২৯৭

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৭-[১৭] ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আস্ সুনাবিহী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মু’মিন বান্দা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে ও কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। আর যখন সে নাক ঝাড়ে তখন তার নাক থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মুখমণ্ডল ধোয়, গুনাহ তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার চোখের পাতার নীচ হতেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর যখন নিজের দু’টি হাত ধোয়, তখন তার হাত হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার হাতের নখের নীচ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মাথা মাসাহ করে, মাথা হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি দুই কান থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন নিজের পা দু’টো ধোয়, তার দুই পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার পায়ের নখের নীচ হতেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। অতঃপর মসজিদের দিকে গমন এবং তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হয় তার জন্য অতিরিক্ত। (মুওয়াত্ত্বা মালিক ও নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَن عبد الله الصنَابحِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنفه فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غسل يَدَيْهِ خرجت الْخَطَايَا مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهُ نَافِلَةً لَهُ» . رَوَاهُ مَالك وَالنَّسَائِيّ

عن عبد الله الصنابحي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا توضأ العبد المؤمن فمضمض خرجت الخطايا من فيه وإذا استنثر خرجت الخطايا من أنفه فإذا غسل وجهه خرجت الخطايا من وجهه حتى تخرج من تحت أشفار عينيه فإذا غسل يديه خرجت الخطايا من تحت أظفار يديه فإذا مسح برأسه خرجت الخطايا من رأسه حتى تخرج من أذنيه فإذا غسل رجليه خرجت الخطايا من رجليه حتى تخرج من تحت أظفار رجليه ثم كان مشيه إلى المسجد وصلاته نافلة له» . رواه مالك والنسائي

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লিখিত মুখের গুনাহ বলতে- অশ্লীল কাজের দিকে ফুসলানো, অবাধ্য কাজের প্রতিশ্রুতি দেয়া রয়েছে ইত্যাদি সগীরাহ্ গুনাহ। নাকের গুনাহ বলতে এমন বস্তুর ঘ্রাণ নেয়া যা বৈধ নয় যেমন- চুরি করা আতর। চেহারার গুনাহ বলতে এমন বস্তুর দিকে দৃষ্টি দেয়া যার দিকে দৃষ্টি দেয়া বৈধ নয় যেমন কোন গাইরে মাহরাম নারীর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেয়া। হাতের গুনাহ বলতে এমন গুনাহ যা স্পর্শ করা জায়িয নয়। মাথার গুনাহ বলতে অশ্লীল চিন্তা করা, কানের গুনাহ বলতে অশ্লীল কিছু শোনা। পায়ের গুনাহ বলতে এমন কাজের উদ্দেশে হেঁটে যাওয়া যা করা উচিত নয়।

হাদীসে উল্লেখ হয়েছে ‘‘অতঃপর যখন সে মাথা মাসাহ করে তখন তার মাথা হতে গুনাহ ঝরে যায় এমনকি তার কান হতেও।’’ উল্লিখিত অংশ প্রমাণ করছে কান মাথার অন্তর্ভুক্ত। অতএব মাথা মাসাহের পানি দিয়ে কান মাসাহ করতে হবে নতুন পানি দ্বারা নয়। এ হাদীস نَافِلَةً لَهٗ বলা হয়েছে, মর্মার্থ হচ্ছে- ব্যক্তি উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার সাথে সাথে তার উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর গুনাহ ঝরে যায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঙ্গের গুনাহ থাকলে সেগুলোর গুনাহও মাফ হয়ে যায়, অর্থাৎ- সগীরাহ্ গুনাহ। সগীরাহ্ গুনাহ যদি না থাকে তাহলে তার কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ হালকা করা হবে। যদি কোন প্রকার গুনাহ না থাকে তাহলে তার মর্যাদাকে উন্নীত করা হবে। হাদীসটি একজন মুসলিমকে উযূর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة)