হাদীসটিতে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী হবে এবং হাদীসে নির্দেশিত দু’ রাক্‘আত সালাতের মতো সালাত আদায় করবে; যে দু’ রাক্‘আত সালাতে ব্যক্তি মনে মনে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলবে না।

উল্লেখ্য যে, পূর্বে কতিপয় হাদীস এসেছে যেখানে শুধু ভালোভাবে উযূ করলে ব্যক্তির গুনাহসমূহ ঝরে পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ হাদীসে ব্যক্তির গুনাহসমূহ মাফের জন্য উযূর সঙ্গে বিশেষ দু’ রাক্‘আত সালাতের কথাও জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উভয় হাদীসের বক্তব্যে কিছু কম-বেশি আছে, এর কারণ কি?

উত্তরে বলা যেতে পারে, উযূ এবং সালাত প্রত্যেকটিই আলাদাভাবে গুনাহ মাফের উপযোগী। অথবা উযূ শুধু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুনাহ মোচনকারী, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুনাহ মোচনকারী। অথবা উযূ প্রকাশ্য গুনাহসমূহের মোচনকারী এবং সালাত প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ধরনের পাপ মোচনকারী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৮-[৮] ’উক্ববাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম উযূ করে এবং উত্তমরূপে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে, অতঃপর দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে (অন্তর ও দেহ সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে রুজু করে) দু’ রাক্’আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مقبل عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عقبة بن عامر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مسلم يتوضا فيحسن وضوءه ثم يقوم فيصلي ركعتين مقبل عليهما بقلبه ووجهه الا وجبت له الجنة» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি থেকে প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তি ভালোভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করার পর অন্তরে আল্লাহর ভয় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিনয়-নম্রতার ভাব রেখে দু’ রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা আবশ্যক হয়ে যাবে। হাদীসটিতে জান্নাতে প্রবেশের বিষয়টি মুতলাক্ব বা ‘আম্ নয়, কারণ ‘আমভাবে জান্নাতে প্রবেশের বিষয়টি কেবল ঈমানের বিনিময়েই সম্ভব আর হাদীসে সালাতের মাধ্যমে যে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে তা কবূল হওয়ার পূর্ব শর্তই হচ্ছে এ ঈমান। বিবেচনায় ঈমান ব্যক্তির প্রথম ধাপ আর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) দ্বিতীয় ধাপ। প্রথম ধাপে থাকার কারণে যদি জান্নাতে প্রবেশ করা যায় তাহলে দ্বিতীয় ধাপ থাকার কারণে আরো ভালোভাবে প্রবেশ করা যাবে। আর আমরা জানি ঈমান থাকলে ব্যক্তি তার অপরাধের শাস্তি পাওয়ার পর কোন একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর উভয় ধাপ ঠিক থাকলে সে প্রথমবারে শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

অতএব আমরা বলতে পারি, হাদীসে জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার দ্বারা প্রথমবারে জান্নাতে প্রবেশকে উদ্দেশ করা হয়েছে। আর তা কাবীরাহ্ (কবিরা) ও সগীরাহ্ সকল গুনাহ ক্ষমা হওয়ার উপর নির্ভরশীল বরং এরপর আরো যা কিছু পাপ ব্যক্তি করবে তাও ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে শর্তারোপ এই করা হয়েছে যে, তার মরণ ভালো ‘আমল বা ঈমানের উপর হতে হবে। মূলত আল্লাহ তার অনুগ্রহে বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তিনি তার ওয়া‘দা ভঙ্গ করেন না। হাদীসটিতে ভালোভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে ও তারপর দু’ রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং হাদীসটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের দিকে ইশারা করছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৯-[৯] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে এবং উত্তমভাবে অথবা পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, এরপর বলবেঃ ’’আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহূ ওয়া রসূলুহ’’, অর্থাৎ- ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল’। আর এক বর্ণনায় আছেঃ ’’আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহূ ওয়া রসূলুহ’’- (অর্থাৎ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও একক। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।) তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে। এসব দরজার যেটি দিয়ে খুশী সে সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আর হুমায়দী তাঁর আফরাদে মুসলিম গ্রন্থে, ইবনুল ’আসীর ’’জামি’উল উসূল’’ গ্রন্থে এরূপ ও শায়খ মুহীউদ্দীন নাবাবী হাদীসের শেষে আমি যেরূপ বর্ণনা করেছি এরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী উপরোক্ত দু’আর পরে আরো বর্ণনা করেছেনঃ ’’আল্লা-হুম্মাজ ’আলনী মিনাত্ তাওয়া-বীনা ওয়াজ ’আলনী মিনাল মুতাত্বাহ্‌হিরীন’’- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবা্‌কারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে গণ্য কর)।[1]

মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ তাঁর সিহাহ গ্রন্থে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ’’যে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলো ও উত্তমভাবে তা করলো শেষ ..... পর্যন্ত। তিরমিযী তার জামি কিতাবে হুবহু এটাই বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তিনিأَنَّ مُحَمَّدًا (আন্না মুহাম্মাদান) শব্দের পূর্বে أَشْهَدُ (আশ্হাদু) শব্দটি বর্ণনা করেননি।

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَفِي رِوَايَةٍ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ . هَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَالْحُمَيْدِيُّ فِي أَفْرَاد مُسلم وَكَذَا ابْن الْأَثِير فِي جَامع الْأُصُول
وَذكر الشَّيْخ مُحي الدِّينِ النَّوَوِيُّ فِي آخِرِ حَدِيثِ مُسْلِمٍ عَلَى مَا روينَاهُ وَزَاد التِّرْمِذِيّ: «الله اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ» وَالْحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ مُحْيِي السُّنَّةِ فِي الصِّحَاحِ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ» إِلَى آخِرِهِ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ بِعَيْنِهِ إِلَّا كَلِمَةَ «أَشْهَدُ» قَبْلَ «أَن مُحَمَّدًا»

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما منكم من احد يتوضا فيبلغ او فيسبغ الوضوء ثم يقول: اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله وفي رواية: اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله الا فتحت له ابواب الجنة الثمانية يدخل من ايها شاء . هكذا رواه مسلم في صحيحه والحميدي في افراد مسلم وكذا ابن الاثير في جامع الاصول وذكر الشيخ محي الدين النووي في اخر حديث مسلم على ما رويناه وزاد الترمذي: «الله اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين» والحديث الذي رواه محيي السنة في الصحاح: «من توضا فاحسن الوضوء» الى اخره رواه الترمذي في جامعه بعينه الا كلمة «اشهد» قبل «ان محمدا»

ব্যাখ্যা: হাদীসে উযূর পর পঠিতব্য যে দু‘আটি উল্লেখ করা হয়েছে তার দ্বারা মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করা ‘আমলের স্বচ্ছতা ও হাদীসে আকবার ও আসগার থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পবিত্রতা লাভের পর অন্তরকে শির্ক ও রিয়া থেকে পবিত্র রাখার দিকে ইশারা করা হয়েছে এবং তাওবাহ্ গোপন গুনাহ হতে পবিত্রকারী এবং উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে বাধাদানকারী বাহ্যিক গুনাহের পবিত্রকারী বিধায় উযূর পর পঠিতব্য দু‘আর প্রথমাংশের সাথে আত্ তিরমিযীর বর্ণনা করা বর্ধিত অংশের সমন্বয় সাধন ঘটেছে।

হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর শাহাদাতায়ন পাঠ করে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। এ বক্তব্যের মর্মার্থ হচ্ছে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইলে একটি দরজাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। তথাপিও হাদীসে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, এটি মূলত ব্যক্তির কর্মের সম্মানার্থে। অথবা বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে দৃষ্টি দিলে বলা যায়, ব্যক্তি যে ধরনের ‘আমল বেশি করবে তার জন্য ঐ ‘আমলের জন্য প্রস্ত্তত করা বিশেষ দরজা খুলে দেয়া হবে কারণ জান্নাতের দরজাসমূহ প্রস্ত্তত করা হয়েছে বিশেষ বিশেষ ‘আমলের জন্য।

যেমন যে ব্যক্তি বেশি বেশি সওম পালন করবে তার জন্য জান্নাতের রইয়্যান নামক দরজা খুলে দেয়া হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তি যেমন ‘আমল করবে তাঁর জন্য তেমন দরজা খুলে দেয়া হবে। ইবনু সাইয়্যিদিন্ নাস বলেনঃ দরজার সংখ্যাধিক্যতা খুলে দেয়া ও এসব হতে ডাকা ইত্যাদি ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন ব্যক্তির সম্মান এবং মর্যাদার দিকেই ইশারা। অতএব বিষয়টি এমন নয় যে, কোন এক দরজা দিয়ে ডাকা হলে সে সে দরজার সীমা অতিক্রম করবে না। বরং প্রত্যেক দরজা দিয়ে ডাক/সাক্ষাৎ পাওয়ার পর যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে দরজা দিয়েই সে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৯০-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আমার উম্মাতকে (জান্নাতে যাবার জন্য) এই অবস্থায় ডাকা হবে যখন তাদের চেহারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র কারণে ঝকমক করতে থাকবে, সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চমকাতে থাকবে। ’’অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতাকে বাড়াতে সক্ষম সে যেন তাই করে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «إِن أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غرته فَلْيفْعَل»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان امتي يدعون يوم القيامة غرا محجلين من اثار الوضوء فمن استطاع منكم ان يطيل غرته فليفعل»

ব্যাখ্যা: হাদীসে ব্যবহৃত غُرًّا শব্দের অর্থ শুভ্র ঝলক যা ঘোড়ার কপালে হয়ে থাকে। তবে এখানে উদ্দেশ্য মু’মিনের চেহারাতে সৃষ্ট নূর। আর তারপরেই مُحَجَّلِيْنَ শব্দের অর্থ শুভ্রতা যা ঘোড়ার দু’ হাত ও দু’ পায়ে হয়ে থাকে, তখনও উদ্দেশ্য নূর। মুদ্দাকথা ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন মু’মিনের উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো শুভ্র নূরে ঝলকাতে থাকবে। তাদেরকে যখন সাক্ষ্যদাতাদের সামনে ডাকা হবে, হাশরের মাঠে, মীযানের নিকট, সীরাতের নিকট অথবা জান্নাতে তখন এ গুণ অনুপাতেই ডাকা হবে। এ অবস্থায় তারা এ গুণের উপরই বহাল থাকবে অথবা এ নামেই তাদেরকে ডাকা হবে। মু’মিন ব্যক্তির চেহারা ঝলকানোর দু’টি কারণের একটি উযূ; যা এ হাদীসে উল্লেখ আছে। অপর কারণ- সিজদা্ (সিজদা/সেজদা); যা আত্ তিরমিযীতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর এর হাদীসে উল্লেখ আছে। পক্ষান্তরে হাত, পা ঝলকানোর কারণ একটি আর তা হলো উযূ (ওযু/ওজু/অজু)।

এ হাদীসের রাবীদের একজন নু‘আয়ম বলেনঃ غُرًّا(فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَه فَلْيَفْعَلْ) উক্তিটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি নাকি আবূ হুরায়রাহর উক্তি? হাফিয ইবনু হাজার আল আসক্বালানী ফাতহুল বারীতে বলেনঃ সাহাবীগণের থেকে যে দশজন এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাদের কারো বর্ণনাতে এ বাক্যটি আছে বলে আমি জানি না এবং যারা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন তাদের বর্ণনাতেও আছে বলে জানি না কেবল নু‘আয়ম-এর এ বর্ণনাটি ছাড়া। উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কারীর জন্য ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন তার উযূর কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শুভ্রতাকে বর্ধিতকরণে এ হাদীসটি দলীলস্বরূপ। তবে এ শুভ্রতাকে বর্ধিতকরণে উযূর অঙ্গগুলোকে কি পরিমাণ ধৌত করতে হবে এ নিয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে হাত কাঁধ পর্যন্ত। পা হাঁটু পর্যন্ত। অন্য মতে বলা হয়েছে, হাত অর্ধ বাহু পর্যন্ত এবং পা নলা পর্যন্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৯১-[১১] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (জান্নাতে) মু’মিনের অলংকার অর্থাৎ- উযূর চিহ্ন সে পর্যন্ত পৌঁছবে যে পর্যন্ত উযূর পানি পৌঁছবে (তাই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সুন্দরভাবে করবে)। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنَ حَيْثُ يبلغ الْوضُوء» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تبلغ الحلية من المومن حيث يبلغ الوضوء» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি একজন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কারীর হাত ও পা ধোয়ার যে ফরয পরিমাণ রয়েছে তার অপেক্ষাও কিছু বেশি ধোয়ার ও অন্যান্য অঙ্গগুলোকেও ধোয়া বা মাসাহকরণে কমতি না করার প্রতি নির্দেশ দিচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৯২-[১২] সাওবান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (হে মু’মিনগণ!) তোমরা দীনের উপর যথাযথভাবে অটল থাকবে। অবশ্য তোমরা সকল (কাজ) যথাযথভাবে করতে পারবে না, তবে মনে রাখবে তোমাদের সকল কাজের মধ্যে সালাতই হচ্ছে সর্বোত্তম। আর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র সব নিয়ম-কানুনের প্রতি মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ লক্ষ্য রাখে না। (মুয়াত্ত্বা মালিক, আহমাদ, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمُ الصَّلَاةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

عن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «استقيموا ولن تحصوا واعلموا ان خير اعمالكم الصلاة ولا يحافظ على الوضوء الا مومن» . رواه مالك واحمد وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে, সকল নির্দেশ পালনের মাধ্যমে এবং সত্যের অনুসরণ ও সঠিক পথকে আঁকড়িয়ে ধরে ইসলামের ওপর অটল থাকতে হবে। তবে ওটা এমন এক পবিত্র আলো যার দ্বারা কারো অন্তর আলোকিত হলে সে সমস্ত মানবিক অন্যায় থেকে মুক্ত থাকবে এবং আল্লাহ যাকে তাঁর তরফ থেকে শক্তিশালী করবেন সে কেবল সঠিক পথের উপর অবিচল থাকতে পারবে আর তার সংখ্যায় কম। তবে বিষয়টি কঠিন হওয়ার দরুন তার প্রতি উদাসীন হয়ে থাকা অথবা ব্যক্তি যে অবস্থায় বর্তমান তার উপর ভরসা করে বসে থাকা কিংবা অক্ষমতা ও অনিচ্ছাবশত ‘আমলে ঘাটতি হওয়াতে সঠিক পথের উপর অবিচল থাকা হতে নিরাশ হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। বরং সঠিক পথের উপর অবিচল থাকার সহজ একটি উপায় হচ্ছে বিভিন্ন রকম ‘ইবাদাত করতে থাকা; ক্বিরাআত (কিরআত), তাসবীহ, তাহলীল, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) অব্যাহত রাখা। সালাত নষ্টকারী কথা হতে বিরত থাকা। এমন এক বৈশিষ্টপূর্ণ ও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ‘ইবাদাতকে আঁকড়িয়ে ধরতে হবে। বিশেষ করে এ সালাতের পূর্বশর্ত উযূর প্রতি সতর্ক থাকতে হবে।

এ হাদীসে উল্লিখিত সালাত দ্বারা গোপনীয় বিষয়ের পবিত্রতা বুঝানো হয়েছে। কেননা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) অশ্লীল ও অসমীচীন কাজ থেকে বাধা দেয়। পক্ষান্তরে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বাহ্যিক বিষয়াবলীকে পবিত্র করে। উল্লেখ্য যে, সর্বোত্তম ‘আমল সম্পর্কে বৈপরীত্যপূর্ণ অনেক হাদীস এসেছে। সুতরাং হাদীসটির সামঞ্জস্যতা প্রয়োজন। অন্যান্য হাদীসের সাথে এ হাদীসের সামঞ্জস্য এভাবে যে, এ হাদীসে উল্লিখিত خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ -কে مِنْ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ অর্থে ব্যবহার করতে হবে। এমনিভাবে হাদীসের শেষ অংশে মু’মিন বলতে পূর্ণ মু’মিনকে বুঝানো হয়েছে। পরিশেষে এক কথায় বলা যায়, একজন মু’মিন ব্যক্তিকে সঠিক পথের উপর অবিচল থাকার সর্বাধিক সহজ উপায় সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সংরক্ষণ করা এবং এ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কে সংরক্ষণ করতে হলে এর পূর্বশর্ত উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কে সংরক্ষণ করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৩-[১৩] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) থাকতে উযূ করে তার জন্য (অতিরিক্ত) দশটি নেকী রয়েছে। (তিরমিযী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كُتِبَ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من توضا على طهر كتب له عشر حسنات» . رواه الترمذي

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৪-[১৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের চাবি হলো সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)। আর সালাতের চাবি হলো ত্বহারাত (উযূ (ওযু/ওজু/অজু)। (আহমাদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلَاة الطّهُور» . رَوَاهُ أَحْمد

عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مفتاح الجنة الصلاة ومفتاح الصلاة الطهور» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী বলেনঃ সালাতকে জান্নাতে প্রবেশের ভূমিকা বলা হয়েছে যেমন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কে সালাতের ভূমিকা করা হয়েছে। উযূ ছাড়া যেমন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বিশুদ্ধ হয় না তেমন সালাত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা যায় না। যারা সালাত বর্জনকারীকে কাফির বলে এ হাদীসটি তাদের দলীল আর নিশ্চয়ই এ সালাত ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্যকারী।

আর অন্যান্যগণ বলেনঃ এ হাদীস সালাতের ব্যাপারে উৎসাহ দানকারী। আর তা এমন এক বিষয় যা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা যায় না এবং এ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শাস্তি ছাড়া প্রথমেই জান্নাতে প্রবেশের কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৫-[১৫] শাবীব ইবনু আবূ রাওহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী হতে বর্ণনা করেন। একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফজরের) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং (সালাতে) সূরাহ্ আর্ রূম তিলাওয়াত করলেন। সালাতের মধ্যে তাঁর তিলাওয়াতে গোলমাল বেঁধে গেল। সালাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মানুষের কি হল! তারা আমার সাথে সালাত আদায় করছে অথচ উত্তমরূপে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করছে না। এটাই সালাতে আমার ক্বিরাআতে গোলযোগ সৃষ্টি করে। (নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن شبيب بن أبي روح عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَقَرَأَ الرُّومَ فَالْتَبَسَ عَلَيْهِ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يُصَلُّونَ مَعَنَا لَا يُحْسِنُونَ الطَّهُورَ فَإِنَّمَا يلبس علينا الْقُرْآن أُولَئِكَ» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن شبيب بن ابي روح عن رجل من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الصبح فقرا الروم فالتبس عليه فلما صلى قال: «ما بال اقوام يصلون معنا لا يحسنون الطهور فانما يلبس علينا القران اولىك» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: হাদীসটি অনেকেই বর্ণনা করেছেন প্রত্যেকেই সাহাবী থেকে। তার মাঝে ইমাম নাসায়ী ও আহমাদও বর্ণনা করেছেন তাদের উভয়ের সানাদের রাবীগুলো বিশুদ্ধ কিন্তু মুজতারাবুল ইসনাদ। তবে তাদের দু’জনের সানাদই রাজেহ। হাদীস দ্বারা বুঝা যায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) তে ত্রুটি সৃষ্টিকারীরা ইমামের ক্বিরাআতে ত্রুটি সৃষ্টির কারণ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৬-[১৬] বানী সুলায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি (সাহাবী) বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি কথা আমার হাতে অথবা তাঁর নিজের হাতে গুণে বললেনঃ ’সুবহা-নাল্ল­-হ’ বলা হলো দাঁড়ি পাল্লার অর্ধেক, আর ’আলহামদু লিল্লা-হ’ বলা হলো দাঁড়ি পাল্লাকে পূর্ণ করা এবং ’আল্লা­-হু আকবার’ বলা হলো আকাশমণ্ডলী ও জমিনের মধ্যে যা আছে তা পূর্ণ করে দেয়া। সিয়াম ধৈর্যের অর্ধেক এবং পাক-পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ: عَدَّهُنَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَدِي أَوْ فِي يَدِهِ قَالَ: «التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَؤُهُ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالصَّوْمُ نِصْفُ الصَّبْرِ وَالطُّهُورُ نِصْفُ الْإِيمَانِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ

وعن رجل من بني سليم قال: عدهن رسول الله صلى الله عليه وسلم في يدي او في يده قال: «التسبيح نصف الميزان والحمد لله يملوه والتكبير يملا ما بين السماء والارض والصوم نصف الصبر والطهور نصف الايمان» . رواه الترمذي وقال هذا حديث حسن

ব্যাখ্যা: হাদীসটি দুর্বল, তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতেও বর্ণিত, হাদীসে সওম (রোযা)-কে সবরের অর্ধেক বলা হয়েছে, তার কারণ সবর যেহেতু নাফসকে আনুগত্যে নিয়োজিত রাখে ও অবাধ্যতা হতে বিরত রাখে, সওম তেমন নাফসের প্রবৃত্তিকে অবাধ্য কাজ হতে পূর্ণাঙ্গভাবে দূরে রাখে। সুতরাং এ দৃষ্টিকোণ হতে সওম সবরের অর্ধেক।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৭-[১৭] ’আবদুল্লাহ (রাঃ) আস্ সুনাবিহী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মু’মিন বান্দা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে ও কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। আর যখন সে নাক ঝাড়ে তখন তার নাক থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মুখমণ্ডল ধোয়, গুনাহ তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার চোখের পাতার নীচ হতেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর যখন নিজের দু’টি হাত ধোয়, তখন তার হাত হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার হাতের নখের নীচ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মাথা মাসাহ করে, মাথা হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি দুই কান থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন নিজের পা দু’টো ধোয়, তার দুই পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার পায়ের নখের নীচ হতেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। অতঃপর মসজিদের দিকে গমন এবং তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হয় তার জন্য অতিরিক্ত। (মুওয়াত্ত্বা মালিক ও নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَن عبد الله الصنَابحِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنفه فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غسل يَدَيْهِ خرجت الْخَطَايَا مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ» . رَوَاهُ مَالك وَالنَّسَائِيّ

عن عبد الله الصنابحي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا توضا العبد المومن فمضمض خرجت الخطايا من فيه واذا استنثر خرجت الخطايا من انفه فاذا غسل وجهه خرجت الخطايا من وجهه حتى تخرج من تحت اشفار عينيه فاذا غسل يديه خرجت الخطايا من تحت اظفار يديه فاذا مسح براسه خرجت الخطايا من راسه حتى تخرج من اذنيه فاذا غسل رجليه خرجت الخطايا من رجليه حتى تخرج من تحت اظفار رجليه ثم كان مشيه الى المسجد وصلاته نافلة له» . رواه مالك والنساىي

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত মুখের গুনাহ বলতে- অশ্লীল কাজের দিকে ফুসলানো, অবাধ্য কাজের প্রতিশ্রুতি দেয়া রয়েছে ইত্যাদি সগীরাহ্ গুনাহ। নাকের গুনাহ বলতে এমন বস্তুর ঘ্রাণ নেয়া যা বৈধ নয় যেমন- চুরি করা আতর। চেহারার গুনাহ বলতে এমন বস্তুর দিকে দৃষ্টি দেয়া যার দিকে দৃষ্টি দেয়া বৈধ নয় যেমন কোন গাইরে মাহরাম নারীর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেয়া। হাতের গুনাহ বলতে এমন গুনাহ যা স্পর্শ করা জায়িয নয়। মাথার গুনাহ বলতে অশ্লীল চিন্তা করা, কানের গুনাহ বলতে অশ্লীল কিছু শোনা। পায়ের গুনাহ বলতে এমন কাজের উদ্দেশে হেঁটে যাওয়া যা করা উচিত নয়।

হাদীসে উল্লেখ হয়েছে ‘‘অতঃপর যখন সে মাথা মাসাহ করে তখন তার মাথা হতে গুনাহ ঝরে যায় এমনকি তার কান হতেও।’’ উল্লিখিত অংশ প্রমাণ করছে কান মাথার অন্তর্ভুক্ত। অতএব মাথা মাসাহের পানি দিয়ে কান মাসাহ করতে হবে নতুন পানি দ্বারা নয়। এ হাদীস نَافِلَةً لَهٗ বলা হয়েছে, মর্মার্থ হচ্ছে- ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সাথে সাথে তার উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর গুনাহ ঝরে যায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গের গুনাহ থাকলে সেগুলোর গুনাহও মাফ হয়ে যায়, অর্থাৎ- সগীরাহ্ গুনাহ। সগীরাহ্ গুনাহ যদি না থাকে তাহলে তার কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ হালকা করা হবে। যদি কোন প্রকার গুনাহ না থাকে তাহলে তার মর্যাদাকে উন্নীত করা হবে। হাদীসটি একজন মুসলিমকে উযূর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৮-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে (অর্থাৎ- মদীনার বাকী’তে) উপস্থিত হলেন এবং সেখানে (মৃতদের উদ্দেশে) বললেনঃ ’’আস্‌সালা-মু ’আলায়কুম, (তোমাদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক) হে মু’মিন অধিবাসীগণ! আমরা ইনশা-আল্লাহ তোমাদের সাথে এসে মিলিত হচ্ছি। আমরা আশা করি, আমরা যেন আমাদের ভাইদের দেখতে পাই’’। সাহাবীগণ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমার বন্ধু। আমার ভাই তারা যারা এখনো দুনিয়ায় আসেনি (পরে আসবে)। সাহাবীগণ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মাতদের যারা এখনো আসেনি, তাদের আপনি কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন কিভাবে চিনবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বল দেখি, যদি কোন ব্যক্তির একদল নিছক কালো রঙের ঘোড়ার মধ্যে ধবধবে সাদা কপাল ও সাদা হাত-পা সম্পন্ন ঘোড়া থাকে, সে কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না? তারা বললেন, হাঁ, নিশ্চয়ই চিনতে পারবে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, আমার উম্মাত উযূর কারণে (কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন) সাদা ধবধবে কপাল ও সাদা হাত-পা নিয়ে উপস্থিত হবে এবং আমি হাওযে কাওসারের নিকট তাদের অগ্রগামী হিসেবে উপস্থিত থাকবো। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم أَتَى الْمَقْبَرَةَ فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلَا يَعْرِفُ خَيْلَهُ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْض» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتى المقبرة فقال: «السلام عليكم دار قوم مومنين وانا ان شاء الله بكم لاحقون وددت انا قد راينا اخواننا قالوا اولسنا اخوانك يا رسول الله قال انتم اصحابي واخواننا الذين لم ياتوا بعد فقالوا كيف تعرف من لم يات بعد من امتك يا رسول الله فقال ارايت لو ان رجلا له خيل غر محجلة بين ظهري خيل دهم بهم الا يعرف خيله قالوا بلى يا رسول الله قال فانهم ياتون غرا محجلين من الوضوء وانا فرطهم على الحوض» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘আমরা ইন-শা-আল্লাহ তোমাদের সাথে এসে মিলিত হচ্ছি’’ বলেছেন অথচ মরণ সুনিশ্চিত। এ ব্যাপারে বিদ্বানদের একাধিক উক্তি আছে যা দশ পর্যন্ত পৌঁছাবে। সে উক্তিগুলো থেকে সর্বাধিক স্পষ্ট হচ্ছে- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারাকাতের জন্য إِنْ شَآءَ اللّهُ (ইন-শা-আল্লাহ) বলেছেন, সন্দেহের জন্য নয়। অন্য এক মতে বলা হয়েছে- আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য এরূপ বলেছেন। যেমন- আল্লাহর বাণীঃ  وَلَا تَقُوْلَنَّ لِشَاىْءٍ اِنِّىْ فَاعِلٌ ذلِكَ غَدًا - اِلَّا اَنْ يَّشَآءَ اللّهُ অর্থাৎ- ‘‘কোন বিষয় সম্পর্কে কক্ষনো বল না যে, ‘ওটা আমি আগামীকাল করবো’। ‘আল্লাহ ইচ্ছে করলে’ বলা ছাড়া’’- (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ২৩)।

হাদীসে সাহাবীগণের প্রশ্ন ‘‘আমরা কি আপনার ভাই নই?’’ এর উত্তরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘তোমরা আমার সাহাবী।’’ এ ধরনের উত্তর দিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণেরকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন থেকে আলাদা করে দেননি। বরং তাঁদের একটি আলাদা সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সামনে মু’মিনদের যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন তা কেবল উম্মাতে মুসলিমার জন্য খাস।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৯-[১৯] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমিই প্রথম ব্যক্তি, যাকে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন (আল্লাহর দরবারে) সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার অনুমতি দেয়া হবে। আর এভাবে আমিই প্রথম ব্যক্তি যাকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) হতে মাথা উঠাবার অনুমতি দেয়া হবে। অতঃপর আমি আমার সামনে (উপস্থিত উম্মাতদের দিকে) দৃষ্টি নিক্ষেপ করবো এবং সকল নবী-রসূলদের উম্মাতদের মধ্য হতে আমার উম্মাতকে চিনে নিবো। এভাবে আমার পেছনে, ডান দিকে, বাম দিকেও তাকাবো। আমার উম্মাতকে চিনে নিবো। (এটা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে আপনি নূহ (আঃ) থেকে আপনার উম্মাত পর্যন্ত এত লোকের মধ্যে আপনার উম্মাতকে চিনে নিবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার উম্মাত উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র কারণে ধবধবে সাদা কপাল ও ধবধবে হাত-পা সম্পন্ন হবে, অন্য কোন উম্মাতের মধ্যে এরূপ হবে না। তাছাড়া আমি তাদেরকে চিনতে পারবো এসব কারণে যে, তাদের ডান হাতে ’আমলনামা থাকবে এবং তাদেরকে আমি এ কারণেও চিনবো যে, তাদের অপ্রাপ্ত বয়সের সন্তানরা তাদের সামনে দৌড়াদৌড়ি করবে। (আহমাদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ: قَالَ رَسُولُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (أَنَا أَوَّلُ مَنْ يُؤْذَنُ لَهُ بِالسُّجُودِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُؤْذَنُ لَهُ أَنْ يرفع رَأسه فَأنْظر إِلَى بَيْنَ يَدِي فَأَعْرِفُ أُمَّتِي مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ وَمِنْ خَلْفِي مِثْلُ ذَلِكَ وَعَنْ يَمِينِي مِثْلُ ذَلِك وَعَن شمَالي مثل ذَلِك . فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ أُمَّتَكَ مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ فِيمَا بَيْنَ نُوحٍ إِلَى أُمَّتِكَ؟ قَالَ: «هُمْ غُرٌّ مُحَجَّلُونَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَ أَحَدٌ كَذَلِكَ غَيْرَهُمْ وَأَعْرِفُهُمْ أَنَّهُمْ يُؤْتونَ كتبهمْ بأيمانهم وأعرفهم يسْعَى بَين أَيْديهم ذُرِّيتهمْ» . رَوَاهُ أَحْمد

عن ابي الدرداء قال: قال رسول صلى الله عليه وسلم: (انا اول من يوذن له بالسجود يوم القيامة وانا اول من يوذن له ان يرفع راسه فانظر الى بين يدي فاعرف امتي من بين الامم ومن خلفي مثل ذلك وعن يميني مثل ذلك وعن شمالي مثل ذلك . فقال له رجل: يا رسول الله كيف تعرف امتك من بين الامم فيما بين نوح الى امتك؟ قال: «هم غر محجلون من اثر الوضوء ليس احد كذلك غيرهم واعرفهم انهم يوتون كتبهم بايمانهم واعرفهم يسعى بين ايديهم ذريتهم» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, উযূর কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চমকানো উম্মাতে মুসলিমার খাস বৈশিষ্ট্য। এছাড়া হাদীসটিতে উম্মাতের আরো কতিপয় বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে যার মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতকে চিনতে পারবেন। ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) বিভীষিকাময় দিনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তাঁর উম্মাতের মুক্তির জন্য ব্যাস্ত হবেন হাদীসটিতে তা পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

اَلْوُضُوْءُ (واو বর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আর واو বর্ণে ফাতাহ যোগে اَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।


৩০০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ছুটে গেছে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কবূল হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত সে উযূ না করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يتَوَضَّأ»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة من احدث حتى يتوضا»

ব্যাখ্যা: সে ব্যক্তির সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) প্রত্যাখ্যাত হয় বা গণ্য করা হয় না, সঠিক হয় না; যার সামনের এবং পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হয় যতক্ষণ না সে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। আর উযূ পানি এবাং মাটি উভয়ের দ্বারাই হতে পারে। উযূ অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা যা গোসল, উযূ এবং তায়াম্মুম দ্বারা হতে পারে। এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়।

প্রথমত সামনের বা পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হওয়ার মাধ্যমে উযূ বিনষ্ট হবে আর উযূ না হলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সঠিক হবে না। চাই তার নির্গত হওয়াটা নিরুপায় অবস্থায় হোক বা স্বাভাবিক অবস্থায় হোক। কেননা হাদীসে উভয় অবস্থার মাঝে কোন পার্থক্য বর্ণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত ঐ লোকেদের প্রতিউত্তর যারা বলে যেহেতু তার উযূ নষ্ট হয়ে গেছে, তাই সে উযূ করে আগের সালাতের উপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত সকল সালাত পবিত্রতা অর্জনের উপর নির্ভরশীল। আর জানাযাহ্, ঈদ সহ সমস্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ- উযূ ছাড়া কোন সালাত গৃহীত হবে না।

قَوْلُهٗ (لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طَهُوْرٍ) (পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাত গৃহীত হয় না)। অর্থাৎ- ‘পবিত্রতা ছাড়া’ অর্থ এ নয় সালাতটি পবিত্রতার পরিপন্থী কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে না। কেননা অন্যান্য শর্তের ন্যায় পবিত্রতার ভিন্নধর্মী বিষয়ের সাথেও সালাতের সম্পৃক্ততা থাকা অবশ্যক। তবে যদি পবিত্রতার পরিপন্থী দ্বারা তার সম্পূর্ণ বিপরীত উদ্দেশ্য হয় তাহলে ঠিক আছে। আর তা হলো حَدَثٌ হাদাস অর্থাৎ- এমন অপবিত্রতা যা উযূ, গোসল বা তায়াম্মুম ছাড়া দূরীভূত হয় না।

قَوْلُهٗ (وَلَا صَدَقَةُ مِنْ غُلُوْلٍ) (খিয়ানাতের মাল সদাক্বাহ্ (সাদাকা) হিসেবে গ্রহণ করা হয় না)غُلُوْلٌ  (গুলূল) অর্থ হারাম সম্পদ। غُلُوْلٌ -এর মূল অর্থ গনীমাতের মালে খিয়ানাত করা। গনীমাতের সম্পদ বণ্টিত হওয়ার পূর্বে তা চুরি করা হারাম।

যে ব্যক্তিই সংগোপনে কোন কিছুতে বিশ্বাসঘাতকতা করলো বা খিয়ানাত করলো সেই গুলূল করল। ইবনুল ‘আরাবী (রহঃ) বলেনঃ হারাম সম্পদের সদাক্বাহ্ (সাদাকা) প্রত্যাখ্যান এবং শাস্তির যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উযূ বা পবিত্রতা ছাড়াই সম্পাদিত সালাতের ন্যায়। অতএব, সালাত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সম্পদ পবিত্র হওয়া শর্ত। এ হুকুমটি সকল প্রকার হারাম সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এখানে গনীমাতের আত্মসাৎকৃত সম্পদের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটা হতে পারে যে, গনীমাত সকলের অধিকার সম্বলিত সম্পদ। আর অন্যের অধিকারযুক্ত সম্পদের সদাক্বাই যদি গ্রহণ করা না হয় তাহলে একক অধিকারভুক্ত সম্পদ গৃহীত না হওয়াটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০১-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা ছাড়া সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এবং হারাম ধন-সম্পদের দান-খয়রাত কবূল হয় না। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة بغير طهور ولا صدقة من غلول» . رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০২-[৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অত্যধিক ’মাযী’ বের হত। কিন্তু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যার (ফাত্বিমার) স্বামী, তাই এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি মাস্আলাটি জানার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করতে মিক্বদাদকে বললাম। সে (নাম প্রকাশ ব্যতীত) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ অবস্থায় সে প্রথমে পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে ও তারপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن عَليّ قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيتَوَضَّأ»

وعن علي قال: كنت رجلا مذاء فكنت استحيي ان اسال النبي صلى الله عليه وسلم لمكان ابنته فامرت المقداد فساله فقال: «يغسل ذكره ويتوضا»

ব্যাখ্যা: مَذِىٌ (মাযী) বলা হয় সাদা পাতলা আঠালো ধরনের একপ্রকার পানি যা স্ত্রীর সাথে প্রেমালাপ, চুম্বন, সহবাসের স্মরণ বা পুনরায় সহবাসের ইচ্ছা হলে স্ত্রী-পুরুষের গোপন অঙ্গ থেকে বের হয়। আবার কখনো কখনো এর বের হওয়াটা অনুভূত হয় না।

مَذِىٌ (মাযী) সম্পর্কে জিজ্ঞেসের কারণ সেটি গোসল আবশ্যককারী নাপাকী কিনা তা জানা। মিক্বদাদ (রাঃ) কারো নাম উল্লেখ ছাড়াই এর হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যা শুধুমাত্র ‘আলীর জন্য প্রযোজ্য ছিল না। এ বিষয়ে প্রশ্নকারী নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যেমন এ বর্ণনায় মিক্বদাদ (রাঃ)-এর কথা আবার নাসায়ীর বর্ণনায় ‘আম্মার (রাঃ)-এর কথা এবং ইবনু হিব্বান ও তিরমিযীর বর্ণনায় ‘আলী (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ হয়েছে। ইবনু হিব্বান এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘আলী (রাঃ) প্রথমত আম্মার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে বলেন। পরবর্তীতে মিক্বদাদ (রাঃ)-কে বলেন। পরে তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন। কিন্তু ইবনু হিব্বান পরক্ষণে উল্লেখ করেন যে, ‘আলী  (রাঃ)-এর উক্তি ‘‘আমি লজ্জায় তাঁকে প্রশ্ন করতে পারিনি’’ এটি প্রমাণ করে তিনি স্বয়ং প্রশ্ন করেননি।

قَوْلُهٗ (يَغْسِلُ ذَكَرَةٌ) (মাযী বের হলে সে তার গোপন অঙ্গ ধৌত করবে) যেহেতু মাযী অপবিত্র তাই তা আগে অপসারণ করতে হবে। তারপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)। গোপনাঙ্গের কতটুকু ধুইতে হবে তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সর্বাধিক প্রাধান্যযোগ্য অভিমত হলো মাযী বের হওয়ার স্থানটুকু ধৌত করাই যথেষ্ট, সবটুকু নয়। তবে সাবধানতা অবলম্বনার্থে মাযী ছড়িয়ে পড়া স্থানসমূহ ধৌত করা উত্তম। হাদীসের বাহ্যিক ভাষ্যমতে মাযী বের হলে পানি দ্বারা ধৌত করাই নির্দিষ্ট। হাদীসের শেষাংশ থেকে প্রতীয়মান হয় মাযীতে শুধু উযূই ভঙ্গ হয়। অতএব তাতে গোসল ওয়াজিব হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৩-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আগুন দিয়ে পাকানো কোন জিনিস খেলে তোমরা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিবে। (মুসলিম)[1]

ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের হুকুম ইবনু ’আব্বাস-এর হাদীস দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে।

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «توضؤوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
قَالَ الشَّيْخُ الإِمَام الْأَجَل محيي السّنة C: هَذَا مَنْسُوخ بِحَدِيث ابْن عَبَّاس:

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «توضووا مما مست النار» . رواه مسلم قال الشيخ الامام الاجل محيي السنة C: هذا منسوخ بحديث ابن عباس:

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৪-[৫] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর রানের (পাকানো) মাংস (মাংস/গোসত) খেয়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন কিন্তু উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صلى وَلم يتَوَضَّأ

قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل كتف شاة ثم صلى ولم يتوضا

ব্যাখ্যা: قَوْلُهٗ ( تَوَضُؤا وَمِمَّا مَسَّتِ النَّارُ) (তোমরা আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ করবে) পাকানো, ভাজা বা আগুন যাতে প্রভাব বিস্তার করে এমন খাদ্য হলো আগুনে পাকানো খাদ্য। উযূ (ওযু/ওজু/অজু) দ্বারা উদ্দেশ্য সালাতের উযূ। এ হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আগুনে পাকানো খাবার খাওয়া উযূ ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ। তবে এ মাসআলাতে ‘উলামার মতভেদ রয়েছে।

* পূর্ব ও পরবর্তী অধিকাংশ ‘উলামার মতে এটি উযূ ভঙ্গের কোন কারণ নয়।

* আর একদলের মতে আগুনে পাকানো খাবার খেলে শার‘ঈ উযূ করা আবশ্যক। তাদের দলীল আবূ - হুরায়রার এ হাদীসসহ এ বিষয়ে বর্ণিত আরো কতিপয় হাদীস। তবে প্রথম মতাবলম্বীরা বিভিন্নভাবে এ হাদীসের ব্যাখ্যা বা উত্তর দিয়েছেন। যথাঃ

(১) হাদীসে উযূ দ্বারা উদ্দেশ্য মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি ধোয়া। তবে তাদের এ কথাটি প্রত্যাখ্যাত। কেননা প্রতিটি শব্দের শার‘ঈ অর্থ অন্য অর্থের উপর প্রাধান্যযোগ্য।

(২) এ হাদীসে ‘আমরটি মুসতাহাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ওয়াজিব অর্থে নয়। তাদের এ দাবীও প্রত্যাখ্যাত। কেননা ‘আমর-এর আসল অর্থ হলো وجوب বা কোন কিছু আবশ্যক হওয়া।

যখন এ বিষয়ে বর্ণিত পরস্পর বিপরীত হাদীসগুলোর অগ্রাধিকার যোগ্যতা সুস্পষ্ট নয় তখন আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরবর্তী খুলাফায়ি রাশিদীনের ‘আমলের মাধ্যমে একটি দিককে প্রাধান্য দিব। ‘আল্লামা ইমাম নাবাবী (রহঃ) (شرح المهذب) গ্রন্থে এটিকে সন্তোষজনক অভিমত হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে ইমাম বুখারীর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসের ভূমিকায় তিন খলীফাহ্ হতে বর্ণিত আসার নিয়ে আমার রহস্যও উন্মোচিত হয়। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে সাহাবী তাবি‘ঈদের মাঝের মতবিরোধটা অতি সুপরিচিত। অতঃপর আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য সাব্যস্ত হয়েছে।

(৩) এ হাদীসটি আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

ভাষ্যকার বলেনঃ আমার নিকট তৃতীয় উত্তরটি অধিক শক্তিশালী। কারণ নাসখের দাবীর চেয়ে ঢের উত্তম। আর ইসলামের প্রাথমিক যুগে আগুনে পাকানো খাদ্যের ব্যাপারে উযূ করার আদেশ প্রদানের রহস্য হলো তারা (মুসলিমরা) অজ্ঞতার যুগে অল্পই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকত। অতঃপর ইসলামে যখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি স্বীকৃতি ও ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করলো, তখন মু’মিনদের প্রতি সহজকরণার্থে সে আদেশ রহিত করা হয়।

আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে শার‘ঈ উযূ আবশ্যক হওয়ার বর্ণনাটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা রহিতকরণের উপর এ বলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, রহিতকরণের দাবি তখনই সঠিক হবে যখন একটি আরেকটির পূর্বে ঘটেছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যাবে। এর উত্তরে বলা হয়েছেঃ বায়হাক্বী থেকে ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর বর্ণনামতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মক্কা বিজয়ের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচর্যে এসেছেন যা মুহাম্মাদ বিন ‘আমর বিন ‘আত্বা হতে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয়। অতএব ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি পরের।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে আবূ দাঊদ ও নাসায়ীতে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসটি অধিক সুস্পষ্ট যেখানে বলা হয়েছে كاَنَ أَخِرُ الْاَمْرَيْنِ مِنْ رَّسُوْله وَسَلَّمَِ (অর্থাৎ- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ ‘আমল ছিল আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে উযূ না করা)। হাদীসটি সহীহ হলেও কেউ কেউ এটির একটি ত্রুটি বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন, যে চেষ্টাকে মুসনাদে আহমাদে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বাতিল করে দেয়, যেখানে বলা হয়েছে ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে খাওয়া শেষে প্রস্রাব করার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে যুহর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর আবার সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে খেয়ে বিনা উযূতে ‘আসর সালাত আদায় করলেন।’’ এ হাদীস থেকে সুস্পষ্ট যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে উযূ করেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৫-[৬] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, আমরা কি বকরীর মাংস (মাংস/গোসত) খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি চাইলে করতে পারো, না চাইলে না কর। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, উটের মাংস খাবার পর কি উযূ করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, উটের মাংস খাবার পর উযূ কর। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলো, বকরী থাকার স্থানে কি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, পারো। তারপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, উটের বাথানে কি সালাত আদায় করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن جَابر بن سَمُرَة أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَتَوَضَّأْ» . قَالَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ؟ قَالَ: «نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ» قَالَ: أُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: أُصَلِّي فِي مبارك الْإِبِل؟ قَالَ: «لَا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر بن سمرة ان رجلا سال رسول الله صلى الله عليه وسلم انتوضا من لحوم الغنم؟ قال: «ان شىت فتوضا وان شىت فلا تتوضا» . قال انتوضا من لحوم الابل؟ قال: «نعم فتوضا من لحوم الابل» قال: اصلي في مرابض الغنم قال: «نعم» قال: اصلي في مبارك الابل؟ قال: «لا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি উটের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়ার ফলে সর্বাবস্থায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য চাই তা কাঁচা হোক বা পাকানো হোক।

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ছাগলের গোয়ালে সাধারণত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা বৈধ। আর এটিই সঠিক বক্তব্য যদিও ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও শাফি‘ঈ (রহঃ) এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।

উট বসার স্থানে সালাত আদায় করা হারাম। ইমাম আহমাদ এবং ইবনু হাযম এ অভিমতই ব্যক্ত করেছেন। আর এটিই সঠিক মত। তবে জমহূরের মতে যদি স্থানে নাজাসাত বা অপবিত্রতা না থাকে তাহলে সালাত আদায় করা মাকরূহ বা অপছন্দীয় আর যদি অপবিত্রতা থাকে তাহলে সালাত আদায় করা হারাম। জমহূরের এ উক্তিটি সঠিক হতো যদি নিষেধের কারণ নাজাসাত বা অপবিত্রতা হতো মূলত যা এখানে উটের পেশাব-পায়খানা কিন্তু এ কথা প্রমাণিত যে, যে সকল প্রাণীর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) হালাল তার পেশাব-পায়খানাও হালাল। যদি উটের পেশাব-পায়খানা নাজাসাত হাওয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া হয় তারপরেও সেটিকে নিষেধের কারণ বানানো সঠিক হবে না। কেননা যদি নাজাসাতই কারণ হতো তাহলে উট এবং ছাগলের হুকুম ভিন্ন হতো না যেহেতু উভয়ের পেশাব-পায়খানার হুকুম একই।

মালিকী ও শাফি‘ঈগণের মতে নিষেধের কারণ উটের পলায়ন করার যে স্বভাব রয়েছে তা। কিন্তু এটিই যদি কারণ হতো তাহলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট গোয়ালে উপস্থিত থাকা এবং না থাকার মাঝে পার্থক্য করতেন না, বরং সর্বাবস্থায় যেখানে সালাত আদায় করা হারাম বলতেন চাই তা উপস্থিত থাক আর না থাক। এছাড়াও অনেকে আরও অন্যান্য কারণ উল্লেখ করেছেন যেগুলো বর্ণনা করার পর ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ নিষেধের কারণের ক্ষেত্রে এ মতবিরোধ জানার পর এ কথা স্পষ্ট হলো যে দাবী তাহরীম তথা (কোন কিছু হারাম সাব্যস্ত করা) এর উপর ক্ষান্ত থাকাই হলো সঠিক বক্তব্য, এখানে এর কারণ অন্বেষণের কোন অবকাশ নেই। যেমনটি ইমাম আহমাদ ও দাঊদ যাহিরী বলেছেন। তবে এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাহনকে সুত্‌রাহ্ (সুতরা) বানিয়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার হাদীসটি এর বিপরীত নয়। কারণ তা ছিল সফরে প্রয়োজনীয় অবস্থায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৬-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু (বায়ু) শব্দ পায় এবং এরপর তার সন্দেহ হয় যে, তার পেট হতে কিছু (বায়ু) বের হয়েছে কিনা, তাহলে সে যেন (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে মাসজিদ হতে বের না হয়, যে পর্যন্ত সে (বায়ু বের হবার দরুন) কোন শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায়। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وجد احدكم في بطنه شيىا فاشكل عليه اخرج منه شيء ام لا فلا يخرجن من المسجد حتى يسمع صوتا او يجد ريحا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: قَوْلُهٗ (حَتّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَو يَجِدَ رِيْحًا) (যতক্ষণ না সে বায়ু বের হওয়ার শব্দ বা নির্গত বায়ুর গন্ধ পাবে ততক্ষণ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে আসবে না)। এর অর্থ হলো যতক্ষণ না সে শব্দ শ্রবণ বা গন্ধ পাওয়া বা অন্য যে কোন পন্থায় তার বায়ু নির্গত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয় ততক্ষণ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করবে না বা ছেড়ে আসবে না। তবে এতে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র শব্দ শ্রবণ বা গন্ধ পাওয়াটিই শর্ত নয়।

এ হাদীস আরও প্রমাণ করে যে, শারী‘আতের কোন বিষয়ে সন্দেহের মাধ্যমে সুনিশ্চিত বিষয় বাতিল হয়ে যাবে না। অতএব যার সন্দেহ হবে বায়ু নির্গত হয়েছে কিনা তবে সে তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত থাকবে। নিশ্চিত না হাওয়া পর্যন্ত এ সন্দেহ তার কোন ক্ষতি করবে না। আর এটি অন্যান্য বিষয়েও সমভাবে প্রযোজ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৭-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেন, দুধের মধ্যে চর্বি থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ: «إِنَّ لَهُ دسما»

وعن عبد الله بن عباس قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم شرب لبنا فمضمض وقال: «ان له دسما»

ব্যাখ্যা: دَسَمٌ (দাসাম) অর্থ দুধের উপর প্রকাশিত চর্বি। এটি দুধ খেয়ে কুলি করার কারণের বর্ণনা। আর এটি প্রমাণ করছে প্রত্যেক চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে কুলি করা উত্তম। যাতে মুখের অবশিষ্ট চর্বি মুসল্লীর মনকে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) থেকে অন্যদিকে না নিয়ে যায়। এ হাদীস প্রমাণ করে যে, পরিষ্কার-পরিছন্নতার স্বার্থে চুর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হস্তদ্বয় ধৌত করা ভালো। অধ্যায়ের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হলো উল্লিখিত কুলিটা উযূর পরিপূরক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৮-[৯] বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন এক উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-তে কয়েক ওয়াক্তের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আজ আপনি এমন কিছু করলেন যা পূর্বে কখনো করেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ’উমার! আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ بُرَيْدَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الصَّلَوَات يَوْم الْفَتْح بِوضُوء وَاحِد وَمسح عل خُفَّيْهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: لَقَدْ صَنَعْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُهُ فَقَالَ: «عَمْدًا صَنَعْتُهُ يَا عمر» . رَوَاهُ مُسلم

وعن بريدة: ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الصلوات يوم الفتح بوضوء واحد ومسح عل خفيه فقال له عمر: لقد صنعت اليوم شيىا لم تكن تصنعه فقال: «عمدا صنعته يا عمر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: সাহাবীর বাচনভঙ্গি থেকে বুঝা যায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ‘আমল আদৌ করতেন না। মূলত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ কাজে অভ্যস্ত ছিলেন না বটে। তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইতোপূর্বে এরূপ ‘আমল মাঝে মাঝে করতেন মর্মে প্রমাণিত রয়েছে। এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়।

প্রথমত, সর্বোত্তম হলো প্রতি সালাতের জন্য আলাদা আলাদা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা যেমনটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভ্যস্ত ছিলেন।

দ্বিতীয়ত এক উযূ দ্বারা অনেক ফরয এবং নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করাও বৈধ, মাকরূহ নয়। তবে প্রস্রাব-পায়খানার চাপ সৃষ্টি করলে তা সম্পূর্ণ করে নতুনভাবে উযূ করে নিবে। আর এটিই অধিকাংশ ‘উলামার অভিমত। তবে এটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী ‘‘যখনই তোমরা সালাত সম্পাদনের ইচ্ছা করবে তখন উযূ কর’’ এর সাথে সংঘর্ষিক মনে হয় যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করার আদেশ দিয়েছেন। এর সমাধানকল্পে অনেক মতের সৃষ্টি হয়েছে। জমহূরের মতে আয়াতে অর্থ হলো إذَا قُمْتُمْ إلى الصَّلَاةِ مُحْدِيْثِيْنَ (যখন তোমরা উযূ বিহীনবস্থায় সালাত সম্পাদনের ইচ্ছা করবে) অর্থাৎ- অযু অবস্থায় থাকলে পুনরায় উযূ করতে হবে না।

যদিও আয়াতটি বাহ্যিকভাবে পবিত্র অপবিত্র সকলের উযূ করার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই জমহূরের মতানুযায়ী আয়াত দ্বারা উযূ বিহীন ব্যক্তির উযূ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। এটিই সঠিক অভিমত। আবার কেউ কেউ বলেনঃ আয়াতে আদেশ দ্বারা উত্তম উদেশ্য। অর্থাৎ- প্রত্যেকের জন্য প্রতিটি সালাতের প্রারম্ভে উযূ করা ভালো। আর উযূহীন ব্যক্তির ওপর উযূ আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আবার কেউ কেউ বলেন আয়াত দ্বারা সকলের ওপর উযূ আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি শুরুতে কার্যকর থাকলেও পরে তা রহিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৯-[১০] সুওয়াইদ ইবনু নু’মান (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বার যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তাঁরা খায়বারের অতি নিকটে ’সহবা’ নামক স্থানে যখন পৌঁছলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আসরের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর আহার পরিবেশন করতে বললেন, কিন্তু ছাতু ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। তিনি নির্দেশ দিলেন। তাই পানি দিয়ে ছাতু নরম করা হলো। এ ছাতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও খেলেন আমরাও খেলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং শুধু কুলি করলেন। আর আমরাও কুলি করলাম। এ অবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন, অথচ নতুনভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন না। (বুখারী)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن سُوَيْد ابْن النُّعْمَان: أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بالصهباء وَهِي أَدْنَى خَيْبَرَ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالْأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلَّا بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثمَّ صلى وَلم يتَوَضَّأ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن سويد ابن النعمان: انه خرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام خيبر حتى اذا كانوا بالصهباء وهي ادنى خيبر صلى العصر ثم دعا بالازواد فلم يوت الا بالسويق فامر به فثري فاكل رسول الله صلى الله عليه وسلم واكلنا ثم قام الى المغرب فمضمض ومضمضنا ثم صلى ولم يتوضا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়। প্রথমত সফরকালে খাদ্য বহন করা আল্লাহর ওপর ভরসার পরিপন্থী নয়। দ্বিতীয়ত মুহাম্মাদের মতে সরকারের জন্য খাদ্য সংকটের সময় খাদ্য গুদামজাতকারীদের পাকড়াও করে ক্রেতাদের নিকট সে গুদামজাতকৃত খাদ্য বিক্রয় করতে বাধ্য করা বৈধ। তৃতীয়ত চর্বিবিহীন কোন খাবার দাঁতের মাঝে আবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকলে তা থেকে কুলি করা মুস্তাহাব বা ভালো। চতুর্থত আগুনে পাকানো খাবার গ্রহণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের কোন কারণ নয় এবং উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তের সালাতের জন্য নতুনভাবে উযূ করা ওয়াজিব নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১০-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (বায়ু নির্গত হবার) শব্দ কিংবা গন্ধ পেলেই কেবল উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে। (আহমাদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ صَوْتٍ أَوْ رِيحٍ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا وضوء الا من صوت او ريح» . رواه احمد والترمذي

ব্যাখ্যা: ‘‘উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি কারণ হলো গুহ্যদ্বারে বায়ু নির্গত হওয়া।’’ কোন ব্যক্তি যদি এমন সন্দেহে নিপতিত হয় যে, তার বায়ু নির্গত হলো কি-না সে বুঝতে পারছে না। সেক্ষেত্রে বিধান এই যে, সন্দেহের কারণে তার উযূ ভঙ্গ হবে না। বরং বায়ু নির্গত হওয়ার শব্দ অথবা বায়ু নির্গত হওয়ার দুর্গন্ধ পেলে তার উযূ ভঙ্গ হয়েছে বলে সে নিশ্চিত হবে, নচেৎ নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১১-[১২] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’মাযী’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ’মাযীর’ কারণে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আর ’মানীর’ কারণে গোসল করতে হবে। (তিরমিযী)[1]

وَعَن عَلِيٍّ قَالَ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الْمَذْيِ فَقَالَ: «مِنَ الْمَذْيِ الْوُضُوءُ وَمِنَ الْمَنِيِّ الْغسْل» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن علي قال: سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم من المذي فقال: «من المذي الوضوء ومن المني الغسل» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়। প্রথমত মাযী বের হলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ওয়াজিব হয়, গোসল নয়। আর মানী সম্পর্কে প্রশ্ন করা না হলেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সম্পর্কে বলেছেন যে, মানী বের হলে গোসল ওয়াজিব। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুধাবন করেছেন যে, মানুষ এ বিষয়ে মুখপেক্ষী হবে। আর বালাগাতের পরিভাষায় এটিকে أُسْلُوْبُ الحَكْيْمِ বলা হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১২-[১৩] উক্ত রাবী [’আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের চাবি হলো ’উযূ (ওযু/ওজু/অজু), আর সালাতের ’তাহরীম’ হলো ’তাকবীর’ (অর্থাৎ- আল্লা­-হু আকবার বলা) এবং তার ’তাহলীল’ হলো (সালাতের শেষে) সালাম ফিরানো। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও দারিমী)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ والدارمي

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم» . رواه ابو داود والترمذي والدارمي

ব্যাখ্যা: সালাতের চাবি হলো (উযূ, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে) পবিত্রতা অর্জন করা সক্ষম ব্যক্তির জন্য পানি দ্বারা আর পানি ব্যবহারে অক্ষমের জন্য মাটি দ্বারা। এখানে রূপকার্থে তাকবীর এবং সালামকে সালাতের হারাম ও হালাল সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যথায় প্রকৃত হালাল-হারামকারী হলো আল্লাহ তা‘আলা। হারাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সালাতের মধ্যে যে সকল কথা কাজ হারাম করেছেন তা তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে হারাম হওয়া আর হালাল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সালাতের বাইরে যে সকল কথাকর্ম হালাল করেছেন তা সালামের মাধ্যমে হালাল হওয়া।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৩-[১৪] ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটিকে ’আলী ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْهُ وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ

ورواه ابن ماجه عنه وعن ابي سعيد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৪-[১৫] ’আলী ইবনু ত্বলক্ব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারও যখন বায়ু বের হয়, তখন সে যেন আবার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নেয়। আর তোমরা নারীদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করবে না। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عَليّ بن طلق قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِذا فسا أحدكُم فَليَتَوَضَّأ وَلَا تأتو النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

وعن علي بن طلق قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا فسا احدكم فليتوضا ولا تاتو النساء في اعجازهن» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: যখন কারো পিছনের রাস্তা দিয়ে শব্দহীন বাতাস বের হয় যা শোনা যায় না চাই তা ইচ্ছাকৃত বের হোক বা অনিচ্ছাকৃত তখন সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় রয়েছে, সে যেন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে ফিরে যায় এবং উযূ করে পুনরায় তা আদায় করে। আর মহিলাদের পিছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করা হরাম। এখানে উভয় বাক্যের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বিধান হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বায়ুর বিষয়টি উল্লেখ করলেন যা পিছনের রাস্তা দিয়ে বের হয় এবং পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকে দূরীভূত করে দেয় তখন সাথে সাথে সে বিষয়েরও উল্লেখ করলেন যা পবিত্রতা দূরীকরণে আরো কঠোর। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হওয়া উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৫-[১৬] মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবী সুফ্ইয়ান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চোখ দু’টো হলো গুহ্যদ্বারের ফিতা-বন্ধন স্বরূপ। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায় ফিতা (ঢাকনা) তখন খুলে যায়। (দারিমী)[1]

وَعَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ: «إِنَّمَا الْعَيْنَانِ وِكَاءُ السَّهِ فَإِذَا نَامَتِ الْعَيْنُ اسْتطْلقَ الوكاء» . رَوَاهُ الدِّرَامِي

وعن معاوية بن ابي سفيان ان النبي صلى الله عليه وسلم: قال: «انما العينان وكاء السه فاذا نامت العين استطلق الوكاء» . رواه الدرامي

ব্যাখ্যা: এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম عَيْنٌ (চক্ষু) দ্বারা জাগ্রত অবস্থা বুঝিয়েছেন। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তির অবলোকন করতে সক্ষম কোন চক্ষু থাকে না। তিনি জাগ্রত অবস্থাকে মশকের বাঁধনের ন্যায় নিতম্বের বাধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেমনিভাবে মশকের মালিকের ইচ্ছায় রশি দ্বারা যেমনভাবে তা সর্বদায় বাঁধা থাকে ঠিক তেমনিভাবে মানুষের ইচ্ছায় জাগ্রত অবস্থার মাধ্যমে তার নিতম্বটি কোন কিছু বের হওয়া থেকে সংরক্ষিত থাকে। এর অর্থ হলো জাগ্রত অবস্থাটা নিতম্বের বাঁধনস্বরূপ বা কোন কিছু বের হওয়া থেকে সংরক্ষক। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত সে জাগ্রত থাকে ততক্ষণ পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হলে বুঝতে পারে কিন্তু যখনই সে ঘুমিয়ে পড়ে তখন তা আর বুঝতে পারে না। ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুমের কারণে নিজের ওপর কর্তৃত্ব হারায়। ফলে অধিকাংশ সময় তার পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হয়ে যায় যা সে বুঝতেই পারে না। যার ফলে শারী‘আত এ প্রবল বিষয়টিকে ইয়াকিনের স্থলাভিষিক্ত করে তার উপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আবশ্যক করেছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৬-[১৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুহ্যদ্বারের ফিতা বা ঢাকনা হলো চক্ষুদ্বয়। তাই যে ব্যক্তি ঘুমাবে সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। [আবূ দাঊদ[1];

আর শায়খ ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন, যারা বসে ঘুমায় তারা ব্যতীত অন্যদের জন্য এ আদেশ প্রযোজ্য]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ فَمَنْ نَامَ فَليَتَوَضَّأ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام محيي السّنة C: هَذَا فِي غير الْقَاعِد لما صَحَّ:

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وكاء السه العينان فمن نام فليتوضا» . رواه ابو داود قال الشيخ الامام محيي السنة C: هذا في غير القاعد لما صح:

ব্যাখ্যা: এ হাদীস এবং পরবর্তী হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র ঘুমই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের কারণ নয় বরং ভেঙ্গে যায়। আর এজন্য এর হুকুম থেকে যে ঘুমকে বের করে দেয়া হয়েছে যা জমিনের উপর উপবিষ্ট হয়ে পাতা সম্ভব। অর্থাৎ- এ প্রকারের ঘুমে উযূ ভাঙ্গবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৭-[১৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ ’ইশার সালাতের জন্য বসে অপেক্ষা করতেন। এমনকি ঘুমের আমেজে তাদের মাথা নীচের দিকে ঝুঁকে পড়তো। এরপর তারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, অথচ নতুন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না। (আবূ দাঊদ)[1] তবে ইমাম তিরমিযী ’’ইশার সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকতেন’’- এর জায়গায় ’’ঘুম যেতেন’’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।

عَن أنس قَالَ: كَانَ أَصَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْتَظِرُونَ الْعشَاء حَتَّى تخفق رؤوسهم ثمَّ يصلونَ وَلَا يتوضؤون. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ إِلَّا أَنه ذكرفيه: ينامون بدل: ينتظرون الْعشَاء حَتَّى تخفق رؤوسهم

عن انس قال: كان اصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون العشاء حتى تخفق رووسهم ثم يصلون ولا يتوضوون. رواه ابو داود والترمذي الا انه ذكرفيه: ينامون بدل: ينتظرون العشاء حتى تخفق رووسهم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়। প্রথমত যে ব্যক্তি শুয়ে বা চিৎ হয়ে ঘুমায় এর দ্বারা তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভেঙ্গে যাবে। দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি জমিনের উপর তার নিতম্ব রেখে বসে বসে ঘুমায়, অতঃপর জাগ্রত হয়ে দেখে যে, সে তার নিতম্ব বা বসন আগের অবস্থায় রয়েছে তাহলে এর দ্বারা তার উযূ বাতিল হবে না। তৃতীয়ত কেউ কেউ বলেনঃ এ হাদীসটি হালকা ঘুমের ক্ষেত্রে উযূ ভঙ্গ হয় না। তেমনিভাবে নাক ডাকা এবং জাগ্রতকারটিও। কারণ কেউ কেউ গভীর ঘুমে যাওয়ার পূর্বে ঘুমের সাথে সাথেই নাক ডাকা শুরু করে, আবার কাউকে এ অবস্থায় জাগিয়ে তুলতে হয় যাতে সে গভীর ঘুমে তন্ময় না হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৮-[১৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সে ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব যে কাত হয়ে ঘুমায়। কারণ কাত হয়ে ঘুমালে শরীরের বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْوُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مفاصله. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الوضوء على من نام مضطجعا فانه اذا اضطجع استرخت مفاصله. رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: ঘুমের মাধ্যমে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের বিষয়ে ‘উলামাহ্ আটটি অভিমতে বিভক্ত হয়েছে যেগুলোকে তিনটিতে সীমিত করা যায়। যথা-

১ম অভিমতঃ সর্বাস্থায় ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে, চাই ঘুম কম হোক বা বেশি হোক।

২য় অভিমতঃ কোন অবস্থাতেই ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে না।

৩য় অভিমতঃ হালকা এবং গভীর ঘুমের মাঝে পার্থক্যকরণ। (অর্থাৎ- হালকা ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে না আর গভীর ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে।) এটি প্রধান সহাবা (সাহাবা), তাবি‘ঈ ফুকহায়ূল ইমাম চতুষ্টয়ের অভিমত। আর এটি সঠিক অভিমত। অতএব, শুধুমাত্র ঘুমই উযূ ভঙ্গের কারণ নয় বরং এজন্য যে, ঘুম বায়ুর নিগর্মন নিয়ন্ত্রণকারী বা রোধকারী গ্রন্থীসমূহ শিথিল হওয়াই কারণ।

৩য় মতাবলম্বীরা আবার ঘুম কম বেশির পরিমাণ বর্ণনা, উযূ ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিবেচিত বা গ্রহণযোগ্য ঘুম নির্ধারণ এবং সেই ঘুমের পরিমাণ নির্দিষ্টকরণে অনেক মতবিরোধ করেছেন যা গ্রন্থিসমূহ শিথিল হওয়ার কারণ এবং অনুভূতি চেতনা লোপ হওয়ার কারণ।

ভাষ্যকার ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (রহঃ) বলেন, আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য মত হলো যে ঘুমের মাধ্যমে চেতনা লোপ পায়, সেই গভীর ঘুমই উযূ ভঙ্গের কারণ, চাই তা যে ধরনের ঘুমই হোক না কেন। তাই চেতনা লোপ পাওয়াটাই আমার নিকট ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গের শর্ত। অতএব, যখন চেতনা বা অনুভূতি লোপ পায় তখন ঘুমন্ত ব্যক্তি যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তার উযূ ভেঙ্গে যাবে। আর হুকুমটি শুধুমাত্র গা এলিয়ে শায়িত ব্যক্তির সাথে সীমিত নয় যেমনটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি প্রমাণ করে। কারণ এ হাদীসটি য‘ঈফ। আর শায়িত ব্যক্তির হালকা ঘুমের মাধ্যমে তার উযূ বাতিল হবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৯-[২০] বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে তাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে। (মুওয়াত্ত্বা মালিক, আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَن بسرة قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه والدارمي

وعن بسرة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا مس احدكم ذكره فليتوضا» . رواه مالك واحمد وابو داود والترمذي والنساىي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে যে সব মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত হয় তা হলোঃ

কোন ব্যক্তি (পুরুষ) স্বহস্তে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করা তা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ হবে। এখানে স্পর্শ দ্বারা উদ্দেশ্য হাতের তালুর উপর বা নিম্নভাগ দ্বারা কোন প্রকার আবরণ ছাড়াই স্পর্শ করা। আর এটিই সহাবা (সাহাবা) ও তাবি‘ঈগণের একটি দল, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক (রহঃ)-এর প্রসিদ্ধ অভিমত।

অনুরূপভাবে কোন মহিলা যদি হাতের তালুর উপরিভাগ বা নিম্নভাগ দ্বারা স্বীয় লজ্জাস্থান স্পর্শ করে তবে তারও উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বাতিল হযে যাবে। যা মুসনাদে আহমাদ ও বায়হাক্বীতে ‘আমর বিন শু‘আয়ব কর্তৃক তার পিতা, তার দাদা থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَيُّمَا رَجُلٍ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأَ، وَأَيَّمَا اِمْرَأَةً مَسَّتْ فَرْجَهَا فَلْتَتَوَضَّأَ (অর্থাৎ- কোন পুরুষ তার লজ্জাস্থান কোন আবরণ) ছাড়া স্পর্শ করবে সে যেন উযূ করে। আর কোন মহিলা কোন আবরণ ছাড়া স্বীয় লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে সেও যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। ইমাম তিরমিযী اَلْعِلَلُ (আল ‘ইলাল) গ্রন্থে ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ হাদীসটি সহীহ বলে অভিহিত করেছেন। আর এ হাদীসটি এই বিষয়ে মহিলা পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য না থাকার স্পষ্ট প্রমাণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২০-[২১] ত্বলক্ব ইবনু ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর কেউ যদি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে এর হুকুম কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা তো মানুষের শরীরেরই একটা অংশবিশেষ। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেছেন, এ হাদীসটি মানসূখ (রহিত)। কেননা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব-এর মদীনাহ্ আগমনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

وَعَن طلق بن عَليّ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَسِّ الرَّجُلِ ذَكَرَهُ بَعْدَمَا يَتَوَضَّأُ. قَالَ: «وَهَلْ هُوَ إِلَّا بَضْعَةٌ مِنْهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحوه قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ مُحْيِي السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللَّهُ: هَذَا مَنْسُوخٌ لِأَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَسْلَمَ بَعْدَ قدوم طلق

وعن طلق بن علي قال: سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن مس الرجل ذكره بعدما يتوضا. قال: «وهل هو الا بضعة منه» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي وروى ابن ماجه نحوه قال الشيخ الامام محيي السنة رحمه الله: هذا منسوخ لان ابا هريرة اسلم بعد قدوم طلق

ব্যাখ্যা: বাহ্যিকভাবে এ হাদীস থেকে লজ্জাস্থান স্পর্শ করায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়। আর হানাফীগণ এ মতাবলম্বী। তারা (নিজের মত প্রতিষ্ঠাকল্পে বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান-এর হাদীসের দশটির বেশি উত্তর দিয়ে তা খণ্ডন করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন যার সবগুলোই ভিত্তিহীন ও প্রত্যাখ্যাত। শায়খ ‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী পাঁচটি তুহফাতে প্রতিউত্তর উল্লেখ করেছেন। অবশিষ্টগুলো এখানে উল্লেখ করা হলোঃ

(১) তারা বলেন যে, বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান-এর হাদীসটি মারওয়ান থেকে ‘উরওয়াহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত, আর মারওয়ান তার অপকর্মের কারণে বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। অথবা হাদীসটি মারওয়ান-এর দেহরক্ষী থেকে ‘উরওয়াহ্-এর সূত্রে বর্ণিত যে, একজন অপরিচিত রাবী। (অতএব হাদীসটি সহীহ নয়)

‘উরওয়ার উক্তির মাধ্যমেই এর উত্তর দেয়া যায়, তিনি বলেনঃ ‘‘মারওয়ানকে হাদীস বর্ণনায় অভিযুক্ত করা হতো না।’’ এছাড়াও তার থেকে সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক তাঁর হাদীসের উপর আস্থা রেখেছেন। ইমাম বুখারীও তাঁর সহীহ গ্রন্থে হাদীস নিয়ে এসেছেন। আর ‘উরওয়াহ্ তার থেকে এ হাদীসটি তার অপকর্ম এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের পূর্বে গ্রহণ করেছেন। ইবনু হাযম (রাহঃ) বলেনঃ ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরোধিতা করার পূর্বে মারওয়ান-এর কোন ত্রুটি আমরা জানি না। আর সে সময়েই তার সাথে ‘উরওয়ার সাক্ষাৎ ঘটেছে।

অপরদিকে এটিও প্রমাণিত যে, ‘উরওয়াহ্ বুসরাহ্ থেকে কারো মাধ্যম ছাড়াই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যা ইবনু খুযায়মাহ্, ইবনু হিব্বান, হাকিমসহ আরও অনেক মুহাদ্দিস নিশ্চিত করে বলেছেন। আর বুসরার হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম তাদের উভয়ের গ্রন্থে সংকলন না করায় এটা প্রমাণিত হয় না যে, ‘উরওয়াহ্ বুসরাহ্ থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননি। কারণ তাদের শর্তানুপাতে অনেক সহীহ হাদীসই তারা তাদের কিতাবে সংকলন করেননি। উপরন্তু ‘আলী ইবনুল মাদীনী ইয়াহ্ইয়া ইবনু মা‘ঈন-এর সাথে তর্কে ইয়াহ্ইয়া এর উক্তি (ثُمَّ لَمْ يَقْنَعُ ذلِكَ عُرْوَةً حَتّى أَتى بُسْرَةَ نَسْأَلُهَا وَشَافَهْتُهُ بِالْحَدِيْثِ) (অর্থাৎ- ‘উরওয়াহ্ মারওয়ান থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সরাসরি বুসরার কাছে এসে এ হাদীস সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি [বুসরাহ্] তাকে তা মুখে মুখে বর্ণনা করেন) এর প্রতিউত্তর করেননি বা খণ্ডন করেননি। ইমাম আহমাদ (রহঃ)-ও হাদীসটি এ সানাদে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সঠিক বলেছেন। অতএব, উক্ত ইমামের নিকট ‘উরওয়ার হাদীসটি বুসরাহ্ থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত। এজন্যই আহমাদ এবং ইবনু মা‘ঈন বুসরার হাদীসটি সহীহ বলেছেন। (তাই তাদের এ দাবীটি একেবারে ভিত্তিহীন)

(২) তারা বলেনঃ বুসরার হাদীসের সানাদটি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। কারণ কিছু রাবী তা বুসরাহ্ থেকে মারওয়ান-এর মাধ্যমে ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছে, আবার কেউ কেউ বুসরাহ্ থেকে কারো মাধ্যমে ছাড়াই ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছে। (অতএব, হাদীসটি সহীহ নয়)

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) বর্ণনাকারীদের এ ভিন্নতাটি সে পর্যায়ের কোন ত্রুটি নয় যার মাধ্যমে হাদীসটি য‘ঈফ হিসেবে আখ্যায়িত হবে। কারণ ‘উরওয়াহ্ হাদীসটি প্রথমত মারওয়ান-এর মাধ্যমে বুসরাহ্ হতে শ্রবণ করেছেন। অতঃপর বুসরার নিকট এসে সরাসরি তার মুখ থেকে কোন মাধ্যম ছাড়াই তা শুনেছেন এবং তাদের কাছ থেকে অন্যরা হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে কখনো মারওয়ান-এর মাধ্যমে বুসরাহ্ থেকে ‘উরওয়ার সূত্রে আবার কখনো মারওয়ান-এর মাধ্যম ছাড়াই বুসরাহ্ থেকে সরাসরি ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন আর এটি সে ধরনের কোন ভিন্নতা বা বৈপরীত্য নয় যা হাদীসের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। (তাই তাদের এ দাবীও ভিত্তিহীন)

(৩) তারা বলেনঃ এ হাদীসের রাবী হিশাম তার পিতা থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননি যা ত্ববারানীর বর্ণনা থেকে প্রমাণিত। (অতএব হাদীসের সানাদে বিছিন্নতা থাকায় তা য‘ঈফ)

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী এবং হাকিম-এর বর্ণনাটি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন যে, হিশাম হাদীসটি তার পিতা থেকে শ্রবণ করেছেন। আর যদি এ ত্রুটিটি সঠিকও হয়ে থাকে তারপরেও তা এ হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ হিশাম ছাড়াও ‘আবদুল্লাহ বিন আবূ বাকর, তার পিতা আবূ বাকর-এর মতো বিশ্বস্ত রাবীগণ হাদীসটি ‘উরওয়াহ্ থেকে সরাসরি শ্রবণ করে বর্ণনা করেছেন। যা মুয়াত্ত্বা মালিক, মুসনাদে আহমাদ এবং ইবনু জারূদ-এর বর্ণনা প্রমাণ করে। (অতএব তাদের এ দাবীটিও ভিত্তিহীন)

(৪) তারা বলেনঃ হাদীসটি মহিলা সাহাবী থেকে বর্ণিত অথচ বিধান পুরুষ সম্পর্কিত। অতএব, কিভাবে তা কেবলমাত্র মহিলারাই বর্ণনা করতে পারে? (তাই তা সঠিক নয়, নইলে পুরুষেরাও বর্ণনা করত)।

(আমরা তাদের প্রতিউত্তরে বলব) এর বিষয়ের হাদীস শুধুমাত্র মহিলারাই বর্ণনা করেননি বরং তা পুরুষেরাও বর্ণনা করেছেন। যেমনটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি।

(৫) তারা বলেনঃ যে মাস্আলাহ্ কষ্টকে অন্তর্ভুক্ত করে সে ধরনের মাস্আলার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষত এ ধরনের খবর।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) সহীহ হাদীসসমূহকে প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশে হানাফীগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত এ নিয়মটি অবান্তর, বাতিল। যা ইমাম শাওকানী أِرْشَادُ الفُحُوْلِ আর ইবনু হাযম তাঁর الاَحْكَامُ فِى أُصُولِ الاَحْكَامَ এবং ইবনু কুদামাহ্ তাঁর جَنَّةُ الْمَنَاظِرِ গ্রন্থে বাতিল ঘোষণা করেছেন। আর যদিও এ নিয়মটি মেনে নেয়া হয় তারপরেও তা এ হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ এ হাদীসটি খবরে ওয়াহিদ পর্যায়ের নয় বরং তা নাবীয (খেজুর ভেজানো পানি) দ্বারা উযূর হাদীসের চেয়েও প্রসিদ্ধ এবং তা সতেরজন সহাবা (সাহাবা) কর্তৃক বর্ণিত।

(৬) তারা বলেনঃ হাদীসটির বিশুদ্ধতা মেনে নেয়া হলেও তাতে এ বিষয়ে কোন দলীল নেই। কারণ সকলের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে তা বাহ্যিকভাবে বর্জিত। কেননা لَمْسٌ শব্দের আভিধানিক অর্থ সাধারণ স্পর্শ। আর তারা এটিকে কামভাবের সাথে বা হাতের নিম্নভাগ দ্বারা বা কোন আবরণ ছাড়া সহ আরও যেসব শর্ত দ্বারা করেছে তা এ হাদীসের মুতলাক্ব অর্থের সীমাবদ্ধকরণ আর এটাও সুস্পষ্ট যে, তারা হাদীসের কথা বলে না।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় স্পর্শ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাত দ্বারা স্পর্শ করা চাই তা হাতের উপরিভাগ হোক বা নিম্নভাগ। কিন্তু তা আবরণ ছাড়াই হতে হবে যা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি প্রমাণ করে। আর একটি বর্ণনা অন্য একটি বর্ণনার ব্যাখ্যাস্বরূপ। অতএব আমরা এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসের কথাই বলছি এবং তার উপরই ‘আমল করছি। কিন্তু অন্যান্য যে সকল শর্তের কথা ফুকাহায়ে শাফি‘ঈসহ অন্যরা বলেছেন আমরা সেদিকে দৃষ্টিপাত করবো না। কেননা হাদীসের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই।

(৭) তারা বলেনঃ বুসরার হাদীস প্রমাণে বা সত্যায়নে বিনা আবরণে (লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা) উযূ ভেঙ্গে যাওয়ার পক্ষের প্রবক্তারা অনেকগুলো মত এবং বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন যার সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি যা ইবনুল ‘আরাবী তিরমিযীর শারাহতে বর্ণনা করেছেন। একটি বর্ণনার প্রমাণে তাদের মতবিরোধটি এর দলীল গ্রহণে সন্দেহের জন্ম দেয় যা প্রমাণ করে যে, তা তাদের নিকটই প্রমাণিত নয় এবং হাদীসের প্রয়োগের ক্ষেত্রটি নির্দিষ্ট নয়। অতএব, যদি হাদীসটি সহীহ হয় এবং ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর তার অগ্রাধিকার পাওয়াটি প্রমাণিত হয় তাহলে হাদীসটি মুজমাল হওয়াটাও সহীহ যার উদ্দেশ্য এর প্রবক্তাদের নিকট স্পর্শ হয়নি। পক্ষান্তরে লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূ ভাঙ্গার বিপক্ষের প্রবক্তাদের মাঝে তা নিয়ে কোন মতবিরোধ নেই। (তাই তাদের মতটি গ্রহণযোগ্য নয়)

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয়ই হাদীসের অর্থ স্পষ্ট, তার প্রমাণ বা সত্যায়নও প্রকাশিত ও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রটিও সুনির্দিষ্ট। কিন্তু এটি সুন্নাহ দরদী লেখকদের নিকটে। আর প্রতিষ্ঠিত ও সহীহ হাদীসগুলো প্রত্যাখ্যানের জন্য কৌশল অবলম্বনকারী স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তিরাই সর্বদা এই ধরনের ভিত্তিহীন বাতিল গাদ্দারীতে লেগে থাকে। এছাড়া মালিকী, শাফি‘ঈ সহ অন্যরা হাদীসের অর্থ বর্ণনায় যে মতবিরোধ করেছেন- আমাদের নিকট তা ধর্তব্য নয়। অতএব হাদীসটির অর্থ সুস্পষ্ট, যা মুজমাল নয়।

(৮) তারা বলেনঃ লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা প্রসবের পরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জনের দিকে ইঙ্গিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অধিকাংশ সময় প্রস্রাবের পরে অপবিত্রতা বের হয়ে থাকে। ফলে লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা এটি বর্ণনা করা হয়েছে আর যেসব ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করাটা খারাপ মনে হয় সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের ইঙ্গিতমূলক উল্লেখ করা রয়েছে।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) প্রথমত নিশ্চয়ই এ সম্ভাবনাটি অনেক দূরবর্তী বরং তা বাতিল, যাকে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করে। দ্বিতীয়ত সহাবা (সাহাবা), তাবি‘ঈসহ সালফে সলিহীনদের কারো মনে এ সম্ভাবনার উদয় ঘটেনি এবং তাদের কেউ এ কথা বলেননি বরং তাদের সকলেই একে তার বাহ্যিক অর্থেই বুঝেছেন যেদিকে ব্রেন দ্রুত ধাবিত হয়।

(৯) তারা বলেনঃ হাদীসটি সেই সময়ের শর্তযুক্ত যখন লজ্জাস্থান থেকে কোন কিছু বের হয়।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) এই শর্তারোপের উপর কোন প্রমাণ নেই। অতএব, তা প্রত্যাখ্যাত।

(১০) তারা বলেনঃ হাদীসে مَسٌّ ক্রিয়ার কর্মটি লুক্বায়িত রয়েছে যা উল্লেখ করাটা খারাপ মনে করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাদীসের অর্থ হলোঃ مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ بِفَرْجِ اِمْرَأتِه فَلْيَتَوَضَأَ (অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থানকে স্বীয় স্ত্রীর গুপ্তাঙ্গের সাথে স্পর্শ করাবে সে যেন উযূ করে)

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) এটি হাদীসের বিকৃতি করা যা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করেছে। যেখানে বলা হয়েছে اَنْضى بِيَدِه (তার হাত নিয়ে যায় লজ্জাস্থানের কাছে)।

তাদের কেউ কেউ বলেনঃ বুসরার হাদীসের অর্থের দাবী অনুপাতে রাবী হাদীসটি রিওয়ায়াত বিল মা‘না করেছেন।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর এ বর্ণনাটি রিওয়ায়াত বিল মা‘না হওয়ার দাবী করাটা মাযহাবের পক্ষপাতিত্বকরণ মস্তিষ্ক এবং শ্রবণশক্তি যাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কারণ বিষয়টি যদি এমনই হয় তাহলে হাদীসের বর্ণনাসমূহের বিশ্বস্ততা, নির্ভরতা, নিশ্চয়তা সব উঠে যাবে।

তাদের কেউ কেউ আবার বলেনঃ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি এভাবে তা‘বিল করা যেতে পারে যে, যে ব্যক্তি নিজ হাত দ্বারা লজ্জাস্থানকে স্ত্রীর লজ্জাস্থানে পৌঁছাবে সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করে। কারণ إنضاء ক্রিয়াটি কর্ম দাবী করে আর হাততো কেবলমাত্র একটি উপকরণ বা অস্ত্র। তাই পরবর্তীটুকু এর কর্ম।

এটি মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সাথে কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয় যার উত্তর দানের প্রয়োজন নেই। কারণ এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের চূড়ান্ত বিকৃতকরণ।

তারা আরও বলেনঃ বুসরার হাদীসের ‘আমর বা নির্দেশ দ্বারা মুসতাহাব উদ্দেশ্য।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) প্রথমত ‘আমর-এর মূল অর্থ হচ্ছে ওয়াজিব হওয়া। দ্বিতীয়ত মুসনাদে আহমাদ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিও এ কথা প্রত্যাখ্যান করছে যেখানে বলা হয়েছেঃ  (مَنْ أَنْضَى بِيَدِه إِلى ذَكَرَهُ لَيْسَ دَوْنَه سَتْرٌ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوَضُوْءَ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি কোন আবরণ ছাড়াই নিজ হাতকে লজ্জাস্থানের কাছে নিয়ে গিয়ে তা স্পর্শ করলো তার ওপর উযূ ওয়াজিব হয়ে গেল। তৃতীয়ত দারাকুত্বনীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিও তাদের এ দাবীকে প্রত্যাখ্যান করছে যেখানে বলা হয়েছে (وَيْلُ لِّلَّذِيْنَ يَمَسُّوْنَ فُرُوْجَهُمْ وَلَا يَتَوَضُّوْنَ) অর্থাৎ- ‘যারা নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করে উযূ করে না তাদের জন্য দুর্ভোগ’। আর অকল্যাণ শুধুমাত্র ওয়াজিব পরিত্যাগ করার ফলে হয়ে থাকে।

আর প্রাধান্যযোগ্য কথা হলো ত্বলক্ব-এর এ হাদীসটি হাসান স্তরের হলেও বুসরার হাদীসটি তার চেয়ে কয়েক কারণে অধিক সহীহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। প্রথমত ত্বলক্ব-এর হাদীসের কোন রাবী দ্বারা বুখারী মুসলিম দলীল পেশ করেননি। পক্ষান্তরে বুসরার হাদীসের সকল রাবী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। দ্বিতীয়ত বুসরার হাদীসের অনেকগুলো সানাদ ও শাহিদ বর্ণনা থাকার সাথে সাথে একে সহীহ হিসেবে আখ্যায়িতকারী মুহাদ্দিসের সংখ্যাও অধিক। আঠারজনের মতো সাহাবী বুসরার হাদীসের অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) অন্যতম। তৃতীয়ত বুসরাহ্ (রাঃ) হাদীসটি মুহাজির আনসারপূর্ণ তাদের কেন্দ্রে বর্ণনা করলেও কেউ তার বিরোধিতা করেননি বরং কেউ কেউ একে সমর্থন করেছেন। [অতএব, বুসরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর অগ্রাধিকার যোগ্য।]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২১-[২২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের কারো হাত নিজের পুরুষাঙ্গের উপর লাগলে এবং হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ না থাকলে তাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে’’। (শাফি’ঈ ও দারাকুত্বনী)[1]

وَقد روى أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَفْضَى أَحَدُكُمْ بِيَدِهِ إِلَى ذَكَرِهِ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا شَيْءٌ فَلْيَتَوَضَّأْ» . رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ والدراقطني

وقد روى ابو هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا افضى احدكم بيده الى ذكره ليس بينه وبينها شيء فليتوضا» . رواه الشافعي والدراقطني

ব্যাখ্যা: ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহর মতো ইবনু হিব্বান, ত্ববারানী, ইবনুল ‘আরাবী হাযিমীসহ আরো অনেককেই মানসূখ হওয়ার দাবী করেছেন। কারণ, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব বিন আলমী (রাঃ)-এর ইয়ামান থেকে আগমনের পরে ৭ম হিজরীতে খায়বারের বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর ত্বলক্ব (রাঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে নাবাবী নির্মাণের সময় ১ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতএব, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর সংবাদটি ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ)-এর সংবাদের সাত বছরে পরের ছিল যা প্রমাণ করে যে, ত্বলক্ব-এর হাদীসটি মানসূখ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২২-[২৩] নাসায়ী (রহঃ) বুসরাহ্ (রাঃ)থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ’’হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ নেই’’- এ শব্দগুলো বর্ণনা করেননি।[1]

وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ بُسْرَةَ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يذكر: «لَيْسَ بَينه بَينهَا شَيْء»

ورواه النساىي عن بسرة الا انه لم يذكر: «ليس بينه بينها شيء»

ব্যাখ্যা: ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বুসরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ- বুসরাহ্ ত্বলক্ব-এর পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ বুসরাহ্ আগেই ইসলাম গ্রহণ করে হিজরত করেছেন। যেমনটি হাযিমীসহ অন্যরা বলেছেন। আর যদি এটি মেনে নেয়া হয় তাহলে তা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণের মতো ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) এর হাদীস মানসূখ করার উপর দলীল হয় না। ইমাম শাওকানী তাঁর ‘‘নায়লুল আওত্বার’’ গ্রন্থে বলেছেন, বুসরাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব (রাঃ)-এর পরবর্তী মুসলিম হওয়ার দ্বারা ত্বলক্ব-এর হাদীস মানসূখ হওয়ার দাবী শক্তিশালী হলেও উসূলবিদ বিশ্লেষকদের নিকট তা মানসূখের দলীল নন।

আর ইবনু হাযম-এর المخلى গ্রন্থে বলেছেন, ত্বলক্ব-এর হাদীসটি সহীহ। তবে এতে তাদের পক্ষে কোন দলীল নেই। আর তা কয়েকটি কারণে যথা- প্রথমত এ হাদীসটি লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূর নির্দেশ আসার পূর্বে মানুষেরা যে বিধানে ছিল তার উপযোগী। আর এ বিষয়টিতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। যখন হাদীসটির অবস্থা এরূপ তখন লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের সাথে সাথে হুকুমটি নিশ্চিতভাবেই মানসূখ হয়ে গেছে। আর যার মানসূখ হওযা সুনিশ্চিত তা গ্রহণ করে নাসেককে পরিত্যাগ করা আদৌ ঠিক নয়।

ভাষ্যকার বলেনঃ আমাদের নিকট ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর বুসরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসকে প্রাধান্য দেয়ার মতটি মানসূখ বা য‘ঈফ বলার চেয়ে উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৩-[২৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীকে চুমু দিতেন, এরপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, অথচ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না।[1]

ইমাম তিরমিযী বলেছেন, আমাদের হাদীসবেত্তাদের মতে কোন অবস্থাতেই ’উরওয়ার সানাদ ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে, এমনকি ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ)-এর সানাদও ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে সহীহ হতে পারে না।

আবূ দাঊদ বলেছেন, এ হাদীসটি মুরসাল। কারণ ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে শুনেননি।

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُ بَعْضَ أَزْوَاجِهِ ثُمَّ يُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: لَا يَصِحُّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا بِحَالٍ إِسْنَادُ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَأَيْضًا إِسْنَادُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْهَا
وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا مُرْسل وَإِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ لم يسمع من عَائِشَة

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقبل بعض ازواجه ثم يصلي ولا يتوضا. رواه ابو داود والترمذي والنساىي وابن ماجه. وقال الترمذي: لا يصح عند اصحابنا بحال اسناد عروة عن عاىشة وايضا اسناد ابراهيم التيمي عنها وقال ابو داود: هذا مرسل وابراهيم التيمي لم يسمع من عاىشة

ব্যাখ্যা: (قَوْله وَلَا يَتَوَضَّأُ) এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চুম্বন দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয় না। যদিও তা শুধু স্পর্শের উপর স্তরের এবং সচরাচর তা কামভাব থেকেই হয়ে থাকে। আর এটিই হলো মূলনীতি যেটির নির্ধারক হলো এ হাদীসটি। এটিই আমাদের নিকট বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অভিমত যার স্বপক্ষে আরো অনেক দলীল রয়েছে।

* তন্মধ্যে প্রথমটি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ

كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُوْل اللهِ ﷺ وَرِجْلَاىَّ فِىْ قِبْلَتِه فَإِذَا سَجَدَ عَمَرَنِىْ فَقَبَضْتُ رِجْدَىَ – الحديث

অর্থাৎ- আমি (সালাতরত অবস্থায়) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে থাকতাম আর আমার পদদ্বয় তাঁর ক্বিবলার দিকে থাকত। ফলে যখন তিনি সিজদায় যেতেন তখন আমায় গুতো মারলে আমি পদদ্বয় গুটিয়ে নিতাম।

তবে ইবনু হাজার (রহঃ) ফাতহুল বারীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এ হাদীসের ব্যাপারে তা পর্দার আড়ালে হওয়া বা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকার মর্মে যে অজুহাত পেশ করেছেন তা শুধু শুধু কষ্ট করা এবং বাহ্যিকের বিপরীত। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাস হওয়ার বিষয়টি দলীল ছাড়া সাব্যস্ত হবে না। আর আবরণ বা পর্দার অন্তরালে হওয়ার বিষয়টি কেবলমাত্র ইমামের পক্ষপাতিত্বকারী ব্যক্তিই কল্পনা করতে পারে।

২য়টি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে নাসায়ীতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেনঃ

إِنَّ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيُصَلِّىْ، وَإِنِّىْ لَمُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ اِعْتَرَاضِ الْجَنَازَةِ، حَتّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوْتَرَ مَسَّنِىَ بِرِجْلِه.

অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর আমি তার সামনে জানাযার মতো লম্বা হয়ে পড়ে থাকতাম। অতঃপর যখন তিনি বিজোড় করার (সিজদা্) ইচ্ছা করতেন তখন আমাকে পা দ্বারা ইঙ্গিত বা স্পর্শ করতেন।

তৃতীয়তঃ

فَقَّدْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَيْلَةً مِّنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسَتْهُ، فَوَضَعْتُ يَدَىَّ عَلى قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِى الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوْبَتَانِ- الحديث

অর্থাৎ- আমি একরাত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিছানা থেকে হারিয়ে ফেললাম। পরে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে তার খাড়া পদদ্বয়ের উপরিভাগে আমার হাত পড়লো। এমতাবস্থায় তিনি মসজিদে অবস্থান করছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৪-[২৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেড়ার বাজুর মাংস (মাংস/গোসত) খেলেন, তারপর আপন হাতকে আপন পায়ের তলায় ঘষে মুছে নিলেন, অতঃপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে দাঁড়িয়ে গেলেন, অথচ (নতুন করে) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন না। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتِفًا ثُمَّ مَسَحَ يَده بِمِسْحٍ كَانَ تَحْتَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَأحمد

وعن ابن عباس قال: اكل رسول الله صلى الله عليه وسلم كتفا ثم مسح يده بمسح كان تحته ثم قام فصلى. رواه ابو داود وابن ماجه واحمد

ব্যাখ্যা : এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়ঃ

* আগুন দ্বারা পাকানো খাদ্য খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হবে না।

* খাওয়ার পরে হাত ধৌত করা ওয়াজিব নয় বরং তা মুছে নিলেই যথেষ্ট হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৫-[২৬] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঁজরের ভুনা মাংস (মাংস/গোসত) পেশ করলাম। তিনি তা থেকে কিছু খেলেন, তারপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন, নতুন করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেননি। (আহমাদ)[1]

وَعَن أم سَلمَة أَنَّهَا قَالَتْ: قَرَّبْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَنْبًا مَشْوِيًّا فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ

وعن ام سلمة انها قالت: قربت الى النبي صلى الله عليه وسلم جنبا مشويا فاكل منه ثم قام الى الصلاة ولم يتوضا. رواه احمد

ব্যাখ্যা: (قَرَّبْتُ إِلَى النَّبِيَّ ﷺ جَنْبًا مَشْوِيًّا) ‘‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঁজরের ভুনা গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) পেশ করলাম।’’ অর্থাৎ- আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবারের উদ্দেশে আগুন দিয়ে ভুনা করা পাঁজরের হাড়সহ গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) পেশ করলাম।

(وَلَمْ يَتَوَضَّأْ) অর্থাৎ- তিনি ঐ গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়ার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করেই সালাতে দাঁড়ালেন।

এ হাদীস প্রমাণ করে যে, আগুন দ্বারা পাকানো কোন কিছু খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৬-[২৭] আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বকরীর পেটের মাংস (মাংস/গোসত) (কলিজা প্রভৃতি) ভুনা করে দিতাম (তিনি তা খেতেন)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, কোন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না। (মুসলিম)[1]

عَن أبي رَافع قَالَ: أَشْهَدُ لَقَدْ كُنْتُ أَشْوِي لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَطْنَ الشَّاةِ ثُمَّ صلى وَلم يتَوَضَّأ. رَوَاهُ مُسلم

عن ابي رافع قال: اشهد لقد كنت اشوي لرسول الله صلى الله عليه وسلم بطن الشاة ثم صلى ولم يتوضا. رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৭-[২৮] উক্ত রাবী [আবূ রাফি’ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে একটি বকরী হাদিয়্যাহ্ দেয়া হলো এবং তিনি তা পাতিলে রান্না করলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা কী, হে আবূ রাফি’? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাদেরকে একটি বকরী হাদিয়্যাহ্ হিসেবে দেয়া হয়েছে, হে আল্লাহর রসূল! পাতিলে তা পাক করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আবূ রাফি’! আমাকে এর একটি বাজু দাও তো। আমি তাঁকে একটি বাজু দিলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে আরো একটি বাজু দাও। অতঃপর আমি তাঁকে আরো একটি বাজু দিলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, আমাকে আরো একটি বাজু দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একটি বকরীর তো দু’টি বাজু হয়। এটা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আহ! তুমি যদি চুপ থাকতে, তাহলে ’বাজুর পর বাজু আমাকে দিতে পারতে, যে পর্যন্ত তুমি নিশ্চুপ থাকতে।

এরপর তিনি পানি চাইলেন। তিনি কুলি করলেন, নিজের আঙ্গুলের মাথা ধুয়ে নিলেন, অতঃপর সালাতে দাঁড়ালেন এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর তিনি আবার তাদের কাছে ফিরে এলেন। এবার তাদের কাছে ঠাণ্ডা মাংস (মাংস/গোসত) দেখতে পেলেন। তিনি তা খেলেন, এরপর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। কিন্তু তিনি পানি ব্যবহার করলেন না, অর্থাৎ- উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন না। (আহমাদ)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: أُهْدِيَتْ لَهُ شَاةٌ فَجَعَلَهَا فِي الْقِدْرِ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا هَذَا يَا أَبَا رَافِعٍ فَقَالَ شَاةٌ أُهْدِيَتْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَطَبَخْتُهَا فِي الْقِدْرِ قَالَ نَاوِلْنِي الذِّرَاعَ يَا أَبَا رَافِعٍ فَنَاوَلْتُهُ الذِّرَاعَ ثُمَّ قَالَ نَاوِلْنِي الذِّرَاعَ الْآخَرَ فَنَاوَلْتُهُ الذِّرَاعَ الْآخَرَ ثُمَّ قَالَ ناولني الذِّرَاع الآخر فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا لِلشَّاةِ ذِرَاعَانِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّكَ لَوْ سَكَتَّ لَنَاوَلْتَنِي ذِرَاعًا فَذِرَاعًا مَا سَكَتُّ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ فَاهُ وَغَسَلَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ عَادَ إِلَيْهِمْ فَوَجَدَ عِنْدَهُمْ لَحْمًا بَارِدًا فَأَكَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً. رَوَاهُ أَحْمد

وعنه قال: اهديت له شاة فجعلها في القدر فدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما هذا يا ابا رافع فقال شاة اهديت لنا يا رسول الله فطبختها في القدر قال ناولني الذراع يا ابا رافع فناولته الذراع ثم قال ناولني الذراع الاخر فناولته الذراع الاخر ثم قال ناولني الذراع الاخر فقال يا رسول الله انما للشاة ذراعان فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اما انك لو سكت لناولتني ذراعا فذراعا ما سكت ثم دعا بماء فتمضمض فاه وغسل اطراف اصابعه ثم قام فصلى ثم عاد اليهم فوجد عندهم لحما باردا فاكل ثم دخل المسجد فصلى ولم يمس ماء. رواه احمد

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৮-[২৯] ইমাম দারিমী (রহঃ) আবূ ’উবায়দ (রাঃ)হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ’’তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি চাইলেন হতে শেষ পর্যন্ত’’ বর্ণনা করেননি।[1]

وَرَوَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ إِلَى آخِرِهِ

ورواه الدارمي عن ابي عبيد الا انه لم يذكر: ثم دعا بماء الى اخره

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট করে বাহু বা রানের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) চেয়েছেন যার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তা হলোঃ

* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহু বা রানের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) পছন্দ করতেন।

* তা দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং অধিক সুস্বাদু।

আবূ রাফি‘-এর উক্তি (إِنَّمَا لِلشَّاةِ ذَرِاعَانِ) আহমাদ-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে (هَلْ لِلشَّاةِ إِلَّا ذِرَاعَانِ) আর তিরমিযী এবং দারিমী-এর বর্ণনায় রয়েছে (وَكَمْ لِلشَّاةِ ذِرَاعً)

তবে ইসতিফহাম-এর দ্বারা এখানে অস্বীকার করা উদ্দেশ্য নয় বরং বিষয়টিকে দূরবর্তী মনে করা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (اَمَا إِنَّكَ لَوْسَكَتَّ لَنا وَذِرَاعًا فَذَرِاَعَا مَا سَكَتٌ) আহমাদ-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে (لَوْ سَكَتَّ لَنَا وَلْتَمْنِىْ مِنْهَا مَا دَعَوْتَ بِه) অর্থাৎ- যদি আমার কথার প্রত্যুত্তর না করে নীরব থাকতে তাহলে আমার চাওয়া অবধি আমাকে তা দিতেই থাকতে কারণ আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন আর তিনি তাঁর নাবীর মর্যাদা ও মু‘জিযা প্রকাশার্থে তাতে একটির পর একটি বাহুর গোশত বা রান সৃষ্টি করতেন। মূলত তার প্রত্যুত্তরে করায় এর প্রতিবন্ধক হয়েছে।

(এর কারণ হিসেবে) বলা হয়েছে যে, সাহাবী বা তার প্রশ্নোত্তরের প্রতি মনোযোগী হওয়ায় প্রতিপালকের প্রতি মনোযোগের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

(এর কারণ হিসেবে আরও) বলা হয়েছে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে রীতির বিপরীতে কোন কিছু প্রকাশ পাওয়ার শর্তই হলো তা সন্দেহমুক্ত হওয়া। আর সুনিশ্চিত ও সত্যায়িত বিষয়ে কোন ত্রুটি থাকবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৯-[৩০] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, উবাই ইবনু কা’ব ও আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এ তিনজন এক জায়গায় বসে মাংস (মাংস/গোসত) ও রুটি খেলাম। অতঃপর খাওয়া শেষে আমি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার জন্য পানি চাইলাম। এটা দেখে তাঁরা [উবাই ইবনু কা’ব ও আবূ ত্বালহাহ্ (রাঃ)] বললেন, তুমি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কেন করবে? আমি বললাম, এ খাবারের কারণে? তাঁরা উভয়ে বললেন, এ পাক-পবিত্র খেয়েও কি তুমি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে? অথচ তোমার চেয়ে অনেক বেশী উত্তম যিনি ছিলেন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আহারের পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেননি। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَأَبِي وَأَبُو طَلْحَةَ جُلُوسًا فَأَكَلْنَا لَحْمًا وَخُبْزًا ثُمَّ دَعَوْتُ بِوَضُوءٍ فَقَالَا لِمَ تَتَوَضَّأُ فَقُلْتُ لِهَذَا الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْنَا فَقَالَا أَتَتَوَضَّأُ مِنَ الطَّيِّبَاتِ لَمْ يَتَوَضَّأْ مِنْهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْك. رَوَاهُ أَحْمد

وعن انس بن مالك قال: كنت انا وابي وابو طلحة جلوسا فاكلنا لحما وخبزا ثم دعوت بوضوء فقالا لم تتوضا فقلت لهذا الطعام الذي اكلنا فقالا اتتوضا من الطيبات لم يتوضا منه من هو خير منك. رواه احمد

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে যে বিষয়টি সাব্যস্ত হয় তা হলো, উযূর পরিপন্থী অপবিত্রতার কারণে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয়। যেমন আগের পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়ার যে বিষয়টি দ্বারা বোধগম্য হয়। এছাড়াও ঘুম, চৈতন্যহীনতা, পাগলামীর মতো বোধাতীত বিষয়গুলোর মাধ্যমেও উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয়। কারণ এগুলো (পিছনের রাস্তা দিয়ে) খাবিস বের হওয়ার সম্ভাব্য স্থান (৩৩১ নং হাদীস দ্রষ্টব্য)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩৩০-[৩১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চুমু দেয়া অথবা তার স্বীয় হাত দিয়ে স্পর্শ করা ’লামস্’-এর মধ্যে গণ্য। সুতরাং যে লোক তার স্ত্রীকে চুমু দিবে কিংবা হাত দিয়ে স্পর্শ করবে তার জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা ওয়াজিব। (মালিক ও শাফি’ঈ)[1]

وَعَن ابْن عمر كَانَ يَقُولُ: قُبْلَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَجَسُّهَا بِيَدِهِ مِنَ الْمُلَامَسَةِ. وَمَنْ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ أَوْ جَسَّهَا بِيَدِهِ فَعَلَيهِ الْوضُوء. رَوَاهُ مَالك وَالشَّافِعِيّ

وعن ابن عمر كان يقول: قبلة الرجل امراته وجسها بيده من الملامسة. ومن قبل امراته او جسها بيده فعليه الوضوء. رواه مالك والشافعي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩৩১-[৩২] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে চুমু দিলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা অত্যাবশ্যক। (মালিক)[1]

وَعَن ابْن مَسْعُود كَانَ يَقُولُ: مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ الْوُضُوءُ. رَوَاهُ مَالك

وعن ابن مسعود كان يقول: من قبلة الرجل امراته الوضوء. رواه مالك

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩৩২-[৩৩] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উমার (রাঃ) বলেছেন, চুমু দেয়া ’লামস্’ এর অন্তর্ভুক্ত। (যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে)। সুতরাং চুমু দেয়ার পরে তোমরা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে।[1]

وَعَن ابْن عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِن الْقبْلَة من اللَّمْس فتوضؤوا مِنْهَا

وعن ابن عمر ان عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: ان القبلة من اللمس فتوضووا منها

ব্যাখ্যা: সর্বশেষ তিনটি (৩০, ৩১, ৩২) ‘আমর-এর সানাদ কতিপয় সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে যারা لمس (লামস্)-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যে আসারগুলো মারফূ‘র হুকুম রাখে না। তাদের এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিমতের অবকাশ রয়েছে। আর তারা আল্লাহ তা‘আলার উক্তি أَوْلَا مَسْتُمُ النِّسَآءَ থেকে গ্রহণ করে আয়াতের বুঝ অনুপাতে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্ত্রী চুম্বন ও স্পর্শকরণের মাধ্যমে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যেমনটি পূর্বে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে অতিবাহিত হলো। আর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাসঙ্গিক দলীল যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আয়াতে কারীমার لمس (লামস্) দ্বারা উদ্দেশ্য স্ত্রী সঙ্গম। ইবনু ‘আব্বাস এবং ‘আলী  (রাঃ)-এর মতো সাহাবী আয়াতের এ তাফসীরই করেছেন। অতএব সুস্পষ্ট সহীহ মারফূ‘ হাদীসের প্রতি ‘আমল করাই অত্যাবশ্যক এবং আয়াতে لمس (লামস্) এর সহীহ তাফসীর جماع (স্ত্রী সহবাস) হওয়ার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা উচিত হবে না। কেননা সহীহ মারফূ‘ হাদীসের মোকাবেলায় সাহাবীর উক্তি দলীল হিসেবে গৃহীত হতে পারে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩৩৩-[৩৪] ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহঃ) তামীম আদ্ দারী (রাঃ)হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রবহমান রক্তের কারণেই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে।[1]

দারাকুত্বনী হাদীস দু’টো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহঃ) এ হাদীসটি তামীম আদ্ দারী (রাঃ)হতে শুনেননি। তিনি তাঁকে দেখেনওনি। অপর রাবী ইয়াযীদ ইবনু খালিদ ও ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ উভয়ই অজ্ঞাত ব্যক্তি। সুতরাং এ হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ تَمِيمِ الدَّارِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْوُضُوءُ مِنْ كُلِّ دَمٍ سَائِلٍ» . رَوَاهُمَا الدَّارَقُطْنِيُّ وَقَالَ: عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَلَا رَآهُ وَيَزِيدُ بن خَالِد وَيزِيد بن مُحَمَّد مَجْهُولَانِ

وعن عمر بن عبد العزيز عن تميم الداري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الوضوء من كل دم ساىل» . رواهما الدارقطني وقال: عمر بن عبد العزيز لم يسمع من تميم الداري ولا راه ويزيد بن خالد ويزيد بن محمد مجهولان

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোন কোন ইমামের মতে সামনের পিছনের রাস্তা ছাড়াও শরীরের অন্য যে কোন স্থান থেকে তরল রক্ত প্রবাহিত হলেও তাতে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু হাদীসটি এতই দুর্বল যে, তা দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না। যারা বলেন সামনের পিছনের রাস্তা ছাড়াও শরীরের অন্য যে কোন স্থান থেকে নাপাকী বের হলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভেঙ্গে যাবে তারা তাদের মতের স্বপক্ষে এমন কিছু হাদীস এবং সাহাবীগণের উক্তি দ্বারা দলীল পেশ করেছেন যাতে আদৌ তাদের কোন দলীল নয়। তাদের সর্বাধিক শক্তিশালী দলীল মুস্তাহাযা রোগাক্রান্ত সাহাবী ফাত্বিমাহ্ বিনতু আবী হুবায়স (রাঃ) সম্পর্কিত বুখারীসহ অন্যান্য গ্রন্থে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি যেখানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন এটি (মুসতাহাযা) মূলত একটি রোগ যা হতে রক্ত প্রবাহিত হয়। তাতে আরও রয়েছেঃ তুমি রক্তস্রাবের নির্দিষ্ট সময় আগমনের আগ পর্যন্ত প্রতি সালাতের জন্য নতুনভাবে উযূ করবে।

(এ হাদীসের আলোকে তারা বলেন) সাবিলায়ন দ্বারা উদ্দেশ্য মূলত প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা। আর ইসতিহাযার রক্ত প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বের হয় না। অতএব জানা গেল সামনের বা পেছনের রাস্তা দিয়ে বের না হওয়া সত্ত্বেও ইসতিহাযার রক্ত উযূ ভঙ্গের কারণ এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি إِنَّمَا ذلِكَ عِرْقٌ (এটি কেবলমাত্র একটি রোগ) এর দ্বারা সাবিলায়ন ছাড়াও শরীরের যে কোন স্থানের রগ থেকে রক্ত বের হওয়া দ্বারা যে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভেঙ্গে যাবে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অতএব শরীরের যে কোন অঙ্গ থেকে রক্ত বের হলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বাতিল হয়ে যাবে।

* (ভাষ্যকার এর প্রত্যুত্তরে বলেন) মহিলাদের লজ্জাস্থান বা গুপ্তাঙ্গ যেখান থেকে ইসতিহাযার রক্ত প্রবাহিত হয় তা পাশর্ববর্তীতার কারণে প্রস্রাব বের হওয়ার স্থানের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। সেজন্য রক্তস্রাব বা মানী উযূ ভঙ্গের কারণ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। অনুরূপ ইসতিহাযার রক্তও উযূ ভঙ্গের কারণ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি إِنَّمَا ذلِكَ عِرْقٌ (এটি কেবলমাত্র একটি রোগ) দ্বারা সাহাবী ফাত্বিমাহ্ বিনতু হুবায়শ (রাঃ) মুসতাহাযার রক্ত কেবলমাত্র হায়যের রক্তের হকুমের অন্তর্গত একটি বিষয় মর্মে যে ধারণা করেছিলেন তা খণ্ডন করেছেন। অর্থাৎ- মহিলারা হায়যের যে রক্ত দেখে অভ্যস্ত মুসতাহাযার রক্ত তার অন্তর্গত নয় বরং অসুস্থতার কারণে একটি বিশেষ শিরা থেকে নির্গত এক প্রকার রক্ত।

তারা তাদের মতের স্বপক্ষে আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে তিরমিযীতে বর্ণিত হাদীস দ্বারাও দলীল প্রদান করে যেখানে বলা হয়েছে قَاءً فَتَوَضَّأَ (অর্থাৎ- তিনি বমন করে উযূ করলেন)। তারা বলেন, অথচ বমনের কারণে উযূ ভঙ্গ হবে। যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে উযূ করেছেন।

* (ভাষ্যকার এর প্রতিউত্তরে বলেন) এ বর্ণনায় তাদের পক্ষে কোন দলীল নেই। কারণ এখানে فتوضأ টি কারণ হবে বর্ণনামূলক হওয়ার চেয়ে তা‘ক্বীর (অর্থাৎ- একটির পরে অন্য একটি করা) হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময়। যদিও বা মেনে নেয়া হয় যে, فا টি এখানে কারণ (অর্থাৎ- বমনের কারণেই তিনি উযূ করেছেন) তারপরেও এটি দ্বারা বমনের কারণে উযূ ভঙ্গ প্রমাণিত হয় না। কারণ মানুষ কখনো বমনের পর নাক, মুখসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের অবশিষ্ট ময়লা দূর করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশেও উযূ করে থাকে। অতএব বমন উযূর শার‘ঈ কোন কারণ নয়, বরং এটি একটি স্বভাবগত কারণ যাতে মানুষ উযূ করে থাকে। শার‘ঈ কারণ হওয়ার জন্য এর প্রবর্তকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা আবশ্যক। মূলকথা হলো শুধুমাত্র কোন কর্মের দ্বারা উযূ আবশ্যক হওয়া বা উযূ নষ্ট হওয়া সাব্যস্ত হয় না। কারণ কোন কর্ম কেবলমাত্র তখনই আবশ্যক প্রমাণিত হবে যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করবেন এবং লোকেদের তা করার নির্দেশ প্রদান করবেন। অথবা সেই কর্মের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করবেন যে, তা উযূ ভঙ্গের কারণ।

* তাদের মতে স্বপক্ষে সর্বাধিক সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে ইবনু মাজায় বর্ণিত মারফূ‘ হাদীস যেখানে বলা হয়েছে

من قاء أو رعف فى صلاته فلينصرف وليتوضأ

(অর্থাৎ- যার সালাতরত অবস্থায় বমন অথবা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হবে সে যেন সালাত ছেড়ে দিয়ে উযূ করে)। (অতএব, বমন বা নাক দিয়ে রক্ষক্ষরণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  ভঙ্গের কারণ)

(ভাষ্যকার তাদের প্রতিউত্তরে বলেন) হাদীসটি একেবারে দুর্বল যাকে আহমাদ বিন হাম্বাল ছাড়াও অন্যরা য‘ঈফ বলেছেন।

 এছাড়াও তারা আরো কতগুলো হাদীস দ্বারা দলীল প্রদান করেছেন যার সবগুলো গ্রহণের আযোগ্য বা দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে সেই সহীহ হাদীসের বিপরীত যা ইমাম বুখারী জাবির (রাঃ) হতে মুয়াল্লাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন,

اَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ فِىْ غَزْوَةَ ذَاتِ الرِّقَاءِ، فَرَمى رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَتَرَفَهُ الدَّمَ فَرَكَعَ وَسَجَدَ وَقَضى-فِيْ صَلَاتِه.

(অর্থাৎ- নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতুর রিক্বায় যুদ্ধে ছিলেন, সে সময় এক ব্যক্তি তীর দ্বারা আক্রান্ত হলে তার রক্ত ঝরলো, তারপরেও তিনি রুকূ‘ সিজদাসহ সালাত চালিয়ে গেলেন)। আর বায়হাক্বীর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি সেই সাহাবীকে ডাকলেন। রাবী বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পুনরায় আদায়ের আদেশ দেননি।’’

এছাড়া সাবিলায়ন ছাড়া শরীরের অন্য যে কোন অঙ্গ দিয়ে রক্ত বা অন্য কোন কিছু প্রবাহিত হওয়াতে উযূ ভঙ্গ না হওয়ার ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীস এবং সাহাবীগণের উক্তি রয়েছে যা মূলকেই সমর্থন করে যেগুলো ইমাম যায়লা‘ঈ, দারাকুত্বনী এবং শাওকানী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। অতএব, সামনের বা পিছনের রাস্তা ছাড়া শরীরের অন্য কোন অঙ্গ দিয়ে রক্ত, পূঁজ বা বমনের মতো কোন কিছু বের হলেও তাতে উযূ  ভাঙ্গবে না বা নষ্ট হবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

اَلْأَدَبُ (আদাব) বা শিষ্টাচার হলো প্রত্যেক জিনিসের সীমার প্রতি লক্ষ্য রাখা। কারো কারো মতে আদাব হলো প্রশংসনীয় কথা বা কাজের প্রয়োগ। অভিধানবেত্তাগণ ’আদাব’ শব্দটি ব্যবহার করেন কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তর ক্ষেত্রে যা উপযোগী সেক্ষেত্রে। যেমন বলা হয়أَدَابُ الدَّرْسِ পাঠের আদব বা শিষ্টাচারأَدَابُ القَّاضِيْ বিচারকের শিষ্টাচার। আর اَلْخَلَاءُ (খলা-) বলা হয় প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের স্থানকে। যেহেতু মানুষ সেখানে নির্জন থাকে তাই তাকে اَلْخَلَاءُ নির্জনস্থান বলা হয়েছে।


৩৩৪-[১] আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন পায়খানায় যাবে তখন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)কে সামনে বা পেছনে রেখে বসবে না, বরং পূর্বদিকে ফিরে বসবে অথবা পশ্চিম দিকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

শায়খ ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ বলেছেন, এটা উন্মুক্ত প্রান্তরের হুকুম। দালান-কোঠা বা ঘরের মধ্যকার পায়খানায় অথবা ঘরের মতো করে নির্মিত পায়খানায় এরূপ করা দোষের নয়।

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا»
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام محيي السّنة C: هَذَا الْحَدِيثُ فِي الصَّحْرَاءِ وَأَمَّا فِي الْبُنْيَانِ فَلَا بَأْس لما رُوِيَ:

عن ابي ايوب الانصاري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اتيتم الغاىط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا او غربوا» قال الشيخ الامام محيي السنة C: هذا الحديث في الصحراء واما في البنيان فلا باس لما روي:

ব্যাখ্যা: قوله : (وَلكِنْ شَرِّقُوْا أَوْ غَرِّبُوْا) অর্থাৎ- তোমরা পূর্ব পশ্চিম দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা কর। এ আদেশটি মূলত মদীনাবাসী এবং যাদের ক্বিবলাহ্ (কিবলাহ/কিবলা) মদীনাবাসীদের ক্বিবলার দিকে তাদের জন্য প্রযোজ্য।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, দিকাভিমুখী হলে ক্বিবলাহ্ (কিবলাহ/কিবলা) সামনে বা পেছনে হয় না সেদিকে মুখ করে স্বাভাবিক প্রয়োজন (তথা পেশাব-পায়খানা) পূরণ করা যা দেশভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। (অর্থাৎ- প্রত্যেক দেশের অধিবাসীরা সেদিকে মুখ করে স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ করবে যে দিকাভিমুখী হবে (ক্বিবলাহ্ সামনে বা পেছনে হবে না)। হাদীসটি বাহ্যিকভাবে খোলা ময়দান ও প্রাচীর বেষ্টিত টয়লেটের মাঝে কোন পার্থক্যকরণ ছাড়াই স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণের সময় ক্বিবলাকে সামনে বা পিছনে করতে নিষিদ্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৩৫-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার কোন কাজে (আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসার ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। তখন আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নীচে এক ঘেরাও করা জায়গায়) ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হকে (কিবলাকে) পেছনে রেখে (উত্তরে) সিরিয়ার দিকে মুখ ফিরিয়ে পায়খানা করছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

عَن عبد الله بن عمر قَالَ: ارْتَقَيْتُ فَوْقَ بَيْتِ حَفْصَةَ لِبَعْضِ حَاجَتِي فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقْضِي حَاجته مستدبر الْقبْلَة مُسْتَقْبل الشَّام

عن عبد الله بن عمر قال: ارتقيت فوق بيت حفصة لبعض حاجتي فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضي حاجته مستدبر القبلة مستقبل الشام

ব্যাখ্যা: ইমাম বাগাবী (রহঃ)-এর কর্ম থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, তিনি বলতে চেয়েছেন নিষেধের হাদীসটি প্রথমত ‘আমভাবে বর্ণিত হলেও ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা তার ব্যাপকতা নির্দিষ্ট হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৩৬-[৩] সালমান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে মুখ করে প্রস্রাব-পায়খানা করতে, ডান হাতে ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করতে, তিনটির কম ঢিলা দিয়ে ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করতে এবং শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَن سلمَان قَالَ: نَهَانَا يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْل أَو أَن نستنتجي بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ. رَوَاهُ مُسلم

وعن سلمان قال: نهانا يعني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستقبل القبلة لغاىط او بول او ان نستنتجي باليمين او ان نستنجي باقل من ثلاثة احجار او ان نستنجي برجيع او بعظم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস হতে কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়। যথা ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করা হারাম। কারণ এখানে নিষেধের ক্ষেত্রে ভিন্নার্থে প্রবাহিতকারী কোন কারণ না থাকায় হারাম অর্থটি মূল। অতএব, ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা করা মাকরূহ বলে হুকুম দেয়ার কোন অবকাশ নেই। এটি ডান হাতের মর্যাদা এবং তাকে পংকিলতা থেকে রক্ষার বিষয়ে অবহিতকরণ।

* ইসতিনজার ক্ষেত্রে তিনটির কম টিলা ব্যবহার বৈধ নয় যদিও তিনটির কম ব্যবহারে পবিত্রতা অর্জিত হয়।

* পশুর বিষ্ঠা এবং হাড় দ্বারা ইসতিনজা করা বৈধ নয়। প্রথমটির (পশুর বিষ্ঠা) দ্বারা বৈধ না হওয়ার কারণ হলোঃ প্রথমত তা জিন্ জাতির চতুষ্পদ জন্তুর শুকনা খাবার। দ্বিতীয়ত তা অপবিত্র হওয়ায় অন্য কোন বস্ত্তকে পবিত্র করতে পারে না।

হাড় দ্বারা বৈধ না হওয়ার কারণ হলোঃ

প্রথমত তা জিনদের খাদ্য। অর্থাৎ- তারা তা খাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লা-হ’ বললে তা গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত)পূর্ণ অবস্থায় পায় যেমনটি আগে ছিল।

দ্বিতীয়ত তা চটচটে থাকে ফলে তা অপবিত্র।

তৃতীয়ত তা প্রায়শ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত থাকে।

চতুর্থতঃ তা কষ্টকর যা ব্যবহারে ব্যবহারকারী কষ্ট পায়।

দুই হাদীসে দ্বন্দ্ব নিরসন

এ হাদীসে সর্বনিম্ন তিনটি ঢিলা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অথচ ২য় অনুচ্ছেদে আগত আবূ দাঊদসহ অন্যান্য গ্রন্থে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছেঃ (مَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوْتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَّا فَلَا حَرَجَ) অর্থাৎ- ‘যে ঢিলা ব্যবহার করবে সে যে বিজোড় করে। যে তা করলো সে ভালো করলো তবে বিজোড় না হলেও সমস্যা নেই’। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে তিনটির কমেও বৈধ। এর দ্বন্দ্ব কয়েকভাবে নিরসন করা যায়। যথাঃ

প্রথমত সালমান (রাঃ)-এর হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের চেয়ে অধিক সহীহ। অতএব, তা অগ্রাধিকারযোগ্য।

দ্বিতীয়ত উভয় হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধনকরণ। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেছেনঃ ইমাম শাফি‘ঈ আহমাদ ও আহলে হাদীসগণ সালমান (রাঃ)-এর হাদীসের দ্বারা ঢিলা তিনটির কম না হওয়ার শর্তারোপ করেছেন যদিও তার কমে পবিত্রতা অর্জিত হয়। কিন্তু তিনটিতে পবিত্রতা অর্জিত না হলে তার বেশি নিতে পারবে যতক্ষণ না পবিত্রতা অর্জিত হয়। তখন (বেশি নেয়ার সময়) বিজোড় ঢিলা ব্যবহার মুসতাহাব - যেমনটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (مَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوْتِرْ) ‘ঢিলা ব্যবহার করলে বিজোড় করবে’ তবে তা ওয়াজিব নয়। যেমনটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (وَمَنْ لَّا فَلَا حَرَجَ) (বিজোড় না হলে সমস্যা নেই)। অতএব তিনটির কম ঢিলা ব্যবহার বৈধ নয় তবে তিনটির বেশি হলে বিজোড় ব্যবহার মুসতাহাব)।

الاستنجاء (ইসতিনজা) অর্থ মানুষ বা পশুর বিষ্ঠা, শুকনো মল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৩৭-[৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় গেলে বলতেনঃ ’’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবা-য়িস’’- [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নর ও নারী শয়তানদের (ক্ষতি সাধন) থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।] (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخبث والخبائث»

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل الخلاء يقول: «اللهم اني اعوذ بك من الخبث والخباىث»

ব্যাখ্যা: (إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ) ‘‘যখন কেউ পায়খানায় প্রবেশ করবে’’, অর্থাৎ- প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের স্থানে প্রবেশের মনস্থ করবে তখন সে যেন এ দু‘আটি পাঠ করে। তবে এটি (দু‘আ পাঠ) প্রাচীর বিশিষ্ট টয়লেটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং এর হুকুমটি এমনকি কেউ যদি গৃহের কোণে পাত্রে পেশাব করে তখনও পেশাব আরম্ভ করার পূর্বে দু‘আ পাঠ করতে হবে। অতএব প্রাচীরবিশিষ্ট টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে দু‘আ পাঠ করতে হবে। অতএব প্রাচীরবিশিষ্ট টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে আর এ ছাড়া অন্য স্থানে প্রয়োজন পূরণের শুরুতে তথা কাপড় উপরে তোলার সময় দু‘আ বলবে। কেউ ভুলে গেলে মনে মনে পড়ে নেবে, উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই।

قوله (اَللّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ) ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অনিষ্ট সাধনকারী পুরুষ মহিলা জিন্ শায়ত্বন (শয়তান) হতে আশ্রয় চাচ্ছি।’’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসত্ব প্রকাশার্থে দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন এবং উম্মাতকে শিক্ষাদানের উদ্দেশে তা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করতেন। خُبُثِ (খুবুস) অর্থ অনিষ্ট সাধনকারী পুরুষ জিন্-শায়ত্বন (শয়তান) আর خَبَائِثْ (খবা-য়িস) অর্থ মহিলা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৩৮-[৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এ দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোন বিরাট গুনাহের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এদের একজন প্রস্রাব করার সময় আড়াল করতো না। সহীহ মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে, প্রস্রাব করার পর উত্তমভাবে পাক-পবিত্রতা অর্জন করতো না। আর অপরজন একজনের কথা অন্যজনের কানে লাগাতো (চোগলখোরী করতো)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুরের একটি তাজা ডাল ভেঙ্গে তা দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরে তার একটি অংশ গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে পর্যন্ত ডাল দু’টি শুকিয়ে না যাবে, হয়তো তাদের শাস্তি হ্রাস করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحدهمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ - وَفِي رِوَايَةٍ لمُسلم: لَا يستنزه مِنَ الْبَوْلِ - وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثمَّ أَخذ جَرِيدَة رطبَة فَشَقهَا نِصْفَيْنِ ثُمَّ غَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً قَالُوا يَا رَسُول الله لم صنعت هَذَا قَالَ لَعَلَّه يُخَفف عَنْهُمَا مَا لم ييبسا

وعن ابن عباس قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال انهما ليعذبان وما يعذبان في كبير اما احدهما فكان لا يستتر من البول - وفي رواية لمسلم: لا يستنزه من البول - واما الاخر فكان يمشي بالنميمة ثم اخذ جريدة رطبة فشقها نصفين ثم غرز في كل قبر واحدة قالوا يا رسول الله لم صنعت هذا قال لعله يخفف عنهما ما لم ييبسا

ব্যাখ্যা: قوله (مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِقَبْرَيْنِ) ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।’’ ইবনু মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে কবর দু’টি নতুন ছিল। ইবনু হাজার বলেনঃ হাদীসের সমস্ত সানাদ থেকে স্পষ্ট যে, কবর দু’টি মুসলিম ব্যক্তির ছিল।

قوله (وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ) ‘‘তারা বড় কোন পাপের কারণে শাস্তি পাচ্ছিল না’’, অর্থাৎ- তাদের অপরাধ দু’টি এতটাই হালকা ছিল যে, চাইলেই তারা তা থেকে বাঁচতে পারতো। তবে এর অর্থ এটি নয় যে, তাদের গুনাহ দু’টি গুরুতর বা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ছিল না, কিংবা এ অপরাধে তাদের শাস্তি হতো না। কারণ পেশাব ধেকে না বাঁচলে শরীর অপবিত্র থাকে ফলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বিনষ্ট হয়ে যায়। আর একজনের ত্রুটি অপরকে বলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমনকি তা হানাহানিতে রূপ নেয়। অতএব এ দৃষ্টিকোণ থেকে এ দু’টি কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ। বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে (وَإِنَّه لَكَبِيْرٍ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটি কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ। আর (وَمَا يُعَذِّبَانِ فِىْ كَبِيْرٍ) দ্বারা উদ্দেশ্য তা থেকে বেঁচে থাকা সহজ ছিল কঠিন ছিল না।

‘আযাব হালকা হওয়ার কারণ সম্পর্কে বেশ কিছু অভিমত ব্যক্ত হয়েছে। যথাঃ

কেউ কেউ বলেনঃ ডাল শুকনো হওয়া শাস্তি লাঘব হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্টকরণের কারণ হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শাস্তি লাঘবের সুপারিশ করেছিলেন। খেজুর ডালের সজীবতা থাকা পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব করার মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে। ডালের সজীবতা অবশিষ্ট থাকা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশের দ্বারা শাস্তি লাঘব করা একটি নিদর্শন। আর এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে মুসলিমের শেষে জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর অর্থ এটি নয় যে, খেজুর ডালের আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য রয়েছে কিংবা তাজা ডালের কোন বিশেষত্ব রয়েছে যার ফলে তাদের শাস্তি লাঘব হয়েছে।

কেউ কেউ বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের বারাকাতে শাস্তি লাঘব করা হয়েছিল। এ দৃষ্টিকোণ থেকে হাদীসটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সর্বদা প্রযোজ্য কোন নির্দেশনা বা ইঙ্গিত নয়।

* কেউ কেউ বলেনঃ এর হুকুমটি ব্যাপক যা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত সবার জন্য প্রযোজ্য। এর প্রমাণ সাহাবী বুরায়দাহ্ বিন হুসায়ন-এর মৃত্যুর পরে তার কবরে দু’টি খেজুর ডাল গেড়ে দেয়ার ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন। সাহাবী আবূ বারযা আল আসলামী (রাঃ) হতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।

* ভাষ্যকার বলেনঃ আমার মতে এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যাচার করে কবরের উপর সুগন্ধি গুল্ম স্থাপন, বৃক্ষ রোপণ, এক প্রকার সুগন্ধি কাঠ দ্বারা কবরকে সুবাসিতকরণ, কবরস্থানে প্রদীপ জ্বালানোসহ আরও যে সমস্ত কর্মকান্ড ঘটে তা সবগুলোই সুস্পষ্ট বিদ্‘আত বা ভ্রষ্টতা।

* এ হাদীস থেকে আরও প্রমাণিত হয় যে, মানুষের পেশাব অপবিত্র যা হতে বেঁচে থাকা আবশ্যক। আর এ বিষয়ে সকলেই একমত। পেশাবের বিষয়টি খুবই গুরুতর যা কবরে শাস্তি হওয়ার একটি অন্যতম কারণ যেমনটি চোগলখোরী করাও কবরে শাস্তি হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৩৯-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দু’টি অভিসম্পাত থেকে বেঁচে থাকবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সে দু’টি অভিসম্পাত কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের কোন কিছুর ছায়ার স্থানে পায়খানা করে। (মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ. قَالُوا: وَمَا اللَّاعِنَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ . قَالَ: «الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاس أَو فِي ظلهم» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اتقوا اللاعنين. قالوا: وما اللاعنان يا رسول الله؟ . قال: «الذي يتخلى في طريق الناس او في ظلهم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: قوله (اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ) ‘‘তোমরা অভিশাপকারী দু’টি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো’’, অর্থাৎ- এমন দু’টি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো যা অভিশাপ বয়ে আনে, মানুষকে যে বিষয়ে প্ররোচিত করে এবং তার দিকে আহবান করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে দু’টি কাজ অভিশাপের কারণ হওয়ার ফলে যেন তা নিজেই অভিশাপকারী। মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে (اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ) ‘‘তোমরা অভিশাপকারীদের থেকে বেঁচে থাকো’’। অর্থাৎ- তোমরা অভিশাপপ্রাপ্তদের কর্ম থেকে বেঁচে থাকো। এখানে ইস্‌মে ফায়েলটি ইস্‌মে মাফউল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একটি হলো জন-চলাচলের রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা আর অপরটি ছায়াযুক্ত স্থান যেখানে বসে মানুষ বিশ্রাম করে বা সফরের সময় যাত্রা বিরতি দিয়ে বাহন বসায় এবং নিজেরা বিশ্রাম নেয় সেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করা। অতএব হাদীসটি প্রমাণ করে জনতার রাস্তায় এবং তাদের ছায়াযুক্ত বিশ্রামের স্থানে পেশাব-পায়খানা করা হারাম। কারণ এর ফলে মুসলিমরা তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে অপবিত্র এবং দুর্গন্ধের জন্য কষ্ট পায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪০-[৭] আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পানি পান করার সময় যেন পানপাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে, শৌচাগারে গেলে ডান হাতে নিজের পুরুষাঙ্গকে না ধরে এবং নিজের ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِذا شرب أحدكُم فَلَا ينتنفس فِي الْإِنَاءِ وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ»

وعن ابي قتادة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا شرب احدكم فلا ينتنفس في الاناء واذا اتى الخلاء فلا يمس ذكره بيمينه ولا يتمسح بيمينه»

ব্যাখ্যা: قوله (فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ) ‘‘সে যেন পাত্রে শ্বাস না নেয়’’। অর্থাৎ- পাত্রের অভ্যন্তরে শ্বাস নিবে না। কারণ শ্বাস প্রশ্বাসের উষ্ণতার ফলে তৃষ্ণা নিবারণকারী পানির উপশমন ক্ষমতা কমে যায়। অথবা তাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে জীবাণু পতিত হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। বরং পাত্র থেকে মুখ তুলে বাইরে শ্বাস নিয়ে পুনরায় পানি পান করবে।

وقوله (فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَه بِيَمِينِه) ‘‘সে যেন প্রয়োজন পূরণের সময় ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে’’। অন্য বর্ণনায় রয়েছে إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَمَسُّ ذَكَرَه بِيَمِيْنِه (অর্থাৎ- যখন তোমাদের কেউ পেশাব করে সে যেন ডান হাত দিয়ে স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে)। আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে لَا يَمَسُّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَه بِيَمِيْنِه وَهُوَ يَبُوْلُ অর্থাৎ- ‘‘তোমাদের কেউ যেন পেশাবরত অবস্থায় ডান হাত দ্বারা স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে’’। উপরোক্ত সবগুলো বর্ণনা প্রমাণ করে যে পুরুষাঙ্গ স্পর্শের নিষেধাজ্ঞাটা পেশাবরত অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত। এছাড়া অন্য অবস্থায় তা বৈধ। সর্বাবস্থায় ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা নিষেধ সম্পর্কিত যে সকল বর্ণনা এসেছে এগুলোর উৎসস্থল একই।

আবার কেউ কেউ বলেনঃ সর্বাবস্থায় এ বিষয়টি নিষিদ্ধ হওয়াটাই যথাযথ হওয়া সত্ত্বেও নিষেধ করেছেন। কেননা প্রস্রাবরত অবস্থায় তা স্পর্শ করার প্রয়োজন। আর ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটিও ১ম উক্তিকে সমর্থন করে যেখানে ‘‘তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লজ্জাস্থান স্পর্শ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন যে, তাতো তোমার শরীরের একটি অঙ্গ মাত্র।’’ ত্বলক্ব (রাঃ)-এর এ বর্ণনাটি সর্বাবস্থায় তা স্পর্শ করা বৈধতা প্রমাণ করে। তবে আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)-এর সহীহ হাদীসটির মাধ্যমে প্রস্রাবরত অবস্থাটি বৈধতা থেকে বের হয়ে গেল এবং অন্য অবস্থায় তা বৈধতার উপর অবশিষ্ট রইল। ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) নিষেধের কারণ ডান হাতের মর্যাদা রক্ষা। হাদীসটি উল্লিখিত তিনটি বিষয় যথা পানি পানের সময় পাত্রে শ্বাস ফেলা, প্রস্রাব করাকালে ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ এবং ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ। কেননা নাহীর (নিষেধাজ্ঞার) মূল অর্থ হলো হারাম করা যদি অন্য কোন অর্থে গ্রহণের কারণ না থাকে। এখানে সে ধরনের কোন কারণ নেই। তবে জমহূরের মতে এখানে নাহী দ্বারা উদ্দেশ্য নাহীয়ে তানযীহি (অপছন্দনীয়)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪১-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময় যেন ভালো করে নাক ঝেড়ে নেয় এবং ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করার সময় বেজোড় সংখ্যায় ঢিলা (তিন, পাঁচ ও সাত) ব্যবহার করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: (قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فليوتر

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضا فليستنثر ومن استجمر فليوتر

ব্যাখ্যা: (اَلاٍسْتِنْثَارْ) ‘‘আল ইসতিনসা-র’’ হলো নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া, তবে এ হাদীসে (اَلاِسْتِنْشَاقْ) ‘‘আল ইসতিনশা-ক্ব’’ উল্লেখ হয়নি। কেননা ‘‘আল ইসতিনসা-র’’ উল্লেখ করার মাধ্যমে ‘‘আল ইসতিনশা-ক্ব’’ বুঝানো হয়েছে। (وَمَنْ اسْتَجْمَرَ) ‘‘পাথরের মাধ্যমে ঢিলা নেয়া’’। এখানে একটা ঢিলা ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু এই মুতলাক (সাধারণ) বিধানটি অন্য একাধিক শর্তযুক্ত বিধানের উপর বহন করে। শর্তযুক্ত বিধান হলো তিনটি, পাঁচটি ও সাতটি বা এর চেয়েও বেশী। আবশ্যক হলো তিনটি। আর তিনের অধিক ঢিলা ব্যবহার করা মুসতাহাব। কেননা রসূলূল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি তিনের অধিক ঢিলা ব্যবহার করবে না, তার কোন ক্ষতি নেই।’’ (মুত্তাফাকুন ‘আলায়হি)             


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪২-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় যেতেন। আমি এবং অন্য এক বালক পানির পাত্র ও বর্শাধারী একটি লাঠি নিয়ে যেতাম। সে পানি দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শৌচ কার্য সমাধা করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ اَدَابِ الْخَلَاءِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ الْخَلَاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يستنجي بِالْمَاءِ

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل الخلاء فاحمل انا وغلام اداوة من ماء وعنزة يستنجي بالماء

ব্যাখ্যা: قوله (يَدْخُلُ الْخَلَاءَ) ‘‘তিনি খানায় প্রবেশ করতেন’’ এখানে খানা দ্বারা উদ্দেশ্য ফাঁকা ময়দান যা (عَنَزَةً) এ শব্দ দ্বারা প্রতীয়মান হয়। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে ‘আনাযাকে সুতরাহ্ (সুতরা) করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, এর উপর কাপড় রেখে পর্দা করতেন, তাঁর পার্শ্বে এটি প্রোথিত করতেন এবং এর পাশ দিয়ে অতিক্রমে মনস্থকারীর নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কবাণী স্বরূপ। এর দ্বারা শক্তভূমি খনন করতেন যাতে প্রস্রাবের সময় তা নিজের দিকে ছিটকে না আসে, এছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণের সময়ও তিনি এটি ব্যবহার করতেন।

(غُلَامٌ) গোলাম উঠতি বয়সী তরুণকে বলা হয়। কেউ কেউ বলেন সাত বছর বয়স পর্যন্ত গোলাম বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, দাড়ি দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত গোলাম বলা হয়। তবে অন্যদেরও রূপকভাবে গোলাম বলা হয়। এখানে ‘গোলাম’ দ্বারা কে তা নিয়ে বিভিন্ন উক্তি এসেছে। যেমন কেউ কেউ বলেছেন অন্য একজন গোলাম দ্বারা আনাস (রাঃ) ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-কে বুঝিয়েছেন। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জুতার ফিতা বহন করতেন। আবার অন্যরা বলেছেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তিনি। কেউ কেউ বলেছেনঃ জাবির (রাঃ) বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)। এ হাদীসটি ছোট ছেলেকে খাদেম হিসেবে গ্রহণের বৈধতার দলীল।

قوله (يَسْتَنْجِىْ بِالْمَاءِ) (তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন) মুল্লা ‘আলী ক্বারীর ভাষ্যমতে আনাস (রাঃ) এবং অন্য সাহাবী (রাঃ)-এর বর্ণনা হতে পাওয়া যায় যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা)য় শুধু পানি ব্যবহার করতেন আবার কখনো শুধু পাথর ব্যবহার করতেন। তবে অধিকাংশ সময় তিনি দু’টোই ব্যবহার করতেন। অতএব, এর মাধ্যমে মালিকীদের রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করেননি মর্মে যে দাবী রয়েছে তা প্রত্যাখ্যাত হলো।

إِدَاوَةً (ইদা-ওয়াহ্) হলো পানি রাখার জন্য চামড়ার তৈরি ছোট পাত্র।

عَنَزَةً (‘আনাযাহ্) হলো লাঠির চেয়ে লম্বা বর্শার চেয়ে খাটো দুই দাঁতবিশিষ্ট একটি বল্লম জাতীয় বস্ত্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৩-[১০] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশকালে নিজের হাতের আংটি খুলে রাখতেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও তিরমিযী।[1] ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি ’মুনকার’; অধিকন্তু তিনি ’খুলে রাখতেন’ এর পরিবর্তে ’রেখে দিতেন’ বলেছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ نَزَعَ خَاتَمَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ
وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ. وَفِي رِوَايَتِهِ وَضَعَ بَدَلَ نزع

عن انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا دخل الخلاء نزع خاتمه. رواه ابو داود والنساىي والترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب وقال ابو داود: هذا حديث منكر. وفي روايته وضع بدل نزع

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়-

* প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় আল্লাহর যিকর সম্বলিত সকল বস্ত্তকে দূরে রাখতে হবে। আর কুরআনের অবস্থান তো সবার উপরে। এমনকি বলা হয়েছে বিনা প্রয়োজনে পায়খানায় মুসাহাফ প্রবেশ করানোও হারাম।

* ‘আল্লামা আমীর আল ইয়ামানী বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে ‘‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’’ অঙ্কিত তাঁর আংটি খুলে রাখতেন যার কারণটিও সর্বজনবিদিত আর তা হলো আল্লাহর যিকর সম্বলিত সকল বস্ত্তকে অপবিত্র স্থান থেকে দূরে রাখা, শুধু আংটিই নয়।

* ‘আল্লামা ত্বীবী (রাহঃ) বলেনঃ আল্লাহ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরআনের নাম সম্বলিত কোন বস্তু টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যবহার করা হারাম।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৪-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় যেতে ইচ্ছা করতেন, তখন এত দূরে চলে যেতেন যাতে কেউ তাঁকে দেখতে না পায়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ الْبَرَازَ انْطَلَقَ حَتَّى لَا يرَاهُ أحد. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اراد البراز انطلق حتى لا يراه احد. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে সে সকল মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত হয়, তা হলোঃ প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় জনসম্মুখ থেকে অনেক দূরে যাওয়াই শারী‘আতসম্মত তা জমিনের এমন স্থান হবে যেখান দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে না। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলোঃ

* প্রাচীর বেষ্টনির মাধ্যমে মানব চক্ষুকে আড়াল করা বা কাপড় জাতীয় কোন আবরণের মাধ্যমে আড়াল করা বা খাল, গর্তের অভ্যন্তরে যাওয়ার মাধ্যমে আড়াল করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৫-[১২] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি প্রস্রাব করার ইচ্ছা করলে একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে নরম জায়গায় প্রস্রাব করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের কেউ প্রস্রাব করতে ইচ্ছা করলে এরূপ নরম স্থান খোঁজ করবে (যাতে শরীরে প্রস্রাবের ছিটা না আসে)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَرَادَ أَنْ يَبُولَ فَأَتَى دَمِثًا فِي أَصْلِ جِدَارٍ فَبَال ثُمَّ قَالَ: «إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَبُولَ فليرتد لبوله» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي موسى قال: كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات يوم فاراد ان يبول فاتى دمثا في اصل جدار فبال ثم قال: «اذا اراد احدكم ان يبول فليرتد لبوله» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রস্রাবকারীর জন্য অনুপযুক্ত শক্তভূমি পরিত্যাগ করে নরমভূমিতে গমন করা উচিত যাতে প্রস্রাবের সময় তার ছিটা এসে অপবিত্র না হয়। دَمِسٌ (দামিস) সে নরমভূমি যা প্রস্রাব চুষে নেয় ফলে পেশাবকারীর উপর ছিটা আসে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৬-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব-পায়খানার সময় নির্দিষ্ট স্থানের কাছাকাছি যাওয়ার পরই কাপড় উঠাতেন (অর্থাৎ- বসার সময়ে উঠাতেন, তার পূর্বে নয়)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْض. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد والدارمي

وعن انس رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اراد الحاجة لم يرفع ثوبه حتى يدنو من الارض. رواه الترمذي وابو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পেশাব বা পায়খানা করার জন্য বসার ইচ্ছা করতেন তখন লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনার্থে জমিনের নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত স্বীয় কাপড় উপরে উত্তোলন করতেন না। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এটি পেশাব-পায়খানার একটি অন্যতম শিষ্টাচার যা প্রাচীরবিশিষ্ট টয়লেট এবং খোলা ময়দানের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। কারণ পরিধেয় কাপড় উপরে তুললে লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যা প্রয়োজন ছাড়া বৈধ নয়। আর জমিনের নিকটবর্তী না হয়ে কাপড় উপরে তোলার প্রয়োজনও নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৭-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (তা’লীম ও নাসীহাতের ব্যাপারে) আমি তোমাদের জন্য পিতা-পুত্রের ন্যায়। আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকি (তোমাদের দীন, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার শিষ্টাচারও)। যখন তোমরা পায়খানায় যাবে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে মুখ করে বসবে না, পিঠ দিয়েও বসবে না। পায়খানা করার পর তিনটি ঢিলা দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাক-পবিত্র হবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে (পাক-পবিত্র হতে) নিষেধ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ডান হাতে শৌচ করতেও নিষেধ করেছেন। (ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ أُعَلِّمُكُمْ إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَأَمَرَ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ وَنَهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ وَنَهَى أَنْ يَسْتَطِيبَ الرَّجُلُ بِيَمِينِهِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

وعن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: انما انا لكم مثل الوالد لولده اعلمكم اذا اتيتم الغاىط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها وامر بثلاثة احجار ونهى عن الروث والرمة ونهى ان يستطيب الرجل بيمينه. رواه ابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: قوله (أُعَلِّمُكُمْ) (আমি তোমাদের পিতার মতো শিক্ষা দিই) যেমন পিতা পুত্রকে তার প্রয়োজনীয় সকল কিছুই শিক্ষা দেয় এবং তাতে কারও পরওয়া করে না। হাদীসের প্রথমাংশটুকু সাহাবীগণের নিকট পেশাব-পায়খানার শিষ্টাচার বর্ণনার একটি ভূমিকাস্বরূপ। কারণ মানুষ প্রায়শ এ বিষয়গুলো উল্লেখ করতে লজ্জাবোধ করে। বিশেষত সম্মানিত ব্যক্তিদের বৈঠকে। (তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ভূমিকা দিয়ে আরম্ভ করেছেন)। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় সন্তানদের পিতা-মাতার আনুগত্য করা আবশ্যক আর পিতাদের দায়িত্ব সন্তানদের শিষ্টাচার এবং দীনী বিষয়গুলো ভালোভাবে শিক্ষা দেয়া যা তাদের জন্য অতীব প্রয়োজন।

قوله (أمر بثلاثة أهجار) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসতিনজার ক্ষেত্রে তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান করেছেন। কেননা ইসতিনজার ক্ষেত্রে বিজোড় ঢিলা ব্যবহার এবং পূর্ণ পরিষ্কার উভয়টিই শারী‘আতের কাম্য যা তিনটি ঢিলা ব্যবহারের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

الرمة (রিমমাহ্) অর্থ জরাজীর্ণ হাড়। সম্ভবত এখানে সকল হাড়ই উদ্দেশ্য। তবে এটাও বলা যেতে পারে যে, অনুপকারী জরাজীর্ণ হাড় নোংরা করতে নিষিদ্ধ হলে অন্যগুলো আরও নিষেধ হওয়ার উপযোগী। ইমাম বাগাবী شرح السنة গ্রন্থে বলেছেনঃ পশুর মল এবং হাড়ের সাথে নিষেধাজ্ঞাটা সুনির্দিষ্টকরণে বুঝা যায় যে, পরিষ্কারকরণের ক্ষেত্রে পাথর এবং পাথরের মতই অন্যকিছু দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করা বৈধ। আর তা নাজাসাত অপসারণকারী মাটি, কাঠ, কাগজের টুকরাসহ সকল পাক জড়বস্ত্ত।

‘আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলে একই পর্যায়ভুক্ত। ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা)কে ‘ইস্তিত্বব’ বলা হয়েছে কারণ তাতে অপবিত্রতা অপসারিত হয়ে পবিত্রতা অর্জিত হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৮-[১৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাত ছিল তাঁর পবিত্রতা অর্জন ও খাবারের জন্য। আর বাম হাত ছিল প্রস্রাব-পায়খানা ও অপর অপছন্দনীয় কাজের জন্য। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْيُمْنَى لِطَهُورِهِ وَطَعَامِهِ وَكَانَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى لِخَلَائِهِ وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: كانت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم اليمنى لطهوره وطعامه وكانت يده اليسرى لخلاىه وما كان من اذى. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: قوله (لِطُهُورِه) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাত পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহার করতেন’’, অর্থাৎ- উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার ক্ষেত্রে যে সকল অঙ্গ ধৌতকরণে ডান হাতের সাথে বাম হাত মিলানোর বিষয় পাওয়া যায় তাতে শুধু ডান হাত ব্যবহার করতেন। আর মুখমণ্ডল ধৌত করা এবং মাথা ও কান মাসাহ করার মতো যে সকল অঙ্গের ক্ষেত্রে ডান হাতের সাথে বাম হাত একত্র করতে হয় যেখানে উভয় হাতই ব্যবহার করতন। এ ছাড়াও খাওয়া, পান করা, কাউকে কোন কিছু দেয়া, কাপড় পরিধান করা, মিসওয়াক করা, জুতা পরিধান করা, সিঁথি করা, মুসাফাহ করা, চোখে সুরমা ব্যবহার করাসহ যাবতীয় সম্মানজনক কাজ ডান হাত দ্বারা সম্পাদন করতেন। অপরপক্ষে ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করা, নাকের ময়লা পরিষ্কার করা, রক্ত পরিষ্কার করা, কাপড় খুলে ফেলা, নাকের পানি ঝাড়াসহ যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ বাম হাত দ্বারা সম্পাদন করতেন। (অতএব ডান হাত যাবতীয় ভালো কাজে ব্যবহৃত হবে) যেহেতু এর মর্যাদা রয়েছে। আর বাম হাত যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজে ব্যবহৃত হবে)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৪৯-[১৬] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যায়, সে যেন তিনটি ঢিলা সাথে করে নিয়ে যায়। এ ঢিলাগুলো দিয়ে সে পাক-পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও দারিমী)[1]

وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ

وعنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا ذهب احدكم الى الغاىط فليذهب معه بثلاثة احجار يستطيب بهن فانها تجزى عنه» . رواه احمد وابو داود والنساىي والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস হতে গৃহীত মাস্আলাসমূহ হলোঃ

* ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পাথর বা ঢিলা ব্যবহারই যথেষ্ট যা পানির সমতুল্য। জীবাণুসহ মূল অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়ার পরে যদি নাজাসাতের কোন দাগ অবশিষ্ট থাকে।

* পাথর বা ঢিলা ব্যবহারের পর পানি ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা নেই।

* তিনটি পাথর বা ঢিলা ব্যবহার করা আবশ্যক। কারণإجزء ক্রিয়াটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবশ্যকতা বুঝায়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫০-[১৭] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে শৌচকর্ম করো না। কেননা এসব তোমাদের ভাই জিনদের খোরাক। (তিরমিযী)[1] তবে ইমাম নাসায়ী ’জিনদের খোরাক’ বাক্যটি উল্লেখ করেননি।

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلَا بِالْعِظَامِ فَإِنَّهَا زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: «إخْوَانكُمْ من الْجِنّ»

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام فانها زاد اخوانكم من الجن» . رواه الترمذي والنساىي الا انه لم يذكر: «اخوانكم من الجن»

ব্যাখ্যা: আহমাদ ও মুসলিম-এর বর্ণনায় এ হাদীসের প্রেক্ষাপট এভাবে এসেছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনদের নিকট এসে তাদেরকে কুরআন পড়ালেন। পরে জিনেরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আবেদন করলে তিনি তাদের বললেন আল্লাহর নামে যাবাহকৃত প্রতিটি প্রাণীর হাড় তোমরা পরিপূর্ণ মাংসসহ পাবে। (এটিই তোমাদের যাদ বা খাবার) আর পশুর মলগুলো তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুর খাবার হিসেবে পাবে। এজন্যেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ঐ দু’টি বস্ত্তর দ্বারা শৌচকার্য করো না, কারণ তা জিনদের খাবার।

قوله (زَادَ إِخْوَانِكُمْ مِنْ الْجِنِّ) (অর্থাৎ- তোমাদের ভাই জিন্দের খাবার) ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসের এ অংশ থেকে এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, জিনরাও মুসলিম যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মুসলিমদের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটিও জানা যায় যে, তারা আহার করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫১-[১৮] রুওয়াইফি’ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে রুওয়াইফি’! হয়তো তুমি আমার পরে দীর্ঘ জীবন লাভ করবে, তুমি তখন মানুষকে এ সংবাদ দিবে যে, যে ব্যক্তি নিজের দাড়ি জট পাকাবে অথবা ধনুকের রশি গলায় কবচ হিসেবে বাঁধবে অথবা পশুর গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকর্ম করবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেন না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن رويفع بن ثَابت قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِي فَأَخْبِرِ النَّاسَ أَنَّ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوِ اسْتَنْجَى بِرَجِيعِ دَابَّة أَو عظم فَإِن مُحَمَّدًا بَرِيء مِنْهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن رويفع بن ثابت قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا رويفع لعل الحياة ستطول بك بعدي فاخبر الناس ان من عقد لحيته او تقلد وترا او استنجى برجيع دابة او عظم فان محمدا بريء منه. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: قوله (لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِىْ فَأَخْبِرِ النَّاسَ) অর্থাৎ- আমার মৃত্যুর পরে সম্ভবত তুমি দীর্ঘজীবী হবে এমনকি তুমি মানুষকে প্রকাশ্যভাবে অপরাধমূলক কর্মকান্ড- জড়িয়ে পড়তে দেখবে। অতএব যখন তুমি তা অবলোকন করবে তখন তাদেরকে এই নির্দেশাবলী অবহিত করবে।

قوله (مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَه)  অর্থাৎ- ‘‘যে ব্যক্তি তার দাড়িতে গিঁট দেয়’’ এর অর্থ বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে করেছেন। কেউ বলেনঃ এর অর্থ চিকিৎসার মাধ্যমে দাড়ি কোঁকড়ানো করা। কেউ বলেনঃ যুদ্ধের ময়দানে অহমিকা প্রদর্শনার্থে দাড়ি কোঁকড়ানো। কেউ বলেনঃ যুদ্ধের ময়দানে অহমিকা প্রদর্শনার্থে দাড়ি বাঁকিয়ে রাখতো, ফলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তা ছেড়ে রাখার নির্দেশ দিলেন। আবার কেউ বললেনঃ অনারবদের মত দাড়ি পেচিয়ে গুটিয়ে রাখা (যেমনটি আমাদের দেশের ভন্ড পীর ও লালন ফকীররা করে থাকে)।

قوله (أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا)  অর্থাৎ- ‘‘যে ব্যক্তি গলায় সুতা বা তন্তু ঝুলায়’’। কেউ কেউ বলেনঃ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিপদ আপদ ও খারাপ দৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পাবার উদ্দেশে তারা নিজেদের, নিজ সন্তানদের এবং ঘোড়ার গলায় সুতা দিয়ে বেঁধে যেসব তা‘বীয-কবচ ঝুলিয়ে রাখতো তা। আবার কেউ বলেনঃ বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে গলায় ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখা নিষেধ।

(যারা এ কাজগুলো করবে তাদের থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্ত)।

এটি কঠোর ধমকের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫২-[১৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুরমা লাগায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যায় লাগায়। যে এভাবে করলো সে ভালো করলো, আর যে এভাবে করলো না সে গর্হিত কাজ করলো না। আর যে ব্যক্তি (প্রস্রাব-পায়খানা করার পর) ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় ঢিলা ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি এভাবে করলো সে ভালো করলো, আর যে ব্যক্তি করলো না সে গর্হিত কাজ করলো না। যে ব্যক্তি খাবার খেলো এবং (খাবারের পর) খিলাল দ্বারা দাঁত হতে কিছু বের করলো, সে যেন তা মুখ থেকে ফেলে দেয়। আর যা জিহবা দিয়ে বের করে নেয় তা যেন গিলে ফেলে। যে এভাবে করলো সে উত্তম কাজ করলো, আর যে এরূপ করলো না সে গর্হিত কাজ করলো না। যে লোক পায়খানায় যায় সে যেন পর্দা করে। পর্দা করার জন্য যদি সে বালুর স্তূপ ছাড়া কিছু না পায় তাহলে স্তূপের দিকে যেন পিঠ দিয়ে বসে (কাপড় দিয়ে সামনের দিক ঢেকে রাখে)। কারণ শায়ত্বন (শয়তান) মানুষের বসার স্থান নিয়ে খেলা করে। যে এরূপ করলো ভালো করলো, আর না করলে মন্দ কিছু করলো না। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حرج وَمن أكل فَمَا تخَلّل فليلفظ وَمَا لَاكَ بِلِسَانِهِ فَلْيَبْتَلِعْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنْ أَتَى الْغَائِط فليستتر وَمن لَمْ يَجِدْ إِلَّا أَنْ يَجْمَعَ كَثِيبًا مِنْ رَمْلٍ فَلْيَسْتَدْبِرْهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِمَقَاعِدِ بَنِي آدَمَ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اكتحل فليوتر من فعل فقد احسن ومن لا فلا حرج ومن استجمر فليوتر من فعل فقد احسن ومن لا فلا حرج ومن اكل فما تخلل فليلفظ وما لاك بلسانه فليبتلع من فعل فقد احسن ومن لا فلا حرج ومن اتى الغاىط فليستتر ومن لم يجد الا ان يجمع كثيبا من رمل فليستدبره فان الشيطان يلعب بمقاعد بني ادم من فعل فقد احسن ومن لا فلا حرج» . رواه ابو داود وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: قوله (مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ) ‘‘যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহার করতে চায় সে যেন বিজোড় সংখ্যকবার করে’’, অর্থাৎ- সে যেন উভয় চক্ষুতে ধারাবাহিকভাবে তিনবার ব্যবহার করে। কারো কারো মতে ডান চক্ষুতে তিনবার এবং বাম চক্ষুতে দু’বার যাতে উভয় চক্ষুর সমষ্টি বিজোড় হয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আমল ছিল তিনবার করে ব্যবহার করা। যেমনটি শামায়িলে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাত্রে উভয় চক্ষুতে তিনবার করে সুরমা ব্যবহার করতেন। যে ব্যক্তি এরূপ করবে তথা তিনবার করে ব্যবহার করবে সে ভালো কাজ করবে যার বিনিময় পাবে। কেননা তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত।

قوله (مَنْ لَا فَلَا حَرَجَ) অর্থাৎ- কেউ যদি এরূপ করতে না পারে তবে কোন সমস্যা বা পাপ হবে না। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এটিই প্রমাণ করে যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল নির্দেশই আবশ্যকতা বুঝায় না। নইলে لَا حَرَجَ (কোন গুনাহ হবে না) বলে আদেশের আবশ্যকতা রহিতকরণে করা হতো না।

قوله (وَمَنْ أَكَلَ فَمَا تَخَلَّلَ فَلْيَلْفِظْ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি খায় অতঃপর কাঠি বা অন্য কিছু দ্বারা দাঁতের অভ্যন্তর থেকে যেসব খাদ্যকণা বের করে সে যেন তা না খেয়ে মুখ থেকে বের করে ফেলে।

قوله (وَمَا لَاكَ بِلِسَانِه فَلْيَبْتَلِعْ) অর্থাৎ- যা সে চর্বন করে তা গলধঃকরণ করবে, আবার কেউ কেউ বলেনঃ এর অর্থ হলো আহারকারীর উচিত কঠিন কোন কিছু দ্বারা দাঁতের অভ্যন্তরে থেকে বস্ত্ত বের করা না খেয়ে ফেলে দেয়া। কারণ তাতে ময়লা রয়েছে। আর জিহবা দ্বারা বের করা বস্ত্ত গলধঃকরণ করা। কেননা সে তা খারাপ মনে করে না।

(وَمَا لَاكَ) দ্বারা এ উদ্দেশ হতে পারে দাঁতের মাড়ি এবং তালুতে লেগে থাকা অবশিষ্ট খাবার যা সে জিহবার মাধ্যমে বের করে, তা ভক্ষণ করবে। আর দাঁতের মাঝের খাবার সে না আহার করে ফেলে দিবে চাই তা কঠিন কোন কিছু দ্বারা বের করুক বা জিহবার দ্বারা বের করুক। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পরিবর্তন সাধিত হয়।

قوله (فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِمَقَاعِدِ بَنِي ادَمَ) ‘‘নিশ্চয় শায়ত্বন (শয়তান) আদম সন্তানের পিছন নিয়ে খেলা করে’’, অর্থাৎ- টয়লেট বা পায়খানা করার স্থানে শায়ত্বন (শয়তান) মানুষের অনিষ্ট করার মতলব করে। সে সেখানে উপস্থিত হতে অনিষ্ট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। কারণ সেখানে আল্লাহর যিকর বর্জন করা হয়।

এজন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথাসম্ভব পায়খানা-পেশাবের সময় নিজেদের আড়াল করার আদেশ প্রদান করেছেন পিছনে বালির ঢিবি তৈরি করে হলেও পাশাপাশি লোকচক্ষুর সম্মুখীন হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সাথে সাথে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রস্রাব যাতে শরীর কাপড়ে ছিটে না লাগে সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে বলেছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৩-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গোসলখানায় প্রস্রাব না করে, এরপর আবার সেখানে গোসল করে অথবা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। কারণ মানুষের অধিকাংশ ওয়াস্ওয়াসা এসব থেকেই উৎপন্ন হয়। (আবূ দাঊদ)[1] কিন্তু শেষের দু’জন (তিরমিযী ও নাসায়ী), ’’এরপর সেখানে গোসল করে ও উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে’’ উল্লেখ করেননি।

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ أَوْ يَتَوَضَّأُ فِيهِ فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ إِلَّا أَنَّهُمَا لم يذكرَا: «ثمَّ يغْتَسل فِيهِ أويتوضأ فِيهِ»

وعن عبد الله بن مغفل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يبولن احدكم في مستحمه ثم يغتسل فيه او يتوضا فيه فان عامة الوسواس منه» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي الا انهما لم يذكرا: «ثم يغتسل فيه اويتوضا فيه»

ব্যাখ্যা: قوله (لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّه) ‘‘তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় প্রস্রাব না করে’’ এ কথায় নিষেধের ক্ষেত্র নির্ধারণে মতবিরোধ হয়েছে। কারো কারো মতে নিষেধটি নালার ন্যায় নরমভূমিতে অবস্থিত গোসলখানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোন ছিদ্র নেই। কারণ নরমভূমিতে পেশাব তার স্বস্থলে অটল থাকে। অপরপক্ষে শক্ত ভূমিতে তা এক স্থানে না থেকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যখন তাতে পানি পড়ে তখন প্রস্রাবের প্রভাবটা দূরীভূত হয়। কিন্তু নরমভূমিতে পেশাব একস্থানে জমে শুকিয়ে যাবার ফলে তার প্রভাবটা যায় না। অপর দলের অবস্থান এর সম্পূর্ণ বিপরীতে তাদের মতে নিষেধটি শক্তভূমিতে অবস্থিত গোসলখানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ শক্তভূমিতে প্রস্রাব করলে তার ফোঁটা ফিরে এসে শরীর অপবিত্র হওয়ার আশংকা রয়েছে যা নরম ভূমির ক্ষেত্রে নেই।

قوله (ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ) ‘‘অতঃপর সে তার গোসল সম্পাদন করবে’’ এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ নিয়েছেন যতক্ষণ তারা তাতে গোসল করার পরিকল্পনা রাখবে ততদিন নিষেধ কিন্তু যদি তাতে গোসল করে পরিত্যক্তাবস্থায় রেখে দেয় বা কেবল গোসল আরম্ভ করেছে এখনো প্রস্রাব করেনি তাহলে সে গোসলখানায় প্রস্রাব করা নিষিদ্ধ নয়।

 قوله (فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ) ‘‘কারণ অধিকাংশ সংশয় এ থেকেই সৃষ্টি হয়’’, অর্থাৎ- গোসলখানা বা উযূখানায় প্রস্রাব করে সেখানে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বা গোসল করা থেকেই অধিকাংশ সংশয়ের উদ্ভব ঘটে। কারণ সে স্থানটি অপবিত্র হওয়ার ফলে তার মনে এ সংশয়ের সৃষ্টি হয় যে, তার শরীরে প্রস্রাবের কোন ছিটা লাগলো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৪-[২১] ’আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গর্তে প্রস্রাব না করে। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن عبد الله بن سرجس قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي جُحْرٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن عبد الله بن سرجس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يبولن احدكم في جحر» . رواه ابو داود والنساىي

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৫-[২২] মু’আয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি অভিশপ্ত হওয়ার যোগ্য কাজ- (১) পানির ঘাটে, (২) চলাচলের পথে ও (৩) কোন কিছুর ছায়ায় পায়খানা করা- এমন করা হতে বেঁচে থাকবে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ مُعَاذٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اتَّقُوا الْمَلَاعِنَ الثَّلَاثَةَ: الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ وَالظِّلِّ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن معاذ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اتقوا الملاعن الثلاثة: البراز في الموارد وقارعة الطريق والظل . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (الْمَلَاعِنَ) ‘‘অভিশপ্ত হওয়ার যোগ্য কাজ অথবা অভিশপ্ত হওয়ার স্থান।’’ অর্থাৎ- যে কাজ করলে লোকজন অভিশাপ করে এমন কাজ।

(الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ) ‘‘পানির ঘাটে পায়খানা করা।’’ নালা বা নদীর এমন স্থানকে مَوَارِد বলা হয় যেখানে লোকজন উযূ-গোসল ও পানি পান করার জন্য আগমন করে। এমন স্থানে কোন ব্যক্তি পায়খানা করলে লোকজন তাকে গালি দিবে, অভিশাপ দিবে। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন স্থানে পায়খানা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অনুরূপ চলাচলের রাস্তা এবং গাছের ছায়া যাতে মানুষ বিশ্রাম গ্রহণ করে থাকে। যে ছায়াতে মানুষ বিশ্রাম করে না তাতে পায়খানা করা কোন দূষণীয় কাজ নয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৬-[২৩] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি এক সঙ্গে যেন পায়খানায় এমনভাবে না বসে যে, দু’জনেই দু’জনার লজ্জাস্থান দেখতে পায় এবং পরস্পরের সাথে কথা বলে। কেননা মহান আল্লাহ এ ধরনের কাজে খুবই রাগান্বিত হন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَخْرُجِ الرَّجُلَانِ يَضْرِبَانِ الْغَائِطَ كَاشِفَيْنِ عَنْ عَوْرَتِهِمَا يَتَحَدَّثَانِ فَإِنَّ اللَّهَ يَمْقُتُ عَلَى ذَلِكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يخرج الرجلان يضربان الغاىط كاشفين عن عورتهما يتحدثان فان الله يمقت على ذلك» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (فَإِنَّ اللهَ يَمْقُتُ عَلى ذلِكَ) অর্থাৎ- অন্যের উপস্থিতিতে লজ্জাস্থান খোলা এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় কথায় বলা আল্লাহ তা‘আলা ক্রোধান্বিত হন। এ হাদীস থেকে কয়েকটি মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত হয় যথাঃ

* লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা আবশ্যক।

* পায়খানা করার সময় কথা বলা হারাম।

* কেউ কেউ এ অবস্থায় কথা বলাটা মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৭-[২৪] যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব পায়খানার স্থান হচ্ছে (জিন্ ও শায়ত্বনের (শয়তানের)) উপস্থিতির স্থান। সুতরাং তোমাদের যারা পায়খানায় যাবে তারা যেন এ দু’আ পড়েঃ ’’আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাল খুবুসি ওয়াল খবা-য়িস’’- (অর্থাৎ- আমি নাপাক নর-নারী শায়ত্বন (শয়তান) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই)। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ فَلْيَقُلْ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبْثِ والخبائث . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن زيد بن ارقم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان هذه الحشوش محتضرة فاذا اتى احدكم الخلاء فليقل: اعوذ بالله من الخبث والخباىث . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: الْحُشُوْشَ (আল হুশূশ্) এর আসল অর্থ ঘন গাছে আচ্ছাদিত খেজুর বাগন। গৃহে পায়খানা নির্মাণের পূর্বে তারা সেখানে গিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ করতো। পরবর্তীতে এটি টয়লেট অর্থে ব্যবহৃত হয়। পায়খানা-প্রস্রাবের স্থানসমূহে জিন্ ও শায়ত্বনরা উপস্থিত হয়ে আদম সন্তানের ক্ষতিসাধন করতে। কারণ ঐ সকল স্থানে আল্লাহর স্মরণ পরিত্যাগ করে লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করা হয়। ফলে অন্যস্থানের চেয়ে সে সকল স্থানে বেশি ক্ষতি সাধন সম্ভব হয়। এজন্যেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থানে জিন্ শায়ত্বন (শয়তান) হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৮-[২৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশ করবে তখন জিন শয়তানের চোখ আর বনী আদমের লজ্জাস্থানের মধ্যে পর্দা হলো ’’বিসমিল্লা-হ’’ বলা। (তিরমিযী;[1] ইমাম তিরমিযী বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব, এর সনদ দুর্বল)

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتْرُ مَا بَيْنَ أَعْيُنِ الْجِنِّ وَعَوْرَاتِ بَنِي آدَمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمُ الْخَلَاءَ أَنْ يَقُولَ بِسْمِ اللَّهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَاده لَيْسَ بِقَوي

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ستر ما بين اعين الجن وعورات بني ادم اذا دخل احدهم الخلاء ان يقول بسم الله» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب واسناده ليس بقوي

ব্যাখ্যা: قوله (إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمْ الْخَلَاءَ) অর্থাৎ- আদম সন্তান পায়খানায় প্রবেশ করার সময় এই দু‘আ পড়বে। অতএব যখন কেউ বস্ত্র খুলে রাখা বা গোসলের সময় লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করার ইচ্ছা করবে, তার উচিত বিসমিল্লা-হ বলা। (এটি শুধুমাত্র টয়লেটে প্রবেশের সময় নয়) আনাস (রাঃ) হতে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হাদীস বিসমিল্লা-হ বলার হুকুমটি ‘আম্ (ব্যাপক) হওয়ার ব্যাপারে আমাদের মতকে সমর্থন করে। যেখানে বলা হয়েছে ‘‘যখন আদম সন্তান বস্ত্র খুলে রাখে তখন তাদের লজ্জাস্থান এবং জিনের মাঝে পর্দা হলো তা খুলবার মুহূর্তে বিসমিল্লা-হ বলা।’’ কারণ আদম সন্তানের ওপর আল্লাহর নাম একটি স্টিকারের ন্যায় যা জিনেরা খুলতে বা উঠাতে সক্ষম হয় না।

দুই হাদীসের দ্বন্দ্ব নিরসনে ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে টয়লেটে প্রবেশের দু‘আ بِسْمِ اللهِ এসেছে, অপরদিকে পূর্বে বর্ণিত আনাস (রাঃ) এবং যায়দ বিন আরক্বাম (রাঃ)-এর হাদীসে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে ক্ষতি সাধনকারী জিন্ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। দৃশ্যত উভয় হাদীসের মাঝে দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হলেও মূলত বৈপরীত্য নেই। কারণ একটি আল্লাহর নাম এবং অপরটি অনিষ্ট সাধনকারী জিন্ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা। অতএব উভয়টি আলাদা কোন জিনিস নয়।

অধিকন্তু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে দু’টি দু‘আই একত্রে এসেছে যে হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (إذا دخلتم الخلاء فقولوا بسم الله إعوذ بالله من الخبث والخبائث) ‘‘যখন তোমরা টয়লেটে প্রবেশের মনস্থ করবে তখন এ দু‘আটি পাঠ করবেঃ আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি এবং তাঁর নিকট অনিষ্টকারী জিন্ হতে আশ্রয় চাচ্ছি’’। অতএব, দু‘আ দু’টি পাঠ করা উত্তম। তবে একটি বললেও যথেষ্ট হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৫৯-[২৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা হতে বের হতেন তখন বলতেনঃ ’’গুফরা-নাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করছি)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ «غفرانك» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه والدارمي

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا خرج من الخلاء قال «غفرانك» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: قوله (إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ) অর্থাৎ- যখন তিনি টয়লেট থেকে বের হতেন। খুরুজ দ্বারা কোন স্থান থেকে বের হওয়া বুঝালেও বিধানটি ব্যাপক যা ফাঁকা ময়দানসহ সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। غفرانك অর্থ আমি তোমার মর্যাদার সাথে উপযুক্ত বা তোমার অনুগ্রহ থেকে সৃষ্ট ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতেন সে বিষয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব-পায়খানার অবস্থা ব্যতীত সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার স্মরণে মগ্ন থাকতেন । ফলে এ অবস্থায় আল্লাহর যিকর পরিত্যাগ করাকে ত্রুটি বা পাপ গণ্য করে আল্লাহর নিকট থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি পায়খানা করার ক্ষমতা দানের মাধ্যমে যে করুণা করেছেন তার কৃতজ্ঞতা আদায়ে ত্রুটি হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কেননা পেটের ভিতর মল জমা থাকলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা রোগগ্রস্ত হয়। তাই তা বের হওয়া শরীরের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য একটি অপরিহার্য নি‘আমাত। আর এটিই অধিক সঠিকতর কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬০-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় গেলে আমি তাঁর পেছনে পেছনে কখনো ’তাওর’-এ করে আবার কখনো ’রক্ওয়াহ্’-এ করে পানি নিয়ে যেতাম। এ পানি দ্বারা তিনি শৌচকর্ম সম্পাদন করতেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাটিতে স্বীয় হাত ঘষতেন। অতঃপর আমি আর এক পাত্রে পানি আনতাম। এ পানি দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। (আবূ দাঊদ; দারিমী ও নাসায়ী একই অর্থে বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَى الْخَلَاءَ أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فِي تَوْرٍ أَوْ رَكْوَةٍ فَاسْتَنْجَى ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ عَلَى الْأَرْضِ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِإِنَاءٍ آخَرَ فَتَوَضَّأَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وروى الدَّارمِيّ وَالنَّسَائِيّ مَعْنَاهُ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اتى الخلاء اتيته بماء في تور او ركوة فاستنجى ثم مسح يده على الارض ثم اتيته باناء اخر فتوضا. رواه ابو داود وروى الدارمي والنساىي معناه

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করার পর হাত মাসাহ করতেন তা পরিষ্কার করণার্থে এবং উম্মাতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য। আর আনাস (রাঃ) দ্বিতীয় পাত্রে পানি নিয়ে আসলেন, কারণ আগের পাত্রের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল অথবা অতি অল্প পানি ছিল যা উযূর জন্য যথেষ্ট নয়। এ হাদীসের আলোকে কেউ কেউ ইসতিনজার জন্য আলাদা পাত্র নেয়াকে মানদূব (উত্তম) বলেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬১-[২৮] হাকাম ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন এবং নিজের লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিতেন। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن الحكم بن سُفْيَان قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا بَالَ تَوَضَّأَ وَنَضَحَ فَرْجَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن الحكم بن سفيان قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا بال توضا ونضح فرجه. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (إِِذَا بَالَ تَوَضَّأَ) ‘‘প্রস্রাব করার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন।’’ হয়ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার জন্য উযূ করতেন অথবা পবিত্র অবস্থায় থাকার উদ্দেশে উযূ করতেন।

(وَنَضَحَ فَرْجَهٗ) ‘‘এবং স্বীয় লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিতেন।’’ অর্থাৎ- পরিধেয় বস্ত্রের লজ্জাস্থানের উপর পানি ছিটিয়ে দিতেন।’’ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রের লজ্জাস্থানের নিকটবর্তী অংশে হালকা পানির ছিটা দিতেন। যাতে শায়ত্বনের (শয়তানের) এ ওয়াস্ওয়াসা দূর হয়ে যায় যে, কাপড়ে কি প্রস্রাবের ছিটা লেগে গেল কি-না, আর এ দ্বারা উম্মাতকে শিক্ষা দেয়াও উদ্দেশ্য।

শিক্ষা: উযূ শেষে লজ্জাস্থানের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া উচিত যাতে শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬২-[২৯] উমায়মাহ্ বিনতু রুক্বায়ক্বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাটের নিচে একটি কাঠের গামলা ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে এতে প্রস্রাব করতেন। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن أُمَيْمَة بنت رقيقَة قَالَتْ: كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدَحٌ مِنْ عَيْدَانٍ تَحْتَ سَرِيرِهِ يَبُولُ فِيهِ بِاللَّيْلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن اميمة بنت رقيقة قالت: كان للنبي صلى الله عليه وسلم قدح من عيدان تحت سريره يبول فيه بالليل. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: দুই হাদীসের দ্বন্দ্ব নিরসনঃ এ হাদীসে বলা হচ্ছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে পেশাব করার জন্য খাটের নিচে একটি পাত্র রাখতেন। অপরদিকে ত্ববারানীর ‘আওসাত’ ‘‘গ্রন্থে ‘আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ (রাঃ) হতে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এসেছে’’ ঘরের মধ্যে কোন পাত্রে প্রস্রাব জমা রাখা যাবে না। কেননা প্রস্রাব জমা রাখা ঘরে মালাকগণ প্রবেশ করে না। উভয়ের দ্বন্দ্ব নিরসনকল্পে বলা হয় হাদীসে জমা রাখা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ সময় ধরে আবদ্ধ। আর পাত্রে যা রাখা হয় তা সাধারণত দীর্ঘ সময় আবদ্ধ থাকে না। ‘আল্লামা মুগলত্বয়ী বলেছেনঃ ঘরে প্রস্রাব জমা রাখা দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ত বা অধিক অপবিত্রতার উদ্দেশ্য নিয়েছেন। পাত্রে জমা রাখা এর বিপরীত কারণ এর মাধ্যমে অপর স্থান অপবিত্র হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৩-[৩০] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখে বললেন, ’উমার! (আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের ন্যায়) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না। অতঃপর আমি আর কক্ষনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن عمر قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبُولُ قَائِمًا فَقَالَ: «يَا عُمَرُ لَا تَبُلْ قَائِمًا» فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ مُحْيِي السّنة C: قد صَحَّ:

وعن عمر قال: راني النبي صلى الله عليه وسلم وانا ابول قاىما فقال: «يا عمر لا تبل قاىما» فما بلت قاىما بعد. رواه الترمذي وابن ماجه قال الشيخ الامام محيي السنة C: قد صح:

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৪-[৩১] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক গোত্রের আবর্জনার স্থানে গেলেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1] বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন ওযরের কারণে এরূপ করেছেন।

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سباطة قوم فَبَال قَائِما. . قيل: كَانَ ذَلِك لعذر

عن حذيفة قال: اتى النبي صلى الله عليه وسلم سباطة قوم فبال قاىما. . قيل: كان ذلك لعذر

ব্যাখ্যা: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূরে গিয়ে পেশাব-পায়খানা করার যে অভ্যাস ছিল এখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বিপরীত করেছেন। এর কারণ সম্পর্কে অনেক অভিমত রয়েছে।

  • কেউ কেউ বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যাস্ত ছিলেন। সম্ভবত দীর্ঘ সময় বৈঠক থাকায় পেশাবের প্রয়োজন প্রখর হওয়ায় দূরে না গিয়ে নিকটেই প্রস্রাব করেছেন। কারণ দূরে গেলে তার ক্ষতি হতো।
  • কেউ কেউ বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধতার বর্ণনা দেয়ার জন্য এটি করেছেন।
  • কেউ কেউ বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পায়খানার ক্ষেত্রে না করে প্রস্রাবের ক্ষেত্রে করেছেন। কারণ পায়খানার অধিক দুর্গন্ধ রয়েছে এবং তা সম্পাদনের সময় কাপড় অধিক উন্মুক্ত করতে হয়। সেক্ষেত্রে দূরে না গেলে সমস্যা রয়েছে।
  • এ হাদীস দ্বারা কোন প্রকার সমস্যা ও অপছন্দনীয় কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
  • তবে দাঁড়িয়ে প্রস্রাবের হুকুম নিয়ে আহলি ‘ইলমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। একদল আহলি ‘ইলমের মতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা বৈধ যদি প্রস্রাবের ফোঁটা ছিটে এসে গায়ে না লাগে। তাদের সম্পর্কে হুযায়ফার এই হাদীসসহ আরও বহু হাদীস ও সাহাবীগণের নির্দেশ রয়েছে।
  • আর একদলের মতে সমস্যা ব্যতীত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরূহ। তারা তদের মতের পক্ষে এমন কতগুলো হাদীস দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন যার সবগুলোই ত্রুটিযুক্ত সহীহ নয়।
  • তবে সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বৈধতার বর্ণনার জন্যই করেছেন। এটি তার স্থায়ী ‘আমল ছিল না বরং তার স্থায়ী ও অধিকাংশ অবস্থায় ‘আমল ছিল বসে বসে প্রস্রাব করা।

سباطة (সুবা-ত্বহ্) হলো গৃহকর্তাদের সুবিধার্থে গৃহের উঠানে অবস্থিত ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থান। যা সাধারণত নরম হওয়ায় তাতে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবকারীর গায়ে ছিটা লাগে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৫-[৩২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তোমরা তার কথা বিশ্বাস করো না। তিনি সব সময়ই বসে প্রস্রাব করতেন। (আহমাদ, তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُول إِلَّا قَاعِدا» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

عن عاىشة رضي الله عنها قالت: «من حدثكم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يبول قاىما فلا تصدقوه ما كان يبول الا قاعدا» . رواه احمد والترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি ঐ দলের পক্ষের দলীল যারা বলেন ওযর বা সমস্যা ব্যতীত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরূহ। কারণ এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন না বরং প্রস্রাবের ক্ষেত্রে তার নিয়ম ছিল বসে প্রস্রাব করা। এর জবাবে বলা হয়েছেঃ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এ হাদীসটি সহীহ নয়। তর্কের খাতিরে যদি তা সহীহ ধরেও নেয়া হয় (যদিও তা নয়) তারপরেও বিশুদ্ধতার বিচারে কোন সন্দেহ ছাড়াই হুযায়ফার হাদীসটি অধিক বিশুদ্ধ। দ্বিতীয়ত ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি তার জ্ঞান অনুপাতে, ফলে তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়ীর আ‘মালের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু বাইরের আ‘মালের বিষয়ে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) অবগত ছিলেন না। যা প্রসিদ্ধ সাহাবী হুযায়ফাহ্ সংরক্ষণ বা মুখস্থ করেছিলেন।

বলা হয়েছে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এই হাদীসের অর্থ যে ‘‘তোমাদের সংবাদ দিবে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে অভ্যস্ত ছিলেন তোমরা তার কথা বিশ্বাস করো না বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে করতেই অভ্যস্ত ছিলেন।’’ ফলে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের বিপরীত নয়। অতএব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধতার বর্ণনা দেয়ার জন্য কখনো কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন তবে তিনি বসে প্রস্রাব করতেই অভ্যস্ত ছিলেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৬-[৩৩] যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে জিবরীল আমীনের মাধ্যমে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওয়াহী নাযিল করা হচ্ছিল, তখনই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ করা ও সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের শিক্ষা দিলেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা শেষ করে এককোষ পানি (হাতে উঠিয়ে) নিলেন এবং তখন নিজের পুরুষাঙ্গের উপর ছিটিয়ে দিলেন। (আহমাদ ও দারাকুত্বনী)[1]

وَعَن زيد بن حَارِثَة عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَاهُ فِي أَوَّلِ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ فَعَلَّمَهُ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الْوُضُوءِ أَخَذَ غُرْفَةً مِنَ الْمَاءِ فَنَضَحَ بِهَا فَرْجَهُ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالدَّارَقُطْنِيّ

وعن زيد بن حارثة عن النبي صلى الله عليه وسلم: «ان جبريل اتاه في اول ما اوحي اليه فعلمه الوضوء والصلاة فلما فرغ من الوضوء اخذ غرفة من الماء فنضح بها فرجه» . رواه احمد والدارقطني

ব্যাখ্যা: এ হাদীস হতে বুঝা যায়, পানির ছিটা উযূর পরে দিতে হবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা উম্মাতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তা সন্দেহ দূরীভূত হয়। তাই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর পরিধেয় পোশাকে লজ্জাস্থান বরাবর পানির ছিটা দিতে হবে সন্দেহ দূর করার জন্যে, যে লজ্জাস্থান থেকে আর্দ্রতা বের হয়েছিল কি না?


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৭-[৩৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যখন আপনি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবেন, তখন পানি (সন্দেহ দূর করার জন্য আপনার গুপ্তাঙ্গে) ছিটিয়ে দিবেন। (তিরমিযী;[1]

ইমাম তিরমিযী [রহঃ] বলেন, হাদীসটি গরীব। আমি মুহাম্মাদ, অর্থাৎ ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, হাসান ইবনু ’আলী আল হাশিমী নামক বর্ণনাকারী হাদীসের ক্ষেত্রে মুনকার)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَضِحْ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَعْنِي الْبُخَارِيَّ يَقُولُ: الْحَسَنُ بْنُ عَليّ الْهَاشِمِي الرَّاوِي مُنكر الحَدِيث

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: جاءني جبريل فقال: يا محمد اذا توضات فانتضح . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب وسمعت محمدا يعني البخاري يقول: الحسن بن علي الهاشمي الراوي منكر الحديث

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৮-[৩৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁর পেছনে পানির পাত্র নিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’উমার! এটা কী? ’উমার (রাঃ) বললেন, পানি। আপনার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার জন্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হইনি যে, যখনই প্রস্রাব করবো তখনই উযূ করব। যদি আমি সর্বদা এমন করি তাহলে এটা ’সুন্নাত’ হয়ে যাবে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: بَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ عُمَرُ خَلْفَهُ بِكُوزٍ مِنْ مَاءٍ فَقَالَ: مَا هَذَا يَا عمر؟ قَالَ: مَاءٌ تَتَوَضَّأُ بِهِ. قَالَ: مَا أُمِرْتُ كُلَّمَا بُلْتُ أَنْ أَتَوَضَّأَ وَلَوْ فَعَلْتُ لَكَانَتْ سُنَّةً «.» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: بال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام عمر خلفه بكوز من ماء فقال: ما هذا يا عمر؟ قال: ماء تتوضا به. قال: ما امرت كلما بلت ان اتوضا ولو فعلت لكانت سنة «.» رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (مَاءٌ تَتَوَضَّأُ بِه) ‘‘পাত্র নিয়ে এলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? তিনি উত্তরে বললেন, এতে আপনার উযূর জন্য পানি রয়েছে’’। এখানে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) দ্বারা উযূয়ি শার‘ঈ উদ্দেশ্য নয় বরং উযূয়ি লাগবী তথা প্রস্রাবের পর পানি ব্যবহার করা উদ্দেশ হতে পারে। প্রস্রাবের পরে উযূ করা এবং সর্বাবস্থায় উযূ থাকা উত্তম হলেও কখনো কখনো উম্মাতের জন্য সহজকরণার্থে তিনি তা পরিত্যাগ করতেন। এজন্য তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্রাবের পর উযূ না করে বললেন আমি প্রস্রাবের পর সর্বদা উযূ করতে আদিষ্ট হয়নি।

 قوله (لَوْ فَعَلْتُ لَكَانَتْ سُنَّةً) অর্থাৎ- যদি আমি প্রস্রাবের পর সর্বদা পানি দ্বারা শৌচকার্য করতাম অথবা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতাম তাহলে তা আমার উম্মাতের জন্য আবশ্যক হয়ে যেত এবং এ বিষয়ে যে অবকাশ রয়েছে তা বন্ধ হয়ে যেত। কেউ কেউ বলেছেনঃ এর অর্থ, যদি আমি এরূপ করতাম তবে তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায় পরিণত হতো।

‘আল্লামা মা'নাবী (রহঃ) বলেছেনঃ হাদীসে উযূ দ্বারা প্রস্রাবের পর প্রয়োজন ছাড়াই পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) অর্থ গ্রহণ কোন বাহ্যিকের বিপরীত। এর বাহ্যিক অর্থ শার‘ঈ উযূ  যা ‘উমার (রাঃ) উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রস্রাবের ফলে উযূ নষ্ট হওয়ায় তিনি এ পানি দ্বারা উযূ করবেন। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধতা এবং উম্মাতের প্রতি সহজকরণার্থে তা করেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৬৯-[৩৬] আবূ আইয়ূব, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন এ আয়াত নাযিল হয়, অর্থাৎ- ’’সেখানে (মসজিদে কু’বায়) এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন’’- (সূরাহ্ আত্ তওবা্ ৯: ১০৮) তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনসারগণ! এ আয়াতে আল্লাহ পবিত্রতার ব্যাপারে তোমাদের প্রশংসা করেছেন। তোমাদের পবিত্রতা কী? তাঁরা বললেন, আমরা সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করি, নাপাকী হতে পবিত্র হবার জন্য গোসল করি, পানি দিয়ে পবিত্রতা লাভ করে থাকি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটাই (পবিত্রতা), যার জন্য আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং তোমরা সবসময় এটা করতে থাকবে। (ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن أبي أَيُّوب وَجَابِر وَأنس: أَن هَذِه الْآيَة نَزَلَتْ (فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يحب المطهرين)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَثْنَى عَلَيْكُمْ فِي الطَّهُورِ فَمَا طَهُورُكُمْ قَالُوا نَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ وَنَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ وَنَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ قَالَ فَهُوَ ذَاك فعليكموه» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي ايوب وجابر وانس: ان هذه الاية نزلت (فيه رجال يحبون ان يتطهروا والله يحب المطهرين) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا معشر الانصار ان الله قد اثنى عليكم في الطهور فما طهوركم قالوا نتوضا للصلاة ونغتسل من الجنابة ونستنجي بالماء قال فهو ذاك فعليكموه» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (فَهُوَ ذَاكَ) এখানে সালাতের জন্য উযূ, অপবিত্রতার গোসল ও পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা)- তিনটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ থাকলেও هو সর্বনাম দ্বারা উদ্দেশ্য পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) কর। কেননা তা সবচেয়ে নিকটবর্তী শব্দ এবং এজন্যেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রশংসা করেছেন। অন্যথায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  গোসল মুহাজিরগণও করতেন কিন্তু তাদের প্রশংসা করেননি।

হাকিম-এর বর্ণনায় এটি আরও স্পষ্টভাবে এসেছে যথাঃ (فَقَالُوْا تَوَضَّأُ الصَّلَاةُ وَنَغْتَسِلُ لِلْجَنَابَةِ فَقَالَ هَلْ مَعَ ذلِكَ غَيْرُه؟ فَلَاواِلَّا إلا أَنْ اَحَدُنَا) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশ্নের উত্তরে তারা বললো- আমরা সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করি এবাং জানাবাতের গোসল করি। তিনি বললেন, এর সাথে আর কিছু কি কর? তারা বললো, না, তবে আমাদের কেউ পায়খানা-প্রস্রাবের পর পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করতে পছন্দ করে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটিই সেই কাজ যার জন্য আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা করেছেন। পরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের জন্য পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করাই আবশ্যক। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তারা পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করাই যথেষ্ট মনে করতেন, ঢিলা ব্যবহারের প্রয়োজন মনে করতেন না।

 কিন্তু ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বাযযার যে বর্ণনাটি এনেছেন যথাঃ (أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ سَأَلَ أَهْلُ قُبَاءٍ فَقَالَ إِنَّ اللهَ يَثْنى عَلَيْكُمْ فَقَلُوْا إِنَّا نَتَّبِعُ الْحِجَارَةَ الْمَاءِ) অর্থাৎ- ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবাবাসীকে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা এমন কি ‘আমল কর যার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রশংসা করেছেন? তারা উত্তরে বলল, আমরা পায়খানা-প্রস্রাবের পর ঢিলার সাথে সাথে পানি দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করি’’। তার (সে বর্ণনাটির) সূত্রে ইমাম বুখারী, নাসায়ীসহ আরো অনেকের মতে দুর্বল হিসেবে অভিহিত। রাবী মুহাম্মাদ বিন ‘আবদুল ‘আযীয থাকায় তা য‘ঈফ। এছাড়াও মুয়াত্ত্বা মালিক গ্রন্থে অন্য একটি দুর্বল সানাদে এই বর্ণনা এসেছে। অথচ ইমাম হাকিম ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে যে মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে শুধুমাত্র পানি দ্বারা ইসতিনজার উল্লেখ রয়েছে।

আবূ আইয়ূব (রাঃ)-এর এ হাদীসের মাধ্যমে পানি দ্বারা ইসতিনজা এবং যারা এ ‘আমল করে তাদের প্রশংসার বিষয়টি প্রমাণিত। যেহেতু এর মাধ্যমে পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জিত হয়। ‘উলামাহগণ বলেছেনঃ ঢিলা দ্বারা ইসতিনজা করার চেয়ে পানি দ্বারা করা অধিক উত্তম। আর উভয়টি ব্যবহার করা সর্বসাকুল্যে উত্তম। কিন্তু আমীর আল্ ইয়ামানী বলেছেন, একসঙ্গে উভয়টির ব্যবহার আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাইনি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭০-[৩৭] সালমান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের কেউ ঠাট্টা করে আমাকে বলল, তোমাদের বন্ধু (অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তো দেখছি তোমাদেরকে পায়খানা-প্রস্রাবের নিয়ম-কানুনও শিখিয়ে দিচ্ছেন। আমি বললাম, হাঁ (এটা তো তাঁর অনুগ্রহ, দোষের তো কিছু নেই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বলে দিয়েছেন, আমরা যেন পায়খানার সময় ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে মুখ করে না বসি, ডান হাতে শৌচকর্ম না করি এবং পায়খানার পর তিনটি ঢিলার কম ব্যবহার না করি। আর এতে (ঢিলা) যেন গোবর ও হাড় না থাকে। (মুসলিম ও আহমাদ, তবে শব্দবিন্যাস আহমাদের)[1]

وَعَن سلمَان قَالَ قَالَ لَهُ بعض الْمُشْركين وَهُوَ يستهزئ بِهِ إِنِّي لأرى صَاحبكُم يعلمكم كل شَيْء حَتَّى الخراءة قَالَ أَجَلْ أَمَرَنَا أَنْ لَا نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ وَلَا نَسْتَنْجِيَ بِأَيْمَانِنَا وَلَا نَكْتَفِيَ بِدُونِ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ لَيْسَ فِيهَا رَجِيعٌ وَلَا عَظْمٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَأحمد وَاللَّفْظ لَهُ

وعن سلمان قال قال له بعض المشركين وهو يستهزى به اني لارى صاحبكم يعلمكم كل شيء حتى الخراءة قال اجل امرنا ان لا نستقبل القبلة ولا نستنجي بايماننا ولا نكتفي بدون ثلاثة احجار ليس فيها رجيع ولا عظم. رواه مسلم واحمد واللفظ له

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকেও প্রমাণিত হয় যে, তিনটির কম ঢিলা ব্যবহার বৈধ নয় যদিও একটি বা দু’টিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেছেন, সালমান (রাঃ) বিজ্ঞতার সাথে উত্তর দিয়েছেন। কারণ কোন মুশরিক যখন ইসলামের কোন বিষয়ে উপহাস করে তখন হয় তাকে হুমকি প্রদান করতে হবে অথবা তাকে উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কিন্তু সাহাবী সালমান (রাঃ) তার উপহাসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে একজন সঠিক পথপ্রদর্শনকারীর ন্যায় উত্তর দিয়েছেন বলেছেন, ‘‘এটি উপহাসের কোন স্থান নয় বরং এটি সত্য ও সঠিক। অতএব তোমার কর্তব্য হলো হঠকারিতা পরিহার করে সত্যটি গ্রহণ করা’’।

‘আল্লামা সিন্দী বলেছেনঃ সঠিক হলো সাহাবী তার কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন এভাবে যে, তুমি যাকে উপহাসের কারণ বলছ তা মুসলিমগণ শত্রুদের নিকট প্রকাশ করে বেড়ায় এমন কোন কারণ নয়। উপরন্তু তার বিশদ বর্ণনা জানার পর মন তাকে ভালো বিষয় হিসেবে মেনে নিবে। অতএব, উল্লেখ করতে খারাপ এমন বিষয়ের দিকে নিসবাত করায় তাকে উপহাস করার জন্য কোন দৃষ্টান্ত হতে পারে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭১-[৩৮] ’আবদুর রহমান ইবনু হাসানাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘর থেকে বের হয়ে) আমাদের কাছে এলেন, আর তাঁর হাতে ছিল একটি চামড়ার ঢাল (বর্ম)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঢালটি (পর্দাস্বরূপ স্থাপন করে) তার দিকে ফিরে মাটিতে বসে প্রস্রাব করলেন। তখন (মুশরিকদের) কয়েকজন বলে উঠলো, দেখ, মেয়েদের মতো (পর্দা করে) প্রস্রাব করছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা শুনলেন এবং বললেন, তোমার জন্য আফসোস হয়, তুমি কি জানো না যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কি ঘটেছিল? অর্থাৎ তাদের শরীরে (বা কাপড়ে) যখন প্রস্রাব লাগতো, তখন তারা কাঁচি দিয়ে তা কেটে ফেলতো। তাই সে (বনী ইসরাঈল-এর এক ব্যক্তি) তা হতে মানুষদেরকে নিষেধ করলো। ফলে (মৃত্যুর পর) তাকে কবরের ’আযাব দেয়া হলো। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن عبد الرَّحْمَن بن حَسَنَةَ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي يَده كَهَيئَةِ الدَّرَقَةُ فَوَضَعَهَا ثُمَّ جَلَسَ فَبَالَ إِلَيْهَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ: انْظُرُوا إِلَيْهِ يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ فَسَمعهُ فَقَالَ أَو مَا عَلِمْتَ مَا أَصَابَ صَاحِبَ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذا أَصَابَهُم شَيْء من الْبَوْلُ قَرَضُوهُ بِالْمَقَارِيضِ فَنَهَاهُمْ فَعُذِّبَ فِي قَبْرِهِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عبد الرحمن بن حسنة قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي يده كهيىة الدرقة فوضعها ثم جلس فبال اليها فقال بعضهم: انظروا اليه يبول كما تبول المراة فسمعه فقال او ما علمت ما اصاب صاحب بني اسراىيل كانوا اذا اصابهم شيء من البول قرضوه بالمقاريض فنهاهم فعذب في قبره . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: সাহাবী বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢাল নিয়ে আমাদের নিকট এলেন এবং তা আমাদের এবং তাঁর মাঝে আড়াল বানিয়ে তার দিকে মুখ করে প্রস্রাব করলেন। মুসনাদে আহমাদ-এর বর্ণনায় রয়েছে, ‘‘সাহাবী ‘আবদুর রহমান বিন হাসানাহ্ বলেন আমি এবং ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলাম। ইত্যবসরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঢাল বা ঢালজাতীয় কিছু নিয়ে আমাদের নিকট এনে তা পর্দা বানিয়ে পেশাব করলেন।’’ আর হাকিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, সাহাবী বলেন, আমি আমার সাথীকে বললাম তুমি কি দেখ না রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে প্রস্রাব করছেন? এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় পাওয়া যায়ঃ

* প্রত্যেক মুসলিমকে বসে প্রস্রাব করতে হবে যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে প্রস্রাব করেছেন।

* বানী ঈসরাঈলের প্রস্রাবের ক্ষেত্রে অসতর্কতার শাস্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন শরীরে প্রস্রাব লাগলে তা কেটে ফেলতে হতো। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সর্বাস্থায় কাপড় কেটে ফেলতে হতো। তবে বুখারীর বর্ণনায় কাপড় কেটে ফেলার উল্লেখ এসেছে।

* সৎকাজে বাধা প্রদান না করে বরং প্রত্যেককে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করতে হবে, না হলে বানী ঈসরাঈলের এ ব্যক্তির পরিণতি ভোগ করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭২-[৩৯] ইমাম নাসায়ী এ হাদীসটি ’আবদুর রহমান ও আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ عَنهُ عَن أبي مُوسَى

ورواه النساىي عنه عن ابي موسى

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭৩-[৪০] মারওয়ান আল আসফার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে তার উটকে বসালেন। তারপর উটের দিকে বসে প্রস্রাব করতে লাগলেন। আমি বললাম, হে আবূ ’আবদুর রহমান! এটা হতে কি নিষেধ করা হয়নি। তিনি বললেন, না, বরং উন্মুক্ত জায়গায় এরূপ করা নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তোমার আর ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র মধ্যে এমন কোন জিনিস আড়াল হয়, তখন এরূপ করাতে কোন দোষ নেই। (আবূ দাঊদ)[1]

عَن مَرْوَان الْأَصْفَر قَالَ: «رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ أَنَاخَ رَاحِلَتَهُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ ثُمَّ جَلَسَ يَبُولُ إِلَيْهَا فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَيْسَ قَدْ نُهِيَ عَنْ هَذَا قَالَ بلَى إِنَّمَا نُهِيَ عَنْ ذَلِكَ فِي الْفَضَاءِ فَإِذَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ شَيْءٌ يَسْتُرُكَ فَلَا بَأْس» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن مروان الاصفر قال: «رايت ابن عمر اناخ راحلته مستقبل القبلة ثم جلس يبول اليها فقلت يا ابا عبد الرحمن اليس قد نهي عن هذا قال بلى انما نهي عن ذلك في الفضاء فاذا كان بينك وبين القبلة شيء يسترك فلا باس» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর উক্তি (بَلْ اِنَّمَا نُهِىَ عَنْ ذلِكَ فِي الْفَضَاءِ فَاِذَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ) ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাঁকা ময়দানে প্রস্রাব-পায়খানার সময় ক্বিবলাকে সামনে পশ্চাতে করতে নিষেধ করেছেন।’’ ইবনু উমার (রাঃ)-এর উক্তিটি সেসব লোকেদের দলীল, যারা এই নিষেধের ক্ষেত্রে ফাঁকা ময়দান ও প্রাচীরবেষ্টিত টয়লেটের মাঝে পার্থক্য করেন। সর্বক্ষেত্রেই ক্বিবলাকে সামনে পিছনে করা নিষেধের মতাবলম্বীরা এর উত্তরে বলেনঃ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর এ উক্তিটির দু’টিরই সম্ভাবনা রয়েছে। হয়ত তিনি এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে শ্রবণ করেছেন অথবা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের উপর নির্ভর করে বলেছেন যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যেন তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাফসার গৃহে ক্বিবলাকে পিছনে প্রয়োজন পূরণরত অবস্থায় দেখে এ নিষেধটি প্রাচীরবেষ্টিত টয়লেটের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট বুঝেছেন। এই বুঝটা দলীল হতে পারে না এবং এই উক্তির দ্বারা দলীল দেয়াও সঠিক হবে না। (অতএব সর্বক্ষেত্রেই ক্বিবলাকে সামনে পশ্চাতে করে প্রস্রাব-পায়খানা করা নিষেধ)।

[ক্বিবলাকে সামনে বা পশ্চাতে রেখে প্রস্রাব-পায়খানা করা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার উক্তি আমার কর্মের উপর প্রাধান্য পাবে। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টির অবকাশ নেই।] (সম্পাদক)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭৪-[৪১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানা হতে বের হতেন, এ দু’আ পড়তেনঃ ’’আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী আযহাবা ’আন্নিল আযা- ওয়া’আ-ফানী’’- [অর্থাৎ- সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করেছেন ও আমাকে নিরাপদ করেছেন]। (ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي» . رَوَاهُ أبن مَاجَه

وعن انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم: اذا خرج من الخلاء قال: «الحمد لله الذي اذهب عني الاذى وعافاني» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ) অর্থাৎ যখন তিনি প্রাচীরবেষ্টিত টয়লেট হতে বের হতেন বা জনমানবহীন ফাঁকা স্থানে প্রয়োজন পূরণ করার পর চলে যেতেন তখন তিনি এ দু‘আ পাঠ করতেন। কারণ সাধারণত সর্বক্ষেত্রেই এ দু‘আ পাঠ করা সুন্নাত। দু‘আটি হলো (الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّىْ الْأَذى وَعَافَانِىْ) ‘‘সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমার কষ্ট দূর করেছেন এবং মল পেটে আবদ্ধ হওয়া বা তার সাথে নাড়ি-ভুড়ি বের হওয়ার বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন’’। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা থেকে বুঝা যায় যে পায়খানা-প্রস্রাব মানব জাতির প্রতি আল্লাহ তা‘আলার বিরাট ও শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ। কারণ পেটে মল, প্রস্রাব আবদ্ধ থাকাটা মৃত্যু বা ধ্বংসের একটি অন্যতম কারণ। আর তা বের হওয়া আল্লাহ তা‘আলার বিশাল অনুগ্রহ যা ব্যতীত কেউ পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারবে না। অতএব, যারা ক্ষুধা নিবারণকল্পে সুস্থ থাকার জন্য হালাল খাবার গ্রহণ করে, অতঃপর খাবারের পুষ্টি গ্রহণ করে যখন অনুপকারী দুর্গন্ধযুক্ত মলগুলো পিছনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যায় তখন তাদের সকলের দায়িত্ব হলো বেশি বেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পায়খানা-প্রস্রাবের আদব

৩৭৫-[৪২] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিনের প্রতিনিধি দল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলেন, তখন তাঁর নিকট বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মাতকে গোবর, হাড় ও কয়লা দিয়ে ঢিলা ব্যবহার করতে নিষেধ করে দিন। আল্লাহ তা’আলা এগুলোকে আমাদের রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো দ্বারা ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) করতে আমাদেরকে নিষেধ করে দেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ وَفْدُ الْجِنِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ انْهَ أُمَّتَكَ أَنْ يَسْتَنْجُوا بِعَظْمٍ أَوْ رَوْثَةٍ أَوْ حُمَمَةٍ فَإِنَّ اللَّهَ جَعَلَ لَنَا فِيهَا رِزْقًا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن مسعود قال: لما قدم وفد الجن على النبي صلى الله عليه وسلم قالوا: يا رسول الله انه امتك ان يستنجوا بعظم او روثة او حممة فان الله جعل لنا فيها رزقا فنهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك . رواه ابو داود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

سِوَاكٌ (সিওয়া-ক) শব্দটি মিসওয়াক করা এবং যার মাধ্যমে মিসওয়াক করা হয় উভয়কেই বুঝায়। তবে এখানে سِوَاكٌ দ্বারা মিসওয়াক করা উদ্দেশ্য। ’আল্লামা জাযারী বলেনঃ যেসব কাষ্ঠ খণ্ডের মাধ্যমে দাঁত মাজা হয় তাকে سِوَاكٌ এবং مِسْوَاكٌ বলে।


৩৭৬-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে ’ইশার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) দেরীতে আদায় করতে ও প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার আদেশ করতাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْمِسْوَاكِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِتَأْخِيرِ الْعشَاء وبالسواك عِنْد كل صَلَاة»

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لولا ان اشق على امتي لامرتهم بتاخير العشاء وبالسواك عند كل صلاة»

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক ফরয ও নফল সালাতের সময় মিসওয়াক করা সুন্নাত। তবে কিছু লোক এটিকে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত করেননি। তারা সুস্পষ্ট এই সহীহ হাদীসটির ভিত্তিহীন কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। যথা- ১। মিসওয়াক করার ফলে মাঢ়ি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়। আর রক্তক্ষরণের ফলে হানাফীদের মতে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বাতিল হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো এটি সমস্যার সৃষ্টি করে।

* (আমরা এর প্রত্যুত্তরে বলব) প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা ভিন্ন অন্য স্থান দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়া উযূ ভঙ্গের কারণ এ ভিত্তিতে সুস্পষ্ট বক্তব্যের মোকাবেলায় প্রদত্ত ব্যাখ্যার দিকে দৃষ্টিপাত করা যাবে না। যেহেতু এটি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। যদি তাদের মিসওয়াকের ফলে মাঢ়ি দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার দাবী মেনে নেয়া হয় তাহলে যার এ আশংকা রয়েছে সে মাঢ়ি ব্যতীত দাঁত এবং জিহবা মিসওয়াক করবে।

২। মিসওয়াকের মাধ্যমে দাঁতের ময়লা পরিষ্কার করণের মতো এ কাজ মসজিদে সমুচীন নয়।

(এর প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) এ ব্যাখ্যাটিও প্রত্যাখ্যাত। ‘আল্লামা ‘আযীম আবাদী غاية المقصود গ্রন্থে বলেছেন, আমরা মিসওয়াকের মাধ্যমে ময়লা পরিষ্কার করণের এ দাবী মানি না। আর কিভাবে তা হতে পারে, যেখানে যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী (রাঃ)-এর মতো সাহাবী লেখকের ন্যায় কানের উপর কলম নিয়ে সালাতে উপস্থিত হতেন এবং যখনই সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখনই মিসওয়াক করতেন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আরম্ভ হয়ে গেলে মিসওয়াকটি আগের স্থানে রেখে দিতেন। এ ছাড়াও খত্বীব বাগদাদী ও ইবনু আবী শায়বাহ্ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এবং ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস নিয়ে এসেছেন, যেখানে বলা হয়েছে সাহাবীগণের কানের উপর মিসওয়াক থাকতো সালাতের আগে মিসওয়াক করতেন আবার তার কানের উপর রেখেই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শুরু করতেন।

৩। যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা প্রমাণিত নয় যে, তিনি সালাতে দাঁড়ানোর সময় মিসওয়াক করেছেন, তাই কোন কোন বর্ণনা হতে প্রাপ্ত عند كل وضوء (প্রত্যেক উযূ (ওযু/ওজু/অজু) র সময়) এর ভিত্তিতে অত্র হাদীসটিকেও প্রত্যেক সালাতের উযূর সময় এর উপর ধারণ করা হবে।

(আমরা এর প্রত্যুত্তরে বলব) এটি একেবারেই অসম্ভব যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতকে প্রত্যেক সালাতের সময় গুরুত্বসহকারে মিসওয়াক করার আদেশ দিবেন আর তিনি সে ‘আমল না করে পরিত্যাগ করবেন। বরং এ বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট ‘আমল প্রমাণিত হয়েছে। ত্ববারানীতে যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক না করে গৃহ হতে কোন সালাতের জন্য বের হতেন না। ‘আল্লামা হায়সামী বলেছেন, এ হাদীসের রাবীগণ বিশ্বস্ত। আর এ বিষয়টি সুবিদিত যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান শ্রবণ করার পর ইক্বামাতের সময়েই গৃহ হতে বের হতেন। অতএব, গৃহে তিনি সালাতে দাঁড়ানোর সময়ই মিসওয়াক করতেন। আর উভয় বর্ণনার মাঝে এমন কোন বৈপরীত্য নেই যে, সালাতের সময়ের বর্ণনাটি উযূর ক্ষেত্রে নিতে হবে, বরং এটা বলা যেতে পারে যে, উভয়টিই সুন্নাত।

সালাতের দাঁড়ানোর সময় মিসওয়াক সুন্নাহ হওয়ার রহস্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অবস্থা হলো সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)। অতএব ‘ইবাদাতের সম্মান প্রদর্শনার্থে সেটি পূর্ণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নাবস্থায় থাকা চাই। মুসনাদে বাযযারে ‘আলী (রাঃ) হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এসেছে মালাক মুসল্লীর কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের জন্যে তার নিকটবর্তী হতেই থাকে এমনকি সে মুখে মুখ লাগিয়ে দেয়, ফলে মুসল্লীর মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে মালাক সে দুর্গন্ধে কষ্ট পায়। এজন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াকের নিয়ম চালু করলেন যাতে ফেরেশতা কষ্ট না পায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৭৭-[২] শুরায়হ ইবনু হানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, বলুন তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কোন্ কাজটি করতেন? তিনি বললেন, মিসওয়াক। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْمِسْوَاكِ

وَعَن شُرَيْح بن هَانِئ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ: بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دخل بَيته؟ قَالَت: بِالسِّوَاكِ. رَوَاهُ مُسلم

وعن شريح بن هانى قال: سالت عاىشة: باي شيء كان يبدا رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل بيته؟ قالت: بالسواك. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসের শিক্ষাসমূহ বা হাদীস থেকে যে সব মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত হয়-

১। যে কোন সময় মিসওয়াক করা ভালো।

২। মিসওয়াকের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

৩। বাড়িতে প্রবেশ করাটা যেমন কোন সময়ের সাথে নির্দিষ্ট না, অনুরূপ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সালাতের সময়ের সাথে সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় মিসওয়াক বার বার করা বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৭৮-[৩] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক দ্বারা ঘষে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْمِسْوَاكِ

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ لِلتَّهَجُّدِ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ

وعن حذيفة قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا قام للتهجد من الليل يشوص فاه بالسواك

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠেই মিস্ওয়াক করতেন। কেননা ঘুমের কারণে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। আর মিস্ওয়াক এ দুর্গন্ধ দূর করতে সক্ষম। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ পরিষ্কার করার জন্য মিস্ওয়াক করতেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৭৯-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশটি বিষয় ফিত্বরাহ্ অর্থাৎ- প্রকৃতিগত স্বভাবের অন্তর্গত। (১) গোঁফ খাটো করা, (২) দাড়ি লম্বা করা, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, (৫) নখ কাটা, (৬) আঙ্গুলের গিরাগুলো ধোয়া, (৭) বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, (৮) গুপ্তাঙ্গের লোম কাটা, (৯) শৌচকাজ করা (পবিত্র থাকা) এবং রাবী বলেন, দশমটা আমি ভুলে গেছি, সম্ভবত তা ’কুলি করা’। (মুসলিম)[1]

অপর এক বর্ণনায় (দ্বিতীয় জিনিসটি) দাড়ি বাড়াবার স্থলে খতনা করার কথা এসেছে। মিশকাতের সংকলক বলেন, এ বর্ণনাটি বুখারী-মুসলিমে আমি পাইনি, আর হুমায়দীতেও নেই (যা সহীহায়নের জামি’)। অবশ্য এ রিওয়ায়াতকে জামি’উস্ সগীরে উল্লেখ করেছেন। এভাবে খাত্ত্বাবী (রহঃ) মা’আলিমুস সুনানে বর্ণনা করেছেন।

بَابُ الْمِسْوَاكِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَشْرَ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ وَقَصُّ الْأَظْفَارِ وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ وَنَتْفُ الْإِبِطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ)
يَعْنِي الِاسْتِنْجَاءَ - قَالَ الرَّاوِي: ونسيت الْعَاشِرَة إِلَّا أَن تكون الْمَضْمَضَة. رَوَاهُ مُسلم
وَفِي رِوَايَةٍ «الْخِتَانُ» بَدَلَ «إِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ» لَمْ أَجِدْ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي «الصَّحِيحَيْنِ» وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيِّ
وَلَكِنْ ذَكَرَهَا صَاحِبُ «الْجَامِعِ» وَكَذَا الْخطابِيّ فِي «معالم السّنَن» :

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عشر من الفطرة: قص الشارب واعفاء اللحية والسواك واستنشاق الماء وقص الاظفار وغسل البراجم ونتف الابط وحلق العانة وانتقاص الماء) يعني الاستنجاء - قال الراوي: ونسيت العاشرة الا ان تكون المضمضة. رواه مسلم وفي رواية «الختان» بدل «اعفاء اللحية» لم اجد هذه الرواية في «الصحيحين» ولا في كتاب الحميدي ولكن ذكرها صاحب «الجامع» وكذا الخطابي في «معالم السنن» :

ব্যাখ্যা: فِطْرَةٌ (ফিত্বরাহ্) অর্থ জন্মগত স্বভাব। ফিত্বরাহ্ বিশিষ্ট সেই দশটি সুন্নাতের প্রথমটি হলো قَصُّ الشَّارِبِ অর্থাৎ- মোচ বা গোঁফ এমনভাবে ছাঁটা যাতে উপর ঠোঁটের রক্তিমতা প্রকাশ পায়। বুখারী মুসলিমের বর্ণায় أَحْفُوا الشَّوَارِبَ এসেছে, إِحْفَاءُ শব্দের অর্থ মূলোৎপাটন করা। কেউ কেউ বলেছেন, গোঁফ খাটো করা যায় আবার একেবারে ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে ছোট করাও বৈধ।

(إِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ) অর্থাৎ- দুইগাল এবং থুতনীতে উদগত চুলগুলোকে দাঁড়ি বলা হয়। দাড়ি না কেটে ছেড়ে দেয়া এবং বর্ধিত করা। কোন কোন পূর্ববর্তী ‘আলিম সৌন্দর্য বর্ধন এবং উপযোগিতার ক্ষেত্রে দাড়ির দৈর্ঘ্য প্রস্থের দিকে কিছু কাটার বৈধতা দিয়েছেন। তবে তা যেন প্রসিদ্ধতা লাভের উদ্দেশে না হয়।

(قَصُّ الْأَظْفَارِ) নখ কাটা। অর্থাৎ- আঙ্গুলের মাথায় অবস্থিত নখের বর্ধিতাংশ কেটে ফেলা। কেননা সেই বর্ধিতাংশে ময়লা একত্রিত হয়ে আঙ্গুলকে নোংরা করে ফেলে। কখনো কখনো তা এত বড় হয় যা উযূতে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

 (غَسْلُ الْبَرَاجِمِ) অর্থাৎ- আঙ্গুলের গ্রন্থি ও গিঁট ধৌত করা। এর মাধ্যমে তিনি ময়লা জমে থাকার স্থানসমূহ পরিষ্কার করার জন্য দিক-নিদের্শনা দিয়েছেন।

(نَتْفُ الْإِبْطِ) (নাত্ফুল ইবত্ব) نَتْفٌ শব্দের অর্থ আঙ্গুল দিয়ে চুল উপড়ানো, অর্থাৎ- বগলের চুল হাতের আঙ্গুল দিয়ে উপড়িয়ে ফেলা। কেননা আঙ্গুল দিয়ে উপড়ালে তা দুর্বল হয়ে পড়ে ফলে তার বৃদ্ধি কম হয়। তবে বগলের চুল কর্তন করার মাধ্যমে সুন্নাত আদায় হবে কিনা- এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন কর্তনসহ যে কোন উপায়ে অপসারণ করার মাধ্যমে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। কেননা এর মূল লক্ষ্য হলো ময়লা পরিষ্কার করা, বিশেষত সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা অবশ্যই বৈধ যে তা উপড়ানোতে কষ্ট পায়।

(حَلْقُ الْعَانَةِ) (হালকুল ‘আ-নাহ্) عَانَةُ বলা হয় নারী-পুরুষের শরীরের সামনের দিকে লজ্জাস্থানের উপর বা তার উৎসস্থলে উদগত চুল। কেউ কেউ বলেছেন, পিছনের স্থানের চারপাশে উদগত চুল। অতএব এ উক্তিগুলোর ভিত্তিতে সামনে ও পিছনের লজ্জাস্থানের চারপাশে উদগত সমস্ত চুলগুলো কর্তন করা মুসতাহাব। তবে কেউ কেউ বলেছেন, মহিলাদের তা কর্তন না করে যে কোন উপায়ে উপড়ে ফেলাই উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮০-[৫] হাদীসটি আবূ দাঊদ-এ ’আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।[1]

بَابُ الْمِسْوَاكِ

عَن أبي دَاوُد بِرِوَايَة عمار بن يَاسر

عن ابي داود برواية عمار بن ياسر

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮১-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মিসওয়াক হলো মুখগহ্বর পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তোষ লাভের মাধ্যম। (শাফি’ঈ, আহমাদ, দারিমী, নাসায়ী; আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে সানাদ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন)[1]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ» . رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه بِلَا إِسْنَاد

عن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «السواك مطهرة للفم مرضاة للرب» . رواه الشافعي واحمد والدارمي والنساىي ورواه البخاري في صحيحه بلا اسناد

ব্যাখ্যা: السواك مطهرة للفهم ‘‘মিসওয়াক হলো মুখ পবিত্রকরণের হাতিয়ার’’। مِسْوَاكُ মিসওয়াক হলো প্রত্যেক সে কাষ্ঠ খন্ড যা দ্বারা ঘর্ষণের মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করা হয়। আর তা যে মুখমণ্ডল পরিষ্কারের একটি হাতিয়ার তাতে কোন সন্দেহ নেই। মিসওয়াকের ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। আর এ হাদীসের উদ্দেশ্য মিসওয়াক ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮২-[৭] আবূ আইয়ূব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চারটি বিষয় নবী-রসূলদের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত- (১) লজ্জাশীলতা, আর এক বর্ণনায় এর স্থলে খতনার কথা বলা হয়েছে; (২) সুগন্ধি ব্যবহার করা; (৩) মিসওয়াক করা এবং (৪) বিয়ে করা। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ: الْحَيَاءُ وَيُرْوَى الْخِتَانُ وَالتَّعَطُّرُ وَالسِّوَاكُ وَالنِّكَاحُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي ايوب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اربع من سنن المرسلين: الحياء ويروى الختان والتعطر والسواك والنكاح . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: قوله (أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের সুন্নাত চারটি যথাঃ লজ্জাশীলতা, (অন্য বর্ণনায় এর পরিবর্তে খতনা এসেছে) সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক করা এবং বিবাহ করা।

الْحَيَاءُ (আল হায়া-) এ লজ্জা দ্বারা দীনী লজ্জা। যেমন লজ্জাস্থান আবৃত করা, মানবতা যাকে খারাপ মনে করে তাত্থেকে বেঁচে থাকা এবং শারী‘আত অশ্লীলসহ অন্যান্য যেসব কাজকে নিষিদ্ধ করেছে এর দ্বারা জন্মগত লজ্জা উদ্দেশ্য নয়। কেননা এতে সকল মানুষই অংশীদার। আর জন্মগত বা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য নাবীদের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

الخِتَانُ (আল খিতা-ন) খতনা করা ইবরাহীম (আঃ) থেকে মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল নাবীদের সুন্নাত।

تَعَطَّرٌ (তা‘আত্ত্বার) গায়ে এবং কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৩-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে বা রাতে যখনই ঘুম হতে উঠতেন, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পূর্বে মিসওয়াক করতেন। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرْقُدُ مِنْ لَيْلٍ وَلَا نَهَارٍ فَيَسْتَيْقِظُ إِلَّا يَتَسَوَّكُ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ. رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يرقد من ليل ولا نهار فيستيقظ الا يتسوك قبل ان يتوضا. رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: দিনে বা রাতের যে কোন সময়ই ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে মিস্ওয়াক করা সুন্নাত।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৪-[৯] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করতেন। অতঃপর ধুয়ে রাখার জন্য তা আমাকে দিতেন। আমি (ধোয়ার আগে) ঐ মিসওয়াক দিয়ে নিজে মিসওয়াক করতাম। তারপর তা ধুয়ে তাঁকে ((রাঃ)-কে) দিতাম। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَاكُ فَيُعْطِينِي السِّوَاكَ لِأَغْسِلَهُ فَأَبْدَأُ بِهِ فَأَسْتَاكُ ثُمَّ أَغْسِلُهُ وَأَدْفَعُهُ إِلَيْهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يستاك فيعطيني السواك لاغسله فابدا به فاستاك ثم اغسله وادفعه اليه. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (فَأَبْدَأُ بِه فَأَسْتَاكُ) ‘‘আমি প্রথমে ঐ মিস্ওয়াক দিয়ে নিজে মিস্ওয়াক করতাম।’’ অর্থাৎ- ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ঐ মিস্ওয়াক ধোয়ার আগে তা দিয়ে নিজে মিসওয়াক করতেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থু থু মিশ্রিত মিসওয়াক থেকে বারাকাত হাসিলের জন্য। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন কিছু দ্বারা বারাকাত অর্জন করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। অতএব অন্য কোন ব্যক্তির কোন কিছু দ্বারা বারাকাত অর্জন করা বৈধ নয়।

শিক্ষা: (১) অনুমতিক্রমে অন্যের মিস্ওয়াক ব্যবহার করা বৈধ,

(২) মিস্ওয়াক ব্যবহার করার আগে ওপরে তা ধুয়ে নেয়া সুন্নাত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৫-[১০] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একখন্ড মিসওয়াক দিয়ে মিসওয়াক করছি। এমন সময় দু’জন লোক আমার কাছে এলো, যাদের মধ্যে একজন অপরজন হতে (বয়সে) বড়। আমি আমার মিসওয়াকটি ছোটজনকে দিতে উদ্যত হলে আমাকে বলা হলো, বড়জনকেই দিন। অতঃপর আমি তা বড়জনকেই দিলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرَانِي فِي الْمَنَامِ أَتَسَوَّكُ بِسِوَاكٍ فَجَاءَنِي رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الْآخَرِ فَنَاوَلْتُ السِّوَاكَ الْأَصْغَرَ مِنْهُمَا فَقِيلَ لي: كبر فَدَفَعته إِلَى الْأَكْبَر مِنْهُمَا

عن ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: اراني في المنام اتسوك بسواك فجاءني رجلان احدهما اكبر من الاخر فناولت السواك الاصغر منهما فقيل لي: كبر فدفعته الى الاكبر منهما

ব্যাখ্যা: সহীহ মুসলিমে উল্লেখ হয়েছে, যা দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এ বিষয়টি ঘুমন্তাবস্থায় ছিল।

ইমাম আহমাদ ও বায়হাক্বী হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ

‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করে তা বড়জনকে দিলেন, অতঃপর বললেন জিবরীল (আঃ)  আমাকে এভাবে আদেশ করেছেন।’’

অতএব উক্ত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিষয়টি জাগ্রত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে।

এ বিষয়টির আরো প্রমাণ পাওয়া যায়, আবূ দাঊদে যা তিনি (ইমাম আবূ দাঊদ) হাসান সানাদে বর্ণনা করেছেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করতেন এবং তাঁর নিকটে দু’জন ব্যক্তি থাকতো, যাদের একজন অপরজনের চেয়ে বড়। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মিসওয়াকের ফাযীলাতের বিষয়ে ওয়াহী করা হলো।

উপরোক্ত হাদীস দু’টির মাঝে এভাবে সমন্বয় করা যায় যে, এ ঘটনাটি ঘটেছে জাগ্রত অবস্থায়, কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ঘুমন্ত অবস্থার বিষয়টি বলেছেন।

এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে বিষয়টি ওয়াহীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। যার কতক অংশ কেউ বর্ণনা করেছেন আর কতক অংশ বর্ণনা করেননি।

উল্লেখ্য যে, দু’জনের মধ্যে ছোটজনকে মিসওয়াক প্রদানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ছোটজন ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে অথবা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি। যার ফলে জিবরীল (আঃ) বড়জনকে তা (মিসওয়াক) প্রদান করতে বলেন।

স্মর্তব্য যে, এ হাদীসটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের দুধ পান করানোর হাদীসের বিপরীত নয় যে, হাদীসে তাঁর বামপাশে আবূ বাকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও এদের মতো বিশিষ্ট সাহাবীগণকে রেখে ছোটজন (সাহাবী)-কে প্রথমে দুধের পাত্র প্রদান করলেন।

কারণ- তাঁরা (সাহাবীরা) সকলেই ছিলেন তাঁর (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম পাশে। আর ছোট সাহাবী ছিলেন তাঁর ডান পাশে। আর এ বিষয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি হলো, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ ‘‘ডান দিক থেকে শুরু কর।’’


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৬-[১১] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখনই জিবরীল (আঃ) আমার কাছে আসতেন আমাকে মিসওয়াক করার তাগিদ দিতেন; এমনকি আমার ভয় হলো যে, (মিসওয়াক করার দরুন) আমার মুখের সম্মুখভাগ যেন আবার ক্ষত-বিক্ষত না করে ফেলি। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا جَاءَنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَطُّ إِلَّا أَمَرَنِي بِالسِّوَاكِ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أُحْفِيَ مُقَدِّمَ فِيَّ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ

وعن ابي امامة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما جاءني جبريل عليه السلام قط الا امرني بالسواك لقد خشيت ان احفي مقدم في» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মিসওয়াকের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি মিসওয়াকের ফলে তার মাড়ির গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) অপসারিত হওয়ার আশংকা করেছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৭-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে মিসওয়াকের (গুরুত্ব ও ফাযীলাতের) ব্যাপারে অনেক বেশী বললাম। (বুখারী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاك» رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد اكثرت عليكم في السواك» رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বেশি বেশি মিসওয়াক করার জন্য উৎসাহ দান করা হয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) এর ওয়াসিয়্যাত অনুপাতে সাহাবীগণকে বেশি বেশি মিসওয়াক করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৮-[১৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করছিলেন। তখন তাঁর কাছে দু’জন লোক উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে একজন অপরজন হতে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। তখন মিসওয়াকের ফাযীলাত সম্পর্কে ওয়াহী নাযিল হলো- তাদের মধ্যে বড়জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মিসওয়াকটি দিন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَنُّ وَعِنْدَهُ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الْآخَرِ فَأُوحِيَ إِلَيْهِ فِي فَضْلِ السِّوَاكِ أَنْ كَبِّرْ أَعْطِ السِّوَاك أكبرهما. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستن وعنده رجلان احدهما اكبر من الاخر فاوحي اليه في فضل السواك ان كبر اعط السواك اكبرهما. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় মিসওয়াক, খাবার, পান করা, কথা বলা এবং বাহনে আরোহণসহ সকল ক্ষেত্রে কয়েকজন থাকলে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে মাজলিসের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সেক্ষেত্রে ডান দিক থেকে আরম্ভ করবে। বিষয়টি সুন্নাত যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৮৯-[১৪] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সালাতের জন্য (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময়) মিসওয়াক করা হয় তার ফাযীলাত সত্তর গুণ বেশী সে সালাতের চেয়ে যে সালাতে মিসওয়াক করা হয়নি। (বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَفْضُلُ الصَّلَاةُ الَّتِي يُسْتَاكُ لَهَا عَلَى الصَّلَاةِ الَّتِي لَا يُسْتَاكُ لَهَا سَبْعِينَ ضعفا» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان

وعنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تفضل الصلاة التي يستاك لها على الصلاة التي لا يستاك لها سبعين ضعفا» . رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: হাদীসে এ সংখ্যা দ্বারা আধিক্য বুঝানো হয়েছে অথবা সত্তরই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ- যে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) মিসওয়াক করে আদা করা হয় তার মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিসওয়াক করা প্রসঙ্গে

৩৯০-[১৫] আবূ সালামাহ্ (রহঃ) যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ)হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি যদি উম্মাতকে কষ্টে ফেলার আশংকা না করতাম তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করতে হুকুম (ফরয) করতাম এবং ’ইশার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) রাতের এক-তৃতীয়াংশে পিছিয়ে দিতাম। তিনি [আবূ সালামাহ্ (রাঃ)] বলেন, (আমি দেখেছি) যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)সালাতে উপস্থিত হতেন। তার মিসওয়াক স্বীয় কানে আটকানো থাকত, যেখানে লেখকের কলম থাকে ঠিক তদ্রূপ। যখনই তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখনই মিসওয়াক করতেন। তারপর তা আবার সেখানে (কানে) রেখে দিতেন। (তিরমিযী)

আবূ দাঊদ ’ইশার সালাত পিছিয়ে দিতাম’ বাক্য ছাড়া বাকীটুকু বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসকে হাসান সহীহ বলেছেন।[1]

وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَلَأَخَّرْتُ صَلَاةَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ» قَالَ فَكَانَ زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ فِي الْمَسْجِدِ وَسِوَاكُهُ عَلَى أُذُنِهِ مَوْضِعَ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ لَا يَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ إِلَّا اسْتَنَّ ثُمَّ رَدَّهُ إِلَى مَوْضِعِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: «وَلَأَخَّرْتُ صَلَاةَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ» . وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حسن صَحِيح

وعن ابي سلمة عن زيد بن خالد الجهني قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لولا ان اشق على امتي لامرتهم بالسواك عند كل صلاة ولاخرت صلاة العشاء الى ثلث الليل» قال فكان زيد بن خالد يشهد الصلوات في المسجد وسواكه على اذنه موضع القلم من اذن الكاتب لا يقوم الى الصلاة الا استن ثم رده الى موضعه. رواه الترمذي وابو داود الا انه لم يذكر: «ولاخرت صلاة العشاء الى ثلث الليل» . وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি সালাতুল ‘ইশা আবশ্যকীয়ভাবে বিলম্বে পড়তে নির্দেশ দিতাম। বর্ণনাকারী (আবূ সালামাহ্) বলেনঃ যায়দ ইবনু খালিদ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) জামা‘আতের সাথে আদায়ের জন্য মসজিদে উপস্থিত হতেন এবং তার মিসওয়াকটি সর্বদা কানে গুঁজে রাখতেন।

(لَا يَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ اِلَّا أُسْتَنَّ) বাহ্যিক হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সালাতের জন্য মিসওয়াক করতেন।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ উক্ত হাদীস দ্বারা উপযুক্ত দলীল সাব্যস্ত হয় না। কেননা যায়দ ইবনু খালিদ এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ (হাদীসটি) বর্ণনা করেননি।

শায়খ ‘উবায়দুল্লাহ রহমান মুবারকপূরী (রহঃ) বলেনঃ আমি বলছি, উক্ত হাদীস যায়দ ইবনু খালিদ একাকীভাবে বর্ণনা করেননি বরং এ সম্পর্কিত হাদীস আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মিসওয়াকগুলো তাদের কানের উপর থাকতো। প্রত্যেক সালাতের সময় তারা মিসওয়াক করে নিতেন।

এছাড়াও সাহাবী ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) এবং অন্যান্য সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত আছে তারা বিকাল বেলা ঘুরাফেরা করতেন আর তাদের মিসওয়াকগুলো তাদের কানেই রাখতেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

এখানে سُنَنٌ দ্বারা শুধুমাত্র উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র সুন্নাতগুলো উদ্দেশ্য নয় যা ফার্‌যের (ফরযের/ফরজের) বিপরীত বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম এবং উক্তিসমূহ চাই তা সুন্নাত হোক বা ফরয হোক।


৩৯১-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে তখন সে যেন স্বীয় হাত (পানির) পাত্রে না ডুবায়, যে পর্যন্ত তা তিনবার ধুয়ে না নেয়। কারণ সে জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا استيقظ احدكم من نومه فلا يغمس يده في الاناء حتى يغسلها فانه لا يدري اين باتت يده»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতকে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা শিক্ষা দিয়েছেন। হাদীসের মধ্যে বিষয়টি এভাবে এসেছে যে, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানো যাবে না; কারণ জাগ্রত ব্যক্তি জানে না যে, রাতের বেলায় তার হাত কোথায় ছিল। এজন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাই ঘুম থেকে উঠে আগে হাত ধুয়ে নেয়া পরিচ্ছন্নতা ও রুচির পরিচায়ক। মূলকথা হলো এই যে, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর হাত ধোয়া ছাড়া পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানো মাকরূহ। হাতে নাপাকী থাকা নিশ্চিত হলে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে এবং নাপাক কিছু না থাকলেও পানির পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে ধুয়ে নেয়া মুসতাহাব।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯২-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠবে ও উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, সে যেন তিনবার নাকে পানি দিয়ে (নাক) ঝেড়ে ফেলে। কেননা শায়ত্বন (শয়তান) তার নাকের বাঁশিতে রাত যাপন করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامه فليستنثر ثَلَاثًا فَإِن الشَّيْطَان يبيت على خيشومه»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا استيقظ احدكم من منامه فليستنثر ثلاثا فان الشيطان يبيت على خيشومه»

ব্যাখ্যা: হাদীসের মধ্যে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করার নির্দেশ এসেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, রাতের বেলায় শায়ত্বন (শয়তান) তার নাসারন্ধ্রে অবস্থান করে। হাদীসে استنثار শব্দটি এসেছে এর অর্থ হলো নাকে পানি দিয়ে শেষ পর্যন্ত টেনে নেয়া। নাকের মধ্যে শায়ত্বন (শয়তান) অবস্থান করার বিষয়টি প্রকৃত অর্থে এসেছে। শায়ত্বন (শয়তান) নাক দিয়েও মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে ওয়াস্ওয়াসাহ্ (কুপ্রবঞ্চনা) দেয়। তাই নাকে পানি দিয়ে শায়ত্বন (শয়তান) প্রবেশের চিহ্ন ও প্রভাব দূর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুখারী ও মুসলিমে হাদীসে আছে, কেউ যদি আয়াতুল কুরসী পাঠ করে ঘুমায় তবে সে শায়ত্বনের (শয়তানের) কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকবে।

আরো আদেশ এসেছে যে, হাই তোলার সময় মুখ বন্ধ রাখতে হবে কারণ ঐ সময় শায়ত্বন (শয়তান) মুখের মধ্যে প্রবেশ করে। অতঃপর উদ্দেশ্য হলো خيشوم অর্থাৎ- নাকের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা জমা হওয়ার স্থান আর ঐ স্থানেই রাত্রি যাপন করাটা শায়ত্বনের (শয়তানের) জন্য উপযুক্ত স্থান। অতএব মানুষের জন্য উচিত নাসিকা পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৩-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ’আসিম (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন? (এ কথা শুনে) তিনি উযূর জন্য পানি আনালেন, তারপর দুই হাতের উপর তা ঢাললেন এবং দুই হাত (কব্জি পর্যন্ত) দু’বার ধুয়ে নিলেন। এরপর তিনবার করে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর তিনবার মুখ ধুলেন। তারপর হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। এরপর দুই হাত দিয়ে ’মাথা মাসাহ’ করলেন। (মাসাহ এভাবে করলেন) দুই হাতকে মাথার সম্মুখভাগ হতে পেছনের দিকে নিয়ে আবার পেছন হতে সম্মুখভাগে নিয়ে এলেন। তারপর আবার উল্টো দিকে যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানে দুই হাত নিয়ে এলেন। অতঃপর দুই পা ধুলেন।[1] মালিক ও নাসায়ী; আবূ দাঊদেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। জামিউল উসূল-এর গ্রন্থকার এ কথা বলেছেন।

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَقيل لعبد الله بن زيد: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ؟ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمَرْفِقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهَ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ ردهما حَتَّى يرجع إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ. رَوَاهُ مَالِكٌ وَالنَّسَائِيُّ وَلِأَبِي دَاوُدَ نَحْوُهُ ذكره صَاحب الْجَامِع

وقيل لعبد الله بن زيد: كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضا؟ فدعا بوضوء فافرغ على يديه فغسل يديه مرتين مرتين ثم مضمض واستنثر ثلاثا ثم غسل وجهه ثلاثا ثم غسل يديه مرتين مرتين الى المرفقين ثم مسح راسه بيديه فاقبل بهما وادبر بدا بمقدم راسه ثم ذهب بهما الى قفاه ثم ردهما حتى يرجع الى المكان الذي بدا منه ثم غسل رجليه. رواه مالك والنساىي ولابي داود نحوه ذكره صاحب الجامع

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে এসেছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) নকল করার ক্ষেত্রে হাত দু’বার ধুয়েছেন, অন্যদেরকে শেখাবার উদ্দেশে তিনি এমন করে থাকবেন। কারণ সহীহ হাদীসে তিনবার ধোয়ার বর্ণনা এসেছে। এমনও হতে পারে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো উযূর অঙ্গসমূহ দু’বার ধৌত করেছেন বৈধতা বুঝানোর জন্য।

হাদীসটির পরবর্তী অংশে এসেছে, তিনি এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করেছেন এবং নাকে পানি দিয়েছেন। তিনি তিনবার এরূপ করেছেন। এ হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, তিনি এক কোষ থেকে কুলি করেছেন ও নাকেও পানি দিয়েছেন।

হাদীসে মুখমণ্ডল ধৌত করার উল্লেখ আছে। মুখমণ্ডল বলতে মাথার চুলের গোড়া থেকে নিয়ে চিবুকের শেষভাগ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত বোঝায়। হাত ধৌত করার সময় দু’ হাতের কনুই সহ ধৌত করতে হবে।

ইমাম মালিক-এর মতটিই উত্তম। কারণ কুরআনে কারীমের আয়াতটিতে কোন পরিমাণের উল্লেখ আসেনি। তবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু গোটা মাথা মাসাহ করেছেন, তাই পূর্ণ মাথা মাসাহ করাই ওয়াজিব। একমাত্র মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্-এর হাদীসে এসেছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথার অংশ বিশেষের উপর মাসাহ করেছেন। তবে মুগীরার হাদীসেও এসেছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কপাল ও পাগড়ির উপর মাসাহ করেছেন। এ বর্ণনা দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে, মাথার অংশ বিশেষের উপর মাসাহ করা ওয়াজিব যেহেতু মাথা মাসাহের ক্ষেত্রে কোন সংখ্যার উল্লেখ নেই। তাই মাথা একবারই মাসাহ করতে হবে। হাতকে প্রথমে সামনে থেকে পিছনে তারপর পিছন থেকে সামনে আনতে হবে।

এ হাদীসে উভয় পা ধোয়ার কথা এসেছে কিন্তু সংখ্যা উল্লেখ হয়নি। বাহ্যত এটাই বুঝা যায় যে, পা একবারই ধৌত করেছেন। তবে পূর্বে যেহেতু দু’বার ধোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, তাই এখানেও দু’বার ধোয়া বুঝা যেতে পারে। আবার তিনবার ধোয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত তিনবার করেই উযূর অঙ্গসমূহ ধৌত করতেন। পা ধৌত করার সময় পায়ের টাখনুসহ ধৌত করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৪-[৪] সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে, ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ’আসিম (রাঃ)-কে বলা হলো, যেভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন ঠিক সেভাবে আপনি আমাদের সামনে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করুন। তাই তিনি [’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)] পানি আনালেন। পাত্র কাত করে পানি নিয়ে দুই হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার হাত ধুয়ে নিলেন। এরপর পাত্রের ভিতর হাত ঢুকিয়ে পানি এনে এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এভাবে তিনি তিনবার করলেন। তারপর আবার নিজের হাত পাত্রে ঢুকিয়ে পানি এনে তিনবার তার মুখমণ্ডল ধুইলেন। আবার পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি এনে নিজের মাথা মাসাহ এভাবে করলেন, প্রথমে নিজ হাত দু’টি সামনে থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন, তারপর নিজের দুই পা গিরা পর্যন্ত ধুইলেন। অতঃপর বললেন, এরূপই ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ।[1]

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় আছে, (মাসাহ করার জন্য) নিজের দুই হাতকে সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পিছনের দিক থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন। অর্থাৎ মাথার সামনের অংশ হতে ’মাসাহ’ শুরু করে দুই হাত পিছন পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তারপর আবার পিছন থেকে শুরু করে হাত সেখানে নিয়ে এলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। অতঃপর দুই পা ধুইলেন।[2]

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর অপর বর্ণনায় এভাবে বলা হয়েছে, তিনি এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করলেন, আর নাকে পানি দিলেন। এভাবে তিনবার করলেন।[3]

বুখারীর বর্ণনার শব্দ হলো, তারপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। নিজের দুই হাতকে সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন। আর এটা তিনি একবার করেছেন। অতঃপর টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধুইলেন।[4]

বুখারীরই এক বর্ণনার শব্দ হলো, অতঃপর তিনি কুলি করলেন ও নাক ঝাড়লেন তিনবার এক কোষ পানি দিয়ে।[5]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَفِي الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ: قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ: تَوَضَّأْ لَنَا وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَا بِإِنَاءٍ فَأَكْفَأَ مِنْهُ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَهَا فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَهَا فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَهَا فَغَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَهَا فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا كَانَ وُضُوءُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
وَفِي رِوَايَةٍ: فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رجلَيْهِ
وَفِي رِوَايَة: فَمَضْمض واستنشق واستنثر ثَلَاثًا بِثَلَاث غَرَفَاتٍ مِنْ مَاءٍ
وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفَّةٍ وَاحِدَةٍ فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثًا
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: فَمَسَحَ رَأْسَهُ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
وَفِي أُخْرَى لَهُ: فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّات من غرفَة وَاحِدَة

وفي المتفق عليه: قيل لعبد الله بن زيد بن عاصم: توضا لنا وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعا باناء فاكفا منه على يديه فغسلهما ثلاثا ثم ادخل يده فاستخرجها فمضمض واستنشق من كف واحدة ففعل ذلك ثلاثا ثم ادخل يده فاستخرجها فغسل وجهه ثلاثا ثم ادخل يده فاستخرجها فغسل يديه الى المرفقين مرتين مرتين ثم ادخل يده فاستخرجها فمسح براسه فاقبل بيديه وادبر ثم غسل رجليه الى الكعبين ثم قال هكذا كان وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي رواية: فاقبل بهما وادبر بدا بمقدم راسه ثم ذهب بهما الى قفاه ثم ردهما حتى رجع الى المكان الذي بدا منه ثم غسل رجليه وفي رواية: فمضمض واستنشق واستنثر ثلاثا بثلاث غرفات من ماء وفي رواية اخرى: فمضمض واستنشق من كفة واحدة ففعل ذلك ثلاثا وفي رواية للبخاري: فمسح راسه فاقبل بهما وادبر مرة واحدة ثم غسل رجليه الى الكعبين وفي اخرى له: فمضمض واستنثر ثلاث مرات من غرفة واحدة

ব্যাখ্যা: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে- ‘‘যখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে সে যেন তার নাকের মধ্যে পানি দেয়, অতঃপর নাক ঝাড়ে।’’

সালামাহ্ ইবনু ক্বায়স হতে বর্ণিত তিরমিযী, নাসায়ীতে রয়েছে- إِذَ تَوَضَّأتِ فَانْتَثِرْ অর্থ- যখন তুমি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে নাক ঝাড়বে বা পরিষ্কার করবে।

لَقِيْطُ بْنُ صَبْرَةَ এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- সায়িম বা রোযাদার না হলে নাকে পানি দেয়ার ব্যাপারে مُبَالَغَةُ করবে, অর্থাৎ- পরিপূর্ণভাবে পানি ব্যবহার করবে।

আবূ দাঊদে রয়েছে- (اِذَا تَوَضَّأَتْ فَمَضْمَضَ) যখন উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করবে অতঃপর কুলি করবে।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে দারাকুত্বনীতে রয়েছে- (امرنا رسول الله صلي الله عليه وسلم بِالْمَضْمَضَةِ وَاِلْاٍسْتِنْشَاقَ) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে আদেশ করেছেন। ইবনু কুদামা আল-মুগনীতে এবং ইবনুল কাইয়্যুম আল-হাদীতে (اَلْمُغْنِىْ لِابْنُ قُدَامَةَ وَالْهَدْىُ لِاِبْنُ الْقَيُّمِ) উল্লেখ করেছেন তিন চুল্লু কুলি ও নাকে পানি দিতে একই সঙ্গে ব্যবহার করবে, অর্থাৎ- একচুল্লু নিয়ে একই সঙ্গে কিছু পানি মুখে কিছু পানি নাকে দিতে হবে এভাবে তিনবার। এ ব্যাপারে বুখারী ও মুসলিমের হাদীস অধিক স্পষ্ট।

মির্‘আ-তুল মাফা-তীহ-এর লেখক বলেনঃ উল্লিখিত মতটি আমার নিকট বিশুদ্ধ ও পছন্দনীয় এবং একত্র বর্ণনাটা অধিক স্পষ্ট ও অধিক বিশুদ্ধ। আর চুল্লু পৃথক নেয়ার হাদীসটি জায়িযের দিক থেকে।

* এরপর আলোচনা মাথা মাসাহ প্রসঙ্গে। মাথা কতটুকু মাসাহ করা ফরয- এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

* ইমাম মালিক-এর মত সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্ করা ওয়াজিব। আর এটাই অগ্রাধিকারযোগ্য বা প্রাপ্ত। কেননা আয়াতের শব্দ মুজমাল (সার-সংক্ষেপ) এর উদ্দেশ্য পূর্ণ মাথা। আর باء অক্ষর অতিরিক্ত অথবা কিছু অংশ মাসাহ করা, কিন্তু মৌলিক কথা পূর্ণ মাথা মাসাহ্ করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আমলের দ্বারা প্রতীয়মান হয়।

* ইমাম শাফি‘ঈ-এর মত মাথার এক তৃতীয়াংশ মাসাহ করা যা অধিকাংশের বিপরীত। মুগীরাহ্-এর হাদীসে মাথার কিছু অংশ মাসাহ করার কথা রয়েছে। (إِنَّه مَسَحَ عَلى نَاصِيَتِه عَمَامِتِه) তিনি মাথার সম্মুখ ভাগ এবং পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন এ প্রসঙ্গে প্রমাণ নেই যে, মাথার কিছু অংশের উপর মাসাহ করলেই যথেষ্ট হবে।

* টাখনুসহ উভয় পাকে ধৌত করা উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করার সময় এ অভিমত উল্লেখ রয়েছে বুখারীতে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৫-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উযূর স্থানসমূহ) একবার করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন। একবারের অধিক ধুলেন না। (বুখারী)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً مَرَّةً لَمْ يَزِدْ عَلَى هَذَا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن عبد الله بن عباس قال: توضا رسول الله صلى الله عليه وسلم مرة مرة لم يزد على هذا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: قوله (مَرَّةً مَرَّةً) উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কতবার করে ধৌত করতে হবে- এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।

* উযূর অঙ্গগুলো একবার ধৌত করা ওয়াজিব যেমন বুখারীতে উল্লেখ রয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। (تَوَضَّأَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَرَّةً مَرَّةً لَمْ يَزِدْ عَلى هذَا) অর্থ- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একবার করে ধৌত করেন বেশী নয় আর মাথা মাসাহ করেন একবার।

আর এটাতে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, উযূর কর্মগুলো একবার করলে এটার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। এজন্য সংক্ষিপ্ত করেছেন। সহীহ হাদীসসমূহ এসেছে দু’বার করে এবং তিনবার। তিনবারটা পরিপূর্ণতা আর একবার যথেষ্ট। বুখারীতে রয়েছে একচুল্লু দিয়ে হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল ধৌত করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৬-[৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র অঙ্গগুলোকে দু’বার করে ধুইলেন। (বুখারী)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عبد الله بن زيد: ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرتين مرتين. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: قوله (تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ) অর্থাৎ- উযূর প্রত্যেক অঙ্গসমূহ দু’বার করে ধৌত করা। বৈধতা বর্ণনা করার জন্য। বুখারীতে উযূর অধ্যায়ে বর্ণনা আছে দু’বার দু’বার করে। কেননা বুখারীতে দু’বার ধৌত করার কথা নেই শুধু দু’হাত কনুইসহ ধৌত করার কথা, নাসায়ী সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ্-এর দিক থেকে। (أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন দু’বার দু’বার।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৭-[৭] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি মাক্বা’ইদ নামক স্থানে উযূ করতে বসলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে দেখাবো না? অতঃপর তিনি তিন তিনবার করে ধুয়ে উযূ করলেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ تَوَضَّأَ بِالْمَقَاعِدِ فَقَالَ: أَلَا أُرِيكُمْ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَتَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا. رَوَاهُ مُسلم

وعن عثمان رضي الله عنه انه توضا بالمقاعد فقال: الا اريكم وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فتوضا ثلاثا ثلاثا. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘উসমান (রাঃ) দেখালেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূর যে অঙ্গগুলো ধৌত করতে হয় তা তিনবার করে ধৌত করেছেন। আর এটাই হলো পরিপূর্ণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৮-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মক্কা হতে মদীনায় ফিরে যাবার পথে একটি পানির কূপের কাছে পৌঁছলাম। আমাদের কেউ কেউ ’আসরের সালাতের সময় তাড়াতাড়ি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে গেলেন এবং তাড়াহুড়া করে উযূ করলেন।

অতঃপর আমরা তাদের কাছে পৌঁছলাম, দেখি, তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনা, চকচক করছে। সেখানে পানি পৌঁছেনি। এটা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সর্বনাশ! (শুকনা) গোড়ালির লোকেরা জাহান্নামে যাবে, তোমরা পূর্ণরূপে উযূ কর। (মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: رَجَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى إِذا كُنَّا بِمَاء بِالطَّرِيقِ تعجل قوم عِنْد الْعَصْر فتوضؤوا وهم عِجَال فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِم وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ لَمْ يَمَسَّهَا الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ من النَّار أَسْبغُوا الْوضُوء» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الله بن عمرو قال: رجعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة الى المدينة حتى اذا كنا بماء بالطريق تعجل قوم عند العصر فتوضووا وهم عجال فانتهينا اليهم واعقابهم تلوح لم يمسها الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ويل للاعقاب من النار اسبغوا الوضوء» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ আছে, ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেন লোকেদেরকে তারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে এবং তারা যেন তাদের পায়ের কিছু অংশ ধৌত করা ছেড়ে দেয়’’।

সহীহ মুসলিমে রয়েছে, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি দেখেন এক ব্যক্তি তার গোড়ালিকে ধৌত করেনি। অতঃপর বললেন, এটার জন্য শাস্তি হবে।

ত্ববারানীতে রয়েছে, ‘‘যে গোড়ালি ও পায়ের পাতার পেট ভালোভাবে ধৌত করা হয় না তা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে’’।

(أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ) অর্থাৎ- উযূকে পরিপূর্ণভাবে সম্পাদন করো।

আর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) হলো নির্ধারিত অঙ্গসমূহ ধৌত করা, অতঃপর উযূকে পরিপূর্ণ করার আদেশ এমন একটি নির্দেশ যার মাধ্যমে ধৌত কার্যকে পূর্ণ করতে বলা হয়েছে এবং পানি পৌঁছে দিতে হবে প্রত্যেক বাহ্যিক অঙ্গে।

এ হাদীস নির্দেশ করে উযূতে দু’ পা ধৌত করা অত্যাবশ্যক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৩৯৯-[৯] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন। তিনি কপালের চুলের উপর, পাগড়ীর উপর এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَعَلَى الْعِمَامَةِ وَعَلَى الْخُفَّيْنِ. رَوَاهُ مُسلم

وعن المغيرة بن شعبة قال: ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا فمسح بناصيته وعلى العمامة وعلى الخفين. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: সাধারণভাবে খোলা মাথা মাসাহ কর এবং পা ধৌত করা উযূর বিধান। তবে প্রয়োজনে কিংবা আবহাওয়ার কারণে মাথায় পাগড়ি রেখে এবং পায়ে মোজা রেখে মাসাহ করারও শারী‘আতে বৈধ। এ হাদীসে তারই প্রমাণ। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০০-[১০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সব কাজই যথাসম্ভব ডান দিক হতে শুরু করতে পছন্দ করতেন- পাক-পবিত্রতা অর্জনে, মাথা আঁচড়ানোয় ও জুতা পরনে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ سُنَنِ الْوُضُوْءِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ: فِي طهوره وَترَجله وتنعله

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب التيمن ما استطاع في شانه كله: في طهوره وترجله وتنعله

ব্যাখ্যা: কোন কর্ম ডান দিক থেকে শুরু করা অত্যাবশ্যক।

নাবাবী বলেনঃ শারী‘আতের বিধান-নীতি প্রত্যেক সম্মান প্রদর্শনের ও সজ্জিতকরণের অধ্যায়ে রয়েছে, ডান দিক হতে শুরু করা মুসতাহাব বা পছন্দনীয় মনে করা ও পছন্দ করা এবং এরূপ চলতে থাকা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০১-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা কিছু পরিধান করবে এবং উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে।[1] (আহমাদ, আবূ দাঊদ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذا لبستم وَإِذا توضأتم فابدؤوا بأيامنكم» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا لبستم واذا توضاتم فابدووا بايامنكم» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: জামা, পায়জামা, জুতা, সেন্ডেল, মোজা- এগুলোর মতো অন্য কিছু পরিধান ইত্যাদি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময় ডান দিক হতে আরম্ভ করতে হবে। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান দিক হতে কোন কাজ শুরু করাকে ভালোবাসতেন। এটা সুন্নাত। সুন্নাত মেনে চলার মধ্যেই ফাযীলাত ও বারাকাত রয়েছে।

নাসায়ী ও তিরমিযীতে আছে, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত (ان انبى ﷺ: اذا لبس قميصابدأ بميامنه) অর্থাৎ- ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জামা পরিধান করতেন তখন ডান দিক হতে শুরু করতেন’’।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০২-[১২] সা’ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূর শুরুতে ’বিসমিল্লা-হ’ (আল্লাহ তা’আলার নাম) পড়েনি তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) হয়নি। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن سعيد بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ الله عَلَيْهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن سعيد بن زيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার শুরুতে আল্লাহর নাম উল্লেখ করলো না, অর্থাৎ- ‘বিস্‌মিল্লা-হ’ বললো না তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  হবে না।

‘‘যে ব্যক্তির উযূ করার সময় বিসমিল্লা-হ বলেনি তার উযূ বিশুদ্ধ হয়নি।’’ বিসমিল্লা-হ বলা সুন্নাত।

* শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) ‘‘হুজ্জাতুল্লা-হিল বা-লিগাহ্’’-তে বলেনঃ হাদীসটি দলীল- বিসমিল্লা-হ বলাটা ركن অথবা شرط অর্থাৎ- এর অর্থ দাঁড়ায় উযূ পরিপূর্ণ হবে না।

* অন্য হাদীসে রয়েছে لَا صَلوةَ لِمَنْ لَا وَضُوْءَ لَه অর্থাৎ যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিশুদ্ধ হবে না তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)ও হবে না। অতএব উযূ শুরু করার পূর্বে বিসমিল্লা-হ বলার গুরুত্ব অপরিসীম।

* বিসমিল্লা-হ বলার হাদীস অধিক বিশুদ্ধ ও অধিক শক্তিশালী এবং الوضوء بالنبيذ হাদীস থেকে অধিক প্রসিদ্ধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৩-[১৩] আহমাদ ও আবূ দাঊদে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি বর্ণিত।[1]

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

ورواه احمد وابو داود عن ابي هريرة

-


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৪-[১৪] দারিমী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে ও তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ প্রমুখ তাদের বর্ণনায় তার প্রথমে এ কথা বৃদ্ধি করেছেন যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) নেই তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)ও নেই, অর্থাৎ- উযূ ব্যতীত সালাত হয় না।[1]

والدارمي عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن أَبِيه وَزَادُوا فِي أَوله:

والدارمي عن ابي سعيد الخدري عن ابيه وزادوا في اوله:

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি সহীহ হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিকভাবে সঠিক নিয়মে যথার্থভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে না। তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হবে না। আল্লাহ তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) গ্রহণ করবেন না। (ইচ্ছাকৃত কেউ উযূ ছাড়া সালাত আদায় করলে পাপী হবে)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৫-[১৫] লাক্বীত্ব ইবনু সবুরাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সম্পর্কে বলুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, উযূর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে (আঙ্গুল ঢুকিয়ে) খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি সিয়াম পালনকারী (রোযাদার) না হও। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; আর ইবনু মাজাহ ও দারিমীبَيْنَ الْاَصَابِعِ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ. قَالَ: «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَه والدارمي إِلَى قَوْله: بَين الْأَصَابِع

وعن لقيط بن صبرة قال: قلت: يا رسول الله اخبرني عن الوضوء. قال: «اسبغ الوضوء وخلل بين الاصابع وبالغ في الاستنشاق الا ان تكون صاىما» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي وروى ابن ماجه والدارمي الى قوله: بين الاصابع

ব্যাখ্যা: লাক্বীত্ব ইবনু সবুরাহ্ (রাঃ) প্রসিদ্ধ সাহাবী। তার বর্ণিত ২৪টি হাদীস রয়েছে। উযূর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধৌত করা। তিনবার করে ধৌত করা, ঘষে পরিষ্কার করা শুভ্রতাকে দীর্ঘ করা ইত্যাদি। এদের মধ্যে খিলাল করার মাধ্যমে হাতের ও পায়ের অঙ্গুলির মাঝে পানি পৌঁছিয়ে দেয়া অন্যতম।

কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া জরুরী। সায়িম (রোযাদার) হলে নাকের অভ্যন্তরের পানি দেয়া কিংবা কুলি করার সময় গড়গড়া করা যাবে না, কারণ এতে গলার মধ্যে পানি প্রবেশ করতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৬-[১৬] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যখন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে (আঙ্গুল ঢুকিয়ে) খিলাল করবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী [রহঃ] বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحْوَهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا توضات فخلل بين اصابع يديك ورجليك» . رواه الترمذي. وروى ابن ماجه نحوه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৭-[১৭] মুস্‌তাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময় দেখেছি যে, তিনি বাম হাতের ছোট আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করতেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن الْمُسْتَوْرد بن شَدَّاد قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأَ يُدَلِّكُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ بِخِنْصَرِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن المستورد بن شداد قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا توضا يدلك اصابع رجليه بخنصره. رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (وَعَنِ الْمُسْتَوْرِدٍ) এর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৭টি। শুধু মুসলিমে ২টি রয়েছে। মিসর বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দু’ পায়ের আঙ্গুলের মাঝের স্থানগুলো খিলাল না করলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) পরিপূর্ণতা নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৮-[১৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময় এক কোষ পানি নিয়ে চিবুকের নিচ দিয়ে দাড়িতে প্রবেশ করিয়ে তা খিলাল করে নিতেন এবং বলতেনঃ আমার রব আমাকে এরূপ করতে নির্দেশ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأَ أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَأَدْخَلَهُ تَحْتَ حَنَكِهِ فَخَلَّلَ بِهِ لحيته وَقَالَ: «هَكَذَا أَمرنِي رَبِّي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا توضا اخذ كفا من ماء فادخله تحت حنكه فخلل به لحيته وقال: «هكذا امرني ربي» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: قوله (أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ) মুখমণ্ডল ধৌত করার সময় নিশ্চয়ই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন আঙ্গুলসহ হাতের তালু দ্বারা। পানি গলার দিক থেকে প্রবেশ করানো যায় যাতে তা’ সব দিক থেকে দাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এভাবে দাড়ি খিলাল করার জন্য আমার রব আদেশ করেছেন। অর্থাৎ- জিবরীল (রাঃ)-এর মাধ্যমে তাঁকে এ আদেশ করা হয়েছিল।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ প্রত্যেক লোমের নিচে অপবিত্রতা রয়েছে। পানি পৌঁছে দেয়া আবশ্যক দাড়ির অভ্যন্তরে চাই দাড়ি ঘন হোক বা হালকা হোক। আরো বলেন, (فَبَلُو الشَّعْرُ وَانْقُوا الْبَشَرُ) লোম বা চুল ভিজাও আর চামড়া পরিষ্কার করো।

এটাকে ইমাম বুখারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে صِفَةُ الْوَضُوْءِ এর মধ্যে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর একচুল্লু পানি গ্রহণ করেন, সেটার দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল ধৌত করেন।

শাওকানী (রহঃ) নিঃসন্দেহে বলেনঃ একচুল্লু পানি ঘন দাড়িতে যথেষ্ট হবে না, মুখমণ্ডল ধৌত করার জন্য এবং দাড়ি খিলাল করতে। পক্ষান্তরে যার দাড়ি পাতলা হবে যার চামড়া দেখা যাবে, তখন দাড়ির নিচে পানি পৌঁছানো অত্যাবশ্যক হবে। এ বইয়ের লেখকেরও এ মত এবং বলেনঃ আল্লাহ অধিক অবগত রয়েছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪০৯-[১৯] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময়) নিজের দাড়ি খিলাল করতেন। (তিরমিযী ও দারিমী)[1]

وَعَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

وعن عثمان رضي الله عنه: ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يخلل لحيته. رواه الترمذي والدارمي

ব্যাখ্যা: قوله (كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَه) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত তাঁর দাড়ির মধ্যে প্রবেশ করায়ে খিলাল করতেন। তিরমিযী হাদীসটি তাঁর ‘‘ইলালিহিল কাবীর’’-এ বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈল আল বুখারী বলেছেনঃ খিলাল করার প্রসঙ্গে অধিক বিশুদ্ধ বিষয় ‘উসমান (রাঃ)-এর হাদীস।

দাড়ি খিলাল করা সুন্নাত, তাই আমরাও খিলাল করবো। চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোর জন্য খিলাল করা ত্যাগ করবো না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১০-[২০] আবূ হাইয়্যাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখেছি। তিনি প্রথমে নিজের হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনবার কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার করে মুখমণ্ডল ও দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নিলেন। এরপর একবার মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর দুই পা গিরা পর্যন্ত ধুলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং উযূর বাকী পানিটুকু নিয়ে তা দাঁড়ানো অবস্থায় পান করলেন। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেছেন তা আমি তোমাদেরকে দেখাতে চাইলাম। (তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي حَيَّةَ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلَاثًا واستنشق ثَلَاثًا وَغسل وَجهه ثَلَاثًا وذراعيه ثَلَاثًا وَمسح بِرَأْسِهِ مرّة ثمَّ غسل قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَخَذَ فَضْلَ طَهُورِهِ فَشَرِبَهُ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ أَحْبَبْتُ أَنْ أريكم كَيفَ كَانَ طَهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

وعن ابي حية قال رايت عليا توضا فغسل كفيه حتى انقاهما ثم مضمض ثلاثا واستنشق ثلاثا وغسل وجهه ثلاثا وذراعيه ثلاثا ومسح براسه مرة ثم غسل قدميه الى الكعبين ثم قام فاخذ فضل طهوره فشربه وهو قاىم ثم قال احببت ان اريكم كيف كان طهور رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه الترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: والمراد بالكفين দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দু’হাত হাতে দু’ কব্জাসহ ধৌত করেন উভয় হাত হতে ময়লা দূর করেন। নিশ্চয়ই তিনি তিন চুল্লু পানি দিয়ে তিনবার কুলি করেন, তিনবার নাকে পানি দেন আর দু’ হস্তদ্বয়কে আঙ্গুলের মাথা হতে কনুইসহ ধৌত করেন এবং তার মাথা মাসাহ করেন।

অতঃপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করেন। এ হাদীস উযূর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। সর্বসাধারণকে দাঁড়িয়ে খেতে বা পান করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন- সহীহ মুসলিমে এ মর্মে হাদীসে রয়েছে। পানি দাঁড়িয়ে পান করা উচিত নয়, নিষেধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১১-[২১] ’আবদ খায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বসে বসে ’আলী (রাঃ)-এর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা দেখছিলাম। তিনি ডান হাত পানির মধ্যে ডুবিয়ে পানি উঠিয়ে মুখ ভরে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তিনি এরূপ তিনবার করলেন, অতঃপর বললেন, কেউ যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) (করার পদ্ধতি) দেখে আনন্দ লাভ করতে চায়, তবে দেখুক, এরূপই ছিল তাঁর উযূ। (দারিমী)[1]

وَعَنْ عَبْدِ خَيْرٍ قَالَ: نَحْنُ جُلُوسٌ نَنْظُرُ إِلَى عَلِيٍّ حِينَ تَوَضَّأَ فَأَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فَمَلَأَ فَمَهُ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَنَثَرَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى فَعَلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى طَهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَذَا طَهُورُهُ. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

وعن عبد خير قال: نحن جلوس ننظر الى علي حين توضا فادخل يده اليمنى فملا فمه فمضمض واستنشق ونثر بيده اليسرى فعل هذا ثلاث مرات ثم قال من سره ان ينظر الى طهور رسول الله صلى الله عليه وسلم فهذا طهوره. رواه الدارمي

ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ) তার হাত প্রবেশ করান পাত্রে, অতঃপর হাত দিয়ে পানি নিলেন ও কুলি করলেন ও নাকের মধ্যে পানি দিয়ে নাকের ভিতরকার শিকনি, নাকের ময়লা বের করলেন। এর মাধ্যমে পরিপূর্ণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১২-[২২] ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করেছেন ও নাকে দিয়েছেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করেছেন। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَن عبد الله بن زيد قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ فَعَلَ ذَلِك ثَلَاثًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن عبد الله بن زيد قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم مضمض واستنشق من كف واحدة فعل ذلك ثلاثا. رواه ابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: قوله (عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ) অর্থাৎ- ইবনু ‘আসিম আল মাযিনী (ইবনু ‘আসিম আল মাযিনী) এ হাদীস স্পষ্ট প্রত্যেকবার কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার কাজটি একত্র করা এভাবে যে, তিন চুল্লুতে প্রত্যেকবার কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৩-[২৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথা ও দুই কান মাসাহ করেছেন। কানের ভিতরাংশ নিজের দুই শাহাদাত আঙ্গুল ও উপরিভাগ বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মাসাহ করেছেন। (নাসায়ী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ: بَاطِنَهُمَا بِالسَّبَّاحَتَيْنِ وَظَاهِرَهُمَا بإبهاميه)
(رَوَاهُ النَّسَائِيّ)

وعن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم مسح براسه واذنيه: باطنهما بالسباحتين وظاهرهما بابهاميه) (رواه النساىي)

ব্যাখ্যা: قوله (مَسَحَ بِرَأْسِه وَأُذُنَيْهِ) এ হাদীস হতে প্রমাণ হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথার সঙ্গে কান মাসাহ করেন। এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট যে, মাথার পানি দিয়ে কান-মাথা উভয়টা মাসাহ করেন। ইবনু হিব্বান-এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি এক চুল্লু পানি নিয়ে স্বীয় মাথা ও কানদ্বয়ের অভ্যন্তরে শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে এবং স্বীয় দু’ বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানদ্বয়ের বাহ্যিক অংশে, অর্থাৎ- কর্ণদ্বয়ের পিঠে মাসাহ করেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৪-[২৪] রুবায়্যিই’ বিনতু মু’আব্বিয (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা মাসাহ করলেন সামনের দিক ও পেছনের দিক (অর্থাৎ গোটা মাথা), দুই কানের পার্শ্ব ও দুই কান একবার করে।

অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযূ করলেন এবং দুই আঙ্গুল দুই কানের ছিদ্রে ঢুকালেন।[1]

তিরমিযী প্রথম রিওয়ায়াতটি এবং আহমাদ ও ইবনু মাজাহ দ্বিতীয় রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن الرّبيع بنت معوذ: أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ قَالَتْ فَمَسَحَ رَأْسَهُ مَا أَقَبْلَ مِنْهُ وَمَا أَدْبَرَ وَصُدْغَيْهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً
وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّهُ تَوَضَّأَ فَأَدْخَلَ أُصْبُعَيْهِ فِي جُحْرَيْ أُذُنَيْهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ الرِّوَايَةَ الأولى وَأحمد وَابْن مَاجَه الثَّانِيَة

وعن الربيع بنت معوذ: انها رات النبي صلى الله عليه وسلم يتوضا قالت فمسح راسه ما اقبل منه وما ادبر وصدغيه واذنيه مرة واحدة وفي رواية انه توضا فادخل اصبعيه في جحري اذنيه. رواه ابو داود وروى الترمذي الرواية الاولى واحمد وابن ماجه الثانية

ব্যাখ্যা: দু’টি হাদীস শুধু বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে একদল লোক বর্ণনা করেন। মাথার সামনের দিক (বা অংশ) থেকে তার মাথার শেষের অংশ পর্যন্ত মাসাহ করেছেন। অতঃপর তার হস্তদ্বয় ফিরান মাথার পিছন থেকে তার মাথার সামনের দিকে পর্যন্ত। তার দু’ কর্ণ ও চোখের মধ্যবর্তী স্থান সহ মাসাহ করেন।

হাদীসটি চোখ ও কানের মধ্যবর্তী স্থান মাথা সহ একবার মাসাহ করার হুকুম শারী‘আত সম্মত হিসেবে নির্দেশ করে।

আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তার আঙ্গুলদ্বয় মাথা মাসাহ করার সময় এবং পরে তার উভয় কানের ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৫-[২৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখেছেন। আর এটাও দেখেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা মাসাহ করলেন এমন পানি দিয়ে, যা তাঁর দুই হাতের পানির অবশিষ্টাংশ নয় (অর্থাৎ- নতুন পানি দিয়ে মাসাহ করলেন)। (তিরমিযী; তবে ইমাম মুসলিম আরো কিছু বেশী বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ وَأَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَرَوَاهُ مُسلم مَعَ زَوَائِد

وعن عبد الله بن زيد: انه راى النبي صلى الله عليه وسلم توضا وانه مسح راسه بماء غير فضل يديه. رواه الترمذي ورواه مسلم مع زواىد

ব্যাখ্যা: قوله (بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ) অর্থাৎ- হাতের অতিরিক্ত পানি দিয়ে নয় বরং নতুন পানি নিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন। ইমাম নাবাবী বলেছেন, এর মাধ্যমে দলীল পেশ করা যাবে না যে, (اَلْمَاءُ الْمُسْتعْمَلِ) অর্থাৎ- ব্যবহৃত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা সহীহ হবে না- এ কথা বুঝানো নয় বরং মাথা মাসাহ করার জন্য নতুন পানি নিতে হবে।

ফলকথা হলো উভয় আদেশ আমার নিকট বৈধ, কিন্তু উত্তম মাথা মাসাহ করার জন্য নতুন পানি নিবে এবং সীমাবদ্ধ হবে না হস্তদ্বয় ভিজানোর উপরে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৬-[২৬] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, উযূর সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চোখের দুই কোন মললেন এবং বললেন, কান দু’টি মাথারই অংশ। (ইবনু মাজাহ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী)[1]

আবূ দাঊদ ও তিরমিযী এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, এ হাদীসের অপর রাবী হাম্মাদ (রহঃ) বলেছেন, আমি জানি না ’’কান দু’টি মাথারই অংশ’’ এ কথাটা কার, আবূ উমামার না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর।

وَعَن أبي أُمَامَة ذَكَرَ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَكَانَ يَمْسَحُ الْمَاقَيْنِ وَقَالَ: الْأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَا: قَالَ حَمَّادٌ: لَا أَدْرِي: الْأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ مِنْ قَوْلِ أَبِي أُمَامَةَ أَمْ مِنْ قَوْلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

وعن ابي امامة ذكر وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: وكان يمسح الماقين وقال: الاذنان من الراس. رواه ابن ماجه وابو داود والترمذي وذكرا: قال حماد: لا ادري: الاذنان من الراس من قول ابي امامة ام من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৭-[২৭] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন যে, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায়, তিনি তাকে তিন তিনবার করে (উযূর প্রতিটি অঙ্গ ধুয়ে) দেখালেন। অতঃপর বললেন, এই হলো ওযূ। যে ব্যক্তি এর চেয়ে বাড়িয়ে করলো সে মন্দ করলো, সীমালঙ্ঘন করলো ও যুলম করলো। (নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ عَنِ الْوُضُوءِ فَأَرَاهُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا الْوُضُوءُ فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا فَقَدْ أَسَاءَ وَتَعَدَّى وَظَلَمَ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ مَعْنَاهُ

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: جاء اعرابي الى النبي صلى الله عليه وسلم يساله عن الوضوء فاراه ثلاثا ثلاثا ثم قال: «هكذا الوضوء فمن زاد على هذا فقد اساء وتعدى وظلم» . رواه النساىي وابن ماجه وروى ابو داود معناه

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করলেন মাসাহ করা ব্যতীত, মাসাহ এবং ধৌত করা যেহেতু ভিন্ন বিষয়, সেজন্য এখানে ধৌত করার বিষয়টিই এসেছে।

অবশ্য হাদীসে এসেছে যে, মাসাহ করতে হয় একবার। ধৌত করার সময় তিনের অধিক যে করবে তার বদনাম করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কঠোর শাস্তির কথা প্রকাশ করা হয় এবং এর থেকে তাকে ধমক দেয়া হয়, সাবধান করা হয়। অতএব উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে গিয়ে যে সমস্ত অঙ্গ ধৌত করতে হয় তা তিনবার ধৌত করবো এটা সুন্নাত, তিনবারের অধিক নয়। আর মাসাহ্-করণ একবার। তিনবারের অধিক করা অন্যায়, সীমালঙ্ঘন করা, যুলম করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৮-[২৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি তার ছেলেকে এ দু’আ করতে শুনলেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাতের ডান দিকে সাদা বালাখানাটি চাই। এ কথা শুনে তিনি বললেন, হে আমার ছেলে! তুমি আল্লাহর কাছে শুধু জান্নাত চাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাও। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, শীঘ্রই এ উম্মাতের মধ্যে এমন লোকের উদ্ভব হবে যারা পবিত্রতা অর্জনে ও দু’আর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করবে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن عبد الله بن الْمُغَفَّل أَنه سمع ابْنه يَقُول: الله إِنِّي أَسْأَلُكَ الْقَصْرَ الْأَبْيَضَ عَنْ يَمِينِ الْجَنَّةِ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ سَلِ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَتَعَوَّذْ بِهِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «إِنَّه سَيكون فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ قَوْمٌ يَعْتَدُونَ فِي الطَّهُورِ وَالدُّعَاءِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عبد الله بن المغفل انه سمع ابنه يقول: الله اني اسالك القصر الابيض عن يمين الجنة قال: اي بني سل الله الجنة وتعوذ به من النار فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «انه سيكون في هذه الامة قوم يعتدون في الطهور والدعاء» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: পবিত্রতা অর্জনে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে সুন্নাতের অতিরিক্ত করা বা প্রত্যেক নির্ধারিত অঙ্গ তিনবারের অধিক ধৌত করা এবং মাথা মাসাহ একাধিকবার করা। সেই সাথে দু‘আয় সীমালঙ্ঘন হচ্ছে উচ্চশব্দে এবং সুর করে যা লম্বা করে দু‘আ করা। কবিতাকারে বা ছন্দবদ্ধভাবে দু‘আও বাড়াবাড়ির শামিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪১৯-[২৯] উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ (ওয়াস্ওয়াসা দেবার জন্য) উযূর ক্ষেত্রে একটি শায়ত্বন (শয়তান) রয়েছে। এ শায়ত্বন (শয়তান) হলো ’ওয়ালাহান’। তাই (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময়) পানির ওয়াস্ওয়াসা হতে সতর্ক থাকবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব, সানাদ দুর্বল। রাবী খারিজাহ্ ইবনু মুসহাব মুহাদ্দিসগণের মতে সবল নয়। অথচ তিনি ছাড়া অপর কেউ এ হাদীসকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেননি।

وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ لِلْوُضُوءِ شَيْطَانًا يُقَالُ لَهُ الْوَلَهَانُ فَاتَّقُوا وَسْوَاسَ الْمَاءِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لِأَنَّا لَا نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ غَيْرَ خَارِجَةَ وَهُوَ لَيْسَ بِالْقَوِيّ عِنْد أَصْحَابنَا

وعن ابي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ان للوضوء شيطانا يقال له الولهان فاتقوا وسواس الماء» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب وليس اسناده بالقوي عند اهل الحديث لانا لا نعلم احدا اسنده غير خارجة وهو ليس بالقوي عند اصحابنا

ব্যাখ্যা: উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ও ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) অবস্থায় বেশী পানি প্রবাহিত করায় কুমন্ত্রণা, সন্দেহ পৌঁছে যায়। আর وسواس শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বিধা ও ইতস্তত করা পানি পবিত্র হওয়ার ও নাপাক হওয়া মাঝে। নাপাকের চিহ্নসমূহ প্রকাশ হওয়া কিংবা সম্ভাবনা রয়েছে এমন ক্ষেত্রে পানি দ্বারা লক্ষ্য হলো পেশাব। অর্থাৎ- পেশাবের সন্দেহ পৌঁছে যাওয়া ইসতিনজা (ইস্তিঞ্জা/ইস্তেঞ্জা/ইসতেনজা) পর্যন্ত। আর হাদীস নির্দেশ করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে পানি অপচয়ের অপছন্দের উপর (অর্থাৎ- পানি অপচয় করা পছন্দনীয় কাজ নয়)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২০-[৩০] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর নিজের কাপড়ের কিনারা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল মুছে ফেলতেন। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأَ مسح وَجهه بِطرف ثَوْبه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن معاذ بن جبل قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا توضا مسح وجهه بطرف ثوبه. رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: قوله (مَسَحَ وَجْهَه) অর্থাৎ- উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর তার কাপড়ের কিনারা দিয়ে মুখমণ্ডল শুকিয়ে ফেলেন এটাতে প্রমাণ হলো যে, وضوء উযূ করার পর মুখমন্ডলের পানি মুছে ফেলা জায়িয। তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কথা হলো পানি মুছে ফেলা বৈধ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২১-[৩১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৃথক একখন্ড কাপড় ছিল। এ কাপড় দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর তাঁর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র অঙ্গগুলো মুছে নিতেন।[1]

ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি তেমন সবল নয়। এর একজন বর্ণনাকারী আবূ মু’আয মুহাদ্দিসীনের কাছে দুর্বল।

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِرْقَةٌ يُنَشِّفُ بِهَا أَعْضَاءَهُ بَعْدَ الْوُضُوءِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ بِالْقَائِمِ وَأَبُو مُعَاذٍ الرَّاوِي ضَعِيف عِنْد أهل الحَدِيث

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم خرقة ينشف بها اعضاءه بعد الوضوء. رواه الترمذي وقال: هذا حديث ليس بالقاىم وابو معاذ الراوي ضعيف عند اهل الحديث

ব্যাখ্যা: উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর পানি মুছে ফেলা বৈধ- এ প্রসঙ্গে দলীল রয়েছে আর এটা অপছন্দ নয়। আর এ অধ্যায়ে অন্য হাদীসসমূহ রয়েছে যা বৈধ হওয়ার প্রসঙ্গে নির্দেশ করে। এটাকে উল্লেখ করেছেন আমাদের শায়খ আত্ তিরমিযীর শারাহতে ‘আয়নী থেকে নকল করে। ‘‘নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছিল রুমাল অথবা কাপড়ের টুকরা।’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটার দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল মুছে ফেলতেন যখন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২২-[৩২] সাবিত ইবনু আবূ সফিয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জা’ফার-এর পিতা মুহাম্মাদ বাক্বির (ইবনু যায়নুল আবিদীন)-কে বললাম, আপনার কাছে কি জাবির (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এক একবার, কখনো দুই দুইবার, আবার কখনো তিনবার করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) র অঙ্গগুলো ধৌত করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي جَعْفَرٍ هُوَ مُحَمَّدٌ الْبَاقِرُ حَدَّثَكَ جَابِرٌ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مرّة مرّة ومرتين مرَّتَيْنِ وَثَلَاثًا ثَلَاثًا. قَالَ: نعم. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

عن ثابت بن ابي صفية قال: قلت لابي جعفر هو محمد الباقر حدثك جابر: ان النبي صلى الله عليه وسلم توضا مرة مرة ومرتين مرتين وثلاثا ثلاثا. قال: نعم. رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মধ্যে তিনটি অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ১ বার ও ২ বার এবং ৩ বার করে ধৌত করা যায়, এ বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। আর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সহীহ ও সঠিক হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৩-[৩৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দুইবার করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র অঙ্গগুলো ধুলেন। অতঃপর বললেন, এটা হলো আলোর উপর আলো।[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ: هُوَ «نُورٌ عَلَى نُورٍ»

وعن عبد الله بن زيد قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توضا مرتين مرتين وقال: هو «نور على نور»

ব্যাখ্যা: قوله (تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ) ‘‘উযূর যে সমস্ত অঙ্গগুলো ধৌত করতে হয় তা দু’বার করে ধৌত করা, (এটা আলোর উপর আলো)’’। অর্থাৎ- উযূর অঙ্গগুলো দু’বার করে ধৌত করার কারণ হলো আলো বৃদ্ধি করা। ইমাম ত্বীবী বলেনঃ ঐ উক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে বলা যায়, অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের উযূর অঙ্গগুলো অতি উজ্জ্বল হবে ও চমকাতে থাকবে। এটা হবে উযূর উযূ জনিত হিদায়াতের কারণে। অথবা সুন্নাত ও ফার্‌যের (ফরযের/ফরজের) অনুশাসন মেনে চলার উপর। আল্লাহ তাঁর নূরের পথপ্রদর্শন করবেন যাকে ইচ্ছা তাকে।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৪-[৩৪] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তিনবার করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র অঙ্গগুলো ধুয়েছেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এটা হলো আমার ও আমার আগের নবীগণের উযূ (ওযু/ওজু/অজু) এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর ওযূ।[1]

وَعَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ: «هَذَا وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي وَوُضُوءُ إِبْرَاهِيمَ» . رَوَاهُمَا رَزِينٌ وَالنَّوَوِيُّ ضَعَّفَ الثَّانِي فِي شرح مُسلم

وعن عثمان رضي الله عنه قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توضا ثلاثا ثلاثا وقال: «هذا وضوىي ووضوء الانبياء قبلي ووضوء ابراهيم» . رواهما رزين والنووي ضعف الثاني في شرح مسلم

ব্যাখ্যা: قوله (تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا) অর্থাৎ- উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করা তিনবার করে এবং বলেনঃ এটা পরিপূর্ণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আমার পূর্বের নাবীদের উযূ (ওযু/ওজু/অজু) এবং ইব্রাহীম (আঃ)-এর উযূ। খাস করা ব্যাপকতা প্রকাশ করে এবং এর মাধ্যমে দলীল পেশ করে যে, নিশ্চয়ই উযূ এ উম্মাতের জন্য নির্দিষ্ট নয়। অন্য কিতাবে রয়েছে নিশ্চয়ই ইব্রা-হীম ও সারাহ্ উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করেছেন ও সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছেন এবং জুরায়জ উযূ করেছেন ও সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। আহমাদ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে ব্যক্তি একবার করে উযূর কর্ম সম্পাদন করে সে যেন উযূর মূল অত্যাবশ্যক কর্তব্য পালন করল। আর যে দু’বার করে উযূ করে তার জন্য ২টি প্রতিদান হবে। যে ব্যক্তি তিনবার করে উযূর কর্মগুলো পালন করে এটাই হবে আমার উযূ ও পূর্ববর্তী নাবীদের উযূ।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৫-[৩৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। আর আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির জন্য যে পর্যন্ত উযূ (ওযু/ওজু/অজু) নষ্ট বা ভঙ্গ না হয় সে পর্যন্ত এক উযূই যথেষ্ট ছিল। (দারিমী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَكَانَ أَحَدُنَا يَكْفِيهِ الْوُضُوءُ مَا لَمْ يُحْدِثْ. رَوَاهُ الدِّرَامِي

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضا لكل صلاة وكان احدنا يكفيه الوضوء ما لم يحدث. رواه الدرامي

ব্যাখ্যা: قوله (كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ) অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করা আবশ্যক। তিরমিযীর রিওয়ায়াতে রয়েছে ব্যক্তি পবিত্র হোক বা অপবিত্র হোক।

প্রকাশ্য হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, এটা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল। আরো সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ করছিলেন মুসতাহাব হিসেবে। এটা সুন্নাহ হিসেবে পালন করা পছন্দনীয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৬-[৩৬] মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু হিব্বান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর ছেলে ’উবায়দুল্লাহ কে বললাম, আমাকে বলুন তো, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) কি প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন, চাই উযূ থাকুক কি না থাকুক, আর তিনি কার থেকে এ ’আমল অর্জন করেছেন? ’উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বললেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর নিকট আসমা বিনতু যায়দ ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, ’আবদুল্লাহ ইবনু হানযালাহ্ আবূ ’আমির ইবনুল গসীল (রাঃ)এ হাদীস তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক সালাতে উযূ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, চাই তাঁর উযূ থাকুক কি না থাকুক। এ কাজ তাঁর ওপর কঠিন হয়ে পড়লে প্রত্যেক সালাতে মিসওয়াক করতে নির্দেশ দেয়া হলো, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) মাওকূফ করা হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত না উযূ ভঙ্গ হয়। ’উবায়দুল্লাহ বললেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) মনে করতেন যে, তার মধ্যে প্রত্যেক সালাতে করার শক্তি রয়েছে। তাই তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এ ’আমল করেছেন। (আহমাদ)[1]

وَعَن مُحَمَّد بن يحيى بن حبَان الْأنْصَارِيّ ثمَّ الْمَازِني مَازِن بني النجار عَن عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قلت لَهُ أَرَأَيْتَ وُضُوءَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّنْ أَخَذَهُ؟ فَقَالَ: حَدَّثَتْهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أبي عَامر ابْن الْغَسِيلِ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أُمِرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرَ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَوُضِعَ عَنْهُ الْوُضُوءُ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ قَالَ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَرَى أَنَّ بِهِ قُوَّةً عَلَى ذَلِكَ كَانَ يَفْعَله حَتَّى مَاتَ. رَوَاهُ أَحْمد

وعن محمد بن يحيى بن حبان الانصاري ثم المازني مازن بني النجار عن عبيد الله بن عبد الله بن عمر قال قلت له ارايت وضوء عبد الله بن عمر لكل صلاة طاهرا كان او غير طاهر عمن اخذه؟ فقال: حدثته اسماء بنت زيد بن الخطاب ان عبد الله بن حنظلة بن ابي عامر ابن الغسيل حدثها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان امر بالوضوء لكل صلاة طاهرا كان او غير طاهر فلما شق ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم امر بالسواك عند كل صلاة ووضع عنه الوضوء الا من حدث قال فكان عبد الله يرى ان به قوة على ذلك كان يفعله حتى مات. رواه احمد

ব্যাখ্যা: নিশ্চয়ই ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানযালাহ্- তাকে বলা হয় ইবনুল গসীল। অর্থাৎ- ধৌত কৃতের ছেলে। কেননা তার আববার নাম হানযালাহ্ غَسِيْلُ الْمَلَائِكَةِ অর্থ যাকে মালাক (ফেরেশতা) গোসল দিয়েছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আমি দেখেছি মালায়িকাহ্-কে তাকে গোসল দিতে। যেমন- (الإ ستيعاب) গ্রন্থে রয়েছে ১ম খ-, ১০৫ পৃঃ।

প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা ও মিসওয়াক করা অতি উত্তম। ইমাম ত্বীবী বলেন, মিসওয়াক করা মর্যাদাপূর্ণ এমনকি তা ওয়াজিবের স্থলাভিষিক্ত করা যায়। ওয়াজিবের নিকটবর্তী। তাই মিসওয়াক করাটা প্রতি সালাতে কষ্টকর হলেও করাটা অতি উত্তম। আর উযূর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না থাকলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করতে হবে। উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  থাকলে পুনরায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করা অত্যাবশ্যক নয়, করলে ভালো।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৭-[৩৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় সা’দ (রাঃ) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে সা’দ! এত অপচয় কেন? সা’দ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! উযূর মধ্যেও কি অপচয় আছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ আছে। যদিও তুমি প্রবহমান নদীর কিনারা থাকো। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَرَّ بِسَعْدٍ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ: «مَا هَذَا السَّرَفُ يَا سَعْدُ» . قَالَ: أَفِي الْوُضُوءِ سَرَفٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهْرٍ جَارٍ» . رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص ان النبي صلى الله عليه وسلم: مر بسعد وهو يتوضا فقال: «ما هذا السرف يا سعد» . قال: افي الوضوء سرف؟ قال: «نعم وان كنت على نهر جار» . رواه احمد وابن ماجه

ব্যাখ্যা: উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করার মাঝে, তিনবারের অধিক করা, অথবা পরিমাণের দিক দিয়ে অতিরিক্ত করা যেমন প্রয়োজনের বেশী ব্যবহার করার মধ্যে পড়ে। তিনি বললেন, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার মাঝেও কি অপচয় রয়েছে? বলা হয় অপচয়ের মধ্যে কোন কল্যাণ নিহিত নেই। আনুগত্যে ও ‘ইবাদাতে অপচয় নেই। যতটুকু পানি পূর্ণাঙ্গ উযূর জন্য প্রয়োজন তার অতিরিক্তই অপচয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৮-[৩৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ), ইবনু মাস্’ঊদ ও ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ করলো এবং ’বিস্‌মিল্লা-হ’ (আল্লাহর নাম নিয়ে) পড়ে উযূ করলো, সে তাঁর গোটা শরীরকে (গুনাহ হতে) পবিত্র করল। আর যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলো অথচ ’বিস্‌মিল্লা-হ’ বলল না, সে শুধু উযূর অঙ্গগুলোকে পবিত্র (পরিষ্কার) করল।[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ وَذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ فَإِنَّهُ يُطَهِّرُ جَسَدَهُ كُلَّهُ وَمَنْ تَوَضَّأَ وَلَمْ يَذْكُرِ اسْمَ الله لم يطهر إِلَّا مَوضِع الْوضُوء»

وعن ابي هريرة وابن مسعود وابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من توضا وذكر اسم الله فانه يطهر جسده كله ومن توضا ولم يذكر اسم الله لم يطهر الا موضع الوضوء»

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত উযূর শুরুতে ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলতে হবে। কেননা এটা পুরো শরীরকে পবিত্র করে গুনাহসমূহ থেকে। পবিত্র করে না শুধু উযূর নির্দিষ্ট স্থানের পাপসমূহ করে, অর্থাৎ- ছোট পাপরাশি। পরিপূর্ণ ও ফাযীলাত প্রাপ্তির উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  বিসমিল্লা-হ দ্বারাই শুরু করা বাঞ্ছনীয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - উযূর নিয়ম-কানুন

৪২৯-[৩৯] আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সময় নিজের আঙ্গুলে পরা আংটি নেড়ে-চেড়ে নিতেন।[1]

দারাকুত্বনী উপরের দু’টি হাদীসই বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু মাজাহ শুধু দ্বিতীয় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن أبي رَافع قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَوَضَّأَ وُضُوءَ الصَّلَاةِ حَرَّكَ خَاتَمَهُ فِي أُصْبُعه. رَوَاهُمَا الدَّارَقُطْنِيّ. وروى ابْن مَاجَه الْأَخير

وعن ابي رافع قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا توضا وضوء الصلاة حرك خاتمه في اصبعه. رواهما الدارقطني. وروى ابن ماجه الاخير

ব্যাখ্যা: মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেছেন, গোসলকে আয়ত্বকরণ ফরয; অতঃপর সুন্নাত হচ্ছে আংটি নড়াচড়া করা যাতে আংটির নীচে পানি পৌঁছায় ।

এমনিভাবে আংটির সাথে সাদৃশ্য রেখে চুড়ি ও অলংকার নেড়ে চেড়ে পানি পৌঁছানো প্রয়োজন। এ দু’টোকে বর্ণনা করেছেন দারাকুত্বনী।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

’আল্লামা কুসত্বুলানী (রহঃ)-এর ভাষ্য মতেঃ غَيْنٌ বর্ণে ফাতাহ যোগে غَسْلٌ শব্দটি মাসদার। এর অর্থ কোন কিছু ধৌত করা এবং গোসল করা। غَيْنٌ বর্ণে কাসরাহ্ যোগে غِسْلٌ শব্দের অর্থ বরইপাতা, খিত্বমী ঘাস ইত্যাদির নাম যেসব বস্ত্তর দ্বারা ধৌত করা হয়। আর غَيْنٌ বর্ণে যম্মাযোগে غُسْلٌ শব্দের অর্থ পানি যা দ্বারা গোসল করা হয়। প্রথম দু’ক্ষেত্রে غَسْلٌ এর অর্থ কোন কিছুর উপর পানি ঢেলে দেয়া। তবে গোসলে শরীর ঘষে পরিষ্কার করা বা ঘর্ষণ করার বিধান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। মালিকীগণ গোসলে ঘর্ষণের শর্তারোপ করেছে। তাদের মতে যাতে ঘর্ষণ নেই তাকে গোসল বলা হবে না বরং তা হলো পানি ঢেলে দেয়া বা বাহিয়ে দেয়া। কিছু হানাফীদের মতে গোসলের ক্ষেত্রে ঘর্ষণটি আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্তব্য। ভাষ্যকার বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ’’তোমরা চুল ধৌত করো এবং চামড়া পরিষ্কার করো’’ দ্বারা ঘর্ষণের আবশ্যকতার বিষয়টি অনুমিত হয়। কারণ ঘর্ষণ ব্যতীত শুধু পানি ঢালার মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার হয় না। অধিকন্তু গোসলের বিধানের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ একটি উপযোগী বিষয়। কারণ গোসল হলো প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মানের উদ্দেশে বাহ্যিক অঙ্গসমূহের অবস্থা সুন্দর করা যা ঘর্ষণ ব্যতীত পূর্ণতা লাভ করে না।


৪৩০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ স্ত্রীলোকের চার শাখার (দুই হাত দুই পা) মাঝখানে বসে সঙ্গমে রত হয় তখন তার ওপর গোসল করা ফরয হয়ে যায়, যদিও বীর্যপাত না হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذا جلس بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الْغسْل وَإِن لم ينزل»

عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا جلس بين شعبها الاربع ثم جهدها فقد وجب الغسل وان لم ينزل»

ব্যাখ্যা: قوله (إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ) ‘‘তোমাদের কেউ স্ত্রীলোকের দু’হাত ও দু’পায়ের মাঝে বসবে, তার সঙ্গে কিছু করার চেষ্টা করবে’’, অর্থাৎ- সহবাস করবে। আবূ দাঊদের বর্ণনা রয়েছে, পুরুষের লজ্জাস্থানের সঙ্গে স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থান মিলানো।

যারা এরূপ করবে তাদের উভয়ের ওপর গোসল করা ওয়াজিব হবে বীর্য বের হোক বা না হোক। গোসল ওয়াজিব হওয়ার জন্য বীর্য বের হওয়া শর্ত করা হয়নি। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের অংশ (সুপারি) স্ত্রীলিঙ্গের ভিতর অদৃশ্য হয়ে যাওয়াতে গোসল ওয়াজিব হবে।

চার খলীফা, সাহাবীগণের অধিকাংশ, তাবি‘ঈন ও তাদের পরবর্তীদের মত হলো শুধু সঙ্গমেই গোসল করা অত্যাবশ্যক হবে। যদিও বীর্য বের না হোক এটাই সঠিক মত। এ বিষয়ে সহীহুল বুখারীর হাদীসের উপর সাহাবীগণের ইজমা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩১-[২] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পানিতেই পানির প্রয়োজন, অর্থাৎ- বীর্যপাত ছাড়া গোসল ফরয নয়। (মুসলিম)[1]

ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ বলেন, এ হুকুম রহিত হয়ে গেছে।

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ مُحْيِي السّنة C: هَذَا مَنْسُوخ

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انما الماء من الماء» . رواه مسلم قال الشيخ الامام محيي السنة C: هذا منسوخ

ব্যাখ্যা: আর এ হাদীসটি নির্দেশ করে (حصر)-কে অর্থাৎ- পরিবেষ্টনকে বুঝানো হয়েছে। বীর্য বের না হলে গোসল করতে হবে না এবং গোসল করতে হবে না মর্মে হাদীসটি রহিত বা মানসূখ হয়েছে। এটাকে মুসলিম ‘ইত্ববান ইবনু মালিক-এর রিওয়ায়াতে বর্ণনা করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩২-[৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, ’’পানি পানি হতে’’ এ হুকুম হলো স্বপ্নদোষের জন্য। (তিরমিযী)[1] আমি এ হাদীস বুখারী ও মুসলিমে পাইনি।

بَابُ الْغُسْلِ

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ فِي الِاحْتِلَامِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَلَمْ أَجِدْهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ

وقال ابن عباس: انما الماء من الماء في الاحتلام. رواه الترمذي ولم اجده في الصحيحين

ব্যাখ্যা: قوله (هذا) অর্থাৎ- আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীস রহিত হয়েছে সাহল ইবনু সা‘দ-এর হাদীস দ্বারা এটা বর্ণিত আবূ কা‘ব কর্তৃক ইসলামের প্রথম যুগে অনুমতি ছিল গোসল না করলেও চলবে। অতঃপর পরবর্তীতে গোসল করার আদেশ দেয়া হয়েছে। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তীতে ধৌত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৩-[৪] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন (আনাস (রাঃ)-এর মা) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা’আলা হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষের কারণে তার ওপর কি গোসল ফরয হয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেনঃ হাঁ, যদি (ঘুম থেকে জেগে উঠে) বীর্য দেখে। এ উত্তর শুনে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) (লজ্জায়) স্বীয় মুখ ঢেকে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! স্ত্রীলোকেরও আবার স্বপ্নদোষ হয় (পুরুষের ন্যায় বীর্যপাত হয়)। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। কি আশ্চর্য! (তা না হলে) তার সন্তান তার সদৃশ হয় কীভাবে? (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ من غسل إِذا احْتَلَمت قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ» فَغَطَّتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَجْهَهَا وَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ قَالَ: «نعم تربت يَمِينك فَبِمَ يشبهها وَلَدهَا؟»

وعن ام سلمة قالت قالت ام سليم: يا رسول الله ان الله لا يستحيي من الحق فهل على المراة من غسل اذا احتلمت قال النبي صلى الله عليه وسلم «اذا رات الماء» فغطت ام سلمة وجهها وقالت يا رسول الله اوتحتلم المراة قال: «نعم تربت يمينك فبم يشبهها ولدها؟»

ব্যাখ্যা: قوله (قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ) তার পরিপূর্ণ নাম উম্মু সুলায়ম বিনতু মালহান (আনসারিয়্যাহ্) আনাস ইবনু মালিক-এর মাতা। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৪টি, এটার মধ্যে হতে একটি বুখারীতে ও দু’টি মুসলিমে। তিনি মারা যান ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফাতের সময়।

তার বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেনঃ যখন সে দেখবে নিশ্চয় তার স্বামী তার সাথে স্বপ্নে সহবাস করছে। তাকে কি গোসল করতে হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, হ্যাঁ। যখন সে বীর্য দেখবে। এটাতে প্রমাণ হলো যে, স্বপ্নে স্ত্রীলোকের বীর্য বের হলেও গোসল করা অত্যাবশ্যক হবে। আর এ কারণেই স্ত্রীলোকদের সদৃশ সন্তান হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৪-[৫] কিন্তু ইমাম মুসলিম (রহঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-এর বর্ণনায় এ কথাগুলো বেশী বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথাও বলেছেন যে, সাধারণত পুরুষের বীর্য গাঢ় ও সাদা। স্ত্রীলোকের বীর্য পাতলা ও হলদে। উভয়ের বীর্যের মধ্যে যেটিই জয়ী হয়, অর্থাৎ- যে বীর্য আগে গর্ভাশয়ে প্রবেশ করে সন্তান তার সাদৃশ্য হয়।[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَزَادَ مُسْلِمٌ بِرِوَايَةِ أُمِّ سُلَيْمٍ: «أَنَّ مَاءَ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءَ الْمَرْأَةِ رَقِيقٌ أَصْفَرُ فَم أَيِّهِمَا عَلَا أَوْ سَبَقَ يَكُونُ مِنْهُ الشَّبَهُ»

وزاد مسلم برواية ام سليم: «ان ماء الرجل غليظ ابيض وماء المراة رقيق اصفر فم ايهما علا او سبق يكون منه الشبه»

ব্যাখ্যা: قوله (وَزَادَ مُسْلِمٌ بِرِوَايَةِ أُمُّ سُلَيْمٍ) ‘‘নিশ্চয়ই পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা এবং স্ত্রীলোকের বীর্য পাতলা হলুদ বর্ণের।’’ কেননা পুরুষের বীর্য কখনো রোগের কারণে পাতলা হয়। আর লাল বর্ণ হয়ে থাকে অত্যধিক সহবাসের কারণে। আবার কখনো স্ত্রীলোকের বীর্য সাদা হয় তার শক্তির শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। সাওবান হতে মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে পুরুষের বীর্য সাদা, আর মহিলার বীর্য হলুদ বর্ণের।

আর যখন উভয়ের বীর্য কার্যত একত্র হয় পুরুষের বীর্যের প্রাধান্য লাভ করলে আল্লাহর হুকুমে স্ত্রীলোকের বীর্যের সঙ্গে সংমিশ্রণে সন্তান পুরুষ হয়। আর যখন স্ত্রীলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের উপর বৃদ্ধি হয় বা প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে মেয়ে সন্তান হয়।

ছেলে-মেয়ে পিতা-মাতার আকৃতিতে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় এটার ছয়টি অবস্থা বা কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৫-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতার জন্য ফরয গোসল করার সময় প্রথমে (কব্জি পর্যন্ত) দুই হাত ধুতেন। এরপর সালাতের উযূর মতো উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে তা দিয়ে মাথার চুলের গোড়া খিলাল করতেন। অতঃপর মাথার উপর তিন অঞ্জলি পানি ঢালতেন, তারপর শরীরের সর্বাঙ্গ পানি দিয়ে ভিজাতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

কিন্তু ইমাম মুসলিম-এর অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাত্রে হাত ডুবিয়ে দেয়ার আগে কব্জি পর্যন্ত হাত ধুতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের তালুতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুতেন, অতঃপর উযূ করতেন।

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَن عَائِشَةُ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلْ بِهَا أُصُولَ شَعَرِهِ ثمَّ يصب على رَأسه ثَلَاث غرف بيدَيْهِ ثمَّ يفِيض المَاء على جلده كُله
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا الْإِنَاءَ ثُمَّ يُفْرِغُ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَاله فَيغسل فرجه ثمَّ يتَوَضَّأ

وعن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ان النبي صلى الله عليه وسلم: كان اذا اغتسل من الجنابة بدا فغسل يديه ثم يتوضا كما يتوضا للصلاة ثم يدخل اصابعه في الماء فيخلل بها اصول شعره ثم يصب على راسه ثلاث غرف بيديه ثم يفيض الماء على جلده كله وفي رواية لمسلم: يبدا فيغسل يديه قبل ان يدخلهما الاناء ثم يفرغ بيمينه على شماله فيغسل فرجه ثم يتوضا

ব্যাখ্যা: قوله (إِذَا اغْتَسَلَ) অর্থাৎ- যখন নাপাকবস্তু ধৌত করার ইচ্ছা করবে। অপবিত্র বস্তু দূর করার জন্য অথবা অপবিত্রতা সংঘটিত হওয়ার কারণে, অতঃপর তার দু’হাত ধৌত করেন, মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে দু’বার অথবা তিনবারের কথা। উভয় হাত ধৌত করেন পরিষ্কার করার জন্য। সম্ভাবনা রয়েছে হস্তদ্বয়ে অপবিত্র বস্তু থাকার।

চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে। ধৌত করার পূর্বে উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করা স্বাতন্ত্র সুন্নাত। উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা শুরু করতে হবে দু’হাত ধৌত করার মাধ্যমে, অতঃপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢেলে দিবে, অতঃপর বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ধৌত করবে, অতঃপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৬-[৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার খালা উম্মুল মু’মিনীন) মায়মূনাহ্ (রাঃ)বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোসলের জন্য পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। প্রথমে তিনি দুই হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং কব্জি পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে কিছু পানি নিয়ে তা দিয়ে লজ্জাস্থান ধুলেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষে তা মুছে নিলেন। তারপর নিয়ম মতো হাত ধুলেন। এরপর মাথার উপর পানি ঢাললেন। সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ভিজালেন। তারপর নিজ স্থান হতে একটু সরে গিয়ে পা ধুলেন। আমি (শরীরের পানি মুছে ফেলার জন্য) তাঁকে কাপড় দিলাম। কিন্তু তিনি তা নিলেন না, দুই হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ: وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُسْلًا فَسَتَرْتُهُ بِثَوْبٍ وَصَبَّ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِهِ عَلَى شَمَالِهِ فَغَسَلَ فَرْجَهُ فَضَرَبَ بِيَدِهِ الْأَرْضَ فَمَسَحَهَا ثُمَّ غَسَلَهَا فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ ثُمَّ صَبَّ عَلَى رَأْسِهِ وَأَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ فَنَاوَلْتُهُ ثَوْبًا فَلَمْ يَأْخُذْهُ فَانْطَلق وَهُوَ ينفض يَدَيْهِ. وَلَفظه للْبُخَارِيّ

وعن ابن عباس قال قالت ميمونة: وضعت للنبي صلى الله عليه وسلم غسلا فسترته بثوب وصب على يديه فغسلهما ثم صب بيمينه على شماله فغسل فرجه فضرب بيده الارض فمسحها ثم غسلها فمضمض واستنشق وغسل وجهه وذراعيه ثم صب على راسه وافاض على جسده ثم تنحى فغسل قدميه فناولته ثوبا فلم ياخذه فانطلق وهو ينفض يديه. ولفظه للبخاري

ব্যাখ্যা: قوله (غُسْلًا) অর্থাৎ- এটা গোসল করার পানি। অতঃপর আমি [মায়মূনাহ্ (রাঃ)] কাপড় দিয়ে পর্দা বা আড়াল করি যাতে গোসল করার সময় কেউ তাকে (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) দেখতে না পান।

এটাতে শারী‘আতের বিধান হলো যে, গোসল করার সময় পর্দা করতে হবে যদিও বাড়িতে গোসল করে। তার দু’ কব্জা পর্যন্ত ধৌত করেন। আর তার বাম হাত দ্বারা লজ্জাস্থান ধৌত করেন। অতঃপর স্বীয় বাম হাত জমিনে ঘষেন, হাত থেকে দুর্গন্ধযুক্ত দূর করার জন্য। পরিষ্কারের মধ্যে মুবালাগাহ্ করা উম্মাতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য।

তিনি [মায়মূনাহ্ (রাঃ)] ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে, অপবিত্রতা থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধৌত করার প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন। আর এটাতে রয়েছে তিনবার কুলি করার, তিনবার নাকে পানি দেয়ার, তিনবার চেহারা ধৌত করার ও দু’ হাত ধৌত করার ও মাথায় পানি ঢেলে দেয়ার। আর এখানে প্রকাশ হলো যে, তিনি স্বীয় মাথা মাসাহ করেননি। অতঃপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেন যেভাবে সালাতের জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেন। সম্ভব হলে উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য করা। অথবা ‘আয়িশার হাদীসকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা। অতঃপর তিনি পাদ্বয় ধৌত করেন মাঝে মধ্যে জলাভূমিতে যদি স্থির বা দন্ডায়মান  না হন, বরং তক্তার উপরে অথবা পাথরের অথবা উঁচু স্থানে।

‘আয়িশাহ্ (রাঃ)ও মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস উযূর শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ধৌত করার অবস্থা বর্ণনা করার উপর অন্তর্ভুক্ত। উযূর শুরু পাত্রের মধ্যে হস্তদ্বয় প্রবেশ করার পূর্বে ধৌত করা। অতঃপর লজ্জাস্থান ধৌত করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৭-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে হায়যের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। কীভাবে গোসল করতে হবে তিনি তাকে সে ব্যাপারে জানিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, মিস্কের সুগন্ধিযুক্ত একখন্ড কাপড় নিয়ে তা দিয়ে ভালোভাবে পাক-পবিত্রতা অর্জন করবে। মহিলাটি বলল, আমি কীভাবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে আবার বললো, আমি তা দ্বারা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, সুবহানাল্লাহ (এটাও বুঝলে না)! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তখন আমি তাকে আমার দিকে টেনে আনলাম এবং (চুপিসারে) বললাম, রক্তক্ষরণের পর তা দ্বারা (গুপ্তাঙ্গের ভিতরের অংশ) মুছে নিবে (এতে দুর্গন্ধ দূর হবে)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَنِ غُسْلِهَا مِنَ الْمَحِيضِ فَأَمَرَهَا كَيْفَ تَغْتَسِل قَالَ: «خُذِي فِرْصَةً مِنْ مَسْكٍ فَتَطَهَّرِي بِهَا» قَالَت كَيفَ أتطهر قَالَ «تطهري بهَا» قَالَت كَيفَ قَالَ «سُبْحَانَ الله تطهري» فاجتبذتها إِلَيّ فَقلت تتبعي بهَا أثر الدَّم

وعن عاىشة قالت: ان امراة من الانصار سالت النبي صلى الله عليه وسلم: عن غسلها من المحيض فامرها كيف تغتسل قال: «خذي فرصة من مسك فتطهري بها» قالت كيف اتطهر قال «تطهري بها» قالت كيف قال «سبحان الله تطهري» فاجتبذتها الي فقلت تتبعي بها اثر الدم

ব্যাখ্যা: قوله (أَنَّ امْرَأَةً) অর্থাৎ- এটার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- আনসারদের একজন মহিলা। কেউ বলেনঃ সে আসমা বিনতু শিকলিল আনসারিয়্যাহ্।

নিশ্চয়ই একজন মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছেন ঋতু অবস্থায় গোসল করার প্রসঙ্গে। অতঃপর তিনি তাকে আদেশ করেছেন, কিভাবে সে গোসল করবে। তিনি বলেন, মিসকের তুলার টুকরা নাও। অতঃপর এটার মাধ্যমে তুমি পবিত্রতা অর্জন করো। তিনি বলেন, কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এটার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করো। তিনি বলেন, কিভাবে? তিনি বলেন, সুবহানাল্লাহ! পবিত্রতা অর্জন করো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৮-[৯] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এমন এক মহিলা যে, আমার মাথার চুলের বেণী বেশ শক্ত করে বাঁধি। পবিত্রতা অর্জনের জন্য ফরয গোসলের সময় আমি কি তা খুলে ফেলব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না খুলবে না। তুমি তোমার মাথার উপর তিন অঞ্জলি পানি ঢেলে দিবে। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তারপর তুমি তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢেলে নিবে ও পবিত্রতা অর্জন করবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قُلْتُ: يَا رَسُولَ الله إِنِّي امْرَأَة أَشد ضفر رَأْسِي فأنقضه لغسل الْجَنَابَة قَالَ «لَا إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَيْكِ الْمَاءَ فَتَطْهُرِينَ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ام سلمة قالت قلت: يا رسول الله اني امراة اشد ضفر راسي فانقضه لغسل الجنابة قال «لا انما يكفيك ان تحثي على راسك ثلاث حثيات ثم تفيضين عليك الماء فتطهرين» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: قوله (أَشُدُّ) এ হাদীস নির্দেশ করে এ প্রসঙ্গে যে, অপবিত্রতা থেকে ধৌত করার মাঝে চুলের খোঁপা বা ঝুঁটি খুলে ফেলা স্ত্রীলোকদের ওপর অত্যাবশ্যক নয়। ঋতুবতী মহিলার হায়য ধৌত করার মাঝেও নয় বরং ঋতুবতী মেয়েলোকের জন্য যথেষ্ট সে তার মাথার উপর তিন অঞ্জলি ভরে পানি ঢেলে দিবে।

সাওবান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, পুরুষ ব্যক্তি তার মাথায় (পানি) ছড়িয়ে দিবে তারপর তার স্বীয় মাথা ধৌত করা উচিত। এমনকি চুলের গোড়া পর্যন্ত যেন পানি পৌঁছে দেয়। পক্ষান্তরে স্ত্রীলোকের ওপর অত্যাবশ্যক নয় যে, সে তার মাথার খোঁপা খুলবে। তার তালুদ্বয় দ্বারা তিন চুল্লু পানি মাথায় দিবে। ইবনুল কাইয়ূম বলেন, এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন আবূ দাঊদ ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়্যাশ হতে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৩৯-[১০] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ্দ পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন এবং এক সা’ থেকে পাঁচ মুদ্দ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ

وعن انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يتوضا بالمد ويغتسل بالصاع الى خمسة امداد

ব্যাখ্যা: قوله (كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ)

এক صاع (সা') চার মুদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুদ অনুযায়ী এক মুদ ইরাক্ববাসীদের মাপ অনুযায়ী দু’ রত্বল (رطل) হিজাযবাসীর মাপ অনুযায়ী এক رطل এবং رطل এর তিন ভাগের ১ ভাগ। এক رطل 40 = তোলা। এক رطل صاع (দুই সের ১১ ছটাক) প্রায় আড়াই কেজি।

মূলকথা হলো صاع ৫ মুদের বেশী হবে না এবং ৪ মুদের কম হবে না।

ইমাম মুসলিম ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন তিন মুদ অথবা তার নিকটবর্তী মুদ পানি ধারণ ক্ষমতা রাখে এমন পাত্র থেকে গোসল করতেন।

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, তিনি বলেনঃ আমি ও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। যে পাত্রকে اَلْفِرَقَ বলা হয়, আর তাতে তিন صَاعً পরিমাণ পানি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।

এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ হচ্ছে পানি ব্যবহারে অপচয় করা যাবে না। কমও করা ঠিক হবে না প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪০-[১১] [মহিলা তাবি’ঈ] মু’আযাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ও তাঁর মাঝখানে রাখা একটি পাত্র হতে পানি নিয়ে একসাথে (পবিত্রতার) গোসল করতাম। তিনি খুব তাড়াতাড়ি করে আমার আগে পানি উঠিয়ে নিতেন। আর আমি তখন বলতে থাকতাম, আমার জন্য কিছু রাখুন, আমার জন্য কিছু রাখুন। মু’আযাহ্ (রহঃ) বলেন, তখন তারা উভয়ে নাপাক অবস্থায় থাকতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ بيني وَبَينه وَاحِد فَيُبَادِرُنِي حَتَّى أَقُولَ دَعْ لِي دَعْ لِي قَالَت وهما جنبان

وعن عاىشة قالت: كنت اغتسل انا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من اناء بيني وبينه واحد فيبادرني حتى اقول دع لي دع لي قالت وهما جنبان

ব্যাখ্যা: স্বামী স্ত্রী অপবিত্রতা অবস্থায় একটা পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল সমাধা করা বৈধ। ত্বহাবী নকল করেছেন, অতঃপর কুরতুবী এবং নাবাবী এ প্রসঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন। এটাতে আরো প্রমাণিত হয় যে, সামান্য পানি হতে অপবিত্র ব্যক্তি চুল্লু ভরে নেয়া বৈধ। আর এটা পবিত্রতা অর্জনে বাধা দেয় না। এ ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলা সমান, পার্থক্য নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪১-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন পুরুষ লোক (ঘুম থেকে জেগে শুক্রের) আর্দ্রতা পেল, অথচ স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ছে না। তখন সে কী করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে (ফরয) গোসল করবে। অপরদিকে কোন পুরুষের স্মরণ আছে, তার স্বপ্নদোষ হয়েছে অথচ (কাপড়ে শুক্রের) কোন আর্দ্রতা সে খুঁজে পাচ্ছে না, (তখন সে কী করবে?) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে (ফরয) গোসল করতে হবে না। উম্মু সুলায়ম (রাঃ)জিজ্ঞেস করলেন, কোন স্ত্রীলোক যদি এরূপ দেখে তার ওপরও কি গোসল ফরয হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, স্ত্রীলোকরাও পুরুষের মতো। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

দারিমী ও ইবনু মাজাহ ’’তাকে গোসল করতে হবে না’’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلَا يَذْكُرُ احْتِلَامًا قَالَ «يَغْتَسِلُ» وَعَنِ الرَّجُلِ يَرَى أَنه قد احْتَلَمَ وَلم يَجِدُ بَلَلًا قَالَ: «لَا غُسْلَ عَلَيْهِ» قَالَتْ أم سَلمَة يَا رَسُول الله هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ تَرَى ذَلِكَ غُسْلٌ قَالَ «نَعَمْ إِنَّ النِّسَاءَ شَقَائِقُ الرِّجَالِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَرَوَى الدَّارِمِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَى قَوْله: «لَا غسل عَلَيْهِ»

وعن عاىشة قالت: سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يجد البلل ولا يذكر احتلاما قال «يغتسل» وعن الرجل يرى انه قد احتلم ولم يجد بللا قال: «لا غسل عليه» قالت ام سلمة يا رسول الله هل على المراة ترى ذلك غسل قال «نعم ان النساء شقاىق الرجال» . رواه الترمذي وابو داود وروى الدارمي وابن ماجه الى قوله: «لا غسل عليه»

ব্যাখ্যা: قوله (يَجِدُ بَلَلًا) অর্থাৎ- বীর্যের আর্দ্রতা তার শরীরে। ( باء ও لام উভয় অক্ষর ফাতাহ হবে)। অথবা কাপড়ে পেশাবের আর্দ্রতা দেখার দ্বারা যে ঘুম থেকে জাগ্রত হয় তার ওপর গোসল করা অত্যাবশ্যক, এ কথা কেউ বলেনি।

তিনি বলেন, (يَغْتَسِلُ) খবর ‘আমরের অর্থে আর এটা অত্যাবশ্যক। এটাতে দলীল রয়েছে যে, নিদ্রা হতে জাগ্রত হবে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব শুধু বীর্যের অস্তিত্ব পাওয়ার দিক থেকে। কুপ্রবৃত্তির ধারণার সাথে মিলিত হবে। এমনকি উল্লেখ করা হয়, নিদ্রা হতে জাগ্রত হওয়ার কথা, নিশ্চয়ই যে ঘুমের মধ্যে কারো সাথে সহবাস করে থাকবে।

সমকক্ষের সঙ্গে সমকক্ষের হুকুম মিলানো। অর্থাৎ- ভিজা দেখার জন্য স্ত্রীলোকের ওপর গোসল করা ওয়াজিব যেমন পুরুষের ওপর অত্যাবশ্যক।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪২-[১৩] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষের খতনার জায়গা মহিলার খতনার জায়গা অতিক্রম করলেই গোসল করা ফরয হয়ে যাবে। তিনি [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেন, আমি ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেছি, তারপর দু’জনেই গোসল করেছি। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ وَجَبَ الْغُسْلُ. فَعَلْتُهُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاغْتَسَلْنَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَه

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا جاوز الختان الختان وجب الغسل. فعلته انا ورسول الله صلى الله عليه وسلم فاغتسلنا. رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (مَجَاوَزَةُ الْخِتَانُ الْخِتَانَ) অর্থাৎ- সহবাস করা, মিলন করা; এমন অবস্থায় যে, পুরুষের লিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। আর ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস-এর হাদীসে রয়েছে- (اذا التقى الختانان الخ) পূর্বের হাদীসের মতই অর্থ তবে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য ছাড়া। (فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ) অতঃপর উভয়ের ওপর গোসল করা ওয়াজিব হবে।

যখন চার শাখার মাঝে (স্বামী ও স্ত্রী) বসবে ও উভয়ের লিঙ্গ একটা আর একটাকে স্পর্শ করবে। অথবা, উভয়ে সঙ্গমে লিপ্ত হবে তখনই গোসল অত্যাবশ্যক হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৩-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শরীরের প্রত্যেক পশমের গোড়ায় নাপাকী থাকে। সুতরাং শরীরের পশমগুলোকে ভালোভাবে ধুবে এবং চামড়াকে উত্তমভাবে পরিষ্কার করবে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী হারিস ইবনু ওয়াজীহ তেমন গ্রহণযোগ্য নন।

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «تَحت كل شَعْرَة جَنَابَةٌ فَاغْسِلُوا الشَّعْرَ وَأَنْقُوا الْبَشْرَةَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَالْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ الرَّاوِي وَهُوَ شيخ لَيْسَ بذلك

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تحت كل شعرة جنابة فاغسلوا الشعر وانقوا البشرة» . رواه ابو داود والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب والحارث بن وجيه الراوي وهو شيخ ليس بذلك

ব্যাখ্যা: قوله (تَحْتَ كُلِّ شَعَرَةٍ جَنَابَةٌ) প্রত্যেক লোমের নিচে অপবিত্রতা হয়ে থাকে। এ কারণেই চুলের নীচে পানি পৌঁছানো হাদীসের দাবী। চুলকে ধৌত করা দাবী করে না, এমনি চামড়াকেও পরিষ্কার করা দাবী করে না।

যদি একচুলও বাকী থাকে সেটাতে পানি না পৌঁছে তাহলে অপবিত্র ব্যক্তির অপবিত্রতা ও নাপাকি অবশিষ্ট থাকে। বাহ্যিক হাদীস দ্বারা বুঝা যায় শিং খোঁপা খুলতে হবে এটা অত্যাবশ্যক যখন নাপাকি থেকে গোসল করতে ইচ্ছা করবে। আর এখানে চুলের গোড়াকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের মাথার খোঁপা খুলতে হবে না, এ প্রসঙ্গে অনুমতি দেয়া হয়েছে যেমন পূর্বে আলোচনা হয়েছে। অতএব পুরুষদের হুকুম মেয়েদের বিপরীত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৪-[১৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক নাপাকীর এক চুল পরিমাণও ছেড়ে দিবে এবং তা ধুবে না তাকে এভাবে এভাবে জাহান্নামের ’আযাব দেয়া হবে। ’আলী (রাঃ) বললেন, সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করছি। সেদিন হতে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করেছি। সেদিন থেকে আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করে আসছি- এরূপ তিনবার বললেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعَرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يَغْسِلْهَا فعل بهَا كَذَا وَكَذَا من النَّار» . قَالَ عَليّ فَمن ثمَّ عاديت رَأْسِي ثَلَاثًا فَمن ثمَّ عاديت رَأْسِي ثَلَاثًا فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي ثَلَاثًا. (رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَأَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ إِلَّا أَنَّهُمَا لَمْ يُكَرِّرَا: فَمن ثمَّ عاديت رَأْسِي)

وعن علي رضي الله عنه: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من ترك موضع شعرة من جنابة لم يغسلها فعل بها كذا وكذا من النار» . قال علي فمن ثم عاديت راسي ثلاثا فمن ثم عاديت راسي ثلاثا فمن ثم عاديت راسي ثلاثا. (رواه ابو داود واحمد والدارمي الا انهما لم يكررا: فمن ثم عاديت راسي)

ব্যাখ্যা: চুলের জায়গার নাপাকী ধৌত করা থেকে বিরত থাকবো না, অবশ্যই নাপাক দূর করবো, কারণ লোমের গোড়ায় যদি পানি না পৌঁছে এবং উযূর কোন অঙ্গ শুকনা থাকে তাহলে হাদীসে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে ও ধমক দেয়া হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৫-[১৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের পর (সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বা অন্যান্য ’ইবাদাতের জন্য নতুন করে) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يتَوَضَّأ بعد الْغسْل. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يتوضا بعد الغسل. رواه ابو داود والترمذي والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: قوله (لَا يَتَوَضَّأُ بَعْدَ الْغُسْلِ) গোসল করার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে না। উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করেই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সম্পাদন করা যাবে। গোসলের পূর্বে যে উযূ করা হয়েছে ঐ উযূ সালাতের জন্য যথেষ্ট হবে। নতুন উযূর প্রয়োজন হবে না যদি উযূ নষ্ট হওয়ার কারণ না পাওয়া যায়।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল ফরয গোসলের পূর্বে উযূ করতেন। যা পূর্বে বর্ণনা হয়েছে।

উযূর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি পৌঁছানোর কারণে নাপাকি গোসল করার পর উযূ করা অত্যাবশ্যক হয় না। এ প্রসঙ্গে আলিমদের মতভেদ নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৬-[১৭] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয গোসলের সময় খিত্বমী দিয়ে নিজের মাথা ধুতেন, অথচ তিনি নাপাক। খিত্বমী দিয়ে ধৌত করাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। মাথায় পানি ঢালতেন না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ بِالْخِطْمِيِّ وَهُوَ جُنُبٌ يَجْتَزِئُ بِذَلِكَ وَلَا يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يغسل راسه بالخطمي وهو جنب يجتزى بذلك ولا يصب عليه الماء. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ফরয গোসলের সময় হালাল সাবান, হালাল শ্যাম্পু ইত্যাদি দ্বারা মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার করা মুসতাহাব এবং মাথা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত খিত্বমী বা সাবানের ফেনা ধুয়ে ফেলার জন্য যে পানি ব্যবহার করা হয়, তাই মাথার পবিত্রতার জন্য যথেষ্ট। পুনরায় নতুন পানি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) খিত্বমী দ্বারা মাথা ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং ফরয গোসলের ক্ষেত্রে তা-ই যথেষ্ট মনে করতেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৭-[১৮] ইয়া’লা [ইবনু মুররাহ্] (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উলঙ্গ উন্মুক্ত জায়গায় গোসল করতে দেখলেন এবং (রাগভরে) তিনি মিম্বারে দাঁড়ালেন। প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, এরপর বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বড় লজ্জাশীল ও পর্দাশীল। তিনি লজ্জাশীলতা ও পর্দা করাকে বেশী পছন্দ করেন। তাই তোমাদের কেউ গোসল করতে গেলে যেন পর্দা অবলম্বন করে। (আবূ দাঊদ)[1]

নাসায়ীর এক বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা বড় পর্দাশীল। অতএব তোমাদের কেউ গোসল করতে ইচ্ছা করলে সে যেন কোন কিছু দিয়ে পর্দা করে নেয়।

وَعَن يعلى: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا يَغْتَسِلُ بِالْبَرَازِ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ: «إِن الله عز وَجل حييّ حييّ ستير يحب الْحيَاء والستر فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَتِرْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَفِي رِوَايَتِهِ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ سِتِّيرٌ فَإِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَغْتَسِلَ فَلْيَتَوَارَ بِشَيْءٍ»

وعن يعلى: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم راى رجلا يغتسل بالبراز فصعد المنبر فحمد الله واثنى عليه وقال: «ان الله عز وجل حيي حيي ستير يحب الحياء والستر فاذا اغتسل احدكم فليستتر» . رواه ابو داود والنساىي وفي روايته قال: «ان الله ستير فاذا اراد احدكم ان يغتسل فليتوار بشيء»

ব্যাখ্যা: গোসলে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করা এবং অন্তরালে গোসল করা ওয়াজিব। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা দ্বারা তা বৈধতার বিবরণ পাওয়া যায়। তবে সেটা এমন নির্জন স্থান হতে হবে যেখানে তার স্ত্রী ছাড়া কেউ তাকে দেখবে না। সেক্ষেত্রে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা বৈধ। তবে অন্তরালে বা পর্দা করে গোসল করাই উত্তম। এ ব্যাপারে আবূ দাঊদ ও তিরমিযীর রিওয়ায়াতে বাহয ইবনু হাকিম বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থান হিফাযাত কর স্ত্রী ব্যতীত অন্যদের থেকে। আমি বললাম, ব্যক্তি যদি নির্জনস্থানে হয় তবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, আল্লাহ তা‘আলা লজ্জাশীলতা অবলম্বনের জন্য সর্বাধিক হকদার। আর যদি গোসলখানা এমন হয় যে, সেখানে যাদের জন্য তার আবরু দেখা হারাম, তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে অবশ্যই তার পর্দা করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৮-[১৯] উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’’বীর্যস্খলন হলেই গোসল ফরয হয়’’- এ হুকুম ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ছিল। এরপর তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: إِنَّمَا كَانَ الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ ثمَّ نهي عَنْهَا

عن ابي بن كعب قال: انما كان الماء من الماء رخصة في اول الاسلام ثم نهي عنها

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সহবাসে বীর্যপাত হলে গোসল ওয়াজিব। আর বীর্যপাত না হলে গোসল ওয়াজিব নয়। বিধানটি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমোদিত ছিল। পরবর্তীতে তা নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু সহবাসের কারণেই গোসল ওয়াজিব হবে এতে বীর্যপাত হোক বা না হোক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৪৯-[২০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি ফরয গোসল করেছি এবং ফজরের (ফজরের) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছি। এরপর আমি দেখলাম শরীরে নখ পরিমাণ জায়গায় পানি পৌঁছেনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যদি এ শুকনা জায়গাটা হাত দিয়ে মুছে নিতে তাহলে তোমার জন্য সেটাই যথেষ্ট হতো। (ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن عَليّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي اغْتَسَلْتُ مِنَ الْجَنَابَةِ وَصليت الْفجْر ثمَّ أَصبَحت فَرَأَيْتُ قَدْرَ مَوْضِعِ الظُّفُرِ لَمْ يُصِبْهُ الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كُنْتَ مَسَحْتَ عَلَيْهِ بِيَدِكَ أَجْزَأَكَ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن علي قال: جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اني اغتسلت من الجنابة وصليت الفجر ثم اصبحت فرايت قدر موضع الظفر لم يصبه الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو كنت مسحت عليه بيدك اجزاك» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ হলো যদি গোসলের সময় শরীরের কোন স্থানে পানি না পৌঁছে তবে সেই সময়েই উক্ত স্থানে ভিজা হাত দ্বারা মাসাহ করলে তা যথেষ্ট হবে। এ ব্যাপারে মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, যদি তুমি গোসলের সময় পানি না পৌঁছানোর স্থানে তোমার ভিজা হাত দ্বারা মাসাহ কর। অর্থাৎ- হালকাভাবে ধৌত কর তবে যথেষ্ট হবে। অন্যথায় শুধু ভিজা হাতের স্পর্শই যথেষ্ট নয়। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ)-এর মতে, গোসলের সময় যদি উক্ত স্থানে পানি দিয়ে মাসাহ করা হয় তবে গোসল পূর্ণ হবে। তা না হলে পরবর্তীতে নতুন করে গোসল করতে হবে এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বাযা আদায় করতে হবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের বিবরণ

৪৫০-[২১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ফরয ছিল পঞ্চাশ ওয়াক্ত। পবিত্রতার গোসল ছিল সাতবার এবং প্রস্রাবের কাপড় ধোয়া ছিল সাতবার। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে আবেদন করতে থাকেন, অবশেষে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ফরয করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত, পবিত্রতার গোসল ফরয করা হয় একবার এবং প্রস্রাব হতে কাপড় ধোয়া ফরয করা হয় একবার। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عبد الله بن عمر قَالَ كَانَتِ الصَّلَاةُ خَمْسِينَ وَالْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ سبع مرار وَغسل الْبَوْل من الثَّوْب سبع مرار فَلَمْ يَزَلْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْأَلُ حَتَّى جعلت الصَّلَاة خمْسا وَالْغسْل من الْجَنَابَة مرّة وَغسل الْبَوْل من الثَّوْب مرّة. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الله بن عمر قال كانت الصلاة خمسين والغسل من الجنابة سبع مرار وغسل البول من الثوب سبع مرار فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يسال حتى جعلت الصلاة خمسا والغسل من الجنابة مرة وغسل البول من الثوب مرة. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসে মি‘রাজের রজনীতে প্রথম ধাপে যে ৫০ ওয়াক্ত ফরয করা হয়েছিল তাই বুঝানো হয়েছে। হাদীস থেকে এটাও প্রতীয়মান হয় যে, পরিধেয় বস্ত্রতে নাপাকি লাগলে তা একবার ধৌত করলেই পবিত্র হয়ে যাবে। তবে তিনবার ধৌত করা মুসতাহাব।

‘আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগিলানী নাপাকীকে ২ ভাগে ভাগ করেছেনঃ ১. দৃশ্যমান নাপাকী। ২. অদৃশ্যমান নাপাকী। প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে নাপাকীর চিহ্ন দূর হলেই কাপড় পবিত্র হবে এবং দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে যখন ধৌতকারীর মনে পবিত্র হওয়ার ধারণা প্রাধান্য পাবে তখনই কাপড় পবিত্র হবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫১-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা হলো। আমি তখন (বীর্যপাতের কারণে) নাপাক ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরলেন এবং আমি তার সাথে চলতে থাকলাম যে পর্যন্ত না তিনি বসলেন। তখন আমি চুপিসারে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে এসে গোসল করে নিলাম। অতঃপর আবার তাঁর কাছে চলে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখনো সেখানে বসা আছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কোথায় ছিলে হে আবূ হুরায়রাহ্! আমি (সম্পূর্ণ) বিষয়টি তাঁর কাছে (খুলে) বললাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সুবহানাল্লাহ! মু’মিন (কক্ষনও) অপবিত্র হয় না।

এটা বুখারী (২৮৫ হাঃ)-এর বর্ণনা। অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস মুসলিমও বর্ণনা করেছেন এবং বুখারীর কথার পর তার বর্ণনায় এ কথাও আছে, আমি উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, যখন আমার সাথে আপনার দেখা হলো তখন আমি নাপাক ছিলাম। তাই গোসল না করে আপনার সাথে বসাটা ঠিক মনে করলাম না। বুখারীর আর একটি বর্ণনাও এভাবে এসেছে।[1]

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

عَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا جُنُبٌ فَأَخَذَ بِيَدِي فمشيت مَعَهُ حَتَّى قَعَدَ فَانْسَلَلْتُ فَأَتَيْتُ الرَّحْلَ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ وَهُوَ قَاعِدٌ فَقَالَ: «أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَة» فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَا يَنْجَسُ» . هَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ وَلِمُسْلِمٍ مَعْنَاهُ وَزَادَ بَعْدَ قَوْلِهِ: فَقُلْتُ لَهُ: لَقَدْ لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ. وَكَذَا البُخَارِيّ فِي رِوَايَة أُخْرَى

عن ابي هريرة قال: لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا جنب فاخذ بيدي فمشيت معه حتى قعد فانسللت فاتيت الرحل فاغتسلت ثم جىت وهو قاعد فقال: «اين كنت يا ابا هريرة» فقلت له فقال: «سبحان الله ان المومن لا ينجس» . هذا لفظ البخاري ولمسلم معناه وزاد بعد قوله: فقلت له: لقد لقيتني وانا جنب فكرهت ان اجالسك حتى اغتسل. وكذا البخاري في رواية اخرى

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণ হয় যে, মু’মিনের আত্মা কখনো মৌলিকভাবে নাপাক হয় না। যদি সে নাপাকীর সংশ্রবে আসে তবে সাময়িকভাবে অপবিত্র হয়। আর নাপাকী দূর হলেই পবিত্র হয়ে যায়। কাজেই মু’মিন ব্যক্তি সর্বদাই পবিত্রতার মধ্যে থাকেন। চাই তিনি অপবিত্র হোক বা নাপাক হোক। মৃত্যু অবস্থায় হোক বা জীবিত অবস্থায় হোক। এ ব্যাপারে সহীহুল বুখারীতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জীবিত অবস্থায় ও মৃত অবস্থায় মু’মিন ব্যক্তি কখনো নাপাক হবে না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে মুস্‌তাদরাকে হাকিমেও অনুরূপ হাদীস রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসদ্বয় হানাফী মাযহাবের দাবীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেন যে, মু’মিন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার কারণে নাপাক হয়ে যায় এবং মৃত ব্যক্তির গোসল দেয়া তারা নাপাক থেকে পবিত্রতা অর্জনের গোসল বলে মনে করেন। যা অবশ্যই সহীহ সুন্নাহ পরিপন্থী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫২-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস বললেন, (কোন সময়) রাতে তার নাপাকী হয়ে গেলে (তৎক্ষণাৎ তার কী করা উচিত)? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন তুমি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, তোমার গুপ্তাঙ্গ ধুয়ে নিবে, অতঃপর ঘুমাবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنه قَالَ: ذَكَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ ثُمَّ نم»

وعن عبد الله بن عمر انه قال: ذكر عمر بن الخطاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم انه تصيبه الجنابة من الليل فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «توضا واغسل ذكرك ثم نم»

ব্যাখ্যা: হাদীসে আদেশসূচক বাক্য দ্বারা মুসতাহাব উদ্দেশ্য। কেননা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রকার ব্যবহার ছাড়াই নাপাকী অবস্থায় ঘুমাতেন। একদা ‘উমার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নাপাকী অবস্থায় ঘুমানো যাবে কিনা, এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মতি দিলেন এবং বললেন, যদি কেউ ইচ্ছা করে তবে সে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে এবং উযূর পূর্বে যৌনাঙ্গ ধৌত করবে। আর নাপাকী অবস্থায় ঘুমানোর সময় উযূ করলে অপবিত্রতা লাঘব হয়। যেমন শাদ্দাদ বিন আউস (রাঃ) থেকে সহীহ সানাদে বর্ণিত রয়েছে যে, যে ব্যক্তি নাপাকী অবস্থায় ঘুমাতে চায় সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করে, কারণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  নাপাকীর গোসলের অর্ধেক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৩-[৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় ঘুমাতেন অথবা কিছু খাওয়ার ইচ্ছা করলে তখন সালাতের উযূর মতো উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ جُنُبًا فَأَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ ينَام تَوَضَّأ وضوءه للصَّلَاة

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا كان جنبا فاراد ان ياكل او ينام توضا وضوءه للصلاة

ব্যাখ্যা: উপরের হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নাপাকী অবস্থায় কেউ খাদ্য প্রহণ করতে চাইলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা উত্তম। এ ক্ষেত্রে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা মুস্তাহাব।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৪-[৪] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করার পর আবারও যদি সঙ্গম করতে চায়, তাহলে সে যেন মধ্যখানে (সালাতের উযূর মতো) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নেয়। (মুসলিম)[1]

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ فَلْيَتَوَضَّأْ بَينهمَا وضُوءًا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اتى احدكم اهله ثم اراد ان يعود فليتوضا بينهما وضوءا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীসে একবার সহবাসের পর দ্বিতীয়বার সহবাসের জন্য যে গোসলের আদেশ করা হয়েছে তা’ মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। ইমাম ত্বহাবী (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন, এরপর তিনি পুনরায় সহবাসে ফিরতেন। কিন্তু তিনি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৫-[৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের নিকট যেতেন একই গোসলে। (অর্থাৎ- মধ্যখানে শুধু উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন, গোসল করতেন না) (মুসলিম)[1]

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يطوف على نِسَائِهِ وَبِغسْلِ وَاحِد. رَوَاهُ مُسلم

وعن انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يطوف على نساىه وبغسل واحد. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাত্রিতে তার স্ত্রীদের নিকট গমন করতেন এবং সব শেষে তিনি একবার গোসল করতেন। দু’ সহবাসের মাঝে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা বা না করা মুসতাহাব হয়ে গেল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৬-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন। (মুসলিম)[1]

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস, যা মাসাবীহের সংকলক এখানে বর্ণনা করেছেন, আমি কিতাবুল আত্ব’ইমাতে বর্ণনা করবো ইনশা-আল্লা-হ।

بَابُ مُخَالَطَةِ الْجُنُبِ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ سَنَذْكُرُهُ فِي كِتَابِ الْأَطْعِمَةِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يذكر الله عز وجل على كل احيانه. رواه مسلم وحديث ابن عباس سنذكره في كتاب الاطعمة ان شاء الله

ব্যাখ্যা: সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করা বৈধ। পবিত্র, অপবিত্র, দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর বৈধ চলতে পারে। ইমাম নাবাবী বলেন, উল্লিখিত হাদীস অপবিত্র অবস্থায় তাসবীহ, তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) তাকবীর, (আল্লা-হু আকবার) তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ) এবং অনুরূপ যিকর-আযকারের বৈধতা রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৭-[৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক স্ত্রী (মায়মূনাহ্) একটি গামলাতে পানি নিয়ে গোসল করলেন। এ গামলার পানি দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে চাইলে পবিত্রা স্ত্রী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো নাপাক ছিলাম (আমি তো এর থেকে পানি উঠিয়ে গোসল করেছি)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পানি তো নাপাক হয় না। দারিমীও এরূপই বর্ণনা করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

عَن ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَفْنَةٍ فَأَرَادَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن يَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا فَقَالَ «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُجْنِبُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ. وَرَوَى الدَّارمِيّ نَحوه

عن ابن عباس قال اغتسل بعض ازواج النبي صلى الله عليه وسلم في جفنة فاراد رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يتوضا منه فقالت يا رسول الله اني كنت جنبا فقال «ان الماء لا يجنب» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه. وروى الدارمي نحوه

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস মহিলার পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষের পবিত্রতা অর্জন করার বৈধতা প্রমাণ করে। তবে এ অধ্যায়ের তৃতীয় অনুচ্ছেদে হাকাম বিন ‘আমর আল গিফারী ও হুমায়দ আল হুমায়দীর হাদীসে বলা হয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার অবশিষ্ট পানি থেকে পুরুষকে এবং পুরুষের অবশিষ্ট পানি থেকে মহিলাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বা গোসল করতে নিষেধ করেছেন। তবে উল্লিখিত হাদীসে মায়মূনাহ্ (রাঃ) নিজেকে অপবিত্র সম্বোধন করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উক্ত পানি ব্যবহারে সতর্ক করার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নিষেধাজ্ঞার বিধানটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল যা বৈধতার হাদীস দ্বারা রহিত করা হয়েছে এবং বৈধতার হাদীসগুলো নিষেধাজ্ঞার হাদীসগুলোর তুলনায় অধিক এবং সানাদগত দিক দিয়ে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৮-[৮] আর শারহুস্ সুন্নাহ্-তেও ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে মাসাবীহ-এর শব্দে বর্ণনা করেছেন।

وَفِي شَرْحِ السُّنَّةِ عَنْهُ عَنْ مَيْمُونَةَ بِلَفْظِ المصابيح

وفي شرح السنة عنه عن ميمونة بلفظ المصابيح

ব্যাখ্যা: এখানে ‘‘শারহুস্ সুন্নাহ্’’ নামক গ্রন্থে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি পুরুষ বা মহিলার অবশিষ্ট পানি থেকে পুরুষ বা মহিলার পবিত্রতা অর্জনের বৈধতা দান করে। মায়মূনাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র হলাম এবং পাত্র হতে পানি উঠিয়ে গোসল করলাম এবং পাত্রে অবশিষ্ট পানিও রাখলাম, অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের জন্য আসলেন, আর আমি বললাম যে, আমি ঐ পানি থেকে গোসল করেছি। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওই পানিতেই গোসল করলেন এবং বললেন, নিশ্চয় পানিতে কোন অপবিত্রতা নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৫৯-[৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাকীর পর গোসল করতেন। অতঃপর আমার গোসল করার পূর্বে আমাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের গরম অনুভব করতেন। (ইবনু মাজাহ্)[1]

ইমাম তিরমিযীও এরূপই বর্ণনা করেছেন, আর ’শারহুস্ সুন্নাহ্’-তেও মাসাবীহ-এর শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে।

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ يَسْتَدْفِئُ بِي قَبْلَ أَنْ أَغْتَسِلَ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه وروى التِّرْمِذِيّ نَحوه

وعن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يغتسل من الجنابة ثم يستدفى بي قبل ان اغتسل. رواه ابن ماجه وروى الترمذي نحوه

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অপবিত্রতা নারীর ব্যবহৃত গোসলের পানি পবিত্র। যেমন পুরুষের ব্যবহৃত পানি পবিত্র। ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী মহিলার বিধানও অনুরূপ এবং তাদের ব্যবহৃত পানিও পবিত্র। ব্যবহৃত পানি বলতে পবিত্রতা অর্জনের পর পাত্রের অবশিষ্ট পানি। এ কথা অবশ্যই মানতে হবে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতা অর্জন করার পর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট শয়ন পূর্বক উষ্ণতা গ্রহণ করতেন তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভিজা দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা জননী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কাপড় ভিজে যেত। অতঃপর তার (‘আয়িশাহ্) ভিজা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কাপড় দ্বারাও তো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভিজতো। কিন্তু উষ্ণতা গ্রহণের পর (হানাফী মাযহাবের মতে) তার ওই সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করেছেন যে সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ‘আয়িশার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর রেখেছেন- মর্মে মতটি দুর্বল হাদীস দ্বারাও সাব্যস্ত নয়। কাজেই প্রমাণিত হয় যে, অপবিত্রা নারী ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী মহিলার ব্যবহৃত পানি পবিত্র এবং এটাই সালফ সালিহীনদের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬০-[১০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা হতে বেরিয়ে (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার আগে) আমাদেরকে কুরআন মাজীদ পড়াতেন এবং আমাদের সাথে মাংস (মাংস/গোসত) খেতেন। নাপাকী ব্যতীত কোন কিছু তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত হতে ফিরিয়ে রাখতে পারতো না। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1] ইবনু মাজাহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

وَعَن عَليّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ مِنَ الْخَلَاءِ فَيُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ مَعَنَا اللَّحْم وَلم يكن يَحْجُبْهُ أَوْ يَحْجُزْهُ عَنِ الْقُرْآنِ شَيْءٌ لَيْسَ الْجَنَابَةَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحوه

وعن علي قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يخرج من الخلاء فيقرىنا القران وياكل معنا اللحم ولم يكن يحجبه او يحجزه عن القران شيء ليس الجنابة. رواه ابو داود والنساىي وروى ابن ماجه نحوه

ব্যাখ্যা: উল্লিখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণ হয় যে, জুনুবী তথা অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। তবে তাদের দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, উল্লিখিত হাদীস দ্বারা শুধুমাত্র নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম বুঝা যায়, যার উদ্দেশ্য হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত বর্জন করেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, শুধুমাত্র নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম দ্বারা নিষিদ্ধ এবং হারাম হওয়ার দলীল গ্রহণ করা কিভাবে সম্ভব হতে পারে?

এ হাদীসের সমর্থনে ‘আলী  (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ হতে পারে। ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি অপবিত্র নয় তার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য। অপবিত্র ব্যক্তির জন্য এক আয়াত পড়াও সমুচিত নয়।

প্রমাণিত হলো যে, অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ তবে পেশাব বা পায়খানা থেকে ফেরার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ছাড়াই কুরআন তিলাওয়াত বৈধ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬১-[১১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋতুবতী স্ত্রীলোক ও নাপাক ব্যক্তি কুরআন মাজীদের কিয়দংশও পড়তে পারবে না। (তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلَا الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقرا الحاىض ولا الجنب شيىا من القران» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা ৪৬০ নং হাদীসে দ্রষ্টব্য।


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬২-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ঘরের দরজা মসজিদে নাবাবীর দিক হতে ফিরিয়ে দাও। আমি মাসজিদকে ঋতুবতী মহিলা ও নাপাক ব্যক্তির জন্য জায়িয মনে করি না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجِّهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ فَإِنِّي لَا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحَائِضٍ وَلَا جنب» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وجهوا هذه البيوت عن المسجد فاني لا احل المسجد لحاىض ولا جنب» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৩-[১৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে কোন ছবি বা কুকুর বা নাপাক ব্যক্তি থাকে সে ঘরে (রহমতের) মালাক (ফেরেশতা) প্রবেশ করেন না। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَا تدخل الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلَا كَلْبٌ وَلَا جنب» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تدخل الملاىكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোন জীব বা প্রাণীর ছবি বা ভাস্কর্য তা যে কোন অবস্থাতেই থাকুক না কেন, দেয়ালে বা ছাদে লটকানো থাকুক বা কাপড়ে চিত্রায়িত থাকুক তার অর্ধাংশ কেটে বা ছিঁড়ে নষ্ট করতে হবে। তবে দীনার বা দিরহামের চিত্রিত ছবি এবং শিশুর খেলনা পুতুল থাকাতে কোন সমস্যা নেই বলে অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৪-[১৪] ’আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন তিন ব্যক্তি আছে, মালায়িকাহ্ যাদের ধারে কাছেও যান না- (১) কাফিরের মৃতদেহ (২) খালূক্ব ব্যবহারকারী ও (৩) নাপাক ব্যক্তি, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করা পর্যন্ত। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثٌ لَا تَقْرَبُهُمُ الْمَلَائِكَةُ جِيفَةُ الْكَافِرِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ وَالْجُنُبُ إِلَّا أَن يتَوَضَّأ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عمار بن ياسر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاث لا تقربهم الملاىكة جيفة الكافر والمتضمخ بالخلوق والجنب الا ان يتوضا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: কাফিরের মৃতদেহ সম্পর্কে ‘আত্বা আল খুরাসানীর রিওয়ায়াতে রয়েছে যে, নিশ্চয় মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) কাফিরের জানাযায় কল্যাণের সাথে উপস্থিত হন না। আর খালুক্ব বলতে জা‘ফরান কিংবা এ জাতীয় বস্ত্ত মিশ্রিত সুগন্ধিকে বুঝায়। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফরান ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৫-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর ইবনু হাযম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আমর ইবনু হাযম-এর কাছে যে চিঠি লিখেছেন তাতে এ কথাও লেখা ছিল যে, পবিত্র লোক ছাড়া যেন কোন ব্যক্তি কুরআন স্পর্শ না করে। (মালিক ও দারাকুত্বনী)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ: أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم لعَمْرو بن حزم: «أَن لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَالدَّارَقُطْنِيُّ

وعن عبد الله بن ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم: ان في الكتاب الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن حزم: «ان لا يمس القران الا طاهر» . رواه مالك والدارقطني

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্রতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়। উল্লেখ্য যে, পবিত্রতা অর্জন দু’ ধরনের হতে পারেঃ

১. বড় ধরনের নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন করা। যেমন- ঋতুস্রাব, নিফাস ও সহবাস কিংবা স্বপ্নদোষজনিত অপবিত্র থেকে পবিত্র হওয়া- এ ধরনের অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়।

২. বিনা উযূ থেকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়া। আর এ অবস্থায় (বিনা উযূতে) কুরআন স্পর্শ করা বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৬-[১৬] নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’উমার (রাঃ) কোন কাজে গেলে আমিও তার সাথে গেলাম। তিনি তাঁর কাজ শেষ করলেন। সেদিন তাঁর কথার মধ্যে এ কথাটি ছিল, তিনি বললেন, এক ব্যক্তি কোন একটি গলি দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব বা পায়খানা সেরে বের হলেন। ঐ লোকটির সাথে তাঁর দেখা হলে সে সালাম দিল। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সালামের উত্তর দিলেন না। লোকটি যখন অন্য গলির দিকে মোড় নিচ্ছিল, তিনি (তায়াম্মুম করার জন্য) দেওয়ালে দুই হাত মেরে মুখমণ্ডল মাসেহ করলেন। অতঃপর আবার দেওয়ালে হাত মেরে কনুইসহ দু’হাত মাসাহ করলেন (অর্থাৎ- তায়াম্মুম করলেন)। এরপর লোকটির সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, তোমাকে সালামের উত্তর দিতে পারিনি। কারণ আমি বে-উযূ ছিলাম, এটাই ছিল (তোমার সালামের উত্তর দিতে আমার) বাধা। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: انْطَلَقْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي حَاجَة إِلَى ابْن عَبَّاس فَقَضَى ابْنُ عُمَرَ حَاجَتَهُ وَكَانَ مِنْ حَدِيثِهِ يَوْمَئِذٍ أَنْ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ فِي سِكَّةٍ مِنَ السِّكَكِ فَلَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ خَرَجَ مِنْ غَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَتَوَارَى فِي السِّكَّةِ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيْهِ عَلَى الْحَائِطِ وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ثُمَّ ضَرَبَ ضَرْبَةً أُخْرَى فَمَسَحَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَى الرَّجُلِ السَّلَامَ وَقَالَ: «إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ السَّلَامَ إِلَّا أَنِّي لَمْ أَكُنْ على طهر» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن نافع قال: انطلقت مع ابن عمر في حاجة الى ابن عباس فقضى ابن عمر حاجته وكان من حديثه يومىذ ان قال مر رجل في سكة من السكك فلقي رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد خرج من غاىط او بول فسلم عليه فلم يرد عليه حتى كاد الرجل ان يتوارى في السكة ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيديه على الحاىط ومسح بهما وجهه ثم ضرب ضربة اخرى فمسح ذراعيه ثم رد على الرجل السلام وقال: «انه لم يمنعني ان ارد عليك السلام الا اني لم اكن على طهر» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: তায়াম্মুমের বিধানটি পানি না পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ পানি পাওয়া গেলে পানি ব্যবহারে সক্ষম ব্যক্তির ওপর তায়াম্মুম করা বৈধ নয়। সহীহুল বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী মুক্বীম অবস্থায় পানি না পাওয়ার কারণে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তায়াম্মুম করা বৈধ।

উল্লেখ্য যে, ইমাম আবূ হানীফাহ্ উক্ত হাদীস থেকে তায়াম্মুমের মাটিতে দু’বার হাত মারার দলীল গ্রহণ করেছেন। প্রথমবার চেহারা মাসাহ করা এবং দ্বিতীয়বারে দু’হাত কনুই পর্যন্ত মাসাহ করা যা সঠিক নয়। কারণ হাদীসটি মুনকার।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৭-[১৭] মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন প্রস্রাব করছিলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন। কিন্তু তিনি (প্রস্রাবের পর) যে পর্যন্ত না উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন তার সালামের কোন উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওজর পেশ করে বললেন, উযূ না করে আমি আল্লাহর নাম নেয়া পছন্দ করিনি (এ কারণেই তোমার সালামের উত্তর দেইনি)। (আবূ দাঊদ)[1]

ইমাম নাসায়ীও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ’’যে পর্যন্ত উযূ না করলেন’’ বাক্য পর্যন্ত। ওযর পেশ করার কথা তিনি বলেননি। তার স্থানে বর্ণনা করেছেন, যখন উযূ করলেন, তার সালামের উত্তর দিলেন।[2]

وَعَن المُهَاجر بن قنفذ: أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى تَوَضَّأ ثمَّ اعتذر إِلَيْهِ فَقَالَ: «إِنِّي كرهت أَن أذكر الله عز وَجل إِلَّا على طهر أَو قَالَ على طَهَارَة» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى النَّسَائِيُّ إِلَى قَوْلِهِ: حَتَّى تَوَضَّأَ وَقَالَ: فَلَمَّا تَوَضَّأَ رَدَّ عَلَيْهِ

وعن المهاجر بن قنفذ: انه اتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبول فسلم عليه فلم يرد عليه حتى توضا ثم اعتذر اليه فقال: «اني كرهت ان اذكر الله عز وجل الا على طهر او قال على طهارة» . رواه ابو داود وروى النساىي الى قوله: حتى توضا وقال: فلما توضا رد عليه

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা যায় যে, পেশাব বা পায়খানায় রত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া মাকরূহ এবং এ অবস্থায় আল্লাহর যিকর করাও মাকরূহ। এমনকি এ অবস্থায় সালামের উত্তর দেয়া যাবে না। হাঁচির জওয়াব দেয়া যাবে না। হাঁচি দেয়ার পর ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ বলা যাবে না। এ বিষয়ে ইবনু মাজাহ্-তে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাবে রত থাকা অবস্থায় অতিক্রমকালে সালাম দিলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন যে, যখন আমাকে এ অবস্থায় দেখবে তখন সালাম দিবে না। যদি দাও তবে আমি তার উত্তর দিব না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৮-[১৮] উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার বিছানায়) নাপাক হয়ে যেতেন, অতঃপর ঘুমাতেন, আবার জাগতেন, আবার ঘুমাতেন। (আহমাদ)[1]

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجْنِبُ ثُمَّ يَنَامُ ثُمَّ يَنْتَبِهُ ثُمَّ يَنَامُ. رَوَاهُ أَحْمد

عن ام سلمة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجنب ثم ينام ثم ينتبه ثم ينام. رواه احمد

ব্যাখ্যা: অবশ্য এ হাদীসের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে সেখানে আলোকপাত হয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে অধিকাংশ সময় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন। এ হাদীস থেকে মনে হয় যে, নাপাকীর গোসল বিলম্বেও করা যায়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৬৯-[১৯] শু’বাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) নাপাক হলে যখন গোসল করতেন তখন প্রথমে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর সাতবার পানি ঢালতেন, তারপর স্বীয় লজ্জাস্থান ধুতেন। একবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতবার পানি ঢেলেছেন ভুলে গেলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, আমার স্মরণ নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মায়ের মৃত্যু হোক! স্মরণ রাখতে তোমাকে কে বাধা দিয়েছিল? তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের উযূর মতো উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিজের সারা শরীরের উপর পানি ঢাললেন এবং বললেন, এভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্রতা লাভ করতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ شُعْبَةَ قَالَ: إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَانَ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ يفرغ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى سَبْعَ مِرَارٍ ثُمَّ يَغْسِلُ فَرْجَهُ فَنَسِيَ مَرَّةً كَمْ أَفْرَغَ فَسَأَلَنِي كم أفرغت فَقُلْتُ لَا أَدْرِي فَقَالَ لَا أُمَّ لَكَ وَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَدْرِيَ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُفِيضُ عَلَى جِلْدِهِ الْمَاءُ ثُمَّ يَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يتَطَهَّر. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن شعبة قال: ان ابن عباس رضي الله عنه كان اذا اغتسل من الجنابة يفرغ بيده اليمنى على يده اليسرى سبع مرار ثم يغسل فرجه فنسي مرة كم افرغ فسالني كم افرغت فقلت لا ادري فقال لا ام لك وما يمنعك ان تدري ثم يتوضا وضوءه للصلاة ثم يفيض على جلده الماء ثم يقول هكذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتطهر. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে নাপাকীর গোসলে দু’ হাত ও লজ্জাস্থান সাতবার ধৌত করার বিবরণ পাওয়া যায়। কিন্তু হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল ও সহীহ হাদীসের বিরোধী হওয়ায় তা ‘আমলযোগ্য নয়। উল্লেখ থাকে যে, সহীহ হাদীসে তিনবার ধৌত করার কথা বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৭০-[২০] আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীর নিকট ঘুরে বেড়ালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট একবার, তার নিকট একবার গোসল করলেন। তিনি (আবূ রাফি) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সবশেষে একবারই মাত্র কেন গোসল করলেন না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, প্রত্যেকবার গোসল করা হচ্ছে বেশী পবিত্রতা, বেশী আনন্দদায়ক ও বেশী পরিচ্ছন্নতা। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن أَبِي رَافِعٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى نِسَائِهِ يَغْتَسِلُ عِنْدَ هَذِهِ وَعِنْدَ هَذِهِ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَجْعَلُهُ غُسْلًا وَاحِدًا آخِرًا قَالَ: «هَذَا أَزْكَى وَأطيب وأطهر» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن ابي رافع: ان النبي صلى الله عليه وسلم طاف ذات يوم على نساىه يغتسل عند هذه وعند هذه قال فقلت له يا رسول الله الا تجعله غسلا واحدا اخرا قال: «هذا ازكى واطيب واطهر» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমবার স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করে পুনরায় সহবাস করা মুসতাহাব, এ ব্যাপারে কোন মতবিরোধ নেই। ইতোপূর্বে অতিবাহিত আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস। সেখানে উল্লেখ আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমন করতেন এবং সর্বশেষে একবার গোসল করতেন।

এ হাদীসদ্বয়ের মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। বরং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় প্রতি সঙ্গমে গোসল করেছেন। আবার অন্য সময় এক গোসলে একাধিকবার সঙ্গম করেছেন। অতএব প্রতি সঙ্গমে তাঁর গোসল বর্জন করা বৈধতার জন্য এবং উম্মাতের উপর সহজতার জন্য। আর প্রতি সঙ্গমে গোসল করাটা অধিক পবিত্রতা ও পরিছন্নতার জন্য।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৭১-[২১] হাকাম ইবনু ’আমর (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের উযূর (বা গোসলের পর) অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে পুরুষদেরকে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ ও তিরমিযী)[1]

আর ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এ শব্দগুলো বেশী ব্যবহার করেছেন যে, রাবী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ’’তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন যে, মহিলাদের উযূর অবশিষ্ট পানি দিয়ে।’’ তিনি আরো বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

وَعَن الحكم بن عَمْرو قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِيُّ: وَزَادَ: أَوْ قَالَ: بِسُؤْرِهَا. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح

وعن الحكم بن عمرو قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يتوضا الرجل بفضل طهور المراة. رواه ابو داود وابن ماجه والترمذي: وزاد: او قال: بسورها. وقال: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে নারীর অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। কেননা, এ অধ্যায়ের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস এবং আরো অন্যান্য হাদীস দ্বারা মহিলার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বা গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষের উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বা গোসলের বৈধতার প্রমাণ সুস্পষ্ট।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৭২-[২২] হুমায়দ আল হিম্ইয়ারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম, যিনি চার বছর পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন, যেমন আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন পুরুষের অবশিষ্ট পানি দিয়ে স্ত্রীলোকেদের গোসল করতে এবং স্ত্রীলোকেদের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষদের গোসল করতে। পরবর্তী রাবী মুসাদ্দাদ এ কথা অতিরিক্ত বলেছেন, বরং উভয়েই যেন একই সাথে অঞ্জলি ভরে গোসল করে। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

ইমাম আহমাদ প্রথম দিকে এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, আমাদের প্রত্যেক দিন চুল আঁচড়াতে ও গোসলের জায়গায় প্রস্রাব করতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন।[2]

وَعَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ قَالَ لَقِيتُ رَجُلًا صَحِبَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَ سِنِينَ كَمَا صَحِبَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَغْتَسِلَ وَالْمَرْأَة بِفَضْلِ الرَّجُلِ أَوْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ. زَادَ مُسَدَّدٌ: وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ وَزَاد أَحْمد فِي أَوله: نهى أَنْ يَمْتَشِطَ أَحَدُنَا كُلَّ يَوْمٍ أَوْ يَبُولَ فِي مغتسل

وعن حميد الحميري قال لقيت رجلا صحب النبي صلى الله عليه وسلم اربع سنين كما صحبه ابو هريرة قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان تغتسل والمراة بفضل الرجل او يغتسل الرجل بفضل المراة. زاد مسدد: وليغترفا جميعا رواه ابو داود والنساىي وزاد احمد في اوله: نهى ان يمتشط احدنا كل يوم او يبول في مغتسل

ব্যাখ্যা: নিষেধের কারণ হলো, ..... ব্যবহৃত পানি পবিত্র পানিতে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। কেননা ব্যবহৃত পানি যদিও পবিত্র। তারপরও যেন গোসলের পানিতে পতিত না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখাই উদ্দেশ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাপাক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা

৪৭৩-[২৩] ইবনু মাজাহ্ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ’আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ)হতে।

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سرجس

ورواه ابن ماجه عن عبد الله بن سرجس

ব্যাখ্যা: ইবনু মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার অবশিষ্ট পানি থেকে পুরুষকে এবং পুরুষের অবশিষ্ট পানি থেকে মহিলাকে গোসল করতে নিষেধ করেছেন। তবে উভয়ে একত্রে গোসল করলে তা শারী‘আত সম্মত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

অপবিত্রতা মিশ্রিত পানির বিষয়ে ’আলিমগণ মতবিরোধ করেছেন। ইমাম মালিক এবং যাহিরীদের মতে পানির গন্ধ, স্বাদ এবং রং- এ তিনটি গুণ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত পানিতে নাজাসাত মিশ্রিত হলেও তা অপবিত্র হবে না চাই তা যতই কম হোক না কেন। যেহেতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পানিকে কোন বস্তুতে অপবিত্র করতে পারে না তবে যদি তার গন্ধ, রং এবং স্বাদ পরিবর্তন হয় (তাহলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে)। তারা অল্প বা বেশির মাঝে পার্থক্য করেননি বরং তাদের নিকট অপবিত্রতার মাপকাঠি হলো পানির গুণের পরিবর্তন। শাফি’ঈ এবং হানাফীদের মতে পানি দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথমত অল্প পানি যাতে অপবিত্রতা পতিত হলেই তা অপবিত্র হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত বেশি পানি যা তিনটি বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত অপবিত্র হয় না। বেশি পানির পরিমাণ নির্ধারণে মতবিরোধ রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো, পানি দুই কুল্লা বা পাঁচশত রতল হলে তা বেশি পানি বলে পরিগণিত হবে। যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পানির পরিমাণ দু’ কুল্লা হলে তা অপবিত্র হবে না।


৪৭৪-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন (বহমান নয় এমন) বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে। অতঃপর এতে গোসল করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

মুসলিম-এর অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে নাপাক অবস্থায় গোসল না করে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আবূ হুরায়রাহ্! সে কীভাবে করবে? তিনি বললেন, সে তা থেকে পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করবে।[2]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يجْرِي ثمَّ يغْتَسل فِيهِ»
وَفِى رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» . قَالُوا: كَيْفَ يَفْعَلُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يبولن احدكم في الماء الداىم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه» وفى رواية لمسلم قال: «لا يغتسل احدكم في الماء الداىم وهو جنب» . قالوا: كيف يفعل يا ابا هريرة؟ قال: يتناوله تناولا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৭৫-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَالَ فِي الْمَاءِ الراكد. رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبال في الماء الراكد. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন’’। কেননা বদ্ধ পানির পরিমাণ যদি দু’ কুল্লার কম হয় আর তার মধ্যে প্রস্রাব করা হয় তাহলে প্রস্রাব করার কারণে ঐ পানি নাপাক হয়ে যাবে। ফলে তা দ্বারা উযূ-গোসল কোনটাই বৈধ হবে না। আর তা যদি দু’ কুল্লা পরিমাণ হয় তবুও প্রস্রাব করার কারণে ঐ পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়ে তা নাপাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটার পরিমাণ দু’ কুল্লার বেশী হলে আর তাতে প্রস্রাব করার অনুমতি দিলে একের পর এক তাতে প্রস্রাব করার ফলে প্রস্রাবের আধিক্যের কারণে তা পরিবর্তন হয়ে নাপাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। ইবনু মালিক (রহঃ) বলেনঃ বদ্ধ পানিতে পায়খানা করার হুকুম প্রস্রাব করার হুকুমের মতোই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৭৬-[৩] সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ বোনপুত্র অসুস্থ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দু’আ করলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন। আমি তাঁর উযূর পানি (কিছু) পান করলাম। অতঃপর আমি তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর দুই কাঁধের মধ্যে মশারীর বা পর্দার ঘণ্টির মতো ’মুহরে নুবূওয়্যাত’ দেখতে লাগলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

وَعَن السَّائِب بن يزِيد قَالَ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لي بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَين كَتفيهِ مثل زر الحجلة

وعن الساىب بن يزيد قال: ذهبت بي خالتي الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان ابن اختي وجع فمسح راسي ودعا لي بالبركة ثم توضا فشربت من وضوىه ثم قمت خلف ظهره فنظرت الى خاتم النبوة بين كتفيه مثل زر الحجلة

ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে জানা যায় যে, উযূতে ব্যবহৃত পানি পবিত্র। কিন্তু কতিপয় হানাফীদের মতে তা অপবিত্র এবং তাদের পক্ষ হতে বলা হয় যে, তা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। কারণ, তাঁর ব্যবহারের উচ্ছিষ্ট পবিত্র। কিন্তু তাদের এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুকুম ও তার উম্মাতের হুকুম এক ও অভিন্ন। তবে হ্যাঁ, যদি এমন কোন দলীল পাওয়া যায় যা কোন বিধানকে তাঁর সাথে খাস বা নির্দিষ্টকরণের প্রমাণ বহন করে তবে তা অবশ্যই মানার দাবিদার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উযূর অবশিষ্ট পানি রসূলের সাথে নির্দিষ্ট করার কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং সর্বক্ষেত্রে সবার উযূর অবশিষ্ট পানি পবিত্র।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৭৭-[৪] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাঠে-ময়দানের (জমে থাকা) পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। সেখানে বিভিন্ন জাতের জীব-জন্তু ও হিংস্র প্রাণী এসে পানি পান করে থাকে (এসব পানি কি পাক-পবিত্র?)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দুই কুল্লা পরিমাণ পানি হলে তা নাপাক হয় না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী, ইবনু মাজাহ্)[1]

আবূ দাঊদ-এর আর এক বর্ণনার শব্দ হলো, ’’এ পানি নাপাক হয় না।’’

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلَاةِ مِنَ الْأَرْضِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ الدَّوَابّ وَالسِّبَاع فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ والدارمي وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي أُخْرَى لِأَبِي دَاوُدَ: «فَإِنَّهُ لَا ينجس»

عن ابن عمر قال سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الماء يكون في الفلاة من الارض وما ينوبه من الدواب والسباع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث» . رواه احمد وابو داود والترمذي والنساىي والدارمي وابن ماجه وفي اخرى لابي داود: «فانه لا ينجس»

ব্যাখ্যা: পানি ২ কুল্লা (পাঁচ মণ) পরিমাণ হলে তাতে নাপাক কোন বস্ত্তর সংমিশ্রণে তা নাপাক হবে না। আর ২ কুল্লা বা পাঁচ মণের কম হলে নাপাক হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৭৮-[৫] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একদিন) জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি ’’বুযা-’আহ্’’ কূপের পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে পারি? কেননা এ কূপটিতে হায়যের নেঁকড়া, মরা কুকুর ও বিভিন্ন ধরনের দুর্গন্ধময় আবর্জনা ফেলা হয়। উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পানি পবিত্র। কোন জিনিসই সেটাকে নাপাক করতে পারে না। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: قيل يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرٍ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَلُحُومُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن ابي سعيد الخدري قال: قيل يا رسول الله انتوضا من بىر بضاعة وهي بىر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب والنتن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الماء طهور لا ينجسه شيء» . رواه احمد والترمذي وابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (بُضَاعَةَ) বুযা-‘আহ্ নামক কূপে অধিক পরিমাণ পানি থাকায় কোন নাপাকী পতিত হলেও তা স্থির থাকেনি এবং পানির কোন গুণাবলীও হয়ত নষ্ট হয়নি। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কূপের পানি পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৭৯-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সমুদ্র ভ্রমণে যাই এবং সাথে সামান্য মিঠা পানি নিয়ে যাই। তাই এ পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলে খাবার পানির অভাবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ি। এ অবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের (লবণাক্ত) পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে পারি? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত জীবও হালাল। (মালিক, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أفنتوضأ من مَاء الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» . رَوَاهُ مَالك وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه والدارمي

وعن ابي هريرة قال: سال رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله انا نركب البحر ونحمل معنا القليل من الماء فان توضانا به عطشنا افنتوضا من ماء البحر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هو الطهور ماوه الحل ميتته» . رواه مالك والترمذي والنساىي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ এবং এর উপর সকল ‘উলামাহ্ একমত। তবে ইবনু ‘উমার (রাঃ) ও ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) এর বর্ণনায় আছে যে, সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন যথেষ্ট নয়। এটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত।

আর সাহাবীগণের মতামত মারফূ‘ (সহীহ) হাদীসের সাংঘর্ষিক হলে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮০-[৭] আবূ যায়দ (রহঃ) ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’জিনের রাতে’ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ’মশকে’ কী আছে? আমি বললাম, ’নবীয’। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, খেজুর পাক, পানিও পবিত্রকারী। আহমাদ ও তিরমিযী শেষের দিকে বৃদ্ধি করে বলেছেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন। (আবূ দাঊদ, আহমাদ ও তিরমিযী;[1]

ইমাম তিরমিযী বলেন, আবূ যায়দ একজন মাজহূল [অপরিচিত] লোক)

وَعَنْ أَبِي زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ لَيْلَةَ الْجِنِّ: «مَا فِي إِدَاوَتِكَ» قَالَ: قلت: نَبِيذ. فَقَالَ: «تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ: فَتَوَضَّأَ مِنْهُ
وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: أَبُو زيد مَجْهُول وَصَحَّ

وعن ابي زيد عن عبد الله بن مسعود ان النبي صلى الله عليه وسلم قال له ليلة الجن: «ما في اداوتك» قال: قلت: نبيذ. فقال: «تمرة طيبة وماء طهور» . رواه ابو داود وزاد احمد والترمذي: فتوضا منه وقال الترمذي: ابو زيد مجهول وصح

ব্যাখ্যা: (لَيْلَةَ الْجِنِّ) এটা এমন রাত, যে রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিনেরা এসেছিল। জিন্ জাতি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে গিয়েছিল যাতে দীন ইসলামের হুকুম-আহকাম শিখতে পারে।

‘নাবীয ’ দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) কর বৈধ। তবে হাদীসটি নিতান্তই য‘ঈফ। কাজেই তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা সঠিক নয়। যেমন মুসতাদরাক হাকিমে সহীহ সানাদে বর্ণিত রয়েছে, ইবনু মাস্‘উদ (রাঃ) বলেন যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম না। কাজেই উল্লিখিত হাদীসের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। অতএব, পানি না পাওয়া গেলে নাবীয  থাকলেও পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা ওয়াজিব। কারণ নাবীয কোন পানি নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮১-[৮] সহীহ সূত্রে ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ)-এর অপর ছাত্র ’আলক্বামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, ’আমি জিনের রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম না।’ (মুসলিম)[1]

عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: لَمْ أَكُنْ لَيْلَةَ الْجِنِّ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

عن علقمة عن عبد الله بن مسعود قال: لم اكن ليلة الجن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) জিনদের ঘটনা এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের শিক্ষা গ্রহণের সময় ও তার পরে কিংবা পূর্বেও তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন না। ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) বলেন যে, সে সময় (জিনদের রাত্রি) রসূলের সাথে থাকতে আমার খুব ইচ্ছা ছিল। ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর এই কথা ইবনু কুতায়বাহ্ সহ কতিপয় আলোচ্য হাদীসের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, জিনদের রাত্রিতে রসূলের নিকট ইবনু মাস্‘ঊদ ব্যতীত কেউ ছিল না তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮২-[৯] কাবশাহ্ বিনতু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)-এর পুত্রবধূ। আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি তাঁর জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র পানি ঢাললেন। একটি বিড়াল এলো এবং উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র পাত্র হতে পানি পান করতে লাগলো। আর তিনি পাত্রটি তার জন্য কাত করে ধরলেন যে পর্যন্ত পান করা শেষ না হলো। কাবশাহ্ বলেন, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, আমি তাঁর দিকে চেয়ে আছি। তিনি আমাকে বললেন, আমার ভাতিজী! তোমার কাছে আশ্চর্য লাগছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিড়াল নাপাক নয়। এটা তোমাদের আশে পাশে ঘন ঘন বিচরণকারী বা বিচরণকারিণী। (মালিক, আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَن كَبْشَة بنت كَعْب بن مَالك وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ أَبَا قَتَادَة دخل فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الْإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أخي فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّهَا لَيست بِنَجس إِنَّهَا من الطوافين عَلَيْكُم والطوافات» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ
وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

وعن كبشة بنت كعب بن مالك وكانت تحت ابن ابي قتادة: ان ابا قتادة دخل فسكبت له وضوءا فجاءت هرة تشرب منه فاصغى لها الاناء حتى شربت قالت كبشة فراني انظر اليه فقال اتعجبين يا ابنة اخي فقلت نعم فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انها ليست بنجس انها من الطوافين عليكم والطوافات» . رواه مالك واحمد والترمذي وابو داود والنساىي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: উল্লিখিত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিড়াল জাতিগতভাবেই পবিত্র এবং তার ঝুটাও নাপাক নয় এবং তা (বিড়ালের ঝুটা) দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) এমনকি তা পান করতেও কোন দোষ নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৩-[১০] দাউদ ইবনু সা-লিহ ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তার (মায়ের) মুক্তিদানকারিণী মুনীব একবার তার মাকে কিছু ’হারীসাহ্’ নিয়ে ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তার মা বলেন, আমি গিয়ে তাকে সালাতরত পেলাম। তিনি তখন আমাকে (হাত দিয়ে) ইশারা করলেন, ’তা রেখে দাও’। তখন একটি বিড়াল এলো এবং তা হতে কিছু খেল। এরপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শেষ করে বিড়ালের খাওয়া স্থান থেকেই খেলেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিড়াল নাপাক নয়। ওটা তোমাদের আশেপাশে ঘন ঘন বিচরণকারী জীব। তিনি [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] আরো বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট (পানি) দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে দেখেছি। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن دَاوُد بن صَالح بن دِينَار التمار عَنْ أُمِّهِ أَنَّ مَوْلَاتَهَا أَرْسَلَتْهَا بِهَرِيسَةٍ إِلَى عَائِشَةَ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهَا تُصَلِّي فَأَشَارَتْ إِلَيَّ أَنْ ضَعِيهَا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ فَأَكَلَتْ مِنْهَا فَلَمَّا انْصَرَفَتْ عَائِشَةُ مِنْ صَلَاتِهَا أَكَلَتْ مِنْ حَيْثُ أَكَلَتِ الْهِرَّةُ فَقَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّهَا لَيست بِنَجس إِنَّمَا هِيَ من الطوافين عَلَيْكُم» . وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يتَوَضَّأ بفضلها. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن داود بن صالح بن دينار التمار عن امه ان مولاتها ارسلتها بهريسة الى عاىشة قالت: فوجدتها تصلي فاشارت الي ان ضعيها فجاءت هرة فاكلت منها فلما انصرفت عاىشة من صلاتها اكلت من حيث اكلت الهرة فقالت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انها ليست بنجس انما هي من الطوافين عليكم» . وقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضا بفضلها. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সালাতে রত থাকা অবস্থায় প্রয়োজনীয় ইশারা বা ইঙ্গিত করা বৈধ। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক সহীহ হাদীস ইমাম তাহাবীর সেই ব্যাখ্যাকে খণ্ডন করছে। তিনি (তাহাবী) ক্বাতাদার হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন যে, বিড়ালের পবিত্রতা দ্বারা কাপড়ের সাথে স্পর্শ করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ- বিড়াল যদি কারো কাপড়ে লাগে তবে তার কাপড় নাপাক হবে না। তবে এ হাদীস দ্বারা বিড়ালের ঝুটা পবিত্র হওয়া সাব্যস্ত হবে না, যা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৪-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আমরা কি গাধার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, বরং সকল হিংস্র জানোয়ারের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়েও। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

وَعَن جَابر قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَتَوَضَّأُ بِمَا أَفْضَلَتِ الْحُمُرُ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَبِمَا أَفْضَلَتِ السِّبَاعُ كُلُّهَا» . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة

وعن جابر قال: سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم انتوضا بما افضلت الحمر؟ قال: «نعم وبما افضلت السباع كلها» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, গাধার ঝুটাও পবিত্র। কেউ বলেছেন, তা পরিপূর্ণ নাপাক। কেউ বলেছেন তা সন্দেহপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, হাদীসে গাধা বলতে গৃহপালিত গাধাকে বুঝানো হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৫-[১২] উম্মু হানী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্ (রাঃ)একটি গামলার পানি দিয়ে গোসল করেছেন, যাতে খামীরের আটার অবশিষ্ট ছিল। (নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن أم هَانِئ قَالَتْ: اغْتَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ وَمَيْمُونَةُ فِي قَصْعَةٍ فِيهَا أَثَرُ الْعَجِين. رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعن ام هانى قالت: اغتسل رسول الله صلى الله عليه وسلم هو وميمونة في قصعة فيها اثر العجين. رواه النساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: উল্লেখ্য যে, উক্ত পাত্রে খামিরের পরিমাণ খুব বেশী ছিল না যে, পানির পরিবর্তন সাধন করবে। কাজেই সামান্য পবিত্র বস্ত্তর মিশ্রণে পানি অপবিত্র হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৬-[১৩] ইয়াহ্ইয়া ইবনু ’আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) এক কাফিলার সাথে বের হলেন। এদের মধ্যে ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ)-ও ছিলেন। পথ চলতে চলতে তারা একটি হাওযের কাছে পৌঁছলেন। তখন ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) বললেন, হে হাওযের মালিক! তোমার হাওযে হিংস্র জন্তুরাও কি পানি পান করতে আসে? ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, হে হাওযের মালিক! আমাদেরকে এ সংবাদ দিও না। এ পানির ঘাটে কখনো আমরা আসি আর কখনো আসে জন্তু জানোয়ার (তাতে অসুবিধা কী?)। (মালিক)[1]

عَن يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: إِنَّ عُمَرَ بن الْخطاب خَرَجَ فِي رَكْبٍ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ حَتَّى وَرَدُوا حَوْضًا فَقَالَ عَمْرُو: يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ هَلْ تَرِدُ حَوْضَكَ السِّبَاعُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ لَا تُخْبِرْنَا فَإِنَّا نَرِدُ عَلَى السِّبَاعِ وَتَرِدُ عَلَيْنَا. رَوَاهُ مَالك

عن يحيى بن عبد الرحمن قال: ان عمر بن الخطاب خرج في ركب فيهم عمرو بن العاص حتى وردوا حوضا فقال عمرو: يا صاحب الحوض هل ترد حوضك السباع فقال عمر بن الخطاب يا صاحب الحوض لا تخبرنا فانا نرد على السباع وترد علينا. رواه مالك

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে হিংস্র প্রাণীর ঝুটা পবিত্র হওয়াই প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এ হাদীসের সমর্থনেও হাদীস বিদ্যমান। ইবনু মাজায় আবূ সা‘ঈদ  (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, হিংস্র প্রাণী যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করেছে তা তার পেটে। আর যা অবশিষ্ট রয়েছে তা আমাদের জন্য পবিত্র ও পানীয়। (পান করার যোগ্য)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৭-[১৪] ইমাম রযীন (রহঃ) এ হাদীসটিকে আরো বৃদ্ধি করে বর্ণনা করে বলেছেনঃ কোন কোন বর্ণনাকারী ’উমারের কথার মধ্যে এ কথাও উল্লেখ করেছেন, ’’আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তা থেকে জন্তু জানোয়ার পেটে যা নিয়েছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পাক-পবিত্র ও পানীয়।

وَزَاد رزين قَالَ: زَاد بعض الروَاة فِي قَول عمر: وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَهَا مَا أَخَذَتْ فِي بُطُونِهَا وَمَا بَقِي فَهُوَ لنا طهُور وشراب»

وزاد رزين قال: زاد بعض الرواة في قول عمر: واني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لها ما اخذت في بطونها وما بقي فهو لنا طهور وشراب»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের ব্যাখ্যা ৪৮৬ নং দ্রষ্টব্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৮-[১৫] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা ও মদীনার মধ্যে অবস্থিত কূপগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, এসব কূপে জন্তু-জানোয়ার, কুকুর ও গাধা পানি পান করতে আসে। এগুলোর পানি কি পবিত্র? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জন্তু-জানোয়াররা পেটে যা গ্রহণ করেছে তা তাদের জন্য, আর যা অবশিষ্ট আছে তা আমাদের জন্য পবিত্র। (ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنِ الْحِيَاضِ الَّتِي بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ تَرِدُهَا السبَاع وَالْكلاب والحمر وَعَن الطُّهْرِ مِنْهَا فَقَالَ: لَهَا مَا حَمَلَتْ فِي بُطُونِهَا وَلَنَا مَا غَبَرَ طَهُورٌ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه

وعن ابي سعيد الخدري ان النبي صلى الله عليه وسلم سىل عن الحياض التي بين مكة والمدينة تردها السباع والكلاب والحمر وعن الطهر منها فقال: لها ما حملت في بطونها ولنا ما غبر طهور. رواه ابن ماجه

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পানির বিবরণ

৪৮৯-[১৬] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রোদে গরম করা পানি দিয়ে গোসল করো না। কারণ এ পানি শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগ সৃষ্টি করে। (দারাকুত্বনী)[1]

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: لَا تَغْتَسِلُوا بِالْمَاءِ الْمُشَمَّسِ فَإِنَّهُ يُورِثُ البرص. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: لا تغتسلوا بالماء المشمس فانه يورث البرص. رواه الدارقطني

ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সূর্যের পানি (সূর্যের কিরণে উত্তপ্ত) দ্বারা গোসল করা মাকরূহ। তবে শাফি‘ঈ মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো সূর্যের পানি কম বা বেশী হোক, শরীরে তা ব্যবহার করা মাকরূহ। তবে ইমাম শাফি‘ঈ-এর পরবর্তী অনুসারীদের মতে তা মাকরূহ নয় এবং এটাই অন্য তিন ইমামদের মত এবং অগ্রগণ্য মত।

কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কোন সহীহ দলীল নেই। আর সব বিষয় মৌলিকভাবে বৈধতার উপরই থাকবে যতক্ষণ না শারী‘আত কর্তৃক অবৈধতা বা মাকরূহাতের প্রমাণ পাওয়া যাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর পানি পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয়। (বুখারী ও মুসলিম;[1]

মুসলিম-এর অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধুয়ে নেয় এবং এর প্রথমবার মাটি দিয়ে।)[2]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاء أحدكُم فليغسله سبع مَرَّات»
وَفِى رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ»

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا شرب الكلب في اناء احدكم فليغسله سبع مرات» وفى رواية لمسلم: «طهور اناء احدكم اذا ولغ فيه الكلب ان يغسله سبع مرات اولاهن بالتراب»

ব্যাখ্যা: সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের এ হাদীস হতে প্রমাণ হয় যে, কুকুর কোন পাত্রে পান করলে অথবা মুখ দিলে উক্ত পাত্রটি সাতবার ধুতে হবে। প্রথমবার মাটি দ্বারা ধুতে হবে। তবে হানাফী মাযহাব অনুসারে তিনবার ধৌত করলে যথেষ্ট হবে। যেমন কাপড়ে পায়খানা লাগলে তিনবার ধৌত করলে যথেষ্ট হয়। আর মাটি দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

এ কথা বলা সমীচীন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাটি দিয়ে ধৌত করার নির্দেশের মধ্যে উপকার নিহিত আছে। সেটি হলো কুকুরের ঝুটার মধ্যে বিষ থাকে। মাটি দিয়ে ঘষা দিলে উক্ত বিষ দূর হয়ে যায়। এ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম এবং অন্যান্য সুনানের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকল প্রকার রায়-ক্বিয়াস পরিহার করে বর্ণিত হাদীসের উপর ‘আমল করাটাই উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯১-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক বেদুইন মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা তাকে ঘিরে ধরলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও এবং প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমাদেরকে (মানুষের জন্য) সহজ পন্থা অবলম্বনকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা সৃষ্টিকারীরূপে নয়। (বুখারী)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَتَنَاوَلَهُ النَّاسُ فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعُوهُ وَهَرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ سَجْلًا مِنْ مَاءٍ أَوْ ذَنُوبًا مِنْ مَاءٍ فَإِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعنه قال: قام اعرابي فبال في المسجد فتناوله الناس فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: «دعوه وهريقوا على بوله سجلا من ماء او ذنوبا من ماء فانما بعثتم ميسرين ولم تبعثوا معسرين» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: মানুষের প্রস্রাব অপবিত্র। যার কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে জনৈক লোক গ্রামের প্রস্রাব করায় পানি দিয়ে পবিত্র করতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের আদেশ দান করেন। এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের প্রতি দয়ার গুণাবলী ফুটে উঠে। লোকটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্দর আচরণ ও ব্যবহারে মাসজিদ থেকে বের হয়ে কালিমায়ে তাওহীদ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সারা বিশ্ববাসীর জন্য রহমাত স্বরূপ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকটিকে মসজিদের পবিত্রতা বর্ণনা করেন এবং মাসজিদ নির্মাণের লক্ষ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বুঝ দান করেন। ঐ লোকটির নাম আক্বরা‘ ইবনু হাবিস আত্ তামীমী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯২-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মসজিদে (নাবাবীতে) ছিলাম। এমন সময় জনৈক বেদুইন এসে মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে লাগলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বলে উঠলেন, থামো, থামো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে প্রস্রাব করতে বাধা দিও না, তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও। তাই সাহাবীগণ তাকে ছেড়ে দিলেন। সে প্রস্রাব করা শেষ করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, এ মাসজিদসমূহে প্রস্রাব ও অপবিত্রকরণের কোন কাজ করা জায়িয নয়। বরং এটা শুধু আল্লাহর যিকর, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ও কুরআন পাঠের জন্য। (রাবী বলেন) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঠিক এ বাক্য বা অনুরূপ কিছু বলেছেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে উপস্থিত একজনকে নির্দেশ দিলেন সে এক বালতি পানি এনে (প্রস্রাবের উপর) ঢেলে দিল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَن أنس قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَامَ يَبُولُ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَهْ مَه قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزْرِمُوهُ دَعُوهُ» فَتَرَكُوهُ حَتَّى بَالَ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تصلح لشَيْء من هَذَا الْبَوْل وَلَا القذر إِنَّمَا هِيَ لذكر الله عز وَجل وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ» أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأمر رَجُلًا مِنَ الْقَوْمِ فَجَاءَ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فسنه عَلَيْهِ

وعن انس قال: بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ جاء اعرابي فقام يبول في المسجد فقال اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم مه مه قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تزرموه دعوه» فتركوه حتى بال ثم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه فقال له: «ان هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول ولا القذر انما هي لذكر الله عز وجل والصلاة وقراءة القران» او كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فامر رجلا من القوم فجاء بدلو من ماء فسنه عليه

ব্যাখ্যা: (لَا تُزْرِمُوْهُ) ‘‘তাকে প্রস্রাব করতে বাধা দিও না।’’ কেননা প্রস্রাব মাঝখানে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা প্রস্রাবকারীর জন্য ক্ষতির কারণ হয় এবং এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেলে প্রস্রাব তার শরীরে ও কাপড়ে লেগে তাকে নাপাক করে দিবে।

(إِنَّ هذِهِ الْمَسَاجِدَ) ‘‘এ মাসজিদসমূহ।’’ ‘মাসজিদ’ শব্দটি বহুবচনে উল্লেখ করেছেন যাতে কেউ এ সন্দেহে নিপতিত না হয় যে, এ হুকুম মসজিদে নাবাবীর জন্য খাস।

(إِنَّمَا هِىَ لِذِكْرِ اللهِ) ‘‘মাসজিদসমূহ আল্লাহর যিকিরের (জিকিরের) জন্য তৈরি করা হয়েছে।’’ ইমাম শাওকানী নায়লুল আওত্বার-এ (১/৪৩) বলেনঃ ‘‘মাসজিদসমূহ আল্লাহর যিকিরের (জিকিরের) জন্য’’। এ সীমাবদ্ধ উক্তি এ ইঙ্গিত বহন করে যে, তাতে হাদীসে উল্লেখিত প্রস্রাব ও ময়লা-আবর্জনা ব্যতীতও অনুরূপ কাজ যেমন- থু থু ফেলা, উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা, ঝগড়া করা, বেচা-কেনা করা, হারানো বস্ত্ত সন্ধান করা এবং যে সমস্ত কথার মধ্যে আল্লাহর যিকর নেই- এ রকম কথাবার্তা বলাও বৈধ নয়। তবে যে সমস্ত কাজের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য রয়েছে যেমন- ই‘তিকাফের জন্য বসা, ‘ইলম চর্চা করা, ওয়ায শ্রবণ করার জন্য বসা, সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকা এ সমস্ত কার্যাবলী বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেন। আর যে সমস্ত কাজের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য নেই- এ ধরনের সকল কাজই মসজিদে অবৈধ।

(فَسَنَّه عَلَيْهِ) ‘‘প্রস্রাবের উপর পানি ঢেলে দিলেন।’’ এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মাটির উপরে পতিত নাপাক বস্ত্ত যদি অধিক পরিমাণে পানি ঢেলে দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয় তাহলে ঐ জায়গা পবিত্র হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৩-[৪] আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কারও যদি কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগে, তখন সে কি করবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লেগে গেলে, সে আঙ্গুল দিয়ে তা খুঁটে ফেলবে। অতঃপর পানি ঢেলে ধুয়ে নিবে। তারপর তাতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصّديق أَنَّهَا قَالَتْ: سَأَلَتِ امْرَأَةٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إحدانا إِذا أصَاب ثوبها الدَّم من الْحَيْضَة كَيْفَ تَصَنُّعُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذا أصَاب ثوب إحداكن الدَّم مِنَ الْحَيْضَةِ فَلْتَقْرُصْهُ ثُمَّ لِتَنْضَحْهُ بِمَاءٍ ثُمَّ لتصلي فِيهِ»

وعن اسماء بنت ابي بكر الصديق انها قالت: سالت امراة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ارايت احدانا اذا اصاب ثوبها الدم من الحيضة كيف تصنع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اصاب ثوب احداكن الدم من الحيضة فلتقرصه ثم لتنضحه بماء ثم لتصلي فيه»

ব্যাখ্যা: বর্ণিত হাদীস প্রমাণ করে যে, হায়যের রক্ত অপবিত্র। হায়যের রক্ত কাপড়ে লাগলে এবং শুকিয়ে গেলে হাতের নখ দিয়ে রক্ত উঠিয়ে পানি দিয়ে ধৌত করলে সে কাপড় পরে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৪-[৫] সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে কাপড়ে লেগে থাকা মানী (বীর্য) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় থেকে মানী ধুয়ে দিতাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের উদ্দেশে বের হতেন, অথচ তাঁর (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কাপড়ে বীর্যের ’আলামত দেখা যেত। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَتْ كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَخْرُجُ إِلَى الصَّلَاةِ وَأَثَرُ الْغَسْلِ فِي ثَوْبه بقع المَاء

وعن سليمان بن يسار قال: سالت عاىشة عن المني يصيب الثوب فقالت كنت اغسله من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيخرج الى الصلاة واثر الغسل في ثوبه بقع الماء

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, কাপড়ে বীর্য লেগে থাকা ত্বাহারাতের অনুকূল নয়। সে কারণে মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড়ে লেগে থাকা বীর্য ধুয়ে দিতেন। ধুয়ে দেবার কারণে ঐ স্থানটি ভেজা থাকায় বীর্যের আলামত বুঝা যেত। এমন নয় যে, বীর্য লেগে থাকতো। বীর্য তরল অবস্থায় থাকুক বা শুকিয়ে যাক ধুয়ে ফেলাই এ হাদীস শিক্ষা। আর ইমাম শাওকানী (রহঃ) নায়নুল আওত্বার-এর মধ্যে বলেনঃ সেটা ধৌত করা ওয়াজিব প্রমাণ হয় না। মানী শুকিয়ে গেলে নখ দিয়ে খুঁটিয়ে ফেললেই সেটা পাক হয়ে যায়। আর তরল থাকলে দাগ দূর করার জন্য পানি দিয়ে ধৌত করে নিবে। আর এটা ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল-এরও মত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৫-[৬] আসওয়াদ ও হাম্মাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় হতে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম। (মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَن الْأسود وَهَمَّام عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسلم

وعن الاسود وهمام عن عاىشة قالت: كنت افرك المني من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (كُنْتُ اَفْرُكُ الْمَنِىَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ) ‘‘আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় হতে বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতাম।’’ এ হাদীস দ্বারা ইমাম শাফি‘ঈ, আহমাদ, দাঊদ ও ইসহাক (রহঃ) প্রমুখ ইমামগণ দলীল পেশ করেছেন যে, বীর্য পবিত্র, তা নাপাক নয়। কেননা তা যদি নাপাক হত তাহলে শুধুমাত্র আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ঘষে সেটার দাগ মিশিয়ে ফেলা যথেষ্ট হত না। অবশ্যই তা ধুতে হত। নতুবা ঐ কাপড়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা বৈধ হত না। কেননা আঙ্গুল দিয়ে যতই ঘষা হোক তাতে বীর্য দূরীভূত হয় না বরং তা শুধুমাত্র সেটার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কিন্তু কাপড়ে সেটার অংশ থেকেই যায়। এতে বুঝা গেল যে, বীর্য পবিত্র।

আর যারা বলেন যে, বীর্য অপবিত্র তথা নাপাক তারা বলেনঃ এ হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, বীর্য পবিত্র। বরং এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, বীর্য লাগা কাপড় পবিত্র করার জন্য তা ধোয়া জরুরী নয় বরং বীর্য খুঁটে ফেললেও কাপড় পবিত্র হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৬-[৭] ’আলক্বামাহ্ ও আসওয়াদ (রহঃ) কর্তৃক ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসও অনুরূপ। তবে তাতে আরো আছে, ’’অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে কাপড় পড়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন।’’[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَبِرِوَايَةِ عَلْقَمَةَ وَالْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَهُ وَفِيهِ: ثمَّ يُصَلِّي فِيهِ

وبرواية علقمة والاسود عن عاىشة نحوه وفيه: ثم يصلي فيه

ব্যাখ্যা: (ثُمَّ يُصَلِّيْ فَيْهِ) ‘‘অতঃপর তিনি সে কাপড় পরে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন।’’ অর্থাৎ- যে কাপড় থেকে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বীর্য খুঁটে তুলে ফেলতেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কাপড় পড়েই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ধোয়ার প্রয়োজন মনে করতেন না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৭-[৮] উম্মু ক্বায়স বিনতু মিহসান (রাঃ)হতে বর্ণিত। একদিন তিনি তার একটি শিশু নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হলেন (পুত্র শিশুটি মায়ের দুধের বিকল্প খাদ্য গ্রহণে অনুপযুক্ত ছিল)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আপন কোলে বসালেন। শিশুটি তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি আনালেন, প্রস্রাবের উপর পানি ঢেলে দিলেন, ধুলেন না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَن أم قيس بنت مُحصن: أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَجْلَسَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حِجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاء فنضحه وَلم يغسلهُ

وعن ام قيس بنت محصن: انها اتت بابن لها صغير لم ياكل الطعام الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجلسه رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجره فبال على ثوبه فدعا بماء فنضحه ولم يغسله

ব্যাখ্যা: দুগ্ধ পানকারী শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে কাপড় ধৌত করার প্রয়োজন নেই। পানি ছিটিয়ে দিলেই পবিত্রতা অর্জন হয়ে যায়। কিন্তু মেয়ে হলে কাপড় ধৌত করতে হবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলে ও মেয়ের প্রস্রাবের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। মেয়েদের প্রস্রাব গাঢ় এজন্য কাপড়ে লাগলে ধৌত করতে বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে হানাফী মাযহাব মতে ছেলে-মেয়ের প্রস্রাবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ফলে তাদের মাযহাব কাপড়ে প্রস্রাব লাগলে ধৌত করতে হবে। তারা পানি ছিটানোকে ধৌত করার অর্থে ব্যবহার করে, যা হাদীসের পরিপূর্ণ বিপরীত। আর হাসান বসরী হতে আবূ দাঊদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে কাপড় ধৌত করতে হবে।

উম্মু ক্বায়স-এর হাদীসে প্রমাণ করে যে, ছোট বাচ্চা খানা খায় না তার প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে শুধু পানি ছিটিয়ে দিলেই হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৮-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ (কাঁচা) চামড়া যখন পাকা (প্রক্রিয়াজাত) করা হয়, তখন তা পাক হয়ে যায়। (মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «إِذَا دُبِغَ الْإِهَابُ فَقَدْ طَهُرَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن عبد الله بن عباس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اذا دبغ الاهاب فقد طهر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: প্রত্যেক জানোয়ার যার গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) হালাল সেগুলোর চামড়া রং করলে পবিত্র হয়ে যায়। চামড়াতে রং লাগানোর অর্থ চামড়ার দুর্গন্ধ দূর করা ও তরল নাপাকী দূর করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৪৯৯-[১০] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার খালা) মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর এক মুক্তদাসীকে একটি বকরী দান করা হলো। পরে সেটি মারা গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দিয়ে যাবার সময় বললেন, তোমরা বকরীর চামড়াটা খুলে নিয়ে পাকা করলে না, অথচ এটা কাজে লাগাতে পারতে। তারা বলল, এটা যে মৃত! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা শুধু খাওয়াই হারাম করা হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَن ابْن عبَّاس قَالَ: تُصُدِّقَ عَلَى مَوْلَاةٍ لِمَيْمُونَةَ بِشَاةٍ فَمَاتَتْ فَمَرَّ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «هَلَّا أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا فَدَبَغْتُمُوهُ فَانْتَفَعْتُمْ بِهِ» فَقَالُوا: إِنَّهَا مَيْتَةٌ فَقَالَ: «إِنَّمَا حُرِّمَ أكلهَا»

وعن ابن عباس قال: تصدق على مولاة لميمونة بشاة فماتت فمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «هلا اخذتم اهابها فدبغتموه فانتفعتم به» فقالوا: انها ميتة فقال: «انما حرم اكلها»

ব্যাখ্যা: মৃত ছাগল বা গরুর চামড়া রং করলে পবিত্র হয়ে যায়, তবে এটার গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) কেবল হারাম করা হয়েছে। চামড়া দ্বারা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা বৈধ আছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০০-[১১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী সাওদাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একটি বকরী মারা গেলে আমরা এর চামড়াটা পাকা করলাম। অতঃপর আমরা সব সময় এতে ’নবীয’ বানাতে থাকি, যা পরবর্তীতে একটা পুরান মশকে পরিণত হলো। (বুখারী)[1]

بَابُ تَطْهِيْرِ النَّجَاسَاتِ

وَعَنْ سَوْدَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: مَاتَتْ لَنَا شَاةٌ فَدَبَغْنَا مَسْكَهَا ثُمَّ مَا زِلْنَا نَنْبِذُ فِيهِ حَتَّى صَارَ شنا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن سودة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: ماتت لنا شاة فدبغنا مسكها ثم ما زلنا ننبذ فيه حتى صار شنا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (فَدَبَغْنَا مَسْكَهَا) ‘‘আমরা সেটার চামড়া (দাবাগত) পাকা করলাম।’’ (ثُمَّ مَازِلْنَا نَنْبِذُ فِيْهِ) ‘‘এরপর আমরা অব্যাহতভাবে এ চামড়ার তৈরি মশকে নাবীয বানাতে থাকি।’’ অর্থাৎ- তাতে আমরা খেজুর ভিজিয়ে রেখে ঐ পানি পান করতাম। এতে প্রমাণিত হয় যে, যে সকল পশুর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়া হালাল ঐ পশু মারা গেলে তার চামড়া খুলে নিয়ে দাবাগাত (পাকা) করলে তা পবিত্র হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০১-[১২] লুবাবাহ্ বিনতু হারিস (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুসায়ন ইবনু ’আলী (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি অন্য কাপড় পরে নিন এবং আমাকে আপনার কাপড়টি দিন, আমি তা ধুয়ে দেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার উত্তরে বললেন, মেয়েদের প্রস্রাব ধুতে হয়। ছেলেদের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটিয়ে দিলেই হয়। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

عَن لبَابَة بنت الْحَارِث قَالَتْ: كَانَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَبَال عَلَيْهِ فَقُلْتُ الْبَسْ ثَوْبًا وَأَعْطِنِي إِزَارَكَ حَتَّى أَغْسِلَهُ قَالَ: «إِنَّمَا يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْأُنْثَى وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الذَّكَرِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْن مَاجَه

عن لبابة بنت الحارث قالت: كان الحسين بن علي رضي الله عنهما في حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم فبال عليه فقلت البس ثوبا واعطني ازارك حتى اغسله قال: «انما يغسل من بول الانثى وينضح من بول الذكر» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (اِنَّمَا يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْاُنْثى وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الذَّكَرِ) ‘‘শুধুমাত্র মেয়েদের প্রস্রাব ধুতে হয়। আর ছেলেদের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটিয়ে দিলেই হয়।’’ অর্থাৎ- ছেলেদের প্রস্রাবযুক্ত কাপড়ের উপর পানি ছিটিয়ে দিলেই তা পবিত্র হয়ে যায় ধোয়ার প্রয়োজন নেই যেমনটি মেয়েদের প্রস্রাবযুক্ত কাপড় ধুতে হয়। অত্র হাদীস সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ছেলে শিশু আর মেয়ে শিশুদের প্রস্রাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ছেলে শিশুদের প্রস্রাবের উপর পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট নয়। অবশ্যই তা ধুতে হবে। আর এ পার্থক্য ততদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতদিন ঐ শিশু দুধ ছাড়া অন্য কোন খাবার না খায়। যখনই দুধ ছাড়া অন্যকোন খাবার খাওয়া শুরু করবে তখন আর এ পার্থক্য থাকবে না। অর্থাৎ- তখন ছেলের প্রস্রাবযুক্ত কাপড়ও ধুতে হবে। তখন আর শুধুমাত্র পানি ছিটিয়ে দিলে যথেষ্ট হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০২-[১৩] আবূ দাঊদ ও নাসায়ীর এক বর্ণনায় আবুস্ সাম্‌হ হতে এ শব্দগুলো অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মেয়ে শিশুদের প্রস্রাব ধুতে হয়। আর ছেলে শিশুদের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হয়।[1]

وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ وَالنَّسَائِيِّ عَنْ أَبِي السَّمْحِ قَالَ: يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَيُرَشُّ من بَوْل الْغُلَام

وفي رواية لابي داود والنساىي عن ابي السمح قال: يغسل من بول الجارية ويرش من بول الغلام

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৩-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নিজের জুতা দিয়ে অপবিত্র জিনিস মাড়ায়, তখন মাটিই এর জন্য পবিত্রকারী। (আবূ দাঊদ)[1] ইবনু মাজাহ্ও অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَطِئَ أَحَدُكُمْ بِنَعْلِهِ الْأَذَى فَإِنَّ التُّرَابَ لَهُ طَهُورٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ. وَلِابْنِ مَاجَه مَعْنَاهُ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وطى احدكم بنعله الاذى فان التراب له طهور» . رواه ابو داود. ولابن ماجه معناه

ব্যাখ্যা: রাস্তায় চলতে চলতে জুতায় নাপাকী লাগলে, অতঃপর পবিত্র মাটিতে হাঁটলে বা মাটিতে ঘষা দিলে সেটা পবিত্র হয়ে যায়। হাদীসটি সুনানে আবূ দাঊদে ও ইবনু মাজায় বর্ণিত হয়েছে। উক্ত হাদীস হতে আরো বুঝা যায় যে, জুতায় নাপাক কিছু লাগলে সেটা কিছু দ্বারা দূর করে দিলে জুতা পবিত্র হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) এ হাদীসকে অমান্য করেছেন, কারণ তিনি ক্বিয়াসকে হাদীসের উপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর মাযহাব বলে জুতা ধৌত করা ছাড়া পবিত্র হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৪-[১৫] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁকে এক মহিলা এসে বললো, আমি আমার কাপড়ের আঁচল নিচে লম্বা করে দেই, আর অপবিত্র জায়গায় চলি (এখন আমি কী করব?) তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরের পবিত্র জায়গার মাটি এটাকে পবিত্র করে দেয়। (মালিক, আহা্মাদ ও তিরমিযী)[1]

আবূ দাঊদ ও দারিমী বলেন, প্রশ্নকারী মহিলা ছিলেন ইব্রাহীম ইবনু ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ-এর উম্মু ওয়ালাদ বা সন্তানের মা।

وَعَن أم سَلمَة قَالَتْ لَهَا امْرَأَةٌ: إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالا: الْمَرْأَة أم ولد لإِبْرَاهِيم ابْن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف

وعن ام سلمة قالت لها امراة: اني امراة اطيل ذيلي وامشي في المكان القذر قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يطهره ما بعده» . رواه مالك واحمد والترمذي وابو داود والدارمي وقالا: المراة ام ولد لابراهيم ابن عبد الرحمن بن عوف

ব্যাখ্যা: অপবিত্র রাস্তায় মহিলাদের কাপড়ের আঁচল ঘষা লেগে অপবিত্র হলে পরবর্তী রাস্তা যদি পবিত্র হয় তবে তার উপর হাঁটতে হাঁটতে পবিত্র হয়ে যায়। সে স্থান শুকনা হোক বা কাদা যুক্ত হোক কাপড় ধৌত করার প্রয়োজন নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৫-[১৬] মিক্বদাম ইবনু মা’দীকারীব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র জন্তুর চামড়া পরতে ও এর উপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن الْمِقْدَام بن معدي كرب قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لُبْسِ جُلُودِ السِّبَاعِ وَالرُّكُوبِ عَلَيْهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن المقدام بن معدي كرب قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن لبس جلود السباع والركوب عليها. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (نَهى عَنْ لُّبْسِ جُلُوْدِ السِّبَاعِ) ‘‘হিংস্র প্রাণীর চামড়া পরতে ও এর উপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন।’’ অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করা অবৈধ। কেননা তা অহংকারী লোকেদের কাজ। অনুরূপ এতে রয়েছে অপব্যয়। অত্র হাদীস এও প্রমাণ করে যে, পাকা করার ফলে হিংস্র প্রাণীর চামড়া পবিত্র হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৬-[১৭] আবুল মালীহ ইবনু উসামাহ্ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী;[1]

কিন্তু তিরমিযী ও দারিমীর বর্ণনায় আরো আছে এবং তা বিছাতে [বিছানা বা গদী হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন]।)[2]

وَعَنْ أَبِي الْمَلِيحِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نَهَى عَنْ جُلُودِ السِّبَاعِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ وَزَاد التِّرْمِذِيّ والدارمي: أَن تفترش

وعن ابي المليح بن اسامة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم: نهى عن جلود السباع. رواه احمد وابو داود والنساىي وزاد الترمذي والدارمي: ان تفترش

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৭-[১৮] আবুল মালীহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিংস্র জন্তুর চামড়ার মূল্য অপছন্দ করতেন। (তিরমিযী)[1]

وَعَن أبي الْمليح: أَنه ذكره ثمن جُلُود السبَاع. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي اللبَاس من جَامعه وَسَنَده جيد

وعن ابي المليح: انه ذكره ثمن جلود السباع. رواه الترمذي في اللباس من جامعه وسنده جيد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৮-[১৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উকায়ম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ মর্মে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র এসেছেঃ তোমরা মৃত জীবজন্তুর চামড়া ও রগ দ্বারা ফায়দা উঠাবে না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن عبد الله بن عكيم قَالَ: أَتَانَا كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْ لَا تَنْتَفِعُوا مِنَ الْمَيْتَةِ بِإِهَابٍ وَلَا عَصَبٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عبد الله بن عكيم قال: اتانا كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لا تنتفعوا من الميتة باهاب ولا عصب» . رواه الترمذي وابو داود والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে হিংস্র পশুর চামড়া ও রগ (শিরা) ব্যবহার করতে; কেননা সেটা অপবিত্র। তবে হাদীসটি দুর্বল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫০৯-[২০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত জীবের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর এর থেকে উপকৃত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মালিক ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَرَ أَنْ يُسْتَمْتَعَ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ إِذَا دُبِغَتْ. رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُد

وعن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم: امر ان يستمتع بجلود الميتة اذا دبغت. رواه مالك وابو داود

ব্যাখ্যা: মৃত পশুর চামড়া রং করলে পবিত্র হয়ে যায়। আর সেটা দ্বারা ফায়দা উঠানো যাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১০-[২১] মায়মূনাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শ গোত্রের কিছু লোক গাধার মতো বড় একটি মৃত বকরীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি এর চামড়া ছিলে নিতে (তাহলে হয়তো তোমাদের কাজে লাগতো)। তারা বলল, এটা তো মৃত (যাবাহ করা নয়)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পানি এবং সলম গাছের পাতা একে পবিত্র করে। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن مَيْمُونَة مر على النَّبِي الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجَالٌ مِنْ قُرَيْشٍ يَجُرُّونَ شَاةً لَهُمْ مِثْلَ الْحِمَارِ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا» قَالُوا إِنَّهَا مَيْتَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُطَهِّرُهَا الْمَاءُ والقرظ» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن ميمونة مر على النبي الله صلى الله عليه وسلم رجال من قريش يجرون شاة لهم مثل الحمار فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو اخذتم اهابها» قالوا انها ميتة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يطهرها الماء والقرظ» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: মৃত ছাগলের বা গরুর চামড়া খুলে নেয়া জায়িয আছে। পানি বাবলা পাতা দ্বারা ধৌত করলে বা রং করলে পবিত্র হয়ে যায়। রং দেয়ার মধ্যে পানি ব্যবহার প্রয়োজন হয় বিধায় তাতে ময়লা ও অপবিত্রতা দূর হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১১-[২২] সালামাহ্ ইবনুল মুহাব্বিক্ব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবূকের যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পরিবারের নিকট গেলেন। সেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মশক লটকানো দেখতে পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (তাত্থেকে) পানি চাইলেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো মরা (জন্তুর পাকা করা) চামড়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটাকে দাবাগত করাই হলো এর পবিত্রতা। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن سَلمَة ابْن المحبق: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَة تَبُوك أَتَى على بَيْتٍ فَإِذَا قِرْبَةٌ مُعَلَّقَةٌ فَسَأَلَ الْمَاءَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيْتَةٌ: «فَقَالَ دِبَاغُهَا طهورها» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن سلمة ابن المحبق: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك اتى على بيت فاذا قربة معلقة فسال الماء فقالوا يا رسول الله انها ميتة: «فقال دباغها طهورها» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: তাবূক যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাড়ীর লটকানো মশকের কাছে এসে পানি চাইলেন। লোকেরা বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! মশকটি মৃত পশুর থেকে তৈরি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সেটা রং করায় পবিত্র হয়ে গেছে। ইমাম খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মৃত কিংবা জীবিত পশুর চামড়া রং করলে পবিত্র হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১২-[২৩] ’আবদুল আশহাল বংশের জনৈকা রমণী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! মসজিদের দিকে আমাদের (চলাচলের পথে) একটি অতি গন্ধময় রাস্তা আছে। সেখানে বৃষ্টি হবার পর আমরা কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করবো? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মসজিদের দিকে যাওয়ার জন্য পূর্বের চেয়ে আর কোন ভালো পবিত্র পথ পড়বে না? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটাই হলো ওটার বদলা (অর্থাৎ- পরবর্তী রাস্তার পবিত্র মাটি দিয়ে লেগে থাকা নাপাকী পবিত্র হয়ে যাবে)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَنَا طَرِيقًا إِلَى الْمَسْجِد مُنْتِنَة فَكيف نَفْعل إِذا مُطِرْنَا قَالَ: «أَلَيْسَ بعْدهَا طَرِيق هِيَ أطيب مِنْهَا قَالَت قلت بلَى قَالَ فَهَذِهِ بِهَذِهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن امراة من بني عبد الاشهل قالت: قلت: يا رسول الله ان لنا طريقا الى المسجد منتنة فكيف نفعل اذا مطرنا قال: «اليس بعدها طريق هي اطيب منها قالت قلت بلى قال فهذه بهذه» . رواه ابو داود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১৩-[২৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতাম। অথচ (পবিত্র মাটির) রাস্তায় চলার কারণে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতাম না। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا نَتَوَضَّأ من الموطئ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عبد الله بن مسعود قال: كنا نصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نتوضا من الموطى. رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: বর্ণিত হাদীস হতে বুঝা যায় যে, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর অপবিত্র স্থানে হাঁটলে উযূনষ্ট হয় না। তবে কেউ এখানে উযূকে আভিধানিক অর্থে নিয়েছেন। সুতরাং তারা হাদীসের অর্থ দ্বারা এখানে বুঝাতে চান যে, শুষ্ক নাপাক স্থানে হেঁটে গেলে তার পা ধৌত করা লাগবে না। আবূ দাঊদ-এর একটি বর্ণনায় আছে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা উযূ করতাম না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১৪-[২৫] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে (নাবাবীতে) কুকুর চলাচল করতো। অথচ সাহাবীগণ (কুকুর হাঁটার জায়গায়) কোন পানি ছিটাতেন না (ধুইতেন না)। (বুখারী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَتِ الْكِلَابُ تُقْبِلُ وَتُدْبِرُ فِي الْمَسْجِدِ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَكُونُوا يَرُشُّونَ شَيْئا من ذَلِك. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عمر قال: كانت الكلاب تقبل وتدبر في المسجد في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يكونوا يرشون شيىا من ذلك. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে কুকুর যাতায়াত করতো। কুকুরের শরীর শুষ্ক থাকার কারণে মসজিদে পানি ছিটিয়ে দেয়া হতো না। আর ঐ সময়ে মসজিদে দরজা ছিল না। তবে ধৌত করলে দোষের কিছু হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১৫-[২৬] বারা (ইবনু ’আযিব) (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার মাংস (মাংস/গোসত) খাওয়া হয় তার প্রস্রাব গায়ে লাগলে ক্ষতি নেই।[1]

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:: «لَا بَأْسَ بِبَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ»

وعن البراء بن عازب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:: «لا باس ببول ما يوكل لحمه»

ব্যাখ্যা: যে পশুর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) ভক্ষণ করা হালাল তার প্রস্রাব পবিত্র। তবে এ হাদীসটি খুবই দুর্বল। সেটা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা ঠিক নয়। অবাকের কথা যে, লেখক এ দুর্বল হাদীসটি উল্লেখ করলেন অথচ উরানিয়িন এর হাদীস এবং ছাগলের থাকার জায়গায় সালাতের অনুমতির কথা উল্লেখ করলেন। অথচ সেটা সহীহ হাদীস। সুতরাং এ সহীহ হাদীস অনুসারে যে পশুর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়া হালাল তার প্রস্রাব পবিত্র- এ কথা যারা বলে তাদের কথা সঠিক।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন

৫১৬-[২৭] জাবির (ইবনু ’আবদুল্লাহ) (রাঃ)-এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি বলেন, যে জীব-জন্তুর মাংস (মাংস/গোসত) খাওয়া হয় তার প্রস্রাবে দোষ নেই। (আহমাদ ও দারাকুত্বনী)[1]

وَفِي رِوَايَةِ جَابِرٍ قَالَ: «مَا أُكِلَ لَحْمُهُ فَلَا بَأْس ببوله» . رَوَاهُ أَحْمد وَالدَّارَقُطْنِيّ

وفي رواية جابر قال: «ما اكل لحمه فلا باس ببوله» . رواه احمد والدارقطني

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

মাসাহ বলা হয় ভিজানো হাত কোন অঙ্গের উপর বুলানো। خُفٌّ খুফ বলা হয় চামড়ার তৈরি পাদুকা যা পায়ের গ্রন্থীদ্বয় আবৃত রাখে। আর جَوْرَبٌ হলো ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য চুল, পশম বা মোটা চিকন চামড়া দ্বারা তৈরি মোজা যা টাকনুর উপরিভাগ পর্যন্ত আবৃত রাখে। মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত। হাসান আল্ বসরী (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এ মর্মে হাদীস পৌঁছেছে যে, সত্তরজন সাহাবী বলেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহ করতেন।


৫১৭-[১] শুরায়হ্ ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি [’আলী (রাঃ)] উত্তরে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুক্বীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَيَّنِ

عَن شُرَيْح بن هَانِئ قَالَ: سَأَلْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ: جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ. رَوَاهُ مُسلم

عن شريح بن هانى قال: سالت علي بن ابي طالب رضي الله عنه عن المسح على الخفين فقال: جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة ايام ولياليهن للمسافر ويوما وليلة للمقيم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: মোজার উপর মাসাহ করা জায়িয। মুক্বীমের (বাড়ী থাকা অবস্থায়) জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিনদিন ও তিনরাত। আর এ মাস্আলায় প্রায় সকল ‘আলিমগণ একমত হয়েছেন। দশের অধিক সাহাবীগণের থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫১৮-[২] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবূক যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। মুগীরাহ্ বলেন, একদিন ফজরের (ফজরের) সালাতের আগে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানার উদ্দেশে বের হলেন। আর আমি তাঁর পেছনে একটি পানির পাত্র বহন করে গেলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে আসার পর আমি তাঁর দুই হাতের কব্জির উপর পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই হাত ও চেহারা ধুলেন। তখন তাঁর গায়ে একটি পশমের জুববাহ্ ছিল। তিনি তাঁর (জুববার আস্তিন গুটিয়ে) হাত দু’টি খুলতে চাইলেন। কিন্তু জুববার আস্তিন খুব চিকন ছিল। তাই জুববার ভেতর দিক দিয়েই তাঁর হাত দু’টি বের করে নিজের দুই কাঁধের উপর রেখে দিলেন এবং হাত দু’টি (কনুই পর্যন্ত) ধুলেন। অতঃপর মাথার সামনের দিক (কপাল) ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজাগুলো খুলতে চাইলাম। তিনি বললেন, এগুলো এভাবে থাকতে দাও, আমি এগুলো পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ- উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে) পরেছি। তিনি এগুলোর উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি সওয়ারীর উপর আরোহণ করলেন, আমিও আরোহণ করলাম এবং আমরা একটা দলের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন তারা সালাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, আর ’আবদুর রহমান ইবন ’আওফ (রাঃ) তাদের সালাতের ইমামাত করছিলেন এবং তাদের নিয়ে এক রাক্’আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ও করে ফেলেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন বুঝতে পেরে তিনি পেছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার স্থানে (স্থির থাকতে) ইশারা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে দুই রাক্’আতের মধ্যে এক রাক্’আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পেলেন। তিনি সালাম ফিরালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর এক রাক্’আত ছুটে যাওয়া সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আমরা আদায় করলাম। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَيَّنِ

وَعَن عُرْوَة بن الْمُغيرَة بن شُعْبَة عَن أَبِيه قَالَ: أَنَّهُ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ تَبُوكَ. قَالَ الْمُغِيرَةُ: فَتَبَرَّزَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِبَلَ الْغَائِط فَحملت مَعَه إدواة قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَمَّا رَجَعَ أَخَذْتُ أُهَرِيقُ عَلَى يَدَيْهِ من الإدواة فَغسل كفيه وَوَجْهَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ ذَهَبَ يَحْسِرُ عَن ذِرَاعَيْهِ فَضَاقَ كم الْجُبَّة فَأخْرج يَده مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ وَأَلْقَى الْجُبَّةَ عَلَى مَنْكِبَيْهِ وَغسل ذِرَاعَيْهِ وَمسح بناصيته وعَلى الْعِمَامَة وعَلى خفيه ثُمَّ رَكِبَ وَرَكِبْتُ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوا فِي الصَّلَاة يُصَلِّي بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَقَدْ رَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً فَلَمَّا أَحَسَّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم ذهب يتَأَخَّر فَأَوْمأ إِلَيْهِ فصلى بهم فَلَمَّا سلم قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُمْتُ فَرَكَعْنَا الرَّكْعَة الَّتِي سبقتنا. رَوَاهُ مُسلم

وعن عروة بن المغيرة بن شعبة عن ابيه قال: انه غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غزوة تبوك. قال المغيرة: فتبرز رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الغاىط فحملت معه ادواة قبل الفجر فلما رجع اخذت اهريق على يديه من الادواة فغسل كفيه ووجهه وعليه جبة من صوف ذهب يحسر عن ذراعيه فضاق كم الجبة فاخرج يده من تحت الجبة والقى الجبة على منكبيه وغسل ذراعيه ومسح بناصيته وعلى العمامة وعلى خفيه ثم ركب وركبت فانتهينا الى القوم وقد قاموا في الصلاة يصلي بهم عبد الرحمن بن عوف وقد ركع بهم ركعة فلما احس بالنبي صلى الله عليه وسلم ذهب يتاخر فاوما اليه فصلى بهم فلما سلم قام النبي صلى الله عليه وسلم وقمت فركعنا الركعة التي سبقتنا. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণ হয় যে, পায়খানা করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা উত্তম। সালাতের পূর্বে প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দিলে আগে সেই প্রয়োজন পূর্ণ করে নিবে। তারপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে।

এ হাদীস থেকে আরো প্রমাণ হয় যে, সালাতের মধ্যে ইশারা করা জায়িয আছে। আরো প্রমাণ হয় যে, মাসবুকের জন্য ইমামকে অনুসরণ করা জরুরী, তার ক্বিয়ামে, রুকূ‘তে ও সাজদায় এবং বসায়। আর মাসবূক ইমাম হতে পৃথক হবে ইমামের সালাম ফিরানোর পর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫১৯-[৩] আবূ বকরাহ (রাঃ)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুক্বীমের জন্য একদিন একরাত উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে মোজা পরার পর এর উপর মাসাহ করার অনুমতি দিয়েছেন। আসরাম তাঁর ’সুনানে’ এবং ইবনু খুযায়মাহ্ ও দারাকুত্বনী এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] ইমাম খাত্ত্বাবী বলেছেন, হাদীসটির সানাদ সহীহ। আল মুন্‌তাক্বা কিতাবেও এরূপ উল্লেখ রয়েছে।

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ رَخَّصَ لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمًا وَلَيْلَةً إِذَا تَطَهَّرَ فَلَبِسَ خُفَّيْهِ أَنْ يَمْسَحَ عَلَيْهِمَا. رَوَاهُ الْأَثْرَمُ فِي سُنَنِهِ وَابْنُ خُزَيْمَةَ وَالدَّارَقُطْنِيّ وَقَالَ الْخَطَّابِيُّ: هُوَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ هَكَذَا فِي الْمُنْتَقى

عن ابي بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: انه رخص للمسافر ثلاثة ايام ولياليهن وللمقيم يوما وليلة اذا تطهر فلبس خفيه ان يمسح عليهما. رواه الاثرم في سننه وابن خزيمة والدارقطني وقال الخطابي: هو صحيح الاسناد هكذا في المنتقى

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপর মাসাহ করার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। মুসাফিরের জন্য তিনদিন ও তিনরাত এবং মুক্বীমের জন্য একদিন ও একরাত। অবশ্য পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করতে হবে। আর পবিত্র অবস্থায় থাকা অর্থ মোজা পরিধানের সময় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) অবস্থায় থাকা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২০-[৪] সফ্ওয়ান ইবনু ’আস্‌সাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফর অবস্থায় কোথাও রওনা হলে আমাদেরকে তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত পবিত্রতার গোসল ছাড়া, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানা ও ঘুমানোর পর মোজা না খুলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার আদেশ করতেন। (তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]

وَعَن صَفْوَان بن عَسَّال قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

وعن صفوان بن عسال قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يامرنا اذا كنا سفرا ان لا ننزع خفافنا ثلاثة ايام ولياليهن الا من جنابة ولكن من غاىط وبول ونوم. رواه الترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের সময় সাহাবীগণের আদেশ করতেন মোজা না খুলতে। তিনদিন ও তিনরাতের জন্য এ বিধান ছিল ভিন্ন কথা। তবে গোসল ফরয হলে প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন হলে এবং ঘুম হতে জাগলেও এ আদেশ বহাল থাকবে। এখানে হাদীসটি উযূর সময় মোজার উপর মাসাহ করার কথার দিকে ইঙ্গিত করছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২১-[৫] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাবূকের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর পানির ব্যবস্থা করলাম। তিনি মোজার উপর দিক ও তার নীচের দিক মাসাহ করেছিলেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্;[1]

ইমাম তিরমিযী [রহঃ] বলেছেন, এ হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত। আমি আবূ যুর্’আহ্ ও ইমাম বুখারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেছেন, হাদীসটির সানাদ সহীহ নয়। এভাবে ইমাম আবূ দাঊদও হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন [অর্থাৎ- এর সানাদ মুগীরাহ্ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নেই, মধ্যখানে রাবী ছুটে গেছে]।

وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: وَضَّأْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَمَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ مَعْلُولٌ وَسَأَلْتُ أَبَا زُرْعَةَ وَمُحَمَّدًا يَعْنَى الْبُخَارِيَّ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَا: لَيْسَ بِصَحِيحٍ. وَكَذَا ضعفه أَبُو دَاوُد

وعن المغيرة بن شعبة قال: وضات النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك فمسح اعلى الخف واسفله. رواه ابو داود والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث معلول وسالت ابا زرعة ومحمدا يعنى البخاري عن هذا الحديث فقالا: ليس بصحيح. وكذا ضعفه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসটি সহীহ নয় বলে ইমাম বুখারী (রহঃ) মন্তব্য করেছেন। কারণ ‘আলী ও মুগীরাহ্ (রাঃ) হতে বিশুদ্ধ হাদীস হতে বর্ণিত হয়েছে মোজার উপরে মাসাহ করা। সুতরাং উত্তম কথা হলো মোজার উপরে মাসাহ করতে হবে, নীচে নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২২-[৬] উক্ত রাবী [মুগীরাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি তিনি তাঁর দু’টো মোজার উপরের দিকে মাসাহ করেছেন। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعنهُ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يمسح على الْخُفَّيْنِ على ظاهرهما. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعنه قال: رايت النبي صلى الله عليه وسلم يمسح على الخفين على ظاهرهما. رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মোজার উপরে মাসাহ করতে হবে। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাসান বলেছেন এবং হাকিম, ইবনু হাজার সহীহ বলেছেন। আর ইমাম বুখারী হাদীসটি তার তারীখে আওসাত-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২৩-[৭] উক্ত রাবী [মুগীরাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন এবং জুতার সাথে ’জাওরাব’ ও পা’ দু’টোর উপরের দিকও মাসাহ করলেন। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة قَالَ: تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن المغيرة بن شعبة قال: توضا النبي صلى الله عليه وسلم ومسح على الجوربين والنعلين. رواه احمد والترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: [جَوْرَبَيْنِ ‘জাওরাবায়ন’ শব্দটি جَوْرَبْ ‘জাওরাব’-এর দ্বিবচন। এর অর্থ কাপড়ের মোজা।] বর্ণিত হাদীসে প্রমাণ হয় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাওরাবায়ন বা পায়ের ঢাকনীর উপর মাসাহ করেছেন। সেটা চাই পশমী হোক বা চুলের হোক। আর চামড়ার হোক বা পস্নাস্টিকের হোক। মোটা হোক বা পাতলা হোক সেটার উপর মাসাহ করা জায়িয আছে। জাওরাবায়ন জুতার ন্যায় যা জমিন হতে পাকে রক্ষা করে। সেটার উপর মাসাহ করা উত্তম। ইমাম ইবনু হাযম সেটা মোটা হওয়ার জন্য শর্ত করেছেন।

অনেক সাহাবায়ি কিরাম এর ওপর ‘আমল করেছেন। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী (রহঃ) সহীহ বলেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২৪-[৮] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার উপরে মাসাহ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি (পা ধুতে) ভুলে গেছেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, বরং তুমিই ভুল বুঝেছো। এভাবে করার জন্যই আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যিনি মহান ও প্রতাপশালী। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة قَالَ: مَسَحَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نسيت؟ قَالَ: بل أَنْت نسيت بِهَذَا أَمرنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ

وعن المغيرة بن شعبة قال: مسح رسول الله صلى الله عليه وسلم على الخفين فقلت: يا رسول الله نسيت؟ قال: بل انت نسيت بهذا امرني ربي عز وجل. رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকেও প্রমাণ হচ্ছে যে, মোজার উপর মাসাহ করা জায়িয। এখানে ‘আমর শব্দটি মুস্তাহাবের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। হাদীসটি আবূ দাঊদে সহীহ সানাদে বর্ণিত হয়েছে। তবে হাফিয ইবনু হাজার সেটা য‘ঈফ বলেছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মোজার উপর মাসাহ করা

৫২৫-[৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দীন যদি (মানুষের জন্য) বুদ্ধি অনুসারেই হতো, তাহলে মোজার উপরের চেয়ে নীচের দিকে মাসাহ করাই উত্তম হত। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি তাঁর মোজার উপরের দিক মাসাহ করেছেন।[1]

وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ على ظَاهر خفيه رَوَاهُ أَبُو دَاوُد للدارمي مَعْنَاهُ

وعن علي رضي الله عنه قال: لو كان الدين بالراي لكان اسفل الخف اولى بالمسح من اعلاه وقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح على ظاهر خفيه رواه ابو داود للدارمي معناه

ব্যাখ্যা: (لَوْ كَانَ الدِّيْنُ بِالرَّاْىِ) ‘‘দীন যদি মানুষের বুদ্ধি অনুসারে হত তাহলে মোজার উপরের চেয়ে নীচের দিকে মাসাহ করাই যুক্তিসঙ্গত হত।’’ কেননা চামড়ার মোজা পরিধান করে জুতা ছাড়াই হাঁটা যায়। এতে ময়লা অথবা নাপাকী লাগলে মোজার নীচের অংশে লাগবে উপরের অংশে নয়। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজা মাসাহ করার সময় সেটার উপরের অংশে মাসাহ করেছেন। নীচের অংশে মাসাহ করেননি। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আল্লাহর নির্দেশেই করেছেন। অতএব বুঝা গেল যে, যেখানে হাদীস রয়েছে সেখানে কিয়াস বা বুদ্ধি অচল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. প্রথম অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

تَيَمُّمٌ (তায়াম্মুম) শব্দের শাব্দিক অর্থ ইচ্ছা করা, মনস্থ করা। শার’ঈ পরিভাষায় সালাতের বৈধতার লক্ষ্যে মুখমণ্ডল এবং হস্তদ্বয় মাসাহ করার জন্য পবিত্র মাটির মনস্থ করা। এটি এ উম্মাতের জন্য নির্দিষ্ট। তবে তায়াম্মুম আবশ্যিক না ঐচ্ছিক, এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ দু’টির মাঝে পার্থক্য করে বলেছেন পানি না পাওয়া গেলে আবশ্যিক, আর ওযর থাকলে ঐচ্ছিক।


৫২৬-[১] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মানুষের উপর তিনটি বিষয়ে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। (১) আমাদের [সালাতের] কাতারকে মালায়িকার সারির মতো মর্যাদা দেয়া হয়েছে। (২) সমস্ত পৃথিবীকে বানানো হয়েছে আমাদের সালাতের স্থান এবং (৩) মাটিকে করা হয়েছে আমাদের জন্য পবিত্রকারী, যখন আমরা পানি পাবো না। (মুসলিম)[1]

بَابُ التَّيَمُّمِ

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلَاثٍ جُعِلَتْ صُفُوفُنَا كَصُفُوفِ الْمَلَائِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الْأَرْضُ كلهَا مَسْجِدا وَجعلت تربَتهَا لنا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

عن حذيفة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فضلنا على الناس بثلاث جعلت صفوفنا كصفوف الملاىكة وجعلت لنا الارض كلها مسجدا وجعلت تربتها لنا طهورا اذا لم نجد الماء» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: উম্মাতে মুহাম্মাদীয়ার ওপর আল্লাহর বড় নি‘আমাত যে, তিনি ইসলামকে তাদের জন্য অন্য উম্মাতের তুলনায় সহজ করে দিয়েছেন। যেমন- ১. তাদের মর্যাদা দিয়েছেন সালাতের কাতারকে মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) কাতারের। ২. জমিন পুরাটাই তাদের জন্য পবিত্র ও মাসজিদ। ৩. মাটিকে পবিত্র করেছেন। উযূর জন্য যদি পানি না পাওয়া যায় তবে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. প্রথম অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫২৭-[২] ’ইমরান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শেষ করার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখলেন এক ব্যক্তি পৃথক হয়ে বসে আছে, অথচ সে মানুষের সাথে জামা’আতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! মানুষের সাথে জামা’আতে সালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে? লোকটি বলল, আমি নাপাক ছিলাম, অথচ তখন পানি পাচ্ছিলাম না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মাটি (তায়াম্মুমের মাধ্যমে) ব্যবহার করা উচিত ছিল। আর (পবিত্রতা অর্জনে) এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ التَّيَمُّمِ

وَعَن عمرَان بن حُصَيْن الْخُزَاعِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رأى رجلا مُعْتَزِلا لم يصل فِي الْقَوْم فَقَالَ: «يَا فلَان مَا مَنعك أَن تصلي فِي الْقَوْم فَقَالَ يَا رَسُول الله أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيك»

وعن عمران بن حصين الخزاعي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم: راى رجلا معتزلا لم يصل في القوم فقال: «يا فلان ما منعك ان تصلي في القوم فقال يا رسول الله اصابتني جنابة ولا ماء قال عليك بالصعيد فانه يكفيك»

ব্যাখ্যা: ফরয গোসল প্রয়োজন হওয়ায় পানি না পাওয়া গেলে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নিবে। এ মাস্আলাতে কোন মতভেদ নেই। এ বিষয়ে বহু সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ)-ও এ মাস্আলায় কূফাবাসীদের সাথে একমত হয়েছেন। ‘উমার (রাঃ)-ও পূর্বের মত থেকে ফিরে এসে জুনুবী ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম জায়িয হওয়ার ফাতাওয়া দিয়েছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. প্রথম অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫২৮-[৩] ’আম্মার (ইবনু ইয়াসির) (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি নাপাক হয়েছি, পানি পেলাম না। ’আম্মার (রাঃ)’উমার (রাঃ) কে বললেন, আপনার কি মনে নেই যে, এক সময়ে আমি ও আপনি উভয়ে (নাপাক) ছিলাম? আপনি (পানি না পাওয়ায়) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন না, আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি ব্যাপারটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। এ কথা বলার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাতের তালু মাটিতে মারলেন এবং দু’হাত (উঠিয়ে) ফুঁ দিলেন। তারপর উভয় হাত দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত মাসাহ করলেন- (বুখারী)।

এভাবে ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করেছেন, যার শেষ শব্দগুলো হলো (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ) তোমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তোমরা তোমাদের হাত মাটিতে মারবে, তারপর হাতে ফুঁ দিবে, অতঃপর মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসাহ করবে।[1]

بَابُ التَّيَمُّمِ

وَعَن عمار قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ: إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبِ الْمَاءَ فَقَالَ عمار بن يَاسر لعمر بن الْخطاب أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فتمعكت فَصليت فَذكرت للنَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم بكفيه الأَرْض وَنفخ فيهمَا ثمَّ مسح بهما وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَلِمُسْلِمٍ نَحْوُهُ وَفِيهِ قَالَ: إِنَّمَا يَكْفِيكَ أَنْ تَضْرِبَ بِيَدَيْكَ الْأَرْضَ ثمَّ تنفخ ثمَّ تمسح بهما وَجهك وكفيك

وعن عمار قال: جاء رجل الى عمر بن الخطاب فقال: اني اجنبت فلم اصب الماء فقال عمار بن ياسر لعمر بن الخطاب اما تذكر انا كنا في سفر انا وانت فاما انت فلم تصل واما انا فتمعكت فصليت فذكرت للنبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم انما كان يكفيك هكذا فضرب النبي صلى الله عليه وسلم بكفيه الارض ونفخ فيهما ثم مسح بهما وجهه وكفيه. رواه البخاري ولمسلم نحوه وفيه قال: انما يكفيك ان تضرب بيديك الارض ثم تنفخ ثم تمسح بهما وجهك وكفيك

ব্যাখ্যা: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মুজতাহিদ ভুলও করতে পারেন এবং ঠিকও করতে পারেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. প্রথম অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫২৯-[৪] আবূ জুহায়ম ইবনুল হারিস ইবনুস্ সিম্মাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্রাব করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সালামের কোন উত্তর দিলেন না। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি দেয়ালের নিকট গিয়ে দাঁড়ালেন এবং তাকে নিজের লাঠি দিয়ে খোঁচা মারলেন। এরপর দেয়ালের উপর হাত মেরে নিজের চেহারা ও দুই হাত মাসাহ করলেন। অতঃপর আমার সালামের উত্তর দিলেন। মিশকাত সংকলক বলেন, আমি এ হাদীস বুখারী ও মুসলিমে এবং হুমায়দীর গ্রন্থেও পাইনি। তবে তিনি এটি শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি হাসান।[1]

بَابُ التَّيَمُّمِ

وَعَنْ أَبِي الْجُهَيْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ قَالَ: مَرَرْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ حَتَّى قَامَ إِلَى جِدَارٍ فَحَتَّهُ بِعَصًى كَانَتْ مَعَهُ ثُمَّ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى الْجِدَارِ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَيَّ. وَلَمْ أَجِدْ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيِّ وَلَكِنْ ذَكَرَهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث حسن

وعن ابي الجهيم بن الحارث بن الصمة قال: مررت على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبول فسلمت عليه فلم يرد علي حتى قام الى جدار فحته بعصى كانت معه ثم وضع يديه على الجدار فمسح وجهه وذراعيه ثم رد علي. ولم اجد هذه الرواية في الصحيحين ولا في كتاب الحميدي ولكن ذكره في شرح السنة وقال: هذا حديث حسن

ব্যাখ্যা: বিনা উযূতে সালামের উত্তর নেয়া জায়িয, তবে জুনুবী অবস্থায় থাকলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সহকারে সালামের উত্তর নেয়া সঙ্গত। এ হাদীসের মূল কথা সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।

আর সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় দু’ যেরার (হাতের) কথা উল্লেখ নেই।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩০-[৫] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাক-পবিত্র মাটি মুসলিমকে পবিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ করে, যদি দশ বছরও সে পানি না পায়। পানি যখন পাবে তখন সে যেন তার গায়ে পানি লাগায়। এটাই তার জন্য উত্তম। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1] নাসায়ীতে ’’যদি দশ বছরও পানি না পায়’’ পর্যন্ত অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ وَضُوءُ الْمُسلم وَإِن لم يجد لاماء عشر سِنِين فغذا وجد المَاء فليمسه بشره فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ
وَرَوَى النَّسَائِيُّ نَحْوَهُ إِلَى قَوْلِهِ: عَشْرَ سِنِين

عن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الصعيد الطيب وضوء المسلم وان لم يجد لاماء عشر سنين فغذا وجد الماء فليمسه بشره فان ذلك خير» . رواه احمد والترمذي وابو داود وروى النساىي نحوه الى قوله: عشر سنين

ব্যাখ্যা: পাক মাটি মুসলিমের জন্য উযূর স্থলাভিষিক্ত, যদিও দশ বৎসর যাবৎ পানি না পাওয়া যায়।

তায়াম্মুম করে ফরয ও নফল সব রকমের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারে। ইমাম খাত্ত্বাবী বলেনঃ এ হাদীস থেকে দলীল গ্রহণ করা যায় যে, তায়াম্মুমকারী একবার তায়াম্মুম করে কয়েক ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩১-[৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা (কিছু লোক) সফরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমাদের একজন (মাথায়) পাথরের আঘাত পেল এবং তার মাথায় ক্ষত হলো। তারপর তার স্বপ্নদোষ হলে সে তার সাথী ভাইদেরকে জিজ্ঞেস করলো, এ অবস্থায় কি আমার জন্য তায়াম্মুম করার সুযোগ আছে? তারা বললেন, এ অবস্থায় (যখন পানি ব্যবহার করতে পারছো) তোমার তায়াম্মুম করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে করি না। অতঃপর লোকটি গোসল করলো, আর এতে সে মারা গেল। আমরা সফর হতে ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তাঁর নিকট সব ঘটনা বলা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লোকেরা তাকে মেরে ফেলেছে, আল্লাহ তাদেরকে হত্যা করুন। তারা যখন জানে না তখন অন্যদের কেন জিজ্ঞেস করলো না? কারণ, না জানার চিকিৎসাই হলো জানতে চাওয়া। অথচ তার জন্য তায়াম্মুম করা এবং আহত স্থানে ব্যান্ডেজ বেঁধে তার উপর মাসাহ করাই যথেষ্ট ছিল। অতঃপর নিজের সমস্ত শরীর ধুয়ে নিতে পারত।[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: خَرَجْنَا فِي سَفَرٍ فَأَصَابَ رجلا منا حجر فَشَجَّهُ فِي رَأسه ثمَّ احْتَلَمَ فَسَأَلَ أَصْحَابه فَقَالَ هَل تَجِدُونَ لي رخصَة فِي التَّيَمُّم فَقَالُوا مَا نجد لَك رخصَة وَأَنت تقدر على الْمَاءِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أخبر بذلك فَقَالَ قَتَلُوهُ قَتلهمْ الله أَلا سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِيِّ السُّؤَالُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَن يتَيَمَّم ويعصر أَو يعصب شكّ مُوسَى عَلَى جُرْحِهِ خِرْقَةً ثُمَّ يَمْسَحَ عَلَيْهَا وَيَغْسِلَ سَائِر جسده. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر قال: خرجنا في سفر فاصاب رجلا منا حجر فشجه في راسه ثم احتلم فسال اصحابه فقال هل تجدون لي رخصة في التيمم فقالوا ما نجد لك رخصة وانت تقدر على الماء فاغتسل فمات فلما قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم اخبر بذلك فقال قتلوه قتلهم الله الا سالوا اذ لم يعلموا فانما شفاء العي السوال انما كان يكفيه ان يتيمم ويعصر او يعصب شك موسى على جرحه خرقة ثم يمسح عليها ويغسل ساىر جسده. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ভালো করে খোঁজ-খবর না নিয়ে বা না জেনে কোন বিষয়ে সমাধান দেয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে যেক্ষেত্রে মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন জড়িত থাকে। আহত ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং গোসল ফরয হলে তায়াম্মুম করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে। এটাও প্রমাণ হয় যে, শারী‘আতের কোন মাস্আলাহ্ না জানা থাকলে প্রশ্ন করবে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩২-[৭] ইবনু মাজাহ এ বর্ণনাটিকে ’আত্বা ইবনু আবী রবাহ (রহঃ) হতে, তিনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاح عَن ابْن عَبَّاس

ورواه ابن ماجه عن عطاء بن ابي رباح عن ابن عباس

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩৩-[৮] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই লোক সফরে বের হলো। পথিমধ্যে সালাতের সময় হলো, অথচ তাদের কাছে পানি ছিল না। তাই তারা দু’জনই পাক মাটিতে তায়াম্মুম করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে নিলো। অতঃপর সালাতের সময়ের মধ্যেই তারা পানি পেয়ে গেল। তাই তাদের একজন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে আবার সালাত আদায় করে নিলো এবং দ্বিতীয়জন তা করলো না। এরপর তারা ফিরে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তা বর্ণনা করলো। যে ব্যক্তি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেনি তাকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি সুন্নাতের উপরই ছিলে। এ সালাতই তোমার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি উযূ করে পুনরায় সালাত আদায় করেছে তাকে বললেন, তোমার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব রয়েছে। (আবূ দাঊদ ও দারিমী; আর নাসায়ীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: خَرَجَ رَجُلَانِ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلَاة وَالْوُضُوء وَلَمْ يَعُدِ الْآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فذكرا ذَلِك لَهُ فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ: «أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلَاتُكَ» وَقَالَ لِلَّذِي تَوَضَّأَ وَأَعَادَ: «لَكَ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ وَرَوَى النَّسَائِيُّ نَحوه

وعن ابي سعيد الخدري قال: خرج رجلان في سفر فحضرت الصلاة وليس معهما ماء فتيمما صعيدا طيبا فصليا ثم وجدا الماء في الوقت فاعاد احدهما الصلاة والوضوء ولم يعد الاخر ثم اتيا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرا ذلك له فقال للذي لم يعد: «اصبت السنة واجزاتك صلاتك» وقال للذي توضا واعاد: «لك الاجر مرتين» . رواه ابو داود والدارمي وروى النساىي نحوه

ব্যাখ্যা: সফরে পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুম করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার সুযোগ রয়েছে। অতঃপর যদি ঐ সালাতের সময়ের মধ্যে পানি পাওয়া যায়, তবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে আর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের প্রয়োজন নেই। আর যদি কেউ পড়ে তবে তা তার জন্য নফল হবে। আর এ হাদীস থেকে এটাও প্রমাণ হয় যে, ইজতিহাদে ভুল হলেও নেকী পাওয়া যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩৪-[৯] ইমাম নাসায়ী ও ইমাম আবূ দাঊদ উভয়ে এ হাদীসটি ’আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

وَقَدْ رَوَى هُوَ وَأَبُو دَاوُدَ أَيْضًا عَنْ عَطاء بن يسَار مُرْسلا

وقد روى هو وابو داود ايضا عن عطاء بن يسار مرسلا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩৫-[১০] আবুল জুহায়ম ইবনুল হারিস ইবনুস্ সিম্মাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাল নামক কুয়ার দিক হতে আসলেন। তখন জনৈক লোক তাঁর সাথে দেখা করে তাঁকে সালাম দিল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগিয়ে একটি দেয়ালের কাছে এসে চেহারা ও হাত মাসাহ করলেন, তারপর লোকটির সালামের জবাব দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

عَن أبي الْجُهَيْم الْأنْصَارِيّ قَالَ: أَقْبَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ فَمَسَحَ بِوَجْهِهِ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَام

عن ابي الجهيم الانصاري قال: اقبل النبي صلى الله عليه وسلم من نحو بىر جمل فلقيه رجل فسلم عليه فلم يرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم حتى اقبل على الجدار فمسح بوجهه ويديه ثم رد عليه السلام

ব্যাখ্যা: বর্ণিত হাদীস হতে প্রমাণ হয় যে, পাথর দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়িয আছে, কেননা মদীনায় তখন দেওয়াল ছিল পাথরের তৈরি। আর সালামের উত্তর নেয়ার জন্য উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করেও তায়াম্মুম করা জায়িয আছে। এছাড়া জুনুবী অবস্থায় উযূ না করে সালামের জবাব না দেবার মাস্আলাহ্ এ হাদীস হতে পাওয়া যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তায়াম্মুম

৫৩৬-[১১] ’আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবস্থানকালে পানি না থাকার কারণে ফজরের (ফজরের) সালাতের জন্য মাটি দিয়ে মাসাহ করলেন। তারা তাদের হাতকে মাটিতে মারলেন, তারপর একবার তাদের চেহারা মাসাহ করলেন। আবার মাটিতে হাত মারলেন এবং সম্পূর্ণ হাত বাহুমূল পর্যন্ত এবং হাতের ভিতর দিকে বগল পর্যন্ত মাসাহ করলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عمار بن يَاسر: أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّهُمْ تَمَسَّحُوا وَهُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالصَّعِيدِ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ فَضَرَبُوا بِأَكُفِّهِمُ الصَّعِيدَ ثُمَّ مَسَحُوا وُجُوههم مَسْحَةً وَاحِدَةً ثُمَّ عَادُوا فَضَرَبُوا بِأَكُفِّهِمُ الصَّعِيدَ مَرَّةً أُخْرَى فَمَسَحُوا بِأَيْدِيهِمْ كُلِّهَا إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالْآبَاطِ مِنْ بُطُونِ أَيْدِيهِمْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن عمار بن ياسر: انه كان يحدث انهم تمسحوا وهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصعيد لصلاة الفجر فضربوا باكفهم الصعيد ثم مسحوا وجوههم مسحة واحدة ثم عادوا فضربوا باكفهم الصعيد مرة اخرى فمسحوا بايديهم كلها الى المناكب والاباط من بطون ايديهم. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে দু’ বার হাত মাটিতে মারতে হবে। প্রথমবার চেহারার জন্য, দ্বিতীয়বার দু’ হাতের জন্য। আর দু’ হাত কনুই ও বগল সহকারে মাসাহ করবে। এ হাদীস সম্পর্কে শায়খুল হাদীস মুহাঃ ইসহাক দেহলভী বলেনঃ এটি ইসলামের শুরুতে সাহাবীগণের ক্বিয়াস ছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়ানের পূর্বে। অতঃপর যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়ান করলেন, তখন তারা তায়াম্মুমের নিয়ম বুঝতে পারলেন।

সাহাবী ‘আম্মার (রাঃ) বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তায়াম্মুম করেছি কাঁধ ও বগল পর্যন্ত। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, চেহারা ও দু’ কব্জির কথা। আর দু’ হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ নেই, কারণ ‘আম্মার (রাঃ) উল্লেখ করেননি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ আদেশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমরা এরূপ এরূপ করেছি। কিন্তু এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ ছিল না। অতঃপর যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয় তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ করেন চেহারা ও দু’ কব্জি মাসাহ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

লেখক এ অধ্যায়ে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে গোসলের কথা উল্লেখ করেননি। কারণ এ বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। অবশ্য এ বিষয়ে তিনটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল।


৫৩৭-[১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জুমু’আর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে চাইলে (এর আগে) সে যেন গোসল করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ الْمَسْنُوْنِ

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ»

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا جاء احدكم الجمعة فليغتسل»

ব্যাখ্যা: বর্ণিত হাদীস প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ওয়াজিব। সেটা সহীহ মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে। আর ২য় হাদীস হতেও স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, সেটা ওয়াজিব। আর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-ও এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে নাসায়ীতে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর প্রতি সপ্তাহে গোসল ওয়াজিব, অনুরূপ তিরমিযী ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে ইবনু খুযায়মার একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি জুমু‘আতে হাযির হবে না তার ওপর গোসল ওয়াজিব নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৩৮-[২] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জুমু’আর দিন গোসল করা ওয়াজিব। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْغُسْلِ الْمَسْنُوْنِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ»

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم»

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদীস প্রমাণ করে যে, প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির ওপর গোসল জুমু‘আর দিনে ওয়াজিব। ইবনু দাক্বীক্ব আল্ ঈদ বলেনঃ অধিকাংশ ‘উলামাগণের মতে জুমু‘আর দিনে গোসল মুসতাহাব। আর তারা পূর্বের হাদীসে আদেশসূচক ক্রিয়াকে মুস্তাহাবের উপর ‘আমল করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. প্রথম অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৩৯-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম মাত্রই সবার জন্য সাতদিনের মধ্যে কমপক্ষে একদিন গোসল করা ওয়াজিব (অত্যাবশ্যক)। এতে তার মাথা ও শরীর ধুয়ে নিবে।[1]

بَابُ الْغُسْلِ الْمَسْنُوْنِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ أَنْ يَغْتَسِلَ فِي كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا يَغْسِلُ فِيهِ رَأسه وَجَسَده»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حق على كل مسلم ان يغتسل في كل سبعة ايام يوما يغسل فيه راسه وجسده»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪০-[৪] সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জুমু’আর দিন শুধু উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে ফরয (কাজ) আদায় করেছে, আর এটা তার জন্য যথেষ্ট। আর যে লোক (জুমু’আর দিন) গোসল করেছে- এ গোসল তার জন্য খুবই কল্যাণকর। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও দারিমী)[1]

عَن سَمُرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ والدارمي

عن سمرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من توضا يوم الجمعة فبها ونعمت ومن اغتسل فالغسل افضل» . رواه احمد وابو داود والترمذي والنساىي والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস হতে বুঝা যায় যে, জুমু‘আর দিবস উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা উত্তম। আর সে ব্যক্তি গোসল করতে চায় তার জন্য তা’ আরো উত্তম। এ হাদীসটি দ্বারা কেউ কেউ জুমু‘আর দিবস গোসল ওয়াজিব না হওয়ার প্রমাণ পেশ করেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪১-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে যে লোক গোসল দেয় সে নিজেও যেন গোসল করে। (ইবনু মাজাহ্; আর ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ এ কথাটুকু অতিরিক্ত করেছেন যে, আর যে ব্যক্তি তাকে [মৃতকে] বহন করে সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নেয়)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَلْيَغْتَسِلْ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
وَزَادَ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ: «وَمَنْ حمله فَليَتَوَضَّأ»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من غسل ميتا فليغتسل» . رواه ابن ماجه وزاد احمد والترمذي وابو داود: «ومن حمله فليتوضا»

ব্যাখ্যা: যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিবে সে গোসল করবে। আর যে লাশ বহন করবে সে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪২-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি কারণে গোসল করতেনঃ (১) অপবিত্রতা, (২) জুমু’আহ্, (৩) রক্তমোক্ষণের (শিঙ্গা লাগানোর) পর (অর্থাৎ- শরীর থেকে রক্ত বের হলে) এবং (৪) মৃত ব্যক্তির গোসল দেবার পর। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ يَغْتَسِلُ مِنْ أَربع: من الْجَنَابَة وَمن يَوْم الْجُمُعَة وَمن الْحجام وَمن غسل الْمَيِّت. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم: كان يغتسل من اربع: من الجنابة ومن يوم الجمعة ومن الحجام ومن غسل الميت. رواه ابو داود

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪৩-[৭] ক্বায়স ইবনু ’আসিম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن قيس بن عَاصِم: أَنَّهُ أَسْلَمَ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

وعن قيس بن عاصم: انه اسلم فامره النبي صلى الله عليه وسلم ان يغتسل بماء وسدر. رواه الترمذي وابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: ইসলাম গ্রহণ করলে কুলের পাতা দ্বারা গোসল করা সুন্নাত। ক্বায়স (রাঃ) ৯ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি খুবই দানশীল ও জ্ঞানী ছিলেন। তিনি জাহিলী যুগে নিজের ওপর মদ হারাম করেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪৪-[৮] ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’ইরাকের কিছু লোক এসে জিজ্ঞেস করলো, হে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস! জুমু’আর দিনের গোসলকে আপনি কি ওয়াজিব মনে করেন? তিনি বললেন, না। কিন্তু যে ব্যক্তি তা করবে তার জন্য খুবই উত্তম ও পবিত্রতম। আর যে ব্যক্তি তা করলো না তার জন্য ফরয নয়। কিভাবে জুমু’আর গোসল শুরু হলো তা আমি তোমাদেরকে বলছি। লোকেরা গরীব ছিল। পশমের মোটা কাপড় পরতো। পিঠে ভারবাহীর মতো কঠিন পরিশ্রম করতো। তাদের মাসজিদ ছিল ছোট ও নীচু চালার খেজুর ডালের চাপরা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনি এক গরমের দিনে মসজিদের দিকে গেলেন। মানুষ পশমের কাপড় পড়ে ঘামে ভিজে গিয়েছিল। তাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে একে অপরের দুর্গন্ধে কষ্ট পাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও গন্ধ পাচ্ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ দিনে গোসল করে মসজিদে আসবে। তোমাদের প্রত্যেকেই যেন আপন আপন সামর্থ্যানুযায়ী ভালো ভালো তৈল ও সুগন্ধি ব্যবহার করে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের সম্পদ দান করলেন। তারা পশম ছাড়া অন্য কাপড়-চোপড় পরতে থাকেন। তাদের পরিশ্রম ও দিন মজুরীর অবসান ঘটে। তাদের মাসজিদও প্রশস্ত হলো। তাদের একে অপরকে কষ্ট দেবার মতো দুর্গন্ধ ঘামও দূর হয়ে গেল। (আবূ দাঊদ)[1]

عَن عِكْرِمَة: إِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ جَاءُوا فَقَالُوا يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَتَرَى الْغُسْلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبًا قَالَ لَا وَلَكِنَّهُ أَطْهَرُ وَخَيْرٌ لِمَنِ اغْتَسَلَ وَمَنْ لَمْ يَغْتَسِلْ فَلَيْسَ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ. وَسَأُخْبِرُكُمْ كَيْفَ بَدْءُ الْغُسْلِ: كَانَ النَّاسُ مَجْهُودِينَ يَلْبَسُونَ الصُّوفَ وَيَعْمَلُونَ عَلَى ظُهُورِهِمْ وَكَانَ مَسْجِدُهُمْ ضَيِّقًا مُقَارِبَ السَّقْفِ إِنَّمَا هُوَ عَرِيشٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمٍ حَارٍّ وَعَرِقَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ الصُّوفِ حَتَّى ثَارَتْ مِنْهُمْ رِيَاحٌ آذَى بِذَلِكَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا. فَلَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ الرّيح قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِذَا كَانَ هَذَا الْيَوْمُ فَاغْتَسِلُوا وَلْيَمَسَّ أَحَدُكُمْ أَفْضَلَ مَا يَجِدُ مِنْ دُهْنِهِ وَطِيبِهِ» . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ثُمَّ جَاءَ اللَّهُ بِالْخَيْرِ وَلَبِسُوا غَيْرَ الصُّوفِ وَكُفُوا الْعَمَلَ وَوُسِّعَ مَسْجِدُهُمُ وَذَهَبَ بَعْضُ الَّذِي كَانَ يُؤْذِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا مِنَ الْعَرَقِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

عن عكرمة: ان ناسا من اهل العراق جاءوا فقالوا يا ابن عباس اترى الغسل يوم الجمعة واجبا قال لا ولكنه اطهر وخير لمن اغتسل ومن لم يغتسل فليس عليه بواجب. وساخبركم كيف بدء الغسل: كان الناس مجهودين يلبسون الصوف ويعملون على ظهورهم وكان مسجدهم ضيقا مقارب السقف انما هو عريش فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم حار وعرق الناس في ذلك الصوف حتى ثارت منهم رياح اذى بذلك بعضهم بعضا. فلما وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك الريح قال: «ايها الناس اذا كان هذا اليوم فاغتسلوا وليمس احدكم افضل ما يجد من دهنه وطيبه» . قال ابن عباس: ثم جاء الله بالخير ولبسوا غير الصوف وكفوا العمل ووسع مسجدهم وذهب بعض الذي كان يوذي بعضهم بعضا من العرق. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ওয়াজিব নয়। এটি মাওকূফ হাদীস যাতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মতামত ব্যক্ত হয়েছে। আর মারফূ‘ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন যা ৫৩৭ নং হাদীস এবং অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। অতএব মসজিদে আগমনকারীর জন্য জুমু‘আর দিনে গোসল করা ওয়াজিব।

উপরোল্লিখিত ৫৩৭ নং হাদীস এবং অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, জুমু‘আর দিনে যে ব্যক্তি সালাতে উপস্থিত হতে চায় তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতে আদেশ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

حَيْضٌ (হায়য) শব্দের শাব্দিক অর্থ প্রবাহিত হওয়া। পরিভাষায় حَيْضٌ বলা হয় কোন মহিলা সাবালক হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তার জরায়ু থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হয় তাকে।


৫৪৫-[১] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের কোন স্ত্রীলোকের হায়য হলে তারা শুধু তাদের সাথে একত্রে খাওয়াই বন্ধ করে দিতো না, বরং তাদেরকে একত্রে ঘরেও রাখতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহ তা’আলা তখন এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ’’আর তারা আপনাকে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে........’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ ২: ২২২) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের সাথে যৌনসঙ্গম ব্যতীত আর সব কিছু করতে পারো। এ সংবাদ ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছালে তারা বললো, এ ব্যক্তি আমাদের সব কিছুতেই বিরোধিতা না করে ছাড়তে চায় না।

অতঃপর উসায়দ ইবনু হুযায়র এবং ’আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ)আসলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ইয়াহূদীরা এসব কথা বলে বেড়ায়। আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌনসঙ্গম করার অনুমতি পেতে পারি? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাতে আমাদের ধারণা হলো, তিনি তাদের ওপর রাগ করেছেন। তারপর তারা বের হয়ে গেলেন। এমন সময় তাদের সামনেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু দুধ হাদিয়্যাহ্ আসলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেছনে পেছনে লোক পাঠিয়ে তাদেরকে ডেকে এনে দুধ খেতে দিলেন। এতে তারা বুঝলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে রাগ করেননি। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

عَن أنس: إِنَّ الْيَهُودَ كَانُوا إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ فِيهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ فَسَأَلَ أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (ويسألونك عَن الْمَحِيض قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ)
الْآيَة. فَبَلَغَ ذَلِكَ الْيَهُودَ. فَقَالُوا: مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ مِنْ أَمْرِنَا شَيْئًا إِلَّا خَالَفَنَا فِيهِ فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حَضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ فَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا أَفَلَا نُجَامِعُهُنَّ؟ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجَدَ عَلَيْهِمَا. فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرْسَلَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فعرفا أَن لم يجد عَلَيْهِمَا. رَوَاهُ مُسلم

عن انس: ان اليهود كانوا اذا حاضت المراة فيهم لم يواكلوها ولم يجامعوهن في البيوت فسال اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم النبي صلى الله عليه وسلم فانزل الله تعالى (ويسالونك عن المحيض قل هو اذى فاعتزلوا النساء في المحيض) الاية. فبلغ ذلك اليهود. فقالوا: ما يريد هذا الرجل ان يدع من امرنا شيىا الا خالفنا فيه فجاء اسيد بن حضير وعباد بن بشر فقالا يا رسول الله ان اليهود تقول كذا وكذا افلا نجامعهن؟ فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا ان قد وجد عليهما. فخرجا فاستقبلتهما هدية من لبن الى النبي صلى الله عليه وسلم فارسل في اثارهما فسقاهما فعرفا ان لم يجد عليهما. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ইয়াহূদীরা তাদের স্ত্রীরা ঋতুবতী হলে তাদের সাথে পানাহার বন্ধ রাখতো এবং মিলনও পরিহার করতো। এ বিষয়ে সাহাবায়ি কিরাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা মিলন ব্যতীত সব কিছু করো। তখন সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্’র ২২২ নং আয়াত অবতীর্ণ হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৪৬-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাপাক অবস্থায় আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র হতে গোসল করতাম। তিনি আমাকে হুকুম করতেন, আমি শক্ত করে লুঙ্গি বেঁধে দিতাম, আর তিনি আমার গায়ে গা লাগাতেন অথচ তখন আমি হায়য অবস্থায় ছিলাম। তিনি ই’তিক্বাফ অবস্থায় তাঁর মাথা মাসজিদ থেকে বের করে দিতেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি দিয়ে তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَكِلَانَا جُنُبٌ وَكَانَ يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ وَكَانَ يُخْرِجُ رَأْسَهُ إِلَيَّ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِض

وعن عاىشة قالت: كنت اغتسل انا والنبي صلى الله عليه وسلم من اناء واحد وكلانا جنب وكان يامرني فاتزر فيباشرني وانا حاىض وكان يخرج راسه الي وهو معتكف فاغسله وانا حاىض

ব্যাখ্যা: ফরয গোসল স্বামী-স্ত্রী একই পাত্রে এবং একসাথে করায় কোন বাধায় নেই। হায়য হলে স্ত্রীর সাথে রাত্রী যাপন করতে পারে এবং শরীরের সাথে শরীর লাগাতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৪৭-[৩] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় পানি পান করতাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা দিতাম। তিনি আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখেই পানি পান করতেন। আমি কখনও হায়য অবস্থায় হাড়ের মাংস (মাংস/গোসত) খেতাম। অতঃপর আমি এ হাড় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতাম। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখে তা খেতেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

وَعَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعٍ فِيَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَيَضَع فَاه على مَوضِع فِي. رَوَاهُ مُسلم

وعنها قالت: كنت اشرب وانا حاىض ثم اناوله النبي صلى الله عليه وسلم فيضع فاه على موضع في فيشرب واتعرق العرق وانا حاىض ثم اناوله النبي صلى الله عليه وسلم فيضع فاه على موضع في. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সাথে পানাহার করা, উঠা-বসা করা বৈধ। তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গও পবিত্র। যেমন- হাত, মুখ, পা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে তার থু থু এবং তার অতিরিক্ত খাদ্য ও পানীয় সবই পবিত্র। হায়য অবস্থায় স্ত্রীর সন্তানকে খানা খাওয়ানোয় কোন বাধা নেই এবং তার সাথে পানাহারও করতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৪৮-[৪] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়য অবস্থায় থাকতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يتكئ على حجري وَأَنا حَائِض ثمَّ يقْرَأ الْقُرْآن

وعنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يتكى على حجري وانا حاىض ثم يقرا القران

ব্যাখ্যা: হায়যকালীন স্ত্রীর উরুতে হাত রেখে কুরআন তিলাওয়াত জায়িয আছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৪৯-[৫] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, মাসজিদ হতে আমাকে চাটাই এনে দাও। আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার হায়য তো তোমার হাতে নয়। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ» . فَقُلْتُ: إِنِّي حَائِضٌ فَقَالَ: «إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يدك» . رَوَاهُ مُسلم

وعنها قالت: قال لي النبي صلى الله عليه وسلم: «ناوليني الخمرة من المسجد» . فقلت: اني حاىض فقال: «ان حيضتك ليست في يدك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : ঋতুবতী স্ত্রী মসজিদে হাত বাড়িয়ে স্বামীর পোষাক ও খাবার প্রেরণ করতে পারে।

(إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ) ‘‘তোমার হায়য তো তোমার হাতে নয়।’’ ‘ইয়ায (রহঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা অস্বীকার করলেন যে, হায়যের রক্ত তো তোমার হাতে লেগে নেই যা অপবিত্র। যার ফলে তোমার হাত থেকে তা চাটাইতে লেগে তা অপবিত্র হয়ে যাবে অথবা হাত মসজিদে প্রবেশ করালে মাসজিদ অপবিত্র হয়ে যাবে।

অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, ঋতুবতী মহিলা মসজিদের বাহিরে থেকে মসজিদের ভিতরে হাত বাড়িয়ে দিয়ে তা থেকে কিছু নিতে পারে। এতে আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন ব্যক্তি যদি শপথ করে বলে যে, আমি ঘরে অথবা মসজিদে প্রবেশ করবো না। অতঃপর সে যদি তার কোন অঙ্গ ঘরে বা মসজিদে প্রবেশ করায় তাতে তার শপথ ভঙ্গ হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫০-[৬] মায়মূনাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদরে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। যার একটি অংশ আমার শরীরের উপর থাকতো আর অন্য অংশ তাঁর শরীরের উপর থাকতো। অথচ তখন আমি ঋতুবতী। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْحَيْضِ

وَعَنْ مَيْمُونَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي مِرْطٍ بَعْضُهُ عَلَيَّ وَبَعْضُهُ عَلَيْهِ وَأَنا حَائِض

وعن ميمونة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في مرط بعضه علي وبعضه عليه وانا حاىض

ব্যাখ্যা: (بَعْضُه عَلَيَّ وَبَعْضُه عَلَيْهِ وَأَنَا حَائِضٌ) ‘‘চাদরের এক অংশ আমার উপর থাকতো আর এক অংশ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (কাঁধের) উপর থাকতো, অথচ তখন আমি ঋতুবতী।’’ অর্থাৎ- নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করার সময় যে চাদর তিনি তাঁর কাঁধের উপর রাখতেন সে চাদরের একটি অংশ আমার উপর পড়ে থাকতো। আর এ অবস্থায়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। এতে বুঝা যায় যে, ঋতুবতী মহিলার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্র। কেননা যদি তা পবিত্র না হত তাহলে কাপড়ের কোন অংশ তার উপর পতিত হলে তা অপবিত্র হয়ে যেত। ফলে ঐ কাপড়ের অন্য অংশ গায়ে জড়িয়ে সালাত আদায় করা বৈধ হত না।

এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, একই কাপড়ের এক অংশ সালাত আদায়কারীর শরীরে থাকাকালে সেটার অন্য অংশ সালাতরত নয় এমন ব্যক্তির শরীর উপরে রাখা বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫১-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন স্ত্রীলোকের মলদ্বার দিয়ে যৌনসঙ্গম করেছে অথবা কোন গণকের কাছে গিয়েছে, সে লোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি অবিশ্বাস করেছে।

কিন্তু শেষের দু’জন ইবনু মাজাহ ও দারিমীর বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়েছে, সে যা বলেছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, সে কুফরী করেছে (অর্থাৎ- কাফির হয়ে গেছে)। তিরমিযী এ সানাদের সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে আবূ তামীমাহ্, তাঁর থেকে হাকীম আসরাম ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে বলে আমি জানি না (তবে আবূ তামীমার বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন কোন মুহাদ্দিস সন্দেহ প্রকাশ করেছেন)।[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَفِي رِوَايَتِهِمَا: «فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ»
وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: لَا نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ إِلَّا من حَدِيث حَكِيم الْأَثْرَم عَن أبي تَيْمِية عَن أبي هُرَيْرَة

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اتى حاىضا او امراة في دبرها او كاهنا فقد كفر بما انزل على محمد» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي وفي روايتهما: «فصدقه بما يقول فقد كفر» وقال الترمذي: لا نعرف هذا الحديث الا من حديث حكيم الاثرم عن ابي تيمية عن ابي هريرة

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা’ হলো, ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে অথবা তার মলদ্বার দিয়ে যৌনসঙ্গম অনুমোদিত নয়। তেমনিভাবে গণকের গণনায় বিশ্বাস স্থাপনও নিষিদ্ধ। যে ব্যক্তি এটা অমান্য করে সে প্রকৃতপক্ষে ইসলামে অবিশ্বাস করে।

কোন কোন ‘আলিমের মতে এ হাদীসে হুকুম ধমকের উপর ব্যবহার করে। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি হায়য স্ত্রীর সাথে মিলন করলো, সে যেন এক দিনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করে। যদি তার সাথে মিলন করা কুফরী হতো, তবে কাফফারাহ্ দেয়ার আদেশ করতেন না। তার অর্থ এমন নয় যে, ঋতুবতীর সাথে সঙ্গম জায়িয। কেউ করে ফেললে এটা তার কাফফারাহ্। কেউ বলেন এ হাদীস ঐ লোকের ক্ষেত্রে যে হায়য অবস্থায় মিলন করাকে হালাল মনে করলো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫২-[৮] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! হায়য অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে আমার কী কী করা হালাল? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালোয়ারের উপরিভাগে (নাভীর উপরের অংশে যা করতে চাও কর, তা হালাল)। তবে এটুকু থেকেও বিরত থাকাই উত্তম।[1]

ইমাম মুহয়্যিয়ুস্ সুন্নাহ্ বলেন, এ হাদীসের সানাদ তেমন শক্তিশালী নয়।

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُول الله مَا تحل لِي مِنِ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ؟ قَالَ: «مَا فَوْقَ الْإِزَارِ وَالتَّعَفُّفُ عَنْ ذَلِكَ أَفْضَلُ» . رَوَاهُ رَزِينٌ وَقَالَ مُحْيِي السُّنَّةِ: إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِقَوِيٍّ

وعن معاذ بن جبل قال: قلت: يا رسول الله ما تحل لي من امراتي وهي حاىض؟ قال: «ما فوق الازار والتعفف عن ذلك افضل» . رواه رزين وقال محيي السنة: اسناده ليس بقوي

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে কাপড়ের উপর দিয়ে ফায়দা উঠানো জায়িয প্রমাণ করে, তবে হাদীস থেকে এটাও প্রমাণ হয় যে, কাপড়ের স্থানে (নাভী হতে হাঁটু পর্যন্ত) শরীরের সাথে শরীর লাগানো হারাম। উত্তম হলো কাপড়ের উপরে ফায়দা না উঠানো।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫৩-[৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে, তাহলে সে যেন অর্ধেক দীনার দান করে দেয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَقَعَ الرَّجُلُ بِأَهْلِهِ وَهِيَ حَائِضٌ فَلْيَتَصَدَّقْ بِنِصْفِ دِينَارٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد النَّسَائِيّ والدارمي وَابْن مَاجَه

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وقع الرجل باهله وهي حاىض فليتصدق بنصف دينار» . رواه الترمذي وابو داود النساىي والدارمي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে হায়য স্ত্রীর সাথে মিলন করলে অর্ধেক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করতে বলা হয়েছে, কিন্তু অন্য রিওয়ায়াতে এক দীনার উল্লেখ হয়েছে। এর উত্তর হলো যে, এটা কোন বর্ণনাকারী হতে সংক্ষিপ্ত হয়েছে বা তার থেকে ভুল সংঘটিত হয়েছে। তারপর এ হাদীসের সানাদে খুসায়ফ নামে এক রাবী রয়েছে, যিনি স্মৃতিশক্তিতে দুর্বল ছিলেন। তাঁর শেষ জীবনে হাদীস বর্ণনায় কিছু ভুল পরিলক্ষিত হয়। আর এক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করার হাদীস অধিক শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫৪-[১০] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (যৌনসঙ্গমকালে হায়যের রক্ত) লাল থাকলে এক দীনার ও পীতবর্ণ দেখা দিলে অর্ধেক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) আদায় করতে হবে। (তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانَ دَمًا أَحْمَرَ فَدِينَارٌ وَإِذَا كَانَ دَمًا أَصْفَرَ فَنِصْفُ دِينَارٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا كان دما احمر فدينار واذا كان دما اصفر فنصف دينار» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: হায়িযাহ্ স্ত্রীর সাথে লাল রংয়ের রক্ত থাকাকালীন মিলন করলে এক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করবে। আর যদি রং হলুদ বর্ণের হয় তবে অর্ধ দীনার কাফ্ফারাহ দিবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫৫-[১১] যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তার সাথে কী কী করা (যৌনতৃপ্তি মেটানো) হালাল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার পরনের পায়জামা শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর এর উপরের দিকে যা ইচ্ছা করবে। (মালিক ও দারিমী মুরসাল বলেছেন)[1]

عَن زيد بن أسلم قَالَ: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: مَا يَحِلُّ لِي مِنَ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ؟ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَشُدُّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ شَأْنُكَ بِأَعْلَاهَا» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَالدَّارِمِيُّ مُرْسلا

عن زيد بن اسلم قال: ان رجلا سال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما يحل لي من امراتي وهي حاىض؟ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تشد عليها ازارها ثم شانك باعلاها» . رواه مالك والدارمي مرسلا

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায়, স্ত্রীর হায়য অবস্থায় লুঙ্গির বা কাপড়ের উপর যা ইচ্ছা করতে পারে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - হায়য-এর বর্ণনা

৫৫৬-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমি ঋতুবতী হতাম, বিছানা হতে সরে চাটাইতে নেমে আসতাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসতেন না এবং আমরাও (বিবিগণও) পাক-পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছে যেতাম না (মেলামেশা করতাম না)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ إِذَا حِضْتُ نَزَلْتُ عَن الْمِثَال على الْحَصِير فَلم نقرب رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ ندن مِنْهُ حَتَّى نطهر. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: كنت اذا حضت نزلت عن المثال على الحصير فلم نقرب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم ندن منه حتى نطهر. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস পূর্বের সকল হাদীসের বিপরীত। সম্ভবত হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে। অথবা হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যেতাম না’-এর অর্থ মিলনে লিপ্ত হতাম না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা আল কুরআনে বলেনঃ ‘‘তোমরা (হায়য অবস্থায়) তাদের (স্ত্রীদের) কাছে যেয়ো না যতক্ষণ না পবিত্র হয়।’’ (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২২২)


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৫৭-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাত্বিমাহ্ বিনতু আবূ হুবায়শ (রাঃ)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন এমন স্ত্রীলোক যে, সব সময় ইস্তিহাযাহ্ রোগে ভুগি। কোন সময়ই পাক হই না। তাই আমি কি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে দিব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। এটা একটি শিরাজনিত রোগ, হায়যের রক্ত নয়। যখন তোমার হায়যের সময় হবে সালাত ছেড়ে দিবে। আর যখন হায়যের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাবে, তখন তোমার শরীর হতে তুমি হায়যের রক্ত ধুয়ে ফেলবে (অর্থাৎ- গোসল করবে)। অতঃপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْمُسْتَحَاضَةِ

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أطهر أفأدع الصَّلَاة فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِحَيْضٍ فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْك الدَّم ثمَّ صلي»

عن عاىشة قالت: جاءت فاطمة بنت ابي حبيش الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله اني امراة استحاض فلا اطهر افادع الصلاة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا انما ذلك عرق وليس بحيض فاذا اقبلت حيضتك فدعي الصلاة واذا ادبرت فاغسلي عنك الدم ثم صلي»

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস হতে প্রমাণ হয় যে, মহিলারা হায়যের দিনগুলোতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বর্জন করবে আর মুসতাহাযা হলে সালাত ত্যাগ করতে পারবে না। সে গোসল করে সালাত আদায় করে যাবে। মুসতাহাযা একটি রোগ যা আল্লাহ তা‘আলা মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মুসতাহাযা মহিলা হায়যের নির্ধারিত দিন অতিবাহিত হলে নির্দিষ্ট সালাতের জন্য একবার গোসল করবে। অথবা প্রত্যেক সালাতের জন্য একবার করে গোসল করবে অথবা যুহর ও ‘আসরের জন্য একবার গোসল করবে এবং মাগরিবের ও ‘ইশার জন্য একবার গোসল করে সালাত আদায় করবে। আর ফজরের (ফজরের) জন্য একবার গোসল করে সালাত আদায় করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৫৮-[২] ’উরওয়াহ্ ইবনুয্ যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ফাত্বিমাহ্ বিনতু আবূ হুবায়শ (রাঃ)হতে বর্ণনা করেছেন যে, ফাত্বিমাহ্ সব সময় ইস্তিহাযাহ্ রোগে ভুগতেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলে দিয়েছেন, যখন হায়যের রক্ত আসবে তখন তা কালো হয়, যা সহজে চিনা যায়। এ রক্ত দেখলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে না। আর (হায়যের রং) ভিন্ন রকম হলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে। কারণ এটা রগবিশেষের রক্ত। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ: أَنَّهَا كَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ دم الْحيض فَإِنَّهُ دم أسود يعرف فَأَمْسِكِي عَنِ الصَّلَاةِ فَإِذَا كَانَ الْآخَرُ فَتَوَضَّئِي وَصَلِّي فَإِنِّمَا هُوَ عِرْقٌ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ

عن عروة بن الزبير عن فاطمة بنت ابي حبيش: انها كانت تستحاض فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: اذا كان دم الحيض فانه دم اسود يعرف فامسكي عن الصلاة فاذا كان الاخر فتوضىي وصلي فانما هو عرق. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: হায়যের রক্তের রং কালো। সুতরাং কালো রং দেখলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ত্যাগ করবে। আর অন্য রংয়ের রক্ত দেখলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৫৯-[৩] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে জনৈকা নারীর ঋতুস্রাব হতে লাগলো। উম্মু সালামাহ্ তার ব্যাপারটি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ অবস্থায় তার দেখতে হবে গতমাসে যে কয়দিন তার হায়য থাকতো, ঐ কয়দিন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হতে বিরত থাকবে। যখন সে পরিমাণ দিন শেষ হয়ে যাবে, সে গোসল করবে। এরপর কাপড়ের টুকরো দিয়ে নেংটি বেঁধে সালাত আদায় করবে। (মালিক, আবূ দাঊদ, দারিমী ও নাসায়ী)[1]

وَعَن أم سَلمَة: إِنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تُهْرَاقُ الدَّمَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَفْتَتْ لَهَا أم سَلمَة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: «لِتَنْظُرْ عَدَدَ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ مِنَ الشَّهْرِ قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا الَّذِي أَصَابَهَا فَلْتَتْرُكِ الصَّلَاةَ قَدْرَ ذَلِكَ مِنَ الشَّهْرِ فَإِذَا خلفت ذَلِك فلتغتسل ثمَّ لتستثفر بِثَوْب ثمَّ لتصل» . رَوَاهُ مَالك وَأَبُو دَاوُد والدارمي وروى النَّسَائِيّ مَعْنَاهُ

وعن ام سلمة: ان امراة كانت تهراق الدم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستفتت لها ام سلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «لتنظر عدد الليالي والايام التي كانت تحيضهن من الشهر قبل ان يصيبها الذي اصابها فلتترك الصلاة قدر ذلك من الشهر فاذا خلفت ذلك فلتغتسل ثم لتستثفر بثوب ثم لتصل» . رواه مالك وابو داود والدارمي وروى النساىي معناه

ব্যাখ্যা: মুসতাহাযা মহিলা যাদের মাসিক রক্ত একাধারে নির্গত হতে থাকে সে পূর্বের নির্ধারিত দিনগুলো পার হলে গোসল করে কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে যাবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৬০-[৪] ’আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে, ইয়াহ্ইয়া ইবনু মা’ঈন বলেন, ’আদী এর দাদার নাম দীনার, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসতাহাযা স্ত্রীলোক সম্পর্কে বলেছেন, সে হায়যগ্রস্ত অবস্থা থাকাকালীন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করবে। অতঃপর মেয়াদ শেষে গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে। আর সওম (রোযা) পালন করবে ও সালাত আদায় করবে। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ - قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: جَدُّ عَدِيٍّ اسْمُهُ دِينَارٌ - عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ: «تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ فِيهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتَصُومُ وَتُصَلِّي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن عدي بن ثابت عن ابيه عن جده - قال يحيى بن معين: جد عدي اسمه دينار - عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال في المستحاضة: «تدع الصلاة ايام اقراىها التي كانت تحيض فيها ثم تغتسل وتتوضا عند كل صلاة وتصوم وتصلي» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: মুসতাহাযা মহিলা তার প্রতি মাসে নির্ধারিত দিন যা পূর্বে হায়য আসতো ঐ দিন অতিবাহিত হলে গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করবে ও সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং সওম পালন করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৬১-[৫] হামনাহ্ বিনতু জাহশ (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি গুরুতরভাবে ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ অবস্থার কথা বলতে ও এর মাস্আলাহ্ জানতে আসলাম। আমি তাঁকে আমার বোন যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে পেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি ইস্তিহাযার গুরুতর রোগে ভুগছি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? এ কারণে আমি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)-সিয়াম ঠিকমত করতে পারছি না। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাকে সেখানে পট্টি দিতে উপদেশ দিচ্ছি, তা রক্ত রোধ করবে। হামনাহ্ (রাঃ)বললেন, তা তো এ দিয়ে থামবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তুমি তার উপর কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নিবে। তিনি বলেন, তা এর চেয়েও অধিক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি পট্টির নীচে কাপড়ের লেঙ্গট বেঁধে নিবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহ রসূল! এটা আরো বেশী গুরুতর। আমার পানির স্রোতের ন্যায় রক্তক্ষরণ হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তোমাকে আমি দু’টি নির্দেশ দিচ্ছি। এর যে কোন একটিই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি তুমি দু’টোই করতে পারো তাহলে তুমিই অধিক বুঝবে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, চিন্তা করবে না, এটা শায়ত্বনের (শয়তানের) অনিষ্ট সাধনের চেষ্টার একটি অনিষ্ট সাধন ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রথম নির্দেশ- তুমি তোমার এ সময়ের ছয়দিন অথবা সাতদিন হায়য হিসেবে ধরবে। প্রকৃত বিষয়, আল্লাহর জানা আছে। অতঃপর গোসল করবে। শেষে যখন তুমি মনে করবে, তুমি পাক ও পবিত্র হয়ে গেছ, মাসের বাকী তেইশ রাত-দিন অথবা চবিবশ রাত-দিন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকবে এবং সিয়ামও পালন করবে। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। আর এভাবে প্রতি মাসে তুমি হিসাব করে চলবে যেভাবে অন্যান্য স্ত্রীলোকেরা তাদের হায়যের সময়কে ’হায়য’ ও তুহুর-এর সময়কে গণ্য করে।

দ্বিতীয় নির্দেশ- আর তুমি যদি সক্ষম হও, যুহরকে পিছিয়ে দিতে ও ’আসরকে এগিয়ে আনতে তাহলে এক গোসলে যুহর ও ’আসরকে একত্রে আদায় করবে। এভাবে মাগরিবকে পিছিয়ে নিবে ও ’ইশাকে এগিয়ে আনবে, তারপর একই গোসলের মাধ্যমে উভয় সালাতকে একসাথে আদায় করবে। আর ফজরের (ফজরের) জন্যও গোসল করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পূর্ণ করবে এবং সওমও রাখবে। সারকথা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তিন গোসলে আদায় করবে। তারপর দু’ ওয়াক্ত সালাতকে একত্রে আদায় করবে। তুমি যদি এ নিয়মে করতে পারো, তাহলে তা-ই করবে। হামনাহ্ বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আর শেষ নির্দেশটা আমার নিকট তোমার জন্য বেশী পছন্দনীয়। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَن حمْنَة بنت جحش قَالَتْ: كُنْتُ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْتَفْتِيهِ وَأُخْبِرُهُ فَوَجَدْتُهُ فِي بَيْتِ أُخْتِي زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَمَا تَأْمُرُنِي فِيهَا؟ قَدْ مَنَعَتْنِي الصَّلَاةَ وَالصِّيَامَ. قَالَ: «أَنْعَتُ لَكِ الْكُرْسُفَ فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ» . قَالَتْ: هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «فَتَلَجَّمِي» قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «فَاتَّخِذِي ثَوْبًا» قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ إِنَّمَا أَثُجُّ ثَجًّا. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا صَنَعْتِ أَجَزَأَ عَنْكِ مِنَ الْآخَرِ وَإِنْ قَوِيتِ عَلَيْهِمَا فَأَنت أعلم» فَقَالَ لَهَا: إِنَّمَا هَذِهِ رَكْضَةٌ مِنْ رَكَضَاتِ الشَّيْطَانِ فتحيضي سِتَّة أَيَّام أَو سَبْعَة أَيَّام فِي عِلْمِ اللَّهِ ثُمَّ اغْتَسِلِي حَتَّى إِذَا رَأَيْتِ أَنَّكِ قَدْ طَهُرْتِ وَاسْتَنْقَأْتِ فَصَلِّي ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً وَأَيَّامَهَا وصومي وَصلي فَإِن ذَلِك يجزئك وَكَذَلِكَ فافعلي كَمَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَكَمَا يَطْهُرْنَ مِيقَاتُ حَيْضِهِنَّ وَطُهْرِهِنَّ وَإِنْ قَوِيتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِينَ الظُّهْرَ وتعجليين الْعَصْر فتغتسلين وتجمعين الصَّلَاتَيْنِ: الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَتُؤَخِّرِينَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِينَ الْعِشَاءَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فَافْعَلِي وَتَغْتَسِلِينَ مَعَ الْفَجْرِ فَافْعَلِي وَصُومِي إِنْ قَدَرْتِ عَلَى ذَلِكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَهَذَا أَعْجَبُ الْأَمْرَيْنِ إِلَيَّ» . رَوَاهُ أَحْمَدَ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن حمنة بنت جحش قالت: كنت استحاض حيضة كثيرة شديدة فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم استفتيه واخبره فوجدته في بيت اختي زينب بنت جحش فقلت يا رسول الله اني استحاض حيضة كثيرة شديدة فما تامرني فيها؟ قد منعتني الصلاة والصيام. قال: «انعت لك الكرسف فانه يذهب الدم» . قالت: هو اكثر من ذلك. قال: «فتلجمي» قالت هو اكثر من ذلك. قال: «فاتخذي ثوبا» قالت هو اكثر من ذلك انما اثج ثجا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «سامرك بامرين ايهما صنعت اجزا عنك من الاخر وان قويت عليهما فانت اعلم» فقال لها: انما هذه ركضة من ركضات الشيطان فتحيضي ستة ايام او سبعة ايام في علم الله ثم اغتسلي حتى اذا رايت انك قد طهرت واستنقات فصلي ثلاثا وعشرين ليلة او اربعا وعشرين ليلة وايامها وصومي وصلي فان ذلك يجزىك وكذلك فافعلي كما تحيض النساء وكما يطهرن ميقات حيضهن وطهرهن وان قويت على ان توخرين الظهر وتعجليين العصر فتغتسلين وتجمعين الصلاتين: الظهر والعصر وتوخرين المغرب وتعجلين العشاء ثم تغتسلين وتجمعين بين الصلاتين فافعلي وتغتسلين مع الفجر فافعلي وصومي ان قدرت على ذلك . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وهذا اعجب الامرين الي» . رواه احمد وابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস থেকে প্রমাণ হয় যে, ইস্তিহাযাহ্ রক্ত খুবই বেশী নির্গত হলে কাপড়ের পট্টি বেঁধে নেবে। আর যুহর ও ‘আসরের সালাতের জন্য গোসল করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) জমা করবে এবং মাগরিব ও ‘ইশার জন্য গোসল করবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) জমা করবে। আর ফাজরের (ফজরের) সালাতের জন্য গোসল করে সালাত আদায় করবে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৬২-[৬] আসমা বিনতু ’উমায়স (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ফাত্বিমাহ্ বিনতু আবূ হুবায়শ (রাঃ)-এর এত দিন ধরে ইস্তিহাযাহ্ হচ্ছে এবং সে (এটাকে হায়য মনে করে) সালাত আদায় করছে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’সুবহা-নাল্ল­-হ’ পড়ে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় না করা তো শায়ত্বনের (শয়তানের) প্ররোচনা। সে যেন একটি গামলায় পানি ভরে ওতে বসে যায়, তারপর যখন পানি পীত রং দেখে, তখন (অন্য পানি দ্বারা) গোসল করে যুহর ও ’আসরের সালাত আদায় করে। মাগরিব ও ’ইশার সালাতের জন্য এভাবে একবার গোসল করবে। আর ফজরের (ফজরের) জন্য পৃথক একবার গোসল করবে। এর মাঝখানে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিবে। (আবূ দাঊদ)[1]

عَن أَسمَاء بنت عُمَيْس قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ اسْتُحِيضَتْ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا فَلَمْ تُصَلِّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا مِنَ الشَّيْطَانِ لِتَجْلِسَ فِي مِرْكَنٍ فَإِذَا رَأَتْ صُفَارَةً فَوْقَ الْمَاءِ فَلْتَغْتَسِلْ لِلظُّهْرِ وَالْعَصْرِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَغْتَسِلْ لِلْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَغْتَسِلْ لِلْفَجْرِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَوَضَّأُ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَقَالَ:

عن اسماء بنت عميس قالت: قلت يا رسول الله ان فاطمة بنت ابي حبيش استحيضت منذ كذا وكذا فلم تصل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «سبحان الله ان هذا من الشيطان لتجلس في مركن فاذا رات صفارة فوق الماء فلتغتسل للظهر والعصر غسلا واحدا وتغتسل للمغرب والعشاء غسلا واحدا وتغتسل للفجر غسلا واحدا وتوضا فيما بين ذلك» . رواه ابو داود وقال:

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস থেকে প্রমাণ হয় যে, মুসতাহাযা মহিলার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বর্জন করা শায়ত্বনের (শয়তানের) অনুসরণ করার শামিল। আর মুস্তাহাযার রং হলুদ বর্ণের হয়। আর দু’ ওয়াক্ত সালাতের জন্য একটি গোসল করতে হবে। আর প্রত্যেক সালাতের জন্য নতুন করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে। সালাত জমা করার হাদীসটি হানাফী মাযহাবের খেলাফ। তাদের নিকট সেটা জমা করা জায়িয নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রক্তপ্রদর রোগিণী

৫৬৩-[৭] বর্ণনাকারী বলেন, মুজাহিদ (রহঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-এর প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করা কঠিন হয়ে পড়লে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক গোসলে দুই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) একত্রে আদায় করতে নির্দেশ দিলেন।[1]

رَوَى مُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: لَمَّا اشْتَدَّ عَلَيْهَا الْغُسْلُ أَمَرَهَا أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ

روى مجاهد عن ابن عباس: لما اشتد عليها الغسل امرها ان تجمع بين الصلاتين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২৮৩ পর্যন্ত, সর্বমোট ২৮৩ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে