পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মর্যাদা, তার উত্তম গুণাবলি, তার বদান্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিস্তারিত বিবরণ গণনা করা ও আয়ত্ব করা সম্ভব নয়, বরং তা গুণে শেষ করা যাবে না। তবে লেখক এখানে রাসূলের মর্যাদা অধ্যায় রচনার উদ্দেশ্য তাঁর মর্যাদা ও ফযীলতের কিছু দিক তুলে ধরেছেন যাতে এগুলোর মাধ্যমে অন্যগুলো উপলব্ধি করা যায়।


৫৭৩৯-[১] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আদম আলায়হিস সালাম-এর সন্তানদের প্রত্যেক যুগের উত্তম শ্রেণিতে যুগের পর যুগ স্থানান্তরিত হয়ে এসেছি। সবশেষে ঐ যুগে জন্মগ্রহণ করি, যে যুগে আমি বর্তমানে আছি। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثْتُ مِنْ خَيْرِ قُرُونِ بَنِي آدَمَ قَرْنًا فَقَرْنًا حَتَّى كُنْتُ من القرنِ الَّذِي كنتُ مِنْهُ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3557) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت من خير قرون بني ادم قرنا فقرنا حتى كنت من القرن الذي كنت منه» . رواه البخاري رواہ البخاری (3557) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مِنْ خَيْرِ قُرُونِ) “সর্বোত্তম যুগে”; এ হাদীসে সর্বোত্তমের অর্থ এবং পরবর্তী হাদীসে নির্বাচিত হওয়ার অর্থ গোত্র হিসেবে উত্তম ও নির্বাচিত। ধর্মীয় গুণাবলি হিসেবে নয়। বরং অন্যান্য প্রশংসনীয় গুণের ক্ষেত্রে। (قُرُونِ) শব্দটি (قَرْنٌ)-এর বহুবচন। একই সময়ের মানুষকে এক কারন বা এক যুগের মানুষ বলে। রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি হাদীসে বলেন, (خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِيْ)“সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ।” (সহীহুল বুখারী হা, ২৬৫২, ৩৬৫১)

শারহুস সুন্নাহয় লিখেন, এক সময়ে বসবাসকারী মানুষকে এক কালের মানুষ বলা হয়। আবার কারো কারো মতে, (قَرْنٌ) আশি বছর সময়কাল। আবার কারো কারো মতে (قَرْنٌ) চল্লিশ বছরের সময়কাল। আবার কারো কারো মতে (قَرْنٌ) একশত বছরের সময়কাল। তবে এখানে প্রথম মত উদ্দেশ্য।
অতএব হাদীসের মর্ম, আদম সন্তানের এক যুগের পর আরেক যুগে বসবাসকারী মানুষের স্তরের মাঝে আমি যে যুগে এসেছি সেটা সর্বোত্তম।
তাই হাদীসে অন্যদের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মর্যাদা এবং অন্যান্য উম্মাতের ওপর তাঁর উম্মাতের মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪০-[২] ওয়াসিলাহ্ ইবনুল আসক্বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা ইসমাঈল আলায়হিস সালাম-এর বংশধর হতে ’কিনানাহ্’র বংশধরকে নির্বাচন করেছেন। আর কিননার বংশধর হতে কুরায়শ বংশকে নির্বাচন করেছেন। আবার কুরায়শ বংশ হতে বানূ হাশিম পরিবার হতে আমাকেই বাছাই করেছেন। (মুসলিম)

আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে- আল্লাহ তা’আলা ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর বংশে ইসমাঈল আলায়হিস সালাম-কে এবং ইসমাঈল আলায়হিস সালাম-এর বংশে বানূ কিনানাকে মনোনীত করেছেন।

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنَى هَاشِمٍ وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ لِلتِّرْمِذِيِّ: «إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى مِنْ ولد إِبْرَاهِيم إِسْمَاعِيل وَاصْطفى من ولد إِسْمَاعِيل بني كنَانَة»

رواہ مسلم (1 / 2276)، (5938) و الترمذی (3606) ۔
(صَحِيح)

وعن واثلة بن الاسقع قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان الله اصطفى كنانة من ولد اسماعيل واصطفى قريشا من كنانة واصطفى من قريش بنى هاشم واصطفاني من بني هاشم» . رواه مسلم وفي رواية للترمذي: «ان الله اصطفى من ولد ابراهيم اسماعيل واصطفى من ولد اسماعيل بني كنانة» رواہ مسلم (1 / 2276)، (5938) و الترمذی (3606) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ) “কুরায়শকে নির্বাচন করেছি কিনানাহ্ বংশ থেকে”; কিনানাহ হলো নাযর ইবনু কিনানার সন্তানেরা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বংশ তালিকা:
আবুল কাসিম মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব ইবনু হাশিম ইবনু আবদ মানাফ ইবনু কুসাই ইবনু কিলাব ইবনু মুররাহ্ ইবনু কা'ব ইবনু লুওয়াই ইবনু গালিব ইবনু ফিহর ইবনু মালিক ইবনু নাযর ইবনু খুযায়মাহ্ ইবনু মুদরিকাহ্ ইবনু ইল্‌ইয়াস ইবনু নাযর ইবনু নাযর ইবনু মা'দ ইবনু আদনান।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বংশধর এ পর্যন্তই সহীহ সূত্রে বর্ণিত। আদনান-এর উপরের বংশ তালিকা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪১-[৩] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের নেতা হব। আমিই সকলের আগে কবর হতে উত্থিত হব। সকলের আগে আমিই সুপারিশ করব এবং সর্বপ্রথম আমার শাফা’আত গ্রহণ করা হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (3 / 2278)، (5940) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: انا سيد ولد ادم يوم القيامة واول من ينشق عنه القبر واول شافع واول مشفع . رواه مسلم رواہ مسلم (3 / 2278)، (5940) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) “আমি কিয়ামত দিবসে আদম সন্তানদের সরদার”।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) হারাবী-এর বরাতে বলেন, ‘সাইয়িদ’ বা সরদার হলেন যিনি তার সম্প্রদায়ের মাঝে কল্যাণের দিক থেকে সবার উপরে থাকেন। অন্যরা বলেন, “সাইয়িদ’ হলেন, বিপদাপদে সবাই যার আশ্রয়ে যায় এবং তিনি তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ান, তাদের কষ্ট নিজের কাঁধে নেন এবং তাদের বিপদ প্রতিহত করেন।
তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই মানবজাতির সরদার। তারপরও কিয়ামত দিবসে সরদার বলার কারণ হলো, কিয়ামত দিবসে তার নেতৃত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পাবে। সেদিন কেউ তার বিরোধী এবং তার সাথে বিদ্ধেষ পোষণকারী থাকবে না। কিন্তু দুনিয়ায় অনেকেই যেমন কাফিরদের বাদশাহ ও মুশরিকদের নেতারা তার সাথে বিরোধিতা করেছেন। তাই কিয়ামত দিবসের সাথে রাসূলের সরদার হওয়ার সম্পৃক্ততা (لِمَنِ الۡمُلۡکُ الۡیَوۡمَ ؕ لِلّٰهِ الۡوَاحِدِ الۡقَهَّارِ) “আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর”- (সূরাহ্ আল গাফির ৪০ : ১৬); এই আয়াতেরই মতো। অথচ আল্লাহ তা'আলার রাজত্ব দুনিয়া আখিরাত সর্বব্যাপি।

‘উলামাগণ বলেন, “আমি আদম সন্তানদের সরদার রাসূল (সা.) -এর এ কথা অহংকারবশত ছিল না। বরং সহীহ মুসলিম ছাড়া অন্যান্য মাশহুর হাদীসে অহংকার নাকচের বিষয়টি স্পষ্ট এসেছে। হাদীসে রয়েছে, (أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ ولافخر) “আমি আদম সন্তানদের সরদার, তবে এটা কোন গর্বের বিষয় নয়। তাই এটা বলার দু'টি কারণ হতে পারে:
[এক] রবের নি'আমাত প্রকাশের নির্দেশ পালন; কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন-
(وَ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ) “আর আপনার পালনকর্তার নি'আমাতের কথা প্রকাশ করুন”- (সূরাহ্ আয যুহা- ৯৩ : ১১)।
[দুই] এটা বর্ণনা করা তার জন্য জরুরী; যাতে উম্মাত তাকে চিনতে পারে, তাকে বিশ্বাস করতে পারে, তাঁর কথা অনুযায়ী আমল করতে পারে এবং তাঁকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা দিতে পারে।
এ হাদীসটি নবী (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ‘আকীদাহ্ হলো, মানুষ মালাক (ফেরেশতা) থেকে শ্রেষ্ঠ। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) মানবের মাঝে শ্রেষ্ঠ। অতএব রাসূল (সা.) সবার শ্রেষ্ঠ। (নাবাবী ব্যাখ্যাগ্রন্থ- ১৫/৩৭, হা. ২২৭৮)

(وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ) অর্থাৎ কবর থেকে যাকে সর্বপ্রথম উঠানো হবে এবং হাশরের মাঠে উপস্থিত করা সে আমি। তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে-
أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا وَفَدُوا وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا لِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي وَلاَ فَخْرَ ‏ “যেদিন লোকেদেরকে উঠানো হবে (কবর হতে কিয়ামতের মাঠে) সেদিন আমিই সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশকারী হব। যখন সকল মানুষ আল্লাহ তা'আলার আদালতে একত্র হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য উত্থাপন করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশাগ্রস্ত হবে তখন আমিই তাদের সুখবর প্রদানকারী হর। সেদিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। আমার প্রতিপালকের নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচাইতে সম্মানিত, এতে গর্বের কিছু নেই।”
(সুনানুত তিরমিযী, অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা, হা. ৩৬১০)

(وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ) شَفَّعٍ অর্থ: সুপারিশকারী। (مُشَفَّعٍ) অর্থ: যার সুপারিশ গৃহীত। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম সুপারিশকারী ব্যক্তি এবং তার সুপারিশই সর্বপ্রথম কবুল করা হবে। (সম্পাদকীয়)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪২-[8] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীদের সংখ্যা হবে সবচাইতে বেশি। আর আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খুলিয়ে নেব। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الجنةِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (331 / 196)، (484) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انا اكثر الانبياء تبعا يوم القيامة وانا اول من يقرع باب الجنة» . رواه مسلم رواہ مسلم (331 / 196)، (484) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (أَكْثَرُ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا) অর্থাৎ সর্বাধিক অনুসারী বিশিষ্ট নবী। (تبعٌ) শব্দটি (تَابعٌ) এর বহুবচন। যার অর্থ অনুসারী। অনুসারীদের আধিক্য অনুসৃত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। তাই এ হাদীসটিতেও রাসূল (সা.)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।
(أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الجنةِ) অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের জন্য সর্বপ্রথম রাসূল (সা.) কড়া নাড়বেন। তখন জান্নাতের দরজা খোলা হবে এবং তিনিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৩-[৫] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার জন্য বলব। তখন তার প্রহরী বলবেন, তুমি কে? বলব, আমি মুহাম্মাদ (সা.)! তখন প্রহরী বলবেন, আপনার সম্পর্কে আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনার আগে আমি যেন অন্য কারো জন্য এ দরজা না খুলি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ: مُحَمَّدٌ. فيقولُ: بكَ أمرت أَن لاأفتح لأحد قبلك . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (333 / 197)، (486) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اتي باب الجنة يوم القيامة فاستفتح فيقول الخازن: من انت؟ فاقول: محمد. فيقول: بك امرت ان لاافتح لاحد قبلك . رواه مسلم رواہ مسلم (333 / 197)، (486) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: পূর্বের হাদীস ও এ হাদীসের মর্ম এক। অর্থাৎ রাসূল (সা.) জান্নাতের দরজা কড়া নাড়িয়ে জান্নাতে প্রবেশের আবেদন করবেন। রাসূল (সা.) কড়া নাড়লে মালাক (ফেরেশতা) জানতে চাইবেন, আপনি কে? জান্নাতের দরজায় পাহারায় নিয়োজিত থাকবেন একজন মালাক, যার নাম ‘খাযিন’। মালাক-এর প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সা.) তাঁর নাম বলে পরিচয় দিলে খাযিন বলবেন, আপনার ব্যাপারে আমাকে আদেশ প্রদান করা হয়েছে যে, আমি যেন আপনার পূর্বে আর কারো জন্য জান্নাতের দরজা না খুলি।

রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মর্যাদা বর্ণনায় হাদীসটি স্পষ্ট। কেননা আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির জন্য জান্নাত তৈরি করেছেন। আর সেই জান্নাত যার মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে তার শ্রেষ্ঠত্ব সবার উপর, তা একেবারে স্পষ্ট। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৪-[৬] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের জন্য শাফাআতকারী। আমার নুবুওয়্যাত ও রিসালাতকে এত অধিক সংখ্যক লোকে বিশ্বাস করেছে যে, কোন নবীকেই অনুরূপ সংখ্যক লোক বিশ্বাস করেনি এবং এমন নবীও অতিবাহিত হয়েছেন যার উম্মতের মধ্যে শুধু এক লোক তাকে বিশ্বাস করেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَوَّلُ شَفِيعٍ فِي الْجَنَّةِ لَمْ يُصَدَّقْ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ مَا صُدِّقْتُ وَإِنَّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ نَبِيًّا مَا صَدَّقَهُ مِنْ أُمَّته إِلَّا رجل وَاحِد» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (332 / 196)، (485) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انا اول شفيع في الجنة لم يصدق نبي من الانبياء ما صدقت وان من الانبياء نبيا ما صدقه من امته الا رجل واحد» . رواه مسلم رواہ مسلم (332 / 196)، (485) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَمْ يُصَدَّقْ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ مَا صُدِّقْتُ) “আমাকে যেভাবে সত্যায়ন করা হয়েছে কোন নবীকে সেভাবে সত্যায়ন করা হয়নি।” অর্থাৎ আমাকে সত্য বলে মেনে নেয়ার সংখ্যা বেশি তথা আমার অনুসারী বেশি। অথচ এমনও নবী রয়েছেন যাকে মাত্র একজন বিশ্বাস করেছেন। অন্য হাদীসে রয়েছে, এমনও নবী ছিলেন যাকে কেউ বিশ্বাস করেনি।
عُرِضَتْ عَلَيَّ الأُمَمُ فَجَعَلَ يَمُرُّ النَّبِيُّ مَعَهُ الرَّجُلُ وَالنَّبِيُّ مَعَهُ الرَّجُلاَنِ وَالنَّبِيُّ مَعَهُ الرَّهْطُ وَالنَّبِيُّ لَيْسَ مَعَه“أَحَدٌ وَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الأُفُقَ فَرَجَوْتُ أَنْ تَكُونَ أُمَّتِي فَقِيلَ هٰذَا مُوسٰى وَقَوْمُه“ ثُمَّ قِيلَ لِي انْظُرْ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الأُفُقَ فَقِيلَ لِي انْظُرْ هٰكَذَا وَهٰكَذَا فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الأُفُقَ فَقِيلَ هَؤُلاَءِ أُمَّتُكَ

“আমার সামনে (পূর্ববর্তী নবীগণের) উম্মতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তাঁর সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক এবং আর একজন নবী যার সঙ্গে রয়েছে দু’জন লোক। অন্য এক নবীকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নবী তাঁর সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মাত হত। বলা হলো এটা মূসা ও তাঁর কওম। এরপর আমাকে বলা আপনি লক্ষ্য করে দেখুন, অতঃপর আমি দেখলাম যে, একটি বিশাল জামা'আত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলো এ দিকে দেখুন, ওদিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলো, ঐ সবই আপনার উম্মাত।” (সহীহুল বুখারী হা. ৫৭৫২)

এ সকল হাদীসের ইঙ্গিত হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মাত সকল নবীর চেয়ে বেশি। (সম্পাদকীয়)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৫-[৭] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উপমা ও (আমার পূর্ববর্তী) অন্যান্য নবীদের উপমা হলো এরূপ- যেমন একটি প্রাসাদ, যা সুশোভিত করে তৈরি করা হয়েছে, তবে এক জায়গাতে একটি ইটের জায়গা খালি রাখা হয়েছে। অতঃপর লোকেরা তা ঘুরে দেখে বিস্মিত হয় যে, তার তৈরি কত সুন্দর, কিন্তু একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। তিনি (সা.) বলেন, আমি উক্ত খালি ইটের স্থানটি পূর্ণ করি। আমার দ্বারাই উক্ত প্রাসাদটি সমাপ্ত করা হয়েছে এবং আমার দ্বারাই নবী আগমনের সিলসিলা শেষ করা হয়েছে। অপর এক বর্ণনাতে আছে, আমিই সেই ইট এবং আমিই নবীদের সিলসিলা সমাপ্তকারী। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلِي وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ قَصْرٍ أُحْسِنَ بُنْيَانُهُ تُرِكَ مِنْهُ مَوضِع لبنة فَطَافَ النظَّارُ يتعجَّبونَ من حُسنِ بنيانِه إِلَّا مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ فَكُنْتُ أَنَا سَدَدْتُ مَوْضِعَ اللَّبِنَةِ خُتِمَ بِيَ الْبُنْيَانُ وَخُتِمَ بِي الرُّسُلُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فَأَنَا اللَّبِنَةُ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3534 و الروایۃ الثانیۃ : 3535) و مسلم (21 ، 20 / 2286، (5960) و الروایۃ الثانیۃ 22 / 2286)، (5961) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثلي ومثل الانبياء كمثل قصر احسن بنيانه ترك منه موضع لبنة فطاف النظار يتعجبون من حسن بنيانه الا موضع تلك اللبنة فكنت انا سددت موضع اللبنة ختم بي البنيان وختم بي الرسل» . وفي رواية: «فانا اللبنة وانا خاتم النبيين» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3534 و الروایۃ الثانیۃ : 3535) و مسلم (21 ، 20 / 2286، (5960) و الروایۃ الثانیۃ 22 / 2286)، (5961) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসটিতে যে উপমা পেশ করা হয়েছে তা বালাগাত শাস্ত্র মোতাবেক তাশবিহে তামসিলী বা উদাহরণের মাধ্যমে উপমা দেয়া। আল্লাহ তা'আলা যত নবী পাঠিয়েছেন তাদের হিদায়াত, ‘ইলম ও মানুষদেরকে উত্তম চরিত্রের দিকে পথনির্দেশকে একটি দৃঢ় সুন্দর অট্টালিকার সাথে উপমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সুন্দর অট্টালিকায় একটি ইট বাদ পড়ে একটু ত্রুটি রয়ে গেছে। সেই ত্রুটি দূর করে সুন্দরের চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য নবী (সা.) -কে পাঠানো হয়েছে। সাথে মূল নির্মাণের ইটের অংশিদারিত্ব রয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

রাসূল (সা.) -কে শেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, তার পরে আর কোন নবী আসবে না। এটা কুরআন সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মাতের দ্বারা প্রমাণিত। এটা অস্বীকার করা কুফরী। কেননা রাসূল (সা.) -কে নবী বলে অস্বীকার করার অর্থ, কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য স্পষ্ট অনেক বাণী অস্বীকার করা। বর্ণিত হাদীসেও রাসূল (সা.) -এর শেষ নবী হওয়া এবং তারপরে আর কোন নবী আসার সুযোগ না থাকার বিষয়টি একটি উপমার মাধ্যমে রাসূল (সা.) সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৬-[৮] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি যাকে এরূপ কিছু মু’জিযাহ্ দেয়া হয়নি, যার অনুপাতে লোকেরা ঈমান এনেছে। কিন্তু আমাকে যা দেয়া হয়েছে তা হলো ওয়াহী, যা আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন তাদের তুলনায় আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে অধিক। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الْآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَى اللَّهُ إِلَيَّ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4981) و مسلم (239 / 152)، (385) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من الانبياء من نبي الا قد اعطي من الايات ما مثله امن عليه البشر وانما كان الذي اوتيت وحيا اوحى الله الي وارجو ان اكون اكثرهم تابعا يوم القيامة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4981) و مسلم (239 / 152)، (385) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (الْآيَاتِ) শব্দটি (الْآيَة) শব্দের বহুবচন। এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে। তবে এখানে ‘আয়াত’ শব্দের অর্থ হলো মু'জিযাহ্ বা অলৌকিক কর্ম। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন, হাদীসটির কয়েকটি মর্ম বর্ণনা করা হয়েছে:
[এক] প্রত্যেক নবীকে এই পরিমাণ অলৌকিক নিদর্শন দেয়া হয়েছে, যে পরিমাণ তার পূর্বের নবীকে দেয়া হয়েছে। নবীদের অলৌকিক নিদর্শন দেখে লোকেরা ঈমান এনেছে। কিন্তু আমার অলৌকিক বিষয় ও প্রকাশ্য নিদর্শন হচ্ছে কুরআন। এমন নিদর্শন পূর্বে কাউকে দেয়া হয়নি। এজন্যই বলেন, আমার অনুসারী সর্বাধিক।

[দুই] হাদীসের মর্ম হলো, আমাকে যে নিদর্শন দেয়া হয়েছে তাতে জাদুর সাথে সাদৃশ্যের কোন দিক নেই। অপরদিকে অন্যান্য নবীদের কে যেসব অলৌকিক নিদর্শন দেয়া হয়েছে। এগুলো অনেক সময় জাদুর মাধ্যমে মানুষের খেয়ালে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হতে পারে; তাই এগুলোতে সংশয় আসার অবকাশ রয়েছে। যেমন মূসা আলায়হিস সালাম-এর লাঠির অলৌকিকের বিপরীত জাদুর মাধ্যমে রশি দিয়ে সাপের আকৃতি প্রকাশ করেছিল। সাধারণের মাঝে অনেক সময় এগুলো প্রভাব ফেলে দিতে পারে।

[তিন] অন্যান্য নবীর অলৌকিক নিদর্শন তাদের যুগ শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেছে। নবীদের সময়ে বিদ্যমান ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা তা প্রত্যক্ষ করেনি।
অপরদিকে আমাদের নবী (সা.) -এর চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন কুরআন। এর পদ্ধতি, বালাগাত, অদৃশ্য সম্পর্কে সংবাদ প্রদান, জিন এবং ইনসান সবার একত্র প্রচেষ্ট বা বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় তার মতো একটি সূরাহ্ পেশ করতে অক্ষম হওয়া একটি অলৌকিক বিষয়। তারা ভাষা শাস্ত্রে সে যুগের সর্বোচ্চ পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও কুরআনের সাদৃশ্য পেশ করার চূড়ান্ত প্রচেষ্টার পরও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

(وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ) “আমি আশা করি কিয়ামতের দিন আমার অনুসারী সর্বাধিক হবে।” রাসূল (সা.) - এই ভবিষ্যদ্বাণীও তাঁর নুবুওয়্যাতের একটি নিদর্শন। কেননা তিনি (সা.) এই সংবাদ সে সময় দিয়েছিলেন যখন মুসলিমের সংখ্যা কম ছিল। তারপর আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদের ওপর অনুগ্রহ করেন, তারা বিভিন্ন দেশ জয় করে, আল্লাহ তাদের মাঝে বারাকাত দান করেন, যার ফলে ইসলামের প্রচার, প্রসারতা ও মুসলিমদের পরিসর এ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায়। (নাবাবী ব্যাখ্যাগ্রন্থ হা. ২/১৮৬)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৭-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কাউকে দেয়া হয়নি।
১. আমাকে এক মাসের দূরত্বের মধ্যে রু’ব (ভীতি) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।
২. আমার জন্য মাটিকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ বানানো হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের কোন লোক যেখানেই সালাতের সময় হয়ে যাবে, সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়।
৩. আমার জন্য গনীমাতের সম্পদ বৈধ করা হয়েছে, যা ইতোপূর্বে কারো জন্য বৈধ ছিল না।
৪. আমাকে শাফাআতের অধিকার দেয়া হয়েছে।
৫. প্রত্যেক নবী প্রেরিত হয়েছেন কেবলমাত্র আপন আপন গোত্রের জন্য, কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির জন্য। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتي أدركتْه الصَّلاةُ فليُصلِّ وأُحلَّتْ لي المغانمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَأَعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عامَّةً . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (335) و مسلم (3 / 521)، (1163) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اعطيت خمسا لم يعطهن احد قبلي: نصرت بالرعب مسيرة شهر وجعلت لي الارض مسجدا وطهورا فايما رجل من امتي ادركته الصلاة فليصل واحلت لي المغانم ولم تحل لاحد قبلي واعطيت الشفاعة وكان النبي يبعث الى قومه خاصة وبعثت الى الناس عامة . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (335) و مسلم (3 / 521)، (1163) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে যা অন্যান্য নবীদের দেয়া হয়নি।

প্রথম বৈশিষ্ট্য: শত্রুর মনে ভীতি। এক মাসের রাস্তার দূরত্ব পর্যন্ত এই ভীতির প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ শত্রু অনেক দূরে থাকতেই রাসূল (সা.) এর নাম শুনলে তার মনে ভীতির সঞ্চার হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: শারহুস্ সুন্নাহয় বলেন, আহলে কিতাবদেরকে তাদের গীর্জা ও মঠ তথা “ইবাদাতশালা ছাড়া উপাসনা অনুমতি দেয়া হয়নি। তাদের জন্য ‘ইবাদাতশালা ছাড়া উপাসনা আদায় বৈধ নয়। কিন্তু এই উম্মতের ওপর সহজ করার জন্য আল্লাহ তা'আলা যে কোন স্থানে সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন। কেবল অপবিত্র জায়গা, কবর ও বাথরুম ব্যতীত। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যের আরেকটি অংশ হলো, মাটিকে পবিত্রতার মাধ্যম বানানো। এর দ্বারা উদ্দেশ্য তায়াম্মুম করে পবিত্র হওয়ার সুযোগ দান। কারো কারো মতে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, পবিত্র মাটিকে তাদের জন্য সালাতের স্থান বানিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ যে কোন পবিত্র ভূমিতে তারা সালাত আদায় করতে পারে।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: গনীমাতের সম্পদ বৈধ হওয়া, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অন্যান্য নবী বা উম্মতের জন্য বৈধ ছিল না।

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: রাসূল (সা.) -কে সুপারিশের অনুমতি দেয়া, এটা বিশেষ সুপারিশ। কিয়ামত দিবসে হাশরের ময়দানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিচার কার্য শুরু করার বিশেষ সুপারিশটি কেবল রাসূল (সা.) করবেন। অন্য কেউ এই সুপারিশ করার সাহস করবে না।

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: প্রত্যেক নবী নির্ধারিত জাতি বা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য পাঠানো হয়েছে। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে পুরো পৃথিবীর জন্য এবং সকল জাতির জন্য পাঠানো হয়েছে। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৮-[১০] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছেন: আমাকে ছয়টি বিষয়ে অন্যান্য নবীদের ওপরে সম্মান দেয়া হয়েছে।
১. আমি জাওয়ামিউল কালিম প্রাপ্ত হয়েছি (অর্থাৎ আমাকে অল্প কথায় ব্যাপক অর্থ ব্যক্ত করার দক্ষতা দেয়া হয়েছে)
২. রু’ব (ভীতি) দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।
৩. আমার জন্য গনীমাতের সম্পদ বৈধ করা হয়েছে।
৪. সমগ্র জমিন আমার জন্য মাসজিদ ও পবিত্রতার উপাদান করা হয়েছে।
৫. গোটা বিশ্বের সৃষ্টিজীবের জন্য আমাকে (নবী রূপে) প্রেরণ করা হয়েছে এবং
৬. নবী আগমনের সিলসিলা আমার মাধ্যমেই শেষ করা হয়েছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ: أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (5 / 523)، (1167) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فضلت على الانبياء بست: اعطيت جوامع الكلم ونصرت بالرعب واحلت لي الغناىم وجعلت لي الارض مسجدا وطهورا وارسلت الى الخلق كافة وختم بي النبيون . رواه مسلم رواہ مسلم (5 / 523)، (1167) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: জাবির (রাঃ)-এর হাদীসে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। আর আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর হাদীসে ছয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হলো। তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বরাতে মিরক্বাতে লিখেন, এই মতভেদ সাংঘর্ষিকমূলক মতভেদ নয় বরং এটা সময়ের মতভেদ। পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হাদীস পূর্বের এবং ছয়ের হাদীস পরের। প্রথমে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে, তখন রাসূল (সা.) পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের খবর দিয়েছেন। পরবর্তীতে আরেকটি বৈশিষ্ট্য দেয়া হলে রাসূল (সা.) ছয়টির সংবাদ দেন। খুলাসাহ্ গ্রন্থকার বলেন, পাঁচ এবং ছয়ের বর্ণনা স্থানের উপযুক্ততা হিসেবে হতে পারে। তাই পূর্বের হাদীস এবং পরের হাদীস মিলে সাতটি বৈশিষ্ট্য হয়।
মিরক্বাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন, আমি বলি, পূর্বের হাদীস এবং পরের হাদীস মিলে সাতটির বেশি হওয়ার অবকাশ রয়েছে।
(أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ) “আমাকে দেয়া হয়েছে সারগর্ভ কথা” জাওয়ামিউল কালিম বা সারগর্ভ কথার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কম শব্দে বেশি অর্থ প্রকাশ করে এমন কথা বলার যোগ্যতা। শারহুস্ সুন্নাহয় লিখেন, সারগর্ভ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য কুরআন। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে অল্প শব্দের মধ্যে অনেক অর্থের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৪৯-[১১] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যের দক্ষতাসহ প্রেরণ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিত্বের প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একরাত্রে আমি যখন নিদ্রিতাবস্থায় তখন ধনভাণ্ডারের চাবিসমূহ আনা হয়, অতঃপর তা আমার হাতে রেখে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وبَينا أَنا نائمٌ رأيتُني أُوتيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الْأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

متفق علیہ ، رواہ البخاری (122) و مسلم (6 / 523)، (1171) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بعثت بجوامع الكلم ونصرت بالرعب وبينا انا ناىم رايتني اوتيت بمفاتيح خزاىن الارض فوضعت في يدي» متفق عليه. متفق علیہ ، رواہ البخاری (122) و مسلم (6 / 523)، (1171) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ভূমির খাজানা বা সঞ্চিত সম্পদ স্বপ্নে দেখিয়ে বিভিন্ন দেশ বিজয় এবং তাদের সম্পদ মুসলিমদের হস্তগত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দেশ বিজয়ের মাধ্যমে দেশের খনিজ সম্পদ যেমন স্বর্ণ, রোপ্য ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ মুসলিমদের হস্তগত হয়েছে। আর নবীদের স্বপ্নও ওয়াহী: নবীর এই স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলনও নুবুওয়্যাতের সত্যতার একটি নিদর্শন, যা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫০-[১২] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সংকুচিত করলেন, তখন আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পেলাম। আমার উম্মতের রাজত্ব অদূর ভবিষ্যতে সে পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যে পর্যন্ত জমিন আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল। আর আমাকে দুটি ধনভাণ্ডার দেয়া হয়েছে, একটি লাল এবং অপরটি সাদা (অর্থাৎ কায়সার ও কিসরার ধনভাণ্ডার) আর আমি আমার প্রভুর কাছে আমার উম্মতের জন্য এই আবেদন করি যেন তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করা হয়। আর তাদের ওপর যেন স্বজাতি ছাড়া অন্য শত্রুকে এমনভাবে চাপিয়ে দেয়া না হয় যে, তারা মুসলিমদের কেন্দ্রস্থলকে গ্রহণ করে নেয়। আমার প্রভু বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যখন কোন ব্যাপারে ফয়সালা করে ফেলি, তখন তা পরিবর্তন হয় না। আমি তোমাকে তোমার উম্মতের ব্যাপারে এ অঙ্গীকার দিচ্ছি যে, আমি তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের স্বজাতি ছাড়া শত্রুতা তাদের ওপর এমনভাবে চাপিয়ে দেব না, যাতে তারা মুসলিমদের কেন্দ্রস্থল ধ্বংস করতে পারে। এমনকি দুনিয়ার সকল কাফির বিশ্বের সকল প্রান্ত হতেও একত্রিত হয়ে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ চালায়। অবশ্য তারা (মুসলিমরা) একে অপরে লড়াই করবে। একে অন্যকে ধ্বংস করতে থাকবে এবং কয়েদ ও বন্দি করতে থাকবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الْأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ: الْأَحْمَرَ وَالْأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي أَنْ لَا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وإنَّ ربِّي قَالَ: يَا محمَّدُ إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لَا يُرَدُّ وَإِنِّي أَعْطَيْتُكَ لِأُمَّتِكَ أَنْ لَا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وأنْ لَا أُسلطَ عَلَيْهِم عدُوّاً سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بَعضهم بَعْضًا . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (19 / 2889)، (7258) ۔
(صَحِيح)

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله زوى لي الارض فرايت مشارقها ومغاربها وان امتي سيبلغ ملكها ما زوي لي منها واعطيت الكنزين: الاحمر والابيض واني سالت ربي لامتي ان لا يهلكها بسنة عامة وان لا يسلط عليهم عدوا من سوى انفسهم فيستبيح بيضتهم وان ربي قال: يا محمد اذا قضيت قضاء فانه لا يرد واني اعطيتك لامتك ان لا اهلكهم بسنة عامة وان لا اسلط عليهم عدوا سوى انفسهم فيستبيح بيضتهم ولو اجتمع عليهم من باقطارها حتى يكون بعضهم يهلك بعضا ويسبي بعضهم بعضا . رواه مسلم رواہ مسلم (19 / 2889)، (7258) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (زَوَى لِيَ الْأَرْضَ) “ভূমিকে আমার জন্য সঙ্কুচিত করে দিয়েছেন।” এ হাদীসে কয়েকটি প্রকাশ্য মু'জিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের বিবরণ রয়েছে। উলামাগণ বলেন, লাল ও সাদা দুই খাযানা দ্বারা স্বর্ণ ও রোপ্য মুদ্রা বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা ‘ইরাক ও শামের কিসরা-কায়সারের ধনভাণ্ডার উদ্দেশ্য। উম্মাতের রাজত্ব পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ব্যাপ্তি লাভ করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাস্তবেও তাই হয়েছে। ইসলামী রাজত্ব পূর্ব ও পশ্চিমে ব্যাপকতা লাভের তুলনায় উত্তর দক্ষিণে অনেক কম হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ওয়াহী ছাড়া কিছু বলেন না, অর্থাৎ যা বলেন তা ওয়াহীর ভিত্তিতে বলেন। এসব ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা তারই প্রকাশ। (নাবাবী ব্যাখ্যাগ্রন্থ- অধ্যায়: ফিতান, অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের নিদর্শন)

(أَنْ لَا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ) سَنَةٍ عَامَّةٍ অর্থাৎ এমন দুর্ভিক্ষ যা মুসলিমদের সকল দেশে ছড়িয়ে যায়। মুসলিমের সকল দেশ পরিব্যাপ্তি কোন দুর্ভিক্ষ দিয়ে যেন এই উম্মতকে ধ্বংস না করেন।
(فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ) অর্থাৎ মুসলিমদের শিকড় উপড়ে ফেলে এমন কোন অমুসলিম শত্রু যেন তাদের ওপর চড়াও না হয়। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (بيضة) দ্বারা মুসলিম সমাজ এবং তাদের রাষ্ট্রীয় কেন্দ্র এবং দা'ওয়াতী মিশন। যেমন- (بيضة الدار) বলা হয়, ঘরের মধ্যবর্তী স্থান ও উৎকৃষ্ট জায়গাকে। মর্ম হলো, তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিবে এমন কোন শত্রু যেন তাদের ওপর চাপিয়ে না দেয়া হয়। (بيضة) বলার কারণ হলো, (بيضة) বা মূল ডিম ধ্বংস হলে ডিমের স্বাদ ও বাচ্চা সবই নষ্ট হয়ে গেল। মূল ডিম নষ্ট না হলে কোন সময় এক দুটি বাচ্চা বেঁচে যেতে পারে। অতএব উম্মাতের ডিম ধ্বংস করে ফেলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের পুরো অস্তিত্ব উপড়ে ফেলা।
কাফির শত্রু দ্বারা মুসলিমদেরকে সমূলে ধ্বংস না করার দু'আ আল্লাহ তা'আলা কবুল করেছেন। তাই কাফির শত্রু মুসলিমদের ওপর চড়াও হলে বা যুদ্ধে লিপ্ত হলে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে পারবে না। যতক্ষণ না তারা নিজেরা একে অপরকে ধ্বংস করছে। অর্থাৎ মুসলিমরা অন্য শত্রুর দ্বারা সমূলে ধ্বংস হবে না। কিন্তু তারা পরস্পর মারামারিতে লিপ্ত হলে একে অপরকে ধ্বংস করে সমূলে বিনাশ হয়ে যাবে।
سَأَلْتُ اللهُ ثَلَاثًا فَأَعْطَافُي اثْنَتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً. سَأَلْتُدُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي غَرَقًا فَأَعْطَانِيهَا. وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَايُسَلِّطَ عَدُوًّامِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَايُلْقِيَ بِأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَرَدَّعَلَيَّ.
 “আমি আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিসের আবেদন করেছি। আল্লাহ তা'আলা আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি বারণ করেছেন। আমি আবেদন করেছি, আমার উম্মাতকে যেন ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি তা দিয়েছেন। আমি আবেদন করেছি, তাদের বাহিরের কোন শত্রু যেন তাদের ওপর চাপিয়ে না দেয়া হয়, তিনি তা দিয়েছেন। আমি আবেদন করেছি, তাদের শক্তি পরস্পরের মধ্যে নিক্ষেপ না করেন। তিনি আমার এই প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।” (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা, ১/৬০৩)।

(إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لَا يُرَدُّ) “আমি কোন ফয়সালা করে ফেললে তা প্রত্যাখ্যাত হয় না।” মিরক্কাতে উল্লেখ রয়েছে, মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা দুই ধরনের। একটি চূড়ান্ত, আরেকটি কোন কর্মের সাথে শর্তযুক্ত। যেমন সে এই কাজ করলে এমন হবে, ঐ কাজ করলে এমন হবে। এ জাতীয় ফয়সালার মাঝে মিটানো এবং বহাল রাখা সাব্যস্ত হয়। এ ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে বলেন, (یَمۡحُوا اللّٰهُ مَا یَشَآءُ وَ یُثۡبِتُ) “আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন”- (সূরা আর রা'দ ১৩ : ৩৯)।
অপরদিকে চূড়ান্ত ফয়সালা হলো আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত ঐ ফয়সালা যা তিনি বান্দার জন্য অনাদিকাল থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। এটা কোন অবস্থায়ই পরিবর্তন হয় না। এর বিপরীত হওয়া অসম্ভব। এর বেলায় মিটানো এবং বহাল রাখা সাব্যস্ত হয় না।
এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন-( وَ اللّٰهُ یَحۡکُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُکۡمِهٖ) “আল্লাহ ফয়সালা করেন, তার ফয়সালার পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই”- (সূরাহ আর রা'দ ১৩ : ৪১)।
অতএব হাদীসের বাণী “আমি কোন ফয়সালা করে ফেললে তা প্রত্যাখ্যাত হয় না।” তা এই প্রকারের। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তবে এখানে এ ব্যাখ্যা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা কোন ফয়সালা করলে অন্য কেউ তা প্রত্যাখ্যান বা পরিবর্তন করতে পারে না। তিনি নিজে চাইলে তার ফয়সালা বদলাতে পারেন। যেমন কেউ তাঁর কাছে দু'আ করলে তিনি চাইলে তা পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
এটাই হাদীসে বলা হয়েছে- (لاَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ) “দু'আ ছাড়া কোন কিছু ফয়সালা পরিবর্তন করতে পারে না।” (আল্লাহ ভালো জানেন] (সুনানুত্ তিরমিযী হা. ২১৩৯) (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫১-[১৩] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বানূ মু’আবিয়ার মসজিদের কাছে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাতে প্রবেশ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে আমরাও সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি (সা.) এক দীর্ঘ দু’আ করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, আমি আমার প্রভুর কাছে তিনটি বিষয়ে ফরিয়াদ করেছিলাম। তিনি আমার দুটি দু’আ কবুল করেছেন এবং একটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১. আমি আমার প্রভুর কাছে চেয়েছিলাম, ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা যেন আমার উম্মাতকে ধ্বংস না করা হয়। আমার এ দু’আটি তিনি গ্রহণ করেছেন। ২. আমি আমার প্রভুর কাছে এটাও চেয়েছিলাম যেন আমার উম্মাতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করা হয়। তিনি আমার এ দু’আও গ্রহণ করেছেন, এবং ৩. আমি তার কাছে চেয়েছিলাম যেন আমার উম্মতের একে অপরের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ না হয়। কিন্তু তিনি তা আমাকে দান করেননি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِمَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ دَخَلَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَدَعَا رَبَّهُ طَوِيلًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: «سَأَلْتُ رَبِّي ثَلَاثًا فَأَعْطَانِي ثِنْتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالسَّنَةِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يَجْعَلَ بأسهم بَينهم فَمَنَعَنِيهَا» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (20 / 2890)، (7260) ۔
(صَحِيح)

وعن سعد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بمسجد بني معاوية دخل فركع فيه ركعتين وصلينا معه ودعا ربه طويلا ثم انصرف فقال: «سالت ربي ثلاثا فاعطاني ثنتين ومنعني واحدة سالت ربي ان لا يهلك امتي بالسنة فاعطانيها وسالته ان لا يهلك امتي بالغرق فاعطانيها وسالته ان لا يجعل باسهم بينهم فمنعنيها» . رواه مسلم رواہ مسلم (20 / 2890)، (7260) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَدَعَا رَبَّهُ طَوِيلًا) “এবং তিনি তার রবের কাছে দীর্ঘ দু'আ করেন।” অর্থাৎ সালাতের পর অনেক সময় ধরে দু'আ করেন। দীর্ঘ’ শব্দের সম্পর্ক সালাত ও দু'আ উভয়ের। অর্থাৎ সালাত ও দু'আ মিলে দীর্ঘ সময় যায়। একটু পরেই দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম হাদীস থেকে বিষয়টি স্পষ্ট বুঝা যায়। পূর্বের এবং এই হাদীসের মর্ম।
(أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ) “ডুবিয়ে যেন আমার উম্মতকে ধ্বংস না করেন। যেমন ফির'আওন গোষ্ঠীকে সাগরে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। নূহ আলায়হিস সালাম-এর কওমকে বন্যা দিয়ে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। পানিতে ডুবিয়ে সমূলে বিনাশ থেকে উম্মাতকে রক্ষার জন্য রাসূল (সা.) আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫২-[১৪] ’আত্বা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল আস (রাঃ) -এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যে গুণ বর্ণিত আছে, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন: হ্যা, আল্লাহর শপথ! কুরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণাবলিসহ তাওরাতে তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে- “হে নবী! আমি তোমাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী হিসেবে এবং উম্মতের রক্ষাকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম দিয়েছি মুতাওয়াক্কিল বা ভরসাকারী, তুমি রূঢ় বা কঠোর হৃদয় এবং বাজারে তর্ককারী ও হৈ-হুল্লোড়কারী নও। তিনি কোন মন্দ দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করবেন না, বরং তিনি এদেরকে মার্জনা করে দেবেন এবং মাফ করে দেবেন। আল্লাহ তা’আলা তাকে ততদিন পর্যন্ত দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেবেন না, বক্রপথে চালিত জাতিকে যতদিন সৎপথের উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন না তাঁর দ্বারা। অর্থাৎ যতক্ষণ লোকজন লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এর উপর বিশ্বাসী না হয় এবং তার দ্বারা অন্ধ চোখ, বধির কান এবং বদ্ধ অন্তর উন্মুক্ত না হয়ে যায়। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التَّوْرَاةِ قَالَ: أَجَلْ وَاللَّهِ إِنَّهُ لموصوف بِبَعْض صفتِه فِي القرآنِ: (يَا أيُّها النبيُّ إِنَّا أرسلناكَ شَاهدا ومُبشِّراً وَنَذِيرا) وحِرْزا للاُمِّيّينَ أَنْت بعدِي وَرَسُولِي سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللَّهُ حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (2125) ۔
(صَحِيح)

وعن عطاء بن يسار قال: لقيت عبد الله بن عمرو بن العاص قلت: اخبرني عن صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة قال: اجل والله انه لموصوف ببعض صفته في القران: (يا ايها النبي انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا) وحرزا للاميين انت بعدي ورسولي سميتك المتوكل ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب في الاسواق ولا يدفع بالسيىة السيىة ولكن يعفو ويغفر ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء بان يقولوا: لا اله الا الله ويفتح بها اعينا عميا واذانا صما وقلوبا غلفا. رواه البخاري رواہ البخاری (2125) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَاللَّهِ إِنَّهُ لموصوف بِبَعْض صفتِه فِي القرآنِ) অর্থাৎ কুরআনুল কারীমে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যে সকল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এগুলোর কিছু কিছু তাওরাতেও রয়েছে। যেমন তাওরাতে রয়েছে (يَا أيُّها النبيُّ إِنَّا أرسلناكَ شَاهدا ومُبشِّراً وَنَذِيرا) “হে নবী। আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।”
এভাবে কুরআনে রয়েছে- (یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیۡرًا) “হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি”- (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ৪৫)।
অর্থাৎ উম্মতের ওপর সাক্ষী, আনুগত্যশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এবং অবাধ্যদের জন্য জাহান্নামের সতর্ককারী।
এভাবে তাওরাতে তার আরো যে গুণ বলা হয়েছে:
(وحِرْزا للاُمِّيّينَ) “উম্মীদের রক্ষাকবচ ও আশ্রয়স্থল।” তাঁর উম্মতের অধিকাংশ নিরক্ষরতার দরুন এ গুণটির উল্লেখ করা হয়েছে। আবার তিনি তাদের মাঝে থাকাবস্থায় তাদের রক্ষাকবচের মতো গুণটির উল্লেখ কুরআনে যেভাবে বলা হয়েছে- (وَ مَا کَانَ اللّٰهُ لِیُعَذِّبَهُمۡ وَ اَنۡتَ فِیۡهِمۡ) “অথচ আল্লাহ কখনোই তাদের ওপর ‘আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন।” (সূরা আল আনফাল ৮ : ৩৩)
(أَنْت بعدِي وَرَسُولِي) “তুমি আমার বান্দা ও রাসূল” রাসূলের এই দুই বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এসেছে। যেমন- (هُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَهٗ بِالۡهُدٰی) “তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীন সহকারে।” এ আয়াতটি সূরাহ্ তাওবাহ্ ৩৩, সূরাহ্ ফাতহ: ২৮, সূরাহ্ সফ: ৯-এ রয়েছে।
(سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ) “আমি তোমার নাম মুতাওয়াক্কিল রেখেছি।” মুতাওয়াক্কিল অর্থ: ভরসাকারী। রাসূলকে আল্লাহ তা'আলার ওপর ভরসার নির্দেশ বিভিন্ন আয়াতে দেয়া হয়েছে। যেমন- (وَ تَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰهِ) “তুমি আল্লাহর ওপর ভরসা করো।” এটি রয়েছে- সূরাহ্ নিসা: ৮১, সূরা আনফাল: ৬১, সূরাহ্ আহযাব: ৩ ও ৪৮ নম্বর আয়াতে। এভাবে বিভিন্ন আয়াতে বিভিন্ন শব্দে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
(لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ) “তিনি রাগী ও কঠিন নন।” এই মর্মে কুরআনে যেভাবে বলা হয়েছে
(فَبِمَا رَحۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنۡتَ لَهُمۡ ۚ وَ لَوۡ کُنۡتَ فَظًّا غَلِیۡظَ الۡقَلۡبِ لَانۡفَضُّوۡا مِنۡ حَوۡلِکَ) “আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন, পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয়ের হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।” (সূরা আ-লি ইমরান ৩ : ১৫৯)।
(وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ) “তিনি বাজারে শোরগোলকারী নন।” অর্থাৎ বাজার শোরগোলের জায়গা হওয়ার পরও তিনি বা তার সাহাবীরা শোরগোলে লিপ্ত হন না। বরং বাজারের শোরগোল তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার স্মরণ থেকে সরাতে পারে না। এই মর্ম কুরআনে যেভাবে এসেছে
(رِجَالٌ ۙ لَّا تُلۡهِیۡهِمۡ تِجَارَۃٌ وَّ لَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ) “তারা এমন কতিপয় লোক যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করতে পারে না।” (সূরা আন্ নূর ২৪: ৩৭)
(وَلَا يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ) “মন্দ দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করেন না,” কুরআনে এই দিক-নির্দেশ যেভাবে এসেছে- (جَزٰٓؤُا سَیِّئَۃٍ سَیِّئَۃٌ مِّثۡلُهَا ۚ فَمَنۡ عَفَا وَ اَصۡلَحَ فَاَجۡرُهٗ عَلَی اللّٰهِ) “আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। তবে যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে”- (সূরা আরশ শূরা ৪২ : ৪০)।
অন্যত্র রয়েছে- (اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ) “মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম।” (সূরা আল মু'মিনূন ২৩: ৯৬)
(وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ) “তিনি ক্ষমা করেন, ক্ষমার দু'আ করেন।” অর্থাৎ যে দোষ করে তাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন এবং তার গোনাহ ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে (فَاعۡفُ عَنۡهُمۡ وَ اصۡفَحۡ) “অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন”- (সূরাহ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১৩)। অন্যত্র রয়েছে- (فَاعۡفُ عَنۡهُمۡ وَ اسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ) “আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন”- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ : ১৫৯)।
(حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ) “যতক্ষণ না বক্র জাতিকে সংশোধন করেছেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর মাধ্যমে তাদের বক্রতা সংশোধন করার পরই তাকে ওফাত দিবেন। কাফিরদেরকে তিরস্কার করে তাদের বক্রতা কুরআনে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে –
(الَّذِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ یَبۡغُوۡنَهَا عِوَجًا ۚ وَ هُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ کٰفِرُوۡنَ) “যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত, তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।” (সূরা আল আ'রাফ ৭ : ৪৫)
এই মর্মে কুরআনের কয়েক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। অপরদিকে ইসলামের প্রশংসা করে কুরআনে বলা হয়েছে-
(ذٰلِکَ الدِّیۡنُ الۡقَیِّمُ) “এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।” (সূরাহ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৬)
অন্যত্র বলা হয়েছে- (وَ اِنَّکَ لَتَهۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ) “নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন।” (সূরা আরশ শূরা- ৪২: ৫২)
(بِأَنْ يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ) বাক্যটির সম্পর্ক (حَتَّى يُقِيمَ بِهِ) এর সাথে। অর্থাৎ তাদের সংশোধনী ও সঠিক পথ প্রদর্শন এই কালিমাহ্ বলার মাধ্যমে। এতে ইঙ্গিত হলো রাসূল (সা.) -এর মূল কাজ তাওহীদ বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্ধ চক্ষু, বধির কান, বন্ধ হৃদয় খুলে দিবেন বলে তাওরাতে রয়েছে। এগুলো কাফিরদের বৈশিষ্ট্য। কুরআনে বলা হয়েছে-
(صُمٌّۢ بُکۡمٌ عُمۡیٌ فَهُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ) “তারা বধির, মুক এবং অন্ধ; অতএব তারা কিছুই বুঝে না” (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ১৭১)। এসব নিরক্ষরকে হিদায়াত প্রদর্শন করা রাসূল (সা.) -এর কাজ বলে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন –
(هُوَ الَّذِیۡ بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَکِّیۡهِمۡ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ) “তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত।” (সূরা আল জুমু'আহ্ ৬২ : ২)
এভাবে কুরআনে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তাওরাতের মধ্যে পাওয়া যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৩-[১৫] দারিমীও ’আত্বার সূত্রে ইবনু সালাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস (نَحْنُ الْآخَرُونَ) “আমরা শেষে আগমনকারী” জুমু’আহ্ অধ্যায়ে উল্লিখিত হয়েছে।

الفصل الاول (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَكَذَا الدَّارِمِيُّ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ سَلَامٍ نَحْوَهُ وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ: «نَحْنُ الْآخَرُونَ» فِي «بَاب الْجُمُعَة»

صحیح ، رواہ الدارمی (1 / 5 ح 6) 0 حدیث ’’ نحن الآخرون ‘‘ تقدم (1354) ۔
(صَحِيح)

وكذا الدارمي عن عطاء عن ابن سلام نحوه وذكر حديث ابي هريرة: «نحن الاخرون» في «باب الجمعة» صحیح ، رواہ الدارمی (1 / 5 ح 6) 0 حدیث ’’ نحن الآخرون ‘‘ تقدم (1354) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (نَحْنُ الْآخَرُونَ) অর্থাৎ আমাদের আগমন শেষে। হাদীসের পূর্ণ বাক্যটি (نَحْنُ الْآخَرُونَ السابقون) অর্থাৎ আমরা শেষে আগমনকারী, আমরা অগ্রগামী। ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) লিখেন, অর্থাৎ আমরা যুগ হিসেবে সর্বশেষের, আর মর্যাদার দিক দিয়ে সবার অগ্রে। উদ্দেশ্য হলো, এই উম্মতের আগমন যদিও অন্যান্য উম্মতের পরে হয়েছে, কিন্তু আখিরাতে তারা অগ্রগামী থাকবে। তাদেরকে প্রথমে সমবেত করা হবে, তাদের হিসাব প্রথমে নেয়া হবে, তাদের মাঝে প্রথমে ফয়সালা করা এবং তারা প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- نَحْنُ الآخِرُونَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا وَالأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمَقْضِيُّ لَهُمْ قَبْلَ الْخَلاَئِقِ “দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমরা সবার শেষে। কিন্তু আখিরাতে আমরা প্রথম। সকল সৃষ্টির পূর্বে আমাদের ফয়সালা করা হবে। (ফাতহুল বারী হা. ২/৩৫৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৪-[১৬] খব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে নিয়ে খুব লম্বা (তিলাওয়াতে) করে সালাত আদায় করলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো আজ এমন করে সালাত আদায় করেছেন যে, এরূপ সালাত আপনি আর কক্ষনো পড়েননি। তিনি (সা.) বললেন, হ্যা ঠিকই বলেছ। কেননা এটা ছিল রহমতের আশায় আশান্বিত এবং শাস্তির ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় সালাত। আমি এ সালাতের মধ্যেই আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছি। তিনি দুটি আমাকে দিয়েছেন এবং একটি নিষেধ করেছেন। ১. আমি চেয়েছিলাম যেন আমার উম্মাতকে (ব্যাপক) দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করা হয়, তিনি আমাকে এটা দান করেছেন। ২. আমি চেয়েছিলাম যেন সকল মুসলিমদের ওপর অমুসলিমদের চাপিয়ে দেয়া না হয়। ৩. এটাও চেয়েছিলাম, যেন আমার উম্মতের কেউ অপরের ওপর অন্যায় না করে, কিন্তু এটা তিনি আমাকে দান করেনি। (তিরমিযী ও নাসায়ী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

عَن خبَّابِ بنِ الأرتِّ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ فَأَطَالَهَا. قَالُوا: يَا رَسُولَ الله صلَّيتَ صَلَاةً لَمْ تَكُنْ تُصَلِّيهَا قَالَ: «أَجَلْ إِنَّهَا صَلَاةُ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ وَإِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ فِيهَا ثَلَاثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِسَنَةٍ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ فمنعَنيها» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2175 وقال : حسن صحیح) و النسائی (3 / 216 ۔ 217 ح 1639) ۔
(صَحِيح)

عن خباب بن الارت قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة فاطالها. قالوا: يا رسول الله صليت صلاة لم تكن تصليها قال: «اجل انها صلاة رغبة ورهبة واني سالت الله فيها ثلاثا فاعطاني اثنتين ومنعني واحدة سالته ان لا يهلك امتي بسنة فاعطانيها وسالته ان لا يسلط عليهم عدوا من غيرهم فاعطانيها وسالته ان لا يذيق بعضهم باس بعض فمنعنيها» . رواه الترمذي والنساىي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2175 وقال : حسن صحیح) و النساىی (3 / 216 ۔ 217 ح 1639) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (خبَّابِ بنِ الأرتِّ)الأرتِّ শব্দটির (ت) অক্ষরে তাশদীদসহ পঠিত। তিনি আবু আবদুল্লাহ খব্বাব ইবনুল আরাত। প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। ইসলাম গ্রহণের কারণে তাকে অনেক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে কুফায় আগমন করেন এবং সেখানে মারা যান। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৬/৩৩১)
(صَلَاةُ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ) “আশা ও ভয়ের সালাত” অর্থাৎ যে সালাতের মাঝে সাওয়াবের আশা ও আল্লাহ তা'আলার প্রতি আগ্রহ রয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলার শাস্তির ভয়ও রয়েছে। সালাতের পর রাসূল (সা.)-এর আবেদন ও তা গৃহীত হওয়া না হওয়ার ইতোপূর্বে কয়েকটি হাদীসে অতিক্রান্ত হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৫-[১৭] আবূ মালিক আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (হে মুসলিমগণ!) মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তিনটি জিনিস হতে রক্ষা করেছেন। ১. তোমাদের নবী তোমাদের বিরুদ্ধে এমন কোন বদদু’আ করবেন না যাতে তোমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাও। ২. বাতিল ও গোমরাহ গোত্র কখনো সত্যপন্থীদের ওপর প্রাধান্য লাভ করতে পারবে না এবং ৩. সমষ্টিগতভাবে আমার উম্মাত গোমরাহীর (তথা অন্যায়ের উপরে একত্রিত হবে না। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَجَارَكُمْ مِنْ ثَلَاثِ خِلَالٍ: أَنْ لَا يَدْعُوَ عَلَيْكُمْ نَبِيُّكُمْ فَتَهْلَكُوا جَمِيعًا وَأَنْ لَا يُظْهِرَ أَهْلَ الْبَاطِلِ على أهلِ الحقِّ وَأَن لَا تجتمِعوا على ضَلَالَة . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4253) * فیہ شریح عن ابی مالک رضی اللہ عنہ ، وقال ابو حاتم الرازی :’’ شریح بن عبید عن ابی مالک الاشعری : مرسل ‘‘ (المراسیل ص 90 ت 327 ب) ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي مالك الاشعري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله عز وجل اجاركم من ثلاث خلال: ان لا يدعو عليكم نبيكم فتهلكوا جميعا وان لا يظهر اهل الباطل على اهل الحق وان لا تجتمعوا على ضلالة . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4253) * فیہ شریح عن ابی مالک رضی اللہ عنہ ، وقال ابو حاتم الرازی :’’ شریح بن عبید عن ابی مالک الاشعری : مرسل ‘‘ (المراسیل ص 90 ت 327 ب) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (أَجَارَكُمْ مِنْ ثَلَاثِ خِلَالٍ) অর্থাৎ তিনটি বৈশিষ্ট্য থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এই তিনটি মূলত মুসীবাত। এই তিন মুসীবাতে আল্লাহ তা'আলা এই উম্মাতকে নিক্ষেপ করবেন না। তিন বৈশিষ্ট্যের অন্যতম হলো নবী (সা.) উম্মতের ওপর বদদু'আ দিবেন না। অর্থাৎ সমূলে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বদূদু'আ দিবেন না। যেমন নূহ আলায়হিস সালাম তার উম্মতের ওপর বদদু'আ দিয়েছেন। মূসা আলায়হিস সালাম কিবতী জাতি ধ্বংসের জন্য বদ্‌দু'আ দিয়েছেন। আরেকটি বৈশিষ্ট্য: বাতিলপন্থীরা সত্যপন্থীদের ওপর বিজয় লাভ করবে না। বাতিলপন্থীদের সংখ্যা বেশি এবং সত্যপন্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও সত্যপন্থীদের জয় থাকবে। কিয়ামত পর্যন্ত এমন একটি দল সর্বদা থাকবে। যেমন রাসূল (সা.) বলেন –
لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ يَخْذُلُهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ ‏ “আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদেরকে অপদস্থ করবে তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, এমনকি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ তথা কিয়ামত আসা পর্যন্ত।” (সুনানুত্ তিরমিযী হা, ২২২৯)

কুরআনেরও একটি আয়াতে এই মর্ম পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন –
یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰهِ بِاَفۡوَاهِهِمۡ وَ یَاۡبَی اللّٰهُ اِلَّاۤ اَنۡ یُّتِمَّ نُوۡرَهٗ وَ لَوۡ کَرِهَ الۡکٰفِرُوۡنَ “তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তার নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপ্রতিকর মনে করে।” (সূরাহ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩২)

তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীস ও আয়াতের মর্ম হলো, বাতিলপন্থীদের সংখ্যা বেশি হলেও তারা সত্যপন্থীদের ওপর এমনভাবে জয়ী হতে পারবে না যে, তাদেরকে দুনিয়া থেকে একেবারে মিটিয়ে দিবে এবং তাদের আলো নিভিয়ে দিবে। আল্লাহ তা'আলার প্রশংসায় এমনটি হয়নি। বাতিলপন্থীদের পক্ষ থেকে মুসলিমদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের পরীক্ষা, শত্রুর প্রভাব, বাতিলদের প্রভাব চিরস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও সত্য প্রকাশিত রয়েছে এবং শারী'আত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সত্যের আলো নিভে যায়নি এবং আলোর মিনার মিটে যায়নি। এই উম্মাতের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য; তারা সবাই কোন একটি ভ্রান্তির উপর ঐক্য হবে না। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, উম্মতের ঐক্য শারী'আতের একটি দলীল। মানুষের কাছে যেটা সুন্দর সেটা আল্লাহ তা'আলার কাছে সুন্দর। কুরআনের একটি আয়াতও এই দলীলকে শক্তিশালী করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَ مَنۡ یُّشَاقِقِ الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُ الۡهُدٰی وَ یَتَّبِعۡ غَیۡرَ سَبِیۡلِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ نُوَلِّهٖ مَا تَوَلّٰی وَ نُصۡلِهٖ جَهَنَّمَ ؕ وَ سَآءَتۡ مَصِیۡرًا “যে কেউ রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলিমের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যেদিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।” (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১১৫)।
এ আয়াত দিয়েই ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ইজমা’কে শারী'আতের দলীল বলে আখ্যায়িত করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৬-[১৮] ’আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা এ মুসলিম উম্মাতের ওপর দুই তলোয়ার একত্রিত করবেন না। এক তলোয়ার মুসলিমদের পক্ষ হতে এবং অপর তলোয়ার শত্রুদের পক্ষ হতে। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَنْ يَجْمَعَ اللَّهُ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ سَيْفَيْنِ: سَيْفًا مِنْهَا وسَيفاً منْ عدُوِّها رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4301) * یحیی بن جابر : لم بلق عوف بن مالک رضی اللہ عنہ فالسند منقطع

وعن عوف بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لن يجمع الله على هذه الامة سيفين: سيفا منها وسيفا من عدوها رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4301) * یحیی بن جابر : لم بلق عوف بن مالک رضی اللہ عنہ فالسند منقطع

ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্ম হলো, এই উম্মতের ওপর একসাথে শত্রু ও নিজেদের তরবারি একত্র হবে না, যা তাদের মূলোৎপাটনের কারণ হয়। নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেদের তরবারি, এর সাথে শত্রুদের তরবারির আক্রমণ একটি জাতির সমূলে ধংসের কারণ। উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর এমন পরিস্থিতি আসবে না। তারা যদি পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তখন দেখা যাবে শত্রু তাদের ওপর চড়াও হয়ে উঠবে। শত্রু চড়াও হতেই তারা পরস্পর লড়াই বাদ দিবে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ একসাথে তাদেরকে দু'টি লড়াই করতে হবে না। নিজেদের মাঝে লড়াই হলে কাফিরদের সাথে লড়াই হবে না। আর কাফিরদের সাথে যখন লড়াই হবে তখন নিজেদের মাঝে লড়াই হবে না। এভাবে এই উম্মাত শত বাধার মাঝে কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। তারা সমূলে ধ্বংস হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৭-[১৯] ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি কাফিরদের মুখে নবী (সা.) -এর বিরুদ্ধে তিরস্কারমূলক কিছু কথা শুনতে পেলেন। তাতে তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে নবী (সা.) -এর কাছে ছুটে এসে কথাটি তাকে জানালেন। এতদশ্রবণে তিনি (সা.) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা বল দেখি আমি কে? উত্তরে সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, আমি হলাম, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল মুত্ত্বালিব এর পুত্র মুহাম্মাদ। আল্লাহ তা’আলা যে সকল সষ্টিজীব সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে আমাকে উত্তম শ্রেণিতে সৃষ্টি করেছেন। আবার সেই মানব শ্রেণিকে দু’ভাগে (আরব ও আ’যম) নামে বিভক্ত করেছেন। আর আমাকে তার উত্তম দলে (আরবের মধ্যে) সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই দলকে আবার উত্তম গোত্রে (কুরায়শ গোত্রে) সৃষ্টি করেছেন। আবার সেই গোত্রকেও বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন। তার নামে উত্তম পরিবার (হাশিমী পরিবারে) আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব লোক ও পরিবার হিসেবে আমি সর্বোত্তম। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن الْعَبَّاس أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَأَنَّهُ سَمِعَ شَيْئًا فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ: «مَنْ أَنَا؟» فَقَالُوا: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ: «أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ ثمَّ جعلهم فرقتَيْن فجعلني فِي خير فِرْقَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ قَبيلَة ثمَّ جعله بُيُوتًا فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ بَيْتًا فَأَنَا خَيْرُهُمْ نفسا وَخَيرهمْ بَيْتا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3607 ۔ 3608 وقال : حسن) * فیہ یزید بن ابی زیاد : ضعیف مشھور ۔
(ضَعِيف)

وعن العباس انه جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فكانه سمع شيىا فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر فقال: «من انا؟» فقالوا: انت رسول الله. فقال: «انا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ان الله خلق الخلق فجعلني في خيرهم ثم جعلهم فرقتين فجعلني في خير فرقة ثم جعلهم قباىل فجعلني في خيرهم قبيلة ثم جعله بيوتا فجعلني في خيرهم بيتا فانا خيرهم نفسا وخيرهم بيتا» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3607 ۔ 3608 وقال : حسن) * فیہ یزید بن ابی زیاد : ضعیف مشھور ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (فَكَأَنَّهُ سَمِعَ شَيْئًا) অর্থাৎ ‘আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে রাগত ভাব নিয়ে এসেছেন, যেন তিনি কাফিরদের কাছে কিছু শুনেছেন।
কাফিররা নবী (সা.) -এর বংশ ও মর্যাদা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। যেমন তারা বলেছে- (وَ قَالُوۡا لَوۡ لَا نُزِّلَ هٰذَا الۡقُرۡاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الۡقَرۡیَتَیۡنِ عَظِیۡمٍ) “তারা বলে, কুরআন কেন দুই জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?” (সূরা আয যুখরুফ ৪৩ : ৩১)।
এটা বলে তারা যেন নবীর মর্যাদা নিয়েই কটাক্ষ করেছে। কারণ তাদের ধারণা মতে, এত বড় বিষয় সাধারণ মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ না হয়ে বড় কোন ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হওয়ার কথা। তাদের এমন অবজ্ঞা ‘আব্বাস (রাঃ)-কে কষ্ট দেয়। তাই তিনি পীড়িত মন নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসেন। রাসূল (সা.) তা বুঝতে পেরে মিম্বারে উঠে নিজের মর্যাদা তুলে ধরেন। বংশ ও মর্যাদার দিক দিয়ে তার ওপর কেউ নেই সেটাই রাসূল (সা.) তার এই হাদীসে প্রকাশ করেন।
(«مَنْ أَنَا؟» فَقَالُوا: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ.) “তিনি বললেন, আমি কে? তারা বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল।” রাসূল তাদের কাছে প্রশ্ন করে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছেন। কারণ প্রশ্নের পর কোন কিছু প্রকাশ করা সম্বোধিত ব্যক্তির হৃদয়ে অধিক রেখাপাত করে। তাছাড়া প্রশ্নের মাধ্যম সম্বোধিত ব্যক্তির পূর্ব ধারণা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কাছে “আমি কে?” প্রশ্ন করে তার মর্যাদা সম্পর্কে তারা কতটুকু অবগত সেটাই প্রথমে নির্ণয় করতে চেয়েছেন। এই প্রশ্ন করলে তারা স্বভাবতই উত্তর দিলো, “আপনি আল্লাহর রাসূল।” রাসূল তাদের উত্তরের সাথে যোগ করলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল মুত্ত্বালিব...” অর্থাৎ আমার মর্যাদা কেবল রাসূল হওয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বংশের দিক দিয়েও আমার মর্যাদা শিখরে। বংশ মর্যাদার দিক থেকে কিভাবে তিনি শিখরে সেটাই হাদীসে তুলে ধরেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৮-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য নুবুওয়্যাত কখন হতে নির্ধারণ করা হয়েছে? তিনি (সা.) বললেন, সে সময় হতে, যখন আদম আলায়হিস সালাম আত্মা ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى وَجَبَتْ لَكَ النُّبُوَّةُ؟ قَالَ: «وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (3609 وقال : حسن صحیح غریب) [و الفریابی فی کتاب القدر (14)] * یعنی انہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم کان نبیًا فی التقدیر قبل خلق آدم علیہ السلام فالحدیث متعلق بالتقدیر ، لا بخلق رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فافھمہ فانہ مھم و الحدیث الآتی یؤید ھذا التفسیر ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قالوا: يا رسول الله متى وجبت لك النبوة؟ قال: «وادم بين الروح والجسد» . رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (3609 وقال : حسن صحیح غریب) [و الفریابی فی کتاب القدر (14)] * یعنی انہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم کان نبیا فی التقدیر قبل خلق آدم علیہ السلام فالحدیث متعلق بالتقدیر ، لا بخلق رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فافھمہ فانہ مھم و الحدیث الآتی یؤید ھذا التفسیر ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ  “যখন আদম আত্মা ও শরীরের মাঝে।” অর্থাৎ আদমের শরীরে আত্মা ফুৎকারের আগেই আমার নুবুওয়্যাত নির্ধারিত হয়ে গেছে। যখন মাটি দিয়ে আদমের আকৃতি সৃষ্টি করে রাখা হয়েছিল, আকৃতি বানানোর পর আত্মা দেয়ার আগেই আমার নুবুওয়্যাত নির্ধারিত হয়ে গেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত ত্ববারানী’র বর্ণনার শব্দ- (كُنْتُ نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ) অর্থাৎ “আদম শরীর ও আত্মার মাঝে থাকতেই আমি নবী ছিলাম।” আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে হাকীমে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে- (كنت أول النبيين في الخلق وأخر هم في البعث) “আমি সৃষ্টি হিসেবে প্রথম নবী, কিন্তু প্রেরণ হিসেবে শেষ নবী” কিন্তু মানুষের মুখে প্রচলিত বাক্য (كنت نبيا وآدم بين الماء والطين) “আদম পানি মাটির মধ্যে থাকতেই আমি নবী ছিলাম।” এ হাদীস সম্পর্কে সাখাবী বলেন, এই বাক্য সম্পর্কে আমি অবগত নই। যারকাশী বলেন, এই শব্দে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ১০/৫৬, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৫৯-[২১] “ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলার কাছে আমি তখনো ’খাতামুন্‌ নাবিয়্যিন’ হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম আলায়হিস সালাম ছিলেন মাটির খামিরায়। আমি তোমাদেরকে আরো বলছি যে, আমার নুবুওয়াতের প্রথম প্রকাশ হলো ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর দু’আ এবং ঈসা আলায়হিস সালাম -এর ভবিষ্যদ্বাণী আর আমার মায়ের সরাসরি স্বপ্ন, যা তিনি আমাকে প্রসবকালে দেখেছিলেন যে, তাঁর সামনে একটি আলো উদ্ভাসিত হয়েছে, যার আলোতে তিনি সিরিয়ার রাজ প্রাসাদ পর্যন্ত দেখতে পান। (শারহুস্ সুন্নাহ্) ।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن العِرْباض بن ساريةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: إِنِّي عِنْدَ اللَّهِ مَكْتُوبٌ: خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ لِمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ وَسَأُخْبِرُكُمْ بِأَوَّلِ أَمْرِي دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةُ عِيسَى وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِي وَقَدْ خَرَجَ لَهَا نُورٌ أَضَاءَ لَهَا مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ «. وَرَاه فِي» شرح السّنة

اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 207 ح 3626) [و احمد (4 / 127 ح 17280 ، 4 / 128 ح 17281) و صححہ ابن حبان (الموارد : 2093) و الحاکم (2 / 600) فتعقبہ الذھبی ، قال :’’ ابوبکر (ابن ابی مریم) ضعیف ‘‘ قلت ؒ لم ینفرد بہ ، بل تابعہ الثقۃ معاویۃ بن صالح عن سعید بن سوید عن ابن ھلال السلمی عن العرباض بن ساریۃ رضی اللہ عنہ بہ و سندہ حسن ۔
(صَحِيح)

وعن العرباض بن سارية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال: اني عند الله مكتوب: خاتم النبيين وان ادم لمنجدل في طينته وساخبركم باول امري دعوة ابراهيم وبشارة عيسى ورويا امي التي رات حين وضعتني وقد خرج لها نور اضاء لها منه قصور الشام «. وراه في» شرح السنة اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 207 ح 3626) [و احمد (4 / 127 ح 17280 ، 4 / 128 ح 17281) و صححہ ابن حبان (الموارد : 2093) و الحاکم (2 / 600) فتعقبہ الذھبی ، قال :’’ ابوبکر (ابن ابی مریم) ضعیف ‘‘ قلت لم ینفرد بہ ، بل تابعہ الثقۃ معاویۃ بن صالح عن سعید بن سوید عن ابن ھلال السلمی عن العرباض بن ساریۃ رضی اللہ عنہ بہ و سندہ حسن ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لِمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ) অর্থাৎ মাটির খামিরার মধ্যে ছিলেন। পূর্বে উল্লেখিত একাধিক হাদীস এবং এই হাদীসের একই মর্ম। অর্থাৎ আদমের মাঝে আত্মা ফুকার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাত নির্ধারিত হয়ে গেছে। হাদীসের পরের অংশ রাসূল (সা.) তার নুবুওয়্যাত প্রকাশের সংবাদ দেন।

(بِأَوَّلِ أَمْرِي دَعْوَةُ إِبْرَاهِيمَ) অর্থাৎ আমার নুবুওয়্যাতের বিষয় প্রথম প্রকাশ পেয়েছে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম এর দাওয়াতের মাধ্যমে। অর্থাৎ তিনি সর্বপ্রথম আমার নুবুওয়্যাতের বিষয় প্রকাশ করেন। যেমন কাবাহ নির্মাণের সময় তিনি বলেন- (رَبَّنَا وَ ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ) “হে পরওয়ারদিগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুন”- (সূরা আল বাকারাহ ২ : ১২৯)। আল্লাহ তা'আলা এই দু'আ কবুল করেন। রাসূল (সা.) -এর নুবুওয়াতের প্রথম প্রকাশ বলতে এটাই বুঝিয়েছেন। তারপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর দেয়া সুসংবাদ। এই সুসংবাদের মাঝেও তাঁর নুবুওয়্যাত প্রকাশ পেয়েছে। “ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সুসংবাদ যেমন কুরআনে এসেছে
(وَ مُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُهٗۤ اَحۡمَدُ ؕ) “আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমাদ।” (সূরাহ্ আস্ সফ ৬১ : ৬)।
এখানেও নবী (সা.) -এর নুবুওয়াতের প্রকাশ ঘটেছে। নবী (সা.) - পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে তাঁর নুবুওয়্যাত প্রকাশের তৃতীয় ধাপ তাঁর মায়ের স্বপ্ন। গর্ভাবস্থায় রাসূল (সা.) -এর মাতা স্বপ্নে দেখেছেন, একটি আলো তার থেকে বের হয়ে শামের প্রাসাদে ছড়িয়ে গেছে। মোটকথা, রাসূল (সা.) পৃথিবীতে আগমনের অনেক পূর্বে অর্থাৎ আদম আলায়হিস সালাম জীবন লাভের পূর্বেই তার নুবুওয়্যাত নির্ধারিত হয়েছে এবং আগমনের অনেক পূর্বে তার নুবুওয়্যাত প্রকাশ করা হয়েছে। [এক] ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর দুয়ায়। [দুই] ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সুসংবাদে। [তিন] মায়ের স্বপ্নের মাধ্যমে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬০-[২২] আর ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) (سأخبركم) হতে শেষ পর্যন্ত আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ مِنْ قَوْلِهِ: «سأخبركم» إِلَى آخِره

حسن ، رواہ احمد (5 / 262 ح 21616) و سندہ ضعیف من اجل الفرج بن فضالۃ و الحدیث السابق شاھد لہ وھو بہ حسن ۔
(صَحِيح)

ورواه احمد عن ابي امامة من قوله: «ساخبركم» الى اخره حسن ، رواہ احمد (5 / 262 ح 21616) و سندہ ضعیف من اجل الفرج بن فضالۃ و الحدیث السابق شاھد لہ وھو بہ حسن ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: পূর্বের হাদীসটি ছিল ‘ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এই একই বিষয়ের হাদীস আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকেও বর্ণিত। দ্বিতীয়বার হাদীসটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো একাধিক বর্ণনাসূত্র দেখানো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬১-[২৩] আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমিই হব আদম আলায়হিস সালাম-এর সন্তানদের নেতা, এটা গর্ব নয়। আর সেদিন আমার হাতেই থাকবে ’মাকামে হামদের পতাকা’, এতেও গর্ব নয়। সেদিন আদম আলায়হিস সালাম-সহ সকল নবীগণই আমার পতাকার নিচে এসে একত্রিত হবেন। আর সকলের আগে আমি কবর ফেটে উত্থিত হব, এতেও গর্ব নয়। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلَا فَخْرَ. وَمَا مِنْ نَبِيٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلَّا تَحْتَ لِوَائِي وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ وَلَا فَخْرَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3148 وقال : حسن) * علی بن زید بن جدعان ضعیف و لاکثر الفاظ الحدیث شواھد صحیحۃ وھی تغنی عن ھذا الحدیث

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انا سيد ولد ادم يوم القيامة ولا فخر وبيدي لواء الحمد ولا فخر. وما من نبي يومىذ ادم فمن سواه الا تحت لواىي وانا اول من تنشق عنه الارض ولا فخر» . رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3148 وقال : حسن) * علی بن زید بن جدعان ضعیف و لاکثر الفاظ الحدیث شواھد صحیحۃ وھی تغنی عن ھذا الحدیث

ব্যাখ্যা: (وَلَا فَخْرَ) “কোন গর্বের বিষয় নয়” অর্থাৎ আমি এ কথা গর্ব করার জন্য বলছি না। বরং আল্লাহ তা'আলার নি'আমাত ও আমার ওপর তার অনুগ্রহ এবং আমাকে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা প্রকাশের জন্য বলছি। কেউ কেউ বলেন, বাক্যের মর্ম হলো, আমি এ নিয়ে গর্ব করছি না। বরং যিনি আমাকে এই সম্মান দিয়েছেন তাকে নিয়ে গর্ব করছি। বাক্যের অর্থ এটাও হতে পারে যে, এই সরদারীতে আমার কোন গর্ব নেই। আমার গর্ব তাঁর দাসত্বের মাঝে। কেননা দাসত্বই সৌন্দর্যতা লাভ ও অতিরিক্ত নি'আমাত লাভের কারণ।

(وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ) “আমারই হাতে থাকবে প্রশংসার পতাকা।” মিরকাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন, কিয়ামতের ময়দানে বিভিন্ন স্থান থাকবে। ভালো লোক, মন্দ লোক সবাইকে একেকটি স্থানে দাঁড় করানো হবে। সেই স্থানের অনুসৃত ব্যক্তির হাতে একটি ঝাণ্ডা থাকবে যা দেখে বুঝা যাবে তিনি সত্যের আদর্শ ছিলেন, নাকি মন্দের আদর্শ ছিলেন। এ স্থানগুলোর সর্বোচ্চ স্থান হবে প্রশংসার স্থান। আর এই স্থানের ঝাণ্ডা রাসূল (সা.) -এর হাতে থাকবে। নিহায়াহ গ্রন্থে রয়েছে, ঝাণ্ডা কেবল সেনাপতির হাতে থাকে। তাই এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কিয়ামত দিবসে সকল সৃষ্টির সামনে তার প্রসিদ্ধি লাভ ঝাণ্ডা দ্বারা তার প্রসিদ্ধি বুঝানো হয়েছে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রশংসার ঝাণ্ডা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সকল সৃষ্টির সামনে প্রসিদ্ধি ও প্রশংসায় তাঁর একক মর্যাদা দেখানো। তবে কিয়ামতের দিন তার প্রশংসার প্রকৃত ঝাণ্ডা থাকতে পারে, যার নাম প্রশংসার ঝাণ্ডা। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার সৎ বান্দাদের যে স্থানগুলো রয়েছে তন্মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান প্রশংসার স্থান। অন্যান্য স্থান এর নিচে। আমাদের রাসূল (সা.) যখন রাসূলদের সরদার, দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বাধিক প্রশংসাকারী; তাই তাঁরই হাতে প্রশংসার ঝাণ্ডা দেয়া হবে এবং সবাই তার সেই ঝাণ্ডা তলে আশ্রয় নিবে। এদিকে ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন -
(وَمَا مِنْ نَبِيٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمُ فَمَنْ سِوَاهُ إِلَّا تَحْتَ لِوَائِي) “সেদিন সকল নবী এমনকি আদম ও আদম ছাড়া সবাই আমার ঝাণ্ডার নিচে থাকবে। এ কারণে তাঁর নাম (الحمد) শব্দ থেকে উদ্গত। তিনি মুহাম্মাদ এবং আহমদ। কিয়ামত দিবসে তাকে মাকামে মাহমূদে অধিষ্ঠিত করা হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬২-[২৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কতিপয় সাহাবী এক স্থানে বসে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় রাসূল (সা.) সে দিকে বের হলেন এবং তাদের কাছে পৌছে তাদের কথাবার্তা ও আলোচনাগুলো শ্রবণ করলেন। তাদের একজন বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে খলীল বানিয়েছেন। আরেকজন বললেন, মূসা ’আলায়হিস সালাম (কালিমুল্লাহ) ছিলেন এমন, আল্লাহ তা’আলা যার সাথে বিনা মধ্যস্থতায় কথা বলেছেন। অপর একজন বললেন, “ঈসা আলায়হিস সালাম ছিলেন কালিমাতুল্লাহ ও রূহুল্লাহ এবং আরেকজন বললেন, আদম ’আলায়হিস সালাম-কে আল্লাহ তা’আলা সফীউল্লাহ বানিয়েছেন।
এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের কথাবার্তা এবং তোমরা যে বিস্ময় প্রকাশ করেছ তা শুনেছি। ইবরাহীম আলায়হিস সালাম যে খলীলুল্লাহ ছিলেন তা সত্যই। মূসা আলায়হিস সালাম যে বিনা মধ্যস্থতায় আল্লাহর সাথে কথাবার্তা বলেছেন এটাও সত্য কথা। ঈসা আলায়হিস সালাম যে রূহুল্লাহ ও কালিমাতুল্লাহ ছিলেন এটাও প্রকৃত কথা এবং আদম ’ আলায়হিস সালাম যে আল্লাহর নির্বাচিত, মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন, এটাও সম্পূর্ণ বাস্তব। তবে জেনে রাখ, আমি হলাম আল্লাহর হাবীব’, এতে গর্ব নয় এবং কিয়ামতের দিন আমিই হামদের পতাকা উত্তোলন ও বহনকারী হব আদম ও অন্যান্য নবীগণ উক্ত পতাকার নীচেই থাকবেন, এতে গর্ব নয়। কিয়ামতের দিন আমিই হব সর্বপ্রথম শাফা’আতকারী এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশই গ্রহণ করা হবে এতে গর্ব নয়। আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজার কড়া নাড়া দেব। তখন আল্লাহ তা’আলা আমার জন্য তা খুলে দেবেন এবং আমাকে তাতে প্রবেশ করাবেন। আর আমার সাথে থাকবে দরিদ্র ঈমানদারগণ, এতে গর্ব নয়। পরিশেষে কথা হলো, আর আমিই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের চেয়ে মর্যাদাবান, এটাও গর্ব নয়। (তিরমিযী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: جَلَسَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا دَنَا مِنْهُمْ سَمِعَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ اللَّهَ اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا وَقَالَ آخَرُ: مُوسَى كَلَّمَهُ اللَّهُ تَكْلِيمًا وَقَالَ آخَرُ: فَعِيسَى كَلِمَةُ الله وروحه. وَقَالَ آخَرُ: آدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «قَدْ سَمِعْتُ كَلَامَكُمْ وَعَجَبَكُمْ أَنَّ إِبْرَاهِيمَ خَلِيل الله وَهُوَ كَذَلِكَ وَآدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ وَهُوَ كَذَلِكَ أَلَا وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا حَامِلُ لِوَاءِ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَهُ آدَمُ فَمَنْ دُونَهُ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُحَرِّكُ حَلَقَ الْجَنَّةِ فَيَفْتَحُ اللَّهُ لِي فَيُدْخِلُنِيهَا وَمَعِي فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا أَكْرَمُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخَرِينَ عَلَى اللَّهِ وَلَا فَخر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3616 وقال : غریب) و الدارمی (1 / 26 ح 48) * فیہ زمعۃ بن صالح : ضعیف ، و حدیثہ عند مسلم مقرون ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال: جلس ناس من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج حتى اذا دنا منهم سمعهم يتذاكرون قال بعضهم: ان الله اتخذ ابراهيم خليلا وقال اخر: موسى كلمه الله تكليما وقال اخر: فعيسى كلمة الله وروحه. وقال اخر: ادم اصطفاه الله فخرج عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: «قد سمعت كلامكم وعجبكم ان ابراهيم خليل الله وهو كذلك وادم اصطفاه الله وهو كذلك الا وانا حبيب الله ولا فخر وانا حامل لواء الحمد يوم القيامة تحته ادم فمن دونه ولا فخر وانا اول شافع واول مشفع يوم القيامة ولا فخر وانا اول من يحرك حلق الجنة فيفتح الله لي فيدخلنيها ومعي فقراء المومنين ولا فخر وانا اكرم الاولين والاخرين على الله ولا فخر» . رواه الترمذي والدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3616 وقال : غریب) و الدارمی (1 / 26 ح 48) * فیہ زمعۃ بن صالح : ضعیف ، و حدیثہ عند مسلم مقرون ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (يَتَذَاكَرُونَ) ব্যাকরণে বাক্যটি (سمعهم) এর সর্বনাম (هم) থেকে হাল। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে আলোচনার অবস্থায় পেলেন। তারা পরস্পর নবীদের একেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এগুলো শুনে রাসূল (সা.)-এর ভালো লেগেছে। কেননা রাসূল (সা.) -এর মাধ্যমেই তারা নবীদের এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাই রাসূল (সা.) প্রথমে তাদেরকে আলোচনার স্বীকৃতি দেন। পরবর্তীতে নিজের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন যা ইতোপূর্বে কয়েকটি হাদীসে অতিবাহিত হয়েছে। তাদের আলোচনার সময় নিজের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার উদ্দেশ্য এই হতে পারে যে, কারো দু একটি বিশেষ গুণ দেখে তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করার সুযোগ নেই এ কথা বুঝানো। কেননা যার কাছে অন্যের গুণাবলি আড়াল রয়েছে সে কারো একটি গুণ দেখেই তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে নিতে পারে। তাই রাসূল (সা.) তাদের এই সন্দেহ দূর করেন। সাথে সাথে (ولا فخر) বলে এ কথার ইঙ্গিত করেন যে, আমি অহংকারবশত তোমাদের সামনে আমার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি না। বরং তোমাদেরকে জানানোর জন্য তা তুলে ধরছি; যাতে সবার প্রকৃত মর্যাদা তোমাদের সামনে থাকে।
(وَمَعِي فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ) “আর আমার সাথে দরিদ্র মু'মিনেরা থাকবে।" অর্থাৎ আনসার ও মুহাজিরদের যারা দরিদ্র ছিল তারা আমার সাথে থাকবে। যেমন পূর্বে বর্ণিত হয়েছে -
(يد خل الفقر اء الجنة قبل الأ غنياء بخمسمائة عام نصف يوم) “দরিদ্ররা ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এতে প্রমাণিত হয় যে, কৃতজ্ঞ ধনীর চেয়ে ধৈর্যশীল দরিদ্র অধিক মর্যাদাবান। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৩-[২৫] ’আমর ইবনু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমরা সকলের শেষে এসেছি, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা সকলের আগে থাকব। আমি আজ তোমাদেরকে বিশেষ একটি কথা বলব, তবে এতে আমার কোন গর্ব করার নেই। ইবরাহীম আলায়হিস সালাম আল্লাহর বন্ধু, মূসা আলায়হিস সালাম আল্লাহর নির্বাচিত এবং আমি হলাম আল্লাহর হাবীব। কিয়ামতের দিন হাম্‌দের পতাকা আমার সাথেই থাকবে। আল্লাহ আমার উম্মাতের ব্যাপারে আমার সাথে অঙ্গীকার করেছেন এবং তিনি তাদেরকে তিনটি বিষয় হতে নিরাপত্তা দিয়েছেন। ১. ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করবেন না। ২. শত্রুরা তাদেরকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারবে না এবং ৩. বিশ্বের সকল মুসলিমদেরকে পথভ্রষ্টতার উপরে একত্রিত করবেন না। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن عَمْرو بن قَيْسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: نَحْنُ الْآخِرُونَ وَنَحْنُ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنِّي قَائِلٌ قَوْلًا غَيْرَ فَخْرٍ: إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ الله ومُوسَى صفي الله وَأَنا حبييب اللَّهِ وَمَعِي لِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ اللَّهَ وَعَدَنِي فِي أُمَّتِي وَأَجَارَهُمْ مِنْ ثَلَاثٍ: لَا يَعُمُّهُمْ بِسَنَةٍ وَلَا يَسْتَأْصِلُهُمْ عَدُوٌّ وَلَا يجمعهُمْ على ضَلَالَة . رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 29 ح 55) * السند منقطع ، و عمرو بن قیس : لم اعرفہ و لعلہ ابو ثور الشامی ۔
(ضَعِيف)

وعن عمرو بن قيس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: نحن الاخرون ونحن السابقون يوم القيامة واني قاىل قولا غير فخر: ابراهيم خليل الله وموسى صفي الله وانا حبييب الله ومعي لواء الحمد يوم القيامة وان الله وعدني في امتي واجارهم من ثلاث: لا يعمهم بسنة ولا يستاصلهم عدو ولا يجمعهم على ضلالة . رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 29 ح 55) * السند منقطع ، و عمرو بن قیس : لم اعرفہ و لعلہ ابو ثور الشامی ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত প্রতিটি বিষয় পূর্বে বিভিন্ন হাদীসে এসেছে।
(وَإِنِّي قَائِلٌ قَوْلًا غَيْرَ فَخْرٍ) এই বাক্যে স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাসূল (সা.) তাঁর অগ্রগামিতা অন্যান্য বিশেষ মর্যাদার যে কথাগুলো বলছেন সেগুলো গর্ব হিসেবে নয়। বরং আল্লাহ তা'আলার নি'আমাতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও উম্মতকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত করার জন্য বলেছেন। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৪-[২৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: (কিয়ামতের মাঠে অথবা জান্নাতে) আমি হব সকল নবীদের পরিচালক বা অগ্রগামী। এটা আমি অহংকারী হিসেবে বলছি না। আমি হলাম নবীদের আগমনের ধারাকে সমাপ্তকারী, এতে আমার কোন গর্ব নেই। আর আমিই হব সর্বপ্রথম সুপারিশময়ী এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এতে আমার কোন অহংকার নেই। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَنَا قَائِدُ الْمُرْسَلِينَ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَلَا فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ شافعٍ وَمُشَفَّع وَلَا فَخر» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 27 ح 50) * فیہ صالح بن عطاء بن خباب مجھول الحال وثقہ ابن حبان وحدہ و للحدیث شواھد صحیحۃ دون قولہ :’’ انا قائد المرسلین ‘‘ و اللہ اعلم ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «انا قاىد المرسلين ولا فخر وانا خاتم النبيين ولا فخر وانا اول شافع ومشفع ولا فخر» . رواه الدارمي سندہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 27 ح 50) * فیہ صالح بن عطاء بن خباب مجھول الحال وثقہ ابن حبان وحدہ و للحدیث شواھد صحیحۃ دون قولہ :’’ انا قاىد المرسلین ‘‘ و اللہ اعلم ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (قَائِدُ الْمُرْسَلِينَ) “রাসূলদের কায়িদ” “কায়িদ' শব্দের অর্থ দলের পরিচালক বা নেতা। যিনি সর্বাগ্রে থেকে দলকে পরিচালনা করেন তাকে ‘কায়িদ' বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামত দিবসে সকল নবীর আগে থাকবেন এবং সবাই তাঁকে অনুসরণ করে চলবেন।
(أَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ) “আমি শেষ নবী।” তিনি যেমন শেষ নবী তেমন শেষ রাসূল। তার পরে না কোন নবী আসবেন, না রাসূল। কিন্তু শেষ রাসূল না বলে শেষ নবী বলার কারণ হলো, রসূলের চেয়ে নবী ব্যাপক। তাই শেষ নবী বলার মধ্যে নুবুওয়্যাত ও রিসালাতের সমাপ্তি পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৫-[২৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে কবর হতে উঠানো হবে, তখন আমিই সর্বপ্রথম কবর হতে বের হয়ে আসব। আর যখন লোকেরা দলবদ্ধ হয়ে আল্লাহ তা’আলার কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হবে, তখন আমিই হব তাদের অগ্রগামী ও প্রতিনিধি, আর আমিই হব তাদের মুখপাত্র, যখন তারা নীরব থাকবে। আর যখন তারা আটক হবে, তখন আমিই হব তাদের সুপারিশকারী। আর যখন তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, তখন আমিই তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করব। মর্যাদা এবং কল্যাণের চাবিসমূহ সেদিন আমার হাতে থাকবে। আল্লাহর প্রশংসার পতাকা সেদিন আমার হাতে থাকবে। আমার পতাকার কাছে আদমের সন্তানদের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান ও সম্মানী লোক হব। সেদিন হাজারখানেক সেবক আমার চতুষ্পর্শ্বে ঘোরাফেরা করবে, যেন তারা সুরক্ষিত ডিম কিংবা বিক্ষিপ্ত মুক্তা। [তিরমিযী ও দারিমী, ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا وَأَنَا قَائِدُهُمْ إِذَا وَفَدُوا وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا أَنْصَتُوا وَأَنَا مُسْتَشْفِعُهُمْ إِذَا حُبِسُوا وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا الْكَرَامَةُ وَالْمَفَاتِيحُ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَلِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي يَطُوفُ عَلَيَّ أَلْفُ خادمٍ كأنَّهنَّ بَيْضٌ مُكْنُونٌ أَوْ لُؤْلُؤٌ مَنْثُورٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3610) و الدارمی (1 / 26 ۔ 27 ح 49) * فیہ لیث بن ابی سلیم : ضعیف ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انا اول الناس خروجا اذا بعثوا وانا قاىدهم اذا وفدوا وانا خطيبهم اذا انصتوا وانا مستشفعهم اذا حبسوا وانا مبشرهم اذا ايسوا الكرامة والمفاتيح يومىذ بيدي ولواء الحمد يومىذ بيدي وانا اكرم ولد ادم على ربي يطوف علي الف خادم كانهن بيض مكنون او لولو منثور» . رواه الترمذي والدارمي وقال الترمذي: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3610) و الدارمی (1 / 26 ۔ 27 ح 49) * فیہ لیث بن ابی سلیم : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত মর্মগুলো পূর্বে বিক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ হয়েছে। এ হাদীসে অতিরিক্ত দু' একটি সহ পুনঃবার তা আলোচনা করা হয়েছে। এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যে বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
এক: (أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا) অর্থাৎ কবর থেকে যখন পুনরুত্থানের জন্য উঠানো হবে সর্বপ্রথম বের হয়ে আমি হাশরের ময়দানের দিকে যাবো।

দুই: (وَأَنَا قَائِدُهُمْ إِذَا وَفَدُوا) অর্থাৎ যখন সবাই আল্লাহ তা'আলার কাছে আগমন করবে তখন আমি তাদের নেতা ও পরিচালক হব।

তিন: (وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا أَنْصَتُوا) সবাই যখন চুপ থাকবে, কেউ ওযর প্রকাশ করার সাহস পাবে না, সবাই পেরেশান থাকবে, তখন আমি সবার পক্ষ থেকে কথা বলব। সেদিন আমাকে ছাড়া কাউকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে না।

চার: (وَأَنَا مُسْتَشْفِعُهُمْ إِذَا حُبِسُوا) সবাইকে যখন আটকে দেয়া হবে তখন আমি সবার সুপারিশকারী হব। রাসূল (সা.)-এর বিশেষিত এই সুপারিশ বিচারকার্য শুরু করার সুপারিশ। কিয়ামতের ভয়াবহ ময়দানে সবার আকাঙ্ক্ষা থাকবে বিচারকার্য দ্রুত শুরু হয়ে যাওয়া। কিন্তু কেউ এর জন্য সুপারিশের সাহস করবে না। হাদীসের সকল গ্রন্থে বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

পাঁচ: (وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا) যেদিন সবাই নিরাশ হয়ে যাবে সেদিন আমি সবার সুসংবাদদাতা। নিরাশার সময় সুসংবাদ দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করা আমার বৈশিষ্ট্য। বাহ্যত এই তিন বৈশিষ্ট্যের মর্ম এক। সবগুলোর সার হলো, কিয়ামত দিবসে কেউ যখন বিচারকার্য শুরু করার আবেদনের সাহস করবে না, তখন আমি কথা বলে সুপারিশ করে সবার জন্য সুসংবাদ এনে দিব।

ছয়: (وَالْمَفَاتِيحُ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي) অর্থাৎ সেদিন আমার হাতে চাবি থাকবে। চাবি দ্বারা জান্নাতে প্রথম প্রবেশ উদ্দেশ্য হবে। জান্নাতে সবার আগে প্রবেশের বৈশিষ্ট্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর, যা পূর্বে অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

সাত: (وَلِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي) প্রশংসার ঝাণ্ডা সেদিন আমার হাতে থাকবে। প্রশংসার ঝাণ্ডা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে থাকবে এবং এর দ্বারা তার মর্যাদা বুঝানো হয়েছে। আর তা রাসূল (সা.)-এর হাতে থাকার আলোচনা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

আট: (وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي) আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আদম সন্তানদের মাঝে সবচেয়ে সম্মানী। রাসূল আদম সন্তানদের সরদার ও সবচেয়ে সম্মানী মর্মে পূর্বে আমরা কয়েকটি হাদীস দেখেছি।
(أَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا) যখন মু'মিন বান্দাগণ আল্লাহর রহমত, দয়া, অনুগ্রহ হতে নিরাশ হবে। তারা ভয় করবে হয়তো তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে তখন আমি তাদের সুসংবাদ দিব।
হাশরের ময়দান বিভিন্ন ধরনের অবস্থা হবে। কোন স্থান হবে যেখানে মানুষেরা ওযর পেশ করবে। আবার কোন স্থান হবে যেখানে কথা বলা ও ওযর পেশ করা নিষিদ্ধ থাকবে। এক আয়াতে কাফিরদের কথা বলা ও ওযর পেশ করার কথা রয়েছে। কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে কবর থেকে উত্থিত করা হবে। তখন আমি সর্বপ্রথম কবর থেকে বের হয়ে আসব। যখন সকলে তাদের রবের নিকট যাবে ওযর পেশ করার জন্য ঐ সময় সকল মানুষের সামনে আমি আল্লাহ তা'আলার সাথে কথা বলব। মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করবেন। তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে কথা বলার জন্য সুযোগ দেয়া হবে না।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “এটা এমন একদিন যেদিন না তারা কথা বলবে, আর তাদেরকে অজুহাত পেশ করার অনুমতিও দেয়া হবে না”- (সূরাহ আল মুরসালাত ৭৭: ৩৫-৩৬)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৬-[২৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমাকে জান্নাতের তৈরি পোশাকের একটি পোশাক পরিধান করানো হবে। অতঃপর আমি আরশের ডান পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়াব। অথচ আমি ছাড়া আল্লাহর সৃষ্টজীবের মধ্যে অন্য কেউই উক্ত স্থানে দাঁড়াতে পারবে না। (তিরমিযী)

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে ’জামিউল উসূল’ গ্রন্থে অপর একটি বর্ণনায় আছে, আমিই সর্বপ্রথম লোক, যার কবর খুলে যাবে এবং আমাকেই সর্বপ্রথম কাপড় পরিধান করানো হবে।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَأُكْسَى حُلَّةً مِنْ حُلَلِ الْجَنَّةِ ثُمَّ أَقُومُ عَنْ يَمِينِ الْعَرْشِ لَيْسَ أَحَدٌ مِنَ الْخَلَائِقِ يقومُ ذلكَ المقامَ غَيْرِي» . رَوَاهُ الترمذيُّ. وَفِي رِوَايَة «جَامع الْأُصُول» عَنهُ: «أَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ فَأُكْسَى»

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3611 وقال : حسن غریب صحیح) * ابو خالد الدالانی مدلس و عنعن و احادیث مسلم (196 ، 2278)، (5940) وغیرہ تغنی عنہ ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «فاكسى حلة من حلل الجنة ثم اقوم عن يمين العرش ليس احد من الخلاىق يقوم ذلك المقام غيري» . رواه الترمذي. وفي رواية «جامع الاصول» عنه: «انا اول من تنشق عنه الارض فاكسى» سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3611 وقال : حسن غریب صحیح) * ابو خالد الدالانی مدلس و عنعن و احادیث مسلم (196 ، 2278)، (5940) وغیرہ تغنی عنہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় যে, হাশরের ময়দানে সকল মানুষ, জিন, মালায়িকার (ফেরেশতাদের) মাঝে মুহাম্মাদ (সা.) -কে তার কবর হতে প্রথমে উঠানো হবে এবং তাকে জান্নাতে তৈরি এক জোড়া পোশাক পরিধান করানো হবে। এটার মাধ্যমে সকল সৃষ্টিজীবের ওপর মুহাম্মাদ (সা.) -এর মর্যাদা বুঝানো হয়েছে। এই মর্যাদা শুধু মুহাম্মাদ (সা.) -এর ওপরে বর্ণিত “জামিউল উসূল” গ্রন্থের বর্ণিত হাদীসের সাথে সম্পৃক্ত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৭-[২৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: তোমরা আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ্ কামনা কর। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াসীলাহ্ কী? তিনি (সা.) বললেন, তা জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার একটি বিশেষ স্থান। যা কেবলমাত্র এক লোকই লাভ করবে। অতএব আশা করি আমিই হব সে লোক। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سلوا الله الْوَسِيلَةَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَسِيلَةُ؟ قَالَ: «أَعْلَى دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ لَا يَنَالُهَا إِلَّا رجلٌ واحدٌ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

حسن ، رواہ الترمذی (3612 وقال : غریب ، اسنادہ لیس بالقوی) و للحدیث شواھد قویۃ وھوبھا حسن ۔
(صَحِيح)

وعنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «سلوا الله الوسيلة» قالوا: يا رسول الله وما الوسيلة؟ قال: «اعلى درجة في الجنة لا ينالها الا رجل واحد وارجو ان اكون انا هو» . رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی (3612 وقال : غریب ، اسنادہ لیس بالقوی) و للحدیث شواھد قویۃ وھوبھا حسن ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (سلوا الله الْوَسِيلَةَ) সালাতের প্রত্যেক আযানের দু'আতেই (ات محمد وسيلة والفضيله) দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য আমরা সেই উচ্চ মাকামের দু'আ করে থাকি।
আল বিদায়াহ্ ওয়াল নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেছেন, (الْوَسِيلَةَ) শব্দটি হলো একবচন, এর বহুবচন হলো (وسائل) ওয়াসীলাহ্ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন জিনিস বুঝানো হয়েছে যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা হয়। বলা হয়: কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে শাফা'আত করা। বলা হয়: জান্নাতের স্থানসমূহের মাঝে একটি স্থান। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এটা দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) - উম্মতের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করবে নিজের জন্য অথবা উম্মাতের সকলের কল্যাণের জন্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৮-[৩০] উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমিই হব নবীদের নেতা ও মুখপাত্র এবং তাদের জন্য শাফা’আতের অধিকারী। তাতে আমার কোন অহংকার নেই। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّينَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ غيرَ فَخر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3613 وقال : حسن صحیح غریب) و ابن ماجہ (4314) * عبداللہ بن محمد بن عقیل ضعیف و احادیث البخاری (3340 ، 3361 ، 4712) و مسلم (194)، (480) وغیرھما تغنی عنہ

وعن ابي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا كان يوم القيامة كنت امام النبيين وخطيبهم وصاحب شفاعتهم غير فخر» . رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3613 وقال : حسن صحیح غریب) و ابن ماجہ (4314) * عبداللہ بن محمد بن عقیل ضعیف و احادیث البخاری (3340 ، 3361 ، 4712) و مسلم (194)، (480) وغیرھما تغنی عنہ

ব্যাখ্যা: কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মুহাম্মাদ (সা.) হবেন সকল নবী ও রাসূলগণের ইমাম। মানুষেরা অন্যান্য নবী রসূলের কাছে গেলে তারা তাদেরকে ফিরে দিবেন এবং বলবেন তোমরা মুহাম্মাদ (সা.) -এর নিকট যাও। সর্বশেষে মুহাম্মাদ (সা.) শাফা'আত করবেন আল্লাহ তা'আলার নিকটে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এত বড় একটা কাজ করবেন সকল মানুষের মাঝে তাতে তিনি বিন্দু পরিমাণ অহংকার করবেন না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৬৯-[৩১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রত্যেক নবীরই নবীদের মাঝ হতে একজন বন্ধু আছেন। আর আমার বন্ধু হলেন আমার পিতা এবং আমার প্রভুর খলীল (ইবরাহীম খলীলুল্লাহ)। অতঃপর তিনি (সা) এ আয়াতটি পাঠ করলেন, অর্থাৎ “নিশ্চয় ইবরাহীম-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় সেই লোকেরাই অধিক হাকদার যারা তার অনুসরণ করেছে এবং এই নবী, আর যারা ঈমান এনেছে, বস্তুত আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক”- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ : ৬৮)। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: إِن لِكُلِّ نَبِيٍّ وُلَاةً مِنَ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ وَلِيِّيَ أَبِي وَخَلِيلُ رَبِّي ثُمَّ قَرَأَ: [إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمنُوا وَالله ولي الْمُؤمنِينَ] . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2995) * سفیان الثوری مدلس مشھور و عنعن فی جمیع الطرق فیما اعلم

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان لكل نبي ولاة من النبيين وان وليي ابي وخليل ربي ثم قرا: [ان اولى الناس بابراهيم للذين اتبعوه وهذا النبي والذين امنوا والله ولي المومنين] . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2995) * سفیان الثوری مدلس مشھور و عنعن فی جمیع الطرق فیما اعلم

ব্যাখ্যা: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তারাই অগ্রগামী হবেন যারা তার আনীত দীনের উপর আছেন। আর মুহাম্মাদ (সা.) -এর উম্মতের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে। অর্থাৎ মুহাজির, আনসার ও অন্যান্য পরবর্তী উম্মত।
আল্লাহ তা'আলা সমস্ত লোকের অভিভাবক- এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন, “নিশ্চয় আমার অভিভাবক আল্লাহ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।” (সূরাহ্ আল আরাফ ৭ : ১৯৬)

মুহাম্মাদ (সা.)-এর অভিভাবক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭০-[৩২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: যাবতীয় উত্তম চরিত্র ও উত্তম কার্যাবলি পরিপূর্ণ করার জন্যই আল্লাহ তা’আলা আমাকে পাঠিয়েছেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قا ل: «إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي لِتَمَامِ مَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَكَمَالِ محَاسِن الْأَفْعَال» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 202 ح 3622) * یوسف بن محمد بن المنکدر : ضعیف ولہ شاھد عند احمد (2 / 381) :’’ انما بعثت لاتمم صالح الاخلاق ‘‘ و صححہ الحاکم (2 / 613) و وافقہ الذھبی و سندہ ضعیف (تقدم فی تخریج : 5096 ۔ 5097) ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم قا ل: «ان الله بعثني لتمام مكارم الاخلاق وكمال محاسن الافعال» . رواه في شرح السنة اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 202 ح 3622) * یوسف بن محمد بن المنکدر : ضعیف ولہ شاھد عند احمد (2 / 381) :’’ انما بعثت لاتمم صالح الاخلاق ‘‘ و صححہ الحاکم (2 / 613) و وافقہ الذھبی و سندہ ضعیف (تقدم فی تخریج : 5096 ۔ 5097) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (لِتَمَامِ مَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ) আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (সা.) -কে রাসূল বানিয়ে এ উদ্দেশে প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি আল্লাহর বান্দাদেরকে বাহ্যিক চরিত্র ও অভ্যন্তরীণ চরিত্রকে পরিবর্তন করে তাদেরকে সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাদেরকে সঠিক পথের দিকে দিক-নির্দেশনা দিলে তারা তা সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তা গ্রহণ করবে।
(كَمَالِ محَاسِن الْأَفْعَال) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে প্রেরণ করার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তিনি মানুষদেরকে শিক্ষা দিবেন যে, কিভাবে তারা উত্তমরূপে ‘ইবাদত, লেন-দেন করবে।
ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে বান্দাদেরকে উত্তম চরিত্র সম্পর্কে অবগত করার জন্য এবং তাদের কার্যাবলী সুচারুরূপে পরিপূর্ণ করার জন্য।
রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এই মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, (وَ اِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ) “এবং তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা আল কলাম ৬৮ : ৪)
উত্তম চরিত্রের কিছু উদাহরণ উপস্থাপনা করা হলো সততা, ভদ্রতা, নম্রতা, দয়া-দাক্ষিণ্য, বিশ্বস্ততা, দানশীলতা, ক্ষমা করা ইত্যাদি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭১-[৩৩] কা’ব [আহবার (রাঃ)] তাওরাতের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, আমরা তাতে লিখিত পেয়েছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ রাসূল, তিনি আমার সর্বোৎকৃষ্ট বান্দা, তিনি দুশ্চরিত্র বা খারাপ এবং কঠোর ভাষী নন, বাজারে হৈ-হল্লাকারীও নন। মন্দের প্রতিশোধ মন্দের দ্বারা গ্রহণ করেন না, বরং ক্ষমা করে দেন। তাঁর জন্মস্থান মক্কায় এবং হিজরত করবেন মদীনাহ তাইয়িবায়। সিরিয়াও তাঁর আধিপত্যে আসবে। তার উম্মত হবে খুব বেশি প্রশংসাকারী তথা সুখে-দুঃখে ও আরামে-ব্যারামে সদা আল্লাহর গুণগান করবে এবং প্রত্যেক অবস্থান স্থলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। সুউচ্চ স্থানে আরোহণকালে তারা আল্লাহর তাকবীর উচ্চারণ করবে। সূর্যের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবে, যখনই সালাতের সময় হবে তখনই সালাত আদায় করবে। তারা শরীরের মধ্যস্থলে (কোমরে) ইজার বাঁধবে। শরীরের পার্শ্ব (হাত-পা ইত্যাদি) ধুয়ে উযূ করবে। তাদের ঘোষণাকারী উচ্চস্থানে দাঁড়িয়ে ঘোষণা (আযান) দেবে। জিহাদে তাদের সারি এবং সালাতেও তাদের সারি হবে একইরূপ। রাত্রির বেলায় তাদের গুনগুন শব্দ উদ্ভাসিত হবে মৌমাছির গুনগুনের মতো। (মাসাবীহ, দারিমীও এটা কিঞ্চিৎ শাব্দিক পরিবর্তনসহ বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ كَعْبٍ يَحْكِي عَنِ التَّوْرَاةِ قَالَ: نَجِدُ مَكْتُوبًا محمدٌ رسولُ الله عَبدِي الْمُخْتَار لَا فظٌّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ مَوْلِدُهُ بِمَكَّةَ وَهِجْرَتُهُ بِطِيبَةَ وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ وَأُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ مَنْزِلَةٍ وَيُكَبِّرُونَهُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ رُعَاةٌ لِلشَّمْسِ يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ إِذَا جَاءَ وَقْتُهَا يتأزَّرون على أَنْصَافهمْ ويتوضؤون عَلَى أَطْرَافِهِمْ مُنَادِيهِمْ يُنَادِي فِي جَوِّ السَّمَاءِ صَفُّهُمْ فِي الْقِتَالِ وَصَفُّهُمْ فِي الصَّلَاةِ سَوَاءٌ لَهُمْ بِاللَّيْلِ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ «. هَذَا لَفْظُ» الْمَصَابِيحِ وَرَوَى الدَّارِمِيُّ مَعَ تَغْيِير يسير

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 4 ۔ 5 ح 5) * الاعمش مدلس و عنعن

وعن كعب يحكي عن التوراة قال: نجد مكتوبا محمد رسول الله عبدي المختار لا فظ ولا غليظ ولا سخاب في الاسواق ولا يجزي بالسيىة السيىة ولكن يعفو ويغفر مولده بمكة وهجرته بطيبة وملكه بالشام وامته الحمادون يحمدون الله في السراء والضراء يحمدون الله في كل منزلة ويكبرونه على كل شرف رعاة للشمس يصلون الصلاة اذا جاء وقتها يتازرون على انصافهم ويتوضوون على اطرافهم مناديهم ينادي في جو السماء صفهم في القتال وصفهم في الصلاة سواء لهم بالليل دوي كدوي النحل «. هذا لفظ» المصابيح وروى الدارمي مع تغيير يسير اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 4 ۔ 5 ح 5) * الاعمش مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: তাওরাত ও ইঞ্জীল এগুলো ছিল মুহাম্মাদ (সা.) -এর জন্মের অনেক পূর্বের ধর্মীয় গ্রন্থ। তারপরও এগুলোতে লেখা ছিল মুহাম্মাদ নবী হয়ে প্রেরিত হবেন। তাওরাতে মুহাম্মাদ (সা.) -এর চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে লেখা ছিল।
(مُلْكُهُ بِالشَّامِ) রাসূলুল্লাহ (সা.) ও চার খলীফার খিলাফাতের শেষে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যাবে, শাম বা সিরিয়াতে মু'আবিয়াহ্ ও বানু উমাইয়্যাহ্-এর নিকট। তারা মুসলিমদের মাঝে নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এখানে রাজত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নুবুওয়্যাত, দীন ইসলাম।
(رُعَاةٌ لِلشَّمْسِ يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ إِذَا جَاءَ وَقْتُهَا) সূর্যের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবে যখনই সালাতের সময় হবে তখন সালাত আদায় করবে। অর্থাৎ সূর্য উদিত হওয়ার সময়, সূর্য যখন আকাশের মাঝামাঝি থাকবে ঐ সময় সূর্য ডুবে যাওয়ার সময়সহ সালাতের সকল ওয়াক্ত যথাসময়ে আদায় করা এবং ‘ইবাদতের অন্যান্য বিষয়গুলো আদায় করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কা'ব আল-আহবার (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭২-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাওরাত কিতাবে মুহাম্মাদ (সা.) -এর গুণাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং তাতে এটাও রয়েছে যে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম-কে তাঁর সাথে [’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হুজরায়] দাফন করা হবে। আবূ মাওদূদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর হুজরায় আজ পর্যন্ত (তাঁর দাফনের জন্য) একটি কবরের জায়গা বাকি রয়েছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ صِفَةُ مُحَمَّدٍ وَعِيسَى بن مَرْيَمَ يُدْفَنُ مَعَهُ قَالَ أَبُو مَوْدُودٍ: وَقَدْ بَقِي فِي الْبَيْت مَوضِع قَبره رَوَاهُ الترمذيُّ

حسن ، رواہ الترمذی (3617 وقال : حسن غریب) ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن سلام قال: مكتوب في التوراة صفة محمد وعيسى بن مريم يدفن معه قال ابو مودود: وقد بقي في البيت موضع قبره رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی (3617 وقال : حسن غریب) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: তাওরাত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত গ্রন্থ যা মূসা আলায়হিস সালাম-এর ওপর নাযিল হয়েছিল। তাওরাতের ভিতরে মুহাম্মদ (সা.) -এর গুণাবলী লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর তাতে এটাও লেখা ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর ঘরে দাফন করা হয়েছে। তার কবরের পাশে শায়িত আছেন আবূ বাকর বাকর ও ‘উমার (রাঃ)। এখানে আরো একটি কবরের জায়গা খালি আছে। কিয়ামতের সময় নিকটবর্তী হলে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম আকাশ হতে অবতরণ করবেন দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য। ঈসা আলায়হিস সালাম মৃত্যুবরণ করবেন মক্কাহ্ ও মদীনার মধ্যবর্তী জায়গায়। তাঁর কবর দেয়া হবে। আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর ঘরে যেখানে একটি কবরের জায়গা খালি আছে সেখানে।
অত্র হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ মাওদূদ (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর পরিচয় হলো ‘আবদুল আযীয ইবনু সুলায়মান আল মাদানী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

এ সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ঈসা আলায়হিস সালাম পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি বিবাহ করবেন, তার সন্তান হবে। তিনি পৃথিবীতে ৪৫ বছর অবস্থান করবেন। অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করবেন তাকে দাফন করা হবে আমার সাথে একই কবরে। আমি এবং ‘ঈসা আলায়হিস সালাম একই কবর থেকে বের হব আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) -এর পাশে থাকবেন। [ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবুল ওয়াফা]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭৩-[৩৫] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা সকল নবীগণের ও সকল মালায়িকা’র (ফেরেশতাগণের) ওপরে মুহাম্মাদ (সা.) -কে মর্যাদা দান করেছেন। লোকেরা প্রশ্ন করলেন, হে আবূ আব্বাস। (ইবনু আব্বাস-এর উপনাম) আল্লাহ মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) উপরে কিরূপে তাকে ফযীলাত দিয়েছেন? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা আকাশবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “তাদের মধ্যে যে বলবে যে, তিনি ব্যতীত আমিই ইলাহ’, তাহলে আমি তাকে তার প্রতিফল দেব জাহান্নাম, যালিমদেরকে আমি এভাবেই পুরস্কার দিয়ে থাকি”- (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ২৯)। আর আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন, “আমি তোমাকে দিয়েছি স্পষ্ট বিজয়। যাতে আল্লাহ তোমার আগের ও পিছের যাবতীয় ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করেন..."- (সূরাহ আল ফাতহ ৪৮: ১-২)। লোকেরা জিজ্ঞেস করলেন, নবীদের ওপর কিভাবে তাঁকে ফযীলত দেয়া হয়েছে? উত্তরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “আমি কোন রাসূলকেই তার জাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি যাতে তাদের কাছে স্পষ্টভাবে (আমার নির্দেশগুলো) বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে পথহারা করেছেন..."- (সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪: ৪)। আর আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, (হে নবী মুহাম্মাদ!) “আমি আপনাকে গোটা মানব সমাজের জন্য রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি..."- (সূরাহ্ সাবা- ৩৪: ২৮)। অতএব আল্লাহ তা’আলা তাঁকে জিন্ ও ইনসান উভয় সম্প্রদায়ের নিকটেই পাঠিয়েছেন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

عَن ابْن عبَّاس قَالَ: إنَّ الله تَعَالَى فضل مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَعَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبَّاسٍ بِمَ فَضَّله الله عَلَى أَهْلِ السَّمَاءِ؟ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لِأَهْلِ السَّمَاءِ [وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نجزي الظَّالِمين] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: [إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تأخَّر] قَالُوا: وَمَا فَضْلُهُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: [وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاء] الْآيَةَ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: [وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا كَافَّة للنَّاس] فَأرْسلهُ إِلَى الْجِنّ وَالْإِنْس

اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 25 ۔ 26 ح 47) و الحاکم (2 / 350) ۔
(صَحِيح)

عن ابن عباس قال: ان الله تعالى فضل محمدا صلى الله عليه وسلم على الانبياء وعلى اهل السماء فقالوا يا ابا عباس بم فضله الله على اهل السماء؟ قال: ان الله تعالى قال لاهل السماء [ومن يقل منهم اني اله من دونه فذلك نجزيه جهنم كذلك نجزي الظالمين] وقال الله تعالى لمحمد صلى الله عليه وسلم: [انا فتحنا لك فتحا مبينا ليغفر لك الله ما تقدم من ذنبك وما تاخر] قالوا: وما فضله على الانبياء؟ قال: قال الله تعالى: [وما ارسلنا من رسول الا بلسان قومه ليبين لهم فيضل الله من يشاء] الاية وقال الله تعالى لمحمد صلى الله عليه وسلم: [وما ارسلناك الا كافة للناس] فارسله الى الجن والانس اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 25 ۔ 26 ح 47) و الحاکم (2 / 350) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (সা.) -কে সকল মালাক (ফেরেশতা), নবী-রাসূল, জিন ও মানুষের ওপর মর্যাদা প্রদান করেছেন। মুহাম্মাদ (সা.) -এর মর্যাদা মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) ওপর দিয়েছেন। তার মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আল কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, “নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি যেন আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের ক্রটিসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমার প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সৎপথে পরিচালিত করেন।” (সূরাহ্ আল ফাতহ ৪৮:১-২)
অত্র আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (সা.)-কে অনুগ্রহ করে তার পূর্বের ও পরের গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। আর তার প্রতি রহমত অবতীর্ণ করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা আসমানবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন, “তাদের মধ্যে যে বলবে, তিনি ব্যতীত আমিই ইলাহ তাকে আমরা জাহান্নামের শাস্তির প্রতিদান দিব, এভাবেই আমরা যালিমদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া-২১: ২৯)
(وَ مَنۡ یَّقُلۡ مِنۡهُمۡ...) আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) অন্যান্য সৃষ্টিজীবকে বুঝিয়েছেন। আয়াতের মাঝে আকাশবাসীদের অপরাধের কারণে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (সা.)-কে কোমলতা সহজতরভাবে সম্বোধন করেছেন আর আসমানবাসীদেরকে কঠিনভাবে, কঠোরতার সাথে সম্বোধন করেছেন। - আল্লাহ তা'আলার বাণী: (وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ...) (১৪:৪)  ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এ আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মর্যাদা প্রকাশ করা হয়েছে অন্যান্য সকল নবী-রাসূলদের ওপরে। কেননা এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রত্যেক নবী-রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রেরণ করা হয়েছে বিশ্বের সকল মানুষদের জন্য। সকল মানুষকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করার জন্য। তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য মূর্তিপূজার ‘ইবাদত বর্জন করে আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিয়ে আসার জন্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭৪-[৩৬] আবূ যার আল গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিরূপে জানতে পারলেন যে, আপনি নবী, এমনকি আপনি এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করলেন? তিনি (সা.) বললেন, হে আবূ যার! একদিন আমি মক্কার বাত্বহা উপত্যকায় ছিলাম। এ সময় দু’জন মালাক (ফেরেশতা) আমার কাছে আসলেন। তাদের একজন মাটিতে নেমে আসলেন এবং অপরজন আকাশ ও জমিনের মাঝখানে রইলেন। অতঃপর তাদের একজন অপরজনকে বললেন, ইনি কি তিনিই? অপরজন উত্তর দিলেন, হ্যা। তখন প্রথমজন বললেন, আচ্ছা, তাঁকে এক লোকের সাথে ওযন করা যাক। অতএব, আমাকে এক লোকের সাথে ওযন করা হলো। তখন আমি ঐ লোক অপেক্ষা ভারী হয়ে গেলাম। অতঃপর বললেন, এবার তাঁকে দশ লোকের সাথে ওযন করা যাক। অতএব আমাকে দশ ব্যক্তির সাথে ওযন করা হলো। এবারও আমি তাদের ওপর ভারী হয়ে গেলাম। অতঃপর বললেন, আচ্ছা, এবার তাঁকে একশত জনের সাথে ওযন করা হোক। অতএব আমাকে তাদের সাথে ওযন করা হলো। এবারও আমি তাদের ওপর ভারী হয়ে গেলাম। অতঃপর বললেন, আচ্ছা, এবার তাঁকে এক হাজার জনের সাথে ওযন কর। অতএব আমাকে তাদের সাথে ওযন করা হলো। এবারও আমি তাদের ওপর ভারী হয়ে গেলাম। তিনি (সা.) বলেন, আমার মনে হচ্ছে এখনো আমি যেন তাদেরকে দেখছি। তাদের পাল্লা হালকা হয়ে এমনভাবে উপরে উঠে গেছে যে, আমার আশঙ্কা হলো, তারা যে আমার উপরে ছিটকে পড়বে। তিনি (সা.) বলেন, তখন তাদের একজন অপরজনকে বললেন, তুমি যদি তাঁকে তাঁর সমস্ত উম্মাতের সাথেও ওযন কর, তখনো তার পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। (হাদীস দু’টি দারিমী বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَن أبي ذرّ الْغِفَارِيّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟ فَقَالَ: يَا أَبَا ذَر أَتَانِي ملكان وَأَنا ب بعض بطحاء مَكَّة فَوَقع أَحدهمَا على الْأَرْضِ وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهْوَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَزِنْهُ بِرَجُلٍ فَوُزِنْتُ بِهِ فَوَزَنْتُهُ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِعَشَرَةٍ فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ: زنه بِمِائَة فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ خِفَّةِ الْمِيزَانِ. قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا لصَاحبه: لَو وزنته بأمته لرجحها . رَوَاهُمَا الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 9 ح 14) * فیہ عروۃ بن الزبیر عن ابی ذر رضی اللہ عنہ وما اراہ یسمع منہ وقال ابن اسحاق امام المغازی رحمہ اللہ :’’ حدثنی ثور بن یزید عن خالد بن معدان عن اصحاب رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم انھم قالوا : یا رسول اللہ ! اخبرنا عن نفسک ؟ فقال : دعوۃ ابی ابراھیم و بشری عیسی و رأت امی حین حملت بی انہ خرج منھا نور أضاءت لہ قصور بصری من ارض الشام و استرضعت فی بنی سعد بن بکر ، فبینا انا مع اخ فی بھم لنا ، اتانی رجلان علیھما ثیاب بیاض ، معھما طست من ذھب مملوء ثلجًا فاضجعانی فشقابطنی ثم استخرجا قلبی فشقاہ فاخر جا منہ علقۃ سوداء فالقیاھا ثم غسلا قلبی و بطنی بذاک الثلج حتی اذا انقیاہ ، رداہ کما کان ثم قال احدھما لصاحبہ : زنہ بعشرۃ من امتہ فوزننی بعشرۃ فوزنتھم ثم قال : زنہ بالف من امتہ فوزننی بالف فوزنتھم فقال : دعہ عنک فلو وزنتہ بامتہ لوزنھم ‘‘ (السیرہ لابن اسحاق ص 103) و سندہ حسن لذاتہ وھو یغنی عنہ

وعن ابي ذر الغفاري قال: قلت: يا رسول الله كيف علمت انك نبي حتى استيقنت؟ فقال: يا ابا ذر اتاني ملكان وانا ب بعض بطحاء مكة فوقع احدهما على الارض وكان الاخر بين السماء والارض فقال احدهما لصاحبه: اهو هو؟ قال: نعم. قال: فزنه برجل فوزنت به فوزنته ثم قال: زنه بعشرة فوزنت بهم فرجحتهم ثم قال: زنه بماىة فوزنت بهم فرجحتهم كاني انظر اليهم ينتثرون علي من خفة الميزان. قال: فقال احدهما لصاحبه: لو وزنته بامته لرجحها . رواهما الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 9 ح 14) * فیہ عروۃ بن الزبیر عن ابی ذر رضی اللہ عنہ وما اراہ یسمع منہ وقال ابن اسحاق امام المغازی رحمہ اللہ :’’ حدثنی ثور بن یزید عن خالد بن معدان عن اصحاب رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم انھم قالوا : یا رسول اللہ ! اخبرنا عن نفسک ؟ فقال : دعوۃ ابی ابراھیم و بشری عیسی و رأت امی حین حملت بی انہ خرج منھا نور أضاءت لہ قصور بصری من ارض الشام و استرضعت فی بنی سعد بن بکر ، فبینا انا مع اخ فی بھم لنا ، اتانی رجلان علیھما ثیاب بیاض ، معھما طست من ذھب مملوء ثلجا فاضجعانی فشقابطنی ثم استخرجا قلبی فشقاہ فاخر جا منہ علقۃ سوداء فالقیاھا ثم غسلا قلبی و بطنی بذاک الثلج حتی اذا انقیاہ ، رداہ کما کان ثم قال احدھما لصاحبہ : زنہ بعشرۃ من امتہ فوزننی بعشرۃ فوزنتھم ثم قال : زنہ بالف من امتہ فوزننی بالف فوزنتھم فقال : دعہ عنک فلو وزنتہ بامتہ لوزنھم ‘‘ (السیرہ لابن اسحاق ص 103) و سندہ حسن لذاتہ وھو یغنی عنہ

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) নবী হবেন এটা তার নিকট অলৌকিক ব্যাপার মনে হয়েছিল। প্রত্যেক নবী রাসূলগণের নুবুওয়্যাত ও রিসালাত প্রমাণ করার জন্য এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নিশ্চয় প্রত্যেক জাতির মানুষেরাই নবী-রাসূলগণের নবী হওয়ার সত্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন। যেমনিভাবে আমাদের নবীর সম্পর্কিত মানুষগণ মনোযোগ দিয়েছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবীকুল শিরোমণি -এর মর্যাদাসমূহ

৫৭৭৫-[৩৭] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার ওপরে কুরবানী ফরয করা হয়েছে; আর তোমাদের ওপর ফরয করা হয়নি এবং আমাকে চাশতের সালাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; আর তোমাদেরকে এর নির্দেশ দেয়া হয়নি। (দারাকুতনী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ فَضَائِلِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُتِبَ عَلَيَّ النَّحْرُ وَلَمْ يُكْتَبْ عَلَيْكُمْ وَأُمِرْتُ بِصَلَاةِ الضُّحَى وَلَمْ تؤمَروا بهَا» . رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الدارقطنی (4 / 282 ح 4706) [و احمد (1 / 317) و البیھقی (8 / 264)] * فیہ جابر بن یزید الجعفی ضعیف جدًا ، رافضی ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كتب علي النحر ولم يكتب عليكم وامرت بصلاة الضحى ولم تومروا بها» . رواه الدارقطني اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الدارقطنی (4 / 282 ح 4706) [و احمد (1 / 317) و البیھقی (8 / 264)] * فیہ جابر بن یزید الجعفی ضعیف جدا ، رافضی ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর কুরবানী করা ফরয করে দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করেন, (فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ) “তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর।” (সূরা আল কাওসার ১০৮: ২)
বলা হয়: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব চাই তার সম্পদ থাকুক বা না থাকুক।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর তিনটি বিষয় আবশ্যক করে দেয়া হয়েছিল যা তোমাদের ওপর অবশ্যক করা হয়নি। তা হলো কুরবানী করা, চাশতের সালাত আদায় করা, বিতর আদায় করা।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, চাশতের সালাত সম্পর্কে এ হাদীস ছাড়া অন্য আর কোন হাদীস পাওয়া যায় না। ‘আল্লামাহ্ ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, চাশতের সালাতের নির্দেশ সম্পর্কে হাদীসটি য'ঈফ।
এ বিষয়ে আরো কিছু হাদীস বর্ণিত আছে। সবগুলোর সমন্বয়ে যা বুঝায় যে, চাশতের সালাতের বিধান হলো মুস্তাহাব। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

আবূ বকর ইবনু ’আরাবী আল মালিকী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তা’আলার যেমন গুণবাচক এক হাজার নাম রয়েছে অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এরও গুণবাচক নাম রয়েছে। এর ভিতর থেকে ষাটের কিছু বেশি নাম তিনি উল্লেখ করেছেন।
আবূ হুসায়ন ইবনু ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, আমাদের নবী (সা.) -এর ২২টি গুণবাচক নাম রয়েছে যা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
’আল্লামাহ্ সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর (الْبَهْجَةُ السَّوِيَّةُ فِي الْأَسْمَاءِ النَّبَوِيَّةِ) গ্রন্থে তিনি ৫০০-এর কিছু বেশি গুণবাচক নাম উল্লেখ করেছেন। সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে সংক্ষেপে নিরানব্বইটি নাম উল্লেখ করেছেন।
হাদীসে যেগুলো বর্ণিত হয়েছে সেগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো। যেমন: (الشَّافِيَةُ وَالْوَافِيَةُ وَالْكَافِيَةُ) অর্থাৎ- আরোগ্য দানকারী, পরিপূর্ণভাবে দানকারী ও যিনি সকল ক্ষেত্রে যথেষ্ট।



৫৭৭৬-[১] জুবায়র ইবনু মুত্বইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আমার অনেকগুলো নাম রয়েছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, আমি মাহী। আল্লাহ তা’আলা আমার দ্বারা কুফকে নিশ্চিহ্ন করবেন। আমি ’আল হাশির’, (কিয়ামতের দিন) মানব জাতিকে আমার পেছনে একত্রিত করা হবে। আর আমি হলাম আল ’আকিব এবং ’আকিব ঐ লোক, যার পরে আর কোন নবী নেই। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعَمٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إنَّ لي أَسْمَاءً: أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِي الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي وَأَنَا الْعَاقِبُ . وَالْعَاقِب: الَّذِي لَيْسَ بعده شَيْء. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3532) و مسلم (124 / 2354)، (6105) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن جبير بن مطعم قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ان لي اسماء: انا محمد وانا احمد وانا الماحي الذي يمحو الله بي الكفر وانا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي وانا العاقب . والعاقب: الذي ليس بعده شيء. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3532) و مسلم (124 / 2354)، (6105) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إنَّ لي أَسْمَاءً) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বিভিন্ন নামে-গুণে ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা সম্বোধন করা হয়েছে। তার অনেক গুণবাচক নাম রয়েছে। এগুলোর ভিতরে মুহাম্মাদ নামটি অনেক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কেননা তাঁর চারিত্রিক গুণের সকলেই প্রশংসা করেছেন।
(وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِي الْكُفْرَ) আর আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, কুফরী অন্ধকারাচ্ছন্নতা দূর করার জন্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) পৃথিবীতে সুস্পষ্ট আলো (কুরআন, সুন্নাহ) নিয়ে আগমন করেছেন, এমনিভাবে কুফরীশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দলীলের মাধ্যমে বিজয় লাভ করা, প্রধান্য পাওয়া অন্যান্য ধর্মের উপর।
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: (لِیُظۡهِرَهٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّهٖ) “তিনি সব দীনের উপর একে বিজয়ী করেন।” (সূরাহ আত্ তাওবাহ্ ৯: ৩৩)।

(أَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِىْ لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِىٌّ) শারহে মুসলিমে ইবনুল আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, যে তার পূর্ববর্তী লোকেদের প্রতিনিধি করবেন তাকে (الْعَاقِبُ) বলা হয়। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা, ২৩৫৪/১২৪; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৭৭-[২] আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে তাঁর স্বীয় নামসমূহ বর্ণনা করতেন। তখন তিনি (সা.) বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ, মুকফফী (সকলের পশ্চাতে আগমনকারী), হাশির (সমবেতকারী) এবং আমি নবীয়ে তাওবাহ্ ও নবীয়ে রহমত অর্থাৎ তাওবাহ ও রহমতের নবী। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَمِّي لَنَا نَفْسَهُ أَسْمَاءً فَقَالَ: «أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَالْمُقَفِّي وَالْحَاشِرُ وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ وَنَبِيُّ الرَّحْمَة» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (126 / 2355)، (6108) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي موسى الاشعري قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمي لنا نفسه اسماء فقال: «انا محمد واحمد والمقفي والحاشر ونبي التوبة ونبي الرحمة» . رواه مسلم رواہ مسلم (126 / 2355)، (6108) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নামসমূহের মাঝে একটি নাম বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি (সা.) সকল রাসূলদের পিছনে আগমনকারী। তারপরে আর কোন নবী পৃথিবীতে আগমন করবেন না।
বলা হয়: রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের পথের অনুসারী। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “আপনি তাদের পথের অনুসরণ করুন।" (সূরা আল আ'আম ৬: ৯০)।
(وَالْحَاشِرُ وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ) অর্থাৎ হাশরের ময়দানে সমস্ত মানুষদেরকে, সমবেতকারী ও অত্যধিক তাওবাকারী। রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তা'আলার নিকট অধিক পরিমাণে তাওবাহ্ করতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, আমি দৈনিক সত্তর হতে একশত বার তাওবাহ্ করে থাকি। অতএব আমাদেরকে বেশি বেশি তাওবাহ্ করতে হবে।
(وَنَبِيُّ الرَّحْمَة) রাসূলুল্লাহ (সা.) মানব, জিন, জীবজন্তু, জড় পদার্থসমূহ সকলের জন্য রহমতস্বরূপ ছিলেন।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা দেন, “আমি তো তোমাকে বিশ্বগতের প্রতি রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল আম্বিয়া- ২১ : ১০৭)। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদীসে বলেছেন, (إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ) আল্লাহ তা'আলা আমাকে রহমত ও হিদায়াতকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। (মুসতাদরাক হাকিম ১/৩৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৭৮-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - (সাহাবীদেরকে) বললেন, এতেও কি তোমরা আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ না যে, আল্লাহ তা’আলা কিভাবে কুরায়শদের গালমন্দ ও অভিসম্পাতকে আমার ওপর হতে সরিয়ে দিয়েছেন? তারা ’মুযাম্মাম’ (নিন্দিত) নামে গালাগালি করে এবং ’মুযাম্মাম’-কে অভিসম্পাত দেয়। অথচ আমি মুহাম্মাদ’ (প্রশংসিত) মুযাম্মাম নই। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تَعْجَبُونَ كَيْفَ يَصْرِفُ اللَّهُ عَنِّي شَتْمَ قُرَيْشٍ وَلَعْنَهُمْ؟ يَشْتُمُونَ مُذَمَّمًا وَيَلْعَنُونَ مُذَمَّمًا وَأَنَا مُحَمَّدٌ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (3533) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الا تعجبون كيف يصرف الله عني شتم قريش ولعنهم؟ يشتمون مذمما ويلعنون مذمما وانا محمد» . رواه البخاري رواہ البخاری (3533) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: মক্কার কাফির মুশরিকগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে (مُذَمَّمًا) “মুযাম্মাম” বলত এবং গালমন্দ করত। যার অর্থ হলো নিন্দিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চারিত্রিক গুণাবলির ভিতরে নিন্দনীয় কোন গুণাবলি ছিল না। কুরায়শদের গালমন্দ তার ওপর পতিত হয়নি। আবূ লাহাব-এর স্ত্রী উম্মু জামিলা আরো বিনতু হারব তাঁর গালমন্দ করে কবিতা আবৃত্তি করেন।
(مُذَمَّمًا قَلَيْنَا...وَدِينَهُ أَبَيْنَاوَأَمْرَهُ عَصَيْنَا) আমরা তার গালমন্দ করতাম, তার দীনকে অস্বীকার করতাম এবং তাঁর আদেশকে অমান্য করতাম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৭৯-[৪] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথার এবং দাড়ির আগায় সামান্য কিছু শুভ্রতা দেখা দিয়েছিল। যখন তিনি তাতে তেল লাগাতেন তখন তা প্রকাশ পেত। আর যখন কেশরাজি বিক্ষিপ্ত হত, তখন তা প্রকাশ পেত। তাঁর দাড়ি ছিল খুব বেশি। তখন এক লোক বলল, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মুখমণ্ডল ছিল তলোয়ারের মতো। তিনি বললেন, না; বরং তা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের মতো এবং তাঁর চেহারা ছিল গোলগাল। আর আমি তাঁর কাঁধের কাছে কবুতরের ডিমের মতো মোহরে নুবুওয়্যাতও দেখতে পেয়েছি, তার রং ছিল তার গায়ের রংয়ের সাদৃশ্য।

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ شَمِطَ مُقَدَّمُ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ وَكَانَ إِذَا ادَّهَنَ لَمْ يَتَبَيَّنْ وَإِذَا شَعِثَ رَأْسُهُ تَبَيَّنَ وَكَانَ كَثِيرَ شَعْرِ اللِّحْيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ: وَجْهُهُ مِثْلُ السَّيْفِ؟ قَالَ: لَا بَلْ كَانَ مِثْلَ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ وَكَانَ مُسْتَدِيرًا وَرَأَيْتُ الْخَاتَمَ عِنْدَ كَتِفِهِ مِثْلَ بَيْضَة الْحَمَامَة يشبه جسده . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (109 / 2344)، (6084) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد شمط مقدم راسه ولحيته وكان اذا ادهن لم يتبين واذا شعث راسه تبين وكان كثير شعر اللحية فقال رجل: وجهه مثل السيف؟ قال: لا بل كان مثل الشمس والقمر وكان مستديرا ورايت الخاتم عند كتفه مثل بيضة الحمامة يشبه جسده . رواه مسلم رواہ مسلم (109 / 2344)، (6084) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথার অগ্রভাগের কিছু চুল সাদা ছিল। যখন সেগুলোকে চিরুনি করত, কালো চুলের সাথে মিশে যাওয়ার কারণে তা বুঝা যেত না।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন চুলে তেল লাগাতেন মাথার চুলগুলো সুন্দরভাবে চিরুনি করতেন সাদা চুল কম হওয়ার কারণে তা বুঝা যেত না। আর যখন চুলগুলো এলোমেলো হত তখন বুঝা যেত যে, কিছু সাদা চুল আছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কয়েকটি চুল সাদা ছিল। তাঁর বর্ণনা সম্পর্কে সুনান ইবনু মাজাহ’য় বর্ণিত আছে, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) -এর দাড়ির সম্মুখভাগে মাত্র সতের বা বিশটি সাদা চুল দেখেছেন। (ইবনু মাজাহ হা, ৩৬২৯) । ইবনু উমার এক বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বার্ধক্য বলতে ছিল বিশটা সাদা চুল ছিল।
(ইবনু মাজাহ হা, ৩৬৩০) তলোয়ারের মতো উজ্জ্বল লম্বা হওয়ার ধারণা হতে পারে। তাই জাবির এই লোকটির কথা পাল্টিয়ে বললেন, তা উজ্জ্বল ছিল, তবে চন্দ্র ও সূর্যের ন্যায় গোলগাল ছিল। অবশ্য লম্বাও ছিল, খাটো ছিল না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮০-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু সারজাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি নবী (সা.) -কে দেখেছি এবং আমি তার সাথে রুটি ও মাংস খেয়েছি অথবা বললেন, আমি ’সারীদ’ খেয়েছি। অতঃপর আমি তার পিছনে গিয়ে ঘোরাফেরা করতে লাগলাম। তখন তাঁর উভয় কাঁধের মাঝামাঝি বাম কাঁধের উপরিভাগে মুষ্টির মতো (গোলাকার) মোহরে নুবুওয়্যাত দেখলাম। তার উপরে মাস-এর মতো অনেকগুলো তিল ছিল। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَن عبدِ الله بن سرجسٍ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْتُ مَعَهُ خُبْزًا وَلَحْمًا - أَوْ قَالَ: ثَرِيدًا - ثُمَّ دُرْتُ خَلْفَهُ فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ عِنْدَ نَاغِضِ كَتِفِهِ الْيُسْرَى جُمْعًا عَلَيْهِ خيلال كأمثال الثآليل. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (112 / 2346)، (6088) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن سرجس قال: رايت النبي صلى الله عليه وسلم واكلت معه خبزا ولحما - او قال: ثريدا - ثم درت خلفه فنظرت الى خاتم النبوة بين كتفيه عند ناغض كتفه اليسرى جمعا عليه خيلال كامثال الثاليل. رواه مسلم رواہ مسلم (112 / 2346)، (6088) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (أَكَلْتُ مَعَهُ خُبْزًا وَلَحْمًا) হাদীস বর্ণনাকারী রাবীর নিকট সন্দেহ হয়েছে যে, তিনি (ثرِيد) খাবার খেয়েছেন, না (حَيْسِ) খাবার খেয়েছেন।
(ثرِيد) বলা হয় ঝোলে ভিজানো টুকরা টুকরা রুটি, রুটি ও গোশতের মণ্ডবিশেষ।
(حَيْسِ) বলা হয় এক প্রকার মিলানো খাদ্য, যা খেজুর ঘি ছাতু দিয়ে তৈরি করা খাবার।
(শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা. ২৩৪৬/১১২, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮১-[৬] উম্মু খালিদ বিনতু খালিদ ইবনু সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) -এর নিকট কিছু কাপড় আনা হলো। এর মধ্যে কালো রঙের একখানা ছোট পশমি চাদরও ছিল। তখন তিনি (সা.) বললেন, উম্মু খালিদ-কে আমার কাছে নিয়ে আসো। অতএব তাকে বহন করে নিয়ে আসা হলো। নবী (সা.) চাদরখানা নিজের হাতে নিলেন এবং তাকে পরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা পুরাতন ও নিকৃষ্ট হওয়া পর্যন্ত পরিধান কর, অতঃপর তা পুরাতন ও নিকৃষ্ট হওয়া অবধি পরিধান কর। আর তাতে সবুজ কিংবা হলুদ রংয়ের নকশি করা ছিল। অতঃপর তিনি বললেন, হে উম্মু খালিদ! এটা (কতই না) সুন্দর। হাবশী। ভাষায় ’সানাহ’ শব্দ সুন্দরের জন্য ব্যবহার হয়। উম্মু খালিদ এবং বলেন, এরপর আমি রাসূল (সা.) -এর মোহরে নুবুওয়্যাত স্পর্শ করে খেলতে লাগলাম। আমার পিতা তখন আমাকে ধমক দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) (আমার পিতাকে) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। অর্থাৎ তাকে এমন করতে দাও। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أُمِّ خَالِدٍ بِنْتِ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَتْ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثِيَابٍ فِيهَا خَمِيصَةٌ سَوْدَاءُ صَغِيرَةٌ فَقَالَ: «ائْتُونِي بِأُمِّ خَالِدٍ» فَأُتِيَ بِهَا تُحْمَلُ فَأَخَذَ الْخَمِيصَةَ بِيَدِهِ فَأَلْبَسَهَا. قَالَ: «أَبْلِي وَأَخْلِقِي ثُمَّ أَبْلِي وَأَخْلِقِي» وَكَانَ فِيهَا عَلَمٌ أَخْضَرُ أَوْ أَصْفَرُ. فَقَالَ: «يَا أُمَّ خَالِدٍ هَذَا سِنَاهْ» وَهِيَ بالحبشيَّةِ حسنَة. قَالَت: فذهبتُ أَلعبُ بخاتمِ النبوَّةِ فز برني أُبَيٍّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دعها» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3071) ۔
(صَحِيح)

وعن ام خالد بنت خالد بن سعيد قالت: اتي النبي صلى الله عليه وسلم بثياب فيها خميصة سوداء صغيرة فقال: «اىتوني بام خالد» فاتي بها تحمل فاخذ الخميصة بيده فالبسها. قال: «ابلي واخلقي ثم ابلي واخلقي» وكان فيها علم اخضر او اصفر. فقال: «يا ام خالد هذا سناه» وهي بالحبشية حسنة. قالت: فذهبت العب بخاتم النبوة فز برني ابي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعها» . رواه البخاري رواہ البخاری (3071) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উম্মু খালিদ (রাঃ) -এর পরিচয়: বলা হয় উম্মু খালিদ বিনতু খালিদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আবূ বাকর (রাঃ) -এর পরে। ইসলাম গ্রহণ করার পর্যায়ে তিনি তৃতীয় বা চতুর্থতম ব্যক্তি, উম্মু খালিদ তাঁর উপাধি। এই নামে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তিনি হাবশায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখান থেকে ছোট অবস্থায় মদীনায় আসেন। তাকে জুবায়র ইবনু 'আওয়াম (রাঃ) বিবাহ করেন। (أَلعبُ بخاتمِ النبوَّةِ) একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট কিছু চাদর নিয়ে আসা হলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মু খালিদ-কে তার কাছে নিয়ে আসতে বললেন, তাকে একখানা চাদর প্রদান করে তার জন্য দু'আ করলেন।
বলা হয়: রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দীর্ঘ আয়ুর জন্য দু'আ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে চাদর নিয়ে যাওয়ার সময় উম্মু খালিদ নবী (সা.) -এর কাঁধে মোহরে নুবুওয়্যাত স্পর্শ করে খেলতে ছিলেন। এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় নবী (সা.) -এর কাঁধে নুবুওয়্যাতের মোহর ছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮২-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না, তিনি ধবধবে সাদাও ছিলেন না, আবার শ্যাম বর্ণেরও ছিলেন না। তাঁর মাথার চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না এবং সোজাও ছিল না। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নুবুওয়্যাত দান করেছেন। অতঃপর তিনি (সা.) মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন। আর আল্লাহ তা’আলা তাঁকে ষাট বছর বয়সে মৃত্যু দান করেন। অথচ তখন তাঁর মাথার চুল ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা হয়নি।
অপর এক বর্ণনায় আনাস (রাঃ) নবী (সা.) -এর আকৃতির বর্ণনায় বলেছেন, তিনি লোকেদের মাঝে মধ্যম ছিলেন। লম্বাও ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না। তাঁর দেহের রং ছিল উজ্জ্বল। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথার চুল উভয় কানের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত পৌঁছত।
অপর এক বর্ণনায় আছে, কেশরাজি উভয় কানের এবং কাঁধের মাঝামাঝিতে ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

বুখারীর অপর এক বর্ণনাতে আছে- আনাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথা ছিল বড় এবং উভয় পায়ের পাতা ছিল মাংসে পরিপূর্ণ। আমি তার পূর্বে এবং পরে অনুরূপ আকৃতির আর কাউকেও দেখিনি। আর তাঁর উভয় হাতের তালু ছিল বিস্তীর্ণ। অন্য এক বর্ণনাতে আনাস (রাঃ) বলেছেন, নবী (সা.) - এর উভয় পা এবং উভয় হাত ছিল মাংসে পরিপূর্ণ।

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلَا بِالْقَصِيرِ وَلَيْسَ بِالْأَبْيَضِ الْأَمْهَقِ وَلَا بِالْآدَمِ وَلَيْسَ بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلَا بِالسَّبْطِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ وبالمدينة عشر سِنِين وتوفَّاه الله على رَأس سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ وَفِي رِوَايَةٍ يَصِفُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ رَبْعَةً مِنَ الْقَوْمِ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ أَزْهَرَ اللَّوْنِ. وَقَالَ: كَانَ شَعْرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ: بَيْنَ أُذُنَيْهِ وَعَاتِقِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ قَالَ: كَانَ ضَخْمَ الرَّأْسِ وَالْقَدَمَيْنِ لَمْ أَرَ بَعْدَهُ وَلَا قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَكَانَ سَبْطَ الكفَّينِ. وَفِي أُخْرَى لَهُ قَالَ: كَانَ شئن الْقَدَمَيْنِ وَالْكَفَّيْنِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3548 ۔ 5900) و مسلم (113 / 2347)، (6089) الروایۃ الثانیۃ 1 ، رواھا البخاری (3547) و الثانیۃ ب ، رواھا مسلم (96 / 2338)، (6067) و الثالثۃ ، رواھا البخاری (5905) و مسلم (94 / 2338)، (6069) و الرابعۃ ، رواھا البخاری (5910) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل الباىن ولا بالقصير وليس بالابيض الامهق ولا بالادم وليس بالجعد القطط ولا بالسبط بعثه الله على راس اربعين سنة فاقام بمكة عشر سنين وبالمدينة عشر سنين وتوفاه الله على راس ستين سنة وليس في راسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء وفي رواية يصف النبي صلى الله عليه وسلم قال: كان ربعة من القوم ليس بالطويل ولا بالقصير ازهر اللون. وقال: كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى انصاف اذنيه وفي رواية: بين اذنيه وعاتقه. متفق عليه وفي رواية للبخاري قال: كان ضخم الراس والقدمين لم ار بعده ولا قبله مثله وكان سبط الكفين. وفي اخرى له قال: كان شىن القدمين والكفين متفق علیہ ، رواہ البخاری (3548 ۔ 5900) و مسلم (113 / 2347)، (6089) الروایۃ الثانیۃ 1 ، رواھا البخاری (3547) و الثانیۃ ب ، رواھا مسلم (96 / 2338)، (6067) و الثالثۃ ، رواھا البخاری (5905) و مسلم (94 / 2338)، (6069) و الرابعۃ ، رواھا البخاری (5910) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সকল মানুষের জন্যই অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। মানবীয় চরিত্রের সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার সামঞ্জস্যের ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
বারা' ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মধ্যমাকৃতির একজন মানুষ হালকা লম্বা, তার ছিল চওড়া কাঁধ, কানের লতি পর্যন্ত ঘন চুল, যখন তিনি লাল ডোরাকাটা জামা পরিধান করতেন, আমরা তখন তাঁর থেকে অন্যকিছুকে অধিক সুন্দর মনে করতাম না।

(بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً) প্রসিদ্ধ আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে নুবুওয়্যাতের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে চল্লিশ বছর পূর্ণ হলে। তার আগে তাকে নুবুওয়্যাতের দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
(جَامِعِ الْأُصُولِ) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, “উলামাগণ বর্ণনা করেছেন নবী (সা.) ৪৩ বছর বয়সে নুবুওয়্যাতের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, নবী (সা.) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। আর মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন।
বিশুদ্ধ রিওয়ায়াত অনুযায়ী জানা যায় যে, নবী (সা.) নুবুওয়্যাত পাওয়ার পর হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছেন। আর অত্র হাদীসে দশ বছরের কথা রয়েছে। সম্ভবত হাদীস বর্ণনাকারী দশকের পরে ভাংতি বছরগুলো বাদ দিয়ে বলেছেন।
আর এটা সকলেরই জানা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ইন্তিকালের সময় বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। আর অত্র হাদীসে উল্লেখ আছে ষাট বছর।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, তার বয়স হয়েছিল পয়ষট্টি বছর। এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্ম ও ইন্তিকালের বছর দু'টি স্বতন্ত্রভাবে দুই বছর ধরে পঁয়ষট্টি বলা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৩-[৮] বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মধ্যম গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান বেশ প্রশস্ত ছিল। তার মাথার চুল তাঁর দুই কানের লতি অবধি পৌছত। আমি তাঁকে লাল (ডোরাকাটা) পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। আমি তার চেয়ে অধিক সুশ্রী আর কাউকেও কখনো দেখিনি। (বুখারী ও মুসলিম)।

আর মুসলিম-এর বর্ণনায় আছে, বারা’ (রাঃ) বলেছেন, বাবরি চুলবিশিষ্ট লাল (ডোরাকাটা) পোশাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) অপেক্ষা সুন্দর আর কাউকে আমি দেখতে পাইনি। তাঁর মাথার চুল কাঁধ স্পর্শ করত এবং তার দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানটা ছিল বেশ প্রশস্ত। তিনি লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না।

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرْبُوعًا بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَهُ شَعْرٌ بَلَغَ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ رَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ لَمْ أَرَ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ أَحْسَنَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَعْرُهُ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ بَعِيدٌ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3551) و مسلم (92 ، 91 / 2337 و الروایۃ الثانیۃ لہ)، (6064 و 6065) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن البراء قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مربوعا بعيد ما بين المنكبين له شعر بلغ شحمة اذنيه رايته في حلة حمراء لم ار شيىا قط احسن منه. متفق عليه وفي رواية لمسلم قال: ما رايت من ذي لمة احسن في حلة حمراء من رسول الله صلى الله عليه وسلم شعره يضرب منكبيه بعيد ما بين المنكبين ليس بالطويل ولا بالقصير متفق علیہ ، رواہ البخاری (3551) و مسلم (92 ، 91 / 2337 و الروایۃ الثانیۃ لہ)، (6064 و 6065) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (لَهُ شَعْرٌ بَلَغَ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ) বিভিন্ন হাদীসের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, মাথার চুলে তিনটি অবস্থা বিদ্যমান আছে। সেগুলো হলো (وَفْرَةلِمَّةٍ جُمَّة)
(وَفْرَة) (ওয়াফরাহ্) বলা হয়: মানুষের মাথার চুল যখন কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
(لِمَّةٍ) (লিস্মাহ্) বলা হয়, মানুষের মাথার চুল যখন ঘাড়ের মাঝামাঝি পৌছে যায়।
(جُمَّة) (জুম্মাহ্) বলা হয়: মানুষের মাথার চুল যখন কাঁধ পর্যন্ত পৌছিয়ে যায়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) সময়, অবস্থাভেদে মাথার চুল কখনো বড় রাখতেন। আবার কখনো ছোট রাখতেন। আবার কখনো ঘাড়ের মাঝামাঝি রাখতেন। অতএব এ তিনটি পদ্ধতির যে কোন একটির অনুসরণ করলেই রসূলের সুন্নাতের অনুসরণ করা হবে।
(رَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ) ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জামায় লাল রেখার দাগ টানা ছিল।
ইবনু হুমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জামা ছিল ইয়ামান থেকে নিয়ে আসা দু'টি কাপড়, তাতে আছে লাল ও সবুজ রং-এর রেখা। তা শুধু লাল রংয়ের নয়।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, দাগটানা বিশিষ্ট জামা।
মিরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের কোন দলীল নেই। যারা বলে লাল রংয়ের জামা পরিধান করা জায়িয। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা. ২৩৩৭/৯১, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৪-[৯] সিমাক ইবনু হারব (রহিমাহুল্লাহ) জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) “যলীউল ফাম, আশকালুল ’আয়নায়ন ও মানহুশ আল ’আক্বিবায়ন” বিশিষ্ট ছিলেন। পরে সিমাক-কে এ শব্দগুলোর অর্থ কি প্রশ্ন করা হলে তিনি (যথাক্রমে) বললেন, প্রশস্ত মুখ, চক্ষুর পুতলি ঘোর কালো ও বড় এবং পায়ের গোড়ালিতে অল্প মাংস। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَلِيعَ الْفَمِ أَشْكَلَ الْعَيْنَيْنِ مَنْهُوشَ الْعَقِبَيْنِ قِيلَ لَسِمَاكٍ: مَا ضَلِيعُ الْفَمِ؟ قَالَ: عَظِيمُ الْفَمِ. قِيلَ: مَا أَشْكَلُ الْعَيْنَيْنِ؟ قَالَ: طَوِيلُ شَقِّ الْعَيْنِ. قِيلَ: مَا مَنْهُوشُ الْعَقِبَيْنِ؟ قَالَ: قليلُ لحم الْعقب. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (97 / 2339)، (6070) ۔
(صَحِيح)

وعن سماك بن حرب عن جابر بن سمرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضليع الفم اشكل العينين منهوش العقبين قيل لسماك: ما ضليع الفم؟ قال: عظيم الفم. قيل: ما اشكل العينين؟ قال: طويل شق العين. قيل: ما منهوش العقبين؟ قال: قليل لحم العقب. رواه مسلم رواہ مسلم (97 / 2339)، (6070) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারা মুবারক ছিল প্রশস্ত মুখবিশিষ্ট। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ ধরনের চেহারা সুন্দর দেখা যায় যা আরবদের নিকট পছন্দনীয় ছোট চেহারা নিন্দনীয়। আর নবী (সা.) -এর চেহারা সার্বিকভাবে সুন্দর ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৫-[১০] আবূত্ব তুফায়ল (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে দেখেছি। তিনি গৌর বর্ণের লাবণ্যময় এবং তিনি মধ্যম গড়নের ছিলেন (অর্থাৎ প্রত্যেকটির মধ্যে পরস্পর সামঞ্জস্য ছিল)। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَبْيَضَ مَلِيحًا مقصدا . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (99 / 2340)، (6072) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي الطفيل قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ابيض مليحا مقصدا . رواه مسلم رواہ مسلم (99 / 2340)، (6072) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আবূত্ব তুফায়ল, ‘আমির ইবনু ওয়াসীলাহ্ উপনামেই বেশি প্রসিদ্ধ ছিল। নবী (সা.) -কে জীবিত অবস্থায় আট বছর পেয়েছিলেন। তিনি ১০২ হিজরীতে মক্কায় ইন্তিকাল করেন। তিনি সর্বশেষ ইন্তিকাল করেছেন সাহাবীগণের মধ্যে হতে।
(كَانَ أَبْيَضَ مَلِيحًا) রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশি লম্বাও ছিল না এবং খাটো ছিল না। আবার অধিক মোটাও ছিল না। তিনি ছিলেন সুন্দর সুপুরুষ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৬-[১১] সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আনাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খিযাব লাগানো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বললেন, তার চুল এমন সাদা হয়নি যে, তাতে খিযাব লাগাতে হবে। যদি আমি তার সাদা দাড়িগুলো গুণে দেখতে চাইতাম তবে সহজে গুণতে পারতাম।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, আমি তার মাথার সাদা চুলগুলো গুণে দেখতে চাইলে সহজে গুণতে পারতাম। (বুখারী ও মুসলিম)
আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সা.) নিচের ঠোট ও চিবুকের ও কানের মধ্যবর্তী পশমে শুভ্রতা ছিল এবং মাথার মাঝেও কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল।

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ ثَابِتٍ قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ عَنْ خِضَابِ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْ مَا يُخْضَبُ لَوْ شِئْتُ أَنْ أَعُدَّ شَمَطَاتِهِ فِي لِحْيَتِهِ - وَفِي رِوَايَةٍ: لَوْ شِئْتُ أَنْ أَعُدَّ شَمَطَاتٍ كُنَّ فِي رَأسه - فعلت. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (5895) و مسلم (104 ، 103 / 2341)، (6076 و 6077) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ثابت قال: سىل انس عن خضاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: انه لم يبلغ ما يخضب لو شىت ان اعد شمطاته في لحيته - وفي رواية: لو شىت ان اعد شمطات كن في راسه - فعلت. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (5895) و مسلم (104 ، 103 / 2341)، (6076 و 6077) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: মাথার চুল ও দাড়ি কতটুকু পরিমাণ সাদা হলে খিযাব লাগাবে- এ সম্পর্কে কয়েকটি রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, সাদা চুলের পরিমাণ যদি কম হয়। যাতে শুভ্রতা বুঝা যায় না। তাতে খিযাব লাগানোর প্রয়োজন নেই।
(فَقَالَ: إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْ مَا يُخْضَبُ) তার চুল এমন সাদা হয়নি যে, তাতে খিযাব লাগাতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ইন্তিকাল করেছেন তখন তার বয়স এমন ছিল না যে, তার মাঝে বার্ধক্যের চিহ্ন প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সামান্য কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল। যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে বোঝাই যেত না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাবিত (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৭-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) গৌরবর্ণের ছিলেন। তাঁর ঘর্ম ছিল মুক্তার মতো। হাঁটার সময় তিনি (সা.) সম্মুখের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন এবং আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হাতের তালুর তুলনায় অধিকতর নরম কোন রেশম কিংবা কোন গরদ স্পর্শ করিনি। আর নবী (সা.) -এর শরীরের সুগন্ধ অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধ কস্তুরী কিংবা মিশকে আম্বার আমি কখনো শুকিনি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَزْهَرَ اللَّوْنِ كَانَ عَرَقُهُ اللُّؤْلُؤُ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ وَمَا مَسَسْتُ دِيبَاجَةً وَلَا حَرِيرًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا شمَمتُ مسكاً وَلَا عَنْبَرَةً أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3561) و مسلم (82 / 2330)، (6054) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ازهر اللون كان عرقه اللولو اذا مشى تكفا وما مسست ديباجة ولا حريرا الين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا شممت مسكا ولا عنبرة اطيب من راىحة النبي صلى الله عليه وسلم. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3561) و مسلم (82 / 2330)، (6054) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) - মানুষের হাঁটার সময় মাথা উঁচু করে বুক টান করে অহংকারীদের মতো করে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। ডানে বা বাম দিকে ঝুঁকে হাঁটতে নিষেধ করেছেন।
আযহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, অহংকারীর মতো বীর বাহাদুরের গুণ প্রকাশ করে হাঁটা এটা ভুল পন্থা। হাঁটতে হবে বিনয়ী হয়ে। এ প্রসঙ্গে ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন সামনের দিকে এমনভাবে ঝুঁকে হাঁটতেন, মনে হত তিনি যেন কোন উঁচু স্থান হতে নিচে অবতরণ করছেন। (শামায়িলে তিরমিযী হা. ৯৫, মুসনাদে আহমাদ হা. ৭৪৬)।

(أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) আনাস (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) ছিলেন সবচাইতে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষ। আমি রেশম এবং পশম মিশিয়ে বানানো কাপড়ও নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখেছি, আর খাটি রেশমি কাপড়ও ছুঁয়েছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতের চেয়ে অধিক নরম ও মসৃণ কোন কিছু স্পর্শ করিনি। আমি মৃগনাভির গন্ধ এবং আতরের গন্ধও গ্রহণ করেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শরীরের ঘামের চেয়ে অধিক সুগন্ধ কোন কিছুতেই পাইনি। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা. ২৩৩০/৮২, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৮-[১৩] উম্মু সুলায়ম (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) প্রায়শ দ্বিপ্রহরে তাদের সাথে সেখানে বিশ্রাম করতে আসতেন। তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তার জন্য একখানা চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং রাসূল (সা.) তাতেই বিশ্রাম করতেন। নবী (সা.) -এর শরীর থেকে অত্যধিক ঘর্ম বের হত। আর উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তাঁর ঘর্মগুলো একত্রিত করে আতর বা সুগন্ধির মধ্যে মিলিয়ে রাখতেন। তখন নবী (সা.) প্রশ্ন করলেন, হে উম্মু সুলায়ম! তুমি এটা কি করছ? তিনি বললেন, এটা আপনার শরীরের ঘাম। আমরা এটাকে আমাদের সুগন্ধির সাথে মিশ্রিত করব। মূলত এটা সর্বোত্তম সুগন্ধি। অপর এক বর্ণনায় আছে- উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য (ব্যবহারের মাধ্যমে) বরকতের আশা করি। তখন রাসূল (সা.) বললেন, তুমি ঠিকই করেছ। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا فَتَبْسُطُ نِطْعًا فَيَقِيلُ عَلَيْهِ وَكَانَ كَثِيرَ الْعَرَقِ فَكَانَتْ تَجْمَعُ عَرَقَهُ فَتَجْعَلُهُ فِي الطِّيبِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا؟» قَالَتْ: عَرَقُكَ نَجْعَلُهُ فِي طِيبِنَا وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطِّيبِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرْجُو بَرَكَتَهُ لِصِبْيَانِنَا قَالَ: «أصبت» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6281) و مسلم (85 ۔ 83 / 2331)، (6055 و 6056) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ام سليم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان ياتيها فيقيل عندها فتبسط نطعا فيقيل عليه وكان كثير العرق فكانت تجمع عرقه فتجعله في الطيب. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا ام سليم ما هذا؟» قالت: عرقك نجعله في طيبنا وهو من اطيب الطيب وفي رواية قالت: يا رسول الله نرجو بركته لصبياننا قال: «اصبت» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6281) و مسلم (85 ۔ 83 / 2331)، (6055 و 6056) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-এর পরিচিতি: উম্মু সুলায়ম ছিলেন আনাস (রাঃ)-এর মাতা। তার পিতার নাম ছিল মালিক ইবনু নাযর।
(أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا) নবী (সা.) দ্বিপ্রহরে কায়লুলা, অর্থাৎ ঘুমানো ব্যতীত বিশ্রাম নেয়ার জন্য প্রায়ই আসতেন। কেননা উম্মু সুলায়ম (রাঃ) ছিলেন তার খাদিম আনাস (রাঃ)-এর মা।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, উম্মু হারাম, উম্মু সুলায়ম ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খালা। হয়তো বা দুধপান করার জন্য অথবা বংশীয়তার জন্য। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য তার কাছে যাওয়া হালাল ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) শুধু তাদের কাছে প্রবেশ ব্যতীত অন্য কোন মহিলার নিকট যেতেন না।
বলা হয়: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নিকট বিশ্রাম নিতেন, কেননা তিনি দুধপান করার কারণে মাহরাম ছিলেন। পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে নবী (সা.) তার নিকট প্রবেশ করেছেন। (শারহুন নাবাবী ১৫শ খণ্ড, হা, ২৩৩১/৮৩, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সুলায়ম (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৮৯-[১৪] জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে প্রথম সালাত (অর্থাৎ যুহরের সালাত) আদায় করলাম। অতঃপর তিনি (সা.) ঘরে যাওয়ার জন্য মসজিদ হতে বের হলে এবং আমিও তার সাথে বের হয়ে তার সম্মুখে এসে উপস্থিত হলো। তখন তিনি (সা.) এক একটি করে প্রতিটি শিশুর গালে হাত বুলিয়ে দিলেন। সবশেষে আমার উভয় গালেও হাত ফিরালেন, তখন আমি তাঁর হাতের শীতলতা ও সুগন্ধি অনুভব করলাম। তা (তাঁর হাতখানা) এমন সুগন্ধময় ছিল যে, যেন তাকে কোন আতরের কৌটা হতে বের করে এনেছেন। (মুসলিম)
এ প্রসঙ্গে জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীস (سَمُّوا بِاسْمِي) অন্য বর্ণনায় ’নামসমূহের অধ্যায়ে এবং সায়িব ইবনু ইয়াযীদ-এর বর্ণিত হাদীস (نَظَرْتُ إِلَى خاتمِ النبوَّةِ) অন্য বর্ণনায় পানির বিধানের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

الفصل الاول ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْأُولَى ثُمَّ خَرَجَ إِلَى أَهْلِهِ وَخَرَجْتُ مَعَهُ فَاسْتَقْبَلَهُ وِلْدَانٌ فَجَعَلَ يَمْسَحُ خَدَّيْ أَحَدِهِمْ وَاحِدًا وَاحِدًا وَأَمَّا أَنَا فَمَسَحَ خَدِّي فَوَجَدْتُ لِيَدِهِ بردا وريحاً كَأَنَّمَا أَخْرَجَهَا مِنْ جُؤْنَةِ عَطَّارٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذَكَرَ حَدِيثَ جَابِرٍ: «سَمُّوا بِاسْمِي» فِي «بَابِ الْأَسَامِي» وَحَدِيثُ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ: نَظَرْتُ إِلَى خاتمِ النبوَّةِ فِي «بَاب أَحْكَام الْمِيَاه»

رواہ مسلم (80 / 2329)، (6052) 0 حدیث ’’ سموا باسمی ‘‘ تقدم (4750) و حدیث ’’ نظرت الی خاتم النبوۃ ‘‘ تقدم (476) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الاولى ثم خرج الى اهله وخرجت معه فاستقبله ولدان فجعل يمسح خدي احدهم واحدا واحدا واما انا فمسح خدي فوجدت ليده بردا وريحا كانما اخرجها من جونة عطار. رواه مسلم وذكر حديث جابر: «سموا باسمي» في «باب الاسامي» وحديث الساىب بن يزيد: نظرت الى خاتم النبوة في «باب احكام المياه» رواہ مسلم (80 / 2329)، (6052) 0 حدیث ’’ سموا باسمی ‘‘ تقدم (4750) و حدیث ’’ نظرت الی خاتم النبوۃ ‘‘ تقدم (476) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে (صَلَاةَ الْأُولَى) দ্বারা উদ্দেশ্য সম্পর্কে দু'টি অভিমত পাওয়া যায়। (এক) এর দ্বারা উদ্দেশ্য ফজরের সালাত। (দুই) ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য যুহরের সালাত।
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: অত্র হাদীসের মাঝে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ঘাম ছিল সুগন্ধিযুক্ত। আল্লাহ তা'আলা তাকে ঘামের দ্বারাও সম্মানিত করেছেন। নবী (সা.) সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং না করা উভয় অবস্থায় তাঁর ঘাম ছিল সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হত। মালায়িকার (ফেরেশতাদের) সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এবং তাদের থেকে ওয়াহী সংগ্রহ করতেন এবং মুসলিমদের মাজলিসে বসার সময়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯০-[১৫] ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) লম্বাও ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না। তার মাথা ছিল বড় এবং দাড়ি ছিল ঘন। দু হাত এবং উভয় পায়ের তালু ছিল পুরু। তাঁর গায়ের রং ছিল লাল মিশ্রিত। হাড়ের জোড়াসমূহ ছিল মোটা মোটা। বক্ষের উপরে নাভি অবধি পশমের চিকন একটি রেখা ছিল। চলার সময় সম্মুখের দিকে ঝুঁকে চলতেন, যেন তিনি কোন উচ্চস্থান হতে নীচের দিকে নামছেন। মোটকথা, নবী (সা.) -এর আগে বা পরে তাঁর মতো কোন মানুষকে আমি দেখতে পাইনি। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بالطويل وَلَا بالقصير ضخم الرَّأْس واللحية شئن الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ مُشْرَبًا حُمْرَةً ضَخْمَ الْكَرَادِيسِ طَوِيلَ المَسْرُبَةِ إِذا مَشى تكفَّأ تكفُّأً كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

حسن ، رواہ الترمذی (3637) ۔
(صَحِيح)

عن علي بن ابي طالب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل ولا بالقصير ضخم الراس واللحية شىن الكفين والقدمين مشربا حمرة ضخم الكراديس طويل المسربة اذا مشى تكفا تكفا كانما ينحط من صبب لم ار قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم. رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح حسن ، رواہ الترمذی (3637) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯১-[১৬] উক্ত রাবী [আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি যখনই নবী (সা.) -এর আকৃতির বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন, তিনি (সা.) খুব লম্বাও ছিলেন না এবং একেবারে খাটোও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন লোকেদের মধ্যে মধ্যম গড়নের। তাঁর মাথার চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না এবং সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না, বরং মধ্যম ধরনের কোঁকড়ানো ছিল। তিনি (সা.) অতি মোটা ছিলেন না এবং তার চেহারা একেবারে গোল ছিল না, বরং লম্বাটে গোল ছিল। দেহের রং ছিল লাল-সাদা সংমিশ্রিত। চোখের রঙ ছিল কালো এবং পলক ছিল লম্বা লম্বা। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। সমস্ত শরীর ছিল পশমহীন, অবশ্য পশমের চিকন একটি রেখা বক্ষ হতে নাভি পর্যন্ত লম্বা ছিল। হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু ছিল মাংসে পরিপূর্ণ। যখন তিনি (সা.) হাঁটতেন তখন পা পূর্ণভাবে উঠিয়ে জমিনে রাখতেন, যখন তিনি কোন দিকে তাকাতেন তখন ঘাড় পূর্ণ ফিরিয়ে তাকাতেন। তাঁর উভয় কাধের মাঝখানে ছিল মোহরে নুবুওয়্যাত। মূলত তিনি (সা.) ছিলেন, ’খাতিমুন নাবিয়্যিন’ (নবী আগমনের সিলসিলা সমাপ্তকারী)। তিনি (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে আন্তরিকভাবে অধিক দাতা, সর্বাপেক্ষা কোমল স্বভাবের এবং বংশের দিক দিয়ে ছিলেন সম্রান্ত। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে তাঁকে অতি ভালোবাসতে লাগত। রাসূল (সা.) -এর গুণাবলি বর্ণনাকারী এ কথা বলতে বাধ্য হন যে, আমি তার পূর্বে ও পরে তাঁর মতো কাউকেও কখনো দেখতে পাইনি। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْهُ كَانَ إِذَا وَصَفَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَمْ يَكُنْ بِالطَّوِيلِ الْمُمَّغِطِ وَلَا بِالْقَصِيرِ الْمُتَرَدِّدِ وَكَانَ رَبْعَةً مِنَ الْقَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلَا بِالسَّبْطِ كَانَ جَعْدًا رَجِلًا وَلَمْ يَكُنْ بِالْمُطَهَّمِ وَلَا بِالْمُكَلْثَمِ وَكَانَ فِي الْوَجْهِ تَدْوِيرٌ أَبْيَضُ مُشْرَبٌ أَدْعَجُ الْعَيْنَيْنِ أَهْدَبُ الْأَشْفَارِ جَلِيلُ الْمَشَاشِ وَالْكَتَدِ أَجْرَدُ ذُو مَسْرُبةٍ شئن الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ إِذَا مَشَى يَتَقَلَّعُ كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ مَعًا بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ أَجْوَدُ النَّاسِ صَدْرًا وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً وَأَكْرَمُهُمْ عَشِيرَةً مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً هَابَهُ وَمَنْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً أَحَبَّهُ يَقُولُ نَاعِتُهُ: لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3638 وقال : لیس اسنادہ بمتصل) * عمر بن عبداللہ : ضعیف ، و ابراھیم لم یدرک علیًا ، انظر تحفۃ الاشراف (7 / 347)

وعنه كان اذا وصف النبي صلى الله عليه وسلم قال: لم يكن بالطويل الممغط ولا بالقصير المتردد وكان ربعة من القوم ولم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط كان جعدا رجلا ولم يكن بالمطهم ولا بالمكلثم وكان في الوجه تدوير ابيض مشرب ادعج العينين اهدب الاشفار جليل المشاش والكتد اجرد ذو مسربة شىن الكفين والقدمين اذا مشى يتقلع كانما يمشي في صبب واذا التفت التفت معا بين كتفيه خاتم النبوة وهو خاتم النبيين اجود الناس صدرا واصدق الناس لهجة والينهم عريكة واكرمهم عشيرة من راه بديهة هابه ومن خالطه معرفة احبه يقول ناعته: لم ار قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم. رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3638 وقال : لیس اسنادہ بمتصل) * عمر بن عبداللہ : ضعیف ، و ابراھیم لم یدرک علیا ، انظر تحفۃ الاشراف (7 / 347)

ব্যাখ্যা: ( وَالْكَتَدِ أَجْرَدُ ذُو مَسْرُبةٍ) أَجْرَدُ বলা হয় যার শরীরে চুল নেই। আর নবী (সা.) এরূপ ছিলেন না। বরং নবী (সা.) -এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুল ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯২-[১৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) যে পথ দিয়ে চলে যেতেন, পরে কেউ সে পথে গেলে সে সহজে বুঝতে পারত যে, নবী (সা.)  উক্ত পথে গমন করেছেন। আর তা তাঁর গায়ের সুগন্ধির কারণে অথবা (রাবী বলেছেন) তাঁর ঘামের সুগন্ধির কারণে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَسْلُكْ طَرِيقًا فَيَتْبَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا عرفَ أَنه قد سلكه من طيب عرقه - أَوْ قَالَ: مِنْ رِيحِ عَرَقِهِ - رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 32 ح 67) * فیہ ابو الزبیر مدلس و عنعن و اسحاق بن الفضل بن عبد الرحمن الھاشمی و ثقہ ابن حبان وحدہ و المغیرۃ بن عطیۃ : لم اجد من وثقہ

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم لم يسلك طريقا فيتبعه احد الا عرف انه قد سلكه من طيب عرقه - او قال: من ريح عرقه - رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 32 ح 67) * فیہ ابو الزبیر مدلس و عنعن و اسحاق بن الفضل بن عبد الرحمن الھاشمی و ثقہ ابن حبان وحدہ و المغیرۃ بن عطیۃ : لم اجد من وثقہ

ব্যাখ্যা: (من طيب عرقه) শব্দের অর্থ গন্ধ, তা সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ উভয়ের যে কোন একটি হতে পারে। কিন্তু এ শব্দটি অধিকাংশ সময় সুগন্ধের অর্থে ব্যবহৃত হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) যে পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন সে পথের বাতাস রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শরীর কিংবা ঘামের সুঘ্রাণে সৌরভময় হয়ে পুরো পথ সুঘ্রাণ হয়ে যেত। অতএব যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গমনের পরে উক্ত পথ অতিক্রম করত সে বিশেষ সুগন্ধি দ্বারা বুঝতে পারত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত পথ অতিক্রম করেছেন। আর এ সুগন্ধি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শরীর হতে ছড়াত। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শরীরে কিংবা কাপড়ে লাগানো কোন অতিরিক্ত সুগন্ধি হতে নয়।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য সুগন্ধি নির্দিষ্ট ছিল। অন্যান্য নবী রাসূলদের জন্য তা ছিল না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৩-[১৮] আবূ ’উবায়দাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ’আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রুবায়্যি বিনতু মু’আব্বি ইবনু ’আফরা’ (রাঃ)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আকৃতি সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু বলুন। উত্তরে তিনি বললেন, হে বৎস! যদি তাঁকে তুমি দেখতে, তাহলে তোমার এমনই ধারণা করতে যে, সূর্য উদিত হয়েছে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ قَالَ: قُلْتُ لِلرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ: صِفِي لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: يَا بُنَيَّ لَوْ رأيتَه رأيتَ الشَّمسَ طالعة. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 30 ۔ 31 ح 61) [و الطبرانی فی الکبیر (24 / 274 ح 696 ، و الاوسط : 4455)] * فیہ عبداللہ بن موسی الطلحی التیمی : ضعیف ضعفہ الجمھور ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي عبيدة بن محمد بن عمار بن ياسر قال: قلت للربيع بنت معوذ بن عفراء: صفي لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: يا بني لو رايته رايت الشمس طالعة. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 30 ۔ 31 ح 61) [و الطبرانی فی الکبیر (24 / 274 ح 696 ، و الاوسط : 4455)] * فیہ عبداللہ بن موسی الطلحی التیمی : ضعیف ضعفہ الجمھور ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উবায়দা (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৪-[১৯] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি চাঁদনি রাতে নবী (সা.) -কে দেখলাম। অতঃপর একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দিকে তাকাতাম আর একবার চাঁদের দিকে। সে সময় তিনি (সা.) লাল বর্ণের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন তাকে আমার কাছে চাঁদের তুলনায় অধিকতর সুন্দর মনে হলো। (তিরমিযী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لَيْلَةٍ إِضْحِيَانٍ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِلَى الْقَمَرِ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ فَإِذَا هُوَ أَحْسَنُ عِنْدِي مِنَ الْقَمَرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2811 وقال : حسن غریب) و الدارمی (1 / 30 ح 58) * فیہ اشعث بن سوار : ضعیف و ابو اسحاق مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر بن سمرة قال: رايت النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة اضحيان فجعلت انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم والى القمر وعليه حلة حمراء فاذا هو احسن عندي من القمر. رواه الترمذي والدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2811 وقال : حسن غریب) و الدارمی (1 / 30 ح 58) * فیہ اشعث بن سوار : ضعیف و ابو اسحاق مدلس و عنعن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: চাঁদনী রাত ছিল। যে রাতে আকাশে মেঘের কোন চিহ্ন ছিল না। সে রাতে আমি তুলনা করতে চাইলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারা অধিক সুন্দর, না আকাশের চাঁদ অধিক সুন্দর। আমি বারবার আকাশে ও রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারার দিকে তাকালাম আমার নিকট এটাই পরিষ্কার হলো যে, চাঁদের চেয়েও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা অধিক সুন্দর। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৫-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে সুন্দর কোন কিছু আমি কক্ষনো দেখতে পাইনি, মনে হত জমিন যেন তাঁর জন্য ছোট হয়ে আসত। আমরা তাঁর সাথে সাথে চলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলতাম। অথচ তিনি (সা.) স্বাভাবিক নিয়মে চলতেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَن الشَّمْس تجْرِي على وَجْهِهِ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَسْرَعَ فِي مَشْيِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّمَا الْأَرْضُ تُطْوَى لَهُ إِنَّا لَنُجْهِدُ أَنْفُسَنَا وَإنَّهُ لغير مكترث. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (3648 وقال : غریب) ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة قال: ما رايت شيىا احسن من رسول الله صلى الله عليه وسلم كان الشمس تجري على وجهه وما رايت احدا اسرع في مشيه من رسول الله صلى الله عليه وسلم كانما الارض تطوى له انا لنجهد انفسنا وانه لغير مكترث. رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (3648 وقال : غریب) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (الشَّمْس تجْرِي على وَجْهِهِ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন আকাশে সূর্যের গতির সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারার সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে। রাসূলের চেহারায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়েছে। এ অর্থে কবি বর্ণনা করেছেন। (زِيدُكَ وَجْهُهُ حُسْنًا... إِذَامَازِدُتَهُ نَظَرً) তাঁর চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় যখন আমি তার দিকে তাকাই।
(وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَسْرَعَ فِي مَشْيِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) এ বাক্যের দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে পথ অতিক্রম করতাম, তখন আমাদের চলার গতি বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করলেও সর্বদা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের থেকে হেঁটে এগিয়ে থাকতেন, আমরা কখনই তাঁর আগে হেঁটে যেতে পারতাম না। রাসূলুল্লাহ (সা.) চলার ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতেন।
(الْإِ جْهَادِأَوِالْجَهْدِ) বলা হয় কোন জিনিসের উপর বহন করা যা তার সাধ্যের অতিরিক্ত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৬-[২১] জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পায়ের উভয় গোড়ালি হালকা-পাতলা। তিনি (সা.) মৃদু হাসি ছাড়া হাসতেন না। আর আমি যখনই তাঁর দিকে তাকাতাম, তখন আমি মনে মনে বলতাম, তিনি (সা.) চোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ তখন তিনি (সা.) সুরমা ব্যবহার করেননি। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ فِي سَاقَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُمُوشَةٌ وَكَانَ لَا يَضْحَكُ إِلَّا تَبَسُّمًا وَكُنْتُ إِذَا نَظَرْتُ إِلَيْهِ قُلْتُ: أَكْحَلُ الْعَيْنَيْنِ وَلَيْسَ بأكحل. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3645 وقال : حسن صحیح غریب) * حجاج بن ارطاۃ ضعیف مدلس و عنعن و للحدیث شواھد غیر قولہ :’’ حموشۃ ‘‘ ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر بن سمرة قال: كان في ساقي رسول الله صلى الله عليه وسلم حموشة وكان لا يضحك الا تبسما وكنت اذا نظرت اليه قلت: اكحل العينين وليس باكحل. رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3645 وقال : حسن صحیح غریب) * حجاج بن ارطاۃ ضعیف مدلس و عنعن و للحدیث شواھد غیر قولہ :’’ حموشۃ ‘‘ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাসি তিন প্রকার। এর ভিতর মৃদু হাসি বা মুচকি হাসি উত্তম। সুনান তিরমিযীতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসি ব্যতীত হাসতেন না। এ মর্মে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, (فَتَبَسَّمَ ضَاحِکًا مِّنۡ قَوۡلِهَا) “অতঃপর তার কথা শুনে মুচকি হাসি হাসলেন”- (সূরাহ আন্ নামল ২৭: ১৯)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৭-[২২] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সামনের দাঁত দুটির মাঝে কিছুটা ফাঁক ছিল। যখন তিনি (সা.) কথাবার্তা বলতেন, তখন মনে হত যেন দু দাঁতের মাঝ দিয়ে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْلَجَ الثَّنِيَّتَيْنِ إِذَا تَكَلَّمَ رُئِيَ كَالنُّورِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ ثَنَايَاهُ. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الدارمی (1 / 30 ح 59) و الترمذی فی الشمائل (15 بتحقیقی) * فیہ عبد العیزیز بن ابی ثابت الزھری : متروک ۔
(ضَعِيف)

عن ابن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم افلج الثنيتين اذا تكلم رىي كالنور يخرج من بين ثناياه. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الدارمی (1 / 30 ح 59) و الترمذی فی الشماىل (15 بتحقیقی) * فیہ عبد العیزیز بن ابی ثابت الزھری : متروک ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (أَفْلَجَ الثَّنِيَّتَيْنِ) ثَنَايَا বলা হয় মুখের সামনের, উপরের ও নীচের পাটিতে যে দু'টি চ্যাপ্টা দাঁত রয়েছে। অনুরূপভাবে এ দুটি দাঁতের ডানে ও বামে যে দু' দু'টি দাঁত রয়েছে তাকে (رَبَاعِيَاتِ) বলা হয়। অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দাঁতের মাঝে ফাঁকা ছিল সামান্যতম পরিমাণ। অন্য কোন কোন হাদীস হতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সানায়া দাঁতের মাঝে ফাঁকা ছিল না।
(إِذَا تَكَلَّمَ رُئِيَ كَالنُّورِ) যখন তিনি (সা.) কথা বলতেন, তখন তার থেকে আলো বের হত। এর দু'টি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। (১ম কারণ) (وَجْهُهُ الْبَيَانُ) এর সাথে সাদৃশ্য প্রদান করা হয়েছে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মুখমণ্ডলের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। (২য় কারণ) এখানে সাদৃশ্য দেয়া হয়নি। বরং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মু'জিযাহ্ বর্ণনা করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৮-[২৩] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও যখন কোন ব্যাপারে আনন্দিত হতেন তখন তার চেহারা আলোময় হয়ে উঠত। মনে হত যেন তাঁর মুখমণ্ডল চাঁদের টুকরা। বস্তুত আমরা সকলেই তা অনুভব করতে পারতাম। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سُرَّ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّ وَجْهَهُ قِطْعَةُ قَمَرٍ وَكُنَّا نَعْرِفُ ذَلِكَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3556) و مسلم (53 / 2769)، (7016) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن كعب بن مالك قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سر استنار وجهه حتى كان وجهه قطعة قمر وكنا نعرف ذلك. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3556) و مسلم (53 / 2769)، (7016) ۔ (متفق عليه)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৭৯৯-[২৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ইয়াহূদী বালক নবী (সা.) -এর সেবা করত। এক সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তখন নবী (সা.) তার সেবার জন্য কাছে গেলেন, তখন তিনি তার পিতাকে তার মাথার কাছে বসে তাওরাত পাঠরত অবস্থায় পেলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন তাকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে ইয়াহুদী! আমি তোমাকে সেই আল্লাহ তা’আলার শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, যিনি মূসা আলায়হিস সালাম-এর ওপর তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তুমি কি তাওরাত কিতাবে আমার পরিচিতি, আমার গুণাবলি এবং আমার আগমন ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু পেয়েছ? সে বলল, না। তখন বালকটি প্রতিবাদ করে বলল, হ্যা আছে- আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমরা তাওরাত কিতাবে আপনার পরিচিতি, গুণাবলি ও আপনার আগমন ইত্যাদি সম্পর্কীয় বর্ণনা পেয়েছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া সত্য অন্য কোন মা’বুদ নেই এবং নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন নবী (সা.) তাঁর সাথিদেরকে বললেন, এই লোকটিকে (বালকটির পিতা ইয়াহূদীকে) তার মাথার নিকট হতে উঠিয়ে দাও এবং তোমাদের (নওমুসলিম) ভাইটির যাবতীয় তত্ত্বাবধান তোমরাই কর। (বায়হাক্বী’র “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ غُلَامًا يَهُودِيًّا كَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَوَجَدَ أَبَاهُ عِنْدَ رَأْسِهِ يَقْرَأُ التَّوْرَاةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا يَهُودِيٌّ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى هَلْ تَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ نَعْتِي وَصِفَتِي وَمَخْرَجِي؟» . قَالَ: لَا. قَالَ الْفَتَى: بَلَى وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَجِدُ لَكَ فِي التَّوْرَاة نعتك وَصِفَتَكَ وَمَخْرَجَكَ وَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ: «أَقِيمُوا هَذَا مِنْ عِنْدِ رَأْسِهِ وَلُوا أَخَاكُمْ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»

حسن ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 272 و سندہ حسن) * فیہ مؤمل بن اسماعیل حسن الحدیث و ثقہ الجمھور ولہ شواھد عند البیھقی فی الدلائل (6 / 272 ۔ 273) وغیرہ فالحدیث حسن ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان غلاما يهوديا كان يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فوجد اباه عند راسه يقرا التوراة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا يهودي انشدك بالله الذي انزل التوراة على موسى هل تجد في التوراة نعتي وصفتي ومخرجي؟» . قال: لا. قال الفتى: بلى والله يا رسول الله انا نجد لك في التوراة نعتك وصفتك ومخرجك واني اشهد ان لا اله الا الله وانك رسول الله. فقال النبي صلى الله عليه وسلم لاصحابه: «اقيموا هذا من عند راسه ولوا اخاكم» . رواه البيهقي في «دلاىل النبوة» حسن ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 272 و سندہ حسن) * فیہ مؤمل بن اسماعیل حسن الحدیث و ثقہ الجمھور ولہ شواھد عند البیھقی فی الدلاىل (6 / 272 ۔ 273) وغیرہ فالحدیث حسن ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (نَعْتِي) দ্বারা বুঝানো হয়েছে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সত্ত্বাগত ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলি।
আর (صِفَتِي) দ্বারা বুঝানো হয়েছে, বাহ্যিক কার্যাবলী, অবস্থাসমূহের গুণাবলি।
যদিও (نَعْتِي) (صِفَتِي) এর শাব্দিক অর্থ একই।
(مَخْرَجِي) বের হওয়ার স্থান অথবা জন্মের সময় বুঝানো হয়েছে অথবা নুবুওয়্যাত ও রিসালাত পাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বুঝানো হয়েছে অথবা মক্কাহ্ হতে মদীনায় হিজরত করে চলে আসার কথা বুঝানো হয়েছে।
(أَقِيمُوا هَذَا مِنْ عِنْدِ رَأْسِهِ وَلُوا أَخَاكُمْ) সাহাবীগণকে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা এই বালকের দায়িত্ব নিবে। রসূলের এই আদেশ ছিল ঐ এলাকার গভর্নর বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলের জন্য। এই বালকের মৃত্যুর পর তার কাফন, দাফন ও ইসলামের অন্যান্য বিধানাবলী সকল বিধান পালন করার জন্য উপস্থিত সাহাবীগণকে বলেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নবী (সা.) -এর নামসমূহ ও গুণাবলি

৫৮০০-[২৫] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় আমি আল্লাহ তা’আলার পাঠানো অনুগ্রহ। (দারিমী, আর বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَابِ أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَاته)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 9 ح 15 و سقط منہ ذکر ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ) و رواہ البیھقی فی شعب الایمان (1446 بدون سند و فی دلائل النبوۃ 1 / 158) [و البزار (3 / 114 ح 2369)] * الاعمش مدلس و عنعن فی حدیث ابی صالح و فی حدیث ابی ھریرۃ ولا شک بانہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم رحمۃ مھداۃ و رحمۃ للعالمین و لکن ھذا السند لم یصح

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال: «انما انا رحمة مهداة» . رواه الدارمي والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 9 ح 15 و سقط منہ ذکر ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ) و رواہ البیھقی فی شعب الایمان (1446 بدون سند و فی دلاىل النبوۃ 1 / 158) [و البزار (3 / 114 ح 2369)] * الاعمش مدلس و عنعن فی حدیث ابی صالح و فی حدیث ابی ھریرۃ ولا شک بانہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم رحمۃ مھداۃ و رحمۃ للعالمین و لکن ھذا السند لم یصح

ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা'আলা আমাকে জগদ্বাসীর পথ নির্দেশ, হিদায়াত ও কল্যাণের জন্য প্রেরণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি এই দিক-নির্দেশনা গ্রহণ করবে, সে সফলতা ও কামিয়াবী অর্জন করে নাজাত পাবে। আর যে তা গ্রহণ করবে না, সে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হবে। তাই তো আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা দিয়ে বলেছেন: (وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ) “আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি”- (সূরাহ আল আম্বিয়া- ২১: ১০৭)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০১-[২৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একাধারে দশ বছর নবী (সা.) -এর সেবা করেছি। কিন্তু তিনি কোন দিন ’উহ’ শব্দটি পর্যন্ত আমাকে বলেননি। এমনকি এ কাজটি কেন করেছ আর এটা কেন করনি? এমন কথাও কোন দিন বলেননি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي: أُفٍّ وَلَا: لِمَ صَنَعْتَ؟ وَلَا: أَلَّا صَنَعْتَ؟ مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6038) و مسلم (51 / 2309)، (6011) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن انس قال: خدمت النبي صلى الله عليه وسلم عشر سنين فما قال لي: اف ولا: لم صنعت؟ ولا: الا صنعت؟ متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6038) و مسلم (51 / 2309)، (6011) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: সহীহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় ৯ বছরের কথাও এসেছে। অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খিদমাত করার প্রতি কত বেশি মনোযোগী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত আদবের সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খিদমাত করতেন, যে কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রতি খুশি ছিলেন। আর তাকে কখনও তিনি ধমক দেননি বা তাঁর প্রতি তিনি কখনও বিরক্ত হননি। মূলত হাদীসটিতে আনাস (রাঃ)-এর প্রশংসা ফুটে উঠেছে। এ হাদীসে খিদমাতের আদব শিক্ষা দেয়া হয়েছে। একজন ছাত্র কিভাবে তার শিক্ষককে সম্মান জানাবে, সম্মানিত ব্যক্তিকে কিভাবে সম্মান করতে হবে তা অত্র হাদীসে ফুটে উঠেছে। হাদীসটি দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, নবী (সা.) -এর চরিত্র কত সুন্দর ছিল। তিনি কোনদিন কারো প্রতি যুলম করেননি। তাঁর আচরণে কেউ যেন মনে কষ্ট না পায় সেদিকে তিনি (সা.) খুবই খেয়াল রাখতেন। (সম্পাদকীয়)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০২-[২৭] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের মানুষ। একদিন তিনি (সা.) কোন এক কাজে আমাকে পাঠাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি যাব না। কিন্তু আমার মনের মাঝে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে যে কাজের জন্য আদেশ করেছেন, আমি সে কাজে অবশ্যই যাব। অতঃপর আমি বের হয়ে এমন কিছু বালকদের কাছে এসে পৌছলাম যারা বাজারের মধ্যে খেলাধুলা করছিল। এমন সময় হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) গিয়ে পিছন হতে আমার ঘাড় চেপে ধরলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি হাসছেন। তখন তিনি (সা.) স্নেহের সুরে বললেন, হে উনায়স! যে কাজের জন্য আমি তোমাকে আদেশ করেছিলাম সেখানে কি তুমি গিয়েছিলে? উত্তরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই তো আমি এক্ষুণি যাচ্ছি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا فَأَرْسَلَنِي يَوْمًا لِحَاجَةٍ فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَا أَذْهَبُ وَفِي نَفْسِي أَنْ أَذْهَبَ لِمَا أَمَرَنِي بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَرَجْتُ حَتَّى أَمُرَّ عَلَى صِبْيَانٍ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِي السُّوقِ فَإِذَا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ قَبَضَ بِقَفَايَ مِنْ وَرَائِي قَالَ: فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ: «يَا أُنَيْسُ ذَهَبْتَ حَيْثُ أَمَرْتُكَ؟» . قُلْتُ: نَعَمْ أَنَا أَذْهَبُ يَا رَسُول الله. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (54 / 2310)، (6015) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم من احسن الناس خلقا فارسلني يوما لحاجة فقلت: والله لا اذهب وفي نفسي ان اذهب لما امرني به رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجت حتى امر على صبيان وهم يلعبون في السوق فاذا برسول الله صلى الله عليه وسلم قد قبض بقفاي من وراىي قال: فنظرت اليه وهو يضحك فقال: «يا انيس ذهبت حيث امرتك؟» . قلت: نعم انا اذهب يا رسول الله. رواه مسلم رواہ مسلم (54 / 2310)، (6015) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খিদমাত করার সময় তাঁর বয়স অল্প ছিল। তাই তিনি মৌখিকভাবে বলেন, আল্লাহর কসম! আমি এখন এ কাজটি করতে পারবো না, তিনি পরে করার ইচ্ছা রাখেন। আর এ কথা বুঝা যায় তাঁর কথা থেকে তা হলো “আর আমার মনে আছে” আমি যাব যে কাজের জন্য নবী (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা পালন করার জন্য।
(أنيس) শব্দটি (أنس) শব্দের তাসগীর বা ক্ষুদ্রত্ববাচক। রাসূলুল্লাহ (সা.) আনাস (রাঃ)-কে তাঁর আসল নামে সম্ভোধন না করে এর পরিবর্তে এ নামের তাসগীর-এর মাধ্যমে সন্মোধন করেছেন, যা তাঁর জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্নেহ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৩-[৩] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে পথ চলছিলাম। তাঁর দেহে ছিল মোটা পাড়ের একখানা নাজরানী চাদর, বেদুঈন চাদর ধরে জোরে টান দিল। টানের চোটে নবী (সা.) উক্ত বেদুইনের বক্ষের কাছে এসে পড়লেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাঁধের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম, সে জোরে টানার কারণে তার কাঁধে চাদরের ডোরার ছাপ পড়ে গেছে। অতঃপর বেদুঈনটি বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা’আলার যে সকল ধন-সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা হতে আমাকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দাও। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হেসে ফেললেন। এরপর তাকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দান করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فجبذه جَبْذَةً شَدِيدَةً وَرَجَعَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَحْرِ الْأَعْرَابِيِّ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أثرت بِهِ حَاشِيَةُ الْبُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عنْدك فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3149) و مسلم (128 / 1057)، (2429) ۔
(صَحِيحٍ)

وعنه قال: كنت امشي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه برد نجراني غليظ الحاشية فادركه اعرابي فجبذه جبذة شديدة ورجع نبي الله صلى الله عليه وسلم في نحر الاعرابي حتى نظرت الى صفحة عاتق رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اثرت به حاشية البرد من شدة جبذته ثم قال: يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك فالتفت اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ضحك ثم امر له بعطاء. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3149) و مسلم (128 / 1057)، (2429) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস হতে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, জাহিলদের মুকাবালা না করে তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়া ভালো। আর মন্দ কাজকে ভালো কাজ দ্বারা পরিবর্তন করতে হয়। আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা হচ্ছে তাদেরকে দান করা। কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি যে তার শাস্তি সম্পর্কে অবহিত নয় তাকে ক্ষমা করে দেয়া। (শারহুন নাবাবী হা. ১৩০/১৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৪-[8] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকেদের মাঝে সকলের চেয়ে সুন্দরতম, সর্বাপেক্ষা দানশীল এবং সকলের চেয়ে বেশি সাহসী ছিলেন। একরাত্রে মদীনাবাসী (কোন শব্দ শুনে) ভীষণ ভয় পেয়েছিল। এতে লোকজন সেই আওয়াজের দিকে ছুটে চলল, তখন নবী (সা.) - কে তাদের সামনে পেল। সকলের আগে তিনি (সা.) সেই আওয়াজের দিকে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি (সা.) বলতে লাগলেন, তোমরা ভয় করো না, তোমরা ভয় করো না। তখন তিনি (সা.) আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এর একটি ঘোড়ার খালি পিঠে জিন-পোষ ছাড়াই আরোহণ করেছিলেন। তার গলায় ঝুলছিল একখানা তলোয়ার। এরপর তিনি (সা.) বললেন, আমি এ ঘোড়াটিকে দরিয়ার মতো পেয়েছি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ وَأَجْوَدَ النَّاسِ وَأَشْجَعَ النَّاسِ وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَانْطَلَقَ النَّاسُ قِبَلَ الصَّوْتِ فَاسْتَقْبَلَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ سَبَقَ النَّاس إِلَى الصَّوْت هُوَ يَقُولُ: «لَمْ تُرَاعُوا لَمْ تُرَاعُوا» وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لِأَبِي طَلْحَةَ عُرْيٍ مَا عَلَيْهِ سَرْجٌ وَفِي عُنُقِهِ سَيْفٌ. فَقَالَ: «لَقَدْ وَجَدْتُهُ بَحْرًا» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6033) و مسلم (48 / 2307)، (6006) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم احسن الناس واجود الناس واشجع الناس ولقد فزع اهل المدينة ذات ليلة فانطلق الناس قبل الصوت فاستقبلهم النبي صلى الله عليه وسلم قد سبق الناس الى الصوت هو يقول: «لم تراعوا لم تراعوا» وهو على فرس لابي طلحة عري ما عليه سرج وفي عنقه سيف. فقال: «لقد وجدته بحرا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6033) و مسلم (48 / 2307)، (6006) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) - সকলের চেয়ে সুন্দরতম ছিলেন অর্থাৎ সৃষ্টির ও চরিত্রের দিক থেকে, আকৃতির দিক থেকে ও জীবনীর দিক থেকে, বংশমর্যাদার দিক থেকে ও ব্যক্তিত্বের দিক থেকে, জীবনযাপনের দিক থেকে ও সাথী হওয়ার দিক থেকে। তিনি দানশীলতার দিক থেকেও সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। “আর তিনি ছিলেন সবচেয়ে বীর পুরুষ” অর্থাৎ তিনি শক্তি ও হৃদয়ের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন -
(فَقَاتِلۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ۚ لَا تُکَلَّفُ اِلَّا نَفۡسَکَ وَ حَرِّضِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ) “অতএব তুমি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই কর। তুমি শুধু তোমার নিজের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং মু'মিনদেরকে উদ্বুদ্ধ কর”- (সূরা আন নিসা ৪: ৮৪)। অর্থাৎ মু'মিনদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে উৎসাহিত করুন। এ কারণেই তিনি (সা.) খচ্চরের উপর আরোহণ করেন। আর তার সাথে কেউ আক্রমণ করেনি। তিনি (সা.) একাই সেখানে গিয়েছিলেন। আর ফিরে এসে তার সাহাবীদেরকে এ সংবাদ প্রদান করেন যে, সেখানে ভীতিকর কিছু ঘটেনি। আমি সেখান থেকে মাত্র আসলাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৫-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে যখনই কোন জিনিস চাওয়া হয়েছে, তিনি কখনো না বলেননি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ: لَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6034) و مسلم (56 / 2311)، (6018) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن جابر قال: ما سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم شيىا قط فقال: لا. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6034) و مسلم (56 / 2311)، (6018) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: কেউ কোন কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিতেন, অথবা অন্য কোনভাবে তাকে বুঝিয়ে তার জন্য দু'আ করতেন অথবা তাকে দেয়ার জন্য অঙ্গীকার করতেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন -
(وَ اِمَّا تُعۡرِضَنَّ عَنۡهُمُ ابۡتِغَآءَ رَحۡمَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکَ تَرۡجُوۡهَا فَقُلۡ لَّهُمۡ قَوۡلًا مَّیۡسُوۡرًا) “আর যদি তুমি তাদের থেকে বিমুখ থাকতেই চাও তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমতের প্রত্যাশায় যা তুমি চাচ্ছ, তাহলে তাদের সাথে নম্র সহজ কথা বলবে।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ২৮)
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল আদবুল মুফরাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। তাঁর কাছে যেই চাওয়ার জন্য আসত তিনি তাকে দেয়ার অঙ্গীকার করতেন। আর তার কাছে তা থাকলে তাকে পরিপূর্ণভাবে তা দিয়ে দিতেন। আর তিনি বলতেন, হে বিলাল! তুমি দান করো। আর এ ব্যাপারটা কথিত আছে যে, বিলাল! তুমি আরশের মালিকের কাছে নিঃস্ব হওয়ার ভয় করো না। আনাস (রাঃ) থেকে হাকিম বর্ণনা করেছেন- কোন ব্যক্তি তার কাছে কোন কিছু চাইলে তিনি (সা.) তাকে দিতেন না হলে চুপ থাকতেন।' (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৬-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক নবী (সা.) -এর কাছে এতগুলো বকরি চাইল, যাতে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী নিম্নভূমি পূর্ণ হয়ে যায়। তখন তিনি (সা.) তাকে সে পরিমাণ বকরিই দিয়ে দিলেন। অতঃপর লোকটি নিজ সম্প্রদায়ের কাছে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকসকল! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কেননা মুহাম্মাদ (সা.) এত বেশি পরিমাণে দান করেন যে, তিনি অভাবকে ভয় করেন না। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَن أنس إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ فَأَتَى قَوْمَهُ فَقَالَ: أَي قوم أَسْلمُوا فو الله إِنَّ مُحَمَّدًا لَيُعْطِي عَطَاءً مَا يَخَافُ الْفَقْرَ. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (58 / 2312)، (6021) ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان رجلا سال النبي صلى الله عليه وسلم غنما بين جبلين فاعطاه اياه فاتى قومه فقال: اي قوم اسلموا فو الله ان محمدا ليعطي عطاء ما يخاف الفقر. رواه مسلم رواہ مسلم (58 / 2312)، (6021) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: যখন লোকটি এত ছাগল চাইল যাতে দুই পাহাড়ের মাঝের নিম্নভূমি ভরে যায়, তারপরও নবী (সা.) তাকে তার চাওয়া পরিমাণ দিলেন। এতে লোকটি আশ্চর্যান্বিত হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দান ও তার দুনিয়াবিমুখতা লক্ষ্য করে। তাই সে তার জাতির কাছে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, কারণ ইসলাম তোমাদেরকে সুন্দর চরিত্র শিক্ষা দিবে। আর তোমরা যদি ইসলাম কবুল কর তবে মুহাম্মাদ (সা.) তোমাদেরকে এমন দান করবেন যার পর তোমরা আর দরিদ্র হয়ে যাওয়ার ভয় করবে না। এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)! তাদেরকে দান করার হিকমাত হলো সাধারণত মানুষ দারিদ্রতার ভয় করে। আর শয়তান মানুষকে দারিদ্রতার ভয় দেখায়। সূরাহ্ আল বাকারার ২৬৮ নং আয়াতে এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন, শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার ভয় দেখায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৭-[৭] জুবায়র ইবনু মুত্ব’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। হুনায়নের যুদ্ধ হতে ফিরার সময় তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সফর করছিলেন। এক সময় পথে কিছু সংখ্যক গ্রাম্য ’আরব বেদুঈন তাকে জড়িয়ে ধরল এবং তাদেরকে কিছু দেয়ার জন্য ’আবদার করতে থাকল। পরিশেষে তারা তাঁকে একটি বাবলা গাছের নীচে যেতে বাধ্য করল। এমনকি তার কাঁটা হতে চাদরখানা ছাড়িয়ে দাও। যদি এখন আমার কাছে এ কাটা-গাছগুলোর সমসংখ্যক উট ও দুম্বা থাকত, তাহলে আমি সেগুলো তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম। এরপর তোমরা বুঝতে পারতে যে, আমি কৃপণ বৈশিষ্ট্যের নই, মিথ্যাবাদী নই এবং কাপুরুষও নই। (বুখারী)।

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ بَيْنَمَا هُوَ يَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْفَلَهُ مِنْ حُنَيْنٍ فَعَلِقَتِ الْأَعْرَابُ يَسْأَلُونَهُ حَتَّى اضْطَرُّوهُ إِلَى سَمُرَةٍ فَخَطَفَتْ رِدَاءَهُ فَوَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَعْطُونِي رِدَائِي لَوْ كَانَ لِي عَدَدَ هَذِهِ الْعِضَاهِ نَعَمٌ لَقَسَمْتُهُ بَيْنَكُمْ ثُمَّ لَا تَجِدُونِي بَخِيلًا وَلَا كذوباً وَلَا جَبَانًا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2821) ۔
(صَحِيح)

وعن جبير بن مطعم بينما هو يسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مقفله من حنين فعلقت الاعراب يسالونه حتى اضطروه الى سمرة فخطفت رداءه فوقف النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «اعطوني رداىي لو كان لي عدد هذه العضاه نعم لقسمته بينكم ثم لا تجدوني بخيلا ولا كذوبا ولا جبانا» . رواه البخاري رواہ البخاری (2821) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার গায়ের চাদরটি বাবলা গাছের সাথে জড়িয়ে গেলে তিনি তা ছাড়িয়ে তার কাছে দেয়ার জন্য সহযোগিতা চাইলেন। আর বললেন, যদি আমার কাছে এই গাছের কাঁটা-গাছগুলোর সমপরিমাণ উট ও ছাগল বিশেষ করে উট থাকত তবে আমি তা তোমাদেরকে দিয়ে দিতাম। মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা মহান আল্লাহর বাণীর দিকে ফিরে, তা হলো- মহান আল্লাহ বলেন, (مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ) “চতুষ্পদ জন্তু হতে আট প্রকারের”- (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৬)। এখানে আট প্রকারের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উট, গরু, ভেড়া ও ছাগল। আর এদের প্রত্যেক প্রকারের নারী ও পুরুষ।
(ثُمَّ لَا تَجِدُونِي بَخِيلًا) অর্থাৎ তোমরা আমাকে দানের ক্ষেত্রে কৃপণ পেতে না। আর তোমরা দেখতে পেতে যে অঙ্গীকার পূরণে আমার স্বভাব কেমন। আর কেমন আমার ভরসা আসমান জমিনের রবের প্রতি।
(وَلَا كذوباً وَلَا جَبَانًا) মুযহার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ যখন তোমরা আমাকে কোন ঘটনাস্থলে পরীক্ষা করবে তখন আমার মাঝে কোন খারাপ স্বভাব পাবে না। আর এখান থেকে বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি পরিচয় হতে অজ্ঞাত, তার কাছে নিজের উত্তম গুণাবলি ও সঠিক পরিচিতি প্রকাশ করা শুধু বৈধ নয়; বরং ক্ষেত্রবিশেষ অপরিহার্য। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ঐ দান করতে বাধ্য নই বরং আমি তা খুশি মনে প্রদান করি। আর আমি কোন মিথ্যা কথা তোমাদেরকে বলি না অর্থাৎ তোমাদেরকে কোন জিনিস দিতে চেয়ে দেব না; এমনি আমি করি না। আর আমি কাপুরুষ নই যে, কাউকে ভয় পাব। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৮-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ফজরের সালাত আদায় করে অবসর হতেন, তখন মদীনাবাসীদের সেবকরা (দাস-দাসী) পানি ভরা পাত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হত। তিনি (সা.) তাদের আনিত যে কোন পাত্রে স্বীয় হাত ডুবিয়ে দিতেন। তারা কখনো কখনো শীতকালে ভোরে আসত, তখন তিনি তাতে হাত ডুবিয়ে দিতেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْغَدَاةَ جَاءَ خَدَمُ الْمَدِينَةِ بِآنِيَتِهِمْ فِيهَا الْمَاءُ فَمَا يَأْتُونَ بإناءٍ إِلَّا غمسَ يدَه فِيهَا فرُبما جاؤوهُ بِالْغَدَاةِ الْبَارِدَةِ فَيَغْمِسُ يَدَهُ فِيهَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (74 / 2324)، (6042) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا صلى الغداة جاء خدم المدينة بانيتهم فيها الماء فما ياتون باناء الا غمس يده فيها فربما جاووه بالغداة الباردة فيغمس يده فيها. رواه مسلم رواہ مسلم (74 / 2324)، (6042) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) ও যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন মদীনার দাস-দাসীরা তাদের পানির পাত্র নিয়ে আসত। অর্থাৎ তারা এ কাজ করত বারাকাতের আশায়, বৃদ্ধি পাওয়ার আশায়, আরোগ্য লাভের আশায় ও রোগ মুক্তির আশায়। তারা পানির পাত্র আনলে তিনি (সা.) তাতে হাত ডুবিয়ে দিতেন। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ও তাদেরকে খুশি করার জন্য। কখনো কখনো তারা শীতকালেও খুব সকালে চলে আসত। তারপরও নবী (সা.) তাদের পাত্রে হাত ডুবিয়ে দিতেন। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ থেকে বুঝা যায় যে, তিনি মানুষকে খুশি করার জন্য নিজের কষ্টকে সহ্য করতেন। বিশেষ করে দাস-দাসী ও খাদিমদেরকে খুশি করার জন্য। তাদের পাত্রসমূহে তাঁর হাত মুবারক প্রবেশ করাকে তারা বরকত লাভের মাধ্যম মনে করত। এখান থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, তিনি দুর্বলদের প্রতি কেমন সদয় ছিলেন। তাদের প্রতি কত দয়াশীল ছিলেন। ইবনু আসাকির-এর বর্ণনায় এসেছে, আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দয়াশীল ছিলেন ছোটদের ও দুর্বলদের প্রতি। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সা.) খাদিমদের বলতেন, তোমার কোন কিছু দরকার আছে কি? (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮০৯-[৯] উক্ত বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনাবাসীদের বাঁদিদের মধ্যে এমন একটি বাদি ছিল, যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাত ধরে যেথায় ইচ্ছা সেথায় নিয়ে যেত। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَتْ أَمَةٌ مِنْ إِمَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ تَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَنْطَلِقُ بِهِ حَيْثُ شَاءَتْ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6072) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: كانت امة من اماء اهل المدينة تاخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنطلق به حيث شاءت. رواه البخاري رواہ البخاری (6072) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: বলা হয়ে থাকে, এখানে হাত ধরা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার সংস্পর্শে থাকতেন, তা হলো- তার সাথে তার বন্ধুত্ব। “সে তার সাথে যেখানে ইচ্ছা যেত” অর্থাৎ যখন নবী (সা.) মদীনার বাইরে যেতেন সেও মদীনার বাইরে যেতেন। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টির প্রতি নবী (সা.) -এর দয়া ও সহানুভুতি কত বেশি ছিল। তিনি (সা.) সকলের প্রতি ইনসাফ করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১০-[১০] উক্ত বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। একদিন এমন একটি মহিলা- যার মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল, সে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাথে আমার একটু প্রয়োজন আছে। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, হে অমুকের মা! যে গলিতেই তুমি আমাকে নিয়ে যেতে চাও, আমি তোমার কাজের জন্য সেথায় যেতে প্রস্তুত আছি। অতঃপর রাসূল (সা.) মহিলাটির সাথে কোন এক পথের পার্শ্বে নিরালায় কথাবার্তা বললেন, এমনকি সে তার প্রয়োজন সমাধা করে চলে গেল। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ فِي عَقْلِهَا شَيْءٌ فَقَالَت: يَا رَسُول الله إِنِّي لِي إِلَيْكَ حَاجَّةً فَقَالَ: «يَا أُمَّ فُلَانٍ انْظُرِي أَيَّ السِّكَكِ شِئْتِ حَتَّى أَقْضِيَ لَكِ حَاجَتَكِ» فَخَلَا مَعَهَا فِي بَعْضِ الطُّرُقِ حَتَّى فرغت من حَاجَتهَا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (76 / 2326)، (6044) ۔
(صَحِيح)

وعنه ان امراة كانت في عقلها شيء فقالت: يا رسول الله اني لي اليك حاجة فقال: «يا ام فلان انظري اي السكك شىت حتى اقضي لك حاجتك» فخلا معها في بعض الطرق حتى فرغت من حاجتها. رواه مسلم رواہ مسلم (76 / 2326)، (6044) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটিও রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর উত্তম চরিত্রের প্রমাণ বহনকারী। যখন হালকা বুদ্ধির মহিলাটি এসে নবী (সা.) -এর সাথে নির্জনে কথা বলতে চাইল তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, ঠিক আছে! তমি চিন্তা করে বল কোন জায়গায় তুমি তোমার কথা বললে তোমার প্রয়োজন পূর্ণ হবে। তখন সে মহিলা তাকে কোন গলি পথের দিকে নিয়ে গেল। এখানে এসে নবী (সা.) তার সাথে দাঁড়িয়ে কথা শুনলেন আর তার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। আর এখান থেকে বুঝা যায় যে, কোন মহিলার সাথে কোন ঘরে নির্জনতা অবলম্বন করা আর কোন গলি রাস্তায় নির্জনতা অবলম্বন করা একই বিষয় নয়। আর এটারও সম্ভাবনা আছে যে, সুন্দর আদব পর্যবেক্ষণের জন্য সেখান থেকে দূরে কিছু সাহাবী দাঁড়িয়ে ছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১১-[১১] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)  অশালীন বাক্য উচ্চারণকারী, লা’নাতকারী এবং গালিগালাজকারী ছিলেন না। তিনি (সা.) যখন কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হতেন, তখন কেবল এতটুকুই বলতেন যে, তার কি হলো? তার ললাট ভূলুণ্ঠিত, ধূলিময় হোক।’ (বুখারী)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ قَالَ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحِشًا وَلَا لَعَّانًا وَلَا سَبَّابًا كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْمَعْتَبَةِ: «مَا لَهُ تربَ جَبينُه؟» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6031) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحشا ولا لعانا ولا سبابا كان يقول عند المعتبة: «ما له ترب جبينه؟» . رواه البخاري رواہ البخاری (6031) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: তিনি লা'নাতকারী ও গালি-গালাজকারী ছিলেন না। অর্থাৎ এ দু'টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এ দু’টিকে অস্বীকার করা। সকল ধরনের অশালীন বাক্য এর অন্তর্ভুক্ত। এতে কেবল বেশি বেশি করাকে নিষেধ করা হয়নি। বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে বেশি বেশিকে মনে হয় নিষেধ করা হয়েছে আর কমকে নিষেধ করা হয়নি। বিষয়টি তা নয়। উদ্দেশ্য হলো সব অশালীন বাক্য নিষিদ্ধ হওয়া যা তার শেষ দিকটা লক্ষ্য করলে বুঝা যায়। মহান আল্লাহর বাণী- (وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیۡسَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ) “আর আল্লাহ কোন বান্দার প্রতি যুলুমকারী নন”- (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩: ১৮২)।
এখানে যেমন আল্লাহ কোন বান্দার প্রতি সামান্য পরিমাণেও যুলমকারী নন। ঠিক তেমনিভাবে নবী (সা.) -ও অশালীন বাক্য ব্যবহারকারী ছিলেন না। কোন কাফির বা ফাসিক বা পাপিষ্ঠ ব্যক্তি লা'নাত বা তিরষ্কারের উপযুক্ত না হলে তিনি (সা.) কখনও কাউকে লা'নাত বা তিরষ্কার করেননি। আর এটা বুঝা যায়, বর্ণনাকারীর শেষের বাক্যটির দ্বারা যখন তিনি কারো প্রতি রাগান্বিত হলে বলতেন। আর (تربَ جَبينُه) এটা ‘আরবদের কথার একটি বাগধারার মতো। এটা দ্বারা কাউকে লা'নাত বা বদদু'আর জন্য ব্যবহৃত হয় না। এটা দু'আর জন্য ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ তোমার চেহারা আল্লাহর জন্য সিজদায় নত হোক। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১২-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার [রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে] প্রস্তাব করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কাফির মুশরিকদের ওপর অভিসম্পাত করুন। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমাকে অভিসম্পাতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি, বরং আমাকে রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ. قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (87 / 2599)، (6613) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قيل: يا رسول الله ادع على المشركين. قال: «اني لم ابعث لعانا وانما بعثت رحمة» . رواه مسلم رواہ مسلم (87 / 2599)، (6613) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে বলা হয়েছে আমাকে অভিশাপকারী হিসাবে পাঠানো হয়নি। অর্থাৎ যদিও তা কোন নির্দিষ্ট কাফির দলের বিরুদ্ধেও হোক না কেন। মহান আল্লাহ বলেন, (لَیۡسَ لَکَ مِنَ الۡاَمۡرِ شَیۡءٌ اَوۡ یَتُوۡبَ عَلَیۡهِمۡ اَوۡ یُعَذِّبَهُمۡ)- “এ বিষয়ে তোমার কোন অধিকার নেই- হয়তো তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন অথবা তিনি তাদেরকে ‘আযাব দেবেন”- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১২৮)। আরো বলা হয়েছে, “আমাকে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের জন্য সাধারণভাবে আর মু'মিনদের জন্য বিশেষভাবে। তাকে দয়ালু গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন- (وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ) “আর আমরা আপনাকে পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি”- (সূরাহ আল আম্বিয়া- ২১: ১০৭)।
ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি মু'মিনদের জন্য বাহ্যিকভাবে রহমতস্বরূপ। আর কাফিরদের জন্য দুনিয়াতে শাস্তি বন্ধের কারণস্বরূপ। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, “আপনি তাদের মাঝে থাকাবস্থায় আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবেন না”- (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৩)। বরং নবী (সা.) -এর আগমনের বরকতে কিয়ামত পর্যন্ত কোন ‘আযাবে উম্মত সমূলে ধ্বংস হবে না। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি প্রেরিত হয়েছি মানুষকে আল্লাহর ও তাঁর রহমতের নিকটবর্তী করার জন্য। তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য আমি প্রেরিত হয়নি। অভিশাপকেই তো নিষেধ করা হলো তাহলে অধিক অভিশাপ করবেন কিভাবে? (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৩-[১৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) কোন কিছু অপছন্দ করতেন, তখন তার চেহারায় আমরা তার পরিচয় পেতাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا فَإِذَا رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6102) و مسلم (67 / 2320)، (6032) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد الخدري قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اشد حياء من العذراء في خدرها فاذا راى شيىا يكرهه عرفناه في وجهه. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6102) و مسلم (67 / 2320)، (6032) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: হাদীসের শেষাংশের অর্থ হলো, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সামনে এমন কোন বিষয় ঘটে যা স্বভাবগতভাবে অপছন্দনীয় কিংবা শারী'আত পরিপন্থী হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মেজাজবিরোধী হয় তাহলে উক্ত অপছন্দনীয়তার প্রভাবে চেহারায় তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন হয়ে যেত আর আমরা সে পরিবর্তন লক্ষ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে অবগত হয়ে তার প্রতিকারের চেষ্টা করতাম, ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা হতে অপছন্দনীয়তার প্রভাব বিলুপ্ত হত এবং এরূপ মনে হত যেন তিনি একেবারে রাগই করেননি। কিন্তু এ ব্যাপারটি ঐ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হত যখন মেজাজবিরোধী ব্যাপারটির সম্পর্কে কোন স্বভাবগত বিষয় হত কিংবা কোন এমন শারঈ বিষয় হত যাতে লিপ্ত হওয়া হারাম ও নাজায়িয নয়; বরং মাকরূহ হত।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে মেজাজবিরোধী বিষয় ঘটত অধিক লজ্জার কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার বিরূদ্ধে অপছন্দনীয়তার প্রকাশ মুখ দ্বারা করতেন না; বরং তার প্রভাব রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারায় প্রকাশ পেত। অতএব সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেহারার পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার অপছন্দনীয়তা এ অসন্তুষ্টি জানতে পারতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

এ হাদীসের মাধ্যমে কেবল লজ্জা-শরমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না; বরং এ শিক্ষাও পাওয়া যায় যে, এ গুণটি নিজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্জন করা উচিত যাতে করে শারঈ ও মানবীয় কোন বিধান পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং কোন প্রকারের ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা না হয়।
(মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৬২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৪-[১৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে কখনো মুখ খুলে দাঁত বের করে এমনভাবে হাসতে দেখিনি যে, তাঁর কণ্ঠতালু অবধি দেখা যায়; বরং তিনি মুচকি হাসতেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا قَطُّ ضَاحِكًا حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ وَإِنَّمَا كَانَ يتبسم. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6092) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم مستجمعا قط ضاحكا حتى ارى منه لهواته وانما كان يتبسم. رواه البخاري رواہ البخاری (6092) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটির ব্যাখ্যায় ‘উলামাগণ বলেছেন, মা আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কথার অর্থ হলো আমি তাকে সম্পূর্ণ মুখ হা করে হাসতে দেখিনি। বরং তিনি (সা.) মুচকি হাসি দিতেন। যে হাসিটা অধিক হত না। মুখের কিছু অংশ দিয়ে হাসতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৫-[১৫] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনবরত কথাবার্তা বলতেন না, যেরূপ তোমরা অনবরত বলতে থাক। বরং তিনি (সা.) যখন কথাবার্তা বলতেন, তখন ধীরে ধীরে থেমে থেমে কথা বলতেন, এমনকি যদি কোন লোক তা গুণতে চাইতে, তবে তা গুনতে পারত। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَسْرُدُ الْحَدِيثَ كَسَرْدِكُمْ كَانَ يُحَدِّثُ حَدِيثًا لَوْ عَدَّهُ الْعَادُّ لَأَحْصَاهُ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3567 ۔ 3568) و مسلم (160 / 2493)، (6399) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنها قالت: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يسرد الحديث كسردكم كان يحدث حديثا لو عده العاد لاحصاه. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3567 ۔ 3568) و مسلم (160 / 2493)، (6399) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) একটা বলার সাথে সাথেই আরেকটা কথা বলতেন না, তথা অনর্গল কথা বলতেন না। তোমরা যেমন লাগাতার বা অনর্গল কথা বল তেমন তিনি (সা.) বলতেন না; বরং স্পষ্টভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কথা বলতেন। যেমনটি স্পষ্টভাবে সকলে কথা বুঝতে পারে। তার কথা এতই স্পষ্ট ও পরিষ্কার ছিল যে, কোন ব্যক্তি তা গণনা করতে চাইলে সে তা গণনা করতে সক্ষম হত।
নবী (সা.) -এর কথা লাগাতার ছিল না যে, একটা কথা বলে সাথে সাথেই তিনি আরেকটা কথা বলছেন। এমন করলে অনেক সময় শ্রোতার কাছে প্যাচ লেগে যায়। বরং তিনি (সা.) কথার মাঝে পার্থক্য করতেন। যদি কোন শ্রোতা তার কথা গণনা করতে চাইতেন তবে সে তা গণনা করতে পারতেন। অতএব তিনি (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় কথা বলতেন যাতে সকলে তার কথা বুঝতে পারে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৬-[১৬] আসওয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, নবী (সা.) গৃহের ভিতরে কি কাজ করতেন? তিনি বললেন, তিনি (সা.) পারিবারিক কাজ করতেন। অর্থাৎ পরিবারের কাজ আঞ্জাম দিতেন। আর যখন সালাতের সময় হত তখন সালাতের উদ্দেশে বের হয়ে যেতেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مَهْنَةِ أَهْلِهِ - تَعْنِي خدمَة أَهله - فَإِذا حضرت الصَّلَاة خرج إِلَى الصَّلَاة. رَوَاهُ البُخَارِيّ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (676) ۔
(صَحِيح)

وعن الاسود قال: سالت عاىشة: ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع في بيته؟ قالت: كان يكون في مهنة اهله - تعني خدمة اهله - فاذا حضرت الصلاة خرج الى الصلاة. رواه البخاري متفق علیہ ، رواہ البخاری (676) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: নবী (সা.) -এর অভ্যাস ছিল যে তিনি সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকতেন। যখন তিনি (সা.) বাসায় থাকতেন তখন তার পরিবারের লোকেদেরকে তাদের কাজে সাহায্য করতেন। যাদের কাজে তার সাহায্যের প্রয়োজন মনে করতেন। আর যখন আযান হয়ে যেত তখন তিনি (সা.) সকল কাজ ছেড়ে দিতেন, যেন তিনি পরিবারের কাউকে চেনেন না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আসওয়াদ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৭-[১৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে যখনই দুটি ব্যাপারে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তখন তিনি উভয়টির মধ্যে যেটি সহজতর সেটি গ্রহণ করেছেন। তবে এই শর্তে যে, সেটি যেন কোন প্রকারের গুনাহের কাজ না হয়। তবে যদি তা গুনাহের কাজ হত, তাহলে তিনি (সা.) তা হতে সকলের চেয়ে অনেক দূরে সরে থাকতেন। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের কোন ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে কেউ যদি আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন কাজ করে ফেলত, তখন আল্লাহর লক্ষ্যে (তার নিকট হতে) প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ قَطُّ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا أَنْ يُنتهك حرمةُ الله فينتقم لله بهَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3560) و مسلم (77 / 2327)، (6045) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عاىشة قالت: ما خير رسول الله صلى الله عليه وسلم بين امرين قط الا اخذ ايسرهما ما لم يكن اثما فان كان اثما كان ابعد الناس منه وما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه في شيء قط الا ان ينتهك حرمة الله فينتقم لله بها. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3560) و مسلم (77 / 2327)، (6045) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে দুটি কাজের ইখতিয়ার দেয়া হলে তিনি সহজ কাজটি গ্রহণ করতেন যদি সে কাজটি কোন গুনাহের কাজ না হত। আর যদি কোন পাপের কাজ হত তাহলে তা থেকে তিনি (সা.) মানুষকে বিরত থাকার দিক-নির্দেশনা প্রদান করতেন কাজটি যতই কঠিন হোক না কেন।
আর তিনি (সা.) ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে কারো থেকে প্রতিশোধ নিতেন না। কেউ কোন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে আল্লাহর বিধানে তার যে শাস্তি হয় তিনি (সা.) তাকে সে শাস্তি প্রদান করতেন। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কেউ তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কোন অন্যায় করলে তিনি (সা.) তাকে শাস্তি দিতেন না। তবে কেউ আল্লাহর নিষিদ্ধ কোন হারাম কাজ করলে তিনি (সা.) তাঁর বিধানে যে শাস্তি আছে তা বাস্তবায়ন করতেন। যেমন- মহান আল্লাহর বাণী- “আর আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করতে যেয়ে তোমাদের অন্তরে যেন কোন মায়া না জন্মে”- (সূরা আন নূর ২৪: ০২)।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো তিনি ব্যক্তিগত কোন প্রয়োজনে কারো থেকে কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তাই তো তিনি উকবাহ্ ইবনু আবূ মু'ঈত্ব, ‘আবদুল্লাহ ইবনু খতুল ও অন্যান্য যারা তাকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের হত্যার আদেশকে তিনি ফিরিয়ে নেননি। কারণ তারা এ অপরাধের পাশাপাশি আল্লাহর হারাম কাজেও জড়িয়ে পড়েছিল। কথিত আছে, তারা নবী (সা.) -কে গালি দেয়া ছাড়াও কুফরীতে জড়িয়ে পড়েছিল। যদিও কথিত আছে, বিষয়টি সম্পদের সাথে নির্দিষ্ট ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৮-[১৮] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থা ছাড়া কখনো কাউকেও স্বীয় হাতে প্রহার করেননি। নিজের স্ত্রীগণকেও না, সেবককে না। আর যদি তার দেহে বা অন্তরে কারো পক্ষ হতে কোন প্রকারের কষ্ট বা ব্যথা লাগত, তখন নিজের ব্যাপারে সেই লোক হতে কোন প্রকারের প্রতিশোধ নিতেন না। কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ করে বসত, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে শাস্তি দিতেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهَا قَالَتْ: مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لنَفسِهِ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ وَلَا امْرَأَةً وَلَا خَادِمًا إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمُ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ فينتقم لله. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (79 / 2328)، (6050) ۔
(صَحِيح)

وعنها قالت: ما ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه شيىا قط بيده ولا امراة ولا خادما الا ان يجاهد في سبيل الله وما نيل منه شيء قط فينتقم من صاحبه الا ان ينتهك شيء من محارم الله فينتقم لله. رواه مسلم رواہ مسلم (79 / 2328)، (6050) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: ‘নবী (সা.) কাউকেও মারতেন না’ বলতে তিনি কোন মানুষকে মারতেন না। তবে তিনি (সা.) কখনো কখনো তার বাহনকে মারতেন। যদিও কখনো মারা জায়িয তবুও তিনি তার স্ত্রী ও খাদিমদেরকে মারতেন না। মারা জায়িয হলেও না মারাটা উত্তম। উলামাগণ বলেন, তবে সন্তানের ব্যাপারটি ভিন্ন। তাদেরকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য মারা যায়। কল্যাণের জন্য তাদেরকে মারা যাবে।
(ا إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) অর্থাৎ তিনি উবাই ইবনু খালফ-কে উহুদের যুদ্ধে হত্যা করেন। এখান থেকে কেবল যুদ্ধ ক্ষেত্রে কাফির শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করা উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো শারী'আতের নির্ধারিত শাস্তি, আদব শিক্ষা দেয়ার জন্য শাস্তি ইত্যাদি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮১৯-[১৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বয়স যখন আট বছর তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সেবায় যোগ দেই এবং দশ বছর তাঁর সেবা করি। কোন সময় কোন বস্তু আমার হাতে নষ্ট হয়ে গেলেও তিনি (সা.) আমাকে কখনো তিরস্কার করেননি। পরিবারবর্গের কেউ যদি আমাকে তিরস্কার করতেন, তখন তিনি (সা.) বলতেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা যা ভাগ্যে লিপিবদ্ধ ছিল তা তো হবেই। [এটা মাসাবীহ-এর শব্দ, আর ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) শু’আবূল ঈমানে কিছু পরিবর্তনসহ বর্ণনা করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا ابْنُ ثَمَانِ سِنِينَ خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» . هَذَا لَفَظُ «الْمَصَابِيحِ» وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» . مَعَ تَغْيِيرٍ يَسِيرٍ

صحیح ، ذکرہ البغوی فی المصابیح السنۃ (4 / 57 ۔ 58 ح 4538) و رواہ البیھقی فی شعب الایمان (8070 و کتاب القدر : 212 و سندہ صحیح) ولہ شواھد عند احمد (3 / 231 و ابن سعد (7 / 17) و البخاری (2768 ، 6038 ، 6911) و مسلم (2309) و الخطیب فی تاریخ بغداد (3 / 303) و ابن حبان (الموارد : 1816) وغیرھم ۔ * و رواہ الخرائطی فی مکارم الاخلاق (71) ۔
(صَحِيح)

عن انس قال: خدمت رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابن ثمان سنين خدمته عشر سنين فما لامني على شيء قط اتى فيه على يدي فان لامني لاىم من اهله قال: «دعوه فانه لو قضي شيء كان» . هذا لفظ «المصابيح» وروى البيهقي في «شعب الايمان» . مع تغيير يسير صحیح ، ذکرہ البغوی فی المصابیح السنۃ (4 / 57 ۔ 58 ح 4538) و رواہ البیھقی فی شعب الایمان (8070 و کتاب القدر : 212 و سندہ صحیح) ولہ شواھد عند احمد (3 / 231 و ابن سعد (7 / 17) و البخاری (2768 ، 6038 ، 6911) و مسلم (2309) و الخطیب فی تاریخ بغداد (3 / 303) و ابن حبان (الموارد : 1816) وغیرھم ۔ * و رواہ الخراىطی فی مکارم الاخلاق (71) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ) অর্থ ‘যা নির্ধারিত ছিল তা তো হবেই।' অর্থাৎ কোন জিনিস ভেঙে যাওয়া, ফেটে যাওয়া ও নষ্ট হওয়া সবই মহান আল্লাহর ফায়সালা ও হুকুমের অধীনে হয়ে থাকে, যদিও তার বাহ্যিক কারণ অন্য কিছু হয়ে থাকে। অতএব যদি কোন ব্যক্তি কোন জিনিস নষ্ট হওয়ার বাহ্যিক কারণ হয় তাহলে তাকে তিরস্কার করার দ্বারা কোন লাভ হবে না। এ বাস্তবতাকেই সামনে রেখে এক হাদীসে এসেছে যে, যদি বাঁদি ও খাদিমার হাতে কোন পাত্র ভেঙ্গে যায় তাহলে তাকে মারধর করো না। কেননা প্রতিটি বস্তুরই ধ্বংস আছে এবং তা অবশিষ্ট থাকার একটি সময়সীমা রয়েছে। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৬৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২০-[২০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশালীন কথা বলার চেষ্টাও করতেন না। তিনি (সা.) হাট-বাজারে শোর-গোলকারী ছিলেন না। আর মন্দের প্রতিশোধ তিনি মন্দের দ্বারা নিতেন না, বরং তা ক্ষমা করে দিতেন এবং উপেক্ষা করে চলতেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2016 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحشا ولا متفحشا ولا سخابا في الاسواق ولا يجزي بالسيىة السيىة ولكن يعفو ويصفح. رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2016 وقال : حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) অশ্লীলভাষী ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি কথায় ও কাজে অশ্লীল ছিলেন না।
(مُتَفَحِّشًا) অর্থাৎ তিনি তাতে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অভ্যস্ত ছিলেন না। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এরূপই এসেছে। কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে স্বাভাবিকভাবে বা কষ্টে পড়ে অশ্লীল বাক্য বা কাজ করতেন এমন বিষয়কে অস্বীকার করা হয়েছে।
(يَصْفَحُ) অর্থৎ তিনি তাদের ভুল-ত্রুটিকে বাহ্যিকভাবে উপেক্ষা করে চলতেন। আর এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, (فَاعۡفُ عَنۡهُمۡ وَ اصۡفَحۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ) “আর আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন আর তাদেরকে উপেক্ষা করে চলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ ৫ : ১৩)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২১-[২১] আনাস (রাঃ) নবী (সা.) -এর চরিত্র প্রসঙ্গে বলেছেন যে, তিনি (সা.) রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতেন, জানাযার সাথে যেতেন, দাস-গোলামদের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করতেন এবং গাধায় আরোহণ করতেন। বর্ণনাকারী [আনাস (রা.)] বলেন, খায়বারের যুদ্ধের দিন আমি তাকে এমন একটি গাধায় আরোহণ অবস্থায় দেখেছি, যার লাগাম ছিল খেজুর গাছের ছালের। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ أَنَسٍ يُحَدِّثَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كانَ يعودُ المريضَ وَيتبع الْجِنَازَة ويجيب دَعْوَة الْمَمْلُوك ويركب الْحمار لَقَدْ رَأَيْتُهُ يَوْمَ خَيْبَرَ عَلَى حِمَارٍ خِطَامُهُ لِيفٌ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4178 ، 2296) و البیھقی فی شعب الایمان (8190 ۔ 8191) [و الترمذی (1017 وقال : غریب ، لا نعرفہ الا من حدیث مسلم عن انس و مسلم الاعور یضعف ،،، الخ)] * مسلم بن کیسان الاعور : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن انس يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يعود المريض ويتبع الجنازة ويجيب دعوة المملوك ويركب الحمار لقد رايته يوم خيبر على حمار خطامه ليف. رواه ابن ماجه والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4178 ، 2296) و البیھقی فی شعب الایمان (8190 ۔ 8191) [و الترمذی (1017 وقال : غریب ، لا نعرفہ الا من حدیث مسلم عن انس و مسلم الاعور یضعف ،،، الخ)] * مسلم بن کیسان الاعور : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (ويجيب دَعْوَة الْمَمْلُوك) অর্থাৎ তিনি (সা.) অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের দা'ওয়াত গ্রহণ করতেন অথবা মুক্ত দাসের দাওয়াত গ্রহণ করতেন অথবা তিনি দাসের মালিকের বাড়িতে দাওয়াত নিতে দাসের দা'ওয়াতে সাড়া দিতেন।
(ويركب الْحمار) অর্থাৎ এসবই সৃষ্টির প্রতি তার পূর্ণ বিনয়ের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। সৃষ্টির প্রতি তার সুন্দর আচরণ ও নমনীয় ব্যবহার কেমন ছিল তা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখান থেকে আরো বুঝা যায়, গাধায় আরোহণ করা সুন্নাত। আমি বলি, যদি কেউ অহংকার করে নাক ছিটকায় তাহলে সে গাধার চেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে। হিন্দুস্তানের কতিপয় জাহিলগণ এরূপ কাজ করে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২২-[২২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের জুতা নিজেই ঠিক করে নিতেন, কাপড় সেলাই করতেন এবং গৃহের কাজকর্ম করতেন, যেমন তোমাদের কেউ স্বীয় গৃহের কাজকর্ম করে থাকে। আয়িশাহ্ (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, তিনি (সা.) অন্যান্য মানুষের মতো একজন মানুষই ছিলেন। নিজের কাপড়চোপড় হতে উকুন বাছতেন, নিজ বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করতেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْصِفُ نَعْلَهُ وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ وَقَالَتْ: كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ يَفْلِي ثَوْبَهُ وَيَحْلُبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

حسن ، رواہ الترمذی [فی الشمائل (341) و البخاری فی الادب المفرد (541 و سندہ حسن)] * الشطر الاول الی ’’ فی بیتہ ‘‘ رواہ احمد (6 / 106 ، 121 ، 167 ، 260 ایضًا) و فیہ علۃ عند احمد (6 / 241) و للحدیث شواھد عند احمد (6 / 256) وغیرہ ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخصف نعله ويخيط ثوبه ويعمل في بيته كما يعمل احدكم في بيته وقالت: كان بشرا من البشر يفلي ثوبه ويحلب شاته ويخدم نفسه. رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی [فی الشماىل (341) و البخاری فی الادب المفرد (541 و سندہ حسن)] * الشطر الاول الی ’’ فی بیتہ ‘‘ رواہ احمد (6 / 106 ، 121 ، 167 ، 260 ایضا) و فیہ علۃ عند احمد (6 / 241) و للحدیث شواھد عند احمد (6 / 256) وغیرہ ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْصِفُ) অর্থাৎ তিনি (সা.) কাপড়ে তালি বা জোড়া দিতেন। শারহুস সুন্নাহতে এসেছে- অর্থাৎ তিনি একটির সাথে অন্যটিকে মিলিয়ে দিতেন। খসফ’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো মিলানো ও একত্রিত করা।
(يَفْلِي ثَوْبَهُ) অর্থাৎ তিনি তাঁর কাপড়ে লক্ষ্য করতেন সেখানে কোন ধরনের কোন উকুন আছে কি? আর এ অর্থটাও ঠিক আছে যাতে বর্ণিত আছে- উকুন তাকে কোন ধরনের কষ্ট দিত না। ব্যাখ্যাকার বলতেন, তিনি উকুন বেছে ফেলে দিতেন।
(وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ) আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ আচরণ থেকে বুঝা যায় যে, তিনি (সা.) একজন মানুষ ছিলেন। কারণ কাফিরদের আকীদাহ্ হলো এই যে, নবী (সা.) অন্য সাধারণ মানুষ যা করে তা তিনি করতে পারেন না। তারা তাকে বাদশাহ-এর মতো মনে করেন। তারা অহঙ্কার করে তাকে দুনিয়ার সাধারণ কাজকর্মের ঊর্ধ্বে মনে করেন। যেমন মহান আল্লাহ তাদের ‘আকীদাহ্ উল্লেখ করে বলেন, (وَ قَالُوۡا مَالِ هٰذَا الرَّسُوۡلِ یَاۡکُلُ الطَّعَامَ وَ یَمۡشِیۡ فِی الۡاَسۡوَاقِ) “আর তারা বলে, এটা কেমন রাসূল যে খাবার খায় ও বাজারে চলাফেরা করে?” (সূরা আল ফুরকান ২৫ : ৭)।
অতএব তিনি বলেন, তিনি তো মহান আল্লাহর একজন সৃষ্টি। আর আদম সন্তানের একজন। আল্লাহ তাকে নুবুওয়্যাত দিয়ে সম্মানিত করেছেন। আর তাকে রাসূল করে তাঁকে মর্যাবান করেছেন। আর তিনি (সা.) উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে সৃষ্টির সাথে জীবনযাপন করবেন। আর সত্য ও হাক্বের সাথে জীবনযাপন করবেন। তিনি (সা.) তাই করবেন যা তারা করে। তিনি (সা.) তাদের কাজে সাহায্য করবেন, তিনি বিনয়ী হবেন ও বিনয়ের প্রতি দিক-নির্দেশনা প্রদান করবেন। আর অহংকার পরিহার করবেন এবং সৃষ্টির প্রতি সত্য রিসালাত প্রচার করবেন। যেমনটি তিনি আদেশ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, (قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ) “বলুন! আমি তোমাদের মতো মানুষ আমার ওপর ওয়াহী করা হয়”- (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১১০)। আল জামি' গ্রন্থে এসেছে, তিনি দুর্বল মুসলিমদের নিকট আসতেন, তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তাদের অসুস্থদের দেখাশোনা করতেন। তাদের জানাযায় শরীক থাকতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৩-[২৩] খারিজাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কতিপয় লোক যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি ছিলাম তার প্রতিবেশী, যখন তার ওপরে ওয়াহী অবতীর্ণ হত, তখন তিনি লোক পাঠিয়ে আমাকে ডেকে আনতেন, আমি তাকে তা লিখে দিতাম। রাসূল (সা.) -এর সাধারণ অভ্যাস ছিল, যখন আমরা দুনিয়ার ব্যাপারে কোন আলোচনা করতাম, তিনিও আমাদের সাথে সেই আলোচনায় শামিল হতেন। আর আমরা যখন পরকাল সম্পর্ক কথাবার্তা বলতাম, তখন তিনিও আমাদের সাথে সেই আলোচনায় অংশ নিতেন এবং যখন আমরা খানাপিনার কথা বলতাম, তখন তিনিও আমাদের সাথে সেই আলোচনায় শামিল হতেন। মোটকথা, উল্লিখিত সকল বিষয়গুলো আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করছি। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: دَخَلَ نَفَرٌ عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَقَالُوا لَهُ: حَدِّثْنَا أَحَادِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنْتُ جَارَهُ فَكَانَ إِذَا نزل الْوَحْيُ بَعَثَ إِلَيَّ فَكَتَبْتُهُ لَهُ فَكَانَ إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا ذَكَرَهَا مَعَنَا وَإِذَا ذَكَرْنَا الْآخِرَةَ ذَكَرَهَا مَعَنَا وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامَ ذَكَرَهُ مَعَنَا فَكُلُّ هَذَا أُحَدِّثُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (فی الشمائل : 342) و البغوی فی شرح السنۃ (13 / 245 ح 3679)] * فیہ سلیمان بن خارجۃ : مجھول الحال ۔
(ضَعِيف)

وعن خارجة بن زيد بن ثابت قال: دخل نفر على زيد بن ثابت فقالوا له: حدثنا احاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: كنت جاره فكان اذا نزل الوحي بعث الي فكتبته له فكان اذا ذكرنا الدنيا ذكرها معنا واذا ذكرنا الاخرة ذكرها معنا واذا ذكرنا الطعام ذكره معنا فكل هذا احدثكم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (فی الشماىل : 342) و البغوی فی شرح السنۃ (13 / 245 ح 3679)] * فیہ سلیمان بن خارجۃ : مجھول الحال ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (دَخَلَ نَفَرٌ) অর্থাৎ তাবিঈদের একটি দল। বলা হয়ে থাকে যে, ‘নাফার’ বলা হয় যেখানে তিন থেকে দশজন সদস্য হয়ে থাকে।
(إِذَا ذَكَرْنَا الدُّنْيَا) অর্থাৎ দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র হিসেবে তিনি প্রশংসা ও নিন্দা করার জন্য আমাদের সাথে আলোচনায় শামিল হতেন।
(وَإِذَا ذَكَرْنَا الْآخِرَةَ ذَكَرَهَا مَعَنَا) অর্থাৎ তিনি (সা.) আমাদের সাথে শামিল থাকতেন যাতে বেশি কল্যাণ লাভ হয় ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা হয়।
(وَإِذَا ذَكَرْنَا الطَّعَامَ ذَكَرَهُ مَعَنَا) অর্থাৎ তিনি (সা.) এখানে ইঙ্গিত করেছেন তার উপকারিতার প্রতি, তার হিকমাতের প্রতি, সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি ও তার আদবের প্রতি।

মোটকথা তিনি (সা.) কথায় নমনীয়তা প্রকাশ করতেন যাতে কোন ধরনের ক্ষতি না হয়। তাকে যেভাবে শারী'আতের বিধি-বিধান প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেভাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৪-[২৪] আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোন লোকের সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত হাতখানা সরিয়ে নিতেন না, যতক্ষণ না সেই লোক নিজের হাত সরিয়ে নিত। আর তিনি (সা.) সেই লোকের দিক হতে নিজের মুখ ফিরিয়ে নিতেন না, যতক্ষণ না সে রাসূল (সা.) -এর দিক হতে স্বীয় চেহারা ফিরিয়ে নিত। আর তাকে নিজের সাথে বসা লোকজনের সাথে কখনো হাঁটু বাড়িয়ে বসতে দেখা যায়নি। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَافَحَ الرَّجُلَ لَمْ يَنْزِعْ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْ وَجْهِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَن وَجهه وَلم يُرَ مقدِّماً رُكْبَتَيْهِ بَين يَدي جليس لَهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2490 وقال : غریب) [و ابن ماجہ (3716)] * زید العمی ضعیف و تلمیذہ لین ولہ شاھد ضعیف عند ابی داود (4794) وغیرہ ۔
(ضَعِيف)

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا صافح الرجل لم ينزع يده من يده حتى يكون هو الذي ينزع يده ولا يصرف وجهه عن وجهه حتى يكون هو الذي يصرف وجهه عن وجهه ولم ير مقدما ركبتيه بين يدي جليس له. رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2490 وقال : غریب) [و ابن ماجہ (3716)] * زید العمی ضعیف و تلمیذہ لین ولہ شاھد ضعیف عند ابی داود (4794) وغیرہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, মুসাফাহ্ করতে হবে এক হাত দিয়ে। তা হলো ডান হাত দিয়ে। যেমন- হাদীসে বলা হলো (اذاصافح الرجل لم ينزع يده من يده حتى يكون هو الزى ينزع يده) অর্থাৎ “যখন কোন ব্যক্তির সাথে নবী (সা.) এ মুসাফাহ্ করতেন, তখন তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের হাতখানা (ডানহাত) সরিয়ে নিতেন না, যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজের হাত সরিয়ে নিতেন।” এখান থেকে বুঝা গেল, মুসাফাহ্ করার সময় উভয়ে এক হাত করে ব্যবহার করবেন তা হলো উভয়ের ডান হাত। হাদীসের শব্দগুলো তার প্রমাণ- (يده) শব্দটি হাদীসে তিনবার ব্যবহার করা হয়েছে। যার অর্থ একহাত বা হাতখানা। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ডান হাতখানা দ্বারা মুসাফাহ্ করতেন, তার সাথে যিনি মুসাফাহ্ করতেন তিনিও তাঁর ডান হাতখানা বাড়িয়ে দিতেন।

বর্তমানে দু’জনে মুসাফাহ করার সময় যে চার হাত ব্যবহার করা হচ্ছে নবী (সা.) থেকে এ মর্মে পৃথিবীতে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। (সম্পাদকীয়)

(رُكْبَتَيْهِ بَين يَدي جليس) অর্থাৎ তিনি (সা.) যখন কোন মজলিসে বসতেন তখন তার দু' হাটুকে তার সাথির দু হাঁটুর উপর রাখতেন না। যেমনটিভাবে অহংকারী রাজা বাদশাগণ তাদের মাজলিসগুলোতে করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, তার সামনে যারা বসত তিনি তাদের নিকট তার দু' হাঁটুকে উঁচু করতেন না। বরং তিনি (সা.) তাদের সম্মানার্থে দু' হাঁটুকে নামিয়ে রাখতেন। তারা বলেছেন, তিনি (সা.) দু' হাঁটু দিয়ে উদ্দেশ্য করেছেন দু' পা। আর আগে বাড়ানো হলো তাকে লম্বা করা ও বাড়িয়ে দেয়া। বলা হয়ে থাকে, এক পা আগে বাড়িয়ে রাখা ও আর এক পা পিছনে রাখা। এর অর্থ হলো তার সাথির সম্মানার্থে তার দিকে তার পা লম্বা করে দিবে না। নবী (সা.) -এর কথার ব্যাপারে ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি তার সাথির হাত সরিয়ে নেয়ার আগে তার নিজের হাতকে সরিয়ে নিতেন না, এতে তার উম্মতের জন্য শিক্ষা হলো তার সাথিকে সম্মান ও মর্যাদা করবে। তার সাথির হাত থেকে নিজের হাতকে আগে সরিয়ে নিবে না, আর তার দিকে তার পা বাড়িয়ে দিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৫-[২৫] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) আগামী দিনের উদ্দেশে (নিজের জন্য) কোন কিছুই জমা করে রাখতেন না। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَدَّخِرُ شَيْئًا لِغَدٍ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2362 وقال : غریب) ۔
(صَحِيح)

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان لا يدخر شيىا لغد. رواه الترمذي اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2362 وقال : غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (كَانَ لَا يَدَّخِرُ شَيْئًا لِغَدٍ) অর্থাৎ আল্লাহর ওপর ভরসা করে ও তাঁর ধন-ভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করে। এমন তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে পারে কেবল সেই ব্যক্তি যে বিশেষভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। তিনি (সা.) তার পরিবার-পরিজনের জন্য মাঝে মাঝে এক বছরের খাবার জমা করে রাখতেন তাদের দুর্বল অবস্থার কারণে, তাদের ধৈর্যের কমতি ও অপূর্ণতা থাকার কারণে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৬-[২৬] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিক সময় নীরব থাকতেন। (শারহুস্ সুন্নাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَوِيلَ الصَّمْتِ. رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»

حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 256 ح 3695 ، و فی الانوار فی شمائل النبی المختار بتحقیقی : 331) [و احمد (5 / 86 ، 105) و الترمذی (2850) و مسلم (2322 مختصرًا)] ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم طويل الصمت. رواه في «شرح السنة» حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 256 ح 3695 ، و فی الانوار فی شماىل النبی المختار بتحقیقی : 331) [و احمد (5 / 86 ، 105) و الترمذی (2850) و مسلم (2322 مختصرا)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (طَوِيلَ الصَّمْتِ) অর্থাৎ তিনি (সা.) অনেক সময় চুপ থাকতেন। কোন প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না।
আর এ প্রসঙ্গে সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা হলো- “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর যিকর ছাড়া আমি যদি বোবা থাকতাম তাহলেই ভালো হত! (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৭-[২৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কথায় ছিল খুবই স্পষ্টতা ও ধীরগতি। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ فِي كَلَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرْتِيلٌ وَتَرْسِيلٌ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4838) * الشیخ ، الراوی عن جابر رضی اللہ عنہ : مجھول

وعن جابر قال: كان في كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم ترتيل وترسيل. رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4838) * الشیخ ، الراوی عن جابر رضی اللہ عنہ : مجھول

ব্যাখ্যা: তারতীল ও তারসীল শব্দদ্বয়ের অর্থ একই অর্থাৎ কোন বিষয় পড়া এবং বলার সময় এক একটি অক্ষর পৃথক পৃথকভাবে খুব স্পষ্ট করে পড়া ও বলা। কেউ কেউ উক্ত শব্দদ্বয়ের অর্থের মাঝে সামান্য পার্থক্য বর্ণনা করেছেন যে, তারতীল এর অর্থ হলো, প্রতিটি অক্ষর সমানভাবে উচ্চারণ করা। আর তারসীল এর অর্থ হলো, প্রতিটি অক্ষর বলার সময় তাড়াহুড়া ও দ্রুততা না করা; বরং ধীরগতিতে উচ্চারণ করা।
বাহ্যিকভাবে বুঝে যাচ্ছে যে, এ হাদীসে তারতীল-এর সম্পর্ক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করার সাথে এবং তারসীল-এর সম্পর্ক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাধারণ কথাবার্তার সাথে। (মিরকাত, মাযাহিরে হাক্ শারহে মিশকাত)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৮-[২৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা যেভাবে অনর্গল বিরতিহীন কথাবার্তা বল, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঐরূপভাবে কথা বলতেন না; বরং তিনি প্রতিটি বাক্যকে পৃথক পৃথকভাবে বলতেন। ফলে যে লোক তাঁর কাছে বসত, সে তা স্মরণ রাখতে পারত। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هَذَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمُ بِكَلَامٍ بَيْنَهُ فَصْلٌ يَحْفَظُهُ من جَلَسَ إِلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (3639 وقال : حسن صحیح) ۔
(إِسْنَاده جيد)

وعن عاىشة قالت: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسرد سردكم هذا ولكنه كان يتكلم بكلام بينه فصل يحفظه من جلس اليه. رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (3639 وقال : حسن صحیح) ۔ (اسناده جيد)

ব্যাখ্যা: নবী (সা.) খুব স্পষ্ট ভাষায় ধীরে ধীরে কথা বলতেন। যাতে তার পাশে থাকা শ্রোতা তার কথা বুঝতে কোন সমস্যায় না পড়ে। তারা তার কথা শুনে তা হিফাযত করতে পারত।
সাধারণ মানুষ যেভাবে তাড়াতাড়ি একটার পর একটা কথা ধারাবাহিকভাবে বলে যায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তা করতেন না। কথা বলার সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) সময় নিয়ে আস্তে আস্তে বলতেন। কথা বলার সময় তিনি (সা.) বাক্যের মাঝে পার্থক্য করতেন। যাতে তার শ্রোতাদের তার কথা বুঝতে কোন অসুবিধা না হয়। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮২৯-[২৯] ’আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাযই (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসির লোক কাউকেও দেখিনি। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3641) * عبداللہ بن لھیعۃ حدث بہ قبل اختلاطہ و لکنہ مدلس و عنعن فالسند ضعیف و حدیث الترمذی (3642) یغنی عنہ

وعن عبد الله بن الحارث بن جزء قال: ما رايت احدا اكثر تبسما من رسول الله صلى الله عليه وسلم رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3641) * عبداللہ بن لھیعۃ حدث بہ قبل اختلاطہ و لکنہ مدلس و عنعن فالسند ضعیف و حدیث الترمذی (3642) یغنی عنہ

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি হতে আমরা বুঝতে পারলাম, মুচকি হাসি হাসা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। তিনি (সা.) সবসময় মুচকি হাসি হাসতেন, উচ্চৈঃস্বরে হাসতেন না।
আর মুচকি হাসির উপকারিতাও অনেক। শরীর মন সুস্থ রাখার জন্য মুচকি হাসি খুবই সহায়ক একটি উপকরণ। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩০-[৩০] ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বসে কথাবার্তা বলতেন, তখন তিনি বার বার আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠাতেন। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَلَسَ يَتَحَدَّثُ يُكْثِرُ أَنْ يَرْفَعَ طَرْفَهُ إِلَى السَّمَاء. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4837) * محمد بن اسحاق مدلس و عنعن ، الا فی روایۃ سفیان بن وکیع (ضعیف) عن یونس بن بکیر بہ فالسند معلل ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن سلام قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا جلس يتحدث يكثر ان يرفع طرفه الى السماء. رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4837) * محمد بن اسحاق مدلس و عنعن ، الا فی روایۃ سفیان بن وکیع (ضعیف) عن یونس بن بکیر بہ فالسند معلل ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) কথা বলার সময় জিবরীল (আঃ)-এর আগমনের অথবা ওয়াহীর প্রতিক্ষায় বারবার আকাশের দিকে তাকাতেন। আর তিনি (সা.) আল্লাহর ভালোবাসার কারণেও এমনি করতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩১-[৩১] ’আমর ইবনু সা’ঈদ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সন্তান-সন্ততির প্রতি অত্যধিক স্নেহ-মমতা পোষণকারী রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেয়ে বেশি আমি আর কাউকে দেখেনি। তাঁর পুত্র ইবরাহীম (রাঃ) মদীনার উঁচু প্রান্তে (এক মহল্লায়) ধাত্রী মায়ের কাছে দুধপান করত। তিনি প্রায়শ সেথায় গমন করতেন এবং আমরাও তাঁর সাথে যেতাম। তিনি (সা.) উক্ত গৃহে প্রবেশ করতেন, অথচ সে গৃহটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত। কারণ ইবরাহীম (রাঃ)-এর ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিল একজন কামার। রাসূল (সা.) ইবরাহীমকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন, এরপর চলে আসতেন। বর্ণনাকারী ’আমর বলেন, যখন ইবরাহীম (রাঃ) -এর মৃত্যু হয়ে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ইবরাহীম আমার পুত্র। সে দুগ্ধ (পানের) বয়সে মৃত্যুবরণ করেছে। অতএব জান্নাতে তার জন্য দু’জন ধাত্রী রয়েছে, যারা তাকে দুগ্ধ পানের মুদ্দাত জান্নাতে পূর্ণ করবে। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَرْحَمَ بِالْعِيَالِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُهُ مُسْتَرْضَعًا فِي عَوَالِي الْمَدِينَةِ فَكَانَ يَنْطَلِقُ وَنَحْنُ مَعَهُ فَيَدْخُلُ الْبَيْتَ وَإِنَّهُ لَيُدَّخَنُ وَكَانَ ظِئْرُهُ قَيْنًا فَيَأْخُذُهُ فَيُقَبِّلُهُ ثُمَّ يَرْجِعُ. قَالَ عَمْرٌو: فَلَمَّا تُوُفِّيَ إِبْرَاهِيمُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ إِبْرَاهِيمَ ابْنِي وَإِنَّهُ مَاتَ فِي الثَّدْيِ وَإِنَّ لَهُ لَظِئْرَيْنِ تُكْمِلَانِ رَضَاعَهُ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (63 / 2316)، (6026) ۔
(صَحِيح)

عن عمرو بن سعيد عن انس قال: ما رايت احدا كان ارحم بالعيال من رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ابراهيم ابنه مسترضعا في عوالي المدينة فكان ينطلق ونحن معه فيدخل البيت وانه ليدخن وكان ظىره قينا فياخذه فيقبله ثم يرجع. قال عمرو: فلما توفي ابراهيم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان ابراهيم ابني وانه مات في الثدي وان له لظىرين تكملان رضاعه في الجنة» . رواه مسلم رواہ مسلم (63 / 2316)، (6026) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (إِنَّ إِبْرَاهِيمَ ابْنِي) অর্থাৎ মিসর ও ইসকানদারিয়্যাহ্-এর রাজা মুকাউকিস মারিয়াহ্ কিবতী বংশীয়া একটি দাসীকে নবী (সা.) -কে হাদিয়াহ্ বা উপহার দেন। ইবরাহীম-এর মা ছিলেন সেই মারিয়াহ। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ইবরাহীম আমার পুত্র। ইবরাহীম ৮ম হিজরীর যিলহজ্জ মাসে জন্মলাভ করেন। সে দুধপান করা অবস্থায় ১৬ বা ১৭ মাস বয়সে মারা যায়। তখনো তার দুধ ছাড়ার বয়স হয়নি। তাই নবী (সা.) বললেন, তাকে জান্নাতে দু'জন ধাত্রী দুধ পান করাবেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩২-[৩২] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। অমুক পাদ্রি নামে ইয়াহূদীর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর কিছু দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ঋণ ছিল। একদিন সে নবী (সা.) -এর কাছে এসে তা চেয়ে বসল। উত্তরে রাসূল (সা.) তাকে বললেন, হে ইয়াহুদী! তোমাকে দেয়ার মতো আমার কাছে কিছুই নেই। ইয়াহুদী বলল, যে অবধি তুমি হে মুহাম্মাদ! আমার ঋণ পরিশোধ করবে না, ততক্ষণ আমিও তোমাকে ছেড়ে যাব না। এবার রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আচ্ছা আমিও তোমার কাছে বসে থাকব। তিনি (সা.) এই বলে তার কাছে বসে পড়লেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই একই স্থানে যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা এবং পরদিন ফজরের সালাত আদায় করলেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীগণ ইয়াহুদী লোকটিকে ধমকাচ্ছিলেন এবং ভয় দেখাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের গতিবিধি বুঝতে পারলেন। (তিনি তাদেরকে ইয়াহূদীর সাথে কোন প্রকারের অসদাচরণ করতে নিষেধ করলেন) তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! একজন ইয়াহুদী কি আপনাকে আটকে রাখবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমার প্রভু আমাকে কোন জিম্মি ইত্যাদির উপর নির্যাতন করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর যখন দিনের বেলা বেড়ে গেল, তখন ইয়াহূদী বলল, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর যোগ্য কোন প্রভু নেই এবং এটাও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল।” আমি আমার ধন-সম্পদের অর্ধেক আল্লাহর পথে দান করলাম। মূলত আমি আপনার সাথে যে আচরণ করেছি, তা এ উদ্দেশে করেছি যে, দেখতে পাই তাওরাত কিতাবে আপনার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে যে সকল গুণাবলির কথা উল্লেখ রয়েছে, তা আপনার মধ্যে পাওয়া যায় কিনা? আপনার সম্পর্কে লেখা আছে মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ, তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করবেন ও মদীনায়ে তাইয়িবায় হিজরত করবেন। তাঁর রাজত্ব হবে সিরিয়া পর্যন্ত। তিনি (সা.) অশ্লীলভাষী ও কঠোরমনা হবেন না। হাঁটে-বাজারে চিৎকার করবেন না এবং অশালীনরূপ ধারণ করবেন না। তিনি (সা.) অশোভন উক্তি করবেন না (আমি এ সমস্ত কিছু যথাযথভাবে আপনার মধ্যে বিদ্যমান পেয়েছি)। আমি দৃঢ় প্রত্যয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, “আল্লাহ ছাড়া ’ইবাদত পাওয়ার যোগ্য কেউ নেই এবং আপনি নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল।” আর এই আমার ধন, আল্লাহর সন্তুষ্টিচিত্তে আপনি যেখানে ইচ্ছা তা খরচ করতে পারেন। বর্ণনাকারী বলেন, উক্ত ইয়াহূদী লোকটি ছিল বহু ধন-সম্পদের মালিক। [ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَن عَليّ أَنَّ يهوديّاً يُقَالُ لَهُ: فُلَانٌ حَبْرٌ كَانَ لَهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دَنَانِيرُ فَتَقَاضَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ: «يَا يَهُودِيُّ مَا عِنْدِي مَا أُعْطِيكَ» . قَالَ: فَإِنِّي لَا أُفَارِقُكَ يَا مُحَمَّدُ حَتَّى تُعْطِيَنِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذًا أَجْلِسُ مَعَكَ» فَجَلَسَ مَعَهُ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ الْآخِرَةَ وَالْغَدَاةَ وَكَانَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَهَدَّدُونَهُ وَيَتَوَعَّدُونَهُ فَفَطِنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الَّذِي يَصْنَعُونَ بِهِ. فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ يَهُودِيٌّ يَحْبِسُكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنَعَنِي رَبِّي أَنْ أَظْلِمَ مُعَاهِدًا وَغَيْرَهُ» فَلَمَّا تَرَجَّلَ النَّهَارُ قَالَ الْيَهُودِيُّ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ وَشَطْرُ مَالِي فِي سبيلِ الله أَمَا وَاللَّهِ مَا فَعَلْتُ بِكَ الَّذِي فَعَلْتُ بِكَ إِلَّا لِأَنْظُرَ إِلَى نَعْتِكَ فِي التَّوْرَاةِ: مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مَوْلِدُهُ بِمَكَّةَ وَمُهَاجَرُهُ بِطَيْبَةَ وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا مُتَزَيٍّ بِالْفُحْشِ وَلَا قَوْلِ الْخَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ وَهَذَا مَالِي فَاحْكُمْ فِيهِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَكَانَ الْيَهُودِيُّ كَثِيرَ المالِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»

اسنادہ موضوع ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 280) * فیہ محمد بن محمد بن الاشعث : کذاب ، وضع نسخۃ اھل البیت (انظر لسان المیزان 5 / 409 وغیرہ) و ھذا من وضعہ لانہ تفرد بہ ۔
(ضَعِيف)

وعن علي ان يهوديا يقال له: فلان حبر كان له على رسول الله صلى الله عليه وسلم في دنانير فتقاضى النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: «يا يهودي ما عندي ما اعطيك» . قال: فاني لا افارقك يا محمد حتى تعطيني. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اجلس معك» فجلس معه فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر والعصر والمغرب والعشاء الاخرة والغداة وكان اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يتهددونه ويتوعدونه ففطن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما الذي يصنعون به. فقالوا: يا رسول الله يهودي يحبسك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «منعني ربي ان اظلم معاهدا وغيره» فلما ترجل النهار قال اليهودي: اشهد ان لا اله الا الله واشهد انك رسول الله وشطر مالي في سبيل الله اما والله ما فعلت بك الذي فعلت بك الا لانظر الى نعتك في التوراة: محمد بن عبد الله مولده بمكة ومهاجره بطيبة وملكه بالشام ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب في الاسواق ولا متزي بالفحش ولا قول الخنا اشهد ان لا اله الا الله وانك رسول الله وهذا مالي فاحكم فيه بما اراك الله وكان اليهودي كثير المال. رواه البيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ موضوع ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 280) * فیہ محمد بن محمد بن الاشعث : کذاب ، وضع نسخۃ اھل البیت (انظر لسان المیزان 5 / 409 وغیرہ) و ھذا من وضعہ لانہ تفرد بہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত এ ইয়াহুদী ব্যক্তিটি ছিলেন একজন ইয়াহূদী পণ্ডিত। তিনি যুহর, আসর, মাগরিব, ‘ইশা ও ফজরের সালাত মাসজিদে আদায় করেন। অথবা তার কোন স্ত্রীর ঘরে আদায় করেন। তবে মসজিদে সালাত আদায় করার সম্ভাবনা বেশি।
“আমার রব আমাকে কোন জিম্মি অথবা অন্য কারো প্রতি যুলম করতে নিষেধ করেছেন। এখানে জিম্মির কথা আগে আনার কারণ হলো কথোপকথন হচ্ছে তার সাথে। আর কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বড় ব্যাপার হবে ঝগড়ার ব্যাপারটি। এটা কঠিন হবে। কোন মুসলিম তাকে নেকি দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। অথবা তার পাপ নিয়েও কেউ সন্তুষ্ট হবে না। যেমন কোন চতুষ্পদ জন্তুর যুলুমের ক্ষেত্রে বিচার হবে। আর তার সাথিরাও কেউ এ ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে না। আর না তিনি তাদের কেউ তার পক্ষ থেকে এই ঋণ পরিশোধ করে দিলেও তিনি সন্তুষ্ট হবেন না। কারণ দীন তাকে এ নির্দেশ দেয়নি। কারণ কেউ তার প্রতি এ ইহসান করলে হয়তো তার প্রতিদান কমে যেতে পারে। কারণ মহান আল্লাহ বলেন, “হে নবী! আপনি বলে দিন, দীন প্রচারের জন্য আমি তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না”- (সূরা আল আন'আম ৬: ৯০)। আর এ সুন্নাত নবীদের থেকে চলে আসা সুন্নাত। মহান আল্লাহ বলেন, “আমি তোমাদের নিকট এর কোন বিনিময় চাই না, এর বিনিময় কেবল রাব্বল আলামীনের কাছে"- (সূরা আশ শুআরা- ২৬: ১০৯)।
পরিশেষে ইয়াহুদী আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর আচরণে মুগ্ধ হয়ে মুসলিম হয়ে যান। তিনি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩৩-[৩৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশি বেশি আল্লাহর যিকর করতেন। অর্থহীন কথা খুব কমই বলতেন, সালাতকে দীর্ঘায়িত করতেন, কিন্তু খুত্ববাহ সংক্ষেপে দিতেন। তিনি (সা.) কোন বিধবা নারী বা গরীব-মিসকীনদের সাথে চলতে কোন রকম সংকোচবোধ করতেন না। এমনকি তাদের প্রয়োজন মিটাতেন। (নাসায়ী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ الذِّكْرَ وَيُقِلُّ اللَّغْوَ وَيُطِيلُ الصَّلَاةَ وَيُقْصِرُ الْخُطْبَةَ وَلَا يَأْنَفُ أَنْ يَمْشِيَ مَعَ الْأَرْمَلَةِ والمسكين فَيَقْضِي الْحَاجة. رَوَاهُ النَّسَائِيّ والدارمي

اسنادہ حسن ، رواہ النسائی (3 / 108 ۔ 109 ح 1415) و الدارمی (1 / 35 ح 75) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن ابي اوفى قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكثر الذكر ويقل اللغو ويطيل الصلاة ويقصر الخطبة ولا يانف ان يمشي مع الارملة والمسكين فيقضي الحاجة. رواه النساىي والدارمي اسنادہ حسن ، رواہ النساىی (3 / 108 ۔ 109 ح 1415) و الدارمی (1 / 35 ح 75) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: ‘যিকর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর যিকর বা স্মরণ এবং প্রত্যেক ঐ বস্তু যা মহান আল্লাহর যিকরের সাথে সম্পৃক্ত। আর বাস্তবিক কথা হলো, অধিকাংশ সময় কিংবা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সর্বদা এবং প্রতি মুহূর্তে রাসূল আল্লাহ তা'আলার যিকরে লিপ্ত থাকতেন।
(اللَّغْوَ) অর্থ নিরর্থক কথা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক ঐ কথা যা মহান আল্লাহর যিকরের পরিবর্তে পার্থিব বিষয়াদির সাথে সম্পৃক্ত। প্রকাশ থাকে যে, এমন পার্থিব বিষয়াদির স্মরণ যা কল্যাণ ও তাৎপর্যশূন্য নয় তাও যিকরে হাক্বীক্বী তথা আল্লাহ তা'আলার স্মরণের দিকে লক্ষ্য করে নিরর্থক কথা এর অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (ضيعت قطعة من العمر العزيرفي تأليف البسيط والوسيط والوجيز) অর্থাৎ আমি আমার মূল্যবান জীবনের অংশবিশেষ আমার বাসীত্ব, ওয়াসীত্ব ও ওয়াজীয গ্রন্থাদি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিনষ্ট করেছি।
নিরর্থক কথাবার্তা থেকে সাবধান করে মহান আল্লাহ মু'মিনদেরকে বলেন, “আর যারা নিরর্থক কথাবার্তা থেকে নিজেদেরকে হিফাযাত করে”- (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩ : ০৩)। অন্য একটি আয়াতে এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন- “যখন তারা নিরর্থক কথা শোনে তখন তারা তা থেকে বিমুখ থাকে”- (সূরাহ আল কসাস ২৮ : ৫৫)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩৪-[৩৪] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন আবূ জাহল নবী (সা.) -কে বলল, আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি না (বা বলি না), তবে আমরা তাকেই মিথ্যা মনে করি যা তুমি আমাদের কাছে (আল্লাহর ওয়াহী) নিয়ে এসেছ। তখন আল্লাহ তা’আলা সেই সকল বেঈমানদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ করলেন, (অর্থাৎ) ঐ সকল কাফির-বেঈমানরা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেন না, কিন্তু সে সকল সীমালঙ্ঘনকারী অত্যাচারীর আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।’ (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَلِيٍّ أَنَّ أَبَا جَهْلٍ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: إنَّا لَا نُكذِّبكَ ولكنْ نكذِّبُ بِمَا جئتَ بِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِمْ: [فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ ولكنَّ الظالمينَ بآياتِ اللَّهِ يَجْحَدونَ] رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3064) * ابو اسحاق مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)

وعن علي ان ابا جهل قال للنبي صلى الله عليه وسلم: انا لا نكذبك ولكن نكذب بما جىت به فانزل الله تعالى فيهم: [فانهم لا يكذبونك ولكن الظالمين بايات الله يجحدون] رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3064) * ابو اسحاق مدلس و عنعن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (لَا نُكذِّبكَ) অর্থাৎ আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি না। কারণ তুমি আমাদের মাঝে সত্যবাদী বলে প্রসিদ্ধ।
(ولكنْ نكذِّبُ بِمَا جئتَ بِهِ) অর্থাৎ আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলার কারণ হলো তুমি যে কুরআন, তাওহীদ আমাদের মাঝে নিয়ে এসেছ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, “আর আপনার সম্প্রদায় তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অথচ তা সত্য।" (সূরা আল আ'আম ৬ : ৬৬)।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বর্ণিত আছে যে, আখনাস ইবনু শারীক আবূ জাহল-কে বলল: হে আবূল হাকাম! মুহাম্মাদ সম্পর্কে সংবাদ দিন সে কি সত্যবাদী নাকি মিথ্যবাদী? আমাদের কাছে তো অন্য কেউ নেই। সে তাকে বলল, আল্লাহর কসম, নিশ্চয় মুহাম্মাদ একজন সত্যবাদী, সে কখনও মিথ্যা বলেনি। কিন্তু যখন বানূ কুসায় পতাকা, হাজীদের পানি পান করানো, পর্দা ও নুবুওয়্যাত নিয়ে গেল তখন অন্যান্য কুরায়শদের আর কি বাকী থাকল? তাই তো সে বলল, তুমি যা নিয়ে এসেছ আমরা তাকে মিথ্যা মনে করি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩৫-[৩৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ’আয়িশাহ্! যদি আমি চাইতাম তাহলে স্বর্ণের পাহাড় আমার সাথে সাথে চলত। একদিন আমার কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) আসলেন, তার কোমর ছিল কাবাহ্ ঘরের সমপরিমাণ। তিনি এসে বললেন, আপনার প্রভু আপনাকে সালাম জানিয়ে বলেছেন, আপনি যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে ’নবী এবং বান্দা হওয়া’ গ্রহণ করতে পারেন কিংবা যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে ’নবী এবং বাদশাহ হওয়া’ গ্রহণ করতে পারেন। তিনি (সা.) বলেন, যখন আমি জিবরীল (আঃ)-এর দিকে দৃষ্টি দিলাম, তখন তিনি আমার দিকে ইঙ্গিত করলেন, নিজেকে নিম্নস্তরে রাখ।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا عَائِشَةُ لَوْ شِئْتُ لَسَارَتْ مَعِي جِبَالُ الذَّهَبِ جَاءَنِي مَلَكٌ وَإِنَّ حُجْزَتَهُ لَتُسَاوِي الْكَعْبَةَ فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَيَقُولُ: إِنْ شِئْتَ نَبِيًّا عَبْدًا وَإِنْ شِئْتَ نَبِيًّا مَلِكًا فَنَظَرْتُ إِلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَشَارَ إِلَيَّ أَنْ ضَعْ نَفْسَكَ

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 247 ۔ 248 ح 3683) * فیہ ابو معشر نجیح : ضعیف ، و لحدیثہ شواھد ضعیفۃ ۔
(ضَعِيف)

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عاىشة لو شىت لسارت معي جبال الذهب جاءني ملك وان حجزته لتساوي الكعبة فقال: ان ربك يقرا عليك السلام ويقول: ان شىت نبيا عبدا وان شىت نبيا ملكا فنظرت الى جبريل عليه السلام فاشار الي ان ضع نفسك اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 247 ۔ 248 ح 3683) * فیہ ابو معشر نجیح : ضعیف ، و لحدیثہ شواھد ضعیفۃ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (لَوْ شِئْتُ) অর্থাৎ আমি যদি দুনিয়ার সম্পদ চাইতাম ও তার দিকে ঝুকে পড়তাম।
(إِنْ شِئْتَ نَبِيًّا عَبْدً) অর্থাৎ যদি আপনি দাসের মতো নবী হতে চান। অর্থাৎ আপনার মাঝে নুবুওয়্যাতের গুণাবলি ও দাসত্বের গুণাবলি একত্রিত হবে তাহলে তাই হবে। অথবা আপনি পছন্দ করে নিন।
(وَإِنْ شِئْتَ نَبِيًّا مَلِكًا) অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে ইখতিয়ার দিচ্ছেন আপনি যা চান তাই পছন্দ করতে পারেন। আর এতে ইঙ্গিত আছে যে, বাদশাহী ও পূর্ণ দাসত্ব একত্রিত হতে পারে না।
জিবরীল আমীনের পরামর্শ অনুযায়ী নবী (সা.) দাসত্ব নবী হওয়াকে পছন্দ করলেন। কারণ আল্লাহ মানুষকে তার দাসত্ব করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “আমি মানুষ ও জিনকে আমার ‘ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সূরাহ্ আ যা-রিয়া-ত ৫১ : ৫৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা

৫৮৩৬-[৩৬] অপর এক বর্ণনায় আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উল্লিখিত কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) জিবরীল (আঃ)-এর দিকে তাকালেন, যেন তিনি তাঁর কাছে পরামর্শ চাচ্ছেন। তখন জিবরীল (আঃ) হাতে ইশারা করলেন যে, আপনি বিনয় গ্রহণ করুন। কাজেই উত্তরে বললাম, আমি নবী এবং বান্দা হয়ে থাকতে চাই। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর হতে রাসূলুল্লাহ (সা.)! আর কখনো হেলান দিয়ে খেতেন না; বরং তিনি বলতেন, আমি সেভাবে খানা খাব, যেভাবে একজন দাস খায় এবং সেভাবে বসব যেমনিভাবে একজন দাস বসে। (শারহুস সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي أَخْلَاقِهِ وَشَمَائِلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم)

وَفِي رِوَايَة ابْن عبَّاسٍ: فَالْتَفَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جِبْرِيلَ كَالْمُسْتَشِيرِ لَهُ فَأَشَارَ جِبْرِيلُ بِيَدِهِ أَنْ تَوَاضَعْ. فَقُلْتُ: «نَبِيًّا عَبْدًا» قَالَتْ: فَكَانَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ ذَلِكَ لَا يَأْكُلُ متكأ يَقُولُ: «آكُلُ كَمَا يَأْكُلُ الْعَبْدُ وَأَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ العبدُ» رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 248 ۔ 249 ح 3684) [و ابو الشیخ فی اخلاق النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم (ص 198)] * بقیۃ لم یصرح بالسماع و الزھری مدلس و عنعن و محمد بن علی بن عبداللہ بن عباس : لم یسمع من جدہ ۔
(ضَعِيف)

وفي رواية ابن عباس: فالتفت رسول الله صلى الله عليه وسلم الى جبريل كالمستشير له فاشار جبريل بيده ان تواضع. فقلت: «نبيا عبدا» قالت: فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك لا ياكل متكا يقول: «اكل كما ياكل العبد واجلس كما يجلس العبد» رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 248 ۔ 249 ح 3684) [و ابو الشیخ فی اخلاق النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم (ص 198)] * بقیۃ لم یصرح بالسماع و الزھری مدلس و عنعن و محمد بن علی بن عبداللہ بن عباس : لم یسمع من جدہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) জিবরীল-কে লক্ষ্য করলে তিনি ইশারা করেন অর্থাৎ মাটির দিকে ইশারা করেন। তাতে নবী (সা.) বুঝে নেন যে, তিনি তাকে দাসত্বের প্রতি নির্দেশ করছেন। ফলে নবী (সা.) দারিদ্রতা ও দাসত্বকে বাছাই করেন। যাতে আল্লাহর নিকট তার মর্যাদা বেশি হয়। তিনি বাদশাহিত্ব ও ধন-সম্পদ চাননি কারণ এতে সীমালঙ্ঘন ও ভুলে যাওয়ার মতো অপরাধ ঘটে যেতে পারে। তাছাড়া অহংকার ও কুফরী (নি'আমাতের কুফরী) হয়ে যেতে পারে। তার তিনি এজন্যই দারিদ্রতাকে বেছে নিয়েছেন। আর এ কারণেই অধিকাংশ নবী, ওলী-আওলিয়া, ‘উলামা ও সৎব্যক্তিবর্গ নিজেদের জন্য দারিদ্র্যতাকে পছন্দ করেছিলেন। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাদের সাথে পরকালে একত্রিত করুন।
(তিনি হেলান দিয়ে বসে খেতেন না) অর্থাৎ অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, হেলান দেয়া হলো কোন এক পাশে ভর দিয়ে হেলে বসা। কারণ এতে খেতে অসুবিধা হয়। এতে খাবার পেটে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) এভাবে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেছেন, হেলান দিয়ে বসা হলো আসন পেতে বসা। কারণ এভাবে খেলে বেশি খাওয়া যায়।
(আমি দাসের মতো খাই) অর্থাৎ এতে খাবার বেশি করে চিবাতে সহজ হয়।
(আমি দাসের মতো বসি) অর্থাৎ দুই হাঁটুতে ভর করে সালাতে বসার মতো। আর এটাই উত্তম পদ্ধতি। অথবা খাওয়ার সময় এক হাঁটু উঁচু করে অথবা অন্যভাবে। অথবা দুই হাঁটু উঁচু করে ইহতিবার বসার মতো। সালাত ব্যতীত নবী (সা.) বেশির ভাগ সময়ে এভাবে বসতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৩৭-[১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে চল্লিশ বছর বয়সে নুবুওয়্যাত প্রদান করা হয়েছে। এরপর তিনি (সা.) মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছেন এবং তার কাছে ওয়াহী আসতে থাকে। অতঃপর তাঁকে হিজরতের নির্দেশ দেয়া হয়। (মদীনায় হিজরত করে তিনি (সা.) দশ বছর বেঁচে ছিলেন, অবশেষে তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তিকাল করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَرْبَعِينَ سَنَةً فَمَكَثَ بِمَكَّةَ ثلاثَ عَشْرَةَ سَنَةً يُوحَى إِلَيْهِ ثُمَّ أُمِرَ بِالْهِجْرَةِ فهاجرَ عشر سِنِينَ وَمَاتَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3903 ، 3851) و مسلم (118 ، 117 / 2351)، (6096 و 6097) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن ابن عباس قال: بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم لاربعين سنة فمكث بمكة ثلاث عشرة سنة يوحى اليه ثم امر بالهجرة فهاجر عشر سنين ومات وهو ابن ثلاث وستين سنة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3903 ، 3851) و مسلم (118 ، 117 / 2351)، (6096 و 6097) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (وَمَاتَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً) আর এ মতটিই সহীহ যে, নবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ৬৫ বছর বয়সে মারা যান। যেমন ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় সামনে আসতেছে যাতে তার জন্মের ও মৃত্যুর বছরকেও গণ্য করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (সা.) ৬০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। যা আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে শীঘ্রই আসছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৩৮-[২] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) (নুবুওয়্যাতের পর) মক্কায় পনের বছর অবস্থান করেছেন। সাত বছর অবধি মালাকের (ফেরেশতার) স্বর শুনতেন এবং আলো দেখতে পেতেন। এটা ছাড়া আর কিছুই দেখতেন না। আট বছর তাঁর কাছে ওয়াহী পাঠানো হয়ে থাকে। আর দশ বছর মদীনায় অবস্থানের পর পঁয়ষট্টি বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْهُ قَالَ: أَقَامَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً يَسْمَعُ الصَّوْتَ وَيَرَى الضَّوْءَ سَبْعَ سِنِينَ وَلَا يَرَى شَيْئًا وَثَمَانِ سِنِينَ يُوحَى إِلَيْهِ وَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ عَشْرًا وَتُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (123 ، 122 / 2353)، (6102 و 6104) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: اقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة خمس عشرة سنة يسمع الصوت ويرى الضوء سبع سنين ولا يرى شيىا وثمان سنين يوحى اليه واقام بالمدينة عشرا وتوفي وهو ابن خمس وستين. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (123 ، 122 / 2353)، (6102 و 6104) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (أَقَامَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) যে বছর জন্মেছিলেন ও যে বছর তিনি মারা যান সে উভয় বছরসহ।
(سْمَعُ الصَّوْتَ) তিনি (সা.) জিবরীল (আঃ)-এর আওয়াজ শুনতে পেতেন।
(وَيَرَى الضَّوْءَ) আর তিনি অন্ধকার রাতে বিরাট আলো দেখতে পেতেন। তিনি (সা.) সাত বছর এ রকম আলো দেখতে পান নুবুওয়্যাতের নিদর্শন স্বরূপ। তিনি (সা.) এ সময়ে মালাক (ফেরেশতা) দেখতে পেতেন না। তিনি (সা.) মালাক না দেখে কেবল আলো দেখতেন, এতে করে যেন তার ভয় দূর হয়ে যায়। কারণ ভয় পেয়ে তিনি (সা.) হয়তো বেহুশ হয়ে যেতেন, যা তার জন্য ক্ষতিকর হত। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে রহস্য হলো, মালাক আলো থেকে খালি নয়। কিন্তু তিনি যদি তাকে শুরুতেই দেখতেন তাহলে হয়তো মানুষ হিসেবে সহ্য করতে পারতেন না। এতে তার বেহুশ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হত। এজন্য তাকে প্রথমে আলো তারপর মালাকের আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়াহী নাযিলের পূর্বে প্রথমে আলো দ্বারা তার বক্ষকে খোলা হয়েছে। আর এ বক্ষ খোলাকে আলো হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। তার বয়স চল্লিশে পৌছার আগে তার বক্ষ পূর্ণভাবে খোলেনি। আর এ সময়ে আল্লাহ ও তার বান্দার মাঝে প্রস্তুতিস্বরূপ ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৩৯-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে ষাট বছর বয়সে মৃত্যু দান করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: تَوَفَّاهُ اللَّهُ على رَأس سِتِّينَ سنة. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (5900) و مسلم (113 / 2347)، (6089) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن انس قال: توفاه الله على راس ستين سنة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (5900) و مسلم (113 / 2347)، (6089) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ৬০ বছরের মাথায় মাজাজ অর্থাৎ ৬০ বছরের শেষে। যেমন আল্লাহ বলেন, আয়াতের মাথায় অর্থাৎ আয়াতের শেষে। কোন জিনিসের শেষকে মাথা বলা হয়। তার উদাহরণ হলো অন্য কোন আয়াতে অথবা অন্য কোন চুক্তিতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪০-[৪] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেছেন। (অনুরূপভাবে) উমার (রাঃ) -ও তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। (মুসলিম)
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, অধিকাংশ রিওয়ায়াতে রাসূল (সা.) -এর বয়সকাল ৬৩ বছর রয়েছে।

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْهُ قَالَ: قُبِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَأَبُو بَكْرٍ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَعُمَرُ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ: ثَلَاث وَسِتِّينَ أَكثر

رواہ مسلم (114 / 2348)، (6091) وقال البخاری :’’ وھو ابن ثلاث و ستین و ھذا اصح ‘‘ (التاریخ الکبیر 3 / 255) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قبض النبي صلى الله عليه وسلم وهو ابن ثلاث وستين وابو بكر وهو ابن ثلاث وستين وعمر وهو ابن ثلاث وستين. رواه مسلم قال محمد بن اسماعيل البخاري: ثلاث وستين اكثر رواہ مسلم (114 / 2348)، (6091) وقال البخاری :’’ وھو ابن ثلاث و ستین و ھذا اصح ‘‘ (التاریخ الکبیر 3 / 255) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: নবী (সা.) যে ৬৩ বছর বয়সে ইনতিকাল করেছেন এটাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত। আর এ মতটিই বেশি।
(وَأَبُو بَكْرٍ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ) এতে কোন মতভেদ নেই। আর তাঁর খিলাফাত ছিল ২ বছর ৪ মাস।
(وَعُمَرُ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ) ‘উমার (রাঃ)-এর বয়স নিয়ে মতভেদ আছে। বলা হয়ে থাকে যে, ৪৯ বছর বয়স ছিল উমার (রাঃ) এর। বলা হয়ে থাকে যে, ৫৮ বছর বয়স ছিল। বলা হয়ে থাকে, ৫৬ বছর বয়স হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, ৫১ বছর বয়স ছিল । তবে সঠিক মত অনুসারে তাঁর বয়সও ৬৩ বছর ছিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪১-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি সর্বপ্রথম ওয়াহীর সূচনা হয় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি (সা) যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রভাতের আলোর মতোই ফলত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা পছন্দনীয় হতে লাগল। তাই তিনি (সা.) একাধারে কয়েকদিন পর্যন্ত নিজের পরিবার পরিজনদের কাছ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হেরা পর্বতের গুহায় নির্জন পরিবেশে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতে লাগলেন। আর এ উদ্দেশে তিনি (সা.) কিছু খাবার সাথে নিয়ে যেতেন। তা শেষ হয় গেলে তিনি (সা.) খাদীজাহ (রাঃ) -এর কাছে ফিরে এসে আবার ঐ পরিমাণ কয়েক দিনের জন্য কিছু খাবার সাথে নিয়ে যেতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকাকালে তাঁর কাছে সত্য (ওয়াহী) আসলো।
জিবরীল (আঃ) সেখানে এসে তাঁকে বললেন, ’পড়ুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি তো পড়তে পারি না। তিনি বলেন, মালাক (ফেরেশতা) তখন আমাকে ধরে এমন জোরে চাপ দিলেন যে, তাতে আমি প্রবল কষ্ট অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ’পড়ুন!’ আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারি না। তখন দ্বিতীয়বার তিনি আমাকে ধরে আবারও খুব জোরে চাপলেন। এবারও ভীষণ কষ্ট আমি অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ’পড়ুন৷’ এবারও আমি বললাম, আমি পড়তে পারি না।
তিনি (সা.) বলেন, মালাক (ফেরেশতা) তৃতীয়বার আমাকে ধরে দৃঢ়ভাবে চেপে ধরলেন। এবারও আমি বিশেষভাবে কষ্ট পেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, (অর্থাৎ) “আপনার প্রভুর নামে পড়ুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট রক্ত হতে সৃষ্টি করেছেন। (পড়ুন!) আর আপনার প্রভু সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। তিনিই কলম দ্বারা বিদ্যা শিখিয়েছেন। তিনি মানুষকে তাই শিখিয়েছেন যা সে জানত না - (সূরাহ্ আল ’আলাক ৯৬ : ১-৫)।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত আয়াতগুলো আয়ত্ত করে ফিরে আসলেন। তখন তাঁর অন্তর কাঁপছিল। তিনি (সা.) খাদীজার কাছে এসে বললেন, চাদর দিয়ে আমাকে ঢেকে দাও। চাদর দিয়ে আমাকে ঢেকে দাও। তখন তিনি তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় কেটে গেলে তিনি (সা.) খাদীজার কাছে ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, আমি আমার নিজের জীবন সম্পর্কে আশঙ্কাবোধ করছি। তখন খাদীজাহ্ (সান্ত্বনা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে) বললেন, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি: এরূপ কখনো হতে পারে না। আল্লাহ তা’আলা কখনোই আপনাকে অপমানিত করবেন না। কারণ, আপনি আত্মীয়স্বজনের সাথে ভালো আচরণ করেন, সর্বদা সত্য কথা বলেন, আপনি অক্ষমদের দায়িত্ব বহন করেন। নিঃস্বদেরকে উপার্জন করে সাহায্য করেন, অতিথিদের মেহমানদারি করেন এবং প্রকৃত বিপদগ্রস্তদেরকে সাহায্য করেন। এরপর খাদীজাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে সাথে নিয়ে আপন চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ্ ইবনু নাওফাল-এর কাছে চলে গেলেন। (পূর্ববর্তীতে ওয়ারাকাহ্ ’ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন)
খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে চাচাতো ভাই। তোমার ভাতিজা কি বলে তা একটু শুন! তখন ওয়ারাকাহ্ তাঁকে বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যা দেখেছিলেন তা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন। ঘটনা শুনে ওয়ারাকাহ্ তাকে বললেন, এ তো সেই রহস্যময় মালাক (জিবরীল আলায়হিস সালাম), যাকে আল্লাহ তা’আলা মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। হায়! আমি যদি তোমার নুবুওয়্যাতকালে বলবান যুবক থাকতাম। হায়! আমি যদি সেই সময় জীবিত থাকতাম যখন তোমার সম্প্রদায় তোমাকে মক্কাহ থেকে বের করে দেবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারা কি সত্যই আমাকে বের করে দিবে? ওয়ারাকাহ বললেন, হ্যা, তুমি যা নিয়ে দুনিয়াতে এসেছ, অনুরূপ কোন কিছু নিয়ে যে লোকই এসেছ, তার সাথেই শত্রুতাই করা হয়েছে। আমি তোমার সে যুগ পেলে সর্বশক্তি দিয়ে তোমার সাহায্য করব। এর অব্যাহতির পর ওয়ারাকাহ্ মৃত্যুবরণ করলেন। এদিকে ওয়াহীর আগমনও বন্ধ হয়ে গেল। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إليهِ الخَلاءُ وكانَ يَخْلُو بغارِ حِراءٍ فيتحنَّثُ فِيهِ - وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ - قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدَ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعَ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدَ لِمِثْلِهَا حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ. فَقَالَ: «مَا أَنَا بِقَارِئٍ» . قَالَ: فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ. فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ. فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ. فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجهد ثمَّ أَرْسلنِي فَقَالَ: [اقرَأْ باسمِ ربِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ. الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ. عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لم يعلم] . فَرجع بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْجُفُ فُؤَادُهُ فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ فَقَالَ: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ فَقَالَ لخديجةَ وأخبرَها الخبرَ: «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي» فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ وتقْرِي الضيفَ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ ثُمَّ انْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ إِلَى وَرَقَةَ بْنِ نَوْفَلٍ ابْنِ عَمِّ خَدِيجَةَ. فَقَالَتْ لَهُ: يَا ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ. فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبَرَ مَا رَأَى. فَقَالَ وَرَقَةُ: هَذَا هُوَ النَّامُوسُ الَّذِي أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا يَا لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَ مُخْرِجِيَّ هُمْ؟» قَالَ: نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرُكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا. ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوَفِّيَ وَفَتَرَ الوحيُ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3) و مسلم (253 / 160)، (403) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: اول ما بدى به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرويا الصادقة في النوم فكان لا يرى رويا الا جاءت مثل فلق الصبح ثم حبب اليه الخلاء وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد الليالي ذوات العدد - قبل ان ينزع الى اهله ويتزود لذلك ثم يرجع الى خديجة فيتزود لمثلها حتى جاءه الحق وهو في غار حراء فجاءه الملك فقال: اقرا. فقال: «ما انا بقارى» . قال: فاخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني فقال: اقرا. فقلت: ما انا بقارى فاخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني فقال: اقرا. فقلت: ما انا بقارى. فاخذني فغطني الثالثة حتى بلغ مني الجهد ثم ارسلني فقال: [اقرا باسم ربك الذي خلق. خلق الانسان من علق. اقرا وربك الاكرم. الذي علم بالقلم. علم الانسان ما لم يعلم] . فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فواده فدخل على خديجة فقال: «زملوني زملوني» فزملوه حتى ذهب عنه الروع فقال لخديجة واخبرها الخبر: «لقد خشيت على نفسي» فقالت خديجة: كلا والله لا يخزيك الله ابدا انك لتصل الرحم وتصدق الحديث وتحمل الكل وتكسب المعدوم وتقري الضيف وتعين على نواىب الحق ثم انطلقت به خديجة الى ورقة بن نوفل ابن عم خديجة. فقالت له: يا ابن عم اسمع من ابن اخيك. فقال له ورقة: يا ابن اخي ماذا ترى؟ فاخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما راى. فقال ورقة: هذا هو الناموس الذي انزل الله على موسى يا ليتني فيها جذعا يا ليتني اكون حيا اذ يخرجك قومك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «او مخرجي هم؟» قال: نعم لم يات رجل قط بمثل ما جىت به الا عودي وان يدركني يومك انصرك نصرا موزرا. ثم لم ينشب ورقة ان توفي وفتر الوحي. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3) و مسلم (253 / 160)، (403) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসটি সাহাবীদের মুরসাল হাদীসের একটি। কারণ ‘আয়িশাহ (রাঃ) ঘটনা পাননি। তিনি হয়তো নবী (সা.) থেকে শুনেছেন, অথবা সাহাবী থেকে শুনেছেন। আর সাহাবীদের মুরসাল হাদীস সকল উলামাদের নিকট দলীল। তবে উস্তায আবূ ইসহাক আল ইসফিরায়িনী যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা ব্যতীত।

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে, তিনি নবী (সা.) -এর কাছে শুনেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তবে আমি বলছি, ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা দুর্বল মত। কারণ তিনি হাদীসের শুরুতে বলেননি যে, তিনি তার থেকে শুনেছেন। অতএব তা মুরসাল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
অত্র হাদীসটিতে ওয়াহীর সূচনা কিভাবে হলো তা আলোচনা করা হয়েছে। কিভাবে ওয়াহীর বিস্তার হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা কি তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে হাদীসটিতে। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪২-[৬] আর ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, এতে এটুকু আছে যে, ওয়াহী আসা স্থগিত হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.) খুবই চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন। এমনকি তিনি (সা.) কয়েকবার ভোরে এ উদ্দেশে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছিলেন যে, সেখান হতে নিজেকে নীচে নিক্ষেপ করবেন। যখনই তিনি (সা.) নিজেকে নিক্ষেপ করার উদ্দেশে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেন, তখনই জিবরীল আলায়হিস সালাম এসে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি সত্য সত্যই আল্লাহর রাসূল (ধৈর্যধারণ করুন, অস্থিরতার কিছুই নেই)। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর আশ্বাস বাণীতে তার অস্থিরতা দূর হয়ে অন্তরে প্রশান্তি আসত।

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَزَادَ الْبُخَارِيُّ: حَتَّى حَزِنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فِيمَا بَلَغَنَا - حُزْنًا غَدَا مِنْهُ مرَارًا كي يتردَّى منْ رؤوسِ شَوَاهِقِ الْجَبَلِ فَكُلَّمَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ لِكَيْ يُلْقِيَ نَفْسَهُ مِنْهُ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا. فَيَسْكُنُ لذلكَ جأشُه وتقرُّ نفسُه

رواہ البخاری (6982) ۔
(صَحِيح)

وزاد البخاري: حتى حزن النبي صلى الله عليه وسلم - فيما بلغنا - حزنا غدا منه مرارا كي يتردى من رووس شواهق الجبل فكلما اوفى بذروة جبل لكي يلقي نفسه منه تبدى له جبريل فقال: يا محمد انك رسول الله حقا. فيسكن لذلك جاشه وتقر نفسه رواہ البخاری (6982) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটি থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, নবী (সা.) সত্য নবী ও রাসূল ছিলেন। কারণ জিবরীল আমীন নিজেই এ সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা এ হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৩-[৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ওয়াহী স্থগিত হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছেন, একদিন আমি পথে চলছিলাম, এমন সময় আমি আকাশের দিক হতে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন আমি উপরে তাকিয়ে দেখি, হেরা গুহায় যিনি আমার কাছে এসেছিলেন, সেই মালাক (ফেরেশতা) আকাশ ও জমিনের মধ্যস্থলে একটি কুরসীতে বসে আছেন। তাঁকে দেখে আমি ভয়ে ঘাবড়ে গেলাম। এমনকি আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম, অতঃপর (উঠে) পরিবারের কাছে বাড়িতে ফিরে বললাম, আমাকে চাদর জড়াও! আমাকে চাদর জড়াও! এ সময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, (অর্থাৎ) “হে চাদর আবৃত ব্যক্তি। উঠ, আর সতর্ক কর। আর তোমার প্রভুর মাহাত্ম ঘোষণা কর। তোমার কাপড় পবিত্র কর। এবং অপবিত্রতা ত্যাগ কর।’ এরপর হতে ওয়াহী পুরোদমে একের পর এক অবতীর্ণ হতে লাগল। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِي فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ قَاعِدٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَجُئِثْتُ مِنْهُ رُعْبًا حَتَّى هَوَيْتُ إِلَى الأرضِ فجئتُ أَهلِي فقلتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي فَأنْزل اللَّهُ تَعَالَى: [يَا أيُّها الْمُدَّثِّرُ. قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ. وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ. وَالرجز فاهجر] ثمَّ حمي الْوَحْي وتتابع . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4) و مسلم (255 / 161)، (406) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن جابر انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدث عن فترة الوحي قال: فبينا انا امشي سمعت صوتا من السماء فرفعت بصري فاذا الملك الذي جاءني بحراء قاعد على كرسي بين السماء والارض فجىثت منه رعبا حتى هويت الى الارض فجىت اهلي فقلت: زملوني زملوني فانزل الله تعالى: [يا ايها المدثر. قم فانذر وربك فكبر. وثيابك فطهر. والرجز فاهجر] ثم حمي الوحي وتتابع . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4) و مسلم (255 / 161)، (406) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ) অর্থাৎ হে নুবুওয়্যাতের চাদরে আবৃত ও আর রিসালাতের ভারী দায়িত্ব বহনকারী! (قُمۡ) অর্থাৎ আমাদের আদেশ পালন করুন অথবা আনুগত্যের সাথে দায়িত্বপালনের ওপর অটল থাকুন। অথবা রাতে দাঁড়িয়ে সালাত (তাহাজ্জুদের সালাত) আদায় করুন।
মহান আল্লাহ বলেন, (یٰۤاَیُّهَا الۡمُزَّمِّلُ ۙ﴿۱﴾   قُمِ الَّیۡلَ...) এ কারণে বলা হয়েছে, তিনি নির্দেশিত হয়েছিলেন নুবুওয়্যাত প্রতিষ্ঠিত করতে আর এটা এমন একটা নির্দেশ যা রিসালাতের প্রতিষ্ঠার নির্দেশ। এমনকি মহান আল্লাহ বলেন, (فَأَنْذِرْ) অর্থাৎ অতএব আপনি মানুষদেরকে সতর্ককরুন ‘আযাব হালকা করার ব্যাপারে আর মু'মিনদেরকে সুসংবাদ দিন বিভিন্ন প্রকারের সাওয়াবের। এখানে শুধু সতর্কতার কথা বলার কারণ হলো বেশির ভাগ লোক কাফির হওয়ার কারণে।
(وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ) অর্থাৎ আপনি আপনার রবের বড়ত্ব ও মহত্বের গুণ বর্ণনা করুন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৪-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ), রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে কিভাবে ওয়াহী আসে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওয়াহী কোন সময় আমার কাছে ঘণ্টার আওয়াজের মতো আসে। আর তাই আমার পক্ষে এটা সর্বাপেক্ষা কঠিন প্রকৃতির ওয়াহী। তবে এ অবস্থায় মালাক (ফেরেশতা) যা বলে তা শেষ হতেই আমি তার কাছ হতে তা আয়ত্ত করে ফেলি। আবার কোন সময় মালাক (ফেরেশতা) আমার কাছে মানুষের আকৃতিতে এসে আমার সাথে কথা বলেন, তিনি যা বলেন আমি তা সাথে সাথেই আয়ত্ত করে ফেলি। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, মূলত আমি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তার ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি যখন তার অবসান হত তখন তাঁর কপাল হতে ঘাম ঝরে পড়ত। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ فَيَفْصِمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ» . قَالَتْ عَائِشَةُ: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2) و مسلم (87 ، 86 / 2333)، (6058 و 6059) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة ان الحارث بن هشام سال رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله كيف ياتيك الوحي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «احيانا ياتيني مثل صلصلة الجرس وهو اشده علي فيفصم عني وقد وعيت عنه ما قال واحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فاعي ما يقول» . قالت عاىشة: ولقد رايته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وان جبينه ليتفصد عرقا. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2) و مسلم (87 ، 86 / 2333)، (6058 و 6059) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক সুহায়লী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) -এর ওপর ওয়াহী বিভিন্নভাবে নাযিল হত- ১. স্বপ্নযোগে ২. অন্তরের মধ্যে ফুঁকের দ্বারা ৩. ঘণ্টার আওয়াজের মতো। আর এটাই ছিল নবী (সা.) - এর জন্য খুবই কষ্টদায়ক। ৪. মালাক (ফেরেশতা) মানুষের আকৃতিতে এসে ওয়াহী দিয়ে যেতেন। ৫. জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর ছয়শত পালকবিশিষ্ট আসল আকৃতিতে আগমন করতেন। ৬. আল্লাহ তা'আলা পর্দার আড়ালে থেকে কথাবার্তার মাধ্যমে ওয়াহী প্রদান করতেন ইত্যাদি। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৫-[৯] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (সা.) -এর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হত, তখন তিনি কষ্ট অনুভব করতেন বলে মনে হত এবং তার চেহারার রঙ পরিবর্তন হয়ে যেত।
অপর এক বর্ণনায় আছে, ওয়াহী নাযিল হওয়ার সময় তিনি মাথা ঝুকিয়ে ফেলতেন এবং তার সাথে উপস্থিত সাহাবীগণও (আদবের খাতিরে) আপন আপন মাথা নত করে নিতেন। ওয়াহী আসা শেষ হলে তিনি (সা.) স্বীয় মাথা উঠাতেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذا نزل عَلَيْهِ الْوَحْيُ كُرِبَ لِذَلِكَ وَتَرَبَّدَ وَجْهُهُ. وَفِي رِوَايَة: نكَّسَ رأسَه ونكَّسَ أصحابُه رؤوسَهم فَلَمَّا أُتْلِيَ عَنْهُ رَفَعَ رَأْسَهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (88 / 2334 ، 89 / 2335)، (6060 و 6061) ۔
(صَحِيح)

وعن عبادة بن الصامت قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا نزل عليه الوحي كرب لذلك وتربد وجهه. وفي رواية: نكس راسه ونكس اصحابه رووسهم فلما اتلي عنه رفع راسه. رواه مسلم رواہ مسلم (88 / 2334 ، 89 / 2335)، (6060 و 6061) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) ওয়াহীর বিষয়ের প্রতি খুবই গুরুত্বারোপ করতেন। আর লোকেদের নিকট তার যথাযথ হক আদায় করতেন তা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে। তিনি (সা.) এ নি'আমাতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করতেন। আর এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা, অপমান ও শাস্তির ভয় করতেন। অতএব তিনি (সা.) মনে মনে চিন্তা করতেন যা দেখে বুঝা যেত তার ওপর ওয়াহী নাযিল হয়েছে। এখান থেকে এটাও বুঝা যায় যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো ওয়াহীর কষ্ট ও কঠিনতা। কারণ চিন্তার মূলই হলো কষ্ট। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৬-[১০] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (ভীতি প্রদর্শন সম্পর্কীয় আয়াত) “তুমি তোমার নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও”- (সূরাহ আশ শুআরা ২৬: ২১৪); অবতীর্ণ হলো, তখন নবী (সা.) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে- হে বানী ফিহর! হে বানী ’আদী! বলে কুরায়শদের গোত্রসমূহকে আহ্বান করেন। পরিশেষে সেখানে সকলে একত্রিত হলো। এমনকি যারা স্বয়ং উপস্থিত হতে পারেনি, তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে জানতে চাইল যে, ব্যাপার কি? বিশেষত আবূ লাহাব এবং কুরায়শের সর্বসাধারণ লোকেরাও আসলো।
তখন তিনি (সা.) বললেন, বল তো! আমি যদি তোমাদেরকে বলি যে, (শত্রুপক্ষের) একদল অশ্বারোহী এ পাহাড়ের অপর প্রান্ত হতে। অপর এক বর্ণনা মতে, একদল অশ্বারোহী উপত্যকার এক প্রান্ত হতে বের হয়ে হঠাৎ তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে চায়, তোমরা কি আমার এ কথাটি বিশ্বাস করবে? তারা সকলে বলে উঠল; হ্যাঁ, নিশ্চয়। কেননা তোমাকে আমরা বিগত দিনে সত্যবাদীই পেয়েছি। তখন তিনি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের সম্মুখে আগত এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছি। এতদশ্রবণে আবূ লাহাব বলে উঠল, তোমার ধ্বংস হোক! এজন্যই কি তুমি আমাদেরকে একত্রিত করেছ? বর্ণনাকারী বলেন, তখনই আয়াত অবতীর্ণ হলো “আবূ লাহাব-এর উভয় হাত ধ্বংস হয়েছে"- (সূরাহ্ আল লাহাব ১১১ : ১)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ [وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين] خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا فَجَعَلَ يُنَادِي: «يَا بَنِي فِهْرٍ يَا بني عدي» لبطون قُرَيْش حَتَّى اجْتَمعُوا فَجَعَلَ الرَّجُلُ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَخْرُجَ أَرْسَلَ رَسُولًا لِيَنْظُرَ مَا هُوَ فَجَاءَ أَبُو لَهَبٍ وَقُرَيْشٌ فَقَالَ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خيَلاً تخرجُ منْ سَفْحِ هَذَا الْجَبَلِ - وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّ خَيْلًا تَخْرُجُ بِالْوَادِي تُرِيدُ أَنْ تُغِيرَ عَلَيْكُمْ - أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ؟ قَالُوا: نَعَمْ مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ إِلَّا صِدْقًا. قَالَ: «فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٌ شديدٍ» . قَالَ أَبُو لهبٍ: تبّاً لكَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟ فَنَزَلَتْ: [تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ] مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4971) و الروایۃ الاولی (4770) و مسلم (355 / 208)، (508) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عباس قال: لما نزلت [وانذر عشيرتك الاقربين] خرج النبي صلى الله عليه وسلم حتى صعد الصفا فجعل ينادي: «يا بني فهر يا بني عدي» لبطون قريش حتى اجتمعوا فجعل الرجل اذا لم يستطع ان يخرج ارسل رسولا لينظر ما هو فجاء ابو لهب وقريش فقال: ارايتم ان اخبرتكم ان خيلا تخرج من سفح هذا الجبل - وفي رواية: ان خيلا تخرج بالوادي تريد ان تغير عليكم - اكنتم مصدقي؟ قالوا: نعم ما جربنا عليك الا صدقا. قال: «فاني نذير لكم بين يدي عذاب شديد» . قال ابو لهب: تبا لك الهذا جمعتنا؟ فنزلت: [تبت يدا ابي لهب وتب] متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4971) و الروایۃ الاولی (4770) و مسلم (355 / 208)، (508) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: নবী (সা.) পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে কুরায়শ জাতিকে লক্ষ্য করে তাদের আহ্বান করলে তারা তার ডাকে সাড়া দেয়। যারা সাড়া দিতে পারেনি তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে দেয়। তারা সমবেত হলে নবী (সা.) তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ ও আখিরাতের দাওয়াত দেন। যাতে তারা সরল-সঠিক পথে চলতে পারে এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হয়। আবূ লাহাব এ দাওয়াতের সম্মুখ বিরোধিতা করলে ও নবী (সা.) - কে অপমান করলে আল্লাহ নবী (সা.) -এর পক্ষ থেকে জবাব দিয়ে সূরাহ্ লাহাব নাযিল করেন। (সম্পাদকীয়)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৭-[১১] আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) কা’বার কাছে সালাত আদায় করছিলেন। এ সময় কুরায়শদের একদল লোক সেখানে বসা ছিল। তখন তাদের মধ্য হতে একজন বলল, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে অমুক গোত্রের উটের নাড়িভুড়ি এনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে, অতঃপর এ লোক [রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলল] যখন সিজদায় যাবে তখন তা তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দেবে। অতঃপর তাদের মধ্য হতে সর্বাপেক্ষা বড় পাপিষ্ঠটি উঠে গেল। যখন নবী (সা.) সিজদায় গেলেন তখন সে তা তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিল। এমতাবস্থায় নবী (সা.) সিজদারত রইলেন। সেই পাপিষ্ঠরা খুব হাসাহাসি করতে লাগল, এমনকি হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের উপর ঢলে পড়ল। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি [ইবনু মাসউদ (রাঃ)] ফাতিমাহ’র নিকট গিয়ে বললেন, তিনি দৌড়িয়ে আসলেন। অথচ নবী (সা.) তখনো পূর্ববৎ সিজদায় রয়েছিলেন। ফাতিমাহ (রাঃ) নাড়িভুঁড়িটি নবী (সা.) -এর ওপর হতে সরিয়ে ফেললেন এবং ঐ সকল পাপিষ্ঠ কাফিরদের লক্ষ্য করে গালমন্দ করলেন। বর্ণনাকারী ইবনু মাউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত শেষ করে তিনবার বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি কুরায়শদেরকে ধরাশয়ী কর। আর রাসূল (সা.) -এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন বিষয়ে দু’আ বা বদদু’আ করতেন কিংবা আল্লাহর কাছে চাইতেন, তখন তিন তিনবার বাক্যগুলো উচ্চারণ করতেন। অতঃপর তিনি (সা.) (কাফিরদের নাম ধরে) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি ১. ’আমর ইবনু হিশাম (আবূ জাহল), ২. ’উতবাহ্ ইবনু রবী’আহ্, ৩, শায়বাহ্ ইবনু রবী’আহ, ৪. ওয়ালীদ ইবনু ’উতবাহ, ৫. উমাইয়্যাহ ইবনু খালফ, ৬. ’উকবাহ্ ইবনু আবূ মু’আয়ত্ব এবং ৭. ’উমারাহ্ ইবনুল ওয়ালীদেরকে পাকড়াও কর।
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (সা.) যে সকল লোকের নাম নিয়ে বদদু’আ করেছিলেন, আমি বদরের যুদ্ধে তাদের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে বদরের একটি অনাবাদ কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ঐ কূপে যাদেরকে নিক্ষেপ করা হলো, তাদের ওপর লা’নাতের পর লা’নাত রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ وَجُمِعَ قُرَيْشٌ فِي مَجَالِسِهِمْ إِذْ قَالَ قَائِلٌ: أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى جَزُورِ آلِ فُلَانٍ فَيَعْمِدُ إِلَى فَرْثِهَا وَدَمِهَا وَسَلَاهَا ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى إِذَا سَجَدَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ وَثَبَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدًا فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى وَثَبَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدًا حَتَّى أَلْقَتْهُ عَنْهُ وَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ قَالَ: «اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ» ثَلَاثًا - وَكَانَ إِذَا دَعَا دَعَا ثَلَاثًا وَإِذَا سَأَلَ سَأَلَ ثَلَاثًا -: «اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِعَمْرِو بْنِ هِشَام وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ وَعُمَارَةَ بن الْوَلِيد» . قَالَ عبد الله: فو الله لَقَدْ رَأَيْتُهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ ثُمَّ سُحِبُوا إِلَى الْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَأُتْبِعَ أَصْحَابُ القليب لعنة» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (520) و مسلم (107 / 1794)، (4649) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عبد الله بن مسعود قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي عند الكعبة وجمع قريش في مجالسهم اذ قال قاىل: ايكم يقوم الى جزور ال فلان فيعمد الى فرثها ودمها وسلاها ثم يمهله حتى اذا سجد وضعه بين كتفيه وثبت النبي صلى الله عليه وسلم ساجدا فضحكوا حتى مال بعضهم على بعض من الضحك فانطلق منطلق الى فاطمة فاقبلت تسعى وثبت النبي صلى الله عليه وسلم ساجدا حتى القته عنه واقبلت عليهم تسبهم فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة قال: «اللهم عليك بقريش» ثلاثا - وكان اذا دعا دعا ثلاثا واذا سال سال ثلاثا -: «اللهم عليك بعمرو بن هشام وشيبة بن ربيعة والوليد بن عتبة وامية بن خلف وعقبة بن ابي معيط وعمارة بن الوليد» . قال عبد الله: فو الله لقد رايتهم صرعى يوم بدر ثم سحبوا الى القليب قليب بدر ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «واتبع اصحاب القليب لعنة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (520) و مسلم (107 / 1794)، (4649) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: হাদীসে ঐ ব্যক্তির নাম ছিল আবূ জাহল যে নবী (সা.) -এর ওপর উটের নাড়ি-ভুড়ি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। আর তাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক বলতে বুঝানো হয়েছে আবূ জাহল অথবা ‘উবাহ্ ইবনু আবূ মু'আয়ত্ব-কে।
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে হলো ‘উকবাহ্ ইবনু আবূ মু'আয়ত্ব যেটা অন্য বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায়। তারপর যখন নবী (সা.) সালাতে সিজদায় রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন তখন সে এসে নবী (সা.) - এর মাথায় উটের ভূড়িটি চাপিয়ে দিয়ে আনন্দোল্লাস করছিল। তারপর ফাতিমাহ্ (রাঃ) ছুটে চলে আসেন, কারণ তখন তার বয়স কম ছিল। যখন নবী (সা.) -এর বয়স ৪১ বছর তখন ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) জন্মলাভ করেন। তারপর নবী (সা.) -এর ওপর থেকে সে ভুঁড়িটা সরিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে তাদেরকে বকতে ও অভিশাপ দিতে লাগলেন। আর তারা চুপ করে তা শুনতে লাগল, কারণ তখনও ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) ছোট ছিলেন। আর তারা হয়তো তার প্রতিবাদ করেনি, কারণ তারা নিজেদের দু' গোত্রের মাঝে লড়াইয়ের ভয় করছিল। তারপর নবী (সা.) সালাত শেষ করে তাদেরকে বদ দু'আ দিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

এখানে একটি প্রশ্ন আছে, তা হলো- নবী (সা.) এ অপবিত্র জিনিস নিয়ে কেন সালাত আদায় করলেন? এর জবাবে কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা অপবিত্র ছিল না। কারণ গোবর ও পেটের তাজা জিনিস এ দুটিই পবিত্র, অপবিত্র হলো রক্ত। এটা হলো মালিকী ও তাদের মতো যারা মত পোষণ করেন তাদের মাযহাব যে, যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় তাদের গোবর পবিত্র। তবে এটা হানাফী মাযহাবে অপবিত্র। হানাফীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, নবী (সা.) ও তার পিঠে কি আছে তা তিনি জানতে পেরেছিলেন। কারণ অপবিত্র অবস্থায় সালাত হয় না। আর এটা যদি অপবিত্র হত তবে নবী (সা.) -কে জানিয়ে দিতেন। আর এর সঠিক জবাব হলো।
শারহুস্ সুন্নাহ্ কিতাবে এসেছে- বলা হয়ে থাকে যে, এ ঘটনাটি ছিল গোবর, রক্ত ও মুশরিকদের যাবাহ করা কোন জিনিস হারাম হওয়ার পূর্বে। আর তখন হারাম হত না এসব জিনিসে। আর সালাতও বাতিল হত না যেমন- মদ। তারা মদ পান করে তা কাপড়ে লাগলে তারা সে অবস্থায় সালাত আদায় করত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৮-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! উহুদের দিন অপেক্ষা অধিক কষ্টের কোন দিন আপনার জীবনে এসেছিল কি? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, তোমার সম্প্রদায় হতে যে আচরণ পেয়েছি তা এটা হতেও অধিক কষ্টদায়ক ছিল। তাদের কাছ হতে সর্বাধিক বেদনাদায়ক যা আমি পেয়েছি তা হলো ’আকাবার দিনের আঘাত’ যেদিন আমি (তায়িফের বানী সাকীফ নেতা) ইবনু আবদ ইয়ালীল ইবনু কুলাল-এর কাছে (ইসলামের দাওয়াত নিয়ে) স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলাম। আমি যা নিয়ে তার সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম সে তাতে কোন সাড়া দেয়নি। তখন আমি অতি ভারাক্রান্ত অবস্থায় (নিরুদ্দেশ) সম্মুখপানে চলতে লাগলাম, “কারনুস সা’আলিব” নামক স্থানে পৌঁছার পর আমি কিছুটা স্বস্তি হলাম। তখন আমি উপরের দিকে মাথা তুলে দেখতে পেলাম, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া করে রেখেছে। পুনরায় লক্ষ্য করলে তাতে জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে দেখলাম। তখন তিনি আমাকে আহ্বান করে বললেন, আপনি আপনার গোত্রের কাছে যে কথা বলেছেন এবং তার উত্তরে তারা আপনাকে যা বলেছে, এসব কথা আল্লাহ তা’আলা শুনেছে। এখন তিনি পাহাড় পর্বত তদারককারী মালাক (ফেরেশতা)-কে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। অতএব ঐ সমস্ত লোকেদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছা তাকে নির্দেশ দিতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, অতঃপর ’মালাকুল জিবাল’ আমার নাম নিয়ে আমাকে সালাম করে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা’আলা আপনার কওমের উক্তিসমূহ শুনেছেন। আমি (পাহাড়-পর্বত নিয়ন্ত্রণকারী ফেরেশতা) আপনার প্রভু আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। অতএব আপনার যা ইচ্ছা আমাকে নির্দেশ করতে পারেন, আপনি ইচ্ছা করলে এ পাহাড় দুটি তাদের ওপর চাপিয়ে দেব। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, বরং আশা করি আল্লাহ তা’আলা তাদের ঔরসে এমন বংশধরের জন্ম দেবেন যারা এক আল্লাহর ’ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَن عَائِشَة أَنَّهَا قَالَت: هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ؟ فَقَالَ: لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ فَكَانَ أَشَدَّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ إِذْ عرضتُ نَفسِي على ابْن عبد يَا لِيل بْنِ كُلَالٍ فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ فَانْطَلَقْتُ - وَأَنا مهموم - على وَجْهي فَلم أفق إِلَّا فِي قرن الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ . قَالَ: فَنَادَانِي مَلَكُ الْجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ وَأَنَا مَلَكُ الْجِبَالِ وَقَدْ بَعَثَنِي رَبُّكَ إِلَيْكَ لِتَأْمُرَنِي بِأَمْرك إِن شِئْت أطبق عَلَيْهِم الأخشبين فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلَابِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ وَحْدَهُ وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئا» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3231) و مسلم (111 / 1795)، (4653) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة انها قالت: هل اتى عليك يوم كان اشد من يوم احد؟ فقال: لقد لقيت من قومك فكان اشد ما لقيت منهم يوم العقبة اذ عرضت نفسي على ابن عبد يا ليل بن كلال فلم يجبني الى ما اردت فانطلقت - وانا مهموم - على وجهي فلم افق الا في قرن الثعالب فرفعت راسي فاذا انا بسحابة قد اظلتني فنظرت فاذا فيها جبريل فناداني فقال: ان الله قد سمع قول قومك وما ردوا عليك وقد بعث اليك ملك الجبال لتامره بما شىت فيهم . قال: فناداني ملك الجبال فسلم علي ثم قال: يا محمد ان الله قد سمع قول قومك وانا ملك الجبال وقد بعثني ربك اليك لتامرني بامرك ان شىت اطبق عليهم الاخشبين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بل ارجو ان يخرج الله من اصلابهم من يعبد الله وحده ولا يشرك به شيىا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3231) و مسلم (111 / 1795)، (4653) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: হাদীসে ‘আকাবার দিন বলতে বুঝানো হয়েছে- মিনায় অবস্থিত ‘আকাবাহ্ নামক জায়গাকে। নবী (সা.) উৎসবের সময় ‘আকাবায় অবস্থান করে আরবদের বিভিন্ন গোত্রদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দিকে আহ্বান করতে থাকেন।
(তিনি ইবনু আবদুল ইয়ালীল-কে দাওয়াত দিয়েছিলেন) ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার নামই তার উপনাম। আর আল মাগাযী গ্রন্থে এসেছে, নবী (সা.) স্বয়ং ‘আবদ ইয়ালীল-কেই দাওয়াত দিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে, ‘আবদ ইয়ালীল ইবনু আমর ইবনু ‘আমর। বলা হয়ে থাকে, ইবনু 'আবদ ইয়ালীল এর নাম মাসউদ। ইবনু আবদ ইয়ালীল ছিলেন তায়িফের সাকীফ গোত্রের একজন বড় নেতা। আরো বলা হয়ে থাকে যে, তিনি নুবুওয়্যাতের দশম বছরে ত্বায়িফের প্রতিনিধি দলের সাথে ইসলাম কবুল করেন। ইবনু আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) তাকে সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন। তবে ওয়াক্বীদি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে বুঝা যায়, তিনি ইসলাম কবুল করেননি। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
আমি যখন তাদেরকে দাওয়াত দিলাম তখন তারা আমার দাওয়াতে সাড়া না দিলে আমি খুব মনে কষ্ট পেলাম। আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ আমি পেরেশান হয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করলাম। আর এ চিন্তা ছিল খুব কঠিন চিন্তা। আর আমার পেরেশানী দূর হলো “কারনুস সা'আলিব” নামক পাহাড় যা মক্কাহ্ ও ত্বায়িফের মাঝে অবস্থিত এখানে এসে। আমি আকাশের দিকে তাকালাম দু'আ করার উদ্দেশ্যে। তখন দেখলাম পাহাড়ের মালাক আমার কাছে আসছেন। তিনি এসে আমাকে সালাম করলেন। এ সালাম ছিল নবী (সা.) -এর সম্মানার্থে। নবী (সা.) ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ের মালাককে তাদের ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করেননি। তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৪৯-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ-এর সামনের পাশের একটি দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল এবং তার মাথায় জখম হয়েছিল। এ সময় তিনি (সা.) স্বীয় রক্ত মুছতে মুছতে বললেন, সে জাতি কিভাবে সফলকাম হবে, যারা তাদের নবীর মাথায় জখম করল এবং তাঁর একটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলল। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَشُجَّ رَأْسِهِ فَجَعَلَ يَسْلُتُ الدَّمَ عَنْهُ وَيَقُولُ: «كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ شَجُّوا رَأْسَ نَبِيِّهِمْ وَكَسَرُوا رَبَاعِيَتَهُ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (104 / 1791)، (4645) ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كسرت رباعيته يوم احد وشج راسه فجعل يسلت الدم عنه ويقول: «كيف يفلح قوم شجوا راس نبيهم وكسروا رباعيته» . رواه مسلم رواہ مسلم (104 / 1791)، (4645) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (رَبَاعِيَتَهُ) আরবীতে উপরের পাটির দুটি এবং নীচের পাটির দুটি- এমন চার দাঁতকে বুঝানো হয় যা সানাইয়া ও আইয়াব দাঁতের মাঝে অবস্থিত। অতএব নবী (সা.) -এর নীচের পাটির উক্ত দুই দাঁতের মধ্য হতে ডান দিকের একটি দাঁত ভেঙ্গে ছিল।
(كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ شَجُّوا رَأْسَ نَبِيِّهِمْ وَكَسَرُوا رَبَاعِيَتَهُ) অর্থাৎ যুহরী থেকে বর্ণিত আছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন নবী (সা.)-এর চেহারায় তরবারি দিয়ে সত্তরটি আঘাত করা হয়েছিল। আল্লাহ তাকে প্রত্যেক ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছিলেন। বুখারীর ব্যাখ্যায় ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, সম্ভবত তার চেহারা সত্তর জন শহীদের সাথে শরীক। তবে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন, কারণ মহান আল্লাহর বাণী- (وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ) “আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন”- (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ : ৬৭)। আর তার যে দাঁত ভাঙল ও মাথা আহত হলো এটাতে সাওয়াব অর্জিত হলো। আর এখান থেকে বুঝা গেল মানুষ যে দুর্বল, অক্ষম ও আল্লাহর বান্দা। সে কারণে মহান ক্ষমতাধর আল্লাহর ইবাদত করা চায়।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৫০-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ভাঙ্গা দাঁতের উদ্দেশে ইশারা করে বললেন, আল্লাহ তা’আলা সে সম্প্রদায়ের ওপর ভীষণ রাগান্বিত হন, যারা আল্লাহর নবীর সাথে এ দুর্ব্যবহার করেছে। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, সে লোকও আল্লাহর ভীষণ রোষাণলে নিপতিত হয়েছে, যাকে আল্লাহর রাসূল আল্লাহর পথে (জিহাদের ময়দানে) হত্যা করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي )

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ فَعَلُوا بِنَبِيِّهِ» يُشِيرُ إِلَى رَبَاعِيَتِهِ «اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى رَجُلٍ يَقْتُلُهُ رَسُولُ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ: الْفَصْلِ الثَّانِي

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4073) و مسلم (106 / 1793)، (4648) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اشتد غضب الله على قوم فعلوا بنبيه» يشير الى رباعيته «اشتد غضب الله على رجل يقتله رسول الله في سبيل الله» . متفق عليه وهذا الباب خال عن: الفصل الثاني متفق علیہ ، رواہ البخاری (4073) و مسلم (106 / 1793)، (4648) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি হতে গেল বুঝা গেল যে, যে ব্যক্তি নবী (সা.)-কে আঘাত করেছিল সে ছিল সবচেয়ে বড় হতভাগা। কারণ সে সারা পৃথিবীর জন্য রহমতের নবীকে আঘাত করেছে। আর নবী (সা.) যাকে যুদ্ধের ময়দানে আঘাত করে নিহত করেছে, সে ব্যক্তিও বড় হতভাগ্য। নবী (সা.) আঘাত করেছিলেন উবাই ইবনু খালফ-কে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, শারী'আতের বিধান মতে শাস্তি বা কিসাস হিসেবে যাদেরকে নবী (সা.)-এর হাতে হত্যা করা হয় তারা এখানে উদ্দেশ্য নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নুবুওয়্যাতপ্রাপ্তি ও ওয়াহীর সূচনা

৫৮৫১-[১৫] ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রাঃ)-কে কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হওয়া আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, (یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ) “হে,বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)!”- (সূরাহ আল মুদ্দাসসির ৭৪: ১)। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে- (اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ..) “পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে..."- (সূরাহ আল ’আলাক ৯৬: ১)। আবূ সালামাহ্ বললেন, এ বিষয়ে আমি জাবির (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম এবং তুমি আমাকে যা বললে, আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। উত্তরে জাবির (রাঃ) আমাকে বললেন, তিনি (সা.) আমাদের কাছে যা বলেছেন, আমিও তোমাকে হুবহু তাই বলব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি হেরা গুহায় (দিবা-রাত্র) একাধারে একমাস অতিবাহিত করেছি। সেখানে অবস্থানকাল শেষ করে আমি সমতল ভূমিতে অবতরণ করলাম। এ সময় আমাকে কেউ ডাক দিল। আমি ডানে তাকালাম, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না, আবার বামদিকে দৃষ্টি দিলাম তখনো কিছু দেখলাম না, আবার পিছনে তাকালাম তখনো কিছু দেখলাম না, আবার পিছনে দৃষ্টি দিলাম এবারও কিছুই দেখলাম না। এরপর আমি মাথা তুলে উপরের দিকে দৃষ্টি দিলাম। এবার বিশাল কিছু (জিবরীল আলায়হিস সালাম -কে তাঁর আসল আকৃতিতে) দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি খাদীজার কাছে এসে বললাম, আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত কর’ তারা আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত করল এবং আমার দেহে ঠাণ্ডা পানি ঢালল, তখন অবতীর্ণ হলো (অর্থাৎ) হে কম্বল আচ্ছাদিত লোক! উঠ! সকলকে সতর্ক সাবধান কর। তোমার প্রভুর মাহাত্ম ঘোষণা কর। তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ এবং অপবিত্রতা (মূর্তিপূজা) হতে পৃথক থাক।’ এটা সালাত ফরয হওয়ার আগের ঘটনা। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب المبعث وبدء الْوَحْي)

عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَوَّلِ مَا نزل من الْقُرْآن؟ قَالَ: [يَا أَيهَا المدثر] قلت: يَقُولُونَ: [اقْرَأ باسم ربِّك] قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ ذَلِكَ. وَقُلْتُ لَهُ مِثْلَ الَّذِي قُلْتَ لِي. فَقَالَ لِي جَابِرٌ: لَا أُحَدِّثُكَ إِلَّا بِمَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي هَبَطْتُ فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ عَنْ يَمِينِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا وَنَظَرْتُ عَنْ شِمَالِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا وَنَظَرْتُ عَنْ خَلْفِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ فَقُلْتُ: دَثِّرُونِي فَدَثَّرُونِي وصبُّوا عليَّ مَاء بَارِدًا فَنزلت: [يَا أَيهَا الْمُدَّثِّرُ. قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ. وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ. وَالرجز فاهجر] وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ تُفْرَضَ الصَّلَاةُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4922) و مسلم (255 / 161)، (406) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

عن يحيى بن ابي كثير قال: سالت ابا سلمة بن عبد الرحمن عن اول ما نزل من القران؟ قال: [يا ايها المدثر] قلت: يقولون: [اقرا باسم ربك] قال ابو سلمة: سالت جابرا عن ذلك. وقلت له مثل الذي قلت لي. فقال لي جابر: لا احدثك الا بما حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: جاورت بحراء شهرا فلما قضيت جواري هبطت فنوديت فنظرت عن يميني فلم ار شيىا ونظرت عن شمالي فلم ار شيىا ونظرت عن خلفي فلم ار شيىا فرفعت راسي فرايت شيىا فاتيت خديجة فقلت: دثروني فدثروني وصبوا علي ماء باردا فنزلت: [يا ايها المدثر. قم فانذر وربك فكبر. وثيابك فطهر. والرجز فاهجر] وذلك قبل ان تفرض الصلاة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4922) و مسلم (255 / 161)، (406) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ) এ সূরাটি নাযিল হয়েছে ওয়াহী বিরতির পরে। অর্থাৎ এটা নাযিলের মাধ্যমে ওয়াহীর বিরতিকাল শেষ হয়। এটা সতর্ক করার জন্য নির্দিষ্ট হিসেবে প্রথম আয়াত। আর এটা রিসালাতের প্রথম ওয়াহী। অর্থাৎ এ আয়াতটি নাযিল করে নবী (সা.) -কে রিসালাতের ঘোষণা দেয়া হয়। আর এর আগে যে আয়াত নাযিল করা হয়েছিল তা ছিল নবী হওয়ার ঘোষণা। আল্লাহ ভালো জানেন।
(جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا) অর্থাৎ এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এ একমাস ছিল ওয়াহী বন্ধ চলাকালীন সময়ে।
(هَبَطْتُ) অর্থাৎ আমি অবতরণ করলাম। আর এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে, এ অবস্থা ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ে। কারণ প্রথম পর্যায়ে হিরা গুহায় নাযিল হয়েছিল ইকরা বা তুমি পড়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে গত হয়েছে।
এরপর নবী (সা.) বাড়ী ফিরে এসে খাদীজাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও। পরে আল্লাহ নাযিল করেন।
یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ﴿۱﴾   قُمۡ فَاَنۡذِرۡ﴿۲﴾  وَ رَبَّکَ فَکَبِّرۡ﴿ۙ۳﴾   وَ ثِیَابَکَ فَطَهِّرۡ﴿ۙ۴﴾  وَ الرُّجۡزَ فَاهۡجُرۡ﴿ۙ۵﴾ “ওহে বস্ত্ৰ আবৃত (ব্যক্তি)! ওঠ, সতর্ক কর। আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। (যাবতীয়) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক।” (সূরা আল মুদ্দাসসির ৭৪: ১-৫) উল্লেখিত এই পাঁচটি আয়াত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫২-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। (বাল্যকালে দুধ-মা হালীমার কাছে থাকাকালীন) একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) সমবয়সী বালকদের সাথে খেলাধুলা করছিলেন। এমন সময় জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁকে ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেললেন। অতঃপর তার বক্ষ বিদীর্ণ করে কলিজা হতে একখণ্ড বের করে বললেন, তোমার দেহের ভিতরে এটা শয়তানের অংশ। তারপর তাকে একটি স্বর্ণ-পাত্রে রেখে জমজমের পানি দ্বারা ধৌত করলেন। অতঃপর উক্ত পিণ্ডটিকে যথাস্থানে রেখে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। এ ঘটনা দেখে খেলার সঙ্গী বালকেরা দৌড়ে এসে তার দুধ-মায়ের কাছে এসে বললেন, মুহাম্মাদ-কে হত্যা করা হয়েছে। এ সংবাদ শুনে তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে সুস্থ পেল, তবে তার চেহারার বর্ণ খুবই বিষন্ন। বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, আমি প্রায়শ রাসূল (সা.) -এর বুকের সেলাইটি দেখতে পেতাম। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً. فَقَالَ: هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ لَأَمَهُ وَأَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ يَعْنِي ظِئْرَهُ. فَقَالُوا: إِنْ مُحَمَّدًا قَدْ قُتِلَ فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُنْتَقَعُ اللَّوْنِ قَالَ أَنَسٌ: فَكُنْتُ أَرَى أَثَرَ الْمِخْيَطِ فِي صَدْرِهِ. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (261 / 162)، (413) ۔
(صَحِيح)

عن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتاه جبريل وهو يلعب مع الغلمان فاخذه فصرعه فشق عن قلبه فاستخرج منه علقة. فقال: هذا حظ الشيطان منك ثم غسله في طست من ذهب بماء زمزم ثم لامه واعاده في مكانه وجاء الغلمان يسعون الى امه يعني ظىره. فقالوا: ان محمدا قد قتل فاستقبلوه وهو منتقع اللون قال انس: فكنت ارى اثر المخيط في صدره. رواه مسلم رواہ مسلم (261 / 162)، (413) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مِنْهُ عَلَقَةً) অর্থাৎ মোটা রক্তকে। আর তা হলো অন্তরে পাপাচার ও নষ্টের মূল।
(مِنْ ذَهَبٍ) ইসলামী শারী'আতে স্বর্ণ ব্যবহার করাকে হারাম করা হয়েছে দুনিয়ায় পুরুষের জন্য। নবী (সা.) -এর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছিল কয়েকবার।
১. শিশুকালে হালিমার কাছে থাকাকালীন সময়ে। তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর।
২. হিরা গুহায় তার জন্য জিবরীলের মুনাজাতের সময়।
৩. তারপর মি'রাজের রাতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৩-[২] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি মক্কার ঐ পাথরকে এখনো চিনি, যে আমার নুবুওয়্যাত লাভের পূর্বে আমাকে সালাম করত। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُبعث إِني لأعرفه الْآن» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (2 / 2277)، (5939) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اني لاعرف حجرا بمكة كان يسلم علي قبل ان ابعث اني لاعرفه الان» . رواه مسلم رواہ مسلم (2 / 2277)، (5939) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: বলা হয়ে থাকে হাজারে আসওয়াদ পাথরটি নবী (সা.) -এর সাথে কথা বলত। এটারও সম্ভাবনা আছে যে, তার সাথে কথা বলত হাজারে যুকাক যার অবস্থান ছিল মাসজিদ ও খাদীজাহ্ (রাঃ) -এর বাড়ির মাঝে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৪-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মক্কার লোকেরা একটি নিদর্শন (মু’জিযাহ্) দেখতে পান, যখন তিনি (সা.) চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন। এমনকি তারা উভয় খণ্ডের মাঝখানে হেরা পর্বত দেখতে পেল। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَن أنسٍ قَالَ: إِنَّ أَهْلَ مَكَّةَ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً فَأَرَاهُمُ الْقَمَرَ شِقَّتَيْنِ حَتَّى رَأَوْا حِرَاءً بَيْنَهُمَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3868) و مسلم (46 / 2802)، (7076) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن انس قال: ان اهل مكة سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يريهم اية فاراهم القمر شقتين حتى راوا حراء بينهما. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3868) و مسلم (46 / 2802)، (7076) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: মক্কার কাফির কুরায়শগণ নবী (সা.) -কে তাঁর নুবুওয়্যাত ও রিসালাতের নিদর্শনস্বরূপ চাদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে বললে নবী (সা.) তা তাদেরকে তা দ্বিখণ্ডিত করে দেখান।
(حَتَّى رَأَوْا حِرَاءً بَيْنَهُمَا) অর্থাৎ একখণ্ড মেঘ পাহাড়ের উপরে এবং অন্য খণ্ড মেঘ পাহাড়ের নিচে ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৫-[৪] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যামানায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়। তার একখণ্ড পাহাড়ের উপরের দিকে এবং অপর খণ্ড পাহাড়ের নিম্নদিকে ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِرْقَتَيْنِ: فِرْقَةً فَوْقَ الْجَبَلِ وَفِرْقَةً دُونَهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اشْهَدُوا» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4864) و مسلم (45 ۔ 43 / 2800)، (7071 و 7073) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن مسعود قال: انشق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فرقتين: فرقة فوق الجبل وفرقة دونه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اشهدوا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4864) و مسلم (45 ۔ 43 / 2800)، (7071 و 7073) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (اشْهَدُوا) অর্থাৎ তোমরা আমার নুবুওয়্যাতের অথবা মু'জিযার সাক্ষ্য থাকবে। যুজাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, একদল লোক এ ঘটনাকে তাওয়ীল বা ভুল ব্যাখ্যা করেন। আর তা হলো চাঁদ কিয়ামতের দিন খণ্ডিত হবে। আর এ কথাটি স্পষ্ট মহান আল্লাহ বলেন,
(وَ اِنۡ یَّرَوۡا اٰیَۃً یُّعۡرِضُوۡا وَ یَقُوۡلُوۡا سِحۡرٌ مُّسۡتَمِرٌّ) “আর তারা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, চলমান যাদু।” (সূরা আল কমার ৫৪ : ০২)।
তাহলে এটা কিয়ামতের দিন কিভাবে হবে? আয়াতে চলমান যাদু বলতে বুঝা যাচ্ছে তারা ইতোপূর্বে আরো অনেক নিদর্শন ও মু'জিযাহ্ দেখেছিল। ইমাম ফাখরুদ্দীন রাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বিরোধিতাকারা অনেকেই বলে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া কাজটি একটি প্রকাশ্য কাজ। এটি ঘটলে তো অনেক মানুষ দেখত। আর এটি মুতাওয়াতির পর্যায়ের হত।
এর জবাবে বলা হয়: এ ঘটনা তো মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌছে গেছে। আর যারা বিরোধী তারা হয়তো মূর্খতা প্রকাশ করে অথবা চন্দ্রগ্রহণের মতো ধারণা করে। আর প্রথম যুগের মানুষেরা এর সাক্ষ্য ছিলেন। আর এতে কোন সন্দেহ নেই তার কারণ হলো নবী (সা.) এটা সংবাদ দিয়েছেন। আর শারহে মুসলিমের মধ্যে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ চাদের খণ্ডন হয়েছিল রাতের বেলায় আর বেশিরভাগ মানুষ তখন ঘুমন্ত ছিল। আর দরজা ছিল বন্ধ। আর তারা কাপড় মুড়ি দিয়েছিল। আর অল্প সংখ্যক যারা আসমানের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা এটা লক্ষ্য করেছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৬-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ জাহল (মক্কার কাফির কুরায়শদেরকে) বলল, তোমাদের সামনে মুহাম্মাদ কি তার চেহারা মাটিতে লাগায়? (অর্থাৎ সে সালাত আদায় করে?) বলা হলো, হ্যাঁ।
তখন আবূ জাহল বলল, লাত ও ’উযযার শপথ! আমি যদি তাকে এরূপ করতে দেখি, তাহলে আমি (পা দিয়ে) তার ঘাড় মাড়িয়ে দেব। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসলো, তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবূ জাহল নবী (সা.)- এর দিকে অগ্রগামী হচ্ছিল, তৎক্ষণাৎ দেখা গেল, সে তড়িৎবেগে পিছনের দিকে হটছে এবং উভয় হাত দ্বারা নিজেকে আত্মরক্ষা করে চলছে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি দেখছি আমার ও মুহাম্মাদ-এর মধ্যস্থলে আগুনের পরিখা ও ভয়ঙ্কর দৃশ্য এবং ডানাবিশিষ্ট দল। উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যদি সে (আবূ জাহল) আমার কাছাকাছি হত, তাহলে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার এক এক অঙ্গ ছিড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলত। (মুসলিম)।

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ أَبُو جَهْلٍ: هَلْ يُعَفِّرُ مُحَمَّدٌ وَجْهَهُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ؟ فَقِيلَ: نَعَمْ. فَقَالَ: وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى لَئِنْ رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ لَأَطَأَنَّ عَلَى رَقَبَتِهِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي - زَعَمَ لِيَطَأَ عَلَى رَقَبَتِهِ - فَمَا فَجِئَهُمْ مِنْهُ إِلَّا وَهُوَ يَنْكُصُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَيَتَّقِي بِيَدَيْهِ فَقِيلَ لَهُ مَالك؟ فَقَالَ: إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ لَخَنْدَقًا مِنْ نَارٍ وَهَوْلًا وَأَجْنِحَةً. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ دَنَا مِنِّي لَاخْتَطَفَتْهُ الْمَلَائِكَةُ عُضْواً عُضْواً» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (38 / 2797)، (7065) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال ابو جهل: هل يعفر محمد وجهه بين اظهركم؟ فقيل: نعم. فقال: واللات والعزى لىن رايته يفعل ذلك لاطان على رقبته فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلي - زعم ليطا على رقبته - فما فجىهم منه الا وهو ينكص على عقبيه ويتقي بيديه فقيل له مالك؟ فقال: ان بيني وبينه لخندقا من نار وهولا واجنحة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو دنا مني لاختطفته الملاىكة عضوا عضوا» . رواه مسلم رواہ مسلم (38 / 2797)، (7065) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فىالتراب) অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.) কি মাটিতে সালাত আদায় করে ও সিজদাহ্ দেয়? ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথা দ্বারা সে মাটিতে সিজদাহ্ করার কথা বুঝিয়েছে। আর আমি যদি তাকে মাটিতে সিজদাহ্ করা অবস্থায় পাই তবে তার মাথা মাটিতে পিষে দিব। এ কথা দিয়ে সে বুঝাতে চেয়েছিল, যাতে নবী (সা.) অপমানিত, লজ্জিত ও হেয় প্রতিপন্ন হয়। আর সে তার ক্ষমতা অন্যায়ভাবে প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৭-[৬] ’আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি নবী (সা.) -এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তার কাছে এক লোক এসে দরিদ্রতার অভিযোগ করল। এরপর আরেক লোক এসে পথে ডাকাতির অভিযোগ করল। তখন তিনি (সা) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ’আদী! তুমি কি হীরাহ্ দেখেছ? কূফার একটি প্রসিদ্ধ শহর (বর্তমানে ’ইরাকের একটি প্রদেশ) যদি তুমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাক তাহলে অবশ্যই দেখতে পাবে যে, একটি মহিলা হীরাহ থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় গমন করবে এবং নিরাপদে কা’বা ঘর ত্বওয়াফ করবে, অথচ এক আল্লাহ তা’আলা ছাড়া তার অন্তরে আর কারো ভয় থাকবে না।
আর যদি তুমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাক তাহলে দেখতে পাবে, অচিরেই পারস্যের ধনভাণ্ডার বিজিত হবে (অর্থাৎ তা গনীমত হিসেবে মুসলিমদের হাতে আসবে)। আর যদি তুমি দীর্ঘজীবী হও, তাহলে এমনও দেখবে যে, এক ব্যক্তি দান-খয়রাত করার উদ্দেশে মুষ্টি ভরে সোনা অথবা রূপা নিয়ে বের হয়েছে এবং তা গ্রহণ করার জন্য লোক সন্ধান করছ। কিন্তু তার নিকট হতে তা গ্রহণ করার মতো কোন একজন লোকও সে খুঁজে পাবে না। আর নিশ্চয় তোমাদের কেউ একদিন আল্লাহর মাঝে এমন কোন একজন লোকও সে খুঁজে পাবে না। আর নিশ্চয় তোমাদের কেউ একদিন আল্লাহর সম্মুখে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার মাঝে ও আল্লাহর মাঝে এমন কোন লোক থাকবে না, যে তার অবস্থা আল্লাহর সামনে পেশ করবে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশ্ন করবেন, আমি কি তোমার কাছে কোন রাসূল (সা.)ই পাঠাইনি, যিনি দীন শারী’আতের কথা তোমার কাছে পৌছাবে?
সে বলবে, হ্যাঁ, নিশ্চয় পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা আবার প্রশ্ন করবেন, আমি কি তোমাকে ধন-সম্পদ দান করিনি এবং আমি তোমার ওপর দয়া করিনি। সে বলবে, হ্যাঁ, করেছেন। অতঃপর সে স্বীয় ডানদিকে তাকাবে, কিন্তু জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। আবার স্বীয় বামদিকে তাকাবে, কিন্তু সেখানেও জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। তোমরা খেজুরের এক টুকরা দান করে হলেও নিজেকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও। যদি কেউ এতটুকুও না পায়, তবে অন্তত মিষ্টি কথা দ্বারা আত্মরক্ষা কর। বর্ণনাকারী [আদী (রাঃ)] বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাণী মোতাবেক একজন মহিলাকে হীরাহ্ হতে একাকিনী ভ্রমণ করে কা’বা ঘর তাওয়াফ করতে আমি নিজে দেখেছি। অথচ সে আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কাউকে ভয় করেনি। আর কিসরা ইবনু হরমুযের (অর্থাৎ পারস্যের) ধনভাণ্ডার যারা উন্মুক্ত করেছেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী ’আদী (রাঃ) তার পরবর্তী লোকেদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, যদি তোমরা দীর্ঘায়ু হও তাহলে নবী আবূল কাসিম -এর এ ভবিষ্যদ্বাণী কোন লোক মুষ্টি ভরে.... ও দেখতে পাবে। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ: بَيْنَا أَنَا عِنْد النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاهُ رَجُلٌ فَشَكَا إِلَيْهِ الْفَاقَةَ ثُمَّ أَتَاهُ الْآخَرُ فَشَكَا إِلَيْهِ قَطْعَ السَّبِيلِ. فَقَالَ: يَا عدي هَل رَأَيْتَ الْحِيرَةَ؟ فَإِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ فَلَتَرَيَنَّ الظَّعِينَةَ تَرْتَحِلُ مِنَ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ بِالْكَعْبَةِ لَا تَخَافُ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ وَلَئِنْ طَالَتْ بك حَيَاةٌ لَتُفْتَحَنَّ كُنُوزُ كِسْرَى وَلَئِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ لَتَرَيَنَّ الرَّجُلَ يَخْرُجُ مِلْءَ كَفِّهِ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ يَطْلُبُ مَنْ يَقْبَلُهُ فَلَا يجد أحدا يقبله مِنْهُ وَلَيَلْقَيَنَّ اللَّهَ أَحَدُكُمْ يَوْمَ يَلْقَاهُ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانٌ يُتَرْجِمُ لَهُ فَلَيَقُولَنَّ: أَلَمْ أَبْعَثْ إِليك رَسُولا فليبلغك؟ فَيَقُولُ: بَلَى. فَيَقُولُ: أَلَمْ أُعْطِكَ مَالًا وَأُفْضِلْ عَلَيْكَ؟ فَيَقُولُ: بَلَى فَيَنْظُرُ عَنْ يَمِينِهِ فَلَا يَرَى إِلَّا جَهَنَّمَ وَيَنْظُرُ عَنْ يَسَارِهِ فَلَا يَرَى إِلَّا جَهَنَّمَ اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ قَالَ عَدِيٌّ: فَرَأَيْتُ الظَّعِينَةَ تَرْتَحِلُ مِنَ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوفَ بِالْكَعْبَةِ لَا تَخَافُ إِلَّا اللَّهَ وَكُنْتُ فِيمَنِ افْتَتَحَ كُنُوزَ كِسْرَى بْنِ هُرْمُزَ وَلَئِنْ طَالَتْ بِكُمْ حَيَاةٌ لَتَرَوُنَّ مَا قَالَ النَّبِيُّ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ ملْء كفيه» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3595) ۔
(صَحِيح)

وعن عدي بن حاتم قال: بينا انا عند النبي صلى الله عليه وسلم اذا اتاه رجل فشكا اليه الفاقة ثم اتاه الاخر فشكا اليه قطع السبيل. فقال: يا عدي هل رايت الحيرة؟ فان طالت بك حياة فلترين الظعينة ترتحل من الحيرة حتى تطوف بالكعبة لا تخاف احدا الا الله ولىن طالت بك حياة لتفتحن كنوز كسرى ولىن طالت بك حياة لترين الرجل يخرج ملء كفه من ذهب او فضة يطلب من يقبله فلا يجد احدا يقبله منه وليلقين الله احدكم يوم يلقاه وليس بينه وبينه ترجمان يترجم له فليقولن: الم ابعث اليك رسولا فليبلغك؟ فيقول: بلى. فيقول: الم اعطك مالا وافضل عليك؟ فيقول: بلى فينظر عن يمينه فلا يرى الا جهنم وينظر عن يساره فلا يرى الا جهنم اتقوا النار ولو بشق تمرة فمن لم يجد فبكلمة طيبة قال عدي: فرايت الظعينة ترتحل من الحيرة حتى تطوف بالكعبة لا تخاف الا الله وكنت فيمن افتتح كنوز كسرى بن هرمز ولىن طالت بكم حياة لترون ما قال النبي ابو القاسم صلى الله عليه وسلم: «يخرج ملء كفيه» . رواه البخاري رواہ البخاری (3595) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসে যে লোক দারিদ্রতার ও ভয়ের অভিযোগ করেছিল তা ছিল কঠিন সময়ের। আর এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, (اِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرًا) “নিশ্চয় কঠিনের পর সহজ রয়েছে”- (সূরাহ আশ শারহ ৯৪: ৬)। আর কোন দেশ বিজয়ের আগে সাহাবীদের এরূপ অবস্থা ছিল।
এখানে প্রশ্নকারীর উত্তর দেয়া হয়েছে আর ‘আদী (রাঃ)-ও অন্যান্য সাহাবীদেরকে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে, তারা অচিরেই সহজতা ও নিরাপত্তা লাভ করবে।
এরপর উল্লেখ করলেন দুনিয়াবী এ সকল আরাম-আয়েশ পরকালে কঠিন ও অপমানের কারণ হবে। তবে যাকে আল্লাহ তা থেকে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন আর সে তা কল্যাণের কাজে ব্যায় করে তার ব্যাপারটি ভিন্ন। যেমনটি হাদীসে এসেছে- সেদিন তোমাদের কেমন হবে যখন তোমরা সকালে পরিধান করবে এক সেট নতুন কাপড় আর সন্ধ্যায় পরিধান করবে আর এক সেট নতুন কাপড়। আর তার সামনে রাখা প্লেট। তিনি বললেন, তোমরা সেদিনের চেয়ে আজকে ভালো আছ। সেদিন মানুষের মাঝে পরিবর্তন দেখা দিবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৮-[৭] খব্বাব ইবনুল আরত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি (সা.) একখানা চাদর মাথার নিচে রেখে কা’বা ঘরের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। যেহেতু মুশরিকদের পক্ষ হতে আমাদের ওপর কঠোর নির্যাতন চলছিল, তাই আমরা বললাম, আপনি আল্লাহর কাছে কেন দু’আ করেন না? এ কথা শুনে তিনি (সা.) সোজা হয়ে বসলেন। এ সময় তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের আগের যুগে যারা ঈমানদার ছিল, এক আল্লাহর ইবাদত করত, তাদের কারো জন্য মাটিতে গর্ত খোড়া হয়েছে। অতঃপর তাকে সে গর্তে রেখে তার মাথার উপর করাত চালিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে। তবুও ঐ নির্যাতন তাকে তার দীন ও ঈমান হতে ফিরাতে পারেনি। আবার কারো শরীরের হাড় হতে যাবতীয় মাংস ও শিরা লোহার চিরুনি দ্বারা আঁচড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও সেই নির্যাতন তাকে তার দীন হতে ফিরাতে পারেনি। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় এ দীন ইসালামকে আল্লাহ তা’আলা পরিপূর্ণ করবেন। এমনকি তখন একজন উষ্ট্রারোহী সান’আ হতে হাযরামাওত পর্যন্ত (এতটা নির্ভয়ে অতিক্রম করবে যে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও ভয় করবে না। অথবা নবী (সা.) বলেছেন: সে স্বীয় মেষপাল সম্পর্কে নেকড়ে বাঘ ছাড়া অপর কিছুরই ভয় করবে না। কিন্তু আমি দেখছি, তোমরা অনেক বেশি তাড়াহুড়া করছ। (বুখারী)।

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَن خبَّاب بن الأرتِّ قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَقد لَقينَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ شِدَّةً فَقُلْنَا: أَلَا تَدْعُو اللَّهَ فَقَعَدَ وَهُوَ مُحْمَرٌّ وَجْهُهُ وَقَالَ: «كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيهِ فَيُجَاءُ بِمِنْشَارٍ فَيُوضَعُ فَوْقَ رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَيْنِ فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَاللَّهِ لَيَتِمَّنَّ هَذَا الْأَمْرُ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لَا يَخَافُ إِلَّا الله أَو الذِّئْب على غنمه ولكنَّكم تَسْتَعْجِلُون» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6943) ۔
(صَحِيح)

وعن خباب بن الارت قال: شكونا الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو متوسد بردة في ظل الكعبة وقد لقينا من المشركين شدة فقلنا: الا تدعو الله فقعد وهو محمر وجهه وقال: «كان الرجل فيمن كان قبلكم يحفر له في الارض فيجعل فيه فيجاء بمنشار فيوضع فوق راسه فيشق باثنين فما يصده ذلك عن دينه والله ليتمن هذا الامر حتى يسير الراكب من صنعاء الى حضرموت لا يخاف الا الله او الذىب على غنمه ولكنكم تستعجلون» . رواه البخاري رواہ البخاری (6943) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: খাব্বাব ইবনুল আরত তাঁর উপনাম আবূ আবদুল্লাহ আত্ তামীমী। তিনি জাহিলী যুগে যুদ্ধবন্দি হন। ফলে খুযাআহ্ গোত্রের এক মহিলা তাকে কিনে নেন এবং তাকে আযাদ বা স্বাধীন করে দেন। নবী (সা.) দারুল আরকামে প্রবেশের আগে তিনি ইসালাম গ্রহণ করেন। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ইসালাম গ্রহণের কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। আর তিনি তার ওপর ধৈর্যধারণ করেছিলেন। তিনি কূফা নগরীতে চলে যান এবং সেখানে মারা যান। তার থেকে এক জামা'আত লোক হাদীস বর্ণনা করেন। একদিন নবী (সা.) কা'বার চত্বরে কোন জিনিস মাথার নিচে দিয়ে বালিশ বানিয়ে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়েছিলেন। তখন সাহাবীগণ তার কাছে এসে তাদের ওপর চলা মক্কার মুশরিকদের সীমালঙ্ঘন ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাল। তখন নবী (সা.) তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য পূর্ববর্তী লোকেদের ওপর আসা নানা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন। এমন তারা তাদের নবীদের সাথেও যে খারাপ আচরণ করত তাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তারা শাস্তি দিয়ে বহু মানুষকে ও নবীদেরকে হত্যা করেছিল সে ঘটনা তিনি মানুষকে শোনান। শেষে তিনি তাদেরকে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য ধৈর্যধারণের উপদেশ দেন। আর কাফিরদের ভয়ঙ্কর পরিণতির কথাও তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দেন। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৫৯-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রায়শ উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ)-এর বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। [তিনি রাসূল (সা.)-এর দুধ-খালা হিসেবে মাহরাম ছিলেন] উম্মু হারাম (রাঃ) প্রসিদ্ধ সাহাবী ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। একদিন নবী (সা.) তার বাড়িতে গেলে উম্মু হারাম (রাঃ) তাঁকে খানা খাওয়ালেন। অতঃপর উম্মু হারাম (রাঃ), রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথার উকুন দেখতে বসলেন। এরই মাঝে রাসূলুল্লাহ (সা.) - ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে?
তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র স্বপ্নে আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোককে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার সামনে উপস্থিত করা হয়। তারা বাদশাহী জাকজমকে অথবা বলেছেন বাদশাহের মতো জাঁকজমকে সমুদ্রের বুকে সফর করছে। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, আল্লাহ তা’আলা আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি (সা.) তার জন্য দু’আ করলেন। এরপর তিনি (সা.) মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন এবং কিছুক্ষণ পরে পুনরায় হাসিমুখে জেগে উঠলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি কি কারণে হাসছেন?
উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, এইমাত্র স্বপ্নে আমার উম্মতের কতিপয় লোককে আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থায় আমার সম্মুখে উপস্থিত করা হয়... ঠিক তেমনই বলেছেন যেমনটি তিনি প্রথমবার বলেছিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, তুমি তাদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর উম্মু হারাম মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর শাসনকালে জিহাদের উদ্দেশে সমুদ্রে ভ্রমণে যাত্রা করেন এবং সমুদ্র হতে অবতরণের পর বাহনের পৃষ্ঠ হতে পড়ে ইন্তিকাল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ وَكَانَتْ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمًا فَأَطْعَمَتْهُ ثُمَّ جَلَسَتْ تَفْلِي رَأسه فَنَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ قَالَتْ: فَقُلْتُ: مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ مُلُوكًا عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَدَعَا لَهَا ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُضْحِكُكَ؟ قَالَ: «نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . كَمَا قَالَ فِي الأولى. فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ: «أَنْتِ مِنَ الْأَوَّلِينَ» . فَرَكِبَتْ أُمُّ حَرَامٍ الْبَحْرَ فِي زَمَنِ مُعَاوِيَةَ فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا حِينَ خَرَجَتْ مِنَ الْبَحْرِ فَهَلَكَتْ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6282) و مسلم (160 / 1912)، (4934) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل على ام حرام بنت ملحان وكانت تحت عبادة بن الصامت فدخل عليها يوما فاطعمته ثم جلست تفلي راسه فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم استيقظ وهو يضحك قالت: فقلت: ما يضحكك يا رسول الله؟ قال: «ناس من امتي عرضوا علي غزاة في سبيل الله يركبون ثبج هذا البحر ملوكا على الاسرة او مثل الملوك على الاسرة» . فقلت: يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم فدعا لها ثم وضع راسه فنام ثم استيقظ وهو يضحك فقلت: يا رسول الله ما يضحكك؟ قال: «ناس من امتي عرضوا علي غزاة في سبيل الله» . كما قال في الاولى. فقلت: يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم. قال: «انت من الاولين» . فركبت ام حرام البحر في زمن معاوية فصرعت عن دابتها حين خرجت من البحر فهلكت. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6282) و مسلم (160 / 1912)، (4934) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ) হলেন আনাস (রাঃ)-এর সম্পর্কের খালা। তিনি এবং তার মা উম্মু সুলায়ম (রাঃ) ছিলেন নবী (সা.) -এর দুধ খালা বা সম্পর্কের খালা। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি নবী (সা.) -এর মাহরাম ছিলেন- এ ব্যাপারে সকল ‘আলিম একমত। তবে তারা কিভাবে মাহরাম এটা নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনু ‘আবদুল বার এবং অন্যরা বলেন, তিনি নবী (সা.) -এর দুধ সম্পর্কের একজন খালা হতেন। অন্যরা বলেন, বরং তিনি তার পিতার দিক থেকে খালা ছিলেন অথবা তার দাদা আবদুল মুত্ত্বালিব-এর দিক থেকে। আর তার মা ছিলেন বানূ নাযযার গোত্রের মানুষ।
উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাঃ)-এর স্বামীর নাম ছিল 'উবাদাহ্ ইবনুস সামিত। তিনি তার স্বামীর সাথে ইসালাম কবুল করেন, বায়আত করেন এবং গাজী হিসেবে রোমে মৃত্যুবরণ করেন। তার কবর কুবরুসে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তার বোনের ছেলে বা ভাগিনা ও তার স্বামী ‘উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ)। ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, আমি তার উপনাম ছাড়া তার কোন আসল নাম পায়নি। আর তিনি উসমান (রাঃ) -এর খিলাফাতকালীন সময়ে মারা যান। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৬০-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আযদ শানুয়াহ্’ গোত্রের ’যিমাদ’ নামে এক লোক একদিন মক্কায় আগমন করল। যিমাদ মন্ত্র দ্বারা জিন-ভূতের ঝাড়-ফুঁক করত। সে মক্কার অজ্ঞ নির্বোধ লোকেদের কাছে শুনতে পেল যে, মুহাম্মাদ পাগল হয়ে গেছে। এটা শুনে সে বলল, যদি আমি ঐ লোককে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.) -কে] দেখতাম তাহলে চিকিৎসা করতাম। হয়তো আমার চিকিৎসায় আল্লাহ তা’আলা তাকে আমার হাতে সুস্থ করে দিতে পারেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ’যিমাদ’ রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি জিন-ভূতের চিকিৎসা করব। তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠ করলেন, (অর্থাৎ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তারই প্রশংসা করি এবং তাঁর সাহায্য কামনা করি। তিনি যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউই পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউই সোজা পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য কেউ নেই এবং তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল (সা.)।
অতঃপর যিমাদ বলল, আপনি উক্ত বাক্যগুলো আমাকে আবার শুনান। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বাক্যগুলো তিনবার পাঠ করলেন। এতদশ্রবণে যিমাদ বলল, আমি গণকের কথাও শুনেছি, জাদুকরের কথাও শুনেছি এবং কবিদের কথাও শুনেছি। কিন্তু আপনার এ বাক্যগুলোর মতো এমন বাক্য আমি আর কখনো শুনিনি। মূলত আপনার প্রতিটি বাক্য অথৈ সাগরের তলদেশ পর্যন্ত পৌছে গেছে। অতএব আপনি আপনার হাতখানা প্রশস্ত করুন। আমি আপনার হাতে ইসালামের বায়আত করব। বর্ণনাকারী বলেন, তখনই সে রাসূল (সা.) -এর হাতে বায়’আত করল। (মুসলিম)

(গ্রন্থকার বলেন) মাসাবীহের কোন কোন নুসখায় (بَلَغْنَ قَامُوسَ الْبَحْرِ) “তারা পৌছল গভীর সমুদ্রে” এর স্থলে (بَلَغْنَا نَاعُوسَ الْبَحْر) রয়েছে।
আলোচ্য বিষয়ে আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) -এর বর্ণিত হাদীস (يهْلك كسْرَى) “কিসরা ধ্বংস হবে এবং জাবির (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীস (ليفتحنَّ عِصَابَةٌ) “অবশ্যই একদল বিজয় লাভ করবে” “মালাহিম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

الفصل الاول ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

وَعَن ابْن عبَّاس قَالَ: إِنَّ ضِمَادًا قَدِمَ مَكَّةَ وَكَانَ مِنْ أَزْدِ شَنُوءَةَ وَكَانَ يَرْقِي مِنْ هَذَا الرِّيحِ فَسَمِعَ سُفَهَاءَ أَهْلِ مَكَّةَ يَقُولُونَ: إِنَّ مُحَمَّدًا مَجْنُونٌ. فَقَالَ: لَوْ أَنِّي رَأَيْتُ هَذَا الرَّجُلَ لَعَلَّ اللَّهَ يَشْفِيهِ عَلَى يَدَيَّ. قَالَ: فَلَقِيَهُ. فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنِّي أَرْقِي مِنْ هَذَا الرِّيحِ فَهَلْ لَكَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَمَّا بَعْدُ» فَقَالَ: أَعِدْ عَلَيَّ كَلِمَاتِكَ هَؤُلَاءِ فَأَعَادَهُنَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثٌ مَرَّاتٍ فَقَالَ: لَقَدْ سَمِعْتُ قَوْلَ الْكَهَنَةِ وَقَوْلَ السَّحَرَةِ وَقَوْلَ الشُّعَرَاءِ فَمَا سَمِعْتُ مِثْلَ كَلِمَاتِكَ هَؤُلَاءِ. وَلَقَدْ بَلَغْنَ قَامُوسَ الْبَحْرِ هَاتِ يَدَكَ أُبَايِعْكَ عَلَى الْإِسْلَامِ قَالَ: فَبَايَعَهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي بَعْضِ نُسَخِ «الْمَصَابِيحِ» : بَلَغْنَا نَاعُوسَ الْبَحْر وَذَكَرَ حَدِيثَا أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ «يهْلك كسْرَى» وَالْآخر «ليفتحنَّ عِصَابَةٌ» فِي بَابِ «الْمَلَاحِمِ» وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَن: الْفَصْل الثَّانِي

رواہ مسلم (46 / 868)، (2008) 0 حدیث ابی ھریرۃ تقدم (5418) و حدیث جابر بن سمرۃ تقدم 5417) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عباس قال: ان ضمادا قدم مكة وكان من ازد شنوءة وكان يرقي من هذا الريح فسمع سفهاء اهل مكة يقولون: ان محمدا مجنون. فقال: لو اني رايت هذا الرجل لعل الله يشفيه على يدي. قال: فلقيه. فقال: يا محمد اني ارقي من هذا الريح فهل لك؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الحمد لله نحمده ونستعينه من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له واشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله اما بعد» فقال: اعد علي كلماتك هولاء فاعادهن عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات فقال: لقد سمعت قول الكهنة وقول السحرة وقول الشعراء فما سمعت مثل كلماتك هولاء. ولقد بلغن قاموس البحر هات يدك ابايعك على الاسلام قال: فبايعه. رواه مسلم وفي بعض نسخ «المصابيح» : بلغنا ناعوس البحر وذكر حديثا ابي هريرة وجابر بن سمرة «يهلك كسرى» والاخر «ليفتحن عصابة» في باب «الملاحم» وهذا الباب خال عن: الفصل الثاني رواہ مسلم (46 / 868)، (2008) 0 حدیث ابی ھریرۃ تقدم (5418) و حدیث جابر بن سمرۃ تقدم 5417) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مِنْ هَذَا الرِّيحِ) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এটা এক ধরনের সমস্যা ছিল। তিনি এটাকে এক ধরনের পাগলামী বলে উল্লেখ করেছেন। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা যে রোগটাকে ‘রীহ' বলে নামকরণ করত তা হলো, তারা মনে করত জিন-ভূত মানুষকে আক্রমণ করত। আর তারা জিন ভূতের এ আসর-কে ‘রীহ’ বলে নামকরণ করত। আবূ মূসা বলেন, এখানে ‘রীহ’ অর্থ জিন। তারা তাকে রীহ বলত, কারণ বাতাস যেমন দেখা যায় না তেমনি জিনও দেখা যায় না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নুবুওয়্যাতের নিদর্শনসমূহ

৫৮৬১-[১০] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব অন্য কোন লোকের মাধ্যম ছাড়াই হাদীসটি সরাসরি আমাকে বলেছেন। তিনি বলেন, আমার ও রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মধ্যে সন্ধিকালে আমি সিরিয়া ভ্রমণ করি। সে সময় তথায় রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নামে নবী (সা.) -এর একখানা চিঠি আসলো। আবূ সুফইয়ান বলেন, উক্ত চিঠিখানা দিহইয়াহ্ আল কালবীই এনেছিলেন। দিহইয়াহ্ আল কালবী পত্ৰখানা বাসরার শাসনকর্তার কাছে প্রদান করলেন এবং বাসরার শাসনকর্তা তখন পত্রখানা হিরাক্লিয়াসের কাছে পেশ করলেন। তখন হিরাক্লিয়াস-এর উপস্থিত লোকজনকে বলল, এই যে ’আরব কুরায়শের এক লোক নুবুওয়াতের দাবি করেন, বর্তমানে এখানে (অর্থাৎ সিরিয়ায়) তার সম্প্রদায়ের কোন লোক আছে কি? লোকেরা বলল, হ্যাঁ আছে। আবূ সুফইয়ান বলেন, কুরায়শদের একটি দলের সাথে আমাকেও (হিরাক্লিয়াসের দরবারে) ডাকা হলো। আমরা হিরাক্লিয়াসের কাছে গেলে আমাদেরকে তার সামনেই বসানো হলো। অতঃপর সে আমাদেরকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন করল, যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করে তোমাদের মধ্যে বংশের দিক হতে কে তার নিকটতম? আবূ সুফইয়ান বললেন, আমি। তখন লোকেরা আমাকে তার একেবারে সম্মুখে এনে বসিয়ে দিল। আর আমার সঙ্গীদেরকে আমার পশ্চাতে বসাল। অতঃপর সম্রাট তার দোভাষীকে ডেকে বলল, তুমি এ লোকেদেরকে যিনি নবী বলে দাবি করেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু কথা জিজ্ঞেস কর।
যদি ইনি মিথ্যা বলেন, তবে তারা যেন তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে। আবূ সুফইয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ! লোকেরা আমার নামে মিথ্যা রটাবে বলে যদি আমার ভয় না হত, তাহলে আমি নিশ্চয় তাঁর [রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর] সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। অতঃপর সম্রাট হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বলল, তাকে (আবূ সুইয়ানকে) জিজ্ঞেস কর, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির (নুবুওয়্যাতের দাবিদারের) বংশ-মর্যাদা কেমন? আমি বললাম, তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশজাত। সে প্রশ্ন করল, তাঁর বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ কি বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। সে প্রশ্ন করল, তোমরা কি তাঁকে তাঁর এ কথা বলার পূর্বে কোন বিষয়ে মিথ্যার অপবাদ দিতে? আমি বললাম, না। সে প্রশ্ন করল, সভ্রান্ত লোকেরা তাঁর অনুসরণ করে না। দুর্বল নিম্নশ্রেণির লোকেরা? আমি বললাম, বরং দুর্বল লোকেরা। সে জিজ্ঞেস করল, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না কমছে? আমি বললাম, বরং বাড়ছে। সে জিজ্ঞেস করল, তাদের মধ্যে কেউ কি উক্ত দীনে প্রবেশ করার পর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তা বর্জন করে? আমি বললাম, না।
সে প্রশ্ন করল, তার সাথে তোমরা কখনো যুদ্ধ করেছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, করেছি। সে প্রশ্ন করল, তার সাথে যুদ্ধে তোমাদের ফলাফল কেমন হয়েছে? আমি বললাম, তার ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধের অবস্থা হয়েছে পালাক্রমে পানির বালতির মতো। কখনো তিনি পান আর কখনো আমরা পাই। কখনো কখনো তিনি আমাদের দিক হতে আক্রান্ত হন, আবার কখনো কখনো তাঁর পক্ষ হতে আক্রান্ত হন, আবার কখনো কখনো তার পক্ষ থেকে আমরা আক্রান্ত হই। সে প্রশ্ন করল, তিনি কী অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন? আমি বললাম না। তবে আমরা তাঁর সঙ্গে একটি সন্ধি চুক্তিকে আবদ্ধ আছি। জানি না তিনি এ সময়ের মধ্যে কি করবেন। আবূ সুফইয়ান বলেন, এ শেষোক্ত কথাটি ব্যতীত তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কিছু বলার সুযোগ আমি পাইনি।
সে প্রশ্ন করল, তোমাদের মধ্য হতে কেউ কি তার পূর্বে কখনো এ ধরনের কথা বলেছিল? আমি বললাম, না। এরপর হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বলল, এবার তুমি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) বল, আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তুমি উত্তরে বলেছ, তিনি তোমাদের মধ্যে উচ্চ বংশজাত। বস্তুত এরূপই নবী-রাসূল (সা.)দেরকে তাদের জাতির বংশেই পাঠানো হয়। আমি তোমাকে প্রশ্ন করেছিলাম তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিল কি না? তুমি বলেছ, না। এতে আমি বলব, যদি তাঁর বাপদাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকত, তবে আমি বলতাম, তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধার করতে চান। আমি তোমাকে তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম, তারা কি কওমের মধ্যে দুর্বল নাকি ভদ্র সম্ভ্রান্ত? তুমি বলেছ, বরং দুর্বল লোকেরাই তাঁর অনুসারী।
আসলে (প্রথমাবস্থায়) এরূপ লোকেরাই রাসূল (সা.)গণের অনুসারী হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার এ কথা বলার পূর্বে তোমরা কখনো তাকে মিথ্যায় অভিযুক্ত করেছ কি? তুমি বলেছ, না। অতএব আমি বুঝতে পারলাম, তিনি (সা.) মানুষের সাথে মিথ্যা পরিহার করে চলেন; আর আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলতে যাবেন, এটা কখনো হতে পারে না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেউ কি তাঁর দীনে প্রবেশ করার পর তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তা বর্জন করে? তুমি বলেছ, না। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের দীপ্তি ও সজীবতা অন্তরের সাথে মিশে গেলে তখন এরূপই হয়, অবশেষে তা পূর্ণতা লাভ করে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর সাথে তোমরা কোন যুদ্ধ করেছ কি? জবাবে তুমি বলেছ, হ্যাঁ, যুদ্ধ হয়েছে এবং তাঁর ফলাফল পালাক্রমে পানির বালতির মতো। কখনো তিনি (সা.) লাভবান হন, আর কখনো তোমরা লাভবান হও। আসলে এভাবে রাসূল (সা.)দেরকে পরীক্ষা করা হয়। পরিণামে বিজয় তাঁদেরই জন্য। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি (সা.) কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন কি? তুমি বলেছ, না, ভঙ্গ করেন না। রাসূল (সা.)দের চরিত্র
এরূপই হয় যে, তারা কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের মধ্য হতে কেউ কি তার পূর্বে কখনো এমন কথা (নবী হওয়ার কথা) বলেছিল? তুমি বলেছ, না। এতে আমি বুঝতে পারলাম, তার পূর্বে কেউ যদি এ কথা (নবী হওয়ার কথা) বলে থাকত তবে আমি বলতাম, এ ব্যক্তি পূর্বের কথার অনুবৃত্তি করেছে। আবূ সুফইয়ান বলেন, এরপর সে প্রশ্ন করল, তিনি (সা.) তোমাদেরকে কি বিষয় আদেশ দেন? আমরা বললাম, তিনি (সা.) আমাদেরকে সালাত আদায় করার, যাকাত দেয়ার, আত্মীয়স্বজনদের সাথে সদ্ব্যবহার করার এবং যাবতীয় পাপাচার হতে বেঁচে থাকার জন্য নির্দেশ করেন।
এতদশ্রবণে হিরাক্লিয়াস বলল, তুমি এ যাবৎ যা কিছু বলেছ, তা যদি সত্য হয়, তাহলে তিনি নিশ্চয় নবী। অবশ্য আমি জানতাম তিনি (সা.) আবির্ভূত হবেন। কিন্তু তিনি তোমাদের (আরবদের) মধ্য হতে বের হবেন আমার এ ধারণা ছিল না। আর আমি যদি তাঁর নিকট পর্যন্ত পৌছতে পারব বলে বিশ্বাস করতাম, তাহলে আমি অবশ্যই তাঁর সাক্ষাতের প্রত্যাশী হতাম। আর যদি আমি তার কাছে থাকতাম, তবে নিশ্চয় তাঁর পদদ্বয় ধুয়ে দিতাম। জেনে রাখ! অচিরেই তাঁর রাজত্ব আমার এ দু’ পায়ের নিচ পর্যন্ত পৌছে যাবে। অর্থাৎ তিনি (সা.) অল্প দিনের মধ্যেই গোটা রোম সাম্রাজ্যের মালিক হবেন। আবূ সুফইয়ান বলেন, এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সেই চিঠি আনিয়ে পাঠ করল। (বুখারী ও মুসলিম)

পূর্ণ হাদীসটি (بَاب الْكتاب إِلى الكفَّار) কাফিরদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পত্র প্রেরণ” অধ্যায়ে পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب عَلَامَات النُّبُوَّة)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ مِنْ فِيهِ إِلَى فِيَّ قَالَ: انْطَلَقْتُ فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنِي وَبَيَّنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَبينا أَنا بِالشَّام إِذْ جِيءَ بِكِتَاب النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى هِرَقْلَ. قَالَ: وَكَانَ دِحْيَةُ الْكَلْبِيُّ جَاءَ بِهِ فَدَفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى فَدَفَعَهُ عَظِيمُ بُصْرَى إِلَى هِرَقْلَ فَقَالَ هِرَقْلُ: هَلْ هُنَا أَحَدٌ مِنْ قَوْمِ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ قَالُوا: نَعَمْ فَدُعِيتُ فِي نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَدَخَلْنَا عَلَى هِرَقْلَ فَأَجْلَسَنَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا مِنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ: أَنَا فَأَجْلَسُونِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَجْلَسُوا أَصْحَابِي خَلْفِي ثُمَّ دَعَا بِتَرْجُمَانِهِ فَقَالَ: قُلْ لَهُمْ: إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ. قَالَ أَبُو سُفْيَانُ: وَايْمُ اللَّهِ لَوْلَا مَخَافَةُ أَنْ يُؤْثَرَ عَلَيَّ الْكَذِبُ لَكَذَبْتُهُ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: سَلْهُ كَيْفَ حَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قَالَ: قُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو حَسَبٍ. قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: وَمَنْ يَتْبَعُهُ؟ أَشْرَافُ النَّاسِ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ؟ قَالَ: قُلْتُ: بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ. قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: لَا بَلْ يَزِيدُونَ. قَالَ: هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ دِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ سَخْطَةً لَهُ؟ قَالَ: قلت: لَا. قلت: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قَالَ: قُلْتُ: يَكُونُ الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالًا يُصِيبُ مِنَّا وَنُصِيبُ مِنْهُ. قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قُلْتُ: لَا وَنَحْنُ مِنْهُ فِي هَذِهِ الْمُدَّةِ لَا نَدْرِي مَا هُوَ صَانِعٌ فِيهَا؟ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَمْكَنَنِي مِنْ كَلِمَةٍ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرَ هَذِهِ. قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لَا. ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُ: إِنِّي سَأَلْتُكَ عَنْ حَسَبِهِ فِيكُمْ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو حَسَبٍ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي أَحْسَابِ قَوْمِهَا. وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ فِي آبَائِهِ مَلِكٌ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مَلِكٌ. قُلْتُ: رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ آبَائِهِ. وَسَأَلْتُكَ عَنْ أَتْبَاعه أضعافاؤهم أَمْ أَشْرَافُهُمْ؟ فَقُلْتَ: بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ. وَسَأَلْتُكَ: هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَدَعَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ يَذْهَبُ فَيَكْذِبُ عَلَى اللَّهِ. وَسَأَلْتُكَ: هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ دِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ سَخْطَةً لَهُ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا وَكَذَلِكَ الْإِيمَانُ إِذَا خَالَطَ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَزَعَمْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ وَكَذَلِكَ الْإِيمَانُ حَتَّى يَتِمَّ وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ فَزَعَمْتَ أَنَّكُمْ قَاتَلْتُمُوهُ فَتَكُونُ الْحَرْبُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سِجَالًا يَنَالُ مِنْكُمْ وَتَنَالُونَ مِنْهُ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْتَلَى ثُمَّ تَكُونُ لَهَا الْعَاقِبَةُ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ لَا يَغْدِرُ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لَا تَغْدِرُ وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ قَبْلَهُ؟ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ قَبْلَهُ قُلْتُ: رَجُلٌ ائْتَمَّ بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ. قَالَ: ثُمَّ قَالَ: بِمَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْنَا: يَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّلَةِ وَالْعَفَافِ. قَالَ: إِنْ يَكُ مَا تَقُولُ حَقًّا فَإِنَّهُ نَبِيٌّ وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمَ أَنَّهُ خَارِجٌ وَلَمْ أَكُنْ أَظُنُّهُ مِنْكُمْ وَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَأَحْبَبْتُ لِقَاءَهُ وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمَيْهِ وَلَيَبْلُغَنَّ مُلْكُهُ مَا تَحْتَ قَدَمَيَّ. ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَرَأَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَقَدْ سَبَقَ تَمَامُ الْحَدِيثِ فِي «بَاب الْكتاب إِلى الكفَّار»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7) و مسلم (74 / 1773)، (4607) * و انظر ح 3926 ۔ 3927 لتمام الحدیث ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن ابن عباس قال: حدثني ابو سفيان بن حرب من فيه الى في قال: انطلقت في المدة التي كانت بيني وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فبينا انا بالشام اذ جيء بكتاب النبي صلى الله عليه وسلم الى هرقل. قال: وكان دحية الكلبي جاء به فدفعه الى عظيم بصرى فدفعه عظيم بصرى الى هرقل فقال هرقل: هل هنا احد من قوم هذا الرجل الذي يزعم انه نبي؟ قالوا: نعم فدعيت في نفر من قريش فدخلنا على هرقل فاجلسنا بين يديه فقال: ايكم اقرب نسبا من هذا الرجل الذي يزعم انه نبي؟ قال ابو سفيان: فقلت: انا فاجلسوني بين يديه واجلسوا اصحابي خلفي ثم دعا بترجمانه فقال: قل لهم: اني ساىل هذا عن هذا الرجل الذي يزعم انه نبي فان كذبني فكذبوه. قال ابو سفيان: وايم الله لولا مخافة ان يوثر علي الكذب لكذبته ثم قال لترجمانه: سله كيف حسبه فيكم؟ قال: قلت: هو فينا ذو حسب. قال: فهل كان من اباىه من ملك؟ قلت: لا. قال: فهل كنتم تتهمونه بالكذب قبل ان يقول ما قال؟ قلت: لا. قال: ومن يتبعه؟ اشراف الناس ام ضعفاوهم؟ قال: قلت: بل ضعفاوهم. قال: ايزيدون ام ينقصون؟ قلت: لا بل يزيدون. قال: هل يرتد احد منهم عن دينه بعد ان يدخل فيه سخطة له؟ قال: قلت: لا. قلت: فهل قاتلتموه؟ قلت: نعم. قال: فكيف كان قتالكم اياه؟ قال: قلت: يكون الحرب بيننا وبينه سجالا يصيب منا ونصيب منه. قال: فهل يغدر؟ قلت: لا ونحن منه في هذه المدة لا ندري ما هو صانع فيها؟ قال: والله ما امكنني من كلمة ادخل فيها شيىا غير هذه. قال: فهل قال هذا القول احد قبله؟ قلت: لا. ثم قال لترجمانه: قل له: اني سالتك عن حسبه فيكم فزعمت انه فيكم ذو حسب وكذلك الرسل تبعث في احساب قومها. وسالتك هل كان في اباىه ملك؟ فزعمت ان لا فقلت: لو كان من اباىه ملك. قلت: رجل يطلب ملك اباىه. وسالتك عن اتباعه اضعافاوهم ام اشرافهم؟ فقلت: بل ضعفاوهم وهم اتباع الرسل. وسالتك: هل كنتم تتهمونه بالكذب قبل ان يقول ما قال؟ فزعمت ان لا فعرفت انه لم يكن ليدع الكذب على الناس ثم يذهب فيكذب على الله. وسالتك: هل يرتد احد منهم عن دينه بعد ان يدخل فيه سخطة له؟ فزعمت ان لا وكذلك الايمان اذا خالط بشاشته القلوب. وسالتك هل يزيدون ام ينقصون؟ فزعمت انهم يزيدون وكذلك الايمان حتى يتم وسالتك هل قاتلتموه؟ فزعمت انكم قاتلتموه فتكون الحرب بينكم وبينه سجالا ينال منكم وتنالون منه وكذلك الرسل تبتلى ثم تكون لها العاقبة. وسالتك هل يغدر فزعمت انه لا يغدر وكذلك الرسل لا تغدر وسالتك هل قال هذا القول احد قبله؟ فزعمت ان لا فقلت: لو كان قال هذا القول احد قبله قلت: رجل اىتم بقول قيل قبله. قال: ثم قال: بما يامركم؟ قلنا: يامرنا بالصلاة والزكاة والصلة والعفاف. قال: ان يك ما تقول حقا فانه نبي وقد كنت اعلم انه خارج ولم اكن اظنه منكم ولو اني اعلم اني اخلص اليه لاحببت لقاءه ولو كنت عنده لغسلت عن قدميه وليبلغن ملكه ما تحت قدمي. ثم دعا بكتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقراه. متفق عليه وقد سبق تمام الحديث في «باب الكتاب الى الكفار» متفق علیہ ، رواہ البخاری (7) و مسلم (74 / 1773)، (4607) * و انظر ح 3926 ۔ 3927 لتمام الحدیث ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: আবূ সুফইয়ান-এর আসল নাম হলো সখর। তিনি হস্তির বছরের দশ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কা বিজয়ের রাতে ইসালাম গ্রহণ করেন। তিনি ত্বায়িফ ও হুনায়নের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইয়ারমূকের দিনে তার চোখ উপড়িয়ে ফেলা হয়। তিনি মদীনায় মারা যান। উসমান (রাঃ) তাঁর জানাযার সালাতে ইমামতি করেন।
(مِنْ فِيهِ إِلَى فِيَّ) অর্থাৎ এ হাদীসটি তার মুখ থেকে সরাসরি আমার মুখে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর আমাদের মাঝে কেউ মধ্যস্থিত ব্যক্তি নেই। এভাবেই ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, তার অর্থ হলো আমার আর তার মাঝে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল না। যেমনটি হাদ্দাসানী শব্দ দ্বারা বুঝা যায়। অনুরূপভাবে তার কথা ফিয়্যা। আর যদি সেখানে কেউ উপস্থিত থাকত তবে তার জন্যও সে হাদীসটি বর্ণনা করা জায়িয হত। তাহলে হাদীসটি শুধু তার মুখ থেকে তার মুখে সীমাবদ্ধ থাকত না।
(لَّتِي كَانَتْ بَيْنِي وَبَيَّنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থৎ হুদায়বিয়ার সন্ধি। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা ছিল ষষ্ঠ হিজরীর ঘটনা। আর এই সন্ধির মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল দশ হিজরী পর্যন্ত। কিন্তু তারা এই চুক্তি ভেঙ্গে ছিল খুযাআহ্ গোত্রের কতিপয় লোককে হত্যা করে, যাদের সাথে তাদের সন্ধি চুক্তি হয়েছিল। আর এটা ছিল অষ্টম হিজরীর ও মক্কাহ্ বিজয়ের সময়ের ঘটনা।
(فَدُعِيتُ فِي نَفَرٍ) অর্থাৎ কুরায়শদের কতিপয় লোককে। আর তারা ছিল ত্রিশজন লোক। কথিত আছে, মুগীরা ইবনু শুবাহ্ (রাঃ) তাদের সাথে ছিলেন। তবে তিনি আগেই ইসালাম গ্রহণ করেছিলেন। কেননা তিনি খন্দকের যুদ্ধের বছরে ইসালাম কবুল করেন। অতএব তিনি হাযির হওয়া থেকে দূরে ছিলেন। আর তিনি মুসলিম হওয়ার কারণে চুপ ছিলেন।
(أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا مِنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟) অর্থাৎ ‘উলামাগণ বলেন, তিনি তার সবচেয়ে কাছের লোককে জিজ্ঞেস করার কারণ হলো তিনি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। আর তার হকের ব্যাপারে তিনি মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকবেন।
(وَأَجْلَسُوا أَصْحَابِي خَلْفِي) অর্থাৎ তার সাথিদেরকে তার পিছনে বসানোর কারণ হলো যেন তারা তার মিথ্যা কথা হতে তাকে ধরে তাদেরকে সহায়তা করতে পারে। আর তার থেকে তারা যেন লজ্জা না পায়। অথবা এটারও সম্ভাবনা আছে যে, তাদেরকে হাতের দ্বারা তার দিকে ইশারা করলেন আর তার বিরূদ্ধে দলীল হিসেবে থাকতে বললেন। এই ইশারা হতে পারে হাত দিয়ে বা মাথা নাড়িয়ে ইত্যাদি ভাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬২-[১] কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে, তিনি মালিক ইবনু সস’আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। আল্লাহর নবী (সা.) -কে যে রাত্রে মি’রাজ করানো হয়েছিল, সে রাতের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি তাদেরকে বলেছেন, একদিন আমি কা’বার হাত্বীম অংশে কাত হয়ে শুয়েছিলাম।
বর্ণনাকারী (কতাদাহ্) কখনো কখনো (হাত্বীম-এর স্থলে) “হিজর’ শব্দ বলেছেন। এমন সময় হঠাৎ - একজন আগন্তুক আমার কাছে আসলেন এবং তিনি এ স্থান হতে ওই স্থান পর্যন্ত চিরে ফেললেন। অর্থাৎ কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ হতে নাভির উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। তারপর ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের থালা আমার কাছে আনা হলো, এরপর আমার অন্তরকে ধৌত করা হয়, তারপর তাকে ঈমানে পরিপূর্ণ করে আবার পূর্বের জায়গায় রাখা হয়।
অপর এক বর্ণনায় আছে- অতঃপর যমযমের পানি দ্বারা পেট ধৌত করা হয়, পরে ঈমান ও হিকমতে তাকে পরিপূর্ণ করা হয়। তারপর আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধা অপেক্ষা বড় এক সাদা বর্ণের বাহন আমার সম্মুখে উপস্থিত করা হয়। তাকে বলা হয় ’বুরাক’। তার দৃষ্টি যত দূর যেত, সেখানে তার পা রাখত। নবী (সা.) বলেন, অতঃপর আমাকে তার উপরে আরোহণ করানো হলো।
এবার জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে সাথে নিয়ে যাত্রা করলেন এবং নিকটতম আসমানে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? বললেন, (আমি) জিবরীল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তার প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তার আগমন বড়ই শুভ। তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। যখন আমি ভিতর প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে দেখতে পেলাম ইয়াহইয়া ও ’ঈসা আলায়হিস সালাম-কে। তারা দু’জন পরস্পর খালাতো ভাই। জিবরীল আলায়হিস সালাম (আমাকে) বললেন, ইনি হলেন ইয়াহইয়া আলায়হিস সালাম আর উনি হলেন ’ঈসা আলায়হিস সালাম আপনি তাদেরকে সালাম করুন। যখন আমি সালাম করলাম, তাঁরা উভয়ে সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি সদর সম্ভাষণ।
অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে উঠলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাঁর প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তাঁর আগমন খুবই কল্যাণকর। অতঃপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভিতরে প্রবেশ করে আমি সেখানে ইউসুফ আলায়হিস সালাম-কে দেখতে পেলাম। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, ইনি হলেন ইউসুফ আলায়হিস সালাম তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি সাদর সম্ভাষণ।

অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করলেন এবং চতুর্থ আসমানে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তার প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তাঁর আগমন বড়ই শুভ! অতঃপর দরজা খুলে দেয়া হলো। আমি ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে ইদরীস আলায়হিস সালাম। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, ইনি ইদরীস আলায়হিস সালাম তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম, অতঃপর তিনি জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি সাদর সম্ভাষণ।  এরপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন এবং পঞ্চম আসমানে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, কে? বললেন, (আমি) জিবরীল । পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। আবার প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তার প্রতি সাদর অভিনন্দন। তাঁর আগমন খুবই কল্যাণকর! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি যখন ভিতরে পৌছলাম, সেখানে হারূন আলায়হিস সালাম-কে দেখতে পেলাম। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, ইনি হারূন আলায়হিস সালাম তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি উত্তর দিলেন। অতঃপর বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি সাদর অভিনন্দন।
অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে সাথে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বলোকে উঠলেন এবং ষষ্ঠ আকাশে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, কে? বললেন, জিবরীল। প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)! পুনরায় প্রশ্ন করা হলো তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হা। বলা হলো, তার প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তারা আগমন কতই না উত্তম! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি যখন ভিতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে মূসা আলায়হিস সালাম-কে দেখতে পেলাম। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, ইনি হলেন, মূসা আলায়হিস সালাম তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি সাদর অভিনন্দন। অতঃপর আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে অগ্রসর হলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার পরে এমন একজন যুবককে (নবী বানিয়ে) পাঠানো হলো, যার উম্মত আমার উম্মত অপেক্ষা অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।
অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশে আরোহণ করলেন। অনন্তর জিবরীল আলায়হিস সালাম দরজা খুলতে বললে, প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বলা হলো, তাঁর প্রতি সাদর অভিনন্দন। তাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি যখন ভিতরে প্রবেশ করলাম সেখানে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে দেখতে পেলাম। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, ইনি হলেন আপনার পিতা ইবরাহীম আলায়হিস সালাম তাঁকে সালাম করুন। তখন আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবীর প্রতি সাদর অভিনন্দন।
অতঃপর আমাকে ’সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উঠানো হলো। আমি দেখতে পেলাম, তার ফল হাজার নামক অঞ্চলের মটকার ন্যায় এবং তার পাতা হাতির কানের মতো। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এটাই সিদরাতুল মুনতাহা। আমি (তথায়) আরো দেখতে পেলাম চারটি নহর। দু’টি নহর অপ্রকাশ্য, আর দুটি প্রকাশ্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এ নহরের তৎপর্য কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি হলো জান্নাতে প্রবাহিত দু’টি নহর। আর প্রকাশ্য দুটি হলো (মিসরের) নীল এবং (ইরাকের) ফুরাত নদী। অতঃপর আমাকে বায়তুল মা’মূর’ দেখানো হলো। তারপর আমার সামনে হাজির করা হলো এক পাত্র মদ, এক পাত্র দুধ ও এক পাত্র মধু। তার মধ্য হতে আমি দুধ গ্রহণ করলাম (এবং তা পান করলাম)। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এটা ফিত্বরাত’-এর (স্বভাব-ধর্মের) নিদর্শন। আপনি এবং আপনার উম্মত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন।
অতঃপর আমার ওপর দৈনিক পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাত ফরয করা হলো। আমি (তা গ্রহণ করে) প্রত্যাবর্তন করলাম। মূসা আলায়হিস সালাম-এর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি (আমাকে) বললেন, আপনাকে কি করতে আদেশ করা হয়েছে? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাত সম্পাদনে সক্ষম হবে না। আল্লাহর শপথ! আপনার পূর্বে আমি (বানী ইসরাঈলের) লোকেদেরকে পরখ করে দেখেছি এবং বানী ইসরাঈলদের হিদায়াতের জন্য আমি যথাসাধ্য পরিশ্রম করেছি। অতএব আপনি আপনার প্রভুর কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের পক্ষে (সালাত) আরো হ্রাস করার জন্য আবেদন করুন। তখন আমি ফিরে গেলাম (এবং ঐভাবে প্রার্থনা জানালে) আল্লাহ তা’আলা আমার ওপর হতে দশ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিলেন। তারপর আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর নিকট ফিরে আসালাম। তিনি এবারও অনুরূপ কথা বললেন। ফলে আমি আমি পুনরায় আল্লাহর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আমার ওপর হতে আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর নিকট ফিরে আসালাম। তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। তাই আমি (আবার) ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ তা’আলা আরো দশ (ওয়াক্ত সালাত) মাফ করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর নিকট ফিরে আসলে আবারো তিনি ঐ কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা’আলা আমার জন্য দশ (ওয়াক্ত) সালাত কম করে দিলেন এবং আমাকে প্রত্যহ দশ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হলো। আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর নিকট ফিরে আসালাম। এবারও তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। ফলে আমি পুনরায় ফিরে গেলে আমাকে প্রত্যহ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হলো। আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে পুনরায় ফিরে আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে (সর্বশেষ) কি করতে আদেশ করা হলো? আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত) সালাতের আদেশ করা হয়েছে।
তিনি বললেন, আপনার উম্মত প্রত্যহ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত সমাপনে সক্ষম হবে না। আপনার পূর্বে আমি (বানী ইসরাঈলের) লোকেদেরকে বিশেষভাবে পরখ করে দেখেছি এবং বানী ইসরাঈলের হিদায়াতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও কষ্ট স্বীকার করেছি, তাই আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো কম করার প্রার্থনা করুন। তিনি (সা.) বললেন, আমি আমার প্রভুর কাছে (স্বীয় কর্তব্য পালনের জন্য) এত অধিকবার প্রার্থনা জানিয়েছি যে, পুনরায় প্রার্থনা জানাতে আমি লজ্জাবোধ করছি, বরং আমি (আল্লাহর এ নির্দেশের উপর) সন্তুষ্ট এবং আমি (আমার ও আমার উম্মতের ব্যাপার) আল্লাহর ওপর অর্পণ করছি। তিনি (সা.) বলেন, আমি যখন মূসা আলায়হিস সালাম-কে অতিক্রম করে সম্মুখে অগ্রসর হলাম, তখন (আল্লাহর পক্ষ হতে) ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমার অবশ্য পালনীয় আদেশটি আমি চালু করে দিলাম এবং বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ مَالك بن صعصعة أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدثهمْ لَيْلَةِ أُسْرِيَ بِهِ: «بَيْنَمَا أَنَا فِي الْحَطِيمِ - وَرُبَّمَا قَالَ فِي الْحِجْرِ - مُضْطَجِعًا إِذْ أَتَانِي آتٍ فَشَقَّ مَا بَيْنَ هَذِهِ إِلَى هَذِهِ» يَعْنِي مِنْ ثُغْرَةِ نَحْرِهِ إِلَى شِعْرَتِهِ «فَاسْتَخْرَجَ قَلْبِي ثُمَّ أُتِيتُ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مَمْلُوءٍ إِيمَانًا فَغُسِلَ قَلْبِي ثُمَّ حُشِيَ ثُمَّ أُعِيدَ» - وَفِي رِوَايَةٍ: ثُمَّ غُسِلَ الْبَطْنُ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثمَّ ملئ إِيماناً وَحِكْمَة - ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ دُونَ الْبَغْلِ وَفَوْقَ الْحِمَارِ أَبْيَضَ يُقَالُ لَهُ: الْبُرَاقُ يَضَعُ خَطْوَهُ عِنْدَ أَقْصَى طَرْفِهِ فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ فَانْطَلَقَ بِي جِبْرِيلُ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ. قَالَ: نَعَمْ. قيل: مرْحَبًا بِهِ فَنعم الْمَجِيء جَاءَ ففُتح فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا فِيهَا آدَمُ فَقَالَ: هَذَا أَبُوكَ آدَمُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلَام ثمَّ قَالَ: مرْحَبًا بالابن الصَّالح وَالنَّبِيّ الصَّالح ثمَّ صعد بِي حَتَّى السَّماءَ الثانيةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفُتِحَ. فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا يَحْيَى وَعِيسَى وَهُمَا ابْنَا خَالَةٍ. قَالَ: هَذَا يَحْيَى وَهَذَا عِيسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِمَا فَسَلَّمْتُ فَرَدَّا ثُمَّ قَالَا: مَرْحَبًا بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ. ثُمَّ صَعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ ففُتح فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا يُوسُفُ قَالَ: هَذَا يُوسُفُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ. ثُمَّ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِي حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الرَّابِعَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا إِدْرِيسُ فَقَالَ: هَذَا إِدْرِيسُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِي حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الْخَامِسَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفتح فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا هَارُونُ قَالَ: هَذَا هَارُونُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءَ السَّادِسَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَهل أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا مُوسَى قَالَ: هَذَا مُوسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالح فَلَمَّا جَاوَزت بَكَى قيل: مَا بيكيك؟ قَالَ: أَبْكِي لِأَنَّ غُلَامًا بُعِثَ بَعْدِي يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِهِ أَكْثَرَ مِمَّنْ يَدْخُلُهَا مِنْ أُمَّتِي ثُمَّ صَعِدَ بِي إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيلُ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قِيلَ: مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ: هَذَا أَبُوكَ إِبْرَاهِيمُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرد السَّلَام ثمَّ قَالَ: مرْحَبًا بالابن الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ [ص:1637] رُفِعْتُ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى فَإِذَا نَبِقُهَا مِثْلُ قِلَالِ هَجَرَ وَإِذَا وَرَقُهَا مِثْلُ آذَانِ الْفِيَلَةِ قَالَ: هَذَا سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى فَإِذَا أَرْبَعَةُ أَنْهَارٍ: نَهْرَانِ بَاطِنَانِ وَنَهْرَانِ ظَاهِرَانِ. قُلْتُ: مَا هَذَانِ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: أَمَّا الْبَاطِنَانِ فَنَهْرَانِ فِي الْجَنَّةِ وَأَمَّا الظَّاهِرَانِ فَالنِّيلُ وَالْفُرَاتُ ثُمَّ رُفِعَ لِيَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ ثُمَّ أُتِيتُ بِإِنَاءٍ مِنْ خَمْرٍ وَإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ وَإِنَاءٍ مِنْ عَسَلٍ فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَقَالَ: هِيَ الْفِطْرَةُ أَنْتَ عَلَيْهَا وَأُمَّتُكَ ثُمَّ فُرِضَتْ عَلَيَّ الصَّلَاةُ خَمْسِينَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ فَمَرَرْتُ عَلَى مُوسَى فَقَالَ: بِمَا أُمِرْتَ؟ قُلْتُ: أُمِرْتُ بِخَمْسِينَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ. قَالَ: إِنَّ أمتك لَا تستطع خَمْسِينَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ وَإِنِّي وَاللَّهِ قَدْ جَرَّبْتُ النَّاسَ قَبْلَكَ وَعَالَجْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ لِأُمَّتِكَ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنِّي عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنِّي عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلى مُوسَى فَقَالَ مثله فَرَجَعت فَوضع عني عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنَى عَشْرًا فَأُمِرْتُ بِعَشْرِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَأُمِرْتُ بِخَمْسِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ: بِمَا أُمِرْتَ؟ قُلْتُ: أُمِرْتُ بِخَمْسِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ. قَالَ: إِنَّ أُمَّتَكَ لَا تَسْتَطِيعُ خَمْسَ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ وَإِنِّي قَدْ جَرَّبْتُ النَّاسَ قَبْلَكَ وَعَالَجْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ لِأُمَّتِكَ قَالَ: سَأَلْتُ رَبِّي حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ وَلَكِنِّي أَرْضَى وَأُسَلِّمُ. قَالَ: فَلَمَّا جَاوَزْتُ نَادَى مُنَادٍ: أَمْضَيْتُ فريضتي وخففت عَن عبَادي . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3207) و مسلم (265 / 164)، (416 و 417) ۔
(صَحِيحٍ)

عن قتادة عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة ان نبي الله صلى الله عليه وسلم حدثهم ليلة اسري به: «بينما انا في الحطيم - وربما قال في الحجر - مضطجعا اذ اتاني ات فشق ما بين هذه الى هذه» يعني من ثغرة نحره الى شعرته «فاستخرج قلبي ثم اتيت بطست من ذهب مملوء ايمانا فغسل قلبي ثم حشي ثم اعيد» - وفي رواية: ثم غسل البطن بماء زمزم ثم ملى ايمانا وحكمة - ثم اتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار ابيض يقال له: البراق يضع خطوه عند اقصى طرفه فحملت عليه فانطلق بي جبريل حتى اتى السماء الدنيا فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل وقد ارسل اليه. قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء ففتح فلما خلصت فاذا فيها ادم فقال: هذا ابوك ادم فسلم عليه فسلمت عليه فرد السلام ثم قال: مرحبا بالابن الصالح والنبي الصالح ثم صعد بي حتى السماء الثانية فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد ارسل اليه؟ قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء ففتح. فلما خلصت اذا يحيى وعيسى وهما ابنا خالة. قال: هذا يحيى وهذا عيسى فسلم عليهما فسلمت فردا ثم قالا: مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح. ثم صعد بي الى السماء الثالثة فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد ارسل اليه؟ قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء ففتح فلما خلصت اذا يوسف قال: هذا يوسف فسلم عليه فسلمت عليه فرد. ثم قال: مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح ثم صعد بي حتى اتى السماء الرابعة فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد ارسل اليه؟ قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء ففتح فلما خلصت فاذا ادريس فقال: هذا ادريس فسلم عليه فسلمت عليه فرد ثم قال: مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح ثم صعد بي حتى اتى السماء الخامسة فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد ارسل اليه؟ قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء ففتح فلما خلصت فاذا هارون قال: هذا هارون فسلم عليه فسلمت عليه فرد ثم قال: مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح ثم صعد بي الى السماء السادسة فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وهل ارسل اليه؟ قال: نعم. قال: مرحبا به فنعم المجيء جاء فلما خلصت فاذا موسى قال: هذا موسى فسلم عليه فسلمت عليه فرد ثم قال: مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح فلما جاوزت بكى قيل: ما بيكيك؟ قال: ابكي لان غلاما بعث بعدي يدخل الجنة من امته اكثر ممن يدخلها من امتي ثم صعد بي الى السماء السابعة فاستفتح جبريل قيل: من هذا؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد بعث اليه؟ قال: نعم. قيل: مرحبا به فنعم المجيء جاء فلما خلصت فاذا ابراهيم قال: هذا ابوك ابراهيم فسلم عليه فسلمت عليه فرد السلام ثم قال: مرحبا بالابن الصالح والنبي الصالح ثم [ص:1637] رفعت الى سدرة المنتهى فاذا نبقها مثل قلال هجر واذا ورقها مثل اذان الفيلة قال: هذا سدرة المنتهى فاذا اربعة انهار: نهران باطنان ونهران ظاهران. قلت: ما هذان يا جبريل؟ قال: اما الباطنان فنهران في الجنة واما الظاهران فالنيل والفرات ثم رفع لي البيت المعمور ثم اتيت باناء من خمر واناء من لبن واناء من عسل فاخذت اللبن فقال: هي الفطرة انت عليها وامتك ثم فرضت علي الصلاة خمسين صلاة كل يوم فرجعت فمررت على موسى فقال: بما امرت؟ قلت: امرت بخمسين صلاة كل يوم. قال: ان امتك لا تستطع خمسين صلاة كل يوم واني والله قد جربت الناس قبلك وعالجت بني اسراىيل اشد المعالجة فارجع الى ربك فسله التخفيف لامتك فرجعت فوضع عني عشرا فرجعت الى موسى فقال مثله فرجعت فوضع عني عشرا فرجعت الى موسى فقال مثله فرجعت فوضع عني عشرا فرجعت الى موسى فقال مثله فرجعت فوضع عنى عشرا فامرت بعشر صلوات كل يوم فرجعت الى موسى فقال مثله فرجعت فامرت بخمس صلوات كل يوم فرجعت الى موسى فقال: بما امرت؟ قلت: امرت بخمس صلوات كل يوم. قال: ان امتك لا تستطيع خمس صلوات كل يوم واني قد جربت الناس قبلك وعالجت بني اسراىيل اشد المعالجة فارجع الى ربك فسله التخفيف لامتك قال: سالت ربي حتى استحييت ولكني ارضى واسلم. قال: فلما جاوزت نادى مناد: امضيت فريضتي وخففت عن عبادي . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3207) و مسلم (265 / 164)، (416 و 417) ۔ (صحيح)

ব্যখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে মক্কায় কোন জায়গায় ছিলেন তা এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে (فِي الْحَطِيمِ) শব্দ দিয়ে। আবার অন্য হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে (فِي الْحِجْرِ) শব্দ দিয়ে। এ বিষয়ে মিরকাত প্রণেতা বলেন, বর্ণনার ক্ষেত্রে শব্দের পরিবর্তন ঘটেছে, সম্ভবত এই কারণে যে, রাসূল (সা.) মি'রাজের এ ঘটনাটি একাধিকবার বর্ণনা করেছেন। তিনি কখনো বর্ণনা করার সময় (حَطِيم) (হাত্বীম) শব্দ বলেছেন, আবার কখনো (حِجْرِ) (হিজর) শব্দ বলেছেন।
অথবা এটিও হতে পারে যে, উক্ত হাদীসে রাবী এ বিষয়ে সন্দিহান যে, তিনি রাসূল (সা.) -কে ‘হাত্বীম’ শব্দ বলতে শুনেছে নাকী হিজর শব্দ বলতে শুনেছে। তাই রাবী মি'রাজের এই ঘটনা বর্ণনা করতে কখনো ‘হাত্বীম' শব্দ ব্যবহার করেছেন আবার কখনো ‘হিজর' শব্দ ব্যবহার করেছেন।
প্রকৃত কথা হলো, ‘হাত্বীম' এবং ‘হিজর। একই জিনিসের দুটি ভিন্ন নাম। হাত্বীম বা হিজর বলা হয়, কা'বার পাশে ঐ ফাঁকা স্থানকে যা কা'বার ভিতরের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়। সেই স্থানের নামকরণের ব্যাপারে কাযী বলেন, উক্ত স্থানকে হিজর এবং হাত্বীম দুটোই বলা যায় ভিন্ন ভিন্ন কারণে।
১) উক্ত স্থানকে হাত্বীম বলা হয়, কেননা ঐ স্থানের দেয়ালকে ভেঙ্গে কা'বার দেয়ালের থেকে নিচু করা হয়েছে। আর (حَطِيم) (হাত্বীম) শব্দের অর্থ হলো ভাঙ্গা। যেহেতু তার মাঝে (حَطِيم) তথা ভাঙ্গার কাজটি ঘটেছে তাই তাকে (حَطِيم) বলা হয়।
২) উক্ত স্থানকে হিজর বলা হয়, কেননা দেয়াল দিয়ে ঐ স্থানকে বেঁধে দেয়া হয়েছে যেন তা কা'বার আশেপাশের অন্য স্থান থেকে আলাদা বিবেচিত হয়। আর (حِجْرِ) (হিজর) শব্দের অর্থ বাধা দেয়া, যেহেতু তার মাঝে (حِجْرِ) তথা বাধা দেয়ার কাজটি ঘটেছে তাই তাকে (حِجْرِ) বলা হয়।
তারপর তাঁর হাত্বীমে থাকার অবস্থা বর্ণনা করেছেন (مُضْطَجِعًا) শব্দ দিয়ে। যার অর্থ হলো শোয়া অবস্থায়। এ অবস্থাটা দু ধরনের হতে পারে। ১) শোয়া অবস্থায় তিনি জাগ্রত ছিলেন অথবা ২) শোয়া অবস্থায় তিনি ঘুমন্ত ছিলেন।
(إِذْ أَتَانِي آتٍ) এখানে (آتٍ) শব্দের অর্থ হলো ‘আগন্তুক। মিকাত প্রণেতা বলেন, এই আগন্তুক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একজন মালাক বা ফেরেশতা (জিবরীল আলায়হিস সালাম)।
(فَشَقَّ مَا بَيْنَ هَذِهِ إِلَى هَذِهِ)  তারপর এ স্থান থেকে এই স্থান পর্যন্ত চিরে দেখালেন। মালিক (রহিমাহুল্লাহ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ কথাটি সম্পর্কে বলেন, রাসূল (সা.) -এর এ কথাটি বুঝা যায় পরবর্তী এই অংশের মাধ্যম (يَعْنِي مِنْ ثُغْرَةِ نَحْرِهِ إِلَى شِعْرَتِهِ) অর্থাৎ কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ থেকে নাভির উপরিভাগ পর্যন্ত যেমনটি নিহায়াহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(فَاسْتَخْرَجَ قَلْبِي) অর্থাৎ তারপর আমার হৃদয়কে বের করে ফেলল। এই সম্পর্কে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, রাসূল (সা.)-এর শৈশবকালে বক্ষ বিদীর্ণ করার যে ঘটনা ঘটেছিল সেটি এখানে উদ্দেশ্য নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো তাঁর পরিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যে বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা ঘটেছিল সেটি। কারণ এই বক্ষ বিদীর্ণ করার মাধ্যম তাঁর অন্তর থেকে প্রবৃত্তির বিষয়গুলো বের করা হয়েছে যেন তাতে পরিপূর্ণ জ্ঞান প্রবেশ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এটি রাসূল (সা.)-এর বিশেষ মু'জিযাহ্। কারণ, কোন মানুষের পেট ফেঁড়ে হৃদয় বের করে ফেললে তার বেঁচে থাকার কথা নয়। অথচ রাসূল (সা.) -এর ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটেছে। তবে কতিপয় বিদ্বানগণ রাসূল (সা.) -এর বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনাকে রূপক অর্থে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এই মতকে প্রত্যাখ্যান করে তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) উত্তর দিয়ে বলেছেন, হাদীসে উল্লেখিত বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনাটি হলো বিশ্বাস করার বিষয়। অতএব এ ব্যাপারে অহেতুক যুক্তি দেখিয়ে ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করার কোন অবকাশ নেই।
এ ব্যাপারে মিরক্বাত প্রণেতাও বলেন, আল্লাহর প্রশংসায় আমরা এ বিষয়টিকে বাস্তবিকভাবেই বিশ্বাস করি কোন ধরনের রূপক অর্থের দিকে যাই না।
হাদীসে উল্লেখিত পেয়ালাটি স্বর্ণের ছিল। এখানে কথা হলো স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করাতো হারাম তাহলে কেন স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করা হলো?
মিরক্বাত প্রণেতা দুইভাবে এর উত্তর দিয়েছেন। ১) হয়তো এ ঘটনাটি ছিল স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করা হারাম হওয়ার পূর্বে। অথবা ২) সেই সময়ে স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করাটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য বিশেষভাবে বৈধ ছিল।
(مَمْلُوءٍ إِيمَانًا) অর্থাৎ পেয়ালাটি ছিল ঈমানে পরিপূর্ণ। শারহুন নাবাবী গ্রন্থে এ কথাটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে যে, ঐ পেয়ালাতে রাখা হয়েছিল এমন সব বিষয় যেগুলোর মাধ্যমে ঈমান অর্জিত হয়। অতএব ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল এ কথাটি তখন হবে রূপক অর্থে।
কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এসব বিষয় কখনো কখনো বাস্তবিক রূপলাভ করতে পারে। যেমন তা বাস্তবায়িত হবে ‘আমালকে পরিমাপ করার ক্ষেত্রে এবং মৃত্যুকে দুম্বা হিসেবে যাবাহ করার ক্ষেত্রে। অতএব এ বিষয়টি রূপক না হয়ে প্রকৃত অর্থেও হতে পারে।
(حُشِيَ) শব্দের অর্থ হলো, পূর্ণ করে দেয়া আর এখানে (حُشِيَ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তার প্রতিপালকের ভালোবাসায় তার হৃদয়কে পূর্ণ করে দেয়া।
(ثُمَّ غُسِلَ الْبَطْنُ) অর্থাৎ তারপর তার পেট ধৌত করে দিলেন। এ সম্পর্কে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, এখানে তার পেট ধৌত করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তার হৃদয়ের স্থান ধৌত করা।
(ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ) অর্থাৎ তারপর আমার নিকট একটি চতুষ্পদ জন্তুটি নিয়ে আসা হলো। সেই জন্তুটি ছিল খচ্চরের থেকে ছোট এবং গাধার থেকে বড়। তার রং ছিল সাদা। আর নাম ছিল বুরাক।
এই জন্তুটিকে বুরাক নামকরণের ব্যাপারে মিকাত প্রণেতা দু'টি কারণ উল্লেখ করেছেন।
১) তার রং ছিল উজ্জ্বল। আর উজ্জ্বলের ‘আরবী প্রতিশব্দ হলো (بُرِيْقَ)। তাই এখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে (بُرَاقٌ) বুরাক’।
২) তার গতি ছিল বিজলির মতো দ্রুত। আর বিজলির ‘আরবী প্রতিশব্দ হলো (بُرْقٌ)। তাই এখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে (بُرَاقٌ) বুরাক’।
আবার এটিও হতে পারে যে, উল্লেখিত, দু'টি গুণই সেই জন্তুটির মাঝে বিদ্যমান ছিল। তাই তাকে বুরাক নামকরণ করা হয়েছে।
বুরাকের পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যাকারগণ ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় পেশ করেছেন। যেমন শারহুন নাবাবী গ্রন্থে বলা হয়েছে। বুরাক হলো এমন একটি বাহনের নাম যাতে রাসূল (সা.) - ইসরার রাতে আরোহণ করেছিলেন। যুবায়দী, মুখতাসারুল ‘আয়নী গ্রন্থে এবং ‘তাহরীব’-এর লেখক উভয়ে বলেন, বুরাক হলো এমন একটি প্রাণী যাতে নবীগণ আরোহণ করতেন।
(فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ) অর্থাৎ তারপর আমাকে তার উপর আরোহণ করানো হলো। এখানে রাসূল (সা.)- বলেননি যে, আমি তাতে আরোহণ করলাম। এ সম্পর্কে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন,
(حُمِلْتُ عَلَيْهِ) এই বাক্য দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, তাতে আরোহণ করাটা সহজ ছিল না। তাই রাসূল (সা.) মালাকের (ফেরেশতার) সহযোগিতায় আরোহণ করেছিলেন।
(فَانْطَلَقَ بِي جِبْرِيلُ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الدُّنْيَا) অর্থাৎ তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে আসমানে নিয়ে গেলেন। বর্ণনার এই ধারা থেকে বুঝা যায় যে, তাকে বুরাকে আরোহণ করিয়েই মি'রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অথবা তার মি'রাজ হয়েছিল অন্য কোন রাতে। সেই রাতে নয়, যেই রাতে তিনি বুরাকে আরোহণ করে মক্কাহ্ থেকে বায়তুল মাক্বদিসে ভ্রমণ করেছিলেন।
কিন্তু প্রকৃত ঘটনা এরূপ নয়। বরং ঘটনা হলো, তিনি একই রাতে মক্কাহ্ থেকে বায়তুল মাক্বদিসে ভ্রমণ করেন। তারপর বায়তুল মাকদিস থেকে বিশেষ সিঁড়িতে আরোহণ করে মিরাজে গমন করেন। রাসূল (সা.)-কে মক্কাহ্ থেকে মি'রাজে না নিয়ে বায়তুল মাক্বদিস থেকে নিয়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু রহস্য আছে। যার কিছু মিরক্বাত প্রণেতা উল্লেখ করেছেন। যেমন, বায়তুল মাকদিসের বরাবর উপরে মালায়িকার (ফেরেশতাদের) আকাশের উঠার জায়গা রয়েছে। তাই রাসূল (সা.) -কে সেখান থেকে উপরে উঠানো হয়েছে। যেন সোজাসুজি তাঁকে আকাশে নিয়ে যাওয়া যায়।
রাসূল (সা.) -কে বায়তুল মাক্বদিস ভ্রমণ করিয়ে মিরাজে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে রয়েছে  বিরোধিতাকারীদের জন্য সত্যের প্রকাশ। কেননা বায়তুল মাক্বদিস ভ্রমণকালে কাফেলার সাথে যে ঘটনা ঘটেছিল তা পরবর্তী সময়ে রাসূল (সা.)-এর ইসরা ও মি'রাজের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
তাছাড়াও বায়তুল মাকদিস হলো বহু নবী রাসূল (সা.)গণের হিজরতের স্থান। তাই সেখানে ভ্রমণ করার কারণে রাসূল (সা.) -এর অনেক বড় প্রাপ্তি অর্জিত হয়েছে।
আর বর্ণনার এ ধারা সম্পর্কে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনার এ ধারাটি এই হাদীসের রাবী কর্তৃক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
কেননা প্রকৃত বিষয়টি হলো, রাসূল (সা.) বুরাকে আরোহণ করে মক্কাহ্ থেকে বায়তুল মাকদিসে পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। তারপর বিশেষ সিঁড়িতে আরোহণ করে সেখান থেকে মি'রাজে ভ্রমণ করেন। যা এ হাদীস ছাড়া অন্যান্য হাদীস থেকে পাওয়া যায়।
(فَاسْتَفْتَحَ) অর্থাৎ (দরজা) খুলে চাইলেন। এ সম্পর্কে কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ শব্দ থেকে বুঝা যায় যে, বাস্তবেই আসমানের কিছু দরজা আছে এবং সেগুলোকে সংরক্ষণ করার জন্য ফেরেশতা (মালাক) নিয়োজিত রয়েছে।
(وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ) অর্থাৎ তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে?
এ প্রসঙ্গে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদীসের অন্য বর্ণনায় আছে, (وَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ) অর্থাৎ তাকে কি বায়তুল মাক্বদিস ভ্রমণ করানোর জন্য এবং আসমানে আরোহণ করানোর জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে? ইমাম বায়যাভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (أُرْسِلَ إِلَيْهِ) এর অর্থ হলো তাঁকে কি ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করানোর জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে?
তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম মালায়িকার (ফেরেশতাদের) উত্তর দিলে তারা আকাশের দরজা খুলে দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) ও জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর সাথে আকাশে আরোহণ করেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করার মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষদেরকেও সম্মানের দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন। মহাসম্মানজনক দর্শনের মাধ্যমে তার সম্মানিত ভাইদের থেকেও এগিয়ে গেলেন। কতই না তার সৌভাগ্য! কেমন ছিল তার জন্য তখনকার সেই সৌভাগ্যময় সময়! এটি কি কল্পনা করা যায়। যার ওপর আর কোন মর্যাদাই হতে পারে না।
কেউ কেউ বলেন, জিবরীল আলায়হিস সালাম এবং আসমানের দ্বাররক্ষী মালায়িকার মাঝে প্রশ্নোত্তর হয়েছিল। আশ্চর্য হওয়ার কারণে। কেননা এটা স্পষ্ট ব্যাপার যে, কোন মানুষ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসমানে আরোহণ করতে পারবে না এবং জিবরীল আলায়হিস সালাম-ও এমন কাউকে নিয়ে আসবেন না যাকে আল্লাহ নিয়ে আসার অনুমতি দেননি। তাহলে কতইনা সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে নিয়ে আসার জন্য স্বয়ং আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। কে সেই মহান ব্যক্তি?
(فَسَلَّمَ عَلَيْهِ) অর্থাৎ আপনি তাকে সালাম দিন। এখানে জিবরীল আলায়হিস সালাম আল্লাহর রাসূল (সা.) -কে বললেন, আপনি তাকে সালাম দিন। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) এ প্রসঙ্গে বলেন, নবীদেরকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে রাসূল (সা.) -কে আদেশ করা হয়েছে। কেননা তিনি (সা.) ছিলেন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী। এজন্য তিনি (সা.) দণ্ডায়মান ব্যক্তির হুকুমে ছিলেন। আর তারা ছিলেন উপবেশনকারী ব্যক্তিদের হুকুমে। এক্ষেত্রে শারী'আতের নিয়ম হলো দণ্ডায়মান ব্যক্তি উপবেশনকারীকে সালাম দিবে। তাই রাসূল (সা.) -কে আদেশ করা হয়েছিল তাদেরকে সালাম দিতে। যদিও মর্যাদায় রাসূল (সা.) তাদের থেকে অনেক শ্রেষ্ঠ।

(مرْحَبًا بالابن الصَّالح وَالنَّبِيّ الصَّالح) অর্থাৎ সুস্বাগতম সৎ পুত্র ও সৎ নবীকে। এ প্রসঙ্গে মিরক্বাত প্রণেতা উল্লেখ করেছেন, অনেক ব্যাখ্যাকারী বলেন, নবীগণ রাসূল (সা.) -এর জন্য শুধু (صَالِحِ) (সৎ) শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অন্য কোন শব্দযুক্ত করেননি। এর কারণ হলো ‘আরবীতে (صَالِحِ) এমন একটি গুণবাচক শব্দ যা সর্বপ্রকার ভালো বৈশিষ্ট্য ও সম্মানজনক গুণাগুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এ শব্দটি যুক্ত করে আর অন্য কোন শব্দযোগ না করলেও যথাযথ মর্যাদা প্রকাশ পায়।
আবার কেউ কেউ বলেন, (صَالِحِ)  শব্দটি এমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে ব্যক্তি আল্লাহর ও তাঁর বান্দাদের আবশ্যকীয় হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করে।
এজন্যই নবী-রাসূল (সা.)গণ এই দু'আ করলেন যে, (تَوَفَّنِىْ مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِىْ بِالصَّالِحِينَ) অর্থাৎ, আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং সৎলোক তথা সালিহীনদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
মিরক্বাত প্রণেতা আরো উল্লেখ করেন যে, রাসূল (সা.) -এর বিশেষণরূপে (صَالِحِ) শব্দটি ব্যবহার করার আরো একটি কারণ থাকতে পারে। তা হলো (صَالِحِ) শব্দটির একটি প্রতিশব্দ হলো উপযুক্ত (বাংলায়)। অতএব আল্লাহর রাসূলই যেহেতু এই মহান মর্যাদার উপযুক্ত হয়েছেন, তাই নবীগণ তাঁকে (صَالِحِ) বিশেষণ যুক্ত করে সম্বোধন করেছেন।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) শারহুল মাশারিক গ্রন্থে বলেন, নবী (সা.) যখন বিভিন্ন আকাশে নবীগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন সেই নবীগণের রূহ তাদের স্বীয় আকৃতিতে ছিল। তবে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম ব্যতীত। কারণ তিনি স্বশরীরে ছিলেন। কেননা তাঁকে স্বশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-ও এ বিষয়টি পূর্বে আলোচনা করেছেন।
তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) চতুর্থ আকাশে আরোহণ করেন তখন ইদরীস আলায়হিস সালাম -এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন ইদরীস আলায়হিস সালাম তাকে, লক্ষ্য করে বলেন, (مرْحَبًا بالابن الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ) অর্থাৎ সুস্বাগতম হে, সৎ ভাই, হে সৎ নবী।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) এই প্রসঙ্গে বলেন, ইদরীস আলায়হিস সালাম কর্তৃক রাসূল (সা.) -কে ‘ভাই' বলে সম্বোধন করাটা ঐতিহাসিকদের কথার বিপরীত হয়ে যায়। কেননা ঐতিহাসিকগণ ইদরীস আলায়হিস সালাম -কে রাসূল (সা.) -এর পূর্বপুরুষ হিসেবে গণ্য করেছেন তো এ বিষয়টির উত্তর দেয়া হয়ে থাকে এভাবে যে, তিনি রাসূল (সা.) -কে ‘ভাই' বলে সম্বোধন করেছেন আদব ও শিষ্টাচারের কারণে।
তাছাড়াও শারহুন নাবাবী গ্রন্থে বলা হয়েছে, নবীরা একে অপরের ভাই। এই হিসেবে তিনি রাসূল (সা.) - কে ভাই বলে সম্ভোধন করেছেন।

(فَلَمَّا جَاوَزت بَكَى) অর্থাৎ যখন আমি তাঁর (মূসা আলায়হিস সালাম-এর) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম তখন তিনি কাঁদলেন। এখানে মূসা আলায়হিস সালাম -এর কান্না প্রসঙ্গে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, তখন তিনি আফসোস করে কেঁদেছেন। কারণ, তিনি তাঁর উম্মতকে দীর্ঘকাল দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু তারা তাঁর দা'ওয়াত যথার্থভাবে গ্রহণ করেনি এবং পরিপূর্ণভাবে তাঁর অনুসরণ করেনি যেমন, মুহাম্মাদ (সা.) -এর উম্মত তাঁর অনুসরণ করেছে মূসা আলায়হিস সালাম -এর তুলনায় অল্পকাল দাওয়াত দেয়া সত্ত্বেও। আর এ কথাটি বুঝা যায় হাদীসের পরবর্তী এই অংশ থেকে-
قيل: مَا بيكيك؟ قَالَ: أَبْكِي لِأَنَّ غُلَامًا بُعِثَ بَعْدِي يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِهِ أَكْثَرَ مِمَّنْ يَدْخُلُهَا مِنْ أُمَّتِي
অর্থাৎ মূসা আলায়হিস সালাম -কে বলা হলো, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি উত্তরে বললেন, আমি কাঁদছি, কেননা আমার পরে একজন বালককে নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। অথচ আমার উম্মতের তুলনায় তার উম্মত অধিক পরিমাণে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
মূসা আলায়হিস সালাম -এর কাঁদার আরো একটি কারণ হতে পারে এটি যে, মুহাম্মাদ (সা.) -এর তুলনায় তার প্রতিদান কম হবে। কেননা প্রত্যেক নবী তাঁর অনুসারীদের সমপরিমাণ প্রতিদান পাবে। আর যেহেতু মুহাম্মাদ (সা.) -এর অনুসারী বেশি তাই তাঁর প্রতিদানও বেশি। আর মূসা আলায়হিস সালাম এর অনুসারী তার তুলনায় কম তাই তাঁর প্রতিদানও কম।
(فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرد السَّلَام) অর্থাৎ তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে বললেন, আপনি তাঁকে (ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -কে) সালাম দিন। তখন আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তারপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন। মিরক্বাত প্রণেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, রাসূল (সা.) যেহেতু ইহজগত থেকে বেখবর হয়ে মহান স্রষ্টার সুমহান সান্নিধ্যে বিভোর ছিলেন এবং পরজাগতিক দৃশ্য অবলোকনে ব্যস্ত ছিলেন। তাই তিনি (সা.) নিজের খেয়াল হারিয়ে ফেলেছিলেন। এজন্য জিবরীল আলায়হিস সালাম তাকে বিভিন্ন নবীগণকে সালাম দেয়ার কথা স্মরণ করে দিতেন। যেমনটি পবিত্র কুরআনের এই আয়াত (مَا زَاغَ الۡبَصَرُ وَ مَا طَغٰی) অর্থাৎ “তাঁর দৃষ্টিশক্তি বক্র হয়নি এবং সীমালঙ্ঘনও করেনি”- (সূরা আন্ নাজম ৫৩:১৭)।
 বিভিন্ন নবীকে বিভিন্ন আসমানে রাখা হয়েছিল। তাদের মর্যাদা স্তর অনুযায়ী। যেমন এই সম্পর্কে ইবনু আবূ জামরাহ বলেন, আদম আলায়হিস সালাম -কে প্রথম আকাশে রাখা হয়েছিল। কারণ তিনি হলেন প্রথম নবী ও প্রথম পিতা। দ্বিতীয় আকাশে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল। কারণ তিনি হলেন আমাদের নবীর সবচেয়ে কাছের যুগের নবী। তৃতীয় আসমানে ইউসুফ আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল। কারণ মুহাম্মাদ (সা.) -এর উম্মতগণ তাঁর আকৃতিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। চতুর্থ আসমানে ইদরীস আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি হলেন মর্যাদায় মধ্যম স্তরের। পঞ্চম আসমানে হারূন আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল। কারণ তিনি হলেন ইদরীস আলায়হিস সালাম এর নিকটবর্তী ভাই।
ষষ্ঠ আসমানে মূসা আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল। কারণ তিনি হারূন আলায়হিস সালাম থেকে মর্যাদায় উপরে।
সপ্তম আসমানে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -কে রাখা হয়েছিল। কারণ তিনি আমাদের নবী (সা.) -এর পরে সকল নবীগণ থেকে মর্যাদায় ঊর্ধ্বে।
(ثُمَّ رُفِعْتُ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى) অর্থাৎ তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় উঠানো হলো। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সিদরাতুল মুনতাহা অর্থ হলো শেষ গাছ। আর ঐ স্থানকে সিদরাতুল মুনতাহা নামকরণ করা হয়েছে। কারণ সেখানেই মালায়িকার (ফেরেশতাদের) জ্ঞান ও সীমানা শেষ হয়ে গেছে। আর  সেই স্থানটি আল্লাহর রাসূল (সা.) ব্যতীত আর কেউ অতিক্রম করতে পারেনি।

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, ঐ স্থানকে সিদরাতুল মুনতাহা নামকরণ করা হলো, কারণ আল্লাহর আদেশে যা কিছু উপর থেকে নিচে নামে এবং নিচ থেকে উপরে উঠে সবকিছুরই শেষ স্থান হলো সিদরাতুল মুনতাহা।
সুয়ুত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ স্থানকে সিদরাতুল মুনতাহা নামকরণ করা হয়েছে। কারণ সেখানেই বান্দাদের আমাল এবং সৃষ্টিকুলের জ্ঞানের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এটি রয়েছে সপ্তম আকাশে। আর তার মূল কাণ্ড হলো ষষ্ঠ আকাশে।
(نَهْرَانِ بَاطِنَانِ وَنَهْرَانِ ظَاهِرَانِ) অর্থাৎ বাত্বিনি দুটি ঝরনা এবং জাহিরী দু’টি ঝরনা। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ঝরনা দুটি হলো- ১) কাওসার, ২) নাহরে রহমাত। এ দু'টিকে বাত্বিনি বলা হয়েছে, কারণ উভয়টি জ্ঞানের বাইরের বিষয় এবং চাক্ষুষ দর্শনের আড়ালে।
শারহুন নাবাবী গ্রন্থে মুকাতিল বলেন, বাত্বিনি ঝরনা দুটি হলো- ১) সালসাবিল, ২) কাওসার। আর জাহিরী দু’টি নহর বা নদী হলো ১) নীল, ২) ফুরাত।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) নীল এবং ফুরাত নদীকে জাহিরী নদী হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাব্য তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন।
ক) উভয়টির পানি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে বের হয়ে এসেছে, কিন্তু তার পদ্ধতি অজানা।
খ) স্বাদ এবং হজম শক্তির ক্ষেত্রে জান্নাতের দু’টি নহরের সাথে এই দু'টি নদীর কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে।
গ) ফুরাত ও নীল নামে জান্নাতেও দু’টি নহর আছে।
(الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ) অর্থাৎ বায়তুল মা'মূর। এটি হলো সপ্তম আকাশে একটি ঘর যা কা'বার বরাবর উপরে আছে। আকাশে এটির মর্যাদা অনুরূপ যেরূপ জমিনবাসীদের কাছে কা'বার মর্যাদা।
(فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ) তারপর আমি দুধ নিলাম। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি জানা থাকতে হবে যে, দুধ হলো পবিত্র ও শুভ্র পানীয়। আর এর দ্বারাই সর্বপ্রথম সন্তান লালন পালন করা হয়। তাই এটিকে পবিত্র জগতে হিদায়াত এবং সঠিক স্বভাব হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে আত্মিক শক্তি পরিপূর্ণতা লাভ করবে। অন্যদিকে এটি হলো চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের জন্য প্রস্তুতি। যার প্রথম ধাপ হলো শারী'আতের অনুসরণ করা আর শেষ ধাপ হলো আল্লাহর কাছে পৌঁছে যাওয়া।
(فَرَجَعْتُ فَمَرَرْتُ عَلَى مُوسَى) অর্থাৎ তারপর আমি ফিরে গিয়ে মূসা আলায়হিস সালাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। এর মানে হলো, তিনি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -কে অতিক্রম করে মূসা আলায়হিস সালাম -এর কাছে গেলেন।
ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -কে অতিক্রম করার বিষয়ে ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনানে তিরমিযীতে উল্লেখ করেন। মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, মি'রাজের রাতে আমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমার পক্ষ থেকে তুমি তোমার উম্মতের কাছে সালাম পৌছে দিও এবং তাদেরকে জানিয়ে দিও যে, জান্নাতের ভূমি হলো উর্বরতার পানি সুমিষ্ট এবং তা খোলা মাঠের মতো পড়ে আছে। অতএব তাতে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে আর বৃক্ষ রোপণ করাটা হলো (سُبْحَانَاللهِ وَالْحَمْدُلِلَّه وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَخْبَرُ) বলা।
(قَالَ: إِنَّ أمتك لَا تستطع) অর্থাৎ তোমার উম্মত মূসা আলায়হিস সালাম এখানে বলেছেন, তোমার উম্মত সক্ষম হবে না। তিনি নবীর কথা বলেননি। কেননা নবীগণের সক্ষমতা এবং নিষ্পপতা এটিই বুঝায় যে, আল্লাহর আনুগত্য অনেক কঠিন হলেও তারা তা করতে পারবেন। কিন্তু উম্মাতের দুর্বলতা ও অলসতার কারণে তারা তা পারবে না।
মূসা আলায়হিস সালাম -এর কাছ থেকে আল্লাহর কাছে বারবার যাওয়ার মাধ্যমে মুহাম্মাদ (সা.) আমাদের জন্য সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করে নিয়ে এসেছিলেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ।
পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত থেকে কমিয়ে দেয়ার ব্যপারে আল্লাহর কাছে মুহাম্মাদ (সা.) -এর দাবী করাটা বাহ্যিকভাবে মনে হয় যে, রাসূল (সা.) আল্লাহর ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হননি। (فعوذبالله)
কিন্তু প্রকৃত বিষয় এমন নয়। কারণ আসল কথা হলো, আল্লাহর কাছে কোন কঠিন জিনিসকে সহজ করে চাওয়া, বিপদ দূর করার প্রার্থনা করা, রিযক চাওয়া, শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য দু'আ করা ইত্যাদি বিষয় আল্লাহর ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার পরিপন্থী নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬৩-[২] সাবিত আল বুনানী (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার সামনে বুরাক’ উপস্থিত করা হলো। তা শ্বেত বর্ণের লম্বা কায়াবিশিষ্ট একটি জানোয়ার, গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চর অপেক্ষা ছোট। তার দৃষ্টি যত দূর যেত সেখানে পা রাখত। আমি তাতে আরোহণ করে বায়তুল মাক্বদিসে এসে পৌছলাম এবং অন্যান্য নবীগণ যে স্থানে নিজেদের বাহন বাঁধতেন, আমিও আমার বাহনকে সেখানে বাঁধলাম। নবী (সা.) বলেন, অতঃপর বায়তুল মাকদিসের মাসজিদে প্রবেশ করে সেখানে দু’রাকআত সালাত আদায় করলাম। তারপর মাসজিদ হতে বের হলাম, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম আমার কাছে এক পাত্র মদ ও এক পাত্র দুধ নিয়ে আসলেন। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, আপনি (ইসালামরূপী) ফিত্বরাত (স্বভাব-ধর্ম ইসালাম গ্রহণ করেছেন।
অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে আকাশের দিকে নিয়ে চললেন, এর পরবর্তী অংশ সাবিত আল বুনানী (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাঃ) হতে পূর্ববর্ণিত হাদীসটির মর্মানুরূপ বর্ণনা করেছেন।
নবী (সা.) বলেন, হঠাৎ আমি আদম আলায়হিস সালাম -কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে সাদর সম্ভাষণ জানালেন এবং আমার জন্য ভালো দু’আ করলেন। নবী (সা.) এটাও বলেছেন যে, তিনি তৃতীয় আকাশের ইউসুফ আলায়হিস সালাম -এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তিনি এমন লোক যে, তাঁকে (গোটা পৃথিবীর) অর্ধেক সৌন্দর্য দান করা হয়েছে। তিনিও আমাকে সাদর অভিনন্দন জানিয়ে আমার জন্য ভালো দুআ করলেন। সাবিত (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এবং মূসা আলায়হিস সালাম এর কান্নার বিষয়টি এতে উল্লেখ নেই।
নবী (সা.) আরো বলেছেন, সপ্তম আকাশে আমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -কে দেখতে পেলাম যে, তিনি বায়তুল মা’মূরের সাথে পিঠ লাগিয়ে বসে আছেন। সে ঘরে দৈনিক সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) প্রবেশ করেন। যারা একবার বের হয়েছেন, পুনরায় তারা আর প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন না। অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে গেলেন। তার পাতাগুলো হাতির কানের মতো এবং তার ফল মটকার মতো। এরপর উক্ত গাছটি আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে এমন একটি আবৃতকারী বস্তুতে পরিবর্তিত হয় যে, আল্লাহর সৃষ্ট কোন মাখলুক যার সৌন্দর্যের কোন প্রকার বর্ণনা দিতে সক্ষম হবে না।
এরপর আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওয়াহী পাঠালেন, যা তিনি পাঠিয়েছেন এবং আমার ওপরে দৈনিক পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাত ফরয করলেন। ফেরার সময় আমি মুসা আলায়হিস সালাম -এর কাছে আসলে তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন আপনার প্রভু আপনার উম্মতের ওপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি আমাকে (পরামর্শস্বরূপ) বললেন, আপনি আপনার প্রভুর কাছে ফিরে যান এবং (সালাতের সংখ্যা) কম করার জন্য তার কাছে আবেদন করুন। কেননা আপনার উম্মত এটা দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত সম্পাদন করতে সক্ষম হবে না। আমি বানী ইসরাঈলকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি।
তিনি (সা.) বলেন, তখন আমি আমার প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে বললাম, হে আমার প্রভু! আমার উম্মাতের ওপর হতে কম করে দিন। তখন আমার ওপর হতে পাঁচ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা আলায়হিস সালাম -এর কাছে ফিরে এসে বললাম, আল্লাহ তা’আলা আমার ওপর হতে পাঁচ (ওয়াক্ত সালাত) কমিয়ে দিয়েছেন। মূসা আলায়হিস সালাম বললেন, আপনার উম্মত তা সম্পাদনেও সমর্থ হবে না। কাজেই আপনি পুনরায় আপনার প্রভুর কাছে যান এবং আরো কম করার জন্য আবেদন করুন।
নবী (সা.) বলেন, আমি এভাবে আমার প্রভু ও মূসা আলায়হিস সালাম -এর মাঝে আসা-যাওয়া করতে থাকলাম এবং বার বার সালাতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে থাকলাম। তিনি (সা.) বলেন, সর্বশেষে আমার প্রভু বললেন, হে মুহাম্মাদ! দৈনিক ফরয় তো এই পাঁচ সালাত এবং প্রত্যেক সালাতের সাওয়াব দশ সালাতের সমান। ফলে এটা (পাঁচ ওয়াক্ত) পঞ্চাশ সালাতের সমান। যে লোক কোন একটি ভালো কাজ করার সংকল্প করবে, কিন্তু তা সম্পাদন করেনি, তার
জন্য একটি পুণ্য লেখা হবে এবং সে কাজটি সম্পাদন করলে তার জন্য দশটি পুণ্য লেখা হবে। আর যে লোক কোন একটি খারাপ কাজ করার সংকল্প করে তা বাস্তবায়ন না করে, তার জন্য কিছুই লেখা হবে না। অবশ্য যদি সে উক্ত কাজটি বাস্তবায়ন করে, তবে তার জন্য একটি গুনাহই লেখা হবে।
তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর আমি অবতরণ করে যখন মূসা আলায়হিস সালাম -এর নিকট পৌছলাম, তখন তাঁকে পূর্ণ বিবরণ জানালাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আবারও আপনার প্রভুর কাছে যান এবং আরো কিছু কমিয়ে দেয়ার জন্য। অনুরোধ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি বললাম, আমি আমার প্রভুর কাছে বার বার গিয়েছি। এখন পুনরায় যেতে আমার লজ্জাবোধ হচ্ছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

وَعَن ثابتٍ البُنانيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُتيتُ بالبُراق وَهُوَ دابَّة أَبْيَضُ طَوِيلٌ فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ الْبَغْلِ يَقَعُ حَافِرُهُ عِنْدَ مُنْتَهَى طَرْفِهِ فَرَكِبْتُهُ حَتَّى أَتَيْتُ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَرَبَطْتُهُ بِالْحَلْقَةِ الَّتِي تَرْبُطُ بِهَا الْأَنْبِيَاءُ» . قَالَ: ثُمَّ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَصَلَّيْتُ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ خرجتُ فَجَاءَنِي جِبْرِيلُ بِإِنَاءٍ مِنْ خَمْرٍ وَإِنَاءٍ مِنْ لبن فاختَرتُ اللَّبن فَقَالَ جِبْرِيل: اخْتَرْتَ الْفِطْرَةَ ثُمَّ عَرَجَ بِنَا إِلَى السَّمَاءِ . وَسَاقَ مِثْلَ مَعْنَاهُ قَالَ: «فَإِذَا أَنَا بِآدَمَ فرحَّبَ بِي وَدَعَا لِي بِخَيْرٍ» . وَقَالَ فِي السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ: «فَإِذا أَنا بِيُوسُف إِذا أُعْطِيَ شَطْرَ الْحُسْنِ فَرَحَّبَ بِي وَدَعَا لِي بِخَيْرٍ» . وَلَمْ يَذْكُرْ بُكَاءَ مُوسَى وَقَالَ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ: فَإِذَا أَنَا بِإِبْرَاهِيمَ مُسْنِدًا ظَهْرَهُ إِلَى الْبَيْتِ الْمَعْمُورِ وَإِذَا هُوَ يَدْخُلُهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ لَا يَعُودُونَ إِلَيْهِ ثمَّ ذهب بِي إِلَى سِدْرَة الْمُنْتَهى فَإِذا وَرقهَا كآذان الفيلة وَإِذا ثمارها كَالْقِلَالِ فَلَمَّا غَشِيَهَا مِنْ أَمْرِ اللَّهِ مَا غَشَّى تَغَيَّرَتْ فَمَا أَحَدٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَنْعَتَهَا مِنْ حُسْنِهَا وَأَوْحَى إِلَيَّ مَا أوحى فَفرض عَليّ خمسين صَلَاة كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَنَزَلْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ: مَا فَرَضَ رَبُّكَ عَلَى أُمَّتِكَ؟ قُلْتُ: خَمْسِينَ صَلَاة كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ. قَالَ: ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ فَإِنِّي بَلَوْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَخَبَرْتُهُمْ. قَالَ: فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي فَقُلْتُ: يَا رَبِّ خَفِّفْ عَلَى أُمَّتِي فَحَطَّ عَنِّي خَمْسًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقُلْتُ: حَطَّ عَنِّي خَمْسًا. قَالَ: إِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ . قَالَ: فَلَمْ أَزَلْ أَرْجِعُ بَيْنَ رَبِّي وَبَيْنَ مُوسَى حَتَّى قَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّهُنَّ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لِكُلِّ صَلَاةٍ عَشْرٌ فَذَلِكَ خَمْسُونَ صَلَاةً مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرًا وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا لَمْ تُكْتَبْ لَهُ شَيْئًا فَإِنَّ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً . قَالَ: فَنَزَلْتُ حَتَّى انتهيتُ إِلى مُوسَى فَأَخْبَرته فَقَالَ: ارجعْ إِلى رَبِّكَ فَسَلْهُ التَّخْفِيفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَقُلْتُ: قَدْ رَجَعْتُ إِلَى رَبِّي حَتَّى استحييت مِنْهُ . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (259 / 162)، (411) ۔
(صَحِيح)

وعن ثابت البناني عن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اتيت بالبراق وهو دابة ابيض طويل فوق الحمار ودون البغل يقع حافره عند منتهى طرفه فركبته حتى اتيت بيت المقدس فربطته بالحلقة التي تربط بها الانبياء» . قال: ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين ثم خرجت فجاءني جبريل باناء من خمر واناء من لبن فاخترت اللبن فقال جبريل: اخترت الفطرة ثم عرج بنا الى السماء . وساق مثل معناه قال: «فاذا انا بادم فرحب بي ودعا لي بخير» . وقال في السماء الثالثة: «فاذا انا بيوسف اذا اعطي شطر الحسن فرحب بي ودعا لي بخير» . ولم يذكر بكاء موسى وقال في السماء السابعة: فاذا انا بابراهيم مسندا ظهره الى البيت المعمور واذا هو يدخله كل يوم سبعون الف ملك لا يعودون اليه ثم ذهب بي الى سدرة المنتهى فاذا ورقها كاذان الفيلة واذا ثمارها كالقلال فلما غشيها من امر الله ما غشى تغيرت فما احد من خلق الله يستطيع ان ينعتها من حسنها واوحى الي ما اوحى ففرض علي خمسين صلاة كل يوم وليلة فنزلت الى موسى فقال: ما فرض ربك على امتك؟ قلت: خمسين صلاة كل يوم وليلة. قال: ارجع الى ربك فسله التخفيف فان امتك لا تطيق ذلك فاني بلوت بني اسراىيل وخبرتهم. قال: فرجعت الى ربي فقلت: يا رب خفف على امتي فحط عني خمسا فرجعت الى موسى فقلت: حط عني خمسا. قال: ان امتك لا تطيق ذلك فارجع الى ربك فسله التخفيف . قال: فلم ازل ارجع بين ربي وبين موسى حتى قال: يا محمد انهن خمس صلوات كل يوم وليلة لكل صلاة عشر فذلك خمسون صلاة من هم بحسنة فلم يعملها كتبت له حسنة فان عملها كتبت له عشرا ومن هم بسيىة فلم يعملها لم تكتب له شيىا فان عملها كتبت له سيىة واحدة . قال: فنزلت حتى انتهيت الى موسى فاخبرته فقال: ارجع الى ربك فسله التخفيف فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فقلت: قد رجعت الى ربي حتى استحييت منه . رواه مسلم رواہ مسلم (259 / 162)، (411) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর ইসরা ও মি'রাজ সম্পর্কে লোকেরা মতভেদ করেছে। কেউ বলেন, তার ইসরা ও মি'রাজ হয়েছিল স্বপ্নযোগে। আবার কেউ বলেন, তা হয়েছিল স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। এক্ষেত্রে সঠিক কথা হলো রাসূল (সা.) -এর মি'রাজ স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায় হয়েছে। আর এটিকেই গ্রহণ করেছেন অধিকাংশ লোক, বেশিরভাগ সালাফগণ এবং পরবর্তী অনেক ফাক্বীহ ও মুহাদ্দিসগণ। তাছাড়াও বিভিন্ন চিহ্ন ও নিদর্শনও প্রমাণ করে যে, তার মি'রাজ স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায় হয়েছে। অতএব কোন দলীল ছাড়া এই বিষয়টি থেকে ফিরে অন্যদিকে যাওয়া যাবে না। যদিও শারীক-এর একটি বর্ণনায় এ ব্যপারে ভিন্ন মত এসেছে। কিন্তু সেটি খুবই দুর্বল। 'আলিমগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, শারীক বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আগে পরে করা সহ অনেক কম-বেশিও করেছেন। অতএব, তার বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য নয়।
(فَرَبَطْتُهُ بِالْحَلْقَةِ الَّتِي تَرْبُطُ بِهَا الْأَنْبِيَاءُ) অর্থাৎ তারপর আমি সেই গোল বৃত্তের সাথে বাহনটি বেঁধে রাখলাম, যার সাথে নবীগণ বেঁধে রাখতেন। এ বিষয়ে শারহুন নাবাবী গ্রন্থকার বলেন, হাদীসের এই অংশ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সতর্কতামূলক কোন উপকরণ গ্রহণ করা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। যদি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা থাকে।
(اخْتَرْتَ الْفِطْرَةَ) অর্থাৎ আপনি প্রকৃত ফিত্বরাত গ্রহণ করেছেন। এখানে ফিত্বরাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসালাম ও অবিচলতা।
(فَقِيلَ لَهُ مَنْ أَنْتَ قَالَ جِبْرِيلُ قِيلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ) অর্থাৎ তারপর বলা হলো, কে তুমি? উত্তরে তিনি বললেন, জিবরীল। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, কে তোমার সাথে? তিনি উত্তরে বললেন, মুহাম্মাদ। হাদীসের এ অংশে মানবকুলকে আদব শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যে, কেউ যদি দরজা ধাক্কা দিয়ে অনুমতি চায় আর তাকে জিজ্ঞেস করা হয় ‘কে’? তাহলে অবশ্যই যেন সে তার নাম বলে। শুধু যেন ‘আমি’ না বলে। কেননা এতে তেমন কোন পরিচয় জানা যায় না। তাছাড়া হাদীসেও শুধু ‘আমি’ বলতে নিষেধ করা হয়েছে। (শারহুন্ নাবাবী হা, ২/১৬২)।
(إِذا أُعْطِيَ شَطْرَ الْحُسْنِ) অর্থাৎ তাকে অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছে। মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইউসুফ আলায়হিস সালাম-কে অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছে। এ কথার তিনটি ব্যাখ্যা হতে পারে।
১) তাঁকে সর্বপ্রকার সৌন্দর্যের অর্ধেক দেয়া হয়েছিল। ২) তাঁকে তাঁর যুগের সকল লোকেদের অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছিল। ৩) তাঁকে কিছু সৌন্দর্য দেয়া হয়েছিল। তখন (شَطْرَ) শব্দটি (بعض) (কিছু) অর্থে ব্যবহৃত হবে।
গ্রহণযোগ্য অনেক ‘আলিমগণ বলেন, আমাদের রাসূল (সা.) মুহাম্মাদ (সা.) ইউসুফ আলায়হিস সালাম-এর থেকে বেশি সুন্দর ছিলেন।
এ ব্যাপারে অনেক মুহাক্কিক ‘আলিম বলেন, আমাদের রাসূল (সা.) -এর বাহ্যিক অনেক সৌন্দর্যকে সাহাবীদের থেকে গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু ইউসুফ আলায়হিস সালাম-এর বাহ্যিক কোন সৌন্দর্য গোপন রাখা হয়নি।
(مَا أَحَدٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَنْعَتَهَا مِنْ حُسْنِهَا) অর্থাৎ সৃষ্টিকুলের এমন কেউ নেই যে, তার সৌন্দর্য বর্ণনা করতে পারে। কারণ তার মহত্ব ও সৌন্দর্যের পরিপূর্ণতা এতই যে, সৃষ্টিকুলের কেউ তা বলে বুঝাতে পারবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬৪-[৩] ইবনু শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি মক্কায় থাকাকালীন এক রাত্রে আমার ঘরের ছাদ বিদীর্ণ করা হলো এবং জিবরীল আলায়হিস সালাম অবতরণ করলেন, এরপর আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। তারপর তাকে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। অতঃপর জ্ঞান ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণ-পাত্র এনে তা বুকের মধ্যে ঢেলে বেদিলেন। তারপর তাকে বন্ধ করে দিলেন।
অতঃপর তিনি (জিবরীল আলায়হিস সালাম) আমার হাত ধরে আমাকে আকাশের দিকে নিয়ে গেলেন। যখন আমি নিকটবর্তী আকাশে উপনীত হলাম, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম আসমানের দ্বার রক্ষীকে বললেন, দরজা খোল। সে বলল, (আপনি) কে? তিনি বললেন, জিবরীল। সে বলল, আপনার সাথে আর কেউ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার সাথে মুহাম্মাদ (সা.)। সে বলল, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর যখন সে দরজা খুলল, তখন আমরা নিকটবর্তী আকাশে আরোহণ করে দেখলাম, সেখানে এক লোক বসে আছেন, তার ডানপার্শ্বে বহু মানবাকৃতি এবং তার বামপার্শ্বেও অনেক মানবাকৃতি। তিনি ডানদিকে তাকালে হাসেন এবং যখন বামদিকে তাকান, তখন কাঁদেন। তিনি বললেন, খোশ আমদেদ, হে সৎ নবী (সা.)! হে পুণ্যবান সন্তান। আমি জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে প্রশ্ন করলাম, ইনি কে? বললেন, ইনি আদম আলায়হিস সালাম ডানে ও বামে এগুলো তাঁর সন্তানের আত্মাসমূহ। ডানদিকে এগুলো জান্নাতী এবং বামদিকের এগুলো জাহান্নামী। এজন্য তিনি যখন ডানদিকে তাকান, তখন হাসেন এবং যখন বামদিকে তাকান, তখন কাঁদেন।
অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশের দিকে উঠলেন এবং দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খোল। তখন সে প্রথম দ্বাররক্ষীর মতো প্রশ্ন করল (তারপর দরজা খুলল)।  আনাস (রাঃ) বলেন, বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, নবী (সা.) আকাসসমূহে আদম, ইদরীস, মূসা, ঈসা এবং ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে পেয়েছেন; কিন্তু তিনি (আবূ যার) তাদের অবস্থানের কথা নির্দিষ্টভাবে বলেননি। শুধু এটুকু বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) আদম আলায়হিস সালাম-কে নিকটবর্তী আকাশে এবং ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে ষষ্ঠ আকাশে পেয়েছেন।
ইবনু শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু হাযম প্রথম আমাকে বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বাহ আল আনসারী একান্ত তারা উভয়ে বলতেন, নবী (সা.) বলেছেন: অতঃপর আমাকে ঊর্ধ্বলোকে নিয়ে যাওয়া হলো এবং আমি এক সমতল স্থানে পৌছলাম। সেখানে আমি কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবনু হাযম ও আনাস বা বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: তখন মহান আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ওপর পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাত ফরয করলেন। আমি তা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করলাম। যখন মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে পৌছলাম, তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনার উম্মতের ওপর আল্লাহ তা’আলা কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেন, আপনার প্রভুর কাছে ফিরে যান। কেননা আপনার উম্মত সক্ষম হবে না। অতঃপর মূসা আলায়হিস সালাম আমাকে ফেরত পাঠালেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা কিছু অংশ কম করে দিলেন। অতঃপর আমি আবার মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে ফিরে এসে বললাম, কিছু সালাত কম করে দিয়েছেন। তিনি পুনরায় বললেন, আবারও যান। কেননা আপনার উম্মত এটাও আদায় করতে সক্ষম হবে না। অতএব আমি আবারও আমার রবের কাছে ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা’আলা আবার কিছু মাফ করে দিলেন। আমি আবার মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আবার যান। আরো কিছু সালাত কম করিয়ে আনেন। কেননা আপনার উম্মত এটাও আদায় করতে সক্ষম হবে না। অতএব আমি আবার আমার প্রভুর কাছে গেলাম। এবার আল্লাহ তা’আলা বললেন, এই পাঁচ সালাতই ফরয, আর তা (সাওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ সালাতের সমান। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। অতঃপর আমি মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আবারও আপনি আপনার রবের কাছে যান।
এবার আমি বললাম, পুনরায় আমার প্রভুর কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং ’সিদরাতুল মুনতাহা’য় পৌছলেন। উক্ত গাছটিকে বিভিন্ন বর্ণ ঢেকে ফেলল। প্রকৃতপক্ষে সেটা কি, তা আমি জানি না। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। দেখতে পেলাম তাতে মুক্তার গম্বুজসমূহ এবং তার মাটি মিশকের। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

وَعَن ابْن شهَاب عَن أنسٍ قَالَ: كَانَ أَبُو ذَرٍّ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فُرِجَ عني سقفُ بَيْتِي وَأَنا بِمَكَّة فَنزل جِبْرِيل فَفَرَجَ صَدْرِي ثُمَّ غَسَلَهُ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِئٌ حِكْمَةً وَإِيمَانًا فَأَفْرَغَهُ فِي صَدْرِي ثُمَّ أَطْبَقَهُ ثُمَّ أَخَذَ بيَدي فعرج بِي إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا. قَالَ جِبْرِيلُ لِخَازِنِ السَّمَاءِ: افْتَحْ. قَالَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ جِبْرِيلُ. قَالَ: هَل مَعَك أحد؟ قَالَ: نعم معي مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ: أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ فَلَمَّا فَتَحَ عَلَوْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا إِذَا رَجُلٌ قَاعِدٌ عَلَى يَمِينِهِ أَسْوِدَةٌ وَعَلَى يَسَارِهِ أَسْوِدَةٌ إِذَا نَظَرَ قِبَلَ يَمِينِهِ ضَحِكَ وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ شَمَالِهِ بَكَى فَقَالَ مَرْحَبًا بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالِابْنِ الصَّالِحِ. قُلْتُ لِجِبْرِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: هَذَا آدَمُ وَهَذِهِ الْأَسْوِدَةُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ نَسَمُ بَنِيهِ فَأَهْلُ الْيَمين مِنْهُم أهل الْجنَّة والأسودة عَن شِمَاله أهلُ النَّار فَإِذا نظر عَن يَمِينِهِ ضَحِكَ وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ شَمَالِهِ بَكَى حَتَّى عَرَجَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ فَقَالَ لِخَازِنِهَا: افْتَحْ فَقَالَ لَهُ خَازِنُهَا مِثْلَ مَا قَالَ الْأَوَّلُ قَالَ أَنَسٌ: فَذَكَرَ أَنَّهُ وَجَدَ فِي السَّمَاوَاتِ آدَمَ وَإِدْرِيسَ وَمُوسَى وَعِيسَى وَإِبْرَاهِيمَ وَلَمْ يُثْبِتْ كَيْفَ مَنَازِلُهُمْ غَيْرَ أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ وَجَدَ آدَمَ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَإِبْرَاهِيمَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ. قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: فَأَخْبَرَنِي ابْنُ حَزْمٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا حَبَّةَ الْأَنْصَارِيَّ كَانَا يَقُولَانِ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «ثمَّ عرج بِي حَتَّى وصلت لِمُسْتَوًى أَسْمَعُ فِيهِ صَرِيفَ الْأَقْلَامِ» وَقَالَ ابْنُ حَزْمٍ وَأَنَسٌ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَفَرَضَ اللَّهُ عَلَى أُمَّتِي خَمْسِينَ صَلَاةً فَرَجَعْتُ بِذَلِكَ حَتَّى مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى. فَقَالَ: مَا فَرْضُ اللَّهِ لَكَ عَلَى أُمَّتِكَ؟ قُلْتُ: فَرَضَ خَمْسِينَ صَلَاةً. قَالَ: فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَإِن أُمَّتكَ لَا تطِيق فراجعت فَوَضَعَ شَطْرَهَا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقُلْتُ: وَضَعَ شَطْرَهَا فَقَالَ: رَاجِعْ رَبَّكَ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ فَرَجَعْتُ فَرَاجَعْتُ فَوَضَعَ شَطْرَهَا فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ فَرَاجَعْتُهُ فَقَالَ: هِيَ خَمْسٌ وَهِيَ خَمْسُونَ لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ: رَاجِعْ رَبَّكَ. فَقُلْتُ: اسْتَحْيَيْتُ مِنْ رَبِّي ثُمَّ انْطُلِقَ بِي حَتَّى انْتُهِيَ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَغَشِيَهَا أَلْوَانٌ لَا أَدْرِي مَا هِيَ؟ ثُمَّ أُدْخِلْتُ الْجَنَّةَ فَإِذَا فِيهَا جَنَابِذُ اللُّؤْلُؤِ وَإِذَا تُرَابُهَا الْمِسْكُ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (349) و مسلم (263 / 163)، (415) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ابن شهاب عن انس قال: كان ابو ذر يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فرج عني سقف بيتي وانا بمكة فنزل جبريل ففرج صدري ثم غسله بماء زمزم ثم جاء بطست من ذهب ممتلى حكمة وايمانا فافرغه في صدري ثم اطبقه ثم اخذ بيدي فعرج بي الى السماء الدنيا. قال جبريل لخازن السماء: افتح. قال: من هذا؟ قال جبريل. قال: هل معك احد؟ قال: نعم معي محمد صلى الله عليه وسلم. فقال: ارسل اليه؟ قال: نعم فلما فتح علونا السماء الدنيا اذا رجل قاعد على يمينه اسودة وعلى يساره اسودة اذا نظر قبل يمينه ضحك واذا نظر قبل شماله بكى فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح. قلت لجبريل: من هذا؟ قال: هذا ادم وهذه الاسودة عن يمينه وعن شماله نسم بنيه فاهل اليمين منهم اهل الجنة والاسودة عن شماله اهل النار فاذا نظر عن يمينه ضحك واذا نظر قبل شماله بكى حتى عرج بي الى السماء الثانية فقال لخازنها: افتح فقال له خازنها مثل ما قال الاول قال انس: فذكر انه وجد في السماوات ادم وادريس وموسى وعيسى وابراهيم ولم يثبت كيف منازلهم غير انه ذكر انه وجد ادم في السماء الدنيا وابراهيم في السماء السادسة. قال ابن شهاب: فاخبرني ابن حزم ان ابن عباس وابا حبة الانصاري كانا يقولان. قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ثم عرج بي حتى وصلت لمستوى اسمع فيه صريف الاقلام» وقال ابن حزم وانس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ففرض الله على امتي خمسين صلاة فرجعت بذلك حتى مررت على موسى. فقال: ما فرض الله لك على امتك؟ قلت: فرض خمسين صلاة. قال: فارجع الى ربك فان امتك لا تطيق فراجعت فوضع شطرها فرجعت الى موسى فقلت: وضع شطرها فقال: راجع ربك فان امتك لا تطيق ذلك فرجعت فراجعت فوضع شطرها فرجعت اليه فقال: ارجع الى ربك فان امتك لا تطيق ذلك فراجعته فقال: هي خمس وهي خمسون لا يبدل القول لدي فرجعت الى موسى فقال: راجع ربك. فقلت: استحييت من ربي ثم انطلق بي حتى انتهي الى سدرة المنتهى وغشيها الوان لا ادري ما هي؟ ثم ادخلت الجنة فاذا فيها جنابذ اللولو واذا ترابها المسك . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (349) و مسلم (263 / 163)، (415) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِئٌ حِكْمَةً وَإِيمَانًا) অর্থাৎ তারপর তিনি ঈমান ও হিকমাতে পূর্ণ একটি পেয়ালা আনলেন। এ প্রসঙ্গে শারহুন নাবাবী গ্রন্থে বলা হয়েছে, ঐ পাত্রে এমন কিছু ছিল যার মাধ্যমে ঈমান ও হিকমাতের পূর্ণতা লাভ করে এবং বৃদ্ধি সাধিত হয়। আর সেই জিনিসকেই ঈমান ও হিকমাহ্ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
(إِذَا رَجُلٌ قَاعِدٌ عَلَى يَمِينِهِ أَسْوِدَةٌ) অর্থাৎ তখন দেখি একজন ব্যক্তি, যার ডানপাশে একটি দল রয়েছে। এখানে (أَسْوِدَةٌ) শব্দের বিভিন্ন অর্থ হতে পারে। যেমন আদম সন্তান, ব্যক্তি, দল ইত্যাদি। খত্ত্বাবী এবং আরো অনেকে বলেন, এই (أَسْوِدَةٌ) শব্দ দ্বারা হাদীসে উদ্দেশ্য হলো আদম সন্তানদের আত্মা।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সা.) আদম আলায়হিস সালাম এবং তাঁর জান্নাত ও জাহান্নামী সন্তানদের প্রথম আকাশে পেলেন। অথচ তাদের থাকার কথা ছিল সিজ্জীনে অথবা সপ্তম জমিনে বা তার নিচে থাকে। আর মু'মিনদের আত্মা থাকার কথা ছিল ইল্লিয়্যিনে। তাহলে আদম আলায়হিস সালাম-সহ তাঁর সন্তানদের কিভাবে রাসূল (সা.) প্রথম আকাশে পেলেন? এর উত্তর বিভিন্নভাবে দেয়া হয়ে থাকে, যেমন কখনো কখনো আদম আলায়হিস সালাম-এর সন্তানদেরকে তার কাছে পেশ করা হয়। আর সেই পেশ করার সময়টি রাসূল (সা.)-এর আদম আলায়হিস সালাম-কে অতিক্রম করার সময়ের সাথে মিলে গিয়েছিল। তাই তিনি আদম সন্তানদের আত্মাগুলোকে তার দুইপাশে পেয়েছেন। সম্ভবত এটিও হতে পারে যে, আদম আলায়হিস সালাম-এর ডান পাশে ছিল জান্নাত এবং বাম পাশে ছিল জাহান্নাম। তাই তিনি যখন জাহান্নামবাসীদের দিকে তাকাতেন তখন কাঁদতেন। তবে প্রকৃত বিষয়ে আল্লাহই অধিক অবগত।

(وَجَدَ إِبْرَاهِيمَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ) অর্থাৎ তিনি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে ষষ্ঠ আকাশে পেলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে সপ্তম আকশে পেলেন। এখানে উক্ত বিষয় দুটির মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
উভয় বিষয়ের সমন্বয় সাধনে শারহুন নাবাবী গ্রন্থকার বলেন, যদি রাসূল (সা.) -এর মি'রাজ দু’বার হয়ে থাকে তাহলে তিনি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে প্রথমবার পেয়েছিলেন সপ্তম আকাশে আর দ্বিতীয়বার পেয়েছিলেন ষষ্ঠ আকাশে। আর যদি তার মি'রাজ একবারই হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি এমন হতে পারে যে, রাসূল (সা.) ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে ষষ্ঠ আকাশে পেয়েছিলেন। তারপর তার সাথে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-ও সপ্তম আকাশে গিয়েছিলেন। তবে এখানে মিরকাত প্রণেতা বলেন, 'রাসূল (সা.) ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে সপ্তম আকাশে পেয়েছিলেন এ কথাটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ তার বর্ণনাটি হলো বেশি শক্তিশালী। তবে প্রকৃত বিষয়ে আল্লাহই অধিক অবগত। (শারহুন নাবাবী ২/২৬৩)

(صَرِيفَ الْأَقْلَامِ) অর্থাৎ কলমের খচখচে আওয়াজ। এর অর্থ সম্পর্কে ব্যাখ্যাকারদের মাঝে মতানৈক্য আছে। যেমন- খত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (صَرِيفَ)-এর অর্থ হলো উত্তোলন যন্ত্র। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো সমান জায়গা। আবার কেউ কেউ বলেন, মালাক (ফেরেশতা) কর্তৃক আল্লাহ ফায়সালা লিখে রাখার আওয়াজ।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত-এর দলীল এ বিষয়ে যে, ওয়াহী এবং সকল তাকদীরের বিষয় আল্লাহর কাছে লিপিবদ্ধ আছে। যার প্রকৃতরূপ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।
(وَإِذَا تُرَابُهَا الْمِسْكُ) জান্নাতের মাটি মিসকে আম্বরের মতো সুগন্ধিযুক্ত। এটি হলো সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি। হাদীসে এসেছে, জান্নাতের সুঘ্রাণ পাঁচশত বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬৫-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে ভ্রমণ করানো হয়, তাঁকে সিদরাতুল মুনতাহায় পৌছানো হয়েছে। আর তা ষষ্ঠ আকাশে অবস্থিত। (সিদরাতুল মুনতাহা হলো) ভূপৃষ্ঠ হতে যা সেখান হতে কোন মাধ্যম ছাড়া তা উপরে উঠিয়ে নেয়া হয়। আর উর্ধ্বজগত হতে যা কিছু অবতরণ করা হয়, তা সে স্থান পর্যন্ত পৌছে এবং তথা হতে গ্রহণ করা হয় (অর্থাৎ ফেরেশতাগণ নিয়ে যান)। এরপর ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) কুরআন মাজীদের এ আয়াতটি পাঠ করলেন- (اِذۡ یَغۡشَی السِّدۡرَۃَ مَا یَغۡشٰی) “যখন বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার ছিল তা দ্বারা আচ্ছাদিত হয়”- (সূরাহ আন্ নাজম ৫৩ : ১৬)। (এর ব্যাখ্যায়) তিনি বললেন, এগুলো ছিল স্বর্ণের পতঙ্গ। অতঃপর ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিরাজের রাত্রে তিনটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে।
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। ২. সূরাহ আল বাক্বারার শেষ কয়েকটি আয়াত এবং ৩. নবী (সা.) -এর উম্মতের মধ্য হতে যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি, তাদের ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

وَعَن عبدِ الله قَالَ: لَمَّا أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْتُهِيَ بِهِ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَهِيَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ إِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُعْرَجُ بِهِ مِنَ الْأَرْضِ فَيُقْبَضُ مِنْهَا وَإِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُهْبَطُ بِهِ مِنْ فَوْقِهَا فَيُقْبَضُ مِنْهَا قَالَ: [إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى] . قَالَ: فِرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ: فَأُعْطِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا: أُعْطِيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأُعْطِيَ خَوَاتِيمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لمن لَا يشرِكُ باللَّهِ من أمته شَيْئا الْمُقْحمَات. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (279 / 173)، (431) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله قال: لما اسري برسول الله صلى الله عليه وسلم انتهي به الى سدرة المنتهى وهي في السماء السادسة اليها ينتهي ما يعرج به من الارض فيقبض منها واليها ينتهي ما يهبط به من فوقها فيقبض منها قال: [اذ يغشى السدرة ما يغشى] . قال: فراش من ذهب قال: فاعطي رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثا: اعطي الصلوات الخمس واعطي خواتيم سورة البقرة وغفر لمن لا يشرك بالله من امته شيىا المقحمات. رواه مسلم رواہ مسلم (279 / 173)، (431) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَهِيَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ) অর্থাৎ তা (সিদরাতুল মুনতাহা ছিল) ষষ্ঠ আকাশে অন্যান্য হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিদরাতুল মুনতাহা আছে সপ্তম আকাশে। এক্ষেত্রে হাদীসের মাঝে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, অধিকাংশ রাবীদের মতে সঠিক কথা হলো, সিদরাতুল মুনতাহা সপ্তম আকাশে আছে।
তাছাড়াও আরো একটি বিষয় হলো যে, (سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى) অর্থ শেষ সীমানার বড়ই গাছ। যেহেতু এটি একটি শেষ জায়গা এবং সেখানে এসেই থেমে যায়, যা কিছু উপর থেকে নাযিল হয় ও নিচু থেকে উপরে উঠে। তাই শেষ জায়গা হিসেবে তার অবস্থান সপ্তম আকাশে হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ)-ও জামিউল উসূলে এই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, উভয় হাদীসের মাঝে এভাবেও সমন্বয় করা যায় যে, সিদরাতুল মুনতাহার মূল শিকড়টি হলো ষষ্ঠ আকাশে আর তার বেশিরভাগ অংশই হলো সপ্তম আকাশে।
খলীল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সিদরাতুল মুনতাহা রয়েছে সপ্তম আকাশে যা আসমানসমূহ ও জান্নাতকে ছায়াদান করেছে। কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দুনিয়ার বাহ্যিক দুটি নহর তথা নীল ও ফুরাত, এই দুটি বের হয়েছে সিদরাতুল মুনতাহা থেকে। যেহেতু এই নহর (নদী) দুটি পৃথিবীতে রয়েছে। তাই এখান থেকে বুঝা যায় যে, সিদরাতুল মুনতাহাও পৃথিবীতে রয়েছে। অতএব এই অর্থ যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে সিদরাতুল মুনতাহার সপ্তম আকাশে থাকার পাশাপাশি আরো অন্যান্য আকাশেও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
(يَنْتَهِي مَا يُعْرَجُ بِهِ مِنَ الْأَرْضِ) অর্থাৎ জমিন থেকে যা উপরে উঠে তা সেখানে গিয়েই থেমে যায়। যা উপরে উঠে এর ব্যাখ্যায় মিরকাত প্রণেতা বলেন, যে সকল 'আমল ও আত্মাগুলো জমিন থেকে উপরে উঠে সেগুলোই এখানে উদ্দেশ্য।
(وَإِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُهْبَطُ بِهِ مِنْ فَوْقِهَا) অর্থাৎ সেখানেই থেমে যায় যা কিছু উপর থেকে নেমে আসে। যা কিছু উপর থেকে নেমে আসে এর ব্যাখ্যায় মিরক্বাত প্রণেতা বলেন যে, ওয়াহী এবং আসমানী বিধান উপর থেকে নিচে নেমে আসে সেগুলোই এখানে উদ্দেশ্য।
(وَغُفِرَ لمن لَا يشرِكُ باللَّهِ من أمته شَيْئا الْمُقْحمَات) অর্থাৎ ঐ ব্যক্তিকে মাফ করে দেয়া হবে যে, তাঁর উম্মাতের মধ্য হতে আল্লাহর সাথে কোন বড় ধরনের শিরক করবে না। এর ব্যাখ্যায় মিরকাত প্রণেতা বলেন, যে ব্যক্তি এমন বড় গুনাহ করবে না, যা তাকে একেবারে জাহান্নামে নিয়ে গিয়েই ছাড়বে। যদি না আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দেন।
ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। যেমন, মুশরিকরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।
এখানে এটি উদ্দেশ্য নয় যে, তাঁর উম্মতকে একেবারেই শাস্তি দেয়া হবে না। কেননা শারী'আতের বিভিন্ন দলীল থেকে এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইজমা’র মাধ্যমে জানা যায় যে, একত্বতায় বিশ্বাসী অনেক নাফরমানকে শাস্তি দেয়া হবে। অতএব তারা যদি একত্বতায় বিশ্বাস করার পরেও নাফরমানী করে তাহলে তাদেরকেও জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু তারা মুশরিকদের মতো চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬৬-[৫] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি নিজেকে কা’বাহ্ গৃহের হাত্বীমে দণ্ডায়মান দেখলাম। আর কুরায়শের লোকেরা আমাকে আমার মি’রাজের ঘটনাবলী সম্পর্কে প্রশ্ন করছিল। তারা আমাকে বায়তুল মাক্বদিস সম্পর্কে এমন কিছু প্রশ্ন করল, আমার স্মরণে ছিল না। ফলে আমি এমন চঞ্চল হয়ে পড়লাম যে, এর পূর্বে অনুরূপ চঞ্চল আর কখনো হয়নি। তখন আল্লাহ তা’আলা বায়তুল মাকদিসকে আমার সামনে উপস্থিত করে দিলেন, ফলে আমি তার দিকে চেয়ে রইলাম এবং তারা যে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করত, আমি তা দেখে উত্তর দিতে থাকলাম। আর আমি (মি’রাজের রাতে) নিজেকে নবীদের এক দলের মাঝে দেখতে পেলাম। তখন দেখি মূসা আলায়হিস সালাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। তিনি একজন মধ্যম গঠনের সামান্য লম্বা, মনে হলো যেন (ইয়ামান দেশের) শানুয়াহ্ সম্প্রদায়ের লোক। আর ’ঈসা আলায়হিস সালাম দাড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। লোকেদের মধ্যে উরওয়াহ ইবনু মাসউদ আস্ সাক্বাফী হলেন তার অধিক সদৃশ। আবার ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কেও দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখলাম। লোকেদের মধ্যে তার সদৃশ তোমাদের সঙ্গীসদৃশ অর্থাৎ- (রাসূল (সা.) সা.) নিজেরই সদৃশ। অতঃপর সালাতের সময় হলে আমিই সালাতে তাদের ইমামতি করলাম, যখন আমি সালাত শেষ করলাম তখন কেউ আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! ইনি হলেন জাহান্নামের দ্বাররক্ষী মালিক, তাঁকে সালাম করুন। নবী (সা.) বলেন, আমি তার দিকে ফিরে তাকাতেই তিনিই আমাকে আগে সালাম দিলেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَقُرَيْشٌ تَسْأَلُنِي عَنْ مَسْرَايَ فَسَأَلَتْنِي عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لَمْ أُثْبِتْهَا فَكُرِبْتُ كَرْبًا مَا كُرِبْتُ مِثْلَهُ فَرَفَعَهُ اللَّهُ لِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مَا يَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَنْبَأْتُهُمْ وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّي. فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جعد كَأَنَّهُ أَزْد شَنُوءَةَ وَإِذَا عِيسَى قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شبها عروةُ بن مسعودٍ الثَّقفيُّ فإِذا إِبْرَاهِيمُ قَائِمٌ يُصَلِّي أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَحَانَتِ الصَّلَاةُ فَأَمَمْتُهُمْ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنَ الصَّلَاةِ قَالَ لِي قَائِلٌ: يَا مُحَمَّدُ هَذَا مَالِكٌ خَازِنُ النَّارِ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلَامِ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ: الْفَصْلِ الثَّانِي

رواہ مسلم (278 / 172)، (430) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لقد رايتني في الحجر وقريش تسالني عن مسراي فسالتني عن اشياء من بيت المقدس لم اثبتها فكربت كربا ما كربت مثله فرفعه الله لي انظر اليه ما يسالوني عن شيء الا انباتهم وقد رايتني في جماعة من الانبياء فاذا موسى قاىم يصلي. فاذا رجل ضرب جعد كانه ازد شنوءة واذا عيسى قاىم يصلي اقرب الناس به شبها عروة بن مسعود الثقفي فاذا ابراهيم قاىم يصلي اشبه الناس به صاحبكم - يعني نفسه - فحانت الصلاة فاممتهم فلما فرغت من الصلاة قال لي قاىل: يا محمد هذا مالك خازن النار فسلم عليه فالتفت اليه فبداني بالسلام . رواه مسلم وهذا الباب خال عن: الفصل الثاني رواہ مسلم (278 / 172)، (430) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসের শেষের দিকে বলা হয়েছে, (فَحَانَتِ الصَّلَاةُ) অর্থাৎ তখন সালাতের সময় হলো। এখানে কোন সালাত উদ্দেশ্য- এ প্রসঙ্গে মিরকাত প্রণেতা বলেন, এ সালাত দ্বারা দুটি সালাতের যে কোনটি হতে পারে। ১) তাহিয়্যাতুল মাসজিদ, ২) মি'রাজের জন্য বিশেষ সালাত।
(فَأَمَمْتُهُمْ) অর্থাৎ তারপর আমার ইমামাতে তাদেরকে সালাত আদায় করালাম। এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সকল নবীদের নিয়ে বায়তুল মাক্বদিসে সালাত আদায় করিয়েছেন আবার তাদের অনেককেই তিনি বিভিন্ন আসমানে পেয়েছেন। তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব যে, তিনি তাদের অনেককেই দুই জায়গায় পেলেন? মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, এর উত্তর দুই ধরনের হতে পারে- ১) রাসূল (সা.) নবীগণকে বায়তুল মাক্বদিসে দেখেছেন এবং তাদের ইমামতি করেছেন। তারপর তারা আবার আকাশে চলে গেছেন। আর তখন তিনি তাদেরকে বিভিন্ন আকাশে পেয়েছেন। ২) হতে পরে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে ফিরে এসে বায়তুল মাক্বদিসে নবীগণকে দেখেছেন এবং তাদের ইমামতি করেছেন।
(فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلَامِ) অর্থাৎ তারপর আমি তার দিকে তাকালাম তখন সেই আমাকে সালাম দিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাহান্নামের প্রধান দায়িত্বশীল মালিক রাসূল (সা.) -কে আগেই সালাম দিলেন যেন রাসূল (সা.) থেকে মালিকের ব্যাপারে ভয় দূর হয়ে যায়।
এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই আগে অন্যান্য নবীগণকে সালাম দিয়েছেন। নিজের বিনয়তার প্রতি খেয়াল রেখে এবং আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে। যেহেতু তারা ছিলেন বসে আর নবী (সা.) ছিলেন দাঁড়ানো বা চলমান অবস্থায়। কারণ সালাম দেয়ার আদব হলো দাঁড়ানো ব্যক্তি উপবেশনকারীকে সালাম দিবে। আর চলমান ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তিকে সালাম দিবে। (মিকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিরাজের বর্ণনা

৫৮৬৭-[৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছেন, (মি’রাজের ব্যাপারে) কুরায়শরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করল, তখন আমি কাবাগৃহের হাত্বীমে দাঁড়ালাম। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা বায়তুল মাক্বদিস মাসজিদখানা আমার সামনে প্রকাশ করে দিলেন। ফলে আমি তার দিকে তাকিয়ে তার চিহ্ন ও নিদর্শনগুলো তাদেরকে বলে দিতে থাকলাম। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابٌ فِي الْمِعْرَاجِ)

عَن جَابِرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَمَّا كَذَّبَنِي قُرَيْشٌ قُمْتُ فِي الْحِجْرِ فَجَلَّى اللَّهُ لِيَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَطَفِقْتُ أُخْبِرُهُمْ عَنْ آيَاتِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3886) و مسلم (276 / 170)، (428) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن جابر انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لما كذبني قريش قمت في الحجر فجلى الله لي بيت المقدس فطفقت اخبرهم عن اياته وانا انظر اليه» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3886) و مسلم (276 / 170)، (428) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (لَمَّا كَذَّبَنِي قُرَيْشٌ) অর্থাৎ যখন কুরায়শরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। এ ব্যাপারে তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে ইসরা সম্পর্কে বিভিন্ন কথাবার্তা বললেন, তখন তারা তাঁর কাছে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আলামতের দাবী করল।
(فَجَلَّى اللَّهُ لِيَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ) অর্থাৎ তখন আমার জন্য বায়তুল মাকদিস প্রকাশ করে দেয়া হলো। এর ব্যাখ্যায় তুহফাতুল আহওয়াযীতে তিনটি উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে।
১) হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো আমার মাঝে এবং বায়তুল মাকদিসের মাঝে এমনভাবে পর্দা উঠিয়ে দেয়া হলো যে, আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম।
২) সহীহ মুসলিমে এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তা থেকে বুঝা যায় বায়তুল মাক্বদিসকে নিয়ে এসে এমন স্থানে রাখা হয় যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) তা দেখতে পাচ্ছিলেন।
৩) হাসান সনদে বর্ণিত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বায়তুল মাকদিসকে নিয়ে এসে ‘উকায়ল-এর বাড়ীর কাছে এমনভাবে রাখা হলো যে, আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম মোটকথা হলো বায়তুল মাকদিসকে এমন স্থানে উপস্থিত করা হয় যে, রাসূল (সা.) তা দেখতে পান। আর এটি আল্লাহর জন্য মোটেই কোন কঠিন বিষয় নয়।
আরো একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো যে, ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এ হাদীসগুলো সূরাহ বানী ইসরাঈলের প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যায় নিয়ে এসেছেন। যে আয়াতে শুধু রাসূল (সা.) -এর ইসরা তথা মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু রাসূল (সা.) -এর মাসজিদুল হারাম থেকে ঊর্ধ্ব ভ্রমণের কথা কোন আয়াতে বর্ণিত হয়নি তা কেবল বিভিন্ন সহীহ হাদীসেই বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মি'রাজ স্বশরীরে হয়েছিল, নাকি আত্মিকভাবে হয়েছিল। এ ব্যাপারে তুহফাতুল আহওয়াযীতে তিনটি মত উল্লেখ করা হয়েছে।
১) তাঁর মি'রাজ হয়েছে স্বশরীরে। ২) তাঁর মি'রাজ হয়েছে আত্মিকভাবে, স্বশরীরে নয়। ৩) কিছুটা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। আর তা হলো, তাঁর ইসরা তথা মক্কাহ থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত ভ্রমণ হয়েছে স্বশরীরে। আর সেখান থেকে ঊর্ধ্ব ভ্রমণ হয়েছে আত্মিকভাবে।

এখানে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত এবং বেশিরভাগ সালাফ ও খালাফদের কথা আর সহীহ হাদীসগুলোর বর্ণনানুসারে প্রথম মতটিই গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ তার মি'রাজ হয়েছে স্বশরীরে। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা. ৩১৩৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করতে গিয়ে যা কিছু দেখেছেন সেগুলোর কিছু ফাতহুল বারীতে ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) নাসায়ীর বরাতে উল্লেখ করেছেন। যেমন- তিনি যখন মাসজিদুল হারাম থেকে ভ্রমণ শুরু করেন তখন এক স্থানে জিবরীল আলায়হিস সালাম তাকে বললেন, আপনি এখানে নেমে সালাত আদায় করুন। রাসূল (সা.) সেখানে তা-ই করেন। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, আপনি কি জানেন কোন স্থানে সালাত আদায় করলেন? জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এটি হলো উত্তম জায়গা। এখানেই হিজরত হবে। অর্থাৎ এটি হলো ইয়াসরিব।
তারপর আবার আরেক স্থানে জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি নেমে সালাত আদায় করুন। তখন তিনি সেখানে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, আপনি সায়না পর্বতে সালাত আদায় করলেন। যেখানে আল্লাহ মূসা আলায়হিস সালাম-এর সাথে কথা বলেছিলেন।
জিবরীল আলায়হিস সালাম আবার তাঁকে এক স্থানে বললেন, আপনি নেমে সালাত আদায় করুন। তখন তিনি সেখানে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি বাইতে লাহমে সালাত আদায় করলেন। যেখানে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম জন্মগ্রহণ করেছেন। শাদ্দাদ-এর আরেকটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূল (সা.) একটি সাদা ভূমির উপর দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি নেমে সালাত আদায় করুন। রাসূল (সা.) সেখানে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি মাদায়িনে সালাত আদায় করলেন। শাদ্দাদ-এর বর্ণনায় আছে, যে পথে রাসূল (সা.) কুরায়শদের একটি কাফেলাকে সালাম দিয়েছিলেন তখন তাদের কেউ কেউ বলল, এটি মুহাম্মাদ-এর আওয়াজ। সেই বর্ণনায় আরো আছে যে, তিনি মিরাজ থেকে ফিরে এসে মক্কার লোকেদেরকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের কাফেলা অমুক দিন এসে উপস্থিত হবে।
ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) ‘দালায়িল’ গ্রন্থে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) এমন কিছুর পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁকে রাস্তা থেকে সরে যেতে ডাকছিল। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি চলুন। তারপর তিনি আরেকটি বৃদ্ধার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁকে বললেন, আপনি চলুন। তারপর তিনি কিছু লোকেদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। আর তারা তাঁকে সালাম দিলেন। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, আপনি সালামের উত্তর দিন।
তারপর তিনি তাদের সালামের উত্তর দিলেন। শেষে জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, যে আপনাকে ডেকেছে সে হলো ইবলীস এবং বৃদ্ধা হলো দুনিয়া আর যারা আপনাকে সালাম দিয়েছেন তারা হলেন ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা আলায়হিস সালাম।  তবারানী এবং বাযযার-এর নিকট আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাসূল (সা.) ইসরা ও মি'রাজের ভ্রমণে দেখেছেন। যেমন- রাসূল (সা.) কিছু লোকেদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যারা ফসল বুনছে আর কাটছে। যখনই তারা ফসল কাটছে তখনই তা আবার পূর্বের মতোই ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এরা হলো মুজাহিদগণ।
তারপর রাসূল (সা.) আরো কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের মাথা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া হচ্ছে। যখনই থেতলে দেয়া হচ্ছে তখনই তা আবার পূর্বের মতো ঠিক হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, তারা হলো ঐ সকল লোক যাদের মাথা সালাতের প্রতি অবহেলা করত।

তারপর আরো কিছু লোকেদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের শরীর পশুর মতো সূচ দিয়ে আঁচড়ানো হচ্ছে। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম রাসূল (সা.) -কে বললেন, এরা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যারা যাকাত আদায় করত না।
তারপর তিনি আরো কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যারা দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা গোশত ভক্ষণ করছে। (অথচ তাদেরকে ভালো সুস্বাদু গোশতের দিকে ডাকা হচ্ছে, কিন্তু তারা সেখানে যেতে পারছে না।) জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এরা হলো যিনাকারী।
তারপর তিনি এক লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে লাকড়ীর বোঝা জমা করছে। কিন্তু সে তা বহন করতে পারছে না। তারপরেও সে তা জমা করেই যাচ্ছে। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এ হলো ঐ ব্যক্তি যার কাছে আমানাত রাখা হত। কিন্তু সে তা আদায় করত না। তারপরেও সে অন্য আমানত খোঁজ করত।
তারপর তিনি আরো কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের ঠোট ও জিহ্বা কাটা হচ্ছে। যখনই কাটা হচ্ছে তখনই আবার তা ঠিক হয়ে যাচ্ছে। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এরা হলো ফিতনাবাজ বক্তাগণ।
তবারানীর হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। যাদের পেট ছিল ঘরের মতো বড়। যখন তারা দাঁড়াতে ইচ্ছা করত তখনই তারা পড়ে যেত। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এরা হলো সুদখোর ব্যক্তি। এ জাতীয় কিছু বিষয়ও রাসূল (সা.) তাঁর ইসরা ও মি'রাজের ভ্রমণে দেখতে পেয়েছেন। (ফাতহুল বারী ৭/৩৮৮৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) (مُعْجِزَاتِ)-এর পরিচয় সম্পর্কে বলেন, (مُعْجِزَاتِ) হলো নবীগণের সত্যতার প্রমাণ এবং রাসূলগণের বিভিন্ন নিদর্শন, যা অন্য কেউ দেখাতে অক্ষম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৫৮৬৮-[১] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন, (হিজরতের সময়) আমি আমাদের মাথার উপরে মুশরিকদের পা দেখতে পেলাম, যখন আমরা গুহায় ছিলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তাদের কেউ স্বীয় পায়ের দিকে তাকায়, তবে সে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আবূ বকর! তুমি এমন দুই লোক সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ কর, যাদের তৃতীয়জন হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصّديق رَضِي الله عَنهُ قا ل: نظرتُ إِلى أقدامِ المشركينَ على رؤوسنا وَنَحْنُ فِي الْغَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ إِلَى قَدَمِهِ أَبْصَرَنَا فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثالثهما»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3653) ومسلم (1 / 2381)، (6169) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن انس بن مالك ان ابا بكر الصديق رضي الله عنه قا ل: نظرت الى اقدام المشركين على رووسنا ونحن في الغار فقلت يا رسول الله لو ان احدهم نظر الى قدمه ابصرنا فقال: «يا ابا بكر ما ظنك باثنين الله ثالثهما» متفق علیہ ، رواہ البخاری (3653) ومسلم (1 / 2381)، (6169) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (وَنَحْنُ فِي الْغَارِ) অর্থাৎ আমরা সওর গুহায় ছিলাম। মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, (غَارِ) (গর্ত) বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে সাওর গুহাকে। হিজরত করার সময় যেখানে রাসূল (সা.) আবূ বাকর (রাঃ) কাফিরদের থেকে আত্মগোপন করেছিলেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (غَارِ) হলো মক্কা নগরীর মিনায় সাওর পাহাড়ের উপর অবস্থিত একটি গর্ত যা রাসূল (সা.) -এর বাসগৃহ থেকে একটু দূরেই অবস্থিত।
কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন, মুশরিকরা রাসূল (সা.) -কে খোঁজ করতে সাওর পাহাড়ের সেই গুহার উপর উঠে পড়ে। তখন আবূ বাকর (রাঃ) শঙ্কিত হয়ে বলেন, যদি তারা আজ আপনাকে পেয়ে যায় তাহলে আল্লাহর দীন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তাদের কেউ নিজের পায়ের নিচে তাকায় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে দেখে ফেলবে।
তখন রাসূল (সা.) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন, (مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثالثهما) অর্থাৎ এমন দু'জনের ব্যাপারে তোমার কি ধারণা? যাদের তৃতীয়জন হিসেবে আল্লাহ আছেন।
এ বিষয়টি পবিত্র কুরআন এভাবে তুলে ধরেছে,
(اِلَّا تَنۡصُرُوۡهُ فَقَدۡ نَصَرَهُ اللّٰهُ اِذۡ اَخۡرَجَهُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ثَانِیَ اثۡنَیۡنِ اِذۡ هُمَا فِی الۡغَارِ اِذۡ یَقُوۡلُ لِصَاحِبِهٖ لَا تَحۡزَنۡ اِنَّ اللّٰهَ مَعَنَا…) অর্থাৎ “যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর (তাতে কোন পরোয়া নেই) কারণ আল্লাহ তো তাকে সেই সময় সাহায্য করেছেন যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল, সে ছিল দু’জনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জন গুহার মধ্যে ছিল। যখন সে তার সঙ্গীকে বলছিল, চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন...।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯: ৪০)।
আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাদের চক্ষু অন্ধ করে দিন। অতঃপর তারা সেই গর্তের আশপাশে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সাথে ঘুরতে লাগল আর তারা বুঝতেও পারলো না যে, আল্লাহ তাদের দৃষ্টি শক্তি সেখান থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (اللَّهُ ثالثهما) এর অর্থ হলো আল্লাহ তাদের দুজনকে তিনজন বানিয়ে দিয়েছেন নিজেকে তাদের সাথে বিশেষভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে। অতএব তারা বাহ্যিকভাবে দু’জন হলেও সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৬৯-[২] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। একদিন (বারা ইবনু ’আযিব) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) লক্ষ্য-কে বললেন, হে আবূ বকর! আমাকে বলুন তো, যে রাত্রে আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর সাথে (হিজরতের উদ্দেশে) ভ্রমণ করেছিলেন, সে ভ্রমণে আপনারা কিরূপ করেছিলেন? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমরা এক রাত্র এবং পরবর্তী দিন পথ চলতে থাকি। পরিশেষে যখন দ্বিপ্রহর হলো এবং পথঘাট এতটা শূন্য হয়ে পড়ল যে, একটি প্রাণীও তাতে যাতায়াত ও চলাফেরা করছে না। এমন সময় বিশাল একটি লম্বা পাথর আমাদের দৃষ্টিতে পড়ল। তার একপার্শ্বে ছিল ছায়া। সেখানে সূর্যের রোদ পড়ত না। তখন আমরা সেখানে অবতরণ করলাম এবং আমি নিজ হাতে নবী (সা.) -এর জন্য কিছুটা জায়গা সমান করলাম যাতে তিনি শয়ন করতে পারেন। অতঃপর আমি একখানা (চামড়ার) চাদর বিছিয়ে দিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি আপনার (নিরাপত্তার) জন্য এদিক-ঐদিক বিশেষভাবে খেয়াল রাখব। তখন নবী (সা.) শুয়ে পড়লেন। আমি বের হয়ে চতুর্দিক হতে তাঁকে পাহারা দিতে লাগলাম। হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম, একজন মেষচালক তার বকরির পাল নিয়ে পাথরটির দিকে আগাচ্ছে। আমি বললাম, তুমি কি তা (আমাদের জন্য) দোহন করবে? সে বলল, হ্যাঁ। অতঃপর সে একটি বকরি ধরে আনল। তারপর সে একটি পাত্রে দুধ দোহন করল। এদিকে আমার কাছেও একটি পাত্র ছিল, যা আমি নবী (সা.) -এর জন্য সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম, যেন তা দিয়ে তিনি তৃপ্তি সহকারে পানি পান এবং উযূ করতে পারেন। অতঃপর আমি (দুধের পেয়ালাটি হাতে করে) নবী (সা.) -এর কাছে আসালাম। কিন্তু তাকে ঘুম হতে জাগানো ভালো মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পরে আমি তাকে জাগ্রত অবস্থায় পেলাম। ইতোমধ্যে আমি দুধের সাথে (তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা করার উদ্দেশে) কিছু পানি মিশ্রিত করলাম। তাতে দুধের নিম্নাংশ অবধি ঠাণ্ডা হয়ে গেল। তারপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পান করুন। তিনি পান করলেন, এতে আমি খুবই খুশি হলাম। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, আমাদের রওয়ানা হওয়ার সময় কি এখনো হয়নি? আমি বললাম, হ্যাঁ, হয়েছে। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, আমরা সূর্য ঢলে যাওয়ার পর রওয়ানা হলাম। এদিকে সুরাকাহ্ ইবনু মালিক আমাদের অনুসরণ করেছিল। আমি (তাকে দেখতে পেয়ে) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (শত্রু) আমাদের নিকট এসে পড়েছে।
তিনি (সা.) বললেন, চিন্তা করো না। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সাথে আছেন। এরপর নবী (সা.) সুরাকার জন্য বদদু’আ করলেন। ফলে তার ঘোড়াটি তাকে নিয়ে পেট পর্যন্ত শক্ত মাটিতে গেড়ে গেল। তখন সুরাকাহ্ বলে উঠল, আমার বিশ্বাস তোমরা আমার প্রতি বদদু’আ করেছ। অতএব তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য দু’আ কর, আল্লাহই তোমাদের সাহায্যকারী। আমি তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছি যে, তোমাদের অন্বেষণকারীদের ফিরিয়ে দেব। নবী (সা.) তখন তার জন্য দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। তারপর যার সাথেই তার দেখা হত তাকে সে বলত, তোমাদের কাজ আমি সেরে এসেছি। তারা সেদিকে নেই। এমনিভাবে যার সাথে তার সাক্ষাৎ হত, তাকেই সে ফিরিয়ে দিত। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ لِأَبِي بَكْرٍ: يَا أَبَا بَكْرٍ حَدِّثْنِي كَيْفَ صَنَعْتُمَا حِينَ سَرَيْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَسْرَيْنَا لَيْلَتَنَا وَمِنَ الْغَدِ حَتَّى قَامَ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ وَخَلَا الطَّرِيقُ لَا يَمُرُّ فِيهِ أَحَدٌ فَرُفِعَتْ لَنَا صَخْرَةٌ طَوِيلَةٌ لَهَا ظِلٌّ لَمْ يَأْتِ عَلَيْهَا الشَّمْسُ فَنَزَلْنَا عِنْدَهَا وَسَوَّيْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَانًا بِيَدَيَّ يَنَامُ عَلَيْهِ وَبَسَطْتُ عَلَيْهِ فَرْوَةً وَقُلْتُ نَمْ يَا رسولَ الله وَأَنَا أَنْفُضُ مَا حَوْلَكَ فَنَامَ وَخَرَجْتُ أَنْفُضُ مَا حَوْلَهُ فَإِذَا أَنَا بِرَاعٍ مُقْبِلٍ قُلْتُ: أَفِي غنمكَ لبنٌ؟ قَالَ: نعم قلتُ: أفتحلبُ؟ قَالَ: نَعَمْ. فَأَخَذَ شَاةً فَحَلَبَ فِي قَعْبٍ كُثْبَةً مِنْ لَبَنٍ وَمَعِي إِدَاوَةٌ حَمَلْتُهَا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْتَوَى فِيهَا يَشْرَبُ وَيَتَوَضَّأُ فَأَتَيْتُ الْنَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَهُ فَوَافَقْتُهُ حَتَّى اسْتَيْقَظَ فَصَبَبْتُ مِنَ الْمَاءِ عَلَى اللَّبَنِ حَتَّى بَرَدَ أَسْفَلُهُ فَقُلْتُ: اشْرَبْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَشَرِبَ حَتَّى رضيت ثمَّ قَالَ: «ألم يَأن الرحيل؟» قلتُ: بَلى قَالَ: فارتحلنا بعد مَا مَالَتِ الشَّمْسُ وَاتَّبَعَنَا سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ فَقُلْتُ: أُتِينَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ: «لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا» فَدَعَا عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَطَمَتْ بِهِ فَرَسُهُ إِلَى بَطْنِهَا فِي جَلَدٍ مِنَ الْأَرْضِ فَقَالَ: إِنِّي أَرَاكُمَا دَعَوْتُمَا عَلَيَّ فَادْعُوَا لِي فَاللَّهُ لَكُمَا أَنْ أَرُدَّ عَنْكُمَا الطَّلَبَ فَدَعَا لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَجَا فَجَعَلَ لَا يلقى أحدا إِلا قَالَ كفيتم مَا هَهُنَا فَلَا يَلْقَى أَحَدًا إِلَّا رَدَّهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3615) و مسلم (75 / 2009)، (5238) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن البراء بن عازب عن ابيه انه قال لابي بكر: يا ابا بكر حدثني كيف صنعتما حين سريت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اسرينا ليلتنا ومن الغد حتى قام قاىم الظهيرة وخلا الطريق لا يمر فيه احد فرفعت لنا صخرة طويلة لها ظل لم يات عليها الشمس فنزلنا عندها وسويت للنبي صلى الله عليه وسلم مكانا بيدي ينام عليه وبسطت عليه فروة وقلت نم يا رسول الله وانا انفض ما حولك فنام وخرجت انفض ما حوله فاذا انا براع مقبل قلت: افي غنمك لبن؟ قال: نعم قلت: افتحلب؟ قال: نعم. فاخذ شاة فحلب في قعب كثبة من لبن ومعي اداوة حملتها للنبي صلى الله عليه وسلم يرتوى فيها يشرب ويتوضا فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فكرهت ان اوقظه فوافقته حتى استيقظ فصببت من الماء على اللبن حتى برد اسفله فقلت: اشرب يا رسول الله فشرب حتى رضيت ثم قال: «الم يان الرحيل؟» قلت: بلى قال: فارتحلنا بعد ما مالت الشمس واتبعنا سراقة بن مالك فقلت: اتينا يا رسول الله فقال: «لا تحزن ان الله معنا» فدعا عليه النبي صلى الله عليه وسلم فارتطمت به فرسه الى بطنها في جلد من الارض فقال: اني اراكما دعوتما علي فادعوا لي فالله لكما ان ارد عنكما الطلب فدعا له النبي صلى الله عليه وسلم فنجا فجعل لا يلقى احدا الا قال كفيتم ما ههنا فلا يلقى احدا الا رده. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3615) و مسلم (75 / 2009)، (5238) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (حَتَّى قَامَ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ) অর্থাৎ দ্বিপ্রহর পর্যন্ত। মিরকাত প্রণেতা বলেন, দ্বিপ্রহর মানে হলো সূর্য যখন মধ্যাকাশে উঠে যায়। এখানে উক্ত বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সূর্য যখন মধ্যাকাশে পৌছে যায় তখন থেকে নিয়ে চলে যাওয়া পর্যন্ত তার ছায়া থেমে থাকে। তখন মানুষেরা তা দেখে মনে করে যে, সূর্য যেন একেবারে স্থির হয়ে গেছে। আর নড়াচড়া করছে না। অথচ তা চলমান রয়েছে। কিন্তু তার চলমানের দৃশ্যটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যেমন পরিলক্ষিত হত সে সময়ের আগে বা পরে। তাই এ বিষয়টি আরবরা এভাবে বলে থাকে (قَامَ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ) অর্থাৎ দ্বিপ্রহর হলো।
(فَاللَّهُ لَكُمَا) অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের দুজনের জন্য রয়েছেন। মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তোমাদের দুজনের জন্য রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে থাকবেন যতক্ষণ না তোমরা নিরাপত্তার সাথে তোমাদের উদ্দিষ্ট স্থানে পৌঁছবে।
অথবা এটিও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, তোমরা দুজন আমার জন্য দু'আ করো, যেন আমি তোমাদের থেকে ফিরে যেতে পারি। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে আমার থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তোমাদের কাছে পৌছা থেকে আমাকে আটকে দিয়েছেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা দুজন আমার জন্য দু'আ করো যেন আমি এই বিপদ থেকে মুক্তি পাই। কেননা যদি তোমরা তা করো তাহলে আল্লাহই দেখবেন যে, আমি তোমাদের থেকে অনুসন্ধানকারীদেরকে ফিরিয়ে দিবো।
(أَنْ أَرُدَّ عَنْكُمَا الطَّلَبَ) অর্থাৎ আমি তোমাদের থেকে অনুসন্ধান ফিরিয়ে দিবো। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যে সকল কাফির তোমাদের দু'জনকে খুঁজতে আসবে আমি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে চাইবো।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসে বিভিন্নভাবে নবী (সা.) -এর জন্য রয়েছে প্রকাশ্য মু'জিযাহ্ আর আবূ বাকর (রাঃ) -এর জন্য রয়েছে উত্তম ফযীলত। এতে রয়েছে অনুসরণীয় ব্যক্তিকে অনুসারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে উত্তমরূপে সেবা করার একটি মূল্যবান শিক্ষা। এতে আরো আছে যে, পবিত্রতা অর্জন করার জন্য এবং পান করার জন্য সফরে সাথে ছোট পাত্র রাখা ভালো। আর বিশেষ করে এ হাদীস থেকে যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে তা হলো, আল্লাহর প্রতি ভরসা করার উত্তম ফযীলত ও কল্যাণকর পরিণতি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭০-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মদীনায় আগমনের সংবাদ শুনতে পেলেন। এ সময় তিনি নিজের এক বাগানে খেজুর পাড়ছিলেন। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি প্রশ্ন করব, যা নবী  ছাড়া আর কেউই জানে না।
১. কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত কি?
২. জান্নাতবাসীদের সর্বপ্রথম খাদ্য কি?
৩. কিসের কারণে সন্তান (আকৃতিতে) কখনো তার পিতার মতো হয়, আবার কখনো তার মায়ের মতো হয়?
নবী (সা.) বললেন, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জিবরীল আলায়হিস সালাম এইমাত্র আমাকে অবহিত করে গেলেন। কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামাত হলো একটি আগুন, যা লোকেদেরকে পূর্ব দিকে হতে পশ্চিম দিকে সমবেত করে নিয়ে যাবে। আর জান্নাতবাসীগণ সর্বপ্রথম যে খাদ্য খাবে, তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত টুকরা আর (সন্তানাদির বিষয়টি) যদি নারীর বীর্যের উপর পুরুষের বীর্যের প্রাধান্য ঘটে, তবে সন্তান বাপের মতো হয়। আর যদি নারীর বীর্যের প্রাধান্য ঘটে, তবে সন্তান মায়ের রূপ ধারণ করে। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বলে উঠলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য কেউ নেই এবং নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল।
(অতঃপর তিনি বললেন) হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদীরা এমন একটি জাতি, যারা অপবাদ আনবে। অতঃপর ইয়াহুদীগণ নবী (সা.) -এর কাছে আসলে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মাঝে আবদুল্লাহ কে? তার উত্তরে বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম লোক এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির সন্তান। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার সন্তান। তখন নবী (সা.) বললেন, আচ্ছা বল তো, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম যদি ইসালাম  গ্রহণ করে, তখন তারা বলে উঠল, আল্লাহ তা’আলা তাকে তা হতে রক্ষা করুন। এমন সময় ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (আড়াল হতে) বের হয়ে এসে কালিমাহ্ উচ্চারণ করে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাসনার যোগ্য কেউ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল। তখন তারা (ইয়াহূদীরা) বলতে লাগল, (এ লোকটি) আমাদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তির সন্তান। অতঃপর তারা তাকে খুব তাচ্ছিল্যভাবে তুচ্ছ প্রতিপন্ন করল। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (এদের ব্যাপারে) আমি এটাই আশঙ্কা করেছিলাম। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أنس قا ل سَمِعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ بِمَقْدَمِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي أَرْضٍ يَخْتَرِفُ فَأَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ ثَلَاثٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا نَبِيٌّ: فَمَا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ وَمَا أَوَّلُ طَعَامِ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ وَمَا يَنْزِعُ الولدُ إِلَى أبيهِ أَو إِلَى أمه؟ قا ل: «أَخْبرنِي بهنَّ جِبْرِيلُ آنِفًا أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ الْحُوت وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ نَزْعَ الْوَلَدَ وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ نَزَعَتْ» . قَالَ: أشهد أَن لاإله إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ بُهْتٌ وَإِنَّهُمْ إِنْ يعلمُوا بِإِسْلَامِي من قبل أَن تَسْأَلهُمْ يبهتوني فَجَاءَتِ الْيَهُودُ فَقَالَ: «أَيُّ رَجُلٍ عَبْدُ اللَّهِ فِيكُمْ؟» قَالُوا: خَيْرُنَا وَابْنُ خَيْرِنَا وَسَيِّدُنَا وَابْنُ سيدِنا فَقَالَ: «أرأَيتم إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ؟» قَالُوا أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ. فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَقَالُوا: شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا فَانْتَقَصُوهُ قَالَ: هَذَا الَّذِي كُنْتُ أَخَافُ يَا رسولَ الله رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4480) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قا ل سمع عبد الله بن سلام بمقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في ارض يخترف فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اني ساىلك عن ثلاث لا يعلمهن الا نبي: فما اول اشراط الساعة وما اول طعام اهل الجنة؟ وما ينزع الولد الى ابيه او الى امه؟ قا ل: «اخبرني بهن جبريل انفا اما اول اشراط الساعة فنار تحشر الناس من المشرق الى المغرب واما اول طعام ياكله اهل الجنة فزيادة كبد الحوت واذا سبق ماء الرجل ماء المراة نزع الولد واذا سبق ماء المراة نزعت» . قال: اشهد ان لااله الا الله وانك رسول الله يا رسول الله ان اليهود قوم بهت وانهم ان يعلموا باسلامي من قبل ان تسالهم يبهتوني فجاءت اليهود فقال: «اي رجل عبد الله فيكم؟» قالوا: خيرنا وابن خيرنا وسيدنا وابن سيدنا فقال: «ارايتم ان اسلم عبد الله بن سلام؟» قالوا اعاذه الله من ذلك. فخرج عبد الله فقال اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله فقالوا: شرنا وابن شرنا فانتقصوه قال: هذا الذي كنت اخاف يا رسول الله رواه البخاري رواہ البخاری (4480) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে এমন তিনটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন, যার উত্তর কেবল একমাত্র কোন নবীই দিতে পারেন। প্রশ্ন করার পর যখন রাসূল (সা.) সেগুলো উত্তর দিলেন তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বুঝতে পারলেন যে, তিনি একজন সত্য নবী এবং এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারাটা তার মু'জিযাহ্। তারপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া শুরু করার আগে বললেন, (أَخْبرنِي بهنَّ جِبْرِيلُ آنِفًا) অর্থাৎ এইমাত্র জিবরীল আমাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানিয়ে গেলেন।  মিরকাত প্রণেতা বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর এ কথা বলার মাধ্যমে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম -এর এই ধারণা দূর করেছেন যে, সে মনে করতে পারে যে, রাসূল (সা.) প্রশ্নগুলোর উত্তর কোন আহলে কিতাবী জ্ঞানী ব্যক্তির থেকে শুনে থাকতে পারেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
(وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ الْحُوت) অর্থাৎ জান্নাতীরা সর্বপ্রথম যে খাবার খাবে তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ।
ফাতহুল বারীতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, (زِيَادَةُ كَبِدِ الْحُوت) অর্থাৎ মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। এটি হলো মাছের কলিজার সাথে আলাদা একটি অংশ। যা অনেক অনেক সুস্বাদু। খেতে খুব তৃপ্তিদায়ক এবং অসাধারাণ মজাদার।
(وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ نَزْعَ الْوَلَدَ وَإِذَا سَبَقَ) অর্থাৎ, যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপরে প্রাধান্য পায় তখন ছেলে সন্তান হয়। আর যখন স্ত্রীর বীর্য প্রাধান্য পায় তখন মেয়ে সন্তান হয়।
সহীহ মুসলিম-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে, যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপর বিজয় লাভ করে তখন সন্তান তার চাচাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় আর যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের উপর বিজয় লাভ করে তখন সন্তান তার মামাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।
বীর্যের প্রাধান্য পাওয়া এবং জয়লাভ করা সম্পর্কে ফাতহুল বারী গ্রন্থকার বলেন, “বীর্যের প্রাধান্য পাওয়া এবং জয় লাভ করা” দ্বারা সম্ভাব্য ছয়টি উদ্দেশ্যর যে কোনটি হতে পারে।
১) পুরুষের বীর্য অগ্রগামী হবে এবং পরিমাণে বেশি হবে। তখন সন্তান পুরুষ হবে এবং তার সাদৃশ্য পুরুষের সাথে হবে।
২) স্ত্রীর বীর্য অগ্রগামী হবে এবং পরিমাণে বেশি হবে। তখন সন্তান নারী হবে এবং স্ত্রীর সাথে সাদৃশ্য হবে।
৩) পুরুষের বীর্য অগ্রগামী হবে কিন্তু স্ত্রীর বীর্য পরিমাণে বেশি হবে। তখন সন্তান পুরুষ হবে কিন্তু তার সাদৃশ্য হবে স্ত্রীর সাথে।
৪) স্ত্রীর বীর্য অগ্রগামী হবে কিন্তু পুরুষের বীর্য পরিমাণে বেশি হবে। তখন সন্তান নারী হবে কিন্তু তার সাদৃশ্য হবে পুরুষের সাথে।
৫) পুরুষের বীর্য অগ্রগামী হবে কিন্তু পরিমাণে স্বামী-স্ত্রীর বীর্য সমান হবে। তখন সন্তান পুরুষ হবে। কিন্তু বিশেষভাবে কারো সাদৃশ্যপূর্ণ হবে না।
৬) স্ত্রীর বীর্য অগ্রগামী হবে কিন্তু পরিমাণে স্বামী-স্ত্রীর বীর্য সমান হবে। তখন সন্তান নারী হবে। কিন্তু  বিশেষভাবে কারো সাদৃশ্যপূর্ণ হবে না।

ইবনু ইসহাক কিতাবুল মাগাযীতে হিজরতের প্রাথমিক বিষয়গুলো আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন। মদীনায় যে সকল ইয়াহুদী ছিল, আবদুল্লাহ ইবনু সালামও তাদের একজন। তিনি ছিলেন ইয়াহুদীদের একজন বিজ্ঞ আলিম। তার বংশ ছিল বানূ কায়নুকা। ইসলাম গ্রহণ করার আগে তার নাম ছিল হাসীন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার পর আল্লাহর রাসূল (সা.) ও তার নাম রাখলেন ‘আবদুল্লাহ। (ফাতহুল বারী ৭/৩৯৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭১-[৪] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট (কুরায়শ নেতা) আবূ সুফইয়ান-এর প্রত্যাবর্তনের সংবাদ পৌছলে রাসূলুল্লাহ (সা.) পরামর্শ করলেন, তখন (আনসার নেতা) সা’দ ইবনু উবায়দাহ্ (রাঃ) উঠে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! আপনি যদি আমাদেরকে সওয়ারীসহ দরিয়াতে ঝাঁপিয়ে পড়তে নির্দেশ করেন, তবে আমরা ঝাপিয়ে পড়ব। আর যদি বারকুল গিমাদ’ পর্যন্তও আমাদের বাহনকে ছুটে যেতে আদেশ করেন, তা করতেও আমরা প্রস্তুত। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ)] বলেন, এভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকেদেরকে যুদ্ধের জন্য তৈরি করে নিলেন। এরপর তারা রওয়ানা হয়ে বদর’ নামক স্থানে এসে অবতরণ করলেন। এখানে পৌছে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এটা অমুক নিহত হওয়ার স্থান আর তা অমুকের আর তা অমুকের। এ সময় তিনি (সা.) (স্থান দেখিয়ে) স্বীয় হাত জমিনে রাখলেন। বর্ণনাকারী বলেন, (যুদ্ধ শেষে) দেখা গেল, রাসূলুল্লাহ (সা.) যার জন্য যে স্থানটি দেখিয়েছিলেন, তাদের একটিও এদিক-সেদিক সরে পড়েনি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعنهُ قا ل: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاوَرَ حِينَ بَلَغَنَا إِقْبَالُ أَبِي سُفْيَانَ وَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نُخِيضَهَا الْبَحْرَ لَأَخَضْنَاهَا وَلَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نَضْرِبَ أَكْبَادَهَا إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ لَفَعَلْنَا. قَالَ: فَنَدَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسُ فَانْطَلَقُوا حَتَّى نَزَلُوا بَدْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا مَصْرَعُ فُلَانٍ» وَيَضَعُ يدَه على الأرضِ هَهُنَا وَهَهُنَا قا ل: فَمَا مَاطَ أَحَدُهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (83 / 1779)، (4621) ۔
(صَحِيح)

وعنه قا ل: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم شاور حين بلغنا اقبال ابي سفيان وقام سعد بن عبادة فقال: يا رسول الله والذي نفسي بيده لو امرتنا ان نخيضها البحر لاخضناها ولو امرتنا ان نضرب اكبادها الى برك الغماد لفعلنا. قال: فندب رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس فانطلقوا حتى نزلوا بدرا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذا مصرع فلان» ويضع يده على الارض ههنا وههنا قا ل: فما ماط احدهم عن موضع يد رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم رواہ مسلم (83 / 1779)، (4621) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আবূ সুফইয়ান-এর কাফেলা যখন সিরিয়া থেকে মক্কার উদ্দেশে বের হলো এবং সাহাবীগণের কাছে সেই সংবাদ পৌছল তখন মদীনাবাসীদের পরীক্ষা করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের সাথে পরামর্শ করলেন। সাহাবীদের মধ্য থেকে আবূ বাকর (রাঃ) কথা বললেন। কিন্তু রাসূল (সা.) তার থেকে অন্যদিকে মুখ ফিরালেন। তারপর ‘উমার (রাঃ) কথা বললেন। কিন্তু তার থেকেও তিনি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন সা'দ ইবনু উবাদাহ দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদেরকেই চাচ্ছেন? অতঃপর সা'দ ইবনু 'উবাদাহ (রাঃ) আল্লাহর কসম করে বললেন, (وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نُخِيضَهَا الْبَحْرَ) অর্থাৎ, এ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। যদি আপনি আমাদেরকে ঘোড়া নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিতে আদেশ করেন, আমরা তাই করব।
‘উলামাগণ বলেন, রাসূল (সা.) আনসারদেরকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করেছিলেন। কারণ তিনি যখন আনসারদের থেকে বায়'আত গ্রহণ করেছিলেন তখন তাদের এই অঙ্গীকার ছিল যে, তারা রাসূল (সা.) -কে শত্রুদের থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু এই অঙ্গীকার ছিল না যে, তারা তাঁর সাথে বের হয়ে শত্রুদের সাথে লড়াই করবে।
তাই যখন আবূ সুফইয়ান-এর কাফেলা আক্রমণের উদ্দেশে বের হওয়ার সময় আসলো তখন তিনি নিশ্চিতভাবে আনসারদের থেকে জানতে চাইলেন যে, তারা তাঁর সাথে একমত কিনা? তারপর তারা উত্তম জবাব দিল এবং রাসূল (সা.) -এর সাথে পরিপূর্ণ একাত্বতা ঘোষণা করল। (ফাতহুল বারী হা. ১২/১৭৭৯)

উক্ত হাদীসে সাথিদের সাথে এবং জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কুরায়শরা বড় একটি ব্যবসায়ী কাফেলা নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কার উদ্দেশে বের হয়। সেই কাফেলায় ছিল চল্লিশ জন আরোহী এবং তাতে ছিল অনেক সম্পদ। আর কাফেলার নেতা ছিল আবূ সুফিয়ান। মুসলিমগণ সেই কাফেলার সাথে সাক্ষাতের আগ্রহী ছিল। কারণ তাতে লোক ছিল কম আর সম্পদ ছিল অনেক বেশি। তারপর যখন মুসলিমগণ কাফেলা আক্রমণের উদ্দেশে বের হলো তখন এই সংবাদ মক্কায় পৌছে গেল। সংবাদ শুনে আবূ জাহল কা'বার উপর দাঁড়িয়ে ডাক দিয়ে বলল, হে মক্কাবাসী! তোমরা মুক্তির পথ খোজ। মুক্তির পথ খোজ। তারপর আবূ জাহল মক্কার অধিবাসীদের নিয়ে বের হলো। তখন আবূ জাহল-কে বলা হলো, ব্যবসায়ী কাফেলা তো সমুদ্র উপকূলীয় পথ ধরে চলতে শুরু করেছে এবং আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। কাজেই আপনি লোকেদেরকে নিয়ে মক্কায় ফিরে চলুন। তখন সে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর নামে কসম করল এবং লোকেদেরকে নিয়ে বদরের প্রান্তরে উপস্থিত হলো। ইতোমধ্যে জিবরীল আলায়হিস সালাম এসে রাসূল (সা.) -কে জানিয়ে গেলেন যে, আল্লাহ দু’টি দলের কোন একটির সাথে মুখোমুখি করার ওয়াদা করেছেন। তখন রাসূল (সা.) বললেন, কাফেলা তো সমুদ্র উপকূলীয় পথ ধরে চলে গেছে। আর এগিয়ে আসছে আবূ জাহল। তখন আনসারদের পক্ষ থেকে সা'দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি আপনি আমাদেরকে ঘোড়া নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিতে আদেশ করেন আমরা তাই করব। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ) অর্থাৎ বারকুল গিমাদ পর্যন্ত। এ কথার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানের উপমা দেয়া হয়েছে। তবে (بَرْكِ الْغِمَادِ) -এর পরিচয় দিতে গিয়ে শারহুন নাবাবীর গ্রন্থকার কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন। যেমন কেউ কেউ বলেন, এটি হলো মক্কার পিছন দিকে একটি উপকূলীয় স্থান। যার দূরত্ব মক্কা থেকে পাঁচ দিনের পথ।
হাযিমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি হলো দু’টি শহরের নাম। ক্বাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্যরা বলেন, এটি হলো অনেক দূরবর্তী পরিত্যক্ত একটি স্থান।
ইবরাহীম আল হারিবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (بَرْكِ الْغِمَادِ) এবং (سَعَفَاتُ) বলার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।
(وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ يُصَلِّىْ فَلَمَّا رَأَي ذَلِكَ انْصَرَفَ) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি তা দেখতে পান তখন সালাত শেষ করেন। হাদীসের এই বাক্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, সালাতরত অবস্থায় যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘটে যায় তাহলে সালাত হালকা করে আদায় করা মুস্তাহাব।
উক্ত হাদীসে রাসূল (সা.) -এর বিশেষভাবে দুটি মু'জিযাহ্ প্রকাশ পেয়েছে। আর সে দুটি হলো।

১) যুদ্ধের আগেই রাসূল (সা.) বলে দিয়েছিলেন যে, অমুক অমুক ব্যক্তি অমুক অমুক স্থানে মরে পড়ে থাকবে। আর যুদ্ধের পর দেখা যায় যে, ঠিক ঠিক জায়গায় তারা মরে পড়ে আছে। একটুও ব্যতিক্রম হয়নি।

২) বালকটি যখন আবূ সুফইয়ান-এর ব্যাপারে সত্য কথা বলছিল তখন তারা তাকে প্রহার করছিল। আর যখন সে তার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলছিল তখন তারা তাকে ছেড়ে দিচ্ছিল। বালকটির সত্য-মিথ্যা বলার বিষয়টি আল্লাহর রাসূল (সা.) বলে দিয়েছেন। এটিও ছিল তাঁর বিশেষ মু'জিযা। (শারহুন নাবাবী ১২/১৭৭৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭২-[৫] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। বদর যুদ্ধের দিন একটি তাঁবুর মাঝে থাকাবস্থায় নবী (সা.) দু’আ করেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও শত্রুদের হাতে এ মুসলিম দল ধ্বংস হয়ে যাক, তাহলে আজকের পর আর তোমার ’ইবাদত (এ পৃথিবীতে) হবে না।” এরপর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার প্রভুর কাছে খুব চেয়ে ফেলেছেন। অতঃপর তিনি (সা.) যুদ্ধবর্ম পরিহিত অবস্থায় দ্রুত বাইরে এসে এ আয়াতটি পড়লেন, “শত্রুদল অচিরেই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে”(সূরাহ্ আল কামার ৫৪ : ৪৫)। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ يَوْمَ بَدْرٍ: «اللَّهُمَّ أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ اللَّهُمَّ إِنْ تَشَأْ لَا تُعْبَدْ بَعْدَ الْيَوْمِ» فَأَخَذَ أَبُو بَكْرٍ بيدِه فَقَالَ حَسْبُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلْحَحْتَ عَلَى رَبِّكَ فَخَرَجَ وَهُوَ يَثِبُ فِي الدِّرْعِ وَهُوَ يقولُ: « [سيُهزَمُ الجمعُ ويُوَلُّونَ الدُّبُرَ] » . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4875) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال وهو في قبة يوم بدر: «اللهم انشدك عهدك ووعدك اللهم ان تشا لا تعبد بعد اليوم» فاخذ ابو بكر بيده فقال حسبك يا رسول الله الححت على ربك فخرج وهو يثب في الدرع وهو يقول: « [سيهزم الجمع ويولون الدبر] » . رواه البخاري رواہ البخاری (4875) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: মুমিনদের সাহায্য করার ব্যাপারে আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.) বদর যুদ্ধের সময় অনেক দু'আ করেছেন যা এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিরকাত প্রণেতা এ হাদীসের ব্যাখ্যায় একটি সুপ্ত প্রশ্ন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আর তা হলো, আল্লাহ তো মুমিনদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে ওয়াদাই করেছেন। তাহলে রাসূল (সা.) সাহায্যের জন্য আল্লাহর কাছে কেন এত দু'আ করলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর মিরক্বাত প্রণেতা বিভিন্নভাবে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন-
১) দুআ করাটা হলো মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে দু'আকারী ব্যক্তি তার চাওয়া বিষয়টি অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে অবগত থাকুক কিংবা না থাকুক। যেহেতু দু'আ করা মুস্তাহাব। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) দু'আ করেছেন।
২) আল্লাহর প্রতি যে জ্ঞান রাখে সে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে। আর এক্ষেত্রে নবীগণও ব্যতিক্রম নয়। বরং তারা আরো বেশি ভয় করেন। অতএব তাদেরকে যে উত্তম ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা যেন নিজেদের কারণে কোনভাবেই এদিক-সেদিক হয়। সেজন্য তিনি আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন।
৩) তার কোন আশঙ্কা থাকতে পারে এই বিষয়ে যে, তাঁর অথবা তার পূর্বের জাতির কারণে সৃষ্ট কোন প্রতিবন্ধকতার। যেজন্য তাদের প্রতিশ্রুত সাহায্য আটকে যেতে পারে। এজন্যই রাসূল (সা.) এত দু'আ করেছেন।
৪) সম্ভবত এটিও হতে পারে যে, তাঁকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে কিন্তু সেই সাহায্যের জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তাই তিনি আল্লাহর কাছে দু'আ করেছেন যেন তিনি তাঁকে সেদিনই সাহায্য করেন।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো যে উত্তরটি হতে পারে তা হলো, আল্লাহর প্রতি নবী (সা.) -এর পূর্ণ আস্থা ও দৃঢ় বিশ্বাস থাকার পরেও তিনি তার কাছে অনেক দু'আ করেছেন সাহাবীদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এবং তাদের হৃদয়কে সুদৃঢ় করার জন্য। কারণ তারা জানত যে, নবী (সা.) -এর দু'আ অবশ্যই কবুল হবে। বিশেষ করে তিনি যখন আরো বেশি করে দু'আ করবেন।
উক্ত হাদীসে আরো একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তা হলো, যে ব্যক্তি যুদ্ধ করতে সক্ষম না। অথবা যাকে যুদ্ধের জন্য আদেশ করা হয়নি সে যেন তখন সাহায্যের জন্য দু'আ করে। যাতে সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সাওয়াব অর্জন করতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুহায়ল বলেন, নবী (সা.) আল্লাহর কাছে অনেক বেশি দু'আ করেছেন। কারণ তিনি মালায়িকাকে (ফেরেশতাদেরকে) দেখেছেন যে, তারা যুদ্ধের মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন। আর আনসার সাহাবীরা মৃত্যুর মতো কষ্টের দিকে ঝাপিয়ে পড়ছে।
তাছাড়াও জিহাদ কখনো অস্ত্রের মাধ্যমে হয়। আবার কখনো দু'আর দ্বারাই জিহাদ হয়ে যায় ।
আর সুন্নাত হলো, ইমাম সেনাবাহিনীর পিছনে থাকবেন। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন না। যেন তিনি নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করতে পারেন।
(اللَّهُمَّ إِنْ تَشَأْ لَا تُعْبَدْ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! (আপনি যদি না) চান, তাহলে আর আপনার ‘ইবাদত করা হবে না। ‘উমার (রাঃ)-এর একটি হাদীসে রয়েছে, হে আল্লাহ! আপনি যদি এই ইসলামী দলকে ধ্বংস করে দেন। তাহলে জমিনে আর আপনার ইবাদত করা হবে না।
তিনি এ কথা বলেছিলেন, কারণ মুহাম্মাদ (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী। অতএব যদি তিনি ও তাঁর সাথিরা ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে ইসলামের এখানেই সমাপ্তি ঘটবে। যেহেতু তার পরে আর কাউকে দাওয়াত দেয়ার জন্য আল্লাহ নবী হিসেবে পাঠাবেন না। আর তখন মুশরিকরা গায়রুল্লাহর ইবাদত করতেই থাকবে। তারপর এই পৃথিবীতে আর এই শারী'আত অনুযায়ী ‘ইবাদত করা হবে না।
খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি মনে করার কোনই কারণ নেই যে, বদর যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.)-এর দু'আ করা অবস্থায় আল্লাহর প্রতি আবূ বাকর (রাঃ)-এর আস্থা ও বিশ্বাস রাসূল (সা.) -এর থেকে বেশি ছিল।
রাসূল (সা.) সেই সময় তাঁর সাহাবীদের প্রতি দরদ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের হৃদয়কে সুদৃঢ় করেছেন। কারণ এটি ছিল তাদের সর্বপ্রথম সম্মুখ যুদ্ধ। তাই রাসূল (সা.) বেশি বেশি দু'আ করেছেন যেন তাদের অন্তর যুদ্ধের সময় স্থির থাকে।
তারপর আবূ বাকর (রাঃ) রাসূল (সা.) -কে যা বলার বললেন, তখন তিনি দু'আ করা থেকে বিরত হলেন এবং জানতে পারলেন যে, অবশ্যই তাঁর দু'আ কবুল করা হয়েছে। অতঃপর রাসূল (সা.) এই আয়াত (سَیُهۡزَمُ الۡجَمۡعُ وَ یُوَلُّوۡنَ الدُّبُرَ) “শত্রুদল অচিরেই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে”- (সূরাহ্ আল কামার ৫৪ : ৪৫); পাঠ করতে করতে বের হলেন। যার অর্থ, অবশ্যই বাহিনী পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে যাবে। (ফাতহুল বারী ৭/৩৯৫৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৩-[৬] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। বদর যুদ্ধের দিন নবী (সা.) বললেন, এই তো জিবরীল আলায়হিস সালাম তার ঘোড়ার মাথা (লাগাম) ধরে আছেন। তিনি যুদ্ধাস্ত্রে সাজানো। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَ بَدْرٍ: «هَذَا جِبْرِيلُ آخِذٌ بِرَأْسِ فرسه عَلَيْهِ أَدَاة الْحَرْب» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3995) ۔
(صَحِيح)

وعنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم بدر: «هذا جبريل اخذ براس فرسه عليه اداة الحرب» . رواه البخاري رواہ البخاری (3995) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বদর যুদ্ধের দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ হাদীসে উল্লেখিত (بَدْر) (বদর) শব্দের পরিচয়ের ক্ষেত্রে দুটি মত পাওয়া যায়। যথা -
১) ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বদর হলো মক্কাহ ও মদীনার মাঝে একটি পরিচিত জলাশয়ের নাম যার দূরত্ব মদীনাহ থেকে চার মঞ্জীল তথা প্রায় ১৫০ কি.মি.।
২) ইবনু কুতায়বাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি হলো একটি কুপ। যা বদর নামক একজন ব্যক্তির ছিল। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির নাম অনুসারে উক্ত কূপকে বদর নামে নামকরণ করা হয়েছে। বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরী রমাযান মাসের ১৭ তারিখে জুমু'আর দিনে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ফাতহুল বারীতে বদর যুদ্ধে ঘটে যাওয়া কিছু অলৌকিক বিষয় বিভিন্ন হাদীসের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- ইবনু ইসহাক আবূ ওয়াক্বীদ আল লায়সী-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি একজন মুশরিককে হত্যা করার জন্য তার পিছু নিলাম। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে, তার কাছে আমার তরবারি পৌছার পূর্বেই তার গর্দান মাটিতে পড়ে গেল।
অন্য আরেকটি হাদীসে রয়েছে, ‘আলী (রা) বলেন, বদর যুদ্ধের দিন প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত হলো। যে রকম বাতাস প্রবাহিত হলো, সে রকম বাতাস প্রবাহিত হতে আর কোন সময় দেখিনি। তারপর আবারও প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত হলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় যে, তিনি তা তিনবার উল্লেখ করেছেন। এখানে প্রথমটি ছিলেন, জিবরীল আলায়হিস সালাম, দ্বিতীয়টি ছিলেন আলায়হিস সালাম এবং তৃতীয়টি ছিলেন ইসরাফীল আলায়হিস সালাম। মীকাঈল আলায়হিস সালাম ছিলেন নবী (সা.)-এর ডানপাশে আর সেখানে ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ)। যেখানে ইসরাফীল আলায়হিস সালাম ছিলেন নবী (সা.) -এর বামপাশে আর সেখানে ছিলাম আমি।
শায়খ তাক্বীউদ্দীন আস্ সাবাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মালায়িকাহ’র (ফেরেশতাদের) নবী (সা.) -এর সাথে থেকে লড়াই করার হিকমত সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো এভাবে যে, মালায়িকাহ্ কেন লড়াই করল? অথচ জিবরীল আলায়হিস সালাম তো একাই সক্ষম তার কোন এক ডানা দিয়ে কাফিরদেরকে প্রতিহত করতে। তখন উত্তরে আমি বললাম, এটি ঘটেছে এই উদ্দেশে, যেন যুদ্ধের কাজ নবী (সা.) সাহাবীদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয় আর মালায়িকাহ যেন শুধু তাদেরকে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সাহায্য করেন। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে যে, মানুষ যেন উপকরণ গ্রহণ করতে পারে এবং আল্লাহর সেই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে যা তিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে প্রচলিত করেছেন। (ফাতহুল বারী হা. ৩৯৯৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৪-[৭] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেদিন (বদর যুদ্ধের দিন) জনৈক মুসলিম তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন, এমন সময় তিনি তার ওপর হতে একটি চাবুকের এবং এক অশ্বারোহীর আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বলেছিলেন, “হে হায়যূম! (ফেরেশতার ঘোড়ার নাম) অগ্রসর হও।” এ সময় তিনি দেখতে পেলেন, সেই সম্মুখস্থ মুশরিক লোক চিত হয়ে পড়ে আছে। অতঃপর তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তার নাকের উপর আঘাতের চিহ্ন এবং মুখ ফেটে রয়েছে। চাবুকের আঘাতের মতো সমস্ত স্থান নীল বর্ণ হয়ে রয়েছে। অতঃপর সে আনসারী রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর কাছে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন, তুমি সত্যই বলেছ। তিনি তৃতীয় আকাশের সাহায্যকারী মালায়িকার একজন ছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, মুসলিমগণ সেদিন (বদরের দিন) সত্তরজন মুশরিককে হত্যা এবং সত্তরজনকে বন্দি করেছিলেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعنهُ قا ل: بَيْنَمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَئِذٍ يَشْتَدُّ فِي إِثْرِ رَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ أَمَامَهُ إِذْ سَمِعَ ضَرْبَةً بِالسَّوْطِ فَوْقَهُ وَصَوْتُ الْفَارِسِ يَقُولُ: أَقْدِمْ حَيْزُومُ. إِذْ نَظَرَ إِلَى الْمُشْرِكِ أَمَامَهُ خَرَّ مُسْتَلْقِيًا فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ خُطِمَ أَنْفُهُ وَشُقَّ وَجْهُهُ كَضَرْبَةِ السَّوْطِ فَاخْضَرَّ ذَلِكَ أَجْمَعُ فَجَاءَ الْأَنْصَارِيُّ فَحَدَّثَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «صَدَقْتَ ذَلِكَ مِنْ مَدَدِ السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ» فَقَتَلُوا يَوْمَئِذٍ سَبْعِينَ وَأَسَرُوا سبعين. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (58 / 1763)، (4588) ۔
(صَحِيح)

وعنه قا ل: بينما رجل من المسلمين يومىذ يشتد في اثر رجل من المشركين امامه اذ سمع ضربة بالسوط فوقه وصوت الفارس يقول: اقدم حيزوم. اذ نظر الى المشرك امامه خر مستلقيا فنظر اليه فاذا هو قد خطم انفه وشق وجهه كضربة السوط فاخضر ذلك اجمع فجاء الانصاري فحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «صدقت ذلك من مدد السماء الثالثة» فقتلوا يومىذ سبعين واسروا سبعين. رواه مسلم رواہ مسلم (58 / 1763)، (4588) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসের এক অংশে বলা হয়েছে, (فَجَاءَ الْأَنْصَارِيُّ فَحَدَّثَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: صَدَقْتَ ..) অর্থাৎ তারপর একজন আনসার সাহাবী এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট সেই ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রাসূল (সা.) তা সত্যায়ন করলেন।
এখানে মিরক্বাত প্রণেতা উল্লেখ করেন যে, এ বিশেষ ঘটনাটি দেখতে পাওয়াটা সাহাবীর জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়। বিশেষ করে তা ঘটেছে, রাসূল (সা.) -এর জীবদ্দশায় এবং তিনি সেই সাহাবীর বর্ণনাকে সত্যায়নও করেছেন। আর সকল সাহাবী হলেন ন্যায়পরায়ণ। তাই তাদের সংবাদও সঠিক। অতএব যুদ্ধের ময়দানে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাকে মু'জিযাহ্ হিসেবেই গণ্য হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৫-[৮] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ডানে ও বামে সাদা পোশাক পরিহিত দু’জন লোককে দেখলাম, তারা [রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর] রক্ষার জন্য প্রচণ্ডভাবে লড়াই করছেন। ঐ দু’জনকে আমি পূর্বেও কোনদিন দেখিনি কিংবা পরেও, তারা দু’জন ছিলেন জিবরীল ও মীকাঈল আলায়হিস সালাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَنْ يَمِينُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ شِمَالِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بِيضٌ يُقَاتِلَانِ كَأَشَدِّ الْقِتَالِ مَا رأيتُهما قبلُ وَلَا بعد يَعْنِي جِبْرِيل وَمِيكَائِيل. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4045) و مسلم (46 / 2306)، (6004) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن سعد بن ابي وقاص قال: رايت عن يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن شماله يوم احد رجلين عليهما ثياب بيض يقاتلان كاشد القتال ما رايتهما قبل ولا بعد يعني جبريل وميكاىيل. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4045) و مسلم (46 / 2306)، (6004) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বর্ণনাকারী সাহাবী বলেছেন, (كَأَشَدِّ الْقِتَالِ) অর্থাৎ তারা দু’জন প্রচণ্ড লড়াই করছিল মিরকাত প্রণেতা বলেন, তারা দুজন এমনভাবে দৃঢ়তার সাথে লড়াই করছিল যেমন শক্তিশালী সাহসী বীর পুরুষ লড়াই করে থাকে।
উক্ত দুজনের পরিচয় দিতে গিয়ে বর্ণনাকারী বলেন, তাদের একজন হলেন জিবরীল আর অপরজন হলেন মীকাঈল আলায়হিস সালাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৬-[৯] বারা’ (ইবনু ’আযিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) একদল লোক (ইয়াহুদী নেতা) আবূ রাফি’-কে হত্যার জন্য পাঠালেন। সে দলের মধ্য হতে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আতীক (রাঃ), এক রাত্রে তার (আবূ রাফি’-এর) গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন সে (আবূ রাফি’) ঘুমিয়ে ছিল এবং সে অবস্থায় তাকে হত্যা করেন। এ প্রসঙ্গে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আতীক (রাঃ) বলেন, আমি তরবারি তার পেটের উপর ধরলাম এবং তা পিঠ পর্যন্ত পৌছল। তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, তাকে হত্যা করেছি। অতঃপর আমি একটি একটি করে দরজা খুলে (ফিরে আসার পথে) সিড়িতে পৌছলাম। তা ছিল জোৎস্না রাত, তাই (দু’এক ধাপ থাকতেই সিড়ি শেষ হয়েছে ভেবে) নীচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। ফলে আমার পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গেল। তখন আমি পাগড়ি দিয়ে ভাঙ্গা পা’টি বেঁধে ফেললাম। তারপর আমি আমার সাথিদের কাছে আসলাম।
অবশেষে নবী (সা.) -এর কাছে পৌছে ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার পা’টি মেল। আমি পা মেলে ধরলাম। তিনি (সা.) সে পা’টির উপর হাত বুলালেন। এতে আমার পা এমনভাবে ব্যথামুক্ত হয়ে গেল যেন তাতে আমি কক্ষনো আঘাতই পাইনি। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن الْبَراء قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَهْطًا إِلَى أَبِي رَافِعٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَتِيكٍ بَيْتَهُ لَيْلًا وَهُوَ نَائِمٌ فَقَتَلَهُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَتِيكٍ: فَوَضَعْتُ السَّيْف فِي بَطْنه حَتَّى أَخذ فِي ظَهره فَعَرَفْتُ أَنِّي قَتَلْتُهُ فَجَعَلْتُ أَفْتَحُ الْأَبْوَابَ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى دَرَجَةٍ فَوَضَعْتُ رِجْلِي فَوَقَعْتُ فِي لَيْلَةٍ مُقْمِرَةٍ فَانْكَسَرَتْ سَاقِي فَعَصَبَتُهَا بِعِمَامَةٍ فَانْطَلَقْتُ إِلَى أَصْحَابِي فَانْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ: «ابْسُطْ رِجْلَكَ» . فَبَسَطْتُ رِجْلِي فَمَسَحَهَا فَكَأَنَّمَا لَمْ أَشْتَكِهَا قَطُّ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3022) ۔
(صَحِيح)

وعن البراء قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم رهطا الى ابي رافع فدخل عليه عبد الله بن عتيك بيته ليلا وهو ناىم فقتله فقال عبد الله بن عتيك: فوضعت السيف في بطنه حتى اخذ في ظهره فعرفت اني قتلته فجعلت افتح الابواب حتى انتهيت الى درجة فوضعت رجلي فوقعت في ليلة مقمرة فانكسرت ساقي فعصبتها بعمامة فانطلقت الى اصحابي فانتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته فقال: «ابسط رجلك» . فبسطت رجلي فمسحها فكانما لم اشتكها قط. رواه البخاري رواہ البخاری (3022) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَهْطًا) অর্থাৎ রাসূল (সা.) একটি দল পাঠালেন। উক্ত হাদীসে উল্লেখিত শব্দ (رَهْط) সম্পর্কে মিরকাত প্রণেতা বলেন, (رَهْط) শব্দটি দশের কম সংখ্যক পুরুষ লোকের এমন একটি দলকে বুঝায় যে দলের মাঝে কোন স্ত্রীলোক থাকে না।
আর অভিধানে বলা হয়েছে যে, (رَهْط) তিন অথবা সাত থেকে দশের কম সংখ্যক পুরুষের এমন দলকে বুঝায় যাদের মাঝে কোন মহিলা লোক থাকবে না।
(فَوَضَعْتُ) অর্থাৎ তারপর আমি পড়ে গেলাম। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) তার পরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, চাঁদের আলো সিড়িতে এসে পড়ছিল। আর তিনি সিঁড়িতে প্রবেশ করে ধারণা করলেন যে, সিঁড়ি হলো জমিনের বরাবর। কিন্তু সেটি আসলে তেমন ছিল না। তাই তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
আবূ রাফি'-কে সাহাবীরা ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেছে। পাশাপাশি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে ডাক দিয়েছে। যখন তার কথা শুনে সাহাবীরা নিশ্চিত হলো তখন তারা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করল। এখানে থেকে বুঝা যায় যে, প্রয়োজনে মুশরিকদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা বৈধ আছে। সাথে সাথে এটিও বুঝা যায় যে, মুশরিকদেরকে দাওয়াত দেয়া ছাড়াও হত্যা করা যাবে। যদি তাদের কাছে তারা পূর্বে দাওয়াত পৌঁছে থাকে। আর আবূ রাফি'-এর কাছে এর আগেই দা'ওয়াত পৌছেছে। তারপরে সে দা'ওয়াত তো গ্রহণ করেইনি। বরং রাসূল (সা.) -কে আরো বেশি কষ্ট দিয়েছে। তাই তিনি তাকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। (ফাতহুল বারী হা. ৩০২৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৭-[১০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের শুরুতে আমরা পরিখা খনন করছিলাম। এ সময় এক খণ্ড শক্ত পাথর দেখা দিল। তখন লোকেরা এসে নবী (সা.) -কে বলল, খাল খননকালে একটি শক্ত পাথর দেখা দিয়েছে (যা কোদাল কিংবা শাবল দ্বারা ভাঙা যাচ্ছে না)। তখন নবী (সা.) বললেন, আচ্ছা, আমি নিজেই গর্তে নামব। অতঃপর তিনি (সা.) দাঁড়ালেন, সে সময় তার পেটে পাথর বাধা ছিল। আর আমরাও তিনদিন যাবৎ কিছুই খেতে পাইনি। এমতাবস্থায় নবী (সা.) কোদাল হাতে নিয়ে পাথরটির উপর আঘাত করলে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে বালুকণায় পরিণত হয়। জাবির (রাঃ) বলেন, [নবী (সা.)-কে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেয়ে] আমি আমার স্ত্রীর কাছে এসে বললাম, তোমার কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? কেননা আমি নবী (সা.) -কে ভীষণ ক্ষুধার্ত দেখেছি। তখন সে একটি চামড়ার পাত্র হতে এক সা’ পরিমাণ যব বের করল আর আমাদের পোষা একটি বকরির ছানা ছিল। তখন আমি সেই ছানাটি যাবাহ করলাম এবং আমার স্ত্রীও যব পিষল। অবশেষে আমরা হাঁড়িতে মাংস চড়ালাম। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এসে তাকে চুপে চুপে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের ছোট একটি বকরির বাচ্চা যাবাহ করেছি। আর এক সা যব ছিল, আমার স্ত্রী তা পিষেছে। অতএব আপনি আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলুন। (এ কথা শুনে) নবী (সা.) উচ্চৈঃস্বরে সকলকে ডেকে বললেন, হে খাল খননকারীগণ! আসো, তোমরা তাড়াতাড়ি চল, জাবির তোমাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেছে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি যাও, কিন্তু আমি না আসা পর্যন্ত মাংসের ডেকচি নামাবে না এবং খামিরগুলো নবী (সা.) -এর সামনে আগিয়ে দিলে তিনি তাতে মুখের লালা মিশালেন এবং বরকতের জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর ডেকচির কাছে অগ্রসর হয়ে তাতেও লালা মিশিয়ে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। এরপর তিনি (আমার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে) বললেন, তুমি আরো রুটি প্রস্তুতকারিণীকে আহ্বান কর, যারা তোমাদের সাথে রুটি বানায় এবং চুলার উপর হতে ডেকচি না নামিয়ে তা হতে নিয়ে পরিবেশন কর। (জাবির রা. বলেন) সাহাবীদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, সকলে তৃপ্তি সহকারে খেয়ে চলে যাওয়ার পরও তরকারি ভর্তি ডেচকি ফুটছিল এবং প্রথম অবস্থার মতো আটার খামির হতে রুটি প্রস্তুত হচ্ছিল। (বুখারী ও মুসলিম

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن جَابر قا ل إِنَّا يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَحْفِرُ فَعَرَضَتْ كُدْيَةٌ شَدِيدَةٌ فجاؤوا الْنَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: هَذِهِ كُدْيَةٌ عَرَضَتْ فِي الْخَنْدَقِ فَقَالَ: «أَنَا نَازِلٌ» ثُمَّ قَامَ وَبَطْنُهُ مَعْصُوبٌ بِحَجَرٍ وَلَبِثْنَا ثَلَاثَةَ أَيَّام لانذوق ذوقا فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِعْوَلَ فَضَرَبَ فَعَادَ كَثِيبًا أَهْيَلَ فَانْكَفَأْتُ إِلَى امْرَأَتِي فَقُلْتُ: هَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ؟ فَإِنِّي رَأَيْتُ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْصًا شَدِيدًا فَأَخْرَجَتْ جراباً فِيهِ صاعٌ من شعير وَلنَا بَهْمَةٌ دَاجِنٌ فَذَبَحْتُهَا وَطَحَنَتِ الشَّعِيرَ حَتَّى جَعَلْنَا اللَّحْمَ فِي الْبُرْمَةِ ثُمَّ جِئْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فساررتُه فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ ذَبَحْنَا بُهَيْمَةً لَنَا وَطَحَنْتُ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ فَتَعَالَ أَنْتَ وَنَفَرٌ مَعَكَ فَصَاحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أهلَ الخَنْدَق إِن جَابِرا صَنَعَ سُوراً فَحَيَّ هَلًا بِكُمْ» فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ وَلَا تَخْبِزُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أَجِيءَ» . وَجَاءَ فَأَخْرَجْتُ لَهُ عَجِينًا فَبَصَقَ فِيهِ وَبَارَكَ ثُمَّ عَمَدَ إِلَى بُرمْتنا فبصقَ وَبَارك ثمَّ قَالَ «ادعِي خابزة فلتخبز معي وَاقْدَحِي مِنْ بُرْمَتِكُمْ وَلَا تُنْزِلُوهَا» وَهُمْ أَلْفٌ فَأَقْسَمَ بِاللَّهِ لَأَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ وَانْحَرَفُوا وَإِنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغِطُّ كَمَا هِيَ وَإِنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَزُ كَمَا هُوَ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4101 ۔ 4102) و مسلم (141 / 2039)، (5315) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن جابر قا ل انا يوم الخندق نحفر فعرضت كدية شديدة فجاووا النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: هذه كدية عرضت في الخندق فقال: «انا نازل» ثم قام وبطنه معصوب بحجر ولبثنا ثلاثة ايام لانذوق ذوقا فاخذ النبي صلى الله عليه وسلم المعول فضرب فعاد كثيبا اهيل فانكفات الى امراتي فقلت: هل عندك شيء؟ فاني رايت بالنبي صلى الله عليه وسلم خمصا شديدا فاخرجت جرابا فيه صاع من شعير ولنا بهمة داجن فذبحتها وطحنت الشعير حتى جعلنا اللحم في البرمة ثم جىت النبي صلى الله عليه وسلم فساررته فقلت: يا رسول الله؟ ذبحنا بهيمة لنا وطحنت صاعا من شعير فتعال انت ونفر معك فصاح النبي صلى الله عليه وسلم: «يا اهل الخندق ان جابرا صنع سورا فحي هلا بكم» فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تنزلن برمتكم ولا تخبزن عجينكم حتى اجيء» . وجاء فاخرجت له عجينا فبصق فيه وبارك ثم عمد الى برمتنا فبصق وبارك ثم قال «ادعي خابزة فلتخبز معي واقدحي من برمتكم ولا تنزلوها» وهم الف فاقسم بالله لاكلوا حتى تركوه وانحرفوا وان برمتنا لتغط كما هي وان عجيننا ليخبز كما هو. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4101 ۔ 4102) و مسلم (141 / 2039)، (5315) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে মুহাম্মাদ (সা.)-এর বরকতময় একটি মুজিযাহ সম্পর্কে যেমন আলোচনা করা হয়েছে তেমনি তার সাথে তুলে ধরা হয়েছে তার পবিত্র জীবনের একটি কষ্টের কথা মুসলিমরা মুশরিক দলগুলো থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য পরিখা খনন করেন। তাদের মাঝে রাসূল (সা.) নিজেও অংশগ্রহণ করে কাজ করেছেন। তখন অভাব এতটাই ছিল যে, তারা কয়েকদিন অনাহারে থেকে কাজ করেছেন। এমনকি রাসূল (সা.) নিজেও ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেঁধেছেন। ফাতহুল বারীর প্রণেতা রাসূল (সা.) -এর ক্ষুধার কারণে পেটে পাথর বাধার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। যেমন ক্ষুধার কারণে পেট সংকুচিত হয়ে যায় আর এতে পিঠ বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে যেন পিঠ বেঁকে না যায়। এজন্যই তিনি পেটে পাথর বেঁধেছেন। যাতে পিঠ সোজা থাকে।
কিরমানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সম্ভবত পাথরের শীতলতার মাধ্যমে ক্ষুধার জ্বালা থেকে প্রশান্তি লাভ করার জন্য পাথর বেঁধেছেন। (ফাতহুল বারী হা. ৪১০১)
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ), হাদীসের একটি অংশে বলেন, (ثُمَّ جِئْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فساررتُه) অর্থাৎ, তারপর আমি রাসূল (সা.) -কে কানে কানে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ছোট একটি ছাগী যাবাহ করেছি। আর আমাদের এক সা যব আছে।
মিরক্বাত প্রণেতা তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রয়োজনে অনেক লোকের উপস্থিতিতে একজনের সাথে আলাদা করে কানে কানে বা চুপে চুপে কথা বলা বৈধ। আর অন্য হাদীসে কানে কানে কথা বলা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তার ক্ষেত্র ভিন্ন। সেটি হলো যদি তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকে তাহলে একজনকে বাদ দিয়ে বাকী দু’জনে চুপে চুপে কথা বলা। কারণ এতে তৃতীয় ব্যক্তি কষ্ট পায়। উক্ত হাদীসে জাবির (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে চুপে চুপে দা'ওয়াতের কথা বলেছেন। কারণ খাবারের আয়োজন ছিল অল্প কিন্তু লোকজন ছিল অনেক বেশি, প্রায় হাজারের মতো। তাই জাবির (রাঃ) রাসূল (সা.) -কে চুপে চুপে বলেছেন, আপনি এবং আপনার কয়েকজন লোক নিয়ে আসুন। যেমন হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
(وَإِنَّ عَجِينَنَا لَيُخْبَزُ كَمَا هُوَ) অর্থাৎ আমাদের খামীর দিয়ে রুটি বানানো হচ্ছিল। শেষে ঐ পরিমাণই রয়ে গেল যে পরিমাণ ছিল। মিরকাত প্রণেতা বলেন, যে পাত্রে খামির রেখে রুটি বানানো হচ্ছিল সে পাত্রে ঐ পরিমাণই থেকে গেল যে পরিমাণ দিয়ে রুটি বানানো শুরু করা হয়েছিল।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বিশেষ মু'জিযার কারণে অল্প জিনিস বৃদ্ধি পাওয়া পানি বেশি হয়ে উথলিয়ে উঠা, খাবারের তাসবীহ পাঠ করা ইত্যাদি বিষয় সংক্রান্ত হাদীসগুলো সুপ্রসিদ্ধ যার ফলে হাদীসগুলো মুতাওয়াতীর পর্যায়ে পৌছে গেছে। অতএব এ বিষয়গুলো অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অনেক ‘আলিমগণ নুবুওয়্যাতের প্রমাণে বিভিন্ন নিদর্শন তাদের কিতাবে একত্রিত করেছেন। যেমন আবূ আবদুল্লাহ আল হালিমী তাঁর (الْقَفَّالِ الشَّاشِي) নামক কিতাবে, আবূ বাকর আল বায়হাক্বী তার (كِتَابُ الْبَيْهَقِيِّ) -তে।
অতএব সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিভিন্ন মু'জিযার মাধ্যমে আমাদের নবী (সা.) -এর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। এবং এসবের মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে আরো কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন- হাসান সানাদে ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী বারা ইবনু ‘আযিব থেকে বর্ণনা করেন। খন্দক যুদ্ধের সময় যখন রাসূল (সা.) আমাদেরকে পরিখা খনন করার আদেশ করলেন তখন খনন করা অবস্থায় একটি শক্ত পাথর বের হলো। যে পাথর কোদাল দিয়ে কাটা যাচ্ছিল না। তখন আমরা রাসূল (সা.) এ-কে এ বিষয়টি জানালাম। তারপর তিনি (সা.) এসে বিসমিল্লাহ বলে কোদাল নিয়ে আঘাত করলেন। এতে সেই পাথরের এক তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে গেল। আর তখন রাসূল (সা.) বললেন, আল্লা-হু আকবার! আমাকে সিরিয়ার চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি এ সময়ে সিরিয়ার লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি।
তারপর দ্বিতীয়বার রাসূল (সা.) সেই পাথর আঘাত করলেন। ফলে পাথরের দুই-তৃতীয়াংশ কেটে গেল। তারপর তিনি (সা.) বললেন, আল্ল-হু আকবার! আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমি মাদায়িনের সাদা প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি। তারপর বিসমিল্লাহ বলে তৃতীয়বার উক্ত পাথরে আঘাত করলেন। তখন পাথরের অবশিষ্ট অংশও কেটে গেল। এ সময় রাসূল (সা.) বললেন, আল্ল-হু আকবার আমাকে ইয়ামানের চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি এ মুহূর্তে এই জায়গায় থেকে সানার তোরণগুলো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) খন্দকের যুদ্ধ সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, রাসূল (সা.) এই প্রত্যেক দশজন ব্যক্তির জন্য দশ হাত করে জায়গা খনন করার দায়িত্ব দিলেন। সেই হাদীসে রয়েছে, খনন করতে করতে একটি সাদা পাথর আমাদের সামনে এসে পড়ল। তাতে আঘাত করার কারণে আমাদের কোদাল ভেঙ্গে গেল। আমরা পাথরটি সেখান থেকে সরাতে চাইলাম। তখন আমরা বললাম, আগে আমরা রাসূল (সা.) -এর সাথে পরামর্শ করে নেই। তাই আমরা তাঁর কাছে সালমান আল ফারসী-কে পাঠালাম।
সেই হাদীসে আরো উল্লেখ আছে আল্লাহর রাসূল (সা.) সেই পাথরটিতে আঘাত করলেন। ফলে তা চৌচির হয়ে গেল এবং তা চমকিয়ে উঠল। তখন রাসূল (সা.) তাকবীর দিলেন এবং মুসলিমেরাও তার সাথে তাকবীর দিয়ে উঠলো। উক্ত হাদীসে আরো উল্লেখ আছে, সাহাবীরা রাসূল (সা.) -কে বললেন, আমরা আপনাকে তাকবীর দিতে দেখেছি, তাই আমরাও আপনার সাথে তাকবীর দিয়েছি। তখন রাসূল (সা.) বললেন, প্রথম চমকানোটা সিরিয়ার প্রাসাদগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছে। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মত তাদের ওপর বিজয় লাভ করবে। উক্ত হাদীসের শেষ অংশে রয়েছে, তারপর মুসলিমগণ খুশি হলো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করল।
(قَالَتْ هَلْ سَأَلَكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ ادْخُلُوا) অর্থাৎ জাবির (রাঃ)-এর স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে কি জিজ্ঞেস করেছেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর জাবির (রাঃ) বললেন, আপনারা প্রবেশ করুন।।
এখানে বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত বিবরণ ইউনুস-এর একটি বর্ণনায় আছে। আর তা হলো, জাবির (রাঃ) বলেন, আমি সেদিন অনেক লজ্জার সম্মুখীন হয়েছি যা কেবল আল্লাহই জানেন। তাদের সবাইকে দেখে আমি মনে মনে বললাম। তারা সাবই চলে এসেছেন। অথচ আমার আছে মাত্র এক সা' যব আর একটি ছাগলের বাচ্চা। তারপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমি লজ্জায় পড়ে গেছি। আল্লাহর রাসূল (সা.) খন্দকের সবাইকে নিয়ে তোমার দাওয়াতে চলে এসেছেন। তখন তার স্ত্রী বলল, আল্লাহর রাসূল কি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে, তোমার কাছে কি পরিমাণ খাবার আছে? তখন আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর আমার স্ত্রী বলল, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। আমরা তো তাকে জানিয়েই দিয়েছি যে, আমাদের কাছে কি পরিমাণ খাবার আছে। তখন আমি সেই ভীষণ চিন্তা থেকে মুক্ত হলাম।
জাবির (রাঃ)-এর অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে যে, তার স্ত্রী তাকে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূলএর কাছে আবার ফিরে গিয়ে বিষয়টি বর্ণনা করুন। তারপর আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমাদের কাছে শুধু একটি ছাগলের বাচ্চা ও এক সা' যব আছে। তখন রাসূল (সা.) বললেন, তুমি ফিরে যাও কিন্তু আমি না আসা পর্যন্ত চুলা থেকে পাতিল নামাবে না এবং পাতিল থেকে কোন কিছু নাড়াবেও না। বরং তা চুলার উপরই আচ পেতে থাকবে।
এরপর অপর আরেকটি বর্ণনায় আছে, জাবির (রাঃ), বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে খামির বের করে দিলাম। তখন তিনি তাতে একটু থুথু দিলেন এবং বরকতের দু'আ করলেন। তারপর পাতিলের কাছে আসলেন এবং তাতে হালকা থুথু দিয়ে বরকতের দু'আ করলেন।
ইউনুস ইবনু বুকায়র-এর বর্ণনায় আছে। রুটি তৈরি করে লোকেদেরকে দেয়া হচ্ছিল আর তারা খাচ্ছিল। এক পর্যায়ে তারা সকলেই পরিতৃপ্ত হয়ে গেল। তারপরেও দেখা গেল যে, পাতিলে ঐ পরিমাণই খাবার রয়েছে যে, পরিমাণ আগে ছিল। অতএব, এসব ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, এটি ছিল মুহাম্মাদ (সা.) -এর বিশেষ মু'জিযার একটি। (ফাতহুল বারী ৭/৪১০১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৮-[১১] আবূ কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। ’আম্মার (রাঃ) যখন খন্দক যুদ্ধের খাল খনন করছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার (ধুলাবালু ঝাড়ার উদ্দেশে) মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, হায়! সুমাইয়্যাহ্’র পুত্রের ওপর কত কঠিন সময় আগত, তোমাকে বিদ্রোহী দলটি হত্যা করবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَمَّارٍ حِينَ يَحْفِرُ الْخَنْدَقَ فَجَعَلَ يَمْسَحُ رَأسه وَيَقُول: «بؤس بن سميَّة تقتلك الفئة الباغية» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (71 ، 70 / 2915)، (7320 و 7321) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي قتادة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعمار حين يحفر الخندق فجعل يمسح راسه ويقول: «بوس بن سمية تقتلك الفىة الباغية» . رواه مسلم رواہ مسلم (71 ، 70 / 2915)، (7320 و 7321) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে মুহাম্মাদ (সা.) বলে দিয়েছেন যে, ‘আম্মার (রাঃ)-কে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। মিরক্বাত প্রণেতা বিদ্রোহী দলের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, “বিদ্রোহী দল হলো সে সময়ের খলীফার আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া দল।”
তৃীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আম্মার (রাঃ) যে বিদ্রোহী দল কর্তৃক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে মারা গেছেন সেই বিদ্রোহী দল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) এবং তার দল। কারণ ‘আম্মার (রাঃ)-কে সিফফীনের যুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। আর সিফফীনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ‘আলী (রাঃ) ও মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) -এর দলের মাঝে। উক্ত যুদ্ধে ‘আম্মার (রাঃ) ‘আলী (রাঃ)-এর দলে ছিলেন।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা জেনে রাখতে হবে যে, ‘আম্মার (রাঃ)-কে হত্যা করেছেন মু'আবিয়াহ (রাঃ)-ও তার দল। অতএব এ হাদীস অনুযায়ী তারাই হলেন বিদ্রোহী হল। কারণ আম্মার (রাঃ), ‘আলী (রাঃ)-এর দলে ছিলেন। আর প্রকৃতপক্ষে খলীফাহ হওয়ার হকদার ‘আলী (রাঃ)-ই ছিলেন। কিন্তু তারা ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে বায়'আত করেনি।
তবে এছাড়াও মু'আবিয়াহ (রাঃ) সম্পর্কে আরো কিছু উভ্রান্তিমূলক বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন- তিনি নাকি উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, উসমান (রাঃ) -এর রক্তপণ আদায়ের দাবীকে কেন্দ্র করেই আমরা বিদ্রোহী হলাম।

এ ব্যাখ্যাটি একেবারেই বিভ্রান্তিকর এবং উসমান (রাঃ)-এর রক্তপণ আদায়ের দাবীটাও অমূলক। কারণ এ হাদীসে রাসূল (সা.) ‘আম্মার (রাঃ)-এর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। আর তার হত্যাকারীকে নিন্দা করেছেন। এখানে আর অন্য কোন বিষয়ের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর সম্পর্কে আরো মারাত্মক বিভ্রান্তিকর কথা ছড়ানো হয়ে থাকে। যেমন তিনি নাকি বলেছেন, “আলী (রাঃ)-ই হলেন ‘আম্মার (রাঃ)-এর হত্যাকারী। কারণ তিনি ও তার দলই ‘আম্মার-কে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করেছেন। অতএব, তারাই হলেন তার নিহত হওয়ার কারণ।
আর এ ব্যাখ্যাকে যদি গ্রহণ করা হয় তাহলে মারাত্মক একটি ভুল কাজ হবে। তখন হামযাহ্ (রাঃ) -এর হত্যাকারী হবেন রাসূল (সা.)। যেহেতু তিনি তাকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করেছেন। আর মুমিনদের হত্যাকারী হবেন আল্লাহ। নাউযুবিল্লা-হ কত জঘন্য কথা।
সারকথা হলো উক্ত হাদীস থেকে রাসূল (সা.) -এর তিনটি মু'জিযার বিষয় জানা যায়।
১) ‘আম্মার (রাঃ)-কে অবশ্যই হত্যা করা হবে- এ কথাটি তিনি আগেই জানিয়ে দিলেন।
২) তিনি মাযলুম হয়ে মারা যাবেন, তাও জানিয়ে দিলেন।
৩) তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে, সেটিও জানিয়ে দিলেন। এসব কিছুই সত্য হয়েছে এবং যথার্থ সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।
শায়খ আকমালুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আসল কথা হলো, মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও বর্ণনা সবই তার প্রতি মিথ্যারোপ।
যেমন- এ ব্যাখ্যাটি। ‘আম্মার মা-কে তারাই হত্যা করেছে যারা তাকে লড়াইয়ের জন্য বের করেছে এবং লড়াইয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছে।
উক্ত ব্যাখ্যা মিথ্যা হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন- এই জাতীয় ব্যাখ্যা করাটা হলো হাদীসে বিকৃতি সাধন। তাছাড়াও ‘আম্মার (রাঃ)-কে কেউ বের করেননি। বরং তিনি নিজেই তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। এসব কিছুই মুআবিয়াহ্ (রাঃ)-এর সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। কারণ তিনি ছিলেন একজন সচেতন ব্যক্তি এবং সম্মানিত সাহাবী। অতএব ইতিহাস যাচাই-বাছাই করে সঠিক বিষয়টি জানা এবং সাহাবীদের বিশেষ সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখাই আমাদের কর্তব্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৭৯-[১২] সুলায়মান ইবনু সুরদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (খন্দক যুদ্ধের সময় মদীনাহ্ আক্রমণের উদ্দেশে মক্কাহ্ হতে আগত) কাফিরদের সম্মিলিত বাহিনী যখন (অকৃতকার্য অবস্থায়) ফিরে যেতে বাধ্য হলো, তখন নবী (সা.) বললেন, এখন হতে আমরাই তাদের ওপর আক্রমণ করব। তারা আর আমাদের ওপর আক্রমণ করতে পারবে না, আমরাই তাদের দিকে অগ্রসর হব। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن سليمانَ بن صُرَد قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَجْلَى الْأَحْزَابَ عَنْهُ: «الْآنَ نَغْزُوهُمْ وَلَا يغزونا نَحن نسير إِلَيْهِم» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4019 ۔ 4110) ۔
(صَحِيح)

وعن سليمان بن صرد قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم حين اجلى الاحزاب عنه: «الان نغزوهم ولا يغزونا نحن نسير اليهم» . رواه البخاري رواہ البخاری (4019 ۔ 4110) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: খন্দক যুদ্ধে কুফফার শক্তি যখন উচ্ছেদ হলো তখন রাসূল (সা.) বললেন, এরপর থেকে আমরাই তাদেরকে আক্রমণ করতে যাব। তারা আমাদের আক্রমণ করতে আসতে পারবে না। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মিরকাত প্রণেতা আলোচনা করে বলেন, খন্দক যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.) এর বিরুদ্ধে দশ হাজার কাফির সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী মদীনায় আক্রমণ করার লক্ষ্যে বের হয়। কেননা, গোত্র তিহামার অধিবাসী এবং কুরায়শদের লিডার ছিলেন আবূ সুফইয়ান। গাতফান গোত্র এক হাজার সৈন্য নিয়ে বের হয়েছিল। আর তাদের সাথে নাজুদের অধিবাসীরাও এসেছিল। তাদের নেতা ছিলেন ওয়াইনাহ্ ইবনু হাসীন এবং হাওয়াযিন-এর আমীর ইবনু তুফায়ল। সেই সময়ে মদীনার ইয়াহূদী গোত্র তথা কুরায়যাহ্ ও নাযীরের লোকেরাও মুসলিমদেরকে কষ্ট দিয়েছে।
আগত কাফির সৈন্যবাহিনী মদীনায় প্রবেশ করতে পারেনি তবে তারা পরিখার অন্যপাশে অবস্থান করেছে এবং তারা একে অপরকে তীর ও পাথর নিক্ষেপ করেছে। তাদের মাঝে এই অবস্থা চলেছে প্রায় এক মাসের মত। তারপর আল্লাহ প্রত্যুষের বাতাস পাঠানোর মাধ্যমে এবং অদৃশ্য বাহিনী তথা মালাক (ফেরেশতা) পাঠিয়ে মুসলিমদেরকে সাহায্য করেছেন, আর তাদের অন্তরে ভয়-ভীতি প্রবেশ করিয়ে দেন।
ত্বলহাহ্ ইবনু খুওয়াইলিদ আল আসাদী বলেন, ওহে তোমরা! মুক্তির পথ খোঁজ। তাড়াতাড়ি মুক্তির পথ খোজ। অতঃপর তারা লড়াই ছাড়াই ভেগে যেতে বাধ্য হয়।
তারা চলে যাওয়ার পর নবী (সা.) বললেন, এরপর থেকে আমরাই তাদেরকে আক্রমণ করতে যাব। তারা আমাদেরকে আক্রমণ করতে আসতে পারবে না। কেননা অন্যদের আক্রমণ প্রতিহত করাটা অনেক সমস্যার কাজ। এজন্য আমরাই তাদের দিকে গিয়ে আক্রমণ করব। আর পরবর্তীতে তথা হুদায়বিয়ার সন্ধির পর এটিই হয়েছে, কুফফার শক্তি আর তাদেরকে আক্রমণ করতে আসতে পারেনি। তারপর মুসলিমগণ এগিয়ে গিয়ে মক্কাহ্ বিজয় করেছে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে তারা অনেক বিজয় লাভ করেছে।
(الْآنَ نَغْزُوهُمْ) অর্থাৎ এখন থেকে আমরাই যুদ্ধ করার জন্য যাব। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এ সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর উক্ত বাণীর মাধ্যমে এই সংবাদ পাওয়া যায় যে, মুশরিকদের দাপট কমে এসেছে। তারপর তেমনই ঘটেছে। এটি ছিল রাসূল (সা.)-এর বিশেষ মু'জিযাহ্। (মিকাতুল মাফাতীহ)

ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করা হয়েছে, (حِينَ أَجْلَى) অর্থাৎ যখন তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলো। এ বাক্য থেকে এটাই বুঝা যায় যে, তারা তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে আর তা সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহর সাহায্যের কারণেই। এটি সংঘটিত হয়েছে যিলক'দাহ্ মাসের ২৩ তারিখে। তার পরের বছর নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ‘উমরাহ করতে যান। কিন্তু তিনি কুরায়শ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন এবং তাদের মধ্যে তখন সন্ধি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে তারাই সেই সন্ধি ভঙ্গ করে। আর এটিই মুসলিমদের পক্ষে মক্কাহ বিজয়ের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। (ফাতহুল বারী হা. ৪১০৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮০-[১৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন খন্দকের যুদ্ধ হতে ফিরে আসলেন এবং যুদ্ধের হাতিয়ার রেখে গোসল করলেন, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম মাথার ধুলা ঝাড়তে ঝাড়তে এসে উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি তো অস্ত্রশস্ত্র রেখে দিয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি এখনো তা পরিত্যাগ করিনি। আপনি তাদের দিকে বের হয়ে পড়ুন। নবী (সা.) বললেন, কোথায়? তখন তিনি বানী কুরায়যার দিকে ইঙ্গিত করলেন। সে সময় নবী (সা.) তাদের উদ্দেশে (অভিযানে) বের হয়ে পড়লেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الخَنْدَق وضع السِّلاحَ واغتسل أَتاه جِبْرِيل وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ فَقَالَ قَدْ وَضَعْتَ السِّلَاحَ وَاللَّهِ مَا وَضَعْتُهُ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَيْنَ فَأَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ فَخَرَجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4117) و مسلم (65 / 1769)، (4598) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عاىشة قالت: لما رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم من الخندق وضع السلاح واغتسل اتاه جبريل وهو ينفض راسه من الغبار فقال قد وضعت السلاح والله ما وضعته اخرج اليهم قال النبي صلى الله عليه وسلم فاين فاشار الى بني قريظة فخرج النبي صلى الله عليه وسلم. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4117) و مسلم (65 / 1769)، (4598) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে উল্লেখিত ‘বানু কুরায়যাহ’র পরিচয় দিতে গিয়ে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, তারা হলো মদীনার পার্শ্ববর্তী একটি ইয়াহুদী গোত্র যারা মুসলিমদের সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল এবং খন্দক যুদ্ধের কুফফার বাহিনী আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের কারণে মুসলিমদের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছিল। মুসলিমদেরকে আল্লাহর সাহায্য করা এবং সম্মিলিত কুফফার বাহিনীর পরাজয় বরণ করার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থে দেয়া হয়েছে। আর কিছু তাফসীর গ্রন্থেও সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বোপরি কথা হলো এই বিশাল সম্মিলিত কাফির বাহিনীর বিপক্ষে অল্প সংখ্যক মুসলিমদের বিজয় লাভ করাটা ছিল রাসূল (সা.) -এর অন্যতম একটি মু'জিযাহ্। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮১-[১৪] বুখারীর অপর এক বর্ণনায় আছে, আনাস (রাঃ) বলেন: যে সময় জিবরীল আলায়হিস সালাম বানী কুরায়যার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর বাহনের পদাঘাতে বানী গনম গোত্রের গলিতে উত্থিত ধুলাবালি যেন আমি এখনো দেখতে পাচ্ছি।

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ قَالَ أَنَسٌ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى الْغُبَارِ سَاطِعًا فِي زُقَاقِ بَنِيَ غَنْمٍ موكبَ جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى بني قُرَيْظَة

رواہ البخاری (4118) ۔
(صَحِيح)

وفي رواية للبخاري قال انس: كاني انظر الى الغبار ساطعا في زقاق بني غنم موكب جبريل عليه السلام حين سار رسول الله صلى الله عليه وسلم الى بني قريظة رواہ البخاری (4118) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বানূ কুরায়য়াহ্-কে আক্রমণ করার উদ্দেশে বের হলেন তখন আনাস (রাঃ) দেখলেন জনমানব শূন্য বন্ধ নামের অলি-গলিতে ধুলা উড়িয়ে এক অশ্বারোহী বাহিনী চলছে। মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, এক প্রমাণ করে যে, তারা ছিলেন, মালাক (ফেরেশতা) বাহিনী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।

ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, নবী (সা.) ও বানূ কুরায়যাহ’র মাঝে একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু যখন সম্মিলিত কাফির বাহিনী এসে গেল তখন তারা রাসূল (সা.) -এর সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে তাদেরকে সাহায্য করল। তারপর যখন সম্মিলিত বাহিনীকে আল্লাহ পরাজিত করলেন, তখন বানূ কুরায়যাহ্ গিয়ে নিজেদের দুর্গে আশ্রয় নিল। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম এবং তার সাথে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) এসে রাসূল (সা.) -কে বললেন, আপনি বানূ কুরায়যার দিকে চলুন। রাসূল (সা.) বললেন, এখন আমার অনেক সাহাবী তো আহত রয়েছে। জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, আপনি তাদের দিকে চলুন, আমি তাদের ভিতরকে দুর্বল করে দিচ্ছি। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম ও তাঁর সাথে থাকা মালায়িকাহ্ চলে গেলেন। তাদের যাওয়ার সময় বানূ গনম নামক একটি আনসার গোত্রের অলি-গলিতে আনাস (রাঃ) ধুলা উড়তে দেখলেন। (ফাতহুল বারী হা, ৪১১৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮২-[১৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিবসে লোক পিপাসার্ত হয়ে পড়ল। সে সময় একটি চমড়ার পাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সামনে ছিল। তিনি (সা.) তা হতে উযূ করলেন। অতঃপর লোক তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনার চর্মপাত্রের পানি ছাড়া পান করার বা উযূ করার মত আমাদের কাছে কোন পানি নেই। তখন নবী (সা.) তাঁর হাত উক্ত পাত্রে রাখলেন। ফলে সাথে সাথেই তার আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী জায়গা হতে ঝরনাধারার মত পানি ফুটে বের হতে লাগল। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা সেই পানি (তৃপ্তি সহকারে) পান করলাম এবং তা দিয়ে আমরা উযূ করলাম। জাবির (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, সংখ্যায় আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, একলাখ হলেও সে পানিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হত। তবে তখন আমাদের সংখ্যা ছিল পনের শত। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ عَطِشَ النَّاسُ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ يَدَيْهِ رِكْوَةٌ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ثُمَّ أَقْبَلَ النَّاسُ نَحْوَهُ قَالُوا: لَيْسَ عَنْدَنَا مَاءٌ نَتَوَضَّأُ بِهِ وَنَشْرَبُ إِلَّا مَا فِي رِكْوَتِكَ فَوضَعَ النبيُّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَدَه فِي الرِّكْوَةِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَفُورُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ كَأَمْثَالِ الْعُيُونِ قَالَ فَشَرِبْنَا وَتَوَضَّأْنَا قِيلَ لِجَابِرٍ كَمْ كُنْتُمْ قَالَ لَوْ كُنَّا مِائَةَ أَلْفٍ لَكَفَانَا كُنَّا خَمْسَ عَشْرَةَ مِائَةً. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4152) و مسلم (73 / 1856)، (4813) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن جابر قال عطش الناس يوم الحديبية ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين يديه ركوة فتوضا منها ثم اقبل الناس نحوه قالوا: ليس عندنا ماء نتوضا به ونشرب الا ما في ركوتك فوضع النبي صلى الله عليه وسلم يده في الركوة فجعل الماء يفور من بين اصابعه كامثال العيون قال فشربنا وتوضانا قيل لجابر كم كنتم قال لو كنا ماىة الف لكفانا كنا خمس عشرة ماىة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4152) و مسلم (73 / 1856)، (4813) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর একটি বিশেষ মু'জিযার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা হুদায়বিয়াতে ঘটেছিল। তখন সেখানে উপস্থিত সাহাবীদের সংখ্যা বিভিন্ন হাদীসে ১৪০০ এর কম-বেশি করে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তখন হুদায়বিয়াতে সাহাবীদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশত এর কিছু বেশি। তবে অতিরিক্ত সংখ্যাটি এমন ছিল না যা শতকে পৌঁছে যায়।
অতএব যারা তাদের সংখ্যা চৌদ্দশত বলে উল্লেখ করেছেন, তারা সেই অতিরিক্ত সংখ্যাকে বাদ দিয়েছেন। আর যারা পনের শত বলে উল্লেখ করেছেন তারা সেই অতিরিক্ত সংখ্যাকে শতক ধরেই হিসাব করেছেন। আবার কেউ কেউ ষোল শত বা সতের শত বলে উল্লেখ করেছেন। তারা হয়ত উক্ত দলের সাথে আগত শিশুদের ও অন্যান্য লোকদেরকেও হিসাব করেছেন।
ইবনু মারদুওয়াইহি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তাদের সংখ্যা ছিল পনের শত পঁচিশ জন। তারপরেও প্রকৃত বিষয়ে আল্লাহই অধিক অবগত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে যে, নবী (সা.) তাঁর হাত পাত্রে রাখলেন। আর পানি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে বের হতে শুরু করল। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, নবী (সা.) তার উযূর অতিরিক্ত পানি কুপে ঢেলে দিলেন। আর তখন কুপে পানি বেশি হতে লাগল।
এখানে বাহ্যিকভাবে উক্ত হাদীস দুটির মাঝে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই ইমাম ইবনু হিব্বান (রহ.) উক্ত হাদীস দুটির মাঝে বর্ণনা করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, হুদায়বিয়াতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাটি দু'বার ঘটেছে- ১) তার আঙ্গুল দিয়ে পানি বের হয়ে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২) তাঁর বরকতময় পানি কূপে ঢেলে দেয়ার কারণে তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এটিও হতে পারে যে, তাঁর আঙ্গুল থেকে পানি বের হওয়ার সময় তার হাত পাত্রে ছিল আর তারা সকলেই সেখান থেকে পানি নিয়ে উযূ করেছিল এবং পান করেছিল। তারপর পাত্রে থাকা অবশিষ্ট পানি কুপে ঢেলে দিতে বললেন। তা ঢেলে দেয়ার পর কূপের পানি বৃদ্ধি পেলো।  যেমন জাবির (রাঃ) নুবায়হি আল ‘আনাযী-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছে যে, এক ব্যক্তি একটি পাত্রে অল্প পানি নিয়ে আসলো। সেই পানিটুকু ছাড়া অন্য কোন লোকের কাছে একটুও পানি ছিল না। সেই পানি আল্লাহর রাসূল (সা.) একটি পেয়ালায় ঢাললেন।
তারপর সেখান থেকে পানি নিয়ে ভালোভাবে উযু করলেন এবং পাত্রটি সেখানে রেখে চলে গেলেন। অতঃপর লোকেরা উক্ত পাত্রটির কাছে ভিড় করল। তখন রাসূল (সা.) বললেন, তোমরা থাম। অতঃপর তিনি উক্ত পাত্রে হাত রাখলেন। তারপর বললেন, তোমরা পরিপূর্ণভাবে উযূ করো। উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন মানুষ দেখেছে যে, মানুষের আঙ্গুল দিয়ে ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে।
(دَلَائِلِ الْبَيْهَقِيِّ) (দালায়িলুল বায়হাক্কী) গ্রন্থে রয়েছে যে, নবী (সা.) কূপের গভীরে একটি তীর রাখতে আদেশ করলেন। তারপর যখন তা রাখলেন তখন কূপের পানি উথলিয়ে উঠল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জীবদ্দশায় কম পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা বিভিন্ন সময়ই ঘটেছে। এটি ছিল মুহাম্মাদ (সা.) -এর মু'জিযাহ্। (ফাতহুল বারী হা. ৪১৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৩-[১৬] বারা’ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে আমরা চৌদ্দশত ছিলাম। হুদায়বিয়াহ্ একটি কূপের নাম। উক্ত কূপ হতে পানি তুলতে তুলতে তার সবটুকু পানি আমরা নিঃশেষ করে ফেললাম। এমনকি আমরা তাতে এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট রাখিনি। অতঃপর নবী (সা.) -এর কাছে এ সংবাদটি পৌছলে তিনি (সা.) উক্ত কূপের কাছে এসে বসলেন এবং এক পাত্র পানি চেয়ে এনে উযু করলেন ও কুলি করলেন। তারপর দু’আ করলেন। অতঃপর কূপের ভিতরে উক্ত পানি ঢেলে দিয়ে বললেন, কিছু সময়ের জন্য তোমরা এই কূপ হতে পানি তোলা বন্ধ রাখ। এরপর সকলে নিজে এবং আরোহণের জানোয়ারসমূহ এ স্থান ত্যাগ করা অবধি সে পানি তৃপ্তি সহকারে ব্যবহার করলেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن الْبَراء بن عَازِب قا ل: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ مِائَةً يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ وَالْحُدَيْبِيَةُ بِئْرٌ فَنَزَحْنَاهَا فَلَمْ نَتْرُكْ فِيهَا قَطْرَةً فَبَلَغَ النبيَّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأتاهافجلس عَلَى شَفِيرِهَا ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ مَضْمَضَ وَدَعَا ثُمَّ صَبَّهُ فِيهَا ثُمَّ قَالَ: دَعُوهَا سَاعَةً فَأَرْوَوْا أَنْفُسَهُمْ وَرِكَابَهُمْ حَتَّى ارتحلوا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4150) ۔
(صَحِيح)

وعن البراء بن عازب قا ل: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم اربع عشرة ماىة يوم الحديبية والحديبية بىر فنزحناها فلم نترك فيها قطرة فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فاتاهافجلس على شفيرها ثم دعا باناء من ماء فتوضا ثم مضمض ودعا ثم صبه فيها ثم قال: دعوها ساعة فارووا انفسهم وركابهم حتى ارتحلوا. رواه البخاري رواہ البخاری (4150) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বর্ণিত ঘটনা সম্পর্কে মিরকাত প্রণেতা বলেন যে, এ ঘটনাটির আগে জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত ঘটনাটি ঘটেছে। তার মানে বুঝা যায় যে, হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর থেকে একাধিক বার মু'জিযাহ প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষের কাছে এটি খুব আশ্চর্যের বিষয় যে, তারা এই কূপটিকে সংরক্ষণও করেনি এবং ব্যাপক কল্যাণের লক্ষ্যে তার ওপর বড় কোন প্রাচীরও নির্মাণ করে রাখেনি। অথচ তা মক্কার কাছেই জিদ্দা যাওয়ার পথে অবস্থিত ছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৪-[১৭] ’আওফ (রহিমাহুল্লাহ) আবূ রজা’ (রহিমাহুল্লাহ) হতে এবং তিনি ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (সা.) -এর সাথে এক ভ্রমণে ছিলাম। লোকেরা তাঁর কাছে পিপাসার অভিযোগ করল। তখন তিনি (সা.) অবতরণ করলেন এবং অমুককে ডাকলেন। আবূ রজা’ তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ ভুলে গেলেন, তাই ’আলী (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, তোমরা দুজন যাও এবং পানির অনুসন্ধান কর। তারা উভয়ে রওয়ানা হলেন এবং পথিমধ্যে এমন একটি মহিলার সাক্ষাৎ পেলেন, যে একটি বাহনের (উটের পিঠে দুই দিকে পানির দু’টি মশক বা দু’টি থলে রেখে নিজে মাঝখানে বসে যাচ্ছে। তখন তারা মহিলাটিকে নবী (সা.) -এর কাছে নিয়ে আসলেন এবং লোকেরা মহিলাটিকে তার উটের পিঠ হতে নিচে নামতে বলল। অতঃপর নবী (সা.) একটি পাত্র আনালেন। তারপর মশক দুটির মুখ হতে এতে পানি ঢেলে নিলেন। আর লোকেদেরকে ডেকে বললেন, তোমরা নিজেরাও পান কর এবং পশুদেরকেও পান করাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা চল্লিশজন পিপাসার্ত লোক পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে পানি পান করলাম এবং আমাদের সাথে যতগুলো মশক ও অন্যান্য পাত্র ছিল সেগুলোও প্রতিটি পানি দ্বারা পরিপূর্ণ করে নিলাম।
বর্ণনাকারী ’ইমরান বলেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমাদেরকে পানির মশক হতে পৃথক করা হলো, (অর্থাৎ পানি নেয়া শেষ হলো,) তখন আমাদের এমন মনে হচ্ছিল যেন মশকটি প্রথম অবস্থার তুলনায় আরো অনেক বেশি পূর্ণ রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن عَوْف عَن أبي رَجَاء عَن عمر بن حُصَيْن قا ل: كُنَّا فِي سَفَرٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَاشْتَكَى إِلَيْهِ النَّاسُ مِنَ الْعَطَشِ فَنَزَلَ فَدَعَا فُلَانًا كَانَ يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُ عَوْفٌ وَدَعَا عَلِيًّا فَقَالَ: «اذْهَبَا فَابْتَغِيَا الْمَاءَ» . فَانْطَلَقَا فتلقيا امْرَأَة بَين مزادتين أَو سطحتين من مَاء فجاءا بهاإلى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فاستنزلوهاعن بَعِيرِهَا وَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ فَفَرَّغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ الْمَزَادَتَيْنِ وَنُودِيَ فِي النَّاسِ: اسْقُوا فَاسْتَقَوْا قَالَ: فَشَرِبْنَا عِطَاشًا أَرْبَعِينَ رَجُلًا حَتَّى رَوِينَا فَمَلَأْنَا كُلَّ قِرْبَةٍ مَعَنَا وَإِدَاوَةٍ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أَقْلَعَ عَنْهَا وإنَّهُ ليُخيّل إِلينا أنّها أشدُّ ملئةً مِنْهَا حِين ابْتَدَأَ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (344) و مسلم (312 / 682)، (1563) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عوف عن ابي رجاء عن عمر بن حصين قا ل: كنا في سفر مع النبي صلى الله عليه وسلم فاشتكى اليه الناس من العطش فنزل فدعا فلانا كان يسميه ابو رجاء ونسيه عوف ودعا عليا فقال: «اذهبا فابتغيا الماء» . فانطلقا فتلقيا امراة بين مزادتين او سطحتين من ماء فجاءا بهاالى النبي صلى الله عليه وسلم فاستنزلوهاعن بعيرها ودعا النبي صلى الله عليه وسلم باناء ففرغ فيه من افواه المزادتين ونودي في الناس: اسقوا فاستقوا قال: فشربنا عطاشا اربعين رجلا حتى روينا فملانا كل قربة معنا واداوة وايم الله لقد اقلع عنها وانه ليخيل الينا انها اشد ملىة منها حين ابتدا. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (344) و مسلم (312 / 682)، (1563) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: এ হাদীসেও হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর থেকে প্রকাশিত একটি মু'জিযার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসের শেষ অংশে ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) বলেন, (وإنَّهُ ليُخيّل إِلينا أنّها أشدُّ ملئةً مِنْهَا حِين ابْتَدَأَ) অর্থাৎ আমার কাছে মনে হলো যে, পানি ব্যবহার করা শুরু করার আগে মশকে যে পরিমাণ পানি ছিল ব্যবহার করার পর দেখা গেল যে, তার থেকে বেশি পানি রয়েছে।
এ বিষয়ে মিরক্বাত প্রণেতা বলেন, তারা যখন উক্ত মশক থেকে পান করা শুরু করে তখন যে পরিমাণ পানি ছিল সেখান থেকে চল্লিশজন পান করার পরেও দেখা গেল যে, তার থেকে আরো বেশি পানি ভর্তি হয়ে আছে। এটিও রাসূল (সা.)-এর বিশেষ মু'জিযাহ্। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৫-[১৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে যাচ্ছিলাম। চলার পথে আমরা একটি বিস্তীর্ণ ময়দানে অবতরণ করলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য গেলেন, কিন্তু আড়াল করার জন্য কিছুই পেলেন না। এ সময় হঠাৎ ময়দানের এক পার্শে দুটি গাছ দেখা গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন তার একটির কাছে গেলেন এবং তার একটি ডাল ধরে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার অনুগত হও, গাছটি তৎক্ষণাৎ এমনভাবে তার অনুগত হলো, যেমন নাকে রশি লাগানো উট তার চালকের অনুগত হয়ে থাকে। এবার তিনি (সা.) দ্বিতীয় বৃক্ষটির কাছে যেয়ে তার একটি শাখা ধরে বললেন, আল্লাহর নির্দেশে তুমি আমার অনুগত হও। অতএব বৃক্ষটি সাথে সাথেই তার প্রতি অনুরূপ ঝুঁকে পড়ল। অবশেষে যখন তিনি (সা.) উভয় বৃক্ষের মধ্যখানে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন বললেন, আল্লাহর হুকুমে তোমরা উভয়ে আমার জন্য মিলিত হয়ে যাও। তখনই তারা মিলিত হয়ে গেল (তার আড়াল হয়ে হাজত পূরণ করলেন)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বসে এই বিস্ময়কর ঘটনার কথা মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম। এ অবস্থায় হঠাৎ আমি একদিকে তাকাতেই দেখি, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাশরীফ এনেছেন। আর বৃক্ষ দু’টিকেও দেখলাম তারা পুনরায় আলাদা হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকটি আপন আপন জায়গায় গিয়ে যথারীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلْنَا وَادِيًا أَفْيَحَ فَذَهَبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا يَسْتَتِرُ بِهِ وَإِذَا شَجَرَتَيْنِ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَالْبَعِيرِ الْمَخْشُوشِ الَّذِي يُصَانِعُ قَائِدَهُ حَتَّى أَتَى الشَّجَرَةَ الْأُخْرَى فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ انْقَادِي عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْمَنْصَفِ مِمَّا بَيْنَهُمَا قَالَ الْتَئِمَا عَلَيَّ بِإِذْنِ اللَّهِ فَالْتَأَمَتَا فَجَلَسْتُ أُحَدِّثُ نَفْسِي فَحَانَتْ مِنِّي لفتة فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْبِلًا وَإِذَا الشَّجَرَتَيْنِ قَدِ افْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلَى سَاقٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (74 / 3012)، (7518) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: سرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نزلنا واديا افيح فذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقضي حاجته فلم ير شيىا يستتر به واذا شجرتين بشاطى الوادي فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم الى احداهما فاخذ بغصن من اغصانها فقال انقادي علي باذن الله فانقادت معه كالبعير المخشوش الذي يصانع قاىده حتى اتى الشجرة الاخرى فاخذ بغصن من اغصانها فقال انقادي علي باذن الله فانقادت معه كذلك حتى اذا كان بالمنصف مما بينهما قال التىما علي باذن الله فالتامتا فجلست احدث نفسي فحانت مني لفتة فاذا انا برسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلا واذا الشجرتين قد افترقتا فقامت كل واحدة منهما على ساق. رواه مسلم رواہ مسلم (74 / 3012)، (7518) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উক্ত হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক প্রকাশিত মু'জিযাহ্ সেখানে উপস্থিত সকল সাহাবী অবলোকন করেছেন। এমনকি তিনি (সা.) তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন যখন পুরা করলেন তখন সেই গাছ দু'টি আবার চলে গেল। এ দৃশ্যটি সাহাবীগণ তাদের নিজ নিজ জায়গায় থেকে দেখেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৬-[১৯] ইয়াযীদ ইবনু আবূ ’উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)-এর পায়ের গোছায় আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করলাম, হে আবূ মুসলিম! আঘাতটি কিসের? তিনি বললেন, এ আঘাত খায়বার যুদ্ধে লেগেছিল। তখন লোকেরা বলাবলি করছিল, সালামাহ্ মৃত্যুবরণ করেছেন। সালামাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি নবী (সা.) -এর কাছে আসলাম। তিনি আমার জখমের উপর তিনবার ফুঁ দিলেন, ফলে সে সময় হতে অদ্যাবধি আর আমার কোন প্রকারের কষ্ট হয়নি। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

عَن يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَثَرَ ضَرْبَةٍ فِي سَاقِ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ فَقُلْتُ يَا أَبَا مُسلم مَا هَذِه الضَّربةُ؟ فَقَالَ: هَذِه ضَرْبَةٌ أَصَابَتْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالَ النَّاسُ أُصِيبَ سَلَمَةُ فَأَتَيْتُ الْنَبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَفَثَ فِيهِ ثَلَاثَ نَفَثَاتٍ فَمَا اشْتَكَيْتُهَا حَتَّى السَّاعَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4206) ۔
(صَحِيح)

عن يزيد بن ابي عبيد قال: رايت اثر ضربة في ساق سلمة بن الاكوع فقلت يا ابا مسلم ما هذه الضربة؟ فقال: هذه ضربة اصابتني يوم خيبر فقال الناس اصيب سلمة فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فنفث فيه ثلاث نفثات فما اشتكيتها حتى الساعة. رواه البخاري رواہ البخاری (4206) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৭-[২০] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ (ইবনু হারিসাহ্), জাফর (ইবনু আবূ তালিব) ও (আবদুল্লাহ) ইবনু রওয়াহাহ-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধের ময়দান হতে আসার আগেই নবী (সা.) লোকেদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। রণক্ষেত্রের বর্ণনা তিনি (সা.) এভাবে দিয়েছেন- যায়দ পতাকা হাতে নিয়েছে, সে শহীদ হয়েছে। তারপর জাফর পতাকা হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়েছে। অতঃপর ’আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ পতাকা ধরেছে, সেও শহীদ হয়েছে। (বর্ণনাকারী বলেন,) এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রুধারা প্রবাহিত ছিল। এরপর তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর তরবারিসমূহের এক তরবারি [খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)] পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের ওপর মুসলিমদের বিজয়ী করেছেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ نَعَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا وَجَعْفَرًا وَابْنَ رَوَاحَةَ لِلنَّاسِ قَبْلَ أَن يَأْتِيهِ خَبَرُهُمْ فَقَالَ أَخْذَ الرَّايَةَ زِيدٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ وَعَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ حَتَّى أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ من سيوف الله حَتَّى فتح الله عَلَيْهِم. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4262) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال نعى النبي صلى الله عليه وسلم زيدا وجعفرا وابن رواحة للناس قبل ان ياتيه خبرهم فقال اخذ الراية زيد فاصيب ثم اخذ جعفر فاصيب ثم اخذ ابن رواحة فاصيب وعيناه تذرفان حتى اخذ الراية سيف من سيوف الله حتى فتح الله عليهم. رواه البخاري رواہ البخاری (4262) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উক্ত হাদীসে মূতার যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যে সকল সেনাপতি মূতার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় থেকে তাদের সংবাদ দিয়েছেন। মিরকাত প্রণেতা বলেন, এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কেউ মারা গেলে তার সংবাদ প্রচার করা বৈধ।
অষ্টম হিজরীতে তিন হাজার মুসলিম সৈন্য সিরিয়ার মূতা নামক এলাকায় তৎকালীন রোমের বাদশাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রতিপক্ষের সৈন্য ছিল এক লক্ষ। সেই যুদ্ধে এক এক করে তিনজন মুসলিম সেনাপতি শহীদ হন। তখন রাসূল (সা.) মদীনায় বসে থেকে তাদের মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছিলেন। আর তার চক্ষু দিয়ে অঝরে অশ্রু বেয়ে পড়ছিল। তিনজন সেনাপতির শাহাদাতের পর দায়িত্ব নেন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ। তিনি জীবন বাজি রেখে বীর বিক্রমে লড়াই করে যান। সেদিন তিনি একে একে আটটি তরবারি যুদ্ধ করে ভেঙ্গে ফেলেন এবং ছিনিয়ে আনেন মুসলিমদের বিজয়। তবে বিজয়টি কিভাবে হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে এই বিষয়ে যে, তারা কি বিজয়ী হয়ে মুশরিকদেরকে পরাজিত করে গনীমতের মাল নিয়ে ফিরেছিলেন নাকি শুধু কেবল বীরত্ব দেখিয়ে নিরাপদে মদীনায় ফিরে এসেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৮-[২১] ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে শরীক ছিলাম। যখন মুসলিমগণ ময়দান হতে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের বাহন খচ্চরকে তাড়া দিয়ে কাফিরদের দিকে অগ্রসর হলেন। [বর্ণনাকারী ’আব্বাস (রাঃ) বলেন] আর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং আমি তাঁকে সামনে বাড়তে বাধা দিচ্ছিলাম, যেন তা দ্রুত কাফিরদের দলের মধ্যে ঢুকে না পড়ে। আর আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ধরে রেখেছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাহনের গদি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আব্বাস! সামুরাহ গাছের নিচে বায়’আতকারীদেরকে আহ্বান করুন। আব্বাস (রাঃ) ছিলেন উচ্চৈঃস্বর বিশিষ্ট লোক। তিনি বলেন, তৎক্ষণাৎ আমি উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিয়ে বললাম, আসহাবে সামুরাগণ কোথায়? ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার আওয়াজ (আহ্বান) শুনার সাথে সাথেই আসহাবেই সামুরাগণ এমনভাবে দৌড়িয়ে ময়দানে এসে উপস্থিত হলেন, যেমন গাভী তার বাছুরের দিকে দৌড় দেয়। আর তারা আওয়াজ দিতে থাকল-
(يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ) ’ইয়া লাব্বাইক, ইয়া লাব্বাইক। আমরা উপস্থিত! আমরা উপস্থিত।
আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর মুসলিমগণ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হয়ে গেল। অন্যদিকে আনসারদের মধ্যে এ ধ্বনি উচ্চারিত হয়- হে আনসার সম্প্রদায়। হে আনসার সম্প্রদায়! (শত্রু নিধনে ঝাপিয়ে পড়) ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর তাদের ধ্বনি (একমাত্র) বানী হারিস ইবনু খাযরাজের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। (আনসারদের মধ্যে এ গোত্রটি ছিল সর্বাপেক্ষা বড়) এই সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ বাহন খচ্চরের উপরে থেকে মাথা উঠিয়ে যুদ্ধের অবস্থার দিকে তাকিয়ে বললেন, এখনই যুদ্ধ জ্বলে উঠেছে। অতঃপর তিনি একমুষ্টি পাথর হাতে নিয়ে কাফিরদের মুখের প্রতি নিক্ষেপ করে বললেন, মুহাম্মাদের প্রভুর শপথ! কাফিরদল পরাজিত হয়েছে। [বর্ণনাকারী ’আব্বাস (রাঃ) বলেন] আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তাদের এ পরাজয় কেবলমাত্র তাঁর [রাসূল (সা.) -এর] কঙ্কর নিক্ষেপের দ্বারাই ঘটেছে। অতঃপর আমি যুদ্ধের সমাপ্তি অবধি সর্বক্ষণ তাই দেখতে পেলাম যে, তাদের তলোয়ার ও বর্শার ধার ভোঁতা হয়ে পড়েছে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাচ্ছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن عَبَّاسٍ قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْكُفَّارُ وَلَّى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ وَأَنَا آخِذٌ بِلِجَامِ بَغْلَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكُفُّهَا إِرَادَةَ أَن لَا تسرع وَأَبُو سُفْيَان آخِذٌ بِرِكَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْ عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ فَقَالَ عَبَّاسٌ وَكَانَ رَجُلًا صَيِّتًا فَقُلْتُ بِأَعْلَى صَوْتِي أَيْنَ أَصْحَابُ السَّمُرَةِ فَقَالَ وَاللَّهِ لَكَأَنَّ عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِي عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلَى أَوْلَادِهَا فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ قَالَ فَاقْتَتَلُوا وَالْكُفَّارَ وَالدَّعْوَةُ فِي الْأَنْصَارِ يَقُولُونَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ قَالَ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطَاوِلِ عَلَيْهَا إِلَى قِتَالِهِمْ فَقَالَ حِينَ حَمِيَ الْوَطِيسُ ثُمَّ أَخَذَ حَصَيَاتٍ فَرَمَى بِهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَمَاهُمْ بِحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَّهُمْ كَلِيلًا وَأَمْرَهُمْ مُدبرا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (76 / 1775)، (4612) ۔
(صَحِيح)

وعن عباس قال: شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين فلما التقى المسلمون والكفار ولى المسلمون مدبرين فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يركض بغلته قبل الكفار وانا اخذ بلجام بغلة رسول الله صلى الله عليه وسلم اكفها ارادة ان لا تسرع وابو سفيان اخذ بركاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اي عباس ناد اصحاب السمرة فقال عباس وكان رجلا صيتا فقلت باعلى صوتي اين اصحاب السمرة فقال والله لكان عطفتهم حين سمعوا صوتي عطفة البقر على اولادها فقالوا يا لبيك يا لبيك قال فاقتتلوا والكفار والدعوة في الانصار يقولون يا معشر الانصار يا معشر الانصار قال ثم قصرت الدعوة على بني الحارث بن الخزرج فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على بغلته كالمتطاول عليها الى قتالهم فقال حين حمي الوطيس ثم اخذ حصيات فرمى بهن وجوه الكفار ثم قال انهزموا ورب محمد فوالله ما هو الا ان رماهم بحصياته فما زلت ارى حدهم كليلا وامرهم مدبرا. رواه مسلم رواہ مسلم (76 / 1775)، (4612) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল অষ্টম হিজরীর শাওয়াল মাসে হুনায়ন নামক স্থানে। ‘হুনায়ন হলো ‘আরাফার পিছনে ত্বায়িফ ও মক্কার মাঝে একটি উপত্যকার নাম। সেই যুদ্ধে মুসলিমগণ প্রথমদিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা শুরু করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই তার খচ্চরে আরোহণ করে কাফিরদের সামনে অগ্রসর হতে থাকেন। আকমাল বলেন, হুনায়নের যুদ্ধের দিন রাসূল (সা.) যেই খচ্চরে আরোহণ করেছিলেন সেটির নাম ছিল “দুলদুল” আর তা ফারওয়া ইবনু নাফাসা নামক ব্যক্তি তাকে হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিল।
সে ছিল একজন মুশরিক। অতএব, উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, কোন মুশরিকের ব্যাপারে যদি ইসলাম গ্রহণের আশা করা যায় অথবা তার মাধ্যমে মুসলিমদের কোন কল্যাণের আশা করা যায় তাহলে তার থেকে হাদিয়্যাহ্ গ্রহণ করা যাবে। আর যদি তার থেকে এ ধরনের ভালো কিছু আশা করা না যায় তাহলে নিরুপায় না হলে তার থেকে কোন হাদিয়্যাহ্ গ্রহণ করা যাবে না।
(نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ) অর্থাৎ তিনি বাবলা গাছের অধিবাসী বলে ডাক দিলেন। মিরকাত প্রণেতা বলেন, এখানে বাবলা গাছ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ গাছ যে গাছের নিচে সাহাবীগণ হুদায়বিয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘উসমান হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রাসূল (সা.)-এর হাতে বায়'আত করেছিলেন।
‘আব্বাস (রাঃ) সাহাবীদেরকে এই নামে ডাক দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, তারা যেন সেই বায়'আতের কথা ভুলে না যান এবং দ্রুত জিহাদের ময়দানে আবার ফিরে আসেন।
তারপর আবার বিশেষভাবে বানূ হারিস ইবনু খাযরাজ-কে ডাকলেন। কারণ তারা ছিল একটি বড় গোত্রে এবং তাদের লোক সংখ্যাও ছিল বেশি। যে সকল সাহাবী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চলে গিয়েছিল 'আব্বাস (রাঃ) তাদেরকে ডাক দেয়ার পর তারা সকলেই আবার যুদ্ধের মাঠে ফিরে আসলো। আর নতুন করে আবার প্রচণ্ড যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল।
এদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) কিছু কঙ্কর নিয়ে কাফিরদের চেহারার দিকে এই বলে নিক্ষেপ করলেন যে, (شَاجَبِ الْوُجُوهُ شَاهَبِ الْوُجُوهُ) অর্থাৎ তাদের চেহারা বিগড়ে যাক। তাদের চেহারা বিগড়ে যাক। তারপর কাফির সৈন্যরা পরাজিত হয়। আর মুসলিমগণ অনেক গনীমতের মাল নিয়ে বিজয়ী হয়ে ফিরে আসে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীস থেকে রাসূল (সা.) -এর দু’টি মু'জিযাহ্ প্রকাশিত হয়। ১) তাঁর কর্মের মাধ্যমে। যেমন- তিনি কাফির সেনাদের দিকে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। ২) সংবাদ দেয়ার মাধ্যমে। যেমন- তিনি এই সংবাদ দেন যে, কাফির বাহিনী পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে যাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৮৯-[২২] আবূ ইসহাক (সারিয়ী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক বারা’ ইবনু ’আযিব (রাঃ) কে প্রশ্ন করল, হে আবূ উমারাহ। হুনায়নের যুদ্ধের দিন কি তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা হতে পলায়ন করেছিলে? উত্তরে তিনি বললেন, নিশ্চয় না, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সা.) পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেননি। (অবশ্য) সাহাবীদের কতিপয় যুবক, যাদের কাছে তেমন বেশি কিছু হাতিয়ার ছিল না, তারা তীর নিক্ষেপকারী কাফিরদের মাঝে পড়ে গিয়েছিল। তারা তীরন্দাজীতে এত পটু ছিল যে, তাদের একটি তীরও জমিনে পড়ত না।
ফলে তাদের নিক্ষিপ্ত প্রতিটি তীর ঐ সকল যুবক (মুসলিম সৈনিকদের) ওপর পড়তে ভুল হত না। এ অবস্থায় (দুশমনের সামনে হতে পলায়ন করত) সে সমস্ত যুবকরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে পৌছল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন এবং আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস লাগাম ধরে তাঁর সামনে ছিলেন। এ সময় তিনি (সা.) খচ্চরের পৃষ্ঠ হতে নামলেন এবং বিজয়ের জন্য (আল্লাহর কাছে) মদদ ও সাহায্যের আবেদন করলেন। আর (এ পংক্তিটি) উচ্চারণ করলেন, “আমি যে নবী তা মিথ্যা নয়। আমি ’আবদুল মুত্ত্বালিব-এর সন্তান। অতঃপর তিনি মুসলিমদেরকে পুনরায় কাতারবদ্ধ করলেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي إِسْحَق قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلْبَرَاءِ يَا أَبَا عُمَارَةَ فَرَرْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ لَا وَاللَّهِ مَا وَلِيُّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ لَيْسَ عَلَيْهِمْ كَثِيرُ سِلَاحٍ فَلَقَوْا قَوْمًا رُمَاةً لَا يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ فَأَقْبَلُوا هُنَاكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ يَقُودُهُ فَنَزَلَ وَاسْتَنْصَرَ وَقَالَ أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ ثُمَّ صفهم. رَوَاهُ مُسلم. وللبخاري مَعْنَاهُ

رواہ مسلم (78 / 1776)، (4615) و البخاری (2930) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي اسحق قال قال رجل للبراء يا ابا عمارة فررتم يوم حنين قال لا والله ما ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن خرج شبان اصحابه ليس عليهم كثير سلاح فلقوا قوما رماة لا يكاد يسقط لهم سهم فرشقوهم رشقا ما يكادون يخطىون فاقبلوا هناك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم على بغلته البيضاء وابو سفيان بن الحارث يقوده فنزل واستنصر وقال انا النبي لا كذب انا ابن عبد المطلب ثم صفهم. رواه مسلم. وللبخاري معناه رواہ مسلم (78 / 1776)، (4615) و البخاری (2930) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হুনায়নের যুদ্ধে মুসলিমগণ প্রথম দিকে কাফিরদের কাছে প্রায় পরাজিত হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে বাহ্যিক কারণ হিসেবে দেখা যায়, হাওয়াযিন গোত্রের তিরন্দাজেরা অনেক মুসলিম সেনাকে তাদের টার্গেটে পরিণত করে ব্যাপক তীর নিক্ষেপ করে। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং শেষে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সাময়িক সময়ের জন্য পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, হাওয়াযিন একটি বড় ‘আরব গোত্রের নাম। সেই গোত্রে অনেকগুলো শাখা-উপশাখা রয়েছে। তাদেরকে হাওয়াযিন বলা হয় হাওয়াযিন ইবনু মানসূর ইবনু ‘ইকরামাহ ইবনু খাসফাহ নামক এক ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত করে।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী’তে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আরো কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্য হতে একটি হলো, যেমন- আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মক্কা বিজয় করলাম। তারপর হুনায়নের যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হলাম। অতঃপর মুশরিকরা একেবারে দেখার মতো সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের মাঠে দাঁড়িয়ে গেল। প্রথমে অশ্বারোহী বাহিনী। তাঁর পিছনে পদাতিক বাহিনী তার পিছনে ছিল নারীরা ও গবাদী পশু তথা মেষপাল, ছাগল, দুম্বা উট ইত্যাদি। আর আমরাও ছিলাম অনেক মানুষ। আমাদের ডান পাশে ছিল খালিদ ইবনু ওয়ালীদ-এর নেতৃত্বে আমাদের অশ্বারোহী বাহিনী। সেটি আমাদের পিছনে অবস্থান করছিল। যখনই সেই বাহিনী বের হয়ে আসলো তখনই ‘আরবের মুশরিকরা পালাতে লাগল। (ফাতহুল বারী হা, ৪১১৫)
মিরাত প্রণেতা উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, (خَدَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ) অর্থাৎ তাঁর সাহাবীদের মধ্য হতে কিছু যুবক যুদ্ধের মাঠ থেকে বের হয়ে গেল। এখানে কিছু যুবক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের মধ্য হতে এমন কিছু যুবক যাদের তেমন কোন স্থায়িত্ব বা গাম্ভীর্জ ছিল না। তারা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রমণের তীব্রতা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করেই ময়দান থেকে পলায়ন করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) হুনায়নের যুদ্ধে কাফির সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় খচ্চরে আরোহণ করে বলতে থাকেন (أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ) অর্থাৎ আমি নবী, যাতে কোন মিথ্যা নেই। আমি ‘আবদুল মুত্তালিব-এর সন্তান।
এই পংক্তি সম্পর্কে ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে (لَا كَذِبَ) এবং মধ্যে যবর দিয়ে পড়তে হবে। তাহলে এটি আর তখন কোন কবিতার ছন্দ মিলে থাকবে না। ফলে এই সম্পর্কে আর কারো কোন আপত্তিও থাকবে না যে, আল্লাহ তো বলেছেন যে, ...
(وَ مَا عَلَّمۡنٰهُ الشِّعۡرَ وَ مَا یَنۡۢبَغِیۡ لَهٗ…) অর্থাৎ “আর আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেয়নি এবং সেটি তার জন্য শোভনীয় নয়...”- (সূরাহ্ ইয়া-সীন ৩৬ : ৬৯)।
কিন্তু যদি তা সাকিন করে (لَا كَذْبَ) পড়া হয় তাহলে তা কবিতার ছন্দে এসে যায়। এজন্য ফাতহুল বারীতে এই সম্পর্কে কয়েকটি উত্তর দেয়া হয়েছে। যেমন-
১) এটি মূলত অন্য একজন কবির ছন্দ। যা তিনি লিখেছিলেন এভাবে যে, (أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ)  অর্থাৎ আপনি নবী যাতে কোন মিথ্যা নেই। আপনি ‘আবদুল মুত্ত্বালিব-এর সন্তান। রাসূল (সা.) এখানে তুমি এর জায়গায় ‘আমি’ তথা (أَنَا) যুক্ত করেছেন।
২) এটি একটি বিশেষ ধরনের পংক্তি। এটি কোন কবিতা না। কিন্তু এই উত্তরটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৩) এটি কবিতা হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তার অংশ পূর্ণ হবে। যেহেতু এটি একটি অংশবিশেষ। তাই এটি কোন কবিতা নয়।
৪) এটি কবিতার ছন্দাকারেই বলা হয়েছে। কিন্তু এর দ্বারা এখানে কবিতা উদ্দেশ্য নয়।
উক্ত পংক্তিতে তিনি নিজেকে আবদুল মুত্ত্বালিব-এর পুত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবদুল্লাহ-এর পুত্র হিসেবে উল্লেখ করেননি। কারণ হলো, তার দাদা আবদুল মুত্তালিব ছিলেন মানুষের কাছে পরিচিত এবং প্রসিদ্ধ লোক। অন্যদিকে তার পিতা আবদুল্লাহ যুবক অবস্থায় মারা যান। তাই মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাননি। তাছাড়াও নিজেকে স্বীয় পূর্বপুরুষদের নামে পরিচিত করাটা ছিল আরবদের একটি ভালো রীতির অন্তর্ভুক্ত। (ফাতহুল বারী হা. ৪৩১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ইসহাক (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯০-[২৩] বুখারীর বর্ণনাতে উল্লিখিত হাদীসটির বিষয়বস্তুটি বর্ণিত হয়েছে। আর বুখারী ও মুসলিম এর উভয় বর্ণনায় আছে, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর শপথ! যখন যুদ্ধ ভয়ানক আকার ধারণ করত, তখন আমরা নবী (সা.) -এর দ্বারা আত্মরক্ষা করতাম। আর আমাদের মাঝে ঐ লোকই অধিক সাহসী বলে গণ্য হত, যে লোক নবী (সা.) -এর পাশাপাশি বরাবর দাঁড়াত।

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ الْبَرَاءُ كُنَّا وَاللَّهِ إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ نَتَّقِي بِهِ وَإِنَّ الشُّجَاعَ مِنَّا لَلَّذِي يُحَاذِيهِ يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم

متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (79 / 1776)، (4616) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وفي رواية لهما قال البراء كنا والله اذا احمر الباس نتقي به وان الشجاع منا للذي يحاذيه يعني النبي صلى الله عليه وسلم متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (79 / 1776)، (4616) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ) অর্থাৎ যখন যুদ্ধ লাল হলো, ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে (حْمَرَّ الْبَأْسُ) তথা যুদ্ধ লাল হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ প্রচণ্ড আকার ধারণ করা।
এখানে যুদ্ধ লাল হওয়ার কথা বলা হয়েছে রূপকভাবে। কেননা যখন যুদ্ধ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে, তখন যুদ্ধক্ষেত্র রক্তে লাল হয়ে যায়। সে সময়ে যুদ্ধ এতটাই তীব্র হয়েছিল যে, যারা অত্যধিক সাহসী তারাই তখন যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল কাফির বাহিনীর সামনে যেত। আর অন্যরা যুদ্ধের মাঠ ছেড়ে সাময়িক সময়ের জন্য পালিয়ে ছিল। তখন সেই মুহূর্তেও রাসূল (সা.) -এর সাহস ছিল অত্যধিক এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা ছিল অনেক দৃঢ়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯১-[২৪] সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে শরীক ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কতিপয় সাহাবী কাফিরদের মোকাবিলা হতে যখন পলায়ন করলেন। তখন কাফিরগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে চতুর্দিক হতে ঘিরে ফেলল, এমতাবস্থায় তিনি (সা.) খচ্চরের পিঠ হতে নিচে নামলেন। অতঃপর তিনি জমিন হতে এক মুষ্টি মাটি তুলে নিলেন। তারপর কাফিরদের অভিমুখে (شَاهَتِ الْوُجُوهُ) ’তোমাদের মুখ বিবর্ণ হোক’ এ অভিশাপ বাক্যটি উচ্চারণ করে তা নিক্ষেপ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তাদের যে কোন লোককে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন (উপস্থিত কাফিরদের) প্রত্যেকের চক্ষুদ্বয় উক্ত এক মুষ্টি মাটি দ্বারা ভর্তি হয়ে গেল। ফলে তারা ময়দান হতে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরাজিত করলেন। পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের হতে লব্ধ গনীমাতের সম্পদসমূহ মুসলিমদের মধ্যে বিতরণ করলেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُنَيْنًا فَوَلَّى صَحَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا غَشُوا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَزَلَ عَنِ الْبَغْلَةِ ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً مِنْ تُرَابٍ مِنَ الْأَرْضِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ بِهِ وُجُوهَهُمْ فَقَالَ شَاهَتِ الْوُجُوهُ فَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْهُمْ إِنْسَانًا إِلَّا مَلَأَ عَيْنَيْهِ تُرَابًا بِتِلْكَ الْقَبْضَةِ فَوَلَّوْا مُدْبِرِينَ فَهَزَمَهُمْ الله عز وَجل وَقَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غنائمهم بَين الْمُسلمين رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (81 / 1777)، (4619) ۔
(صَحِيح)

وعن سلمة بن الاكوع قال غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حنينا فولى صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما غشوا رسول الله صلى الله عليه وسلم نزل عن البغلة ثم قبض قبضة من تراب من الارض ثم استقبل به وجوههم فقال شاهت الوجوه فما خلق الله منهم انسانا الا ملا عينيه ترابا بتلك القبضة فولوا مدبرين فهزمهم الله عز وجل وقسم رسول الله صلى الله عليه وسلم غناىمهم بين المسلمين رواه مسلم رواہ مسلم (81 / 1777)، (4619) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসের ব্যাখ্যায় ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কয়েকটি মু'জিযাহ্ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- মাত্র এক মুষ্টি মাটি সকলে কাফির সেনাদের চোখে পৌছে দেয়া। যা কেবল রাসূল (সা.) -এর দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। অন্য কারো দ্বারা সম্ভব নয়।
•    এই অল্প পরিমাণ মাটি দিয়ে চার হাজার কাফির সেনার চক্ষু পরিপূর্ণ করে দেয়া।
•    এই মাটি নিক্ষেপের কারণেই তাদের ধ্বংস অনিবার্য হওয়া।
তারপর হাদীসের শেষ অংশে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদেরকে পরাজিত করলেন। আর রাসূল (সা.) সাহাবীদের মাঝে গনীমতের মাল বণ্টন করে দিলেন।
এখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূল (সা.) -এর দু'আ কবুল করেছেন এবং তাঁকে উত্তমভাবে সাহায্য করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯২-[২৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। সে যুদ্ধে তাঁর সাথে অংশগ্রহণকারী ইসলামের দাবিদার জনৈক লোক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ লোকটি জাহান্নামী।
যুদ্ধ শুরু হলে সে ব্যক্তি প্রাণপণ যুদ্ধ করে মারাত্মকভাবে আহত হলো। অতঃপর এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! লক্ষ্য করুন। আপনি যে লোকটিকে জাহান্নামী বলেছেন, সে আল্লাহর পথে প্রাণপন লড়াই করে এখন মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় আছে। এবারও তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। (বর্ণনাকারী বলেন,) এ কথা শুনে কারো কারো মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। এমতাবস্থায় লোকটি ভীষণভাবে জখমের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে স্বীয় হাতখানা তীরদানের দিকে বাড়িয়ে তীর বের নিল এবং নিজের বুকের মধ্যে গেঁথে দিল (তথা আত্মহত্যা করল)। এটা দেখে মুসলিমদের কতিপয় লোক দৌড়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা’আলা আপনার কথাটিকে সত্যে পরিণত করেছেন। অমুক লোকটি নিজেই আত্মহত্যা করেছে। এ সংবাদ শোনামাত্রই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে উঠলেন, ’আল্ল-হু আকবার’। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর বললেন, হে বিলাল! উঠ! লোকেদের মধ্যে এ ঘোষণা দিয়ে দাও যে, পূর্ণ মুমিন ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর আল্লাহ তা’আলা (অনেক সময়) পাপী লোকের দ্বারাও এ দীন ইসলামকে শক্তিশালী করে থাকেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي هريرةَ قَالَ شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُنَيْنًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ مِمَّنْ مَعَهُ يَدَّعِي الْإِسْلَامَ هَذَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَلَمَّا حَضَرَ الْقِتَالُ قَاتَلَ الرَّجُلُ مِنْ أَشَدِّ الْقِتَالِ وَكَثُرَتْ بِهِ الْجِرَاحُ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله أَرأيتَ الَّذِي تحدثت أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قَدْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مِنْ أَشَدِّ الْقِتَالِ فَكَثُرَتْ بِهِ الْجِرَاحُ فَقَالَ أَمَّا إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَكَادَ بَعْضُ النَّاسِ يَرْتَابُ فَبَيْنَمَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ إِذْ وَجَدَ الرَّجُلُ أَلَمَ الْجِرَاحِ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى كِنَانَتِهِ فَانْتَزَعَ سَهْمًا فَانْتَحَرَ بِهَا فَاشْتَدَّ رِجَالٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَدَّقَ اللَّهُ حَدِيثَكَ قَدِ انْتَحَرَ فُلَانٌ وَقَتَلَ نَفْسِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ يَا بِلَالُ قُمْ فَأَذِّنْ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَيُؤَيِّدُ هَذَا الدينَ بِالرجلِ الْفَاجِر. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3062) [و مسلم (178 / 111)، (305)] ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال شهدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حنينا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل ممن معه يدعي الاسلام هذا من اهل النار فلما حضر القتال قاتل الرجل من اشد القتال وكثرت به الجراح فجاء رجل فقال يا رسول الله ارايت الذي تحدثت انه من اهل النار قد قاتل في سبيل الله من اشد القتال فكثرت به الجراح فقال اما انه من اهل النار فكاد بعض الناس يرتاب فبينما هو على ذلك اذ وجد الرجل الم الجراح فاهوى بيده الى كنانته فانتزع سهما فانتحر بها فاشتد رجال من المسلمين الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله صدق الله حديثك قد انتحر فلان وقتل نفسه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الله اكبر اشهد اني عبد الله ورسوله يا بلال قم فاذن لا يدخل الجنة الا مومن وان الله ليويد هذا الدين بالرجل الفاجر. رواه البخاري رواہ البخاری (3062) [و مسلم (178 / 111)، (305)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি মহান বীরত্বের সাথে লড়াই করার পরেও আত্মহত্যা করেছিল। তার নাম ছিল 'কিরমান'। ইমাম খত্বীব আল বাগদাদী “জামিউল উসূল” গ্রন্থে বলেন, সে ছিল একজন মুনাফিক। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
কিন্তু ফাতহুল বারীতে ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত ব্যক্তির নাম ছিল ‘কযমান আয যফরী'।
ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) দৃঢ়তার সাথে বলেন, এ ঘটনাটি ঘটেছিল উহুদ যুদ্ধের সময়। সে ছিল মুসলিমদের থেকে পিছনে মহিলাদের দলের সাথে। এক পর্যায়ে সে বেরিয়ে এসে প্রথম সারিতে গিয়ে সর্বপ্রথম তীর নিক্ষেপ করা শুরু করল। তারপর সে বীরত্বের সাথে তরবারি দিয়ে লড়াই করল। অতঃপর যখন মুসলিমেরা বের হয়ে গেল তখন সে তার তরবারির হাতল ভেঙ্গে ফেলল এবং বলতে লাগল ‘পলায়ন করা থেকে আমার কাছে মৃত্যুবরণ করাই অধিক উত্তম'। তারপর কতাদাহ্ ইবনু নুমান তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল, তোমার জন্য শাহাদাতের সুসংবাদ। তখন ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম, আমি দীন রক্ষার লক্ষ্যে যুদ্ধ করিনি। বরং আমি যুদ্ধ করেছি শুধু আমার সম্প্রদায়কে রক্ষা করার লক্ষ্যে। তারপর সে যখমের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে গেল এবং এক পর্যায়ে সে আত্মহত্যা করে ফেলল। (ফাতহুল বারী হা, ৪২০৩)

(لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ) অর্থাৎ শুধুমাত্র মু'মিন ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এখানে ঐ সকল মুমিন বান্দাদের কথা বলা হয়েছে যারা সফলতার সাথে প্রথমবারেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতএব প্রথমবারেই সফলতার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইলে অবশ্যই একনিষ্ঠ, খাটি ও পূর্ণ মুমিন হতে হবে।
(وَإِنَّ اللَّهَ لَيُؤَيِّدُ هَذَا الدينَ بِالرجلِ الْفَاجِر) অর্থাৎ অবশ্যই আল্লাহ এই দীনকে পাপাচার লোকেদের মাধ্যমেও শক্তিশালী করে থাকেন।
এর ব্যাখ্যা জামি গ্রন্থে বলা হয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ এই দীনকে এমন লোকেদের দ্বারাও শক্তিশালী করেন, যাদের জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। ইবনু উমার (রাঃ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অবশ্যই আল্লাহ এমন লোকদের দ্বারাও ইসলামকে শক্তিশালী করেন, যারা ইসলামের অনুসারী না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৩-[২৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর জাদু করা হয়। ফলে তাঁর অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছিল যে, তার ধারণা হত তিনি কোন একটি কাজ করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। এ অবস্থায় একদিন তিনি (সা.) আমার কাছে ছিলেন এবং আল্লাহর নিকট বার বার দু’আ করলেন। অতঃপর আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি অবগত হয়েছ, আমি যা জানতে চেয়েছিলাম আল্লাহ তা’আলা আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আমার কাছে দু’জন লোক (মানব আকৃতিতে দু’জন ফেরেশতা) আসে। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন আমার পায়ের কাছে বসে পড়ল। এরপর তাদের একজন আপন সাথিকে বলল, এ লোকের অসুখটা কি? বলল, তার ওপর জাদু করা হয়েছে। প্রথমজন জিজ্ঞেস করল, কে তাকে জাদু করেছে? সে উত্তর দিল, ইয়াহুদী লাবীদ ইবনু আসাম। প্রথম লোক প্রশ্ন করল, তা কিসের সাহায্যে (করা হয়েছে?) দ্বিতীয় লোকটি বলল, চিরুনি এবং চিরুনিতে ঝরে পড়া চুলের মধ্যে এবং পুরুষ খেজুর গাছের নতুন খোলের মধ্যে। [’আয়িশাহ (রা.) বলেন,] অতঃপর নবী (সা.) তাঁর কিছু সাহাবীসহ সে কূপের কাছে গেলেন। এরপর বললেন, এটাই সেই কূপ যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। তার পানি মেহেদি নিংড়ানো। আর কূপের আশপাশের খেজুর গাছগুলোর মাথা যেন শয়তানের মাথার মতো। অতঃপর তা কূপ হতে বের করে ফেলেছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سُحِرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ فَعَلَ الشَّيْءَ وَمَا فَعَلَهُ حَتَّى إِذا كَانَ ذَات يَوْم وَهُوَ عِنْدِي دَعَا اللَّهَ وَدَعَاهُ ثُمَّ قَالَ أَشَعَرْتِ يَا عَائِشَةُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَفْتَانِي فِيمَا استفتيته جَاءَنِي رجلَانِ فَجَلَسَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِي وَالْآخَرُ عِنْدَ رِجْلِي ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ مَا وَجَعُ الرَّجُلِ قَالَ مَطْبُوبٌ قَالَ وَمَنْ طَبَّهُ قَالَ لَبِيدُ بْنُ الْأَعْصَمِ الْيَهُودِيُّ قَالَ فِي مَاذَا قَالَ فِي مُشْطٍ وَمُشَاطَةٍ وَجُفِّ طَلْعَةِ ذَكَرٍ قَالَ فَأَيْنَ هُوَ قَالَ فِي بِئْرِ ذَرْوَانَ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِلَى الْبِئْرِ فَقَالَ هَذِهِ الْبِئْرُ الَّتِي أُريتها وَكَأن ماءَها نُقاعةُ الْحِنَّاء ولكأن نخلها رُءُوس الشَّيَاطِين فاستخرجه مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3268) و مسلم (43 / 2189)، (5703) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة قالت سحر رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انه ليخيل اليه انه فعل الشيء وما فعله حتى اذا كان ذات يوم وهو عندي دعا الله ودعاه ثم قال اشعرت يا عاىشة ان الله قد افتاني فيما استفتيته جاءني رجلان فجلس احدهما عند راسي والاخر عند رجلي ثم قال احدهما لصاحبه ما وجع الرجل قال مطبوب قال ومن طبه قال لبيد بن الاعصم اليهودي قال في ماذا قال في مشط ومشاطة وجف طلعة ذكر قال فاين هو قال في بىر ذروان فذهب النبي صلى الله عليه وسلم في اناس من اصحابه الى البىر فقال هذه البىر التي اريتها وكان ماءها نقاعة الحناء ولكان نخلها رءوس الشياطين فاستخرجه متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3268) و مسلم (43 / 2189)، (5703) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জাদু করার কারণে তাঁর কাছে কোন কাজ করা না করা নিয়ে সন্দেহ হত। কোন সময় তিনি কোন কাজ না করেই মনে করতেন যে, তিনি তা করেছেন। এটি ছিল শুধুমাত্র তাঁর জাদুকালীন সময়ে। আর তা হয়েছিল রাসূল (সা.) -এর দুনিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে। দীন সংক্রান্ত কোন বিষয়ে হয়নি। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (সা.) -কে জাদু করার বিষয়টি কেউ কেউ অস্বীকার করে এই যুক্তি দিয়ে যে, এটি তার নুবুওয়্যাতের পরিপন্থী এবং তার মর্যাদার হানী। কিন্তু এ যুক্তিটি একেবারেই বাতিল। কারণ রাসূল (সা.) -কে জাদু করার ঘটনাটি অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এতে সন্দেহ করার কিছু নেই। আর জাদু করার বিষয়টি দুনিয়া সংক্রান্ত। এর সাথে নুবুওয়্যাতের কোন সম্পর্ক নেই। কারণ নুবুওয়্যাত সংক্রান্ত বিষয়গুলো আল্লাহ বিশেষভাবে হিফাযাত করেছেন।
উক্ত ঘটনা থেকে এটিও প্রমাণিত হয় যে, তিনি ছিলেন আমাদের মতোই মাটির মানুষ। এজন্যই তার মাঝে জাদু কাজ করেছে।
কেউ কেউ বলেন, জাদুকালীন সময়ে তাঁর অনেক কিছুই ধারণা হত। কিন্তু তিনি সেগুলোকে সঠিক হিসেবে বিশ্বাস করতেন না। বরং তিনি কেবল সঠিক বিষয়কেই সঠিক বলে বিশ্বাস করতেন।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এটিও হতে পারে যে, তিনি দুনিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু দীনের বিষয় হলে তিনি সতর্ক করে সঠিক বিষয়টিই বর্ণনা করতেন।
কেউ কেউ আরো বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) শারীরিক প্রফুল্লতার কারণে মনে করতেন যে, তিনি এখন সহবাস করতে সক্ষম। কিন্তু যখন স্ত্রীর নিকটবর্তী হতেন তখন তার মাঝে জাদুর প্রভাব কাজ করত। আর তিনি তাতে সক্ষম হতেন না।
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (সা.) যেসব বিষয়ে ধারণা করতেন সেগুলো হত তাঁর চোখের দেখায়। কিন্তু আকল বা জ্ঞানের মাঝে এর কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না। অতএব এটা রাসূল (সা.) -এর দায়িত্বের মাঝে কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।
(دَعَا اللَّهَ وَدَعَاهُ) অর্থাৎ তিনি আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন এবং দু'আ করেই চললেন। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কোন কষ্টকর বিষয় এসে পড়লে সেখান থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করা এবং ভালো অবস্থানের জন্য প্রার্থনা করা মুস্তাহাব।
(قَالَ فِي بِئْرِ ذَرْوَانَ) অর্থাৎ তিনি বললেন, তা আছে যারওয়ান কূপে। তবে সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় কূপের নামটি যি-আরোয়ান নামে উল্লেখ করা হয়েছে। দুটি নামই প্রসিদ্ধ। তবে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) যি-আরোয়ান নামটিকেই বেশি সঠিক বলেছেন। আর এটি হলো মদীনায় অবস্থিত আবূ যুরায়ক নামক এক ব্যক্তির বাগানের কূপ।
(ولكأن نخلها رُءُوس الشَّيَاطِين) অর্থাৎ যেন তার খেজুরের গাছটি শয়তানের মাথার মতো। এখানে এই উপমার মাধ্যমে উক্ত গাছের বিদঘুটে আকৃতির কথা বুঝানো হয়েছে। তাছাড়াও আরবদের মাঝে এটি প্রচলিত ছিল যে, অপ্রীতিকর কোন বিদঘুটে দৃশ্যকে তারা শয়তানের মাথা বলে আখ্যায়িত করত।
আবার কেউ কেউ বলেন, বুঝানো হয়েছে বিষাক্ত ডোরাকাটা সম্পর্কে। সর্বোপরি কথা হলো, গাছটির দৃশ্য ছিল বড়ই অপ্রীতিকর। তাই সেটিকে শয়তানের মাথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক ইয়াহূদী নবী (সা.)-কে বেজোড় সংখ্যক তথা এগারোটি গিট দিয়ে জাদু করে এবং তা কূপে ফেলে দেয়। এতে নবী (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর সূরা ফালাক ও নাস নাযিল হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৪-[২৭] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে ছিলাম। তিনি গনীমতের সম্পদ বিতরণ করছিলেন। তখন বানী তামীম গোত্রের ’যুল খুওয়াইসিরাহ্’ নামক এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার প্রতি দুঃখ! আমিই যদি ইনসাফ না করি, তাহলে ইনসাফ আর করবে কে? যদি আমি ইনসাফ না করি, তবে তো তুমি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্তই হলে। (অর্থাৎ তুমি ঈমানদার থাকবে না) তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ, তার আরো কিছু সাথী আছে তোমাদের কেউ স্বীয় সালাতকে তাদের সালাতের সাথে এবং নিজের সিয়ামকে তাদের সিয়ামের সাথে তুলনা করলে নিজেদের সালাত সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করে। কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা দীন ইসলাম হতে এমনভাবে বের হয়ে পড়বে, যেমন তীর শিকার ছেদ করে বের হয়ে পড়ে।
অতঃপর সে (শিকারী) তীরের বাঁট হতে ধারালো মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে দেখে (কোথাও কোন কিছু লেগে আছে কিনা?) কিন্তু তাতে কিছু দেখতে পাওয়া যায়। অথচ তীরটি শিকারের নাড়িভুড়ি ও রক্ত-মাংস ভেদ করে গেছে। তাদের এক লোকের চিহ্ন হবে কালো বর্ণের, তার বাহুদ্বয়ের কোন এক বাহুর উপরে স্ত্রীলোকের স্তনের মতো ফুলা। অথবা বলেছেন, মাংসের একটি খণ্ডের মতো উঠে থাকবে, যা নাড়তে থাকবে এবং তারা উত্তম একটি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে লিপ্ত হবে। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ কথাগুলো আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে শুনেছি।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) সেই দলের খারিজীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমিও তার সাথে ছিলাম। যুদ্ধ শেষে ’আলী (রাঃ) (নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে) ঐ লোকটির খোঁজ নিতে নির্দেশ করেন। অতএব সন্ধান করে এক লোককে আনা হলো। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি তাকে লক্ষ্য করে দেখেছি, ঐ লোকটির সম্পর্কে নবী (সা.) যে চিহ্নসমূহ বলেছিলেন, তার মধ্যে সে সমস্ত চিহ্নগুলো বিদ্যমান ছিল।

অপর এক বর্ণনাতে আছে- (গনীমাতের সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে) এমন এক লোক তাঁর সম্মুখে আসলো, যার চক্ষু দুটি ছিল কোটরাগত, কপাল উঁচু- সামনের দিকে বের হয়ে রয়েছে, দাড়ি ছিল ঘন, গণ্ডদ্বয় ছিল ফুলা আর মাথা ছিল ন্যাড়া। সে বলল, হে মুহাম্মাদ। আল্লাহকে ভয় কর। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমিই যদি নাফরমানি করি, তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা আমাকে দুনিয়াবাসীর ওপর আমানতদার বানিয়েছেন। আর তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? এ সময় এক লোক এ লোককে হত্যা করার জন্য [নবী (সা.) -এর কাছে] অনুমতি চাইলেন; কিন্তু তিনি নিষেধ করলেন। উক্ত লোকটি যখন চলে গেল, তখন নবী (সা.) বললেন, এ লোকের পরবর্তী বংশধরের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন ইসলাম হতে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকার হতে তীর বের হয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরেকে হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারীদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে রাখবে। যদি আমি তাদের নাগাল পেতাম, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের সকলকে ’আদ জাতির মতো হত্যা করতাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقْسِمُ قَسْمًا أَتَاهُ ذُو الْخوَيْصِرَة وَهُوَ رجلٌ من بني تَمِيم فَقَالَ يَا رسولَ الله اعْدِلْ فَقَالَ وَيلك وَمن يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَعْدِلْ قَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِن لم أكن أعدل فَقَالَ عمر لَهُ ائْذَنْ لي أضْرب عُنُقه فَقَالَ دَعْهُ فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلَاتَهُ مَعَ صَلَاتِهِمْ وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ يُنْظَرُ إِلَى نَصْلِهِ إِلَى رُصَافِهِ إِلَى نَضِيِّهِ وَهُوَ قِدْحُهُ إِلَى قُذَذِهِ فَلَا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ قَدْ سَبَقَ الْفَرْثَ وَالدَّمَ آيَتُهُمْ رَجُلٌ أَسْوَدُ إِحْدَى عَضُدَيْهِ مِثْلُ ثَدْيِ الْمَرْأَةِ أَوْ مِثْلُ الْبَضْعَةِ تَدَرْدَرُ وَيخرجُونَ على حِين فِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ فَأَمَرَ بذلك الرجل فالْتُمِسَ فَأُتِيَ بِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَلَى نَعْتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي نَعَتَهُ وَفِي رِوَايَةٍ: أَقْبَلَ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ نَاتِئُ الجبين كَثُّ اللِّحْيَةِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ مَحْلُوقُ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا مُحَمَّد اتَّقِ الله فَقَالَ: «فَمن يُطِيع اللَّهَ إِذَا عَصَيْتُهُ فَيَأْمَنُنِي اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَلَا تَأْمَنُونِي» فَسَأَلَ رَجُلٌ قَتْلَهُ فَمَنَعَهُ فَلَمَّا وَلَّى قَالَ: «إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ من الإِسلام مروق السهْم من الرَّمية يقتلُون أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَيَدَعُونَ أَهْلَ الْأَوْثَانِ لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأقتلنهم قتل عَاد» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3344) و مسلم (143 / 1064)، (2451) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد الخدري قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقسم قسما اتاه ذو الخويصرة وهو رجل من بني تميم فقال يا رسول الله اعدل فقال ويلك ومن يعدل اذا لم اعدل قد خبت وخسرت ان لم اكن اعدل فقال عمر له اىذن لي اضرب عنقه فقال دعه فان له اصحابا يحقر احدكم صلاته مع صلاتهم وصيامه مع صيامهم يقرءون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية ينظر الى نصله الى رصافه الى نضيه وهو قدحه الى قذذه فلا يوجد فيه شيء قد سبق الفرث والدم ايتهم رجل اسود احدى عضديه مثل ثدي المراة او مثل البضعة تدردر ويخرجون على حين فرقة من الناس قال ابو سعيد اشهد اني سمعت هذا الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم واشهد ان علي بن ابي طالب قاتلهم وانا معه فامر بذلك الرجل فالتمس فاتي به حتى نظرت اليه على نعت النبي صلى الله عليه وسلم الذي نعته وفي رواية: اقبل رجل غاىر العينين ناتى الجبين كث اللحية مشرف الوجنتين محلوق الراس فقال يا محمد اتق الله فقال: «فمن يطيع الله اذا عصيته فيامنني الله على اهل الارض ولا تامنوني» فسال رجل قتله فمنعه فلما ولى قال: «ان من ضىضى هذا قوما يقرءون القران لا يجاوز حناجرهم يمرقون من الاسلام مروق السهم من الرمية يقتلون اهل الاسلام ويدعون اهل الاوثان لىن ادركتهم لاقتلنهم قتل عاد» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3344) و مسلم (143 / 1064)، (2451) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) জি'রানাহ্ নামক স্থানে খায়বার যুদ্ধে পাওয়া গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বানূ তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইসারাহ্ নামক এক ব্যক্তি আসলো। সে ছিল একজন মুনাফিক এবং খাওয়ারিযদের প্রধান। সেই খাওয়ারিযদের প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল ‘আলী (রাঃ)-এর যুগে। সে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ইনসাফ করুন।
অথচ রাসূল (সা.) মানুষের অভাব বুঝে তাদের প্রয়োজন অনুপাতে ইনসাফের সাথে গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তারপরেও যখন সে আল্লাহর রাসূলকে এই কথা বলল তখন তিনি রেগে গেলেন এবং বললেন তোমার বরবাদী হোক। আমি যদি ইনসাফ না করি তাহলে কে ইনসাফ করবে।
সেই স্থানে ‘উমার (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অনুমতি দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে অনুমতি না দিয়ে ছেড়ে দিতে বললেন।
বেহ শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, রাসূল (সা.) কেন তাকে হত্যা করতে নিষেধ করলেন। অথচ তিনি বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে হত্যা করব।
এর উত্তরে এভাবে বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদেরকে হত্যা করার ইচ্ছার কথা বলেছেন তাদেরকে হত্যা করার বৈধতা দেয়ার জন্য। আর তিনি অন্য কারণে তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়েছেন। সেটি হলো যে, মুশরিকরা বলাবলি করবে যে, মুহাম্মাদ নিজের সাথিদেরকেও হত্যা করে।
আকমাল এ বিষয়টির সাথে আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেন। আর তা হলো, রাসূল (সা.) তাকে হত্যা না করার কারণে তার উত্তম চরিত্রের আরো ব্যাপক প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কারণ তিনি নিজের জন্য কোন প্রতিশোধ নেননি। অথচ সে তাকেই হীন চোখে লক্ষ্য করে বলেছে, হে মুহাম্মাদ! আপনি ইনসাফ করুন। আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। অপর বর্ণনায় আছে, সে বলেছেন, এই বণ্টনের মাঝে কোন ধরনের ইনসাফ করা হয়নি। একজন রসূলের ব্যাপারে এ জাতীয় কথা সত্যিই অনেক বেদনাদায়ক, যা সহ্য করার মতো নয়। তারপরেও তিনি (সা.) ধৈর্যধারণ করেছেন।
(يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ) অর্থাৎ তারা কুরআন পড়বে। এখানে বুঝানো হয়েছে তারা দীর্ঘ সময় কুরআন তিলাওয়াত করবে। মদ, মাখরাজ, তাজবীদ, তারতীল সবকিছুর প্রতিই তারা খুব বেশি লক্ষ্য রাখবে এবং এই ক্ষেত্রে তারা অতিরঞ্জন করবে।
(لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ) অর্থাৎ তা তাদের কণ্ঠনালীকেও অতিক্রম করবে না। এখানে বুঝানো হয়েছে যে, তাদের পঠিত বিষয় তাদের কণ্ঠনালীকে অতিক্রম করবে না। কিন্তু এখানে এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাদের ‘আমল উপরে উঠবে না এবং তাদের কুরআন তিলাওয়াত কবুলও হবে না।

কাষী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের কুরআন তিলাওয়াত করাটা তাদের জিহ্বাকে অতিক্রম করে হৃদয়ে পৌছবে না এবং সেই তিলাওয়াতে তাদের হৃদয়ের কোন পরিবর্তনও ঘটবে না।
(يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ....) অর্থাৎ তারা দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে ধনুক তীর থেকে বের হয়ে যায়। এর দ্বারা দুটি উদ্দেশ্য হতে পারে- (১) তারা তীরের গতিতে ইমামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাবে। (২) তারা তীরের গতিতে মুসলিমদের দল থেকে বের হয়ে যাবে।
তাদের বের হয়ে যাওয়াকে এখানে তীরের সাথে তুলনা করা হয়েছে এটি বুঝানোর জন্য যে, তীর ধনুক থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ধনুকে যেমন তীরের কোন চিহ্ন থাকে না। ঠিক তাদেরও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওযার পর তাদের মাঝে ইসলামের কোন চিহ্ন থাকবে না।
(وَيخرجُونَ على حِين فِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ) অর্থাৎ তারা সর্বোত্তম দলের বিরুদ্ধে বের হয়ে পড়বে। মিরকাত প্রণেতা বলেন, এখানে সর্বোত্তম দল বলে বুঝানো হয়েছে ‘আলী (রাঃ) এবং তার সাথীদেরকে।
(إِنَّ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمًا...) অর্থাৎ নিশ্চয় এই ব্যক্তির ভিতর থেকে এমন এক সম্প্রদায়... এর ব্যাখ্যায় তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যারা হাদীসের এই অংশ থেকে মনে করেন যে, তার থেকে যারা জন্মগ্রহণ করবে তারাই পরবর্তীতে খাওয়ারিয হবে। তারা আসল বিষয় থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। কারণ নবী (সা.) কর্তৃক তাকে এ কথা বলার সময় থেকে খাওয়ারিযদের প্রথম প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত এটি সম্ভব নয়। কেননা খাওয়ারিযদের প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল ‘আলী (রাঃ)-এর শাসন আমলে। অতএব, রাসূল (সা.) কর্তৃক যুল খুওয়াইসারার উদ্দেশে উক্ত কথা বলার সময় থেকে ‘আলী (রাঃ)-এর শাসন ‘আমল পর্যন্ত যে সময়ের ব্যবধান আছে সেই সময়ের মধ্যে শুধু যুল খুওয়াইসারার সন্তানদের সংখ্যা এত বেশি পরিমাণে হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে অনিবার্য কারণেই অন্য ব্যাখ্যা নিতে হবে। আর তা হলো হাদীসে তার ভিতর বলতে বুঝানো হয়েছে, তার মতাদর্শের।
অতএব যারা সর্বপ্রথম ‘আলী (রাঃ)-এর শাসন আমলে খাওয়ারিয হিসেবে বের হয়ে যায় তারা ছিল যুল খুওয়াইসারার মতাদর্শের লোক।
(يَمْرُقُونَ من الإِسلام) অর্থাৎ তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। মিরকাত প্রণেতা বলেন, যারা খাওয়ারিযদের কাফির বলে তারা এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। আর ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া বলতে বুঝায় পরিপূর্ণভাবে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়াকে অথবা ইমামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়াকে।
ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো ইমামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া।
(لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأقتلنهم قتل عَاد) অর্থাৎ যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে ‘আদ জাতির মতো হত্যা করব।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, তাদেরকে ‘আদ জাতির মতো হত্যা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ‘আদ জাতিকে যেভাবে প্রবল বায়ু দিয়ে সমূলে ধ্বংস করা হয়েছে ঠিক রাসূল (সা.) তাদেরকেও সমূলে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেছেন। কেউ কেউ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ কথা দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, খাওয়ারিযদের হত্যা করা বৈধ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৫-[২৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা আমার মাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতাম, কেননা তিনি ছিলেন মুশরিকা। এমনি একদিন আমি তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলে তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শানে এমন কিছু শুনালেন, যা আমার কাছে বড়ই খারাপ লেগেছে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে আসলাম এবং কেঁদে কেঁদে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আবূ হুরায়রাহ্-এর মাকে হিদায়াত করেন। তখন তিনি (সা.) এ দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি আবূ হুরায়রাহ্-এর মাকে হিদায়াত নসীব কর। [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন] নবী (সা.) -এর দু’আ শুনে আমি আনন্দে বের হয়ে (বাড়ির দিকে) ফিরলাম। অতঃপর আমি আমার মায়ের ঘরের দরজায় পৌছে দেখলাম, দরজাটি বন্ধ। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তুমি তোমার স্থানে একটু অপেক্ষা কর। অতঃপর আমি পানি পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। অতএব তিনি গোসল করে জামা-কাপড় পরিধান করলেন এবং তাড়াহুড়া করে ওড়না পরতে পরতে এসে দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত ’ইবাদত পাওয়ার যোগ্য কেউ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। সাথে সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে ফিরে আসলাম এবং খুশিতে আমি কাঁদছিলাম। তখন তিনি (সা.) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলেন এবং কল্যাণকর কথা বললেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ أَدْعُو أُمِّي إِلَى الْإِسْلَامِ وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا فَأَسْمَعَتْنِي فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أكره فَأَتَيْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَهْدِيَ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ» . فَخَرَجْتُ مُسْتَبْشِرًا بِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا صِرْتُ إِلَى الْبَابِ فَإِذَا هُوَ مُجَافٍ فَسَمِعَتْ أُمِّي خَشْفَ قَدَمَيَّ فَقَالَتْ مَكَانَكَ يَا أَبَا هُرَيْرَة وَسمعت خضخضة المَاء قَالَ فَاغْتَسَلَتْ فَلَبِسَتْ دِرْعَهَا وَعَجِلَتْ عَنْ خِمَارِهَا فَفَتَحَتِ الْبَابَ ثُمَّ قَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي مِنَ الْفَرح فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ خيرا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (158 / 2491)، (6396) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال كنت ادعو امي الى الاسلام وهي مشركة فدعوتها يوما فاسمعتني في رسول الله صلى الله عليه وسلم ما اكره فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابكي قلت يا رسول الله: ادع الله ان يهدي ام ابي هريرة فقال: «اللهم اهد ام ابي هريرة» . فخرجت مستبشرا بدعوة النبي صلى الله عليه وسلم فلما صرت الى الباب فاذا هو مجاف فسمعت امي خشف قدمي فقالت مكانك يا ابا هريرة وسمعت خضخضة الماء قال فاغتسلت فلبست درعها وعجلت عن خمارها ففتحت الباب ثم قالت يا ابا هريرة اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله فرجعت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابكي من الفرح فحمد الله واثنى عليه وقال خيرا. رواه مسلم رواہ مسلم (158 / 2491)، (6396) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর মায়ের জন্য দু'আ করার পর যখন তার মা ইসলাম গ্রহণ করল তখন সে রাসূল (সা.)-এর কাছে আসলো। আসার পর তিনি আবূ হুরায়রাকে ভালো ও কল্যাণের কথা বললেন। আরো বললেন, তোমার মায়ের ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তুমিও কল্যাণ লাভ করেছ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৬-[২৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর কোন কোন সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা বলে থাক, আবূ হুরায়রাহ নবী (সা.) হতে অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করে থাকে। অথচ আল্লাহর সামনে সকলকে উপস্থিত হতে হবে। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমার মুহাজির ভাইগণ অধিকাংশ সময় বাজারে ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আর আমার আনসারী ভাইয়ের বাগানে খামারে লিপ্ত থাকতেন। আর আমি ছিলাম একজন দরিদ্র লোক। তাই আমি পেটে যা জুটে তার উপর তৃপ্ত থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত থাকতাম। একদিন নবী (সা.) বললেন, আমার এ উক্তি (বিশেষ দুআ) শেষ হওয়া অবধি তোমাদের যে কেউ তার কাপড় (চাদর) প্রসারিত রাখবে এবং আমার কথা শেষ হওয়ার পর তা গুটিয়ে স্বীয় বুকের সাথে জড়িয়ে নেবে, সে আমার কোন উক্তি কখনো ভুলবে না। (আবূ হুরায়রাহ বলেন, এ কথা শুনার পর) আমি আমার চাদরখানা প্রসারিত করে দিলাম, তা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোন কাপড় ছিল না। পরিশেষে নবী (সা.) কথা বলা শেষ করলে আমি তাকে আমার বুকের সাথে চেপে ধরলাম। সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি তাঁকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, সে সময় হতে আজ অবধি তাঁর কোন কথা আর আমি ভুলিনি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعنهُ إِنَّكُمْ تَقُولُونَ أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهُ الْمَوْعِدُ وَإِنَّ إِخْوَتِي مِنَ الْمُهَاجِرِينَ كَانَ يَشْغَلُهُمُ الصَّفِقُ بِالْأَسْوَاقِ وَإِنَّ إِخْوَتِي مِنَ الْأَنْصَارِ كَانَ يَشْغَلُهُمْ عَمَلُ أَمْوَالِهِمْ وَكُنْتُ امْرَأً مِسْكِينًا أَلْزَمُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَلْءِ بَطْنِي وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا: «لَنْ يَبْسُطَ أَحَدٌ مِنْكُمْ ثَوْبَهُ حَتَّى أَقْضِيَ مَقَالَتِي هَذِهِ ثُمَّ يَجْمَعَهُ إِلَى صَدْرِهِ فَيَنْسَى مِنْ مَقَالَتِي شَيْئًا أَبَدًا» فَبَسَطْتُ نَمِرَةً لَيْسَ عَلَيَّ ثَوْبٌ غَيْرَهَا حَتَّى قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَالَتَهُ ثُمَّ جَمَعْتُهَا إِلَى صَدْرِي فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ مَا نَسِيتُ مِنْ مقَالَته تِلْكَ إِلَى يومي هَذَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2350) و مسلم (160 ، 159 / 2492)، (6397 و 6399) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه انكم تقولون اكثر ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم والله الموعد وان اخوتي من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالاسواق وان اخوتي من الانصار كان يشغلهم عمل اموالهم وكنت امرا مسكينا الزم رسول الله صلى الله عليه وسلم على ملء بطني وقال النبي صلى الله عليه وسلم يوما: «لن يبسط احد منكم ثوبه حتى اقضي مقالتي هذه ثم يجمعه الى صدره فينسى من مقالتي شيىا ابدا» فبسطت نمرة ليس علي ثوب غيرها حتى قضى النبي صلى الله عليه وسلم مقالته ثم جمعتها الى صدري فوالذي بعثه بالحق ما نسيت من مقالته تلك الى يومي هذا. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2350) و مسلم (160 ، 159 / 2492)، (6397 و 6399) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: লোকেরা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর ব্যাপারে বলাবলি করত যে, আবূ হুরায়রাহ্ নবী (সা.)  থেকে বেশি বেশি বর্ণনা করে। তাই তিনি নিজেই তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন, (وَاللَّهُ الْمَوْعِدُ) অর্থাৎ আল্লাহর কাছেই রয়েছে তার জন্য নির্ধারিত সময়। মিরকাত প্রণেতা বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ -এর এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আমি কম করি বা বেশি করি এ ব্যাপারে কিয়ামতের দিন আল্লাহই আমার থেকে হিসাব নিবেন। বিশেষ করে যদি তা আল্লাহর রসূলের ব্যাপারে হয় তাহলে তো বিষয়টি আরো কঠিন হবে।
তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য হাদীসে বলেন, (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًأْمَقْعَدَهُ مِنَ انَّارِ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে বানিয়ে কোন মিথ্যা বলল, সে যেন তার জায়গা জাহান্নাম বানিয়ে নিলো।
এ হাদীসে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে তিনি বেশি সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো, অন্যান্য মুহাজির সাহাবীরা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবসা-বাণিজ্য করত আর আনসার সাহাবীরা কৃষিকাজ করত। কিন্তু আমি এসব কোনটিই করতাম না। বরং সর্বদা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর খিদমাতে পড়ে থাকতাম। আর তিনি (সা.) যখনই কোন হাদীস বলতেন আমি তা শুনে মুখস্থ করে নিতাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৭-[৩০] জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তুমি কি আমাকে যুল খলাসাহ্ (ইয়ামানের একটি মন্দির) হতে শান্তি দেবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ নিশ্চয়। আর আমার অবস্থা এই ছিল যে, আমি ঘোড়ার পিঠে মজবুতভাবে বসতে পারতাম না। অতএব আমি এ কথাটি নবী (সা.) -এর কাছে উল্লেখ করলাম, তখন তিনি আমার বুকের উপর তার হাত মারলেন। এমনকি তাঁর আঙ্গুলের নিশানগুলো আমি আমার বুকের উপর দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এই বলে আমার জন্য দু’আ করলেন, হে আল্লাহ তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখ এবং তাকে হিদায়াত দানকারী ও হিদায়াত লাভকারী বানিয়ে দাও। এরপর হতে আমি আর কখনো ঘোড়া হতে পড়ে যাইনি। অতঃপর জারীর (কুরায়শ বংশীয়) আহমাস গোত্রের দেড়শত অশ্বারোহী নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং যুল খলাসাহ্ গৃহটিকে আগুন দ্বারা পুড়ে ও ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ؟» فَقُلْتُ: بَلَى وَكُنْتُ لَا أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَرَبَ يَدَهُ عَلَى صَدْرِي حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ يَدِهِ فِي صَدْرِي وَقَالَ: «اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا» . قَالَ فَمَا وَقَعْتُ عَنْ فَرَسِي بَعْدُ فَانْطَلَقَ فِي مِائَةٍ وَخَمْسِينَ فَارِسًا مِنْ أحمس فحرقها بالنَّار وَكسرهَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4357) و مسلم (137 ، 136 / 2476)، (6365 و 6366) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن جرير بن عبد الله قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الا تريحني من ذي الخلصة؟» فقلت: بلى وكنت لا اثبت على الخيل فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فضرب يده على صدري حتى رايت اثر يده في صدري وقال: «اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا» . قال فما وقعت عن فرسي بعد فانطلق في ماىة وخمسين فارسا من احمس فحرقها بالنار وكسرها. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4357) و مسلم (137 ، 136 / 2476)، (6365 و 6366) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে (ذِي الْخَلَصَةِ) (যুল খলাসাহ্) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
যুল খলাসাহ্ ছিল খস'আম নামক এক ব্যক্তির ঘর। যে ঘরকে ইয়ামানের কাবাহ্ বলা হত। আর সেই ঘরে ছিল খলাসাহ্ নামক এক মূর্তি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৮-[৩১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সা.) -এর ওয়াহী লিখত। পরে সে ইসলাম হতে মুরতাদ হয়ে মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিশলো। তখন নবী (সা.) বললেন, নিশ্চয় মাটি তাকে গ্রহণ করবে না। বর্ণনাকারী [আনাস (রাঃ) বলেন] আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, ঐ লোকটি যে স্থানে মরেছে, তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তার (মৃত দেহটি) জমিনের উপর পড়ে রয়েছে। তখন তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করলেন, এ লোকটির এ অবস্থা কেন? তারা বলল, আমরা কয়েকবার তাকে দাফন করেছিলাম; কিন্তু জমিন তাকে গ্রহণ করেনি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا كَانَ يَكْتُبُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَدَّ عَنِ الْإِسْلَامِ وَلَحِقَ بِالْمُشْرِكِينَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْأَرْضَ لَا تَقْبَلُهُ» . فَأَخْبَرَنِي أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهُ أَتَى الْأَرْضَ الَّتِي مَاتَ فِيهَا فَوَجَدَهُ مَنْبُوذًا فَقَالَ: مَا شَأْنُ هَذَا؟ فَقَالُوا: دَفَنَّاهُ مِرَارًا فَلَمْ تَقْبَلْهُ الأَرْض. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3617) و مسلم (14 / 2781)، (7040) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن انس قال: ان رجلا كان يكتب للنبي صلى الله عليه وسلم فارتد عن الاسلام ولحق بالمشركين فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ان الارض لا تقبله» . فاخبرني ابو طلحة انه اتى الارض التي مات فيها فوجده منبوذا فقال: ما شان هذا؟ فقالوا: دفناه مرارا فلم تقبله الارض. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3617) و مسلم (14 / 2781)، (7040) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِنَّ رَجُلًا كَانَ يَكْتُبُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ এক ব্যক্তি নবী (সা.) -এর জন্য লেখালেখি করে দিতো। তারপর সে মুরতাদ হয়ে যায়। উক্ত ব্যক্তির নামের ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মাঝে যথেষ্ট মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, তার কোন নাম জানা যায় না।
আবার কেউ কেউ বলেন, তার নাম হলো ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ। কিন্তু এটি ভুল, কারণ তিনি মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও তিনি পূর্বে খ্রীষ্টান ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং সূরা আল বাক্বারাহ্ ও আ-লি ইমরান শিখেছেন। যে ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায় সে আবার মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়। সে আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর ব্যাপারে এই অপবাদ দিয়েছিল যে, আমি যা লিখি মুহাম্মাদ শুধু তাই জানে। অন্য কিছু জানতে পারে না। পরে রাসূল (সা.) তার ব্যাপারে বলেন, মাটি তাকে গ্রহণ করবে না।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, সে যখন মৃত্যুবরণ করল তখন তার লোকেরা তাকে দাফন করল। কিন্তু পরে দেখা গেল যে, জমিন তাকে উপরে তুলে রেখেছে। তখন তার লোকেরা বলল, এটি মুহাম্মাদ ও তার সাহাবীদের কাজ। তাই তারা আবারো গভীর গর্ত করে তাকে দাফন করল। কিন্তু তারপরেও দেখা গেল যে, জমিন তাকে উপরে তুলে রেখেছে।
অতঃপর তারা বুঝতে পারল যে, এটি কোন মানুষের কাজ নয়। তাই তারা তাকে মাটির উপরেই ফেলে রেখে দিলো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৮৯৯-[৩২] আবূ আইয়ুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) সূর্যাস্তের পর বাইরে আসলে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, এটা ইয়াহূদীদের আওয়াজ, তাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي أَيُّوب قا ل: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ وَجَبَتِ الشَّمْسُ فَسَمِعَ صَوْتًا فَقَالَ: «يَهُودُ تُعَذَّبَ فِي قبورها» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1375) و مسلم (69 / 2869)، (7215) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي ايوب قا ل: خرج النبي صلى الله عليه وسلم وقد وجبت الشمس فسمع صوتا فقال: «يهود تعذب في قبورها» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1375) و مسلم (69 / 2869)، (7215) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি আওয়াজ শুনলেন। সেটি কিসের আওয়াজ ছিল? তা নিয়ে মিরকাত প্রণেতা বলেন, এটি হতে পারে ‘আযাবের মালাকের (ফেরেশতার) আওয়াজ অথবা শাস্তিপ্রাপ্ত ইয়াহূদীদের আওয়াজ কিংবা ‘আযাব সংঘটিত হওয়ার আওয়াজ।
এ হাদীস থেকে কবরে শাস্তির বিষয়টিও প্রমাণিত হয়। সাথে সাথে আরেকটি বিষয় জানা যায় যে, এটি ছিল রাসূল (সা.) -এর বিশেষ মু'জিযাহ্। কারণ তাঁর কাছে ইয়াহূদীদের কবরের অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে। আর সেটি হলো একটি পরজাগতিক বিষয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০০-[৩৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) কোন এক সফর হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি মদীনার কাছাকাছি হতেই এমন প্রবলভাবে ধূলিঝড় প্রবাহিত হলো যে, আরোহীকে পুঁতে ফেলার উপক্রম হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, কোন এক বড় মুনাফিকের মৃত্যুতেই এ ঝড় প্রবাহিত করা হয়েছে। অতঃপর মদীনার ভিতরে প্রবেশ করে জানতে পারলেন যে, মুনাফিকদের এক বড় নেতার মৃত্যু ঘটেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن جَابر قا ل: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ فَلَمَّا كَانَ قُرْبَ الْمَدِينَةِ هَاجَتْ رِيحٌ تَكَادُ أَنْ تَدْفِنَ الرَّاكِبَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثَتْ هَذِهِ الرِّيحُ لِمَوْتِ مُنَافِقٍ» . فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ فَإِذَا عَظِيمٌ مِنَ الْمُنَافِقين قد مَاتَ. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (15 / 2782)، (7041) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قا ل: قدم النبي صلى الله عليه وسلم من سفر فلما كان قرب المدينة هاجت ريح تكاد ان تدفن الراكب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت هذه الريح لموت منافق» . فقدم المدينة فاذا عظيم من المنافقين قد مات. رواه مسلم رواہ مسلم (15 / 2782)، (7041) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: যে মুনাফিক মৃত্যুবরণ করেছিল তার নামের ব্যাপারে যেমন ঐতিহাসিকদের মাঝে মতানৈক্য আছে ঠিক কোন সফর থেকে আল্লাহর নবী (সা.) ফিরছিলেন তা নিয়েও মতানৈক্য আছে। কেউ কেউ বলেন, সেই মুনাফিকের নাম ছিল রিফা'আহ্ ইবনু দুরায়দ। আর সফর ছিল তাবুক যুদ্ধের সফর। আবার কেউ কেউ বলেন, সেই মুনাফিকের নাম ছিল রাফি'। আর সফর ছিল বানূ মুস্তালিক যুদ্ধের। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০১-[৩৪] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (সা.) এর সাথে মক্কাহ হতে মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। পরিশেষে আমরা ’উসফান নামক স্থানে পৌছলে তিনি (সা.) এখানে কয়েকদিন অবস্থান করলেন। তখন লোকেরা (মুনাফিকগণ) বলল, এখানে অনর্থক আমাদের পড়ে থেকে কি লাভ? অথচ আমাদের পরিবার-পরিজন পিছনে রয়েছে। আমরা তাদের ক্ষেত্রে আশঙ্কামুক্ত নই। এ কথাটি নবী (সা.) -এর কাছে পৌছলে তিনি বললেন, সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! মদীনার এমন কোন রাস্তা বা গলি নেই, যেখানে তোমাদের প্রত্যাগমন অবধি দু’ দু’জন মালাক (ফেরেশতা) তাকে পাহারা দিচ্ছে না। অতঃপর তিনি (সা.) রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাই আমরা রওয়ানা হয়ে মদীনায় এসে পৌছলাম। সে সত্তার শপথ করে বলছি, যাঁর নামে শপথ করা হয়, আমরা মদীনায় প্রবেশ করে তখনো আমাদের হাওদা খুলে মাল-সামান নামিয়ে রাখিনি, এমন সময় আকস্মাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু গাতফান বংশধরের লোকেরা অতর্কিত আমাদের ওপর আক্রমণ করে বসল। অথচ আমাদের প্রত্যাবর্তনের পূর্বে কিছুই তাদেরকে আক্রমণের জন্য উস্কানি দেয়নি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى قَدِمْنَا عُسْفَانَ فَأَقَامَ بِهَا لَيَالِيَ فَقَالَ النَّاس: مَا نَحن هَهُنَا فِي شَيْءٍ وَإِنَّ عِيَالَنَا لَخُلُوفٌ مَا نَأْمَنُ عَلَيْهِمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِي الْمَدِينَةِ شِعْبٌ وَلَا نَقْبٌ إِلَّا عَلَيْهِ مَلَكَانِ يَحْرُسَانِهَا حَتَّى تَقْدَمُوا إِلَيْهَا» ثُمَّ قَالَ: «ارْتَحِلُوا» فَارْتَحَلْنَا وَأَقْبَلْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ فَوَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ مَا وَضَعْنَا رِحَالَنَا حِينَ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ حَتَّى أَغَارَ عَلَيْنَا بَنُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ غَطَفَانَ وَمَا يُهَيِّجُهُمْ قَبْلَ ذَلِكَ شَيْءٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (475 / 1374)، (3336) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم حتى قدمنا عسفان فاقام بها ليالي فقال الناس: ما نحن ههنا في شيء وان عيالنا لخلوف ما نامن عليهم فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «والذي نفسي بيده ما في المدينة شعب ولا نقب الا عليه ملكان يحرسانها حتى تقدموا اليها» ثم قال: «ارتحلوا» فارتحلنا واقبلنا الى المدينة فوالذي يحلف به ما وضعنا رحالنا حين دخلنا المدينة حتى اغار علينا بنو عبد الله بن غطفان وما يهيجهم قبل ذلك شيء. رواه مسلم رواہ مسلم (475 / 1374)، (3336) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে উল্লেখিত ‘উসফান' নামক জায়গাটি মক্কাহ্ থেকে দুই মঞ্জীল (স্টেশন) দূরে অবস্থিত। জনৈক ব্যাখ্যাকারী বলেন, 'উসফান হলো মদীনার নিকটবর্তী একটি জায়গা।
আযহার গ্রন্থের লেখক বলেন, এ পরিচয়টি ভুল। বরং সঠিক কথা হলো তা মক্কাহ্ থেকে দুই স্টেশন দূরে অবস্থিত একটি জায়গা। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করলেন তখন কিছু মুনাফিক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিরা বলাবলি করতে লাগল যে, আমাদের বাড়ীতে পুরুষবিহীন মহিলারা অবস্থান করছে। তাদের ব্যাপারে আমাদের আশংকা হচ্ছে।
(حِينَ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ حَتَّى أَغَارَ عَلَيْنَا) অর্থাৎ আমরা মদীনায় প্রবেশ করা মাত্রই বানূ ‘আবদুল্লাহ ইবনু গাতফান হামলা করে বসল। মিরকাত প্রণেতা বলেন: এখান থেকে বুঝা যায় যে, মদীনায় পুরুষদের অনুপস্থিতিকালে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) তাদের বাড়ির লোকেদেরকে পাহারা দিয়ে রেখেছিল। অতএব যখন পুরুষেরা মদীনায় পৌছল তখন মালায়িকাহ্ চলে গেলেন। তারপর বানূ ‘আবদুল্লাহ ইবনু গাত্বফান-এর লোকেরা হামলা করল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০২-[৩৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর সময় একবার লোকেরা দুর্ভিক্ষে কবলিত হলো। এমতাবস্থায় একদিন নবী (সা.) - জুমুআর দিন খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! (বৃষ্টির অভাবে) ধনসম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহার থাকছে, তাই আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দু’আ করুন। তখনই তিনি (সা.) (দু’আর জন্য) দু’ হাত উঠালেন, অথচ সে সময় আকাশে কোন মেঘের টুকরা আমরা দেখতে পাইনি। ঐ সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ! তিনি (সা.) এখনও হাত নামাননি হঠাৎ পাহাড়ের মতো মেঘমালা ছুটে আসলো। অতঃপর তিনি (সা.) তখনো মিম্বার হতে নামেননি। আমি দেখতে পেলাম তাঁর দাড়ির উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়া শুরু হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন, তার পরের দিন, তার পরবর্তী দিন, এমনকি পরবর্তী জুমু’আহ্ অবধি একনাগাড়ে আমাদের উপর বর্ষণ হতে থাকল। অতঃপর উক্ত বেদুঈন কিংবা অন্য এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঘরগুলো ভেঙ্গে পড়ছে, ধন-সম্পদসমূহ ডুবে গেছে। অতএব আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দু’আ করুন যেন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি (সা.) হাতদ্বয় উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়; বরং আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষণ করুন। এই বলে তিনি (সা.) হাত দ্বারা আকাশের যেদিকে ইশারা করলেন সাথে সাথেই সেদিকের মেঘ কেটে গেল এবং অল্পক্ষণের মধ্যে সমগ্র মদীনাহ্ কুণ্ডলীর মতো একটি মেঘ-শূন্য স্থানে পরিণত হলো। আর উপত্যকার নালাসমূহ একাধারে এক মাস যাবৎ প্রবাহিত থাকল।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন যেদিক হতে যে লোকই আসত, সে এ অত্যধিক বৃষ্টি বর্ষণের কথাই আলোচনা করত। অপর এক বর্ণনায় আছে- তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) দু’আ করতে করতে বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়; বরং আমাদের আশপাশে। হে আল্লাহ। টিলার উপরে, পাহাড়ের গায়ে, উপত্যকা এলাকায় এবং বৃক্ষের পাদদেশে বর্ষণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, ফলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা রৌদ্রের মাঝে (মসজিদ হতে) ফিরে গেলাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أنسٍ قَالَ أَصَابَت النَّاس سنَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم يخْطب فِي يَوْم جُمُعَة قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْمَالُ وَجَاعَ الْعِيَالُ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ السَّحَابُ أَمْثَالَ الْجِبَالِ ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْت الْمَطَر يتحادر على لحيته صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فمطرنا يَوْمنَا ذَلِك وَمن الْغَد وَبعد الْغَد وَالَّذِي يَلِيهِ حَتَّى الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى وَقَامَ ذَلِكَ الْأَعْرَابِيُّ أَوْ قَالَ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ وَغَرِقَ الْمَالُ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلَّا انْفَرَجَتْ وَصَارَتِ الْمَدِينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ وَسَالَ الْوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا وَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَّا حَدَّثَ بِالْجَوْدِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ» . قَالَ: فَأَقْلَعَتْ وَخَرَجْنَا نَمْشِي فِي الشّمسِ مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (933) و مسلم (8 ، 9 / 897)، (2078) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن انس قال اصابت الناس سنة على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فبينا النبي صلى الله عليه وسلم يخطب في يوم جمعة قام اعرابي فقال يا رسول الله هلك المال وجاع العيال فادع الله لنا فرفع يديه وما نرى في السماء قزعة فوالذي نفسي بيده ما وضعها حتى ثار السحاب امثال الجبال ثم لم ينزل عن منبره حتى رايت المطر يتحادر على لحيته صلى الله عليه وسلم فمطرنا يومنا ذلك ومن الغد وبعد الغد والذي يليه حتى الجمعة الاخرى وقام ذلك الاعرابي او قال غيره فقال يا رسول الله تهدم البناء وغرق المال فادع الله لنا فرفع يديه فقال اللهم حوالينا ولا علينا فما يشير بيده الى ناحية من السحاب الا انفرجت وصارت المدينة مثل الجوبة وسال الوادي قناة شهرا ولم يجى احد من ناحية الا حدث بالجود وفي رواية قال: «اللهم حوالينا ولا علينا اللهم على الاكام والظراب وبطون الاودية ومنابت الشجر» . قال: فاقلعت وخرجنا نمشي في الشمس متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (933) و مسلم (8 ، 9 / 897)، (2078) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে উল্লেখিত (اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন। আমাদের ওপর আর বর্ষণ করবেন না।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এ কথার অর্থ হলো। হে আল্লাহ! আপনি উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার জায়গায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন। ঘর-বাড়ির উপর বর্ষণ করবেন না।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো, আপনি কৃষি জমিতে বর্ষণ করুন। ঘর-বাড়ির উপর বর্ষণ করবেন না।
(وَسَالَ الْوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا) অর্থাৎ কনাহ্ উপত্যকায় দিয়ে একমাসের মতো বর্ষণ প্রবাহিত হলো। এখানে উল্লেখিত শব্দ (قَنَاةُ) এর পরিচয় নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। যেমন- কিরমানী বলেন, (قَنَاةُ) একটি জায়গার নাম।
কেউ কেউ বলেন, এটি হলো সেই উপত্যকার নাম যেখানে হামযাহ্ (রাঃ)-এর কবর রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি হলো বর্শা পরিমাণ উঁচু একটি উপত্যকার নাম।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, যদি বৃষ্টি এতই বেশি হয় যে, তার কারণে মানুষদের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তাহলে সেই বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করা মুস্তাহাব। কিন্তু সেজন্য খোলা মাঠে সমবেত হয়ে একসাথে সালাত আদায় করা এবং দু'আ করা শারী'আতসম্মত নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৩-[৩৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) জুমু’আর খুৎবা দেয়ার সময় মসজিদের খুঁটিসমূহের মধ্যে খেজুর গাছের একটি কাণ্ডের সাথে ঠেক দিয়ে খুৎবা দিতেন। অতঃপর যখন তাঁর জন্য মিম্বার তৈরি হলো, তখন তিনি (সা.) তাতে (খুৎবার জন্য) দাঁড়ালেন। সে সময় উক্ত কাণ্ডটি- যার পার্শ্বে দাঁড়িয়ে তিনি (সা.) খুৎবা দিচ্ছিলেন, অকস্মাৎ চিৎকার করে উঠল। এমনকি (শোকে ও দুঃখে) তা টুকরা টুকরা হওয়ার উপক্রম হলো। তখন নবী (সা.) মিম্বার হতে নেমে এসে খেজুর গাছটিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। গাছটি তখন ঐ শিশুর মতো কাঁদতে লাগল, যে শিশুকে (আদর-সোহাগ করে) চুপ করানো হয়। অবশেষে তা স্থির হলো। অতঃপর নবী (সা.) বললেন, আল্লাহর গুণকীর্তন ও প্রশংসা যা কিছু তা শুনত, এখন শুনতে না পেয়ে তা কান্না জুড়ে দিয়েছিল। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَطَبَ اسْتَنَدَ إِلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا صُنِعَ لَهُ الْمِنْبَرُ فَاسْتَوَى عَلَيْهِ صَاحَتِ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا حَتَّى كَادَت تَنْشَقَّ فَنَزَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَخَذَهَا فَضَمَّهَا إِلَيْهِ فَجَعَلَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَّبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ حَتَّى اسْتَقَرَّتْ قَالَ بَكَتْ عَلَى مَا كَانَتْ تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2095) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا خطب استند الى جذع نخلة من سواري المسجد فلما صنع له المنبر فاستوى عليه صاحت النخلة التي كان يخطب عندها حتى كادت تنشق فنزل النبي صلى الله عليه وسلم حتى اخذها فضمها اليه فجعلت تىن انين الصبي الذي يسكت حتى استقرت قال بكت على ما كانت تسمع من الذكر. رواه البخاري رواہ البخاری (2095) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ যে কথা ও আলোচনা শুনত তা না শুনতে পারার কারণে সে কেঁদে ফেলল।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, আলোচনা শুনার দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো আলোচনাকারী তথা নবী (সা.) - এর নৈকট্য। আর নতুন করে মিম্বার তৈরি করার কারণে যেহেতু রাসূল (সা.) সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় দাঁড়ানো শুরু করেছেন। তাই খেজুর বৃক্ষের সেই কাণ্ডটি তার বিচ্ছেদে কাঁদতে শুরু করল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৪-[৩৭] সালামাহ্ ইবনুল আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সম্মুখে বাম হাতে খাচ্ছিল। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি তোমার ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। তিনি (সা.) বললেন, ডান হাতে খাওয়ার সাধ্য তোমার না থাকে। আসলে সে অহংকারবশত ডান হাতে খাওয়া হতে বিরত রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সেই অভিশাপ বাক্যে সে আর কোনদিনই তার ডান হাত আপন মুখের কাছে নিতে পারেনি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن سَلمَة بن الْأَكْوَع أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَمَالِهِ فَقَالَ: «كُلْ بِيَمِينِكَ» قَالَ: لاأستطيع. قَالَ «لَا اسْتَطَعْتَ» . مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ قا ل: فَمَا رَفعهَا إِلَى فِيهِ. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (107 / 2021)، (5268) ۔
(صَحِيح)

وعن سلمة بن الاكوع ان رجلا اكل عند رسول الله صلى الله عليه وسلم بشماله فقال: «كل بيمينك» قال: لااستطيع. قال «لا استطعت» . ما منعه الا الكبر قا ل: فما رفعها الى فيه. رواه مسلم رواہ مسلم (107 / 2021)، (5268) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আল্লাহর রাসূল (সা.) উক্ত ব্যক্তিকে বললেন, তাহলে তুমি যেন আর না পারো। এটি ছিল ঐ ব্যক্তির জন্য বদদু'আ।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, কেউ যদি বলে যে, রাসূল (সা.) কেন তার জন্য বদদু'আ করলেন অথচ তিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। তার উত্তর হলো, রাসূল (সা.) তার জন্য এমনিতেই বদদ'আ করেননি। বদদু’আ করেছেন তার অহংকারের জন্য। যেহেতু সে তার ডান হাত ব্যবহার করতে সক্ষম ছিল। তারপরেও সে অহংকারের কারণে বলেছে, আমি পারবো না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৫-[৩৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার মদীনাবাসী (শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায়) ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল, তখন নবী (সা.) আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) -এর একটি অতি ধীরগতি অশ্বে আরোহণ করলেন (এবং মদীনায় পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করে) ফিরে এসে বললেন, তোমাদের এ ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রস্রোতের মতো দ্রুতগামী পেয়েছি।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হতে কোন ঘোড়াই আর তার সাথে চলতে পারত না। অপর এক বর্ণনায় আছে, সে দিনের পর হতে কোন ঘোড়াই তার আগে যেতে পারত না। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أنسٍ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَزِعُوا مَرَّةً فَرَكِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا لِأَبِي طَلْحَةَ بَطِيئًا وَكَانَ يَقْطِفُ فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ: «وَجَدْنَا فَرَسَكُمْ هَذَا بَحْرًا» . فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ لَا يُجَارَى وَفِي رِوَايَةٍ: فَمَا سُبِقَ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْم. رَوَاهُ البُخَارِيّ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2867 و الروایۃ الثانیۃ : 2969) و مسلم (48 / 2307)، (6006) ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان اهل المدينة فزعوا مرة فركب النبي صلى الله عليه وسلم فرسا لابي طلحة بطيىا وكان يقطف فلما رجع قال: «وجدنا فرسكم هذا بحرا» . فكان بعد ذلك لا يجارى وفي رواية: فما سبق بعد ذلك اليوم. رواه البخاري متفق علیہ ، رواہ البخاری (2867 و الروایۃ الثانیۃ : 2969) و مسلم (48 / 2307)، (6006) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (نَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَزِعُوا مَرَّةً) অর্থাৎ একবার মদীনাবাসীরা ভয় পেয়ে গেল। মিকাত প্রণেতা বলেন, তাদের ভয় পাওয়ার কারণ ছিল মদীনায় দুইশত শত্রু কর্তৃক আক্রমণ হওয়ার ভয় ছিল। যখন এই আক্রমণের ব্যাপারে শোরগোল তৈরি হলো তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) সবার আগে গিয়ে ঘটনাটি দেখে আসেন। এর মাধ্যমে রাসূল (সা.) -এর ব্যাপক সাহস ও বীরত্বের কথাও বুঝা যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৬-[৩৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা তাঁর ওপর ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। আমি তাঁর পাওনাদারদেরকে ঋণের পরিবর্তে খেজুর নিতে অনুরোধ করলাম। কিন্তু তারা তা নিতে অস্বীকার করল। তখন আমি নবী (সা.) -এর কাছে এসে বললাম, আপনি ভালোভাবে জানেন যে, আমার পিতা (আবদুল্লাহ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছেন এবং বহু ঋণ রেখে গেছেন। অতএব আমার একান্ত বাসনা, সে সমস্ত পাওনাদারগণ আপনাকে উপস্থিত দেখুক। তখন তিনি (সা.) আমাকে বললেন, তুমি যাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খেজুরকে পেড়ে পৃথক পৃথকভাবে স্তূপীকৃত কর। অতএব আমি তাই করলাম। অতঃপর তাঁকে ডেকে আনলাম। পাওনাদারগণ যখন নবী (সা.) -কে দেখতে পেল, তখন তারা আমার ওপর আরো অধিক ক্ষেপে গেল এবং সেই মুহূর্তেই ঋণ পরিশোধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করল। তাদের এ আচরণ দেখে নবী (সা.) স্তূপীকৃত খেজুরের চতুর্দিকে তিনবার চক্কর দিলেন। পরে স্তূপের উপর বসে বললেন, তোমার পাওনাদারগণকে ডাক। এরপর রাসূল (সা.) নিজ হাতে তাদেরকে মেপে মেপে দিতে থাকলেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা আমার পিতার সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করে দিলেন।
জাবির (রাঃ) বলেন, অথচ আমি এর উপরই সন্তুষ্ট ছিলাম যে, আল্লাহ তা’আলা যেন আমার পিতার দায়িত্ব পরিশোধ করে দেন এবং আমার বোনদের জন্য রাখা আল্লাহ খেজুরের স্তূপ থেকে যেন একটি খেজুরও না নেয়া লাগে। একটি সকল স্তূপকেই পূর্বাবস্থায় রাখলেন। এমনকি তাকিয়ে দেখলাম যে স্তূপের উপর নবী (সা.) বসেছিলেন, তা হতে একটি খেজুরও কমেনি। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن جابرٍ قَالَ: تُوُفِّيَ أَبِي وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَعَرَضْتُ عَلَى غُرَمَائه أَن يأخذو االتمر بِمَا عَلَيْهِ فَأَبَوْا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ وَالِدِي استُشهدَ يَوْم أحد وَترك عَلَيْهِ دَيْنًا كَثِيرًا وَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ يَرَاكَ الْغُرَمَاءُ فَقَالَ لِيَ: اذْهَبْ فَبَيْدِرْ كُلَّ تَمْرٍ عَلَى نَاحِيَةٍ فَفَعَلْتُ ثُمَّ دَعَوْتُهُ فَلَمَّا نَظَرُوا إِلَيْهِ كَأَنَّهُمْ أُغْرُوا بِي تِلْكَ السَّاعَةَ فَلَمَّا رَأَى مَا يَصْنَعُونَ طَافَ حَوْلَ أَعْظَمِهَا بَيْدَرًا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ جَلَسَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «ادْعُ لِي أَصْحَابَكَ» . فَمَا زَالَ يَكِيلُ لَهُمْ حَتَّى أَدَّى اللَّهُ عَنْ وَالِدِي أَمَانَتَهُ وَأَنَا أَرْضَى أَن يُؤدِّي الله أَمَانَة وَالِدي وَلَا أرجع إِلَى أَخَوَاتِي بِتَمْرَةٍ فَسَلَّمَ اللَّهُ الْبَيَادِرَ كُلَّهَا وَحَتَّى إِني أنظر إِلى البيدر الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّهَا لم تنقصُ تَمْرَة وَاحِدَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2781) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: توفي ابي وعليه دين فعرضت على غرماىه ان ياخذو االتمر بما عليه فابوا فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: قد علمت ان والدي استشهد يوم احد وترك عليه دينا كثيرا واني احب ان يراك الغرماء فقال لي: اذهب فبيدر كل تمر على ناحية ففعلت ثم دعوته فلما نظروا اليه كانهم اغروا بي تلك الساعة فلما راى ما يصنعون طاف حول اعظمها بيدرا ثلاث مرات ثم جلس عليه ثم قال: «ادع لي اصحابك» . فما زال يكيل لهم حتى ادى الله عن والدي امانته وانا ارضى ان يودي الله امانة والدي ولا ارجع الى اخواتي بتمرة فسلم الله البيادر كلها وحتى اني انظر الى البيدر الذي كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم كانها لم تنقص تمرة واحدة. رواه البخاري رواہ البخاری (2781) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে জাবির (রাঃ)-এর আবেদনে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার শস্য মারার জায়গায় গেলেন। গিয়ে দেখছিলেন, ঋণদাতা ব্যক্তিরা যেন জাবিরকে আক্রমণ করে বসবে। আর সেই ঋণদাতারা ছিল ইয়াহুদী। নবী (সা.) তাদেরকে বললেন, তোমরা তার প্রতি একটু সহনশীল হও। কিন্তু তারা তাঁর কথায় অক্ষমতা প্রকাশ করল এবং ঋণ কমিয়ে নিবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলো। তারপর রাসূল (সা.) বরকতের দুআ করলেন এবং সেখান থেকে ঋণদাতাদের ঋণ পরিশোধ করে দিলেন। তাদেরকে সেখান থেকে খেজুর দিয়ে দেয়ার পর দেখা গেল যে, প্রথমে যে পরিমাণ খেজুর থেকে দেয়া শুরু করেছিলেন। শেষে ঐ পরিমাণ খেজুরই রয়ে গেল। এটি ছিল রাসূল (সা.)-এর বিশেষ একটি মু'জিযাহ্। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৭-[৪০] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু মালিক (রাঃ) হাদিয়্যাহ হিসেবে নবী (সা.) -এর কাছে তার একটি চামড়ার পাত্রে ঘি পাঠাতেন। পরে তার সন্তানেরা এসে (রুটি খাওয়ার জন্য) তরকারি চাইলে যখন তাদের কাছে কিছুই থাকত না, তখন উম্মু মালিক (রাঃ) ঐ পাত্রটি নিতেন, যেটির দ্বারা তিনি নবী (সা.) -কে হাদিয়্যাহ্ পাঠাতেন এবং তাতে ঘি পেয়ে যেতেন। এমনকি সেই হতে সর্বদা উম্মু মালিক (রাঃ)-এর ঘরে সেই ঘি তরকারি হিসেবে ব্যবহার হত। একদিন উম্মু মালিক (রাঃ) ঘিয়ের এ পাত্রটি নিংড়িয়ে নিলেন। (সেদিন হতে বরকত শেষ হয়ে গেল) অতঃপর উম্মু মালিক কে নবী (সা.) -এর কাছে এসে তা জানালে তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কি উক্ত পাত্রটি নিংড়িয়ে ফেলেছিল? উম্মু মালিক এই বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (সা.) বললেন, যদি তুমি (না নিংড়িয়ে) পাত্রটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেলে রাখতে তাহলে সর্বদা তাতে ঘি উপস্থিত থাকত। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْهُ قَالَ: إِنَّ أُمَّ مَالِكٍ كَانَتْ تُهْدِي لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عُكَّةٍ لَهَا سَمْنًا فَيَأْتِيهَا بَنُوهَا فَيَسْأَلُونَ الْأُدُمَ وَلَيْسَ عِنْدَهُمْ شَيْءٌ فَتَعْمِدُ إِلَى الَّذِي كَانَتْ تُهْدِي فِيهِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَجِدُ فِيهِ سَمْنًا فَمَا زَالَ يُقِيمُ لَهَا أُدُمَ بَيْتِهَا حَتَّى عَصَرَتْهُ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «عَصَرْتِيهَا» قَالَتْ نَعَمْ قَالَ: «لَوْ تَرَكْتِيهَا مَا زَالَ قَائِمًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (8 / 2280)، (5945) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: ان ام مالك كانت تهدي للنبي صلى الله عليه وسلم في عكة لها سمنا فياتيها بنوها فيسالون الادم وليس عندهم شيء فتعمد الى الذي كانت تهدي فيه للنبي صلى الله عليه وسلم فتجد فيه سمنا فما زال يقيم لها ادم بيتها حتى عصرته فاتت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «عصرتيها» قالت نعم قال: «لو تركتيها ما زال قاىما» . رواه مسلم رواہ مسلم (8 / 2280)، (5945) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উম্মু মালিক (রাঃ) যখন উক্ত কৌটা একেবারে নিংড়িয়ে ফেলল তখন সেখান থেকে তরকারির স্থলাভিষিক্ত ঘি একেবারে শেষ হয়ে গেল। তারপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে তার তরকারি শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করল। তখন তাকে রাসূল (সা.) বললেন, যদি তুমি তা একেবারে নিংড়িয়ে না ফেলতে তাহলে তা থেকেই যেত। আর শেষ হত না। কেননা অল্প কোন কিছুর মধ্যে যদি বরকত আসে তাহলে সেই অল্প পরিমাণও বেশি হয়ে যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৮-[৪১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কণ্ঠস্বর খুব দুর্বল শুনতে পেলাম, তাতে আমি অনুভব করলাম, তিনি ক্ষুধার্ত। তোমরা কাছে (খাওয়ার) কিছু আছে কি? উম্মু সুলায়ম বা বললেন, হ্যাঁ; আছে। এই বলে তিনি কিছু যবের রুটি বের করলেন। অতঃপর ওড়নাটি বের করে তার একাংশ দিয়ে রুটিগুলো বেঁধে গোপনে আমার হাতে দিলেন এবং ওড়নার অপরাংশ আমার দেহে জড়িয়ে দিলেন। তারপর আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। [আনাস (রাঃ) বলেন] আমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে মসজিদে পেলাম। (খন্দকের যুদ্ধের সময় সালাতের জন্য অস্থায়ীভাবে যে জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন) তার সাথে আরো কিছু লোক ছিল। আমি সালাম দিয়ে তাদের সামনে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমাকে কি আবূ তুলহাহ পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি (সা.) আরো প্রশ্ন করলেন, খাদ্য নিয়ে পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবী যাঁরা সেখানে ছিলেন, সকলকে ডেকে বললেন, তোমরা উঠ এবং চল! (এ বলে সমস্ত লোকজনসহ) তিনি রওয়ানা হলেন আর আমিও তাদের সামনে (আবূ ত্বলহাহ্’র বাড়ির দিকে) চলতে লাগলাম এবং আবূ ত্বলহাহ্’র কাছে এসে তাঁকে [রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আগমন বার্তা] জানালাম। তখন আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকজনসহ এসেছেন। অথচ আমাদের কাছে এ পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রী নেই যা আমরা তাদের সকলকে খেতে দিতে পারি। তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল (সবকিছু) ভালো জানেন। অতঃপর আবূ তুলহাহ্ (রাঃ) গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরের দিকে এগিয়ে আসলেন এবং আবূ ত্বলহাহও তার সাথে ছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে উম্মু সুলায়ম! তোমার কাছে যা কিছু আছে আমার কাছে নিয়ে আসে। তখন তিনি ঐ রুটিগুলো এনে উপস্থিত করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নির্দেশে রুটিগুলো টুকরা টুকরা করা হলো; আর উম্মু সুলায়ম (রাঃ) ঘি এর পাত্র হতে ঘি বের করে তাকে তরকারি হিসেবে পেশ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে কিছু পাঠ করলেন। তারপর বললেন, দশজনকে আসতে বল। তাদেরকে আসতে বলা হলো। তাঁরা সকলে খেয়ে তুষ্ট হয়ে বের হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আরো দশজনকে আসতে বল, তারপর আরো দশজন, এভাবে সকলে তুষ্ট হয়ে খানা খেলেন। তাদের সংখ্যা সত্তর অথবা আশিজন ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ: মুসলিম-এর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, দশজনকে আসার জন্য অনুমতি দাও। তাঁরা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা বিসমিল্লা-হ পড়ে খাও। তাঁরা খেলেন এবং এভাবে (দশ দশজন করে) আশিজন লোক খাদ্য খেলেন। অতঃপর নবী (সা.) গৃহবাসীরা সকলে খেলেন এবং কিছু খাদ্য অবশিষ্টও রয়ে গেল।
সহীহুল বুখারীর অপর এক বর্ণনাতে আছে- তিনি বললেন, দশজনকে আমার কাছে উপস্থিত কর। এভাবে (দশ দশজন করে) চল্লিশজনকে গণনা করলেন। অতঃপর নবী (সা.) নিজে খেলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখতে লাগলাম, খাদ্যের মধ্যে কিছু কম হয়েছে কিনা?
সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনাতে আছে- সকলের খাওয়ার শেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) অবশিষ্ট খাদ্যগুলো একত্রিত করলেন, তারপর তাতে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। তখন তা ঐ পরিমাণ হয়ে গেল যে পরিমাণ আগে ছিল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, নাও, তা তোমাদের জন্য।

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أنسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِأُمِّ سُلَيْمٍ لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَعِيفًا أَعْرِفُ فِيهِ الْجُوعَ فَهَلْ عِنْدَكِ من شَيْء؟ فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ ثُمَّ أَخْرَجَتْ خِمَارًا لَهَا فَلَفَّتِ الْخُبْزَ بِبَعْضِهِ ثُمَّ دَسَّتْهُ تَحْتَ يَدِي وَلَاثَتْنِي بِبَعْضِهِ ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَذَهَبْتُ بِهِ فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ النَّاسُ فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ؟» قُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَنْ مَعَهُ قُومُوا فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ حَتَّى جِئْت أَبَا طَلْحَة فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ وَلَيْسَ عِنْدَنَا مَا نُطْعِمُهُمْ فَقَالَتْ اللَّهُ وَرَسُوله أعلم قَالَ فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلُمِّي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا عِنْدَكِ فَأَتَتْ بذلك الْخبز فَأمر بِهِ ففت وعصرت أم سليم عكة لَهَا فأدمته ثمَّ قَالَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثمَّ خَرجُوا ثمَّ أذن لِعَشَرَةٍ فَأَكَلَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لمُسلم أَنه قَالَ: «أذن لِعَشَرَةٍ» فَدَخَلُوا فَقَالَ: «كُلُوا وَسَمُّوا اللَّهَ» . فَأَكَلُوا حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ بِثَمَانِينَ رَجُلًا ثُمَّ أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُ الْبَيْتِ وَتَرَكَ سُؤْرًا وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ قَالَ: «أَدْخِلْ عَلَيَّ عَشَرَةً» . حَتَّى عَدَّ أَرْبَعِينَ ثُمَّ أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ هَلْ نَقَصَ مِنْهَا شَيْءٌ؟ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: ثُمَّ أَخَذَ مَا بَقِيَ فَجَمَعَهُ ثُمَّ دَعَا فِيهِ با لبركة فَعَاد كَمَا كَانَ فَقَالَ: «دونكم هَذَا»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3578) و مسلم (142 / 2040) الروایۃ الثانیۃ ، رواھا مسلم (143 / 2040) و الروایۃ الثالثۃ ، رواھا البخاری (5450) و الروایۃ الرابعۃ ، رواھا مسلم (143 / 2040)، (5316) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: قال ابو طلحة لام سليم لقد سمعت صوت رسول الله صلى الله عليه وسلم ضعيفا اعرف فيه الجوع فهل عندك من شيء؟ فاخرجت اقراصا من شعير ثم اخرجت خمارا لها فلفت الخبز ببعضه ثم دسته تحت يدي ولاثتني ببعضه ثم ارسلتني الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فذهبت به فوجدت رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ومعه الناس فقمت عليهم فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ارسلك ابو طلحة؟» قلت نعم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن معه قوموا فانطلق وانطلقت بين ايديهم حتى جىت ابا طلحة فقال ابو طلحة يا ام سليم قد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس وليس عندنا ما نطعمهم فقالت الله ورسوله اعلم قال فانطلق ابو طلحة حتى لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم فاقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو طلحة معه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هلمي يا ام سليم ما عندك فاتت بذلك الخبز فامر به ففت وعصرت ام سليم عكة لها فادمته ثم قال فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله ان يقول ثم قال اىذن لعشرة فاذن لهم فاكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا ثم قال اىذن لعشرة فاذن لهم فاكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا ثم قال اىذن لعشرة فاذن لهم فاكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا ثم اذن لعشرة فاكل القوم كلهم وشبعوا والقوم سبعون او ثمانون رجلا. متفق عليه وفي رواية لمسلم انه قال: «اذن لعشرة» فدخلوا فقال: «كلوا وسموا الله» . فاكلوا حتى فعل ذلك بثمانين رجلا ثم اكل النبي صلى الله عليه وسلم واهل البيت وترك سورا وفي رواية للبخاري قال: «ادخل علي عشرة» . حتى عد اربعين ثم اكل النبي صلى الله عليه وسلم فجعلت انظر هل نقص منها شيء؟ وفي رواية لمسلم: ثم اخذ ما بقي فجمعه ثم دعا فيه با لبركة فعاد كما كان فقال: «دونكم هذا» متفق علیہ ، رواہ البخاری (3578) و مسلم (142 / 2040) الروایۃ الثانیۃ ، رواھا مسلم (143 / 2040) و الروایۃ الثالثۃ ، رواھا البخاری (5450) و الروایۃ الرابعۃ ، رواھا مسلم (143 / 2040)، (5316) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ) অর্থাৎ তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে মসজিদে পেলাম। ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে মসজিদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ স্থান, যাকে আল্লাহর রাসূল (সা.) খন্দক যুদ্ধের সময় কাফির কর্তৃক অবরুদ্ধকালীন সময়ে সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা. ৩৫৭৮)

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে একাধিক হাদীস নিয়ে আসা হয়েছে যেমন সেগুলোর মধ্য থেকে একটি যা সহীহ মুসলিমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) -এর কাছে এসে দেখতে পেলাম যে, তিনি সাহাবীদের সাথে বসে কথা বলছেন। আর দেখলাম যে, তিনি তার পেটে পট্টি বেঁধেছেন। তারপর আমি কিছু সাহাবীকে তার পট্টি বাঁধার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তারা বললেন, ক্ষুধার কারণে তিনি পট্টি বেঁধেছেন। অতঃপর আমি আবূ ত্বলহা-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি উম্মু সুলায়ম-এর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার কাছে কি খাবারের কিছু আছে। তারপর হাদীসের বাকী অংশ বর্ণিত হয়েছে। পরে উম্মু সুলায়ম (রাঃ) রুটি প্রস্তুত করে আনাস (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূল (সা.) -এর কাছে পাঠালেন। রুটির পরিমাণ ছিল একেবারেই অল্প। তাই যখন আনাস (রাঃ) রাসূল (সা.) -এর কাছে আসলেন তখন তার কাছে দেখলেন অনেক সাহাবী রয়েছে। আর রুটি অল্প পরিমাণ রয়েছে। তাই এই অল্প পরিমাণ রুটি রাসূল (সা.) -এর কাছে সরাসরি না দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর তিনি তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন এবং তার সাথে তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। তারা যখন আবূ ত্বলহাহ-এর কাছে গিয়ে পৌছল তখন তাদেরকে দেখে তিনি উম্মু সুলায়ম- কে বললেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) অনেক লোক নিয়ে এসেছেন। আমাদের কাছে তো খাবার একেবারেই অল্প। তখন তার স্ত্রী উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, আল্লাহও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথার দ্বারা বুঝা যায় যে, উম্মু সুলায়ম-এর মহৎ গুণ রয়েছে। যার কারণে তিনি তার বিবেক বুদ্ধির উপর রাসূল (সা.)-এর কর্মকাণ্ডকেই প্রাধান্য দিলেন।
যেহেতু রাসূল (সা.) জানেন যে, খাবারের পরিমাণ অল্প, তারপরেও তিনি এত লোক নিয়ে এসেছেন। নিশ্চয় তাতে কোন কল্যাণ রয়েছে। যদি কোন কল্যাণ না থাকত তাহলে তিনি তা করতেন না।
(ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ) অর্থাৎ দশজনকে অনুমতি দাও।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) দশজনকে অনুমতি দিলেন। মিরকাত প্রণেতা আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) দশ দশ জন করে প্রবেশ করে খেয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এক সাথে সবাইকে প্রবেশ করে খাওয়ার অনুমতি দেননি। এর কয়েকটি কারণ হতে পারে। যেমন
(ক) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে পাত্রে খাবার রাখা হয়েছিল তা ছিল ছোট। যেখানে দশজনের বেশি একসাথে খেতে বসলে সবারই কষ্ট হবে। তাই দশ জন করে প্রবেশ করে খেতে বলেছেন।
(খ) কেউ কেউ বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবাইকে এক সাথে প্রবেশ করে খাওয়ার অনুমতি দেননি। কারণ খাবার ছিল পরিমাণে কম। তাই যদি তারা সবাই একসাথে প্রবেশ করে তাহলে সেই অল্প খাবারের ব্যাপারে তাদের ধারণা হবে যে, এটি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে না। তাই সকলেরই সেই অল্প খাবারের প্রতি লোভ তৈরি হবে। আর তাতে খাবারের বরকত কমে যাবে।
(গ) এটিও কারণ হতে পারে যে, তারা সবাই একসাথে প্রবেশ করে যখন অল্প খাবার দেখবে তখন একে অপরকে প্রাধান্য দিবে এবং নিজে অল্প খাবে। আর এতে কেউ পরিতৃপ্ত হয়ে খেতে পারবে না। তখন প্রকৃত উদ্দেশ্য যে ক্ষুধা দূর করা তা অর্জিত হবে না।
(ঘ) কেউ কেউ বলেন, জায়গা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে রাসূল (সা.) সবাইকে একসাথে প্রবেশ করার অনুমতি দেননি।
(وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلًا) অর্থাৎ লোকজন ছিল সত্তর অথবা আশিজন।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসের রাবী সন্দেহ করে বলেছেন যে, লোকের সংখ্যা ছিল সত্তর জন অথবা আশিজন। কিন্তু অন্য হাদীসে দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল আশিজন। আবার কোন কোন হাদীসে বলা হয়েছে তাদের সংখ্যা ছিল আশিজনের কিছু বেশি।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, বাহ্যিকভাবে হাদীসের সংখ্যা নিয়ে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা বলব যে, রাবীগণ দশক সংখ্যার আগে-পরের সংখ্যাগুলো বাদ দিয়ে বলেছেন। আর এভাবে সংখ্যা বলার রীতি রয়েছে। অতএব হাদীসগুলোর সংখ্যার মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই।
কিন্তু ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, চল্লিশজন সাহাবী খেলেন। তারপরেও রুটি সেই পরিমাণই রয়ে গেল, যে পরিমাণ পূর্বে ছিল।
এ হাদীসের সাথে পূর্বের হাদীসগুলোর বৈপরীত্য খুব স্পষ্ট। কারণ এখানে বলা হয়েছে, চল্লিশজন আর পূর্বের হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে আশি বা তার অধিক।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এখানে ঘটনাটি হয়েছে এমন যে, প্রথমে চল্লিশজন এসে খেয়ে গেছেন। তারপর বাকী চল্লিশজন এসেছেন। যারা প্রথম দলের পিছনে ছিলেন। অথবা নবী (সা.) আরো বাকী চল্লিশজনকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছেন।
(ثُمَّ دَعَا فِيهِ با لبركة فَعَاد كَمَا كَانَ) অর্থাৎ তারপর তিনি খাবারের বরকতের জন্য দু'আ করলেন। তখন খাবার সেই পূর্বের পরিমাণে চলে আসলো। তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক হাদীসে রয়েছে আল্লাহর রাসূল (সা.) খাবারের শেষে অবশিষ্ট ঝুটা রেখে দিলেন। অন্য হাদীসে আছে যে, সাহাবী লক্ষ্য করে দেখলেন, সেই খাবার থেকে কিছু কমেছে কিনা?
এ বিষয়টি তিনভাবে হাদীসগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈপরীত্যপূর্ণ হাদীসগুলোর মাঝে মিরকাত প্রণেতা সমন্বয় সাধন করেছে এভাবে যে, যে হাদীসে বলা হয়েছে তিনি খাবারের শেষে উচ্ছিষ্ট ঝুটা রাখলেন, এর মানে তিনি খাওয়া শেষে ঝুটা রাখলেন। তারপর বরকতের দুআ করলেন। এর কারণে ঐ ঝুটাই পূর্বের পরিমাণ খাবারে পরিণত হলো। আর তখন সাহাবী দেখলেন যে, তার পরিমাণ আগের থেকে কমেছে কিনা? (মিরকাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী হা. ৩৫৭৮)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯০৯-[৪২] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.)-এর নিকট একটি (পানির) পাত্র আনা হলো। তখন তিনি (সা.) (মদীনার) যাওরা” নামক স্থানে ছিলেন। অনন্তর তিনি (সা.) ঐ পাত্রের মাঝে হাত রাখলেন, তখন তার আঙ্গুলগুলোর ফাঁক দিয়ে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হতে লাগল। তখন লোকেরা ঐ পানি দ্বারা উযূ করল। কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, তিনশত জন অথবা তিনশত জনের কাছাকাছি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعنهُ قا ل: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ وَهُوَ بِالزَّوْرَاءِ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ قَالَ قَتَادَةُ: قُلْتُ لِأَنَسٍ: كَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: ثلاثمائةٍ أَو زهاءَ ثلاثمائةٍ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3572) و مسلم (7 ، 6 / 2279)، (5943 و 5944) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قا ل: اتي النبي صلى الله عليه وسلم باناء وهو بالزوراء فوضع يده في الاناء فجعل الماء ينبع من بين اصابعه فتوضا القوم قال قتادة: قلت لانس: كم كنتم؟ قال: ثلاثماىة او زهاء ثلاثماىة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3572) و مسلم (7 ، 6 / 2279)، (5943 و 5944) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ وَهُوَ بِالزَّوْرَاءِ) অর্থাৎ নবী (সা.) -এর কাছে একটি পাত্র নিয়ে আসা হলো। আর তখন তিনি যাওরা নামক স্থানে ছিলেন। (الزَّوْرَاءِ) যাওরা’-এর পরিচয় দিতে গিয়ে মিরকাত প্রণেতা বলেন, এটি হলো দূরবর্তী গভীর একটি কূপের নাম। কেউ কেউ বলেন, এটি হলো মক্কার নিকটবর্তী একটি জায়গা।
ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি হলো মদীনার বাজারের কাছে একটি জায়গা। অভিধানে বলা হয়েছে এটি হলো মদীনায় মসজিদের নিকটবর্তী একটি জায়গা।
(فَجَعَلَ الْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ) অর্থাৎ তখন তাঁর আঙ্গুলগুলো দিয়ে পানি বের হতে শুরু করল। রাসূল (সা.) -এর আঙ্গুল দিয়ে পানি বের হওয়ার বিষয়ে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) দুটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
১. সরাসরি তার আঙ্গুল থেকে বের হয়েছে- এটি হলো মুযানী ও অধিকাংশ ‘আলিমদের কথা।
২. আল্লাহ অল্প পানিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাই তা তার আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে দ্বিতীয় মতটিই অধিক শক্তিশালী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ফাতহুল বারীতে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আরো একটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। যা এ হাদীসের ঘটনাটিকে আরো বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছে। আর সেই হাদীসটি জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা.) -এর সাথে সফরে বের হলাম। পথে এক সালাতের সময় হলো। তখন তিনি (সা.) বললেন, লোকেদের কাছে কি পবিত্রতা অর্জন করার পানি নেই।
তারপর একজন লোক পাত্রে অল্প পরিমাণ পানি এনে একটি পেয়ালায় ঢেলে দিলো।
অতঃপর রাসূল (সা.) সেই পানি দিয়ে উযূ করলেন। তারপর লোকেরা অবশিষ্ট পানির কাছে এসে বলতে লাগল, তোমরা মাসেহ করো, তাদের এ কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, তোমরা থামো! তারপর তিনি তার হাত পাত্রে পানির ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে বললেন, তোমরা পরিপূর্ণভাবে উযূ করো।
জাবির (রাঃ) বলেন, ঐ সত্ত্বার কসম। যিনি আমার দৃষ্টিশক্তি উঠিয়ে নিয়েছেন। অবশ্যই আমি নবী (সা.) -এর আঙ্গুল দিয়ে এমনভাবে পানি বের হতে দেখেছি যে, উপস্থিত সকল সাহাবী তা দিয়ে উযূ করেছেন। সেই পানি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছিল। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম দুইশত এরও বেশি। (ফাতহুল বারী হা. ৩৫৮২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১০-[৪৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (সাহাবীগণ) অলৌকিক ঘটনাবলীকে বরকতের ব্যাপার বলে মনে করতাম। কিন্তু তোমরা (অর্থাৎ সাহাবীদের পরবর্তী লোকেরা) ঐগুলোকে কেবলমাত্র (কাফিরদের জন্য) ভীতি প্রদর্শনের ব্যাপার বলে ধারণা করে থাক। একদিন আমরা রাসূলল্লাহ (সা.) -এর সাথে এক ভ্রমণে ছিলাম। হঠাৎ পানির অভাব দেখা দিল। তখন তিনি (সা.) বললেন, তোমরা কোথাও হতে কিছু উদ্বৃত্ত পানির সন্ধান কর। তখন তারা সামান্য পানি সমেত একটি পাত্র নিয়ে আসলো। তখন তিনি (সা.) স্বীয় হাতখানা পাত্রটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বললেন, বরকতপূর্ণ পবিত্র পানি নিতে এগিয়ে আসো। আর এ বরকত আল্লাহর পক্ষ হতে। বর্ণনাকারী (ইবনু মাস্’উদ) বলেন, নিশ্চয় আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আঙ্গুলগুলোর ফাঁক দিয়ে ফোয়ারার মতো পানি বের হচ্ছে, আর অবশ্য আমরা খাবার গ্রহণ করার সময় (কখনো কখনো) খাদ্যের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতাম। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ الْآيَاتِ بَرَكَةً وَأَنْتُمْ تَعُدُّونَهَا تَخْوِيفًا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَقَلَّ الْمَاءُ فَقَالَ: «اطْلُبُوا فَضْلَةً مِنْ مَاءٍ» فَجَاءُوا بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ قَلِيلٌ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ ثُمَّ قَالَ: «حَيَّ على الطَّهورِ الْمُبَارك وَالْبركَة من الله» فَلَقَد رَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَقَد كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ وَهُوَ يُؤْكَلُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3579) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: كنا نعد الايات بركة وانتم تعدونها تخويفا كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فقل الماء فقال: «اطلبوا فضلة من ماء» فجاءوا باناء فيه ماء قليل فادخل يده في الاناء ثم قال: «حي على الطهور المبارك والبركة من الله» فلقد رايت الماء ينبع من بين اصابع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولقد كنا نسمع تسبيح الطعام وهو يوكل. رواه البخاري رواہ البخاری (3579) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (كُنَّا نَعُدُّ الْآيَاتِ بَرَكَةً وَأَنْتُمْ تَعُدُّونَهَا تَخْوِيفًا) অর্থাৎ আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর মু'জিযাগুলোকে বরকত মনে করতাম আর তোমরা সেগুলোকে ভীতির কারণ মনে করো।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো আমরা রাসূল (সা.) -এর থেকে প্রকাশিত নিদর্শন ও মুজিযাগুলোকে বরকত মনে করতাম আর এগুলোকে সাধারণ প্রস্তাবিত দাবীর প্রেক্ষাপটে আগত ভয়ের ক্ষেত্র মনে করে থাকো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, এখানে বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ), বুঝাতে চেয়েছেন যে, সকল মু'জিযাহ্ বা নিদর্শন ভয়ের কারণ নয়, আবার সকল নিদর্শনও মু'জিযাহ্ বরকত নয়। বরং চিন্তাভাবনা করলে দেখা যায়, কিছু হলো বরকতের জন্য। যেমন- অল্প খাবারে বেশি মানুষের তৃপ্ত হওয়া। আবার কিছু নিদর্শন আছে ভয়ের কারণ। যেমন- চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ।
(كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ) অর্থাৎ আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সফরে ছিলাম।
এখানে সফর বলে কোন সফরকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতানৈক্য আছে। যেমন- কেউ কেউ বলেন, এটি ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধির সফর। আবার কেউ বলেন, এটি তাবুক যুদ্ধের সফরে ঘটেছিল।
‘দালায়িল' গ্রন্থে আবূ নু'আয়ম বলেন, এই সফর ছিল খায়বার যুদ্ধের। তবে ইমাম বায়হাক্বীর দালায়িল' গ্রন্থে হুদায়বিয়ার সফরকেই বেশি শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের কাছে পানি চেয়েছেন। অথচ পানি ছাড়াও তো তাঁর মুজিযাহ প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে সবার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পানি সৃষ্টি হতে পারত। এর উত্তর দু’ভাবে দেয়া হয়ে থাকে
১. তিনি অতিরিক্ত পানি চেয়েছেন যেন তারা বুঝতে পারে যে, পানি থেকেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি (সা.) নিজে পানি সৃষ্টি করেননি।
২. এটিও হতে পারে যে, আল্লাহ সাধারণত প্রজননের মাধ্যমে বিভিন্ন কিছুকে বৃদ্ধি করেন। তাই দেখা যায় যে, একটি থেকে আরেকটি হয়। কিন্তু পানি এমনই যে, তা থেকে প্রজননের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় না। অথচ রাসূল (সা.) -এর হাতে তাই ঘটল, যা সাধারণত ঘটে না। আর এটিই স্পষ্ট মু'জিযাহ্।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১১-[৪৪] আবূ কতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, তোমরা আজ সন্ধ্যা এবং রাত্রিতে (লাগাতার) চলতে থাকবে। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে পানির কাছে আগামীকাল পৌছে যাবে। অতঃপর লোকেরা এমনভাবে (দ্রুত পথ) চলতে থাকল যে, কেউ কারো দিকে ফিরে চাইত না। আবূ কতাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সন্ধ্যারাত হতে চলতে চলতে রাত্রি যখন মধ্যাহ্নে পৌছল, তখন তিনি রাস্তা হতে একদিকে সরে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, তোমরা (ফজর) সালাতের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে। (এরপর সকলে ঘুমিয়ে পড়লেন এবং) সকলের আগে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (সা.) -ই জাগ্রত হলেন, অথচ তখন সূর্যের তাপ এসে তার পিঠে পড়ছিল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, তোমরা নিজ নিজ বাহনে আরোহণ কর। অতএব আমরা আরোহণ করলাম এবং সূর্য খুব উপরে উঠা পর্যন্ত ভ্রমণ করে তিনি এক জায়গায় অবতরণ করলেন। অতঃপর  তিনি (সা.) উযূর জন্য পানির পাত্র চাইলেন, যা আমার সাথে ছিল। তাতে পানিও ছিল খুব সামান্য পরিমাণ। তিনি (সা.) তা হতে একান্ত হালকাভাবে উযু করলেন। আবূ কতাদাহ (রাঃ), বলেন, তার উযুর পরও পাত্রে সামান্য পরিমাণ পানি অবশিষ্ট রয়ে গেল। এরপর তিনি (সা.) বললেন, তোমরা পাত্রের পানিগুলো আমাদের জন্য ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখ। কেননা অচিরেই তা হতে একটি বড় ধরনের ঘটনা প্রকাশ পাবে।
অতঃপর বিলাল (রাঃ) সালাতের জন্য আযান দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই রাক’আত (সুন্নাত) আদায় করলেন, তারপর ফজরের (ফরয) সালাত আদায় করলেন এবং নিজেও সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম।
অবশেষে সূর্য যখন অনেক উপরে উঠল এবং প্রতিটি জিনিস সূর্যের প্রচণ্ড তাপে খুবই গরম হয়ে গেল, তখন আমরা ঐ কাফেলার লোকেদের কাছে এসে পৌছলাম, (যারা আমাদের পূর্বেই রওয়ানা হয়ে এসেছে) তারা বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! খুবই গরমে এবং পিপাসার তাড়নায় আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। তিনি (সা.) বললেন, তোমাদের ওপর ধ্বংস আসবে না। এই বলে তিনি (সা.) পানির পাত্রটি আনালেন এবং পানি ঢালতে থাকলেন, আর আবূ কতাদাহ্ লোকেদেরকে পানি পান করাচ্ছিলেন। লোকেরা যখন পাত্রে পানি দেখতে পেল, তখন তারা আর বিলম্ব না করে একসাথে সকলে পানির জন্য ভিড় জমিয়ে ফেলল। তাদের অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা উত্তম আচরণ কর। তোমরা সকলেই এ পানি দ্বারা পরিতৃপ্ত হবে। আবূ কতাদাহ (রাঃ) বলেন, তারা অনুরূপ করল। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানি ঢালতে থাকলেন, আর আমি পানি পান করাতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত আমি ও রাসূলুল্লাহ (সা.) ছাড়া কেউ ছিল না। এরপর পানি ঢালা হলো, তখন তিনি (সা.) আমাকে বললেন, এবার তুমি পান কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি পান না করা অবধি আমি পান করব না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, লোকেদেরকে যে পানীয় পান করায়, সে হয় সর্বশেষে। আবূ কতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, অতএব আমি পান করলাম। পরে তিনি (সা.) পান করলেন। আবূ কতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা তৃপ্তি সহকারে আরামের সাথে পানির স্থানে এসে পৌছল। (মুসলিম)

সহীহ মুসলিমে অনুরূপই রয়েছে এবং হুমায়দীর গ্রন্থে ও জামিউল উসূলেও এরূপই রয়েছে। মাসাবীহ গ্রন্থে ও জামিউল উসূলেও এরূপই রয়েছে। মাসাবীহ গ্রন্থে (آخِرهم) শব্দের পর (شربا) শব্দটি বর্ণিত রয়েছে। (অর্থাৎ সর্বশেষ পানকারী)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي قتادةَ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِّيَتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غَدًا فَانْطَلَقَ النَّاسُ لَا يَلْوِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ قَالَ أَبُو قَتَادَةَ فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسِيرُ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ فَمَالَ عَنِ الطَّرِيقِ فَوَضَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلَاتَنَا فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالشَّمْسُ فِي ظَهْرِهِ ثُمَّ قَالَ ارْكَبُوا فَرَكِبْنَا فَسِرْنَا حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ نَزَلَ ثُمَّ دَعَا بِمِيضَأَةٍ كَانَتْ معي فِيهَا شيءٌ من مَاء قَالَ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا وُضُوءًا دُونَ وُضُوءٍ قَالَ وَبَقِيَ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ قَالَ احْفَظْ عَلَيْنَا مِيضَأَتَكَ فَسَيَكُونُ لَهَا نَبَأٌ ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ وَرَكِبَ وَرَكِبْنَا مَعَهُ فَانْتَهَيْنَا إِلَى النَّاسِ حِينَ امْتَدَّ النَّهَارُ وَحَمِيَ كُلُّ شَيْءٌ وَهُمْ يَقُولُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْنَا وَعَطِشْنَا فَقَالَ لَا هُلْكَ عَلَيْكُمْ وَدَعَا بِالْمِيضَأَةِ فَجَعَلَ يَصُبُّ وَأَبُو قَتَادَةَ يَسْقِيهِمْ فَلَمْ يَعْدُ أَنْ رَأَى النَّاسُ مَاءً فِي الْمِيضَأَةِ تَكَابُّوا عَلَيْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسِنُوا الْمَلَأَ كُلُّكُمْ سَيُرْوَى قَالَ فَفَعَلُوا فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُبُّ وَأَسْقِيهِمْ حَتَّى مَا بَقِيَ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَبَّ فَقَالَ لِيَ اشْرَبْ فَقُلْتُ لَا أَشْرَبُ حَتَّى تَشْرَبَ يَا رَسُولَ الله قَالَ إِن ساقي الْقَوْم آخِرهم شربا قَالَ فَشَرِبْتُ وَشَرِبَ قَالَ فَأَتَى النَّاسُ الْمَاءَ جَامِّينَ رِوَاءً. رَوَاهُ مُسْلِمٌ هَكَذَا فِي صَحِيحِهِ وَكَذَا فِي كتاب الْحميدِي وجامع الْأُصُولِ وَزَادَ فِي الْمَصَابِيحِ بَعْدَ قَوْلِهِ آخِرُهُمْ لَفْظَة شربا

رواہ مسلم (311 / 681)، (1562) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي قتادة قال خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انكم تسيرون عشيتكم وليلتكم وتاتون الماء ان شاء الله غدا فانطلق الناس لا يلوي احد على احد قال ابو قتادة فبينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يسير حتى ابهار الليل فمال عن الطريق فوضع راسه ثم قال احفظوا علينا صلاتنا فكان اول من استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم والشمس في ظهره ثم قال اركبوا فركبنا فسرنا حتى اذا ارتفعت الشمس نزل ثم دعا بميضاة كانت معي فيها شيء من ماء قال فتوضا منها وضوءا دون وضوء قال وبقي فيها شيء من ماء ثم قال احفظ علينا ميضاتك فسيكون لها نبا ثم اذن بلال بالصلاة فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين ثم صلى الغداة وركب وركبنا معه فانتهينا الى الناس حين امتد النهار وحمي كل شيء وهم يقولون يا رسول الله هلكنا وعطشنا فقال لا هلك عليكم ودعا بالميضاة فجعل يصب وابو قتادة يسقيهم فلم يعد ان راى الناس ماء في الميضاة تكابوا عليها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم احسنوا الملا كلكم سيروى قال ففعلوا فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يصب واسقيهم حتى ما بقي غيري وغير رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم صب فقال لي اشرب فقلت لا اشرب حتى تشرب يا رسول الله قال ان ساقي القوم اخرهم شربا قال فشربت وشرب قال فاتى الناس الماء جامين رواء. رواه مسلم هكذا في صحيحه وكذا في كتاب الحميدي وجامع الاصول وزاد في المصابيح بعد قوله اخرهم لفظة شربا رواہ مسلم (311 / 681)، (1562) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস বলা হয়েছে, (حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ) অর্থাৎ রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত।
তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (ابْهَارَّ اللَّيْلُ)-এর অর্থ হলো রাত অর্ধেক হলো। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো রাতের অধিকাংশ চলে গেল। আবার কেউ বলেন, এটি বলা হয় যখন রাতের তারকারাজি উদ্ভাসিত হয় এবং পৃথিবী হয় আলোকিত।
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) - কাযা সালাত আদায় করতে বিলম্ব করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কেউ যদি ঘুমের কারণে অথবা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত আদায় করতে না পারে তাহলে জাগ্রত হওয়া মাত্রই অথবা স্মরণ হওয়া মাত্রই কাযা সালাত আদায় করা আবশ্যক নয়।

(شُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ بَالصَّلَاةِ) অর্থাৎ তারপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। মিরকাত প্রণেতা বলেন, এখান থেকে বুঝা যায় যে, কাযা সালাতের জন্য আযান দেয়া মুস্তাহাব। যেমন- সালাত আদায়ের জন্য আযান দেয়া সুন্নাত।
(أَحْسِنُوا الْمَلَأَ كُلُّكُمْ سَيُرْوَى) অর্থাৎ তোমরা সুন্দর আচরণ করে। প্রত্যেকেই পান করতে পারবে। এর অর্থ হলো তোমরা সকলেই পান করে তৃপ্ত হতে পারবে। অতএব তোমরা ভিড় করো না এবং ঠেলাঠেলি করার মাধ্যমে মন্দ আচরণ প্রকাশ করো না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১২-[৪৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় যখন লোকজন ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল, তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখন লোকজনের কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট আছে, সেগুলো আনিয়ে নিন এবং তার উপর আল্লাহর কাছে বরকতের জন্য দুআ করুন। তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তাই করা হবে। তখন তিনি (সা.) একখানা চামড়ার দস্তরখান আনালেন। তা বিছানো হলো, অতঃপর তিনি তাদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো আনতে বললেন। তাতে কোন লোক আনল এক মুষ্টি বুট, আর কেউ আনল এক মুষ্টি খেজুর, আর কেউ আনল কিছু রুটির টুকরা। অবশেষে সবকিছু মিলিয়ে দস্তরখানের উপর সামান্য পরিমাণ বস্তুই একত্রিত করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার মধ্যে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের (যার যা খুশি) নিজ নিজ পাত্রগুলোতে নিয়ে নাও। অতএব তারা নিজ নিজ পাত্রগুলোতে নিতে লাগল। এমনকি সেনাদলের মধ্যে এমন কোন পাত্র রইল না যা তারা ভর্তি করে নিল না।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, লোকেরা সকলে তৃপ্তি করে খেল এবং কিছু খাদ্য অতিরিক্তও রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আর নিশ্চয় আমি আল্লাহর রাসূল। আর যে ব্যক্তি এ দু’টি কথার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে (অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করবে), কোন কিছু তাকে জান্নাতে প্রবেশ হতে বাধা দিতে পারবে না। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ غزوةِ تَبُوك أصابَ النَّاس مجاعةٌ فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ ثُمَّ ادْعُ اللَّهَ لَهُمْ عَلَيْهًا بِالْبَرَكَةِ فَقَالَ: نعم قَالَ فَدَعَا بِنِطَعٍ فَبُسِطَ ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِكَفِّ ذُرَةٍ وَيَجِيءُ الْآخَرُ بِكَفِّ تَمْرٍ وَيَجِيءُ الْآخَرُ بِكِسْرَةٍ حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النِّطَعِ شَيْءٌ يَسِيرٌ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ قَالَ خُذُوا فِي أوعيتكم فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْعَسْكَر وعَاء إِلا ملؤوه قَالَ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرُ شاكٍّ فيحجبَ عَن الْجنَّة» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (45 / 27)، (139) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: لما كان يوم غزوة تبوك اصاب الناس مجاعة فقال عمر: يا رسول الله ادعهم بفضل ازوادهم ثم ادع الله لهم عليها بالبركة فقال: نعم قال فدعا بنطع فبسط ثم دعا بفضل ازوادهم فجعل الرجل يجيء بكف ذرة ويجيء الاخر بكف تمر ويجيء الاخر بكسرة حتى اجتمع على النطع شيء يسير فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبركة ثم قال خذوا في اوعيتكم فاخذوا في اوعيتهم حتى ما تركوا في العسكر وعاء الا ملووه قال فاكلوا حتى شبعوا وفضلت فضلة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله لا يلقى الله بهما عبد غير شاك فيحجب عن الجنة» . رواه مسلم رواہ مسلم (45 / 27)، (139) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত তাবূক যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাবূক একটি জায়গার নাম। যার দূরত্ব মদীনাহ থেকে এক মাসের পথ।
‘আল্লামাহ্ সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি সংঘটিত হয়েছিল নবম হিজরীর রজব মাসে। আর তা ছিল রাসূল (সা.)-এর স্বশরীরে অংশগ্রহণমূলক সর্বশেষ যুদ্ধ।
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এ হাদীসে ঘটনা কিছু সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে, তাবুক যুদ্ধের সময় সাহাবীরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হলো তখন তারা রাসূল (সা.)-কে বলল, যদি আপনি আমাদেরকে উট যাবাহ করার অনুমতি দিতেন তাহলে আমরা যাবাহ করে পাকিয়ে খেতাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, তোমরা তাই করো। কিন্তু ‘উমার (রাঃ) এসে বললেন, যদি আপনি তা অনুমতি দেন তাহলে আমরা বাহন কোথায় পাবো? তার চেয়ে বরং আপনি তাদেরকে অবশিষ্ট খাদ্য পাথেয় জমা করতে বলুন এবং বরকতের দু'আ করুন। তারপর আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (সা.) বরকতের জন্য দু'আ করলেন।
(قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ) অর্থাৎ তারপর রাসূল (সা.) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। এটি বলে এদিকে ইশারা করা হয়েছে যে, মু'জিযা দেখা বিশ্বাসীদের মাঝে আরো বিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
(لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدٌ...) অর্থাৎ, যে কোন বান্দা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এই দুই সাক্ষ্য দিয়ে...।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, যে ব্যক্তি কোন সন্দেহ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া এই দুই সাক্ষ্য প্রদান করে মারা যাবে সে কখনোই জান্নাত থেকে দূরে থাকবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৩-[৪৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (সা.) যায়নাব-এর বিবাহে বর ছিলেন, তখন আমার মা উম্মু সুলায়ম (রাঃ) কিছু খেজুর, মাখন এবং পনীরের সংমিশ্রণে ’হায়সা’ তৈরি করলেন। তারপর তাকে তিনি একটি পাত্রে রেখে বললেন, হে আনাস। এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে নিয়ে যাও এবং বল, এগুলো আমার মা আপনার কাছে পাঠিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। আর তিনি এটাও বলেছেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! এটা আমাদের পক্ষ হতে আপনার জন্য খুবই সামান্য হাদিয়্যাহ্! আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তা নিয়ে গেলাম এবং আমার মা যা কিছু বলার জন্য আমাকে আদেশ করেছিলেন, আমি তাও বললাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, এগুলো রাখ। অতঃপর আমাকে কিছু লোকের নাম উল্লেখ করে বললেন, যাও এবং অমুক অমুক ও অমুককে আর তা ছাড়াও যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তাদেরকে দাওয়াত দেবে।
অতএব তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদেরকে এবং আমার সাথে যাদের দেখা হয়েছে তাদেরকে দাওয়াত দিলাম। অতঃপর আমি ফিরে এসে দেখলাম পূর্ণ লোকজন। আনাস (রাঃ) প্রশ্ন করা হলো, সেখানে আপনাদের সংখ্যা কতজন ছিল? তিনি বললেন, প্রায় তিনশত। আমি দেখতে পেলাম, নবী (সা.) ’হায়সার পাত্রের মধ্যে স্বীয় হাত রাখলেন এবং আল্লাহর যা ইচ্ছা তা পাঠ করলেন। তারপর দশ দশজনের দলকে তা হতে খাবার জন্য ডাকতে থাকলেন। আর তাদেরকে বললেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ সম্মুখ হতে খাওয়া শুরু কর। আনাস (রাঃ) বলেন, তারা সকলে তুষ্ট হয়ে খেলেন। একদল খেয়ে বের হতেন এবং আরেক দল প্রবেশ করতেন, এভাবে সমস্ত লোকই খাদ্য খেলেন। অতঃপর নবী (সা.) আমাকে বললেন, হে আনাস! পাত্রটি উঠাও। তখন আমি পাত্রটি উঠালাম, কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারছি না, যখন আমি পাত্রটি রেখেছিলাম, তখন পাত্রটিতে ’হায়সা’ বেশি ছিল নাকি এখন যখন আমি তাকে উঠালাম। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أَنَسٍ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَرُوسًا بِزَيْنَبَ فَعَمَدَتْ أُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى تَمْرٍ وَسَمْنٍ وَأَقِطٍ فَصَنَعَتْ حَيْسًا فَجَعَلَتْهُ فِي تَوْرٍ فَقَالَتْ يَا أَنَسُ اذْهَبْ بِهَذَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْ بَعَثَتْ بِهَذَا إِلَيْكَ أُمِّي وَهِيَ تُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَتَقُولُ إِنَّ هَذَا لَكَ مِنَّا قَلِيلٌ يَا رَسُولَ الله قَالَ فَذَهَبْتُ فَقُلْتُ فَقَالَ ضَعْهُ ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَادْعُ لِي فُلَانًا وَفُلَانًا وَفُلَانًا رِجَالًا سَمَّاهُمْ وَادْعُ مَنْ لَقِيتَ فَدَعَوْتُ مَنْ سَمَّى وَمَنْ لَقِيتُ فَرَجَعْتُ فَإِذَا الْبَيْتُ غَاصٌّ بِأَهْلِهِ قِيلَ لأنس عدد كم كَانُوا؟ قَالَ زهاء ثَلَاث مائَة. فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَيْسَةِ وَتَكَلَّمَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ جَعَلَ يَدْعُو عَشَرَةً عَشَرَةً يَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَقُول لَهُم: «اذْكروا اسْم الله وليأكلْ كُلُّ رَجُلٍ مِمَّا يَلِيهِ» قَالَ: فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا. فَخَرَجَتْ طَائِفَةٌ وَدَخَلَتْ طَائِفَةٌ حَتَّى أَكَلُوا كُلُّهُمْ قَالَ لِي يَا أَنَسُ ارْفَعْ. فَرَفَعْتُ فَمَا أَدْرِي حِينَ وَضَعْتُ كَانَ أَكْثَرَ أَمْ حِين رفعت. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (5163) و مسلم (94 / 1428)، (3507) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن انس: كان النبي صلى الله عليه وسلم عروسا بزينب فعمدت امي ام سليم الى تمر وسمن واقط فصنعت حيسا فجعلته في تور فقالت يا انس اذهب بهذا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقل بعثت بهذا اليك امي وهي تقرىك السلام وتقول ان هذا لك منا قليل يا رسول الله قال فذهبت فقلت فقال ضعه ثم قال اذهب فادع لي فلانا وفلانا وفلانا رجالا سماهم وادع من لقيت فدعوت من سمى ومن لقيت فرجعت فاذا البيت غاص باهله قيل لانس عدد كم كانوا؟ قال زهاء ثلاث ماىة. فرايت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يده على تلك الحيسة وتكلم بما شاء الله ثم جعل يدعو عشرة عشرة ياكلون منه ويقول لهم: «اذكروا اسم الله ولياكل كل رجل مما يليه» قال: فاكلوا حتى شبعوا. فخرجت طاىفة ودخلت طاىفة حتى اكلوا كلهم قال لي يا انس ارفع. فرفعت فما ادري حين وضعت كان اكثر ام حين رفعت. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (5163) و مسلم (94 / 1428)، (3507) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (فَصَنَعَتْ حَيْسًا) অর্থাৎ তারপর তিনি হায়স' (এক জাতীয় খাবার) তৈরি করলেন।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) সামায়িল’ গ্রন্থের ব্যাখ্যায় (حَيْسًا) এর পরিচয় দিয়ে বলেন, (حَيْسًا) হলো ঘি অথবা পনির মিশ্রিত খেজুর দিয়ে তৈরি খাবার।
উক্ত হাদীসের শেষের দিকে আনাস (রাঃ) বলেন, যখন আমি সেই পাত্রটি শেষে আবার উঠিয়ে আনলাম তখন আমি এটি বুঝতে পারছিলাম না যে, পাত্রটি রাখার সময় ‘হায়স’ পরিমাণে বেশি ছিল নাকি শেষে উঠিয়ে নেয়ার সময় বেশি ছিল?
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পাত্রটি উঠানোর সময় তাতে ‘হায়স’ বেশি ছিল। কারণ তখন তার সাথে স্পর্শ হয়েছিল রাসূল (সা.) -এর হাত এবং তাতে ছিল সম্মানিত সাহাবীদের বরকত।
কেউ কেউ বলেন, বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় যে, যায়নাব (রাঃ)-এর ওয়ালীমাহ্ করা হয়েছিল ‘হায়স দিয়ে, যেই ‘হায়স' উম্মু সুলায়ম (রাঃ) রাসূল (সা.) -কে হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, যায়নাব (রাঃ)-এর ওয়ালীমাহ্ করা হয়েছিল রুটি ও গোশত দিয়ে। এখানে দুটি বর্ণনার মাঝে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
মিরকাত প্রণেতা উক্ত হাদীস দুটির ব্যাপারে বলেন, যায়নাব (রাঃ)-এর ওয়ালীমাহ্ করা হয়েছিল মূলত রুটি ও গোশত দিয়েই। কিন্তু ঘটনাক্রমে সেই সময়ে হয়তো ‘হায়সও এসে যায়।
এছাড়াও এমন কোন প্রমাণ নেই যে, যায়নাব (রাঃ)-এর ওয়ালীমাহ্ করা হয়েছিল ‘হায়স' দিয়ে। অথবা এমনও হতে পারে যে, হায়স সেদিনই ওয়ালীমার পরে রাসূল (সা.) -কে দেয়া হয়েছে। কিংবা তার পরের দিন দেয়া হয়েছে।
অতএব, হাদীস দুটির মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। যায়নাব (রাঃ)-এর বিবাহের সময় রুটি ও গোশত দিয়ে ওয়ালীমাহ করার সময় খাবারের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বৃদ্ধি পাওয়াকে কেউ কেউ অস্বীকার করে বলেছেন যে, সেদিন খাবার বৃদ্ধি পায়নি।
কিন্তু এ কথাটি অবান্তর এবং আশ্চর্যজনক। কারণ তার ওয়ালীমা করা হয়েছিল মাত্র একটি ছাগল ও রুটি দিয়ে। অথচ তা হাজার মানুষ খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছিল। এটি কিভাবে সম্ভব এই অল্প খাবার দিয়ে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে, অবশ্যই সেই খাবারে বরকত হয়েছিল এবং স্বাভাবিক অবস্থার থেকে তা বৃদ্ধি পেয়েছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৪-[৪৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে শরীক ছিলাম। আর আমি এমন একটি উটের উপর আরোহণ করে ছিলাম যা সেচের পানি বহন করতে করতে একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। চলবার শক্তি ছিল না। পিছন হতে নবী (সা.) এসে আমার সাথে মিলিত হয়ে বললেন, তোমার উটের কি হয়েছে? আমি বললাম, তা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উটটির পিছনে গেলেন এবং তাকে ধমক দিয়ে তার জন্য দু’আ করলেন। তারপর তা সর্বদা অন্যান্য উটের আগে আগেই চলতে লাগল। পরে আবার তিনি (সা.) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার উটের খবর কি? আমি বললাম, আপনার দুআর বরকতে এখন খুব ভালো। তিনি বললেন, তুমি কি এক উকিয়্যার বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রয় করবে? তখন আমি এই শর্তে বিক্রয় করলাম যে, মদীনাহ্ পৌছা পর্যন্ত আমি তার পিঠে আরোহী হব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন আমি প্রাতঃকালে উটটি নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে উটের মূল্য প্রদান করলেন এবং উটটিও আমাকে ফেরত দিয়ে দিলেন। (বুখারী মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنا على نَاضِح لنا قَدْ أَعْيَا فَلَا يَكَادُ يَسِيرُ فَتَلَاحَقَ بِيَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لي مَا لبعيرك قلت: قدعيي فَتَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فزجره ودعا لَهُ فَمَا زَالَ بَيْنَ يَدَيِ الْإِبِلِ قُدَّامَهَا يسير فَقَالَ لي كَيفَ ترى بعيرك قَالَ قُلْتُ بِخَيْرٍ قَدْ أَصَابَتْهُ بَرَكَتُكَ قَالَ أَفَتَبِيعُنِيهِ بِوُقِيَّةٍ. فَبِعْتُهُ عَلَى أَنَّ لِي فَقَارَ ظَهْرِهِ حَتَّى الْمَدِينَةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ غَدَوْتُ عَلَيْهِ بِالْبَعِيرِ فَأَعْطَانِي ثمنَهُ وردَّهُ عَليّ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2967) و مسلم (110 / 715)، (4100) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن جابر قال: غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا على ناضح لنا قد اعيا فلا يكاد يسير فتلاحق بي النبي صلى الله عليه وسلم فقال لي ما لبعيرك قلت: قدعيي فتخلف رسول الله صلى الله عليه وسلم فزجره ودعا له فما زال بين يدي الابل قدامها يسير فقال لي كيف ترى بعيرك قال قلت بخير قد اصابته بركتك قال افتبيعنيه بوقية. فبعته على ان لي فقار ظهره حتى المدينة فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة غدوت عليه بالبعير فاعطاني ثمنه ورده علي. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2967) و مسلم (110 / 715)، (4100) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: হাদীসে বলা হয়েছে, (أَفَتَبِيعُنِيهِ بِوُقِيَّةٍ) অর্থাৎ তুমি কি তা আমার কাছে এক উক্বিয়্যাহ্ বিক্রি করবে?
মিরকাত প্রণেতা বলেন, এক উক্বিয়্যাহ্ মানে হলো চল্লিশ দিরহাম। উক্ত হাদীসে সাহাবী তার ঘোড়ার ব্যাপারে কিছুটা প্রশংসা করে বলেছেন, তা এখন ভালো চলছে।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এখান থেকে বুঝা যায় যে, বিক্রয় করার লক্ষ্যে কোন বস্তুর মাঝে থাকা গুণ বর্ণনা করা বৈধ।
(فَأَعْطَانِي ثمنَهُ وردَّهُ) অর্থাৎ তারপর তিনি আমাকে তার মূল্য পরিশোধ করে দিলেন। সাথে সেই উটটিও ফিরিয়ে দিলেন।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাহাবী এ কথাটি রূপকভাবে বলেছেন। কেননা লেনদেন মূলত হয়েছে বিলাল (রাঃ)-এর মাধ্যমে। যেহেতু রাসূল (সা.) তাকে এই লেনদেন করার জন্য আদেশ করেছিলেন। তাই প্রকৃত লেনদেনকারী মূলত রাসূল (সা.)। আর সাহাবী এখানে সেটিই উল্লেখ করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৫-[৪৮] আবূ হুমায়দ আস্ সাইদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে তাবুকের যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হলাম। অতঃপর আমরা ’ওয়াদিউল কুরা’ নামক স্থানে এক মহিলার বাগানে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা (বাগানের খেজুরের) পরিমাণ আন্দায কর। অতএব আমরা ধারণা করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বাগানের ফল দশ ওয়াসাক হবে বলে অনুমান করলেন। এরপর তিনি (সা.) উক্ত মহিলাকে বললেন, এ বাগানে কি পরিমাণ খেজুর উৎপন্ন হয়, ভালোভাবে তার হিসাব রেখো, যাবৎ না আমরা তোমার কাছে ফিরে আসি ইনশা-আল্লা-হ। অবশেষে আমরা রওয়ানা হয়ে তাবুকে এসে উপস্থিত হলাম।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, সাবধান! আজ রাতে ব্যাপক ঝড় হবে। অতএব তোমাদের কেউই যেন দাঁড়িয়ে না থাকে। আর যার সাথে উট রয়েছে, সে যেন তাকে শক্ত করে বেঁধে রাখে। রাতে প্রচণ্ড ঝড় হলো। এক লোক দাড়িয়ে গেলে ঝড় তাকে উড়িয়ে ’তাঈ’ পাহাড়ে নিয়ে নিক্ষেপ করল। অতঃপর আমরা ফেরার পথে ওয়াদিউল কুরায় এসে পৌছলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত মহিলাকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের বাগানে কি পরিমাণ ফল উৎপন্ন হয়েছে? সে বলল, “দশ ওয়াসাক’। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي حميد السَّاعِدِيّ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ تَبُوكَ فَأَتَيْنَا وَادِيَ الْقُرَى عَلَى حَدِيقَةٍ لِامْرَأَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْرُصُوهَا» فَخَرَصْنَاهَا وَخَرَصَهَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ وَقَالَ: «أَحْصِيهَا حَتَّى نَرْجِعَ إِلَيْكِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» وَانْطَلَقْنَا حَتَّى قَدِمْنَا تَبُوكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَهُبُّ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَةَ رِيحٌ شَدِيدَةٌ فَلَا يَقُمْ فِيهَا أَحَدٌ مِنْكُم فَمَنْ كَانَ لَهُ بَعِيرٌ فَلْيَشُدَّ عِقَالَهُ» فَهَبَّتْ رِيحٌ شَدِيدَةٌ فَقَامَ رَجُلٌ فَحَمَلَتْهُ الرِّيحُ حَتَّى أَلْقَتْهُ بِجَبَلَيْ طَيِّئٍ ثُمَّ أَقْبَلْنَا حَتَّى قَدِمْنَا وَادِيَ الْقُرَى فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَرْأَةُ عَنْ حَدِيقَتِهَا كَمْ بَلَغَ ثَمَرهَا فَقَالَت عشرَة أوسق. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1481) و مسلم (11 / 1392)، (3371) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ابي حميد الساعدي قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غزوة تبوك فاتينا وادي القرى على حديقة لامراة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اخرصوها» فخرصناها وخرصها رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة اوسق وقال: «احصيها حتى نرجع اليك ان شاء الله» وانطلقنا حتى قدمنا تبوك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ستهب عليكم الليلة ريح شديدة فلا يقم فيها احد منكم فمن كان له بعير فليشد عقاله» فهبت ريح شديدة فقام رجل فحملته الريح حتى القته بجبلي طيى ثم اقبلنا حتى قدمنا وادي القرى فسال رسول الله صلى الله عليه وسلم المراة عن حديقتها كم بلغ ثمرها فقالت عشرة اوسق. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1481) و مسلم (11 / 1392)، (3371) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসের শেষের দিকে বলা হয়েছে, (فَحَمَلَتْهُ الرِّيحُ حَتَّى أَلْقَتْهُ بِجَبَلَيْ طَيِّئٍ) অর্থাৎ বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে তাঈয়ের দুই পাহাড়ে নিক্ষেপ করল। পাহাড় দুটি সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, দুটি পাহাড়ের একটির নাম ছিল ‘আযা' এবং আরেকটির নাম ছিল ‘সালমা'। আর এ দুটির নামকরণ করা হয়েছে আমালিকা গোত্রের একজন নারী ও পুরুষের নামে।
উক্ত হাদীসে রাসূল (সা.) থেকে প্রকাশিত তিনটি মু'জিযার কথা জানা যায়। সেগুলো হলো,

১) রাসূল (সা.) আগেই বলে দিয়েছেন যে, আজ রাতে প্রচণ্ড বাতাস হবে। আর রাতে তাই ঘটেছে।

২) তিনি (সা.) আগেই বলেছিলেন যে, কেউ যেন বাতাসের সময় না দাঁড়ায়। যদি কেউ দাঁড়ায় তাহলে বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আর রাতে তাই ঘটেছে। একজন দাঁড়িয়ে ছিল আর বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেছে তার নাম ছিল আবূ কবিলাহ। সে ছিল ইয়ামানের অধিবাসী।

৩) গাছটিতে যে পরিমাণ খেজুর থাকার ব্যাপারে রাসূল (সা.) অনুমান করেছিলেন হুবহু সেই পরিমাণই হয়েছিল। তবে কেউ কেউ বলেন, এই পরিমাপের কথাটি ঘটনাক্রমে মিলে গেছে। এটি কোন মু'জিযাহ্ নয়। মিরকাত প্রণেতা বলেন, হ্যাঁ। হতে পারে যে, এটি ঘটনাক্রমে মিলে গেছে। কিন্তু এর মাধ্যমেই রাসূল (সা.) তাঁর নুবুওয়্যাত প্রকাশ করতে চেয়েছেন ঐ সকল মুনাফিকদের জন্য যারা মুহাম্মাদ (সা.) -এর নুবুওয়্যাত মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেনি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৬-[৪৯] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে  তোমরা নিশ্চয় মিসর জয় করবে। তা এমন একটি দেশ যেখানে কীরাত (আঞ্চলিক মুদ্রার নাম) ব্যবহার হয়ে। থাকে। তোমরা যখন তা জয় করবে, তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা তাদের সাথে সৌহার্দ ও আত্মীয়তার অথবা বলেছেন, সৌহার্দ ও শ্বশুরাত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আর যখন দেখবে, দুই লোক একটি ইটের জায়গা নিয়ে পরস্পর বিবাদ করছে তখন তুমি সে স্থান হতে সরে পড়বে। আবূ যার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি আবদুর রহমান ইবনু শুরাহবিল ইবনু হাসানাহ্ ও তার ভাই (রবীআহ-কে) একটি ইটের স্থান নিয়ে পরস্পর ঝগড়া করতে দেখতে পাই, তখন আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيهَا الْقِيرَاطُ فَإِذَا فَتَحْتُمُوهَا فَأَحْسِنُوا إِلَى أَهْلِهَا فَإِنَّ لَهَا ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ: ذِمَّةً وَصِهْرًا فَإِذَا رَأَيْتُمْ رَجُلَيْنِ يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَاخْرُجْ مِنْهَا . قَالَ: فَرَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَن بن شُرَحْبِيل بن حَسَنَة وأخاه يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَخَرَجْتُ مِنْهَا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (227 ، 226 / 2543)، (6493 و 6494) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: انكم ستفتحون مصر وهي ارض يسمى فيها القيراط فاذا فتحتموها فاحسنوا الى اهلها فان لها ذمة ورحما او قال: ذمة وصهرا فاذا رايتم رجلين يختصمان في موضع لبنة فاخرج منها . قال: فرايت عبد الرحمن بن شرحبيل بن حسنة واخاه يختصمان في موضع لبنة فخرجت منها. رواه مسلم رواہ مسلم (227 ، 226 / 2543)، (6493 و 6494) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (فَتَحْتُمُوهَا فَأَحْسِنُوا إِلَى أَهْلِهَا) অর্থাৎ তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, তাদের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কাজ প্রকাশ পেলেও তোমরা তাদেরকে ক্ষমা করবে, মার্জনা করবে। তাদের কোন মন্দকর্মের কারণে তাদের সাথে কোনরূপ দুর্ব্যবহার করবে না।
(يَخْتَصِمَانِ فِي مَوْضِعِ لَبِنَةٍ فَاخْرُجْ مِنْهَا) অর্থাৎ তারা দুজন এক ইট পরিমাণ জায়গা নিয়ে ঝগড়া করছিল। তখন আমি সেখান থেকে বের হলাম। হাদীসে বর্ণিত এ ঘটনাটি ঘটেছিল উসমান (রাঃ)-এর শাসন আমলের শেষের দিকে। যখন তারা তাকে তার দুধ ভাই আবদুল্লাহ ইবনু সা'দ ইবনু আবূ সারাহ-এর নেতৃত্বের ব্যাপারে দোষারোপ করে। উক্ত ঘটনাটি ঘটার আগেই নবী (সা.) জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবশ্যই তা মিসরে ঘটবে। তার পরেই শুরু সংঘটিত হবে বিভিন্ন ফিতনাহ্। যেমন- ‘উসমান (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে মিসরীদের বিদ্রোহ করা ইত্যাদি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৭-[৫০] হুযায়ফাহ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। একদিন তিনি (সা.) বলেছেন: আমার সাহাবীদের মাঝে অপর এক বর্ণনাতে আছে, আমার উম্মতের মাঝে এমন বারোজন মুনাফিক রয়েছে, যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার ঘ্রাণও তারা পাবে না, যে পর্যন্ত না সুঁচের ছিদ্রের ভিতর উট প্রবেশ করে। তাদের আটজনকে পেটের ফোঁড়া ধ্বংস করবে। তা আগুনের একটি শিখা, যা তাদের ঘাড়ের মধ্যে সৃষ্টি হবে। এমনকি তা তাদের বুক বিদ্ধ করে বের হবে। (মুসলিম)

(গ্রন্থকার বলেন,) সাহল ইবনু সা’দ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا) “অবশ্যই আগামীকাল এই যুদ্ধের নিশানা বা পতাকা এমন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিব” মানাকিবে ’আলী এবং জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ) “কে সানিয়্যাহ্ উপত্যকায় আরোহণ করবে?” “জামিউল মানাকিব অধ্যায়ে” বর্ণনা করব ইনশা-আল্ল-হ।

الفصل الاول (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ حُذَيْفَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فِي أَصْحَابِي وَفِي رِوَايَة قا ل: فِي أُمَّتِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدُونَ رِيحَهَا حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سم الْخياط ثَمَانِيَة مِنْهُم تَكُ (فيهم الدُّبَيْلَةُ: سِرَاجٌ مِنْ نَارٍ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى تَنْجُمَ فِي صُدُورِهِمْ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ: «لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا» فِي «بَابِ مَنَاقِبِ عَلِيٍّ» رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحَدِيثَ جَابِرٍ «مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ» فِي «بَابِ جَامِعِ الْمَنَاقِبِ» إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

رواہ مسلم (10 ، 9 / 2779)، (7035 و 7036) 0 حدیث سھل بن سعد سیاتی (6080) و حدیث جابر یاتی (6220) ۔
(صَحِيح)

وعن حذيفة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: في اصحابي وفي رواية قا ل: في امتي اثنا عشر منافقا لا يدخلون الجنة ولا يجدون ريحها حتى يلج الجمل في سم الخياط ثمانية منهم تك (فيهم الدبيلة: سراج من نار يظهر في اكتافهم حتى تنجم في صدورهم . رواه مسلم وسنذكر حديث سهل بن سعد: «لاعطين هذه الراية غدا» في «باب مناقب علي» رضي الله عنه وحديث جابر «من يصعد الثنية» في «باب جامع المناقب» ان شاء الله تعالى رواہ مسلم (10 ، 9 / 2779)، (7035 و 7036) 0 حدیث سھل بن سعد سیاتی (6080) و حدیث جابر یاتی (6220) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে, (وَلَا يَجِدُونَ رِيحَهَا) অর্থাৎ তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার সুঘ্রাণ পাঁচশত বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়। হাদীসের পরের অংশে আরো বলা হয়েছে যে, তারা জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না যতক্ষণ না উট সূচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে। এ কথাটি বলা হয়েছে অসম্ভবতা বুঝানোর জন্য। যেমন- উট সূচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করা অসম্ভব, ঠিক তেমন তাদের জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া অসম্ভব।
শায়খ তূরীবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আলোচনা করে বলেন, (فِىْ أَصْحَابِىْ اوأُمَّتِى) অর্থাৎ আমার সাহাবীদের মধ্যে অথবা তিনি বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে বারোজন মুনাফিক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) -এর সাহাবী হিসেবে শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তিদেরকেই গণ্য করা হবে যারা ঈমানসহ রাসূল (সা.)-কে দেখেছেন এবং তার ঈমান ছিল সত্য। পাশাপাশি তার ঈমানের সত্যতার আলামতও প্রকাশ পেয়েছে।
অতএব, ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে প্রকৃত সাহাবী বলা যাবে না যারা ঈমান আনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী নয় এবং তাদের ঈমানের সত্যতার আলামত প্রকাশও পায়নি। পাশাপাশি তারা তাদের ভিতর নিফাক্বী গোপন রেখেছে। তারপরেও ঐ শ্রেণির লোকেদেরকেও রাসূল (সা.) সাহাবী বলে উল্লেখ করেছেন বাহ্যিকভাবে প্রকৃত সাহাবীদের সাথে তাদের সাদৃশ্য থাকার কারণে।
এজন্যই রাসূল (সা.) সাহাবী বলে উল্লেখ করেছেন আমার সাহাবীদের মধ্যে। তিনি বলেননি আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (کَانَ مِنَ الۡجِنِّ) অর্থাৎ, “সে জিনদের মধ্য থেকে একজন ছিল”- (সূরাহ আল কাহফ ১৮: ৫০)।
অতএব শায়খ তূরীবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সারকথা হলো যদি ‘আরবী (مِن) অব্যয় ব্যবহার করে বলা হয় তাহলে তাকে তাদের মধ্য থেকে কাউকে বুঝাবে। কিন্তু যদি ‘আরবী (فِىْ) অব্যয় ব্যবহার করা হয় তাহলে বুঝাবে তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সকল মুনাফিকের ব্যাপারে জানতেন। কিন্তু তিনি সবার কথা সবাইকে বলেননি। তবে  কিছু মুনাফিকের কথা তিনি বলে দিয়েছেন যেন অন্য লোকেরা তাদের থেকে ঈমান গ্রহণ না করে এবং সাহাবীরা যেন তাদের থেকে ধোকাও না খায়।
তারপরেও অনেক সাহাবীদের কাছে মুনাফিকদের বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়। আর সাহাবীদের মাঝে মুনাফিকদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জানতেন হুযায়ফাহ্ (রাঃ)। এর অন্যতম কারণ হলো, তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় যখন মুনাফিকরা রাসূল (সা.)-কে রাতে হত্যা করতে ইচ্ছা করল তখন সেখানে তার সাথে ছিলেন শুধুমাত্র দু’জন সাহাবী।
একজন হলেন ‘আম্মার (রাঃ) এবং আর অপরজন হলেন হুযায়ফাহ (রাঃ)। চলার পথে রাসূল (সা.) -এর একজন ঘোষক ঘোষণা দিলো যে, তোমরা উপত্যকার মাঝখান দিয়ে চলো। এটি তোমাদের জন্য প্রশস্ত পথ। আর রাসূল (সা.) সরুপথ দিয়ে চলছেন।
এদিকে মুনাফিকরা তার এ ঘোষণা শুনতে পেল। সাথে সাথে তারা তাদের মন্দ কাজ সাধন করতে লেগে গেল। তাদের মধ্য থেকে বারোজন লোক মুখোশ পরে রাসূল (সা.) -এর অনিষ্ট সাধন করার জন্য পিছু নিল। কিন্তু পিছন থেকে তিনি তাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে আদেশ করলেন। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) একটি লাঠি নিয়ে তাদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তা দিয়ে একটি আঘাত করলেন। এতে তাদের অন্তরে আল্লাহ ভয় সৃষ্টি করে দিলেন। তারপর তারা দ্রুত পিছন দিকে ফিরে গিয়ে লোকেদের সাথে মিশে গেল।
পরে যখন হুযায়ফাহ্ (রাঃ) রাসূল (সা.) -এর কাছে ফিরে আসলো তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তাদের কাউকে কি তুমি চিনেছ? হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বললেন, না চিনিনি। কারণ তারা মুখোশ পরিহিত ছিল কিন্তু আমি তাদের বাহনগুলো চিনেছি। তারপর রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাদের নাম, তাদের পিতাদের নাম সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ চায় তো সকালে আমি তোমাকে তাদের নাম জানাব।
এজন্যই লোকেরা বলে যে, মুনাফিকদের ব্যাপারে সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানেন হুযায়ফাহ্ (রাঃ)। পরবর্তীতে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সেই মুনাফিকদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দজন। কিন্তু পরে তাদের মধ্য থেকে দু’জন তাওবাহ্ করে সঠিক পথে ফিরে এসেছেন আর বাকী বারোজন নিফাকের উপরই রয়ে গেছে। এ বিষয়টি হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে কি রাসূল (সা.) নিজে জানিয়েছিলেন?
মিরকাত প্রণেতা বলেন, ঐ সকল মুনাফিকদের নাম আমি হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা থেকে জানতে পেরেছি। তবে সেই নামগুলো নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। তাই সেই নামগুলো আর আমি এখানে উল্লেখ করছি না।
হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল (সা.) তাকে সেই মুনাফিকদের ব্যাপারে জানিয়েছেন। আর তারা সেভাবেই ধ্বংস হয়েছে যেভাবে ধ্বংস হওয়ার কথা রাসূল (সা.) তাকে বলেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৮-[৫১] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার [রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চাচা] আবূ ত্বালিব নবী (সা.) ও কুরায়শ নেতৃবর্গের মধ্যে সিরিয়ার উদ্দেশে ভ্রমণে বের হলেন। যখন তারা (বুহায়রাহ্) পাদ্রির কাছে পৌছে সেখানে যাত্রাবিরতি করলেন, তখন নিজেদের বাহন হতে হাওদা ইত্যাদি সামানপত্র খুললেন। এমন সময় পাদ্রি তাদের কাছে আসলো। কুরায়শদের কাফেলা ইতঃপূর্বে বহুবার এ পথে আসা যাওয়া করেছে, অথচ পাদ্রি কখনো তাদের কাছে আসেনি। বর্ণনাকারী বলেন, কাফেলার লোকেরা নিজেদের হাওদা ইত্যাদি খুলছে, এমন সময় পাদ্রি তাদের মাঝে প্রবেশ করল। অবশেষে সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে তার হাত ধরে বলল, ইনিই তো সমগ্র জগতের নেতা, ইনিই রাব্বূল আলামীনের রাসূল, আল্লাহ তা’আলা তাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন। তখন কুরায়শ নেতাদের কেউ কেউ প্রশ্ন করল, তুমি তা কিরূপে জান? পাদ্রি বলল, যখন তোমরা পাহাড়ের পশ্চাৎ হতে বের হয়ে সম্মুখে এসেছ, তখন হতে এমন কোন বৃক্ষ ও পাথর বাকি ছিল না যা তাঁকে সিজদাহ্ করেনি। বস্তুত এ দুই জিনিস কেবলমাত্র নবীকেই সিজদাহ্ করে। আর আমি তাকে মোহরে নুবুওয়্যাত দ্বারা চিনতে পেরেছি, যা তার কাঁধের গোড়ায় নিম্নদিকে আপেলের মতো রয়েছে। অতঃপর পাদ্রি ফিরে আসলো এবং কাফেলার লোকেদের জন্য খাবার তৈরি করল। যখন সে খাবার নিয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কাফেলার লোকেদের উটগুলো নিয়ে এমন অবস্থায় আসলেন, দেখা গেল এক খণ্ড মেঘ তার উপর ছায়া দান করে রয়েছে। আর যখন তিনি কাফেলার লোকেদের কাছে আসলেন, তখন দেখলেন, লোকেরা পূর্ব হতেই ছায়াবিশিষ্ট স্থানগুলো দখল করে ফেলেছে। কিন্তু যখন তিনি বসলেন, তখন বৃক্ষের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ল। (এ অবস্থা দেখে) পাদ্রি কাফেলার লোকেদেরকে বলল, তোমরা তাকিয়ে দেখ গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। (এ সমস্ত অলৌকিক ঘটনা দেখে) পাদ্রি বলে উঠল, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, বল! তোমাদের মধ্যে তার অভিভাবক কে? লোকেরা বলল, আবূ ত্বালিব। অতঃপর পাদ্রি (তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য) অনেকক্ষণ ধরে আবূ ত্বালিব-কে আল্লাহর শপথ দিয়ে অনুরোধ করতে থাকে। অবশেষে আবূ ত্বালিব তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। আর তার সফরসঙ্গী হিসেবে আবূ বকর (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ)-কে সাথে পাঠিয়ে দিলেন। এদিকে পথে খাওয়ার জন্য পাদ্রী তার সাথে কিছু কেক ও যায়তূনের তেল দিল। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: خَرَجَ أَبُو طَالِبٍ إِلَى الشَّام وَخرج مَعَه النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَشْيَاخٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَلَمَّا أَشْرَفُوا عَلَى الرَّاهِبِ هَبَطُوا فَحَلُّوا رِحَالَهُمْ فَخَرَجَ إِلَيْهِمُ الرَّاهِبُ وَكَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ يَمُرُّونَ بِهِ فَلَا يَخْرُجُ إِلَيْهِمْ قَالَ فَهُمْ يَحُلُّونَ رِحَالَهُمْ فَجَعَلَ يَتَخَلَّلُهُمُ الرَّاهِبُ حَتَّى جَاءَ فَأَخَذَ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَذَا سَيِّدُ الْعَالَمِينَ هَذَا رسولُ ربِّ الْعَالِمِينَ يَبْعَثُهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْعَالِمِينَ فَقَالَ لَهُ أَشْيَاخٌ مِنْ قُرَيْشٍ مَا عِلْمُكَ فَقَالَ إِنَّكُمْ حِينَ أَشْرَفْتُمْ مِنَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَبْقَ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ إِلَّا خَرَّ سَاجِدًا وَلَا يَسْجُدَانِ إِلَّا لِنَبِيٍّ وَإِنِّي أَعْرِفُهُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ أَسْفَلَ مِنْ غُضْرُوفِ كَتِفِهِ مِثْلَ التُّفَّاحَةِ ثُمَّ رَجَعَ فَصَنَعَ لَهُمْ طَعَامًا فَلَمَّا أَتَاهُمْ بِهِ وَكَانَ هُوَ فِي رِعْيَةِ الْإِبِلِ فَقَالَ أَرْسِلُوا إِلَيْهِ فَأَقْبَلَ وَعَلَيْهِ غَمَامَةٌ تُظِلُّهُ فَلَمَّا دَنَا مِنَ الْقَوْم وجدهم قد سَبَقُوهُ إِلَى فَيْء الشَّجَرَة فَلَمَّا جَلَسَ مَالَ فَيْءُ الشَّجَرَةِ عَلَيْهِ فَقَالَ انْظُرُوا إِلَى فَيْءِ الشَّجَرَةِ مَالَ عَلَيْهِ فَقَالَ أنْشدكُمْ بِاللَّه أَيُّكُمْ وَلِيُّهُ قَالُوا أَبُو طَالِبٍ فَلَمْ يَزَلْ يُنَاشِدُهُ حَتَّى رَدَّهُ أَبُو طَالِبٍ وَبَعَثَ مَعَهُ أَبُو بَكْرٍ بِلَالًا وَزَوَّدَهُ الرَّاهِبُ مِنَ الْكَعْكِ وَالزَّيْت. (علق الشَّيْخ أَن ذكر بِلَال فِي الحَدِيث خطأ إِذْ لم يكن خلق بعد)

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3620 وقال : غریب) * یونس بن ابی اسحاق مدلس و عنعن

عن ابي موسى قال: خرج ابو طالب الى الشام وخرج معه النبي صلى الله عليه وسلم في اشياخ من قريش فلما اشرفوا على الراهب هبطوا فحلوا رحالهم فخرج اليهم الراهب وكانوا قبل ذلك يمرون به فلا يخرج اليهم قال فهم يحلون رحالهم فجعل يتخللهم الراهب حتى جاء فاخذ بيد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هذا سيد العالمين هذا رسول رب العالمين يبعثه الله رحمة للعالمين فقال له اشياخ من قريش ما علمك فقال انكم حين اشرفتم من العقبة لم يبق شجر ولا حجر الا خر ساجدا ولا يسجدان الا لنبي واني اعرفه بخاتم النبوة اسفل من غضروف كتفه مثل التفاحة ثم رجع فصنع لهم طعاما فلما اتاهم به وكان هو في رعية الابل فقال ارسلوا اليه فاقبل وعليه غمامة تظله فلما دنا من القوم وجدهم قد سبقوه الى فيء الشجرة فلما جلس مال فيء الشجرة عليه فقال انظروا الى فيء الشجرة مال عليه فقال انشدكم بالله ايكم وليه قالوا ابو طالب فلم يزل يناشده حتى رده ابو طالب وبعث معه ابو بكر بلالا وزوده الراهب من الكعك والزيت. (علق الشيخ ان ذكر بلال في الحديث خطا اذ لم يكن خلق بعد) اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3620 وقال : غریب) * یونس بن ابی اسحاق مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: (عَلَى الرَّاهِبِ) তাঁর নাম ছিল বুহায়রাহ্। সে ছিল একজন নাসার বা খ্রিষ্টানদের দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি- এ কথা বলেছেন ব্যাখ্যাকার। আর মুহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি খ্রিষ্টান ধর্মের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। অনুরূপভাবে ইমাম জাযারী (রহিমাহুল্লাহ)-সহ অনেক ‘আলিম বলেছেন।
আলোচ্য হাদীসটিতে নবী (সা.) যে একজন সত্য নবী তার বেশ কিছু নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় পণ্ডিত সে বিষয়গুলো আলোচ্য হাদীসটিতে ব্যাখ্যা করেছেন। কুরায়শ বংশের লোক নবী (সা.) ছোট থাকাবস্থায়ই খবর পেয়েছিলেন যে, মুহাম্মাদ একদিন নবী হবে। কিন্তু জিদ ও হঠকারিতার জন্য তাকে অনেকেই মানেনি। তারাও এ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী নবী (সা.) -এর মু'জিযাহ্ স্বচক্ষে দেখেছিল। যেমনটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- যখন নবী (সা.) বসলেন তখন গাছগুলো ঝুঁকে তাকে ছায়া দেয়ার জন্য ব্যস্ত ছিল। এটা মেঘমালার ছায়ার চেয়ে বেশি ছায়া দেয়ার জন্য তাড়া করছিল। অথবা মেঘমালা সরে যাওয়ার পরে গাছপালা ঝুঁকে পড়ে একটি অলৌকিক ঘটনার জন্ম দেয়। তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাকে ছায়া দেয় অর্থাৎ তার ওপর ঝুকে পড়ে তাকে ছায়া প্রদান করেছিল। (সম্পাদীয়)

তাই পাদ্রী তাদেরকে বলেছিল, (انْظُرُوا إِلَى فَيْءِ الشَّجَرَةِ مَالَ عَلَيْهِ) অর্থাৎ যদি তোমরা আসমানের ছায়া লক্ষ্য করে থাক তবে তোমরা জমিনের ছায়া লক্ষ্য কর। তবে আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরের চক্ষুকে অন্ধ করে দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, (وَ تَرٰىهُمۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَیۡکَ وَ هُمۡ لَا یُبۡصِرُوۡنَ) “আর তুমি তাদেরকে দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে অথচ তারা তোমাকে দেখতে পাচ্ছে না।” (সূরা আল আ'রাফ ৭ : ১৯৮)।  আর এ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে মহান আল্লাহর বাণীতে – (فَاِنَّهَا لَا تَعۡمَی الۡاَبۡصَارُ وَ لٰکِنۡ تَعۡمَی الۡقُلُوۡبُ الَّتِیۡ فِی الصُّدُوۡرِ) “তাদের চক্ষুই কেবল অন্ধ নয়; তবে অন্ধ হলো তাদের হৃদয় যা তাদের বুকের মধ্যে থাকে”- (সূরাহ আল হাজ্জ ২২ : ৪৬)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯১৯-[৫২] ’আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় নবী (সা.) -এর সাথেই ছিলাম। একদিন আমরা মক্কার পার্শ্ববর্তী কোন অঞ্চলের দিকে বের হই, তখন যে কোন পাহাড় ও গাছ-গাছালি তাঁর মুখোমুখি হয়, তখন তা (তাঁকে) ’আস্সালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্ল-হ (হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলে। (তিরমিযী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ فَخَرَجْنَا فِي بَعْضِ نَوَاحِيهَا فَمَا اسْتَقْبَلَهُ جَبَلٌ وَلَا شَجَرٌ إِلَّا وَهُوَ يَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3626 وقال : حسن غریب) و الدارمی (1 / 12 ح 21) * ولید بن ابی ثور : ضعیف و عباد : مجھول ۔
(ضَعِيف)

وعن علي بن ابي طالب رضي الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم بمكة فخرجنا في بعض نواحيها فما استقبله جبل ولا شجر الا وهو يقول: السلام عليك يا رسول الله. رواه الترمذي والدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3626 وقال : حسن غریب) و الدارمی (1 / 12 ح 21) * ولید بن ابی ثور : ضعیف و عباد : مجھول ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ) বলেন, নবী (সা.) -এর সাথে আমি মক্কাতে ছিলাম। আমরা যখন চারদিকে বের হতাম তখন রাস্তার পাথর, গাছ-গাছালি সবকিছু তাকে “আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্ল-হ” বলে সালাম করত। এ হাদীসটি নবী (সা.) -এর মু'জিযাহ্ ও ওয়ালীদের কারামাত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২০-[৫৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। মি’রাজের রাত্রে নবী (সা.) -এর কাছে জিনপোষ ও লাগামে সাজানো বুরাক আনা হলো। তিনি (সা.) তাতে আরোহণ করতে চাইলে তা লাফালাফি করতে লাগল। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বুরাকটিকে বললেন, তুমি কি মুহাম্মাদ (সা.) -এর সাথে এরূপ করছ? আরে! আল্লাহর কাছে ইনি অপেক্ষা অধিক সম্মানিত কোন লোক এ যাবৎ তোমার ওপর আরোহণ করেনি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে বুরাক (লজ্জায়) ঘর্মাক্ত হয়ে গেল। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِالْبُرَاقِ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مُلْجَمًا مُسْرجاً فاستصعب عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيل: أَبِمُحَمَّدٍ تَفْعَلُ هَذَا؟ قَالَ: فَمَا رَكِبَكَ أَحَدٌ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْهُ قَالَ: فَارْفَضَّ عَرَقًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3131) * قتادۃ مدلس و عنعن

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم اتي بالبراق ليلة اسري به ملجما مسرجا فاستصعب عليه فقال له جبريل: ابمحمد تفعل هذا؟ قال: فما ركبك احد اكرم على الله منه قال: فارفض عرقا. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3131) * قتادۃ مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: (مُلْجَمًا مُسْرجاً) অর্থাৎ তার উপর লাগাম ও বেণী বাঁধা ছিল। আর বুরাকটি অবাধ্য হওয়ার কারণে তার ওপর আরোহণ করা নবী (সা.) -এর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থা দেখে জিবরীল আলায়হিস সালাম বুরাকটিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তুমি মুহাম্মাদ-এর সাথে এ আচরণ করছ? অর্থাৎ তুমি তো অন্য কারো সাথে এটা করনি। অথবা তুমি সকল নবীদের সাথে যেমন করেছ তেমনটি কি মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথেও করছ?
(فَمَا رَكِبَكَ أَحَدٌ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْهُ) অর্থাৎ তূরীবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তোমার পিঠে কোন এমন কেউ চড়েনি যে, মুহাম্মাদ (সা.)-এর চেয়ে বেশি সম্মানিত। এ কথা শুনে বুরাকের থেকে ঘাম ঝরতে থাকল লজ্জার কারণে কেননা সে ইতোপূর্বে অবাধ্য হয়েছিল নবী (সা.) -এর। সে সঠিক তথ্য জানার পরে যারপর নাই খুশি হয়েছিল। আর সে এ কথা বুঝতে পেরেছিল যে, সে অবাধ্যতা করে ফেলেছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২১-[৫৪] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (মি’রাজের রাত্রে) যখন আমরা বায়তুল মাক্বদিস পৌছলাম, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করলেন, তাতে পাথরটির মধ্যে ছিদ্র হয়ে গেল, তখন বুরাকটিকে তার মধ্যে বেঁধে রাখলেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ جِبْرِيل بِأُصْبُعِهِ فَخَرَقَ بِهَا الْحَجَرَ فَشَدَّ بِهِ الْبُرَاقَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3132 وقال : غریب)

وعن بريدة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لما انتهينا الى بيت المقدس قال جبريل باصبعه فخرق بها الحجر فشد به البراق» . رواه الترمذي اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3132 وقال : غریب)

ব্যাখ্যা: (قَالَ جِبْرِيل بِأُصْبُعِهِ) অর্থাৎ জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আর সেই ইশারা দ্বারা গর্ত তৈরি হয়ে গেল। এখানে নবী (সা.) অথবা জিবরীল দু’জনের একজন সেই গর্তে বুরাককে বাঁধেন।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যদি তুমি বলো, এ হাদীসও আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) -এর হাদীস- “আমি তাকে সেই আংটায় বাঁধলাম যেখানে নবীগণও বাঁধতেন”-এর মাঝে কিভাবে সমন্বয় করবে? তাহলে জবাবে আমি বলব, সম্ভবত আংটা দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য সেই জায়গা যেখানে আংটাটি ছিল। আর সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফলে জিবরীল আলায়হিস সালাম তা ছিদ্র করে দেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২২-[৫৫] ইয়া’লা ইবনু মুররাহ্ আস্ সাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে তিনটি (অলৌকিক) জিনিস দেখেছি।
১. একবার আমরা তার সাথে ভ্রমণে বের হলাম। চলার পথে আমরা এমন একটি উটের কাছে দিয়ে গমন করছিলাম, যার দ্বারা পানি বহন করার কাজ করানো হয়। উটটি যখন নবী (সা.) -কে দেখল, তখন সে জিরজির আওয়াজ করে নিজের ঘাড়টি মাটিতে রাখল। নবী (সা.) সেখানে থেমে গেলেন এবং বললেন, এ উটটির মালিক কোথায়? সে তার কাছে আসলো। তিনি (সা.) তাকে বললেন, তোমার এ উটটি আমার কাছে বিক্রয় করে দাও। সে বলল, বরং হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা আপনাকে দান করলাম! মূলত তা এমন এক পরিবারের লোকেদের উট, যাদের কাছে তা ছাড়া রুযীরোজগারের আর কিছুই নেই। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, অবস্থা যখন এরূপই যা তুমি বলেছ। তবে শুন! তা আমার কাছে এ অভিযোগ করেছে যে, তার দ্বারা অধিক কাজ নেয়া হয় এবং তাকে খাবার অল্প দেয়া হয়। অতএব তোমরা তার সাথে সদাচরণ করবে।
২. অতঃপর আমরা সামনের দিকে রওয়ানা হলাম। অবশেষে এক জায়গায় এসে আমরা অবস্থান করলাম এবং নবী (সা.) সেখানে ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন একটি গাছ জমিন ফেড়ে এসে তার উপর ঝুঁকে পড়ল। অতঃপর গাছটি তার পূর্বের স্থানে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুম হতে জেগে উঠলে আমি তাঁকে এ ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি (সা.) বললেন, এ গাছটি আল্লাহর রাসূল (সা.)
-কে সালাম করার জন্য নিজের প্রভুর কাছে অনুমতি চেয়েছিল। অতএব তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।
৩. বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা সেখান থেকে সম্মুখের দিকে যাত্রা করলাম এবং একটি জলাশয়ের নিকট পৌছলাম। তখন একজন মহিলা নবী (সা.) -এর কাছে তার এমন একটি ছেলেকে নিয়ে আসলো, যার মাঝে জিনের আসর ছিল। তখন নবী (সা.) এই ছেলেটির নাকে ধরে বললেন, “তুমি বের হও, আমি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ।” বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা আরো সামনের দিকে সফর করলাম। ফেরার পথে যখন আমরা উক্ত জলাশয়ের কাছে আসলাম, তখন নবী (সা.) ঐ ছেলেটির মাকে তার ছেলেটির অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, ঐ সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আপনার চলে যাওয়ার পর হতে ছেলেটির মধ্যে আমরা অপ্রীতিকর আর কিছু দেখতে পাইনি। (শারহুস সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن يعلى بن مرَّةَ الثَّقفي قَالَ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ رَأَيْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَا نَحْنُ نَسِيرُ مَعَه إِذ مَرَرْنَا بِبَعِير يُسْنَى عَلَيْهِ فَلَمَّا رَآهُ الْبَعِيرُ جَرْجَرَ فَوَضَعَ جِرَانَهُ فَوَقَفَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيْنَ صَاحِبُ هَذَا الْبَعِيرِ فَجَاءَهُ فَقَالَ بِعْنِيهِ فَقَالَ بَلْ نَهَبُهُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّهُ لِأَهْلِ بَيْتٍ مَا لَهُمْ مَعِيشَةٌ غَيْرُهُ قَالَ أَمَا إِذْ ذَكَرْتَ هَذَا مِنْ أَمْرِهِ فَإِنَّهُ شَكَا كَثْرَةَ الْعَمَلِ وَقِلَّةَ العلفِ فَأحْسنُوا إِلَيْهِ قَالَ ثمَّ سرنا فنزلنا مَنْزِلًا فَنَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَتْ شَجَرَةٌ تَشُقُّ الْأَرْضَ حَتَّى غَشِيَتْهُ ثُمَّ رَجَعَتْ إِلَى مَكَانِهَا فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذُكِرَتْ لَهُ فَقَالَ هِيَ شجرةٌ استأذَنَتْ ربّها عز وَجل أَنْ تُسَلِّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَذِنَ لَهَا قَالَ ثُمَّ سِرْنَا فَمَرَرْنَا بِمَاءٍ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ بِابْنٍ لَهَا بِهِ جِنَّةٌ فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بمنخره فَقَالَ اخْرُج إِنِّي مُحَمَّد رَسُول الله قَالَ ثمَّ سرنا فَلَمَّا رَجعْنَا من سفرنا مَرَرْنَا بِذَلِكَ الْمَاءِ فَسَأَلَهَا عَنِ الصَّبِيِّ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ مَا رأَينا مِنْهُ رَيباً بعْدك. رَوَاهُ فِي شرح السّنة

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 295 ۔ 296 ح 3718) [و احمد (4 / 173 ح 17708) * فیہ عبداللہ بن حفص : مجھول و عطاء بن السائب : اختلط ، رواہ عنہ معمر ولہ شواھد ضعیفۃ عند الحاکم (2 / 617 ۔ 618) و احمد (4 / 170) وغیرھما

وعن يعلى بن مرة الثقفي قال ثلاثة اشياء رايتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا نحن نسير معه اذ مررنا ببعير يسنى عليه فلما راه البعير جرجر فوضع جرانه فوقف عليه النبي صلى الله عليه وسلم فقال اين صاحب هذا البعير فجاءه فقال بعنيه فقال بل نهبه لك يا رسول الله وانه لاهل بيت ما لهم معيشة غيره قال اما اذ ذكرت هذا من امره فانه شكا كثرة العمل وقلة العلف فاحسنوا اليه قال ثم سرنا فنزلنا منزلا فنام النبي صلى الله عليه وسلم فجاءت شجرة تشق الارض حتى غشيته ثم رجعت الى مكانها فلما استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكرت له فقال هي شجرة استاذنت ربها عز وجل ان تسلم على رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذن لها قال ثم سرنا فمررنا بماء فاتته امراة بابن لها به جنة فاخذ النبي صلى الله عليه وسلم بمنخره فقال اخرج اني محمد رسول الله قال ثم سرنا فلما رجعنا من سفرنا مررنا بذلك الماء فسالها عن الصبي فقالت والذي بعثك بالحق ما راينا منه ريبا بعدك. رواه في شرح السنة اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 295 ۔ 296 ح 3718) [و احمد (4 / 173 ح 17708) * فیہ عبداللہ بن حفص : مجھول و عطاء بن الساىب : اختلط ، رواہ عنہ معمر ولہ شواھد ضعیفۃ عند الحاکم (2 / 617 ۔ 618) و احمد (4 / 170) وغیرھما

ব্যাখ্যা: (ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ) অর্থাৎ তিনটি মু'জিযাহ্।
(رَأَيْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ একই সফরে আমি রাসূল (সা.) থেকে তিনটি মু'জিযাহ্ লক্ষ্য করেছি।
(فَلَمَّا رَآهُ الْبَعِيرُ جَرْجَرَ) অর্থাৎ উটটি এমনভাবে আওয়াজ করল যে, তার গলা থেকে আওয়াজ বের হতে থাকল। যেমনটি উল্লেখ করেছেন কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ)।
গাছ তার জায়গা থেকে সরে নবী (সা.) -এর নিকটে এসে তাকে সালাম জানিয়ে তার নিজের জায়গায় ফেরত গেল। এটা নবী (সা.)-এর বিরাট একটি মু'জিযাহ্ ছিল। যা দ্বারা আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছিলেন।
তারপর নবী (সা.) - মহিলার পাগল ছেলেটির নাকের ছিদ্র ধরে বললেন, তিনি হয়তো ঐ পাগল ছেলেকে অথবা তার ওপর যে জিন্ ভর করেছিল তাকে বললেন, আমি মুহাম্মাদ, অতএব তুমি বের হয়ে আসো। এরপর থেকে ছেলেটি সুস্থ হয়ে উঠেছিল। এটাও নবী (সা.) -এর একটি বিরাট মু'জিযাহ্ ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৩-[৫৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন একজন মহিলা তার একটি ছেলে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ ছেলেকে জিনে পেয়েছে। ফলে সকাল-সন্ধ্যা তা তাকে আক্রমণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ছেলেটির বুকের উপর হাত ফিরিয়ে দিয়ে দু’আ করলেন। তাতে ছেলেটির জোরে বমি হলো, তখন তার পেটের ভিতর হতে কালো একটি কুকুরের ছানার মতো বের হয়ে দৌড়ে গেল। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ بابنٍ لَهَا إِلى رَسُول اللَّهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يارسول اللَّهِ إِنَّ ابْنِي بِهِ جُنُونٌ وَأَنَّهُ لَيَأْخُذُهُ عِنْدَ غَدَائِنَا وَعَشَائِنَا (فَيَخْبُثُ عَلَيْنَا) فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرَهُ وَدَعَا فَثَعَّ ثَعَّةً وَخَرَجَ مِنْ جَوْفِهِ مِثْلُ الجرو الْأسود يسْعَى. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 11 ۔ 12 ح 19) * فیہ فرقد السبخی وھو ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال: ان امراة جاءت بابن لها الى رسول الله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يارسول الله ان ابني به جنون وانه لياخذه عند غداىنا وعشاىنا (فيخبث علينا) فمسح رسول الله رسول الله صلى الله عليه وسلم صدره ودعا فثع ثعة وخرج من جوفه مثل الجرو الاسود يسعى. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 11 ۔ 12 ح 19) * فیہ فرقد السبخی وھو ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: জনৈক মহিলা নবী (সা.) -এর নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ছেলের মাঝে পাগলামি আছে। আর সে এ পাগলামিতে আক্রান্ত হয় সকাল ও সন্ধ্যায়। এ কথা শুনে নবী (সা.) সে ছেলের পেটে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে ছেলেটি একবার বমি করল। ফলে তার পেট থেকে কালো কুকুরের বাচ্চার মতো একটি জন্তু বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৪-[৫৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) মক্কার কাফিরদের কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে এক স্থানে বসাছিলেন, এমন সময় জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি পছন্দ করেন যে, আমি আপনাকে একটি মু’জিযাহ্ দেখাব? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, দেখান। তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম ঐ গাছটির প্রতি তাকালেন যা নবী (সা.) - এর পিছনে ছিল। জিবরীল আলায়হিস সালাম নবী (সা.) -কে বললেন, আপনি ঐ বৃক্ষটিকে ডাক দেন। তিনি (সা.) তাকে ডাকলেন। তখন বৃক্ষটি এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল। অতঃপর জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, এবার তাকে নিজের স্থানে চলে যেতে বলুন। তখন তিনি (সা.) তাকে পূর্বের স্থানে যেতে নির্দেশ করলে তা সেখানে চলে গেল। তা দেখে নবী (সা.) বললেন, আমার (মানসিক প্রশান্তির জন্য এটাই যথেষ্ট, এটাই যথেষ্ট। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أنس بن مَالك قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالس حَزِين وَقد تخضب بِالدَّمِ من فعل أهل مَكَّة من قُرَيْش فَقَالَ جِبْرِيل يَا رَسُول الله هَل تحب أَن أريك آيَةً قَالَ نَعَمْ فَنَظَرَ إِلَى شَجَرَةٍ مِنْ وَرَائِهِ فَقَالَ ادْعُ بِهَا فَدَعَا بِهَا فَجَاءَتْ وَقَامَت بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ مُرْهَا فَلْتَرْجِعْ فَأَمَرَهَا فَرَجَعَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حسبي حسبي. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 12 ۔ 13 ح 23) [و ابن ماجہ (4028)] * فیہ الاعمش مدلس و عنعن

وعن انس بن مالك قال جاء جبريل الى النبي صلى الله عليه وسلم وهو جالس حزين وقد تخضب بالدم من فعل اهل مكة من قريش فقال جبريل يا رسول الله هل تحب ان اريك اية قال نعم فنظر الى شجرة من وراىه فقال ادع بها فدعا بها فجاءت وقامت بين يديه فقال مرها فلترجع فامرها فرجعت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حسبي حسبي. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 12 ۔ 13 ح 23) [و ابن ماجہ (4028)] * فیہ الاعمش مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: (جَالس حَزِين وَقد تخضب بِالدَّمِ) অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের দিন তার দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তিনি এ অবস্থায় ছিলেন।
(من فعل أهل مَكَّة) অর্থাৎ মক্কার কাফিরদের প্রহারের কারণে। আবদুর রাযযাক বলেন, মা'মার থেকে। তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর চেহারা মুবারকে উহুদের দিন সত্তরটি আঘাত করা হয়েছিল তরবারি দিয়ে। তবুও মহান আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছিলেন। বুখারীর হাশিয়ার মধ্যে সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন, তাকে আল্লাহ রক্ষা করেছিলেন কারণ মহান আল্লাহ বলেন- (وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ) “আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের থেকে রক্ষা করবেন”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫: ৬৭)। কিন্তু তার এ দাঁত ভাঙ্গার কারণ হলো তিনি যাতে অধিক প্রতিদান লাভ করতে পারেন। আর যে সকল মুমিন আল্লাহর দীনের জন্য খুবই কষ্ট স্বীকার করেছেন, তিনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আর তিনিও মুজাহিদদের কষ্টে শামিল হতে পারেন। এ কারণে যখন তাকে শত্রুরা আঘাত করেছিল তিনি আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
(يَا رَسُول الله هَل تحب أَن أريك آيَةً) অর্থাৎ- হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে একটি নিদর্শন দেখাব এটি কি আপনি পছন্দ করেন? অর্থাৎ আপনার নুবুওয়্যাতের নিদর্শন স্বরূপ যাতে আপনি আপনার কাজের (কষ্টের) কারণে মনে মনে প্রশান্তি পান। যাতে আপনি বুঝতে পারেন এটা কেবলমাত্র একটি কারণ আপনার কষ্টকে বাড়িয়ে দেয়ার। তথা আপনার কষ্ট বেশি হওয়ার কারণে আপনার মর্যাদাকেও বেশি করে দেয়া হয়েছে। আর আপনার সম্মানের স্থানও বেশি নিকটবর্তী করা হয়েছে। তখন নবী (সা.) নিদর্শন দেখতে চাইলেন। ফলে নবী (সা.) -এর পিছনে থাকা একটি গাছের দিকে জিবরীল আলায়হিস সালাম তাকিয়ে নবী (সা.) -কে বললেন, আপনি এ গাছটিকে আপনার নিকটে ডাকেন। ফলে নবী (সা.) তাকে ডাকলে গাছটি তার কাছে আসে। তারপর জিবরীল আলায়হিস সালাম নবী (সা.) -কে আবার বললেন, আপনি তাকে তার পূর্বের স্থানে ফিরে যেতে বলেন। নবী (সা.) তাকে তার জায়গায় ফিরে যেতে বললে গাছটি তার আগের জায়গায় ফিরে আসে। এ দেখে নবী (সা.) বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৫-[৫৮] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (সা.) -এর সাথে এক ভ্রমণে ছিলাম। এমন সময় এক বেদুঈন আসে। যখন সে কাছে আসলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, সত্যিকারার্থে আল্লাহ ছাড়া “ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য দ্বিতীয় কেউ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল?
বেদুঈন বলল, তুমি যা বললে আর কেউ কি এ কথার সাক্ষ্য দেয়? তিনি (সা.) বললেন, ঐ বাবলা গাছটি এ কথার সাক্ষ্য দিবে। এই বলে রাসূলুল্লাহ (সা.) গাছটিকে ডাকলেন। গাছটি ছিল উপত্যকার এক প্রান্তে। তা জমিনকে চিরে তাঁর সম্মুখে এসে দাঁড়াল। তখন তিনি গাছটি হতে তিনবার সাক্ষ্য চাইলেন। গাছটি অনুরূপভাবে তিনবার সাক্ষ্য প্রদান করল, যেরূপ তিনি (সা.) বলেছিলেন। অতঃপর গাছটি নিজের স্থানে চলে গেল। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَأَقْبَلَ أَعْرَابِي فَلَمَّا دنا مِنْهُ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولَهُ قَالَ وَمَنْ يَشْهَدُ عَلَى مَا تَقُولُ؟ قَالَ: «هَذِهِ السَّلَمَةُ» فَدَعَاهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَأَقْبَلَتْ تَخُدُّ الْأَرْضَ حَتَّى قَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ فَاسْتَشْهِدْهَا ثَلَاثًا فَشَهِدَتْ ثَلَاثًا أَنَّهُ كَمَا قَالَ ثُمَّ رجعتْ إِلى منبتِها. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 10 ح 16) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عمر قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فاقبل اعرابي فلما دنا منه قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم تشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له وان محمدا عبده ورسوله قال ومن يشهد على ما تقول؟ قال: «هذه السلمة» فدعاها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بشاطى الوادي فاقبلت تخد الارض حتى قامت بين يديه فاستشهدها ثلاثا فشهدت ثلاثا انه كما قال ثم رجعت الى منبتها. رواه الدارمي اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 10 ح 16) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ) আমরা কোন একটি সফরে নবী (সা.) -এর সাথে ছিলাম। অর্থাৎ কোন একটি যুদ্ধের সফরে অথবা ‘উমরার সফরে ছিলাম।
নবী (সা.) একজন বেদুইনকে দেখে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য প্রদান কর আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই, তিনি একক ও তার কোন অংশীদার নেই, আর আমি মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল? লোকটি তখন প্রশ্ন করল, আর কে আছে যে, তুমি ছাড়া এ সাক্ষ্য প্রদান করে? তখন নবী (সা.) একটি গাছের দিকে ইশারা করে গাছটিকে ডাকলেন। তখন উপত্যকার গাছটি এসে তার নিকটে দাঁড়াল। আর তিনবার সাক্ষ্য দিল। এরপর আবার তার আগের জায়গায় ফিরে গেল। অতএব উক্ত ঘটনা দ্বারা নবী (সা.) -এর মু'জিযাহ্ পরিলক্ষিত হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৬-[৫৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, আমি কিভাবে বিশ্বাস করব যে, আপনি আল্লাহর নবী? তিনি (সা.) বললেন, যদি আমি খেজুরের ঐ খোসা (কান্দি বা ছড়া)-কে ডাকি এবং সে সাক্ষ্য দেয় যে, আমি আল্লাহর রাসূল! (তবে বিশ্বাস করবে?) তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ডাকলেন। এতে ঐ কান্দি খেজুরের গাছ হতে নিচে নেমে নবী (সা.) -এর সম্মুখে এসে পড়ল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, ফিরে যাও। তখন কান্দিটি ফিরে গেল। তা দেখে বেদুঈন মুসলিম হয়ে গেল। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: بِمَا أَعْرِفُ أَنَّكَ نَبِيٌّ؟ قَالَ: «إِنْ دَعَوْتَ هَذَا الْعِذْقَ مِنْ هَذِهِ النَّخْلَةِ يَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ» فَدَعَاهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَنْزِلُ مِنَ النَّخْلَةِ حَتَّى سَقَطَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «ارْجِعْ» فَعَادَ فَأَسْلَمَ الْأَعْرَابِيُّ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3628) * شریک مدلس و عنعن ولہ شواھد ضعیفۃ

وعن ابن عباس قال جاء اعرابي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: بما اعرف انك نبي؟ قال: «ان دعوت هذا العذق من هذه النخلة يشهد اني رسول الله» فدعاه رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل ينزل من النخلة حتى سقط الى النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: «ارجع» فعاد فاسلم الاعرابي. رواه الترمذي وصححه سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3628) * شریک مدلس و عنعن ولہ شواھد ضعیفۃ

ব্যাখ্যা: এক বেদুইন নবী (সা.) -এর নিকট এসে বলল, আপনি যে সত্য নবী তা আমরা কোন মু'জিযাহ্ দেখে চিনতে পারব? তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, যদি আমি এই খেজুরের কাঁদিকে ডাকি তাহলে সে খেজুরের গাছ থেকে নেমে এসে সাক্ষ্য দিবে যে, আমি আল্লাহর রাসূল। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি যদি তাকে আহ্বান করি তাহলে সে আমার কাছে এসে সাক্ষ্য প্রদান করবে। অতঃপর নবী (সা.) খেজুরের কাঁদিকে ডাকলে সে গাছ থেকে নেমে এসে নবী (সা.) -এর কাছে এসে সাক্ষ্য প্রদান করে। এ অবস্থা দেখে বেদুইন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৭-[৬০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন একটি বাঘ বকরির রাখালের নিকট এসে (বকরির) পাল হতে একটি বকরি ধরে নিয়ে গেল। এদিকে রাখাল তার অনুসন্ধানে বের হলো, শেষ পর্যন্ত সে বাঘের কবল হতে বকরিটিকে ছিনিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বাঘটি একটি টিলার উপর উঠল এবং লেজ গুটিয়ে বলতে লাগল, আমি খাদ্যের অনুসন্ধানে বের হয়েছিলাম, আর আল্লাহ তা’আলাও আমাকে রিযক দান করেছিলেন, অতঃপর (হে রাখাল!) তুমি আমার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছ। তা শুনে (রাখাল) লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর শপথ আজকের মতো এমন আশ্চর্যের ব্যাপার আমি আর কখনো দেখিনি। বাঘে (মানুষের ন্যায়) কথা বলছে। তখন বাঘটি বলে উঠল! এটা অপেক্ষা অধিকতর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এক লোক দু’টি পাথরের মাঝে খেজুর বাগানে অবস্থান করছে। সে তোমাদেরকে অতীতে যা হয়ে গেছে তা এবং পরবর্তীতে যা কিছু হবে তার সংবাদ দেয়। বর্ণনাকারী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেন, উক্ত (রাখাল) লোকটি ছিল ইয়াহুদী। সে নবী (সা.) -এর কাছে এসে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করে সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করল। তার কথা শুনে নবী (সা.) বললেন, লোকটি সত্য কথাই বলেছেন।
অতঃপর নবী (সা.) বললেন, এটা এবং এর মতো আরো অন্যান্য বহু নিদর্শন কিয়ামতের আগে সংঘটিত হবে। তিনি আরো বলেছেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, এমন একদিন আসবে, কোন লোক তার ঘর হতে বাইরে কোথাও যাবে এবং তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার (স্ত্রী) কি অপকর্ম করেছে, সে ফিরে আসতেই তার (পায়ের) জুতা ও (হাতের) লাঠি তাকে বলে দিবে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي هريرةَ قَالَ جَاءَ ذِئْبٌ إِلَى رَاعِي غَنَمٍ فَأَخَذَ مِنْهَا شَاةً فَطَلَبَهُ الرَّاعِي حَتَّى انْتَزَعَهَا مِنْهُ قَالَ فَصَعِدَ الذئبُ على تل فأقعى واستذفر فَقَالَ عَمَدت إِلَى رزق رزقنيه الله عز وَجل أخذتُه ثمَّ انتزعتَه مِنِّي فَقَالَ الرَّجُلُ تَاللَّهِ إِنْ رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ ذئبا يَتَكَلَّمُ فَقَالَ الذِّئْبُ أَعْجَبُ مِنْ هَذَا رَجُلٌ فِي النَّخَلَاتِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُخْبِرُكُمْ بِمَا مَضَى وَبِمَا هُوَ كَائِن بعدكم وَكَانَ الرجل يَهُودِيّا فجَاء الرجل إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأسلم وَخَبره فَصَدَّقَهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا أَمارَة من أَمَارَاتٌ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ قَدْ أَوْشَكَ الرَّجُلُ أَن يخرج فَلَا يرجع حَتَّى تحدثه نعلاه وَسَوْطه مَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ

صحیح ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 87 ح 4282) [و احمد (2 / 306 ح 8049 و سندہ حسن)] * ولہ شاھد عند احمد (3 / 83 ۔ 84) و صححہ الحاکم (4 / 467 ۔ 468) و وافقہ الذھبی و اصلہ فی سنن الترمذی (2181 وھو حدیث صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال جاء ذىب الى راعي غنم فاخذ منها شاة فطلبه الراعي حتى انتزعها منه قال فصعد الذىب على تل فاقعى واستذفر فقال عمدت الى رزق رزقنيه الله عز وجل اخذته ثم انتزعته مني فقال الرجل تالله ان رايت كاليوم ذىبا يتكلم فقال الذىب اعجب من هذا رجل في النخلات بين الحرتين يخبركم بما مضى وبما هو كاىن بعدكم وكان الرجل يهوديا فجاء الرجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فاسلم وخبره فصدقه النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم انها امارة من امارات بين يدي الساعة قد اوشك الرجل ان يخرج فلا يرجع حتى تحدثه نعلاه وسوطه ما احدث اهله بعده . رواه في شرح السنة صحیح ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 87 ح 4282) [و احمد (2 / 306 ح 8049 و سندہ حسن)] * ولہ شاھد عند احمد (3 / 83 ۔ 84) و صححہ الحاکم (4 / 467 ۔ 468) و وافقہ الذھبی و اصلہ فی سنن الترمذی (2181 وھو حدیث صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: একটি বাঘ একটি রাখালের ছাগলের পালের কাছে এসে সেখান থেকে একটি ছাগলকে ধরল। তারপর ছাগলের পালের রাখাল বাঘের কাছ থেকে সে ছাগলকে ছাড়িয়ে নিল। তখন বাঘটি সেখান থেকে সরে গিয়ে একটি উঁচু টিলাতে উঠে নিতম্বের ওপর ভর করে দু’হাত বিছিয়ে বসে বলল, আল্লাহ আমার জন্য যে খাবার বৈধ করেছেন তা থেকে আমি ধরেছি। তারপর তুমি আমার থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিলে। তখন তার কথা শুনে রাখাল বলল। আল্লাহর শপথ, আজকের মতো এরূপ আশ্চর্যের ঘটনা কক্ষনো দেখিনি। তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সেই রাখালটির নাম ছিল হাব্বার ইবনু আওস আল খুযাই। আর তাকে বাঘের সাথে কথা-বার্তা বলা ব্যক্তি বলা হয়। লোকটি বাঘের কথা-বার্তা শুনে খুবই আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলল, আমি আজকের দিনের মতো কোন দিন দেখিনি। তাকে নবী (সা.) সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলে সে নবী (সা.) -এর কাছে আসলো। সে ছিল একজন ইয়াহুদী লোক। নবী (সা.) তাকে এ সংবাদ সত্যায়ন করলে সে ইসলাম গ্রহণ করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৮-[৬১] আবূল আ’লা (রহিমাহুল্লাহ) সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা (সাহাবীগণ) নবী (সা.) -এর সাথে বড় একটি পাত্রে পালাক্রমে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত খানা খেতাম। অর্থাৎ দশজন খানা খেয়ে উঠে যেত এবং দশজন খেতে বসত। [আবূল আলা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,] আমরা সামুরাহ্ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম, কোথা হতে এ পাত্রে খাদ্য বৃদ্ধি পেত? সামুরাহ্ (রাঃ) বললেন, কি কারণে তুমি আশ্চর্য হচ্ছ? আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, সে খাদ্য-পাত্রে এখান হতে বৃদ্ধি পেত। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَتَدَاوَلُ مِنْ قَصْعَةٍ مِنْ غُدْوَةٍ حَتَّى اللَّيْلِ يَقُومُ عَشَرَةٌ وَيَقْعُدُ عَشَرَةٌ قُلْنَا: فَمِمَّا كَانَتْ تُمَدُّ؟ قَالَ: مِنْ أَيْ شَيْءٍ تَعْجَبُ؟ مَا كَانَت تمَدّ إِلا من هَهنا وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى السَّمَاءِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3625 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (1 / 30 ح 57) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي العلاء عن سمرة بن جندب قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم نتداول من قصعة من غدوة حتى الليل يقوم عشرة ويقعد عشرة قلنا: فمما كانت تمد؟ قال: من اي شيء تعجب؟ ما كانت تمد الا من ههنا واشار بيده الى السماء . رواه الترمذي والدارمي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3625 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (1 / 30 ح 57) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আমরা নবী (সা.) -এর সাথে একটি বড় পাত্র থেকে খাবার খাচ্ছিলাম। আমাদের হাত এখানে ওখানে ঘুরছিল। আমরা সে পাত্র থেকে সকাল থেকে খাওয়া শুরু করলাম। এ খাবার রাত পর্যন্ত চলতে থাকল। পাত্রে দশজন দশজন করে বসতে ছিল। তাদের খাওয়া শেষ হলে বাকি দশজন বসল। আমরা বর্ণনাকারী সামুরাহ (রাঃ)-কে বললাম, পাত্রে খাদ্য বেশি হচ্ছিল কিভাবে? এ কথা তিনি এক পর্যায়ে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলেছিলেন। প্রশ্নকারী আবূল আলা যিনি তাবিঈদের নেতা ছিলেন তাকে বর্ণনাকারী সামুরাহ্ (রাঃ) বলেন, তুমি আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ কেন? তিনি তার হাতকে আসমানের দিকে উঁচু করে ইঙ্গিত করলেন, এ বরকত আসমান থেকে আসে। আসমান থেকে বরকত নাযিলের কারণে এত অধিক পরিমাণ খাবার হয়েছে। এ দিকে ইঙ্গিত রয়েছে মহান আল্লাহর বাণীর মধ্যে। তা হলো- (وَ فِی السَّمَآءِ رِزۡقُکُمۡ وَ مَا تُوۡعَدُوۡنَ) “আর তোমাদের রিযক আসমানে আছে”- (সূরাহ্ আহ্ যা-রিয়া-ত ৫১ : ২২)। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথা বলেছেন, সামুরাহ্ (রাঃ) আর প্রশ্নকারী হলো আবূল ‘আলা। এটাই বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯২৯-[৬২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। বদর যুদ্ধে নবী (সা.) তিনশত পনেরো জনকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং এভাবে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! এরা খালি পা, অতএব এদেরকে বাহন দান কর। হে আল্লাহ! এরা বস্ত্রহীন, এদেরকে পোশাক দান কর। হে আল্লাহ! এরা ক্ষুধার্ত, এদেরকে পরিতৃপ্ত খাদ্য দান কর। অতএব আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে (মুসলিমদেরকে) বিজয়ী করলেন। ফলে তাঁরা এমন অবস্থায় ফিরলেন যে, তাঁদের প্রত্যেক লোকের সাথে একটি অথবা দু’টি উট ছিল এবং তারা পোশাক পরিহিত এবং খাদ্যে পরিতৃপ্ত। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمَ بَدْرٍ فِي ثَلَاثِمِائَةٍ وَخَمْسَةَ عَشَرَ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ حُفَاةٌ فَاحْمِلْهُمْ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ عُرَاةٌ فَاكْسُهُمْ اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ جِيَاعٌ فَأَشْبِعْهُمْ» فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُ فَانْقَلَبُوا وَمَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلَّا وَقَدْ رَجَعَ بِجَمَلٍ أَوْ جَمَلَيْنِ وَاكْتَسَوْا وَشَبِعُوا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2747) ۔
(حسن)

وعن عبد الله بن عمرو ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج يوم بدر في ثلاثماىة وخمسة عشر قال: «اللهم انهم حفاة فاحملهم اللهم انهم عراة فاكسهم اللهم انهم جياع فاشبعهم» ففتح الله له فانقلبوا وما منهم رجل الا وقد رجع بجمل او جملين واكتسوا وشبعوا. رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2747) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা: (اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ حُفَاةٌ) অর্থাৎ হে আল্লাহ। তারা খালি পায়ে। অর্থাৎ তাদের বেশির ভাগ লোক খালি পায়ে আছে তাদের পায়ে জুতা নেই।
(فَاحْمِلْهُمْ) অর্থাৎ তাদেরকে আপনি আরোহণের জন্য সাহায্য করেন। তথা আপনি তাদের প্রত্যেককেই আলাদা আলাদা বাহন দান করুন।
(اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ عُرَاةٌ) অর্থ হে আল্লাহ। নিশ্চয় তারা উলঙ্গ। অর্থাৎ লুঙ্গি ছাড়া তাদের আর কোন কিছু পরিধানের নেই। অতএব আপনি তাদেরকে পরিধানের কাপড় দিন। আর তাদেরকে সৌন্দর্যের পোশাক দান করুন।
(اللَّهُمَّ إِنَّهُمْ جِيَاعٌ فَأَشْبِعْهُمْ) অর্থাৎ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তাদেরকে শক্তিশালী কর যাতে তারা আনুগত্যের প্রতি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
(فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُ) অর্থাৎ আল্লাহ তার নবীকে সাহায্য করেছেন মক্কার মুশরিকদের ও কুরায়শদের সৈন্য ও তাদের বড়দের ওপর। এমনকি তাদের সত্তরজনকে নিহত করা হয় আর সত্তর জনকে বন্দি করা হয়।
(وَمَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلَّا وَقَدْ رَجَعَ بِجَمَلٍ أَوْ جَمَلَيْنِ وَاكْتَسَوْا وَشَبِعُوا) অর্থাৎ তাদের শত্রুদের গনীমাত থেকে। আল্লাহ সত্য কথাই বলেছেন
(فَعَسٰۤی اَنۡ تَکۡرَهُوۡا شَیۡئًا وَّ یَجۡعَلَ اللّٰهُ فِیۡهِ خَیۡرًا کَثِیۡرًا)- “সম্ভবত তোমরা কোন জিনিসকে অপছন্দ কর আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রেখে দিয়েছেন”- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৯)। যেমন তাদের একদল সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ সংবাদ দিয়েছেন- (وَ اِنَّ فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ لَکٰرِهُوۡنَ ۙ) “আর মু'মিনদের একটি দল তা অপছন্দ করেছিল”- (সূরাহ আল আনফাল ৮ : ৫)। একটি হাদীসে আছে, যাতে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয় তাতে ধৈর্যধারণ করা বেশি উত্তম। অতঃপর এটা হলো দুনিয়াবী পরিণতি আর আখিরাতে যা আছে উত্তম ও স্থায়ী- (আবূ দাউদ)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩০-[৬৩] ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: তোমাদেরকে (আল্লাহর পক্ষ হতে) সাহায্য করা হবে। তোমরা (শত্রুদের) অনেক সম্পদ লাভ করবে এবং তোমাদের জন্য (বহু শহর ও দেশ) বিজিত হবে। অতএব তোমাদের যে কেউ সেই সময়টি পাবে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে চলে, লোকেদেরকে ভালো কাজের দিকে ডাকে এবং মন্দকাজ হতে নিষেধ করে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قا ل: «إِنَّكُمْ مَنْصُورُونَ وَمُصِيبُونَ وَمَفْتُوحٌ لَكُمْ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَلْيَتَّقِ اللَّهَ وَلْيَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَلْيَنْهَ عَن الْمُنكر» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

صحیح ، رواہ ابوداؤد (5118 مختصرًا جدًا ولم یذکر ھذا اللفظ و سندہ صحیح) [و ابوداؤد الطیالسی (337) و الترمذی (2257)] ۔
(صَحِيح)

وعن ابن مسعود عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قا ل: «انكم منصورون ومصيبون ومفتوح لكم فمن ادرك ذلك منكم فليتق الله وليامر بالمعروف ولينه عن المنكر» . رواه ابو داود صحیح ، رواہ ابوداؤد (5118 مختصرا جدا ولم یذکر ھذا اللفظ و سندہ صحیح) [و ابوداؤد الطیالسی (337) و الترمذی (2257)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে এ ঘোষণার মাধ্যমে নবী (সা.) যেন ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে করে কোন ব্যক্তি বিজয় ও সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা হস্তগত হওয়ার সময় ও ধনসম্পদ করায়ত্তকালীন স্বীর অবস্থান ও উদ্দেশ্য হতে উদাসীন না হয় এবং গর্ব-অহংকার, অপব্যয়, আত্মপ্রদর্শন ও যুলম-অত্যাচারের নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করে আল্লাহর গযবের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়। মূলত এ ঘোষণার মাধ্যমে নবী (সা.) মুসলিমদেরকে কুরআন মাজীদের ঐ আয়াতের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাতে বলা হয়েছে-
(لَّذِیۡنَ اِنۡ مَّکَّنّٰهُمۡ فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَ اَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ نَهَوۡا) অর্থাৎ “যদি আমরা তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদান করি তাহলে তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত প্রদান করবে এবং ভালো কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে”- (সূরাহ্ হাজ্জ: ২২ : ৪১)। (মাযাহিরে হক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা)।
(فَلْيَتَّقِ اللَّهَ) অর্থাৎ মু'মিন ব্যক্তি যেন সকল কাজে আল্লাহকে ভয় করে, যাতে করে সে সফলতায় পরিপূর্ণ হতে পারে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩১-[৬৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি খায়বার এলাকায় এক ইয়াহূদী মহিলা বকরির মাংসের ভুনা মধ্যে বিষ মিশ্রিত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য হাদিয়্যাহ্ পেশ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তার বাহু হতে কিছু অংশ খেলেন এবং তাঁর কতিপয় সাহাবীও তাঁর সাথে খেলেন। অতঃপর (মাংস মুখে তুলেই) তিনি (সা.) সাহাবীগণকে বললেন, খাদ্য হতে তোমরা হাত গুটিয়ে নাও এবং উক্ত ইয়াহূদী মহিলাকে ডেকে পাঠালেন, (সে আসলে) তিনি (সা.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি বকরির এ মাংসে বিষ মিশ্রিত করেছ? সে বলল, আপনাকে কে বলেছে? তিনি (সা.) বললেন, আমার হাতের এই বাহুর মাংসই বলেছে। তখন মহিলাটি বলল, হ্যাঁ, আমি এতে বিষ মিশিয়েছি। আর তা এ উদ্দেশেই করেছি, যদি আপনি প্রকৃতই নবী হন, তাহলে তা (বিষ) আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি নবীই না হয়ে থাকেন, তাহলে তার থেকে আমরা শান্তি লাভ করব।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তাকে কোন প্রকারে শাস্তি দিলেন না। আর তার ঐ সমস্ত সাহাবীগণ মৃত্যুবরণ করলেন, যারা উক্ত বকরি হতে খেয়েছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) আর উক্ত মাংসের কিছু অংশ খাওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই কাঁধের মাঝখানে শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আনসারের বায়াযাহ্ গোত্রের আযাদকৃত গোলাম আবূ হিন্দ শিং ও চাকু দ্বারা নবী (সা.) - এর কাঁধে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। (আবূ দাউদ ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن جَابر بِأَن يَهُودِيَّةً مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ سَمَّتْ شَاةً مَصْلِيَّةً ثُمَّ أَهْدَتْهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الذِّرَاعَ فَأَكَلَ مِنْهَا وَأَكَلَ رَهْطٌ مِنْ أَصْحَابِهِ مَعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْفَعُوا أَيْدِيَكُمْ وَأَرْسَلَ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ فَدَعَاهَا فَقَالَ سممتِ هَذِهِ الشَّاةَ فَقَالَتْ مَنْ أَخْبَرَكَ قَالَ أَخْبَرَتْنِي هَذِه فِي يَدي للذِّراع قَالَت نعم قَالَت قلت إِن كَانَ نَبيا فَلَنْ يضرّهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَبِيًّا اسْتَرَحْنَا مِنْهُ فَعَفَا عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يُعَاقِبهَا وَتُوفِّي بعض أَصْحَابُهُ الَّذِينَ أَكَلُوا مِنَ الشَّاةِ وَاحْتَجَمَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى كَاهِلِهِ مِنْ أَجْلِ الَّذِي أَكَلَ مِنَ الشَّاةِ حَجَمَهُ أَبُو هِنْدٍ بِالْقَرْنِ وَالشَّفْرَةِ وَهُوَ مَوْلًى لِبَنِي بَيَاضَةَ مِنَ الْأَنْصَارِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4510) و الدارمی (1 / 33 ح 69) ۔ * الزھری عن جابر : منقطع ’’ لم یسمع منہ ‘‘ انظر تحفۃ الاشراف (2 / 356) ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر بان يهودية من اهل خيبر سمت شاة مصلية ثم اهدتها لرسول الله صلى الله عليه وسلم فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم الذراع فاكل منها واكل رهط من اصحابه معه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ارفعوا ايديكم وارسل الى اليهودية فدعاها فقال سممت هذه الشاة فقالت من اخبرك قال اخبرتني هذه في يدي للذراع قالت نعم قالت قلت ان كان نبيا فلن يضره وان لم يكن نبيا استرحنا منه فعفا عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يعاقبها وتوفي بعض اصحابه الذين اكلوا من الشاة واحتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم على كاهله من اجل الذي اكل من الشاة حجمه ابو هند بالقرن والشفرة وهو مولى لبني بياضة من الانصار. رواه ابو داود والدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4510) و الدارمی (1 / 33 ح 69) ۔ * الزھری عن جابر : منقطع ’’ لم یسمع منہ ‘‘ انظر تحفۃ الاشراف (2 / 356) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত ইয়াহূদী মহিলার নাম ছিল যায়নাব বিনতুল হারিস। সে ছিল মারহাব ইবনু আবূ মারহাব-এর ভাইয়ের মেয়ে এবং সালাম ইবনু মিশকাত-এর স্ত্রী। এই মহিলা কিছু লোকের মাধ্যমে জেনে নিয়েছিল যে, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট কোন অংশের গোশত সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল। সে অনুসারে সে তার গৃহপালিত একটি বকরি যাবাহ করল এবং তা উত্তমরূপে ভুনা করে তাতে মারাত্মক বিষ মিশ্রিত করল। হাত এবং সিনার অংশে সে বেশি করে বিষ মিশ্রিত করল, অতঃপর উক্ত গোশত এতে নবী (সা.) এবং সাহাবীদের সামনে উপস্থাপন করল যারা সে সময় রাসূল (সা.) -এর দরবারে উপস্থিত ছিল।
(وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَبِيًّا اسْتَرَحْنَا مِنْهُ فَعَفَا عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) আর যদি নবীই না হয়ে থাকেন, তাহলে তা দ্বারা আমরা শান্তি লাভ করব। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে ক্ষমা করে দিলেন। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সা.) তাকে হত্যার নির্দেশ দিলে তাকে হত্যা করা হয়। এ দু' বর্ণনার মধ্যে মতভেদ তৈরি হলো। উভয়ের মাঝে সমাধান হলো- রাসূল (সা.) তাকে প্রথমে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, তবে যখন সেই বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়ে বিশর ইবনুল বারা ইবনু মা'রূর মারা যায় তখন কিসাস স্বরূপ মহিলাকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। মাওয়াহিব’-এর মধ্যে এসেছে, বলা হয়ে থাকে যে, সে মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিল বিধায় তাকে হত্যা করা হয়নি। কতিপয় মুহাক্কিক বলেন, “তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন” অর্থাৎ প্রথমে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজের ক্ষেত্রে কোন প্রতিশোধ নেননি। তারপর যখন বিশর ইবনুল বারা' ইবনু মা'রূর মারা গেলেন তখন তাকে কিসাস স্বরূপ হত্যার নির্দেশ দেন। এটার সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন, অতঃপর বিশরকে হত্যার অপরাধে কিসাসস্বরূপ তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এ দাবীর পক্ষে একা নন, বরং সুলায়মান আত্ তায়মী তার “আল মাগাযী” কিতাবে এ বিষয়টিকে শক্তিশালী করেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(فَلَنْ يضرّهُ) অর্থ, তাহলে তা (বিষ) আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অর্থাৎ হয়তো এ কারণে যে, নবীগণের ওপর বিষ এরূপ প্রতিক্রিয়াশীল হয় না যে, তাদের জীবনই নিঃশেষ করে দিবে। অথবা এ ভিত্তিতে যে, ইসলামের প্রচার ও পূর্ণতার পূর্বে নবী (সা.) -এর মৃত্যর আশঙ্কাও করা যায় না। প্রথম সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ঐ বর্ণনা সংশয়ের কারণ হতে পারে যাতে বলা হয়েছে যে, নবী (সা.) -এর মৃত্যু ঐ বিষের প্রতিক্রিয়ার কারণে হয়েছে যা তাকে খায়বারের খাবারের মধ্যে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মুহাক্কিক ‘আলিমগণ লিখেছেন যে, এ বর্ণনা বিশুদ্ধ নয়, তাই সংশয়ের প্রশ্নই আসে না; বরং এক বর্ণনায় তো এরূপ এসেছে যে, কেউ একজন মৃত্যুশয্যায় প্রশ্ন করেছিল যে, আপনার মধ্যে কি খায়বারের বিষ প্রতিক্রিয়াশীল হয়েছে? জবাবে রাসূল (সা.) বলেন, আমার তাক্বদীরে যা লেখা আছে এবং আল্লাহ তা'আলা যা চান তা ছাড়া অন্য কোন কষ্ট আপতিত হতে পারে না। (মাযাহিরে হাক ৭ম খণ্ড, ১৫৭ পৃষ্ঠা)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩২-[৬৫] সাহল ইবনু হানযালিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। হুনায়নের যুদ্ধের দিন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে ভ্রমণে বের হলেন। ভ্রমণটি কিছুটা দীর্ঘ হলো, এমনকি সন্ধ্যা এসে গেল। এমন সময় একজন অশ্বারোহী এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক পাহাড়ের উপর উঠেছিলাম, তখন দেখতে পেলাম, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা সকলে এসে পড়েছে। তাদের সাথে তাদের মহিলাগণ, মালসম্পদ এবং সর্বপ্রকারের গবাদিপশু রয়েছে; আর তারা সকলে হুনায়ন এলাকায় একত্রিত হয়েছে।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) হালকা হেসে বললেন, ইনশা-আল্ল-হ! আগামীকাল এ সমস্ত জিনিস মুসলিমদের গনীমাতের সম্পদে পরিণত হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) - বললেন, আজ রাতে (তোমাদের) কে আমাদেরকে পাহারা দেবে? আনাস ইবনু আবূ মারসাদ আল গানবী (রাঃ) বললেন, আমিই হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আচ্ছা আরোহণ কর। তখন তিনি তাঁর অশ্বে আরোহণ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি এই পাহাড়ী রাস্তায় অগ্রসর হও, এমনকি এ পাহাড়ের উপরে পৌছে যাও। (বর্ণনকারী বলেন,) যখন ভোর হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাতের জন্য বের হলেন। দু’ রাক্আত সুন্নাত পড়ে প্রশ্ন করলেন, তোমরা তোমাদের অশ্বারোহীর আভাস পেয়েছ কি? তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আভাস পাইনি।
অতঃপর সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত আদায় করতে করতে আড় চোখে সেই গিরিপথের দিকে তাকাচ্ছিলেন। সালাত শেষ করেই তিনি (সা.) বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমাদের অশ্বারোহী এসে পৌছেছে। (বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বৃক্ষরাজির মাঝে পাহাড়ী পথে সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সামনে দাঁড়ালেন। অতঃপর বললেন, আমি রওয়ানা হয়ে ঐ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিলাম, যেখানে উঠার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ করেছিলেন। যখন আমি সকালে উপনীত হলাম, তখন আমি উভয় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এদিক-সেদিক দৃষ্টি দিলাম কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) সে অশ্বারোহীকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি রাতের বেলায় অবতরণ করেছিলে? তিনি বললেন, না। তবে শুধু সালাতের জন্য অথবা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, এরপর তুমি অন্য কোন প্রকারের (নফল) ’আমল না করলেও তোমার কোন ক্ষতি হবে না। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن سهل ابْن الْحَنْظَلِيَّةِ أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَأَطْنَبُوا السَّيْرَ حَتَّى كَانَت عَشِيَّةً فَجَاءَ فَارِسٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي طَلِعْتُ عَلَى جَبَلِ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا أَنَا بِهَوَازِنَ عَلَى بَكْرَةِ أَبِيهِمْ بِظُعُنِهِمْ وَنَعَمِهِمُ اجْتَمَعُوا إِلَى حُنَيْنٍ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ تِلْكَ غَنِيمَةٌ الْمُسْلِمِينَ غَدا إِن شَاءَ الله ثمَّ قَالَ مَنْ يَحْرُسُنَا اللَّيْلَةَ قَالَ أَنَسُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيُّ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ارْكَبْ فَرَكِبَ فَرَسًا لَهُ فَقَالَ: «اسْتَقْبِلْ هَذَا الشِّعْبَ حَتَّى تَكُونَ فِي أَعْلَاهُ» . فَلَمَّا أَصْبَحْنَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مُصَلَّاهُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ هَلْ حسستم فارسكم قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَسِسْنَا فَثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ حَتَّى إِذَا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ أَبْشِرُوا فَقَدْ جَاءَ فَارِسُكُمْ فَجَعَلْنَا نَنْظُرُ إِلَى خِلَالِ الشَّجَرِ فِي الشِّعْبِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسلم فَقَالَ إِنِّي انْطَلَقْتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَى هَذَا الشِّعْبِ حَيْثُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَصبَحت اطَّلَعت الشِّعْبَيْنِ كِلَيْهِمَا فَلَمْ أَرَ أَحَدًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَزَلْتَ اللَّيْلَةَ قَالَ لَا إِلَّا مُصَلِّيَا أَوْ قَاضِيَ حَاجَةٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَلَا عَلَيْكَ أَنْ لَا تَعْمَلَ بعدَها» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2501) ۔
(صَحِيح)

وعن سهل ابن الحنظلية انهم ساروا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين فاطنبوا السير حتى كانت عشية فجاء فارس فقال يا رسول الله اني طلعت على جبل كذا وكذا فاذا انا بهوازن على بكرة ابيهم بظعنهم ونعمهم اجتمعوا الى حنين فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال تلك غنيمة المسلمين غدا ان شاء الله ثم قال من يحرسنا الليلة قال انس بن ابي مرثد الغنوي انا يا رسول الله قال اركب فركب فرسا له فقال: «استقبل هذا الشعب حتى تكون في اعلاه» . فلما اصبحنا خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم الى مصلاه فركع ركعتين ثم قال هل حسستم فارسكم قالوا يا رسول الله ما حسسنا فثوب بالصلاة فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وهو يلتفت الى الشعب حتى اذا قضى الصلاة قال ابشروا فقد جاء فارسكم فجعلنا ننظر الى خلال الشجر في الشعب فاذا هو قد جاء حتى وقف على رسول الله صلى الله عليه وسلم فسلم فقال اني انطلقت حتى كنت في اعلى هذا الشعب حيث امرني رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما اصبحت اطلعت الشعبين كليهما فلم ار احدا فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم هل نزلت الليلة قال لا الا مصليا او قاضي حاجة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فلا عليك ان لا تعمل بعدها» . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2501) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (عَلَى بَكْرَةِ أَبِيهِمْ) অর্থাৎ স্বীয় পিতার উটের উপর। অর্থাৎ- সকলেই একত্রিত হয়ে। কথিত আছে যে এক ব্যক্তি তাঁর সকল ছেলে-মেয়েকে একটি উটের উপরে বহন করত। এটি আরবদের একটি প্রবাদ বাক্য। এর দ্বারা তারা আধিক্য বুঝায়।
কাযী (রহিমাহুল্লাহ) লিখেছেন যে, (عَلَى بَكْرَةِ أَبِيهِمْ)-এর মধ্যকার (عَلَى) মূলত (مع) অর্থে হয়েছে। আর এ বাক্য প্রবাদ বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর এ প্রবাদ বাক্যের উৎস হলো, এক ‘আরব গোত্রের কিছু লোক কোন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে স্বীয় বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। অতএব ঐ সকল লোক এখান থেকে রওয়ানা হলো। যেহেতু তারা তাদের পিছনে কোন জিনিস ফেলে যেতে চাচ্ছিল না, তাই তারা এক একটি জিনিস নিজেদের সাথে নিয়ে নিল। এমনকি তাদের নিকট যে উট ছিল সেগুলোও সাথে নিয়ে নিল।
এ অবস্থা দেখে কিছু লোক বলল, (جاءواعلى بكرةأبيهم) অর্থাৎ এ সকল লোক (সব কিছু নিয়ে) এসেছে এমনকি স্বীয় পিতার উটও নিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে এ বাক্য এমন লোকদের ক্ষেত্রে প্রবাদ বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে লাগল যারা নিজেদের সাথে তাদের সকল মাল-সামানা ও সকল লোক সহকারে আগমন করে এমতাবস্থায় তাদের সাথে কখনো উট থাকত আবার কখনো থাকত না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(أَنْ لَا تَعْمَلَ بعدَها) অর্থ- ঐ রাতের পর তুমি অন্য কোন ‘আমল না করলেও... অর্থাৎ অন্য কোন নফল ও ফাযীলাতের কাজ না করতে পারলেও আজ রাতে তুমি যে গুণের কাজ করেছ তা তোমার মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। ইবনুল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে রাসূল (সা.) -এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ আছে যে, আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তবে এতে সন্দেহের অবকাশ আছে।
‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ এই রাতের পর তুমি যদি কোন অতিরিক্ত কল্যাণকর কাজ নাও কর তবে তোমার কোন সমস্যা হবে না। কারণ এই রাতের ‘আমল তোমার জন্য সাওয়াব ও ফাযীলাতের দিক দিয়ে যথেষ্ট। তিনি এখানে নফল ও সাওয়াবের কথা বলেছেন, ফরযের কথা বলেননি। কারণ ফরয কাজ বান্দার থেকে কম করা হয় না। এটারও সম্ভাবনা আছে যে, উক্ত ঘোষণার মধ্যে আমল দ্বারা জিহাদ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তুমি আজকের রাত্রিতে আল্লাহর রাস্তায় আমাদের পাহারাদারির দায়িত্ব যেভাবে পরিশ্রম, বীরত্ব ও আন্তরিকতার সাথে পালন করেছ এরপর যদি তুমি জিহাদে শরীক নাও হও তবুও তোমাকে এ ব্যাপারে কোন ধরপাকড় করা হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৩-[৬৬] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি অল্প কয়েকটি খেজুর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন এগুলোর মাঝে বরকত হয়। তখন তিনি (সা.) খেজুরগুলো হাতে নিলেন। অতঃপর সেগুলোর মাঝে আমার জন্য বরকতের দু’আ করলেন। তারপর বললেন, এগুলো নিয়ে যাও এবং তোমার খাদ্য-থলির মাঝে রেখে দাও। যখনই তুমি থলি হতে কিছু নিতে চাবে, তখনই তার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে নেবে। তবে কখনো থলিটিকে ঝেড়ে খালি করবে না।
[আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন,] আমি সে খেজুর হতে এত এত ’ওয়াসাক’ পরিমাণ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছি। এতদ্ভিন্ন তা হতে আমরা নিজেরাও খেয়েছি এবং অন্যান্যকেও খাওয়েছি। আর উক্ত থলিটি কখনো আমার কোমর হতে আলাদা হত না। পরিশেষে ’উসমান (রাঃ)-এর শাহাদাতের দিন সেই থলিটি কোথাও খুলে পড়ে যায়। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَمَرَاتٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ فِيهِنَّ بِالْبَرَكَةِ فَضَمَّهُنَّ ثُمَّ دَعَا لي فِيهِنَّ بِالْبركَةِ فَقَالَ خذهن واجعلهن فِي مِزْوَدِكَ كُلَّمَا أَرَدْتَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا فَأَدْخِلْ فِيهِ يَدَكَ فَخُذْهُ وَلَا تَنْثُرْهُ نَثْرًا فَقَدْ حَمَلْتُ مِنْ ذَلِكَ التَّمْرِ كَذَا وَكَذَا مِنْ وَسْقٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَكُنَّا نَأْكُلُ مِنْهُ وَنُطْعِمُ وَكَانَ لَا يُفَارِقُ حَقْوِي حَتَّى كَانَ يَوْمُ قَتْلِ عُثْمَانَ فَإِنَّهُ انْقَطَعَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3839 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم بتمرات فقلت يا رسول الله ادع الله فيهن بالبركة فضمهن ثم دعا لي فيهن بالبركة فقال خذهن واجعلهن في مزودك كلما اردت ان تاخذ منه شيىا فادخل فيه يدك فخذه ولا تنثره نثرا فقد حملت من ذلك التمر كذا وكذا من وسق في سبيل الله فكنا ناكل منه ونطعم وكان لا يفارق حقوي حتى كان يوم قتل عثمان فانه انقطع. رواه الترمذي اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (3839 وقال : حسن غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটির শেষ বাক্য দ্বারা জানা যায় যে, যখন ফিতনাহ্ ছড়িয়ে পড়ে তখন বরকত উঠে যায়। আর মনের দুঃখে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলতেন, (للناس هم ولي همان بينهم هم  الجر اب وهم الشيخ عثبانا) অর্থাৎ মানুষের জন্য একটি দুঃখ, কিন্তু আমার দুঃখ দু'টি- একটি হলো আমার থলি হারানো আর দ্বিতীয়টি হলো মহামান্য খলীফাহ্ ‘উসমান (রাঃ)-কে হারানো। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক ৭ম খণ্ড, ১৬১ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৪-[৬৭] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাত্রির বেলায় কুরায়শগণ মক্কায় পরামর্শ করল যে, সকাল হতেই তারা নবী (সা.)-কে রশি দ্বারা শক্ত করে বেঁধে ফেলবে। আবার কেউ বলল, বরং তাকে হত্যা করে ফেল। অন্য আরেকজন বলল, বরং তাকে দেশ হতে তাড়িয়ে দাও। আর এদিকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (সা.) -কে কাফিরদের ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দেন। অতঃপর আলী (রাঃ) নবী (সা.) -এর বিছানায় সেই রাত্রি যাপন করলেন এবং নবী (সা.) মক্কাহ্ হয়ে পর্বতের গুহায় গিয়ে আত্মগোপন করলেন, কিন্তু নবী (সা.) এ স্বীয় বিছানায় শুয়ে আছেন ধারণা করে সারাটি রাত্র মুশরিকরা ’আলী (রাঃ) -কে পাহারা দিতে থাকল। ভোর হতেই তারা নবী (সা.) -এর হুজরার উপর আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হলো। যখন তারা নবী (সা.)-এর স্থানে ’আলী (রাঃ)-কে দেখতে পেল, তখন (বুঝতে পারল যে,) তাদের ষড়যন্ত্র আল্লাহ তা’আলা প্রতিহত করে দিয়েছেন। অতঃপর তারা ’আলী (রাঃ) -কে প্রশ্ন করল, তোমার এই বন্ধু [নবী (সা.)] কোথায়? ’আলী (রাঃ) বললেন, আমি জানি না। তখন তারা নবী (সা.) -এর পদচিহ্ন অনুসরণ করে তার খোঁজে বের হয়ে পড়ল, কিন্তু উক্ত পর্বতের কাছে পৌঁছার পর পদচিহ্ন তাদের জন্য হজবরল ও সংশয়পূর্ণ হয়ে গেল। তবু তারা পাহাড়ের উপর উঠল এবং গুহার মুখে গিয়ে পৌছল। তারা দেখতে পেল, মাকড়সা গুহার দ্বারপথে জাল বুনে রেখেছে, তা দেখে তারা বলাবলি করল, যদি সে (মুহাম্মাদ) এ গুহার মাঝে প্রবেশ করত, তাহলে গুহার দ্বারে মাকড়সার জাল থাকত না। তারপর নবী (সা.) এ তিন রাত্র-দিবস তার ভিতরে অবস্থান করলেন। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن ابْن عبَّاس قَالَ تَشَاوَرَتْ قُرَيْشٌ لَيْلَةً بِمَكَّةَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا أَصْبَحَ فَأَثْبِتُوهُ بِالْوِثَاقِ يُرِيدُونَ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلِ اقْتُلُوهُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلْ أَخْرِجُوهُ فَأطلع الله عز وَجل نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ذَلِكَ فَبَاتَ عَليّ عَلَى فِرَاشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى لَحِقَ بِالْغَارِ وَبَاتَ الْمُشْرِكُونَ يَحْرُسُونَ عَلِيًّا يَحْسَبُونَهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَصْبحُوا ثَارُوا إِلَيْهِ فَلَمَّا رَأَوْا عَلِيًّا رَدَّ اللَّهُ مَكْرَهُمْ فَقَالُوا أَيْنَ صَاحِبُكَ هَذَا قَالَ لَا أَدْرِي فَاقْتَصُّوا أَثَرَهُ فَلَمَّا بَلَغُوا الْجَبَلَ اخْتَلَطَ عَلَيْهِمْ فَصَعِدُوا فِي الْجَبَلَ فَمَرُّوا بِالْغَارِ فَرَأَوْا عَلَى بَابِهِ نَسْجَ الْعَنْكَبُوتِ فَقَالُوا لَوْ دَخَلَ هَاهُنَا لَمْ يَكُنْ نَسْجُ الْعَنْكَبُوتِ عَلَى بَابِهِ فَمَكَثَ فِيهِ ثَلَاثَ لَيَال. رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 348 ح 3251) * فیہ عثمان الجزری بن عمرو بن ساج : فیہ ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال تشاورت قريش ليلة بمكة فقال بعضهم اذا اصبح فاثبتوه بالوثاق يريدون النبي صلى الله عليه وسلم وقال بعضهم بل اقتلوه وقال بعضهم بل اخرجوه فاطلع الله عز وجل نبيه صلى الله عليه وسلم على ذلك فبات علي على فراش النبي صلى الله عليه وسلم تلك الليلة وخرج النبي صلى الله عليه وسلم حتى لحق بالغار وبات المشركون يحرسون عليا يحسبونه النبي صلى الله عليه وسلم فلما اصبحوا ثاروا اليه فلما راوا عليا رد الله مكرهم فقالوا اين صاحبك هذا قال لا ادري فاقتصوا اثره فلما بلغوا الجبل اختلط عليهم فصعدوا في الجبل فمروا بالغار فراوا على بابه نسج العنكبوت فقالوا لو دخل هاهنا لم يكن نسج العنكبوت على بابه فمكث فيه ثلاث ليال. رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 348 ح 3251) * فیہ عثمان الجزری بن عمرو بن ساج : فیہ ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: কুরায়শ নেতারা নবী (সা.) -এর বিরূদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য দারুণ নাদওয়া-তে পরামর্শ সভায় মিলিত হয়েছিল। কথিত আছে যে, শয়তানও শায়খ নাজদীর আকৃতি ধারণ করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিল এবং সে-ই নবী (সা.)-কে হত্যা করার পরামর্শ দেয়। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, (وَ اِذۡ یَمۡکُرُ بِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِیُثۡبِتُوۡکَ اَوۡ یَقۡتُلُوۡکَ اَوۡ یُخۡرِجُوۡکَ) “আর সেই ঘটনাও স্মরণ যখন কাফিররা আপনাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করল যে, তারা আপনাকে বন্দি করে রাখবে অথবা আপনাকে নিহত করে রাখবে অথবা আপনাকে দেশান্তর করে দিবে”- (সূরা আল আনফাল ৮: ৩০)। হাদীসে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত আছে।
(فَرَأَوْا عَلَى بَابِهِ نَسْجَ الْعَنْكَبُوتِ) অর্থাৎ তারা যখন গুহার মধ্যে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল তখন তারা তার মুখে মাকড়সার বাসা দেখতে পেল। এটা দেখে তারা মন্তব্য করল যে, তারা যদি এখানে থাকত তবে এর দরজায় মাকড়সা জাল বাধলো কিভাবে? বলা হয়ে থাকে যে, যখন নবী (সা.) গুহার ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন আল্লাহ দুটি কবুতরকে পাঠিয়ে দেন। তারা তার নিচে ডিম পাড়ে। আর মাকড়সা সেখানে জাল তৈরি করে। বর্ণিত আছে, যে গর্তের উপরে উঠল, তারা যদি নিচের দিকে তাকাত তবে তাদেরকে দেখে ফেলত। এ দেখে আবূ বাকর (রাঃ) ভয় পেয়ে যান। তখন নবী (সা.) বলেন, হে আবূ বাকর! দু’জনের ব্যাপারে তোমার ধারণা কি, তৃতীয় জন হিসেবে তো আল্লাহ আছেন। আল্লাহ গুহা থেকে তাদের চোখকে অন্ধ করে দেন। ফলে তারা গুহার চারপাশে ঘুরতে লাগল কিন্তু তারা তাদেরকে দেখতে পেল না। অবশেষে তারা সেখান থেকে চলে গেল। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৮ম খণ্ড, হা. ৩০৬৪, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৫-[৬৮] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজয় হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে (ভাজা) বকরি হাদিয়্যাহূস্বরূপ পেশ করা হলো তাতে বিষ ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিলেন, এখানে যত ইয়াহুদী আছে, সকলকে আমার সামনে একত্রিত কর। তারা সকলে একত্রিত হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি তোমাদেরকে এক ব্যাপারে প্রশ্ন করব, তোমরা কি আমাকে এ ব্যাপারে সত্য উত্তর দেবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবূল কাসিম! অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, অমুক। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ; বরং তোমাদের পিতা তো অমুক। তখন তারা বলল, আপনি সত্যই বলেছেন এবং সঠিক বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবার বললেন, আমি তোমাদেরকে আরো একটি বিষয়ে যদি প্রশ্ন করি, সে বিষয়েও তোমরা কি আমাকে সত্য উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবূল কাসিম! কেননা যদি আমরা আপনাকে মিথ্যা কথা বলি, তাহলে আপনি তো জানতেই পারবেন যেমনটি জানতে পেরেছেন আমাদের পিতার বিষয়ে।
এবার রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা, জাহান্নামী কারা? উত্তরে তারা বলল, আমরা স্বল্প সময়ের জন্য জাহান্নামে যাব। অতঃপর আপনারা তাতে আমাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, দূর হও! তোমরাই সেখানে থাকবে। আল্লাহর শপথ! আমরা কখনো জাহান্নামে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে আরো একটি কথা প্রশ্ন করি, তাহলে তোমরা কি আমাকে সত্য উত্তর দেবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবূল কাসিম! এবার রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা বল দেখি! তোমরা কি এ বকরির মাংসে বিষ মিশিয়েছিলে? তারা (নির্দ্বিধায়) বলল, হ্যাঁ। নবী (সা.) প্রশ্ন করলেন, কিসে তোমাদেরকে এমন করতে উদ্বুদ্ধ করল? উত্তরে তারা বলল, আপনি যদি মিথ্যাবাদী হন, তাহলে আমরা আপনা হতে রেহাই পাব। আর আপনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তাহলে বিষ আপনার কোনই ক্ষতি করবে না। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ لَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرُ أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةٌ فِيهَا سُمٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اجْمَعُوا لي من كَانَ هَا هُنَا من الْيَهُود فَجمعُوا لَهُ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي سَائِلُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَهَلْ أَنْتُمْ صادقي عَنهُ فَقَالُوا نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَبُوكُمْ قَالُوا فلَان فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذبْتُمْ بل أبوكم فلَان فَقَالُوا صدقت وبررت قَالَ: «هَلْ أَنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنْهُ» قَالُوا نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ وَإِنْ كَذَبْنَاكَ عَرَفْتَ كَمَا عَرَفْتَهُ فِي أَبِينَا قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَهْلُ النَّارِ قَالُوا نَكُونُ فِيهَا يَسِيرًا ثمَّ تخلفوننا فِيهَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْسَئُوا فِيهَا وَاللَّهِ لَا نَخْلُفُكُمْ فِيهَا أبدا ثمَّ قَالَ لَهُم فَهَلْ أَنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنهُ قَالُوا نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ قَالَ: «هَلْ جَعَلْتُمْ فِي هَذِه الشَّاة سما» . قَالُوا نعم فَقَالَ مَا حملكم على ذَلِك فَقَالُوا أردنَا إِن كنت كذابا نستريح مِنْك وَإِن كنت نَبيا لم يَضرك. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3169) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة انه قال لما فتحت خيبر اهديت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة فيها سم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجمعوا لي من كان ها هنا من اليهود فجمعوا له فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم اني ساىلكم عن شيء فهل انتم صادقي عنه فقالوا نعم يا ابا القاسم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من ابوكم قالوا فلان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذبتم بل ابوكم فلان فقالوا صدقت وبررت قال: «هل انتم مصدقي عن شيء ان سالتكم عنه» قالوا نعم يا ابا القاسم وان كذبناك عرفت كما عرفته في ابينا قال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من اهل النار قالوا نكون فيها يسيرا ثم تخلفوننا فيها فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم اخسىوا فيها والله لا نخلفكم فيها ابدا ثم قال لهم فهل انتم مصدقي عن شيء ان سالتكم عنه قالوا نعم يا ابا القاسم قال: «هل جعلتم في هذه الشاة سما» . قالوا نعم فقال ما حملكم على ذلك فقالوا اردنا ان كنت كذابا نستريح منك وان كنت نبيا لم يضرك. رواه البخاري رواہ البخاری (3169) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (نَعَمْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ) “হ্যাঁ, হে আবূল কাসিম!" রাসূল (সা.) -কে সম্মোধন করার ইয়াহূদীদের একটি বিশেষ পদ্ধতি ছিল এটি। ঐ সকল হতভাগারা রাসূল (সা.) -কে মুহাম্মাদ নামে সম্বোধন করত না। কেননা এ বরকতময় নাম তাওরাত ও ইঞ্জীল কিতাবে সুপ্রসিদ্ধ ও উল্লেখিত ছিল। মুহাম্মাদ (সা.) যে সত্য নবী তার একটা সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল। অতএব পক্ষপাত ও শক্রতার ভিত্তিতে তাদের মনঃপুত হত না যে, তারা তাদের মুখে ঐ নামের প্রকাশ করবে, যা স্বয়ং তাদের আসমানী কিতাবসমূহের দৃষ্টিতে শেষ যামানার নবীর সত্যতার নিদর্শন ছিল। (মাযাহিরে হাক ৭ম খণ্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা)
(ثمَّ تخلفوننا فِيهَا) অর্থ- “অতঃপর আপনারা তাতে আমাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকবেন।” অর্থাৎ ইয়াহুদীরা মুসলিমদেরকে বলত যে, জান্নাতের আসল অধিকারী হচ্ছি আমরাই। যদি আমরা আমাদের কোন মন্দ ‘মলের কারণে জাহান্নামে যাই, তবে সেখানে অল্প কিছু দিনের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। যখন আমরা সেই শাস্তির সীমা শেষ করে সেখান থেকে বের হব তখন আমাদের স্থলাভিষিক্ত করে মুসলিমদেরকে সেখানে ফেলা হবে। যেখানে তোমরা মুসলিমরা সর্বদা বসবাস করবে। তাদের কথার প্রতি ইঙ্গিত করে আল কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে -
(قَالُوۡا لَنۡ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعۡدُوۡدٰتٍ) “তারা বলে (ইয়াহূদীরা) আমাদেরকে শুধুমাত্র কয়েকদিন জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে”- (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ২৪, সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ৮০)।
এটা যেন ঐ সকল ইয়াহুদীদের ‘আক্বীদাহ্ বিশাস ছিল যা বাস্তবিক অর্থে ভ্রান্তবিশ্বাস ও উদ্ভট ধারণা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা তাদের বিশ্বাস অনুসারে যে কথাকে তারা শুদ্ধ মনে করত এবং রাসূল (সা.) -এর প্রশ্নের যে উত্তর তাদের কাছে সঠিক ছিল তারা তা বর্ণনা করেছিল।
(لم يَضرك) “তাহলে এ বিষ আপনার কোনই ক্ষতি করবে না।” অর্থাৎ ইয়াহুদীদের উক্ত জবাবের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আমরা তো কেবল পরীক্ষামূলক বকরিতে বিষ মিশিয়ে ছিলাম যে, যদি আপনি আপনার নুবুওয়্যাতের দাবীতে মিথ্যাবাদী হন তবে এ বিষ মিশ্রিত বকরির গোশত খেয়ে ধ্বংস হয়ে যাবেন। আর তখন আমরা আপনার থেকে পরিত্রাণ পাব। আর যদি আপনি আপনার দাবীতে সত্যবাদী হন তবে এ বিষ আপনাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তখন আমরা আপনাকে নবী হিসেবে মেনে নিব। এটা ইয়াহুদীদের বক্তব্য ছিল। আর তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক তার ধারণা এভাবে পাওয়া যায় যে, যখন বিষ নবী (সা.) - এর ওপর কোনভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হলো না, তখন তারা তাদের কথা অনুসারে রাসূল (সা.) -এর নবী হওয়া সত্য সাব্যস্ত হলো, কিন্তু তারা তার উপর ঈমান তো আনেইনি এবং ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুতা থেকেও ফিরে আসেনি। (মাযাহিরে হাক ৭ম খণ্ড, ১৬৭ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৬-[৬৯] ’আমর ইবনু আখত্বাব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে ফজরের সালাত আদায় করিয়ে মিম্বারে উঠে আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, এমনকি ভাষণে সিলসিলা একটানা যুহরের সময় অবধি চলতে থাকল। অতঃপর মিম্বার হতে তিনি নেমে যুহরের সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষ করে আবার মিম্বারে উঠে ভাষণ দিলেন, এমনকি ’আসরের সময় হয়ে গেল। তখন মিম্বার হতে নেমে আসরের সালাত আদায় করালেন। আসরের সালাত শেষ করে আবার মিম্বারে উঠে সূর্যাস্ত অবধি ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি সেই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদেরকে জানালেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু সংঘটিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের মধ্যে সেই লোকই সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী যে সেদিন কথাগুলো বেশি বেশি স্মরণ রেখেছে। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن عَمْرو بن أخطَب الْأنْصَارِيّ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا الْفجْر وَصعد الْمِنْبَرِ فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الظُّهْرُ فَنَزَلَ فَصَلَّى ثمَّ صعِد الْمِنْبَر فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الْعَصْرُ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَأَخْبَرَنَا بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَأَعْلَمُنَا أحفظنا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (25 / 2892)، (7267) ۔
(صَحِيح)

وعن عمرو بن اخطب الانصاري قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما الفجر وصعد المنبر فخطبنا حتى حضرت الظهر فنزل فصلى ثم صعد المنبر فخطبنا حتى حضرت العصر ثم نزل فصلى ثم صعد المنبر حتى غربت الشمس فاخبرنا بما هو كاىن الى يوم القيامة فاعلمنا احفظنا. رواه مسلم رواہ مسلم (25 / 2892)، (7267) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাসীসটির বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু আখত্বাব আল আনসারী (রাঃ) তাঁর উপনাম আবূ যায়দ। আর তিনি এ উপনামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি রাসূল (সা.) -এর সাথে সকল যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন এবং তাঁর সৌন্দর্যের জন্য দু'আ করেন। কথিত আছে যে, তিনি ১০০ বছরের বেশি জীবিত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার চেহারা খুব তরতাজা ছিল আর তার মাথা ও দাড়ির মাত্র কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

হাদীসে আলোচিত দিন আল্লাহর রাসূল (সা.) যুহর ও ‘আসর সালাতের বিরতি ছাড়া সমস্ত সময় ওয়ায ও নসীহাতের মধ্যে অতিবাহিত করেছেন। আর উক্ত দীর্ঘ সময় ওয়ায ও নাসীহাত চলাকালীন তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য সকল বিষয়াবলীর প্রতি ইঙ্গিত করেন। এটা নবী (সা.) -এর বড় একটি মু'জিযা ছিল। তিনি কিয়ামতের এত আগে সংঘটিতব্য সকল বিষয়ের কথা এত পূর্বে জানিয়ে দিয়েছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৭-[৭০] মা’ন ইবনু আবদুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমি মাসরূককে প্রশ্ন করলাম, জিনেরা যে রাত্রে মনোনিবেশ সহকারে কুরআন মাজীদ শুনেছিল, এ সংবাদটি নবী (সা.) -কে কে দিয়েছিল? তিনি বললেন, তোমরা পিতা অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ আমাকে বলেছেন যে, তাকে [নবী (সা.) -কে] একটি গাছ তাদের উপস্থিতির কথা জানিয়েছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ مَعْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ: سَأَلْتُ مَسْرُوقًا: مَنْ آذَنَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْجِنِّ لَيْلَةَ اسْتَمَعُوا الْقُرْآنَ؟ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُوكَ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ ابْن مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ: آذَنَتْ بِهِمْ شَجَرَةٌ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3859) و مسلم (153 / 450)، (1011) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن معن بن عبد الرحمن قال سمعت ابي قال: سالت مسروقا: من اذن النبي صلى الله عليه وسلم بالجن ليلة استمعوا القران؟ قال حدثني ابوك يعني عبد الله ابن مسعود انه قال: اذنت بهم شجرة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3859) و مسلم (153 / 450)، (1011) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (آذَنَتْ بِهِمْ شَجَرَةٌ) “একটি গাছ তাদের উপস্থিতির কথা তাঁকে [নবী (সা.)-কে] জানিয়েছিল। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা জড় বস্তুর মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা মর্তবা দান করেন। এর দলীল -
মহান আল্লাহ বলেন: (وَ اِنَّ مِنۡهَا لَمَا یَهۡبِطُ مِنۡ خَشۡیَۃِ اللّٰهِ) “আর তাদের মধ্য থেকে কত্থক আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ৭৪)। তিনি অন্যত্র বলেন- (.... وَ اِنۡ مِّنۡ شَیۡءٍ اِلَّا یُسَبِّحُ بِحَمۡدِهٖ وَ لٰکِنۡ لَّا تَفۡقَهُوۡنَ تَسۡبِیۡحَهُمۡ...)“...আর প্রত্যেকটা জিনিসই তার (আল্লাহর) প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে, কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বোঝ না...”- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ৪৪)। আর নবী (সা.) -এর বাণী, (عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنِّي لأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ أُبْعَثَ إِنِّي لأَعْرِفُهُ الآنَ) জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় আমি এখন মক্কার সেই পাথরকে চিনি যে আমি নবী হওয়ার আগেই আমাকে সালাম করত। [সহীহ: মুসলিম ২-(২২৭৭)]

আর সেই দুই গাছের ঘটনা যারা নবী (সা.) -এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার কাছে এসেছিল।
আবার খেজুর গাছের কাণ্ডের ক্রন্দনের সেই বিখ্যাত ঘটনা। আবার মূসা আলায়হিস সালাম-এর কাপড় নিয়ে পাথরের পালানোর সময়ের ঘটনা। (শারহুন নাবাবী হা, ৪৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৮-[৭১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা মক্কাহ্ এবং মদীনার মাঝামাঝি স্থানে ’উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম, তখন আমরা নতুন চাঁদ দেখতে চেষ্টা করি। আমি ছিলাম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন লোক। অতএব আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আর আমি ব্যতীত অন্য কেউই চাঁদ দেখতে পেয়েছে বলে দাবি করেনি। আমি ’উমার (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? কিন্তু তিনি তা দেখতে পাচ্ছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ’উমার (রাঃ) বললেন, শীঘ্রই আমি আমার বিছানায় শুয়ে শুয়ে তা দেখব। অতঃপর ’উমার (রাঃ) বদর যুদ্ধের ঘটনাবলী বর্ণনা করতে লাগলেন এবং বললেন, যুদ্ধের একদিন আগে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে ঐ সমস্ত স্থানগুলো দেখিয়ে দিলেন, যে যে স্থানে কাফিরদের লাশ পড়ে থাকবে। তিনি বললেন, ইনশা-আল্ল-হ আগামীকাল এ জায়গা অমুক (কাফির)-এর লাশ পড়বে। ইনশাআল্ল-হ আগামীকাল এ স্থানে অমুকের লাশ পড়বে। উমার (রাঃ) বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি তাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন; যে সকল স্থান রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট করেছিলেন, ঐ স্থান হতে একটুখানিও এদিক-সেদিক সরে পড়েনি।
(বর্ণনাকারী বলেন,) অতঃপর লাশগুলোকে একটি (অনাবাদ) কূপের মাঝে একটির উপর অপরটিকে নিক্ষেপ করা হলো এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) কূপটির কাছে এসে বললেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! হে অমুকের পুত্র অমুক! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমরা কি তা ঠিক ঠিক পেয়েছ? তবে আমার আল্লাহ আমাকে যা ওয়াদা দিয়েছেন, আমি অবশ্য তা ঠিক ঠিকভাবে পেয়েছি। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিভাবে এমন দেহসমূহের সাথে কথা বলছেন, যাদের মধ্যে কোন প্রাণ নেই। তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি, তোমরা তা তাদের চেয়ে বেশি শুনছ না, অবশ্য তারা আমার কথার কোন উত্তর দিতে সক্ষম নয়। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا مَعَ عُمَرَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَتَرَاءَيْنَا الْهِلَالَ وَكُنْتُ رَجُلًا حَدِيدَ الْبَصَرِ فَرَأَيْتُهُ وَلَيْسَ أَحَدٌ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَآهُ غَيْرِي قَالَ فجعلتُ أقولُ لعُمر أما ترَاهُ فَجعل لَا يَرَاهُ قَالَ يَقُولُ عُمَرُ سَأَرَاهُ وَأَنَا مُسْتَلْقٍ عَلَى فِرَاشِي ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُنَا عَنْ أَهْلِ بدر فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُرِينَا مَصَارِعَ أَهْلِ بَدْرٍ بِالْأَمْسِ يَقُولُ هَذَا مَصْرَعُ فُلَانٍ غَدًا إِنْ شَاءَ الله قَالَ فَقَالَ عمر فوالذي بَعثه بِالْحَقِّ مَا أخطئوا الْحُدُود الَّتِي حد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ فَجُعِلُوا فِي بِئْرٍ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ فَانْطَلَقَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى انْتَهَى إِلَيْهِمْ فَقَالَ يَا فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ وَيَا فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ حَقًّا فَإِنِّي قَدْ وَجَدْتُ مَا وَعَدَني الله حَقًا قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُكَلِّمُ أَجْسَادًا لَا أَرْوَاحَ فِيهَا قَالَ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ غَيْرَ أَنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَن يَردُّوا عليَّ شَيْئا . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (76 / 2873)، (7222) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال كنا مع عمر بين مكة والمدينة فتراءينا الهلال وكنت رجلا حديد البصر فرايته وليس احد يزعم انه راه غيري قال فجعلت اقول لعمر اما تراه فجعل لا يراه قال يقول عمر ساراه وانا مستلق على فراشي ثم انشا يحدثنا عن اهل بدر فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يرينا مصارع اهل بدر بالامس يقول هذا مصرع فلان غدا ان شاء الله قال فقال عمر فوالذي بعثه بالحق ما اخطىوا الحدود التي حد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فجعلوا في بىر بعضهم على بعض فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انتهى اليهم فقال يا فلان بن فلان ويا فلان بن فلان هل وجدتم ما وعدكم الله ورسوله حقا فاني قد وجدت ما وعدني الله حقا قال عمر يا رسول الله كيف تكلم اجسادا لا ارواح فيها قال ما انتم باسمع لما اقول منهم غير انهم لا يستطيعون ان يردوا علي شيىا . رواه مسلم رواہ مسلم (76 / 2873)، (7222) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (سَأَرَاهُ وَأَنَا مُسْتَلْقٍ عَلَى فِرَاشِي) “আমি অচিরেই আমার বিছানায় শুয়ে তা দেখব।” এ বাক্য দ্বারা মূলত ‘উমার (রাঃ) উক্ত চাঁদ দেখার জন্য অধিক চেষ্টা করার বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, যে সকল লোক নিজ চোখে চাঁদ দেখেছে তাদের সাক্ষ্যের উপর বর্ণনা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। অথবা আমাকে স্বচক্ষে নতুন চাঁদ দেখতেই হবে। তাই কিছুদিন পর অথবা আগামী দিন যখন চাঁদ বড় ও উজ্জ্বল হয়ে যাবে এবং সহজেই দৃষ্টিগোচর হবে তখন দেখে নেব। এখন যেহেতু চাঁদ দেখা যাচ্ছে না তখন তাকে দেখার জন্য অধিক চেষ্টা করার কোন দরকার নেই।  (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক)
(مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ غَيْرَ أَنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَن يَردُّوا عليَّ شَيْئا) “আমি তাদেরকে যা বলছি, তোমরা তা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না, অবশ্য তারা আমার কথার কোন জবাব দিতে সক্ষম নয়।” এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, সকল মৃত ব্যক্তি কী জীবিত ব্যক্তিদের কথা শুনতে পায়? উত্তর- এ মাস্আলাটি নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। তবে সঠিক কথা হলো- এ বিষয়ে সৌদী ফাতাওয়া বোর্ড “আল লাজনাহ্ আদ্ দায়িমাহ্ লিল বুহূস আল ‘ইলমিয়্যাহ্ ওয়াল ইফতা”-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্নকারী বলেন, আমি “আল হাউয়ী লিল ফাতাওয়া” ইমাম সুয়ূত্বী-এর লেখা কিতাবে পড়েছি যে, মৃত ব্যক্তি জীবিত মানুষের কথা শুনতে পায়, তাদের প্রশংসা ও তাদের কথা-বার্তা বুঝতে পারে, অনুরূপভাবে যারা তাদেরকে দেখতে যায় তারা তাদেরকে চিনতে পারে, আর মৃতরা ঘোরাঘুরি করতে পারে, এটা কি ঠিক? আর তিনি কতিপয় হাদীস ও আসারের উপর নির্ভর করেছেন। (আল হাউয়ী লিল ফাতাওয়া ২/১৬৯, ১৭০, ১৭১)।
উত্তর- মূল কথা হলো মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায় না, তবে যেসব জায়গায় শোনার কথা উল্লেখ আছে তা ব্যতীত। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সা.)কে সম্বোধন করে বলেছেন,
(فَاِنَّکَ لَا تُسۡمِعُ الۡمَوۡتٰی) “আর তুমি মৃত ব্যক্তিকে শোনাতে পারবে না”- (সূরা আর রূম ৩০ : ৫২)। তিনি অন্যত্র বলেন- (وَ مَاۤ اَنۡتَ بِمُسۡمِعٍ مَّنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ) “তুমি কবরবাসীকে শোনাতে পারবে না”- (সূরাহ আল ফাত্বির ৩৫ : ২২)। “আল লাজনাহ্ আদ্ দায়িমাহ লিল বুহুস আল ইলমিয়্যাহ্ ওয়াল ইফতা" ফাতাওয়া নং ৯২১৬।
‘আল্লামাহ্ আলুসী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীর “রূহুল মা'আনী”৬/৪৫৫-তে বলেন: এ বিষয়ে সূক্ষ্ম গবেষণার পরে সত্য কথা হলো মৃত ব্যক্তি একেবারেই শুনতে পায় না, তবে নবী (সা.) থেকে শোনার ব্যাপারে যা উল্লেখ হয়েছে সে জায়গাগুলো ছাড়া। এ মতটি পোষণ করেছেন অনেক বিদ্বান, যেমনটি বলেছেন হাফিয ইবনু রজব আল হাম্বলী। (গুগল পেজ, আল আলুকা আশ শারঈয়াহ, তারিখ ২৭/৩/২০১৪ ইং, প্রশ্নঃ --- )


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৩৯-[৭২] যায়দ ইবনু আরকাম-এর কন্যা উনায়সাহ্ (রাঃ) তাঁর পিতা যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, একবার যায়দ রোগাগ্রস্ত হয়ে পড়লে নবী (সা.) তাঁকে দেখাশুনা করতে আসলেন। তিনি (সা.) বললেন, এ রোগে তোমার অবস্থা কি হবে? যখন আমার মৃত্যুর পরও তুমি বেঁচে থাকবে এবং সে সময় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কাছে এর প্রতিদানের আশা করে ধৈর্যধারণ করব। নবী (সা.) বললেন, তবে তো তুমি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। উনায়সাহ (রাঃ) বলেন, নবী (সা.) - এর মৃত্যুর পর তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। আবার কিছুদিন পর আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أُنَيْسَةَ بِنْتِ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ عَنْ أَبِيهَا إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى زَيْدٍ يَعُودُهُ مِنْ مَرَضٍ كَانَ بِهِ قَالَ: «لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْ مَرَضِكَ بَأْسٌ وَلَكِنْ كَيْفَ لَكَ إِذَا عُمِّرْتَ بَعْدِي فَعَمِيتَ؟» قَالَ: أَحْتَسِبُ وَأَصْبِرُ. قَالَ: «إِذًا تَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَاب» . قَالَ: فَعَمِيَ بَعْدَ مَا مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم ثمَّ ردَّ اللَّهُ بَصَره ثمَّ مَاتَ

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 479) * فیہ ’’ نباتۃ عن حمادۃ عن انیسۃ بنت زید بن ارقم ‘‘ وھن مجھولات و من دونھن ینظر فیہ ۔
(ضَعِيف)

وعن انيسة بنت زيد بن ارقم عن ابيها ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل على زيد يعوده من مرض كان به قال: «ليس عليك من مرضك باس ولكن كيف لك اذا عمرت بعدي فعميت؟» قال: احتسب واصبر. قال: «اذا تدخل الجنة بغير حساب» . قال: فعمي بعد ما مات النبي صلى الله عليه وسلم ثم رد الله بصره ثم مات اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 479) * فیہ ’’ نباتۃ عن حمادۃ عن انیسۃ بنت زید بن ارقم ‘‘ وھن مجھولات و من دونھن ینظر فیہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: রাসূল (সা.) -এর উল্লেখিত ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। যে অসুখে রাসূল (সা.) এ যায়দ (রাঃ)-কে দেখতে গিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সুস্থ হয়ে যান। তারপর রাসূল (সা.) -এর মৃত্যুর পর তার দৃষ্টিশক্তি চলে যায়। তবে রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর সামনে তাঁর দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরে আসার কথা উল্লেখ করেননি; তার কারণ হয়তো রাসূল (সা.) -এর এ আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, দৃষ্টিশক্তি না থাকা অবস্থায় যায়দ ইবনু আরকম (রাঃ) ধৈর্যধারণ করে বেশি বেশি দুঃখকষ্ট সহ্য করবেন, যার ফলে তিনি অধিক প্রতিদান ও সাওয়াব লাভ করবেন। যদি তিনি পূর্ব থেকেই এ কথা জানতেন যে, তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার পর পুনরায় ফিরে আসবে তবে তিনি এত অধিক পরিমাণে দুঃখ ও কষ্ট ভোগ করতেন না
এবং তিনি পূর্ণ ধৈর্যধারণের ঐ মর্যাদাও অর্জন করতে পারতেন না যার কারণে তিনি আল্লাহ তা'আলার সাহায্য-সহযোগিতা অর্জন করেছেন। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৭০ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৪০-[৭৩] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক আমার ওপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়। রাসূল (সা.) -এর এই বাণী এ প্রসঙ্গে ছিল যে, একদিন তিনি এক লোককে পাঠালেন, সে সেখানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পক্ষ হতে মিথ্যা কথা বলল। তা জানতে পেরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ওপর বদূদু’আ করলেন। এরপর তাকে এমতাবস্থায় পাওয়া যায় যে, তার পেট ফাটা এবং মাটি তাকে গ্রহণ করেনি। [হাদীস দুটি ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) “দালায়িলুন্ নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من تَقول عَليّ مالم أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» . وَذَلِكَ أَنَّهُ بَعَثَ رَجُلًا فَكَذَبَ عَلَيْهِ فَدَعَا عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدَ مَيِّتًا وَقد انشقَّ بَطْنه وَلم تقبله الأَرْض. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 245) * فیہ الوازع بن نافع العقیلی : متروک ، وقولہ :’’ من تقول علی مالم اقل فلیتبوا مقعدہ من النار ‘‘ صحیح متواتر من طرق أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن اسامة بن زيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تقول علي مالم اقل فليتبوا مقعده من النار» . وذلك انه بعث رجلا فكذب عليه فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد ميتا وقد انشق بطنه ولم تقبله الارض. رواهما البيهقي في دلاىل النبوة اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 245) * فیہ الوازع بن نافع العقیلی : متروک ، وقولہ :’’ من تقول علی مالم اقل فلیتبوا مقعدہ من النار ‘‘ صحیح متواتر من طرق أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: হাদীসের শেষ বাক্যটি এ কথার নিদর্শন যে, ঐ ব্যক্তি চিরদিনের জন্য জাহান্নামী সাব্যস্ত হলো। এ হিসেবে এই বর্ণনা ঐ বক্তব্যের সহায়ক যার সারকথা হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূল (সা.) -এর দিকে কোন মিথ্যা কথা সম্পর্কিতকারী অর্থাৎ জাল হাদীস রচয়িতা কাফির হয়ে যায়। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৪১-[৭৪] জাবির (রাঃ) বলেন, একদিন এক লোক রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে খাদ্য চাইল। তিনি (সা.) তাকে অর্ধ ওয়াসাক পরিমাণ যব দিলেন। তা হতে সে লোক, তার স্ত্রী ও তাদের মেহমান সর্বদা খেতে থাকে। অবশেষে একদিন সে উক্ত যুবগুলো মেপে দেখল। ফলে তা নিঃশেষ হয়ে গেল। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে ঘটনাটি জানাল। তখন নবী (সা.) বললেন, তুমি যদি তা না মাপতে, তাহলে তোমরা তা হতে সর্বদা খেতে পারতে এবং (আমার দেয়া) যবগুলো আগের মতো থেকে যেত। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَن جابرٍ أنَّ رسولَ الله جَاءَهُ رَجُلٌ يَسْتَطْعِمُهُ فَأَطْعَمَهُ شَطْرَ وَسَقِ شَعِيرٍ فَمَا زَالَ الرَّجُلُ يَأْكُلُ مِنْهُ وَامْرَأَتُهُ وَضَيْفُهُمَا حَتَّى كَالَهُ فَفَنِيَ فَأَتَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَوْ لَمْ تَكِلْهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ ولقام لكم» رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (9 / 2281)، (5946) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر ان رسول الله جاءه رجل يستطعمه فاطعمه شطر وسق شعير فما زال الرجل ياكل منه وامراته وضيفهما حتى كاله ففني فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «لو لم تكله لاكلتم منه ولقام لكم» رواه مسلم رواہ مسلم (9 / 2281)، (5946) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে বরকতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কোন মানুষ আল্লাহর ওপর ভরসা করে কাজ করতে থাকলে তাতে বরকত দেয়া হয়। বিশেষ করে আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর দেয়া কোন জিনিসে যে বরকত হত তা এই হাদীসটি থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়। এ ব্যাপারে কিছু হাদীস লক্ষ্য করা যেতে পারে- সহীহ: বুখারী ৬৪৫১, ২১২৮, ১৪৩৩, সহীহ: মুসলিম ১০২৯, ১৮৫৬, ৬৮২, ২০৫৬, মুসনাদ আহমাদ ২৩৮৫৯। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৪২-[৭৫] ’আসিম ইবনু কুলায়ব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা হতে, তিনি (কুলায়ব) জনৈক আনসারী লোক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে এক লোকের জানাযায় গেলাম। পরে আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) কবরের কাছে উপস্থিত হয়ে কবর খননকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলছেন, (এর কবরকে) পায়ের দিকে ও মাথার দিকে আরো প্রশস্ত কর। অতঃপর তিনি (সা.) দাফন কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে আসলে মৃত লোকের (বিধবা) স্ত্রীর পক্ষ হতে এক লোক এসে নবী (সা.) -কে খাদ্যের দাওয়াত দিল। রাসূল (সা.) দাওয়াত গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমরাও খেতে গেলাম। তাঁর সামনে খাদ্য আনা হলে তিনি তাতে হাত রাখলেন, অতঃপর লোকেরাও হাত বাড়িয়ে খেতে শুরু করল। এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি মাংসের একটি গ্রাসকে মুখের ভিতরে রেখে নাড়াচাড়া করছেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, এমন একটি বকরির মাংস বলে আমি একে অনুভব করছি, যা তার মালিকের অনুমতি ছাড়াই আনা হয়েছে। তখন মহিলাটি [রাসূল (সা.) -এর সন্দেহ জানতে পেরে] একজন লোক পাঠিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বকরি ক্রয় করার জন্য আমি এক লোককে নাকী বাজারে পাঠিয়েছিলাম। তা এমন একটি স্থান, যেখানে ভেড়া, বকরি ও দুম্বা ইত্যাদি বিক্রয় হয়; কিন্তু সেখানে কোন ভেড়া-বকরি পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমার একজন প্রতিবেশীর কাছে পাঠালাম। সে নিজের জন্য একটি বকরি ক্রয় করেছিল। আমি এই বলে লোকটিকে পাঠিয়েছিলাম, সে যে দামে বকরিটি ক্রয় করেছে, ঠিক সেই দামেই বকরিটি যেন আমার জন্য পাঠিয়ে দেয়, কিন্তু সে ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমি তার স্ত্রীর কাছে লোক পাঠালাম। তখন তার স্ত্রী আমার জন্য বকরিটি পাঠিয়ে দিয়েছে (এটা সেই বকরিরই মাংস)। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, এ খাদ্যগুলো বন্দিদেরকে খাইয়ে দাও। (আবূ দাউদ ও বায়হাক্বী’র “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্")

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَعَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْقَبْرِ يُوصِي الْحَافِرَ يَقُولُ: «أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ» فَلَمَّا رَجَعَ اسْتَقْبَلَهُ دَاعِيَ امْرَأَتِهِ فَأَجَابَ وَنَحْنُ مَعَه وَجِيء بِالطَّعَامِ فَوَضَعَ يَدَهُ ثُمَّ وَضَعَ الْقَوْمُ فَأَكَلُوا فَنَظَرْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يلوك لقْمَة فِي فَمه ثُمَّ قَالَ أَجِدُ لَحْمَ شَاةٍ أُخِذَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ أَهْلِهَا فَأَرْسَلَتِ الْمَرْأَةُ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْسَلْتُ إِلَى النَّقِيعِ وَهُوَ مَوْضِعٌ يُبَاعُ فِيهِ الْغَنَمُ لِيُشْتَرَى لِي شَاةٌ فَلَمْ تُوجَدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى جَارٍ لِي قَدِ اشْتَرَى شَاة أَن أرسل إِلَيّ بهَا بِثَمَنِهَا فَلَمْ يُوجَدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ بِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْعِمِي هَذَا الطَّعَامَ الْأَسْرَى» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والْبَيْهَقِيُّ فِي دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (3332) [و عنہ] و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 310) * قولہ ’’ داعی امراتہ ‘‘ خطا من الناسخ اوغیرہ ، و الصواب :’’ داعی امراۃ ‘‘ کما فی سنن ابی داود وغیرہ ولو صح فمعناہ ’’ ای امراۃ الحافر ‘‘ و لا یدل ھذا اللفظ الی ما ذھب الیہ البریلویۃ و من و افقھم بان المراد منہ ’’ داعی امراۃ المیت ‘‘ و لم یاتو بای دلیل علی تحریفھم ھذا ! ۔
(صَحِيح)

وعن عاصم بن كليب عن ابيه عن رجل من الانصار قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على القبر يوصي الحافر يقول: «اوسع من قبل رجليه اوسع من قبل راسه» فلما رجع استقبله داعي امراته فاجاب ونحن معه وجيء بالطعام فوضع يده ثم وضع القوم فاكلوا فنظرنا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يلوك لقمة في فمه ثم قال اجد لحم شاة اخذت بغير اذن اهلها فارسلت المراة تقول يا رسول الله اني ارسلت الى النقيع وهو موضع يباع فيه الغنم ليشترى لي شاة فلم توجد فارسلت الى جار لي قد اشترى شاة ان ارسل الي بها بثمنها فلم يوجد فارسلت الى امراته فارسلت الي بها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اطعمي هذا الطعام الاسرى» رواه ابو داود والبيهقي في دلاىل النبوة اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (3332) [و عنہ] و البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 310) * قولہ ’’ داعی امراتہ ‘‘ خطا من الناسخ اوغیرہ ، و الصواب :’’ داعی امراۃ ‘‘ کما فی سنن ابی داود وغیرہ ولو صح فمعناہ ’’ ای امراۃ الحافر ‘‘ و لا یدل ھذا اللفظ الی ما ذھب الیہ البریلویۃ و من و افقھم بان المراد منہ ’’ داعی امراۃ المیت ‘‘ و لم یاتو بای دلیل علی تحریفھم ھذا ! ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَأَكَلُوا) অর্থ- তারা খেল, মিরকাতের ভাষ্যকার মুল্লা আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মৃতকে উপলক্ষ করে প্রস্তুতকৃত খাবারের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের যে সকল মতামত রয়েছে বাহ্যিক দৃষ্টিতে এ হাদীস তার বিপরীত। যেমন “আল বাযযারিয়্যাহ্” কিতাবে লেখা আছে, মৃতের উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে প্রথম দিন তথা মৃত্যুর দিন অথবা তৃতীয় দিন অথবা সপ্তম দিন খানা খাওয়ানো মাকরূহ। তদ্রুপ “আল খুলাসাহ” গ্রন্থে উল্লেখ আছে, তৃতীয় দিন খানার ব্যবস্থা করা এবং মানুষকে উক্ত খাবারের দিকে আহ্বান করা বৈধ নয়।
‘আল্লামাহ যায়লা'ঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনদিন পর্যন্ত শোক পালনের জন্য বসে থাকাতে কোন ক্ষতি নেই। তবে শর্ত হলো নিষিদ্ধ কোন বিষয় যেন সংঘটিত না হয়, যেমন- খাবার প্রস্তুত করা এবং দা'ওয়াত ও যিয়াফাতের ব্যবস্থা করা।
ইবনু হুমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনদের জন্য যিয়াফাতের ব্যবস্থা করা মাকরূহ। আর সকল ফক্বীহ তার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, যিয়াফাত খুশির ক্ষেত্রে বৈধ, শোকের ক্ষেত্রে বৈধ নয়। তিনি আরো বলেন, মৃত্যের জন্য যে খাবার খাওয়ানো হয় তা বিদআতে সায়্যিআহ্।  ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনু হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) সহীহ সনদে উল্লেখ করেছেন-
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَنْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ الِا جْتِمَاعَ إِلَى أَهْلِ الْمَيِّتِ وَصَنِيعَةَ الطَّعَامِ بَعْدَ دَفْنِهِ مِنَ النِّيَا حَةِ.
জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ) বলেন, দাফনের পর মৃতের ঘরে লোকজন একত্রিত হওয়া এবং মৃতের আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে খাবার পরিবেশনকে আমরা মৃতের জন্য বিলাপের অন্তর্ভুক্ত করতাম। (মুসনাদ আহমাদ ৬৯০৫)। (যা শরী'আতে কঠোরভাবে নিষেধ)।
কাযী খান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বিপদের দিন যিয়াফাত খাওয়ানো মাকরূহ। কেননা তা হলো দুঃখের দিন। অতএব ঐ দিনে এমন কাজ করা উচিত নয় যাতে আনন্দ প্রকাশ পায়। তবে যদি ফকীরদের খাবার ব্যবস্থা করা হয় তবে তা ভালো। মৃত্যুর পরে তিন দিন খাদ্য খাওয়ানোর ওয়াসিয়াত করা হলে তা বাত্বিল হবে। এটিই সঠিক মত।
(أَرْسَلْتُ إِلَى النَّقِيعِ) নাকী’ লেখা হয় নূন দিয়ে। আর এটা এমন একটা জায়গা যেখানে ছাগল বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ- এ বাক্যটি মূলত বাক্যের অংশ নয়; বরং কোন বর্ণনাকারী নাক্বী'-এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বর্ণনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল মুকদ্দিমাহ্ গ্রন্থে এসেছে আন নাক্বী হলো মদীনার পূর্ব দিকের একটি জায়গার নাম। আত্ তাহযীব গ্রন্থে এসেছে, নাকী মদীনাহ্ হতে ‘আক্বীক উপত্যকার দিকে প্রায় বিশ মাইল দূরত্বে অবস্থিত একটি জায়গার নাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।
(أَطْعِمِي هَذَا الطَّعَامَ الْأَسْرَى) “তুমি এ খাদ্যগুলো বন্দীদেরকে খাইয়ে দাও।” কারণ তারা ফকীর বা দরিদ্র লোক। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা ছিল কাফির। খাদ্য হালাল হওয়ার জন্য যখন ছাগলের মালিককে পাওয়া যায়নি, আর সে খাবার নষ্টের ভয়ও ছিল, তাই সে খাদ্য তাদেরকে খাওয়ানোর দরকার হয়ে পড়েছিল। ফলে তিনি তাদেরকে খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এটি নষ্ট করার কারণে তার উপর ছাগলের মূল্য দেয়া জরূরী ছিল। তাই এ খাবার খাওয়ানো তার থেকে সদাকাহ হলো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মু'জিযার বর্ণনা

৫৯৪৩-[৭৬] হিযাম ইবনু হিশাম তাঁর পিতার মাধ্যমে, তিনি তাঁর দাদা উম্মু মা’বাদ-এর ভাই হুবায়শ ইবনু খালিদ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কাহ্ হতে বহিস্কৃত হলেন, তখন তিনি মদীনার দিকে হিজরত করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস ’আমির ইবনু ফুহায়রাহ্ এবং পথপ্রদর্শক ’আবদুল্লাহ আল লায়সী। পথ অতিক্রমকালে তাঁরা উম্মু মা’বাদ (রাঃ) হতে মাংস এবং খেজুর ক্রয় করতে চাইলেন, কিন্তু তার কাছে এর কিছুই পাননি। মূলত সে সময় লোকেরা অনাহার ও দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত ছিল। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁবুর এক পার্শ্বের একটি বকরি দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন কররেন, হে উম্মু মা’বাদ! এ বকরিটির কি হয়েছে? সে বলল, এটা এতই দুর্বল যে, দলের বকরিগুলোর সাথে যাওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তিনি (সা.) প্রশ্ন করলেন, এতে কি দুধ আছে? উম্মু মা’বাদ (রাঃ) বলল, সে নিজেই বিপদগ্রস্তা; অতএব দুধ দেবে কিভাবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি আমাকে এ অনুমতি দেবে যে, আমি তার দুধ দোহন করি? উম্মু মা’বাদ (রাঃ) আগ্রহের সাথে বলল, আমার পিতামাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক! আপনি যদি তার স্তনে দুধ দেখতে পান, তাহলে তা দোহন করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বকরিটিকে কাছে আনলেন, তারপর বকরিটির স্তনে হাত বুলালেন এবং বিসমিল্লা-হ পড়ে উম্মু মা’বাদ-এর জন্য তার বকরির বিষয়ে (বরকতের) দুআ করলেন। তখন বকরিটি দোহনের জন্য নিজের রান দুটি প্রশস্ত করে রাসূল (সা.) -এর সামনে দাঁড়িয়ে জাবর কাটতে লাগল। এদিকে দুধ দোহনের জন্য নবী (সা.) - এত বড় একটি পাত্র চাইলেন, যা দ্বারা একদল লোক তুষ্টির সাথে পান করতে পারে। প্রবাহিত ঢলের মতো তিনি তাতে দুধ দোহন করলেন, এমনকি তার উপর ফেনাও জমে গেল। অতঃপর তিনি উম্মু মা’বাদ-কে পান করতে দিলেন। সে তুষ্ট হয়ে পান করল। পরে তিনি (সা.) সাথিদেরকে পান করালেন, তারাও পরিতৃপ্তি লাভ করলেন এবং সকলের শেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে পান করলেন।
এর কিছুক্ষণ পরেই রাসূলুল্লাহ (সা.) - দ্বিতীয়বার দোহন করলেন, এমনকি সেই পাত্রটি এবারও দুধে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি সেই দুধ উম্মু মা’বাদ-এর কাছে রেখে দিলেন। (যেন তার স্বামীও নবী (সা.) -এর মু’জিযাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে) এবং উম্মু মা’বাদ-এর তরফ হতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করে তাঁরা সামনের দিকে যাত্রা করলেন।
(শারহুস সুন্নাহ; আর ইবনু আবদুল বার ইস্তী’আব গ্রন্থে এবং ইবনু জাওযী আল-ওয়াফা কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং অত্র হাদীসটির মধ্যে আরো কিছু ঘটনা রয়েছে)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب فِي المعجزا)

وَقد يرقى إِلَى الْحسن بِتَعَدُّد طرقه) وَعَن حَازِم بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ حُبَيْشِ بن خَالِد - وَهُوَ أَخُو أمِّ مَعْبَد - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أُخْرِجَ مِنْ مَكَّةَ خَرَجَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ وَمَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ وَدَلِيلُهُمَا عَبْدُ اللَّهِ اللَّيْثِي مَرُّوا عَلَى خَيْمَتَيْ أُمِّ مَعْبَدٍ فَسَأَلُوهَا لَحْمًا وَتَمْرًا لِيَشْتَرُوا مِنْهَا فَلَمْ يُصِيبُوا عِنْدَهَا شَيْئًا من ذَلِك وَكَانَ الْقَوْمُ مُرْمِلِينَ مُسْنِتِينَ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شَاةٍ فِي كِسْرِ الْخَيْمَةِ فَقَالَ: «مَا هَذِهِ الشَّاةُ يَا أُمَّ معبد؟» قَالَتْ: شَاةٌ خَلَّفَهَا الْجَهْدُ عَنِ الْغَنَمِ. قَالَ: «هَلْ بِهَا مِنْ لَبَنٍ؟» قَالَتْ: هِيَ أَجْهَدُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «أَتَأْذَنِينَ لِي أَنْ أَحْلِبَهَا؟» قَالَتْ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي إِنْ رَأَيْتَ بِهَا حَلباً فاحلبها. فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَ بِيَدِهِ ضَرْعَهَا وَسَمَّى اللَّهَ تَعَالَى وَدَعَا لَهَا فِي شَاتِهَا فتفاجت عَلَيْهِ وَردت وَاجْتَرَّتْ فَدَعَا بِإِنَاءٍ يُرْبِضُ الرَّهْطَ فَحَلَبَ فِيهِ ثجَّاً حَتَّى علاهُ الْبَهَاءُ ثُمَّ سَقَاهَا حَتَّى رَوِيَتْ وَسَقَى أَصْحَابَهُ حَتَّى رَوُوا ثُمَّ شَرِبَ آخِرَهُمْ ثُمَّ حَلَبَ فِيهِ ثَانِيًا بَعْدَ بَدْءٍ حَتَّى مَلَأَ الْإِنَاءَ ثُمَّ غَادَرَهُ عِنْدَهَا وَبَايَعَهَا وَارْتَحَلُوا عَنْهَا. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي «الِاسْتِيعَابِ» وَابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كِتَابِ «الْوَفَاءِ» وَفِي الحَدِيث قصَّةٌ

حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 261 ح 3704) و ابن عبدالبر فی الاستیعاب (4 / 495 ۔ 498 مع الاصابۃ) [و صححہ الحاکم (3 / 9 ، 10 و وافقہ الذھبی] * و للحدیث شواھد

وقد يرقى الى الحسن بتعدد طرقه) وعن حازم بن هشام عن ابيه عن جده حبيش بن خالد - وهو اخو ام معبد - ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين اخرج من مكة خرج مهاجرا الى المدينة هو وابو بكر ومولى ابي بكر عامر بن فهيرة ودليلهما عبد الله الليثي مروا على خيمتي ام معبد فسالوها لحما وتمرا ليشتروا منها فلم يصيبوا عندها شيىا من ذلك وكان القوم مرملين مسنتين فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى شاة في كسر الخيمة فقال: «ما هذه الشاة يا ام معبد؟» قالت: شاة خلفها الجهد عن الغنم. قال: «هل بها من لبن؟» قالت: هي اجهد من ذلك. قال: «اتاذنين لي ان احلبها؟» قالت: بابي انت وامي ان رايت بها حلبا فاحلبها. فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم فمسح بيده ضرعها وسمى الله تعالى ودعا لها في شاتها فتفاجت عليه وردت واجترت فدعا باناء يربض الرهط فحلب فيه ثجا حتى علاه البهاء ثم سقاها حتى رويت وسقى اصحابه حتى رووا ثم شرب اخرهم ثم حلب فيه ثانيا بعد بدء حتى ملا الاناء ثم غادره عندها وبايعها وارتحلوا عنها. رواه في «شرح السنة» وابن عبد البر في «الاستيعاب» وابن الجوزي في كتاب «الوفاء» وفي الحديث قصة حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 261 ح 3704) و ابن عبدالبر فی الاستیعاب (4 / 495 ۔ 498 مع الاصابۃ) [و صححہ الحاکم (3 / 9 ، 10 و وافقہ الذھبی] * و للحدیث شواھد

ব্যাখ্যা: উম্মু মা'বাদ এক-এর আসল নাম ‘আতিকাহ্ বিনতু খালিদ আল খুযাইয়্যাহ্। রাসূল (সা.) হিজরতকালীন সময়ে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। তবে কথিত আছে, তিনি মদীনায় গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(وَفِي الحَدِيث قصَّةٌ) “অত্র হাদীসের মধ্যে আরো কিছু ঘটনা আছে। আর তা হলো, আর যখন রাসূল (সা.) উম্মু মা'বাদ -এর তাবু অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হলেন এবং উম্মু মা'বাদ (রাঃ) তাঁর স্বামী আবূ মা'বাদ (রাঃ)-কে সম্পূর্ণ ঘটনা অত্যধিক সুন্দর বাচনভঙ্গিতে রাসূল (সা.) -এর মর্যাদা ও গুণাগুণসহ বর্ণনা করে বলেন, এক মহান বরকতপূর্ণ ব্যক্তি আমাদের তাঁবুতে এসেছিলেন এবং এ দুধ তাঁর আগমনেরই নিদর্শন। আবূ মা'বাদ (রাঃ) এসব শুনে বলেন, নিশ্চয় ঐ মহান ব্যক্তি কুরায়শ বংশীয় তিনিই যার অনেক গুণাবলির কথা আমি মক্কায় শুনেছি। যদি আমি যেতে সক্ষম হই তাহলে আল্লাহর শপথ! আমি ঐ মহান ব্যক্তির দরবারে উপস্থিত হওয়ার এবং সঙ্গত্ব লাভের ইচ্ছা পোষণ করেছি।
অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূল (সা.) যখন হিজরতের জন্য আবূ বাকর (রাঃ) -কে সাথে নিয়ে মদীনার পথে রওয়ানা হন এবং মক্কাবাসীরা রাসূল (সা.) -এর গতিবিধি ও গন্তব্যস্থল সম্পর্কে অবগত হতে বিফল হয় তখন এক মুসলিম জিন্ আবূ কুবায়স পাহাড়ে আরোহণ করে সেখানে উচ্চৈঃস্বরে কিছু কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল আর মক্কাবাসীরা বিস্ময়ের সাথে তা শ্রবণ করল। সে আওয়াজ তাদের কানে পরিষ্কারভাবে আসছিল কিন্তু উক্ত আওয়াজ যেদিক থেকে আসছিল সেদিকে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। উক্ত কবিতাগুলোর মধ্য হতে দু’টি কবিতা হলো এই –

جزي الله رب الناس خير جزائه * رفيقين حلا خيمتى أم معبد
هما نزلا بالهدى واهتديت به * فقد فازمن امسى رفيق محمد

অর্থাৎ সকল মানুষের রব আল্লাহ তা'আলা ঐ দুই সাথিকে উত্তম প্রতিদান দান করেছেন যারা উম্মু মা'বাদ-এর তাবুতে অবতরণ করেছেন। তাঁরা দুজন হিদায়াতের আলোকরশ্মি নিয়ে অবতরণ করেছেন আর উম্মু মা'বাদ সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছেন। ঐ সকল ব্যক্তিরাই সফলকাম হয়েছেন যাঁরা মুহাম্মাদ (সা.) -এর সাথি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

কারামাত শব্দের অর্থ সম্মানিত হওয়া, মর্যাদাবান হওয়া, মহৎ হওয়া ও উদার হওয়া।
পরিভাষায় ঐ অলৌকিক কর্মকে কারামাত বলা হয় যা নেককার মু’মিনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, কিন্তু তা নুবুওয়্যাতের দাবির সাথে হবে না এবং তার উদ্দেশ্য কাফির ও মুশরিকদের বিরোধিতা ও মোকাবেলায়ও হবে না। কেননা যে অলৌকিক কর্ম নুবুওয়্যাতের দাবীর সাথে হয় এবং তার উদ্দেশ্য কাফির ও মুশরিকদের বিরোধিতা ও মোকাবেলা হয়, তাকে মু’জিযা বলা হয়। এর দ্বারা মু’জিযাহ্ ও কারামাতের পার্থক্য গেল বুঝা গেল। ওয়ালীদের কারামাতসমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের নিকট প্রমাণিত। আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের ’আক্বীদাহ হলো ওয়ালীদের কারামাতের প্রতি ঈমান রাখা। আর তা সত্য। এটা এমন একটা বিষয় যা আল্লাহ তার কোন কোন বান্দাকে যখন দরকার তখন অথবা তার শত্রুদেরকে দেখানোর জন্য ও তাঁর দীনকে বিজয়ী করার জন্য দিয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যখন তাদের খাদ্য দরকার তখন খাবার দান, পিপাসিত হলে পানি দান; তারা জানে না যে, তা কোথা থেকে আসলো অথবা অনেক দূর থেকে খাবার আসা, এ জাতীয় অনেক কিছু সংঘটিত হওয়া। অথবা খাবারে বরকত হওয়া। এটা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে হতে পারে। তবে সে আল্লাহর ওয়ালীকে অবশ্যই আল্লাহর ও তাঁর রসূলের দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে।
আর যদি সে লোক ইসলামী শারী’আতের পাবন্দি না করে, তবে তাঁর কর্ম কারামাত বলে পরিগণিত হবে না। এটা তখন শয়তানের কর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তা শয়তানদের ফিতনাহ্। কারামাত প্রকাশিত হয় কেবল আল্লাহর মুমিন বান্দাদের নিকট থেকে। যারা আল্লাহর দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ও তাঁর শারী’আতের অনুসারী বলে জানা যায়। এদের দ্বারা আল্লাহ যে বিশেষ কর্ম সম্পাদন করিয়ে নেন তাকে কারামাত বলে।
(ইমাম ইবনু বায, নূরুন ’আলাদ দারব, কওলু আহলিস্ সুন্নাতি ওয়াল জামা’আতি ফিল কারামাত)


৫৯৪৪-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন উসায়দ ইবনু হুযায়র ও ’আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) তাঁদের কোন এক প্রয়োজনে দীর্ঘ রাত্র অবধি নবী (সা.) -এর সাথে কথাবার্তা বলতে থাকেন। রাত্রটি ছিল ঘোর অন্ধকার। অতঃপর যখন তারা (বাড়ির উদ্দেশে) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছ হতে যাত্রা করলেন এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে ছোট এক একটি লাঠি ছিল। পথে বের হওয়ার পর তাদের একজনের লাঠিটি প্রদীপের মতো আলো দিতে লাগল। আর তারা সে লাঠির আলোয় পথ চলতে থাকেন। অতঃপর যখন তাদের উভয়ের পথ পৃথক পৃথক হলো, তখন অপরজনের লাঠিটিও আলোকিত হয়ে উঠল। অবশেষে তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ লাঠির আলোয় নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الكرامات)

عَن أَنس أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ وَعَبَّادَ بْنَ بِشْرٍ تَحَدَّثَا عِنْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَاجَةٍ لَهُمَا حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ سَاعَةٌ فِي لَيْلَةٍ شَدِيدَةِ الظُّلْمَةِ ثُمَّ خَرَجَا مِنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ينقلبان وبيد كل مِنْهُمَا عُصَيَّةٌ فَأَضَاءَتْ عصى أَحَدِهِمَا لَهُمَا حَتَّى مَشَيَا فِي ضَوْئِهَا حَتَّى إِذَا افْتَرَقَتْ بِهِمَا الطَّرِيقُ أَضَاءَتْ لِلْآخَرِ عَصَاهُ فَمَشَى كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي ضَوْءِ عَصَاهُ حَتَّى بلغ أَهله رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3805) ۔
(صَحِيح)

عن انس ان اسيد بن حضير وعباد بن بشر تحدثا عند النبي صلى الله عليه وسلم في حاجة لهما حتى ذهب من الليل ساعة في ليلة شديدة الظلمة ثم خرجا من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ينقلبان وبيد كل منهما عصية فاضاءت عصى احدهما لهما حتى مشيا في ضوىها حتى اذا افترقت بهما الطريق اضاءت للاخر عصاه فمشى كل واحد منهما في ضوء عصاه حتى بلغ اهله رواه البخاري رواہ البخاری (3805) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: সহীহুল বুখারীর অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ঐ দু’জন সাহাবী ঘোর অন্ধকার রাতে রাসূল (সা.) -এর নিকট হতে উঠে বাইরে আসলেন, সে সময় মনে হলো যেন তাদের সাথে দু'টি প্রদীপ আছে, যা তাদের পথকে আলোকিত করে তাদের সাথে চলছে। অতঃপর যখন সাহাবীদ্বয় এমন স্থানে পৌছালেন যেখান থেকে তাদের বাড়ির পথ পৃথক পৃথক তখন তারা একজন অন্যজন থেকে পৃথক হলেন। তখন দেখা গেল যে, তাদের উভয়ের সাথে এক একটি প্রদীপ রয়েছে। এভাবেই তারা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে পৌছে গেলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৪৫-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধ সমাগত হলে আমার পিতা (আবদুল্লাহ) রাত্রের বেলায় আমাকে ডেকে বললেন, আমার মনে হয় নবী (সা.) -এর সাথিদের মধ্যে যারা নিহত হবেন, আমিই হব তাঁদের মধ্যে প্রথম নিহত লোক এবং একমাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.) ছাড়া তোমার চেয়ে প্রিয় লোক আর কাউকেও আমি রেখে যাচ্ছি না; আর আমি ঋণগ্রস্ত। অতএব আমার ঋণগুলো পরিশোধ করে দেবে এবং তোমার বোনদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। জাবির (রাঃ) বলেন, পরের দিন সকাল হলে দেখলাম, তিনিই প্রথম শহীদ লোক এবং তাকে অন্য আরেক লোকের সাথে একই কবরে দাফন করলাম। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الكرامات)

وَعَن جَابر قَالَ: لَمَّا حَضَرَ أُحُدٌ دَعَانِي أَبِي مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ مَا أُرَانِي إِلَّا مَقْتُولًا فِي أَوَّلِ مَنْ يُقْتَلُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنِّي لَا أَتْرُكُ بَعْدِي أَعَزَّ عَلَيَّ مِنْكَ غَيْرَ نَفْسِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ عَلَيَّ دَيْنًا فَاقْضِ وَاسْتَوْصِ بِأَخَوَاتِكَ خَيْرًا فَأَصْبَحْنَا فَكَانَ أَوَّلَ قَتِيلٍ وَدَفَنْتُهُ مَعَ آخَرَ فِي قبر رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (1351) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: لما حضر احد دعاني ابي من الليل فقال ما اراني الا مقتولا في اول من يقتل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم واني لا اترك بعدي اعز علي منك غير نفس رسول الله صلى الله عليه وسلم فان علي دينا فاقض واستوص باخواتك خيرا فاصبحنا فكان اول قتيل ودفنته مع اخر في قبر رواه البخاري رواہ البخاری (1351) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: জাবির (রাঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) যে উহুদের যুদ্ধে শহীদ হবেন এবং তিনিই হবেন প্রথম শহীদ এটা তাকে পূর্বেই জানিয়ে দেয়াই হলো তাঁর কারামাত। জাবির (রাঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সাথে একই কবরে যাকে দাফন করা হয়েছিল তার নাম ‘আমর ইবনুল জুমহ। তিনি জাবির (রাঃ) এর পিতার বন্ধু তাঁর বোনের স্বামী ছিলেন।
ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে দলীল আছে যে, একই কবরে প্রয়োজনে দুজনকে দাফন করা যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৪৬-[৩] ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বর্ণনা করেন। আসহাবে সুফফাগণ ছিলেন দরিদ্র লোক। এজন্য নবী (সা.) বলেছেন: যার কাছে দু’জনের খাদ্য আছে, সে যেন তৃতীয় লোক হিসেবে (আসহাবে সুফফাহ হতে) একজনকে নিয়ে যায়। আর যার কাছে চারজনের খাদ্য আছে সে যেন পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ লোককে নিয়ে যায়। এটা শুনে আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) তিনজনকে এবং নবী (সা.) দশজনকে নিয়ে গেলেন। এদিকে আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) নবী (সা.) -এর ঘরের রাত্রের খাবার গ্রহণ করে ঐখানেই দেরি করলেন। এমনকি ’ইশার সালাত আদায়ের পর আবার তিনি নবী (সা.)-এর ওখানে ফিরে গেলেন এবং নবী (সা.) -এর খাওয়া শেষ করা অবধি সেখানেই অবস্থান করলেন। তারপর অনেক রাত অতিবাহিত হওয়ার পরে তিনি বাড়ি ফিরলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে প্রশ্ন করলেন, তোমাকে তোমার মেহমান হতে কিসে আটকে রাখল? আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন, তুমি কি তাদেরকে রাতের খাবার দাওনি? স্ত্রী বললেন, তুমি না আসা পর্যন্ত তারা খেতে অস্বীকার করেছে। এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো খাব না। তার স্ত্রীও শপথ করলেন যে, তিনিও উক্ত খানা খাবেন না। এদিকে মেহামনগণও শপথ করে বললেন যে, তারাও এ খানা খাবেন না। অতঃপর আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন, এটা (না খাওয়ার শপথ) শয়তানের তরফ হতে। এই বলে তিনি খাবার আনিয়ে নিলেন, অতঃপর আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) খেলেন এবং তাঁরাও খেতে লাগলেন। তারা যখনই কোন লোমা উঠাতেন, তখন সাথে সাথেই তার নিচের দিক হতে ঐ পরিমাণ অপেক্ষা বেড়ে যেত।
তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) স্ত্রীকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী ফিরাস-এর ভগ্নি! এটা কি? তখন তিনি [আবূ বকর (রাঃ)-এর স্ত্রী] বললেন, আমার চোখের প্রশান্তির কসম! নিঃসন্দেহে এগুলো আগের তুলনায় তিনগুণ অধিক হয়ে গেছে। অতঃপর তারা সকলে খেলেন এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ নবী (সা.) -এর জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এ প্রসঙ্গে এটা বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবী (সা.) ও তা হতে খেয়েছেন। (বুখারী মুসলিম)

আর ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত (كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ) “আমরা খাবারের তাসবীহ পাঠ করা শুনতাম” মু’জিযার অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

الفصل الاول ( بَاب الكرامات)

وَعَن عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر إِنَّ أَصْحَابَ الصُّفَّةِ كَانُوا أُنَاسًا فَقُرَاءَ وَإِنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ عِنْده طَعَام اثْنَيْنِ فليذهب بثالث وَإِن كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ أَرْبَعَةٍ فَلْيَذْهَبْ بِخَامِسٍ أَوْ سادس» وَأَن أَبَا بكر جَاءَ بِثَلَاثَة فَانْطَلق النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشَرَةٍ وَإِنَّ أَبَا بكر تعَشَّى عِنْد النبيِّ صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ لَبِثَ حَتَّى صُلِّيَتِ الْعِشَاءُ ثُمَّ رَجَعَ فَلَبِثَ حَتَّى تَعَشَّى النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم فَجَاءَ بَعْدَ مَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ الله. قَالَت لَهُ امْرَأَته: وَمَا حَبسك عَن أضيافك؟ قَالَ: أوما عَشَّيْتِيهِمْ؟ قَالَتْ: أَبَوْا حَتَّى تَجِيءَ فَغَضِبَ وَقَالَ: لَا أَطْعَمُهُ أَبَدًا فَحَلَفَتِ الْمَرْأَةُ أَنْ لَا تَطْعَمَهُ وَحَلَفَ الْأَضْيَافُ أَنْ لَا يَطْعَمُوهُ. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: كَانَ هَذَا مِنَ الشَّيْطَانِ فَدَعَا بِالطَّعَامِ فَأَكَلَ وَأَكَلُوا فَجَعَلُوا لَا يَرْفَعُونَ لُقْمَةً إِلَّا رَبَتْ مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرَ مِنْهَا. فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ: يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هَذَا؟ قَالَتْ: وَقُرَّةِ عَيْنِي إِنَّهَا الْآنَ لَأَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ ذَلِكَ بِثَلَاثِ مِرَارٍ فَأَكَلُوا وَبَعَثَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذُكِرَ أَنَّهُ أَكَلَ مِنْهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَذُكِرَ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَام فِي «المعجزات»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3581) و مسلم (176 / 2057)، (5365) 0 حدیث ابن مسعود تقدم (5910) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عبد الرحمن بن ابي بكر ان اصحاب الصفة كانوا اناسا فقراء وان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من كان عنده طعام اثنين فليذهب بثالث وان كان عنده طعام اربعة فليذهب بخامس او سادس» وان ابا بكر جاء بثلاثة فانطلق النبي صلى الله عليه وسلم بعشرة وان ابا بكر تعشى عند النبي صلى الله عليه وسلم ثم لبث حتى صليت العشاء ثم رجع فلبث حتى تعشى النبي صلى الله عليه وسلم فجاء بعد ما مضى من الليل ما شاء الله. قالت له امراته: وما حبسك عن اضيافك؟ قال: اوما عشيتيهم؟ قالت: ابوا حتى تجيء فغضب وقال: لا اطعمه ابدا فحلفت المراة ان لا تطعمه وحلف الاضياف ان لا يطعموه. قال ابو بكر: كان هذا من الشيطان فدعا بالطعام فاكل واكلوا فجعلوا لا يرفعون لقمة الا ربت من اسفلها اكثر منها. فقال لامراته: يا اخت بني فراس ما هذا؟ قالت: وقرة عيني انها الان لاكثر منها قبل ذلك بثلاث مرار فاكلوا وبعث بها الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر انه اكل منها. متفق عليه وذكر حديث عبد الله بن مسعود: كنا نسمع تسبيح الطعام في «المعجزات» متفق علیہ ، رواہ البخاری (3581) و مسلم (176 / 2057)، (5365) 0 حدیث ابن مسعود تقدم (5910) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: আসহাবে সুফফাহ্ হলেন দরিদ্র মানুষ। যারা ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর সাহাবী। আবূ নু’আয়ম তার “হিলইয়াতুল আওলিয়া” কিতাবে তাদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কতিপয় সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন- আবূ যর গিফারী (রাঃ), ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ), সালমান আল ফারসী (রাঃ), সুহায়ব (রাঃ), বিলাল (রাঃ), আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ), খব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ), হুযায়ফাহ্ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ), আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ), বিশর ইবনুল খসাসিয়্যাহ্ (রাঃ), আবূ মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) যিনি রাসূল (সা.) -এর মুক্তদাস ছিলেন, এছাড়াও আরো অনেকে ছিলেন। আর তাদের ব্যাপারে নাযিল হয়োছিল -
(وَ اصۡبِرۡ نَفۡسَکَ مَعَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّهُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَ الۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡهَهٗ) “আর আপনি তাদের সাথে ধৈর্য ধরে থাকুন যারা তাদের রবকে সকাল-সন্ধ্যায় ডাকে, আর তারা তার (আল্লাহর) সন্তুষ্ট চায়”- (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮: ২৮)।
আর আসহাবে সুফফাগণ মাসজিদে অবস্থান করত যার ছাদ ছিল খেজুরের পাতার। এই দরিদ্র সাহাবীগণ সেখানেই তাদের থাকার জায়গা ও রাত কাটানোর জায়গা পেয়েছিল। অতএব তাদেরকে তার সাথেই সম্পর্কিত করা হয়। আর যখন ভিন্ন শহর থেকে কোন লোকে আগমন করত, আর সেখানে তার কোন পরিচিত লোক থাকত, তাহলে সে ব্যক্তি তার সেই পরিচিতের বাসায় উঠত। আর যদি তার পরিচিত কোন লোক না থাকত তবে সে সুফফার মেহমান হত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

আবূ বাকর (রাঃ) নবী (সা.) -এর নিকট রাতের খাবার খেয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি নবী (সা.) -এর সাথে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। অথবা তাঁর মেহমানের সাথে রাতের খাবার খেয়েছিলেন, অথবা নবী (সা.) -এর বাড়ীতে আবূ বাকর (রাঃ) -এর মেয়ে ‘আয়িশাহ্ (রঃ) -এর কাছে একাকী খেয়েছিলেন।
(وَقُرَّةِ عَيْنِي) অর্থ- আমার চক্ষু শীতলকারীর শপথ! এ বাক্যে উম্মু রূমান (রাঃ)-এর কসম করার কারণ হলো, তিনি আবূ বাকর (রাঃ) -এর কারণে যে বরকতের কারামাত লক্ষ্য করলেন তার কারণে কসম করলেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি এটা দিয়ে নবী (সা.) -কে বুঝিয়েছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৪৭-[8] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হাবশার তথা আবিসিনিয়ার রাজা) নাজাশীএর মৃত্যুর পর আমরা একে অপরের বলাবলি করতাম, তাঁর কবরে সর্বদা আলো দেখা যাচ্ছে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

عَن عَائِشَة قَالَتْ: لَمَّا مَاتَ النَّجَاشِيُّ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّهُ لَا يَزَالُ يُرَى عَلَى قَبْرِهِ نُورٌ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2523)

عن عاىشة قالت: لما مات النجاشي كنا نتحدث انه لا يزال يرى على قبره نور. رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2523)

ব্যাখ্যা: বর্তমান আফ্রিকার ইথিওপিয়াই ইসলামের ইতিহাসে হাবশাহ্ রাষ্ট্র নামে প্রসিদ্ধ। সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের উপাধি ছিল নাজাশী। নাজাশী দ্বারা সেই বাদশাহ উদ্দেশ্য যিনি নবী (সা.) -এর নুবুওয়্যাত প্রাপ্তির সময় স্বীয় দেশের ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ইতোপূর্বে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী ছিলেন। অতঃপর রাসূল (সা.) -এর ওপর ঈমান এনে খাঁটি মুসলিম হয়ে যান। তিনি ইসলাম ও মুসলিমদের অনেক সহায়তা করেছিলেন। তিনি রাসূল (সা.) -এর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। হাবশায় তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাসূল (সা.) খুবই ব্যথিত হন এবং সাহাবায়ে কিরামকে নিয়ে তিনি মদীনায় গায়িবানা জানাযাহ্ আদায় করেন। তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার কথা মা আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মদীনাতে এ কথা ছাড়িয়ে পড়েছিল যে, বাদশাহ নাজ্জাশীর কবরে সর্বদা নূর দেখা যাচ্ছে। কেননা যেসব সাহাবী মদীনায় যাওয়া আসা করতেন তারা সেখানে তাঁর কবর দেখে মদীনায় এসে এ সংবাদ দিয়েছিলেন। আর যেহেতু সকল লোকের একটি মিথ্যা কথার উপর একমত হওয়া সম্ভব ছিল না, তাই এ কথা খবরে মুতাওয়াতিরের পর্যায়ের। তবে কথা হলো, নূর দেখা যাচ্ছে দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে তো মনে হচ্ছে, বাদশাহ নাজ্জাশীর কবরে নূর এমনভাবে স্বচক্ষে পরিদৃষ্ট হচ্ছিল যেমন প্রদীপ, চাঁদ ও সূর্যের আলো পরিদৃষ্ট হয়। তথাপি এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, নূর পরিদৃষ্ট হওয়া মূলত ঐ উজ্বলতা, সতেজতা ও অন্তরের প্রশান্তির ব্যাখ্যা যা উক্ত কবর যিয়ারতকারী অনুভব করে। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৪৮-[৫] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর মৃত্যুর পর সাহাবীগণ যখন তাঁকে গোসল দেয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁরা বললেন, আমরা কি অন্যান্য মৃতের ন্যায় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গায়ের জামা খুলে গোসল দেব? নাকি তাঁর ওপর নিজ জামাকাপড় রেখে গোসল দেব? এ ব্যাপারে যখন মতবিরোধ চরমে উঠল, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁদের ওপর নিদ্রা চাপিয়ে দিলেন। ফলে তাঁদের মধ্যে এমন একজন লোকও বাকি ছিল না, যার থুতনি নিজের বুকের সাথে গিয়ে লাগেনি। অতঃপর ঘরের এক পার্শ্বে হতে জনৈক উক্তিকারী বলে উঠলেন, তোমরা নবী (সা.) -কে নিজ জামাকাপড় পরিহিত অবস্থায় গোসল দাও। সে উক্তিকারীকে লোকেরা তাকে চিনতে পারেননি। অতঃপর তারা উঠে নবী (সা.) -কে জামাসহ গোসল দিলেন। তাঁরা জামার উপর দিয়ে পানি ঢেলে দিলেন এবং জামা দ্বারা শরীরে মলে দিলেন। (বায়হাক্বী’র দালায়িলুন্ নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

وَعَنْهَا قَالَتْ: لَمَّا أَرَادُوا غُسْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: لَا نَدْرِي أَنُجَرِّدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ثِيَابه كَمَا تجرد مَوْتَانَا أَمْ نُغَسِّلُهُ وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ؟ فَلَمَّا اخْتَلَفُوا أَلْقَى اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّوْمَ حَتَّى مَا مِنْهُمْ رجل إِلَّا وذقته فِي صَدْرِهِ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ مُكَلِّمٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ لَا يَدْرُونَ مَنْ هُوَ؟ اغْسِلُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَقَامُوا فَغَسَّلُوهُ وَعَلَيْهِ قَمِيصُهُ يَصُبُّونَ الْمَاءَ فَوْقَ الْقَمِيصِ وَيُدَلِّكُونَهُ بِالْقَمِيصِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ»

اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (7 / 242) [و ابوداؤد (3141) و ابن ماجہ (1464) ببعضہ و احمد (6 / 267 ح 26837)] ۔
(حسن)

وعنها قالت: لما ارادوا غسل النبي صلى الله عليه وسلم قالوا: لا ندري انجرد رسول الله صلى الله عليه وسلم من ثيابه كما تجرد موتانا ام نغسله وعليه ثيابه؟ فلما اختلفوا القى الله عليهم النوم حتى ما منهم رجل الا وذقته في صدره ثم كلمهم مكلم من ناحية البيت لا يدرون من هو؟ اغسلوا النبي صلى الله عليه وسلم وعليه ثيابه فقاموا فغسلوه وعليه قميصه يصبون الماء فوق القميص ويدلكونه بالقميص. رواه البيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (7 / 242) [و ابوداؤد (3141) و ابن ماجہ (1464) ببعضہ و احمد (6 / 267 ح 26837)] ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা: ইবনুল হুমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূল (সা.) - যে কাপড় পরিধান করা অবস্থায় মারা যান তাকে সেই কাপড়েই গোসল করানো হয়েছিল। তাহলে গোসল করানোর পরে ভিজা কাপড় থাকা অবস্থায় কিভাবে তাকে কাফন পরানো হয়েছিল? আমি বলছি তাকে ভিজা কাপড় থাকা অবস্থায় কাফনের কাপড় পরানো হয়নি। এ হাদীস থেকে এটা বুঝা যায় না। বরং সতর ঢাকা অবস্থায় তার থেকে গোসলের কাপড় সরিয়ে তারপর তার কাফনের কাপড় পরানো হয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা ভালো জানেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৪৯-[৬] ইবনুল মুনকাদির (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মুক্ত দাস সাফীনাহ্ (রাঃ) রোম এলাকায় মুসলিম সেনাদল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, অথবা শত্রুরা তাঁকে বন্দি করে ফেলেছিল। অতঃপর তিনি পালিয়ে সেনাদলের খোঁজাখুজি করতে লাগলেন। এমন সময় হঠাৎ তিনি একটি সিংহের সম্মুখীন হলেন। তখন তিনি সিংহটিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূল হারিস! আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্ত দাস। আর আমার ব্যাপার হলো এই এই (অর্থাৎ কাফিররা আমাকে বন্দি করেছিল। এখন আমি তাদের কবল থেকে ছুটে এসে আমার সেনাদলের পথ হারিয়ে ফেলেছি) এ কথা শুনে সিংহটি (আনুগত্যের ভঙ্গিতে) স্বীয় লেজ নাড়তে নাড়তে তার সামনে অগ্রসর হয়ে পার্শ্বে এসে দাঁড়াল। সিংহটি যখন কোন ভীতিজনক আওয়াজ শুনতে পেত, তখন সেদিকে ছুঁটে যেত। অতঃপর ফিরে এসে সাফীনার পাশে পাশে চলত। অবশেষে তাঁকে সেনাদলের কাছে পৌছিয়ে দিয়ে সিংহটি ফিরে চলে গেল। (শারহুস্ সুন্নাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

وَعَنْ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ أَنَّ سَفِينَةَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْطَأَ الْجَيْشَ بِأَرْضِ الرُّومِ أَوْ أُسِرَ فَانْطَلَقَ هَارِبًا يَلْتَمِسُ الْجَيْشَ فَإِذَا هُوَ بِالْأَسَدِ. فَقَالَ: يَا أَبَا الْحَارِثِ أَنَا مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِنْ أَمْرِي كَيْتَ وَكَيْتَ فَأَقْبَلَ الْأَسَدُ لَهُ بَصْبَصَةٌ حَتَّى قَامَ إِلَى جَنْبِهِ كُلَّمَا سَمِعَ صَوْتًا أَهْوَى إِلَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ يَمْشِي إِلَى جَنْبِهِ حَتَّى بَلَغَ الْجَيْشَ ثُمَّ رَجَعَ الْأَسَدُ. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 313 ح 3732) [و صححہ الحاکم (3 / 606) و و افقہ الذھبی] * محمد بن المنکدر لم یثبت سماعہ من سفینۃ رضی اللہ عنہ فالسند معلل

وعن ابن المنكدر ان سفينة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم اخطا الجيش بارض الروم او اسر فانطلق هاربا يلتمس الجيش فاذا هو بالاسد. فقال: يا ابا الحارث انا مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم كان من امري كيت وكيت فاقبل الاسد له بصبصة حتى قام الى جنبه كلما سمع صوتا اهوى اليه ثم اقبل يمشي الى جنبه حتى بلغ الجيش ثم رجع الاسد. رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 313 ح 3732) [و صححہ الحاکم (3 / 606) و و افقہ الذھبی] * محمد بن المنکدر لم یثبت سماعہ من سفینۃ رضی اللہ عنہ فالسند معلل

ব্যাখ্যা: সাফীনাহ্ রাসূল (সা.) -এর মুক্তদাস। কথিত আছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ এর মুক্তদাস ছিলেন। তিনি তাকে এ শর্তে মুক্ত করেন যে, সে আজীবন নবী (সা.) -এর সেবা করবে। কেউ কেউ বলেন, তার নামটা মতভেদপূর্ণ। কেউ বলেন, তার নাম রবাহ বা মিহরান বা রোমান। সাফীনাহ্ হলো তার উপাধি। কথিত আছে যে, একদিন কোন এক সফরে তিনি নবী (সা.) -এর সাথে ছিলেন, তার সঙ্গীদের মধ্যে কোন এক ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়লে সে তার তলোয়ার, ঢাল ও তীর ইত্যাদিসহ অনেক জিনিস তার মাথায় তুলে দিলে সে তা বহন করে চলল। তাকে দেখে আল্লাহর রাসূল (সা.) কৌতুক করে বললেন, তুমি তো সাফীনাহ্। সাফীনাহ্ অর্থ নৌকা। তখন থেকে তিনি এ নামেই প্রসিদ্ধ হয়ে গেছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
অবশেষে যখন তিনি সৈন্যদলের সাথে মিশলেন তখন সিংহ চলে গেল: হাদীসের এ অংশটুকু থেকে গেল বুঝা গেল, যেন সিংহটি তার রাস্তা দেখাচ্ছিল। আর তার সাথিদের কাছে পৌছানোর জন্য নিরাপত্তা দিচ্ছিল। তাই তো এক কবি বলেন –
 ومن تكن برسول الله نصرته ... إن تلقه الأ سد في اجامهاتجمِ
অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের তথা আল্লাহর দীনের সাহায্য করে, হিংস্র জন্তু দ্বারাও আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫০-[৭] আবূল জাওযা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মদীনাবাসীগণ ভীষণ অনাবৃষ্টির কবলে পতিত হলেন, তখন তাঁরা ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে এ বিপদের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, তোমরা নবী (সা.) -এর কবরে যাও এবং তাঁর হুজরার ছাদের আকাশের দিকে কয়েকটি ছিদ্র করে দাও, যেন তার এবং আকাশের মাঝখানে কোন আড়াল না থাকে। অতঃপর লোকেরা গিয়ে তাই করল। তাতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ হলো। এমনকি জমিনে প্রচুর ঘাস জন্মাল এবং উটগুলো খুব মোটাতাজা ও চর্বিদার হয়ে উঠল। এ কারণে লোকেরা সে বছরকে ’আমাল ফাতক (পশুপালের হৃষ্টপুষ্ট হওয়ার বছর) নামে আখ্যায়িত করল। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

وَعَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ قَالَ: قُحِطَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ قَحْطًا شَدِيدًا فَشَكَوْا إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ: انْظُرُوا قبر النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فاجعلوا مِنْهُ كُوًى إِلَى السَّمَاءِ حَتَّى لَا يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ سَقْفٌ فَفَعَلُوا فَمُطِرُوا مَطَرًا حَتَّى نَبَتَ الْعُشْبُ وَسَمِنَتِ الْإِبِلُ حَتَّى تَفَتَّقَتْ مِنَ الشَّحْمِ فَسُمِّيَ عَامَ الْفَتْقِ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 43 ۔ 44 ح 93) * فیہ عمرو بن مالک النکری ، رواہ عن ابی الجوزاء وقال ابن عدی :’’ یحدث عن ابی الجوزاء ھذا ایضًا عن ابن عباس قدر عشرۃ احادیث غیر محفوظۃ ‘‘ (الکامل 1 / 401 ، نسخۃ أخری 2 / 108) و ھذا جرح خاص فالسند ضعیف معلل ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي الجوزاء قال: قحط اهل المدينة قحطا شديدا فشكوا الى عاىشة فقالت: انظروا قبر النبي صلى الله عليه وسلم فاجعلوا منه كوى الى السماء حتى لا يكون بينه وبين السماء سقف ففعلوا فمطروا مطرا حتى نبت العشب وسمنت الابل حتى تفتقت من الشحم فسمي عام الفتق. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 43 ۔ 44 ح 93) * فیہ عمرو بن مالک النکری ، رواہ عن ابی الجوزاء وقال ابن عدی :’’ یحدث عن ابی الجوزاء ھذا ایضا عن ابن عباس قدر عشرۃ احادیث غیر محفوظۃ ‘‘ (الکامل 1 / 401 ، نسخۃ أخری 2 / 108) و ھذا جرح خاص فالسند ضعیف معلل ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: যখন মদীনায় অনাবৃষ্টি শুরু হলো তখন লোকজন মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর কাছে আসলে তিনি তাদেরকে পরামর্শ দিলেন যে, তারা যেন রাসূল (সা.) -এর কবর এর উপর সামান্য ফাকা করে দেয় যাতে করে সরাসরি আসমান দেখা যায়। বৃষ্টি হওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে যে, রাসূল (সা.) -এর কবর যখন আসমান দেখল তখন সে তা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। আকাশ কাঁদতে শুরু করল। আকাশ কাঁদার কথা কুরআন দ্বারা স্বীকৃত বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন, (فَمَا بَکَتۡ عَلَیۡهِمُ السَّمَآءُ وَ الۡاَرۡضُ) “আসমান জমিন তাদের জন্য কাঁদেনি”- (সূরাহ আদ দুখান ৪৪: ২৯)।
এখানে কাফিরদের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর বিপরীত অবস্থা হলো ঈমানদারদের জন্য আসমান ও জমিন কাঁদে।
কথিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর জীবদ্দশায় তো লোকেরা রাসূল (সা.) -এর পবিত্র সত্তা হতে বৃষ্টির প্রার্থনাকারী হত এখন যেহেতু রাসূল (সা.) -এর মৃত্যু হয়ে গেছে তাই মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, কবরের উপর থেকে ছাদ খুলে দেয়া হোক যাতে আল্লাহর রহমত প্রবল হোক এবং ফলশ্রুতিতে পানি বর্ষিত হয়। যেন তিনি বাহ্যিক দৃষ্টিতে কবরকে বৃষ্টি প্রার্থনার মাধ্যম বানিয়েছেন। তবে রাসূল (সা.) -এর কবর উন্মোচনের কারণে তার কবর আর আসমানের মধ্যে কোন ধরনের পর্দা নেই। এর কারণ হলো উক্ত বৃষ্টি প্রার্থনাকে অধিক ফলদায়ক করা এবং দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের অস্থিরতাকে প্রকাশ করা। আর আকাশ তো দু'আর কিবলাহ এবং অভাবীদের খাদ্যের জায়গা। মহান আল্লাহ বলেন, (وَ فِی السَّمَآءِ رِزۡقُکُمۡ وَ مَا تُوۡعَدُوۡنَ) “আর আসমানে তোমাদের রিযক বা খাদ্য আছে”- (সূরাহ আয যা-রিয়া-ত: ২২)। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক্ শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৮৪-১৮৫ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূল জাওযা' (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫১-[৮] সা’ঈদ ইবনু ’আবদুল আযীয (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাররাহ’র ফিতনার সময় তিন দিন তিন রাত নবী (সা.) -এর মাসজিদে সালাতের আযানও হয়নি এবং ইকামাতও দেয়া হয়নি। সে সময় (প্রসিদ্ধ তাবিঈ) সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহিমাহুল্লাহ) মসজিদে নাবাবীর ভিতরে আটকা পড়েছিলেন এবং তিনি সালাতের সময় ঠিক করতেন কেবলমাত্র নবী (সা.) -এর কবরের ভিতর হতে নির্গত একটি গুনগুন শব্দ দ্বারা, যা তিনি শুনতে পেতেন। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

وَعَن سعيد بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: لَمَّا كَانَ أَيَّامُ الْحَرَّةِ لَمْ يُؤَذَّنْ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا وَلَمْ يُقَمْ وَلَمْ يَبْرَحْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ الْمَسْجِدَ وَكَانَ لَا يَعْرِفُ وَقْتَ الصَّلَاةِ إِلَّا بِهَمْهَمَةٍ يَسْمَعُهَا مِنْ قَبْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف * فیہ سعید بن عبد العزیز : لم یثبت سماعہ من سعید بن المسیب رحمہ اللہ ۔
(ضَعِيف)

وعن سعيد بن عبد العزيز قال: لما كان ايام الحرة لم يوذن في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثا ولم يقم ولم يبرح سعيد بن المسيب المسجد وكان لا يعرف وقت الصلاة الا بهمهمة يسمعها من قبر النبي صلى الله عليه وسلم. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف * فیہ سعید بن عبد العزیز : لم یثبت سماعہ من سعید بن المسیب رحمہ اللہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: “হাররার দিন”- ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা ইসলামের ইতিহাসে একটি প্রসিদ্ধ দিন। ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়াহ্-এর সিরিয়া থেকে আগত সেনাবাহিনী মদীনায় হামলা করেছিল মদীনায় থাকা সাহাবী ও তাবিঈদেরকে হত্যা করার জন্য। তাঁর সেনাপতি ছিল মুসলিম ইবনু ‘উয়াইনাহ আল মুরুরী। আর এ ঘটনা ঘটেছিল হিজরী ৬৩ সনের যিলহজ্জ মাসে। এ ঘটনার পরপরই ইয়াযীদ মারা গিয়েছিল। এ ঘটনাটি ঘটেছিল মদীনার হাররাহ্ এলাকায় যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো অনেক পাথর ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫২-[৯] আবূ খলদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূল ’আলিয়াহ্-কে প্রশ্ন করলাম, আনাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে কোন হাদীস শুনেছেন কি? তিনি বললেন, তিনি তো দশটি বছর তাঁর সেবা করেছেন। নবী (সা.) তাঁর জন্য দু’আ করেছেন। তার একটি বাগান ছিল, তাতে বছরে দু’বার ফল আসত এবং তাতে এমন কিছু ফল ছিল, যা হতে মিশক কস্তুরীর ঘ্রাণ আসত। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الكرامات)

وَعَنْ أَبِي خَلْدَةَ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي الْعَالِيَةِ: سَمِعَ أَنَسٌ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: خَدَمَهُ عَشْرَ سِنِينَ وَدَعَا لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ لَهُ بُسْتَانٌ يَحْمِلُ فِي كُلِّ سَنَةٍ الْفَاكِهَةَ مَرَّتَيْنِ وَكَانَ فِيهَا رَيْحَانٌ يَجِيءُ مِنْهُ رِيحُ الْمِسْكِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3833) و اخطا من ضعفہ

وعن ابي خلدة قال: قلت لابي العالية: سمع انس من النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: خدمه عشر سنين ودعا له النبي صلى الله عليه وسلم وكان له بستان يحمل في كل سنة الفاكهة مرتين وكان فيها ريحان يجيء منه ريح المسك. رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3833) و اخطا من ضعفہ

ব্যাখ্যা: আবূ খলদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস লাজ-এর ব্যাপারে আবূল ‘আলিয়াহ্ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যে প্রশ্ন করেছেন তার উদ্দেশ্য ছিল যে, আনাস (রাঃ) যে সকল হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি কি রাসূল (সা.) থেকে কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি শুনেছেন, নাকি এগুলো মুরসাল বর্ণনা? এ প্রশ্ন হতে পরোক্ষভাবে এ কথা বুঝা যায় যে, রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুর পর কিছু মানুষ আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারে সন্দেহ সংশয় প্রকাশ করে। আবূল ‘আলিয়াহ্ যিনি বয়োজৈষ্ঠ তাবিঈ ছিলেন তিনি তার জবাব সরাসরি না দিয়ে বরং তিনি ঐ কথার সংবাদ দিলেন যাতে আনাস (রাঃ)-এর মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)- দশ বছর বয়সে মতান্তরে আট বছর বয়সে নবী (সা.) -এর খিদমাতে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি একাধারে দশ বছর নবী (সা.) -এর খিদমাত করেছিলেন। আর তার আন্তরিকতাপূর্ণ খিদমাতে খুশি হয়ে নবী (সা.) তাঁর হায়াত ও সম্পদে বরকতের জন্য দু'আ করেছিলেন। ঐ দু'আর বরকতে তিনি ১০৩ বছর হায়াত পেয়েছিলেন।
আর আল্লাহ তাঁর সন্তানে এত বরকত দান করেছিলেন যে তা একশ’ জনে পৌছেছিল। তার মধ্যে ছেলে ছিল ৭৩ জন আর মেয়ে ২৭ জন। তাঁর সম্পদে বরকতের অবস্থা ছিল এই যে, অন্যদের বাগানে ফসল ফলত বছরে একবার, আর তাঁর বাগানে বছরে দু'বার ফসল আসত। তাঁর উচ্চ মান-মর্যাদার পরিমাপ এভাবেই করা যায় যে, তার বাগানের ফুল হতে মিশক আম্বরের সুঘ্রাণ আসত। এতএব সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, যে মহান ব্যক্তি এমন সম্মানের অধিকারী ছিলেন, যিনি দীর্ঘ সময় রসূলে কারীম (সা.) -এর খিদমাতের সৌভাগ্য লাভ করার পর তিনি তাঁর (রাসূল (সা.) -এর) থেকে সরাসরি হাদীস কিভাবে না শুনে থাকবেন এবং ঐ সকল হাদীস কিভাবে বর্ণনা না করে থাকবেন! (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৮৬ পৃষ্ঠা; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবু খালদা (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫৩-[১০] ’উরওয়াহ্ ইবনুয যুবায়র (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। আরওয়া বিনতু আওস মারওয়ান ইবনু হাকাম-এর কাছে সা’ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ’আমর ইবনু নুফায়ল-এর বিরুদ্ধে মুকাদ্দামাহ দায়ের করে এবং সে দাবি করে যে, তিনি তার কিছু ভূমি দখল করে নিয়েছেন। সাঈদ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে এ বিষয়ে একটি হাদীস শুনার পরও আমি কি তার জমিনের কিছু অংশ দখল করতে পারি? তখন মারওয়ান বললেন, সে হাদীসটি কি আপনি যা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছেন? সাঈদ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, যে লোক কারো এক বিঘত পরিমাণ ভূমি অন্যায়ভাবে কেড়ে নেবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে সাত তবক অবধি বেড়ি বানিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেবেন। এ কথা শুনে মারওয়ান তাঁকে বললেন, এ হাদীস শুনার পর আমি আর কোন প্রমাণ আপনার কাছ হতে চাব না। অতঃপর সাঈদ (রাঃ) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! এ মহিলাটি যদি তার দাবিতে মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে আপনি তার চোখ অন্ধ করে দেন এবং উক্ত ভূমিতেই তাকে ধ্বংস করুন। বর্ণনাকারী উরওয়া বলেন, মৃত্যুর আগেই সে মহিলাটি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং একদিন সে উক্ত ভূমিতে হাঁটছিল, হঠাৎ সে সেখানে একটি গর্তে পড়ে মৃত্যুবরণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)
আর মুসলিমের এক বর্ণনাতে আছে, যা মুহাম্মাদ ইবনু যায়দ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে উক্ত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণিত, তিনি উক্ত মহিলাটিকে অন্ধ অবস্থায় দেখেছেন, সে দেয়াল হাতড়িয়ে চলত এবং বলত আমার উপর সাঈদের বদদোয়া লেগেছে। অতঃপর একদিন উক্ত মহিলাটি তার গৃহের সে বিবাদময় ভূমির একটি কূপের কাছ দিয়ে যেতেই তাতে পড়ে গেল এবং তা-ই তার কবর হলো।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب الكرامات)

عَن عُرْوَة بن الزبير أَنَّ سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ خاصمته أروى بنت أويس إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَادَّعَتْ أَنَّهُ أَخَذَ شَيْئًا مِنْ أَرْضِهَا فَقَالَ سَعِيدٌ أَنَا كُنْتُ آخُذُ مِنْ أَرْضِهَا شَيْئًا بَعْدَ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وماذا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الْأَرْضِ ظُلْمًا طُوِّقَهُ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ لَا أَسْأَلُكَ بَيِّنَةً بَعْدَ هَذَا فَقَالَ اللَّهُمَّ إِن كَانَت كَاذِبَة فَعم بَصَرَهَا وَاقْتُلْهَا فِي أَرْضِهَا قَالَ فَمَا مَاتَتْ حَتَّى ذهب بصرها ثمَّ بَينا هِيَ تَمْشِي فِي أَرْضِهَا إِذْ وَقَعَتْ فِي حُفْرَةٍ فَمَاتَتْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِمَعْنَاهُ وَأَنَّهُ رَآهَا عَمْيَاءَ تَلْتَمِسُ الْجُدُرَ تَقُولُ: أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعِيدٍ وَأَنَّهَا مَرَّتْ على بئرٍ فِي الدَّار الَّتِي خاصمته فَوَقَعت فِيهَا فَكَانَت قبرها

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3198) و مسلم (139 ، 136 / 1610)، (4132 و 4134) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن عروة بن الزبير ان سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل خاصمته اروى بنت اويس الى مروان بن الحكم وادعت انه اخذ شيىا من ارضها فقال سعيد انا كنت اخذ من ارضها شيىا بعد الذي سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وماذا سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من اخذ شبرا من الارض ظلما طوقه الى سبع ارضين فقال له مروان لا اسالك بينة بعد هذا فقال اللهم ان كانت كاذبة فعم بصرها واقتلها في ارضها قال فما ماتت حتى ذهب بصرها ثم بينا هي تمشي في ارضها اذ وقعت في حفرة فماتت. متفق عليه وفي رواية لمسلم عن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر بمعناه وانه راها عمياء تلتمس الجدر تقول: اصابتني دعوة سعيد وانها مرت على بىر في الدار التي خاصمته فوقعت فيها فكانت قبرها متفق علیہ ، رواہ البخاری (3198) و مسلم (139 ، 136 / 1610)، (4132 و 4134) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে জমিনের সাতটি স্তর আছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,
(اَللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ وَّ مِنَ الۡاَرۡضِ مِثۡلَهُنَّ) “আর আল্লাহ হলেন তিনি যিনি সাত আসমান অনুরূপ জমিনকে সৃষ্টি করেছেন”- (সূরাহ আত্ব ত্বলাক্ব ৬৫: ১২)। আর যারা বলেন, সাতটি অঞ্চল তারা ভুল করেন। আর যদি তা অনুরুপ হত তবে তিনি যালিম ব্যক্তির গলায় জমিনের স্তর ব্যতীত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এক বিঘত করে ঝুলিয়ে দিতেন। আর তিনি সাত জমিন থেকে তার গলায় ঝুলিয়ে দিবেন তার কারণ হলো বাকী জমিন গুলো এই জমিনের অনুগামী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
নেককার মানুষের দু'আ যে বিফলে যায় না আলোচ্য হাদীসটি তার জাজ্বল্য প্রমাণ। সা'ঈদ ইবনু (রাঃ)-আশারায়ে মুবাশশিরাহ্ তথা যে দশজন সাহাবী দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন তাদের একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ‘উমার (রাঃ)-এর ভগ্নিপতি। যেহেতু আলোচ্য হাদীসে জনৈক মহিলা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল, তাই আল্লাহ দুনিয়াতেই সা'ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর দু'আ কবুল করে উক্ত মহিলাকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। আর এটা সা'ঈদ (রাঃ)-এর একটি বড় কারামাত ছিল। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫৪-[১১] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার ’উমার (রাঃ) একদল সৈন্য অভিযানে প্রেরণ করলেন। আর সারিয়াহ্ (ইবনু যানীম) নামক এক লোককে সে দলের প্রধান নিযুক্ত করলেন। তখন একদিন ’উমার (রাঃ) মসজিদে নাবাবীতে খুৎবা দিচ্ছিলেন। আকস্মাৎ তিনি খুত্ববার মাঝখানে খুব উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠলেন, “হে সারিয়া আল জাবাল!’ এ ঘটনার কয়েকদিন পরে উক্ত সেনাদলের পক্ষ হতে একজন বার্তাবাহক মদীনায় আগমন করে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমরা শত্রুদের মুখোমুখি হলে (প্রথমে) তারা আমাদেরকে পরাজিত করে। এমন সময় হঠাৎ জনৈক ঘোষণাকারীর ’হে সারিয়া আল জাবাল উচ্চ শব্দ শুনতে পাই, তৎক্ষণাৎ আমরা (নিকটস্থ) পাহাড়টিকে পশ্চাতে রেখে শত্রুর সাথে লড়তে থাকি। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরাস্ত করেন। (বায়হাক্বী’র দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্ গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب الكرامات)

وَعَن ابْن عمر أَنَّ عُمَرَ بَعَثَ جَيْشًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ رَجُلًا يُدْعَى سَارِيَةَ فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَخْطُبُ فَجَعَلَ يَصِيحُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَقِيَنَا عَدُوُّنَا فَهَزَمُونَا فَإِذَا بِصَائِحٍ يَصِيحُ: يَا سَارِيَ الْجَبَلَ. فَأَسْنَدْنَا ظُهُورَنَا إِلَى الْجَبَلِ فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 380) * فیہ محمد بن عجلان مدلس و عنعن ولہ طرق عند ابن عساکر (تاریخ دمشق 22 / 18 ، 19) وغیرہ و کلھا ضعیفۃ و مرسلۃ ، لا یصح منھا شیٔ و اخطا من صححہ اوحسنہ !

وعن ابن عمر ان عمر بعث جيشا وامر عليهم رجلا يدعى سارية فبينما عمر يخطب فجعل يصيح: يا امير المومنين لقينا عدونا فهزمونا فاذا بصاىح يصيح: يا ساري الجبل. فاسندنا ظهورنا الى الجبل فهزمهم الله تعالى رواه البيهقي في دلاىل النبوة اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 380) * فیہ محمد بن عجلان مدلس و عنعن ولہ طرق عند ابن عساکر (تاریخ دمشق 22 / 18 ، 19) وغیرہ و کلھا ضعیفۃ و مرسلۃ ، لا یصح منھا شیٔ و اخطا من صححہ اوحسنہ !

ব্যাখ্যা: এটা ছিল নাহারাওয়ান্দ যুদ্ধের ঘটনা।
(فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَخْطُبُ) একদিন ‘উমার (রাঃ) খুৎবা দিচ্ছিলেন। অর্থাৎ, তিনি মাসজিদে নববীতে খুৎবা দিচ্ছিলেন উপস্থিত জনতার সম্মুখে যেখানে বড় বড় সম্মানিত সাহাবী ও তাবিঈগণ ছিলেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উসমান (রাঃ), ‘আলী (রাঃ), ঘটনাটি ছিল তার একটা সুস্পষ্ট কারামাত এবং তার খিলাফাত যে সত্য তার একটা সুস্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি যুদ্ধক্ষেত্র দেখে সেনাপতিকে ডেকে বললেন, হে সারিয়াহ্! পাহাড়ের দিকটা দেখ। আর তাকে পিছন দিকে রেখে যুদ্ধ কর। তার এ ডাক সকল যোদ্ধা শুনে সতর্ক হয়ে যুদ্ধ করেছিল। ফলে বিজয় পেয়েছিলেন মুসলিমগণ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা

৫৯৫৫-[১২] নুবায়হাহ ইবনু ওয়াহব (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। একদিন কা’ব (রহিমাহুল্লাহ) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর কাছে গেলেন। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে আলোচনা হতে থাকলে কা’ব (রহিমাহুল্লাহ) বললেন, এমন কোন দিন অতিবাহিত হয় না, যেদিন ভোরে সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) আকাশ হতে অবতরণ করেন না। এমনকি তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কবরকে ঘেরাও করে নিজেদের পাখাকে বিছিয়ে দেন। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি দরূদ পাঠ করতে থাকেন। অবশেষে সন্ধ্যা হলে তাঁরা উর্ধ্বে গমন করেন। আবার সে পরিমাণ মালাক (ফেরেশতা) অবতরণ করেন এবং তাঁরাও ঐরূপ করেন। অবশেষে যখন মদীনাহ ফেটে যাবে, তখন তিনি কবর হতে সত্তর হাজার ফেরেশতার সমারোহে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবেন। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَاب الكرامات)

وَعَنْ نُبَيْهَةَ بْنِ وَهْبٍ أَنَّ كَعْبًا دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَذَكَرُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ كَعْبٌ: مَا مِنْ يَوْمٍ يَطْلُعُ إِلَّا نَزَلَ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ حَتَّى يَحُفُّوا بِقَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضْرِبُونَ بِأَجْنِحَتِهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا أَمْسَوْا عَرَجُوا وَهَبَطَ مِثْلُهُمْ فَصَنَعُوا مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا انْشَقَّتْ عَنْهُ الْأَرْضُ خَرَجَ فِي سَبْعِينَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ يَزُفُّونَهُ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 44 ح 95) * فی سماع نبیھۃ بن وھب من کعب نظر ولم یدرک عائشۃ ایضًا فالسند منقطع ۔
(ضَعِيف)

وعن نبيهة بن وهب ان كعبا دخل على عاىشة فذكروا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال كعب: ما من يوم يطلع الا نزل سبعون الفا من الملاىكة حتى يحفوا بقبر رسول الله صلى الله عليه وسلم يضربون باجنحتهم ويصلون على رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا امسوا عرجوا وهبط مثلهم فصنعوا مثل ذلك حتى اذا انشقت عنه الارض خرج في سبعين الفا من الملاىكة يزفونه. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 44 ح 95) * فی سماع نبیھۃ بن وھب من کعب نظر ولم یدرک عاىشۃ ایضا فالسند منقطع ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: কা'ব হলেন একজন বড় তাবি'ঈ। লেখক বলেন, তিনি হলেন কা'ব ইবনু মাতি। তাঁর উপনাম হলো আবূ ইসহাক। তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন কা'ব আল আহবার নামে। তিনি নবী (সা.) -এর যুগ পেয়েছিলেন কিন্তু তার সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেননি। তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর যামানায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন ‘উমার (রাঃ), সুহায়ব (রাঃ) ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে। তিনি হিমসে ৩২ হিজরীতে ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মারা যান।
মালায়িকার (ফেরেশতাদের) অবতরণের কথা কা'ব (রহিমাহুল্লাহ) হয়তো পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে উল্লেখিত ভবিষ্যদ্বাণী হতে জেনেছিলেন, কিংবা পূর্বযুগের বয়োবৃদ্ধ ও আসমানী কিতাবের ‘আলিমদের থেকে শুনে থাকবেন, অথবা কারামাত দ্বারা অবগত হয়েছেন। আর শেষের সম্ভাবনাটাই অধিক বিশুদ্ধ মনে হয়। কেননা এতে তাঁর কারামাত প্রকাশ পায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৫৬-[১] বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর সাহাবীদের মাঝে সর্বপ্রথম যারা হিজরত করে মদীনায় আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুসআব ইবনু উমায়র এবং (আবদুল্লাহ) ইবনু উম্ম মাকতুম (রাঃ)। তাঁরা দুজন এসেই আমাদেরকে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিতে আরম্ভ করলেন। এরপর আসলেন ’আম্মার, বিলাল ও সাদ (রাঃ)। তারপর আসলেন ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) যিনি নবী (সা.) -এর বিশজন সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর (সর্বশেষ) আসলেন নবী (সা.)।
নবী (সা.) -এর আগমনে আমি মদীনাবাসীকে এত বেশি খুশি হতে দেখেছি যে, অন্য কোন জিনিসে তাদেরকে ততটা আনন্দিত হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, মদীনার ছোট ছোট মেয়ে এবং ছেলেরা পর্যন্ত খুশিতে বলতে লাগল, ইনিই তা সেই আল্লাহর রাসূল (সা.), যিনি আমাদের মাঝে আগমন করেছেন। বারা (রাঃ) বলেন, তিনি আসার আগেই আমি “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা-” (সূরাহ আ’লা-) ও অনুরূপ আরো কতিপয় ছোট ছোট সূরাহ্ শিখে ফেলেছিলাম। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

عَن الْبَراء قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَجَعَلَا يُقْرِآنِنَا الْقُرْآنَ ثُمَّ جَاءَ عَمَّارٌ وَبِلَالٌ وَسَعْدٌ ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عِشْرِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرِحُوا بِشَيْءٍ فَرَحَهُمْ بِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْوَلَائِدَ وَالصِّبْيَانَ يَقُولُونَ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَاءَ فَمَا جَاءَ حَتَّى قرأتُ: [سبِّح اسْم ربِّك الْأَعْلَى] فِي سُوَرٍ مِثْلِهَا مِنَ الْمُفَصَّلِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4941) ۔
(صَحِيح)

عن البراء قال: اول من قدم علينا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مصعب بن عمير وابن ام مكتوم فجعلا يقراننا القران ثم جاء عمار وبلال وسعد ثم جاء عمر بن الخطاب في عشرين من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ثم جاء النبي صلى الله عليه وسلم فما رايت اهل المدينة فرحوا بشيء فرحهم به حتى رايت الولاىد والصبيان يقولون: هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد جاء فما جاء حتى قرات: [سبح اسم ربك الاعلى] في سور مثلها من المفصل. رواه البخاري رواہ البخاری (4941) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি প্রমাণ করে যে, সূরাহ আ'লা মক্কায়,নাযিল হয়েছে। কোন কোন ‘আলিম প্রশ্ন তোলেন যে, উক্ত সূরার দু'টি আয়াত قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ تَزَکّٰی ﴿ۙ۱۴﴾ وَ ذَکَرَ اسۡمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰی ﴿ؕ۱۵﴾  
যেহেতু সদাকায়ে ফিত্বরের ব্যাপারে আলোচনা প্রসঙ্গে, আর সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসাবে গণ্য করা হয় ২য় হিজরীতে। তাই সূরাহ আ'লাকে মাক্কী সূরাহ্ বলাতে প্রশ্ন হতে পারে। অবশ্য যদি এটা বলা হয় যে, আলোচ্য দুটি আয়াত ছাড়া অবশিষ্ট পূর্ণ সূরাহ্ মক্কায় নাযিল হয়েছে তাহলে উল্লেখিত প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু বাস্তব কথা হলো, এখানে আলোচ্য প্রশ্ন বা তার সম্ভাবনা কোনটিই সঠিক নয়। কেননা বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুসারে এ সূরাহ্ তার সকল আয়াত সহকারে মক্কায় নাযিল হয়েছে। অতঃপর মদীনায় এসে যখন সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করা হলো তখন রাসূল (সা.) আলোচ্য দুটি আয়াতের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন যে, এ দু’টি আয়াতের মূল বিষয়বস্তু মূলত সদাকায়ে ফিত্বর ও ঈদের সালাতের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত। এভাবেও বলা যায় যে, আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে শুধুমাত্র আর্থিক ও শারীরিক ‘ইবাদত তথা সদাকাহ্, যাকাত ও সালাতের নির্দেশ ও উৎসাহ রয়েছে, যাতে মূল উদ্দেশ্যের বিবরণ নেই। এ মূল উদ্দেশ্যকে পরবর্তীতে হাদীসের মাধ্যমে ঐ সময় বর্ণনা করা হয়েছে যখন সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।  (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৯৩-১৯৪ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৫৭-[২] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) (তার অন্তিমকালে) মিম্বারের উপর বসে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তার কোন বান্দাকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও আল্লাহ কাছে রক্ষিত নি’আমাত, এ দুটির মধ্যে ইখতিয়ার দিয়েছেন। তখন ঐ বান্দা আল্লাহর নিকট (রক্ষিত) নি’আমাতকে পছন্দ করেছেন। (রাবী বলেন,) এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, আমাদের পিতা ও মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। রাবী বলেন, আমরা অবাক হলাম এবং লোকেরা বলতে লাগল, এই বৃদ্ধের প্রতি দৃষ্টি দাও, রাসূলুল্লাহ (সা.) তো কোন একজন বান্দা সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তাকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস অথবা আল্লাহর কাছে রক্ষিত নি’আমাত- এ দুটি জিনিসের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিয়েছেন আর এ লোক বলছেন, আমরা আমাদের পিতামাতাকে আপনার ওপর কুরবান করছি। (রাবী বলেন,) আর পরে আমরা বুঝতে পারলাম, সে ইচ্ছা স্বাধীনতা বান্দা ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) আর আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) ছিলেন আমাদের সকলের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ: «إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ» . فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ قَالَ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتنَا فعجبنا لَهُ فَقَالَ النَّاس: نظرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ يُخْبِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ وَهُوَ يَقُولُ: فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْمُخَير وَكَانَ أَبُو بكر هُوَ أعلمنَا. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3904) و مسلم (2 / 2382)، (6170) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد الخدري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جلس على المنبر فقال: «ان عبدا خيره الله بين ان يوتيه من زهرة الدنيا ما شاء وبين ما عنده فاختار ما عنده» . فبكى ابو بكر قال: فديناك باباىنا وامهاتنا فعجبنا له فقال الناس: نظروا الى هذا الشيخ يخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عبد خيره الله بين ان يوتيه من زهرة الدنيا وبين ما عنده وهو يقول: فديناك باباىنا وامهاتنا فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المخير وكان ابو بكر هو اعلمنا. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3904) و مسلم (2 / 2382)، (6170) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উল্লেখিত ঘটনাটি ঘটেছিল নবী (সা.) -এর মৃত্যুর পূর্বে। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, এ ঘটনা ছিল নবী (সা.) -এর মৃত্যুর পাঁচ রাত পূর্বের।
তিনি ছিলেন আল্লাহর এক মহান বান্দা যাকে তিনি মৃত্যুর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, তাঁর সুদীর্ঘ হায়াত ও দুনিয়ায় বেঁচে থেকে তার আরাম-আয়েশ ভোগ করার জন্য যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন। অতএব তিনি এ দুনিয়ার অস্থায়ী সুখ-শান্তির উপর প্রাধান্য দেন সে সব নি'আমাকে যা আল্লাহ প্রস্তুত করে রেখেছেন তাঁর প্রিয় বান্দার জন্য। আর যে নি'আমাত চিরস্থায়ী। নবী (সা.) -এর মুখে এ বর্ণনা শুনে আবূ বাকর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন, কারণ তিনি তার পরিপূর্ণ বুঝ ও জ্ঞানের কারণে নবী (সা.) -এর বিচ্ছেদের ব্যাপারে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। কারণ তাঁর অসুস্থতা তখন শুরু হয়ে গিয়েছিল। তিনি অসুস্থতা দেখে অনুমান করতে পেরেছিলেন অথবা তিনি দুনিয়ার চাকচিক্যের উপর আখিরাতের জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছেন- এ কথা দ্বারা তিনি অনুমান করেছেন যে, তিনি নবী (সা.)-ই হবেন। কারণ এটি কেবল একজন আল্লাহর ওয়ালীই পারেন। আর নবী (সা.) তো হলেন নবীগণের নেতা। তাই তিনি দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী এ ভোগ-বিলাসের উপর আখিরাতের স্থায়ী সুখ-শান্তিকে বাছাই করে নিয়েছেন। নবী (সা.) -এর ইশারা দ্বারাই আবূ বাকর (রাঃ) বুঝতে পারলেন যে, নবী (সা.) শুধু এ দুনিয়ার উপর আখিরাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৫৮-[৩] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) উহুদ যুদ্ধে নিহত শহীদদের ওপর আট বছর পর (জানাযার) সালাত আদায় করলেন। সেদিনের সালাতে মনে হলো তিনি (সা.) যেন জীবিত এবং মৃতদেরকে বিদায় করছেন। অতঃপর তিনি মিম্বারে আরোহণ করে বললেন, আমি তোমাদের সম্মুখে অগ্রবর্তী লোক এবং আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী এবং তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হলো হাওযে কাওসার। আমি এখন আমার এ স্থানে দাঁড়িয়েও হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। আর পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিসমূহ অবশ্যই আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি তোমাদের ওপর এই আশঙ্কা করি না যে, আমার পরে তোমরা সকলে শিরকে লিপ্ত হয়ে যাবে; বরং আমি দুনিয়ার বিষয়ে তোমাদের প্রতি আশঙ্কা করি যে, তোমরা তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে। কোন কোন বর্ণনাকারী এর সাথে এ বাক্যগুলোও বৃদ্ধি করেছেন, অতঃপর তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে এবং এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, যেভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে তোমাদের পূর্ববর্তীগণ। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَتْلَى أحد بعد ثَمَانِي سِنِينَ كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالْأَمْوَاتِ ثُمَّ طَلَعَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: «إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ من مَقَامِي هَذَا وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بعدِي وَلَكِنِّي أخْشَى عَلَيْكُم الدُّنْيَا أَن تنافسوها فِيهَا» . وَزَادَ بَعْضُهُمْ:: «فَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ من كَانَ قبلكُمْ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4042) و مسلم (30 / 2296 و الزیادۃ لہ 31 / 2296)، (5976) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عقبة بن عامر قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على قتلى احد بعد ثماني سنين كالمودع للاحياء والاموات ثم طلع المنبر فقال: «اني بين ايديكم فرط وانا عليكم شهيد وان موعدكم الحوض واني لانظر اليه من مقامي هذا واني قد اعطيت مفاتيح خزاىن الارض واني لست اخشى عليكم ان تشركوا بعدي ولكني اخشى عليكم الدنيا ان تنافسوها فيها» . وزاد بعضهم:: «فتقتتلوا فتهلكوا كما هلك من كان قبلكم» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4042) و مسلم (30 / 2296 و الزیادۃ لہ 31 / 2296)، (5976) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: উহুদের যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিলেন আল্লাহর রাসূল (সা.) তাদের জানাযার সালাত আদায় করান আট বছর পরে। অর্থাৎ তাদের দাফন করার আট বছর পরে। কথিত আছে যে, নবী (সা.) তাদের জানাযার সালাত আদায় করেন। এটা নবী (সা.) -এর ও উহুদের শহীদদের বৈশিষ্ট্য ছিল। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে জানাযার সালাত বলতে দু'আ উদ্দেশ্য।
(كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالْأَمْوَاتِ) “তার এ সালাত যেন জীবিত ও মৃতদের জন্য বিদায়ী সালাত।”
মুহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ নবী (সা.) তাদের জন্য ইস্তিগফার করেন, আর তাদের জন্য তার ইস্তিগফার করা হলো তাঁর মৃত্যুর সময় কাছে আসা।
(إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ) “আমি তোমাদের সম্মুখে (হাশরের মাঠের দিকে) অগ্রগামী ব্যক্তি।”
ঐ ব্যক্তিকে ‘আরবীতে ফারাত্ব বলা হয়, যে কাফেলাকে পিছনে ফেলে রেখে নিজে সবার আগে পৌছে যায়, যাতে সেখানে কাফেলার জন্য পূর্ব হতেই থাকা, খাওয়া ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা করতে পারে। অতএব নবী (সা.) -এর এ ঘোষণার মাধ্যমে যেন তার ইচ্ছা ছিল তিনি তাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন, কারণ তিনি তাদের আগে যাচ্ছেন। আর সুপারিশকারী ব্যক্তি সুপারিশপ্রাপ্তের অগ্রগামী হয়।
ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আশ শামায়িলে বর্ণনা করেছেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূল (সা.) -কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি দুটি সন্তানকে আগে প্রেরণ করবে সে ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তখন মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি আপনার উম্মতের কোন ব্যক্তি একটিকে আগে প্রেরণ করে তবে? যদি কোন কেউ একটি প্রেরণ করে তবুও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তখন মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি কোন অগ্রগামীই না থাকে তবে? তখন নবী (সা.) বলেন, তখন আমিই আমার উম্মতের জন্য অগ্রগামী হয়ে যাব। তারা আমার মতো আর কোন সাওয়াবপ্রাপ্ত হবে না।
(وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ) “আর আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী।” অর্থাৎ আমি তোমাদের ছেড়ে যদিও যাচ্ছি; কিন্তু তোমাদের অবস্থা ও ব্যাপার হতে সম্পর্কহীন ও অবগত থাকব না, কেননা তোমাদের ‘আমল ও অবস্থাদি সেখানে আমার সামনে পেশ করা হবে। অথবা আমি তোমাদের সাক্ষী। আমি সেখানে তোমাদের আনুগত্য এবং তোমাদের ইসলাম গ্রহণের সাক্ষ্য দিব। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ) “তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হবে হাওযে কাওসার।”
অর্থাৎ আখিরাতের হাওযে কাওসারে যেখানে পৌছে ভালো ও মন্দ এবং মু'মিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য সূচিত হবে। তদ্রুপ তোমাদেরকে হাশরের ময়দানে যে বিশেষ শাফা'আতের ওয়াদা আমি করেছি তা হবে হাওযে কাওসারে। সেখানে শুধুমাত্র মুমিন বান্দাদের আমার সুপারিশের মাধ্যমে হাওযে কাওসার হতে পরিতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।
(وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ) “আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিসমূহ প্রদান করা হয়েছে।” অর্থাৎ আমার পরে আমার উম্মতের মুজাহিদদের হাতে যে সকল বড় বড় এলাকা ও শহর বিজয় হবে এবং সেখানকার লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করবে, সে সকল এলাকার ধনভাণ্ডার আমার উম্মতের আয়ত্বে এসে যাবে।
(وَلَكِنِّي أخْشَى عَلَيْكُم الدُّنْيَا أَن تنافسوها فِيهَا) “তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে।” এর দ্বারা রাসূল (সা.) এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, আমার পরেও তোমরা ইনশা-আল্ল-হ ঈমান ও দীনের উপর স্থির থাকবে। তবে তোমরা দুনিয়ার মূল্যবান জিনিসের প্রতি সম্পূর্ণরূপেই ঝুকে পড়বে। তোমাদের কর্তব্য ছিল তার প্রতি সম্পূর্ণরূপে না ঝুকা। কারণ অস্থায়ী নি'আমাতকে নিয়ে কখনো প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত নয়। বরং প্রতিযোগিতা হওয়া চাই স্থায়ী জিনিসকে নিয়ে। যেমন- মহান আল্লাহ বলেছেন, (وَ فِیۡ ذٰلِکَ فَلۡیَتَنَافَسِ الۡمُتَنَافِسُوۡنَ) “আর নি'আমাতের প্রত্যাশীদের অর্থাৎ ঈমানদারদের জন্য উচিত যে, তারা তারই (আখিরাতের) নি'আমাতের প্রত্যাশী ও আগ্রহী হবে।” (সূরা আল মুত্বাফফিফীন ৮৩: ২৬)

(فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ من كَانَ قبلكُمْ) “তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে, যেরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে আগের লোকেরা।” অর্থাৎ সম্পদ নিয়ে তাদের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এতে রাসূল (সা.) -এর মু'জিযাহ্ আছে। কারণ তিনি এটা সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তার উম্মাত পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের মালিক হবে, আর তা হয়েছে। আর তারা কখনো মুরতাদ হয়ে যাবে না। আর আল্লাহ তাদেরকে মুরতাদ হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। আর তারা দুনিয়ার প্রতি বেশি আগ্রহী হবে ও প্রতিযোগিতা করবে। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক্ শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৯৬-১৯৭ পৃষ্ঠা)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৫৯-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার ঘরে, আমার পালার দিন এবং আমার বুক ও গলার মধ্যবর্তী স্থানে হেলান দেয়া অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। আর তাঁর ইন্তিকালের আগ মুহূর্তে আল্লাহ তা’আলা আমার মুখের লালার সাথে তাঁর মুখের লালাও মিশিয়ে দিয়েছেন। আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর মিসওয়াক হাতে আমার কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন আমার সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঐ মিসওয়াকটির দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মিসওয়াক করতে চাচ্ছেন। অতএব আমি বললাম, আমি কি মিসওয়াকটি আপনার জন্য নেব? তিনি (সা.) মাথা নেড়ে হা-বোধক ইঙ্গিত করলেন। অতএব আমি মিসওয়াকটি তার কাছ হতে নিয়ে তাঁকে দিলাম। তা তার জন্য কষ্টকর হলো। তখন বললাম, আমি কি তাকে আপনার জন্য নরম করে দেব? তিনি (সা.) মাথা হেলিয়ে হ্যা-বোধক ইঙ্গিত করলেন। অতএব তখন আমি তাকে নরম করে দিলাম। অতঃপর তিনি (সা.) তা ব্যবহার করলেন। আর তাঁর সামনে একটি পাত্রে পানি রাখা ছিল। তাতে তিনি (সা.) উভয় হাত ঢুকিয়ে হাত দুটি দ্বারা আপন চেহারা মাসেহ করতে লাগলেন। এ সময় তিনি (সা.) বলছিলেন- লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, অবশ্য মৃত্যুর যন্ত্রণা ভীষণ। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে থাকলেন- ’ফি রফীকিল আলা-’ অর্থাৎ- উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত কর), এ কথা বলতে বলতে তিনি ইন্তিকাল করেন এবং তাঁর হাত নিচে নেমে আসে। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ عَلِيٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوِفِّيَ فِي بَيْتِي وَفِي يَوْمِي وَبَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي وَإِنَّ اللَّهَ جَمَعَ بَيْنَ رِيقِي وَرِيقِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ دَخَلَ عَلَيَّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ وَبِيَدِهِ سِوَاكٌ وَأَنَا مُسْنِدَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَيْتُهُ يَنْظُرُ إِلَيْهِ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ يُحِبُّ السِّوَاكَ فَقُلْتُ: آخُذُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ أَنْ نَعَمْ فَتَنَاوَلْتُهُ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ وَقُلْتُ: أُلَيِّنُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ أَنْ نَعَمْ فَلَيَّنْتُهُ فَأَمَرَّهُ وَبَيْنَ يَدَيْهِ رَكْوَةٌ فِيهَا مَاءٌ فَجَعَلَ يُدْخِلُ يَدَيْهِ فِي الْمَاءِ فَيَمْسَحُ بِهِمَا وَجْهَهُ وَيَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا الله إِنَّ للموتِ سَكَراتٍ» . ثمَّ نصب يَده فَجَعَلَ يَقُولُ: «فِي الرَّفِيقِ الْأَعْلَى» . حَتَّى قُبِضَ ومالت يَده. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4449) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة قالت: ان من نعم الله علي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم توفي في بيتي وفي يومي وبين سحري ونحري وان الله جمع بين ريقي وريقه عند موته دخل علي عبد الرحمن بن ابي بكر وبيده سواك وانا مسندة رسول الله صلى الله عليه وسلم فرايته ينظر اليه وعرفت انه يحب السواك فقلت: اخذه لك؟ فاشار براسه ان نعم فتناولته فاشتد عليه وقلت: الينه لك؟ فاشار براسه ان نعم فلينته فامره وبين يديه ركوة فيها ماء فجعل يدخل يديه في الماء فيمسح بهما وجهه ويقول: «لا اله الا الله ان للموت سكرات» . ثم نصب يده فجعل يقول: «في الرفيق الاعلى» . حتى قبض ومالت يده. رواه البخاري رواہ البخاری (4449) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَفِي يَوْمِي) আমার দিনে'। অর্থাৎ আমার পালার দিনে যাতে করে আমি তার খিদমাত করে সম্মানিত হতে পারি। “জামিউল উসূল” গ্রন্থে এসেছে, যেদিন রাসূল (সা.) -এর মৃত্যু রোগের সূচনা মাথা ব্যথার মাধ্যমে হয়, সেদিন তিনি মা আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। অতঃপর যেদিন মাথাব্যথা ও অসুস্থতা বেড়ে গেল সেদিন তিনি মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। সে সময় রাসূল (সা.) তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীগণের নিকট অসুস্থতার দিনগুলো মা আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থানের জন্য সম্মতি ও আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা সকলে তাকে অনুমতি প্রদান করেন। মৃত্যুরোগের তীব্রতা ১২ দিন ছিল। আর নবী (সা.) -এর মৃত্যু রবীউল আওয়াল মাসের সোমবার দিন চাশতের সময় হয়েছে। তারিখের ব্যাপারে কেউ কেউ ২ রবীউল আওয়াল বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে, তিনি ১২ রবীউল আওয়াল মৃত্যু বরণ করেছেন এবং অধিকাংশ বর্ণনা দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হয়। (মিরক্কাতুল মাফাতীহ)

(وَبَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي) “আমার বুক ও গলার মধ্যবর্তী স্থানে।” অর্থাৎ যখন রাসূল (সা.) -এর পবিত্র আত্মা তাঁর পবিত্র দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায় তখন তিনি মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বুক ও গলার মধ্যবর্তী স্থানে মাথা রেখে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, সাহার হলো পেটের উপরিভাগে কণ্ঠনালির সাথে সংযুক্ত স্থানকে। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নাহার হলো বুকের উপরিভাগে হার ঝুলানোর স্থান। ইবনু হাজার বলেন, আস সাও হলো বক্ষ। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, আমার বক্ষ ও গলার মধ্যবর্তী স্থানে অর্থাৎ নবী (সা.) এই মৃত্যুবরণ করার সময় তার মাথা আমার বক্ষ ও গলার মাঝে ছিল। হাকিম ও ইবনু সা'দ-এর বর্ণনা যে, সে সময় রাসূল (সা.) -এর মাথা ‘আলী (রাঃ)-এর কোলে ছিল উক্ত বর্ণনার বিরোধী নয়। কেননা প্রথমত তারা দুজন যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উক্ত রিওয়ায়াতকে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে হতে কোন পদ্ধতিই এমন নয় যে, তা কোন ত্রুটি হতে মুক্ত। এ মত পোষণ করেন হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ)। দ্বিতীয়ত যদি উক্ত পদ্ধতিকে সঠিক মেনে নেয়াও হয় তাহলে তার এ ব্যাখ্যা করা হবে যে, রাসূল (সা.) -এর মাথা ‘আলী (রাঃ)-এর কোলে তার মৃত্যুর পূর্বে ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
(إِنَّ للموتِ سَكَراتٍ) “নিশ্চয় মৃত্যুর কষ্ট ভীষণ।” অর্থাৎ মৃত্যুর যন্ত্রণা খুবই কষ্টের যে কোন মানুষের জন্য। তা নবী  রাসূলদের জন্যও কষ্টের। অতএব তোমরা সেই ভীষণ কষ্টের মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর। আর আল্লাহর কাছে সহজ মৃত্যু কামনা কর। শামায়িলে তিরমিযীতে মা আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, মৃত্যুর সময় আমি রাসূল (সা.)-কে দেখলাম যে, তিনি ব্যস্ত আছেন তার পাশে রাখা পানির পাত্র থেকে দু’হাতে পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল মাসেহ করছেন আর বলছেন, হে আল্লাহ! আমাকে খারাপ মৃত্যু থেকে রক্ষা করুন। অথবা তিনি বলেন, মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে। আর তার এ কষ্টের কারণে তার মর্যাদা আরো বেশি করা হয়। তিনি তার হাতকে উঁচু করে দু'আ করার মতো করে অথবা ইশারা করার মতো করে আকাশের দিকে তুলে ছিলেন। আর বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিলিত করুন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন-
(وَ حَسُنَ اُولٰٓئِکَ رَفِیۡقًا) “আর তারা বন্ধু হিসেবে কতই না উত্তম”- (সূরা আন্ নিসা ৪: ৬৯)। বন্ধু হলো পথের সাথি। বলা হয় যে, আমার জন্য উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন স্থান নির্ধারণ করে দিন। আর সে স্থান বলতে তার জন্য নির্ধারিত মাকামে মাহমূদ উদ্দেশ্য। যার অর্থ আমাকে প্রতিষ্ঠিত থেকে যেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিন। জাওহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আর রফীকিল আ'লা হলো, 'আল জান্নাত'। এ কথা বলেছেন ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ)। আর তা উচ্চ স্থান হওয়া থেকে খালি নয়। বলা হয়ে থাকে যে, আর রফীকিল আ'লা বলতে বুঝানো হয়েছে, আল্লাহর নামসমূহকে। কারণ তার মধ্যে নম্রতা ও দয়া আছে। এখানে (فعيل) শব্দটি (فاعل) অর্থে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়াশীল। আর এখানে (في) শব্দটি যোগ করেছেন। অধিক নিকটবর্তী হওয়ার জন্য। এখানে তার রবের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও রবের একাত্মতার ঘোষণার প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬০-[৫] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক নবীকেই তার মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর দুনিয়া ও পরকালের মাঝে কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) - যখন তাঁর অন্তিম রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি কঠিন শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার মুখোমুখী হন। সে সময় আমি তাকে কুরআনের এ আয়াত পড়তে শুনলাম, অর্থাৎ সে সমস্ত লোকেদের সাথে যাদেরকে আপনি পুরস্কৃত করেছেন, যথা- নবী, সিদ্দীক, শুহাদা ও সালিহীনগণ।’ তাতে আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁকে সেই ইচ্ছা স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «مامن نَبِيٍّ يَمْرَضُ إِلَّا خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» . وَكَانَ فِي شَكْوَاهُ الَّذِي قُبِضَ أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ شَدِيدَةٌ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ من الصديقين والنبيين وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ. فَعَلِمْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4586) و مسلم (86 / 2444)، (6295) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «مامن نبي يمرض الا خير بين الدنيا والاخرة» . وكان في شكواه الذي قبض اخذته بحة شديدة فسمعته يقول: مع الذين انعمت عليهم من الصديقين والنبيين والشهداء والصالحين. فعلمت انه خير. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4586) و مسلم (86 / 2444)، (6295) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِلَّا خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ) “দুনিয়া ও আখিরাতের কোন একটিকে গ্রহণ করার ইখতিয়ার দেয়া হয়।” অর্থাৎ তাকে দুনিয়াতে আরো কিছুকাল বেঁচে থাকার সুযোগ গ্রহণ করার। অথবা আখিরাতের জীবনের দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়ার। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সকল নবীই আল্লাহর কাছে যাওয়ার সুযোগকে পছন্দ করেছেন। কারণ এটা উত্তম ও চিরস্থায়ী। কাজেই সকল নবী-রাসূলগণই এটাই পছন্দ করেছেন।
(الَّذِي قُبِضَ أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ شَدِيدَةٌ) “রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তার অন্তিম রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি কঠিন শাসরুদ্ধ অবস্থার সম্মুখীন হন।” অর্থাৎ তাঁর কণ্ঠস্বরও মোটা হয়ে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা এমন রোগ যা কণ্ঠনালীতে হয়, আর স্বর পরিবর্তিত হয়ে মোটা হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে, এখানে এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাশি। কামূসে আছে, কাশি হলো এমন ঝাকি যা ফুসফুস ও তার আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কষ্ট দেয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬১-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর রোগ যখন বৃদ্ধি পেল এবং তিনি বেহুঁশ হতে লাগলেন, তখন ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, আহা! কত কষ্ট পাচ্ছেন আমার আব্বাজান। এ কথা শুনে তিনি (সা.) বললেন, আজকের পর তোমার আব্বাজানের ওপর আর কোন কষ্ট নেই। অতঃপর যখন তিনি (সা.) মৃত্যুবরণ করলেন, তখন ফাতিমা (রাঃ) বলতে লাগলেন, ’ওগো আমার আব্বাজান! রব আপনাকে আহ্বান করেছেন এবং তাতে সাড়া দিয়ে আপনিও তাঁর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। ওগো আমার আব্বাজান! জান্নাতুল ফিরদাওস আপনার স্থান। হায় আমার আব্বাজান! আপনার তিরোধানের খবর আমি জিবরীলকে শুনাচ্ছি।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে যখন দাফন করা হলো, তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেন, হে আনাস! তোমাদের অন্তর এটা কিভাবে সহ্য করল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর তোমরা মাটি ঢাললে। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَن أنس قَالَ: لما ثقل النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ يَتَغَشَّاهُ الْكَرْبُ. فَقَالَتْ فَاطِمَةُ: وَاكَرْبَ آبَاهْ فَقَالَ لَهَا: «لَيْسَ عَلَى أَبِيكِ كَرْبٌ بَعْدَ الْيَوْمِ» . فَلَمَّا مَاتَ قَالَتْ: يَا أَبَتَاهُ أَجَابَ رَبًّا دَعَاهُ يَا أَبَتَاهُ مَنْ جَنَّةُ الْفِرْدَوْسِ مَأْوَاهُ يَا أَبَتَاهُ إِلَى جِبْرِيلَ نَنْعَاهُ. فَلَمَّا دُفِنَ قَالَتْ فَاطِمَةُ: يَا أَنَسُ أَطَابَتْ أَنْفُسُكُمْ أَنْ تَحْثُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التُّرَابَ؟ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (4462) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: لما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم جعل يتغشاه الكرب. فقالت فاطمة: واكرب اباه فقال لها: «ليس على ابيك كرب بعد اليوم» . فلما مات قالت: يا ابتاه اجاب ربا دعاه يا ابتاه من جنة الفردوس ماواه يا ابتاه الى جبريل ننعاه. فلما دفن قالت فاطمة: يا انس اطابت انفسكم ان تحثوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم التراب؟ رواه البخاري رواہ البخاری (4462) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَيْسَ عَلَى أَبِيكِ كَرْبٌ بَعْدَ الْيَوْمِ) “তোমার আব্বাজানের ওপর আজকের পর আর কোন কষ্ট নেই।” অর্থাৎ কষ্ট ছিল কঠিন ব্যথা ও খুব যন্ত্রণার কারণে। আর আজকের দিনের পর থেকে তা থাকবে না। কারণ কষ্ট ব্যথা মানুষের শরীরের সাথে সম্পর্কিত। আর আজকের পর থেকে সব গঠনগত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর মৃত্যুর পর রূহের কোন সমস্যা বা দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। তিরমিযী বৃদ্ধি করেছেন, তোমার পিতার কাছে এমন জিনিস পৌছেছে যার থেকে কিয়ামত পর্যন্ত কোন কেউ পালাতে পারে না।
আলোচ্য হাদীসটি থেকে বুঝা যায় যে, নবী (সা.) হায়াতুন্ নবী নন। বরং তাকে সাহাবীরা কবর দিয়েছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি মৃত। তার দুনিয়ার জীবন শেষ হয়েছিল। তাইতো ফাতিমাহ্ (রাঃ) বলেন, হে আনাস! তোমরা কিভাবে আমার পিতার বুকের উপর মাটি চাপাতে পেরেছ! (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬২-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন হাবশী লোকেরা তাঁর আগমনে উৎফুল্ল হয়ে নিজ বর্শা দিয়ে খেল-তামাশা প্রদর্শন করল। (আবূ দাউদ)
দারিমীর এক বর্ণনাতে আছে, আনাস (রাঃ) বলেন: যেদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) (মদীনায়) আমাদের মাঝে আগমন করলেন, সেদিনের তুলনায় অধিক উত্তম ও উজ্জ্বলতম দিন আমি কখনো দেখতে পাইনি এবং যেদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তিকাল করেছেন, সেদিনের তুলনায় অধিক মন্দ ও তিমিরময় দিন আমি দেখতে পাইনি।
তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, আনাস (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যেদিন মদীনায় আগমন করেছেন, সেদিন তার সবকিছু আলোকিত হয়ে যায়। আর যেদিন তিনি ইন্তিকাল করেছেন, সেদিন তার সবকিছু আধারে ঢেকে যায়। (তিনি আরো বলেছেন,) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে দাফন করে আমরা আমাদের হাত হতে মাটি ঝেড়ে না নিতেই আমরা স্বীয় অন্তরে উদাসীনতা অনুভব করতে লাগলাম।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

عَن أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ لَعِبَتِ الْحَبَشَةُ بِحِرَابِهِمْ فَرَحًا لِقُدُومِهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَفِي رِوَايَةِ الدَّارِمِيِّ (صَحِيح) قَالَ: مَا رَأَيْتُ يَوْمًا قَطُّ كَانَ أَحْسَنَ وَلَا أَضْوَأَ مِنْ يَوْمٍ دَخَلَ عَلَيْنَا فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا رَأَيْت يَوْمًا كَانَ أقبح وأظلم مِنْ يَوْمٍ مَاتَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ قَالَ: لَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي دَخَلَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ أَضَاءَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَظْلَمَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ وَمَا نَفَضْنَا أَيْدِيَنَا عَنِ التُّرَابِ وَإِنَّا لَفِي دَفْنِهِ حَتَّى أَنْكَرْنَا قُلُوبنَا

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4923) و الدارمی (1 / 41 ح 89) و الترمذی (3618 وقال : صحیح غریب) * سند ابی داود صحیح علی شرط الشیخین و سند الدارمی صحیح و سند الترمذی : حسن ۔
(صَحِيح)

عن انس قال: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة لعبت الحبشة بحرابهم فرحا لقدومه. رواه ابو داود وفي رواية الدارمي (صحيح) قال: ما رايت يوما قط كان احسن ولا اضوا من يوم دخل علينا فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وما رايت يوما كان اقبح واظلم من يوم مات فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي رواية الترمذي قال: لما كان اليوم الذي دخل فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة اضاء منها كل شيء فلما كان اليوم الذي مات فيه اظلم منها كل شيء وما نفضنا ايدينا عن التراب وانا لفي دفنه حتى انكرنا قلوبنا اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4923) و الدارمی (1 / 41 ح 89) و الترمذی (3618 وقال : صحیح غریب) * سند ابی داود صحیح علی شرط الشیخین و سند الدارمی صحیح و سند الترمذی : حسن ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: নবী (সা.) -এর মদীনায় আগমনের কারণে মদীনাবাসী খুব খুশি হয়েছিলেন। আর তাদের শহর আনন্দে আলোকিত হয়ে উঠেছিল। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই আলোকিত হওয়াটা ছিল অনুভূত আলো। তারা তাদের মন দিয়ে অনুভব করেছিল।
আর নবী (সা.) যেদিন মারা যান সেদিন তাদের সবকিছু অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। কারণ নবী (সা.) - এর নুবুওয়্যাতের আলো ছিল বাহ্যিক ও গোপনভাবে সারা পৃথিবীর আলোস্বরূপ, আর মদীনাবাসী ছিল সেই আলোর সব থেকে কাছে।
“আমরা আমাদের অন্তরে উদাসীনতা অনুভব করতে লাগলাম।” অর্থাৎ রাসূল (সা.) -এর মৃত্যুর কারণে আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হতে লাগল। আর আমাদের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার অনুভূত হতে লাগল। ওয়াহীর বন্ধের কারণে আমরা আমাদের হৃদয়ে নম্রতা, দয়া ও আমাদের অন্তরে থাকা নূরকে খুঁজে পাচ্ছিলাম।
আর আমরা তার উপস্থিত থাকার বরকতকে হারিয়ে ফেললাম। তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা তাদের হৃদয়ে যে বিশুদ্ধতা ও দয়া ওয়াহী চলাকালীন সময়ে পেত তা হারিয়ে ফেলল। দীর্ঘদিন ধরে রাসূল (সা.) -এর যে শিক্ষা ও শক্তি ছিল তা তারা হারিয়ে ফেলল। আর তিনি এটা বলেননি যে, তারা যে সত্যের উপর ছিলেন তা তারা পাননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৩-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ইন্তিকাল হলো, তখন তাঁর দাফনের ব্যাপারে সাহাবীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিল। তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে এ ব্যাপারে একটি কথা শুনেছি। তিনি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীকে যে স্থানে দাফন করা পছন্দ করেন, সে স্থানে তাঁর আত্মা কবয করেন। অতএব, রাসূল (সা.) -কে তাঁর বিশ্রামস্থলেই তোমরা দাফন কর। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَرُوِيَ صَحِيحا من وَجه آخر) وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْتَلَفُوا فِي دَفْنِهِ. فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا. قَالَ: «مَا قَبَضَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي يحبُ أَن يُدْفَنَ فِيهِ» . ادفنوه فِي موضعِ فراشِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (1018 وقال : غریب

وروي صحيحا من وجه اخر) وعن عاىشة قالت: لما قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم اختلفوا في دفنه. فقال ابو بكر: سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم شيىا. قال: «ما قبض الله نبيا الا في الموضع الذي يحب ان يدفن فيه» . ادفنوه في موضع فراشه. رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (1018 وقال : غریب

ব্যাখ্যা: (اخْتَلَفُوا فِي دَفْنِهِ) “তাঁর দাফনের ব্যাপারে সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেল।” অর্থাৎ কোন জায়গায় তার কবর হবে, তাকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে। বলা হলো, তাকে মাসজিদে নাবাবীতে কবর দেয়া হোক। কেউ বলল, তাকে তার সাহাবীদের মাঝে বাকী'তে কবর দেয়া হোক। কেউ বলল, তাকে মক্কায় কবর দেয়া হোক। কেউ বলল, তার পিতা ইবরাহীম-এর নিকট তাকে দাফন করা হোক। সালিম ইবনু ‘উবায়দ থেকে তিরমিযী তার শামায়িল কিতাবে বর্ণনা করেছেন, তারা তাঁর বহু দিনের সাথি আবূ বাকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, তাঁকে কি কবর দেয়া যাবে? তিনি বললেন, হ্যা। তারা বলল, কোথায়? তিনি বললেন, যে জায়গা থেকে আল্লাহ তাঁর রূহ নিয়েছেন। কারণ আল্লাহ তাঁর রূহকে কোন পবিত্র স্থান ব্যতীত গ্রহণ করেননি। তখন তারা মনে করল, তিনি সত্য কথা বলছেন। আর তিনি এ ব্যাপারে যে হাদীস বলেছেন, এটা তার বিপরীত নয়।  (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৪-[৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্থাবস্থায় প্রায়শ বলতেন, প্রত্যেক নবীকে মৃত্যুর পূর্বে জান্নাতে তাঁর নিবাস দেখিয়ে দেয়া হয়, তারপর তাঁকে ইচ্ছানুযায়ী স্বাধীনতা দেয়া হয়। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হন এবং তার মাথা ছিল আমার রানের উপর। এ সময় তিনি (সা.) বেহুশ হয়ে পড়লেন। অতঃপর হুশ ফিরে আসলে ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সাথে। তখন আমি মনে মনে বললাম, তিনি এখন আমাদের কাছে থাকা ভালোবাসবেন না। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আর আমি এটা বুঝতে পারলাম, সুস্থ অবস্থায় তিনি (সা.) যে কথাটি বলতেন, এটা সে কথারই বহিঃপ্রকাশ। আর সেই কথাটি হলো, প্রত্যেক নবীকে মৃত্যুর আগে জান্নাতে তাঁর নিবাস দেখিয়ে দেয়ার পর তাকে ইচ্ছানুযায়ী স্বাধীনতা দেয়া হয়। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী (সা.) সর্বশেষ এ বাক্যটি উচ্চারণ করেন- (اللَّهُمَّ الرفيق الْأَعْلَى) (হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সঙ্গে)। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَهُوَ صَحِيح: «لَنْ يُقْبَضَ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يُرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ثُمَّ يُخَيَّرَ» . قَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَمَّا نَزَلَ بِهِ ورأسُه على فَخذِي غُشِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَأَشْخَصَ بَصَرُهُ إِلَى السَّقْفِ ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» . قُلْتُ: إِذَنْ لَا يَخْتَارُنَا. قَالَتْ: وَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَدِيثُ الَّذِي كَانَ يُحَدِّثُنَا بِهِ وَهُوَ صَحِيحٌ فِي قَوْلِهِ: «إِنَّهُ لَنْ يُقْبَضَ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يُرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ثُمَّ يُخَيَّرَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَانَ آخِرُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «اللَّهُمَّ الرفيق الْأَعْلَى» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6509) و مسلم (87 / 2444)، (6297) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وهو صحيح: «لن يقبض نبي قط حتى يرى مقعده من الجنة ثم يخير» . قالت عاىشة: فلما نزل به وراسه على فخذي غشي عليه ثم افاق فاشخص بصره الى السقف ثم قال: «اللهم الرفيق الاعلى» . قلت: اذن لا يختارنا. قالت: وعرفت انه الحديث الذي كان يحدثنا به وهو صحيح في قوله: «انه لن يقبض نبي قط حتى يرى مقعده من الجنة ثم يخير» قالت عاىشة: فكان اخر كلمة تكلم بها النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم الرفيق الاعلى» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6509) و مسلم (87 / 2444)، (6297) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (اللَّهُمَّ الرفيق الْأَعْلَى) “হে আল্লাহ! উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সঙ্গে।” এটা ছিল আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর পবিত্র জবান থেকে নির্গত সর্বশেষ বাণী। ঐতিহাসিক সুহায়লী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) সর্বপ্রথম মুখ থেকে যে কথাটি বের করেছিলেন তা ছিল ‘আল্ল-হু আকবার'। আর তিনি (সা.) কথা বলেছিলেন যখন তিনি তার দুধ মা হালিমা-এর নিকট দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন- এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ)। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, রূহ জগতে আল্লাহ তা'আলা যখন সকল রূহ থেকে স্বীয় প্রভুত্বের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যাকে (عهد ألست) “আহদে আলাসতু” বলা হয়, তখন আল্লাহ তা'আলার প্রশ্ন- আলাসতু বিরব্বিকুম? আমি কি তোমাদের প্রভু নই? এর জবাবে বালা, তথা জি হ্যা, অবশ্যই আপনি আমাদের প্রভু। সর্বপ্রথম এ উত্তর দিয়েছিলেন মুহাম্মাদ (সা.)। (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৫-[১০] উক্ত রাবী [আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যে রোগে ইন্তিকাল করেছেন, সে রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে বলেছিলেন, হে ’আয়িশাহ্! খায়বারে (বিষ-মিশ্ৰিত) যে খাদ্য আমি খেয়েছিলাম, আমি সদা তার যন্ত্রণা অনুধাবন করি। আর এখন মনে হচ্ছে, আমার শিরাগুলো সে বিষের ক্রিয়ায় ফেটে যাচ্ছে। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ: «يَا عَائِشَةُ مَا أَزَالُ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ وَهَذَا أَوَانُ وَجَدْتُ انْقِطَاعَ أَبهري من ذَلِك السم» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4428) ۔
(صَحِيح)

وعنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في مرضه الذي مات فيه: «يا عاىشة ما ازال اجد الم الطعام الذي اكلت بخيبر وهذا اوان وجدت انقطاع ابهري من ذلك السم» . رواه البخاري رواہ البخاری (4428) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (انْقِطَاعَ أَبهري) “আমার শিরাগুলো সে বিষক্রিয়ার ফেটে যাচ্ছে।” অর্থাৎ আবহারী বলা হয় এমন শিরাকে যা কল্‌ব বা হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত থাকে। যদি সে শিরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে মানুষ মারা যায়। নিহায়াহ গ্রন্থে এসেছে, আবহার হলো পিঠের শিরা। বলা হয়ে থাকে, তা হলো বাহুর শিরা। এও বলা হয়ে থাকে, তা হলো এমন শিরা যা হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত। যদি তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে আর জীবন বাকি থাকে না। বলা হয়ে থাকে, আবহার হলো এমন শিরা যা মাথা থেকে উৎপত্তি হয়েছে, আর তার বিস্তৃতি হলো পা পর্যন্ত। যা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, অতএব মাথার শিরাকে বলা হয় আন নাম্মাহ, আর তার থেকে (أسكت الله با مته) অর্থাৎ আল্লাহ তাকে মৃত্যু দিয়েছেন। আর তা বিস্তৃত হয়ে হালক্ক বা কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌছে, তখন তাকে বলা হয় আল ওয়ারীদ। আর তা বিস্তৃত হয়ে বক্ষ পর্যন্ত পৌছে, তখন তাকে বলা হয় আল আবহার। আর তা বিস্তৃত হয়ে পায়ের পিণ্ডলী বা সাক পর্যন্ত পৌঁছে, তখন তাকে সাফিন বলা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৬-[১১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ইন্তিকালের সময় কাছাকাছি হয়, তখন তার ঘরে অনেক লোকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবী (সা.) বললেন, আসো, আমি তোমাদের জন্য একটি (স্মরণ) লিপি লিখে দিয়ে যাই, যাতে তোমরা এরপর কখনো গোমরাহ না হও। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওপর এখন রোগ-যন্ত্রণা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর তোমাদের কাছে কুরআন মাজীদ রয়েছে, অতএব আল্লাহর কিতাবই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। এই নিয়ে গৃহে উপস্থিত লোকেদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিল এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়লেন। তাদের মাঝে কেউ কেউ বললেন, কাগজ-কলম নিয়ে আসো, যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেন। আবার কেউ সে কথাই বললেন, যা ’উমার (রাঃ) বলেছেন। অতঃপর যখন হৈ চৈ এবং মতবিরোধ চরমে পৌছল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। (অধস্তন বর্ণনাকারী) উবায়দুল্লাহ বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে বলতেন, এটা একটি বিপদ, মারাত্মক বিপদ, যা লোকেদের মতবিরোধ ও শোরগোলের আকৃতিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার ওয়াসিয়্যাত লিখে দেয়ার ইচ্ছার মধ্যে অন্তরাল হয়ে দাড়াল।
আর সুলায়মান ইবনু আবূ মুসলিম আহওয়াল-এর বর্ণনাতে আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, হায় বৃহস্পতিবার! কতই বেদনাদায়ক বৃহস্পতিবার। এ কথা বলে তিনি এমনভাবে কাঁদতে লাগলেন যে, তাঁর অশ্রুতে নিচের বালু-কঙ্কর পর্যন্ত ভিজে গেছে। (সুলায়মান বলেন,) আমি প্রশ্ন করলাম, হে ইবনু আব্বাস! বৃহস্পতিবার দিনের বিষয়টি কি? তিনি বললেন, এদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর রোগ-যন্ত্রণা খুব বেড়ে গিয়েছিল তখন তিনি বলেছিলেন, অস্থিখণ্ড (লেখার উপকরণ) নিয়ে আসো, আমি তোমাদের জন্য এমন লিখে দেব, যার পর তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। তখন লোকেরা তর্কে লিপ্ত হলো। অথচ নবীর সম্মুখে তর্ক করা সমীচীন ছিল না। এ সময় কেউ কেউ বললেন, তাঁর অবস্থা কেমন? তবে কি তিনি প্রলাপ করছেন? তাঁকে প্রশ্ন কর। কেউ কেউ তাঁকে বারবার প্রশ্ন করতে লাগল। সে সময় তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, আমাকে ঐ অবস্থায় থাকতে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, ঐ অবস্থায় থাকতে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, তা ঐ অবস্থা হতে অনেক ভালো, যেদিকে তোমরা আমাকে আহ্বান করছ। অতঃপর তিনি তাদেরকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিলেন। ১. মুশরিকদেরকে ’আরব উপদ্বীপ হতে বহিষ্কার করবে। ২. আমি যেভাবে প্রতিনিধিদলকে স্বসম্মানে পুরস্কৃত করতাম, (আমার পরে) সেভাবে তাদেরকে পুরস্কৃত করবে। আর ইবনু আব্বাস (রাঃ) তৃতীয়টি হতে নীরব থাকেন, অথবা তিনি বলেছেন, কিন্তু আমি (সুলায়মান) তা ভুলে গেছি। সুফইয়ান বলেন, এটা সুলায়মানের কথা। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا حُضِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ» . فَقَالَ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غَلَبَ عَلَيْهِ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ حَسْبُكُمْ كِتَابُ اللَّهِ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ وَاخْتَصَمُوا فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم. وَمِنْهُم يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ. فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغَطَ وَالِاخْتِلَافَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُومُوا عَنِّي» . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَكَانَ ابنُ عباسٍ يَقُول: إِن الرزيئة كل الرزيئة مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيَّنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ لِاخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ وَفِي رِوَايَةِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ الْأَحْوَلِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يَوْمُ الْخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ؟ ثُمَّ بَكَى حَتَّى بَلَّ دَمْعُهُ الْحَصَى. قُلْتُ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ؟ قَالَ: اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعُهُ فَقَالَ: «ائْتُونِي بِكَتِفٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَا تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا» . فَتَنَازَعُوا وَلَا يَنْبَغِي عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ. فَقَالُوا: مَا شَأْنُهُ أَهَجَرَ؟ اسْتَفْهِمُوهُ فَذَهَبُوا يَرُدُّونَ عَلَيْهِ. فَقَالَ: «دَعُونِي ذَرُونِي فَالَّذِي أَنَا فِيهِ خَيْرٌ مِمَّا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ» . فَأَمَرَهُمْ بِثَلَاثٍ: فَقَالَ: «أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَأَجِيزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ» . وَسَكَتَ عَنِ الثَّالِثَةِ أَوْ قَالَهَا فَنَسِيتُهَا قَالَ سُفْيَانُ: هَذَا مِنْ قَول سُلَيْمَان. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (114) و مسلم (22 / 1637) الروایۃ الثانیۃ : البخاری (4431) و مسلم (20 / 1637)، (4232 و 4234) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عباس قال: لما حضر رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي البيت رجال فيهم عمر بن الخطاب قال النبي صلى الله عليه وسلم: «هلموا اكتب لكم كتابا لن تضلوا بعده» . فقال عمر: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد غلب عليه الوجع وعندكم القران حسبكم كتاب الله فاختلف اهل البيت واختصموا فمنهم من يقول: قربوا يكتب لكم رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومنهم يقول ما قال عمر. فلما اكثروا اللغط والاختلاف قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قوموا عني» . قال عبيد الله: فكان ابن عباس يقول: ان الرزيىة كل الرزيىة ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين ان يكتب لهم ذلك الكتاب لاختلافهم ولغطهم وفي رواية سليمان بن ابي مسلم الاحول قال ابن عباس: يوم الخميس وما يوم الخميس؟ ثم بكى حتى بل دمعه الحصى. قلت: يا ابن عباس وما يوم الخميس؟ قال: اشتد برسول الله صلى الله عليه وسلم وجعه فقال: «اىتوني بكتف اكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده ابدا» . فتنازعوا ولا ينبغي عند نبي تنازع. فقالوا: ما شانه اهجر؟ استفهموه فذهبوا يردون عليه. فقال: «دعوني ذروني فالذي انا فيه خير مما تدعونني اليه» . فامرهم بثلاث: فقال: «اخرجوا المشركين من جزيرة العرب واجيزوا الوفد بنحو ما كنت اجيزهم» . وسكت عن الثالثة او قالها فنسيتها قال سفيان: هذا من قول سليمان. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (114) و مسلم (22 / 1637) الروایۃ الثانیۃ : البخاری (4431) و مسلم (20 / 1637)، (4232 و 4234) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ) “আসো তোমাদের জন্য আমি একটি পত্র লিখে দেই।” এ সময় ‘উমার (রাঃ) বললেন, তার ব্যথা বেশি হয়ে গেছে। আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মাজীদ আছে। তোমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট জীবনে পথ চলার জন্য। (এ অবস্থায় তোমরা আর নবী (সা.) -কে বিরক্ত করো না)। অতএব এ বিষয়টি নিয়ে আহলে বায়তদের মাঝেই দ্বন্দ ও কথা কাটাকাটি শুরু হলে কেউ কেউ বলেন, তোমরা একটা খাতা তার নিকট নিয়ে যাও তিনি তোমাদের জন্য লিখে দিবেন। আর তাদের কেউ ‘উমার (রাঃ)-এর মতো কথা বলল। যখন এরূপ কথা কাটাকাটি ও দ্বন্দ্ব বেশি হয়ে গেল তখন নবী (সা.) বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে চলে যাও।
শারহে মুসলিমের মধ্যে ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জেনে রাখ যে, নবী (সা.) মিথ্যা থেকে পবিত্র। তিনি আরো পবিত্র তার সুস্থতার সময় বা তার অসুস্থতার সময়ে তার দ্বারা শারী'আতের কোন বিষয় পরিবর্তন হওয়া থেকে। আর আল্লাহ তাকে যা প্রচারের কথা বলেছেন তা প্রচার করার ক্ষেত্রে কোন বিষয় ছেড়ে দেয়া থেকেও তিনি পবিত্র। তার সুস্থ অবস্থায় হোক বা তার অসুস্থ অবস্থায় হোক তার মর্যাদা হানিকর, কোন কাজ হওয়া থেকেও তিনি মা'সূম বা পবিত্র। তিনি তার শারী'আতে যা গুরুত্বারোপ করেছেন তাতে কোন দ্বন্দ্ব নেই।
একবার নবী (সা.) -কে যাদু করা হয়েছিল আর তখন তিনি কোন কাজ না করেই করেছি বলে মনে করতেন। তবে এ অবস্থায়ও তার থেকে শারী'আতের মধ্যে কোন ভুল সিদ্ধান্ত আসেনি। অতএব তারা যে বিষয়ে ইখতিলাফ বা মতভেদ করল যা তিনি লিখে দিতে চাইলেন। এ বিষয়ে বলা হয়ে থাকে, তিনি খিলাফাতের জন্য একজনের নাম নির্দিষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন, যাতে এ বিষয়ে কোন দ্বন্দ্ব না হয়।
মিরকাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন, এ বিষয়টি দলীল থেকে যা প্রমাণিত তা হতে অনেক দূরে চলে গেল। অর্থাৎ ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যাটি দলীল সঙ্গত নয়। কারণ এ ব্যাপারে যোগ্য ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ), ‘আব্বাস (রাঃ) অথবা ‘আলী (রাঃ), আর এ বিষয়টি লেখার কোন দরকার ছিল না। এটা শুধু মুখে বললেই যথেষ্ট ছিল। বরং তিনি আবূ বাকর (রাঃ) -এর খিলাফাতের ব্যাপারে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি খিলাফাতের বিষয়টি লিখতে চাননি। কারণ এটা করলে ইমাম মাহদী ও ঈসা আলায়হিস সালাম পর্যন্ত লেখার প্রয়োজন হত। আর তিনি খিলাফাতের বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। বরং তিনি সামনে আগত কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। যেখানে এমন কথা লেখা থাকত যা অনুসরণ করলে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যেত। আর সেখানে লেখা থাকত ভ্রান্তদের পরিচয়। যেমন মু'তাযিলাহ, খারিজী ও রাফিযীসহ সকল বিদআতীদের নামের তালিকা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(قُومُوا عَنِّي) “তোমরা আমার নিকট থেকে চলে যাও।” অর্থাৎ তোমাদের কাছে যে কিতাব ও সুন্নাহ্ আছে তার উপর নির্ভর করে আমি আমার লেখার ইচ্ছাকে পরিহার করলাম।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) তাদেরকে কিছু লিখে দেয়ার ইচ্ছা করেছিল যখন তিনি তা কল্যাণকর মনে করেছিলেন অথবা তাকে ওয়াহী করা হয়েছিল। আর তিনি মনে করলেন তা না লিখে দেয়ার মাঝেই কল্যাণ আছে বা তাকে ওয়াহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই তিনি তা লেখার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করে নেন। আর ‘উমার (রাঃ) এর কথা যে, তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে যা তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এ কথার উপর সকলেই একমত যে, এটি তার সূক্ষ্ম বুঝ ও মর্যাদা, তার বুঝ ও তার জ্ঞানের গভীরতার কারণে। কারণ তিনি ভয় করছিলেন যে, হয়তো নবী (সা.) এমন কিছু লিখে দিবেন যা পালন করতে অনেকেই অক্ষম হবেন। আর তাতে অক্ষম হওয়ার কারণে শাস্তি চলে আসবে, কারণ তাতে তো কোন ইজতিহাদের সুযোগ থাকবে না। আর তার কথা, তোমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব যথেষ্ট। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী- “আমি কিতাবে কোন কিছুই ছাড়িনি”। (সূরা আল আ'আম ৬: ৩৮)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, “আজ আমি তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ ৫: ৩)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৭-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর একদিন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) ’উমার (রাঃ)-কে বললেন, চল আমাদের সাথে উম্মু আয়মান-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। [আনাস (রাঃ) বলেন,] আমরা তার কাছে পৌছলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন তারা উভয়ে উম্ম আয়মান-কে বললেন, কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য আল্লাহ তা’আলার কাছে যা আছে, তাই উত্তম; উম্ম আয়মান বললেন, এজন্য আমি কাঁদছি না যে, আমি জানি না আল্লাহর কাছে যা তা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর উত্তম; বরং আমি এজন্য কাঁদছি যে, আকাশ হতে ওয়াহী আসার ধারা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কথা শুনে তাদের অন্তরও বিগলিত হয়ে গেল, ফলে তাঁরাও উম্মু আয়মান-এর সাথে কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُورُهَا فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَتْ. فَقَالَا لَهَا: مَا يُبْكِيكِ؟ أَمَا تَعْلَمِينَ أَنَّ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَتْ: إِنِّي لَا أَبْكِي أَنِّي لَا أَعْلَمُ أَنَّ مَا عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى خَيْرٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ فَجعلَا يَبْكِيَانِ مَعهَا. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (103 / 2454)، (6318) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: قال ابو بكر لعمر رضي الله عنهما بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم: انطلق بنا الى ام ايمن نزورها كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزورها فلما انتهينا اليها بكت. فقالا لها: ما يبكيك؟ اما تعلمين ان ما عند الله خير لرسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقالت: اني لا ابكي اني لا اعلم ان ما عند الله تعالى خير لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن ابكي ان الوحي قد انقطع من السماء فهيجتهما على البكاء فجعلا يبكيان معها. رواه مسلم رواہ مسلم (103 / 2454)، (6318) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: উম্মু আয়মান ছিলেন উসামাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু হারিস-এর মা। তিনি নবী (সা.) -এর মুক্তদাসী ছিলেন। তাকে নবী (সা.) যায়দ (রাঃ)-এর সাথে বিবাহ দেন। তাঁর নাম ছিল বারাকাহ্। তিনি নবী (সা.) -এর পিতা আবদুল্লাহ-এর দাসী ছিলেন। পরে নবী (সা.) উত্তরাধিকার সূত্রে তার মালিক হন। তিনি মুজাহিদদের পানি পান করাতেন ও আহতদের সেবা করতেন। তিনি হাবশীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর বিশ দিন পরে মারা যান। আর যায়দ (রাঃ)-এর মালিক ছিলেন খাদীজাহ্ (রাঃ)। পরে তিনি তাকে খাদীজাহ্ (রাঃ) -এর কাছে চেয়েছিলেন। তাই খাদীজাহ্ (রাঃ) তাকে তার সেবা করার জন্য পেশ করেন। পরে নবী (সা.) তাকে মুক্ত করে দেন। এভাবেই কিছু মুহাক্কিক ‘আলিম উল্লেখ করেছেন। আর লেখক তার নাম উম্মু আয়মান উল্লেখ করেননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৮-[১৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর শেষ রোগের সময় একদিন আমরা মসজিদে বসছিলাম, তখন তিনি স্বীয় মাথায় একখানা কাপড় বাঁধা অবস্থায় বের হয়ে আমাদের সামনে এসে সরাসরি মিম্বারে গিয়ে বসলেন। আর আমরাও তার অনুকরণে কাছে গিয়ে বসলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমি সেই মহান সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয় আমি আমার এ স্থান হতে হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। তারপর বললেন, আল্লাহর কোন এক বান্দার সম্মুখে দুনিয়া ও তার সাজসজ্জা উপস্থিত করা হয়; কিন্তু সে পরকালকে অগ্রাধিকার দেয়। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ কথাটির ব্যাখ্যা আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারেননি। সাথে সাথে তার চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল এবং তিনি কেঁদে দিলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমরা আমাদের পিতামাতা ও আমাদের জানমালসমূহ আপনার জন্য উৎসর্গ করছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি মিম্বার হতে নেমে আসলেন এবং এ যাবৎ আর কখনো তিনি (সা.) তার উপর দাঁড়াননি। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَنَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ عَاصِبًا رَأْسَهُ بِخِرْقَةٍ حَتَّى أَهْوَى نَحْوَ الْمِنْبَرِ فَاسْتَوَى عَلَيْهِ وَاتَّبَعْنَاهُ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي؟ لَأَنْظُرُ إِلَى الْحَوْضِ مِنْ مَقَامِي هَذَا» ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ عَبْدًا عُرِضَتْ عَلَيْهِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا فَاخْتَارَ الْآخِرَةَ» قَالَ: فَلَمْ يَفْطِنْ لَهَا أَحَدٌ غَيْرُ أَبِي بَكْرٍ فَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَبَكَى ثُمَّ قَالَ: بَلْ نَفْدِيكَ بِآبَائِنَا وأمَّهاتِنا وأنفسنا وأموالِنا يَا رسولَ الله قَالَ: ثُمَّ هَبَطَ فَمَا قَامَ عَلَيْهِ حَتَّى السَّاعَة. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 36 ح 78) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي مات فيه ونحن في المسجد عاصبا راسه بخرقة حتى اهوى نحو المنبر فاستوى عليه واتبعناه قال: «والذي نفسي بيده اني؟ لانظر الى الحوض من مقامي هذا» ثم قال: «ان عبدا عرضت عليه الدنيا وزينتها فاختار الاخرة» قال: فلم يفطن لها احد غير ابي بكر فذرفت عيناه فبكى ثم قال: بل نفديك باباىنا وامهاتنا وانفسنا واموالنا يا رسول الله قال: ثم هبط فما قام عليه حتى الساعة. رواه الدارمي اسنادہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 36 ح 78) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, জিবরীল আলায়হিস সালাম রাসূল (সা.) -এর দরবারে এসে বললেন যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: আপনি যদি এখন দুনিয়ায় আরো থাকতে চান তাহলে থাকতে পারেন এবং দুনিয়ার ধনভাণ্ডার আপনাকে প্রদান করা হবে, আর তার পাহাড়সমূহকে আপনার জন্য স্বর্ণ-চাদিতে পরিণত করা হবে, তবে আখিরাতে আপনার জন্য যে পরিমাণ মর্যাদা, প্রতিদান ও নি'আমাত নির্ধারিত আছে তাতে সামান্য পরিমাণ হ্রাস পাবে। আবার আপনি যদি চান যে, আমাদের নিকট আসবেন তাহলে আসতে পারেন। এটা শুনে নবী (সা.) মাথা ঝুঁকালেন যেমন গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণার পূর্বে গবেষকরা মাথা ঝুঁকিয়ে চিন্তা করে থাকেন। এটাও বর্ণনা করা হয় যে, সে সময় রাসূল (সা.) -এর গোলামদের মধ্য থেকে একজন গোলাম সেখানে উপস্থিত ছিল। সে এ কথা শুনল যে, রাসূল (সা.) -কে ধনভাণ্ডার ও স্বর্ণ-রৌপ্যের বিশাল পরিমাণসহ দুনিয়াতে থাকার ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে তখন সে বলল যে, হে আল্লাহর রাসূল! এতে কি এমন ক্ষতি আছে যদি আপনি আরো কিছু দিন এ দুনিয়াতে থাকার ইচ্ছা করেন, আপনার ওয়াসীলায় প্রাপ্ত ধনভাণ্ডার হতে আমরাও আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করব।
কিন্তু তিনি (সা.) সে কথায় কর্ণপাত না করে জিবরীল আলায়হিস সালাম এর উদ্দেশে জানতে চাইলেন যে, উপঢৌকন ও ইখতিয়ার প্রদানের আসল উদ্দেশ্য কি? আর যখন তিনি (সা.) বুঝলেন যে, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য হলো তার নিকট আহ্বান করা তখন তিনি বললেন, সেখানে আমি আসতে চাচ্ছি। এভাবেই তিনি (সা.) চিরকালের আখিরাতকে ইখতিয়ার করলেন এবং ধ্বংসশীল দুনিয়াকে উপেক্ষা করলেন। এরই ভিত্তিতে কোন এক ব্যক্তি বলেন যে, যদি কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে এমন দু'টি পাত্র হতে একটিকে বাছাই করার ইখতিয়ার দেয়া যায় একটি পাত্র মাটির তৈরি কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এবং অন্য পাত্রটি স্বর্ণের কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী তাহলে বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিশ্চয় ঐ ক্ষণস্থায়ী পাত্রের উপর তথা স্বর্ণের পাত্রের উপর মাটির পাত্র তথা দীর্ঘস্থায়ী পাত্রকে প্রাধান্য দিবে। আর কোথাও যদি অবস্থা উল্টা হয় অর্থাৎ স্বর্ণের পাত্র দীর্ঘস্থায়ী পাত্র হয় আর মাটির পাত্র ক্ষণস্থায়ী পাত্র হয় তাহলে কাউকে যদি কোন একটি পছন্দ করার ইখতিয়ার দেয়া হয় তখন শুধু কোন নির্বোধ ও বেকুফ ব্যক্তিই স্বর্ণের পাত্র পছন্দ না করে মাটির পাত্র পছন্দ করবে।

অতঃএব জানা উচিত যে, আখিরাতের উদাহরণ হলো ঐ দীর্ঘস্থায়ী পাত্র যা স্বর্ণের আর দুনিয়ার উদাহরণ হলো ঐ ক্ষণস্থায়ী পাত্র যা মাটির এবং ধ্বংসশীল। আল কুরআনুল কারীম ঐ বাস্তবতার দিকে এভাবে ইঙ্গিত করেছে যে, (وَ الۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ وَّ اَبۡقٰی) “আর আখিরাত হলো উত্তম ও উচ্চ এবং চিরকাল বিদ্যমান থাকবে”- (সূরা আল আ'লা- ৮৭: ১৭)। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২১১-২১২ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৬৯-[১৪] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন () “যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও (ইসলামের চূড়ান্ত) বিজয়”- (সূরা আন্ নাসর ১১০: ১) নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ফাতিমাহ্ (রাঃ) -কে ডেকে বললেন, আমাকে আমার মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে ফাতিমাহ্ (রাঃ) কেঁদে দিলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি কেঁদো না। কারণ আমার পরিবারের মাঝে তুমিই প্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। তখন ফাতিমাহ্ (রাঃ) হাসলেন। ফাতিমাহ্ (রাঃ)-এর এ অবস্থা দেখে নবী (সা.) -এর কোন এক স্ত্রী প্রশ্ন করলেন, হে ফাতিমাহ্! আমরা প্রথমে একবার তোমাকে দেখলাম কাঁদতে। আবার পরে দেখলাম হাসতে উত্তরে ফাতিমা (রাঃ) বললেন, প্রথমে তিনি আমাকে বলেছেন, ’তাঁকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়েছে। তা শুনে আমি কেঁদেছি। অতঃপর তিনি (সা.) আমাকে বললেন, তুমি কেঁদো না। কারণ আমার পরিবারের মধ্য হতে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। এ কথা শুনে আমি হাসলাম। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যখন আল্লাহর সাহায্য এসেছে এবং মক্কার বিজয় হয়েছে এবং ইয়ামানবাসীগণ (ইসলাম গ্রহণ করে) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসেছে, তারা কোমল অন্তরের অধিকারী, ঈমান ইয়ামানবাসীদের মাঝে এবং হিকমাতও ইয়ামানবাসীদের মাঝে রয়েছে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ [إِذَا جَاءَ نصر الله وَالْفَتْح] دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ قَالَ: «نُعِيَتْ إِلَيَّ نَفْسِي» فَبَكَتْ قَالَ: «لَا تَبْكِي فَإِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي لَاحِقٌ بِي» فَضَحِكَتْ فَرَآهَا بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَ: يَا فَاطِمَةُ رَأَيْنَاكِ بَكَيْتِ ثُمَّ ضَحِكْتِ. قَالَتْ: إِنَّهُ أَخْبَرَنِي أَنَّهُ قَدْ نُعِيَتْ إِلَيْهِ نَفْسُهُ فَبَكَيْتُ فَقَالَ لِي: لَا تبْكي فإِنك أوَّلُ أَهلِي لاحقٌ بِي فضحكتُ. وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَاءَ نصرُ الله وَالْفَتْح وَجَاءَ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَالْإِيمَانُ يمانٍ وَالْحكمَة يَمَانِية» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ

سندہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 37 ح 80) ۔
(حسن)

وعن ابن عباس قال: لما نزلت [اذا جاء نصر الله والفتح] دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاطمة قال: «نعيت الي نفسي» فبكت قال: «لا تبكي فانك اول اهلي لاحق بي» فضحكت فراها بعض ازواج النبي صلى الله عليه وسلم فقلن: يا فاطمة رايناك بكيت ثم ضحكت. قالت: انه اخبرني انه قد نعيت اليه نفسه فبكيت فقال لي: لا تبكي فانك اول اهلي لاحق بي فضحكت. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا جاء نصر الله والفتح وجاء اهل اليمن هم ارق افىدة والايمان يمان والحكمة يمانية» . رواه الدارمي سندہ حسن ، رواہ الدارمی (1 / 37 ح 80) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা: (عِيَتْ إِلَيَّ نَفْسِي) “আমাকে আমার মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে।” অর্থাৎ আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমি মারা যাব। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার মৃত্যুর খবর আমাকে দেয়া হয়েছে। যেমন তুমি বল, আমি তোমার নিকট অমুকের প্রশংসা করছি। কথিত আছে যে, মৃত ব্যক্তি তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করছে। যখন সে সেটা জেনে কাউকে জানাচ্ছে। আর এর গুপ্ত রহস্য হলো, মহান আল্লাহ বলেছেন,
(فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ) “আপনি আপনার রবের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করুন”- (সূরা আন্ নাসর ১১০: ৩)। তার কথার সারমর্ম হলো-  اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰهِ وَ الۡفَتۡحُ ۙ﴿۱﴾ وَ رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اَفۡوَاجًا ۙ﴿۲﴾ “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। আর তুমি দলে দলে মানুষকে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবে"(সূরা আন্ নাসর ১১০: ১-২)। এটা আল্লাহর রাসূল (সা.) -এর প্রতি বিশেষ নির্দেশ যে, তিনি আল্লাহর প্রশংসা করবেন এবং তাঁর নি'আমাতের উপর গুণকীর্তন করবেন। এটা হলো তাঁর প্রতি অর্পিত রিসালাতের প্রচারপ্রসার কাজে কষ্ট স্বীকার করা, আর দীনের শত্রুদের ওপর চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা, আর ইবাদাত কবুল হওয়ার জন্য চেষ্টা করা, আর সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণের জন্য ত্বাকওয়ার নীতি অবলম্বন করা। আর সবশেষে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়া।
(فإِنك أوَّلُ أَهلِي لاحقٌ بِي فضحكتُ) “নিশ্চয় তুমি আমার পরিবারের প্রথম সদস্য যে আমার সাথে মিলিত হবে, এ কথা শুনে সে হেসে উঠল।” অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সা.) তার মেয়ে ফাতিমাহ্ (রাঃ)-কে বলেন, আমার পরে তুমি আমার পরিবারের মাঝে প্রথম মৃত্যুবরণ করবে। আকমাল বলেন, সহীহ মত হলো তিনি রাসূল (সা.) -এর মৃত্যুর ছয় মাস পরে মারা যান। কথিত আছে যে, আট মাস পরে মারা যান। এও কথিত আছে যে, তিন মাস পরে মারা যান। আরো কথিত আছে যে, তিনি দুই মাস পরে মারা যান। এছাড়াও কথিত আছে যে, তিনি রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুবরণ করার মাত্র সত্তর দিন পরে মারা যান।
(وَالْإِيمَانُ يمانٍ) “ঈমান হলো ইয়ামানবাসীদের মধ্যে।” বলা হয়ে থাকে, মক্কাহ্ থেকে ঈমানের সূচনা হয়েছে। আর তা হলো ত্বিহামাহ্ এলাকা থেকে। আর ত্বিহামাহ্ হলো ইয়ামান দেশের মধ্যে। এ কারণে বলা হয়ে থাকে, ইয়ামানী কা'বাহ্। কথিত আছে, তিনি এ কথা বলেছেন তাবুকে থাকা অবস্থায়। তখন মক্কাহ্ ও মদীনাহ্ তাবূক ও ইয়ামানের মাঝে ছিল। তিনি ইয়ামানের দিকে ইঙ্গিত করে মক্কাকে বুঝিয়েছেন। আবূ ‘উবায়দ বলেন, তিনি আনসারদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন কারণ তারা মূলত ইয়ামানী। আর তাদের দিকে ঈমানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে কারণ তারা তাকে সাহায্য করেছেন। শায়খ আবূ ‘উমার বলেন, বরং তার উদ্দেশ্য ছিল ইয়ামানবাসী। যেমনটি বাহ্যিকভাবে ঈমানকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, কারণ নবী (সা.) - এর পূর্ণতা হয়েছে তাদের মাঝে। কারণ কোন ব্যক্তি যে গুণে গুণান্বিত হয় ও যার উপর ভর করে শক্তিশালী হয় সে নিজেকে তার দিকে সম্পৃক্ত করে, আর এ কাজ অন্য কিছুকে নিষেধ করে না। অতএব তার মাঝে আর রাসূল (সা.) -এর কথার মাঝে কোন পার্থক্য নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৭০-[১৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি বললেন, হায় আমার মাথা! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যদি এটা ঘটে যায়, আর আমি বেঁচে থাকি, তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তোমার জন্য দু’আ করব। তখন ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, হায় আফসোস! আল্লাহর শপথ! আমার তো মনে হচ্ছে, আপনি আমার মৃত্যুই কামনা করছেন। আর যদি তাই ঘটে, তাহলে তো আপনি সেদিনের শেষাংশে আপনার জন্য অন্য কোন স্ত্রীর সাথে রাত্রি যাপন করবেন। তখন নবী (সা.) বললেন, বরং আমার মাথা ওয়াসিয়্যাত করে যাব যেন লোকেদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্ক্ষাকারীদের কোন আকাঙ্ক্ষা করার অবকাশ না থাকে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, অথবা বলেছেন, আমি ইচ্ছা করেছিলাম কোন লোক পাঠিয়ে আবূ বকর (রাঃ) ও তাঁর পুত্র (আবদুর রহমান)-কে ডেকে আনব এবং তাদেরকে (খিলাফাত সম্পর্কে) আল্লাহ আবূ বকর (রাঃ) ছাড়া অন্যের খলীফাহ্ হওয়া অপছন্দ করবেন মুমিনগণ বর্জন করবেন। এ গ্রহণ করবেন না। আর ঈমানদারগণও গ্রহণ করবে না। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَن عَائِشَة أَنَّهَا قَالَت: وَا رأساه قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَاكِ لَوْ كَانَ وَأَنَا حَيٌّ فَأَسْتَغْفِرُ لَكِ وَأَدْعُو لَكِ» فَقَالَتْ عَائِشَةُ: وَاثُكْلَيَاهْ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَظُنُّكَ تُحِبُّ مَوْتِي فَلَوْ كَانَ ذَلِكَ لَظَلِلْتَ آخِرَ يَوْمِكَ مُعْرِسًا بِبَعْضِ أَزْوَاجِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: بل أَنا وَا رأساه لَقَدْ هَمَمْتُ أَوْ أَرَدْتُ أَنْ أُرْسِلَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَابْنِهِ وَأَعْهَدُ أَنْ يَقُولَ الْقَائِلُونَ أَوْ يَتَمَنَّى الْمُتَمَنُّونَ ثُمَّ قُلْتُ: يَأْبَى اللَّهُ وَيَدْفَعُ الْمُؤْمِنُونَ أَوْ يَدْفَعُ اللَّهُ وَيَأْبَى الْمُؤْمِنُونَ . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (5666) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة انها قالت: وا راساه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذاك لو كان وانا حي فاستغفر لك وادعو لك» فقالت عاىشة: واثكلياه والله اني لاظنك تحب موتي فلو كان ذلك لظللت اخر يومك معرسا ببعض ازواجك فقال النبي صلى الله عليه وسلم: بل انا وا راساه لقد هممت او اردت ان ارسل الى ابي بكر وابنه واعهد ان يقول القاىلون او يتمنى المتمنون ثم قلت: يابى الله ويدفع المومنون او يدفع الله ويابى المومنون . رواه البخاري رواہ البخاری (5666) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (بِبَعْضِ أَزْوَاجِكَ) অর্থাৎ যদি আমার মৃত্যু হয় আর আপনি আমার পরে জীবিত থাকেন তবে তাড়াতাড়ি আপনি অন্য স্ত্রীদের সময় দিবেন আর আমাকে দ্রুত ভুলে যাবেন। বলা হয়ে থাকে, আরোস বলা হয় যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে বাসর করে থাকে।
এরপর সকল সহবাসকেও বলা হয়। এটা উল্লেখ করেছেন ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ)। আর “আন্ নিহায়াহ” গ্রন্থে এসেছে, তা'রীস বলা হয় রাতের শেষে অবতরণ করাকে। এখান থেকেই নেয়া হয়েছে কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে বাসর করল।
আর “আল কামূস” গ্রন্থে এসেছে, আ'রাসা অর্থ হলো কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে বাসর করল। আর কোন সম্প্রদায় শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য অবতরণ করল। আর এটিই বেশি ব্যবহৃত হয়।
(أَوْ يَتَمَنَّى الْمُتَمَنُّونَ) অর্থাৎ আবূ বাকর (রাঃ) -কে ছাড়া অন্য কেউ অথবা তাদের কাউকে বা অন্য কাউকে খলীফাহ্ নিযুক্ত করে। এখানে ‘আও' প্রকারের জন্য সন্দেহের জন্য নয়।
ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ কোন ব্যক্তির এ কথা বলা অপছন্দীয় যে, আমি তার থেকে খিলাফাতের বেশি উপযুক্ত অথবা কেউ কামনা করে যে তার থেকে অন্য কেউ খিলাফাতের বেশি উপযুক্ত।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আবূ বাকর (রাঃ) এ-কে খিলাফাতের দায়িত্ব দিতে চাই যাতে করে কেউ বলতে না পারে...। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৭১-[১৬] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বাকী নামক কবরস্থানে এক জানাযায় শামিল হওয়ার পর আমার কাছে ফিরে আসলেন। তখন আমাকে তিনি (সা.) এমন অবস্থায় পেলেন যে, আমি মাথা ব্যথায় আক্রান্ত। আর আমি বলছি, হায়! ব্যথায় আমার মাথা গেল। তিনি (সা.) বললেন, না বরং হে ’আয়িশাহ (বলে) আমি মাথা ব্যথায় অস্থির হয়ে পড়েছি। আর এতে ক্ষতিই বা কি? যদি তুমি আমার আগে মৃত্যুবরণ কর, তাহলে আমি তোমাকে গোসল করাব, কাফন পরাব, তোমার সালাতে জানাযা আদায় করব এবং আমি তোমাকে দাফন করব। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি যেন আপনাকে এমন অবস্থায় মনে করছি, আপনি আমার শেষকৃত্য সম্পাদন করে আমার হুজরায় ফিরে আসবেন, আপনার কোন এক স্ত্রীর সাথে সেখানে রাত্রি যাপন করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন। [“আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন,] এরপর হতেই তাঁর সেই রোগের সূচনা হলো যে রোগে তিনি (সা.) ইন্তিকাল করেছেন। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْهَا : قَالَتْ: رَجَعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَات يومٍ من جنازةٍ مِنَ الْبَقِيعِ فَوَجَدَنِي وَأَنَا أَجِدُ صُدَاعًا وَأَنَا أَقُولُ: وَارَأْسَاهْ قَالَ: «بَلْ أَنَا يَا عَائِشَةُ وَارَأْسَاهْ» قَالَ: «وَمَا ضَرَّكِ لَوْ مِتِّ قَبْلِي فَغَسَّلْتُكِ وَكَفَّنْتُكِ وَصَلَّيْتُ عَلَيْكِ وَدَفَنْتُكِ؟» قُلْتُ: لَكَأَنِيِّ بِكَ وَاللَّهِ لَوْ فَعَلْتَ ذَلِكَ لَرَجَعْتَ إِلَى بَيْتِي فَعَرَّسْتَ فِيهِ بِبَعْضِ نِسَائِكَ فَتَبَسَّمَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ بُدِيءَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 37 ۔ 38 ح 81) [و ابن ماجہ (1465)] * الزھری مدلس و عنعن

وعنها : قالت: رجع الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم من جنازة من البقيع فوجدني وانا اجد صداعا وانا اقول: واراساه قال: «بل انا يا عاىشة واراساه» قال: «وما ضرك لو مت قبلي فغسلتك وكفنتك وصليت عليك ودفنتك؟» قلت: لكاني بك والله لو فعلت ذلك لرجعت الى بيتي فعرست فيه ببعض نساىك فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم بديء في وجعه الذي مات فيه. رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 37 ۔ 38 ح 81) [و ابن ماجہ (1465)] * الزھری مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায় যে, স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী তার গোসল দিতে পারে। তাকে দেখতে পারে। আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ্ (রাঃ) ওয়াসিয়্যাত করে যান যে, ‘আলী (রাঃ) তার গোসল দিবে। ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সনদকে হাসান বলেছেন। ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ)- বলেন, রাসূল (সা.) বলেন, আমি তোমাকে গোসল দিব। এখান থেকে বুঝা যায় যে, স্ত্রী তার স্বামীকে গোসল দিতে পারবে। (নায়লুল আওত্বার ৪/৩৫)
মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুর পর গোসল দিতে পারবে- এ মর্মে আরো দলীল হলো- মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যে বিষয়টি আমার ছুটে গেছে তা আমার আগে স্মরণ থাকলে আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে তার স্ত্রীগণ ছাড়া কেউ গোসল দিতে পারত না। (আবূ দাউদ হা. ৩১৪১)।

আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানায়িয' ১/৪৯ পৃ.)
এ ব্যাপারে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল ইশরাফ’ কিতাবে ও কিতাবুল ইজমা'-তে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম উম্মাহ্ এ ব্যাপারে ইজমা' তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মহিলা তার স্বামীকে গোসল করাতে পারে। এছাড়া অন্যরাও ইজমা' বলে উল্লেখ করেছেন। দেখুন শারহুল মুহাযযাব ৫/১১৪ পৃ.।
বিস্তারিত দেখুন- ইসলাম কিউ. এ. শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ, প্রশ্ন নং ১৫৫০৪৫।
(সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৭২-[১৭] জাফার ইবনু মুহাম্মাদ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, একদিন কুরায়শী এক লোক তাঁর পিতা ’আলী ইবনু হুসায়ন (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে একটি হাদীস বর্ণনা করব না। তিনি বললেন: হ্যা, আপনি আমাকে আবূল কাসিম (সা.) হতে হাদীস বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন রোগাক্রান্ত হলেন, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম তাঁর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার বৈশিষ্ট্যর প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা আমাকে আপনার খিদমাতে পাঠিয়ে আপনার হাল-অবস্থা জানতে চেয়েছেন। অথচ আপনার অবস্থা সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ) আপনার চেয়ে অধিক অবগত আছেন। তবুও তিনি জানতে চেয়েছেন, আপনি এখন নিজের মধ্যে কিরূপ অনুভব করছেন? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে জিবরীল। আমি নিজেকে ভারাক্রান্ত পাচ্ছি এবং নিজের মাঝে অস্থিরতা অনুভব করছি। এরপর সেদিন জিবরীল আলায়হিস সালাম চলে গেলেন। আবার দ্বিতীয় দিন এসে বিগত দিনের মতো প্রশ্ন করলেন, আর নবী (সা.) ও প্রথম দিনের মতো জবাব দিলেন। আবার জিবরীল আলায়হিস সালাম তৃতীয় দিন আসলেন এবং নবী (সা.) -কে প্রথম দিনের মতো প্রশ্ন করলেন, আর তিনিও প্রথম দিনের মতো একই উত্তর দিলেন। এই (তৃতীয়) দিন জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর সাথে আসলেন ইসমাঈল নামে আর একজন ফেরেশতা।
তিনি ছিলেন এমন এক লক্ষ মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) সর্দার, যাদের প্রত্যেকেই (স্বতন্ত্রভাবে) এক এক লক্ষ মালায়িকাহ্’র নেতা। সেই মালাক (ফেরেশতা)- নবী (সা.) -এর নিকটে আসার অনুমতি চাইলেন। অতঃপর নবী (সা.) - জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। বললেন, এই যে মালাকুল মাওত। ইনিও আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি আপনার পূর্বে কখনো মানুষের কাছে যেতে অনুমতি চাননি এবং আপনার পরেও আর কখনো কোন মানুষের কাছে আসতে অনুমতি চাবেন না। অতএব, তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিন। এমতাবস্থায় নবী (সা.) তাঁকে অনুমতি দিলেন, তখন তিনি নবী (সা.) -কে সালাম করে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যদি আমাকে আপনার আত্মা কবয করার অনুমতি বা নির্দেশ দেন, তাহলে আমি আপনার আত্মা কবয করব। আর যদি আপনি আপনাকে ছেড়ে দিতে আমাকে নির্দেশ দেন, তাহলে আমি আপনাকে ছেড়ে দিব। তখন নবী (সা.) বললেন, হে মালাকুল মাওত! আপনি কি এমন করতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যা, আমি এভাবে আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি এটাও আদিষ্ট হয়েছি যে, আমি যেন আপনার নির্দেশ মেনে চলি। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় নবী (সা.) জিবরীল আলায়হিস সালাম-এর দিকে দৃষ্টিবদ্ধ হলো, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম বললেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা’আলা আপনার সাক্ষাৎ লাভের জন্য একান্তভাবে উদগ্রীব। তখনই নবী (সা.) মালাকুল মাওতকে বললেন, যে জন্য আপনি আদিষ্ট হয়েছেন, তাই কার্যে পরিণত করুন, অতঃপর তিনি তাঁর আত্মা কবয করে ফেললেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ ইন্তিকাল করেন এবং একজন সান্তনাদানকারী আসেন, তখন তাঁরা গৃহের এক পার্শ্ব হতে এ আওয়াজ শুনতে পেলেন-“হে আহলে বায়ত! আপনাদের প্রতি আল্লাহর তরফ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আল্লাহর কিতাবে প্রত্যেকটি বিপদের সময় সান্ত্বনা ও ধৈর্যের উপাদান রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক ধ্বংসের উত্তম বিনিময়দানকারী এবং প্রত্যেক হারানো বস্তুর ক্ষতিপূরণকারী। অতএব আপনারা একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে চলুন এবং তাঁর কাছেই সদা কল্যাণের কামনা করুন। কারণ মূলত ঐ লোক বিপদগ্রস্ত যে সাওয়াব হতে বঞ্চিত।” অতঃপর আলী (রাঃ) বললেন, তোমরা কি জান এই সান্তনাবাণী প্রদানকারী লোকটি কে? ইনি হলেন, খিযির আলায়হিস সালাম। [ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্” গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ دَخَلَ عَلَى أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ فَقَالَ أَلَا أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: بَلَى حَدِّثْنَا عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَمَّا مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ تَكْرِيمًا لَكَ وَتَشْرِيفًا لَكَ خَاصَّةً لَكَ يَسْأَلُكَ عَمَّا هُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْكَ يَقُولُ: كَيْفَ تجدك؟ قَالَ: أجدُني يَا جِبْرِيل مغموماً وأجدني يَا جِبْرِيل مَكْرُوبًا . ثُمَّ جَاءَهُ الْيَوْمُ الثَّانِي فَقَالَ لَهُ ذَلِكَ فَرَدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا رَدَّ أَوَّلَ يَوْمٍ ثُمَّ جَاءَهُ الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَقَالَ لَهُ كَمَا قَالَ أَوَّلَ يَوْمٍ وَرَدَّ عَلَيْهِ كَمَا رَدَّ عَلَيْهِ وَجَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ يُقَالُ لَهُ: إِسْمَاعِيلُ عَلَى مِائَةِ أَلْفِ مَلَكٍ كُلُّ مَلَكٍ عَلَى مِائَةِ أَلْفِ مَلَكٍ فَاسْتَأْذَنَ عَلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَنْهُ. ثُمَّ قَالَ جِبْرِيل: هَذَا مَلَكُ الْمَوْتِ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْكَ. مَا اسْتَأْذَنَ عَلَى آدَمِيٍّ قَبْلَكَ وَلَا يَسْتَأْذِنُ عَلَى آدَمِيٍّ بَعْدَكَ. فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُ فَأَذِنَ لَهُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ فَإِنْ أَمَرْتَنِي أَنْ أَقْبِضَ رُوحَكَ قَبَضْتُ وَإِنْ أَمَرْتَنِي أَنْ أَتْرُكَهُ تَرَكْتُهُ فَقَالَ: وَتَفْعَلُ يَا مَلَكَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: نَعَمْ بِذَلِكَ أُمرتُ وأُمرتُ أَن أطيعَك. قَالَ: فَنَظَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَام فَقَالَ جِبْرِيلُ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ قَدِ اشْتَاقَ إِلَى لِقَائِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَلَكِ الْمَوْتِ: «امْضِ لِمَا أُمِرْتَ بِهِ» فَقَبَضَ رُوحَهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَاءَتِ التَّعْزِيَةُ سَمِعُوا صَوْتًا مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ إِنَّ فِي اللَّهِ عَزَاءً مِنْ كُلِّ مُصِيبَةٍ وَخَلَفًا مِنْ كُلِّ هالكٍ ودَرَكاً من كلِّ فَائت فبالله فثقوا وَإِيَّاهُ فَارْجُوا فَإِنَّمَا الْمُصَابُ مَنْ حُرِمَ الثَّوَابَ. فَقَالَ عَلِيٌّ: أَتَدْرُونَ مَنْ هَذَا؟ هُوَ الْخَضِرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (7 / 267 ۔ 268) [و الشافعی فی السنن الماثورۃ (ص 334 ۔ 335 ح 390 روایۃ الطحاوی عن المزنی) و السھمی فی تاریخ جرجان (ص 363 ۔ 364)] * فیہ قاسم بن عبداللہ بن عمر بن حفص : متروک رماہ احمد بالکذب ۔
(ضَعِيف)

وعن جعفر بن محمد عن ابيه ان رجلا من قريش دخل على ابيه علي بن الحسين فقال الا احدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: بلى حدثنا عن ابي القاسم صلى الله عليه وسلم قال: لما مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم اتاه جبريل فقال: يا محمد ان الله ارسلني اليك تكريما لك وتشريفا لك خاصة لك يسالك عما هو اعلم به منك يقول: كيف تجدك؟ قال: اجدني يا جبريل مغموما واجدني يا جبريل مكروبا . ثم جاءه اليوم الثاني فقال له ذلك فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم كما رد اول يوم ثم جاءه اليوم الثالث فقال له كما قال اول يوم ورد عليه كما رد عليه وجاء معه ملك يقال له: اسماعيل على ماىة الف ملك كل ملك على ماىة الف ملك فاستاذن عليه فساله عنه. ثم قال جبريل: هذا ملك الموت يستاذن عليك. ما استاذن على ادمي قبلك ولا يستاذن على ادمي بعدك. فقال: اىذن له فاذن له فسلم عليه ثم قال يا محمد ان الله ارسلني اليك فان امرتني ان اقبض روحك قبضت وان امرتني ان اتركه تركته فقال: وتفعل يا ملك الموت؟ قال: نعم بذلك امرت وامرت ان اطيعك. قال: فنظر النبي صلى الله عليه وسلم الى جبريل عليه السلام فقال جبريل: يا محمد ان الله قد اشتاق الى لقاىك فقال النبي صلى الله عليه وسلم لملك الموت: «امض لما امرت به» فقبض روحه فلما توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وجاءت التعزية سمعوا صوتا من ناحية البيت: السلام عليكم اهل البيت ورحمة الله وبركاته ان في الله عزاء من كل مصيبة وخلفا من كل هالك ودركا من كل فاىت فبالله فثقوا واياه فارجوا فانما المصاب من حرم الثواب. فقال علي: اتدرون من هذا؟ هو الخضر عليه السلام. رواه البيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (7 / 267 ۔ 268) [و الشافعی فی السنن الماثورۃ (ص 334 ۔ 335 ح 390 روایۃ الطحاوی عن المزنی) و السھمی فی تاریخ جرجان (ص 363 ۔ 364)] * فیہ قاسم بن عبداللہ بن عمر بن حفص : متروک رماہ احمد بالکذب ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (وأجدني يَا جِبْرِيل مَكْرُوبًا) অর্থাৎ চিন্তিত, আর আমি আমার দুঃখ ও চিন্তাগুলো কেবল আমার কাছে সোপর্দ করলাম। আর আমি সর্বাবস্থায় বলি, আলহামদুলিল্লা-হ।
(لِمَا أُمِرْتَ بِهِ) অর্থাৎ আর তাতে বিলম্ব করবেন না। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখান থেকে ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) “কিতাবুল ওয়াফা” কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তারপরে জিবরীল আলায়হিস সালাম বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটাই আমার সর্বশেষ পৃথিবীতে আগমন। এ দুনিয়ায় আপনিই আমার প্রয়োজন ছিলেন। এই বলেই তার রূহ কবয করে নেয়া হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলায়হি র-জিউন)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(مِنْ كُلِّ مُصِيبَةٍ) অর্থাৎ এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী-
...وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۵۵﴾ الَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَتۡهُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ.. ﴿۱۵۶﴾ؕ “আর আপনি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন। যখন তাদের কোন বিপদ আসে”- (সূরা আল বাকারাহ ২: ১৫৫-১৫৬)। অথবা তার সাওয়াবের বিনিময় করে দেন তার কষ্টের ও পরিশ্রমের বিনিময়ে।
“আন নিহায়াহ্" গ্রন্থকার বলেন, আর হাদীসে এসেছে, “যে আল্লাহর সান্ত্বনায় সান্ত্বনা পায় না।” কথিত আছে যে, তিনি এ হাদীসে তা'যীয়াহ বলতে সান্তনাকে ও বিপদে ধৈর্য ধরাকে বুঝিয়েছেন। আর এ কথা বলা যে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি র-জিউন, অর্থাৎ- নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য আর আমরা তার নিকটেই ফিরে যাব।
ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখান থেকেই তার কথায় (আল্লাহর) মুযাফ বা সম্বন্ধনীয় পদ নির্ধারণ করা বৈধ। আল্লাহ সম্পর্কে অর্থাৎ নিশ্চয় মহান আল্লাহর সাক্ষাতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করা ও সান্ত্বনা গ্রহণ করা। এ কথার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্যই সকল ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ ও সান্ত্বনা লাভ করা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৩-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর পর দীনার-দিরহাম, বকরি-উট কিছুই রেখে যাননি। আর কোন কিছুর ওয়াসিয়্যাতও করেননি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب)

عَن عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَلَا شَاةً وَلَا بَعِيرًا وَلَا أَوْصَى بِشَيْءٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (18 / 1635)، (4229) ۔
(صَحِيح)

عن عاىشة قالت: ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم دينارا ولا درهما ولا شاة ولا بعيرا ولا اوصى بشيء. رواه مسلم رواہ مسلم (18 / 1635)، (4229) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَلَا أَوْصَى بِشَيْءٍ) “আর রাসূল (সা.) এ কোন কিছুর ওয়াসিয়্যাত করেননি।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূল (সা.) আর্থিক কোন জিনিসের ওয়াসিয়্যাত করেননি। কেননা রাসূল (সা.) তার মৃত্যুর সময় কোন সম্পদ রেখে যাননি তাহলে তিনি কিভাবে ওয়াসিয়্যাত করে যাবেন? তবে বানূ নাযীর ও ফাদাক ভূমির বিষয়টি তিনি তাঁর জীবদ্দশায়ই বিবিদের বাৎসরিক খরচ বাদে যা উদ্বৃত্ত থাকত তা মুসলিমদের জন্য সদাকাহ্ করে দিয়েছিলেন।
এ স্থলে ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) লিখেছেন, অন্য একটি রিওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, যখন লোকেরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর সম্মুখে এ বিষয়টি উল্লেখ করল যে, রাসূল (সা.) ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর ওয়ারিস নির্ধারিত করেছেন, তখন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আশ্চর্য হয়ে বললেন, রাসূল (সা.) কখন ওয়াসিয়্যাত করলেন? আমি তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তথা রূহ কবয করা পর্যন্ত রাসূল (সা.) -এর নিকটেই উপস্থিত ছিলাম। যদি রাসূল (সা.) ‘আলী (রাঃ)-এর জন্য কোন ওয়াসিয়্যাত করতেন এবং তাঁকে স্বীয় ওয়ারিস তথা স্বীয় ধন-সম্পদের ওয়ারিস অথবা রক্ষক বানাতেন তাহলে তা আমার থেকে বেশি কেউ জানত না। যে সকল লোকে এ জাতীয় কথা বলে তারা ভুল বলে- রাসূল (সা.) ও কাউকে ওয়ারিস নিযুক্ত করেননি।
অতএব হাদীসের ভাষ্য “আর কোন কিছুর ওয়াসিয়্যাতও করেননি।”- এর আলোচ্য বিষয় হলো আর্থিক ওয়াসিয়্যাত। যার অর্থ হলো- রাসূল (সা.) স্বীয় ধন-সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত করেননি এবং এক-তৃতীয়াংশের অধিক বা কমেরও ওয়াসিয়্যাত করেননি। কেননা রাসূল (সা.)-এর নিকট এমন কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল না যার তিনি ওয়াসিয়্যাত করবেন। তদ্রুপ তিনি (সা.) আলী (রাঃ)-এর জন্য কোন ওয়াসিয়্যাত করেননি এবং অন্য কারো জন্যও কোন ওয়াসিয়্যাত করেননি যেমনটি শী'আরা ভ্রান্ত করে। আর যে সকল সহীহ হাদীসে কিতাবুল্লাহ সম্পর্কে ওয়াসিয়্যাত করা বা বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে উত্তম ব্যবহার ও মেহমানদারীর ওয়াসিয়্যাত করার কথা উল্লেখ রয়েছে তা অন্য বিষয়বস্তু, যা হাদীসে উল্লেখিত ভাষ্য “আর কোন কিছুর ওয়াসিয়্যাতও করেননি দ্বারা উদ্দেশ্য নয়।
কতক ঐতিহাসিকগণ যে লিখেছেন- রাসূল (সা.) -এর নিকট বহু সংখ্যক উট ছিল ও দশটি উষ্ট্রীও ছিল এবং সেগুলোকে মদীনার নিকটবর্তী স্থানে রাখা হত, যেখান থেকে উষ্ট্রীর দুধ প্রতিদিন লোকেরা নিয়ে আসত। উপরন্তু রাসূল (সা.) -এর নিকট সাতটি বকরিও ছিল যেগুলোর দুধ রাসূল (সা.) পান করতেন। তো এ বর্ণনা প্রথমত ঐ জাতীয় নয় যে, উল্লেখিত হাদীসের সাথে তার বিরোধ হবে, দ্বিতীয়ত এ বর্ণনাকে সহীহ মেনে নেয়া হলে তখন এর উত্তরে বলা হবে যে, এ সকল উট ইত্যাদি সদাকার মাল ছিল এবং তা হতে যে দুধ আমদানি হত তা সুফফাবাসী ও অন্যান্য দরিদ্র-অসহায় শ্রেণির লোকেরা পান করত। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২১ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৪-[২] জুওয়াইরিয়াহ্ (রাঃ)-এর ভাই ’আমর ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর সময় দীনার-দিরহাম, দাস-দাসী এবং অন্য কিছুই রেখে যাননি। শুধুমাত্র একটি সাদা খচ্চর ও তাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর কিছু জমিন এবং এগুলো সাদাকা্ হিসেবে রেখে যান। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب)

عَن عَمْرو بن الْحَارِث أخي جوَيْرِية قَالَ: مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ مَوْتِهِ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَلَا عَبْدًا وَلَا أَمَةً وَلَا شَيْئًا إِلَّا بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ وَسِلَاحَهُ وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2739) ۔
(صَحِيح)

عن عمرو بن الحارث اخي جويرية قال: ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم عند موته دينارا ولا درهما ولا عبدا ولا امة ولا شيىا الا بغلته البيضاء وسلاحه وارضا جعلها صدقة. رواه البخاري رواہ البخاری (2739) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ مَوْتِهِ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَلَا عَبْدًا وَلَا أَمَةً) “রাসূল (সা.) তাঁর মৃত্যুর সময় কোন দীনার-দিরহাম ও কোন দাস-দাসী রেখে যাননি।” অর্থাৎ রাসূল (সা.) মৃত্যুর সময় তার কোন দাসদাসী ছিল না যারা দাস-দাসী হিসেবে তাঁর মালিকানায় থেকে তার সেবা করত। এখান থেকে বুঝা যায় যে, যে সব হাদীসে রাসূল (সা.) -এর দাস-দাসী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে তারা হয়তো তার জীবদ্দশায় মারা গিয়েছিল অথবা নবী (সা.) তাদেরকে স্বাধীন করে দিয়েছিলেন।
“তার যুদ্ধাস্ত্র ছিল” অর্থৎ যেসব যুদ্ধাস্ত্র তার ব্যবহারে থাকত। যেমন, তরবারি, বর্শা, বর্ম, শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি। এখানে এ জিনিসগুলোকে শুধুমাত্র উল্লেখ করা হয়েছে এছাড়াও অন্য কিছু জিনিস তিনি (সা.) রেখে গিয়েছিলেন যা অন্যস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ- কাপড়-চোপড়, বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, তিনি (সা.) যে কাপড় ও অন্যান্য কিছু জিনিস ছেড়ে গেছেন তা অন্য জায়গায় উল্লেখ আছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

“তিনি এগুলো সদাকাহ্ হিসেবে রেখে যান।” এ ব্যাপারে ব্যাখ্যাকার লিখেছেন যে, জা'আলাহা- এর যমীর বা সর্বনাম পূর্বের সকল বস্তু তথা খচ্চর, যুদ্ধাস্ত্র ও জমিন- এর দিকে ফিরেছে, যদিও বাহ্যিকভাবে এটা বুঝে আসে যে, জা'আলাহা- এর যমীর শুধুমাত্র জমিনের দিকে ফিরেছে। ইবনু হাজার আল আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) লিখেছেন- “এগুলোকে তিনি সদাকাহ্ হিসেবে রেখে যান। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাসূল (সা.) জমিনের লাভ সদাকাহ করেছিলেন অর্থাৎ এখানে সদাকাহ্ শব্দটা ওয়াকফ-এর হুকুমে। অন্য কথায় এভাবে বলা যায় যে, রাসূল (সা.) উক্ত জমিনকে তা অবশিষ্ট ও বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তাঁর জীবদ্দশায় সদাকায়ে জারিয়াহ্ করে দিয়েছিলেন। এভাবে উক্ত জমিন যতদিন বিদ্যমান থাকবে তার সদাকার সাওয়াব রাসূল (সা.) পেতে থাকবেন। অতএব এ কথা এ বিষয়ের বিরোধী নয় যে, অবশিষ্ট যে কয়টি বস্তু রসূলের নিকট ছিল তা রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুর সাথে সাথে সদাকাহ্ হয়ে গেছে।
‘আল্লামাহ্ কিরমানী (রহিমাহুল্লাহ) সহীহুল বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেছেন, হাদীসে জমির যে উল্লেখ রয়েছে তা দ্বারা ওয়াদীয়ে কুরার অর্ধেক জমি, খায়বারের জমির পঞ্চম অংশ এবং বানূ নাযীর-এর জায়গা জমির ঐ অংশ উদ্দেশ্য যা রাসূল (সা.) নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। আর জা'আলাহা-এর জমির উল্লেখিত বস্তুদ্বয় তথা খচ্চর, যুদ্ধাস্ত্র ও জমিরে দিকে ফিরেছে শুধুমাত্র জমিরে দিকে ফিরেনি। আর এ কথা রাসূল (সা.) এর কথার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, “আমরা নবীরা মীরাস রেখে যাই না, তাই যা কিছু রেখে যান তা সদাকাহ্ হয়ে যায়।” (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৫-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার ওয়ারিসগণ দীনার ভাগ-বণ্টন করবে না। আমি যা রেখে যাব, স্ত্রীদের খোরপোশ এবং আমার কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেয়ার পর তা (মুসলিমদের জন্য) সাদাকা্। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمُؤْنَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2776) و مسلم (55 / 1760)، (4583) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يقتسم ورثتي دينارا ما تركت بعد نفقة نساىي ومونة عاملي فهو صدقة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2776) و مسلم (55 / 1760)، (4583) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (لَا نُورَثُ مَاتَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ) অর্থাৎ আমরা নবীগণ কোন সম্পদের উত্তরাধিকারী করে যাই না। কারণ আমাদের সকল সম্পদ ফকীরদের। আর আমরা সবাই ফকীর। আর সুফীদের নিকট ফকীরের শর্ত হলো তারা কোন কিছুর মালিক নয়। হয়তো তার সম্পদ আমানাত, নতুবা ওয়াক্‌ফ, নতুবা সদাকাহ স্বরূপ তাঁর মরার পর। আর হাদীসের সারাংশ হলো- ফকীর-মিসকীনদের অবস্থানুযায়ী তাদের মাঝে সকল সম্পদ দিয়ে যাওয়া। যেমন অন্য হাদীসে এসেছে- রাসূল (সা.) -এর ছেড়ে যাওয়া সম্পদ কেবল মুসলিম মিসকীনদের মাঝে উত্তরাধিকার হিসেবে বণ্টিত হবে। কথিত আছে যে, যাতে তাঁর মৃত্যুর পর তার কোন উত্তরসূরী তার ছেড়ে যাওয়া অংশের জন্য আনন্দিত না হয়। তবে হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) সাধারণ মাসআলায় বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি কেবল আমাদের নবীর জন্য খাস। কারণ মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, (یَّرِثُنِیۡ وَ یَرِثُ مِنۡ اٰلِ یَعۡقُوۡبَ) “যে আমার উত্তরাধিকারী হবে আর উত্তরাধিকারী হবে ইয়াকূব পরিবারের”- (সূরা মারইয়াম ১৯: ৬)। তিনি বলেন, এটা হলো সম্পদের উত্তরাধিকারী নুবুওয়্যাতের উত্তরাধিকারী নন। নতুবা তিনি বলতেন না- (وَ اِنِّیۡ خِفۡتُ الۡمَوَالِیَ مِنۡ وَّرَآءِیۡ) “আমার পরে আমার স্বগোত্রীয়রা (কী করবে) সে সম্পর্কে আমি আশঙ্কাবোধ করছি”- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯: ৫)। তবে জমহুর ‘উলামাগণ তার বিপরীত মত পোষণ করেছেন, কারণ নাসায়ীর বর্ণনায় এসেছে- (أنامعشر الأ نبياءلانورث) “নিশ্চয় আমরা নবীরা কোন উত্তরাধিকারী করে যাই না।” আয়াত থেকে উদ্দেশ্য হলো- নুবুওয়্যাতের উত্তরাধিকারী সম্পদের নয়। বাজী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আহলুস্ সুন্নাহ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এ হুকুম সকল নবীর ক্ষেত্রে। ইবনু 'উলাইয়্যাহ্ বলেন, এ হুকুম কেবল আমাদের নবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইমামিয়্যাহ্ বলেন, নিশ্চয় সকল নবী উত্তরাধিকারী করে যান এ কথা বলেছেন, সুয়ুত্বী (রহিমাহুল্লাহ)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৬-[8] আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমরা (নবী-রাসূলগণ) আমাদের পরিত্যক্ত ধন-সম্পদে কাউকেও ওয়ারিস রেখে যাই না; বরং যা কিছু রেখে যাই, তা (মুসলিমদের জন্য) সাদাকা্ (বা ওয়াকফ)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب)

وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6726) و مسلم (52 / 1759)، (4580) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي بكر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا نورث ما تركناه صدقة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6726) و مسلم (52 / 1759)، (4580) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: একটি বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ বাকর (রাঃ)- এ হাদীস ঐ সময় বর্ণনা করেছিলেন, যখন ফাতিমাহ্ (রাঃ) -এর পক্ষ থেকে মীরাসের দাবির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি ফাতিমাহ্ (রাঃ)-কে বলেন, আমি রাসূল (সা.) -এর খলীফাহ্, আমি রাসূল (সা.) -এর পরিত্যক্ত সম্পদ ঐ খাতসমূহে ব্যয় করব যেখানে রাসূল (সা.) ব্যয় করতেন এবং এ ভিত্তিতেই আমি তোমার সহানুভূতি জ্ঞাপন সেভাবে করব যেভাবে রাসূল (সা.) সহানুভূতি করতেন। আলোচ্য হাদীসে স্বয়ং রাসূল (সা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের নবীদের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটাও বর্ণিত আছে যে, আবূ বাকর (রাঃ) প্রথম এ কথা শুধুমাত্র ফাতিমাহ্ (রাঃ) -কে বলেননি; বরং রাসূল (সা.) -এর পবিত্র স্ত্রীগণকেও বলেছিলেন, যারা মীরাস তথা উত্তরাধিকারের দাবি করেছিলেন। আর আবূ বাকর (রাঃ) এ ফায়সালা করেছিলেন যে, রাসূল (সা.) -এর আর্থিক উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এ ফায়সালা তিনি একক সিদ্ধান্তে দেননি। বরং সকল বড় বড় সাহাবায়ে কিরামদের পরামর্শে দিয়েছিলেন যে, রাসূল (সা.)-এর উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। কেননা আমরা নিজ কানে রাসূল (সা.) থেকে এ রকমই শুনেছি, তখন আবূ বাকর সিদ্দিক (রাঃ) এ ফায়সালা দিয়েছিলেন। (মাযাহিরে হাক্ শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২৩-২২৪ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৭-[৫] আবূ মূসা (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যে জাতির প্রতি স্বীয় অনুকম্পা প্রকাশ করতে চান, সে জাতির নবীকে তাদের পূর্বেই মৃত্যু দান করেন। আর সেই নবীকে তাদের জন্য অগ্রগামী ও পূর্বসুরি করেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ধ্বংস করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীকে তাদের মধ্যে জীবিত রেখে সেই জাতিকে শাস্তি ও গজবে নিপতিত করেন। আর নবী তাদের ধ্বংস দেখে চক্ষুর শীতলতা লাভ করেন। যেহেতু তারা নবীকে মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছে এবং তাঁর আদেশাবলী অগ্রাহ্য করেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب)

وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ رَحْمَةَ أُمَّةٍ مِنْ عِبَادِهِ قَبَضَ نَبِيَّهَا قَبْلَهَا فَجَعَلَهُ لَهَا فَرَطًا وَسَلَفًا بَيْنَ يَدَيْهَا وَإِذَا أَرَادَ هَلَكَةَ أُمَّةٍ عَذَّبَهَا وَنَبِيُّهَا حَيٌّ فَأَهْلَكَهَا وَهُوَ يَنْظُرُ فَأَقَرَّ عَيْنَيْهِ بِهَلَكَتِهَا حِينَ كذَّبُوه وعصَوْا أمره» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (24 / 2288)، (5965) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال: «ان الله اذا اراد رحمة امة من عباده قبض نبيها قبلها فجعله لها فرطا وسلفا بين يديها واذا اراد هلكة امة عذبها ونبيها حي فاهلكها وهو ينظر فاقر عينيه بهلكتها حين كذبوه وعصوا امره» . رواه مسلم رواہ مسلم (24 / 2288)، (5965) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি থেকে গেল বুঝা গেল যে, মুসলিম জাতি এক ভাগ্যবান জাতি, কারণ তাদের নবী তাদের আগে মারা গেছেন। আর তাদের প্রতি আছে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তাদের নবী ছিলেন তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। আর তারাও ছিলেন তাদের নবীর প্রতি সন্তুষ্ট। আর যে জাতির প্রতি তাদের নবী অসন্তুষ্ট আর তাদের নবী তাদের আগে মারা গিয়েছিলেন তারা দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভাগ্য ব্যক্তি। তাদের ইহকাল ও পরকাল বিনষ্ট হয়ে গেছে। (সম্পাদকীয়)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - অধ্যায় [রাসূলুল্লাহ (সা.) কোন প্রকার আর্থিক ওয়াসিয়্যাত করেননি- মর্মে আলোচনা]

৫৯৭৮-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদ-এর প্রাণ! তোমাদের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন তোমাদের কেউই আমাকে দেখতে পাবে না। অতঃপর তার কাছে আমাকে দেখতে পাওয়া তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদসহ থাকার তুলনায় অধিক প্রিয়তর হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أَحَدِكُمْ يَوْمٌ وَلَا يَرَانِي ثُمَّ لَأَنْ يَرَانِي أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِهِ ومالهِ مَعَهم» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (142 / 2364)، (6129) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفس محمد بيده لياتين على احدكم يوم ولا يراني ثم لان يراني احب اليه من اهله وماله معهم» . رواه مسلم رواہ مسلم (142 / 2364)، (6129) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হয়তো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ ঘোষণার সম্পর্ক রাসূল (সা.) -কে তার জীবদ্দশায় দেখা এবং তার প্রতি ভালোবাসার সাথে যার উদ্দেশ্য হলো আমার সাহাবায়ি কিরামের আমার সাথে এতটুকু ভালোবাসা ও হৃদ্যতার সম্পর্ক রয়েছে যে, যদি তারা আমাকে একদিন না দেখে এবং আমার সঙ্গত্ব থেকে বঞ্চিত থাকে তাহলে তাদের আকাক্ষা ও অস্থিরতা আরো বেড়ে যায়, সে সময় তারা স্বীয় আত্মীয়স্বজন ও ধন-সম্পদকে দেখা ও তাদের নিকট থাকার চেয়ে আমার দর্শন ও আমার সঙ্গকে অধিক পছন্দ করবে। অথবা এই মূল্যবান ঘোষণার মূলত এ কথার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে যে, আমার জন্য আমার উম্মতের ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ আমার মৃত্যুর পর হ্রাস পাবে না; বরং মুসলিমরা স্বীয় আত্মীয়স্বজন ও ধনসম্পদের সাথে সম্পর্ক রাখার চেয়ে অনেক বেশি এটা আকাক্ষা করবে যে, যে কোনভাবে চাই স্বপ্নে হোক বা জাগ্রত অবস্থায় হোক আমার দর্শন লাভ করবে।
কথার পূর্বাপর দৃষ্টি দিলে এ অর্থই অধিক উপযোগী মনে হয়। অতএব এটাই ঐ অবস্থা যা ঐ সকল সৌন্দর্যপ্রিয়দের জীবনের পুঁজি হয়ে থাকে যারা রাসূল (সা.) -এর সত্তার সৌন্দর্য ও পূর্ণাঙ্গতার কল্পনায় বিভোর হয়ে থাকে। (মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২৪০ পর্যন্ত, সর্বমোট ২৪০ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে