হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
২৮৯

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮৯-[৯] ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে এবং উত্তমভাবে অথবা পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবে, এরপর বলবেঃ ‘‘আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহ’’, অর্থাৎ- ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল’। আর এক বর্ণনায় আছেঃ ‘‘আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা- শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহ’’- (অর্থাৎ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও একক। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।) তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে। এসব দরজার যেটি দিয়ে খুশী সে সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আর হুমায়দী তাঁর আফরাদে মুসলিম গ্রন্থে, ইবনুল ‘আসীর ‘‘জামি‘উল উসূল’’ গ্রন্থে এরূপ ও শায়খ মুহীউদ্দীন নাবাবী হাদীসের শেষে আমি যেরূপ বর্ণনা করেছি এরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী উপরোক্ত দু‘আর পরে আরো বর্ণনা করেছেনঃ ‘‘আল্লা-হুম্মাজ ‘আলনী মিনাত্ তাওয়া-বীনা ওয়াজ ‘আলনী মিনাল মুতাত্বাহ্‌হিরীন’’- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবা্‌কারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে গণ্য কর)।[1]

মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ তাঁর সিহাহ গ্রন্থে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ‘‘যে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলো ও উত্তমভাবে তা করলো শেষ ..... পর্যন্ত। তিরমিযী তার জামি কিতাবে হুবহু এটাই বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তিনিأَنَّ مُحَمَّدًا (আন্না মুহাম্মাদান) শব্দের পূর্বে أَشْهَدُ (আশ্হাদু) শব্দটি বর্ণনা করেননি।

اَلْفَصْلُ الْلأَوَّلُ

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَفِي رِوَايَةٍ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ . هَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ وَالْحُمَيْدِيُّ فِي أَفْرَاد مُسلم وَكَذَا ابْن الْأَثِير فِي جَامع الْأُصُول وَذكر الشَّيْخ مُحي الدِّينِ النَّوَوِيُّ فِي آخِرِ حَدِيثِ مُسْلِمٍ عَلَى مَا روينَاهُ وَزَاد التِّرْمِذِيّ: «الله اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ» وَالْحَدِيثُ الَّذِي رَوَاهُ مُحْيِي السُّنَّةِ فِي الصِّحَاحِ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ» إِلَى آخِرِهِ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ بِعَيْنِهِ إِلَّا كَلِمَةَ «أَشْهَدُ» قَبْلَ «أَن مُحَمَّدًا»

ব্যাখ্যা: হাদীসে উযূর পর পঠিতব্য যে দু‘আটি উল্লেখ করা হয়েছে তার দ্বারা মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে করা ‘আমলের স্বচ্ছতা ও হাদীসে আকবার ও আসগার থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পবিত্রতা লাভের পর অন্তরকে শির্ক ও রিয়া থেকে পবিত্র রাখার দিকে ইশারা করা হয়েছে এবং তাওবাহ্ গোপন গুনাহ হতে পবিত্রকারী এবং উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে বাধাদানকারী বাহ্যিক গুনাহের পবিত্রকারী বিধায় উযূর পর পঠিতব্য দু‘আর প্রথমাংশের সাথে আত্ তিরমিযীর বর্ণনা করা বর্ধিত অংশের সমন্বয় সাধন ঘটেছে।

হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর শাহাদাতায়ন পাঠ করে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়। এ বক্তব্যের মর্মার্থ হচ্ছে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইলে একটি দরজাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। তথাপিও হাদীসে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, এটি মূলত ব্যক্তির কর্মের সম্মানার্থে। অথবা বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে দৃষ্টি দিলে বলা যায়, ব্যক্তি যে ধরনের ‘আমল বেশি করবে তার জন্য ঐ ‘আমলের জন্য প্রস্ত্তত করা বিশেষ দরজা খুলে দেয়া হবে কারণ জান্নাতের দরজাসমূহ প্রস্ত্তত করা হয়েছে বিশেষ বিশেষ ‘আমলের জন্য।

যেমন যে ব্যক্তি বেশি বেশি সওম পালন করবে তার জন্য জান্নাতের রইয়্যান নামক দরজা খুলে দেয়া হবে। অনুরূপ যে ব্যক্তি যেমন ‘আমল করবে তাঁর জন্য তেমন দরজা খুলে দেয়া হবে। ইবনু সাইয়্যিদিন্ নাস বলেনঃ দরজার সংখ্যাধিক্যতা খুলে দেয়া ও এসব হতে ডাকা ইত্যাদি ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন ব্যক্তির সম্মান এবং মর্যাদার দিকেই ইশারা। অতএব বিষয়টি এমন নয় যে, কোন এক দরজা দিয়ে ডাকা হলে সে সে দরজার সীমা অতিক্রম করবে না। বরং প্রত্যেক দরজা দিয়ে ডাক/সাক্ষাৎ পাওয়ার পর যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে দরজা দিয়েই সে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ