২৮১

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

আত্ব ত্বহা-রাহ্(الطَّهَارَةِ) এর শাব্দিক অর্থ- প্রত্যেক শারীরিক অনুভূতি সম্বন্ধীয় অথবা মানসিক দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা।

পরিভাষাগতভাবে দেহকে নাজাসাতে হুকমী এবং দেহ, কাপড় ও ‘ইবাদাতের স্থানকে নাজাসাতে হাকীকি তথা পায়খানা-প্রস্রাব ও বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা হতে মুক্ত রাখা। উল্লেখ্য যে, ‘আমল যেহেতু ‘ইলমের ফল এবং ‘ইলমের পর ‘আমলের স্থান তখন কিতাবুল ‘ইলমকে লেখক আগে নিয়ে এসেছেন। পক্ষান্তরে ‘ইলমের পর ‘আমলের স্থান ও দৈহিক ‘আমলের মাঝে সর্বোত্তম হচ্ছে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এবং পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাতে শামিল হওয়া যায় না; তাই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারীর শর্তস্বরূপ ‘ইলমের পরই পবিত্রতা অধ্যায়কে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রত্যেক ‘ইলম অন্বেষণকারীর জন্য দায়িত্ব হচ্ছে দীনের হাকীকাত ও তার কল্যাণকর হুকুম-আহকাম জানার জন্য ইমাম ইবনুল ক্বাইয়ূম-এরإِعْلَامُ الْمُوَقِّعِيْنَ নামক গ্রন্থ এবংحُجَّةُ اللهُ الْبَالِغَةِ ও হাফিয ‘ইরাক্বীর তাখরীজুল আহাদীসসহإِحْيَاءُ عُلُوْمُ الدِّيْنِ গ্রন্থ এবং জাস্‌র-এরالحصون الحميدية এবং এ বিষয়ের আরো অন্যান্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করা।


২৮১-[১] আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক। ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ মানুষের ‘আমলের পাল্লাকে ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহ-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হ’ সাওয়াবে পরিপূর্ণ করে দেয় অথবা বলেছেন, আকাশমণ্ডলী ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তা পরিপূর্ণ করে দেয়। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হলো নূর বা আলো। দান-খয়রাত (দানকারীর পক্ষে) দলীল। সবর বা ধৈর্য হলো জ্যোতি। কুরআন হলো তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক মানুষ ভোরে ঘুম হতে উঠে নিজের আত্মাকে তাদের কাজে ক্রয়-বিক্রয় করে- হয় তাকে সে আযাদ করে দেয় অথবা জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। (মুসলিম)[1]

আর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা­-হু আল্লা­-হু আকবার’ আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সব পরিপূর্ণ করে দেয়।[2] মিশকাতুল মাসাবীহ-এর সংকলক বলেছেন, আমি এ বর্ণনাটি বুখারী-মুসলিম কিংবা হুমায়দী বা জামিউল উসূলে কোথাও পাইনি। অবশ্য দারিমী এ বর্ণনাটিকে ‘সুবহানাল্লাহ­-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি’ এর স্থলে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

عَن أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَآنِ - أَوْ تَمْلَأُ - مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ تَمْلَآنِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . لَمْ أَجِدْ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيِّ وَلَا فِي «الْجَامِعِ» وَلَكِنْ ذَكَرَهَا الدَّارِمِيُّ بدل «سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله»

عن أبي مالك الأشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطهور شطر الإيمان والحمد لله تملأ الميزان وسبحان الله والحمد لله تملآن - أو تملأ - ما بين السماوات والأرض والصلاة نور والصدقة برهان والصبر ضياء والقرآن حجة لك أو عليك كل الناس يغدو فبائع نفسه فمعتقها أو موبقها» . رواه مسلم وفي رواية: «لا إله إلا الله والله أكبر تملآن ما بين السماء والأرض» . لم أجد هذه الرواية في الصحيحين ولا في كتاب الحميدي ولا في «الجامع» ولكن ذكرها الدارمي بدل «سبحان الله والحمد لله»

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত شَطْرُ الْإِيْمَانِ থেকে উদ্দেশ্য ঈমানের অর্ধেক। এক মতে বলা হয়েছে- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া ও এর বিশাল সাওয়াব বর্ণনা করা যেন তা ঈমানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এ ধরনের আরো মত আছে, তবে شطر থেকে نصف অর্থ নেয়াটাই শক্তিশালী মত। যা বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির হাদীসে ‘‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক’’। এভাবে আভিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে شَطْرُ শব্দের অর্থ نصف -ই জানা যায়। الإيمان থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে সাওয়াবের বিশালত্বের বিবরণ দেয়া।

(اَلصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ) অর্থাৎ- সদাক্বাহ্ (সাদাকা) সদাক্বাকারীর ঈমানী দাবীর সত্যতার স্পষ্ট প্রমাণ। কেননা ব্যক্তির সম্পদ ব্যয় সাধারণত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে, অতএব সম্পদ ব্যয় তার ঈমানের ব্যাপারে সত্যতার প্রমাণকারী ছাড়া কিছু না।

(اَلصَّبْرُ ضِيَاءٌ) অর্থাৎ- ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশসূচক কাজের আনুগত্য করে ও তাঁর নিষেধসূচক ও অবাধ্য কাজ থেকে বেঁচে থেকে সঠিক পথের উপর ধৈর্য ধারণ করা, এছাড়া সকল প্রকার বিপদে ও দুনিয়াবী সকল অপছন্দনীয় কষ্টদায়ক বিষয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা ব্যক্তির জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন বহু পথের এমন এক জ্যোতি লাভ করে যার মাধ্যমে ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা পায়। হাদীসে ধৈর্য ধরাকে ضياء বা জ্যোতি বলা হয়েছে যা نور অপেক্ষাও শক্তিশালী। صبر ধৈর্য ধরাকে ضياء বলার ও صلاة কে نور বলার কারণ হচ্ছে- যেহেতু صبر -এর বিষয়টি صلاة অপেক্ষা প্রশস্ত। ব্যক্তি তার জীবনে প্রত্যেক ওয়াজিব কাজ করতে গিয়েও নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকতে গিয়ে ধৈর্যের মুখাপেক্ষী হয়। দীনের প্রতিটি বিষয়ই ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল।

হাদীসটিতে একজন মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তাসবীহ, তাহলীল ও ‘আমলের উল্লেখ করা হয়েছে যা তাকে ‘আমলের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগাবে। হাদীসটি থেকে আরো বুঝা যায়, কুরআন অনুযায়ী ‘আমল করলে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে কুরআন ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য হবে, পক্ষান্তরে তা হতে মুখ ফিরিয়ে রাখলে কুরআন ব্যক্তির বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। হাদীসের শেষাংশ থেকে বুঝা যায় মানুষের সামনে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে আছে অথচ মানুষের অবস্থা এই যে, প্রত্যেকে তার নিজের ব্যাপারে চেষ্টা করে, অতঃপর তাদের কেউ এমন, যে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয় এবং এভাবে নিজেকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করে। আর কেউ এমন আছে, যে শায়ত্বন (শয়তান) ও প্রবৃত্তির অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে শায়ত্বন (শয়তান) ও প্রবৃত্তির কাছে বিক্রি করে দেয় এবং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অতএব এ অংশে মানুষের শিক্ষণীয় দিক হলো- সদা-সর্বদা যেন নিজের প্রতি খেয়াল রাখা যে, সে প্রতিনিয়ত কোন ‘আমল করে সে নিজেকে কার কাছে বিক্রি করছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة)