পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩১. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মানুষ যদি জানত আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার মধ্যে কি আছে (অর্থাৎ কি পরিমাণ ছোয়াব ও মর্যাদা আছে) অতঃপর তা হাসিল করার জন্য আপোষে লটারী করা ছাড়া কোন উপায় দেখতো না, তখন তারা লটারীই করতে বাধ্য হত। তারা যদি জানত আগেভাগে সালাতে উপস্থিত হওয়াতে কত ছোয়াব রয়েছে, তবে তারা প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ত। তারা যদি জানত এশা ও ফজর সালাতে কি প্রতিদান রয়েছে, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬১৫ ও মুসলিম ৪৩৭)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ، لَاسْتَهَمُوا عَلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ ، لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ، لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا. رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩২. (সহীহ) আবদুল্লাহ বিন আবদুর্ রহমান বিন আবু সা’সাআ থেকে বর্ণিত। একদা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমি দেখছি তুমি ছাগল এবং গ্রামাঞ্চল বেশী পছন্দ কর। তুমি যখন ছাগল চারণে ব্যস্ত থাকবে বা গ্রামে থাকবে, তখন সালাতের জন্যে আযান দিলে উচ্চস্বঃরে দিবে। কেননা মুআয্যিনের সুউচ্চ কন্ঠ জিন, ইনসান বা যে বস্ত্তই শুনবে, তারা সবাই কিয়ামত দিবসে তার জন্যে সাক্ষ্য প্রদান করবে।
আবু সাঈদ বলেনঃ একথা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/৬৯, বুখারী ৬০৯, নাসাঈ ২/১২ ও ইবনু মাজাহ্ ৭২৩)
ইবনু মাজাহ্ রেওয়ায়াতে আরো আছেঃ কোন পাথর, বৃক্ষ যেই তার আযান শুনবে, সবাই তার জন্যে সাক্ষ্য প্রদান করবে। (ইবন মাজাহ ৭২৩)
(সহীহ) ইবনু খুযায়মা [সহীহ গ্রন্থে] এভাবে বর্ণনা করেনঃ
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : لاَ يَسْمَعُ صَوْتَهُ شَجَرٌ ، وَلاَ مَدَرٌ ، وَلاَ حَجَرٌ ، وَلاَ جِنٌّ ، وَلاَ إِنْسٌ إِلاَّ شَهِدَ لَهُ.
আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ তার (আযানের) আওয়ায বৃক্ষ, মাটির গৃহ, পাথর, জিন বা মানুষ যে কেউ শুনবে, তারা তার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে। (ইবনু খুযায়মাহ ৩৮৯)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي صعصعة أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ لَهُ
إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الْغَنَمَ وَالْبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ أَوْ بَادِيَتِكَ فَأَذَّنْتَ بِالصَّلَاةِ فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ فَإِنَّهُ لَا يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلَا إِنْسٌ وَلَا شَيْءٌ إِلَّا شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . رواه مالك والبخاري والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৩. (সহীহ্) ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মুআয্যিনের আযান ধ্বনির শেষ সীমানা পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হবে। প্রত্যেক সজীব-নির্জীব বস্ত্ত যেই তার শব্দ শুনবে, সবাই তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’’
(সহীহ সনদে আহমাদ ১/১৩৬ বাযাযার ৩৫৫ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يغفر للمؤذن منتهى أذانه ويستغفر له كل رطب ويابس سمعه. رواه أحمد بإسناد صحيح والطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৪. (হাসান সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’মুআয্যিনের আযান ধ্বনি পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হয় এবং প্রত্যেক সজীব ও নির্জীব বস্ত্ত তাকে সত্যায়ন করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২৩/৪১১, আবু দাউদ ও ইবনু খুযায়মা)
তবে আবু দাউদ ও ইবনু খুযায়মার শব্দরুপ এভাবেঃ وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ ’’প্রত্যেক সজীব ও নির্জীব বস্ত্ত তার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে।’’ (আবূ দাউদ ৫/৫, ইবনু খুযায়মা ১/২০৪)
নাসাঈর বর্ণনায়ঃ وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ ’’যারা তার সাথে ছালাত আদায় করবে তাদের অনুরূপ সে ছোয়াব লাভ করবে।’’ (নাসাঈ ২/১৩)
(হাসান সহীহ্) ইবনু মাজাহর রেওয়ায়াতেঃ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ ’’তার আওয়াযের উচ্চতা অনুযায়ী তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। এবং প্রত্যেক সজীব-নির্জীব, সবাই তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’’ (ইবনে মাজাহ ৪/৭)
(হাসান সহীহ্) ইবনু হিব্বানের [সহীহ] গ্রন্থের বর্ণনা এরুপঃ الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ ، وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ ، وَشَاهِدُ الصَّلاَةِ يُكْتَبُ لَهُ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ حَسَنَةً ، وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا
’’মুআয্যিনকে তার আওয়াযের উচ্চতা অনুযায়ী ক্ষমা করা হয় এবং প্রত্যেক সজীব ও নির্জিব বস্ত্ত তার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে। তার আযানে জামাআতে উপস্থিত ব্যাক্তির পঁচিশ গুণ ছোয়াব তার জন্যেও লিখে দেয়া হয় এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সকল পাপ মোচন করে দেয়া হয়।’’
ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন, মুআয্যিন যদি আযানের কন্ঠকে উচ্চ করার জন্য তার প্রচেষ্টাকে পরিপূর্ণরূপে ব্যয় করে, তবে সে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর মাগফিরাত লাভ করবে। এ ব্যাখ্যার পক্ষে হাদীছের এই শব্দটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারেঃ يغفر له مد صوته بتشديد الدال অর্থাৎ তার আওয়াযের উচ্চতা অনুযায়ী তাকে ক্ষমা করা হবে।
(ইমাম খাত্তাবী আরো বলেন, এখানো আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারেঃ মুআয্যিনের আযান ধ্বনি পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। একথার অর্থ হলো- যে স্থান পর্যন্ত তার আযানের ধ্বনি পৌঁছে, যদি ধরে নেয়া হয় যে, সে স্থানের শেষ পর্যন্ত তার পাপে পূর্ণ আছে, তবে আযানের বিনিমষ্টয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(حسن صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَى صَوْتِهِ، وَيُصَدِّقُهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ. رواه أحمد واللفظ له وأبو داود وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) বারা বিন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’নিশ্চয় অগ্রবর্তী কাতারে সালাত আদায়কারীদের উপর আল্লাহ্ রহমত নাযিল করেন ও ফেরেশতাগণ তাদের জন্য মাগফিরাতের দু’আ করেন। মুআয্যিনকে তার আযানের ধ্বনি যতদূর পৌঁছুবে ততদূর পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়। আর প্রত্যেক সজীব ও নির্জীব বস্তু যে তার আযান ধ্বনি শুনবে সবাই তার সত্যায়ন করে। যারা তার সাথে সালাত আদায় করবে তার অনুরূপ ছোয়াবও তাকে লিখে দেয়া হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/২৮৪ ও নাসাঈ হাসান ও উত্তম সনদে ২/১৩)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح لغيره) عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ وَالْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ بِمَدِّ صَوْتِهِ وَيُصَدِّقُهُ مَنْ سَمِعَهُ مِنْ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ. رواه أحمد والنسائي بإسناد حسن جيد
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) হাদীছটি ত্বাবরানী আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনাভঙ্গি এভাবেঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মুআয্যিনকে তার আওয়াযের উচ্চতা অনুযায়ী ক্ষমা করা হয়। আর যারা তার সাথে সালাত আদায় করবে তাদের অনুরূপ সে প্রতিদান লাভ করবে।’’
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
) (صحيح لغيره) ورواه الطبراني عن أَبِيْ أُماَمَةَ ولفظه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وأجره مِثْلَ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৭. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইমাম হচ্ছেন মুসল্লীদের সালাতের জিম্মাদার[1], আর মুআয্যিন হচ্ছেন সালাতের সময়ের ব্যাপারে আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামগণকে হেদায়াতের উপর রাখ[2] এবং মুআয্যিনদেরকে ক্ষমা কর।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫১৭, তিরমিযী ২০৭, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৫২৮ ও ইবনু হিব্বান ১৬৭২)
তবে শেষের দু’জনের রেওয়ায়াতে বলা হয়েছেঃ فأرشد الله الأئمة وغفر للمؤذنين ’’আল্লাহ ইমামগণকে ঠিক রাখুন, ও মুআয্যিনদেরকে ক্ষমা করুন।’’
আবু দাঊদের বর্ণনার ন্যায় ইবনু খুযায়মাহর ১৫৩১ আর একটি বর্ণনা রয়েছে। আর তার অন্য আর একটি রেওয়ায়াতে আছেঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
المؤذنون أمناء والأئمة ضمناء اللهم اغفر للمؤذنين وسدد الأئمة (ثلاث مرات)
’’মুআয্যিনগণ আমানতদার ও ইমামগণ জিম্মাদার। হে আল্লাহ তুমি মুআয্যিনদেরকে মাফ কর ও ইমামগণকে দৃঢ় রাখ (এ দু’আটি তিনবার বলেছেন)’’ ইবনু খুযায়মাহ ১৫৩১
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ:"الإِمَامُ ضَامِنٌ، وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ، اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ، وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ". رواه أبو داود والترمذي
[2] . অর্থাৎ ইমামগণ যে দায়িত্ব নিয়েছে তার গুরুত্ব অনুধাবন ও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করে দায়িত্ব মুক্তির ব্যবস্থা করে দাও। [দ্রঃ আউনুল মা’বূদ হা/৪৩৪]
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৮. (সহীহ) উল্লেখিত হাদীছটি ইমাম আহমাদ হাসান সনদে আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
-
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৩৯. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’ইমাম জিম্মাদার আর মুআয্যিন আমানতদার। অতএব আল্লাহ্ ইমামগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করুন এবং মুআয্যিনদেরকে মাফ করুন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান [সহীহ] গ্রন্থে ১৬৬৯)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح لغيره) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن فأرشد الله الأئمة وعفا عن المؤذنين. رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪০. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সালাতের জন্য যখন আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বায়ুনিঃসরণ করতে করতে এতদূর পলায়ন করে, যখন সে আর আযানের শব্দ শুনতে পায় না। আযান শেষ হলে আবার ফিরে আসে। যখন সালাতের এক্বামত দেয়া হয়, তখন আবার সে পলায়ন করে, এক্বামত শেষ হলে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করে এবং মুসল্লীর অন্তরে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে; বলেঃ উমুক বিষয় স্মরণ কর, উমুক জিনিসটা মনে কর- যা ইতিপূর্বে তার মনে ছিল না। শেষে এমন হয়ে যায় যে, মানুষ বুঝতে পারে না, কত রাকআত সালাত আদায় করেছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/৬৯, বুখারী ৬০৮, মুসলিম ৩৮৯, আবু দাউদ ৫১৬ ও নাসাঈ ২/২১)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ التَّأْذِينَ فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطُرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ وَيَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَضِلَّ الرَّجُلُ أَنْ يَدْرِيَ كَمْ صَلَّى . رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪১. (সহীহ) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’শয়তান যখন সালাতের আহবান (আযান) শুনে, তখন রাওহা নামক স্থান পর্যন্ত পলায়ন করে।’’
বর্ণনাকারী বলেনঃ রাওহা হল, মদীনা হতে ৩৬ মাইল দূরে একটি স্থানের নাম।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৩৮৭)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ ذَهَبَ حَتَّى يَكُونَ مَكَانَ الرَّوْحَاءِ.
قَالَ الراوي الرَّوْحَاءِ مِنَ الْمَدِينَةِ عَلَى سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ مِيلاً. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪২. (সহীহ) মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’কিয়ামত দিবসে মুআয্যিনগণ হবেন সর্বোচ্চ কাঁধ বিশিষ্ট।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৩৮৭)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৩. (হাসান সহীহ্) উক্ত হাদীছটি ইবনু হিব্বানও [সহীহ] গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
-
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৪. (হাসান লি গাইরিহী) ইবনে আবু আউফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা আল্লাহর যিকির করার জন্য সূর্য, চন্দ্র ও তারকার প্রতি খেয়াল রাখে।’’[1]
(ত্বাবরানী, বাযযার ও হাকেম ১/৫১ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য ত্বাবরানী থেকে চয়ন করা। হাকেম বলেন, হাদীছটির সনদ সহীহ।)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن أبي أوفى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إن خيار عباد الله الذين يراعون الشمس والقمر والنجوم لذكر الله. رواه الطبراني واللفظ له والبزار والحاكم وقال صحيح الإسناد
শায়খ আলবানী বলেনঃ কিন্তু বর্তমান যুগের অধিকাংশ মুআয্যিন হাদীছে উল্লেখিত উক্ত প্রশংসার হকদার হবে না। কেননা তারা সূর্য, চন্দ্রের প্রতি খেয়াল করে আযান দেন না। তারা সরকারী ভাবে নির্ধারিত সময় অনুসরণ করেন। যার ভিত্তি হল জ্যোতিষ শাস্ত্রের হিসাব-নিকাশের উপর। অথচ এই হিসাব শরঈ হিসাব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি কোন কোন দেশে ফজরের আযান সময়ের প্রায় আধা ঘন্টা আগে দেয়া হয়। আবার কোন কোন দেশে মাগরিবের আযানের ক্ষেত্রে প্রায় দশ মিনিট দেরী করা হয়। এটা সুন্নাতের খেলাফ। আর এসব কথা বলতে গেলে আহলে সুন্নাত ও সালাফীদের সাথে শুরু হয় তাদের শত্রুতা।
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৫. (সহীহ) আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনতে পেলেন জনৈক ব্যাক্তি (উচ্চস্বরে) বলছেঃ (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার)। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’(লোকটি) ফিতরাতের[1] উপর প্রতিষ্ঠিত।’’ যখন সে বললঃ আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ। তখন তিনি বললেনঃ ’’সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে গেল।’’ একথা শুনে লোকেরা দৌড়াদৌড়ি করে লোকটিকে দেখতে গেল। দেখা গেল সে একজন ছাগলের রাখাল। সালাতের সময় হয়েছে তাই আযান দিতে শুরু করেছে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযায়মাহ্ (সহীহ্) গ্রন্থে ১/২০৮, নাসাঈ (আমালুল ইয়াওস্ম ওয়াল রায়ল) গ্রন্থে। হাদীছটি সহীহ মুসলিমেও প্রায় একইভাবে বর্ণিত হয়েছে ৩৮২।)
[1] . অর্থাৎ- স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত। যেমন আল্লাহ বলেন, فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ’’অতঃপর তুমি একনিষ্ঠভাবে সেই ধর্মের দিকে ধাবিত হও যেটা মেনে নেয়ার ফিৎতরাতের (স্বভাবের) উপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোন পরিবর্তন নেই।’’(সূরা রূমঃ ৩০)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَ عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلاً وَهُوَ فِي مَسِيرٍ لَهُ يَقُولُ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عَلَى الْفِطْرَةِ ، قَالَ : أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، قَالَ : خَرَجَ مِنَ النَّارِ ، فَاسْتَبَقَ الْقَوْمَ إِلَى الرَّجُلِ ، فَإِذَا رَاعِي غَنَمٍ حَضَرَتْهُ الصَّلاَةُ فَقَامَ يُؤَذِّنُ.
رواه ابن خزيمة في صحيحه وهو في مسلم بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৬. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। একসময় বেলাল দাঁড়িয়ে গিয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযান শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’যে ব্যাক্তি এরুপ কথা (আযান) দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ২/২৪ ও ইবনু হিব্বান তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে ১৬৬৫)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِي فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ مِثْلَ هَذَا يَقِينًا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
رواه النسائي وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৭. (সহীহ) ঊক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’তোমার পালনকর্তা ছাগলের সেই রাখালের কাজে আশ্চাম্বিত হন, যে (ছাগল চরাতে গিয়ে) কোন পাহাড়ের টিলার উপর থাকে। (আর সালাতের সময় হলে) আযান দেয় ও সালাত আদায় করে। তখন মহান ও পরাত্রুমশালী আল্লাহ্ বলেনঃ তোমরা দেখ আমার এ বান্দার দিকে। সে আযান দিচ্ছে ও সালাত আদায় করছে। সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম (তথা জান্নাতের অধিকারী করলাম)।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ১২০৩ ও নাসাঈ ২/২০)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ عقبة بن عامر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول يعجب ربك من راعي غنم على رأس شظية للجبل يؤذن بالصلاة ويصلي فيقول الله عز وجل انظروا إلى عبدي هذا يؤذن ويقيم الصلاة يخاف مني قد غفرت لعبدي وأدخلته الجنة. رواه أبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৮. (সহীহ্) ইবনু ওমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি বারো বছর আযান দেবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। প্রত্যেক আযানের বিনিময়ে প্রতিদিন ষাটটি করে নেকী এবং প্রত্যেক এক্বামতের বিনিময়ে তিরিশটি করে নেকী তার জন্যে লিখা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ্ ৭২৮, দারাকুতনী ১/২৪০ ও হাকেম ১/২০৪)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: من أذن اثنتي عشرة سنة وجبت له الجنة وكتب له بتأذينه في كل يوم ستون حسنة وبكل إقامة ثلاثون حسنة. رواه ابن ماجه والدارقطني والحاكم وقال صحيح على شرط البخاري
পরিচ্ছেদঃ ১) আযান দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও আযানের ফযীলতের বর্ণনা
২৪৯. (সহীহ্) সালমান ফারেসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’কোন ব্যাক্তি যদি জনশুন্য স্থানে বা জঙ্গলে থাকে, আর সালাতের সময় হয়ে যায়, তবে সে যেন ওযু করে নেয়। পানি না পেলে যেন তায়াম্মুম করে। অতঃপর যদি এক্বামত দিয়েই সালাত আরম্ভ করে, তবে তার সাথে দু’জন ফেরেশতাও (যারা সর্বদা তার সাথে থাকে তারা) সালাত আদায় করবে। আর যদি আযান দিয়ে এক্বামাত দেয়, তবে তার পিছনে আল্লাহ্ তা’আলার এত সংখ্যক বাহীনি (ফেরেশতা) উপস্থিত হয় যে, উভয় প্রান্তে তাদের সীমানা দেখা যায় না।’’
(আবদুর রাজ্জাক স্বীয় [মুসান্নাফ] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১৯৫৫। তিনি ইবনুত্ তায়মী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু ঊছমান নাহদী থেকে, তিনি সালমান ফারেসী থেকে বর্ণনা করেন।)
الترغيب في الأذان وما جاء في فضله
(صحيح) وَعَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"إِذَا كَانَ الرَّجُلُ بِأَرْضِ قِيٍّ، فَحَانَتِ الصَّلاةُ فَلْيَتَوَضَّأْ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَاءً فَلْيَتَيَمَّمْ، فَإِنْ أَقَامَ صَلَّى مَعَهُ مَلَكَاهُ، وَإِنْ أَذَّنَ وَأَقَامَ صَلَّى خَلْفَهُ مِنْ جُنُودِ اللَّهِ مَا لا يُرَى طَرَفَاهُ" . رواه عبد الرزاق
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫০. (সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যখন তোমরা মুআয্যিনের আযান শুনবে, তখন মুআয্যিন যা বলে তার অনুরূপ তোমরাও বলবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬১১, মুসলিম ৩৮৩, আবু দাউদ ৫২২, তিরমিযী ২০৮, নাসাঈ ২/২৩ ও ইবনু মাজাহ্ ৭২০)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) عَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول المؤذن. رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫১. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আছ (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছেনঃ
’’তোমরা যখন মুআয্যিনের আযান শুনবে, তখন সে যা বলে তার অনুরূপ তোমরাও বলবে। তারপর আমার উপর দরুদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যাক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসীলার প্রার্থনা করবে। উহা হলো জান্নাতের একটি সম্মানিত স্থানের নাম। যা আল্লাহর সমস্ত বান্দাদের মধ্যে একজন ছাড়া অন্য কারো জন্যে হবে না। আশা করছি আমিই হব সেই ব্যাক্তি। সুতরাং যে ব্যাক্তি আমার জন্য অসীলা চাইবে, তার জন্যে আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৩৮৫, আবু দাউদ ৫২৭, তিরমিযী ও নাসাঈ)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنه سمع النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َ يَقُول : " إِذا سَمِعْتُمْ الْمُؤَذّن فَقولُوا مثل مَا يَقُول ، ثمَّ صلوا عَلّي فَإِنَّهُ من صَلَّى عَلّي صَلَاة صَلَّى الله عَلَيْهِ بهَا عشرا ، ثمَّ سلوا الله لي الْوَسِيلَة فَإِنَّهَا منزلَة فِي الْجنَّة لَا تنبغي إِلَّا لعبد من عباد الله تَعَالَى وَأَرْجُو أَن أكون أَنا هُوَ ، فَمن سَأَلَ لي الْوَسِيلَة حلت لَهُ الشَّفَاعَة " . رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫২. (সহীহ্) ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’মুআয্যিন যখন বলবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, তখন তোমাদের কোন ব্যাক্তি জবাবে বলবে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। সে যখন বলবে, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন জবাবে বলবেঃ আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লল্লাহ। সে যখন বলবে, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, তখন জবাবে বলবেঃ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। মুআয্যিন যখন বলে, হাইয়্যা আলাস সালাহ, জবাবে সে বলবেঃ লাহাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। সে বলবে, হাইয়্যা আলাল ফালাহ্, সে জবাব দিবে, লাহাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অতঃপর যখন বলবেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, তখন জবাব দিয়ে বলবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। শেষে বলবে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, সে তখন জবাব দিতে গিয়ে অন্তর থেকে বলবে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৩৮৪, আবু দাউদ ৫২৩, নাসাঈ ২/৫২)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) وَعَنْ عمر بن الْخطاب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ، قَالَ رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َ : " إِذا قَالَ الْمُؤَذّن : الله أكبر الله أكبر فَقَالَ أحدكُم : الله أكبر الله أكبر ، ثمَّ قَالَ : أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله قَالَ : أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله ، ثمَّ قَالَ : أشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله قَالَ أشهد أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله ، ثمَّ قَالَ : حَيّ عَلَى الصَّلَاة قَالَ : لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه ، ثمَّ قَالَ : حَيّ عَلَى الْفَلاح قَالَ : لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه ، ثمَّ قَالَ : الله أكبر الله أكبر قَالَ : الله أكبر الله أكبر ، ثمَّ قَالَ : لَا إِلَه إِلَّا الله قَالَ : لَا إِلَه إِلَّا الله من قلبه ، دخل الْجنَّة "
رواه مسلم وأبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৩. (সহীহ্) জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যাক্তি আযান শুনে এই দু’আ বলবেঃ আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ্দাওয়াতিত্ তা-ম্মাতি, ওয়াস সালাতিল কাইমাতি, আতি মুহাম্মাদানাল অসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ্, ওয়াব আছহু মাক্বামাম্ মাহমূদানাল্লাযী ওয়াদ্তাহ্। (অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি এই পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রভু। তুমি দান কর মুহাম্মাদকে অসীলা এবং মর্যাদা এবং তাঁকে পৌঁছাও তোমার প্রশংসিত স্থানে যার ওয়াদা তুমি তাঁকে দিয়েছো।) তবে তার জন্য কিয়ামত দিবসে আমার শাফাআত আবশ্যক হয়ে যাবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬১৪, মুসলিম, আবু দাউদ ৫২৯, তিরমিযী ২১১, নাসাঈ ২/২৭ ও ইবনু মাজাহ্ ৭২২)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ : اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ رواه البخاري وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৪. (সহীহ্) সাদ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ
’’যে ব্যাক্তি মুআয্যিনের আযান শুনে বলবেঃ ওয়া আনা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকালাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। রাযীতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসূলা। [অর্থঃ এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া যোগ্য কোন মাবূদ নেই। তিনি একক; তাঁর শরীক নেই। মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি মেনে নিয়েছি আল্লাহ্কে রব্ব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রাসূল হিসেবে।] তবে আল্লাহ্ তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ্ ও আবু দাউদ। এ হাদীছের বাক্য তিরমিযী থেকে গৃহিত। আবু দাঊদের বর্ণনায় ’’পাপসমূহ কথাটি নেই।’’ আর মুসলিমের রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হবে।
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) عَنْ سَعْدٍ , عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: " مَنْ قَالَ: حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ , وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ , رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ "
رواه مسلم والترمذي واللفظ له والنسائي وابن ماجه وأبو داود
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৫. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে ছিলাম, একসময় বেলাল দাঁড়িয়ে গিয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযান শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’যে এ ব্যাক্তির অনুরূপ কথা (আযান) দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলবে, (অর্থাৎ আযানের জবাব দিবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ২/২৪ ও ইবনু হিব্বান ১৬৬৫ তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে এবং হাকেম ১/২০৪। তিনি বলেনঃ হাদীছটির সনদ সহীহ্)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، يَقُولُ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَلَعَاتِ الْيَمَنِ، فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِي، فَلَمَّا سَكَتَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ هَذَا يَقِينًا، دَخَلَ الْجَنَّةَ. رواه النسائي وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৬. (হাসান সহীহ্) আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত।
(তিনি বলেন,) জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মুআয্যিনগণ তো আমাদের চাইতে অধিক মর্যাদাশালী হয়ে গেলেন? তখন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’তারা যেমন (আযানের শব্দগুলো) বলে তুমিও তার জবাব দাও। শেষ হলে যা প্রার্থনা করবে তা তোমাকে দেয়া হবে।’’
(আবু দাউদ ৫২৪, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান তাঁর (সহীহ্) গ্রন্থে ১৬৯৩ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(حسن صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤَذِّنِينَ يَفْضُلُونَنَا فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ كَمَا يَقُولُونَ فَإِذَا انْتَهَيْتَ فَسَلْ تُعْطَهْ.
رواه أبو داود والنسائي وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৭. (হাসান) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসীলার প্রার্থনা কর। কেননা যে বান্দা আমার জন্য দুনিয়ায় উহা প্রার্থনা করবে, কিয়ামত দিবসে আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা শাফাআতকারী হয়ে যাব।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত] গ্রন্থে)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(حسن ) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سلوا الله لي الوسيلة فإنه لم يسألها لي عبد في الدنيا إلا كنت له شهيدا أو شفيعا يوم القيامة. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ২) মুআয্যিনের জবাব দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, কি বলে আযানের জবাব দিবে ও আযানের পর কি দু’আ পাঠ করবে তার বিবরণ
২৫৮. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই শুনতেন মুআয্যিন (আযানে) শাহাদাতের উল্লেখ করছে, তখনই তিনি বলতেনঃ ’’এবং আমিও স্বাক্ষ্য দিচ্ছি, আমিও স্বাক্ষ্য দিচ্ছি।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫২৬, ইবনু হিব্বান [(সহীহ্) গ্রন্থে] ১৬৮১ ও হাকেম ১/২০৪। হাকেম বলেনঃ হাদীছটির সনদ সহীহ।)
الترغيب في إجابة المؤذن وبماذا يجيبه وما يقول بعد الأذان
(صحيح) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ يَتَشَهَّدُ قَالَ وَأَنَا وَأَنَا. رواه أبو داود واللفظ له وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ৩) ইকামত দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৫৯. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সালাতের জন্য যখন আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বায়ুনিঃসরণ করতে করতে এতদূর পলায়ন করে, যখন সে আর আযানের শব্দ শুনতে পায় না। আযান শেষ হলে আবার ফিরে আসে। যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন আবার পলায়ন করে...।’’
(মালেক ১/৬৯, বুখারী ৬০৮, মুসলিম ৩৮৯, আবূ দাউদ ৫১৬, নাসাঈ ২/২১)(হাদীছটি ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, দেখুন হাদীছ নং ২৪০)
الترغيب في الإقامة
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ التَّأْذِينَ فَإِذَا قُضِيَ الأذان أَقْبَلَ فَإِذَا ثُوِّبَ أَدْبَرَ
পরিচ্ছেদঃ ৩) ইকামত দেয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬০. (সহীহ্ লি গাইরিহী) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যখন সালাতের জন্য একামত দেয়া হয়, তখন আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং দু’আ কবুল করা হয়।’’
(ইবনু লাহিআর রেওয়ায়াতে ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/২৪২।)
الترغيب في الإقامة
(صحيح لغيره) و عَنْ جَابِرٍ، أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَاسْتُجِيبَ الدُّعَاءُ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ৪) বিনা কারণে আযানের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৬১. (সহীহ্) এবং হাদীছটি বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ যঈফ তারগীব ও তারহীবে উল্লেখিত আবু হুরায়রার হাদীছটি) মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ্। তবে ইবনু মাজাহ্ (রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন .. শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি।
الترهيب من الخروج من المسجد بعد الأذان لغير عذر
-
পরিচ্ছেদঃ ৪) বিনা কারণে আযানের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৬২. (হাসান সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মুনাফিক ছাড়া এমন কোন ব্যাক্তি নেই, যে আমার এই মসজিদে আযান শোনার পর কোন প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ত্বাবরানী ৩৮৪২)
الترهيب من الخروج من المسجد بعد الأذان لغير عذر
(حسن صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"لا يَسْمَعُ النِّدَاءَ فِي مَسْجِدِي هَذَا ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْهُ، إِلا لِحَاجَةٍ، ثُمَّ لا يَرْجِعُ إِلَيْهِ إِلا مُنَافِقٌ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ৪) বিনা কারণে আযানের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৬৩. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উছমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ’’মসজিদের মধ্যে থাকাবস্থায় যে ব্যাক্তি আযান পেল, অতঃপর বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হল, কিন্তু সে ফিরে আসার নিয়ত করল না, তবে সে মুনাফিক।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ ৭৩৪)
الترهيب من الخروج من المسجد بعد الأذان لغير عذر
(صحيح لغيره) وروي عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَدْرَكَهُ الْأَذَانُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ خَرَجَ لَمْ يَخْرُجْ لِحَاجَةٍ وَهُوَ لَا يُرِيدُ الرَّجْعَةَ فَهُوَ مُنَافِقٌ. رواه ابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৪) বিনা কারণে আযানের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৬৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) সাঈদ বিন মুসাইয়েব (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’মুনাফেক ছাড়া আযানের পর মসজিদ থেকে কোন ব্যাক্তি বের হয় না । তবে সে ব্যাক্তির কথা ভিন্ন যে কোন প্রয়োজনে বের হবে এবং ফিরে আসার ইচ্ছা রাখবে। (অর্থাৎ সে মুনাফেক নয়)’’
(আবু দাউদ ’মারাসীল’ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২৪)
الترهيب من الخروج من المسجد بعد الأذان لغير عذر
(صحيح لغيره) وَعَنْ سعيد بن المسيب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا يخرج من المسجد أحد بعد النداء إلا منافق إلا أحد أخرجته حاجة وهو يريد الرجوع.
رواه أبو داود في مراسيله
পরিচ্ছেদঃ ৫) আযান এবং এক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’আযান এবং এক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ প্রত্যাখ্যাত হয় না ।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাঊদ ৫২১, তিরমিযী ২১২, নাসাঈ ৬৭, ইবনু হিব্বান ১৬৯৪ ও ইবনু খুযায়মাহ ১/২২২। এ হাদীসের শব্দ সমূহ তিরমিযী থেকে গৃহীত। ইবনু খুযাযমাহ হাদীসের শেষে একথা উল্লেখ করেন: ’’সুতরাং তোমরা দুআ কর।’’
الترغيب في الدعاء بين الأذان والإقامة
(صحيح لغيره) عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ لاَ يُرَدُّ. رواه أبو داود والترمذي واللفظ له والنسائي وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما وزاد: فادعوا
পরিচ্ছেদঃ ৫) আযান এবং এক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) সাহল বিন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’দু’টি সময়ে আসমানের দরজা সমূহ খোলা হয় এবং কোন প্রার্থনাকারীর দু’আ খুব কমই ফিরিয়ে দেয়া হয়। তা হলঃ আযানের সময় ও জিহাদের কাতারে ।
অন্য বর্ণনায়ঃ
’’দু’টি বিষয় প্রত্যাখ্যাত হয় না, (অথবা বলেছেন, খুব কমই ফিরিয়ে দেয়া হয়) আযানের সময় দু’আ এবং যুদ্ধের সময়; যখন একজন অপরজনের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যায়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ২৫৪, ইবনু হিব্বান ১৭১৭ ও ইবনু খুযায়মাহ ১/২১৯) তবে ইবনু হিব্বান বলেছেন: ’’সালাত উপস্থিত হওয়ার সময়।’’
উক্ত হাদীছটি হাকেমও বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন। আরো বর্ণনা করেছেন ইমাম মালেক মাওকূফ সূত্রে।
الترغيب في الدعاء بين الأذان والإقامة
(صحيح لغيره) وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعَتَانِ تُفْتَحُ فِيهِمَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ , وَقَلَّماَ تُرَدُّ عَلَي دَاعٍ دَعْوَتُهُ : حَضُوْرِ النِّدَاءِ، والصَّفِّ فِي سَبِيلِ اللهِ
وفي لفظ قال: ثِنْتَانِ لَا تُرَدَّانِ أَوْ قَلَّمَا تُرَدَّانِ الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعَنْدَ الْبَأْسِ حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا. رواه أبو داود وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৫) আযান এবং এক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬৭. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মুআয্যিনগণ তো আমাদের চাইতে অধিক মর্যাদাশালী হয়ে গেলেন? তখন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’তারা যেমন (আযানের শব্দগুলো) বলে তুমিও তার জবাব দাও। জবাব শেষে প্রার্থনা কর, যা চাইবে তোমাকে তাই দেয়া হবে।’’
(আবু দাউদ ৫২৪, নাসাঈ ৪৪, ইবনে হিব্বান ১৬৯৩ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)[1]
الترغيب في الدعاء بين الأذان والإقامة
(صحيح) وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤَذِّنِينَ يَفْضُلُونَنَا فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ كَمَا يَقُولُونَ فَإِذَا انْتَهَيْتَ فَسَلْ تُعْطَهْ. رواه أبو داود والنسائي وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬৮. (সহীহ্) উছমান বিন আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মসজিদ পূণঃনির্মাণ করলেন তখন লোকেরা সমালোচনা করছিল। তার জবাবে তিনি বললেনঃ তোমরা আমার বিরুদ্ধে অনেক বেশী কথা বলেছ। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যাক্তি একটি মসজিদ তৈরি করবে, আল্লাহ্ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন।’’
অন্য বর্ণনায়ঃ ’’আল্লাহ্ তার জন্যে অনুরূপ ঘর তৈরী করবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪৫০ ও মুসলিম ৪৩৩ প্রমূখ)
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(صحيح) عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّهُ قاَلَ: عِنْدَ قَوْلِ النَّاسِ فِيهِ حِينَ بَنَى مَسْجِدَ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ أَكْثَرْتُمْ وَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى مَسْجِدًا قَالَ بُكَيْرٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. رواه البخاري ومسلم وغيرهما
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৬৯. (সহীহ্) আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যাক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে পাখির বাসার ন্যায় (অর্থাৎ ছোট আকারে) একটি মসজিদ তৈরী করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন।’’
(قطاة) শব্দটির অর্থ হল তীতির পাখি, কবুতরের ন্যায় মরুভূমির এক প্রকার পাখি।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ৪০১, ত্বাবরানী ২/১২০ [ছাগীর] গ্রন্থে এবং ইবনু হিব্বান ১৬০৮ (সহীহ্) গ্রন্থে। হাদীছটির বাক্য বাযযার থেকে গৃহীত)
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(صحيح) وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا، قَدْرَ مَفْحَصِ قَطَاةٍ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. رواه البزار واللفظ له والطبراني في الصغير وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭০. (সহীহ্ লি গাইরিহী) ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতেঃ ’’যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্য মসজিদ নির্মাণ করবে- যেখানে আল্লাহর যিকির করা হয় (আল্লাহর ইবাদত করা হয়) আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’’
হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ ৭৩৫ ও ইবনু হিব্বান ১৬০৬ (সহীহ্) গ্রন্থে
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(صحيح لغيره) و عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى لله مَسْجِدًا يُذْكَرُ فِيهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ ، رواه ابن ماجه وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭১. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি পানির জন্য (নদী বা কুপ) খনন করবে। অতঃপর সেখান থেকে যে কোন তৃষ্ণার্ত প্রাণী জিন বা মানুষ বা পাখি যে কেউ পান করবে, তবে আল্লাহ্ তাকে কিয়ামত দিবসে তার প্রতিদান প্রদান করবেন। আর যে ব্যাক্তি পাখির বাসার অনুরূপ বা তার চাইতে ছোট আকারে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ তৈরী করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন।’’
(ইবনু খুযায়মাহ [সহীহ্] গ্রন্থে ২/১৬৯ এবং ইবনু মাজাহ সহীহ্ সনদে ৭৩৮ শুধুমাত্র মসজিদের কথা উল্লেখ করে হাদীছটি বর্ণনা করেন।)
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(صحيح) و عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ: مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبْ مِنْهُ كَبِدٌ حَرِيٌّ مِنْ جِنٍّ وَلاَ إِنْسٍ وَلاَ طَائِرٍ إِلاَّ آجَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ بَنَى مَسْجِدًا كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ ، أَوْ أَصْغَرَ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. رواه ابن خزيمة في صحيحه وروى ابن ماجه منه ذكر المسجد فقط بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭২. (সহীহ্) হাদীছটি আহমাদ ও বাযযার ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তাদের বর্ণনায় বলা হয়ঃ ...পাখির ডিম পাড়ার বাসার অনুরূপ...।
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
-
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭৩. (হাসান লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যাক্তি আল্লাহর জন্যে একটি মসজিদ তৈরী করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার চেয়ে প্রশস্ত একটি ঘর প্রস্ত্তত করবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/২২১)
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(حسن لغيره) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا، بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَوْسَعَ مِنْهُ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭৪. (হাসান লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি একটি মসজিদ তৈরী করবে, তা দ্বারা সে কোন রিয়া (মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্য) বা মানুষের প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্য করবে না। তবে আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর প্রস্ত্তত করবেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত] গ্রন্থে ৭০০৫)
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(حسن لغيره) وروي عن عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لا يريدُ به رياءً ولا سُمْعَةً بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ৬) প্রয়োজনীয় স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
২৭৫. (হাসান) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমল ও নেকীর কাজ থেকে যা (ছওয়াব) তার নিকট পৌঁছবে তা হল, ইলম (ইসলামের জ্ঞান) যা সে শিক্ষা দান করেছে ও প্রচার করেছে। রেখে যাওয়া সৎ সন্তান (অর্থাৎ তার দু’আ)। অথবা একটি কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে। অথবা একটি মসজিদ তৈরী করেছে বা মুসাফিরের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছে। অথবা একটি নদী প্রবাহিত করেছে। অথবা তার জীবদ্দশায় সুস্থ থাকাকালে নিজের সম্পদ থেকে সাদকা করে গেছে। এগুলোর ছোয়াব মৃত্যুর পর তার কাছে পৌঁছতে থাকবে।’’
(ইবনে মাজাহ ২৪২, বায়হাক্বী ৩৪৪৮ এবং অনুরূপভাবে ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)[1]
الترغيب في بناء المساجد في الأمكنة المحتاجة إليها
(حسن ) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ تَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ. رواه ابن ماجه واللفظ له وابن خزيمة في صحيحه والبيهقي
পরিচ্ছেদঃ ৭) মসজিদকে পরিস্কার ও পবিত্র রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও তা সুগন্ধিযুক্ত করার বর্ণনা
২৭৬. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা মসজিদে নববী ঝাড়ু দেয়ার কাজ করত। একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে পেলেন না। কয়েকদিন পর তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাঁকে বলা হলঃ সে মৃত্যু বরণ করেছে। তিনি বললেনঃ ’’তার মৃত্যু সংবাদ তোমরা আমাকে দাওনি কেন?’’ অতঃপর তিনি তার কবরের কাছে এসে কবরের উপর জানাযার সালাত পড়লেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪৫৮, মুসলিম ৯৫৬, সহীহ সনদে ইবনু মাজাহ্ ১৫২৭ এবং ইবনু খুযায়মাহ (সহীহ্) গ্রন্থে। এ হাদীসের বাক্য ইবনু মাজাহ্ থেকে গৃহীত।
ইবনু খুযায়মাহর রেওয়ায়াতে বলা হয়ঃ إن امرأة كانت تلقط الخرق والعيدان من المسجد জনৈক মহিলা মসজিদ থেকে নেকড়া ও খড়কুটা কুড়ানোর কাজ করত...।
الترغيب في تنظيف المساجد وتطهيرها وما جاء في تجميرها
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَنْهَا بَعْدَ أَيَّامٍ فَقِيلَ لَهُ إِنَّهَا مَاتَتْ قَالَ فَهَلَّا آذَنْتُمُونِي فَأَتَى قَبْرَهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا
. رواه البخاري ومسلم وابن ماجه بإسناد صحيح واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ৭) মসজিদকে পরিস্কার ও পবিত্র রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও তা সুগন্ধিযুক্ত করার বর্ণনা
২৭৭. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উক্ত হাদীছটি ইবনু মাজাহ্ ও ইবনু খুযায়মা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকেও বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ নারী মসজিদ ঝাড়ু দেয়ার কাজ করত। কোন এক রাতে সে মৃত্যু বরণ করল। (এবং রাতেই তাকে সমাহিত করা হল।) সকালে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে তার মৃত্যু সংবাদ দেয়া হল, তিনি বললেনঃ ’’তোমরা আমাকে জানাওনি কেন?’’ অতঃপর তিনি সাহাবীদের সাথে নিয়ে তার কবরের কাছে গেলেন এবং জানাযা আদায় করলেন। লোকেরাও তাঁর পিছনে জানাযা পড়ল। তার জন্য দু’আ করলেন, অতঃপর ফিরে আসলেন।
الترغيب في تنظيف المساجد وتطهيرها وما جاء في تجميرها
(صحيح لغيره) ورواه ابن ماجه أيضا وابن خزيمة عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ
كَانَتْ سَوْدَاءُ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَتُوُفِّيَتْ لَيْلًا فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُخْبِرَ بِمَوْتِهَا فَقَالَ أَلَا آذَنْتُمُونِي بِهَا فَخَرَجَ بِأَصْحَابِهِ فَوَقَفَ عَلَى قَبْرِهَا فَكَبَّرَ عَلَيْهَا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ وَدَعَا لَهَا ثُمَّ انْصَرَفَ
পরিচ্ছেদঃ ৭) মসজিদকে পরিস্কার ও পবিত্র রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও তা সুগন্ধিযুক্ত করার বর্ণনা
২৭৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোত্র সমূহে (মহল্লায় মহল্লাহ) আমাদেরকে মসজিদ নির্মাণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আদশে করেছেন উহা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/১৭ ও তিরমিযী। তিনি বলেনঃ হাদীছটি সহীহ্)[1]
الترغيب في تنظيف المساجد وتطهيرها وما جاء في تجميرها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَّخِذَ الْمَسَاجِدَ فِي دِيَارِنَا، وَأَمَرَنَا أَنْ نُنَظِّفَهَا " رواه أحمد والترمذي وقال حديث صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৭) মসজিদকে পরিস্কার ও পবিত্র রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও তা সুগন্ধিযুক্ত করার বর্ণনা
২৭৯. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোত্র সমূহে (পাড়ায় পাড়ায়) আমাদেরকে মসজিদ বানাতে আদেশ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন উহা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ও সুগন্ধিযুক্ত করতে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/২৭৯, আবূ দাউদ ৪৫৫, ইবনে মাজাহ ৭৫৮, আবু ইবনু খুযায়মাহ ২/২৭০ তাঁর (সহীহ্) গ্রন্থে। তিরমিযী হাদীছটি মুসনাদ ও মুরসাল উভয়ভাবে বর্ণনা করেন এবং বলেনঃ মুরসাল বর্ণনাটিই অধিক শুদ্ধ।)
الترغيب في تنظيف المساجد وتطهيرها وما جاء في تجميرها
(صحيح) وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ
. رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه ورواه الترمذي مسندا ومرسلا وقال في المرسل هذا أصح
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮০. (সহীহ্) ইবনু ওমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি মসজিদের সামনের দিকে কফ বা থুথু দেখতে পেলেন। তখন মানুষের উপর তিনি রাগম্বিত হয়ে উঠলেন। অতঃপর নিজেই উহা ঘষে উঠিয়ে দিলেন। তারপর জাফরান আনতে বললেন, এবং উক্ত স্থানে তা লাগিয়ে দিলেন। বললেনঃ ’’তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে তখন মহান ও পরাত্রুমশালী আল্লাহ তার চেহারার সম্মুখে থাকেন। সুতরাং সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪০৬, মুসলিম ৫৪৭ ও আবু দাউদ ৪৭৯। হাদীছটির বাক্য আবু দাউদ থেকে গৃহীত।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح)وَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ يَوْمًا إِذْ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَتَغَيَّظَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَكَّهَا قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ فَدَعَا بِزَعْفَرَانٍ فَلَطَّخَهُ بِهِ وَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِ أَحَدِكُمْ إِذَا صَلَّى فَلَا يَبْزُقْ بَيْنَ يَدَيْهِ
. رواه البخاري ومسلم وأبو داود واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮১. (সহীহ্) ইবনু মাজাহ্ কাসেম বিন মেহরানের বরাতে (তিনি মাজহুল বা অজ্ঞাত রাবী[1]) আবু রাফে থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। (আবু হুরায়রা বলেন,) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার মসজিদের সম্মুখভাগে কফ দেখতে পেলেন। তখন মানুষের সামনে আসলেন, অতঃপর বললেনঃ
’’কি ব্যাপার! তোমাদের কোন ব্যাক্তি তার পালনকর্তার সম্মুখে দন্ডায়মান হয়, অতঃপর তার সম্মুখে থুথু নিক্ষেপ করে? এ ব্যাক্তি কি পছন্দ করে যে, তার সম্মুখে এসে তার চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করা হোক? কারো যদি থুথু ফেলার দরকার হয়, সে যেন তার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে অথবা এইভাবে নিজের কাপড়ে থুথু ফেলে।’’
বর্ণনাকারী বলেনঃ ইসমাঈল বিন উলাইয়া আমাকে দেখাতে গিয়ে নিজের কাপড়ে থুথু নিক্ষেপ করলেন অতঃপর তা ঘষে দিলেন। (ইবনে মাজাহ ১০২২)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وروى اِبْنُ ماجه عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مِهْرَانَ وهو مجهول عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يَقُومُ مُسْتَقْبِلَ رَبِّهِ فَيَتَنَخَّعُ أَمَامَهُ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يُسْتَقْبَلَ فَيُتَنَخَّعَ فِي وَجْهِهِ إِذَا بصق أحدكم فليبصق عن شماله أو ليتفل هكذا في ثوبه ثم أراني إسماعيل - يعني ابن علية - يبصق في ثوبه ثم يدلكه.
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮২. (হাসান সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হলুদ বর্ণের খেজুরের ডাল হাতে নিয়ে থাকা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর খুব পছন্দনীয় ছিল। একদিন তিনি এরুপ একটি ডাল হাতে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। এমন সময় তিনি মসজিদের সম্মুখভাগে কিছু থুথু দেখতে পেলেন। তিনি উহা ঘষে পরিস্কার করে দিলেন। অতঃপর রাগম্বিত হয়ে মানুষের সম্মুখে এসে বললেনঃ
’’তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে, কোন ব্যাক্তি সম্মুখে এসে তার চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করে দিক? তোমাদের কেউ যখন সালাতে দন্ডায়মান হয়, তখন সে তো তার প্রভুর সম্মুখে দন্ডায়মান হয়। আর ফেরেশতা থাকে তার ডান দিকে। সুতরাং সম্মুখে এবং ডান দিকে সে যেন থুথু নিক্ষেপ না করে.।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযায়মাহ্ তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে ৯২৬)[1]
ইবনু খুযায়মাহর অপর রেওয়ায়াতে আগের মতই বর্ণনা এসেছে। তাতে বলা হয়ঃ
فإن الله عز وجل بين أيديكم في صلاتكم فلا توجهوا شيئا من الأذى بين أيديكم
’’সালাতের সময় মহান ও পরাত্রুমশালী আল্লাহ তোমাদের সম্মুখে থাকেন। অতএব কোন খারাপ জিনিস সামনের দিকে নিক্ষেপ করবে না....।’’
(ইবনু খুযায়মাহ্ এ হাদীছের উপর একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেনঃ [অনুচ্ছেদঃ নামাযের ক্বিবলার দিকে খারাপ বস্ত্ত বলতে যা বুঝায় তার সবই নিক্ষেপের প্রতি সতর্কীকরণঃ])
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(حسن صحيح) وَ عَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعْجِبُهُ الْعَرَاجِينُ أَنْ يُمْسِكَهَا بِيَدِهِ ، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ ذَاتَ يَوْمٍ ، وَفِي يَدِهِ وَاحِدٌ مِنْهَا ، فَرَأَى نُخَامَاتٍ فِي قِبْلَةٍ الْمَسْجِدِ ، فَحَتَّهُنَّ حَتَّى أَنْقَاهُنَّ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ مُغْضَبًا ، فَقَالَ : أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَسْتَقْبِلَهُ رَجُلٌ ، فَيَبْصُقَ فِي وَجْهِهِ ؟ إِنَّ أَحَدُكُمْ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا يَسْتَقْبِلُ رَبَّهُ ، وَالْمَلَكُ عَنْ يَمِينِهِ ، فَلاَ يَبْصُقْ بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ". رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৩. (সহীহ্) জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা আমাদের মসজিদে আসলেন। সে সময় তাঁর হাতে ঊরজূন (খেজুর গাছের একটি ডাল) ছিল। মসজিদের ক্বিবলার দিকে তিনি থুথু দেখতে পেলেন। তখন তিনি সেদিকে গেলেন এবং ঊরজূন ডাল দিয়ে তা ঘষে দিলেন। তারপর বললেনঃ
’’তোমাদের মধ্যে কেউ কি পছন্দ করে যে, আল্লাহ তার থেকে বিমূখ হন? তোমাদের কেউ যখন সালাতে দন্ডায়মান হয়, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। সুতরাং সে যেন তার সম্মুখে ও ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে। (যদি দরকার হয় তবে) বাম দিকে বাম পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করবে। আর যদি কফ বা থুথু দ্রুত এসেই পড়ে তবে স্বীয় কাপড়ে এইভাবে নিক্ষেপ করবে। একথা বলে তিনি নিজের কাপড়ে মুখ রেখে তাতে থুথু ফেললেন, অতঃপর উহা ঘষে দিলেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৪৮৫)[1]
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَعَنْ جَابِر بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسْجِدِنَا وَفِي يَدِهِ عُرْجُونُ فَرَأَى فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ نُخَامَةً فَأَقْبَلَ عَلَيْهَا فَحَتَّهَا بِالْعُرْجُونِ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْزُقْ عَنْ يَسَارِهِ تَحْتَ رِجْلِهِ الْيُسْرَى فَإِنْ عَجِلَتْ بِهِ بَادِرَةٌ فَلْيَقُلْ بِثَوْبِهِ هَكَذَا وَوَضَعَهُ عَلَى فِيهِ ثُمَّ دَلَكَهُ. الحديث. رواه أبو داود وغيره
গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদাঃ হাদীছে যে বলা হয়েছেঃ ‘‘আল্লাহ তার চেহারার সম্মুখে আছেন।’’ আগের হাদীছে বলা হয়েছেঃ ‘‘নামাযে আল্লাহ তোমাদের সম্মুখে থাকেন।’’ এসমস্ত কথা কিন্তু ‘আল্লাহ আরশে আছেন’ তার বিপরীত নয়। তিনি সকল মাখলূকের উপরে সপ্তাকাশের উচ্চে আরশে আযীমে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে কুরআন ও মুতাওয়াতের হাদীছে অসংখ্য উক্তি বিদ্যমান। সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীনের আক্বীদা-বিশ্বাসও এটাই। আল্লাহ তা’আলা আরশে আযীমের উপরে থেকেও সমগ্র বিশ্বকে বেষ্টন করে আছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বান্দা যে দিকেই মুখ ফেরাবে, সে আল্লাহর সম্মুখেই থাকবে।
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৪. (সহীহ্) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যাক্তি ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে, সে কিয়ামত দিবসে তার দু’চোখের মধ্যেখানে সেই থুথু নিয়ে উপস্থিত হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৩৮২৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ২/৬৩ ও ইবনু হিব্বান ১৬৩৭ তাদের (সহীহ্) গ্রন্থদ্বয়ে।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَ عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ : رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ تَفَلَ تُجَاهَ الْقِبْلَةِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَتَفْلَتُهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ.
...رواه أبو داود وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৫. (সহীহ্) ইবনু ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ক্বিবলার দিকে কফ নিক্ষেপকারী কিয়ামত দিবসে মুখমণ্ডল ের উপর উক্ত কফ নিয়ে উত্থিত হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ৪১৩, ইবনু খুযায়মাহ্ ২/২৭৯ ও ইবনু হিব্বান ১৬৩৬ তাদের (সহীহ্) গ্রন্থদ্বয়ে। এ হাদীছটির বাক্য ইবনু খুযায়মাহ্ থেকে গৃহীত।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ : رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُبْعَثُ صَاحِبُ النُّخَامَةِ فِي الْقِبْلَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهِيَ فِي وَجْهِهِ.
. رواه البزار وابن خزيمة في صحيحه وهذا لفظه وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৬. (সহীহ্) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’মসজিদে থুথু নিক্ষেপ একটি পাপের কাজ। তার কাফ্ফারা হল-উহা মুছে ফেলা।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪১৫, মুসলিম ৫৫২, আবু দাউদ ৪৭৫, তিরমিযী ও নাসাঈ ২/৫১)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبُصَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا . رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৭. (হাসান সহীহ্) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মসজিদে থুথু ফেলা একটি গুনাহের কাজ। আর উহা ঢেকে করে ফেলা হল একটি নেকীর কাজ।’’
(মোটামুটি ধরণের সনদে আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫/২৬০)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(حسن صحيح) وَ عَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ : رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّفْلُ فِى الْمَسْجِدِ سَيِّئَةٌ , وَدَفْنُهُ حَسَنَةٌ.. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু সাহলাহ সায়েব বিন খাল্লাদ থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেন। জনৈক ব্যাক্তি কিছু লোকের ইমামতী করছিল। এমন সময় সে ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করল। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখলেন। সে সালাত থেকে ফারেগ হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’এ ব্যাক্তি তোমাদের আর ইমামতি করবে না। পরে যখন সে ইমামতি করতে চাইল, লোকেরা তাকে বাঁধা দিল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন সে কথা তাকে জানালো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সামনে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ ’’হ্যাঁ’’, (বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন,) ’’নিশ্চয় তুমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছ।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৪৮০ ও ইবনু হিব্বান (সহীহ্) গ্রন্থে ১৬৩৪)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح لغيره) وَ عَنْ أَبِي سَهْلَةَ السَّائِبِ بْنِ خَلَّادٍ قَالَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أنَّ رَجُلاً أَمَّ قَوْمًا فَبَصَقَ فِي الْقِبْلَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ فَرَغَ لَا يُصَلِّي لَكُمْ هَذَا فَأَرَادَ بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يُصَلِّيَ لَهُمْ فَمَنَعُوهُ وَأَخْبَرُوهُ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ نَعَمْ وَحَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ إِنَّكَ آذَيْتَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. رواه أبو داود وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮৯. (হাসান সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ)[1] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যাক্তিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহর সালাতে লোকদের ইমামতি করার আদেশ করলেন। সে লোকদের নিয়ে সালাত অবস্থায় ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করল। আসর ছালাতের সময় হলে আরেক এক ব্যাক্তিকে (ইমামতির জন্য) পাঠালেন। এতে প্রথম ব্যাক্তি ভীত হয়ে গেল। সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে কি কোন (ওহী) নাযিল হয়ে গেছে? তিনি বললেনঃ
’’না, তবে তুমি মানুষের ইমামতিতে দাঁড়িয়ে তোমার সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করেছ এবং তাতে আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দিয়েছ।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [কাবীর] গ্রন্থে উত্তম সনদে। মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১০/২২৩)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(حسن صحيح) وَ عَن عبد الله بن عَمْرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُاَ قَالَ : أَمَرَ رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ الظّهْر فتفل فِي الْقبْلَة ، وَهُوَ يُصَلِّي ، فَلَمَّا كَانَتْ صَلَاة الْعَصْر أرسل إِلَى آخر ، فأشفق الرجل الأول فجَاء إِلَى رَسُول الله - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َ - فَقَالَ : يَا رَسُول الله ، أنزل فِي شيء؟ قَالَ : " لَا ، وَلَكِنَّك تفلت بَين يَديك وَأَنت قائم تؤم النَّاس ، فآذيت الله والملائكة
.
رواه الطبراني في الكبير بإسناد جيد
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯০. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি শুনতে পাবে যে কোন লোক মসজিদের মধ্যে হারানো বস্ত্ত তালাশ করছে তখন সে যেন বলে: আল্লাহ্ যেন বস্ত্তটি তোমাকে ফিরিয়ে না দেন। কেননা এ উদ্দেশ্যে মসজিদ তৈরী করা হয়নি।’’
(হাদীছটি মুসলিম ৪৬৮, আবু দাউদ ৪৭৩ ও ইবনে মাজাহ ৭৬৭ প্রমূখ বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أنه سَمِعْتُ رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ سَمِعَ رَجُلًا يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ: لَا أَدَّاهَا اللهُ إِلَيْكَ ؛ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا"
رواه مسلم وأبو داود وابن ماجه وغيرهم
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯১. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যখন তোমরা দেখবে কোন ব্যাক্তি মসজিদের মধ্যে ত্রুয় বা বিত্রুয় করছে, তখন বলবেঃ আল্লাহ তোমার ব্যবসায় লোকসান দিক। আর যখন কোন ব্যাক্তিকে হারানো বস্ত্ত (মসজিদে) খুঁজতে দেখবে তখন বলবেঃ আল্লাহ তোমাকে উক্ত বস্ত্ত ফিরিয়ে না দিক।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ১৩২১, নাসাঈ ৭৬, ইবনু খুযায়মাহ্ ২/২৭৪, হাকেম ২/৫৬ ও হাদীছটির প্রথম অংশ ইবনু হিব্বান তাঁর (সহীহ্) গ্রন্থে। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান সহীহ্। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ্।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
) (صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : (( إِذَا رَأيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ في المَسْجِدِ ، فَقُولُوا : لا أرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ ، وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ ضَالَّةً فَقُولُوا : لا رَدَّهَا الله عَلَيْكَ )) . رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح والنسائي وابن خزيمة والحاكم وقال صحيح على شرط مسلم ورواه ابن حبان في صحيحه بنحوه بالشطر الأول
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯২. (সহীহ্) বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যাক্তি মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করছিল এবং বলছিলঃ কেউ কি লাল উটটি পেয়েছেন? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ (আল্লাহ্ করে) তুমি তা খুঁজে না পাও। কেননা মসজিদ সমূহ যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়, তা তো সকলেরই জানা।’’ (তম্মধ্যে হারানো বস্ত্ত অনুসন্ধান করার জায়গা মসজিদ নয়)
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৫৬৯, নাসাঈ ১৭৪ ও ইবনু মাজাহ্ ৭৬৫)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَجُلاً نَشَدَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلِ الأَحْمَرِ ؟ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لاَ وَجَدْتَ ، إِنَّمَا بُنِيَتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ. رواه مسلم والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯৩. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যখন তোমাদের কেউ বাড়ীতে ওযু করে মসজিদে গমণ করে, তখন সে ফেরৎ আসা পর্যন্ত সালাতেই থাকে। সুতরাং সে যেন এরুপ না করে। একথা বলে তিনি- স্বীয় আঙ্গুল সমূহকে একটি অপরটির মাঝে প্রবেশ করিয়ে দিলেন।’’
(ইবনু খুযায়মাহ্ তাঁর (সহীহ্) গ্রন্থে ১/২৯৯ এবং হাকেম ১/২০৬ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ্।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ خ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إذا توضأ أحدكم في بيته ثم أتى المسجد كان في الصلاة حتى يرجع فلا يقل هكذا وشبك بين أصابعه.
رواه ابن خزيمة في صحيحه والحاكم وقال صحيح على شرطهما
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) কা’ব বিন উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতেঃ ’’তোমাদের কেউ ওযু করে সালাতের ইচ্ছায় বের হলে সে যেন তার দু’হাতের আঙ্গুল সমূহকে একটি অপরটির মধ্যে প্রবেশ না করায়। কেননা তার এ অবস্থা (সালাতের জন্য গমণ করার অবস্থা) সালাতের অবস্থা বলেই গণ্য হয়।’’
(আহমাদ ৪/২৪১, উত্তম সনদে আবু দাউদ ৫৬২, তিরমিযী ৩৮৬ ও ইবনু মাজাহ্। হাদীছটির বাক্য তিরমিযী থেকে গৃহীত।)
মুসনাদে আহমাদের ১৮১৩০ অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে। তিনি বলেনঃ
دخل علي رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ في المسجد وقد شبكت بين أصابعي فقال لي يا كعب إذا كنت في المسجد فلا تشبكن بين أصابعك فأنت في صلاة ما انتظرت الصلاة. ورواه ابن حبان في صحيحه بنحو هذه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে আমার নিকট আসলেন, তখন আমি আমার উভয় হাতের আঙ্গুল সমূহকে পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে (বসে ছিলাম)। তা দেখে তিনি বললেনঃ ’’হে কা’ব তুমি যখন মসজিদে থাক তখন কখনই তোমার আঙ্গুল সমূহ পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করিও না। কেননা তুমি যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকবে, ততক্ষণ সালাত অবস্থায় আছ বলে গণ্য হবে।’’
(ইবনু হিব্বানও তাঁর [সহীহ] গ্রন্থে প্রায় এর অনুরূপই বর্ণনা করেন।)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(صحيح لغيره) وَعَنْ كعب بن عجرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: إذا توضأ أحدكم ثم خرج عامدا إلى الصلاة فلا يشبكن بين يديه فإنه في صلاة.
رواه أحمد وأبو داود بإسناد جيد والترمذي واللفظ له وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯৫. (হাসান সহীহ্) ত্বাবরানী তাঁর [কাবীর] গ্রন্থে ইবনু ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তোমরা মসজিদকে পারাপারের রাস্তা হিসেবে গ্রহণ করবে না; বরং শুধুমাত্র যিকির ও সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করবে।’’
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(حسن صحيح) وروى عنه (يعني ابن عمر) الطبراني في الكبير: ولا تتخذوا المساجد طرقا إلا لذكر أو صلاة
পরিচ্ছেদঃ ৮) মসজিদে এবং ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ ও মসজিদে হারানো বস্ত্ত তালাশ করা ইত্যাদির প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯৬. (হাসান) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’অচিরেই শেষ যুগে এমন কিছু লোকের অবির্ভাব হবে, যাদের কথাবার্তা (দুনিয়াবী গল্প-গুজব) হবে মসজিদের মধ্যেই। আল্লাহর দরবারে এদের কোনই প্রয়োজন নেই।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে ৬৮২৩)
الترهيب من البصاق في المسجد وإلى القبلة ومن إنشاد الضالة فيه وغير ذلك مما يذكر هنا
(حسن ) وَعَنْ عبد الله يعني ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سيكون في آخر الزمان قومٌ يكون حَدِيْثُهُم في مَسَاجِدِهِمْ ليس لله فيهم حاجة رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
২৯৭. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’জামাআতের সাথে ব্যাক্তির সালাত বাড়ীতে ও বাজারে পড়ার চেয়ে পঁচিশগুণ বেশী ছোয়াব। কারণ সে যখন ওযু করে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পাদন করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়। তার এ বের হওয়া সালাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে হয় না। তবে সে যতবার পা উঠাবে তার প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে, একটি করে পাপ মোচন হবে। সালাত আদায় করার পর যতক্ষণ মুসল্লায় (নামাযের স্থানে) বসে থাকবে, ফেরেশতাগণ তার জন্য (মাগফিরাতের) দু’আ করতে থাকবেঃ হে আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি রহম করুন। আর যতক্ষণ সে সালাতের অপেক্ষায় থাকবে, ততক্ষণ সালাত অবস্থায় আছে বলে গণ্য হবে।’’
অন্য বর্ণনায় এসেছেঃ
(ফেরেশতাগণ বলবেনঃ) হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর, তার তওবা কবূল কর। যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দিবে, যতক্ষণ তার ওযু নষ্ট না হবে। (ততক্ষণ তারা এরুপ দু’আ করতে থাকবে।)
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৪৭, মুসলিম ৬৪৯, আবু দাউদ ৫৫৯, তিরমিযী ৬৩, সংক্ষিপ্তভাবে ইবনু মাজাহ্ ৭৭৪ এবং মুআত্বা মালেক ১/৩৩।) তবে মালেকের শব্দবিন্যাস এভাবেঃ
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الصَّلَاةِ فَإِنَّهُ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلَاةِ وَإِنَّهُ يُكْتَبُ لَهُ بِإِحْدَى خُطْوَتَيْهِ حَسَنَةٌ وَيُمْحَى عَنْهُ بِالْأُخْرَى سَيِّئَةٌ فَإِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمْ الْإِقَامَةَ فَلَا يَسْعَ فَإِنَّ أَعْظَمَكُمْ أَجْرًا أَبْعَدُكُمْ دَارًا قَالُوا لِمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ مِنْ أَجْلِ كَثْرَةِ الْخُطَا
’’যে ব্যাক্তি ওযু করবে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পাদন করবে। তারপর সালাতের ইচ্ছায় বের হবে। সে যতক্ষণ সালাতের ইচ্ছাতে থাকবে ততক্ষণ সালাতের মধ্যেই আছে বলে গণ্য হবে। তার দু’টি পদক্ষেপের একটিতে একটি পূণ্য লিখা হবে, অপরটিতে মোচন করা হবে একটি পাপ। যখন তোমাদের কোন ব্যাক্তি ইকামত শুনবে, তখন সে যেন না দৌড়ায়। কেননা তোমাদের মধ্যে যার ঘর বেশী দূরে, সে অধিক ছোয়াবের অধিকারী।’’ তাঁরা বললেনঃ কেন (অধিক ছোয়াব) হে আবু হুরায়রা!? তিনি বললেনঃ অধিক পদক্ষেপের কারণে। (অর্থাৎ বেশী দূর থেকে বেশী পা ফেলে হেঁটে আসার কারণে)
এবং ইবনু হিব্বান [সহীহ্] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর শব্দরুপ এভাবেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مِنْ حِينِ يَخْرُجُ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنْزِلِهِ إِلَى مَسْجِدِي ، فَرِجُلٌ تَكْتُبُ لَهُ حَسَنَةً ، وَرِجْلٌ تَحُطُّ عَنْهُ سَيِّئَةً حَتَّى يَرْجِعَ
’’তোমাদের কোন ব্যাক্তি যখন তার গৃহ থেকে আমার মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন থেকে তার এক পদক্ষেপে একটি নেকী লিখা হয়, আরেক পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয়- এরুপ হতে থাকবে যতক্ষণ সে প্রত্যাবর্তন না করে।’’
(হাদীছটি ইবনু হিব্বানের প্রায় অনুরূপ ভাষায় নাসাঈ ২/৪২ ও হাকেম ১/২১৭ রেওয়ায়াত করেন। তবে তাদের বর্ণনায় ’’এরুপ হতে থাকবে যতক্ষণ সে প্রত্যাবর্তন না করে।’’ এ কথাটি নেই। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ্।)
(সহীহ্) ইতোপূর্বে আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদীছে (দ্রঃ ২৯৩ নং হাদীছ) উল্লেখ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ إذا توضأ أحدكم في بيته ثم أتى المسجد كان في صلاة حتى يرجع
’’তোমাদের কেউ যখন বাড়ীতে ওযু করে, অতঃপর মসজিদে গমণ করে, তখন সে ফিরে আসা পর্যন্ত ছালাতেই থাকে।’’
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ درجة وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا الصَّلَاةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلَّا رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلْ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلَاةَ
وفي رواية اللهم اغفر له اللهم تب عليه ما لم يؤذ فيه ما لم يحدث فيه.
رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي وابن ماجه باختصار
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
২৯৮. (সহীহ্) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’কোন ব্যাক্তি যখন পবিত্রতা অর্জন করে সালাত আদায়ের লক্ষ্যে মসজিদে আসে, তবে মসজিদের দিকে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে লেখক ফেরেশতাদ্বয় বা লেখক ফেরেশতা দশটি নেকী লিখে নেন। আর সালাতের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমান উপবিষ্ট ব্যাক্তি কুনূতকারী তথা সালাতরত ব্যাক্তির ন্যায় ছোয়াবের অধিকারী হবে। আর সে ব্যাক্তিকে তার বাড়ী হতে বের হয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত মুসল্লীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/১৫৭, আবু ইয়ালা ১৭৪৭, ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত] গ্রন্থে, ইবনু খুযায়মাহ্ ২/৩৭৪ ও ইবনু হিব্বান ২০৩৬ তাদের [সহীহ্] গ্রন্থদ্বয়ে)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَعَنْ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: " إِذَا تَطَهَّرَ الرَّجُلُ، ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ يَرْعَى الصَّلَاةَ، كَتَبَ لَهُ كَاتِبَاهُ أَوْ كَاتِبُهُ، بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الْمَسْجِدِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَالْقَاعِدُ يَرْعَى الصَّلَاةَ كَالْقَانِتِ ، وَيُكْتَبُ مِنَ الْمُصَلِّينَ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهِ "
. رواه أحمد وأبو يعلى والطبراني في الكبير والأوسط وابن خزيمة في صحيحه ورواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
২৯৯. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যাক্তি জামাআত আদায় হয় এমন মসজিদে যাবে, তার এক পদক্ষেপে একটি পাপ মিটিয়ে দেয়া হবে, আর এক পদক্ষেপে তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। যাওয়া এবং ফিরে আসা উভয় অবস্থায় এরুপ লিখা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন হাসান সনদে আহমদ ২/১৭২, ত্বাবরানী ও ইবনু হিব্বান তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(حسن ) وَعَنْ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ رَاحَ إِلَى مَسْجِدِ الْجَمَاعَةِ فَخَطْوَةٌ تَمْحُو سَيِّئَةً، وَخَطْوَةٌ تُكْتَبُ لَهُ حَسَنَةٌ، ذَاهِبًا وَرَاجِعًا "
رواه أحمد بإسناد حسن والطبراني وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০০. (সহীহ্) উছমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’যে ব্যাক্তি ওযু করবে এবং তা পরিপূর্ণ করবে। অতঃপর ফরয সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে (মসজিদে) গমণ করবে। তারপর ইমামের সাথে তা আদায় করবে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযায়মাহ্ ২/৩৭৩, শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীছটি প্রায় একইভাবে ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়াত করেন। আরো রেওয়ায়াত করেন ইমাম নাসাঈ।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ مَشَى إِلَى صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ فَصَلاَّهَا مَعَ الإِمَامِ ، غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ.
. رواه ابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০১. (হাসান লি গাইরিহী) সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী সাহাবীর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীছ শোনাবো। শুধুমাত্র ছওয়াবের আশাতেই আমি তোমাদের সামনে হাদীছটি বর্ণনা করব। আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ওযু করে, অতঃপর ওযুকে সুন্দররূপে সম্পাদন করে। তারপর নামাযের জন্যে বের হয় যখনই সে ডান পা উঠায় তখনই তার জন্যে আল্লাহ্ একটি নেকী লিখে দেন। যখনই বাম পা রাখে তখনই আল্লাহ তার একটি গুনাহকে মোচন করে দেন। সুতরাং তোমরা মসজিদের নিকটে বা দূরে বসবাস কর। (পদক্ষেপ অনুযায়ী ছওয়াব পাওয়া যাবে) মসজিদে এসে সে জামাতের সাথে নামায আদায় করলে তাকে ক্ষমা করা হবে। মসজিদে এসে যদি দেখে যে লোকেরা কিছু নামায পড়ে নিয়েছে এবং কিছু নামায বাকী রয়েছে, তবে যা পাবে তা তাদের সাথে আদায় করবে এবং যা ছুটে গেছে তা পুরা করবে, তবে সে অনুরূপই ছোয়াব পাবে। আর যদি মসজিদে এসে দেখতে পায় যে জামাত শেষ হয়ে গেছে, তবে সে নামাযকে পূর্ণ করবে তবে সে অনুরূপই (জামাতের সাথে নামায পড়ার) ছোয়াব পাবে।’’
(হাদীছটি আবু দাউদ ৫৬৩ মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ حَضَرَ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ الْمَوْتُ فَقَالَ إِنِّي مُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا مَا أُحَدِّثُكُمُوهُ إِلَّا احْتِسَابًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ لَمْ يَرْفَعْ قَدَمَهُ الْيُمْنَى إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ حَسَنَةً وَلَمْ يَضَعْ قَدَمَهُ الْيُسْرَى إِلَّا حَطَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ سَيِّئَةً فَلْيُقَرِّبْ أَحَدُكُمْ أَوْ لِيُبَعِّدْ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فِي جَمَاعَةٍ غُفِرَ لَهُ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا بَعْضًا وَبَقِيَ بَعْضٌ صَلَّى مَا أَدْرَكَ وَأَتَمَّ مَا بَقِيَ كَانَ كَذَلِكَ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ كَانَ كَذَلِكَ
. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০২. (সহীহ লি গাইরিহী) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’আজ রাতে স্বপ্নযোগে আমার পালনকর্তা সর্বোত্তম আকৃতিতে আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ কি বিষয় নিয়ে পরস্পর বির্তক করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তা হচ্ছে মর্যাদা উন্নীতকরণ, পাপ মোচন, জামাআতে নামায আদায় করার জন্য পা উঠিয়ে মসজিদে যাওয়া, কঠিন ঠান্ডার সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, এক নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে সে কল্যাণের সাথে জীবন-যাপন করবে এবং কল্যাণের মাঝে তার মৃত্যু হবে। আর সে তার পাপ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেমন তার মাতা তাকে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ট করেছিল।’’
(ইমাম তিরমিযী ৩২৩১ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)[1]
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أتاني الليلة ربي - فذكر الحديث إلى أن قال: - قال لي يا محمد أتدري فيم يختصم الملأ الأعلى قلت نعم في الدرجات والكفارات ونقل الأقدام إلى الْجُمُعَاتِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ ، فِي السَّبُرَاتِ ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلَوَاتِ.
ومن حافظ عليهن عاش بخير ومات بخير وكان من ذنوبه كيوم ولدته أمه. رواه الترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৩. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মাঝে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যে ওযু করবে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পাদন করবে, অতঃপর শুধুমাত্র সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসবে; অথচ আল্লাহ তা’আলা হাসি মুখে তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন না। যেমন কোন অনুপস্থিত ব্যাক্তি হাযির হলে তাকে দেখে তার পরিবারের লোকেরা খুশী হয়।’’
(ইবনু খুযায়মাহ্ তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে হাদীছটি রেওয়ায়াত করেন। ২/৩৭৪)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لا يتوضأ أحدكم فيحسن وضوءه فيسبغه ثم يأتي المسجد لا يريد إلا الصلاة إلا تبشش الله إليه كما يتبشش أهل الغائب بطلعته. رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৪. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মসজিদের পাশে একটি স্থান খালি হলে বনু সালামা গোত্রের লোকেরা মসজিদের নিকটবর্তী সে জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা করল। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাদেরকে বললেনঃ
’’শুনলাম তোমরা নাকি মসজিদের নিকটে স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা করেছ?’’ তারা বলল হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এরুপ ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেনঃ ’’হে বনু সালমা গোত্র! তোমরা পূর্বের স্থানেই থাক, তোমাদের পদক্ষেপ সমূহ লিখা হবে। তোমরা তোমাদের আগের বাসস্থানেই রয়ে যাও, (মসজিদের প্রতি) তোমাদের পদক্ষেপ সমূহ লিখে রাখা হবে।’’ একথা শুনে তারা বললঃ এতে আমরা যত খুশী হয়েছি, স্থানান্তরিত হয়ে গেলে এত খুশী হতে পারতাম না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৬৬৫ প্রমূখ। মুসলিমের অনুরূপ এক রেওয়ায়াতের শেষে রয়েছেঃ ’’তোমাদের প্রত্যেক পদক্ষেপে রয়েছে একটি করে মর্যাদা।’’
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَ عَنْ جَابِرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: خَلَتِ الْبِقَاعُ حَوْلَ الْمَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُمْ: بَلَغَنِي أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ " قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ أَرَدْنَا ذَلِكَ فَقَالَ: " يَا بَنِي سَلَمَةَ دِيَارُكُمْ تَكْتُبُ آثَارَكُمْ ، دِيَارُكُمْ تَكْتُبُ آثَارَكُمْ فقالوا ما يسرنا أنا كنا تحولنا. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী মাওকূফ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসার সাহাবীদের বাড়ী-ঘর মসজিদে নববী থেকে দূরে দূরে ছিল। তারা মসজিদের সন্নিকটে চলে আসার ইচ্ছা পোষণ করলে এই আয়াত নাযিল হলঃ (وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآَثَارَهُمْ) ’’এবং আমি তাদের কর্ম ও পদচারণাসমূহ লিপিবদ্ধ করি।’’ (সূরা ইয়াসীনঃ ১২) তখন তারা আগের স্থানেই রয়ে গেলেন।
(ইবনু মাজাহ্ উত্তম সনদে ৭৮৫ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال: كَانَتْ الْأَنْصَارُ بَعِيدَةً مَنَازِلُهُمْ مِنْ الْمَسْجِدِ فَأَرَادُوا أَنْ يَقْتَرِبُوا فَنَزَلَتْ [ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ] قَالَ فَثَبَتُوا. رواه ابن ماجه بإسناد جيد
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’সর্বাধিক প্রতিদানের অধিকারী ঐ ব্যাক্তি যে মসজিদ থেকে অধিক দূরে থাকে এবং পায়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে আসে।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/৪২৮, আবু দাউদ ৫৫৬, ইবনু মাজাহ্ ৭৮২ ও হাকেম ১/২০৮। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি সহীহ্ এবং সনদের রাবীগণ মাদানী।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَبْعَدُ فَالْأَبْعَدُ مِنْ الْمَسْجِدِ أَعْظَمُ أَجْرًا. رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه والحاكم وقال حديث صحيح مدني الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৭. (সহীহ্) আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সালাতে সর্বাধিক ছোয়াবের অধিকারী সেই ব্যাক্তি যে সর্বাধিক দূর থেকে পথ চলে মসজিদে আসে। তারপর সেই ব্যাক্তি যে তার থেকে কিছু কম দূরে। আর যে ব্যাক্তি ইমামের সাথে সালাত আদায় করার জন্যে অপেক্ষায় থাকে সে ঐ ব্যাক্তি থেকে অধিক প্রতিদানের অধিকারী যে সালাত আদায় করার পর ঘুমিয়ে পড়ে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৫১, মুসলিম ৬৬২ প্রমূখগণ)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) و عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلَاةِ أَبْعَدُهُمْ إِلَيْهَا مَمْشًى فَأَبْعَدُهُمْ وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ الَّذِي يُصَلِّيهَا ثُمَّ يَنَامُ. رواه البخاري ومسلم وغيرهما
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৮. (সহীহ্) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসার সাহাবীদের মধ্যে জনৈক ব্যাক্তি ছিল। মসজিদে নববী থেকে তার চাইতে অধিক দূরে আর কেউ বসবাস করত এমন কাউকে আমি জানতাম না। কখনও তার জামাআতে সালাত ছুটত না। তাকে বলা হলঃ তুমি যদি একটি গাধা খরিদ করতে, তবে অন্ধকার রাস্তায় এবং সূর্যের প্রচন্ড তাপের সময় তাতে আরোহণ করে (মসজিদে আসতে) পারতে। সে তখন বললঃ আমার ঘর মসজিদের পাশে হলে তা আমাকে আনন্দ দিত না। আমি চাই মসজিদের প্রতি চলা এবং বাড়ীতে ফিরে আসার সময় পথ চলার ছোয়াব যেন আমার জন্যে লিখা হয়। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’আল্লাহ্ অবশ্যই সে ছোয়াব তোমার জন্যে একত্রিত করে দিয়ে দিবেন।’’
অন্য রেওয়ায়াতে এসেছেঃ
উবাই বলেনঃ আমি তার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করলাম এবং বললামঃ হে উমুক ব্যাক্তি! তুমি যদি একটি গাধা খরিদ করতে, তবে উহা তোমাকে প্রচন্ড রোদের তাপ এবং মাটিতে বিচরণকারী বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারতো। সে বললঃ কিন্তু আমি আল্লাহর কসম এটা পছন্দ করি না যে, আমার ঘর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ঘরের পাশে অবস্থান করবে।[1] তিনি (উবাই) বলেনঃ একথায় আমি খুবই ব্যাথা পেলাম এবং তা খুবই খারাপ মনে করলাম এমনকি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এসে অভিযোগ পেশ করলাম। তিনি তাকে ডাকালেন। তখন সে আগের মতই কথা বলল। আর উল্লেখ করল যে, সে এতে পথ চলার ছোয়াবের আশা করে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’তুমি যে ছোয়াবের আশা করেছ তা অবশ্যই লাভ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম প্রমূখ ৬৬৩। ইবনু মাজাহ্ ৭৮৩ দ্বিতীয় বর্ণনাটির অনুরূপ রেওয়ায়াত করেন।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَانَ رَجُلٌ لَا أَعْلَمُ رَجُلًا أَبْعَدَ مِنْ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ لَا تُخْطِئُهُ صَلَاةٌ قَالَ فَقِيلَ لَهُ أَوْ قُلْتُ لَهُ لَوْ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الظَّلْمَاءِ وَفِي الرَّمْضَاءِ قَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَايَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ.
وفي رواية: فَتَوَجَّعْتُ لَهُ ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا فُلاَنُ لَوْ أَنَّكَ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا يَقِيكَ الرَّمْضَاءَ وَ هَوَامَّ الأَرْضِ ، فَقَالَ: إِنِّي وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنَّ بَيْتِي مُطَنَّبٌ بِبَيْتِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : فَحَمَلْتُ بِهِ حَمْلاً حَتَّى أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فأخبرته ، قَالَ : فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ وَذَكَرَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ ، وَذَكَرَ أَنَّهُ يَرْجُو أجر الأثر ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَكَ مَا احْتَسَبْتَ . رواه مسلم وغيره ورواه ابن ماجه بنحو الثانية
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩০৯. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মানুষের উপর আবশ্যক হল প্রত্যেক দিন তার শরীরের প্রতিটি হাড্ডির জোড়ার জন্য সাদকা আদায় করা। দু’জন ব্যাক্তির মাঝে ইনসাফের সাথে আপোষ করে দেয়া একটি সাদকা। কোন ব্যাক্তিকে তার বাহণে সাহায্য করা- তাকে তাতে আরোহণ করানো বা তার মালামাল তাতে উঠিয়ে পৌঁছিয়ে দেয়া একটি সাদকা। ভাল কথা একটি সাদকা। মসজিদের দিকে চলার পথে প্রতিটি পদক্ষেপ একটি করে সাদকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কোন বস্ত্ত অপসারিত করা একটি সাদকা।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ২৯৮৯ ও মুসলিম ১০০৯)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ سُلَامَى مِنْ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ قَالَ تَعْدِلُ بَيْنَ الِاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ قَالَ وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ وَكُلُّ خُطْوَةٍ تَمْشِيهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ. رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১০. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না, কোন্ কাজ পাপসমূহ মিটিয়ে দেয় ও মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়?’’ তারা বললেন, হ্যাঁ বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ
’’প্রচন্ড ঠান্ডার কষ্ট স্বীকার করে পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশী বেশী পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর অপর সালাতের জন্য অপেক্ষা করা[1]- এগুলোই হলো তোমাদের জন্য সীমান্ত পাহারা দেয়ার সমতুল্য, এটিই হলো তোমাদের জন্য সীমান্ত পাহারা দেয়ার সমতুল্য, এগুলোই হলো তোমাদের জন্য সীমান্ত পাহারা দেয়ার সমতুল্য।’’[2]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/১০৬১, মুসলিম ২৫১, তিরমিযী ৫১, নাসাঈ ১/৮৯ ও ইবনু মাজাহ ৪২৮) তবে ইবনু মাজার শব্দরুপ এভাবেঃ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال كَفَّارَةُ الْخَطَايَا إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَإِعْمَالُ الْأَقْدَامِ إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’পাপসমূহ মোচনের মাধ্যম হল, অধিক ঠান্ডায় পরিপূর্ণরূপে ওযু সম্পাদন করা, পদ সমূহকে মসজিদের দিকে চলার কাজে ব্যবহার করা এবং এক সালাতের পর অপর সালাতের জন্যে ইন্তেযার (অপেক্ষা) করা।’’
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ. رواه مالك ومسلم والترمذي والنسائي وابن ماجه
[2] . الرباط এর অর্থঃ নিজেকে কোন সৎ আমলের উপর সর্বদা নিয়োজিত রাখা। আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। সীমান্ত পাহারা দেয়া।
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১১. (সহীহ্) হাদীছটি ইবনু মাজাহ্ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকেও বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না কোন কাজের মাধ্যমে আল্লাহ্ পাপ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ বলুন, হে আল্লাহর রাসূল!....।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) ورواه ابن ماجه أيضا من حديث أبي سعيد الخدري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إلا أنه قال أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يُكَفِّرُ اللهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فذكره...؟
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১২. (সহীহ্) উক্ত হাদীছটি ইবনু হিব্বানও তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায় এসেছেঃ ’’আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিব না এমন কাজের, যার মাধ্যমে আল্লাহ ভুল-ত্রুটি মিটিয়ে দেন এবং পাপরাশি ক্ষমা করেন?....।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) ورواه ابن حبان في صحيحه من حديث جابر وَعَنْده: أَلا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيُكَفِّرُ بِهِ الذُّنُوبَ "
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৩. (সহীহ্) আলী বিন আবী তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’প্রচন্ড ঠান্ডার কষ্ট স্বীকার করে পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, পদযুগলকে মসজিদের দিকে ব্যবহার করা এবং এক সালাতের পর অপর সালাতের জন্য অপেক্ষা করা- (এসব কাজ) পাপ সমূহকে ধুয়ে পরিস্কার করে দেয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা ৪৮৮, সহীহ্ সনদে বাযযার ৪৪৭)[1]
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ،: أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ( : إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ ، وَإِعْمَالُ الأَقْدَامِ إِلَى الْمَسَاجِدِ ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ ، تَغْسِلُ الْخَطَايَا غَسْلا
. رواه أبو يعلى والبزار بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৪. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে গমণ করবে, আল্লাহ প্রত্যেক সকাল সন্ধ্যার গমনের বিনিময়ে তার জন্যে জান্নাতে বরকতময় খাদ্যের মেহমানদারী প্রস্ত্তত করবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৬২, মুসলিম ৬৬৯ প্রমূখগণ)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ أَوْ رَاحَ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ نُزُلًا كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ
. رواه البخاري ومسلم وغيرهما
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’যারা অন্ধকারে মসজিদের দিকে বেশী বেশী চলে[1] তাদেরকে কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫৬১ ও তিরমিযী ২২৩)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَشِّرْ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
رواه أبو داود والترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উক্ত হাদীছটি ইবনু মাজাহ্ও আনাস (রাঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেন।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
-
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৭. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যারা অন্ধকারে বেশী বেশী মসজিদে গমণ করে, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা’আলা তাদের জন্যে কিয়ামত দিবসে অতিশয় দীপ্তমান নূর প্রজ্জলিত করবেন।’’
(হাসান সনদে ত্বাবরানী [আওসাত] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১০/৩০)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ:"إِنَّ اللَّهَ لَيُضِيءُ لِلَّذِينَ يَتَخَلَّلُونَ إِلَى الْمَسَاجِدِ فِي الظُّلْمِ بنورٍ سَاطِعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
. رواه الطبراني في الأوسط بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি রাতের আঁধারে মসজিদের পানে গমণ করবে, সে ক্বিয়ামতের দিন একটি আলোকবর্তিকা নিয়ে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [কাবীর] গ্রন্থে এবং ইবনু হিব্বান ২০৪৪ তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে। তবে তার বচনভঙ্গি এভাবেঃ ’’যে ব্যাক্তি রাতের আঁধারে মসজিদের পানে গমণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে একটি আলোকবর্তিকা দান করবেন।’’
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ مَشَى فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ إِلَى الْمَسْجِدِ ، لَقِيَ اللَّهَ عَزوَجَل بِنُورٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
. رواه الطبراني في الكبير بإسناد حسن وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩১৯. (সহীহ্ লি গাইরিহী) সাহল বিন সাদ আস্ সায়েদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’অন্ধকারে মসজিদের পানে গমণকারীগণ কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুক।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ্ ৪৮০, ইবনু খুযায়মাহ্ ২/৩৭৭ তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে এবং হাকেম ১/২১২। হাদীছের বাক্য ইবনু খুযায়মাহ্ থেকে গৃহীত। হাকেম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ্।
হাফেজ ইবনু হাজার বলেনঃ এ হাদীছটি ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার, আবু সাঈদ খুদরী, যায়েদ বিন হারেছা, আয়েশা প্রমূখ (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح لغيره) وَعَنْ سهل بن سعد الساعدي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :لِيُبَشِّرِ الْمَشَّائِينَ إِلَى الْمَسَاجِدِ فِي الظُّلَمِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
. رواه ابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه واللفظ له والحاكم وقال صحيح على شرط الشيخين
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২০. (হাসান) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি পাক পবিত্র হয়ে ফরয সালাতের উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বের হবে, তার জন্যে রয়েছে মুহরেম হজ্জ পালনকারীর ন্যায় ছোয়াব।[1] আর যে ব্যাক্তি চাশতের সালাতের জন্যে বের হবে- এ সালাত ছাড়া অন্য কিছু তাকে ক্লান্ত করে না[2]- তবে তার জন্যে রয়েছে উমরা পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান। এক সালাতের পর আর এক সালাত আদায় করলে- যে সালাতদ্বয়ের মাঝে কোন দুনিয়াবী কথা-বার্তা নেই, তবে তার এই আমল ঈল্লীনে[3] লিখে রাখা হবে।’’
(আবু দাউদ কাসেম বিন আবদুর রহমানের সনদে আবু উমামা হতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫৫৮।)
[1] . অর্থাৎ যেমন হজ্জ আদায়কারী হজ্জের পূর্ব শর্ত স্বরূপ ইহরাম করে হজ্জে বের হয়, অনুরূপ নামায আদায়কারী নামাযের পূর্বশর্ত স্বরূপ নিজ ঘর থেকে পবিত্রতা তথা ওযু করে বের হয়।
[2] . অর্থাৎ শুধুমাত্র চাশতের নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে ক্লান্তি স্বীকার করে মসজিদে যায়।
[3] . মানুষের নেক আমল লিখে রাখার দফতরকে ঈল্লীন বলা হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ . وَمَا أَدْرَاك مَا عِلِّيُّونَ . كِتَابٌ مَرْقُومٌ يَشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُونَ ’’কখনো না, সৎ লোকদের আমলনামা আছে ঈল্লীনে, আপনি জানেন ঈল্লীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা, আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।’’ (সূরা মুতাফ্ফেফীনঃ ১৮-২১)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(حسن ) وَ عَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لَا يَنْصِبُهُ إِلَّا إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ وَصَلَاةٌ عَلَى أَثَرِ صَلَاةٍ لَا لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ
. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২১. (সহীহ্) আবু উমামা (রাঃ) থেকেই বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তিন ব্যাক্তির যিম্মাদারী আল্লাহর উপর। তারা যদি বেঁচে থাকে তবে রিযিকপ্রাপ্ত হয় এবং বিপদ-মুসিবত থেকে নিরাপদে থাকে। আর যদি মৃত্যু বরণ করে তবে আল্লাহ্ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তারা হলঃ (১) যে ব্যাক্তি নিজ বাড়ীতে প্রবেশ করার সময় সালাম দিবে, তার যিম্মাদারীত্ব আল্লাহর উপর। (২) যে ব্যাক্তি সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে বের হবে, তার যিম্মাদারীত্ব আল্লাহর উপর। (৩) যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে বের হবে, তার যিম্মাদারীত্ব আল্লাহর উপর।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ২৪৯৪ ও ইবনু হিব্বান তাঁর [সহীহ্] গ্রন্থে ৪৯৯)
এধরণের আরো হাদীছ [জিহাদ] ইত্যাদি অধ্যায়ে আরো আসবে ইনশাআল্লাহ্।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ إِنْ عَاشَ كُفِيَ ، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ : مَنْ دَخَلَ بَيْتَهُ فسَلاَم فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ وَمَنْ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ ، وَمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ.
رواه أبو داود وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২২. (হাসান) সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহে ওযু করে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পাদন করে, অতঃপর মসজিদে আগমন করে সে আল্লাহর যিয়ারতকারী। আর যার যিয়ারত করা হয় তার উপর হক হল যিয়ারতকারীর সম্মান করা।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২/৩১)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(حسن ) وَ عَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أن النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:"مَنْ تَوَضَّأَ فِي بَيْتِهِ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ، فَهُوَ زَائِرُ اللَّهِ، وَحَقٌّ عَلَى الْمَزُورِ أَنْ يُكْرِمَ الزَّائِرَ" . رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২৩. (সহীহ্) বায়হাকী ও উক্ত হাদীছটিকে সহীহ সনদে মওকূফ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কিছু সংখ্যক সাহাবী থেকে প্রায় একইভাবে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
-
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২৪. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় স্থান হল মসজিদ। আর আল্লাহর কাছে সর্বনিকৃষ্ট স্থান হল বাজার।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৬৭১)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(صحيح) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : أَحَبُّ الْبِلاَدِ إِلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا ، وَأَبْغَضُ الْبِلاَدِ إِلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ৯) মসজিদে গমণ করা। বিশেষ করে অন্ধকারে এবং তার ফযীলতের বর্ণনা
৩২৫. (সহীহ্) জুবাইর বিন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যাক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান কোনটি এবং আল্লাহর কাছে সর্বনিকৃষ্ট স্থান কোনটি? তিনি বললেনঃ
’’আমি জানি না, তবে জিবরীল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করে তোমাদের জবাব দিব। অতঃপর জিবরীল এলেন এবং তাঁকে বললেনঃ আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম ভূখন্ড হল মসজিদ সমূহ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ভূখন্ড হল বাজার সমূহ।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/৮১, বাযযার, আবু ইয়ালা ও হাকেম। হাদীছটির বাক্য বাযযার থেকে গৃহীত। হাকেম বলেনঃ হাদীছটির সনদ সহীহ্।)
الترغيب في المشي إلى المساجد سيما في الظلم وما جاء في فضلها
(حسن صحيح) وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَجُلاً قَالَ : ،: يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيُّ الْبُلْدَانِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ ؟ وَأَيُّ الْبُلْدَانِ أَبْغَضُ إِلَى اللهِ ؟ قَالَ : لاَ أَدْرِي حَتَّى أَسْأَلَ جِبْرِيلَ ، فَأَتَاهُ فَأَخْبَرَهُ جِبْرِيلُ ، أَنَّ أَحَبَّ الْبِقَاعِ إِلَى اللهِ الْمَسَاجِدُ ، وَأَبْغَضُ الْبِقَاعِ إِلَى اللهِ الأَسْوَاقُ.
رواه أحمد والبزار واللفظ له وأبو يعلى والحاكم وقال صحيح الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ১০) মসজিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা এবং তাতে বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩২৬. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’আল্লাহ্ তাআ’লা সাত শ্রেণীর মানুষকে তাঁর ছায়ায় স্থান দিবেন, যে দিন তাঁর ছায়া[1] ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে নাঃ (১) ন্যায় পরায়ন শাসক[2], (২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে প্রতিপালিত করেছে। (৩) যে লোকের অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে[3]। (৪) দু’জন লোক আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালবাসে। এই ভালবাসার উপর একত্রিত হয় এবং এর উপরেই একে অপর থেকে আলাদা হয়।[4] (৫) যে লোককে মর্যাদা সম্পন্ন ও সুন্দরী কোন নারী (ব্যভিচারের) জন্য আহবান করে কিন্তু সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি।[5] (৬) যে লোক এমন গোপনে সাদকা করে যে তার ডান হাত কি দান করে বাম হাত জানতে পারে না। (৭) যে লোক নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার দু’চোখে অশ্রু ঝরায়।’’
(বুখারী ৬৬০, মুসলিম ১০৩১ প্রমূখগণ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)
الترغيب في لزوم المساجد والجلوس فيها
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللَّهُ ظِلُّهُ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ إِمَامٌ الْعَادِلٌ وَالشابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقًا باِالْمَسْجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجتمعا على ذلك وتفرقا عليه وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ إِلَى فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تنفق يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذكر الله خاليا ففاضت عيناه
. رواه البخاري ومسلم وغيرهما
[2] . যে শাসক বা গভর্ণর মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং তাদের মাঝে আদল-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই শাসক অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী বিচার-ফায়সালাকারী হতে হবে। অন্যথায় কখনই সে ন্যায়-নিষ্ঠাবান হতে পারবে না।
[3] . অর্থাৎ মসজিদকে ভালবাসে এবং অধিক হারে জামাতের সাথে মসজিদে নামায আদায় করে।
[4] . অর্থাৎ তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসার কারণেই একে অপরকে ভালবাসে এবং পরস্পরে মিলিত হয় ও তার উপরেই প্রতিষ্ঠিত থাকে। যখন একজন অপরজন থেকে আলাদা হয় তখনও তাদের মাঝে আল্লাহর ওয়াস্তে পরস্পরের প্রতি ভালবাসা অটুট ও বিরাজিত থাকে।
[5] . ‘আল্লাহকে ভয় করি’ একথা হয়তো সে মুখে উচ্চারণ করে বলে অথবা অন্তরে বলে। এখানে মর্যাদা সম্পন্ন ও সুন্দরী নারীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে তাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশী থাকে এবং তাদেরকে পাওয়াও সহজ সাধ্য হয় না।
পরিচ্ছেদঃ ১০) মসজিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা এবং তাতে বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩২৭. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “যে ব্যাক্তি মসজিদকে সালাত এবং যিকরের জন্যে নিজের দেশ বানাবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর খুশী হয়ে তাকে নৈকট্য দান করবেন ও সম্মানিত করবেন। যেমন কোন অনুপস্থিত ব্যাক্তি হাযির হলে তাকে দেখে তার পরিবারের লোকেরা খুশী হয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শায়বা, ইবনু মাজাহ্ ৮০০, ইবনু খুযায়মা ২/৩৭৯, ইবনু হিব্বান ১৬০৫ ও হাকেম। হাকেম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের ১০৩১ শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ্)
ইবনু খুযায়মার অপর রেওয়ায়াতে আছেঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مَا مِنْ رَجُلٍ كَانَ يُوَطِّنُ الْمَسَاجِدَ فَشَغَلَهُ أَمْرٌ ، أَوْ عِلَّةٌ ، ثُمَّ عَادَ إِلَى مَا كَانَ إِلاَّ تَبَشْبَشَ اللَّهُ إِلَيْهِ كَمَا يَتَبَشْبَشُ أَهْلُ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ إِذَا قَدِمَ.
’’যে কোন ব্যাক্তি মসজিদকে নিজের দেশ বা বাসস্থান বানাবে, অতঃপর কোন বিষয় বা প্রয়োজন তাকে ব্যস্ত করে (এবং সে কারণে সে বের হয়ে যায়) তারপর আবার পূর্বাস্থানে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তা’আলা তার উপর খুশী হয়ে তাকে নৈকট্য দান করবেন ও সম্মানিত করবেন, যেমন কোন অনুপস্থিত ব্যাক্তি হাযির হলে তাকে দেখে তার পরিবারের লোকেরা খুশী হয়।’’
الترغيب في لزوم المساجد والجلوس فيها
(صحيح) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا تَوَطَّنَ رَجُلٌ الْمَسَاجِدَ لِلصَّلَاةِ وَالذِّكْرِ إِلَّا تَبَشْبَشَ اللَّهُ تعالى إليه كَمَا يَتَبَشْبَشُ أَهْلُ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِمْ
. رواه ابن أبي شيبة وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما والحاكم وقال صحيح على شرط الشيخين
পরিচ্ছেদঃ ১০) মসজিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা এবং তাতে বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩২৮. (হাসান লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’ছয়টি মজলিসের কোন একটিতে যদি কোন মুমিন থাকে তবে তার দায়িত্ব আল্লাহ তা’আলার উপর। সে মজলিস সমূহ হলঃ (১) জামাআতের মসজিদে, (২) অসুস্থ ব্যাক্তির মজলিসে, (৩) জানাযায়, (৪) নিজের বাড়ীতে[1], (৫) ন্যায়নিষ্ঠ শাসকের মজলিস, যে মজলিসে বসে তাকে শক্তিশালী করবে এবং সম্মান করবে, (৬) জিহাদের ক্ষেত্রে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [কাবীর] ১৪৬৫৫ গ্রন্থে এবং আরো বর্ণনা করেছেন বাযযার ৪৩৫)
الترغيب في لزوم المساجد والجلوس فيها
) (حسن لغيره) وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : سِتَّةُ مجَالِسَ المؤمن ضامن على الله تعالى ما كان في شيء منها فِي مَسْجِدِ جَمَاعَةٍ و عِنْدَ مَرِيضٍ أَوْ في جِنَازَةً أَوْ فِي بَيْتِهِ أَوْ عِنْدَ إِمَامٍ مُقْسِطٍ يُعَزِّرُهُ ، وَيُوَقِّرُهُ أو في مشهد جهاد. رواه الطبراني في الكبير والبزار
পরিচ্ছেদঃ ১০) মসজিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা এবং তাতে বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩২৯. (হাসান সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’নিশ্চয় মসজিদ সমূহের জন্যে কিছু পেরেক (কীলক) থাকে। সে পেরেক হল মসজিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককারী ব্যাক্তিগণ। তারা মসজিদে থাকলে তাদের সাথে একদল ফেরেশতাও বসে থাকেন। তারা যদি কখনও অনুপস্থিত থাকে তবে ফেরেশতাগণ তাদের খোঁজ-খবর নেন। তারা যদি অসুস্থ হয় তবে তাঁরা তাদেরকে দেখতে যান, তারা যদি কোন প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকে তবে তাঁরা (ফেরেশতাগণ) তাদেরকে সাহায্য করে থাকেন।’’
তারপর বলেছেন,
’’মসজিদের সাথী তিনটি বৈশিষ্টের অধিকারী, (১) উপকারী ভাই হিসেবে গণ্য হয়, (২) হিকমত তথা প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা শিক্ষা করে বা শিক্ষা দেয়, (৩) আল্লাহর রহমতের অপেক্ষায় থাকে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ২/৪১৮, হাদীছটি হাকেম ২/৩৯৮ আবদুল্লাহ বিন সালামের বরাতে আবু হুরায়রা থেকে মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ্।)
কিন্তু হাকেমের মাউকূফ সূত্রের বর্ণনা নিম্নরূপঃ
إِنَّ لِلْمَسَاجِدِ أَوْتَادًا أوتادها لهم جلساء من الملائكة فإن غابوا سألوا عنهم وإن كانوا مرضى عادوهم وإن كانوا في حاجة أعانوهم
’’মসজিদের কিছু পেরেক থাকে। মুসল্লিগণ হচ্ছেন তার পেরেক। ফেরেশতাগণ তাদের সাথী। তারা অনুপস্থিত থাকলে ফেরেশতারা তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, অসুস্থ হলে শুশ্রূষা করেন, কোন কাজে ব্যস্ত হলে তাদেরকে সাহায্য করেন।’’
الترغيب في لزوم المساجد والجلوس فيها
(حسن صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ لِلْمَسَاجِدِ أَوْتَادًا الْمَلَائِكَةُ جُلَسَاؤُهُمْ، إِنْ غَابُوا يَفْتَقِدُونَهُمْ، وَإِنْ مَرِضُوا عَادُوهُمْ وَإِنْ كَانُوا فِي حَاجَةٍ أَعَانُوهُمْ.
ثم قال: جَلِيسُ الْمَسْجِدِ عَلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ: أَخٍ مُسْتَفَادٍ، أَوْ كَلِمَةٍ مُحْكَمَةٍ، أَوْ رَحْمَةٍ مُنْتَظَرَةٍ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ১০) মসজিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা এবং তাতে বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৩০. (হাসান লি গাইরিহী) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’মসজিদ হচ্ছে প্রত্যেক আল্লাহ ভীরু ব্যাক্তির ঘর।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত] গ্রন্থদ্বয়ে এবং বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। বাযযার বলেনঃ হাদীছটির সনদ হাসান, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২০২৬)
এ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হাদীছসমূহ ছাড়া আরো অনেক হাদীছ রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু ’সালাতের জন্যে অপেক্ষা করা’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ্। অনুচ্ছেদ নং ২২।
الترغيب في لزوم المساجد والجلوس فيها
(حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ الْمَسْجِدُ بَيْتُ كُلِّ تَقِيٍّ..........رواه الطبراني في الكبير والأوسط والبزار
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩১. (সহীহ্) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি এই বৃক্ষ অর্থাৎ রসূন খাবে সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটে না আসে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৮৫৩ ও মুসলিম ৬৫১)
মুসলিমের অপর রেওয়ায়াতে এসেছেঃ ’’সে যেন আমাদের মসজিদগুলোর নিকটবর্তী না হয়।’’
বুখারী ৫৪৫১ ও মুসলিমের অপর রেওয়ায়াতে রয়েছেঃ ’’তারা যেন মসজিদগুলোতে না আসে।’’
আবু দাউদের এক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ ’’যে ব্যক্তি এই বৃক্ষ খাবে সে যেন মসজিদ সমূহের নিকটবর্তী না হয়।’’ (আবূ দাউদ ৩৮২৫)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثُّومَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا. رواه البخاري ومسلم
وفي رواية لمسلم فلا يقربن مساجدنا وفي رواية لهما فلا يأتين المساجد
وفي رواية لابي داود مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّ الْمَسَاجِدَ
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩২. (সহীহ্) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি এই বৃক্ষ ভক্ষণ করবে সে যেন আমাদের নিকটবর্তী না হয় এবং আমাদের সাথে যেন নামায আদায় না করে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৮৫৬ ও মুসলিম ৫৬২)
(ছহীহ) এই হাদীছটি ত্বাবরানীও বর্ণনা করেছেন। তবে ত্বাবরানীর বর্ণনা অন্য রকমঃ তিনি বলেন,
إياكم وهاتين البقلتين المنتنتين أن تأكلوهما وتدخلوا مساجدنا فإن كنتم لا بد آكلوهما اقتلوهما بالنار قتلا
’’এই দুটি দুর্গন্ধময় সবজি খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করা থেকে তোমরা সাবধান। যদি এটা খাওয়া অত্যন্ত জরুরী মনে কর তাহলে আগুনের মাধ্যমে তার দুর্গন্ধকে মেরে ফেল।’’
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ , فَلَا يَقْرَبَنَّا , وَلَا يُصَلِّيَنَّ مَعَنَا (رواه البخاري ومسلم)
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৩. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি পিঁয়াজ অথবা রসুন খাবে সে যেন আমাদের থেকে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে এবং নিজ গৃহে বসে থাকে।
(বুখারী ৮৫৪, মুসলিম ৫৬৪, আবু দাউদ ৩৮২২, তিরমিযী ১৮০০, নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে,
مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ
’’যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসূন ও কুররাজ খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা আদম সন্তান যাতে কষ্ট অনুভব করে, ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট অনুভব করে। (মুসলিম ৫৬৪)
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ فَغَلَبَتْنَا الْحَاجَةُ فَأَكَلْنَا مِنْهَا فَقَالَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الخبيثة فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الناس
আল্লাহর রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিঁয়াজ এবং কুররাজ খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আমরা তা খাওয়ার ব্যাপারে খুব প্রয়োজন অনুভব করলাম এবং তা খেলাম। তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধময় বৃক্ষ খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা মানুষ যাতে কষ্ট অনুভব করে, ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট অনুভব করে।
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) وَعَنْ جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ مَنْ أَكَلَ بَصَلًا أَوْ ثُومًا فَلْيَعْتَزِلْنَا أَوْ فلْيَعْتَزِلْ مَسَاجِدَنَا وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৪. (ছহীহ্ লি গাইরিহি) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে রসুন, পিঁয়াজ এবং কুররাজের কথা আলোচনা করা হল এবং তাকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলোর মধ্যে রসুনের গন্ধটা সবচেয়ে বেশী। আপনি কি এটা হারাম মনে করেন? তখন আল্লাহর রাসূলু (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
’’তোমরা উহা খেতে পার। যে ব্যক্তি উহা খাবে সে যেন এই মসজিদের নিকটবর্তী না হয় যতক্ষন পযর্ন্ত না তার মুখ থেকে উহার দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।’’
(ইবনে খুযায়মা সহীহ গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/৮৫)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثُّومُ وَالْبَصَلُ وَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَشَدُّ ذَلِكَ كُلُّهُ الثُّومُ أَفَتُحَرِّمُهُ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُوهُ وَمَنْ أَكَلَهُ مِنْكُمْ فَلَا يَقْرَبْ هَذَا الْمَسْجِدَ حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهُ مِنْهُ رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৫. (সহীহ্) ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদা জুমআর খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি বললেন, ’’অতঃপর হে লোক সকল! তোমরা দু’টি বৃক্ষ খেয়ে থাক। আমি এ দু’টিকে দূর্গন্ধময় বৃক্ষ ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না। আর তা হচ্ছে রসুন ও পিঁয়াজ। আমি আল্লাহর রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের মধ্যে কোন ব্যক্তির মুখ থেকে এগুলোর গন্ধ পেতেন তখন তাকে বাকী’ গোরস্থানের দিকে বের করে দিতেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটি বৃক্ষ খেতে চায় সে যেন রান্নার মাধ্যমে তার দূর্গন্ধকে মেরে ফেলে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৫৬৭, নাসাঈ ২/৪৩, ইবনে মাজাহ ১০১৪)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) وَعَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه خَطَبَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فقال في خطبته ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأْكُلُونَ شَجَرَتَيْنِ لَا أَرَاهُمَا إِلَّا خَبِيثَتَيْنِ الْبَصَلَ وَالثُّومَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وَجَدَ رِيحَهُمَا مِنْ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخًا رواه مسلم والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৬. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি এই বৃক্ষ (রসুন) ভক্ষন করবে সে যেন এই মসজিদে এসে আমাদেরকে কষ্ট না দেয়।’’
(ইমাম মুসলিম ৫৬৩, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ১০১৫ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الثُّومِ فَلَا يُؤْذِينَا بِهَا فِي مَسْجِدِنَا هَذَا. رواه مسلم والنسائي وابن ماجه واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৭. (হাসান) আবু ছা’লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে খায়বারের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। খায়বারের বাগানে তারা পিঁয়াজ ও রসুনের গাছ পেলেন। অতঃপর তা থেকে কিছু খেলেন, কেননা তারা ছিলেন ক্ষুধার্ত। লোকেরা নামায পড়ার জন্য মসজিদে গেলে মসজিদ যেন পিঁয়াজ এবং রসুনের দুর্গন্ধে ভরপুর হয়ে উঠল। তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
’’যে ব্যক্তি এই দূর্গন্ধময় বৃক্ষ ভক্ষন করবে সে যেন আমাদের নিকটবর্তী না হয়।’’
(হাদীছটি ত্বাবরানী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(حسن ) وَعَنْ أبي ثعلبة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ فَوَجَدُوا فِي جِنَانِها بَصَلا وَثُومًا فَأَكَلُوا مِنْهُ وَهُمْ جِيَاعٌ ، فَلَمَّا رَاحَ النَّاسُ إِلَى الْمَسْجِدِ إِذَا رِيحُ الْمَسْجِدِ بَصَلٌ وَثُومٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْخَبِيثَةِ فَلا يَقْرَبْنَا.(رواه الطبراني بإسناد حسن)
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৮. (সহীহ্) উক্ত হাদীছটি সহীহ্ মুসলিমেও রয়েছে তবে তা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কিন্তু সে হাদীছে পিঁয়াজের কথা উল্লেখ করা হয়নি। (মুসলিম ৫৬৫)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) وهو في مسلم من حديث أبي سعيد الخدري بنحوه ليس فيه ذكر البصل
পরিচ্ছেদঃ ১১) পিঁয়াজ, রসুন, কুর্রাজ, মূলা অথবা তার অনুরূপ দুগর্ন্ধযুক্ত বস্ত্ত খেয়ে মসজিদে আসার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৩৯. (সহীহ্) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে, সে কিয়ামতের দিন ঐ থুথু তার দু’চোখের সামনে নিয়ে উপস্থিত হবে। আর যে ব্যক্তি এই দূর্গন্ধময় সবজি ভক্ষন করবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।’’ (এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।)
(হাদীছটি ইবনে খুযায়মা তার [ছহীহ গ্রন্থে] ২/২৭৮ বর্ণনা করেন।)
الترهيب من إتيان المسجد لمن أكل بصلا أو ثوما أو كراثا أو فجلا ونحو ذلك مما له رائحة كريهة
(صحيح) و عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَفَلَ تُجَاهَ الْقِبْلَةِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وتَفْلُهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَمَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ الْخَبِيثَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا ثَلَاثًا رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪০. (হাসান লিগাইরিহী) উম্মে হুমায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবু হুমায়েদ (রাঃ) এর স্ত্রী। তিনি একদা নবী করীম (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে মসজিদে নববীতে নামায আদায় করতে ভালবাসি।
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ’’আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায আদায় করতে ভালবাস। কিন্তু তোমার জন্যে ক্ষুদ্র কুঠরীতে নামায পড়া, বাড়ীতে (প্রশস্ত ঘরের মধ্যে) নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর বাড়ীতে নামায পড়া, বাড়ীর উঠানে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। নিজ বাড়ীর উঠানে নামায পড়া মহল্লার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর মহল্লার মসজিদে নামায পড়া আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।’’
তারপর উম্মে হুমাইদ (রাঃ) আদেশ দিলেন, ফলে তার জন্যে নিজ ঘরের ভিতরে অন্ধকার স্থানে একটি নামাযের জায়গা বানিয়ে দেয়া হল। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সেই ক্ষুদ্র অন্ধকার কুঠরীতে নামায আদায় করেছেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ৬/৩৭১, ইবনে খুযায়মা ৩/৯৫, ইবনে হিব্বান ৪/২২)
ইবনে খুযায়মা এই হাদীছ বর্ণনা করার আগে অধ্যায় রচনা করেন যে, নারীর নিজের গৃহে নামায পড়া বাড়ীর উঠানে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর নিজ মহল্লার মসজিদে নামায পড়া, আল্লাহর নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। যদিও আল্লাহর নবীর মসজিদে নামাযে এক হাজার গুণ ছোয়াব লাভ করা যায় অন্য মসজিদের চেয়ে। এক কথার দলীল হলো নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ’’অন্যান্য মসজিদের তুলনায় আমার মসজিদে নামায পড়লে এক হাজারের চেয়ে বেশী ছোয়াব লাভ করা যাবে।’’ ইবনে খুযায়মা বলেন, এ হাদীছ দ্বারা আল্লাহর নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদের নামাযের কথা বুঝিয়েছেন নারীদের কথা নয়।
হাদীছের টিকায় শাইখ আলবানী লিখেছেন, এ কথাটি যথাযথ নয়। তিনি বলেন এ হাদীছটি নারী-পুরুষ সবার জন্যেই প্রযোজ্য। তবে কোন নারী যদি গৃহে নামায আদায় করে, তবে তা যে বেশী উত্তম হবে এ হাদীছ তার বিরোধী নয়। এমনিভাবে কোন পুরুষ যদি আল্লাহর নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মসজিদে নফল নামায পড়ে তাহলে সে এক হাজার গুণ ছোয়াব লাভ করবে। কিন্তু সে যদি ঐ নফল নামাযটা ঘরে পড়ে তবে তার জন্যে উত্তম হবে।
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(حسن لغيره) وَ عَنْ أُمِّ حُمَيْدٍ امْرَأَةِ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّهَا جَاءَتِ إلى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُحِبُّ الصَّلَاةَ مَعَكَ، قَالَ: " قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكِ تُحِبِّينَ الصَّلَاةَ مَعِي، وَصَلَاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي دَارِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِي "، قَالَ: فَأَمَرَتْ فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِهِ، فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتَّى لَقِيَتِ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ (رواه أحمد وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما)
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪১. (হাসান লি গাইরিহী) উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’নারীদের সর্বোত্তম মসজিদ হচ্ছে ঘরের সবচেয়ে নির্জনতম স্থান।’’
(ইমাম আহমাদ ৬/২৯৭, ত্বাবরানী, ইবনে খুযায়মা ও হাকেম ১/২০৯ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) হাকেম বলেন এর সনদ ছহীহ।
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(حسن لغيره) وَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا. عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ.
رواه أحمد والطبراني في الكبير ورواه ابن خزيمة في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪২. (হাসান) উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কোন নারীর নিজ কামরার মধ্যে নির্জন জায়গা বানিয়ে সেখানে নামায পড়া কামরার মধ্যে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। কামরার মধ্যে নামায পড়া বাড়ীর সাধারণ স্থানে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর নিজ বাড়ীর সাধারণ স্থানে নামায পড়া মহল্লার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম।’’
(হাদীছটি ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] উত্তম সনদে বর্ণনা করেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২/২০৪)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(حسن ) وَعَنْها رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صَلاَةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا خير مِنْ صَلاَتِهَا فِي حُجْرَتِهَاوصَلاَتِهَا فِي حُجْرَتِهَا خير مِنْ صَلاَتِهَا فِي دَارِهَا وَصَلاَتِهَا فِي دَارِهَا خَيْر مِنْ صَلاَتِهَا فِي مَسْجِدِ قَوْمِهَا. (رواه الطبراني في الأوسط بإسناد جيد).
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৩. (সহীহ্ লিগাইরিহী) আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন: ’’তোমাদের নারীদেরকে মসজিদে আসার ব্যাপারে বাধা দিও না। তাদের গৃহ তাদের জন্যে অতি উত্তম জায়গা।’’
(সহীহ আবু দাউদ ৫৬৭)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(صحيح لغيره) وَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمْ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ (رواه أبو داود)
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৪. (সহীহ্) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ’’নারী হচ্ছে গোপন বস্ত্ত, সে ঘর থেকে বের হলে শয়তান[1] তাকে উঁকি মেরে দেখে (এবং তাকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে)। নারী নিজ বাড়ীর গহীনে থাকার চেয়ে অন্য কোন ভাবে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হতে পারবে না।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] এর বর্ণনাকারীগণ সবাই সহীহ, মাযমাউল যাওয়ায়েদ)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: الْمَرْأَةَ عَوْرَةٌ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتْ مِنْ بَيْتِهَا اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ فَتَقُولُ وإنها لا تكون أقرب إلى الله منها في قَعْرِ بَيْتِهَا
(رواه الطبراني في الأوسط ورجاله رجال الصحيح)
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৫. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’’কোন নারীর নিজ ঘরে নামায পড়া বাড়ীর উঠানে নামায পড়ার চাইতে উত্তম। আর ঘরের মধ্যে মূল্যবান বস্ত্ত সংরক্ষণের জন্যে যে ষ্টোর থাকে তার মধ্যে নামায পড়া ঘরের মধ্যে নামায পড়ার চাইতে উত্তম।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫৭০, ইবনে খুযায়মা [তাঁর ছহীহ্ গ্রন্থে] ৩/৯৫, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২/৩৫)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا وَصَلَاتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي بَيْتِهَا (رواه أبو داود وابن خزيمة في صحيحه)
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৬. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ’’নারী গোপন বস্ত্ত। সে যখন ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে উঁকি মেরে দেখে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযি ১১৮৩ তিনি বলেন: হাদীছটি হাসান সহীহ্ গরীব। আরো বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযায়মা ৩/৯৩ ও ইবনে হিব্বান ৫৫৭। তবে ইবনে হিব্বানের বর্ণনা এ রকমঃ
وَأَقْرَبُ مَا تَكُونُ مِنْ وَجْهِ رَبِّهَا وَهِيَ فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
’’সবচেয়ে বেশী সে তার পালনকর্তার নিকটবর্তী হবে যখন সে নিজ ঘরের নির্জন স্থানে থাকবে।’’
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(صحيح) وَعَنْه عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ "رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح غريب وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৭. (হাসান লিগাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কোন নারী যদি নিজ গৃহের অন্ধকার নির্জন স্থানে নামায আদায় করে তাহলে সেই নামাযের চেয়ে এমন কোন স্থানের নামায পাওয়া যাবে না যা আল্লাহর নিকট বেশী পছন্দনীয় হবে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(حسن لغيره) وَعَنْه أيضا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: ما صلت امرأة من صلاة أحب الْمَرْأَةُ إِلَى اللهِ من أَشَدِّ مَكَانٍ فِي بَيْتِهَا ظُلْمَةً. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৮. (হাসান লি গাইরিহী) ইবনে খোযাইম আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ’’নারীর নামায আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় হয় ঐ স্থানে যেটা তার বাড়ীর অন্ধকারে (বা গহীন স্থানে) আদায় করা হয়।’’ (ইবনে খুযায়মা ৩/৯৬)
ইবনে খুযায়মার অপর বর্ণনায় বলা হয়ঃ
(মাওকূফ সূত্রে সহীহ) তিনি (ইবনে মাসউদ) বলেনঃ
"إِنَّمَا النِّسَاءُ عَوْرَةٌ، وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهَا، وَمَا بِهَا مِنْ بَأْسٍ فَيَسْتَشْرِفُهاَ الشَّيْطَانُ، فَيَقُولُ: إِنَّكِ لا تَمُرِّينَ بِأَحَدٍ إِلا أَعْجَبْتِهِ، وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَلْبَسُ ثِيَابَهَا، فَيُقَالُ: أَيْنَ تُرِيدِينَ؟ فَتَقُولُ: أَعُودُ مَرِيضًا، أَوْ أَشْهَدُ جِنَازَةً، أَوْ أُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ، وَمَا عَبَدَتِ امْرَأَةٌ رَبَّهَا مِثْلَ أَنْ تَعْبُدَهُ فِي بَيْتِهَا".
’’নারীরা পর্দার বস্ত্ত বা গোপন বস্ত্ত। নিশ্চয় কোন নারী যখন গৃহ থেকে বের হয় তখন কোন অসুবিধা থাকে না। অতঃপর শয়তান তার দিকে উঁকি মেরে দেখে এবং বলে তুমি যেখান দিয়েই যাচ্ছো তোমাকে দেখে সবাই আশ্চার্যান্বিত হচ্ছে এবং তোমার প্রতি আসক্ত হচ্ছে।[1] নারী যখন নিজের পোষাক পরিধান করে তখন তাকে বলা হয় কোথায় যাচ্ছো? সে বলে আমি অসু্স্থ ব্যক্তির সুশ্রূষা করতে অথবা জানাযায় উপস্থিত হতে বা কোন মসজিদে নামায আদায় করতে যাচ্ছি। অথচ নারী নিজ গৃহে ইবাদত করে তার পালনকর্তার কাছে যে মর্যাদা লাভ করবে তার চেয়ে অধিক মর্যাদা অন্য কোথাও লাভ করবে না।’’
(হাদীছটির সনদ হাসান, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২/৩৫)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(حسن لغيره) ورواه ابن خزيمة في صحيحه من رواية إبراهيم الهجري عن أبي الأحوص عنه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال إن أحب صلاة الْمَرْأَةُ إِلَى اللهِ فِي أَشَدِّ مَكَانٍ فِي بَيْتِهَا ظُلْمَةً..
পরিচ্ছেদঃ ১২) নারীদের গৃহে নামায আদায় ও গৃহে অবস্থান করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৩৪৯. (সহীহ লিগাইরিহী মাওকূফ) আবূ আমর শায়বানী থেকে বর্ণিত। তিনি দেখেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) নারীদেরকে জুমআর মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং বলছেন, ’’তোমরা বের হয়ে নিজ গৃহে চলে যাও; এটাই তোমাদের জন্য বেশী উত্তম।’’
(হাদীছটি ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ২/৩৫)
ترغيب النساء في الصلاة في بيوتهن ولزومها وترهيبهن من الخروج منها
(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ أبي عمرو الشيباني أَنَّهُ رَأَى عبد الله يُخْرِجُ النِّسَاءَ مِنَ الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَقُولُ:"اخْرُجْنَ إِلَى بُيُوتِكُنَّ خَيْرٌ لَكُنَّ".
(رواه الطبراني في الكبير بإسناد لا بأس به)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫০. (সহীহ) আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) এবং অন্যান্য ছাহাবী থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিতঃ (১) এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা (৩) যাকাত আদায় করা (৪) রামাযানের রোযা রাখা (৫) আল্লাহর ঘরে হজ্জ পালন করা।’’
(বুখারী ৮ ও মুসলিম ৪৫ প্রমূখ একাধিক ছাহাবী থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) فيه حديث ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا وغيره عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ وَحَجِّ الْبَيْتِ. رواه البخاري ومسلم وغيرهما عن غير واحد من الصحابة
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫১. (সহীহ্) ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকটে বসে ছিলাম। এমন সময় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন, তার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা আর চুল ছিল কুচকুচে কালো। দূর হতে ভ্রমণ করে আসার কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছিল না তার মধ্যে। তিনি আমাদের কারো পরিচিতও নন। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটবর্তী হলেন, তাঁর হাঁটুতে স্বীয় হাঁটু লাগালেন এবং দুই হাত তাঁর উরুর উপর রেখে বসে পড়লেন। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করুন, উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে (১) এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নাই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। (২) ছালাত কায়েম করবে (৩) যাকাত আদায় করবে (৪) রামাযানে ছিয়াম পালন করবে এবং (৫) আল্লাহর ঘরের হজ্জ সম্পাদন করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৫০ ও মুসলিম ৯।[1] বিভিন্ন সহীহ্ গ্রন্থে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَعَنْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ منا أحد حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنْ الْإِسْلَامِ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ ، الحديث
(رواه البخاري ومسلم وهو مروي عن غير واحد من الصحابة في الصحاح وغيرها)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫২. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেনঃ ’’তোমরা কি মনে কর তোমাদের কারো ঘরের দরজায় সামনে যদি একটি নদী থাকে এবং সেখানে প্রতিদিন সে পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?’’
তাঁরা বললেনঃ না, তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।
তিনি বললেনঃ ’’অনুরূপ উদাহরণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের, এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলা বান্দার গুনাহ্ সমূহ মিটিয়ে দেন।’’[1]
(বুখারী ৫২৮, মুসলিম ৬৬৭, তিরমিযী ২৮৬৮ ও নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ قَالُوا لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ قَالَ فَكَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا
رواه البخاري ومسلم والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৩. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উক্ত হাদীছটি ইবনে মাজাহ্ ওসমান বিন আফ্ফান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) ورواه ابن ماجه من حديث عثمان
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৪. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ মধ্যবর্তী পাপ সমূহের জন্যে কাফ্ফারা স্বরূপ, যতক্ষন পর্যন্ত কবীরা গুনাহতে লিপ্ত না হয়।’’[1]
(মুসলিম ২৩৩, তিরমিযী ২১৪ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ أيضا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الصلوات الخمس والْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةُ لِمَا بَيْنَهن مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ رواه مسلم والترمذي وغيرهما
শায়খ আলবানী বলেনঃ এই ব্যাখ্যা পূর্ববর্তী হাদীছের প্রশ্নের উত্তরের বিপরীত। যাতে বলা হয়েছেঃ ‘‘তার শরীরে কি কোন ময়লা থাকতে পারে?’’ এখানে ময়লা বলতে শুধুমাত্র সাগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য হবে এরূপ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ সবগুলো সাগীরা গুনাহ্ মুছে যাবে আর সবগুলো কাবীরা গুনাহ্ থেকে যাবে! কেননা এ ধরণের ব্যাখ্যা অন্তর গ্রহণ করে না। তাছাড়া এ ক্ষেত্রে আরো অনেক হাদীছ আছে যাতে উক্ত ব্যাখ্যা কখনই করা যাবে না। যেমনঃ ‘‘যে ব্যক্তি হজ্জ করবে, অতঃপর স্ত্রী সহবাস, অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হবে না, সে তার পাপ থেকে এমনভাবে ফিরে আসবে যেমন নিষ্পাপ অবস্থায় তার মাতা তাকে ভূমিষ্ট করেছিল।’’ (মুসলিম)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছেনঃ ’’পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার মধ্যবর্তী সময়ের পাপ সমূহের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ।’’ তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
’’তুমি মনে কর যদি একজন লোক কোন কর্মে ব্যস্ত থাকে আর তার কর্মস্থল ও বাড়ীর মাঝে পাঁচটি নদী থাকে। কর্মস্থলে পৌঁছে আল্লাহ যা চায় তা কর্ম সম্পাদন করে। ফলে তার শরীরে ময়লা জমে বা ঘর্মাক্ত হয়। ফিরে আসার সময় প্রত্যেকটি নদীতে একবার করে গোসল করে। এতে তার শরীরে কোনরূপ ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি? অনুরূপ উদাহরণ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের। যখনই কোন গুনাহের কাজ করে ফেলবে তখনই নামাযের মাধ্যমে দুআ করবে ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাহলে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’’
(বাযযার ৩৪৪, ত্বাবরানী [আওসাত এবং কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه سمع النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول الصلوات الخمس كفارة لما بينها ثم قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أرأيت لو أنَّ رَجُلاً كان يعتمل وكان بين منزله وبين معتمله خمسة أنهار فإذا أتى معتمله عمل فيه ما شاء الله فأصابه الوسخ أو العرق فكلما مر بنهر اغتسل ما كان ذلك يبقي من درنه فكذلك الصلاة كلما عمل خطيئة فدعا واستغفر غفر له ما كان قبلها. (رواه البزار والطبراني في الأوسط والكبير)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৬. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উদাহরণ হচ্ছে প্রবল বেগে প্রবাহমান একটি নদীর সাথে যা তোমাদের কারো ঘর বা দরজার সামনে থাকে এবং সেখানে সে প্রতিদিন পাঁচ বার গোসল করে। ’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ৬৬৮)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح)وَ عن جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ كَمَثَلِ نَهْرٍ جَارٍ غَمْرٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ قَالَ قَالَ الْحَسَنُ وَمَا يُبْقِي ذَلِكَ مِنْ الدَّرَنِ . رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৭. (হাসান সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা পাপের মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ। যখন তোমরা সকালের নামায আদায় কর তখন ঐ নামায পাপগুলোকে ধুয়ে দেয়। অতঃপর আবার পাপের মাধ্যমে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছ। যখন যোহরের নামায আদায় কর তখন এই নামায পূর্বের ঐ পাপগুলোকে ধুয়ে দেয়। আবার তোমরা গুনাহ কর। যখন তোমরা আছরের নামায পড় তখন তা পূর্বের গুনাহগুলোকে ধুয়ে দেয়। তারপর আবার তোমরা পাপ কর এবং ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হও। যখন মাগরিবের নামায আদায় কর তখন সেই নামায পূর্বের গুনাহগুলোকে ধুয়ে দেয়। তারপর তোমরা পাপে লিপ্ত হয়ে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাও। যখন এশার নামায আদায় কর তখন তা ঐ গুনাহগুলোকে ধৌত করে দেয়। অতঃপর তোমরা যখন নিদ্রা যাও তখন তোমাদের কোন গুনাহ লেখা হয় না যতক্ষন তোমরা জাগ্রত না হও।’’
(ত্বাবরানী ২/৩৫৮ [ছগীর এবং আওসাত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১/৯১)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن صحيح) وَعَنْ عبد الله بن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تحترقون تحترقون فإذا صليتم الصبح غسلتها ثم تحترقون تحترقون فإذا صليتم الظهر غسلتها ثم تحترقون تحترقون فإذا صليتم العصر غسلتها ثم تحترقون تحترقون فإذا صليتم المغرب غسلتها ثم تحترقون تحترقون فإذا صليتم العشاء غسلتها ثم تنامون فلا يكتب عليكم حتى تستيقظوا.
رواه الطبراني في الصغير والأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’প্রত্যেক নামাযের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা নিয়োগ করা হয়। তিনি আহবান করেন: হে আদম সন্তান! উঠ এবং নির্বাপিত কর সে আগুন যা তোমরা পাপের মাধ্যমে প্রজ্জ্বলিত করেছ।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত এবং ছগীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১/২৯৯)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن لغيره) وَعَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إن لله ملكا ينادي عند كل صلاة يا بني آدم قوموا إلى نيرانكم التي أوقدتموها فأطفئوها
رواه الطبراني في الأوسط والصغير
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৫৯. (হাসান) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ
’’প্রত্যেক নামাযের সময় উপস্থিত হলে একজন আহবানকারী (ফেরেশতা) প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, হে আদম সন্তান! ওঠো এবং পাপ করে নিজেদের শাস্তির জন্যে যে আগুন তোমরা জ্বালিয়েছো তা নামাযের মাধ্যমে নির্বাপিত কর। তখন তারা ওঠে এবং পবিত্রতা অর্জন করে, তখন তাদের চোখ থেকে পাপগুলো ঝরে পড়ে যায়, তারা নামায আদায় করলে দু’নামাযের মধ্যবর্তী সময়ের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়। তারপর আবার তারা পাপের মাধ্যমে আগুন জ্বালায়। যখন প্রথম নামাযের সময় হয় তখন ঐ ফেরেশতা আহবান করেন: হে আদম সন্তান! তোমরা নির্বাপিত কর সেই আগুন যা (পাপের মাধ্যমে) নিজেদের জন্যে জ্বালিয়েছো। তখন তারা ওঠে পবিত্র হয় এবং যোহর নামায আদায় করে। তখন তাদের পূর্বের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। একইভাবে যখন আছর, মাগরিব ও এশার নামায আদায় করা হয় তখন অনুরূপ করা হয়। শেষে তারা নিদ্রা যায় এমন অবস্থায় যে তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং কেউ রাত কাটায় কল্যাণের মধ্যে এবং কেউ রাত কাটায় অকল্যাণ বা গুনাহের মধ্যে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১/২৯৯)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن ) وروي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ قَالَ: يُبْعَثُ مُنَادٍ عِنْدَ حَضْرَةِ كُلِّ صَلاةٍ، فَيَقُولُ: يَا بني آدَمَ، قُومُوا فَأَطْفِئُوا عَنْكُمْ مَا أَوْقَدْتُمْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَيَقُومُونَ فَيَتَطَهَّرُونَ وَتَسْقُطُ خَطَايَاهُمْ مِنْ أَعْيُنِهِمْ، وَيُصَلُّونَ فَيُغْفَرُ لَهُمْ مَا بَيْنَهُمَا، ثُمَّ يُوقِدُونَ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ، فَإِذَا كَانَ عِنْدَ صَلاةِ الأُولَى نَادَى: يَا بني آدَمَ، قُومُوا فَأَطْفِئُوا مَا أَوْقَدْتُمْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَيَقُومُونَ فَيَتَطَهَّرُونَ وَيُصَلُّونَ فَيُغْفَرُ لَهُمْ مَا بَيْنَهُمَا، فَإِذَا حَضَرَتِ الْعَصْرُ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَإِذَا حَضَرَتِ الْمَغْرِبُ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَإِذَا حَضَرَتِ الْعَتَمَةُ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَيَنَامُونَ وَقَدْ غُفِرَ لَهُمْ فَمُدْلِجٌ فِي خَيْرٍ، وَمُدْلِجٌ فِي شَرٍّ رواه" الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬০. (সহীহ্ লি গাইরিহী মাওকূফ) ত্বারেক্ব বিন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি একদা সালমান (রাঃ) এর নিকট রাত কাটালেন। উদ্দেশ্য তিনি কিরূপ ইবাদত করেন তা দেখা। তিনি বলেনঃ তিনি রাতের শেষাংশে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়লেন। তিনি (ত্বারেক্ব) তাঁর সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করছিলেন তা যেন দেখতে পেলেন না। তাই বিষয়টি তাঁর নিকট উত্থাপন করলেন। সালমান (রাঃ) বললেনঃ
’তোমরা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের যথাযথভাবে হেফাজত কর। কেননা এগুলো এ পাপ সমূহের কাফ্ফরা স্বরূপ, যতক্ষন পর্যন্ত এমন পাপে লিপ্ত না হও যা তোমাদেরকে হত্যা করে ফেলে (অর্থাৎ কাবীরা গুনাহে লিপ্ত না হও)।’
(ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১/২৯৯)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ طارق بن شهاب: أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ سَلْمَانَ الفارسي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَيَنْظُرَ مَا اجْتِهادُهُ، قَالَ: فَقَامَ يُصَلِّي مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ الَّذِي كَانَ يَظُنُّ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ سَلْمَانُ رَحِمَهُ اللَّهُ:"حَافِظُوا عَلَى هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، فَإِنَّهُنَّ كَفَّارَاتٌ لِهَذِهِ الْجِرَاحَاتِ مَا لَمْ تُصَبُ الْمَقْتَلَةُ رواه الطبراني في الكبير موقوفا
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬১. (সহীহ্) আমর ইবনে মুররা আল জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন জনৈক ব্যক্তি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন, যদি আমি এ সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রামাযানে সিয়াম পালন করি এবং ক্বিয়ামুল্লাইল করি- তাহলে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? তিনি বললেনঃ
’’সিদ্দীক এবং শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’
(হাদীছটি বাযযার ৪৫, ইবনে হিব্বান ৩৪২৯ ও ইবনে খুযায়মা ২/২২ বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجُهَنِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إلى النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللهِ ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ الخمس وأديت الزكاة ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ وَقُمْتُ فممن أنا قال من الصديقين والشهداء. رواه البزار وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬২. (হাসান সহীহ্) সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ’’মুসলিম ব্যক্তি নামায আদায় করে অথচ তার গুনাহ সমূহ তার মাথার উপরে লটকানো থাকে। যখনই সে সেজদা করে তখনই তার গুনাহগুলো পড়ে যায়। অতঃপর সে নামায শেষ করে এমন অবস্থায় যে তার সমস্ত গুনাহ পড়ে গেছে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর ৬/২৫০ এবং ছগীর গ্রন্থে ২/২৭২] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن صحيح) وَعَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"إِنَّ الْمُسْلِمَ يُصَلِّي وَخَطَايَاهُ مَرْفُوعَةٌ عَلَى رَأْسِهِ، كُلَّمَا سَجَدَ تَحَات عَنْهُ ، فَيَفْرُغُ مِنْ صَلاتِهِ، وَقَدْ تَحَاتَتْ خَطَايَاهُ" . رواه الطبراني في الكبير والصغير
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৩. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু উছমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা সালমান ফারসী (রাঃ) এর সাথে এক গাছের নীচে বসে ছিলাম। এমন সময় তিনি একটি শুকনো ডাল ধরলেন এবং ঝাকালেন তখন তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে গেল। তিনি বললেন: হে আবু উছমান! আপনি কি জিজ্ঞেস করবেন না কেন আমি এরূপ করলাম? আমি বললামঃ কেন এরূপ করলেন?
তিনি বললেনঃ এভাবেই রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে করেছিলেন। তখন আমি তাঁর সাথে একটি গাছের নীচে ছিলাম। তিনি গাছের একটি শুকনা ডাল ঝাকালে তার সব পাতা ঝরে গেল। তিনি বললেনঃ হে সালমান তুমি কি প্রশ্ন করবে না কেন আমি এরূপ করলাম? আমি বললাম, কেন এরূপ করলেন?
তিনি বললেনঃ ’’মুসলিম ব্যক্তি যখন ওযু করে এবং ওযুকে সুন্দরভাবে সম্পাদন করে, অতঃপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তাহলে তার গুনাহ সমূহ ঝরে যায় যেমন করে এই পাতাগুলো ঝরে গেল। আর তিনি পাঠ করলেন আল্লাহ এই বাণীঃ
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
’’তুমি সালাত আদায় করো দিনের উভয় প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে। নিশ্চয়ই নেক কাজ সমূহ গুনাহ সমূহকে শেষ করে দেয়। আর এটা হচ্ছে উপদেশ গ্রহণ কারীদের জন্য একটি উপদেশ।’’ (সূরা হূদঃ ১১৪)
(আহমাদ ৫/৪৩৭, নাসাঈ ও ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن لغيره) وَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ قَالَ: كُنْتُ مَعَ سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَحْتَ شَجَرَةٍ، فَأَخَذَ غُصْنًا مِنْهاَ يَابِسًا فَهَزَّهُ حَتَّى تَحَاتَّ وَرَقُهُ، ثُمَّ قَالَ يا أبا عثمان أَلا تَسْأَلُنِي لِمَ أَفْعَلُ هَذَا ؟ قُلْتُ: وَلِمَ تَفْعَلُهُ؟ قَالَ: هَكَذَا فَعَلَ بي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وأنا مَعَهُ تَحْتَ شَجَرَةٍ، فَأَخَذَ غُصْنًا مِنْهاَ غَصْنَا يَابِسًا، فَهَزَّهُ حَتَّى تَحَاتَّ وَرَقُهُ، ثُمَّ قَالَ يَا سَلْمَانُ أَلا تَسْأَلُنِي لِمَ أَفْعَلُ هَذَا ؟" قُلْتُ: وَلِمَ تَفْعَلُهُ؟ قَالَ :إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا تَوَضَّأَ، فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ صَلَّى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ تَحَاتَّتْ خَطَايَاهُ، كَمَا تَحَاتَّ هَذَا الْوَرَقُ ،[أَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ. رواه أحمد والنسائي والطبراني
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৪. (সহীহ) উছমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন একদিন আসরের নামায থেকে ফেরার সময় আমাদের কাছে হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ
’’জানিনা তোমাদেরকে হাদীছ বলব না কি চুপ থাকব?’’
উছমান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি ভাল হয় তবে বলুন। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ ’’কোন মুসলিম যখন পবিত্রতা অর্জন করে- আল্লাহ্ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন সে অনুযায়ী পরিপূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে তবে তা তার মধ্যবর্তী গুনাহ সমূহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায়।’’
অন্য রেওয়ায়াতে রয়েছে,
أن عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ
وَاللَّهِ لَأُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا لَوْلَا آيَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلَاةَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَها وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الَّتِي تَلِيهَا
উছমান (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি হাদীছ বর্ণনা করবো, আল্লাহর কসম আল্লাহর কোরআনে যদি একটি আয়াত না থাকত তবে আমি হাদীছটি বর্ণনা করতাম না। আমি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’কোন ব্যক্তি যখন সুন্দর ও পরিপূর্ণ ভাবে ওযু সম্পাদন করে, অতঃপর ছালাত আদায় করে, তবে তাকে পরবর্তী ছালাত পর্যন্ত ক্ষমা করে দেয়া হয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১৬০ ও মুসলিম ২২৭)[1]
মুসলিমের অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلَّاهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ
’’যে ব্যক্তি সালাতের জন্য ওযু করে, ওযুকে পূর্ণরূপে সম্পাদন করে। তারপর ফরয সালাত আদায় করার জন্য মসজিদের পানে পথ চলে এবং মানুষের সাথে বা জামাআতে বা মসজিদে সালাত আদায় করে, তবে তার গুনাহ্ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’’
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে: আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেন:
مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلَّاهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ
وفي رواية أيضا قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ( يَقُولُ : مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاةٌ مَكْتُوبَةٌ ، فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا ، وَخُشُوعَهَا ، وَرُكُوعَهَا إِلا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ ، مَا لَمْ تُؤْتَ كَبِيرَةٌ ، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ.
’’কোন মুসলিম ব্যক্তির নিকট যখন ফরয ছালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে সুন্দরভাবে ওযু করে এবং রুকু-সিজদাগুলো বিনয়-নম্রতার সাথে সম্পাদন করে। তাহলে তা পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায়- যতক্ষণ সে কাবীরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। আর তা বছরের সকল সময়ের জন্য।’’
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: حدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ انْصِرَافِنَا مِنْ صَلاَتِنَا أُرَاهُ قَالَ : الْعَصْرَ ، فَقَالَ : مَا أَدْرِي أُحَدِّثُكُمْ ، أَوْ أَسْكُتُ ، قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كَانَ خَيْرًا فَحَدِّثْنَا ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ فَاَللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ مَا مِنْ مسلم يتطَّهرُ فيُتِمُّ الطهارةَ التي كتبَ الله عليه ، فيصلِّي هذه الصلوات الخمس ، إلا كانت كفَّاراتٍ لما بينها». رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৫. (হাসান সহীহ্) আবু আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’প্রত্যেক নামায তার পূর্ববর্তী গুনাহ গুলোকে মিটিয়ে দেয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ৫/৪১৩, সনদ হাসান)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن صحيح) وَ عَنْ أَبِيْ أَيُّوبَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الأَنْصَارِيَّ حَدَّثَهُ ، أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : إِنَّ كُلَّ صَلاةٍ تَحُطُّ مَا بَيْنَ يَدَيْهَا مِنْ خَطِيئَةٍ. رواه أحمد بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৬. (হাসান লি গাইরিহী) উছমান (রাঃ) এর ক্রীতদাস হারেছ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উসমান (রাঃ) বসলেন আমরাও তার সাথে বসলাম। এমন সময় মুআয্যিন এলেন। তখন তিনি একটি পাত্রে পানি নিয়ে আসতে বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারনা হচ্ছে ঐ পাত্রে এক মুদ (তথা প্রায় ৩৫০ গ্রাম) পরিমাণ পানি ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ওযুর মতোই ওযু করেছেন, অতঃপর তিনি (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর যোহরের সালাত আদায় করবে, তার ফজর ও যোহর সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। অতঃপর আসর সালাত আদায় করলে একইভাবে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করা হবে। অতঃপর মাগরিব সালাত আদায় করলে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। অতঃপর সে এশার সালাত আদায় করবে, তবে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। অতঃপর হয়ত সে রাতে গড়াগড়ি করে নিদ্রা যাবে। তারপর আবার যদি উঠে ওযু করে ফজরের নামায আদায় করে তাহলে এশা থেকে নিয়ে ফজর পর্যন্ত গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এ সম্পর্কেই আল্লাহ বলেছেনঃ ’’নেক কাজ সমূহ গুনাহ গুলোকে দূরীভূত করে দেয়।’’
তাঁরা বললেনঃ হে উসমান (রাঃ)! এগুলোতো নেক কাজ (যেগুলো মানুষের গুনাহ গুলোকে মিটিয়ে দেয়) সেই কর্মগুলো কি যা অবশিষ্ট থাকবে (যা আল্লাহর কাছে জমা রাখা হবে)? তিনি বললেনঃ সেগুলো হচ্ছে এ কথা বলাঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা-হাওলা ওয়লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, আবু ইয়া’লা ও বাযযার)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن لغيره) وَعَنْ لْحَارِثَ مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ جَلَسَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمًا وَجَلَسْنَا مَعَهُ ، فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ ، فَدَعَا بِمَاءٍ فِي إِنَاءٍ ، أَظُنُّهُ يكون فِيهِ مُدٌّ ، فَتَوَضَّأَ ، ثُمَّ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ وُضُوئِي هَذَا ، ثُمَّ قَالَ : " وَمَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ، ثُمَّ قَامَ وَمَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ يُصَلِّى صَلاةَ الظُّهْرِ، غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الصُّبْحِ ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلاةِ الظُّهْرِ ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلاةِ الْعَصْرِ ، ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلاةِ الْمَغْرِبِ ، ثُمَّ لَعَلَّهُ أَنْ يَبِيتَ يَتَمَرَّغُ لَيْلَتَهُ ، ثُمَّ إِنْ قَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى الصُّبْحَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلاةِ الْعِشَاءِ ، وَهُنَّ الْحَسَنَاتُ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ " . قَالُوا : هَذِهِ الْحَسَنَاتُ ، فَمَا الْبَاقِيَاتُ يَا عُثْمَانُ ؟ قَالَ : هُنَّ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَسُبْحَانَ اللهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَاللهُ أَكْبَرُ ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ رواه أحمد بإسناد حسن وأبو يعلى والبزار:
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৭. (সহীহ্) জুনদুব বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করে সে আল্লাহর জিম্মাদারীর (নিরাপত্তার) মধ্যে এসে যায়। সুতরাং আল্লাহ যেন তার জিম্মাদারীর মধ্যে থেকে কোন কিছু তোমাদের কাছে চেয়ে না বসেন।[1] কেননা তিনি যদি তার জিম্মাদারীর ভিতর কিছু চেয়ে বসেন তাহলে তাকে পাকড়াও করবেন, অতঃপর তাকে মুখের উপর ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’
(মুসলিম ৬৫৭, আবু দাউদ, তিরমিযী ২২২ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য মুসলিমের)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَعَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمْ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ فَإِنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ يُدْرِكْهُ ثُمَّ يَكُبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ. رواه مسلم واللفظ له وأبو داود والترمذي وغيرهم
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৮. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের নিকট রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতা পরস্পর আগমণ করেন। তারা ফজর এবং আসর নামাযের সময় মিলিত হন।
অতঃপর যে ফেরেশতারা রাতে তোমাদের সাথে ছিলেন, তারা আল্লাহর কাছে চলে যান। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের জিজ্ঞেস করেন অথচ আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বেশী জ্ঞান রাখেন। তোমরা আমার বান্দাদের কি অবস্থায় রেখে এসেছো? ফেরেশতারা জবাবে বলেন, আমরা তাদেরকে এ অবস্থায় রেখে এসেছি যে তারা সালাত আদায় করছে এবং আমরা তাদের কাছে গেছি এমন অবস্থায় যে তারা সালাত আদায় করছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/১৭০, বুখারী ৫৫৫, মুসলিম ৬৩২, নাসাঈ ১/২৪০)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ. رواه مالك والبخاري ومسلم والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৬৯. (হাসান) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি ৫টি জিনিস ঈমানের সাথে বাস্তবায়ন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: (১) যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের হেফাযত করবে অর্থাৎ সঠিকভাবে ওযু করবে, ভালভাবে রুকূ’ ও সেজদা করবে এবং সঠিক সময়ে তা আদায় করবে, (২) রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করবে (৩) সাধ্য থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ্জ করবে (৪) খুশি মনে যাকাত আদায় করবে এবং (৫) আমানত আদায় করবে।
তাঁকে প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রসূল! আমানত আদায় করার অর্থ কি?
তিনি বললেন, ’’জানাবাত তথা নাপাকী থেকে গোসল করা। কেননা আল্লাহ তা’আলা জানাবাতের গোসলের চাইতে কোন বস্ত্ত আদম সন্তানের ধর্মের মধ্যে আমানত স্বরূপ রাখেন নি।’’
(উত্তম সনদে ত্বাবরানী ২/৫৬ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن ) و عَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ مَعَ إِيمَانٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ عَلَى وُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ وَمَوَاقِيتِهِنَّ وَصَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتَ إِنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَآتى الزَّكَاةَ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ وَأَدَّى الْأَمَانَةَ قيل يا رسول الله وَمَا أَدَاءُ الْأَمَانَةِ قَالَ الْغُسْلُ مِنْ الْجَنَابَةِ إن الله لم يأمن ابن آدم على شيء من دينه غيرها (رواه الطبراني بإسناد جيد)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭০. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উবাদা বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেনঃ
’’আল্লাহ তা’আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায বান্দাদের উপর লিখে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি এই নামাযগুলোকে যথাযথভাবে আদায় করবে, তার অধিকারকে হালকা ভেবে কোন নামায বিনষ্ট করবে না, তার জন্যে আল্লাহর কাছে রয়েছে অঙ্গিকার। তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি এই নামাযগুলো আদায় করবে না তার জন্যে আল্লাহর কাছে কোন অঙ্গিকার নাই। আল্লাহ চাইলে তাকে শাস্তি দিবেন অথবা চাইলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/১২৩, আবু দাউদ ১৪২০, নাসাঈ ৪৪৭ ও ইবনে হিব্বান ১৭২৯)
আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছেঃ
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلَّاهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وسُجُودَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ
আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’আল্লাহ তা’আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, যে ব্যক্তি সময়মত সুন্দররূপে ওযু করবে পরিপূর্ণরূপে রুকূ’-সিজদা ও একাগ্রতাসহ নামায আদায় করবে, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তা’আলার অঙ্গিকার রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি এ কাজ করবে না তার জন্যে আল্লাহর কোন অঙ্গিকার নেই, তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন।’’
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) وَعَنْ عبادة بن الصامت رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ. (رواه مالك وأبو داود والنسائي وابن حبان في صحيحه)
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭১. (সহীহ্) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ছাহাবীদের মধ্যে দু’জন লোক পরস্পর ভাই ভাই ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন অন্য জনের ৪০ দিন পূর্বে মৃত্যু বরণ করেন। তখন প্রথম ব্যক্তির মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আলোচনা করা হয়। রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’শেষের জন কি মুসলমান ছিল না?’’
তারা বললেনঃ হ্যাঁ, তাতে তো কোন অসুবিধা ছিল না।
রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’তোমরা কিভাবে জানতে পারবে শেষের ব্যক্তির নামায তাকে কোথায় নিয়ে গেছে? কেননা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উদাহরণ হচ্ছে স্ববেগে প্রবাহমান মিষ্টি পানির একটি নদীর সাথে। যা কারো ঘরের দরজায় থাকে এবং সে দৈনিক তাতে পাঁচবার গোসল করে। তাহলে কি তোমরা মনে কর তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? তোমরা জানো না ঐ ব্যক্তির নামায তাকে কোন জায়গায় নিয়ে গেছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মালেক ১/১৭৪, আহমাদ ১/১৭৭, নাসাঈ, ইবনে খুযায়মা, ১/১৬০ হাদীছের বাক্য মালেকের)
ইবনে খুযায়মার বর্ণনায় এসেছেঃ
عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ سَعْدًا وَنَاسًا مَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُونَ : كَأنَّ رَجُلاًنِ أَخَوَانِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَكَانَ أَحَدُهُمَا أَفْضَلَ مِنَ الآخَرِ ، فَتُوُفِّيَ الَّذِي هُوَ أَفْضَلُهُمَا ، ثُمَّ عَمَّرَ الآخَرُ بَعْدَهُ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ تُوُفِّيَ ، فَذُكِرَ ذلك لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : أَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ ، وَكَانَ لاَ بَأْسَ بِهِ ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَمَاذا يُدْرِيكُمْ مَاذَا بَلَغَتْ بِهِ صَلاَتُهُ ؟ الحديث
আমের বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমর পিতা সাদ (রাঃ) থেকে এবং কিছু ছাহাবী থেকে। তাঁরা বলতেনঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যুগে দুই ভাই ছিলেন এবং এদের মধ্যে একজন আরেক জনের চেয়ে বেশী ভাল ছিল। ভাল লোকটি মৃত্যু বরণ করে, অতঃপর দ্বিতীয় লোকটি আরো চল্লিশ দিন বেঁচে থাকে তারপর তারও মৃত্যু হয়। একথা রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সামনে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন:
’’সে (দ্বিতীয় লোকটি) কি সালাত আদায় করে নি?’’
তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এবং তার মধ্যে কোন অসুবিধা ছিল না। রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’তার নামায তাকে কোন জায়গায় নিয়ে গেছে তা তোমরা কি করে জানতে পারবে?’’
(শায়খ আলবানী বলেন, এই বাক্যগুলো ইমাম আহমাদও বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) وَعَنْ سعد بن أبي وقاص رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَأنَّ رَجُلاًنِ أَخَوَانِ فَهَلَكَ أَحَدُهُمَا قَبْلَ صَاحِبِهِ بِأَرْبَعِينَ لَيْلَةً فَذُكِرَتْ فَضِيلَةُ الْأَوَّلِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَمْ يَكُنْ الْآخَرُ مُسْلِمًا قَالُوا بَلَى وَكَانَ لَا بَأْسَ بِهِ
فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يُدْرِيكُمْ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلَاتُهُ؟ إِنَّمَا مَثَلُ الصَّلَاةِ كَمَثَلِ نَهْرٍ غَمْرٍ عَذْبٍ بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَقْتَحِمُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ فَمَا تَرَوْنَ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلَاتُهُ. رواه مالك واللفظ له وأحمد والنسائي وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭২. (হাসান সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ’কুযাআ’ গোত্রের ’বালি’ নামক বংশ থেকে দু’জন লোক রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে একজন শহীদ হয়ে যায়, অপরজন আরো এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তখন তালহা বিন উবায়দুল্লাহ বলেন, আমি স্বপ্নে জান্নাত দেখলাম আর দেখলাম যে দ্বিতীয় ব্যক্তি শহীদের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করেছে। আমি এতে আশ্চর্য হলাম। অতঃপর সকাল বেলা একথা নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে উল্লেখ করলাম। অথবা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পেশ করা হল।
তখন রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’সে কি তারপরে পুরা একটি রামাযানের রোযা রাখে নাই? সে কি তার পরে ৬ হাজার রাকাআত নামায আদায় করে নাই? এক বছরে এত এত রাকাআত নামায বেশী আদায় করে নাই?’’ (এর মাধ্যমে তার মর্যাদা আরো বেড়ে গেছে এবং সে প্রথম ব্যক্তির আগে জান্নাতে প্রবেশ করেছে।)
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ২/৩৩৩)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: كَأنَّ رَجُلاًنِ مِنْ بَلِيٍّ حَيٌّ مِنْ قُضَاعَةَ أَسْلَمَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَاسْتُشْهِدَ أَحَدُهُمَا، وَأُخِّرَ الْآخَرُ سَنَةً، قَالَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ: فَأُرِيتُ الْجَنَّةَ، فَرَأَيْتُ الْمُؤَخَّرَ مِنْهُمَا، أُدْخِلَ الْجَنَّةَ قَبْلَ الشَّهِيدِ، فَتَعَجَّبْتُ لِذَلِكَ، فَأَصْبَحْتُ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَوْ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَلَيْسَ قَدْ صَامَ بَعْدَهُ رَمَضَانَ، وَصَلَّى سِتَّةَ آلَافِ رَكْعَةٍ، أَوْ كَذَا وَكَذَا رَكْعَةً صَلَاةَ السَّنَةِ. رواه أحمد بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৩. (সহীহ লি গাইরিহী) উক্ত হাদীছটি ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, বায়হাক্বী সকলে তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন প্রায় একই ভাবে তবে আরো একটু দীর্ঘ করে।
ইবনে মাজা ও ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় অতিরিক্ত বলা হয়েছেঃ ’’তাদের উভয়ের মাঝে আসমান এবং যমিনের মধ্যবর্তী বরাবর দূরত্ব রয়েছে ছালাত, ছিয়াম ও এই সমস্ত নেক আমলের মাধ্যমে।’’ (হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনে মাজাহ ৩৯২৫, ইবনে হিব্বান ২৯২৭)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) ورواه ابن ماجه وابن حبان في صحيحه والبيهقي كلهم عن طلحة بنحوه أطول منه وزاد ابن ماجه وابن حبان في آخره فلما بينهما أبعد من السماء والأرض
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তিনটি বিষয়ের উপর আমি শপথ করতে পারিঃ
(১) যে ব্যক্তির মধ্যে ইসলামের অংশ রয়েছে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ঐ লোকের বরাবর করেন নাই যার মধ্যে ইসলামের কোন অংশ নেই। আর ইসলামের অংশ হচ্ছে তিনটি (ক) নামায (খ) রোযা (গ) যাকাত।
(২) কোন বান্দাকে যখন আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন কিয়ামতের দিন তাকে অন্য কারো বন্ধু বানিয়ে দিবেন না।
(৩) আর কোন ব্যক্তি যদি কোন জাতিকে ভালবাসে তাহলে আল্লাহ তাকে তাদের মধ্যে শামিল করবেন।
চতুর্থ আরেকটি বিষয় রয়েছে যদি তার জন্য শপথ করি তাহলে আশা করি আমি গুনাহগার হব না। আর তা হচ্ছে দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দার দোষ-ত্রুটি যদি গোপন রাখেন তাহলে কিয়ামতের দিনও আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’’
(ইমাম আহমাদ ৬/১৪৫ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) عَنْ عَائِشَةَ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثَلَاثٌ أَحْلِفُ عَلَيْهِنَّ لَا يَجْعَلُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ لَهُ سَهْمٌ فِي الْإِسْلَامِ كَمَنْ لَا سَهْمَ لَهُ فَأَسْهُمُ الْإِسْلَامِ ثَلَاثَةٌ الصَّلَاةُ وَالصَّوْمُ وَالزَّكَاةُ وَلَا يَتَوَلَّى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا فَيُوَلِّيهِ غَيْرَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُحِبُّ رَجُلٌ قَوْمًا إِلَّا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَعَهُمْ وَالرَّابِعَةُ لَوْ حَلَفْتُ عَلَيْهَا رَجَوْتُ أَنْ لَا آثَمَ لَا يَسْتُرُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. رواه أحمد بإسناد جيد
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৫. (ছহীহ লি গাইরিহী) এই হাদীছটি পূর্বের হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে।
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح) ورواه الطبراني في الكبير من حديث ابن مسعود
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৬. (ছহীহ লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ ইবনে কুরত্ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কিয়ামতের দিন বান্দা সর্বপ্রথম যে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে তা হচ্ছে "নামায’। যদি নামায সংশোধন হয়ে যায় তাহলে তার সমস্ত আমল সংশোধন হয়ে যাবে। আর নামায যদি বরবাদ হয় তাহলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] বর্ণনা করেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) وَعَنْ عبد الله بن قرْط رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ عليه الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ الصَّلاَةُ، فَإنْ صَلَحَتْ صَلَحَ ساَئِرُ عَمَلِهِ وإنْ فَسَدَتْ فَسَدَ ساَئِرُ عَمَلِهِ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৭. (ছহীহ লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কিয়ামতের দিন বান্দা সর্বপ্রথম যে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে তা হচ্ছে নামায। তার নামাযের দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে। যদি তার নামায সংশোধন বা বিশুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। আর তার নামায যদি বরবাদ থাকে তাহলে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ১/২৯২৩)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) وروي عن أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ الصَّلاَةُ يُنْظَرُ فِيْ صَلاَتِهِ فَإنْ صَلَحَتْ فَقَدْ أفْلَحَ وإنْ فَسَدَتْ خاَبَ وَخَسِرَ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৮. (ছহীহ লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞাসা করল কোন আমল সর্বোত্তম?
তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’নামায’’।
লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল: এরপর কোনটি?
তিনি বললেনঃ ’’এরপর নামায।’’
লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল: এরপর কোনটি?
তিনি বললেনঃ ’’এরপর নামায’’। তিনবার কথাটি বললেন।
লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: তারপরে কোনটি?
তিনি বললেনঃ ’’আল্লাহর পথে জিহাদ।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/১৭২, ইবনে হিব্বান ১৭১৯ হাদীছের বাক্য ইবনে হিব্বানের)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَجُلاً أتى رسولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فسأله عن أَفْضَلِ الأَعْمَالِ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاةُ قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قال ثُمَّ الصَّلاةُ قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قال ثُمَّ الصَّلاةُ ثلاث مرات، قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ:الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. رواه أحمد وابن حبان في صحيحه واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৭৯. (ছহীহ লি গাইরিহী) ছাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। আর তোমাদের আমলগুলোকে গণনা করিও না। জেনে রাখো তোমাদের সর্বোত্তম আমল হচ্ছে ’নামায’। আর মুমিন ছাড়া অন্য কেউ ওযুর প্রতি যত্নবান হয় না।’’
(হাকেম ১/১৩০, ইবনে হিব্বান ১০৩৪ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী ছহীহ্)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) و عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةَ وَلَنْ يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ
عن ثوبان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : استقيموا ولن تحصوا واعلموا أن خير أعمالكم الصلاة ولن يحافظ على الوضوء إلا مؤمن. رواه الحاكم وقال صحيح على شرطهما
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৮০. (ছহীহ লি গাইরিহী) ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] বর্ণনা করেন সালমা ইবনে আকওয়া (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয়ই তোমাদের আমলগুলোর মধ্যে থেকে সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আমল হচ্ছে নামায।" (তাবারানী আওসাত গ্রন্থে ৭/১১৬)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(صحيح لغيره) ورواه الطبراني في الأوسط من حديث سَلَمَةَ بن الأَكْوَعِ وقال فيه وَاعْلَمُوا أَنَّ أَفْضَلَ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاةُ
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৮১. (হাছান লি গাইরিহী) হানযালা আল কাতেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হবে অর্থাৎ তার রুকু, সেজদাগুলোকে যথাযথভাবে আদায় করবে এবং সময়মত নামায আদায় করবে, আর এ কথা জেনে নিবে যে এই নামাযগুলো হক্ব বা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অথবা তিনি বলেন তার জন্যে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে অথবা তিনি বলেন তার জন্যে জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে।’’
(এ হাদীছটি ইমাম আহমাদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন ৪/২৬৭)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن لغيره) و عَنْ حَنْظَلَةَ الْكَاتِبِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ: "مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ: رُكُوعِهِنَّ، وَسُجُودِهِنَّ، وَمَوَاقِيتِهِنَّ، وَعَلِمَ أَنَّهُنَّ حَقٌّ مِنْ عِنْدِ اللهِ، دَخَلَ الْجَنَّةَ " أَوْ قَالَ: " وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ أو قال حُرِّمَ عَلَى النَّارِ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ১৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা উহার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং উহা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে ঈমান রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৮২. (হাসান লি গাইরিহী) উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ’’যে ব্যক্তি একথা জানবে যে নামায সত্য তা ওয়াজেব হিসেবে লিখে দেওয়া হয়েছে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি আবু ইয়া’লা, আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ ১/৬০ ও হাকেম ১/৭২ বর্ণনা করেন)
الترغيب في الصلوات الخمس والمحافظة عليها والإيمان بوجوبها
(حسن لغيره) و عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "مَنْ عَلِمَ أَنَّ الصَّلَاةَ حَقٌّ مَكْتُوْبٌ وَاجِبٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ رواه أبو يعلى وعبد الله ابن الإمام أحمد على المسند والحاكم
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৩. (সহীহ্) আবু মালেক আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। ’আলহামদুলিল্লাহ’ নেকীর পাল্লাকে পরিপূর্ণ করে। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এই শব্দ দুটির নেকী আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়। নামায হচ্ছে নূর বা জ্যোতি। আর যাকাত হচ্ছে দলীল। ধৈর্য হচ্ছে চেরাগ। আর কোরআন হচ্ছে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল।[1]’’
(ইমাম মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেন ২২৩)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح) عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَآَنِ أَوْ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا. رواه مسلم وغيره
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৪. (হাছান লি গাইরিহী) আবু যার্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শীতকালে বের হলেন। সে সময় গাছের পাতা ঝরে ঝরে পড়ছিল। তিনি একটি গাছের ডাল ধরলেন তখন গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়তে থাকলো। তিনি বললেনঃ ’’হে আবু যার্!’’
বললাম: আমি হাজির, হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেনঃ ’’নিশ্চয় কোন মুসলিম বান্দা যখন নামায আদায় করে তা দ্বারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য করে, তখন তার গুনাহ্গুলো ঝরে পড়ে যায় যেমন করে এই গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ে।’’
(এ হাদীছটি ইমাম আহমদ ৫/১৭৯ উত্তম সনদে বর্ণনা করেন)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن لغيره) و عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ زَمَنَ الشِّتَاءِ وَالْوَرَقُ يَتَهَافَتُ فَأَخَذَ بِغُصْنِ مِنْ شَجَرَةٍ، قَالَ: فَجَعَلَ ذَلِكَ الْوَرَقُ يَتَهَافَتُ، قَالَ: فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ " قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: "إِنَّ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ لَيُصَلِّي الصَّلَاةَ يُرِيدُ بِهَا وَجْهَ اللهِ، فَتَهَافَتُ عَنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا يَتَهَافَتُ هَذَا الْوَرَقُ عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ. رواه أحمد بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৫. (সহীহ্) মা’দান বিন আবু তালহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহর (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আযাদকৃত কৃতদাস ছাওবান (রাঃ)এর সাথে দেখা করলাম। আমি তাঁকে বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি আমলের সংবাদ দিন যা করলে আল্লাহ তা’আলা বিনিময়ে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা তিনি এমন প্রশ্ন করলেন: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল কোনটি? ছাওবান (রাঃ) নীরব থাকলেন, আমি আবার তাকে এই প্রশ্ন করলাম তিনি নীরব থাকলেন, তারপর আমি আবারও তাকে এই প্রশ্নটি করলাম, তখন তিনি বললেন ঠিক এরকম প্রশ্ন আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেনঃ
’’তুমি অধিকহারে আল্লাহকে সিজদা করবে। কেননা যখনই তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করবে তখন আল্লাহ তা’আলা তোমার একটি মর্যাদা উন্নীত করবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন।’’
(ইমাম মুসলিম ৪৭৭ তিরমিযী ৩৮৮, নাসাঈ ২/২২৮, ইবনে মাজাহ্ ১৪২৩ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح) وَعَنْ مَعْدَانِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَقِيتُ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ أَعْمَلُهُ يُدْخِلُنِي اللَّهُ بِهِ الْجَنَّةَ أَوْ قَالَ قُلْتُ بِأَحَبِّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ فَسَكَتَ ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَسَكَتَ ثُمَّ سَأَلْتُهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ سَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ لِلَّهِ فَإِنَّكَ لَا تَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَكَ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْكَ بِهَا خَطِيئَةً. رواه مسلم والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৬. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উবাদা বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছেন যে, ’’কোন বান্দা যখন আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করবে, তখন আল্লাহ বিনিময়ে তাকে একটি নেকী প্রদান করবেন, তার একটি গুনাহ মুছে দিবেন এবং তার একটি মর্যাদা উন্নীত করবেন।’’
(ইবনে মাজাহ ১৪২৪ সনদ সহীহ্ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح لغيره) و عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَمَحَا عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً فَاسْتَكْثِرُوا مِنْ السُّجُودِ. رواه ابن ماجه بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৭. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’বান্দা তার পালনকর্তার সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় যখন সে সেজদা অবস্থায় থাকে। সুতরাং তোমরা সে সময় বেশী করে দু’আ কর।’’
(ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৪৮২)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ عز وجل وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) রাবিআ’ ইবনে কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সারাদিন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর খেদমত করতাম এবং রাতে তার দরজার কাছে ঘুমাতাম। তখন আমি শুনতে পেতাম তিনি এই তসবীহগুলো পাঠ করছেন: সুবহানাল্লাহ্, সুবহানাল্লাহ্, সুবহানা রাববী। এটা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে যেতাম এবং আমার চোখ আমাকে পরাজিত করত তখন আমি ঘুমিয়ে পড়তাম।
একদা তিনি (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ রাবিআ’! আমার কাছে কিছু চাও আমি তোমাকে দিব।’’
আমি বললামঃ আমাকে একটু সময় দিন আমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। একথা বলে আমি দুনিয়ার ক্ষনস্থায়িত্ব এবং তা বিনাশ হয়ে যাবার কথা স্মরণ করলাম। তারপর আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করবেন তিনি যেন আমাকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান।
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন তারপর বললেনঃ ’’এ প্রশ্ন করতে তোমাকে কে আদেশ করেছে?’’
আমি বললাম: কেউ আমাকে একথা বলতে বলেনি। কিন্তু আমি এটা জানি যে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এবং ধ্বংসশীল এবং আপনি আল্লাহ রাববুল আ’লামীনের কাছে মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি। সুতরাং আমি চাই আপনি আমার জন্যে আল্লাহর কাছে দু’আ করবেন।
তিনি বললেন আমি করবো। সুতরাং বেশী বেশী সেজদার মাধ্যমে তোমার জন্যে আমাকে সহযোগিতা করো।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
এবং ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদ সংক্ষিপ্তভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ রাবিআ’ বলেছেনঃ
كُنْتُ أَبِيتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فأَتِيهِ بِوَضُوئِهِ وَحَاجَتِهِ ، فَقَالَ لِيْ : سَلْنِيْ فَقُلْتُ أَسْأَلُكَ مُرَافَقَتَكَ فِي الْجَنَّةِ قَالَ أَوَغَيْرَ ذَلِكَ قُلْتُ هُوَ ذَاكَ قَالَ فَأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ
আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে রাত কাটাতাম এবং তাকে প্রয়োজনীয় জিনিস অথবা ওযুর পানি এনে দিতাম।
একদা তিনি আমাকে বললেনঃ ’’তুমি আমার কাছে কিছু চাও।’’ আমি বললামঃ আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই।
তিনি বললেনঃ ’’এটা ছাড়া অন্য কিছু?’’
আমি বললামঃ এটাই।
তিনি বললেনঃ ’’অতএব বেশী বেশী করে সেজদা করে তোমার জন্য আমাকে সহযোগিতা কর।’’ (মুসলিম ৪৮৯, আবূ দাউদ ১৩২০)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح لغيره) و عَنْ رَبِيعَةَ بن كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : كُنْتُ أَخْدُمُ أَخْدُمُ النبيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَارِي ، فَإِذَا كَانَ اللَّيْلُ آوَيْتُ إِلَى بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبِتُّ عِنْدَهُ ، فَلا أَزَالُ أَسْمَعُهُ ، يَقُولُ : سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ رَبِّي حَتَّى أَمَلُّ أَوْ تَغْلِبَنِي عَيْنِي فَأَنَامُ ، فَقَالَ يَوْماً : يَا رَبِيعَةُ سَلْنِي فَأُعْطِيَكَ ، قُلْتُ : أَنْظِرْنِي حَتَّى أَنْظُرَ ، وتَذَكَرْتُ أَنَّ الدُّنْيَا فَانِيَةٌ مُنْقَطِعَةٌ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَسْأَلُكَ أنْ تَدْعُوَ اللَّهَ أَنْ يُنْجِيَنِيْ مِنَ النَّارِ وَيُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ،
فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ قَالَ : مَنْ أَمَرَكَ بِهَذَا ؟ قُلْتُ : مَا أَمَرَنِي بِهِ أَحَدٌ ، وَلَكِنِّي عَلِمْتُ أَنَّ الدُّنْيَا مُنْقَطِعَةٌ فَانِيَةٌ وَأَنْتَ مِنَ اللَّهِ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَنْتَ مِنْهُ فأَحْبَبْتُ أنْ تَدْعُوَ اللَّهَ ، قَالَ : إِنِّي فَاعِلٌ ، فَأَعِنِّي على نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ.
رواه الطبراني في الكبير ورواه مسلم وأبو داود مختصرا
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৮৯. (হাসান সহীহ্) আবু ফাতেমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ’’হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন একটি আমলের সংবাদ দিন যা আমি বাস্তবায়ন করবো এবং তার উপর অবিচল থাকব।
তিনি বললেনঃ ’’তুমি বেশী করে সেজদা করবে। কেননা যখনই তুমি আল্লাহর জন্য সেজদা করবে তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার মর্যাদা উন্নীত করবেন এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’’
(ইবনে মাজাহ্ ১৪২২ হাদীছটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন)
হাদীছটি ইমাম আহমাদ সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণনা করেন। তার বর্ণনায় এরকম বলা হয়েছেঃ
قَالَ لِي نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَا أَبَا فَاطِمَةَ، إِنْ أَرَدْتَ أَنْ تَلْقَانِي فَأَكْثِرِ السُّجُودَ
তখন আল্লাহর নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ
’’হে আবু ফাতেমা! যদি তুমি জান্নাতে আমার সাক্ষাৎ পেতে চাও তবে বেশী করে সেজদা কর।’’ (আহমাদ ১৫৫২৬)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن صحيح ) وَعَنْ أبي فاطمة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ أَسْتَقِيمُ عَلَيْهِ وَأَعْمَلُهُ قَالَ عَلَيْكَ بِالسُّجُودِ فَإِنَّكَ لَا تَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَكَ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ بِهَا عَنْكَ خَطِيئَةً. رواه ابن ماجه بإسناد جيد ورواه أحمد مختصرا
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯০. (হাছান লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সালাত হচ্ছে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়। অতএব কেউ যদি পারে তবে যেন বেশী করে সালাত আদায় করে।’’
(ত্বাবরানী আওসাত গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, মাযমাউল যাওয়ায়েদ ৩৫০৫)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن لغيره) وروي عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"الصَّلاةُ خَيْرُ مَوْضُوعٍ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَسْتَكْثِرَ فَلْيَسْتَكْثِرَ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯১. (হাসান সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা এক কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। জিজ্ঞেস করলেনঃ
’’এই কবরের অধিবাসী কে?’’ তারা বললেন, অমুক ব্যক্তি।
তিনি বললেন, ’’বর্তমানে তোমাদের দুনিয়ার সমস্ত ধন সম্পদ থেকে এই লোকটির কাছে অধিক প্রিয় হচ্ছে দু’রাকাআত নামায।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] ১/৪৩৪ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن صحيح ) وَ عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِقَبْرٍ، فَقَالَ:"مَنْ صَاحِبُ هَذَا الْقَبْرِ؟"فَقَالُوا: فُلانٌ، فَقَالَ:"رَكْعَتَانِ أَحَبُّ إِلَى هَذَا مِنْ بَقِيَّةِ دُنْيَاكُمْ".رواه الطبراني بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯২. (সহীহ্ লি গাইরিহী) মুতার্রেফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কুরাইশ গোত্রের একদল লোকের কাছে আমি বসে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায পড়তে লাগলেন। তিনি রুকূ’ করছেন আর সিজদা করছেন, বিশ্রাম নিচ্ছেন না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ লোকটি বলতে পারবে না, সে বেজোড় নামায পড়ছে না জোড় নামায পড়ছে। আমার সাথীরা বলল, আপনি তার কাছে গিয়ে কথাটি বলুন না? আমি উঠে গিয়ে তাকে বললাম, আল্লাহর বান্দা আমার তো মনে হচ্ছে, আপনি বলতে পারবেন না যে, আপনি জোড় না বেজোড় নামায আদায় করে ফিরবেন? তিনি বললেন, কিন্তু আল্লাহ্ জানেন! আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
’’যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, তা দ্বারা আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লিখে দিবেন, একটি গুনাহ মোচন করবেন এবং একটি মর্যাদা উন্নীত করবেন।’’
আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি আবু যার। আমি সাথীদের নিকট ফিরে গিয়ে বললাম, তোমরা কতই না খারাপ সঙ্গী! আল্লাহ্ তোমাদের সেইরূপ প্রতিদান দিন। তোমরা আমাকে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর একজন সাহাবীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আমাকে আদেশ করেছো!
(সহীহ লিগাইরিহী) অপর বর্ণনায়ঃ
আমি দেখলাম উনি দীর্ঘক্ষণ ক্বিয়াম করছেন আর বেশী বেশী রুকূ’-সিজদা করছেন। আমি তাকে গিয়ে কথাটি বললে, তিনি বললেন, নামায সুন্দর করতে তো আমি কোন ত্রুটি করিনি! আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি একটি রুকূ করে বা একটি সিজদা করে, বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা উন্নীত করা হয় এবং একটি গুনাহ মোচন করা হয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২১৩০৮ ও বাযযার)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح لغيره) وَ عَنْ مُطَرِّفٍ، قَالَ: قَعَدْتُ إِلَى نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَجَعَلَ يُصَلِّي: يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ وَلَا يَقْعُدُ، فَقُلْتُ: وَاللهِ مَا أَرَى هَذَا يَدْرِي يَنْصَرِفُ عَلَى شَفْعٍ أَوْ وِتْرٍ، فَقَالُوا: أَلَا تَقُومُ إِلَيْهِ فَتَقُولَ لَهُ؟ قَالَ: فَقُمْتُ فَقُلْتُ: يَا عَبْدَ اللهِ، مَا أَرَاكَ تَدْرِي تَنْصَرِفُ عَلَى شَفْعٍ أَوْ عَلَى وَتْرٍ؟ قَالَ: وَلَكِنَّ اللهَ يَدْرِي، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ سَجَدَ لِلَّهِ سَجْدَةً، كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً، وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً، وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً " فَقُلْتُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَقَالَ: أَبُو ذَرٍّ. فَرَجَعْتُ إِلَى أَصْحَابِي، فَقُلْتُ: جَزَاكُمُ اللهُ مِنْ جُلَسَاءَ شَرًّا، أَمَرْتُمُونِي أَنْ أُعَلِّمَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(صحيح لغيره) وفي رواية فَرَأَيْتُهُ يُطِيلُ الْقِيَامَ، وَيُكْثِرُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: مَا أَلَوْتُ أَنْ أُحْسِنَ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ رَكَعَ رَكْعَةً أَوْ سَجَدَ سَجْدَةً رُفِعَ بِهَا دَرَجَةً، وَحُطَّتْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ " (رواه أحمد والبزار بنحوه)
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯৩. (হাসান) ইউসুফ বিন আবদুস্ সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবু দারদা (রাঃ) যে অসুস্থতায় মৃত্যু বরণ করেন সে সময় আমি তা সুশ্রূষা করার জন্য তাঁর কাছে আগমণ করলে তিনি বলেনঃ ওহে ভ্রাতুষ্পুত্র! কি কাজে তুমি এ শহরে এসেছো? অথবা কোন্ কাজ তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? তিনি বললেনঃ কোন কাজে নয়; বরং আপনার সাথে আমার পিতা আবদুস্ সালামের যে সম্পর্ক ছিল সে কারণেই আমি আপনার নিকট আগমণ করেছি।
তিনি বললেনঃ মিথ্যা কথা বলার জন্য এটা খুবই খারাপ সময়। আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’যে ব্যক্তি ওযু করে এবং ওযুকে সুন্দরভাবে সম্পাদন করে। অতঃপর দন্ডায়মান হয়ে দু’রাকাআত অথবা চার রাকাআত (বর্ণনাকারী সাহলের সন্দেহ) নামায আদায় করে, তাতে সুন্দরভাবে যিকির ও দু’আ সমূহ পাঠ করে বিনয়ের সাথে নামায আদায় করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তাকে ক্ষমা করা হয়।’’
(ইমাম আহমাদ হাসান সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২৭৫৪৬)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن ) وَعَنْ يوسف بن عبد الله بن سَلَامٍ، قَالَ: أَتَيْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي مَرَضِهِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ فَقَالَ لِي: يَا ابْنَ أَخِي مَا أَعْمَلَكَ الى هَذِه الْبَلَدِ - أَوْ مَا جَاءَ بِكَ ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا إِلَّا صِلَةُ مَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ وَالِدِي عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ فَقَالَ: بِئْسَ سَاعَةُ الْكَذِبِ هَذِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، أَوْ أَرْبَعًا - يشكَّ سَهْلٌ - يُحْسِنُ فِيهِمَا الذِّكْرَ ، وَالْخُشُوعَ ثُمَّ يسْتَغْفِرُ اللهَ غَفَرَ لَهُ ". رواه أحمد بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯৪. (হাসান ছহীহ্) যায়দ বিন খালেদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ওযুকে সুন্দররূপে সম্পাদন করবে। তারপর দু’রাকাআত নামায আদায় করবে, তাতে কোন ভুল করবে না, তবে তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৯০৫) তাঁর আরেক বর্ণনায়ঃ[1]
مَا مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ عَلَيْهِمَا إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
’’যে কেউ ওযু করবে- তার ওযুকে সুন্দরূপে সম্পাদন করবে এবং দু’রাকাআত নামায আদায় করবে, তাতে নিজের অন্তর ও মুখমণ্ডল কে নামাযের প্রতি নিবিষ্ট রাখবে (অর্থাৎ- অন্তরের একাগ্রতা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্থীরতা সহকারে নামায পড়বে), তার জন্যে জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে।’’ (আবূ দাউদ ৯০৬)
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
) (حسن صحيح ) وَ عَنْ زَيْدِ بن خَالِدٍ الجهني رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لا يَسْهُوَ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯৫. (সহীহ্) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে নিজেরা নিজেদের খিদমত করতাম। আমরা পরস্পর পালা করে উট চরাতাম। আমার উট চরানোর পালা এলে আমি তা বিকালের দিকে মাঠে নিয়ে যেতাম। একদিন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সামনে বক্তৃতা করছিলেন। তখন আমি শুনলাম তিনি একথা বলছেনঃ
’’তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ওযু করে, অতঃপর ওযুকে সুন্দররূপে সম্পাদন করে, তারপর হৃদয়-শরীরকে নিবিষ্ট করে দু’রাকাআত নামায আদায় করে, তবে সে (এমন আমল করল যা জান্নাতকে) আবশ্যক করে দিবে।’’ আমি বললাম, বাহ্ বাহ্ কতই না সুন্দর কথা!
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ২৩৪, আবু দাউদ ১৬৯, নাসাঈ ১/১৪, ইবনে মাজাহ ৪৭০, ইবনে খুযায়মা ও হাকেম, হাদীছের বাক্য আবু দাউদের)
তবে হাকেমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
ما من مسلم يتوضأ فيسبغ الوضوء ثم يقوم في صلاته فيعلم ما يقول إلا انفتل وهو كيوم ولدته أمه الحديث وقال صحيح الإسناد أوجب أي أتى بما يوجب له الجنة
’’যে কোন মুসলমান যদি ওযু করে, অতঃপর ওযুকে পূর্ণরূপে সম্পাদন করে, তারপর নামাযে দন্ডায়মান হয়, সে জানে যে নামাযে কি বলছে, তবে সে নামায থেকে সেই দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে যাবে, যে দিন তার মাতা তাকে ভূমিষ্ট করেছিল।’’
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(صحيح) وَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُدَّامَ أَنْفُسِنَا نَتَنَاوَبُ الرِّعَايَةَ رِعَايَةَ إِبِلِنَا فَكَانَتْ عَلَيَّ رِعَايَةُ الْإِبِلِ فَرَوَّحْتُهَا بِالْعَشِيِّ فإذا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلَّا قَدْ أَوْجَبَ فَقُلْتُ بَخٍ بَخٍ مَا أَجْوَدَ هَذِهِ . رواه مسلم وأبو داود واللفظ له والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة ورواه الحاكم
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সাধারণ ভাবে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, রুকু, সেজদা এবং বিনয় নম্রতার ফযীলত
৩৯৬. (হাসান সহীহ) আসেম বিন সুফিয়ান ছাক্বাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা ’যাতু সালাসিল’ নামক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাতে যুদ্ধ হয়নি তখন তারা সে এলাকায় সীমান্ত পাহারার জন্য কিছু দিন অবস্থান করেন। অতঃপর তারা ফিরে আসেন মুআ’বিয়ার কাছে। সে সময় মুআ’বিয়ার (রাঃ) কাছে ছিলেন আবু আইয়্যুব আনসারী (রাঃ) এবং উকবা বিন আমের (রাঃ)। তখন আসেম (রাঃ) বললেন, হে আবু আইয়্যুব! বিগত বছর আমরা যুদ্ধ করতে পারিনি। আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, যে ব্যক্তি চারটি মসজিদে[1] নামায আদায় করবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। তখন আবু আইয়্যুব (রাঃ) বললেন, ভাতিজা! আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ কোন আমলের সংবাদ দিব না? আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি ওযু করে যেভাবে তাকে আদেশ করা হয়েছে সেভাবে। অতঃপর নামায আদায় করে যেভাবে নির্দেশ হয়েছে সেভাবে। তাহলে সে পূর্বে যে আমলই করে থাকুক না কেন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’’ হে উকবা কথাটি কি ঠিক নয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ১/৯০, ইবনে মাজাহ ১৩৯৬ ও ইবনে হিব্বান ১০৩৯)
ওযুর অধ্যায়ে আমর বিন আব্সা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছের শেষাংশে বলা হয়েছেঃ
فإن هو قام فحمد الله وأثنى عليه ومجده بالذي هو له أهل وفرغ قلبه لله تعالى إلا انصرف من خطيئته كيوم ولدته أمه.
(সহীহ্) ’’অতঃপর সে যদি দন্ডায়মান হয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তণ করে, তিনি যে সকল গুণের অধিকারী তা দ্বারা তাঁর মহাত্ম্য বর্ণনা করে এবং আল্লাহ তা’আলার জন্যে অন্তরকে একনিষ্ঠ করে, তবে সে তার গুনাহ থেকে এমন দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে যেদিন তার মাতা তাকে ভূমিষ্ট করেছিল।’’[2]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ২২৮)
ইতোপূর্বে উছমান (রাঃ)এর হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেন:
مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاةٌ مَكْتُوبَةٌ ، فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا ، وَخُشُوعَهَا ، وَرُكُوعَهَا إِلا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ ، مَا لَمْ تُؤْتَ كَبِيرَةٌ ، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ. رواه مسلم
(সহীহ্) ’’কোন মুসলিম ব্যক্তির নিকট যখন ফরয ছালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে সুন্দরভাবে ওযু করে এবং রুকু-সিজদাগুলো বিনয়-নম্রতার সাথে সম্পাদন করে। তাহলে তা পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ হয়ে যায়- যতক্ষণ সে কাবীরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। আর তা বছরে সব সময়ের জন্য।’’[3]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ২২৮)
এছাড়া উবাদা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছও পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلَّاهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ.
(সহীহ্ লি গাইরিহী) ’’আল্লাহ তা’আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, যে ব্যক্তি সময়মত সুন্দররূপে ওযু করবে পরিপূর্ণরূপে রুকূ’-সিজদা ও একাগ্রতাসহ নামায আদায় করবে, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তা’আলার অঙ্গিকার রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’’ (আবূ দাউদ ৪২৫) [4]
الترغيب في الصلاة مطلقا وفضل الركوع والسجود والخشوع
(حسن صحيح) وَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُفْيَانَ الثقفي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّهُمْ غَزَوْا غَزْوَةَ السَّلاسِلِ ، فَفَاتَهُمُ الْغَزْوُ ، فَرَابَطُوا ، ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ وَعَنْدَهُ أَبُو أَيُّوبَ ، وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ ، فَقَالَ عَاصِمٌ : يَا أَبَا أَيُّوبَ ، فَاتَنَا الْغَزْوُ الْعَامَ ، وَقَدْ أُخْبِرْنَا أَنَّهُ مَنْ صَلَّى فِي الْمَسَاجِدِ الأَرْبَعَةِ غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ ، فَقَالَ : يَا ابْنَ أَخِي ، أَدُلُّكَ عَلَى أَيْسَرَ مِنْ ذَلِكَ ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ( يَقُولُ : مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ ، وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ ، غُفِرَ لَهُ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ ، أَكَذَلِكَ يَا عُقْبَةُ ؟ قَالَ : نَعَمْ . رواه النسائي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه
[2] . দ্রঃ ১৮৬ নং হাদীছ।
[3] . দ্রঃ ৩৬৪ নং হাদীছ।
[4] . দ্রঃ ৩৭০ নং হাদীছ।
পরিচ্ছেদঃ ১৫) প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৯৭. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল কোনটি?
তিনি বললেন, ’’সময়মত নামায আদায় করা।’’
আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি?
তিনি বললেনঃ ’’পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।’’
আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এরপরে কোনটি?
তিনি বললেনঃ ’’আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’’ এগুলো রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সামনে বর্ণনা করেছেন। আমি যদি তাঁর কাছে আরো বেশী জিজ্ঞাসা করতাম তাহলে তিনি আমাকে আরো বেশী বলতেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ৫২৭, মুসলিম ৮৫, নাসাঈ ১/২৯২, তিরমিযী ১৮৯৮)
الترغيب في الصلاة في أول وقتها
(صحيح) عبد الله بن مسعود - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - ، قَالَ : سألت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : أيُّ العَمَلِ أحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ : (( الصَّلاةُ عَلَى وَقْتِهَا )) ، قُلْتُ : ثُمَّ أي ؟ قَالَ : (( بِرُّ الوَالِدَيْنِ )) ، قُلْتُ : ثُمَّ أيٌّ ؟ قَالَ : (( الجِهَادُ في سبيلِ الله )) قَالَ حَدَّثَنِي بِهِنَّ رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.
رواه البخاري ومسلم والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১৫) প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৯৮. (সহীহ্) রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জনৈক ছাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করা হলো: সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ ’’সময়মত নামায আদায় করা, পিতামাতার খেদমত করা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।’’
(আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫/৩৬৮)
الترغيب في الصلاة في أول وقتها
(صحيح) وَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أصْحَابِ رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أيُّ الْعَمَلِ أفْضلُ ؛ (قَالَ شُعْبَةُ : أوْ قَالَ :) أفْضَلُ الْعَمَلِ ؛ الصَّلاَةُ لِوَقْتِهَا ، وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ ، وَالْجِهَادُ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ১৫) প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৩৯৯. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উম্মে ফারওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করা হলো কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ ’’প্রথম ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৪২৬ ও তিরমিযী ১৭০)
[উম্মে ফারওয়া (রাঃ) হলেন আবু বকর (রাঃ) এর বৈপ্রিত্রিয় বোন]
الترغيب في الصلاة في أول وقتها
(صحيح لغيره) وَعَنْ أُمِّ فَرْوَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا وَكَانَتْ مِمَّنْ بَايع النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلَاةُ لِأَوَّلِ وَقْتِهَا
(رواه أبو داود والترمذي )
পরিচ্ছেদঃ ১৫) প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪০০. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উবাদা বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’মহামহিম আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, যে ব্যক্তি সময়মত সুন্দররূপে ওযু করবে পরিপূর্ণরূপে রুকূ’-সিজদা ও একাগ্রতাসহ নামায আদায় করবে, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তা’আলার অঙ্গিকার রয়েছে যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি এ কাজ করবে না তার জন্যে আল্লাহর কোন অঙ্গিকার নেই, তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/১২৩, আবু দাউদ ১৪২০, নাসাঈ ১/২৩০ ও ইবনে হিব্বান ১৭২৯)
الترغيب في الصلاة في أول وقتها
(صحيح لغيره) وَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال أَشْهَدُ أَنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ عز وجل مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وسجودهن وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ. رواه مالك وأبو داود والنسائي وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ১৫) প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪০১. (হাসান লি গাইরিহী) কা’ব বিন উ’জরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একদা সাত ব্যক্তি এক জায়গায় বসে ছিলাম এমন সময় রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে আগমন করলেন। আমাদের সাত জনের মধ্যে চার জন আযাদকৃত দাস আর তিনজন ছিলেন স্বাধীন ব্যক্তি। আমরা তখন মসজিদের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম।
তখন তিনি (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’কি কারণে তোমরা এখানে বসে আছো।’’
আমরা বললামঃ নামাযের অপেক্ষায় আমরা বসে আছি।
তখন তিনি কিছুক্ষন চুপ থাকলেন। তারপর তিনি আমাদের সামনে আসলেন এবং বললেনঃ
’’তোমরা কি জানে তোমাদের পালনকর্তা কি বলেছেন?’’
আমরা বললামঃ না।
তিনি বললেনঃ ’’তোমাদের পালনকর্তা বলেছেন, যে ব্যক্তি সময়মত নামায আদায় করবে এবং উহার প্রতি যত্নবান হবে। আর কোন একটি নামাযের অধিকারকে হালকা মনে করে তা বিনষ্ট করবে না। তাহলে তার জন্যে আমার উপর অঙ্গিকার হলো আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি সময়মত নামায আদায় করবে না, তার প্রতি যত্নবান হবে না এবং এর অধিকারকে হালকা মনে করে বিনষ্ট করবে। তাহলে তার জন্যে আমার উপর কোন অঙ্গিকার নেই। আমি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিব, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিব।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ ৪/২৪৪ অনুরূপভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)
الترغيب في الصلاة في أول وقتها
(حسن لغيره) وروي عن كَعْبُ بن عُجْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ سَبْعَةُ نَفَرٍ، أَرْبَعَةٌ مِنْ مَوَالِينَا، وَثَلاثَةٌ مِنْ عَرَبِنَا مُسْنِدِي ظُهُورَنَا إِلَى مَسْجِدِهِ، فَقَالَ:"مَا أَجْلَسُكُمْ؟"، قُلْنَا: جَلَسْنَا نَنْتَظِرُ الصَّلاةَ، قَالَ: فَأَرَمَ قَلِيلا، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا ، فَقَالَ:"هَلْ تَدْرُونَ مَا يَقُولُ رَبُّكُمْ؟"، قُلْنَا: لا، قَالَ:"فَإِنَّ رَبَّكُمْ، يَقُولُ: مَنْ صَلَّى الصَّلاةَ لِوَقْتِهَا، وَحَافَظَ عَلَيْهَا، وَلَمْ يُضَيِّعْهَا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا، فَلَهُ عَلِيَّ عَهْدٌ، أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَمْ يُصَلِّهَا لِوَقْتِهَا، وَلَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا وَلَمْ يضيعها اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا فَلاهُ عَلِيَّ عَهْدَ أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَمْ يُصَلِّهَا لِوَقْتِهَا، وَلَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا فَلا عَهْدَ لَهُ عَلِيَّ إِنْ شِئْتُ عَذَّبْتُهُ، وَإِنْ شِئْتُ غَفَرْتُ لَهُ". رواه الطبراني في الكبير والأوسط وأحمد بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০২. (সহীহ্) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কোন ব্যক্তির একাকি নিজ গৃহে অথবা বাজারে নামায পড়ার চেয়ে জামাআতে নামায পড়া ২৫ গুণ বেশী ছোয়াবের। আর তা হচ্ছে এই কারণে যখন সে ওযু করে এবং ওযুকে পরিপূর্ণরূপে সম্পন্ন করে অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়। তার বের হওয়া শুধু এই কারণে যে সে নামায আদায় করবে, তাহলে সে যখনই একটি পা ফেলবে তখনই তার জন্যে একটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে এবং তার একটি গুনাহ মোচন করা হবে। যতক্ষণ সে নামায আদায় করবে এবং মুছাল্লায় বা মসজিদে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্যে দু’আ করতে থাকবে, হে আল্লাহ তার প্রতি রহম কর, তার প্রতি করুণা কর। আর যতক্ষন পর্যন্ত সে নামাযের অপেক্ষা করবে ততক্ষণ সে নামায অবস্থাতেই থাকবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৪৭, মুসলিম ৬৪৯, আবু দাউদ ৫৫৯, তিরমিযী ৬০৩, ইবনে মাজাহ ৭৭৪, হাদীছের বাক্য বুখারী থেকে নেয়া)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قال رَسُولُ اللهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : (( صَلاةُ الرَّجُلِ في جَمَاعةٍ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاتِهِ فِي بَيْتهِ وفي سُوقِهِ خَمْساً وَعِشْرِينَ ضِعْفَاً ، وَذلِكَ أَنَّهُ إذَا تَوَضَّأ فَأحْسَنَ الوُضُوءَ ، ثُمَّ خَرَجَ إلى المَسْجِدِ ، لا يُخرِجُهُ إلاَّ الصَّلاةُ ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ ، وَحُطَّتْ عَنهُ بِهَا خَطِيئَةٌ ، فَإذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ المَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ في مُصَلاَّهُ ، مَا لَمْ يُحْدِث ، تقولُ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيهِ ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ ، وَلاَ يَزَالُ في صَلاةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ)). (رواه البخاري واللفظ له ومسلم وأبو داود والترمذي وابن ماجه)
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৩. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’একাকি নামায পড়ার চেয়ে জামাআতে নামায পড়া ২৭গুণ বেশী ছোয়াবের।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/১২৯, বুখারী ৬৪৫, মুসলিম ৬৫০, তিরমিযী ২১৫, নাসাঈ ২/১০৩)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال ((صَلاَةُ الْجَمَاعَة أفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً )). رواه مالك والبخاري ومسلم والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৪. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি আগামীকাল মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার আনন্দ পেতে চায়, সে যেন যখনই আযান দেয়া হবে তখনই যেন এই নামাযগুলোর প্রতি যত্নবান হয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীর জন্যে হেদায়েতের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন এবং এই নামাযগুলো হচ্ছে তার হেদায়তের পথ। তোমরা যদি এই নামাযগুলো বাড়িতে আদায় কর যেমন জামাআত পরিত্যাগকারী এই ব্যক্তি নিজ বাড়ীতে নামায আদায় করে থাকে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর অনুসরণ ছেড়ে দিলে। আর তোমরা যদি তোমাদের নবীর অনুসরণ ছেড়ে দাও তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।
আর যখন কোন ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করে এবং সুন্দর রূপে পবিত্রতার কাজগুলো সম্পাদন করে, তারপর যে কোন একটি মসজিদের উদ্দেশ্যে গমন করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি নেকী লিখে দেন, একটি মর্যাদা উন্নীত করেন এবং একটি গুনাহ মোচন করেন। আমরা দেখেছি আমাদের যুগে প্রকৃত মুনাফেক ছাড়া কেউ জামাআতে অনুপস্থিত থাকতো না। আমাদের মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তিকেও দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে মসজিদে আনা হতো এবং নামাযের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হতো।
অন্য বর্ণনায় এসেছেঃ
আমরা দেখেছি জামাআতে নামায থেকে জানা-শোনা মুনাফিক অথবা অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ বিরত থাকতো না। যদিও কোন কোন সময় অসুস্থ ব্যক্তিও দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে আসতেন।
তিনি আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হেদায়েতের পথ শিখিয়ে দিয়েছেন এবং তার হেদায়াতের পথ হচ্ছে যে মসজিদে আযান হয় সেখানে গিয়ে নামায আদায় করা।’’
(ইমাম মুসলিম ৬৪৫, আবু দাউদ ৫৫০, নাসাঈ ২/১০৮ ও ইবনে মাজাহ ৭৭৭ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح) وَعَنْ ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا ، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ . فَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدَى ، وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى ، وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ ، لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ ، وَمَامِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ، ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ ، إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً ، وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً ، وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً ، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَايَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ ، مَعْلُومُ النِّفَاقِ ، وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ ، يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ، حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ.
- وفي رواية : لَقَدْ رَأَيْتُنَا ، وَمَايَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلاَةِ ، إِلاَّ مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ ، أَوْ مَرِيضٌ ، إِنْ كَانَ الْمَرِيضُ لَيَمْشِي بَيْنَ رَجُلَيْنِ ، حَتَّى يَأْتِي الصَّلاَةَ . وَقَالَ : أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى ، وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى ، الصَّلاَةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ.
رواه مسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৫. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’একাকি নামায পড়ার চাইতে জামাআতে নামায পড়া ২০ গুণের অধিক বেশী ছোয়াবের।’’
অপর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ ’’২০ গুণের প্রত্যেকটি নিজ বাড়ীতে নামায পড়ার অনুরূপ।’’[1]
(আহমদ ১/৩৭৬, বাযযার ৩৫৫, আবু ইয়া’লা, ত্বাবরানী ও ইবনে খুযায়মা ২/৩৬৩)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " فَضْلُ صَلَاةِ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ، بِضْعٌ وَعِشْرُونَ دَرَجَةً "
وفي رواية (صحيح) كُلُّهَا مِثْلُ صَلاتِهِ فِي بَيْتِهِ. رواه أحمد وأبو يعلى والبزار والطبراني وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৬. (হাসান) আবদুল্লাহ বিন ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ তা’আলা জামাআতের সাথে নামায আদায় করা দেখে আশ্চর্য হন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ ২/৫০ ও ত্বাবরানী)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(حسن ) وَعَنْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَيَعْجَبُ مِنَ الصَّلَاةِ فِي الْجَمْعِ. (رواه أحمد رواه الطبراني)
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৭. (সহীহ্) উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি ওযু করে এবং ওযুকে পরিপূর্ণভাবে সম্পাদন করে। অতঃপর ফরয নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে মসজিদে চলে, তারপর ইমামের সাথে নামায আদায় করে, তাহলে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’’
(ইবনে খুযায়মা ২/৩৭৩)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح) و عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ مَشَى إِلَى صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ فَصَلاَّهَا مَعَ الإِمَامِ ، غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ.(رواه ابن خزيمة في صحيحه)
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৮. (সহীহ লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’স্বপ্নযোগে আজ রাতে আমার প্রভুর পক্ষ থেকে একজন আমার কাছে এসেছিলেন।’’
অপর বর্ণনায়ঃ
’’আমি স্বপ্নে আমার পালনকর্তাকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম: লাববাইকা ওয়া সাআ’দাইকা হে আমার প্রভু! (আমি আপনার সামনে হাজির এবং আপনার সৌভাগ্য নিতে প্রস্ত্তত।) তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ কোন বিষয় নিয়ে পরস্পর বির্তক করছে? আমি বললামঃ আমি জানি না। তখন তিনি আমার দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে স্বীয় হাত রাখলেন এমনকি আমি তার ঠান্ডা অনুভব করলাম আমার দুই স্তনের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা বলেছেন- বুকের মধ্যে। অতঃপর আমি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের যা কিছু আছে তা জানতে পারলাম অথবা তিনি বলেছেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যখানে যা আছে তা আমি জানতে পারলাম।[1]
তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতগণ কি বিষয় নিয়ে পরস্পর বির্তক করছে? আমি বললাম হ্যাঁ। তা হচ্ছে মর্যাদা উন্নীত করণ, পাপ মোচন, জামাআতে নামায আদায় করার জন্য পা উঠিয়ে মসজিদে যাওয়া, কঠিন ঠান্ডার সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকা। যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে সে কল্যাণের সাথে জীবন-যাপন করবে এবং কল্যাণের মাঝে তার মৃত্যু হবে। আর সে তার পাপ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেমন তার মাতা তাকে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ট করেছিল।
তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি বললাম: ’লাববাইকা ওয়া সা’দাইকা’। আল্লাহ বললেনঃ তুমি নামায আদায় করলে এ দু’আটি পাঠ করবেঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ.
হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি নেক কাজ করা, অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করা এবং মিসকীনদের ভালবাসার তাওফীক। আপনি যদি বান্দাদের ফেতনায় ফেলতে চান তাহলে কোন ধরণের ফেতনা ছাড়াই আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন।’’ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’মর্যাদার ব্যাখ্যা হচ্ছে যেমন: সালাম প্রচার করা, ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানো, রাতে মানুষ যখন নিদ্রায় থাকে তখন নফল নামায আদায় করা।’’
(ইমাম তিরমিযী ৩২৩৩ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেনঃ হাদীছটি হাসান গারীব)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَتَانِى اللَّيْلَةَ رَبِّى (وفي رواية) رأيت ربي فِى أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ قلت لبيك رب وسعديك قال هَلْ تَدْرِى فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ لاَ أعلم فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَىَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَىَّ أَوْ قَالَ فِى نَحْرِى فَعَلِمْتُ مَا فِى السَّمَوَاتِ وَمَا فِى الأَرْضِ أو قَالَ ما بين المشرق والمغرب قَالَ يَا مُحَمَّدُ أتَدْرِى فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فِى الدرجات وَالْكَفَّارَات ونقل الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِى فِي السَّبَراتِ وانتظار الصلاة ومن حافظ عليهن عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ ذنوبه كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ قَالَ يَا مُحَمَّدُ قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ فَقَالَ إِذَا صَلَّيْتَ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِى إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ قَالَ وَالدَّرَجَاتُ إِفْشَاءُ السَّلاَمِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَالصَّلاَةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ. رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪০৯. (হাসান লিগাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে চল্লিশ দিন জামাআতের সাথে তাকবীরে উলাসহ[1] নামায আদায় করবে, তার জন্য দু’টি মুক্তিনামা লেখা হবেঃ প্রথমটি হচ্ছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দ্বিতীয়টি হচ্ছে মুনাফেকী থেকে মুক্তি।’’
(ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২৪১)
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(حسن لغيره) عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الْأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنْ النِّفَاقِ. رواه الترمذي
পরিচ্ছেদঃ ১৬) জামাআতে নামায আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে কিন্তু গিয়ে দেখলো, লোকেরা নামায পড়ে ফেলেছে
৪১০. (হাসান লিগাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং তার ওযুকে উত্তমরূপে সম্পাদন করবে। অতঃপর নামাযের জন্য মসজিদে যাবে কিন্তু গিয়ে দেখবে যে লোকেরা নামায পড়ে নিয়েছে, তাহলে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে সেই সমস্ত লোকের সমান প্রতিদান দান করবেন যারা ঐ নামায পড়েছে এবং তাতে উপস্থিত হয়েছে। এতে ঐ লোকদের ছোয়াবে কোন কমতি করা হবে না।
(আবু দাউদ ৫৬৪, নাসাঈ ২/১১১, হাকেম ১/২০৮। হাকেম বলেন, হাদীছটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী ছহীহ্)
ইতোপূর্বে সাঈদ বিন মুসায়্যেব কর্তৃক জনৈক আনসার সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেনঃ
فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فِي جَمَاعَةٍ غُفِرَ لَهُ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا بَعْضًا وَبَقِيَ بَعْضٌ صَلَّى مَا أَدْرَكَ وَأَتَمَّ مَا بَقِيَ كَانَ كَذَلِكَ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ كَانَ كَذَلِكَ
’’যদি কেউ মসজিদে আসে অতঃপর জামাআতে নামায আদায় করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর মসজিদে এসে যদি দেখে যে লোকেরা কিছু নামায পড়ে নিয়েছে এবং কিছু নামায বাকী রয়েছে। তবে যা পাবে তা তাদের সাথে আদায় করবে এবং যা ছুটে গেছে তা পুরা করবে, তবে সে অনুরূপই ছোয়াব পাবে। আর যদি মসজিদে এসে পায় যে লোকেরা নামায পড়ে নিয়েছে, তাহলে সে নামাযকে পূর্ণ করবে তবে সে অনুরূপই (জামাতের সাথে নামায পড়ার) ছোয়াব পাবে।’’
الترغيب في صلاة الجماعة وما جاء فيمن خرج يريد الجماعة فوجد الناس قد صلوا
(حسن لغيره) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ( : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسِنَ وُضُوءَهُ ، ثُمَّ رَاحَ ، فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا ، أَعْطَاهُ الله مثل أَجْرَ مَنْ صَلاهَا وَحَضَرَهَا ، لا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَجْرِهُمْ شَيْئًا. . (رواه أبو داود والنسائي والحاكم وقال صحيح على شرط مسلم)
পরিচ্ছেদঃ ১৭) জামাআতে লোক সংখ্যা বেশী হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪১১. (হাসান লি গাইরিহী) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন উমুক ব্যক্তি কি এসেছে? তারা বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ উমুক ব্যক্তি কি নামাযে এসেছে? তারা বললেনঃ না।
তিনি বললেনঃ নিশ্চয় এ দু’টো নামায (এশা ও ফজর) মুনাফেকদের নিকট সবচেয়ে কঠিন নামায। তোমরা যদি জানতে এই দু’নামাযে কি প্রতিদান রয়েছে, তাহলে তোমরা হাঁটুর উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতে। নিশ্চয়ই মসজিদের প্রথম কাতার ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় মর্যাদাসম্পন্ন। যদি তোমরা জানতে যে প্রথম কাতারে নামায পড়াতে কি প্রতিদান রয়েছে তাহলে দ্রুত সে দিকে অগ্রসর হতে। আর একাকি নামায পড়ার চেয়ে আরেক জন লোককে সাথে নিয়ে নামায আদায় করা বেশী মর্যাদাপূর্ণ। আর একজন লোকের সাথে নামায পড়ার চেয়ে দু’জন লোকের সাথে নামায পড়া আরো বেশী মর্যাদাপূর্ণ। এভাবে জামাআতের লোক সংখ্যা যত বেশী হবে ততই তা আল্লাহ্ তা’আলার নিকট পছন্দনীয় হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/১৪০, আবু দাউদ ৫৫৪, নাসাঈ ২/১০৪, ইবনে হিব্বান ২০৫৪, ইবনে খোযাইমা ২/৩৬৬ ও হাকেম ১/২৪৭)
الترغيب في كثرة الجماعة
(حسن لغيره) عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ قَالُوا لَا قَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ قَالُوا لَا قَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الْأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلَائِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لَابْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلَاةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ وَحْدَهُ وَصَلَاتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وكلما كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل. (رواه أحمد وأبو داود والنسائي وابن خزيمة وابن حبان والحاكم)
পরিচ্ছেদঃ ১৭) জামাআতে লোক সংখ্যা বেশী হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪১২. (হাসান লি গাইরিহী) কুবাছ বিন উশাইম আল্ লাইছী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’দু’জন লোকের মধ্যে একজন ইমাম হয়ে জামাআতের সাথে নামায আদায় করা চারজন লোক বিছিন্ন হয়ে নামায আদায় করার চেয়ে আল্লাহর নিকট বেশী উত্তম। চার জন লোক জামাআতবদ্ধ হয়ে নামায আদায় করা আল্লাহর নিকট উত্তম আটজন লোকের বিছিন্নভাবে নামায পড়ার চেয়ে। আটজন লোকের মধ্যে একজন ইমাম হয়ে জামাআতে নামায আদায় করা, আল্লাহর কাছে একশত লোকের বিছিন্নভাবে নামায আদায় করার চেয়ে উত্তম ও পছন্দনীয়।’’
(বাযযার ৪৬১ ও ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في كثرة الجماعة
(حسن لغيره) وَعَنْ قَبَاثِ بن أَشْيَمَ الليثى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"صَلاةُ الرَّجُلَيْنِ يَؤُمُّ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ أَزْكَى عِنْدَ اللَّهِ مِنْ صَلاةِ أَرْبَعَةٍ تَتْرَى، وَصَلاةُ أَرْبَعَةٍ أَزْكَى عِنْدَ اللَّهِ مِنْ صَلاةِ ثَمَانِيَةٍ تَتْرَى، وَصَلاةُ ثَمَانِيَةٍ يَؤُمُّهُمْ أَحَدُهُمْ، أَزْكَى عِنْدَ اللَّهِ مِنْ صَلاةِ مِائَةٍ تَتْرَى". رواه البزار والطبراني
পরিচ্ছেদঃ ১৮) মাঠে-ময়দানে নামায আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণ
قال الحافظ رحمه الله: وقد ذهب بعض العلماء إلى تفضيلها على الصلاة في الجماعة
হাফেয (রহঃ) বলেনঃ বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ মত পোষণ করেছেন যে জামাআতের সাথে নামায পড়ার চেয়ে মাঠে-ময়দানে নামায আদায় করা অধিক ফযীলতপূর্ণ।
৪১৩. (সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে ২৫গুণ বেশী ছোয়াব লাভ করা যায়। কিন্তু যদি উক্ত নামায মাঠে আদায় করা হয় এবং তার রুকূ’ এবং সেজদাগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করা হয় তাহলে সেটা হয় ৫০গুণ বেশী ফযীলতপূর্ণ।’’
(আবু দাউদ ৫৬০, হাকেম ১/২০৮, ইবনে হিব্বান ১৭৪৬। হাকেম বলেন, হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী ছহীহ্। হাদীছটির প্রথমাংশ বুখারী প্রমূখ বর্ণনা করেছেন।)
তবে ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
صلاة الرجل في جماعة تزيد على صلاته وحده بخمس وعشرين درجة فإن صلاها بأرض قي فأتم ركوعها وسجودها تكتب صلاته بخمسين درجة
’’একাকী নামায পড়ার চেয়ে জামাআতে নামায পড়লে ২৫ গুণ বেশী ছোয়াব হয়। কিন্তু যদি ঐ নামায কোন খোলা মাঠে আদায় করে এবং তার রুকূ’ ও সেজদা পরিপূর্ণরূপে আদায় করে, তাহলে ঐ নামাযে ৫০গুণ বেশী মর্যাদা লিখা হয়।’’
الترغيب في الصلاة في الفلاة
(صحيح) و عَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةُ فِي الجَمَاعَةٍ تَعْدِلُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ صَلَاةً فَإِذَا صَلَّاهَا فِي فَلَاةٍ فَأَتَمَّ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا بَلَغَتْ خَمْسِينَ صَلَاةً رواه أبو داود ورواه الحاكم بلفظه وقال صحيح على شرطهما وصدر الحديث عند البخاري وغيره ورواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১৮) মাঠে-ময়দানে নামায আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণ
৪১৪. (সহীহ্) সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যদি কোন ব্যক্তি জনমানবহীন এলাকায় অবস্থান করে। অতঃপর নামাযের সময় হয়ে যায়। তখন সে ওযু করে, পানি না পেলে তায়াম্মুম করে, তারপর যদি সে একামত দিয়ে নামায আদায় করে, তবে তার পিছনে সাথের দু’জন ফেরেশতা নামায আদায় করে। আর যদি আযান দেয় ও একামত দিয়ে নামায আদায় করে, তাহলে তার পিছনে দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত আল্লাহর সৈনিকরা নামায আদায় করে।’’
(আব্দুর রাজ্জাক হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, আবূ দাউদ ১২০৩, নাসাঈ ২/২০)
পূর্বে উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ উল্লেখ হয়েছে। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ الشَّظِيَّةِ يُؤَذِّنُ وَيُصَلِّي، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ مَخَافَتِي مني قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ". رواه أبو داود والنسائي
’’তোমার পালনকর্তা সেই ছাগলের রাখালের কাজে আশ্চর্যবোধ করেন, যে (ছাগল চরাতে গিয়ে) কোন পাহাড়ের টিলায় থাকে। (নামাযের সময় হলে) আযান দেয় ও নামায আদায় করে। মহামহিম আল্লাহ্ তখন বলেন, দেখ আমার এ বান্দাকে, সে আযান দিচ্ছে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করেছে, সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ১২০৩, নাসাঈ ২/২০)
الترغيب في الصلاة في الفلاة
(صحيح) وَ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"إِذَا كَانَ الرَّجُلُ بِأَرْضِ قِيٍّ، فَحَانَتِ الصَّلاةُ فَلْيَتَوَضَّأْ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَاءً فَلْيَتَيَمَّمْ، فَإِنْ أَقَامَ صَلَّى مَعَهُ مَلَكَاهُ، وَإِنْ أَذَّنَ وَأَقَامَ صَلَّى خَلْفَهُ مِنْ جُنُودِ اللَّهِ مَا لا يُرَى طَرَفَاهُ". (رواه عبد الرازق)
(صحيح) وتقدم حديث عقبة بن عامر عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْجَبُ رَبُّكُمْ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ. (رواه أبو داود والنسائي)
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪১৫. (সহীহ) উছমান বিন আফ্ফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে এশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত্রি নফল ছালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজর ছালাত জামাআতসহ আদায় করল সে যেন পূর্ণ রাত্রি নফল সালাত আদায় করল।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মালেক ১/১৩২, মুসলিম ৬৫৬, আবু দাউদ ৫৫৫ ও তিরমিযি ২২১। হাদীছের বাক্য মুসলিমের। আবু দাউদের বাক্য নিম্নরূপঃ
مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ
’’যে ব্যক্তি এশার সালাত জামাআতের সাথে আদায় করবে, সে অর্ধেক রাত্রি ক্বিয়াম করার ছোয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাআতের সাথে আদায় করবে, সে পূর্ণ রাত্রি ক্বিয়াম করার ছোয়াব পাবে।’’
ইমাম তিরমিযী আবু দাউদের ৫৫৫ অনুরূপ বর্ণনা করে বলেনঃ হাদীছটি হাসান ছহীহ।
ইবনে খুযায়মা [তাঁর ছহীহ্ গ্রন্থে] বলেনঃ জামাআতের সাথে এশা ও ফজর নামায পড়ার ফযীলত। আর এশার নামায জামাআতের সাথে পড়ার চেয়ে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া অধিক ফযীলতপূর্ণ তার বর্ণনা। আর তার ফযীলত হচ্ছে এশার নামায জামাআতের সাথে পড়ার দ্বিগুণ।
এরপর তিনি মুসলিমে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেন। কিন্তু আবু দাউদ ও তিরমিযীর হাদীছটি তিনি যে মত পোষণ করেছেন তার প্রতিবাদ করে।
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح) عن عثمان بن عفان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ. رواه مالك ومسلم واللفظ له وأبو داود
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪১৬. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নিশ্চয় মুনাফেকদের উপর সর্বাধিক কষ্টকর সালাত হলো ফজর ও এশার সালাত। তারা যদি জানতো এ দু’টি সালাতে কি ফযীলত রয়েছে তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত। আমি ইচ্ছা করি যে সালাতের আদেশ দিব অতঃপর উহা প্রতিষ্ঠা করা হবে, তারপর একজন লোককে আদেশ দিব সে লোকদের ইমাম হয়ে সালাত পড়াবে। অতঃপর আমি কাঠের বোঝা বহনকারী কিছু লোককে নিয়ে ঐ সকল লোকদের বাড়ীতে যাব, যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি। তারপর তাদের বাড়ীগুলো (কাঠে আগুন লাগিয়ে) তাদেরকেসহ জ্বালিয়ে দিব।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৭৫ ও মুসলিম ৬৫১)
মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدَ نَاسًا فِي بَعْضِ الصَّلَوَاتِ فَقَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْهَا فَآمُرَ بِهِمْ فَيُحَرِّقُوا عَلَيْهِمْ بِحُزَمِ الْحَطَبِ بُيُوتَهُمْ وَلَوْ عَلِمَ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَظْمًا سَمِينًا لَشَهِدَهَا يَعْنِي صَلَاةَ الْعِشَاءِ
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কতিপয় লোককে কোন কোন নামাযের জামাআতে উপস্থিত দেখতে পেলেন না। তখন বললেনঃ
’’আমার ইচ্ছা হয় যে, একজন লোককে আদেশ করি সে মানুষকে নিয়ে নামায পড়াবে। তারপর আমি ঐ সমস্ত লোকদের বাড়ীতে যাই যারা জামাআতে হাযির হয়নি, অতঃপর তাদের ব্যাপারে আদেশ করি কাঠের বোঝা জ্বালিয়ে তাদেরকেসহ তাদের বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দেই। তাদের কেউ যদি জানতো যে নামাযে আসলে একটি মোটা হাড্ডি লাভ করবে তাহলে উক্ত নামাযে উপস্থিত হত। অর্থাৎ এশার নামাযে।’’
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أَثْقَلَ صَلَاةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ وَصَلَاةُ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ.(رواه البخاري ومسلم)
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪১৭. (সহীহ মাওকূফ) আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ’’আমরা যদি কোন মানুষকে ফজর ও এশার সালাত এ অনুপস্থিত পেতাম তাহলে তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতাম।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার, ত্বাবরানী ও ইবনে খুযায়মা ২/৩৭১)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح موقوف) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال كُنَّا إِذَا فَقَدْنَا الرَّجُلَ فِي الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ أَسَأْنَا بِهِ الظَّنَّ. رواه البزار والطبراني وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪১৮. (হাসান লি গাইরিহী) নাখাআ’ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু দারদা (রাঃ)এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে একথা বলতে শুনেছিঃ আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীছ বর্ণনা করব যা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছি। আমি তাঁকে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ, যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে মনে করবে তিনি তোমাকে দেখছেন। তুমি নিজেকে মৃত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। মাযলুমের (উৎপীড়িতের) বদদু’আ হতে সাবধান থাকবে, কেননা তার দু’আ কবূল করা হয়। আর যদি ফজর ও এশার সালাত জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হয় তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করবে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিনি নাখাআ’ গোত্রের লোকটির নাম ’জাবের’ বলে উল্লেখ করেছেন।)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(حسن لغيره) وَ عَنْ رَجُلٍ، مِنَ النَّخَعِ قال سمعت أبا الدرداء رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعَتْهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " اعْبُدِ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ كُنْتَ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ، وَاعْدُدْ نَفْسَكَ فِي الْمَوْتَى، وَإِيَّاكَ وَدَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا تُسْتَجَابُ، وَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَشْهَدَ الصَّلَاتَيْنِ الْعِشَاءَ وَالصُّبْحَ وَلَوْ حَبْوًا فَلْيَفْعَلْ (رواه الطبراني في الكبير)
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪১৯. (হাসান লি গাইরিহী) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন, উমুক ব্যক্তি কি এসেছে? তাঁরা বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ উমুক ব্যক্তি কি নামাযে এসেছে? তাঁরা বললেনঃ না।
তিনি বললেনঃ ’’নিশ্চয়ই এ দু’টো নামায (এশা ও ফজর) মুনাফেকদের নিকট সবচেয়ে কঠিন নামায। তোমরা যদি জানতে এই দু’নামাযে কি প্রতিদান রয়েছে, তাহলে তোমরা হাঁটুর উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতে।....।[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ৫/১৪০, ইবনে খুযায়মা ২/৩৬৬, ইবনে হিব্বান ২০৫৪ ও হাকেম ১/২৪৭)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(حسن لغيره) وَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ قَالُوا لَا قَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ قَالُوا لَا قَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ........ الحديث رواه أحمد وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما والحاكم
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২০. (ছহীহ্ লি গাইরিহী) সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর জিম্মাদারীতে এসে গেল।’’
(ইবনে মাজাহ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩৯৪৬)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح لغيره) و عَنْ سمرة بن جُنْدُبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ ، رواه ابن ماجه بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২১. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উক্ত হাদীছটি আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) কর্তৃকও বর্ণিত হয়েছে। তাতে একথা বৃদ্ধি করা হয়েছে, ’’অতএব তোমরা আল্লাহর অঙ্গিকারকে ভঙ্গ করো না। যে ব্যক্তি তাকে (ফজর সালাত আদায়কারীকে) হত্যা করবে আল্লাহ্ তাকে পাকড়াও করবেন এবং তাকে মুখের উপর উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’
(ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬৫৭)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح لغيره) ورواه أيضا من حديث أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وزاد فيه فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي عَهْدِهِ فَمَنْ قَتَلَهُ طَلَبَهُ اللَّهُ حَتَّى يَكُبَّهُ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِه . رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২২. (সহীহ্ মাওকূফ) মিছাম নামক নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, ফেরেশতা পতাকা বহন করেন ঐ ব্যক্তির সাথে যে সর্বপ্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, তিনি পতাকা নিয়ে তার সাথে অবস্থান করতেই থাকেন যতক্ষন সে তার গৃহে ফিরে না আসে। আর শয়তান পতাকা বহন করে ঐ ব্যক্তির সাথে যে সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশ করে, সে পতাকা নিয়ে তার সাথে অবস্থান করতেই থাকে যতক্ষন সে নিজ গৃহে ফিরে না আসে। (অর্থাৎ নামাযীর সাথে ফেরেশতা ও বেনামাযীর সাথে শয়তানের অবস্থান)
(ইবনে আবী আসেম ৫/১৮৩, আবু নুআ’ইম [মা’রেফতুস সাহাবা] গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ২/২১৩)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح موقوف) وروي عن ميثم رجل من أصحاب رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال بلغني أن الملك يغدو برايته مع أول من يغدو إلى المسجد فلا يزال بها معه حتى يرجع فيدخل بها منزله وإن الشيطان يغدو برايته إلى السوق مع أول من يغدو فلا يزال بها معه حتى يرجع فيدخلها منزله
رواه ابن أبي عاصم وأبو نعيم في معرفة الصحابة وغيرها
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৩. (সহীহ মাওকূফ) আবু বকর বিন সুলাইমান বিন আবি খায়ছামা থেকে বর্ণিত। একদা ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) সুলাইমান বিন আবি খায়ছামাকে ফজরের নামাযে মসজিদে পেলেন না। ওমার সকালের দিকে বাজারে গেলেন। সুলাইমানের বাড়ী ছিল মসজিদ ও বাজারের মাঝখানে। তিনি সুলাইমানের মাতা ’শিফা’র সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বললেন, আজ ফজর নামাযে সুলাইমানকে দেখলাম না কি ব্যাপার? তিনি বললেন, রাতে সে নফল নামায আদায় করেছিল, পরে নিদ্রার কারণে সে ফজর নামাযে যেতে পারেনি। তখন ওমার (রাঃ) বললেনঃ ’’ফজর নামায জামাআতের সাথে আদায় করা আমার নিকট সারা রাত নফল নামায পড়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।’’
(ইমাম মালেক ইহা বর্ণনা করেছেন ১/১৩১)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح موقوف) و عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَدَ سُلَيْمَانَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ غَدَا إِلَى السُّوقِ، وَمَسْكَنُ سُلَيْمَانَ بَيْنَ الْمَسْجِدِ وَالسُّوقِ، فَمَرَّ عَلَى الشِّفَاءِ أُمِّ سُلَيْمَانَ فَقَالَ لَهاَ لَمْ أَرَ سُلَيْمَانَ فِي الصُّبْحِ فَقَالَتْ لَهُ إِنَّهُ بَاتَ يُصَلِّي فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ قَالَ عُمَرُ: " لَأَنْ أَشْهَدَ صَلَاةَ الصُّبْحِ في جماعة أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَقُومَ لَيْلَةً ". رواه مالك
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৪. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে গমণ করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে একটি নূর নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] এবং অনুরূপভাবে ইবনে হিব্বানও বর্ণনা করেছেন ২০৪৪)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: مَنْ مَشَى فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ إِلَى الْمَسَاجِدِ لَقِيَ اللَّهُ عز وجل بِنُوْرٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .رواه الطبراني في الكبير بإسناد حسن ولابن حبان في صحيحه نحوه
পরিচ্ছেদঃ ১৯) বিশেষ করে এশা ও ফজর নামায জামাআতের সাথে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ দু’নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) সাহল বিন সা’দ সায়ে’দী (রাঃ)’থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:’’অন্ধকারে মসজিদের দিকে গমণ কারীদের[1] সুসংবাদ দান কর, কিয়ামত দিবসে পরিপূর্ণ নূর বা আলোর।’’
(ইবনে মাজাহ ৭৮০, ইবনে খুযায়মা ২/৩৭৭ ও হাকেম ১/২১২ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, হাদীছের বাক্য হাকেম থেকে নেয়া)
الترغيب في صلاة العشاء والصبح خاصة في جماعة والترهيب من التأخر عنهما
(صحيح لغيره) و عَنْ سَهْلِ بن سَعْدٍ سعد الساعدي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عليه وسلم: بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ" .رواه ابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه والحاكم
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৬. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ’’যে ব্যক্তি আযান শুনার পরও তার জবাব দিবে না অর্থাৎ কোন ওযর না থাকা সত্বেও সালাতে উপস্থিত হবে না তার (একাকী আদায়কৃত) সালাত হবে না।’’
(আল কাশেম বিন আসবাগ, ইবনে মাজাহ ৭৯৩, ইবনে হিব্বান ৪২৬ ও হাকেম ১/২৪৫ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(صحيح) وَعَنْه (ابْنِ عَبَّاسٍ) رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يُجِبْ فَلاَ صَلاَةَ لَهُ إِلاَّ مِنْ عُذْرٍ. رواه القاسم بن أصبغ وابن ماجه وابن حبان والحاكم
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৭. (হাসান সহীহ্) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তিন লোক যদি কোন গ্রামে থাকে এবং তাদের মাঝে জামাআত সহকারে সালাত প্রতিষ্ঠিত না করা হয়, তাহলে শয়তান তাদের উপর বিজয় লাভ করে। সুতরাং তোমাদের জন্যে আবশ্যক হচ্ছে জামাআতবদ্ধ হয়ে থাকা। কেননা দল ছুট ছাগলকে নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলে।’’
(আহমদ ৫/১৯৬, আবু দাউদ ৫৪৭, নাসাঈ ২/১০৬, ইবনে খুযায়মা ২/২৭১, ইবনে হিব্বান ২০৯৮ ও হাকেম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
ইতোপূর্বে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছেঃ
وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ
’’তোমরা যদি এই নামাযগুলো বাড়িতে আদায় কর যেমন জামাআত পরিত্যাগকারী এই ব্যক্তি নিজ বাড়ীতে নামায আদায় করে থাকে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর অনুসরণ ছেড়ে দিলে। আর তোমরা যদি তোমাদের নবীর অনুসরণ ছেড়ে দাও তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।’’[1]
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(حسن صحيح ) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول مَا مِنْ ثَلاثَةٍ فِي قَرْيةٍ ، وَلاَ بَدْوٍ ، لا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلاَةُ إلاَّ قَد اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِم الشَّيْطَانُ . فَعَلَيْكُمْ بِالجَمَاعَةِ ، فَإنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ مِنَ الغَنَمِ القَاصِيَة (رواه أحمد وأبو داود والنسائي وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما والحاكم) ، الحديث (رواه مسلم وأبو داود وغيرهما(
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৮. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আমি ইচ্ছা করছি যে, কিছু যুবককে আদেশ দেব, তারা আমার জন্যে কাঠের একটি বোঝা তৈরী করবে, তারপর তা নিয়ে এমন লোকদের কাছে যাবো যারা বাড়ীতে সালাত আদায় করে অথচ তাদের কোন ওযর নেই; অতঃপর তাদেরকেসহ তাদের গৃহগুলো জ্বালিয়ে দিব।’’
ইয়াযীদ বিন আসামকে প্রশ্ন করা হল: এ দ্বারা কি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমআর নামায না অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেছেন? তিনি বললেনঃ আমার দু’কান বধির হয়ে যাবে আমি যদি আবু হুরায়রার (রাঃ) কাছে হাদীছটি না শুনে থাকি, তিনি তা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি জুমআ বা অন্য কিছু উল্লেখ করেননি।
(মুসলিম ৬৫১, ইবনে মাজাহ ৭৯১, আবু দাউদ ৫৪৯ ও সংক্ষিপ্তভাবে তিরমিযী ২১৭ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(صحيح) و عَنِ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَتِي فَيَجْمَعُوا لي حُزَمًا مِنْ حَطَبٍ، ثُمَّ آتِي قَوْمًا يُصَلُّونَ فِي بُيُوتِهِمْ، لَيْسَتْ بِهِمْ عِلَّةٌ، فَأُحَرِّقُهَا عَلَيْهِمْ فقيل لِيَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ الْجُمُعَةَ عَنَى أَوْ غَيْرَهَا قَالَ صُمَّتْ أُذُنَايَ إِنْ لَمْ أَكُنْ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَأْثُرُهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ذَكَرَ جُمُعَةً وَلَا غَيْرَهَا. (رواه مسلم وأبو داود وابن ماجه والترمذي مختصرا)
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৯. (হাসান সহীহ্) আমর ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি অন্ধ, আমার বাড়ীও দূরে। আমার একজন পথ চালক রয়েছে কিন্তু তাকে আমি সব সময় পাইনা। আপনি কি এই অবস্থায় আমাকে বাড়ীতে ছালাত আদায় করতে অনুমতি দিচ্ছেন?
তিনি বললেনঃ ’’তুমি কি আযান শুনে থাক?’’
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
তখন তিনি বললেনঃ ’’তাহলে আমি তোমার জন্যে অনুমতির কোন সুযোগ পাই না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ ৩/৪২৩, আবু দাউদ ৫৫২, ইবনে মাজাহ ৭৯২, ইবনে খুযায়মা ২/৩৬৯ ও হাকেম ১/২৪৭)
(হাসান সহীহ্) ইমাম আহমাদ অন্য বর্ণনায় বলেনঃ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَأَى فِي الْقَوْمِ رِقَّةً، فَقَالَ: " إِنِّي لَأَهُمُّ أَنْ أَجْعَلَ لِلنَّاسِ إِمَامًا، ثُمَّ أَخْرُجُ فَلَا أَقْدِرُ عَلَى إِنْسَانٍ، يَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلَاةِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا أَحْرَقْتُهُ عَلَيْهِ " فَقَالَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَ الْمَسْجِدِ نَخْلًا، وَشَجَرًا، وَلَا أَقْدِرُ عَلَى قَائِدٍ كُلَّ سَاعَةٍ، أَيَسَعُنِي أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي ؟ قَالَ: " أَتَسْمَعُ الْإِقَامَةَ ؟ " قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: " فَأْتِهَا "
একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে এসে লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম লক্ষ্য করলেন। তখন তিনি বললেনঃ ’’আমি ইচ্ছা করছি একজন লোককে ইমাম নির্ধারণ করে দেই সে সালাত কায়েম করুক, অতঃপর আমি বের হয়ে যাই এবং জামাআত পরিত্যাগকারী কোন লোককে গৃহে পেলে তাকে সহ তার গৃহ জ্বালিয়ে দেই।’’
তখন অন্ধ ছাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুম বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার গৃহ ও মসজিদের মাঝখানে খেজুর গাছ ও জঙ্গল রয়েছে। আর সবসময় আমি পথচালক পাইনা, এখন গৃহে সালাত আদায় করা কি আমার জন্যে উচিত হবে?
তিনি বললেনঃ ’’তুমি কি একামত [1] শুনে থাক?’’
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
তিনি বললেনঃ ’’তাহলে জামাআতে উপস্থিত হবে।’’
নোটঃ হাফেয আবু বকর ইবনে মুনযির বলেন:
একাধিক ছাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে বিনা ওযরে ছালাতে আসবে না তাদের সালাত হবে না। যারা এ মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আশআরী (রাঃ)। আর এই কথাটি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতেও বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি ৪২৬ নং হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।
যারা জামাআতে হাজির হওয়া ফরয মনে করেন তারা হলেন: তাবেঈ আতা, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু ছাওর। আর ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জামাআতে উপস্থিত হওয়ার সামর্থ্য রাখে, তার জন্যে বিনা ওজরে অনুপস্থিত থাকার কোন অুনমতি আমি খুঁজে পাই না।
ইমাম খাত্তাবী ইবনে উম্মে মাকতুম বর্ণিত হাদীছটি উল্লেখ করার পর বলেন, এই হাদীছ দ্বারা এই দলীল পাওয়া যায় যে, জামাআতে উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব। যদি এটা মুস্তাহাব বা সুন্নাত হত তাহলে অন্ধ বা দূর্বল লোকেরা সে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ছিল।
আতা ইবনে আবী রাবাহ বলেছেনঃ শহরে বা গ্রামে বসবাসকারী আল্লাহর সৃষ্টির কারো জন্যে আযান শুনার পর জামাআত ত্যাগ করার কোন অনুমতি নেই।
ইমাম আওযাঈ বলেছেনঃ জুমআর সালাত ও জামাআত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে পিতা-মাতার আনুগত্য করা চলবে না।[2]
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(حسن صحيح ) و عَنْ عَمْرِو بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أنا ضَرِيرًا، شَاسِعَ الدَّارِ، وَلِي قَائِدٌ لَا يُلَائِمُنِي ، فَهَلْ تَجِدُ لِي رُخْصَةً أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي ؟ قَالَ: " أَتَسْمَعُ النِّدَاءَ ؟ " قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ . قَالَ: " مَا أَجِدُ لَكَ رُخْصَةً " (رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه والحاكم)
[2] . দ্রঃ মাআলেমুস সুনান ইমাম খাত্তাবী (২/২৯১-২৯২)
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩০. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে জনৈক অন্ধ লোক আগমণ করে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার জন্যে কোন চালক বা সহযোগী নেই। তাই তিনি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট গৃহে সালাত আদায় করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিয়ে দিলেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর তিনি তাকে আবার ডাকালেন অতঃপর জিজ্ঞেস করলেনঃ
’’তুমি কি সালাতের আযান শুনে থাক?’’
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
তিনি বললেনঃ ’’তাহলে জবাব দিবে।’’ (অর্থাৎ সালাতের জন্য মসজিদে উপস্থিত হবে।)
(মুসলিম ৬৫৩, নাসাঈ ২/১০৯ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
) (صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ أَعْمَى فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُرَخِّصَ لَهُ يُصَلِّيَ فِي بَيْتِهِ فَرَخَّصَ لَهُ فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ فَقَالَ هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ قَالَ نَعَمْ قَالَ. رواه مسلم والنسائي وغيرهما
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩১. (সহীহ্ মাওকূফ) আবু শা’ছা’ আল মাহারেবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় মুআয্যিন আযান দিলেন। তখন মসজিদ থেকে একজন লোক উঠে হাঁটতে লাগল। আবু হুরায়রা তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। দেখলেন লোকটি শেষ পর্যন্ত মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। তখন আবু হুরায়রা বললেনঃ ’’এই লোকটি আবুল কাসেম (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নাফরমানি করল।’’
(মুসলিম প্রমূখ ইহা বর্ণনা করেছেন ৬৫৫)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(صحيح موقوف) وَعَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ: كُنَّا قُعُودًا مَعَ فِي الْمَسْجِدِ، فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَسْجِدِ، يمشي فأتبعه أبو هريرة بصره حتى خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . رواه مسلم وغيره
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩২. (সহীহ্) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি ’হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ্’ শুনল; অথচ সালাতে এলো না, সে মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত পরিত্যাগ করল।’’
(ত্বাবরানী ইহা [আওসাত গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন ৮/৪৭৬)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(صحيح) وَعَنْه (ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا) أيضا قال من سمع حي على الفلاح فلم يجب فقد ترك سنة محمد رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৩. (সহীহ্ লি গাইরিহী) উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’লোকেরা জামাআত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে বিরত থাকুক, অন্যথা আমি তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেব।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ্ ৭৯৫)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(صحيح لغيره) و عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَنْتَهِيَنَّ رِجَالٌ عَنْ تَرْكِ الْجَمَاعَةِ أَوْ لَأُحَرِّقَنَّ بُيُوتَهُمْ. . رواه ابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ২০) বিনা ওজরে জামাআত ত্যাগ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৪. (হাসান সহীহ্) আবু বুরদা থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি আযান শুনে সুস্থ ও অবসর থাকার পরেও জবাব দিবে না বা জামাআতে উপস্থিত হবে না, তার নামায হবে না।’’
(হাদীছটি হাকেম বর্ণনা করে বলেনঃ তার সনদ ছহীহ ১/২৪৬)
الترهيب من ترك حضور الجماعة لغير عذر
(حسن صحيح ) و عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؛ أنَّ النَّبِيَّ: مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَارِغًا صَحِيحًا فَلَمْ يُجِبْ ؛ فَلا صَلاةَ لَهُ ». (رواه الحاكم وقال صحيح الإسناد(
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৩৫. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা গৃহে কিছু সালাত আদায় করবে[1], তোমাদের গৃহগুলোকে কবরস্থান বানাবে না।’’[2]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪৩২, মুসলিম ৭৭৭, আবু দাউদ ১০৪৩, তিরমিযী ৪৫১ ও নাসাঈ ৩/১৯৭)
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: اجْعَلُوا مِنْ صَلَاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ، وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
[2] . এখানে খুবই সুন্দর উপমা পেশ করা হয়েছে। যে বাড়ীতে নামায আদায় করা হয় না তাকে কবরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা কবরের অধিবাসী মৃত ব্যক্তি সাধারণতঃ কোন ইবাদত করতে সক্ষম হয় না। ইমাম ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করে বলেনঃ গোরস্থানে নামায পড়ার ব্যাপারে এ হাদীছে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৩৬. (সহীহ্) জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের কেউ যখন মসজিদে সালাত শেষ করে ফেলবে, তখন সে যেন সালাতের কিছু অংশ বাড়ীতে আদায় করার জন্যে রেখে দেয়, কেননা আল্লাহ তা’আলা বাড়ীর সালাতের মাঝে কল্যাণ রেখেছেন।’’
(ইমাম মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৭৭৮, ইবনে খুযায়মা ২/২১২)
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) وَعَنْ جابر هو ابن عبد الله رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ الصَّلَاةَ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيبًا مِنْ صَلَاتِهِ فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلَاتِهِ خَيْرًا. رواه مسلم وغيره
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৩৭. (সহীহ্) পূর্বের হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযায়মা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে।
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) ورواه ابن خزيمة في صحيحه من حديث أبي سعيد
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৩৮. (সহীহ্) আবু মূসা আল আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে বাড়ীতে আল্লাহর যিকির হয় এবং যে বাড়ীতে আল্লাহর যিকির হয় না তার উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির সাথে।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৪০৭ ও মুসলিম ৭৭৯) [2]
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) وَعَنْ أبي موسى الأشعري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ. رواه البخاري ومسلم
[2] . শায়খ আলবানী বলেন: হাদীছের এই বাক্য মূলত: মুসলিমের। কেননা বুখারীর বর্ণনায় البيت শব্দের উল্লেখ নেই।
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৩৯. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন কাজটি উত্তম বাড়ীতে নামায পড়া না মসজিদে নামায পড়া? তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখনা আমার বাড়ী মসজিদ থেকে কত কাছে! মসজিদে সালাত পড়ার চেয়ে গৃহে সালাত পড়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, তবে ফরয সালাত ব্যতীত।
(আহমাদ ৪/৩৪২, ইবনে মাজাহ ১৩৭৮ ও ইবনে খুযায়মা ২/২১০ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) و عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا أَفْضَلُ الصَّلَاةُ فِي بَيْتِي أَوْ الصَّلَاةُ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ أَلَا تَرَى إِلَى بَيْتِي مَا أَقْرَبَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ فَلَأَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُصَلِّيَ فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَلَاةً مَكْتُوبَةً. رواه أحمد وابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪০. (সহীহ্) যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’হে লোক সকল! তোমরা গৃহে নামায আদায় কর। কেননা ফরয নামায ব্যতীত মানুষের গৃহে নামায পড়াই বেশী ফযীলতপূর্ণ।’’
(নাসাঈ ও ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)[1]
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح) وَعَنْ زيد بن ثابت رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال صَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلا الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ. رواه النسائي وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ২১) গৃহে নফল সালাত পড়তে উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪১. (সহীহ মাওকূফ) রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। আমি মনে করি তিনি হাদীছটিকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ’’নিজ গৃহে নামায আদায় করার ফযীলত মানুষ দেখবে এরকম স্থানে নামায পড়ার তুলনায় তেমন, যেমন ফরয নামাযের ফযীলত নফল নামাযের উপর।’’
(বায়হাক্বী ২৯৮৯)
الترغيب في صلاة النافلة في البيوت
(صحيح موقوف) وَعَنْ رجل من أصحاب رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أراه رفعه قال فَضْلُ صَلَاةِ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ عَلَى صَلَاتِهِ، حَيْثُ يَرَاهُ النَّاسُ كَفَضْلِ الْفَرِيضَةِ عَلَى التَّطَوُّعِ. رواه البيهقي
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪২. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি নামাযরত আছে বলে গণ্য হবে যতক্ষন নামায তাকে আটকিয়ে রাখে; শুধুমাত্র নামাযই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।’’
(একটি হাদীছের মধ্যে বুখারী ইহা বর্ণনা করেছেন ৬৫৯ এবং মুসলিমও হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬৪৯)
বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে:
إِنَّ أَحَدَكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَتْ الصَّلَاةُ تَحْبِسُهُ وَالْمَلاَئِكَةُ تَقُولُ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ مَا لَمْ يَقُمْ مِنْ مُصَلاَّه ، أو يُحْدِثْ
’’যতক্ষন কোন ব্যক্তিকে নামায ফেরত যেতে বাধা দিবে ততক্ষন পর্যন্ত সে নামাযরত অবস্থায় আছে বলে গণ্য হবে। আর ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর, তুমি তাকে করুণা কর- যতক্ষন সে মুসল্লা থেকে না উঠে অথবা তার ওযু ভঙ্গ না হয়।’’
মুসলিম এবং আবু দাউদের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
لَا يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلَاةٍ مَا كَانَ فِي مُصَلَّاهُ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ قيل ومَا يُحْدِثُ قَالَ يَفْسُو أَوْ يَضْرِطُ
’’কোন বান্দা ততক্ষন পর্যন্ত নামায অবস্থাতেই আছে বলে গণ্য হবে যতক্ষন সে মুসল্লাতে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। আর ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করবে, হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ তুমি তাকে রহম কর। যতক্ষন সে ওখান থেকে ফিরে না যায় অথবা ওযু ভঙ্গ না হয়।
প্রশ্ন করা হল: ওযু ভঙ্গ হওয়ার অর্থ কি?
তিনি বললেনঃ ’’বায়ূ নির্গত হওয়া।’’
এই হাদীছটি ইমাম মালেকও মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নাঈম বিন আবদুল্লাহ মুজমির থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে একথা বলতে শুনেছেনঃ
يَقُولُ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ ثُمَّ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ لَمْ تَزَلْ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ فَإِنْ قَامَ مِنْ مُصَلَّاهُ فَجَلَسَ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ لَمْ يَزَلْ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ
’’তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি নামায আদায় করে অতঃপর জায়নামাযে বসে থাকে তাহলে ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করতেই থাকে, হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ্! তুমি তাকে দয়া কর। যদি সে নিজ জায়নামায থেকে উঠে যায় এবং মসজিদের কোন এক জায়গায় বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে তাহলে সে নামায পড়ে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত নামাযরত অবস্থায় আছে বলেই গণ্য হবে।’’
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَتْ الصَّلَاةُ تَحْبِسُهُ لَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلَّا الصَّلَاةُ (رواه البخاري في أثناء حديث ومسلم)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৩. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার নামাযে আসতে দেরী করলেন, এমনকি অর্ধ রাত্রি হয়ে গেল। তারপর নামায শেষ করার পর লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ ’’লোকেরা নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, আর তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের অপেক্ষায় বসেছিলে ততক্ষণ নামাযরত অবস্থাতেই ছিলে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ৫৭২)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ لَيْلَةً صَلَاةَ الْعِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ بَعْدَمَا صَلَّى فَقَالَ صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلَاةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا . رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৪. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’’বিছানা থেকে তাদের পার্শ্বদেশগুলো আলাদা হয়ে যায়।’’ (সূরা সিজদাঃ ৬১) এশার নামাযের অপেক্ষার জন্যেই এই আয়াতটি নাযিল করা হয়েছে।
(তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন হাদীছটি হাসান সহীহ্ গরীব ৩১৯৬)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) وَعَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ [تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنْ الْمَضَاجِعِ] نَزَلَتْ فِي انْتِظَارِ الصَّلَاةِ الَّتِي تُدْعَى الْعَتَمَةَ. رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح غريب
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৫. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে মাগরিবের নামায আদায় করলাম। তারপর যাদের কাজ ছিলো তারা ফিরে গেল এবং যারা বসে থাকার তারা বসে থাকলো। এমন সময় রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৌড়িয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সে সময় তিনি দ্রুত নিঃশ্বাস ছাড়ছিলেন এবং তার হাঁটু থেকে কাপড় উঠিয়ে নিয়েছিলেন। এসে তিনি বললেনঃ
’’তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তা এই যে তোমাদের পালনকর্তা এখনি আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করছেন। তিনি বলছেন: দেখ আমার বান্দাদেরকে তারা একটি ফরয নামায শেষ করেছে এবং আরেকটি নামাযের অপেক্ষা করছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ ৮০১)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَغْرِبَ فَرَجَعَ مَنْ رَجَعَ وَعَقَّبَ مَنْ عَقَّبَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْرِعًا قَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ وَقَدْ حَسَرَ عَنْ رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ أَبْشِرُوا هَذَا رَبُّكُمْ قَدْ فَتَحَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ يُبَاهِي بِكُمْ الْمَلَائِكَةَ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي قَدْ قَضَوْا فَرِيضَةً وَهُمْ يَنْتَظِرُونَ أُخْرَى. (رواه ابن ماجه)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৬. (হাসান) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’এক নামাযের পরে আরেক নামায যার মধ্যবর্তী সময়ে কোন অনর্থক-বাজে কাজ করা হয়নি। তাহলে তার ঐ নামায ঈল্লীনের মধ্যে লেখা হয়ে যায়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫৫৮)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(حسن ) و عَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَصَلَاةٌ عَلَى أَثَرِ صَلَاةٍ لَا لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৭. (সহীহ্ লি গাইরিহী) জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি কি বলে দিব না আল্লাহ তা’আলা কোন্ আমল দ্বারা তোমাদের গুনাহগুলো মিটিয়ে দেন এবং পাপ সমূহ মোচন করে দেন?
তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেনঃ ’’কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, বেশী বেশী মসজিদে গমণ করা এবং এক নামায শেষ করে আরেক নামাযের অপেক্ষা করা। ইহা তোমাদের জন্যে সীমান্ত পাহারা দেয়ার ছোয়াবের বরাবর।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান ১০৩৬)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح لغيره) عن جابر بن عبد الله رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال: قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يمحو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا ويكفر به الذنوب، قَالُوا بَلَى يا رسول الله قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكْرُوهَاتِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فذلكم الرباط.
رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৮. (সহীহ্) মালেক, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ উক্ত হাদীছটি আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) ورواه مالك ومسلم والترمذي والنسائي من حديث أبِيْ هُرَيْرَةَ وتقدم هناك
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৪৯. (সহীহ্) আলী বিন আবি তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদে যাওয়ার জন্য পা ফেলা এবং এক নামায শেষে আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকা গুনাহগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে দেয়।’’
(আবু ইয়া’লা ৪৮৮, বাযযার ৪৪৭, হাকেম ১/১৩২ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী ছহীহ্)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) وَعَنْ علي بن أبي طالب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ ، وَإِعْمَالُ الأَقْدَامِ إِلَى الْمَسَاجِدِ ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ ، تَغْسِلُ الْخَطَايَا غَسْلا (رواه أبو يعلى والبزار بإسناد صحيح والحاكم وقال صحيح على شرط مسلم.)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫০. (হাসান) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’এক নামায আদায় করার পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি ঐ অশ্বারোহী ব্যক্তির মত যে আল্লাহর পথে জিহাদে তার শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের অশ্বকে কঠিনভাবে ধাবিত করেছে। আর ইহা হচ্ছে সবচেয়ে বড় সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মতো ছোয়াবের কাজ।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ২/৩৫২ ও ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে])
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
) (حسن )وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:"مُنْتَظِرُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ كَفَارِسٍ اشْتَدُّ بِهِ فَرَسُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ على كَشْحِهِ، وَهُوَ فِي الرِّبَاطِ الأَكْبَرِ (رواه أحمد والطبراني في الأوسط)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫১. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’স্বপ্নযোগে আজ রাতে আমার প্রভু আমার সামনে এসেছিলেন।’’
অপর বর্ণনায়ঃ
’’আমি স্বপ্নে আমার পালনকর্তাকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন হে মুহাম্মাদ! আমি বললাম: লাববাইকা ওয়া সাআ’দাইকা হে আমার প্রভু! (আমি আপনার সামনে হাজির এবং আপনার সৌভাগ্য নিতে প্রস্ত্তত।) তিনি বললেনঃ তুমি কি জানো যে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগন কোন বিষয় নিয়ে পরস্পর বির্তক করছে? আমি বললামঃ আমি জানি না। তখন তিনি আমার দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে স্বীয় হাত রাখলেন এমনকি আমি তার ঠান্ডা অনুভব করলাম আমার দুই স্তনের মধ্যবর্তী স্থানে অথবা বলেছেন- বুকের মধ্যে। অতঃপর আমি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের যা কিছু আছে তা জানতে পারলাম অথবা তিনি বলেছেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যখানে যা আছে তা আমি জানতে পারলাম।[1]
তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ কি বিষয় নিয়ে পরস্পর বির্তক করছে? আমি বললাম হ্যাঁ। তা হচ্ছে মর্যাদা উন্নীত করণ, পাপ মোচন, জামাআতে নামায আদায় করার জন্য পা উঠিয়ে মসজিদে যাওয়া, কঠিন ঠান্ডার সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, এক নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে সে কল্যাণের সাথে জীবন-যাপন করবে এবং কল্যাণের মাঝে তার মৃত্যু হবে। আর সে তার পাপ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেমন তার মাতা তাকে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ট করেছিল।’’
(ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেনঃ হাদীছটি হাসান গারীব ৩২৩১)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَتَانِي اللَّيْلَةَ رَبِّي
وفي رواية رأيت ربي فِي أَحَسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ لِي : يَا مُحَمَّدُ قلت لبيك ربي وسعديك قال ، هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى : قُلْتُ : لا أعلم فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ أَوْ قال في نَحْرِي فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ أو قَالَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الْأَعْلَى قُلْتُ نعم في الدَّرَجَاتِ والْكَفَّارَاتِ وَنَقْلُ الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي السَّبَراتِ وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ وَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهِنَّ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ". رواه الترمذي وقال حديث حسن غريب
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫২. (হাসান সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আমি কি তোমাদেরকে বলে দিব না কোন কাজ দ্বারা আল্লাহ্ পাপ মোচন করেন এবং নেকী বাড়িয়ে দেন?’’
তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেনঃ কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা বা পবিত্রতা অর্জন করা, এই মসজিদের দিকে বেশী বেশী গমণ করা। এক নামায আদায় করা পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকা। কোন ব্যক্তি নিজ গৃহে পবিত্রতা অর্জন করে যখন মসজিদে গমণ করে অতঃপর মুসলমানদের সাথে বা ইমামের সাথে নামায আদায় করে। অতঃপর সে পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করে, তাহলে ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করেঃ হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ্ তাকে করুণা কর।’’
(ইবনে মাজাহ ৪২৭, ইবনে খুযায়মা ১৭৭, ইবনে হিব্বান ৪০২, দারেমী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(حسن صحيح ) وَعَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يُكَفِّرُ الله بِهِ الْخَطَايَا ، وَيَزِيدُ بِهِ فِي الْحَسَنَاتِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ:" إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ أو الطهور في الْمَكَارِهِ ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَالصَّلَاةُ بَعْدَ الصَّلَاةِ، ومَا مِنْ أحَدٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا حتى يأتي المسجد فَيُصَلِّي مَعَ الْمُسْلِمِينَ ، ثُمَّ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ التي بعدها، إلا قالت الْمَلَائِكَةُ: اللهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللهُمَّ ارْحَمْهُ
(رواه ابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحه واللفظ له والدارمي في مسنده)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৩. (হাসান লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তিনটি কাজ গুনাহ মোচন করে, তিনটি কাজ মর্যাদা বৃদ্ধি করে, তিনটি কাজ মুক্তি দানকরে এবং তিনটি কাজ ধ্বংস করে।
গুনাহ মোচনকারী বিষয়গুলো হচ্ছেঃ (১) কঠিন ঠান্ডার সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা (২) এক নামায পড়ে পরবর্তী নামাযের অপেক্ষা করা (৩) জামাআতে নামায আদায় করার জন্য পা বাড়িয়ে মসজিদে আসা।
মর্যাদা বৃদ্ধিকারী বিষয় হচ্ছেঃ (১) মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো (২) সালাম প্রচার করা (৩) মানুষ যখন নিদ্রায় থাকে তখন উঠে নফল নামায আদায় করা।
মুক্তিদানকারী বিষয়গুলো হলঃ (১) সন্তুষ্টি এবং ক্রোধ উভয় অবস্থায় ন্যায় বিচার করা (২) অভাব এবং সম্পদের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা (৩) প্রকাশ্য ও গোপন উভয় অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা।
আর ধ্বংসকারী বিষয়গুলো হলঃ (১) অনুগত কৃপণতা (২) প্রবৃত্তির অনুসরণ করা (৩) নিজেকে নিয়ে আত্মগর্ব করা।’’
(বাযযার ৮০, বায়হাকী প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(حسن لغيره) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال ثَلاثٌ كَفَّارَاتٌ ، وَثَلاثٌ دَرَجَاتٌ وَثَلَاثٌ مُنْجِيَاتٌ و ثَلَاثٌ مُهْلِكَاتٌ ، فَأَمَّا الْكَفَّارَاتُ: فَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي السَّبَرَاتِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ ، وَنَقْلُ الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَأَمَّا الدَّرَجَاتُ : فَإِطْعَامُ الطَّعَامِ ، وَإِفْشَاءُ السَّلامِ ، وَصَلاةٌ بِاللَّيْلِ ، وَالنَّاسُ نِيَامٌ، وَأَمَّا الْمُنَجِّيَاتُ : فَالْعَدْلُ فِي الْغَضَبِ، وَالرِّضَى، وَالْقَصْدُ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى ، وَخَشْيَةُ اللَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلانِيَةِ وأَمَّا الْمُهْلِكَاتُ فشُحٌّ مُطَاعٌ ، وَهَوًى مُتَّبَعٌ ، وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ. (رواه البزار واللفظ له والبيهقي وغيرهما)
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৪. (সহীহ্) উকবা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নামাযের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকা ব্যক্তি নামাযরত ব্যক্তির মতো ছোয়াবের অধিকারী।[1] সে যখন বাড়ী থেকে বের হয় তখন থেকে নিয়ে বাড়ী ফিরে আসা পর্যন্ত (পুরাটা সময়) তার নাম মুছল্লীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে লিখা হয়।’’
(ইবনে হিব্বান ২০৩৬ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ৪/১৫৭)
তবে আহমাদ প্রমূখ হাদীছটি আরো দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনায় এসেছেঃ
والقاعد يرعى الصلاة كالقانت
’’নামাযের উদ্দেশ্যে উপবিষ্ট ব্যক্তি নফল নামায আদায়কারী ব্যক্তির বরাবর ছোয়াবের অধিকারী।’’
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(صحيح) وَعَنْ عقبة بن عامر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال القاعد على الصلاة كالقانت ويكتب من المصلين من حين يخرج من بيته حتى يرجع إليه.
رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২২) নামায আদায় করার পর পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৫. (হাসান লি গাইরিহী) রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট যে সমস্ত নারী বায়আত করেছেন তন্মধ্যে জনৈক নারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে আসলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বনু সালেমা গোত্রের কতিপয় সাহাবী। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাদ্য উপস্থিত করলাম। তিনি খেলেন। অতঃপর আমরা তাকে ওযুর পানি দিলাম, তিনি ওযু করলেন। এরপর সাহাবীদের সম্মুখবর্তী হয়ে বললেনঃ
’’আমি কি তোমাদের গুনাহ মোচনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে সংবাদ দিব না?’’
তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ,
তিনি বললেনঃ ’’কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, বেশী বেশী মসজিদের দিকে পা ফেলা এবং এক নামায আদায় করে পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষা করা।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/২৭১)
الترغيب في انتظار الصلاة بعد الصلاة
(حسن لغيره) وَعَنْ الْمَرْأَةِ مِنَ الْمُبَايِعَاتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أَنَّهَا قَالَتْ: جَاءَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ أَصْحَابُهُ فِي بَنِي سَلِمَةَ فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا فَأَكَلَ وَمَعَهُ أَصْحَابُهُ، ثُمَّ قَرَّبْنَا إِلَيْهِ وَضُوءًا فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ: فَقَالَ:
" أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمُكَفِّرَاتِ الْخَطَايَا ؟ " قَالُوا: بَلَى. قَالَ: " إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ (رواه أحمد)
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৬. (সহীহ্) আবু মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি দু’টি ঠান্ডার সময়ের (আসর ও ফজর) নামায আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৫৫৪ ও মুসলিম ৬৩৫)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح) عن أبي موسى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ. رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৭. (সহীহ্) আবু যুহাইর আম্মারা বিন রুওয়াইবা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে নামায আদায় করবে। অর্থাৎ ফজর ও আসর নামায।’’
(ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬৩৪)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح) وَعَنْ أبي زهيرة عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ عَنْ أَبِيهِ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৮. (হাসান) আবু মালেক আশজাঈ থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি সকালের (ফজর) নামায আদায় করবে, সে আল্লাহর যিম্মাদারীর মধ্যে থাকবে। তার (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর কাছে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত গ্রন্থদ্বয়ে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(حسن ) وَعَنْ أبي مالك الأشجعي عن أبيه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ. رواه الطبراني في الكبير والأوسط
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৫৯. (সহীহ্) জুনদুব বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করে সে আল্লাহর জিম্মাদারীর (নিরাপত্তার) মধ্যে এসে যায়। সুতরাং আল্লাহ যেন তার জিম্মাদারীর মধ্যে থেকে কোন কিছু তোমাদের কাছে চেয়ে না বসেন। কেননা তিনি যদি তার জিম্মাদারীর ভিতর কিছু চেয়ে বসেন তাহলে তাকে পাকড়াও করবেন, অতঃপর তাকে মুখের উপর ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’
( মুসলিম ৬৫৭, আবু দাউদ, তিরমিযী ২২২ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য মুসলিমের)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح) وَعَنْ جُنْدَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمْ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ فَإِنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيْءٍ يُدْرِكَهُ ثُمَّ يَكُبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ. رواه مسلم وغيره
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬০. (সহীহ্) আবু বুসরা গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ’মুখাম্মাস’[1] নামক এলাকায় আমাদেরকে আসরের নামায পড়ালেন তারপর বললেনঃ ’’নিশ্চয় এই নামায তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা বিনষ্ট করেছে। অতএব যে ব্যক্তি এ নামাযের প্রতি যত্নবান হবে তাকে দু’বার প্রতিদান দেয়া হবে।’’
(ইমাম মুসলিম ৮৩০ ও নাসাঈ ১/২৫৯ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح) و عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَصْرَ بِالْمُخَمَّصِ قَالَ إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ عُرِضَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَضَيَّعُوهَا وَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ. رواه مسلم والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬১. (ছহীহ্ লি গাইরিহী) আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করবে সে আল্লাহর জিম্মাদারীতে এসে যাবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মাদারীকে ভঙ্গ করবে আল্লাহ্ তাকে মুখের উপর উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’
(ইবনে মাজাহ্ ৩৯৪৫ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, হাদীছের বাক্য ত্বাবরানী থেকে নেয়া)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبي بكر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ في جماعة فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فمن أخفر ذمة الله كبه الله في النار لوجهه
رواه ابن ماجه والطبراني في الكبير واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬২. (ছহীহ্ লি গাইরিহী) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত আদায় করবে সে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা’আলার জিম্মাদারীতে এসে যাবে। অতএব তোমরা আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা’আলার জিম্মাদারীকে ভঙ্গ করো না। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মাদারীকে ভঙ্গ করবে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা’আলা তাকে পাকড়াও করবেন। শেষ পর্যন্ত তাকে মুখের উপর উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ২/১১১, বাযযার ৩৩৪২। ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত গ্রন্থদ্বয়ে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন ২/১৬৬। এ হাদীছের শুরুতে একটি ঘটনা আছেঃ
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সালেম বিন আবদুল্লাহকে দায়িত্ব দিয়েছিল জনৈক লোককে হত্যা করার জন্যে। তখন সালেম তাকে জিজ্ঞেস করল: তুমি ফজরের নামায পড়েছো? লোকটি বলল: হ্যাঁ। তখন তাকে বলল: তাহলে তুমি চলে যাও। হাজ্জাজ তাকে প্রশ্ন করল: লোকটিকে হত্যা করলে না কেন?
সালেম বলল: আমার পিতা আমার কাছে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছেন যে, ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করবে সেদিন সে আল্লাহর আশ্রয়ে এসে যাবে।’’
এজন্যে আমি এমন একটি লোককে হত্যা করা অপছন্দ করলাম যাকে আল্লাহ্ আশ্রয় দিয়েছেন। তখন হাজ্জাজ ইবনে ওমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করল: আপনি একথাটি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন? ইবনে ওমার বললেনঃ হ্যাঁ।
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةُ اللهِ، فَلَا تُخْفِرُوا اللهَ تبارك وتعالى فِي ذِمَّتِهُ، فَإِنَّهُ مَنْ أَخْفَرَ ذِمَّتَهُ طَلَبَهُ اللهُ تبارك وتعالى حَتَّى يُكِبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ.رواه أحمد والبزار والطبراني في الكبير والأوسط بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ২৩) ফজর ও আসর নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৩. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের নিকট রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতা পরস্পর আগমণ করেন। তারা ফজর এবং আসর নামাযের সময় মিলিত হন।
অতঃপর যে ফেরেশতারা রাতে তোমাদের সাথে ছিলেন, তারা আল্লাহর কাছে চলে যান। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের জিজ্ঞেস করেন অথচ আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বেশী জ্ঞান রাখেন। তোমরা আমার বান্দাদের কি অবস্থায় রেখে এসেছো? ফেরেশতারা জবাবে বলেন, আমরা তাদেরকে এ অবস্থায় রেখে এসেছি যে তারা সালাত আদায় করছে এবং আমরা তাদের কাছে গেছি এমন অবস্থায় যে তারা সালাত আদায় করছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৫৫৫, মুসলিম ৬৩২, নাসাঈ ১/২৪০ ও ইবনে খুযায়মা।) ইবনে খুযায়মার আরেক বর্ণনায় আছেঃ
تَجْتَمِعُ مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلَائِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ فَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ، فَتَصْعَدُ مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ، وَتَثْبُتُ مَلَائِكَةُ النَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ فَيَصْعَدُ مَلَائِكَةُ النَّهَارِ، وَتَثْبُتُ مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: أَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَتَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ فَاغْفِرْ لَهُمْ يَوْمَ الدِّينِ
’’রাতের ফেরেশতাগণ ও দিনের ফেরেশতাগণ ফজর এবং আসর নামাযের সময় মিলিত হন। যখন তারা ফজরের সময় মিলিত হন তখন রাতের ফেরেশতাগণ উপরে চলে যান আর দিনের ফেরেশতাগণ থেকে যান। তারা আবার আসর নামাযের সময় মিলিত হন। তখন দিনের ফেরেশতাগণ উপরে চলে যান এবং রাতের ফেরেশতাগণ থেকে যান। তখন তাদের পালনকর্তা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমরা আমার বান্দাদের কি অবস্থায় রেখে এসেছো? তারা বলেন, আমরা তাদের কাছে গেছি এমন অবস্থায় যে তারা সালাত আদায় করছে এবং আমরা তাদেরকে এ অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে তারা সালাত আদায় করছে। অতএব তাদেরকে বিচার দিবসে ক্ষমা করে দিন।’’
(শায়খ আলবানী বলেন: হাদীছটি ইমাম আহমাদও বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في المحافظة على الصبح والعصر
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ. رواه البخاري ومسلم والنسائي وابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৪. (হাসান লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করার পর মুসল্লায় বসে থাকে এবং আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকে। অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পর দু’রাকাআত নামায আদায় করে, তাকে পরিপূর্ণ একটি হজ্জ ও একটি ওমরার ন্যায় ছোয়াব দেয়া হবে।’’
আনাস বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।’’
(ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫৭৬)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن لغيره) عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
مَنْ صَلَّى الصبح فِي جَمَاعَةٍ ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ . قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ . رواه الترمذي
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৫. (হাসান) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ফজরের নামায আদায় করে সূর্যোদ্বয় পর্যন্ত আমি এমন একদল লোকের সাথে বসে থাকব যারা আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করে, ইহা আমার জন্যে ইসমাঈল (আঃ)এর বংশের চার জন কৃতদাস মুক্ত করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। আর আসরের নামায আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমি এমন একদল লোকের সাথে বসে থাকব যারা আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করে, ইহা আমার জন্যে চার জন কৃতদাস মুক্ত করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।’’
(আবু দাউদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩৬৬৭)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن ) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ ، يَذْكُرُونَ اللهَ ، تَعَالَى ، مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ ، وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ ، يَذْكُرُونَ اللهَ ، مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً.(رواه أبو داود)
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৬. (হাসান লি গাইরিহী) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’(ফজরের নামায আদায় করার পর) সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমি বসে থেকে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করব, তাঁর মহত্ম বর্ণনা করব, তাঁর প্রশংসা করব, তাঁর পবিত্রতা গাইব, তাঁর উলুহিয়্যাতের ঘোষণা দিব (অর্থাৎ- আল্লাহু আকবার, আল হামদুলিল্লাহ্, সুবহানাল্লাহ্, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ করব) ইহা আমার নিকট ইসমাঈল (আঃ)এর বংশের দু’জন বা ততোধিক কৃতদাস মুক্ত করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। আর আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (বসে থাকা)[1] আমার নিকট ইসমাঈল (আঃ)এর বংশের চার জন কৃতদাস মুক্ত করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।’’
(হাসান সনদে ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫/২৫৫)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن لغيره) و عَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَأَنْ أَقْعُدَ أَذْكُرُ اللهَ وَأُكَبِّرُهُ وَأَحْمَدُهُ وَأُسَبِّحُهُ وَأُهَلِّلُهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتِقَ رَقَبَتَيْنِ، مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَمِنْ بَعْدِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ . رواه أحمد بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৭. (হাসান সহীহ্) আবু উমামা (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করে। অতঃপর মুসল্লায় বসে থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকে। তারপর উঠে দু’রাকাআত নামায আদায় করে, সে একটি হজ্জ ও একটি ওমরার ছোয়াব নিয়ে ফেরত যায়।’’
(ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن صحيح ) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "مَنْ صَلَّى صَلاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ". رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৮. (সহীহ্ লি গাইরিহী) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করে, অতঃপর নিজ মুসল্লায় এতক্ষণ বসে থাকে যখন তার নামায পড়া সম্ভব হয় (অর্থাৎ সূর্যোদয় পর্যন্ত), (তার এই নামায) একটি মাকবূল ওমরা ও একটি মাকবূল হজ্জের সমতুল্য।’’
(ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال ...قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من صلى الصبح ثم جلس في مجلسه حتى تمكنه الصلاة كان بمنزلة عمرة وحجة متقبلتين
رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৬৯. (হাসান লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন গাবের থেকে বর্ণিত। আবু উমামা ও উতবা বিন আবদ্ তার নিকট রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করে। তারপর সেখানেই অটল থাকে (মুসল্লায় বসে থাকে) অতঃপর আল্লাহর জন্যে চাশতের নামায আদায় করে, তাকে হজ্জকারী ও ওমরাকারীর ন্যায় ছোয়াব দেয়া হয়, যার হজ্জ ও ওমরা পরিপূর্ণ।’’
(ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن لغيره) وَعَنْ عبد الله بن غابر أن أمامة وعتبة بن عبد رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا حدثاه عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَنْ صَلَّى صَلاةَ الصُّبْحِ فِي جَمَاعَةِ ، ثُمَّ ثَبَتَ حَتَّى يُسَبِّحَ سُبْحَةَ الضُّحَى ؛ كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ تَامًّا لَهُ حِجَّتُهُ وَعُمْرَتُهُ ». رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭০. (হাসান ছহীহ্) ওমার (রাঃ) বর্ণিত যে হাদীছটি [যঈফ তারগীব ও তারহীব গ্রন্থে রয়েছে] তা আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে প্রায় অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন বাযযার, আবু ইয়া’লা ও ইবনে হিব্বান।
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(حسن صحيح) ورواه البزار وأبو يعلى وابن حبان في صحيحه من حديث أبِيْ هُرَيْرَةَ بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ২৪) ফজর নামায ও আসর নামায শেষে মুসল্লায় বসে থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭১. (সহীহ্) জাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের নামায আদায় করে নিজ মুসল্লায় চার জানু হয়ে বসে থাকতেন, এমনকি সূর্য ভালোভাবে উদিত হত।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ৬৭০, আবু দাউদ ৪৭৫, তিরমিযী ৫৭৫, নাসাঈ ৩৭/৭০ ও ইবনে খুযায়মা ১/৩৭৩) ত্বাবরানীর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
كاَنَ إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ جَلَسَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
তিনি ফজরের নামায আদায় করে বসে থাকতেন এবং সূর্যদয় পর্যন্ত আল্লাহর যিকির করতেন।
ইবনে খুযায়মা সিমাক থেকে বর্ণনা করেনঃ তিনি জাবের বিন সামূরাকে জিজ্ঞেস করেন: রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর নামায শেষে কি করতেন? তিনি বলেনঃ
كَانَ يَقْعُدُ فِي مُصَلاَّهُ إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
তিনি ফজরের নামায আদায় করে নিজের মুসল্লায় বসে থাকতেন, এমনকি সূর্য উদিত হত।
الترغيب في جلوس المرء في مصلاه بعد صلاة الصبح وصلاة العصر
(صحيح) وَعَنْ جابر بن سمرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال كأنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ تَرَبَّعَ فِي مَجْلِسِهِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسْنَاءَ.رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي والطبراني وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭২. (হাসান লি গাইরিহী) আবু যার্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজর নামাযের পরে কোন কথা বলার পূর্বে পা দু’টি গুটানো অবস্থায় এই কালেমা পাঠ করবে ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহ্য়ি ওয়া ইয়মীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ ১০ বার। তাহলে আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকী লিখে দিবেন, দশটি গুনাহ মোচন করে দিবেন এবং দশটি মর্যাদা উন্নীত করবেন। সে সারাদিন সবধরনের অপছন্দনীয় বিষয় থেকে নিরাপদে থাকবে। তাকে শয়তান থেকে রক্ষা করা হবে এবং শির্ক ব্যতীত কোন পাপ সেদিন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ৩৪৭০ ও নাসাঈ ১২৭, হাদীছটির বাক্য তিরমিযীর)
তবে নাসাঈর বর্ণনায় ’’বিয়্যাদিহিল খাইরু’’ শব্দটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(হাসান লি গাইরিহী) তিনি আরো বর্ণনা করেনঃ
وَكَانَ لَهُ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ قالها عتق رَقَبَةٍ
’’আর প্রত্যেক বার ঐ কালেমা বলার সাথে সাথে একটি করে ঈমানদার কৃতদাস আযাদ করার ছোয়াব লাভ করবে।’’
ইমাম নাসাঈ মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ) থেকেও হাদীছটি বর্ণনা করেন। তাতে অতিরিক্ত এই কথা আছেঃ
من قالهن حين ينصرف من صلاة العصر أعطي مثل ذلك في ليلته
’’যে ব্যক্তি আসরের নামায পড়ে এই কথাগুলো পাঠ করবে তাকে সারা রাতের জন্য অনুরূপ ছোয়াব দেয়া হবে।’’
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن لغيره) عن أبي ذر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَنْ قَالَ فِي دُبُرِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَهُوَ ثَانٍ رِجْلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَتَكَلَّمَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ كُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَكَانَ يَوْمَهُ ذَلِكَ كُلَّهُ فِي حِرْزٍ مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ وَحُرِسَ مِنْ الشَّيْطَانِ وَلَمْ يَنْبَغِ لِذَنْبٍ أَنْ يُدْرِكَهُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ إِلَّا الشِّرْكَ بِاللَّهِ. رواه الترمذي واللفظ له والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭৩. (হাসান লি গাইরিহী) আম্মারা বিন শাবীব আল সাবায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি মাগরিব নামাযের পর এই দু’আটি দশবার পড়বেঃ ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহ্য়ি ওয়া ইয়মীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’। তাহলে আল্লাহ তার জন্য একদল সশস্ত্র ফেরেশতা প্রেরণ করবেন যারা তাকে সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা করবেন। তার জন্য আল্লাহ (জান্নাত) আবশ্যককারী দশটি নেকী লিখে দিবেন। ধ্বংসকারী দশটি গুনাহ তার থেকে মোচন করে দিবেন। আর তাকে দশজন ঈমানদার কৃতদাস মুক্ত করার মত ছোয়াব দেয়া হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ৫৭৭ ও তিরমিযী ৩৫৩৪, তিনি বলেনঃ হাদীছটি হাসান)
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن لغيره) وَعَنْ عمارة بن شبيب السبائي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قَالَ : لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشرَ مَرَّاتِ - على أَثَرِ المغرِبِ : بَعَثَ اللهُ لَهُ مَسْلَحَة يَحفَظُونَهُ مِنْ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ مُوجِبَاتٍ وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ مُوبِقَاتٍ وَكَانَتْ لَهُ بِعَدْلِ عَشْرِ رِقَابٍ مُؤْمِنَاتٍ. رواه النسائي والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭৪. (হাসান সহীহ) আবু আইয়্যুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজরের পর ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ ১০ বার পাঠ করবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকী লিখে দিবেন, দশটি গুনাহ মোচন করে দিবেন এবং দশটি মর্যাদা উন্নীত করবেন। তাকে চারজন গোলাম আযাদ করার সমপরিমাণ ছোয়াব দেয়া হবে। আর সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে পাহারা দেয়া হবে। যে ব্যক্তি এই কালেমাগুলো পাঠ করবে মাগরিব নামাযের পরে তাহলে সকাল পর্যন্ত তাকে অনুরূপ ছোয়াব দেয়া হবে।’’
(আহমাদ ৫/৪২০, নাসাঈ ২৪ ও ইবনে হিব্বান ২০২০ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) ইবনে হিব্বানের অপর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
وَكُنَّ لَهُ عِدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ
’’ঐ শব্দগুলো পাঠ করলে দশজন কৃতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ ছোয়াব দেয়া হবে।’’
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن صحيح) وَعَنْ أبي أيوب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال : مَنْ قَالَ إذا أصبح: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشرَ مَرَّاتِ كتب الله له بِهِنَّ عَشْرُ حَسَنَاتٍ ، وَمَحَا بِهِنَّ عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ ، وَرَفَعَ لَهُ بِهِنَّ عَشْرَ دَرَجَاتٍ ، وَكُنُّ لَهُ عِدْلَ عَشْرِ عتاقة أربع رقاب وَكُنَّ لَهُ حَرَسًا حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَالَهُنَّ إذا صلى المغرب دبر صلاته ، فَمِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ
. رواه أحمد والنسائي وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭৫. (হাসান লি গাইরিহী) মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি সকালের নামায শেষ করে এই দু’আ পাঠ করবেঃ ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু বিয়্যাদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির’’ ১০ বার, তাকে সাতটি জিনিস দেয়া হবে। (১) আল্লাহ্ তার জন্য দশটি নেকী লিখে দেন (২) দশটি গুনাহ মোচন করে দিবেন, (৩) দশটি মর্যাদা উন্নীত করবেন (৪) তাকে দশ জন কৃতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ ছোয়াব দেয়া হবে (৫) শয়তান থেকে তাকে হেফাজত করা হবে (৬) সব ধরনের অপছন্দনীয় বস্ত্ত থেকে নিরাপদে রাখা হবে (৭) সেদিন শির্ক ব্যতীত অন্য কোন পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। যে ব্যক্তি এই দু’আটি পাঠ করবে মাগরিব নামাযের পরে তাকেও সারা রাতের জন্য অনুরূপ ছোয়াব দেয়া হবে।
(ইবনে আবিদ্দুনিয়া ও ত্বাবরানী) শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীছটি নাসাঈ সুনান কুবরা গ্রন্থে এবং ইবনে সিন্নী আমালুল ইয়াওম ওয়া লায়লা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীছের বাক্য ত্বাবরানীর।
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن لغيره) وَعَنْ معاذ بن جبل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قَالَ حِينَ يَنْصَرِفُ مَنْ صَلاةِ الْغَدَاةِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشَرَ مَرَّاتٍ، أُعْطِيَ بِهِنَّ سَبْعًا، كُتِبَ لَهُ بِهِنَّ عَشَرُ حَسَنَاتٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ بِهِنَّ عَشَرُ سَيِّئَاتٍ، وَرُفِعَ لَهُ بِهِنَّ عَشَرُ دَرَجَاتٍ، وَكُنَّ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ نَسَمَاتٍ، وَكُنَّ لَهُ حِفْظًا مِنَ الشَّيْطَانِ، وَحِرْزًا مِنَ الْمَكْرُوهِ، وَلَمْ يَلْحَقْهُ فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ ذَنْبٌ إِلا الشِّرْكَ بِاللَّهِ، وَمَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يَنْصَرِفُ مِنْ صَلاةِ الْمَغْرِبِ أُعْطِيَ مِثْلَ ذَلِكَ ليلته ") رواه ابن أبي الدنيا والطبراني بإسناد حسن واللفظ له.)
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭৬. (হাসান) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ফজর নামাযের পর পাঠ করবেঃ ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহ্য়ি ওয়া ইয়মীতু বিয়্যাদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ একশতবার পা দু’টিকে গুটিয়ে নেওয়ার পূর্বে, তাহলে সে ঐ দিন পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারী রূপে গণ্য হবে, তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার অনুরূপ পাঠ করে অথবা তার চেয়ে বেশী পাঠ করে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত] গ্রন্থে)
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن ) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قَالَ فِي دُبُرِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يحيي ويميت بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ مائة مرة قبل أن يثني رجليه كان يومئذ من أفضل أهل الأرض عملا إلا من قال مثل ما قال أو زاد على ما قال. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ২৫) ফজর, আসর ও মাগরিব নামাযের পরে যে যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৪৭৭. (হাসান লি গাইরিহী) আবদুর রহমান বিন গানম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামাযের শেষে চলে যাওয়ার পূর্বে এবং পা দু’টিকে গুটিয়ে নেয়ার পূর্বে পাঠ করবে ’’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহ্য়ি ওয়া ইয়মীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ ১০ বার, তাহলে আল্লাহ তার জন্য প্রত্যকটির বিনিময়ে দশটি নেকী লিখে দিবেন, দশটি গুনাহ মোচন করবেন এবং দশটি মর্যাদা উন্নীত করবেন। সেই দিন তাকে সব ধরণের অপছন্দনীয় বস্ত্ত থেকে রক্ষা করা হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে তাকে নিরাপদ রাখা হবে। শির্ক ব্যতীত কোন গুনাহ তাকে স্পর্শ করার সুযোগ পাবে না এবং সে হবে ঐ দিন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারী। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তার চেয়ে উত্তম হবে অর্থাৎ তার চেয়ে বেশী পাঠ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ ৪/২২৭) এ হাদীছটি বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
الترغيب في أذكار يقولها بعد الصبح والعصر والمغرب
(حسن لغيره) وَعَنْ عبد الرحمن بن غنم رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال من قال قبل أن ينصرف ويثني رجليه من صلاة المغرب والصبح لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عشر مَرَّاتٍ، كُتِبَ الله لَهُ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمُحِا عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ، وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا من مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ، وَحِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، وَلَمْ يَحِلَّ لِذَنْبٍ أن يُدْرِكُهُ إِلَّا الشِّرْكَ ، وَكَانَ مِنْ أَفْضَلِ النَّاسِ عَمَلًا، إِلَّا رَجُلًا يَفْضُلُهُ، يَقُولُ: أَفْضَلَ مِمَّا قَالَ ". (رواه أحمد)
পরিচ্ছেদঃ ২৬) বিনা ওযরে আসর নামায ছুটে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৭৮. (সহীহ্) বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি আসরের নামায ছেড়ে দিল তার সমস্ত আমল ধ্বংস হয়ে গেল।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ৫৫৩ ও নাসাঈ ১/২৩৬)
الترهيب من فوات العصر بغير عذر
(صحيح) عن بريدة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ (رواه البخاري والنسائي)
সিন্দী বলেনঃ এখানে অপরাধটি ভয়াবহ একথা বুঝানো হয়েছে। প্রকৃতভাবে আমল বাতিল হয়ে যাবে তা উদ্দেশ্য করা হয়নি। শায়খ আলবানী বলেনঃ এ কথা তখন প্রযোজ্য হবে যখন বলা হবে যে কুফরী ব্যতীত কোন কারণে আমল ধ্বংস হয় না। কিন্তু আল্লাহর বাণী ‘‘তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বরকে উঁচু করো না।... এতে তোমাদের আমল ধ্বংস হয়ে যাবে।’’ (সূরা হুজুরাতঃ ২) এ থকে বুঝা যায় কোন কোন গুনাহের কাজের কারণেও আমল বাতিল হতে পারে। হতে পারে আসরের নামায ইচ্ছাকৃত পরিত্যাগ করা ঐ সমস্ত গুনাহের অন্তর্ভূক্ত যা আমল ধ্বংস করে দেয়। (আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন)
পরিচ্ছেদঃ ২৬) বিনা ওযরে আসর নামায ছুটে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৭৯. (সহীহ্) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের নামায ছেড়ে দিল, তার সমস্ত আমল ধবংস হয়ে গেল।’’
(ইমাম আহমদ সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬/৪৪১)
الترهيب من فوات العصر بغير عذر
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ مُتَعَمدًا فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ. رواه أحمد بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ২৬) বিনা ওযরে আসর নামায ছুটে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮০. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল সে যেন নিজ পরিবার এবং সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।’’
(মালেক ১/১১, বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২৬, আবু দাউদ ৪১৪, তিরমিযী ১৭৫, নাসাঈ ১/২৩৮, ইবনে মাজাহ ৬৮৫ ও ইবনে খুযায়মা ১/১৭৩) ইবনে খুযায়মা হাদীছের শেষে অতিরিক্ত একথাটি বলেছেনঃ ইমাম মালেক এর তাফসীরে বলেনঃ আসর নামায ছুটে গেল অর্থ নামাযের সময় শেষ হয়ে গেল।
الترهيب من فوات العصر بغير عذر
(صحيح) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاةُ الْعَصْرِ ، فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ. رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة في صحيحه وزاد في آخره قال مالك تفسيره ذهاب الوقت
পরিচ্ছেদঃ ২৬) বিনা ওযরে আসর নামায ছুটে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮১. (সহীহ্) নওফল বিন মুয়াবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি শুনেছেন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতেঃ ’’যে ব্যক্তির একটি নামায ছুটে গেল সে যেন তার পরিবার এবং সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।’’
অন্য বর্ণনাতে রয়েছেঃ নওফল বলেন, এমন একটি নামায রয়েছে যদি কোন ব্যক্তির উহা ছুটে যায় তাহলে সে তার পরিবার ও সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইবনে ওমার বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নামাযটি হচ্ছে আসরের নামায।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ১/২৩৮)
الترهيب من فوات العصر بغير عذر
(صحيح) وَعَنْ نوفل بن معاوية رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه سمع رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول من فاتته صلاة العصر فكأنما وتر أهله وماله وفي رواية قال نوفل صلاةٌ من فاتته فكأنما وتر أهله وماله قال ابن عمر قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : هي العصر. رواه النسائي
পরিচ্ছেদঃ ২৭) পরিপূর্ণরূপে এবং সঠিকভাবে ইমামতি করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ আর এ রকম না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮২. (হাসান সহীহ্) আবু আলি আল মিসরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উকবা বিন আমের আল জুহানী (রাঃ)এর সাথে কোন এক সফরে গেলাম। নামাযের সময় উপস্থিত হল। তখন আমরা চাইলাম উনি আমাদের ইমামতি করবেন। তখন তিনি বললেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি কোন কওমের ইমামতি করবে সে যদি পরিপূর্ণরূপে নামায আদায় করে তাহলে সে ঐ পরিপূর্ণতার ছোয়াব লাভ করবে এবং মুসল্লিরাও পরিপূর্ণতার ছোয়াব পাবে। কিন্তু যদি পরিপূর্ণরূপে নামায না পড়ায় তাহলে মুসল্লিরা পরিপূর্ণ ছোয়াব লাভ করবে কিন্তু সে গুনাহগার হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ৪/১৫৪, আবু দাউদ ৫৮০, ইবনে মাযাহ ৯৮৩, হাকেম ১/২৭, ইবনে খুযায়মা ৩/৮, ইবনে হিব্বান ২২১৮)
তবে ইবনে হিব্বান ও ইবনে খুযায়মার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
مَنْ أَمَّ النَّاسَ فَأَصَابَ الْوَقْتَ وَأَتَمَّ الصَّلاةَ فَلَهُ وَلَهُمْ، وَمَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعَلَيْهِ وَلا عَلَيْهِمْ".
’’যে ব্যক্তি মানুষের ইমামতি করবে নিদিষ্ট সময়ে এবং পরিপূর্ণরূপে তাহলে সে এবং মুসল্লিরা পরিপূর্ণ ছোয়াব লাভ করবে। আর সে যদি সময় এবং পরিপূর্ণতার ব্যাপারে ত্রুটি করে তাহলে সে গুনাহগার হবে মুসল্লিদের কোন ক্ষতি হবে না।’’
الترغيب في الإمامة مع الإتمام والإحسان والترهيب منها عند عدمهما
(حسن صحيح) عن أبي علي المصري قال سَافَرْنَا مَعَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَحَضَرَتْنَا الصَّلَاةُ، فَأَرَدْنَا أَنْ يَتَقَدَّمَنَا، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَلَا : " مَنْ أَمَّ قَوْمًا، فَإِنْ أَتَمَّ فَلَهُ التَّمَامُ وَلَهُمُ التَّمَامُ، وَإِنْ لَمْ يُتِمَّ، فَلَهُمُ التَّمَامُ وَعَلَيْهِ الْإِثْمُ) رواه أحمد واللفظ له وأبو داود وابن ماجه والحاكم وصححه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما)
পরিচ্ছেদঃ ২৭) পরিপূর্ণরূপে এবং সঠিকভাবে ইমামতি করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ আর এ রকম না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮৩. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ওরা তোমাদের ইমামতি করবে যদি তারা সঠিকভাবে নামায আদায় করে তাহলে তোমরা ছোয়াব লাভ করবে। আর যদি ওরা ভুল করে তাহলে তোমরা ছোয়াব পেয়ে যাবে কিন্তু তারা গুনাহগার হবে।’’
(বুখারী প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬৯৪, ইবনে হিব্বান ২২২৫)
ইবনে হিব্বানও হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনা এরকমঃ
سيأتي أو سيكون أقوام يصلون الصلاة فإن أتموا فلكم(ولهم) وإن انتقصوا فعليهم ولكم
’’অচিরেই এমন কিছু লোক আসবে বা হবে যারা নামাযের ইমামতি করবে, যদি তারা পরিপূর্ণভাবে নামায আদায় করে তাহলে তোমরা ছোয়াব পাবে এবং তারাও ছোয়াব পাবে। আর যদি তারা কোন ত্রুটি করে তাহলে তার গুনাহ সে ভোগ করবে, নামাযের ছোয়াব তোমরা পেয়ে যাবে।’’
الترغيب في الإمامة مع الإتمام والإحسان والترهيب منها عند عدمهما
(صحيح لغيره) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُصَلُّونَ لَكُمْ فَإِنْ أَصَابُوا فَلَكُمْ وَإِنْ أَخْطَئُوا فَلَكُمْ وَعَلَيْهِمْ . رواه البخاري وغيره وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২৮) মানুষে যাকে পছন্দ করে না তার ইমামতি করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮৪. (হাসান লি গাইরিহী) তালহা বিন আবদুল্লাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি কিছু লোকের ইমামতি করলেন। তিনি নামায শেষ করে বললেনঃ আমি ভুলে গিয়েছিলাম ইমামতি করার আগে তোমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে। তোমরা কি আমার নামায পড়াতে সন্তুষ্ট? তারা বলল: হ্যাঁ, হে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সহযোগী, আপনাকে কে অপছন্দ করে? তিনি বললেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’কোন ব্যক্তি যদি কোন কওমের ইমামতি করে আর তারা তাকে অপছন্দ করে তাহলে ঐ ইমামের নামায তার কানের উপরে উঠবে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে ২১০)
الترهيب من إمامة الرجل القوم وهم له كارهون
(حسن لغيره) وَعَنْ طلحة بن عبد الله رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنه صلى بقوم فلما انصرف قال إني نسيت أن أستأمركم قبل أن أتقدم أرضيتم بصلاتي قالوا نعم ومن يكره ذلك يا حواري رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال إني سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول أيما رجل أم قوما وهم له كارهون لم تجاوز صلاته أذنيه. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ২৮) মানুষে যাকে পছন্দ করে না তার ইমামতি করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮৫. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আতা ইবনে দিনার আল হুযালি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ তা’আলা তিন ব্যক্তির নামায কবূল করেন না, তাদের নামায আকাশে উঠে না এবং তাদের মাথার উপরে উঠে যায় না।
(১) যে ব্যক্তি কোন কওমের ইমামতি করে অথচ তারা তাকে অপছন্দ করে।
(২) যে ব্যক্তি জানাযার নামাযে ইমামতি করে অথচ তাকে তাতে অনুমতি দেয়া হয়নি।
(৩) যে নারীকে তার স্বামী সহবাসের জন্য ডাকে অথচ সে তা অস্বীকার করে রাত কাটায়।’’
(ইবনে খুযায়মা এ হাদীছটি এভাবে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন ৩/১১)
الترهيب من إمامة الرجل القوم وهم له كارهون
) (صحيح لغيره) و عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ الْهُذَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ثَلاَثَةٌ لاَ تُقْبَلُ اللهُ مِنْهُمْ صَلاَةٌ ، وَلاَ تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ ، وَلاَ تُجَاوِزُ رُؤُوسَهُمْ : رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ ، وَرَجُلٌ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ وَلَمْ يُؤْمَرْ ، وَامْرَأَةٌ دَعَاهَا زَوْجُهَا مِنَ اللَّيْلِ فَأَبَتْ عَلَيْهِ. (رواه ابن خزيمة في صحيحه هكذا مرسلا)
পরিচ্ছেদঃ ২৮) মানুষে যাকে পছন্দ করে না তার ইমামতি করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮৬. (হাসান সহীহ্) ইবনে খুযায়মা পূর্বের হাদীছটি অন্য সনদে আনাস (রাঃ) থেকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
الترهيب من إمامة الرجل القوم وهم له كارهون
(حسن صحيح) وروي له سنداً آخر إلى أنس يرفعه
পরিচ্ছেদঃ ২৮) মানুষে যাকে পছন্দ করে না তার ইমামতি করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৮৭. (হাসান) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তিনি ব্যক্তির নামায তাদের কানের উপরে উঠে না
(১) পলাতক কৃতদাস যতক্ষন সে মালিকের কাছে ফেরত না আসে
(২) ঐ নারী যে রাত অতিবাহিত করেছে অথচ স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট
(৩) ঐ ইমাম যে কোন কওমের ইমামতি করেছে অথচ তারা তাকে অপছন্দ করে।’’
(ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩৬০)
الترهيب من إمامة الرجل القوم وهم له كارهون
(حسن ) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ثَلَاثَةٌ لَا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمْ آذَانَهُمْ الْعَبْدُ الْآبِقُ حَتَّى يَرْجِعَ وَامْرَأَةٌ بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَإِمَامُ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ ) رواه الترمذي وقال حديث حسن غريب)
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৮৮. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মানুষ যদি জানতো আযান দেয়া ও প্রথম কাতারে নামায পড়ার মধ্যে কি মর্যাদা রয়েছে, তাহলে তা পাওয়ার জন্য যদি লটারি করা ছাড়া কোন উপায় না পেত, তবে তারা লটারিই করত।’’
(বুখারী ৬১৫ ও মুসলিম ৪৩৭, ৪৩৯)
তবে মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ
لَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ لَكَانَتْ قُرْعَةً
’’যদি তোমরা জানতে সামনের কাতারে কি ফযীলত আছে, তাহলে অবশ্যই লটারি করতে বাধ্য হতে।’’
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا . رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৮৯. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পুরুষের জন্য শ্রেষ্ঠ কাতার হচ্ছে প্রথম কাতার আর নিকৃষ্ট কাতার[1] হচ্ছে শেষের কাতার। আর নারীদের জন্য উত্তম কাতার হচ্ছে শেষের কাতার, আর নিকৃষ্ট কাতার হচ্ছে প্রথম কাতার।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৪৪০, আবু দাউদ ৬৮৭, তিরমিযী ২২৪, ইবনে মাজাহ ১০০০)
এই হাদীছটি আরো বর্ণিত হয়েছে ইবনে আব্বাস, ওমার বিন খাত্তাব, আনাস বিন মালেক, আবু উমামা, আবু সাঈদ, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) প্রমূখ সাহাবায়ে কেরাম থেকে।
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ أيضا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا، وَشَرُّهَا آخِرُهَا، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا، وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا. (رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه)
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯০. (সহীহ্) এরবায বিন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম কাতারে নামায আদায় কারীর জন্য তিন বার ক্ষমা প্রার্থনার দু’আ করতেন, আর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার দুআ করতেন।’’
(ইবনে মাজাহ ৯৯৬, নাসাঈ ২/৯২, ইবনে খুযায়মা ৩/২৭ এবং হাকেম ১/২১৪। হাকেম বলেন হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।)
ইবনে হিব্বানও বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনা এরকমঃ
الْمُقَدَّمِ ثَلَاثًا، وَعَلَى الثَّانِي وَاحِدَةً
’’রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনের কাতারের জন্য তিন বার দু’আ করতেন এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার।’’
নাসাঈর বর্ণনাও অনুরূপ তবে তিনি বলেনঃ
كاَنَ يُصَلِّي عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ مرتين
’’প্রথম কাতারের জন্য তিনি দু’বার দু’আ করতেন।’’[1]
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ العرباض بن سارية رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَغْفِرُ لِلصَّفِّ الْمُقَدَّمِ ثَلاثًا، وَلِلثَّانِي مَرَّةً رواه ابن ماجه والنسائي وابن خزيمة والحاكم وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯১. (হাসান লি গাইরিহী) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নিশ্চয়ই আল্লাহ্ রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের জন্য[1]।’’ তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় কাতারের জন্য?
তিনি বললেনঃ ’’নিশ্চয়ই আল্লাহ্ রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের জন্য।’’ তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় কাতারের জন্য?
তিনি বললেনঃ ’’দ্বিতীয় কাতারের জন্যও।’’
(সহীহ) এবং রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেনঃ
’’তোমরা তোমাদের কাতার গুলোকে সোজা করে নাও, কাঁধগুলো বরাবর করে নাও। পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর জন্য হাতগুলো নরম করে দাও, ফাঁকা স্থানকে পরিপূর্ণ করে দাও। কেননা ফাঁকা স্থানে শয়তান প্রবেশ করে যেমন একটি ছাগলের ছোট বাচ্চা ফাঁকা জায়গা পেলে ঢুকে যায়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/২৬২ এবং ত্বাবরানী ২২২৬৩)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(حسن لغيره) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِ الْأَوَّلِ قَالُوا يَا رَسُولُ اللَّهِ وعلى الثاني قاَلَ "إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الأَوَّلِ، قَالُوا يَا رَسُولُ اللَّهِ وعلى الثاني قاَلَ وعلى الثاني
(صحيح) وقال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَوُّوا صُفُوفَكُمْ وحاذوا بَيْنَ مَنَاكِبِكُمْ وَلِينُوا في أَيْدِي إِخْوَانِكُمْ، وَسَدِّدُوا الْخَلَلَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ فيما بَيْنَكُمْ بمنزلة وَالْحَذْفُ) يعني أولاد الضأن الصغار
رواه أحمد والطبراني
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯২. (সহীহ্) নো’মান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একথা বলেছেনঃ ’’নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রহমতে নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের উপর অথবা প্রথম দিকের কাতার সমূহে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ৪/২৯৬)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(حسن ) وَعَنْ النعمان بن بشير رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الأَوَّلِ أَوِ الصُّفُوفِ الأُوَلِ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৩. (সহীহ্) বারা বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাতারের এক প্রান্তে এসে দাঁড়াতেন এরপর মুসল্লিদের বক্ষ ও কাঁধগুলো বরাবর সোজা করে দিতেন, আর বলতেনঃ ’’তোমরা আগে-পিছে হয়োনা তাহলে তোমাদের অন্তরের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের উপরে।
(ইবনে খুযায়মা তাঁর [সহীহ গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/২৬)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ البراء بن عازب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِي نَاحِيَةَ الصَّفِّ وَيُسَوِّي بَيْنَ صُدُورِ الْقَوْمِ وَمَنَاكِبِهِمْ وَيَقُولُ : لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ ، إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِ الأُوَلِ. رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৪. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা কাতারগুলো সোজা করে নাও কেননা কাতার সোজা হওয়া নামায পরিপূর্ণ হওয়ার অন্তর্গত।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৭২৩, মুসলিম ৪৩৩ ও ইবনে মাজাহ ৯৯৩ প্রমূখ)
বুখারীর অন্য বর্ণনায় এসেছেঃ
فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ
’’কেননা কাতার সমূহকে সোজা করা ছালাত প্রতিষ্ঠা করার অন্তর্গত।’’ (বুখারী ৭২৩)
(সহীহ্) আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছেঃ
رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ.
’’পরস্পর মিলিত হয়ে তোমরা কাতারগুলোকে সোজা করে নাও এবং পরস্পরের নিকটবর্তী হয়ে যাও, কাঁধগুলোকে বরাবর করে নাও। শপথ সেই সত্বার যার হাতে আমার প্রাণ, আমি দেখি যে শয়তান কাতারের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় ছাগলের ছোট বাচ্চার মত প্রবেশ করছে।’’
(হাদীছটি আবু দাউদের ৬৬৭ বর্ণনার অনুরূপ আরো বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ও ইবনে খুযায়মা)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) و عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ .رواه البخاري ومسلم وابن ماجه وغيرهم ورواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৫. (সহীহ্) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা কাতার প্রতিষ্ঠা কর, কাঁধগুলো বরাবর কর, দু’জনের মধ্যে ফাঁকা জায়গা পূর্ণ কর, মুসল্লিদের জন্য তোমাদের হাতগুলো নরম করে দাও, আর শয়তানের জন্য কোন জায়গা খালি রাখিও না। কেননা যে ব্যক্তি কাতার পরিপূর্ণ করবে আল্লাহ্ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। আর যে ব্যক্তি কাতার বিছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক বিছিন্ন করবেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/৯৭, আবু দাউদ ৬৬৬। নাসাঈ ২/৯৩ ও ইবনে খুযায়মা ৩/২৩ হাদীছটির শেষাংশ বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَقِيمُوا الصُّفُوفَ , وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ , وَسُدُّوا الْخَلَلَ , وَلِينُوا بِأَيْدِى إِخْوَانِكُمْ , وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ , وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ , وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ. رواه أحمد وأبو داود وَعَنْد النسائي وابن خزيمة آخره
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৬. (সহীহ্) জাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন, তারপর বললেনঃ ’’যেভাবে ফেরেশতারা আল্লাহর সামনে কাতার বন্দি হয় তোমরা কেন সেভাবে কাতারে দাঁড়াও না?’’ আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতারা তাদের পালনকর্তার সামনে কাতার বন্দি হয়? তিনি বললেনঃ ’’তারা প্রথম কাতারগুলো পরিপূর্ণ করেন, আর কাতারের মাঝে ফাঁকা জায়গা মিলিয়ে নেন।’’
(মুসলিম ৪৩৮, আবু দাউদ ৬৮০, নাসাঈ ২/৮৩, ইবনে মাজাহ ৯৯২ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ جابر بن سمرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال خرج علينا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؟فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ ، وَكَيْفَ تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؟ قَالَ : يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ ، وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ. رواه مسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৭. (সহীহ্ লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই যে সালাতে তার কাঁধকে নরম করে দেয় অর্থাৎ পাশের মুসল্লিকে কষ্ট দেয় না।’’
(আবু দাউদ ৬৭২)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح لغيره) و عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خِيَارُكُمْ أَلْيَنُكُمْ مَنَاكِبَ فِى الصَّلاَةِ. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৮. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ছালাতের ইকামত দেয়া হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সম্মুখবর্তী হলেন তারপর বললেনঃ ’’তোমরা তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা করে নাও এবং পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদের পেছন থেকেও দেখতে পাই।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৭১৮। মুসলিমও ৪৩২ অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন)
বুখারীর রেওয়ায়াতে আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ
فكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه
তখন আমরা একে অপরের কাঁধের সাথে কাঁধ আর পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতাম।
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال أقيمت الصلاة فأقبل علينا رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَجْهِهِ ، فَقَالَ : أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا ، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي. رواه البخاري ومسلم بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৪৯৯. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তোমরা সালাতের কাতার উত্তমভাবে প্রতিষ্ঠা কর।’’
(ইমাম আহমদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/৪৮৫)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ( أَحْسِنُوا إِقَامَةَ الصُّفُوفِ فِي الصَّلاَةِ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ২৯) প্রথম কাতারে নামায পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করন এবং কাতার সোজা করা ও কাতারের ডান দিকের ফযীলতের বর্ণনা
৫০০. (হাসান) বারা ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিছনে ছালাত আদায় করতাম তখন চাইতাম যে তাঁর ডান দিকে থাকি। তিনি আমাদের দিকে (ডান দিকে) মুখ ফিরাতেন। তখন আমি শুনেছি তিনি একথা বলতেনঃ ’’হে আমার পালনকর্তা! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর যে দিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরুত্থান করবে।’’
(হাদীছটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৭০৯)
الترغيب في الصف الأول وما جاء في تسوية الصفوف والتراص فيها وفضل ميامنها
(حسن ) وَعَنْ البراء بن عازب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ ، يقبل علينا بوجهه فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ: رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০১. (হাসান সহীহ) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নিশ্চয় আল্লাহ্ রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন ঐ মুসল্লিদের উপর যারা কাতার মিলিয়ে নেয়।’’
(আহমাদ ২/৬৭, ইবনে মাজাহ ৯৯৫, ইবনে খুযায়মা ৩/২৩, ইবনে হিব্বান ২১৬ ও হাকেম ১/২১৪)
(সহীহ্ লি গাইরিহী) ইবনে মাজাহর রেওয়ায়াতে এসেছেঃ
وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةٍ.
’’যে ব্যক্তি কাতারের মধ্যে ফাঁকা স্থান পরিপূর্ণ করে, বিনিময়ে আল্লাহ তার মর্যাদা উন্নীত করেন।’’ (ইবনে মাজাহ ৯৯৫)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(حسن صحيح) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ . رواه أحمد وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان والحاكم
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০২. (সহীহ্) বারা বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাতারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে এসে দাঁড়াতেন, এরপর আমাদের বক্ষ ও কাঁধগুলোকে সোজা বরাবর করে দিতেন, আর বলতেনঃ ’’তোমরা আগে-পিছে হয়ো না তাহলে তোমাদের অন্তরের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের উপরে।’’
(ইবনে খুযায়মা ৩/২৬ তাঁর [সহীহ গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৭২৫৬)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(صحيح) و عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِي الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ ، فَيَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا ، أَوْ صُدُورُنَا وَيَقُولُ : لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ ، قَالَ : وَكَانَ يَقُولُ : إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ. رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০৩. (সহীহ্) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি কাতার পরিপূর্ণ করবে আল্লাহ্ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। আর যে ব্যক্তি কাতার বিছিন্ন করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক বিছিন্ন করবেন।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ২/৯৩, ইবনে খুযায়মা ৩/২৩ ও হাকেম, আহমাদ ২/৯৮, আবূ দাউদ ৬৬। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُماَمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ. رواه النسائي وابن خزيمة والحاكم وقال: صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০৪. (হাসান লি গাইরিহী) আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে ছালাতে তার কাঁধকে নরম রাখে। আর কাতারের মধ্যে ফাঁকা জায়গা পূর্ণ করার জন্য মুসল্লি যে কমদটি উঠায়, আল্লাহর কাছে তার চেয়ে উত্তম আর কোন কদম নেই।’’
(বাযযার হাসান সনদে ৫১২ ও ইবনে হিব্বান ১৭৫৬ প্রথম কথাটি বর্ণনা করেছেন এবং ত্বারবানী সম্পূর্ণটা বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(حسن لغيره) وَعَنْ عبد الله بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : خِيَارُكُمْ أَلْيَنُكُمْ مَنَاكِبًا فِي الصَّلاةِ ، وَمَا مِنْ خُطْوَةً أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ خُطْوَةٍ مَشَاهَا رَجُلٌ إِلَى فُرْجَةٍ فِي الصَّفِّ فَسَدَّهَا. رواه البزار بإسناد حسن وابن حبان في صحيحه كلاهما بالشطر الأول ورواه بتمامه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০৫. (সহীহ লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি কাতারের মধ্যে ফাঁকা স্থান পূর্ণ করে, বিনিময়ে আল্লাহ্ তার মর্যাদা উন্নীত করেন এবং জান্নাতে তার জন্যে একটি ঘর তৈরী করেন।’’
(ত্বারবানী হাদীছটি [আওসাত গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(صحيح لغيره) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০৬. (সহীহ লি গাইরিহী) পূর্বের হাদীছটি আসপাহানী আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে অতিরিক্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(صحيح لغيره) ورواه الأصبهاني بالزيادة أيضا من حديث أبِيْ هُرَيْرَةَ وفي إسناده عصمة بن محمد قال أبو حاتم لَيْسَ بِقَوِىٍّ. وقال غيره متروك
পরিচ্ছেদঃ ৩০) কাতারগুলো মিলিয়ে নেয়া ও ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধকরণ
৫০৭. (সহীহ লিগাইরিহী) বারা বিন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ ’’নিশ্চয় আল্লাহ্ রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতারা দু’আ করেন ঐ মুসল্লিদের উপর যারা প্রথম দিকের কাতার সমূহ মিলিয়ে নেয়। আর কাতার মিলিত করার জন্য মুসল্লি যে কমদটি উঠিয়ে চলে, আল্লাহর কাছে তার চেয়ে পছন্দনীয় আর কোন কদম নেই।’’
(আবু দাউদ ৬৬৪ ও ইবনে খুযায়মা কদম উঠানোর কথা উল্লেখ না করে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/২৬)
الترغيب في وصل الصفوف وسد الفرج
(صحيح لغيره) وَعَنْ البراء بن عازب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال وكأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ الأول وما من خطوة أحب إلى الله من خطوة يمشيها العبد يصل بها صفا. رواه أبو داود في حديث وابن خزيمة بدون ذكر الخطوة
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫০৮. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পুরুষের জন্য শ্রেষ্ঠ কাতার হচ্ছে প্রথম কাতার আর কম ছোয়াবের কাতার হচ্ছে শেষের কাতার। আর নারীদের জন্য উত্তম কাতার হচ্ছে শেষের কাতার, আর কম ছোয়াবের কাতার হচ্ছে প্রথম কাতার।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৪৪০, আবু দাউদ ৬৭৮, তিরমিযী ২২৪ ও নাসাঈ ২/৯৩)
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا، وَشَرُّهَا آخِرُهَا، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا، وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا . رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫০৯. (সহীহ) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা তাঁর সাহাবীদেরকে দেখলেন যে তারা পেছনের দিকের কাতারে নামায আদায় করছেন। তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ’’তোমরা সামনের দিকে এগিয়ে আস, তোমরা আমার অনুসরণ কর, তাহলে তোমাদের পরে যারা আছে তারা তোমাদের অনুসরণ করবে। আর কোন জাতি যখন (প্রথম কাতার থেকে) পিছনে থাকবে আল্লাহ্ও তাদেরকে পিছিয়ে দেবেন।[1]’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৪৩৮, আবু দাউদ ৬৮০, নাসাঈ ২/৮৩, ইবনে মাজাহ ৯৭৮)
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح) وَعَنْ أبي سعيد رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا ، فَقَالَ لَهُمْ : تَقَدَّمُوا فَائْتَمُّوا بِي ، وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ ، لاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللهُ.. رواه مسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫১০. (সহীহ লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’কোন জাতি যতক্ষণ প্রথম কাতারে নামায পড়া থেকে পিছিয়ে থাকবে আল্লাহও তাদেরকে পিছিয়ে দিবেন।’’
(আবু দাউদ ৬৭৯, ইবনে খুযায়মা ৩/২৭, ইবনে হিব্বান ২১৫৩)
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح لغيره) وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ عَنْ الصَّفِّ الْأَوَّلِ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمْ اللَّهُ .... رواه أبو داود وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫১১. (সহীহ্) ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের কাতারে আমাদের পরস্পরের কাঁধগুলোকে মিলিয়ে দিতেন। আর বলতেনঃ ’’তোমার বরাবর হও, বিছিন্ন হয়ো না, তাহলে তোমাদের অন্তরগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে ধৈর্য ও দৃঢ়তা সম্পন্ন এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে। তারপর থাকবে তাদের পরবর্তীগণ এরপর থাকবে তাদের পরবর্তীগণ।’’
(মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৪৩২)
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح) وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَحُ مَنَاكِبَنَا وَيَقُولُ:"اسْتَوُوا، وَلا تَخْتَلِفُوا، فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ، لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلامِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ. (رواه مسلم وغيره)
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫১২. (সহীহ্) নো’মান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’তোমরা তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা করে নাও, অন্যথা আল্লাহ্ তোমাদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে দিবেন।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক, বুখারী ৭১৭, মুসলিম ৪৩৮, আবু দাউদ ৬৬৩, তিরমিযী, নাসাঈ ২/৮৯ ও ইবনে মাজাহ্ ৯৯৪)
বুখারী ব্যতীত অন্য সকলের আরেক বর্ণনায় আছেঃ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كاَنَ يُسَوِّي صُفُوفَنَا حَتَّى كَأَنَّمَا يُسَوِّي بِهَا الْقِدَاحَ حَتَّى رَآناَ أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا فَقَامَ حَتَّى كَادَ يُكَبِّرُ فَرَأَى رَجُلًا بَادِيًا صَدْرُهُ مِنْ الصَّفِّ فَقَالَ عِبَادَ اللَّهِ لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ.
’’রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাতারগুলোকে সোজা করে দিতেন। এমনকি মনে হতো তিনি যেন তীর সোজা করছেন। যখন তিনি দেখতেন যে আমরা (কাতার সোজা করার বিষয়টি) বুঝে নিয়েছি তখন ছাড়তেন। তারপর একদিন তিনি বের হলেন, নামাযের জন্যে তাকবীর দিবেন এমন সময় লক্ষ্য করলেন জনৈক লোক কাতার থেকে নিজের বক্ষ বের করে দাঁড়িয়ে আছে। তখন তিনি বললেনঃ
’’আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা কাতার সোজা করবে, অন্যথা আল্লাহ্ তোমাদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে দিবেন।’’
(সহীহ্) আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় আছেঃ
أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَلْزَقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা মানুষের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তারপর বললেনঃ ’’তোমরা কাতারগুলো কায়েম (সোজা) কর, অন্যথা আল্লাহ্ তোমাদের অন্তরের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন।’’
তিনি (নো’মান বিন বাশীর) বলেনঃ আমি দেখেছি একজন মুসল্লি পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ, হাঁটুর সাথে হাঁটু এবং টাখনুর সাথে টাখনু লাগিয়ে দাঁড়াতেন।
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح) وَعَنْ النعمان بن بشير رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ.
رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩১) পুরুষদের পেছেনের কাতারে ও মহিলাদের প্রথম কাতারে থাকা এবং কাতার বাঁকা হওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫১৩. (সহীহ্) বারা বিন আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাঝে মধ্যে কাতারের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে চলাফেরা করতেন। তিনি আমাদের বক্ষ ও কাঁধগুলোকে হাত দিয়ে বরাবর করে দিতেন। আর বলতেনঃ ’’তোমরা আগে-পিছে হয়ো না, নতুবা তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে।’’ তিনি আরো বলতেনঃ ’’নিশ্চয় আল্লাহ রহমত নাযিল করেন, ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম দিকের কাতারগুলোর উপর।’’ অর্থাৎ প্রথম দিকের কাতারে নামায আদায়কারীদের জন্যে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৬৬৪, নাসাঈ ২/৮৯, ইবনে খুযায়মা ৩/২৬, ইবনে হিব্বান)
ইবনে হিব্বানের অপর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِينَا، فَيَمْسَحُ عَوَاتِقَنَا وَصُدُورَنَا وَيَقُولُ: " لَا تَخْتَلِفْ صُفُوفُكُمْ فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ، إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ،
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এসে আমাদের কাঁধ ও বক্ষগুলোকে হাত দিয়ে বরাবর করে দিতেন। আর বলতেনঃ
’’তোমাদের কাতারগুলো যেন বক্র না হয়, নতুবা তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে। নিশ্চয় আল্লাহ রহমত নাযিল করেন, ফেরেশতারা দু’আ করেন প্রথম কাতারের উপর।’’
ইবনে খুযায়মার অপর বর্ণনায় আছেঃ
لَا تَخْتَلِفْ صُفُوفُكُمْ فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ
’’তোমাদের বক্ষগুলো আগপিছ রেখো না। নতুবা তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে।’’
الترهيب من تأخر الرجال إلى أواخر صفوفهم وتقدم النساء إلى أوائل صفوفهن ومن اعوجاج الصفوف
(صحيح) وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَلَّلُ الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ صُدُورَنَا وَمَنَاكِبَنَا وَيَقُولُ لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الْأُوَلِ. رواه أبو داود والنسائي وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৪. (সহীহ লিগাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইমাম যখন [গাইরিল মাগযূবে আলাইহিম ওয়ালায্যাল্লীন] বলবেন[1] তখন তোমরা বল ’আমীন’। কেননা যে ব্যক্তির আমীন ফেরেশতার আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/৮৭, বুখারী ৭৮০, মুসলিম ৪১০, আবু দাউদ ৯৩৫, নাসাঈ ২/২৪৪ ও ইবনে মাজাহ্ ৮৫১, হাদীছের বাক্য বুখারীর)
বুখারীর অপর রেওয়ায়াতে রয়েছেঃ
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتْ الْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
’’যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি বলে ’আমীন’, আর ফেরেশতারা আসমানে বলেন ’আমীন’ তখন যে ব্যক্তির আমীন ফেরেশতার আমীনের সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’’
ইবনে মাজাহ্ ও নাসাঈর অপর বর্ণনায়ঃ
إذا أمن القارىء فأمنوا
’’পাঠক যখন আমীন বলবে, তখন তোমরা আমীন বলবে।’’[2]
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ [غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ] فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. رواه مالك والبخاري واللفظ له ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
[2] . (آمين) আমীন শব্দের অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি কবূল কর। কেউ বলেছেনঃ এটা আল্লাহ তা’আলার একটি নাম। কেউ বলেছেনঃ ঐরূপই যেন করেন। অথবা ঐরূপই যেন হয়।
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৫. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ’’সালাম ও আমীন বলার বিষয়ে ইহুদীরা তোমাদের যত হিংসা করে, অন্য কোন বিষয়ে ততটুকু হিংসা করে না।’’
(ইবনে মাজাহ ৮৫৬, ইবনে খুযায়মা, আহমাদ)
আহমাদের বর্ণনা এরকমঃ
أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذُكِرَتْ عِنْدَهُ الْيَهُوْدَ فَقاَلَ: إِنَّهُمْ لَمْ يَحْسُدُونَا عَلَى شَيْءٍ كَمَا حَسَدُونَا عَلَى يَوْمِ الْجُمُعَةِ الَّتِي هَدَانَا اللهُ لَهَا وَضَلُّوا عَنْهَا، وَعَلَى الْقِبْلَةِ الَّتِي هَدَانَا اللهُ لَهَا وَضَلُّوا عَنْهَا، وَعَلَى قَوْلِنَا خَلْفَ الْإِمَامِ: آمِينَ."
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে ইহুদীদের কথা উল্লেখ করা হল। তখন তিনি বললেনঃ
’’ইহুদীরা নিম্নলিখিত তিনটা বিষয়ের মত কোন কিছুতে আমাদের উপর হিংসা করে নাঃ (১) জুমআর দিনের ব্যাপারে, যে ব্যাপারে আল্লাহ্ আমাদের হেদায়াত করেছেন আর তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন। (২) কেবলার বিষয়ে, আল্লাহ্ আমাদেরকে সে বিষয়ে হেদায়াত করেছেন আর তাদেরকে করেছেন বিভ্রান্ত। আর (৩) ইমামের পিছনে আমাদের ’আমীন’ বলার ক্ষেত্রে।’’
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَسَدَتْكُمْ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى السَّلَامِ وَالتَّأْمِينِ. رواه ابن ماجه وابن خزيمة وأحمد
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৬. (সহীহ লি গাইরিহী) সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইমাম যখন বলেন, [গাইরিল মাগযূবী আলাইহিম ওয়ালায্ যাল্লীন], তখন তোমরা বল ’আমীন’ আল্লাহ্ তোমাদের দু’আ কবূল করবেন।’’ (মুসলিম ৪০৪, আবূ দাউদ ৯৭৬, নাসাঈ ২/১৯৬ ত্ববরানী [কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح لغيره) وَعَنْ سمرة بن جندب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا قَالَ الإمَام (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ) فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللَّهُ ، رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৭. (সহীহ) মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ দীর্ঘ একটি হাদীছে আবু মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তার মধ্যে রয়েছেঃ ’’তোমরা যখন নামায পড়বে, কাতারগুলোকে সোজা করে নিবে। তোমাদের মধ্যে একজন ইমামতি করবে। তিনি তাকবীর দিলে তোমরা তাকবীর দিবে, তিনি (গাইরিল মাগযূবে আলাইহিম ওয়ালায্ যাল্লীন) বললে তোমরা বলবে ’’আমীন’’। তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের দু’আ কবূল করবেন।’’
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) ورواه مسلم وأبو داود والنسائي في حديث طويل عن أبي موسى الأشعري قال فيه: إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا ، وَإِذَا قَالَ : غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ، فَقُولُوا : آمِينَ ، يُجِبْكُمُ اللَّهُ
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৮. (সহীহ্) ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ্ (ছাঃ) এর সাথে নামায পড়ছিলাম। এমন সময় মুসল্লিদের মধ্যে একজন লোক বলে উঠলঃ ’’আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছীরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাঁও ওয়া আসীলাঃ রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ’’এই এই কালেমাগুলো কে বলেছে?’’
লোকটি বললঃ আমি হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেন, আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, এগুলোর জন্য আকাশের দরজা সমূহ খোলা হয়েছে।
ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট একথা শোনার পর থেকে আমি একথাগুলো বলা কখনো ছাড়িনি।
(ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১৬০১)
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) و عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ قَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الْقَائِلُ كلمة كَذَا وَكَذَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ عَجِبْتُ لَهَا فُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول ذلك. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫১৯. (সহীহ্) রিফাআ বিন রাফে’ আল যুরাকী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পিছনে নামায পড়ছিলাম। তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে যখন বললেন, ’’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’।
পিছন থেকে একজন বলে উঠলঃ (রাববানা ওয়ালাকাল হামদু, হামদান কাছীরান্ তাইয়্যেবান মুবারাকান ফীহ্) নামায শেষ করে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ’’একথাগুলো কে বলেছে?’’ লোকটি বলল: আমি। তিনি বললেন, আমি দেখেছি তিরিশের অধিক ফেরেশতা প্রতিযোগীতা করছেন কে কথাটি আগে লিখতে পারেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মালেক ১/২১২, বুখারী ৮৯৯, আবু দাউদ ৭৭৩ ও নাসাঈ ২/১৯৬)
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) وَعَنْ ر فاعة بن رافع الزرقي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال كنا نصلي وراء النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ : سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ، قَالَ رَجُلٌ مِنْ وَرَائِهِ : رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ مَنَ الْمُتَكَلِّمُ آنِفًا قَالَ أنَا، قَالَ رَأَيْتُ بَضْعَةً وَثَلاثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّل. رواه مالك والبخاري وأبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩২) ইমামের পিছনে ‘আমীন’ ও দু‘আর মধ্যে ‘আমীন’ বলতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে ও নামায শুরু করার সময় যা বলতে হয় তার বর্ণনা
৫২০. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইমাম যখন বলেন, ’’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ তোমরা বলঃ ’’আল্লাহুম্মা রাববানা লাকাল্ হামদু’’ কেননা যার একথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’’
(মালেক, বুখারী ৭৯৬, মুসলিম ৪০৯, আবু দাউদ ৮৪৮, তিরমিযী ২৬৭ ও নাসাঈ ২/১৯৬)
বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
فقولوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
’’তোমরা বলবেঃ ’’রাববানা ওয়া লাকাল হামদু।’’ ওয়াও শব্দ বৃদ্ধি করে।
الترغيب في التأمين خلف الإمام وفي الدعاء وما يقوله في الاعتدال والاستفتاح
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩৩) রকূ’-সিজদায় ইমামের আগে মুক্তাদীর মাথা উঠানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫২১. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’সে লোক কি ভয় করে না যে, ইমামের আগে রুকূ’ বা সিজদা থেকে মাথা উঠালে আল্লাহ্ তার মাথাটা গাধার মাথায় রূপান্তরিত করে দিবেন অথবা তার আকৃতিকে গাধার আকৃতিতে পরিবর্তন করে দিবেন?
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৯১, মুসলিম ৪২৭, আবু দাউদ ৬২৩, তিরমিযী ৫৮২, নাসাঈ ২/৯৬ ও ইবনে মাজাহ ৯৬১)
ইমাম খাত্তাবী বলেন, ’যে লোক এরূপ কাজ করবে তার পরিণতি সম্পর্কে মতভেদ হয়েছে। ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন, ’’এরূপ যে করবে তার নামায হবে না।’’ অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম বলেন, ’সে ভুল করবে কিন্তু তার নামায যথেষ্ট হয়ে যাবে।’ অবশ্য অনেকে বলেন, সে পুনরায় সিজদা করবে। আবার কেউ বলেন, সে যতটুকু কাজ ইমামের আগে করেছে, ইমামের মাথা উঠানোর পর ততটুকু সময় দেরী করে মাথা উঠাবে।
الترهيب من رفع المأموم رأسه قبل الإمام في الركوع والسجود
) (صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ أَوْ لَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ. رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২২. (সহীহ্) আবু মাসউদ বাদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ’’কোন মানুষের নামায যথেষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত সে রুকূ’- সিজদায় নিজের মেরুদন্ডকে সোজা না করবে।’’
(আহমাদ ৪/১১৯, আবু দাউদ ৮৫৫, তিরমিযী ২৬৫, নাসাঈ ২/১৮৩, ইবনে মাজাহ ৮৭০, ইবনে খুযাইমা ১/৩০০, ইবনে হিব্বান ১৮৮৯, ত্বাবরানী, দারাকুতনী ১/৩৪৮ ও বায়হাকী ২/৮৯) দারাকুতনী ও বায়হাকী বলেনঃ ’হাদীছটির সনদ সহীহ ও সুপ্রমাণিত’। তিরমিযী বলেনঃ ’হাদীছটি হাসান সহীহ’
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُجْزِئُ صَلَاةُ الرَّجُلِ حَتَّى يُقِيمَ ظَهْرَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.
رواه أحمد وأبو داود واللفظ له والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما ورواه الطبراني والدارقطني والبيهقي وقالا إسناده صحيح ثابت
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৩. (হাসান লিগাইরিহি) আবদুর রহমান বিন শিবিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন ’’নামাযে কাকের মত ঠোকর দিতে[1], পশুর মত করে বসতে এবং উট যেমন নিজের জায়গা নির্ধারণ করে নেয় তেমন করে কোন মানুষ মসজিদে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে নিতে।’’
(আহমাদ ৩/৪২৮, আবু দাউদ ৮৬২, নাসাঈ ২/২১৪ ইবনে মাজাহ ১৪২৯, ইবনে খুযাইমা ১/৩৩১, ইবনে হিব্বান হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২২৭৪)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
حسن لغيره) و عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَقْرَةِ الْغُرَابِ وَافْتِرَاشِ السَّبْعِ وَأَنْ يُوَطِّنَ الرَّجُلُ الْمَكَانَ فِي الْمَسْجِدِ كَمَا يُوَطِّنُ الْبَعِيرُ .(رواه أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما)
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৪. (সহীহ লি গাইরিহী) আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সেই লোক নিকৃষ্ট চোর যে নামাযে চুরি করে। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে নামাযে চুরি করে? তিনি বললেনঃ ’’পরিপূর্ণরূপে রুকূ’-সিজদা করে না।’’ অথবা তিনি বলেছেনঃ ’’রুকূ’-সিজদায় পিঠকে সোজা করে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/৩১০, ত্বাবরানী, ইবনে খুযাইমা ১/৩৩২ ও হাকেম ১/২২৯) হাকেম বলেন, হাদীছটির সনদ সহীহ।
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبي قتادة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلاَتِهِ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ ، وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلاَتِهِ ؟ قَالَ : لاَ يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلاَ سُجُودَهَا ، أَوْ قَالَ : لاَ يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ. (رواه أحمد والطبراني وابن خزيمة في صحيحه والحاكم)
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৫. (সহীহ লিগাইরিহী) আবদুল্লাহ বিন মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’সবচেয়ে বড় চোর সেই লোক যে নামায চুরি করে।’’ প্রশ্ন হল, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে নামায চুরি করে? তিনি বললেনঃ ’’রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণরূপে করে না। আর সবচেয়ে বড় কৃপণ সে যে সালাম দিতে কৃপণতা করে।’’
(ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) وَعَنْ عبد الله بن مغفل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "أَسْرَقُ النَّاسِ الَّذِي يَسْرِقُ صَلاتَهُ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَسْرِقُ صَلاتَهُ؟، قَالَ: لا يُتِمُّ رُكُوعَهَا، وَلا سُجُودَهَا، وَأَبْخَلُ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلامِ. (رواه الطبراني في معاجيمه الثلاثة بإسناد جيد)
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৬. (সহীহ্) আলী বিন শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা বের হয়ে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করলাম। তাঁর কাছে বায়আত করলাম এবং তাঁর পিছনে নামায আদায় করলাম। তিনি আড় চোখে লক্ষ্য করলেন, জনৈক লোক রুকূ’তে নিজের মেরুদন্ডকে সোজা করেনি। নামায শেষ করে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’হে মুসলামান সমাজ! যে লোক রুকূ’-সিজদাতে নিজের মেরুদন্ডকে সোজা করবে না তার নামায হবে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/২৩, ইবনে মাজাহ ৮৭১, ইবনে খুযাইমা ১/৩৩৩ ও ইবনে হিব্বান ১৮৮৮)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَايَعْنَاهُ وَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ فَلَمَحَ بِمُؤْخِرِ عَيْنِهِ رَجُلًا لَا يُقِيمُ صَلَاتَهُ يَعْنِي صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ. (رواه أحمد وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما)
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৭. (সহীহ্) ত্বলক বিন আলী হানাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ্ ঐ বান্দার নামাযের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না, যে রুকূ’ ও সিজদার মাঝে মেরুদন্ডকে সোজা করে না।’’
(আহমাদ ও ত্বাবরানী হাদীছটি [কাবীর গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) و عَنْ طَلْقِ بْنِ عَلِىٍّ الْحَنَفِىِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لاَ يَنْظُرُ الله إِلَى صَلاَةِ عَبْدٍ لاَ يُقِيمُ فِيهَا صُلْبَهُ بَيْنَ رُكُوعِهَا وَسُجُودِهَا. (رواه الطبراني في الكبير)
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৮. (হাসান) আবু আবদুল্লাহ আশআরী থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখলেন একজন লোক নামায আদায় করছে কিন্তু পরিপূর্ণরূপে রুকূ’ করে না এবং ঠোকর দেয়ার মত করে সিজদা করছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’এ লোক যদি এই অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, তবে মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ধর্মের বাইরে মৃত্যু বরণ করবে।’’
তারপর রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’যে ব্যক্তি পরিপূর্ণরূপে রুকূ’ করে না এবং ঠোকর দেয়ার মত করে সিজদা করে তার উদাহরণ সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তির সাথে যে একটি বা দু’টি খেজুর খায় কিন্তু তাতে তার ক্ষুধা নিবারণ হয় না।’’
আবু সালেহ বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)থেকে কে তোমার কাছে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, সৈনিকদের কয়েকজন সেনাপতিঃ আমর বিন আস, খালেদ বিন ওয়ালিদ এবং শুরাহবিল বিন হাসানা (রাঃ)। তাঁরা সবাই রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট থেকে শুনেছেন।
(হাদীছটি বর্ণনা করেন, ত্ববরানী, আবু ইয়ালা ৭১৮৪ ও ইবনে খুযায়মা ১/৩৩২)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن ) و عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَن ّرَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلا لا يُتِمَّ رُكُوعَهُ يَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ وَهُوَ يُصَلِّي ، فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَوْ مَاتَ هَذَا عَلَى حَالِهِ هَذِهِ مَاتَ عَلَى غَيْرِ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَثَلُ الَّذِي لا يُتِمُّ رُكُوعَهُ ويَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ ، مَثَلُ الْجَائِعِ يَأْكُلُ التَّمْرَةَ وَالتَّمْرَتَانِ لا يُغْنِيَانِ عَنْهُ شَيْئًا ، قَالَ أَبُو صَالِحٍ : قُلْتُ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ : مَنْ حَدَّثَكَ بِهَذَا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ : أُمَرَاءُ الأَجْنَادِ : عَمْرُو بن الْعَاصِ ، وَخَالِدُ بن الْوَلِيدِ ، وَشُرَحْبِيلُ بن حَسَنَةَ سَمِعُوهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
رواه الطبراني في الكبير وأبو يعلى بإسناد حسن وابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫২৯. (হাসান) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ’’একজন লোক ষাট বছর নামায আদায় করে; অথচ তার নামায কবূল হয় না। কেননা হয়তো সে রুকূ’ ঠিকভাবে আদায় করে কিন্তু সিজদা ঠিকভাবে আদায় করে না। সিজদা হয়তো ঠিকভাবে আদায় করে কিন্তু রুকূ’ ঠিকভাবে আদায় করে না।’’
(হাদীছটি আবুল কাসেম আসপাহানী বর্ণনা করেন।)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن ) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : إنَّ الرَّجُلَ لَيُصَلِّي سِتِّينَ سَنَةً مَا تُقْبَلُ لَهُ صَلاَةٌ ، لَعَلَّهُ يُتِمُّ الرُّكُوعَ ، وَلاَ يُتِمُّ السُّجُودَ ، وَيُتِمُّ السُّجُودَ ، وَلاَ يُتِمُّ الرُّكُوعَ.
رواه أبو القاسم الأصبهاني
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩০. (সহীহ মাওকূফ) বেলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদা দেখলেন একজন লোক রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণরূপে করছে না। তখন তিনি বললেনঃ ’এ লোক (এ অবস্থায়) মৃত্যু বরণ করলে মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ধর্মের বাইরে মৃত্যু বরণ করবে।’
(ত্বাবারনী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/১২৭)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) وَعَنْ بلال رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه أبْصَرَ رَجُلاً لاَ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَلاَ السُّجُودَ فَقَالَ لَوْ مَأتَ هَذَا لمَـاَتَ عَلَى غَيْرِ مِلةِ مُحَمدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩১. (সহীহ লিগাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ্ তা’আলা দৃষ্টিপাত করেন না ঐ বান্দার নামাযের প্রতি, যে রুকূ’ ও সিজদার মাঝে (দন্ডায়মান অবস্থায়) নিজের মেরুদন্ডকে সোজা করে না।’’
(ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/২৫২)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى صَلاَةِ عَبْدٍ لاَ يُقِيمُ صُلْبَهُ بَيْنَ رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ. رواه أحمد
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩২. (সহীহ লিগাইরিহী) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে রুকূ’ অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।
(হাদীছটি আবু ই’য়ালা ও আসপাহানী বর্ণনা করেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
) (صحيح لغيره) وروي عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ:نَهَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقْرَأَ وَأَنَا رَاكِعٌ..... رواه أبو يعلى والأصبهاني
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৩. (হাসান) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’সেই লোক নিকৃষ্ট চোর যে নিজের নামাযে চুরি করে।’’ তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কিভাবে নিজের নামাযে চুরি করে? তিনি বললেনঃ ’’পরিপূর্ণরূপে রুকূ’ করে না, পূর্ণরূপে সিজদা করে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী, ইবনে হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, হাদীছটি সহীহ।)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن ) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"إِنَّ أَسْوَأَ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ صَلاتَهُ"، قَالَ: وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلاتَهُ؟ قَالَ:"لا يُتِمُّ رُكُوعَهَا، وَلا سُجُودَهَا. رواه الطبراني في الأوسط وابن حبان في صحيحه والحاكم وصححه
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৪. (সহীহ লিগাইরিহী) নো’মান বিন মুর্রা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মদ্যপানকারী, ব্যভিচারী ও চোর সম্পর্কে তোমাদের মন্তব্য কি?’’
প্রশ্নটি ছিল এসকল বিষয়ে দন্ডবিধি নাযিল হওয়ার পূর্বে। তাঁরা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ ’’এগুলো অশ্লীল কাজ। একাজগুলো করলে শাস্তি আছে। কিন্তু নিকৃষ্ট চুরি ঐটা যে লোক নামাযে চুরি করে।’’ তাঁরা বললেন, কিভাবে নামাযে চুরি করে? তিনি বললেনঃ ’’পরিপূর্ণরূপে রুকূ’ করে না, পরিপূর্ণরূপে সিজদা করে না।’’
(ইমাম মালেক হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১/১৬৭)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) و عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ مُرَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا تَرَوْنَ فِي الشَّارِبِ وَالزَّانِي وَالسَّارِقِ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُنْزَلَ فِيهِمْ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هُنَّ فَوَاحِشُ وَفِيهِنَّ عُقُوبَةٌ وَأَسْوَأُ السَّرِقَةِ الَّذِي يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالُوا وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلَاتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا. رواه مالك
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৫. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের এক কিনারে বসে ছিলেন। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করল। অতঃপর নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এসে তাঁকে সালাম দিল।
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বললেনঃ ’’ওয়া আলাইকাস্ সালাম। ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি।’’ লোকটি ফিরে গিয়ে নামায পড়ল। এসে সালাম দিল। নবীজী বললেনঃ ওয়া আলাইকাস্ সালাম। ’’ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি।’’ লোকটি আবার নামায পড়ল। এসে সালাম দিল। নবীজী বললেনঃ ’’ওয়া আলাইকাস্ সালাম। ফিরে যাও এবং নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি।" লোকটি পূনরায় নামায পড়ল। এসে সালাম দিল। লোকটি দ্বিতীয়বার বা তার পরের বারে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বললেনঃ
’’তুমি যখন নামাযের ইচ্ছা করবে তখন পরিপূর্ণরূপে ওযু সম্পাদন করবে। তারপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর দিবে। এরপর কুরআন থেকে যা তোমার কাছে সহজ হয় তা পাঠ করবে। অতঃপর এমনভাবে রুকূ’ করবে যাতে রুকূ’ অবস্থায় প্রশান্তি আসে। তারপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দন্ডায়মান হবে। এরপর এমনভাবে সিজদা করবে যাতে সিজদায় প্রশান্তি আসে। এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে প্রশান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বসবে। এরপর আবার প্রশান্তির সাথে সিজদা করবে। তারপর সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ প্রশান্তির সাথে বসবে এবং এভাবে তোমার সমস্ত নামায পড়বে।’’
অপর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ ’’দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দন্ডায়মান হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৭৫৭ ও মুসলিম ৩৯৭)
মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
فَقَالَ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا فَعَلِّمْنِي
লোকটি বললঃ সেই মহান সত্তার শপথ করে বলছি যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর করে নামায আদায় করতে জানি না। তাই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। এ বর্ণনায় একটি মাত্র সিজদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদীছটি আরো বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৮৫৬, তিরমিযী ৩০৩, নাসাঈ ১/১২৫ ও ইবনে মাজাহ্ ১০৬০।
(সহীহ্) আবু দাউদের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
فَإِذَا فَعَلْتَ هَذَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلَاتُكَ وَان انْتَقَصْتَ مِنْ هَذَا فَإِنَّمَا انْتَقَصْتَهُ مِنْ صَلَاتِكَ
’’তুমি যখন এই নিয়ম অবলম্বন করবে, তখন তোমার নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নিয়মের মধ্যে কোন ঘাটতি করলে তোমার নামাযেও ঘাটতি হয়ে যাবে।’’
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَجُلاً دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ فَقَالَ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ فَقَالَ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ
فَقَالَ فِي الثَّانِيَةِ أَوْ فِي الَّتِي تليها عَلِّمْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَسْبِغْ الْوُضُوءَ ثُمَّ اسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ بِمَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلَاتِكَ كُلِّهَا
وفي رواية ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ قَائِمًا يعني منَ السَّجْدَةِ الثاَّنِيَةِ . رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৬. (সহীহ্) রিফাআ’ বিন রাফে’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় একজন লোক মসজিদে প্রবেশ করে নামায পড়ল। এরপর তিনি আগের হাদীছের মতই হাদীছ বর্ণনা করেন- তিনি বলেনঃ তখন লোকটি বললঃ আমি বুঝতে পারছি না আপনি আমার কি দোষ ধরছেন?
তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ
’’তোমাদের মধ্যে কোন মানুষের নামায পূর্ণ হবে না যে পর্যন্ত সে এই কাজগুলো না করবেঃ আল্লাহ্ যেভাবে আদেশ করেছেন সেভাবে পূর্ণরূপে ওযু করবে- মুখমণ্ডল ধৌত করবে, হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, মাথা মাসেহ করবে এবং দু’পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিবে। তাঁর প্রশংসা করবে ও মহাত্ম বর্ণনা করবে। আল্লাহ্ তাকে যতটুকু অনুমতি দিবেন এবং তার জন্য সহজ করবেন ততটুকু কুরআন পাঠ করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে। দু’হাতের করতলকে দু’হাঁটুর উপর এমনভাবে স্থাপন করবে যাতে তার জোড়াগুলো সুস্থির হয় ও ঢিলা-ঢালা থাকে। এরপর ’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলে এমনভাবে সোজা হয়ে দন্ডায়মান হবে যে, প্রত্যেক হাড় স্বস্থানে মিলিত হয়। মেরুদন্ডকে সোজা করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে সিজদা করবে। নিজের কপাল মাটিতে রাখবে যাতে প্রত্যেকটা জোড়া সুস্থির হয় ও ঢিলা-ঢালা থাকে। এরপর তাকবীর দিয়ে মাথা উঠাবে এবং নিজের নিতম্বের উপর সোজা হয়ে বসবে আর মেরুদন্ডকে সোজা রাখবে।’’
এভাবে নামাযের পূর্ণ বিবরণ দিয়ে শেষ করলেন তারপর বললেনঃ ’’তোমাদের কারো নামায পূর্ণ হবে না যে পর্যন্ত এভাবে যাবতীয় কাজ আদায় না করবে।’’
এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ ২/২২৫ ও তিরমিযী ৩০২। হাদীছের বাক্য নাসাঈর। তবে তিরমিযী হাদীছের শেষাংশে বলেনঃ
فَإِذَا فَعَلْتَ هَذَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلَاتُكَ وَإن انْتَقَصْتَ مِنْهَا شَيْئًا انْتَقَصْتَ مِنْ صَلَاتِكَ
’’তুমি যখন এরূপ করবে, তখন তোমার নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি এর কোন অংশে ত্রুটি কর; তবে তোমার নামাযেও ত্রুটি হয়ে যাবে।’’
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) وَعَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فصلى فذكر الحديث إلى أن قال فيه فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عِبْتَ عليَّ فَقَالَ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
إِنَّهُ لَمْ تَتِمَّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ تعالى وَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَيَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُكَبِّرَ اللَّهَ وَيَحْمَدَهُ وَيُمَجِّدَهُ وَيَقْرَأَ مِنْ الْقُرْآنِ مَا أَذِنَ اللَّهُ لَهُ فِيهِ و تَيَسَّرَ ثُمَّ يُكَبِّرَ وَيَرْكَعَ فيضع كفيه على ركبتيه حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثُمَّ يَقُولَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ويَسْتَوِيَ قَائِمًا حَتَّى يأخذ كل عظم مأخذه ويُقِيمَ صُلْبَهُ ثُمَّ يُكَبِّرَ فَيَسْجُدَ ويُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ من الأرض حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثم يُكَبِّرَ فَيَرْفَعَ رأسه ويَسْتَوِيَ قَاعِدًا عَلَى مَقْعَدَتِهِ وَيُقِيمَ صُلْبَهُ فَوَصَفَ الصَّلاةَ هَكَذَا حَتَّى فَرَغَ ، ثُمَّ قَالَ : لا تَتِمُّ صَلاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ
رواه النسائي وهذا لفظه والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৭. (হাসান) আম্মার বিন ইয়াসের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’একজন মানুষ নামায পড়ে ফিরে যায়, অথচ তার নামাযের মাত্র এক দশমাংশের বেশী ছওয়াব লিখা হয় না। কখনো এক নবমাংশ, কখনো এক অষ্টমাংশ, কখনো এক সপ্তমাংশ, কখনো এক ষষ্ঠাংশ, কখনো এক পঞ্চমাংশ, কখনো এক চতুর্থাংশ, কখনো এক তৃতীয়াংশ এবং কখনো অর্ধেক।’’
(আবু দাউদ ৭৯৬, নাসাঈ ৭/৪৮৪, ইবনে হিব্বান ১৮৮৬ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن ) و عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَنْصَرِفُ وَمَا كُتِبَ لَهُ إِلَّا عُشْرُ صَلَاتِهِ تُسْعُهَا ثُمْنُهَا سُبْعُهَا سُدْسُهَا خُمْسُهَا رُبْعُهَا ثُلُثُهَا نِصْفُهَا. رواه أبو داود والنسائي وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৮. (হাসান লিগাইরিহী) আবুল ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণ নামায পড়ে, কেউ অর্ধেক নামায পড়ে কেউ এক তৃতীয়াংশ নামায পড়ে, কেউ এক চতুর্থাংশ, কেউ এক পঞ্চমাংশ এভাবে এক দশমাংশ পর্যন্ত তিনি উল্লেখ করেন।’’
(ইমাম নাসাঈ ৮/৩০৮ এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
আবুল ইয়াসারের নাম হচ্ছেঃ কা’ব বিন আমর সুলামী। তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن لغيره) و عَنْ أَبِي الْيُسْرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مِنْكُمْ مَنْ يُصَلِّي الصَّلَاةَ كَامِلَةً , وَمِنْكُمْ مَنْ يُصَلِّي النِّصْفَ وَالثُّلُثَ وَالرُّبُعَ وَالْخُمُسَ حَتَّى بَلَغَ الْعُشْرَ. رواه النسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৩৯. (হাসান সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নামায তিনভাগে বিভক্তঃ পবিত্রতা এক তৃতীয়াংশ, রুকূ’ এক তৃতীয়াংশ এবং সিজদা এক তৃতীয়াংশ। যে ব্যক্তি পরিপূর্ণরূপে এগুলো আদায় করবে, তার নামায কবূল হবে এবং তার যাবতীয় আমল কবূল হবে। আর যার নামায প্রত্যাখ্যান করা হবে, তার যাবতীয় আমল প্রত্যাখ্যান করা হবে।’’
(বাযযার ৩৪৯ হাদীছটি বর্ণনা করেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن صحيح ) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الصلاة ثلاثة أثلاث الطهور ثلث والركوع ثلث والسجود ثلث فمن أداها بحقها قبلت منه وقبل منه سائر عمله ومن ردت عليه صلاته رد عليه سائر عمله. رواه البزار
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪০. (সহীহ লি গাইরিহী) হুরাইছ বিন কাবীছা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মদীনা শরীফে আগমণ করে দু’আ করলাম হে আল্লাহ্ আমাকে একজন সৎ সঙ্গী মিলিয়ে দাও। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)এর নিকট বসলাম। তাঁকে বললামঃ আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করেছি তিনি যেন আমাকে একজন সৎসঙ্গী মিলিয়ে দেন। তাই আপনি আমাকে এমন একটি হাদীছ বর্ণনা করেন যা আপনি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট থেকে শুনেছেন। যাতে করে আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’কিয়ামত দিবসে বান্দার সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায। নামায যদি ঠিক হয়, তবে সে বিজয়ী হবে ও মুক্তি পাবে। আর নামায যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে। তার ফরয নামাযে যদি কোন ঘাটতি থাকে তবে আল্লাহ্ তা’আলা বলবেনঃ তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কি না? তা দ্বারা তার ফরযের ঘাটতিকে পূর্ণ করা হবে। অতঃপর তার অবশিষ্ট আমলের এভাবেই হিসাব নেয়া হবে।’’
(হাদীছটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন ৪১৩)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح لغيره) و عَنْ حُرَيْثِ بْنِ قَبِيصَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَقُلْتُ اللَّهُمَّ ارزقني جَلِيسًا صَالِحًا قَالَ فَجَلَسْتُ إِلَى أبِيْ هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يَرْزُقَنِي جَلِيسًا صَالِحًا فَحَدِّثْنِي بِحَدِيثٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ
فَقاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ فَإِنْ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ قَالَ الله تعالى انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ يُكَمَّلَ بِهَا مَا انْتَقَصَ مِنْ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ يَكُونُ سَائِرُ عَمَلِهِ عَلَى ذَلِكَ رواه الترمذي وغيره وقال حديث حسن غريب
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪১. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায পড়লেন। অতঃপর ফিরে বসে বললেনঃ ’’হে উমুক তুমি কি সুন্দর করে নামায পড়বে না? মুসল্লি কি খেয়াল করবে না কিভাবে সে নামায পড়ছে? সে তো নিজের উপকারের জন্যই নামায পড়ছে। আমি যেমন আমার সম্মুখে দেখতে পাই তেমন আমার পিছন দিকেও দেখতে পাই।’’ [1]
(মুসলিম ৪২৩, নাসাঈ ২/১১৯ ও ইবনে খুযাইমা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১/২৪১)
(হাসান) ইবনে খুযাইমার বর্ণনায় এসেছেঃ
صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ، فَلَمَّا سَلَّمَ نَادَى رَجُلاً كَانَ فِي آخِرِ الصُّفُوفِ ، فَقَالَ : يَا فُلاَنُ ، أَلاَ تَتَّقِي اللَّهَ أَلاَ تَنْظُرُ كَيْفَ تُصَلِّي ؟ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي إِنَّمَا يَقُومُ يُنَاجِي رَبَّهُ ، فَلْيَنْظُرْ كَيْفَ يُنَاجِيهِ ، إِنَّكُمْ تَرَوْنَ أَنِّي لاَ أَرَاكُمْ ، إِنِّي وَاللَّهِ لأَرَى مِنْ خَلْفِ ظَهْرِي كَمَا أَرَى مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ.
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে যোহরের নামায পড়লেন। সালাম ফেরানোর পর পিছনের কাতার থেকে একজন লোককে সামনে ডাকলেন। তারপর বললেনঃ ’’হে উমুক! তুমি কি আল্লাহকে ভয় করবে না? কিভাবে নামায পড়ছো তা কি তুমি খেয়াল করবে না? তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন নামাযে দন্ডায়মান হয়, তখন সে তার পালনকর্তার সাথে গোপনে কথা বলে। তাই খেয়াল করা উচিত কিভাবে সে তাঁর সাথে কথা বলছে। তোমরা মনে করছো আমি তোমাদেরকে দেখতে পাই না। আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে পিছন থেকে দেখতে পাই, যেমন আমি সামনের দিক থেকে দেখতে পাই।’’
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ يَا فُلَانُ أَلَا تُحْسِنُ صَلَاتَكَ أَلَا يَنْظُرُ الْمُصَلِّي إِذَا صَلَّى كَيْفَ يُصَلِّي فَإِنَّمَا يُصَلِّي لِنَفْسِهِ إِنِّي لَأُبْصِرُ مِنْ وَرَائِي كَمَا أُبْصِرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ. رواه مسلم والنسائي وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪২. (হাসান সহীহ) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’এ উম্মতের মধ্যে থেকে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা উঠে যাবে তা হচ্ছে নামাযের বিনয় ও একাগ্রতা। এমন এক সময় আসবে যখন একজনও বিনয়ী দেখতে পাবে না।’’
(ত্বাবারানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(حسن صحيح ) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال
أوَّلُ شَيْءٍ يُرْفَعُ مِنْ هذِهِ الأمَّةِ الْخُشُوْعُ حَتىَّ لاَ تَرَى فِيْهاَ خاَشِعاً. رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪৩. (সহীহ্) উক্ত হাদীছটি ইবনে হিব্বান [সহীহ] গ্রন্থে শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত হাদীছের শেষাংশে বর্ণনা করেন। অবশ্য ত্বাবরানী মারফূ’ সূত্রেও বর্ণনা করেন।
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) ورواه ابن حبان في صحيحه في آخر حديث موقوفا على شداد بن أوس ورفعه الطبراني أيضا والموقوف أشبه
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪৪. (সহীহ্) মুতার্রেফ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায পড়তেন তখন ক্রন্দনের কারণে তার বক্ষ থেকে যাঁতার মত ঘড়ঘড় আওয়াজ বের হতো।’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৯০৪ ও নাসাঈ ৩/১৩, ইবনে খুযায়মা ২/৩৫, ইবনে হিব্বান ৫২২)
তবে নাসাঈর বর্ণনা এরূপঃ
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَلِجَوْفِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ يَعْنِي يَبْكِي
’আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায পড়তেন, তখন ক্রন্দনের কারণে তাঁর ভিতর থেকে পাতিলের মত ঘড়ঘড় আওয়াজ বের হত।’ (অর্থাৎ পাতিলের মধ্যে পানি দিয়ে তা আগুনে ফুটালে যেমন আওয়াজ বের হয় তেমন আওয়াজ বের হত তাঁর মধ্যে থেকে।)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) و عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَفِي صَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الرَّحَى مِنْ الْبُكَاءِ. رواه أبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪৫. (সহীহ্) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’বদর যুদ্ধে আমাদের মধ্যে মেক্বদাদ বিন আসওয়াদ (রাঃ) ছাড়া কেউ অশ্বারোহী ছিলেন না। দেখেছি আমাদের মধ্যে সকলেই রাতে নিদ্রায় বিভোর ছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাকী একটি বৃক্ষের নীচে গিয়ে নামায আদায় করছিলেন এবং ক্রন্দন করছিলেন। এভাবেই তিনি সকাল করলেন।’
(ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/৩৫)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) و عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : مَا كَانَ فِينَا فَارِسٌ يَوْمَ بَدْرٍ غَيْرَ الْمِقْدَادِ ، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا فِينَا إِلاَّ نَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ شَجَرَةٍ يُصَلِّي ، وَيَبْكِي ، حَتَّى أَصْبَحَ..
رواه ابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৩৪) রুকূ’-সিজদা পরিপূর্ণ না করা, মেরুদন্ড সোজা করে না দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করার ব্যাপারে যে নির্দেশ এসেছে তার বর্ণনা
৫৪৬. (সহীহ্) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন ওযু করে এবং পরিপূর্ণরূপে তা সম্পাদন করে, অতঃপর সালাতে দন্ডায়মান হয়, সে জানে স্বীয় সালাতে কি বলছে, তবে সালাত থেকে সে ফিরে আসে এমন নিষ্পাপ অবস্থায় যে দিন তার মাতা তাকে ভুমিষ্ট করেছিল।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন হাকেম এবং বলেছেন সনদ সহীহ। হাদীছটি প্রায় একইভাবে বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম প্রমুখ)
الترهيب من عدم إتمام الركوع والسجود وإقامة الصلب بينهما وما جاء في الخشوع
(صحيح) وَعَنْ عقبة بن عامر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ماَ مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُسْبِغُ الوُضُوْءَ ثُمَّ يَقُوْمُ فِيْ صَلاَتِهِ فَيَعْلَمُ ماَ يَقُوْلُ إلاَّ انْفَتَلَ وَهُوَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أمُّهَ.
رواه الحاكم وقال صحيح الإسناد وهو في مسلم وغيره بنحوه
পরিচ্ছেদঃ ৩৫) নামায অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৪৭. (সহীহ্) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’এ সব লোকের কি হয়েছে যে, তারা নামাযের মধ্যে আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত করে থাকে! এব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর কথা বললেন। এমনকি পরিশেষে তিনি বললেনঃ ’’তারা একাজ থেকে বিরত হোক, অন্যথা আকস্মাৎ তাদের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হবে।’’
(বুখারী ৭৫০, আবু দাউদ ৯১৩, নাসাঈ ৩/৭, ইবনে মাজাহ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ১০৪৪)
الترهيب من رفع البصر إلى السماء في الصلاة
(صحيح) عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ رواه البخاري وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩৫) নামায অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৪৮. (সহীহ্) ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমরা নামাযে আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। অন্যথা তোমাদের দৃষ্টি চলে যাবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ ১০৪৩, ত্বাবরানী ও ইবনে হিব্বান ২২৭৮)
الترهيب من رفع البصر إلى السماء في الصلاة
(صحيح) و عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَرْفَعُوا أَبْصَارَكُمْ إِلَى السَّمَاءِ فَتَلْتَمِعَ يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ. رواه ابن ماجه والطبراني في الكبير وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৩৫) নামায অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৪৯. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’লোকেরা নামাযে দু’আ পাঠ করার সময় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত হবে, অন্যথা তাদের দৃষ্টিকে আকস্মাৎ ছিনিয়ে নেয়া হবে।’’
(মুসলিম ৪২৯ ও নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৩/৩৯)
الترهيب من رفع البصر إلى السماء في الصلاة
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ أيضا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ رَفْعِهِمْ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ عِنْدَ الدُّعَاءِ فِي الصَّلَاةِ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ.
رواه مسلم والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ৩৫) নামায অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৫০. (সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন নামাযে থাকবে, তখন সে যেন আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত না করে, যাতে করে দ্রুত তার দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে না নেয়া হয়।’’
(নাসাঈ ৩/৭, ত্বাবারানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من رفع البصر إلى السماء في الصلاة
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدِرِيْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ، فَلا يَرْفَعْ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ لا يَلْتَمِعُ. رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৩৫) নামায অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৫১. (সহীহ্) জাবের বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’নামায অবস্থায় লোকেরা তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে নিক্ষেপ করা থেকে বিরত হোক, নতুবা তাদের দৃষ্টি ফেরত আসবে না।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ৪২৮, আবু দাউদ ৯১২, ইবনে মাজাহ ১০৪৫)
আবু দাউদের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى فِيهِ نَاسًا يُصَلُّونَ رَافِعِي أَيْدِيهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ لَيَنْتَهِيَنَّ رِجَالٌ يَشْخَصُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ أَوْلَا تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ أَبْصَارُهُمْ
একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন, কতিপয় লোক নামায আদায় করছে। কিন্তু তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে। তখন তিনি বললেনঃ ’’মানুষ নামায অবস্থায় আকশের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত হোক, অন্যথা তাদের দৃষ্টি তাদের কাছে ফেরত আসবে না।’’
الترهيب من رفع البصر إلى السماء في الصلاة
(صحيح) و عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قالَ: لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ أَوْ لَا تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ . رواه مسلم وأبو داود وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩৬) নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো থেকে ভীতি প্রদর্শন
৫৫২. (সহীহ্) হারেছ আল আশআরী থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’পাঁচটি বিষয়ে আমল করার জন্য আল্লাহ্ তা’আলা ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (আঃ)কে আদেশ করেছেন। আর তিনি যেন বানী ইসরাঈলকেও সেগুলোর প্রতি আমল করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে একটু দেরী করছিলেন, তখন ঈসা (আঃ) বললেনঃ আল্লাহ্ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন পাঁচটি বিষয়ের প্রতি আমল করতে এবং বানী ইসরাঈলকেও সেগুলোর প্রতি আমল করার জন্য বলতে বলেছেন। হয় আপনি তাদেরকে আদেশ দিবেন না হয় আমি আদেশ দিব। ইয়াহইয়া বললেন, আমি আশংকা করছি তুমি আমার পূর্বে একাজ করে ফেললে, আমাকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে অথবা শাস্তি দেয়া হবে। এরপর তিনি লোকদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্রিত করলেন। লোকে মসজিদ পূর্ণ হয়ে গেল এবং লোকেরা উঁচু জায়গাতেও বসে গেল। তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ
আল্লাহ্ আমাকে পাঁচটি বিষয়ের প্রতি আমল করার নির্দেশ করেছেন এবং এটাও নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদেরকে সেগুলোর প্রতি আমল করার জন্য আদেশ করি। সেগুলো হচ্ছেঃ
১) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। যে লোক আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করে তার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির সাথে, যে নিজের খাঁটি স্বর্ণ বা রৌপ্যের সম্পদ দ্বারা একজন ক্রীতদাস খরিদ করে নিয়ে আসল তারপর তাকে বলল, এটা আমার গৃহ আর এ হচ্ছে আমার কাজ। কাজ কর আর উপার্জন আমার কাছে জমা দাও। সে কাজ করতে লাগলো কিন্তু উপার্জন মালিক ভিন্ন আরেক লোকের কাছে জমা দিল। তোমাদের মধ্যে কোন লোক আছে কি কৃতদাসের এই ব্যবহারে সন্তুষ্ট হবে?
২) আল্লাহ্ তোমাদেরকে নামাযের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা নামায আদায় করলে এদিক-ওদিক তাকাবে না। কেননা বান্দা যতক্ষণ এদিক-ওদিক না তাকায় ততক্ষণ আল্লাহ্ তার মুখমণ্ডল বান্দার মুখমণ্ডল ে স্থাপন করে রাখেন।
৩) তিনি তোমাদেরকে সিয়ামের নির্দেশ দিয়েছেন। সিয়ামের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির সাথে যে এক দল লোকের মধ্যে অবস্থান করছে, যার কাছে আছে মিসকে-আম্বর ভর্তি একটি কলসি। সবাই তার ঘ্রাণে মোহিত হচ্ছে। রোযাদারের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকে-আম্বরের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।
৪) তিনি তোমাদেরকে দান-সাদকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির সাথে যাকে শত্রুরা বন্দী করে নিয়ে গেছে। তার হাতকে গলার সাথে বেঁধে দিয়েছে। তার শিরচ্ছেদ করার জন্য অগ্রসর হয়েছে। এমন সময় সে বলল, আমি তোমাদেরকে আমার অল্প-বেশী যাবতীয় সম্পদের বিনিময়ে আমার জানের ফিদিয়া প্রদান করছি। অতঃপর সে মুক্তিপন দিয়ে তাদের থেকে ছাড়া পেয়ে গেল।
৫) তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহকে স্মরণ করার। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির সাথে যাকে শত্রুরা পাকড়াও করার জন্য ধাওয়া করছে। সে পালিয়ে এসে একটি সুরক্ষিত কেল্লায় ঢুকে পড়ল এবং তাদের থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নিল। অনুরূপভাবে বান্দা আল্লাহর যিকির ছাড়া নিজেকে শয়তান থেকে বাঁচাতে পারবে না।
নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমিও তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ্ আমাকে সেগুলোর নির্দেশ দিয়েছেনঃ (১) নেতার কথা শোনা (২) তার কথা মান্য করা (৩) জিহাদ করা (৪) হিজরত করা এবং (৫) জামাআতবদ্ধ হয়ে থাকা। কেননা যে লোক মুসলমানদের জামাআত থেকে এক বিঘত দূরে চলে যাবে, তার কাঁধ থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে যাবে- যতক্ষণ সে তওবা করে তাতে ফিরে না আসে। আর যে ব্যক্তি জাহেলীয়াতের দিকে আহবান করবে, সে জাহান্নামের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’
জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল! যদিও সে নামায পড়ে ও রোযা রাখে? তিনি বললেনঃ ’’যদিও সে নামায পড়ে, রোযা রাখে। তোমরা আল্লাহর কথা বলে আহবান করবে। তিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলমান, মুমিন- আল্লাহর বান্দা।’’
(তিরমিযী ২৮৬, নাসাঈ হাদীছটির কিছু বর্ণনা করেছেন। আরো বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযাইমা ২/৬৪, ইবনে হিব্বান ৬২০০ ও হাকেম ১/২৩৬। এই হাদীছের বাক্য তিরমিযীর, হাকেম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ্)
الترهيب من الالتفات في الصلاة وغيره مما يذكر
(صحيح) عن الْحَارِثَ الْأَشْعَرِيَّ حَدَّثَهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ أَمَرَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ يَعْمَلَ بِهَا وَيَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا وَإِنَّهُ كَادَ أَنْ يُبْطِئَ بِهَا قَالَ عِيسَى إِنَّ اللَّهَ أَمَرَكَ بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ لِتَعْمَلَ بِهَا وَتَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا فَإِمَّا أَنْ تَأْمُرَهُمْ وَإِمَّا أَنْ آمُرَهُمْ فَقَالَ يَحْيَى أَخْشَى إِنْ سَبَقْتَنِي بِهَا أَنْ يُخْسَفَ بِي أَوْ أُعَذَّبَ فَجَمَعَ النَّاسَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَامْتَلَأَ وَقَعَدَّوْا عَلَى الشُّرَفِ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ أَعْمَلَ بِهِنَّ وَآمُرَكُمْ أَنْ تَعْمَلُوا بِهِنَّ
1- أَوَّلُهُنَّ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَإِنَّ مَثَلَ مَنْ أَشْرَكَ بِاللَّهِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اشْتَرَى عَبْدًا مِنْ خَالِصِ مَالِهِ بِذَهَبٍ أَوْ وَرِقٍ فَقَالَ هَذِهِ دَارِي وَهَذَا عَمَلِي فَاعْمَلْ وَأَدِّ إِلَيَّ فَكَانَ يَعْمَلُ وَيُؤَدِّي إِلَى غَيْرِ سَيِّدِهِ فَأَيُّكُمْ يَرْضَى أَنْ يَكُونَ عَبْدُهُ كَذَلِكَ 2- وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَكُمْ بِالصَّلَاةِ فَإِذَا صَلَّيْتُمْ فَلَا تَلْتَفِتُوا فَإِنَّ اللَّهَ يَنْصِبُ وَجْهَهُ لِوَجْهِ عَبْدِهِ فِي صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ
3- وَآمُرُكُمْ بِالصِّيَامِ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ فِي عِصَابَةٍ مَعَهُ صُرَّةٌ فِيهَا مِسْكٌ فَكُلُّهُمْ يَعْجَبُ أَوْ يُعْجِبُهُ رِيحُهَا وَإِنَّ رِيحَ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
4- وَآمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ الْعَدُوُّ فَأَوْثَقُوا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ وَقَدَّمُوهُ لِيَضْرِبُوا عُنُقَهُ فَقَالَ أَنَا أَفْدِيهِ نَفْسِي مِنْكُمْ بِالْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ فَفَدَى نَفْسَهُ مِنْهُمْ
5- وَآمُرُكُمْ أَنْ تَذْكُرُوا اللَّهَ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ خَرَجَ الْعَدُوُّ فِي أَثَرِهِ سِرَاعًا حَتَّى إِذَا أَتَى عَلَى حِصْنٍ حَصِينٍ فَأَحْرَزَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ كَذَلِكَ الْعَبْدُ لَا يُحْرِزُ نَفْسَهُ مِنْ الشَّيْطَانِ إِلَّا بِذِكْرِ اللَّهِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
وَأَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ اللَّهُ أَمَرَنِي بِهِنَّ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ وَالْجِهَادُ وَالْهِجْرَةُ وَالْجَمَاعَةُ فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ قِيدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَّا أَنْ يَرْجِعَ وَمَنْ ادَّعَى دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ مِنْ جُثَا جَهَنَّمَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ فَقَالَ وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ فَادْعُوا بِدَعْوَى اللَّهِ الَّذِي سَمَّاكُمْ الْمُسْلِمِينَ الْمُؤْمِنِينَ عِبَادَ اللَّهِ
رواه الترمذي وهذا لفظه وقال حديث حسن صحيح والنسائي ببعضه وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما والحاكم وقال صحيح على شرط البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ৩৬) নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো থেকে ভীতি প্রদর্শন
৫৫৩. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নামাযের মধ্যে এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ ’’এটা এক প্রকার চুরি, যা শয়তান বান্দার নামায থেকে করে থাকে।’’
(বুখারী ৭৫১, নাসাঈ ৩/৮, আবু দাউদ ৯১০ ও ইবনে খুযাইমা ২/৬৫)
الترهيب من الالتفات في الصلاة وغيره مما يذكر
(صحيح) و عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ التَّفَلُّتِ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ الْعَبْدِ . رواه البخاري والنسائي وأبو داود وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৩৬) নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো থেকে ভীতি প্রদর্শন
৫৫৪. (হাসান লি গাইরিহী) আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি আবু যার্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ্ বান্দার নামাযের প্রতি আগ্রহী থাকেন, যে পর্যন্ত সে এদিক-ওদিক না তাকায়। যখন সে এদিক-ওদিক তাকানোর জন্য নিজের মুখে ফিরিয়ে নেয় আল্লাহও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।’’
(আহমাদ ৫/১৭২, আবু দাউদ ৯০৯, নাসাঈ ৩/৮, ইবনে খুযাইমা ২/৬২ ও হাকেম ১/২৩৬। হাকেম হাদীছটিকে সহীহ বলেন)
الترهيب من الالتفات في الصلاة وغيره مما يذكر
) (حسن لغيره) وَعَنْ أبي الأحوص عن أبي ذر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "لَا يَزَالُ اللهُ مُقْبِلًا عَلَى الْعَبْدِ فِي صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ، فَإِذَا صَرَفَ وَجْهَهُ، انْصَرَفَ عَنْهُ.
رواه أحمد وأبو داود والنسائي وابن خزيمة في صحيحه والحاكم وصححه
পরিচ্ছেদঃ ৩৬) নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো থেকে ভীতি প্রদর্শন
৫৫৫. (হাসান লি গাইরিহী) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’’আমার বন্ধু মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেছেন এবং তিনটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাকে নিষেধ করেছেনঃ মোরগের ঠোকর দেয়ার মত করে সিজদা করতে, কুকুরের মত করে বসতে এবং শৃগালের মত এদিক-ওদিক তাকাতে।’
(ইমাম আহমাদ ৮১০৬ ও আবু ইয়ালা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
ইবনে আবী শায়বার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ ’বাঁদরের মত বসতে নিষেধ করেছেন।’
[কুকুরের মত বসার ব্যাখ্যায় আবু উবাইদ বলেনঃ নিজের নিতম্ব দু’টিকে মাটিতে রেখে দিয়ে দু’পাকে খাড়া রাখা আর দু’হাত মাটিতে রাখা- যেমন কুকুর বসে থাকে।]
الترهيب من الالتفات في الصلاة وغيره مما يذكر
(حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أوْصاَنِيْ خَلِيْلِيْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ، وَنَهَانِي عَنْ ثَلَاثٍ: نَهَانِي عَنْ نَقْرَةٍ كَنَقْرَةِ الدِّيكِ، وَإِقْعَاءٍ كَإِقْعَاءِ الْكَلْبِ، وَالْتِفَاتٍ كَالْتِفَاتِ الثَّعْلَبِ. رواه أحمد وأبو يعلى وإسناد أحمد حسن ورواه ابن أبي شيبة وقال كإقعاء القرد
পরিচ্ছেদঃ ৩৭) বিনা প্রয়োজনে সিজদার স্থান থেকে পাথর প্রভৃতি ঝেড়ে ফেলা এবং ফুঁ দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৫৬. (সহীহ্) মুআ’ইক্বেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’নামায পড়া অবস্থায় তুমি পাথর ঝেড়ে ফেল না। যদি কিছু করতেই হয়, তবে একবার মাত্র (সিজদার স্থানের) পাথরগুলোকে বরাবর করে দিতে পার।’’[1]
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১২০৭, মুসলিম ৫৪৬, তিরমিযী ৩৮০, নাসাঈ ১১৯৩, আবু দাউদ ৯৪৬, ইবনে মাজাহ ১০২৬)
الترهيب من مسح الحصى وغيره في موضع السجود والنفخ فيه لغير ضرورة
(صحيح) و عَنْ مُعَيْقِيبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلِّي فَإِنْ كُنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًا فَوَاحِدَةٌ تَسْوِيَةَ الْحَصَى. رواه البخاري ومسلم والترمذي والنسائي وأبو داود وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩৭) বিনা প্রয়োজনে সিজদার স্থান থেকে পাথর প্রভৃতি ঝেড়ে ফেলা এবং ফুঁ দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৫৭. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নামায অবস্থায় পাথর সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আমি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ’’মাত্র একবার সরাবে। সেই একবারও যদি না সরাও তবে উহা তোমার জন্য একশতটি এমন উটনী পাওয়ার চেয়ে উত্তম হবে, যাদের চোখগুলো খুবই কৃষ্ণ বর্ণের।’’ (ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/৫২)
الترهيب من مسح الحصى وغيره في موضع السجود والنفخ فيه لغير ضرورة
(صحيح) وَعَنْ جَابِرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَسْحِ الْحَصَى فِي الصَّلاَة فَقَالَ : وَاحِدَةٌ وَلأَنْ تُمْسِكَ عَنْهَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ مِئَة نَاقَةٍ كُلُّهَا سُودُ الْحَدَقَ
رواه ابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৩৮) নামায অবস্থায় কোমরে হাত রাখার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৫৫৮. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায অবস্থায় কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করেছেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১২১৯, মুসলিম ৫৪৫ ও তিরমিযী ৩৮৩)
মুসলিম ও তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছেঃ ’নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন মানুষকে কোমরে হাত রেখে নামায আদায় করতে।’
(নাসাঈ এবং আবু দাউদও অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।)
الترهيب من وضع اليد على الخاصرة في الصلاة
(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: نَهَي عَنِ الْخَصْرِ فِي الصَّلاَةِ
رواه البخاري ومسلم والترمذي ولفظهما أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أنْ يُصَلِّيْ الرَّجُلُ مُخْتَصِراً والنسائي نحوه وأبو داود
পরিচ্ছেদঃ ৩৯) মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৫৯. (সহীহ্) আবুল জুহাইম আবদুল্লাহ বিন হারেছ বিন আস্ সিম্মাহ্ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে গমণকারী যদি জানতো, এতে তার কত গুনাহ হয়, তবে মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (বছর) পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য উত্তম হত।’’ বর্ণনাকারী আবু নযর বলেন, আমি জানি না (আমার উস্তাদ বুসর) কি বলেছেন, চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর?
(বুখারী ৫১০, মুসলিম ৫০৭, আবু দাউদ ৭০১, তিরমিযী ৩৩৬, নাসাঈ ২/৬৬ ও ইবনে মাজাহ্ ৯৪৫)
الترهيب من المرور بين يدي المصلي
(صحيح) عن أبي الجهيم عبد الله بن الحارث بن الصمة الأنصاري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قالقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لَا أَدْرِي قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً.
رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩৯) মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬০. (সহীহ্) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যখন তোমাদের কেউ কোন জিনিস সামনে রেখে লোকদেরকে তা দিয়ে আড়াল করে নামায পড়ে এবং সে অবস্থায় কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সে যেন তার বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয়। তাতে যদি সে না থামে, তাহলে সে যেন তার সাথে লড়ে যায়। কেননা সে শয়তান।’’
অপর বর্ণনায় বাক্যের ভঙ্গিমা এরকমঃ
’’তোমাদের মধ্যে কোন মানুষ যদি নামায পড়ে, তাহলে সে যেন তার সম্মুখ দিয়ে কাউকে যেতে না দেয়। কেউ যেতে চাইলে সাধ্যানুযায়ী তাকে প্রতিহত করবে। সে যদি বিরত না হয়, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা সে শয়তান।’’
(বুখারী ৫০৯ ও মুসলিম ৫০৫। হাদীছের বাক্য মুসলিম থেকে নেয়া। আবু দাউদও অনুরূপ বাক্যে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৬৯৭)
الترهيب من المرور بين يدي المصلي
(صحيح) وَعَنْ أبي سَعِيدٍ سعيد الخدري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَيْءٍ يَسْتُرُهُ مِنْ النَّاسِ فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلْيَدْفَعْ فِي نَحْرِهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ الشَّيْطَانُ
، وفي لفظ آخر: إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلْيَدْرَأْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ
. رواه البخاري ومسلم واللفظ له وأبو داود نحوه
পরিচ্ছেদঃ ৩৯) মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬১. (সহীহ্) আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কোন মানুষ যখন নামায পড়ে, তখন তার সম্মুখ দিয়ে কাউকে যেন যেতে না দেয়। সে যদি বিরত না হয়, তবে তার সাথে লড়াই করবে। কেননা তার সাথে শয়তান রয়েছে।’’
(সহীহ সনদে ইবনে মাজাহ্ ৯৯৫ ও ইবনে খুযাইমা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/১৮)
الترهيب من المرور بين يدي المصلي
(صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , قَالَ:إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ , فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّ مَعَهُ الْقَرِينَ.رواه ابن ماجه بإسناد صحيح وابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৩৯) মুসল্লির সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬২. (মাওকূফ সূত্রে সহীহ) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেনঃ ’’নামাযরত কোন মানুষের সম্মুখ দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিক্রম করার চাইতে ছাইয়ে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া উত্তম- যে ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেয়া হয়।’’
(ইবনে আবদুল বারর ’তামহীদ’ গ্রন্থে মাওকূফ সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেন ২/১৪৩)
الترهيب من المرور بين يدي المصلي
(صحيح موقوف) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال لأن يكون الرجل رمادا يذرى به خير له من أن يمر بين يدي رجل متعمدا وهو يصلي. رواه ابن عبد البر في التمهيد موقوفا
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৩. (সহীহ্) জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’একজন মানুষ ও কুফরীর মাঝে পার্থক্য হল নামায পরিত্যাগ করা।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৩/৩৭০ ও মুসলিম ৮২, আবূ দাউদ ৪৬৭৮, নাসাঈ ১/২৩২, তিরমিযী ২৬১৮, ইবনে মাজাহ ১০৭৮)
মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
بين الرجل وَبَيْنَ الشِّرْكِ َوَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ.
’’মুসলিম ব্যক্তি ও শির্ক ও কুফরীর মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামায পরিত্যাগ করা।’’
(আবু দাউদ ৪৬৭৮ ও নাসাঈ ১/২৩২ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) তবে নাসাঈর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ إِلاَّ تَرْكُ الصَّلاَةِ
’’বান্দা ও কুফরীর মাঝে নামায পরিত্যাগ করা ব্যতীত কোন পার্থক্য নেই।’’ (নাসাঈ ১/২৩২)
তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছেঃ
بَيْنَ الْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ تَرْكُ الصَّلَاةِ
’’কুফরী ও ঈমানের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামায পরিত্যাগ করা।’’ (তিরমিযী ২৬১৮)
ইবনে মাজাহর রেওয়ায়াতে এসেছেঃ
بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ
’’বান্দা ও কুফরীর মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামায পরিত্যাগ করা।’’ (ইবনে মাজাহ ১০৭৮)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) عن جابر بن عبد الله رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : بَيْنَ الرَّجُل وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ. رواه أحمد ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৪. (সহীহ্) বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ ’’তাদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে চুক্তি হচ্ছে নামাযের, যে ব্যক্তি উহা পরিত্যাগ করবে সে কুফরী করবে।’’
(ইমাম আহমাদ ৫/৩৪৬, আবু দাউদ, তিরমিযী ২৬২১ ও নাসাঈ ১/২৩১, ইবনে মাজাহ ১০৭৯ এবং হাকেম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীছটিকে হাসান সহীহ বলেন। হাকেম বলেন, সহীহ তার মধ্যে কোন ত্রুটি নেই।)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) وَعَنْ بريدة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول. الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلَاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ.
رواه أحمد وأبو داود والنسائي والترمذي وقال: حديث حسن صحيح وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال: صحيح ولا نعرف له علة
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৫. (সহীহ মাওকূফ) আবদুল্লাহ বিন শাকীক আল উকাইলী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ’মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছাহাবায়ে কেরাম নামায ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করাকে কুফরী মনে করতেন না।’ (হাদীছটি বর্ণনা করেন ইমাম তিরমিযী ২৬২২)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح موقوف) وَعَنْ عبد الله بن شقيق العقيلي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنْ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ. رواه الترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৬. (সহীহ্) ছাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ ’’বান্দার মাঝে এবং কুফরী ও ঈমানের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামায। যখন উহা পরিত্যাগ করবে তখন সে শির্ক করবে।’’
(হিবাতুল্লাহ্ তাবারী সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন ৩/৮২২)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) وَعَنْ ثوبان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الكفر وَالْإِيَمان الصَّلَاةِ فَإِذَا تَرَكَهَا فَقَدْ أَشْرَكَ. رواه هبة الله الطبري بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৭. (হাসান লি গাইরিহী) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (মুহাম্মাদ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ওসীয়ত করেছেনঃ ’’তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না- যদিও তোমাকে কেটে টুকরো করে দেয়া হয় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি উহা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে, সে (আল্লাহর) জিম্মা মুক্ত হয়ে যায়। মদ্যপান করবে না, কেননা উহা সকল অশ্লীলতার চাবি।’’ (ইবনে মাজাহ ৩০৩৪ ও বায়হাকী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৭/৩০৪)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال أوصاني خليلي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أن لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ وَإِنْ وَحُرِّقْتَ وَلَا تَتْرُكْ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلَا تَشْرَبْ الْخَمْرَ فَإِنَّهُ مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ. رواه ابن ماجه والبيهقي
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৮. (হাসান লি গাইরিহী) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে মুহাম্মাদ বিন নসর স্বীয় [কিতাবুস্ সালাত] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেন। সেখানে বলা হয়েছেঃ আনাস বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ ’’বান্দার মাঝে এবং কুফরী অথবা শির্কের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামায। যখন নামায ছেড়ে দিবে তখন সে কুফরী করবে।’’
ورواه ابن ماجه عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَالشِّرْكِ إِلَّا تَرْكُ الصَّلَاةِ فَإِذَا تَرَكَهَا فَقَدْ أَشْرَكَ
(সহীহ লি গাইরিহী) হাদীছটি ইবনে মাজাহ্ ইয়াযীদ রাক্কাশী থেকে, তিনি আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’বান্দার মাঝে ও শির্কের মাঝে নামায পরিত্যাগ করা ব্যতীত কোন পার্থক্য নেই। যখন সে উহা ছেড়ে দিবে তখন শির্ক করবে।’’
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن لغيره) ورواه [يعني حديث أنس الذي في الضعيف ] محمد بن نصر في كتاب الصلاة ولفظه سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: بين العبد والكفر أو الشرك ترك الصلاة فإذا ترك الصلاة فقد كفر.
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৬৯. (হাসান লি গাইরিহী) মুআ’য বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট জনৈক লোক আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু আমল শিখিয়ে দিন, উহা বাস্তবায়ন করলে যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করি।
তিনি বললেনঃ ’’তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না- যদিও তোমাকে শাস্তি দেয়া হয় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পিতা-মাতার আনুগত্য করবে- যদিও তারা তোমাকে তোমার সম্পদ ও তোমার মালিকানাধীন সকল বস্ত্ত থেকে বহিস্কার করে দেয়। ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করবে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারী মুক্ত হয়ে যাবে।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن لغيره) وَعَنْ معاذ بن جبل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: أتى رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلِّمْنِي عَمَلا إِذَا أنَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ عذبت حُرِّقْتَ وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ وَلَا تَتْرُكَ الصَّلاةَ مُتَعَمِّدًا، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلاةَ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ، . الحديث رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭০. (হাসান লি গাইরিহী) মুআ’য বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দশটি বিষয়ে নসীহত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ
’’(১) তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না- যদিও তোমাকে হত্যা করে ফেলা হয় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। (২) পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না- যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও সম্পদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। (৩) ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ফরয নামায পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায পরিত্যাগ করবে, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারী মুক্ত হয়ে যাবে। (৪) মদ্যপান করবে না। কেননা উহা সকল অশ্লীলতার মূল। (৫) সাবধান গুনাহের কাজে লিপ্ত হবে না। কেননা নাফরমানীর কাজে লিপ্ত হলে আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে। (৬) সাবধান যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করবে না- যদিও সমস্ত মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। (৭) মানুষ যদি মহামারিতে পতিত হয়, তুমি দৃঢ়পদ থাকবে। (৮) বদান্যতার সাথে পরিবারের জন্য খরচ করবে। (৯) তাদেরকে আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষার জন্য লাঠি নামিয়ে রাখবে না। (১০) তাদেরকে আল্লাহকে ভয় করতে শিখাবে।’’
(ইমাম আহমাদ ৫/২৩৮ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن لغيره) وَعَنْهُ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ: " لَا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ، وَلَا تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ، وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ، وَلَا تَتْرُكَنَّ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا ؛ فَإِنَّ مَنْ تَرَكَ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ، وَلَا تَشْرَبَنَّ خَمْرًا ؛ فَإِنَّهُ رَأْسُ كُلِّ فَاحِشَةٍ، وَإِيَّاكَ وَالْمَعْصِيَةَ ؛
فَإِنَّ بِالْمَعْصِيَةِ حَلَّ سَخَطُ اللهِ ، وَإِيَّاكَ وَالْفِرَارَ مِنَ الزَّحْفِ وَإِنْ هَلَكَ النَّاسُ، وَإِذَا أَصَابَ النَّاسَ مُوتَ فَاثْبُتْ وَأَنْفِقْ عَلَى أَهْلِكَ مِنْ طَوْلِكَ، وَلا تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أدبا ، وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ. رواه أحمد والطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭১. (হাসান লি গাইরিহী) রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আযাদকৃত দাসী উমাইমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ওযুর পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম। এমন সময় একজন লোক প্রবেশ করল। বলল আমাকে কিছু নসীহত করুন।
তিনি বললেনঃ ’’তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না- যদিও তোমাকে কেটে টুকরো করে দেয়া হয় বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না- যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও দুনিয়ার ধন-সম্পদ পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। মদ্যপান করবে না। কেননা উহা সকল খারাপ কাজের চাবি। ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে এরূপ করবে, তার থেকে আল্লাহ্ ও রাসূলের জিম্মাদারী মুক্ত হয়ে যাবে।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن لغيره) و عَنْ أُمَيْمَةَ، مَوْلاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَتْ: كُنْتُ أَصُبُّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وُضُوءَهُ فَدَخَلَ رَجُلٌ، فَقَالَ: أَوْصِنِي، فَقَالَ:لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا، وَإِنْ قُطِّعْتَ وَحُرِّقْتَ بِالنَّارِ، وَلا تَعْصِ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تُخَلِّي عَنْ أَهْلِكَ وَدُنْيَاكَ فَتُخَلِّهِ، وَلا تَشْرَبَنَّ خَمْرًا، فَإِنَّهَا مفتاح كُلِّ شَرٍّ، وَلا تَتْرُكَنَّ صَلاةً مُتَعَمِّدًا، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ. رواه الطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭২. (সহীহ্) আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইসলামের সকল হাতল (শরীয়তের বিধি-বিধান) একটি একটি করে ভেঙ্গে যাবে। যখন একটি হাতল ভাঙ্গবে মানুষ তার পরেরটি আঁকড়ে ধরবে। সর্বপ্রথম যেটি ভেঙ্গে যাবে তা হচ্ছে (আল্লাহর বিধান অনুযায়ী) বিচার-ফায়সালা করা। আর সর্বশেষে যেটি ভেঙ্গে যাবে তা হচ্ছে নামায।’’
(ইবনে হিব্বান ৬৬৮০ [সহীহ গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ৫/২৫১)[1]
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) و عَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"لَيَنْتَقِضَنَّ عُرَى الإِسْلامِ عُرْوَةٌ عُرْوَةٌ، فَكُلَّمَا انْتَقَضَتْ عُرْوَةٌ تَشَبَّثَ النَّاسُ بِالَّتِي تَلِيهَا، فَأَوَّلُهُنَّ نَقْضًا الْحُكْمُ، وَآخِرُهُنَّ الصَّلاةُ". رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৩. (সহীহ লি গাইরিহী) উম্মে আয়মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো নামায ছেড়ে দিবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেয়, তার থেকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারী মুক্ত হয়ে যায়।’’ (আহমাদ ৬/৪২১ ও বায়হাক্বী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح لغيره) وَعَنْ أمِّ أيْمَنَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا تَتْرُكِ الصَّلاةَ مُتَعَمِّدًا ، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلاةَ مُتَعَمِّدًا ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ الله وَرَسُولِه . رواه أحمد والبيهقي
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৪. (হাসান মাওকূফ) ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ’যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিবে তার কোন ধর্ম নেই।’’ (মুহাম্মাদ বিন নসর স্বীয় [কিতাবুস্ সালাত] গ্রন্থে হাদীছটি মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)[1]
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن موقوف) وَعَنْ ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ فَلاَ دِيْنَ لَهُ. رواه محمد بن نصر أيضا موقوفا.
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৫. (সহীহ মাওকূফ) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’যে ব্যক্তি নামায পড়ে না তার ঈমান নেই। আর যে ব্যক্তি ওযু করেনি তার নামায হবে না।’ (ইবনে আবদুল বার মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন।)
ইবনে আবী শায়বার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
مَنْ تَرَكَ الصَّلاَةَ فَقَدْ كَفَرَ
’’যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করবে, সে কুফরী করবে।’’
মুহাম্মাদ বিন নসর মারওয়াযী বলেনঃ আমি ইসহাককে বলতে শুনেছিঃ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ্ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, নামায পরিত্যাগকারী কাফের।[1] অনুরূপভাবে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে নিয়ে সকল বিদ্বানের মত হচ্ছে বিনা ওযরে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগকারী কাফের।[2]
হাম্মাদ বিন যায়দ থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি আইয়্যুব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নামায পরিত্যাগ করা কুফরী, এতে কোন মতভেদ নেই।
[1] . শায়খ আলবানী বলেনঃ ছহীহ্ কোন বর্ণনায় كافر শব্দ আমি পাই নি। বরং যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছেঃ فقد كفر । এই উভয় শব্দের মধ্যে বিশাল ব্যবধান আছে বিদ্বানদের নিকট।
[2] . শায়খ আলবানী বলেনঃ ইবনে আবদুল বার্ [তামহীদ গ্রন্থে] ইমাম ইসহাক থেকে একথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ ’’যদি নামায পরিত্যাগকারী কাযা আদায় করতেও অস্বীকার করে এবং বলে আমি নামাযই পড়ব না তখন সে কাফের হবে।’’ ইসহাকের এ কথা থেকে বুঝা যায় যে নামায পরিত্যাগকারী সীমালঙ্ঘন করে ও আল্লাহর কাছে বিনয়ী হতে অহংকার প্রদর্শন করেই নামাযকে পরিত্যাগ করেছে। এই অবস্থায় সে কাফের।
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح موقوف) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: لاَ إيْماَنَ لِمَنْ لاَ صَلَاةَ لَهُ وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوْءَ لَهُ. رواه ابن عبد البر وغيره موقوفا
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৬. (হাসান মাওকূফ) মুসআব বিন সা’দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’আমি আমার পিতাকে বললাম, আব্বাজান! আল্লাহ বলেনঃ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ (যারা নিজেদের নামাযে উদাসীন তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ) এই আয়াত সম্পর্কে আপনি কি বলেন? আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যার নামাযে উদাসীনতা আসে না? কে এমন আছে নামায পড়তে গিয়ে যার মনে বিভিন্ন কথা স্মরণ হয় না?
তিনি বললেন, বিষয়টা এরকম নয়। এ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে নামায নষ্ট করা। যারা আজে-বাজে (দুনিয়াবী) কাজে লিপ্ত থেকে নামাযের সময়কে নষ্ট করে দিবে, (তাদেরকে উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে)।’ (হাসান সনদে আবু ইয়া’লা মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৮০৪)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(حسن موقوف) وَعَنْ مصعب بن سعد قال قلت لابي يا أيُّنَا أرأيت قوله تبارك وتعالى (الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ) أينا لا يسهو أينا لا يحدث نفسه قال ليس ذاك إنما هو إضاعة الوقت يلهو حتى يضيع الوقت. رواه أبو يعلى بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৭. (সহীহ্) নওফল বিন মুআ’বিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যক্তির একটি নামায ছুটে গেল, সে যেন নিজ পরিবার ও সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।’’ (ইবনে হিব্বান ১৪৬৬ হাদীছটি [সহীহ্ গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) وَعَنْ نَوْفَلَ بْنَ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةٌ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ ". رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ৪০) ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করা ও অলসতা বশতঃ নামাযের সময় পার করে দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৫৭৮. (সহীহ্) সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অধিকাংশ সময় রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করতেন তোমাদের মধ্যে কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছে? তখন যিনি দেখেছেন তিনি -আল্লাহ্ যা চান তা- তাঁর নিকট বর্ণনা করতেন। একদিন প্রভাতে তিনি আমাদেরকে বললেনঃ
’’আজ রাতে আমার নিকট দু’জন ফেরেশতা আগমণ করে আমাকে নিয়ে চললেন। তারা আমাকে বললেন, চলুন। আমি তাঁদের সাথে চলতে লাগলাম। চলতে চলতে আমরা এমন একজন লোকের নিকট পৌঁছলাম, যে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। আরেকজন লোক পার্শ্বে একটি পাথর হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথরটি তার মাথায় নিক্ষেপ করছে, ফলে মাথাটি পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর পাথরটি দূরে ছিটকে পড়ছে। সে ওটিকে কুড়িয়ে নিয়ে আসছে। কিন্তু ফিরে আসার আগেই মাথাটি পূর্বের মত ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তখন প্রথমবার যেভাবে তাকে আঘাত করছিল সেভাবে আঘাত করছে। তিনি বলেন, আমি বললামঃ সুবহানাল্লাহ্! এরা দু’জন কারা? তাঁরা দু’জন আমাকে বললেনঃ আগে চলুন, আগে চলুন।
আমরা এমন একজন লোকের কাছে আসলাম যে লোকটি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। আর তার পাশে একজন লোহার কাঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে শুয়ে থাকা মানুষটির একদিকের চোয়ালে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং তা চিরে ঘাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আবার নাকের ছিদ্রের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তা চিরে ঘাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চোখের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তা চিরে ঘাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। (আওফ বলেন, বর্ণনাকারী আবু রাজা সম্ভবতঃ চিরে ফেলতো শব্দের পরিবর্তে কেটে ফেলতো শব্দ ব্যবহার করেছেন) এরপর আরেক পার্শ্বে গিয়ে অনুরূপভাবে চিরে ফেলছে যেভাবে আগের পার্শ্ব চিরে ফেলছিল। তিনি বললেন, এক পার্শ্বের কাজ শেষ করে আরেক পার্শ্বে যেতেই আগেরটি পূর্বের মত সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বারবার করছে যেরূপ প্রথম করেছিল। তিনি বলেন, আমি বললামঃ সুবহানাল্লাহ্ এরা দু’জন কে? তাঁরা আমাকে বললেনঃ সামনে চলুন, সামনে চলুন।
আমরা চলতে থাকলাম এবং তন্দুরের মত একটি গর্তের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। বর্ণনাকারী বলেন আমার মনে হয় তিনি বলছিলেনঃ ওর মধ্যে থেকে শোরগোলের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, আমরা উঁকি দিয়ে দেখলাম ভিতরে একদল উলঙ্গ নারী ও পুরুষ। হঠাৎ নীচের দিক থেকে লেলিহান আগুন তাদের দিকে ধাবিত হয়ে আসছে। যখন আগুনের শিখা আসছে তখন তারা ভয়ংকরভাবে চিৎকার করে উঠছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা। তাঁরা দু’জন আমাকে বললেনঃ সামনে চলুন, সামনে চলুন।
আমরা অগ্রসর হলাম এবং একটি নদীর কিনারে উপনীত হলাম। আমার যদ্দুর মনে পড়ে তিনি বলেছিলেন, নদীর পানি ছিল রক্তের মত লাল। দেখলাম নদীর মধ্যে একজন মানুষ সাঁতার কাটছে। আরো দেখলাম নদীর কিনারে একজন লোক নিজের কাছে অনেকগুলো পাথর একত্রিত করে রেখেছে। নদীর মাঝের ঐ লোকটি সাঁতার কাটতে কাটতে যখন কিনারের লোকটির নিকট আসছে যে নিজের কাছে পাথর একত্রিত করে রেখেছে। তার কাছে এসে মুখ খুলে দিচ্ছে। আর ঐ লোকটি একটি পাথর তার মুখে নিক্ষেপ করছে। তখন সে আবার সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যাচ্ছে। এভাবে বারবার সে ফেরত এসে মুখ ফাঁক করছে। আর ঐ লোকটি তার মুখে একটি পাথর নিক্ষেপ করছে। আমি সেই দু’জনকে বললামঃ এরা দু’জন কারা? তাঁরা বললেন, এগিয়ে চলুন, এগিয়ে চলুন।
আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম এবং এমন একজন বিভৎস চেহারার লোক দেখতে পেলাম। যেরূপ বিভৎস চোহারার কোন লোক তুমি দেখে থাক। তার নিকট ছিল আগুন। সে আগুন প্রজ্জলিত করছে এবং তার চতুর্দিকে দৌড়াচ্ছে। আমি বললামঃ কে এ লোক? তাঁরা দু’জন বললেনঃ সামনে চলুন, সামনে চলুন।
আমরা চলতে চলতে একটি উদ্যানের মধ্যে এসে পড়লাম। যাতে ছিল লম্বা লম্বা গাছ-গাছালী। বসন্তের সবধরণের ফুলের সমাহার তাতে শোভা পাচ্ছিল। আর উদ্যানের মধ্যে একজন দীর্ঘকায় লোককে দেখলাম। তিনি এত উঁচু যে তাঁর মাথা প্রায় দেখতে পাচ্ছিলাম না। লোকটির চতুর্পার্শ্বে এত বালক ছিল যে এতগুলো বালক একসাথে আমি কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, আমি বললামঃ এ লোকটি কে এবং এরা কারা? তাঁরা দু’জন বললেনঃ এগিয়ে যান, এগিয়ে যান।
আমরা এগিয়ে গেলাম এবং একটি বিশাল বৃক্ষের নিকট এসে পৌঁছলাম। এত বিশাল ও এরকম সুন্দর বৃক্ষ আমি কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, তাঁরা আমাকে বললেন, এর উপর আরোহণ করুন। আমরা আরোহণ করে একটি শহরে প্রবেশ করলাম। যা ছিল সোনা-রূপার ইট দিয়ে তৈরী। আমরা শহরের দরজায় পৌঁছলাম। দরজা খোলার অনুমতি চাইলাম। আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হল। ভিতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে আমরা কিছু লোককে দেখলাম। যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সৌন্দর্যমন্ডিত ছিল। যেরূপ তোমরা খুব সুন্দর কাউকে দেখে থাক। আর অর্ধেক ছিল খুবই কুৎসিত। যেরূপ খুব কুৎসিত তোমরা কাউকে দেখে থাক। তিনি বলেন, আমার সাথীদ্বয় তাদেরকে বললেন, তোমরা গিয়ে ঐ নদীতে নেমে পড়। তিনি বলেন, নদীটি প্রশস্ত দিকে বইছে। তার পানি যেন খাঁটি দুধের মত শুভ্র-সাদা। তারা নদীর মধ্যে গিয়ে সেখানে গোসল করলো। তারপর তারা আমাদের কাছে ফিরে এলে দেখলাম তাদের কুৎসতি অংশটি মিটে গিয়ে তারা অতিব সুন্দরে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা দু’জন আমাকে বললেন, এটা (এই শহরটি হচ্ছে) ’আ’দন’ নামক জান্নাত। এটা আপনার বাসস্থান। তিনি বলেন, আমি উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম। দেখলাম মেঘমালার ন্যায় শুভ্র একটি প্রাসাদ। তিনি বলেন, তাঁরা দু’জন আমাকে বললেন, এটাই আপনার বাসগৃহ। আমি তাঁদেরকে বললামঃ আল্লাহ্ তোমাদেরকে বরকত দিন। আমাকে ছেড়ে দাও আমি তাতে প্রবেশ করি। তাঁরা বললেন, এখন নয়; তবে আপনি অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবেন। তিনি বলেন, আমি তাঁদেরকে বললাম, সারারাত ধরে আমি অনেক আশ্চর্য বিষয় দেখেছি। এগুলোর তাৎপর্য কি?
তাঁরা দু’জন বললেনঃ অবশ্যই আমরা সে সম্পর্কে আপনাকে জানাব।
প্রথম যে ব্যক্তির নিকট আপনি এসেছিলেন যার মাথা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া হচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে কুরআন মুখস্ত করেছিল, অতঃপর (তার উপর আমল না করে) তা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ফরয নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকতো।
আর যে লোকটির চোয়াল কাঁধ পর্যন্ত, নাককে কাঁধ পর্যন্ত এবং চোখকে কাঁধ পর্যন্ত ফেড়ে ফেলা হচ্ছিল, সে হচ্ছে এমন লোক যে সকাল সকাল নিজ গৃহ থেকে বের হত এবং চতুর্দিকে মিথ্যার বেশাতী করে বেড়াতো।
আর যে সমস্ত উলঙ্গ নারী-পুরুষকে তন্দুরের মধ্যে দেখেছেন তারা হচ্ছে যেনাকারী পুরুষ ও নারী।
যে লোকটিকে নদীতে সাঁতারাতে দেখেছেন এবং তাকে পাথরের লোকমা খাইয়ে দেয়া হচ্ছে, সে হচ্ছে সুদখোর।
কুৎসিত আকৃতির যে মানুষটিকে আগুন জ্বালাতে এবং তার চারদিকে দৌড়াতে দেখেছেন, তিনি হচ্ছেন মালেক ফেরেশতা জাহান্নামের দারোগা।
আর উদ্যানের মধ্যে যে দীর্ঘকায় লোকটিকে দেখেছেন তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আঃ)। তাঁর চতুর্পার্শ্বে যে বালকদের দেখেছেন তারা হচ্ছে প্রত্যেক সেই বালক যারা ফিৎরাতের (স্বভাব ধর্ম ইসলামের) উপর মৃত্যু বরণ করেছে।
মুসলমানদের মধ্যে কোন ব্যক্তি প্রশ্ন করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের বাচ্চাদের কি পরিণতি হবে? রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এবং মুশরিকদের বাচ্চারাও সেখানে।
আর যে সমস্ত মানুষের অর্ধেকাংশ অত্যন্ত সুন্দর ও অন্য অর্ধেক অত্যন্ত কুৎসিত তারা এমন লোক যারা সৎ আমলের সাথে অসৎ আমল মিশ্রিত করেছিল। আল্লাহ্ তাদের ত্রুটি সমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ১৩৮৬)
আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাযম [মুহাল্লা] গ্রন্থে বলেনঃ ওমার, আবদুর রহমান বিন আওফ, মুআ’য বিন জাবাল, আবু হুরায়রা প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফরয নামায পরিত্যাগ করবে এমনকি তার সময়ও পার হয়ে যাবে, তবে সে কাফের মুরতাদ।
হাফেয আবুদল আযীম বলেনঃ ’একদল সাহাবী এবং তাঁদের পর একদল বিদ্বান মত প্রকাশ করেছেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগকারী কাফের- এমনকি নামাযের সকল সময় শেষ হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ওমার বিন খাত্তাব, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ, আবদুল্লাহ বিন আব্বাস, মুআ’য বিন জাবাল, জাবের বিন আবদুল্লাহ ও আবু দারদা (রাঃ)। সাহাবী ছাড়া অন্যদের মধ্যে হচ্ছেনঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইসহাক বিন রাহুওয়াই, আবদুল্লাহ বিন মুবারক, নাখাঈ, হাকাম বিন উতাইবা, আইয়্যুব সুখতিয়াণী, আবু দাউদ তায়ালেসী, আবু বকর ইবনে আবী শায়বা, যুহাইর বিন হারব প্রমূখ (রহঃ)।[1]
الترهيب من ترك الصلاة تعمدا وإخراجها عن وقتها تهاونا
(صحيح) وَعَنْ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ ، قَالَ : كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا يَقُولُ لأَصْحَابِهِ : هَلْ رَأَى أَحَدٌ مِنْكُمْ رُؤْيَا ، فَيَقُصُّ عَلَيْهِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُصَّ ، وإنه قَالَ لَنَا ذَاتَ غَدَاةٍ : إنَّهُ أَتَانِي اللَّيْلَةَ اثْنَانِ، وَإِنَّهُمَا ابْتَعَثَانِي ، وَإِنَّهُمَا قَالَا لِيَ: انْطَلِقْ، وَإِنِّي انْطَلَقْت مَعَهُمَا ، وَإِنَّا أَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُضْطَجِعٍ وَإِذَا آخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِصَخْرَةٍ ، وَإِذَا هُوَ يَهْوِي بِالصَّخْرَةِ لِرَأْسِهِ ، فَيَثْلَغُ رَأْسَهُ فَيَتَدَهْدَهُ الْحَجَرُ فَيَأْخُذُهُ ، فَلَا يَرْجِعُ إلَيْهِ حَتَّى يَصِحَّ رَأْسُهُ كَمَا كَانَ ، ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ الْمَرَّةِ الأُولَى ، قَالَ : قُلْتُ: سُبْحَانَ اللهِ مَا هَذَا فَقَالاَ لِي : انْطَلِقْ. انْطَلِقْ
فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُسْتَلْقٍ قَفَاهُ، وَإِذَا آخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِكَلُّوبٍ مِنْ حَدِيدٍ، وَإِذَا هُوَ يَأْتِي أَحَدُ شِقَّيْ وَجْهِهِ، فَيُشَرْشِرُ شِدْقَهُ إِلَى قَفَاهُ، وَمَنْخِرَهُ إِلَى قَفَاهُ، وَعَيْنَهُ إِلَى قَفَاهُ، قَالَ: ثُمَّ يَتَحَوَّلُ إِلَى الْجَانِبِ الْآخَرِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ بِالْجَانِبِ الْأَوَّلِ، فَمَا يَفْرَغُ مِنْ ذَلِكَ الْجَانِبِ حَتَّى يَصِحَّ ذلك الجانب كَمَا كَانَ، ثُمَّ يَعُودُ عليه فَيَفْعَلُ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمَرَّةَ الْأُولَى "، قَالَ: قُلْتُ: " سُبْحَانَ اللهِ مَا هَذَانِ ؟ قَالَا لِي: انْطَلِقْ انْطَلِقْ فَانْطَلَقْنَا، فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْلِ التَّنُّورِ قَالَ: فَأَحْسَبُ أَنَّهُ كان يقول : فَإِذَا فِيهِ لَغَطٌ وَأَصْوَاتٌ، قَالَ: " فَاطَّلَعْناَ
فيه فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ، فَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهِيبٌ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ، فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللهَبُ ضَوْضَوْا "، قَالَ: قُلْتُ: " مَا هَؤُلَاءِ ؟ قَالَا لِي: انْطَلِقْ انْطَلِقْ، قال فَانْطَلَقْتُ فَأَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ، حَسِبْتُ أَنَّهُ كان يقول أَحْمَرَ مِثْلِ الدَّمِ، وَإِذَا فِي النَّهَرِ رَجُلٌ سَابح، يَسْبَحُ وَإِذَا عَلَى شَاطِّ النَّهَرِ رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ حِجَارَةً كَثِيرَةً ، وَإِذَا ذَلِكَ السَّابِحُ يَسْبَحُ مَا سَبَحَ ، ثُمَّ يَأْتِي ذَلِكَ الَّذِي قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ الْحِجَارَةَ فَيَفْغَرُ فَاهُ فَيُلْقِمُهُ حَجَرًا فينطلق فيسبح ثم يرجع إليه كلما رجع إليه فغر فاه فألقمه حجرا قلت لهما مَا هَذَا أن؟ قَالاَ لِي : انْطَلِقَ انْطَلِقْ. فَانْطَلَقْنَا ، فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ كَرِيهِ الْمَرْآةِ كَأَكْرَهِ مَا أَنْتَ رَاءٍ رَجُلاً مَرْآةً ، وَإِذَا عِنْدَ نَارٍ يَحشُهَا وَيَسْعَى حَوْلَهَا ، قَالَ : قُلْتُ لَهُمَا : مَا هَذَا ؟قاَلَ: قَالاَ لِي : انْطَلِقَ انْطَلِقْ. فَانْطَلَقْنَا، فَأَتَيْنَا عَلَى رَوْضَةٍ مُعْتَمَّةٍ، فِيهَا مِنْ كُلِّ نَوْرِ الرَّبِيعِ، وَإِذَا بَيْنَ ظَهْرَيِ الرَّوْضَةِ رَجُلٌ طُوِيلٌ لاَ أَكَادُ أَرَى رَأْسَهُ طُولاً فِي السَّمَاءِ، وَإِذَا حَوْلَ الرَّجُلِ مِنْ أَكْثَرِ وِلْدَانٍ رَأَيْتُهُمْ [قَطُّ] قَالَ: قُلْتُ: مَا هذَا مَا هؤُلاَءِ قَالاَ لِي: انْطَلِقْ، انْطَلِقْ .
فَانْطَلَقْنَا فأتينا على دوحة عظيمة لم أر دوحة قط أعظم ولا أحسن منها، قال قَالاَ لِي: ارْقَ فِيهَا فَارْتَقَيْنَا إِلَى مَدِينَةٍ مَبْنِيَّةٍ، بِلَبِنِ ذَهَبٍ وَلَبِنِ فِضَّةٍ، فَأَتَيْنَا بَابَ الْمَدِينَةِ، فَاسْتَفْتَحْنَا، فَفُتِحَ لَنَا، فَدَخَلْنَاهَا، فَتَلَقَّانَا رِجَالٌ، شَطْرٌ مِنْ خَلْقِهِمْ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ، وَشَطْرٌ كَأَقْبَحِ مَا أَنْتَ رَاءٍ، قَالَ: قَالاَ لَهُمُ: اذهَبُوا فَقَعُوا فِي ذلِكَ النَّهَرِ، قَالَ: وَإِذَا نَهَرٌ مُعْتَرِضٌ يَجْرِي كَأَنَّ مَاءَهُ الْمَحْضُ فِي الْبَيَاضِ فَذَهَبُوا فَوَقَعُوا فِيهِ ثُمَّ رَجَعُوا إِلَيْنَا، قَد ذَهَبَ ذَلِكَ السُّوءُ عَنْهُمْ فَصَارُوا فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ قَالَ:
قَالاَ لِي: هذِهِ جَنَّةُ عَدْنٍ، وَهذَا مَنْزِلكَ قَالَ: فسَمَا بَصَرِي صُعُدًا، فَإِذَا قَصْرٌ مِثْلُ الرَّبَابَةِ الْبَيْضَاءِ قَالَ: قَالاَ لِي: هذَا مَنْزِلُكَ، قَالَ: قُلْتُ لَهُمَا: بَارَكَ اللهُ فِيكُمَا، ذَرَانِي فَأَدْخلَهُ قَالاَ: أَمَّا الآنَ فَلاَ وَأَنْتَ دَاخِلُهُ قَالَ:
قُلْتُ لَهُمَا: فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ مَنْذُ اللَّيْلَةِ عَجَبًا فَمَا هذَا الَّذِي رَأَيْتُ قَالَ: قَالاَ لِي: أَمَا إِنّا سَنُخْبِرُكَ:
أَمَّا الرَّجُلُ الأَوَّلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ، فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفِضُهُ، وَيَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ
وَأَمَّا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يُشَرْشَرُ شِدْقُهُ إِلَى قَفَاهُ، وَمَنْخِرُهُ إِلَى قَفَاهُ، وَعَيْنُهُ إِلَى قَفَاهُ، فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَغْدُو مِنْ بَيْتِهِ فَيَكْذِبُ الْكَذْبَةَ تَبْلُغُ الآفَاقَ
وَأَمَّا الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ الْعُرَاةُ، الَّذِينَ فِي مِثْلِ بِنَاءِ التَّنُّورِ، فَإِنَّهُمُ الزُّنَاةُ وَالزَّوَانِي.
وَأَمَّا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يَسْبَحُ فِي النَّهَرِ وَيُلْقَمُ الْحَجَرَ، فَإِنَّهُ آكِلُ الرِّبَا.
وَأَمَّا الرَّجُلُ الْكَرِيهُ الْمَرْآةِ، الَّذِي عِنْدَ النَّارِ، يَحُشُّهَا وَيَسْعى حَوْلَهَا، فَإِنَّهُ مَالِكٌ، خَازِنُ جَهَنَّمَ .
وَأَمَّا الرَّجُلُ الطَّوِيلُ الَّذِي فِي الرَّوْضَةِ فَإِنَّهُ إِبْرَاهِيمُ .
وَأَمَّا الْوِلْدَانُ الَّذِينَ حَوْلَهُ فَكُلُّ مَوْلُودٍ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ"
قَالَ: فَقَالَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللهِ وَأَوْلاَدُ الْمُشْرِكِينَ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
"وَأَوْلاَدُ الْمُشْرِكِينَ".
وَأَمَّا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَانُوا، شَطْرٌ مِنْهُمْ حَسَنًا وَشَطْرٌ مِنْهُمْ قَبِيحًا، فَإِنَّهُمْ قَوْمٌ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا، تَجَاوَزَ اللهُ عَنْهُمْ".
. رواه البخاري
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের কথা যদিও পরবর্তী যুগের হাম্বলীগণ উল্লেখ করে থাকেন কিন্তু তাদের মধ্যে মুহাক্কেকদের নিকটে তা ছহীহ হিসেবে প্রমাণিত নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই নামাযকে অস্বীকার না করলে তাকে কাফের বলেননি। ইবনে বাত্তা তাদের মধ্যে অন্যতম। অনুরূপ মত পোষণ করেছেন শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া ও তাঁর ছাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসারীগণ যেমন শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদুল আবদুল ওয়াহ্বাব (রহঃ)। কেনই বা হবে না আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমাম ইমাম আহমাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগকারী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলঃ তখন তিনি বললেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করে উহা আদায় করে না এবং যে ব্যক্তি সময় অতিক্রম করার পর নামায আদায় করে, তাকে আমি তিন দিন নামাযী হওয়ার জন্যে দাওয়াত দিব। যদি নামায পড়ে তো ভাল কথা, অন্যথা আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব কেননা সে আমার নিকট মুরতাদের মত।’’
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে শায়খ আলবানী প্রণীত পুস্তক [নামায পরিত্যাগকারীর বিধান] দেখুন।