পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা’আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।

শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।

ইসলামী শারী’আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ’উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ’আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।

ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।

ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুলায়মান (আ.) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।

অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৪৫১৪-[১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ নাযিল করেননি, যার ঔষধ পয়দা করেননি। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاء إِلا أنزل لَهُ دَوَاء» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما انزل الله داء الا انزل له دواء» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কিরাম বিভিন্ন রিওয়ায়াতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ী, ইবনু হিব্বান ও হাকিমসহ বিভিন্ন বর্ণনায় হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তা‘আলা যেমন রোগ সৃষ্টি করেছেন, তেমনি এর শিফারও ব্যবস্থা করেছেন। মুসনাদে ইমাম আহমাদ, আল আদাবুল মুফরাদ ও সুনান চতুষ্টয়, তিরমিযী, ইবনু খুযায়মাহ্ সহ মুস্তাদরাকে হাকিম-এ আছে, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি রোগেরই শিফা বা আরোগ্যের ব্যবস্থা করেছেন, তবে মৃত্যু ব্যতীত। সুনান আবূ দাঊদের বর্ণনায় আছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি রোগেরই শিফা বা আরোগ্যের ব্যবস্থা করেছেন। অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, তবে হারাম পন্থায় নয়। চিকিৎসা গ্রহণ করার দায়িত্ব বান্দার, এটি ব্যবস্থা অবলম্বনের মতো, তবে আরোগ্য বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

আলোচ্য হাদীসে রোগ-ব্যাধির সমস্যায় চিকিৎসা গ্রহণের বৈধতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে আরোগ্য সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে সম্পন্ন হয়। এখানে চিকিৎসক ও পথ্যের কোন ক্ষমতা নেই, তবে এগুলো মাধ্যম ও অবলম্বন মাত্র। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসা গ্রহণ আল্লাহর প্রতি নির্ভরতাকে নাকচ করে দেয় না। আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় যেমন খাবার ও পানি গ্রহণ করি, ঠিক রোগ-ব্যাধিতে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যাপারটিও ঠিক অনুরূপ। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৭৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫১৫-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ রয়েছে। সুতরাং সঠিক ঔষধ যখন রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন আল্লাহ তা’আলার হুকুমে রোগী রোগমুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءٌ الدَّاءَ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لكل داء دواء فاذا اصيب دواء الداء برا باذن الله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ রোগ-ব্যাধিতে চিকিৎসা গ্রহণ মুস্তাহাব। এটাই সহাবা, তাবি‘ঈ, মুহাদ্দিসীনে কিরাম, সালাফ-খালাফ তথা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের মানুষের প্রচলিত রীতি হিসেবে সাব্যস্ত। ইমাম কাযী ‘ইয়ায-এর মতে, এ সকল হাদীসের মাধ্যমে দীন ও দুনিয়াবী জ্ঞানের বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের বৈধতাও এর মাধ্যমে স্বীকৃত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো, এ সকল হাদীসের মাধ্যমে কট্টরপন্থী সূফীদের ‘আক্বীদাহ্ বাতিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। যাদের বিশ্বাস হচ্ছে, তাকদীরের প্রতিটি বিষয় আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্ধারিত। অতএব চিকিৎসা গ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। ‘উলামায়ে কিরাম এ হাদীসটি তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস বাতিল হওয়ার ব্যাপারে উৎকৃষ্ট দলীল হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টিও আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত। তবে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশটি এজন্য যে, স্বয়ং নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংস হতে মুক্ত রাখা আবশ্যক। যেমন সূরাহ্ আল বাকারায় আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২ : ১৯৫)। চিকিৎসাশাস্ত্রে পন্ডিত ব্যক্তিদের মতে, রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া মানেই শরীরের স্বাভাবিক অবস্থার অবনতি হওয়া। আর চিকিৎসার মাধ্যমে তা আবার পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সঠিক খাবার গ্রহণ ও অন্যান্য নিয়ম বিধি মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থতার সংরক্ষণ হয় এবং পথ্যের দ্বারা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসককে অভিজ্ঞ হওয়াটা জরুরী। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধের মূল বিষয়টি নির্ণয় করা চিকিৎসাশাস্ত্রে অতীব জরুরী। এতে ভুল হলে আরোগ্যের জন্য সঠিক পথ্য নির্ণয় করা দুরূহ হয় এবং আরোগ্য বিলম্বিত হয় ও কঠিন হয়ে পড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় শিঙ্গা লাগানো, মধু সেবন করা ও আগুনের ছ্যাঁকা দেয়াকে উত্তম পথ্য হিসেবে নির্ণিত করা হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞদের নিকট এটি একটি অভিনব ও বাস্তবসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগ-ব্যাধি বিভিন্ন সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন- রক্ত, জন্ডিস, কৃষ্ণবর্ণ ও শেস্নষ্মা। যখন তা রক্তের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে তখন রক্ত বের করাই উপযুক্ত চিকিৎসা। বাকী অন্যান্য সমস্যা মলের সাথে সংশ্লিষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধুর কথা বলেছেন। আর রক্তের সমস্যার সমাধানে হিজামাহ্ বা শিঙ্গা লাগানের নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিশেষে গরম ছেঁকা দেয়ার কথাও বলেছেন।

প্রতিটি রোগেরই পথ্য রয়েছে। আলোচ্য হাদীসে রোগ-ব্যাধিতে চিকিৎসা গ্রহণের বৈধতার স্বীকৃতি বিবৃত হয়েছে। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে নির্ধারিত ভাগ্যলিপি, হায়াত বৃদ্ধি হবে না। আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশক্রমে ভাগ্যক্রমে আরোগ্য হবে মাত্র। বিষয়টি সকল মুহাদ্দিসীনে কিরাম, সালাফে সলিহীন ও পরবর্তী যুগের ইমামগণ কর্তৃক স্বীকৃত। তাঁরা আলোচ্য হাদীসের আলোকেই তাঁদের নির্ভরযোগ্য অভিমত পেশ করেছেন।

ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ আল মাযিরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, আলোচ্য হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। যেখানে ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে মধু সেবনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে কেউ কেউ এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেনঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, এটি আবার কিভাবে ডায়রিয়ার চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে? তেমনিভাবে জ্বরের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের কারণে ঠাণ্ডা-গরমের মিশ্রণে শরীরে ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সম্মানিত ব্যাখ্যাকার বলেনঃ যারা এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন, তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত বলেই তারা এ ধরনের উদ্ভট মতামত পেশ করেছে। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২০৪-[৬৯])


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫১৬-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন জিনিসের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে, শিঙ্গা লাগানো বা মধু পান করা অথবা তপ্ত লোহা দ্বারা দাগ দেয়া। তবে আমি আমার উম্মাতকে দাগ হতে নিষেধ করেছি। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الشِّفَاءُ فِي ثَلَاثٍ: فِي شَرْطَةِ مِحْجَمٍ أَوْ شَرْبَةِ عَسَلٍ أَوْ كَيَّةٍ بِنَارٍ وَأَنَا أَنْهَى أُمَّتِي عَنِ الْكَيِّ . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الشفاء في ثلاث: في شرطة محجم او شربة عسل او كية بنار وانا انهى امتي عن الكي . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে যদিও তিনটি পদ্ধতির বর্ণনা দেয়া হয়েছে, কিন্তু এ তিনটি পদ্ধতির মাঝেই চিকিৎসা পদ্ধতি সীমাবদ্ধ নয়। তবে চিকিৎসা পদ্ধতির মৌলিক তিনটি পদ্ধতি সম্পর্কে এখানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেননা রোগসমূহ সাধারণত কয়েক প্রকারে সীমাবদ্ধ। রক্ত দূষণ বা রক্ত সমস্যার সমাধানে শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে এর চিকিৎসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ‘আরবদের নিকট এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি ছিল বহুল প্রচলিত। উষ্ণ অঞ্চলসমূহে এ ধরনের চিকিৎসা কার্যকারিতা অধিক হওয়ার কারণেই তারা এতে সর্বাধিক অভ্যস্ত।

জন্ডিসের চিকিৎসায় যে পথ্যের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা হলো : লঘুপাক জাতীয় পানীয়। এক্ষেত্রে মধু সর্বোৎকৃষ্ট পথ্য। বৈজ্ঞানিকভাবেও তা পরীক্ষিত। পরবর্তী অধ্যায়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। সর্বশেষে আগুনে সেঁক দেয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করলেও নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আগুনে সেঁক দেয়ার বৈধতা বর্ণিত হয়েছে এই শর্তে যে, তা একটি মাধ্যম মাত্র, আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশেই রোগের শিফা নির্ধারিত।

শায়খ আবূ মুহাম্মাদ আবূ জামরাহ্-এর মতে, আগুনের সেঁক দেয়ায় উপকার ও ক্ষতি উভয়বিধ সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা এসেছে, সেহেতু এতে ক্ষতির আশংকা বিদ্যমান রয়েছে। পবিত্র কুরআনে যেমন মদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, এতে উপকারিতা রয়েছে তবে উপকারের চাইতে ক্ষতির ভাগটি বেশী, তাই তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরে দুই ধরনের দুরবস্থা বিরাজমান থাকার কারণে রোগের সূত্রপাত হয়। এক, গরমের তাপমাত্রা বেশী অথবা ঠাণ্ডার পরিমাণ বেশী থাকার জন্যই রোগ-ব্যাধির জন্ম হয়। তাই বিপরীতধর্মী পথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে তা দূরীভূত করতে হয়। যেমন হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্বর হচ্ছে জাহান্নামের তাপমাত্রার অংশবিশেষ। অতএব একে পানি দ্বারা নিবৃত্ত কর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা মোতাবেক সহাবায়ে কিরাম পানির মাধ্যমেই জ্বরের চিকিৎসা করতেন। উম্মুল মু’মিনীন আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ)-এর জীবনীতে তাই পাওয়া যায়।

চিকিৎসাশাস্ত্রের আলোকে বুঝা যায় যে, সময়, অবস্থা ও পরিবেশের প্রভাবে অসুস্থতার চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তন হতে পারে। তাছাড়া প্রতিটি মানুষের শারীরিক গঠনের তারতম্যের কারণে পথ্যের কার্যকারিতার ভিন্নতাও পরিলক্ষিত হয়। সে কারণেই দেখা যায়, একই ঔষধে অভিন্ন রোগে আক্রান্ত সব রোগী সুস্থ হয় না। এজন্য চিকিৎসাশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতা ব্যতীত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয়। মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনু সিনা সহ অন্যান্য পন্ডিতগণও এ অভিমত পেশ করেছেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৮০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫১৭-[৪] জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাবের (খন্দাকের) যুদ্ধে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর শিরারোগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ক্ষত স্থানটিতে) দাগিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن جابرٍ قَالَ: رُمِيَ أَبِي يَوْمَ الْأَحْزَابِ عَلَى أَكْحَلِهِ فَكَوَاهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: رمي ابي يوم الاحزاب على اكحله فكواه رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব-এর নিকট একজন চিকিৎসককে পাঠালে সে তার একটি শিরা কেটে চিকিৎসা করলেন। ইবনু রসলান বলেনঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, চিকিৎসক রোগীর অবস্থানুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। হালকা ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব হলে গুরুতর ব্যবস্থা এড়িয়ে যাবেন এবং আহার্য দ্রব্যের ঘাটতির কারণে রোগাক্রান্ত হলে পথ্য ব্যতীতই আহার্য দ্রব্যাদি আহারের পরামর্শ দিবেন। পথ্যের প্রয়োজনে অপারেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ যথাযথ নয়। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২০৭-[৭৪])


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫১৮-[৫] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর শিরারগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে উক্ত স্থানটিতে তীরের ফলক দ্বারা দাগিয়েছেন। অতঃপর তাঁর (সা’দ-এর) হাত ফুলে গিয়েছিল, সুতরাং দ্বিতীয়বার তাকে দাগিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: رُمِيَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فِي أكحله فحمسه النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ بِمِشْقَصٍ ثمَّ ورمت فحمسه الثَّانِيَة. رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: رمي سعد بن معاذ في اكحله فحمسه النبي صلى الله عليه وسلم بيده بمشقص ثم ورمت فحمسه الثانية. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ আগুনে সেঁক দেয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা : আলোচ্য হাদীসে আগুনে সেঁক দেয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের বৈধতার বিধান দেয়া হয়েছে। যে সব ক্ষেত্রে আগুনের সেঁকই একমাত্র সমাধান হিসেবে সাব্যস্ত শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। সা‘দ (রাঃ) রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়ার কারণে আগুনের সেঁক দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে যে ব্যক্তির আগুনে সেঁক দেয়ার কারণে অন্য সমস্যা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে, সে ব্যক্তি উপরোক্ত পদ্ধতি গ্রহণে বিরত থাকবেন। যেমন ‘ইমরান বিন হুসায়ন (রাঃ) করেছিলেন। ‘আরবদের নিকট ঔষধের অকার্যকারিতায় আগুনের সেঁক দেয়াই একমাত্র সমাধান। ইবনু কুতায়বাহ্ এর মতে, আগুনে সেঁক দেয়া দুই ধরনের। এক- সুস্থতার জন্য আগুনে সেঁক দেয়া। দুই- আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর রক্ত পড়া বন্ধ না হলে সেক্ষেত্রে আগুনে সেঁক দেয়া। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২০৮-[৭৫])


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫১৯-[৬] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর নিকট একজন চিকিৎসক পাঠালেন, সে তার একটি রগ কেটে পরে তা দাগাল। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أُبيِّ بن كَعْب طَبِيبا فَقَطَعَ مِنْهُ عِرْقًا ثُمَّ كَوَاهُ عَلَيْهِ. رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ابي بن كعب طبيبا فقطع منه عرقا ثم كواه عليه. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ চিকিৎসা যে ধরনেরই হোক না কেন তা অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে হওয়া উচিত। এটাই প্রকৃত নিয়ম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২০-[৭] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ কালোজিরার মধ্যে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা নিহিত আছে। ইবনু শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ ’’সাম’’ অর্থ মৃত্যু। আর ’’হাববাতুস্ সাওদা’’ অর্থ শূনীয বা কালোজিরা। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَ» . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: السَّامُ: الْمَوْتُ وَالْحَبَّةُ السَّوْدَاءُ: الشُّونِيزُ

وعن ابي هريرة انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «في الحبة السوداء شفاء من كل داء الا السام» . قال ابن شهاب: السام: الموت والحبة السوداء: الشونيز

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে কালোজিরার ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশনা দিয়েছেন। কখনও তা এককভাবে এবং কখনও অন্য কোন খাবার বা পথ্যের সাথে মিশিয়ে তা ব্যবহার করা হয়। কালোজিরার বহুমুখী ব্যবহার আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় উষ্ণভাবে ব্যবহার ও উষ্ণতায় বিপরীতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে তা বেশ উপকারী হিসেবে পরীক্ষিত। ইমাম কিরমানীর মতে, সাধারণভাবে তা সকল রোগের মহৌষধ।  (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৮৮)

চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ বলেছেনঃ কালোজিরা হচ্ছে উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির পথ্য। জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ পেটের আর্দ্রতার সমস্যায় এটি বেশ উপকারী। তা গুঁড়া করে গরম পানির সাথে সেবনে প্রস্রাবের সমস্যা দূরীভূত হয়। কালোজিরার গুঁড়া সুতি কাপড়ে নিয়ে শুকলে সর্দি ও ঠাণ্ডা কাশিতে বেশ উপকার হয়। পানির সাথে সামান্য পরিমাণ কালোজিরা খেলে হাঁপানি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ভিনেগার (সিরকা)-এর সাথে গরম করে কুলি করলে দাঁতের ব্যথায় বেশ কার্যকর। অন্যান্য হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালোজিরাকে সাধারণভাবে মৃত্যু বতীত সকল রোগের পথ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আবূ বকর ইবনুল ‘আরাবীর মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিকট কালোজিরার মাঝে সকল রোগের আরোগ্যের উপাদান রয়েছে। তবে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতিতে ভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। শায়খ আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হামযাহ্ বলেছেনঃ আলোচ্য হাদীসের ব্যাপারে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন, তবে তা তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত বিষয়। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাই বাস্তব সত্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি পরীক্ষিত। সমালোচকদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধুমাত্র ধারণাপ্রসূত কথাই বলে। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২০৮-[৭৫])


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২১-[৮] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমার ভাইয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। সে মধু পান করাল। সে আবার এসে বলল : আমি তাকে মধু পান করিয়েছি, এতে তার ডায়রিয়া আরো বেড়ে গেছে। এভাবে তিনি তাঁকে তিনবার বললেন (অর্থাৎ- ডায়রিয়া ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার কথা জানালো)। অতঃপর সে চতুর্থবার এসে অভিযোগ করল। এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। সে বলল : আমি অবশ্যই তাকে মধু পান করিয়েছি, কিন্তু তার ডায়রিয়া আরো বেড়ে গিয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ (তাঁর কালামে) যা বলেছেন, তা সত্য, তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা (অর্থাৎ- পেটে দূষিত কোন কিছু রয়েছে।) অতঃপর আবার তাকে মধু পান করাল এবং সে আরোগ্য লাভ করল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَخِي اسْتَطْلَقَ بَطْنُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسقيه عسَلاً» فَسَقَاهُ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: سَقَيْتُهُ فَلَمْ يَزِدْهُ إِلَّا اسْتِطْلَاقًا فَقَالَ لَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. ثُمَّ جَاءَ الرَّابِعَةَ فَقَالَ: «اسْقِهِ عَسَلًا» . فَقَالَ: لَقَدْ سَقَيْتُهُ فَلَمْ يَزِدْهُ إِلَّا اسْتِطْلَاقًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَدَقَ اللَّهُ وَكَذَبَ بَطْنُ أَخِيكَ» . فَسَقَاهُ فَبَرَأَ

وعن ابي سعيد الخدري قال: جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: اخي استطلق بطنه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اسقيه عسلا» فسقاه ثم جاء فقال: سقيته فلم يزده الا استطلاقا فقال له ثلاث مرات. ثم جاء الرابعة فقال: «اسقه عسلا» . فقال: لقد سقيته فلم يزده الا استطلاقا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صدق الله وكذب بطن اخيك» . فسقاه فبرا

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে ডায়রিয়া বা পেটের পীড়ায় মধুর ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা এবং উপকারিতার প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে। কোন বর্ণনায় তিনবার মধু সেবন, আবার অন্য বর্ণনায় চারবারের কথাও বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় আবার রোগের অবস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ মুসলিমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেটের পীড়ার অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তিনবার মধু ব্যবহার করার নির্দেশনা দেয়ার পর সে আবার এসে একই অভিযোগ পেশ করলে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাকে মধু সেবনের নির্দেশ প্রদান করেন। অতঃপর সে আরোগ্য লাভ করে। আলোচ্য হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কখনও পথ্য সেবনের পর রোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। অতএব এতে শংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

নাস্তিকদের কেউ কেউ এ হাদীসের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন এই বলে যে, মধু লঘুপাক জাতীয় পানীয়। অতএব ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীকে কিভাবে এটি পথ্য হিসেবে সেবনের পরামর্শ দেয়া হলো? এর উত্তরে মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেনঃ তারা এমন বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেছে যে বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই। আল্লাহ তা‘আলা আল কুরআনে উল্লেখ করেছেন : ‘‘তারা সে বিষয়টিকে মিথ্যা বলেছে যে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই’’- (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ৩৯)।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বয়স, প্রকৃতি, সময়, খাবার ও পরিবেশভেদে একই রোগের ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। হাদীসে উল্লেখিত ব্যক্তির অবস্থা ছিল যে, কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দরুন তার ডায়রিয়ার সূচনা হয়েছিল। মধু সেবনের কারণে সেই ভাইরাসগুলো পেটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং পেটের ক্ষতিকর সকল উপাদানগুলোকে বের করে দেয়। সে কারণেই তার ডায়রিয়ার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। পরিশেষে সকল ক্ষতিকর উপাদান নির্গমনের পর তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ইমাম খত্ত্বাবী-এর মতে, চিকিৎসা পদ্ধতি দু’ ধরনের, একটি হচ্ছে গ্রীক, যা অনুমান নির্ভর। দ্বিতীয়টি হচ্ছে অভিজ্ঞতা নির্ভর। এটি হচ্ছে ‘আরব ও হিন্দ দেশীয় পদ্ধতি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরবীয় চিকিৎসা পদ্ধতির অনুসরণেই বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৭১৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২২-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যেসব জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করো, এর মধ্যে শিঙ্গা লাগানো এবং কুস্তব বাহরী (চন্দন কাঠ) ব্যবহার করা সর্বোত্তম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَمْثَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحجامَة والقُسْط البحري»

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان امثل ما تداويتم به الحجامة والقسط البحري»

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসে শিঙ্গা লাগানোকে একটি উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিজ্ঞজনের মতে, হাদীসে উদ্দিষ্ট হচ্ছেন ‘আরব ও হিজায তথা গরম আবহাওয়া অধ্যূষিত অঞ্চলের অধিবাসীগণ। কেননা তাদের রক্ত হচ্ছে পাতলা। হাদীসটির মাধ্যমে আরো বুঝা যায় যে, বয়স্ক ব্যক্তিগণ উদ্দিষ্ট নন। ইমাম ত্ববারী সহীহ সনদে ইবনু সীরীন হতে বর্ণনা করেন যে, কোন ব্যক্তি চল্লিশ বছরে উপনীত হলে তিনি আর শিঙ্গা লাগাবেন না। মুসলিম চিকিৎসকগণের মতে, মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং দ্বিতীয় সপ্তাহের পরবর্তী সময়ে (প্রথমার্ধ ও শেষ সময় ব্যতীত) শিঙ্গা লাগানো উপকারী। ইমাম মুওয়াফফাক আল-বাগদাদীও একই অভিমত পেশ করেছেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৯৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৩-[১০] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’উযরাহ্ রোগের জন্য তোমাদের শিশুদের জিহবার তালু দাবিয়ে তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না; বরং তোমরা কুস্তব (চন্দন কাঠ) ব্যবহার করো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُعَذِّبُوا صِبْيَانَكُمْ بِالْغَمْزِ مِنَ الْعُذْرَةِ عَلَيْكُمْ بِالْقُسْطِ»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تعذبوا صبيانكم بالغمز من العذرة عليكم بالقسط»

ব্যাখ্যাঃ ‘উযরাহ্ শিশুদের এক ধরনের গলা ব্যথা রোগ যা রক্ত প্রবাহের কারণে উদ্ভব হয় এবং সে কারণে গলা ব্যথায় শিশুরা কষ্ট পায়। কুস্তব এক ধরনের পথ্য যা গলা ও নাকের মাঝামাঝিতে শিশুদের গলা ব্যথা দূর করতে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী হাদীসে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৪-[১১] উম্মু কায়স (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেন তোমরা শিশু-সন্তানদের তালু দাবিয়ে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ? অবশ্যই তোমরা এ রোগের জন্য (অর্থাৎ- আলজিহ্বা ফুলার জন্য) ঊদ হিন্দী (আগর কাঠ) ব্যবহার করো। কেননা এতে সাত রকম রোগের নিরাময় নিহিত আছে। তন্মধ্যে একটি হলো পাঁজরের ব্যথা। বাচ্চাদের আলজিহ্বা ফুলার ব্যথা হলে তা ঘষে পানির সাথে মিশিয়ে ফোঁটা ফোঁটা নাকের ভিতরে দেবে। আর পাঁজরের ব্যথা হলে মুখ দিয়ে খাওয়াতে হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أُمِّ قَيْسٍ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «على مَ تَدْغَرْنَ أَوْلَادَكُنَّ بِهَذَا الْعِلَاقِ؟ عَلَيْكُنَّ بِهَذَا الْعُودِ الْهِنْدِيِّ فَإِنَّ فِيهِ سَبْعَةَ أَشْفِيَةٍ مِنْهَا ذَاتُ الْجَنْبِ يُسْعَطُ مِنَ الْعُذْرَةِ وَيُلَدُّ مِنْ ذَاتِ الْجنب»

وعن ام قيس قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «على م تدغرن اولادكن بهذا العلاق؟ عليكن بهذا العود الهندي فان فيه سبعة اشفية منها ذات الجنب يسعط من العذرة ويلد من ذات الجنب»

ব্যাখ্যাঃ অত্র হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের গলা ব্যথায় ইন্ডিয়ান কাঠ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন। মুহাদ্দিসীনে কিরাম বা হাদীস বেত্তাগণ ‘ঊদ হিন্দী ব্যবহারের সুন্দর নিয়ম বলে দিয়েছেন। তা হলো, শিশুদের আলজিহবা ফুলে যাওয়ার কারণে ‘উযরাহ্ নামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিত। এক্ষেত্রে আগর কাঠ গুঁড়া করে সামান্য পরিমাণ নাকে দিলে ‘উযরাহ্ রোগ নিরাময় হয়। আলোচ্য হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি রোগের আরোগ্যের কথা বললেও শুধুমাত্র দু’টি রোগের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। বাকী পাঁচটি বিষয়ের কেন করেননি, এর কারণ ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেছেনঃ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে তৎকালীন যুগে ‘আরবদের মাঝে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল বিধায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রোগের উল্লেখ করে অবশিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করেননি।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কতিপয় মানসিক রোগী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীসের নির্দেশনায় আপত্তি প্রকাশ করেছেন। ইমাম মাযিরী তাদের এই আপত্তির প্রত্যুত্তরে বলেছেনঃ আপত্তি পেশকারীদের অজ্ঞতা সুস্পষ্ট। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সূরাহ্ ইউনুসে উল্লেখ করেছেন, ‘‘তারা সে বিষয়টিকে মিথ্যা বলেছে যে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই’’- (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ৩৯)।

প্রখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী জালিনূস ও অন্যদের মতে, কুস্তব (কোথ) বুকের ব্যথায় বেশ কার্যকর। প্রাচীন চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এটি প্রয়োজনমত শরীরের বহিরাংশ ও অভ্যন্তরে ব্যবহৃত হয়, নাস্তিক ও আপত্তি পেশকারীদের ধারণা নিরর্থক ও ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাতটি রোগের মাঝে দু’টি উল্লেখ করে বাকী পাঁচটি উল্লেখ করেননি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ পরীক্ষাপূর্বক উক্ত পাঁচটি রোগের বর্ণনা দিয়েছেন। রোগগুলো হচ্ছে, মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও প্রস্রাবের সমস্যা, বীর্যের কার্যকারিতা বাতিল, যৌন সমস্যা, কৃমির সমস্যা। তবে তা মধু সহকারে সেব্য। ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি রোগের কথা হাদীসে উল্লেখ করেছেন, তবে সাত শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। কুস্তব-এর ব্যবহার শুধুমাত্র সাতটি রোগের চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। মিরক্বাতুল মাফাতীহ


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৫-[১২] ’আয়িশাহ্ ও রাফি’ ইবনু খদীজ (রাঃ)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের তাপ হতে। সুতরাং তোমরা পানি দ্বারা তা ঠাণ্ডা করো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَائِشَةَ وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْحمى من فيج جَهَنَّم فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ»

وعن عاىشة ورافع بن خديج عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الحمى من فيج جهنم فابردوها بالماء»

ব্যাখ্যাঃ জ্বরের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার : ইমাম ইবনু কাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে পানি ঢালার বিষয়ে দু’টি অভিমত পেশ করেছেন। এক. সাধারণ সকল ব্যবহার্য পানি। দুই. যমযমের পানি ব্যবহার। এই অভিমত পেশকারীগণ এ প্রসঙ্গে সহীহুল বুখারীতে সংকলিত আবূ জামরাহ্-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৭২৬)

কতিপয় ব্যাখ্যাকার বলেনঃ জ্বর জাহান্নামের আগুনের উত্তাপবিশেষ। জাহান্নাম অস্বীকারকারীদের জন্য ভীতিপ্রদর্শক হিসেবে এবং উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য সুসংবাদবাহী হিসেবে দুনিয়াতে এটি পাঠানো হয়েছে। কেননা, উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য তা গুনাহের কাফ্ফারাহ্ স্বরূপ। গ্রীষ্মের উত্তাপ যেমন জাহান্নামের অংশবিশেষ, জ্বরও অনুরূপ। সেজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ঠাণ্ডা পানি দ্বারা শীতল করতে বলেছেন। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, জ্বরের উত্তাপ কমানো কয়েকভাবে হতে পারে, পানি পান, গোসল ও প্রচলিত পন্থায় মাথায় পানি দেয়া। কোন বর্ণনায় আবার যমযমের পানি ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। কতিপয় ব্যাখ্যাকারের মতে, জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য পানি পান সবচেয়ে বেশী উপকারী। কেননা পানি পানের মাধ্যমে শরীরের সর্বত্র তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ইমাম জাওহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কেউ কেউ হাদীসটির নির্দেশনা ভুল বুঝার কারণে পানিতে রোগীকে ডুবানোর কথা বলেছেন। তবে ব্যাপারটি তেমন নয়। পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তাই প্রকৃত নিয়ম।

কোন কোন হাদীসগ্রন্থে জ্বরকে মৃত্যুদূত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) হাসান  হতে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জ্বর হচ্ছে মৃত্যুদূত। আর পৃথিবীতে মু’মিনের জন্য তা কারাগার স্বরূপ, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এতে প্রবেশ করান এবং মুক্ত করে দেন, অতএব একে পানি দ্বারা পরিবর্তন করে দাও।  (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৬-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো ওপর বদনযর লাগলে, কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে এবং পাঁজরে খুজলি উঠলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুঁক করতে অনুমতি দিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أنسٍ قَالَ: رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرُّقْيَةِ مِنَ الْعَيْنِ وَالْحُمَّةِ وَالنَّمْلَةِ. رَوَاهُ مُسلم

وعن انس قال: رخص رسول الله صلى الله عليه وسلم في الرقية من العين والحمة والنملة. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ ইমাম তূরিবিশ্তী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নিষেধাজ্ঞার পরই সাধারণত অনুমতি আসে। ঝাড়ফুঁকে জাহিলী যুগের অনৈসলামিক ও শির্কী শব্দাবলীর ব্যবহারের শংকায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তা দূরীভূত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ঝাড়ফুঁকের অনুমতি প্রদান করা হয়। বদনযর, বিষাক্ত প্রাণী দংশন ও পাঁজরে খুজলীর কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি প্রদান করেছেন। শেষোক্ত দু’টি সমস্যায় পথ্য বিদ্যমান থাকলেও বদনযরের কোন পথ্য নেই। তাই এক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁকই একমাত্র সমাধান। বদনযর যেমনিভাবে মানুষের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয় তেমনি জীনদের বদনযরেও মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি প্রদানের সাথে সাথে ঝাড়ফুঁকের শব্দাবলী ও পদ্ধতিও শিখিয়ে দিয়েছেন। হাদীসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলীতে নির্ভরযোগ্য সূত্রে ঝাড়ফুঁকের শব্দাবলী বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ মুসলিমে মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষত ও আহত লোকেদের ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে মাটিতে হাত রেখে চিকিৎসা করতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৭-[১৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কারো ওপর) বদনযর লাগলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুঁক করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَرْقِيَ مِنَ الْعَيْنِ

وعن عاىشة قالت: امر النبي صلى الله عليه وسلم ان نسترقي من العين

ব্যাখ্যাঃ বদনযর চাই মানুষের হোক অথবা জিনে্র, ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা মুস্তাহাব। সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের শেষ তিনটি সূরা পাঠের মাধ্যমে ফুঁ দিয়ে নিজেই ঝাড়ফুঁক করতেন। এ তিনটি সূরার সাথে সূরাহ্ আল কাফিরূনও যোগ করা যায়। মা‘মার বলেন, আমি ইমাম যুহরীকে বললামঃ কিভাবে ফুঁক দিতে হয়? উত্তরে তিনি বললেনঃ দুই হাতে ফুঁ দিয়ে তা চেহারা ও শরীরে মুছতে হবে। কতিপয় ‘উলামায়ে কিরামের মতে, চোখের বদনযর প্রতিরোধে সূরাহ্ আল কলাম-এর ৫১ আয়াত হতে শেষ পর্যন্ত পাঠ করা যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৮-[১৫] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (উম্মু সালামাহ্’র) ঘরে একটি মেয়ে দেখতে পেলেন, তার চেহারায় চিহ্ন ছিল (মুখায়ব বদনযরের দরুন হলুদ বর্ণ দেখাচ্ছিল)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এর জন্য ঝাড়ফুঁক করো, কেননা তার ওপর নযর লেগেছে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَيْتِهَا جَارِيَةً فِي وجهِها سفعة يَعْنِي صُفْرَةً فَقَالَ: «اسْتَرْقُوا لَهَا فَإِنَّ بِهَا النَّظْرَةَ»

وعن ام سلمة ان النبي صلى الله عليه وسلم راى في بيتها جارية في وجهها سفعة يعني صفرة فقال: «استرقوا لها فان بها النظرة»

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّ بِهَا النَّظْرَةَ) ‘‘কেননা তার প্রতি নযর লেগেছে’’। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে যে, অর্থাৎ তাকে বদনযর আক্রান্ত করেছে, সুতরাং তাকে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থা গ্রহণ কর। এর অর্থ হল, তাকে জিনে্র চোখ আক্রান্ত করেছে, এ কথা বলেছেন কোন কোন ব্যাখ্যাকার। এও বলা হয়েছে, জীনদের চোখ তীরের আগার চেয়েও বেশি ধারালো।

‘আল্লামা সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বদনযর মানুষের অথবা জিনে্র পক্ষ থেকেও হতে পারে।

অত্র হাদীসটিতে ঝাড়ফুঁক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার কোন কোন হাদীসে ঝাড়ফুঁক করতে নিষেধও করা হয়েছে। যেমন- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তাদের মধ্য হতে যারা ঝাড়ফুঁক করবে না...। এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ দুই হাদীসের মধ্যে সমন্বয় করা হয় এভাবে যে, ঐ ঝাড়ফুঁক অপছন্দনীয় যা ‘আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় হয়, যা আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলীসমূহ ছাড়া হয় এবং তার নাযিলকৃত বাণীবিহীন হয় (আর কুফরী কালাম দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা নিষেধ)। আর এর বিপরীতে কুরআন দ্বারা, আল্লাহর নামসমূহ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। হাদীসে যে ঝাড়ফুঁকের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে তা এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫২৯-[১৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্তর তথা ঝাড়ফুঁক করা হতে নিষেধ করেছেন। (এ নিষেধের পর) ’আমর ইবনু হাযম-এর বংশের কয়েকজন লোক এসে বলল : হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে এমন একটি মন্ত্র আছে, যার দ্বারা আমরা বিচ্ছুর দংশনে ঝাড়ফুঁক করে থাকি। অথচ আপনি মন্তর পড়া হতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তারা মন্ত্রটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পড়ে শুনাল। তখন তিনি বললেনঃ আমি তো এটার মধ্যে দোষের কিছু দেখছি না। অতএব, তোমাদের যে কেউ নিজের কোন ভাইয়ের কোন উপকার করতে পারে, সে যেন অবশ্যই তার উপকার করে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرُّقَى فَجَاءَ آلُ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَتْ عِنْدَنَا رُقْيَةٌ نَرْقِي بِهَا مِنَ الْعَقْرَبِ وَأَنْتَ نَهَيْتَ عَنِ الرُّقَى فَعَرَضُوهَا عَلَيْهِ فَقَالَ: «مَا أَرَى بِهَا بَأْسًا مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَنْفَعْهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن جابر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرقى فجاء ال عمرو بن حزم فقالوا: يا رسول الله انه كانت عندنا رقية نرقي بها من العقرب وانت نهيت عن الرقى فعرضوها عليه فقال: «ما ارى بها باسا من استطاع منكم ان ينفع اخاه فلينفعه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ এ হাদীসটি হতে বুঝা যায় যে, যে ঝাড়ফুঁকের মধ্যে কোন কুফরী কালাম, শির্কী শব্দ না থাকে, সে ঝাড়ফুঁক দ্বারা মানুষের চিকিৎসা করা বৈধ। আর যে ঝাড়ফুঁকের শব্দ গুলো বুঝা যায় না, তাতে শির্ক থাকার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং এ জাতীয় শির্কী মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা হারাম। এ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পক্ষান্তরে যে মন্ত্র শির্কমুক্ত তা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা উত্তম কাজ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘‘তোমাদের যে কেউ নিজের কোন ভাইয়ের কোন উপকার করতে পারে, সে যেন অবশ্যই তার উপকার করে, নিঃসন্দেহে শির্কমুক্ত ঝাড়ফুঁক একটি বড় উপকারমূলক কাজ, যা মানুষের জীবনের ক্ষেত্রে উপকারে আসে।’’ সুতরাং শির্কমুক্ত ঝাড়ফুঁক করে সমাজকে শির্কমুক্ত করে সুস্থ সমাজ গঠন করা প্রত্যেক ঝাড়ফুঁককারীর জন্য জরুরী। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫৩০-[১৭] ’আওফ ইবনু মালিক আশজা’ঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমরা মন্ত্র পড়ে ঝাড়ফুঁক করতাম। সুতরাং (ইসলাম গ্রহণের পর) আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ সমস্ত মন্তর সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তখন তিনি বললেনঃ আচ্ছা, তোমাদের মন্তরগুলো আমাকে পড়ে শুনাও। (তবে কথা হলো) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে কোন আপত্তি নেই, যদি তার মধ্যে শির্কী কিছু না থাকে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن عوفِ بن مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ: كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ؟ فَقَالَ: «اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لم يكن فِيهِ شرك» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عوف بن مالك الاشجعي قال: كنا نرقي في الجاهلية فقلنا: يا رسول الله كيف ترى في ذلك؟ فقال: «اعرضوا علي رقاكم لا باس بالرقى ما لم يكن فيه شرك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لم يكن فِيهِ شرك) ‘‘ঝাড়ফুঁক করা দোষের কিছু নয়, যদি তার মধ্যে শির্কী কিছু না থাকে’’। ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি প্রদান ও নিষেধ করার কারণ হলো এটা। এ হাদীসটির মধ্যে দলীল আছে যে, যে ঝাড়ফুঁকের মাঝে কোন ক্ষতি নেই, শারী‘আতের দৃষ্টিতে যে ঝাড়ফুঁক করা নিষেধ না, সে ঝাড়ফুঁক করা জায়িয এবং উত্তম কাজ। যদিও তার শব্দগুলো আল্লাহর নাম ও তাঁর কালাম তথা কুরআনের শব্দ না হয়। তবে শর্ত হলো ঝাড়ফুঁকের শব্দগুলো সুন্দর অর্থবোধক হতে হবে, যা বুঝে আসে। আর যদি তার অর্থ বুঝা না যায় তবে তা শির্কমুক্ত হওয়া থেকে নিরাপদ নয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৮)

ঝাড়ফুঁক করা মুসলিম সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি। ধর্মপ্রাণ সকল মুসলিম নর-নারী ঝাড়ফুঁক বিশ্বাস করে, ভক্তি করে। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে এক শ্রেণীর ভন্ড-প্রতারক কব্র-মাজার পূজারীরা। তারা ঝাড়ফুঁকের নামে ভক্তদের কাছ থেকে বহু অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ সে ঝাড়ফুঁকের অনেকাংশে কুফরী, শির্কীতে ভরপুর। সমাজ হতে, রাষ্ট্র হতে শির্ক দূর করতে হলে এ জাতীয় কুফরী, শির্কী ঝাড়ফুঁক দূর করতে হবে। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৫৩১-[১৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নযর লাগা একটি বাস্তব সত্য। যদি কোন জিনিস তাকদীর পরিবর্তন করতে সক্ষম হত, তবে বদনযরই তা করতে পারত। আর যদি তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া পানি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ধুয়ে দেবে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعَيْنُ حَقٌّ فَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابَقَ الْقَدَرِ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فاغسِلوا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «العين حق فلو كان شيء سابق القدر سبقته العين واذا استغسلتم فاغسلوا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (الْعَيْنُ حَقٌّ) অর্থাৎ চোখের প্রভাব সত্য। এখানে চোখের প্রভাব বলতে বদনযর উদ্দেশ্য। বদনযরের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের অনেক ক্ষতি হয়। বদনযর থেকে বাঁচার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই নাতি হাসান-হুসায়ন (রাঃ)-কে ছোট বেলায় ঝাড়ফুঁক করতেন। [সম্পাদক]

(سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ) অর্থাৎ- ‘‘অবশ্যই বদনযর তাকদীরকে পরিবর্তন করত’’। তবে তাকদীর পরিবর্তন হবে না। কারণ মহান আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বেই তাকদীরকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চোখের প্রভাব বুঝানোর জন্য হাদীসটিতে মুবালাগাহ্ বা আধিক্যতা বুঝানো হয়েছে। বদনযর তাকদীরের কোন পরিবর্তন করতে পারবে না। কেননা আল্লাহর জ্ঞানে তাকদীর পূর্ব থেকেই নির্ধারিত, সুতরাং তা পরিবর্তনশীল নয়। মোট কথা যদি কোন জিনিসের ক্ষমতা থাকতো তাকদীরকে পরিবর্তন করতে, তবে অবশ্যই বদনযরের সে ক্ষমতা ছিল। যেহেতু তাকদীর পরিবর্তন হবে না তাহলে কিভাবে বদনযরে তাকে পরিবর্তন করবে?

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ হাদীস থেকে তাকদীরের অস্বিত্বের প্রমাণ হয়। এটা কুরআন সুন্নাহর দলীল এবং আহলুস্ সুন্নাহর ইজমা দ্বারা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এর অর্থ হলো সকল জিনিস মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদীর দ্বারা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারণের বাইরে কোন কাজ সংঘটিত হয় না। সুতরাং চোখ বা অন্য কোন কিছুর কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না। অতএব চোখ বা অন্য কোন কিছুর কোন ধরনের ক্ষতি বা ভালো-মন্দ তাকদীরের নির্ধারিত বিষয়ের উপর সংঘটিত হয়ে থাকে। অতএব বদনযর থেকে আরোগ্য লাভ করা এবং বদনযরে ক্ষতি হওয়াটাও তাকদীরের নির্ধারিত বিষয় অনুযায়ী হয়ে থাকে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৬২)

(وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوْا) ‘‘আর যদি তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার পানি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ধুয়ে দিবে’’। ‘আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, যে ব্যক্তির বদনযর লাগত, তার হাত, পা এবং দেহের নিচের অঙ্গ ধুয়ে যার উপরে নযর লাগিয়েছে তাকে সেই পানি দিয়ে গোসল করাতো, ফলে সে বদনযর থেকে আরোগ্য লাভ করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজটির অনুমোদন দিয়েছেন এবং যার নযর লেগেছে, তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সে যেন নিজের অঙ্গ ধুয়ে পানি দেয়াতে সে যেন অস্বীকৃতি না জানায়। এ কাজ করাতে যে বদনযরে আক্রান্ত হয়েছে তার সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। আর বাহ্যিকভাবে এ কাজ (অঙ্গ ধূয়ে পানি দেয়া) ওয়াজিব। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৬২; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩২-[১৯] উসামাহ্ ইবনু শরীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন : হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি ঔষধ ব্যবহার করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। হে আল্লাহর বান্দাগণ! চিকিৎসা করো। কেননা বার্ধক্য রোগ ব্যতীত আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় সৃষ্টি করেননি। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُول الله أفنتداوى؟ قَالَ: «نعم يَا عبد اللَّهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرم» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

عن اسامة بن شريك قال: قالوا: يا رسول الله افنتداوى؟ قال: «نعم يا عبد الله تداووا فان الله لم يضع داء الا وضع له شفاء غير داء واحد الهرم» . رواه احمد والترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ (أفنتداوى) ‘‘আমরা কি ঔষধপত্র ব্যবহার করব?’’ অর্থাৎ আমরা কোন কিছু বিবেচনা না করে অসুখ হলে ঔষধপত্র ব্যবহার করে আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করব কি? এখানে প্রশ্নটা করা হয়েছে তাকদীর সমর্থনের জন্য।

(يَا عِبَادَ اللهِ) ‘‘হে আল্লাহর বান্দা’’ এখানে ইঙ্গিত আছে যে, চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা ঔষধপত্র ব্যবহার করা আল্লাহর বান্দা হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। প্রতিপালনকারীর জন্য (ব্যবস্থা গ্রহণ করতে) তাওয়াক্কুল বাধা প্রদান করে না। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘‘তুমি আগে তোমার উটটি বাঁধ, অতঃপর তাওয়াক্কুল কর। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(تَدَاوَوْا) ‘‘তোমরা ঔষধপত্র ব্যবহার কর’’। ফাতহুল ওয়াদূদ প্রণেতা বলেনঃ হাদীসটি হতে বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, আদেশটি বৈধতা ও অনুমতির জন্য। আর এটিই হলো সঠিক দাবী। কেননা প্রশ্নটি করা হয়েছিল এটা অকাট্যভাবে বৈধ কিনা তা জানার জন্য। পরবর্তীতে তার দ্রুত জবাব দেয়াটা প্রমাণ করে যে, এটি তিনি বৈধতার জন্য বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ হাদীসটি হতে বুঝেছেন হাদীসটিতে যে নির্দেশ দেয়া হলো তাতে প্রমাণিত হয় মানদূব, অর্থাৎ কাজটি করা চান। তবে এটি সত্য হওয়া থেকে অনেক দূরে। কোন কোন বর্ণনায় যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্বুল করে চিকিৎসা ও ঔষধপত্র ব্যবহার করা ছেড়ে দেয় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। হ্যাঁ। তবে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, এ কাজ যে জায়িয তা প্রমাণ করার জন্য। অতএব যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়্যাত করবে এর জন্য তাকে প্রতিদান দেয়া হবে।

(الْهَرم) ‘‘বার্ধক্য’’। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বার্ধক্যকে রোগ বলা হয়। এটা কেবল বার্ধক্যের দুর্বলতা। এটা এমন রোগের মতো নয় যা শরীরে রোগের সৃষ্টি করে। বয়স বৃদ্ধি হওয়ার ফলে অভ্যাসসমূহ পরিবর্তন হয় এবং হাড়সমূহ দুর্বল হয়ে পড়ে। এটাকে (বার্ধক্যকে) রোগের সাথে তুলনা করার কারণ হলো এটা সেই ক্ষতি ও রোগসমূহ নিয়ে আসে যার ফলে মৃত্যু ও ধ্বংস অনিবার্য হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫১; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৩-[২০] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের রোগীদের পানাহারের জন্য জবরদস্তি করো না। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে খাওয়ান এবং পান করান। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُكْرِهُوا مَرْضَاكُمْ عَلَى الطَّعَامِ فَإِنَّ اللَّهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن عقبة بن عامر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تكرهوا مرضاكم على الطعام فان الله يطعمهم ويسقيهم» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّ اللهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ) ‘‘কেননা মহান আল্লাহ তাদেরকে খাওয়ান এবং পান করান’’। অর্থাৎ খাবার খাওয়া ও পানি পান করার স্থলাভিষিক্ত যা হয় তিনি তা সরবরাহ করেন এবং ক্ষুধার যন্ত্রণা ও পিপাসার উপর ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দান করেন, খাদ্য ও পানীয় যা পারে না। অনুরূপভাবে শরীরকে সুস্থ রাখা মহান আল্লাহর কাজ এটা খানা-পিনার কাজ নয়।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ আত্মাকে (রূহকে) হিফাযাত রাখতে ও শরীরকে শক্তিশালী রাখতে খাবার ও পানির যে উপকার মহান আল্লাহ সেটা সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের (রোগীদের) শক্তিকে সংরক্ষণ করেন। যেমনটি হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার রবের নিকট রাত্রি যাপন করেছি তিনি আমাকে খাদ্য খাওয়াইছেন ও পান করিয়েছেন- আর এ খাবার খাওয়ানো ও আমার খাবার মাঝে অনেক দূরত্ব ছিল- (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকিম)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৪-[২১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আস্’আদ ইবনু যুরারাহ্-এর গায়ে অগ্নি-বাতের দরুন তপ্ত লোহা দিয়ে দাগিয়েছেন। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেনঃ এ হাদীসটি গরীব)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَوَى أَسْعَدَ بْنَ زُرَارَةَ مِنَ الشَّوْكَةِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم كوى اسعد بن زرارة من الشوكة. رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যাঃ এর পরিচয়ে আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুখমণ্ডলে ও শরীর লাল হয়ে যাওয়া- (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫০)। এ রোগ হলে শরীর খুব ব্যথা হয়। ডাক্তারগণ এটাকে আগুন বা অগ্নিবাত বলেন। [সম্পাদক]

অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা গেল যে, কায় বা গরম লোহা দ্বারা দাগ দেয়া বৈধ।

ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘‘নায়লুল আওত্বার’’ কিতাবে বলেছেন, ‘কায়’-এর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে আবার অনুমতিও দেয়া হয়েছে। সা‘দ (রাঃ)-কে অনুমতি দেয়াটা প্রমাণ করে, এ কাজটি জায়িয। আর তা সৎ ব্যক্তির জন্য। যে ব্যক্তি আরোগ্য লাভের জন্য চিকিৎসা স্বরূপ অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। কিন্তু এ কাজ করা নিষেধ ঐ ব্যক্তির জন্য যে আরোগ্য লাভের জন্য অন্য ঔষধ ব্যবহার করতে সক্ষম। কারণ এতে আগুনের মাধ্যমে কষ্ট দেয়া হয়।

কায় তথা দাগ দেয়ার ব্যাপারে চার ধরনের কথা এসেছে। প্রথমঃ এটা করা নিষেধ, দ্বিতীয়ঃ এটা করা জায়িয। তৃতীয়ঃ এটা ছেড়ে দেয়াকে প্রশংসা করা হয়েছে। যেমন- সত্তর হাজার লোক যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, তাদের মধ্যে যারা এ কাজ করে না। চতুর্থতঃ এ কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পছন্দ নয়। যেমন- বুখারী মুসলিমের হাদীস- আমি উত্তপ্ত লোহা দ্বারা দাগ দেয়া পছন্দ করি না। সুতরাং তার পছন্দ না হওয়াটা প্রমাণ করে এটা না করাই উত্তম। আর এ কাজ ছেড়ে দেয়াকে প্রশংসা করা প্রমাণ করে এটা ছেড়ে দেয়াই উত্তম। সুতরাং দুই হাদীসের মধ্যে (দাগ দেয়ার ও না দেয়ার ব্যাপারে) কোন দ্বন্দ্ব থাকে না। (তুহফাতুল আহ্ওযায়ী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৫-[২২] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পাঁজরে ব্যথার চিকিৎসায় কুস্তব বাহরী (চন্দন কাঠ) ও যায়তূনের তেল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن زيد بن أَرقم قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَدَاوَى مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ بِالْقُسْطِ البحريِّ وَالزَّيْت. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن زيد بن ارقم قال: امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نتداوى من ذات الجنب بالقسط البحري والزيت. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) (ذَاتِ الْجَنْبِ) এর অর্থ করেছেন- যক্ষা। ইমাম হাফিয ইবনুল কইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ডাক্তারদের নিকট এ রোগটা দুই প্রকার : প্রথমটি হলো আসল আর দ্বিতীয়টি আসল নয়। তিনি আসলটির পাঁচটি লক্ষণ উল্লেখ করেছেন। ১. জ্বর, ২. কাশি, ৩. খোঁচা দেয়ার মতো ব্যথা, ৪. আত্মা সংকীর্ণ হওয়া, ৫. নাড়ী-ভূড়িতে ব্যথা হওয়া। এটি ভিতর থেকে পাজরের হাঁড়ের পাশে বের হয় এবং ফুলে যায়, গরম থাকে। এটি ভিতর থেকে খোঁচাতে থাকে। আর যেটি আসল না সেটির ব্যথা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত চন্দন কাঠ খুব ভালোভাবে গুঁড়ো করে গরম তেলের সাথে মিশিয়ে খুব যত্ন সহকারে দুর্গন্ধের স্থানে লাগিয়ে দিলে বা মালিশ করে দিলে খুবই উপকার হয়। এছাড়া যায়তূনের তেল শরীরকে শক্তি যোগায় ও হাড় মজবুত করে।

মুসায়হী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কাঠটি হবে শুকনো গরম যা পেটকে অর্থাৎ ডায়রিয়া মুক্ত রাখতে সাহায্য করে, ভিতর থেকে শরীরকে শক্তি জোগায়, দুর্গন্ধকে দূর করে, ছিদ্রগুলোকে খুলে দেয়, যাতুল জান্ব-এর জন্য খুবই উপকারী। কেউ কেউ কাঁচা কাঠের ফাযীলাত বর্ণনা করেছেন। উল্লেখিত কাঠটি মগজের জন্য খুবই ভালো। (তুহফাতুল আহ্ওযায়ী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৭৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৬-[২৩] উক্ত রাবী [যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁজরে ব্যথার রোগের চিকিৎসায় যায়তূনের তেল এবং ওয়ারস ঘাস ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْعَتُ الزَّيْتَ وَالْوَرْسَ مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم ينعت الزيت والورس من ذات الجنب. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ভাষাবিদ আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ওয়ার্স ঘাস চাষাবাদ করতে হয়, তা উন্মুক্তভাবে হয় না। এটি ‘আরবদেশ ব্যতীত অন্য দেশে পাওয়া যায়- এ কথা আমার জানা নেই। আরব দেশের সর্বত্রই এটি পাওয়া যায় না কেবল ইয়ামানে ছাড়া। এটি গরম ও শুষ্ক এলাকায় ভালো জন্মে। এ ঘাসটি লাল, নরম ও কম আবর্জনাসহ জন্মে। এটি দাগ, চুলকানি ও শরীরের বহির্ভাগে উদিত ফোড়া, পাঁচড়া ও যাবতীয় ফুসকুড়ির জন্য খুবই উপকারী। এটি রং করার জন্য একটি আদর্শ ঘাস। এটা- রস করে পান করলে উজ্জ্বল হওয়ার জন্য উপকার পাওয়া যায়। এ ঘাস রস করার পরিমাণ হলো এক দিরহাম। উপকারের দিক দিয়ে এটি চন্দন কাঠের সমপর্যায়ের। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ৪৫৩৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৭-[২৪] আসমা বিনতু ’উমায়স (রাঃ)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা জোলাবের জন্য কি জিনিস ব্যবহার করো? আসমা বললেনঃ শুব্রুম ব্যবহার করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা তো অত্যধিক গরম-ভীষণ গরম। আসমা বলেন, পরে আমি সানা দ্বারা জোলাব নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি মৃত্যু হতে রক্ষার কোন ঔষধ থাকত, তবে সানা-এর মধ্যেই থাকত। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব][1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَهَا: «بمَ تستَمشِينَ؟» قَالَت: بالشُّبْرمِ قَالَ: «حارٌّ حارٌّ» . قَالَتْ: ثُمَّ اسْتَمْشَيْتُ بِالسَّنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ أَنَّ شَيْئًا كَانَ فِيهِ الشِّفَاءُ مِنَ الْمَوْتِ لَكَانَ فِي السَّنَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن اسماء بنت عميس ان النبي صلى الله عليه وسلم سالها: «بم تستمشين؟» قالت: بالشبرم قال: «حار حار» . قالت: ثم استمشيت بالسنا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لو ان شيىا كان فيه الشفاء من الموت لكان في السنا» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ (شُبْرمِ) ‘শুব্রুম’-এর পরিচয়ে ইমাম জাযারী (রহিমাহুল্লাহ) ‘নিহায়াহ্’ গ্রন্থে বলেনঃ শুবরুম একপ্রকারের দানা যা আকারে চানাবুটের মতো যা সিদ্ধ করে ঔষধ হিসেবে তার পানি পান করা হয়।

‘সানা-’ হলো এক প্রকারের ঘাস যা রস করে সিদ্ধ করে তার পানি পান করতে হয়। পেট নামলে বা ডায়রিয়া হলে এটি খুবই উপকারী। এটি উকুন ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম। এটি পেশীবহুল হতে ও মাথার চুল গজাতে সহায়তা করে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৮১)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৮-[২৫] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা রোগ নাযিল করেছেন এবং প্রতিষেধকও। আর প্রত্যেক রোগের ঔষধও নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং তোমরা ঔষধ ব্যবহার করো, কিন্তু হারাম বস্তু দ্বারা ঔষধ সেবন করবে না। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وشطره الأول (صَحِيحٌ)
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ الدَّاءَ وَالدَّوَاءَ وَجَعَلَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءً فَتَدَاوُوا وَلَا تداوَوْا بحرامٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وشطره الاول (صحيح) وعن ابي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله انزل الداء والدواء وجعل لكل داء دواء فتداووا ولا تداووا بحرام» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘‘হারাম বস্তু দ্বারা ঔষধ সেবন করবে না’’।

ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হাদীস এবং অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করার নিষিদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, হারাম ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা নেয়া যাবে না। কিন্তু এ হাদীসদ্বয়ের সাথে দ্বন্দ্ব বাধে ‘উরায়নাহ্ গোত্রের হাদীসের। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ গোত্রের কিছু লোককে উটের পেশাব পান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এ দ্বন্দ্বের নিরসন করা যায় তা এভাবে যে, নিষ্প্রয়োজনে বা নিরুপায অবস্থার সম্মুখীন হতে না হয় তাহলে হারাম বা অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন হারাম হারাম উভয় প্রকার ঔষধ পাওয়া যায় এমন ক্ষেত্রে হারাম বা অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না। আর হারাম বা অপবিত্র ঔষধের বিকল্প না থাকে; তাহলে সে ঔষধ ব্যবহার করা যায়। তবে ‘আল্লামা শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ সমাধানটিকে না বুঝে দেয়া হয়েছে। তাতে কোন গোপনীয়তা নেই। কেননা বিতর্কিত উটের পেশাব হারাম বা অপবিত্রের সাথে সম্পর্কিত হয়। তবে যদি মেনে নেয়া হয়, তাহলে ‘আম, (যেমন- হারাম দ্বারা চিকিৎসা নেয়া) আর খাসের মধ্যে (যেমন- উটের পেশাব দ্বারা ঔষধ ব্যবহার করা)। একত্রিকরণ বা সমাধান করা ওয়াজিব হয়ে পড়বে। আর তা এভাবে যে, সকল প্রকার হারাম দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা হারাম শুধু উটের পেশাব ব্যতীত।

শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে ইবনু রসলান (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শাফি‘ঈ মাযহাবের সঠিক সিদ্ধান্ত হলো নেশাদার দ্রব্য ছাড়া সকল প্রকারের পবিত্রতা দ্বারা ঔষধ গ্রহণ করা জায়িয। এর দলীল হলো বুখারী মুসলিমে বর্ণিত ‘উরায়নাহবাসীদের হাদীস। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের পেশাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৯-[২৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম ও নাপাক জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে নিষেধ করেছেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الدَّوَاءِ الْخَبِيثِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابي هريرة قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدواء الخبيث. رواه احمد وابو داود والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) অথবা অন্য একজন সাহাবী খবীস-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অপবিত্র অথবা হারাম অথবা বিষ জাতীয় বস্তু। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ঔষধের নাপাকি দু’ভাবে হয়ে থাকে, প্রথমটি হলো : নাজাসাত বা অপবিত্রের নাপাকী। তা হলো কোন হারাম বস্তু প্রবেশ করানো। যেমন- মদ ও যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না এমন প্রাণীর গোশত ইত্যাদি। ডাক্তারগণ কখনও কোন কোন রোগের কারণে আপত্তিকর কিছু অপবিত্র যা গ্রহণ করা হারাম সেগুলোকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলেছেন কিন্তু সবগুলোই অপবিত্রতা গ্রহণ করা হারাম তবে হাদীস দ্বারা যেগুলোর অনুমতি আছে, যেমন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উরায়নাহ্ ও ‘উকল গোত্রের কতক লোককে উটের পেশাব পান করার আদেশ দিয়েছিলেন সেটির কথা ভিন্ন। সুন্নতী পন্থা হলো প্রত্যেকটি জিনিস আপন আপন স্থানে রাখা, একটি আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক না করা। দ্বিতীয় হলো : ঔষধের নাপাকী কখনও খাবার ও স্বাদ আস্বাদন করার দিক থেকে হয়ে থাকে। কোন ঔষধ যদি না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে হালাল ঔষধের অভাবে জীবন রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে নাপাকী ঔষধ ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়। মাওয়ারদী ও অন্যান্যরা বলেন, বিষ চার প্রকারের :

১. যা বেশি বা কম খেলে মানুষ মারা যায়। এ জাতীয় বিষ ঔষধ বা অন্য কোন কিছুর জন্য সেবন করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ‘‘...আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না...’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২ : ১৯৫)।

২. যা খুব বেশি পরিমাণ পান করলে মারা যাবে। সুতরাং সেই বেশি পরিমাণ পান করা চিকিৎসার জন্য বা অন্য কোন কারণে যাতে মৃত্যু ঘটে তা হারাম। আর অল্প পান করলে যদি উপকার পাওয়া যায় তবে চিকিৎসার জন্য ঔষধ হিসেবে তা পান করা বৈধ।

৩. যা পান করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ মারা যায়, এরূপ পান করা বৈধ নয়, তবে যদি অল্প পান করলে সাধারণত মানুষ না মরে তবে তা পান করা বৈধ।

৪. বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পান করলে মানুষ মরে না, এরূপ পান করা বৈধ।

(তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড হাঃ ২০৪৫; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪০-[২৭] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদীমাহ্ (সেবিকা) সালমা (রাঃ)Adobe Systemsহতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ মাথা ব্যথার অভিযোগ নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি তাকে শিঙ্গা লাগাতে নির্দেশ দিতেন। আর কেউ পায়ের কষ্টের অভিযোগ নিয়ে এলে তাকে তাতে মেহেদী লাগানোর পরামর্শ দিতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ سَلْمَى خَادِمَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: مَا كَانَ أَحَدٌ يَشْتَكِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا فِي رَأْسِهِ إِلَّا قَالَ: «احْتَجِمْ» وَلَا وَجَعًا فِي رِجْلَيْهِ إِلَّا قَالَ: «اخْتَضِبْهُمَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن سلمى خادمة النبي صلى الله عليه وسلم قالت: ما كان احد يشتكي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجعا في راسه الا قال: «احتجم» ولا وجعا في رجليه الا قال: «اختضبهما» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (وَجَعًا فِي رَأْسِه) ‘‘তার মাথা ব্যথার’’ মাথা ব্যথা হয় সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের কারণে আর (وَجَعًا فِي رِجْلَيْهِ) দুই পা ব্যথার কারণ হলো উত্তাপ বা গরম হয়ে যাওয়ার কারণ।

احْتَجِمْ ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তারীখে’ উল্লেখ করেছেন যে, মেহেদী দ্বারা প্রলেপ দাও।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসে সাধারণভাবে নারী-পুরুষ সকলকে মেহেদী লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে পুরুষের উচিত হলো শুধু পায়ের মাঝে লাগানো সীমাবদ্ধ রাখা। আঙ্গুলগুলোতে লাগাবে না যাতে মহিলাদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৪)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪১-[২৮] উক্ত রাবী [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদীমাহ্ সালমা(রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরে যখনই কোন আঘাত লাগত অথবা জখম হত, তখন তিনি আমাকে ঐ স্থানে মেহেদী লাগাতে নির্দেশ দিতেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وعنها قَالَت: مَا كَانَ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرْحَةٌ وَلَا نَكْبَةٌ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاء. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعنها قالت: ما كان يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم قرحة ولا نكبة الا امرني ان اضع عليها الحناء. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (قُرْحَةٌ) ‘‘করহাতুন’’ বলা হয়, তরবারি বা চাকুর আঘাতে যে জখমের সৃষ্টি হয় তাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُه ‘‘যদি তোমাদের কোন (তরবারি) আঘাত লেগে থাকে’’- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১৪০)।

আর (نَكْبَةٌ) ‘‘নুকবাহ্’’ বলা হয়, পাথর অথবা কাটা ইত্যাদির আঘাতে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে।

(أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاء) ‘‘আমি যেন তার উপর মেহেদী লাগিয় দেই’’ কারণ মেহেদী লাগালে তার শীতলতার কারণে জখমের উত্তাপ হালকা হয়ে যায় এবং রক্তের যন্ত্রণা কমে যায়।

(তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৪; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪২-[২৯] আবূ কাবশাহ্ আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথায় এবং দু’ বাহুর মধ্যখানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি এসব স্থান হতে দূষিত রক্ত বের করে দেয়, তার জন্য অন্য কিছু দ্বারা কোন রোগের ঔষধ না করলেও কোন ক্ষতি হবে না। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أبي كَبْشَة الْأَنْمَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يحتجم على هامته وَبَين كفيه وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ أَهْرَاقَ مِنْ هَذِهِ الدِّمَاءِ فَلَا يَضُرُّهُ أَنْ لَا يَتَدَاوَى بِشَيْءٍ لِشَيْءٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابي كبشة الانماري: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحتجم على هامته وبين كفيه وهو يقول: «من اهراق من هذه الدماء فلا يضره ان لا يتداوى بشيء لشيء» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (عَلٰى هَامَّتِه) অর্থাৎ তার মাথায়, আরো বলা হয় যে, তার মাথার মাঝখানে। অর্থাৎ বিষের কারণে।

(وَبَينَ كَتِفَيْهِ) ‘‘আবার তার দুই কাঁধের মাঝে’’ এটা হতে পারে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার করেছিলেন অথবা একই সাথে করিয়েছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৫৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৩-[৩০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিতম্বে ব্যথা হওয়ায় তিনি সে স্থানে শিঙ্গা লাগিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ جَابِرٌ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ عَلَى وَرِكِهِ مِنْ وَثْءٍ كَانَ بِهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر: ان النبي صلى الله عليه وسلم احتجم على وركه من وثء كان به. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (مِنْ وَثْءٍ) হাড় ভাঙ্গা ব্যতীত কোন অঙ্গে ব্যথা পাওয়ার কারণে। এটাও বলা হয় যে, বয়স হওয়ার কারণে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে।

কমূস এর মধ্যে وَثْءٍ-এর সম্বন্ধে বলা হয়েছে, এটা এমন ব্যথা যা গোশতের উপর লেগেছে কিন্তু তা হাড় পর্যন্ত পৌঁছায়নি। অথবা হাড়ে ব্যথা হয়েছে কিন্তু ভেঙ্গে যায়নি। অথবা হাড় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৪-[৩১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মি’রাজের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) কোন দলের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁরা তাঁকে বলেছেনঃ আপনি আপনার উম্মাতকে শিঙ্গা লাগাবার আদেশ করবেন। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব[[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن ابنِ مَسْعُود قَالَ: حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علن لَيْلَةَ أُسَرِيَ بِهِ: أَنَّهُ لَمْ يَمُرَّ عَلَى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا أَمَرُوهُ: «مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن ابن مسعود قال: حدث رسول الله صلى الله عليه وسلم علن ليلة اسري به: انه لم يمر على ملا من الملاىكة الا امروه: «مر امتك بالحجامة» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ (مُرْ) ‘‘আদেশ করুন’’ এর ব্যাখ্যায় মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এখানে আদেশসূচক যে বর্ণনাটি এসেছে তাতে উচ্চস্তরের মালায়িকাহ্’র ঐকমত্যের স্বীকৃতি রয়েছে। আর আদেশটা হচ্ছে মানদূরের জন্য অর্থাৎ করা চলে। আর এ নির্দেশটি উচ্চ স্তর সকল মালায়িকাহ্’র এবং তার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে থাকা ও তা বর্ণনা করাতে বিষয়টির গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। তবে বাহ্যিকভাবে এটি তাদের জন্য মহান আল্লাহরই নির্দেশ ছিল।

(أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ) জ্ঞানীগণ বলেন, শিঙ্গা লাগানোর হাদীসে বৃদ্ধদেরকে বাদে অন্যদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাদের শরীরে তাপমাত্রা কমে যায়। ইবনু সীরীন থেকে সহীহ সনদে ত্ববারী বর্ণনা করেছেনে যে, তিনি বলেন, চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছালে কোন ব্যক্তিকে শিঙ্গা লাগাবে না। ত্ববারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর কারণ হলো তখন থেকে কম তার বয়স এবং দৈহিক শক্তির ঘাটতি আরম্ভ হয়। আর এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের শিঙ্গা লাগানোর প্রয়োজন নেই। সুতরাং রক্ত বের করে তার কষ্ট বৃদ্ধি করা উচিত নয়। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৫-[৩২] ’আবদুর রহমান ইবনু উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন এক চিকিৎসক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ঔষধের মধ্যে ব্যাঙ ব্যবহার করার হুকুম কী? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ: إِنَّ طَبِيبًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ضِفْدَعٍ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الرحمن بن عثمان: ان طبيبا سال النبي صلى الله عليه وسلم عن ضفدع يجعلها في دواء فنهاه النبي صلى الله عليه وسلم عن قتلها. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (عَنْ قَتْلِهَا) অর্থাৎ তা দিয়ে ঔষধ তৈরি করতে। কারণ তা দ্বারা ঔষধ তৈরি করা নির্ভর করে থাকে হত্যা করার উপর। সুতরাং যখন তা হত্যা করা হারাম, তখন তা দিয়ে ঔষধ তৈরি করাও হারাম। এটি হতে পারে অপবিত্রতার কারণে আর হতে পারে ঘৃণার কারণে।

খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটি প্রমাণ করে যে, ব্যাঙ খাওয়া হারাম। কেননা পানির যেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ করা হয়েছে এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর প্রতিটি প্রাণীকে হত্যা না করার পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। হতে পারে তার সম্মানের জন্য হারাম। যেমন- মানুষ অথবা তার গোশতের জন্য হারাম। যেমন- মোটা মাথা, সাধা পেট ও সবুজ পিঠ বিশিষ্ট শিকারী পাখী এবং হুদহুদ পাখী ইত্যাদি। যদিও ব্যাঙ মানুষের মতো হারাম নয়। তবুও অন্যদিক থেকে তা নিষেধ করা হয়েছে। তা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত খাবার ছাড়া কোন প্রাণীকে যাবাহ করতে নিষেধ করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৬-[৩৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাড়ের দু’ পার্শ্বের দু’ রগে এবং দু’ বাহুর মধ্যখানে শিঙ্গা লাগাতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

আর তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ এ বাক্যগুলো যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ’’তাদের সতের, উনিশ এবং একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন’’ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَجِمُ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ: وَكَانَ يحتجمُ سبعَ عشرَة وتسع عشرَة وَإِحْدَى وَعشْرين

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتجم في الاخدعين والكاهل. رواه ابو داود وزاد الترمذي وابن ماجه: وكان يحتجم سبع عشرة وتسع عشرة واحدى وعشرين

ব্যাখ্যাঃ (فِي الْأَخْدَعَيْنِ) বলা হয় ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগকে। নিহায়াহ্ কিতাবে এভাবে এসেছে।

‘‘নায়লুল আওত্বার’’ কিতাবে এসেছে, শব্দের বিশ্লেষণকারীগণ বলেন, (أَخْدَعَيْنِ) ‘‘আখদা‘আয়ন’’ বলা হয় ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগকে যাতে শিঙ্গা লাগানো হয়। আর (كَاهِلِ) ‘কাহিল’ বলা হয়, যা দুই কাঁধের মাঝে থাকে সেই জায়গাকে। আর তা হলো পিঠের সম্মুখভাগ।

‘‘যাদুল মা‘আদ’’ এর মধ্যে ইবনুল কইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (أَخْدَعَيْنِ) তথা ঘাড়ের দু্ই পার্শ্বের উভয় রগে শিঙ্গা লাগানো মাথা ও তার সাথে সংযুক্ত অঙ্গ, যেমন- মুখ, দাঁত, দুই কান, দুই চোখ এবং নাকের অসুখের জন্য উপকারী। শিঙ্গা তখন লাগাতে হয় যখন রক্ত খুব বেশী হয় অথবা নষ্ট হয়ে যায় অথবা উভয়টি এক সাথে হয়। তিনি আরো বলেন, শিঙ্গা লাগানো হিজাযবাসী ও গ্রীষ্ম প্রধান দেশের অধিবাসীদের জন্য, কারণ তাদের রক্ত থাকে পাতলা। শরীরের বাহ্যিকভাগ থেকে অত্যন্ত গরমের কারণে তাদের চামড়ার নিচ দিয়ে রক্ত হালকা হয়ে যায়। তাদের শরীরের লোমকূপ প্রশস্ত হয়। সুতরাং তাদের জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাঝে ক্ষতি রয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৭-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের সতেরো, ঊনিশ এবং একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগানো পছন্দ করতেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَحِبُّ الْحِجَامَةَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ. رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعن ابن عباس رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يستحب الحجامة لسبع عشرة وتسع عشرة واحدى وعشرين. رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল কাজ বিজ্ঞানসম্মত। তিনি যে কাজ করতেন তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। তা ছাড়া তিনি মহান আল্লাহর নিকট থেকে ওয়াহীপ্রাপ্ত হয়ে সকল ‘আমল করতেন। যদি এ কাজে ক্ষতি থাকতো তবে মহান আল্লাহ তাকে এ কাজ করতে নিষেধ করতেন। তাছাড়া হাদীসটি হতে বুঝা যায়, মাসের শেষার্ধের প্রথম দিকে শিঙ্গা লাগানো ভালো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই লাগিয়েছেন। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৮-[৩৫] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সতেরো, ঊনিশ ও একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাবে সে সকল রোগ হতে নিরাময় থাকবে। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ احْتَجَمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ كَانَ شِفَاءً لَهُ مِنْ كُلِّ دَاء» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من احتجم لسبع عشرة وتسع عشرة واحدى وعشرين كان شفاء له من كل داء» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (مَنِ احْتَجَمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ) ‘উলামায়ে কিরাম বলেনঃ এতে হিকমাত হলো মাসের প্রথমদিকে রক্ত বৃদ্ধি পায়। সুতরাং মাসের শেষার্ধের প্রথম দিকে শিঙ্গা লাগানো বেশি উপকারী। যেহেতু প্রথম দিকে রক্ত বেশি চলে আর শেষের দিকে কম চলে। সুতরাং শিঙ্গা লাগানোর মোক্ষম সময় হলো মাসের মাঝামাঝি সময়। এ হিকমাতের কথা উল্লেখ করেছেন ‘‘ফাতহুল ওয়াদূদ’’-এর গ্রন্থকার।

(وَإِحْدٰى وَعِشْرِينَ) অর্থাৎ- এ দিনগুলোর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য তিনি মাসের একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন।

(مِنْ كُلِّ دَاء) এটি হলো ‘আম বা সাধারণ। তবে এর উদ্দেশ্য হলো খাস বা নির্দিষ্ট। উদ্দেশ্য হলো : রক্তকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে সকল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবে। সকল ডাক্তার যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে- এ হাদীসটি তার অনুকূলে। তা হল- মাসের দ্বিতীয়ার্ধকে শিঙ্গা লাগানো তার পূর্বে শিঙ্গা লাগানোর চেয়ে উত্তম। চতুর্থাংশের শেষ ভাগে লাগানো তার পূর্বের চেয়ে উত্তম। (নায়লুল আওত্বার; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৯-[৩৬] কাবশাহ্ বিনতু আবূ বকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নিজেই পরিবারের লোকেদেরকে মঙ্গলবারে শিঙ্গা লাগাতে নিষেধ করতেন এবং তিনি বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মঙ্গলবার রক্ত চলাচলের দিন এবং সে দিনের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যাতে রক্ত (নির্গত হলে তা) বন্ধ হয় না। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن كبشةَ بنت أبي بكرةَ: أَنَّ أَبَاهَا كَانَ يُنْهِي أَهْلَهُ عَنِ الْحِجَامَةِ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وَيَزْعُمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ يَوْمُ الدَّمِ وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَرْقَأُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن كبشة بنت ابي بكرة: ان اباها كان ينهي اهله عن الحجامة يوم الثلاثاء ويزعم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان يوم الثلاثاء يوم الدم وفيه ساعة لا يرقا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (يَوْمُ الدَّمِ) অর্থাৎ এমন দিন যাতে শরীরে অধিক রক্তের সঞ্চালন হয়। এটাও বলা হয় যে, তার অর্থ হলো এ দিনটি রক্তের দিন লেখা ছিল। অর্থাৎ আদামের ছেলে তার ভাইকে হত্যা করেছিল।

(سَاعَةٌ لَا يَرْقَأُ) অর্থাৎ সেদিন রক্ত স্থির থাকে না তথা থামে না। এর অর্থ হলো যদি কোন ব্যক্তি ঐ দিনে শিঙ্গা লাগায় তবে রক্ত বন্ধ না হওয়ার কারণে বেশির ভাগে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। (‘আওনুল মা‘াবূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৮; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫০-[৩৭] ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বুধ অথবা শনিবারে শিঙ্গা লাগানোর দরুন শ্বেতকুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, সে যেন নিজেকেই ধিক্কার দেয়। [আহমাদ ও আবূ দাঊদ; ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি কেউ মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা সঠিক নয়।][1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ الزُّهْرِيِّ مُرْسَلًا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ احْتَجَمَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ أَوْ يَوْمَ السَّبْتِ فَأَصَابَهُ وَضَحٌ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ: وَقَدْ أسْند وَلَا يَصح

وعن الزهري مرسلا عن النبي صلى الله عليه وسلم: «من احتجم يوم الاربعاء او يوم السبت فاصابه وضح فلا يلومن الا نفسه» . رواه احمد وابو داود وقال: وقد اسند ولا يصح

ব্যাখ্যাঃ (فَأَصَابَهٗ وَضَحٌ) অর্থাৎ কুষ্ঠরোগ। আর الوضح বলা হয় সকল বস্তুর সাদাকে। সুতরাং وَضَحٌ এর অর্থ শ্বেতকুষ্ঠ রোগ। (فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهٗ) ‘‘সে যেন নিজেকে ধিক্কার দেয়’’ অর্থাৎ সে ব্যক্তি যে নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে সেজন্য অথবা সে যে তার জ্ঞানের বিপরীত ‘আমল করেছে সে জন্য যেন নিজেকে ধিক্কার দেয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫১-[৩৮] ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ শনিবারে কিংবা বুধবারে শিঙ্গা লাগায় অথবা শরীরের যে কোন অঙ্গে ঔষধ মালিশ করায় এবং তার দরুন শ্বেত-কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, তবে যেন সে নিজেকেই দোষারোপ করে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ احْتَجَمَ أَوِ اطَّلَى يَوْمَ السَّبْتِ أَوِ الْأَرْبِعَاءِ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ فِي الوَضَحِ» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعنه مرسلا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من احتجم او اطلى يوم السبت او الاربعاء فلا يلومن الا نفسه في الوضح» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসটি হতে বুঝা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির মধ্যে মাসের ও সপ্তাহের এমন কতিপয় নির্ধারিত সময় রয়েছে যাতে কিছু প্রভাব রয়েছে। এতে আল্লাহ যা চান তা সৃষ্টি করতে পারেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অতএব একজন মুসলিমের উচিত, হাদীসে বর্ণিত দিনগুলোকে স্মরণ রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকে মূল্যায়ন করে সাবধানতা অবলম্বন করা যাতে পরবর্তীতে নিজেকে ধিক্কার না দিতে হয়। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫২-[৩৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। (আমার স্বামী) ’আবদুল্লাহ আমার গলায় একখানা তাগা দেখে জিজ্ঞেস করলেন : এটা কী? বললামঃ এটা একটি তাগা, আমার জন্য তাতে মন্ত্র পড়া হয়েছে। যায়নাব বলেনঃ এটা শুনে তিনি তাগাটি টেনে ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা ’আবদুল্লাহর পরিবারবর্গ! তোমরা শির্কের মুখাপেক্ষী নও, (এতে কলূষিত হবে কেন?) আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ঝাড়ফুঁক, তা’বীয ও জাদুটোনা শির্কী কাজ। (যায়নাব বলেনঃ) তখন আমি বললামঃ আপনি কেন এরূপ কথা বলছেন? একবার আমার চোখে ব্যথা হচ্ছিল, যেন চোখটি বের হয়ে পড়বে। তখন আমি অমুক ইয়াহূদীর কাছে যাওয়া-আসা করতাম। যখন সে ইয়াহূদী তাতে মন্ত্র পড়ল, তখনই তার ব্যথা চলে গেল।

এ কথা শুনে ’আবদুল্লাহ বললেনঃ এটা তো শয়তানেরই কাজ। সে নিজের হাতের দ্বারা তাতে আঘাত করছিল, আর যখন মন্ত্র পড়া হয়, তখন সে বিরত হয়ে যায়। বস্তুতঃ (এ জাতীয় রোগ) তোমার পক্ষ এরূপ বলাই যথেষ্ট ছিল, যেভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’আযহিবিল বা’সা রব্বান্ না-স, ওয়াশফি আনতাশ্ শা-ফী লা- শাফা-আ ইল্লা- শিফা-উকা শিফা-উন লা- ইউগা-দিরু সাকামা-’’ (হে মানুষের রব! আপনি বিপদ দূর করে দিন এবং রোগ হতে নিরাময় দান করুন। আপনিই নিরাময়কারী। আপনার নিরাময় প্রদান ব্যতীত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব নয়। এমন নিরাময় দান করুন, যেন কোন রোগই অবশিষ্ট না থাকে।)। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ: خَيْطٌ رُقِيَ لِي فِيهِ قَالَتْ: فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ ثُمَّ قَالَ: أَنْتُمْ آلَ عَبْدَ اللَّهِ لَأَغْنِيَاءٌ عَنِ الشِّرْكِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ» فَقُلْتُ: لِمَ تَقُولُ هَكَذَا؟ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تُقْذَفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلَانٍ الْيَهُودِيِّ فَإِذَا رَقَاهَا سَكَنَتْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّمَا ذَلِكِ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخَسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رُقِيَ كُفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سقما» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن زينب امراة عبد الله بن مسعود ان عبد الله راى في عنقي خيطا فقال: ما هذا؟ فقلت: خيط رقي لي فيه قالت: فاخذه فقطعه ثم قال: انتم ال عبد الله لاغنياء عن الشرك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان الرقى والتماىم والتولة شرك» فقلت: لم تقول هكذا؟ لقد كانت عيني تقذف وكنت اختلف الى فلان اليهودي فاذا رقاها سكنت فقال عبد الله: انما ذلك عمل الشيطان كان ينخسها بيده فاذا رقي كف عنها انما كان يكفيك ان تقولي كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اذهب الباس رب الناس واشف انت الشافي لا شفاء الا شفاوك شفاء لا يغادر سقما» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ الرُّقٰى) অর্থাৎ এমন ঝাড়ফুঁক যাতে মূর্তির নাম অথবা শয়তানের নাম অথবা কুফরী কালাম অথবা অন্য কিছু রয়েছে যা শারী‘আতে জায়িয নয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এমন মন্ত্র পাঠ করা যার অর্থ স্পষ্টভাবে বুঝে আসে না। অতএব এ রকম ঝাড়ফুঁক বৈধ নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আর এমন ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ যা ‘আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় হয় এবং তার অর্থ স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না। কখনও তাতে শির্ক ও কুফর যুক্ত হতে পারে। আর যদি তার অর্থ স্পষ্টভাবে বুঝা যায় আর তাতে মহান আল্লাহর নাম থাকে তবে নিঃসন্দেহে তা মুস্তাহাব বরং তা বারাকাত সমৃদ্ধ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭৯)

(وَالتَّمَائِمَ) হলো এমন সব তা‘বীয যা বাচ্চাদের ঝুলানো হয়। কিন্তু তা নির্দিষ্ট করা উচিত যাতে আল্লাহর নাম নেই, তিলাওয়াতকৃত কোন আয়াত নেই এবং শারী‘আতসম্মত কোন দু‘আও নেই।

এও বলা হয় যে, তা হলো এমন সব পুঁথি ‘আরবরা তাদের ধারণায় বদনযর থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের বাচ্চাদের শরীরে ঝুলিয়ে রাখত। তবে ইসলাম এটিকে বাতিল করেছে। অতঃপর তারা এতে প্রশস্ততা নিয়ে আসলো এমনকি তারা প্রত্যেক তা‘বীযকে এ تميمة (তামীমাহ্) নামে নামকরণ করল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭৯)

(التِّوَلَةَ) ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ বলা হয় যে, এটি যাদুর একটি প্রকার। আসমা‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তা হলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে মহিলাকে তার স্বামীর নিকট প্রিয় করে দেয়া হয়।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (التِّوَلَةَ) ‘‘তিওয়ালাহ্’’ বলা হয় যাদুর একটি প্রকারকে। অথবা এমন সুতাকে যাতে যাদু পাঠ করে অথবা স্ত্রী স্বামীর নিকট ভালোভাসা সৃষ্টি বা অন্য কোন কারণে কাগজে যাদু লিখে দেয়া হয়েছে। অথবা কাগজকে যাতে ভালোবাসা বা অন্য কোন কারণে যাদু লিখে দেয়া হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭৯; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(شِرْكٌ) অর্থাৎ এগুলোর প্রত্যেকটি শিরকের দিকে ধাবিত করে। হতে পারে তা প্রকাশ্যভাবে অথবা গোপনভাবে। কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটিকে শির্ক বলার কারণ হলো জাহিলী যুগে তার যে অভ্যাস ছিল সেটা পুনরায় জেগে উঠার কারণে, যা শির্কের সাথে মিশ্রিত ছিল। অথবা এটা ঝুলানোর কারণে হয়ত তা ‘আক্বীদার উপর প্রভাব ফেলবে, যা শির্কের দিকে ধাবিত করবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭৯)

(عَمَلُ الشَّيْطَانِ) ‘‘শয়তানের কাজ’’ অর্থাৎ তোমার দুই চোখে তুমি যে ব্যথা পাচ্ছ তা প্রকৃত ব্যথা নয় বরং তা হলো শয়তানের আঘাত বা গুতা।

(أَنْتَ الشَّافِي) ‘‘আপন আরোগ্য দানকারী’’। এখান থেকে নেয়া হয়েছে যে, কুরআনুল কারীমে নেই মহান আল্লাহর এমন নাম বলা দু’টা শর্তে জায়িয আছে। প্রথমটি হলো তাতে যেন কোন ধরনের কমতি না বুঝা যায়। তার দ্বিতীয়টি হলো কুরআনুল কারীমে তার মূলভিত্তি থাকতে হবে। এখানে شافى ‘‘শাফী’’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যার মূলভিত্তি আছে কুরআনে, তা হলো وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ‘‘আর যখন আমি অসুস্থ হই তখন তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন’’- (সূরাহ্ আশ্ শু‘আরা ২৬ : ৮০)। يَشْفِينِ ‘‘ইয়াশফীন’’ থেকে شافى ‘‘শাফী’’ নেয়া হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ যায়নাব (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৩-[৪০] জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নুশরাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, উত্তর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা তো শয়তানের কাজ। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن جَابر قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ النُّشْرَةِ فَقَالَ: «هُوَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر قال: سىل النبي صلى الله عليه وسلم عن النشرة فقال: «هو من عمل الشيطان» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ‘নুশরাহ্’ এক প্রকারের ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসা। জাহিলী যুগে কোন ব্যক্তি জীন-পরী দ্বারা প্রভাবিত হলে উক্ত বিশেষ ঝাড়ফুঁক দ্বারা তাকে চিকিৎসা করা হত। ‘নুশরাহ্’ নামকরণের কারণ হলো যে রোগ বিস্তার লাভ করেছিল। তাই এটা দ্বারা দূর করার দরুন একে ‘নুশরাহ্’ বলা হয়েছিল।

হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নুশরাহ্’ এক ধরনের যাদু। ‘ফাতহুল ওয়াদূদ’ কিতাবে এসেছে, সম্ভবত তা (‘নুশরাহ্) ব্যবহৃত হয় শয়তানদের নামে, অথবা এমন ভাষায় যা বোঝা যায় না, আর সে কারণেই একে যাদু বলা হয়। এর দ্বারা রোগ বিস্তার লাভ করার কারণে এবং বালা-মুসীবাত ছড়ানোর কারণে একে ‘নুশরাহ্’ নামকরণ করা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৪)

هُوَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ অর্থাৎ এটা সেই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যেটা দিয়ে জাহিলী যুগের লোকেরা চিকিৎসা করত এবং তাতে তারা বিশ্বাস রাখত। পক্ষান্তরে যাতে কুরআনুল মাজীদের আয়াতসমূহ বিদ্যমান থাকে, মহান আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ থাকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ দু‘আসমূহ থাকে তাতে কোন সমস্যা নেই। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৪-[৪১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। আমি যা নিয়ে এসেছি সে সম্পর্কে অবহেলা করছি বলে প্রমাণিত হবে, যদি আমি বিষনাশক অমৃত পান করি বা তা’বীয ঝুলাই অথবা স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করি। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا أُبَالِي مَا أَتَيْتُ إِنْ أَنَا شَرِبْتُ تِرْيَاقًا أَوْ تَعَلَّقْتُ تَمِيمَةً أَوْ قُلْتُ الشِّعْرَ مِنْ قِبَلِ نَفْسِي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الله بن عمر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما ابالي ما اتيت ان انا شربت ترياقا او تعلقت تميمة او قلت الشعر من قبل نفسي» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘‘লুম্‘আত’’ কিতাবে এসেছে, হাদীসটির অর্থ হলো যদি আমি এ কাজগুলো করি তবে আমি সে ব্যক্তির মতো হয়ে যাব যে তার কাজ-কর্ম শারী‘আতসম্মত হচ্ছে না অন্য পন্থায় হচ্ছে তা পরোয়া করে না। যে শারী‘আত ও অন্য কোন কিছুর মাঝে পার্থক্য করে না।

(الترياق) যা বিষ প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিষেধক ও মলম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ইবনুল আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে অপছন্দ করার কারণ হলো এতে সাপের গোশত এবং মদ দেয়া হয়। আর তা হারাম ও অপবিত্র। الترياق এর অনেক প্রকার রয়েছে। অতএব যে ترياق এর মধ্যে এ জাতীয় কিছু দেয়া না হয় তাতে কোন সমস্যা নেই।

এও বলা হয় যে, হাদীসটি মুত্বলাক বা সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এর সকল প্রকার থেকে বিরত থাকা উত্তম।

(أَوْ تَعَلَّقْتُ تَمِيمَةً) ‘‘অথবা আমি তা‘বীয ঝুলাই’’। এখানে তা‘বীয تميمة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহিলী যুগের তা‘বীয ও মন্ত্র। যে প্রকারটি আল্লাহর নাম ও তার কালামসমূহ দ্বারা করা হয় তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

‘‘নিহায়াহ্’’ গ্রন্থকার বলেন, এটা সেসব পুঁথিকে বুঝিয়েছে যা (জাহিলী যুগে) ‘আরবরা তাদের সন্তানদের গলায় ঝুলিয়ে দিত। আর তারা বিশ্বাস করত যে, এটা তাদেরকে বদনযর থেকে রক্ষা করবে। তবে ইসলাম এটাকে বাতিল ঘোষণা করেছে।

হাদীসে এসেছে, التَّمَائِمُ وَالرُّقٰى مِنَ الشِّرْكِ তা‘বীয ও ঝাড়ফুঁক শির্কের অন্তর্ভুক্ত।

مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَلَا أَتَمَّ اللهُ لَهٗ ‘‘যে ব্যক্তি তা‘বীয ঝুলাল আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দিবেন না’’। তাদের এ কাজগুলো শির্কী কাজ এজন্যে যে, তারা মনে করতো যে, এগুলোর দ্বারা লিখিত ফায়সালা পরিবর্তন হয়ে যায়। আর তারা এসব বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট আবেদন করতো। অথচ প্রকৃতপক্ষ যাবতীয় বিপদাপদ থেকে রক্ষাকারী হলেন আল্লাহ।

কেননা এর দ্বারা তারা তাদের নির্ধারিত তাকদীরকে দূর করতে চাইতো। যে আল্লাহ কষ্ট দূরকারী তাকে ছাড়া অন্যের নিকটে কষ্ট দূর করার কামনা করত।

‘আল্লামা সিনদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহিলী যুগের তা‘বীয تميمة। যেমন- পুঁথিসমূহ, হিংস্র প্রাণীর নখ, তাঁর হাড়। তবে যা কুরআন মাজীদ ও মহান আল্লাহর নাম নিয়ে হবে তা এর -কুমে হবে না। বরং তা জায়িয।

কাযী আবূ বকর ‘আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) শারহুত্ তিরমিযী কিতাবে বলেন, কুরআন ঝুলানো সুন্নতী পদ্ধতি নয় বরং সুন্নাত হলো কেবল না ঝুলিয়ে পাঠ করা। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৫)

ইবনুল মালিক বলেনঃ অর্থাৎ কবিতা রচনা করা আমার জন্য হারাম, অনুরূপভাবে الترياق পান করা আমার জন্য হারাম, তা‘বীয ঝুলানোও আমার জন্য হারাম। তবে উম্মাতের অধিকার আছে। উম্মাতের জন্য তা‘বীয ও কবিতা রচনা করা হারাম নয় যদি না তাতে কোন মিথ্যা থাকে, কোন মুসলিমকে হেয় করা না হয়, অথবা তাতে কোন পাপের কিছু না থাকে। অনুরূপভাবে الترياق-ও তাতে যদি শারী‘আতে নিষিদ্ধ কিছু না থাকে- যেমন সাপের গোশত, মদ ইত্যাদি তবে তাতেও কোন সমস্যা নেই। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৫-[৪২] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরীর দাগায় অথবা ঝাড়ফুঁক করায়, সে তাওয়াক্কুল হতে দূরে সরে পড়েছে। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ اكْتَوَى أَوِ اسْتَرْقَى فَقَدْ بَرِئَ مِنَ التَّوَكُّلِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن المغيرة بن شعبة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من اكتوى او استرقى فقد برى من التوكل» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা মানবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ থেকে বিরত থাকা উত্তম জেনেও যে ব্যক্তি এ কাজ করে সে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল না করে ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করে। এটা (তাওয়াক্কুল হতে সরে পড়া) মূলত তার জন্যই। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৫)

(مَنْ اكْتَوٰى) অর্থাৎ শরীর দাগানোকে সুস্থ হওয়ার উপকরণ মনে করে বিনা প্রয়োজনে শরীরে দাগ দিবে না। (أَوِ اسْتَرْقٰى) অর্থাৎ অসুখ দূর করার জন্য এমন সব শব্দাবলী ব্যবহার করা যাতে আল্লাহর নাম ও তাঁর কিতাব তথা আল কুরআনের কোন শব্দ, অথবা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ কোন দু‘আ থাকে না।

(فَقَدْ بَرِئَ مِنَ التَّوَكُّلِ) অর্থাৎ তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সে সরে যাবে। অথচ মহান আল্লাহ বলেনঃ

وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ‘‘আর মু’মিনদের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা করা।’’ (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরা-ন ৩ : ১২২)

ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (তাওয়াক্কুল হতে সরে পড়া) এটার সম্ভাবনা আছে ঐ ব্যক্তির জন্য যে বিশ্বাস করে দাগ দেয়া ও ঝাড়ফুঁক আরোগ্য দিতে পারে। আর যে ব্যক্তির বিশ্বাস এরূপ হবে সে শুধু তাওয়াক্কুল থেকে নয়, বরং দীন থেকেই বেরিয়ে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

শারী‘আত সমর্থিত পন্থায় ঝাড়ফুঁক ও বৈধ ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা দোষের কিছু নয়, বরং মুস্তাহাব। তবে ঝাড়ফুঁক বা ঔষধের উপর তাওয়াক্কুল করা জায়িয হবে না। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে ঝাড়ফুঁক ও ঔষধ সেবন করতে হবে। পাশাপাশি সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ও সাওয়াব কামনা করতে হবে। কারণ আরোগ্য দানকারী কেবলমাত্র মহান আল্লাহ। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৬-[৪৩] ’ঈসা ইবনু হামযাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উকায়ম-এর নিকট গেলাম। দেখি তার শরীরে লাল ফোস্কা পড়ে আছে। আমি বললামঃ আপনি তাবিজ ব্যবহার করবেন না? উত্তরে তিনি বললেনঃ ’’নাঊযুবিল্লা-হি মিন যা-লিক’’ তা হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এটার জন্য কোন কিছু লটকায় তাকে তার প্রতি সোপর্দ করে দেয়া হয়। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عِيسَى بْنِ حَمْزَةَ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عبدِ الله بن عُكيم وَبِهِ حُمْرَةٌ فَقُلْتُ: أَلَا تُعَلِّقُ تَمِيمَةً؟ فَقَالَ: نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ ذَلِكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِليهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عيسى بن حمزة قال: دخلت على عبد الله بن عكيم وبه حمرة فقلت: الا تعلق تميمة؟ فقال: نعوذ بالله من ذلك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تعلق شيىا وكل اليه» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ ذٰلِكَ) মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ না‘ঊযুবিল্লাহ বলার কারণ হলো তা‘বীয ঝুলানো কাজটি শির্কের একটা প্রকার।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তা‘বীয ঝুলানোর কথা শুনে তিনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। এতে বুঝা যায় যে, তিনি তাওয়াক্কুলকারীদের একজন। (যারা কোন চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করেন না)। তবে তা অন্যের জন্য করা বৈধ রয়েছে কুরআন মাজীদের আয়াত এবং হাদীস দ্বারা বর্ণিত দু‘আর মাধ্যমে।

(مَنْ تَعَلَّقَ) অথ্যাৎ যে ব্যক্তি নিজের থেকে কোন মাদুলী বা তা‘বীয এ বিশ্বাসে ঝুলালো এ মনে করে যে, তা তার কোন উপকার করবে। (وُكِلَ إِليهِ) অর্থাৎ ঐ জিনিসের প্রতি তাকে সোপর্দ করা হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৭২)

মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্য একজন বলেনঃ যে ব্যক্তি তা‘বীয বা এ জাতীয় কোন কিছু বেঁধে এ বিশ্বাস করল যে, আরোগ্য এ থেকেই আসবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে না। তবে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করবেন না। বরং তার আরোগ্য ঐ জিনিসের প্রতিই সোপর্দ করে দিবেন। তখন তার আর আরোগ্য লাভ হবে না কারণ কোন জিনিস আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও কোন উপকার বা ক্ষতি সাধন করতে পারে না। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এটাকে সমর্থন করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৭-[৪৪] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বদনযর কিংবা কোন বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের বেলায়ই ঝাড়ফুঁক রয়েছে। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن عمران بن حصين ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا رقية الا من عين او حمة» . رواه احمد والترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বিষাক্ত প্রাণীর বিষ। বিচ্ছু ও ভিমরুলের হুল ফুটিয়ে দেয়াকে বলে (حُمَةٍ)। এর কারণ হলো এ হুল ফুটানোর সাথে সাথেই বিষ চলে যায় বা ছড়িয়ে পড়ে।

অত্র হাদীসে বলা হলো বদনযর ও বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের বেলায় ছাড়া ঝাড়ফুঁক করবে না। এ হাদীস দ্বারা এ দুই অবস্থা ছাড়া অন্য অবস্থায় ঝাড়ফুঁক করা জায়িয নেই সেটা বুঝানো হয়নি, কেননা অন্যান্য ব্যথার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে বিভিন্ন সময়ে ঝাড়িয়েছেন বা দু‘আ শিখিয়ে দিয়েছেন। আর তাতে তারা আল্লাহর রহমাতে আরোগ্য লাভ করেছিল। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৮০)

এ হাদীসটির অর্থ হলো কোন উত্তম ও উপকারী ঝাড়ফুঁক নেই, এ দুই ঝাড়ফুঁকের চেয়ে উত্তম।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৮-[৪৫] আর ইবনু মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুরয়দাহ্ হতে।[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن بُرَيْدَة

ورواه ابن ماجه عن بريدة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫৯-[৪৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবল বদনযর লাগা, বিষাক্ত প্রাণী দংশন করা এবং রক্ত ঝরার জন্যই রয়েছে ঝাড়ফুঁক। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْ دَمٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا رقية الا من عين او حمة او دم» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (أَوْ دَمٍ) অর্থাৎ নাক দিয়ে পড়া রক্ত। বলা হয়ে থাকে, শুধু এ তিনটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কারণ এ তিনটির ঝাড়ফুঁক বেশি আরোগ্য দেয় এবং মানুষের মাঝে এগুলো বেশি বিস্তার লাভ করেছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৮৫; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬০-[৪৭] আসমা বিনতু ’উমায়স (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রসূল! জা’ফার (তাইয়্যার)-এর সন্তানদের ওপর দ্রুত বদনযর লেগে থাকে। আমি কি তাদের জন্য ঝাড়ফুঁক করাব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা যদি কোন জিনিস তাকদীরের অগ্রগামী হতে পারত, তবে বদনযরই তার অগ্রগামী হত। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أَسمَاء بنت عُميس قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ وَلَدَ جَعْفَرٍ تُسْرِعُ إِلَيْهِمُ الْعَيْنُ أَفَأَسْتَرْقِي لَهُمْ؟ قَالَ: «نَعَمْ فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقُ الْقَدَرِ لَسَبَقَتْهُ العينُ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن اسماء بنت عميس قالت: يا رسول الله ان ولد جعفر تسرع اليهم العين افاسترقي لهم؟ قال: «نعم فانه لو كان شيء سابق القدر لسبقته العين» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ وَلَدَ جَعْفَرٍ) মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তার থেকে জা‘ফারের সন্তানদের অথবা সে ব্যতীত অন্যের থেকে জা‘ফার-এর সন্তানদের। (إِلَيْهِمُ الْعَيْنُ) অর্থাৎ তাদের চেহারা খুবই সুন্দর হওয়ার কারণে অতি তাড়াতাড়ি বদনযর তাদের ওপর প্রভাব ফেলে। অসৎ উদ্দেশে হিংসা নিয়ে কারো প্রতি দৃষ্টিপাত করলে তার (যার প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে) ক্ষতি হয়ে যায়। হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এ কথা বলেছেন। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৯)

(لَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقُ الْقَدَرِ لَسَبَقَتْهُ العينُ) ‘‘যদি কোন জিনিস তাকদীবের অগ্রগামী হতে পারত, তবে বদনযরই তার অগ্রগামী হতো’’। এর অর্থ হলো নিশ্চয় এটা একটা বিরাট বিষয়। সুতরাং এটা থেকে মহান রবের তরফ থেকে ঝাড়ফুঁক তলব করা জায়িয। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

আহলুস্ সুন্নাতের মাযহাব হলো এই যে, বদনযরকারীর চোখ ক্ষতি করে ও ধবংস করে মহান আল্লাহর কাজের দ্বারা (তার নিজের কোন ক্ষমতা নেই)। মহান আল্লাহ এ রীতি চালু করে রেখেছেন যে, এ ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির মুখোমুখি ক্ষতি সাধান করতে পারবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬১-[৪৮] শিফা বিনতু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাফসাহ্ (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে প্রবেশ করে বললেনঃ তুমি যেভাবে হাফসাকে হস্তলিপি শিখিয়েছ, সেভাবে তাকে নামলাহ্ রোগের মন্ত্র শিখাও না কেন? (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن الشَّفاءِ بنت عبد الله قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا عِنْدَ حَفْصَةَ فَقَالَ: «أَلَا تُعَلِّمِينَ هَذِهِ رُقْيَةَ النَّمْلَةِ كَمَا عَلَّمْتِيهَا الْكِتَابَةَ؟» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن الشفاء بنت عبد الله قالت: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا عند حفصة فقال: «الا تعلمين هذه رقية النملة كما علمتيها الكتابة؟» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (رُقْيَةَ النَّمْلَةِ) এটা এমন ফোসকা- যা এক পার্শ্বদেশে অথবা দুই পার্শ্বদেশে হয়। (رُقْيَةَ النَّمْلَةِ) এমন কথা যাকে ‘আরবের মহিলারা ব্যবহার করত এবং শ্রোতারা জানত যে, এসব বাক্য কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না ব্যক্তির শানে যে এমন কথা শুনেছে যা কোন উপকার বা ক্ষতি করে না। (رُقْيَةَ النَّمْلَةِ) ‘আরব মহিলাদের নিকট পরিচিত ব্যবহৃত শব্দ এভাবে যে, নববধূকে বলা হত, তুমি উদযাপন করবে, মেহেদী লাগাবে ও সুরমা লাগাবে। এ সকল কাজ তারা করত পুরুষের অবাধ্যতা না করেই। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি হাফসাকে আদব শিক্ষা দেয়ার জন্য পেশ করেন। কেননা তিনি তার নিকটে গোপনে প্রবেশ করে যা তিনি দেখেন তা প্রকাশ করেন। ইমাম শাওকানী এ কথা বলেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৮৩; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬২-[৪৯] সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর পুত্র আবূ উমামাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’আমির ইবনু রবী’আহ্ (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-কে গোসল করতে দেখলেন এবং (তার মসৃণ দেহ দেখে) বলে উঠলেন : আল্লাহর কসম! আজকের মতো আমি কোনদিন দেখিনি এবং পর্দার আড়ালে রক্ষেত (কুমারী মেয়ের) কোন চামড়াও (সাহল-এর চামড়ার মতো) এরূপ দেখিনি। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর (তার মুখ হতে এ শব্দগুলো বের হওয়ায়) সাহল সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং (এ অবস্থায়) তাঁকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সাহল ইবনু হুনায়ফ-এর জন্য কোন ব্যবস্থা করতে পারেন? আল্লাহর কসম! সে তো তার মাথা উঠাতে পারছে না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা কি কাউকেও তার সম্পর্কে অভিযুক্ত করো? লোকেরা বলল : আমরা ’আমির ইবনু রবী’আহ্-এর ওপর সন্দেহ করি।

বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আমিরকে ডেকে পাঠালেন এবং কঠোর ভাষায় তার নিন্দা করে বললেনঃ তোমাদের কেউ তার আরেক ভাইকে কেন হত্যা করে? তুমি তার জন্য কল্যাণের দু’আ করলে না কেন? তুমি (তোমার শরীরের কিছু অঙ্গ) সাহল-এর জন্য ধুয়ে দাও। তখন ’আমির নিজের মুখমণ্ডলে, উভয় হাত কনুই পর্যন্ত, উভয় পা হাঁটু হতে অঙ্গুলির পার্শ্ব এবং ইযারের ভিতরের অঙ্গ ধুয়ে পানিগুলো একটি পাত্রে নিলেন, অতঃপর সে পানি সাহল-এর উপর ঢেলে দেয়া হলো। তাতে সাহল সুস্থ হয়ে লোকজনের সাথে হেঁটে আসলেন, যেন তাঁর শরীরে কোন কষ্ট ছিল না। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

আর ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর এক রিওয়ায়াত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আমিরকে বললেনঃ বদনযর একটি সত্য ব্যাপার। সুতরাং তুমি সাহল-এর জন্য উযূ করো। ’আমির তার জন্য উযূ করলেন।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ: رَأَى عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ يَغْتَسِلُ فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ وَلَا جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ قَالَ: فَلُبِطَ سَهْلٌ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لَكَ فِي سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ؟ وَاللَّهِ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَقَالَ: «هَلْ تَتَّهِمُونَ لَهُ أَحَدًا؟» فَقَالُوا: نَتَّهِمُ عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ قَالَ: فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامِرًا فَتُغُلِّظَ عَلَيْهِ وَقَالَ: «عَلَامَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ؟ أَلَا بَرَّكْتَ؟ اغْتَسِلْ لَهُ» . فَغَسَلَ لَهُ عَامِرٌ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمِرْفَقَيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَأَطْرَافَ رِجْلَيْهِ وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ فِي قَدَحٍ ثُمَّ صُبَّ عَلَيْهِ فَرَاحَ مَعَ النَّاسِ لَيْسَ لَهُ بَأْس. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَفِي رِوَايَتِهِ: قَالَ: «إِن الْعين حق تَوَضَّأ لَهُ»

وعن ابي امامة بن سهل بن حنيف قال: راى عامر بن ربيعة سهل بن حنيف يغتسل فقال: والله ما رايت كاليوم ولا جلد مخباة قال: فلبط سهل فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل له: يا رسول الله هل لك في سهل بن حنيف؟ والله ما يرفع راسه فقال: «هل تتهمون له احدا؟» فقالوا: نتهم عامر بن ربيعة قال: فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عامرا فتغلظ عليه وقال: «علام يقتل احدكم اخاه؟ الا بركت؟ اغتسل له» . فغسل له عامر وجهه ويديه ومرفقيه وركبتيه واطراف رجليه وداخلة ازاره في قدح ثم صب عليه فراح مع الناس ليس له باس. رواه في شرح السنة ورواه مالك وفي روايته: قال: «ان العين حق توضا له»

ব্যাখ্যাঃ (بَرَّكْتَ) অর্থাৎ যদি তুমি বলতে بارك الله عليك আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। তবে বদনযর তাকে প্রভাব ফেলতে পারত না। এটা মহান আল্লাহর ঐ বাণীর মতো- وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ ‘‘যখন তুমি বাগানে প্রবেশ করলে তখন যদি তুমি বলতে মা-শা-আল্লাহ (আল্লাহ যা চান) আল্লাহর শক্তি ছাড়া আর কারও শক্তি নেই...’’- (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ৩৯)।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ أَلَا بَرَّكْتَ হলো নির্দিষ্ট তার জন্য অর্থাৎ তুমি যদি তার জন্য বারাকাতের দু‘আ করতে।

(وَدَاخِلَةَ إِزَارِه) (তার লুঙ্গির ভিতরাংশ) শারহুস্ সুন্নাহ্র মধ্যে এসেছে, লুঙ্গির ভিতর ধোয়া নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ গিয়েছেন লজ্জাস্থান ধোয়ার দিকে। আবার কেউ কেউ গিয়েছেন রান ও নিতম্বের দিকে। আবূ ‘উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার লুঙ্গির ভিতরাংশ দ্বারা বুঝানো হয়েছে তার লুঙ্গির পাশে শরীরের ডান দিকের অংশকে, যা তিনি ধৌত করেছিলেন। এ রকম ব্যাখ্যা করা হয়েছে কতিপয় হাদীসের ব্যাখ্যা করতে যেয়ে।

(فتَوَضَّأ لَهٗ) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘উলামার নিকট বদনযরকারীর উযূর বর্ণনা এরূপ- তার নিকট এক পেয়ালা পানি নিয়ে আসা হবে, তবে পাত্রটি মাটিতে রাখা হবে না। পাত্র থেকে সে এক চুল্লি পানি নিয়ে কুলি করবে, তারপর সেই পানি ঐ পাত্রে ফেলবে। আবার পানি নিয়ে মুখমণ্ডলে ধৌত করবে। অতঃপর বাম হাতে পানি নিয়ে ডান হাত কব্জিসহ ধৌত করবে। অতঃপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাত কব্জিসহ ধৌত করবে। অতঃপর বাম হাতে নিয়ে ডান কনুই ধৌত করবে, অতঃপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাম কনুই ধৌত করবে আর কনুই ও কব্জির মাঝের জায়গা ধৌত করবে না। তারপর তার ডান পা ধৌত করবে। অতঃপর বাম পা ধৌত করবে। তারপর তার ডান হাঁটু ধৌত করবে, অতঃপর বাম হাঁটু ধৌত করবে পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী। আর এ সকল কাজ করবে পাত্রের মধ্যে। অতঃপর লুঙ্গির ভিতরে ধৌত করবে। যখন এভাবে পরিপূর্ণভাবে কাজ শেষ হবে তখন তার পিছন দিক দিয়ে গিয়ে মাথার উপর ঢেলে দিতে হবে।

মাযূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ উযূ করার এ আদেশটি ওয়াজিব। তাই বদনযরকারীকে সঠিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট এ উযূ করতে বাধ্য করা হবে। কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কেউ কেউ বলেন, যখন জানা যায় অমুকের বদনযর লাগে তখন তার থেকে দূরে থাকবে। ইমামের উচিত জনতার সমাবেশে যেতে তাকে বাধা দিবে। বাড়ীতে থাকার জন্য তাকে নির্দেশ দিবে। যদি সে লোক দরিদ্র হয় তবে তার জন্য যে পরিমাণ রিজিক প্রয়োজন তা তাকে দিবে। আর মানুষের থেকে তার কষ্টকে বন্ধ করে দিবে। তার ক্ষতি পিঁয়াজ রসুন ভক্ষণকারীর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর, যা খেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন, যেন তাতে মুসলিমদের কষ্ট না হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৩-[৫০] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীন এবং মানুষের চক্ষু (বদনযর) হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন, মু’আব্বিযাতায়ন (সূরাহ্ আল ফালাক ও সূরাহ্ আন্ নাস) নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। আর যখন সূরাহ্ দু’টি নাযিল হলো, তখন তিনি ও দু’টি দ্বারা পানাহ চাইতে লাগলেন এবং অন্য কিছু দ্বারা পানাহ চাওয়া পরিত্যাগ করলেন। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; আর তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গরীব।[[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْجَانِّ وَعَيْنِ الْإِنْسَانِ حَتَّى نَزَلَتِ الْمُعَوِّذَتَانِ فَلَمَّا نزلت أَخذ بهما وَترك سِوَاهُمَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن ابي سعيد الخدري قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوذ من الجان وعين الانسان حتى نزلت المعوذتان فلما نزلت اخذ بهما وترك سواهما. رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ (أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الْجَانِّ وَعَيْنِ الْإِنْسَانِ) অর্থাৎ আমি জীন ও মানুষের বদনযর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর যখন সূরাহ্ নাস ও ফালাক নাযিল হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা শুরু করলেন। আর কুরআন ব্যতীত অন্য জিকর দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা ছেড়ে দিলেন এবং অন্যান্য ঝাড়ফুঁকও ছেড়ে দিলেন। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৮; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

জীন শয়তান ও বদনযর থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় ও উপকারী মাধ্যম হলো সূরাহ্ ফালাক ও নাস ‘আমল করা। প্রতিনিয়ত এ দু’টি সূরাহ্ ‘আমল করলে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান হবে যা বর্ণিত আছে সহীহ হাদীসে। কাজেই উক্ত সূরাহ্ দ্বারা ‘আমল করে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৪-[৫১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কি মুগর্রিবূন পরিলক্ষিত হয়? আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ’মুগর্রিবূন’ কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ’মুগর্রিবূন’ ঐ সমস্ত লোক, যাদের মধ্যে জীন অংশীদার হয়। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ رُئِيَ فِيكُمُ الْمُغَرِّبُونَ؟» قُلْتُ: وَمَا الْمُغَرِّبُونَ؟ قَالَ: «الَّذِينَ يَشْتَرِكُ فِيهِمُ الْجِنُّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هل رىي فيكم المغربون؟» قلت: وما المغربون؟ قال: «الذين يشترك فيهم الجن» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (مُغَرِّبُونَ) ‘মুগররিবূন’ অর্থ- দূরীভূত (আল্লাহর জিকর হতে)।

الَّذِينَ يَشْتَرِكُ فِيهِمُ الْجِنُّ অর্থাৎ তাদের বীর্যে অথবা সন্তানাদিতে। এর কারণ হলো, সহবাসের সময় তারা আল্লাহর জিকর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে জীন শয়তান নিজের দেহটি ঐ ব্যক্তির দেহের সাথে মিশিয়ে দিয়ে তার সাথে সহবাস করে।

মহান আল্লাহর বলেনঃ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ‘‘আর শয়তান সম্পদে ও সন্তানে তাদের অংশীদার হও’’- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭ : ৬৪)। অতএব প্রতিটি মানুষের উচিত যখন সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন যেন এ দু‘আটি পাঠ করে- بِسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا ‘‘আমি আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখো এবং আমাদের যে রিজিক দিবে তা থেকেও শয়তানকে দূরে রেখো’’- (সহীহ মুসলিম হাঃ ১১৬-[১৪৩৪])।

সুতরাং যখন এ দু‘আটি পাঠ করা ছেড়ে দিবে ও ‘বিসমিল্লা-হ’ পাঠ না করবে তখন শয়তান তার সাথে সহবাসে মিলিত হবে। আর তাতে সন্তান আসলে সে সন্তানকে মুগর্রিব বলা হবে। কেননা তার সাথে অপরিচিত বংশ প্রবেশ করেছে।

আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছে যারা উল্লেখিত দু‘আটি মুখস্থ করে পড়ে নেয়। যারা সহবাসের সময় আল্লাহর নামটি পর্যন্ত স্মরণ করেন না। উল্লেখিত হাদীসটি স্মরণ রেখে শারী‘আতের নির্দেশিত পন্থায় সহবাস করে ইহকালীন শান্তি ও উপকার এবং পরকালীন মুক্তি কামনা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৫-[৫২] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস- خَيْرُ مَا تَدَاوَيْتُمْ ’’চিরুনি করা বা চুল আঁচড়ানো’’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وذُكر حديثُ ابْن عباسٍ: «خيرَ مَا تداويتم» فِي «بَاب التَّرَجُّل»

وذكر حديث ابن عباس: «خير ما تداويتم» في «باب الترجل»

হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৬-[৫৩] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাকস্থলী হলো দেহের হাওয (কূপ)। সমস্ত শিরা-উপশিরাগুলো সে হাওযের দিকেই প্রবাহিত হয়। সুতরাং যখন পাকস্থলী ভালো হয়, তখন শিরাগুলোও সারা দেহে স্বাস্থ্যকর উপাদান সরবরাহ করে। আর যখন পাকস্থলী নষ্ট হয়ে যায়, তখন শিরাগুলোও দূষিত উপাদান সরবরাহ করে থাকে।[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَعِدَةُ حَوْضُ الْبَدَنِ وَالْعُرُوقُ إِلَيْهَا وَارِدَةٌ فَإِذَا صَحَّتِ الْمَعِدَةُ صَدَرَتِ الْعُرُوقُ بِالصِّحَّةِ وَإِذَا فَسَدَتِ الْمَعِدَةُ صَدَرَتِ الْعُرُوقُ بِالسقمِ»

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المعدة حوض البدن والعروق اليها واردة فاذا صحت المعدة صدرت العروق بالصحة واذا فسدت المعدة صدرت العروق بالسقم»

ব্যাখ্যাঃ (وَإِذَا فَسَدَتِ الْمَعِدَةُ صَدَرَتِ الْعُرُوقُ بِالسقمِ) ‘‘আর যখন পাকস্থলী নষ্ট হয়ে যায়, তখন শিরাগুলোও দূষিত উপাদান সরবরাহ করে’’ অর্থাৎ অসুস্থ হয়ে যায় এবং ব্যথা সৃষ্টি হয়।

ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাকস্থলীকে হাওযের সাথে তুলনা করেছেন এবং শরীরকে গাছের সাথে। আর তার দিকে প্রবাহিত শিরাগুলোকে গাছের শিকড়ের সাথে দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে, যা হাওয থেকে পানি টেনে ডালপালা ও পাতায় নিয়ে যায়। সুতরাং পানি যদি পরিষ্কার স্বচ্ছ হয়, লবণাক্ত না হয় তবে গাছের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। অন্যথায় গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। অনুরূপই পাকস্থলির সাথে শরীরের সম্পর্ক। এজন্যই মহান আল্লাহ সুনিপুণ স্রষ্টা মানুষের শরীরে উত্তাপ সৃষ্টি করেছেন যাতে খাবারগুলো হজম হয়ে যায়। অনুরূপভাবে শিরাগুলোকে কলিজার দিকে ধাবিত করে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে রক্তসমূহ পরিষ্কার করে দিতে পারে এবং সেই পরিষ্কার রক্ত সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারে। খাবার-পানীয় পাকস্থলিতে জমা হয়ে পরিশুদ্ধ হয়ে সমস্ত শরীরের শিরাগুলোতে শক্তি ছড়িয়ে দেয়। অতএব পাকস্থলিতে যদি ভালো খাবার থাকে তবে সমস্ত শরীর পাকস্থলি থেকে ভালো খাবার সংগ্রহ করতে পারে। আর যদি বেশি খানা-পিনা করার কারণে পাকস্থলি নষ্ট হয়ে যায় তবে পেট খারাপ হয়ে যায়, পাতলা পায়খানা হয় ফলে সমস্ত শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, আর এটিই হলো মহান সর্বজ্ঞ পরাক্রমশালীর নির্ধারিত রীতি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অত্র হাদীসটি দ্বারা বাহ্যিকভাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিকিৎসার গভীরতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে যে, ব্যক্তির কথা, কাজ ও শিষ্টাচার তার খাওয়া-পান করা অনুসারে হয়ে থাকে। যদি হারাম ঢুকে থাকে তবে হারাম বের হবে। যদি হালাল সম্মানিত খাবার ঢুকে তবে তাই বের হবে। খাবার যেন কাজের বীজ। আর কাজ হলো উদ্ভিদের মতো যা খাবে, তাই বের হবে। হালাল খেলে হালাল কথা আর হারাম খেলে হারাম কথা।

বলা হয়ে থাকে, كُلُّ إِنَاءٍ يَتَرَشَّحُ بِمَا فِيهِ প্রতিটি পাত্র তাই বের করে, যা তার মধ্যে থাকে। মহান আল্লাহ বলেনঃ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ‘‘তোমরা পবিত্র খাবার খাও এবং সৎ ‘আমল কর’’- (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ : ৫১)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৭-[৫৪] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন, এ অবস্থায় তিনি জমিনে তাঁর হাত রাখতেই একটি বিচ্ছু তাঁকে দংশন করল। তৎক্ষণাৎ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুতা দ্বারা বিচ্ছুটিকে মেরে ফেললেন। অতঃপর সালাত শেষ করে বললেনঃ বিচ্ছুটির ওপর আল্লাহর লা’নাত হোক। সে সালাত আদায়কারী-অনাদায়কারী অথবা বলেছেনঃ নবী কিংবা অন্য কাউকেও ছাড়ে না। অতঃপর তিনি কিছু লবণ ও পানি চেয়ে নিলেন এবং তা একটি পাত্রে মিশালেন, অতঃপর অঙ্গুলির দংশিত স্থানে পানি ঢালতে এবং উক্ত স্থান মুছতে লাগলেন এবং মু’আব্বাযাতায়ন (সূরাহ্ ফালাক ও নাস) দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন। (বায়হাক্বী হাদীস দু’টি ’’শু’আবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেছেন।)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن عَليّ قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ يُصَلِّي فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الْأَرْضِ فَلَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ فَنَاوَلَهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَعْلِهِ فَقَتَلَهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْعَقْرَبَ مَا تَدَعُ مُصَلِّيًا وَلَا غَيْرَهُ أَوْ نَبِيًّا وَغَيْرَهُ» ثُمَّ دَعَا بملحٍ وماءٍ فَجعله فِي إِناءٍ ثمَّ جَعَلَ يَصُبُّهُ عَلَى أُصْبُعِهِ حَيْثُ لَدَغَتْهُ وَيَمْسَحُهَا وَيُعَوِّذُهَا بِالْمُعَوِّذَتَيْنِ. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

وعن علي قال: بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة يصلي فوضع يده على الارض فلدغته عقرب فناولها رسول الله صلى الله عليه وسلم بنعله فقتلها فلما انصرف قال: «لعن الله العقرب ما تدع مصليا ولا غيره او نبيا وغيره» ثم دعا بملح وماء فجعله في اناء ثم جعل يصبه على اصبعه حيث لدغته ويمسحها ويعوذها بالمعوذتين. رواهما البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যাঃ ইমাম জাযারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় একটা বিচ্ছু তাকে কামড় দিলে সালাত শেষ করে তিনি বললেন, বিচ্ছুটির ওপর আল্লাহর লা‘নাত। সে সালাত আদায়কারী বা অন্য কাউকে ছেড়ে দেয় না। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি ও লবণ নিয়ে আসতে বললেন, এরপর তিনি তার উপর মাসাহ করেছিলেন আর পড়ছিলেন সূরাহ্ আল ফালাক ও সূরাহ্ আন্ নাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাপে কাটা রোগীকে ফাতিহাহ্ সূরাহ্ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করতেন। আবূ সা‘ঈদ  হতে সহীহ হাদীসের লেখকগণ তা বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বৃদ্ধি করেছেন যে, সাতবার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

আলোচ্য হাদীসটি হতে বুঝা যায়, সালাতরত অবস্থায়ও সাপ-বিচ্ছু তথা বিষাক্ত প্রাণী হত্যা করা যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় জুতা দিয়ে বিচ্ছুটিকে হত্যা করেন। তাই এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হলে আগে বিষাক্ত প্রাণীকে হত্যা করে নিয়ে পরে সালাত আদায় করতে হবে। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৮-[৫৫] ’উসমান ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পরিবারের লোকেরা পানির একটি পেয়ালা দিয়ে আমাকে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। তখন নিয়ম ছিল, যদি কারো ওপর বদনযর লাগত কিংবা অন্য কোন অসুখ হত তখন উম্মু সালামার কাছে একটি পত্র পাঠিয়ে দিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু পশম মুবারক বের করতেন, যা তিনি একটি রৌপ্য কৌটার মধ্যে রাখতেন। অতঃপর তিনি উক্ত পশম মুবারক পানির মধ্যে ডুবিয়ে দিতেন এবং সে পানিগুলো রোগীকে পান করানো হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রূপার সে নলটির মধ্যে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কয়েকটি লাল বর্ণের পশম রয়েছে। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ: أَرْسَلَنِي أَهْلِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَهُ فَأَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُهُ فِي جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَهُ فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ: فَاطَّلَعْتُ فِي الْجُلْجُلِ فَرَأَيْت شَعرَات حَمْرَاء. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عثمان بن عبد الله بن موهب قال: ارسلني اهلي الى ام سلمة بقدح من ماء وكان اذا اصاب الانسان عين او شيء بعث اليها مخضبه فاخرجت من شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت تمسكه في جلجل من فضة فخضخضته له فشرب منه قال: فاطلعت في الجلجل فرايت شعرات حمراء. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ) অর্থাৎ চোখ লাগা বা বদনযরের কারণে অথবা চোখ উঠার (লালবর্ণ আকার ধারণ করার) কারণে।

(فِي الْجُلْجُلِ) ‘জুলজুল’ বলা হয় সেই ছোট ঘণ্টাকে যা চতুস্পদ জন্তুর গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ‘কামূস’ প্রণেতা বলেন, জুলজুল হলো ছোট ঘণ্টা।

(مِنْ فِضَّةٍ) ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কা‘বাহ্ ঘরের সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশার্থে যেভাবে রেশমী কাপড়ের গেলাফ ব্যবহার করা হয়, তদ্রূপ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পশম মুবারককে একটি রোপ্য কোটার ভিতরে রাখা হয়েছিল তার সম্মানার্থে। (فَرَأَيْت شَعرَات حَمْرَاء) অর্থাৎ খিযাব করা তথা মেহেদী করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৮৯৬)

আলোচ্য হাদীসটি হতে বুঝা গেল, চুলে মেহেদী করা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সুন্নাত। আমাদের সমাজে বহু লোক আছে যারা সাদা দাড়ি ও চুল মেহেদী করে না বরং ঐ অবস্থায়ই রেখে দেয়। এটি সুন্নাত বিরোধী কাজ। কাজেই সাদা দাড়ি মেহেদী দ্বারা রাঙিয়ে লাল করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরী। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৬৯-[৫৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন সাহাবী তাঁকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললেনঃ কাম্আত (ব্যাঙের ছাতা) হলো জমিনের বসন্ত। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যাঙের ছাতা তো মান্ন সদৃশ। এটার পানি চক্ষু রোগের ঔষধবিশেষ। আর ’আজওয়াহ্ (খেজুর) জান্নাতী ফল। তা বিষনাশক।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি তিনটি অথবা পাঁচটি অথবা সাতটি ব্যাঙের ছাতা নিয়ে তার রস নিংড়িয়ে একটি শিশির মধ্যে রাখলাম। অতঃপর আমার এক রাতকানা দাসীর চোখের মধ্যে সে পানি সুরমার সাথে ব্যবহার করলাম। তাতে সে আরোগ্য লাভ করল। (তিরমিযী; তিনি বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান।)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن أبي هريرةَ إِنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا لرسولِ الله: الْكَمْأَةُ جُدَرِيُّ الْأَرْضِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ وَالْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِنَ السُّمِّ» . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَأَخَذْتُ ثَلَاثَةَ أَكْمُؤٍ أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا فَعَصَرْتُهُنَّ وَجَعَلْتُ مَاءَهُنَّ فِي قَارُورَةٍ وَكَحَّلْتُ بِهِ جَارِيَةً لِي عَمْشَاءَ فَبَرَأَتْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حسن

وعن ابي هريرة ان ناسا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا لرسول الله: الكماة جدري الارض؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الكماة من المن وماوها شفاء للعين والعجوة من الجنة وهي شفاء من السم» . قال ابو هريرة: فاخذت ثلاثة اكمو او خمسا او سبعا فعصرتهن وجعلت ماءهن في قارورة وكحلت به جارية لي عمشاء فبرات. رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن

ব্যাখ্যাঃ (جُدَرِيُّ الْأَرْضِ) কমূস গ্রন্থে এসেছে যে, جُدَرِيُّ ‘জিম’ বর্ণে পেশ অথবা যবর যোগে। শরীরে ক্ষত হওয়াকে বলে। যা ফোসকা পড়ে ও পুঁজ বের হয়।

নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে, (الْكَمْأَةُ) এর সাথে সাদৃশ্য করা হয়েছে, আর جُدَرِيُّ হলো এমন গোটা (দানা) যা শিশুর শরীরে প্রকাশ পায়। যেভাবে كَمْأَةُ জমিনের মধ্য থেকে প্রকাশ পায়। ঠিক তেমনিভাবে جُدَرِىُّ চামড়ার মধ্য থেকে প্রকাশ পায়।

(الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি যা অনুগ্রহ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত। এটাও বলা হয় যে, مَنِّ ‘মান্ন’ এর সাদৃশ্য করা হয়েছে। আর তা হলো, সেই সুমিষ্ট মধু যা আসমান থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছিল। যা খাঁটি ছিল। তাতে কোন অসুখ ছিল না। আর অনুরূপই হলো ছত্রাক كَمْأَةُ তা পান করার ফলে কোন ক্ষতি হবে না। দ্বিতীয়টি বেশি স্পষ্ট, যেমন বর্ণিত হয়েছে- كَمْأَةُ ‘কামআহ্’ ছত্রাক مَنِّ ‘মান্ন’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর মান্ন জান্নাত থেকে এসেছে।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যখন জাহিলী যুগের লোকেরা তাকে দোষারোপ করত এবং অতিরিক্ত (খারাপ জিনিস) মনে করত যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে জমিন ছত্রাক আকারে বাহ্যিকভাবে তাকে প্রতিরোধ করে। তাদের বিশ্বাস যখন এরূপ ছিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশংসা করলেন অর্থাৎ তা অতিরিক্তের মধ্যে শামিল নয়। বরং তা আল্লাহর অনুগ্রহ এবং বান্দার প্রতি তার দয়ার চিহ্ন। এটি ক্ষতিকারক কোন কিছু না। বরং এটি মানুষের জন্য আরোগ্য লাভের উপকরণ যেমনটিভাবে আসমান থেকে অবতীর্ণ মান্ন আরোগ্য লাভের উপকরণ।

(وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ) ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর শারহু মুসলিমে এসেছে, এটা কেবল তারই পানি। বলা হয়ে থাকে, এ পানির সাথে ঔষধ মিশ্রিত করা হলে সেই পানি। বলা হয়ে থাকে, চোখের উত্তাপ হতে ঠাণ্ডা করার জন্য কেবলমাত্র ছত্রাকের পানি আরোগ্য স্বরূপ। আর যদি অন্য অসুখের জন্য হয় তবে এ পানির সাথে অন্য ঔষধ মিশানো যায়। চোখের অসুখের জন্য কেবল এ পানি ব্যবহার করা উপযোগী এটিই সঠিক কথা। আমিও আমার যুগের একজনকে দেখেছি যার চোখের দৃষ্টি চলে যাওয়ার কারণে সুরমার সাথে এ পানি ব্যবহার করত, ফলে সে আরোগ্য লাভ করত, তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭০-[৫৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনদিন ভোরে কিছু মধু চেটে খাবে, সে কোন বড় ধরনের বিপদে বা রোগে আক্রান্ত হবে না।[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَعِقَ الْعَسَلَ ثَلَاثَ غَدَوَاتٍ فِي كلِّ شهر لم يصبهُ عَظِيم الْبلَاء»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من لعق العسل ثلاث غدوات في كل شهر لم يصبه عظيم البلاء»

ব্যাখ্যাঃ মধু মানুষের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার। এটি মানব দেহে ঔষধের মতো কাজ করে। এটি পেটের অসুখের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। যেহেতু পেট সুস্থ থাকলে সমস্ত শরীর সুস্থ থাকে। তাই বলা যায়, মধু পান করলে সমস্ত শরীরও সুস্থ থাকে। মধুর মধ্যে যে আরোগ্য আছে সেটি কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। কাজেই দৃঢ় ঈমান রেখে আরোগ্য লাভের উদ্দেশে মধু পান করলে উপকৃত হওয়া যাবে ইনশা-আল্লাহ। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭১-[৫৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিরাময়কারী দু’টি জিনিসকে তোমরা আঁকড়ে ধরো। তা হলো মধু এবং কুরআন। (ইবনু মাজাহ)।

আর বায়হাক্বী হাদীস দু’টি শু’আবুল ঈমানে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এ শেষোক্ত হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয়, বরং এটা ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) পর্যন্ত তথা মাওকূফ।[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَيْكُمْ بِالشِّفَاءَيْنِ: الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ . رَوَاهُمَا ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ: وَالصَّحِيحُ أَنَّ الْأَخِيرَ مَوْقُوفٌ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عليكم بالشفاءين: العسل والقران . رواهما ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان وقال: والصحيح ان الاخير موقوف على ابن مسعود

ব্যাখ্যাঃ (عَلَيْكُمْ بِالشِّفَاءَيْنِ) অর্থাৎ একটি হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আর অপরটি মানসিক অথবা একটি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অসুখের জন্য আর অপরটি মানসিক রোগের জন্য অথবা শরীর ও দীনের স্বাভাবিক রোগের জন্য।

(الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ) মহান আল্লাহ মধুর গুণাগুণ বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন-

فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ ‘‘এতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে’’- (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ৬৯)।

আর কুরআন এর বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন,

مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ ‘‘পথনির্দেশক ও আরোগ্য যা তাদের বক্ষ রয়েছে’’- (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ৫৭)।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাণী সকল প্রকারকেই শামিল করেছে। নিরাময়ের প্রকার দু’টি : প্রকৃত এবং অপ্রকৃত।

এটা বুঝতে হবে এভাবে যে, তুমি যেমন বল, ‘‘কলম দুই জিহবার একটি’’ ‘‘মামা দু’বার একজন’’ আমি বলি, ‘‘ঝোল দুই গোশতের একটি’’ কিন্তু আল কুরআনুল কারীম প্রকাশ্য ও গোপন উভয় প্রকার অসুখ থেকে আরোগ্য দানের মধ্যে শামিল। যেমনটি আয়াতের মধ্যে বলা হয়েছে।

অন্য আয়াতের মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, আভ্যন্তরীণ (গুপ্ত) বিষয়ের নিরাময় হলো মূল ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতএব তার দ্বারা উপকার লাভ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭২-[৫৯] আবূ কাবশাহ্ আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষমিশ্রিত বকরীর মাংস খাওয়ার কারণে নিজের মাথার তালুতে শিঙ্গা লাগান। মা’মার বলেন, বিষের কোন প্রতিক্রিয়া না থাকা সত্ত্বেও আমি আমার মাথার তালুতে শিঙ্গা লাগালাম। ফলে আমার স্মরণশক্তি লোপ পায়। এমনকি সালাতের মধ্যে আমাকে সূরাহ্ আল ফাতিহাহ্ বলে দিতে হত। (রযীন)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن أبي كَبْشَة الْأَنْمَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ عَلَى هَامَتِهِ مِنَ الشَّاةِ الْمَسْمُومَةِ قَالَ مَعْمَرٌ: فَاحْتَجَمْتُ أَنَا مِنْ غَيْرِ سُمٍّ كَذَلِكَ فِي يَافُوخِي فَذَهَبَ حُسْنُ الْحِفْظِ عَنِّي حَتَّى كُنْتُ أُلَقَّنُ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ فِي الصَّلَاةِ. رَوَاهُ رزين

وعن ابي كبشة الانماري: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم على هامته من الشاة المسمومة قال معمر: فاحتجمت انا من غير سم كذلك في يافوخي فذهب حسن الحفظ عني حتى كنت القن فاتحة الكتاب في الصلاة. رواه رزين

ব্যাখ্যাঃ (احْتَجَمَ عَلٰى هَامَتِه) অর্থাৎ তার মাথার মাঝখানে অথবা তালুতে। (مِنَ الشَّاةِ الْمَسْمُومَةِ) অর্থাৎ তা খাওয়ার এবং বিষের প্রভাবের কারণে, এ বিষক্রিয়ার প্রভাবের কারণে প্রতি বছর তিনি শিঙ্গা লাগাতেন। যে বছর তিনি মারা যান, মরার সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, ‘‘এখন আমার আবহারী রগটি ছিঁড়ে গেছে’’ এর কারণে তিনি শাহাদাতের সৌভাগ্য লাভ করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইয়াহূদী মাহিলা বিষমিশ্রিত বকরীর গোশত হাদিয়া দিলে তিনি তার সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা বিসমিল্লা-হ বলে ভক্ষণ কর, সুতরাং তারা তা খেয়ে ফেলল। অথচ তাদের কারো কোন ক্ষতি হয়নি। এটি হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন তার মুসতাদরাকের মধ্যে। তিনি এটি আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন যে, এর সানাদ সহীহ। সিরাজ প্রণেতাও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এতে আমার ভাবার বিষয় আছে, যখন প্রসিদ্ধ হাদীস প্রণেতাগণ, জীবনীকারগণ, ইতিহাসবিদগণ বর্ণনা করেছেন যে, কোন সাহাবী সেই বিষ-মিশ্রিত বকরীর গোশত খাননি কেবল বিশর ইবনু বারা’ ইবনু মা‘রূর ব্যতীত। তিনি এক লোকমা খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বকবীর গোশত ঢেলে দিতে অথবা মাটির নিচে পুঁতে দিতে বলেন। তারা মতভেদ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সেই ইয়াহূদী মহিলাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন, না তাকে মাফ করে দেন। সঠিক মত হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পক্ষ থেকে তাকে মাফ করে দেন। তবে বিশর ইবনু বারা’ ইবনু মা‘রূর এর হত্যার ক্বিসাস স্বরূপ তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। আর আমি মনে করি এ বর্ণনার মধ্যে কঠিন ভুল অথবা পবিত্র অপছন্দ রয়েছে। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। আমি বলছি যদি হাকিম-এর বর্ণনাটি বিশুদ্ধও হয় তবে সম্ভবত তার বর্ণনাটিও বেশি হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(مِنْ غَيْرِ سُمٍّ كَذٰلِكَ) অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কারণে লাগিয়ে ছিলেন ঐ রকম কারণ ব্যতীত। এটি ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অতিরিক্ত অনুসরণ করার কারণে। অথবা তিনি ধারণা করেছিলেন যে, মাথার মাঝখানে শিঙ্গা লাগানো কাজটা বিষের কারণে না হলেও উপকারী হবে। তাই আমি শিঙ্গা লাগালাম।

(فِي الصَّلَاةِ) তার বর্ণনা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, তার এ সমস্যা সাময়িক কিছুদিনের জন্য ছিল। তারপর তিনি সুস্থ হয়ে যান। সম্ভবত এটা হয়েছিল তার অধিক রক্ত রক্ষণের কারণে। আর তার শিঙ্গা লাগানো যথাযথ কারণে হয়নি। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। এছাড়া অনেক হাদীসে বলা হয়েছে যে, শিঙ্গা লাগানো অনেক উপকারী চিকিৎসা। এতে অনেক রোগ হতে আরোগ্য লাভ হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭৩-[৬০] নাফি’ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) আমাকে বললেনঃ হে নাফি’! আমার শরীরে রক্ত টগবগ করছে, অতএব একজন যুবক শিঙ্গাওয়ালা ডেকে আনো। বালক কিংবা বৃদ্ধ ব্যক্তিকে এনো না। নাফি’ বলেন, অতঃপর ইবনু ’উমার(রাঃ) বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, খালি পেটে শিঙ্গা লাগানো শরীরের জন্য খুবই ফলপ্রসূ! তাতে জ্ঞান ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। সুতরাং যে কেউ শিঙ্গা লাগাতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে ভরসা করে বৃহস্পতিবারে শিঙ্গা লাগায়। শুক্র, শনি ও রবিবারে যেন শিঙ্গা না লাগায়।

আবার সোম ও মঙ্গলবারে শিঙ্গা লাগাবে, কিন্তু বুধবারে শিঙ্গা লাগাবে না। কেননা আইয়ূব (আ.) বুধবারেই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ বুধবার দিনে অথবা রাত্রেই জন্ম লাভ করে। (ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن نافعٍ قَالَ: قَالَ ابنُ عمر: يَا نَافِع يَنْبغ بِي الدَّمُ فَأْتِنِي بِحَجَّامٍ وَاجْعَلْهُ شَابًّا وَلَا تَجْعَلهُ شَيخا وَلَا صَبيا. وَقَالَ ابْنِ عُمَرُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْحِجَامَةُ عَلَى الرِّيقِ أَمْثَلُ وَهِيَ تُزِيدُ فِي الْعَقْلِ وَتُزِيدُ فِي الْحِفْظِ وَتُزِيدُ الْحَافِظَ حِفْظًا فَمَنْ كَانَ مُحْتَجِمًا فَيَوْمَ الْخَمِيسِ عَلَى اسْمِ اللَّهِ تَعَالَى وَاجْتَنِبُوا الْحِجَامَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَيَوْمَ السَّبْتِ وَيَوْمَ الْأَحَدِ فَاحْتَجِمُوا يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وَاجْتَنِبُوا الْحِجَامَةَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ فَإِنَّهُ الْيَوْمُ الَّذِي أُصِيبَ بِهِ أَيُّوبُ فِي الْبَلَاءِ. وَمَا يَبْدُو جُذَامٌ وَلَا بَرَصٌ إِلَّا فِي يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ أَوْ لَيْلَةِ الأربعاءِ» . رَوَاهُ ابنُ مَاجَه

وعن نافع قال: قال ابن عمر: يا نافع ينبغ بي الدم فاتني بحجام واجعله شابا ولا تجعله شيخا ولا صبيا. وقال ابن عمر: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الحجامة على الريق امثل وهي تزيد في العقل وتزيد في الحفظ وتزيد الحافظ حفظا فمن كان محتجما فيوم الخميس على اسم الله تعالى واجتنبوا الحجامة يوم الجمعة ويوم السبت ويوم الاحد فاحتجموا يوم الاثنين ويوم الثلاثاء واجتنبوا الحجامة يوم الاربعاء فانه اليوم الذي اصيب به ايوب في البلاء. وما يبدو جذام ولا برص الا في يوم الاربعاء او ليلة الاربعاء» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (فِى الدَّمُ) ঝর্ণার ভিতর পানি বেশি হলে যেমন টগবগ করে ঠিক তেমনিভবে রক্তও বেশি হওয়ার কারণে টগবগ করছে। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এতে সাদৃশ্যতা রয়েছে, অর্থাৎ আমার শরীরে রক্ত টগবগ করে যেভাবে ঝর্ণার ভিতর পানি টগবগ করে।

(الْحِجَامَةُ عَلَى الرِّيقِ) অর্থাৎ খাওয়ার ও পান করার পূর্বে তথা খালি পেটে শিঙ্গা লাগাবে।

(أَيُّوبُ فِي الْبَلَاءِ) বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, আইয়ূব (আ.)-এর রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হলো বুধবারে শিঙ্গা লাগানো। আবার মুফাস্সিরগণ অন্যান্য অনেক কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। ঐগুলোর সবটিই হতে পারে অথবা ঐ দিন কতক প্রিয় বান্দার জন্য তিরস্কারের ঘোষণা হয়েছে। যেমন- কতক শত্রুর জন্য শাস্তির সময় ঘোষণা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন- ﴿فِي يَوْمِ نَحْسٍ مُسْتَمِرٍّ﴾ ‘‘এটাকে শক্তিশালী করে’’- (সূরাহ্ আল কামার ৫৪ : ১৯)। মহান আল্লাহর বাণী- (وَمَا يَبْدُو) অর্থাৎ যা প্রকাশ করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ নাফি‘ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭৪-[৬১] মা’ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন চান্দ্রমাসের সতের তারিখ মঙ্গলবারে শিঙ্গা লাগানো গোটা বৎসরের রোগের জন্য চিকিৎসা।

[ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর শাগরেদ হারব ইবনু ইসমা’ঈল আল কিরমানী বলেনঃ তবে এ হাদীসটির সানাদ নির্ভরযোগ্য নয়। মুনতাকা’ কিতাবেও অনুরূপভাবে উল্লেখ রয়েছে।][1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحِجَامَةُ يَوْمُ الثُّلَاثَاءِ لِسَبْعَ عَشْرَةَ مِنَ الشَّهْرِ دَوَاءٌ لِدَاءِ السَّنَةِ» . رَوَاهُ حَرْبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْكِرْمَانِيُّ صَاحِبُ أَحْمَدَ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ هَكَذَا فِي الْمُنْتَقى

وعن معقل بن يسار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الحجامة يوم الثلاثاء لسبع عشرة من الشهر دواء لداء السنة» . رواه حرب بن اسماعيل الكرماني صاحب احمد وليس اسناده بذاك هكذا في المنتقى

ব্যাখ্যাঃ নিঃসন্দেহে শিঙ্গা লাগানো একটি উপকারী চিকিৎসা। বিশেষ করে বিষ ব্যথার জন্য এটা খুবই উপকারী। পাকস্থলি থেকে সমস্ত শরীরে রক্ত ও শক্তি সঞ্চার করে। রক্তের গতি ঠিক থাকলে দেহও সুস্থ থাকে। তাই রক্তের গতি ঠিক রাখবার জন্য শিঙ্গা লাগানো খুবই উপকারী একটি চিকিৎসা। এতে মানুষের মন-মেজাজ এবং শরীর স্বাভাবিক থাকে। যখনই প্রয়োজনবোধ হয় তখনই লাগানো যায়। তবে কোন চান্দ্রমাসের সতের তারিখ মঙ্গলবারে শিঙ্গার লাগানো গোটা বৎসরের রোগের জন্য চিকিৎসাস্বরূপ। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, ঐ বৎসর তাকে কোন রোগ আক্রান্ত করতে পারবে না। আল্লাহই ভালো জানেন। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৭৫-[৬২] আর অবশ্য রযীন অনুরূপ হাদীস আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وروى رزين نَحوه عَن أبي هُرَيْرَة

وروى رزين نحوه عن ابي هريرة

হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

"بَاب الفأل والطيرة" ’’শুভ ও অশুভ লক্ষণ’’ الفأل ’হামযা’র সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দটি অধিকাংশ সময় ’হামযা’ ব্যতীত ব্যবহৃত হয়। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে যে, الفأل শব্দটি মাহমূয তথা মাঝে ’হামযা’ দিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। যা ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার অর্থ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। আর الطيرة শব্দটির ’ত্বোয়া’ বর্ণে যের আর ’ইয়া’ বর্ণে যবর আবার কখনও ’ইয়া’ বর্ণে সাকিন যোগেও আসে। এ শব্দটি শুধু মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আবার কদাচিৎ আনন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। কমূস প্রণেতা বলেনঃ الفأل হলো الطيرة-এর বিপরীত। অসুস্থ ব্যক্তি শুনে হে সালিম, হে ত্বালিব, হে ওয়াজিদ! সে এ ডাক শুনে এটাকে ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃর করতে পারে। আর الطيرة-এর সময় মন্দের ক্ষেত্রে। আমি বলি, ’কমূস’ থেকে যে বিষয়টি শিক্ষণীয় তা হলো, الفأل ভালোর সাথে খাস বা নির্দিষ্ট। আবার কখনও তা মন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আর الطيرة শব্দটি কেবলমাত্র মন্দের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। অতএব নির্গত হওয়ার মূলেই শব্দ দু’টি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়।

নিহায়াহ্ গ্রন্থ থেকে আরো বুঝা যায় যে, নির্গত হওয়ার মূলেই الفأل শব্দটি ’আম আর الطيرة শব্দটি খাস। কতক ব্যবহারের একটি অপরটির সমার্থবোধক। হাদীসসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, الفأل থেকে الطيرة শব্দটি ’আম। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় যে, لَا طِيَرَةَ وَخَيْرُهَا الْفَأْلُ কোন কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ নেই আর তার উত্তম হলো الفأل বা শুভ লক্ষণ।

’আরবের অধিবাসীদের এ অভ্যাস ছিল যে, তারা যখন কোন কাজের জন্য ভ্রমণের ইচ্ছা করত তখন গাছের উপর থেকে কোন পাখিকে উড়াত, যদি পাখিটি ডানদিকে যেত তখন যাত্রা শুভ বলে মনে করত এবং ভ্রমণের জন্য বের হয়ে যেত। আর যদি পাখিটি বাম দিকে উড়ে যেত তাহলে এ ভ্রমণ বা যাত্রাকে অকল্যাণ বা অশুভ বলে মনে করত এবং যাত্রা থেকে বিরত থাকত।

’আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ الفأل এবং الطيرة-এর মাঝে পার্থক্য বুঝা যায়, আনাস থেকে বর্ণিত একটি মারফূ’ হাদীসে لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ "قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ:" كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ রোগে সংক্রামিত হওয়া বলতে কিছুই নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই। তবে الْفَأْلُ আমার ভালো লাগে। সাহাবীগণ বললেন, الفأل কি জিনিস? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’ভালো কথা’’। আমি বলি, এটি কতই না চমৎকার কথা যে, ’আমভাবে الطيرة-কে নিষেধ করা হয় তবে তার দুই প্রকারের এক প্রকারকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হল। (আর এক প্রকার বৈধ) তা হল- ভালো কথা বলা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৪৫৭৬-[১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কোন কিছুকে অশুভ গণ্য করো না। অবশ্য কিছু শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা উত্তম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ শুভ লক্ষণ কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কারো পক্ষ কোন ভালো কথা, যা সে শুনতে পায়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا طِيَرَةَ وَخَيْرُهَا الْفَأْلُ» قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ: «الْكَلِمَةُ الصَّالِحَة يسْمعهَا أحدكُم»

عن ابي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا طيرة وخيرها الفال» قالوا: وما الفال؟ قال: «الكلمة الصالحة يسمعها احدكم»

ব্যাখ্যাঃ (لَا طِيَرَةَ) জাহিলী যুগের লোকেরা কোন সফরে বা প্রয়োজনে বের হওয়ার পূর্বে পাখি উড়াত। পাখি যদি উড়ে ডান দিক দিয়ে যেত তবে তারা এটাকে বারাকাত মনে করত। তখন তারা তাদের সফরে বা প্রয়োজনে বের হত। আর পাখি যদি উড়ে বাম দিকে যেত সেটাকে তারা অশুভ লক্ষণ মনে করত এবং তাদের সফর বা প্রয়োজন থেকে না বের হয়ে ফিরে আসত। আর এ কাজ তাদেরকে কল্যাণ থেকে অনেক সময় ধরে বিরত রাখত। এ কারণে শারী‘আত এটা নিষেধ করেছে এবং তা বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। আর সংবাদ দিয়েছে যে, উপকার বা অপকার করার মতো কোন ক্ষমতাই তার নেই। আর এটাই হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (لَا طِيَرَةَ)-এর অর্থ। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২২৩)

(خَيْرُهَا الْفَأْلُ) অর্থাৎ ভালো কথা দ্বারা সুন্দর আচরণ বুঝানো হয়েছে। طَيْرٌ ‘ত্বয়র’ তথা পাখি থেকে এটা গ্রহণ করা হয়নি। সম্ভবত ব্যাখ্যাকার এ প্রশ্নটি দূর করার ইচ্ছা করে বলেছেন অর্থাৎ الْفَأْلُ خَيْرٌ مِنَ الطِّيَرَةِ শুভ লক্ষণ (ফাল) অশুভ লক্ষণ থেকে বহু উত্তম। এর অর্থ হলো الْفَأْلُ কল্যাণের সাথে সীমাবদ্ধ। যেমন الطِّيَرَةِ অকল্যাণের সাথে সীমাবদ্ধ। অতএব ধারাবাহিকতা এদিক থেকে যে, মধু সিরকা থেকে অধিক মিষ্টি। শীত গ্রীষ্ম থেকে অধিক ঠাণ্ডা।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (خَيْرُهَا) মুয়ান্নাস যমীরটা الطِّيَرَةِ-এর দিকে ফিরে। আর এখান থেকে জানা যায় যে, তাতে কোন কল্যাণ নেই। এটা মহান আল্লাহর বাণীর মতই- أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا ‘‘সেদিন জান্নাতবাসীগণ থাকবেন উত্তম আবাসস্থলে’’- (সূরাহ্ আল ফুরকান ২৫ : ২৪)। অথবা এটা তাদের কথার মতই الصَّيْفُ أَحَرُّ مِنَ الشِّتَاءِ তথা গ্রীষ্ম শীত থেকে বেশি গরম। এখানে যেমন শীতের মধ্যে কোন গরম নেই ঠিক তেমনি হাদীসের শব্দ لَا طِيَرَةَ وَخَيْرُهَا الْفَأْلُ এখানেও طِيَرَةَ -এর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, বরং কল্যাণ সবটুকুই রয়েছে الْفَأْلُ-এর মধ্যে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(يسْمعهَا أحدكُم) সেই কথাটি কেউ ভালো মনে করে শুনে। যেমন হারানো জিনিসের মালিক বলল, হে প্রাপ্ত ব্যক্তি। যেমন- ব্যবসায়ী বলর, হে খাবার বিক্রেতা। মুসাফির বলল, হে নিরাপদ ব্যক্তি..... ইত্যাদি।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ الْفَأْلُ-কে অনুমোদন দেয়া ও طِيَرَةَ -কে নিষেধ করার কারণ হলো যখন কোন ব্যক্তি কোন জিনিস দেখে সেটাকে ভালো মনে করল আর তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তাকে উৎসাহিত করল। অতএব তার উচিত হলো ঐ কাজটা করে ফেলা। আর এর পরে যদি সে কোন ক্ষতিকর জিনিস দেখল, আর তার প্রয়োজন পূরণে তাকে বিরত রাখল, তাহলে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে না। বরং সে তার পথে বেরিয়ে পড়বে। যদি ওটাকে অশুভ মনে করে যাত্রা বন্ধ করে দেয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে সেটা الطِّيَرَةِ বলে গণ্য হবে। কারণ সে অশুভ লক্ষণ হিসেবে সেটাকে গণ্য করেছে।

মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ ‘‘তোমাদেরকে অশুভ লক্ষণ মনে করি’’ - (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ১৮)। তিনি আরো বলেন, طَائِرُكُمْ مَعَكُم অর্থাৎ ‘‘তোমাদের অশুভ লক্ষণ গ্রহণের কারণে’’- (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ১৯)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৭৭-[২] উক্ত রাবী (হুরায়রা (রাঃ) হতে) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোগের সংক্রমণ বলতে কিছুই নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই। প্যাঁচার মধ্যে কু-লক্ষণ নেই এবং সফর মাসেও কোন অশুভ নেই। তবে কুষ্ঠরোগী হতে পলায়ন করো, যেমন- তুমি বাঘ হতে পালিয়ে থাকো। (বুখারী)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَلَا هَامة وَلَا صقر وفر الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الْأَسَدِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا عدوى ولا طيرة ولا هامة ولا صقر وفر المجذوم كما تفر من الاسد» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (لَا عَدْوٰى) ‘আল্লামা তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ العَدْوٰى বলা হয়, একজনের রোগ অন্যজনের দিকে অনুপ্রবেশ করাকে। ডাক্তারদেরও এ বিশ্বাস যে, সাত প্রকারের রোগ একজন থেকে অন্যজনের মাঝে অনুপ্রবেশ করে। তা হলো الْجُذَامُ (কুষ্ঠ রোগ), الْجَرَبُ (খুজলী), الْجُدَرِيُّ (মহামারী, বসন্ত), الْحَصْبَة (প্লেগ, মহামারী),  الْبَخْرُ (জ্বর), الرَّمَد ( চোখ উঠা)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

 শেষাংশে বলা হয়েছে, (وفر من  الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الْأَسَدِ) ‘‘আর তুমি পলায়ন কর কুষ্ঠ রোগ হতে, যেমন তুমি বাঘ হতে পলায়ন করে থাকওঃ’’।

অন্য এক বর্ণনায় মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, لا عدوى إذا رايت المجذوم ففِرَّ مِنْ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الْأَسَدِ ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই তবে তুমি যখন কুষ্ঠরোগী দেখবে তখন তুমি পালায়ন কর, যেমন তুমি বাঘ হতে পলায়ন কর। সহীহ মুসলিমে এসেছে, সাক্বীফ গোত্রে এক কুষ্ঠ ব্যক্তি রোগী ছিল, তার কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে বললেন, আমরা তোমার বায়‘আত নিয়েছি, সুতরাং তুমি ফিরে যাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগীর সাথে বসে খেয়েছেন আর বলেছেন, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করছি এবং তার ওপরই ভরসা করছি। ‘উমার ও সাহাবীদের একদল কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া যায় এমন মত পোষণ করেছেন এবং তারা মনে করেন যে, কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকার নির্দেশ মানসূখ হয়ে গেছে। তবে সঠিক কথা হলো এটি রহিত হয়নি। বরং উচিত হলো উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকার ও পলায়ন করার হাদীস হলো মুস্তাহাব ও সতর্কতামূলক। আর তার সাথে বসে খাওয়ার হাদীস হলো জায়িযের প্রমাণ।

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (لَا عَدْوٰى) কোন ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, فمن أعدى الأول ؟ অর্থাৎ তবে প্রথমজনকে কে রোগ অনুপ্রবেশ করাল? এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে, সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নেই তবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (وفر من الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الْأَسَدِ) থেকে বুঝা যাচ্ছে সংক্রামক রোগ আছে, এ দুই হাদীসের সমন্বয় করা হয়েছে কয়েকভাবে-

প্রথমটি হলো: একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে অনুপ্রবেশ করাকে একেবারে নিষেধ করা হয়েছে। আর কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করার নির্দেশ সাধারণত কুষ্ঠরোগীর ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য। কেননা একজন সুস্থ শরীর সম্পন্ন ব্যক্তি যখন এ বিপদ দেখে তখন সে এটাকে বড় করে দেখে এবং তার আফসোস বৃদ্ধি পায়। যেমন- হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে, لا تديموا النظر إلى المجذومين তোমরা সর্বদা কুষ্ঠরোগীর দিকে নযর দিবে না। সম্ভবত এখানে এ অর্থই নেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো: ভিন্ন দু’টি অবস্থার ক্ষেত্রে হ্যাঁ-বোধক ও না-বোধক সম্বোধন করা হয়েছে। যেমন- এসেছে (لَا عَدْوٰى)-এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যার দৃঢ় বিশ্বাস ও সঠিক তাওয়াক্কুল রয়েছে। যেমন- ব্যক্তি নিজ থেকে عَدْوٰى-এর বিশ্বাসকে প্রতিহত করতে পারে। যেমনিভাবে সে ঐ কুলক্ষণকে প্রতিহত করতে সক্ষম যা সকল মানুষের অন্তরে জাগ্রত হয়। তবে তার দৃঢ় বিশ্বাস তাতে প্রভাবিত হয় না। এটি তার স্বভাবগত প্রকৃতির শক্তির মতো যা ঐ সকল বিষয়কে প্রতিহত করে। সুতরাং তা বাতিল করেছে। আর এ দৃষ্টিকোণ থেকেই সম্ভবত জাবির -এর হাদীসটি ব্যবহৃত হয়েছে- তা হলো, একই পাত্রে কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া করা এবং এ জাতীয় কাজ করা, আর হাদীসে বর্ণিত فِرَّ مِنْ الْمَجْذُومِ এটি মূলত দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তির জন্য। যার সেই পরিমাণ তাওয়াক্কুল নেই যা দিয়ে সে عَدْوٰى-এর বিশ্বাসকে প্রতিহত করতে পারে। অতএব এটি দিয়ে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে عَدْوٰى-এর দরজাকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যাতে করে হ্যাঁ-বোধকের জন্য সরাসরি কারণ হয়ে যায়।

তৃতীয়টি হলো: কর্মপদ্ধতি সমূহ- কাযী আবূ বকর বাক্বিল্লানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ جذام তথা কুষ্ঠরোগের ক্ষেত্রে عَدْوٰى তথা একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে অনুপ্রবেশ করা প্রমাণিত। যেমন- সাধারণভাবে عَدْوٰى-কে নিষেধ করা হতে খাস বা নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সুতরাং তার কথার অর্থ হলো (لَا عَدْوٰى) অর্থাৎ একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে অনুপ্রবেশ করতে পারে না তবে কুষ্ঠরোগ, শ্বেতরোগ এবং পাঁচড়া রোগ ব্যতীত।

চতুর্থটি হলো: কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করার নির্দেশ عَدْوٰى-এর দৃষ্টিকোণ থেকে না বরং অভ্যাসগত দিক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা হলো রোগ এক শরীর থেকে অন্য শরীরে পোশাক, একত্রে মিলিত হওয়া এবং ঘ্রাণ নেয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে অত্যধিক মিলিত হওয়ার ফলে অনেক রোগ অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে অনুপ্রবেশ করে। এটি ইবনু কুতায়বাহ্-এর পদ্ধতি। তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীর বেজায় গন্ধ থেকে যারা তার সাথে দীর্ঘ সময় উঠা-বসা করে, কথা-বার্তা বলে এবং তার সাথে ঘুমায় সে ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়। অনুরূপভাবে পুরুষের থেকে অনেক মহিলা আক্রান্ত হয়, আবার এর বিপরীতও হয় এবং তার সন্তানও আক্রান্ত হয়। আর এ কারণেই ডাক্তারগণ مَجْذُومِ থেকে দূরে থাকতে বলেনঃ এটি عَدْوٰى-এর কারণে না বরং গন্ধ প্রভাব ফেলে যে কারণে। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বলেছেন لا يورد ممرض على مصح অসুস্থ ব্যক্তি কোন সুস্থ ব্যক্তির নিকট গমন করবে না।

পঞ্চমটি হলো: عَدْوٰى-কে নিষেধ করার উদ্দেশ্য হলো কোন জিনিস নিজের থেকে অন্যকে সংক্রামিত করতে পারে না, এ ক্ষমতা তার নেই। যেমনটি বিশ্বাস করত জাহিলী যুগের লোকেরা। তাদের বিশ্বাস ছিল, রোগ নিজ থেকে অন্যের দেহে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে। তারা আল্লাহর সাথে রোগকে সম্পর্কিত করত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সেই বিশ্বাস বাতিল ঘোষণা করেন। এ কারণে তিনি مَجْذُومِ তথা কুষ্ঠরোগীর সাথে বসে খেয়েছেন এটা দেখানোর জন্য যে আল্লাহই অসুস্থ করেন আবার তিনিই আরোগ্য দান করেন। তিনি কুষ্ঠরোগীর নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন তাদেরকে এটা বর্ণনা করার জন্য যে, এটা একটা উপকরণ, যা কারও ওপর প্রভাব খাটাতে পারে। নিষেধটা প্রমাণ করে যে, উপকরণ সত্য। আর তার করাটা প্রমাণ করে যে, তা সীমাবব্ধ নয়। আল্লাহ যাকে চান সুস্থ রাখেন আর যাকে চান তার ওপর উপকরণ প্রভাব ফেলে।

ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কথা বর্ণনা করার পর ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কুষ্ঠরোগ ও ধবল রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ বিশ্বাস করেন যে, এটি স্বামী-স্ত্রীকে বেশি সংক্রমিক করে (একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে অনুপ্রবেশ করে)।

এটা এমন রোগ যা সহবাস করতে বাধা দেয়। একজনের শরীরে এটা হলে সহবাসের কারণে অন্যজনের ও আক্রমণ করে। কোন স্ত্রী এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সাথে সহবাস করলে তার স্বামীও আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কোন পিতা-মাতা যদি কুষ্ঠ বা ধবল রোগে আক্রান্ত থাকে তবে তাদের সন্তানরা খুবই কম ভালো থাকে। যদিও তারা ভালো থাকে তবে তাদের বংশধরগণের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হবে।

ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (لَا عَدْوٰى) এটি ছিল মূলত জাহিলী যুগে তাদের বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা কাজটাকে গায়রুল্লার দিকে সম্পৃক্ত করত। অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে অসুস্থ ব্যক্তির সাথে মিলিত হওয়ার কারণে আক্রান্ত করেন। এ কারণেই হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ فر من المجذوم فرارك من الأسد لا يورد ممرض على مصح । প্লেগ (মহামারির) ক্ষেত্রে এসেছে, من سمع به بأرض فلا يقدم عليه যে ব্যক্তি কোন স্থানে ঐ রোগের খবর পাবে যে, তারা তাতে আক্রান্ত সেভাবে গমন করবে না। আর এসবই আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী। দুই হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য ইবনুস্ সলাহ-ও এই মতের অনুসরণ করেছেন। আর তার পরবর্তীগণ ও তার পূর্বের এক দলও। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৭০৭)

وَلَا هَامَةَ এটি এক প্রকার পাখি যাকে মানুষ অশুভ মনে করে। এটি একটি বড় পাখি। দিনের বেলায় তার চোখ দুর্বল থাকে। এ পাখি রাতের বেলায় উড়ে বেড়ায় এবং ভালো দেখে। ধ্বংস স্তুপে এ পাখি থাকে। তাকে পেঁচা বা পেচকও বলা হয়।

জাহিলী যুগে ‘আরবদের এ বিশ্বাস ছিল যে, মৃতের হাড্ডি পঁচে গলে তা থেকে هَامَةَ বা প্যাঁচার জন্ম হত। আর সে তখন কবর থেকে বেরিয়ে পড়ত এবং ঘোরাঘুরি করত। আর পরিবারের খবর নেয়ার জন্য আসত। এও বলা হয়, জাহিলী যুগে এটিও বিশ্বাস ছিল যে, নিহত ব্যক্তির আত্মা থেকে هَامَةَ বা একটি পাখি জন্ম নেয়, যে বলতে থাকে, আমাকে পানি পান করাও, আমাকে পানি পান করাও। আর যখন তার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয়, তখন সে উড়ে যায়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিশ্বাসকে বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনানে বর্ণিত, বাকিয়্যাহ্ বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু রশীদ-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রসূলের কথা لَا هَامَةَ সম্পর্কে। অতঃপর তিনি বলেন, জাহিলী যুগে তাঁরা বলত, কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর তাকে দাফন করা হলে তার কবর থেকে একটি هَامَةَ বা প্যাঁচা বের হয়।

‘আরবরা এটাকে অশুভ বলেনঃ জাহিলী যুগে এটি কারো আঙ্গিনায় পতিত হলে সে ব্যক্তি তার নিজের অথবা পরিবারের কারো মৃত্যু সংবাদ মনে করত। এটি হলো মালিক ইবনু আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসীর। আর তাদের দ্বিতীয় কথা হলো ‘আরবরা এটাকে মৃত্যুর হাড় মনে করত। বলা হতো যে, তার আত্মা বের হলে প্যাঁচা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এটিই হলো অধিকাংশ ‘উলামার মত এবং এটিই প্রসিদ্ধ মত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

وَلَا صَفَرَ ব্যাখ্যাকার বলেনঃ জাহিলী যুগে ‘আরবদের ‘আক্বীদাহ্ ছিল এই যে, এটি হলো পেটের একটি সাপ অথবা কীট যা ক্ষুধার সময় মানুষকে দংশন করতে থাকে।

ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনান গ্রন্থে বলেন, বাক্বিয়্যাহ্ বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু রশীদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সফর মাস আগমনকে তারা (জাহিলী যুগের ‘আরবরা) কুলক্ষণ মনে করত। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لَا صَفَرَ। তিনি বলেন, আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, এটি হলো পেটের ব্যথা, যেটাকে তারা অন্যের শরীরে অনুপ্রবেশ করে বলে বিশ্বাস করত।

ইমাম আবূ দাঊদ এবং ইমাম মালিক (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেনঃ জাহিলী যুগে তারা যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য সফর মাসকে হালাল করত আবার হারামও করত। সেজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لَا صَفَرَ

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বলা হয়ে থাকে যে, ‘আরবদের বিশ্বাস ছিল পেটের ভিতর এক ধরনের প্রাণী হত, ফলে ক্ষুধার সময় দারুণ যন্ত্রণা করত, এমনকি ঐ ব্যক্তিকে মেরে ফেলত। আর তাদের বিশ্বাস ছিল এই যে, পাঁচড়া থেকে সংক্রামক ছড়িয়ে পড়ে। এ তাফসীরটি সহীহ।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ لَا صَفَرَ বলতে তাদের ভুল ধারণাসমূহ যেমন এ মাসে বেশি বেশি বিপর্যয় ও বিপদ হয়, সম্ভবত তা খন্ডন করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৭৮-[৩] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোগে সংক্রামিত কিছু নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছু নেই এবং সফর মাসেও অশুভ নেই। তখন এক বেদুঈন বলে উঠল : হে আল্লাহর রসূল! তাহলে উটের এ দশা কেন হয় যে উটের পাল ময়দানের হরিণের মতো বিচরণ করে, এমতাবস্থায় তাদের সাথে চর্ম রোগাক্রান্ত একটি উট এসে মিশে তাদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আচ্ছা, তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা হতে এসেছিল? (বুখারী)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى وَلَا هَامَةَ وَلَا صفر» . فَقَالَ أَعْرَابِي: يَا رَسُول فَمَا بَالُ الْإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ لَكَأَنَّهَا الظباء فيخالها الْبَعِير الأجرب فيجر بِهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَمن أعدى الأول» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا عدوى ولا هامة ولا صفر» . فقال اعرابي: يا رسول فما بال الابل تكون في الرمل لكانها الظباء فيخالها البعير الاجرب فيجر بها؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فمن اعدى الاول» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا صفر) সফর মাসকে কেন্দ্র করে তাদের বিশ্বাসকে নাকোচ করা হয়েছে। তাদের বিশ্বাস ছিল এই যে, এটি পেটের এমন এক রোগ যা সংক্রামিত করে। অথবা পেটের এক প্রকার সাপ যা মানুষকে সংক্রামিত করে। অথবা এটি দ্বারা সফর মাসকে বুঝাত, তবে তাদের বিশ্বাস ছিল সফর মাসে কুলক্ষণ আগমন করে। অথবা এটি ক্ষুধার কারণে পেটের মধ্যের একটি রোগ। অথবা এটি এমন পানির সমাবেশ যেখান থেকে পানি চাওয়া হয়।

(كَأَنَّهَا الظباء) অর্থাৎ অসুখ থেকে নিরাপদ, সবল এবং কর্মচঞ্চলতার দিক থেকে সে যেন হরিণের মতো। এটা বলার কারণ হলো যখন সে মাটিতে থাকে তখন মাঝে মাঝে সেখান থেকে কিছু অংশ সাথে নিয়ে উঠে। (الْبَعِير الأجرب) যে উটের শরীরে পাঁচড়া অথবা চুলকানি থাকে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৭)

فَمن أعدى الأول অর্থাৎ যদি তার পাঁচড়া রোগটি সংক্রামকের কারণে হয়ে থাকে তবে প্রথমটিকে কে সংক্রামিত করেছে? এর অর্থ হলো তবে কে তার সাথে পাঁচড়া রোগটি যুক্ত করে ছিল? প্রথম ও শেষ সকলকে মহান আল্লাহর দিকে তথা তাঁর ফায়সালার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তবে এ রোগটি কে নিয়ে আসলো? বাহ্যিকভাবে বলা যায় যে, প্রথমটিকে কিসে সংক্রামিত করল? যেন সে জবাবে বলে, আল্লাহ তা‘আলা। অর্থাৎ মহান আল্লাহই সংক্রামিত করেন অন্য কেউ সংক্রামিত করতে পারে না। তিনি সমস্যার কারণে সংক্রামকের উল্লেখ করেছেন। যেমন তার কথা, كَمَا تَدِينُ تُدَانُ যেমন কর্ম তেমন ফল অর্থাৎ- ঐ সমস্যা কে দিয়েছেন? (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৭৯-[৪] উক্ত রাবী (হুরায়রা (রাঃ) হতে) বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোগের সংক্রামক বলতে কিছুই নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দরুন বৃষ্টি হওয়া ভিত্তিহীন এবং সফর মাসে অশুভ নেই। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى وَلَا هَامَةَ وَلَا نَوْءَ وَلَا صفر» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا عدوى ولا هامة ولا نوء ولا صفر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا نَوْءَ) অর্থাৎ বিশেষ কোন তারকার উদয় হওয়া আর তার বিপরীতে কোন তারকার অস্ত যাওয়া। এর একটি তারকা পূর্বদিগন্তে থাকে আর অপরটি থাকে পশ্চিম দিগন্তে। জাহিলী যুগের লোকেদের বিশ্বাস ছিল, বিশেষ কোন তারকা উদিত হলে বৃষ্টি হবে এবং বৃষ্টি হওয়ার নিশ্চয়তা ঐ তারকার সাথেই সংযুক্ত। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকোচ করেছেন।

ব্যাখ্যাকার বলেনঃ সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সাথে সাথে চাঁদের কক্ষপথ থেকে একটি তারকা পড়ে যাওয়াকে النَوْءَ বলা হয়। আর তা হচ্ছে, আঠাশ (২৮) টি তারকা। সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সাথে সাথে পশ্চিম দিগন্ত থেকে একটি করে তারকা পড়ে যায়। আর একই সময়ে পূর্ব দিগন্ত তার পরিবর্তে অন্য একটি তারকা উদয় হয়।

‘নিহায়াহ্’ গ্রন্থে আছে, النَوْءَ বলা হয় চাদের পরিভ্রমণের কক্ষপথকে। ‘আরবদের ‘আক্বীদাহ্ ছিল, প্রতিটি نَوْءَ তথা বৃষ্টির পূর্বলক্ষণ প্রদর্শনকারী তারকা বৃষ্টি দিবে এবং তার সাথেই তারা বৃষ্টি হওয়ার গ্যারান্টি সংযুক্ত করতো। তারা বলত مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا অর্থাৎ আমরা অমুক তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি পেয়েছি।

نَوْءَ হিসেবে তাদের নামকরণের কারণ হলো পশ্চিম দিগন্তে যখন কোন তারকা ডুবে গেল তখনই পূর্ব দিগন্তে অন্য একটি তারকা উদিত হল। আবার বলা হয়ে থাকে, نَوْءَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ডুবে যাওয়া এটি বিপরীতভাবে হবে।

আবূ ‘উবায়দ বলেনঃ نَوْءَ যে ডুবে যাওয়া এটি তিনি এ জায়গায় ব্যতীত আর শোনেননি। نَوْءَ-এর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর কারণ হলো আরবরা বৃষ্টি হওয়াকে نَوْءَ-এর সাথে সম্পৃক্ত করত। আর যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস রাখে যে, বৃষ্টি আল্লাহর কাজের একটি তথা আল্লাহর নির্দেশেই দূর হয়ে থাকে। আর তার কথার দ্বারা এ উদ্দেশ্য নেয় যে, مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا অর্থাৎ অমুক সময়ে আমরা বৃষ্টি লাভ করব। আর তা হলো তা অমুক তারকার সময়কালে। তাহলে সেটি বৈধ হবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ নিয়ম চালু করে দিয়েছেন যে, এই এই সময়ে বৃষ্টি আসবে। এটি ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন।

আর বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে نَوْءَ-কে স্বাভাবিকভাবে নিষেধ করার কারণ হলো তাদের ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্। কারণ এ ব্যাপারে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যা প্রমাণ করে এটি জায়িযও আছে। মোটকথা এ হাদীসটির অর্থ হবে এরূপ, তোমরা বলবে না, مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا বরং তোমরা বলবে, مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ تَعَالٰى আমরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহের মাধ্যমে বৃষ্টি পেয়েছি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮০-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, রোগে ছোঁয়াচে লাগা, সফর মাস অশুভ হওয়া বা ভূত-প্রেতের ধারণার কোন অস্তিত্ব নেই। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا عَدْوَى وَلَا صَفَرَ وَلَا غُولَ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لا عدوى ولا صفر ولا غول» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا غُولَ) জামহূর ‘উলামা বলেনঃ ‘আরবদের বিশ্বাস ছিল যে, এক শ্রেণীর জীন-শয়তান মাঠে ময়দানে বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে কোন পথিকের উপর সওয়ার হয় (ভর করে), ফলে সে পথহারা অবস্থায় এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকে। অবশেষে তাকে ধ্বংস করে ছাড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধারণাটিকে বাতিল বলেছেন। অন্যরা বলেছেন, হাদীসে কিন্তু এদের অস্তিত্বের অস্বীকার করা হয়নি। এ হাদীসে কেবল ‘আরবদের ভ্রান্ত ধারণা জীন-শয়তান বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে এ ধারণাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কেননা হাদীসে এসেছে, إِذَا تَغَوَّلَتِ الْغِيلَانُ فَبَادِرُوا بِالْأَذَانِ অর্থাৎ যখন তোমাকে ভূত-প্রেত রাস্তাচ্যুত করে দেয় তাহলে তুমি আযানের প্রতি অগ্রসর হও। অর্থাৎ আযান দিতে থাকে। যাতে তার ক্ষতি হতে মুক্তি লাভ করতে পার। এ হাদীস থেকে তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২২২; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮১-[৬] ’আমর ইবনু শারীদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সাক্বীফ দলের মধ্যে একজন কুষ্ঠরোগী ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে লোক পাঠিয়ে এ সংবাদ জানিয়ে দিলেন যে, আমি অবশ্যই তোমার বায়’আত নিয়েছি (বায়’আত করার প্রয়োজন নেই)। সুতরাং তুমি চলে যাও। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْفَأْلِ وَالطِّيَرَةِ

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّا قد بايعناك فَارْجِع» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عمرو بن الشريد عن ابيه قال: كان في وفد ثقيف رجل مجذوم فارسل اليه النبي صلى الله عليه وسلم: «انا قد بايعناك فارجع» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ সহীহুল বুখারীতে অন্য একটি হাদীসে এসেছে, وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ فِرَارَكَ مِنَ الْأَسَدِ তুমি কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন কর যেভাবে তুমি বাঘ থেকে পালাও। لاعدوى ‘‘কোন সংক্রামক রোগ নেই’’ অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি لايورد مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ এর বিপরীত নয়।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কুষ্ঠরোগীর ঘটনায় বিভিন্ন আসার (সাহাবীগণের বর্ণনা) এসেছে। আর উল্লেখিত হাদীস দু’টি প্রমাণিত হয়েছে। আর জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠ রোগীর সাথে খেয়েছেন। আর তাকে বলেছিলেন, তুমিও খাও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে এবং তারই ওপর তাওয়াক্কুল কর।

মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেনঃ আমার মুক্ত দাসী আমার সাথে আমার পেস্নটে খেত আমার পাত্রে পান করত এবং আমার বিছানায় ঘুমাত।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘উমার  ও অন্যান্য সালাফ বলেন, কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া যায়। আর তারা মনে করেন তাকে এড়িয়ে চলার নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে। সহীহ কথা হলো, সেটি অধিকাংশের বক্তব্য আর তা হলো এটি রহিত হয়ে যায়নি। বরং উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় দরকার। কুষ্ঠরোগী থেকে পালানোর নির্দেশ ও তার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ সতর্কতামূলক মুস্তাহাব এটা ওয়াজিব নয়। আর তার সাথে খাওরা এটি জায়িয বর্ণনা করার জন্য। মহান আল্লাহই ভালো জানেন।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেনঃ কতক ‘উলামা বলেন, এ হাদীসটি এবং এ জাতীয় আরো হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, যদি কোন মহিলার স্বামীর কুষ্ঠরোগ হয় তবে তার বিবাহ ঠিক রাখা না রাখার ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা আছে। কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তারা বলেছেন, তাকে মসজিদে যেতে বাধা দেয়া হবে এবং মানুষের সাথে মিশতেও বাধা দেয়া হবে। মোট কথা বেশি লোকের সমাবেশে তারা অপছন্দ করে তবে তার যোগদান ঠিক নয়। আর জুমু‘আর সালাতের জন্য মসজিদে যেতে তাকে নিষেধ করা যাবে না। (শারহুন নাবাবী ১৪, হাঃ ২২৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮২-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন। আর কোন কিছু হতে অশুভ ধারণা গ্রহণ করতেন না এবং তিনি ভালো নামকে পছন্দ করতেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَفَاءَلُ وَلَا يَتَطَيَّرُ وَكَانَ يُحِبُّ الِاسْمَ الْحَسَنَ. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة

عن ابن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتفاءل ولا يتطير وكان يحب الاسم الحسن. رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ (يَتَفَاءَلُ) অর্থাৎ তিনি শুভ লক্ষণ অনুসন্ধান করতেন এবং তার অনুসরণ করতেন।

(وَكَانَ يُحِبُّ الِاسْمَ الْحَسَنَ) অর্থাৎ তার দ্বারা তিনি শুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন। এখান থেকে বুঝা যায় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খারাপ নাম অপছন্দ করতেন এবং তাকে অশুভ লক্ষণ মনে করতেন। এটি তার ঐ ‘আম কথার মতো নয় যে, (وَلَا يَتَطَيَّرُ) আর তিনি অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না। তবে হ্যাঁ তিনি খারাপ নামকে পরিবর্তন করে দিয়ে সুন্দর নাম রেখে দিতেন। যেমন বহু নামের ক্ষেত্রে এরূপ ঘটেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৩-[৮] কত্বান ইবনু কবীসাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ণয়ের জন্য) পাখি উড়ানো বা ঢিল ছোঁড়া বা কোন কিছুতে অশুভ লক্ষণ মান্য করা শির্কের অন্তরভুক্ত। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن قَطن بن قَبيصةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعِيَافَةُ وَالطَّرْقُ وَالطِّيَرَةُ مِنَ الْجِبْتِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن قطن بن قبيصة عن ابيه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «العيافة والطرق والطيرة من الجبت» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (الْعِيَافَةُ) ‘আইন’ বর্ণে যের যোগে। (الْعِيَافَةُ) বলা হয়, কোন পাখিকে উড়িয়ে দেয়া, শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা ও তার নামের উপর ভিত্তি করে শিক্ষা গ্রহণ করাকে। যেমন, শকুনের কারণে শাস্তির লক্ষণ মনে করা, কাকের কারণে নির্বাসনের লক্ষণ মনে করা এবং হুদহুদের কারণে হিদায়াতের লক্ষণ মনে করা। (الطِّيَرَةُ) ও উভয়টির মধ্যে পার্থক্য হলো (الطِّيَرَةُ)-এর ক্ষেত্রে কেবল পাখির দ্বারাই অশুভ লক্ষণ মনে করা হয়। আর (الْعِيَافَةُ وَالطَّرْقُ)-এর ক্ষেত্রে শুধু পাখি নয়, বরং বিভিন্ন প্রাণী ও অন্যান্য জিনিসের মাধ্যমেও অশুভ লক্ষণ গণনা করা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

ইবনুল ‘আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (الْعِيَافَةُ) পাখি উড়ানো, তার নাম দ্বারা তার শব্দ দ্বারা এবং তার অতিক্রম করার দ্বারা শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। আর এটি ‘আরবদের অভ্যাসে প্রচুর পরিমাণে পরিলক্ষিত হতো। এতে তাদের কবিতায় বেশি দেখা যেত। বানূ আসাদ দলের লোকেরা (الْعِيَافَةُ)-কে এভাবেই বর্ণনা করত।

(الطَّرْقُ) ‘ত্ব’ বর্ণে যবর ও ‘র’ বর্ণে সাকিন যোগে। তা হলো সেই কংকর নিক্ষেপ যা মহিলারা করে থাকে। বলা হয়, তা হলো বালুর অংশ। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এভাবেই এসেছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৪-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শির্কী কাজ। এ বাক্যটি তিনি তিনবার উচ্চারণ করেছেন। আর আমাদের মধ্যে কেউ নেই যার মনে অশুভ লক্ষণের ব্যাপারে উদ্রেক না হয়; কিন্তু আল্লাহর ওপরে পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা করলে তিনি তা দূরীভূত করে দেন। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]

ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমি শুনেছি, ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ সুলায়মান ইবনু হারব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসের শেষাংশটি এটা আমার মতে ইবনু মাস্’ঊদ-এর নিজস্ব কথা।

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الطِّيَرَةُ شِرْكٌ» قَالَهُ ثَلَاثًا وَمَا مِنَّا إِلَّا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ: كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: «وَمَا مِنَّا إِلَّا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ» . هَذَا عِنْدِي قَوْلُ ابْنِ مَسْعُودٍ

وعن عبد الله بن مسعود عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الطيرة شرك» قاله ثلاثا وما منا الا ولكن الله يذهبه بالتوكل. رواه ابو داود والترمذي وقال: سمعت محمد بن اسماعيل يقول: كان سليمان بن حرب يقول في هذا الحديث: «وما منا الا ولكن الله يذهبه بالتوكل» . هذا عندي قول ابن مسعود

ব্যাখ্যাঃ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ অর্থাৎ শির্ক হয় তাদের বিশ্বাসের কারণে, তাদের বিশ্বাস হলো নিশ্চয় অশুভ লক্ষণ তাদের জন্য উপকার নিয়ে আসে অথবা তাদের থেকে ক্ষতিকে দূরীভূত করে। এটাকে যখন তারা আবশ্যক ভেবে কাজ করে তখন এ ক্ষেত্রে তারা যেন আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে ফেলে। আর এটাকে গুপ্ত শির্ক বলে। আর যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছু স্বতন্ত্রভাবে উপকার নিয়ে আসতে পারে অথবা ক্ষতি সাধন করতে পারে তবে সে অবশ্যই প্রকাশ্য শির্ক করল।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটাকে কেবল শির্ক হিসেবেই নামকরণ করা হয়েছে। কেননা তারা অপছন্দনীয় বিষয় সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে অশুভ লক্ষণের বস্তুটিকে প্রভাবিতকরণ মনে করত। আর সঠিকভাবে কারণগুলো বিবেচনা করলে গোপন শির্ক হয়। সুতরাং এর সাথে যদি মূর্খতা ও খারাপ ‘আক্বীদাহ্যুক্ত হয় তবে কেমন হবে?

(إِلَّا) অর্থাৎ অশুভ লক্ষণের দিক থেকে কিছু না কিছু ক্ষতি তার হয়। এর কারণ হলো আত্মা তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এখানে মুসতাসনাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, কারণ তা উচ্চারণ করা অপছন্দনীয়।

‘আল্লামা তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ অশুভ লক্ষণের দিক থেকে তার সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার কারণে। তিনি তার এ কথাকে পূর্ণ করাকে অপছন্দনীয় মনে করেছেন। এর কারণ হলো অপছন্দনীয় অবস্থা তার সাথে সংযুক্ত হচ্ছে। আর কথা বলার আদবের মধ্যে এটিও এক প্রকার যে, কথা বলার সময় খারাপ কথার প্রতি ইঙ্গিত করে উচ্চারণ না করে শেষ করা, যেন সেটি নিজের জন্যও খারাপের দৃষ্টান্ত না হয়। ‘আল্লামা খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর অর্থ হলো যার (অন্তরে) অশুভ লক্ষণ এসে পড়ে। আর এ বিষয়ে তার অন্তরে অপছন্দ অগ্রবর্তী হয়েছে। কিন্তু কথাকে সংক্ষিপ্ত করার জন্য তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শ্রোতার বুঝের উপর নির্ভর করা হয়েছে।

(وَمَا مِنَّا) থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা নয়, এটা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ -এর কথা। আর এটিই সঠিক কথা। শায়খ ইয্যুদ্দীন ইবনু ‘আবদুস্ সালাম  বলেন, (الطيرة والتطير) এর মধ্যে পার্থক্য হলো التطير বলা হয় অন্তরে খারাপ ধারণা পোষণ করাকে। আর الطيرة বলা হয় খারাপ ধারণার উপর ভিত্তি করে কোন কাজ করাকে।

(بِالتَّوَكُّلِ) অর্থাৎ তার ওপর নির্ভর করার কারণে এবং মহান আল্লাহর প্রতি সম্পৃক্ত করার কারণে। মোটকথা হলো কুমন্ত্রণা থেকে শিক্ষার কিছু নেই। যখনই অসর্তকতা চলে আসে, সাথে সাথেই ফিরে আসা আবশ্যক। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৬; মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুফাতুল আহ্ওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৬১৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৫-[১০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কুষ্ঠরোগীর হাত ধরে তাকে নিজের খাদ্যপাত্রে খাওয়ায় শরীক করে নিলেন, অতঃপর বললেন, তুমি খাও আল্লাহ তা’আলার ওপরে পূর্ণ ভরসা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল সহকারে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ فَوَضَعَهَا مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ وَقَالَ: «كُلْ ثِقَةً بِاللَّهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن جابر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ بيد مجذوم فوضعها معه في القصعة وقال: «كل ثقة بالله وتوكلا عليه» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ) আরদাবীলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা ‘উমার (রাঃ) যে কুষ্ঠরোগীর হাত ধরে প্লেটে বসান এবং এক সাথে খাবার খান তার নাম মু‘আয়ক্বীব ইবনু আবূ ফাতিমা আদ্ দাওসী।

(فِي الْقَصْعَةِ) এখানে দুই দিক থেকে তাওয়াক্কুলের চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। প্রথমটি হলো তার হাত ধরা। আর দ্বিতীয় হলো তার সাথে খাওয়া।

আবূ যার  থেকে ইমাম ত্বহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, তুমি কোন অসুস্থ ব্যক্তির সাথে খাবার খাও তোমার রবের প্রতি বিনয়ী ও ঈমান সহকারে।

(كُلْ ثِقَةً بِاللهِ) অর্থাৎ তুমি আমার সাথে খাও, আমি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছি। অর্থাৎ তার প্রতি আমি নির্ভর করেছি এবং তার প্রতি সকল বিষয় সোপর্দ করেছি।

ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগীর হাত ধরলেন এবং তাকে প্লেটে বসিয়ে তার সাথে খেলেন, এটা ঐ ব্যক্তির অধিকার যে অপছন্দীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেও ধৈর্য ধরতে পারে এবং নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিতে পারে।

আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الْأَسَدِ ‘‘তুমি কুষ্ঠরোগী হতে পলায়ন কর যেমনিভাবে তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর’’। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী সাক্বীফ গোত্রের কুষ্ঠরোগীকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, এতে অধিকার আছে সেই ব্যক্তির জন্য যে অপছন্দনীয় বিষয়ের উপর অক্ষম এবং ধৈর্য ধরতে পারে না। শারী‘আতের দৃষ্টিকোণে এটিও জায়িয রয়েছে। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কুষ্ঠরোগীর ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন আসার (সাহাবীগণের বর্ণনা) এসেছে। এ থেকে দু’টি হাদীস প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ فِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ এ হাদীসটি এবং الْمَجْذُومِ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ ‘‘সাক্বীফ গোত্রের কুষ্ঠরোগী’’। আর জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগীর সাথে বসে খেয়েছেন আর তাকে বলেছেন, তুমি খাও আল্লাহর ওপরে পূর্ণ ভরসা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল সহকারে। মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমাদের একটি কুষ্ঠরোগী দাসী ছিল। সে আমার প্লেটে খেত, আমার গ্লাসে পানি পান করত এবং আমার বিছানায় ঘুমাত। নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘উমার  অন্যান্য সালাফগণ কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া যায় মর্মে মত পোষণ করেছেন। আর তারা মনে করেন যে, তার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়ার হাদীস রহিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সঠিক কথা হলো সেই কথা যা অধিকাংশের বক্তব্য। তারা বলেন, এটা রহিত হয়নি। বরং উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ হলো মুস্তাহাব। এটা সতর্কতামূলক তবে ওয়াজিব নয়। আর তার সাথে বসে খাওয়ার বিষয়টি হলো তা জায়িযের দলীল। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯২০; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮১৭)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৬-[১১] সা’দ ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। রোগের মধ্যে সংক্রামক বলতে কিছুই নেই এবং কোন কিছুর মধ্যে অশুভ লক্ষণ নেই। তবে হ্যাঁ, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থাকে তবে ঘর, ঘোড়া এবং নারীর মধ্যে থাকবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن سعدِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا هَامَةَ وَلَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَإِنْ تَكُنِ الطِّيَرَةُ فِي شَيْءٍ فَفِي الدَّارِ وَالْفرس وَالْمَرْأَة» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن سعد بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا هامة ولا عدوى ولا طيرة وان تكن الطيرة في شيء ففي الدار والفرس والمراة» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (وَإِنْ تَكُنِ الطِّيَرَةُ) অর্থাৎ কুলক্ষণ যদি সঠিক হত, অথবা ঘটত, অথবা পাওয়া যেত। এখানে (وَإِنْ تَكُنِ) ইস্তিসনা-এর জায়গায় বা ভূমিকায় এসেছে। অর্থাৎ কোন কিছুতে অকল্যাণ নেই কেবল এ তিনটি জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যতীত। এখানে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, এ তিনটিতে বেশি ক্ষেত্রে অকল্যাণ হয়। তবে যেসব হাদীসে কুলক্ষণকে নাকোচ করা হয়েছে এ হাদীস তার বিরোধী নয়। মিরক্বাতুল মাফাতীহে এভাবেই এসেছে। এ তিনটি জীবনের অনিবার্য উপকরণের সাথেও নানা ধরনের বিপদাপদ লেগে থাকে, তবুও কেউ অশুভ লক্ষণের ধারণায় এগুলোকে বর্জন করে না। এজন্য তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি তোমাদের করো বাড়ি থাকে আর সে তাতে বসবাস করা অপছন্দ করে অথবা ঘোড়া থাকে সে তাতে আরোহণ করা অপছন্দ করে তবে যেন সে বাড়ী থেকে বেরিয়ে অন্য চলে যায়, তার স্ত্রীকে ত্বলাক দিয়ে দেয় এবং তার ঘোড়াটি বিক্রি করে দেয়। এও বলা হয় যে, বাড়ীর অকল্যাণ হলো তার সংকীর্ণতা এবং খারাপ প্রতিবেশী। আর স্ত্রীর অকল্যাণ হলো সন্তান জন্ম না হওয়া। আর ঘোড়ার অকল্যাণ হলো তার উপর চড়তে না দেয়া। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯১৬-৩৯১৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৭-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন প্রয়োজনে ঘর হতে রওয়ানা হতেন, তখন কারো মুখে ’ইয়া- রা-শিদ’ (হে সঠিক পথের অনুসারী!), ’ইয়া- নাজীহ’ (হে সফলতা লাভকারী!) বা এ জাতীয় কোন শব্দ শুনা পছন্দ করতেন। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعْجِبُهُ إِذَا خَرَجَ لِحَاجَةٍ أَنْ يَسْمَعَ: يَا رَاشِدُ يَا نَجِيحُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يعجبه اذا خرج لحاجة ان يسمع: يا راشد يا نجيح. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (يَا رَاشِدُ) ‘‘সরল পথের পথিক’’। (يَا نَجِيحُ) অর্থাৎ যার প্রয়োজন পূর্ণ হয়েছে তথা সফলতা লাভকারী।

যেহেতু হাদীসে বর্ণিত শব্দ বা নাম দু’টি সুন্দর অর্থবোধক, সেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে ভালোবাসতেন। কারণ তিনি ভালো নাম ভালোবাসতেন এবং খারাপ নাম পরিবর্তন করে দিতেন। আরো একটি কারণ হলো উল্লেখিত নাম দু’টির মধ্যে সুসংবাদ আছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দিতে বলেছেন,

بَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا وَيَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا ‘‘তোমরা সুসংবাদ দাও, দুঃসংবাদ দিও না এবং তোমরা সহজ কর, কঠিন করিও না’’- (মুত্তাফাকুন ‘আলায়হি)। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৮-[১৩] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছুতে অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করতেন না। তাঁর অভ্যাস ছিল, তিনি যখন কোথাও কোন কর্মচারী পাঠাতে ইচ্ছা করতেন, তখন তার নাম জিজ্ঞেস করতেন। যদি তার নাম ভালো হত তাতে তিনি খুশি হতেন এবং খুশির রেখা তাঁর চেহারায় ফুটে উঠত। আর যদি তাঁর নাম মন্দ হত, তখন তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ পেত। যখন তিনি কোন লোকালয়ে প্রবেশ করতেন, তখন তার নাম জিজ্ঞেস করতেন। যদি তার নাম তার পছন্দমতো হত, আনন্দিত হতেন এবং খুশির ভাব তাঁর চেহারায় ফুটে উঠত। কিন্তু যদি তার নাম অপছন্দনীয় হত, তার ভাবও তাঁর চেহারায় পরিলক্ষিত হত। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ بُرَيْدَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَتَطَيَّرُ مِنْ شَيْءٍ فَإِذَا بَعَثَ عَامِلًا سَأَلَ عَنِ اسْمِهِ فَإِذَا أَعْجَبَهُ اسْمه فَرح بِهِ ورئي بشر ذَلِك على وَجْهِهِ وَإِنْ كَرِهَ اسْمَهُ رُئِيَ كَرَاهِيَةُ ذَلِكَ على وَجْهِهِ وَإِذَا دَخَلَ قَرْيَةً سَأَلَ عَنِ اسْمِهَا فَإِنْ أَعْجَبَهُ اسْمُهَا فَرِحَ بِهِ وَرُئِيَ بِشْرُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ وَإِنْ كَرِهَ اسْمَهَا رُئِيَ كَرَاهِيَة ذَلِك فِي وَجهه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن بريدة: ان النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يتطير من شيء فاذا بعث عاملا سال عن اسمه فاذا اعجبه اسمه فرح به ورىي بشر ذلك على وجهه وان كره اسمه رىي كراهية ذلك على وجهه واذا دخل قرية سال عن اسمها فان اعجبه اسمها فرح به ورىي بشر ذلك في وجهه وان كره اسمها رىي كراهية ذلك في وجهه. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (كَانَ لَا يَتَطَيَّرُ مِنْ شَيْءٍ) অর্থাৎ তিনি কোন জিনিসকে কুলক্ষণ মনে করেন না, মানুষ সাধারণত যাকে কুলক্ষণ মনে করে।

(فَإِذَا بَعَثَ عَامِلًا) অর্থাৎ কোন স্থানে কোন শ্রমিককে পাঠানোর ইচ্ছা করেন।

(فِي وَجْهِه) তার নামের দ্বারা অশুভ লক্ষণ মনে করে নয়, বরং শুভ লক্ষণ আনয়ন করার জন্য। তিনি সেই খারাপ নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখে দিতেন।

ইমাম বাযযার এবং ‘ত্ববারানী’র ‘‘আওসাত্ব’’ কিতাবে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, যখন তোমরা কোন ব্যক্তির কাছে কাউকে প্রেরণ করবে তখন সুন্দর চেহারার কাউকে এবং সুন্দর নামের কাউকে প্রেরণ করবে।

ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সুন্নাত হলো কোন ব্যক্তি তার ছেলের ও তার খাদেমের জন্য সুন্দর নাম চয়ন করবে। কেননা অপছন্দনীয় নাম কখনও তার তাকদীরের সাথে মিলে যায়। যেমন- কোন ব্যক্তি তার ছেলের নাম রাখল খসারাহ (ক্ষতিগ্রস্ত)। অতঃপর তার জীবনে আল্লাহর বিধান অনুপাতে কখনও ক্ষতি হয়ে গেল। ফলে কতিপয় লোক এরূপ বিশ্বাস রাখবে যে, এটি হয়েছে তার নামের কারণে। সুতরাং লোকেরা তাকে কুলক্ষণ মনে করে তাদের বসার ও মিলিত হওয়ার স্থান থেকে তাকে সরিয়ে দিবে।

‘‘শারহুস্ সুন্নাহ্’’ কিতাবে আছে, মানুষের জন্য অবশ্যই কর্তব্য হলো সে তার সন্তান ও তার খাদেমদের জন্য সুন্দর নাম চয়ন করবে। কেননা অপছন্দনীয় নাম কখনও তাকদীরের সাথে মিলে যায়।

সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন যে, ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, তোমার নাম কী? সে বলল, জাযরাহ্। তিনি বললেন, তোমার পিতার নাম কী? সে বলল, ইবনু শিহাব। তিনি বলনেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে জবাব দিল, ‘‘হারাকাহ্’’-তে। তিনি বললেন, তোমার বাড়ী কোথায়? সে বলল, হাররাতুন্ নার। তিনি বললেন, এটা কোথায়? সে বলল, ‘লাযা’ এলাকায়। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি তোমার পরিবারের কাছে গিয়ে দেখবে তারা পুড়ে গেছে। ‘উমার (রাঃ) যেমন বলেছিলেন ঠিক ঘটেছিলও তাই।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সঠিক দিক থেকে হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহিলী যুগে তারা তাদের সন্তানদের নাম রাখত খারাপ নামে। যেমন কুকুর, বাঘ, সিংহ। আর তাদের দাসদের নাম রাখত রাশিদ (সঠিক পথের অনুসারী), নাজীহ (সফলতা লাভকারী) ইত্যাদি। তাদের বক্তব্য ছিল এরূপ যে, আমাদের সন্তানেরা আমাদের শত্রু। আর আমাদের খাদেমগণ আমাদের নিজেদের জন্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৮৯-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে বলল : হে আল্লাহর রসূল! (প্রথমে) আমরা এমন একখানা ঘরে বসবাস করছিলাম, যেখানে আমাদের সংখ্যা ও সম্পদ বৃদ্ধি পেল। পরে আমরা সে ঘর পরিত্যাগ করে এমন এক ঘরে এসে উঠলাম, যেখানে আমাদের সংখ্যা ও সম্পদ হ্রাস পেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এ ঘর পরিত্যাগ করো। কেননা এটা ভালো নয়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن أنس قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي دَارٍ كَثُرَ فِيهَا عَدَدُنَا وَأَمْوَالُنَا فَتَحَوَّلْنَا إِلَى دَارٍ قَلَّ فِيهَا عَدَدُنَا وَأَمْوَالُنَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذروها ذميمة» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن انس قال: قال رجل: يا رسول الله انا كنا في دار كثر فيها عددنا واموالنا فتحولنا الى دار قل فيها عددنا واموالنا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذروها ذميمة» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ  ذَرُوْهَا ذَمِيْمَةً অর্থাৎ এটা ভালো না হওয়ার কারণে তোমরা তা পরিত্যাগ কর। ইবনুল ‘আসীর এ কথা বলেছেন। এর অর্থ হলো এটি পরিবর্তন করার মাধ্যমে তোমরা এটি ছেড়ে দাও। কারণ এটি ভালো না। এটির পরিবেশ-বাতাস তোমাদের অনুকূলে না। আরদাবালী তাঁর ‘‘আযহার’’ কিতাবে বলেছেন, তোমরা এটা ছেড়ে দাও এবং এটি পরিবর্তন করে তোমাদের যে মন্দ ধারণা আছে যে, এ বাড়ীতে বিপদ নাযিল হয় সেটি খাঁটি করে নাও।

ইমাম খত্ত্বাবী ও ইবনু ‘আসীর (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেনঃ তাদেরকে বাড়ী পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেন এজন্য যে, তাদের অন্তরে অপছন্দ সৃষ্টি হয়েছে এ বাড়ীতে থাকার কারণে তাদের বিপদ হচ্ছে, এ চিন্তাকে বাতিল করার জন্য। যখন তারা তাদের এ বাড়ী পরিবর্তন করবে তখন তাদের ধারণা দূর হয়ে যাবে। আর যে সন্দেহে তারা চিন্তাগ্রস্ত হয়েছিল তা দূর হয়ে যাবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯১৯; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৯০-[১৫] ইয়াহ্ইয়া ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু বাহীর (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এমন এক লোক বর্ণনা করেছেন, যিনি ফারওয়াহ্ ইবনু মুসায়ক-কে বলতে শুনেছেন যে, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে আব্ইয়ান নামে একটা জমিন আছে, যেখানে আমরা (ব্যবসায়িক প্রয়োজনে) কৃষিদ্রব্য ও খাদ্যপণ্য ইত্যাদি আমদানি-রফতানি করে থাকি, তবে সেখানে অসুখন্ডবিসুখ খুব একটা লেগেই থাকে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি ঐ স্থানটি ছেড়ে দাও। কেননা অস্বাস্থ্যকর স্থানে বসবাস করা নিজেকে স্বেচ্ছায় ধ্বংস করার শামিল। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ فَرْوَةَ بْنَ مُسَيْكٍ يَقُولُ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدَنَا أَرْضٌ يُقَالُ لَهَا أَبْيَنُ وَهِيَ أَرْضُ رِيفِنَا وَمِيرَتِنَا وَإِنَّ وَبَاءَهَا شَدِيدٌ. فَقَالَ: «دَعْهَا عَنْكَ فَإِنَّ من القَرَف التّلف» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن يحيى بن عبد الله بن بحير قال: اخبرني من سمع فروة بن مسيك يقول: قلت: يا رسول الله عندنا ارض يقال لها ابين وهي ارض ريفنا وميرتنا وان وباءها شديد. فقال: «دعها عنك فان من القرف التلف» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (أَبْيَنُ) এটি ‘হামযা’ বর্ণে যবর ও ‘বা’ বর্ণে সাকিন যোগে البيان মাসদার থেকে اسْمُ تَفْضِيلٍ-এর সিগাহ। এটি মূলত একজন ব্যক্তির নাম ছিল। যার দিকে عدن (‘আদ্ন)-কে সংযুক্ত করা হয়। বলা হয়, ‘আদ্নু আব্ইয়ান। ‘‘নিহায়াহ্’’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি أحمد-এর ওজনে ইয়ামানের দিকে সমুদ্রের পাশের একটি গ্রাম। এও বলা হয় যে, ‘আদ্ন-এর একটি শহরে নাম।

(هِيَ أَرْضُ رِيفِنَا) ইবনুল ‘আসীর বলেনঃ এটা প্রত্যেক এমন জমিকে বলা হয়, যাতে চাষাবাদ ও খেজুর গাছ থাকে।

(مِيرَتِنَا) অর্থাৎ এক শহর থেকে অন্য শহরে আমাদের খাবার আমদানী-রফতানী করার জায়গা। (وَإِنَّ وَبَاءَهَا) অর্থাৎ যেখানে রোগ- ব্যাধি অধিক হয়।

(دَعْهَا عَنْكَ) অর্থাৎ তুমি সেখানে প্রবেশ করা বন্ধ করে দাও। কারণ এ জায়গা যে দেশে মহামারি হয়েছে সেখানকার মতো।

(فَإِنَّ من القَرَف التّلف) এর অর্থ হলো সেখানে রোগ-ব্যাধি বেশি থাকে তথা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনের ক্ষতি হয়। অতএব যে জায়গায় রোগ-ব্যাধি বেশি থাকে সেখানে গমন করা উচিত নয়।

ইমাম খত্ত্বাবী ও ইবনুল ‘আসীর (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেনঃ এটি কুলক্ষণ ও সংক্রামক হিসেবে বলা হয়নি, বরং এটি বলা হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে। কারণ সুস্থ শরীরের জন্য সুন্দর আবহাওয়া প্রয়োজন। আর অসুন্দর বা দূষিত আবহাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর ও শরীরকে অসুস্থ করে ফেলে। এটি হলো ডাক্তারদের পরামর্শ। আর এ সকল বিষয়ই মহান আল্লাহর নির্দেশ ও ইচ্ছায় হয়ে থাকে। আর আল্লাহর শক্তি ছাড়া অন্য কারো কোন (উপকার বা ক্ষতি করার) শক্তি নেই। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯১৮; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - শুভ ও অশুভ লক্ষণ

৪৫৯১-[১৬] ’উরওয়াহ্ ইবনু ’আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অশুভ লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নেক ফাল (কল্যাণ) গ্রহণ করাই উত্তম। কোন মুসলিমকে অশুভ লক্ষণ তার উদ্দেশ্য হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তবে হ্যাঁ, যদি তোমাদের কেউ মন্দ কিছু দেখতে পায়, তবে এ দু’আ পাঠ করবে- ’’আল্ল-হুম্মা লা- ইয়া’তী বিল হাসানা-তি ইল্লা- আনতা’’ অর্থাৎ- হে আল্লাহ! ভালো কাজ আপনার দ্বারাই সংঘটিত হয় এবং মন্দ আপনিই দূর করেন। আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আমাদের কোন শক্তি-সামর্থ্য নেই। (আবূ দাঊদ মুরসাল হিসেবে)[1]

عَن عُرْوَة بن عَامر قَالَ: ذُكِرَتِ الطِّيَرَةُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَحْسَنُهَا الْفَأْلُ وَلَا تَرُدُّ مُسْلِمًا فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ لَا يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلَّا أَنْتَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

عن عروة بن عامر قال: ذكرت الطيرة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: احسنها الفال ولا ترد مسلما فاذا راى احدكم ما يكره فليقل: اللهم لا ياتي بالحسنات الا انت ولا يدفع السيىات الا انت ولا حول ولا قوة الا بالله . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (أَحْسَنُهَا الْفَأْلُ) ‘‘নিহায়াহ্’’ গ্রন্থে আছে, الْفَأْلُ এর মধ্যে ভালো ও মন্দ উভয়টি আছে। কিন্তু الطِّيَرَةُ-এর মাঝে কেবলমাত্র খারাপই আছে। তবে কদাচিৎ তা ভালো এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়। বলা হয় যে, আমি অমুক বস্তুর দ্বারা فَأْلُ তথা কল্যাণ লাভ করেছি। আমার কাছে প্রিয় হলো فَأْلُ তথা শুভ লক্ষণ। কেননা মানুষ যখন মহান আল্লাহর উপকারের আশা রাখে এবং দুর্বল অথবা সবলের কারণে তার নিকটই ফিরে আসে, তারা কল্যাণের উপর থাকে। আশা করার ক্ষেত্রে যদি তারা ভুলও করে, তবে নিঃসন্দেহে আশা করাটা তাদের জন্য কল্যাণকর। অপরদিকে যদি আল্লাহ থেকে তাদের আশা আকাঙক্ষা ছিন্ন করে ফেলে, তবে তা তাদের জন্য অকল্যাণকর হবে।

আর الطِّيَرَةُ বলা হয়, যাতে আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা থাকে এবং রোগ-ব্যাধি থাকে।

আর শুভ লক্ষণ গ্রহণ করার অর্থ হলো যেমন- কোন অসুস্থ ব্যক্তি। অথবা কোন ব্যক্তি হারানো জিনিস খুঁজছে এমন সময় কেউ বলছে, হে প্রাপ্ত ব্যক্তি! তখন তার ধারণা জন্মে যে, নিশ্চয় সে তার অসুখ হতে ভালো হয়ে যাবে এবং সে ব্যক্তি তার হারানো জিনিস ফিরে পাবে।

(لَا تَرُدُّ مُسْلِمًا) ‘‘কোন মুসলিমকে অশু লক্ষণ তার উদ্দেশ্য হতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না’’। এর অর্থ হলো الطِّيَرَةُ-এর মধ্যে ভালো হলো, যেটি فَأْلُ ‘‘শুভ লক্ষণ’’ এর সাথে সাদৃশ্য রাখে। এছাড়া মুসলিমকে কোন অশুভ লক্ষণ তার প্রয়োজনীয় যাত্রা থেকে বাধা দিতে পারে না। আর এটি মুসলিমের কাজও না যে, সে অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করবে। বরং তার কাজ হলো, সে সকল বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার কাজে যাত্রা শুরু করবে।

(لَا حَوْلَ) অর্থাৎ মন্দকে প্রতিহত করার। (وَلَا قُوَّةَ) অর্থাৎ কল্যাণ অর্জন করার। (কারো শক্তি নেই কেবল আল্লাহ ছাড়া)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯১৪; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

الكهانة (জ্যোতিষীর গণনা)। كهانة এর ’কাফ’ বর্ণে যবর ও যের যোগে। كهانة দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো মানুষের গোপন বিষয় যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। জাহিলী যুগে ’আরবদের মধ্যে এ كهانة প্রচলিত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবী করত যে, তার অনুগত জীন আছে, সে বিভিন্ন সংবাদ তাকে এনে দেয়। আর বর্ণিত আছে যে, শায়ত্বনেরা কথা চুরি করে এতে জ্যোতিষীদের (كهانة) কাছে বলে দিত। আর তাতে তারা প্রয়োজনমত বৃদ্ধি করত। আর তাদের মধ্যে কাফিররা তা গ্রহণ করত। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন প্রেরণ করা হলো তখন আকাশমণ্ডলীতে পাহারা নিযুক্ত করা হলো এবং كهانة তথা জ্যোতিষীদের বাতিল করা হল।

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলত যে, সে কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং অবস্থাসমূহ দেখে কিছু অনুমান করে বিভিন্ন জিনিস জানতে পারে। আর এ প্রকারটিকে নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে ঐ জ্যোতিষীর জন্য, যে দাবী করে চুরি যাওয়া বস্তু এবং হারিয়ে যাওয়া বস্তু কোথায় আছে তা সে বলে দিতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৪৫৯২-[১] মু’আবিয়াহ্ ইবনু হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা জাহিলিয়্যাতের যুগের অন্যান্য কাজের মধ্যে জ্যোতিষীর কাছেও যেতাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আর কখনো গণকদের কাছে যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আমরা (কোন কাজের জন্য) অশুভ লক্ষণ মেনে থাকি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এটা এমন একটি ব্যাপার যে, (অনিচ্ছাকৃতভাবেই) তোমাদের কারো মনে তার উদ্রেক হয়ে থাকে, তবে তা যেন তোমাদেরকে বিরত না রাখে। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আমাদের কেউ রেখা টেনে (ভাগ্য পরীক্ষার কাজ করে) থাকে। তিনি বললেনঃ কোন একজন নবী (আল্লাহর হুকুমে) রেখা টানার কাজ করতেন, সুতরাং যার রেখা টানা সে নবীর রেখার সাথে মিলে যায় তা জায়িয আছে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

عَن مُعَاوِيَة بن الحكم قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُمُورًا كُنَّا نَصْنَعُهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ كُنَّا نَأْتِي الْكُهَّانَ قَالَ: «فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ» قَالَ: قُلْتُ: كُنَّا نَتَطَيَّرُ قَالَ: «ذَلِكَ شَيْءٌ يَجِدُهُ أَحَدُكُمْ فِي نَفْسِهِ فَلَا يصدَّنَّكم» . قَالَ: قُلْتُ: وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ قَالَ: «كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاك» . رَوَاهُ مُسلم

عن معاوية بن الحكم قال: قلت: يا رسول الله امورا كنا نصنعها في الجاهلية كنا ناتي الكهان قال: «فلا تاتوا الكهان» قال: قلت: كنا نتطير قال: «ذلك شيء يجده احدكم في نفسه فلا يصدنكم» . قال: قلت: ومنا رجال يخطون قال: «كان نبي من الانبياء يخط فمن وافق خطه فذاك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (كُنَّا نَأْتِي الْكُهَّانَ) অর্থাৎ আমরা তাদের নিকট এসে তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইতাম।


فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ অর্থাৎ তারা তোমাদেরকে যে বিষয়ে সংবাদ দেয় তা তোমরা সত্য বলে বিশ্বাস করবে না।

(كُنَّا نَتَطَيَّرُ) অর্থাৎ আমরা পাখি বা এ জাতীয় অন্য কিছুর মাধ্যমে শুভ লক্ষণ-অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করি।

(ذٰلِكَ شَيْءٌ) অর্থাৎ মানুষ হওয়ার কারণে জাগ্রত ধারণা হতে (এটা হয়ে থাকে)। (يَجِدُهٗ أَحَدُكُمْ فِي نَفْسِه) অর্থাৎ এতে কোন প্রভাব বা ক্ষতি নেই।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা দলীলসহ অশুভ লক্ষণকে নিষেধ করেছে। এটা لَا تَطَيَّرُوا ‘‘তোমরা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করো না’’ কথা হতে বেশি পরিপূর্ণ। যেমন তিনি বলেন, فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ ‘‘তোমরা জ্যোতিষীর কাছে আসবে না’’। অর্থাৎ তোমরা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করবে না। কেননা অশুভ লক্ষণের কোন আকার অস্তিত্ব নেই, বরং মানুষের অন্তরে তা পাওয়া যায়। এটা মানুষ তার অন্তরে কল্পনা করে থাকে তাতে কোন ক্ষতি থাকে না।

(فَلَا يصدَّنَّكم) অর্থাৎ অশুভ লক্ষণ যেন তোমাদেরকে তোমাদের যাত্রা হতে বিরত না রাখে। আর তোমরা যে উদ্দেশ্য করে রওয়ানা হয়েছ তাতে ক্ষতি হওয়ার ভয়ে যেন বিরত না থাক। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা দ্বারা মূলত বোঝানো হয়েছে, আমি যেন তোমাকে সেখানে না দেখি। এখানে সে অন্তরে যা অনুভব করে তার জন্য যাত্রা বন্ধ করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। এটা বাস্তবিকভাবে যাদের মনে এরূপ উদ্রেক হবে তাদেরকে সম্বোধন করে নিষেধ করা হয়েছে।

(كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ) বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর নবী দান্ইয়াল (আ.) অথবা ইদরীস (আ.) ‘ইল্মে ইলাহী অথবা ‘ইল্মে লাদুন্নী দ্বারা এ কাজ করতেন।

(فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهٗ فَذَاك) মোটকথা হলো, বর্তমানে এ কাজ করা হারাম। কারণ এর আসল শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৫)

ইমাম ইবনু ‘আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস  বলেন, রেখা টানা বলতে অনুমানকারী যে রেখা টানে তাকে বুঝানো হয়েছে এটা এমন জ্ঞান, যা মানুষ ছেড়ে দিয়েছে, সমস্যায় পতিত ব্যক্তি আন্দাজকারীর কাছে এসে তাকে একটা উপহার দিত। তারপর সে তাকে বলত, বস, আমি তোমার জন্য রেখা টানবো। আর অনুমানকারীর সামনে তার একটা ছেলে থাকত, যার সাথে ফলক থাকত। তারপর তারা একটা নরম জায়গায় আসত। এসে চাকা দিয়ে অনেক রেখা চানতো, যেন রেখাগুলো সংখ্যায় আসে। এরপর আবার দু’টা দু’টা করে রেখা মুছতে মুছতে ফিরে আসতো আর তার ছেলেটি শুভ লক্ষণের জন্য বলত, হে বৎস! দেখো এর বর্ণনা আনন্দিত করবে, যদি দু’টি দাগ বাকী থাকত, তবে তা সফলতার চিহ্ন। আর একটি বাকী থাকলে খারাপ চিহ্ন। হারবী বলেন, তারা তিনটি রেখা টানতো। অতঃপর তার উপর যব বা আঠি নিক্ষেপ করতো। আর বলত, অমুক অমুক হবে। এটা ছিল জ্যোতিষীদের একটি গণনার প্রকার। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৩-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জ্যোতিষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তারা কিছুই নয়। তারা বলল : হে আল্লাহর রসূল! তারা কোন কোন সময় এমন কথা বলে, যা সত্য ও সঠিক হয়ে থাকে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ কথাটি সত্য যা জীন শয়তান (ঊর্ধ্বজগৎ হতে) ত্বরিত শুনে নেয়। অতঃপর মোরগের করকরানোর মতো শব্দ করে তার বন্ধুর কানে তা পৌঁছিয়ে দেয়। এরপর সে গণক ঐ একটি সত্য কথার সাথে শত শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রকাশ করতে থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: سَأَلَ أُنَاسٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْكُهَّانِ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُمْ لَيْسُوا بِشَيْءٍ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنَّهُمْ يُحَدِّثُونَ أَحْيَانًا بِالشَّيْءِ يَكُونُ حَقًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الْجِنِّيُّ فَيَقُرُّهَا فِي أُذُنِ وَلَيِّهِ قَرَّ الدَّجَاجَةِ فَيَخْلِطُونَ فِيهَا أَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ كذبة»

وعن عاىشة قالت: سال اناس رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الكهان فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انهم ليسوا بشيء» قالوا: يا رسول الله فانهم يحدثون احيانا بالشيء يكون حقا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تلك الكلمة من الحق يخطفها الجني فيقرها في اذن وليه قر الدجاجة فيخلطون فيها اكثر من ماىة كذبة»

ব্যাখ্যাঃ (لَيْسُوا بِشَيْءٍ) অর্থাৎ নির্ভর করার মতো। অতএব তোমরা তাদের সংবাদের উপর নির্ভর করো না এবং তাদের সংবাদকে বিশ্বাস করো না।

(تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ) অর্থাৎ বাস্তব বিষয় এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য যা তারা সেসব মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাদের) থেকে চুরি করে শুনে যারা ওয়াহীর মাধ্যমে সত্য খবর পেয়েছে অথবা তাদের জন্য লাওহে মাহফূযে সংরক্ষেত খবর থেকে উন্মোচিত করা হয়েছিল সেখান থেকে নিয়েছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তারা জীনদের থেকে শুনেছে অর্থাৎ জীনদের চুরি করা সত্য সংবাদ তারা শুনেছে। আর বাস্তবিক অর্থে এর মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই। তারা শুনেছে জীনদের থেকে আর জিনেরা চুরি করে শুনেছে মালায়িকাহ্’র কাছ থেকে। যেমনটি প্রমাণ করে তাঁর কথা (يَخْطَفُهَا الْجِنِّيُّ) অর্থাৎ খুবই দ্রুত মালায়িকাহ্’র থেকে তারা তা চুরি করে নিয়ে আসে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।

(فِي أُذُنِ وَلَيِّهِ قَرَّ الدَّجَاجَةِ) ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্য একজন বলেনঃ জীন তার জ্যোতিষী বন্ধুর কাছে কথাবার্তা বলে দেয়। ফলে শায়ত্বনেরা তা শুনে ফেলে যেমনিভাবে মুরগী তার কৃত আওয়াজ দিয়ে তাদের বন্ধুদেরকে জাগিয়ে দেয় ফলে তারা তার ডাকে সাড়া দেয়। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২২২৮)

(فَيَخْلِطُونَ فِيهَا أَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ كذبة) এটি বেশি পরিপূর্ণ তারা একশ’বার মিথ্যা বলে এ কথার চেয়ে। কেননা সে একটি মিথ্যা কথা বার বার বলার কারণে সত্যবাদী হয় এভাবে একশ’বার হয়। যদিও অর্থে একশ’বার নেয়া হয় তবে যথেষ্ট হবে। অথবা বলা হয়, একশ’ মিথ্যা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৪-[৩] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) একদল মেঘের দেশে (অর্থাৎ- পৃথিবী হতে নিকটতম আকাশমণ্ডলীতে) নেমে আসেন এবং আসমানে যার ফায়সালা হয়েছে পরস্পর তার আলোচনা করেন, সে সময় জীন-শয়তান কান লাগিয়ে রাখে। আর যখনই সে কোন কথা শুনতে পায়, তখনই তা গণকদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় এবং তারা নিজেদের পক্ষ হতে শত শত মিথ্যা তার সাথে মিলিয়ে প্রকাশ করতে থাকে (যার দরুন সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ ঘটে)। (বুখারী)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

وَعَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَنْزِلُ فِي الْعَنَانِ وَهُوَ السَّحَابُ فَتَذْكُرُ الْأَمْرَ قُضِيَ فِي السَّماءِ فتسترق الشياطينُ السمعَ فَتُوحِيهِ إِلَى الْكُهَّانِ فَيَكْذِبُونَ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ من عِنْد أنفسهم. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ان الملاىكة تنزل في العنان وهو السحاب فتذكر الامر قضي في السماء فتسترق الشياطين السمع فتوحيه الى الكهان فيكذبون معها ماىة كذبة من عند انفسهم. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (وَهُوَ السَّحَابُ) ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সম্ভবত এটা বর্ণনাকারীর কথা (عَنَانِ)-এর ব্যাখ্যা হবে। আর سحاب হলো سماء এর মাজায। যেমন سماء এর মাজায سحاب। মহান আল্লাহ বলেন, وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً ‘‘আর আমরা আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছি’’- (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ : ১৮)। মালায়িকাহ্ আসমানে অবতরণ করেন।

এখানে উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার আসমান, কারণ মালায়িকাহ্ থেকে জিনদের শ্রবণ করাটা মেঘমালার বেশি নিকটবর্তী হয়। আর এটিই বেশি ঠিক। আর এটি তার কথাকে নিষেধ করে না। আর তার মূল হলো মহান আল্লাহ প্রতিদিন দুনিয়ার ব্যাপারে যে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন আসমানে তা মালায়িকাহ্ শোনেন। অতঃপর তাদের কতক কতকের সাথে আলোচনা করেন। সে সময় শয়তান চুরি করে শুনে জ্যোতিষীদের কাছে পৌঁছে দেয়।

আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) ইবনু মাস্‘ঊদ  হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন মহান আল্লাহ ওয়াহীর মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আসমানবাসী শিকলের মতো সারিবদ্ধভাবে সেটা শোনেন। এভাবে তারা আলোচনায় রত থাকেন জিবরীল (আ.) আগমনের পূর্ব পর্যন্ত। যখন জিবরীল (আ.) আগমন করেন তখন তাদের অন্তর কেঁপে উঠে। আর তারা বলতে থাকেন, হে জিবরীল! তোমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বলেন, সত্য। (আবূ দাঊদ ৪৭৩৮ : সহীহ)

(مِائَةَ كَذْبَةٍ) অর্থাৎ ‘‘তার নিজের পক্ষ থেকে’’ এর অর্থ হলো কোন সংবাদ সত্য হওয়ার ফলে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে মিথ্যা কথা বলে প্রচার করে। সেজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দ্বারা উপকৃত হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, إِنَّهُمْ لَيْسُوا بِشَيْءٍ ‘‘তারা কিছুই না’’। এটি মিথ্যাবাদীদের সাক্ষ্য দেয়ার মতো এমন, যে মিথ্যুক কখনও সত্য কথাও বলে। মহান আল্লাহ ভালো জানেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৫-[৪] হাফসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গণকের কাছে যায় এবং (তার কথা সত্য ভেবে) তাকে কোন কথা জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হয় না। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

وَعَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لم تقبل صَلَاة أَرْبَعِينَ لَيْلَة» . رَوَاهُ مُسلم

وعن حفصة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اتى عرافا فساله عن شيء لم تقبل صلاة اربعين ليلة» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (مَنْ أَتٰى عَرَّافًا) ‘‘র’’ বর্ণে তাশদীদ যোগে। এটা عارف এর মুবালাগাহ্। জাওহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ عراف হলো জ্যোতিষী এবং চিকিৎসক! পশ্চিমারা তাকে জ্যোতির্বিদ বলে। আর সেটাই হলো হাদীসের উদ্দেশ্য যা কতিপয় ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জ্যোতিষীর যত প্রকার আছে তন্মেধ্যে عراف-ও একটি।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্য একজন বলেনঃ عراف বলা হয়, যে চুরি হয়ে যাওয়া জিনিসের স্থান এবং হারানো জিনিসের স্থান ইত্যাদি চিহ্নিত করে দেয়।

(فَسَأَلَهٗ عَنْ شَيْءٍ) অর্থাৎ সত্য বলে বিশ্বাস করার জন্য যদি তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করে। তবে কেউ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য তাকে জিজ্ঞেস করলে এর বিপরীত হবে। তথা এ হুকুম তার জন্য প্রযোজ্য নয়। মোটকথা যে অন্য কোন প্রয়োজনে তার কাছে আসে সে তার থেকে সতর্ক থাকবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(لم تقبل صَلَاة أَرْبَعِينَ لَيْلَة) তার সালাত কবুল না হওয়ার অর্থ হলো, তাতে তার কোন সাওয়াব হবে না। যদিও তার থেকে ফরয আদায় হয়ে যাবে। তবে উক্ত সালাত পুনরায় তাকে আর আদায় করতে হবে না। এ সালাতের দৃষ্টান্ত হলো ছিনতাইকৃত জমিতে সালাত আদায় করার মতো, যাতে তার ফরয আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু তাতে সওয়াব হবে না। আমাদের প্রসিদ্ধ সাথীরা অনুরূপই বলেছেন। তারা বলেছেন, ফরয সালাত এবং অন্যান্য ফরয ‘ইবাদাত, যদি পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয় তবে সেখান থেকে দু’টি অর্জিত হয়। প্রথমটি হলো, ফরযটি পালন হয়ে গেল। আর দ্বিতীয়টি হলো, সাওয়াব অর্জিত হলো।

ছিনতাইকৃত জমিতে ফরয কাজ সম্পন্ন করলে প্রথমটি তথা ফরয আদায় হয়ে যায় তবে দ্বিতীয়টি তথা সাওয়াব হয় না। এ ব্যাখ্যাটি অবশ্যই এ হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা সকল ‘উলামা এ ব্যাপারে একমত যে, যে ব্যক্তি عراف বা গণকের কাছে আসলো তাকে চল্লিশ দিনের সালাত পুনরায় আদায় করা লাগবে না। সুতরাং তার ব্যাখ্যা ওয়াজিব হয়ে গেল। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২৩৩০; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হাফসাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৬-[৫] যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রের বৃষ্টির পর ভোরে আমাদের ফজরের সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেদের (মুক্তাদীদের) দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কি বলেছেন? তারা বলল : আল্লাহ ও তাঁর রসূলই অধিক জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, রব্ বলেছেনঃ আমার বান্দাগণ আজ এমন অবস্থায় ভোর করেছে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার প্রতি ঈমান পোষণকারী এবং কেউ কেউ আমাকে অস্বীকারকারী। যে বলেছে, আল্লাহর রহমত ও করুণায় আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে আমার প্রতি ঈমান পোষণকারী এবং তারকা বা নক্ষত্রে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে আমার সাথে কুফরী করেছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى أَثَرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ ربُّكم؟» قَالُوا: الله وَرَسُوله أعلم قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤمن بالكوكب

وعن زيد بن خالد الجهني قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الصبح بالحديبية على اثر سماء كانت من الليل فلما انصرف اقبل على الناس فقال: «هل تدرون ماذا قال ربكم؟» قالوا: الله ورسوله اعلم قال: اصبح من عبادي مومن بي وكافر فاما من قال: مطرنا بفضل الله ورحمته فذلك مومن بي كافر بالكوكب واما من قال: مطرنا بنوء كذا وكذا فذلك كافر بي ومومن بالكوكب

ব্যাখ্যাঃ (عَلٰى أَثَرِ سَمَاءٍ) অর্থাৎ বৃষ্টির পরে।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এখানে আসমান অর্থ বৃষ্টি।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘আরবরা বৃষ্টিকে سَمَاءٍ বা আসমান বলেন, কেননা বৃষ্টি আসমান থেকেই বর্ষিত হয়।

(مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا) অর্থাৎ একটি তারকা ডুবে যাওয়া এবং অন্যটি উদিত হওয়ার কারণে।

ইবনুল ‘আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ একে نَوْءِ নামে নামকরণ করা হয়েছে, কেননা পশ্চিমে একটি ডুবে যায় আর পূর্বে একটি উদিত হয়।

আবূ ‘উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমি এ জায়গায় ব্যতীত نَوْءِ-এর ব্যাপারে ডুবে যাওয়ার কথা শুনিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম نَوْءِ-এর ব্যাপারে কঠোর হয়েছেন, কারণ ‘আরবরা বৃষ্টি হওয়া না হওয়াকে তার সাথে সম্পৃক্ত করত। আর যারা বৃষ্টিকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করত তারা বলত যে, (مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا) অর্থাৎ অমুক সময়ে আমরা বৃষ্টি পাব। আর এর লক্ষণ হলো এই। এটা জায়িয রয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ বিধান জারী করেছেন যে, এই এই সময়ে বৃষ্টি হবে।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কুফরীর ব্যাপারে তারা মতানৈক্য করেছেন, যারা বলে (مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا) ‘‘অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমরা বৃষ্টি পেয়েছি’’। তারা দু’ভাবে বিভক্ত হয়েছেন। তাদের একদল বলেন, এটি মহান আল্লাহর সাথে কুফরী। এটি ঈমানকে হরণ করে নেয়। এর দু’টি দিক আছে, প্রথমটি হলো যে মনে করে নক্ষত্র বৃষ্টি দিতে পারে। তার কুফরীর ব্যাপারে কোন সন্দেই নেই। এটি ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) ও জামহূরদের মত।

আর দ্বিতীয় হলো আর যে এ বিশ্বাস রাখে যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার অনুগ্রহে আসে। আর نَوْءِ হলো তার একটা চিহ্ন। আর বৃষ্টি নামার একটি ধারণা মাত্র। তবে সে কুফরীর মধ্যে পড়বে না। যেন সে এরূপ কথা বলল যে, مُطِرْنَا فِي وَقْتِ كَذَا আমরা অমুক সময়ে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি। বাহ্যিকভাবে এটিও মাকরূহ। এটি একটি অস্পষ্ট বাক্য যা ঈমান ও কুফ্রের মাঝামাঝি। এরূপ ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মে। আর এটি হলো জাহিলিয়্যাতের চিহ্ন। আর তাদের দ্বিতীয় দলের কথা হলো, মহান আল্লাহর নি‘আমাত অস্বীকার করা হয়। এর কারণ হলো নক্ষত্রের দিকে বৃষ্টিকে সম্পর্কিত করা। অন্য একটি বর্ণনা এ ব্যাখ্যাটিকে শক্তিশালী করে, তা হলো أَصْبَحَ مِنَ النَّاسِ شَاكِرًا وَكَافِرًا কতিপয় মানুষ সকাল করে শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে করতে ও কুফরী করতে করতে।

অন্য বর্ণনায় এসেছে- مَا أَنْعَمْتُ عَلٰى عِبَادِي مِنْ نِعْمَةٍ إِلَّا أَصْبَحَ فَرِيقٌ بِهَا كَافِرِينَ আর আমি আমার বান্দাদের ওপর যে নি‘আমাত দিয়েছি তা পেয়ে একদল সকাল করে কাফির অবস্থায়।

(‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০২; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৭-[৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখনই আল্লাহ তা’আলা আসমান হতে কোন বারাকাত নাযিল করেন, তখন তার দ্বারা একদল লোক কাফিরে পরিণত হয়। বৃষ্টি তো আল্লাহ তা’আলাই বর্ষণ করে থাকেন; অথচ একশ্রেণীর লোক বলে যে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবেই বৃষ্টি হয়েছে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ بَرَكَةٍ إِلَّا أَصْبَحَ فَرِيقٌ مِنَ النَّاسِ بِهَا كَافِرِينَ يُنْزِلُ اللَّهُ الْغَيْثَ فَيَقُولُونَ: بِكَوْكَبِ كَذَا وَكَذَا . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ما انزل الله من السماء من بركة الا اصبح فريق من الناس بها كافرين ينزل الله الغيث فيقولون: بكوكب كذا وكذا . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (مَا أَنْزَلَ اللهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ بَرَكَةٍ) অর্থাৎ বৃষ্টি অথবা অন্য কোন নি‘আমাত। (إِلَّا أَصْبَحَ فَرِيقٌ مِنَ النَّاسِ بِهَا) অর্থাৎ এ নি‘আমাত পাওয়ার কারণে (একদল মানুষ)। (كَافِرِينَ) অস্বীকার করে অথবা কুফরী করে বসে। (بِكَوْكَبِ كَذَا وَكَذَا) অর্থাৎ এটি অমুক তারকা উদিত হওয়ার কারণে অথবা অমুক তারকা ডুবে যাওয়ার কারণে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

বৃষ্টি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি অনুগ্রহ হতে পানি পান করান। কারও ক্ষমতা নেই যে, সে বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে। তাই অনর্থক বিশ্বাস করে ঈমান নষ্ট করা বোকামী বৈ কী। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৮-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু শিখল, সে যেন জাদুর কিছু অংশ হাসিল করল। সুতরাং সে যত বেশি জ্যোতির্বিদ্যা শিখল ততবেশি জাদুবিদ্যাই অর্জন করল। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَه

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتبس علما من النجوم اقتبس شعبة من السحر زاد ما زاد» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (مَنِ اقْتَبَسَ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি গ্রহণ করল, অর্জন করল, শিক্ষা লাভ করল। (عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ) অর্থাৎ তার শিক্ষা ভাণ্ডার হতে কিছু শিক্ষা অথবা তার জ্ঞান ভাণ্ডার হতে কোন মাস্আলাহ্।

(مَا زَادَ) অর্থাৎ সে যত বেশি জ্যোতির্বিদ্যা অর্জন করবে, তার জাদুর শাখা-প্রশাখা তত বেশি বিস্তার লাভ করবে। মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) এ কথা বলেন।

‘আল্লামা সিন্দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ জ্যোতিবির্দ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, জাদুও তত বৃদ্ধি পাবে।

এটাও বলা হয়ে থাকে যে, এটি বর্ণনাকারীর কথারও সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব বেশি খারাবী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জ্যোতির্বিদ্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা থেকে বুঝা যায় যে, জ্যোতির্বিদগণ দুনিয়াবী জ্ঞান অর্জন করে, আর এমন নতুন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করে যা এখনও ঘটেনি। যেমন- বৃষ্টি আসার জ্ঞান, মূল্য পরিবর্তন হওয়ার জ্ঞান। তবে তার দ্বারা যদি সে সালাতের সময় ক্বিবলার দিক জানে, তবে নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

‘‘শারহুস্ সুন্নাহ্’’ গ্রন্থে এসেছে, জ্যোতির্বিদ্যাকে নাকচ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, জ্যোতির্বিদগণ এমন নতুন ঘটনা জানে বলে দাবী করে যা এখনো ঘটেনি। কখনো ভবিষ্যৎ ঘটনা জানার দাবী করে। যেমন- ঝড় কখন হবে তারা তা বলে দেয়, বৃষ্টির পানি আসার সংবাদ দেয়, বরফ পড়ার সংবাদ দেয়, গরম ও শীত আসার সংবাদ দেয় এবং মূল্য পরিবর্তনের ও সংবাদ দেয় ইত্যাদি। আর তারা বিশ্বাস করে যে, নক্ষত্র চলাচলের, তা একত্রিত ও আলাদা হওয়ার জ্ঞান থাকার কারণে তা বলতে পারে। এটি এমন একটা জ্ঞান যা মহান আল্লাহ নিজের জন্য রেখে দিয়েছেন। তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না।

মহান আল্লাহ বলেনঃ إِنَّ اللهَ عِنْدَه عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ‘‘কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটেই আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন’’- (সূরাহ্ লুকমান ৩১ : ৩৪)। জ্যোর্তিবিদ্যার মাধ্যমে অস্ত যাওয়ার জ্ঞান, ক্বিবলার জ্ঞান অর্জন করলে তা নিষেধের আওতায় পড়বে না। মহান আল্লাহ বলেন, وَهُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ‘‘তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা জল-স্থলের অন্ধকারে সেগুলো দ্বারা রাস্তা নির্ণয় করতে পারো’’ - (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ : ৯৭)। মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ‘‘আর তারা নক্ষত্র দ্বারা পথ চলে থাকে’’- (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১৬)। মহান আল্লাহ উল্লেখিত আয়াতে যে সংবাদ দিলেন তা হলো, নক্ষত্রসমূহ সময় ও রাস্তা চেনার মাধ্যম। আর যদি সেগুলো না থাকত তবে মানুষ ক্বিবলার দিক ঠিক করতে পারত না।

‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, তোমরা জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা কর, যে বিদ্যা দ্বারা তোমরা ক্বিবলাহ্ ও পথ চিনতে পারবে, অতঃপর তোমরা থেমে যাও (শিক্ষা বন্ধ করে দাও)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৯; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৫৯৯-[৮] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষের কাছে যায় এবং সে যা কিছু বলে তা বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি ঋতুমতী অবস্থায় নিজের স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে কিংবা যে ব্যক্তি স্ত্রীর পিছন দ্বার দিয়ে সহবাস করে, সে ঐ জিনিস হতে সম্পর্কহীন হয়ে গেল, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ أَوْ أَتَى امْرَأَتَهُ حَائِضًا أَو أَتَى امْرَأَته من دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اتى كاهنا فصدقه بما يقول او اتى امراته حاىضا او اتى امراته من دبرها فقد برى مما انزل على محمد» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যাঃ লিসান-এর মধ্যে এসেছে, যে দুনিয়াতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ বলে দেয় এবং গোপন বিষয় জানার দাবী করে তাকে كاهن ( জ্যোতিষী) বলে। জাহিলী যুগে ‘আরবে জ্যোতিষী পাওয়া যেত।

আর যে দাবী করে যে, তাকে জিনে সংবাদ দিয়ে যায়। যে বিশ্বাস করে যে, সে কতিপয় কারণ থেকে অনেক কিছু বলে দিতে পারে, সে (তার কাছে আগমনকারীর) কাজ, তার অবস্থা দেখে অনেক কিছু বলে দিতে পারে। আর এ শ্রেণীকে বলে عراف বা গণক। যে দাবী করে হারানোর জিনিস কোথায় আছে, চুরি হয়ে যাওয়া জিনিস কোথায় আছে তা বলে দিতে পারে।

‘আল্লামা আযহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পূর্বে আরবে كهانة জ্যোতির্বিদ ছিল। যখন আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী করে পাঠালেন, আর আসমান উল্কাপি- দ্বারা পাহারা নিযুক্ত করেন, আর জীন-শয়তানদেরকে সংবাদ চুরি করে জ্যোতির্বিদদের কাছে পৌঁছাতে নিষেধ করেন, তখন জ্যোতির্বিদ্যা বাতিল হয়ে গেল। আর মহান আল্লাহ সেই কুরআনের মাধ্যমে জ্যোতির্বিদ্যাকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন যা দিয়ে তিনি হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য করেছেন। আর তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মাধ্যমে যা ইচ্ছা গায়বের কোন জ্ঞান জানিয়ে দিলেন যা আয়ত্ব করতে জানতে জ্যোতির্বিদগণ ব্যর্থ হল। সুতরাং প্রশংসা ও অনুগ্রহে বর্তমানে জ্যোতির্বিদ্যা নেই। আল কুরআন তার অভাব পূরণ করে দিয়েছে (তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে)।

ইবনুল ‘আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (مَنْ أَتٰى كَاهِنًا) অর্থাৎ জ্যোতিষী, গণক এবং জ্যোতির্বিদ যে কারো কাছে আসুক না কেন। (أَوْ أَتَى امْرَأَتَهٗ) অর্থাৎ সহবাস করতে। (من دُبُرِهَا) অর্থাৎ হায়য অবস্থায় হোক বা পবিত্র অবস্থায় হোক। (فَقَدْ بَرِئَ) অর্থাৎ কুফরী করল। এটি ধমক ও শাস্তির ভয় দেখানোর জন্য।

(‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৯০০; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০০-[৯] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আকাশমণ্ডলীতে যখন কোন ফায়সালা করেন, তখন সে নির্দেশে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাদের পাখাসমূহ নাড়াতে থাকেন। আল্লাহ তা’আলার সে নির্দেশটির আওয়াজ সে শিকলের শব্দের মতো যা কোন একটি সমতল পাথরের উপরে টেনে নেয়া হলে শোনা যায়। অতঃপর যখন মালায়িকাহ্ অন্তর হতে সে ভীতি দূর হয়ে যায়, তখন সাধারণ মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহর নিকটতম মালাক-কে জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের রব্ কি নির্দেশ দিয়েছেন? তাঁরা বলেন, আমাদের প্রভু যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ সঠিকই বলেছেন। (এবং সে নির্দেশটি কি তা জানিয়ে দেন,) এরপর বলেন, আল্লাহ তা’আলা হলেন সুমহান ও মর্যাদাসম্পন্ন।

আল্লাহর নবী আরো বলেছেনঃ আল্লাহর ফায়সালাকৃত বিধান সম্পর্কে ফেরেশতাদের মধ্যে যেসব আলোচনা হয়, জীন-শায়ত্বনেরা চোরা পথে একজন আরেকজনের উপরে দাঁড়িয়ে শোনার চেষ্টা করে। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান নিজের হাতের অঙ্গুলিগুলো ফাঁক করে শয়তানরা কিভাবে একজন আরেকজন হতে কিছুটা ফাঁক করে কিভাবে একজন আরেকজন হতে কাছাকাছি দাঁড়ায় তা অনুশীলন করে দেখিয়েছেন। অতঃপর যে শয়তান প্রথমে নিকট হতে শুনতে পায় সে তা তার নিচের শয়তানকে বলে দেয় এবং সে তার নিচের জনকে, এভাবে কথাটি জাদুকর ও গণকের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়।

অনেক সময় এমন হয় যে, ঐ কথাটি পৌঁছার পূর্বেই আগুনের ফুলকি তাদের ওপর নিক্ষেপ করা হয় (ফলে আর তা গণকদের পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না)। আবার কখনো তারকা নিক্ষেপ হওয়ার পূর্বেই তা তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। অতঃপর তারা ঊর্ধ্বজগতে শুনা সে (সত্য) কথাটির সাথে (নিজেদের মনগড়া) শত শত মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষের কাছে বলে। আর যখন তাকে বলা হয় যে, অমুক দিন তুমি আমাদেরকে এই এই কথা বলেছিলে, (তা তো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।) তখন ঐ একটি কথা দ্বারা তার সত্যতা প্রমাণ করা হয়, যা ঊর্ধ্বজগৎ হতে শ্রুত হয়েছিল। (বুখারী)[1]

عَن أبي هُرَيْرَة أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَأَنَّهُ سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفْوَانٍ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ قَالُوا: لِلَّذِي قَالَ الْحَقَّ وهوَ العليُّ الكبيرُ فَسَمعَهَا مُسترِقوا السَّمعِ ومُسترقوا السَّمْعِ هَكَذَا بَعْضُهُ فَوْقَ بَعْضٍ «وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِكَفِّهِ فَحَرَّفَهَا وَبَدَّدَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ» فَيَسْمَعُ الْكَلِمَةَ فَيُلْقِيهَا إِلَى مَنْ تَحْتَهُ ثُمَّ يُلْقِيهَا الْآخَرُ إِلَى مَنْ تَحْتَهُ حَتَّى يُلْقِيَهَا عَلَى لِسَانِ السَّاحِرِ أَوِ الْكَاهِنِ. فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ قَبْلَ أَنْ يُلْقِيَهَا وَرُبَّمَا أَلْقَاهَا قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَهُ فكذب مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَيُقَالُ: أَلَيْسَ قَدْ قَالَ لَنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا: كَذَا وَكَذَا؟ فَيَصْدُقُ بِتِلْكَ الْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابي هريرة ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا قضى الله الامر في السماء ضربت الملاىكة باجنحتها خضعانا لقوله كانه سلسلة على صفوان فاذا فزع عن قلوبهم قالوا: ماذا قال ربكم؟ قالوا: للذي قال الحق وهو العلي الكبير فسمعها مسترقوا السمع ومسترقوا السمع هكذا بعضه فوق بعض «ووصف سفيان بكفه فحرفها وبدد بين اصابعه» فيسمع الكلمة فيلقيها الى من تحته ثم يلقيها الاخر الى من تحته حتى يلقيها على لسان الساحر او الكاهن. فربما ادرك الشهاب قبل ان يلقيها وربما القاها قبل ان يدركه فكذب معها ماىة كذبة فيقال: اليس قد قال لنا يوم كذا وكذا: كذا وكذا؟ فيصدق بتلك الكلمة التي سمعت من السماء . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (إِذَا قَضَى اللهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ) ইমাম ত্ববারানী (রহিমাহুল্লাহ) নাওআস ইবনু সাম্‘আন  থেকে মারফূ‘ সূত্রে একটি হাদীস উল্লেখ করছেন, ‘‘মহান আল্লাহ’’ যখন ওয়াহীর মাধ্যমে কথা বলেন তখন আসমান আল্লাহর ভয়ে প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকে। আসমানবাসীগণ (ফেরেশতাগণ) শুনে বেহুশ হয়ে সাজদায় লুটিয়ে পড়েন। অতঃপর সর্বপ্রথম জিবরীল (আ.) মাথা উঁচু করলে মহান আল্লাহ যা ইচ্ছা ওয়াহী থেকে তার সাথে কথা বলেন। অবশেষে তা মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) ওপর শেষ করেন। যখনই তিনি কোন আসমান অতিক্রম করেন তখন তাঁর অধিবাসীগণ তাকে জিজ্ঞেস করেন, আমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বলেন, তিনি সত্য কথাই বলেছেন। অতঃপর যেখানে আদেশ করেন সেখানে এসে তা শেষ হয়ে যায়।

(سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفْوَانٍ) এটা ওয়াহীর সূচনালগ্নে তার কথার মতো صلصلة كصلصلة الجرس আর তা হলো, ওয়াহীর কারণে মালায়িকাহ্’র শব্দ। ইবনু মারদুওয়াইহি ইবনু মাস্‘ঊদ  থেকে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, যখন আল্লাহ কোন ওয়াহী দ্বারা কথা বলেন তখন আসমানবাসী তা সমতল ভূমিতে শিকলের আওয়াজের ন্যায় একটা আওয়াজ শুনতে পায়। অতঃপর তারা ভীত হয়ে পড়ে আর তারা মনে করে, এটা কিয়ামতের নির্দেশ। তিনি পাঠ করেন حتى إذا فزع ‘‘এমনকি ভীতি দূর হয়ে যায়’’।

এ হাদীসটি মূলত ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্য একজন বর্ণনা করেছেন। লেখক এটাকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সিল্সিলাহ্ বলা হয়, লোহার শব্দ যখন তা নড়াচড়া করে এবং একটি অন্যটির মাঝে প্রবেশ করে। এ বর্ণনাটি ‘সোয়াদ’ বর্ণ দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। তবে উভয় স্থানে শব্দ দু’টি একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ওয়াহীর সূচনালগ্নে যে ঘণ্টা বাজার মতো শব্দ হতো এবং সমতল ভূমির উপর লোহার শব্দ উভয় আওয়াজ একই রকম।

(ফাতহুল বারী ৮ম খন্ড, হাঃ ৪৮০০; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৮ম খন্ড, হাঃ ৩২২৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০১-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক আনসারী সাহাবী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক রাতে তাঁরা (সাহাবীরা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসেছিলেন। তখন হঠাৎ একটি তারকা (আকাশ হতে) ছুটল এবং তাতে চতুর্দিক আলোকিত হয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা এভাবে তারকা ছোটাকে জাহিলিয়্যাতের যুগে তোমরা কি বলতে? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূলই অধিক অবগত। তবে আমরা বলতাম : আজ কোন একজন বড় লোকের জন্ম হয়েছে অথবা কোন একজন বড় লোকের মৃত্যু ঘটেছে।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর দরুন তারকা নিক্ষিপ্ত হয় না। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমাদের রব, যাঁর নাম অতীব বারাকাতময়, যখন কোন নির্দেশ দেন তখন সর্বপ্রথম আল্লাহর ’আরশ বহনকারী মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তাসবীহ পাঠ করেন। অতঃপর তাঁদের নিকটবর্তী আসমানের মালায়িকাহ্ তাসবীহ পাঠ করেন, এভাবে তাসবীহ পাঠ করার সিলসিলাহ্ পর্যায়ক্রমে দুনিয়ার আকাশে অবস্থানরত মালায়িকাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

অতঃপর ’আরশ বহনকারী মালায়িকাহ্’র নিকটবর্তী মালায়িকাহ্ ’আরশ বহনকারীদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের রব্ কি বলেছেন? তখন তারা আল্লাহ যা বলেছেন তা তাদেরকে বলে দেন এবং সাথে সাথে পরস্পরের জানা-জানির মধ্যে দুনিয়ার আকাশে অবস্থানরত মালায়িকাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং চোরাপথে খবর সংগ্রহকারী জীন-শয়তান ত্বরিত গতিতে সে খবরটি সংগ্রহ করে এবং তাদের বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দেয়। সুতরাং যে সমস্ত কথা তারা অবিকল বর্ণনা করে, এটা সঠিক ও সত্য। কিন্তু গণক ও জাদুকররা তার সাথে আরো অনেক (মিথ্যা) মিশিয়ে প্রকাশ করতে থাকে। (মুসলিম)[1]

وَعَن ابنِ عبَّاسٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْأَنْصَارِ: أَنَّهُمْ بَيْنَا جُلُوسٌ لَيْلَةً مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُمِيَ بِنَجْمٍ وَاسْتَنَارَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا رُمِيَ بِمِثْلِ هَذَا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ كُنَّا نَقُولُ: وُلِدَ اللَّيْلَةَ رَجُلٌ عَظِيمٌ وَمَاتَ رَجُلٌ عَظِيمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَإِنَّهَا لَا يُرْمَى بِهَا لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّ رَبَّنَا تَبَارَكَ اسْمُهُ إِذَا قَضَى أَمر سَبَّحَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ ثُمَّ سَبَّحَ أَهْلُ السَّمَاءِ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ حَتَّى يَبْلُغَ التَّسْبِيحُ أَهْلَ هَذِهِ السَّمَاء الدُّنْيَا ثمَّ قَالَ الَّذِي يَلُونَ حَمَلَةَ الْعَرْشِ لِحَمَلَةِ الْعَرْشِ: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ فَيُخْبِرُونَهُمْ مَا قَالَ: فَيَسْتَخْبِرُ بَعْضُ أَهْلِ السَّمَاوَاتِ بَعْضًا حَتَّى يَبْلُغَ هَذِهِ السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَيَخْطَفُ الْجِنُّ السَّمْعَ فَيَقْذِفُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ وَيُرْمَوْنَ فَمَا جاؤوا بِهِ عَلَى وَجْهِهِ فَهُوَ حَقٌّ وَلَكِنَّهُمْ يَقْرِفُونَ فِيهِ وَيزِيدُونَ . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عباس قال: اخبرني رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من الانصار: انهم بينا جلوس ليلة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم رمي بنجم واستنار فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما كنتم تقولون في الجاهلية اذا رمي بمثل هذا؟» قالوا: الله ورسوله اعلم كنا نقول: ولد الليلة رجل عظيم ومات رجل عظيم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فانها لا يرمى بها لموت احد ولا لحياته ولكن ربنا تبارك اسمه اذا قضى امر سبح حملة العرش ثم سبح اهل السماء الذين يلونهم حتى يبلغ التسبيح اهل هذه السماء الدنيا ثم قال الذي يلون حملة العرش لحملة العرش: ماذا قال ربكم؟ فيخبرونهم ما قال: فيستخبر بعض اهل السماوات بعضا حتى يبلغ هذه السماء الدنيا فيخطف الجن السمع فيقذفون الى اولياىهم ويرمون فما جاووا به على وجهه فهو حق ولكنهم يقرفون فيه ويزيدون . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ مَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ لِمِثْلِ هٰذَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا رَأَيْتُمُوهُ এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানার জন্য প্রশ্ন করেননি। কারণ তিনি তার উত্তর জানতেন। বরং তার উদ্দেশ্য ছিল, তারা জাহিলী যুগে যে বিশ্বাস করত তার আলোকে উত্তর দিবে। অতঃপর তিনি তা তাদের থেকে দূর করে দিবেন এবং তার মূলকে সমূলে উৎখাত করবেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৮ম খন্ড, হাঃ ৩২২৪)

আলোচ্য হাদীসটি হতে বুঝা গেল যে, নক্ষত্র নিক্ষেপের সাথে কোন মহান ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর সম্পর্ক থাকার ধারণা সঠিক নয়। বরং চোর শয়তানদের বিতাড়িত করার জন্যই আসমান থেকে আগুনের ফুলকি নিক্ষেপ করা হয়। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০২-[১১] কতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা এসব নক্ষত্র তিন উদ্দেশে সৃষ্টি করেছেন। ১. আকাশের শোভা বৃদ্ধি, ২. জীন-শয়তানদের বিতাড়িত করা এবং ৩. পথভোলা পথিকের দিক নির্ণয়। আর যে কেউ এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশে বর্ণনা করে, সে মারাত্মক ভুল করে এবং নিজের ভাগ বরবাদ করে। আর এমন অসাধ্য সাধনের পিছনে পড়ে, যে বিষয়ে তার কোন জ্ঞান নেই। (বুখারী; ইমাম বুখারী তা’লীক অর্থাৎ- সানাদবিহীন অবস্থায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)[1]

আর ইমাম রযীন বর্ণনা করেছেন যে, এমন একটি কাজের পিছনে কষ্ট করল যা তার কোন উপকারে আসবে না এবং সে বিষয়ে তার সামান্যতম জ্ঞানও নেই। যার তথ্য জানতে আল্লাহর নবীগণ ও মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাকুল) অক্ষম রয়েছেন।

وَعَن قتادةَ قَالَ: خلقَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِه النجومَ لثلاثٍ جَعَلَهَا زِينَةً لِلسَّمَاءِ وَرُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ وَعَلَامَاتٍ يُهْتَدَى بهَا فَمن تأوَّلَ فِيهَا بِغَيْرِ ذَلِكَ أَخَطَأَ وَأَضَاعَ نَصِيبَهُ وَتَكَلَّفَ مَالا يَعْلَمُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا وَفِي رِوَايَةِ رَزِينٍ: «تكلّف مَالا يعنيه ومالا عِلْمَ لَهُ بِهِ وَمَا عَجَزَ عَنْ عِلْمِهِ الْأَنْبِيَاء وَالْمَلَائِكَة»

وعن قتادة قال: خلق الله تعالى هذه النجوم لثلاث جعلها زينة للسماء ورجوما للشياطين وعلامات يهتدى بها فمن تاول فيها بغير ذلك اخطا واضاع نصيبه وتكلف مالا يعلم. رواه البخاري تعليقا وفي رواية رزين: «تكلف مالا يعنيه ومالا علم له به وما عجز عن علمه الانبياء والملاىكة»

ব্যাখ্যাঃ (جَعَلَهَا زِينَةً لِلسَّمَاءِ وَرُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ বলেনঃ وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ ‘‘আর আমরা দুনিয়ার আসমানকে বাতিসমূহ দ্বারা সুসজ্জিত করেছি এবং শয়তানকে তাড়ানোর জন্য নিক্ষেপযোগ্য করেছি।’’ (সূরাহ্ আল মুলক ৬৭ : ৫)

(وَعَلَامَاتٍ يُهْتَدَى بهَا) মহান আল্লাহ বলেন, وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ‘‘আর চিহ্নসমূহ যেন তারা নক্ষত্র দ্বারাও পথ পায়।’’ (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১৬)

(فَمن تأوَّلَ فِيهَا بِغَيْرِ ذٰلِكَ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি নক্ষত্রের উল্লেখিত উপকার ছাড়া অন্য কোন উপকারের কথা উল্লেখ করে (أَخَطَأَ) অর্থাৎ যেন সে ঝোপে কুড়াল মারে।

(وَأَضَاعَ نَصِيبَهٗ) অর্থাৎ তার জীবনের তথা বয়সের অংশ। আর তা হলো, ইহকালে-পরকালে তার উপকার করবে ও সাহায্য করবে।

(وَتَكَلَّفَ مَالا يَعْلَمُ) অর্থাৎ এমন বিষয় যে সম্পর্কে তার কোন জ্ঞান নেই। কেননা আসমানের সংবাদ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যতীত জানা যায় না। চোর-জীনদের নিকট থেকে জ্যোতির্বিদ কিছু সংবাদ শোনে। সে যখন সেটা প্রচার করতে থাকে তখন কতক জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে বলে, জমিনে যা হয় তুমি তো সে সব জানো না, তবে আসমানে খবর জানার দাবী তুমি কিভাবে করো?

(تكلّف مَالا يعنيه) অর্থাৎ ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক বিষয়কে পরিহার করবে।

(ومالا عِلْمَ لَهٗ بِه) এখানে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞান নেই বোঝানো হয়েছে। আংশিক বুঝানো হয়নি। যেমনটি জ্যোতির্বিদগণ মনে করেছে। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এ কথা বলেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০৩-[১২] বর্ণনাকারী রবী’ হতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। অবশ্য তিনি অতিরিক্ত এটাও বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা’আলা নক্ষত্রের মধ্যে না কারো হায়াত নির্ধারণ করে রেখেছেন, না কারো রিযক আর না কারো মৃত্যু। বস্তুতঃ এ সমস্ত লোকেরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে এবং নক্ষত্রসমূহকে কোন বস্তুর হওয়া না হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করে।[1]

وَعَن الربيعِ مِثْلُهُ وَزَادَ: وَاللَّهِ مَا جَعَلَ اللَّهُ فِي نَجْمٍ حَيَاةَ أَحَدٍ وَلَا رِزْقَهُ وَلَا مَوْتَهُ وَإِنَّمَا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَيَتَعَلَّلُونَ بِالنُّجُومِ

وعن الربيع مثله وزاد: والله ما جعل الله في نجم حياة احد ولا رزقه ولا موته وانما يفترون على الله الكذب ويتعللون بالنجوم

ব্যাখ্যাঃ (وَاللهِ مَا جَعَلَ اللهُ فِي نَجْمٍ حَيَاةَ أَحَدٍ) অর্থাৎ তার জন্ম অথবা তার বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকা।

(وَلَا رِزْقَهٗ) অর্থাৎ তার সম্পদও না আবার তার প্রতিপত্তিও না।

(عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَيَتَعَلَّلُونَ بِالنُّجُومِ) অর্থাৎ তারা কোন নক্ষত্র উদয় হওয়াকে কোন জিনিস হওয়া না হওয়ার কারণ মনে করত, যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা এর অর্থ হলো, তাদের মিথ্যাকে নক্ষত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত করার কথা গোপন রাখত।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জেনে রাখ যে, শায়খ আবুল কাসিম ‘আবদুল করিম ইবনু সাওয়াজিন আল কুশায়রী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব ‘‘মাফাতিহুল হুজাজ ফী ইবত্বালি মাযহাবিল মুনায্ যামীন’’ তাদের কথাগুলো উল্লেখ করেছেন। তাদের কথার মধ্যে ঐ ব্যক্তির কথা সবচেয়ে নিকটতম যে বলে, এ জমিন-আসমান সবকিছু আল্লাহ আপন শক্তি ও পছন্দমত তৈরি করেছেন। তিনি নিয়ম করেছেন যে, নক্ষত্রগুলো আকাশে জ্বলে থাকবে, কোন পথে চলবে, কার সাথে মিলিত হবে। যেমনিভাবে তিনি নিয়ম করেছেন যে, সহবাসের পর সন্তান জন্ম লাভ করবে, খাওয়ার পরে পরিতৃপ্তি আসবে। এ রকম নির্ধারণ করা জায়িয আছে, তবে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। সহবাসের পর সন্তান হবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, মহান আল্লাহর তৈরি করা বিধান। তবে অকাট্য এটা বলা যাবে না যে, সন্তান হবেই হবে। এটা বলা জায়িয নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু যিয়াদ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০৪-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নক্ষত্র বিদ্যা বিষয়ে আল্লাহর বাতলানো উদ্দেশ্য ব্যতীত কিছু শিক্ষাও গ্রহণ করেছে, সে বস্তুতঃ জাদুবিদ্যার এক অংশ হাসিল করেছে। আর জ্যোতিষী প্রকৃতপক্ষ গণক, আর গণক জাদুকর। আর জাদুকর কাফির। (রযীন)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اقْتَبَسَ بَابًا مِنْ عِلْمِ النُّجُومِ لِغَيْرِ مَا ذَكَرَ اللَّهُ فَقَدِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ الْمُنَجِّمُ كَاهِنٌ والكاهنُ ساحرٌ والساحرُ كافرٌ» . رَوَاهُ رزين

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتبس بابا من علم النجوم لغير ما ذكر الله فقد اقتبس شعبة من السحر المنجم كاهن والكاهن ساحر والساحر كافر» . رواه رزين

ব্যাখ্যাঃ (مَنِ اقْتَبَسَ بَابًا مِنْ عِلْمِ النُّجُومِ) অর্থাৎ এর জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে কোন এক প্রকার জ্ঞান শিখলো।

(لِغَيْرِ مَا ذَكَرَ اللهُ) আর তা হলো পূর্বে উল্লেখকৃত তিনটি বিষয়, যার কোনটি ফিস্ক্ব, কোনটি কুফর যা আমরা পূর্বে লিপিবদ্ধ করেছি।

(الْمُنَجِّمُ كَاهِنٌ والكاهنُ ساحرٌ) এর কারণ হলো, সে কথার মাধ্যমে মানুষকে যাদু করে।

(والساحرُ كافرٌ) কুফরী করার কারণে অথবা (আল্লাহর মতকে) গোপন করার কারণে। অর্থাৎ অনুরূপভাবে গণক (কাফির) আর জ্যোতির্বিদও অনুরূপ কাফির। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

৪৬০৫-[১৪] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের জন্য পাঁচ বৎসর বৃষ্টি বন্ধ করে রাখেন এবং তারপর তা বর্ষণ করেন, তবুও মানুষের একদল এই বলে আল্লাহকে অস্বীকার করবে যে, ’মিজদাহ’ নক্ষত্র কক্ষস্থানে পৌঁছার ফলেই আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَمْسَكَ اللَّهُ الْقَطْرَ عَنْ عِبَادِهِ خَمْسَ سِنِينَ ثُمَّ أَرْسَلَهُ لَأَصْبَحَتْ طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ كَافِرِينَ يَقُولُونَ: سُقِينَا بِنَوْءِ الْمِجْدَحِ . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو امسك الله القطر عن عباده خمس سنين ثم ارسله لاصبحت طاىفة من الناس كافرين يقولون: سقينا بنوء المجدح . رواه النساىي

ব্যাখ্যাঃ (لَوْ أَمْسَكَ اللهُ الْقَطْرَ) অর্থাৎ যদি আল্লাহ বৃষ্টি বন্ধ করে রাখেন।

(عَنْ عِبَادِه خَمْسَ سِنِينَ) ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর দ্বারা সীমা বোঝানো হয়নি, বরং সময়ের দীর্ঘতা বুঝানো হয়েছে। কারণ এর মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। এর কারণ হলো পাঁচ সংখ্যাটি বেশির ক্ষেত্রে স্বীকৃত নয়।

(لَأَصْبَحَتْ طَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ كَافِرِينَ) তারা হলো জ্যোতির্বিদ এবং যারা তাদেরকে বিশ্বাসকারী।

(بِنَوْءِ الْمِجْدَحِ) ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটি এক প্রকার নক্ষত্রের নাম। এটাও বলা হয় যে, তা হলো তিনটি নক্ষত্র তেপায়ার মতো যা মিজদাহের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যার তিনটি অগ্নি স্ফুলিঙ্গ আছে। এটি ‘আরবদের নিকটে বৃষ্টি আসার একটি লক্ষণ হিসেবে পরিচিত ছিল। এর অর্থ এরূপ তাদেরকে বলা হত যে, এ নক্ষত্রটি এই পাঁচ বছর যাবৎ কোথায় ছিল? এটি কি প্রতি বছর উদিত হয়, না হয় না? প্রতি বছর কী তার প্রভাব আছে, না কোন কোন বছর প্রভাব আছে? এ কথার দ্বারা নিশ্চিতভাবে তাদের বাতিল কথার প্রমাণ পাওয়া যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৯২ পর্যন্ত, সর্বমোট ৯২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে