৬০৪০

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - উমার ফারূক (রাঃ)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

৬০৪০-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, (স্বপ্নে) আমি নিজেকে একটি কূপের পাশে দেখতে পেলাম। কূপটির পাশে একটি বালতিও ছিল। আমি ঐ বালতি দ্বারা যতটা আল্লাহর ইচ্ছা কূপ হতে পানি উঠালাম। তারপর ইবনু আবূ কুহাফাহ্ [আবূ বকর (রাঃ)] ঐ বালতিটা নিলেন এবং এক বালতি বা দুই বালতি পানি টেনে উঠালেন। তাঁর ঐ বালতি টানার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তা’আলা তাঁর এ দুর্বলতা ক্ষমা করুন। এরপর বালতিটি বড় হয়ে গেল এবং ইবনুল খত্ত্বাব (উমার) তা নিলেন। আমি কোন শক্তিশালী বাহাদুর লোককেও ’উমারের মতো টেনে তুলতে দেখিনি। এমনকি লোকজন ঐ স্থানকে উটশালা বানাতে উদ্বুদ্ধ হলো।”

الفصل الاول ( بَاب مَنَاقِب عمر)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ عَلَيْهَا دَلْوٌ؟ فَنَزَعْتُ مِنْهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَخَذَهَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَنَزَعَ مِنْهَا ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ ضَعْفَهُ ثُمَّ اسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَأَخَذَهَا ابْنُ الْخَطَّابِ فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَنْزِعُ نَزْعَ عُمَرَ حَتَّى ضرب النَّاس بِعَطَن»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3664) و مسلم (17 / 2392)، (6192) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «بينا أنا نائم رأيتني على قليب عليها دلو؟ فنزعت منها ما شاء الله ثم أخذها ابن أبي قحافة فنزع منها ذنوبا أو ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ضعفه ثم استحالت غربا فأخذها ابن الخطاب فلم أر عبقريا من الناس ينزع نزع عمر حتى ضرب الناس بعطن»

ব্যাখ্যা: (رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ عَلَيْهَا دَلْوٌ)  قَلِيبٍ বলা হয় এমন কূপ যা সঙ্কুচিত নয়। (دَلْوٌ) বলা হয় বড় বালতিকে। (শারহুন নাবাবী হা. ২৩৯২)
(فَنَزَعَ مِنْهَا ذَنُوبًا)  ذَنُوب এমন বালতি যার মধ্যে পানি থাকে, পরিপূর্ণ হোক বা অপরিপূর্ণ। (আল কামূস)
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে কূপ দ্বারা দীনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা হলো উৎপত্তিস্থল এবং তার দ্বারা প্রাণ সঞ্চার হয় ও জীবনোপকরণ পূর্ণতা লাভ করে।
পানি উঠানো দ্বারা এই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, উক্ত বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে শেষ হয়ে আবূ বাকর (রাঃ) পর্যন্ত চলবে। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) হতে ‘উমার (রাঃ) পর্যন্ত চলবে। আর আবূ বাকর (রাঃ) -এর এক বালতি অথবা দুই বালতি পানি উঠানো দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, তার খিলাফতকাল কম হবে। আর এ বিষয়টি তার হাতে এক অথবা দুই থাকবে, এরপর ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে হস্তান্তরিত হবে। আমরা জানি তার খিলাফতকাল ছিল দুই বছর তিন মাস।
তার দুর্বলতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার খিলাফতকালে যে ব্যাপক পরিবর্তন, মুরতাদ ও মতানৈক্য দেখা দেয় ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অথবা মানুষদের সাথে তার নমনীয় ব্যবহার ও খিলাফতকাল অল্পের প্রতি ইঙ্গিত।

আর বালতি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট হস্তান্তরিত হয় সেটা এমন বড় বালতি যা হতে উট পানি পান করে থাকে। এটা দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাঁর যুগে ইসলামের মহত্ব, আল্লাহর কালিমার বিজয় ও তাঁর ক্ষমতার বিস্তার ঘটবে।
উত্তমভাবে পানি তোলা দ্বারা ইঙ্গিত হলো তিনি দীন ইসলামের বিজয়ের জন্য যে প্রচেষ্টা করেছেন এবং পৃথিবীর প্রাচ্যে ও পশ্চাতে ইসলাম ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন যেটা ইতোপূর্বে কেউ সক্ষম হননি।
(أَرَ عَبْقَرِيًّ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রচুর শক্তিমত্তা। আরো বলা হয়: (عَبْقَرِيًّ) হলো একটি উপত্যকার নাম। আরবগণ মনে করতেন সে উপত্যকায় জিন বসবাস করে, তাই তারা কোন আশ্চর্যপূর্ণ কোন বিষয় দেখলে সেদিকে সম্বোধন করত।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ বাকর (রাঃ), পানি উত্তোলনে দুর্বল- এটা দ্বারা তার মর্যাদাকে খাটো করা হয়নি। উমার (রাঃ) -এর মর্যাদা আবূ বাকর (রাঃ) -এর উপরে প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য নয়। এখানে শুধু তাদের শাসনকালের ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হয়েছে। উমার (রাঃ)-এর শাসনকালে মানুষ বেশি উপকৃত হবে। তার শাসনকাল দীর্ঘ হওয়ার কারণে ইসলামের বিস্তার ঘটবে, দিকসমূহ বিজয় হওয়া ও অনেক গনীমত ও সম্পদ অর্জন হওয়ার কারণ হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩০: মান-মর্যাদা (كتاب المناقب)