৩০০

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

اَلْوُضُوْءُ (واو বর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আর واو বর্ণে ফাতাহ যোগে اَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।


৩০০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ছুটে গেছে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কবূল হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত সে উযূ না করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يتَوَضَّأ»

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة من أحدث حتى يتوضأ»

ব্যাখ্যা: সে ব্যক্তির সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) প্রত্যাখ্যাত হয় বা গণ্য করা হয় না, সঠিক হয় না; যার সামনের এবং পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হয় যতক্ষণ না সে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। আর উযূ পানি এবাং মাটি উভয়ের দ্বারাই হতে পারে। উযূ অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা যা গোসল, উযূ এবং তায়াম্মুম দ্বারা হতে পারে। এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়।

প্রথমত সামনের বা পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হওয়ার মাধ্যমে উযূ বিনষ্ট হবে আর উযূ না হলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সঠিক হবে না। চাই তার নির্গত হওয়াটা নিরুপায় অবস্থায় হোক বা স্বাভাবিক অবস্থায় হোক। কেননা হাদীসে উভয় অবস্থার মাঝে কোন পার্থক্য বর্ণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত ঐ লোকেদের প্রতিউত্তর যারা বলে যেহেতু তার উযূ নষ্ট হয়ে গেছে, তাই সে উযূ করে আগের সালাতের উপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত সকল সালাত পবিত্রতা অর্জনের উপর নির্ভরশীল। আর জানাযাহ্, ঈদ সহ সমস্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ- উযূ ছাড়া কোন সালাত গৃহীত হবে না।

قَوْلُهٗ (لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طَهُوْرٍ) (পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাত গৃহীত হয় না)। অর্থাৎ- ‘পবিত্রতা ছাড়া’ অর্থ এ নয় সালাতটি পবিত্রতার পরিপন্থী কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে না। কেননা অন্যান্য শর্তের ন্যায় পবিত্রতার ভিন্নধর্মী বিষয়ের সাথেও সালাতের সম্পৃক্ততা থাকা অবশ্যক। তবে যদি পবিত্রতার পরিপন্থী দ্বারা তার সম্পূর্ণ বিপরীত উদ্দেশ্য হয় তাহলে ঠিক আছে। আর তা হলো حَدَثٌ হাদাস অর্থাৎ- এমন অপবিত্রতা যা উযূ, গোসল বা তায়াম্মুম ছাড়া দূরীভূত হয় না।

قَوْلُهٗ (وَلَا صَدَقَةُ مِنْ غُلُوْلٍ) (খিয়ানাতের মাল সদাক্বাহ্ (সাদাকা) হিসেবে গ্রহণ করা হয় না)غُلُوْلٌ  (গুলূল) অর্থ হারাম সম্পদ। غُلُوْلٌ -এর মূল অর্থ গনীমাতের মালে খিয়ানাত করা। গনীমাতের সম্পদ বণ্টিত হওয়ার পূর্বে তা চুরি করা হারাম।

যে ব্যক্তিই সংগোপনে কোন কিছুতে বিশ্বাসঘাতকতা করলো বা খিয়ানাত করলো সেই গুলূল করল। ইবনুল ‘আরাবী (রহঃ) বলেনঃ হারাম সম্পদের সদাক্বাহ্ (সাদাকা) প্রত্যাখ্যান এবং শাস্তির যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উযূ বা পবিত্রতা ছাড়াই সম্পাদিত সালাতের ন্যায়। অতএব, সালাত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সম্পদ পবিত্র হওয়া শর্ত। এ হুকুমটি সকল প্রকার হারাম সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এখানে গনীমাতের আত্মসাৎকৃত সম্পদের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটা হতে পারে যে, গনীমাত সকলের অধিকার সম্বলিত সম্পদ। আর অন্যের অধিকারযুক্ত সম্পদের সদাক্বাই যদি গ্রহণ করা না হয় তাহলে একক অধিকারভুক্ত সম্পদ গৃহীত না হওয়াটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة)