পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
রাগিব বলেনঃ হাদ্দ তথা দণ্ড হলো দু’টি বস্তুর মাঝে বাধা প্রদানকারী যা একে অপরের সাথে মিশে বাধা প্রদান করে আর যিনা এবং মদপানের দণ্ডকে বাধা দানকারী। এজন্য বলা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় তা করতে বাধা দেয় এবং অন্যকেও ঐ অপরাধ করতে বাধা দেয়।
ইবনু হুমাম বলেনঃ সমাজে দণ্ডবিধির বাস্তবায়নে অপূর্ব সৌন্দর্য এসেছে যা বর্ণনা ও লিখে শেষ করা যাবে না। এজন্য ফাকীহ ও অন্যান্যরা দণ্ডবিধি পরিচয়ে একই মন্তব্য করেছেন যে, অবশ্যম্ভাবী বিপর্যয়মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। যিনাতে প্রজন্ম বিনাশের ভূমিকা রয়েছে তথা বংশনামায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে আর অন্যান্য দণ্ডগুলো জ্ঞান লোপ, সম্মানহানী এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাতের মধ্যে, এগুলো ’আমলের সাথে জড়িত। এজন্য অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ, সম্মানের উপর আঘাত, যিনা, নেশা- এগুলা সকল যুগের ধর্মে বৈধ করা হয়নি। যদিও পানি পান করাকে বৈধ করা হয়েছে (পৃথিবীর) যে কোনো স্থানে আপনি অন্যের পানি গ্রহণ করলে আত্মসাৎ করা হবে না বা দণ্ডের আওতায় আসবে না।
ইসলামী শারী’আত এ দণ্ড প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো তিরস্কার বা ধমকানো যা দ্বারা বান্দার কষ্ট হয়। আর কোনো কোনো শায়খরা বলেছেন, শারী’আতের দণ্ডবিধির জ্ঞান রাখার নির্যাস হলো ঐ সকল কাজে অগ্রগামী হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং দণ্ড বাস্তবায়নের পরে পুনরায় তা করতে বাধা প্রদান।
৩৫৫৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ এবং যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, দুই বিবদমান ব্যক্তি তাদের অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তন্মধ্যে একজন বলল, আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব দ্বারা ইনসাফ করুন। অপরজনও বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! অবশ্যই আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব দ্বারা ইনসাফ করুন এবং আমাকে এতদসম্পর্কে বলার অনুমতি দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আচ্ছা বল! লোকটি বলল, আমার ছেলে তার চাকর ছিল এবং সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করেছে। অতঃপর লোকেরা আমাকে বলল, আমার ছেলের শাস্তি হলো ’রজম’ (পাথর নিক্ষেপে হত্যা), কিন্তু আমি রজমের পরিবর্তে একশত ছাগল ও একটি দাসী ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে আদায় করেছি।
পরে আমি ’আলিমগণের নিকট জিজ্ঞেস করলে তারা জানালেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশত চাবুক এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর তার স্ত্রীর শাস্তি হলো ’রজম’। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জেনে রেখো! কসম ঐ আল্লাহর! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করব। আর তা হলো, তোমার একশত ছাগল ও দাসী ফেরত নিয়ে তোমার ছেলেকে একশত চাবুক মারা হবে এবং এক বছরের জন্যে দেশান্তর করা হবে। আর হে উনায়স! তুমি সকালে তার স্ত্রীর নিকট যাও, যদি সে যিনায় লিপ্ত হওয়াকে স্বীকার করে, তাহলে তার প্রতি ’রজম’ অবধারিত কর। অতঃপর মহিলাটি স্বীকার করল এবং তিনি তাকে রজম করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ: أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَحَدُهُمَا: اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَقَالَ الْآخَرُ: أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فاقْضِ بَيْننَا بكتابِ الله وائذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ قَالَ: «تَكَلَّمْ» قَالَ: إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبرُونِي أنَّ على ابْني الرَّجْم فاقتديت مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ عَلَيْكَ وَأَمَّا ابْنُكَ فَعَلَيْهِ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ فَاغْدُ إِلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِن اعْترفت فارجمها» فَاعْترفت فرجمها
ব্যাখ্যা: (اِقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللّٰهِ) আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব দ্বারা ফায়সালা করবোঃ উদ্দেশ্য সম্ভাবনা রয়েছে আল্লাহর আইন দ্বারা।
কারো মতে আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, ‘‘না আল্লাহ তা‘আলা অন্য কোনো পথ নির্দেশ বের করেন’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৫)।
আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাফসীর করেছেন বিবাহকারীদের রজম যা ইতিপূর্বে ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত-এর হাদীসে আলোচনা গত হয়েছে।
কারো মতে এ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
«الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا» যখন বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা যিনা করে তাদেরকে রজম করো (রজম হলো কোমর পর্যন্ত গেরে পাথর মেরে হত্যা করা) আয়াতটির তিলাওয়াত মানসূখ হয়েছে কিন্তু হুকুম এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে বেত্রাঘাত গ্রহণ করা হয়েছে অত্র আয়াতে।
(الزانية والزاني) যিনাকারিণী ও যিনাকারী : কারো মতে উদ্দেশ্য হলো তাদের ছাগল গ্রহণের আপোষকে বাতিল করা।
(سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ) এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিরেকে তাঁর সময়কালে অন্য কারো কাছে ফতোয়া চাওয়া বৈধ, কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টিকে অস্বীকার করেননি। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৯৭)
আরো বৈধতা প্রমাণিত হয় যে, বড় ‘আলিম থাকা সত্ত্বেও ছোট ‘আলিমের নিকট ফতোয়া চাওয়া বৈধ।
(فَإِنْ اِعْتَرَفَتْ) যদি মহিলা যিনার স্বীকৃতি দেয় কুসতুলানী বলেনঃ মহিলার নিকট উনায়সকে পাঠালে তাকে জানানো যে, এই লোকটি তার ছেলেকে দিয়ে তার দুর্নাম ছড়াচ্ছে। তাহলে মিথ্যা তুহমত দেয়ার জন্য তার হাদ্দ বা দণ্ড কার্যকর করা হবে যদি সে চায় অথবা ক্ষমা করবে তবে যদি সে স্বীকৃতি দেয় তাহলে মিথ্যা তহমতের হাদ্দ কার্যকর হবে না বরং মহিলার যিনার হাদ্দ কার্যকর হবে আর তা রজম যেহেতু সে বিবাহিত।
উনায়স গেলেন তার নিকট এবং জিজ্ঞেস করলে সে স্বীকার করে, ফলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজমের আদেশ দিলেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৩৫)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৫৬-[২] যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি যে, অবিবাহিত লোক যিনা করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে একশত চাবুক মারার ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করার হুকুম দেন। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ فِيمَنْ زَنَى وَلَمْ يُحْصَنْ جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: (لَمْ يُحْصَنْ) নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, الاحصان তথা বাধা দেয়া আর মহিলা সুরক্ষিত হয় ইসলাম গ্রহণ, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, দাসত্ব থেকে আযাদ ও বিবাহের মাধ্যমে। এজন্য বিবাহিতা মহিলাকে মুহসানাহ্ বলা হয়। অনুরূপ বিবাহিত পুরুষকে মুহসন বলা হয়।
ইবনু হুমাম বলেনঃ
وَرَوَى عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ «أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللّٰهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ، فَدَعَا عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ بِسَوْطٍ، فَأُتِيَ بِسَوْطٍ شَدِيدٍ لَه ثَمَرَةٌ، فَقَالَ : سَوْطٌ دُونَ هٰذَا. فَأُتِيَ بِسَوْطٍ مَكْسُورٍ لَيِّنٍ، فَقَالَ : سَوْطٌ فَوْقَ هٰذَا. فَأَتٰى بِسَوْطٍ بَيْنَ سَوْطَيْنِ، فَقَالَ : هٰذَا. فَأَمَرَ بِه، فَجَلَدُوهُ
ইয়াহ্ইয়া ইবনু কাসীর বলেনঃ একজন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি দণ্ডবিধির অপরাধের কাজ করেছি আমার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য একটি ডাল আনতে বললে নিয়ে আসা হলো। শক্ত ডাল যাতে ফল ছিল। তিনি বললেন, এর চেয়ে শক্ত কম নগ্ন এমন একটি ডাল নিয়ে আসো। অতঃপর নিয়ে আসা হলো ভাঙ্গা নরম ডাল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর একটু শক্ত। অতঃপর নিয়ে আসা হলো এই না শক্ত, না নরম এমন ডাল বা লাঠি। অতঃপর হ্যাঁ, এমন লাঠি দিয়ে তাকে প্রহার করো। ইবনু শায়বাহ্ যায়দ বিন আসলাম থেকেও বর্ণনা করেন। একজন লোক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, অতঃপর অনুরূপ বর্ণনা। ইমাম মালিকও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আবী শায়বাতে আছে, আনাস বিন মালিক বলেনঃ তাকে গাছের ডাল আনতে বলা হয়েছিল তিনি ফল কেটে শুধু ডালটি নিয়েছেন এবং দু’ পাথরের মধ্যে পিশে নরম করেছিলেন। অতঃপর এটা দ্বারা প্রহার করা হয়েছিল আর তা ‘উমারের খিলাফাতকালে। মদ্য কথা হলো, এসব লাঠি দিয়ে প্রহার করা যাবে না যার দু’পাশেই শক্ত তাতে জখম ও রক্তাভ হবে।
হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেনঃ শরীরের সকল অঙ্গে প্রহার করা যাবে তবে মাথা, চেহারা এবং লজ্জাস্থানে না। যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (اتَّقِ الْوَجْهَ وَالْمَذَاكِيرَ) প্রহারের সময় চেহারা ও লজ্জাস্থানসমূহ থেকে বেঁচে থাকো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৫৭-[৩] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন, তন্মধ্যে ’রজমের’ আয়াত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন এবং তারপরে আমরাও রজম করেছি। আর রজমের দণ্ড আল্লাহর কিতাবের মাঝে অপরিহার্য সত্য ঐ সমস্ত পুরুষ ও নারীর ওপর যারা বৈবাহিক হওয়া সত্ত্বেও যিনা করে। যখন তা প্রমাণসাপেক্ষ হয় অথবা গর্ভধারিণী হয় অথবা স্বীকারোক্তি দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِن الله بعث مُحَمَّدًا وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى آيَةُ الرَّجْمِ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ وَالرَّجْمُ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كانَ الحَبَلُ أَو الِاعْتِرَاف
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের চেয়ে মুয়াত্ত্বা মালিকে আরো অতিরিক্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَال لَمَّا صَدَرَ عُمَرُ مِنَ الْحَجِّ وَقَدِمَ الْمَدِينَةَ خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ سُنَّتْ لَكُمُ السُّنَنُ وَفُرِضَتْ لَكُمُ الْفَرَائِضُ وَتُرِكْتُمْ عَلَى الْوَاضِحَةِ ثُمَّ قَالَ إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ اٰيَةِ الرَّجْمِ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللّٰهِ فَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ وَرَجَمْنَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِه لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللّٰهِ لَكَتَبْتُهَا بِيَدِي الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ
ইয়াহ্ইয়া বিন সা‘ঈদ বিন মুসাইয়্যাব বলেনঃ ‘উমার যখন হজ্জ/হজ শেষে মদীনায় আসলেন তিনি জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, অতঃপর বললেন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের জন্য সুন্নাহসমূহ প্রচলন করলাম এবং ফরযসমূহকে আবশ্যক করলাম। আর তোমাদেরকে রাখছি সুস্পষ্ট নীতিমালার উপর। অতঃপর বললেন, রজমের তথা পাথর দিয়ে নিক্ষেপ করে হত্যার আয়াতের ধ্বংস থেকে নিজেদেরকে হিফাযাত করবে।
কোনো ব্যক্তি বললো, আমরা তো আল্লাহর কিতাবে হাদ্দের আয়াত পাই না। জবাবে ‘উমার বললেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, আমরাও রজম করছি। ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন মানুষেরা যদি এ কথা না বলতো যে, ‘উমার আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত করেছে তাহলে অবশ্যই আমি আমার হাত দিয়ে লিখতাম:
الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِذَا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّة
যখন বিবাহিত পুরুষ ও মহিলা যিনা করবে তাদেরকে তোমরা অবশ্য রজম করবে।
হাদীসে শিক্ষা হয় রজমের আয়াতের তিলাওয়াত মানসূখ হয়েছে এবং তার হুকুম এখনও অবশিষ্ট। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৮২৯)
নিঃসন্দেহে রজম আল্লাহর কিতাব দ্বারা ঐ বিবাহিত পুরুষ ও মহিলার ওপর প্রযোজ্য হবে যে যিনা করেছে। যখন যিনার দলীল প্রমাণিত হবে অথবা গর্ভবতী হবে অথবা স্বীকার করবে। ‘উলামারা ঐকমত্য হয়েছে, রজম শুধুমাত্র বিবাহিত যিনাকারীর ওপর প্রযোজ্য হবে। আরো ইজমা হয়েছে যিনার প্রমাণের জন্য ন্যায়পরায়ণ চারজন পুরুষ সাক্ষী লাগবে। আরো ইজমা হয়েছে রজম ওয়াজিব হওয়ার উপর যে স্বীকার করবে এবং যে বিবাহিত আর চারবার স্বীকৃতির ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে।
আর শুধুমাত্র গর্ভবতী মহিলার ওপর ‘উমার -এর মতে হাদ্দ ওয়াজিব যদি তার স্বামী অথবা মুনীব না থাকে। অনুরূপ বক্তব্য মালিকও তার সাথীদের বলেন যখন গর্ভবতী হবে আর জানা যায় না তার স্বামী অথবা মুনীব আছে; আরো জানা যায় না যে, তাকে জোরপূর্বক করা হয়েছে তাহলে তার ওপর হাদ্দ অপরিহার্য হবে। তবে যদি অপরিচিত আগন্তুক মহিলা হয় তা স্বতন্ত্র বিষয় আর তার কাছে দাবী করা হবে কে তার স্বামী অথবা মুনীব বলপ্রয়োগ করে।
ইমাম শাফি‘ঈ এবং আবূ হানীফাহ্ সকল ‘উলামারা বলেন, শুধুমাত্র গর্ভবতী হওয়ার কারণে তার ওপর হাদ্দ প্রয়োগ হবে না চাই তার স্বামী বা মুনীব থাক না থাক, চাই অপরিচিত হোক না অন্য কিছু আর চাই বলপ্রয়োগ হোক বা না হোক ‘আমভাবে হাদ্দ প্রয়োগ হবে না সুস্পষ্ট যতক্ষণ না সুস্পষ্ট প্রমাণ অথবা স্বীকৃতি হবে। কেননা সন্দেহ হলেই হাদ্দ বাস্তবায়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। (শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৬৯১)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৫৮-[৪] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার থেকে গ্রহণ কর! আমার থেকে গ্রহণ কর! আল্লাহ তা’আলা রমণীদের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর তা হলো, কোনো অবিবাহিত যুবক-যুবতী যিনা করলে একশত চাবুক মারা হবে এবং এক বছরের জন্য দেশান্তরিত হবে। আর কোনো বিবাহিতা নারী ও পুরুষ যিনা করলে একশত চাবুক মারা হবে এবং রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করা হবে। (মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا: الْبِكْرُ بالبكر جلد مائَة ووتغريب عَام وَالثَّيِّب بِالثَّيِّبِ جلد مائَة وَالرَّجم
ব্যাখ্যা: (قَدْ جَعَلَ اللّٰهُ لَهُنَّ سَبِيْلًا) এ বাক্যটি এ আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করে:
فَأَمْسِكُوْهُنَّ فِي الْبُيُوْتِ حَتّٰى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيْلًا
‘‘তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখো যতক্ষণ না মৃত্যু তাদেরকে তুলে নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ নির্দেশ না দেন।’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৫)। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন এটা সে পথে।
এ আয়াতের ব্যাপারে ‘উলামাগণ মতবিরোধ করেছেন এটা মুহকাম আয়াত আর এ হাদীস তা ব্যাখ্যা বা তাফসীরকারকের মতে সূরায় আন্ নূর-এর প্রথম আয়াত দিয়ে এটা মানসূখ। কারো মতে অবিবাহিতার ব্যাপারে সূরা নূর-এর আয়াত আর এই আয়াত বিবাহিত নারীদের ব্যাপারে আর ‘উলামার ইজমা হয়েছে অবিবাহিতা নারীর ব্যাপারে একশত বেত্রাঘাত আর বিবাহিত নারীর ব্যাপারে রজম। আহলে কিতাবরা কেউ এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেনি। তবে কাযী ‘ইয়ায ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন যে, খাওয়ারিজ আর কিছু মুতাযিলা সম্প্রদায় রজমকে অস্বীকার করেছে। মতানৈক্য হয়েছে বিবাহিত নারীদের ব্যাপারে রজমের সাথে বেত্রাঘাত। একদল ‘উলামাহ্ বলেন, দু‘টোই প্রয়োগ হবে প্রথমে বেত্রাঘাত পরে রজম। এ মতে আলী ইবনু আবূ ত্বালিব, হাসান বাসরী, ইসহক ইবনু রহাওয়াই, দাঊদ, আহলুয্ যাহির ও কিছু শাফি‘ঈরা। আর অধিকাংশ ‘উলামারা বলেন, শুধুমাত্র রজম প্রয়োগ হবে।
কাযী ‘ইয়ায আহলে ক্বিবলার (মুসলিম উম্মাহর) মত থেকে বর্ণনা করেন যে, দু’ এর মাঝে সমাধান হলো যদি বয়স্ক বিবাহিত পুরুষ হয় তাহলে বেত্রাঘাত ও রজম আর যদি বিবাহিত যুবক হয় তাহলে শুধুমাত্র রজম। এটা বাতিল মত যার কোনো ভিত্তি নেই।
আর জুমহূরদের দলীল হলো শুধুমাত্র রজম। এ ব্যাপারে প্রচুর হাদীসের ঘটনা এসেছে, যেমন মা‘ইয এবং গামিদী মহিলার ঘটনা। আর সমাধান হলো বেত্রাঘাত এবং রজম মানসূখ হয়েছে তা প্রথম দিকে ছিল।
আর تغريب سنة ‘এক বছর দেশান্তর’ শাফি‘ঈ ও জুমহূরের মতে চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক। আর হাসান বলেন, দেশান্তর ওয়াজিব নয়। মালিক ও আওযা‘ঈ বলেন, মহিলাদের দেশান্তর নেই। অনুরূপ মত ‘আলী থেকে এবং তারা বলেন, নারী হলো পর্দার বিষয় আর দেশান্তরে তা নষ্ট হবে, এজন্য মহিলাদের মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করা নিষেধ।
আর দাসী ও দাসের ক্ষেত্রে তিনটি মত। শাফি‘ঈদের মতে প্রথমতঃ হাদীসের ভাষ্যমতে প্রত্যেককে এক বৎসর দেশান্তর করতে হবে। এ ব্যাপারে সুফ্ইয়ান সাওরী, আবূ সাওর, দাঊদ ও ইবনু জারীর একমত প্রকাশ করেছেন।
দ্বিতীয়তঃ অর্ধেক বৎসর দেশান্তর করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী : ‘‘যদি তারা অশ্লীল কাজ করে তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ২৫)। আর এটা সহীহ মত এবং এ আয়াতটি খাস ও ‘আম্ হাদীসের দৃষ্টিতে। (শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৬৯০)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৫৯-[৫] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কতিপয় ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জানালো যে, তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ’রজমের’ ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কি জেনেছ? তারা বলল, আমরা দোষীকে অপমান করি এবং চাবুক মারা হয়। ’আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে অবশ্যই ’রজমের’ দণ্ড রয়েছে, তা নিয়ে আসো! অবশেষে তারা তা এনে খুলল ঠিকই কিন্তু তাদের একজন ’রজমের’ আয়াতের উপর স্বীয় হাত দিয়ে ঢেকে রেখে দিল এবং তারপর এর আগের ও পরের আয়াত পড়ল।
তখন ’আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমার হাত উঠাও! সে হাত উঠাল। তখন দেখা গেল, সেখানে রজমের আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। ইয়াহূদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! সে সত্য বলেছে। এখানে রজমের আয়াত বিদ্যমান আছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনকে রজম করে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাদের উভয়কে ’’রজম’’ করা হলো। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, ’আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, তোমার হাত উঠাও! সে হাত উঠাল। তখন সেখানে স্পষ্টভাবে রজমের আয়াত বিদ্যমান দেখা গেল। [আয়াত গোপনকারী] সেই লোকটি বলল, হে মুহাম্মাদ! সত্যিই তাওরাতে রজমের আয়াত বিদ্যমান আছে; কিন্তু আমরা নিজেদের মাঝে তা গোপন রাখতাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে রজম করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাদের উভয়কে রজম করা হলো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَن الْيَهُود جاؤوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرُوا لَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الرَّجْمِ؟» قَالُوا: نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُونَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَوَضَعَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَقَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ فإِذا فِيهَا آيةُ الرَّجم. فَقَالُوا: صدقَ يَا محمَّدُ فِيهَا آيَة الرَّجْم. فَأمر بهما النَّبِي صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُجِمَا. وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ تَلُوحُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ فِيهَا آيَةَ الرَّجْمِ وَلِكِنَّا نَتَكَاتَمُهُ بَيْنَنَا فَأَمَرَ بِهِمَا فَرُجِمَا
ব্যাখ্যা: বায়হাক্বীর বর্ণনায় মহিলাটির নাম ‘‘বুসরাহ্’’ আর পুরুষের নাম উল্লেখ হয়নি। আবূ দাঊদ কারণ উল্লেখ করেছেন যুহরীর সানাদে। তিনি বলেন, অমি মাজিনা গোত্রের এক লোকের নিকট থেকে শুনেছি যিনি ‘ইলম অর্জন করেন আর তিনি সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব-এর গোলাম। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আবূ হুরায়রাহ্ থেকে। তিনি বলেন, ইয়াহূদী এক লোক কোনো এক মহিলার সাথে যিনা করে তখন তাদের একে অপরকে বলে চলো আমরা এই নাবীর কাছে যাই যিনি প্রেরিত হয়েছেন ঢিলেঢালা শারী‘আত নিয়ে তিনি যদি আমাদেরকে ফতোয়া দেন রজম ব্যতিরেকে তাহলে তা গ্রহণ করবো আর আল্লাহর নিকট এটা দলীল হিসেবে গ্রহণ করবো এবং বলবো, তোমার নাবীদের মধ্য থেকে নাবীর ফতোয়া গ্রহণ করেছি। রাবী বলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। এমতাবস্থায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীদের নিয়ে মসজিদে বসেছিলেন। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনার সিদ্ধান্ত কি এই মহিলা ও পুরুষের ব্যাপারে যারা যিনা করেছে?
অন্য বর্ণনায় এসেছে, তারা দু‘জন ছিল খায়বারের সম্মানিত অধিবাসী। আর খায়বারের যুদ্ধকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটেছিল।
«مَا تَجِدُوْنَ فِى التَّوْرَاةِ فِىْ شَأْنِ الرَّجْمِ؟» রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন : রজমের ব্যাপারে তাওরাতের মধ্যে তোমরা কি পেয়েছো? বাজী বলেনঃ সম্ভাবনা রয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, রজমের হুকুম তাদের তাওরাতে এখনও অটুট রয়েছে, পরিবর্তন হয়নি। এও সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি জেনেছেন ‘আবদুস্ সালাম ও অন্যান্যদের থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইয়াহূদী থেকে তাদের কাছে তিনি সঠিক তথ্য জেনেছিলেন।
অথবা এও সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যাতে তিনি জানতে পারেন তাদের শারী‘আতের বিধান কি? অতঃপর আল্লাহর নিকট থেকে তিনি এর সত্যতা জানতে পারেন।
(وَيُجْلَدُوْنَ) বেত্রাঘাত-এর বর্ণনা।
আইয়ূব (রহঃ) নাফি‘ থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, (قَالُوا : نُسَوِّدُ وُجُوهَهُمَا، وَنُحَمِّلُهُمَا) তারা বললো, আমরা তাদের চেহারায় কালি মাখি এবং বাহনে চড়িয়ে ঘুরাই।
হাদীসের অন্যতম শিক্ষা হলো : যিম্মি কাফিরের ওপরে হাদ্দ বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব যখন যিনা করবে আর এটা জুমহূরের মতে শাফি‘ঈরা বিরোধিতা করেছে। ইবনু ‘আবদুল বাব-এর মতে, মুসলিম বিবাহিতদের ওপর হাদ্দ বাস্তবায়ন শর্ত আর শাফি‘ঈ ও আহমাদ-এর নিকট কোনো শর্ত না। তারা দলীল হিসেবে পেশ করেন দু‘জন ইয়াহূদীর ওপর রজম বাস্তবায়ন। আর এ হাদীসের জবাব দিয়েছেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন তাদের তাওরাতের আইন দিয়ে ইসলামের আইন দিয়ে নয়। বরং তা বাস্তবায়ন ছিল তাদের কিতাবের আইন দিয়ে আর তাওরাতে বিবাহিত হোক আর অবিবাহিত হোক উভয়ের জন্য রজম। আর এটা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য মদীনার প্রথম জীবনে প্রযোজ্য ছিল। তিনি তাওরাত আইনের আদেশপ্রাপ্ত ছিলেন পরে তাঁর শারী‘আত সেটিকে মানসূখ করে দেয়। সুতরাং তিনি আইন অনুযায়ী দু’জন ইয়াহূদীকে রজম করেছেন। তা আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত দ্বারা মানসূখ করেন। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৮৪১)
وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فاستشهدوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَة مِنْكُم إِلٰى قَوْلِه أَوْ يَجْعَلَ اللّٰهُ لَهُنَّ سَبِيلًا
হাদীসে প্রমাণিত হয় যিনার দণ্ড কাফিরের ওপর প্রযোজ্য করা ওয়াজিব। আর তাদের বিবাহ পদ্ধতি সহীহ, কেননা রজম বিবাহিত ব্যতীত প্রয়োগ হয় না। যদি বিবাহ সহীহ না হতো তাহলে বিবাহিত বলে সাব্যস্ত হতো না এবং রজমও হতো না।
হাদীসে আরো সাব্যস্ত হয় যে, কাফিররাও শারী‘আতের শাখা-প্রশাখার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসে আরো প্রমাণিত হয় : যখন কাফির বা আমাদের তথা মুসলিমদের নিকট বিচার চাইবে তখন আমাদের শারী‘আতের বিধানুযায়ী বিচার করতে হবে। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৯৯)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৬০-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে ছিলেন। লোকটি উচ্চস্বরে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যিনা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন লোকটি সেদিকে গিয়ে আবার বলল, আমি যিনা করেছি। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অবশেষে যখন লোকটি চারবার স্বীকারোক্তি দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি পাগল? লোকটি (দৃঢ়তার সাথে) বলল, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশে) বললেন, একে নিয়ে যাও এবং ’রজম’ কর।
(হাদীসের এক বর্ণনাকারী) ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবনু ’আব্দুল্লাহ থেকে শুনেছেন, আমরা তাকে মদীনাতেই ’রজম’ করেছি। অতঃপর যখন তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করছিল (তীব্র যাতনা অনুভূত হয়ে) তখন সে পালিয়ে গেল। কিন্তু আমরা ’হাররাহ্’ নামক স্থানে তাকে পেলাম এবং সেখানেই তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে মৃত্যুবরণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
বুখারীর অপর বর্ণনাতে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, সে বলল, ’হ্যাঁ’। এরপর বর্ণিত আছে যে, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ করলেন। সুতরাং ঈদগাহের মাঠে তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু নিক্ষিপ্ত পাথরগুলো যখন তার দেহে আঘাত হানতে ছিল, তখন সে অসহ্য যন্ত্রণায় দৌড়ে পালিয়ে গেল। কিন্তু পরে তার নাগাল পাওয়া গেল ও রজম করা হলো। অতঃপর তার জানাযার সালাতও আদায় করালেন।
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَنَادَاهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي زَنَيْتُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَنَحَّى لِشِقِّ وَجْهِهِ الَّذِي أَعْرَضَ قِبَلَهُ فَقَالَ: إِنِّي زَنَيْتُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا شَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ دَعَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَبِكَ جُنُونٌ؟» قَالَ: لَا فَقَالَ: «أُحْصِنْتَ؟» قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: فَأَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: فَرَجَمْنَاهُ بِالْمَدِينَةِ فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ هَرَبَ حَتَّى أَدْرَكْنَاهُ بِالْحَرَّةِ فرجمناه حَتَّى مَاتَ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: عَنْ جَابِرٍ بَعْدَ قَوْلِهِ: قَالَ: نَعَمْ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ فَرَّ فَأُدْرِكَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خيرا وَصلى عَلَيْهِ
ব্যাখ্যা: (رَجُلٌ) লোকটি কোনো সম্মানিত ও প্রসিদ্ধও না।
(زَنَيْتُ) আমি যিনা করেছি। সে মূলত নিজের বা অন্যের জন্য ফতোয়া জানার জন্য আসেনি। সে এসেছে যিনার স্বীকৃতি দেয়ার জন্য যাতে শারী‘আতের দণ্ড তার ওপর যেন প্রয়োগ করা হয়। হাদীসে আরো শিক্ষা আসে যে, পাগলের ওপর দণ্ড প্রয়োগ হবে না।
যিনাকারীকে তখন প্রশ্ন করা হবে যখন জানা যাবে না বিশুদ্ধ বিবাহ করেছে কিনা আর বিবাহিত জানা গেলে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
মালিকীর পক্ষ থেকে আলোচিত হয়েছে যখন জানা যাবে সে বিবাহ করেছে আর শুনা হয়নি সহবাসের স্বীকৃতি। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮২৫)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৬১-[৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মা’ইয ইবনু মালিক যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি (কোনো মহিলাকে) চুমু দিয়েছিলে, অথবা চোখ দ্বারা ইশারা দিয়েছিলে? সে বলল, না, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে কি তুমি তার সাথে সঙ্গম করেছ? কথাটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো ইশারা-ইঙ্গিতে বলেননি, বরং দৃঢ়কণ্ঠে বললেন। সে বলল, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ’রজমের’ নির্দেশ করলেন। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا أَتَى مَاعِزُ بن مَالك النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ: «لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ أَوْ غَمَزْتَ أَوْ نَظَرْتَ؟» قَالَ: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَنِكْتَهَا؟» لَا يُكَنِّي قَالَ: نَعَمْ فَعِنْدَ ذَلِكَ أَمر رجمه. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা:
لَمَّا أَتٰى مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ فِي رِوَايَةِ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ أَنَّ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ إِنَّه زَنٰى فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَأَعَادَ عَلَيْهِ مِرَارًا فَسَأَلَ قَوْمَه أَمَجْنُونٌ هُوَ قَالُوا لَيْسَ بِه بَأْسٌ
খালিদ আল হাযযা-এর বর্ণনায় মা‘ইয বিন মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, সে যিনা করেছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, সে অনেকবার এর পুনরাবৃত্তি করলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জাতিকে প্রশ্ন করলেন : সে কি পাগল। তারা বললো, না, সে পাগল নয়। সানাদটি বুখারীর শর্তে সহীহ।
(قَالَ لَه : لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ) সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছো। চুম্বনকৃত মহিলার নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং চুম্বনের স্থানকে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
(أَوْ غَمَزْتَ) দ্বারা উদ্দেশ্য চোখ বা হাত দিয়ে তুমি ইঙ্গিত করেছো অথবা তুমি গোপন অঙ্গে তোমার হাত দিয়ে স্পর্শ করেছো অথবা অন্য কোনো অঙ্গের উপর হাত রেখেছো। এগুলো ইঙ্গিত করে لَمَسْتَ শব্দের উপর।
যা অন্য বর্ণনায় এসেছে, «لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ أَوْ لَمَسْتَ» সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছো, অথবা স্পর্শ করেছো। «أَوْ نَظَرْت» অথবা তুমি দেখেছো, এটা অন্য হাদীসের মর্মার্থের উপর ইঙ্গিত করে যা বুখারী ও মুসলিমে এসেছে আবূ হুরায়রাহ্ -এর হাদীস।
«الْعَيْنُ تَزْنِي وَزِنَاهَا النَّظَرُ» চক্ষু যিনা করে আর তার যিনা হলো দেখা।
«فَعِنْدَ ذٰلِكَ أَمَرَ بِرَجْمِه» অতঃপর তিনি তাকে রজম করার হুকুম দিলেন। খালিদ আল হামযা তার বর্ণনায় অতিরিক্ত করে বলেছেন, (فَانْطُلِقَ بِه فرجم وَلم يصل عَلَيْهِ) তাকে নিয়ে যাওয়া হলো, রজম করা হলো আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেছেন। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮২৪)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৬২-[৮] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মা’ইয ইবনু মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ’আমাকে পাক-পবিত্র করুন’। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার ওপর আক্ষেপ হয়, ফিরে যাও এবং আল্লাহর নিকট মাফ চাও ও তওবা্ কর। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন কিন্তু কিছু দূরে গিয়ে পুনরায় ফিরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ’আমাকে পাক-পবিত্র করুন’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও তাকে পূর্বের ন্যায় বললেন। এভাবে যখন তিনি চতুর্থবার এসে বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আচ্ছা! তোমাকে আমি কি দিয়ে পবিত্র করব? তিনি বললেন, যিনা থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশে) বললেন, সে কি পাগলামী করছে? জানানো হলো, না সে পাগল নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে কি সে মদ্যপায়িত? তখন জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার মুখ শুঁকলেন; কিন্তু মদের গন্ধ পাওয়া গেল না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে কি তুমি সত্যিই যিনা করেছ? তিনি বললেন, জি, হ্যাঁ! অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাকে রজম করা হলো। এ ঘটনার দুই-তিনদিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশে) বললেন, তোমরা মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ)-এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তিনি এমনভাবে তওবা্ করেছেন যদি তা সকল উম্মাতের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সকলের জন্য যথেষ্ট হবে।
এ ঘটনার পর আয্দ বংশের গামিদী গোষ্ঠীর জনৈক নারী এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ’আমাকে পাক-পবিত্র করুন’। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার ওপর আক্ষেপ হয়, ফিরে যাও! আল্লাহ তা’আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তওবা্ কর। তখন সে বলল, আপনি মা’ইয ইবনু মালিককে যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আমাকেও কি অনুরূপ ফিরিয়ে দিতে চান? অথচ আমি তো সেই নারী যা যিনার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সত্যি কি তুমি যিনার দ্বারা গর্ভবতী? নারীটি বলল, জি, হ্যাঁ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও! তোমার পেটের বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকো। তখন এক আনসারী মহিলাটি বাচ্চার প্রসব হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজ তত্ত্বাবধানে নিয়ে গেলেন। অতঃপর সন্তান হওয়ার পর ঐ লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, গামিদী গোষ্ঠীর নারীটি বাচ্চা প্রসব করেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার শিশু বাচ্চাটি রেখে এখন তাকে রজম করা যাবে না, কেননা বাচ্চাটির দুধ পান করানোর মতো কেউ থাকবে না। তখন আনসারদের থেকে জনৈক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! তাকে দুধপান করানোর দায়িত্ব আমার ওপর। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে রজম করলেন।
অপর বর্ণনাতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ নারীকে বললেন, তুমি চলে যাও এবং সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। অতঃপর সন্তান প্রসব করার পর যখন আসলো, তখন বললেন, এবারও চলে যাও এবং দুধ পান করাও। আর দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা কর। তারপর যখন বাচ্চাটির দুধ ছাড়ানো হয় তখন নারীটি বাচ্চা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। তখন বাচ্চার হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এবার নারীটি বলল, হে আল্লাহর নবী! এই যে, আমি তার দুধ ছাড়িয়েছি এবং এখন সে অন্য খাদ্য খায়। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাচ্চাটিকে একজন মুসলিমের তত্ত্বাবধানে দিলেন এবং নারীটির জন্য একটি গর্ত খোঁড়ার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তার বক্ষদেশ পর্যন্ত একটি গর্ত খোঁড়া হলো। তখন লোকেদেরকে পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ সামনে অগ্রসর হয়ে তার মাথার উপর এক খন্ড পাথর নিক্ষেপ করলেন। ফলে রক্ত ছিঁটে খালিদ -এর মুখমণ্ডলে এসে পড়ল। তখন তিনি তাকে ভৎর্সনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খালিদ! থামো! কসম সেই আল্লাহর! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয় নারীটি এমন তওবা্ করেছে, যদি কোনো বড় যালিমও এ ধরনের তওবা্ করে তাহলে তাকেও ক্ষমা করা হবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলে, তার জানাযা আদায় করা হলো এবং দাফনকার্য সম্পন্ন হলো। (মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ طَهِّرْنِي فَقَالَ: «وَيْحَكَ ارْجِعْ فَاسْتَغْفر الله وَتب إِلَيْهِ» . فَقَالَ: فَرَجَعَ غَيْرَ بَعِيدٍ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ طَهِّرْنِي. فَقَالَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَتِ الرَّابِعَة قَالَه لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِيمَ أُطَهِّرُكَ؟» قَالَ: مِنَ الزِّنَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبِهِ جُنُونٌ؟» فَأُخْبِرَ أَنَّهُ لَيْسَ بِمَجْنُونٍ فَقَالَ: «أَشَرِبَ خَمْرًا؟» فَقَامَ رَجُلٌ فَاسْتَنْكَهَهُ فَلَمْ يَجِدْ مِنْهُ رِيحَ خَمْرٍ فَقَالَ: «أَزَنَيْتَ؟» قَالَ: نَعَمْ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَلَبِثُوا يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ قُسِّمَتْ بَيْنَ أُمَّةٍ لَوَسِعَتْهُمْ» ثُمَّ جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ غَامِدٍ مِنَ الْأَزْدِ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ طَهِّرْنِي فَقَالَ: «وَيَحَكِ ارْجِعِي فَاسْتَغْفِرِي اللَّهَ وَتُوبِي إِلَيْهِ» فَقَالَتْ: تُرِيدُ أَنْ تَرْدُدَنِي كَمَا رَدَدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ: إِنَّهَا حُبْلَى مِنَ الزِّنَا فَقَالَ: «أَنْتِ؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ لَهَا: «حَتَّى تَضَعِي مَا فِي بَطْنِكِ» قَالَ: فكَفَلَها رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ حَتَّى وَضَعَتْ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: قَدْ وَضَعَتِ الغامديَّةُ فَقَالَ: «إِذاً لَا نرجُمها وندعُ وَلَدَهَا صَغِيرًا لَيْسَ لَهُ مَنْ يُرْضِعُهُ» فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ: إِلَيَّ رَضَاعُهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ: فَرَجَمَهَا. وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّهُ قَالَ لَهَا: «اذْهَبِي حَتَّى تَلِدِي» فَلَمَّا وَلَدَتْ قَالَ: «اذْهَبِي فَأَرْضِعِيهِ حَتَّى تَفْطِمِيهِ» فَلَمَّا فَطَمَتْهُ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ فِي يَدِهِ كِسْرَةُ خُبْزٍ فَقَالَتْ: هَذَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ فَطَمْتُهُ وَقَدْ أَكَلَ الطَّعَامَ فَدَفَعَ الصَّبِيَّ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا إِلَى صَدْرِهَا وَأَمَرَ النَّاسَ فَرَجَمُوهَا فَيُقْبِلُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ بِحَجْرٍ فَرَمَى رَأْسَهَا فَتَنَضَّحَ الدَّمُ عَلَى وَجْهِ خَالِدٍ فَسَبَّهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مهلا يَا خَالِد فو الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ لَغُفِرَ لَهُ» ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فصلى عَلَيْهَا ودفنت. رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: যদি প্রশ্ন করা হয়, মা‘ইয এবং গামিদী কেন তারা তাওবায় সন্তুষ্ট হয়নি অথচ তাওবাহ্ দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য অর্জিত হতো আর তা গুনাহ মাফ হওয়ার দণ্ডের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন হয়। তাছাড়াও এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ। আর তাওরাতে পাপ থেকে খাঁটিভাবে মুক্ত হওয়ার শংকা রয়েছে। সুতরাং শংকা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দৃঢ়-বিশ্বাসভাবে পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য হাদ্দকে বেছে নিয়েছে। আল্লাহই বেশী ভালো জানেন। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, ১৬৯৫)
(ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! طَهِّرْنِىْ) অতঃপর আসলো এবং বললো, আমাকে পবিত্র করুন। সম্ভবত সে তাওরাতের মাধ্যমে নিজকে পবিত্র করতে সক্ষম ছিল না।
(اسْتَغْفِرُوْا لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ) তোমরা তার জন্য ক্ষমার আধিক্য আর উন্নত মর্যাদা কামনা করো।
(لَوَسِعَتْهُمْ) যথেষ্ট হতো। তিনি বলেন, তার তাওবাহ্ এমন ছিল যা অপরিহার্য করে তোলে ক্ষমা ও রহমাত তা বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর ওপর বণ্টন করা যাবে অনুরূপ গামিদী (মহিলার) তাওবার বিষয়টি প্রমাণ করে।
(لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ لَغُفِرَ لَه) মহিলাটি এমন খালেস তাওবাহ্ করেছে, যদি কোনো ট্যাক্স আদায়কারী যালিমও এ ধরনের তাওবাহ্ করে অবশ্যই আল্লাহর তার গুনাহ ক্ষমা করবেন।
(اسْتَغْفِرُوْا لِمَاعِزِ) তোমরা মা‘ইয-এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। এমন বক্তব্যের রহস্য বা উপকার কি? যদি তুমি প্রশ্ন করো আমি ভাষ্যকার জবাবে বলি : অনুরূপ বক্তব্যের রহস্যের মতো।
‘‘আল্লাহর সাহায্য আসবে ও বিজয় আসবে এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবেন। তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।’’ (সূরা আন্ নাস্র ১১০ : ১-৫)
আল্লাহর আরো বক্তব্য : ‘‘নিশ্চয় আমি আপনার জন্য একটা ফায়সালা করে দিয়েছি যা সুস্পষ্ট, যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন।’’ (সূরা আল ফাতহ ৪৮ : ১-২)
আর তার জন্য ক্ষমা তলব করার মধ্যে তার সম্মান ও মর্যাদা কামনা করো।
ইমাম নববী বলেনঃ শেষ বর্ণনাটি প্রথম বর্ণনার বিপরীত। প্রথম বর্ণনায় বাচ্চা প্রসবের পর রজম করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি দুধ ছাড়ানোর পর রজম করা হয়েছে। দ্বিতীয়টিই সঠিক, প্রথম বর্ণনার ব্যাখ্যা দ্বিতীয় বর্ণনা, কেননা একটাই ঘটনা।
কারো মতে সম্ভাবনা, ঘটনা দু’টি দু’ মহিলার ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণনার মহিলার ইজদ গোত্রের আর দ্বিতীয় বর্ণনার মহিলা জুহায়নাহ্ গোত্রের। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৬৩-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কারও বাঁদী যিনা করে আর তা প্রকাশ হয়ে পড়ে, তখন তাকে চাবুক মারো। কিন্তু তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করো না। যদি পুনরায় যিনা করে তাহলে এবারও তার ওপর দণ্ডিত কর, তবুও তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করা যাবে না। কিন্তু এরপরও যদি সে তৃতীয়বার যিনা করে আর তা উন্মোচিত হয়, তখন চুলের একটি রশির বিনিময় হলেও তাকে বিক্রি করে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا فَلْيَجْلِدْهَا الحدَّ وَلَا يُثَرِّبْ عَلَيْهَا ثمَّ إِنْ زنَتْ فلْيجلدْها الحدَّ وَلَا يُثَرِّبْ ثُمَّ إِنْ زَنَتِ الثَّالِثَةَ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا فَلْيَبِعْهَا ولوْ بحبْلٍ منْ شعرٍ»
ব্যাখ্যা: হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, দাস-দাসীর ওপর হাদ্দ বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব। আরো প্রমাণিত হয় যে, মুনীব তার দাস বা দাসীর হাদ্দ প্রয়োগ করতে পারবে- এটা মালিক, আহমাদ সকল ‘উলামাহ্, সাহাবী ও তাবি‘ঈদের মতো আর হানাফীদের একটি দল বলে এমনটি প্রযোজ্য হবে না তথা মুনীব শাস্তি দিতে পারবে না। তবে এ হাদীস জুমহূর ‘উলামাদের জন্য সুস্পষ্ট দলীল।
হাদীসে আরো দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয় যে, দাস এবং দাসীকে রজম করে হত্যা করা যাবে না, চাই সে বিবাহিত হোক বা না হোক, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য: (فَلْيَجْلِدْهَا الْحَدَّ) তাকে যেন চাবুক মারে। সেখানে বিবাহিত, অবিবাহিত পার্থক্য করেননি।
আরো প্রমাণিত হয়, যিনাকারী দাসকে দেশান্তর করা হবে না শুধুমাত্র হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে। হাদীসে আরো সাব্যস্ত হয়, যিনাকারী দাসকে প্রথমবার যিনা করার কারণে চাবুক মারা হলো দ্বিতীয়বার করলেও অবশ্যই মারা হবে, তৃতীয়বার করলেও অবশ্যই মারা হবে। পুনরায় করলে অবশ্যই হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে অনুরূপ চলবে। আর যদি অনেকবার যিনা করে এবং তার হাদ্দ প্রয়োগ হয়নি তাহলে সর্বশেষ যিনার হাদ্দ প্রয়োগই সকল যিনার হাদ্দের যথেষ্ট হবে।
হাদীসে আরো সাব্যস্ত হয় যে, ফাসিক, গুনাহগার ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকা। আর এ ধরনের বিক্রয়ের নির্দেশের বিষয়টি মুস্তাহাব, ওয়াজিব না। জুমহূরদের নিকট আবূ দাঊদ বলেন, আহলুয্ যাহিরের নিকট ওয়াজিব। হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, পছন্দনীয় বস্তু স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করা বৈধ- এ ব্যাপারে সবই একমত যখন বিক্রেতা ব্যক্তি ‘আলিম আর যদি মূর্খ ব্যক্তি হয় তবুও জুমহূরদের নিকট বৈধ। তবে মালিকীরা বিরোধিতা করেছে। আল্লাহই ভালো জানেন। আর এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ে বিক্রেতা ব্যক্তি অবশ্যই ক্রেতাকে বিক্রিত বস্তুর ত্রুটি উল্লেখ করবে। আর ত্রুটি উল্লেখ করা ওয়াজিব। যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে বিক্রয় করা বৈধ, কারণ এমন বস্তু নিজের জন্য সে অপছন্দ করে যা অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করে? (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৭০৩)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩৫৬৪-[১০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের গোলাম-বাঁদীদের ওপর দণ্ড কার্যকর কর, বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক বাঁদী যিনা করেছিল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তার ওপর দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ করলেন। অতঃপর যখন আমি জানতে পারলাম, দাসীটি সদ্য প্রসূতি। তখন আমার সংশয় হলো, যদি আমি তাকে চাবুক মারি তাহলে আমার দ্বারাই তার মৃত্যু হবে। সুতরাং আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি বললেন, তুমি উত্তমই করেছ। (মুসলিম)[1]
আবূ দাঊদ-এর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তার নিফাসের রক্তস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তাকে ছেড়ে দাও, তারপর তার ওপর ’’হাদ্দ’’ কার্যকর কর। আর তোমরা তোমাদের গোলাম-বাঁদীদের ওপর ’’হাদ্দ’ প্রয়োগ কর।
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقِيمُوا عَلَى أَرِقَّائِكُمُ الْحَدَّ مَنْ أُحْصِنَ مِنْهُمْ وَمَنْ لَمْ يُحْصَنْ فَإِنَّ أَمَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَنَتْ فَأَمَرَنِي أَنْ أَجْلِدَهَا فَإِذَا هِيَ حَدِيثُ عَهْدٍ بِنِفَاسٍ فَخَشِيتُ إِنْ أَنَا جَلَدْتُهَا أَنْ أَقْتُلَهَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَحْسَنْتَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ: قَالَ: «دَعْهَا حَتَّى يَنْقَطِعَ دَمُهَا ثُمَّ أَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ وَأَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانكُم»
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, ঋতুবতী, গর্ভবতী ও প্রসূতি এ সব অবস্থায় তাদের ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করা যায় না। অবশ্য পরে তা প্রয়োগ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রহিত বা দেরী করা যাবে না এসব থেকে পবিত্র হওয়ার পর। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৭০৫)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৬৫-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মা’ইয আল আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, তিনি যিনা করেছেন। এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন তিনি সেদিকে যেয়ে বললেন, তিনি যিনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবারও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন তিনি পুনরায় সেদিকে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যিনা করেছি। পরিশেষে চতুর্থবার (স্বীকারেক্তিতে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ’রজমের’ নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তাকে ’হাররাহ্’ নামক এলাকায় নিয়ে তাকে রজম করা হলো। কিন্তু যখন তার শরীরে পাথর নিক্ষেপ করছিল তখন (অসহ্য যন্ত্রণায়) তিনি দৌড়িয়ে পালিয়ে গেলেন এবং এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন যার হাতে উটের চোয়ালের হাড্ডি ছিল। তিনি তা দিয়ে তাকে আঘাত করল এবং অন্য লোকের আঘাতে সে মৃত্যুবরণ করল। অতঃপর লোকেরা ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বলল যে, তিনি পাথরের আঘাতে মৃত্যু ভয়ে পালাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না? (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, তোমরা কেন তাকে ছেড়ে ছিলে না? হতে পারে সে তওবা্ করত আর আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবুল করতেন।
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ مَاعِزٌ الْأَسْلَمِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّه قدْ زَنى فأعرضَ عَنهُ ثمَّ جَاءَ مِنْ شِقِّهِ الْآخَرِ فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ زنى فَأَعْرض عَنهُ ثمَّ جَاءَ من شقَّه الْآخَرِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ زَنى فَأَمَرَ بِهِ فِي الرَّابِعَةِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْحَرَّةِ فَرُجِمَ بِالْحِجَارَةِ فَلَمَّا وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ فَرَّ يَشْتَدُّ حَتَّى مَرَّ بِرَجُلٍ مَعَهُ لَحْيُ جَمَلٍ فَضَرَبَهُ بِهِ وَضَرَبَهُ النَّاسُ حَتَّى مَاتَ. فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنه فرحين وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ وَمَسَّ الْمَوْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي رِوَايَةٍ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ لَعَلَّه أَن يَتُوب الله عَلَيْهِ»
ব্যাখ্যা: ইবনুল মালিক বলেনঃ যে লোক যিনার স্বীকারোক্তি করেছে যদি সে পরে এই কথা বলে যে, আমি পূর্বে মিথ্যা বলেছি বা আমি যিনা করিনি তখন তার ওপর থেকে ‘‘হাদ্দ’’ রহিত হয়ে যাবে। আর যদি শাস্তি দেয়ার সময় অস্বীকার করে তখন তার অবশিষ্ট শাস্তি দেয়া যাবে না। কিছু কিছু সংখ্যক ‘উলামাহ্ বলেন, ‘‘হাদ্দ’’ রহিত হবে না, অন্যথায় মা‘ইয সম্বন্ধে এ কথা বলতে হবে যে, তার পলায়নের পরেও তাকে হত্যা করাটা (قتل خطاء) তথা ভুলবশত হয়েছে যাতে হত্যাকারীদের আত্মীয়দের ওপর দিয়াত (রক্তমূল্য) ওয়াজিব হয়। এর উত্তর এই যে, এ ক্ষেত্রে সে তার স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে গেছে বলে প্রকাশ পায়নি বরং পাথরের আঘাত অসহ্য হওয়ায় পলায়ন করেছে এবং হাদ্দ প্রয়োগের সময় পলায়ন করলে অবশিষ্ট হাদ্দ রহিত হয় না।
«هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ» তোমরা তাকে ছেড়ে দিলে না কেন? মূলত এর রূপক অর্থ হলো: যে তার বিষয়টি লক্ষ্য করতো যে, সে পাথরের আঘাতে পলায়ন করছে না তার যিনার স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসছে।
শারহুস্ সুন্নাহয় এসেছে: হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, যে ব্যক্তি যিনা করার স্বীকৃতি দেয় নিজের ওপর, অতঃপর হাদ্দ প্রয়োগের সময় স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসে আর সে বলে আমি মিথ্যা বলেছি, আমি যিনা করিনি, তাহলে অবশিষ্ট হাদ্দ রহিত হয়ে যাবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪২৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৬৬-[১২] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললেন, তোমার ব্যাপারে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে, তা কি সত্য, তুমি কি অমুকের সাথে যিনা করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আর তিনি তা চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ’রজমের’ নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তাকে রজম করা হয়। (মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ: «أَحَقٌّ مَا بَلَغَنِي عَنْكَ؟» قَالَ: وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي؟ قَالَ: «بَلَغَنِي أَنَّكَ قَدْ وَقَعْتَ عَلَى جَارِيَةِ آلِ فُلَانٍ» قَالَ: نَعَمْ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَأمر بهِ فرجم. رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেনঃ এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ব থেকে মা‘ইয-এর ঘটনা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এবং পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অকপটে তা স্বীকার করেছিল। কিন্তু পূর্বে বুরায়দাহ্ থেকে বর্ণিত হাদীসে পরিষ্কারভাবে বুঝা গেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুই অবগত ছিলেন না। সুতরাং এ বিরোধের উত্তর হলো এ বর্ণনাকারীগণ কখনো ঘটনা আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন আবার কখনো শুরু ও শেষাংশটি বর্ণনা করে ক্ষ্যান্ত হন। এ পর্যায়ে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর ঘটনা কেবল শুরু ও শেষ বর্ণনা করে ক্ষ্যান্ত হয়েছেন। বিস্তারিত ঘটনার অবতারণা করেননি। সুতরাং উভয় হাদীসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৬৭-[১৩] ইয়াযীদ ইবনু নু’আয়ম (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মা’ইয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে যিনায় লিপ্ত হওয়ার কথা চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ’রজমের’ নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হায্যাল-কে বললেন, তুমি যদি মা’ইয (রাঃ)-কে তোমার কাপড় দ্বারা আড়াল করতে (অপরাধ প্রকাশ না করতে), তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো। ইবনুল মুনকাদির বলেন, হাযযাল-ই মা’ইয (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এতদসম্পর্কে জানাতে বলেছিলেন। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ مَاعِزًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَقَرَّ عِنْدَهُ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَقَالَ لِهَزَّالٍ: «لَوْ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ كَانَ خَيْرًا لَكَ» قَالَ ابْنُ الْمُنْكَدِرِ: إِنَّ هَزَّالًا أَمَرَ مَاعِزًا أَنْ يَأْتِيَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيخبره. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: (إِنَّ هَزَّالًا أَمَرَ مَاعِزًا أَنْ يَّأْتِىَ النَّبِىَّ ﷺ فَيُخْبِرَه) এই হায্যাল মা‘ইয -কে আদেশ করেছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে এসে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করার জন্য। আর এটা এজন্য যে, মা‘ইয যে মেয়েটির সাথে যিনা করেছিল তার নাম ফাত্বিমাহ্ আর সে মুক্ত দাস ছিল। অতঃপর হাযযাল-এর বিষয়টি জানলে মা‘ইয-কে পরামর্শ দিলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার। মূলত সে চেয়েছে তার অপমান ও লাঞ্ছনা কিসাস স্বরূপ তার আযাদকৃত দাসীর সাথে এ আচরণের জন্য। কারো মতে এবং এটা অধিক গ্রহণযোগ্য এটা তার জন্য উপদেশ ছিল হায্যাল-এর পক্ষ থেকে যা তৃতীয় অনুচ্ছেদে আসবে দ্বিতীয় হাদীসে।
ইবনু হুমাম বলেনঃ বুখারী বর্ণনা করেছেন আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ‘ সূত্রে।
مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللّٰهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الْاٰخِرَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللّٰهُ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاللّٰهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ
যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ভাই-এর দুনিয়ার কোনো দুঃখ কষ্ট লাঘবে করে, আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে আখিরাতে দুঃখ কষ্ট লাঘব করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ভাই-এর দোষ-ত্রুটি গোপন করবে তার দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ সর্বদাই ঐ বান্দার সহযোগিতায় থাকেন যে বান্দা অপর ভাই এর সহযোগিতায় থাকেন।
আর আবূ দাঊদ ও নাসায়ীতে ‘উকবা বিন ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ رَأَى أَيَّ عَوْرَةٍ فَسَتَرَهَا كَانَ كَمَا أَحْيَا مَوْءُودَةً
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো গোপন দোষ ত্রুটি দেখলো আর তা গোপন করলো, সে যেন প্রোথিত সন্তানকে জীবন দান করলো।
তবে গোপন করার বিষয়টি তখন প্রযোজ্য হবে যখন যিনাটা গোপন হবে আর সে এ ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারিণী যদি প্রকাশ্যভাবে করে এবং প্রচারণা চালায় তাহলে সমাজ থেকে পাপাচারের কর্মকা- উপড়ে ফেলার জন্য হাদ্দ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, এক্ষেত্রে গোপন না করে সাক্ষ্য প্রদান করাই ওয়াজিব। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৬৮-[১৪] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সংঘটিত দণ্ডযোগ্য বিষয়সমূহ পরস্পরের মধ্যে ক্ষমা করে দাও এবং মিটিয়ে ফেল। কেননা যখন আমার নিকট দণ্ডের বিষয়টি পৌঁছবে তখন তা বাস্তবায়ন করা অবধারিত হয়ে যাবে। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَعَافَوُا الْحُدُودَ فِيمَا بَيْنَكُمْ فَمَا بَلَغَنِي مِنْ حَدٍّ فَقَدْ وَجَبَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে সাব্যস্ত হয় যে, শাসকের জন্য হাদ্দ যা মাওকূফ করা বৈধ নয় যখন তার কাছে উপস্থাপন করা হয়। আর মুনীবের জন্য হাদ্দ প্রয়োগ করা তার দাসের ওপর বরং ক্ষমা করে দিবে অথবা বিষয়টি শাসকের নিকট উপস্থাপন করবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৬৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৬৯-[১৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্মানিত লোকেদের দণ্ডযোগ্য অপরাধ ব্যতীত সাধারণ ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দাও। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أقيلوا ذَوي الهيآت عثراتهم إِلَّا الْحُدُود» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: (أَقِيْلُوْا) ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখো, (ذَوِى الْهَيْئَاتِ) সম্মানিত ব্যক্তি ও প্রশংসিত স্বভাবের অধিকারী ইবনু মালিক বলেনঃ যে সকল মানুষ সুন্দর চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত।
(إِلَّا الْحُدُوْدَ) ‘যা হাদ্দকে ওয়াজিব করে’ সম্বন্ধে ব্যক্তিরা হলো শাসক ও অন্যান্যরা যাদের ওপর শাস্তি ও বিচার প্রয়োগ করা অপরিহার্য।
(عَثَرَاتِ) দ্বারা উদ্দেশ্য পদস্খলনের কারণে আল্লাহর অধিকারসমূহের কোনো অধিকার নষ্ট করার মাধ্যমে বা মানুষের কোনো অধিকার নষ্টের মাধ্যমে। আবার কারো মতে সগীরাহ্ গুনাহ বা ছোট গুনাহ উদ্দেশ্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৬৮)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭০-[১৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের যথাসম্ভব দণ্ডযোগ্য শাস্তি থেকে যদি সামান্যতম অব্যাহতির উপায় থাকে, তাহলে তাকে ছেড়ে দাও। কেননা শাসকের ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ভুল করা শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল করার চেয়ে উত্তম। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «ادرؤا الْحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّ الْإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعُقُوبَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: قَدْ رُوِيَ عَنْهَا وَلم يرفع وَهُوَ أصح
ব্যাখ্যা: মুযহির বলেনঃ তোমাদের সাধ্যানুযায়ী হাদ্দ মাওকূফ করো আমার (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) নিকট পৌঁছানোর পূর্বে। কেননা শাসকের ক্ষমা প্রদর্শনের ব্যাপারে ভুল করা শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে ভুল করা থেকে উত্তম অধিক আর যখন শাসকের নিকট পৌঁছবে হাদ্দ বাস্তবায়ন তার ওপর ওয়াজিব।
ত্বীবী বলেনঃ হাদীসের ভাবার্থ মূলত تَعَافَوْا الْحُدُودَ فِيمَا بَيْنَكُمْ فَمَا بَلَغَنِي مِنْ حَدٍّ فَقَدْ وَجَبَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কাছে পৌঁছানোর পূর্বে তোমাদের সংঘটিত হাদ্দযোগ্য অপরাধ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেলো কেননা সে হাদ্দের ব্যাপার আমার নিকট পৌঁছবে তা বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব হবে। এ হাদীসের ব্যাখ্যা স্বরূপ।
আর হাদীসে সম্বোধন মূলত সাধারণ মুসলিমের ওপর। আর সম্ভাবনা রয়েছে: আবূ হুরায়রাহ্-এর হাদীস। কোনো এক ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট আর বুরায়দাহ্-এর হাদীস মা‘ইয-এর ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট। তাহলে সম্বোধন হবে শাসকের প্রতি যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য লোকটির জন্য أَبِكَ جُنُونٌ তুমি কি পাগল? অতঃপর বলেছেন, তুমি কি বিবাহ করেছো? আর মা‘ইয-এর ব্যাপারে বলেছেনঃ أَبِه جُنُونٌ সে কি পাগল? আরো বলেছেনঃ أَشَرِب সে কি মদ পান করেছে? কেননা এসব সতর্ক করে দেয়া শাসককে তিনি সন্দেহের ক্ষেত্রে হাদ্দকে যেন মাওকূফ করে।
সঠিক হলো: সম্বোধন হলো, শাসকের উদ্দেশে তাদের উচিত হবে আসামীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে হাদ্দকে মাওকূফ করবে, যেমনটি মা‘ইয ও অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রায় বার স্মরণ করে দিয়েছেন আত্মপক্ষ সমর্থনে তথা তা পেশ করার জন্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪২৪)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭১-[১৭] ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক মহিলার সাথে জোরপূর্বক যিনা করা হয়েছিল, যিনার অভিযোগে জনৈকা নারীর ওপর দণ্ড ক্ষমা করে; কিন্তু পুরুষের ওপর দণ্ড প্রয়োগ করেছিলেন। তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীটির জন্য মোহর ধার্য করেছিলেন কিনা বর্ণনাকারী তা উল্লেখ করেননি। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَرَأَ عَنْهَا الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: মুযহির এবং ইবনু মালিক বলেনঃ এ হাদীস মোহর ওয়াজিব না এমনটি প্রমাণিত হয় না, কেননা অন্য হাদীস দ্বারা মোহর ওয়াজিব এটি প্রমাণিত হয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৫৩)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭২-[১৮] উক্ত রাবী [ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে জনৈকা মহিলা সালাতের উদ্দেশে বের হলো। এমন সময় এক ব্যক্তি তাকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক যিনা করলে মহিলাটির চিৎকারে পুরুষটি পালিয়ে যায়। তখন মুহাজিরদের একটি দল সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এরূপ এরূপ করেছে। তারা তখন ঐ লোকটিকে গ্রেফতার করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ মহিলাটিকে বললেন, চলে যাও আল্লাহ তা’আলা তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর যে লোকটি মহিলাটির সাথে যিনা করেছিল। যিনাকারীর ব্যাপারে হুকুম করলেন, একে পাথর নিক্ষেপে হত্যা কর। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লোকটি এমনভাবে তওবা্ করেছে যদি মদীনার সকল লোক এরূপ তওবা্ করত, তাহলে তাদের সকলের পক্ষ থেকে তা কবুল করা হতো। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْهُ: أَنَّ امْرَأَةً خَرَجَتْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُرِيدُ الصَّلَاةَ فَتَلَقَّاهَا رَجُلٌ فَتَجَلَّلَهَا فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا فَصَاحَتْ وَانْطَلَقَ وَمَرَّتْ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَتْ: إِنَّ ذَلِكَ الرَّجُلَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا فَأَخَذُوا الرَّجُلَ فَأَتَوْا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا: «اذْهَبِي فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكِ» وَقَالَ لِلرَّجُلِ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا: «ارْجُمُوهُ» وَقَالَ: «لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا أَهْلُ الْمَدِينَةِ لَقُبِلَ مِنْهُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ
ব্যাখ্যা: (فَقَضٰى حَاجَتَه مِنْهَا) ‘‘তার প্রয়োজন পূরণ করেছে’’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তাকে ডেকে নিয়েছে এবং তার সাথে যিনা করেছে।
(اذْهَبِىْ فَقَدْ غَفَرَ اللّٰهُ لَكِ) তুমি চলে যাও আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন, কেননা তোমাকে জোর করে তথা তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমার সাথে এ আচরণ করা হয়েছে।
(لِلرَّجُلِ الَّذِىْ وَقَعَ عَلَيْهَا : ارْجُمُوْهُ) আর লোকটি যিনার কথা স্বীকার করেছে এবং তাকে রজম করার আদেশ দিয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেহেতু সে বিবাহিত।
(لَقُبِلَ مِنْهُمْ) লোকটির তাওবার পরিমাণ এতো বেশি তা যদি মদীনাবাসীকে বন্টন করে দেয়া হতো তাহলে তা যথেষ্ট হতো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৩-[১৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এক নারীর সাথে যিনা করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চাবুক মারার হুকুম করলেন। কিন্তু চাবুক মারার পর জানা গেল সে বিবাহিত, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তা কার্যকর করা হলো। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ جَابِرٍ: أَنَّ رَجُلًا زَنَى بِامْرَأَةٍ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجُلِدَ الْحَدَّ ثُمَّ أُخْبِرَ أَنَّهُ مُحْصَنٌ فَأَمَرَ بِهِ فرجم. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: হাদীসে সাব্যস্ত হয় চাবুক মারা এবং পাথর নিক্ষেপ করা উভয়ই হাদ্দ বা শাস্তি হলেও একটি অপরটির স্থলাভিষিক্ত হবে না। সুতরাং অবগতির পর আসল ও প্রকৃত শাস্তি প্রয়োগ করা ওয়াজিব হয়ে যায় আর পাথর নিক্ষেপ করলে চাবুকের শাস্তির অবকাশ থাকে না এটাই স্থলাভিষিক্ত, এমনটি বলেছেন আশরাফ ও ইবনু মালিক। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৪-[২০] সা’ঈদ ইবনু সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্(রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন ব্যক্তিকে ধরে আনলেন, যে ছিল বিকলাঙ্গ ও ব্যাধিগ্রস্ত। তাকে এলাকার এক বাঁদীর সাথে যিনাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন একটি খেজুরের বড় ছড়া নিয়ে আসো যার মধ্যে ছোট ছোট একশত শাখা রয়েছে এবং তা দ্বারা লোকটিকে একবার আঘাত কর। (শারহুস্ সুন্নাহ্; ইবনু মাজাহ্-তে অনুরূপ একটি বর্ণনা আছে)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ كَانَ فِي الْحَيِّ مُخْدَجٍ سقيم فَوجدَ على أمة من إمَائِهِمْ بخبث بِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذُوا لَهُ عِثْكَالًا فِيهِ مِائَةُ شِمْرَاخٍ فَاضْرِبُوهُ ضَرْبَة» . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ مَاجَه نَحوه
ব্যাখ্যা: (سَقِيْمٍ) এমন অসুস্থ যা সুস্থ হওয়ার আশা করা যায় না।
ইবনু মালিক বলেনঃ এ হাদীসটি ‘আমলযোগ্য না কেননা তা সরাসরি কুরআনের বিরোধী, কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللّٰهِ
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহর বিধান কার্যকরের কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়’’- (সূরা আন্ নূর ২৪ : ২)। আর হাদীসের ভাষ্যমতে প্রহার করা দয়ার উদ্রেক হওয়া তবে এটা ভুল ব্যাখ্যা, তাফসীরে হাদীস ও ফিক্হী দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাফসীরের দৃষ্টিতে অর্থ হলো : দয়ার উদ্রেক না হয় তবে আনুগত্য ও হাদ্দ বাস্তবায়নে। অতঃপর তোমরা সে হাদ্দকে বাতিল করবে বা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। এজন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ لَوْ سَرَقَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ لَقَطَعْتُ يَدَهَا মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে ফাত্বিমাও চুরি করে তাহলে আমি তার হাত অবশ্যই কেটে দিবো। অনুরূপ ভাবার্থ বায়যাভীও বলেছেন।
কাযী ‘ইয়ায বলেনঃ হাদীসে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয় যে, শাসক শাস্তি প্রয়োগকৃত ব্যক্তির প্রতি খেয়াল রাখবে এবং তার জীবন সংরক্ষণ করবে। আর যদিও রোগী ব্যক্তির ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করে হদ প্রয়োগ দেরী করবে না তবে যদি গর্ভবতী হয় তাহলে গর্ভপাত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যা ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৫-[২১] ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে ব্যক্তিকেই লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মতো (সমকামী) দেখতে পাও, তখন তাদের উভয়কে (যে করে এবং যার সাথে করা হয়) হত্যা কর। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُول بِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: লাওয়াত্বাত (সমকামী)-এর শাস্তির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
ইমাম শাফি‘ঈ-এর দু’ মতের মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত এবং ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মাদ-এর মতে যিনার শাস্তির অবিকল অনুরূপ বিবাহিত হলে রজম করা হবে আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত আর যার সাথে লাওয়াতাত করা হয়েছে শাফি‘ঈ-এর মতে তার উপর এবং এক বৎসর নির্বাসন চাই পুরুষ হোক আর নারী হোক।
ইমাম মালিক ও আহমাদ বলেন, বিবাহিত হোক আর অবিবাহিত হোক উভয় অবস্থায় রজম করতে হবে। ইমাম শাফি‘ঈ-এর অন্য একটি অভিমত, যে লাওয়াত্বাত করে এবং যার সাথে করা হয় উভয়কেই হত্যা করতে হবে হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী।
কীভাবে হত্যা করা হবে? কারো মতে দেয়াল চাপা দিয়ে, কারো মতে উঁচু স্থান থেকে নিক্ষেপ করে, যেভাবে কওমে লূত্ব-এর ওপর করা হয়েছে। আর আবূ হানীফাহ্-এর মতে তিরস্কার করা হবে হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৫৬)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৬-[২২] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো জন্তু-জানোয়ারের সাথে অপকর্ম করল, তাকে হত্যা করে দাও এবং তার সাথে ঐ জানোয়ারটিকেও হত্যা করে ফেল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, জানোয়ারটি কেন হত্যাযোগ্য? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছুই শুনিনি। তবে আমি মনে করি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানোয়ারটির গোশ্ত/মাংস খাওয়া বা কোনভাবে তাত্থেকে উপকৃত হওয়াকে অপছন্দ করেন। যেহেতু জানোয়ারটির সাথে অপকর্ম হয়েছে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوهَا مَعَهُ» . قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ؟ قَالَ: مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ شَيْئا وَلَكِن أره كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ لَحْمُهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا وَقَدْ فُعِلَ بِهَا ذَلِكَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: জানোয়ারটিকে হত্যা করার হিকমাহ্ হলো সানাদী সুয়ূত্বী থেকে বলেন, হতে পারে ঐ জানোয়ারের পেট থেকে মানুষের আকৃতিতে জানোয়ার কিংবা জানোয়ার আকৃতি মানুষ জন্ম লাভ করতে পারে।
অধিকাংশ ফুকাহাদের মতে যেমনটি খত্ত্বাবী বর্ণনা করেন, এ হাদীসের উপর ‘আমল করা যাবে না। জানোয়ারটিকে হত্যা করা যাবে না আর যে ব্যক্তি এমনটি করবে তার ওপর তিরস্কার, যেমনটি ইবনু ‘আব্বাস থেকে তিরমিযী বর্ণনা করেন।
مَنْ أَتٰى بَهِيمَةً فَلَا حَدَّ عَلَيْهِ যে ব্যক্তি জানোয়ারের সাথে অপকর্ম করবে তার ওপর হাদ্দ প্রয়োগ নেই। হাদীসটি সহীহ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৫৪; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৫৫)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৭-[২৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের ওপর সবচেয়ে বেশি যে জিনিসের আশঙ্কা করি, তা হলো লূত (আঃ)-এর গোত্রের কুকর্ম (সমকামিতা)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এটা এমন একটি সামাজিক ও নৈতিক ব্যাধি, যে জাতির মধ্যে এ রোগ দেখা দেয় সে জাতি অচিরেই ধ্বংস হয়ে যায়। বস্তুত সে জাতি নৈতিক দেওলিয়াপনায় পৌঁছে যায় তাদের ধ্বংস অনিবার্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৫৭)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৮-[২৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকর ইবনু লায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে চারবার স্বীকারোক্তি দিল যে, সে এক নারীর সাথে যিনা করেছে। লোকটি ছিল অবিবাহিত, তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে একশত চাবুক মারলেন এবং নারীটির বিরুদ্ধে তার নিকট প্রমাণ চাইলেন। নারীটি বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর কসম সে মিথ্যা বলেছে। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকটির ওপর হাদ্দে কয্ফ জারি করলেন (মিথ্যা তুহমতের হাদ্দ জারী করলেন)। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي بَكْرِ بْنِ لَيْثٍ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَقَرَّ أَنَّهُ زَنَى بِامْرَأَةٍ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَجَلَدَهُ مِائَةً وَكَانَ بِكْرًا ثُمَّ سَأَلَهُ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمَرْأَةِ فَقَالَتْ: كَذَبَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَجُلِدَ حَدَّ الْفِرْيَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: (حَدَّ الْفِرْيَةِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কয্ফ। তথা মিথ্যা অভিযোগ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৭৯-[২৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করে যখন কুরআনের আয়াত নাযিল হলো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর মিম্বার হতে নেমে দু’জন পুরুষ ও একজন মহিলাকে দণ্ড দেয়ার হুকুম করলেন। তখন লোকেরা তাদের ওপর (মিথ্যা অপবাদের) ’হাদ্দ’ জারি করলেন। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَلِكَ فَلَمَّا نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ أَمَرَ بِالرَّجُلَيْنِ وَالْمَرْأَةِ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
ব্যাখ্যা: যে দু’জন পুরুষকে মিথ্যা অপবাদের জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছে তারা হলেন মিসতাহ ইবনু উসামাহ্ ও ইসলামী কবি হাসসান বিন সাবিত আর মহিলাটি হলো হামনাহ্ বিনতু জাহশ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৬৪)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮০-[২৬] নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফিয়্যাহ্ বিনতু আবূ ’উবায়দ (রহঃ) তার নিকট বর্ণনা করেন। একদিন সরকারী এক গোলাম সরকারী কোষাগারের (গনীমাতের) এক বাঁদীর সাথে জোরপূর্বক যিনা করে, এমনকি তার সতীত্বও হরণ করে নেয়। এমতাবস্থায় ’উমার গোলামটিকে (পঞ্চাশটি) চাবুক মারলেন এবং বাঁদীকে শাস্তি দিলেন না। কেননা তার সাথে জোরপূর্রক যিনা করা হয়েছে। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
عَنْ نَافِعٍ: أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَبْدًا مِنْ رَقِيقِ الْإِمَارَةِ وَقَعَ على وليدةٍ من الخُمسِ فاستَكرهَها حَتَّى افتضَّها فَجَلَدَهُ عُمَرُ وَلَمْ يَجْلِدْهَا مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ استكرهها. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা : ‘উমার তাকে পঞ্চাশ বেত্রাঘাত মেরেছেন এবং ছয় মাসের জন্য নির্বাসন দিয়েছেন। কেননা তাদের হাদ্দ হলো স্বাধীন লোকের অর্ধেক। আর দাসীকে শাস্তি দেয়া হয়নি, যেহেতু তাকে জোরপূর্বক করা হয়েছে। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৯৪৯)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮১-[২৭] ইয়াযীদ ইবনু নু’আয়ম ইবনু হাযযাল (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মা’ইয ইবনু মালিক ইয়াতীম ছিলেন এবং সে আমার পিতার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত। অতঃপর তিনি এলাকার এক বাঁদীর সাথে যিনা করেন। তখন আমার পিতা তাকে বলেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাও এবং তুমি যা কিছু করেছ তা তাঁকে এতদসম্পর্কে জানাও। সম্ভবত তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার মাগফিরাতের জন্য দু’আ করবেন এবং এ কথা বলার উদ্দেশ্য তার জন্য গুনাহ মাফের একটি উপায়ন্তর বেরা করা, তাছাড়া আর কিছু ছিল না। অতঃপর মা’ইয এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি যিনা করেছি। আমার ওপর আল্লাহ কিতাবের বিধান কার্যকর করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। মা’ইয পুনরায় বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি যিনা করেছি। আমার ওপর আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা কার্যকর করুন। এমনকি তিনি চারবার স্বীকারোক্তি দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি চারবার স্বীকারোক্তি দিয়েছ। এখন বল, তুমি কার সাথে যিনা করেছ? মা’ইয বললেন, অমুক নারীর সাথে।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি তাকে জড়িয়ে ধরেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি তার সাথে যৌনাচার করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ’রজমের’ আদেশ দিলে তাকে হাররাহ্ নামক অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর যখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করা শুরু হলো তখন পাথরের অসহ্য আঘাতের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে তিনি অধৈর্য হয়ে পড়লেন এবং দৌড়ে পালিয়ে গেলেন। তারপর ’আব্দুল্লাহ ইবনু উনায়স তাকে এরূপ অবস্থায় পেলেন যে, তার সঙ্গীরা পাথর মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন ’আব্দুল্লাহ উটের একটি পায়ের হাড্ডির আঘাতে তাকে মেরে ফেললেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে পুরো বিষয় বর্ণনা করলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না। সম্ভবত সে তওবা্ করত এবং আল্লাহ তা’আলাও তার তওবা্ কবুল করে নিতেন। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمِ بْنِ هَزَّالٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ يَتِيمًا فِي حِجْرِ أَبِي فَأَصَابَ جَارِيَةً مِنَ الْحَيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي: ائْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا صَنَعْتَ لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ لَكَ وَإِنَّمَا يُرِيدُ بِذَلِكَ رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ لَهُ مَخْرَجًا فَآتَاهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِني زنيتُ فأقِمْ عليَّ كتابَ اللَّهِ حَتَّى قَالَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ قَدْ قُلْتَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَبِمَنْ؟ قَالَ: بِفُلَانَةَ. قَالَ: «هَلْ ضَاجَعْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ بَاشَرْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ جَامَعْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ فَأُخْرِجُ بِهِ إِلَى الْحَرَّةِ فَلَمَّا رُجِمَ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ فَجَزِعَ فَخَرَجَ يَشْتَدُّ فَلَقِيَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ وَقَدْ عَجَزَ أَصْحَابُهُ فَنَزَعَ لَهُ بِوَظِيفِ بَعِيرٍ فَرَمَاهُ بِهِ فَقَتَلَهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «هَلَّا تَرَكْتُمُوهُ لَعَلَّهُ أَنْ يَتُوبَ. فَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: হাদীসে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয় যে, যিনার স্বীকারকারী ব্যক্তি যদি পলায়ন করে তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে আর সুস্পষ্টভাবে যদি তার স্বীকারোক্তিকে অস্বীকার করে তাহলে তার হাদ্দ আর প্রয়োগ করা হবে না। আর তা না হলে হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে তথা রজম করা হবে। এটা শাফি‘ঈ ও আহমাদ-এর মত। আর মালিফীর প্রসিদ্ধ মত হলো পলায়ন করলেও হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে।
কারো মতে তাৎক্ষণিক ধরতে পারলে শাস্তি প্রয়োগ করা হবে আর তাৎক্ষণিক ধরতে না পারলে অব্যাহতি দেয়া হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪১০)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮২-[২৮] ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জাতির মাঝে যিনা-ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে তারা দুর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনে পতিত হবে। আর যে জাতির মাঝে ঘুষের ব্যাপক প্রচলন শুরু হবে তারা ভীরুতা ও কাপুরুষতায় পতিত হবে। (আহমাদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الزِّنَا إِلَّا أُخِذُوا بِالسَّنَةِ وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرِّشَا إِلَّا أخذُوا بِالرُّعْبِ» . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: ‘‘যিনার মাধ্যমে অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ পরিবেশ টেনে আনে’’ এর হিকমাহ্ হলো যিনার মাধ্যমে বংশের পরক্রমাকে ধূলিস্যাৎ করা হয় ফলে অভাব-অনটন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে ফসলাদি ধ্বংসের মাধ্যমে।
«الرِّشْوَةُ» নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ঘুষ হলো অন্যায়ভাবে প্রয়োজন হাসিল করা। ঘুষদাতা ঘুষগ্রহণকারী থেকে অন্যায়ভাবে সাহায্য আদায় করে থাকে আর ঘুষ দু’জনের মাঝে তথা ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার মধ্যে কম বেশি করতে প্রচেষ্টা চালায়। আর ঘুষ হলো বালতির রশির ন্যায় যার মাধ্যমে দুরাচারে পৌঁছে যেমন রশির মাধ্যমে পানির নিকট পৌঁছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৩-[২৯] ইবনু ’আব্বাস ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের ন্যায় অপকর্মে লিপ্ত হয়, তার ওপর আল্লাহর লা’নাত (অভিশাপ)। (রযীন)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَلْعُونٌ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ» . رَوَاهُ رَزِينٌ
ব্যাখ্যা: জামি‘ আস্ সগীরে এসেছে : ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
مَلْعُونٌ مَنْ سَبَّ أَبَاهُ مَلْعُونٌ مَنْ سَبَّ أُمَّه، مَلْعُونٌ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللّٰهِ، مَلْعُونٌ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الْأَرْضِ، مَلْعُونٌ مَنْ كَمَهَ أَعْمٰى عَنْ طَرِيقٍ، مَلْعُونٌ مَنْ وَقَعَ عَلٰى بَهِيمَةٍ، مَلْعُونٌ مَنْ عَمِلَ بِعَمَلِ قَوْمِ لُوطٍ
অভিসম্পাত বা লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে তার পিতাকে গালি দেয়, লা‘নাত এ ব্যক্তির ওপর যে তার মাতাকে গালি দেয়, লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে তার আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্যের নামে যাবাহ করে, লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে জমির সীমানাকে পরিবর্তন করে, লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে ব্যক্তি জানোয়ারের সাথে কুকর্ম (সঙ্গম) করে, লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে লূত (আঃ)-এর কওমের ন্যায় কুকর্ম করে, লা‘নাত ঐ ব্যক্তির ওপর যে দিশেহারা ব্যক্তিকে আরো দিশেহারা করে তোলে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৪-[৩০] রযীন-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, ’আলী (রাঃ) এরূপ অপকর্মে (সমকামিতায়) লিপ্ত উভয়কে (যে করে এবং যাকে করে) জ্বালিয়ে দিয়েছেন এবং আবূ বকর উভয়ের উপর দেয়াল চাপা দিয়েছেন।
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ عليَّاً رَضِي الله عَنهُ أحرَقَهما وَأَبا بكرٍ هدم عَلَيْهِمَا حَائِطا
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৫-[৩১] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, যে কোনো পুরুষ বা নারীর গুহ্যদারে সঙ্গম করে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীর)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَنْظُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى رَجُلٍ أَتَى رَجُلًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৬-[৩২] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো জন্তু-জানোয়ারের সাথে যিনা করে, তার ওপর (শার’ঈ) কোনো দণ্ড নেই। (তিরমিয়ী ও আবূ দাঊদ)[1]
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এ হাদীসটি পূর্বে বর্ণিত (যে জানোয়ারের সঙ্গে সঙ্গম করে তাকে তোমরা হত্যা কর) হাদীস হতে অধিক সহীহ। এ হাদীসের উপর ’উলামায়ে কিরামের ’আমল রয়েছে।
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَلَا حَدَّ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ: وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ وَهُوَ: «مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَاقْتُلُوهُ» وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعلم
ব্যাখ্যা: মালিক এবং শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর দু’মত এবং আবূ হানীফাহ্ ও আহমাদ (রহঃ)-এর মতে তাকে তিরস্কার করা হবে হত্যা করা হবে না।
আর ইসহক বলেনঃ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমনটি করে তাহলে হত্যা করা হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৫৫)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৭-[৩৩] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী আত্মীয়-স্বজন সকলের ওপর আল্লাহর দণ্ডবিধি কার্যকর কর। আর আল্লাহর এ বিধান প্রয়োগে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার যেন তোমাদের জন্য বাধা না হয়। (ইবনু মাজাহ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَقِيمُوا حُدُودَ اللَّهِ فِي الْقَرِيبِ وَالْبَعِيدِ وَلَا تَأْخُذْكُمْ فِي اللَّهِ لوْمةُ لائمٍ» . رَوَاهُ ابنُ مَاجَه
ব্যাখ্যা: নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়- এ কথার ভাবার্থ হলো স্বগোত্রীয় ও ভিন্ন গোত্রীয় কিংবা শক্তিধর বা দুর্বল প্রত্যেকের ওপর কার্যকরী হবে।
(لَوْمَةُ لَائِمٍ) চাই তিরস্কারী মতের স্বপক্ষে হোক বা বিরোধী হোক বা মুনাফিক হোক। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৮-[৩৪] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার দণ্ডবিধিসমূহের কোনো একটি দণ্ড কার্যকর করা, আল্লাহ তা’আলার নগরসমূহে চল্লিশ দিন (অবিরত) বৃষ্টি বর্ষণের চেয়েও উত্তম। (ইবনু মাজাহ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بلادِ الله» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদ্দ সমাজে বাস্তবায়ন করা পাপাচার থেকে বিরত থাকার ধমকি স্বরূপ আর আকাশমন্ডলীর রহমাতের দরজার খোলার বরকত স্বরূপ। আর হাদ্দ সমাজে বাস্তবায়ন না থাকলে পাপাচারের দরজাকে উন্মুক্ত করার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে। আর দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টিরও কারণ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫৮৯-[৩৫] আর ইমাম নাসায়ী হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
কাযী ’ইয়ায বলেন, চোরের হাত কাটার বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা মানুষের সম্পদকে হিফাযাত করেছেন। চুরি ব্যতীত অন্যভাবে সম্পদ হরণে, যেমন আত্মসাৎ করা, লুণ্ঠন করা ও ছিনতাই ইত্যাদি হাত কাটার বিধান রাখা হয়নি, কেননা এটা চুরির তুলনায় কম। কেননা এ প্রকার আত্মসাৎ বা লুণ্ঠন মাল ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব প্রকাশকের নিকট দরখাসেত্মর মাধ্যমে। আর এর উপর প্রমাণও সংগ্রহ করা সহজ তবে চুরির ক্ষেত্রে অত সহজ নয়, কেননা তা প্রমাণ করা খুব কমই হয়ে থাকে। ফলে বিষয়টি অনেক বড় এ শাস্তিও কঠিন যাতে তা হতে বিরত হওয়া অধিকতর ভূমিকা পালন করে।
সার্বিকভাবে চোরের হাত কাটার ব্যাপারে সকল মুসলিমরা ঐকমত্য হয়েছেন। আর মতানৈক্য হয়েছে শাখা প্রশাখার ব্যাপারে। (শারহে মুসলিম)
৩৫৯০-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দীনারের (স্বর্ণমুদ্রার) এক-চতুর্থাংশ অথবা তার চেয়ে অধিক পরিমাণ চুরি করা ব্যতীত চোরের হাত কাটা যাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ
عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تُقطعُ يدُ السَّارِقِ إِلاَّ بربُعِ دِينَار فَصَاعِدا»
ব্যাখ্যা: এক বর্ণনায় এসেছে,
لَمْ تُقْطَعْ يَدُ السَّارِقِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ في أقل من ثمن المجن
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় চোরের হাত কাটা হতো কমপক্ষে ঢাল সমপরিমাণ মূল্য চুরি করলে।
অন্য বর্ণনায় আছে,
أَنَّ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَطَعَ النَّبِيُّ ﷺ سَارِقًا فِي مِجَنٍّ قِيمَتُه ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঢাল চুরির দায়ে চোরের হাত কাটিয়েছেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম। অন্য বর্ণনায় আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ লা‘নাত করেছেন চোরকে যে ডিম চুরি করে, তার হাত কাটা হয় এবং রশি চুরি করে তারও হাত কাটা হয়।
সকল ‘উলামারা চুরির হাত কাটতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে মতানৈক্য করেছেন কী পরিমাণ চুরি করলে হাত কাটা হবে।
জাহিরীরা বলেছেন, কোনো নিসাব বা পরিমাণ শর্ত না, কম হোক আর বেশি হোক চুরি করলেই হাত কাটা হবে। অনুরূপ মত ইমাম শাফি‘ঈ-এর মেয়ের ছেলে আর কাযী ‘ইয়ায, হাসান বাসরী, খাওয়ারিজ এবং আহলুয্ যাহির অনুরূপ মত ব্যক্ত করেন। তারা ‘আমভাবে আল্লাহর বাণী থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন।
‘‘যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩৮)
আর জুমহূর ‘উলামারা বলেন, নিছাব পরিমাণ হলে হাত কাটা হবে এ সমস্ত সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত। অতঃপর মতানৈক্য করেছে নিছাবের পরিমাণ নিয়ে ইমাম শাফি‘ঈর মতে দীনারের (স্বর্ণমুদ্রার) এক-চতুর্থাংশ বা সমপরিমাণ মূল্য, চাই তার মূল্য তিন দিরহাম হোক বা তার চেয়ে কম হোক বা বেশী হোক। আর এর কম হলে হাত কাটা যাবে না। এ মতে অধিকাংশরা গেছেন এটা ‘আয়িশাহ্, ‘উমার বিন ‘আব্দুল ‘আযীয, আওযা‘ঈ, লায়স, আবূ দাঊদ, ইসহক প্রমুখের মত দাঊদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত এবং মালিক, আহমাদ, ইসহক-এর নিকট দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তিন দিরহামে হাত কাটা হবে এর কমে হাত কাটা যাবে না।
আর সুলায়মান বিন ইয়াসীর ইবনু শুব্রম্নমাহ্ ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। পাঁচ দিরহামের কমে হাত কাটা যাবে না। আর আবূ হানীফাহ্ ও তার সাথীদের মতে দশ দিরহাম সর্বাধিক। সঠিক মত হলো শাফি‘ঈ-এর মত। কেননা এ সমস্ত হাদীসগুলো সুস্পষ্ট প্রমাণ করে «لَمْ تُقْطَعْ يَدُ السَّارِقِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ في أقل من ثمن المجن» ঢালের সমপরিমাণ মূল্যের কম হলে চোরের হাত কাটা হবে না। এর জবাব হাদীসটি শাফি‘ঈ-এর মতের স্বপক্ষে প্রমাণ করে। কেননা ঢালের মূল্য প্রায় দীনারের এক-চতুর্থাংশ।
আর হানাফীরা দশ দিরহাম সংক্রান্ত হাদীসের জবাবে হাদীস দুর্বল। সুতরাং শাফি‘ঈ-এর মত অধিক শক্তিশালী। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮৪)
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯১-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কেটে ছিলেন। যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَطَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ سَارِقٍ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯২-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ঐ সকল চোরের ওপর অভিসম্পাত করেছেন, যে একটি ডিম চুরির অপরাধে তার হাত কাটা হয়। আর যে একটি রশি চুরি করে এবং তারও হাত কাটা হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ السارِقَ يسرقُ البيضةَ فتُقطعُ يَده وَيسْرق الْحَبل فتقطع يَده»
ব্যাখ্যা: নববী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে দলীল প্রমাণিত হয় যে, পাপীদেরকে অনির্দিষ্ট করে লা‘নাত করা বৈধ। কেননা কোনো জিনস্ বা জাতিকে লা‘নাত করা ‘আম, যেমন আল্লাহর বাণী : ‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর লা‘নাত যালিমদের ওপর আর নির্ধারিত করে কাউকে লা‘নাত দেয়া অবৈধ।’’ (সূরা হূদ ১১ : ১৮)
ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ লা‘নাত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে স্তর। তিরস্কার বা লাঞ্ছিত করা যেমন বলা হয়। কারো নিকট একজন ব্যক্তি সম্মানিত এবং মর্যাদাসম্পন্ন কিন্তু আল্লাহ তাকে হাত কাটার মাধ্যমে তার নিকট তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে তোলেন।
بَيْضَةً (বায়যাহ্) দ্বারা উদ্দেশ্য লৌহ নির্মিত শিরস্ত্রাণ। রশি দ্বারা নৌকা বা জাহাজ বাঁধার রশি। কারো মতে ইসলামের প্রথম দিকে হাত কাটা হতো। পরে তা রহিত হয়েছে।
অথবা কোনো ব্যক্তি প্রথমে রশি অর্থাৎ খুব নগণ্য জিনিস চুরি করলো পরে এই বদ অভ্যাসেই হাত কাটার দিকে নিয়ে যায়। কারো মতে ধমকানো, কারো মতে হাত কাটা হবে রাজনৈতিক নীতিতে। আল্লাহই ভালো জানেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৩-[৪] রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গাছের ফল এবং খেজুরের থোড় চুরির অপরাধে কারো হাতে কাটা যাবে না। (মালিক, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী ও ইবনু মাজাহ)[1]
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ» رَوَاهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
ব্যাখ্যা: ইমাম আবূ হানীফার মতে এ হাদীসের আলোকে ফল চুরিতে হাত কাটা যাবে না, চাই তা সংরিক্ষত হোক বা না হোক। এর উপর তিনি ক্বিয়াস করে বলেছেন গোশ্ত/গোশত, দুধ ও পানীয় চুরি করলেও হাত কাটা যাবে না।
আবার অনেকে সংরক্ষিত ফলের ক্ষেত্রে চুরি করলে হাত কাটতে হবে- এটা মালিক ও শাফি‘ঈ-এর মত। আর শাফি‘ঈ গাছের ঝুলন্ত ফলকে অরক্ষেত হিসেবে তা’বীল করেছেন।
আর মদীনার অধিকাংশ খেজুরের বাগানে কোনো দেয়াল ছিল না।
আর ‘আমর বিন শু‘আয়ব-এর হাদীসে প্রমাণিত হয়, সুরক্ষিত ফল হাত কাটা হবে যা সামনে আসবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৪-[৫] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গাছ থেকে ফল চুরির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে গাছ থেকে ফল কেটে খলায় স্তূপকৃত, সংগ্রহ করার পর কেউ তাত্থেকে চুরি করল এবং তার মূল্য যদি একটি ঢালের সমপরিমাণও হয়, তবুও সে হাত কাটার অপরাধী হবে। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الثَّمَرِ الْمُعَلَّقِ قَالَ: «مَنْ سَرَقَ مِنْهُ شَيْئًا بَعْدَ أَنْ يُؤْوِيَهُ الْجَرِينَ فَبَلَغَ ثَمَنَ الْمِجَنِّ فَعَلَيْهِ الْقَطْعُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে কিছু মাসআলাহ্ সাব্যস্ত হয়-
প্রথমতঃ যদি গ্রহণ করে নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য তাহলে তা বৈধ। তথা ক্ষুধার্থ হলে ক্ষুধা নিবারণের জন্য গ্রহণ করা বৈধ।
দ্বিতীয়তঃ তা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়াটা হারাম, আর বের করে নিয়ে যাওয়াটা হতে পারে বিভক্ত হওয়া বা গাছ হতে চয়ন করে স্তূপীকৃত করা পরে বা পূর্বে। যদি বিভক্ত হওয়ার পূর্বে হয় তাহলে তার ওপর জরিমানা ও শাস্তি হবে। আর যদি কর্তন ও স্তূপীকৃত হওয়ার পরে হয় তাহলে নিসাব পরিমাণ হলে হাত কর্তন করা হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৮২)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৫-[৬] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্দুর রহমান ইবনু আবূ হুসায়ন আল মাক্কী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গাছে দৃশ্যমান ফল এবং পাহাড়ে বিচরণশীল জন্তু-জানোয়ার চুরির অপরাধে হাত কাটা যাবে না। তবে কেউ যদি পাহাড়ে বিচরণশীল জন্তু-জানোয়ার স্বীয় আশ্রয়স্থলে হয় এবং ফল খলায় স্তূপকৃত হয় তাহলে সেখান থেকে চুরির অপরাধে হাত কাটা হবে, যদি চুরির মাল ঢালের মূল্যের সমান হয়। (মালিক)[1]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ الْمَكِّيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ معلَّقٍ وَلَا فِي حَرِيسَةِ جَبَلٍ فَإِذَا آوَاهُ الْمُرَاحُ وَالْجَرِينُ فَالْقَطْعُ قيمًا بلغ ثمن الْمِجَن» . رَوَاهُ مَالك
ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেনঃ حَرِيسَةِ দ্বারা উদ্দেশ্য পাহাড়ে সংরক্ষিত এমন বিচরণশীল প্রাণী যা পাহাড়ে চড়ে এবং তার রাখাল রয়েছে। কারো মতে রাতে চুরিকৃত ছাগল আর পাহাড়ের দিকে সম্বোধন করা উদ্দেশ্য, কেননা চোর তা চুরি করে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যায় যাতে চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত হতে পারে।
আর হাদীসে রয়েছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : পাহাড়ে বিচরণশীল জানোয়ার সম্পর্কে। জবাবে বলেছেনঃ অনুরূপ জরিমানা লাগবে। ইবনু হুমাম বলেছেনঃ যদি চুরি করা হয় রেলগাড়ী থেকে উট বা অন্য কোনো মালামাল তাহলে হাত কাটা যাবে না, কেননা তা দ্বারা সংরক্ষণ উদ্দেশ্য না। কেননা সংরক্ষণের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। এই ড্রাইভার চালক ও বহনকারী ব্যক্তিরা তাদের উদ্দেশ্য হলো গন্তব্যস্থনে পৌঁছানো। সংরক্ষণের জন্য না, যদিও বহনের সময় পাহাদার থাকে। আবার কেউ বলেন হাত কাটা হবে কারণ মালামাল বস্থাতে ভরে রাখা সংরক্ষণের মতই। আর তিন ইমামের নিকট হাত কাটা হবে, কেননা ড্রাইভার চালক বহনকারী ব্যক্তিরা পাহাদারের মতো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৬-[৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছিনতাইকারীর হাত কাটা যাবে না। আর যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে ছিনতাই করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ عَلَى الْمُنْتَهِبِ قَطْعٌ وَمَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً مَشْهُورَةً فَلَيْسَ مِنَّا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: الهب ছিনতাই, যে জিনিস দিব্য বা প্রকাশ্যে নেয়া হয় গোপনে বা প্রচ্ছন্ন নেয়া হয় না। আর যা হয়ে থাকে জোরপূর্বক তাতে হাত কাটা যাবে না। কেননা চুরির হুকুম না থাকায়।
(فَلَيْسَ مِنَّا) আমাদের মিল্লাত বা আদর্শের অন্তর্ভুক্ত না। ধমকি স্বরূপ বলা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৮৩)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৭-[৮] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মসাৎকারী, ছিনতাইকারী ও লুটতরাজকারীর হাত কাটা যাবে না। (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]
وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ وَلَا مُنْتَهِبٍ وَلَا مُخْتَلِسٍ قَطْعٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي
ব্যাখ্যা: হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, লুটকারী, ছিনতাইকারী ও আত্মসাৎকারীর হাত কাটা যাবে না। ইবনু হুমাম হানাফী বলেনঃ এটা আমাদের মাযহাব বাকী অন্য তিন মাজহাবও আর এটা ‘উমার, ইবনু মাস্‘ঊদ ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এরও মাযহাব। ‘উলামারাও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে ইসহক, আহমাদ-এর অপর এক বর্ণনায় হাত কাটা হবে।
ইমাম নববী বলেন, কাযী ‘ইয়ায বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা চোরের হাত কাটাকে ফরয করেছেন আর অন্য কারো জন্য করেননি। যেমন ছিনতাইকারী, আত্মসাৎকারী ও লুটপাটকারী; কেননা চুরির তুলনায় এটা কম, আর এ প্রকারের সম্পদ প্রশাসকের নিকট আবেদনের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব, আর প্রমাণ সংগ্রহ করাও সহজ হয় তবে চুরির ক্ষেত্রে অত সহজ নয়। কেননা তা প্রমাণ করা খুব কমই হয়ে থাকে ফলে বিষয়টি অনেক বড় এবং এর শাস্তিও অনেক কঠিন, যাতে তা হতে বিরত হওয়া অধিকতর ভূমিকা পালন করে থাকে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৮৪; মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৮-[৯] আর ’শারহুস্ সুন্নাহ্’তে বর্ণিত আছে যে, একদিন সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ্ মদীনায় আসলেন, অতঃপর স্বীয় চাদরটি বালিশের ন্যায় মাথার নিচে রেখে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন এক চোর এসে চাদরটি তুলে নিতে উদ্যত হলে সফ্ওয়ান তাকে ধরে ফেললেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসলেন। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কাটার হুকুম দিলেন। কিন্তু সফ্ওয়ান বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে এ কারণে নিয়ে আসেনি যে, আপনি (চুরির দায়ে) তার হাত কেটে দেবেন। আমি মূলত চাদরটি তাকে সাদাকা করে দিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে আমার নিকট আনার পূর্বেই তো তুমি তাকে সাদাকা করে দিতে পারতে?[1]
وَرُوِيَ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» : أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَنَامَ فِي الْمَسْجِدِ وَتَوَسَّدَ رِدَاءَهُ فَجَاءَ سَارِقٌ وَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأَخَذَهُ صَفْوَانُ فَجَاءَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ أَنْ تُقْطَعَ يَدُهُ فَقَالَ صَفْوَانُ: إِنِّي لَمْ أُرِدْ هَذَا هُوَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَهَلا قبل أَن تَأتِينِي بِهِ»
ব্যাখ্যা: সফ্ওয়ান বিন উমাইয়্যাহ্ বিন খালফ আল জাহমী আল কুরাশী। তিনি মক্কা বিজয়ের দিনে পলায়ন করেছিলেন তার নামে মৃত্যুর পরওয়ানা ছিল। তার জন্য নিরাপত্তা চাইলেন ‘উমার বিন ওয়াহ্ব এবং তার পুত্র ওয়াহ্ব বিন ‘উমায়র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট। অতঃপর তিনি নিরাপত্তা দিলেন আর আমানত স্বরূপ তাদের দু’জনকে তার চাদর দিলেন। সফ্ওয়ান-এর জন্য ওয়াহ্ব তাকে পেলেন এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন। আর সফ্ওয়ান বললেন, ওয়াহ্ব দাবী করেছে, আপনি আমাকে দু’ মাসের জন্য নিরাপত্তা দিয়েছেন। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহ্বকে বললেনঃ তাকে আরো বেশি সময়ের জন্য নিরাপত্তা দাও। তখন সফ্ওয়ান বললেন, এটা যেন সুস্পষ্ট হয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য চার মাসের নিরাপত্তা দিলেন। আর তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুনায়নে বের হলেন, তিনি হুনায়নের যুদ্ধ আর ত্বায়িফের কাফিরদেরকে প্রত্যক্ষ করলেন, আর তিনি তাদেরকে গনীমাতের মাল অনেক দিলেন। তখন সফ্ওয়ান বললেন, আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি! এই নাবী কতই না উত্তম নাবী সেদিনই ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তিনি মক্কায় অবস্থান করলেন ও মদীনায় হিজরত করলেন। তিনি ‘আব্বাস -এর কাছে মেহমান হলেন আর বিষয়টি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আব্বাস (রা) উপস্থাপন করলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই তথা মদীনাহ্ হিজরত নেই। সফ্ওয়ান জাহিলী যুগের কুরাইশদের সম্মানিত ব্যক্তি এবং কবিও ছিলেন। ইসলামে আসার জন্য যাকে অনুদান দেয়া হতো তার ইসলাম গ্রহণ চমৎকার ছিল।
হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেনঃ মাথার নীচে কোনো কিছু রাখা বিশুদ্ধ মতে তা সংরক্ষিত বলে বিবেচিত হবে।
হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, চোরকে প্রশাসকের নিকট পেশ করার পূর্বে ক্ষমা করা বৈধ।
আর প্রশাসকের নিকট উপস্থাপন করলে হাত কাটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা রহিত করা হবে না। অনুরূপ বক্তব্য ত্বীবী এবং ইবনু মালিক বলেন। ইবনু হুমাম বলেন, চোরকে চুরির জন্য যখন হাত কাটার ফায়সালা দিবে এমতাবস্থায় মালিক যদি চুরিকৃত সম্পদ দান করে দেয় তাকে অথবা তাকে হেবা করে দেন অথবা বিক্রি করে দেয় তাহলে হাত কাটা যাবে না। আর যুফার, শাফি‘ঈ, আহমাদ-এর মতে হাত কাটা হবে। যা সফ্ওয়ান-এর হাদীস সুস্পষ্ট প্রমাণ করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৫৯৯-[১০] আর ইবনু মাজাহ্ হাদীসটি ’আবদুল্লাহ ইবনু সফ্ওয়ান থেকে, তিনি তার পিতা হতে অনুরূপই বর্ণনা করেছেন।[1]
وَرَوَى نَحْوَهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن صَفْوَان عَن أَبِيه
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০০-[১১] আর দারিমী বর্ণনা করেছেনঃ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে।[1]
والدارمي عَن ابْن عَبَّاس
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০১-[১২] বুসর ইবনু আরত্বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যুদ্ধাভিযানে থাকা অবস্থায় চোরের হাত কাটা যাবে না। (তিরমিযী, দারিমী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1] তবে আবূ দাঊদ ও নাসায়ী ’যুদ্ধের’ স্থলে ’’সফর’’ বলেছেন (অর্থাৎ- সফর অবস্থায় চোরের হাত কাটা যাবে না)।
وَعَنْ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تُقْطَعُ الْأَيْدِي فِي الْغَزْوِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا: «فِي السّفر» بدل «الْغَزْو»
ব্যাখ্যা: ইমাম আওযা‘ঈ বলেন, সফর হোক কিংবা জিহাদ কোনো অবস্থাতেই চোরের হাত কর্তিত হবে না। আবার কেউ বলেন, এখানে الْغَزْوِ জিহাদ অর্থ হলো গনীমাত বা যুদ্ধলব্ধ মাল বিতরণের পূর্বে ওটা চুরি করলে হাত কাটা যাবে না। কেননা উক্ত মালের মধ্যে তার এক অংশ আছে যদিও ওটা অনির্দিষ্ট। আবার কেউ কেউ বলেন, হাত কাটার অধিকার রয়েছে ইমাম বা খলীফার, সেনা শাসকের নয়। কাজেই তিনি হাদ্দ কার্যকরী করতে পারেন না। আবার কেউ বলেন, শত্রুর মোকাবেলা যুদ্ধস্থলে বা শত্রুর এলাকায় ‘‘হাদ্দ’’ বা শারী‘আত শাস্তি প্রয়োগ করলে ফিতনা তথা শত্রুর সাথে মিশে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই সফর কিংবা জিহাদে যে কোনো অপরাধের শাস্তি কার্যকর হবে না বরং ওটা থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত মূলতবী রাখতে হবে। তবে ইমাম আবূ হানীফাহ্ বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের পরিধি সেই এলাকা পর্যন্ত বিসত্মৃতি হলে শাস্তি কার্যকর করা যেতে পারে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০২-[১৩] আবূ সালামাহ্ (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোর সম্পর্কে বলেছেনঃ যদি কেউ চুরি করে তাহলে প্রথম তার (ডান) হাত কেটে দাও। যদি সে পুনরায় চুরি করে তাহলে তার (বাম) পা কেটে দাও। অতঃপর যদি সে পুনরায় চুরি করে তাহলে তার (বাম) হাত কেটে দাও। আবার যদি সে (চতুর্থবার) চুরি করে তাহলে তার (ডান) পা কেটে দাও। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]
وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ فِي السَّارِقِ: «إِنْ سَرَقَ فَاقْطَعُوا يَدَهُ ثُمَّ إِنْ سَرَقَ فَاقْطَعُوا رِجْلَهُ ثُمَّ إِنْ سَرَقَ فَاقْطَعُوا يَدَهُ ثُمَّ إِنْ سَرَقَ فَاقْطَعُوا رِجْلَهُ» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة
ব্যাখ্যা: প্রথমবার চুরি করলে ডান হাত এবং দ্বিতীয়বার চুরি করলে বাম পা কাটা হবে এ ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন।
ইবনু হুমাম বলেনঃ অধিকাংশ ‘উলামার নিকট পায়ের টাখনু পর্যন্ত কাটা হবে। ‘উমার (রাঃ) এমনটি করেছেন। আবূ হাওর বলেনঃ পায়ের অর্ধেক, জুতার ফিতা বাধার স্থান থেকে। কেননা ‘আলী এমনটি করেছেন। যাতে পায়ে পিছনের অংশ রাখা হবে যাতে হাঁটতে পারে।
এ হাদীস অনুযায়ী ইমাম শাফি‘ঈ-এর মতে চারবার চুরি করলে বিপরীত দিক থেকে হাত পা কাটা হবে। আর ইমাম আবূ হানীফাহ্ বলেন, দু’বার পর্যন্ত বিপরীত দিক থেকে হাত পা কাটা যাবে, যদি তৃতীয়বার চুরি করে তাহলে যাবজীবন কারাগার আটক রাখতে হবে। সহাবায়ি কিরাম এ ব্যাপারে ইজমা করেছেন। আর উপরোক্ত হাদীস সহী হলে তা ধমকানো অথবা রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত বলে প্রমাণ করে। যেমন আমাদের কতক ‘আলিম বলে থাকেন, শারহুস্ সুন্নাতে রয়েছে, সবাই একমত হয়েছে, প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার চুরি করলে বিপরীতভাবে হাত পা কাটা হবে আর এরপরে চুরি করলে, কাটার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। কারো মতে তৃতীয়বার চুরি করলে বাম হাত কাটা হবে আর চতুর্থ বার চুরি করলে ডান পা কাটা হবে, এর পরে চুরি করলে তাকে তিরস্কার করা হবে এবং কারাবন্দী করে রাখবে। এটা আবূ বাকর থেকে বর্ণিত। আর ‘আলী থেকে বর্ণিত, তৃতীয়বার চুরি করলে হাত কাটা যাবে না। আর হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেন, তৃতীয়বার চুরি করলে তিরস্কার করা হবে এবং কারাদণ্ড দিতে হবে সে তাওবাহ্ করবে অথবা মৃত্যুবরণ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৩-[১৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক চোরকে ধরে আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ করলেন, তার (ডান) হাত কেটে দাও। সুতরাং তার হাত কেটে ফেলা হলো। পরে পুনরায় চুরির দায়ে তাকে দ্বিতীয়বার আনা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার (বাম) পা কেটে দাও। সুতরাং তার পা কেটে ফেলা হলো। এরপর পুনরায় তৃতীয়বার তাকে চুরির অপরাধে আনা হলো। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, তার (বাম) হাত কেটে দাও। সুতরাং তার হাত কেটে ফেলা হলো। পরে চতুর্থবার তাকে চুরির অপরাধে আনা হলো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, তার (ডান) পাও কেটে দাও। সুতরাং তার পাও কেটে ফেলা হলো। তারপর পঞ্চমবার তাকে চুরির অপরাধে উপস্থিত করা হলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবার তাকে হত্যার হুকুম দিলেন। সুতরাং আমরা তাকে টেনে নিয়ে এসে একটি কূপের মধ্যে ফেলে দিলাম এবং তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করলাম। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: جِيءَ بِسَارِقٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقُطِعَ ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّانِيَةَ فَقَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقُطِعَ ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقُطِعَ ثُمَّ جِيءَ بِهِ الرَّابِعَةَ فَقَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقُطِعَ فَأُتِيَ بِهِ الْخَامِسَةَ فَقَالَ: «اقْتُلُوهُ» فَانْطَلَقْنَا بِهِ فَقَتَلْنَاهُ ثُمَّ اجْتَرَرْنَاهُ فَأَلْقَيْنَاهُ فِي بِئْرٍ وَرَمَيْنَا عَلَيْهِ الحجارةَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
ব্যাখ্যা: কতক ‘আলিম বলেন, হাদীস যদি সহীহ হয় এটা মানসূখ বা রহিত। لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدٰى ثَلَاثٍ কোনো মুসলিমের রক্ত হালাল না তবে তিনটির যে কোনো একটি পাওয়া গেলে বৈধ। কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে, বিবাহিত পুরুষ বা স্ত্রী যিনা করলে, আর মুরতাদ হলে। এ হাদীস দ্বারা আর সিরাজিয়্যাহ্-তে রয়েছে, শাসকের জন্য রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গীতে হত্যা করা বৈধ।
ইমাম খত্ত্বাবী বলেনঃ চোর যত বারই চুরি করুক না কেন কিন্তু কোনো ইমাম বা ফাকীহের মতে তাকে হত্যা করা জায়িয নেই। অতএব, বর্ণিত হাদীসে কতল করার নির্দেশ এজন্য দেয়া হয়নি যে, সে চোর- চুরি করেছে, বরং সে দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সমাজের মধ্যে ফাসাদ ও অশান্তি সৃষ্টি করেছে। সুতরাং শাসক একজন দুস্কৃতিকারীর জন্য দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি কার্যকর করতে পারেন।
আমরা তাকে নিয়ে গেলাম এবং তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর তাকে টেনে এনে একটি কূপের মধ্যে ফেলে দিলাম। ত্বীবী বলেনঃ এটা প্রমাণ করে তার হত্যাটি ছিল লাঞ্ছনা ও অপমানকর। অথচ কোনো মুসলিমের সাথে এ ধরনের আচরণ সমীচীন নয় যদিও কবীরা গুনাহ করে, কেননা সে সালাত আদায় করে আর বিশেষ করে শাস্তি প্রয়োগ ও পবিত্রতার পর সম্ভবত তার সাথে এ আচরণের কারণ হলো যে, মুরতাদ হয়েছিল আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি জেনেছিলেন যেমনটি ‘উরায়নাহ্ গোত্রের ক্ষেত্রে জেনেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৪-[১৫] আর ইমাম বাগাবী (রহঃ) শারহুস্ সুন্নাহ্-তে ’চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গে’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, ’তার হাত কেটে দাও এবং গরম তেল দিয়ে তা দাগিয়ে দাও।’[1]
وَرُوِيَ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ فِي قَطْعِ السَّارِقِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْطَعُوهُ ثمَّ احسموه»
ব্যাখ্যা: ইবনু হুমাম বলেনঃ কাটার ক্ষতস্থানে গরম ঈতল দেয়ার দলীল হাকিমের হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّه عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ أُتِيَ بِسَارِقٍ سَرَقَ شَمْلَةً فَقَالَ ﷺ : مَا أَخَالُه سَرَقَ، فَقَالَ السَّارِقُ : بَلٰى يَا رَسُولَ اللّٰهِ فَقَالَ : اذْهَبُوا بِه فَاقْطَعُوهُ ثُمَّ احْسِمُوهُ، ثُمَّ ائْتُونِي بِه. فَقُطِعَ ثُمَّ حُسِمَ ثُمَّ أُتِيَ فَقَالَ : تُبْتُ إِلَى اللّٰهِ قَالَ : تَابَ اللّٰهُ عَلَيْكَ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একজন চোরকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আনা হলো। সে একটি জুববা বা পাগড়ী চুরি করেছিল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আমার ধারণা, তুমি চুরি করনি। চোরটি বললো, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! চুরি করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে নিয়ে যাও এবং তার হাত কাটো। অতঃপর গরম তৈল ক্ষতস্থানে দিবে। তারপর আমার কাছে নিয়ে আসবে। হাত কাটা হলো এবং তৈল দেয়া হলো। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হলো আর চোরটি বললো, আমি আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ করেছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার তাওবাহ্ আল্লাহ কবুল করেছেন। হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৫-[১৬] ফাযালাহ্ ইবনু ’উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক চোরকে আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। পরে তিনি হুকুম দিলেন এবার তার হাত কেটে যেন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হয় (যাতে অন্যেরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে)। অতএব ঐ হাত তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হলো। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্)[1]
وَعَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بسارقٍ فقُطِعَتْ يَدَهُ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَعُلِّقَتْ فِي عُنُقِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
ব্যাখ্যা: এটা অন্য লোকেদের জন্য চুরি করা হতে বিরত থাকার দৃষ্টান্ত হবে।
ইবনু হুমাম বলেনঃ শাফি‘ঈ ও আহমাদ থেকে বর্ণিত, চোরের হাত কাটার পর তা তার গর্দানে লটকানো সুন্নাহ। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা আদেশ করেছেন।
আমাদের (হানাফীদের) নিকট বিষয় ‘আম্ প্রশাসকের জন্য তিনি যদি মনে করেন লটকাবে না হলে লটকাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মুল্লা ‘আলী কারী বলেনঃ শারহেস্ সুন্নাহ্-তে বলেন, গোলাম যখন চুরি করে, চাই পলায়নকারী হোক বা না হোক। ইবনু ‘উমার থেকে বর্ণিত, তার দাস চুরি করেছে আর সে পলায়নকারী ছিল। তিনি তাকে ধরে সা‘ঈদ বিন ‘আস-এর নিকট পাঠালেন যাতে তার হাত কেটে দেয়। সা‘ঈদ অস্বীকার করলেন এবং বললেন, না, পলায়নকারী গোলামের হাত কাটা যাবে না, সে যখন চুরি করবে। ‘আব্দুল্লাহ বললেন, আপনি এটা কোন্ কিতাবে পেয়েছেন? অতঃপর ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন এবং হাত কাটা হলো। ‘উমার বিন ‘আব্দুল ‘আযীয এমনটি আদেশ করেছেন।
ইহা শাফি‘ঈ, মালিক ও বলা চলে সকল ‘উলামার অভিমত। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪০৩)
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৬-[১৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গোলাম যদি চুরি করে তাহলে তাকে বিক্রি করে ফেল, যদিও বিশ দিরহামের (রৌপ্যমুদ্রার) বিনিময় হয়। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا سَرَقَ الْمَمْلُوكُ فَبِعْهُ وَلَوْ بِنَشٍّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: এক উকিয়ার অর্ধেক অর্থাৎ বিশ দিরহামকে এক নাশ্ব বলে। অর্থাৎ তাকে অতি সামান্য মূল্য হলেও বিক্রয় করে দাও।
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৭-[১৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক চোরকে আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কেটে দিলেন। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা বুঝতে পারিনি যে, আপনি তার হাত কেটে দেবেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যদি (আমার মেয়ে) ফাত্বিমাহ্ও হত, তবুও আমি তার হাত কেটে দিতাম। (নাসায়ী)[1]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَارِقٍ فَقَطَعَهُ فَقَالُوا: مَا كُنَّا نَرَاكَ تَبْلُغُ بِهِ هَذَا قَالَ: «لَوْ كانتْ فاطمةُ لقطعتَها» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ
ব্যাখ্যা: আল্লাহর ‘‘হাদ্দ’’ কায়িম করার ব্যাপারে কোনো অনুকম্পার অবকাশ নেই। যেমন আল্লাহর বাণী: وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللّٰهِ ‘‘আল্লাহর আইন কার্যকর করার ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়ামায়া তোমাদেরকে যেন প্রভাবিত না করে’’- (সূরা আন্ নূর ২৪ : ২)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৮-[১৯] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি তার এক গোলামকে ’উমার (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে এসে বলল, তার হাত কেটে দিন। কেননা সে আমার সহধর্মিণীর আয়না চুরি করেছে। তখন ’উমার বললেনঃ তার হাত কাটা যাবে না। কারণ সে তোমাদের খাদিম, সে তোমাদের জিনিসই নিয়েছে। (মালিক)[1]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بِغُلَامٍ لَهُ فَقَالَ: اقْطَعْ يَدَهُ فَإِنَّهُ سرقَ مرآةَ لأمرأتي فَقَالَ عمَرُ رَضِي اللَّهُ عَنهُ: لَا قَطْعَ عَلَيْهِ وَهُوَ خَادِمُكُمْ أَخَذَ مَتَاعَكُمْ. رَوَاهُ مَالك
ব্যাখ্যা : ইবনু হুমাম বলেনঃ মুনীব যদি তার মুকাতাবের (নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে মুক্ত হবে এমন গোলাম) অর্থ সম্পদ চুরি করে তাহলে সর্বসম্মতভাবে হাত কাটা হবে না। কেননা মুনীবের অধিকার আছে তার সম্পদে।
অনুরূপভাবে যদি মুকাতাব যদি তার মুনীবের সম্পদ চুরি করে তাহলে তার হাত কাটা যাবে না। কেননা সে তার দাস এমনকি তার মুনীবের স্ত্রীরও সম্পদ চুরি করে। আর তা এজন্য যে, সম্পদ তার দৃষ্টির বা নাগালের বাইরে রক্ষিত বা গচ্ছিত না।
আর ইমাম মালিক, আবূ সাওর এবং ইবনুল মুনযির-এর মতে কুরআন ‘আম্ আমানাতের দলীল প্রমাণ করে হাত কাটা যাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ
৩৬০৯-[২০] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার খিদমাতে উপস্থিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ঐ সময় তুমি কি করবে, যখন আকস্মিক মহামারিতে ব্যাপকভাবে মানুষ মারা যাবে। এমনকি একটি ঘরের তথা কবরের মূল্য একটি গোলামের মূল্যের সমপরিমাণ হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক অবগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এমতাবস্থায় তুমি ধৈর্যধারণ করবে। হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান বলেন : কাফন চোরের হাত কাটা যাবে। কারণ সে মৃত ব্যক্তির ঘরে (চুরির উদ্দেশে) প্রবেশ করেছে। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ قَالَ: «كَيْفَ أَنْتَ إِذَا أَصَابَ النَّاسَ مَوْتٌ يَكُونُ الْبَيْتُ فِيهِ بِالْوَصِيفِ» يَعْنِي الْقَبْرَ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّبْرِ» قَالَ حمَّادُ بنُ أبي سُليمانَ: تُقْطَعُ يَدُ النَّبَّاشِ لِأَنَّهُ دَخَلَ عَلَى الْمَيْتِ بيتَه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
ব্যাখ্যা: ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইমাম মুহাম্মাদ প্রমুখগণ বলেন, দাফনের পর কবর থেকে মৃত লাশের কাফন চুরি করলে চোরের হাত কাটা যাবে না। কেননা কবর গৃহের ন্যায় সুরক্ষিত স্থান নয় এবং তাতে কোনো পাহারাদারও নেই। এমন গৃহকে সুরক্ষিত বলা যায় না। এরূপ ঘর থেকে চুরি হলে চোরের হাত কাটা যাবে না। অবশ্য শাসক অন্য যে কোনো শাস্তি দিতে পারেন। তবে ইমাম আবূ হানীফাহ্-এর প্রসিদ্ধ উস্থায হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান ও অন্যান্য ইমামগণ বলেন, কাফন চোরের হাত কাটা যাবে। তার উক্ত হাদীসের শব্দ থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরকে (বায়ত) গৃহ বলেছেন। আর গৃহ থেকে চুরি করলে হাত কর্তিত হয়। কিন্তু শুধু ‘গৃহ’ শব্দ দ্বারা কাফন চুরির প্রতি ‘‘হাদ্দ’’ সাব্যস্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা কবর গৃহ হলেও সুরক্ষিত নয়। অথচ সুরক্ষিত মাল চুরি ব্যতীত হাদ্দ প্রযোজ্য হয় না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ
ইমাম মুসলিম (রহঃ) ’দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ নিষেধ’ এর মাধ্যমে তিনি অনেক হাদীস নিয়ে এসেছেন। আর এটা বনী ইসরাঈলের ধ্বংসের কারণ। আর সকল ’উলামারা ঐকমত্য হয়েছেন শাসকের নিকট পৌঁছার পর হাদ্দ বাস্তবায়ন না করার সুপারিশ হারাম আর শাসকের নিকট বিচার পৌঁছার পূর্বে সুপারিশ বৈধ যদি সুপারিশকৃত ব্যক্তি খুব খারাপ এবং মানুষকে কষ্টদানকারী না হয়। এরূপ যদি হয় তাহলে সুপারিশ বৈধ নয়। আর পাপীদের ক্ষেত্রে কোনো হাদ্দ নেই, আর ওয়াজিব হলো তাকে শাসানো এবং তাকে ভয় দেখানোর ব্যাপারে সুপারিশ বৈধ চাই প্রশাসকের নিকট পৌঁছুক বা না পৌঁছুক। আর সুপারিশ করা বৈধ যদি সুপারিশকৃত ব্যক্তি মানুষকে কষ্টদায়ক না হয়।
৩৬১০-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাখযূমী গোত্রের জনৈকা নারীর চুরির ব্যাপারে কুরায়শগণ অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে পড়েছিল। তারা (পরস্পরের মধ্যে) বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ এতদসম্পর্কে কে সুপারিশ করবে? তারাই পুনরায় বলল, উসামাহ্ ইবনু যায়দ ব্যতীত কে আছে, এ ব্যাপারে সাহস করার? কেননা সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অত্যন্ত আস্থাভাজন। অতঃপর উসামাহ্ তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এতদসম্পর্কে জানালেন। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ক্রোধান্বিত হয়ে) বললেন, তুমি আল্লাহ তা’আলার দণ্ডবিধিতে এই সুপারিশ করছ?
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে বক্তব্যদানকালে বললেন, হে লোক সকল! নিঃসন্দেহে তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ আচরণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে যে, যদি তাদের মধ্যে কোনো সম্মানী লোক চুরি করত, তাহলে তাকে মাফ করে দিত। আর যদি কোনো অসহায় দরিদ্র শ্রেণীর লোক চুরি করত, তবে তার ওপর দণ্ড কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাত্বিমাহ্ও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেনঃ মাখযূমী গোত্রের জনৈকা নারী লোকেদের নিকট হতে কোনো জিনিসপত্র ধার নিলে, পরে তা দিতে অস্বীকার করত। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর উক্ত নারীর আত্মীয়-স্বজনেরা উসামাহ্ -এর নিকট এসে (অনুরোধের জন্য) আলোচনা করল। তখন উসামাহ্ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলোচনা করলেন। অতঃপর অবশিষ্ট ঘটনা পূর্বোল্লিখিত হাদীসের ন্যায় হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
بَابُ الشَّفَاعَةِ فِى الْحُدُوْدِ
عَن عائشةَ رَضِي الله عَنْهَا أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟» ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي روايةٍ لمسلمٍ: قالتْ: كانتِ امرأةٌ مخزوميَّةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَطْعِ يَدِهَا فَأَتَى أَهْلُهَا أُسَامَةَ فَكَلَّمُوهُ فَكَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَطْعِ يَدِهَا فَأَتَى أَهْلُهَا أُسَامَةَ فَكَلَّمُوهُ فَكَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا ثمَّ ذكرَ الحديثَ بنحوِ مَا تقدَّمَ
ব্যাখ্যা: (وَايْمُ اللّٰهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ سَرَقَتْ) ‘‘আল্লাহর কসম, যদি ফাত্বিমাহ্ চুরি করত’’ দ্বারা দলীল প্রমাণিত হয় কসম তলব না করলেও কসম করা বৈধ আর কোনো বিষয় বা কোনো কিছু হয় তাহলে কসম করা মুস্তাহাব- এ ব্যাপারে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। আর সকল ‘উলামাহ্ বলেছেন, ঐ মহিলার হাত কাটা হয়েছিল। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮৮)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ
৩৬১১-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহ তা’আলার দণ্ডবিধিতে প্রতিবন্ধক হয়, সে যেন আল্লাহ তা’আলার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো। আর যে ব্যক্তি স্বজ্ঞানে কোনো অন্যায় বা অপকর্মের পক্ষে বিবাদে লিপ্ত হলো, সে তা বর্জন না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলার ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির মধ্যে পড়ে রইল। আর যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনের ব্যাপারে এমন মিথ্যারোপ রটাল, অথচ তার মধ্যে দোষ-ত্রুটি নেই। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত সে যা রটিয়েছিল তার থেকে (তওবা্ করে) মুক্ত ও পবিত্র না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামীদের দূষিত রক্ত ও পুঁজের মধ্যে অবস্থান করাবেন। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
আর বায়হাক্বী-এর শু’আবুল ঈমান-এর এক বর্ণনাতে আছে, যে ব্যক্তি এমন কোনো ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে সহায়ক হলো। অথচ তার এতটুকুও জানা নেই যে, তা ন্যায়সঙ্গত বা অন্যায় কিনা। এমতাবস্থায় সে তা পরিহার না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলার অসন্তুষ্টির মধ্যে বিদ্যমান থাকবে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ فَقَدَ ضَادَّ اللَّهَ وَمَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِي سُخْطِ اله تَعَالَى حَتَّى يَنْزِعَ وَمَنْ قَالَ فِي مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ أَسْكَنَهُ اللَّهُ رَدْغَةَ الْخَبَالِ حَتَّى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَفِي روايةٍ للبيهقيِّ فِي شعبِ الْإِيمَان «مَنْ أَعانَ على خُصُومَةً لَا يَدْرِي أَحَقٌّ أَمْ بَاطِلٌ فَهُوَ فِي سَخطِ اللَّهِ حَتَّى ينْزع»
ব্যাখ্যা: প্রশাসকের নিকট পৌঁছার পর দণ্ডবিধির সুপারিশের মাধ্যমে দণ্ডবিধির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
মুল্লা ‘আলী কারী বলেনঃ আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন না করার সুপাররিশের মাধ্যমে।
(وَمَنْ خَاصَمَ فِىْ بَاطِلٍ) আর যে লোক জেনে শুনে বাতিল বা অন্যায় সমর্থনে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, সে জানে এটা বাতিল বা সে জানে সে সত্যের বিরুদ্ধে ঝগড়া করে।
(حَتّٰى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ) কাযী বলেনঃ আল্লাহর নিকট তাওবার মাধ্যমে বের হয়ে আসা। আর যে বিষয়ে কথা বলেছে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিবে।
আশরাফ বলেনঃ আল্লাহ রক্ত পুঁজের মধ্যে অবস্থান করাবেন ঐ পাপের শাস্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত। আর তা শেষ হলে সেখান থেকে বের করে আনবেন।
আর কাযী ‘ইয়ায বলেনঃ এটা হলো গীবাতের জন্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৫৯৪)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ
৩৬১২-[৩] আবূ উমাইয়্যাহ্ আল মাখযূমী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক চোরকে আনা হলো। সে সুস্পষ্টভাবে চুরির স্বীকারোক্তি দিলো; কিন্তু তার নিকট চুরির কোনো জিনিস পাওয়া গেল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার ধারণা যে, তুমি চুরি করনি। তবুও সে বলল, হ্যাঁ, আমি চুরি করেছি। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত কথাটি দুই কি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। কিন্তু সে প্রত্যেকবারই চুরি করার কথা স্বীকার করল। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, ফলে তার হাত কাটা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাকে উপস্থিত করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তওবা্ করো। সে বলল, আমি আল্লাহর নিকট মাফ চাচ্ছি এবং তওবা্ করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেনঃ হে আল্লাহ! তার তওবা্ কবুল করো। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্, দারিমী)[1]
গ্রন্থকার (রহঃ) বলেন : উপরোল্লিখিত চারটি কিতাবের মতো জামি’উল উসূল, শু’আবুল ঈমান ও মা’আলিমুস্ সুনান-এর মধ্যেও আমি এ হাদীসটি আবূ উমাইয়্যাহ্ হতে বর্ণিত পেয়েছি।
وَعَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى بِلِصٍّ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَخَالُكَ سَرَقْتَ» . قَالَ: بَلَى فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يَعْتَرِفُ فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ» فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ تُبْ عليهِ» ثَلَاثًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ هَكَذَا وجدتُ فِي الْأُصُول الْأَرْبَعَة وجامع الْأُصُول وَشُعَبُ الْإِيمَانِ وَمَعَالِمُ السُّنَنِ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ
ব্যাখ্যা: (مَا أَخَالُكَ سَرَقْتَ) আমার ধারণা মতে তুমি চুরি করনি।
শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে দলীল প্রমাণিত হয় যে, হাদ্দ প্রয়োগকৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার তলব করা এবং তার জন্য দু‘আ করা তাওবার মাধ্যমে। তার ক্ষমা প্রার্থনার পর আরো সাব্যস্ত হয় তাকে সে বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়া যাতে তার হাদ্দ মাওকূফ হয়ে যায় (যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ধারণা তুমি চুরি করনি)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৭২)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডবিধির ব্যাপারে সুপারিশ
৩৬১৩-[৪] কিন্তু মাসাবীহ-এর মূল গ্রন্থে বর্ণনাকারীর নাম আবূ রিমসাহ্ বলা হয়েছে, অর্থাৎ- ء (হামযাহ্) ও ي (ইয়া)-এর পরিবর্তে ر (রা) ও ث (সা) রয়েছে।[1]
وَفِي نُسَخِ الْمَصَابِيحِ عَنْ أَبِي رِمْثَةَ بِالرَّاءِ والثاء الْمُثَلَّثَة بدل الْهمزَة وَالْيَاء
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ الخمر (খামর) আভিধানিক অর্থ হলো আচ্ছন্ন করা। মহিলাদের মাথা, চুল ইত্যাদি যে কাপড় দ্বারা আবৃত বা আচ্ছাদিত করা হয় তাকে الخمر ’’খামর’’ বলা হয় আর এজন্য খামর নাম রাখা হয়েছে যে মদ পানের মাধ্যমে জ্ঞান ও বুদ্ধি আচ্ছাদিত হয়। কারো মতে মদ হলো যে জিনিসই মাদকতা সৃষ্টি করে। মদ তৈরি করা হয় আঙ্গুর ও খেজুর থেকে। ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেন :
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: صَنَعَ لَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ طَعَامًا فَدَعَانَا وَسَقَانَا مِنَ الْخَمْرِ فَأَخَذَتِ الْخَمْرُ مِنَّا، وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَقَدَّمُونِىْ فَقَرَأْتُ: قُلْ يٰاَيُّهَا الْكَافِرُوْنَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ وَنَحْنُ نَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ. قَالَ: فَأَنْزَلَ اللّٰهُ تَعَالٰى يٰاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارٰى حَتّٰى تَعْلَمُوْا مَا تَقُولُوْنَ
’আলী ইবনু আবূ তালিব থেকে বর্ণিত। ’আবদুর রহমান বিন ’আওফ খানার আয়োজন করেন এবং আমাদেরকে দা’ওয়াত দিলে আমাদেরকে মদও পান করালেন। মদের ক্রিয়া আমাদেরকে আক্রমণ করল। এমতাবস্থায় সালাতের সময়ও হলো তারা আমাকে ইমামতির দায়িত্ব দিলো আমি সূরা কাফিরূন পড়তে লাগলাম। আমি তাতে পড়লাম, অর্থাৎ- ’’তুমি বল, হে কাফির সম্প্রদায়! আমি ’ইবাদাত করি না, তোমরা যার ’ইবাদাত কর, আর আমরা তার ’ইবাদাত করছি তোমরা যার ’ইবাদাত করছো।’’ তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন, অর্থাৎ ’’হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন সালাতের ধারে-কাছেও যেও না। যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৩)
ইবনু হুমাম বলেনঃ যদিও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি মুরতাদ হয় তার স্ত্রী তালাক হয় না, কেননা কুফরীর বিষয়টি বিশ্বাস ও অবজ্ঞাকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্য কুফরীর হুকুম লাগানো হয়েছে রসিকতাকারীকে বিশ্বাসের সাথে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, ’আলী (রাঃ)-এর সূরা আল কাফিরূন-এর আয়াতটির তিলাওয়াত ছিল ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিত, ইচ্ছাকৃত না।
এ অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট মাসআলার মধ্যে অন্যতম একটি মাস্আলাহ্ হলো যদি কেউ মদ পান করে এবং গন্ধ চলে যাওয়ার পর স্বীকার করে তাহলে তার ওপর হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে না- ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইউসুফ-এর মতে। তবে মুহাম্মাদের মতে হাদ্দ প্রয়োগ হবে। অনুরূপ গন্ধ চলে যাওয়ার পর কেউ সাক্ষী দেয় তাহলেও হাদ্দ প্রয়োগ হবে না। আর মাতাল অবস্থায় হাদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না জ্ঞান ফিরে আসার পর হাদ্দ প্রয়োগ করতে হবে। এ ব্যাপারে চার ইমামই ঐকমত্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
৩৬১৪-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ পানের জন্য খেজুর গাছের ডাল ও জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। আর আবূ বকর চল্লিশ চাবুক মেরেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ حَدِّ الْخَمْرِ
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَرَبَ فِي الْخَمْرِ بِالْجَرِيدِ والنِّعالِ وجلَدَ أَبُو بكرٍ رَضِي الله عَنهُ أربعينَ
ব্যাখ্যা: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ পানকারীকে খেজুর গাছের ডাল ও জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। এটা প্রমাণ করে নির্ধারিত সংখ্যা ছাড়া প্রহার করেছেন। আগত হাদীসে চল্লিশ বেত্রাঘাতের কথা এসেছে প্রথমে সংখ্যা উল্লেখ বলা হয়নি পরবর্তীতে সংখ্যা বলা হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬১৫-[২] অপর এক বর্ণনায়, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ পানকারীকে জুতা ও খেজুরের ডাল দ্বারা চল্লিশবার প্রহার করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ حَدِّ الْخَمْرِ
وَفِي رِوَايَة عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَضْرِبُ فِي الْخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَالْجَرِيدِ أَرْبَعِينَ
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬১৬-[৩] সায়িব ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, আবূ বকর এবং ’উমার (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রারম্ভে মদ্যপায়ীকে আনা হত। তখন আমরা আমাদের হাত, জুতা এবং চাদর দ্বারা প্রহার করতাম। কিন্তু ’উমার -এর খিলাফাতের শেষ দিকে তিনি চল্লিশ চাবুক মারতেন। পরিশেষে তারা অতিমাত্রায় মদ্যপানের দরুন ব্যাপকভাবে পাপকার্যে জড়িয়ে পড়ল, তখন তিনি আশি চাবুক মারেন। (বুখারী)[1]
بَابُ حَدِّ الْخَمْرِ
وَعَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ يُؤْتَى بِالشَّارِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِمْرَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ فَنَقُومُ عَلَيْهِ بِأَيْدِينَا وَنِعَالِنَا وَأَرْدِيَتِنَا حَتَّى كَانَ آخِرُ إِمْرَةِ عُمَرَ فَجَلَدَ أَرْبَعِينَ حَتَّى إِذَا عَتَوْا وَفَسَقُوا جَلَدَ ثَمَانِينَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: (حَتّٰى كَانَ اٰخِرُ إِمْرَةِ عُمَرَ فَجَلَدَ أَرْبَعِينَ) দৃশ্যত নির্ধারিত চল্লিশ বেত্রাঘাত সংঘটিত হয়েছিল। ‘উমার -এর শাসনামলে শেষের দিকে আর খালিদ বিন ওয়ালীদ-এর ঘটনা আশি বেত্রাঘাত। তা ছিল ‘উমার -এর শাসনামলের মাঝখানে। কেননা খালিদ বিন ওয়ালীদ ‘উমার -এর মাঝামাঝি শাসনামালে মারা গেছেন।
(وَفَسَقُوْا) তথা আনুগত্য থেকে বের হয়েছে আর নাসায়ী বর্ণনা «فَلَمْ يَنْكُلُوا» তথা আহবানে সাড়া দেয়নি।
(جَلَدَ ثَمَانِينَ) অর্থাৎ আশি বেত্রাঘাত করলেন। ‘‘মুসনাদ ‘আব্দুর রাযযাক’’-এ সায়িব হতে সহীহ সানাদে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, ‘উমার প্রথমে চল্লিশ বেত্রাঘাত চালু করেন যখন তাদেরকে দেখলেন তারা বিরত হচ্ছে না তখন ষাট বেত্রাঘাত চালু করেন। এরপরেও যখন তারা বিরত হলো না তখন আশি বেত্রাঘাত চালু করেন এবং বলেন, এটা সর্বনিম্ন হাদ্দ। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৭৭৯)
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬১৭-[৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে চাবুক মারো। যদি সে (পর্যায়ক্রমে) চতুর্থবারও মদ পান করে, তাহলে তাকে হত্যা কর। রাবী বলেন, অতঃপর একদিন জনৈক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হলো, যে চতুর্থবার মদ পান করেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে প্রহার করলেন কিন্তু হত্যা করেননি। (তিরমিযী)[1]
عَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ» قَالَ: ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ فِي الرَّابِعَةِ فَضَرَبَهُ وَلَمْ يقْتله. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: মুল্লা ‘আলী কারী বলেনঃ হত্যা করা উদ্দেশ্য কঠোরভাবে শাস্তি প্রদান করা। বিষয়টি ধমকানো উদ্দেশ্য, কেননা পূর্বের এবং পরের যুগের কোনো ‘আলিমই মদ্যপায়ীকে হত্যা করতে আদেশ দেননি। অথবা কারো ভাষ্যমতে ইসলামে প্রাথমিক যুগে এ বিধান ছিল পরে তা মানসূখ তথা রহিত হয়েছিল। আমি ভাষ্যকার বলি, ইমাম তিরমিযী দ্বিতীয় মত প্রাধান্য দিয়েছেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৪৪)
ইমাম নববী বলেনঃ সকল মুসলিম মদ্যপান হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন আর মদ্যপানকারীর ওপর দণ্ড প্রয়োগ করা ওয়াজিব চাই কম পান করুক বা বেশী পান করুক। আর বার বার পুনরাবৃত্তি করলেও হত্যা করা যাবে না।
আর কাযী ‘ইয়ায ও স্বল্প সংখ্যক ‘উলামাহ্ বলেছিল হত্যা করা হবে চতুর্থবারে মদ পান করলে। এ হাদীসের আলোকে এটা বাতিল মত ইজমা বিরোধী আর এটা রহিত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীস দ্বারা
«لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ»
কোনো মুসলিমের রক্ত হালাল না তবে তিনটি কারণ পাওয়া গেলে হত্যা বৈধ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬১৮-[৫] আর আবূ দাঊদ এ হাদীসটি কবীসাহ্ ইবনু যুআয়ব হতে বর্ণনা করেন।[1]
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَن قبيصَة بن دؤيب
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬১৯-[৬] এছাড়া তিরমিযী ও আবূ দাঊদ-এর অপর বর্ণনাতে এবং নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ এবং দারিমীর বর্ণনাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী রয়েছে, যাদের মধ্যে ইবনু ’উমার, মু’আবিয়াহ্, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ও শারীদ প্রমুখ এ হাদীস ’তাকে হত্যা করে দাও’ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।[1]
وَفِي أُخْرَى لَهُمَا وَلِلنَّسَائِيِّ وَابْنِ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيِّ عَنْ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَمُعَاوِيَةُ وَأَبُو هُرَيْرَة والشريد إِلَى قَوْله: «فَاقْتُلُوهُ»
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬২০-[৭] ’আবদুর রহমান ইবনু আযহার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা যা এখনো আমি চোখে দেখছি। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন ব্যক্তিকে আনা হলো যে মদ পান করেছিল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেদেরকে বললেনঃ তোমরা একে প্রহার করো। সুতরাং তাদের কেউ জুতার দ্বারা, আবার কেউ লাঠির দ্বারা এবং কেউ খেজুরের ডাল দ্বারা লোকটিকে প্রহার করল। রাবী ইবনু ওয়াহব বলেনঃ مِيْتَخَةْ এর অর্থ হলো- খেজুরের কাঁচা ডাল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিন থেকে কিছু মাটি উঠিয়ে তার মুখে নিক্ষেপ করলেন। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَزْهَرِ قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَقَالَ لِلنَّاسِ: «اضْرِبُوهُ» فَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالنِّعَالِ وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالْعَصَا وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالْمِيتَخَةِ. قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: يَعْنِي الْجَرِيدَةَ الرَّطْبَةَ ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُرَابًا مِنَ الْأَرْضِ فَرَمَى بِهِ فِي وجهِه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাটি তুলে তার মুখে নিক্ষেপ করলেন নিন্দা ও ভৎর্সনার জন্য সে যা পাপ কাজ করেছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৭৭)
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬২১-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলো, যে মদ পান করেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা তাকে প্রহার করো। সুতরাং আমাদের কেউ তাকে হাত দ্বারা, কেউ চাদর দ্বারা, কেউ জুতার দ্বারা প্রহার করল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এরূপ কাজের জন্য তোমরা তাকে নিন্দা ও ভৎর্সনা করো। সুতরাং লোকেরা তার সম্মুখপানে তিরস্কার করতে বলল, তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না, তোমার কি আল্লাহর ’আযাবের ভয় নেই। তুমি এরূপ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আসতে লজ্জাবোধ হলো না? অতঃপর জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ তোমাকে হেয় ও লাঞ্ছিত করুক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ বলো না (বদ্দু’আ করো না)। এরূপ বলে তার ওপর শায়ত্বনকে প্রাধান্য দিও না; বরং তোমরা এভাবে বলো- হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করো। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شربَ الخمرَ فَقَالَ: «اضْرِبُوهُ» فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ ثُمَّ قَالَ: «بَكِّتُوهُ» فَأَقْبَلُوا عَلَيْهِ يَقُولُونَ: مَا اتَّقَيْتَ اللَّهَ مَا خَشِيتَ اللَّهَ وَمَا اسْتَحْيَيْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: أَخْزَاكَ اللَّهُ. قَالَ: لَا تَقُولُوا هَكَذَا لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ وَلَكِنْ قُولُوا: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: কাযী ‘ইয়ায বলেনঃ তার ব্যাপারে শায়ত্বনের সাহায্য করো না- এ কথার অর্থ হলো যদি আল্লাহর রহমাত থেকে বঞ্চিত হয় তবে শায়ত্বন তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে ফলে সে আরো অধিক পাপে লিপ্ত হবে। অথব যখন সে আল্লাহর রহমাত ও দয়া থেকে নিরাশ ও হতাশ হয়ে যাবে তখন আরো জঘন্যতম পাপ করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। আর শায়ত্বন এটাই চায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬২২-[৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মদ্যপায়ী হয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে রইল। তখন লোকেরা তাকে এমন অবস্থায় পেল যে, সে রাস্তায় মাতলামী করছে। অতঃপর লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ধরে আনতে লাগল। অতঃপর সে যখন ’আব্বাস -এর ঘরের সন্নিকটবর্তী হলো, তখন সে লোকেদের হাত থেকে ছুটে গিয়ে ’আব্বাস -এর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এতদসম্পর্কে বর্ণনা করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেসে দিলেন এবং বললেনঃ সে কি এমন (অপরাধ) করেছে? অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেননি। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: شَرِبَ رَجُلٌ فَسَكِرَ فَلُقِيَ يَمِيلُ فِي الْفَجِّ فَانْطُلِقَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا حَاذَى دَارَ الْعَبَّاسِ انْفَلَتَ فَدَخَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ فَالْتَزَمَهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فضحكَ وَقَالَ: «أفعَلَها؟» وَلم يأمرْ فيهِ بشيءٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ এটা দলীল হিসেবে সাব্যস্ত যে, মদপানের দণ্ড সবচেয়ে হালকা আর সকল কুকর্মের মধ্যে এর ভয়াবহতা হালকা।
আর সম্ভাবনা রয়েছে ‘আব্বাস -এর ঘরে প্রবেশ করার পরও তাকে হাদ্দ কায়িমের নির্দেশ দেয়া হয়নি, কেননা মদ পান করার তার স্বীকারোক্তি অথবা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত হয়নি শুধু মাতলামীর বর্ণনা দ্বারা হাদ্দ প্রযোজ্য হয় না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৬৬)
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬২৩-[১০] ’উমায়র ইবনু সা’ঈদ আন্ নাখ’ঈ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ (কোনো অপরাধে) কারো ওপর আমি দণ্ড প্রয়োগের দরুন যদি সে মারা যায়, তাহলে আমি এজন্য অনুতপ্ত বা দুঃখ প্রকাশ করি না। কিন্তু মদ্যপায়ীর ব্যাপারটি ব্যতিক্রম। যদি সে মারা যায় তাহলে আমি তার দিয়াত (জরিমানা) আদায় করি, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দণ্ড নির্ধারণ করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
عَن عُمَيْر بن سعيد النخفي قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ: مَا كُنْتُ لِأُقِيمَ عَلَى أَحَدٍ حَدًّا فَيَمُوتَ فَأَجِدَ فِي نَفْسِي مِنْهُ شَيْئًا إِلَّا صَاحِبَ الْخَمْرِ فَإِنَّهُ لَوْ مَاتَ وَدَيْتُهُ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يسنه
ব্যাখ্যা: (فَإِنَّه لَوْ مَاتَ وَدَّيْتُه) যদি সে মদ্যপায়ী শাস্তি প্রয়োগে মৃত্যুবরণ করেছে তখন আমি তার (দিয়াত) জরিমানা আদায় করেছি যে হকদার তাকে। এ হাদীসের ব্যাখ্যা নাসায়ী ও ইবনু মাজায় এসেছে।
عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ مَنْ أَقَمْنَا عَلَيْهِ حَدًّا فَمَاتَ فَلَا دِيَةَ لَهُ إِلَّا مَنْ ضَرَبْنَاهُ فِي الْخَمْرِ
‘উমায়র বিন সা‘দ বলেন, ‘আলী বলেনঃ যাদের ওপর দণ্ড প্রয়োগ করে তাতে যদি মারা যায় তাহলে কোনো জরিমানা নেই, তবে যাদেরকে মদ পানের জন্য প্রহার করে (তাতে মারা গেলে সে বিষয়টি স্বতন্ত্র)। আর সকলেই ঐকমত্য হয়েছে দণ্ড প্রয়োগে প্রহারের ফলে মারা গেলে হত্যাকারীর ওপর কোনো জরিমানা নেই, তবে মদ্যপানের ওপর প্রয়োগ করলে মারা গেলে জরিমানা আছে। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৭৭৮)
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদ পানের দণ্ডবিধি
৩৬২৪-[১১] সাওর ইবনু যায়দ আদ্ দায়লামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার মদ্যপায়ীর দণ্ডের ব্যাপারে সাহাবীগণের নিকট পরামর্শ চাইলেন। তখন ’আলী বললেনঃ আমি মনে করি তাকে আশিবার চাবুক মারা হোক। কেননা যখন সে মদ পান করে, তখন সে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আর নেশাগ্রস্থের দরুন আবোল-তাবোল কথা বকতে থাকে, এমনকি তখন সে মিথ্যা অপবাদও রটায়। তখন ’উমার মদ্যপায়ীকে আশিবার চাবুক মারার নির্দেশ দিলেন। (মালিক)[1]
وَعَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدَّيْلِمِيِّ قَالَ: إِنَّ عُمَرَ اسْتَشَارَ فِي حَدِّ الْخَمْرِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: أَرَى أَنْ تَجْلِدَهُ ثَمَانِينَ جَلْدَةً فَإِنَّهُ إِذَا شَرِبَ سَكِرَ وَإِذَا سَكِرَ هَذَى وَإِذَا هذَى افْتَرى فجلدَ عمرُ رَضِي الله عَنهُ فِي حَدِّ الْخَمْرِ ثَمَانِينَ. رَوَاهُ مَالِكٌ
ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেনঃ মদ্যপানের দণ্ড মিথ্যা অপবাদ দেয়া ব্যক্তির মতো তথা আশি বেত্রাঘাত।
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদ্দু‘আ না করা
৩৬২৫-[১] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তির নাম ছিল ’আবদুল্লাহ, কিন্তু তাকে ’হিমার’ (গাধা) উপাধিতে ডাকা হতো। সে (অবোধের ন্যায় কথাবার্তা বলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসাতো। একদিন মদ্যপায়ীর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর দণ্ড প্রয়োগ করেছিলেন। এরপর আবার একদিন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে চাবুক মারার নির্দেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহ! তার ওপর তোমার অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। কতবারই না তাকে এ অপরাধে আনা হলো? এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে অভিশাপ দিও না। আল্লাহর শপথ! আমি তার সম্পর্কে জানি যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালোবাসে। (বুখারী)[1]
بَابُ مَالَا يُدْعٰى عَلَى الْمَحْدُوْدِ
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رجلا اسمُه عبدُ اللَّهِ يُلَقَّبُ حمارا كَانَ يُضْحِكُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَلَدَهُ فِي الشَّرَابِ فَأُتِيَ بِهِ يَوْمًا فَأَمَرَ بِهِ فَجُلِدَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: اللَّهُمَّ الْعَنْهُ مَا أَكْثَرَ مَا يُؤْتَى بِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تلعنوه فو الله مَا عَلِمْتُ أَنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: প্রথমটি তার নাম, দ্বিতীয়টি তার উপাধি। (كَانَ يُضْحِكُ النَّبِىَّ ﷺ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসাতেন তবে তার উপস্থিতিতে অথবা এমন কাজ করতেন যাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতেন।
আবূ ‘ইয়ায হিশাম বিন সা‘দ, তিনি যায়দ বিন আসলাম-এর সানাদে বলেন যে, এক ব্যক্তি তাকে গাধা নামে উপাধি দেয়া হতো তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘি এবং মধুর কোটা বা থলে উপহার দিতেন আর যখন ঘি বা মধুর মালিক এসে তাকে তাগাদা দিতো (মূল্যের জন্য) তিনি তখন তাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসতেন এবং বলতেন একে তার মূল্য দিয়ে দিন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হাসতেন, অতঃপর বলতেন তাকে দাও।
তিনি আল্লাহর রসূলকে ভালোবাসতেন। যখনই তিনি মদীনাতে প্রবেশ করতেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু ক্রয় করে নিয়ে এসে বলতেন। এটা আপনার জন্য হাদিয়া। যখন দোকানদার এসে মূল্য চাইতো তখন তিনি বলতেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি মূল্যটি দিয়ে দিন জবাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : তুমি কি আমাকে এটা হাদিয়া হিসেবে প্রদান করনি? তখন লোকটি বলতেন আমার কাছে তো তেমন কিছুই নেই। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতেন আর আদেশ দিতেন দোকানদারকে মূল্য দিতে। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৭৮০)
হাদীসের শিক্ষা:
* উপাধি নামে ডাকা বৈধ।
* পাপ কাজ করা সত্ত্বেও পাপীর অন্তরে আল্লাহ এবং রসূলের ভালোবাসা বিদ্যমান থাকে।
* মদ্যপান বার বার করলে দণ্ড হিসেবে হত্যা করা যাবে না। ইবনু ‘আব্দুল বার বলেন, লোকটিকে পঞ্চাশ বারের অধিক মদ্যপানের অপরাধে নিয়ে আসা হয়েছিল।
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদ্দু‘আ না করা
৩৬২৬-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলো, যে মদ পান করেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাকে প্রহার করো। রাবী বলেনঃ তখন আমাদের মাঝে কেউ হাত দ্বারা, কেউ জুতার দ্বারা, আবার কেউ বা কাপড় (পেঁচিয়ে লাঠির মতো বানিয়ে তা) দ্বারা আঘাত করল। অতঃপর লোকটি যখন চলে গেল, তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুক। তখন এটা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ বলো না। তার ওপর শায়ত্বনকে সাহায্য করো না। (বুখারী)[1]
بَابُ مَالَا يُدْعٰى عَلَى الْمَحْدُوْدِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَقَالَ: «اضْرِبُوهُ» فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: أَخْزَاكَ اللَّهُ قَالَ: «لَا تَقُولُوا هَكَذَا لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
ব্যাখ্যা: (لَا تَقُوْلُوْا هٰكَذَا لَا تُعِيْنُوْا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ) তোমরা তাকে এরূপ বলো না, তার প্রতি শায়ত্বনকে সাহায্য করো না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, لَا تَكُونُوا عَوْنَ الشَّيْطَانِ عَلٰى أَخِيكُمْ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে শায়ত্বনের সাহায্যকারী হয়ো না।
আর তাদের সাহায্য শায়ত্বনকে করার অর্থ হলো শায়ত্বন চায় তার পাপকাজ তাকে সৌন্দর্যম--ত করুক আর তা পাপীকে লাঞ্ছিত এর মাধ্যমে অর্জিত হয় আর যখন লোকেরা পাপীকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে এতে শায়ত্বনের উদ্দেশ্য সফল হয়। আর আবূ দাঊদে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে, وَلٰكِنْ قُولُوا اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللّٰهُمَّ ارْحَمْهُ বরং তোমরা বলো, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করো এবং তার প্রতি দয়া কর। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৭৭৭)
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদ্দু‘আ না করা
৩৬২৭-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মা’ইয আল আসলামী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্বীকারোক্তি দিল যে, সে জনৈকা নারীর সাথে অবৈধ কাজ করেছে। সে কথাটি চারবার স্বীকার করল, কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দিক হতে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তথাপিও সে প্রত্যেকবারই একই কথার পুনরাবৃত্তি করল। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঞ্চমবারে তার দিকে ফিরে বললেনঃ তুমি কি ঐ মহিলার সাথে সহবাস করেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আচ্ছা! তোমার পুরুষাঙ্গ তার লজ্জাস্থানের মধ্যে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল? সে বলল : হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তবে কি যেমনটি সুরমা শলাকা সুরমাদানির মধ্যে এবং রশি কুপের ভিতরে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে যায়। সে বলল : জ্বী, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি জানো যিনা কাকে বলে? সে বলল : হ্যাঁ, জানি। আমি তার সাথে অবৈধভাবে এমন কাজ করেছি, যা কোনো মানুষ তার স্ত্রীর সাথে বৈধভাবে সঙ্গম করে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এসব কথার দ্বারা কি বলতে চাচ্ছ? সে বলল : আমি চাই আপনি আমাকে পাক-পবিত্র করে দেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার নির্দেশ করলেন। ফলে তাকে হত্যা করা হলো।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দু’জন সাহাবীকে বলতে শুনলেন, তাদের মধ্যে একে অপরকে বলছে- এ লোকটির প্রতি লক্ষ্য করো। আল্লাহ তা’আলা যার দোষ-ত্রুটি গোপন করেছিলেন, কিন্তু তার নাফ্স তাকে ছাড়ল না। ফলে তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো যেভাবে কুকুরকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। তাদের উভয়ের কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব থাকলেন। তারপর কিছুক্ষণ পথ চলাকালে হঠাৎ এমন একটি মৃত গাধার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন যার পা ফুলে উপরের দিকে উঠে রয়েছে। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : অমুক, অমুক! (ঐ দু’ ব্যক্তি) কোথায়? তারা বলল : হে আল্লাহর রসূল! এই তো আমরা। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা দু’জন নামো এবং এ মৃত গাধাটির গোশ্ত/মাংস খাও। তারা দু’জন বলল : হে আল্লাহর নবী! এ মৃত গাধার গোশ্ত/মাংস কে খেতে পারবে? অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কিছুক্ষণ পূর্বেই তোমাদের ভাইয়ের যে ইয্যত-আব্রু নষ্ট করেছ, তা এই মৃত গাধার গোশ্ত/মাংস খাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ছিল। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার জীবন। নিঃসন্দেহে সে (মা’ইয ) এখন জান্নাতের নহরসমূহে ডুব দিয়ে (ঘুড়ে) বেড়াচ্ছে। (আবূ দাঊদ)[1]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ الْأَسْلَمِيُّ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ أَصَابَ امْرَأَةً حَرَامًا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ فَأَقْبَلَ فِي الْخَامِسَةِ فَقَالَ: «أَنِكْتَهَا؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «حَتَّى غَابَ ذَلِكَ مِنْكَ فِي ذَلِكَ مِنْهَا» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كَمَا يَغِيبُ الْمِرْوَدُ فِي الْمُكْحُلَةِ وَالرِّشَاءُ فِي الْبِئْرِ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «هَلْ تَدْرِي مَا الزِّنَا؟» قَالَ: نَعَمْ أَتَيْتُ مِنْهَا حَرَامًا مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِهِ حَلَالًا قَالَ: «فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا الْقَوْلِ؟» قَالَ: أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَسَمِعَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ فَسَكَتَ عَنْهُمَا ثُمَّ سَارَ سَاعَةً حَتَّى مَرَّ بِجِيفَةِ حِمَارٍ شَائِلٍ برجلِهِ فَقَالَ: «أينَ فلانٌ وفلانٌ؟» فَقَالَا: نَحْنُ ذَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ: «انْزِلَا فَكُلَا مِنْ جِيفَةِ هَذَا الْحِمَارِ» فَقَالَا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ يَأْكُلُ مِنْ هَذَا؟ قَالَ: «فَمَا نِلْتُمَا مِنْ عَرْضِ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ أَكْلٍ مِنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ الْآنَ لَفِي أنهارِ الجنَّةِ ينغمسُ فِيهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এসব প্রশ্ন করার কারণ হলো অজ্ঞতার দ্বারা তার সাক্ষ্য থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা যাতে তার ওপর কঠিন শাস্তি বাস্তবায়ন না হয় এবং আল্লাহর অধিকার আছে সহজ করা আর ইমাম তথা বিচারকের জন্য বৈধ আছে আসামীর অস্বীকারের কারণে দণ্ড মাওকূফ করা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদ্দু‘আ না করা
৩৬২৮-[৪] খুযায়মাহ্ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করে এবং তার ওপর ঐ অপরাধের দণ্ড কার্যকর হয়, তখন উক্ত দণ্ডই তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]
وَعَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا أُقِيمَ عَلَيْهِ حَدُّ ذَلِكَ الذَّنْبِ فَهُوَ كفارتُه» رَوَاهُ فِي شرح السّنة
ব্যাখ্যা: (كَفَّارَتُه) তার অপরাধের কাফফারা হয়ে যায় তথা সেই গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
ইবনু হাজার ‘আরবা‘ঈন হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, শুধু দণ্ড কায়িম করা কাফফারা স্বরূপ যেমন মুসলিমের হাদীস তবে তা দণ্ডের পাপের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর তাওবাহ্ ছেড়ে দেয়ার দৃষ্টিতে তথা তাওবাহ্ না করলে দণ্ডও কাফফারা হিসেবে কার্যকর হবে না, সুতরাং অবশ্যই তাওবাহ্ করতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদ্দু‘আ না করা
৩৬২৯-[৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হয় এবং দুনিয়াতে তার ওপর তা কার্যকরী হয়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দার প্রতি সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ। সুতরাং পরকালে তাকে দ্বিতীয়বার অপরাধী করবেন না। আর যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করল আর আল্লাহ তা’আলা তার দোষ-ত্রুটিকে গোপন করে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা অনেক দয়ালু-মেহেরবান। অতএব পরকালে তাকে ঐ অপরাধের জন্য আর শাস্তি দেবেন না, যা তিনি দুনিয়াতে ক্ষমা করে দিয়েছেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্; আর ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[1]
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَصَابَ حَدًّا فَعُجِّلَ عُقُوبَتَهُ فِي الدُّنْيَا فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عَلَى عَبْدِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الْآخِرَة وَمن أصَاب حد فستره اللَّهُ عليهِ وَعَفَا عَنْهُ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
هَذَا الْبَاب خَال عَن الْفَصْل الثَّالِث
-
(وَهٰذَا الْبَابُ خَالٍ مِنَ الْفَصْلُ الثَّالِثُ) এ অধ্যায়ে তৃতীয় অনুচ্ছেদ নেই।
ব্যাখ্যা: জুমহূরদের মতে বান্দার পাপ কাজ গোপন করা আর আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ করা প্রকাশ করার চেয়ে উত্তম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - সাবধানতা অবলম্বনে শাস্তি প্রদান
التَّعْزِيْزِ হলো হাদ্দ ব্যতীত শিক্ষা দেয়া বা সতর্ক করা। ইবনু হুমাম বলেন : এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, আল্লাহ বলেনঃ
وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطْعَنْكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا
’’এবং তাদেরকে প্রহার করো যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৩৪)। আয়াতে স্ত্রীদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহারের আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা।
’কাফী’তে রয়েছে,لَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَنْ أَهْلِكَ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি তোমার পরিবার থেকে তোমার লাঠিকে উঠিয়ে রাখবে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যখনই তার পরিবার তাকে দেখে তার ঘারে লাঠি ঝুলালো।
আর এ সংক্রান্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীস হলো فَاضْرِبُوهُمْ عَلٰى تَرْكِهَا بِعَشْرٍ فِي الصِّبْيَانِ তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তাদের বয়স যখন দশ বছর, এমতাবস্থায় যদি তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা সুস্পষ্ট দলীল- সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদান করা বৈধ। সাহাবীরাও এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন। আর তাম্রম্নতাশী সারাখসী থেকে উল্লেখ করে বলেন, সতর্কতামূলক শাস্তিতে কোনো সীমানা নেই বরং বিচারক যা ভালো মনে করেন তা করবেন। মূলতঃ উদ্দেশ্য হলো ধমকানো।
মানুষও বিভিন্ন মানের তাদের মধ্যে কাউকে উপদেশের মাধ্যমে সতর্ক করবে, আবার কারো ক্ষেত্রে চর থাপ্পড়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েদ করে রাখা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
৩৬৩০-[১] আবূ বুরদাহ্ ইবনু নাইয়্যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নির্ধারিত দণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো অপরাধে দশ চাবুকের বেশি কার্যকর করা বৈধ হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ التَّعْزِيْزِ
عَن أبي بردة بن ينار عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُجْلَدُ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلَّا فِي حد من حُدُود الله»
ব্যাখ্যা: ‘উলামারা মতানৈক্য করেছেন সতর্কতামূলক শাস্তি প্রদানে দশ বেত্রাঘাতে সীমাবদ্ধ হবে না বেশী হবে।
আহমাদ বিন হাম্বল এবং আশহাব আল মালিকী বলেনঃ দশ বেত্রাঘাতের বেশী বৈধ না। আর জুমহূর সাহাবী, তাবি‘ঈ এবং তাদের পরবর্তী ‘উলামারা দশের বেশী বেত্রাঘাত করা বৈধ সাব্যস্ত করেছেন।
এরপরে তারা মতানৈক্য করেছেন মালিক ও তার সাথীরা এবং আবূ ইউসুফ মুহাম্মাদ। আর আবূ সাওর ও ত্বহাবী বলেন, নির্ধারিত কোনো সীমারেখা নেই বরং তা ইমামের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। তিনি ইচ্ছা করলে বাড়াতে পারেন। দণ্ডবিধির সমান তারা বলেন। ‘উমার তিনি তার আংটি খোদাইকারীকে একশত বেত্রাঘাত করেছিলেন।
আবূ হানীফাহ্ বলেনঃ চল্লিশের উপর যেন না পৌঁছে। ইবনু আবূ লায়লা বলেনঃ পঁচাত্তর।
শাফি‘ঈ ও তার সাথীরা বলেনঃ সর্বনিম্ন দণ্ডবিধির সীমানা পর্যন্ত না পৌঁছে, সুতরাং দাসের ক্ষেত্রে যেন বিশ এবং স্বাধীনের ক্ষেত্রে চল্লিশ না হয়। জুমহূর সাহাবী উপরোক্ত হাদীসের জবাবে বলেন, হাদীসটি রহিত তথা মানসূখ এবং তারা দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন সাহাবীরা দশের অধিক দণ্ড প্রয়োগ করেছেন। আর মালিক-এর অনুসারীরা তা’বীল করে বলেন, বিষয়টি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় খাস ছিল। কেননা তাদের সে সময়ে স্বল্প দণ্ডে অপরাধীদের জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে এ ব্যাখ্যাটি দুর্বল। আল্লাহই বেশী ভালো জানেন। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৭০৮)
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাবধানতা অবলম্বনে শাস্তি প্রদান
৩৬৩১-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (কারণবশত) মারধর করে, তখন অবশ্যই যেন মুখমণ্ডলে আঘাত না করে। (আবূ দাঊদ)[1]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَّقِ الوجهَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: মুখমণ্ডলের প্রহার থেকে সে বিরত থাকে, কেননা মানুষের সবচেয়ে দামী অঙ্গ তার সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ বা খনিজ হলো মুখমণ্ডল। এর অনুভূতির উৎপত্তিস্থল, সুতরাং অবশ্যই যেন তা থেকে প্রহার করা, জখম করা, খারাপ করা থেকে বিরত থাকে।
মুনযির বলেনঃ চেহারাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশী সম্মানিত এবং সৌন্দর্য। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চেয়ে এটা বিকৃত করা সবচেয়ে জঘন্য কাজ। বিশেষ করে সাথে লেপ্টে রয়েছে দাঁত। আর আল্লাহ তা‘আলা চেহারার আকৃতি সৃষ্টি করেছেন আর এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৮১)
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাবধানতা অবলম্বনে শাস্তি প্রদান
৩৬৩২-[৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো ব্যক্তি কোনো (মুসলিম) লোককে ’হে ইয়াহূদী’ বলে, তাহলে তাকে বিশটি চাবুক মারো। আর যদি বলে ’হে হিজড়া’, তাহলে তাকেও বিশটি চাবুক মারো। আর যদি কেউ মাহরাম রমণীর সাথে যিনা করে, তাহলে তাকে হত্যা করো। (তিরমিযী; আর তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ: يَا يَهُودِيُّ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَإِذَا قَالَ: يَا مُخَنَّثُ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَمَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب
ব্যাখ্যা: (إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ) যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি বলবে, হে ইয়াহূদী! এর অর্থ হলো, হে খৃষ্টান বা হে কাফির!
ত্বীবী বলেনঃ ইয়াহূদী বলা মানে তাকে কাফির বা অপমান ও লাঞ্ছনা করা। উদ্দেশ্য অনুরূপ হিজড়া বলে একই উদ্দেশ্য। আর যে মাহরাম নারীর সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে যিনা করে তাকে তোমরা হত্যা কর। হাদীস দলীল হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাকে হত্যা কর।
মুযহির বলেনঃ আহমাদ বলেন, হাদীসের ভাষ্য মতে তাকে হত্যা কর। আর অন্যান্যরা বলেনঃ এর দ্বারা ভীতিপ্রদর্শন উদ্দেশ্য আর তা না হলে তার হুকুম অন্য সকল যিনাকারীর মতো বিবাহিত হলে রজম করা হবে আর অবিবাহিত চাবুক মারা হবে। অনুরূপ মিরক্বাতে বলা হয়েছে তবে আমি ভাষ্যকর বলি, আহমাদের মতই অধিক সঠিক হাদীসকে ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৬২)
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সাবধানতা অবলম্বনে শাস্তি প্রদান
৩৬৩৩-[৪০] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমরা কোনো লোককে আল্লাহর পথে খিয়ানাত করতে (আত্মসাৎ করতে) দেখতে পাও, তাহলে তার ধন-মাল ও আসবাব জ্বালিয়ে ফেল এবং তাকে প্রহার করো। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ; আর ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا وَجَدْتُمُ الرَّجُلَ قَدْ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاحْرُقُوا مَتَاعَهُ وَاضْرِبُوهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
هَذَا الْبَاب خَال من الْفَصْل الثَّالِث
-
(وَهٰذَا الْبَابُ خَالٍ مِنَ الْفَصْلُ الثَّالِثُ) এ অধ্যায়ে তৃতীয় অনুচ্ছেদ নেই।
ব্যাখ্যা: غَلٌّ ‘‘গল্লুন’’ বলা হয় গনীমাতের মাল বণ্টন করার পূর্বে চুরি করা।
মুযহির বলেনঃ ইসলামের প্রথম যুগে এ জাতীয় মালকে পুড়িয়ে দেয়ার শাস্তি ছিল, পরে এ বিধান রহিত হয়ে গেছে। ইমাম খত্ত্বাবী বলেনঃ আত্মসাৎ করাকে দৈহিক শাস্তি দেয়ার মধ্যে কারো মতভেদ নেই, তবে মাল সম্পদ জ্বালানোর ব্যাপারে হাসান বাসরী (রহঃ) বলেনঃ জানোয়ার ও কুরআন ব্যতীত অন্য মাল জ্বালিয়ে দেয়া হবে। তবে ‘উলামাগণের এক জামা‘আত বলেন, আত্মসাৎকৃত মাল পোড়ানো যাবে না। বরং ওটা মুহাজিরদের মাঝে ফেরত দিতে হবে। ইমাম শাফি‘ঈ বলেনঃ দৈহিক সাজা দেয়া হবে মাল পোড়ানো যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৪-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’ প্রকার গাছ থেকে (প্রকৃত) মদ প্রস্তুত হয়- সেটা হলো খেজুর ও আঙ্গুর। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجرتينِ: النخلةِ والعِنَبَةِ . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: এটা দলীল হিসেবে প্রমাণিত যে, মাদক জাতীয় তৈরি করা হয় খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস ও অন্যান্য ফল থেকে যাকে মদ বলে। এটা হারাম যখন তা নেশাগ্রস্ত করে। এটা জুমহূরের মাযহাব। আর এটা নিষেধ করে না মদ তৈরি করাকে বীজ, মধু, গম ইত্যাদি থেকে। এগুলো শব্দ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত।
ত্বীবী বলেনঃ হাদীসের মুখ্য অর্থ এটা নয় যে, কেবলমাত্র এ দু’ জিনিস দ্বারাই মদ তৈরি হয়। বরং হাদীসের অর্থ হলো যে, যে সমস্ত জিনিস থেকে মদ প্রস্তুত হয় খেজুর ও আঙ্গুর তাদের মধ্যে অন্যতম। আর ‘উমার -এর সাথে আরো পাঁচটি যোগ করেছেন। মদ হলো যা আকলকে বা বিবেককে বিকৃত করে বা লোপ করে তোলে। (শারহে মুসলিম ১৩শ খন্ড, হাঃ ১৯৮৫)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৫-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারের উপর (দাঁড়িয়ে) খুৎবা প্রদানকালে বললেনঃ নিশ্চয় মদ হারাম সাব্যস্ত (নাযিল) হয়েছে। আর তা সাধারণত পাঁচ প্রকারের জিনিস দ্বারা প্রস্তুত হয়; যথা- আঙ্গুর, খেজুর, গম, যব ও মধু। আর মদ তা-ই যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে বিলুপ্ত করে দেয়। (বুখারী)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: خطَبَ عمرُ رَضِي الله عَنهُ عَلَى مِنْبَرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ وَهِيَ مِنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ: الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْحِنْطَةِ والشعيرِ والعسلِ وَالْخمر مَا خامر الْعقل . رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: (نَزَلَ تَحْرِيْمُ الْخَمْرِ وَهِىَ مِنْ خَمْسَةِ) উদ্দেশ্য হলো বস্তুতঃ ঐ পাঁচ প্রকার জিনিস থেকে মদ তৈরি হয়, তবে এ পাঁচ প্রকার জিনিস থেকেই যে মদ তৈরি হয় এমনটি খাস না।
‘উমার মিম্বারে ভাষণ দিয়েছেন যা সাহাবীদের সামনে কেউ বিষয়টিকে অস্বীকার করেননি। তিনি সূরা আল মায়িদার আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন, ‘‘হে মু’মিনগণ! এই যে, মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ- এসব শায়ত্বনের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯০)
‘উমার ইচ্ছা পোষণ করেন : সতর্কতার যে এ আয়াত থেকে মদ শুধু আঙ্গুরের মাধ্যমে নয় বরং অন্যান্য থেকেও প্রস্তুত হয়। আর আনাস -এরও হাদীস সমর্থন করে।
সুনানে ‘আরবাতে এসেছে, নু‘মান বিন বাশীর বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ
إِنَّ الْخَمْرَ مِنَ الْعَصِيرِ وَالزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالذُّرَةِ وَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ
নিশ্চয় মদ রস থেকে, কিসমিস, খেজুর, গম, যব এবং বীজ থেকে আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি প্রত্যেক নেশাদ্রব্য জিনিস থেকে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৫৮৮)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৬-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ যখন হারাম করা হয় তখন আমাদের মাঝে আঙ্গুরের তৈরি মদ খুব কমই পেতাম। আমাদের মদ সাধারণত কাঁচা ও পাকা খেজুর হতেই প্রস্তুত হয়। (বুখারী)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَقَدْ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ حِينَ حُرِّمَتْ وَمَا نَجِدُ خَمْرَ الْأَعْنَابِ إِلَّا قَلِيلًا وَعَامة خمرنا الْبُسْر وَالتَّمْر. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: এতে সংবাদ রয়েছে যে, মদ হারাম হয়েছে। যখন আল্লাহ তা‘আলা মদ হারামের ব্যাপারে কুরআনের আয়াত নাযিল করেছেন আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তা হারামের ব্যাপারে বলেছেন। আর যখন সাহাবীরা বললেন, আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে। অথবা হারাম হয়েছে বা অনুরূপ জাতীয় শব্দ, তাহলে বুঝতে হবে তা মারফূ‘ হাদীস তথা রসূল পর্যন্ত পৌঁছেছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৭-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিত্’ই (মধুর প্রস্তুতকৃত মদ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে কোনো নেশা সৃষ্টিকারী পানীয় হারাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْبِتْعِ وَهُوَ نَبِيذُ الْعَسَلِ فَقَالَ: «كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ»
ব্যাখ্যা: ইমাম নববী বলেনঃ এতে স্পষ্ট যে, সকল প্রকারের নেশাগ্রস্ত নাবীয বা পানীয় হারাম আর মদ চাই আঙ্গুর থেকে হোক বা খেজুর। কাচা পাকা খেজুর, কিসমিস, যব, বীজ, মধু বা অন্য দ্রব্য থেকে হোক না কেন। এটা আমাদের মাযহাব এ মতে মালিক, আহমাদ, জুমহূররা রায় দিয়েছেন।
তবে আবূ হানীফাহ্ বলেনঃ আঙ্গুর ও খেজুরের ফলে পানীয় হারাম চাই তা কম হোক বা বেশী হোক। তবে যদি তা করা হয় আর তাতে এক-তৃতীয়াংশ কমে আসে তাহলে হারাম হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৮-[৫] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেশা উদ্রেককারী প্রত্যেক জিনিসই ’মদ’ আর প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী জিনিসই হারাম। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এবং অবিরত পান করতে থাকে এবং তা থেকে তওবা্ না করেই মৃত্যুবরণ করেছে, তাহলে সে পরকালে তা (জান্নাতী সুপেয় মদ) পান করতে পারবে না। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا فَمَاتَ وَهُوَ يُدْمِنُهَا لَمْ يَتُبْ لَمْ يَشْرَبْهَا فِي الْآخِرَةِ» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা : (لَمْ يَتُبْ لَمْ يَشْرَبْهَا فِى الْاٰخِرَةِ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ধমকানো ও কঠিন শাস্তি।
নিহায়াতে বলা হয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কেননা মদ জান্নাতের পানীয়। যখন তা আখিরাতে পান করতে পারবে না তাহলে সে জান্নাতেই প্রবেশ করতে পারবে না। ইমাম নববী বলেনঃ জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে তার জন্য সেখানে মদ হারাম হবে। কারণ এটা জান্নাতের পানীয় বস্তু। আর এই পাপিষ্টের জন্য এটা হারাম হবে, কেননা সে দুনিয়াতে পান করেছে।
আবার কেউ কেউ বলেছেন তার নাফস্ এটা চাইতে ভুলে যাবে, কেননা প্রবৃত্তি যা চাবে তাই পাবে। আবার কারো মতে স্মরণ হলেও তার মন তা চাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৩৯-[৬]- জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ইয়ামান থেকে জনৈক ব্যক্তি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ’জোয়ার’ হতে প্রস্তুতকৃত মদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল, যা ’মিয্র’ বলে পরিচিত তাদের দেশে পান করা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তা কি নেশা উদ্রেক করে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, নেশা উদ্রেককারী এমন প্রত্যেক জিনিসই হারাম। আর আল্লাহ তা’আলার ওয়া’দাহ্ হলো, যে ব্যক্তি কোনো নেশা সৃষ্টিকারী জিনিস পান করবে, তিনি তাকে ’ত্বীনাতুল খবাল’ পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন : হে আল্লাহর রসূল! ’ত্বীনাতুল খবাল’ কি জিনিস? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম অথবা বলেছেন, জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজ। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلًا قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَرَابٍ يَشْرَبُونَهُ بِأَرْضِهِمْ مِنَ الذُّرَةِ يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أوَ مُسْكِرٌ هُوَ؟» قَالَ: نَعَمْ قَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ: «عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করে বলেন, তিনি তাঁর সম্মান ও মর্যাদার প্রতিজ্ঞা করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪০-[৭] আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁচা ও শুকনা খেজুরকে মিশিয়ে এবং শুকনা আঙ্গুর ও শুকনা খেজুরকে মিশিয়ে এবং কাঁচা ও তাজা খেজুরকে মিশিয়ে পানীয় (নবীয বা শরবত) প্রস্তুত করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ প্রত্যেকটি দিয়ে পৃথক পৃথকভাবে পানীয় তৈরি করতে পারো। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ خَلِيطِ التَّمْرِ وَالْبُسْرِ وَعَنْ خَلِيطِ الزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ وَعَنْ خَلِيطِ الزَّهْوِ وَالرُّطَبِ. وَقَالَ: «انْتَبِذُوا كُلَّ وَاحِدٍ عَلَى حِدَةٍ» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা : বিপরীত জাতীয় জিনিসকে একত্রে মিশ্রিত করে ভিজানোর নিষেধের কারণ হলো তাতে দ্রুত মাদকতা সৃষ্টি হয়।
আর ইমাম মালিক ও আহমাদ বলেনঃ দু’ বিপরীত জাতীয় জিনিস মিশ্রিত করে ভিজানোর পর মাদকতা সৃষ্টি না হলেও তা হারাম। হাদীসের ভাষ্যমতে, আর আবূ হানীফাহ্ ও শাফি‘ঈ-এর মতে মাদকতা সৃষ্টি না হলে হারাম হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪১-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মদকে সিরকা বানিয়ে নেয়া জায়িয আছে কিনা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنِ الْخَمْرِ يُتَّخَذُ خَلًّا؟ فَقَالَ: «لَا» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: এটা সুস্পষ্ট দলীল যে, শাফি‘ঈ ও জুমহূরের নিকট মদকে সিরকা বানানো জায়িয নেই আর তা সিরকা করলেও পবিত্র হয় না। আর অন্য কোনো জিনিস মিশ্রিত করে সিরকায় পরিণত করলেও ওটা পাক ও হালাল হবে না। তবে রোদ্রের তাপে পরিবর্তিত হলে কারো মতে পবিত্র হবে। আবার কারো মতে পবিত্র হবে না। আর সবারই ঐকমত্য যদি নিজে নিজেই পরিবর্তন হয় তাহলে পবিত্র বলে গণ্য হবে। (শারহে মুসলিম ১৩শ খন্ড, হাঃ ১৯৮৩)
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪২-[৯] ওয়ায়িল আল হাযরামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ত্বারিক ইবনু সুওয়াইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মদ ব্যবহারের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ব্যবহার করতে নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তবে আমি যদি তা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা প্রতিষেধক নয়; বরং স্বয়ং ব্যাধি। (মুসলিম)[1]
بَابُ بَيَانِ الْخَمْرِ وَوَعِيْدِ شَارِبِهَا
وَعَنْ وَائِلٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّ طَارِقَ بْنَ سُوَيْدٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخَمْرِ فَنَهَاهُ. فَقَالَ: إِنَّمَا أَصْنَعُهَا لِلدَّوَاءِ فَقَالَ: «إِنَّهُ لَيْسَ بِدَوَاءٍ وَلَكِنَّهُ دَاءٌ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ব্যাখ্যা: এটা সুস্পষ্ট দলীল যে, মদ পান করা তা দ্বারা সিরকা তৈরি করা হারাম। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, এটা ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে চিকিৎসা করাও হারাম। কেননা তা ঔষধ নয়।
অনুরূপ পিপাসিত ব্যক্তির জন্য পান করা হারাম। তবে যদি কোনো গ্রাসে গলায় কোনো কিছু হয় এবং গোঙ্গানি শুরু হয় আর এমতাবস্থায় মদ ব্যতীত অন্য পানীয় বস্তু না থাকে তাহলে মদ গলাধঃকরণ করা বৈধ হবে। (শারহে মুসলিম ১৩শ খন্ড, হাঃ ১৯৮৪)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৩-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (একবার) মদ পান করে, আল্লাহ তা’আলার কাছে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত গৃহীত হয় না। তবে যদি সে তওবা্ করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবুল করেন। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয়বার) মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করেন না। এরপরও যদি সে তওবা্ করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবুল করেন। তারপরও যদি সে (তৃতীয়বার) মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করেন না। পুনরায়ও যদি সে তওবা্ করে, আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবুল করেন। অতঃপর যদি সে চতুর্থবার মদ পানের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করেন না। এবারও যদি সে তওবা্ করে, আল্লাহ তা’আলা তার তওবা্ কবুল করবেন না এবং তাদেরকে জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজের নহর হতে পান করাবেন। (তিরমিযী)[1]
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم«مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ لَهُ صَلَاةَ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ. فَإِن عَاد لم يقبل الله لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَإِن عَاد لم يقبل الله لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَإِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ لَهُ صَلَاة أَرْبَعِينَ صباحا فَإِن تَابَ لم يَتُبِ اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَقَاهُ مِنْ نَهْرِ الْخَبَالِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: সালাতকে উল্লেখ করার কারণ হলো সালাত সর্বোত্তম ‘ইবাদাত যখন সালাতই কবুল হবে না তখন অন্য কোনো ‘ইবাদাতও কবুল হবে না।
মুযহির বলেনঃ মূলতঃ ধমকানোর উদ্দেশে বলা হয়েছে যে, সালাত আদায় করলে ফরযের দায়িত্বমুক্ত হবে ঠিকই কিন্তু সাওয়াব লাভে বঞ্চিত হবে।
ইমাম নববী বলেনঃ প্রত্যেক আনুগত্য দু’টি দিক রয়েছে। দায়িত্ব থেকে মুক্ত অপরটি সাওয়াবের মর্যাদা অর্জন। আর সালাত কবুল না হওয়াতে সাওয়াবের মর্যাদা অর্জিত হয় না। চল্লিশ দিন বলার কারণ সম্ভবতঃ পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত মদের চিহ্ন পেটে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৪-[১১] আর নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী এ হাদীসটি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]
وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ عَنْ عَبْدِ الله بن عَمْرو
ব্যাখ্যা: مَا أَسْكَرَ যে কোনো বস্তু যদিও পানীয় না হয় যা নেশাগ্রস্ত করে তা হারাম। অধিক পরিমাণ ব্যবহার করলেও স্বল্প পরিমাণও হারাম।
উম্মাহ ঐকমত্য হয়েছে, আঙ্গুরের মদ যদি উথলে এবং ফেনা উঠে তা হারাম হবে এবং এর স্বল্পতেও হারাম হবে।
আর জুমহূরের নিকট আঙ্গুর ছাড়াও যে জিনিস অধিক পরিমাণ ব্যবহার করলে নেশা সৃষ্টি করে তা স্বল্প ব্যবহার করলেও হারাম বলে অপরিহার্য হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৬৭৮)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৫-[১২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জিনিসে অতিমাত্রায় নেশা আনয়ন করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
ব্যাখ্যা: হাদীসে সুস্পষ্ট প্রতিবাদ প্রমাণিত হয় হানাফীদের কেউ কেউ বলেন, যে পরিমাণ খেলে বা ব্যবহার করলে নেশাগ্রস্ত হয় তার চেয়ে কম পান করলে তা হারাম হবে না। এটা একটি বাতিল কথা যা সুস্পষ্ট হাদীস দ্বারা বাতিল বলে প্রমাণিত। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৬৫)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৬-[১৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে জিনিসে এক ’ফারক্ব’ পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তা হাতের অঞ্জলি পরিমাণ হলেও হারাম। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أسكرَ مِنْهُ الفرْقُ فَمِلْءُ الْكَفِّ مِنْهُ حَرَامٌ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী বলেনঃ ফারক্ব বলতে ১৬ রিত্বল। নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ১৬ রিত্বল তথা ১২ মুদ্রা যা তিন সা‘। আহলে হিজাযদের নিকট কারো মতে ফার্ক্ব হলো পাঁচ ক্বিস্ত আর এক ক্বিস্ত সমান অর্ধেক সা‘।
ত্বীবী বলেনঃ এক ‘‘ফার্ক্ব’’ আর হাতের অঞ্জলি দ্বারা কম বেশী উদ্দেশ্য। নির্ধারিত কোনো পরিমাণ উদ্দেশ্য। খত্ত্বাবী বলেনঃ এটা সুস্পষ্ট বর্ণনা নেশাগ্রস্ত সামান্য পানীয় হারাম। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ৩৬৮৪)
[এক ফার্ক্ব পরিমাণ তিন সা‘। আর এক সা‘ সমান প্রায় ৩ কেজি ৩২৪ গ্রাম।]
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৭-[১৪] নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় গম, যব, খেজুর, কিসমিস এবং মধু থেকেও মদ প্রস্তুত হয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্; ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গরীব)[1]
وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ الْحِنْطَةِ خَمْرًا وَمِنَ الشَّعِيرِ خَمْرًا وَمِنَ التَّمْرِ خَمْرًا وَمِنَ الزَّبِيبِ خَمْرًا وَمِنَ الْعَسَلِ خَمْرًا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
ব্যাখ্যা: হাদীসের অর্থ এমনটি নয় যে, শুধুমাত্র এই পাঁচটি বস্তু থেকেই মদ প্রস্তুত হয়। খাস করার কারণ হলো সে সময় সাধারণ এসব বস্তু থেকে মদ প্রস্তুত হত। সুতরাং যেই বস্তু থেকে মদ তৈরি হোক না কেন চাই তা জোয়ার, সালাত বা গাছের নির্যাস থেকে তার হুকুম হারাম বলে বিবেচিত হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৬৭৩)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৮-[১৫] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট জনৈক ইয়াতীমের কিছু মদ ছিল। অতঃপর যখন সূরা আল মায়িদাহ্ নাযিল হলো (অর্থাৎ- মদ হারাম হওয়ার আয়াত নাযিল হলো), তখন আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম এবং বললাম, এটাতো ইয়াতীমের মাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবুও তা ঢেলে ফেল। (তিরমিযী)[1]
وَعَن أبي سعيدٍ الخدريِّ قَالَ: كانَ عندَنا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ (الْمَائِدَةُ)
سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ وَقُلْتُ: إِنَّه ليَتيمٍ فَقَالَ: «أهْريقوهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীস দলীল হিসেবে প্রমাণিত হয় যে, মদের মালিকানা হওয়া যাবে না। তা আটকিয়ে রাখা যাবে না বরং তা তাৎক্ষণিক ঢেলে ফেলে দিতে হবে এবং এর দ্বারা কেউ উপকারও নিতে পারবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১২৬৩)
পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৪৯-[১৬] আনাস (রাঃ) আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহর নবী! আমি ঐ সকল ইয়াতীমদের জন্য কিছু মদ ক্রয় করেছি, যারা আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হচ্ছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ মদ ঢেলে ফেল এবং তার পাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেল। (তিরমিযী; অবশ্য তিনি এ হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন)[1]
আর আবূ দাঊদ-এর বর্ণনাতে আছে, আবূ ত্বলহাহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, তার তত্ত্বাবধানে যে সকল ইয়াতীম আছে, উত্তরাধিকার সূত্রে তারা কিছু মদের মালিক হয়েছে (এমতাবস্থায় তা কি করব?) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা ফেলে দাও। আবূ ত্বলহাহ্ বললেনঃ আমি কি তা দিয়ে সিরকা বানাতে পারব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না।
وَعَنْ أَنَسٍ عَنْ أَبِي طَلْحَةَ: أَنَّهُ قَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي اشْتَرَيْتُ خَمْرًا لِأَيْتَامٍ فِي حِجْرِي قَالَ: «أَهْرِقِ الْخَمْرَ وَاكْسِرِ الدِّنَانَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ: أَنه سَأَلَهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَيْتَامٍ وَرِثُوا خَمْرًا قَالَ: «أَهْرِقْهَا» . قَالَ: أَفَلَا أَجْعَلُهَا خلاًّ؟ قَالَ: «لَا»
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা শাওকানী বলেছেনঃ এটা জুমহূরের সুস্পষ্ট দলীল মদকে সিরকা করা বৈধ না এবং সিরকা করার মাধ্যমে মদ পবিত্র হয় না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৬৪৯)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫০-[১৭] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন এমন প্রত্যেক জিনিস যা নেশা উদ্রেক (আনয়ন) করে এবং জ্ঞান-বুদ্ধি বিলোপ করে দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ ومقتر. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, اَلْمُقْتِرٍ হলো যা পান করলে শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে ফেলে। ত্বীবী বলেনঃ এটা থেকে দলীল প্রমাণ করা যাবে ভাঙ, হাসিস অন্যান্য বস্তু যা বিবেকশূন্য করে তোলে তা হারাম। কারণ হলো তা বিবেককে লোপ করে দেয় আর বর্ণনা হয়ে থাকে যে, একজন প্রভাবশালী লোক মিসরের কায়রোতে আসলো আর হাসিস হারাম হওয়ার ব্যাপারে সে দলীল চাইল। আর এজন্য ‘উলামাগণের সমাবেশ হলো সেখানে তদানিন্তন যুগের ‘উলামাগণ আসলেন। যায়নুদ্দীন ‘ইরাক্বী এ হাদীস দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করলেন উপস্থিত ‘উলামাহ্ সবাই আশ্চর্য হলেন। আর ‘ইরাক্বী ও ইবনু তায়মিয়্যাহ্ বলেনঃ ইজমা হয়েছেন যে হাসিস হারাম আর যে এটাকে হালাল মনে করবে সে কাফির।
ইবনু তাইমিয়্যাহ্ বলেনঃ হাসিসের সর্বপ্রথম আবিষ্কার হয় হিজরীর ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে যখন তাতার সাম্রাজ্যের প্রকাশ পায়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৬৫০)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫১-[১৮] দায়লাম আল হিম্ইয়ারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা শীতপ্রধান দেশে বসবাস করি। সেখানে আমরা কঠোর পরিশ্রমের কাজ করি এবং গম দ্বারা মদ প্রস্তুত করি। তাই তা পান করে আমরা আমাদের শরীরে শক্তি সঞ্চয় করি এবং শীত হতে আত্মরক্ষা করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা-কি নেশা উদ্রেক করে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা থেকে বিরত থাকো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, (নিয়মিত আহারের দরুন) মানুষ তা ছাড়তে পারবে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যদি তারা তা ছাড়তে না পারে, তাহলে তাদের সাথে যুদ্ধ কর। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ دَيْلَمٍ الْحِمْيَرِيِّ قَالَ: قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضٍ بَارِدَةٍ وَنُعَالِجُ فِيهَا عَمَلًا شَدِيدًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ شَرَابًا مِنْ هَذَا الْقَمْحِ نَتَقَوَّى بِهِ عَلَى أَعْمَالِنَا وَعَلَى بَرْدِ بِلَادِنَا قَالَ: «هَلْ يُسْكِرُ؟» قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: «فَاجْتَنِبُوهُ» قُلْتُ: إِنَّ النَّاسَ غَيْرُ تَارِكِيهِ قَالَ: «إِنْ لَمْ يَتْرُكُوهُ فقاتلوهم» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫২-[১৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ, জুয়া, কূবাহ্ (দাবা) ও গুবায়রা (গম হতে প্রস্তুতকৃত মদ) থেকে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেনঃ নেশা আনয়নকারী প্রত্যেক জিনিসই হারাম। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَالْكُوبَةِ وَالْغُبَيْرَاءِ وَقَالَ: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পাশা বা দাবা খেলা অথবা তবলা ও সারিন্দা ইত্যাদি বাজানো হারাম। আর الْغُبَيْرَاءِ ‘গুবায়রা’ হলো এক প্রকার মদ যা হাবশার লোকেরা ভুট্টা থেকে তৈরি করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৩-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ারি, অনুগ্রহ করে খোঁটাদানকারী ও সর্বদা মদ্যপায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (দারিমী)[1]
وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌّ وَلَا قَمَّارٌ وَلَا مَنَّانٌ وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: «وَلَا وَلَدَ زِنْيَةٍ» بَدَلَ «قمار»
ব্যাখ্যা: الْمَنَّان তথা অনুগ্রহ করে খোঁটাদানকারী।
ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ মানুষকে খোটা দেয়ার উদ্দেশে যে দান করে এবং যাকে দান করে তার ওপর গর্ব অহংকার করে এটা একটি ঘৃণিত কাজ। আর খোটা সৎকর্মকে নষ্ট করে আর এর মাধ্যমে আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয় যেমন আল্লাহর বাণী: لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ ‘‘তাদের জন্য অশেষ পুরস্কার’’- (সূরা ফুস্সিলাত ৪১ : ৮)। ‘জারজ সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ অর্থ সে যদি তার পিতা-মাতার ন্যায় এই কাজে লিপ্ত হয়। এ শব্দের দ্বারা ইঙ্গিত করা সে হারাম বীর্যে সে সন্তান জন্ম লাভ করে সেও সাধারণত হারাম কাজে লিপ্ত থাকে অথবা স্বয়ং ব্যভিচারীকে জারজ সন্তান বলা হয়েছে যেন তার কুকর্মের দ্বারা প্রমাণ করছে সে এই পদার্থ থেকে জন্মেছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৪-[২১] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা আমাকে সমগ্র দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত এবং পথ-প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমার সে মহান প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন- সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র, দেব-দেবীর মূর্তি ও শূলি ক্রুশ এবং জাহিলী যুগের রসম-রেওয়াজ মূলোৎপাটন করার। আর আমার মহান প্রতিপালক তাঁর ক্ষমতার কসম করে বলেছেনঃ আমার যে কোনো বান্দা এক ঢোক মদ পান করবে, আমি তাকে অবশ্যই অনুরূপ জাহান্নামীদের পুঁজ পান করাব। আর যে ব্যক্তি আমার ভয়ে ভীত হয়ে তা পান করা বর্জন করবে, আমি নিশ্চয় তাকে আমার কূপ থেকে (জান্নাতের সুপেয়) পান করাব। (আহমাদ)[1]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَنِي رَحْمَة للعالمينَ وهُدىً لِلْعَالِمِينَ وَأَمَرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ وَالْأَوْثَانِ وَالصُّلُبِ وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَحَلَفَ رَبِّي عزَّ وجلَّ: بعِزَّتي لَا يشربُ عبدٌ منْ عَبِيدِي جرعة خَمْرٍ إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنَ الصَّدِيدِ مِثْلَهَا وَلَا يَتْرُكُهَا مِنْ مَخَافَتِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حِيَاضِ الْقُدس . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: (أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ) জাহিলী যুগের রসম-রেওয়াজ বলতে নিহায়াহ্ করা তথা মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে জোরে জোরে কাঁদা এবং খানার আয়োজন করা। পাপ কাজের জন্য সাহসিকতা প্রকাশ করা, উত্তেজিত করা এবং বংশ নিয়ে গর্ব করা।
ত্বীবী বলেনঃ স্বতন্ত্রভাবে মদের বিষয়টি উল্লেখ করার কারণ হলো। তা হলো «أُمُّ الْخَبَائِثِ» তথা পাপ কাজ সংঘটিত হওয়ার মূল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৫-[২২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। সর্বদা মদ্যপায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ূস (পাপাচারী কাজে পরিবারকে বাধা দেয় না)। (আহমাদ ও নাসায়ী)[1]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَالْعَاقُّ وَالدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيّ
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৬-[২৩] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না- সর্বদা মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং জাদু-টোনায় আস্থাভাজনকারী। (আহমাদ)[1]
وَعَنْ أَبِي مُوسَى
الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ لَا تَدْخُلُ الجنَّةَ: مُدْمنُ الخمرِ وقاطِعُ الرَّحِم ومصدق السحر رَوَاهُ أَحْمد
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৭-[২৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মদ্যপায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে মূর্তিপূজক হিসেবে আল্লাহ তা’আলার নিকট উপস্থিত হবে। (আহমাদ)[1]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُدْمِنُ الْخَمْرِ إِنْ مَاتَ لقيَ اللَّهَ كعابِدِ وثن» . رَوَاهُ أَحْمد
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৮-[২৫] আর ইবনু মাজাহ্ হাদীসটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন।[1]
وروى ابْن مَاجَه عَن أبي هُرَيْرَة
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৯-[২৬] আর বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু ’উবায়দুল্লাহ (রহঃ) হতে, তিনি তার পিতা হতে। আর ইমাম বায়হাক্বী বলেন, ইমাম বুখারী তাঁর ’তা-রীখ’ (ইতিহাস) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ থেকে, আর তিনি তার পিতা থেকে।[1]
وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عبيد الله عَن أَبِيه. قَالَ: ذَكَرَ الْبُخَارِيُّ فِي التَّارِيخِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عبد الله عَن أَبِيه
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৬০-[২৭] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আমি (পরোয়া করি না) মদ পান করি অথবা আল্লাহ তা’আলার পরিবর্তে দেব-দেবীদের পূজা করি- এ দু’টির মাঝে কোনো পার্থক্য করি না। (নাসায়ী)[1]
وَعَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: مَا أُبالي شرِبتُ الخمرَ أَو عبدْتُ هذهِ السَّارِيةَ دونَ اللَّهِ. رَوَاهُ النَّسَائِيّ