পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

أطعمة (আত্ব’ইমাহ্) শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হল طَعَامٌ (ত্ব’আ-মুন)। অর্থ হলো, যে জিনিস খাওয়া বা ভক্ষণ করা হয়ে থাকে। এখানে أطعمة (আত্ব’ইমাহ্) দ্বারা ভক্ষণীয় ও পানীয় উভয় ধরনের বস্তু উদ্দেশ্য। কিন্তু ভক্ষণীয় জিনিসকে প্রাধান্য দিয়ে লেখক শিরোনাম তৈরি করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

মূলত এ অধ্যায়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব খাবার খেয়েছেন, পান করেছেন অথবা খাননি, পানও করেননি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর খাবার ও পান করার আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
[সম্পাদক]


৪১৫৯-[১] ’উমার ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজন বালক হিসেবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। আমার হাত খাওয়ার পাত্রের চতুর্দিকে পৌঁছত, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ ’বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাতে খাও এবং নিজের সম্মুখ হতে খাও। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَن عمر بن أبي سَلمَة قَالَ: كُنْتُ غُلَامًا فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصفحة. فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «سم الله وكل يَمِينك وكل مِمَّا يليك»

عن عمر بن ابي سلمة قال: كنت غلاما في حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت يدي تطيش في الصفحة. فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم «سم الله وكل يمينك وكل مما يليك»

ব্যাখ্যাঃ (كُنْتُ غُلَامًا فِىْ حِجْرِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে আমি প্রতিপালিত এক শিশু ছিলাম। অর্থাৎ আমার বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল আসাদ মৃত্যুবরণ করার পর আমার মা উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেন। আর আমি শিশু অবস্থায় থাকার দরুন আমার মায়ের কাছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পালিত এক শিশু ছিলাম।

(وَكَانَتْ يَدِىْ تَطِيشُ فِى الصَّفْحَةِ) আমার হাত পাত্রের চতুস্পার্শ্বে ঘুরাঘুরি করত। অর্থাৎ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খেতে বসে পাত্রের সকল প্রান্ত থেকেই খাবার নিয়ে খেতাম।

(سَمِّ اللهَ وَكُلْ بِيَمِيْنِكَ) ‘‘তুমি ‘বিসমিল্লা-হ’ বল এবং ডান হাত দিয়ে খাও।’’ অর্থাৎ ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে খাবার শুরু করবে এবং ডান হাত দিয়ে খাবার খাবে।

(وَكُلْ مِمَّا يَلِيْكَ) ‘‘তোমার পার্শ্ব থেকে খাও’’ অর্থাৎ এক সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি খাবার বসলে তোমার পার্শ্ব থেকে খাবার খাবে। অন্যের পার্শ্ব থেকে খাবারের দ্রব্য নিবে না। কেননা তা ভদ্রতার লঙ্ঘন এবং খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে খাবার যদি ভিজা বা তরল জাতীয় হয়। তবে খাবার যদি শুকনা জাতীয় হয় তাহলে ভিন্ন কথা।

হাদীসের শিক্ষা : ১. ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে খাবার শুরু করতে হবে। ২. ডান হাত দিয়ে খেতে হবে ও পান করতে হবে। ৩. একই পাত্রে একাধিক ব্যক্তি খাবার খেলে প্রত্যেকেই নিজের পার্শ্ব থেকে খাবার খাবে। অন্যের পার্শ্ব থেকে খাবারের দ্রব্য নিবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৭৬; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০২২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬০-[২] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান সে খাদ্যকে নিজের জন্য হালাল করে নেয়, যদি না তাতে বিসমিল্লা-হ বলা হয়। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن حُذَيْفَة قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْم الله عَلَيْهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن حذيفة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الشيطان يستحل الطعام ان لا يذكر اسم الله عليه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ) ‘‘শয়তান খাদ্যকে হালাল মনে করে।’’ অর্থাৎ শয়তানের পক্ষ খাবার খাওয়া সম্ভব হয় অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টি নেই এমন পদ্ধতিতে খাবারের মধ্যে তার কার্য পরিচালনা করে।

(أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ) ‘‘খাদ্যের উপর আল্লাহর নাম স্মরণ না করার কারণে।’’ অর্থাৎ খাবার খেতে শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লা-হ’ না বললে অথবা ভুলক্রমে শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ না বলা হলেও স্মরণ হওয়ার পর ‘বিসমিল্লা-হ’ না বললে। তূরিবিশতী বলেনঃ খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলা না হলে শয়তান তার বারাকাত নষ্ট করে দেয়।

ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘বিসমিল্লা-হ’ না বলে খাবার শুরু করার মধ্যে শয়তানের জন্য খাবার গ্রহণ করার অনুমতি রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ‘বিসমিল্লা-হ’ বলাটা তার জন্য বাধা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০১৭)

‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যদি একদল লোক একসঙ্গে খাবার খায় এবং তাদের মধ্য থেকে কোন একব্যক্তি ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে খাবার শুরু করে তাহলে শয়তান সেই খাবারে অংশগ্রহণ করতে পারে না।  (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬১-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি গৃহে প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে ও খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান (তার অনুসারীদেরকে) বলে, এ ঘরে তোমাদের জন্য রাত্রি যাপনের সুযোগ নেই এবং রাতে খাবারও নেই। আর যখন সে (ঘরে) প্রবেশ করে এবং প্রবেশকালে আল্লাহর নাম নেয় না, তখন শয়তান বলে, তোমরা রাত্রি যাপনের স্থান পেয়েছ। আর যখন সে খাওয়ার সময়ও আল্লাহর নাম নেয় না, তখন সে বলে, তোমরা রাত্রি যাপন ও রাতের খাওয়া উভয়টির সুযোগ লাভ করেছ। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا دخل الرجل بيته فذكر الله عند دخوله وعند طعامه قال الشيطان: لا مبيت لكم ولا عشاء واذا دخل فلم يذكر الله عند دخوله قال الشيطان: ادركتم المبيت واذا لم يذكر الله عند طعامه قال: ادركتم المبيت والعشاء . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (لَا مَبِيتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ) ‘‘তোমাদের জন্য রাত যাপনের জায়গা নেই এবং রাতের খাবারও নেই’’। অর্থাৎ এ বাড়ীতে তোমাদের বাসস্থান ও আহার কোনটাই জুটবে না।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শয়তান তার অনুগামীদের লক্ষ্য করে বলে, এ বাড়ীতে তোমাদের জন্য রাতযাপন এবং আহার কোনটাই সহজলভ্য হবে না। কেননা তারা তাদের জান ও মাল সবই আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছে। মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে গাফেল হয়ে যায়, তখনই শয়তান তাদের থেকে সুযোগ লাভ করে থাকে। আর মানুষ যখন আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমে সতর্ক ও সজাগ থাকে তখন তাদেরকে বিপথগামী করতে পারে না। ধোঁকাও দিতে পারে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

হাদীসের শিক্ষা : বাড়ীতে প্রবেশ এবং খাদ্য গ্রহণের সময় ‘বিসমিল্লা-হ’ বলা মুস্তাহাব। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০১৮)

যদিও সর্বাবস্থায় বাড়ীতে প্রবেশ ও খাদ্যগ্রহণের জন্য ‘বিসমিল্লা-হ’ বলা মুস্তাহাব তথাপি হাদীসে রাত ও খাদ্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ এই যে, অধিকাংশ মানুষই রাতে ঘরে ফিরে এবং আহার করে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬২-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কিছু খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পান করে তখন যেন ডান হাতে পান করে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اكل احدكم فلياكل بيمينه واذا شرب فليشرب بيمينه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِه وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِه) ‘‘সে যেন ডান হাতে খায় এবং ডান হাতে পান করে’’। হাদীসের এ অংশ প্রমাণ করে যে, ডান হাত দ্বারা পানাহার করা ওয়াজিব। যা কতিপয় বিজ্ঞজনের অভিমত। সহীহ মুসলিমে সালামাহ্ ইবনুল আকওয়া‘ বর্ণিত একটি হাদীস এ অভিমতকে সমর্থন করে। তাতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বাম হাত দ্বারা খেতে দেখে তাকে বললেনঃ তোমার ডান হাত দ্বারা খাও, সে বললো আমি (ডান হাত দ্বারা) খেতে পারি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি আর পারবেও না। এরপর লোকটি তার ডান হাত আর মুখে তুলতে পারেনি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

তবে অসুস্থতা বা আহত হওয়ার কারণে যদি ডান হাত দিয়ে খেতে না পারে তাহলে বাম হাত দিয়ে পানাহার করা বৈধ। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৩-[৫] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের কেউই যেন বাম হাতে না খায় এবং সে (বাম) হাতে পানও না করে। কেননা শয়তান তার বাম হাতে খায় এবং সে হাতে পানও করে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَأْكُلَنَّ أَحَدُكُمْ بِشِمَالِهِ وَلَا يَشْرَبَنَّ بِهَا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بهَا» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا ياكلن احدكم بشماله ولا يشربن بها فان الشيطان ياكل بشماله ويشرب بها» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِه وَيَشْرَبُ بِهَا) ‘‘কেননা শয়তান বাম হাত দ্বারা পানাহার করে।’’ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অর্থ হলো তোমরা যদি বাম হাতে পানাহার করো তাহলে তোমরা শয়তানের বন্ধুত্বে পরিণত হবে। কেননা শয়তান তার মানব বন্ধুদের এ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

হাদীসের শিক্ষা : ১. শয়তান যে সমস্ত কাজ করে তা পরিত্যাগ করা উচিত, ২. শয়তানের হাত দু’টি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৪-[৬] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন আঙ্গুলে খাবার খেতেন এবং হাত মোছার পূর্বে তা চেটে নিতেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ بِثَلَاثَةِ أَصَابِعَ وَيَلْعَقُ يَدَهُ قَبْلَ أَن يمسحها. رَوَاهُ مُسلم

وعن كعب بن مالك قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل بثلاثة اصابع ويلعق يده قبل ان يمسحها. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ بِثَلَاثَةِ أَصَابِعَ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন আঙ্গুল দ্বারা খেতেন’’ অর্থাৎ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবার খেতে বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা- এ তিনটি আঙ্গুল ব্যবহার করতেন। ‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তিন আঙ্গুল দ্বারা খাবার খাওয়া সুন্নাত। প্রয়োজন ব্যতীত তিন আঙ্গুলের অধিক ব্যবহার করবে না।

(وَيَلْعَقُ يَدَهٗ قَبْلَ أَنْ يَمْسَحَهَا) ‘‘(খাওয়ার পর) তিনি তাঁর হাত রুমাল দ্বারা মুছে ফেলার আগে চেটে নিতেন।’’ ‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ খাবার গ্রহণের একটি সুন্নাত হলো খাওয়ার পর হাত মুছে ফেলার আগে তা চেটে খাওয়া। আর তা খাদ্যের বারাকাত অর্জন এবং হাত পরিষ্কার করার লক্ষ্যে।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৫-[৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খাওয়ার শেষে) অঙ্গুলিসমূহ ও খাদ্যপাত্র চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেনঃ খাদ্যের কোন অংশটির মধ্যে বারাকাত রয়েছে নিশ্চয় তোমরা তা অবগত নও। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٌ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِلَعْقِ الْأَصَابِعِ وَالصَّفْحَةِ وَقَالَ: إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ: فِي أَيَّهِ الْبَرَكَةُ؟ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن جابر: ان النبي صلى الله عليه وسلم امر بلعق الاصابع والصفحة وقال: انكم لا تدرون: في ايه البركة؟ . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ: فِىْ أَيَّةٍ الْبَرَكَةُ؟) ‘‘তোমরা জান না যে, কোন্ অংশে বারাকাত আছে।’’ অর্থাৎ তোমরা যে খাবার গ্রহণ করছো সে খাবারের কোন্ অংশে অথবা কোন্ গ্রাসে বারাকাত আছে, তা তোমরা জান না। অতএব বারাকাত অর্জনের লক্ষ্যে তোমরা হাত ও খাবারের পাত্র চেটে খাবে। যাতে খাবারের সম্পূর্ণ অঙ্কন খাওয়া হয় এবং বারাকাত ছুটে না যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৬-[৮] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কিছু খায়, তখন সে যেন (অঙ্গুলি) চেটে খাওয়া অথবা অন্যের দ্বারা তা চাটিয়ে নেয়া পর্যন্ত হাত না মুছে ফেলে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلَا يمسحْ يدَه حَتَّى يلعقها أَو يلعقها»

وعن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا اكل احدكم فلا يمسح يده حتى يلعقها او يلعقها»

ব্যাখ্যাঃ (حَتّٰى يَلْعَقَهَا أَوْ يُلْعِقَهَا) ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে হাত চেটে না খায় অথবা অন্যকে দিয়ে চাটিয়ে খাওয়ায় (ততক্ষণ পর্যন্ত হাত মুছবে না) অন্যকে দিয়ে চেটে খাওয়াবে যে তা চেটে খেতে ঘৃণা না করে, যেমন- স্বীয় স্ত্রী, দাসী, সন্তান ও সেবক। কেননা এরা চেটে খেতে মজা পায়। অনুরূপ যে ছাত্র শিক্ষকের হাত চেটে খাওয়ার মধ্যে বারাকাত আছে বলে মনে করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৪৫৬; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৪৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৭-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো প্রতিটি কাজের সময় শয়তান তার পাশে উপস্থিত হয়, এমনকি তার খাওয়ার সময়েও। অতএব যদি তোমাদের কারো লোকমা পড়ে যায়, সে যেন তা তুলে ময়লা পরিষ্কার করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর খাওয়া শেষে যেন অঙ্গুলি চেটে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার খাদ্যের কোন্ অংশে বারাকাত রয়েছে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن جَابر قَالَ: النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأْنِهِ حَتَّى يَحْضُرَهُ عِنْدَ طَعَامِهِ فَإِذَا سَقَطَتْ من أحدكُم لقْمَة فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى ثُمَّ ليأكلها وَلَا يَدعهَا للشَّيْطَان فَإِذا فرع فليلعق أصَاب فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي: فِي أَيِّ طَعَامِهِ يَكُونُ الْبركَة؟ . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ان الشيطان يحضر احدكم عند كل شيء من شانه حتى يحضره عند طعامه فاذا سقطت من احدكم لقمة فليمط ما كان بها من اذى ثم لياكلها ولا يدعها للشيطان فاذا فرع فليلعق اصاب فانه لا يدري: في اي طعامه يكون البركة؟ . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأْنِه) ‘‘অবশ্যই শয়তান তোমাদের কারো নিকট তার সকল বিষয়ে উপস্থিত হয়।’’ অর্থাৎ শয়তান মানুষের সাথে সকল অবস্থায়ই লেগে থাকে এবং তার কাজ-কর্মে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে। অতএব মানুষের উচিত তার সম্পর্কে সতর্ক থাকা তার থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা এবং শয়তানের ধোঁকায় না পরা। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৩৩)

(فَإِذَا سَقَطَتْ مِنْ أَحَدِكُمُ اللُّقْمَةُ فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى) ‘‘অতএব তোমাদের কারো খাবারের সময় তার লোকমা পরে গেলে সে যেন তার সাথে লেগে যাওয়া ময়লা দূর করে ফেলে। অর্থাৎ ধূলা অথবা এ জাতীয় কিছু লেগে গেলে তা দূর করবে। আর নাপাক কিছু লেগে গেলে তা ধুবে যদি ধোয়া সম্ভব হয়।

(ثُمَّ لْيَأْكُلْهَا) ‘অতঃপর তা খাবে’ যদি তা খাওয়া সম্ভব হয়, নচেৎ কুকুর বিড়াল ইত্যাদিকে তা খেতে দিবে।

(وَلَا يَدَعَهَا لِلشَّيْطَانِ) আর শয়তানের জন্য তা ফেলে রাখবে না। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ফেলে রাখলে তা শয়তানের জন্য হয়, কেননা এতে আল্লাহর নি‘আমাত বিনষ্ট হয় এবং আল্লাহর নি‘আমাতকে অবজ্ঞা করা হয় আর পরে যাওয়া লোকমা ফেলে দেয়া অহংকারীদের চরিত্র। আর অহংকারই পরে যাওয়া লোকমা উঠিয়ে নিতে বাধা প্রদান করে। আর তা শয়তানের কাজ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৮-[১০] আবূ জুহায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে খাই না। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أبي جُحَيْفَة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَا آكل مُتكئا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي جحيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا اكل متكىا» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (لَا آكُلُ مُتَّكِئًا) ‘‘আমি ঠেস দিয়ে বসে খাই না’’। খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সাধারণ মানুষে মনে করে কোন এক দিকে হেলে ভর দিয়ে বসাকে ঠেস দিয়ে বসা বলা হয়। হাদীসের প্রকৃত অর্থ তা নয়। বরং এখানে ঠেস দিয়ে বসার অর্থ হলো নিতম্বের নীচের বিছানা, পিঁড়ি ইত্যাদিতে ভর দিয়ে বসা। অতএব হাদীসের অর্থ এই যে, আমি যখন খাবার খাই তখন কোন কিছুর উপর ভর দিয়ে বসি না যা বেশী খাবার ইচ্ছাকারী করে থাকে। বরং অল্প খাবার খাই তাই আমার বসা হয় অস্বস্তি নিয়ে বসা। আর অধিকাংশ ‘আলিম এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ কোন একদিকে ঝুকে বসা। কেননা এভাবে বসলে খাদ্য গ্রহণ করার জন্য ক্ষতিকর। আর কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন চার জানু হয়ে আরাম করে বসা। কেননা এ অবস্থায় বসে খাবার গ্রহণ করলে অধিক খাবার গ্রহণ করা সহজ হয় তাতে খাদ্যাভ্যাস বৃদ্ধি পায়। ‘আল্লামা ইবনুল কইয়্যিম বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার জন্য বাম পা বিছিয়ে হাঁটুর উপর ভর করে বসতেন। এতে আল্লাহর প্রতি নম্রতা ও তার সামনে ভদ্রতা প্রকাশ পায়। আর খাবার গ্রহণ করার জন্য এ পদ্ধতি সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ উপকারী পদ্ধতি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৯৮, ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৬৯-[১১] কতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি [আনাস (রাঃ)] বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো টেবিলে রেখে আহার করেননি এবং পিরিচেও খাবার খাননি। আর তাঁর জন্য কখনো চাপাতি রুটিও তৈরি করা হয়নি। কতাদাকে জিজ্ঞেস হলো, তবে তাঁরা কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ সাধারণ দস্তরখান বিছিয়ে আহার করতেন। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن قَتَادَة عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى خِوَانٍ وَلَا فِي سُكُرَّجَةٍ وَلَا خُبِزَ لَهُ مُرَقَّقٌ قِيلَ لِقَتَادَةَ: على مَ يَأْكُلُون؟ قَالَ: على السّفر. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن قتادة عن انس قال: ما اكل النبي صلى الله عليه وسلم على خوان ولا في سكرجة ولا خبز له مرقق قيل لقتادة: على م ياكلون؟ قال: على السفر. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (مَا أَكَلَ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى خِوَانٍ) ‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো টেবিলে খাবার খাননি’’। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ টেবিলে খাবার খাওয়া বিলাসীদের অভ্যাস এবং অহংকারীদের কার্যকলাপ, যাতে খাবার গ্রহণ করার সময় ঘাড় নিচু করতে না হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(وَلَا فِىْ سُكُرَّجَةٍ) আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিরিচেও খাবার খাননি। হতে পারে যে, তখন পিরিচের প্রচলন ছিল না, তাই তিনি তাতে খাননি। অথবা তা ছোট হওয়ার দরুণ তিনি তাতে খাননি। কেননা তাদের অভ্যাস ছিল একপাত্রে একাধিক ব্যক্তি মিলে আহার গ্রহণ করা। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৬৮)

(عَلٰى مَا يَأْكُلُوْنَ؟) ‘‘তারা কিসের উপর খেতো’’ অর্থাৎ যে সমস্ত সাহাবীদের কার্যকলাপ অনুসরণ করা হয় তারা কিসের উপর আহার গ্রহণ করতো?

(قَالَ: عَلَى السُّفَرِ) ‘‘দস্তরখানের উপর’’ টেবিল ব্যতীত অন্য যে কোন বস্তু তা চামড়া বা অন্য যাই হোক যাতে খাবার রাখা হয় তাকে سُفْرةِ তথা দস্তরখান বলা হয়। অতএব দস্তুরখানের উপর খাবার পাত্র রেখে খাবার খাওয়া সুন্নাত। আর টেবিলে খাবার খাওয়া রসূলের সুন্নাত নয় তবে তা বৈধ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭০-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত পাতলা রুটি দেখেছেন বলে আমার জানা নেই আর না তিনি কখনো স্বচক্ষে ভুনা বকরী দেখেছেন। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أنس قَالَ: مَا أَعْلَمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَغِيفًا مُرَقَّقًا حَتَّى لَحِقَ بِاللَّهِ وَلَا رَأَى شَاةً سَمِيطًا بِعَيْنِهِ قَطُّ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن انس قال: ما اعلم النبي صلى الله عليه وسلم راى رغيفا مرققا حتى لحق بالله ولا راى شاة سميطا بعينه قط. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا رَأَى شَاةً سَمِيطًا بِعَيْنِه قَطُّ) ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো স্বচক্ষে ভুনা ছাগল দেখেননি’’। شَاةً سَمِيطًا এমন ভুনা ছাগলকে বলা হয় যার লোম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে চামড়াসহ ভুনা করা হয়। قَطُّ শব্দের মধ্যে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, চামড়াসহ ভুনা করা ছাগলের গোশত খাওয়া তো দূরের কথা তিনি তা কখনো দেখেননি। না নিজ গৃহে আর না অপরের গৃহে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৮৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭১-[১৩] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যখন হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করেছেন, তখন হতে ওফাত পর্যন্ত তিনি কখনো ময়দা দেখেননি। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত কখনো চালুনি দেখেননি। তখন সাহলকে জিজ্ঞেস করা হলো, না চেলে আপনারা যব কিভাবে খেতেন? তিনি বললেনঃ আমরা তাকে পিষে নিতাম এবং তাতে ফুঁ দিতাম, ফলে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত। আর যা অবশিষ্ট থাকত আমরা তা মন্থন করে নিতাম এবং এরপর তা খেতাম। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن سهل بن سعد قَالَ: مَا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ مِنْ حِينِ ابْتَعَثَهُ اللَّهُ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ وَقَالَ: مَا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْخُلًا مِنْ حِين ابتعثهُ الله حَتَّى قبضَهُ قِيلَ: كَيْفَ كُنْتُمْ تَأْكُلُونَ الشَّعِيرَ غَيْرَ مَنْخُولٍ؟ قَالَ: كُنَّا نَطْحَنُهُ وَنَنْفُخُهُ فَيَطِيرُ مَا طَارَ وَمَا بَقِي ثريناه فأكلناه. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن سهل بن سعد قال: ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم النقي من حين ابتعثه الله حتى قبضه الله وقال: ما راى رسول الله صلى الله عليه وسلم منخلا من حين ابتعثه الله حتى قبضه قيل: كيف كنتم تاكلون الشعير غير منخول؟ قال: كنا نطحنه وننفخه فيطير ما طار وما بقي ثريناه فاكلناه. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (فَيَطِيرُ مَا طَارَ) ‘‘যা উড়ে যাবার তা উড়ে যেত’’ অর্থাৎ যব পিষিয়ে তা বাতাসে উড়ালে আটার সাথে থাকা হালকা খোশাগুলো উড়ে যেত।

(وَمَا بَقِىْ) ‘‘আর যা কিছু অবশিষ্ট থাকত’’ যা ওজনে ভারী তা অবশিষ্ট থাকত, অর্থাৎ আটা থেকে যেত এবং খোশা উড়ে যেত।

(ثَرَّيْنَاهُ فأكَلْنَاهُ) তা পানি দিয়ে ভিজাতাম, অতঃপর তা খেতাম। অর্থাৎ পানি দিয়ে ভিজিয়ে খামীর তৈরি করে রুটি বানানোর পর তা খেতাম অথবা তা পানিতে গুলে রান্না করার পর তা খেতাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭২-[১৪] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাদ্যের দোষ প্রকাশ করেননি। অবশ্য মনে ধরলে খেয়েছেন। আর অপছন্দ হলে পরিত্যাগ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: مَا عَابَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا قَطُّ إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ وَإِنْ كرهه تَركه

وعن ابي هريرة قال: ما عاب النبي صلى الله عليه وسلم طعاما قط ان اشتهاه اكله وان كرهه تركه

ব্যাখ্যাঃ (مَا عَابَ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا قَطُّ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারে দোষ ধরতেন না।’’ হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বৈধ খাবারের দোষ ধরেননি। তবে হারাম খাবারের দোষ ধরতেন এবং তা খেতে নিষেধ করতেন। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ খাবার খাওয়ার আদব হলো তার দোষ ধরবে না। অর্থাৎ এরূপ বলবে না এটা টক, এটা সিদ্ধ হয়নি বা পাকেনি এটা পাতলা, এটা মোটা ইত্যাদি।

(إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهٗ وَإِنْ كَرِهَهٗ تَرَكَهٗ) ‘‘খাদ্যের প্রতি তার আগ্রহ থাকলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খেতেন অন্যথায় তা পরিত্যাগ করতেন। যেমন দব্বের ব্যাপারে যা ঘটেছিল। এটা তার অপছন্দ ছিল তাই তিনি তা খাননি। এটা দোষ বর্ণনা নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৪০৯; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৬৪; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৫৯; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৩-[১৫] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি অধিক পরিমাণে খাবার খেতো, পরে সে ইসলাম গ্রহণ করল। তখন সে অল্প খেতে লাগল। ব্যাপারটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি বললেনঃ মু’মিন খায় এক পাকস্থলীতে আর কাফির খায় সাত পাকস্থলীতে। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَأْكُلُ أَكْلًا كَثِيرًا فَأَسْلَمَ فَكَانَ يَأْكُلُ قَلِيلًا فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سبعةِ أمعاء» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعنه ان رجلا كان ياكل اكلا كثيرا فاسلم فكان ياكل قليلا فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: «ان المومن ياكل في معى واحد والكافر ياكل في سبعة امعاء» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَأْكُلُ فِىْ مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِىْ سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ) ‘‘মু’মিন এক পেটে খায় আর কাফির সাত পেটে খায়।’’ مِعًى বলা হয় খাদ্য থলিকে। জেনে রাখা দরকার মু’মিনের তুলনায় কাফিরের খাদ্যথলি বেশী নেই। বরং প্রত্যেক মানুষেরই শুধুমাত্র একটি করে খাদ্য থলি আছে। তাই কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাণীর মর্ম হলো মু’মিনের খাদ্যের প্রতি লোভ কম থাকে, তাই তার খাদ্য ও পানীয়তে বারাকাত হয় এবং অল্পতেই সে তৃপ্ত হয়। পক্ষান্তরে খাদ্যের প্রতি কাফিরের লোভ অত্যন্ত বেশী, যেমন- চতুষ্পদ জন্তুর লোভ খাদ্যের প্রতি, দেখলেই খেতে চায়, অনুরূপ কাফির ব্যক্তিও দেখলেই খেতে চায়। অত্র হাদীসে কাফির ও মু’মিনের এই তারতম্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর মু’মিন যখন খেতে আরম্ভ করে তখন শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে, ফলে শয়তান তার খাবারে অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর কাফির ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে, না তাই শয়তান তার খাদ্যে অংশগ্রহণ করে। ফলে মু’মিনের অল্প খাবারই যথেষ্ট হয়ে যায় কিন্তু কাফিরের তা হয় না। আর মু’মিনের পেট কিছুটা ভরলেই সে তৃপ্ত হয়, তাই তার খাবার কম লাগে। আর কাফির পেট পূর্ণ না করে তৃপ্ত হয় না, তাই তার খাবার বেশী লাগে।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হওয়া ও তার ভোগ বিলাসে যথাসাধ্য কমে তুষ্ট থাকা। আর খাদ্যাভ্যাস কম থাকা মানুষের উত্তম গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত আর অধিক খাদ্যগ্রহণ করা এর বিপরীত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৯৭; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৬০, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৪-[১৬] ও ৪১৭৫-[১৭] ইমাম মুসলিম আবূ মূসা ও ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে শুধুমাত্র রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত বাণীটিই (অর্থাৎ- اِنَّ الْمُؤْ مِنَ يَأْكُلُ.....) বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي مُوسَى وَابْنِ عُمَرَ الْمسند مِنْهُ فَقَط

وروى مسلم عن ابي موسى وابن عمر المسند منه فقط

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৪-[১৬] ও ৪১৭৫-[১৭] ইমাম মুসলিম আবূ মূসা ও ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে শুধুমাত্র রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত বাণীটিই (অর্থাৎ- اِنَّ الْمُؤْ مِنَ يَأْكُلُ.....) বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي مُوسَى وَابْنِ عُمَرَ الْمسند مِنْهُ فَقَط

وروى مسلم عن ابي موسى وابن عمر المسند منه فقط

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৬-[১৮] তবে আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে সহীহ মুসলিম-এর অপর একটি রিওয়ায়াতে আছে যে, জনৈক কাফির রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমান হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরীর দুধ আনতে নির্দেশ দিলেন, দুধ দোহন করা হলো এবং লোকটি সবটুকু দুধ পান করে ফেলল। অতঃপর আরেকটি বকরীর দুধ আনতে নির্দেশ দিলেন, বকরী দোহন করা হলো। এ দুধটুকুও সে পান করে ফেলল। এরপর তৃতীয় আরেকটি বকরী দোহন করা হলো। এ দুধটুকুও সে পান করে ফেলল। এভাবে সে শেষ নাগাদ সাতটি বকরীর সবটুকু দুধ একাই পান করে ফেলল। (পরদিন) ভোরে লোকটি ইসলাম গ্রহণ করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য একটি বকরীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। দুধ দোহন করা হলো। লোকটি সবটুকু দুধ পান করে ফেলল। অতঃপর আরেকটি বকরী দোহন করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু সে এবার সবটুকু দুধ পান করতে পারল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু’মিন এক পাকস্থলীতে পান করে। আর কাফির পান করে সাত পাকস্থলীতে।[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَافَهُ ضَيْفٌ وَهُوَ كَافِرٌ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ حَتَّى شَرِبَ حِلَابَ سَبْعِ شِيَاهٍ ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أَمَرَ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يشربُ فِي سَبْعَة أمعاء»

عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضافه ضيف وهو كافر فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بشاة فحلبت فشرب حلابها ثم اخرى فشربه ثم اخرى فشربه حتى شرب حلاب سبع شياه ثم انه اصبح فاسلم فامر له رسول الله صلى الله عليه وسلم بشاة فحلبت فشرب حلابها ثم امر باخرى فلم يستتمها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المومن يشرب في معى واحد والكافر يشرب في سبعة امعاء»

ব্যাখ্যাঃ (ثُمَّ أَمَرَ بِأُخْرٰى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا) ‘‘অতঃপর আরেকটি ছাগলের দুধ তাকে দেয়া হলে তিনি তা পুরোপুরি পান করতে পারলেন না।’’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সাতটি ছাগলের দুধ একাই পান করেছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর একটি ছাগলের দুধ পান করার পর দ্বিতীয় ছাগলের দুধ অল্প কিছু পান করার পর আর পান করতে পারলেন না।

(الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِىْ مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِىْ سَبْعَةٍ أَمْعَاءٍ) ‘‘মু’মিন এক পেটে পান করে আর কাফির সাত পেটে পান করে’’ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৬৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৭-[১৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’জনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِي الثلاثةِ وطعامِ الثلاثةِ كَافِي الْأَرْبَعَة»

وعنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «طعام الاثنين كافي الثلاثة وطعام الثلاثة كافي الاربعة»

ব্যাখ্যাঃ (طَعَامُ الِاثْنَيْنِ كَافِى الثَّلَاثَةِ) ‘‘দু’জনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট’’ অর্থাৎ যে খাবার দু’জনে পেটপুরে তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে, ঐ খাবার তিনজনের পেটপুরে খাবার না হলেও তাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট হয়, ফলে তাদের ‘ইবাদাত করার জন্য শক্তি অর্জিত হয় ও দুর্বল হয়ে পরা থেকে রক্ষা পায়।

এ হাদীসের তথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য হলো মু’মিনের উচিত পেটপুরে আহার করতে না পারলেও অল্প আহারে তুষ্ট হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অভাবী ব্যক্তিকে প্রদান করা।

হাদীসের শিক্ষা : অল্পে তুষ্ট হওয়া এবং অন্যদের প্রতি সমব্যথিত হওয়া।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৮-[২০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট, দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الِاثْنَيْنِ وَطَعَامُ الِاثْنَيْنِ يَكْفِي الْأَرْبَعَةَ وَطَعَامُ الْأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثمانيَة» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «طعام الواحد يكفي الاثنين وطعام الاثنين يكفي الاربعة وطعام الاربعة يكفي الثمانية» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِى الِاثْنَيْنِ) ‘‘একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট’’। শারহুস্ সুন্নাহ্ প্রণেতা এর ব্যাখ্যায় ইসহাক্ব ইবনু রহ্ওয়াহ্ সূত্রে জারীর  থেকে বর্ণনা করেন যে, এর অর্থ হলো যে খাবার একজনে পেটপুরে খেতে পারে, ঐ খাবার দু’জনের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট। ইমামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অত্র হাদীসে অন্যের প্রতি খাদ্যের ব্যাপারে সমব্যথি হতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। খাদ্যের পরিমাণ অল্প হলেও তা দ্বারা বেঁচে থাকার প্রয়োজন পূর্ণ হয় এবং এতে বারাকাতও অর্জিত হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৫৯/১৭৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৭৯-[২১] ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তালবীনাহ্ পীড়িত ব্যক্তির অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং দুশ্চিমত্মা কিছুটা লাঘব করে।(বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «التَّلْبِينَةُ مُجِمَّةٌ لِفُؤَادِ الْمَرِيضِ تَذْهَبُ بِبَعْض الْحزن»

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «التلبينة مجمة لفواد المريض تذهب ببعض الحزن»

ব্যাখ্যাঃ (التَّلْبِينَةُ مُجِمَّةٌ لِفُؤَادِ الْمَرِيضِ) ‘‘তালবীনাহ্ রোগীর হৃদয়ের জন্য আরামদায়ক’’। কাযী বলেনঃ তালবীনাহ্ বলা হয় আটা ও দুধ দিয়ে তৈরি পাতলা স্যুপকে। কখনো তাতে মধুও ঢেলে দেয়া হয়। দুধের মতো সাদা ও পাতলা বলে এর নামকরণ করা হয়েছে তালবীনাহ্।
(تَذْهَبُ بِبَعْضِ الْحُزْنِ) ‘‘তা রোগীর চিন্তা কিছুটা দূর করে’’। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪ খন্ড, হাঃ ২২১৬/৯০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮০-[২২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন এক দরজি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাবার দা’ওয়াত করল, যা সে প্রস্ত্তুত করেছিল। সুতরাং আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে গেলাম। সে যবের রুটি ও ঝোলবিশিষ্ট তরকারী উপস্থিত করল, তার মধ্যে ছিল কদু ও মাংসের শুটকি। তখন আমি দেখলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাটির আশপাশ হতে কদু খুঁজে নিচ্ছেন। ফলে সেদিন হতে আমিও সর্বদা কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ خَيَّاطًا دَعَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ فَذَهَبْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَرَّبَ خُبْزَ شَعِيرٍ وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءُ وَقَدِيدٌ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيِ الْقَصْعَةِ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدباءَ بعد يومِئذٍ

وعن انس ان خياطا دعا النبي صلى الله عليه وسلم لطعام صنعه فذهبت مع النبي صلى الله عليه وسلم فقرب خبز شعير ومرقا فيه دباء وقديد فرايت النبي صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء من حوالي القصعة فلم ازل احب الدباء بعد يومىذ

ব্যাখ্যাঃ (أَنَّ خَيَّاطًا دَعَا النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهٗ) ‘‘একজন দর্জি খাদ্য তৈরি করে তা খাবার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দা‘ওয়াত করলেন, ঐ দর্জি ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবক ছিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে খাবার তৈরি করে তা খেতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দা‘ওয়াত দিয়েছিল।

(فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ) ‘‘ঐ খাদ্যে কদু ও গোশতের শুটকি ছিল।’’ قَدِيدٌ বলা হয় ঐ গোশতকে যাতে লবণ মিশ্রণ করে রৌদ্রে শুকানো হয়ে থাকে।

(فَرَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالِى الْقَصْعَةِ) ‘‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাত্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কদু সংগ্রহ করতে দেখলাম।’’ অত্র হাদীসে এ প্রমাণ পাওয়া যায় যে, পাত্রে যদি বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকে তাহলে অন্য দিক থেকে ও পছন্দমত খাবার সংগ্রহ করা যায়। এটা ঐ হাদীসের বিরোধী নয় যাতে বলা হয়েছে ‘‘তোমার কাছে থেকে খাও’’। এতে এও প্রমাণিত হয় দর্জির উপার্জন নিম্নমানের নয়। ভদ্র ব্যক্তি পেশায় তার নিম্নমানের ব্যক্তির তৈরি খাবার খেতে পারে।

(فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ بَعْدَ يَوْمِئِذٍ) ‘‘ঐ দিনের পর থেকে আমি কদু পছন্দ করি’’। হাদীসের এ অংশ প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে খাবার পছন্দ করতেন তা পছন্দ করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৩৭৯; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, ২০৪১/১৪৪; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৭৮; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮১-[২৩] ’আমর ইবনু উমাইয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বকরীর কাঁধের মাংস স্বহস্তে খেতে দেখেন। এমন সময় সালাতের জন্য আহবান করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাংসের টুকরা এবং যে ছুরি দ্বারা কেটে খাচ্ছিলেন তা রেখে দিয়ে সালাত আদায় করলেন। অথচ তিনি (নতুনভাবে) উযূ করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن عَمْرو بنِ أُميَّةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يحتزمن كتف الشَّاة فِي يَدِهِ فَدُعِيَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَلْقَاهَا وَالسِّكِّينَ الَّتِي يَحْتَزُّ بِهَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يتَوَضَّأ

وعن عمرو بن امية انه راى النبي صلى الله عليه وسلم يحتزمن كتف الشاة في يده فدعي الى الصلاة فالقاها والسكين التي يحتز بها ثم قام فصلى ولم يتوضا

ব্যাখ্যাঃ (أَنَّهٗ رَأَى النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ الشَّاةٍ) ‘‘আমর ইবনু উমাইয়াহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ছাগলের কাঁধের গোশত কেটে (খেতে) দেখেছেন।’’ এ থেকে জানা যায় যে, ছুড়ি দিয়ে গোশত কেটে খাওয়া বৈধ। ‘আল্লামা ‘আয়নী উমদাতুল কারীতে বলেছেনঃ খাওয়ার জন্য ছুড়ি দিয়ে গোশত কাটা বৈধ। অনুরূপভাবে ছুড়ি দিয়ে রুটি কেটে খাওয়াও মাকরূহ নয়। (শারহুন নাবাবী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৩৫৫/৯৩; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৩৬)

(فَدُعِىَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَلْقَاهَا وَالسِّكِّينَ الَّتِىْ يَحْتَزُّ بِهَا) ‘‘অতঃপর তাকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি গোশতের টুকরা ও ছুড়ি রেখে দিলেন।’’

হাদীসের এ অংশ থেকে জানা যায় যে, সালাতের সময় হলে সালাত আদায় করার জন্য ইমামকে ডেকে নেয়া মুস্তাহাব। (শারহুন নাবাবী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৩৫৫/৯৩)

(ثُمَّ قَامَ فَصَلّٰى وَلَمْ يَتَوَضَّأ) ‘‘অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন কিন্তু উযূ করলেন না।’’ হাদীসের এ অংশ থেকে জানা যায়, খাওয়ার পর উযূ করা বা হাত মুখ ধৌত করা আবশ্যক নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৩৫৫/৯৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮২-[২৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْوَاء وَالْعَسَل. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب الحلواء والعسل. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন।’’ ইবনু বাত্ত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মিষ্টি ও মধু পবিত্র খাদ্যদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেনঃ সকল প্রকার সুস্বাদু খাবার এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ সকল প্রকার সুস্বাদু খাবার খাওয়া বৈধ। খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তিনি মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন এর অর্থ এ নয় যে, তিনি ঐ বস্তুর প্রতি আসক্ত ছিলেন বরং ঐ দু’টি উপস্থিত হলে তা থেকে তিনি সুন্দরভাবে গ্রহণ করতেন। এ দ্বারা বুঝা যেত যে, তিনি তা পছন্দ করতেন। সায়ালিবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যে মিষ্টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করতেন তা খেজুর ও দুধের মিশ্রণে তৈরি করা হত। অত্র হাদীসে এটাও জানা যায় যে, একাধিক প্রকারের খাদ্য গ্রহণ বৈধ তা মাকরূহ নয়। যেমনটি অনেক সুফীরা মনে করে থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৪৩১; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৩-[২৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবারের নিকট তরকারী চাইলেন, তারা বললেনঃ আমাদের কাছে সিরকা ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি তা চেয়ে নিলেন এবং তা দ্বারা রুটি খেতে লাগলেন, আর বললেন, সিরকা উত্তম তরকারী, সিরকা উত্তম তরকারী। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَ أَهْلَهُ الْأُدْمَ. فَقَالُوا: مَا عِنْدَنَا إِلَّا خَلٌّ فَدَعَا بِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ بِهِ وَيَقُولُ: «نِعْمَ الْإِدَامُ الْخَلُّ نِعْمَ الْإِدَامُ الْخَلُّ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم سال اهله الادم. فقالوا: ما عندنا الا خل فدعا به فجعل ياكل به ويقول: «نعم الادام الخل نعم الادام الخل» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (نِعْمَ الْإِدَامُ الْخَلُّ) ‘‘সিরকা উত্তম তরকারী’’। খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অত্র হাদীসে খাবারের ক্ষেত্রে মধ্যম পথ গ্রহণ করাকে প্রশংসা করা হয়েছে। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যা সংগ্রহ করা কঠিন নয় এবং খরচও কম তা সিরকার মতই প্রশংসনীয়। এ হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, কোন ব্যক্তি যদি শপথ করে যে, সে তরকারী খাবে না, এরপর সিরকা খেল তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সিরকা তরকারীর অন্তর্ভুক্ত।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৫২, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৩৯৬)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরকার প্রশংসা করেছেন এজন্য যে, তা ব্যয়বহুল নয় এবং এতে স্বল্পে সন্তুষ্টির পরিচায়ক। ইবনু মাজার এক বর্ণনাতে আছে যে, ‘‘সিরকা নবীদের তরকারী।’’ (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৪-[২৬] সা’ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ব্যাঙের ছাতা মান্ন জাতীয় এবং তার পানি চক্ষুর জন্য নিরাময়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

আর মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে আছে, সে মান্ন বিশেষ যা আল্লাহ তা’আলা মূসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেছিলেন।

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن سعيد بنِ زيدٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «مِنَ الْمَنِّ الَّذِي أنزلَ اللَّهُ تَعَالَى على مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام»

وعن سعيد بن زيد قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الكماة من المن وماوها شفاء للعين» . متفق عليه. وفي رواية لمسلم: «من المن الذي انزل الله تعالى على موسى عليه السلام»

ব্যাখ্যাঃ (الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ) ‘‘মাশরূম মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত’’ অর্থাৎ এটা আল্লাহর দান যা আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ.)-এর ওপর নাযিল করেছিলেন। অথবা এটা দ্বারা ঐ মাশরূম উদ্দেশ্য যা জমিনে এমনিতেই বিনা চাষে উৎপন্ন, এজন্য কোন কিছু ব্যয় করতে হয় না। অতএব তা যেন সেই ‘‘মান্ন’’ এর মতো যা আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ.)-এর কওমকে দান করেছিলেন।

(وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ) ‘‘তার পানি চক্ষু রোগের জন্য উপকারী’’। বলা হয়ে থাকে যে, ঔষধে তার রস মিশ্রিত করে চক্ষু রোগের জন্য ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায় অথবা শুধুমাত্র তার রসই চক্ষুরোগ উপশম করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৪৯ )

খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মাশরূমের এই বেশিষ্ট্য এজন্য যে, তা নিছক হালাল। কেননা তা জমিনে এমনিতেই উৎপাদন হয় আর যা জমিনে বিনা চাষেই উৎপাদন হয় আর আল্লাহ হালাল করেছেন তাতে কোন প্রকার হারামের মিশ্রণ নেই। অত্র হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, নিছক হালাল দ্রব্য গ্রহণ করার ফলে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৭০৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৫-[২৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাঁকড়ির সাথে তাজা খেজুর খেতে দেখেছি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الرُّطَبَ بِالْقِثَّاءِ

وعن عبد الله بن جعفر قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل الرطب بالقثاء

ব্যাখ্যাঃ (رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الرُّطَبَ بِالْقِثَّاءِ) ‘‘[‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফার ] বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শসা দিয়ে খেজুর খেতে দেখেছি’’। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অত্র হাদীস প্রমাণ বহন করে যে, একই সাথে দু’ ধরনের খাবার গ্রহণ করা বৈধ। এ সম্পর্কে ‘আলিমদের মাঝে কোন মতভেদ নেই।

ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অত্র হাদীস থেকে এটাও বুঝা যায় যে, খাবার গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তার গুণাবলীর দিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। কেননা খেজুরের মধ্যে রয়েছে তাপ আর শসার মধ্যে রয়েছে ঠাণ্ডা। এ দু’ খাবার যখন একত্রে খাওয়া হয় তখন তা খাবারের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করে ‘‘যা স্বাস্থ্যের’’ জন্য উপযোগী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৩১; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৪৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৬-[২৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মার্রম্নয্ যাহরান নামক স্থানে ছিলাম, এ সময় আমরা কাবাস (পিলু বা বাবলা গাছের ফল) সংগ্রহ করছিলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা শুধুমাত্র কালোগুলোই চয়ন করো। কেননা এটাই উত্তম। (জাবির বলেনঃ) তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি বকরী চরাতেন? (কারণ তারাই তো বন-জঙ্গলের ফল সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা রাখে।) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, এমন কোন নবীই নেই যিনি বকরী চরাননি।(বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ نَجْنِي الْكَبَاثَ فَقَالَ: «عَلَيْكُم بالأسْوَدِ مِنْهُ فإِنَّه أَطْيَبُ» فَقِيلَ: أَكُنْتَ تَرْعَى الْغَنَمَ؟ قَالَ: «نَعَمْ وهلْ منْ نبيٍّ إِلاَّ رعاها؟»

وعن جابر قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بمر الظهران نجني الكباث فقال: «عليكم بالاسود منه فانه اطيب» فقيل: اكنت ترعى الغنم؟ قال: «نعم وهل من نبي الا رعاها؟»

ব্যাখ্যাঃ (نَجْنِىْ الْكَبَاثَ) ‘‘আমরা কাবাস আহরণ করছিলাম’’ কাবাস বলা হয় পিলু বা বাবলা গাছের ফলকে যা মরুভূমিতে জন্মে।

(عَلَيْكُم بِالْأَسْوَدِ مِنْهُ) ‘‘তোমরা পিলু ফলের মধ্যে যা কালো রং এর তা সংগ্রহ কর।’’

(فإِنَّهٗ أَطْيَبُ) ‘‘কেননা তা খেতে অধিক সুস্বাদু এবং অধিক উপকারী।’’

(فَقِيلَ: أَكُنْتَ تَرْعَى الْغَنَمَ؟) ‘‘তখন তাকে বলা হলো আপনি কি ছাগল চরাতেন’’। যার ফলে আপনি পিলু ফলের ভালো-মন্দ সম্পর্কে অবহিত। কেননা ছাগলের রাখালেরা মরুভূমিতে অধিক যাতায়াতের কারণে তাতে পাওয়া গাছের ফলের গুণাগুণ সম্পর্ক অন্যদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী হয়ে থাকে।

(قَالَ:نَعَمْ وَهَلْ مِنْ نَبِىٍّ إِلاَّ رَعَاهَا؟) ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। আর সকল নবীগণই ছাগল চড়িয়েছেন’’। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার প্রতি লোভীদের মাঝে নুবুওয়াত দান করেননি, বরং ছাগলের রাখাল এবং পেশায় নম্র আচরণকারীদের মাঝেই নুবুওয়াত দেয়ার হিকমাত এই যে, এর ফলে তারা নম্র হৃদয়ের অধিকারী হয়। যাতে তারা দুর্বল লোকেদের সাথে নম্র আচরণকারী হয়।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন্ নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৭-[২৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি উপুড় হয়ে বসে খেজুর খাচ্ছিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে আছে, তিনি তা হতে খুব তাড়াতাড়ি খাচ্ছিলেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أنس قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْعِيًا يَأْكُلُ تَمْرًا وَفِي رِوَايَةٍ: يَأْكُلُ مِنْهُ أكلا ذريعا. رَوَاهُ مُسلم

وعن انس قال: رايت النبي صلى الله عليه وسلم مقعيا ياكل تمرا وفي رواية: ياكل منه اكلا ذريعا. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (رَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْعِيًا يَأْكُلُ تَمْرًا) ‘‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসে খেজুর খেতে দেখেছি। দু’পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসে অথবা পায়ের গোড়ালির উপর নিতম্ব রেখে সালাত আদায় করা মাকরূহ। কিন্তু দু’ পায়ের নলা খাড়া রেখে নিতম্বের উপর বসে খাওয়া মাকরূহ নয়। কেননা এ রকম বসাটা দাসদের বসার সাথে সাদৃশ্য যা নম্রতা প্রকাশ করে। ইবনু সা‘দ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দাসদের মতো খাব এবং দাসদের মতো বসব। শামায়িলে তিরমিযীতে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট খেজুর আনা হলে আমি তাকে ক্ষুধার তাড়নায় দু’ পায়ের নলা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসা অবস্থায় খেতে দেখেছি। অর্থাৎ ক্ষুধায় দুর্বল হয়ে যাওয়ার করণে তিনি নিতম্বের উপর ভর দিয়ে বসে খেয়েছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৮-[৩০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাউকেও নিজ সাথী ভাইদের অনুমতি ব্যতিরেকে দু’ খেজুর একসাথে খেতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقْرِنَ الرَّجُلُ بَيْنَ التَّمْرَتَيْنِ حَتَّى يستأذِنَ أَصْحَابه

وعن ابن عمر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يقرن الرجل بين التمرتين حتى يستاذن اصحابه

ব্যাখ্যাঃ (نَهٰى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَّقْرِنَ الرَّجُلُ بَيْنَ التَّمْرَتَيْنِ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কোন ব্যক্তিকে দুই খেজুর মিলিয়ে খেতে’’ অর্থাৎ খাওয়ার সময় কোন ব্যক্তি যেন একবারে একই সাথে দুই খেজুর মুখে না দেয়।

(حَتّٰى يَسْتَأْذِنَ أَصْحَابَهٗ) ‘‘যতক্ষণ সে তার সঙ্গীদের নিকট থেকে অনুমতি না নেয়।

ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসের এ নিষেধাজ্ঞা ছিল অভাবের কারণে। অতঃপর এ নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়েছে সচ্ছলতা আসার পরে। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنِ الْقِرَانِ فِي التَّمْرِ وَأَنَّ اللهَ وَسَّعَ عَلَيْكُمْ فَاقْرِنُوا

আমি তোমাদেরকে একই সাথে দুই খেজুর খেতে নিষেধ করেছিলাম, অতএব এখন তোমরা ইচ্ছা করলে একই সাথে দুই খেজুর মিলিয়ে খাবে।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দুই খেজুর একত্রে মিলিয়ে খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা নির্দিষ্ট একটি কারণে, আর তা হলো খাদ্যের স্বল্পতা আর এখন যেহেতু সেই অসচ্ছলতা নেই বরং মানুষ এখন সচ্ছল, তাই আর সে নিষেধাজ্ঞা নেই। অতএব অনুমতি ব্যতীতই দুই খেজুর একত্রে খেতে কোন বাধা নেই। তবে ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ খাদ্যে যদি একাধিক ব্যক্তি অংশীদার থাকে তাহলে তাদের অনুমতি ব্যতীত একত্রে মিলিয়ে খাওয়া হারাম। আর যদি খাদ্যে কোন অংশীদার না থাকে তাহলে মিলিয়ে খাওয়া হারাম নয়। অনুরূপ খাবারে স্বল্পতা থাকলে মিলিয়ে খাওয়াটা ভালো নয়, বরং অন্যদের মতই সমান সমান খাবে। আর খাদ্য যদি প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং খাদ্য গ্রহণের পরেও অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনা থাকে তাহলে মিলিয়ে খেতে দোষ নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৪৫)

ইবনুল খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ একই সাথে দুই খেজুর মিলিয়ে খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা খাওয়ার আদব তথা খাওয়ার সৌন্দর্য। তা হারাম নয়, এটা জামহূর ‘উলামার অভিমত। তবে এ দ্বারা যদি অপরের চাইতে বেশী খাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে তবে তা বৈধ নয়। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাঃ ২৪৮৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৮৯-[৩১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ গৃহবাসী অভুক্ত নয়, যার কাছে খেজুর আছে। অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ হে ’আয়িশাহ্! যে ঘরে খেজুর নেই, সে গৃহবাসী অভুক্ত। এ কথাটি তিনি দু’ অথবা তিনবার বলেছেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَجُوعُ أَهْلُ بَيْتٍ عِنْدَهُمُ التَّمْرُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: «يَا عَائِشَةُ بَيْتٌ لَا تَمْرَ فِيهِ جِيَاعٌ أَهْلُهُ» قَالَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن عاىشة رضي الله عنها ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يجوع اهل بيت عندهم التمر» . وفي رواية: قال: «يا عاىشة بيت لا تمر فيه جياع اهله» قالها مرتين او ثلاثا. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (لَا يَجُوعُ أَهْلُ بَيْتٍ عِنْدَهُمُ التَّمْرُ) ‘‘যে বাড়ীতে খেজুর আছে তারা ক্ষুধার্ত থাকে না’’। অন্য বর্ণনায় আছে, (بَيْتٌ لَا تَمْرَ فِيهِ جِيَاعٌ أَهْلُهٗ) ‘‘যে বাড়ীতে খেজুর নেই তারা ক্ষুধার্ত।’’

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এতে খেজুরের ফাযীলাত বর্ণিত হয়েছে। অত্র হাদীস থেকে পরিবারের লোকেদের জন্য খাদ্য জমা করে রাখার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

এ হাদীস দ্বারা মদীনাবাসী উদ্দেশ্য, কেননা খেজুরই তাদের প্রধান খাদ্য। অথবা এর দ্বারা খেজুরের মর্যাদা বুঝানো উদ্দেশ্য। ইবনুল ‘আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কেননা খেজুরই ছিল তাদের প্রধান খাদ্য, অতএব যে বাড়ীতে খেজুর থাকবে না তারা ক্ষুধার্ত থাকবে। প্রত্যেক দেশের বাসিন্দাদের জন্যই এ কথা প্রযোজ্য। যার ঘরে ঐ দেশের প্রধান খাদ্য নেই সে ক্ষুধার্ত। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যে দেশে অধিক পরিমাণে খেজুর পাওয়া যায় তাদেরকে খেজুরের উপর সন্তুষ্ট থাকতে উৎসাহিত করা হয়েছে, অর্থাৎ যে বাড়ীতে খেজুর আছে এবং তারা তাতেই তুষ্ট থাকে তারা ক্ষুধার্ত থাকবে না। তারাই ক্ষুধার্ত থাকবে যাদের বাড়ীতে খেজুর নেই।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৪৬; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ৩৮২৬; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯০-[৩২] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন বিষ ও যাদু-টোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن سعدٍ قَالَ: سمعتُ رسولَ الله يَقُولُ: «مَنْ تَصَبَّحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتٍ عَجْوَةٍ لَمْ يضرَّه ذَلِك الْيَوْم سم وَلَا سحر»

وعن سعد قال: سمعت رسول الله يقول: «من تصبح بسبع تمرات عجوة لم يضره ذلك اليوم سم ولا سحر»

ব্যাখ্যাঃ (مَنْ تَصَبَّحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتٍ عَجْوَةٍ) ‘‘যে ব্যক্তি সকালে ৭টি ‘আজওয়াহ্ খেজুর খেল’’। অর্থাৎ সকালে কিছু খাওয়ার পূর্বে ৭টি ‘আজওয়াহ্ খেজুর খেল।’’ অর্থাৎ সকালে মদীনার এক প্রকারের বড় খেজুর যার রং কিছুটা কালো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবাদ করেছিলেন।

(لَمْ يَضُرَّهٗ ذٰلِكَ الْيَوْمَ سَمٌّ وَلَا سِحْرٌ) ‘‘ঐ দিন তাকে বিষের যাদুতে কোন ক্ষতি করতে পারবে না।’’ মুযহির বলেনঃ সম্ভবত এ খেজুরে এমন কিছু আছে যা বিষ ও যাদুকে প্রতিহিত করতে পারে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ খেজুরের জন্য বারাকাতের দু‘আ করেছেন যার ফলে এ খেজুর দ্বারা রোগমুক্তি অর্জিত হয়।

‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অত্র হাদীসে মদীনার ‘আজওয়াহ্ খেজুরের ফাযীলাত বর্ণিত হয়েছে এবং সকাল বেলায় তার সাতটি ভক্ষণের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। মদীনার ‘আজওয়াহ্ খেজুরের বৈশিষ্ট্য এবং সাত সংখ্যার বৈশিষ্ট্য এমন বিষয় যা শারী‘আত প্রণেতা জানেন আমরা তা জানি না।

অতএব তার প্রতি ঈমান আনা এবং তার মর্যাদার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। এটা এমন এক বিষয় যা সালাতের রাক্‘আত সংখ্যা ও যাকাতের নিসাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার মতো।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৪৭)

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘আজওয়াহ্ খেজুর খেলে বিষ বা যাদু ক্ষতি করতে পারে না, এতে শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আর বারাকাতের কারণে নচেৎ খেজুরের মধ্যে আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নেই।

(‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯১-[৩৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনার উচ্চভূমির ’আজওয়াহ্ খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা (খাওয়া) বিষের প্রতিষেধক। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ فِي عَجْوَةِ الْعَالِيَةِ شِفَاءً وَإِنَّهَا تِرْيَاقٌ أَوَّلَ البكرة» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان في عجوة العالية شفاء وانها ترياق اول البكرة» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ فِىْ عَجْوَةِ الْعَالِيَةِ شِفَاءً) ‘‘মদীনার উঁচু ভূমির ‘আজওয়াহ্ খেজুরে রোগমুক্তি রয়েছে।’’ ইমামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ الْعَالِيَةِ উঁচু ভূমি বলতে মদীনাহ্ হতে নাজদের দিকের (পূর্বদিকে) অঞ্চলকে বুঝায়, তার পশ্চিমপ্রান্ত যা মদীনার দিকে তার দূরত্ব মদীনাহ্ থেকে তিন মাইল আর তার পূর্ব প্রান্ত যা নাজদের দিকে তার দূরত্ব মদীনাহ্ থেকে আট মাইল।

(وَإِنَّهَا تِرْيَاقٌ أَوَّلَ الْبُكْرَةِ) অথবা তিনি বলেছেনঃ এগুলো প্রতি সকালে খেলে (বিষমুক্ত ঔষধ) এর ন্যায় কাজ করে।

ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তা বিষ মুক্তির ক্ষেত্রে উপকারী।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৪৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯২-[৩৪] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ সিদ্দিকা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কখনো কখনো আমাদের ওপর গোটা একটি মাস অতিবাহিত হত, তন্মধ্যে আমরা আগুন জ্বালাতাম না, শুধু খুরমা ও পানি দ্বারাই আমাদের জীবিকা হত। তবে কোন সময়ে কিছু মাংস (হাদিয়া স্বরূপ) এসে পড়লে (তা খেতাম)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ يَأْتِي عَلَيْنَا الشَّهْرُ مَا نُوقِدُ فِيهِ نَارًا إِنَّمَا هُوَ التَّمْرُ وَالْمَاءُ إِلَّا أَنْ يُؤْتَى بِاللُّحَيْمِ

وعنها قالت: كان ياتي علينا الشهر ما نوقد فيه نارا انما هو التمر والماء الا ان يوتى باللحيم

ব্যাখ্যাঃ (مَا نُوقِدُ فِيهِ نَارًا) ‘‘আমরা আগুন জ্বালাতাম না’’ অর্থাৎ একমাস অবধি আমরা রুটি বানাতাম না এবং তা রান্না করতাম না।

(إِنَّمَا هُوَ التَّمْرُ وَالْمَاءُ) ‘‘তা ছিল শুধুমাত্র খেজুর ও পানি।’’ অর্থাৎ আমাদের খাবার খেজুর ও পানি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।

(إِلَّا أَنْ يُؤْتٰى بِاللُّحَيْمِ) ‘‘তবে আমাদেরকে যদি (হাদিয়া স্বরূপ) কিছু গোশত দেয়া হত তাহলে তা রান্না করতাম।’’ অর্থাৎ আমরা রান্না করার জন্য আগুন জ্বালাতাম না বরং আমরা খেজুর খেয়েই দিন যাপন করতাম। আর যখন কোন আনসারীদের পক্ষ থেকে গোশত প্রেরণ করা হত তা রান্না করার জন্য আগুন জ্বালাতাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৪৫৮; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৪৭১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৩-[৩৫] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ সিদ্দিকা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার-পরিজন এক নাগাড়ে দু’দিন আটার রুটি দ্বারা পরিতৃপ্ত হতে পারেননি; বরং দু’ দিনের এক দিন খেজুর (খেয়ে থাকতে হত)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهَا قَالَتْ: مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ يَوْمَيْنِ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ إِلَّا وَأَحَدُهُمَا تمر

وعنها قالت: ما شبع ال محمد يومين من خبز بر الا واحدهما تمر

ব্যাখ্যাঃ (مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ يَوْمَيْنِ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ إِلَّا وَأَحَدُهُمَا تَمْرٌ) ‘‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার তৃপ্তি সহকারে দু’দিন গমের রুটি খাননি তবে তাদের একদিন থাকতো খেজুর’’। অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের লোকজন একদিন গমের রুটি খেলে আরেকদিন খেজুর খেতেন। এতে জানা গেল, তারা একদিন তৃপ্তি সহকারে খেলে আরেকদিন তৃপ্তি সহকারে খেতে পারতেন না। যেমনটি শামায়িলে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে দু’দিন তৃপ্তি সহকারে যবের রুটি খাননি। এটাই ছিল মৃত্যু পর্যন্ত তার অবস্থা।’’ (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৪৫৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৪-[৩৬] উক্ত রাবী [’আয়িশাহ্ সিদ্দিকা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয় যে, আমরা দু’ কালো বস্তু (খেজুর ও পানি)ও পেট পুরে খেতে পাইনি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهَا قَالَتْ: تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا شَبِعْنَا مِنَ الأسودين

وعنها قالت: توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما شبعنا من الاسودين

ব্যাখ্যাঃ (تُوُفِّىَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا شَبِعْنَا مِنَ الْأَسْوَدَيْنِ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু পর্যন্ত আমরা তৃপ্তি সহকারে খেজুর ও পানি খাইনি।’’ অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতে এটাই ছিল তার অবস্থা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় জীবনের জন্য দারিদ্র্যতাকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। তূরিবিশতী বলেনঃ ‘‘আসওয়াদ’’ তথা কালো হলো খেজুরের বর্ণ পানির বর্ণ নয় তথাপি أَسْوَدَيْنِ বলা হয়েছে। আর ‘আরবগণ এমনটি করে থাকেন যেমন তারা والدان বলে পিতা-মাতাকে বুঝায় অথচ পিতাকে বলে والد এবং মাতাকে বলা হয় والدة এখানে পিতাকে মাতার ওপর প্রাধান্য দিয়ে والدان বলা হয়েছে। অনুরূপ সূর্য এবং চন্দ্রকে বলা হয় قمرين। অথচ সূর্যকে বলা হয় شمس আর চন্দ্রকে বলা হয় قمر এখানে قمر সূর্যের উপর প্রাধান্য দিয়ে বলা হয়েছে قمرين। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৫-[৩৭] নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (মুসলিমদের উদ্দেশে) বলেনঃ তোমরা কি সদিচ্ছাই পানাহার করছ না, অথচ আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে, নিম্নমানের খেজুরও এ পরিমাণ তার জুটেনি, যা তাঁর নিজ উদর পূর্ণ করতে পারে। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن النّعمانِ بن بشيرٍ قَالَ: أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ؟ لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهُ. رَوَاهُ مُسلم

وعن النعمان بن بشير قال: الستم في طعام وشراب ما شىتم؟ لقد رايت نبيكم صلى الله عليه وسلم وما يجد من الدقل ما يملا بطنه. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (أَلَسْتُمْ فِىْ طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ؟) ‘‘তোমরা কি তোমাদের ইচ্ছামত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করছে না? এখানে শ্রোতা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর সাহাবীবৃন্দ অথবা তাবি‘ঈনবৃন্দ। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসের অর্থ হচ্ছে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন তোমাদের মধ্যে অসচ্ছলতা নেই বরং তোমরা সচ্ছল এবং তোমাদের মর্জি মত যত ইচ্ছা তত গ্রহণ করছ।

(لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهٗ) ‘‘অবশ্যই আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, তিনি পেটপুরে খাবার মত নিম্নমানের খেজুর পেতেন না।’’ دَقَلٌ শব্দের অর্থ নিম্নমানের খেজুর যা পরিপক্ক হওয়ার আগেই শুকিয়ে গেছে (বাংলা ভাষায় একে চিটা বলা হয়)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৬-[৩৮] আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য যখনই কোন খাদ্যদ্রব্য আনা হত, তখন তা হতে নিজে খেয়ে অবশিষ্টটুকু আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। একদিন আমার কাছে এমন একটি পাত্র পাঠিয়ে দিলেন, যা হতে তিনি কিছুই খাননি। কেননা তাতে রসুন ছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তা কি হারাম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, তবে ওর গন্ধের কারণে আমি ওটা পছন্দ করি না। রাবী (আবূ আইয়ূব) বললেনঃ আপনি যা অপছন্দ করেন আমিও তা অপছন্দ করি। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أَيُّوب قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُتِيَ بِطَعَامٍ أَكَلَ مِنْهُ وَبَعَثَ بِفَضْلِهِ إِلَيَّ وَإِنَّهُ بَعَثَ إِلَيَّ يَوْمًا بِقَصْعَةٍ لمْ يأكُلْ مِنْهَا لأنَّ فِيهَا ثُومًا فَسَأَلْتُهُ: أَحْرَامٌ هُوَ؟ قَالَ: «لَا وَلَكِنْ أَكْرَهُهُ مِنْ أَجْلِ رِيحِهِ» . قَالَ: فَإِنِّي أَكْرَهُ مَا كرهْت. رَوَاهُ مُسلم

وعن ايوب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اتي بطعام اكل منه وبعث بفضله الي وانه بعث الي يوما بقصعة لم ياكل منها لان فيها ثوما فسالته: احرام هو؟ قال: «لا ولكن اكرهه من اجل ريحه» . قال: فاني اكره ما كرهت. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (وَإِنَّهٗ بَعَثَ إِلَىَّ يَوْمًا بِقَصْعَةٍ لَمْ يَأكُلْ مِنْهَا لِأَنَّ فِيهَا ثُومًا) ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন আমার নিকট (খাবারের) পাত্র পাঠালেন, তিনি তা থেকে কিছুই খাননি, কেননা তাতে রসুন ছিল।’’

(فَسَأَلْتُهٗ: أَحْرَامٌ هُوَ؟) ‘‘আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কি হারাম?’’ অর্থাৎ রসুন অথবা উক্ত খাবার কি হারাম? ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ প্রশ্ন করা হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে। কেননা তিনিই তা আবূ আইয়ূব (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন যাতে তিনি তা ভক্ষণ করেন। অতএব তা তার জন্য হারাম নয় এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওয়াবে বললেনঃ না, অর্থাৎ তা হারাম নয়।

(وَلٰكِنْ أَكْرَهُهٗ مِنْ أَجْلِ رِيحِه) ‘‘তবে তার দুর্গন্ধের কারণে আমি তা অপছন্দ করি।’’

‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ হাদীসে সুস্পষ্টভাবে জানা যায় যে, রসুন খাওয়া বৈধ। তবে যিনি জামা‘আতে উপস্থিত হতে ইচ্ছুক তার জন্য তা ভক্ষণ করা মাকরূহ। অনুরূপভাবে যে বস্তুর দুর্গন্ধ আছে তাহও রসুনের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদাই তা পরিত্যাগ করতেন, কেননা তার কাছে যে কোন সময় ওয়াহী নাযিলের সম্ভাবনা থাকত।

অত্র হাদীসের শিক্ষা : ১. দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে জনসম্মুখে যাওয়া মাকরূহ। ২. অতিরিক্ত খাবার গরীব প্রতিবেশীর জন্য প্রেরণ করা মুস্তাহাব।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৫৩, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮০৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৭-[৩৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন কিংবা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট হতে সরে থাকে। অথবা বলেছেনঃ সে যেন আমাদের মসজিদ হতে দূরে থাকে অথবা নিজ বাড়ি-ঘরে বসে থাকে। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে (রান্না করা) একটি তরকারীর পাতিল আনা হলো। তিনি তাতে এক ধরনের গন্ধ অনুভব করলেন, তখন তা (হতে নিজে না খেয়ে উপস্থিত) একজন সাহাবীর সম্মুখে এগিয়ে দিতে বললেন এবং সে সাহাবীকে বললেনঃ তুমি খেতে পার। কারণ আমি যার সাথে গোপনে কথা বলি, তুমি তার সাথে কথা বলো না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلًا فَلْيَعْتَزِلْنَا» أَوْ قَالَ: «فَلْيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا أَوْ لِيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ» . وَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِقِدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ مِنْ بُقُولٍ فَوَجَدَ لَهَا رِيحًا فَقَالَ: «قَرِّبُوهَا» إِلَى بَعْضِ أَصْحَابِهِ وَقَالَ: «كُلْ فَإِنِّي أُنَاجِي مَنْ لَا تُناجي»

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من اكل ثوما او بصلا فليعتزلنا» او قال: «فليعتزل مسجدنا او ليقعد في بيته» . وان النبي صلى الله عليه وسلم اتي بقدر فيه خضرات من بقول فوجد لها ريحا فقال: «قربوها» الى بعض اصحابه وقال: «كل فاني اناجي من لا تناجي»

ব্যাখ্যাঃ (فَلْيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا) ‘‘সে যেন আমাদের মসজিদ হতে দূরে থাকে।’’ কেননা মসজিদ হলো মুসলিমদের সমবেত হওয়ার জায়গা। আর তা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) অবতরণের জায়গাও বটে। কিছু ‘আলিমদের মতে এই নিষেধাজ্ঞা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের জন্য খাস। জামহূর ‘উলামার মতে, এ নিষেধাজ্ঞা সকল মসজিদের জন্যই প্রযোজ্য। কেননা একটি বর্ণনার শব্দ এ রকম فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسَاجِدَ ‘‘সে যেন আমাদের মসজিদসমূহের নিকটবর্তী না হয়।’’ অতএব এ নিষেধাজ্ঞা সকল মসজিদের জন্য।

(كُلْ فَإِنِّىْ أُنَاجِىْ مَنْ لَا تُنَاجِىْ) ‘‘তুমি খাও, কেননা আমি এমন ব্যক্তির সাথে কথা বলি যার মাঝে তুমি কথা বল না।’’ অর্থাৎ মালাক (ফেরেশতা) অথবা জিবরীল (আ.)-কে উদ্দেশ্য করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৮)

ইবনু দাক্বীক আল ‘ঈদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পেঁয়াজ ও রসুন খেয়ে মসজিদে আসার নিষেধের কারণ হলো, দুর্গন্ধের কারণে মানুষ অথবা মালায়িকাহ্ কষ্ট পায়। আর তা সকল মসজিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অতএব এ নিষেধাজ্ঞা সকল মসজিদের জন্যই। জেনে রাখা ভালো যে, এ নিষেধাজ্ঞা মসজিদে আসার জন্য, এ নিষেধ পেঁয়াজ বা রসুন খাওয়া নিষেধ নয়। সর্বসম্পত্তিক্রমে তা খাওয়া বৈধ। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম, খন্ড হাঃ ১৮০৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৮-[৪০] মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের খাদ্য-দ্রব্যকে মেপে নাও, তাতে তোমাদের জন্য বারাকাত দেয়া হবে। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن المِقدامِ بن معدي كرب عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كيلوا طَعَامك يُبَارك لكم فِيهِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن المقدام بن معدي كرب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كيلوا طعامك يبارك لكم فيه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (كِيْلُوْا طَعَامَكُّمْ يُبَارَكُ لَكُمْ) ‘‘তোমরা তোমাদের খাদ্য পরিমাপ কর, তাহলে তোমাদের বারাকাত প্রদান করা হবে।’’

মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ খাদ্য পরিমাপ করার উদ্দেশ্য হলো লোকে যা ধার করে অথবা কেনা-বেচা করে তার পরিমাপ জ্ঞাত হওয়া। যদি ওজন না করা হয় তাহলে ক্রয়-বিক্রয়ের বস্তুর পরিমাণ অজ্ঞাত থেকে যায়, আর তা অবৈধ। অনুরূপভাবে যা তার পরিবারের জন্য ব্যয় কররে তা যদি ওজন না করা হয় তাহলে তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় কমও হতে পারে। এই কম হওয়াটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আবার তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশীও হতে পারে। আর সে সারা বৎসরের জন্য কি পরিমাণ জমা রাখল তা তার অজানা থেকে যাবে। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য-দ্রব্য ওজন করতে বলেছেন যাতে সে নিশ্চিত হতে পারে। অতএব যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুসরণ করবে সে দুনিয়াতে বারাকাত হাসিল করতে পারবে এবং পরকালেও মহাপুরস্কারে ভূষিত হবে।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এ বক্তব্য فَكِلْتُه فَذَهَبَتْ بَرَكَتُه আমি তা ওজন করায় তার বারাকাত চলে গেল। এর জওয়াব এই যে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কেনা-বেচার সময় ওজন করার আদেশ করা হয়েছে। আর ব্যয় করার সময় তা গণনা করা এবং পরিমাপ নিষেধ করা হয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে বিলাল! ব্যয় কর, মহান ‘আরশের মালিকের নিকট থেকে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করো না। ইবনু বাত্ত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মানুষ তার পরিবারের জন্য যা ব্যয় করে তা ওজন করা মুস্তাহাব। এ হাদীসের অর্থ হলো তোমরা যে পরিমাণ সময় নির্ধারণ করেছ সে সময় পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্যে খাদ্য ওজন করে গচ্ছিত রাখ। ইবনুল জাওযী বলেনঃ বারাকাত লাভের কারণ এও হতে পারে যে, ওজন করার প্রারম্ভে ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ২১২৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মিকদাম (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪১৯৯-[৪১] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখ হতে যখন দস্তরখান উঠানো হত, তখন তিনি এ দু’আ করতেন, ’’আলহামদুলিল্লা-হি হামদান কাসীরন ত্বইয়িবাম্ মুবা-রাকান ফীহি গয়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা-মুওয়াদ্দা’ইন মুসতাগনান ’আনহু রব্বুনা-’’ (পাক-পবিত্র, বারাকাতময়, অনেক অনেক প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে পরওয়ারদিগার! তোমার নি’আমাত হতে মুখ ফিরানো যায় না, আর তার অন্বেষণ ত্যাগ করা যায় না এবং তার প্রয়োজন হতে মুক্ত থাকা যায় না।)। (বুখারী)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَفَعَ مَائِدَتَهُ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِيٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبُّنَا» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن ابي امامة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا رفع ماىدته قال: «الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه غير مكفي ولا مودع ولا مستغنى عنه ربنا» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا مُوَدَّعٍ) তা পরিত্যক্ত নয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ নিকট যা আছে তার অন্বেষণ ও তার প্রতি আগ্রহ পরিত্যাগ করার মতো নয়।

(وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ) ‘‘তার অমুখাপেক্ষী নয়’’ অর্থাৎ আল্লাহর নিকট যে নি‘আমাত তার থেকে কেউই অমুখাপেক্ষী নয়। বরং সবাই তার মুখাপেক্ষী। অথবা এর অর্থ এই যে, আল্লাহর প্রশংসা করা ওয়াজিব হওয়ার কারণে তা থেকে কেউই অমুখাপেক্ষী নয়। কেননা আল্লাহর নি‘আমাত থেকে কেউই খালি বরং সকলের ওপর আল্লাহর নি‘আমাত অগণিত যা গুণে শেষ করা যায় না। অতএব সকলকে তার প্রশংসা করতেই হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৪৫; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৮ম খন্ড, হাঃ ৩৪৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪২০০-[৪২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা তাঁর সে বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, যে এক গ্রাস খাদ্য খেয়ে তার প্রশংসা করে অথবা এক ঢোক পানি পান করে তার শুকরানা আদায় করে। (মুসলিম)[1]

গ্রন্থকার বলেন, مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ এবং خَرَجَ النَّبِىُّ ﷺ مِنَ الدُّنْيَا. ’আয়িশাহ্ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসদ্বয় ইনশা-আল্লাহ ’’ফকিরদের মর্যাদা অধ্যায়ে’’ বর্ণনা করব।

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيَرْضَى عنِ العبدِ أنْ يأكلَ الأكلَةَ فيحمدُه عَلَيْهِ أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وسنذكرُ حَدِيثي عائشةَ وَأبي هريرةَ: مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ وَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الدُّنْيَا فِي «بَابِ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ» إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله تعالى ليرضى عن العبد ان ياكل الاكلة فيحمده عليه او يشرب الشربة فيحمده عليها» . رواه مسلم وسنذكر حديثي عاىشة وابي هريرة: ما شبع ال محمد وخرج النبي صلى الله عليه وسلم من الدنيا في «باب فضل الفقراء» ان شاء الله تعالى

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّ اللهَ تَعَالٰى لَيَرْضٰى عَنِ الْعَبْدِ أنْ يَّأكُلَ الْأُكلَةَ فَيَحْمَدَهٗ عَلَيْهِ) ‘‘আল্লাহ তা‘আলা বান্দার প্রতি এতই সন্তুষ্ট হন যে, সে একবার আহার করে অথবা এক গ্রাস খাবার খেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে।’’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যে বান্দাকে আহারের ব্যবস্থা করেছেন অথবা তাকে একগ্রাস খাবার সুযোগ দিয়েছেন এজন্য ঐ বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে এতে তিনি এ বান্দার প্রতি রাজী খুশী থাকেন।

(أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهٗ عَلَيْهَا) ‘‘অথবা একবার পান করে, অতঃপর এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এতেও আল্লাহ তার প্রতি খুশী হন।’’

অত্র হাদীসের শিক্ষা : খাবার খেয়ে অথবা কিছু পান করে আল্লাহর প্রশংসা করা মুস্তাহাব।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৭শ খন্ড, হাঃ ২৭৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০১-[৪৩] আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম, এমন সময় খাবার আনা হলো। আমি অদ্যাবধি ওর চেয়ে বেশি বারাকাতময় খাবার কখনো দেখিনি, প্রথমভাগে যা আমরা খেয়েছিলাম। আর না অতি অল্প বারাকাত যা তার শেষ ভাগে ছিল। আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! এমনটি হলো কেন? তিনি বললেনঃ আমরা যখন খাচ্ছিলাম, তখন আল্লাহর নাম নিয়ে আরম্ভ করেছিলাম। অতঃপর এক লোক (আমাদের সাথে) খেতে বসেছে, সে আল্লাহর নাম নেয়নি, ফলে তার সাথে শয়তানও খাবার খেয়েছে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

عَن أبي أَيُّوب قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُرِّبَ طَعَامٌ فَلَمْ أَرَ طَعَامًا كَانَ أَعْظَمَ بَرَكَةً مِنْهُ أَوَّلَ مَا أَكَلْنَا وَلَا أَقَلَّ بَرَكَةً فِي آخِرِهِ قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ هَذَا؟ قَالَ: «إِنَّا ذَكَرْنَا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ حِينَ أَكَلْنَا ثُمَّ قَعَدَ مَنْ أَكَلَ وَلَمْ يُسَمِّ اللَّهَ فَأَكَلَ مَعَهُ الشَّيْطَانُ» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

عن ابي ايوب قال: كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم فقرب طعام فلم ار طعاما كان اعظم بركة منه اول ما اكلنا ولا اقل بركة في اخره قلنا: يا رسول الله كيف هذا؟ قال: «انا ذكرنا اسم الله عليه حين اكلنا ثم قعد من اكل ولم يسم الله فاكل معه الشيطان» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ (فَلَمْ أَرَ طَعَامًا كَانَ أَعْظَمَ بَرَكَةً مِنْهُ أَوَّلَ مَا أَكَلْنَا) ‘‘আহারের প্রথম পর্যায়ের বারাকাতের মতো এত বারাকাত আর কোন খাবারে দেখিনি।’’ অর্থাৎ আমরা যখন আহার করা শুরু করলাম তখন ঐ খাবারে প্রচুর বারাকাত অর্জিত হচ্ছিল। এত বারাকাত ইতিপূর্বে আমি কখনো দেখিনি।

(وَلَا أَقَلَّ بَرَكَةً فِىْ آخِرِه) ‘‘এবং খাবারের শেষের দিকে এত কম বারাকাতও কখনো দেখিনি’’। অর্থাৎ আমরা যখন ঐ আহার গ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছালাম তখন খাবারের বারাকাত এত কমে গেল যে, এত কম বারাকাতও আমি কখনো দেখিনি।

(إِنَّا ذَكَرْنَا اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ حِينَ أَكَلْنَا) ‘‘আমরা যখন খাবার খাচ্ছিলাম তখন আমরা সবাই ‘বিসমিল্লা-হ’ বলেছিলাম’’। অর্থাৎ খাবার শুরুতে আমরা সবাই ‘বিসমিল্লা-হ’ বলার কারণে খাদ্যে বারাকাত নাযিল হচ্ছিল। অত্র হাদীস থেকে এটা জানা যায় যে, খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ বললে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। তবে সেই সাথে ‘রহমা-নির রহীম’ যুক্ত করা উত্তম। জুনুবী, ঋতুবতী এবং নিফাসগ্রস্ত মহিলার ক্ষেত্রেও খাবার গ্রহণের শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলা মুস্তাহাব যদি এর দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত উদ্দেশ্য না করেন। তবে কুরআন তিলাওয়াতের নিয়্যাতে ‘‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’’ পাঠ করা উপযুক্ত লোকেদের জন্য হারাম।

(ثُمَّ قَعَدَ مَنْ أَكَلَ وَلَمْ يُسَمِّ اللهَ فَأَكَلَ مَعَهُ الشَّيْطَانُ) ‘‘অতঃপর এমন এক ব্যক্তি খেতে বসলো যে, ‘বিসমিল্লা-হ’ বলেনি ফলে তার সাথে শয়তান খেতে থাকলো। অতএব দ্রুত খাদ্যের বারাকাত শেষ হয়ে গেল।’’

‘বিসমিল্লা-হ’ বলে আহার শুরু করা হলেও পরবর্তীতে কোন ব্যক্তি ঐ খাবারে অংশীদার হলে প্রথমে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলা ঐ পরবর্তী লোকের জন্য যথেষ্ট নয় বরং পরবর্তীতে আসা লোককে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলে খাবার শুরু করতে হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০২-[৪৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় এবং আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, (স্মরণ হওয়ার পর) সে যেন বলে, ’’বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’’ (অর্থাৎ- খাবারের প্রথমে এবং শেষে আল্লাহর নামে)। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَنَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اللَّهَ عَلَى طَعَامِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ أوَّلَه وآخرَه . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا اكل احدكم فنسي ان يذكر الله على طعامه فليقل: بسم الله اوله واخره . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ (فَنَسِىَ أَنْ يَذْكُرَ اللهَ عَلٰى طَعَامِه) ‘‘সে যদি খাবার খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যায়’’। এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, খাওয়ার সময় যে কোন ভাবে আল্লাহকে স্মরণ করাই যথেষ্ট। যেমন ‘আলহাম্দুলিল্লা-হ’ অথবা ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ অথবা ‘‘আশহাদু আল্লা- লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ বলে তাহলে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে যদিও ‘বিসমিল্লা-হ’ বলাই উত্তম।

(فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللهِ أوَّلَهٗ وَآخرَهٗ) তাহলে সে যেন বলে ‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’’ অর্থাৎ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নামে। আর খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ বলতে ভুলে গেলে খাবার মাঝে যখনই স্মরণ হবে তখনই ‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’’ বলবে। তাহলে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৫৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৩-[৪৫] উমাইয়াহ্ ইবনু মাখশী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি বিসমিল্লা-হ না পড়েই খাওয়া শুরু করল, অবশেষে মাত্র একটি গ্রাস অবশিষ্ট রইল, যখন সে তা মুখের কাছে তুলে বলে উঠল, ’’বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহূ ওয়া আ-খিরাহূ’’ (অর্থাৎ- খাবারের প্রথমে এবং শেষে আল্লাহর নামে)। তার অবস্থা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন, অতঃপর বললেনঃ এতক্ষণ পর্যন্ত শয়তান ঐ লোকটির সঙ্গে খাচ্ছিল। আর যখনই সে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করল, তখনই শয়তান তার পেটের মধ্যে যা কিছু ছিল বমি করে দিলো। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أُميَّةَ بن مَخْشِيٍّ قَالَ: كَانَ رَجُلٌ يَأْكُلُ فَلَمْ يُسَمِّ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْ طَعَامِهِ إِلَّا لُقْمَةٌ فَلَمَّا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ فَضَحِكَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «مَا زَالَ الشَّيْطَانُ يَأْكُلُ مَعَهُ فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ اسْتَقَاءَ مَا فِي بَطْنه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن امية بن مخشي قال: كان رجل ياكل فلم يسم حتى لم يبق من طعامه الا لقمة فلما رفعها الى فيه قال: بسم الله اوله واخره فضحك النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: «ما زال الشيطان ياكل معه فلما ذكر اسم الله استقاء ما في بطنه» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ اللهِ اسْتَقَاءَ مَا فِىْ بَطْنِه) ‘‘যখনই ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলা হলো তখনই শয়তান তার পেটে যা ছিল বমি করে বের করে দিল। এখানে বমি করার বিষয়টি প্রকৃত বমি নাও হতে পারে অথবা এ অর্থও হতে পারে যে, ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ না বলার ফলে যে বারাকাত চলে গিয়েছিল ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলাতে ঐ বারাকাত খাদ্যের মধ্যে ফিরে এলো। তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শয়তানের জন্য বা বৈধ হয়েছিল ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ না বলার কারণে ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলার ফলে তা তার বিপদ হয়ে দাঁড়ালো।

হাদীসের শিক্ষা : অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, খাবার সময় ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলা ওয়াজিব।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৪-[৪৬] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খানাপিনা হতে অবসর হতেন, তখন এ দু’আ পড়তেন- ’’আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব্’আমানা- ওয়াসাকা-না- ওয়াজা’আলানা- মুসলিমীন’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলিমদের অন্তরভুক্ত করেছেন)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ مِنْ طَعَامِهِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْن مَاجَه

وعن ابي سعيد الخدري قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا فرغ من طعامه قال: «الحمد لله الذي اطعمنا وسقانا وجعلنا مسلمين» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (إِذَا فَرَغَ مِنْ طَعَامِه) ‘‘যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবার যাওয়া শেষ করতেন।’’ অর্থাৎ যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সামনে উপস্থাপিত খাবার খেয়ে অবসর হতেন, তা তাঁর নিজ বাড়ীতে স্বীয় পরিবার-পরিজনের সাথেই হোক অথবা তার মেহমানদের সাথে অথবা তাঁর কোন সাহাবীর বাড়ীতেই হোক। এর প্রমাণ হলো তিনি তাঁর দু‘আর মধ্যে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন।

(جَعَلَنَا مُسْلِمِينَ) ‘‘আমাদেরকে মুসলিম বানিয়েছেন।’’ আমাদেরকে একত্ববাদী এবং ধর্মীয় সকল বিষয়ে তাঁর আনুগত্যকারী বানিয়েছেন।

হাদীসের শিক্ষা : যখন নতুন কোন নি‘আমাত অর্জিত হয় তখন ঐ নি‘আমাতের মোকাবিলায় তাঁর প্রশংসা করা মুস্তাহাব।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৮ম খন্ড, হাঃ ৩৪৮৭; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৪৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৫-[৪৭] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারী সংযমী সায়িমের (রোযাদারের) ন্যায় (সাওয়াবের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়)। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ كَالصَّائِمِ الصابر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطاعم الشاكر كالصاىم الصابر» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (الطَّاعِمُ) ‘‘আহারকারী’’ অর্থাৎ পানাহারকারী। (الشَّاكِرُ) ‘‘কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী’’ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিম্নপর্যায় হলো খাবার শুরুতে ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ বলা এবং খাবার শেষ হলে ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ বলা।

(كَالصَّائِمِ الصَّابِرِ) ‘‘ধৈর্য ধারণকারী সায়িমের’’ সিয়ামের ধৈর্যের নিম্নপর্যায় হলো রোযা ভঙ্গকারী সকল কর্ম হতে বিরত থাকা। এতে এ কথার ইঙ্গিত রয়েছে যে, ধৈর্যধারণকারী দরিদ্র ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ধনী ব্যক্তির চাইতে উত্তম। কেননা যাকে তুলনা করা হয় তার চেয়ে যার সাথে তুলনা করা হয় তার মর্যাদা বেশী। অত্র হাদীসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীকে ধৈর্যধারণকারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অতএব ধৈর্যধারণকারীর মর্যাদা বেশী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৬-[৪৮] আর ইবনু মাজাহ ও দারিমী হাদীসটি সিনান ইবনু সান্নাহ্-এর মাধ্যমে তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَابْن مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَنَّةَ عَنْ أَبِيه

وابن ماجه والدارمي عن سنان بن سنة عن ابيه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৭-[৪৯] আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছু খেতেন বা পান করতেন, তখন এ দু’আ পড়তেন, ’’আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আত্ব’আমা ওয়াসাকা- ওয়াসাও্ ওয়াগাহূ ওয়াজা’আলা লাহূ মাখরাজা-’’ (সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য যিনি খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন, অতি সহজে তা উদরস্থ করিয়েছেন এবং [মলদ্বার দিয়ে অপ্রয়োজনীয় অংশ] বের হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।)। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أبي أيوبٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَ وَسَقَى وَسَوَّغَهُ وَجَعَلَ لَهُ مخرجا» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي ايوب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اكل او شرب قال: «الحمد لله الذي اطعم وسقى وسوغه وجعل له مخرجا» رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (سَوَّغَهٗ) ‘‘তা স্যুপেয় করেছেন’’ অর্থাৎ খাদ্য ও পানিয়কে সহজেই কণ্ঠনালীতে প্রবেশ করিয়েছেন।

(وَجَعَلَ لَهٗ مَخْرَجًا) ‘‘এবং তা নির্গমনের রাস্তা বানিয়েছেন।’’ অর্থাৎ প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা তৈরি করেছেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা খাদ্যকে তার থলিতে অবস্থান করার জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছেন। যাতে তার উপকারী অংশ ও ক্ষতিকর অংশ পৃথক হতে পারে। অতঃপর উপকারী অংশ রক্ত গোশত ও চর্বি আকারে থেকে যায় আর ক্ষতিকর অংশ মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটা বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর বড় অনুগ্রহ। এজন্যই বান্দার অন্তর দিয়ে তার কৃতজ্ঞতা করা মুখে তা প্রকাশ করা এবং অঙ্গ দ্বারা আল্লাহর আদেশ নিষেধ অনুযায়ী কাজ করা অপরিহার্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৪৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৮-[৫০] সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পড়েছি, খাওয়ার পরে উযূ করলে খাদ্যের মধ্যে বারাকাত হাসিল হয়। এ কথাটি আমি (কোন এক সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খাবারের বারাকাত খাওয়ার পূর্বে উযূ করা এবং তার পরে উযূ করা। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن سلمانَ قَالَ: قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَنَّ بَرَكَةَ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ بَعْدَهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بعدَه» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن سلمان قال: قرات في التوراة ان بركة الطعام الوضوء بعده فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بركة الطعام الوضوء قبله والوضوء بعده» . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ (بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهٗ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهٗ) ‘‘খাওয়ার পূর্বে উযূ করা ও তার পরে উযূ করাতে বারাকাত রয়েছে’’। খাওয়ার পূর্বে উযূ করা দ্বারা দুই হাত ধৌত করা উদ্দেশ্য। অনুরূপভাবে খাওয়ার পরে দুই হাত এবং মুখ ধৌত করা যাতে হাত ও মুখ থেকে চর্বি দূর হয়ে যায়। সালমান (রাঃ)-এর প্রশ্নের জওয়াবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মধ্যে এটা ইঙ্গিত হতে পারে যে, তাওরাতেও খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধৌত করার কথা ছিল কিন্তু ইয়াহূদীগণ তা পরিবর্তন করে শুধু পরের কথা বলেছে পূর্বের কথা বলেনি অথবা এটাও হতে পারে যে, খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারী‘আতের বিধান যা পূর্ববর্তী শারী‘আতের বিধান নয়। খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করার হিকমাত এই যে, কর্মে নিযুক্ত থাকার ফলে হাত ময়লাযুক্ত হয়ে যায়, ধৌত করার ফলে ঐ ময়লা দূর হয়ে হাত পবিত্র ও পরিষ্কার হয়। তাই আগে হাত ধুয়ে নিবে। অতঃপর যে খাদ্য গ্রহণ করবে তাতে তৃপ্তিও লাগবে এবং তা সহজেই পরিপাক হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৪৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ সালমান ফারসী (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২০৯-[৫১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগার হতে বাইরে এলেন, এমন সময় তাঁর সামনে খাবার আনা হলো। তখন লোকেরা বলে উঠল, আমরা কি আপনার জন্য উযূর পানি আনব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ শুধুমাত্র সালাতের প্রস্তুতি নেবার জন্য আমাকে উযূ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ فَقُدِّمَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَقَالُوا: أَلَا نَأْتِيكَ بِوَضُوءٍ؟ قَالَ: «إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج من الخلاء فقدم اليه طعام فقالوا: الا ناتيك بوضوء؟ قال: «انما امرت بالوضوء اذا قمت الى الصلاة» . رواه الترمذي وابو داود والنساىي

ব্যাখ্যাঃ (إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ) ‘‘আমি তো শুধুমাত্র সালাতে প্রস্তুতি নেবার জন্য উযূ করতে আদিষ্ট হয়েছি’’। অর্থাৎ উযূ ভঙ্গ হয়ে গেলে সালাতে দাঁড়ানোর আগে উযূ করা ওয়াজিব, অন্য সময় নয়। সম্ভবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরেছিলেন যে, প্রশ্নকারী মনে করতেন যে, খাওয়ার আগেও উযূ করা ওয়াজিব, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওয়াব দিলেন সালাতের পূর্বেই উযূ করা ওয়াজিব খাওয়ার পূর্বে নয়। এ কথা দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, শুধুমাত্র সালাতের ক্ষেত্রেই উযূ করা ওয়াজিব, অন্য সময় নয়। কেননা কা‘বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করার পূর্বে সর্বসম্মতভাবে উযূ করা ওয়াজিব। (মুসহাফ স্পর্শ করা এবং তিলাওয়াতের সাজদার সময় উযূ করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকলেও ত্বওয়াফের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য নেই- অনুবাদক) হাফিয ইবনুল কইয়ূম বলেনঃ খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে দু’টি মত রয়েছে।

১. হাত ধৌত করা মুস্তাহাব ২. তা মুস্তাহাব নয়। সঠিক কথা হলো তা মুস্তাহাব নয়। এক্ষেত্রে তিনি ইমাম নাসায়ীর বরাতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদীস উল্লেখ করেছেন তাতে আছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানার কাজ শেষে বেরিয়ে আসলেন, অতঃপর খাবার খেলেন পানি স্পর্শ না করেই’’ এ হাদীসের সানাদ সহীহ। পক্ষান্তরে খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধৌত করার হাদীস দুর্বল। এজন্য সুফ্ইয়ান (রহিমাহুল্লাহ) খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা অপছন্দ করতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ৩৭৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১০-[৫২] আর ইবনু মাজাহ হাদীসটি আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن أبي هُرَيْرَة

ورواه ابن ماجه عن ابي هريرة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১১-[৫৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে এক পাত্র সারীদ আনা হলো। তখন তিনি লোকেদেরকে বললেনঃ তোমরা এর পাশ থেকে খাও, মাঝখান থেকে খেয়ো না। কেননা খাদ্যের বারাকাত মাঝখানে অবতীর্ণ হয়। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। আর আবূ দাঊদ-এর বর্ণনাতে আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, সে যেন পাত্রের উপরিভাগ হতে না খায়; বরং তার নিম্নভাগ হতে খায়। কেননা বারাকাত উপরিভাগে (মাঝখানেই) অবতীর্ণ হয়।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ أُتِيَ بِقَصْعَةٍ مِنْ ثَرِيدٍ فَقَالَ: «كُلُوا مِنْ جَوَانِبِهَا وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهَا فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِي وَسَطِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حسن صَحِيح

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم: انه اتي بقصعة من ثريد فقال: «كلوا من جوانبها ولا تاكلوا من وسطها فان البركة تنزل في وسطها» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যাঃ (كُلُوا مِنْ جَوَانِبِهَا) ‘‘তোমরা তার পার্শ্ব থেকে খাও’’। অর্থাৎ প্রত্যেকেই যেন তার নিজের পার্শ্ব থেকে খায়। (وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهَا) ‘‘তোমরা তার মাঝখান থেকে খাবে না।’’ (فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِىْ وَسَطِهَا) ‘‘কেননা মাঝখানে বারাকাত অবতীর্ণ হয়। মাঝখানটা বারাকাত অবতীর্ণ হওয়ার উপযুক্ত স্থান, কেননা মাঝখানে বারাকাত অবতীর্ণ হলে চতুস্পার্শ্বের লোকেরাই তা দ্বারা উপকৃত হতে পারবে। এর হিকমাত এও হাতে পারে যে, মাঝখানের অংশে সবাই সমান অংশীদার। অতঃপর তাতে কেউ যদি লোভের বশবর্তী হয়ে আক্রমণ চালায় তাহলে ঐ বারাকাত বন্ধ হয়ে যায়। কেননা লোভ অশুভ। আর লোভী ব্যক্তি বঞ্চিত হয়ে থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অত্র হাদীসের শিক্ষা : পাত্রের মাঝখান থেকে না খেয়ে তার কিনারা থেকে খাওয়া বিধিসম্মত।

শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যরা বলেনঃ পাত্রের মাঝখান থেকে খাওয়া মাকরূহ।

ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ রুটি খেলেও তার মাঝখান থেকে খাবে না বরং তা কিনারা থেকে খাবে। কেননা খাদ্যের মাঝখানে বারাকাত নাযিল হয়ে থাকে যেমনটি হাদীসে বলা হয়েছে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮০৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১২-[৫৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো হেলান দিয়ে খাবার খেতে দেখা যায়নি। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’জন লোককেও পিছনে রেখে চলেননি। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: مَا رُئِيَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ مُتَّكِئًا قَطُّ وَلَا يَطَأُ عقبه رجلَانِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الله بن عمرو قال: ما رىي رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل متكىا قط ولا يطا عقبه رجلان. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (مَا رُئِىَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ مُتَّكِئًا قَطُّ) ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনোই হেলান দিয়ে খেতে দেখা যায়নি’’। অর্থাৎ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারজানু হয়ে বসে অথবা একদিকে হেলে পরে খাবার খাননি।

(وَلَا يَطَأُ عَقِبَهٗ رَجُلَانِ) ‘‘তাঁর পিছনে দু’জন মানুষ তাকে অনুসরণ করেননি।’’ অর্থাৎ তিনি লোকজনের সামনে তথা অগ্রে চলেননি। বরং তিনি লোকজনের মাঝখানে অথবা পিছনে চলতেন। এটা ছিল তাঁর নম্রতার বহিঃপ্রকাশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৩-[৫৫] ’আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জায্ই (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু রুটি ও মাংস আনা হলো, এ সময় তিনি মসজিদে ছিলেন। তিনি তা খেলেন এবং তাঁর সাথে আমরাও খেলাম। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। আর আমরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। অথচ আমরা আমাদের হাতগুলো কঙ্করে মুছে নেয়া ছাড়া অধিক কিছু করিনি। (ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَأَكَلَ وَأَكَلْنَا مَعَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَلَمْ نَزِدْ عَلَى أَنْ مَسَحْنَا أَيْدِيَنَا بِالْحَصْبَاءِ. رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن عبد الله بن الحارث بن جزء قال: اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم بخبز ولحم وهو في المسجد فاكل واكلنا معه ثم قام فصلى وصلينا معه ولم نزد على ان مسحنا ايدينا بالحصباء. رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (وَلَمْ نَزِدْ عَلٰى أَنْ مَسَحْنَا أَيْدِيَنَا بِالْحَصْبَاءِ) ‘‘আমরা আমাদের হাতগুলো ছোট ছোট পাথর দ্বারা মাসেহ করা ব্যতীত আর কিছু করিনি। অর্থাৎ আমরা শেষে হাত ধৌত না করে শুধুমাত্র পাথরে তা মুছে সালাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছি। অতিরিক্ত পরিষ্কার করিনি দ্রুত সালাতে দাঁড়ানোর জন্য। অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, হাত ধৌত না করাও বৈধ। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটাও বুঝিয়েছেন যে, হাত ধোয়ার জন্য বেশী কষ্ট করার দরকার নেই। হাতের ময়লা পরিষ্কার হওয়াই যথেষ্ট। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৪-[৫৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিছু মাংস আনা হলো এবং তাঁর সম্মুখে পাঁজরের অংশটিই রাখা হলো। তিনি তা খেতে খুব বেশি পছন্দ করতেন। তাই তিনি তা হতে দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে খেলেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَحْمٍ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَسَ مِنْهَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة قال: اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم بلحم فرفع اليه الذراع وكانت تعجبه فنهس منها. رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ وَكَانَتْ تُعْجِبُهٗ) ‘‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোশতের রান দেয়া হলো কেননা তিনি তা ভালোবাসতেন’’। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রান ভালোবাসার কারণ হলো তা দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং তা অধিক সুস্বাদু এবং ময়লা থেকে এর অবস্থান অধিক দূরবর্তী।

(فَنَهَسَ مِنْهَا) ‘‘অতঃপর তিনি তা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খেলেন।’’ ইবনুল মালিক বলেনঃ দাঁত দিয়ে গোশত ছিঁড়ে খাওয়া মুস্তাহাব, কেননা তা নম্রতা ও অহংকারহীনতার প্রমাণ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৩৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৫-[৫৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ছুরি দিয়ে মাংস কেটো না। কেননা তা অনারবদের কাজ; বরং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে খাও। কারণ তা বেশি সুস্বাদু এবং হজমের দিক দিয়ে ভালো। (আবূ দাঊদ ও বায়হাক্বী এবং তারা উভয়েই বলেছেন যে, এ হাদীসটির সানাদ সুদৃঢ় নয়।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْطَعُوا اللَّحْمَ بِالسِّكِّينِ فَإِنَّهُ مِنْ صُنْعِ الْأَعَاجِمِ وَانْهَسُوهُ فَإِنَّهُ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالا: ليسَ هُوَ بِالْقَوِيّ

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقطعوا اللحم بالسكين فانه من صنع الاعاجم وانهسوه فانه اهنا وامرا» . رواه ابو داود والبيهقي في شعب الايمان وقالا: ليس هو بالقوي

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّهٗ مِنْ صُنْعِ الْأَعَاجِمِ) ‘‘তা অনারবদের (অহংকারীদের) কাজ’’। অর্থাৎ ছুরি দিয়ে গোশত কেটে খাওয়া অনারবদের অভ্যাস, অতএব তোমরা এ কাজকে অভ্যাসে পরিণত করো না। গোশত যদি পরিপক্ক তথা নম্র থাকে তাহলে তা কেটে খাবে না কিন্তু অপরিপক্ক থাকার ফলে যদি ছুরি দিয়ে কাটার প্রয়োজন হয় তাহলে তা কাটা যাবে। কেননা বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত ছুরি দিয়ে কেটে খেয়েছেন। অতএব নিষেধ তাহরীমের জন্য নয় বরং তানযীহি।

(وَانْهَسُوهُ فَإِنَّهٗ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ) ‘‘তোমরা তা দাঁত দিয়ে কেটে খাও, কেননা এভাবে খাওয়া মজাদার এবং পরিপাকের জন্যও উত্তম।’’ বলা হয়ে থাকে هَنَأَ الطَّعَامُ وَمَرَأَ যখন বিনা ক্লেশে খাদ্য কণ্ঠনালী অতিক্রম করে।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসের মমার্থ হলো ছুরি দিয়ে কেটে খাওয়াটা অনারবদের মতো অভ্যাসে পরিণত করো না। বরং তা যখন পরিপক্ক থাকে তখন দাঁত দিয়ে কেটে খাও আর যখন অপরিপক্ক থাকে তখন ছুরি দিয়ে কেটে খাও। ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ছুরি দিয়ে কেটে খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা পরিপক্ক গোশতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৭৪) [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৬-[৫৮] উম্মুল মুনযির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন ’আলী। আমাদের গৃহে খেজুরের ছড়া ঝুলানো ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেতে লাগলেন এবং তাঁর সাথে ’আলীও খাচ্ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আলীকে বললেনঃ হে ’আলী! তুমি থামো। (বিরত হও) কেননা তুমি সদ্য রোগমুক্ত। উম্মুল মুনযির (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি তাদের জন্য শালগম জাতীয় সবজি ও যব তৈরি করে দিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আলী! এটা হতে খাও, তা তোমার উপযোগী। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أُمِّ المنذِر قَالَتْ: دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ عَلِيٌّ وَلَنَا دَوَالٍ مُعَلَّقَةٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ وَعَلِيٌّ مَعَهُ يَأْكُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلِيٍّ: «مَهْ يَا عَلِيُّ فَإِنَّكَ نَاقِهٌ» قَالَتْ: فَجَعَلْتُ لَهُمْ سِلْقًا وَشَعِيرًا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَلِيُّ مِنْ هَذَا فَأَصِبْ فَإِنَّهُ أَوْفَقُ لَكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ام المنذر قالت: دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه علي ولنا دوال معلقة فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكل وعلي معه ياكل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي: «مه يا علي فانك ناقه» قالت: فجعلت لهم سلقا وشعيرا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا علي من هذا فاصب فانه اوفق لك» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ হাফিয ইবনু হাজার আল ‘আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ উম্মুল মুনযির আল আনসারী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খালাদের একজন ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দুই ক্বিবলাতেই সালাত আদায় করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাড়ীতে ‘আলী (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাতেই হাদীসে উল্লেখিত ঘটনাটি ঘটে। ত্ববারানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ তিনি উম্মুল মুনযির বিনতু কায়স ইবনু ‘আমর ইবনু ‘উবায়দ ইবনু ‘আমির ইবনু গনাম ইবনু ‘আদী ইবনুন্ নাজ্জার। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৩৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ উম্মুল মুনযির (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৭-[৫৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যপাত্রের তলানি (নিচে লেগে থাকা অংশ) পছন্দ করতেন। (তিরমিযী ও বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ
قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ الثُّفْلُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعجبه الثفل. رواه الترمذي والبيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যাঃ যায়নুল ‘আরব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ এখানে সুফল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খাদ্য খাওয়ার পর পাত্রে যা অবশিষ্ট থাকে। এখানে বিনয়-নম্রতা ও ধৈর্যশীলতার উপর অবিচল থাকার ক্ষেত্রে পাত্রের তলায় অবশিষ্ট খাবার চেটে খাওয়ার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আর এ হাদীসে অধিকাংশ ধনী ব্যক্তিদের নীতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারা অহংকার করে ও খাবার পাত্রের তলা চাটতে ঘৃণা করে এবং পাত্রে খাদ্য রেখেই পানি ঢেলে দেয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৮-[৬০] নুবায়শাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পেয়ালাতে খায় এবং পরে তা চেটে নেয়, পাত্রটি তার জন্য মাগফিরাত কামনা করে। (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। আর তিরমিযী বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن نُبَيْشَة
عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَكَلَ فِي قَصْعَةٍ فَلَحَسَهَا اسْتَغْفَرَتْ لَهُ الْقَصْعَةُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن نبيشة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اكل في قصعة فلحسها استغفرت له القصعة» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه والدارمي وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যাঃ এখানে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে যে রিজিক ও নি‘আমাত দান করেছেন তার প্রতি সম্মান ও বিনয় প্রদর্শনের নিমিত্তে পাত্রের তলা চেটে খাওয়া এবং খাবার নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকা। ‘আল্লামা মুল্লা আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেহেতু পাওয়া যাবে পাত্র চেটে যাওয়ার কারণে তাই বলা হয়েছে, পাত্রটাই যেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছে। সে ক্ষেত্রে এটার হাকাক্বিহ অর্থ গ্রহণে কোন বাধা নেই।

‘আল্লামা তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পাত্র তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এ ইবারত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি পাত্রে খাদ্য খায় এবং অহংকার হতে মুক্ত থাকে তার জন্য ক্ষমা আবশ্যক হয়ে যায়। অতএব এটাকে পাত্রের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কেননা ওটাই তো ক্ষমা পাওয়ার কারণ। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮০৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ নুবায়শাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২১৯-[৬১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় রাত্রিযাপন করে যে, তার হাতের মধ্যে খাদ্যের চিহ্ন (তেল, চর্বি ইত্যাদি) থেকে যায়, সে তা ধৌত করেনি। পরে কোন কিছু তার অনিষ্ট করে, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে।
(তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ بَاتَ وَفِي يَدِهِ غَمَرٌ لَمْ يَغْسِلْهُ فَأَصَابَهُ شَيْءٌ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بات وفي يده غمر لم يغسله فاصابه شيء فلا يلومن الا نفسه» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সাধারণত খাবারের পর ধৌত না করা হাতে যে কোন ক্ষতি পৌঁছার সম্ভাবনা থাকে।

ইবনু আরসালান (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আশনান-সববুন (বিশেষ ধরনের উদ্ভিত যা সাবানের কাজ করে) ও এর সমার্থসম্পন্ন বস্তু (সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, মাটি-ছাই ইত্যাদি) দ্বারা হাত ধৌত করাই উত্তম। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৬০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২০-[৬২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে রুটির সারীদ এবং হায়সের সারীদ ছিল প্রিয় খাদ্য। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن ابنِ عبَّاسٍ قَالَ: كَانَ أَحَبَّ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثَّرِيدُ مِنَ الْخُبْزِ والثريدُ منَ الحَيسِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: كان احب الطعام الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الثريد من الخبز والثريد من الحيس. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ আন্ নিহায়াতে রয়েছে যে, হায়স হলো খেজুর, পনির, ঘি ও আটার সমন্বয়ে তৈরিকৃত খাদ্য। ইবনু আরসালান (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা তৈরি করার নিয়ম হলো, ‘আজওয়াহ্ খেজুর মধ্য হতে বিচি ফেলে দিয়ে তা ঘি বা তার সমজাতীয় বস্তুর সঙ্গে মিশিয়ে হাত মাড়াই করার ফলে হায়স খাদ্য তৈরি হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ম খন্ড, হাঃ ৩৭৭৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২১-[৬৩] আবূ উসায়দ আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যায়তূনের তেল খাও এবং তা গায়ে মালিশ করো। কারণ তা একটি কল্যাণময় বৃক্ষ হতে (নির্গত)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أبي أُسَيدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

وعن ابي اسيد الانصاري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كلوا الزيت وادهنوا به فانه من شجرة مباركة» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যাঃ যে গাছ হতে তেল বের করা হয় তা বারাকাতপূর্ণ গাছ। এখানে বারাকাতপূর্ণ গাছ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক পরিমাণে উপকার পাওয়া। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উসাইদ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২২-[৬৪] উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে বললেনঃ তোমার নিকট খাওয়ার কিছু আছে কি? আমি বললামঃ শুক্না রুটি ও সিরকা ব্যতীত কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তাই দাও। বস্তুতঃ যে ঘরে সিরকা আছে, সে ঘর তরকারীশূন্য নয়। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أم هَانِئ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَعِنْدَكِ شَيْءٌ» قُلْتُ: لَا إِلَّا خُبْزٌ يَابِسٌ وَخَلٌّ فَقَالَ: «هَاتِي مَا أَقْفَرَ بَيْتٌ مِنْ أَدَمٍ فِيهِ خَلٌّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

وعن ام هانى قالت: دخل على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «اعندك شيء» قلت: لا الا خبز يابس وخل فقال: «هاتي ما اقفر بيت من ادم فيه خل» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ আল জাযারী (রহিমাহুল্লাহ) আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যে পরিবারে সিরকা রয়েছে সে পরিবার তরকারীহীন খাদ্য খাওয়ার মতো অভাবী নয়। এখানে القفار হলো তরকারীহীন খাদ্য। ব্যক্তি তখনই তরকারীহীন হয় যখন সে শুধুমাত্র রুটি খায় এবং তাতে অন্য কিছুর মিশ্রণ থাকে না। মূলত القفار (ক্বিফার) সে নির্জন ভূমিকে বলা হয় যাতে কোন ধরনের পানি না থাকে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৪২)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৩-[৬৫] ইউসুফ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি এক টুকরা যবের রুটি নিয়ে তার উপরে খেজুর রেখে বললেনঃ এটা (খেজুর) এর (রুটির) তরকারী এবং তা খেলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ كِسْرَةً مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ فَوَضَعَ عَلَيْهَا تَمْرَةً فَقَالَ: «هَذِهِ إِدَامُ هَذِهِ» وَأَكَلَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن يوسف بن عبد الله بن سلام قال: رايت النبي صلى الله عليه وسلم اخذ كسرة من خبز الشعير فوضع عليها تمرة فقال: «هذه ادام هذه» واكل. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যখন নির্ধারিত খাদ্যটাই হবে খেজুর এবং তাতে যখন তরকারী না থাকে তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটার জন্য ওটাই উপযুক্ত। অর্থাৎ রুটির জন্য তরকারী হিসেবে খেজুরই উপযুক্ত। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮২৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৪-[৬৬] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি মারাত্মকভাবে পীড়িত হয়ে পড়লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ-খবর নিতে তাশরিফ আনলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাতখানা আমার দু’ স্তনের মাঝখানে (বুকের উপর) রাখলেন। তাতে আমি আমার কলিজায় শীতলতা অনুভব করলাম। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি একজন হৃদ-বেদনার রোগী। সুতরাং তুমি সাক্বীফ গোত্রীয় হারিস ইবনু কালদাহ্-এর নিকট যাও। সে একজন চিকিৎসক। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে যেন অবশ্যই মদীনার সাতটি ’আজওয়াহ্ খেজুর বীচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن سعدٍ قَالَ: مَرِضْتُ مَرَضًا أَتَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ ثَدْيِيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا عَلَى فُؤَادِي وَقَالَ: «إِنَّكَ رجلٌ مفْؤودٌ ائْتِ الْحَارِثَ بْنَ كَلَدَةَ أَخَا ثَقِيفٍ فَإِنَّهُ رجل يتطبب فليأخذ سبع تمرات منم عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَّكَ بِهِنَّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن سعد قال: مرضت مرضا اتاني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني فوضع يده بين ثديي حتى وجدت بردها على فوادي وقال: «انك رجل مفوود اىت الحارث بن كلدة اخا ثقيف فانه رجل يتطبب فلياخذ سبع تمرات منم عجوة المدينة فليجاهن بنواهن ثم ليلدك بهن» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ এখানে الدود ‘লুদূদ’ হলো রোগীর মুখে ঔষধ ঢেলে দিয়ে পান করানো। অর্থাৎ- ঔষধ পানিতে রাখবে, অতঃপর পানির সাথে মিশিয়ে উক্ত পানি রোগীর মুখে ঢেলে দিতে হবে। খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মানুষের মুখের দুই প্রান্ত দিয়ে যা পান করানো হয় তাকে লুদূদ বলা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ পদ্ধতিতে ঔষধ সেবন করার কথা বলার কারণ হলো তিনি রোগীকে এমন অবস্থায় পেয়েছেন যে, উল্লেখিত পদ্ধতি ছাড়া তাকে ঔষধ সেবন করানো সম্ভব ছিল না। অথবা এ পদ্ধতিতে ঔষধ সেবন করানোটা রোগমুক্তির অগ্রগামী ও অধিক উপকারী এবং সহজতর। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডাক্তারকে এ পদ্ধতিতে ঔষধ তৈরি ও রোগীকে সেবন করার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পদ্ধতিতে ঔষধ বানানো ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৭১)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৫-[৬৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজা-পাকা খেজুর দ্বারা তরমুজ খেতেন- (তিরমিযী)। আর ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) এ কথাটি বর্ধিত করে বলেছেন, এর (তরমুজের) শীতলতা তার (খেজুরের) উষ্ণতা এবং তার উষ্ণতা এটার শীতলতা সংশোধন করে দেয়। আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব।[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيخَ بِالرُّطَبِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ: وَيَقُولُ: «يَكْسِرُ حَرَّ هَذَا بِبَرْدِ هَذَا وَبَرْدَ هَذَا بِحَرِّ هَذَا» . وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان ياكل البطيخ بالرطب. رواه الترمذي وزاد ابو داود: ويقول: «يكسر حر هذا ببرد هذا وبرد هذا بحر هذا» . وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীসে রোগমুক্তির জন্য চিকিৎসা গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে এবং এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, কোন ক্ষতিকারক বস্তুর প্রতিক্রিয়া তার বিপরীত স্বভাবসম্পন্ন বস্তু দ্বারা প্রতিহত করা যায়। (অর্থাৎ কোন ঔষধের ক্রিয়া নষ্ট করার জন্য অন্য ঔষধ সেবন করা বৈধ)

হাফিয ইবনু কইয়্যূম (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তরমুজের ব্যাপারে একাধিক হাদীস বর্ণিত রয়েছে, তবে উল্লেখিত হাদীস ছাড়া কোনটি বিশুদ্ধ নয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৩২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৬-[৬৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে পুরাতন খেজুর পেশ করা হলো। তিনি তা খুঁটতে এবং তা হতে পোকা বের করতে লাগলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أَنَسٍ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَمْرٍ عَتِيقٍ فَجَعَلَ يُفَتِّشُهُ وَيُخْرِجُ السُّوسَ مِنْهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن انس قال: اتى النبي صلى الله عليه وسلم بتمر عتيق فجعل يفتشه ويخرج السوس منه. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ত্ববারানী (রহিমাহুল্লাহ) হাসান সূত্রে মারফূ‘ভাবে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরে কিছু লেগে থাকলে তা দূর করতে খেজুরে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। এখানে নিষেধাজ্ঞা দ্বারা নতুন খেজুর উদ্দেশ্য যাতে কোন ধরনের অনিষ্টতার উদয় না হয়। অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে ফুঁ দিয়েছেন বৈধতা প্রমাণের জন্য এবং নিষেধাজ্ঞা দ্বারা মাকরূহ তানযীহী উদ্দেশ্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৭-[৬৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবূকের যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এক টুকরা পনির আনা হলো। তখন তিনি ছুরি আনালেন এবং ’’বিসমিল্লা-হ’’ বলে কাটলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجُبُنَّةٍ فِي تَبُوكَ فَدَعَا بالسكين فسمَّى وقطَعَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عمر قال: اتى النبي صلى الله عليه وسلم بجبنة في تبوك فدعا بالسكين فسمى وقطع. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ছাগলের দহনকৃত দুধ যা পাকানো হয়নি তা পবিত্র- এ মর্মে আলোচ্য হাদীসটি তার দলীল। কেননা যদি তা নাপাক হয় তাহলে পনিরও তো নাপাক হবে, কারণ পনির তো ওটা ছাড়া তৈরি হয় না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৫)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৮-[৭০] সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘি, পনির ও বন্য গাধা (খাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে যা কিছু হালাল বলেছেন তা হালাল এবং যা কিছু হারাম করেছেন তা’ হারাম। আর যা হতে নীরব রয়েছেন তা মার্জনীয়। [ইবনু মাজাহ ও তিরমিযী;[1] আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব, তবে সঠিক কথা হলো তা মাওকূফ]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ سَلْمَانَ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ السَّمْنِ وَالْجُبْنِ وَالْفِرَاءِ فَقَالَ: «الْحَلَالُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَالْحَرَامُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ مِمَّا عَفَا عَنْهُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وموقوفٌ على الأصحِّ

وعن سلمان قال: سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن السمن والجبن والفراء فقال: «الحلال ما احل الله في كتابه والحرام ما حرم الله في كتابه وما سكت عنه فهو مما عفا عنه» . رواه ابن ماجه والترمذي وقال: هذا حديث غريب وموقوف على الاصح

ব্যাখ্যাঃ হালাল কিংবা হারাম হওয়ার বিষয়টি হয় তো কুরআন মাজীদে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে অথবা সমষ্টিগতভাবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী : ‘‘রসূল তোমাদের কাছে যা এনেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর।’’ (সূরাহ্ আল হাশ্র ৫৯ : ৭)

এমন অনেক বস্তু যার ব্যাপারে কুরআনে স্পষ্ট বর্ণনা নেই যাতে তা হাদীস দ্বারা হারাম করার ক্ষেত্রে কোন জটিলতা না থাকে। ‘আল্লামা শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘‘নায়লুল আওত্বার’’ গ্রন্থে বলেছেনঃ উল্লেখিত ইবারত ও তার সমহুকুম সম্পন্ন ইবারত যা কুরআনের ভিত্তিতেই হালাল-হারামের সীমাবদ্ধতার উপর প্রমাণ বহন করে এমন ইবারত দ্বারা সমষ্টিগত অর্থসম্পন্ন বাক্য উদ্দেশ্য যা সকল হুকুমকে সম্পৃক্ত করে। সেটা অর্থের ব্যাপকতার ভিত্তিতে হতে পারে অথবা ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমেও হতে পারে। কেননা হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে কুরআন মাজীদ দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ বিষয় দেয়া হয়েছে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৭২৬)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ সালমান ফারসী (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২৯-[৭১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘি দুধে মিশ্রিত চুপসা ভিজা ধবধবে সাদা উত্তম গমের আটার তৈরি রুটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। এ কথা শুনে জনতার মধ্য হতে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আকাঙ্ক্ষানুযায়ী) রুটি তৈরি করে তাঁর খিদমাতে নিয়ে এলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, (ঘি দ্বারা প্রস্তুতকৃত) তা কেমন ধরনের পাত্রে রাখা ছিল? সে বলল, দব্বের চামড়ার থলের মধ্যে। তখন তিনি বললেনঃ (আমার সম্মুখ হতে) এটা তুলে নাও। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; আর আবূ দাঊদ বলেছেনঃ হাদীসটি মুনকার।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَدِدْتُ أَنَّ عِنْدِي خُبزةً بيضاءَ منْ بُرَّةٍ سَمْرَاءَ مُلَبَّقَةً بِسَمْنٍ وَلَبَنٍ» فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَاتَّخَذَهُ فَجَاءَ بِهِ فَقَالَ: «فِي أَيِّ شَيْءٍ كَانَ هَذَا؟» قَالَ فِي عُكَّةِ ضَبٍّ قَالَ: «ارْفَعْهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ أَبُو دَاوُد: هَذَا حَدِيث مُنكر

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وددت ان عندي خبزة بيضاء من برة سمراء ملبقة بسمن ولبن» فقام رجل من القوم فاتخذه فجاء به فقال: «في اي شيء كان هذا؟» قال في عكة ضب قال: «ارفعه» . رواه ابو داود وابن ماجه وقال ابو داود: هذا حديث منكر

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্ত পাত্র উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার কারণ, তিনি দব্বের চামড়ার পাত্র ব্যবহারের সাথে অভ্যস্ত ছিলেন না। কারণ, তাঁর নিজ ভূখণ্ডে এর কোন প্রচলন ছিল না। খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে যার প্রমাণ পাওয়া যায়। এটা নাপাক ভেবে করেননি, যদি তাই হতো, তাহলে তিনি উক্ত পাত্র ফেলে দিতে নির্দেশ দিতেন এবং তা ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩০-[৭২] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রান্না করা ব্যতীত রসুন খেতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن أَكْلِ الثُّومِ إِلَّا مَطْبُوخًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

وعن علي رضي الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اكل الثوم الا مطبوخا. رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ আলোচ্য হাদীসটি পূর্ববর্তী একাধিক হাদীসের ‘আম বর্ণনাকে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। (অর্থাৎ পূর্ববর্তী হাদীসগুলোতে ‘আমভাবে রসুন খাওয়া নিষেধ করা হয়েছে, আর এ হাদীসে পাকানো রসুন ছাড়া কাঁচা রসুন খাওয়ার প্রতি নিষেধ করা হয়েছে)। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮২৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩১-[৭৩] আবূ যিয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে পেঁয়াজ (খাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ খাবার যা খেয়েছেন, তন্মধ্যে পেঁয়াজ ছিল। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أبي زيادٍ قَالَ: سُئلتْ عائشةُ عَنِ الْبَصَلِ فَقَالَتْ: إِنَّ آخِرَ طَعَامٍ أَكَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامُ فِيهِ بصل. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي زياد قال: سىلت عاىشة عن البصل فقالت: ان اخر طعام اكله رسول الله صلى الله عليه وسلم طعام فيه بصل. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ এ হাদীসের ব্যাখ্যা ৪২২৩ নং হাদীসে দ্রষ্টব্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যিয়াদ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩২-[৭৪] সুলামী গোত্রের বুসর-এর দু’ পুত্র বলেনঃ একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন, তখন আমরা তাঁর সামনে মাখন ও খেজুর পেশ করলাম। প্রকৃতপক্ষ তিনি মাখন ও খেজুর (খেতে) বেশি পছন্দ করতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن ابْنيْ بُسرٍ السُّلَمِيَّين قَالَا: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدَّمْنَا زُبْدًا وَتَمْرًا وَكَانَ يُحِبُّ الزبدَ والتمرِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابني بسر السلميين قالا: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقدمنا زبدا وتمرا وكان يحب الزبد والتمر. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ গরু এবং ছাগলের দুধের নির্যাস থেকে যা বানানো হয় তাকেই মাখন বলা হয়। অন্যদিকে উটের দুধের নির্যাস থেকে যা তৈরি করা হয় তা মাখন নয় ঘি। আর ঘি-এর তুলনায় মাখন উন্নত। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮৩৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৩-[৭৫] ’ইকরাশ ইবনু যুআয়ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমাদের সম্মুখে বৃহদাকার একটি খাদ্যপাত্র আনা হলো। পাত্রটিতে ছিল সারীদ ও মাংসের টুকরা। আমি আমার হাত দিয়ে পাত্রের চারপাশ হতে নিতে লাগলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সম্মুখ হতে খাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাম হাত দ্বারা আমার ডান হাত ধরে ফেললেন এবং বললেনঃ হে ’ইকরাশ! এক জায়গা হতে খাও, কেননা এটা একই প্রকারের খাদ্য। (বর্ণনাকারী ’ইকরাশ বলেনঃ) অতঃপর আমাদের সম্মুখে একখানা থালা আনা হলো। তন্মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের খেজুর ছিল। তখন আমি কেবলমাত্র আমার সম্মুখ হতে খেতে লাগলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত গোটা থালার মধ্যে ঘুরছিল। তিনি বললেনঃ হে ’ইকরাশ! থালার যে জায়গা হতে ইচ্ছা হয় খাও, কেননা এটা এক প্রকারের নয়। অতঃপর আমাদের জন্য পানি আনা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উভয় হাত ধুলেন এবং ভিজা হাত দিয়ে মুখমণ্ডলে, বাহুদ্বয় ও মাথা মুছে নিলেন এবং বললেনঃ হে ’ইকরাশ! এটা হলো সে খাদ্যের উযূ যাকে আগুন পরিবর্তন করে দিয়েছে (অর্থাৎ- রান্না করা হয়েছে)। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عِكْرَاشِ بْنِ ذُؤَيْبٍ قَالَ: أُتِينَا بِجَفْنَةٍ كَثِيرَة من الثَّرِيدِ وَالْوَذْرِ فَخَبَطْتُ بِيَدِي فِي نَوَاحِيهَا وَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَيْنِ يَدَيْهِ فَقَبَضَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى يَدِيَ الْيُمْنَى ثُمَّ قَالَ: «يَا عِكْرَاشُ كُلْ مِنْ مَوْضِعٍ وَاحِدٍ فَإِنَّهُ طَعَامٌ وَاحِدٌ» . ثُمَّ أَتَيْنَا بِطَبَقٍ فِيهِ أَلْوَانُ التَّمْرِ فَجَعَلْتُ آكُلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَجَالَتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الطبقِ فَقَالَ: «يَا عِكْرَاشُ كُلْ مِنْ حَيْثُ شِئْتَ فَإِنَّهُ غَيْرُ لَوْنٍ وَاحِدٍ» ثُمَّ أَتَيْنَا بِمَاءٍ فَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ وَمسح بَلل كَفَّيْهِ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَرَأْسَهُ وَقَالَ: «يَا عِكْرَاشُ هَذَا الْوُضُوءُ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

وعن عكراش بن ذويب قال: اتينا بجفنة كثيرة من الثريد والوذر فخبطت بيدي في نواحيها واكل رسول الله صلى الله عليه وسلم من بين يديه فقبض بيده اليسرى على يدي اليمنى ثم قال: «يا عكراش كل من موضع واحد فانه طعام واحد» . ثم اتينا بطبق فيه الوان التمر فجعلت اكل من بين يدي وجالت يد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الطبق فقال: «يا عكراش كل من حيث شىت فانه غير لون واحد» ثم اتينا بماء فغسل رسول الله صلى الله عليه وسلم يديه ومسح بلل كفيه وجهه وذراعيه وراسه وقال: «يا عكراش هذا الوضوء مما غيرت النار» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীসে এ মর্মে সতর্কবাণী রয়েছে যে, ফল-মূল যখন একই রং বিশিষ্ট বা একই ধরনের হবে তখন পাত্রের বিভিন্ন জায়গায় হাত ঘুরে খাওয়া বৈধ নয়। অন্যদিকে খাদ্য যখন বিভিন্ন ধরনের হবে, তখন পাত্রের যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকে নিয়ে খাওয়া বৈধ।

(তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৪৮)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৪-[৭৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারস্থ কারো জ্বর হলে তিনি হাসা প্রস্তুত করতে বলতেন এবং তা চেটে খেতে নির্দেশ দিতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, এটা চিন্তাযুক্ত মনকে সুদৃঢ় করে এবং পীড়িতের অন্তর হতে রোগের ক্লেশকে দূর করে, যেমন- তোমাদের নারীদের কেউ পানি দ্বারা নিজের মুখমণ্ডলে হতে ময়লা দূর করে থাকে। (তিরমিযী; আর তিনি বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ أَهْلَهُ الْوَعْكُ أَمَرَ بِالْحَسَاءِ فصُنعَ ثمَّ أَمر فَحَسَوْا مِنْهُ وَكَانَ يَقُولُ: «إِنَّهُ لَيَرْتُو فُؤَادُ الحزين ويسرو عَن فؤاد السقيم كَمَا تسروا إِحْدَاكُنَّ الْوَسَخَ بِالْمَاءِ عَنْ وَجْهِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

وعن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اخذ اهله الوعك امر بالحساء فصنع ثم امر فحسوا منه وكان يقول: «انه ليرتو فواد الحزين ويسرو عن فواد السقيم كما تسروا احداكن الوسخ بالماء عن وجهها» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যাঃ الْحَسَاءِ ‘হাসা-’ হলো তরল জাতীয় শরবত বা ঝোল, যা ময়দা, পানি ও তেলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ কোন কোন ‘উলামা তেলের পরিবর্তে ‘‘ঘি’’ এর কথা উল্লেখ করেছেন। আল কামূসে রয়েছে, ‘হাসা’ এমন তরল জাতীয় শরবত যা পানির মতো ঢোকে ঢোকে পান করা হয়, আর এটা পান করলে হৃদ যন্ত্রণা প্রশমিত হয়। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৩৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৫-[৭৭] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’আজ্ওয়া জান্নাতের ফল, তার মধ্যে বিষ প্রতিষেধক রয়েছে। আর ব্যাঙের ছাতা মান্ন জাতীয়, তার পানি চক্ষু রোগের জন্য উপশম। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَفِيهَا شِفَاءٌ مِنَ السُّمِّ وَالْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وماؤُها شفاءٌ للعينِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العجوة من الجنة وفيها شفاء من السم والكماة من المن وماوها شفاء للعين» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ মিরক্বাত প্রণেতা (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘আজ্ওয়াহ্ খেজুরের উপকার ও বারাকাতের আধিক্যের কারণে বলা যায় যে, যেন তা জান্নাতী খাদ্য, কেননা জান্নাতের খাবার কষ্ট ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করে। আর জান্নাতে কোন ধরনের দুঃখ-কষ্ট আপদ-মুসীবাত ও ক্লান্তি-নিস্তেজ ভাব নেই, যা খাদ্যের কারণে দূর হয়ে যাবে, বরং জান্নাতী ব্যক্তি জান্নাতের ফল-মূল হতে খাবে ও পানীয় থেকে পান করবে। সবসময় সুস্বাদের সাথে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, যার ফলে তুমি বিপদে পতিত হবে। তোমার জন্য এটাই রইলো যে, তুমি জন্নাতে ক্ষুধার্ত হবে না ও নগ্নও হবে না। আর তুমি স্বেচ্ছায় পিপাসার্ত হবে না এবং রৌদ্রাক্লিষ্টও হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৬-[৭৮] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে) মেহমান হলাম। তিনি লোকটিকে বকরীর পাঁজরের মাংস তৈরি করতে বললেন, তা ভুনা করা হলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছুরি নিয়ে ঐ স্থান হতে মাংস কেটে আমাদের দিতে লাগলেন। এমন সময় বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। তিনি (বিরক্তির সাথে) ছুরিখানা ফেলে দিলেন এবং বললেনঃ তার কি হলো? তার দু’হাতে মাটি লাগুক। মুগীরাহ্ বলেনঃ তার গোঁফ বেশ লম্বা হয়ে গিয়েছিল, তখন তিনি আমাকে বললেনঃ আমি তোমার গোঁফ মিসওয়াকে রেখে কেটে দেব। অথবা বললেনঃ তা মিসওয়াকে রেখে কেটে নাও। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَن المغيرةِ بن شعبةَ قَالَ: ضِفْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَمَرَ بِجَنْبٍ فَشُوِيَ ثُمَّ أَخَذَ الشَّفْرَةَ فَجَعَلَ يَحُزُّ لِي بِهَا مِنْهُ فَجَاءَ بِلَالٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ فَأَلْقَى الشَّفْرَةَ فَقَالَ: «مَا لَهُ تَرِبَتْ يَدَاهُ؟» قَالَ: وَكَانَ شارِبُه وَفَاء فَقَالَ لي: «أُقْصُّه عَلَى سِوَاكٍ؟ أَوْ قُصَّهُ عَلَى سِوَاكٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

عن المغيرة بن شعبة قال: ضفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فامر بجنب فشوي ثم اخذ الشفرة فجعل يحز لي بها منه فجاء بلال يوذنه بالصلاة فالقى الشفرة فقال: «ما له تربت يداه؟» قال: وكان شاربه وفاء فقال لي: «اقصه على سواك؟ او قصه على سواك» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (تَرِبَتْ يَدَاهُ) এ বাক্যটি ‘আরবীগণ ভৎর্সনা বা ভয়ের ক্ষেত্রে বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, দারিদ্র্যতার দু‘আ করা। এটা তারা বাস্তবায়িত হওয়ার ইচ্ছা ছাড়া সচরাচর বলে থাকে। যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্য দ্বারা খাদ্যের প্রতি ব্যস্ত থাকায় সালাতের আযান হওয়াটা অপছন্দ করছিলেন। প্রকৃত অবস্থা হলো, সালাতের সময়টা প্রশস্ত ছিল। বিশেষ করে ‘ইশার সালাতের সময়, নিশ্চয় তা বিলম্ব করে আদায় করা উত্তম।

শারহুস্ সুন্নাহয় রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যক্তির গোফ খুব লম্বা দেখতে পেলেন এবং তাকে মিসওয়াক ও ছুরি নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর মিসওয়াকটা গোঁফের নিচে রেখে ছুড়ি দিয়ে গোঁফের বর্ধিতাংশ কেটে দিলেন। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) এক্ষেত্রে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, গোঁফ সেভ না করে তা ছেটে ফেলা উত্তম। যাতে গোঁফের চিহ্ন প্রকাশিত থেকে যায়। কারো কারো মতে তা সেভ করাই উত্তম। তবে অধিকাংশ ‘উলামার মতে গোঁফ সেভ না করে ছেটে ফেলাই উত্তম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৭-[৭৯] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন খাবার মাজলিসে উপস্থিত হতাম, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুরু করে তাতে হাত না রাখা পর্যন্ত আমরা আমাদের হাত রাখতাম না। একবার আমরা তাঁর সঙ্গে এক দা’ওয়াতে উপস্থিত ছিলাম। সে সময় একটি মেয়ে এমনভাবে এলো যেন তাকে তাড়িয়ে আনা হয়েছে এবং সে খাদ্যের মধ্যে হাত রাখতে উদ্যত হলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর এক বেদুঈন এলো। তাকেও যেন কেউ তাড়িয়ে এনেছে। তিনি তার হাতও ধরে ফেললেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় শয়তান তখনই খাবারকে হালাল মনে করে, যখন তাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না। তাই সে (প্রথমে) ঐ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিল, যেন তার দ্বারা (খাবারটি নিজের জন্য) হালাল করতে পারে। তাই আমি তার হাত ধরে ফেললাম। পরে সে ঐ বেদুঈনকে নিয়ে এলো (খাদ্যটি নিজের জন্য) হালাল করে নিতে। তাই আমি তার হাতও ধরে ফেললাম। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ঐ মেয়েটির হাতের সাথে শয়তানের হাতটিও আমার মুঠোতে রয়েছে। অন্য আরেক রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত আছে, অতঃপর তিনি ’’বিসমিল্লা-হ’’ পড়ে খাবার খেলেন। (মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن حُذيفةَ قَالَ: كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم لَمْ نَضَعْ أَيْدِيَنَا حَتَّى يَبْدَأُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ يَدَهُ وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهَا ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَأَخَذَهُ بِيَدِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسمُ اللَّهِ عليهِ وإِنَّه جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِيِّ لِيَسْتَحِلَّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا» . زَادَ فِي رِوَايَةٍ: ثُمَّ ذَكَرَ اسمَ اللَّهِ وأكَلَ. رَوَاهُ مُسلم

وعن حذيفة قال: كنا اذا حضرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم لم نضع ايدينا حتى يبدا رسول الله صلى الله عليه وسلم فيضع يده وانا حضرنا معه مرة طعاما فجاءت جارية كانها تدفع فذهبت لتضع يدها في الطعام فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدها ثم جاء اعرابي كانما يدفع فاخذه بيده فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الشيطان يستحل الطعام ان لا يذكر اسم الله عليه وانه جاء بهذه الجارية ليستحل بها فاخذت بيدها فجاء بهذا الاعرابي ليستحل به فاخذت بيده والذي نفسي بيده ان يده في يدي مع يدها» . زاد في رواية: ثم ذكر اسم الله واكل. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ ‘আলিমগণ বলেছেন যে, খাওয়ার সময় বিসমিল্লা-হ আওয়াজ করে বলা মুস্তাহাব যাতে অন্যরা শুনতে পারে ও জানতে পারে। যদি কেউ খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লা-হ স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা অক্ষমতার কারণে পরিত্যাগ করে এবং খাওয়ার মাঝখানে যদি বিসমিল্লা-হ বলা সম্ভব হয় তাহলে ‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু’’ বলা মুস্তাহাব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কেউ খাওয়া শুরু করবে সে যেন বিসমিল্লা-হ বলে। যদি শুরুতে বিসমিল্লা-হ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন ‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু’’ বলে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।)

এমনিভাবে খাওয়ার মতো পানি, দুধ, মধু, ঔষধ সেবন ও যাবতীয় পানীয় পান করার সময়ও বিসমিল্লা-হ বলতে হবে। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০১৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৮-[৮০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোলাম ক্রয় করতে ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তার সম্মুখে কিছু খেজুর ঢেলে দিলেন। সে অধিক পরিমাণে খেয়ে ফেলল। (এটা দেখে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বেশি খাওয়া অশুভ (অকল্যাণকর)। অতএব গোলামকে ফেরত দিতে নির্দেশ দিলেন। (বায়হাক্বী’র ’’শু’আবুল ঈমান’’)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَشْتَرِيَ غُلَامًا فَأَلْقَى بَيْنَ يَدَيْهِ تَمْرًا فَأَكَلَ الْغُلَامُ فَأَكْثَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ كَثْرَةَ الْأَكْلِ شُؤْمٌ» . وَأَمَرَ بِرَدِّهِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اراد ان يشتري غلاما فالقى بين يديه تمرا فاكل الغلام فاكثر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان كثرة الاكل شوم» . وامر برده. رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যাঃ অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণকারী ব্যক্তি অকল্যাণজনক। এখানে شُؤْمٌ ‘‘শু’ম’’ হলো- কল্যাণের বিপরীত, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ করে, এক পাকস্থলীতে এবং কাফির ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ করে সাত পাকস্থলীতে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৩৯-[৮১] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রধান তরকারী হলো লবণ। (ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَيِّدُ إِدَامِكُمُ الْمِلْحُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

وعن انس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «سيد ادامكم الملح» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ লবণ তরকারীর মূল, এটা এ কারণে যে, রুটি কিংবা পাকানো খাদ্য লবণ ছাড়া স্বাদ হয় না। আর লবণ ছাড়া তরকারী প্রস্তুত করাটা অনর্থক ও নিস্প্রয়োজন। অতএব এ মহান নি‘আমাতের উপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সতর্কবাণী রয়েছে যে, অধিকাংশ মানুষ বড় নি‘আমাতের বিষয়ে পূর্ণ অবগত হয়েও আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা থেকে উদাসীন রয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৪০-[৮২] উক্ত রাবী [আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন খাবার উপস্থিত করা হয়, তখন তোমরা জুতা খুলে নাও। কেননা তাতে প্রশান্তি রয়েছে।[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ قَالَ
: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَ الطَّعَامُ فَاخْلَعُوا نِعَالَكُمْ فإِنَّه أرْوَحُ لأقدامكم»

وعنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وضع الطعام فاخلعوا نعالكم فانه اروح لاقدامكم»

ব্যাখ্যাঃ যখন তোমরা খাদ্য খাবে তখন জুতাদ্বয় খুলে রেখে খাদ্য খাবে, যা অধিক প্রশান্তিদায়ক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৪১-[৮৩] আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখনই তাঁর নিকট সারীদ আনা হত, তখন তার ধোঁয়ার গরম বাষ্প নিঃশেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি তা ঢেকে রাখতে আদেশ করতেন এবং তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- এতে বিরাট বারাকাত রয়েছে। (দারিমী হাদীস দু’টি বর্ণনা করেছেন)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن أسماءَ بنتِ أبي بكرٍ: أَنَّهَا كَانَتْ إِذَا أَتَيْتُ بِثَرِيدٍ أَمَرَتْ بِهِ فَغُطِّيَ حَتَّى تَذْهَبَ فَوْرَةُ دُخَانِهِ وَتَقُولُ: أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «هُوَ أعظم للبركة» . رَوَاهُمَا الدَّارمِيّ

وعن اسماء بنت ابي بكر: انها كانت اذا اتيت بثريد امرت به فغطي حتى تذهب فورة دخانه وتقول: اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «هو اعظم للبركة» . رواهما الدارمي

ব্যাখ্যাঃ জামি‘উস্ সগীরে সমার্থপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে, ‘‘তোমরা (পাতিলের মুখ ঢেকে দেয়ার মাধ্যমে) খাদ্য ঠাণ্ডা করো, কেননা গরম খাদ্যে কোন বারাকাত নেই।’’ (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২৪২-[৮৪] নুবায়শাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন পাত্রে খায় এবং পরে তা চেটে নেয়, তখন পাত্রটি তাকে (লক্ষ্য করে) বলে, আল্লাহ তোমাকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত রাখুন, যেমন তুমি আমাকে শয়তান হতে মুক্ত রেখেছ। (রযীন)[1]

الْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن نُبَيْشَة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَكَلَ فِي قَصْعَةٍ ثُمَّ لَحِسَهَا تَقُولُ لَهُ الْقَصْعَةُ: أَعْتَقَكَ اللَّهُ مِنَ النَّارِ كَمَا أعتقتَني منَ الشيطانِ . رَوَاهُ رزين

وعن نبيشة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من اكل في قصعة ثم لحسها تقول له القصعة: اعتقك الله من النار كما اعتقتني من الشيطان . رواه رزين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ নুবায়শাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৩-[১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই ভালো কথা বলে, নতুবা যেন চুপ থাকে। অপর এক বর্ণনায় ’’প্রতিবেশী’’র স্থলে রয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই আত্মীয়ের হক আদায় করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الضِّيَافَةِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ» . وَفِي رِوَايَةٍ: بَدَلَ «الْجَارِ» وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَصِلْ رحِمَه

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يوذ جاره ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليقل خيرا او ليصمت» . وفي رواية: بدل «الجار» ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فليصل رحمه

ব্যাখ্যাঃ (مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ) ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে’’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ ঈমান রাখবে। এখানে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনার কথা খাস বা নির্দিষ্টভাবে বলার কারণ হল- পরকালের প্রতি ইঙ্গিত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ঐ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল যিনি সৃষ্টি করেছেন। আর ঈমান নিয়ে আসলো যে, তাকে তার ‘আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। সুতরাং সে অবশ্যই যেন উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি ‘আমল করে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬০১৮)

(فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهٗ) ‘‘সে যেন অবশ্যই তার মেহমানকে সম্মান করে’’ সফর থেকে আগমনকারী ব্যক্তি যিনি মুক্বীম (বাড়ীতে অবস্থানকারী) ব্যক্তির নিকট আগমন করেন তাকে মেহমান (الضيف) বলা হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৪৪)

 মেহমানকে সম্মান করা হলো হাসি মুখে ও সুন্দর ভাষায় তার সাথে কথা বলা এবং প্রথম তিনদিন তাকে ভালো খাবার খেতে দেয়া, আর বাকী দিনগুলো স্বাভাবিক খাবার খেতে দেয়া। তিন দিনের পর সাদাকা বলে গণ্য করা হবে। সে ইচ্ছা হলে ভালো খাওয়াতে পারে আর ভালো নাও খাওয়াতে পারে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৯৬৭)

মেহমানকে সম্মান করার হুকুম ব্যক্তি ও অবস্থাভেদে ভিন্ন হতে পারে। কখনও ফরযে কিফায়াহ্ কখনও ফরযে ‘আইন, কখনও মুস্তাহাব। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬০১৮)

(فَلَا يُؤْذِ جَارَهٗ) ‘‘তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়’’ এর অর্থ প্রতিবেশীকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা। যেমন, সে ধার চাইলে ধার দেয়া, সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা, অসুস্থ হলে সেবা করা, তার ভালো কিছু হলে তাকে অভিনন্দন জানানো, তার খারাপ কিছু হলে তাকে সান্তবনা দেয়া, সে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করা। কোন কিছু কিনলে তাকে হাদিয়া স্বরূপ দেয়া ইত্যাদি। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬০১৮)

(فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ) ‘‘যে যেন অবশ্যই ভালো কথা বলে, নতুবা যেন চুপ থাকে’’ এখানে প্রথম অংশ তথা ‘‘যে যেন অবশ্যই ভালো কথা বলে’’ এর দ্বারা খারাপ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশ তথা ‘‘যেন চুপ থাকে’’ এর দ্বারা ফাযীলাত অর্থাৎ মর্যাদার দ্বারা অলংকৃত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোটকথা, যে ব্যক্তি ঈমান রাখে সে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি কল্যাণকর কথা বলার মাধ্যমে ও অকল্যাণকর কথা থেকে চুপ থাকার মাধ্যমে সহনুভূতি দেখাবে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬০১৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৪-[২] আবূ শুরয়হ আল কা’বী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে। অতিথির জন্য উত্তম খানা-পিনার ব্যবস্থা করা চাই এক দিন ও এক রাত। আর মেহমানদারী হলো তিন দিন। এটার পর যা করবে তা হবে সাদাকা। মেহমানের জন্য জায়িয নয় এত সময় মেজবানের গৃহে অবস্থান করা যাতে তার কষ্ট হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الضِّيَافَةِ

وَعَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَا بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحَرِّجَهُ»

وعن ابي شريح الكعبي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من كان يومن بالله واليوم الاخر فليكرم ضيفه جاىزته يوم وليلة والضيافة ثلاثة ايام فما بعد ذلك فهو صدقة ولا يحل له ان يثوي عنده حتى يحرجه»

ব্যাখ্যাঃ (جَائِزَتُهٗ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ) এর ব্যাখ্যায় সুহায়লী বলেনঃ অর্থাৎ সে তার মেহমানকে এক দিন ও এক রাত ভালো খাবার খাওয়াবে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬১৩৫)

(وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَا بَعْدَ ذٰلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ) ইবনু বাত্ত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ প্রসঙ্গে মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একদিন একরাত তাকে সম্মান করবে ও উপহার দিবে। আর তিনদিন মেহমানদারী করবে।

ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তিনদিন কী প্রথমদিন বাদে না প্রথমদিন সহ? এ নিয়ে মতভেদ আছে। আবূ ‘উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রথমদিন তার প্রতি সদ্ব্যবহার করা জরুরী। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন তাদের স্বাভাবিক খাবার তাকেও খেতে দিবে, বেশি কিছু জোগার করবে না। অতঃপর তাকে একদিন ও রাতের দূরত্বের খাবার দিয়ে দিবে একে বলে "الجيزة" (আল জীযাহ্)।

খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর অর্থ হলো যখন কোন মেহমান আসে তখন তাকে একদিন একরাত ভালো খেতে দিবে ও উত্তম আচরণ করবে, আর বাকী দু’দিন তাকে স্বাভাবিক খাবার খেতে দিবে। যখন তিন দিন অতিবাহিত হয়ে গেল তখন তাকে যাই খাওয়াবে তা সাদাকা হবে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬১৩৫)

(حَتّٰى يُحَرِّجَهٗ) ‘‘যাতে তার কষ্ট হয়’’ যাতে সে সংকীর্ণতায় পড়ে যায়।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় حَتّٰى يؤثمه ‘‘যাতে সে পাপে লিপ্ত হয়’’, কারণ সে অনেক দিন থাকার কারণে তাঁর গীবত করে বসবে, অথবা সে এমন আচরণ করবে যাতে মেহমান কষ্ট পাবে। অথবা মেহমান সম্পর্কে তার খারাপ ধারণা হবে। তবে যদি মেহমান তার মেজবানের (বাড়ীর মালিকের) অনুমতি নিয়ে থাকে অথবা তার ইচ্ছা সে বুঝতে পারে তবে কোন সমস্যা নেই। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬১৩৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ শুরায়হ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৫-[৩] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি আমাদেরকে কোথাও পাঠালে আমরা যদি এমন এক জনপদে গিয়ে পৌঁছি, যারা আমাদের মেহমানদারী করছে না। এমতাবস্থায় (আমাদের করণীয় সম্পর্কে) আপনার অভিমত কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বললেনঃ যদি তোমরা কোন জনপদে অবতরণ করো, আর যদি তারা তা না করে, তবে তাদের নিকট হতে তাদের কর্তব্য পরিমাণ মেহমানের হক আদায় করে নেবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الضِّيَافَةِ

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّك تبعثنا فتنزل بِقَوْمٍ لَا يُقْرُونَنَا فَمَا تَرَى؟ فَقَالَ لَنَا: «إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ فَأَمَرُوا لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا فَانْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حق الضَّيْف الَّذِي يَنْبَغِي لَهُم»

وعن عقبة بن عامر قال: قلت للنبي صلى الله عليه وسلم: انك تبعثنا فتنزل بقوم لا يقروننا فما ترى؟ فقال لنا: «ان نزلتم بقوم فامروا لكم بما ينبغي للضيف فاقبلوا فان لم يفعلوا فخذوا منهم حق الضيف الذي ينبغي لهم»

ব্যাখ্যাঃ জামহূর বিদ্বানগণ বিভিন্নভাবে হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমতঃ এখানে নিরুপায়দেরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা তাদেরকে মেহমানদারী করা ওয়াজিব। যখন তারা মেহমনদারী না করবে তখন তারা তাদের প্রয়োজনমত বাধাদানকারীদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয়তঃ এখানে উদ্দেশ্য হলো তারা জিহবা দিয়ে, তাদের (মেজবানের) সম্মান-মর্যাদা নিয়ে নিবে। মানুষের কাছে তাদের দোষ-ত্রুটি, তাদের কৃপণতার কথা বলে দিবে, তাদেরকে তিরস্কার করবে এবং তাদেরকে (মেজবানকে) নিন্দা করবে।

তৃতীয়তঃ এ বিধান ইসলামের প্রথম যুগে ছিল। তখন মেহমানদারী ওয়াজিব ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামের সম্প্রসারণের পর তা রহিত হয়ে গেছে। কাযী (রহিমাহুল্লাহ) এ রকম বর্ণনা করেছেন। এ মতটি দুর্বল অথবা বাতিল। কেননা এ মতের দাবীদার কে তা জানা যায় না।

চতুর্থতঃ আলোচ্য হাদীসের বিধান ঐ সকল জিম্মিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যারা মুসলিমদের মেহমানদারী করার চুক্তিতে আবদ্ধ। আর মুসলিমরাও সেই জনপদে যাওয়ার পর ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে পড়েছে। এ মতটিও দুর্বল। এ রকম ঘটনা ‘উমার -এর সময়েই ঘটেছিল। (শারহুন নাবাবী ১২ম খন্ড, হাঃ ১৭২৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৬-[৪] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একদিন বা রাতের বেলায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়েই আবূ বকর ও ’উমার -কে দেখতে পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : কোন জিনিস তোমাদের উভয়কে এ মুহূর্তে ঘর হতে বের হতে বাধ্য করেছে? তারা উভয়ে বললেনঃ ক্ষুধার তাড়না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যে জিনিস তোমাদের দু’জনকে বের করেছে, আমাকেও সে জিনিস বের করেছে। আচ্ছা! চলো। অতঃপর তাঁরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চললেন এবং জনৈক আনসারীর বাড়িতে আসলেন। তখন তিনি ঘরে ছিলেন না। যখনই আনসারীর স্ত্রী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলেন, তখন তিনি তাঁকে খোশ আমদেদ জানালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অমুক (অর্থাৎ- তোমার স্বামী) কোথায়? তিনি বললেনঃ তিনি আমাদের জন্য মিষ্টি পানি আনতে গিয়েছেন। ঠিক এমন সময় আনসারী এসে উপস্থিত হলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীদ্বয়কে দেখে বললেনঃ আলহাম্দুলিল্লাহ! আজকের দিন আমার মতো সম্মানিত মেহমানের সৌভাগ্য লাভকারী আর কেউই নেই।

বর্ণনাকারী (রাবী) বলেন, এ কথা বলেই তিনি বাগানে চলে গেলেন এবং মেহমানদের জন্য এমন একটি খেজুরের ছড়া নিয়ে আসলেন, যার মধ্যে পাকা, শুকনা ও কাঁচা হরেক রকমের খেজুর ছিল। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন : অনুগ্রহ করে আপনারা এটা হতে খেতে থাকুন এবং তিনি একখানা ছুরি হাতে নিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ সাবধান! দুধওয়ালা বকরী যাবাহ করবে না। অবশেষে তিনি তাদের জন্য একটি বকরী যাবাহ করলেন। তাঁরা বকরীর মাংস ও খেজুরের ছড়া হতে খেলেন এবং পানি পান করলেন। যখন তাঁরা খাদ্য ও পানীয় দ্বারা পরিতৃপ্ত হলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর ও ’উমার -কে লক্ষ্য করে বললেনঃ সে মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা এ সমস্ত নি’আমাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। ক্ষুধা তোমাদেরকে নিজ নিজ ঘর হতে বের করেছিল, অতঃপর গৃহে ফিরে যাওয়ার পূর্বেই তোমরা এ সমস্ত নি’আমাত লাভ করলে। (মুসলিম;[1] আবূ মাস্’ঊদ -এর হাদীস كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْاَنْصَارِ ওয়ালীমাহ্’র অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।)

بَابُ الضِّيَافَةِ

وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْم وَلَيْلَة فَإِذَا هُوَ بِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَالَ: «مَا أَخْرَجَكُمَا مِنْ بُيُوتِكُمَا هَذِهِ السَّاعَةَ؟» قَالَا: الْجُوعُ قَالَ: «وَأَنَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَخْرَجَنِي الَّذِي أَخْرَجَكُمَا قُومُوا» فَقَامُوا مَعَهُ فَأَتَى رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَإِذَا هُوَ لَيْسَ فِي بَيْتِهِ فَلَمَّا رَأَتْهُ المرأةُ قَالَت: مرْحَبًا وَأهلا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيْنَ فُلَانٌ؟» قَالَتْ: ذَهَبَ يَسْتَعْذِبُ لَنَا مِنَ الْمَاءِ إِذْ جَاءَ الْأَنْصَارِيُّ فَنَظَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَاحِبَيْهِ ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ مَا أَحَدٌ الْيَوْمَ أكرمَ أضيافاً مني قَالَ: فانطَلَق فَجَاءَهُمْ بِعِذْقٍ فِيهِ بُسْرٌ وَتَمْرٌ وَرُطَبٌ فَقَالَ: كُلُوا مِنْ هَذِهِ وَأَخَذَ الْمُدْيَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكَ وَالْحَلُوبَ» فَذَبَحَ لَهُمْ فَأَكَلُوا مِنَ الشَّاةِ وَمِنْ ذَلِكَ الْعِذْقِ وَشَرِبُوا فَلَمَّا أَنْ شَبِعُوا وَرَوُوا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُسْأَلُنَّ عَنْ هَذَا النَّعِيمِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُيُوتِكُمُ الْجُوعُ ثُمَّ لَمْ تَرْجِعُوا حَتَّى أَصَابَكُمْ هَذَا النعيمُ» . رَوَاهُ مُسلم. وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي مَسْعُودٍ: كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَار فِي «بَاب الْوَلِيمَة»

وعن ابي هريرة قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم وليلة فاذا هو بابي بكر وعمر فقال: «ما اخرجكما من بيوتكما هذه الساعة؟» قالا: الجوع قال: «وانا والذي نفسي بيده لاخرجني الذي اخرجكما قوموا» فقاموا معه فاتى رجلا من الانصار فاذا هو ليس في بيته فلما راته المراة قالت: مرحبا واهلا فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اين فلان؟» قالت: ذهب يستعذب لنا من الماء اذ جاء الانصاري فنظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وصاحبيه ثم قال: الحمد لله ما احد اليوم اكرم اضيافا مني قال: فانطلق فجاءهم بعذق فيه بسر وتمر ورطب فقال: كلوا من هذه واخذ المدية فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اياك والحلوب» فذبح لهم فاكلوا من الشاة ومن ذلك العذق وشربوا فلما ان شبعوا ورووا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابي بكر وعمر: «والذي نفسي بيده لتسالن عن هذا النعيم يوم القيامة اخرجكم من بيوتكم الجوع ثم لم ترجعوا حتى اصابكم هذا النعيم» . رواه مسلم. وذكر حديث ابي مسعود: كان رجل من الانصار في «باب الوليمة»

ব্যাখ্যাঃ (الْحَمْدُ لِلّٰهِ مَا أَحَدٌ الْيَوْمَ أكرمَ أضيافًا مني) এখানে অনেক শিক্ষা রয়েছে। তন্মধ্যে একটি শিক্ষা : প্রকাশ্য কোন নি‘আমাত অর্জিত হলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করা মুস্তাহাব।

আরেকটি শিক্ষা হলো সুসংবাদ প্রকাশ করা মুস্তাহাব, মেহমান আসার ফলে তার সামনে খুশি হওয়া ও মহান আল্লাহর প্রশংসা করাও মুস্তাহাব। মেহমানের ফিতনার ব্যাপারে ভয় না থাকলে তার সামনেই প্রশংসা করা যায়। আর ভয় থাকলে সামনে প্রশংসা করা যাবে না।

আরো একটি শিক্ষা হলো হাদীসে আনসারী সাহাবী (রাঃ)-এর মর্যাদা, তার ভাষার প্রতি দক্ষতা ও তার বিরাট পরিচিতি পাওয়া যায়, কারণ সে অল্প কথায় অনেক কিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৩৮)

(فانطَلَق فَجَاءَهُمْ بِعِذْقٍ فِيهِ بُسْرٌ وَتَمْرٌ وَرُطَبٌ فَقَالَ: كُلُوا مِنْ هٰذِه) এখানে عِذْقٍ শব্দের অর্থ খেজুরের কাঁদি (থোকা)। খেজুরের কাঁদি আনার কারণ হলো মেহমানরা যেন ইচ্ছামত খেতে পারে।

এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হলো : মেহমানকে রুটি, গোশত ইত্যাদি খাবারের পূর্বে ফল খেতে দেয়া মুস্তাহাব। মেহমানের জন্য সহজ জিনিস দিয়ে শুরু করা মুস্তাহাব। এরপর তার জন্য যে খাবার তৈরি করা হয়েছে তা দিয়ে তাকে সম্মান করা। বিশেষ করে যখন বুঝবে এখন তার খাওয়ার দরকার তখন খাবার উপস্থাপন করবে। প্রয়োজনের কারণে সে কখনও খুব তাড়াহুড়া করে, আবার কখনও দ্রুত ফিরে যওয়ার কারণে তার জন্য যা তৈরি করা হচ্ছে তার জন্য অপেক্ষা করা কঠিন হয়। সালাফদের একটি দল মেহমানকে কষ্ট দেয়াকে অপছন্দ করেছেন। আর তা হলো এভাবে যে, বাহ্যিকভাবে বাড়ীর মালিকের যে কষ্ট হয়, কারণ সেটা মেহমানের প্রতি পূর্ণ আনন্দ ও ইখলাস থেকে বাধা দেয়। আবার কখনও সে এমন কিছু প্রকাশ করে যা মেহমানকে কষ্ট দেয়। সে এমন কিছু উপস্থিত করে যাতে মেহমান তার অবস্থা বুঝতে পারে যে, সে তার জন্য কষ্টে পড়ছে। সে তাকে ব্যস্ততায় ফেলেছে সে জন্য তার সাথে সে সহানুভূতি দেখাতে পারছে না। আর এ সকল কাজই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার বিরোধী তা হলো :

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَه কেননা তার সাথে পূর্ণ সম্মান দেখানো হচ্ছে না, তার আগমনে আনন্দ প্রকাশ করা হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আনসার সাহাবী সে তার ছাগল যাবাহ করে দিল। এতে তার কোন কষ্ট হয়নি। বরং সে সব ছাগল যাবাহ করতে পারলে এমনকি তার সব মাল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ও তাঁর দুই সঙ্গীর -এর জন্য খরচ করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করত। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৭-[৫] মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, কোন মুসলিম কোন কওমের মেহমান হয়, আর সেই মেহমানের ভোর বঞ্চিত অবস্থায় হয়, তখন প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হয়ে যায় তার সাহায্য করা। যাতে সে মেজবান ব্যক্তির মাল-সম্পদ হতে আতিথ্য পরিমাণ উসুল করে নিতে পারে। (দারিমী ও আবূ দাঊদ)[1]আবূ দাঊদ-এর অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, সে আতিথ্য পরিমাণ তাদের সম্পদ হতে নিতে পারবে।

عَن المقدامِ بن معدي كرب سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ ضَافَ قَوْمًا فَأَصْبَحَ الضَّيْفُ مَحْرُومًا كَانَ حَقًّا عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ نَصْرُهُ حَتَّى يَأْخُذَ لَهُ بِقِرَاهُ مِنْ مَالِهِ وَزَرْعِهِ» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ وَأَبُو دَاوُد
وَفِي رِوَايَة: «وَأَيُّمَا رَجُلٍ ضَافَ قَوْمًا فَلَمْ يُقْرُوهُ كَانَ لَهُ أَن يعقبهم بِمثل قراه»

عن المقدام بن معدي كرب سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «ايما مسلم ضاف قوما فاصبح الضيف محروما كان حقا على كل مسلم نصره حتى ياخذ له بقراه من ماله وزرعه» . رواه الدارمي وابو داود وفي رواية: «وايما رجل ضاف قوما فلم يقروه كان له ان يعقبهم بمثل قراه»

ব্যাখ্যাঃ (مِنْ زَرْعِه وَمَالِه) ইমাম হাফিয খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা হতে পারে ঐ নিরুপায় ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে খাওয়ার জন্য কোন কিছু পায় না। আর ক্ষুধার কারণে নিজের জীবন ধ্বংসের ভয় করে, সে ক্ষেত্রে সে নিয়ে নিবে। সে আতিথ্য পরিমাণ নিয়ে নিলে তার কারণীয় কী সে বিষয়ে লোকেদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, সে (মেজবানকে) তার মূল্য পরিশোধ করে দিবে। এটি শাফি‘ঈ মতাবলম্বীদের মত।

অন্যরা বলেন, মূল্য পরিশোধ করা তার জন্য জরুরী নয়। হাদীস বিশারদগণের একদল এ কথার দিকে গিয়েছেন। তাদের দলীল হল- আবূ বকর (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এক রাখালকে দিয়ে দুধ দোহন করে নিয়ে আসেন, সে সময় ছাগলের আসল মালিক সেখানে উপস্থিত ছিল না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দুধ পান করেছিলেন। আর এ ঘটনা ঘটেছিল মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময়। তারা আরো একটি হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বাগানে প্রবেশ করে, সে যেন সেখান থেকে খায় তবে পোটলা করে না নিয়ে যায়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৪৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ মিকদাম (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৮-[৬] আবুল আহওয়াস আল জুশামী তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? আমি যদি কোন ব্যক্তির কাছে গিয়ে উঠি এবং সে আমার আতিথ্য করল না ও মেহমানদারী করল না। অতঃপর সে কোন সময় আমার কাছে উঠল, তখন কি আমি তার মেহমানদারী করব, নাকি প্রতিশোধ গ্রহণ করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ স্বয়ং তুমি তার মেহমানদারি করো। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ الْجُشَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ مَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمْ يُقِرْنِي وَلَمْ يُضِفْنِي ثُمَّ مَرَّ بِي بَعْدَ ذَلِكَ أَأَقْرِيهِ أَمْ أَجْزِيهِ؟ قَالَ: «بل اقره» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي الاحوص الجشمي عن ابيه قال: قلت: يا رسول الله ارايت ان مررت برجل فلم يقرني ولم يضفني ثم مر بي بعد ذلك ااقريه ام اجزيه؟ قال: «بل اقره» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (أَقْرِه) ‘‘তুমি তার মেহমানদারী কর’’ এখানে এমন মেহমানদারীর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে যা, উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো খারাপের বিনিময় ভালো দিয়ে দেয়া যেটা মহান আল্লাহর বাণী ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ‘‘মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা’’। (সূরাহ্ ফুস্সিলাত ৪১ : ৩৪)

فَلْيُرَ عَلَيْكَ তোমার ওপর যেন তা দেখা যায়, অর্থাৎ- তুমি ভালো কাপড় পরবে যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে, তুমি একজন অভাবমুক্ত লোক, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে বিভিন্ন নি‘আমাত দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন। ‘‘শারহুস্ সুন্নাহ্’’-এর লেখক বলেন, তবে এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে না। (তুফফাতুল আহওয়াবী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০০৬; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুল আহওয়াস (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৪৯-[৭] আনাস (রাঃ) অথবা অন্য কেউ বর্ণনা করেন। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ -এর নিকট (গৃহে প্রবেশের) অনুমতি চেয়ে ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ বললেন। উত্তরে সা’দ (রাঃ) ’’ওয়া ’আলাইকুমুস্ সালা-মু ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ বললেন। কিন্তু (আস্তে জবাব দিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শুনালেন না। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার সালাম করলেন এবং সা’দ (রাঃ)-ও তিনবার জবাব দিলেন। কিন্তু (একবারও) তাঁকে সালামের জবাব শুনালেন না, ফলে (সালামের জবাব না পাওয়ায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলেন।

তখন সা’দ (রাঃ) তাঁর পশ্চাতে ছুটে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান হোক, আপনি যতবারই সালাম করেছেন, আমার উভয় কান তা শুনেছে, আর আমি তার জবাবও সাথে সাথে দিয়েছি; কিন্তু আমি (স্বেচ্ছায়) তা আপনাকে শুনাইনি আমার ইচ্ছা ছিল। আপনার সালাম ও বারাকাত (-এর দু’আ) বেশি বেশি লাভ করার। অতঃপর সকলেই গৃহে প্রবেশ করলেন এবং সা’দ (রাঃ) তাঁর সম্মুখে কিশমিশ পেশ করলেন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেলেন। খাওয়া শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের খাদ্য হতে নেক্কার লোকেরা আহার করুক, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করুক এবং সায়িম (রোযাদারগণ) তোমাদের কাছে ইফতার করুক। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَوْ غَيْرِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَأْذَنَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ» فَقَالَ سَعْدٌ: وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَلَمْ يُسْمِعِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى سَلَّمَ ثَلَاثًا وَرَدَّ عَلَيْهِ سَعْدٌ ثَلَاثًا وَلَمْ يُسْمِعْهُ فَرَجَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتَّبَعَهُ سَعْدٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا سَلَّمْتَ تَسْلِيمَةً إِلَّا هِيَ بِأُذُنِي: وَلَقَدْ رَدَدْتُ عَلَيْكَ وَلَمْ أُسْمِعْكَ أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْتَكْثِرَ مِنْ سَلَامِكَ وَمِنَ الْبَرَكَةِ ثُمَّ دَخَلُوا الْبَيْتَ فَقَرَّبَ لَهُ زَبِيبًا فَأَكَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: «أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ»

وعن انس او غيره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم استاذن على سعد بن عبادة فقال: «السلام عليكم ورحمة الله» فقال سعد: وعليكم السلام ورحمة الله ولم يسمع النبي صلى الله عليه وسلم حتى سلم ثلاثا ورد عليه سعد ثلاثا ولم يسمعه فرجع النبي صلى الله عليه وسلم فاتبعه سعد فقال: يا رسول الله بابي انت وامي ما سلمت تسليمة الا هي باذني: ولقد رددت عليك ولم اسمعك احببت ان استكثر من سلامك ومن البركة ثم دخلوا البيت فقرب له زبيبا فاكل نبي الله صلى الله عليه وسلم فلما فرغ قال: «اكل طعامكم الابرار وصلت عليكم الملاىكة وافطر عندكم الصاىمون» . رواه في «شرح السنة»

ব্যাখ্যাঃ (أَنْ أَسْتَكْثِرَ مِنْ سَلَامِكَ وَمِنَ الْبَرَكَةِ) ‘‘আপনার সালাম ও বারাকাত বেশি বেশি লাভ করার ইচ্ছা করেছি’’ অর্থাৎ আপনার সালাম ও আপনার কথা। বলা হয়ে থাকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম দেয়ার পর ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’-ও মিলাতেন। এখান থেকে তাই স্পষ্ট হয়।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)বলেনঃ এখানে শিক্ষণীয় দিক হলো, এ রকম (বারাকাতের) উদ্দেশ্য থাকলে সালামের উত্তর না শুনিয়ে বলাও মুস্তাহাব। তবে এ কথায়ও প্রশ্ন থেকে যায়। তা হলো, সালামের জবাব না শুনিয়ে দেয়ার মাধ্যমে ওয়াজিব আদায় হয় না। এর জওয়াব এই যে, হয়ত বা সা‘দ (রাঃ) যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছু নিয়েছিলেন তখন তার সালামের জওয়াব দিয়েছিলেন শুনিয়ে।

(أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ) ‘‘তোমাদের খাদ্য হতে নেককার লোকেরা আহার করেছে’’।

মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটি হতে পারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আ। আবার হতে পারে সংবাদ। আর আবরার এই গুণাবলীটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে। কারণ তিনিই তো সর্বোত্তম নেককার।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ এটা বললে সেটি হবে দু‘আ। কারণ, কেউ নিজেকে সৎলোক বলে পরিচয় করালে তা জায়িয হবে না। ‘আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখনিঃসৃত বাণী- আবরার (নেকলোকগণ) দ্বারা সম্ভবত সম্মান-মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে নিজের শানে ব্যবহার করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً

‘‘নিশ্চয় ইব্রাহীম একাই এক উম্মাত ছিল’’- (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১২০)।

এখানে ইব্রাহীম (আ.)-এর শানে যেমন বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে তেমনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের শানে আবরার বহুবচন ব্যবহার করেছেন। ‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এরূপ সম্ভাবনা আছে।

(وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ) ‘‘সিয়াম পালনকারীগণ তোমাদের নিকট ইফতার করুক’’।

এখান থেকে বুঝা যায়, এটি শুধুই দু‘আ, কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায়ের নিকট ইফতার করতেন তখন তাদের জন্য দু‘আ করতেন। এটাও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো বাড়ীতে ইফতার করে তাদের জন্য এ দু‘আটি করতেন। মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫০-[৮] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি ও ঈমানের দৃষ্টান্ত হলো খুঁটিতে বাঁধা ঘোড়ার ন্যায়। তা চক্কর কাটতে থাকে। অবশেষে খুঁটির দিকে ফিরে আসে। অনুরূপভাবে কোন মু’মিন (কখনো কখনো) ভুল-ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়, আবার ঈমানের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। অতএব তোমাদের খানা-খাদ্য (খাদ্যবস্তু) পরহেজগার লোকেদেরকে খাওয়াও এবং তোমাদের দান-খয়রাত ঈমানদারদেরকে প্রদান করো। (বায়হাকবী- শু’আবুল ঈমান এবং আবূ নু’আয়ম হিলয়াহ্ গ্রন্থে)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ وَمَثَلُ الْإِيمَانِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي آخِيَّتِهِ يَجُولُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى آخِيَّتِهِ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَسْهُو ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى الْإِيمَانِ فَأَطْعِمُوا طَعَامَكُمُ الْأَتْقِيَاءَ وَأَوْلُوا مَعْرُوفَكُمُ الْمُؤْمِنِينَ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية»

وعن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مثل المومن ومثل الايمان كمثل الفرس في اخيته يجول ثم يرجع الى اخيته وان المومن يسهو ثم يرجع الى الايمان فاطعموا طعامكم الاتقياء واولوا معروفكم المومنين» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» وابو نعيم في «الحلية»

ব্যাখ্যাঃ (ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى آخِيَّتِه) ‘‘অবশেষে উক্ত খুঁটির দিকে ফিরে আসে’’ অর্থাৎ খুঁটিতে বাঁধা জানোয়ার যেমন দড়ির পরিধির মধ্যে ঘুরতে থাকে, অবশেষে খুঁটির গোড়ায় ফিওে আসে, তেমনি কোন ঈমানদার ব্যক্তি যদিও গুনাহে লিপ্ত হয়, পরে অনুশোচনা জাগ্রত হলে তাওবাহ্ করে ইমানের দিকে ফিরে আসে এবং ‘ইবাদাতের যা কিছু হারিয়েছে তা পূরণ কর নেয়।

(أَطْعِمُوا طَعَامَكُمُ الْأَتْقِيَاءَ) ‘‘তোমাদের খাদ্য পরহেজগার লোকেদের খাওয়াও’’ এখানে পরহেজগার লোকেদেরকে খাস বা নির্দিষ্ট করার কারণ হলো খাদ্য শরীরের অংশ হয়ে শরীরকে শক্তিশালী করে ফলে ‘ইবাদাতে মনোযোগী হয়ে সে (পরহেজগার ব্যক্তি) তোমার জন্য দু‘আ করবে। আর তোমার ব্যাপারে তার দু‘আ কবুল করা হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫১-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পাত্র ছিল, যা চারজন লোক উঠাত। ওটা গর্রা নামে অভিহিত ছিল। যখন চাশতের সময় হলো এবং (সাহাবায়ে কিরাম) চাশতের সালাত আদায় করলেন, তখন পাত্রটি আনা হলো এবং তাতে সারীদ প্রস্তুত করা হল। সাহাবীগণ সমবেতভাবে তার চতুষ্পার্শ্বে খেতে বসেন। লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পা গুটিয়ে বসলেন। এক বেদুঈন বলে উঠল, এটা কেমন ধরনের বসা? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা আমাকে বিনয়ী দাস বানিয়েছেন, তিনি আমাকে অহংকারী, নাফরমান বানাননি। অতঃপর লোকেদেরকে বললেনঃ তোমরা প্রত্যেকে ওর পার্শ্ব হতে খাও, মধ্যস্থল ছেড়ে রাখ। কেননা সেখানে বারাকাত প্রদত্ত হয়। (আবূ দাঊদ)[1]

عَن عبد الله بنِ بُسر قَالَ: كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَصْعَةٌ يَحْمِلُهَا أَرْبَعَةُ رِجَالٍ يُقَالُ لَهَا: الْغَرَّاءُ فَلَمَّا أَضْحَوْا وَسَجَدُوا الضُّحَى أُتِيَ بِتِلْكَ الْقَصْعَةِ وَقَدْ ثُرِدَ فِيهَا فَالْتَفُّوا عَلَيْهَا فَلَمَّا كَثُرُوا جَثَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ: مَا هَذِهِ الْجِلْسَةُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ جَعَلَنِي عَبْدًا كَرِيمًا وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا عَنِيدًا» ثُمَّ قَالَ: «كُلُوا مِنْ جَوَانِبِهَا وَدَعُوا ذِرْوَتَهَا يُبَارَكْ فِيهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن عبد الله بن بسر قال: كان للنبي صلى الله عليه وسلم قصعة يحملها اربعة رجال يقال لها: الغراء فلما اضحوا وسجدوا الضحى اتي بتلك القصعة وقد ثرد فيها فالتفوا عليها فلما كثروا جثا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اعرابي: ما هذه الجلسة؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ان الله جعلني عبدا كريما ولم يجعلني جبارا عنيدا» ثم قال: «كلوا من جوانبها ودعوا ذروتها يبارك فيها» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (جَثَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অর্থাৎ জায়গা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের জন্য জায়গা প্রশস্ত করার মানসে তাঁর পা গুটিয়ে নিলেন। কুমূস অভিধানে বলা হয়েছে, جَثَا ‘জাসা-’ অর্থ তিনি তার দু’ হাঁটুর উপর ভর করে বসলেন।

(جَعَلَنِي عَبْدًا كَرِيمًا) ‘‘আল্লাহ আমাকে বিনয়ী দাস বানিয়েছেন’’ অর্থাৎ, এ রকম বসা বিনয়ের বসচেয়ে নিকটতম। আর আমি একজন দাস। দাসের জন্য বিনয়ী হওয়াটাই শোভনীয়। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা বিনয়ী বসা এতে কোন নীচুতা নেই। এ কারণেই তিনি দাসের গুণ বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন, কারীম তথা বিনয়ী। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬৯; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫২-[১০] ওয়াহশী ইবনু হারব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা খানা-পিনা করি বটে, কিন্তু আমরা পরিতৃপ্ত হই না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সম্ভবতঃ তোমরা পৃথক পৃথকভাবে খাবার খাও। তাঁরা বললেনঃ জ্বী হ্যাঁ! অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সমবেতভাবে খাবার খাবে এবং আল্লাহর নাম নেবে। এতে তোমাদের খাবারের মধ্যে বারাকাত আসবে। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ وَحْشِيِّ بْنِ حَرْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ: إِنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْكُلُ وَلَا نَشْبَعُ قَالَ: «فَلَعَلَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ؟» قَالُوا: نَعَمْ قَالَ: «فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ يُباركْ لكم فِيهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن وحشي بن حرب عن ابيه عن جده: ان اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا: يا رسول الله انا ناكل ولا نشبع قال: «فلعلكم تفترقون؟» قالوا: نعم قال: «فاجتمعوا على طعامكم واذكروا اسم الله يبارك لكم فيه» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (وَلَا نَشْبَعُ) ‘‘আমরা পরিতৃপ্ত হই না’’ অর্থাৎ আমরা চাই অল্পে তুষ্ট হতে এবং আনুগত্যের জন্য শক্তি লাভ করতে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(تَفْتَرِقُونَ) ‘‘তোমরা পৃথক পৃথক খাবার খাও’’ অর্থাৎ তোমাদের পরিবারের প্রতি সদস্য পৃথক পৃথক হয়ে খাবার খাও। একত্রে বসে খাবার খাও না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭৬০; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অত্র হাদীস এবং আরো কিছু হাদীস আছে যেগুলো থেকে একত্রে বসে এক পেস্নটে খাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে আলাদা হয়ে বসে খাওয়ারও প্রমাণ আছে।

মহান আল্লাহ বলেন,

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا ‘‘...তোমরা এক সাথে খাও বা পৃথক পৃথক খাও তাতে কোন সমস্যা নেই...।’’ (সূরাহ্ আন্ নূর ২৪ : ৬১)

এক সাথে খাওয়া উত্তম তবে আলাদা হয়ে খেলেও তাতে গুনাহ হবে না। আমাদের দেশে কতিপয় মাদ্রাসার পরিচালক আছেন যারা সকলকে একত্রে, এক থালায় কয়েকজনকে খেতে বাধ্য করেন। জানি না তারা বাসায়ও নিজের পরিবারের সাথে এক থালায় খাবার খান কিনা। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বোঝার তাওফীক দান করুন। আমীন। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৩-[১১] আবূ ’আসীব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে আমাকে ডাকলেন। আমি বের হয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁর নিকট আসলাম। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট গমন করলেন, তাঁকেও ডাকলেন এবং তিনি বের হয়ে আসলেন। পরে ’উমার (রাঃ)-এর নিকট গমন করলেন এবং তাঁকেও ডাকলেন। তিনিও বের হয়ে আসলেন। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে) চললেন। অবশেষে জনৈক আনসারীর বাগানের মধ্যে প্রবেশ করলেন এবং বাগানের মালিককে বললেন, আমাদেরকে তাজা পাকা খেজুর খাওয়াও। অমনি সে খেজুরের একটি ছড়া এনে রাখল। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীরা তা খেলেন। অতঃপর তিনি ঠাণ্ডা পানি চেয়ে আনালেন এবং পান করলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয় কিয়ামতের দিন এ সমস্ত নি’আমাত সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

বর্ণনাকারী বলেনঃ (এ কথা শুনে) ’উমার(রাঃ) খেজুরের ছড়াটি নিয়ে জমিনের উপর আঘাত করলেন, এতে খেজুরগুলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে বিক্ষিপ্তভাবে ছিটিয়ে পড়ল, অতঃপর বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, তিনটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। যথা- ১. কাপড়ের সে টুকরাটি যার দ্বারা মানুষ তার লজ্জাস্থান আবৃত করে, ২. অথবা রুটির সে খণ্ডটি যার দ্বারা সে তার ক্ষুধা নিবারণ করে, ৩. এবং ঐ ছোট্ট ঘরখানা যাতে অবস্থান করে গ্রীষ্ম ও শীত হতে আত্মরক্ষা করে। (আহমাদ ও বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান, মুরসাল সূত্রে)[1]

عَنْ أَبِي عَسِيبٍ
قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلًا فَمَرَّ بِي فَدَعَانِي فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ ثُمَّ مَرَّ بِأَبِي بَكْرٍ فَدَعَاهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِ ثُمَّ مَرَّ بِعُمَرَ فَدَعَاهُ فَخَرَجَ إِلَيْهِ فَانْطَلَقَ حَتَّى دَخَلَ حَائِطًا لِبَعْضِ الْأَنْصَارِ فَقَالَ لِصَاحِبِ الْحَائِطِ: «أَطْعِمْنَا بُسْرًا» فَجَاءَ بِعِذْقٍ فَوَضَعَهُ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ بَارِدٍ فَشَرِبَ فَقَالَ: «لَتُسْأَلُنَّ عَنْ هَذَا النَّعِيمِ يَوْمَ القيامةِ» قَالَ: فَأخذ عمر العذق فَضرب فِيهِ الْأَرْضَ حَتَّى تَنَاثَرَ الْبُسْرُ قَبْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُول الله إِنَّا لمسؤولونَ عَنْ هَذَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: «نَعَمْ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ خِرْقَةٍ لَفَّ بِهَا الرَّجُلُ عَوْرَتَهُ أَوْ كِسْرَةٍ سَدَّ بِهَا جَوْعَتَهُ أَوْ حُجْرٍ يتدخَّلُ فِيهِ مَنِ الْحَرِّ وَالْقُرِّ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان» . مُرْسلا

عن ابي عسيب قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلا فمر بي فدعاني فخرجت اليه ثم مر بابي بكر فدعاه فخرج اليه ثم مر بعمر فدعاه فخرج اليه فانطلق حتى دخل حاىطا لبعض الانصار فقال لصاحب الحاىط: «اطعمنا بسرا» فجاء بعذق فوضعه فاكل رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه ثم دعا بماء بارد فشرب فقال: «لتسالن عن هذا النعيم يوم القيامة» قال: فاخذ عمر العذق فضرب فيه الارض حتى تناثر البسر قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: يا رسول الله انا لمسوولون عن هذا يوم القيامة؟ قال: «نعم الا من ثلاث خرقة لف بها الرجل عورته او كسرة سد بها جوعته او حجر يتدخل فيه من الحر والقر» . رواه احمد والبيهقي في «شعب الايمان» . مرسلا

ব্যাখ্যাঃ لَتُسْأَلُنَّ عَنْ هٰذَا النَّعِيمِ يَوْمَ القيامةِ ‘‘নিশ্চয় কিয়ামতের দিন এ সমস্ত নি‘আমাত সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে’’-এর মধ্যে সাধারণের প্রতি সম্বোধনের দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহর নবী রসূলগণ এ সম্পর্কে জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান। এগুলো ছাড়া একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারে না। তাই ইসলামী শারী‘আত এগুলোকে মূল্যায়ন করেছে এবং এগুলোর কারণে কাউকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা হবে না বলে উল্লেখিত হাদীসটি প্রমাণ বহন করে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অপচয় থেকে বিরত থাকা জরুরী। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ‘আসীব (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৪-[১২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন দস্তরখান বিছানো হয়, তখন তা তুলে নেয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তিই যেন বসার স্থান হতে উঠে না যায়। আর লোকজনের খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে যেন নিজ হাতকে গুটিয়ে না নেয়, যদিও সে পরিতৃপ্ত হয়ে থাকে। আর যেন কোন ওজর পেশ করে (উঠে) যায়। কেননা এটা সঙ্গীকে লজ্জিত করবে, ফলে সেও নিজের হাতখানা গুটিয়ে ফেলবে। অথচ তার আরো খাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী’র ’’শু’আবুল ঈমান’’)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَتِ الْمَائِدَةُ فَلَا يَقُومُ رَجُلٌ حَتَّى تُرْفَعَ الْمَائِدَةُ وَلَا يَرْفَعْ يَدَهُ وَإِنْ شَبِعَ حَتَّى يَفْرُغَ الْقَوْمُ وَلْيُعْذِرْ فَإِنَّ ذَلِكَ يُخْجِلُ جَلِيسَهُ فَيَقْبِضُ يَدَهُ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ لَهُ فِي الطَّعَامِ حَاجَةٌ» رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وضعت الماىدة فلا يقوم رجل حتى ترفع الماىدة ولا يرفع يده وان شبع حتى يفرغ القوم وليعذر فان ذلك يخجل جليسه فيقبض يده وعسى ان يكون له في الطعام حاجة» رواه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যাঃ (وَعَسٰى أَنْ يَكُونَ لَهٗ فِي الطَّعَامِ حَاجَةٌ) ‘‘অথচ তার আরো খাওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে’’। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কোন ওজর না দেখিয়ে খাওয়া হতে বিরত থাকলে তার সঙ্গীর লজ্জাবোধ হবে। আর কোন ওজর দেখিয়ে খাওয়া হতে বিরত থাকলে তখন আর সঙ্গীর লজ্জাবোধ হবে না।

ইমাম আবূ হামিদ গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যদি খাদ্যের পরিমাণ কম হয়, তখন খাওয়ার শুরুতে নিজে কিছু সময় খাওয়া হতে বিরত থাকবে, যেন তার সঙ্গী এ সময়ের মধ্যে কিছু খাদ্য গ্রহণ করে নিতে পারে। আর যদি কোন কারণে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় তবে সঙ্গীদের নিকট ওযর পেশ করতে হবে যাতে তারা লজ্জাবোধ না করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৫-[১৩] জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকজনের সঙ্গে খেতে বসতেন, তখন সকলের শেষে খাওয়া হলে অবসর হতেন। (বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান, মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ مَعَ قَوْمٍ كَانَ آخِرَهُمْ أَكْلًا. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان» مُرْسلا

وعن جعفر بن محمد عن ابيه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اكل مع قوم كان اخرهم اكلا. رواه البيهقي في «شعب الايمان» مرسلا

ব্যাখ্যাঃ (كَانَ آخِرَهُمْ أَكْلًا) ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার পরে খাবার শেষ করতেন’ হাদীসটির অর্থ এ নয় যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব বেশি পরিমাণ খাবার খেতেন সেজন্য সকলের শেষে খাওয়া হতে অবসর হতেন, বরং সঙ্গীদের খাবার শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি বসে থাকতেন। যখন সকলের খাওয়া শেষ হতো তখন তিনিও খাদ্যাসন ত্যাগ করতেন। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৬-[১৪] আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে খাবার আনা হলো, পরে আমাদের সামনেও উপস্থিত করা হলো। তখন আমরা বললামঃ আমাদের খাওয়ার চাহিদা নেই। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ক্ষুধা এবং মিথ্যা উভয়কে একত্রিত করো না। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن أَسمَاء بنتِ يزِيد قَالَتْ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِطَعَامٍ فَعَرَضَ عَلَيْنَا فَقُلْنَا: لَا نَشْتَهِيهِ. قَالَ: «لَا تَجْتَمِعْنَ جُوعًا وَكَذِبًا» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

وعن اسماء بنت يزيد قالت: اتي النبي صلى الله عليه وسلم بطعام فعرض علينا فقلنا: لا نشتهيه. قال: «لا تجتمعن جوعا وكذبا» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ لَا تَجْتَمِعْنَ جُوعًا وَكَذِبًا ‘‘ক্ষুধা ও মিথ্যা একত্র হতে পারে না।’’ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ তোমরা খাবার খেতে অস্বীকার করে বলছো, আমাদের খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অথচ তোমরা ক্ষুধার্ত। এ কথার মাধ্যমে তোমরা মিথ্যা ও ক্ষুধাকে একত্রিত করে ফেললে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

সম্ভবত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চেহারা দেখে অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, তারা ক্ষুধার্ত। অতঃপর আমাদের খাওয়ার চাহিদা নেই- এ কথা বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ক্ষুধা ও মিথ্যাকে একত্রিত করলে। কারণ খাওয়ার চাহিদাই যে ক্ষুধা। আমাদের সমাজেও এ রকম অনেক মানুষ আছে যাদের খাওয়ার চাহিদা থাকে কিন্তু প্লেটে কিছু খাওয়ার রেখে দেয় লৌকিকতাবশতঃ। এ স্বভাবটি পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৭-[১৫] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একত্রে খাবার খাও, পৃথক পৃথক খেয়ো না। কেননা জামা’আতের সাথে খাওয়ার মধ্যে বারাকাত হয়ে থাকে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُوا جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا فَإِنَّ الْبَرَكَةَ معَ الجماعةِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

وعن عمر بن الخطاب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كلوا جميعا ولا تفرقوا فان البركة مع الجماعة» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ হাদীসটি হতে বুঝা যায়, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানাদি পৃথক পৃথক না খেয়ে একত্রে বসে খাওয়াটা জরুরী। এতে বারাকাত হয়। যদি খাবার একটু কম হয় তবুও সবাই খেতে পারে আবার কখনও যদি খাবার একটু বেশি তৈরি হয় তবুও তা সবাই মিলে শেষ করতে পারে, খাবার নষ্ট হয় না। বর্তমানে অনুষ্ঠানের নামে বেগানা নারী-পুরুষ মিলে একত্রে বসে খাওয়ার যে প্রচলন শুরু হয়েছে তা হারাম। এ থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৮-[১৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির মেহমানের সঙ্গে (বিদায়কালে) বাড়ির দরজা পর্যন্ত বের হওয়া সুন্নাতের অন্তরভুক্ত। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنَ السَّنَةِ أَنْ يَخْرُجَ الرَّجُلُ مَعَ ضَيْفِهِ إِلَى بَابِ الدَّارِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من السنة ان يخرج الرجل مع ضيفه الى باب الدار» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ এতে বাহ্যিকভাবে মেহমানকে বেশী সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এতে আরো একটি হিকমাত রয়েছে, তা হলো তার প্রতিবেশী যেন এটা মনে করতে না পারে যে, তার বাড়ীতে অপরিচিত (বেগানা) কোন পুরুষ প্রবেশ করেছিল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

এ হাদীসটিকে যদি সমাজের মানুষ মূল্যায়ন করে তবে সমাজ থেকে বহু অংশে যিনা-ব্যভিচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ কমে যাবে। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৫৯-[১৭] বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমানে আবূ হুরায়রা ও ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন; আর তিনি বলেনঃ এটার সানাদ দুর্বল।[1]

وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» عَنْهُ وَعَنِ ابْن عَبَّاس وَقَالَ: فِي إِسْنَاده ضَعِيف

ورواه البيهقي في «شعب الايمان» عنه وعن ابن عباس وقال: في اسناده ضعيف

হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - অতিথি আপ্যায়ন প্রসঙ্গে

৪২৬০-[১৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে গৃহে মেহমানদারী করা হয়, উটের কুঁজের মাংস কাটার উদ্দেশে ছুরি যত দ্রুত অগ্রসর হয়, সে গৃহে বারাকাত তার চেয়েও দ্রুত প্রবেশ করে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخَيْرُ أَسْرَعُ إِلَى الْبَيْتِ الَّذِي يُؤْكَلُ فِيهِ مِنَ الشَّفْرَةِ إِلَى سنامِ الْبَعِير» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الخير اسرع الى البيت الذي يوكل فيه من الشفرة الى سنام البعير» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কল্যাণ দ্রুত পৌঁছানোর দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে সেই বাড়ির সাথে, যে বাড়ীতে মেহমান আসলে তাকে সম্মান করার জন্য তারা দ্রুত উটের কুঁজ কাটতে যায়। উঠের কুঁজের গোশত তুলনামূলক সুস্বাদু। তাই সর্বাগ্রে তা কাটার আগ্রহ থাকে। অনুরূপভাবে যে বাড়ীতে মেহমানকে সম্মান করা হয় সে বাড়ীতেও দ্রুত কল্যাণ পৌঁছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নিরুপায়ের খাওয়া সম্পর্কে (ব্যক্তির পক্ষ কখন মৃত প্রাণী খাওয়া বৈধ হয়)

৪২৬১-[১] ফুজায়’উল ’আমিরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন : আমাদের পক্ষে মৃত (প্রাণী) খাওয়া কখন হালাল হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : তোমাদের খাদ্য কী পরিমাণ আছে? আমরা বললাম, গাবুক ও সাবূহ। বর্ণনাকারী আবূ নু’আয়ম বলেন, ’উকবাহ্ আমাকে এর ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ (গাবুক) সকালে এক পেয়ালা এবং (সাবূহ) বিকালে এক পেয়ালা দুধ। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমার পিতার কসম! এ খাদ্য তো ক্ষুধারই নামান্তর। ফলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমতাবস্থায় তাদের জন্য মৃত খাওয়ার অনুমতি দিলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

بَابٌ أكْلِ الْمُضْطَرِّ [فِىْ مَتٰى يَكُونُ الْمَرْءُ مُضْطَرًّا لِتَحِلَّ لَهُ الْمَيْتَةُ]

عَن الفجيع العامري أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: مَا يَحِلُّ لَنَا مِنَ الْمِيتَةِ؟ قَالَ: «مَا طعامُكم؟» قُلنا: نَغْتَبِقُ وَنَصْطَبِحُ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: فَسَّرَهُ لِي عُقْبَةُ: قَدَحٌ غُدْوَةً وَقَدَحٌ عَشِيَّةً قَالَ: «ذَاكَ وَأَبِي الْجُوعُ» فَأَحَلَّ لَهُمُ الْمَيْتَةَ عَلَى هَذِهِ الحالِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن الفجيع العامري انه اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما يحل لنا من الميتة؟ قال: «ما طعامكم؟» قلنا: نغتبق ونصطبح قال ابو نعيم: فسره لي عقبة: قدح غدوة وقدح عشية قال: «ذاك وابي الجوع» فاحل لهم الميتة على هذه الحال. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ (فَأَحَلَّ لَهُمُ الْمَيْتَةَ عَلٰى هَذِهِ الحالِ) ‘‘ফলে তিনি এমতাবস্থায় তাদের জন্য মৃত খাওয়ার অনুমতি দিলেন।’’

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ সকাল বেলা এক পেয়ালা দুধ এবং সন্ধ্যা বেলায় এক পেয়ালা দুধ, শ্বাস-প্রশ্বাস বাকী রাখে এবং জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে শরীর খাদ্য পায়নি এবং পূর্ণভাবে তৃপ্ত হয়নি সেই ক্ষেত্রে তাদের জন্য তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যু প্রাণী খাওয়া বৈধ্য ঘোষণা করেছেন। তাই বুঝা গেল যে, মৃত জন্তু খাওয়া বৈধ হওয়ার মাপকাঠি হচ্ছে পরিতৃপ্ত না হওয়া, খাদ্য দ্বারা আত্মা পরিতৃপ্ত না হওয়া। এ মত ব্যক্ত করেছেন ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ), আর ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি উক্তিও হচ্ছে তাই।

‘আল্লামা শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর চূড়ান্ত মত হলো যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধের আশঙ্কা করে অর্থাৎ কোন ধরনের খাবার না পায় সেই ক্ষেত্রে জীবন রক্ষার জন্য মৃত প্রাণী খেতে পারবে। ইমাম মুযানী (রহিমাহুল্লাহ) এ রকম বর্ণনা করেছেন। রাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে সহীহ বলেছেন। এটি ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ)-এরও কথা এবং ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি উক্তিও হচ্ছে তাই। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৮১৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নিরুপায়ের খাওয়া সম্পর্কে (ব্যক্তির পক্ষ কখন মৃত প্রাণী খাওয়া বৈধ হয়)

৪২৬২-[২] আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি বলল : হে আল্লাহর রসূল! আমরা কখনো কখনো এমন এলাকায় পৌঁছি, যেখানে আমরা ভীষণ ক্ষুধায় ব্যাকুল হয়ে পড়ি। এমতাবস্থায় আমাদের পক্ষে কখন মৃত (জানোয়ার) খাওয়া হালাল হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যখন তোমরা সকালে এক পেয়ালা এবং সন্ধ্যায় এক পেয়ালা দুধ না পাও অথবা সে ভূমিতে কোন তরিতরকারীও না পাও, এ অবস্থায় মৃত খেতে পারো। (দারিমী)[1]

بَابٌ أكْلِ الْمُضْطَرِّ [فِىْ مَتٰى يَكُونُ الْمَرْءُ مُضْطَرًّا لِتَحِلَّ لَهُ الْمَيْتَةُ]

وَعَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ أَنْ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَكُونُ بِأَرْضٍ فَتُصِيبُنَا بهَا المخصمة فَمَتَى يحلُّ لنا الميتةُ؟ قَالَ: «مَا لم تصطبحوا وتغتبقوا أَوْ تَحْتَفِئُوا بِهَا بَقْلًا فَشَأْنَكُمْ بِهَا» . مَعْنَاهُ: إِذَا لَمْ تَجِدُوا صَبُوحًا أَوْ غَبُوقًا وَلَمْ تَجِدُوا بَقْلَةً تَأْكُلُونَهَا حَلَّتْ لَكُمُ الْمَيْتَةُ. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

وعن ابي واقد الليثي ان رجلا قال: يا رسول الله انا نكون بارض فتصيبنا بها المخصمة فمتى يحل لنا الميتة؟ قال: «ما لم تصطبحوا وتغتبقوا او تحتفىوا بها بقلا فشانكم بها» . معناه: اذا لم تجدوا صبوحا او غبوقا ولم تجدوا بقلة تاكلونها حلت لكم الميتة. رواه الدارمي

ব্যাখ্যাঃ কারো পক্ষ যদি আত্মার খাদ্য এবং পরিতৃপ্তি লাভের পরিমাণ হালাল খাদ্য না জুটে তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য মৃত জন্ত খাওয়া হালাল।

পূর্বের হাদীসে গোটা পরিবারের সকলের জন্য ছিল এক পেয়ালা দুধ, সুতরাং তা দ্বারা সকলের ক্ষুধা নিবারণ হত না। আর অত্র হাদীসের উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেকের জন্য এক এক পেয়ালা করে দুধ সংগ্রহ হওয়া, সুতরাং এ অবস্থায় তো ক্ষুধা থাকে না। কজেই যখন খাওয়ার মতো কোন খাবারই না পাওয়া যাবে, সে অবস্থায় জীবন বাঁচানোর জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা হালাল বা বৈধ। [সম্পাদক]

‘আল্লামা তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যখন কোন লোক সকাল বেলা এক পেয়ালা দুধ পান করে অথবা অন্য কোন খাবার খায় তাহলে তার জন্য ঐ দিনে মৃত প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। অনুরূপ রাতের বেলা যদি এক পেয়ালা দুধ পান করে অথবা অন্য কোন খাবার খায় তাহলে তার জন্য ঐ রাতে মৃত প্রাণী খাওয়া হালাল নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৩-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। অর্থাৎ- একবারে এক ঢোকে সবটুকু পান করতেন না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

অবশ্য মুসলিম-এর রিওয়ায়াতের মধ্যে বর্ধিত আছে এবং তিনি বলেন, এভাবে পান করা তৃপ্তিদায়ক, স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও লঘুপাক।

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَنَفَّسُ فِي الشَّرَابِ ثَلَاثًا. مُتَّفق عَلَيْهِ. وزادَ مسلمُ فِي روايةٍ ويقولُ: «إِنَّه أرْوَى وأبرَأُ وأمرأ»

عن انس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتنفس في الشراب ثلاثا. متفق عليه. وزاد مسلم في رواية ويقول: «انه اروى وابرا وامرا»

ব্যাখ্যাঃ ইমাম বাগাবী (রহিমাহুল্লাহ) ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’ গ্রন্থে বলেনঃ এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনবারে পানি পান করা। প্রতিবারে পাত্র থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে শ্বাস ফেলে নুতন করে পান শুরু করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের মধ্যে শ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (হাদীসের বর্ণনানুযায়ী) পান করার দ্বারা বেশি তৃষ্ণা নিবারণ হয়ে থাকে এবং খাদ্যের হজম, পরিপাকের উপর ক্ষমতা জাগিয়ে থাকে। পাকস্থলীর ধ্বংস এবং রগ-রেশার দুর্বলতা থেকে সংরক্ষণ হয়ে থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا দু‘বার অথাব তিনবার, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক শ্বাসে পানি পান করা শেষ করতেন না। বরং দুই শ্বাসে পানি পান করে তৃপ্ত হলে তাহলে আর পান করতেন না। আর তৃপ্ত না হলে তৃতীয়বার পান করতেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৪২৬৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৪-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ হতে (মুখ লাগিয়ে) পান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن الشّرْب من قي السقاء

وعن ابن عباس قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الشرب من قي السقاء

ব্যাখ্যাঃ মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ একই সাথে পাকস্থলীতে পানি যেয়ে ক্ষতি সাধন করে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন শ্বাসে পানি পান করতে বলেছেন। যেমনটি পূর্বের হাদীসে বলা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অত্র হাদীসে উপদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। কেননা মশকের বা কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করলে ভিতরে কি আছে তা দেখা যায় না। হয়ত কোন অরুচিকর কিছু তার ভিতরে থাকতে পারে। অথবা সকলে একত্রে চলার সময় কেউ এ কাজ করলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে পানি পান করলে গলায় আটকে মৃত্যুরও সম্ভাবনা থাকে। কাজেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত মেনে চলা উচিত। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৫-[৩] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশক হতে ইখতিনাস করতে নিষেধ করেছেন। অপর এক রিওয়ায়াতের মধ্যে বর্ধিত আছে, ইখতিনাস হলো মশককে উল্টিয়ে ধরে তার মুখ হতে পানি পান করা। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ اخْتِنَاثِ الْأَسْقِيَةِ. زَادَ فِي رِوَايَةٍ: وَاخْتِنَاثُهَا: أَنْ يُقْلَبَ رَأْسُهَا ثُمَّ يُشْرَبَ مِنْهُ

وعن ابي سعيد الخدري قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اختناث الاسقية. زاد في رواية: واختناثها: ان يقلب راسها ثم يشرب منه

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দুর্গন্ধের কারণে এ কাজ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, প্রতিনিয়ত এভাবে পানি পান করলে পাত্রের গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যাবে।

এটাও বলা হয় যে, পানির পাত্রের মুখ প্রশস্ত হওয়ার কারণে পানকারীর ওপর যেন পড়ে না যায় সে জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে পান করতে নিষেধ করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭১৬; তুহফাতুল আহ্ওয়াবী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৯০)

সকল ফকীহ একমত যে, এ নিষেধটি সতর্কতামূলক نَهْيُ تَنْزِيهٍ হারাম নিষেধ নয়। অতঃপর বলা হয়, এ নিষেধের কারণ হলো মশকের মুখে কোন ক্ষতিকর বস্তু থাকতে পারে যা তাকে কষ্ট দিবে, একই সাথে পাকস্থলীতে পানি যেয়ে ক্ষতি সাধন করতে পারে। এও বলা হয় যে, এভাবে পান করলে অন্যের কাছে অরুচিকর হতে পারে। এও বলা হয়েছে যে, এটা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে অথবা এভাবে পান করাটা অরুচিকর। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০২৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৬-[৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى أَنْ يَشْرَبَ الرَّجُلُ قَائِمًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم انه نهى ان يشرب الرجل قاىما. رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৭-[৫] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউই যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। যদি কেউ ভুলবশতঃ এরূপ করে, সে যেন বমি করে ফেলে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَشْرَبَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ قَائِمًا فَمَنْ نَسِيَ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَقِئْ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يشربن احد منكم قاىما فمن نسي منكم فليستقى» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ উক্ত হাদীসের মধ্যে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসের মধ্যে যমযমের পানি এবং ওযূর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ বিরোধের সমাধানে ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দাঁড়িয়ে পান করা নিষেধের হাদীস মাকরূহে তানযীহীর উপর প্রযোজ্য, আর দাঁড়িয়ে পান করা (সম্পর্কিত হাদীস) হচ্ছে জায়িযের উপর প্রযোজ্য।

(فَمَنْ نَسِيَ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَقِئْ) এখানে ভুলে দাঁড়িয়ে পান করলে বমি করে ফেলার নির্দেশ ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পান করল তার ওপর মুস্তাহাব হলো বমি করে ফেলা। দলীল স্বরূপ এ সহীহ হাদীসটি। কেননা হাদীসটি কোন ওযরে ওয়াজিব না হলে মুস্তাহাব হবেই।

কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জ্ঞানীদের মধ্যে কোন ইখতিলাফ (মতভেদ) নেই যে, কোন ব্যক্তি ভুল করে দাঁড়িয়ে পান করলে তাকে বমি করা লাগবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ত কোন ওযরের কারণে দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন। ‘ইকরিমাহ্ (রহঃ) শপথ করে বলেন, সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোহী অবস্থায় ছিলেন। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০২৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৮-[৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি এক বালতি যম্যমে্র পানি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হলাম, তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدَلْوٍ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ

وعن ابن عباس قال: اتيت النبي صلى الله عليه وسلم بدلو من ماء زمزم فشرب وهو قاىم

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ হাদীসটি জায়িযের উপর প্রযোজ্য। যেমনটি ইমাম নাবাবীর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এটারও সম্ভাবনা আছে যে, যমযমের পানি পান করার সময় মানুষের ভিড়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসার মতো জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে পান করেন। এটাও সম্ভাবনা আছে যে, পরবর্তীতে দাঁড়িয়ে পান করার বিধানকে মানসূখ করা হয়েছে।

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি কারও থেকে দাঁড়িয়ে পান করার হাদীসটি শুনলেন, তখন তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছিলাম, পরবর্তীতে তাঁকে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করতেও শুনেছি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৬৯-[৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর জনগণের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ সমাধানের জন্য কূফার (মসজিদের) আঙ্গিনায় বসলেন। এমনকি ’আসর সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তারপর পানি আনা হলো। তিনি তার কিছুটা পান করলেন এবং নিজের হস্তদ্বয় ও মুখ ধুইলেন।বর্ণনাকারী তাঁর মাথা ও পদদ্বয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন (অর্থাৎ- উযূ করলেন)। অতঃপর উঠে দাঁড়ালেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পাত্রের অবশিষ্ট পানি পান করলেন। পরে বললেন, লোকেরা দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে মাকরূহ মনে করে, অথচ আমি যেরূপ করেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও অনুরূপ করেছেন। (বুখারী)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ قَعَدَ فِي حَوَائِجِ النَّاسِ فِي رَحَبَةِ الْكُوفَةِ حَتَّى حَضَرَتْ صَلَاةُ الْعَصْرِ ثُمَّ أُتِيَ بِمَاءٍ فَشَرِبَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَذَكَرَ رَأسه وَرجلَيْهِ ثمَّ قَامَ فَشرب فَصله وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ أُنَاسًا يَكْرَهُونَ الشُّرْبَ قَائِمًا وَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن علي رضي الله عنه: انه صلى الظهر ثم قعد في حواىج الناس في رحبة الكوفة حتى حضرت صلاة العصر ثم اتي بماء فشرب وغسل وجهه ويديه وذكر راسه ورجليه ثم قام فشرب فصله وهو قاىم ثم قال: ان اناسا يكرهون الشرب قاىما وان النبي صلى الله عليه وسلم صنع مثل ما صنعت. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ হাদীসে উল্লেখিত উযূর পদ্ধতি সম্পর্কে সুনানে নাসায়ীতে বলা হয়েছে, وَهٰذَا وُضُوءُ مَنْ لَمْ يُحْدِثْ এটা হলো ঐ ব্যক্তির উযূর পদ্ধতি যার উযূ নষ্ট হয়নি। এটি সহীহুল বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬১৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭০-[৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারীর নিকট গেলেন। তাঁর সঙ্গে একজন সাথী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম করলেন এবং লোকটি সালামের জবাব দিলো। এ সময় সে তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। তখন (লোকটির উদ্দেশে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার কাছে রাত্রের মশকে রাখা বাসি পানি আছে কি? অন্যথায় আমরা (এতে) মুখ লাগিয়ে পান করব। সে বলল, আমার কাছে রাত্রে মশকে রাখা পানি আছে। অতঃপর সে তার ঝুপড়িতে গেল এবং একটি পেয়ালায় পানি ঢালল, এরপর তাতে গৃহপালিত বকরী দোহন করল। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করলেন। সে আবার তাতে (পানীয়) নিলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যে সাহাবী ছিলেন তিনি তা পান করলেন। (বুখারী)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ وَمَعَهُ صَاحِبٌ لَهُ فَسَلَّمَ فَرَدَّ الرَّجُلُ وَهُوَ يُحَوِّلُ الْمَاءَ فِي حَائِطٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ كَانَ عِنْدَكَ مَاءٌ بَاتَ فِي شَنَّةٍ وَإِلَّا كَرَعْنَا؟» فَقَالَ: عِنْدِي مَاءٌ بَاتَ فِي شَنٍّ فَانْطَلَقَ إِلَى الْعَرِيشِ فَسَكَبَ فِي قَدَحٍ مَاءً ثُمَّ حَلَبَ عَلَيْهِ مِنْ دَاجِنٍ فَشَرِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَعَادَ فَشَرِبَ الرَّجُلُ الَّذِي جَاءَ مَعَهُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل على رجل من الانصار ومعه صاحب له فسلم فرد الرجل وهو يحول الماء في حاىط فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ان كان عندك ماء بات في شنة والا كرعنا؟» فقال: عندي ماء بات في شن فانطلق الى العريش فسكب في قدح ماء ثم حلب عليه من داجن فشرب النبي صلى الله عليه وسلم ثم اعاد فشرب الرجل الذي جاء معه. رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ (دَخَلَ عَلٰى رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ) জনৈক আনসারের বাড়ীতে প্রবেশ করলেন। তিনি হলেন আবুল হায়সাম ইবনু আত্তিহান আনসারী।

অপর এক বর্ণনায় আছে, أَنَّ رَسُولَ اللهِ أصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتٰى قَوْمًا مِنَ الْأَنْصَارِ يَعُودُ مَرِيضًا রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারী কওমের নিকট এসেছিলেন যাতে তাদের অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখাশুনা করতে পারেন। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৪৭০৮)

(إِنَّ كَانَ عِنْدَكَ مَاءٌ بَاتَ فِىْ شَنَّةٍ) তোমার কাছে রাত্রে মশকে রাখা বাসি পানি আছে কি? বাসি পানি চাওয়ার হিকমাহ্ হলো সে পানি অধিক ঠাণ্ডা এবং পরিষ্কার হয়। আর পানির সাথে দুধ মিশানোর উদ্দেশ্য হলো তা গরমের দিনে ছিল যেমনটি ঘটেছিল আবূ বকর (রাঃ)-এর সাথে রাখালের।

আমি ভাষ্যকার বলি : ঘটনা দু’টি আবূ বকর (রাঃ)-এর দুধ মিশানো প্রচণ্ড গরমের কারণে। আর আনসারীর খাদ্য হলো তিনি চাচ্ছিলেন শুধুমাত্র পানি পান করাবেন না এবং দুধও আপ্যায়ন করাবেন সাথে অন্যান্য।

(وَإِلَّا كَرَعْنَا؟) অন্যথায় মুখ লাগিয়ে যা পান করব, যেমন চতুষ্পদ জন্তু নদীতে বা বিলে সরাসরি মুখ লাগিয়ে পান করে। (ফাতহুল বারী ১ম খন্ড, হাঃ ৫৬১৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭১-[৯] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে, বস্তুত সে যেন তার পেটের মধ্যে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলে নেয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

আর মুসলিম-এর রিওয়ায়াতে আছে, যে ব্যক্তি রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্রে পানাহার করে.....।

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ فِي آنِية الْفضة وَالذَّهَب»

وعن ام سلمة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الذي يشرب في انية الفضة انما يجرجر في بطنه نار جهنم» . متفق عليه. وفي رواية لمسلم: «ان الذي ياكل ويشرب في انية الفضة والذهب»

ব্যাখ্যাঃ (الَّذِىْ يَشْرَبُ فِىْ آنِيَةِ الْفِضَّةِ) যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ شَرِبَ فِي إِنَاءٍ مِنْ ذَهَبٍ، أَوْ فِضَّةٍ যে পান করে স্বর্ণ রৌপ্যে পাত্রে। (সহীহ মুসলিম হাঃ ২-[২০৬৫])

(إِنَّمَا يُجَرْجِرُ) এটা এমন একটি আওয়াজ যা উট পুনারাবৃত্তি করে যাবাহের সময়।

অনুরূপ আওয়াজ ঘোড়ার চোয়ালে লাগাম লাগানোর সময় যা করে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৬৩৪)

আর পানীয়কে আগুন নামকরণের কারণ হলো কেননা তা সে দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। যেমন আল্লাহ বলেনঃ

إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامٰى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِىْ بُطُونِهِمْ نَارًا

‘‘যারা ইয়াতীমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে...।’’ (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১০)।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসের মর্মার্থের বিষয়ে মতানৈক্য হলো কারও মতে এটা কাফিরদের জন্য সংবাদ। চাই তারা অনারবী রাষ্ট্রে হোক বা অন্য কোন রাষ্ট্রে হোক যারা অভ্যাসগতভাবে এমনটি করে থাকে। যেমন অন্য হাদীসে এসেছে, هِيَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةِ এটা কাফিরদের জন্য দুনিয়াতে আর তোমাদের জন্য আখিরাতে অনুরূপ রেশমী কাপড়ের ব্যাপারে। এটা কাফিররা দুনিয়াতে পরিধান করবে আখিরাতে তাদের জন্য হবে না।

আবার কারও মতে : এ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের জন্য আর এই নিষেধাজ্ঞা শাস্তিকে ওয়াজিব করে, আল্লাহ তা ক্ষমাও করতে পারেন। এটা কাযীর ভাষ্য। সঠিক হলো এই নিষেধাজ্ঞা সকলের জন্য চাই মুসলিম হোক আর কাফির হোক। আর বাস্তব হলো শারী‘আতের শাখা-প্রশাখার বিষয়ে কাফিরদের জন্যও প্রযোজ্য।

আর সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে খাওয়া ও পান করা হারাম। চাই পুরুষ হোক আর নারী হোক। এ ব্যাপারে কেউ মতানৈক্য করেনি, তবে ‘ইরাকীরা বলেনঃ শাফি‘ঈদের পুরাতন বক্তব্য হলো তা অপছন্দ তথা ঘৃণিত, হারাম না। আর দাঊদ জাহিরী হতে বর্ণনা করেন, পানীয় হারাম। খাওয়া বৈধ আর সকল কার্যক্রম বৈধ। তবে এ দু’ বর্ণিত বক্তব্য বাতিল তথা অগ্রহণযোগ্য। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৬৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭২-[১০] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা মোটা কিংবা মিহি রেশমী বস্ত্র পরিধান করো না এবং সোনা ও রূপার পেয়ালায় পান করো না। আর তামার পাত্রে খেয়ো না। কেননা এগুলো হলো তাদের (কাফিরদের) জন্য দুনিয়াতে আর তোমাদের (মু’মিনদের) জন্য এগুলো হলো আখিরাতে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيبَاجَ وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَهِيَ لَكُمْ فِي الْآخِرَةِ»

وعن حذيفة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا تلبسوا الحرير ولا الديباج ولا تشربوا في انية الذهب والفضة ولا تاكلوا في صحافها فانها لهم في الدنيا وهي لكم في الاخرة»

ব্যাখ্যাঃ (دِيبَاجٌ) ‘দীবাজ’ হলো রেশমীরই প্রকার। রেশমী হতে পৃথক করার কারণ হলো কাপড়ের কোন একপাশে চার আঙ্গুল পরিমাণ তথা সামান্য পরিমাণ রেশমী থাকলে তা দীবাজ হিসেবে পরিচিত।

আর এটা কখনো কখনো যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার করা বৈধ চুলকানী ও উকুন হতে বেঁচে থাকার জন্য।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি দলীল হিসেবে প্রমাণিত তাদের বিরুদ্ধে যারা বলে কাফিররা শারী‘আতের শাখা-প্রশাখার ব্যাপারে সম্বোধিত না। কেননা হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়নি তাদের জন্য বৈধ। বরং তারা অভ্যাসগত ব্যবহার করে থাকে সেটি বর্ণিত হয়েছে যদিও তাদের জন্য হারাম যেমনটি মুসলিমদের জন্য হারাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৩-[১১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি গৃহপালিত বকরীর দুধ দোহন করা হলো এবং তাতে আনাস (রাঃ)-এর কূপের পানি মিশানো হলো। অতঃপর তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে পেশ করা হল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পান করলেন। এ সময় তাঁর বাম পার্শ্বে ছিলেন আবূ বকর(রাঃ) এবং ডানে ছিল এক বেদুঈন। তখন ’উমার(রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! (অবশিষ্ট) আবূ বকর (রাঃ)-কে প্রদান করুন। কিন্তু তিনি তাঁর ডান পার্শ্বের সে বেদুঈনকেই দিলেন। অতঃপর বললেনঃ ডানদিকের ব্যক্তিরই হক প্রথমে। অপর এক রিওয়ায়াতে বর্ণিত। ডানে যারা রয়েছে, তারপর ডানে যারা রয়েছে তারা হকদার। সাবধান! ডান পার্শ্বওয়ালাদের অগ্রাধিকার দাও। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَن أنسٍ قَالَ: حُلِبَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةٌ دَاجِنٌ وَشِيبَ لَبَنُهَا بِمَاءٍ مِنَ الْبِئْرِ الَّتِي فِي دَارِ أَنَسٍ فَأُعْطِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقَدَحَ فَشَرِبَ وَعَلَى يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ وَعَنْ يَمِينِهِ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ عُمَرُ: أَعْطِ أَبَا بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَعْطَى الْأَعْرَابِيَّ الَّذِي عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ قَالَ: الْأَيْمَنُ فَالْأَيْمَنُ وَفِي رِوَايَةٍ: «الْأَيْمَنُونَ الْأَيْمَنُونَ أَلاَ فيَمِّنوا»

وعن انس قال: حلبت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة داجن وشيب لبنها بماء من البىر التي في دار انس فاعطي رسول الله صلى الله عليه وسلم القدح فشرب وعلى يساره ابو بكر وعن يمينه اعرابي فقال عمر: اعط ابا بكر يا رسول الله فاعطى الاعرابي الذي عن يمينه ثم قال: الايمن فالايمن وفي رواية: «الايمنون الايمنون الا فيمنوا»

ব্যাখ্যাঃ অন্য বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দুধের পেয়ালা নিয়ে আসা হলো তিনি তা হতে পান করলেন এবং তাঁর ডানপার্শ্বে ছিল একটি বালক আর বামপার্শ্বে ছিল প্রবীণ ও বয়স্ক লোকজন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বৎস! তুমি কি আমাকে অনুমতি দিবে যে, আমি আমার অবশিষ্টাংশটুকু এ সমস্ত প্রবীণদেরকে প্রদান করব? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! না। আল্লাহর কসম আমার অংশ অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিব না।

এ সমস্ত হাদীসে প্রমাণিত হয়, এটা সুস্পষ্ট সুন্নাহ্ সে ডানই প্রাধান্য পাবে সকল প্রকার সম্মানের ক্ষেত্রে। পানীয়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ সকল ক্ষেত্রে ডান দিকই প্রাধান্য পাবে। যদিও ছোট অথবা অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাসম্পন্ন হয়। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রাম্যলোক ও ছোট বালককে আবূ বকর (রাঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর অন্যান্য সময়ে সমতার ক্ষেত্রে সম্মানিত ও বয়স্ক প্রাধান্য পাবে, এজন্য সালাতে ইমামতিতে সমতায় বয়স্কলোক প্রাধান্য পাবে। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ৪২৭৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৪-[১২] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে (দুধের) একটি পেয়ালা পেশ করা হলো, তিনি তা হতে কিছু পান করলেন। তাঁর ডানে ছিল উপস্থিত জনতার মধ্যে সর্বাপেক্ষা ছোট একটি বালক। আর প্রবীণ ও বয়স্ক লোকজন ছিলেন তাঁর বামে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বালকটিকে বললেনঃ হে বৎস! তুমি কি আমাকে এ অনুমতি দেবে যে, আমি আমার অবশিষ্টটুকু এ সমস্ত প্রবীণদেরকে (অগ্রে) প্রদান করি? সে বলল : হে আল্লাহর রসূল! আপনার অবশিষ্টের ব্যাপারে আমি কাউকেও অগ্রাধিকার দেব না। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) তখন তিনি পেয়ালাটি বালকটিকে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

এ প্রসঙ্গে আবূ কতাদাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস ইন্শা-আল্লাহ আমি ’’মু’জিযাত’’ (অলৌকিক ঘটনাবলী)-এর অধ্যায়ে উল্লেখ করব।

بَابُ الْأَشْرِبَةِ

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحٍ فَشَرِبَ مِنْهُ وَعَنْ يَمِينِهِ غُلَامٌ أَصْغَرُ الْقَوْمِ وَالْأَشْيَاخُ عَنْ يَسَارِهِ فَقَالَ: «يَا غُلَامُ أَتَأْذَنُ أَنْ أُعْطِيَهُ الْأَشْيَاخَ؟» فَقَالَ: مَا كُنْتُ لِأُوثِرَ بِفَضْلٍ مِنْكَ أَحَدًا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأعْطَاهُ إِيَّاه
وَحَدِيث أبي قتادةَ سنذكر فِي «بَابِ الْمُعْجِزَاتِ» إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

وعن سهل بن سعد قال: اتى النبي صلى الله عليه وسلم بقدح فشرب منه وعن يمينه غلام اصغر القوم والاشياخ عن يساره فقال: «يا غلام اتاذن ان اعطيه الاشياخ؟» فقال: ما كنت لاوثر بفضل منك احدا يا رسول الله فاعطاه اياه وحديث ابي قتادة سنذكر في «باب المعجزات» ان شاء الله تعالى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৫-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামানায় চলা অবস্থায় খেতাম এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পান করতাম। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ ও গরীব।

عَن ابنِ عمَرَ قَالَ: كُنَّا نَأْكُلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَمْشِي وَنَشْرَبُ وَنَحْنُ قِيَامٌ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ

عن ابن عمر قال: كنا ناكل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نمشي ونشرب ونحن قيام. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح غريب

ব্যাখ্যাঃ হাদীস প্রমাণ করে দাঁড়িয়ে খাওয়া বৈধ কোন প্রকার অপছন্দ ছাড়াই তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আমল এবং তাকরীর দ্বারা প্রমাণিত। তবে ‘উলামাদের নিকট ভালো হলো চলন্ত, হাঁটা ও দাঁড়ানো অবস্থায় না খাওয়া যা ইবনু মালিক স্পষ্ট করেছেন। ইতিপূর্বে দাঁড়ানো অবস্থায় পান করার আলোচনা গেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৬-[১৪] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাঁড়ানো এবং বসা উভয় অবস্থায় পান করতে দেখেছি। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده قَالَ: رَأَيْت رَسُول لله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَشْرَبُ قَائِمًا وَقَاعِدًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: رايت رسول لله صلى الله عليه وسلم يشرب قاىما وقاعدا. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করেছেন জীবনে একবার অথবা দু’বার বৈধতার জন্য অথবা স্থানের অসুবিধার জন্য আর বসে সর্বাবস্থায় পান করেছেন এবং যা উত্তম অভ্যাস। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৭-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কিছু পান করার সময়) পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং তার মধ্যে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَنَفَّسَ فِي الْإِنَاءِ أَوْ يُنْفَخَ فِيهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يتنفس في الاناء او ينفخ فيه. رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করার সময় পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন। এই ভয়ে মুখের লালা বা থুথু পানীয়ের মধ্যে পড়তে পারে।

সবচেয়ে উত্তম হলো নিঃশ্বাস নিবে, না ফুঁ দিবে, না অপেক্ষা করবে ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত আর যদি কোন ময়লা দেখে তাহলে তা আঙ্গুল, কাঠি বা অন্য কোন জিনিস দিয়ে উঠাবে বা সরাবে। আর গরম অবস্থায় খাবে না, কেননা বারাকাত চলে যায় আর গরম হলো জাহান্নামীদের খাদ্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭২৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৮-[১৬] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উটের ন্যায় এক শ্বাসে পান করবে না; বরং দু’ কিংবা তিন শ্বাসে পান করবে। আর যখন পান করবে (শুরুতে) বিসমিল্লা-হ পড়বে এবং যখন (পানান্তে) পেয়ালা মুখ হতে আলাদা করবে, তখন আলহামদুলিল্লা-হ বলবে। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَشْرَبُوا وَاحِدًا كَشُرْبِ الْبَعِيرِ وَلَكِنِ اشْرَبُوا مَثنى وثُلاثَ وَسَمُّوا إِذَا أَنْتُمْ شَرِبْتُمْ وَاحْمَدُوا إِذَا أَنْتُمْ رفعتُم» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تشربوا واحدا كشرب البعير ولكن اشربوا مثنى وثلاث وسموا اذا انتم شربتم واحمدوا اذا انتم رفعتم» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ (وَسَمُّوا إِذَا أَنْتُمْ شَرِبْتُمْ) যখন তোমরা পান করার ইচ্ছা পোষণ কর, বল- ‘‘বিসমিল্লা-হি’’ আর যখনই পাত্রকে মুখ থেকে সরাবে অথবা পানের শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে। এমনটি মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।

আমি (ভাষ্যকার) বলি : হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তিনি ফাতহুল বারীতে হাদীস নিয়ে এনেছেন যা ত্ববারানীতে এসেছে সহীহ সনদে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَشْرَبُ فِي ثَلَاثَةِ أَنْفَاسٍ إِذَا أَدْنَى الْإِنَاءَ إِلٰى فِيهِ يسمي الله فإذا أخره حمد الله بفعل ذلك ثلاثا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। আর যখনই পাত্রকে মুখের নিকট নিয়ে আসে তখন বিসমিল্লা-হ বলতেন আর যখন বিলম্বিত করতেন আলহামদুলিল্লা-হ বলতেন এমনটি তিনবার করেছেন।

মূলত হাদীসটির উদ্দেশ্য পানের শুরুতে বিসমিল্লা-হ এবং শেষে আলহামদুলিল্লা-হ বলা।

(তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৮৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৭৯-[১৭] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় বস্তুতে (পান করার সময়) ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, যদি আমি পানির মধ্যে খড়কুটা দেখতে পাই? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা ফেলে দাও। সে আবার বলল : এক নিঃশ্বাসে পান করলে আমার তৃপ্তি হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমতাবস্থায় পেয়ালাটি মুখ হতে পৃথক করে নিঃশ্বাস ত্যাগ করো। (তিরমিযী ও দারিমী)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ فَقَالَ رَجُلٌ: الْقَذَاةَ أَرَاهَا فِي الْإِنَاءِ قَالَ: «أَهْرِقْهَا» قَالَ: فَإِنِّي لَا أُرْوَى مِنْ نَفَسٍ وَاحِدٍ قَالَ: «فَأَبِنِ الْقَدَحَ عَنْ فِيكَ ثُمَّ تَنَفَّسْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ والدارمي

وعن ابي سعيد الخدري ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن النفخ في الشراب فقال رجل: القذاة اراها في الاناء قال: «اهرقها» قال: فاني لا اروى من نفس واحد قال: «فابن القدح عن فيك ثم تنفس» . رواه الترمذي والدارمي

ব্যাখ্যাঃ জাযারী নিহায়াতে বলেনঃ নিষেধাজ্ঞা এ কারণে ফুঁ এর মাধ্যমে মুখের লালা বা থুথু পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে সে এমন কিছু পান করবে যাতে করে সে কষ্ট পাবে।

হাদীসে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয় যে, এক নিঃশ্বাসে পান করা বৈধ। কেননা ব্যক্তিকে নিষেধ করা হয়নি বরং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তুমি তৃপ্তি না পাও তাহলে পেয়ালাটিকে মুখ হতে পৃথক করে নিঃশ্বাস ত্যাগ কর।

আর তা মাকরূহ হওয়া সত্ত্বেও বৈধ সাব্যস্ত করে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৮৮৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮০-[১৮] উক্ত রাবী [আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার ছিদ্র দিয়ে পান করতে এবং পানীয় বস্তুতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الشُّرْبِ مِنْ ثُلْمَةِ الْقَدَحِ وَأَنْ يُنْفَخَ فِي الشَّرَابِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الشرب من ثلمة القدح وان ينفخ في الشراب. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ পেয়ালার ছিদ্র দিয়ে পান করার নিষেধের কারণ হলো পান করার সময় পানি পড়বে এবং পানির ফোটা মুখে এবং শরীরে পড়বে। কেননা ভাঙ্গা বা ছিদ্র পেয়ালায় ঠোঁট শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরে রাখতে পারে না।

কারও মতে, ছিদ্রের স্থানটিতে শয়তানের বসার স্থান।

হতে পারে ছিদ্রের স্থানটি অপরিষ্কার থাকে ভালো করে পরিষ্কার করলেও, ফলে পান করাটা অপরিষ্কার অবস্থায় হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৭১৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮১-[১৯] কাবশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গৃহে এলেন এবং একটি লটকানো মশক হতে দাঁড়ানো অবস্থায় পান করলেন। পরে আমি মশকের নিকট গিয়ে মশকের সে মুখখানা কেটে রেখে দিলাম। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ) [1]আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান, গরীব ও সহীহ।

وَعَن كبْشَةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَرِبَ مِنْ فِي قِرْبَةٍ مُعَلَّقَةٍ قَائِمًا فَقُمْتُ إِلَى فِيهَا فَقَطَعْتُهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غريبٌ صَحِيح

وعن كبشة قالت: دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فشرب من في قربة معلقة قاىما فقمت الى فيها فقطعته. رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب صحيح

ব্যাখ্যাঃ হাদীসের সমর্থনে যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) হতে অনুরূপ অর্থে তবে তাতে অতিরিক্ত এসেছে, وَقَالَتْ: لَا يَشْرَبُ مِنْهَا أَحَدٌ بَعْدَ شُرْبِ رَسُولِ اللهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করার পর আর কেউ যেন পান না করে।

আর ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) তিরমিযী হতে বর্ণনা করেন, মশকের মুখ কাটার দু’টি উদ্দেশ্য। সে স্থানটিকে সংরক্ষণ করা যেখানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ লেগেছে যাতে করে প্রত্যেকে তা স্পর্শ করতে পারে।

আর দ্বিতীয় মতে, তা হতে বারাকাত হাসিল করতে পারে এবং আরোগ্য লাভ করতে পারে। আর হাদীস প্রমাণ করে কলসের মুখ দিয়ে পান করার নিষেধাজ্ঞা হারাম নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮২-[২০] যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) ’উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেনঃ ঠাণ্ডা মিষ্টি পানি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সর্বাধিক প্রিয় পানীয় ছিল। (তিরমিযী)[1]আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ সহীহ ও নির্ভরযোগ্য কথা হলো, এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যুহরী কর্তৃক মুরসাল হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে (অর্থাৎ- বর্ণনায় অন্য কোন সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই)।

وَعَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ أَحَبُّ الشَّرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُلْوَ الْبَارِدَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْسَلًا

وعن الزهري عن عروة عن عاىشة قالت: كان احب الشراب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الحلو البارد. رواه الترمذي وقال: والصحيح ما روي عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا

ব্যাখ্যাঃ মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (أَحَبُّ) অধিক প্রিয়। অর্থ সুস্বাদু, কেননা যমযমের পানি অধিক উত্তম। অনুরূপ তার নিকট দুধও প্রিয়। এ গুণগুলো ‘আমভাবে বর্ণনা হয়েছে; এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিশুদ্ধ পানি, দুধ, মিশানো পানি বা অন্যান্য যেমন মধু, ভিজানো খেজুর, কিসমিস। কারও মতে, ঠাণ্ডা পানি প্রিয় ছিল বা এ বস্তুগুলো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রিয়। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ১৫শ খন্ড, হাঃ ১৮৮৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮৩-[২১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন এ দু’আটি পড়ে- اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ. ’’আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়া আত্ব’ইমনা- খয়রম্ মিনহু’’ (হে আল্লাহ! তার মধ্যে আমাদের জন্য বারাকাত দাও এবং তা অপেক্ষা উত্তম খাদ্য দান করো)। আর যখন দুধ পান করবে তখন যেন বলে, ’’আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়াযিদনা- মিনহ’’ (হে আল্লাহ! এর মধ্যে আমাদের জন্য বারাকাত দাও এবং তা আরো অধিক দান করো)। কেননা দুধ ব্যতীত অন্য কোন জিনিসই খাদ্য ও পানীয় উভয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ. وَإِذَا سُقِيَ لَبَنًا فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ فَإِنَّهُ لَيْسَ شَيْء يجزى مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ إِلَّا اللَّبَنُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا اكل احدكم طعاما فليقل: اللهم بارك لنا فيه واطعمنا خيرا منه. واذا سقي لبنا فليقل: اللهم بارك لنا فيه وزدنا منه فانه ليس شيء يجزى من الطعام والشراب الا اللبن . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যাঃ হাদীসে স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে দুধের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। এজন্য নবজাত শিশুর খাদ্য হলো দুধ আর তাতে আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনও রয়েছে, যেমন বলেনঃ

نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِه# مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِلشَّارِبِينَ

‘‘তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমরা তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমূহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দু যা পানকারীদের জন্য উপাদেয়।’’ (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ৬৬)

হাদীসের শেষাংশে উত্তম হওয়ার কারণও বর্ণনা করা হয়েছে।

(فَإِنَّهٗ لَيْسَ شَيْء يُجْزِىُ مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ إِلَّا اللَّبَنُ) কেননা দুধ ব্যতীত অন্য কোন জিনিসই খাদ্য ও পানীয় উভয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮৪-[২২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সুকইয়া হতে মিঠা পানি সংগ্রহ করা হত। কথিত আছে যে, সুকইয়া একটি ঝরণা। তার ও মদীনার মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো দু’দিনের পথ। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسْتَعْذَبُ لَهُ الْمَاءُ مِنَ السُّقْيَا. قِيلَ: هِيَ عَيْنٌ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْمَدِينَةِ يَوْمَانِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يستعذب له الماء من السقيا. قيل: هي عين بينها وبين المدينة يومان. رواه ابو داود

ব্যাখ্যাঃ মিষ্ট পানি দ্বারা উদ্দেশ্য লবণাক্ত না, কেননা মদীনার পানি হলো লবণাক্ত। সুয়ূত্বী বলেনঃ সুকইয়া একটি গ্রাম যা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

হাকিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, كَانَ يُسْتَعْذَبُ لَهُ الْمَاءُ مِنْ بِئْرِ السُّقْيَا

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সুকইয়া-এর কূপ হতে মিঠা পানি সংগ্রহ করা হত।

আমি (ভাষ্যকার) বলি : সম্ভবত দু’টি দু’ স্থান। কোন অসঙ্গতিপূর্ণ নেই হাদীসে একটি ঝর্ণা, অপরটি কূপ। হতে পারে বিভিন্ন স্থান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - পানীয় দ্রব্যের বর্ণনা

৪২৮৫-[২৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সোনা-রূপার পাত্রে অথবা এমন পাত্রে পান করল যাতে সোনা-রূপার কিছু অংশ মিশ্রিত আছে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুনের ঢোক গিলল। (দারাকুত্বনী)[1]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ شَرِبَ فِي إِنَاءِ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ أَوْ إِنَاءٍ فِيهِ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ فَإِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جهنمَ» . رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ

عن ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من شرب في اناء ذهب او فضة او اناء فيه شيء من ذلك فانما يجرجر في بطنه نار جهنم» . رواه الدارقطني

ব্যাখ্যাঃ ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তাতে বিভিন্ন কারণ রয়েছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ কারণ হলো যদি তা প্রয়োজনের চেয়ে ছোট পাত্র হয় তাহলে হারাম হবে না। আর যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বড় হয় তাহলে হারাম হবে। আর স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে ব্যবহারে পুরুষ নারী সকলের জন্য হারাম।

অনুরূপ সুরমাদানী হিসেবে ব্যবহার করাও। স্বর্ণের ও রৌপ্যের খাট ও চেয়ার ব্যবহার করাও মাকরূহ।

ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পাত্রের মুখ যদি কাঠ দ্বারা নির্মিত হয় তাহলে ব্যবহারে সমস্যা না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

নিহায়াতে এসেছে, নাক্বী’ হলো এমন পানীয় যা আঙ্গুর বা অন্যান্য হতে প্রস্তুত করা হয় যা পানিতে ভিজানো হয় পাকানো ছাড়া। আর খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস, মধু, গম ও যব ইত্যাদি ভিজিয়ে যে মিঠা শরবত প্রস্তুত করা হয় তা নবীয। যেমন বলা হয়, আমি আঙ্গুর ও খেজুরকে নবীয করেছি যখন পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি যাতে নবীয হয়। এ নবীয অনেক উপকার বিশেষ করে শক্তি বৃদ্ধিতে।

মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা সর্বসম্মতক্রমে হালাল যতক্ষণ পর্যন্ত মিষ্টি থাকে আর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না পৌঁছে। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সব নেশাই হারাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৪২৮৬-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এ পেয়ালা দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিভিন্ন প্রকারের পানীয় পান করাতাম। যেমন- মধু, নবীয, পানি ও দুধ। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

عَن أنسٍ قَالَ: لَقَدْ سَقَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحِي هَذَا الشَّرَابَ كُلَّهُ: الْعَسَلَ والنَّبيذَ والماءَ وَاللَّبن. رَوَاهُ مُسلم

عن انس قال: لقد سقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدحي هذا الشراب كله: العسل والنبيذ والماء واللبن. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ উদ্দেশ্য হলো নবীয যতক্ষণ না তা নেশার সীমায় পৌঁছে। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০০৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৮৭-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য চামড়ার মশকে নবীয প্রস্তুত করতাম। তার উপর হতে শক্ত করে বাঁধা হত এবং নিচেও একটি মুখ ছিল। আমরা সকালে যে নবীয বানাতাম, তিনি তা বিকালে পান করতেন এবং বিকালে যে নবীয বানাতাম, তিনি তা সকালে পান করতেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

وَعَن عائشةَ قَالَتْ: كُنَّا نَنْبِذُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سِقَاءٍ يُوكَأُ أَعْلَاهُ وَلَهُ عَزْلَاءُ نَنْبِذُهُ غُدْوَةً فَيَشْرَبُهُ عِشَاءً وَنَنْبِذُهُ عِشَاءً فيشربُه غُدوةً. رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة قالت: كنا ننبذ لرسول الله صلى الله عليه وسلم في سقاء يوكا اعلاه وله عزلاء ننبذه غدوة فيشربه عشاء وننبذه عشاء فيشربه غدوة. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পাত্রকে ঢাকা এবং তার মুখকে শক্ত করে বাধাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, কারণ হলো ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ ও প্রাণী হতে বাঁচা। (عَزْلَاءُ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাত্রের নীচের মুখ। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ পাত্রের নীচের ছিদ্র যাতে তা হতে পানি পান করা যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৮৮-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য রাত্রের প্রথম ভাগে নবীয তৈরি করা হত। তিনি তা পরবর্তী দিন সকালে, এর পরের রাত্রে, দ্বিতীয় দিনে ও দ্বিতীয় রাত্রে এবং তৃতীয় দিন ’আসর পর্যন্ত পান করতেন। এরপরও যদি কিছু অবশিষ্ট থাকত, তা চাকর-বকরদেরকে পান করাতেন অথবা ফেলে দেয়ার জন্য নির্দেশ করতেন, তখন তা ফেলে দেয়া হত। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنْبَذُ لَهُ أَوَّلَ اللَّيْلِ فَيَشْرَبُهُ إِذَا أَصْبَحَ يَوْمَهُ ذَلِكَ وَاللَّيْلَةَ الَّتِي تَجِيءُ وَالْغَدَ وَاللَّيْلَةَ الْأُخْرَى وَالْغَدَ إِلَى الْعَصْرِ فَإِنْ بَقِيَ شَيْءٌ سَقَاهُ الْخَادِمَ أَوْ أَمَرَ بهِ فصُبَّ. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينبذ له اول الليل فيشربه اذا اصبح يومه ذلك والليلة التي تجيء والغد والليلة الاخرى والغد الى العصر فان بقي شيء سقاه الخادم او امر به فصب. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ হাদীস প্রমাণ করে নবীয বৈধ যতক্ষণ না তার মিষ্টতা পরিবর্তন হয় এবং নেশা পরিগণিত না হয়, এটার উপর সকলের ইজমা।

(سَقَاهُ الْخَادِمَ أَوْ أَمَرَ بِه فَصُبَّ) চাকরদের পান করাতেন অথবা ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিতেন। কখনও কখনও পান করাতেন আবার কখনও ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিতেন, এটা নবীযের অবস্থায় উপর নির্ভর করে। যদি নবীযে নেশার ছাপ স্পষ্ট না হয় অথবা নেশার ভাব হওয়ার পূর্বেই চাকরদেরকে পান করাতেন আর ফেলে দিতেন না, কারণ অযথা সম্পদ নষ্ট করা হারাম। আর যদি নেশার ছাপ চলে আসে এবং মদে রূপান্তরিত হয় তাহলে খাওয়াতেন না এবং ফেলে দিতে বলতেন, কারণ তা হারাম এবং অপবিত্র হয়ে গেছে।

আর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস সকালের নবীয বিকালে আর বিকালের নবীয সকালে পান করা। ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীসের বিপরীত না। কেননা ঋতু বা মওসুমের পরিবর্তনে নবীযের মধ্যে নেশা সৃষ্টি হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে সময়ের ব্যবধান হয়। যেমন গ্রীষ্মের মওসুমে কোন জিনিস যত তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় শীতের সময়ে তত তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় না। অতএব ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস গরম বা গ্রীষ্মের সময়ে যাতে এক দিনের ঊর্ধ্বেই নষ্ট হয়ে যায়। আর ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীস অন্য সময়ে যে সময়ে তিনদিনের পূর্বে নষ্ট হয় না। অথবা হতে পারে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস স্বল্প নবীয একদিনে সমাপ্ত হয়। আর ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীস অধিক পরিমাণ নবীয যা একদিনে সমাপ্ত হয় না। (শারহুন নাবাবী ১৩শ খন্ড, হাঃ ২০০৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৮৯-[৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য মশকে নবীয প্রস্তুত করা হত। যখন তারা তা না পেত, তখন পাথর নির্মিত পাত্রে নবীয তৈরি করা হত। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

وَعَن جابرٍ قَالَ: كَانَ يُنْبَذُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سِقَائِهِ فَإِذَا لَمْ يَجِدُوا سِقَاءً يُنْبَذُ لَهُ فِي تَوْرٍ مِنْ حِجَارَةٍ. رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: كان ينبذ لرسول الله صلى الله عليه وسلم في سقاىه فاذا لم يجدوا سقاء ينبذ له في تور من حجارة. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (تَوْرٍ) ছোট পাত্র, যা দ্বারা পান করা হয় অথবা উযূ করা হয়।

ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা বদনা যা কেতলির সাদৃশ্য তা হতে পান করা হয়। নিহায়াতে বলা হয়েছে, ছোট পাত্র যা কাপড় ধুইতে ব্যবহার করা হয়। কামূস অভিধানে এসেছে, এমন পাত্র যা হতে শুধুমাত্র পুরুষেরাই পান করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৯০-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর খোলস, সবুজ মটকা, আলকাতরা লাগানো পাত্র এবং খেজুর বৃক্ষের মূলের পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং চামড়ার মশকে নবীয প্রস্তুত করতে আদেশ করেছেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نهى عَن الدُّبَّاء والحنتم والمرفت وَالنَّقِيرِ وَأَمَرَ أَنْ يُنْبَذَ فِي أَسْقِيَةِ الْأَدَمِ. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عمر: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الدباء والحنتم والمرفت والنقير وامر ان ينبذ في اسقية الادم. رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (دُبَّاءِ) দুববা লাউয়ের শুকনা খোলস দ্বারা তৈরি পাত্র।

(حَنْتَمِ) (হানতাম) মটকা জাতীয় সবুজ বর্ণের পাত্র বিশেষ।

(مُزَفَّتِ) (মুযাফফাত) এমন ধরনের পাত্র যা ভিতরে কিংবা বাইরে আলকাতরা লেপিয়ে দেয়া হয়।

(نَقِيرِ) (নাক্বীর) খেজুর গাছের মূলের দ্বারা নির্মিত পাত্র।

মূলত এগুলো তৎকালীন ‘আরবরা মদ তৈরির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করত। ইসলামে মদ হারাম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্ত পাত্রের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ পাত্রগুলোতে নবীয প্রস্তুত করলে তা খুব তাড়াতাড়ি নেশায় বা মদে পরিণত হত। অতঃপর ইসলামের সময় দীর্ঘ হলে নেশা হারাম হওয়া স্পষ্ট হয়, আর প্রত্যেক পাত্রে নবীয বৈধতার ব্যাপারে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এ বিষয়ে সামনের হাদীসে আলোচনা আসছে। আর এ সংক্রান্ত আলোচনা ঈমান অধ্যায়ে বলা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৯১-[৬] বুরয়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কয়েক প্রকারের পাত্রের ব্যবহার নিষেধ করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে কোন পাত্র হারাম বস্তুকে হালালে এবং হালাল বস্তুকে হারামে পরিণত করতে পারে না। অবশ্য নেশা সৃষ্টিকারী প্রত্যেক জিনিসই হারাম। অন্য এক বর্ণনার মধ্যে আছে, আমি তোমাদেরকে চামড়ার মশক ছাড়া অন্যান্য পাত্রে পানীয় প্রস্তুত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা প্রত্যেক প্রকারের পাত্রে পান করতে পার। তবে নেশা সৃষ্টিকারী কোন জিনিসই পান করবে না। (মুসলিম)[1]

بَابُ النَّقِيعِ وَالْأَنْبِذَةِ

وَعَن بُرَيْدَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنِ الظُّرُوفِ فَإِنَّ ظَرْفًا لَا يُحِلُّ شَيْئًا وَلَا يُحَرِّمُهُ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ» . وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنِ الْأَشْرِبَةِ إِلَّا فِي ظُرُوفِ الْأَدَمِ فَاشْرَبُوا فِي كُلِّ وِعَاءٍ غَيْرَ أَنْ لَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن بريدة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «نهيتكم عن الظروف فان ظرفا لا يحل شيىا ولا يحرمه وكل مسكر حرام» . وفي رواية: قال: «نهيتكم عن الاشربة الا في ظروف الادم فاشربوا في كل وعاء غير ان لا تشربوا مسكرا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত, নাক্বীর- এগুলো ইসলামের প্রথমদিকে হারাম ছিল, কারণ এগুলোতে নবীয প্রস্তুত করলে খুব তাড়াতাড়ি মদে পরিণত হয়; এ আশঙ্কায় ব্যবহার হারাম করা হয়। পরে সময় দীর্ঘ হলে এবং নেশা স্পষ্ট হারাম হওয়ায় পাত্রগুলো ব্যবহারের নিষিদ্ধ রহিত হয় আর প্রত্যেক পাত্রে নবীয তৈরির অনুমোদন হয়; তবে শর্ত হলো মদ যেন পান না করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৯২-[৭] আবূ মালিক আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন : নিশ্চয় আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

عَن أبي مَالك الْأَشْعَرِيّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

عن ابي مالك الاشعري انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ليشربن ناس من امتي الخمر يسمونها بغير اسمها» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ নবীযের হরেক নামে তারা মদ ক্রয় করবে। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বৈধ নবীযের নামে তারা মদ পান করবে। যেমন মধুর পানি, ভুট্টার পানি অনুরূপ আর অন্য কিছু এবং তারা ধারণা বা দাবী করবে এগুলো হারাম না, কেননা এগুলো আঙ্গুর ও খেজুর হতে তৈরি না, মূলত তারা এ ব্যাপারে মিথ্যুক। কেননা প্রত্যেক নেশাগ্রস্তই হারাম। মূল বিষয় নেশা হারাম হওয়ার উপর। আর কাহওয়া পানে কোন দোষ নেই, কেননা তা প্রসিদ্ধ গাছের ছাল হতে তৈরি, বেশী পরিমাণ হলেও তাতে নেশা নেই। যদিও কাহওয়া মদের নামে পরিচিত, তবে তা শুধুমাত্র নামে। নেশা জাতীয় অন্যান্য নামগুলোও মদ পানের সাদৃশ্য তা নিষিদ্ধ যখন প্রমাণিত হবে যদিও তা পানি, দুধ ও অন্যান্যের মধ্যে হয়।

(অনুবাদের ভাষ্য) আধুনিককালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ভবিষ্যদ্বাণী অবিকল প্রতিফলন ঘটেছে, যেমন মৃত সঞ্জীবনী সুধা ও সুরা ব্রান্ডি, হুইসকি, রেকটিফাইড স্পীড ইত্যাদি নামে হরদম বাজারে চালু বসেছে এবং নির্দ্বিধায় পান করা হচ্ছে। অথচ এগুলো ৮০% মদ ও মদের উপাদান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নাক্বী‘ ও নবীয সম্পর্কীয় বর্ণনা

৪২৯৩-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবুজ মটকায় নবীয প্রস্তুত করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তবে কি আমরা সাদা বর্ণের মটকায় পান করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না। (বুখারী)[1]

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ الْأَخْضَرِ قُلْتُ: أَنَشْرَبُ فِي الأبيضِ؟ قَالَ: «لَا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن عبد الله بن ابي اوفى قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نبيذ الجر الاخضر قلت: انشرب في الابيض؟ قال: «لا» . رواه البخاري

ব্যাখ্যাঃ নিহায়াতে বলা হয়েছে, (الْجَرِّ الْأَخْضَرِ) হলো এমন প্রসিদ্ধ পাত্র যা অহংকার ও গর্বের জন্য ব্যবহার করা হয়।

আর নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো এমন তৈলাক্ত পাত্র যা মদ দ্রুত তৈরি করে।

أَنَشْرَبُ فِي الْأَبْيَضِ؟ قَالَ: لَا আমরা কি সাদা বর্ণের মটকায় পান করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, এতে প্রমাণিত হয় দলীলের ক্ষেত্রে বোধগম্যের গুরুত্ব নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

آنِيَة অর্থ পাত্র أَوَانِىْ বহুবচনে মূলত পানাহারের পাত্রের কথা বুঝানো হয়েছে। পাত্রের সম্পূর্ণ অংশ ঢেকে রাখা, কোন অবস্থাতেই খোলা না রাখা। বিশেষ করে রাতের বেলায় খাদ্য পাত্র ঢেকে রাখা অপরিহার্য। কেননা বিষাক্ত পোকা-মাকড় ইত্যাদি রাত্রি বেলায় ছড়িয়ে পড়ে।


৪২৯৪-[১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত্রের আঁধার নেমে আসে, অথবা বলেছেনঃ সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের শিশুদেরকে (বাইরে যাওয়া থেকে) আবদ্ধ রাখো। কেননা সে সময় শয়তান ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাদেরকে ছেড়ে দাও এবং বিসমিল্লা-হ বলে ঘরের দরজাসমূহ বন্ধ করো। কারণ শয়তান বদ্ধদ্বার খুলতে পারে না। আর বিসমিল্লা-হ পড়ে তোমাদের মশকগুলোর মুখ বন্ধ করো এবং বিসমিল্লা-হ বলে তোমাদের পাত্রগুলোও ঢেকে রাখো। (ঢাকার কিছু না পেলে) কোন কিছু আড়াআড়িভাবে হলেও পাত্রের উপর রেখে দাও। (আর ঘুমানোর সময়) বাতিগুলো নিভিয়ে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ جِنْحُ اللَّيْلِ أَوْ أَمْسَيْتُمْ فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ فَخَلَّوهُمْ وَأَغْلِقُوا الْأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا وَأَوْكُوا قِرَبَكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ وَخَمِّرُوا آنِيَتَكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ وَلَوْ أنْ تعرِضوا عَلَيْهِ شَيْئا وأطفئوا مصابيحكم»

عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا كان جنح الليل او امسيتم فكفوا صبيانكم فان الشيطان ينتشر حينىذ فاذا ذهب ساعة من الليل فخلوهم واغلقوا الابواب واذكروا اسم الله فان الشيطان لا يفتح بابا مغلقا واوكوا قربكم واذكروا اسم الله وخمروا انيتكم واذكروا اسم الله ولو ان تعرضوا عليه شيىا واطفىوا مصابيحكم»

ব্যাখ্যাঃ (إِذَا كَانَ جِنْحُ اللَّيْلِ) সূর্য যখন ডুবে যায়, কারও মতে যখন অন্ধকার হয়ে আসে।

(لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا) ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যে দরজা বিসমিল্লা-হ বলে বন্ধ করা হয়। শয়তান সে দরজা খুলতে সক্ষম হয় না। কেননা সে অনুমতিপ্রাপ্ত না, তবে যে দরজা খোলা এবং বন্ধ করা দরজা যাতে বিসমিল্লা-হ বলা হয়নি, তাতে শয়তান অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে।

কারো মতে শয়তান দ্বারা উদ্দেশ্য মানুষরূপী শয়তান, তবে এ মতটি গ্রহণযোগ্য না। মূলত বিসমিল্লা-হ’র বারাকাতে চতুর্দিক হতে শয়তানকে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪২৯৫-[২] বুখারী-এর অপর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পাত্রসমূহ ঢেকে রাখো। মশকগুলোর মুখ বেঁধে রাখো। কেননা এ সময় জিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে নেয়। আর তোমরা শয়নকালে বাতিগুলো নিভিয়ে দাও। কেননা দুষ্ট ইঁদুরগুলো কখনো কখনো (প্রজ্জ্বলিত) সলতা টেনে নিয়ে যায়। ফলে গৃহবাসীকে পুড়িয়ে দেয়।[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: قَالَ: «خَمِّرُوا الْآنِيَةَ وَأَوْكُوا الْأَسْقِيَةَ وَأَجِيفُوا الْأَبْوَابَ وَاكْفِتُوا صِبْيَانَكُمْ عِنْدَ الْمَسَاءِ فَإِن للجن انتشارا أَو خطْفَة وَأَطْفِئُوا الْمَصَابِيحَ عِنْدَ الرُّقَادِ فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ رُبَّمَا اجْتَرَّتْ الفتيلة فأحرقت أهل الْبَيْت»

وفي رواية للبخاري: قال: «خمروا الانية واوكوا الاسقية واجيفوا الابواب واكفتوا صبيانكم عند المساء فان للجن انتشارا او خطفة واطفىوا المصابيح عند الرقاد فان الفويسقة ربما اجترت الفتيلة فاحرقت اهل البيت»

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ) ইঁদুর যা রাত্রি বেলায় গর্ত হতে বের হয় মানুষের ওপর এবং (পরিবেশ) বিকৃত করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪২৯৬-[৩] মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা পাত্রসমূহ ঢেকে রাখো, মশকের মুখ বেঁধে রাখো। ঘরের দরজাসমূহ (সন্ধ্যাকালে) বন্ধ রাখো এবং (শয়নকালে) বাতি নিভিয়ে দাও। কেননা শয়তান (বন্ধ) মশক ও (বন্ধ) দরজা খুলতে পারে না এবং (ঢাকা) পাত্র উন্মুক্ত করতে পারে না। আর যদি তোমাদের কেউ একখানা কাঠি ব্যতীত কিছু না পায়, তবে ’’বিসমিল্লা-হ’’ বলে তাই যেন আড়াআড়িভাবে পাত্রের উপর রেখে দেয়। কেননা দুষ্ট ইঁদুর গৃহবাসীসহ ঘর পুড়িয়ে ফেলতে পারে।[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: «غَطُّوا الْإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَغْلِقُوا الْأَبْوَابَ وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَحُلُّ سِقَاءً وَلَا يَفْتَحُ بَابًا وَلَا يَكْشِفُ إِنَاءً فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا أنْ يعرضَ على إِنائِه عوداً ويذكرَ اسمَ اللَّهَ فَلْيَفْعَلْ فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْت بَيتهمْ»

وفي رواية لمسلم قال: «غطوا الاناء واوكوا السقاء واغلقوا الابواب واطفىوا السراج فان الشيطان لا يحل سقاء ولا يفتح بابا ولا يكشف اناء فان لم يجد احدكم الا ان يعرض على اناىه عودا ويذكر اسم الله فليفعل فان الفويسقة تضرم على اهل البيت بيتهم»

ব্যাখ্যাঃ ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা যে কোন বাতি হতে পারে যাতে তা আগুন লাগার ভয় থাকে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি আগুন লাগার ভয় না থাকে তাহলে না নিভালেও সমস্যা নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪২৯৭-[৪] মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, সূর্যাস্তের পর রাতের কিছু অংশ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের জানোয়ার ও শিশুদেরকে (বাইরে) ছেড়ে দিয়ো না। কেননা সূর্যাস্তের পর সান্ধ্য আভা বিলীন হওয়া পর্যন্ত শয়তান ছড়িয়ে পড়ে।[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: قَالَ: «لَا تُرْسِلُوا فَوَاشِيكُمْ وَصِبْيَانَكُمْ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْعَثُ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تذْهب فَحْمَة الْعشَاء»

وفي رواية له: قال: «لا ترسلوا فواشيكم وصبيانكم اذا غابت الشمس حتى تذهب فحمة العشاء فان الشيطان يبعث اذا غابت الشمس حتى تذهب فحمة العشاء»

ব্যাখ্যাঃ এখানে শয়তান দ্বারা উদ্দেশ্য শয়তানের নেতা বা সর্দার সে তার বাহিনীকে পাঠায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪২৯৮-[৫] মুসলিম-এর আরেক বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ খাদ্য-পাত্র ঢেকে রাখো এবং মশক বন্ধ রাখো। কেননা বছরে এমন এক রাত্রি আছে, যে রাত্রে বিভিন্ন প্রকারের বালা-মুসীবাত নাযিল হয়। ঐসব বালার গতিবিধি এমন সব পাত্রের দিকে হয় যা ঢাকা নয় এবং এমন পান-পাত্রের দিকে হয় যার মুখ বন্ধ নয়, ফলে তা তার মধ্যে প্রবেশ করে।[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: قَالَ: «غَطُّوا الْإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ فَإِنَّ فِي السَّنَةِ لَيْلَةً يَنْزِلُ فِيهَا وَبَاءٌ لَا يَمُرُّ بِإِنَاءٍ لَيْسَ عَلَيْهِ غِطَاءٌ أَوْ سِقَاءٌ لَيْسَ عَلَيْهِ وِكَاءٌ إِلَّا نَزَلَ فِيهِ من ذَلِك الوباء»

وفي رواية له: قال: «غطوا الاناء واوكوا السقاء فان في السنة ليلة ينزل فيها وباء لا يمر باناء ليس عليه غطاء او سقاء ليس عليه وكاء الا نزل فيه من ذلك الوباء»

ব্যাখ্যাঃ ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ প্রত্যেক কাজে বিসমিল্লা-হ বলা শিষ্টাচার ও সকল প্রকার কল্যাণের সমন্বয়ক, আর এর দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল মুসীবাত হতে নিরাপত্তা অর্জিত হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪২৯৯-[৬] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ হুমায়দ নামক আনসারের এক ব্যক্তি নাকী’ নামক এক জায়গা হতে এক পেয়ালা দুধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে নিয়ে এলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এটাকে ঢেকে আননি কেন? আর কিছু না হোক অন্তত একটি কাঠি তার উপর আড়াআড়িভাবে রেখে দিতে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَعَنْهُ قَالَ: جَاءَ أَبُو حُمَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِنَ النَّقِيعِ بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَّا خَمَّرْتَهُ وَلَوْ أنْ تعرِضَ عليهِ عوداً»

وعنه قال: جاء ابو حميد رجل من الانصار من النقيع باناء من لبن الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «الا خمرته ولو ان تعرض عليه عودا»

ব্যাখ্যাঃ (رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ) তিনি হলেন ‘আবদুর রহমান ইবনু সা‘দ আল খারিজী, যিনি মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর শাসনামলের শেষের দিকে মারা গেছেন। যাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের উটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

(مِنَ النَّقِيعِ) নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা আকীক উপত্যকা, কারও মতে মদীনার কবরস্থান।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় এসেছে,

عَنْ جَابِرٍ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَسْقٰى فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَلَا نَسْقِيكَ نَبِيذًا قَالَ بَلٰى فَخَرَجَ الرَّجُلُ يَسْعٰى فَجَاءَ بِقَدَحٍ فِيهِ نَبِيذٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا خَمَّرْتَه.

জাবির  হতে বর্ণিত, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পান করতে চাইলেন কোন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনাকে নবীয পান করাব না।’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হ্যাঁ’। সে দ্রুত বের হয়ে এক পেয়ালা নবীয নিয়ে আসলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘কেন তুমি ঢেকে আননি।’

সহীহ মুসলিম-এর অপর বর্ণনায় এসেছে,

أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّه سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحِ لَبَنٍ مِنَ النَّقِيعِ لَيْسَ مُخَمَّرًا.

আবুয্ যুবায়র (রহিমাহুল্লাহ) জাবির (রাঃ) হতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আবূ হুমায়দ আস্ সা‘ইদী বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নাক্বী‘ হতে এক পেয়ালা দুধ আনলাম তাতে ঢাকনা ছিল না। দুধের ঘটনা আবূ হুমায়দ-এর সাথে ছিল এবং জাবির (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আর নবীযের ঘটনা ছিল জাবির-এর সাথে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৪০৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪৩০০-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো, তখন তোমরা ঘরের মধ্যে (প্রজ্জ্বলিত) আগুন রেখ না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَتْرُكُوا النَّارَ فِي بُيُوتِكُمْ حِينَ تنامون»

وعن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تتركوا النار في بيوتكم حين تنامون»

ব্যাখ্যাঃ এটা প্রদীপের আগুনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর সে সমস্ত বাতি ঝুলানো থাকে তা হতে যদি আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তা নিভানোর হুকুমে আসবে আর তা যদি না হয়, তাহলে নিভানোর প্রয়োজন নেই। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারণ দর্শিয়েছেন। বিশেষ করে ইতিপূর্বে হাদীসে যে ইঁদুর গৃহবাসীসহ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলতে পারে। কারণ অনুপস্থিত থাকলে নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়। (শারহুন নাবাবী ১০ম খন্ড, হাঃ ২০১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪৩০১-[৮] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতের বেলায় মদীনার একটি ঘর আগুনে জ্বলে গেল, গৃহবাসীদের ওপর এ বিপদ এসে পড়ল। পরে ব্যাপারটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানানো হলে তিনি বললেনঃ মূলত এ আগুন তোমাদের শত্রুই। অতএব যখন তোমরা রাতে ঘুমাবে, তখন তা নিভিয়ে দেবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ تَغْطِيَةِ الْأَوَانِي

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: احْتَرَقَ بَيْتٌ بِالْمَدِينَةِ عَلَى أَهْلِهِ مِنَ اللَّيْلِ فَحُدِّثَ بِشَأْنِهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ النَّارُ إِنَّمَا هِيَ عَدُوٌّ لَكُمْ فَإِذَا نِمْتُمْ فأطفئوها عَنْكُم»

وعن ابي موسى قال: احترق بيت بالمدينة على اهله من الليل فحدث بشانه النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ان هذه النار انما هي عدو لكم فاذا نمتم فاطفىوها عنكم»

ব্যাখ্যাঃ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আগুনকে শত্রু বলার মানে এই নয় যে, সব আগুনই ক্ষতিকর। হাদীসে বর্ণিত শব্দে هٰذِه দ্বারা নির্দিষ্ট আগুনকে বুঝানো হয়েছে; যেমন- চেরাগ, কুপি, বাতি ও চুলার আগুন। তা বিভিন্নভাবে অসতর্ক অবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যথায় আগুন যে তোমাদের জন্য উপকারী এবং মৌলিক প্রয়োজনের অন্যতম বস্তু অনস্বীকার্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪৩০২-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যখন তোমরা রাতে কুকুরের চিৎকার এবং গাধার ডাক শুনতে পাবে, তখন আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান হতে আশ্রয় চাইবে। কেননা তারা এমন এমন কিছু দেখতে পায়, যা তোমরা দেখতে পাও না। আর রাতে যখন মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন তোমরাও বাইরে যাওয়া কমিয়ে দাও। কেননা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্ট কিছু জীবকে রাত্রিকালে ছেড়ে দেন। তোমরা ঘরের দরজা বন্ধ রাখো, আর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। কারণ শয়তান এমন দরজা খুলতে পারে না যা আল্লাহর নাম নিয়ে বন্ধ করা হয়। আর তোমরা ঘটি, মটকা (খাদ্য-পাত্রসমূহ) ঢেকে রাখো, শূন্য পাত্র উপুড় করে রাখ এবং মশকের মুখ বেঁধে রাখো। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلَابِ وَنَهِيقَ الْحَمِيرِ مِنَ اللَّيْلِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ فَإِنَّهُنَّ يَرَيْنَ مَا لَا تَرَوْنَ. وَأَقِلُّوا الْخُرُوجَ إِذَا هَدَأَتِ الْأَرْجُلُ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبُثُّ مِنْ خَلْقِهِ فِي لَيْلَتِهِ مَا يَشَاءُ وَأَجِيفُوا الْأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا إِذَا أُجِيفَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَغَطُّوا الْجِرَارَ وَأَكْفِئُوا الْآنِيَةَ وأوكوا الْقرب» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

عن جابر قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اذا سمعتم نباح الكلاب ونهيق الحمير من الليل فتعوذوا بالله من الشيطان الرجيم فانهن يرين ما لا ترون. واقلوا الخروج اذا هدات الارجل فان الله عز وجل يبث من خلقه في ليلته ما يشاء واجيفوا الابواب واذكروا اسم الله عليه فان الشيطان لا يفتح بابا اذا اجيف وذكر اسم الله عليه وغطوا الجرار واكفىوا الانية واوكوا القرب» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ (مِنَ اللَّيْلِ) দ্বারা উদ্দেশ্য রাতের কোন এক অংশে। আর হাকিম-এর বর্ণনায় إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلَابِ যখন তোমরা কুকুরের আওয়াজ শুনবে।

(فَإِنَّهُنَّ يَرَيْنَ مَا لَا تَرَوْنَ) তারা যা দেখে তোমরা তা দেখতে পাও তা হলো তারা শয়তানকে দেখতে পায়। আর আবূ হুরায়রা -এর বর্ণনায় এসেছে যা বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত-

وَإِذَا سَمِعَ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ، فَلْيَسْأَلِ اللهَ مِنْ فَضْلِه ; فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا যখন কোন মুরগীর আওয়াজ শুনবে সে যেন আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ চায়, কেননা সে মালাক (ফেরেশতা)-কে দেখেছে।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কারণ হলো মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) ‘আমীন’ দু‘আতে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কামনা তাদের শাহাদাত বিনয়-নম্রপূর্ণ এবং একনিষ্ঠতা। আর তাতে সৎলোকেদের উপস্থিতির সময় দু‘আ কামনা করা ভালো।

অনুরূপ দু‘আ করা ভালো যালিম ও ফাসিককে দর্শনের সময়। মদ্য কথা হলো, নেককার ও ফাসিকদেরকে দেখা ওয়া‘দা ও শাস্তির নিদর্শন শুনার পর্যায়। এমনটি হলে প্রথমে চাইবে দ্বিতীয়তে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। যেমন অন্য সহীহ হাদীসে এসেছে,

إِذَا سَمِعْتُمْ أَصْوَاتَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِه؟ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا، وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحَمِيرِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ؟ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا.

যখন তোমরা মোরগের আওয়াজ শুনবে আল্লাহর নিকট অনুগ্রহ কামনা করবে, কারণ সে মালাক (ফেরেশতা)-কে দেখ আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে আল্লাহর কাছে শয়তান হতে আশ্রয় চাইবে, কেননা সে শয়তানকে দেখেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - থালা-বাসন ইত্যাদি ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে

৪৩০৩-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন একটি ইঁদুর জ্বলন্ত একটি সলতে টেনে আনল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখের চাটাইয়ের উপর রেখে দিলো, যার উপরে তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। ফলে তার এক দিরহামের জায়গা পরিমাণ জ্বলে গেল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ (রাতে) যখন তোমরা ঘুমাবে, তখন চেরাগ, বাতি ইত্যাদি নিভিয়ে ফেলবে। কেননা শয়তান এ জাতীয় অনিষ্টকর প্রাণীকে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে তারা তোমাদের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن ابنِ عبَّاسٍ قَالَ: جَاءَتْ فَأْرَةٌ تَجُرُّ الْفَتِيلَةَ فَأَلْقَتْهَا بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْخَمْرَةِ الَّتِي كَانَ قَاعِدًا عَلَيْهَا فَأَحْرَقَتْ مِنْهَا مِثْلَ مَوْضِعِ الدِّرْهَمِ فَقَالَ: «إِذَا نِمْتُمْ فَأَطْفِئُوا سُرُجَكُمْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدُلُّ مِثْلَ هَذِهِ عَلَى هَذَا فَيَحْرِقُكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَهَذَا الْبَاب خَال من الْفَصْل الثَّالِث

وعن ابن عباس قال: جاءت فارة تجر الفتيلة فالقتها بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم على الخمرة التي كان قاعدا عليها فاحرقت منها مثل موضع الدرهم فقال: «اذا نمتم فاطفىوا سرجكم فان الشيطان يدل مثل هذه على هذا فيحرقكم» . رواه ابو داود وهذا الباب خال من الفصل الثالث

ব্যাখ্যাঃ (إِذَا نِمْتُمْ) যখন তোমরা ঘুমাও ঘুমকে নির্দিষ্টের কারণ হলো অধিকাংশ সময় উদাসীনতা ঘুমের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর এজন্য বলা হয় যখন উদাসীনতা আসে বিবেকবর্জিত কাজ সংঘটিত হয়।

(فَيَحْرِقُكُمْ) তোমাদের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়, এর কারণ শয়তানই। যেমন আল্লাহ বলেন,

(إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا) ‘‘নিশ্চয় শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু তাকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর’’- (সূরাহ্ আল ফাত্বির ৩৪ : ৬)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য (كتاب الأطعمة) 21. Foods
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১৪৫ পর্যন্ত, সর্বমোট ১৪৫ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে