৫৯৫৬

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর সাহাবীদের মক্কাহ্ হতে হিজরত করা সম্পর্কে

৫৯৫৬-[১] বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) -এর সাহাবীদের মাঝে সর্বপ্রথম যারা হিজরত করে মদীনায় আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুসআব ইবনু উমায়র এবং (আবদুল্লাহ) ইবনু উম্ম মাকতুম (রাঃ)। তাঁরা দুজন এসেই আমাদেরকে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দিতে আরম্ভ করলেন। এরপর আসলেন ’আম্মার, বিলাল ও সাদ (রাঃ)। তারপর আসলেন ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) যিনি নবী (সা.) -এর বিশজন সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর (সর্বশেষ) আসলেন নবী (সা.)।
নবী (সা.) -এর আগমনে আমি মদীনাবাসীকে এত বেশি খুশি হতে দেখেছি যে, অন্য কোন জিনিসে তাদেরকে ততটা আনন্দিত হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, মদীনার ছোট ছোট মেয়ে এবং ছেলেরা পর্যন্ত খুশিতে বলতে লাগল, ইনিই তা সেই আল্লাহর রাসূল (সা.), যিনি আমাদের মাঝে আগমন করেছেন। বারা (রাঃ) বলেন, তিনি আসার আগেই আমি “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা-” (সূরাহ আ’লা-) ও অনুরূপ আরো কতিপয় ছোট ছোট সূরাহ্ শিখে ফেলেছিলাম। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب هِجْرَة أَصْحَابه صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من مَكَّة ووفاته)

عَن الْبَراء قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَجَعَلَا يُقْرِآنِنَا الْقُرْآنَ ثُمَّ جَاءَ عَمَّارٌ وَبِلَالٌ وَسَعْدٌ ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عِشْرِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرِحُوا بِشَيْءٍ فَرَحَهُمْ بِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْوَلَائِدَ وَالصِّبْيَانَ يَقُولُونَ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَاءَ فَمَا جَاءَ حَتَّى قرأتُ: [سبِّح اسْم ربِّك الْأَعْلَى] فِي سُوَرٍ مِثْلِهَا مِنَ الْمُفَصَّلِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4941) ۔
(صَحِيح)

عن البراء قال: أول من قدم علينا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مصعب بن عمير وابن أم مكتوم فجعلا يقرآننا القرآن ثم جاء عمار وبلال وسعد ثم جاء عمر بن الخطاب في عشرين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ثم جاء النبي صلى الله عليه وسلم فما رأيت أهل المدينة فرحوا بشيء فرحهم به حتى رأيت الولائد والصبيان يقولون: هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم قد جاء فما جاء حتى قرأت: [سبح اسم ربك الأعلى] في سور مثلها من المفصل. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি প্রমাণ করে যে, সূরাহ আ'লা মক্কায়,নাযিল হয়েছে। কোন কোন ‘আলিম প্রশ্ন তোলেন যে, উক্ত সূরার দু'টি আয়াত قَدۡ اَفۡلَحَ مَنۡ تَزَکّٰی ﴿ۙ۱۴﴾ وَ ذَکَرَ اسۡمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰی ﴿ؕ۱۵﴾  
যেহেতু সদাকায়ে ফিত্বরের ব্যাপারে আলোচনা প্রসঙ্গে, আর সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসাবে গণ্য করা হয় ২য় হিজরীতে। তাই সূরাহ আ'লাকে মাক্কী সূরাহ্ বলাতে প্রশ্ন হতে পারে। অবশ্য যদি এটা বলা হয় যে, আলোচ্য দুটি আয়াত ছাড়া অবশিষ্ট পূর্ণ সূরাহ্ মক্কায় নাযিল হয়েছে তাহলে উল্লেখিত প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু বাস্তব কথা হলো, এখানে আলোচ্য প্রশ্ন বা তার সম্ভাবনা কোনটিই সঠিক নয়। কেননা বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুসারে এ সূরাহ্ তার সকল আয়াত সহকারে মক্কায় নাযিল হয়েছে। অতঃপর মদীনায় এসে যখন সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করা হলো তখন রাসূল (সা.) আলোচ্য দুটি আয়াতের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন যে, এ দু’টি আয়াতের মূল বিষয়বস্তু মূলত সদাকায়ে ফিত্বর ও ঈদের সালাতের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত। এভাবেও বলা যায় যে, আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে শুধুমাত্র আর্থিক ও শারীরিক ‘ইবাদত তথা সদাকাহ্, যাকাত ও সালাতের নির্দেশ ও উৎসাহ রয়েছে, যাতে মূল উদ্দেশ্যের বিবরণ নেই। এ মূল উদ্দেশ্যকে পরবর্তীতে হাদীসের মাধ্যমে ঐ সময় বর্ণনা করা হয়েছে যখন সদাকাতুল ফিত্বর ও ঈদের সালাত ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।  (মিরকাতুল মাফাতীহ, মাযাহিরে হাক শারহে মিশকাত ৭ম খণ্ড, ১৯৩-১৯৪ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৯: চারিত্রিক গুণাবলি ও মর্যাদাসমূহ (كتاب الْفَضَائِل وَالشَّمَائِل)