২৮৬

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৬-[৬] ‘উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ফরয সালাতের সময় হলে উত্তমভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে, বিনয় ও ভয় সহকারে রুকূ‘ করে (সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে তার এ সালাত), তা তার সালাতের পূর্বের গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্ (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করে থাকে। আর এভাবে সর্বদাই চলতে থাকবে। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ» . رَوَاهُ مُسلم

ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি উযূর সুন্নাত ও তার নিয়ম-কানুন সংরক্ষণের মাধ্যমে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে এবং সালাতের প্রতিটি রুকনকে সর্বাধিক বিনয়-নম্রতার সাথে, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণভাবে, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে যথার্থভাবে আদায় করে তাহলে আল্লাহ তার পূর্বের সগীরাহ্ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তবে শর্ত হলো যদি কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) গুনাহ মাফের কারণ হওয়াকে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার সঙ্গে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। অতএব কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহতে লিপ্ত হলে সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করা হবে না এবং এটিই আল্লাহর আয়াত اِن تَجْتَنِبُوْا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ থেকে বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে।

তবে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন- শর্তারোপ ছাড়াই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহসমূহ ছাড়া, কেননা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ইমাম নাবাবী বলেন, এটাই উদ্দেশিত অর্থ। প্রথম অর্থটি যদিও ইবারত থেকে সম্ভাবনাময় অর্থ কিন্তু হাদীসের বাচনভঙ্গি তা অস্বীকার করছে। কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের ক্ষমা কেবল তাওবা-ই করতে পারে। অথবা আল্লাহর রহমাত ও দয়া। কখনো কখনো বলা হয়, উযূই যখন গুনাহ মোচন করে দিবে তাহলে সালাতে আর কি কাজ? আবার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) যখন গুনাহ মোচন করে দিবে তখন জামা‘আত এবং হাদীসসমূহে গুনাহ মোচনের আরো যত কারণ বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলো কি মোচন করবে?

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে- এগুলোর প্রত্যেকটি গুনাহ মোচনের জন্য উপযুক্ত। অতএব সগীরাহ্ গুনাহ হয়েছে এমন কোন ‘আমল তা ছোট গুনাহকে ক্ষমা করবে আর যদি ব্যক্তি এমন হয় যে, সে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি, কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করেছে তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তার কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকে হালকা করবেন। অন্যদিকে সগীরাহ্ বা কাবীরাহ্ (কবিরা) কোন গুনাহই যদি না করে থাকেন তাহলে এসব ‘আমলের কারণে আল্লাহ তার জন্য পুণ্য লিখবেন এবং এর মাধ্যমে তার মর্যাদাকে আরো উন্নীত করবেন।

উল্লেখ্য যে, এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু রুকূ‘র আলোচনা করেছেন সাজদার আলোচনা করেননি। এর কারণ হচ্ছে- যেহেতু সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ও রুকূ‘ পারস্পরিক দু’টি রুকন, তাই যখন উভয়ের একটিকে সুন্দরভাবে আদায় করতে বলেছেন তখন এমনিতেই বুঝা যাচ্ছে অপরটিও সুন্দরভাবে আদায় করতে হবে এবং ‘‘রুকূ‘কে’’ যিকর দ্বারা খাস করাতে একটি সতর্কতাও পাওয়া যাচ্ছে যে, রুকূ‘র ব্যাপারে নির্দেশটি অত্যন্ত কঠিন, ফলে রুকূ‘টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কেননা রুকূ‘কারী রুকূ‘তে নিজেকে পুরোপুরি বহন করে কিন্তু সাজদাতে সে জমিনের উপর ভর করে থাকে।

একমতে বলা হয়েছে রুকূ‘কে সাজদার অধীন করার জন্যই বিশেষভাবে রুকূ‘র উল্লেখ করেছেন। কারণ রুকূ‘ এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘ইবাদাত নয়। অথচ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইবাদাত, যেমন- তিলাওয়াতে সিজদা্, শুকরিয়া আদায়ের সিজদা্ ইত্যাদি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ