পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ’আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ’ইবাদাত ও মু’আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ’ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।

কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।


১৫২৩-[১] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধার্থকে খাবার দিও, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেও, বন্দী ব্যক্তিকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করো। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْعِمُوا الْجَائِعَ وَعُودُوا الْمَرِيض وفكوا العاني» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اطعموا الجاىع وعودوا المريض وفكوا العاني» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: ক্ষুধার্থকে খাদ্য দান করা ভাল অথবা ওয়াজিব যদি ক্ষুধার্থ ব্যক্তি ক্ষুধার জালায় কাতর হয়। কারও মতে সুন্নাহ। কাতর না হলে আর কাতর হলে ফারযে কিফায়াহ্। রুগ্নকে দেখাশোনা বা সেবা-শশ্রুসা করার লোক থাকে তাহলে দেখতে যাওয়া এবং খোঁজ-খবর নেয়া সুন্নাত আর যদি কেউ না থাকে তাহলে তত্ত্বাবধান করা ওয়াজিব। তবে ইমাম বুখারী আদেশসূচক ভাষ্য দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন এবং অধ্যায় বেঁধেছেন بَابُ وُجُوْبِ عِيْادَةِ الْمَرِيْضِ ‘রোগী ব্যক্তিকে দেখাশুনা ও খোঁজ-খবর নেয়া ওয়াজিব’ অধ্যায়।

রোগী দেখার আদাব বা বৈশিষ্ট্যঃ

১। রোগীর পাশে বেশিক্ষণ অবস্থান না করা যাতে সে বিরক্ত হয় অর্থাৎ তার পরিবারের কষ্ট হয় আর যদি অবস্থান করা জরুরী হয়ে পড়ে তাহলে বাধা নেই।

২। রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিবে এবং নম্র্ভাবে কথা বলবে ও সান্ত্বনা দিবে হতে পারে এর মাধ্যমে রোগী নিজেকে প্রাণবন্ততা ও নবশক্তি অনুভব করবে।

বন্দীকে মুক্ত করঃ মুসলিম বন্দীকে কাফিরের হাত থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা অথবা অন্যায়ভাবে আটককৃত বন্দীকে মুক্তির ব্যবস্থা করা। কারো মতে বন্দী মুক্তির ব্যবস্থা করা ফারযে কিফায়াহ্। কারো মতে অর্থ হল দাসমুক্ত করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৪-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিমের ওপর আর এক মুসলিমের পাঁচটি হক বর্তায়। (১) সালামের জবাব দেয়া, (২) রোগ হলে দেখতে যাওয়া, (৩) জানাযায় শামিল হওয়া, (৪) দা’ওয়াত গ্রহণ করা ও (৫) হাঁচির জবাব দেয়া। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدعْوَة وتشميت الْعَاطِس

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حق المسلم على المسلم خمس: رد السلام وعيادة المريض واتباع الجناىز واجابة الدعوة وتشميت العاطس

ব্যাখ্যা: সালামের জবাব দেয়া ফারযে আইন একজন হলে আর জামা‘আতবদ্ধ হলে ফারযে কিফায়াহ্। জানাযায় অংশগ্রহণ বলতে সালাতুল জানাযাহ্ শেষে দাফনের উদ্দেশে লাশের পেছনে চলা। তবে এটা ফারযে কিফায়াহ্। দা‘ওয়াত কবূল করা শারী‘আত অনুমোদিত যদি কোন প্রকার শার‘ঈ বা অন্য কোন বাধা না থাকে আর এটা ওয়ালীমার চেয়েও ব্যাপক। হাঁচির জবাবে يَرْحَمُكَ الله বলবে যদি সে اَلْحَمْدُ لِلّهِ বলে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৫-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের ওপর মুসলিমের ছয়টি হক (অধিকার) আছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ অধিকারগুলো কি কি? জবাবে তিনি বলেন, (১) কোন মুসলিমের সাথে দেখা হলে, সালাম দেবে, (২) তোমাকে কেউ দা’ওয়াত দিলে, তা কবূল করবে, (৩) তোমার কাছে কেউ কল্যাণ কামনা করলে তাকে কল্যাণের পরামর্শ দেবে, (৪) হাঁচি দিলে তার জবাব ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলবে, (৫) কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, (৬) কারো মৃত্যু ঘটলে তার জানাযায় শরীক হবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ» . قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حق المسلم على المسلم ست» . قيل: ما هن يا رسول الله؟ قال: «اذا لقيته فسلم عليه واذا دعاك فاجبه واذا استنصحك فانصح له واذا عطس فحمد الله فشمته واذا مرض فعده واذا مات فاتبعه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: نَصِيْحَة ‘নাসীহাহ্’ এর নাসীহাত কৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণ কামনা করা তিরমিযী ও নাসায়ীর বর্ণনা এসেছে যে, যখন অনুপস্থিত ও উপস্থিত থাকবে সকল অবস্থায় কল্যাণ কামনা করবে। এ হাদীস পূর্বের হাদীসের বিরোধী নয়, সংখ্যায় অতিরিক্তটি গ্রহণযোগ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৬-[৪] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি আদেশ ও সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন- (১) রোগীর খোঁজ-খবর নিতে, (২) জানাযায় শরীক হতে, (৩) হাঁচির আলহামদুলিল্লা-হ’র জবাবে ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলতে, (৪) সালামের জবাব দিতে, (৫) দা’ওয়াত দিলে তা কবূল করতে, (৬) কসম করলে তা পূর্ণ করতে, (৭) মাযলূমের সাহায্য করতে।

এভাবে তিনি আমাদেরকে (১) সোনার আংটি পরতে, (২) রেশমের পোশাক, (৩) ইস্তিবরাক [মোটা রেশম], (৪) দীবাজ [পাতলা রেশম] পরতে, (৫) লাল নরম গদীতে বসতে, (৬) ক্বাস্‌সী ও (৭) রূপার পাত্র ব্যবহার করতে। কোন কোন বর্ণনায়, রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রূপার পাত্রে পান করবে আখিরাতে সে তাতে পান করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: أَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ أَمَرَنَا: بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَرَدِّ السَّلَامِ وَإِجَابَةِ الدَّاعِي وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَنَهَانَا عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ وَعَنِ الْحَرِيرِ والْإِسْتَبْرَقِ وَالدِّيبَاجِ وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ وَالْقَسِّيِّ وَآنِيَةِ الْفِضَّةِ وَفِي رِوَايَةٍ وَعَنِ الشُّرْبِ فِي الْفِضَّةِ فَإِنَّهُ مَنْ شَرِبَ فِيهَا فِي الدُّنْيَا لم يشرب فِيهَا فِي الْآخِرَة

وعن البراء بن عازب قال: امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع امرنا: بعيادة المريض واتباع الجناىز وتشميت العاطس ورد السلام واجابة الداعي وابرار المقسم ونصر المظلوم ونهانا عن خاتم الذهب وعن الحرير والاستبرق والديباج والميثرة الحمراء والقسي وانية الفضة وفي رواية وعن الشرب في الفضة فانه من شرب فيها في الدنيا لم يشرب فيها في الاخرة

ব্যাখ্যা: الْقَسِّيِّ ‘ক্বাসসী’ সহীহুল বুখারীতে পোশাক অধ্যায়ে এর ব্যখ্যা এসেছে যে এমন কারুকার্য খচিত রেশমী কাপড় যা শাম (সিরিয়া) অথবা মিসর হতে আনা হত (তৎকালে)। জাযারী বলেনঃ মিসর হতে আমদানীকৃত রেশমযুক্ত কাত্তানী তাঁত কাপড়। রূপার পাত্র হারাম সোনার পাত্র আরও বেশি হারাম। অন্য হাদীসে সুস্পষ্টভাবে তা হারাম করেছে। আর এটা হারাম অপচয় ও অহংকারের জন্য। খাত্ত্বাবী বলেন, এ বিষয়গুলো হুকুমের বিধানের ভিন্নতা রয়েছে। ‘আম, খাস এবং ওয়াজিব। সুতরাং সোনার আংটি অনুরূপ যা উল্লেখ্য রেশম ও দিবাজ পরিধান করা খাস করে পুরুষের জন্য হারাম। আর রৌপের পাত্র ‘আমভাবে পুরুষ, মহিলা সকলের জন্য হারাম, কেননা তা অপচয় ও অহংকারের পথ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৭-[৫] সাওবান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার অসুস্থ কোন মুসলিম ভাইকে দেখার জন্য যখন চলতে থাকে, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسلم لم يزل فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان المسلم اذا عاد اخاه المسلم لم يزل في خرفة الجنة حتى يرجع» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (خُرْفَةٌ) এমন ফল যখন তা পাকে বা পরিপক্ক হয়।

এখানে উদ্দেশ্য হল রাস্তা তথা রুগীকে দেখতে যাওয়া ব্যক্তি এমন এক রাস্তায় হাঁটছে যে রাস্তা তাকে জান্নাতে পৌঁছাবে।

মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে রোগীকে দেখতে যাওয়া ব্যক্তি জান্নাতের বাগানে রয়েছে যতক্ষণ না ফিরে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৮-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন বলবেন, হে বানী আদম! আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমাকে কিভাবে দেখতে যাব? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, আমাকে অবশ্যই তার কাছে পেতে। হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমাকে কিভাবে খাবার দিতাম? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানো না, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল? তুমি তাকে খাবার দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, সে সময় যদি তুমি তাকে খাবার দিতে তাহলে তা এখন আমার কাছে পেতে? হে বানী আদম! আমি তোমার কাছে পিপাসা নিবারণের জন্য পানি চেয়েছিলাম। তুমি পানি দিয়ে তখন আমার পিপাসা নিবারণ করোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি কিভাবে তোমার পিপাসা নিবারণ করতাম? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তখন তাকে পানি দাওনি। যদি তুমি সে সময় তাকে পানি দিতে, তাহলে তা এখন আমার কাছে পেতে। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِن الله عز وَجل يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَّا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟ يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِي قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أُطْعِمُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِي فُلَانٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: اسْتَسْقَاكَ عَبْدِي فُلَانٌ فَلَمْ تَسْقِهِ أما إِنَّك لَو سقيته لوجدت ذَلِك عِنْدِي . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله عز وجل يقول يوم القيامة: يا ابن ادم مرضت فلم تعدني قال: يا رب كيف اعودك وانت رب العالمين؟ قال: اما علمت ان عبدي فلانا مرض فلم تعده؟ اما علمت انك لو عدته لوجدتني عنده؟ يا ابن ادم استطعمتك فلم تطعمني قال: يا رب كيف اطعمك وانت رب العالمين؟ قال: اما علمت انه استطعمك عبدي فلان فلم تطعمه؟ اما علمت انك لو اطعمته لوجدت ذلك عندي؟ يا ابن ادم استسقيتك فلم تسقني قال: يا رب كيف اسقيك وانت رب العالمين؟ قال: استسقاك عبدي فلان فلم تسقه اما انك لو سقيته لوجدت ذلك عندي . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُوْلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) নিশ্চয় ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, মালাকের যবান দ্বারা অথবা সরাসরি আল্লাহ নিজেই আদামের সন্তানদের ভৎর্সনা করবেন তাঁর বন্ধুদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার কারণে।

(يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي) ‘‘আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসোনি।’’

মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ পীড়িত দ্বারা বান্দার পীড়িত উদ্দেশ্য নিয়েছেন আর আল্লাহ তা‘আলা নিজের দিকে সম্বোধনের উদ্দেশ্য হল ঐ বান্দার সম্মানের জন্য, অতঃপর তাকে নিজের মর্যাদার সাথে জড়িত করেছেন। মুদ্দা কথা যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় সে যেন আল্লাহরই সাক্ষাৎ করে।

(كَيْفَ أَعُوْدُكَ) আপনি কিভাবে অসুস্থ হবেন আর আমি দেখতে যাব। অথচ আপনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক আর প্রতিপালক তো তিনিই যিনি বাদশা, নেতা, ব্যবস্থাপক, প্রতিপালক এবং নি‘আমাত দানকারী আর এ গুণাবলীগুলো অসুস্থতা, ক্ষতি, প্রয়োজন হওয়া, ধ্বংস হওয়া ইত্যাদীর বিপরীত।

(أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَه لَوَجَدْتَنِي عِنْدَه) তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে নিশ্চয় আমাকে তার নিকট পেতে। তথা তুমি পেতে আমার সন্তুষ্টি, প্রতিদান ও করুণা। অনুরূপ সম্পূর্ণ হাদীসের অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, তুমি যদি খাওয়াতে আমার নিকট প্রতিদান পেতে। ত্বীবী বলেন, হাদীসের এ অংশ ইঙ্গিত করে যে, রোগীকে দেখতে যাওয়া অধিক পুণ্যের কাজ খাওয়া ও পান করানোর চেয়ে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫২৯-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একজন অসুস্থ বেদুঈনকে দেখতে গেলেন। আর কোন রোগীকে দেখতে গেলে তিনি বলতেন, ’ভয় নেই, আল্লাহ চান তো তুমি খুব শীঘ্রই ভাল হয়ে যাবে। এ রোগ তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ এ নিয়ম অনুযায়ী তিনি বেদুঈনকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ’ভয় নেই, তুমি ভাল হয়ে যাবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটা তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে যাবে।’ তাঁর কথা শুনে বেদুঈন বলল, কক্ষনো নয়। বরং এটা এমন এক জ্বর, যা একজন বৃদ্ধ লোকের শরীরে ফুঁটছে। এটা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। তার কথা শুনে এবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আচ্ছা, তুমি যদি তাই বুঝে থাক তবে তোমার জন্য তা-ই হবে। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أَعْرَابِيٍّ يَعُودُهُ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَى مَرِيضٍ يَعُودُهُ قَالَ: «لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» فَقَالَ لَهُ: «لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» . قَالَ: كَلَّا بَلْ حُمَّى تَفُورُ عَلَى شَيْخٍ كَبِيرٍ تزيره الْقُبُور. فَقَالَ: «فَنعم إِذن» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عباس: ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل على اعرابي يعوده وكان اذا دخل على مريض يعوده قال: «لا باس طهور ان شاء الله» فقال له: «لا باس طهور ان شاء الله» . قال: كلا بل حمى تفور على شيخ كبير تزيره القبور. فقال: «فنعم اذن» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: কারও মতে বেদুঈন ব্যক্তির নাম ক্বায়স বিন আবূ হাযিম।

(لَا بَأْسَ) তথা তোমার ওপর এ অসুস্থে কোন আশংকা ও দুর্বলতা নেই। ইবনু হাজার বলেন, নিশ্চয় অসুস্থতা গুনাহকে মিটিয়ে দেয় যদি সুস্থতা অর্জিত হয় তাহলে দু’টি উপকার হয় আর তা না হলে গুনাহ মিটানোর মাত্রা আর বেশী অর্জিত হয়। (طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ) শব্দ দ্বারা দু‘আ প্রমাণিত হয় সংবাদ হয় না।

(فقا له) বেদুঈন লোকটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লক্ষ্য করে বলল, আপনি কি বলছেন পবিত্রতার কারণে হবে। (كَلَّا) কখনও না তথা পবিত্রতার কারণ হবে না। মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, বিষয়টি তেমন যা তুমি বল অথবা তুমি বলবে না যে তার কথা কুফরী হওয়া ও কুফরী না হওয়া উভয় সম্ভবনা রয়েছে। এর সমর্থনে বলা যায় যে, গ্রামটি বেদুঈন লোকটি কঠিনপ্রকৃতির ছিল তার ইচ্ছা ছিল না মুরতাদ হওয়া বা মিথ্যা বলার। আর সে হতাশা বা নিরাশার সীমানায় পৌঁছেনি।

(تَفُوْرُ عَلى شَيْخٍ كَبِيْرٍ) গরমের তীব্রতা প্রকাশ পাচ্ছিল তার শরীর যেন টগবগ করছিল যেমন পাতিল টগবগ করে। إِذًا হ্যাঁ তবে (তোমার জন্য) তা হবে।

ত্বীবী বলেন, আমি তোমাকে আমার এ বক্তব্য (لا بأس عليك) (তোমার কোন ভয় বা আশংকা নেই) দ্বারা পথ দেখাচ্ছি যে, তোমার জ্বর তোমাকে তোমার গুনাহ হতে পবিত্র করাবে, সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং এর জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, অতঃপর তুমি অস্বীকার করলে কিন্তু নিরাশা ও কুফরী ব্যক্ত করলে তেমনটি হবে যেমনটি তুমি ধারণা করেছ। এটা দ্বারা নিজকে যথেষ্ট মনে করলে না বরং আল্লাহর নি‘আমাতকে প্রত্যাখ্যান করলে আর তুমি নি‘আমাতের মধ্যে ছিলে তাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগতস্বরে বললেন ইবনু তীন বলেনঃ সম্ভবত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ স্বরূপ বলেছেন।

আবার কেউ বলেছেন, হতে পারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরেছেন যে, এ অসুখে মারা যাবে, সুতরাং তিনি দু‘আ করছিলেন এই জ্বর যেন তার গুনাহ দূরীভূত হওয়ার কারণ হয়; অতঃপর সে মারা গেল। হতে পারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে বেদুঈন লোকটি এমনটি জবাব দিবে। ত্ববারানীতে অতিরিক্ত শব্দ এসেছে-

أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - قَالَ لِلْأَعْرَاِبِيِّ إِذَا أَبَيْتَ فَهِيَ كَمَا تَقُوْلُ قَضَاءُ اللهِ كَائِنٌ فَمَا أَمْسى مِنَ الْغَدِ إِلَّا مَيِّتًا.

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেদুঈন লোকটিকে বললেন, যখন তুমি প্রত্যাখ্যান করলে তেমনটি হবে যেমনটি তুমি ধারণা করেছ পরের দিন সন্ধায় লোকটি মারা গেছে।

হাদীসের শিক্ষাঃ

* বাদশার জন্য তার প্রজার কোন ব্যক্তি রুগী হলে তাকে দেখতে যাওয়া সম্মানহানী নয়, ‘আলিমের জন্য সম্মানহানী নয়, অজ্ঞ রুগী ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বরং তাকে শিক্ষা দিবে স্মরণ করাবে যা তার উপকার আসবে এবং তাকে ধৈর্যের শিক্ষা দিবে যাতে আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত ভাগ্যের প্রতি তার রাগ না জন্মে এর জন্য আল্লাহও রাগ না করে তার প্রতি এবং তাকে সান্ত্বনা দিবে ব্যথা হতে। বরং তাকে ঈর্ষা করাবে তার রোগের জন্য অন্যের প্রতি তার এবং তার পরিবারের ওপর মুসীবাত আসাতে।

* আর রুগী ব্যক্তির উচিত হবে সে সাক্ষাৎ প্রার্থীর উপদেশ ভালভাবে গ্রহণ করবে এবং যে এ সমস্ত উপদেশ দিবে চমৎকার জবাব তাকে দিবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩০-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কারো অসুখ হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত রোগীর গায়ে বুলিয়ে দিয়ে বলতেন, হে মানুষের রব! এ ব্যক্তির রোগ দূর করে দিন। তাকে নিরাময় করে দিন। নিরাময় করার মালিক আপনিই। আপনার নিরাময় ছাড়া আর কোন নিরাময় নেই। এমন নিরাময় যা কোন রোগকে বাকী রাখে না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَكَى مِنَّا إِنْسَانٌ مَسَحَهُ بِيَمِينِهِ ثُمَّ قَالَ: «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اشتكى منا انسان مسحه بيمينه ثم قال: «اذهب الباس رب الناس واشف انت الشافي لا شفاء الا شفاوك شفاء لا يغادر سقما»

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্য মতে ডান হাত দিয়ে রুগী ব্যক্তিকে মাসাহ করা ভাল এবং তার জন্য দু‘আ করা। ইমাম নাবাবী বলেনঃ কিতাবুল আযকারে আমি অনেক সহীহ দু‘আসমূহের বর্ণনা একত্রিত করেছি আর এই দু‘আটি হচ্ছে তন্মধ্যে রুগী ব্যক্তির জন্য রোগমুক্তি কামনা করে দু‘আ করা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এজন্য যে, অসংখ্য হাদীসে এসেছে রোগ গুনাহসমূহের কাফফারাহ্ তথা গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয় এর প্রতিদান রয়েছে। এর জবাব মূলত দু‘আ একটি ‘ইবাদাত, কেননা তা সাওয়াব ও কাফফারার বিরোধী না দু’টিই অর্জিত হয় রোগের প্রথম অবস্থায় এবং তার উপর ধৈর্য ধরার মাধ্যমে দু‘আকারী উত্তমভাবে ব্যক্ত করে থাকেন, হতে পারে তার জন্য তার উদ্দেশ্য সফল হবে অথবা এর পরিবর্তে উপকার আসবে বা ক্ষতি দূরীভূত হবে। আর প্রত্যেকটিই আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩১-[৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মানুষ তার দেহের কোন অংশে ব্যথা পেলে অথবা কোথাও ফোড়া কিংবা বাঘী উঠলে বা আহত হলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐ স্থানে তাঁর আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন, ’’বিসমিল্লা-হি তুরবাতু আরযিনা- বিরীক্বাতি বা’যিনা- লিইউশফা- সাক্বীমুনা- বিইযনি রব্বিনা-’’ (অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি আমাদের কারো মুখের থুথুর সাথে মিশে আমাদের রোগীকে ভাল করবে, আমাদের মহান রবের নির্দেশে)। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ إِذَا اشْتَكَى الْإِنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِهِ قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأُصْبُعِهِ: «بِسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذن رَبنَا»

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان اذا اشتكى الانسان الشيء منه او كانت به قرحة او جرح قال النبي صلى الله عليه وسلم باصبعه: «بسم الله تربة ارضنا بريقة بعضنا ليشفى سقيمنا باذن ربنا»

ব্যাখ্যা: (بِسْمِ اللّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا) ‘আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি আমাদের কারও থুথুর সাথে মিশে’ এটা প্রমাণ করে ঝাড়ফুঁকের সময় থুথু ফেলা বৈধ।

ইমাম নাবাবী বলেন, এখানে আমাদের জমিন দ্বারা উদ্দেশ্য জমিনের সমষ্টি তথা যে কোন জমিন।

কারও মতেঃ মদীনার জমিন নির্দিষ্ট কর খাস তার বারাকাতের জন্য। থুথু বলতে সামান্য থুথু।

(بَعْضُنَا) আমাদের কেউ বলতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য তাঁর থুথু শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য, সুতরাং এটা তাঁর জন্যই খাস। এ বক্তব্যটিতে আপত্তি আছে।

নাবাবী বলেনঃ হাদীসের ভাষ্যমতে যে নিজের থুথু শাহাদাত আঙ্গুলে নিবে, অতঃপর তা মাটিতে রাখবে এবং তা হতে কিছু আঙ্গুলের সাথে মিশাবে, অতঃপর তা দ্বারা ক্ষতস্থানে বা পীড়িত স্থানে মাসাহ করবে আর মাসাহের সময় এই বাক্যগুলো (... بِسْمِ اللّهِ) পড়বে।

আমি ভাষ্যকার বলিঃ এটা মদীনার মাটি বা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নির্ধারিত না বরং পৃথিবীর যে কোন জমিন ও সামান্য থুথু যে ঝাড়ফুঁক করবে। সুতরাং এমনটি করা বৈধ বরং এটা করা মুস্তাহাব ঝাড়ফুঁকের সময় প্রত্যেক স্থানে। কুরতুবী বরেন, হাদীসে দলীল হবার প্রমাণ করে যে কোন ব্যাখ্যায় ঝাড়ফুঁক বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩২-[১০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে(مُعَوِّذَاتِ) ’’মু’আব্বিযা-ত’’ অর্থাৎ সূরাহ্ আন্ নাস ও সূরাহ্ আল ফালাক্ব পড়ে নিজের শরীরের উপর ফুঁ দিতেন এবং নিজের হাত দিয়ে শরীর মুছে ফেলতেন। তিনি মৃত্যুজনিত রোগে আক্রান্ত হলে আমি মু্বিব্বিযাত পড়ে তাঁর শরীরে ফুঁ দিতাম, যেসব মু’আব্বিযাত পড়ে তিনি নিজে ফুঁ দিতেন। তবে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত দিয়েই তাঁর শরীর মুছে দিতাম। (বুখারী, মুসলিম)[1]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তিনি ’’মু’আব্বিযাত’’ পড়ে তার গায়ে ফুঁ দিতেন।

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَكَى نَفَثَ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِهِ فَلَمَّا اشْتَكَى وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِي كَانَ يَنْفِثُ وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَتْ: كَانَ إِذَا مَرِضَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ نَفَثَ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اشتكى نفث على نفسه بالمعوذات ومسح عنه بيده فلما اشتكى وجعه الذي توفي فيه كنت انفث عليه بالمعوذات التي كان ينفث وامسح بيد النبي صلى الله عليه وسلم وفي رواية لمسلم قالت: كان اذا مرض احد من اهل بيته نفث عليه بالمعوذات

ব্যাখ্যা: (مُعَوِّذَاتِ) ‘‘মু‘আব্বিযা-ত’’ দ্বারা উদ্দেশ্য সূরাহ্ নাস, ফালাক্ব ও ইখলাস অথবা শুধুমাত্র সূরাহ্ নাস ও ফালাক্ব। আবার কারও মতে কুরআনের প্রত্যেক ঐ আয়াত আশ্রয় হিসেবে এসেছে যেমন আল্লাহর বাণীঃ

وَقُلْ رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ ۝ وَأَعُوْذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُوْنِ

‘‘বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমি শায়ত্বনের (শয়তানের) প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং হে আমার পালনকর্তা! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।’’ (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ : ৯৭-৯৮)

(مَسَحَ عَنْهُ بِيَدِه) নিজের হাত দ্বারা শরীর মুছতেন। বুখারীতে অন্য হাদীসে মাসাহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে এসেছে, ‘‘মা‘মার বলেন, আমি ইবনু শিহাবকে জিজ্ঞেস করি তিনি কিভাবে ফুঁ দিতেন, জবাবে বললেন তার দু’হাতে ফুঁ দিতেন, অতঃপর তা দ্বারা নিজের চেহারা মুছতেন।’’

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আসতেন সূরাহ্ ইখলাস নাস ও ফালাক্ব পড়ার মাধ্যমে হাতের দু’তালুতে ফুঁ দিতেন, অতঃপর তা দ্বারা তাঁর চেহারা আর তাঁর দু’হাত শরীরে যতদূর পর্যন্ত পৌঁছত মুছতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যখন ব্যথা অনুভব করতেন আমাকে বলতেন অনুরূপ যেন করি।

হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর কালাম দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা ও ফুঁ দেয়া সুন্নাহ। নাবাবী বলেন, ঝাড়ফুঁকের সময় ফুঁ দেয়া মুস্তাহাব। এরূপ বৈধতার ব্যপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন আর এমনটি মুস্তাহাব মনে করেছেন সাহাবীরা, তাবি‘ঈরা ও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম।

হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ ‘উলামারা ঝাড়ফুঁক বৈধ বলেছেন তিনটি শর্তের উপর

১। ঝাড়ফুঁকের শব্দ হবে আল্লাহর কালাম বা তার নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে আরবী ভাষায়

২। যে পড়বে সে যেন পঠিত বিষয়ের অর্থ বুঝতে পারে।

৩। এ বিশ্বাস রাখতে হবে ঝাড়ফুঁকের নিজস্ব কোন প্রভাব নেই বরং আল্লাহ তা‘আলা ভাল করবেন।

রবী‘ বলেনঃ আমি শাফি‘ঈকে ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জবাবে বললেন, এতে বাধা নেই যদি আল্লাহর কিতাব দিয়ে ও এমন আল্লাহর যিকর-আযকার দিয়ে যা পরিচিত ঝাড়ফুঁক হয়।

আমি বললাম, ইয়াহূদীরা কি মুসলিমদেরকে ঝাড়ফুঁক করতে পারবে? জবাবে বললেন, হ্যাঁ তবে যদি ঝাড়ফুঁক করে আল্লাহর কিতাব ও যিকর-আযকার দিয়ে।

মুয়াত্ত্বায় রয়েছেঃ আবূ বাকর সিদ্দীক্ব (রাঃ) ইয়াহূদী মহিলাকে বললেন, যে মহিলা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে ঝাড়ফুঁক করেছিল তুমি তাকে ঝাড়ফুঁক কর আল্লাহর কিতাব দিয়ে।

ইবনু ওয়াহ্ব মালিক হতে বর্ননা করে বলেন, তিনি ঘৃণা করতেন লোহা, লবণ এবং সুতায় গিরা দেয়া আর যা সুলায়মান-এর আংটিতে লেখা হত ইত্যাদি দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা। আরো বলেন, পূর্ববর্তী লোকের এমন প্রথা ছিল না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৩-[১১] ’উসমান ইবনু আবুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর শরীরে অনুভূত একটি ব্যথার কথা জানালেন। এ কথা শুনে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, যে জায়গায় তুমি ব্যথা অনুভব করো সেখানে তোমার হাত রাখো। তারপর তিনবার ’’বিসমিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ আল্লাহর নামে) আর সাতবার বলো, ’’আ’ঊযু বি’ইযযাতিল্ল-হি ওয়া কুদ্‌রাতিহী মিন্ শার্‌রি মা- আজিদু ওয়াউহা-যির’’ (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সম্মান ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করছি ও আশংকা করছি তাঁর ক্ষতি হতে)।

’উসমান ইবনু আবুল ’আস বলেন, আমি তা করলাম। ফলে আমার শরীরে যে ব্যথা-বেদনা ছিল তা আল্লাহ দূর করে দিলেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ أَنَّهُ شَكَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا يَجِدُهُ فِي جَسَدِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي يَأْلَمُ مِنْ جَسَدِكَ وَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ . قَالَ: فَفَعَلْتُ فَأَذْهَبَ اللَّهُ مَا كَانَ بِي. رَوَاهُ مُسلم

وعن عثمان بن ابي العاص انه شكا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجعا يجده في جسده فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ضع يدك على الذي يالم من جسدك وقل: بسم الله ثلاثا وقل سبع مرات: اعوذ بعزة الله وقدرته من شر ما اجد واحاذر . قال: ففعلت فاذهب الله ما كان بي. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: তিরমিযী ও আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় এসেছে, (أَمْسَحَهُ بِيَمِيْنِكَ) তোমরা ডান হাত দিয়ে তাকে মুছ।

ইবনু মাজার বর্ণনায়, (إِجْعَلْ يَدَكَ الْيُمْنى عَلَيْهِ) তোমার ডান হাত তার উপর রাখ।

ত্বরাবানী ও হাকিম-এর বর্ণনায়, (ضَعْ يَمِيْنَكَ عَلَى الْمَكَانِ الَّذِيْ تَشْتَكِيْ فَامْسَحْ بِهَا سَبْعَ مَرَّاتٍ) তোমার ডান হাত বেদনার স্থানে রাখ এবং হাত দিয়ে সাতবার মুছ বা মাসাহ কর।

সুতরাং ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখা দু‘আসহ মুস্তাহাব।

(قُلْ: بِسْمِ اللّهِ ثَلَاثًا) তুমি বিস্‌মিল্লা-হ তিনবার বল। শাওকানী বলেনঃ সংখ্যার বিষয়টি এ হাদীসে উত্থাপিত হওয়াটা নাবীদের একান্ত গুপ্ত বিষয় এর কারণ আমরা অনুসন্ধান করব না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৪-[১২] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনাকে কষ্ট দেয় এমন সব বিষয়ে আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ফুঁক দিচ্ছি প্রত্যেক ব্যক্তির অকল্যাণ হতে। অথবা তিনি বলেছেন, প্রত্যেক বিদ্বেষী চোখের অকল্যাণ হতে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ছি। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَشْتَكَيْتَ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ» . قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شرك كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسم الله أرقيك. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي سعيد الخدري ان جبريل اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد اشتكيت؟ فقال: «نعم» . قال: بسم الله ارقيك من كل شيء يوذيك من شرك كل نفس او عين حاسد الله يشفيك بسم الله ارقيك. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (بِسْمِ اللّهِ أَرْقِيْكَ) ‘আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাড়ফুঁক করছি’ বাক্যটি দু‘আর শুরুতে এবং শেষেও আনা হয়েছে মুবালাগার জন্য আর এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ উপকারকারী নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৫-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে এ ভাষায় দু’আ করে আল্লাহর হাতে সোপর্দ করতেন। তিনি বলতেন, ’আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে প্রত্যেক শায়ত্বনের (শয়তানের) অনিষ্ট হতে, প্রত্যেক ধ্বংসকারী হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ধ্বংস হতে, প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ হতে তোমাদেরকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করছি। তিনি আরো বলতেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এ কালিমার দ্বারা তাঁর সন্তান ইসমা’ঈল ও ইসহাককে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেন। বুখারী; মাসাবীহ সংস্করণের অধিকাংশ স্থানে ’বিহা’ শব্দের জায়গায় بهما (বিহিমা-) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিবচন শব্দে।[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يعوذ الْحسن وَالْحسن: «أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» وَيَقُولُ: «إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يعوذ بهما إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ المصابيح: «بهما» على لفظ التَّثْنِيَة

وعن ابن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعوذ الحسن والحسن: «اعيذكما بكلمات الله التامة من كل شيطان وهامة ومن كل عين لامة» ويقول: «ان اباكما كان يعوذ بهما اسماعيل واسحاق» . رواه البخاري وفي اكثر نسخ المصابيح: «بهما» على لفظ التثنية

ব্যাখ্যা: (بِكَلِمَاتِ اللّهِ) আল্লাহর কালাম দ্বারা উদ্দেশ্য ‘আমভাবে তার কালাম বা বাক্য। অথবা সূরাহ্ নাস ও ফালাক্ব অথবা কুরআনুল কারীম। কারও মতেঃ আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী দ্বারা। (تَامَّةِ) পরিপূর্ণ। উপকারী, আরোগ্যকারী, বারাকাতপূর্ণ, পুরাকারী যা হতে আশ্রয় চাওয়া হয় তা প্রতিরোধে।

জাযারী বলেনঃ আল্লাহর কালামের গুণ তামাম তথা পরিপূর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে এজন্য যে, তার কালামে কোন দোষ ত্রুটি বলা বৈধ হবে না যেমনটি মানুষের কালামে বা ত্রুটি রয়েছে।

কারও মতে তামাম দ্বারা উদ্দেশে তা আশ্রয় প্রার্থনা করাকে উপকার দিবে এবং সকল প্রকার বিপদাপদ হতে রক্ষা করবে এবং এটাই যথেষ্ট হবে।

আহমাদ বিন হাম্বাল (بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّةِ) (আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহ) দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন যে, কুরআন সৃষ্ট না আর সৃষ্টজীবের বাক্যসমূহ ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং تمام গুণ নিয়ে আসা প্রমাণ আল্লাহর কালাম সৃষ্ট না। তিনি আরও প্রমাণ করেছেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সৃষ্ট (বস্ত্ত বা জীব) দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। প্রত্যেক শায়ত্বন (শয়তান) হতে তা মানব জাতির মধ্যে হতে পারে আবার জিন জাতির মধ্যে হতে পারে (هَامَّةٌ) যা পৃথিবীতে বিচরণ করে এবং মানুষকে কষ্ট দেয়। কারও মতেঃ বিষধর প্রাণী। আর শাওকানী বলেন, এটা বিষধরের চেয়ে ‘আম যেমন হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন (أَيُؤْذِيْكَ هَوَامُّ رَأسِكَ) তোমার মাথার ব্যথা কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৬-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيرا يصب منه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন যাতে তাকে পরিচ্ছন্ন করে তুলেন তার গুনাহ হতে এবং তাকে মর্যাদা দান করেন।

অন্য হাদীসে এসেছে, আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন তখন তাদেরকে পরীক্ষা করেন, যে ধৈর্য ধারণ করে তার জন্য ধৈর্য আর যে অস্থিরতা প্রকাশ করে তার জন্য অস্থিরতা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৭-[১৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ও আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিমের ওপর এমন কোন বিপদ আসে না, কোন রোগ, কোন ভাবনা, কোন চিন্তা, কোন দুঃখ-কষ্ট হয় না, এমনকি তার গায়ে একটি কাঁটাও ফুটে না, যার দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ না করেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَن أبي هُرَيْرَة وَأبي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بهَا من خطاياه»

وعن ابي هريرة وابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا اذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها الا كفر الله بها من خطاياه»

ব্যাখ্যা: (نَصَبْ) বলতে শরীরে ক্ষত বা অন্যান্য কারণে যে ব্যথা ও দুর্বলতা হয়।

(وَصَب) বলতে এমন ব্যথা ও রোগ যা সর্বদা লেগে থাকে। هم وحزن বলতে হাফিয ইবনু হাজার বলেন, দু’টোই গোপনীয় রোগ। কারও মতে (هَمٌّ) বলতে এমন চিন্তা যা সামনে আসবে আর (حُزْنٌ) যা অতিবাহিত হয়েছে।

(أَذًى) কষ্ট ইতিপূর্বে যা গেছে সেগুলোর চেয়ে এটা ‘আম। কারও মতে এটা খাস তা হল অন্য লোকের পক্ষ হতে যা আসে (غَمٌّ) গোপন রোগ যা অন্তরকে সংকীর্ণ করে তোলে।

কারও মতে এমন চিন্তা যা অজ্ঞানের বা বেহুশের কাছাকাছি নিয়ে যায়। আর (حُزْنٌ) এর চেয়ে সহজ।

ইবনু হাজার বলেন, এ তিনটি শব্দ (هَمٌّ غَمٌّ حُزْنٌ)। (هَمٌّ) হল যা চিন্তা থেকে আসে এর কারণে তাকে কষ্ট দেয়।

(غَمٌّ) মুসীবাত যা অন্তরের জন্য হয়। (حُزْنٌ) বলতে কোন কিছু খোয়া বা হারিয়ে যাওয়ার কারণে যে শংকা তৈরি হয়।

(إِلَّا كَفَّرَ اللّهُ بهَا من خطاياه) সকল গুনাহ মিটিয়ে দেন দৃশ্যত সকল গুনাহ ‘আমভাবে কিন্তু জমহূর ‘উলামারা সগীরাহ্ গুনাহ খাস করেছেন। কেননা হাদীসে এসেছে, এক সালাত হতে অপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এক জুমু‘আহ্ হতে আরেক জুমু‘আহ্ এক রমাযান হতে আরেক রমাযান এর মাঝে যত গুনাহ হয় সেগুলো মিটিয়ে দেয় তবে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ না। সুতরাং মুতলাক্ব তথা সাধারণ হাদীসগুলো তারা এ হাদীসের উপর সীমাবদ্ধ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৮-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। তিনি সে সময় জ্বরে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার তো বেশ জ্বর! জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমাদের দু’জনে যা ভোগ করে আমি তা ভুগছি।

’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এর কারণ, আপনার জন্য দু’গুণ পুরস্কার রয়েছে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন মুসলিমের প্রতি যে কোন কষ্ট পৌঁছে থাক না কেন চাই তা রোগ হোক বা অপর কিছু হোক আল্লাহ তা’আলা তা দ্বারা তার গুনাহসমূহ ঝেড়ে দেন যেভাবে গাছ তার পাতা ঝাড়ে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُهُ بِيَدِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ» . قَالَ: فَقُلْتُ: ذَلِكَ لِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ؟ فَقَالَ: «أَجَلْ» . ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا»

وعن عبد الله بن مسعود قال: دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يوعك فمسسته بيدي فقلت: يا رسول الله انك لتوعك وعكا شديدا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اجل اني اوعك كما يوعك رجلان منكم» . قال: فقلت: ذلك لان لك اجرين؟ فقال: «اجل» . ثم قال: «ما من مسلم يصيبه اذى من مرض فما سواه الا حط الله تعالى به سيىاته كما تحط الشجرة ورقها»

ব্যাখ্যা: ইবনু হাজার বলেনঃ হাদীসের সার নির্যাস হল যখন রোগ কঠিন হবে প্রতিদানও তেমন দ্বিগুণ হবে, এর পরেও তার ওপর রোগ বৃদ্ধি পেলে প্রতিদানও সবের্বাচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে এমনকি সকল গুনাহ মিটিয়ে যাবে।

অথবা অর্থঃ হ্যাঁ রোগ কঠিন হওয়ার কারণে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়া হবে শেষ পর্যন্ত তার আর কোন গুনাহ থাকবে না। এমন মর্মার্থের দিকে সা‘দ-এর হাদীস প্রমাণ বহন করে যা দারিমী ও নাসায়ীতে এসেছে আর তা তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন যেখানে বলা হয়েছে (حتى يمشي على الأرض وما عليه خطيئه) পৃথিবীতে সে চলবে (সুস্থ হবে) এমতাবস্থায় তার আর কোন গুনাহ থাকবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৩৯-[১৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বেশী রোগযন্ত্রণায় কষ্ট পেতে হয়েছে এমন কাউকে দেখিনি। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا الْوَجَعُ عَلَيْهِ أَشَدُّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: ما رايت احدا الوجع عليه اشد من رسول الله صلى الله عليه وسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪০-[১৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুক ও চিবুকের মাঝে মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আর কারো মৃত্যু যন্ত্রণাকে আমি খারাপ মনে করি না। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ حَاقِنَتِي وَذَاقِنَتِي فَلَا أَكْرَهُ شِدَّةَ الْمَوْتِ لِأَحَدٍ أَبَدًا بَعْدَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: مات النبي صلى الله عليه وسلم بين حاقنتي وذاقنتي فلا اكره شدة الموت لاحد ابدا بعد النبي صلى الله عليه وسلم. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: বুখারীর অন্য বর্ণনায় এসেছে, (بين سحرى ونحري) আমার বুক ও গলার মাঝে। আর এ হাদীসের বিপরীত না যে হাদীসে রয়েছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা আমার রানের উপর ছিল হতে পারে রান হতে উঠিয়ে আবার বুকের মধ্যে রেখেছেন।

(فَلَا أَكْرَه شِدَّةَ الْمَوْتِ لِأَحَدٍ أَبَدًا بَعْدَ النَّبِيَّ ﷺ ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর কারও মৃত্য কষ্টকে আর আমি খারাপ মনে করি না। অর্থাৎ মৃত্যুর কষ্টকে আমি অধিক গুনাহের কারণ মনে করতাম আরও ধারণা করতাম এটা হতভাগ্যের চিহ্ন এবং আল্লাহর নিকট লোকটির খারাপ অবস্থা আর এটা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পূর্বে আর যখন আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর কষ্ট দেখলাম তখন বুঝতে পারলাম যে, মৃত্যুর কষ্ট হতভাগ্য হওয়া যা খারাপ মানুষ হওয়ার চিহ্ন অথবা খারাপ পরিণতি হবে এমনটি না। কেননা যদি এমনটি হত তাহলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মৃত্যুর কষ্ট হত না। বরং মৃত্যুর কঠিনতা মর্যাদা বৃদ্ধি ও প্রতিদান বহুগুণে হওয়া আর ব্যক্তিকে গুনাহ হতে পবিত্রকরণের কারণ। আর যখন বিষয়টি এমনই তখন আমি আর কারও মৃত্যুর কষ্টকে খারাপ মনে করি না এটা জানার পর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪১-[১৯] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো, ক্ষেতের তরতাজা ও কোমল শস্য শাখার মতো, যাকে বাতাস এদিক-ওদিক ঝুঁকিয়ে ফেলে। একবার এদিকে কাত করে। আবার সোজা করে দেয়। এভাবে তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। আর মুনাফিক্বের দৃষ্টান্ত হলো শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পিপুল গাছের মতো। একেবারে ভূমিতে উপড়ে পড়ার আগে এ গাছে ঝটকা লাগে না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الْخَامَةِ مِنَ الزَّرْعِ تُفَيِّئُهَا الرِّيَاح تصرعها مرّة وتعدلها أُخْرَى حَتَّى يَأْتِيهِ أَجَلُهُ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ الْأَرْزَةِ الْمُجْذِيَةِ الَّتِي لَا يُصِيبُهَا شَيْءٌ حَتَّى يَكُونَ انْجِعَافُهَا مَرَّةً وَاحِدَة»

وعن كعب بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل المومن كمثل الخامة من الزرع تفيىها الرياح تصرعها مرة وتعدلها اخرى حتى ياتيه اجله ومثل المنافق كمثل الارزة المجذية التي لا يصيبها شيء حتى يكون انجعافها مرة واحدة»

ব্যাখ্যা: (تُفَيِّئُهَا الرِّيَاح) বাতাস ডান ও বাম দিকে পরিবর্তন করে। তুবরিশতী বলেনঃ যখন উত্তরের বাতাস দক্ষিণ দিকে কোমল তৃণ হেলে পড়ে। আর দক্ষিণা বাতাস উত্তর দিকে হেলে পড়ে আর পূবের বাতাস হলে পশ্চিম দিকে হেলে পড়ে আর পশ্চিমা বাতাস হলে পূর্ব দিকে হেলে পড়ে।

ইবনু হাজার বলেনঃ বাতাস যদি প্রবল আকারে হয় তাহলে উত্তর দক্ষিণে হেলে পড়ে এবং পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আর বাতাস যদি স্থির হয়ে থাকে স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।

মুহলিব বলেনঃ তুলনার কারণ হল মু’মিন ব্যক্তির নিকট যখনই আল্লাহর আদেশ আসে তখনই যে তার অনুগত হয় এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হয় তার জন্য যদি কল্যাণ আসে তাহলে খুশী হয় এবং যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর যদি অকল্যাণ আসে তাহলে ধৈর্য ধারণ করে এবং কল্যাণ ও প্রতিদানের আশা করে। যখন এ (নি‘আমাত) দূরীভূত হয় তারপরে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অবিচল থাকে।

আবুল ফারাজ ইবনু জাওযী বলেনঃ মানুষেরা এ ব্যাপারে কয়েক প্রকার-

- তাদের মধ্যে কেউ বিপদাপদের প্রতিদানের অপেক্ষা করে তার ওপর বিপদ সহজ হয়।

- তাদের মধ্যে কেউ মনে করে, এই বিপদাপদ বাদশাহ তথা আল্লাহ তার রাজত্বে নিয়ন্ত্রণ করেন সুতরাং সে গ্রহণ করে এবং এতে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে না।

- আবার কেউ আল্লাহর ভালবাসায় বিপদাপদ উঠিয়ে নেয়ার আবেদন করা হতে যাকে বিরত রেখেছি। এটা ইতিপূর্বের চেয়ে বেশী ভাল।

- তাদের মধ্যে কেউ মুসীবাত আলিঙ্গন করাকে স্বাদ মনে করে এরা সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পূর্ণ, কেননা তারা আল্লাহর পছন্দই লালিত হয়ে উঠে।

(أَرْزَةِ) পরিচিত এক প্রকার গাছ যাকে বলা হয় أرْزُنْ যা এক প্রকার শক্ত কাঠ বিশিষ্ট বৃক্ষ (যা দ্বারা লাঠি তৈরি হয়) আর যে গাছটি অনেক দিন ধরে বেঁচে থাকে যা খুব বেশী পাওয়া যায় লিবিয়ার পাহাড়ে।

সাদৃশ্যের কারণ যে মুনাফিক্ব ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা তাকে কোন কিছু হারান না (তার কোন কিছু খোয়া যায় না) বরং দুনিয়া তার জন্য সহজসাধ্য হয় যাতে আখিরাতে তার অবস্থা ভয়াবহ হয়। যখন আল্লাহ তার ধ্বংসের ইচ্ছে করেন তাকে তছনছ করে দেন তার মৃত্যু হয় কঠিন শাস্তি হিসেবে আর আত্মা বের হওয়ার সময় ভীষণ ব্যথা পায়।

কারও মতে মু’মিন ব্যক্তি দুনিয়ার বিপদাপদের সাক্ষাত পায় দুনিয়ার স্বল্প অংশ অর্জিত হয় বলে যে কোমল তৃণের ন্যায় যাকে বাতাস খুব এদিক সেদিক ঘুরায় তার কান্ড দুর্বল হওয়ার কারণে। কিন্তু মুনাফিক্ব এর বিপরীত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪২-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো এক শস্য ক্ষেতের মতো। শস্য ক্ষেতকে যেভাবে বাতাস সবসময় ঝুঁকিয়ে রাখে, ঠিক এভাবে মু’মিনকে বিপদাপদ দোলায়। বালা-মুসীবত ঘিরে থাকে। আর মুনাফিক্বের দৃষ্টান্ত হলো, পিপুল গাছের মতো। পিপুল গাছ বাতাসের দোলায় ঝুঁকে না পড়লেও পরিশেষে শিকড়সহ উপড়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الزَّرْعِ لَا تزَال لاريح تميله وَلَا يزَال الْمُؤمن يصبيه الْبَلَاءُ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ شَجَرَةِ الْأَرْزَةِ لَا تهتز حَتَّى تستحصد»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل المومن كمثل الزرع لا تزال لاريح تميله ولا يزال المومن يصبيه البلاء ومثل المنافق كمثل شجرة الارزة لا تهتز حتى تستحصد»

ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্মার্থ হলঃ মু’মিনের শরীরে অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা রয়েছে অথবা তার পরিবারে এবং তার সম্পদে আর যা গুনাহ মিটানো ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। পক্ষান্তরে মুনাফিক্ব ও কাফিরের ক্ষেত্রে দুঃখ-যন্ত্রণা মুসীবাত স্বল্প আর যদিও তা আসে তাহলে তার কোন গুনাহ মিটিয়ে যায় না বরং ক্বিয়ামাতে তার জন্য বড় শাস্তি নিয়ে আসে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৩-[২১] জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সায়িব (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? উম্মু সায়িব (রাঃ)বলল, আমার জ্বর বেড়েছে। আল্লাহ এর ভাল না করুন। তার কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর বানী আদমের গুনাহগুলো এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে। (মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ فَقَالَ: «مَالك تُزَفْزِفِينَ؟» . قَالَتِ: الْحُمَّى لَا بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا فَقَالَ: «لَا تَسُبِّي الْحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ام الساىب فقال: «مالك تزفزفين؟» . قالت: الحمى لا بارك الله فيها فقال: «لا تسبي الحمى فانها تذهب خطايا بني ادم كما يذهب الكير خبث الحديد» . رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৪-[২২] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ রোগে অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে তার ’আমলনামায় তাই লেখা হয়, যা সে সুস্থ অবস্থায় বা বাড়ীতে থাকলে লেখা হত। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَهُ بِمِثْلِ مَا كَانَ يعْمل مُقيما صَحِيحا» رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا مرض العبد او سافر كتب له بمثل ما كان يعمل مقيما صحيحا» رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ) বান্দা যখন রোগে আক্রান্ত হয় রোগ হওয়ার পূর্বে ‘আমল করত আর রোগ তাকে ‘আমল করতে বাধা দিচ্ছে এবং তার নিয়্যাত এমনটি যে বাধাদানকারী না হলে তার ‘আমল সে চালিয়ে যেত।

(أَوْ سَافَرَ) অথবা সফর করে। সফরই তাকে ‘আমল করতে বাধা দিচ্ছে তা না হলে সে ‘আমল চালিয়ে যেত আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় আছে, (إَذَا كَانَ الْعَبْدُ يَعْمَلُ عَمَلًا صَالِحًا فَشَغَلَه عَنْهُ مَرَضٌ أَوْ سَفَرٌ)

‘যখন বান্দা সৎ ‘আমল করতে থাকে অতঃপর তাকে বাধা দেয় রোগ বা সফর।’

আহমাদ-এর বর্ণনা এসেছে,

إَذَا ابْتَلَى اللهُ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِه قَالَ اللهُ: أُكْتُبْ لَه صَالِحَ عَمَلِهِ الَّذِىْ كَانَ يَعْمَلُه فَإِنْ شَفَاهُ غَسَلَه وَطَهَّرَه وَإِنْ قَبَضَه غَفَرَ لَه وَرَحْمَه.

আল্লাহ যখন মুসলিম বান্দাকে তার শরীরে রোগ দিয়ে পরীক্ষা করান তখন আল্লাহ (মালাককে) বলেন তার জন্য সৎ ‘আমল লিপিবদ্ধ কর যা সে সৎ ‘আমল করছিল যদি তাকে আরোগ্য লাভ করান তাহলে তাকে শুধু ধৌত ও পাক পবিত্র করাল (গুনাহ হতে) আর যদি আল্লাহ তাকে মৃত্যু ঘটান তহলে তাকে মাফ করে দেন এবং তার প্রতি রহম করেন।

নাসায়ীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, হাদীসে সেখানে বল হয়েছে যার রাত্রিতে নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) রয়েছে কিন্তু ঘুম বা ব্যথা তাকে সালাত আদায়ে বাধা দিয়েছে তারপরেও তার জন্য সালাতের সাওয়াব লেখা হয় আর ঘুমটি হল তার ওপর সদাক্বাহ্ (সাদাকা)।

ইবনু বাত্বাল উল্লিখিত হাদীসগুলোর হুকুম নফল সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফারযের (ফরযের/ফরজের) ক্ষেত্রে না। আর সফর ও অসুস্থ অবস্থায় ফরয সালাত রহিত হয় না।

আর ইবনু হাজার-এর বক্তব্য হাদীসের হুকুম প্রশস্ত ফরয সালাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৫-[২৩] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্বা’ঊন (মহামারী)’র কারণে মৃত্যু মুসলিমদের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ لكل مُسلم»

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطاعون شهادة لكل مسلم»

ব্যাখ্যা: ‘উলামারা বলেন, শাহীদ তিন প্রকার। প্রথম প্রকারঃ দুনিয়া ও আখিরাতের শাহীদ যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, দ্বিতীয় প্রকারঃ দুনিয়া ব্যতিরেকে শুধুমাত্র আখিরাতের শাহীদ। আগত আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণিত চার শ্রেণীর শাহীদ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় প্রকারঃ আখিরাত ব্যতিরেকে শুধুমাত্র দুনিয়ার শাহীদ যারা যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করতে যেয়ে নিহত হয় অথবা গনীমাতের মালের উদ্দেশে অথবা দুনিয়ার অন্য কোন উদ্দেশে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৬-[২৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদরা পাঁচ প্রকার- (১) মহামারীতে মৃত ব্যক্তি, (২) পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (৩) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, (৪) দেয়াল চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করে মৃত ব্যক্তি। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ الْمَطْعُونُ وَالْمَبْطُونُ وَالْغَرِيقُ وَصَاحب الْهدم والشهيد فِي سَبِيل الله»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الشهداء خمسة المطعون والمبطون والغريق وصاحب الهدم والشهيد في سبيل الله»

ব্যাখ্যা: شُهَدَاءُ শব্দটি شَهِيْدٌ শব্দের বহুবচন। শাহীদকে শাহীদ বলা হয় কয়েকটি কারণে এজন্য যে, তার মৃত্যুর সময় মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) উপস্থিত হয়। ফলে সে এমন ব্যক্তি যার নিকট উপস্থিত হওয়া যায়। অথবা এজন্যে যে, সে জান্নাতের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত হয়। উপরোক্ত দুই অর্থে شَهِيْدٌ শব্দটি مَشْهُوْدٌ অর্থে ব্যবহৃত। অথবা এজন্যে যে, শাহীদকে শাহীদ বলা হয় যে, সে আল্লাহ তা‘আলার নিকট জীবিত এবং উপস্থিত থাকে। অথবা আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সম্মানসমূহে প্রস্ত্তত করে রেখেছেন তা সে প্রত্যক্ষ করেছে। অথবা, ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন সকল মিথ্যুক উম্মাতদের বিরুদ্ধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সে সাক্ষ্যদাতা হবে। আর উপরোক্ত তিন অর্থে شَهِيْدٌ শব্দটি شَاهِيْدٌ (শাহীদ) অর্থে ব্যবহৃত।

শাহীদের সংখ্যার বিষয়ে হাদীসে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন অত্র হাদীসে এ সংখ্যা পাঁচ বলা হয়েছে। আবার আগত জাবির (রাঃ) বিন আতীক-এর হাদীসে এর সংখ্যা সাত এসেছে আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ ব্যতীত। আর তিরমিযী আহমাদ বর্ণিত ‘উমারের হাদীসে এ সংখ্যা চারের কথা এসেছে।

এ বিষয়ে হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেছেন, যে বিষয়টি সুস্পষ্ট তা হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সর্বনিম্ন সংখ্যা অবহিত করেছেন। আবার অন্য সময়ে তা অধিক বলেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা করা উদ্দেশ্য তার নয়।

আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ ব্যক্তির বিধান হলো তার গোসল বা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) নেই, যা অন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যিনি আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ হন তিনিই প্রকৃত শাহীদ আর বাকীরা রূপকার্থে শাহীদ, আল্লাহর রাস্তায় শাহীদের সাওয়াবের ন্যায় সাওয়াবের অর্থে শাহীদ (যদিও মর্যাদাগতভাবে পার্থক্য বিদ্যমান)। ‘উলামাগণ উল্লেখ করেছেন শাহীদ তিন শ্রেণীর। প্রথমতঃ দুনিয়া আখিরাতে শাহীদ, আর এ হল আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ। দ্বিতীয়তঃ শুধু আখিরাতের শাহীদ, দুনিয়ায় নয়। আর এরা হলো বাকী চার শ্রেণী। তৃতীয়তঃ শুধু দুনিয়ার শাহীদ আখিরাতের নয়। এরা হল যারা গনীমাতে খিয়ানাত করে বা পৃষ্ঠপদর্শন করে মারা যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৭-[২৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা এক রকম ’আযাব। আল্লাহ যার উপর চান এ ’আযাব পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي: «أَنَّهُ عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللَّهَ جَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الطاعون فاخبرني: «انه عذاب يبعثه الله على من يشاء وان الله جعله رحمة للمومنين ليس من احد يقع الطاعون فيمكث في بلده صابرا محتسبا يعلم انه لا يصيبه الا ما كتب الله له الا كان له مثل اجر شهيد» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ) আল্লাহ যার প্রতি ইচ্ছা করেন তা প্রেরণ করেন তথা কাফির অথবা পাপীদের ওপর যেরূপ ফির‘আওন বংশধরের ঘটনা ও মূসার সাথী বাল্‘আম-এর সাথে ঘটনা।

(رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ) এই উম্মাতের জন্য রহমাত স্বরূপ আহমাদে বর্ণিত আবূ আসীব-এর হাদীস,

فَالطَّاعُوْنُ شَهَادَةٌ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَرَحْمَةٌ لَهُمْ وَرِجْسٌ عَلَى الْكَافِرِ.

প্লেগ রোগ হল মু’মিনদের জন্য শাহাদাত এবং রহমাত স্বরূপ আর কাফিরদের জন্য শাস্তি স্বরূপ।

সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে, প্লেগ রহমাত সরূপ আর এটা মুসলিমদের জন্য খাস। আর কাফিরদের ক্ষেত্রে হলে তা শাস্তি যা আখিরাতের পূর্বে দুনিয়াতে জলদি ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এই উম্মাতের মধ্যে যারা পাপী তাদের জন্য প্লেগ রোগ কি শাহাদাতের মর্যাদার কারণ হবে কিনা? বা শুধুমাত্র পরিপূর্ণ মু’মিনের সাথেই খাস। আর পাপী লোক দ্বারা উদ্দেশ্য কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকারী যাদেরকে প্লেগ আক্রমণ করলে সে শাহাদাতের মর্যাদা পাবে না তার এই পাপ কাজে জড়িত থাকার কারণে।

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘যারা দুষ্কর্মে উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের সে লোকদের মতো করে দেব যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।’’ (সূরাহ্ আল জা-সিয়াহ্ ৪৫ : ২১)

(فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه) মহামারী আক্রান্ত এলাকায় অবস্থান করে যেখান হতে বের হয় না বিরক্ত বা ব্যাকুল হয়ে বড় প্রতিদানের আশায় ধৈর্য ধারণ করে। আর কেউ ব্যাস্ত হয় অথবা আফসোস করে সেখান হতে বের হতে না পেরে আর ধারণা করে এখান হতে যদি বের হতে পারত তাহলে আসলেই এ রোগে আক্রান্ত হত না। এ ব্যক্তি এ রোগে মারা গেলে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করতে পারবে না।

(إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْدٍ) ‘তার জন্য শাহীদের অনুরূপ সাওয়াব রয়েছে’ শাহীদের অনুরূপ সাওয়াব ব্যক্তির মধ্যে উদ্দেশ্য হল যে মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় সে শাহীদ আর যারা এ মহামারী আক্রান্তে মারা যায় না তাদের জন্য শাহীদের অনুরূপ সাওয়াব রয়েছে। যদিও স্বয়ং শাহাদাতের মর্যাদা অর্জিত হবে না। অতএব যারা শাহীদের গুণে গুণান্বিত তাদের মর্যাদা সুউচ্চ তাদের চেয়ে যাদেরকে শাহীদের অনুরূপ সাওয়াব দেয়া হয়।

অনুরূপ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমাকে সুউচ্চ করার নিয়্যাতে জিহাদের উদ্দেশে বের হয়, অতঃপর অন্য কোন কারণে মারা যায় যুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়া আল্লাহর অনুগ্রহ অনেক প্রশস্ত আর মু’মিনের নিয়্যাত বেশী কার্যকরী কাজের চেয়েও।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৮-[২৬] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্বা’ঊন বা মহামারী হলো এক রকমের ’আযাব। এ ত্বা’ঊন বনী ইসরাঈলের একটি দলের ওপর নিপতিত হয়েছিল। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের ওপর নিপতিত হয়েছিল। তাই তোমরা কোন জায়গায় ত্বা’ঊন-এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে শুনলে সেখানে যাবে না। আবার তোমরা যেখানে থাকো, মহামারী শুরু হয়ে গেলে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে যেও না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطَّاعُونُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلَى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَوْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ»

وعن اسامة بن زيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطاعون رجز ارسل على طاىفة من بني اسراىيل او على من كان قبلكم فاذا سمعتم به بارض فلا تقدموا عليه واذا وقع بارض وانتم بها فلا تخرجوا فرارا منه»

ব্যাখ্যা: (الطَّاعُوْنُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيْلَ) মহামারী ‘আযাব যা বানী ইসরাঈলের কোন একটি দলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিল। ত্বীবী বলেন, এরা তারা যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা আদেশ করেছিলেন দরজার ভিতরে প্রবেশের সময় সাজদানত করে তারা তা বিরোধিতা করল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًا مِنَ السَّمَاء ‘‘আমি তাদের ওপর আসমান হতে ‘আযাব পাঠিয়েছি।’’ (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭ : ১৬২)

ইবনু মালিক বলেনঃ তাদের ওপর মহামারী ‘আযাব আল্লাহ পাঠিয়েছেন ফলে স্বল্প সময়ে চবিবশ হাজার তাদের বড় বড় নেতা গোছের লোক মারা গেছে।

(أَوْ عَلى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ) অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতি।

হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ এটা বর্ণনাকারীর সন্দেহ ইবনু খুযায়মার বর্ণনায় সুস্পষ্ট শব্দ

(فإنه رجز سلط على طائفة من بني إسرائيل) এটা শাস্তি যা বানী ঈসরাঈলের ওপর পতিত হয়েছিল।

ত্ববারানীতে ঘটনা এভাবে বর্ণিত হয়েছে, একজন ব্যক্তি ছিল তার নাম বাল্‘আম তার দু‘আ কবূল হত আর মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলের ঐ ভূমিকে আক্রমণের অভিমুখী হলেন যেখানে বাল্‘আম অবস্থান করত বাল্‘আম-এর জাতিরা তার কাছে এসে বলল, আপনি আল্লাহর নিকট তাদেরকে (মূসার) বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ করুন। সে বলল, না, আল্লাহ আমাকে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তার নিকট উপঢৌকন নিয়ে আসলো উপঢৌকন সে কবূল করে তারা দ্বিতীয়বার আবেদন করল। সে বলল, না, আমার রব আমাকে নিষেধ করেছে এবং তাদের কথায় ভ্রূক্ষক্ষপ করলেন না। অতঃপর তারা বলল, যদি অস্বীকার করে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। পরিশেষে সে বদ্দু‘আ শুরু করল তাদের (মূসা ও তার জাতির) বিরুদ্ধে কিন্তু তার জিহ্বা বানী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ আওড়াতে শুরু করল মূসা (আঃ)-এর জাতির পরিবর্তে তার জাতির ওপর, অতঃপর তাকে তারা ভৎর্সনা করতে লাগল। তারপর সে বলল, আমি তোমাদেরকে তাদের ধ্বংসের ব্যাপারে পথ বলে দিব।

হাদীস শেষ পর্যন্ত আর সেখানে রয়েছে বানী ইসরাঈলের ওপর মহামারী পতিত হয়েছিল। আর একদিনে সত্তর হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

(فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِه بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوْا عَلَيْهِ) অতএব যখন তোমরা কোন স্থানে তা আরম্ভ হয়েছে বলে শ্রবণ করবে তাহলে তথায় যাবে না।

আর এটা এজন্য যে, তোমাদের নিজেদের প্রশান্তি ও শায়ত্বনের (শয়তানের) কুমন্ত্রণা হতে বাঁচার জন্য।

(فَلَا تَخْرُجُوْا فِرَارًا) তোমরা মহামারীর স্থান হতে পলায়ন করবে না, কেননা পলায়নটা ভাগ্য হতে পলায়ন এবং তার বিরোধিতা করা আর হাদীস প্রমাণ করে মহামারী স্থান হতে পলায়ন করা হারাম। অনুরূপ মহামারী স্থানে প্রবেশ করাও হারাম, কেননা নিষেধাজ্ঞাটা মূলত হারামের উপর প্রমাণ বহন করে। আর আহমাদে বর্ণিত ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস, (الفار منها كالفار من الزحف) মহামারী হতে পলায়ন করা যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করার মতো।

হাফিয ইবনু হাজার বলেন, ‘আয়ায ও অন্যান্যরা ‘উলামারা মহামারী স্থান হতে বের হওয়া বৈধ বলে মন্তব্য করেছেন (তাদের জন্য যাদের আল্লাহর ওপর ভরসা দৃঢ় রয়েছে এবং বিশ্বাস বিশুদ্ধ)। আর এটা সাহাবীগণের মধ্যে একটি দলের অভিমত তাদের মধ্যে অন্যতম আবূ মূসা আল আশ্‘আরী ও মুগীরাহ্ বিন শু‘বাহ্। আর তাবি‘ঈনদের মধ্যে আসওয়াদ বিন হিলাল এবং মাসরূক।

আবার তাদের মধ্যে কারও অভিমত ও নিষেধাজ্ঞাটা বেঁচে থাকার জন্য, ঘৃণিত হারাম না। এদের বিরোধিতা করে জমহূররা বলেন, মহামারী হতে পলায়ন করাটা হারাম হাদীসের সুস্পষ্ট নিষেধের কারণে। আর এটাই শ্রেষ্ঠ ও প্রাধান্যকর। শাফি‘ঈ ও অন্যান্যদের নিকট এটা আর এর সমর্থনে হাদীস হল যা ইবনু খুযায়মাহ্ ও আহমাদে এসেছে,

حَدِيْثُ عَائِشَةَ مَرْفُوْعًا بِسَنَدٍ حَسَنٍ. قُلْتُ: يَارَسُوْلُ اللهِ! فَمَا الطَّاعُوْنُ؟ قَالَ: غَدَةٌ كَغَدَةِ الْبَعِيْرِ، اَلْمُقِيْمُ فِيْهَا كَالشَّهِيْدُ وَالْفَارُّ مِنْهَا كَالْفَارِّ مِنَ الزَّحَفِ.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে মারফূ‘ সূত্রে ভাল সানাদে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! মহামারী কী? তিনি বললেন, মহামারী উটের মহামারীর বা মড়কের মতো সেখানে অবস্থানকারীর মর্যাদা শাহীদদের মতো আর সে স্থান হতে পলায়নকারী যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করার মতো।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৪৯-[২৭] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আমি যখন আমার কোন বান্দাকে তার প্রিয় দু’টি জিনিস দিয়ে বিপদগ্রস্ত করি, আর সে এর উপর ধৈর্যধারণ করে, আমি তাকে এ দু’টি প্রিয় জিনিসের বিনিময়ে জান্নাত দান করব। প্রিয় দু’টো জিনিস বলতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টো চোখ বুঝিয়েছেন। (বুখারী)[1]

بَابُ عِيَادَةِ الْمَرِيْضِ وَثَوَابِ الْمَرَضِ

وَعَن أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِي بِحَبِيبَتَيْهِ ثُمَّ صَبَرَ عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الْجنَّة يُرِيد عَيْنَيْهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن انس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: قال الله سبحانه وتعالى: اذا ابتليت عبدي بحبيبتيه ثم صبر عوضته منهما الجنة يريد عينيه. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِي بِحَبِيبَتَيْهِ) আমি যখন আমার কোন বান্দাকে তার দু’টি বস্ত্ত সম্পর্কে বিপদগ্রস্ত করি। তথা তার দু’ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়া কারও মতে দু’ চোখের উপর মুসীবাত অর্পিত হয় ফলে দেখতে পায় না। হাফিয ইবনু হাজার বলেন, প্রিয় বস্ত্ত ‘‘চক্ষু’’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কেননা তা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সবচেয়ে প্রিয় আর এটা এজন্য যে, তা খোয়া গেলে আফসোসের সীমা থাকে না। ভাল কোন কিছু দেখলে আনন্দিত হত এবং খারাপ কিছু দেখলে বেঁচে থাকত তা হতে বঞ্চিত হওয়ার জন্যে।

(ثُمَّ صَبَرَ) অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করল।

হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ আল্লাহ ধৈর্যশীলকে সাওয়াব প্রতিদানের যে ওয়া‘দা করেছেন তার উপর সে ধৈর্য ধারণ করে, না এ থেকে মুক্ত হয়ে সবর করে। কেননা ‘আমলসমূহ নির্ভর করে নিয়্যাতের উপর আর দুনিয়াতে তার বান্দাকে আল্লাহর পরীক্ষা তার ওপর তাঁর অসন্তোষ না। বরং খারাপকে প্রতিহত করা অথবা পাপকে মিটিয়ে দেয়া বা মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়ার জন্যে। সুতরাং এরূপ মুসীবাত হাসিমুখে গ্রহণ করলে অনুরূপ উদ্দেশ্য সফল হবে আর না হলে হবে না।

যেমন সালমান-এর হাদীস যা ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে এনেছেন,

أَنَّ مَرَضَ الْمُؤْمِنِ يَجْعَلُهُ اللهُ لَه كَفَّارَةٌ وَمُسْتَعْتِبًا، وَأَنَّ مَرَضَ الْفَاجِرِ كَالْبَعِيْرِ عَقْلُه أَهْلُه ثُمَّ أَرْسَلُوْهُ فَلَا يَدْرِىْ لَمْ أَعْقل وَلَمْ أَرْسِلْ.

মু’মিনের রোগ আল্লাহ তা‘আলা তার পাপ মোচনের ব্যবস্থা করেন আর পাপী লোকদের অবস্থা ঐ উটের মতো যে তার মালিক তাকে বাঁধল আবার ছেড়ে দিল, সে বুঝে না কেন মালিক তাকে বাঁধল এবং কেনই বা ছেড়ে দিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫০-[২৮] ’আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম সকাল বেলায় কোন অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যায়, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) দু’আ করতে থাকে। যদি সে তাকে সন্ধ্যায় দেখতে যায়, তার জন্য সত্তর হাজার মালাক সকাল পর্যন্ত দু’আ করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি হয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا غُدْوَةً إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

عن علي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ما من مسلم يعود مسلما غدوة الا صلى عليه سبعون الف ملك حتى يصبح وكان له خريف في الجنة . رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: (غُدْوَةً) তথা সকাল বেলা দ্বারা উদ্দেশ্য দিনের প্রথম প্রহর সূর্য ঢলার পূর্বে তথা সন্ধ্যা বেলা দ্বারা উদ্দেশ্য সূর্য ঢলার পর বা রাত্রির প্রথম প্রহর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫১-[২৯] যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার চোখের অসুখ হলে আমাকে দেখতে আসলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ قَالَ: عَادَنِي النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم من وجع كَانَ يُصِيبنِي. رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن زيد بن ارقم قال: عادني النبي صلى الله عليه وسلم من وجع كان يصيبني. رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: ইবনু মালিক বলেন, ব্যথার কারণে যে ব্যক্তি বাড়িতে অবস্থান করে বাইরে বের হতে পারে না তাকে দেখতে যাওয়া সুন্নাহ। আর তিনি আরো বলেন, হাদীসে রোগীকে দেখতে যাওয়া মুস্তাহাব হিসেবে প্রমাণিত হয় যদিও রোগীর অবস্থা ভয়ানক না যেমন সর্দি, দাঁতের ব্যথা ইত্যাদি এরূপ রুগীর খোঁজ-খবর নেয়াতেও প্রতিদান রয়েছে।

কোন কোন হানাফী হতে বর্ণিত, যে চোখ সংক্রামক ব্যাধি ও দাঁতের ব্যথা রোগীকে দেখতে যাওয়া সুন্নাহ বিরোধী। আর হাদীস এটা প্রত্যাখ্যান করে (ভাষ্যকার বলেন) আমি জানি না তাদের এ বক্তব্যটি (خلاف السنة) তথা ‘‘সুন্নাহ বিরোধী’’ ভাষ্য বক্তব্যটি কোথায় হতে গ্রহণ করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমাদের আত্মার কুমন্ত্রণা হতে। আর আবূ দাঊদ তার কিতাবে অধ্যায় নিয়ে এসেছেন (باب العيادة من الرمد) চোখ এ সংক্রামক ব্যাধি রোগীকে দেখতে যাওয়ার অধ্যায়। আর যে হাদীসটি বায়হাক্বী ও ত্ববারানী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিন ধরনের রুগীকে খোঁজ-খবর নিতে হবে না। চোখ সংক্রামক রোগী, দাঁতের ব্যথার রুগী ও ফোঁড়াজনিত রুগী। হাদীসটি অগ্রহণযোগ্য ও বাতিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫২-[৩০] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সাওয়াবের নিয়্যাতে ভাল করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর তার কোন অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَعَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ مُحْتَسِبًا بُوعِدَ مِنْ جَهَنَّمَ مسيرَة سِتِّينَ خَرِيفًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن انس: قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من توضا فاحسن الوضوء وعاد اخاه المسلم محتسبا بوعد من جهنم مسيرة ستين خريفا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেন, রুগীর খোঁজ-খবর নেয়ার সময় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা সুন্নাহ, কেননা সে দু‘আ করল পবিত্র অবস্থায় যা দু‘আ কবূল হওয়াতে অতি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আর যায়নুল আরব বলেনঃ সম্ভবত উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার হিকমাহ্ হল রুগীর খোঁজ-খবর ও দেখতে যাওয়া একটি ‘ইবাদাত, সুতরাং ‘ইবাদাত পরিপূর্ণ পদ্ধতিতে আদায় করা উত্তম।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৩-[৩১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিম তার এক অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে গিয়ে যদি সাতবার বলে, ’’আস্আলুল্ল-হাল ’আযীমা রব্বাল ’আরশিল ’আযীমি আই ইয়াশফিয়াকা’’ (অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর দরবারে দু’আ করছি তিনি যেন আপনাকে আরোগ্য দান করেন, যিনি মহান ’আরশের রব।)। তাহলে তাকে অবশ্যই আরোগ্য দান করা হয় যদি না তার জীবনের শেষ সময় উপস্থিত হয়। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلَّا شُفِيَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَدْ حَضَرَ أَجَلُهُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من مسلم يعود مسلما فيقول سبع مرات: اسال الله العظيم رب العرش العظيم ان يشفيك الا شفي الا ان يكون قد حضر اجله . رواه ابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: উল্লেখিত ‘সাতবার’ সংখ্যাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুপ্ত বিষয় কারও জন্য উচিত নয় এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা ও অনুসন্ধান করা। অনুরূপ প্রত্যেক সংখ্যার বিষয়টি শারী‘আত প্রণেতা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৪-[৩২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জ্বরসহ অসুখ-বিসুখ হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য এভাবে দু’আ করতে শিখিয়েছেন, ’’মহান আল্লাহর নামে, মহান আল্লাহর কাছে সব রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে ও জাহান্নামের গরমের ক্ষতি হতে।’’ (তিরমিযী; তিনি [ইমাম তিরমিযী] বলেছেন, হাদীসটি গরীব। ইব্রাহীম ইবনু ইসমা’ঈল ছাড়া এ হাদীস কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইব্রাহীম হলেন দুর্বল বর্ণনাকারী।)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ يعلمهُمْ من الْحمى وم الأوجاع كلهَا أَن يَقُولُوا: «بِسم الله الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عرق نعار وَمن شَرّ حر النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا يُعْرَفُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ يضعف فِي الحَدِيث

وعن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم: كان يعلمهم من الحمى وم الاوجاع كلها ان يقولوا: «بسم الله الكبير اعوذ بالله العظيم من شر كل عرق نعار ومن شر حر النار» . رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب لا يعرف الا من حديث ابراهيم بن اسماعيل وهو يضعف في الحديث

ব্যাখ্যা: হাদীসে ইঙ্গিত বহন করে যে, জ্বর মূলত শরীরে রক্তচাপের কারণে হয় আর তা এক আগুনের গরমের প্রকারভেদ যেমন অন্য হাদীসে আছে যে, (أَنَّ الْحُمّى مِنْ فَيْحِ النَّارِ، وَأَنَّهَا تُبْرَدُ بِالْمَاءِ) জ্বর হল আগুনের উত্তপ্ত হতে আর তা ঠান্ডা করে পানি।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৫-[৩৩] আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ ব্যথা-বেদনা অনুভব করলে অথবা তার কোন মুসলিম ভাই তার নিকট ব্যথা-বেদনার কথা বললে, সে যেন দু’আ করে, "আমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন। হে রব! তোমার নাম পূতঃ-পবিত্র। তোমার নির্দেশ আকাশ ও পৃথিবী উভয় স্থানেই প্রযোজ্য। আকাশে যেভাবে তোমার অগণিত রহমত আছে, ঠিক সেভাবে তুমি পৃথিবীতেও তোমার অগণিত রহমত ছড়িয়ে দাও। তুমি আমাদের ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত অপরাধগুলো ক্ষমা করে দাও। তুমি পূতঃ-পবিত্র লোকদের রব। তুমি তোমার রহমতগুলো হতে বিশেষ রহমত ও তোমার শেফাসমূহ হতে বিশেষ শেফা এ ব্যথা-বেদনার নিরাময়ে পাঠিয়ে দাও।" এ দু’আ তার সকল ব্যথা-বেদনা দূর করে দেবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنِ اشْتَكَى مِنْكُمْ شَيْئًا أَوِ اشْتَكَاهُ أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ: رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمرك فِي السَّمَاء وَالْأَرْض كَمَا أَن رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِبِينَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ. فَيَبْرَأُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن ابي الدرداء قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من اشتكى منكم شيىا او اشتكاه اخ له فليقل: ربنا الله الذي في السماء تقدس اسمك امرك في السماء والارض كما ان رحمتك في السماء فاجعل رحمتك في الارض اغفر لنا حوبنا وخطايانا انت رب الطيبين انزل رحمة من رحمتك وشفاء من شفاىك على هذا الوجع. فيبرا . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ) তোমার রহমাত জমিনে বিস্তার কর তথা জমিনের অধিবাসী প্রত্যেক মু’মিনের ওপর। উদ্দেশ্য হল রহমাত দ্বারা খাসভাবে মু’মিনের ওপর, কারণ তা না হলে রহমাত ব্যাপকভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য। (حُوْبَنَا) কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ আর (خَطَايَانَا) দ্বারা উদ্দেশ্য সগীরাহ্ গুনাহ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৬-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় তখন সে যেন বলে, ’’আল্ল-হুম্মাশফি ’আবদাকা ইয়ানকাউ লাকা ’আদ্যুওয়ান আও ইয়ামশী লাকা ইলা- জানা-যাহ্’’ (অর্থা- হে আল্লাহ! তোমার বান্দাকে সুস্থ করে দাও। সে যাতে তোমার জন্য শত্রুকে আঘাত করতে পারে। অথবা তোমার সন্তুষ্টির জন্য জানাযায় অংশ নিতে পারে।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَاءَ الرجل يعود مَرِيضا فَلْيقل ك اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِي لَكَ إِلَى جِنَازَةٍ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا جاء الرجل يعود مريضا فليقل ك اللهم اشف عبدك ينكا لك عدوا او يمشي لك الى جنازة» رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (يَنْكَأُ لَكَ) ‘‘তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশে শত্রুকে যেন হত্যা করতে পারে’’ উদ্দেশ্য তোমার রাস্তায় যেন সে যুদ্ধ করে। (إِلى جِنَازَةٍ) দ্বারা উদ্দেশ্য সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) যেমন হাকিম-এর বর্ণনায় এসেছে, তবে এটি ব্যাপক অর্থের উপর প্রমাণ বহন করে।

ত্বীবী বলেন, সম্ভবত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও জানাযার সালাতে অংশগ্রহণ মধ্যে একত্রিতকরণের কারণ হল প্রথমটিতে আল্লাহর শত্রুর ওপর প্রতিশোধ নিতে একান্তভাবে মনোনিবেশ করা আর দ্বিতীয়টিতে আল্লাহর বন্ধুদের প্রতি রহমাত পৌঁছাতে প্রচেষ্টা করা বা দ্রুত বাস্তবায়িত করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৭-[৩৫] ’উমাইয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (’উমাইয়্যাহ্) একদিন ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে ’’তোমাদের অন্তরে যা আছে তোমরা যদি তা প্রকাশ করো অথবা গোপন করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে তোমাদের হিসাব নিবেন’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ২৮৪) এবং ’’যে অন্যায় কাজ করবে সে তার শাস্তি ভোগ করবে’’- (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১২৩)- এ দু’টি আয়াতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন। উত্তরে ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবার পর এ পর্যন্ত কেউ আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দু’টি আয়াতে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, তা হলো দুনিয়ায় বান্দার যে জ্বর ও দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদি হয়, তা দিয়ে আল্লাহ যে শাস্তি দেন তাই, এমনকি বান্দা জামার পকেটে যে সম্পদ রাখে, তারপর হারিয়ে ফেলে তার জন্য অস্থির হয়ে যায়- এটাও এ শাস্তির মধ্যে গণ্য। অবশেষে বান্দা তার গুনাহগুলো হতে পবিত্র হয়ে বের হয়। যেভাবে সোনাকে হাপরের আগুনে পরিষ্কার করে বের করা হয়। (তিরমিযী)[1]

عَن عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمَيَّةَ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَة عَن قَول الله تبَارك وَتَعَالَى: (إِن تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ الله)
وَعَنْ قَوْلِهِ: (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ)
فَقَالَتْ: مَا سَأَلَنِي عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «هَذِه معاتبة الله العَبْد فِيمَا يُصِيبُهُ مِنَ الْحُمَّى وَالنَّكْبَةِ حَتَّى الْبِضَاعَةِ يَضَعُهَا فِي يَدِ قَمِيصِهِ فَيَفْقِدُهَا فَيَفْزَعُ لَهَا حَتَّى إِنَّ الْعَبْدَ لَيَخْرُجُ مِنْ ذُنُوبِهِ كَمَا يَخْرُجُ التبر الْأَحْمَر من الْكِير» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

عن علي بن زيد عن امية انها سالت عاىشة عن قول الله تبارك وتعالى: (ان تبدوا ما في انفسكم او تخفوه يحاسبكم به الله) وعن قوله: (من يعمل سوءا يجز به) فقالت: ما سالني عنها احد منذ سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «هذه معاتبة الله العبد فيما يصيبه من الحمى والنكبة حتى البضاعة يضعها في يد قميصه فيفقدها فيفزع لها حتى ان العبد ليخرج من ذنوبه كما يخرج التبر الاحمر من الكير» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: কল্পনাপ্রসূত পাপ, খারাপ চরিত্র শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না যতক্ষণ না তা প্রকাশ্যে বাস্তবায়িত হবে আর এদিকে রসূলের বক্তব্য ইঙ্গিত বহন করে (إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِيْ مَا حَدَثَتْ بِه أَنْفُسُهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ) ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মাতের অনিচ্ছাকৃত কুচিন্তা ত্রুটি-বিচ্যুতি শাস্তির কবল হতে মুক্ত যতক্ষণ না তা বাস্তবে ‘আমল করে এবং বলে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কল্পনাপ্রসূত পাপ কাজের শাস্তি দিবেন না এবং শাস্তি দিবেন বাস্তবে তা করলে।’’ সুতরাং আয়াত ও হাদীসের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব না।

আর না এটাও কোন দ্বন্দ্ব হিসেবে পরিগণিত হবে যে, কল্পনার চিন্তাকে দৃঢ় হিসেবে গ্রহণ করবে যেমন আল্লাহর বাণীঃ

وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ

‘‘কিন্তু যেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে।’’ (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২২৫)

আমরা বলব, বাস্তবে আল্লাহর এই ধরাটা তখনই প্রযোজ্য হবে কখন মনের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে পাপ কাজের সাথে জড়িয়ে নিবে। জ্বরকে খাস করার কারণ হল রোগসমূহের মধ্যে জ্বর হল কঠিন ও ক্ষতিকর।

(عتاب) তথা সাজা শব্দটি ব্যবহার হয় দু’ বন্ধুর মধ্যে এক বন্ধু অপর বন্ধুর ওপর ক্রোধ প্রকাশ করে তার খারাপ আচরণের কারণে এতদসত্ত্বেও তার অন্তরে তার প্রতি ভালবাসা বিদ্যমান। সুতরাং আয়াতের অর্থ এটা না যে, আল্লাহ মু’মিনদেরকে তাদের সকল গুনাহের শাস্তি দিবেন বরং আল্লাহ তাদেরকে ক্ষুধা, পিপাসা, রোগ, চিন্তা ও অন্যান্য অপছন্দনীয় জিনিস দিয়ে পাকড়াও করবেন যাতে তারা দুনিয়াতেই গুনাহ হতে বের হয়ে পবিত্র হতে পারে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৮-[৩৬] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বড় হোক কিংবা ছোট হোক, বান্দা যেসব দুঃখ-কষ্ট পায়, নিশ্চয়ই তা তার অপরাধের কারণে। তবে আল্লাহ যা ক্ষমা করে দেন তা এর চেয়েও অনেক বেশী। এ কথার সমর্থনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন- অর্থাৎ ’’তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ নিপতিত হয়, তা তোমাদের কর্মফলের কারণে। আর আল্লাহ ক্ষমা করে দেন অনেক অনেক বেশি’’- (সূরাহ্ আশ্ শূরা ৪২: ৩০)। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يُصِيبُ عَبْدًا نَكْبَةٌ فَمَا فَوْقَهَا أَوْ دُونَهَا إِلَّا بِذَنَبٍ وَمَا يَعْفُو اللَّهُ عَنْهُ أَكْثَرُ وَقَرَأَ: (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كثير)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابي موسى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يصيب عبدا نكبة فما فوقها او دونها الا بذنب وما يعفو الله عنه اكثر وقرا: (وما اصابكم من مصيبة فبما كسبت ايديكم ويعفو عن كثير) رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: وَيَعْفُوْ عَنْ كَثِيْر তিনি অনেক গুনাহ ক্ষমা করেন গুনাহের কারণে দ্রুত শাস্তি দেন না। ইবনু কাসীর বলেন, তিনি তোমাদের বন্ধু অপরাধ ক্ষমা করে দেন যদি তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন তবে ভূপৃষ্ঠে তোমাদের কেউ চলাফেরা করতে পারত না। আর এটা অপরাধীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরাধী তথা গুনাহগার ব্যক্তি ব্যতিরেকে অন্যদের ক্ষেত্রে দুনিয়ায় বিপদাপদ, মুসীবাত পৌঁছলে আখিরাতে তা তাদের উচ্চমর্যাদার কারণ হয়ে যায়। অথবা অন্য কোন উদ্দেশ্য নিহিত যা আমাদের নিকট গোপন। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকাও উম্মাদ ব্যক্তিরা তারা এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত না। কারও মতে শিশুদের ওপর মুসীবাত তার মর্যাদা ও তার পিতামাতার মর্যাদার কারণ হয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৫৯-[৩৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন ’ইবাদাতের কোন সুন্দর নিয়ম-পদ্ধতি পালন করে চলতে শুরু করে এবং তারপর যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে (’ইবাদাতের ধারা বন্ধ হয়ে যায়), তখন তার ’আমলনামা লিখার জন্য নিযুক্ত মালাককে (ফেরেশতাকে) বলা হয়, এ বান্দা সুস্থ অবস্থায় যে ’আমল করত (অসুস্থ অবস্থাও) তার ’আমলনামায় তা লিখতে থাকো। যে পর্যন্ত না তাকে মুক্ত করে দিই অথবা তাকে আমার কাছে ডেকে আনি।[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: إِن الْعَبْدَ إِذَا كَانَ عَلَى طَرِيقَةٍ حَسَنَةٍ مِنَ الْعِبَادَةِ ثُمَّ مَرِضَ قِيلَ لِلْمَلَكِ الْمُوَكَّلِ بِهِ: اكْتُبْ لَهُ مِثْلَ عَمَلِهِ إِذَا كَانَ طَلِيقًا حَتَّى أطلقهُ أَو أكفته إِلَيّ

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان العبد اذا كان على طريقة حسنة من العبادة ثم مرض قيل للملك الموكل به: اكتب له مثل عمله اذا كان طليقا حتى اطلقه او اكفته الي

ব্যাখ্যা: যখন সে শারী‘আতের পদ্ধতি অনুযায়ী ‘ইবাদাত করে আর ফরযসমূহ পালনের পর নফল আদায় করে, অতঃপর অসুস্থের পর সেই নফল ‘ইবাদাত আদায় করতে পারে না।

(أكفته إِلَيّ) আমি তাকে ক্ববরের দিকে টেনে নেই মূলত মৃত্যু উদ্দেশ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬০-[৩৮] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে শারীরিক বিপদে ফেলা হলে মালায়িকাহ্-কে (ফেরেশতাদেরকে) বলা হয়, এ বান্দা নিয়মিত যে নেক কাজ করত, তা-ই তার ’আমলনামায় লিখতে থাকো। এরপর তাকে আল্লাহ আরোগ্য দান করলে গুনাহখাতা হতে ধুয়ে পাকসাফ করে নেন। আর যদি তাকে উঠিয়ে নেন, তাকে মাফ করে দেন এবং তার প্রতি রহমত দান করেন। এ হাদীস দু’টি শারহুস্ সুন্নাহয় বর্ণিত।[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا ابْتُلِيَ الْمُسْلِمُ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ قِيلَ لِلْمَلَكِ: اكْتُبْ لَهُ صَالِحَ عَمَلِهِ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ فَإِنْ شَفَاهُ غَسَّلَهُ وَطَهَّرَهُ وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ وَرَحِمَهُ . رَوَاهُمَا فِي شرح السّنة

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا ابتلي المسلم ببلاء في جسده قيل للملك: اكتب له صالح عمله الذي كان يعمل فان شفاه غسله وطهره وان قبضه غفر له ورحمه . رواهما في شرح السنة

ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ আহমাদ-এর বর্ণনা এভাবে এসেছে,

إَذَا ابْتَلَى اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ بِبَلَاءٍ فِىْ جَسَدَه قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لِلْمَلَكِ: أَيْ صَاحِبَ يَمِيْنِه، وَهُوَ كَاتِبُ الْحَسَنَاتِ.

যখন কোন মুসলিমকে শারীরিক বিপদে ফেলা হয় তখন আল্লাহ তা‘আলা ডান মালাককে তথা ডানের মালাক (ফেরেশতা) যিনি ভাল ‘আমল লিখেন।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ হাদীসের প্রকাশ্য ভাষ্য হল তার জন্য হুবহু যে ‘আমলেই লেখা হয় অথবা প্রতিদান প্রথমটিই সঠিক।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬১-[৩৯] জাবির ইবনু ’আতীক (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে নিহত শাহীদ ছাড়াও সাত ধরনের শাহীদ রয়েছে। এরা হচ্ছে (১) মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (২) পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৩) যা-তুল জান্ব রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৪) পেটের রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৬) কোন প্রাচীর চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৭) প্রসবকালে মৃত্যুবরণকারী মহিলা। (মালিক, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[1]

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ: الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدٌ . رَوَاهُ مَالك وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن جابر بن عتيك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الشهادة سبع سوى القتل في سبيل الله: المطعون شهيد والغريق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد وصاحب الحريق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمراة تموت بجمع شهيد . رواه مالك وابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (ذَاتُ الْجَنْبِ) ‘যা-তুল জান্ব’ বলতে নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে টিউমার বা বড় ফোঁড়া যা বগলের নীচে প্রকাশ পায় এবং প্রবাহিত হয় ভিতরে কখনো কখনো ব্যক্তি স্বস্তি অনুভব করে।

জামি' উসূলে বলা হয়েছে, ‘যা-তুল জান্ব’ বলতে টিউমার বা বড় ফোঁড়া, যখম মানুষের পেটে প্রকাশ পায় এবং ক্ষত ভিতরে প্রবাহিত হয় যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে কখনও ক্ষত বাইরেই থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬২-[৪০] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নবী! কোন্ সব লোককে বিপদাপদ দিয়ে সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, নবীদেরকে। তারপর তাদের পরে যারা উত্তম তাদেরকে। মানুষকে আপন আপন দীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দীনদারীতে যে যত বেশী মজবুত হয় তার বিপদ-মুসীবাত তত বেশী কঠিন হয়। দীনের ব্যাপারে যদি মানুষের দুর্বলতা থাকে, তার বিপদও ছোট ও সহজ হয়। এভাবে তার বিপদ হতে থাকে। এ নিয়েই সে মাটিতে চলাফেরা করতে থাকে। তার কোন গুনাহখাতা থাকে না। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।)[1]

وَعَنْ سَعْدٍ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاء ثمَّ الْمثل فَالْأَمْثَلُ يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ صلبا فِي دينه اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ هُوِّنَ عَلَيْهِ فَمَا زَالَ كَذَلِكَ حَتَّى يَمْشِيَ على الأَرْض مَال ذَنْبٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حسن صَحِيح

وعن سعد قال: سىل النبي صلى الله عليه وسلم: اي الناس اشد بلاء؟ قال: «الانبياء ثم المثل فالامثل يبتلى الرجل على حسب دينه فان كان صلبا في دينه اشتد بلاوه وان كان في دينه رقة هون عليه فما زال كذلك حتى يمشي على الارض مال ذنب» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রা বিপদ মুসীবাতকে আলিঙ্গন করতে স্বাদ উপভোগ করেন যেমন অন্যরা বিত্ত-বৈভবকে আলিঙ্গন করতে স্বাদ অনুভব করে থাকে। আর যদি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রা বিপদাপদ দ্বারা পরিক্ষিত না হত তাহলে তাদের ব্যাপারে মানুষের মা‘বূদ হওয়ার কুধারণা থাকত। আর উম্মাতের ওপর ধৈর্য দুর্বল হয়ে পড়ত বালা মুসীবাতের জন্য। কেননা যে যত বেশী কঠিন মুসীবাতের মুখোমুখি সে তত বেশী বিনয়ী ও আল্লাহমুখী হয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৩-[৪১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু কষ্ট দেখেছি। তাই এরপর আর সহজভাবে মৃত্যু হতে দেখলে ঈর্ষা করি না। (তিরমিযী, নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا أَغْبِطُ أَحَدًا بِهَوْنِ مَوْتٍ بَعْدَ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ شِدَّةِ مَوْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: ما اغبط احدا بهون موت بعد الذي رايت من شدة موت رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه الترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: (بَعْدَ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ شِدَّةِ مَوْتِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ) অর্থাৎ আমি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর কঠিনতা প্রত্যক্ষ করলাম বুঝতে পারলাম, মৃত্যুর কঠিনতা মৃত ব্যক্তির ওপর খারাপ পরিণতির ভয়াবহতা প্রমাণ বহন করে না এবং মৃত্যুর সহজতা বুযুর্গের ওপর প্রমাণ বহন করে না। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বড় বুযুর্গ ব্যক্তি মানুষের মধ্যে অথচ তাঁর মৃত্যু সহজভাবে ছিল না।

সুতরাং আমি আর কারও কঠিন মৃত্যুকে ঘৃণা করি না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৪-[৪২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তাঁর মৃত্যুবরণ করার সময় দেখেছি। তাঁর কাছে একটি পানিভরা বাটি ছিল। এ বাটিতে তিনি বারবার হাত ডুবাতেন। তারপর হাত দিয়ে নিজের চেহারা মুছতেন ও বলতেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মৃত্যু যন্ত্রণায় সাহায্য করো। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْمَوْتِ وَعِنْدَهُ قَدَحٌ فِيهِ مَاءٌ وَهُوَ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدَحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى مُنْكَرَاتِ الْمَوْتِ أَوْ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: رايت النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالموت وعنده قدح فيه ماء وهو يدخل يده في القدح ثم يمسح وجهه ثم يقول: «اللهم اعني على منكرات الموت او سكرات الموت» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহায্য চাওয়ার উদ্দেশ্য আল্লাহর নিকট প্রকৃত মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তার রবের ব্যাপারে ভাল ধারণা নিয়ে, কেননা এ সময় শায়ত্বন (শয়তান) কুমন্ত্রণা দেয় আর এটা তাঁর উম্মাতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৫-[৪৩] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ চাইলে আগে-ভাগে দুনিয়াতেই তাকে তার গুনাহখাতার জন্য কিছু শাস্তি দিয়ে দেন। আর কোন বান্দার অকল্যাণ চাইলে দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তিদান হতে বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তাকে তার পূর্ণ শাস্তি দিবেন। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ تَعَالَى بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اراد الله تعالى بعبده الخير عجل له العقوبة في الدنيا واذا اراد الله بعبده الشر امسك عنه بذنبه حتى يوافيه به يوم القيامة» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (فِي الدُّنْيَا) যাতে দুনিয়া হতে এমনভাবে বিদায় গ্রহণ করে তার ওপর আর কোন গুনাহ নেই। আর যার সাথে এমনটি করা হয় মূলত তার ওপর এটা একটি বিরাট অনুগ্রহ ও অনুকম্পা (আল্লাহর পক্ষ হতে)।

(حَتّى يُوَافِيَه بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) অবশেষে তাকে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে পূর্ণ শাস্তি দিবেন অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার গুনাহের কারণে দুনিয়াতে শাস্তি দেন না, অবশেষে পাপী ব্যক্তি পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আখিরাতে উপস্থিত হয় আর সে শাস্তির প্রাপ্যতাও পরিপূর্ণভাবে পেয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৬-[৪৪] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বড় বড় বিপদ-মুসীবাতের পরিণাম বড় পুরস্কার। আল্লাহ তা’আলা কোন জাতিকে ভালবাসলে তাদেরকে বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। যারা এতে সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত থাকে তাদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যে জাতি এতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَه

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان عظم الجزاء مع عظم البلاء وان الله عز وجل اذا احب قوما ابتلاهم فمن رضي فله الرضا ومن سخط فله السخط» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্মার্থ হল যে, উৎসাহিত করা হয়েছে বালা মুসীবাতে পতিত হওয়ার পর তার উপর ধৈর্য ধারণ করার। আর বিপদাপদকে টেনে আনার দু‘আ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এমনকি নিষেধও করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৭-[৪৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন নারী-পুরুষের বিপদ-মুসীবাত লেগেই থাকে। এ বিপদ-মুসীবাত তার শারীরিক, তার ধন-সম্পদের, তার সন্তান-সন্ততির ব্যাপারে হতে পারে। আল্লাহর সাথে মিলিত হবার আগ পর্যন্তই তা চলতে থাকে। আর আল্লাহর সাথে তার মিলিত হবার পর তার ওপর গুনাহের কোন বোঝাই থাকে না। (তিরমিযী; মালিক (রহঃ) এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ أَوِ الْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَرَوَى مَالِكٌ نَحْوَهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يزال البلاء بالمومن او المومنة في نفسه وماله وولده حتى يلقى الله تعالى وما عليه من خطيىة» . رواه الترمذي وروى مالك نحوه وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح

ব্যাখ্যা: রাযী বলেনঃ সম্ভবত আল্লাহ ইচ্ছা করেন এর মাধ্যমে (বান্দা) তার গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দিতে যাতে তার আর কোন গুনাহ না থাকে অথবা হতে পারে আল্লাহ ইচ্ছা করেন এর মাধ্যমে তার প্রতিদান অর্জিত হোক তার সকল পাপের পরিমাপের বিনিময় অনুযায়ী। অতঃপর সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমতাবস্থায় তার কোন গুনাহ থাকবে না আর বৃদ্ধি করা হবে তার পুণ্যের উপর আর এই সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি মুসীবাতে ধৈর্য ধারণ করবে এবং প্রতিদানের প্রত্যাশা করবে। আর যে ব্যক্তি বিরক্ত প্রকাশ করবে এটা আল্লাহর নিয়তির উপর অসন্তোষ প্রকাশ করবে এজন্য সে গুনাহগার হবে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৮-[৪৬] মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ আস্ সুলামী তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাদা বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর তরফ হতে কোন মানুষের জন্য যখন কোন মর্যাদা নির্ধারিত হয়, যা সে ’আমল দিয়ে লাভ করতে পারে না, তখন আল্লাহ তাকে তার শরীরে অথবা তার সন্তান-সন্ততির ওপর বিপদ ঘটিয়ে পরীক্ষা করেন। এতে তাকে ধৈর্যধারণ করারও শক্তি দান করেন। যাতে সেরূপ মর্যাদা লাভ করতে পারে, যা আল্লাহর তরফ হতে তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ­(আহমাদ, আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَبَقَتْ لَهُ مِنَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِهِ ابتلاه الله فِي جسده أَفِي مَالِهِ أَوْ فِي وَلَدِهِ ثُمَّ صَبَّرَهُ عَلَى ذَلِكَ يُبَلِّغُهُ الْمَنْزِلَةَ الَّتِي سَبَقَتْ لَهُ مِنَ الله» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد

وعن محمد بن خالد السلمي عن ابيه عن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان العبد اذا سبقت له من الله منزلة لم يبلغها بعمله ابتلاه الله في جسده افي ماله او في ولده ثم صبره على ذلك يبلغه المنزلة التي سبقت له من الله» . رواه احمد وابو داود

ব্যাখ্যা: (إِذَا سَبَقَتْ لَه مِنَ اللّهِ مَنْزِلَةٌ) যখন আল্লাহর পক্ষ হতে কোন মর্যাদা নির্ধারিত হয়ে থাকে। এখানে মর্যাদা বলতে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা।

(لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِه) ‘আমল করার মাধ্যমে সে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছা সম্ভব না। মুল্লা ‘আলী কারী  বলেনঃ হাদীসে প্রমাণিত হয় আনুগত্য তথা ভাল ‘আমল মর্যাদা অর্জনের কারণ। কারও মতে জান্নাতে প্রবেশ করা আল্লাহর অনুগ্রহ। ত্বীবী বলেনঃ হাদীসে হৃদয়ঙ্গম হয় যে খাস করে বিপদাপদ সাওয়াব অর্জনের কারণ আনুগত্যের জন্য নয়। এজন্য বিপদ দ্বারা সর্বাপেক্ষা পরীক্ষা করা হয় নাবীদের, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যারা উত্তম তাদের।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৬৯-[৪৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তানকে তার চারদিকে নিরানব্বইটি বিপদ পরিবেষ্টিত অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে। যদি এ বিপদগুলোর সবগুলোই তার ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে অন্তত বার্ধক্যজনিত বিপদে পতিত হয়। পরিশেষে মৃত্যুবরণ করে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَن عبد الله بن شخير قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُثِّلَ ابْنُ آدَمَ وَإِلَى جَنْبِهِ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ مَنِيَّةً إِنْ أَخْطَأَتْهُ الْمَنَايَا وَقَعَ فِي الْهَرَمِ حَتَّى يَمُوتَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن عبد الله بن شخير قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل ابن ادم والى جنبه تسع وتسعون منية ان اخطاته المنايا وقع في الهرم حتى يموت» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: ৯০ সংখ্যা দ্বারা আধিক্য উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ না। (مَنِيَّةً) ধ্বংসযোগ্য মুসীবাত, আবার কেউ কেউ বলেছেন মৃত্যুর কারণ। মৃত্যুর কারণ অনেক যেমন রোগসমূহ ক্ষুধা ডুবা, পোড়া, বিল্ডিং ধ্বসে পড়া ইত্যাদি যদি একটি অতিক্রম করে তাহলে অপরটিতে পতিত হবে আর যদি সব বিপদই অতিক্রম করে তাহলে বার্ধ্যক্যরূপ বিপদে পতিত হবে। কেউ কেউ বলেছেন, মানব সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হল তার হতে কখন বিপদাপদ মুসীবাত বিচ্ছিন্ন হবে না, যেমন বলা হয় সুস্থতাই মুসীবাতের মূল লক্ষ্য। আরও যেমন হাকাম বিন ‘আত্বা বলেছেন, যতক্ষণ আমি ঘরে থাকি ঘরে অবস্থান আমাকে ব্যাস্ত রাখে যদি আমি মুসীবাতের সেই দুর্লভ পথ পাড়ি দেই তাহলে আমি এমন এক রোগ পেয়ে থাকি যে রোগের কোন চিকিৎসা নেই আর তা হল বার্ধক্য।

মোদ্দা কথা হল দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা স্বরূপ আর কাফিরদের জন্য জান্নাত স্বরূপ আর বিপদাপদ গুনাহের জন্য কাফফারাহ্। সুতরাং মু’মিনের উচিত আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের উপর ধৈর্য ধারণ করা ও সন্তোষ প্রকাশ করা যা তার জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭০-[৪৮] জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন ভোগ-বিলাসে জীবন-যাপনকারীরা যখন দেখবে বিপদ-মুসীবাতগ্রস্ত লোকদেরকে সাওয়াব দেয়া হচ্ছে, তখন তারা আক্ষেপ করবে। বলবে, আহা! তাদের চামড়া যদি দুনিয়াতেই কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হত! (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَوَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِينَ يُعْطَى أَهْلُ الْبَلَاءِ الثَّوَابَ لَوْ أَنَّ جُلُودَهُمْ كَانَتْ قُرِضَتْ فِي الدُّنْيَا بِالْمَقَارِيضِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يود اهل العافية يوم القيامة حين يعطى اهل البلاء الثواب لو ان جلودهم كانت قرضت في الدنيا بالمقاريض» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: (حِيْنَ يُعْطى أَهْلُ الْبَلَاءِ الثَّوَابَ) বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাওয়াব দেয়া হচ্ছে অসংখ্য অগণিত। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُوْنَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘‘নিশ্চয় যারা সবরকারী তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।’’ (সূরাহ্ আয্ যুমার ৩৯ : ১০)

বায়হাক্বীর শব্দ এসেছে এভাবে,

يَوَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَّ جُلُوْدَهُمْ قُرِضَتْ بِالْمَقَارِيْضِ مِمَّا يَرَوْنَ مِنْ ثَوَابِ أَهْلِ الْبَلَاءِ.

ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে সুখ শান্তি ভোগী ব্যক্তিরা কামনা করে বলবে, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতিদান দেখে আহা যদি তাদের চামড়া কাঁচি দ্বার কাটা হত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭১-[৪৯] ’আমির আর্ র-ম (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অসুখ-বিসুখ প্রসঙ্গে বললেন, মু’মিনের অসুখ হলে পরিশেষে আল্লাহ তাকে আরোগ্য করেন। এ অসুখ তার জীবনের অতীত গুনাহের কাফফারাহ্। আর ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা। কিন্তু মুনাফিক্বের অসুখ-বিসুখ হলে তাকেও আরোগ্যদান করা হয়, সেই উটের মতো যাতে মালিক বেঁধে রেখেছিল তারপর ছেড়ে দিলো। সে বুঝল না কেন তাকে বেঁধে রেখেছিল। আর কেনইবা ছেড়ে দিলো। এ সময় এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! অসুখ-বিসুখ আবার কী? আল্লাহর শপথ আমার কোন সময় অসুখ হয়নি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাদের কাছ থেকে সরে যাও। তুমি আমাদের মধ্যে গণ্য নও। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عَامر الرام قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَسْقَامَ فَقَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَصَابَهُ السقم ثمَّ أَعْفَاهُ الله مِنْهُ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى مِنْ ذُنُوبِهِ وَمَوْعِظَةً لَهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ. وَإِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مرض ثمَّ أعفي كَانَ كالبعير عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عقلوه وَلم يدر لم أَرْسَلُوهُ» . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْأَسْقَامُ؟ وَاللَّهِ مَا مَرِضْتُ قَطُّ فَقَالَ: «قُمْ عَنَّا فلست منا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عامر الرام قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الاسقام فقال: «ان المومن اذا اصابه السقم ثم اعفاه الله منه كان كفارة لما مضى من ذنوبه وموعظة له فيما يستقبل. وان المنافق اذا مرض ثم اعفي كان كالبعير عقله اهله ثم ارسلوه فلم يدر لم عقلوه ولم يدر لم ارسلوه» . فقال رجل يا رسول الله وما الاسقام؟ والله ما مرضت قط فقال: «قم عنا فلست منا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (وَمَوْعِظَةً لَهُ فِيمَا يَسْتَقْبِلُ) এবং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার বস্ত্ত হয়।

ত্বীবী বলেনঃ মু’মিন ব্যক্তি যখন অসুস্থ হয় এবং আরোগ্য লাভ করে তখন সে সতর্ক হয় এবং জানতে পারে যে, তার রোগ মূলত অতীতের গুনাহের কারণে হয়েছে, ফলে সে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে সে পাপ কাজে আর অগ্রসর হয় না তখন এটা তার জন্য কাফফারাহ্। আর মুনাফিক্ব সে উপদেশ গ্রহণ করে না তার জন্য যা অর্জিত হয় আর সে সজাগ হয় না তার উদাসীনতা হতে এবং সে তাওবাও করে না। সুতরাং তার রোগ কোন উপকারে আসে না যা অতীতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আসবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭২-[৫০] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন রোগীকে দেখতে গেলে, তার জীবনের ব্যাপারে তাকে সান্ত্বনা যোগাবে। এ সান্ত্বনা যদিও তার তাকদীর পরিবর্তন করতে পারবে না, কিন্তু তার মন প্রশান্তি লাভ করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلْتُمْ عَلَى الْمَرِيضِ فَنَفِّسُوا لَهُ فِي أَجَلِهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا وَيُطَيِّبُ بِنَفْسِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا دخلتم على المريض فنفسوا له في اجله فان ذلك لا يرد شيىا ويطيب بنفسه» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: তোমরা রোগীর নিকট গেলে তার বয়স বৃদ্ধির ব্যাপারে আশা ভরসা যোগাবে। মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ রোগীর সংশ্লিষ্ট চিন্তাকে দূরীভূত করবে এবং বলবে কোন সমস্যা নেই (আল্লাহর মেহেরবানীতে আরোগ্য লাভ করবে), ইনশাআল্লাহ এটা তোমার পবিত্রতার কারণ হবে। আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবি করুক আর তোমাকে সুস্থ করুক।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৩-[৫১] সুলায়মান ইবনু সুরাদ (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে তার ’পেটের অসুখ’ হত্যা করেছে, তাকে কবরে শাস্তি দেয়া হবে না। (আহমাদ, তিরমিযী; কিন্তু তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[1]

وَعَن سُلَيْمَان بن صرد قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مَنْ قَتَلَهُ بَطْنُهُ لَمْ يُعَذَّبْ فِي قَبْرِهِ» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن سليمان بن صرد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتله بطنه لم يعذب في قبره» رواه احمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি পেটের রোগের কারণে মারা গেছে সম্ভবত তা সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট।

মা'নাবী বলেনঃ ক্ববরে শাস্তি দেয়া হবে না অন্য কোন স্থানেও শাস্তি দেয়া হবে না, কেননা কবর হল আখিরাতের প্রথম স্তর আর প্রথমে যদি সহজ হয় তাহলে পরে আরও সহজ হবে। সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে এসেছে শাহীদের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে তবে ঋণ তা মানুষের অধিকার।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৪-[৫২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী যুবক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাত করতেন। তাঁর মৃত্যুশয্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার মাথার পাশে বসে বললেন, হে অমুক! তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। যুবকটি তার পাশে থাকা পিতার দিকে তাকাল। পিতা তাকে বলল, আবুল ক্বাসিমের কথা মেনে নাও। যুবকটি ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে বের হয়ে এসে বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া। তিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন। (বুখারী)[1]

عَن أنس قَالَ: كَانَ غُلَامٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ: «أَسْلِمْ» . فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ: أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ. فَأَسْلَمَ. فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن انس قال: كان غلام يهودي يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فقعد عند راسه فقال له: «اسلم» . فنظر الى ابيه وهو عنده فقال: اطع ابا القاسم. فاسلم. فخرج النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول: «الحمد لله الذي انقذه من النار» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ হাদীসে বৈধতা প্রমাণ করে মুশরিকের নিকট হতে খিদমাত গ্রহণ করা এবং যখন অসুস্থ হবে তাকে দেখতে যাওয়া। হাদীসে আরও প্রমাণিত হয় সুন্দর অঙ্গীকার, ছোটদের দিয়ে খিদমাত গ্রহণ এবং বালকদের নিকট ইসলামের দা‘ওয়াত উপস্থাপন করা। আর যদি তা সহীহ না হত তাহলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের দা‘ওয়াত দিতেন না।

(أَنْقَذَه مِنَ النَّارِ) এটা প্রমাণ করে খাদেমের ইসলাম গ্রহণ করা শুদ্ধ হয়েছে। আর বালক যখন কুফরকে বুঝতে পারে আর এর উপর মারা যায় তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৫-[৫৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোগীকে দেখার জন্য যায়, আসমান থেকে একজন মালাক (ফেরেশতা) তাকে লক্ষ্য করে বলেন, ধন্য হও তুমি, ধন্য হোক তোমার এ পথ চলা। জান্নাতে তুমি একটি মনযিল তৈরি করে নিলে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ عَادَ مَرِيضًا نَادَى مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ: طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من عاد مريضا نادى مناد في السماء: طبت وطاب ممشاك وتبوات من الجنة منزلا . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: (طِبْتَ) মুবারক হও তুমি এটি তার জন্য দু‘আ যাতে তার দুনিয়ার জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। (وَطَابَ مَمْشَاكَ) মুবারক হোক তোমার পথচলা এটা মূলত রূপক অর্থে ব্যবহৃত তার জীবন, চরিত্র, আখিরাতে চলার পথ খারাপ চরিত্র হতে মুক্ত হয়ে উত্তম চরিত্রে ভূষিত হোক। (مَنْزِلًا) তুমি তৈরি করলে মূলত এটি একটি দু‘আ তার জন্য যাতে আখিরাতের জীবন সুখময় হয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৬-[৫৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন, সে অসুখের সময় একদিন ’আলী (রাঃ) তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে এলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবূ হাসান! আজ সকালে আল্লাহর রসূলের অবস্থা কেমন রয়েছে? ’আলী (রাঃ) বললেন, আলহাম্‌দুলিল্লা-হ সকাল ভালই যাচ্ছে। (বুখারী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ عَلِيًّا خَرَجَ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ فَقَالَ النَّاسُ: يَا أَبَا الْحَسَنِ كَيْفَ أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: أَصْبَحَ بِحَمْدِ الله بارئا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عباس قال: ان عليا خرج من عند النبي صلى الله عليه وسلم في وجعه الذي توفي فيه فقال الناس: يا ابا الحسن كيف اصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: اصبح بحمد الله بارىا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্য মতে (كَيْفَ أَصْبَحَ) আজ সকাল কেমন যাচ্ছে, এ শব্দে রোগীর অবস্থা সকলকে জিজ্ঞেস করা মুস্তাহাব তথা ভাল। আর উত্তর এ শব্দে (أَصْبَحَ بِحَمْدِ الله بَارِئًا) আলহাম্‌দুলিল্লা-হ, সকাল ভালই যাচ্ছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৭-[৫৫] ’আত্বা ইবনু আবূ রবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আব্বাস (রাঃ)আমাকে একবার বললেন, হে ’আত্বা! আমি কি তোমাকে একটি জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললাম, জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে এ কালো মহিলাটিকে দেখো। এ মহিলাটি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত। রোগের ভয়াবহতার ফলে আমি উলঙ্গ হয়ে যাই। আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তার কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তুমি চাও, সবর করতে পার। তাহলে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। আর তুমি চাইলে, আমি তোমার আরোগ্যের জন্য দু’আ করব। আল্লাহ যেন তোমাকে ভাল করে দেন। জবাবে মহিলাটি বলল, আমি সবর করব। পুনরায় মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উলঙ্গ হয়ে যাই। দু’আ করুন আমি যেন উলঙ্গ হয়ে না পড়ি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য দু’আ করলেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ: قَالَ لي ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنهُ: أَلا أريك امْرَأَة من أهل الْجنَّة؟ فَقلت: بَلَى. قَالَ: هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ أَتَتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنِّي أصرع وَإِنِّي أتكشف فَادع الله تَعَالَى لي. قَالَ: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْت الله تَعَالَى أَنْ يُعَافِيَكَ» فَقَالَتْ: أَصْبِرُ فَقَالَتْ: إِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا

وعن عطاء بن ابي رباح قال: قال لي ابن عباس رضي الله عنه: الا اريك امراة من اهل الجنة؟ فقلت: بلى. قال: هذه المراة السوداء اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: اني اصرع واني اتكشف فادع الله تعالى لي. قال: «ان شىت صبرت ولك الجنة وان شىت دعوت الله تعالى ان يعافيك» فقالت: اصبر فقالت: اني اتكشف فادع الله ان لا اتكشف فدعا لها

ব্যাখ্যা: মৃগী রোগ হল মূল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে নিস্ক্রিয় করে দেয় তবে সামান্য সচল থাকে, কারণ হল দূষিত কোন বায়ুর প্রাদুর্ভাবে যা মগজের শিরা উপশিরাকে বন্ধ করে দেয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৮-[৫৬] ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কালে এক ব্যক্তির মৃত্যু হলো। এ সময় আর এক ব্যক্তি মন্তব্য করল, লোকটির ভাগ্য ভাল। মারা গেল কিন্তু কোন রোগে ভুগতে হল না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আহ্! তোমাকে কে বলল, লোকটির ভাগ্য ভাল? যদি আল্লাহ তা’আলা লোকটিকে কোন রোগে ফেলতেন, আর তার গুনাহ মাফ করে দিতেন তাহলেই না সবচেয়ে ভাল হতো! (মালিক মুরসালরূপে)[1]

وَعَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا جَاءَهُ الْمَوْتُ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رجل: هيئا لَهُ مَاتَ وَلَمْ يُبْتَلَ بِمَرَضٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَيْحَكَ وَمَا يُدْرِيكَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ ابْتَلَاهُ بِمَرَضٍ فَكَفَّرَ عَنهُ من سيئاته» . رَوَاهُ مَالك مُرْسلا

وعن يحيى بن سعيد قال: ان رجلا جاءه الموت في زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رجل: هيىا له مات ولم يبتل بمرض فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ويحك وما يدريك لو ان الله ابتلاه بمرض فكفر عنه من سيىاته» . رواه مالك مرسلا

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্য মতে বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা আল্লাহ প্রদত্ত চিকিৎসা যা দ্বারা মানুষকে চিকিৎসা করা হয় পাপের রোগ হতে। নিষ্পাপহীন ব্যক্তি অধিকাংশ সময় গুনাহ হতে মুক্ত না, সুতরাং রোগ সে পাপের জরিমানা অথবা মর্যাদা বৃদ্ধি করে বা ব্যক্তির অহংকারকে চুরমার করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৭৯-[৫৭] শাদ্দাদ ইবন আওস ও সুনাবিহী (রাঃ)থেকে বর্ণিত। একবার তাঁরা দু’জন এক রোগীকে দেখতে গেলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ সকালটা তোমার কেমন যাচ্ছে? রোগীটি বলল, আল্লাহর রহমতে ভালই। তার কথা শুনে শাদ্দাদ বললেন, তোমার গুনাহ ও অপরাধ মাফ হবার শুভ সংবাদ! কারণ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্যে কোন মু’মিন বান্দাকে রোগাক্রান্ত করি। রোগগ্রস্ত করা সত্ত্বেও যে আমার শুকরিয়া আদায় করবে, সে রোগশয্যা হতে সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো সব গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে উঠবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা মালাকগণকে (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, আমি আমার বান্দাকে রোগ দিয়ে বন্দী করে রেখেছি। তাই তোমরা তার সুস্থ অবস্থায় তার জন্য যা লিখতে তা-ই লিখো। (আহমাদ)[1]

وَعَن شَدَّاد بن أَوْس والصنابحي أَنَّهُمَا دَخَلَا عَلَى رَجُلٍ مَرِيضٍ يَعُودَانِهِ فَقَالَا لَهُ: كَيفَ أَصبَحت قَالَ أَصبَحت بِنِعْمَة. فَقَالَ لَهُ شَدَّادٌ: أَبْشِرْ بِكَفَّارَاتِ السَّيِّئَاتِ وَحَطِّ الْخَطَايَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِذَا أَنَا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنًا فَحَمِدَنِي عَلَى مَا ابْتَلَيْتُهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنَ الْخَطَايَا. وَيَقُولُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا قَيَّدْتُ عَبْدِي وَابْتَلَيْتُهُ فَأَجْرُوا لَهُ مَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَهُ وَهُوَ صَحِيح . رَوَاهُ احْمَد

وعن شداد بن اوس والصنابحي انهما دخلا على رجل مريض يعودانه فقالا له: كيف اصبحت قال اصبحت بنعمة. فقال له شداد: ابشر بكفارات السيىات وحط الخطايا فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ان الله عز وجل يقول اذا انا ابتليت عبدا من عبادي مومنا فحمدني على ما ابتليته فانه يقوم من مضجعه ذلك كيوم ولدته امه من الخطايا. ويقول الرب تبارك وتعالى: انا قيدت عبدي وابتليته فاجروا له ما كنتم تجرون له وهو صحيح . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (فَقَالَا لَه: كَيْفَ أَصْبَحْتَ) আজ সকাল কেমন হয়েছে এটি প্রমাণ দিনের প্রথম প্রহরে রোগীকে দেখতে যাওয়া উত্তম (أَصْبَحْتُ بِنِعْمَةٍ) ভাগ্যের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮০-[৫৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার গুনাহ যখন বেশী হয়ে যায় এবং এসব গুনাহের কাফফারার মতো যথেষ্ট নেক ’আমল তার না থাকে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বিপদে ফেলে চিন্তাগ্রস্ত করেন। যাতে এ চিন্তাগ্রস্ততা তার গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যায়। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَثُرَتْ ذُنُوبُ الْعَبْدِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَا يُكَفِّرُهَا مِنَ الْعَمَلِ ابْتَلَاهُ اللَّهُ بِالْحَزَنِ لِيُكَفِّرَهَا عَنهُ» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا كثرت ذنوب العبد ولم يكن له ما يكفرها من العمل ابتلاه الله بالحزن ليكفرها عنه» . رواه احمد

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮১-[৫৯] জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যখন কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখার জন্য রওয়ানা হয় তখন সে আল্লাহর রহমতের সাগরে সাঁতার কাটতে থাকে। যে পর্যন্ত রোগীর বাড়ী গিয়ে না পৌঁছে। আর বাড়ী পৌঁছার পর রহমতের সাগরে ডুব দেয়। (মালিক, আহমাদ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ عَادَ مَرِيضًا لَمْ يَزَلْ يَخُوضُ الرَّحْمَةَ حَتَّى يَجْلِسَ فَإِذَا جَلَسَ اغتمس فِيهَا» . رَوَاهُ مَالك وَأحمد

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عاد مريضا لم يزل يخوض الرحمة حتى يجلس فاذا جلس اغتمس فيها» . رواه مالك واحمد

ব্যাখ্যা: (لَمْ يَزَلْ يَخُوضُ الرَّحْمَةَ) সে রহমাতের মধ্যে প্রবেশ করল যখন সে বাড়ী হতে বের হল রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখার নিয়্যাত নিয়ে। আর যখন সে বসল সে রহমাতে ডুব দিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮২-[৬০] সাওবান (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো জ্বর হলে জ্বর আগুনের অংশ, আগুনকে পানি দিয়ে নিভানো হয়। সে যেন ফাজ্‌রের (ফজরের) সালাতের পর সূর্য উঠার আগে প্রবাহিত নদীতে ঝাঁপ দেয় আর ভাটার দিকে এগুতে থাকে। এরপর বলে, হে আল্লাহ! শেফা দান করো তোমার বান্দাকে। সত্যবাদী প্রমাণ করো তোমার রসূল কে। ওই ব্যক্তি যেন নদীতে তিনদিন তিনটি করে ডুব দেয়। এতে যদি তার জ্বর না সারে তবে পাঁচদিন। তাতেও না সারলে, সাতদিন। সাতদিনেও যদি আরোগ্য না হয় তাহলে নয়দিন। আল্লাহর রহমতে জ্বর-এর অধিক আগে বাড়বে না। (তিরমিযী; তিনি হাদীসটি গরীব বলেছেন।)[1]

وَعَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمُ الْحُمَّى فَإِنَّ الْحمى قِطْعَة من النَّار فليطفها عَنْهُ بِالْمَاءِ فَلْيَسْتَنْقِعْ فِي نَهْرٍ جَارٍ وَلْيَسْتَقْبِلْ جِرْيَتَهُ فَيَقُولُ: بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ وَصدق رَسُولك بعد صَلَاة الصُّبْح وَقبل طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلْيَنْغَمِسْ فِيهِ ثَلَاثَ غَمْسَاتٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي ثَلَاثٍ فَخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي خَمْسٍ فَسَبْعٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي سَبْعٍ فَتِسْعٍ فَإِنَّهَا لَا تَكَادَ تُجَاوِزُ تِسْعًا بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ثوبان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا اصاب احدكم الحمى فان الحمى قطعة من النار فليطفها عنه بالماء فليستنقع في نهر جار وليستقبل جريته فيقول: بسم الله اللهم اشف عبدك وصدق رسولك بعد صلاة الصبح وقبل طلوع الشمس ولينغمس فيه ثلاث غمسات ثلاثة ايام فان لم يبرا في ثلاث فخمس فان لم يبرا في خمس فسبع فان لم يبرا في سبع فتسع فانها لا تكاد تجاوز تسعا باذن الله عز وجل . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৩-[৬১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একবার জ্বর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এ সময় এক লোক জ্বরকে গালি দিলো। এ কথা শুনে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর গুনাহ দূর করে যেভাবে (কামারের) হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: ذُكِرَتِ الْحُمَّى عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَبَّهَا رَجُلٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبَّهَا فَإِنَّهَا تَنْفِي الذُّنُوبَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْحَدِيدِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: ذكرت الحمى عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فسبها رجل فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تسبها فانها تنفي الذنوب كما تنفي النار خبث الحديد» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: ‘যেভাবে (কামারের) হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।’ বাক্যটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত যা মূলত গুনাহ হতে নির্মূল হওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্যতা বুঝানো হয়েছে। আর হাদীসের অর্থ জ্বরের অবস্থায় গালি না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ওয়াজিব।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৪-[৬২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক অসুস্থ লোককে দেখতে গিয়ে বললেন, সুসংবাদ! আল্লাহ তা’আলা বলেন, তা আমার আগুন। আমি দুনিয়াতে এ আগুনকে আমার মু’মিন বান্দার কাছে পাঠাই। তা এজন্যই যাতে এ আগুন কিয়ামতে তার জাহান্নামের আগুনের পরিপূরক হয়ে যায়। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ مَرِيضًا فَقَالَ: أَبْشِرْ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: هِيَ نَارِي أُسَلِّطُهَا عَلَى عَبْدِي الْمُؤْمِنِ فِي الدُّنْيَا لِتَكَوُنَ حَظَّهُ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ والْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد مريضا فقال: ابشر فان الله تعالى يقول: هي ناري اسلطها على عبدي المومن في الدنيا لتكون حظه من النار يوم القيامة . رواه احمد وابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৫-[৬৩] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার মহান রব বলেন, আমার ইযযত ও প্রতাপের শপথ, আমি ততক্ষণ কাউকে দুনিয়া হতে বের করে আনি না যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেবার ইচ্ছা করি। যতক্ষণ না তার ঘাড়ে থাকা প্রত্যেকটি গুনাহকে তার দেহের কোন রোগ অথবা রিযক্বের সংকীর্ণতা দিয়ে বিনিময় করে দিই। (রযীন)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الرَّبَّ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى يَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أُخْرِجُ أَحَدًا مِنَ الدُّنْيَا أُرِيد أَغْفِرَ لَهُ حَتَّى أَسْتَوْفِيَ كُلَّ خَطِيئَةٍ فِي عُنُقِهِ بِسَقَمٍ فِي بَدَنِهِ وَإِقْتَارٍ فِي رِزْقِهِ . رَوَاهُ رزين

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ان الرب سبحانه وتعالى يقول: وعزتي وجلالي لا اخرج احدا من الدنيا اريد اغفر له حتى استوفي كل خطيىة في عنقه بسقم في بدنه واقتار في رزقه . رواه رزين

ব্যাখ্যা: মীরাক বলেনঃ (إِقْتَارٍ) ‘ইক্বতা-র’ হল মানুষের ওপর রিযক্ব (রিজিক/রিযিক)কে সংকুচিত করা। যেমন বলা হয় إقتار الله رزقه আল্লাহ তার রিযক্বকে সংকুচিত করে দিয়েছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৬-[৬৪] শাক্বীক্ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) অসুস্থ হলে আমরা দেখতে গেলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তা দেখে তাঁকে কেউ কেউ খারাপ বলতে লাগলেন। সে সময় ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) বললেন, আমি অসুখের জন্য কাঁদছি না। আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অসুখ হচ্ছে গুনাহের কাফফারাহ্। আমি বরং কাঁদছি এজন্য যে, এ অসুখ হল আমার বৃদ্ধ বয়সে। আমার শক্তি-সামর্থ্য থাকার সময়ে হল না। কারণ মানুষ যখন অসুস্থ হয় তার জন্য সে সাওয়াব লেখা হয়, যা অসুস্থ হবার আগে তার জন্য লেখা হত। এজন্যই যে অসুস্থতা তাকে ওই ’ইবাদাত করতে বাধা দেয়। (রযীন)[1]

وَعَن شَقِيق قَالَ: مرض عبد الله بن مَسْعُود فَعُدْنَاهُ فَجَعَلَ يَبْكِي فَعُوتِبَ فَقَالَ: إِنِّي لَا أَبْكِي لِأَجْلِ الْمَرَضِ لِأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْمَرَضُ كَفَّارَةٌ» وَإِنَّمَا أبْكِي أَنه أَصَابَنِي عَلَى حَالِ فَتْرَةٍ وَلَمْ يُصِبْنِي فِي حَال اجْتِهَاد لِأَنَّهُ يكْتب للْعَبد من الْجَرّ إِذَا مَرِضَ مَا كَانَ يُكْتَبُ لَهُ قَبْلَ أَنْ يَمْرَضَ فَمَنَعَهُ مِنْهُ الْمَرَضُ. رَوَاهُ رَزِينٌ

وعن شقيق قال: مرض عبد الله بن مسعود فعدناه فجعل يبكي فعوتب فقال: اني لا ابكي لاجل المرض لاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المرض كفارة» وانما ابكي انه اصابني على حال فترة ولم يصبني في حال اجتهاد لانه يكتب للعبد من الجر اذا مرض ما كان يكتب له قبل ان يمرض فمنعه منه المرض. رواه رزين

হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৭-[৬৫] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন রোগীকে (রোগগ্রস্ত হবার পর) তিনদিন না হওয়া পর্যন্ত দেখতে যেতেন না। (ইবনু মাজাহ, আর বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَعُودُ مَرِيضًا إِلَّا بَعْدَ ثَلَاثٍ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

وعن انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يعود مريضا الا بعد ثلاث. رواه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: শাওকানী এ হাদীস প্রমাণ করে রোগী দেখতে যাওয়া শারী‘আত সম্মত রোগ হওয়ার তিনদিন পর। সুতরাং রোগীকে দেখতে যাওয়ার ব্যাপারে ‘আম হাদীসগুলোকে সীমাবদ্ধ করেছে এ হাদীস কিন্তু উপরোল্লিখিত হাদীস সহীহ বা হাসান না। সুতরাং দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হবে না। আমি ভাষ্যকার বলি, জমহূরদের মতে রোগীকে দেখতে যাওয়া কোন সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ না রোগ শুরু হওয়ার পর হতে বরং সুন্নাহ হল রোগ শুরুর প্রথম দিকে দেখতে যাওয়া, কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য ‘আমভাবে যে (عودوا المريض) তোমরা রোগীকে দেখতে যাও।

আর গাযযালী ইয়াহ্ইয়াউল উলূমে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটি খুবই দুর্বল তথা অগ্রহণ্যযোগ্য।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৮-[৬৬] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি কোন অসুস্থ লোককে দেখতে গেলে, তাকে তোমার জন্য দু’আ করতে বলবে। কারণ রুগ্ন লোকের দু’আ মালায়িকার (ফেরেশতাদের) দু’আর মতো। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ك قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلْتَ عَلَى مَرِيضٍ فَمُرْهُ يَدْعُو لَكَ فَإِنَّ دُعَاءَهُ كَدُعَاءِ الْمَلَائِكَةِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال ك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا دخلت على مريض فمره يدعو لك فان دعاءه كدعاء الملاىكة» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেনঃ রোগীর নিকট দু‘আ চাওয়ার হুকুমটি মূলত রোগী তখন মুক্ত গুনাহ হতে সেদিনের মতো যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল এবং সে মালায়িকার মতো নিস্পাপ হয় আর নিস্পাপদের দু‘আ কবূল হয়।

‘আলক্বামাহ্ বলেনঃ হাদীসের মর্মার্থ রোগীর নিকট দু‘আর আবেদন করা মুসতাহাব, কারণ সে নিরুপায় আর অন্যদের চেয়ে তার দু‘আ দ্রুত কবূল হয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৮৯-[৬৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রোগীকে দেখতে যাবার পর নিয়ম হলো, রোগীর কাছে বসা। তার কাছে উচ্চস্বরে কথা না বলা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তাঁর এ কথার সমর্থনে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুশয্যায় তাঁর পাশে লোকেরা বেশি কথাবার্তা ও মতভেদ শুরু করলে তিনি বলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে সরে যাও। (রযীন)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مِنَ السُّنَّةِ تَخْفِيفُ الْجُلُوسِ وَقِلَّةُ الصَّخَبِ فِي الْعِيَادَةِ عِنْدَ الْمَرِيضِ قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا كَثُرَ لَغَطُهُمْ وَاخْتِلَافُهُمْ: «قُومُوا عَنِّي» رَوَاهُ رزين

وعن ابن عباس قال: من السنة تخفيف الجلوس وقلة الصخب في العيادة عند المريض قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما كثر لغطهم واختلافهم: «قوموا عني» رواه رزين

ব্যাখ্যা : হাদীসে প্রমাণিত হয়, রোগীকে দেখতে যাওয়ার আদাব বা বৈশিষ্ট্য যে রোগীর নিকট যেন দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকে যাতে সে বিরক্ত হয়।

وَاخْتِلَافُهُمْ: قُومُوا عَنِّي তাদের মতানৈক্যের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা আমার নিকট হতে উঠে যাও। ত্বীবী বলেন, আর এটা ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর সময়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)হতে বর্ণিত যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর যন্ত্রণা উপস্থিত হল এমতাবস্থায় ঘরে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে ‘উমার (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিয়ে আসো আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখব, এর পরে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। ‘উমার (রাঃ) বললেন, অন্য বর্ণনায় অনেকে বললেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রচন্ড ব্যথা পেয়ে বসেছে আর তোমাদের কুরআনে রয়েছে তোমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ঠ হবে। ঘরের অধিবাসীরা মতানৈক্য করল এবং ঝগড়ায় লিপ্ত হল। তাদের মধ্যে কেউ বলল, তোমরা তার নিকট কিছু উপস্থিত কর যাতে তোমাদের জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখবেন তাদের মধ্যে, আবার কেউ বললেন অন্য কিছু তথা লিখার প্রয়োজন নেই যখন কথাবার্তা ও মতভেদ বেশী হয়ে গেল তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার নিকট হতে উঠে যাও। (বুখারী, মুসলিম)


হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯০-[৬৮] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোগী দেখতে অল্প সময় নেবে।[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: «العيادة فوَاق نَاقَة»

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العيادة فواق ناقة»

ব্যাখ্যা: (فوَاق نَاقَة) দ্বারা উদ্দেশ্য দুধ দোহনের মাঝখানে বিরতির সময়, কেননা দুধ দোহন করা হয়। অতঃপর স্বল্প সময়ের জন্য বিরত রাখা হয় বাছুর দুধপান করে যাতে স্তনের বোটা পিচ্ছিল হয়, অতঃপর আবার দুধ দহন করা হয় (এ সময় টুকুকে فوَاق نَاقَة বলে) ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯১-[৬৯] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রোগীকে দেখার উত্তম নিয়ম হলো তাড়াতাড়ি উঠে যাওয়া। (বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَفِي رِوَايَةِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مُرْسَلًا: «أَفْضَلُ الْعِيَادَةِ سُرْعَةُ الْقِيَامِ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

وفي رواية سعيد بن المسيب مرسلا: «افضل العيادة سرعة القيام» . رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেনঃ সর্বোত্তম হল রোগীকে সাক্ষাৎকারী ব্যক্তি দ্রুত চলে আসা। আর মীরাক বলেন, সারমর্ম হল উত্তম সাক্ষাৎকারী ব্যক্তি দ্রুত উঠে আসবে তবে যদি তার দীর্ঘ অবস্থান রোগী পছন্দ করে (তাহলে তথায় অবস্থানই ভাল)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯২-[৭০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি খেতে তোমার মন চায়? জবাবে সে বলল, গমের রুটি। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের যার কাছে গমের রুটি আছে সে যেন তা তার ভাইয়ের জন্য পাঠায়। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের কোন রোগী কিছু খেতে চাইলে, তাকে তা খাওয়াবে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَادَ رَجُلًا فَقَالَ لَهُ: «مَا تستهي؟» قَالَ: أشتهي خبز بر. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ عِنْدَهُ خُبْزُ بُرٍّ فَلْيَبْعَثْ إِلَى أَخِيهِ» . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اشْتَهَى مَرِيضُ أحدكُم شَيْئا فليطعمه» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابن عباس: ان النبي صلى الله عليه وسلم عاد رجلا فقال له: «ما تستهي؟» قال: اشتهي خبز بر. قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من كان عنده خبز بر فليبعث الى اخيه» . ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اذا اشتهى مريض احدكم شيىا فليطعمه» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: রোগের পক্ষে ক্ষতিকর নয় এরূপ খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাবনা এও রয়েছে যদিও ক্ষতিকর হয় অনেক সময় রোগীর চাহিদা মোতাবেক খাওয়াই আরোগ্যের কারণ হয়।

ত্বীবী বলেনঃ রোগীর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রয়েছে আল্লাহর ওপর যে, তিনি আরোগ্য দিবেন অথবা মৃত্যু আসন্ন। কারও মতে সূক্ষ্ম হিকমাহ্ রয়েছে, তা হল রোগী যখন কোন কিছু কামনা করে যদিও তা স্বল্প ক্ষতি করে তথাপিও তা উপকারে আসে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯৩-[৭১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মদীনায় মারা গেলেন, মদীনায়ই তার জন্ম হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযায় সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। তারপর তিনি বললেন, হায়! এ ব্যক্তি যদি তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোন জায়গায় মৃত্যুবরণ করত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, কেন? হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি বললেন, কোন লোক জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করলে তার মৃত্যুস্থান ও জন্মস্থানের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের জায়গা হিসেবে গণ্য করা হয়। (নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ ك تُوُفِّيَ رَجُلٌ بِالْمَدِينَةِ مِمَّنْ وُلِدَ بِهَا فَصَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا لَيْتَهُ مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِهِ» . قَالُوا وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِهِ قِيسَ لَهُ مِنْ مَوْلِدِهِ إِلَى مُنْقَطَعِ أَثَرِهِ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعن عبد الله بن عمرو قال ك توفي رجل بالمدينة ممن ولد بها فصلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «يا ليته مات بغير مولده» . قالوا ولم ذاك يا رسول الله؟ قال: «ان الرجل اذا مات بغير مولده قيس له من مولده الى منقطع اثره في الجنة» . رواه النساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্মার্থ হল যে, তাকে জান্নাতে এ পরিমাণ স্থান দেয়া হবে যে জন্মস্থান হতে মৃত্যুর স্থানের দূরত্ব পর্যন্ত। আবার কারও মতে, এটা উদ্দেশ্য নয় বরং উদ্দেশ্য ঐ পরিমাণ দূরত্বের সাওয়াব দেয়া হবে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯৪-[৭২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফররত অবস্থায় মারা যায় সে শাহীদ। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَوْتُ غُرْبَةٍ شَهَادَةٌ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «موت غربة شهادة» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: (غُرْبَةٍ) শব্দের অর্থ হল নিজের দেশ বা এলাকা হতে অনেক দূরে থাকা। শাহীদের হুকুমটি আখিরাতে দৃষ্টিভঙ্গীতে আর এই মর্যাদা তখনই প্রযোজ্য হবে যদি দূরে অবস্থানকারী বা অবস্থানকারী পাপী না হয়। আর হাদীস প্রমাণ করে দূরে মৃত্যুবরণের ফাযীলাত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯৫-[৭৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রোগে ভুগে মারা যায়, সে শাহীদ হয়ে মারা গেল; তাকে কবরের ফিতনাহ্ হতে রক্ষা করা হবে। এছাড়াও সকাল-সন্ধ্যায় তাকে জান্নাত থেকে রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) দেয়া হবে। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ مَاتَ مَرِيضًا مَاتَ شَهِيدًا أَوْ وُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَغُدِيَ وَرِيحَ عَلَيْهِ بِرِزْقِهِ مِنَ الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من مات مريضا مات شهيدا او وقي فتنة القبر وغدي وريح عليه برزقه من الجنة» . رواه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: সিনদী বলেনঃ হাদীস যদি সহীহ হয় তাহলে নির্ধারিত রোগের উপর প্রমাণ বহন করবে যেমন পেটের অসুখ।

ইবনু হাজার বলেন, এটা সাধারণভাবে সকল রোগের উপর প্রযোজ্য হবে তবে অন্য হাদীস সীমাবদ্ধ করেছে যে, পেটজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করবে তাকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হবে না। সকাল সন্ধ্যা রিয্ক্ব (রিজিক/রিযিক) দেয়া হবে অর্থ সর্বদাই রিযক্ব দেয়া হবে। আল্লাহর বাণীঃ أُكُلُهَا دَائِمٌ ‘‘সর্বদাই রিযক্ব প্রদান করা হবে।’’ (সূরাহ্ আর্ রাদ ১৩ : ৩৫)

সম্ভাবনা রয়েছে নির্ধারিত দু’সময়ে তাদের জন্য খাস রিয্ক্বের ব্যবস্থা রয়েছে।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯৬-[৭৪] ’ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাহীদগণ এবং যারা বিছানায় মৃত্যুবরণ করেছে তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারে ঝগড়া করবে। শহীদগণ বলবে, ’’এরা আমাদের ভাই। কেননা আমাদেরকে যেভাবে নিহত করা হয়েছে, এভাবে এদেরকেও নিহত করা হয়েছে।’’ আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবে, ’’এরা আমাদের ভাই। এ লোকেরা এভাবে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, যেভাবে আমরা মরেছি।’’ তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, এদের জখমগুলোকে দেখা হোক। এদের জখম যদি শহীদদের জখমের মতো হয়ে থাকে, তাহলে এরাও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের সাথে থাকবে। বস্তুত যখন জখম দেখা হবে, তখন তা’ শাহীদদের জখমের মতো হবে। (আহমাদ, নাসায়ী)[1]

عَن الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ على فرشهم إِلَى رَبنَا فِي الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنَ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ: إِخْوَاننَا قتلوا كَمَا قتلنَا وَيَقُول: المتوفون على فرشهم إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ كَمَا مِتْنَا فَيَقُولُ رَبنَا: انْظُرُوا إِلَى جراحهم فَإِن أشبهت جراحهم جِرَاحَ الْمَقْتُولِينَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قد أشبهت جراحهم . رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ

عن العرباض بن سارية ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يختصم الشهداء والمتوفون على فرشهم الى ربنا في الذين يتوفون من الطاعون فيقول الشهداء: اخواننا قتلوا كما قتلنا ويقول: المتوفون على فرشهم اخواننا ماتوا على فرشهم كما متنا فيقول ربنا: انظروا الى جراحهم فان اشبهت جراحهم جراح المقتولين فانهم منهم ومعهم فاذا جراحهم قد اشبهت جراحهم . رواه احمد والنساىي

ব্যাখ্যা: এ ঝগড়াটি জান্নাতের বাইরে হবে তা না হলে প্রশ্ন থাকবে কেননা জান্নাতের বিষয়ে এসেছে তোমাদের মন যা চাবে তাই পাবে। সুতরাং যে জান্নাতে শাহীদদের মর্যাদা চাবে তা পাবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রোগী দেখা ও রোগের সাওয়াব

১৫৯৭-[৭৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়লে ওখান থেকে ভেগে যাওয়া যুদ্ধের ময়দান থেকে ভেগে যাবার মতো। প্লেগ ছড়িয়ে পড়লে সেখানেই ধৈর্য ধরে অবস্থানকারী শাহীদের সাওয়াব পাবে। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْفَارُّ مِنَ الطَّاعُونِ كَالْفَارِّ مِنَ الزَّحْفِ وَالصَّابِرُ فِيهِ لَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن جابر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الفار من الطاعون كالفار من الزحف والصابر فيه له اجر شهيد» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করা অবস্থায় যুদ্ধের ময়দান হতে যেরূপ পলায়ন করা হারাম অনুরূপ মহামারী স্থান হতে পলায়ন করাও হারাম।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

(باب تمنى الموت) মৃত্যু কামনা তথা তার কামনা বা আকাঙ্ক্ষার হুকুম (وذكره) ও তার স্মরণ তথা মৃত্যুর স্মরণের ফাযীলাত।


১৫৯৮-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে নেক্কার হলে আরো বেশী নেক কাজ করার সুযোগ পাবে। আর বদকার হলে, (সে তওবা্ করে) আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি হাসিল করার সুযোগ পাবে। (বুখারী)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ أَنْ يَزْدَادَ خَيْرًا وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ أَنْ يستعتب» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يتمنى احدكم الموت اما محسنا فلعله ان يزداد خيرا واما مسيىا فلعله ان يستعتب» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: সিন্দী বলেন, মৃত্যু কামনাকারী দু’শ্রেণী হতে মুক্ত হতে পারে না। কামনাকারী নেককার বা বদকার কামনাকারী নেককার হলে তার জন্য বৈধ হবে না মৃত্যু কামনা করা। কেননা জীবিত অবস্থায় অধিক নেকী অর্জন করতে পারবে অপরদিকে বদকার বা পাপী হলে তার জন্যও মৃত্যু কামনা করা বৈধ না। কেননা সম্ভবত সে তাওবাহ্ করে পাপকাজ থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর সন্তোষ লাভ অর্জনে সক্ষম হবে।

হাফিয ইবনে হাজার বলেন, হাদীসে মৃত্যু কামনা হতে বিরত থাকার ইঙ্গিত বহন করে যে মৃত্যুর মাধ্যমে ‘আমলের দরজা বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ হয়ে যায় আর জীবিত অবস্থা হল ‘আমল করার মাধ্যম। সুতরাং ‘আমলের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব অর্জন করবে। যদি সে আল্লাহর একত্ববাদের উপর অবিচল থাকে আর এটা সর্বোত্তম ‘আমল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৫৯৯-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে আর তা আসার পূর্বে তাকে যেন আহবান না জানায়, কারণ সে যখন মৃত্যুবরণ করবে তার ’আমল বন্ধ হয়ে যাবে। আর মু’মিনের হায়াত বাড়লে তার ভাল কাজই বৃদ্ধি পায়। (মুসলিম)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلَا يَدْعُ بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ إِنَّهُ إِذَا مَاتَ انْقَطَعَ أَمَلُهُ وَإِنَّهُ لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلَّا خيرا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يتمنى احدكم الموت ولا يدع به من قبل ان ياتيه انه اذا مات انقطع امله وانه لا يزيد المومن عمره الا خيرا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَلَا يَدْعُ بِه) মৃত্যুর আহবান যেন না করে। হাফিয ইবনে হাজার বলেন, মৃত্যুর আহবান বা দু‘আ মৃত্যুর কামনার চেয়ে খাস।

(مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَه) মৃত্যু আসার পূর্বে হাফিয ইবনে হাজার বলেন, মূলত তাৎপর্যটি এরূপ যে, মৃত্যু অবধারিত হলে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাতের সন্তুষ্টির কামনা করা নিষেধ করে না আর না মৃত্যু চাওয়া আল্লাহর নিকট আর এ বিষয়ে ইমাম বুখারী হাদীস সাজিয়েছেন- আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের পরে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস।

(اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَأَلْحِقْنِيْ بِالرَّفِيْقِ الْأَعْلى) হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর এবং দয়া কর আর সর্বোচচ বন্ধুর সাথে মিলিত কর, সুতরাং এটা ইঙ্গিত করে যে, মৃত্যু কামনা নিষেধাজ্ঞা হল মৃত্যু আসার পূর্বে।

(لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُه إِلَّا خيرا) মু’মিনের বয়স বা জীবন শুধুমাত্র কল্যাণ ও নেকীই বৃদ্ধি করে বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর নি‘আমাতসমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর আদেশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। হাফিয ইবনে হাজার বলেন, প্রশ্ন উঠে কখনো কখনো খারাপ ‘আমল করে ফলে জীবনে বদ ‘আমলই বৃদ্ধি পায়। জবাবে বলা হয় মু’মিন দ্বারা কামিল মু’মিন উদ্দেশ্য অথব মু’মিন ব্যক্তি ‘আমল করার মাধ্যমে জীবনের সকল গুনাহ মিটিয়ে নেয় বা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ হতে বিরত থাকে আর অপরদিকে ভাল ‘আমলের দ্বারা খারাপ ‘আমল মিটিয়ে সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করে আর যতক্ষণ ঈমান অবশিষ্ট থাকে এর দ্বারা আনুপাতিক হারে সাওয়াব বাড়তে থাকে এবং পাপ কমতে থাকে বা মিটতে থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০০-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন দুঃখ-কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা করতেই হয় তাহলে যেন সে বলে,

’’আল্ল-হুম্মা আহয়িনী মা- কা-নাতিল হায়া-তু খায়রাল লী ওয়াতা ওয়াফ্‌ফানী ইযা- কা-নাতিল ওয়াফা-তু খায়রাল লী’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার জীবন আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর হয়, আমাকে বাঁচিয়ে রেখ। আর আমাকে মৃত্যুদান করো যদি মৃত্যুই আমার জন্য কল্যাণকর হয়।) (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ فَإِنْ كَانَ لابد فَاعِلًا فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لي

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يتمنين احدكم الموت من ضر اصابه فان كان لابد فاعلا فليقل: اللهم احيني ما كانت الحياة خيرا لي وتوفني اذا كانت الوفاة خيرا لي

ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনে হাজার বলেন, সালফে সালিহীনদের মতে মৃত্যু কামনার নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র দুনিয়ার মুসীবাতের উপর প্রযোজ্য তবে যদি দীনের মধ্যে ফিৎনার আশংকা থাকে তাহলে মৃত্যু কামনা বৈধ। যেমনটি ইবনু হিব্বান-এর বর্ণনা (لَا يَتَمَنَّيْنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرِّ نَزَلَ بِه فِى الدُّنْيَا) তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে দুনিয়ার মুসীবাতের কারণে।

এটা প্রামাণ করে দুনিয়ার মুসীবাতের কারণ। অনুরূপ ‘উমার (রাঃ) বিন খাত্ত্বাব (রাঃ)ও করেছেন যেমনটি মুয়াত্ত্বা মালিকে এসেছে, (اَللّهُمَّ كَبُرَتَ سِنِّيْ وَضَعُفَتْ قُوِّتِىْ وَانَتَشَرَتْ رَعِيْتِيْ فَاقْبِضْنِيْ إِلَيْكَ غَيْرَ مُضِيْعٍ وَلَا مُفْرِطٍ) ‘উমার (রাঃ) দু‘আ করতেন, হে আল্লাহ! আমার বয়স বেড়েছে শক্তি কমেছে এবং আমার অধিনস্থ প্রজাগণও বেড়েছে আমাকে তোমার নিকট উঠিয়ে নাও কোন প্রকার ক্ষতি সাধন ও সীমালঙ্ঘন ছাড়াই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০১-[৪] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য অপছন্দ করেন। (এ কথা শুনে) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) অথবা তাঁর স্ত্রীদের কেউ জিজ্ঞেস করলেন, আমরাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ব্যাপারটি তা নয়। বরং এর অর্থ হলো, যখন মু’মিনের মৃত্যু আসে তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুসংবাদ দেয়া হয়। তখন সামনে তার এসব মর্যাদা হতে বেশী পছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে। আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর কাফির ব্যক্তির মৃত্যু হাযির হলে, তাকে আল্লাহর ’আযাব ও তার পরিণতির ’খোশ খবর’ দেয়া হয়। তখন এ কাফির ব্যক্তির সামনে এসব খোশ খবরের চেয়ে বেশী অপছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে যেমন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ» فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ: إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ: «لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حضر بشر بِعَذَاب الله وعقوبته فَلَيْسَ شَيْء أكره إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَكَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ الله لقاءه»

وعن عبادة بن الصامت قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من احب لقاء الله احب الله لقاءه ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه» فقالت عاىشة او بعض ازواجه: انا لنكره الموت قال: «ليس ذلك ولكن المومن اذا حضره الموت بشر برضوان الله وكرامته فليس شيء احب اليه مما امامه فاحب لقاء الله واحب الله لقاءه وان الكافر اذا حضر بشر بعذاب الله وعقوبته فليس شيء اكره اليه مما امامه فكره لقاء الله وكره الله لقاءه»

ব্যাখ্যা: (مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللّهِ) তথা যে ভালোবাসে আল্লাহর সাক্ষাত লাভকে তথা আখিরাতের দিকে প্রত্যাবর্তনের অর্থাৎ মু’মিন ব্যক্তিকে মৃত্যুর গারগরের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ প্রদান করা হয়, ফলে তার মৃত্যুটা জীবনের চেয়ে প্রিয় হয়ে উঠে।

খাত্ত্বাবী বলেন, বান্দার আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের ভালোবাসার অর্থ হল দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দেয়া আর দুনিয়াতে অবিরামভাবে প্রতষ্ঠিত থাকাকে অপছন্দ করা বরং তা হতে সফরের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা। আর অপছন্দ হল এর বিপরীত।

(لِقَاءَ اللّهِ) দ্বারা উদ্দেশ্য (১) পুনরুত্থান। যেমন, আল্লাহর বাণীঃ قَدْ خَسِرَ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَاءِ اللّهِ ‘‘নিশ্চয়ই তারা ধ্বংস হয়ে যারা পুনরুত্থানকে মিথ্যা বলেছে।’’ (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ : ৩১)

(২) মৃত্যু। مَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ ‘‘যারা আল্লাহর সাক্ষাত লাভের কামনা করে সে আল্লাহর নির্ধারিত মৃত্যু অবধারিত।’’ (সূরাহ্ আল ‘আনকাবূত ২৯ : ৫)

(৩) জাযারী নিহায়াতে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন অবিনশ্বর আখিরাতের দিকে ধাবিত হওয়া আর কামনা করা আল্লাহর নিকট যা আছে এবং দুনিয়াতে দীর্ঘ অবস্থান না থাকা ও দুনিয়ার জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি না থাকা।

(إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ) আমরা তো মৃত্যুকে না পছন্দই করি। সা‘দ বিন হিশাম-এর বর্ণনায়

فَقُلْتُ يَا نَبِيَ اللهِ أَكَرَاهِيَّةُ الْمَوْتِ فَكُلُّنَا يَكْرَهُ الْمَوْتَ أَيْ بِحَسْبِ الْطَبَعِ وَخَوْفًا مِمَّا بَعْدَه.

আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! মৃত্যুর অপছন্দ তো আমরা সবাই করি অর্থাৎ মৃত্যুর পরের অবস্থার ভয়ে।

(لَيْسَ ذلِكَ) তথা বিষয়টি এমন না যেমনটি ধারণা করছ, হে ‘আয়িশাহ্! বরং মু’মিনের মৃত্যুর অপছন্দ মৃত্যুর কঠিনতর ভয়ের জন্য আল্লাহর সাক্ষাতের অপছন্দ নয় বরং অপছন্দটি হল মৃত্যুর অপছন্দ দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের জীবনের উপর প্রাধান্য দেয়া যখন মৃত্যুর উপস্থিতির সময় আল্লাহর শাস্তির সুসংবাদ দেয়া হয়।

হাদীসের শিক্ষাসমূহঃ

* মরণাপন্ন ব্যক্তি যখন তার ওপর আনন্দের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পায় এটা দলীল যে তাকে কল্যাণের সুসংবাদ দেয়া হয়। অনুরূপ এর বিপরীত।

* আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের ভালোবাসা মৃত্যু কামনা করার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় না। কেননা মৃত্যু কামনা করার নিষেধাজ্ঞা বিশেষ পরিস্থিতির সাথে সংশ্লিষ্ট। বরং মরণোম্মুখ সময় মৃত্যু কামনা করা মুস্তাহাব।

* সুস্থ থাকাবস্থায় মৃত্যুকে অপছন্দ করা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে অপছন্দ করে দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য আখিরাতের অফুরন্ত নি‘আমাতের উপর সে তিরস্কৃত বা নিন্দনীয়। আর যে এই ভয়ে মৃত্যুকে অপছন্দ করে যে ‘আমল কমতি হওয়ার কারণে শাস্তি পাওয়ার আশংকা রয়েছে আর সকল দায় দায়িত্ব থেকে মুক্তি হতে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে পারেনি এবং যে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করবে যা ওয়াজিব এ ব্যক্তির জন্য মৃত্যুকে অপছন্দ করা বৈধ। তবে যে ব্যক্তি ভাল ‘আমলের প্রস্ত্ততির দিকে দ্রুত ধাবিত হবে এমনকি যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হবে তখন মৃত্যুকে অপছন্দ করবে না বরং আল্লাহর সাক্ষাত লাভের কামনা করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০২-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, ’’মৃত্যু হলো আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাতের অগ্রবর্তী।’’[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَفِي رِوَايَةِ عَائِشَةَ: «وَالْمَوْتَ قَبْلَ لِقَاء الله»

وفي رواية عاىشة: «والموت قبل لقاء الله»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৩-[৬] আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দিয়ে একটি জানাযাহ্ বহন করা হচ্ছিল তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (জানাযাহ্ দেখে) বললেন, এ ব্যক্তি শান্তি পাবে, অথবা এর থেকে অন্যরা শান্তি পাবে। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! শান্তি পাবে কে, অথবা ওই ব্যক্তি কে যার থেকে অন্যরা শান্তি পাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর মু’মিন বান্দা মৃত্যুর দ্বারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট হতে আল্লাহর রহমতের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে সে শান্তি পায়। আর গুনাহগার বান্দা মারা গেলে তার অনিষ্ট ও ফাসাদ হতে মানুষ, শহর-বন্দর গাছ-পালা ও জন্তু-জানোয়ার সবকিছুই শান্তি লাভ করে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَقَالَ: «مُسْتَرِيحٌ أَوْ مُسْتَرَاحٌ مِنْهُ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا المستريح والمستراح مِنْهُ؟ فَقَالَ: «الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلَى رَحْمَةِ اللَّهِ وَالْعَبْدُ الْفَاجِرُ يستريح مِنْهُ الْعباد والبلاد وَالشَّجر وَالدَّوَاب»

وعن ابي قتادة انه كان يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر عليه بجنازة فقال: «مستريح او مستراح منه» فقالوا: يا رسول الله ما المستريح والمستراح منه؟ فقال: «العبد المومن يستريح من نصب الدنيا واذاها الى رحمة الله والعبد الفاجر يستريح منه العباد والبلاد والشجر والدواب»

ব্যাখ্যা: আল্লামা নাবাবী বলেন, পাপাচার বান্দা হতে বান্দাগণের শাস্তি লাভের উদ্দেশ্য অর্থ হল তার কষ্ট হতে মুক্তি পাওয়া আর কষ্টসমূহ বিভিন্ন ধরনেরঃ তাদের ওপর তার যুলম নির্যাতন। আর তার খারাপ কর্মসমূহ বাস্তবায়ন না হতে যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আবার তাদের ক্ষতি সাধনও করে থাকে। আর যদি তারা চুপ থাকে এই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাহলে তারা গুনাহগার হয়।

নাবাবী আরও বলেন, পশু-পাখীর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি হতে শাস্তি লাভের অর্থ সে তাদেরকে কষ্ট দেয়, প্রহার করে তাদের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেয় আবার কোন কোন সময় তাদেরকে উপাসে রাখে ও আরও অন্যান্য।

আর দেশ ও বৃক্ষরাজির শান্তি লাভের উদ্দেশ্য হল পাপের কারণে বৃষ্টি বন্ধ হয় ফলে তাদের পানি পান করার অধিকার তাদের কাছে হতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। ত্বীবী বলেন, দেশ ও বৃক্ষরাজির শান্তি লাভের অর্থ হল আল্লাহ তা‘আলা পাপিষ্ঠ লোকের বিদায়ের ফলে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি বর্ষণ করান এবং তার পৃথিবী বৃক্ষরাজি ও প্রাণীদেরকে সজীব করে তোলেন পাপের কারণে বৃষ্টি বন্ধের পর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৪-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাত দিয়ে আমার দু’কাঁধ ধরলেন। তারপর বললেন, দুনিয়ায় তুমি এমনভাবে থাকো, যেমন- তুমি একজন গরীব অথবা পথের পথিক। (এরপর থেকে) ইবনু ’উমার (রাঃ) (মানুষদেরকে) বলতেন, ’’সন্ধ্যা হলে আর সকালের অপেক্ষা করবে না। আর যখন সকাল হবে, সন্ধ্যার অপেক্ষা করবে না। নিজের সুস্থতার সুযোগ গ্রহণ করবে অসুস্থতার আগে ও জীবনের সুযোগ গ্রহণ করবে মৃত্যুর আগে। (বুখারী)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَنْكِبِي فَقَالَ: «كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ» . وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ وَمِنْ حياتك لموتك. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عبد الله بن عمر قال: اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنكبي فقال: «كن في الدنيا كانك غريب او عابر سبيل» . وكان ابن عمر يقول: اذا امسيت فلا تنتظر الصباح واذا اصبحت فلا تنتظر المساء وخذ من صحتك لمرضك ومن حياتك لموتك. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: নাবাবী বলেন, হাদীসের অর্থ তুমি দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকবে না এবং তাকেই দেশ হিসেবে গ্রহণ করবে না আর নিজেকে সেখানে চিরস্থায়ীর জন্য ভাববে না এবং তার সাথে সম্পর্ক রাখবে না যেমন, দরিদ্র বা মুসাফির ব্যক্তি অন্যের দেশের সাথে সম্পর্ক রাখে না।

কারও মতে উদ্দেশ্য হলঃ মু’মিন ব্যক্তি দুনিয়াতে অবস্থান করবে বিদেশীর অবস্থানের মতো। সুতরাং তার অন্তরকে সম্পর্ক রাখবে না দূরবর্তী দেশের কোন কিছুর সাথে বরং সম্পর্ক রাখবে এমন এক দেশের সাথে সেখানে সে ফিরে যাবে। আর দুনিয়াকে প্রয়োজন মিটানোর অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করবে আর প্রস্ত্ততি গ্রহণ করবে তার আসল দেশের প্রত্যাবর্তনের জন্য। এটাই হল গরীব বা বিদেশীর অবস্থা অথবা মুসাফিরের যে সে নির্ধারিত একটি স্থানে অবস্থান করে না বরং সর্বদাই স্থায়ী শহরের দিকে সফর করে যার অবস্থা দুনিয়াতে এরূপ তার চিন্তাই সফরে পাথেয় সংগ্রহকরণ আর দুনিয়া ভোগ বিলাস সামগ্রী গ্রহণ তার নিকট গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিরমিযীতে অতিরিক্ত বর্ণনা হিসেবে এসেছে,

فَإِنَّكَ لَا تَدْرِيْ يَا عَبْدَ اللهِ مَا اسْمُكَ غَدًا يَعْنِيْ لَعَلَّكَ غَدًا مِنَ الْأَمْوَاتِ دُوْنَ الْأَحْيَاءِ أَيْ لَا يَدْرِيْ هَلْ يُقَالُ لَكَ حَيٌّ أَوْ مَيِّتٌ؟

তুমি জান না হে ‘আবদুল্লাহ! আগামীকাল তোমার নাম কী হবে অর্থাৎ সম্ভবত জীবিত হতে বিদায় নিয়ে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার তথা জানা থাকবে না তোমাকে কি মৃত্যু বা জীবিত বলা হবে।

আর হাকিমে ইবনে ‘আব্বাস-এর হাদীস মারফূ' সূত্রে

أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - قَالَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُه اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابُكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتُكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغُكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتُكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেনঃ পাঁচটি বিষয়কে গনীমাত মনে করবে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে-

তোমার যৌবনকে বার্ধক্য আসার পূর্বে

তোমার সুস্থতাকে অসুস্থ আসার পূর্বে

তোমার স্বচ্ছলতাকে দরিদ্র আসার পূর্বে

তোমার অবসরতাকে ব্যস্ততা আসার পূর্বে

তোমার জীবনকে মৃত্যু আসার পূর্বে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৫-[৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মৃত্যুর তিনদিন আগে এ কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভাল ধারণা পোষণ করা ছাড়া তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুবরণ না করে। (মুসলিম)[1]

بَابُ تَمَنِّي الْمَوْتِ وَذِكْرِه

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِثَلَاثَةِ أَيَّامٍ يَقُولُ: «لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّه» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل موته بثلاثة ايام يقول: «لا يموتن احدكم الا وهو يحسن الظن بالله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, অবশ্যই আবশ্যই তোমাদের কেউ যেন এ চেতনা ও বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করে যে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন। আর হাদীসটিতে অনুপ্রেরণা রয়েছে যে সৎ ‘আমলের চাহিদা হল সুধারণা।

খাত্ত্বাবী বলেন, কারও আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা হল তা তার ভাল ‘আমল। তিনি আরও বলেন, তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে ভাল ধারণার মাধ্যমে তোমাদের ‘আমলকে সুন্দর কর। কারও আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা হলে তার ‘আমলও খারাপ হয়ে যায়।

আর কখনও কখনও আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা হল তার ক্ষমা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

ত্বীবী বলেন, এখন তোমরা তোমাদের ‘আমলসমূহকে সুন্দর কর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সময় আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা হবে। আর যদি মৃত্যুর পূর্বে ‘আমল খারাপ হয় তাহলে মৃত্যুর সময় আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৬-[৯] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদেরকে উদ্দেশ করে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন মু’মিনদেরকে সর্বপ্রথম যে কথাটি বলবেন, তোমরা চাইলে আমি তা’ তোমাদের বলে দিতে পারি। আমরা বললাম, অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, আল্লাহ মু’মিনদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎকে ভালবাসতে? মু’মিনগণ আরয করবেন, হে আমাদের রব অবশ্যই (আমরা আপনার সাক্ষাতকে ভালবাসতাম)! আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা কেন আমার সাক্ষাৎকে ভালবাসতে? মু’মিনরা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করেছি, তাই। এ কথা শুনে আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য মাগফিরাত মঞ্জুর করা আমার ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে।’’ (শারহুস্ সুন্নাহ্- আবূ নু’আয়ম হিলই্য়াহ্)[1]

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِن شِئْتُم أنبأتكم مَا أَوَّلُ مَا يَقُولُ اللَّهُ لِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ وَمَا أَوَّلُ مَا يَقُولُونَ لَهُ؟» قُلْنَا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَقُول للْمُؤْمِنين هَل أَحْبَبْتُم لقائي؟ فَيَقُولُونَ نَعَمْ يَا رَبَّنَا فَيَقُولُ: لِمَ؟ فَيَقُولُونَ: رَجَوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفِرَتَكَ. فَيَقُولُ: قَدْ وَجَبَتْ لَكُمْ مَغْفِرَتِي . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْية

عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان شىتم انباتكم ما اول ما يقول الله للمومنين يوم القيامة؟ وما اول ما يقولون له؟» قلنا: نعم يا رسول الله قال: ان الله يقول للمومنين هل احببتم لقاىي؟ فيقولون نعم يا ربنا فيقول: لم؟ فيقولون: رجونا عفوك ومغفرتك. فيقول: قد وجبت لكم مغفرتي . رواه في شرح السنة وابو نعيم في الحلية

ব্যাখ্যা: (فَيَقُولُ: لِمَ؟ فَيَقُولُونَ: رَجَوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفِرَتَكَ) আল্লাহ বলবেন, কেন? অতঃপর বান্দারা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনার আশা করছিলাম। এতে প্রতিফলিত হয় যে, আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা হল আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের ভালোবাসা। আর বান্দার গোপন বিষয় জানা সত্ত্বেও আল্লাহর প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হল শ্রোতাদের জানানো তাদের সাক্ষাতের ভালোবাসার কারণ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৭-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দুনিয়ার ভোগবিলাস বিনষ্টকারী জিনিস, মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করো। (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اكثروا ذكر هاذم اللذات الموت» . رواه الترمذي والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মানুষের জন্য উচিত নয় যে, সবচেয়ে বড় উপদেশের স্মরণ হতে উদাসীন থাকা আর তা হল মৃত্যু তথা মৃত্যুর স্মরণ।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৮-[১১] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের উদ্দেশে বললেন, আল্লাহর সাথে লজ্জা করার মতো লজ্জা করো। সাহাবীগণ বললেন, আমরা আল্লাহর সাথে লজ্জা করছি, হে আল্লাহর রসূল! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লজ্জার মতো লজ্জা এটা নয় যা তোমরা বলছ। বরং প্রকৃত লজ্জা এমন যে, যখন ব্যক্তি লজ্জার হক আদায় করে সে যেন মাথা ও মাথার সাথে যা কিছু আছে তার হিফাযাত করে। পেট ও পেটের সাথে যা কিছু আছে তারও হিফাযাত করে। তার উচিত মৃত্যু ও তার হাড়গুলো পঁচে গলে যাবার কথা স্মরণ করে। যে ব্যক্তি পরকালের কল্যাণ চায়, সে যেন দুনিয়ার চাকচিক্য ও জৌলুশ ছেড়ে দেয়। অতএব, যে ব্যক্তি এসব কাজ করল, সে ব্যক্তিই আল্লাহর সাথে লজ্জার হক আদায় করল। (আহমাদ, তিরমিযী; তারা বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ لِأَصْحَابِهِ: «اسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ» قَالُوا: إِنَّا نَسْتَحْيِي مِنَ اللَّهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ: «لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ مَنِ اسْتَحْيَى مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظِ الرَّأْسَ وَمَا وَعَى وَلْيَحْفَظِ الْبَطْنَ وَمَا حَوَى وَلْيَذْكُرِ الْمَوْتُ وَالْبِلَى وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدِ اسْتَحْيَى مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ابن مسعود ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم لاصحابه: «استحيوا من الله حق الحياء» قالوا: انا نستحيي من الله يا نبي الله والحمد لله قال: «ليس ذلك ولكن من استحيى من الله حق الحياء فليحفظ الراس وما وعى وليحفظ البطن وما حوى وليذكر الموت والبلى ومن اراد الاخرة ترك زينة الدنيا فمن فعل ذلك فقد استحيى من الله حق الحياء» . رواه احمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: (فليحفظ رأسه) সে যেন আপন মাথাকে হিফাযাত করে আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অন্য কোন কর্মে ব্যবহার হতে তথা তিনি ব্যতীত অন্য কারও উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) না করে এবং লোক দেখানোর উদ্দেশে সালাত আদায় না করে আর মাথাকে আল্লাহ ছাড়া কারও জন্য বিনয়ী না করে আর মাথাকে আল্লাহর বান্দার জন্য অহংকার উদ্দেশে না উঠায়।

(وَمَا وَعى) আর মাথা তার যাকে সংরক্ষণ করছে তথা যে সমস্তকে মাথা একত্রিত করেছে যেমন জিহবা চক্ষু কান এগুলোকে সংরক্ষণ করেছে যা হালাল না তা হতে।

(وَلْيَحْفَظِ الْبَطْنَ وَمَا حَوى) আপন পেটকে হারাম ভক্ষণ হতে রক্ষা করেছে এবং পেটের সাথে সংশ্লিষ্ট বস্ত্তকেও যেমন লজ্জাস্থান দু’পা, দু’হাত এবং হৃদয় আর এদের সংরক্ষণ বা হিফাযাতের বিষয় হল এগুলোকে গুনাহের কাজে ব্যবহার করবে না বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করবে। ত্বীবী বলেন, তোমরা যা মনে করছ তা প্রকৃত লজ্জা নয় আল্লাহর হতে বরং প্রকৃত লজ্জা হল যে নিজেকে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা হিফাযাত করা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬০৯-[১২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত্যু হল মু’মিনের উপহার। (বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ ك قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تُحْفَةُ الْمُؤْمِنِ الْمَوْتُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

وعن عبد الله بن عمرو قال ك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تحفة المومن الموت» . رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: মৃত্যুর মাধ্যমে ব্যক্তি বিশ্রাম গ্রহণ করে সকল প্রকার কষ্ট-ক্লেশ হতে আর এর মাধ্যমে তার ভালোবাসার বস্ত্তর কাছে পৌঁছে। আর জীবনটা জেলখানা সে মতে মৃত্যু হল উপহার। কারও মতে, তুহফা বলতে কল্যাণ, অনুগ্রহ এবং দর্শনেন্দ্রিয়। সুতরাং মৃত্যু হল আল্লাহর পক্ষ হতে অনুগ্রহ মু’মিনের জন্য আর কল্যাণ ও তৃপ্তিকর নি‘আমাত তার জন্য যা তাকে পৌঁছে দেয় আল্লাহর জান্নাত ও তার নৈকট্যের দিকে এবং এর মাধমে দুনিয়া সকল কষ্ট-দুঃখ দূরীভূত হয়।

ত্বীবী বলেন, জেনে রাখ মৃত্যু হল বড় সৌভাগ্যে পৌঁছার মাধ্যম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিকারী হওয়ার উপায় আর এটা অন্যতম মাধ্যম হল স্থায়ী নি‘আমাতে পৌঁছার আর তা হলে এক বাড়ি হতে অন্য বাড়িতে স্থানান্তর যদি মৃত্যুকে বাস্তবে এক প্রকার ধ্বংস দেখায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা দ্বিতীয়বার জন্ম এবং তা জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যে দরজা যা তার দিকে পৌঁছায় আর যদি মৃত্যু না হত তা হলে জান্নাত হত না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১০-[১৩] বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন কপালের ঘামের সাথে মৃত্যুবরণ করে। (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِينِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعن بريدة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المومن يموت بعرق الجبين» . رواه الترمذي والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: মু’মিন মৃত্যুবরণ করে ঘামের সাথে কথাটির তাৎপর্য হলঃ

* মৃত্যুর কষ্টের মুখোমুখি হওয়ায় কপালের ঘাম ঝড়ে আর এর মাধ্যমে গুনাহ হতে মৃত ব্যক্তি মুক্ত হয়ে উঠে।

* মৃত্যুর সময় মু’মিন ব্যক্তির এ কাঠিন্যতার কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

* মু’মিন ব্যক্তির এমনটি হয় তার লজ্জার কারণে যখন সুসংবাদ আসে তার নিকট অথচ সে পাপকাজ করেছে এর জন্য সে লজ্জিত হয় আর এই লজ্জার কারণে তার কপালে ঘাম ঝড়ে।

* আর এটা মু’মিনের মৃত্যুর আলামত বা চিহ্ন যদিও সে না বুঝে তা।

* কারও মতে এটা কিনায়া তথা রূপক আর হালাল রুযী উপার্জনে কষ্টের কারণে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১১-[১৪] ’উবায়দুল্লাহ ইবনু খালিদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আকস্মিক মৃত্যু (আল্লাহর গযবের) পাকড়াও। (আবূ দাঊদ; বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমানে এবং রযীন তাঁর কিতাবে অতিরিক্ত করে নকল করেছেন যে, আকস্মিক মৃত্যু কাফিরের জন্য গযবের পাকড়াও। কিন্তু মু’মিনের জন্য রহমত।)[1]

وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَوْتُ الْفُجَاءَة أَخْذَةُ الْأَسَفِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ وَرَزِينٌ فِي كِتَابِهِ: «أَخْذَةُ الأسف للْكَافِرِ وَرَحْمَة لِلْمُؤمنِ»

وعن عبيد الله بن خالد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «موت الفجاءة اخذة الاسف» . رواه ابو داود وزاد البيهقي في شعب الايمان ورزين في كتابه: «اخذة الاسف للكافر ورحمة للمومن»

ব্যাখ্যা: হঠাৎ মৃত্যু আল্লাহর গযব স্বরূপ, কেননা এ মৃত্যু মৃত ব্যক্তিকে তাওবার মাধ্যমে আখিরাতের প্রস্ত্ততি গ্রহণের সুযোগ দেয় না। হাদীসটি খাস কাফিরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা অন্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১২-[১৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এক যুবকের কাছে গেলেন। যুবকটি সে সময় মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এখন তোমার মনের অবস্থা কী? যুবকটি উত্তর দিলো, আমি আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু এরপরও আমি আমার গুনাহখাতার জন্য ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ সময়ে এ যুবকের মতো যে আল্লাহর বান্দার মনে ভয় ও আশার সঞ্চার হয় আল্লাহ তা’আলা তাকে তাই দান করেন, সে গুনাহকে ভয় করে এবং আশা পোষণ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন এ হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَن أنس قَالَ: دخل النَّبِي عَلَى شَابٍّ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَقَالَ: «كَيْفَ تجدك؟» قَالَ: أرجوالله يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنِّي أَخَافُ ذُنُوبِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُو وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن انس قال: دخل النبي على شاب وهو في الموت فقال: «كيف تجدك؟» قال: ارجوالله يا رسول الله واني اخاف ذنوبي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يجتمعان في قلب عبد في مثل هذا الموطن الا اعطاه الله ما يرجو وامنه مما يخاف» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: সিনদী বলেন, হাদীস প্রমাণ করে প্রত্যেকের জন্য দু’টি বিষয় পাওয়া সর্বদা প্রয়োজন আর তা আশা ও ভয় এমনকি মৃত্যুর সময়ও। আর এমনটি যেন না হয় যে মৃত্যুর সময় শুধু আশা বেশি থাকে আর ভয় একেবারে শূন্যের কোঠায়। আর হাদীসে প্রতিবাদ করা হয়েছে তাদের যারা মৃত্যুর সময় আশাকে সংক্ষিপ্ত করা মুস্তাহাব মনে করে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১৩-[১৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যু কামনা করো না। কেননা মৃত্যু যন্ত্রণা খুবই কঠিন জিনিস। মানুষের জীবন দীর্ঘ হওয়া নিশ্চয় সৌভাগ্যেরই ব্যাপার। আল্লাহ তা’আলা তাকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে নেন। (আহমাদ)[1]

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَمَنَّوُا الْمَوْتَ فَإِنَّ هَوْلَ الْمُطَّلَعِ شَدِيدٌ وَإِنَّ مِنَ السَّعَادَةِ أَنْ يَطُولَ عُمْرُ الْعَبْدِ وَيَرْزُقَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْإِنَابَة» . رَوَاهُ أَحْمد

عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تمنوا الموت فان هول المطلع شديد وان من السعادة ان يطول عمر العبد ويرزقه الله عز وجل الانابة» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: মৃত্যুর ভয়াবহতা দ্বারা উদ্দেশ্য হল বান্দা ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) অবস্থানে আখিরাতের ভয়াবহ চিত্র অবগত হয় অথবা তার সামনে মৃত্যুর পরপরই ক্ববরের চিত্র উপস্থিত হয়। মীরাক বলে, মুত্তালা দ্বারা উদ্দেশ্য জান কবযকারী মালাককে (ফেরেশতাকে) জান কবয করার কঠিন সময় বা মুনকার নাকীর (প্রশ্নের সময়) ও ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে আল্লাহর গোস্বার ভয়াবহতার জানানোর সময়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১৪-[১৭] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলাম। তিনি আমাদের অনেক নাসীহাত করলেন। আখিরাতের ভয় দেখিয়ে আমাদের মনকে বিগলিত করে ফেললেন। এ অবস্থায় সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস কাঁদতে লাগলেন এবং বেশ কতক্ষণ কাঁদলেন। তারপর বললেন, হায়! আমি যদি (শিশুকালেই) মারা যেতাম (তাহলে তো গুনাহ করতাম না আখিরাতের ’আযাব হতেও মুক্ত থাকতাম)। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা’দ! তুমি আমার সামনে মৃত্যু কামনা করলে? এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন। তারপর তিনি বললেন, সা’দ! তোমাকে যদি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে তোমার বয়স যত দীর্ঘ হবে এবং যত ভাল ’আমল তুমি করবে ততই তোমার জন্য উত্তম হবে। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: جَلَسْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَّرَنَا وَرَقَّقَنَا فَبَكَى سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فَأَكْثَرَ الْبُكَاءَ فَقَالَ: يَا لَيْتَنِي مِتُّ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا سَعْدُ أَعِنْدِي تَتَمَنَّى الْمَوْتَ؟» فَرَدَّدَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ: «يَا سَعْدُ إِنْ كُنْتَ خُلِقْتَ لِلْجَنَّةِ فَمَا طَالَ عُمْرُكَ وَحَسُنَ مِنْ عَمَلِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَك» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابي امامة قال: جلسنا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرنا ورققنا فبكى سعد بن ابي وقاص فاكثر البكاء فقال: يا ليتني مت. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا سعد اعندي تتمنى الموت؟» فردد ذلك ثلاث مرات ثم قال: «يا سعد ان كنت خلقت للجنة فما طال عمرك وحسن من عملك فهو خير لك» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (تَتَمَنَّى الْمَوْتَ) তুমি মৃত্যু কামনা করছ অথচ মৃত্যু কামনা করা তুমি নিষেধপ্রাপ্ত হয়েছো সাওয়াব ও মর্যাদার কমতির জন্য আর দীর্ঘ বয়সে অধিক ভাল ‘আমল অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারও মতে, আমার জীবদ্দশায় ও উপস্থিতিতে মৃত্যু কামনা করছ অথচ আমার নিকট তোমার উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষতা মৃত্যুর চেয়ে তোমার জন্য ভাল।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা

১৬১৫-[১৮] হারিসাহ্ ইবনু মুযাররাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার খাব্বাব-এর নিকট গেলাম (সে সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন)। তিনি তার শরীরের সাত জায়গায় দাগ লাগিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ’তোমরা মৃত্যু কামনা করো না’ কথাটি না শুনতাম, তাহলে অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমার নিজেকে এরূপ পেয়েছি যে, আমি একটি দিরহামেরও মালিক ছিলাম না। আর এখন আমার ঘরের কোণেই চল্লিশ হাজার দিরহাম পড়ে আছে। হারিসাহ্ বলেন, তারপর খাব্বাবের কাছে তার কাফনের কাপড় আনা হলো (যা খুবই উত্তম দামী কাপড় ছিল) তিনি তা দেখে কাঁদতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, যদিও এ কাপড় জায়িয কিন্তু হামযাহ্ (রাঃ)-এর জন্য পুরো কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি। শুধু একটি কালো ও সাদা পুরাতন চাদর ছিল। তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা খালি হয়ে যেত। আবার পা ঢাকলে মাথা খালি হয়ে যেত। অবশেষে এ চাদর দিয়েই মাথা ঢেকে দেয়া হয়েছিল। আর পা ঢেকে দেয়া হয়েছিল ইযখার ঘাস দিয়ে। (আহমাদ, তিরমিযী; কিন্তু তিনি [ইমাম তিরমিযী] ’’তাঁর কাফনের কাপড়’’ হতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেননি।)[1]

عَن حَارِثَةَ بْنِ مُضَرَّبٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى خَبَّابٍ وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعًا فَقَالَ: لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «لَا يَتَمَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ» لَتَمَنَّيْتُهُ. وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَمْلِكُ دِرْهَمًا وَإِنَّ فِي جَانِبِ بَيْتِيَ الْآنَ لَأَرْبَعِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ قَالَ ثُمَّ أُتِيَ بِكَفَنِهِ فَلَمَّا رَآهُ بَكَى وَقَالَ لَكِنَّ حَمْزَةَ لَمْ يُوجَدْ لَهُ كَفَنٌ إِلَّا بُرْدَةٌ مَلْحَاءُ إِذَا جُعِلَتْ عَلَى رَأْسِهِ قَلَصَتْ عَنْ قَدَمَيْهِ وَإِذَا جُعِلَتْ عَلَى قَدَمَيْهِ قَلَصَتْ عَنْ رَأْسِهِ حَتَّى مُدَّتْ عَلَى رَأْسِهِ وَجُعِلَ عَلَى قَدَمَيْهِ الْإِذْخِرُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يذكر: ثمَّ أُتِي بكفنه إِلَى آخِره

عن حارثة بن مضرب قال: دخلت على خباب وقد اكتوى سبعا فقال: لولا اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يتمن احدكم الموت» لتمنيته. ولقد رايتني مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ما املك درهما وان في جانب بيتي الان لاربعين الف درهم قال ثم اتي بكفنه فلما راه بكى وقال لكن حمزة لم يوجد له كفن الا بردة ملحاء اذا جعلت على راسه قلصت عن قدميه واذا جعلت على قدميه قلصت عن راسه حتى مدت على راسه وجعل على قدميه الاذخر. رواه احمد والترمذي الا انه لم يذكر: ثم اتي بكفنه الى اخره

ব্যাখ্যা: (قَدِ اكْتَوى سَبْعًا) শরীরের সাত জায়গায় দাগ দিয়েছে। দাগ বলতে চামড়া পুরনো গরম লোহার মাধ্যমে। ত্বীবী বলেন, দাগ এক প্রকার অনেক রোগের প্রসিদ্ধ চিকিৎসা। আর দাগ দেয়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা তখন ধর্তব্য হবে যখন মনে করা হবে যে দাগের কারণে আরোগ্য হয়েছে। আর যখন বিশ্বাস থাকবে দাগ একটি কারণ প্রকৃত আরোগ্যকারী হলে আল্লাহ তাহলে বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬১৬-[১] আবূ সা’ঈদ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে কালিমায়ে ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) তালকীন দিও। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

عن ابي سعيد وابي هريرة قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقنوا موتاكم لا اله الا الله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ) তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের স্মরণ করে দাও যারা মুমূর্ষুবস্থায় রয়েছে তাদেরকে মৃত্যু নাম রাখা হয় কেননা মৃত্যু তাদের সামনে উপস্থিত। আর তালকীন হলঃ মৃত শয্যায় শায়িত বক্তির সামনে তাকে স্মরণ করে দেয়া لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ এবং তার নিকট উচ্চারণ করা যাতে সে শুনে এবং অনুধাবন করতে পারে।

নাবাবী বলেন, এ তালকীনের বিষয়টি নুদব তথা ভাল এরই উপর ‘উলামারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন আর অধিকবার মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থাপন করাকে তারা অপছন্দ করেছেন যাতে মৃত ব্যক্তির কঠিন অবস্থার কারণে বিষয়টি ঘৃণা করতে পারে আর এমন কিছু বলতে পারে যা শোভনীয় নয়।

তবে হাদীসের ভাষ্যমতে তালকীন করা ওয়াজিব, জমহূর ‘উলামারা এ মতে গেছেন বরং কিছু সংখ্যক মালিকীরা বলেছেন সবাই এ মতের উপর ঐকমত্য হয়েছেন।

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ কারও মতে কালিমা দ্বারা কালিমায়ে শাহাদাত। তবে জমহূররা শুধুমাত্র لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ এর উপর সীমাবদ্ধ করেছেন। আবার কেউ محمد رسول الله বৃদ্ধি করেছেন তার সাথে। কেননা তাওহীদ স্মরণ করা উদ্দেশ্য আর যদি মুমূর্ষু ব্যক্তি কাফির হয় তাহলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাত তালকীন দিতে হবে, কেননা তা ছাড়া সে মুসলিম বলে গণ্য হবে না।

আমি ভাষ্যকার বলি কালিমা لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ ইসলাম ও যিকর এর কালিমা কাফিররা যখন বলে ইসলাম প্রবেশের জন্য তখন তা কালিমা ইসলাম ও কালিমা শাহাদাত সবই উদ্দেশ্য আর যখন মুসলিমরা তা দ্বারা যিকর করে তখন যিকর সকল যিকিরের (জিকিরের) মতো। যেমনটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ সর্বোত্তম যিকর হল لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ আর দৃশ্যত অধ্যায়ের হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য কালেমাতুয্ যিকর তাতে ‘‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’’ শর্ত না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬১৭-[২] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে কিংবা কোন মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে ভাল ভাল কথা বলবে। কারণ তোমরা তখন যা বলো, (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ’আমীন’ ’আমীন’ বলেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَرِيضَ أَو الْمَيِّت فَقولُوا خيرا فَإِن الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ام سلمة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا حضرتم المريض او الميت فقولوا خيرا فان الملاىكة يومنون على ما تقولون» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (فَقولُوا خيرا) তোমরা উত্তম কথা বলবে। সিনদী বলেন, তার জন্য কল্যাণের দু‘আ কর আর না অকল্যাণ চেয়ে দু‘আ কর। অথবা ‘আমভাবে কল্যাণ চেয়ে না খারাপী চেয়ে। মাজহার বলেন, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য চেয়ে দু‘আ কর এবং বল, হে আল্লাহ! তাকে সুস্থ কর আর মৃত্যু ব্যক্তির জন্য রহমাত ও মাগফিরাত চেয়ে দু‘আ কর এবং বল, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর এবং তার ওপর রহম কর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬১৮-[৩] উম্মুল মু’মিনীন সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম (কোন ছোট-বড়) বিপদে পতিত হয় এবং আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা হলে এ কথাগুলো বলে, ’’ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জি’ঊন’’ [অর্থাৎ ’’আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ১৫৬)]। ’’আল্ল-হুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী ওয়া ওয়াখলিফলী খয়রাম মিনহা’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার বিপদের জন্য আমাকে সাওয়াব দাও। আর [এ বিপদে] যা আমি হারিয়েছি তার জন্য উত্তম বিনিময় আমাকে দান করো)। আল্লাহ তা’আলা তাকে এ জিনিসের উত্তম বিনিময় দান করেন।

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, যখন আবূ সালামাহ্ (অর্থাৎ তাঁর স্বামী) মারা গেলেন, আমি বললাম, ’’আবূ সালামাহ্ (রাঃ) হতে উত্তম কোন মুসলিম হতে পারে? এ আবূ সালামাহ্, যিনি সকলের আগে সপরিবারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরত করেছেন। তারপর আমি উপরোক্ত বাক্যগুলো পড়েছিলাম। বস্ত্তত আল্লাহ তা’আলা আমাকে আবূ সালামার স্থলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দান করেছেন (অর্থাৎ তাঁর সাথে উম্মু সালামার বিয়ে হয়েছে)। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ بِهِ: (إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ)
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللَّهُ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا . فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلمَة قَالَت: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ؟ أَوَّلُ بَيْتِ هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ إِنِّي قُلْتُهَا فَأَخْلَفَ اللَّهُ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسلم

وعن ام سلمة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما امره الله به: (انا لله وانا اليه راجعون) اللهم اجرني في مصيبتي واخلف لي خيرا منها الا اخلف الله له خيرا منها . فلما مات ابو سلمة قالت: اي المسلمين خير من ابي سلمة؟ اول بيت هاجر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم اني قلتها فاخلف الله لي رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِّنْهَا) আমার এই মুসীবাতে যা ক্ষতি সাধন হয়েছে তার পরিবর্তে উত্তম কিছু দেয়ার ব্যবস্থা কর। ত্বীবী বলেন, উম্মু সালামাহ্ হতবাক হয়েছেন যে, তাঁর ধারণায় আবূ সালামাহ্ হতে উত্তম আর কোন ব্যক্তি নেই আর তার এ ধরনের লোভও ছিল না যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করবেন এ বিষয়টি তাঁর চিন্তার বাইরে ছিল। এজন্য তিনি বলেছিলেন, (أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ؟) কোন্ মুসলিম আবূ সালামাহ্ হতে ভাল। আর দৃশ্যত উত্তমের বিষয়টি উম্মু সালামার দৃষ্টিকোণ হতে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬১৯-[৪] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামার কাছে আসলেন যখন তাঁর চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন। তারপর বললেন, যখন রূহ কবয করা হয় তখন তার দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়। আবূ সালামার পরিবার (এ কথা শুনে বুঝল, আবূ সালামাহ্ ইন্তিকাল করেছেন) কাঁদতে ও চিল্লাতে লাগল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের মাইয়্যিতের জন্য কল্যাণের দু’আ করো। কারণ তোমরা ভাল মন্দ যে দু’আই করো (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ’আমীন’ বলে। তারপর তিনি এ দু’আ পাঠ করলেন,

’’আল্ল-হুম্মাগফির লিআবী সালামাহ্, ওয়ারফা’ দারাজাতাহূ ফিল মাহদীয়্যিন, ওয়াখলুফহু ফী ’আক্বিবিহী ফিল গ-বিরীন, ওয়াগফির লানা- ওয়ালাহূ ইয়া- রব্বাল ’আ-লামীন, ওয়া আফসিহ লাহূ ফী কবরিহী, ওয়ানাওয়ির লাহূ ফিহী’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ সালামাকে মাফ করে দাও। হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। তার ছেড়ে যাওয়া লোকদের জন্য তুমি সহায় হয়ে যাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও তাকে মাফ করে দাও। তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও। তার জন্য কবরকে নূরের আলোতে আলোকিত করে দাও।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ

وَعَن أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أبي سَلمَة قد شَقَّ بَصَرَهُ فَأَغْمَضَهُ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ» فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ: «لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَير فَإِن الْمَلَائِكَة يُؤمنُونَ على ماتقولون» ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَأَفْسِحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ام سلمة قالت: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابي سلمة قد شق بصره فاغمضه ثم قال: «ان الروح اذا قبض تبعه البصر» فضج ناس من اهله فقال: «لا تدعوا على انفسكم الا بخير فان الملاىكة يومنون على ماتقولون» ثم قال: «اللهم اغفر لابي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وافسح له في قبره ونور له فيه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: চোখ বন্ধ করার কারণ হল যখন রূহ শরীর হতে বের হয়ে যায় চক্ষু বের হয়ে যাওয়ার গন্তব্য পথকে অনুসরণ করে। সুতরাং চক্ষু খুলে থাকাতে কোন উপকার নেই। দ্বিতীয় কষ্টের কারণ বর্ণনা তথা মৃত ব্যক্তির নিকট জান কবযকারী মালাক (ফেরেশতা) আকৃতি নিয়ে তার সামনে আসে সে তার দিকে (ফেরেশতার দিকে) তাকিয়ে থাকে এবং চোখের পলকও ফেলে না শেষ পর্যন্ত রূহ পৃথক হয়ে যায় আর চোখের পাওয়ার নিঃশেষ হয়ে যায়। আর এ অবস্থায় চোখ অবশিষ্ট থাকে।

আর হাদীসে দলীল হিসেবে প্রমাণিত হয় যারা বলে যে, নিশ্চয় রূহ এর সূক্ষ্ম আকৃতি রয়েছে যা শরীরে বিশ্লেষিত এবং সে তা শরীক হতে বের হওয়ার ফলে জীবন চলে আয়। আর তা অন্য বস্ত্তর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত না যেমনটি অনেকে মনে করে। আরও দলীল প্রমাণিত হয় যে, মৃতুর সময় মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ ও তার পরিবারের জন্য দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ চেয়ে দু‘আ করা। আর প্রমাণিত যে, ক্ববরে মৃত ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২০-[৫] উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর তাঁর পবিত্র শরীরের উপর ইয়ামিনী চাদর দিয়ে তাকে ঢেকে রাখা হয়েছিল।’’ (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ سجي بِبرد حبرَة

وعن عاىشة قالت: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين توفي سجي ببرد حبرة

ব্যাখ্যা: মৃত্যু ব্যক্তিকে গোসলের পূর্বে ঢেকে রাখা মুস্তাহাব। আর নাবাবী বলেন, এর উপর সবাই একমত হয়েছেন। আর ঢেকে রাখার হিকমাত হল উলঙ্গ করা হতে হিফাযাত করা এবং বিকৃতির দৃশ্যতাকে ঢেকে রাখা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২১-[৬] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শেষ কথা, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كان اخر كلامه لا اله الا الله دخل الجنة» رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (دَخَلَ الْجَنَّةَ) জান্নাতে প্রবেশ করবে খাস করে শাস্তির পূর্বে অথবা তাকে তার পাপনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে তার পরে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তবে প্রথমটিই বেশি প্রাধান্য অন্য মু’মিনের সাথে পার্থক্য সৃষ্টির জন্য যাদের শেষ বাক্য এই কালিমা ছিল না যেমনটি মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেছেন।

ইবনে রাসলান বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের বিষয়টি যদি সে পাপী হয় এবং তাওবাকারী না হয় তাহলে প্রথমবারেই (জান্নাতে প্রবেশ) আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন অথবা শাস্তির পরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। দ্বিতীয়তঃ সম্ভাবনা রয়েছে তার শেষ বাক্য কালিমার জন্য সম্মান স্বরূপ তাকে ক্ষমা করে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যা অন্য মু’মিন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শেষ বাক্য কালিমা পড়ার তাওফীক হয়নি। আমি ভাষ্যকার এর নিকট দ্বিতীয় মতটিই গ্রহণযোগ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২২-[৭] মা’ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃত ব্যক্তির সামনে সূরাহ্ ইয়াসীন পড়ো। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «اقرؤوا سُورَةَ (يس)
عَلَى مَوْتَاكُمْ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن معقل بن يسار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اقرووا سورة (يس) على موتاكم» . رواه احمد وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: اقرؤوا سُورَةَ (يس) عَلى مَوْتَاكُمْ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তির সামনে সূরাহ্ ইয়াসীন পড় মৃত ব্যক্তি বলতে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে বা মৃত্যুর সময়, কেননা মৃত ব্যক্তির ওপর কুরআন পড়া হয় না বা বৈধ না। বলা হয়ে থাকে সূরাহ্ ইয়াসীন এজন্য পড়া হয়। কেননা সূরাহ্ ইয়াসীনে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ও পুনরুত্থানের মূল ‘আক্বীদার বিষয়গুলো রয়েছে তা শুনলে ঈমান ও বিশ্বাসের চেতনা আরো বেশী দৃঢ় হয়।

উল্লেখিত মা‘ক্বিল বিন ইয়াসার বর্ণিত হাদীসটি (لقنوا موتاكم لا إله إلا الله) ‘‘তোমরা তোমাদের মৃত্যু আসন্ন ব্যক্তিদেকে তালকীন করবে।’’ হাদীসের মতঃ আর এও সম্ভাবনা রয়েছে কারও মতে ক্ববরের নিকট পড়া প্রথমটিই বেশি গ্রহণযোগ্য কতকগুলো কারণে।

প্রথমতঃ (لقنوا موتاكم لا إله إلا الله) ‘‘তোমরা তোমাদের আসন্ন মৃত্যু ব্যক্তিদের তালকীন করবে (لا إله إلا الله) এর সাদৃশ্যতুল্য।

দ্বিতীয়তঃ মুমূর্ষু ব্যক্তি বা আসন্ন মৃত ব্যক্তি এ সূরার মাধ্যমে উপকৃত হয়, কেননা এতে তাওহীদ আখিরাতে এবং জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে তাওহীদবাদদের জন্য আর ঈর্ষা রয়েছে যে ব্যক্তি এর উপর মৃত্যুবরণ করছে তার বক্তব্য يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ ۝ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِيْ مِنَ الْمُكْرَمِيْنَ হায় আফসোস আমার জাতিরা যদি জানতে পারত যে আমার প্রভু আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং রূহ সুসংবাদ পায় তার দ্বারা আল্লাহর সাক্ষাতকে ভালবাসে আর আল্লাহ ও তার সাক্ষাতকে ভালবাসেন আর এ সূরাটি কুরআনের হৃদয়। আসন্ন মৃত ব্যক্তির সামনে এটা পড়া বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

তৃতীয়তঃ আর এ ‘আমলটি অনেক পূর্ব হতে চলে আসছে বর্তমান পর্যন্ত যে মুমূর্ষু ব্যক্তির সামনে সূরাহ্ ইয়াসীন পড়া।

চতুর্থতঃ যদি সাহাবীরা বুঝতেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী তোমরা সূরাহ্ ইয়াসীন পড় মৃত ব্যক্তির ওপর এর দ্বারা উদ্দেশ্য ক্ববরের নিকট পড়বে। তাহলে তারা তা পড়া হতে বিরত হতেন না। আর এটা প্রসিদ্ধ সাহাবীরা পড়তেন না।

পঞ্চমতঃ উদ্দেশ্য হল দুনিয়া হতে বিদায়ের সময় শেষ মুহূর্তে মনোযোগ সহকারে শোনানোর মাধ্যমে উপকার দেয়া। আর ক্ববরের উপর তা পাঠ করতে এর কোন সাওয়াব আসে না। কেননা সাওয়াব হলে পড়া বা শ্রবণের মাধ্যমে আর তা ‘আমল বলে গণ্য এবং তা মৃত্যুর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৩-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উসমান ইবনু মায্’ঊন-এর মৃত্যুর পর তাঁকে চুমু দিয়েছেন। এরপর অঝোরে কেঁদেছেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি ’উসমানের চেহারায় টপকে পড়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ وَهُوَ يَبْكِي حَتَّى سَالَ دُمُوعُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى وَجْهِ عُثْمَانَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عاىشة قالت: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل عثمان بن مظعون وهو ميت وهو يبكي حتى سال دموع النبي صلى الله عليه وسلم على وجه عثمان. رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীস প্রমাণ করে মুসলিম ব্যক্তিকে মারা যাওয়ার পর চুম্বন দেয়া এবং তার জন্য কাঁদা বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৪-[৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক্ব (রাঃ)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর তাঁকে (চেহারা মুবারাকে) চুমু খেয়েছিলেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَيِّتٌ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن عاىشة قالت: ان ابا بكر قبل النبي صلى الله عليه وسلم وهو ميت. رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনে হাজার বলেন, মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন দেয়া সম্মান ও বারাকাত হিসেবে দেয়া বৈধ। শাওকানী বলেন, সাহাবীদের কেউ অস্বীকার করেনি (চুম্বন করাকে) আবূ বাকর-এর ওপর।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৫-[১০] হুসায়ন ইবনু ওয়াহ্ওয়াহ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ত্বলহাহ্ ইবনু বারা অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনকে বললেন, আমার মনে হচ্ছে ত্বলহার মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। অতএব তার মৃত্যুর সাথে সাথেই আমাকে খবর দিবে (যাতে আমি জানাযাহ্ আদায়ের জন্য আসতে পারি)। আর তোমরা তার দাফন-কাফনের কাজ তাড়াতাড়ি করবে। কারণ মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে বেশীক্ষণ ফেলে রাখা ঠিক নয়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ حُصَيْنِ بْنِ وَحْوَحٍ أَنَّ طَلْحَةَ بْنَ الْبَرَاءِ مَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ فَقَالَ: «إِنِّي لَا أَرَى طَلْحَةَ إِلَّا قَدْ حَدَثَ بِهِ الْمَوْتُ فَآذِنُونِي بِهِ وَعَجِّلُوا فَإِنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِجِيفَةِ مُسْلِمٍ أَنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَهْلِهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن حصين بن وحوح ان طلحة بن البراء مرض فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فقال: «اني لا ارى طلحة الا قد حدث به الموت فاذنوني به وعجلوا فانه لا ينبغي لجيفة مسلم ان تحبس بين ظهراني اهله» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ত্বীবী বলেন, মু’মিন ব্যক্তি হলেন সম্মানিত। লাশ যখন দীর্ঘক্ষণ হয় তখন তা থেকে মানুষেরা গন্ধ অনুভব করে এবং তা হতে পলায়ন করে তাই উচিত হল লাশকে দ্রুত ঢেকে মাটিতে রাখার ব্যবস্থা করা। এখানে লাশকে কুরআনের ভাষা (سَوْءَةَ) মৃত দেহের মতো, যেমন আল্লাহর বাণীঃ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ ‘‘আপন ভ্রাতার মৃত দেহ কিভাবে আবৃত করবে’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩১)। মীরাক বলেন, মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে আটক রাখা উচিত না- এ কথার দ্বারা অপবিত্রতা প্রমাণিত হয় না। আর হাদীস প্রমাণ করে দ্রুত লাশের দাফনের ব্যবস্থা শারী‘আত সম্মত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৬-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যুপথযাত্রীকে এ কালিমার তালকীন দেবে, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হুল হালীমুল কারীম, সুবহা-নাল্ল-হি রব্বিল ’আরশিল ’আযীম, আলহাম্‌দুলিল্লা-হি রব্বিল ’আ-লামীন’’। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সুস্থ জীবিত ব্যক্তিদেরকে এ কালিমা শিখানো কেমন? তিনি বললেন, খুব উত্তম, খুব উত্তম। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ لِلْأَحْيَاءِ؟ قَالَ: «أَجود وأجود» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن عبد الله بن جعفر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقنوا موتاكم لا اله الا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين» قالوا: يا رسول الله كيف للاحياء؟ قال: «اجود واجود» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: (عَظِيمِ) মহান তথা সকল সৃষ্টির চেয়ে বড় এবং জগতসমূহকে বেষ্টন করে রেখেছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৭-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট (ফেরেশতাগণ) আগমন করেন। যদি সে ব্যক্তি নেক ও সালিহ হয় মালাকগণ বলেন, পবিত্র দেহে অবস্থানকারী হে পবিত্র নাফস! বের হয়ে আসো। আল্লাহ ও মাখলূক্বের নিকট তুমি প্রশংসিত হয়েছ। তোমার জন্য আনন্দ ও প্রশান্তির, জান্নাতের পবিত্র রিযক্বের, আর আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের শুভ সংবাদ, আল্লাহ তোমার ওপরে রাগান্বিত নন। তার নিকট মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) অনবরত এ কথা বলতে থাকবেন যে পর্যন্ত রূহ বের হয়ে না আসবে। তারপর মালায়িকাহ্ তা নিয়ে আকাশের দিকে চলে যাবেন। আকাশের দরজা তার জন্য খুলে দেয়া হয়, যেখানে আল্লাহ আছেন। আর যদি লোকটি খারাপ হয় (অর্থাৎ কাফির হয়) তখন রূহ কবয করার মালাক (ফেরেশতা) বলেন, হে খবীস আত্মা যা খবীস শরীরে ছিলে, এ অবস্থায়ই শরীর হতে বের হয়ে এসো। তোমার জন্য গরম পানি, পুঁজ ও অন্যান্য নিকৃষ্ট আহারের সুসংবাদ। এই মৃত্যুপথযাত্রীর কাছে বার বার মালায়িকাহ্ এ কথা বলতে থাকবে, যে পর্যন্ত তার রূহ বের হয়ে না আসবে। তারপর তারা তার রূহকে আসমানের দিকে নিয়ে যাবে। তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হবে, এ ব্যক্তি কে? জবাব দেয়া হবে, ’অমুক ব্যক্তি’। এবার বলা হবে, এ খবীস জীবনের জন্য কোন স্বাগতম নেই, যা অপবিত্র দেহে ছিল। তুমি ফিরে চলে যাও, তোমার বদনাম করা হয়েছে। তোমার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হবে না। বস্তুত তাকে আসমান থেকে ছুঁড়ে ফেলা হবে এবং সে কবরের মধ্যে এসে পড়বে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمَيِّتُ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَالِحًا قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ اخْرُجِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيَقُولُونَ: فُلَانٌ فَيُقَالُ: مَرْحَبًا بِالنَّفسِ الطّيبَة كَانَت فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ ادْخُلِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالَ: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ اخْرُجِي ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِي بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرَ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ فَمَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُفْتَحُ لَهَا فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ فَيُقَالُ: لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهَا لَا تفتح لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَتُرْسَلُ مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْر . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الميت تحضره الملاىكة فاذا كان الرجل صالحا قالوا: اخرجي ايتها النفس الطيبة كانت في الجسد الطيب اخرجي حميدة وابشري بروح وريحان ورب غير غضبان فلا تزال يقال لها ذلك حتى تخرج ثم يعرج بها الى السماء فيفتح لها فيقال: من هذا؟ فيقولون: فلان فيقال: مرحبا بالنفس الطيبة كانت في الجسد الطيب ادخلي حميدة وابشري بروح وريحان ورب غير غضبان فلا تزال يقال لها ذلك حتى تنتهي الى السماء التي فيها الله فاذا كان الرجل السوء قال: اخرجي ايتها النفس الخبيثة كانت في الجسد الخبيث اخرجي ذميمة وابشري بحميم وغساق واخر من شكله ازواج فما تزال يقال لها ذلك حتى تخرج ثم يعرج بها الى السماء فيفتح لها فيقال: من هذا؟ فيقال: فلان فيقال: لا مرحبا بالنفس الخبيثة كانت في الجسد الخبيث ارجعي ذميمة فانها لا تفتح له ابواب السماء فترسل من السماء ثم تصير الى القبر . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: (تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ) রহমাতের মালাক (ফেরেশতা) বা গযবের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) উপস্থিত হয়। ইবনে হাজার এমনটি বলেছেন। কারও মতে এ সকল মালাক (ফেরেশতা) জান কবযকারী মালাকের সহযোগী। আর এ বিষয়ে হাদীসগুলোর সারমর্ম হল জান কবযকারী মালাককে রূহসমূহকে কবয করে এবং সহযোগী মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার হুকুমে তার সাথে কাজ করে। (أخرجي) তুমি বের হও এতে প্রমাণিত হয় যে, রূহ এর সূক্ষ্ম আকৃতি রয়েছে যার প্রবেশ করা বের হওয়া উঠা ও নামার বৈশিষ্ট্য রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৮-[১৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মু’মিনদের রূহ (তার শরীর থেকে) বের হয়, তখন দু’জন মালাক (ফেরে্শতা) তার কাছে আসেন, তাকে নিয়ে আকাশের দিকে রওনা হন। পরবর্তী রাবী হাম্মাদ বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অথবা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ঐ ব্যক্তির রূহের খুশবু ও মিসকের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তখন আকাশবাসীরা বলবে, পাক-পবিত্র রূহ জমিন হতে এসেছে। তারপর তার রূহকে উদ্দেশ করে বলবে, তোমার ওপর আল্লাহ রহমত করুন এবং শরীরের প্রতি, কারণ তুমি একে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছ। এরপর এরা একে আল্লাহর কাছে ’আরশে ’আযীমে নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ হুকুম দেবেন, তাকে নিয়ে যাও, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কাফির ব্যক্তির রূহ তার শরীর থেকে বের করে আনা হয়, অতঃপর তিনি তার দুর্গন্ধের কথা উল্লেখ করলেন। তার প্রতি লা’নাতের উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন, যখন তাদের রূহ আকাশ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে তখন আকাশবাসী বলেন, একটি নাপাক রূহ জমিন হতে এসেছে, তাকে নিয়ে যাও এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত তাকে রেখে দাও। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদরের কোণা তার নাকের উপর টেনে দিলেন (যেন দুর্গন্ধ হতে বাঁচতে চাইলেন)। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا» . قَالَ حَمَّادٌ: فَذَكَرَ مِنْ طِيبِ رِيحِهَا وَذَكَرَ الْمِسْكَ قَالَ: وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدٍ كُنْتِ تُعَمِّرِينَهُ فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى رَبِّهِ ثُمَّ يَقُولُ: انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ . قَالَ: «وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ» قَالَ حَمَّادٌ: وَذَكَرَ من نتنها وَذكر لعنها. وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ فَيُقَالُ: انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَل قَالَ أَبُو هُرَيْرَة: فَرد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ريطة كَانَت عَلَيْهِ على أَنفه هَكَذَا. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا خرجت روح المومن تلقاها ملكان يصعدانها» . قال حماد: فذكر من طيب ريحها وذكر المسك قال: ويقول اهل السماء: روح طيبة جاءت من قبل الارض صلى الله عليك وعلى جسد كنت تعمرينه فينطلق به الى ربه ثم يقول: انطلقوا به الى اخر الاجل . قال: «وان الكافر اذا خرجت روحه» قال حماد: وذكر من نتنها وذكر لعنها. ويقول اهل السماء: روح خبيثة جاءت من قبل الارض فيقال: انطلقوا به الى اخر الاجل قال ابو هريرة: فرد رسول الله صلى الله عليه وسلم ريطة كانت عليه على انفه هكذا. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (انْطَلِقُوا بِه إِلى اخِرِ الْأَجَل) নিয়ে যাও তাকে শেষ সময় অবধির জন্য। মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, সময় দ্বারা উদ্দেশ্য বারযাখ বা ক্ববরে অবস্থানের জীবন তথা নিয়ে যাও ঐ স্থানে যা তৈরি করা হয়েছে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাদর নাকের উপর টানার মর্মার্থ হল তাঁর সাহাবীদেরকে দেখানো যে, কিভাবে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) কোন কিছু নাকের উপর রেখে সেই রূহের দুর্গন্ধ হতে বাঁচার প্রচেষ্টা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬২৯-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মু’মিনের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে আসেন এবং রূহকে বলেন, তুমি আল্লাহ তা’আলার ওপর সন্তুষ্ট, আল্লাহও তোমার ওপর সন্তুষ্ট এ অবস্থায় দেহ হতে বেরিয়ে এসো এবং আল্লাহ তা’আলার করুণা, উত্তম রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) ও পরওয়ারদিগারের দিকে চলো। তিনি তোমার ওপর রাগান্বিত নন। বস্ত্ততঃ মিসকের খুশবুর মতো রূহ দেহ হতে বেরিয়ে আসে। মালাকগণ সম্মানের সাথে তাকে হাতে হাতে নিয়ে চলে। এমনকি আসমানের দরজা পর্যন্ত নিয়ে আসে। ওখানে মালাকগণ পরস্পর বলাবলি করেন, কি পবিত্র খুশবু জমিনের দিক হতে আসছে! তারপর তাকে মু’মিনদের রূহের কাছে (ইল্লীয়্যিনে) আনা হয়। ওই রূহগুলো এ রূহটিকে দেখে এভাবে খুশী হয়ে যায়, যেভাবে তোমাদের কেউ (সফর হতে ফিরে এলে তোমরা) এ সময় খুশী হও। তারপর সব রূহ এ রূহটিকে জিজ্ঞেস করে অমুক কি করে? অমুক কি করে? তারা নিজেরা আবার বলাবলি করে, এখন এ রূহকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ কিছু জিজ্ঞেস করো না।) এখন যে দুনিয়ার শোকতাপে আছে। তারপর একটু স্বস্তির পরে (সে নিজেই বলে) অমুক ব্যক্তি যার সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞেস করেছিলে, সে মরে গেছে। সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? রূহগুলো বলে, তাকে তো তার (উপযুক্ত স্থান) হাবিয়্যাহ্ জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। (ঠিক এভাবে কোন কাফিরের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে তার কাছে ’আযাবের মালাক (ফেরেশতা) শক্ত চটের বিছানা নিয়ে আসেন। আর তার রূহকে বলেন, হে রূহ! আল্লাহর ’আযাবের দিকে বেরিয়ে এসো। এ অবস্থায় যে, তুমি আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলে, তিনিও তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট। তারপর রূহ তার (কাফির ব্যক্তির) দেহ থেকে পচা লাশের দুর্গন্ধ নিয়ে বেরিয়ে আসবে। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) একে জমিনের দরজার দিকে নিয়ে যাবে। সেখানে মালায়িকাহ্ বলবে, কত খারাপ এ দুর্গন্ধ! তারপর এ রূহটিকে কাফিরদের রূহের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। (আহমাদ, নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا حُضِرَ الْمُؤْمِنُ أَتَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ فَيَقُولُونَ: اخْرُجِي رَاضِيَةً مَرْضِيًّا عَنْكِ إِلَى رَوْحِ اللَّهِ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ الْمِسْكِ حَتَّى إِنَّهُ لَيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا حَتَّى يَأْتُوا بِهِ أَبْوَابَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ: مَا أَطْيَبَ هَذِهِ الرِّيحَ الَّتِي جَاءَتْكُمْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَأْتُونَ بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَشَدُّ فَرَحًا بِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِغَائِبِهِ يَقْدُمُ عَلَيْهِ فَيَسْأَلُونَهُ: مَاذَا فَعَلَ فُلَانٌ مَاذَا فَعَلَ فُلَانٌ؟ فَيَقُولُونَ: دَعُوهُ فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا. فَيَقُولُ: قَدْ مَاتَ أَمَا أَتَاكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: قَدْ ذُهِبَ بِهِ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ. وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا احْتُضِرَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ بِمِسْحٍ فَيَقُولُونَ: أَخْرِجِي ساخطة مسخوطا عَلَيْكِ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ. فَتَخْرُجُ كأنتن ريح جيفة حَتَّى يأْتونَ بِهِ بَابِ الْأَرْضِ فَيَقُولُونَ: مَا أَنْتَنَ هَذِهِ الرِّيحَ حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ أَرْوَاحَ الْكُفَّارِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيّ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا حضر المومن اتت ملاىكة الرحمة بحريرة بيضاء فيقولون: اخرجي راضية مرضيا عنك الى روح الله وريحان ورب غير غضبان فتخرج كاطيب ريح المسك حتى انه ليناوله بعضهم بعضا حتى ياتوا به ابواب السماء فيقولون: ما اطيب هذه الريح التي جاءتكم من الارض فياتون به ارواح المومنين فلهم اشد فرحا به من احدكم بغاىبه يقدم عليه فيسالونه: ماذا فعل فلان ماذا فعل فلان؟ فيقولون: دعوه فانه كان في غم الدنيا. فيقول: قد مات اما اتاكم؟ فيقولون: قد ذهب به الى امه الهاوية. وان الكافر اذا احتضر اتته ملاىكة العذاب بمسح فيقولون: اخرجي ساخطة مسخوطا عليك الى عذاب الله عز وجل. فتخرج كانتن ريح جيفة حتى ياتون به باب الارض فيقولون: ما انتن هذه الريح حتى ياتون به ارواح الكفار . رواه احمد والنساىي

ব্যাখ্যা: (أَتَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ) মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) নিয়ে আসেন সাদা রেশমী কাপড়। যাতে তার রূহটি সেই কাপড়ে পেঁচিয়ে আসমানের দিকে উঠে।

(فَيَقُولُونَ) কিছুসংখ্যক মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) অপর আসমানের মালায়িকার উত্তম সুগন্ধির ব্যাপারে আশ্চর্য হয়ে বলে, হাবিয়্যাহ্ হল নরকসমূহের নামের অন্যতম নরক। মনে হয় নরকটি খুব গভীরে- নরকবাসী পতিত হতে সেখানে অনেক সময় লাগে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬৩০-[১৫] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক আনসারীর জানাযায় কবরের কাছে গেলাম। (তখনো কবর তৈরি করা শেষ হয়নি বলে) লাশ কবরস্থ করা হয়নি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জায়গায় বসে থাকলেন। আমরাও তাঁর আশেপাশে (চুপচাপ) বসে আছি এমনভাবে যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি কাঠ। তা দিয়ে তিনি (নিবিষ্টভাবে) মাটি নাড়াচাড়া করছিলেন। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, কবরের ’আযাব থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করো। এ কথা তিনি দু’বার কি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মু’মিন বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের দিকে যখন ফিরে চলে (মৃত্যুর কাছাকাছি হয়) তখন আসমান থেকে খুবই আলোকোজ্জ্বল চেহারার কিছু মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার কাছে যান। তাঁদের চেহারা যেন দীপ্ত সূর্য।

তাঁদের সাথে (জান্নাতের রেশমী কাপড়ের) কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির দূর সীমায় বসবে। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন, তার মাথার কাছে বসবেন ও বলবেন, হে পবিত্র আত্ম! আল্লাহর মাগফিরাত ও তার সন্তুষ্টির কাছে পৌঁছবার জন্য দেহ থেকে বেরিয়ে আসো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ কথা শুনে মু’মিন বান্দার রূহ তার দেহ হতে এভাবে বেরিয়ে আসে যেমন মশক হতে পানির ফোঁটা বেয়ে পড়ে। তখন মালাকুল মাওত এ রূহকে নিয়ে নেন। তাকে নেবার পর অন্যান্য মালাকগণ এ রূহকে তার হাতে এক পলকের জন্যও থাকতে দেন না। তারা তাকে তাদের হাতে নিয়ে নেন ও তাদের হাতে থাকা কাফন ও খুশবুর মধ্যে রেখে দেন। তখন এ রূহ হতে উত্তম সুগন্ধি ছড়াতে থাকে যা তার পৃথিবীতে পাওয়া সর্বোত্তম সুগন্ধির চেয়েও উত্তম।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর ওই মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) এ রূহকে নিয়ে আকাশের দিকে রওয়ানা হন (যাবার পথে) সাক্ষাৎ হওয়া মালায়িকার কোন একটি দলও এ ’পবিত্র রূহ কার’ জিজ্ঞেস করতে ছাড়েন না। তারা বলে অমুকের পুত্র অমুক। তাকে তার উত্তম নাম ও যেসব নামে তাকে দুনিয়ায় ডাকা হত, সে পরিচয় দিয়ে চলতে থাকেন। এভাবে তারা এ রূহকে নিয়ে প্রথম আসমানে পৌঁছেন ও আসমানের দরজা খুলতে বলেন, দরজা খুলে দেয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের নিকটবর্তী মালাকগণ এদের সাথে দ্বিতীয় আসমান পর্যন্ত যায়। এভাবে সাত আসমান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া হয়। (এ সময়) আল্লাহ তা’আলা মালাকগণকে বলেন, এ বান্দার ’আমলনামা ’ইল্লীয়্যিনে’ লিখে রাখো আর রূহকে জমিনে (কবরে) পাঠিয়ে দাও (যাতে কবরের) সওয়াল জবাবের জন্য তৈরি থাকে। কারণ আমি তাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। আর মাটিতেই তাদেরকে ফেরত পাঠাব। আর এ মাটি হতেই আমি তাদেরকে আবার উঠাব।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর আবার এ রূহকে নিজের দেহের মধ্যে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়। তারপর তার কাছে দু’জন মালাক (ফেরেশতা) (মুনকির নাকীর) এসে তাকে বসিয়ে নেন। তারপর তাকে প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, আমার রব ’আল্লাহ’। আবার তারা দু’জন জিজ্ঞেস করেন, তোমার দীন কি? তখন সে উত্তর দেয়, আমার দীন ’ইসলাম’। আবার তারা দু’ মালাক প্রশ্ন করেন, এ ব্যক্তি কে? যাঁকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সে ব্যক্তি উত্তর দিবে, ইনি হলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপর তারা দু’জন বলবেন, তুমি কিভাবে জানলে? ওই ব্যক্তি বলবে, আমি ’আল্লাহর কিতাব’ পড়েছি, তাই আমি তাঁর ওপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন আহবানকারী (আল্লাহ) আহবান করে বলবেন, আমার বান্দা সত্যবাদী। অতএব তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছাও, তাকে পরিধান করাও জান্নাতের পোশাক-পরিচ্ছদ, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দাও। (তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে)।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে দরজা দিয়ে তার জন্য জান্নাতের হাওয়া ও খুশবু আসতে থাকবে। তারপর তার কবরকে দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর একজন সুন্দর চেহারার লোক ভাল কাপড়-চোপড় পরে সুগন্ধি লাগিয়ে তার কাছে আসবে। তাকে বলবে, তোমার জন্য শুভ সংবাদ, যা তোমাকে খুশী করবে। এটা সেদিন, যেদিনের ওয়া’দা তোমাকে দেয়া হয়েছিল। সে ব্যক্তি বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারার মতো লোক কল্যাণ নিয়েই আসে। তখন সে ব্যক্তি বলবে, আমি তোমার নেক ’আমল। মু’মিন ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কায়িম করে ফেলো। হে আল্লাহ! তুমি ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কায়িম করে ফেলো। আমি যেন আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের কাছে যেতে পারি।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কাফির ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন শেষ করে যখন আখিরাতে পদার্পণ করবে, আসমান থেকে ’আযাবের মালায়িকাহ্ নাযিল হবেন। তাদের চেহারা নিকষ কালো। তাদের সাথে কাঁটাযুক্ত কাফনের কাপড় থাকবে। তারা দৃষ্টির শেষ সীমায় এসে বসেন। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন ও তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন, হে নিকৃষ্ট আত্মা! আল্লাহর ’আযাবে লিপ্ত হবার জন্য তাড়াতাড়ি দেহ হতে বের হও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কাফিরের রূহ এ কথা শুনে তার গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তখন মালাকুল মাওত তার রূহকে শক্তি প্রয়োগ করে টেনে হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসেন, যেভাবে লোহার গরম শলাকা ভিজা পশম হতে টেনে বের করা হয় (আর এতে পশম আটকে থাকে)।

মালাকুল মাওত রূহ বের করে আনার পর অন্যান্য মালায়িকাহ্ এ রূহকে মালাকুল মাওতের হাতে এক পলকের জন্য থাকতে দেন না বরং তারা নিয়ে (কাফনের কাপড়ে) মিশিয়ে দেন। এ রূহ হতে মরা লাশের দুর্গন্ধ বের হয় যা দুনিয়ায় পাওয়া যেত। মালায়িকাহ্ এ রূহকে নিয়ে আসমানের দিকে চলে যান। যখন মালায়িকার কোন দলের কাছে পৌঁছেন, তারা জিজ্ঞেস করেন, এ নাপাক রূহ কার? মালায়িকাহ্ জবাব দেন, এটা হলো অমুক ব্যক্তির সন্তান অমুক। তাকে খারাপ নাম ও খারাপ বিশেষণে ভূষিত করেন, যেসব নামে তাকে দুনিয়ায় ডাকা হত। এভাবে যখন আসমান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া হয়, তার জন্য আসমানের দরজা খুলতে বলা হয়। কিন্তু আসমানের দরজা তার জন্য খোলা হয় না। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দলীল হিসেবে) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, (অনুবাদ) ’’ওই কাফিরদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না, আর না তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যে পর্যন্ত উট সুঁইয়ের ছিদ্র পথে প্রবেশ করবে।’’

এবার আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তার ’আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা জমিনের নীচতলায়। বস্ত্তত কাফিরদের রূহ (নিচে) নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়া হয়। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলীল হিসেবে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ’’(অনুবাদ) যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করেছে, সে যেন আকাশ হতে নিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। তাকে পশু পাখী ঠুকরিয়ে নেয় (অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যায়)। অথবা ঝড়ো বাতাস তাকে (উড়িয়ে নিয়ে) দূরে নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়। (অর্থাৎ আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়)।’’ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর তার রূহকে তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। (এ সময়) দু’জন মালাক তার কাছে আসেন। বসিয়ে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমার রব কে? (সে কাফির ব্যক্তি কোন সদুত্তর দিতে না পেরে) বলবে, ’’হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।’’ তারপর তারা দু’জন জিজ্ঞেস করবেন, ’’তোমার দীন কি?’’ সে (কাফির ব্যক্তি) বলবে, ’’হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।’’ তারপর তারা দু’জন জিজ্ঞেস করেন, ’’এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?’’ সে বলে, ’’হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।’’ তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী আহবান করে বলেন, এ ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে, অতএব তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। (তখন সে দরজা দিয়ে তার কাছে) জাহান্নামের গরম বাতাস আসতে থাকবে। তার কবরকে এত সংকীর্ণ করা হবে যে, (দু’পাশ মিলে যাবার পর) তার পাঁজরের এদিকের (হাড়গুলো) ওদিকে, ওদিকেরগুলো এদিকে বের হয়ে আসবে।

তারপর তার কাছে একটি কুৎসিত চেহারার লোক আসবে, তার পরনে থাকবে ময়লা, নোংরা কাপড়। তার থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকবে। এ কুৎসিত লোকটি (কবরে শায়িত লোকটিকে) বলতে থাকবে, তুমি একটি খারাপ খবরের সংবাদ শুনো যা তোমাকে চিন্তায় ও শোকে-দুঃখে কাতর করবে। আজ ওইদিন, যেদিনের ওয়া’দা (দুনিয়ায়) তোমাকে করা হয়েছিল। সে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? তোমার চেহারা এত কুৎসিত যে, খারাপ ছাড়া কোন (ভাল) খবর নিয়ে আসতে পারে না। সে লোকটি বলবে, ’’আমি তোমার বদ ’আমল’’। এ কথা শুনে ওই মুর্দা ব্যক্তি বলবে, হে আমার পরোয়ারদিগার! ’’তুমি ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ক্বায়িম করো না।’’

আর একটি বর্ণনায় এতটুকু বেশী বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তার (মু’মিনের) রূহ বের হয়ে যায়, জমিনের ও আকাশের সব মালায়িকাহ্ তার ওপর রহমত পাঠাতে থাকেন। তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের দরজার মালাক আল্লাহ তা’আলার কাছে এ মু’মিনের রূহ তার কাছ দিয়ে আসমানের দিকে নিয়ে যাবার আবেদন জানায় (যাতে এ মালাক মু’মিনের রূহের সাথে চলার মর্যাদা লাভ করতে পারে।) আর কাফিরের রূহ তার রগের সাথে সাথে টেনে বের করা হয়। এ সময় আসমান ও জমিনের সকল মালাক তার ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করতে থাকেন। আসমানের দরজার বন্ধ করে দেয়া হয়। সমস্ত দরজার মালাকগণ (আল্লাহর নিকট) আবেদন জানায়, তার দরজার কাছ দিয়ে যেন তার রূহকে আকাশে উঠানো না হয়। (আহমাদ)[1]

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَة رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَلَسْنَا حوله كَأَن على رؤوسنا الطَّيْرَ وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: «اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ من السَّمَاء مَلَائِكَة بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ مَعَهُمْ كَفَنٌ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ الله ورضوان قَالَ: «فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنَ فِي السِّقَاءِ فَيَأْخُذُهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ مِسْكٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ» قَالَ: فَيَصْعَدُونَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ - يَعْنِي بِهَا - عَلَى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذِه الرّوح الطّيب فَيَقُولُونَ: فلَان بن فُلَانٍ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانُوا يُسَمُّونَهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى ينْتَهوا بهَا إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا فيستفتحون لَهُ فَيفتح لَهُ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا حَتَّى ينتهى بهَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ - فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا أخرجهم تَارَة أُخْرَى قَالَ: فتعاد روحه فيأتيه ملكان فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولُونَ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ الله فَيَقُولُونَ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُول: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولَانِ لَهُ: وَمَا عِلْمُكَ؟ فَيَقُولُ: قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاء أَن قد صدق فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ: «فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ» قَالَ: وَيَأْتِيهِ رجل حسن الْوَجْه حسن الثِّيَاب طيب الرّيح فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْه يَجِيء بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ فَيَقُولُ: رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي . قَالَ: وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمُ الْمُسُوحُ فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِي إِلَى سَخَطٍ مِنَ اللَّهِ قَالَ: فَتُفَرَّقُ فِي جسده فينتزعها كَمَا ينتزع السفود من الصُّوف المبلول فَيَأْخُذُهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَجْعَلُوهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ وَيخرج مِنْهَا كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَيَصْعَدُونَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرّوح الْخَبيث؟ فَيَقُولُونَ: فلَان بن فُلَانٍ - بِأَقْبَحِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا - حَتَّى يَنْتَهِي بهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ فَلَا يُفْتَحُ لَهُ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سم الْخياط)
فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّين فِي الأَرْض السُّفْلى فتطرح روحه طرحا
ثُمَّ قَرَأَ: (وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرّيح فِي مَكَان سحيق)
فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ: فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَن كذب عَبدِي فأفرشوا لَهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ فَيَأْتِيهِ حَرُّهَا وَسَمُومُهَا وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ قَبِيحُ الثِّيَابِ مُنْتِنُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يسوؤك هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ
وَفِي رِوَايَة نَحوه وَزَاد فِيهِ:
إِذَا خَرَجَ رُوحُهُ صَلَّى عَلَيْهِ كُلُّ مَلَكٍ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَكُلُّ مَلَكٍ فِي السَّمَاءِ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَابٍ إِلَّا وَهُمْ يَدْعُونَ اللَّهَ أَنْ يُعْرَجَ بِرُوحِهِ مِنْ قِبَلِهِمْ. وَتُنْزَعُ نَفْسُهُ يَعْنِي الْكَافِرَ مَعَ الْعُرُوقِ فَيَلْعَنُهُ كُلُّ مَلَكٍ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَكُلُّ مَلَكٍ فِي السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَابٍ إِلَّا وَهُمْ يَدْعُونَ اللَّهَ أَنْ لَا يُعْرِجَ رُوحَهُ مِنْ قبلهم . رَوَاهُ أَحْمد

وعن البراء بن عازب قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في جنازة رجل من الانصار فانتهينا الى القبر ولما يلحد فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم وجلسنا حوله كان على رووسنا الطير وفي يده عود ينكت به في الارض فرفع راسه فقال: «استعيذوا بالله من عذاب القبر» مرتين او ثلاثا ثم قال: ان العبد المومن اذا كان في انقطاع من الدنيا واقبال من الاخرة نزل اليه من السماء ملاىكة بيض الوجوه كان وجوههم الشمس معهم كفن من اكفان الجنة وحنوط من حنوط الجنة حتى يجلسوا منه مد البصر ثم يجيء ملك الموت حتى يجلس عند راسه فيقول: ايتها النفس الطيبة اخرجي الى مغفرة من الله ورضوان قال: «فتخرج تسيل كما تسيل القطرة من في السقاء فياخذها فاذا اخذها لم يدعوها في يده طرفة عين حتى ياخذوها فيجعلوها في ذلك الكفن وفي ذلك الحنوط ويخرج منها كاطيب نفحة مسك وجدت على وجه الارض» قال: فيصعدون بها فلا يمرون - يعني بها - على ملا من الملاىكة الا قالوا: ما هذه الروح الطيب فيقولون: فلان بن فلان باحسن اسماىه التي كانوا يسمونه بها في الدنيا حتى ينتهوا بها الى سماء الدنيا فيستفتحون له فيفتح له فيشيعه من كل سماء مقربوها الى السماء التي تليها حتى ينتهى بها الى السماء السابعة - فيقول الله عز وجل: اكتبوا كتاب عبدي في عليين واعيدوه الى الارض فاني منها خلقتهم وفيها اعيدهم ومنها اخرجهم تارة اخرى قال: فتعاد روحه فياتيه ملكان فيجلسانه فيقولون له: من ربك؟ فيقول: ربي الله فيقولون له: ما دينك؟ فيقول: ديني الاسلام فيقولان له: ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ فيقول: هو رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقولان له: وما علمك؟ فيقول: قرات كتاب الله فامنت به وصدقت فينادي مناد من السماء ان قد صدق فافرشوه من الجنة والبسوه من الجنة وافتحوا له بابا الى الجنة قال: «فياتيه من روحها وطيبها ويفسح له في قبره مد بصره» قال: وياتيه رجل حسن الوجه حسن الثياب طيب الريح فيقول: ابشر بالذي يسرك هذا يومك الذي كنت توعد فيقول له: من انت؟ فوجهك الوجه يجيء بالخير فيقول: انا عملك الصالح فيقول: رب اقم الساعة رب اقم الساعة حتى ارجع الى اهلي ومالي . قال: وان العبد الكافر اذا كان في انقطاع من الدنيا واقبال من الاخرة نزل اليه من السماء ملاىكة سود الوجوه معهم المسوح فيجلسون منه مد البصر ثم يجيء ملك الموت حتى يجلس عند راسه فيقول: ايتها النفس الخبيثة اخرجي الى سخط من الله قال: فتفرق في جسده فينتزعها كما ينتزع السفود من الصوف المبلول فياخذها فاذا اخذها لم يدعوها في يده طرفة عين حتى يجعلوها في تلك المسوح ويخرج منها كانتن ريح جيفة وجدت على وجه الارض فيصعدون بها فلا يمرون بها على ملا من الملاىكة الا قالوا: ما هذا الروح الخبيث؟ فيقولون: فلان بن فلان - باقبح اسماىه التي كان يسمى بها في الدنيا - حتى ينتهي بها الى السماء الدنيا فيستفتح له فلا يفتح له ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم (لا تفتح لهم ابواب السماء ولا يدخلون الجنة حتى يلج الجمل في سم الخياط) فيقول الله عز وجل: اكتبوا كتابه في سجين في الارض السفلى فتطرح روحه طرحا ثم قرا: (ومن يشرك بالله فكانما خر من السماء فتخطفه الطير او تهوي به الريح في مكان سحيق) فتعاد روحه في جسده وياتيه ملكان فيجلسانه فيقولان له: من ربك: فيقول: هاه هاه لا ادري فيقولان له: ما دينك؟ فيقول: هاه هاه لا ادري فيقولان له: ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ فيقول: هاه هاه لا ادري فينادي مناد من السماء ان كذب عبدي فافرشوا له من النار وافتحوا له بابا الى النار فياتيه حرها وسمومها ويضيق عليه قبره حتى تختلف فيه اضلاعه وياتيه رجل قبيح الوجه قبيح الثياب منتن الريح فيقول ابشر بالذي يسووك هذا يومك الذي كنت توعد فيقول: من انت؟ فوجهك الوجه يجيء بالشر فيقول: انا عملك الخبيث فيقول: رب لا تقم الساعة وفي رواية نحوه وزاد فيه: اذا خرج روحه صلى عليه كل ملك بين السماء والارض وكل ملك في السماء وفتحت له ابواب السماء ليس من اهل باب الا وهم يدعون الله ان يعرج بروحه من قبلهم. وتنزع نفسه يعني الكافر مع العروق فيلعنه كل ملك بين السماء والارض وكل ملك في السماء وتغلق ابواب السماء ليس من اهل باب الا وهم يدعون الله ان لا يعرج روحه من قبلهم . رواه احمد

ব্যাখ্যা: (وَجَلَسْنَا حوله كَأَن على رؤوسنا الطَّيْرَ) আমরা তাঁর আশে পাশে বসেছিলাম মনে হয়। আমাদের মাথার উপর পাখি রয়েছে। এ বাক্যটি রূপক অর্থে বলা হয়েছে তথা নীরবতার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে। সে আমাদের কেউ নড়াচড়া করছে না এবং কোন কথাও বলছে না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বসার সম্মানার্থে। মর্মার্থ হল তাঁর উপস্থিতিতে আমরা বিনয়ীভাবে আদবের সাথে বসেছিলাম মনে হয়, এমতাবস্থায় পাখি আমাদের মাথার উপর বসে আছে আর পাখি নীরব নিথর বস্ত্তর উপর ছাড়া বসে না। আর সাহাবীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কে মূল্যায়ন করতেন কখনো তারা তাঁর সামনে কথা বলতেন হাসতেন তবে নাড়াচাড়া করতেন না।

(فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ) রূহ বের হয়ে আসে যেমন মশক হতে পানি বের হয়। উদ্দেশ্য খুব সহজে শরীর হতে রূহ বের হয়ে আসে।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, শরীরের অস্থি এবং রূহ সহজে বের হয়ে আসার বিষয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই বরং প্রথমটি দ্বিতীয়টির কারণে যেমন ব্যক্তির অনুশীলনতা এবং শরীরের দুর্বলতা ‘ইবাদাত চর্চার সময় রূহকে বেশি শক্তিশালী করে তোলে। আর ইবনে হাজার বলেন, কোন দ্বন্দ্ব নেই কঠিনতা হওয়া রূহ বের হওয়ার সময় অন্য সময় নয়, কেননা এমন অবস্থাটি রূহ বের হবার পূর্বের সময়।

(لم يدعوها في يده طرفة عين) ‘মুহূর্তের জন্য নিজের হাতে রাখেন না।’ ত্বীবী বলেন, বাক্যটি ইঙ্গিত করে যে, মালাকুল মাওত রূহ কবয করার সঙ্গে সঙ্গে তার সহযোগী মালাকের (ফেরেশতার) হাতে অর্পণ করে দেন যাদের কাছে জান্নাতের কাফন রয়েছে।

(اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ) ‘আমার বান্দার ঠিকানা ইল্লীয়্যিনে লিখা।’ বান্দা শব্দ উল্লেখ করেছেন তার সম্মানের জন্য আর কাফিরের ক্ষেত্র শুধু বলেছেন তার ঠিকানা বা কিতাব। ইল্লীয়্যিন বলতে মু’মিনদের খাতা বা রেজিস্টার বই আর মূলত তা সপ্তম আসমানে একটি স্থানের নাম যেখানে ভাল লোকদের কিতাব রয়েছে তথা ‘আমলের সহীফা। আবূ ত্বীবী বলেন, ইল্লীয়্যিন বলতে জান্নাতের ঘরসমূহ।

ইবনে হাজার বলেন, ইল্লীয়্যিন মু’মিনগণের রূহসূমহ রয়েছে আর সিজ্জীনে কাফিরদের রূহসমূহ রয়েছে।

(فَتُعَادُ رُوحُه فِي جَسَدِه)  ‘তার রূহ তার শরীরে ফিরিয়ে দেয়া হয়’ হাদীসের ভাষ্যমতে রূহের ফিরিয়ে দেয়া হয় তার শরীরের সকল অংশে। সুতরাং এ বক্তব্য ধর্তব্য বলে বিবেচিত হবে না যে রূহ ফিরিয়ে দেয়া বলতে কিছু অংশে বা অর্ধেক অংশে এ দাবীর পক্ষে সহীহ দলীল প্রয়োজন।

(مَا هذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟)  ‘তোমাদের মধ্যে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে?’ এভাবে উপস্থাপন করা হয় মূলত পরীক্ষার জন্য। বিষয়টি যেন এমন অনুধাবন না আসে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছবি সরাসরি মৃত ব্যক্তির সম্মানে উপস্থিত করা হয় আর এ ব্যাপারে কোন সহীহ বা দুর্বল হাদীসও বর্ণিত হয়নি। সুতরাং কবর পূজারীদের বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করা যাবে না। তাদের আরও বিশ্বাস মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করার সময় স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ববরের বাইরে উপস্থিত হন।

(حتى ارجع الى اهلى) চোখ জুড়ানো হূরদের নিকট এবং ঢাকদের নিকট وقالى অট্টালিকা ও বাগানসমূহের নিকট এটা ব্যতিরেকে আরও অন্যান্য মাল যা বলতে মাল বুঝায়। পরিবার বলতে কারও নিকট মু’মিনদের নিকটস্থ লোক, মাল বলতে হূর ও অট্টালিকা।

মীরাক বলেনঃ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ক্বায়িম করার আবেদন বলতে যাতে সে পৌঁছতে পারে সেখানে যা তার জন্য আল্লাহ তৈরি করে রেখেছেন প্রতিদান ও মর্যাদা যেমন কাফিরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ক্বায়িম করো না যাতে করে পলায়ন করতে পারে সে শাস্তি হতে যা তার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

(فينتزعها) জান কবযকারী মালাক (ফেরেশতা) তার রূহ বের করে কঠিনভাবে ও কষ্ট দিয়ে (السفود) লোহার চুলার মতো যার উপর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) ভূনা করা হয়।

لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَآءِ আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয় না। যখন তারা আহবান করেন যেমন মুজাহিদ ও নাখ্‘ঈ বলেছেন কারও মতেঃ তাদের ‘আমল কবূল হয় না বরং তা ফেরত দেয়া হয়, অতঃপর তা তাদের চেহারার উপর ছুড়ে মারা হয়।

সিজ্জীনঃ কাফির ও শায়ত্বনদের। ‘আমলের সমষ্টির কিতাব কারও মতে তা এমন স্থান যা সাত জমিনের নীচে অবস্থিত আর তা ইবলীস ও অনুসারীদের থাকার স্থান।

(حَتّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُه) একদিকে পাঁজর অপরদিকে ঢুকে যাবে তথা ডান দিকের পাঁজর বামদিকের পাঁজরে এবং বামদিকের পাঁজর ডানদিকের পাঁজরে ঢুকে যাবে কবর কঠিন সংকচিত হওয়ার কারণে। আর মু’মিনের জন কবর সংকীর্ণ হল তা জমিনের আলিঙ্গন যেমন অধির আগ্রহী মা তার সন্তানের সাথে মুয়ানাকা বা আলিঙ্গন করে।

আর হাদীস সুস্পষ্ট দলীল যে প্রশ্নের সময় ক্ববরে মৃত ব্যক্তির নিকট রূহকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এটা সকল আহলে সুন্নাতের মাযহাব। ইবনে তায়মিয়্যাহ্ বলেন, মুতাওয়াতির হাদীস প্রমাণ করে প্রশ্নের সময় শরীরে রূহকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। কোন দল বলেছে রূহ ছাড়া শুধুমাত্র শরীরকে প্রশ্ন করা হয়। জমহূর এ বিষয় অস্বীকার করেছেন এর বিপরীতে অন্য দল বলেছে শুধুমাত্র রূহকে প্রশ্ন করা শরীর ব্যতিরেকে এমন বলেছে। ইবনে মুররা ও ইবনু হাযম উভয়ে ভুলের মধ্যে রয়েছে আর সহীহ হাদীসসমূহ এর প্রতিবাদ করেছে। ইবনে ক্বইয়্যিম কিতাবুর রূহতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬৩১-[১৬] ’আবদুর রহমান ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (আমার পিতা) কা’ব-এর মৃত্যু আসন্ন হলে ইবনু মা’রূর-এর কন্যা উম্মু বিশর (রাঃ)তার কাছে এলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আবূ ’আবদুর রহমান! (কা’ব-এর ডাক নাম) আপনি মৃত্যুবরণ করার পর (আলামে বারযাখে) অমুক ব্যক্তির সাথে দেখা হলে তাকে আমাদের সালাম বলবেন। এ কথা শুনে কা’ব বললেন, হে উম্মু বিশর! আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। ওখানে আমার সবচেয়ে বেশী ব্যস্ততা থাকবে। তখন উম্মু বিশর (রাঃ)বললেন, হে আবূ ’আবদুর রহমান! আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেননি? ’আলামে বারযাখে’ মু’মিনদের রূহ সবুজ পাখির ক্বালবে থেকে জান্নাতের গাছ হতে ফল-ফলাদি খেতে থাকবে। কা’ব বললেন, হ্যাঁ, আমি শুনেছি। উম্মু বিশর (রাঃ)বললেন, এটাই হলো (তাই আপনি এ মর্যাদা পাবেন বলে আশা করা যায়)। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর)[1]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: لَمَّا حَضَرَتْ كَعْبًا الْوَفَاةُ أَتَتْهُ أُمُّ بِشْرٍ بِنْتُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ فَقَالَتْ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنْ لَقِيتَ فُلَانًا فَاقْرَأْ عَلَيْهِ مِنِّي السَّلَامَ. فَقَالَ: غَفَرَ اللَّهُ لَكِ يَا أُمَّ بِشْرٍ نَحْنُ أَشْغَلُ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فِي طَيْرٍ خُضْرٍ تَعْلُقُ بِشَجَرِ الْجَنَّةِ؟» قَالَ: بَلَى. قَالَتْ: فَهُوَ ذَاكَ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْبَعْثِ والنشور

وعن عبد الرحمن بن كعب عن ابيه قال: لما حضرت كعبا الوفاة اتته ام بشر بنت البراء بن معرور فقالت: يا ابا عبد الرحمن ان لقيت فلانا فاقرا عليه مني السلام. فقال: غفر الله لك يا ام بشر نحن اشغل من ذلك فقالت: يا ابا عبد الرحمن اما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان ارواح المومنين في طير خضر تعلق بشجر الجنة؟» قال: بلى. قالت: فهو ذاك. رواه ابن ماجه والبيهقي في كتاب البعث والنشور

ব্যাখ্যা: (إِنْ لَقِيتَ) তুমি যদি সাক্ষাৎ কর উমুকের সাথে তথা মৃত্যুর পরে তার রূহু এর সাথে। ত্ববারানী বর্ণনায় এসেছে, যদি আমার পিতার সাথে সাক্ষাৎ কর আমার পক্ষ হতে সালাম দিবে। কারো মতে তার ছেলে উদ্দেশ্য মোবাশ্বের যেমন আহমাদ-এর বর্ণনা আর ইবনু আবিদ দুনিয়ায় হাদীসে এসেছে তাতে তার নাম বাকর ।

আবূ লাবিয়্যাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন বাকর বিন বারা বিন মা‘রূর মারা গেলেন তার মা তখন খুব কষ্ট পেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! বানী সালামার যখন কেউ মারা যাবে সে কি মৃত্যুকে চিনতে পারবে তাহলে আমি পিতাকে সালাম পাঠাবো। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন রয়েছে, অবশ্যই তারা চিনবে বা নিশ্চয় চিনে যেমনভাবে পাখি গাছসমূহের মাথা চিনে। আর যখনই কোন বানী সালামাহ্ গোত্রের লোক মৃত্যুর সম্মুখীন হয় বাকর এর মা আসে এবং হে উমুক তোমার ওপর আমার সালাম সেও বলে তোমারও ওপর সালাম, অতঃপর বাকর এর মা বলে বাকরকে আমার সালাম দিবে।

(إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ) নিশ্চয় মু’মিনের রূহসমূহ হাদীসের এ সাধারণ বাক্যের প্রমাণ করে প্রত্যেক মু’মিন শাহীদ হোক বা না হোক জান্নাতে তারা শাহীদ হিসেবে বিবেচিত হবে যদি জান্নাতে যেতে তাদেরকে গুনাহ ও ঋণ বাধা না দেয় আর আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাথে সাক্ষাৎ, ক্ষমা ও রহমাত নিয়ে। এ হাদীসটি এবং সামনে আগত হাদীস এটাই প্রমাণ করে তাতে শাহাদাতকে খাস করা হয়নি এ মতে ইবনু ক্বইয়্যিম ও ইবনে কাসীর গেছেন।

কারও মতে শুধুমাত্র শাহীদ মু’মিন উদ্দেশ্য যেমন আহমাদ-এর বর্ণনা (أرواح الشهداء) শাহীদের রূহসমূহ আর এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন কুরতুবী ও ইবনু ‘আবদুল বার। তারা বলেন, উল্লেখিত সম্মানের বিষয়টি শাহীদদের সাথে খাস অন্য কারও সাথে নয় আর কুরআন সুন্নাহ এটাই প্রমাণ করে আর এ সংক্রান্ত সাধারণ বর্ণনাগুলোকে খাসকেই বুঝায়।

মু’মিনের রূহ সবুজ পাখীর মধ্যে হবে ত্ববারানীর বর্ণনায় এসেছে (إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فِي طَيْرٍ خُضْرٍ) মু’মিনে রূহ সবুজ পাখীর ঝোলায় বা পেটে হবে। হায়সামী বলেন যে, এটা রূহের জন্য আবদ্ধ উদ্দেশ্য না বরং সবুজ পাখীর পেটের মধ্যে রাখার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের ব্যবস্থা করেছেন যা প্রশস্ত শূন্যে অর্জিত হয়।

অথবা রূহের জন্য পাখীকে বাহনরূপে করে জান্নাতে আনন্দ উপভোগ করার ব্যবস্থা করা বা পাখী হল রূহের জন্য হাওদা স্বরূপ বসা ব্যক্তির জন্য।

কারও মতে রূহসমূহকে পাখীর আকৃতিতে করা হয় তথা রূহ স্বয়ং আল্লাহর নির্দেশে পাখির আকৃতি ধারণ করে যেমন মালাক (ফেরেশতা) মানুষের আকৃতি ধারণ করে। সুয়ূতী আবূ দাঊদ-এর টীকায় বলেন, যখন আমরা রূহের পাখি আকৃতি ধারণ করা সাব্যস্ত করব তখন তা শুধুমাত্র পাখির আকৃতির হওয়ার ক্ষমতা বুঝায় না পাখি সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন হওয়া বুঝায়, কেননা মানুষের আকৃতিই সবচেয়ে উত্তম আকৃতি।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬৩২-[১৭] ’আবদুর রহমান ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মু’মিনের রূহ (আলামে বারযাখে) পাখীর ক্বালবে থেকে জান্নাতের গাছ থেকে ফল-ফলাদি খেতে থাকবে যে পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা (তাকে উঠাবার দিন) এ রূহ তার শরীরে ফিরিয়ে না দেন (অর্থাৎ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন)।’’ (মালিক, নাসায়ী, বায়হাক্বী- কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর)[1]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّا نسمَة الْمُؤمن طير طَيْرٌ تَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ حَتَّى يُرْجِعَهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ يَوْمَ يَبْعَثُهُ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَالنَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الْبَعْث والنشور

وعن عبد الرحمن بن كعب عن ابيه قال: انه كان يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انا نسمة المومن طير طير تعلق في شجر الجنة حتى يرجعه الله في جسده يوم يبعثه» . رواه مالك والنساىي والبيهقي في كتاب البعث والنشور

ব্যাখ্যা: ইমাম নাবাবী বলেন, ‘নাসামাহ্’ বলতে মানুষের সাথে শরীর ও রূহকে এক সঙ্গে বুঝায় আর রূহ বলতে স্বতন্ত্রভাবে বুঝায়। হাদীসের ভাষ্যমতে রূহ আল্লাহর আদেশে পাখির আকৃতি ধারণ করে যেমন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) মানুষের আকৃতি ধারণ করে।

আর সম্ভাবনা রয়েছে, রূহ পাখির শরীরে প্রবেশ করে যেমন অন্য বর্ণনা (أجواف طير) পাখির পেটের মধ্যে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয়

১৬৩৩-[১৮] মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একবার) জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) এর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি মৃত্যুশয্যায়। আমি তাঁর কাছে আরয করলাম, (আপনি আলামে বারযাখে পৌঁছে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার সালাম দেবেন।’’ (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ يَمُوتُ فَقُلْتُ: اقْرَأْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّلَام. رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن محمد بن المنكدر قال: دخلت على جابر بن عبد الله وهو يموت فقلت: اقرا على رسول الله صلى الله عليه وسلم السلام. رواه ابن ماجه

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

’মৃত্যুর গোসল ও কাফন দান’ তথা তার হুকুম আহকাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা। জ্ঞাতব্য যে মৃত ব্যক্তি গোসলের হুকুম সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে।

জমহূরদের মতে মৃত ব্যক্তিকে গোসলদান করা ফারযে কিফায়াহ্ জীবিতদের ওপর। আর এ ব্যাপারে মালিকীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে তাদের কেউ বলেছে ওয়াজিব। জমহূরদের মতে আবার কেউ বলেছে সুন্নাতে কিফায়াহ্। এরূপ মতভেদ ইবনু রুশদ বিদায়াতে ও হাফিয ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।

ওয়াজিব এর স্বপক্ষে দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম মৃত্যু ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন(اغسلوه) তাকে গোসল দান করা আর আগত উম্মু ’আত্বিয়্যার হাদীস (اغسلنها) তোমরা তাকে গোসল করাবে।

আমি (ভাষ্যকার) বলি, মৃতদের গোসলের বিষয়টি এই শারী’আতে অকাট্যভাবে প্রমাণিত আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় এমনটি শোনা যায়নি যে, শাহীদ ব্যতিরেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেছে আর তার গোসল করা হয়নি। বরং এই শারী’আতে মৃত্যুদের গোসল আমাদের পিতা আদম (আঃ) হতে প্রমাণিত।

মুসতাদরাক হাকিম-এর বর্ণনায় উবাই ইবনে কা’ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যখন আদম (আঃ) মারা গেলেন তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) বেজোড়ভাবে গোসল করালেন পানি দ্বারা এবং তার জন্য লাহদ কবরের ব্যবস্থা করলেন এবং মালায়িকাহ্ বললেন, এটা আদম সন্তানদের সুন্নাহ।

আর মতানৈক্য রয়েছে মৃত ব্যক্তির গোসল কি ’ইবাদাত না শুধুমাত্র ময়লা হতে পরিষ্কার। প্রসিদ্ধ মত জমহূরের নিকট গোসল হল এটা ’ইবাদাত। এতে শর্তারোপ করা হয় যা শর্ত করা ওয়াজিব ও মানদুব গোসলে।


১৬৩৪-[১] উম্মু ’আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা (যায়নাবকে) গোসল করাচ্ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, তোমরা তিনবার, পাঁচবার, প্রয়োজন বোধ করলে এর চেয়ে বেশী বার; পানি ও বরই পাতা দিয়ে তাকে গোসল দাও। আর শেষ বার দিকে ’কাফূর’। অথবা বলেছেন, কাফূরের কিছু অংশ পানিতে ঢেলে দিবে, গোসল করাবার পর আমাকে খবর দিবে। তাঁকে গোসল করাবার পর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর দিলাম। তিনি এসে তহবন্দ বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, এ তহবন্দটি তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে দাও। আর এক বর্ণনার ভাষা হলো, তাকে বেজোড় তিন অথবা পাঁচ অথবা সাতবার (পানি ঢেলে) গোসল দাও। আর গোসল ডানদিক থেকে উযূর জায়গাগুলো দিয়ে শুরু করবে। তিনি (উম্মু ’আত্বিয়্যাহ্) বলেন, আমরা তার চুলকে তিনটি বেনী বানিয়ে পেছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ غُسْلِ الْمَيِّتِ وَتَكْفِيْنِه

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نُغَسِّلُ ابْنَتَهُ فَقَالَ: اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكِ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الْآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي فَلَمَّا فَرَغْنَا آذناه فَألْقى إِلَيْنَا حقوه وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ» وَفِي رِوَايَةٍ: اغْسِلْنَهَا وِتْرًا: ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا وَابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا . وَقَالَتْ فَضَفَّرْنَا شَعَرَهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ فألقيناها خلفهَا

عن ام عطية قالت: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نغسل ابنته فقال: اغسلنها ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن ذلك بماء وسدر واجعلن في الاخرة كافورا او شيىا من كافور فاذا فرغتن فاذنني فلما فرغنا اذناه فالقى الينا حقوه وقال: «اشعرنها اياه» وفي رواية: اغسلنها وترا: ثلاثا او خمسا او سبعا وابدان بميامنها ومواضع الوضوء منها . وقالت فضفرنا شعرها ثلاثة قرون فالقيناها خلفها

ব্যাখ্যা: (دَخَلَ عَلَيْنَا) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মহিলা দলে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় তাঁর কন্যাদের গোসল দিচ্ছিলাম। আর প্রসিদ্ধ হল তার মেয়ে যায়নাব যিনি আবিল ‘আস বিন রবী‘আহ্-এর স্ত্রী ও উমামাহ্-এর মা। যেমন মুসলিমের বর্ণনা উম্মু ‘আত্বিয়াহ্ বলেন, যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে যায়নাব মারা গেলেন (اغْسِلْنَهَا) তাকে গোসল দান ইবনু বাযীযাহ্ প্রমাণ করেন এতে যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো ওয়াজিব। তবে ইবনু দাকীক বলেন, তিনবার ধৌত করা প্রসিদ্ধ মতে ওয়াজিব না। ‘উলামাদের মতে, তিন বার পাঁচবার ধৌত করা। নাসায়ীর বর্ণনা, (اغْسِلْنَهَا وِتْرًا: ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا) গোসল দান কর বেজোড়ভাবে তিনবার অথবা পাঁচ বার। ইমাম নাবাবী বলেন, গোসল দান কর তাকে বেজোড়ভাবে আর তা যেন তিনবার হয়, এরপরেও যদিও প্রয়োজন হয় তাহলে পাঁচবার। মোদ্দাকথা হল, বেজোড় উদ্দেশ্য আর তিনবার করা মুস্তাহাব। আর যদি তিনবার দিয়ে পরিষ্কার হয় তাহলে অতিরিক্ত করা শারী‘আত অনুমোদন করেননি। আর অতিরিক্ত যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তা যেন বেজোড় হয়।

ইবনে ‘আরাবী বলেন, অথবা পাঁচবার এতে ইঙ্গিত বহন করে শারী‘আত সম্মত হল বেজোড়। কেননা বলা হয়েছে তিন হতে পাঁচ আর চার হতে বিরত থাকা হয়েছে।

(أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذلِكِ) ‘‘এটা অপেক্ষা অধিকবার’’ হাদীস প্রমাণ করে মৃত ব্যক্তিকে গোসলের ব্যাপারে কোন সীমানা নির্ধারণ নেই বরং উদ্দেশ্য পরিষ্কারকরণ তবে অবশ্যই বেজোড়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

বরই দ্বারা বরই পাতা উদ্দেশ্য আর হিকমাহ্ হল বরই পাতা ময়লাকে সমূলে উৎপাটিত করে এবং চামড়াকে পরিচ্ছন্ন করে।

কুরতুবী বলেন, বরই পাতা পানিতে মিশাবে তা যেন ফুটন্ত পর্যন্ত থাকে এবং তা দ্বারা শরীর ঘষবে অতঃপর তার উপর বিশুদ্ধ পানি ঢালবে। এটা প্রথম গোসল বা ধৌত। কারও মতে বরই পাতা পানিতে নিক্ষেপ করবে যাতে পানির সাথে না মিশে যাতে পানির সাধারণ রং পরিবর্তন হয় (আহমাদ বিন হাম্মাল এমনটি অপছন্দ করেছেন)।

কারও মতে প্রথমবার শুধুমাত্র পানি দ্বারা গোসল এবং দ্বিতীয়বার পানি ও বরইপাতাসহ কেননা প্রথম ধৌত ফরয আর তা যেন শুধুমাত্র পানি দ্বারা হয় এর পরে না হয় তা হয় পরিষ্কার করা উদ্দেশ্য সুতরাং অতিরিক্ত যা মিশানো হয় তা ক্ষতি না।

কারও মতেঃ প্রথমবার পানি ও বরই পাতা সহকারে অতঃপর শুধুমাত্র পানি। তবে আমাদের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য হল প্রত্যেক বারই পানি ও বরই পাতা সহকারে ধৌত করবে আর পানি যেন বরই পাতাকে নিয়ে ফুটন্ত হয়। কেননা আবূ দাঊদে গৃহীত সানাদে ইবনে সিরীন তিনি উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ্ হতে বর্ণনা করেন গোসলের বিষয়টি প্রথম দু’বার বরই পাতা সহকারে গোসল দান করবে।

তৃতীয়বার পানি ও কাফুর দিয়ে। শেষবার কাফুর মিশানোর হিকমাহ্ হল কেননা কাফূর স্থানে সুগন্ধি ছড়ায় বিশেষ করে মালায়িকার মধ্যে থেকে যারা যেখানে উপস্থিত থাকে আরও অন্যন্য যারা থাকে তাদের জন্য। তাছাড়া এটা ঠান্ডা ও শুষ্ক রাখতে বাস্তবায়নকারী বিশেষ করে লাশকে মজবুত রাখে এবং বিষাক্ত কীটকে দূরীভূত করে রাখে আর লাশকে দ্রুত নষ্ট হওয়া হতে বাধা দান করে আর এ ব্যাপারে শক্তিশালী সুগন্ধ।

(فَألْقى إِلَيْنَا حقوه) অতঃপর তিনি তার লুঙ্গি ছুঁড়ে দিলেন। হাদীসে পুরুষের কাপড় দিয়ে মহিলাদের কাফন দেয়া বৈধতা প্রমাণ করে। আর ইবনু বাত্তাল বর্ণনা করেছেন এ ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য।

(اغْسِلْنَهَا وِتْرًا: ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا) অন্য রিওয়ায়াতে রয়েছে গোসলদান করবে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার। হাদীসে দৃশ্যত সাতের অধিকবার করা বৈধ না, কেননা পবিত্রতার গণনার সবশেষ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে তবে বুখারী ও মুসলিমের এবং অন্যান্য বর্ণনায় প্রয়োজনে অতিরিক্ত ধৌতের ব্যাপারে অনুমোদন রয়েছে।

আয়নী বলেন, মৃত ব্যক্তির উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সুন্নাহ যেমন জীবিত অবস্থায় গোসলে, তবে কুলি ও নাকে পানি দেয়া ব্যতিরেকে। কেননা তা কঠিন নাক ও মুখ হতে পানি বের করা। ইবনু কুদামাহ্ মুগনীতে বলেনঃ তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) উযূ করানো সালাতের উযূর মতো দু’ হাতের তালু ধৌত করাবে, অতঃপর খসখসে কাপড়ের টুকরো নিবে তা ভিজাবে এবং তা আঙ্গুলে নিয়ে দাঁত ও নাক মাসাহ করবে যাতে তা পরিষ্কার হয় তবে খুব নরমভাবে করবে, অতঃপর তার চেহারা ধৌত করাবে এবং উযূ সম্পূর্ণ করাবে। আর তিনি বলেন, মুখে ও নাকের ছিদ্রতে পানি ঢুকাবে না অধিকাংশ আহলে ‘ইলমের মতে।

আর শাফি‘ঈ বলেন, কুলি ও নাকে পানি দিবে জীবিত ব্যক্তির মতো।

(فَضَفَّرْنَا شَعَرَهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ) আমরা তার চুলকে তিনটি বেনীতে ভাগ করলাম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, মাথার অগ্রভাগের চুলকে একটি বেনীতে আর মাথার দু’ পাশে চুলকে দু’ বেনীতে করেছি। অপর এক বর্ননায় এসেছে, আমরা তা চুলকে চিরুণি দিয়ে অাঁচড়ালাম, অতঃপর তিনটি বেনীতে ভাগ করলাম। ইমাম শাফি‘ঈ এতে দলীল গ্রহণ করেছেন এবং তার সাথে যারা ঐকমত্য হয়েছেন যে, মৃত মহিলার চুলকে সুবিন্যস্ত করা এবং তিনটি ভাগে বেনী করা এবং পিছনদিকে ছড়িয়ে দেয়া। আর আয়নী বলেন যে, দু’টি বেনী করে বুকের উপর দিয়ে জামার উপর ছড়াবে। আবার কেউ বলেন, চুল ওড়নার নীচে দু’ জনের মাঝ দিয়ে দু’পাশে সকল চুল ছড়াবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৩৫-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিন কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। যা সাহূলিয়্যাহ্ সাদা সূতি কাপড় সাদা ইয়ামানী। এতে কোন সেলাই করা কুর্তা ছিল না, পাগড়ীও ছিল না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ غُسْلِ الْمَيِّتِ وَتَكْفِيْنِه

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُفِّنَ فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَّةٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ مِنْ كُرْسُفٍ لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلَا عِمَامَة

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كفن في ثلاثة اثواب يمانية بيض سحولية من كرسف ليس فيها قميص ولا عمامة

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি ইয়ামানী সাহূলিয়্যাহ্ সাদা সুতী কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। তিনটি কাপড়ের ব্যাপারে ত্ববাক্বাত ইবনু সা‘দ-এ রয়েছে লুঙ্গি, চাদর এবং লিফাফাহ্। আর যারা বলেন, সাতটি কাপড়ে কাফন দেয়া হবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তারা আহমাদে বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করছেন,

علي بن أبي طالب: أن النبي - ﷺ - كفن في سبعة أثواب.

‘আলী বিন আবী ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাতটি কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছে হাদীসের জবাবে বলা হয়েছে হাদীসের সানাদে খুব দুর্বল রাবী রয়েছেন।

হাকিম বলেন মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত যেমন আলী, ইবনু ‘আব্বাস, ইবনু ‘উমার, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছে আর যেখানে জামা এবং পাগড়ী ছিল না।

সাহূলী একটি গ্রামের নাম। সেই গ্রামের দিকে সম্বোধন করে সাহূলিয়্যাহ্ বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৩৬-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন তোমাদের কোন ভাইকে কাফন দিবে তখন উচিত হবে উত্তম কাফন দেয়া। (মুসলিম)[1]

بَابُ غُسْلِ الْمَيِّتِ وَتَكْفِيْنِه

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فليحسن كَفنه» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا كفن احدكم اخاه فليحسن كفنه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ইমাম নাবাবী বলেন, উত্তম কাফন বলতে সাদা, কাফন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুরু কাপড়। তুরবিশতী বলেনঃ হাদীসের অর্থ হল মুসলিম ব্যক্তি তাই মৃত্যু ভাইয়ের জন্য এমন কাফনের কাপড় পছন্দ করবে যা পরিপূর্ণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর উত্তম দ্বারা এমনটি উদ্দেশ্য না যেমনটি অপচয়কারীরা করে থাকে দামী কাপড় যা লোক দেখানো উদ্দেশ্য মূলত শারী‘আত পক্ষ হতে তা নিষিদ্ধ।

জাবির (রাঃ) উপরোল্লিখিত হাদীস মুসলিম ইমাম মুসলিম পূর্ণভাবে উল্লেখ করেছেন,

وَهُوَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَطَبَ يَوْمًا، فَذَكَرَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِه قُبِضَ فَكُفِّنَ فِىْ كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ، وَقُبِرَ لَيْلًا، فَزَجَرَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ حَتّى يُصَلّى عَلَيْهِ، إِلَّا أَنْ يُضْطَرَّ إِنْسَانٌ إِلى ذلِكَ، وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ، فَلْيُحَسِّنْ كَفَنَه. (رواه مسلم)

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ্ প্রদান করেছিলেন, অতঃপর সাহাবীদের এক ব্যক্তি মারা গেছেন উল্লেখ করা হল এবং তার কাফনও হয়েছে খুব সাধারণভাবে তথা সাধারণ কাফনে এবং দাফন হয়েছে রাত্রিতে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সংবাদে ধমক দিয়েছেন রাত্রি দাফনের জন্য তবে যদি মানুষেরা অপারগ না হয়। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তেমাদের কেউ যখন তার ভাই কাফন দিবে তা যেন উত্তমভাবে দেয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৩৭-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (হাজ্জের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তার উটটি (তাকে পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে) তার ঘাড় ভেঙে দিলো। তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। এ অবস্থায়ই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও। আর তাকে তার দু’টি কাপড় দিয়ে কাফন দাও। তার গায়ে কোন সুগন্ধি লাগিও না, তার মাথাও ঢেক না। কারণ তাকে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন ’লাব্বায়ক’ বলা অবস্থায় উঠানো হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

মুস্’আব ইবনু ’উমায়র (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কিত খব্বাব (রাঃ)-এর হাদীসটি আমরা অচিরেই ’’সাহাবীগণের মর্যাদা’’ অধ্যায়ে উল্লেখ করব ইনশা-আল্ল-হ।

بَابُ غُسْلِ الْمَيِّتِ وَتَكْفِيْنِه

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَصَتْهُ نَاقَتُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَمَاتَ ن فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلَا تَمَسُّوهُ بِطِيبٍ وَلَا تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْم الْقِيَامَة ملبيا»
وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ خَبَّابٍ: قَتْلُ مُصْعَبِ بْنِ عُمَيْرٍ فِي بَابِ جَامِعِ الْمَنَاقِبِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

وعن عبد الله بن عباس قال: ان رجلا كان مع النبي صلى الله عليه وسلم فوقصته ناقته وهو محرم فمات ن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبيه ولا تمسوه بطيب ولا تخمروا راسه فانه يبعث يوم القيامة ملبيا» وسنذكر حديث خباب: قتل مصعب بن عمير في باب جامع المناقب ان شاء الله

ব্যাখ্যা: (اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ) তাকে গোসল দান কর পানি ও বরই পাতা সহকারে। এতে দলীল প্রমাণ করে মৃত ব্যক্তিকে গোসলদান ওয়াজিব।

(وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ) তাকে কাফন দাও দু’ কাপড়ে তথা তার লুঙ্গি ও চাদর দিয়ে যা সে পরিধান করেছিল ইহরামে। আর এতে তথা কাফনে বেজোড় শর্ত না। আর ইতিপূর্বে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে তিন তা ওয়াজিব না। বরং তা মুস্তাহাব। এটা জমহূরের বক্তব্য তবে এমন একটি কাফন হওয়া প্রয়োজন যা সমস্ত শরীরকে আবৃত করে।

আর হাদীসটিকে দলীল হিসেবে প্রমাণ করেন শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাক, সাওরী এবং ‘আত্বা যে যখন মুহরিম ব্যক্তি মারা যান তিনি ইহরামের হুকুমেই থাকেন এজন্য তার মাথা ঢাকা যাবে না এবং সুগন্ধি লাগানো যাবে না এবং ইহরামের দু’ কাপড় দিয়ে কাফন করা হবে।

আর এ ব্যাপারে বিরোধিতা করেছেন মালিক ও আবূ হানীফাহ্ তারা দলীল পেশ করেছেন (إَذَا مَاتَ ابْنُ آدَمَ انْقَطَعَ عَمَلُه) যখন মানুষ মারা যাবে তার ‘আমল বন্ধ হয়ে যায় এর জবাবে বলা হয়েছে তার ইহরামের কাপড় দিলে কাফন করা তা জীবিতাবস্থার ‘আমল মৃত্যুর পরে গোসল ও তার ওপর জানাযাহ্ আদায়ের মতো।

আর হানাফী ও মালিকী বা ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীসের জবাবে বলেছেন, সম্ভবত ঐ মুহরিম ব্যক্তির জন্য খাস যার ব্যাপারে আল্লাহ ওয়াহী করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানিয়েছেন। সুতরাং বিষয়টি নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ‘আমভাবে না।

‘আবদুল হাই কা‘নাবী জবাবে বলেছেন, তালবিয়াহ্ পড়তে পড়তে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনে উঠা এটি খাস নয় বরং ‘আম প্রত্যেক মুহরিম ব্যক্তির জন্য এমন কেননা এভাবে হাদীসের শব্দ এসেছে,  (يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلى مَا مَاتَ عَلَيْهِ)  প্রত্যেক বান্দা এভাবে উঠবে, যে যেভাবে মারা গেছে। (মুসলিম)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৩৮-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কারণ সাদা কাপড়ই সবচেয়ে ভাল। আর মুর্দাকে সাদা কাপড় দিয়েই কাফন দিবে। তোমাদের জন্য সুরমা হলো ’ইসমিদ’ কারণ এ সুরমা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مَنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَمِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدُ فَإِنَّهُ يُنْبِتُ الشّعْر ويجلوا الْبَصَر» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «البسوا من ثيابكم البياض فانها من خير ثيابكم وكفنوا فيها موتاكم ومن خير اكحالكم الاثمد فانه ينبت الشعر ويجلوا البصر» . رواه ابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: হাদীস প্রমাণ করে সাদা কাপড় পরিধান করা এবং মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেয়া মুস্তাহাব। ইমাম শাওকানী বলেন, হাদীসে সাদা কাপড়ের বিষয়টি ওয়াজিব না বরং ভাল।

ইসমিদঃ প্রসিদ্ধ কালো পাথর যা হতে সুরমা তৈরি করা হয়।

মুল্লা ‘আলী আলী ক্বারী বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে রাত্রিতে ঘুমের সময় সুরমা ব্যবহার করা উত্তম। আমি (ভাষ্যকার) বলি, আহমাদের অন্য বর্ণনায় এ শব্দে এসেছে,

(خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدُ فَإِنَّه يُنْبِتُ الشِّعْرَ وَيَجْلُوا الْبَصَرَ)

আর ঘুমের সময় তোমাদের সুরমা জাতীয় জিনিস সমূহের মধ্যে ‘ইসমিদ’ই হল উত্তম। কেননা তা কেশ জন্মায় এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৩৯-[৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাফনে খুব বেশী মূল্যবান কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ এ কাপড় খুব তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে যায়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَغَالَوْا فِي الْكَفَنِ فَإِنَّهُ يُسْلَبُ سَلْبًا سَرِيعًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تغالوا في الكفن فانه يسلب سلبا سريعا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, কাফনের মধ্যম পন্থা অবলম্বন করাই মুস্তাহাব এবং উত্তম।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪০-[৭] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন তিনি নতুন কাপড় আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। তারপর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মুর্দাকে (হাশ্‌রের (হাশরের) দিন) সে কাপড়েই উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মৃত্যুবরণ করে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ. دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُولُ: «الْمَيِّتُ يُبْعَثُ فِي ثِيَابِهِ الَّتِي يَمُوتُ فِيهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي سعيد الخدري انه لما حضره الموت. دعا بثياب جدد فلبسها ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الميت يبعث في ثيابه التي يموت فيها» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীস অন্য হাদীসের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা যায় (يُحْشَرُ النَّاسُ حُفَاةً عُرَاةً) মানুষ হাশরে উঠবে খালি পায়ে এবং উলঙ্গ অবস্থায়। অনেকে জবাব দিয়েছেন পুনঃ উঠার বিষয়টি হাশর ব্যতিরেকে (بَعْثُ) যা উঠার বিষয়টি মৃত্যুকে কবর হতে বের করা আর হাশর হল ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) আঙ্গিনায় একত্রিত করা।

ফলে পুনরুত্থান হবে কাপড় পরিধান অবস্থায় আর হাশর হবে উলঙ্গ অবস্থায় তবে মুহাক্কিক মুহাদ্দিসরা বলেছেন, কাপড় শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ ‘আমল যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ‘‘তোমার ‘আমলকে পরিশুদ্ধ কর’’- (সূরাহ্ আল মুদ্দাস্‌সির ৭৪ : ৪)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪১-[৮] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেছেনঃ সবচেয়ে উত্তম ’কাফন’ হলো ’’হুল্লাহ্’’, আর সর্বোত্তম কুরবানীর পশু হলো শিংওয়ালা দুম্বা। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خَيْرُ الْكَفَنِ الْحُلَّةُ وَخَيْرُ الْأُضْحِيَةِ الْكَبْشُ الْأَقْرَنُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبادة بن الصامت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «خير الكفن الحلة وخير الاضحية الكبش الاقرن» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ‘হুল্লাহ্’ বলতে ইয়ামান দেশীয় জোড়া যাতে একটি লুঙ্গি ও চাদর থাকে এক জাতীয়। মদ্য কথা ‘হুল্লাহ্’ হল দু’কাপড় এক কাপড়ের চেয়ে উত্তম আর তিন কাপড় হল কাফনের জন্য আরও উত্তম ও পরিপূর্ণ।

কারও মতে ইয়ামীন চাদর দ্বারা কাফন দেয়া উচিত, কেননা তাতে লাল অথবা সবুজ ডোরা দাগ রয়েছে। মাজহার বলেন, এ হাদীসের আলোকে কতক ইমাম এ ইয়ামানী চাদরকে পছন্দ করছেন। আর সঠিক কথা হল সাদা কাপড়ই উত্তম। ইতিপূর্বে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসের আলোকে।

কুরবানীতে শিংওয়ালা দুম্বা উত্তম। উদ্দেশ্য হল মহিলা দুম্বার চেয়ে পুরুষ দুম্বা উত্তম অথবা শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানী করা উত্তম ভাগে কুরবানী করা উট ও গরু হতে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪২-[৯] তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে।[1]

وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ

ورواه الترمذي وابن ماجه عن ابي امامة

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪৩-[১০] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের ’শাহীদদের’ শরীর থেকে লোহা, (হাতিয়ার, শিরস্ত্রাণ) চামড়া ইত্যাদি (যা রক্তমাখা নয়) খুলে ফেলার ও তাদেরকে তাদের রক্ত ও রক্তমাখা কাপড়-চোপড়সহ দাফন করতে নির্দেশ দেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ ينْزع عَنْهُم الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَأَنْ يُدْفَنُوا بِدِمَائِهِمْ وَثِيَابِهِمْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابن عباس قال: امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقتلى احد ان ينزع عنهم الحديد والجلود وان يدفنوا بدماىهم وثيابهم. رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্য মতে শাহীদ ব্যক্তিদেরকে গোসল দেয়া হবে না। আর শাহীদদেরকে গোসল দেয়া হবে না। এ সংক্রান্ত অনেক হাদীস রয়েছে যা ইবনু তায়মিয়্যাহ্ মুনতাকা কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং শাওকানী নায়লুল আওতারে। হাদীস আরো প্রমাণ করে, শাহীদ ব্যক্তিকে যে কাপড়ে নিহত হয়েছেন ঐ কাপড়েই কাফন সম্পন্ন করতে হবে এবং তার কাছ হতে লৌহ বস্ত্র ও চর্মবস্ত্র ও যুদ্ধের সরঞ্জাম খুলে নিতে হবে। ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, ‘আবদুল্লাহ বিন সা‘লাবাহ্ হতে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উহুদের যুদ্ধে তাদেরকে (শাহীদেরকে) তাদের কাপড়েই আবৃত কর।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪৪-[১১] সা’দ ইবনু ইব্রাহীম হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা ইব্রাহীম হতে বর্ণনা করেছেন যে, একবার ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) সওম রেখেছিলেন। (সন্ধ্যায়) তাঁর খাবার আনানো হলো। তিনি বললেন, উহুদ যুদ্ধের শাহীদ মুস্’আব ইবনু ’উমায়র (রাঃ)আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। কিন্তু তাঁকে শুধু একটি চাদর দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। এটা এমনই খাটো ছিল যে, যদি মাথা ঢাকা হত পা খুলে যেত আর পা ঢাকা হলে মাথা খুলে যেত। (সর্বশেষে [চাদর দিয়ে] তার মাথা ঢেকে পাগুলোর উপর ’ইযখির’ [ঘাস] দেয়া হয়েছিল।) (হাদীসের রাবী) ইব্রাহীম বলেন, আমার মনে হয় ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ এ কথাও বলেছেন, (উহুদের) আরেক শাহীদ হামযাহ্ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। (মুস্’আব-এর মতো) তাঁরও এক চাদরে দাফন নাসীব হয়েছিল। (এখন মুসলিমদের দরিদ্র আল্লাহর ফযলে দূর হয়েছে) আমাদের জন্য এখন দুনিয়া বেশ প্রশস্ত হয়েছে, যা দৃশ্যমান। অথবা তিনি বলেছেন, ’’দুনিয়া এখন আমাদেরকে এতই পর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া হয়েছে যে, আমার ভয় হয় আমাদের নেক কাজের বিনিময় ফল আমরা মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই পেয়ে যাই কিনা। অতঃপর ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ কাঁদতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত সামনের খাবারই ছেড়ে দিলেন। (বুখারী)[1]

عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ: قُتِلَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي كُفِّنَ فِي بُرْدَةٍ إِنْ غُطِّيَ رَأْسُهُ بَدَتْ رِجْلَاهُ وَإِنْ غُطِّيَ رِجْلَاهُ بَدَا رَأْسُهُ وَأَرَاهُ قَالَ: وَقُتِلَ حَمْزَةُ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي ثُمَّ بُسِطَ لَنَا مِنَ الدُّنْيَا مَا بُسِطَ أَوْ قَالَ: أُعْطِينَا مِنَ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا وَلَقَدْ خَشِينَا أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا ثُمَّ جَعَلَ يَبْكِي حَتَّى تَرَكَ الطَّعَامَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن سعد بن ابراهيم عن ابيه ان عبد الرحمن بن عوف اتي بطعام وكان صاىما فقال: قتل مصعب بن عمير وهو خير مني كفن في بردة ان غطي راسه بدت رجلاه وان غطي رجلاه بدا راسه واراه قال: وقتل حمزة وهو خير مني ثم بسط لنا من الدنيا ما بسط او قال: اعطينا من الدنيا ما اعطينا ولقد خشينا ان تكون حسناتنا عجلت لنا ثم جعل يبكي حتى ترك الطعام. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, কাফন হবে মূল মালের সকল মাল হতে না এক তৃতীয়াংশ হতে এটা জমহূর ‘উলামার বক্তব্য কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুস্‘আব ও হামযাহ্ (রাঃ)-কে তাদের চাদর দিয়ে কাফনের কাজ সম্পনণ করেছেন আর তিনি জরিমানা বা ওয়াসিয়্যাহ্ বা উত্তরাধিকারের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি সকল কিছুর পূর্বে কাফনের কাজ শুরু করেছেন। সুতরাং জানা গেল কাফনের কাজ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে এবং তা হবে মূল সম্পদ হতে।

হাদীসে আরও শিক্ষণীয় যে, দুনিয়া বিমুখিতার ফাযীলাত আর দীনের সম্মানিত ব্যক্তির উচিত দুনিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা হতে নিজেকে বিরত রাখবে যাতে পুণ্যে ঘাটতি না আসে আর এদিকে ‘আবদুর রহমানের বক্তব্য ইঙ্গিত করে, (خَشِينَا أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ) আমরা ভয় পাচ্ছি যে, আমাদের নেক ‘আমলের প্রতিফল আমাদেরকে আগেভাগে দুনিয়াতে দেয়া গেল নাকি? হাদীসে আরো শিক্ষণীয় যে, নেককার লোকদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করা উচিত বিশেষ করে দুনিয়ার প্রতি তাদের স্বল্প আগ্রহ এবং আখিরাতে ভয়ে তাদের কাঁদা।

হাদীসে আর প্রমাণিত হয় যে, স্বচ্ছলতার উপর দরিদ্রতার প্রাধান্য দেয়া ‘ইবাদাতের জন্য নিঃসঙ্গতাকে প্রাধান্য উপার্জনের উপর, কেননা ‘আবদুর রহমান খাদ্য গ্রহণ করা হতে বিরত থেকেছেন অথচ সওমরত ছিলেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন

১৬৪৫-[১২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনাফিক্ব দলপতি ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবরে নামাবার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে কবর থেকে উঠাবার নির্দেশ দিলেন। কবর থেকে উঠাবার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তাঁর দু’হাঁটুর উপর রাখলেন। নিজের মুখের পবিত্র থুথু তার মুখে দিলেন। নিজের জামা তাকে পরালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ’আব্বাস (রাঃ)-কে তার নিজের জামা পরিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ بَعْدَمَا أُدْخِلَ حُفْرَتَهُ فَأَمَرَ بِهِ فَاخْرُج فَوَضعه على رُكْبَتَيْهِ ن فَنَفَثَ فِيهِ مِنْ رِيقِهِ وَأَلْبَسَهُ قَمِيصَهُ قَالَ: وَكَانَ كسا عباسا قَمِيصًا الْمَشْي بالجنازة وَالصَّلَاة عَلَيْهَا

وعن جابر قال: اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الله بن ابي بعدما ادخل حفرته فامر به فاخرج فوضعه على ركبتيه ن فنفث فيه من ريقه والبسه قميصه قال: وكان كسا عباسا قميصا المشي بالجنازة والصلاة عليها

ব্যাখ্যা: উপরে উল্লেখিত হাদীসটি সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদীসের বিরোধিতা করছে যেমন ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত (لما مات عبد الله بن أبي جاء ابنه فقال: يا رسول الله، أعطني قميصك أكفنه فيه، فأعطاه قميصه) যখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল তার ছেলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জামাটি দিন তা দ্বারা আমার পিতার কাফন দিব। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জামা তাকে দিলেন।

জাবির (রাঃ)-এর হাদীস কবর হতে উঠার পর জামা প্রদান আর অন্যান্য হাদীসে যেমন ইবনু ‘উমারের হাদীসে আগেই বর্ণনা। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) ইবনে উবাই এই ব্যক্তি মুনাফিক্বের নেতা ছিল জাহিলী যুগে খাযরাজ গোত্রের নেতা ছিল। এই ব্যক্তি ‘আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে ইফকের ঘটনা প্ররোচনাকারী, সে বলেছিল আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি তবে সেখান হতে সবল অবশ্যই দুর্বলকে বহিষ্কৃত করবে। সে আরও বলেছিল لَا تُنْفِقُوا عَلى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللّهِ حَتّى يَنْفَضُّوْا ‘‘যারা আল্লাহর রসূলের সাহচর্যে আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না’’- (সূরাহ্ আল মুনাফিকূন ৬৩ : ৭)।

আর সে উহুদের যুদ্ধে এক তৃতীয়াংশ সৈন্য নিয়ে মদীনায় ফিরেছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হবার পর। ওয়াকিদী বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে উবাই শাও্ওয়ালের শেষের দিকে এসে অসুস্থ হয়েছিল আর যুলক্বাদা মাসের নবম হিজরীতে মৃত্যুবরণ করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধ হতে ফেরার পর তার রোগ ছিল বিশ দিন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে এসেছিলেন তার মু’মিন ছেলে ‘আবদুল্লাহ বিন উবাই-এর আহবানে তার নাম ছিল হুবাব। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখেন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) পিতার নামানুসারে তিনি মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবী ছিলেন অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফাতে ইয়ামামার যুদ্ধে শাহীদ হন। মানুষের মধ্যে সবচেয়ে তিনি পিতার বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন, যদি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিতেন তাহলে তার পিতাকে তিনি হত্যা করতেন।

উপরে উল্লেখিত হাদীসটি সুস্পষ্ট প্রমাণ করে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কামীস তথা জামা ক্ববরে রাখার পর দিয়েছেন। অথচ এর বিপরীত বুখারী মুসলিম ও অন্যান্য হাদীসে প্রমাণ করে (لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللهِ بْنِ أبَي جَاءَ ابْنُه فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ، أَعْطِنِيْ قَمِيْصك أُكَفِّنُه فِيْهِ، فَأَعْطَاهُ قَمِيْصُه) ইবনে ‘উমার (রাঃ)-এর হাদীস যখন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বিন উবাই মৃত্যুবরণ করল তার ছেলে আসলো (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে)। অতঃপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জামাটি দিন তা দিয়ে তার (আমার পিতার) কাফনের ব্যবস্থা করব তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাকে তার জামা প্রদান করলেন।

জবাবে বলা হয়েছে, প্রথমে তার জামার মধ্যে হতে কোন জামা দিয়েছেন, পরে দ্বিতীয়বার আবার জামা দেয়েছেন অথবা মৃত্যুর প্রথম সময়ে আবেদন করেছিল কিন্তু তা প্রদান করতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেরী করেছেন এমনকি ক্ববরে তাকে প্রবেশ করা হয়েছিল।

হাদীসে প্রমাণিত হয়, কবর হতে মৃত বক্তিকে প্রয়োজনে উঠা যায় আর কামীসে কাফন বৈধ তথা নিষেধ না চাই তা সেলাইকৃত হোক বা না হোক। বুখারীতে জিহাদ অধ্যায়ে এসেছে, জাবির (রাঃ) হতে বাদ্‌র (বদর) যুদ্ধে ‘আব্বাস কাফির অবস্থায় মুসলিমদের হাতে বন্দী হয় আর তার শরীরে জামা ছিল না। অতঃপর তার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  জামা তালাশ করলেন। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই জামা পাওয়া গেল যা তার শরীরের সাথে খাপ খেয়েছে। সুতরাং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বদলা স্বরূপ ‘আবদুল্লাহ বিন উবাইকে জামা দিয়েছিলেন।

ইবনু ‘উআয়নাহ্ বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর ‘আবদুল্লাহ বিন উবাই-এর অনুগ্রহ ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চান তা বদলা দিতে যাতে সেই মুনাফিক্বের কোন অনুগ্রহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবশিষ্ট না থাকে।

কারও মতে তার ছেলের সম্মানার্থে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন, তিনি খাঁটি মুসলিম এবং মুনাফিক্ব হতে মুক্ত ছিলেন। কারও মতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কোন সায়েলকে ফিরিয়ে দেন না।

জ্ঞাতব্যঃ মহিলাদের শারী‘আত সম্মত কাফন হল পাঁচটি লুঙ্গি, চাদর, ওড়না ও দু’টি লিফাফ তথা আবরণ। যা বর্ণিত আহমাদ ও আবূ দাঊদে লায়লা বিনতু কায়ফ আস্ সাকাফী, তিনি বলেন আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে উমুন কুলসুমকে গোসল দিচ্ছিলাম তার মৃত্যুর পর।

আমাদেরকে প্রথমে লুঙ্গি এরপর চাদর, অতঃপর ওড়না, অতঃপর লিফাফ দিলেন, সবশেষে আমি আরেকটি কাপড় দিয়ে ঢাকলাম। তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে দরজায় বললেন, তাকে কাফন দাও আর তিনি একটা একটা করে কাপড় দিলেন। অন্য বর্ণনায় উম্মু ‘আতিয়্যাহ্ বলেন আমরা তাকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দিয়েছি। তাকে ওড়না পেচিয়েছি যেমনিভাবে জীবিতদের দেই।

হাফিয ইবনে হাজার বলেন, এ অতিরিক্ত বাক্য বিশুদ্ধ। ইবনু মুনযির বলেন, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে মহিলাদের কাফন পাঁচটি যেমন শাবী, নাখ্‘ঈ, আওযা‘ঈ, শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাক আবূ সাওর। ইবনু কুদামাহ্ বলেন, আমাদের অধিকাংশ সাথী ও অন্যান্যদের অভিমত মহিলাদের কাফন পাঁচটি। লুঙ্গি, চাদর ওড়না ও দু’টি লিফাফ আর এটা সহীহ লায়লা বিনতু কায়ফ ও উম্মু ‘আত্বিয়্যার হাদীসের আলোকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৪৬-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জানাযার কার্যক্রম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তাড়াতাড়ি আদায় কর। কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেক মানুষ হয় তাহলে তার জন্য কল্যাণ। কাজেই তাকে কল্যাণের দিকে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবে। সে এরূপ না হলে খারাপ হবে। তাই তাকে তাড়াতাড়ি নিজেদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দাও। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ فشر تضعونه عَن رقابك»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اسرعوا بالجنازة فان تك صالحة فخير تقدمونها اليه وان تك سوى ذلك فشر تضعونه عن رقابك»

ব্যাখ্যা: জানাযার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ‘আমর’ বা নির্দেশটি মুস্তাহাব অর্থে, ওয়াজিব অর্থে নয়। এটা ‘উলামাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই। একমাত্র ইবনু হাযম এটাকে ওয়াজিব বলেছেন।

জানাযাহ্ নিয়ে দ্রুত চলার অর্থ এই নয় যে, লাশ কাঁধে নিয়ে দৌড়াবে। বরং মধ্যপন্থায় চলবে। ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) বলেন, দ্রুত চলার অর্থ হলো ধীরস্থির হাঁটার চেয়ে একটু বেশী, অর্থাৎ একটি ভারসাম্যপূর্ণ চলন।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এটাই জমহূরের মত।

জানাযাহ্ কাঁধে নিয়ে একেবারে মন্থরগতিতে চলা অপছন্দনীয়। আবার এমন দ্রুতও চলবে না যাতে কারী এবং তার অনুগামীদের কষ্ট হয়। অন্যদিকে মাইয়্যিতেরও কোন ক্ষতি না হয়।

এ দ্রুততা কি শুধু লাশ বহনকালে না অন্য কাজেও?

এ প্রশ্নের জবাবে আল্লামা সিন্ধী বলেন, হাদীসের প্রকাশ্য অর্থে লাশ বহনের ক্ষেত্রেই এ নির্দেশ, তবে অন্যান্য কাজেও।

যেমন তাকে গোসল দান, কাফন পরানো ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এ হুকুম প্রযোজ্য।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ প্রথম ব্যাপারেই হুকুম নির্দিষ্ট তবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৪৭-[২] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জানাযাহ্ খাটিয়ায় রাখার পর লোকেরা যখন তাকে কাঁধে নেয় সে জানাযাহ্ যদি নেক লোকের হয় তাহলে সে বলে আমাকে (আমার মঞ্জীলের দিকে) তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো। আর যদি বদ লোকের হয়, সে (তার নিজ লোকদেরকে) বলে, হায়! হায়! আমাকে কোথায় নিয়ে চলছ। মুর্দারের কথার এ আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবাই শুনে। যদি মানুষ এ আওয়াজ শুনত তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেত। (বুখারী)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ فَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ: قَدِّمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَت لأَهْلهَا: يَا وَيْلَهَا أَيْن يذهبون بِهَا؟ يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَو سمع الْإِنْسَان لصعق . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا وضعت الجنازة فاحتملها الرجال على اعناقهم فان كانت صالحة قالت: قدموني وان كانت غير صالحة قالت لاهلها: يا ويلها اين يذهبون بها؟ يسمع صوتها كل شيء الا الانسان ولو سمع الانسان لصعق . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তিকে কাঁধে বহনকালে তার কথা বলার বিষয়টি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। কেউ কেউ বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার মধ্যে বিশেষ বাকশক্তি সৃষ্টি করে দিবেন যার মাধ্যমে সে কথা বলবে। কেউ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তার দেহে রূহ প্রবিষ্ট করিয়ে কথা বলাবেন।

অনেকে বলেছেন, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সর্বাবস্থায় তাকে কথা বলাতে পারেন।

মৃত ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘‘তোমরা আমাকে দ্রুত নিয়ে চলো’’। এর অর্থ হলো তার নেককাজের সাওয়াব প্রাপ্তির জন্য দ্রুত চলার কথা। আর সে মনে করবে সে যেন সকলকে তা শুনাতে পারছে। অথবা আল্লাহ তা‘আলা তার মুখ দিয়ে এ কথা বের করে দিয়েছেন। যাতে তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার মানুষকে তা অবহিত করতে পারেন। অনুরূপভাবে বদকার তার ভয়াবহ পরিণতি জেনে বলবে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?

এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, লাশ বহনের দায়িত্ব পুরুষের ওপরই মহিলাদের ওপর নয়। তবে যদি পুরুষ পাওয়া না যায় তবে মহিলারা-ই বহন করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৪৮-[৩] উল্লেখিত রাবী (আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন লাশ দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে। যারা জানাযার সাথে থাকে তারা যেন (জানাযাহ্ লোকদের কাঁধ থেকে মাটিতে অথবা কবরে) রাখার আগে না বসে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الْجَنَازَةَ فَقُومُوا فَمَنْ تَبِعَهَا فَلَا يَقْعُدْ حَتَّى تُوضَعَ»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا رايتم الجنازة فقوموا فمن تبعها فلا يقعد حتى توضع»

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ অতিক্রমকালে দাঁড়ানোর বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। এমনকি ইয়াহূদীর বা (অমুসলিমের) ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দাঁড়ানোর প্রমাণ রয়েছে। তবে এ দাঁড়ানো কি ওয়াজিব না মুস্তাহাব তা নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে।

ইবনু ‘আবদুল বার এটাকে ওয়াজিব বলে দাবী করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং তার সমমনা কতিপয় ফকীহ এটাকে মুস্তাহাব বলে মনে করেন। ইমাম ইবনু হাযমও এ মতেরই সমর্থক। ইমাম নাবাবী বলেনঃ মুস্তাহাব হওয়াটাই পছন্দনীয় মত। সাহাবীদের মধ্যে ইবনু ‘উমার (রাঃ), আবূ মাস‘ঊদ, ক্বায়স ইবনু সা‘দ, সাহল ইবনু হুনায়ফ প্রমুখ এ মতেরই অনুসারী ছিলেন। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ, আবূ হানীফাহ্ ও তার সঙ্গীদয় (রহঃ) এ হুকুম মানসূখ বলে মনে করেন। ইমাম আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ কতিপয় ইমাম মানসূখের দাবীকে নাকচ করে দিয়েছেন।

জানাযাহ্ অতিক্রমকালে না দাঁড়িয়ে বসে থাকার কথাও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বুঝা যায় দাঁড়ানোর হুকুমটি মুস্তাহাব, ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। এ কথা ইবনু হাযম বলেছেন।

যারা জানাযার অনুগামী হবে তারা লাশ না রাখা পর্যন্ত বসবে না। এ রাখা খাটিয়া মাটিতে রাখাও হতে পারে, আবার লাশ ক্ববরে রাখাও হতে পারে।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেনঃ মাটিতে রাখার মতটিই প্রাধান্যযোগ্য। ইমাম বুখারী (রহঃ) অধ্যায় তৈরি করেছেনঃ ‘‘যারা জানাযার অনুগমন করবে তারা কাঁধ থেকে জানাযাহ্ নামানোর আগে বসবে না’’। ইমাম আবূ দাঊদও এ মতেরই পক্ষপাতি ছিলেন। হানাফীদের নিকট উত্তম হলোঃ লাশ মাটি দিয়ে শেষ করেই বসবে। তবে বাদায়ে, তাতার খানিয়া এবং ইনায়া গ্রন্থসমূহে তার বিরোধিতা করা হয়েছে। প্রত্যেকেই স্বীয় দলীল পেশ করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাঃ ‘‘মানুষ যদি এ আওয়াজ শুনত তাহলে বেহুশ হয়ে যেত’’, এটা বদকার মৃত ব্যক্তির চিৎকার। নেক্কারের কথা হবে আশাব্যঞ্জক ও কোমল। কেউ কেউ বলেছেন, সকল মৃতের কথাই হবে ভয়ংকর। মানুষ তার কথা শুনবেন। এটা পৃথিবীর নেজাম ঠিক রাখার জন্য। ঈমানের বিষয়টিও এর সাথে সম্পৃক্ত, অর্থাৎ এর প্রতি ঈমান আনতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৪৯-[৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার সাথে দাঁড়ালাম। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো এক ইয়াহূদী মহিলার জানাযা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মৃত্যু একটি ভীতিকর বিষয়। অতএব যখনই তোমরা জানাযাহ্ দেখবে দাঁড়িয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: مَرَّتْ جَنَازَةٌ فَقَامَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُمْنَا مَعَهُ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا يَهُودِيَّةٌ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَوْتَ فَزَعٌ فَإِذَا رَأَيْتُمْ الْجِنَازَة فَقومُوا»

وعن جابر قال: مرت جنازة فقام لها رسول الله صلى الله عليه وسلم وقمنا معه فقلنا: يا رسول الله انها يهودية فقال: «ان الموت فزع فاذا رايتم الجنازة فقوموا»

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ অতিক্রমকালে দাঁড়ানোর কারণ জানাযার সম্মানে নয়, বরং মৃত্যু-জানাযাহ্ একটি ভীতিকর বিষয়, তা দর্শনে মানুষ যেন গাফেল জীবন থেকে সতর্ক হয়। এতে লাশ মুসলিম অমুসলিম হওয়ায় কোনকিছু আসে যায় না।

সুনানে নাসায়ী, হাকিম প্রভৃতি গ্রন্থে আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেনঃ আমরা মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) সম্মানে দাঁড়াতাম। ইবনু হিব্বান-এর এক বর্ণনায় রূহ কবযকারী মালাকের সম্মানে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ দাঁড়ানো বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। তবে ইয়াহূদীর উদ্দেশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আহমাদ ও ত্ববারানীর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, ঐ দাঁড়ানো ছিল (ধুপ বা ঐ জাতীয় কোন কিছুর) দুর্গন্ধযুক্ত বাতাসের কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য। (যেহেতু তারা মৃত লাশের সাথে ধুপ-লোবান ইত্যাদি বহন করে চলে)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫০-[৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতে দেখলাম। আমরাও তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বসলে আমরাও বসলাম। (মুসলিম; ইমাম মালিক ও আবূ দাঊদের বর্ণনার ভাষ্য হলো, তিনি জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতেন, তারপর বসতেন।)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: رَأَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَقُمْنَا وَقَعَدَ فَقَعَدْنَا يَعْنِي فِي الْجَنَازَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةِ مَالِكٍ وَأَبِي دَاوُدَ: قَامَ فِي الْجَنَازَةِ ثُمَّ قَعَدَ بَعْدُ

وعن علي رضي الله عنه قال: راينا رسول الله صلى الله عليه وسلم قام فقمنا وقعد فقعدنا يعني في الجنازة. رواه مسلم وفي رواية مالك وابي داود: قام في الجنازة ثم قعد بعد

ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ) বলেন, ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন, আমরাও বসলাম’’, এর অর্থ সম্ভবত জানাযাহ্ অতিক্রম হয়ে দূরে চলে যাওয়ার পর তিনি বসেছিলেন, জানাযাহ্ নিকটে থাকতে নয়। অথবা ঐ সময়ে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি আর দাঁড়াননি। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তার ‘আমর’ বা নির্দেশটি ওয়াজিব অর্থে নয় বরং মুস্তাহাব অর্থে। দাঁড়ানোর হুকুম মানসূখ বা রহিত বলার চেয়ে এ জাতীয় ব্যাখ্যা বেশী গ্রহণযোগ্য।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি নাসেখ হওয়ার স্পষ্ট দলীল হতে পারে না। কেননা বসার বিষয়টি বায়ানে জাওয়ায বা বৈধ প্রমাণের জন্যও হতে পারে। মানসূখ তো তখনই ধরতে হয় যখন দু’টি পরস্পর বিরোধী হাদীসের মধ্যে সমম্বয় সম্ভব হয় না। অথচ এ দু’টি হাদীসের মধ্যে সুন্দর সমম্বয় সাধিত হয়েছে।

শায়খুল হাদীস আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) এ বিষয়ের বিস্তারিত দলীল-প্রমাণ উপস্থাপনের পর বলেনঃ আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য কথা ওটাই যা ইমাম আহমাদ (রহঃ) গ্রহণ করেছেন। আর তা হলো প্রত্যেকের স্বাধীন ইচ্ছা, সে যদি দাঁড়ায় তাতে যেমন কোন দোষ নেই ঠিক তার বসে থাকাতেও কোন সমস্যা নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫১-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের জানাযায় ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে অংশগ্রহণ করে, এমনকি তার জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে কবরে দাফন করা পর্যন্ত সাথে থাকে। এমন ব্যক্তি দু’ ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ঘরে ফেরে। প্রত্যেক ক্বীরাত্ব উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার সালাত আদায় করে দাফন করার আগে ফিরে সে এক ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ফিরে এলো। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيُفْرَغَ مِنْ دَفْنِهَا فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بقيراط»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اتبع جنازة مسلم ايمانا واحتسابا وكان معه حتى يصلى عليها ويفرغ من دفنها فانه يرجع من الاجر بقيراطين كل قيراط مثل احد ومن صلى عليها ثم رجع قبل ان تدفن فانه يرجع بقيراط»

ব্যাখ্যা: লাশের সাথে অনুগমন বলতে মুসলিম ব্যক্তির লাশের অনুগমনের কথাই বলা হয়েছে। সুতরাং কোন অমুসলিমের লাশের অনুগমনে কোন সাওয়াব নেই। যেহেতু এ অনুগমন ঈমানের ভিত্তিতে এবং ইহতিসাব বা সাওয়াবের আশায় করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এতে ভয়ভীতি অথবা কোন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে হলেও তা চলবে না। পার্থিব কোন কিছুর বিনিময়ে অথবা কোন ভয়ভীতির কারণে কারো জানাযায় উপস্থিত হলে হাদীসে বর্ণিত ফাযীলাত পাওয়া যাবে না।

ক্বীরাতের পরিমাণ বলা হয়েছে উহুদ পাহাড়ের সমান। ক্বীরাত মূলতঃ বিভিন্ন দেশে মুদ্রা, বস্তু বা পরিমাপের একটি অংশ বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেনঃ অধিকাংশের মতে এখানে ‘ক্বীরাতের’ অর্থ হলো সুবিশাল পরিমাপ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে বুঝানোর জন্য সকলের নিকট অতীব প্রিয় ও সুপরিচিত পাহাড় উহুদের সাথে তার দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ ‘উহুদ পাহাড় সম’ কথাটি হলো উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা। উদ্দেশ্য হলো বিরাট সাওয়াবের অংশ নিয়ে ফেরা। যার পরিমাণ একমাত্র আল্লাহর ‘ইলমেই রয়েছে।

আবার এমনও হতে পারে যে, ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা বান্দার এ ‘আমলকে প্রকৃত অর্থেই উহুদ পাহাড়ের মতো বড় করে তা ওজনে আনবেন।

এ হাদীসের মাধ্যমে জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়, মাইয়্যিতকে দাফন ইত্যাদির প্রতি মু’মিনদের উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলার বড় অনুগ্রহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫২-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ তাঁর মৃত্যুর দিনই মানুষদেরকে জানিয়েছেন (অথচ তিনি মারা গিয়েছিলেন সুদূর হাবশায়)। তিনি সাহাবা (সাহাবা) কিরামকে নিয়ে ঈদগায় গেলেন। সেখানে সকলকে জানাযার সালাতের জন্য কাতারবদ্ধ করলেন এবং চার তাকবীর বললেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَى لِلنَّاسِ النَّجَاشِيَّ الْيَوْمَ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَخرج بِهِمْ إِلَى الْمُصَلَّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَات

وعن ابي هريرة: ان النبي صلى الله عليه وسلم نعى للناس النجاشي اليوم الذي مات فيه وخرج بهم الى المصلى فصف بهم وكبر اربع تكبيرات

ব্যাখ্যা: হাবশার বাদশাহর উপাধী হলো নাজাশী। তার ‘আসল নাম আসহামা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকতে মুসলিমদের একটি দল তার রাজ্যে হিজরত করেছিলেন। এ বাদশাহ মুসলিম মুহাজিরদের খুব খাতির করেছিলেন। ৬ষ্ঠ অথবা ৭ম হিজরীতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নাজাশীর নিকট ইসলামের দা‘ওয়াত পত্র দিয়ে সাহাবী ‘আমর ইবনু ‘উমাইয়্যাহ্ আয যামিরীকে প্রেরণ করেন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র পেয়ে তিনি ভক্তি ভরে তা গ্রহণ করেন এবং তার চোখে মুখে লাগিয়ে চুম্বন করেন। পত্রের সম্মানে স্বীয় সিংহাসন অথবা খাটিয়া ছেড়ে সোজা মাটিতে বসে পরেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাত ভাই জা‘ফার ইবনু আবূ ত্বালিব-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ওয়াকিদী, ইবনু সা‘দ, ইবনু জারীর প্রমুখ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকদের মতে তিনি নবম হিজরীর রজব মাসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাবূক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর স্বীয় রাজ্যেই ইন্তিকাল করেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরে সাহাবীদের মধ্যে তার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেন এবং তার জন্য গায়িবী জানাযাহ্ আদায় করেন।

এ হাদীস দ্বারা মৃত সংবাদ ঘোষণা বৈধ সাব্যস্ত হয়। ইমাম বুখারী অধ্যায় বেঁধেছেনঃ

(بَابٌ الرَّجُلُ يَنْعى إِلى أَهْلِ الْمَيِّتِ بِنَفْسِه) (অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো)

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেনঃ এর দ্বারা প্রমাণিত, মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা পুরোটাই নিষিদ্ধ নয়। তবে জাহিলী যুগের রীতি পদ্ধতিতে মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা নিষেধ। সালাফদের একদল এ ব্যাপারে খুব বেশী কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, এমনকি কেউ মৃত্যুবরণ করলে তা অন্যকে জানাতেও তারা অপ্রস্ত্তত। এ হাদীস দ্বারা দূরদেশে মৃত্যুবরণকারীর গায়িবী জানাযাহ্ আদায়ের বৈধতাও প্রমাণিত হয়।

তবে এতে মনীষীদের বেশ কয়েকটি মতামত রয়েছে। একদল বিনা শর্তে এটাকে বৈধ মনে করেন। ইমাম শাফি‘ঈ, আহমাদ এবং জমহূর সালাফ এ মতের-ই প্রবক্তা। ইবনু হাযম এমনকি এ কথাও বলেছেন, কোন একজন সাহাবী থেকেও এর বিরোধিতা বা নিষেধাজ্ঞা আসেনি।

দ্বিতীয় আরেকদল কোন শর্তেই এটা বৈধ মনে করেন না। এটা হানাফী এবং মালিকীদের মত।

তৃতীয় দলের মতে মৃত্যুর দিন-ই কেবল গায়িবী জানাযাহ্ বৈধ, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলে তা বৈধ নয়।

চতুর্থ দলের বক্তব্য হলোঃ মৃত ব্যক্তি যদি ক্বিবলার দিকে থাকে তবে তার গায়িবী জানাযাহ্ বৈধ অন্যথায় নয়। ইবনু হিব্বান এ মতের অনুসারী।

পঞ্চম দলের মতে, মৃত ব্যক্তি যদি এমন দেশে থাকে যেখানে তার জানাযাহ্ আদায়ের কেউ নেই, যেমন নাজাশী, এ অবস্থায় তার গায়িবী জানাযাহ্ বৈধ অন্যথায় নয়। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়্যাহ্ (রহঃ) এ মতটি গ্রহণ করেছেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর জন্য গায়িবী জানাযাহ্ আদায় করিয়েছিলেন, এর প্রকৃতি ও বাস্তবতা নিয়ে মনীষীদের বক্তব্য হলো- ঐ সময় তার লাশ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যক্ষ করে জানাযাহ্ আদায় করেছেন, তবে লোকেরা দেখতে পায়নি। অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও লাশের মাঝের দূরত্বের ব্যবধান অথবা পর্দা উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। সুতরাং তিনি তার লাশ প্রত্যক্ষ করেই জানাযাহ্ আদায় করেছিলেন। কেউ বলেছেন, গায়িবী জানাযাহ্ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল, অন্যের বেলায় বৈধ নয়।

এর প্রত্যুত্তরে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, এ খাসের কোন দলীল সাব্যস্ত হয়নি। এভাবে কথায় কথায় খাসের দাবী করলে শারী‘আতের অনেক আহকামের দ্বারই রুদ্ধ হয়ে যাবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৩-[৮] ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)সালাতুল জানাযায় চার তাকবীর বলতেন। এক জানাযায় তিনি পাঁচ তাকবীরও বললেন। আমরা তখন তাঁকে (এর কারণ) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ তাকবীরও দিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: كَانَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ يُكَبِّرُ عَلَى جَنَائِزِنَا أَرْبَعًا وَأَنَّهُ كَبَّرَ عَلَى جَنَازَةٍ خَمْسًا فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يكبرها. رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الرحمن بن ابي ليلى قال: كان زيد بن ارقم يكبر على جناىزنا اربعا وانه كبر على جنازة خمسا فسالناه فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكبرها. رواه مسلم

ব্যাখ্যা : জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) চার তাকবীরে আদায় করতে হয়। এ হাদীসে পাঁচ তাকবীরের উল্লেখ রয়েছে। তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে ইমাম ও ফকীহদের ইখতিলাফ বিদ্যমান।

ফাতহুল বারী, আল মুহাল্লা, মুগনী, মাসবূত প্রভৃতি গ্রন্থে ইমাম আবূ ইউসুফ ও আহলে জাওয়াহিরদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তারা পাঁচ তাকবীরের পক্ষপাতি ছিলেন।

কেউ কেউ বলেছেন, চারের অধিক তাকবীর বিশেষ মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের সৌজন্যে। যেমন ‘আলী (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফ-এর জানাযায় ছয় তাকবীর প্রদান করে বললেন, তিনি একজন বাদরী সাহাবী। ত্বহাবী, ইবনু আবী শায়বাহ্, দারাকুত্বনী, বায়হাক্বী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন, ‘আলী (রাঃ) বাদরী সাহাবীদের জন্য ছয়, সাধারণ সাহাবীদের জন্য পাঁচ, অন্যান্য মুসলিমদের জন্য চার তাকবীর দিতেন।

অন্য আরেক শ্রেণীর ‘আলিম বলেন, এটা ইমাম সাহেবের ইখতিয়ার সে যে কয় তাকবীর ইচ্ছা দিতে পারবে। মুক্তাদীগণ ইমামের পূর্ণ ইত্তেবা করবে। মুনযিরী ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে নয়, সাত, পাঁচ ও চার তাকবীরের বিবরণ উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) বলেছেন, তোমাদের ইমাম যে কয় তাকবীর দেয় তোমরাও সে কয় তাকবীর দাও।

তিন ইমাম সহ জমহূর সাহাবী, তাবি‘ঈন পরবর্তী আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন তথা সালাফ ও খালাফগণ জানাযার সালাতে চার তাকবীরের পক্ষপাতি ছিলেন, এর বেশীও নয় কমও নয়। এরা চারের অধিক তাকবীর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা মানসূখ বা রহিত বলে মনে করেন; কিন্তু এ কথাও প্রশ্নাতীত নয়। আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট অধিক গ্রহণীয় মত হলো চারের অধিক তাকবীর দিবে না।

কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এটাই ছিল সাধারণ ‘আমল ও রীতি। তবে ইমাম সাহেব যদি পাঁচ তাকবীর দিয়ে ফেলে তাহলে মুক্তাদীরা তার অনুসরণ করবে। কেননা পাঁচ তাকবীরের হাদীসও রদ করার মতো নয়।

চারের কম তাকবীর মোটেও বৈধ নয়, কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন মারফূ' হাদীসেই চারের কমের কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৪-[৯] ত্বলহাহ্ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস-এর পেছনে এক জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তিনি এতে সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়েছেন এবং বলেছেন, আমি (স্বরবে) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ এজন্য পড়েছি, যেন তোমরা জানতে পারো সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়া সুন্নাত। (বুখারী)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ فَقَالَ: لِتَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن طلحة بن عبد الله بن عوف قال: صليت خلف ابن عباس على جنازة فقرا فاتحة الكتاب فقال: لتعلموا انها سنة. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: জানাযার সালাতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ বা চিরাচরিত নিয়ম। এ শাশ্বত সুন্নাহর ‘আমলকে সার্বজনীন করার জন্য বা তার অবহতির জন্য ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) জানাযার সালাতে জোরে জোরে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করেছেন। এটা তার নিজের বক্তব্যেই প্রকাশ করেছেন। সুতরাং জানাযার সালাতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করতে হবে এ হাদীস তার প্রকৃষ্ঠ দলীল। (অসংখ্য সাহাবীদের মধ্যে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করলেন এবং সুন্নাত বলে দাবী করলেন এতে একজন সাহাবীও তার প্রতিবাদ অথবা বিরোধিতা করেননি, সুতরাং এটা ইজমায়ে সাহাবীর মর্যাদা রাখে)।

এছাড়াও বহু সাহাবী থেকে জানাযার সালাতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মুনযিরী এর বিস্তারিত তথ্যাদি পেশ করেছেন।

ইমামদের মধ্যে আয়িম্মায়ে সালাসা তথা ইমাম শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাকসহ অসংখ্য ইমাম ও ফকীহ এ মতেরই অনুসারী ছিলেন।

ইমাম তুরকিমানী বলেনঃ হানাফীদের নিকট জানাযার সালাতের সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ ওয়াজিবও নয় মাকরূহও নয়। মালিকীদের মতে এটা মাকরূহ। ইমাম মালিক বলেছেনঃ আমাদের মদীনায় এ ‘আমল প্রচলিত নয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ ইমাম মালিক-এর এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছেন, আবূ হুরায়রাহ্, আবূ ‘উমামাহ্, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব প্রমুখসহ মদীনার বড় বড় সাহাবী, তাবি‘ঈ ও ফকীহ থেকে (সূরাহ্ আল ফা-তিহার) ক্বিরাআত (কিরআত) পাঠের ‘আমল পাওয়া সত্ত্বেও তিনি কিভাবে বললেন, এটা মদীনাবাসীর ‘আমল নয়? এরপরও কথা হলো এই যে, মদীনাবাসীদের কোন ‘আমল শারী‘আতের দলীল নয়।

ইবনু ‘আব্বাস-এর কথা- ‘এটা সুন্নাত’, এ সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিরাচরিত সুন্নাহ বা নিয়ম। সুন্নাহ মানে ফারযের (ফরযের/ফরজের) বিপরীত এমনটি নয়, এটা ইস্তিলাহে উরফী বা স্বভাবসিদ্ধ পরিভাষা। আশরাফ বলেছেন, সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা বিদ্‘আতের বিপরীত। আল্লামা কুসতুলানী বলেনঃ সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটা শার‘ঈ প্রণেতার পথ ও পন্থা। সুন্নাহ বলা এটা ওয়াজিব হওয়াকে নিষেধ করে না। ইমাম শাফি‘ঈ বলেনঃ অধিকাংশ ‘আলিমের নিকট কোন সাহাবীর সুন্নাহ দাবী এটা মারফূ' হাদীসের মর্যাদা রাখে। (ইবনু ‘আব্বাস-এর আরেকটি বর্ণনা ১৬৭৩ নং হাদীসে দেখুন)

জানাযার সালাতে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ কোথায় পাঠ করতে হবে? এ হাদীসে তার উল্লেখ নেই। কিন্তু ইমাম শাফি‘ঈর কিতাবুল উম্ম, বায়হাক্বী, নাসায়ী প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে জাবির (রাঃ) প্রমুখাত হাদীসে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে প্রথম তাকবীর দিয়েই সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করবে।

মুসন্নাফে ‘আবদুর রাযযাক্ব, নাসায়ী প্রভৃতি গ্রন্থে আবূ ‘উমামাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জানাযার সালাতে সুন্নাত হলো প্রথম তাকবীর দিয়ে উম্মুল কুরআন সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করবে। এরপর (তাকবীর দিয়ে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পড়বে..... প্রথম তাকবীর ছাড়া ক্বিরাআত (কিরআত) পড়বেন।

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) জানাযায় ক্বিরাআত (কিরআত) পড়তেন না মর্মে যে কথাটি রয়েছে এর উপর ভিত্তি করে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ বর্জন মোটেও সঠিক নয়। কেননা এটা ছিল তার ব্যক্তিগত ‘আমল। তাছাড়া তিনি ক্বিরাআত (কিরআত) পড়তেন না। তার অর্থ এই নয় যে, তিনি সূরাহ্ আল ফা-তিহাও পাঠ করতেন না বরং এর অর্থ হলো তিনি সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ ছাড়া অন্য কোন সূরাহ্ পাঠ করতেন না। উপরন্তু এটি নেতিবাচক কথা, আর সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের হাদীসটি হলো ইতিবাচক; উসূলে হাদীস তথা হাদীস বিজ্ঞানের মূলনীতি হলো ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’টি হাদীস পরস্পর সাংঘর্ষিক হলে ইতিবাচক হাদীসটি প্রাধান্য পাবে। সর্বোপরি সাহাবীর কোন কথা বা ‘আমল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাশ্বত সুন্নাহকে বর্জন কিংবা রহিত করতে পারে না।

সমস্ত উম্মাতের ইজমা বা ঐকমত্য হলো, জানাযার সালাতও সালাতের অন্তর্ভুক্ত। এতে রয়েছে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো, হাত বাঁধা, জামা‘আত হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং অন্যান্য সালাতের ন্যায় এখানে ক্বিরাআত (কিরআত) পাঠও আবশ্যক। তাছাড়াও সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের নির্দেশ ও ‘আমল সংক্রান্ত সুস্পষ্ট হাদীস যেখানে বিদ্যমান সেখানে সংশয় সন্দেহ আর কি থাকতে পারে?

জানাযাহ্ আদায়কালে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ অন্যান্য দু‘আগুলো স্বরবে না নীরবে পড়বে এ নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ইবনু ‘আব্বাসের হাদীসের ভিত্তিতে কতিপয় ‘আলিম জোরে পাঠ করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। কিন্তু জমহূর ইমাম ও মুহাদ্দিসের মতে নীরবে পাঠ করাটাই মুস্তাহাব। আরেকদল বলেন, জোরে আস্তে পড়া হলো ইমামের ইখতিয়ার সে জোরেও পড়তে পারে আস্তেও পড়তে পারে।

শাফি‘ঈ মাযহাবের কোন কোন ‘আলিম বলেছেনঃ জানাযাহ্ রাতে পড়লে জোরে ক্বিরাআত (কিরআত) পড়তে আর দিনে হলে আস্তে ক্বিরাআত (কিরআত) পড়বে।

‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী বলেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস-এর জোরে পড়ার বিষয়টি ছিল শিক্ষার জন্য, জোরে পড়াই যে সুন্নাত এ উদ্দেশ্য নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৫-[১০] ’আওফ ইবনু মালিক (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। জানাযায় যেসব দু’আ তিনি পড়েছেন তা আমি মুখস্থ করে রেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মাগফির লাহূ ওয়ারহামহু ওয়া ’আ-ফিহী ওয়া’ফু ’আনহু ওয়া আকরিম নুযুলাহূ ওয়া ওয়াসসি’ মুদখলাহূ ওয়াগসিলহু বিলমা-য়ি ওয়াসসালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্কিহী মিনাল খত্বা-ইয়া- কামা- নাক্কায়সাস্ সাওবাল আব্ইয়াযা মিনাদ্ দানাসি ওয়া আবদিলহু দা-রান খয়রাম্ মিন দা-রিহী ওয়া আহলান খয়রাম্ মিন আহলিহী ওয়া যাওজান খয়রাম্ মিন যাওজিহী ওয়া আদখিলহুল ওয়াআ ’ইযহু মিন ’আযা-বিল কবরি ওয়ামিন ’আযা-বান্ না-র’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহম করো, তাকে নিরাপদে রাখো। তার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করো, তাকে উত্তম মেহমানদারী করো (জান্নাতে), তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও ঠান্ডা (পানি) দিয়ে গোসল করাও। গুনাহখাতা হতে তাকে পবিত্র করো, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করো। তাকে (দুনিয়ার) তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর (জান্নাতে) দান করো, তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবারও দান করো। (দুনিয়ার) স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী (আখিরাতে) তাকে দিও। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, তাকে কবরের ’আযাব এবং জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা করো।’’)।

অপর এক বর্ণনার ভাষায়- ’’ওয়াক্বিহী ফিতনাতাল কবরি ওয়া ’আযা-বান্ না-র’’ (অর্থাৎ কবরের ফিতনাহ্ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচাও)। এ দু’আ শুনার পর আমার বাসনা জাগলো, এ মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدنس وأبدله دَارا خيرا من دَاره وَأهلا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَأدْخلهُ الْجنَّة وأعذه من عَذَاب الْقَبْر وَمن عَذَاب النَّار» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ» قَالَ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا ذَلِكَ الْمَيِّت. رَوَاهُ مُسلم

وعن عوف بن مالك قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على جنازة فحفظت من دعاىه وهو يقول: «اللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه واكرم نزله ووسع مدخله واغسله بالماء والثلج والبرد ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الابيض من الدنس وابدله دارا خيرا من داره واهلا خيرا من اهله وزوجا خيرا من زوجه وادخله الجنة واعذه من عذاب القبر ومن عذاب النار» . وفي رواية: «وقه فتنة القبر وعذاب النار» قال حتى تمنيت ان اكون انا ذلك الميت. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, এ জাতীয় হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার দু‘আ স্বশব্দে পাঠ করেছেন, (এবং স্বশব্দে পাঠ করাই মুস্তাহাব)। পক্ষান্তরে আরেকদল ‘আলিমের মত তার বিপরীত। তারা নীরবে পাঠকেই মুস্তাহাব মনে করেন। জোরে পড়ার হাদীসের ক্ষেত্রে তারা বলেন- এটা ছিল শিক্ষামূলক। তবে এ কথা সত্য যে, উভয় পদ্ধতিই বৈধ।

আখিরাতে তার উত্তম সঙ্গীর অর্থ হলো হুরে ‘ঈন (ডাগর ডাগর উজ্জ্বল সুন্দর চোখবিশিষ্টা সুন্দরী রমণীগণ)। অথবা দুনিয়ার স্ত্রীও হতে পারে, তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সিয়াম ইত্যাদির কারণে তার স্ত্রীও হুরে ‘ঈনের চেয়েও উত্তম হয়ে যাবেন। ইমাম সুয়ূতী বলেন, অধিকাংশ ফকীহের মতে এটা শুধু পুরুষের বেলায় প্রযোজ্য নারীর জন্য নয়। আল্লামা শামী বলেন, আহল এবং সঙ্গী পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো সিফাত বা গুণাবলীর পরিবর্তন, জাত বা স্বত্ত্বার পরিবর্তন নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৬-[১১] আবূ সালামাহ্ ইবনু ’আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস (রাঃ)মৃত্যুবরণ করলে (তাঁর লাশ বাড়ী হতে দাফনের জন্য আনার পর) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তার জানাযাহ্ মসজিদে আনো, তাহলে আমিও জানাযাহ্ আদায় করতে পারব। লোকেরা (জানাযাহ্ মসজিদে আনতে) অস্বীকার করলেন (কারণ তারা ভাবলেন, মসজিদে জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কিভাবে আদায় করা যেতে পারে)। তখন ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বায়যা’ নাম্নী মহিলার দু’ছেলে সুহায়ল ও তার ভাইয়ের জানাযার সালাত মসজিদে আদায় করিয়েছেন। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَة لما توفّي سعد بن أبي وَقاص قَالَت: ادخُلُوا بِهِ الْمَسْجِد حَتَّى أُصَلِّي عَلَيْهِ فَأُنْكِرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَقَدْ صَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ابْنَيْ بَيْضَاءَ فِي الْمَسْجِدِ: سُهَيْلٍ وَأَخِيهِ. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي سلمة بن عبد الرحمن ان عاىشة لما توفي سعد بن ابي وقاص قالت: ادخلوا به المسجد حتى اصلي عليه فانكر ذلك عليها فقالت: والله لقد صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابني بيضاء في المسجد: سهيل واخيه. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: সালাতুল জানাযায় পুরুষদের সাথে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে এ হাদীসটি প্রামাণ্য দলীল।

এছাড়াও ইমাম হাকিম সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ ‘উমায়র ইবনু আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) ইন্তিকাল করলে আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে তার বাড়ীতে আনলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাড়ীতেই জানাযার সালাত আদায় করলেন। আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে দাঁড়ালেন আর উম্মু সুলায়ম (রাঃ) তার পিছনে দাঁড়ালেন। এদের সাথে আর কেউ ছিলেন না। এ হাদীসটি সহীহ, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ।

এটা ইমাম মালিক-এর মাযহাবও বটে, কিন্তু ইমাম শাফি‘ঈ বলেন, নারীরা জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না। এটাতো পুরুষদের সাথে নারীদের অংশ গ্রহণের কথা, কিন্তু পুরুষবিহীন শুধুমাত্র নারীরা জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারবে কিনা?

এ প্রশ্নে ইমাম ইবনুল কুদামাহ্ বলেন, মহিলাগণ জামা‘আত করতে পারবে, তবে ইমাম কাতারের মাঝে দাঁড়াবে।

ইমাম আহমাদ এর উপর (কুরআন-হাদীসের) নস পেশ করেছেন। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-ও এমন কথাই বলেছেন।

ইমাম শাফি‘ঈ বলেন, মহিলাগণ একা একা সালাত আদায় করবে, তবে যদি জামা‘আত করেই ফেলে তাও বৈধ।

এ হাদীস আরো প্রমাণ করে যে, মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা জায়িয। শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাক্ব সহ জমহূরের এটাই মত। ইমাম মালিক ও আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) তার বিপরীত মত পেশ করেছেন। এ মতাবলম্বীদের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নির্দেশের উপর সাহাবীরা আপত্তি করেছিলেন। এর প্রত্যুত্তরে মুহাদ্দিসগণ বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ওপর আপত্তি করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তার লাশ মসজিদে আনা হয় এবং সকল সাহাবী সে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। (একজনও আপত্তি করে জানাযাহ্ থেকে বিরত থাকেননি) বরং সকলেই তা মেনে নেন, আর পরবর্তীতে বিষয়টি এভাবেই স্থায়িত্ব রূপ লাভ করে। এর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী দু’ খলীফা যথাক্রমে আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ)-এর জানাযাহ্ মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বাভাবিক নিয়ম ছিল খোলা মাঠেই জানাযার সালাত আদায় করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৭-[১২] সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে এক মহিলার জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছি। মহিলাটি নিফাস অবস্থায় মারা গেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: صَلَّيْتُ وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى امْرَأَةٍ مَاتَتْ فِي نِفَاسِهَا فَقَامَ وَسَطَهَا

وعن سمرة بن جندب قال: صليت وراء رسول الله صلى الله عليه وسلم على امراة ماتت في نفاسها فقام وسطها

ব্যাখ্যা: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মৃতব্যক্তি মহিলা হলে সুন্নাত হলো ইমাম সাহেব লাশের মাঝামাঝি বা কোমর বরাবর দাঁড়াবে। কেউ যদি একাকীও জানাযাহ্ আদায় করে তার জন্যও একই হুকুম। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতামত ভিন্ন। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর এক্ষেত্রে দু’টি মত পাওয়া যায়। তার প্রসিদ্ধ মত হলো- ইমাম নারী-পুরুষ উভয়েরই সীনা বরাবর দাঁড়াবে। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে লাশের মাথা বরাবর দাঁড়াবে।

আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম আত্ তিরমিযী, ইমাম আহমাদ-এর মত বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম মহিলার মাঝ বরাবর দাঁড়াবে আর পুরুষের মাথা বরাবর দাঁড়াবে। ইমাম শাফি‘ঈ, মালিক, আহমাদ, ইসহাক্ব, আবূ ইউসুফ প্রমুখ ইমামগণের মাযহাব এটাই, আর এটা হকও বটে। সামনে আনাস (রাঃ) ও সামুরাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস এ মতেরই পোষকতায় বর্ণিত হয়েছে। স্বয়ং হিদায়া গ্রন্থে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর দ্বিতীয় মতটি এটাই বর্ণিত হয়েছে। কেননা আনাস (রাঃ) এ রকম ‘আমল করেছেন এবং বলেছেন, এটাই ‘সুন্নাত’। ইমাম ত্বহাবী (রহঃ) ইমাম আবূ হানীফার এ মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

আত্ তিরমিযীর ভাষ্যকার শায়খুল হাদীস ‘আল্লামা ‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী (রহঃ), ইবনুল হুমাম-এর বুক ও কোমর বরাবর দাঁড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যে তাবীল করেছেন তার প্রেক্ষিতে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পুরুষের মাথা বরাবর এবং নারীর কোমর বরাবর দাঁড়ানোর হাদীস প্রমাণিত হওয়ার পর অন্য কোন তাবীল বা ব্যাখ্যার দিকে ভ্রুক্ষেপ করার কোনই প্রয়োজন নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৮-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক কবরের কাছ দিয়ে গেলেন, যাতে রাতের বেলা কাউকে দাফন করা হয়েছিল। তিনি বললেন, একে কখন দাফন করা হয়েছে? সাহাবীগণ জবাব দিলেন গত রাতে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে খবর দাওনি কেন? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তাকে অন্ধকার রাতে দাফন করেছি, তাই আপনাকে ঘুম থেকে জাগানো ভাল মনে করিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِقَبْرٍ دُفِنَ لَيْلًا فَقَالَ: «مَتَى دُفِنَ هَذَا؟» قَالُوا: الْبَارِحَةَ. قَالَ: «أَفَلَا آذَنْتُمُونِي؟» قَالُوا: دَفَنَّاهُ فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ فَكَرِهْنَا أَنْ نُوقِظَكَ فَقَامَ فَصَفَفْنَا خَلفه فصلى عَلَيْهِ

وعن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بقبر دفن ليلا فقال: «متى دفن هذا؟» قالوا: البارحة. قال: «افلا اذنتموني؟» قالوا: دفناه في ظلمة الليل فكرهنا ان نوقظك فقام فصففنا خلفه فصلى عليه

ব্যাখ্যা: কবরস্থ ব্যক্তির নাম ছিল ত্বলহাহ্ ইবনু বারা ইবনু ‘উমায়র। তিনি আনসারদের সাথে মৈত্রী বা সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন।

এ বিশুদ্ধ হাদীসসহ আরো কিছু হাদীস দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় যে, রাত্রিবেলা দাফন করা বৈধ। খুলাফায়ে রাশিদীনের মধ্যে আবূ বাকর, ‘উমার (রাঃ) প্রমুখগণও রাত্রিতে দাফন করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নন্দিনী ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-কেও ‘আলী (রাঃ) রাত্রিকালেই দাফন করেছেন।

ইমাম শাফি‘ঈ, মালিক, আহমাদ, (এর প্রসিদ্ধ মত) ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইসহাক্ব (রহঃ) প্রমুখ ইমামসহ জমহূর ‘আলিমের মত ও মাযহাব এটাই।

পক্ষান্তরে ক্বাতাদাহ্, হাসান বসরী, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব প্রমুখ ‘আলিমগণের মতে রাত্রিকালে দাফন করা বৈধ নয়। ইবনু হাযম বলেন, একান্ত প্রয়োজন বা সমস্যা ছাড়া রাতে দাফন করা বৈধ নয়। এরা জাবির (রাঃ)-এর হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। জাবির (রাঃ)-এর হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি ইন্তিকাল করলে লোকেরা তাকে রাতে দাফন করে ফেলেন। খবর শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রাতে দাফন করার কারণে তিরস্কার করলেন এবং বললেন, একান্ত বাধ্য না হলে রাতে দাফন করবে না। আর যখন কারো কাফন দিবে তাকে উত্তম কাফন দিবে।

জমহূরের পক্ষ থেকে এ হাদীসের প্রত্যুত্তরে বলা হয় যে, লোকেরা রাতের অন্ধকারে নিকৃষ্ট কাপড় দিয়েই তাকে দাফন করেছিল, তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাদের তিরস্কার করেন এবং রাতের বেলা কবর দিতে নিষেধ করেন। ইমাম ত্বহাবী (রহঃ) বলেন, সকল মুসলিম যাতে জানাযায় অংশগ্রহণ পূর্বক (জানাযাহ্ আদায়ের) ফাযীলাত লাভ করতে পারে তাই রাতের অন্ধকারে সামান্য কতিপয় লোক নিয়ে জানাযাহ্ আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা প্রথম দিকে ছিল পরবর্তীতে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। অথবা জানাযাহ্ আদায় না করিয়েই রাতে দাফন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ক্ববরের উপর জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের বৈধতাও এ হাদীস থেকে প্রমাণিত। চাই তার জানাযাহ্ আদায় করে দাফন করা হোক চাই বিনা জানাযায় দাফন করা হোক। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ আহলে ‘ইলম সাহাবী এবং বিজ্ঞ তাবি‘ঈ ও তৎপরবর্তী ইমাম মুজতাহিদ এ মতই অবলম্বন করেছেন। আবূ মূসা, ইবনু ‘উমার, ‘আয়িশাহ্, ‘আলী, ইবনু মাস্‘ঊদ, আনাস, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ক্বাতাদাহ্ প্রমুখ সাহাবী এবং তাবি‘ঈ হতে এতদসংক্রান্ত বর্ণনা রয়েছে।

ইমাম শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাক্ব, আওযা‘ঈ প্রমুখসহ সমস্ত হাদীসবিদ এ মতের-ই অনুসারী ছিলেন। এ বিষয়ে অনেক সহীহ ও হাসান হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম নাখ্‘ঈ, সাওরী, মালিক, আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) প্রমুখ বলেন, মাইয়্যিতের ওলী উপস্থিত থেকে জানাযাহ্ হয়ে গেলে ঐ ব্যক্তির পুনঃ জানাযাহ্ জায়িয নেই। আর এ অবস্থা ছাড়া ক্ববরের উপরও জানাযাহ্ বৈধ নয়। অনুরূপ জানাযাহ্ ছাড়া দাফন হয়ে থাকলে তার জন্যই কেবল ক্ববরের উপর জানাযাহ্ বৈধ অন্যথায় নয়।

কেউ কেউ বলেছেন, দাফনের পর ক্ববরের উপর সালাত আদায়ের বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল। কিন্তু আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দলীলের প্রয়োজন, কিন্তু এখানে তা নেই। ইমাম ইবনু হাযম বলেন, উল্লেখিত বাক্যে এমন দলীল নেই যে, এটা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল। তাছাড়া অন্যের জন্য ক্ববরের উপর সালাত আদায়ের কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই।

ক্ববরের উপর জানাযার সালাত কতদিন পর্যন্ত চলবে? এটা নিয়েও কিছুটা মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

ইমাম আহমাদ, ইসহাক্ব ও শাফি‘ঈর অনুসারীরা একমাসকাল পর্যন্ত সালাত আদায় বৈধ মনে করেন।

ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেন, একমাত্র ওলী তিনদিন পর্যন্ত সালাত আদায় করতে পারবে। কিন্তু অন্যেরা আদায় করতেই পারবে না। নির্ভরযোগ্য একদল ‘উলামার মতে সর্বদাই ক্ববরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা চলবে। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুহাদায়ে উহুদের ক্ববরের উপর আট বছর পর জানাযাহ্ আদায় করিয়েছেন। এদের আরো যুক্তি হলো- সালাতুল জানাযার উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ। সুতরাং তা সর্বসময়ের জন্যই বৈধ, আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কোন সময়ও নির্ধারণ করে দেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৫৯-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন কালো মহিলা অথবা একটি যুবক (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মসজিদে নাবাবী ঝাড়ু দিত। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। তিনি সে মহিলা অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলল, সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? (তাহলে আমিও জানাযায় শরীক থাকতাম।) বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ মহিলা বা যুবকের বিষয়টিকে ছোট বা তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে কোথায় কবর দেয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে তার কবর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার (কাছে গেলেন ও) কবরে জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন, তারপর বললেন, এ কবরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল। আর আমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের ফলে আল্লাহ তা’আলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম; এ হাদীসের ভাষা মুসলিমের)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ أَوْ شَابٌّ فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا: مَاتَ. قَالَ: «أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي؟» قَالَ: فَكَأَنَّهُمْ صَغَّرُوا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَهُ. فَقَالَ: «دلوني على قَبره» فدلوه فصلى عَلَيْهَا. قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةٌ ظُلْمَةً عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ» . وَلَفظه لمُسلم

وعن ابي هريرة ان امراة سوداء كانت تقم المسجد او شاب ففقدها رسول الله صلى الله عليه وسلم فسال عنها او عنه فقالوا: مات. قال: «افلا كنتم اذنتموني؟» قال: فكانهم صغروا امرها او امره. فقال: «دلوني على قبره» فدلوه فصلى عليها. قال: «ان هذه القبور مملوءة ظلمة على اهلها وان الله ينورها لهم بصلاتي عليهم» . ولفظه لمسلم

ব্যাখ্যা: ক্ববরের উপর জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা যারা বৈধ মনে করেন না- এ হাদীসটিও তাদের ঐ দাবীকে খন্ডন করে দেয়। ক্ববরের উপর জানাযাহ্ আদায় করাটাছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বিজ্ঞচিত যুগান্তকারী কাজ। এটা ছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা‘আত; কারো মর্যাদার জন্য অথবা কাউকে তুচ্ছ করার জন্য নয়। আর এর বিধানও ব্যক্তির জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং সার্বজনীন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬০-[১৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদ করা গোলাম কুরায়ব ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। ইবনু ’আব্বাস-এর এক ছেলে (মক্কার নিকটবর্তী) ’কুদায়দ’ অথবা ’উসফান’ নামক স্থানে মারা গিয়েছিল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! জানাযার জন্য কেমন লোক জমা হয়েছে দেখো। কুরায়ব বলেন, আমি বের হয়ে দেখলাম, জানাযার জন্য কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। অতঃপর তাকে আমি এ খবর জানালাম। তিনি বললেন, তোমার হিসেবে তারা কি চল্লিশজন হবে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তখন বললেন, তাহলে সালাতের জন্য তাকে বের করে আনো। কারণ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিম মারা গেলে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি এমন চল্লিশজন যদি তার জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা এ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবূল করেন। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ مَاتَ لَهُ ابْنٌ بِقُدَيْدٍ أَوْ بِعُسْفَانَ فَقَالَ: يَا كُرَيْبُ انْظُرْ مَا اجْتَمَعَ لَهُ مِنَ النَّاسِ قَالَ: فَخَرَجْتُ فَإِذَا نَاسٌ قَدِ اجْتَمَعُوا لَهُ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: تَقُولُ: هُمْ أَرْبَعُونَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَخْرِجُوهُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلًا لَا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا شَفَّعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن كريب مولى ابن عباس عن عبد الله بن عباس انه مات له ابن بقديد او بعسفان فقال: يا كريب انظر ما اجتمع له من الناس قال: فخرجت فاذا ناس قد اجتمعوا له فاخبرته فقال: تقول: هم اربعون؟ قال: نعم. قال: اخرجوه فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من رجل مسلم يموت فيقوم على جنازته اربعون رجلا لا يشركون بالله شيىا الا شفعهم الله فيه» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এখানে চল্লিশজন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারীকে শির্ক মুক্ত হতে হবে মর্মে শর্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইবনু মাজার এক বর্ণনায় শির্কের শর্ত ছাড়াই শুধু চল্লিশজন মু’মিনের কথা বলা হয়েছে।

চল্লিশজন মু’মিন কারো পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করলে অথবা তার জন্য দু‘আ করলে আল্লাহ তা‘আলা তার দু‘আ কবূল করবেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬১-[১৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সালাতে জানাযায় একশতজন মুসলিমের দল হাযির থাকবে, তাদের প্রত্যেকেই তার জন্য শাফা’আত (মাগফিরাত কামনা) করবে। তাহলে তার জন্য তাদের এ শাফা’আত (কবূল) হয়ে যাবে। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ مَيِّتٍ تُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ: إِلَّا شفعوا فِيهِ . رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ما من ميت تصلي عليه امة من المسلمين يبلغون ماىة كلهم يشفعون له: الا شفعوا فيه . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: একশত মুসলিম জানাযায় অংশগ্রহণ পূর্বক মাইয়্যিতের জন্য সুপারিশ করলে আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবূল করবেন। এ সুপারিশের অর্থ দু‘আ।

জানাযার লোক বেশী হওয়া চাই যাতে তাদের দু‘আ কবূলযোগ্য হয় এবং মৃত ব্যক্তি এর মাধ্যমে সফলতা লাভ করতে পারেন। মৃত ব্যক্তির জন্য সুপারিশকারীদের দু’টি শর্ত থাকতে হবে।

(এক) সুপারিশকারীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে এবং শির্কমুক্ত থাকতে হবে।

(দুই) সুপারিশকারী খালেসভাবে দু‘আ মাগফিরাত কামনা করবে।

মালিক ইবনু হুবায়রার হাদীসে এসেছে তিন কাতার লোক যার জানাযায় অংশগ্রহণ করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য (জান্নাত) ওয়াজিব করে দেন।

তিন কাতার, চল্লিশজন এবং একশতজন অংশগ্রহণের এ নানামুখী বর্ণনার ব্যাপারে ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, প্রথমে একশতজনের সুপারিশের কথা বলা হয়েছিল, তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর চল্লিশজনের, অতঃপর তিন কাতারের কথা জানানো হয়েছিল ফলে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  সেভাবেই পর্যায়ক্রমে হাদীস বর্ণনা করে জনগণকে অবহিত করেছেন।

ক্বাযী ‘আয়ায (রহঃ) বলেন, প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের ভিন্নতাসাপেক্ষে (উত্তরের) এ ভিন্নতা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬২-[১৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (একবার) এক জানাযায় গেলেন। সেখানে তারা মৃতের প্রশংসা করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। (ঠিক) এভাবে তারা আর এক জানাযায় গেলেন সেখানে তারা তার বদনাম করতে লাগলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এ কথা শুনে ’উমার (রাঃ) জানতে চাইলেন। কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? (হে আল্লাহর রসূল!) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির প্রশংসা করেছ, তার জন্য জান্নাতপ্রাপ্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার বদনাম করেছ, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। (বুখারী, মুসলিম; অন্য আর এক বর্ণনার ভাষা হলো তিনি বলেছেন, মু’মিন আল্লাহ তা’আলার সাক্ষী।)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَرُّوا بِجَنَازَةٍ فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ» ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا. فَقَالَ: «وَجَبَتْ» فَقَالَ عُمَرُ: مَا وَجَبَتْ؟ فَقَالَ: «هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ أَنْتُم شُهَدَاء الله فِي الأَرْض» . وَفِي رِوَايَةٍ: «الْمُؤْمِنُونَ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»

وعن انس قال: مروا بجنازة فاثنوا عليها خيرا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «وجبت» ثم مروا باخرى فاثنوا عليها شرا. فقال: «وجبت» فقال عمر: ما وجبت؟ فقال: «هذا اثنيتم عليه خيرا فوجبت له الجنة وهذا اثنيتم عليه شرا فوجبت له النار انتم شهداء الله في الارض» . وفي رواية: «المومنون شهداء الله في الارض»

ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, اَلْوُجُوْبُ (উজূব) দ্বারা উদ্দেশ্য الثبوت সাব্যস্ত হওয়া। ওয়াজিব হওয়া কোন বস্ত্তর ক্ষেত্রেই কেবল প্রযোজ্য। আল্লাহর ওপর কোন কিছু ওয়াজিব হয় না। আল্লাহ যে সাওয়াব দেন এটা তার অনুগ্রহ, আর তিনি যদি কোন শাস্তি দেন তবে সেটা তার ন্যায় বিচার। তিনি যা করেন সে ব্যাপারে কেউ তার উপর কোন প্রশ্ন তুলতে পারে না। সহীহুল বুখারীতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ ‘‘তোমরা যার উপর ভাল প্রশংসামূলক সাক্ষ্যদান করেছ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে’’। এটি অন্যান্য বর্ণনার তুলনায় অধিক স্পষ্ট।

এটা সাহাবীগণের জন্যই খাস নয়, বরং ঈমান ইয়াকীনে যে কেউই ঐ গুণাবলী অর্জনে সক্ষম হবে সে এ মর্যাদা পাবে।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ ‘‘তোমরা (জমিনে) আল্লাহর সাক্ষী’’। আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ এর অর্থ এই নয় যে, সাহাবীগণ বা মু’মিনগণ কারো ব্যাপারে যা বলল তাই হলো। কারণ যে জান্নাতের হকদার সে কখনো তাদের কথায় জাহান্নামী হতে পারে না অনুরূপ তার বিপরীতও হতে পারে না। বরং এর অর্থ হলো লোকেরা যার জীবনে কল্যাণকর কাজ দেখবে তার-ই প্রশংসা করবে। আর কল্যাণকর কাজ-ই তো জান্নাতে যাওয়ার কারণ ও আলামত। সুতরাং নেক ‘আমল দেখে তার ব্যাপারে বলা যায় সে জান্নাতী। (এটাই হলো মু’মিনদের সাক্ষী)।

আল্লামা নাবাবী বলেন, আহলে ফাযল এবং দীনদারগণ যাদের প্রশংসা করে তাদের জন্যই এ কথা খাস। এ প্রশংসা যদি বাস্তবতার অনুকূলে হয় তাহলে সে জান্নাতী আর যদি বাস্তব ‘আমলের বিপরীত হয় তাহলে সে জান্নাতী হবে না। কিন্তু সত্য কথা হলো এ হুকুম ‘আম এবং মুত্বলাক্ব। মু’মিন ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ তখন মানুষের অন্তরে ইলহাম করে দেন ফলে সে তার বড় বড় প্রশংসা করে। এটাও তার জান্নাতী হওয়ার দলীল, ‘আমল তার যাই হোক। আর শাস্তি দেয়া যেহেতু আল্লাহর জন্য আবশ্যক নয়, বরং তার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। এর দ্বারা আমরা প্রমাণ (ও আশা) করতে পারি যে, এ প্রশংসার খাতিরে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। সুতরাং প্রশংসার উপকারিতা অবশ্যই সাব্যস্ত। তা না হলে শুধু কর্মই যদি জান্নাতের জন্য যথেষ্ঠ হত তাহলে প্রশংসা বেকার হত, আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশংসার কথা বলতেন না। অথচ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সন্দেহাতীতভাবে তা প্রমাণিত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৩-[১৮] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির ভাল হবার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা আরয করলাম, যদি তিনজন (সাক্ষ্য দেয়)। তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা (আবার) আরয করলাম, যদি দু’জন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দু’জন সাক্ষ্য দিলেও। তারপর আমরা আর একজনের (সাক্ষ্যের) ব্যাপারে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। (বুখারী)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ» قُلْنَا: وَثَلَاثَةٌ؟ قَالَ: «وَثَلَاثَةٌ» . قُلْنَا وَاثْنَانِ؟ قَالَ: «وَاثْنَانِ» ثُمَّ لم نَسْأَلهُ عَن الْوَاحِد. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ايما مسلم شهد له اربعة بخير ادخله الله الجنة» قلنا: وثلاثة؟ قال: «وثلاثة» . قلنا واثنان؟ قال: «واثنان» ثم لم نساله عن الواحد. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: সাক্ষ্য দানের নিসাব অধিকাংশ সময় দু’জন, এটা ন্যূনতম পরিমাণ, সুতরাং এ দু’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। জান্নাত লাভের মতো একটি মহান মর্যাদা লাভ দু’জনের চেয়ে কমে সাক্ষ্যতে লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য ‘উমার (রাঃ) একজনের ব্যাপারে আর প্রশ্ন তোলেননি। দ্বিতীয়তঃ জান্নাত লাভের দুর্লভ মর্যাদা মাত্র একজন ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পাওয়া সে তো সুদূর পরাহত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৪-[১৯] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে। (বুখারী)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قدمُوا» رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تسبوا الاموات فانهم قد افضوا الى ما قدموا» رواه البخاري

ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তিদের গালি দেয়ার নিষেধাজ্ঞাটি ‘আম বা সার্বজনীন। মুসলিম কাফির এতে কোন ভেদাভেদ নেই। কেউ কেউ বলেছেনঃ এ নিষেধাজ্ঞাটি শুধু মুসলিমের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের বেলায় নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

কেননা الْأَمْوَاتَ শব্দের মধ্যে লাম বর্ণটি عهدى বা জানা, অর্থাৎ জানা-বিশেষ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। সুতরাং এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মৃতদের গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, স্বতন্ত্র দলীল না আসা পর্যন্ত হাদীসের অর্থ ‘আমভাবেই গ্রহণ করতে হবে। যেমন- হাদীসের রাবীদের সমালোচনা করা বৈধ। এতে স্বতন্ত্র দলীল এবং উম্মাতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সমালোচনা জীবিত মৃত কাফির মুশরিক সকলেই সমান।

মৃতদের গালি দেয়া নিষেধের কারণ বলা হয়েছে যে, তারা তো তাদের কৃতকর্মের ফলাফল পেয়ে গেছে, এখন তোমার গালি দেয়াতে তাদের কোন ক্ষতিও হবে না এবং কোন লাভও হবে না। যেমন জীবিতদের বেলায় হয়ে থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৫-[২০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শাহীদদের দু’ দু’জনকে এক কাপড়ে জমা করেন। তারপর বলেন, কুরআন মাজীদ এদের কারো বেশী মুখস্থ ছিল? এরপর দু’জনের যার বেশী কুরআন মুখস্থ আছে বলে ইশারা করা হয়েছে, তাকে আগে কবরে রাখেন এবং বলেন, কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আমি এদের জন্য সাক্ষ্য দিব। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাদের জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)ও আদায় করেননি গোসলও দেয়া হয়নি। (বুখারী)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يجمع بَين الرجلَيْن فِي قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ يَقُولُ: «أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ؟» فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ وَقَالَ: «أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُغَسَّلُوا. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن جابر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يجمع بين الرجلين في قتلى احد في ثوب واحد ثم يقول: «ايهم اكثر اخذا للقران؟» فاذا اشير له الى احدهما قدمه في اللحد وقال: «انا شهيد على هولاء يوم القيامة» . وامر بدفنهم بدماىهم ولم يصل عليهم ولم يغسلوا. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: উহুদের শাহীদানদের দু’জনকে এক কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। এটা অনিবার্য কারণেই করা হয়েছিল। প্রশ্ন হলো দু’জনকে পর্দাহীনভাবে এক কাপড়ে কাফন দেয়া ঠিক নয় এতে দু’জনের শরীর লাগালাগি হয়ে যায়। কিন্তু হাদীসের দিকে সূক্ষ্ম দৃষ্টি দিলে এ প্রশ্ন রদ হয়ে যায়। কেননা এক কাপড় দেয়ার অর্থ এই নয় যে, পর্দাবিহীন দু’জনের শরীর একত্রে লাগালাগি হয়ে গিয়েছিল, কারণ শাহীদদের তো পরনের রক্তমাখা কাপড় খোলা হয় না, বরং পরনের কাপড়সহই কাফন দিতে হয়, সুতরাং পরস্পর শরীর লাগালাগির প্রশ্নই আসে না।

হতে পারে শাহীদের পরনের কাপড়ের উপর দিয়ে প্রতি দু’জনকে একটি করে চাদর বহিরাবরণী দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল, অথবা একটি লম্বা চাদর দু’ টুকরা করে প্রতি দু’জনকে ঢেকে দেয়া হয়েছিল সেটাই বর্ণনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে দু’জনকে এক চাদরে কাফন দেয়া হয়েছে। সর্বোপরি অনিবার্য প্রয়োজনে এটা জায়িয। প্রয়োজনে এক কাপড়ে দু’জনকে কাফন দেয়ার মতই এক ক্ববরেও দু’জনকে রাখা জায়িয। এ ক্ষেত্রে দু’জনের মধ্যে যার কুরআনের জ্ঞান বেশী হবে তাকেই আগে ক্ববরে রাখতে হবে এবং ক্বিবলার দিকে রাখতে হবে। এটাই মহাগ্রন্থ আল কুরআনের মর্যাদার কারণে।

ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সাক্ষ্য দিবেন, এটাও শাহীদদের সম্মান ও মর্যাদার কারণে।

এখানে জানা গেল যে, কাফিরদের সাথে যুদ্ধে নিহত শাহীদদের গোসল এবং জানাযাহ্ কোনটিই দিতে হবে না। এর প্রমাণে অনেক হাদীস রয়েছে। ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহাক্ব প্রমুখ ইমামগণ এ মতই অবলম্বন করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) এবং অন্য কতিপয় ‘আলিম সাধারণ মৃত্যুদের মতই শাহীদদেরও গোসল-জানাযার কথা বলেছেন। তিনি ‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির-এর হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির বলেনঃ

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শাহীদদের জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। শাফি‘ঈদের পক্ষ থেকে এর প্রতিউত্তরে বলা হয়েছেঃ এ সালাতের অর্থ (প্রচলিত) সালাত নয় বরং দু‘আ ইস্তিগফার। ইমাম নাবাবীও বলেন, সালাতের অর্থ এখানে দু‘আ। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দু‘আর অর্থই উপযুক্ত। ‘আমির ইয়ামানী বলেনঃ সালাত যে এখানে দু‘আর অর্থে এসেছে তার প্রমাণ হলো এ সালাতের জন্য তিনি সকলকে ডেকে জামা‘আতবদ্ধ করেননি যেমনটি তিনি নাজাশী বাদশাহর জানাযার ক্ষেত্রে করেছিলেন। অথচ জামা‘আতের সাথে জানাযার নামায আদায় করা অকাট্যভাবেই উত্তম। আর উহুদের শাহীদগণ তো শ্রেষ্ঠ মানুষই ছিলেন, কিভাবে এ শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোর জানাযাহ্ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাকী আদায় করলেন? আরো কথা হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ক্ববরের উপর একাকী জানাযাহ্ পড়ার কোন হাদীস বর্ণিত হয়নি।

শাহীদদের গোসল না দেয়ার হিকমাত হলো এই যে, ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন ঐ ক্ষত ও রক্ত থেকে মেশক আম্বারের ন্যায় ঘ্রাণ বের হতে থাকবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৬-[২১] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জীন ছাড়া একটি ঘোড়া আনা হলো। (এ অবস্থায়ই) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়ার উপর আরোহণ করলেন। এরপর ইবনু দাহদাহ (রাঃ)-এর জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সেরে তিনি ফিরে এলেন। আমরা তাঁর চারপাশে পায়ে হেঁটে চলছিলাম। (মুসলিম)[1]

الْمَشْيُ بِالْجَنَازَةِ وَالصَّلَاةُ عَلَيْهَا

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفَرَسٍ مَعْرُورٍ فَرَكِبَهُ حِينَ انْصَرَفَ مِنْ جَنَازَةِ ابْنِ الدَّحْدَاحِ وَنَحْنُ نمشي حوله. رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر بن سمرة قال: اتى النبي صلى الله عليه وسلم بفرس معرور فركبه حين انصرف من جنازة ابن الدحداح ونحن نمشي حوله. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ইবনু দাহদাহ হলেন সাবিত ইবনু দাহদাহ। তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু সংবাদ শুনে এবং মুসলিম মুজাহিদদের বিপর্যয় দেখে) সামনে আসলেন এবং হুংকার ছেড়ে বলে উঠলেন, হে আনসারগণ! যুদ্ধে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি শাহীদ হন তবে জেনে রেখ আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করেন না, সুতরাং তোমরা যুদ্ধ করো তোমাদের দীনের জন্য। তার এ বক্তব্য শুনে আশেপাশে যেসব মুসলিম সেনা ছিলেন তারা অস্ত্রধারণ করলেন এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে পরাজয়মুখী মুসলিম বাহিনীকে বিজয়ী করলেন। ইতিমধ্যে খালিদের বর্ষার আঘাতে তিনি শাহীদ হয়ে গেলেন। এটা ঐতিহাসিক ওয়াকিদীর মত। তিনি অন্য আরেকটি ঐতিহাসিক মত তুলে ধরে বলেন, তিনি উহুদ যুদ্ধে আহত হয়ে পরবর্তীতে ৭ম হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। ইবনু হাজার আসক্বালানী এ মতটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

রাবীর বর্ণনা- আমরা জানাযার অনুগমনে তার চারপাশ দিয়ে চলছিলাম। আল্লামা নাবাবী (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা প্রমাণিত আরোহী নেতার সাথে অনুসারীদের দল পদব্রজে গমন দোষণীয় নয়, যদি কোন সমস্যা না থাকে। সুনানে আবূ দাঊদ-এ সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক জানাযায় গমনকালে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি বাহন এনে দেয়া হলো কিন্তু তিনি তাতে আরোহণ করতে অস্বীকার করলেন। জানাযাহ্ শেষে যখন ফিরতে লাগলেন তখনো তাকে বাহন দেয়া হলো এবার তিনি এতে আরোহণ করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, নিশ্চয় মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) (জানাযার সাথে) পদব্রজে চলে থাকে। তারা হেঁটে চলছে আর আমি বাহনে উঠে চলতে পারি না। তারা যখন চলে গেছে তখন আমি বাহনে উঠলাম। ইমাম শাওকানী বলেন, এ হাদীসের সানাদ সহীহ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৭-[২২] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী চলবে জানাযার পশ্চাতে এবং পায়ে হাঁটা ব্যক্তিরা চলবে জানাযার সামনে পেছনে ডানে-বামে জানাযার কাছ ঘেষে। আর অকালে ভূমিষ্ট বাচ্চার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে, তাদের মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দু’আ করবে। (আবূ দাঊদ)[1]

ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ-এর এক বর্ণনায় রাবী বলেছেন, আরোহীরা জানাযার পেছনে থাকবে। আর পায়ে চলা ব্যক্তিরা আগেপিছে যেভাবে পারে হাঁটবে। মৃত ছোট বাচ্চাদের জন্যও জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে হবে। মাসাবীহ হতে এ বর্ণনাটি মুগীরাহ্ ইবনু যিয়াদ বর্ণনা করেছেন।

وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الرَّاكِبُ يَسِيرُ خَلْفَ الْجَنَازَةِ والماشي يمشي خلفهَا وأمامها وَعَن يَمِينهَا وَعَن يسارها قَرِيبا مِنْهَا وَالسَّقْطُ يُصَلَّى عَلَيْهِ وَيُدْعَى لِوَالِدَيْهِ بِالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَفِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ وَالتِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه قَالَ: «الرَّاكِب خلف الْجِنَازَة وَالْمَاشِي حَيْثُ شَاءَ مِنْهَا وَالطِّفْلُ يُصَلَّى عَلَيْهِ» وَفِي المصابيح عَن الْمُغيرَة بن زِيَاد

وعن المغيرة بن شعبة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الراكب يسير خلف الجنازة والماشي يمشي خلفها وامامها وعن يمينها وعن يسارها قريبا منها والسقط يصلى عليه ويدعى لوالديه بالمغفرة والرحمة» . رواه ابو داود وفي رواية احمد والترمذي والنساىي وابن ماجه قال: «الراكب خلف الجنازة والماشي حيث شاء منها والطفل يصلى عليه» وفي المصابيح عن المغيرة بن زياد

ব্যাখ্যা: এ হাদীস প্রমাণ করে যে, বাহনের উপর সওয়ার হয়ে জানাযার সাথে চলা জায়িয, পক্ষান্তরে ১৬৮৬ নং হাদীসের সাথে এটা সাংঘর্ষিক। পরস্পর বিরোধী এ দু’ হাদীসের সমন্বয় সাধনে শায়খুল হাদীস ‘আল্লামা ‘আবদুর রহমান মুবারাকপূরী (রহঃ) বলেনঃ মুগীরাহ্ কর্তৃক বর্ণিত বাহনে চলা সংক্রান্ত হাদীসটি অসুস্থ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, লেংড়া, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, মাজুর লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে সাওবান কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি সর্বসাধারণের জন্য প্রযোজ্য। অথবা সাওবানের হাদীস দ্বারা জানাযার ডানে বামে এবং আগে বা সামনে চলা বুঝানো হয়েছে যা নিষিদ্ধ, আর মুগীরার হাদীস দ্বারা পিছনে বা দূরে চলা বুঝানো হয়েছে যা বৈধ। অথবা মুগীরার হাদীস জায়িয মা‘আল কিরাহাত বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে।

অত্র হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, পদব্রজে গমনকারী জানাযার সামনে পিছনে ডানে বামে চতুর্দিক দিয়ে চলতে পারে। কেউ যদি একান্তই বাহনে চলতে বাধ্য হয় তবে সে যেন বেশখানিক পিছনে চলে।

অকালপ্রসূত সন্তানের জানাযাহ্ আদায়ের বিষয় নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। জমহূরের মত হলো ভূমিষ্ট সন্তানের মধ্যে যদি (কান্না অথবা নড়াচড়ার মাধ্যমে) প্রাণের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার জানাযাহ্ আদায় করবে অন্যথায় নয়। (এর প্রমাণে তৃতীয় পরিচ্ছেদে ১৬৯১ হাদীসে বর্ণনা আসছে)।

পক্ষান্তরে ইমাম আহমাদ (রহঃ) অত্র মুত্বলাক্ব হাদীসের ভিত্তিতে বিনা শর্তে অকালপ্রসূত সন্তানের জানাযাহ্ বৈধ মনে করেন। চার মাস দশদিনে গর্ভস্থিত সন্তানের ভিতর রূহ্ প্রবিষ্ঠ করানো হয়। সুতরাং অকালে ভূমিষ্ট এ বয়সের সকল মৃত সন্তানেরই জানাযাহ্ আদায় করবে, চাই প্রাণের স্পন্দন প্রত্যক্ষ করুক অথবা না করুক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৮-[২৩] যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহঃ) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, ’উমার (রাঃ) কে জানাযার আগে আগে হেঁটে চলতে দেখেছি। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আহলুল হাদীসগণ যেন হাদীসটি মুরসাল মনে করেছেন [কিন্তু হাদীসটি সহীহ])[1]

وَعَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ وَأَهْلُ الْحَدِيثِ كَأَنَّهُمْ يَرَوْنَهُ مُرْسَلًا

وعن الزهري عن سالم عن ابيه قال: رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم وابا بكر وعمر يمشون امام الجنازة. رواه احمد وابو داود والترمذي والنساىي وابن ماجه وقال الترمذي واهل الحديث كانهم يرونه مرسلا

ব্যাখ্যা: পদব্রজে জানাযার আগে, পিছে, ডানে, বামে, সর্বদিক দিয়ে চলা বৈধ হলেও উত্তমের ব্যাপার নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। একদল বলেন- জানাযার আগে চলাই উত্তম, এ হাদীস তাদের দলীল। ইবনু কুদামাহ্ বলেন, অধিকাংশ আহলে ‘ইলম এ মতেরই অনুসারী ছিলেন। আবূ বকর, ‘উমার, ‘উসমান, আবূ হুরায়রাহ্, হাসান ইবনু ‘আলী, ইবনু যুবায়র, আবূ ক্বাতাদাহ্, আবূ উসায়দ প্রমুখ সহাবা (সাহাবা) ও তাবি‘ঈ এবং ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণনা রয়েছে। ইমাম বায়হাক্বী যিয়াদ ইবনু ক্বায়স থেকে মদীনার আনসার এবং মুহাজির সাহাবীদেরকে জানাযার সামনে চলতে দেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষী পেশ করেছেন।

অন্য আরেকদলের বক্তব্য হলোঃ জানাযার পিছনে চলাই উত্তম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ এবং আহলে জাহির এ মতের অনুসারী। সাহাবী ‘আলী, ইবনু মাস‘ঊদ, আবূ দারদাহ, ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) প্রমুখ এ বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আওযা‘ঈ এবং ইব্রা-হীম নাখ্‘ঈ এ মতেরই অনুসারী ছিলেন। এদের বলিষ্ঠ দলীল হলো এ হাদীসঃ ‘‘মুসলিমের হক হলো জানাযার ইত্তেবা করা’’। অর্থাৎ জানাযার পিছনে চলা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘‘সে (মুসলিম) যখন মারা যায় তুমি তার জানাযার অনুসরণ করো। অর্থাৎ পিছে চলো’’। সুতরাং এদের মতে পিছে চলাই উত্তম।

তৃতীয় মত হলোঃ আগে পিছে চলা উভয়-ই প্রশস্ততা রয়েছে। গমনকারী যেখান দিয়ে ইচ্ছা চলবে। ইমাম সাওরী এ মতের প্রবক্তা। ‘আবদুর রাযযাক ইবনু আবী শায়বাহ্ আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে এ সংক্রান্ত রিওয়ায়াত উল্লেখ করেছেন। আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারাকপূরী (রহঃ) বলেন, ইমাম বুখারীর ঝোক এদিকেই।

চতুর্থ দলের মতেঃ পদব্রজে গমনকারীর আগে চলাই উত্তম আর আরোহীর জন্য পিছনে চলা উত্তম। ইমাম আহমাদ এ মত অবলম্বন করেছেন।

পঞ্চম মতঃ পঞ্চম মত অনেকটা চতুর্থ মতের মতই।

ষষ্ঠ মত হলোঃ জানাযার সন্নিকটে হলে আগে চলাই উত্তম অন্যথায় পিছনে চলবে। মিশকাতের ভাষ্যকার আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারাকপূরী (রহঃ) বলেন, আমার নিকট দ্বিতীয় মতটি গ্রহণযোগ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৬৯-[২৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাশের অনুসরণ করতে হয়। লাশ কারো অনুসরণ করে না। যে ব্যক্তি জানাযায় লাশের আগে যাবে সে জানাযার সাথের লোক নয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, বর্ণনাকারী আবূ মাজিদ মাজহূল [অজ্ঞাত লোক]।)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْجَنَازَةُ مَتْبُوعَةٌ وَلَا تَتْبَعُ لَيْسَ مَعَهَا مَنْ تَقَدَّمَهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو ماجد الرَّاوِي رجل مَجْهُول

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الجنازة متبوعة ولا تتبع ليس معها من تقدمها» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه وقال الترمذي وابو ماجد الراوي رجل مجهول

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায় জানাযার আগে চলার নয় বরং পিছনে চলবে। যারা জানাযার পিছে চলার পক্ষপাতি তারা এ হাদীস দিয়ে দলীল গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু মুহাদ্দিসীনদের বক্তব্য হলো এ হাদীসে নির্দেশ নেই। এটা স্বাভাবিক অবস্থা বা প্রচলিত নিয়মের কথা বলা হয়েছে যা মানুষ সচরাচর করে থাকে। জানাযাহ্ নিয়ে রওনা হলে সচরাচার মানুষ তার পিছনেই চলে থাকে। এ সম্পর্কে পূর্বের হাদীসে কিঞ্চিত আলোচনা হয়ে গেছে। উপরন্তু হাদীসটি সহীহ নয়, বিধায় তা দলীলের যোগ্য নয়। ইমাম বুখারী, ইমাম আত্ তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু ‘আদী, বায়হাক্বী প্রমুখ মুহাদ্দিস ও হাদীসের ভাষ্যকারগণ এ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন।

এ হাদীসের অন্যতম রাবী আবূ মাজিদ আল হানাফী তিনি মুহাদ্দিসগণের নিকট মাজহূল, মুনকার ও মাতরূক ব্যক্তি, সুতরাং তার হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭০-[২৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার অনুসরণ করেছে এবং জীবনে তিনবার জানাযার লাশ বহন করেছে সে এ ব্যাপারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করেছে। (তিরমিযী; তিনি [তিরমিযী] বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: من تبع جَنَازَة وحلمها ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ مِنْ حَقِّهَا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من تبع جنازة وحلمها ثلاث مرات: فقد قضى ما عليه من حقها . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: ‘সে তার হক আদায় করল’ বলতে জানাযার হক আদায় করল। তার অর্থনৈতিক কোন ঋণের হক নয়। এমনকি কোন গীবত করে কারো হক নষ্ট করলে সে হকও আদায় হবে না। বরং মু’মিন মু’মিনের প্রতি যে হক ছিল। যেমন- দেখা হলে সালাম করা, অসুস্থ হলে রোগ সেবা করা, মৃত্যু হলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করা; সেই মৃত্যুউত্তর জানাযার হক সে আদায় করল।

এ হাদীসের রাবী আবূ মিহযাম-এর আসল নাম হলো ইয়াযীদ ইবনু সুফ্ইয়ান; শু‘বাহ্ তাকে দুর্বল বলেছেন। সে এমন তাকে দু’টো টাকা দিলে সত্তরটি হাদীস শুনাবে। ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল জানেন। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেছেনঃ তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন। ইমাম নাসায়ী বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইবনু মু‘ঈনও তাকে য‘ঈফ বলেছেন, আরেকবার বলেছেন, তিনি কিছুই না। ইমাম দারাকুত্বনী বলেন, তিনি দুর্বল ও মাতরূক বা বর্জিত ব্যক্তি।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭১-[২৬] আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর লাশ দু’ কাঠের মাঝে ধরে বহন করেছেন।[1]

وَقَدْ رَوَى فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَمَلَ جَنَازَةَ سَعْدِ ابْن معَاذ بَين العمودين

وقد روى في «شرح السنة» : ان النبي صلى الله عليه وسلم حمل جنازة سعد ابن معاذ بين العمودين

ব্যাখ্যা: জানাযার খাটিয়া বহন মুসলিমের হক বা অবশ্য করণীয় দায়িত্ব।

ইমাম শাফি‘ঈ খাটিয়ার সামনে পিছনে এবং মাঝ বরাবর স্থানে কাঁধ লাগিয়ে বহন করাকে সুন্নাত মনে করেন।

ইমাম মালিক বলেন, লোকেরা যেভাবে সুবিধা ও ভাল মনে করে সেভাবেই বহন করবে।

ইবনু কুদামাহ্ চার পায়া বিশিষ্ট খাটিয়ার চার কোনায় চারজন ধরা বা বহন করাই সুন্নাত মনে করেন। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এরও এটাই মত।

এরপর খটিয়া কয় পায়া বিশিষ্ট হবে কে ডান কাঁধে নিবে কে বাম কাঁধে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেখতে চাইলে আল মুগনী কিতাব দেখুন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭২-[২৭] সাওবান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একদিন) এক ব্যক্তির জানাযাহ্ সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম। তিনি কিছু লোককে আরোহী অবস্থায় দেখে বললেন, তোমাদের কি লজ্জাবোধ হচ্ছে না? আল্লাহর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) নিজেদের পায়ে হেঁটে চলেছেন, আর তোমরা পশুর পিঠে বসে যাচ্ছ? (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম আবূ দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি সাওবান থেকে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।)[1]

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَرَأَى نَاسًا رُكْبَانًا فَقَالَ: «أَلَا تَسْتَحْيُونَ؟ إِنَّ مَلَائِكَةَ اللَّهِ عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَأَنْتُمْ عَلَى ظُهُورِ الدَّوَابِّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ نَحْوَهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: وَقد روى عَن ثَوْبَان مَوْقُوفا

وعن ثوبان قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في جنازة فراى ناسا ركبانا فقال: «الا تستحيون؟ ان ملاىكة الله على اقدامهم وانتم على ظهور الدواب» . رواه الترمذي وابن ماجه وروى ابو داود نحوه وقال الترمذي: وقد روى عن ثوبان موقوفا

ব্যাখ্যা: জানাযার খাটিয়ার সাথে শব যাত্রায় মালায়িকাহ্ পদব্রজে চলে থাকে, সুতরাং মানুষের উচিত বাহনে চড়ে না চলা। ইতিপূর্বে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়ে গেছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৩-[২৮] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পাঠ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ عَلَى الْجَنَازَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابن عباس: ان النبي صلى الله عليه وسلم قرا على الجنازة بفاتحة الكتاب. رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: জানাযার সালাতে (প্রথম তাকবীর দিয়েই) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করবে। এ হাদীসটিতে সানাদ দুর্বলতা রয়েছে, কিন্তু এ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে সহীহুল বুখারীতে বিশুদ্ধ সানাদে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের হাদীস বিদ্যমান থাকায় ঐ দুর্বলতা দূর হয়ে গেছে। এছাড়াও বহু রকমের হাসান সহীহ রিওয়ায়াতে জানাযায় সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের কথা বলা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে ১৬৩৯ নং হাদীসে হয়ে গেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৪-[২৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের সময় মৃত ব্যক্তির জন্য খালেস অন্তরে দু’আ করবে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: সালাতুল জানাযার উদ্দেশ্য যেহেতু মাইয়্যিতের জন্য সুপারিশ এবং মাগফিরাত কামনা, সুতরাং তা পূর্ণমাত্রায় ইখলাসের সাথে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইখলাস পূর্ণ দু‘আ-ই কবূল হয়। ইমাম শাওকানী বলেনঃ এ হাদীস প্রমাণ করে যে, প্রচলিত যে দু‘আ আছে এর দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং নির্দিষ্ট করবে না বরং অনেক দু‘আ পড়বে। মুসল্লীগণ নেক্কার বদকার সকলের জন্যই খালেস অন্তরে দু‘আ করবে। যারা পাপী তারা তো আরো অধিক দু‘আর এবং শাফা‘আতের মুহতাজ।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৫-[৩০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, তখন বলতেন,

’’আল্ল-হুম্মাগ ফিরলি হাইয়্যিনা-, ওয়া মাইয়্যিতিনা-, ওয়া শা-হিদিনা-, ওয়া গ-য়িবিনা-, ওয়া সগীরিনা-, ওয়া কাবীরিনা-, ওয়া যাকারিনা-, ওয়া উনসা-না-, আল্ল-হুম্মা মান আহ্ ইয়াইতাহু মিন্না- ফা আহয়িহী ’আলাল ইসলা-ম, ওয়ামান তাওয়াফ্ ফায়তাহূ মিন্না- ফাতা ওয়াফফাহূ ’আলাল ঈ-মান, আল্ল-হুম্মা লা- তাহরিমনা- আজরাহূ, ওয়ালা- তাফতিন্না বা’দাহ্’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নর-নারীগণকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যাদেরকে তুমি জীবিত রাখবে তাদেরকে তুমি ইসলাম ধর্মের উপর জীবিত রাখ। আর যাদের মৃত্যুদান করবে তাদের ঈমানের উপর মৃত্যুদান করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির সাওয়াব হতে বঞ্চিত করো না এবং এরপর আমাদেরকে বিপদাপন্ন করো না।)। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى عَلَى الْجَنَازَةِ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ. اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا صلى على الجنازة قال: «اللهم اغفر لحينا وميتنا وشاهدنا وغاىبنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وانثانا. اللهم من احييته منا فاحيه على الاسلام ومن توفيته منا فتوفه على الايمان. اللهم لا تحرمنا اجره ولا تفتنا بعده» . رواه احمد وابو داود والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আ ‘‘হে আল্লাহ! আমাদের ছোটদের ক্ষমা করো’’। প্রশ্ন হলো ক্ষমা প্রার্থনা তো অপরাধের পর। ছোটদের তো কোন অপরাধ-ই নেই, তাহলে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কিসের এবং কেন? এর উত্তরে ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, শিশুর জন্য মাগফিরাতের দু‘আ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করার জন্য বিবেচিত হবে। ইমাম ত্বহাবী (রহঃ) বলেন; লাওহে মাহফূজে তাদের ভাগ্যলিপির ভিত্তিতে তাদের জন্য মাগফিরাত কার্যকর হবে।

لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَه ‘‘তার আজুরা বা সাওয়াব থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না’’, এর ব্যাখ্যা হলোঃ মু’মিন মু’মিনের ভাই, ভাইয়ের মৃত্যুতে অপর ভাই ব্যথাতুর ও মুসীবাতগ্রস্ত হয়। এ সময় তাকে ধৈর্য ধারণ করতে হয় যার বিনিময়ে রয়েছে সাওয়াব ও আজুরা।

সুতরাং হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এ সাওয়াব ও আজুরা দান থেকে বঞ্চিত করো না। আর মৃত্যুর পর আমরা ধৈর্যহীন হয়ে, ঈমানহীন হয়ে যেন ফিৎনার মধ্যেও নিপতিত না হই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৬-[৩১] ইমাম নাসায়ী, ইব্রাহীম আল আশহালী হতে, তিনি তার পিতা হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি, ’’ওয়া উনসা-না-’’ পর্যন্ত তার কথা শেষ করেছেন- আর আবূ দাঊদের বর্ণনায়, ’’ফাআহয়িহী ’আলাল ঈমা-ন ওয়াতা ওয়াফফাহূ ’আলাল ইসলা-ম, ওয়ালা- তুযিল্লানা- বা’দাহু’’ উল্লেখ আছে।[1]

وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْأَشْهَلِيِّ عَنْ أَبِيهِ وانتهت رِوَايَته عِنْد قَوْله: و «أنثانا» . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ: «فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ وَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ» . وَفِي آخِرِهِ: «وَلَا تُضِلَّنَا بعده»

ورواه النساىي عن ابراهيم الاشهلي عن ابيه وانتهت روايته عند قوله: و «انثانا» . وفي رواية ابي داود: «فاحيه على الايمان وتوفه على الاسلام» . وفي اخره: «ولا تضلنا بعده»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের অন্যতম রাবী আবূ ইব্রা-হীম আল আশহাল তার নাম পরিচয় সম্পর্কে ইমাম আত্ তিরমিযী তার উস্তায ইমাম বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি তাকে চেনেননি।

এতদবর্ণনা সম্বলিত হাদীস সুনানে নাসায়ী ও আবূ দাঊদে বিদ্যমান, কিন্তু এতে শব্দের অগ্রপশ্চাৎ এবং শব্দ পার্থক্য রয়েছে। এ বর্ণনায় অর্থাৎ নাসায়ীর বর্ণনায় أنثانا শব্দ ব্যবহার হয়েছে। আর আবূ দাঊদের বর্ণনায় فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ وَتَوَفَّه عَلَى الْإِسْلَامِ ব্যবহার হয়েছে। ফাতহুল অদূদ গ্রন্থে আত্ তিরমিযীর বর্ণনাটি অধিক প্রসিদ্ধ, আর তা হলোঃ

فَأَحْيِه عَلَى الْإِسْلَامِ وَتَوَفَّه عَلَى الْإِيمَانِ তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখো এবং ঈমানের উপর মৃত দিও। এটাই যথার্থ ও বাস্তব সম্মত, কেননা ইসলাম হলো প্রকাশ্য আরকানসমূহকে ধারণ করার নাম আর এটা হায়াতের জীবনেই পালন করতে হয়। আর ঈমানটা হলো বাতিনীয় বা গোপনীয় বিষয় যা বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত যা মৃতকালে কাম্য।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেনঃ উভয়ভাবেই পড়া যায় তবে প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে পড়াই উত্তম। কেউ কেউ বলেছেন, যারা ঈমান আর ইসলামের মধ্যে কোন পার্থক্য মনে করেন না তাদের দিকে খেয়াল রেখেই বলা হয়েছে। ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, فَأَحْيِه عَلَى الْإِسْلَامِ বাক্যটিই সুসাব্যস্ত এবং অধিকাংশের মতও এটাই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৭-[৩২] ওয়াসিলাহ্ ইবনুল আসক্বা (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে একজন মুসলিম ব্যক্তির জানাযাহ্ সালাতে ইমামাত করলেন। আমরা তাঁকে (এ সালাতে) পড়তে শুনেছি,

’’আল্ল-হুম্মা ইন্না ফুলা-ন ইবনু ফুলা-ন ফী যিম্‌মাতিকা, ওয়া হাবলি জাওয়া-রিকা ফাক্বিহী মিন ফিতনাতিল কবরি ওয়া ’আযা-বিন্না-র, ওয়া আনতা আহলুল ওফা-য়ি ওয়াল হাক্কি, আল্ল-হুম্মাগফির লাহূ ওয়ারহামহু, ইন্নাকা আনতাল গফূরুর রহীম’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুককে তোমার যিম্মায় ও তোমার প্রতিবেশীসুলভ নিরাপত্তায় সোপর্দ করলাম। অতএব তুমি তাকে কবরের ফিতনাহ্ (ফিতনা) ও জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা করো। তুমি ওয়া’দা রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী। হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহমত বর্ষণ করো, তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াময়।)। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْن مَاجَه

وعن واثلة بن الاسقع قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على رجل من المسلمين فسمعته يقول: «اللهم ان فلان بن فلان في ذمتك وحبل جوارك فقه من فتنة القبر وعذاب النار وانت اهل الوفاء والحق اللهم اغفر له وارحمه انك انت الغفور الرحيم» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: মাইয়্যিতের জন্য দু‘আর সময় তার নাম এবং তার পিতার নাম ধরে দু‘আ করা বৈধ। তবে এ কাজ প্রসিদ্ধ ব্যক্তির জন্যই কেবল প্রযোজ্য।

নাম বলতে গিয়ে অমুকের পুত্র তোমার যিম্মায় এর অর্থ হলো তোমার হিফাযাত ও তোমার প্রতিশ্রুত নিরাপত্তায়। حَبْلِ অর্থ العهد মানে হিফাযাত, তোমার হিফাযাতের স্কন্ধে পেশ করলাম। জমহূর মুফাস্‌সিরীন এর দ্বারা কিতাবুল্লাহকে বুঝিয়েছেন। কেউ কেউ নৈকট্যের পথও বুঝিয়েছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৮-[৩৩] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের ভাল গুণগুলোই আলোচনা করো, তাদের খারাপ গুণ বা কাজগুলোর আলোচনা হতে বিরত থাকো। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اذْكُرُوا مَحَاسِنَ مَوْتَاكُمْ وَكُفُّوا عَنْ مُسَاوِيهِمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذكروا محاسن موتاكم وكفوا عن مساويهم» . رواه ابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তির খারাপ গুণগুলো আলোচনা করা জায়িয নয়, কেবল ভাল গুণগুলোই আলোচনা করতে হবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ- ‘‘তোমরা মৃত ব্যক্তির ভাল গুণগুলো আলোচনা করো’’, এ ‘আমর’ বা নির্দেশ মুস্তাহাব অর্থে, আর খারাপ গুণ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশটি ওয়াজিব অর্থে ব্যবহার হবে।

রাবীদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা সকল ‘আলিমের ঐকমত্যে জায়িয। কাফির ফাসিকদের দোষ-ত্রুটিও তাদের অনিষ্টতা থেকে সতর্ক থাকার লক্ষ্যে আলোচনা করা বৈধ। ফাসিক্ব বলতে যে বিদ্‘আতে লিপ্ত থাকে এবং (তাওবাহ্ না করে) ঐ অবস্থায় মারা যায়। তবে যে ব্যক্তি বিদ্‘আত ব্যতীত অন্যান্য ফাসিক্বী কাজ পুনঃপুন করে এ রকম ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি আলোচনায় যদি মুসলেহাত বা কল্যাণ থাকে তাহলে তার দোষ-ত্রুটি আলোচনা বৈধ।

জীবন্ত ব্যক্তির গীবত করার চেয়ে মৃত ব্যক্তির গীবত করা গুরুতর অপরাধ। কারণ জীবিত ব্যক্তির নিকট থেকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ নেই।

‘আলিমগণ বলেছেন, মৃতকে গোসলদানকারী যদি এমন কিছু দেখে যা তাকে অভিভূত করেছে, যেমন তার মুখ উজ্জ্বল হওয়া, তার শরীর থেকে সুগন্ধি বের হওয়া ইত্যাদি তবে তা অন্যের নিকট প্রকাশ করা মুস্তাহাব। পক্ষান্তরে খারাপ কিছু দেখলে তা প্রকাশ করা হারাম।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৭৯-[৩৪] নাফি’ আবূ গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সাথে এক জানাযায় (’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর) সালাত আদায় করেছি। তিনি [আনাস (রাঃ)] (জানাযার) মাথার বরাবর দাঁড়ালেন। এরপর লোকেরা কুরায়শ বংশের এক মহিলার লাশ নিয়ে এলেন এবং বললেন, হে আবূ হামযাহ্ (এটা আনাসের ডাক নাম) এর জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে দিন। (এ কথা শুনে) আনাস (রাঃ) খাটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জানাযার সালাত আদায় করে দিলেন। এটা দেখে ’আলা ইবনু যিয়াদ বললেন, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবে দাঁড়িয়ে সালাতে জানাযাহ্ আদায় করতে দেখেছেন, যেভাবে আপনি এ মহিলার সালাত মাঝখানে দাঁড়িয়ে ও পুরুষটির জানাযাহ্ মাথার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ালেন? আনাস (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম আবূ দাঊদ এ হাদীসটিকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে, ’’মহিলার জানাযায় তার খাটের মধ্যভাগে দাঁড়িয়েছিলেন’’ উল্লেখ করেছেন।)[1]

وَعَنْ نَافِعٍ أَبِي غَالِبٍ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَلَى جَنَازَةِ رَجُلٍ فَقَامَ حِيَال رَأسه ثمَّ جاؤوا بِجَنَازَةِ امْرَأَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالُوا: يَا أَبَا حَمْزَةَ صَلِّ عَلَيْهَا فَقَامَ حِيَالَ وَسَطِ السَّرِيرِ فَقَالَ لَهُ الْعَلَاءُ بْنُ زِيَادٍ: هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ على الْجِنَازَة مَقَامَكَ مِنْهَا؟ وَمِنَ الرَّجُلِ مَقَامَكَ مِنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ نَحْوُهُ مَعَ زِيَادَةٍ وَفِيهِ: فَقَامَ عِنْد عجيزة الْمَرْأَة

وعن نافع ابي غالب قال: صليت مع انس بن مالك على جنازة رجل فقام حيال راسه ثم جاووا بجنازة امراة من قريش فقالوا: يا ابا حمزة صل عليها فقام حيال وسط السرير فقال له العلاء بن زياد: هكذا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الجنازة مقامك منها؟ ومن الرجل مقامك منه؟ قال: نعم. رواه الترمذي وابن ماجه وفي رواية ابي داود نحوه مع زيادة وفيه: فقام عند عجيزة المراة

ব্যাখ্যা: মহিলার জানাযায় ইমাম সাহেব লাশের মাঝ বরাবর দাঁড়াবে, আর পুরুষের মাথা বরাবর। এ বিষয়ে ১৬৪৩ নং হাদীসে আলোচনা হয়ে গেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮০-[৩৫] ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) সাহল ইবনু হুনায়ফ ও ক্বায়স ইবনু সা’দ (রাঃ) ক্বাদিসিয়্যাহ্ নামক স্থানে বসেছিলেন। এ সময়ে তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযাহ্ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা উভয়েই দাঁড়িয়ে গেলেন। তাদের (দাঁড়াতে দেখে) বলা হলো, এ জানাযাহ্ জমিনবাসীর অর্থাৎ যিম্মির। তখন উভয় সাহাবী বললেন, (তাতে কি হয়েছে? এভাবে একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দিয়েও একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁকেও বলা হয়েছিল, ’এটা একজন ইয়াহূদীর জানাযা।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, সে কি মানুষ নয়? (বুখারী, মুসলিম)[1]

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: كَانَ ابْن حنيف وَقيس ابْن سَعْدٍ قَاعِدَيْنِ بِالْقَادِسِيَّةِ فَمُرَّ عَلَيْهِمَا بِجَنَازَةٍ فَقَامَا فَقيل لَهما: إِنَّهَا مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ أَيْ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ فَقَالَا: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتْ بِهِ جَنَازَةٌ فَقَامَ فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهَا جَنَازَة يَهُودِيّ. فَقَالَ: «أليست نفسا؟»

عن عبد الرحمن بن ابي ليلى قال: كان ابن حنيف وقيس ابن سعد قاعدين بالقادسية فمر عليهما بجنازة فقاما فقيل لهما: انها من اهل الارض اي من اهل الذمة فقالا: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مرت به جنازة فقام فقيل له: انها جنازة يهودي. فقال: «اليست نفسا؟»

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ দর্শনে দাঁড়ানো মুস্তাহাব, এতে মুসলিম অমুসলিম সকল লাশের ক্ষেত্রেই এ বিধান প্রযোজ্য। এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮১-[৩৬] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জানাযার সাথে গেলে যতক্ষণ পর্যন্ত তা’ কবরে রাখা না হত ততক্ষণ বসতেন না। একবার এক ইয়াহূদী ’আলিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এসে আরয করল, ’হে মুহাম্মাদ! আমরাও এরূপ করি।’ অর্থাৎ মুর্দা কবরে রাখার আগে বসি না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযাহ্ কবরে রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন না) বসে যেতেন। তিনি বলতেন, তোমরা ইয়াহুদীদের বিপরীত করবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব। বিশর ইবনু রাফি’ বর্ণনাকারী হিসেবে শক্তিশালী নয়।)[1]

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَبِعَ جَنَازَةً لَمْ يَقْعُدْ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ فَعَرَضَ لَهُ حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالَ لَهُ: إِنَّا هَكَذَا نضع يَا مُحَمَّدُ قَالَ: فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «خَالِفُوهُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَبِشْرُ بْنُ رَافِعٍ الرَّاوِي لَيْسَ بِالْقَوِيّ

وعن عبادة بن الصامت قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا تبع جنازة لم يقعد حتى توضع في اللحد فعرض له حبر من اليهود فقال له: انا هكذا نضع يا محمد قال: فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: «خالفوهم» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب وبشر بن رافع الراوي ليس بالقوي

ব্যাখ্যা: ইয়াহূদীগণ ক্ববরে লাশ না রাখা পর্যন্ত অনুগামীরা বসে না, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাই করতেন। অতঃপর ইয়াহূদী ‘আলিমের কাছে যখন এ তথ্য জানতে পারলেন তখন তিনি বসে পড়লেন এবং বললেন, তোমরা তাদের বিপরীত করো।

এ হাদীস দ্বারা জানাযাহ্ দেখে দন্ডায়মান হওয়ার হাদীসটি মানসূখ হওয়ার দাবী সঠিক নয়। কেননা এ হাদীসটি য‘ঈফ, আর কোন য‘ঈফ হাদীস কোন সহীহ হাদীসকে মানসূখ করতে পারে না। এর বিস্তারিত আলোচনা আগে হয়ে গেছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮২-[৩৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রথম দিকে) আমাদেরকে জানাযাহ্ দেখলে দাঁড়িয়ে যেতে বলেছেন। (পরে) তিনি নিজে বসে থাকতেন। আমাদেরকেও বসে থাকতে নির্দেশ দেন। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِالْقِيَامِ فِي الْجَنَازَةِ ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ ذَلِكَ وَأَمَرَنَا بِالْجُلُوسِ. رَوَاهُ أَحْمد

وعن علي قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم امرنا بالقيام في الجنازة ثم جلس بعد ذلك وامرنا بالجلوس. رواه احمد

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ দেখে দাঁড়ানোর নির্দেশটি মুস্তাহাব অর্থে, ওয়াজিব অর্থে নয়। এটা খাটিয়া মাটিতে রাখা পর্যন্ত হতে পারে আবার লাশ ক্ববরে রাখা পর্যন্তও হতে পারে। প্রথম অনুচ্ছেদে আবূ সা‘ঈদ-এর হাদীসে এর বিবরণ চলে গেছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৩-[৩৮] মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একটি জানাযাহ্ হাসান ইবনু ’আলী ও ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। (জানাযাহ্ দেখে) হাসান দাঁড়িয়ে গেলেন। কিন্তু ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) দাঁড়ালেন না। হাসান (ইবনু ’আব্বাসকে দাঁড়াননি দেখে) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি একজন ইয়াহূদীর লাশ দেখে দাঁড়িয়ে যাননি? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ দাঁড়িয়েছিলেন, (প্রথম দিকে) শেষ দিকে আর দাঁড়াননি। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ: إِنَّ جَنَازَةً مَرَّتْ بِالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ فَقَامَ الْحَسَنُ وَلَمْ يَقُمِ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ الْحَسَنُ: أَلَيْسَ قَدْ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِجَنَازَةِ يَهُودِيٍّ؟ قَالَ: نَعَمْ ثُمَّ جلس. رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن محمد بن سيرين قال: ان جنازة مرت بالحسن بن علي وابن عباس فقام الحسن ولم يقم ابن عباس فقال الحسن: اليس قد قام رسول الله صلى الله عليه وسلم لجنازة يهودي؟ قال: نعم ثم جلس. رواه النساىي

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ দেখে দাঁড়ানো এবং বসে থাকা দু’টোই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। তবে বসে থাকাটা পরবর্তী কর্ম। তাই বলে এটা নাসিখ হয়ে দাঁড়ানোর বিধানকে মানসূখ বা রহিত করেছে এমনটিও নয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের বসা এবং বসার নির্দেশ ছিল বায়ানে জাওয়ায ও ‘ইবাহাতমূলক, সর্বোপরি এটা ছিল সহজীকরণ, সুতরাং এ বিষয়ের কোন দিককেই ওয়াজিব জ্ঞান করা ঠিক নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৪-[৩৯] জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, একবার হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ) (এক জায়গায়) বসেছিলেন। তাঁর সম্মুখ দিয়ে একটি জানাযাহ্ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা (এ সময়) দাঁড়িয়ে গেল। তা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকল। তা দেখে হাসান বললেন, (একবার) একটি ইয়াহূদীর লাশ যাচ্ছিল আর সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার পাশে বসেছিলেন। ইয়াহুদীর লাশ তাঁর মাথা ছাড়িয়ে যাক তা তিনি অপছন্দ করলেন। তাই দাঁড়িয়ে গেলেন। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ كَانَ جَالِسًا فَمُرَّ عَلَيْهِ بِجَنَازَةٍ فَقَامَ النَّاسُ حَتَّى جَاوَزَتِ الْجَنَازَةُ فَقَالَ الْحَسَنُ: إِنَّمَا مُرَّ بِجَنَازَةِ يَهُودِيٍّ وَكَانَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى طَرِيقِهَا جَالِسا وَكره أَن تعلوا رَأسه جَنَازَة يَهُودِيّ فَقَامَ. رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن جعفر بن محمد عن ابيه ان الحسن بن علي كان جالسا فمر عليه بجنازة فقام الناس حتى جاوزت الجنازة فقال الحسن: انما مر بجنازة يهودي وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على طريقها جالسا وكره ان تعلوا راسه جنازة يهودي فقام. رواه النساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের ভিত্তিতে দাঁড়ানো নিষেধ এমনটি নয়, এও বলা যাবে না যে, বসেই থাকতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইতিপূর্বে হয়ে গেছে। মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের সানাদ য‘ঈফ, সুতরাং তা পূর্বের সহীহ হাদীসের মোকাবেলা করতে পারে না। এ বিষয়ে আর কোন নতুন আলোচনারও প্রয়োজন নেই।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৫-[৪০] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাছ দিয়ে কোন ইয়াহুদী, নাসারা অথবা মুসলিমের লাশ অতিবাহিত হতে দেখলে দাঁড়িয়ে যাবে। তোমাদের এ দাঁড়ানো লাশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নয়। বরং লাশের সাথে যেসব মালাক (ফেরেশতা) থাকেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا مَرَّتْ بِكَ جَنَازَةُ يَهُودِيٍّ أَوْ نَصْرَانِيٍّ أَوْ مُسْلِمٍ فَقُومُوا لَهَا فَلَسْتُمْ لَهَا تَقُومُونَ إِنَّمَا تَقُومُونَ لِمَنْ مَعهَا من الْمَلَائِكَة» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابي موسى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا مرت بك جنازة يهودي او نصراني او مسلم فقوموا لها فلستم لها تقومون انما تقومون لمن معها من الملاىكة» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: জানাযাহ্ দর্শনে দাঁড়ানোর নির্দেশটি হলো মালাকের সম্মানে, লাশের সম্মানে নয়। আর দাঁড়ানো হলো মুস্তাহাব ওয়াজিব নয়। দাঁড়ানোর নির্দেশ হলো বাহ্যিক দৃষ্টিতে আর নিষেধটি হলো হাকীকাতের দৃষ্টিতে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৬-[৪১] আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ আরয করলেন, এটা তো একজন ইয়াহূদীর জানাযাহ্ (একে দেখে দাঁড়াবার কারণ কি?) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জানাযার সম্মানে দাঁড়াইনি। তাদের সম্মানে দাঁড়িয়েছি যারা জানাযার সাথে আছেন (অর্থাৎ ফেরেশতা)। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ جَنَازَةً مَرَّتْ بِرَسُولِ اللَّهِ فَقَامَ فَقِيلَ: إِنَّهَا جَنَازَةُ يَهُودِيٍّ فَقَالَ: «إِنَّمَا قُمْت للْمَلَائكَة» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن انس ان جنازة مرت برسول الله فقام فقيل: انها جنازة يهودي فقال: «انما قمت للملاىكة» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৭-[৪২] মালিক ইবনু হুবায়রাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিমের মৃত্যু ঘটলে তিন সারি বিশিষ্ট জামা’আত দ্বারা জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় সম্পন্ন করা গেলে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য (জান্নাত ও মাগফিরাত) ওয়াজিব করে দেন। এ কারণে মালিক ইবনু হুবায়রাহ্ জানাযার সালাতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা কম দেখলে এ হাদীস অনুযায়ী তাদেরকে তিন সারিতে দাঁড় করাতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

আর ইমাম তিরমিযীর একক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, মালিক ইবনু হুবায়রাহ্ যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন, আর (উপস্থিত) মানুষের সংখ্যা কম দেখতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিন্যস্ত করে দিতেন। আর বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির জানাযার সালাত তিন সারি লোকে পড়ে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন। ইবনু মাজাহও এরূপ বর্ণনা করেছেন।

وَعَنْ مَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيُصَلِّي عَلَيْهِ ثَلَاثَةُ صُفُوفٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا أَوْجَبَ» . فَكَانَ مَالِكٌ إِذَا اسْتَقَلَّ أَهْلَ الْجَنَازَةِ جَزَّأَهُمْ ثَلَاثَةَ صُفُوفٍ لِهَذَا الْحَدِيثِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ: قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ هُبَيْرَةَ إِذَا صَلَّى الْجِنَازَة فَتَقَالَّ النَّاسَ عَلَيْهَا جَزَّأَهُمْ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلَاثَةُ صُفُوفٍ أَوْجَبَ» . وروى ابْن مَاجَه نَحوه

وعن مالك بن هبيرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من مسلم يموت فيصلي عليه ثلاثة صفوف من المسلمين الا اوجب» . فكان مالك اذا استقل اهل الجنازة جزاهم ثلاثة صفوف لهذا الحديث. رواه ابو داود وفي رواية الترمذي: قال كان مالك بن هبيرة اذا صلى الجنازة فتقال الناس عليها جزاهم ثلاثة اجزاء ثم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صلى عليه ثلاثة صفوف اوجب» . وروى ابن ماجه نحوه

ব্যাখ্যা: তিন কাতার মুসল্লী কারো জানাযাহ্ আদায় করলে তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। এ ওয়াজিব বলতে মাগফিরাত তথা আল্লাহর ক্ষমা ওয়াজিব হয়ে যায়, অথবা জান্নাত ওয়াজিব হয়। অথবা জান্নাত এবং ক্ষমা উভয়টিই ওয়াজিব হয়ে যায়। কোন কোন বর্ণনায় জান্নাত শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষমা ওয়াজিব হলে সেটা হবে এমন ক্ষমা যা জান্নাতকে ওয়াজিব করে দেয়। সুতরাং কোন বর্ণনা কোন বর্ণনার বিরোধী নয়।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৮-[৪৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে এ দু’আ পড়তেন,

’’আল্ল-হুম্মা আনতা রব্বুহা-, ওয়া আনতা খলাক্বতাহা-, ওয়া আনতা হাদায়তাহা- ইলাল ইসলা-ম ওয়া আনতা ক্ববাযতা রূহাহা-, ওয়া আনতা আ’লামু বিসিররিহা- ওয়া ’আলা- নিয়াতিহা-, জি’না- শুফা’আ- আ ফাগফির লাহূ’’

(অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ [জানাযার] ব্যক্তির তুমিই ’রব’। তুমিই তাকে সৃষ্টি করেছ, তুমিই তাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছ, তুমিই তার রূহ কবয করেছ তুমিই তার গোপন ও প্রকাশ্য [সব কিছু] জানো। আমরা তার জন্য তোমার কাছে সুপারিশ করতে এসেছি, তুমি তাকে মাফ করে দাও।)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبُّهَا وَأَنْتَ خَلَقْتَهَا وَأَنْتَ هَدَيْتَهَا إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَنْتَ قَبَضْتَ رُوحَهَا وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِسِرِّهَا وَعَلَانِيَتِهَا جِئْنَا شُفَعَاءَ فَاغْفِرْ لَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة على الجنازة: اللهم انت ربها وانت خلقتها وانت هديتها الى الاسلام وانت قبضت روحها وانت اعلم بسرها وعلانيتها جىنا شفعاء فاغفر له. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: মাইয়্যিতের জন্য দু‘আয় এভাবে বাক্য ব্যবহার করে ইনিয়ে বিনিয়ে দু‘আ করা বৈধ এবং তা করা উচিত।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৮৯-[৪৪] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর পেছনে এমন একটি বালকের জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলাম, যে কক্ষনো কোন গুনাহের কাজ করেনি। আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে তার জন্য দু’আ করতে শুনলাম, ’’আল্ল-হুম্মা আ’ইযহু মিন ’আযা-বিল কবরি’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি এ ছেলেটিকে কবর ’আযাব থেকে রক্ষা করো)। (মালিক)[1]

وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ: صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى صَبِيٍّ لَمْ يَعْمَلْ خَطِيئَةً قَطُّ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر. رَوَاهُ مَالك

وعن سعيد بن المسيب قال: صليت وراء ابي هريرة على صبي لم يعمل خطيىة قط فسمعته يقول: اللهم اعذه من عذاب القبر. رواه مالك

ব্যাখ্যা: শিশুর জানাযাহ্ আদায় করাও ওয়াজিব। তার জন্যও দু‘আ করতে হবে। ক্ববরে শিশুকে প্রশ্ন করা হবে কিনা? এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেছেন প্রশ্ন করা হবে, কেউ বলেছেন হবে না। একদল এ ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন করেছেন। এ ব্যাপারে কোন নস বা প্রামাণ্য দলীল নেই।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) শিশুর জন্য ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। তিনি সম্ভবতঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ক্ববরের ‘আযাবের হাদীস শুনেই এ দু‘আ করেছিলেন, আর হাদীসটি ছোট বড় সকলের ব্যাপারে ‘আমল ছিল। কেউ বলেছেন, এখানে ‘আযাব দ্বারা শাস্তি উদ্দেশ্য নয় বরং চিন্তা, বিভীষিকা ও ভয়ানক অবস্থা উদ্দেশ্য। অথবা সচরাচর বড়দের জানাযায় বলার অভ্যাসগত কারণেই শিশুর জন্যও সে দু‘আই পাঠ করেছেন। অথবা তিনি ভেবেছিলেন, এটা হয়তো বড় মানুষ হবে।

হানাফীদের মতে শিশুর জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করা বৈধ নয়। তাই বড়দের জন্য পঠিতব্য কোন দু‘আ শিশুর জানাযায় পাঠ করা যাবে না। বরং শিশুর জন্য পঠিতব্য দু‘আঃ

اللهم اجعله لنا فرطاً الخ পাঠ করেই সীমাবদ্ধ রাখবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৯০-[৪৫] ইমাম বুখারী (রহঃ) তা’লীক্ব পদ্ধতিতে (অর্থাৎ সহীহুল বুখারীর তরজমাতুল বাবে সানাদ ছাড়া, এ হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন), হাসান (রহঃ) বাচ্চার জানাযার সালাতে (প্রথম তাকবীরের পর) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পড়তেন। (আর তৃতীয় তাকবীরে) এ দু’আ পড়তেন, ’’আল্ল-হুম্মাজ্ ’আলহু লানা- সালাফান ওয়া ফারাত্বান ওয়া যুখরান ওয়া আজরান’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ ছেলেটিকে (কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন) আমাদের অগ্রবর্তী ব্যবস্থাপক, রক্ষিত ভান্ডার ও সাওয়াবের কারণ বানাও)।[1]

وَعَنِ الْبُخَارِيِّ تَعْلِيقًا قَالَ: يَقْرَأُ الْحَسَنُ عَلَى الطِّفْلِ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا سلفا وفرطا وذخرا وَأَجرا

وعن البخاري تعليقا قال: يقرا الحسن على الطفل فاتحة الكتاب ويقول: اللهم اجعله لنا سلفا وفرطا وذخرا واجرا

ব্যাখ্যা: ‘‘হাসান (রহঃ) পড়েছেন’’, এখানে হাসান বলতে হাসান বসরী (রহঃ); অনেকে হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) যিনি সাহাবী, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাতী)-কে ধারণা করেন, সেটা সঠিক নয়।

তিনি শিশুর জানাযাতেও প্রথম তাকবীর দিয়ে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠ করেছেন। সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ শেষে দ্বিতীয় তাকবীর দিয়ে দরূদ পড়ার পর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে পাঠ করেছেন

اَللّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا سَلَفًا وَفَرَطًا وُذُخُرًا وَأَجْرًا

জানাযার নামাযে সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পাঠের বিস্তারিত আলোচনা ১৬৬৮ নং হাদীসে হয়ে গেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৯১-[৪৬] জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (অপূর্ণাঙ্গ) বাচ্চাদের জন্য না জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে হবে, না তাকে কারো ওয়ারিস বানানো যাবে। আর না তার কোন ওয়ারিস হবে। যদি সে জন্মের সময় কোন শব্দ করে না থাকে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; কিন্তু ইবনু মাজাহوَلَا يُوْرَثُ [অর্থাৎ তারও কেউ উত্তারাধিকারী হবে না] শব্দ উল্লেখ করেননি।)[1]

وَعَنْ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الطِّفْلُ لَا يُصَلَّى عَلَيْهِ وَلَا يَرِثُ وَلَا يُوَرَّثُ حَتَّى يَسْتَهِلَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: «وَلَا يُورث»

وعن جابر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الطفل لا يصلى عليه ولا يرث ولا يورث حتى يستهل» . رواه الترمذي وابن ماجه الا انه لم يذكر: «ولا يورث»

ব্যাখ্যা: শিশু যদি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চিৎকার বা কান্না না করে তাহলে তার জানাযাহ্ আদায় করতে হবে না এবং সে কোন সম্পদের ওয়ারিসও হবে না এবং ওয়ারিস বানাবেও না। পূর্বে ১৬৬৭ নং হাদীসের ব্যাখ্যায় এ ব্যাপারে কিঞ্চিৎ আলোচনা হয়েছে। কান্না, নড়াচড়া ইত্যাদি তার জীবনের প্রমাণ ও নিদর্শন। এ প্রমাণ না মিললে তার জানাযাহ্ আদায় করতে হবে না। ইতিপূর্বে ১৬৫৩ নং হাদীসের ব্যাখ্যায় দেখা গেছে পড়তে হবে। সুতরাং এখানেও ইমামদের সংক্ষিপ্ত মতামত তুলে ধরা হলোঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ), ইবনু সীরীন, ইবনুল মুসাইয়্যিব প্রমুখ সাহাবী ও তাবি‘ঈ বলেন, চিৎকার না দিলেও জানাযাহ্ আদায় করতে হবে। ইমাম আহমাদ ইসহাক্ব প্রমুখ ইমামগণ চার মাস দশদিন বয়সের শিশুদের জানাযাহ্ পড়ানোর পক্ষপাতি, কারণ এ সময়ে শিশুর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার ঘটে।

আর যদি নড়া-চড়া ও চিৎকার করে অর্থাৎ প্রাণের নিদর্শন মেলে তবে সে ওয়ারিস হবে।

পক্ষান্তরে ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ, আওযা‘ঈ প্রমুখ ইমামগণ শিশু চিৎকার না করলে তার জানাযায় পক্ষপাতি নন এবং মিরাসের অধিকারী স্বীকার করেন না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জানাযার সাথে চলা ও সালাতের বর্ণনা

১৬৯২-[৪৭] আবূ মাস্’ঊদ আল্ আনসারী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামকে কোন কিছুর উপর (একা) ও মুক্তাদীগণ নীচে দাঁড়িয়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (দারাকুত্বনী, আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُومَ الْإِمَامُ فَوْقَ شَيْءٍ وَالنَّاسُ خَلْفَهُ يَعْنِي أَسْفَلَ مِنْهُ. رَوَاهُ الدراقطني وَأَبُو دَاوُد

وعن ابي مسعود الانصاري قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يقوم الامام فوق شيء والناس خلفه يعني اسفل منه. رواه الدراقطني وابو داود

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস থেকে যে বিষয়টি জানা যায় তা হচ্ছে, জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হোক অথবা ফরয সালাত হোক কিংবা অন্যান্য যে সকল সালাত জামা‘আতে আদায় করতে হয়, এ সকল সালাতে মুক্তাদীদের জায়গার সমতল জায়গায় ইমাম দাঁড়াবেন। মুক্তাদীরা নিচে থাকবে আর ইমাম উঁচু জায়গায় দাঁড়াবেন এমনটি যেন না হয়। মুক্তাদীদের স্থান থেকে ইমামের স্থান উঁচু করাকে মাকরূহ বলা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৩-[১] ’আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার পিতা সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্বক্বাস (রাঃ)মৃত্যুশয্যায় রোগাক্রান্ত অবস্থায় বলেন, আমাকে দাফন করার জন্য লাহদ (বগলী) কবর তৈরি করবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাফন করার জন্য যেভাবে কবর খোঁড়া হয়েছিল সেভাবে আমার উপরেও কাঁচা ইট দাঁড় করিয়ে দেবে। (মুসলিম)[1]

عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَن سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي هَلَكَ فِيهِ: أَلْحِدُوا لِي لَحْدًا وَانْصِبُوا عَلَى اللَّبِنِ نَصْبًا كَمَا صُنِعَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

عن عامر بن سعد بن ابي وقاص ان سعد بن ابي وقاص قال في مرضه الذي هلك فيه: الحدوا لي لحدا وانصبوا على اللبن نصبا كما صنع برسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, লাহদ কবর দেয়া উত্তম। কেননা সাহাবীগণের ঐকমত্যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লাহদ ক্ববরে দাফন করা হয়েছিল।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৪-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরে একটি লাল চাদর বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। (মুসলিম)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: جُعِلَ فِي قَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَطِيفَةٌ حَمْرَاء. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عباس قال: جعل في قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم قطيفة حمراء. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরে এক টুকরা লাল কাপড় বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। ক্ববরে কাপড় বিছানো সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। এ হাদীস দ্বারা ক্ববরে কাপড় বিছানো জায়িয প্রমাণিত হয়। ইমাম বাগাভী ও ইবনু হাযম এ মতামত গ্রহণ করেছেন। তবে জমহূর ‘উলামাগণ এটাকে মাকরূহ মনে করেন। তারা উপরোক্ত হাদীসের জবাবে বলেন, শিকরান নামক ব্যক্তি সাহাবীদের অজান্তে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরে ঐ কাপড়টি বিছিয়ে ছিল। ইমাম নাবাবী বলেন, এ ব্যাপারে ‘উলামাগণের বক্তব্য হল, শিকরান এ কাজটি তার মতামত অনুযায়ী করেছিল। এ ব্যাপারে সাহাবীদের কোন সম্মতি ছিল না। কেউ কেউ এর উত্তরে বলেছেন যে, প্রথমে কাপড় দেয়া হয়েছিল ঠিকই কিন্তু মাটি দেয়ার পূর্বেই তা বের করে নেয়া হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৫-[৩] সুফ্ইয়ান তাম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে উটের পিঠের মতো (মুসান্নাম) উঁচু দেখেছেন। (বুখারী)[1]

وَعَنْ سُفْيَانَ التَّمَّارِ: أَنَّهُ رَأَى قَبْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسَنَّمًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن سفيان التمار: انه راى قبر النبي صلى الله عليه وسلم مسنما. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে কবর উঁচু করা সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। এ হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, কবরকে সামান্য উঁচু করা জায়িয আছে। আর এটা চার কোণ বিশিষ্ট সমতল করা থেকে উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৬-[৪] আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলী (রাঃ) আমাকে বলেছেন, ’’আমি কি তোমাকে এমন একটি কাজের জন্য পাঠাব না, যে কাজের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো যখন তোমার চোখে কোন মূর্তি পড়বে তা একেবারে নিশ্চিহ্ন না করে ছাড়বে না। আর উঁচু কোন কবর দেখলে তা সমতল না করে রাখবে না।’’ (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ: قَالَ لِي عَلِيٌّ: أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِن لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مشرفا إِلَّا سويته. رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي الهياج الاسدي قال: قال لي علي: الا ابعثك على ما بعثني عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان لا تدع تمثالا الا طمسته ولا قبرا مشرفا الا سويته. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে কবর পাকা করা বা কবর উঁচু করে তাতে মাজার স্থাপন বা তাকে মাজার বানানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী মুসলিমদের ওপর এটা ওয়াজিব যে, যেখানে কোন প্রাণীর মূর্তি পাওয়া যাবে সেটাকে ভেঙ্গে বা মিটিয়ে দেয়া এবং কোন উঁচু কবর পাওয়া গেলে সেটাকে সমতল করে দেয়া। বালু এবং পাথর বা পাথর খন্ড দ্বারা কবর চিহ্নিত করা জায়িয। এ কারণে যে, কেউ কবর পিষ্ট করবে না। আর এটা নিষিদ্ধ উঁচুর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কবর সীমাতিরিক্ত উঁচু করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৭-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে চুনকাম করতে, এর উপর ঘর বানাতে এবং বসতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن جابر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يجصص القبر وان يبنى عليه وان يقعد عليه. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কবরকে প্লাস্টার করা হারাম। কেননা হাদীসে সরাসরি এটাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর এ নিষিদ্ধতা হারামকেই বুঝায়। এ হাদীস থেকে যে বিষয়টি জানা যায় তা হলো, ক্ববরের উপর ঘর নির্মাণ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। এ দ্বারা উদ্দেশ্য ক্ববরের উপর অথবা তার পাশে ঘর অথবা মাসজিদ নির্মাণ করা বা এ রকম অন্য কিছু নির্মাণ করা। তুরবিশতী বলেন, ঘর বানানোর উদ্দেশ্য দু’টি হতে পারে। একটি হচ্ছে, ক্ববরের উপর পাথর অথবা এরূপ কিছু দ্বারা ঘর নির্মাণ করা। অপরটি হচ্ছে ক্ববরের উপর তাঁবু বা এরূপ কিছু টানানো; আর উভয়টিই নিষিদ্ধ। কেননা এগুলো জাহিলী যুগের পাপ কাজ এবং এতে সম্পদ নষ্ট হয়। ইমাম শাওকানী বলেন, ক্ববরের উপর ঘর নির্মাণ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এ হাদীসটি দলীল।

ক্ববরের উপর বসতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এর দ্বারা কবরবাসী মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করা হয়। কেউ কেউ এ বসা দ্বারা মলত্যাগের জন্য বসা বুঝিয়েছেন। কিন্তু প্রথম কথাটিই সঠিক। ইমাম ত্ববারানী এবং হাকিম আম্মারা (রহঃ) ইবনু হাযম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ক্ববরের উপরে বসা অবস্থায় দেখে বললেন, তুমি নেমে পড় এবং কবরবাসীকে কষ্ট দিও না। হাসান বসরী এবং ইবনু সীরীন বলেন, স্বাভাবিকভাবে ক্ববরে বসাটা হারাম। এ মতামত ব্যাক্ত করেছেন জাহিরী সম্প্রদায়। মুহাল্লাহ কিতাবে ইবনু হাযম এবং আরো অনেকে বলেন, কারো জন্য এটা হালাল নয় যে, সে ক্ববরের উপরে বসবে। আবূ হানীফাহ্ এবং শাফি‘ঈদের এক দল ক্ববরে বসাকে মাকরূহ মনে করেন। তবে এক্ষেত্রে প্রাধান্য প্রাপ্ত কথা হচ্ছে ক্ববরের উপর বসাটা হারাম হিসেবে গণ্য হবে। আর এটাই জমহূর বিদ্বানগণের মত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৮-[৬] আবূ মারসাদ আল গানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে না। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ابي مرثد الغنوي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تجلسوا على القبور ولا تصلوا اليها» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসেও ক্ববরের উপর বসা এবং কবরকে সামনে রেখে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা এতে কবর বা কবরওয়ালাকে সম্মান দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং এ নিষিদ্ধটা হারাম পর্যায়ের। কারণ এ হাদীসটি সরাসরি ক্ববরের দিকে সালাত আদায় করা থেকে নিষেধ করে। এ বিষয়ে আরো দলীল রয়েছে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেন যে, তোমরা ক্ববরের দিকে এবং ক্ববরের উপরে সালাত আদায় করবে না। ত্ববারানী এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। ওয়াসিলা ইবনুল আসক্বা বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ক্ববরের দিকে সালাত আদায় করতে এবং ক্ববরের উপর বসতে নিষেধ করেছেন। এ হাদীসটিও ত্বাবানীরীতে উল্লেখ রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৬৯৯-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো অঙ্গারের উপর বসা, আর এ অঙ্গারে (পরনের) কাপড়-চোপড় পুড়ে শরীরে পৌঁছে যাওয়া তার জন্য উত্তম হবে কবরের উর বসা হতে। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يجلس على قبر» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لان يجلس احدكم على جمرة فتحرق ثيابه فتخلص الى جلده خير له من ان يجلس على قبر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটিও ক্ববরে বসাকে নিষেধ করে। হাদীসের বাহ্যিক অর্থ এ কথাই বলছে যে, ক্ববরের উপর বসা জায়িয নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০০-[৮] ’উরওয়াহ্ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় দু’ ব্যক্তি ছিলেন (তারা কবর খুড়তেন)। তাদের একজন (আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী) লাহদী (বুগলী) কবর খুঁড়তেন আর দ্বিতীয়জন (আবূ ’উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ্) লাহদী কবর খুঁড়তেন না (বরং সিন্ধুকী কবর খুড়তেন)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হলে সাহাবীগণ (সম্মিলিতভাবে বললেন), এ দু’ ব্যক্তির যিনি আগে আসবেন তিনিই তার মতো করে কবর খনন করবেন। পরিশেষে তিনিই আগে আসলেন যিনি লাহদী কবর খুঁড়তেন (অর্থাৎ আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী।) তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য লাহদী কবর খুঁড়লেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ بِالْمَدِينَةِ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا يَلْحَدُ وَالْآخَرُ لَا يَلْحَدُ. فَقَالُوا: أَيُّهُمَا جَاءَ أَوَّلًا عَمِلَ عَمَلَهُ. فَجَاءَ الَّذِي يَلْحَدُ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السّنة

عن عروة بن الزبير قال: كان بالمدينة رجلان احدهما يلحد والاخر لا يلحد. فقالوا: ايهما جاء اولا عمل عمله. فجاء الذي يلحد فلحد لرسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: মদীনায় দু’জন লোক ছিলেন যারা কবর খনন করতেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু ত্বলহাহ্ আল আনসারী। তিনি লাহদ কবর খনন করতেন। অপরজন হলেন আবূ ‘উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ্, যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন। তিনি লাহদ কবর খনন করতেন না, বরং শিক্ক কবর খনন করতেন। লাহদ বলা হয় কবর খনন করার পর ক্বিবলার দিকে বাড়তি গর্ত করে লাশ রাখার জায়গা বানানো। আর শিক্ক ঐ কবরকে বলা হয়, যা খনন করার পর মধ্যখানে লাশ রাখার জন্য আবার ছোট করে একটি গর্ত করা হয়। তাদের যে আগে আসত সে অনুযায়ী কবর খনন করা হত। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লাহদ ক্ববরেই দাফন করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০১-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাহদী কবর আমাদের জন্য। আর শাক্ক্ (সিন্ধুকী) কবর আমাদের অপরদের জন্য। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لغيرنا» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللحد لنا والشق لغيرنا» رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা : ‘‘লাহদ আমাদের জন্য আর শিক্ক অন্যদের জন্য’’- এখানে আমাদের জন্য মুসলিমদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর অন্যদেরকে বলতে ইয়াহূদী এবং খৃষ্টানদেরকে বুঝানো হয়েছে। এ হাদীসটি লাহদ কবর উত্তম হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে। আর যদি এখানে আমাদের ছাড়া অন্যদের বলতে পূর্ববর্তী উম্মাতকে বুঝানো হয় তাহলেও এ হাদীসটি লাহদ ক্ববরের শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ইঙ্গিত করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০২-[১০] আর ইমাম আহমাদ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে।[1]

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ

ورواه احمد عن جرير بن عبد الله

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৩-[১১] হিশাম ইবনু ’আমির (রাঃ)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের যুদ্ধের দিন বলেছেন, কবর খনন কর, কবরকে প্রশস্ত কর, বেশ গভীর করে খনন কর এবং এগুলোকে ভালো করে কর, অর্থাৎ মাটি এবং ধূলিকণা থেকে পরিষ্কার কর। এক-একটি কবরে দু’ দু’, তিন তিন জন করে দাফন করো। আর তাদের মধ্যে যার বেশী করে কুরআন হিফয আছে তাকে কবরে আগে রাখো। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী এবং ইমাম ইবনু মাজাহ ’ওয়া আহসিনূ’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।)[1]

وَعَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَ أُحُدٍ: «احْفُرُوا وَأَوْسِعُوا وَأَعْمِقُوا وَأَحْسِنُوا وَادْفِنُوا الِاثْنَيْنِ وَالثَّلَاثَةَ فِي قبر وَاحِد وَقدمُوا أَكْثَرهم قُرْآنًا» . رَوَاهُ أمد وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ إِلَى قَوْله وأحسنوا

وعن هشام بن عامر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم احد: «احفروا واوسعوا واعمقوا واحسنوا وادفنوا الاثنين والثلاثة في قبر واحد وقدموا اكثرهم قرانا» . رواه امد والترمذي وابو داود والنساىي وروى ابن ماجه الى قوله واحسنوا

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে কবরকে প্রশস্ত এবং গভীর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কবর কতটুকু গভীর করতে হবে এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম শাফি‘ঈর মতে, লাশের দৈর্ঘ্যের সমান গভীর করতে হবে। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয বলেন, নাভী থেকে নিচ পর্যন্ত গভীর করতে হবে। তবে এ ব্যাপারে ইমাম মালিক বলেন, এর গভীরতার কোন সীমা নির্ধারিত নেই। কেউ কেউ বুক বরাবর গভীর করার মতামত ব্যাক্ত করেছেন। কবরকে গভীর করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, লাশের নিরাপত্তা লাভ করা এবং হিস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

তাছাড়া এ হাদীসে লাশকে সম্মানের সাথে দাফন করার কথা বলা হয়েছে। এ হাদীসে আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যে, একই ক্ববরে একাধিক লোককে দাফন করা জায়িয আছে। তবে প্রয়োজন ছাড়া এ রকম করা মাকরূহ। ইমাম আবূ হানীফাহ্, শাফি‘ঈ এবং আহমাদ এ মতামতটি ব্যক্ত করেছেন। প্রয়োজনে যখন একই ক্ববরে একাধিক লোককে দাফন করা হবে তখন তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআনের জ্ঞান বেশি জানে তাকে কা‘বার দিকে রাখতে বলা হয়েছে। এ থেকে এ কথা প্রমাণ পাওয়া যায় যে, জীবিত অবস্থায় যার সম্মান বেশি তিনি মারা গেলে তার লাশ ঐ রকম সম্মান পাওয়ার অধিকারী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৪-[১২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আমার ফুফু আমার পিতার (’আবদুল্লাহর) লাশ আমাদের কবরস্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে আসলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকে একজন আহবানকারী জানালেন, শাহীদদেরকে তাঁদের শাহাদাতের জায়গায় পৌঁছিয়ে দাও। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী; হাদীসের শব্দগুলো হলো তিরমিযীর)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ جَاءَتْ عَمَّتِي بِأَبِي لِتَدْفِنَهُ فِي مَقَابِرِنَا فَنَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رُدُّوا الْقَتْلَى إِلَى مَضَاجِعِهِمْ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَلَفظه لِلتِّرْمِذِي

وعن جابر قال: لما كان يوم احد جاءت عمتي بابي لتدفنه في مقابرنا فنادى منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ردوا القتلى الى مضاجعهم» . رواه احمد والترمذي وابو داود والنساىي والدارمي ولفظه للترمذي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মৃত ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকে এ দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত করার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ এটাকে মাকরূহ বলেছেন। কারণ এতে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে দেরি হয় এবং তার সম্মান নষ্ট হয়। আবার কেউ কেউ বিশেষ প্রয়োজনে এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। যেমন, মক্কা বা এ জাতীয় ফাযীলাতপূর্ণ স্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া। ইবনু কুদামাহ্ বলেন, শাহীদরা যেখানে শাহাদাত বরণ করেন, সেখানেই তাদেরকে দাফন করানো মুস্তাহাব। এর একটি হিকমাত হলো যে, তারা একত্রে আল্লাহর দীনের জন্য লড়াই করেছে এবং তারা এক সাথে শাহাদাত বরণ করেছে এবং তারা এক সাথে জীবন যাপনও করেছিল, বিধায় তারা এক সাথে হাশরের ময়দানে উঠবে। আর তাদের কবর যিয়ারত করাও মানুষের জন্য সহজ হবে।

এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া লাশ দাফন করার পর তাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা ঠিক নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৫-[১৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরে নামানোর সময় মাথার দিক দিয়ে নামানো হয়েছে। (শাফি’ঈ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سُلَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ. رَوَاهُ الشَّافِعِي

وعن ابن عباس قال: سل رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبل راسه. رواه الشافعي

ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তিকে ক্ববরে রাখার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে, মৃতের খাটকে ক্ববরের পিছনে রাখবে। তারপর তাকে ক্ববরে নামাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৬-[১৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার রাতের বেলা মৃতকে রাখার জন্য কবরে নামলেন। তার জন্য চেরাগ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি মাইয়্যিতকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিক থেকে ধরলেন (তাকে কবরে রাখলেন) এবং এ দু’আ পড়লেন, ’’রহিমাকাল্ল-হু ইন্ কুনতা লাআও্ওয়া-হান তাল্লা-আন লিল কুরআ-ন’’ [অর্থাৎ আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। (তুমি আল্লাহর ভয়ে) কাঁদতে, আর কুরআনে কারীম বেশী বেশী পড়তে (এ দু’টি কারণে তুমি রহমত ও মাগফিরাতের উপযোগী)]। (তিরমিযী; শারহুস্ সুন্নাহয় বলা হয়েছে এ বর্ণনার সানাদ দুর্বল)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ قَبْرًا لَيْلًا فَأُسْرِجَ لَهُ بسراج فَأخذ مِنْ قِبَلِ الْقِبْلَةِ وَقَالَ: «رَحِمَكَ اللَّهُ إِنْ كُنْتَ لَأَوَّاهًا تَلَّاءً لِلْقُرْآنِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ فِي شرح السّنة: إِسْنَاده ضَعِيف

وعن ابن عباس: ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل قبرا ليلا فاسرج له بسراج فاخذ من قبل القبلة وقال: «رحمك الله ان كنت لاواها تلاء للقران» . رواه الترمذي وقال في شرح السنة: اسناده ضعيف

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যে মৃত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে কেউ কেউ বলেছেন তার নাম ছিল ‘আব্দুল্লাহ আল মাযুনী যুল বাজা-দায়ন। এ হাদীস থেকে এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মৃত ব্যক্তিকে রাতে দাফন করা নিষিদ্ধ নয়। যেহেতু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই রাত্রে লাশ দাফন করেছেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৭-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, বলতেন, ’’বিসমিল্লা-হ, ওয়াবিল্লা-হি ওয়া ’আলা- মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ’’। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’ওয়া ’আলা- সুন্না-তি রসূলিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ আল্লাহর নামে ও আল্লাহর হুকুম মুতাবিক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর মিল্লাতের উপর কবরে নামাচ্ছি)। অন্য বর্ণনায় ’মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ’-এর জায়গায় ’সুন্নাতি রসূলিল্লা-হ’ বর্ণিত হয়েছে। (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; আবূ দাঊদ দ্বিতীয়াংশটি)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَدْخَلَ الْمَيِّتَ الْقَبْرَ قَالَ: «بِسم الله وَبِاللَّهِ وعَلى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى أَبُو دَاوُد الثَّانِيَة

وعن ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا ادخل الميت القبر قال: «بسم الله وبالله وعلى ملة رسول الله» . وفي رواية: وعلى سنة رسول الله. رواه احمد والترمذي وابن ماجه وروى ابو داود الثانية

ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তিকে ক্ববরে রাখার সময় যে দু‘আ পাঠ করতে হয় এ হাদীসে সেদিকে আলোকপাত করা হয়েছে। এ হাদীসে ‘আলা- মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ বলা হয়েছে। তবে অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে ‘আলা- সুন্নাতি রসূলিল্লা-হ। দু‘আয় ব্যবহৃত বিসমিল্লা-হি এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নামে এ লাশকে দাফন করছি। আর বিল্লা-হি দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর সাহায্য, ক্ষমতা এবং তার নির্দেশে লাশকে দাফন করছি। আর মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ এর অর্থ হল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনিত শারী‘আতের উপর দাফন করছি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৮-[১৬] ইমাম জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা হতে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের দু’ হাতের মুষ্টি ভরে মাটি নিয়ে মাইয়্যিতের কবরের উপর তিনবার দিয়েছেন। তিনি তার পুত্র ইব্রাহীমের কবরে পানি ছিটিয়েছেন এবং (চিহ্ন রাখার জন্য) কবরের উপর কংকর দিয়েছেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্; ইমাম শাফি’ঈ ’’পানি ছিটিয়েছেন’’ থেকে [শেষ পর্যন্ত] বর্ণনা করেছেন)[1]

وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ مُرْسَلًا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حثا عَلَى الْمَيِّتِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ بِيَدَيْهِ جَمِيعًا وَأَنَّهُ رَشَّ عَلَى قَبْرِ ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ وَوَضَعَ عَلَيْهِ حَصْبَاءَ. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَرَوَى الشَّافِعِيُّ من قَوْله: «رش»

وعن جعفر بن محمد عن ابيه مرسلا ان النبي صلى الله عليه وسلم حثا على الميت ثلاث حثيات بيديه جميعا وانه رش على قبر ابنه ابراهيم ووضع عليه حصباء. رواه في شرح السنة وروى الشافعي من قوله: «رش»

ব্যাখ্যা: মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ ইমাম আহমাদ দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনবার মাটি দেয়ার সময় প্রথমবার বলবে منها خلقناكم অর্থাৎ এ মাটিই থেকে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। দ্বিতীয়বার মাটি দেয়ার সময় বলবে, وفيها نعيدكم অর্থাৎ এ মাটিতে তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনব। তৃতীয়বার মাটি দেয়ার সময় বলবে, ومنها نخرجكم تارة اخرى অর্থাৎ এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে পুনরায় উত্তোলন করব।

ব্যাখ্যাকার (মুবারকপূরী) বলেন, ক্বারী আহমাদের যে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন তা আমি কোথাও পাইনি এবং এমন কাউকে পাইনি যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ক্বারীর বর্ণনাতে আত্মতৃপ্তি হয় না। কারণ তিনি এ বিষয়ে যোগ্য নন।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭০৯-[১৭] জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে সিমেন্ট চুন দিয়ে কোন কাজ করতে, তার উপর কিছু লিখতে অথবা খোদাই করে কিছু করতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَن تجصص الْقُبُور وَأَن يكْتب لعيها وَأَن تُوطأ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن جابر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان تجصص القبور وان يكتب لعيها وان توطا. رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: কবর প্লাস্টার করা নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আগেই আলোচনা করা হয়েছে। তারপর এ হাদীসে আরো একটি বিষয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আর তা হল, ক্ববরের উপর কোন কিছু লেখা। সেটা মৃত ব্যক্তির নাম হোক অথবা মৃত্যুর তারিখ হোক অথবা কুরআনের আয়াত এবং অন্য কিছু যাই হোক না কেন। ইমাম হাকিম তার মুস্তাদরাক কিতাবে বলেন, এ হাদীসটির সানাদ সহীহ। কিন্তু এ হাদীসের উপরে ‘আমল নেই। কেননা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সর্বত্রই ক্ববরের উপর লেখালেখির কাজ চালু রয়েছে। এমনকি এটা অনেক পূর্ব যুগ থেকে চলে আসছে। ইমাম যাহাবী বলেন, কোন সাহাবী থেকে এ মর্মে জানা যায়নি যে, তারা ক্ববরে কোন কিছু লিখেছেন। তবে এটা হয়ত এমন কোন তাবি‘ঈ থেকে শুরু হয়েছে, যাদের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদীস পৌঁছায়নি।

ইবনু হাজার বলেন, ক্ববরের উপর যা কিছুই লেখা হোক না কেন তা মাকরূহ।

আল্লামা শাওকানী বলেন, ক্ববরের উপর কোন কিছু লিখা যে হারাম এ হাদীসটি হচ্ছে তার দলীল। এ ব্যাপারে মৃতের নাম অথবা অন্য কিছু লিখার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কি উদ্দেশে লেখা হচ্ছে সেটাও ধর্তব্য নয়।

তবে কারো কবরকে চিহ্নিত রাখার প্রয়োজনবোধ করলে তাতে পাথর বা অন্য কোন শক্ত জিনিস দ্বারা চিহ্ন রাখা যায়। যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান (রাঃ)-এর কবরকে চিহ্নিত করার জন্য একটি পাথর রেখেছিলেন। এ হাদীসে আরো একটি নিষেধাজ্ঞা এসেছে তা হল, ক্ববরের উপর হাঁটাচলা করা। জুতা পায়ে হোক আর খালি পায়ে হোক উভয়টিই নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে যেমন লাশ দাফন করার কাজে বা এ রকম প্রয়োজনে ক্ববরের উপর দিয়ে গেলে মাকরূহ হবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১০-[১৮] জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাঁর কবরে বিলাল ইবনু রাবাহ (রাঃ)পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মশক দিয়ে তাঁর মাথা থেকে আরম্ভ করে পা পর্যন্ত পানি ছিটিয়ে দেন। (বায়হাক্বী- দালায়িলুল নুবুওয়াহ্)[1]

وَعَن جَابر قَالَ: رُشَّ قَبْرُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ الَّذِي رَشَّ الْمَاءَ عَلَى قَبْرِهِ بِلَالُ بْنُ رَبَاحٍ بِقِرْبَةٍ بَدَأَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى رِجْلَيْهِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ. فِي دَلَائِل النُّبُوَّة

وعن جابر قال: رش قبر النبي صلى الله عليه وسلم وكان الذي رش الماء على قبره بلال بن رباح بقربة بدا من قبل راسه حتى انتهى الى رجليه. رواه البيهقي. في دلاىل النبوة

ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তির ক্ববরে পানি ছিটানো জায়েয। বিলাল ইবনু রাবাহ (রাঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরে পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত এর দ্বারা ক্ববরের উপর আল্লাহর রহমাত ও তার ক্ষমা অবতরণের আশা করা হয়। যেমনিভাবে দু‘আয় বলা হয়, اَللّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاهُ بِالْمَاءِ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তার গুনাহসমূহ পানি দ্বারা ধৌত করে দাও। অর্থাৎ দূর করে দাও, ক্ষমা করে দাও।

আর বিলাল ইবনু রাবাহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা হতে আরম্ভ করে পায়ের শেষ পর্যন্ত পানি ছিটিয়ে দিলেন। ক্ববরে পানি ছিটিয়ে দেয়ার ব্যাপারে উল্লেখিত হাদীসটি শার‘ঈ দলীল। আর এটা ইমাম শাফি‘ঈ, ইমাম আহমাদ ও ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মত।

এ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী তার ‘‘দলায়িলুল নবূওয়াত’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাক্বীতে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত আছে যে, ক্ববরে পানি ছিটিয়ে দেয়ার প্রচলন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিদ্যমান ছিল।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১১-[১৯] মুত্ত্বালিব ইবনু আবী ওয়াদা’আহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ’উসমান ইবনু মায্’ঊন (রাঃ)-এর মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার লাশ বের করা হয় এবং তা দাফন করা হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কবরের চিহ্ন রাখার জন্য এক ব্যক্তিকে হুকুম দিলেন একটি বড়) পাথর আনার জন্য। লোকটি পাথর উঠিয়ে আনতে পারলেন না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা উঠিয়ে আনার জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের দু’ হাতের আস্তিন গুটিয়ে নিলেন। হাদীসের রাবী বলেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে রসূলের এ হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলতেন, যখন তিনি হাতা গুটাচ্ছিলেন- মনে হচ্ছে এখনো আমি রসূলের পবিত্র বাহুদ্বয়ের শুভ্রতার চমক অনুভব করছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পাথরটি উঠিয়ে এনে ’উসমানের কবরের মাথার দিকে রেখে দিলেন এবং বললেন, আমি এ পাথর দেখে আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব। এখন আমার পরিবারের যে মারা যাবে তাকে এর পাশে দাফন করব।’’ (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ قَالَ: لَمَّا مَاتَ عُثْمَان ابْن مَظْعُونٍ أُخْرِجَ بِجَنَازَتِهِ فَدُفِنَ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا أَنْ يَأْتِيَهُ بِحَجَرٍ فَلم يسْتَطع حملهَا فَقَامَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَسَرَ عَنْ ذِرَاعَيْهِ. قَالَ الْمُطَّلِبُ: قَالَ الَّذِي يُخْبِرُنِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ ذِرَاعَيْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ حَسَرَ عَنْهُمَا ثُمَّ حَمَلَهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَأْسِهِ وَقَالَ: «أُعَلِّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ من أَهلِي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن المطلب بن ابي وداعة قال: لما مات عثمان ابن مظعون اخرج بجنازته فدفن امر النبي صلى الله عليه وسلم رجلا ان ياتيه بحجر فلم يستطع حملها فقام اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وحسر عن ذراعيه. قال المطلب: قال الذي يخبرني عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: كاني انظر الى بياض ذراعي رسول الله صلى الله عليه وسلم حين حسر عنهما ثم حملها فوضعها عند راسه وقال: «اعلم بها قبر اخي وادفن اليه من مات من اهلي» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে শারী‘আত কবরকে চিহ্নিত করার বৈধতা দিয়েছে। অর্থাৎ কবরটি কার? এটা চেনার জন্য কোন চিহ্ন ব্যবহার করা জায়িয।

‘উসমান ইবনু মায্‘ঊন (রাঃ) যখন ইন্তিকাল করেন তখন তার জানাযাহ্ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া হল এবং তাকে দাফন করা হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, সে যেন একটি পাথর নিয়ে তার কাছে আসে কিন্তু লোকটি তা বহন করতে সক্ষম হল না। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির কাছে গেলেন এবং তার বাহুদ্বয় থেকে আস্তিন সরিয়ে ফেললেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমাকে যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এ সংবাদ দেয়া হল তখন আমার মনে হল আমি যেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শুভ্র বাহুদ্বয় দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা বহন করে আনলেন এবং ‘উসমান ইবনু মায্‘ঊন-এর ক্ববরের উপর তার মাথার কাছে রাখলেন আর বললেন, এ হল আমার ভাইয়ের কবর। আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে এখানেই দাফন করবে।

এ হাদীসের আলোকে কয়েকটি বিষয় অবগত হওয়া যায়। আর তা হল, নেতা তার অধিনস্ত ব্যক্তিতে কোন কাজের নির্দেশ করতে পারে। সে যদি অক্ষম হয়, তাহলে নেতা সে কাজের জন্য এগিয়ে যাবে।

কারো কবরকে চিহ্নিত করার জন্য কোন কিছু যেমন পাথর বা অন্য কিছু ব্যবহার করা জায়িয।

কবর সম্পর্কে ওয়াসীয়াত করা যায়। যেমন আমাকে অমুক স্থানে দাফন করবে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ‘উসমান ইবনু মায্‘ঊন (রাঃ)-কে ভাই বলার দু’টি দিক রয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্মানার্থে তাকে ইসলামের ভাই বলেছেন। অর্থাৎ এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই অথবা তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন। কেননা তিনি ছিলেন কুরায়শ বংশের অন্তর্ভুক্ত। অথবা তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ ভাই ছিলেন।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, এটাই সহীহ। অর্থাৎ তিনি তার দুধ ভাই ছিলেন।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী আমার পরিবারের থেকে যে মারা যাবে তাকে তার কাছে দাফন করবে। বলা হয়, ‘উসমান ইবনু মায্‘ঊন-এর পরে যে ব্যক্তি প্রথম মারা যান তিনি হলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীম। এ হাদীস আবূ দাঊদে বর্ণিত রয়েছে। এর সানাদ সম্পর্কে আল্লামা মুনযির (রহঃ) বলেন, এর মধ্যকার কাসীর ইবনু যায়দ ছিলেন আসলামীয়ীন-এর দাস।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) তার তালখীস কিতাবে এর সানাদ সম্পর্কে বলেন, কাসীর ইবনু যায়দ ব্যতীত এর সানাদ সহীহ।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১২-[২০] ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। আরয করলাম, হে আমার মা! যিয়ারত করার জন্য আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দু’ সাথী (আবূ বকর ও ’উমারের) কবর খুলে দিন। তিনি তিনটি কবরই খুলে দিলেন। আমি দেখলাম, তিনটি কবরই না খুব উঁচু না মাটির সাথে একেবারে সমতল। বরং মাটি হতে এক বিঘত উঁচু ছিল। আর এ কবরগুলোর উপর (মদীনার পাশের) আরসা ময়দানের লাল কংকর বিছানো ছিল। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ: يَا أُمَّاهُ اكْشِفِي لِي عَنْ قَبْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَاحِبَيْهِ فَكَشَفَتْ لِي عَنْ ثَلَاثَةِ قُبُورٍ لَا مُشْرِفَةٍ وَلَا لَا طئة مَبْطُوحَةٍ بِبَطْحَاءِ الْعَرْصَةِ الْحَمْرَاءِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن القاسم بن محمد قال: دخلت على عاىشة فقلت: يا اماه اكشفي لي عن قبر النبي صلى الله عليه وسلم وصاحبيه فكشفت لي عن ثلاثة قبور لا مشرفة ولا لا طىة مبطوحة ببطحاء العرصة الحمراء. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার দুই সাথী আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-এর ক্ববরের বিবরণ পাওয়া যায়। এখানে ক্বাসিম বলতে মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর (রাঃ)-এর ছেলে ক্বাসিমকে বুঝানো হয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ছিলেন ক্বাসিমের ফুফু। ক্বাসিম কর্তৃক ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে মা বলার কারণ হল, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ছিলেন তার মায়ের পর্যায়ভুক্ত। অথবা এই কারণে যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ছিলেন সকল মু’মিনের মা। এ হিসেবে ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মদ তাকে মা বলে সম্বোধন করেছেন। হাদীসে صاحبيه বলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুই সাথী তথা আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। ক্বাসিম যখন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে তাদের কবর সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তাদের কবর খুব উঁচু ছিল না অর্থাৎ স্বাভাবিক। আর মাটিও খুব বেশী উঁচু ছিল না এবং একে বারে নীচুও ছিল না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৩-[২১] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আনসারদের এক ব্যক্তির জানাযার জন্য বের হলাম। আমরা কবরস্থানে পৌঁছে দেখলাম (এখনো কবর তৈরি না হওয়ার কারণে) দাফনের কাজ শুরু হয়নি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে মুখ করে বসে গেলেন, আমরাও তাঁর সাথে বসে গেলাম। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ; ইবনু মাজাহ হাদীসের শেষে বাড়িয়েছেন, অর্থাৎ মনে হচ্ছিল আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে।)[1]

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَة رجل من الْأَنْصَار فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْر وَلما يُلْحَدْ بَعْدُ فَجَلَسَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَجَلَسْنَا مَعَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَزَادَ فِي آخِرِهِ: كن على رؤوسنا الطير

وعن البراء بن عازب قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة رجل من الانصار فانتهينا الى القبر ولما يلحد بعد فجلس النبي صلى الله عليه وسلم مستقبل القبلة وجلسنا معه. رواه ابو داود والنساىي وابن ماجه وزاد في اخره: كن على رووسنا الطير

ব্যাখ্যা: এ হাদীস এ কথার উপর দলীল যে, যে ব্যক্তি জানাযার সালাতের অপেক্ষায় আছে, তার জন্য ক্বিবলামুখী হয়ে বসা মুস্তাহাব। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক আনসারী সাহাবীর জানাযায় গিয়ে ক্ববরের পাশে ক্বিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং সাহাবীরা তার চার পাশে বসলেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৪-[২২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙারই মতো। (মালিক, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عاىشة: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كسر عظم الميت ككسره حيا» . رواه مالك وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মৃত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আলোচ্য হাদীসের বর্ণনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ) আবূ দাঊদের হাশিয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, একবার আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক জানাযায় গেলাম। সেখানে গিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ববরের কাছে বসলেন এবং তার সাথে সাহাবীরাও বসলেন। এমন সময় একজন গর্ত খননকারী বেশ কিছু হাড় বের করে আনল এবং সে এগুলো ভাঙ্গার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো ভাঙ্গিও না। কেননা মৃত অবস্থায় হাড় ভাঙ্গা জীবদ্দশায় হাড় ভাঙ্গার নামান্তর।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, জীবিত ব্যক্তিকে যেমন অপমান-অপদস্ত ও লাঞ্ছিত করা যায় না ঠিক তেমনিভাবে মৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ অবজ্ঞা ও অবহেলা করা যাবে না।

ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, এ হাদীস থেকে এ ফায়দা গ্রহণ করা যায় যে, জীবিত ব্যক্তি যে সব কারণে কষ্ট ও ব্যথা অনুভব করে মৃত ব্যক্তিও সেসব কারণে ব্যথা ও কষ্ট অনুভব করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৫-[২৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা (উম্মু কুলসুমের) দাফনের সময় উপস্থিত ছিলাম। আর যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় আমি দেখলাম, তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ এমন আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়নি? আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ আছি, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি। তিনি বললেন, (মাইয়্যিতকে কবরে রাখার জন্য) তুমিই কবরে নামো। তখন তিনি কবরে নামলেন। (বুখারী)[1]

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: شَهِدْنَا بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُدْفَنُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ عَلَى الْقَبْرِ فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ فَقَالَ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ أَحَدٍ لَمْ يُقَارِفِ اللَّيْلَةَ؟ . فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَنَا. قَالَ: فَانْزِلْ فِي قَبْرِهَا فَنَزَلَ فِي قبرها . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن انس قال: شهدنا بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم تدفن ورسول الله صلى الله عليه وسلم جالس على القبر فرايت عينيه تدمعان فقال: هل فيكم من احد لم يقارف الليلة؟ . فقال ابو طلحة: انا. قال: فانزل في قبرها فنزل في قبرها . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে এ রায় দেয়া যায় যে, মহিলাদেরকে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে দাফন করতে হবে এবং মৃত ব্যক্তির বিয়োগ বেদনায় চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে নীরবে ক্রন্দন করা যাবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে উম্মু কুলসুম যখন ইন্তিকাল করেন তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ক্ববরের পাশে গিয়ে বসলেন। তখন তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। মূলত এখান থেকেই মৃত ব্যক্তির জন্য নীরবে কান্না করাটা জায়িয হয়েছে। তবে ইসলাম যে সকল কান্নাকে অপছন্দ করে সে রকম কান্না করা যাবে না।

অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু কুলসুম-এর ক্ববরে নামার জন্য এমন একজন লোক খুঁজলেন যে, রাতে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল যে, যদি রাতে সহবাসকারী কোন ব্যক্তি উম্মু কুলসুমকে নিয়ে ক্ববরে নামে তাহলে রাতে যা করেছে হয়ত তা মনে পড়ে যাবে। এর দ্বারা বুঝা যায় ভাল মনের মানুষদের দ্বারা লাশ ক্ববরে রাখা উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৬-[২৪] ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) মৃত্যুর সময় তাঁর ছেলে ’আবদুল্লাহ (রাঃ) কে ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন যে, যখন আমি মারা যাব তখন আমার জানাযার সাথে যেন মাতম করার জন্য কোন রমণী না থাকে। আর না থাকে কোন আগুন। আমাকে দাফন করার সময় আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ঢালবে। দাফনের পরে দু’আ ও মাগফিরাতের জন্য এতটা সময় (আমার কবরের কাছে) অপেক্ষা করবে, যতটা সময় একটি উট যাবাহ করে তার মাংস (মাংস/গোসত) বণ্টন করতে লাগে। তাহলে আমি তোমাদের সাথে একটু পরিচিত থাকবো এবং (নির্ভয়ে) জেনে নেব, আমি আমার রবের মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) নিকট কি জবাব দিবো। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ لِابْنِهِ وَهُوَ فِي سِيَاقِ الْمَوْتِ: إِذَا أَنَا مُتُّ فَلَا تَصْحَبْنِي نَائِحَةٌ وَلَا نَارٌ فَإِذَا دَفَنْتُمُونِي فَشُنُّوا عَلَيَّ التُّرَابَ شَنًّا ثُمَّ أَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا يُنْحَرُ جَزُورٌ وَيُقَسَّمُ لَحْمُهَا حَتَّى أَسْتَأْنِسَ بِكُمْ وَأَعْلَمَ مَاذَا أُرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّي. رَوَاهُ مُسلم

وعن عمرو بن العاص قال لابنه وهو في سياق الموت: اذا انا مت فلا تصحبني ناىحة ولا نار فاذا دفنتموني فشنوا علي التراب شنا ثم اقيموا حول قبري قدر ما ينحر جزور ويقسم لحمها حتى استانس بكم واعلم ماذا اراجع به رسل ربي. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হল যে, কোন মুসলিম মারা গেলে তার উদ্দেশে বিলাপসহ উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং জাহিলী যুগের সমস্ত কুসংস্কারমূলক কর্মকান্ড থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) মৃত্যু শয্যায় তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কে ডেকে বললেন, আমি যখন মারা যাব তখন তুমি আমার জানাযার সাথে কোন বিলাপকারিণীকে সাথী বানাবে না। কেননা এগুলো জাহিলী যুগের কুসংস্কার। জাহিলী যুগের লোকেরা জানাযার সামনে রেখে বিলাপসহ উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করত এবং জানাযার সাথে আগুন পাঠিয়ে দিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহুবিধ হাদীসে এ জাহিলী কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৭-[২৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ মারা গেলে তাকে আটকিয়ে রেখ না। বরং তাকে তার কবরে তাড়াতাড়ি পৌঁছে দাও। তার (কবরে দাঁড়িয়ে) মাথার কাছে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্-র প্রথমাংশ এবং তার দুই পায়ের কাছে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্-র শেষাংশের আয়াতগুলো পড়বে। (বায়হাক্বী; এ বর্ণনাটিকে শু’আবুল ঈমানে উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন, এটি মাওকূফ হাদীস)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ وَلْيُقْرَأْ عِنْدَ رَأْسِهِ فَاتِحَةُ الْبَقَرَةِ وَعِنْدَ رِجْلَيْهِ بِخَاتِمَةِ الْبَقَرَةِ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان. وَقَالَ: وَالصَّحِيح أَنه مَوْقُوف عَلَيْهِ

وعن عبد الله بن عمر قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اذا مات احدكم فلا تحبسوه واسرعوا به الى قبره وليقرا عند راسه فاتحة البقرة وعند رجليه بخاتمة البقرة» . رواه البيهقي في شعب الايمان. وقال: والصحيح انه موقوف عليه

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করতে হবে। কোন প্রকার ওযর-আপত্তি থাকলেও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার ক্ষেত্রে মোটেও দেরী করা যাবে না। আল্লামা ইবনু হুমাম (রহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পরে দ্রুত দাফন করা মুস্তাহাব। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী وَاَسْرِعُوْا بِه اِلى قَبْرِه অর্থাৎ তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) দ্রুত কবরস্থানে নিয়ে যাবে। এর দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সুতরাং এটা এ দলীল পেশ করছে যে, মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করা সুন্নাত।

মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তার মাথার কাছে সূরাহ্ বাক্বারার প্রথমাংশ এবং পায়ের কাছে শেষাংশ পড়তে হবে। আর সূরাহ্ বাক্বারার প্রথম অংশ বলতে বুঝানো হয়েছে প্রথম থেকে مفلحون পর্যন্ত। আর সূরাহ্ বাক্বারার শেষাংশ বলতে বুঝানো হয়েছে امن الرسول থেকে শেষ পর্যন্ত।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, সূরাহ্ বাক্বারার প্রথম অংশ নির্দিষ্ট করার কারণ হল যে, এর মধ্যে কুরআনের গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হল هدى للمتقين এর মধ্যে আরো অনেক গুণাবলী রয়েছে। যেমন অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িমের কথা এবং যাকাত আদায়ের কথা। আর শেষাংশে আল্লাহ, মালাক (ফেরেশতা), রসূল ও তার কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলা হয়েছে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়া-অনুগ্রহ চাওয়া হয়েছে। আল্লাহর ওপরই সমস্ত কিছু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। আর একজন মানুষকে পরকালীন জীবনে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই তাকে দুনিয়াতে এর সবগুলোর প্রতি ‘আমল করতে হবে।

এ হাদীসে ক্ববরের কাছে সূরাহ্ বাক্বারার প্রথম অংশ ও শেষ অংশ পড়ার পক্ষে দলীল বটে কিন্তু হাদীসটি মাওকূফ এবং এ হাদীসটিকে আবূ যুর‘আ, আবূ হাতিম, হাফিয ইবনু হাজার এবং ইবনু মু‘ঈন য‘ঈফ বলেছেন। কুরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য ‘ইবাদাতের নেকী মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে কিনা এ ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে মতানৈক্য আছে। ইমাম আহমাদ (রহঃ) এবং আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে পৌঁছে। তবে ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) এবং ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে পৌঁছে না। যাদের নিকট পৌঁছে তাদের মতের পক্ষে যত দলীল পেশ করেছেন সবগুলো দুর্বল, কোনটি দলীলযোগ্য নয়। কুরআন, সহীহ হাদীস এবং ইজমা থেকে কোন দলীল পাওয়া যায় না। সুতরাং সালফে সালিহীন থেকে এমন ‘আমলের কোন সন্ধান পাওয়া যায় না। আনুষ্ঠানিকতার কথাতো বলাই বাহুল্য।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৮-[২৬] ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুবশী (মক্কার নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) নামক স্থানে ’আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকরের মৃত্যু হলে তাঁর লাশ মক্কায় নিয়ে এসে দাফন করা হয়। উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাঃ) (মক্কায় হাজ্জ (হজ/হজ্জ) করতে) এলে তিনি ’আবদুর রহমানের (ভাইয়ের) কবরের কাছে এলেন। ওখানে তিনি (কবি তামীম ইবনু নুওয়াইরার কবিতার এ দু’টি পংক্তি আবৃত্তি করেন যাতে কবি তার ভাই মালিকের জন্য শোক প্রকাশ করেছিলেন)-

ওয়া কুন্না- কানাদ্ মা-নী জাযীমাতা হিক্ববাতান মিনাদ্ দাহরি হাত্‌তা- ক্বীলা লাই ইয়াতা সাদ্দা’আ

ফালাম্মা- তাফাররাক্বনা- কাআন্নী ওয়ামা-লিকান লিতূলিজ্ তিমা-’ইন লাম নাবিত লাইলাতাম্ মা’আ।

অর্থাৎ আমরা দু’ ভাই বোন, জাযিমার সে দু’ বন্ধুর মতো অনেক দিন পর্যন্ত একত্রে কালযাপন করছিলাম। তাদের এ অবস্থা দেখে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, এরা তো কখনো (একে অপর থেকে) পৃথক হবে না। কিন্তু যখন আমরা দু’জন অর্থাৎ আমি ও তুমি একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম, তখন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এক সাথে থাকার পরও মনে হলো, আমরা একটি রাতের জন্যও একত্রে এক জায়গায় ছিলাম না।

এরপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি তোমার ইন্তিকালের সময় তোমার কাছে থাকতাম, তাহলে আমি তোমাকে সেখানেই দাফন করতাম, যেখানে তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। আর আমি যদি তোমার মৃত্যুর সময় তোমার কাছে থাকতাম তাহলে আজ তোমার কবরের পাশে আমি আসতাম না। (তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر بالحبشي (مَوضِع قريب من مَكَّة)
وَهُوَ مَوْضِعٌ فَحُمِلَ إِلَى مَكَّةَ فَدُفِنَ بِهَا فَلَمَّا قَدِمَتْ عَائِشَةُ أَتَتْ قَبْرَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَتْ:
وَكُنَّا كَنَدْمَانَيْ جَذِيمَةَ حِقْبَةً مِنَ الدَّهْرِ حَتَّى قِيلَ لَنْ يَتَصَدَّعَا
فَلَمَّا تَفَرَّقْنَا كَأَنِّي وَمَالِكًا لِطُولِ اجْتِمَاعٍ لَمْ نَبِتْ لَيْلَةً مَعَا
ثُمَّ قَالَتْ: وَاللَّهِ لَوْ حَضَرْتُكَ مَا دُفِنْتَ إِلَّا حَيْثُ مُتَّ وَلَوْ شهدتك مَا زرتك رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابن ابي مليكة قال: لما توفي عبد الرحمن بن ابي بكر بالحبشي (موضع قريب من مكة) وهو موضع فحمل الى مكة فدفن بها فلما قدمت عاىشة اتت قبر عبد الرحمن بن ابي بكر فقالت: وكنا كندماني جذيمة حقبة من الدهر حتى قيل لن يتصدعا فلما تفرقنا كاني ومالكا لطول اجتماع لم نبت ليلة معا ثم قالت: والله لو حضرتك ما دفنت الا حيث مت ولو شهدتك ما زرتك رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: হাবশাহ্ একটি স্থানে নাম। এটি মক্কার নিকট অবস্থিত। তবে মক্কা থেকে এর দূরত্ব হচ্ছে বারো মাইল। কেউ কেউ বলেছেন, দশ মাইল। শামনী বলেন, এ হাদীসে কবিতার যে পংতিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা রচনা করেছিলেন তামীম ইবনু নুওয়াইরাহ্। তিনি তার ভাই মালিক, যাকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফাতকালে হত্যা করেছিলেন তার প্রতি শোক প্রকাশের জন্য তিনি এ কবিতাগুলো রচনা করেছিলেন।

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কবর যিয়ারত করতে গিযেছিলেন। অথচ অন্য হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারিণী মহিলাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন। তাহলে কিভাবে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কবর যিয়ারত করলেন? এর উত্তরে বলা যায় যে, হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে তা হল অধিক অধিক কবর যিয়ারত করার ক্ষেত্রে।

মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করার বিধান সম্পর্কে ‘উলামাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ‘উলামায়ে কেরাম মহিলাদের কবর যিয়ারত করাকে জায়িয বলেছেন। তবে তারা এ শর্তারোপ করেছেন যে, যখন তারা ফিতনাহ্ (ফিতনা) থেকে নিরাপদ থাকবে তখন তাদের কবর যিয়ারত করাতে কোন সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে এ হাদীসটি ছাড়াও আরো হাদীস বর্ণিত রয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭১৯-[২৭] আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ-এর লাশকে মাথার দিক থেকে ধরে কবরে নামিয়েছেন। তারপর তিনি তাঁর কবরে পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ: سَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعْدًا وَرَشَّ عَلَى قَبره مَاء. رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي رافع قال: سل رسول الله صلى الله عليه وسلم سعدا ورش على قبره ماء. رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এই হাদীস দ্বারা এ কথার প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ক্ববরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া যায়, আর এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। এই ব্যাপারে এ ছাড়া আরো অন্যান্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা আবূ রাফি‘র হাদীসকে শক্তিশালী করে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭২০-[২৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। তারপর তিনি তার কবরের কাছে এলেন এবং কবরে তার মাথা বরাবর তিন মুষ্টি মাটি রাখলেন। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ ثُمَّ أَتَى الْقَبْر فَحَثَا عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه

وعن ابي هريرة: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى على جنازة ثم اتى القبر فحثا عليه من قبل راسه ثلاثا. رواه ابن ماجه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির দাফনের বর্ণনা

১৭২১-[২৯] ’আমর ইবনু হাযম (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে কবরে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখে বললেন, তুমি এ কবরবাসীকে কষ্ট দিও না। অথবা বললেন, তুমি একে কষ্ট দিও না। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِئًا عَلَى قَبْرٍ فَقَالَ: لَا تؤذ صَاحب هَذَا الْقَبْر أَولا تؤذه. رَوَاهُ أَحْمد

وعن عمرو بن حزم قال: راني النبي صلى الله عليه وسلم متكىا على قبر فقال: لا توذ صاحب هذا القبر اولا توذه. رواه احمد

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ববরের উপর বসা থেকে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। এ মর্মে আহমাদের বর্ণনাতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। এ সকল হাদীস থেকে জমহূর ‘উলামাগণ এ ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, ক্ববরের উপর বসা বলতে স্বাভাবিকভাবে বসা বুঝানো হয়েছে। প্রয়োজন পূরণের জন্য বসাকে বুঝানো হয়নি। তাছাড়া ক্ববরের উপর বসাকে নিষেধ করার কারণ কি তাও এ হাদীসে বলা হয়েছে। আর তা হল, এর দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়া হয় অর্থাৎ তাকে অপমান করা হয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২২-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আবূ সায়ফ কর্মকারের ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীমের ধাত্রীর স্বামী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহীমকে কোলে তুলে নিলেন, চুমু খেলেন ও শুঁকলেন। এরপর আমরা আবার একদিন আবূ সায়ফ-এর ঘরে গেলাম। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তনয় মৃত্যু শয্যায়। (তার এ অবস্থা দেখে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। এ অবস্থা দেখে ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কাঁদছেন! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে ইবনু ’আওফ! এটা আল্লাহর রহমত। তারপরও তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ চোখ পানি বহাচ্ছে, হৃদয় শোকাহত। কিন্তু এরপরও আমাদের মুখ দিয়ে এমন শব্দ বেরুচ্ছে যার জন্য আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের ওপর সন্তুষ্ট। হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছেদে খুবই শোকাহত। (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي سَيْفٍ الْقَيْنِ وَكَانَ ظِئْرًا لِإِبْرَاهِيمَ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَذْرِفَانِ. فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةٌ ثُمَّ أَتْبَعَهَا بِأُخْرَى فَقَالَ: إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يُرْضِي رَبَّنَا وَإِنَّا بِفِرَاقِك يَا إِبْرَاهِيم لَمَحْزُونُونَ

عن انس قال: دخلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابي سيف القين وكان ظىرا لابراهيم فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ابراهيم فقبله وشمه ثم دخلنا عليه بعد ذلك وابراهيم يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم تذرفان. فقال له عبد الرحمن بن عوف: وانت يا رسول الله؟ فقال: يا ابن عوف انها رحمة ثم اتبعها باخرى فقال: ان العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول الا ما يرضي ربنا وانا بفراقك يا ابراهيم لمحزونون

ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছেলে ইব্রাহীম মারা যাওয়ার পর তিনি তাকে চুম্বন করেছিলেন। এ থেকে এ প্রমাণ পাওয়া যায় যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাকে চুমু দেয়া জায়িয আছে। এ ছাড়া এ হাদীসে আরো যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য তা হল, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ থেকে পানি পড়েছিল অর্থাৎ ইব্রাহীম মারা যাওয়ার কারণে তিনি কেঁদেছিলেন। এখানে প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কারো সন্তান মারা গেলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ দিতেন। কিন্তু নিজের সন্তান মারা যাওয়ার পর কান্না করলেন কেন? এর উত্তর হচ্ছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কান্না আফসোস বা হা-হুতাশ করার জন্য ছিল না। বরং এটা ছিল সন্তানের প্রতি দয়া ও মমতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের কান্না নিষিদ্ধ নয়। বরং এটা আরো প্রশংসনীয় এজন্য যে, এর দ্বারা ব্যক্তির অন্তরের নম্রতা ও স্নেহশীলতা প্রকাশ পায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৩-[২] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা (যায়নাব) কাউকে দিয়ে তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, তাঁর ছেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে, তাই তিনি যেন তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে আসেন। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সালাম পাঠালেন আর বললেন, যে জিনিস (অর্থাৎ সন্তান) আল্লাহ নিয়ে নেন তা তাঁরই। আর যে জিনিস তিনি দিয়ে রেখেছেন তাও তাঁরই। প্রতিটি জিনিসই তার কাছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। অতএব অপরিসীম ধৈর্য ও ইহতিসাবের সাথে থাকতে হবে (শোকে দুঃখে বিহ্বল না হওয়া উচিত)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা আবার তাঁকে কসম দিয়ে তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে যাবার জন্য খবর পাঠালেন। এবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্, মা’আয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা’ব, যায়দ ইবনু সাবিত সহ কিছু লোককে সাথে নিয়ে ওখানে গেলেন। বাচ্চাটিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে তুলে দেয়া হলো। তখন তার শ্বাস ওঠানামা করছে। বাচ্চার এ অবস্থা দেখে রসূলের চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। সা’দ রসূলের চোখে পানি দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা রহমত, যা আল্লাহ বান্দার মনে সৃষ্টি করে দেন আর আল্লাহ তাঁর দয়াশীল বান্দাগণের প্রতি দয়া করেন।’’ (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: أَرْسَلَتِ ابْنَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ: إِنَّ ابْنًا لِي قُبِضَ فَأْتِنَا. فَأَرْسَلَ يُقْرِئُ السَّلَامَ وَيَقُولُ: «إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلٌّ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ» . فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَيَأْتِيَنَّهَا فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جبل وَأبي بن كَعْب وَزيد ابْن ثَابِتٍ وَرِجَالٌ فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّبِيُّ وَنَفْسُهُ تَتَقَعْقَعُ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ. فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذَا؟ فَقَالَ: «هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ. فَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاء»

وعن اسامة بن زيد قال: ارسلت ابنة النبي صلى الله عليه وسلم اليه: ان ابنا لي قبض فاتنا. فارسل يقرى السلام ويقول: «ان لله ما اخذ وله ما اعطى وكل عنده باجل مسمى فلتصبر ولتحتسب» . فارسلت اليه تقسم عليه لياتينها فقام ومعه سعد بن عبادة ومعاذ بن جبل وابي بن كعب وزيد ابن ثابت ورجال فرفع الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبي ونفسه تتقعقع ففاضت عيناه. فقال سعد: يا رسول الله ما هذا؟ فقال: «هذه رحمة جعلها الله في قلوب عباده. فانما يرحم الله من عباده الرحماء»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ শিক্ষা দিয়েছেন যে, কেউ মারা গেলে তার আত্মীয়-স্বজনকে কিভাবে সান্ত্বনা দিতে হবে? কারো ঘরে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার অর্থ এ হয় না যে, সেই কেবল এই সন্তানের মালিক। বরং এই সন্তানের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তা‘আলা। তাই হাদীসে বলা হয়েছে যা আল্লাহর ছিল তা তিনি নিয়ে গেছেন। সুতরাং যার সম্পদ তিনি যদি তা নিয়ে যান, তাহলে সেজন্য পরিতাপ ও আফসোস করার কোন কারণ থাকে না। সে জন্য কেউ মারা গেলে এভাবে মনকে সান্ত্বনা দিতে হবে যে, আল্লাহর সম্পদ আল্লাহ নিয়ে গেছেন। আর সেক্ষেত্রে সবর করতে এবং সাওয়াবের আশা করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৪-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস ও ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ। তিনি ওখানে প্রবেশ করে সা’দ ইবনু ’উবাদাহকে বেহুঁশ অবস্থায় পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে কি মারা গেছে? সাহাবী জবাব দিলেন, জ্বী না, হে আল্লাহর রসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাঁদতে দেখে সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাবধান তোমরা শুনে রাখো অশ্রু বিসর্জন ও মনের শোকের কারণে আল্লাহ তা’আলা কাউকে শাস্তি দেবেন না। তিনি তার মুখের দিকে ইশারা করে বললেন, অবশ্য আল্লাহ এজন্য ’আযাবও দেন আবার রহমতও করেন। আর মৃতকে তার পরিবার-পরিজনের বিলাপের কারণে ’আযাব দেয়া হয়। (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: اشْتَكَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ شَكْوًى لَهُ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ وَجَدَهُ فِي غَاشِيَةٍ فَقَالَ: (قَدْ قَضَى؟ قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَبَكَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَأَى الْقَوْمُ بُكَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَوْا فَقَالَ: أَلَا تَسْمَعُونَ؟ أَنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلَا بِحُزْنِ الْقَلْبِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ أَوْ يَرْحَمُ وَإِن الْمَيِّت لعيذب ببكاء أَهله

وعن عبد الله بن عمر قال: اشتكى سعد بن عبادة شكوى له فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده مع عبد الرحمن بن عوف وسعد بن ابي وقاص وعبد الله بن مسعود فلما دخل عليه وجده في غاشية فقال: (قد قضى؟ قالوا: لا يا رسول الله فبكى النبي صلى الله عليه وسلم فلما راى القوم بكاء النبي صلى الله عليه وسلم بكوا فقال: الا تسمعون؟ ان الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب ولكن يعذب بهذا واشار الى لسانه او يرحم وان الميت لعيذب ببكاء اهله

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে মৃত ব্যক্তির জন্য তার আত্মীয়-স্বজনের ক্রন্দনের নিয়ম সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন তার জন্য উচ্চ আওয়াজে বিলাপ ব্যতীত শুধু চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে ক্রন্দন করতে পারবে। মৃত ব্যক্তির জন্য মনে মনে দুঃখ-কষ্ট পাওয়া এটা কোন দোষের নয়। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন প্রকার বিলাপ করে ক্রন্দন করতে পারবে না। যদি কেউ এরূপ করে তাহলে মৃত ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়া হয় তবে তা সর্বাবস্থায় নয়। বরং ঐ অবস্থায় যখন সে তার পরিবারকে বা অন্য কাউকে ওয়াসিয়্যাত করবে বা এসব কাজে সন্তুষ্ট থাকবে ফলে পরিবারকে নিষেধ করবে না, তাহলে তাকে এ কারণে ‘আযাব দেয়া হবে, অন্যথায় নয়। এ হাদীস থেকে এ কথাও বুঝা যায় যে, রোগীর সেবা-যত্ন করা মুস্তাহাব তথা অত্যধিক সাওয়াবের কাজ। নেতা তার অধীনস্ত ব্যক্তিদের রোগের সময় তাদের দেখতে যাবে এ থেকে আরো বুঝা যায় যে, রোগীর কাছে বসে ক্রন্দন করা জায়িয তথা বৈধ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৫-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত ব্যক্তির শোকে) নিজের মুখাবয়বে আঘাত করে, জামার গলা ছিঁড়ে ফেলে ও জাহিলিয়্যাতের যুগের মতো হা-হুতাশ করে বিলাপ করে, সে আমাদের দলের মধ্যে গণ্য নয়। (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهلية»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ইসলামের দৃষ্টিতে কয়েকটি অপছন্দনীয় কাজের কথা বলা হয়েছে। হাদীসের মধ্যে (ليس منا) এর অর্থ হল, সে আমার সুন্নাত ও পথের অনুসারী নয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, তাকে দীন থেকে বের করা। তবে আহলুস্ সুন্নাহর মতে কোন পাপ কাজের দ্বারা কাফির হয় না। তবে এখানে এ কথা দ্বারা যেসব কাজের হারামের দলীল গ্রহণ করা হয়েছে তা হল যারা কষ্টের সময় গন্ডদেশে আঘাত করে, শোকে-দুঃখে কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলী লোকদের মতো দু‘আ করে।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহিলী যুগের দু‘আ বলতে ইসলাম আগমনের পূর্বের লোকদের দু‘আকে বুঝানো হয়েছে। মূলত জাহিলী যুগের লোকেরা একজন আরেকজনের জন্য বদ্দু‘আ তথা ধ্বংস ও ক্ষতির জন্য দু‘আ করত। যা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। সুতরাং আমাদের এসব ঘৃণিত কাজ হতে বেচে থাকতে হবে। তাহলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত ও পথের অনুসারী হওয়া যাবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৬-[৫] আবূ বুরদাহ্ ইবনু আবূ মূসা (রহঃ) হতে বর্ণিত। একবার আমার পিতা আবূ মূসা অজ্ঞান হয়ে গেলেন। এতে (আমার বিমাতা) তাঁর স্ত্রী ’আবদুল্লাহর মা বিলাপ করতে লাগল। অতঃপর তিনি সংজ্ঞা লাভ করলেন এবং ’আবদুল্লাহর মাকে বললেন, তুমি কি জানো না? তারপর তিনি একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তার সাথে সম্পর্কহীন যে মাথার চুল ছিঁড়ে, উচ্চস্বরে বিলাপ করে এবং জামার গলা ফাঁড়ে। (বুখারী ও মুসলিম; কিন্তু পাঠ মুসলিমের)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَن أبي بردة قَالَ: أُغمي على أبي مُوسَى فَأَقْبَلَتِ امْرَأَتُهُ أُمُّ عَبْدِ اللَّهِ تَصِيحُ بِرَنَّةٍ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ: أَلَمْ تَعْلَمِي؟ وَكَانَ يُحَدِّثُهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَنَا بَرِيءٌ مِمَّنْ حَلَقَ وَصَلَقَ وَخَرَقَ» . وَلَفظه لمُسلم

وعن ابي بردة قال: اغمي على ابي موسى فاقبلت امراته ام عبد الله تصيح برنة ثم افاق فقال: الم تعلمي؟ وكان يحدثها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انا بريء ممن حلق وصلق وخرق» . ولفظه لمسلم

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে বিপদে-আপদে কতিপয় কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপদে পতিত হয়ে চুল কর্তন করা। এ উদ্দেশে যে, এর দ্বারা সে আরোগ্য লাভ করবে। এ হাদীসে এ নির্দেশও দেয়া হয়েছে যে, বিপদে পড়ে যেন উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে ক্রন্দন না করে। এর সাথে আরো একটি বিষয়কে নিষেধ করা হয়েছে যে, কেউ যেন বিপদে পড়ে স্বীয় কাপড় ছিঁড়ে না ফেলে। আলোচ্য হাদীস এ সব কাজ করতে নিষেধ করে দিয়েছে। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা এ সব কাজ করে আমি তাদের থেকে পবিত্র বা বিচ্ছিন্ন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৭-[৬] আবূ মালিক আল আশ্’আরী (রাঃ)বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে জাহিলিয়্যাত যুগের চারটি বিষয় রয়ে গেছে যা তারা ছাড়ছে না, (১) নিজের গুণের গর্ব, (২) কারো বংশের নিন্দা, (৩) গ্রহ-নক্ষত্র যোগে বৃষ্টি চাওয়া এবং (৪) বিলাপ করা। অতঃপর তিনি বলেন, বিলাপকারিণী যদি তার মৃত্যুর পূর্বে তওবা্ না করে, কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তাকে উঠানো হবে- তখন তার গায়ে থাকবে আলকাতরার জামা ও ক্ষতের পিরান। (মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ: الْفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ وَالِاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ . وَقَالَ: «النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قطران وَدرع من جرب» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي مالك الاشعري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اربع في امتي من امر الجاهلية لا يتركونهن: الفخر في الاحساب والطعن في الانساب والاستسقاء بالنجوم والنياحة . وقال: «الناىحة اذا لم تتب قبل موتها تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران ودرع من جرب» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মধ্যে এমন চারটি বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে, যা জাহিলী যুগের মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল। যেগুলো অত্যন্ত গর্হিত ও গুনাহের কাজ। আর এ কাজগুলো এ উম্মাতের মধ্যে ব্যাপকহারে প্রচলিত হয়ে গেছে। আর তা হল মানুষের ধন-সম্পদ, বীরত্ব ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের কারণে গর্ববোধ করা।

আবার কারো মতে এখানে حسب বলতে এমন সব গুণকে বুঝানো হয়েছে যার কারণে লোকেরা কোন ব্যক্তির প্রশংসা করে। আবার কেউ কেউ বলেন, এখানে حسب দ্বারা কোন ব্যক্তির উন্নত দীনদারিতা ও উত্তম চরিত্রকে বুঝানো হয়েছে। অথবা কোন ব্যক্তির উপর অপর ব্যক্তির মান-মর্যাদাকে বুঝানো হয়েছে।

এখানে দ্বিতীয় যে বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির বংশীয় মান-মর্যাদা সম্পর্কে দোষ অন্বেষণ করা। একজনের পূর্বপুরুষদের ওপর অপরজনের পূর্ব-পুরুষদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া। এর দ্বারা মূলত গর্ব-অহংকার প্রকাশ করা হয় তাই শারী‘আতে এ ধরনের কাজ করা নিষেধ।

এখানে তৃতীয় যে বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হল, তারকার কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। অর্থাৎ তারকাকে বৃষ্টির মাধ্যম মনে করা। যেমন জাহিলী যুগের লোকেরা বলত অমুক তারকা আমাদেরকে বৃষ্টি দিয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তাদের বিশ্বাস ছিল তারকাই বৃষ্টির মালিক। এটা স্পষ্ট কুফরী। তাই এটা পরিত্যাগ করতে হবে।

সর্বশেষ যে বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হল, মৃত ব্যক্তির কাছে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে ক্রন্দন করা। এ কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৮-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন একজন মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে একটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্যধারণ করো। মহিলাটি বলল, আপনি আমার কাছ থেকে চলে যান, আমার উপর পতিত বিপদ আপনাকে স্পর্শ করেনি। মহিলাটি তাঁকে চিনতে পারেনি। পরে মহিলাটিকে বলা হলো, ইনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়ীর দরজায় এলো। সেখানে কোন দারোয়ান বা পাহারাদার মোতায়েন ছিল না। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’সবরতো তাকেই বলা হয় যা বিপদের প্রথম অবস্থায় ধারণ করা হয়।’ (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِامْرَأَةٍ تَبْكِي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَالَ: «اتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي» قَالَتْ: إِلَيْكَ عَنِّي فَإِنَّكَ لَمْ تُصَبْ بِمُصِيبَتِي وَلَمْ تَعْرِفْهُ فَقِيلَ لَهَا: إِنَّهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَأَتَتْ بَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ تَجِدْ عِنْدَهُ بَوَّابِينَ فَقَالَتْ: لَمْ أَعْرِفْكَ. فَقَالَ: «إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى»

وعن انس قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بامراة تبكي عند قبر فقال: «اتقي الله واصبري» قالت: اليك عني فانك لم تصب بمصيبتي ولم تعرفه فقيل لها: انه النبي صلى الله عليه وسلم. فاتت باب النبي صلى الله عليه وسلم فلم تجد عنده بوابين فقالت: لم اعرفك. فقال: «انما الصبر عند الصدمة الاولى»

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে এ কথা বলা হয়েছে যে, সর্বদা আল্লাহকে ভয় করতে হবে এবং সর্বপ্রকার বিপদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এখানে বলা হয়েছে যে, কারো মৃত্যুতে অধিক পরিমাণে বিলাপ করে ক্রন্দন করা যাবে না। বরং এ ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করতে হবে। অধিক পরিমাণে কান্না থেকে বিরত থাকতে হবে। বিপদাপদে সর্বদা ধৈর্য ধারণ করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭২৯-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তবে কসম পুরা করার জন্য (ক্ষণিকের জন্য হলেও) প্রবেশ করানো হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَا يَمُوت لمُسلم ثَلَاث مِنَ الْوَلَدِ فَيَلِجُ النَّارَ إِلَّا تَحِلَّةَ الْقَسَمِ»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يموت لمسلم ثلاث من الولد فيلج النار الا تحلة القسم»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ঐ সব পিতা-মাতার ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে, যাদের জীবদ্দশায় তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে ইন্তিকাল করে। মনে রাখতে হবে যে, এখানে পিতা-মাতা বলতে মু’মিন পিতা-মাতাকে বুঝানো হয়েছে। কোন কাফির বা মুশরিক এ ধরনের পুরস্কার পাবে না। এ হাদীসে বলা হচ্ছে যে, যে মুসলিমের তিনটি সন্তান তার জীবদ্দশায় মারা যাবে এবং সে এর উপর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। মুসনাদে আহমাদে আবূ সালাক আল আশজা‘ঈ থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম যে, ইসলাম গ্রহণ করার পর আমার কয়েকটি সন্তান ইন্তিকাল করেছে। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন কোন মুসলিমের সন্তান মারা যায় আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাদীসের মধ্যে সন্তান বলতে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে বুঝানো হয়েছে। ‘তার কসম পুরো করার জন্য’ এর অর্থ জাহান্নামের উপর নির্মিত পুল অতিক্রম করা।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩০-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের কিছু সংখ্যক মহিলাকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমাদের যে কারো তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করবে, আর সে (এজন্য) ধৈর্যধারণ করে সাওয়াবের প্রত্যাশা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (এ কথা শুনে) তাদের একজন বলল, যদি দু’ সন্তান মৃত্যুবরণ করে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, হ্যাঁ। দু’জন করলেও। (মুসলিম; মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, এমন তিন সন্তান মারা গেলে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি [তাদের জন্য এ সুসংবাদ])[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنِسْوَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ: لَا يَمُوتُ لِإِحْدَاكُنَّ ثَلَاثَةٌ من الْوَلَد فتحتسبه إِلَّا دخلت الْجنَّة. فَقَالَ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ: أَوِ اثْنَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أَوْ اثْنَانِ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ لَهما: «ثَلَاثَة لم يبلغُوا الْحِنْث»

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لنسوة من الانصار: لا يموت لاحداكن ثلاثة من الولد فتحتسبه الا دخلت الجنة. فقال امراة منهن: او اثنان يا رسول الله؟ قال: او اثنان . رواه مسلم وفي رواية لهما: «ثلاثة لم يبلغوا الحنث»

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে (وَلَدٌ) ‘ওয়ালাদ’ বলতে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে বুঝানো হয়েছে। হাদীসটি এ কথার দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে যে, যখন কোন মুসলিমের তিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান মারা যায় এবং সে সাওয়াব পাবার আশায় এ উপর ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হল, তাকে মুসলিম হতে হবে এবং আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

সন্তানের সংখ্যা তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং যদি কারো দু’টি সন্তানও মারা যায় তাহলে সেও অনুরূপ পুরস্কার লাভ করবে। অর্থাৎ দুই ও তিন একই পুরস্কার বহন করবে।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, হাদীসে যে সন্তানের কথা বলা হচ্ছে তা হল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের কথা, অর্থাৎ যাদের ওপর শারী‘আতের বিধান আরোপিত হয়নি এবং যাদের পাপ-পুণ্য লেখার বয়স হয়নি তাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমনটা আমরা মুসলিমের বর্ণনায় পাই। তাহলে পরিশেষে আমরা বলতে পারি, যদি কোন মুসলিম নর-নারীর অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুই বা তিনটি সন্তান মারা যায় এবং সে এতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩১-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি যখন আমার কোন মু’মিন বান্দার প্রিয় জিনিসকে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেই আর বান্দা এজন্য সবর অবলম্বন করে সাওয়াবের প্রত্যাশী হয়, তাহলে আমার কাছে তার জন্য জান্নাতের চেয়ে উত্তম কোন পুরস্কার নেই। (বুখারী)[1]

اَلْبُكَاءُ عَلَى الْمَيِّتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ اللَّهُ: مَا لِعَبْدِي الْمُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءٌ إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احتسبه إِلَّا الْجنَّة . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول الله: ما لعبدي المومن عندي جزاء اذا قبضت صفيه من اهل الدنيا ثم احتسبه الا الجنة . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে এমন ব্যক্তির ফাযীলাতের কথা বলা হয়েছে যার কোন প্রিয়জন যাকে সে অনেক ভালবাসে যেমন সন্তান বা ভাই, এদের কেউ অপ্রাপ্ত বয়সে মারা গেলে উক্ত ব্যক্তি যদি সাওয়াবের আশায় আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে। তাহলে আল্লাহ তা‘আলা উক্ত ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দিবেন আর তা হল জান্নাত। আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অত্যন্ত খুশী থাকবেন।

হাদীসের ভাষ্য মতে বুঝানো হচ্ছে যে, যার প্রিয়জন মারা যাবে তাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে এবং সাওয়াবের আশা করতে হবে। সাওয়াবের আশা বলতে বুঝানো হয়েছে যে, সে ধরে নিবে যে, এর প্রতিদান সে আল্লাহর নিকট পাবে। তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আল্লামা ক্বারী (রহঃ) বলেন, তার প্রতিদান স্বরূপ যা রয়েছে তা জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।

এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, প্রিয়ভাজন তিন, দুই অথবা একজনও যদি মারা যায় তবে তাঁর প্রতিদান জান্নাত।

আল্লামা হাফিয (রহঃ) বলেন, ইবনু বাত্তাল এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন যে, যদি কারো একটি সন্তানও মারা যায় তাহলে সে তিনটি সন্তান মারা যাওয়ার পুরস্কার লাভ করবে। অর্থাৎ সন্তান এক বা একাধিক মারা গেলে তার প্রতিদান জান্নাত।

আলোচ্য হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, কোন মুসলিম ব্যক্তির এক বা একাধিক অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রিয়ভাজন তথা সন্তান বা ভাই মারা যায় আর সে এর উপর সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ কবে তবে তার প্রতিদান হল জান্নাত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩২-[১১] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শোকে মাতমকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّائِحَةَ وَالْمُسْتَمِعَةَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن ابي سعيد الخدري قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الناىحة والمستمعة. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসটি মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল। অর্থাৎ এই হাদীসটি এ কথা প্রমাণ করে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ সহ ক্রন্দন করা সম্পূর্ণ হারাম। আলোচ্য হাদীসে বিশেষ করে মহিলার কথা বলার করণ হল, সাধারণত এ ধরনের উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে ক্রন্দন করা মহিলাদের অভ্যাস। উক্ত হাদীসে আরো বলা হয়েছে যে, কেউ যেন এরূপ কান্না শোনার জন্য বসে না থাকে অর্থাৎ উক্ত হাদীসে দুই শ্রেণীর মানুষের ওপর আল্লাহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিশাপের কথা বলা হয়েছে। যারা বিলাপ করে কাঁদে এবং যারা তা উপভোগের জন্য বসে থাকে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৩-[১২] সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের কাজ বড় বিস্ময়কর। সে সুখের সময় যেমন আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর করে, আবার বিপদেও তেমনি আল্লাহর প্রশংসা ও ধৈর্যধারণ করে। মু’মিনকে প্রতিটি কাজের জন্যই প্রতিদান দেয়া হয়। এমনকি তার স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়ার সময়েও। (বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَجَبٌ لِلْمُؤْمِنِ: إِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ حمد الله وَشَكَرَ وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ حَمِدَ اللَّهَ وَصَبَرَ فالمؤمن يُؤْجَرُ فِي كُلِّ أَمْرِهِ حَتَّى فِي اللُّقْمَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِهِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن سعد بن ابي وقاص رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عجب للمومن: ان اصابه خير حمد الله وشكر وان اصابته مصيبة حمد الله وصبر فالمومن يوجر في كل امره حتى في اللقمة يرفعها الى في امراته. رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মু’মিনের চরিত্র সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সুখ-স্বাচ্ছন্দে ও বিপদে-আপদে মু’মিনের চরিত্রে কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মু’মিন ব্যক্তি যখন কোন কল্যাণকর বিষয় লাভ করে তখন সে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করবে। যাতে করে সে আরো কল্যাণকর বস্ত্ত লাভ করতে পারে এবং সকল ক্ষতিকর বস্ত্ত থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আর যখন তাকে কোন বিপদ পেয়ে বসে তখনও সে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং এ বিপদের ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দেয় যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে এ বিপদ দূর করে না দেন।

আল্ ক্বারী বলেন, এ হাদীস এ কথাও প্রমাণ করে যে, ঈমানের দু’টি অংশ। একটি অংশ হল, সবর তথা ধৈর্য। আর অপর অংশ হল, শুকর তথা গুণকীর্তন করা। ইবনু মালিক বলেন, বিপদের সময় শুকরিয়া আদায় করার উদ্দেশ্য হল, এর দ্বারা আল্লাহ বড় ধরনের সাওয়াব দান করবেন। আর সাওয়াব তো অনেক বড় নি‘আমাত।

এ হাদীস আরো প্রমাণ করে যে, মু’মিন তার প্রতিটি কাজে সাওয়াব পাবে এমন কি সে তার পরিবারের জন্য যা ব্যয় করে তারও সাওয়াব পাবে। তবে তার প্রতিটি কাজ শারী‘আত তথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের মাপকাঠিতে হতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৪-[১৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মু’মিনের জন্য দু’টি দরজা রয়েছে। একটি দরজা দিয়ে তার নেক ’আমল উপরের দিকে উঠে। আর দ্বিতীয়টি দিয়ে তার রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) নীচে নেমে আসে। যখন সে মৃত্যুবরণ করে, এ দু’টি দরজা তার জন্য কাঁদে। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলার এ বাণীটি। তিনি বলেছেন, ’’এ কাফিরদের জন্য না আকাশ কাঁদে আর না জমিন’’- (সূরাহ্ আদ্ দুখান ৪৪: ২৯)। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَله بَابَانِ: بَاب يصعد مِنْهُ علمه وَبَابٌ يَنْزِلُ مِنْهُ رِزْقُهُ. فَإِذَا مَاتَ بَكَيَا عَلَيْهِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: (فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاء وَالْأَرْض)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من مومن الا وله بابان: باب يصعد منه علمه وباب ينزل منه رزقه. فاذا مات بكيا عليه فذلك قوله تعالى: (فما بكت عليهم السماء والارض) رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি মু’মিন ব্যক্তির গুরুত্ব ও ফাযীলাতের কথা গুরুত্বের সাথে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে। হাদীসটি এদিকে ইঙ্গিত করছে যে, মু’মিন ব্যক্তির জন্য আসমানে দু’টি দরজা রয়েছে। একটি দরজা দিয়ে তার নেক ‘আমলসমূহ আসমানে উত্তোলন করা হয়। অর্থাৎ তা দুনিয়ায় লেখার পর আসমানে লেখার স্থানে। দুনিয়ার মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) দুনিয়ায় বসে লেখে আর আসমানের মালায়িকাহ্ ঐ দরজায় বসে লেখে। আর অপর দরজা দিয়ে মু’মিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ায় খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার জন্য রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) তথা খাদ্য ব্যবস্থা অবতীর্ণ হয়।

অতঃপর মু’মিন ব্যক্তি যখন ইন্তিকাল করেন, তখন উভয় দরজা তার জন্য ক্রন্দন করতে থাকে। অর্থাৎ তার বিয়োগ বেদনায় ক্রন্দন করে। কেউ বলেন, তারা কাঁদে না বরং কষ্ট পায়।

ইবনু মালিক বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের কাছে এটা সুস্পষ্ট বিষয় যে, প্রত্যেকটা জিনিস আল্লাহকে জানে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৫-[১৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তির দু’টি সন্তান শৈশবে মারা যাবে, আল্লাহ তা’আলা এ কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (এ কথা শুনে) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আপনার উম্মাতের যে ব্যক্তির একটি মারা যাবে? তিনি বললেন, যার একটি শিশু সন্তান মারা যাবে তার জন্যও, হে যথাযোগ্য প্রশ্নকারিণী! ’আয়িশাহ্ (রাঃ) এবার বললেন, যার একটি বাচ্চাও মরেনি, তার জন্য কি শুভ সংবাদ? তিনি বললেন, আমিই আমার উম্মাতের জন্য এ অবস্থানে। কারণ আমার মুসীবাত বা মৃত্যুর চেয়ে আর বড় কোন মুসীবাত তাদের স্পর্শ করতে পারে না। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীস গরীব)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
مَنْ كَانَ لَهُ فرطان من متي أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهِمَا الْجَنَّةَ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ مَنْ أُمَّتِكَ؟ قَالَ: «وَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ يَا مُوَفَّقَةُ» . فَقَالَتْ: فَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ فَرَطٌ مِنْ أُمَّتِكَ؟ قَالَ: «فَأَنَا فَرَطُ أُمَّتِي لَنْ يُصَابُوا بِمِثْلِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كان له فرطان من متي ادخله الله بهما الجنة . فقالت عاىشة: فمن كان له فرط من امتك؟ قال: «ومن كان له فرط يا موفقة» . فقالت: فمن لم يكن له فرط من امتك؟ قال: «فانا فرط امتي لن يصابوا بمثلي» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা : আমার বিয়োগ ব্যথার মতো তাদের জন্য আর কোন ব্যথ্যা নেই।

আলোচ্য হাদীসে ঐ সকল মু’মিন পিতা-মাতার ফাযীলাতের কথা বলা হয়েছে, যাদের জীবদ্দশায় তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান মারা যায়। আলোচ্য হাদীসে فرط (অগ্রদূত) বলার কারণ হল, এরা পিতা-মাতার আগে জান্নাতে প্রবেশ করে। ইমাম ত্বীবী বলেন, فرط বলা হয় এমন লোকদের যারা কাফেলার আগে চলে অগ্রদূত হিসেবে। এ হাদীসে বলা হচ্ছে যে, যে ব্যক্তির এক বা একাধিক নাবালেগ সন্তান তার পূর্বে ইন্তিকাল করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

আলোচ্য হাদীসে এ কথাগুলো বলা হয়েছে, যার কোন فرط তথা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান মারা না যাবে তাদের জন্য فرط হবেন স্বয়ং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অর্থাৎ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা‘আত করে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৬-[১৫] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দার সন্তান মারা গেলে আল্লাহ তা’আলা মালাকগণকে (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের রূহ কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর তিনি বলেন, তোমরা আমার বান্দার হৃদয়ের ফলকে কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর আল্লাহ বলেন, (এ ঘটনায়) আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেন, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ইস্তিরজা’ (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি র-জিউন) পড়েছে। এবার আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করো এবং এ ঘরটির নাম রাখো ’বায়তুল হাম্‌দ’। (আহমাদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَن أبي مُوسَى اشعري قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ: قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيَقُولُ: قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيَقُولُ: مَاذَا قَالَ عَبْدِي؟ فَيَقُولُونَ: حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ. فَيَقُولُ اللَّهُ: ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُّوهُ بَيت الْحَمد . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ابي موسى اشعري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملاىكته: قبضتم ولد عبدي؟ فيقولون: نعم. فيقول: قبضتم ثمرة فواده؟ فيقولون: نعم. فيقول: ماذا قال عبدي؟ فيقولون: حمدك واسترجع. فيقول الله: ابنوا لعبدي بيتا في الجنة وسموه بيت الحمد . رواه احمد والترمذي

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে ঐ সব মু’মিন পিতা-মাতাকে ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, যাদের জীবদ্দশায় তাদের ছোট ছোট সন্তান মারা যায়। আলোচ্য হাদীসে বলা হচ্ছে যে, যখন কোন মু’মিন পিতা-মাতার জীবদ্দশায় তাদের সন্তান মারা যায় আর তারা এ ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান আশা করে তখন আল্লাহ তা‘আলা ঐ সন্তানের জন্য এমন একটি ঘর নির্মাণ করে দেন, যার নাম রাখা হয় ‘বায়তুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)।

ইমাম ক্বারী (রহঃ) বলেন, হাদীসে ঘরকে হামদের সাথে ইযাফাত করার কারণ হল এই যে, যেহেতু সে বিপদের মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা করেছে। আর ঐ ঘরখানা তো প্রশংসারই প্রতিদান। তাই তার নামকরণ করা হয়েছে ‘বায়তুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এখানে মালায়িকাহ্-কে (ফেরেশতাগণকে) এ কথা সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের বিপদাপদে অধিক ধৈর্যের ভিত্তিতে অধিক মর্যাদা দিতে চান।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৭-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিপদাপন্নকে সান্ত্বনা দেবে, তাকেও বিপদগ্রস্তের সমান সাওয়াব দেয়া হবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব। আমি এ হাদীসটিকে ’আলী ইবনু ’আসিম ছাড়া আর কোন ব্যক্তি হতে মারফূ’ হিসেবে পাইনি। ইমাম তিরমিযী এ কথাও বলেন যে, কোন কোন মুহাদ্দিস এ বর্ণনাটিকে মুহাম্মাদ ইবনু সূকা হতে এ সানাদে ’মাওকূফ’ হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلَّا مِنْ حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ الرَّاوِي وَقَالَ: وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مُحَمَّد بن سوقة بِهَذَا الْإِسْنَاد مَوْقُوفا

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عزى مصابا فله مثل اجره» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث علي بن عاصم الراوي وقال: ورواه بعضهم عن محمد بن سوقة بهذا الاسناد موقوفا

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে এমন ব্যক্তির ফাযীলাতের কথা বলা হয়েছে যে, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেয়। বলা হচ্ছে যে, যখন কোন বিপদগ্রস্ত মু’মিন ব্যক্তিকে অপর কোন মু’মিন ব্যক্তি সান্ত্বনা দেয় তাহলে সে ততটুকু সাওয়াব পাবে যতটুকু সাওয়াব বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি দু‘আ করতে হবে, যাতে সে তাড়াতাড়ি বিপদমুক্ত হয়ে যায়। তাকে বুঝাতে হবে যে, তোমার এ বিপদের মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে বড় প্রতিদান দেবেন। তোমার উচিত ধৈর্যধারণ করা। আর এখন তোমার খাদ্য হল শুকর অর্থাৎ তুমি এখন আল্লাহর শুকরের মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ কর। তাহলে সান্ত্বনা দানকারী তার মতো সাওয়াব পাবে। কেননা ভাল কাজের নির্দেশ দাতা ভাল কাজ আদায়কারীর সমান সাওয়াব পাই। যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে ধৈর্যধারণ করতে হবে।

কেউ বলেন, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ধৈর্য ও শুকরের মাধ্যমে যে সাওয়াব বা প্রতিদান পাবে তাকে সান্তনা দানকারী ব্যক্তিও অনুরূপ প্রতিদান পাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৮-[১৭] আবূ বারযাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সন্তানহারা নারীকে সান্ত্বনা যোগাবে তাকে জান্নাতে খুবই উত্তম পোশাক পরানো হবে। (তিরমিযী, তিনি এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[1]

وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ عَزَّى ثَكْلَى كسي بردا فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن ابي برزة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عزى ثكلى كسي بردا في الجنة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে সন্তান হারা মাকে সান্ত্বনা দানের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। আলোচ্য হাদীসে ثكلى বলতে এমন মহিলাকে বুঝানো হয়েছে যে, তার সন্তান হারিয়ে ফেলেছে। কেউ যদি এ ধরনের মহিলাকে সান্ত্বনা দেয়, তাহলে তাকে জান্নাতের মধ্যে উচ্চ মানের পাড়যুক্ত চাদর পরিয়ে দেয়া হবে।

আল্লামা মা'নাবী তার শারহুল জামিউস সাগীর কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোন যুবতী নারীকে তার স্বামী বা মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ সান্ত্বনা দিতে পারবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৩৯-[১৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা’ফার-এর ইন্তিকালের খবর আসার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আহলে বায়তকে) বললেন, তোমরা জা’ফারের পরিবার-পরিজনের জন্য খাবার তৈরি করো। কেননা তাদের ওপর এমন এক বিপদ এসে পড়েছে, যা তাদেরকে রান্নাবান্না করে খেতে বাধা সৃষ্টি করবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: لَمَّا جَاءَ نَعْيُ جَعْفَرٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: صانعوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَقَدْ أَتَاهُمْ مَا يَشْغَلُهُمْ)
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن عبد الله بن جعفر قال: لما جاء نعي جعفر قال النبي صلى الله عليه وسلم: صانعوا لال جعفر طعاما فقد اتاهم ما يشغلهم) رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, অষ্টম হিজরীতে তাবূকের যুদ্ধে যখন জা‘ফার (রাঃ) শাহীদ হন এবং এ খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছে তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের বললেন, তোমরা জা‘ফারের পরিবারের জন্য খাবার প্রস্ত্তত কর। কেননা তাদের কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে তারা সে কষ্টের কারণে বিপদের মধ্যে অবস্থান করছে।

মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের উচিত মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার পাঠানো। কেননা, তারা বিপদের মধ্যে বর্তমান আছে। এ সময় তাদেরকে বুঝিয়ে আদর-যত্ন করে কিছু খাওয়ানো উচিত। কেননা তারা বিপদের মধ্যে খাওয়ার কথা ভুলে যায় এবং খেতে আগ্রহী থাকে না।

ইমাম তিরমিযী বলেন, ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য কিছু পাঠানো মুস্তাহাব। ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এ দিকে ইঙ্গিত বহন করেছে যে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য তার নিকট আত্মীয় এবং প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাদ্য পাঠানো মুস্তাহাব। ইবনু হুমাম বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে যিয়াফাত তথা খাবার খাওয়ানো মাকরূহ তথা শারী‘আতের অপছন্দনীয় কাজ, যা নিকৃষ্ট বিদ্‘আতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা ক্বারী (রহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে লোকজন জমা করে খাবার পরিবেশন করা সম্পূর্ণ বিদ্‘আত ও মাকরূহ।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪০-[১৯] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা হয় কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন সে মৃতকে এ মাতমের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «من نِيحَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُعَذَّبُ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ يَوْم الْقِيَامَة»

عن المغيرة بن شعبة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من نيح عليه فانه يعذب بما نيح عليه يوم القيامة»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে নিষেধ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে তার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা হলে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে শাস্তি প্রদান করা হবে। আলোচ্য হাদীসে এ কথার দলীল যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করা হারাম। কেননা সে কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। আর এরূপ শাস্তি হবে সেক্ষেত্রে যখন মৃত ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় এরূপ কান্নাকাটি ও বিলাপের জন্য ওয়াসিয়্যাত করে গিয়ে থাকে বা অপছন্দ করে না থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪১-[২০] ’আমরাহ্ বিনতু ’আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তাকে বলা হল যে, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেছেন, জীবিতদের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহ আবূ ’আবদুর রহমানকে (ইবনু ’উমারের উপনাম নাম) মাফ করুন। তিনি মিথ্যা কথা বলেননি। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন অথবা ইজতিহাদী ভুল করেছেন। (ব্যাপার হলো) একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ইয়াহূদী মহিলার কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, দেখলেন তার কবরের পাশে লোকজন কাঁদছে। এ দৃশ্য দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর আত্মীয়-স্বজনরা তার জন্য কাঁদছে, আর এ মহিলাকে তার কবরে ’আযাব দেয়া হচ্ছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ وَذُكِرَ لَهَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ عَلَيْهِ تَقُولُ: يَغْفِرُ اللَّهُ لِأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ وَلَكِنَّهُ نَسِيَ أَوْ أَخْطَأَ إِنَّمَا مَرَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى يَهُودِيَّةٍ يُبْكَى عَلَيْهَا فَقَالَ: «إِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا لتعذب فِي قبرها»

وعن عمرة بنت عبد الرحمن انها قالت: سمعت عاىشة وذكر لها ان عبد الله بن عمر يقول: ان الميت ليعذب ببكاء الحي عليه تقول: يغفر الله لابي عبد الرحمن اما انه لم يكذب ولكنه نسي او اخطا انما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على يهودية يبكى عليها فقال: «انهم ليبكون عليها وانها لتعذب في قبرها»

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন না করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। আলোচ্য হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তির যে কেউ কাঁদলে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। চাই সে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য হোক বা না হোক। সুতরাং হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এখানে কান্নার বিষয়টি শুধু পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট রাখা হয়নি। অপর বর্ণনায় আছে যে, তার শাস্তি হয় তার পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে। কেননা, সাধারণত মৃত ব্যক্তির জন্য তার পরিবারের লোকেরাই ক্রন্দন করে।

ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, ইমাম নাবাবী (রহঃ) ‘উলামায়ে কিরামের মতামত উল্লেখ করে বলেন, এখানে মৃত ব্যক্তিকে যে কান্নার কারণে শাস্তি দেয়া হয় তা হল, বিলাপসহ উচ্চৈঃস্বরে কান্না। কেউ যদি শুধু চোখের পানি ছেড়ে বিনা আওয়াজে কাঁদে তাহলে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয় না।

এ হাদীসের শেষ অংশে বলা হচ্ছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহূদী মহিলার ক্ববরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং দেখলেন যে, তার জন্য কান্না করা হচ্ছে, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এখানে মূলত তাকে তার কুফরীর জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে। জীবিতদের কান্নার কারণে নয়। কেননা সে এমনিতেই শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪২-[২১] ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উসমান ইবনু ’আফফান-এর কন্যা মক্কায় মৃত্যুবরণ করলেন। আমরা তার জানাযাহ্ ও দাফনের কাজে যোগ দিতে মক্কায় এলাম। ইবনু ’উমার (রাঃ) ও ইবনু ’আব্বাসও এখানে আসলেন। আমি এ দু’জনের মধ্যে বসেছিলাম। এমন সময় ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ), ’আমর ইবনু ’উসমান (রাঃ) কে বললেন, আর তিনি তখন তাঁর মুখোমুখি বসেছিলেন। তুমি (পরিবারের লোকজনকে আওয়াজ করে) কান্নাকাটি করতে কেন নিষেধ করছ না? অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য ’আযাব দেয়া হয়। তখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, ’উমার (রাঃ) এ ধরনের কথা বলতেন। তারপর তিনি ঘটনা বর্ণনা করলেন, ’’আমি যখন ’উমার (রাঃ)-এর সাথে মক্কা হতে ফেরার পথে ’বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, হঠাৎ করে ’উমার (রাঃ) একটি কাঁকর গাছের ছায়ার নীচে এক কাফেলা দেখতে পেলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি ওখানে গিয়ে দেখো কাফেলায় কে কে আছে। আমি সুহায়বকে দেখতে পাই। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি ফিরে এসে ’উমার (রাঃ) কে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আনো।

আমি আবার সুহায়ব-এর নিকট গেলাম। তাকে বললাম, ’চলুন, আমীরুল মু’মিনীন ’উমারের সাথে দেখা করুন।’ এরপর যখন মদীনায় ’উমার (রাঃ) কে আহত করা হলো, সুহায়ব কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে এলেন এবং বলতে থাকলেন, হায় আমার ভাই, হায় আমার বন্ধু! (এটা কি হলো!) সে অবস্থায়ই ’উমার (রাঃ) বললেন, সুহায়ব! তুমি আমার জন্য কাঁদছ অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন’আযাব দেয়া হয়। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন ’উমার (রাঃ) ইন্তিকাল করলেন, আমি এ কথা ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে বললাম। তিনি শুনে বলতে লাগলেন, আল্লাহ তা’আলা ’উমারের উপর দয়া করুন। কথা এটা নয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য মৃত ব্যক্তিকে ’আযাব দেয়া হয়। বরং আল্লাহ তা’আলা পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য কাফিরের ’আযাব বাড়িয়ে দেন। তারপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, কুরআনের এ আয়াতই দলীল হিসেবে তোমাদের জন্য যথেষ্ট, অর্থাৎ ’’কোন ব্যক্তি অন্য কারো বোঝা বহন করবে না’’- (সূরাহ্ ইসরা ১৭: ১৫)। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াতের মর্মবাণীও প্রায় এ রকমই, অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলাই হাসান ও কাঁদান। ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) এসব কথা শুনার পর কিছুই বললেন না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ: تُوُفِّيَتْ بِنْتٌ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ بِمَكَّةَ فَجِئْنَا لِنَشْهَدَهَا وَحَضَرَهَا ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنِّي لَجَالِسٌ بَيْنَهُمَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بن عمر لعَمْرو بْنِ عُثْمَانَ وَهُوَ مُوَاجِهُهُ: أَلَا تَنْهَى عَنِ الْبُكَاءِ؟ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ» . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَدْ كَانَ عُمَرُ يَقُولُ بَعْضَ ذَلِكَ. ثُمَّ حَدَّثَ فَقَالَ: صَدَرْتُ مَعَ عُمَرَ مِنْ مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ فَإِذَا هُوَ بِرَكْبٍ تَحْتَ ظِلِّ سَمُرَةٍ فَقَالَ: اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ هَؤُلَاءِ الرَّكْبُ؟ فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ صُهَيْبٌ. قَالَ: فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: ادْعُهُ فَرَجَعْتُ إِلَى صُهَيْبٍ فَقُلْتُ: ارْتَحِلْ فَالْحَقْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا أَنْ أُصِيبَ عُمَرُ دَخَلَ صُهَيْبٌ يبكي يَقُول: وَا أَخَاهُ واصاحباه. فَقَالَ عُمَرُ: يَا صُهَيْبُ أَتَبْكِي عَلَيَّ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ؟» فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَلَمَّا مَاتَ عُمَرُ ذَكَرْتُ ذَلِك لعَائِشَة فَقَالَت: يَرْحَمُ اللَّهُ عُمَرَ لَا وَاللَّهِ مَا حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَن الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ وَلَكِنْ: إِنَّ اللَّهَ يَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَابًا بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ. وَقَالَتْ عَائِشَةُ: حَسْبُكُمُ الْقُرْآنُ: (وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وزر أُخْرَى)
قَالَ ابْن عَبَّاس عِنْد ذَلِك: وَالله أضح وأبكي. قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ: فَمَا قَالَ ابْنُ عمر شَيْئا

وعن عبد الله بن ابي مليكة قال: توفيت بنت لعثمان بن عفان بمكة فجىنا لنشهدها وحضرها ابن عمر وابن عباس فاني لجالس بينهما فقال عبد الله بن عمر لعمرو بن عثمان وهو مواجهه: الا تنهى عن البكاء؟ فان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان الميت ليعذب ببكاء اهله عليه» . فقال ابن عباس: قد كان عمر يقول بعض ذلك. ثم حدث فقال: صدرت مع عمر من مكة حتى اذا كنا بالبيداء فاذا هو بركب تحت ظل سمرة فقال: اذهب فانظر من هولاء الركب؟ فنظرت فاذا هو صهيب. قال: فاخبرته فقال: ادعه فرجعت الى صهيب فقلت: ارتحل فالحق امير المومنين فلما ان اصيب عمر دخل صهيب يبكي يقول: وا اخاه واصاحباه. فقال عمر: يا صهيب اتبكي علي وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الميت ليعذب ببعض بكاء اهله عليه؟» فقال ابن عباس: فلما مات عمر ذكرت ذلك لعاىشة فقالت: يرحم الله عمر لا والله ما حدث رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الميت ليعذب ببكاء اهله عليه ولكن: ان الله يزيد الكافر عذابا ببكاء اهله عليه. وقالت عاىشة: حسبكم القران: (ولا تزر وازرة وزر اخرى) قال ابن عباس عند ذلك: والله اضح وابكي. قال ابن ابي مليكة: فما قال ابن عمر شيىا

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করলে তাকে শাস্তি দেয়া হয়। আর কোন কাফিরের জন্য কাঁদলে তার শাস্তিকে বাড়িয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ কোন মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যুতে যদি তার পরিবারের লোকেরা উচ্চ আওয়াজে বিলাপ সহকারে কাঁদে, তবে তাকে শাস্তি দেয়া হয়।

এ হাদীস থেকে আরো বুঝা যাচ্ছে যে, যদি কেউ মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যুতে উচ্চ আওয়াজে বিলাপসহ কাঁদে তবে তাকে নিষেধ করতে হবে। হাদীসের শেষাংশে দেখা যাচ্ছে যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, মৃত মু’মিন ব্যক্তির পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হয় না। আর কাফিরের পরিবারের কান্নার কারণে তার শাস্তি বাড়িয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ কাফির তো এমনিতেই শাস্তি ভোগ করে আর তার পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে তার চলমান শাস্তি বাড়িয়ে দেয়া হয়।

সহীহুল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে শাস্তি দেন। কাফিরদের শাস্তি বাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াতে প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরাহ্ আন্ নাহল-এ ৮৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আমি তাদের ওপর ‘আযাবের উপর আমার বৃদ্ধি করে দেব।

সূরাহ্ আন্ নাবা’র ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, তাদের ‘আযাব ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করা হয় না। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, কাফিরদের শাস্তির উপর শস্তি বাড়িয়ে দেয়া হবে।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, বান্দার কান্না-হাসি, আনন্দ-দুঃখ এ সবই আল্লাহ পক্ষ থেকে। তাই এগুলোর দ্বারা কোন প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির জন্য কেউ কাঁদলে তকে শাস্তি দেয়া ও না দেয়া সবই তাঁর হাতে।

আবার কেউ কেউ বলেন, এ হাদীস মানুষের সাধারণ কান্নাকে জায়িয করেছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৩-[২২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মূতার যুদ্ধে) ইবনু হারিসাহ্, জা’ফার ও ইবনু রাওয়াহার শাহাদাতের খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছালে তিনি (মসজিদে নাবাবীতে) বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোক-দুঃখের ছায়া পরিস্ফুট হয়ে উঠল। আমি দরজার ফোকর দিয়ে তাঁর অবস্থা দেখছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর খিদমাতে বলতে লাগল, জা’ফারের পরিবারের মেয়েরা এরূপ এরূপ করছে (অর্থাৎ তাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করল)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ওদের কাছে গিয়ে কাঁদতে নিষেধ করার হুকুম দিলেন। লোকটি চলে গেল। (কিছুক্ষণ পর) দ্বিতীয়বার এসে বলল, মহিলারা কোন কথা মানছে না। আবারও তিনি তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করে তাকে পাঠালেন। লোকটি চলে গেল। তাদেরকে নিষেধ করল। (কিছুক্ষণ পর) সে তৃতীয়বার ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমার ওপর বিজয়ী হয়ে গেছে। অর্থাৎ আমার কথা মানছে না। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা হলো, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেনঃ তাদের মুখে মাটি ঢেলে দাও। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে (ওই ব্যক্তিকে) বললাম, তোমার মুখে ছাই পড়ুক, তুমি কেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হুকুম দিচ্ছেন তা পালন করলে না? আর তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুঃখ দেয়া হতে বিরত হচ্ছ না। (বুখারী, মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا جَاءَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَتْلُ ابْنِ حَارِثَةَ وَجَعْفَرٍ وَابْنِ رَوَاحَةَ جَلَسَ يُعْرَفُ فِيهِ الْحُزْنُ وَأَنَا أَنْظُرُ مِنْ صَائِرِ الْبَابِ تَعْنِي شَقَّ الْبَابِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّ نِسَاءَ جَعْفَرٍ وَذَكَرَ بُكَاءَهُنَّ فَأَمَرَهُ أَنْ يَنْهَاهُنَّ فَذَهَبَ ثُمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَةَ لَمْ يُطِعْنَهُ فَقَالَ: انْهَهُنَّ فَأَتَاهُ الثَّالِثَةَ قَالَ: وَاللَّهِ غَلَبْنَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَزَعَمْتُ أَنَّهُ قَالَ: «فَاحْثُ فِي أَفْوَاهِهِنَّ التُّرَابَ» . فَقُلْتُ: أَرْغَمَ اللَّهُ أَنْفَكَ لَمْ تَفْعَلْ مَا أَمَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ تَتْرُكْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ العناء

وعن عاىشة قالت: لما جاء النبي صلى الله عليه وسلم قتل ابن حارثة وجعفر وابن رواحة جلس يعرف فيه الحزن وانا انظر من صاىر الباب تعني شق الباب فاتاه رجل فقال: ان نساء جعفر وذكر بكاءهن فامره ان ينهاهن فذهب ثم اتاه الثانية لم يطعنه فقال: انههن فاتاه الثالثة قال: والله غلبننا يا رسول الله فزعمت انه قال: «فاحث في افواههن التراب» . فقلت: ارغم الله انفك لم تفعل ما امرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم تترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من العناء

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে মূতার যুদ্ধের বর্ণনার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে ক্রন্দন করার হুকুম সম্পর্কে আলোকপাত করা হযেছে।

৮ম হিজরীতে মূতার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তারা হলেন, যায়দ ইবনু হারিস (রাঃ), জা‘ফার ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাঃ)। তারা সকলে মূতার যুদ্ধে শাহীদ হন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্যে সেনাপতি হিসেবে যায়দ ইবনু হারিস (রাঃ)-কে মনোনীত করেন। এরপর বলেন, যদি যায়দ শাহীদ হয় তাহলে জা‘ফার সেনাপতি হবে। যদি সেও শাহীদ হয় তাহলে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সেনাপতি হবে। সে শহীদ হলে মুসলিমরা পরামর্শের মাধ্যমে সেনাপতি নির্ধারণ করবে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা থেকে বুঝা যায়, তারা তিনজন মূতার যুদ্ধে শাহীদ হবেন। আর হয়েছিলেনও তাই।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন এ তিন সেনাপতির শাহীদ হওয়ার কথা জিবরীল (আঃ) মারফত পৌঁছল, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের মিম্বারে বসলেন এবং শাহীদদের সম্পর্কে সাহাবীদের খবর দিলেন।

জা‘ফার (রাঃ)-এর দু’টি হাত শত্রুরা কেটে নেয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা জা‘ফারকে দু’ হাতের পরিবার্তে দু’টি ডানা দিয়েছেন, যা দ্বারা সে জান্নাত ঘুরে বেড়াবে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের সম্পর্কে কথা বলছিলেন, তখন তাকে চিন্তান্বিত দেখাচ্ছিল।

জা‘ফার (রাঃ)-এর শাহাদাতের কথা শুনে স্ত্রী কান্না করতে লাগলেন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, তাকে কাঁদতে নিষেধ কর। এ কথা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে কান্না করা যাবে না। সর্বাবস্থায় ধৈর্যের সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৪-[২৩] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহ্ মৃত্যুবরণ করলে আমি বললাম, আবূ সালামাহ্ মুসাফির ছিলেন, মুসাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন। অর্থাৎ মক্কার লোক মদীনায় মৃত্যুবরণ করলেন। আমি তাঁর জন্য এমনভাবে কাঁদব যে, আমার কান্নাকাটি সম্পর্কে লোকেরা আলোচনা করবে। আমি কান্নাকাটি করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ একজন মহিলা এসে আমার সাথে কাঁদতে চাইল। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন। তিনি বললেন, এই ঘর হতে আল্লাহ দু’বার শায়ত্বন (শয়তান) কে বহিষ্কার করেছেন। তোমরা তাকে পুনরায় এখানে আনতে চাও? উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, তাঁর এ হুঁশিয়ারী শুনে আমি (কান্নাকাটি) করা হতে চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আর কাঁদিনি। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: لَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ غَرِيبٌ وَفِي أَرْضِ غُرْبَةٍ لَأَبْكِيَنَّهُ بُكَاءً يُتَحَدَّثُ عَنْهُ فَكُنْتُ قَدْ تَهَيَّأْتُ لِلْبُكَاءِ عَلَيْهِ إِذْ أَقْبَلَتِ امْرَأَةٌ تُرِيدُ أَنْ تُسْعِدَنِي فَاسْتَقْبَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَتُرِيدِينَ أَنْ تُدْخُلِي الشَّيْطَانَ بَيْتًا أَخْرَجَهُ اللَّهُ مِنْهُ؟» مَرَّتَيْنِ وَكَفَفْتُ عَنِ الْبُكَاءِ فَلَمْ أبك. رَوَاهُ مُسلم

وعن ام سلمة قالت: لما مات ابو سلمة قلت غريب وفي ارض غربة لابكينه بكاء يتحدث عنه فكنت قد تهيات للبكاء عليه اذ اقبلت امراة تريد ان تسعدني فاستقبلها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «اتريدين ان تدخلي الشيطان بيتا اخرجه الله منه؟» مرتين وكففت عن البكاء فلم ابك. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে আবূ সালামাহ্ বলতে উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর প্রথম স্বামীর কথা বলা হয়েছে।

আবূ সালামার ক্ষেত্রে غريبغريب শব্দ প্রয়োগের কারণ হল, তিনি ছিলেন মক্কার লোক। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন মদীনাতে।

হাদীসের ভাষ্য মতে দেখা যাচ্ছে যে, উম্মু সালামার প্রথম স্বামী মারা গেলে তিনি অত্যধিক ক্রন্দন করতে ইচ্ছা করেছিলেন এবং একজন নারী তাকে কান্নার ব্যাপারে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মহিলার কাছে আসলেন এবং বললেন, তুমি কি ঘরের মধ্যে শায়ত্বন (শয়তান)কে প্রবেশ করাতে চাও। আল্লাহ তা‘আলা তাকে তো ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। এ কথা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার বললেন। এ কথার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে যে ঘরে বিলাপ করে কান্না করা হয়, সে ঘরে শায়ত্বন (শয়তান) প্রবেশ করে।

আল্লাহ শায়ত্বনকে বের করে দিয়েছেন এর অর্থ হল, এ ঘরের অধিবাসীকে শায়ত্বনের কুমন্ত্রণা থেকে হিফাযাত করেছেন এবং শায়ত্বনকে এ ঘর থেকে দূর করে দিয়েছেন।

এরপর উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) কান্না বন্ধ করে দিলেন। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, কোন বিষয়ে পূর্ব জ্ঞান থাকলে সে বিষয়ে শারী‘আতের কোন বিধান অবগত হলে সাথে সাথে তা মেনে নিতে হবে।

একজন নারী উম্মু সালামাকে কান্নার সময় সাহায্য করতে চাইল। অর্থাৎ উম্মু সালামাহ্ উক্ত নারীকে কাঁদাতে চাইলেন। যে কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে শায়ত্বনের (শয়তানের) প্রবেশ করার কথা বললেন। সুতরাং এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে কান্নার সময় ক্রন্দনকারীকে সহযোগিতা করা যাবে না। বরং তাকে না কাঁদার জন্য উপদেশ দিতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৫-[২৪] নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ’আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্, (কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে) জ্ঞান হারালেন। তাঁর বোন ’আমরাহ্ কেঁদে কেটে বলতে লাগল, হে পর্বতসম ভাই! হে আমার এমন ভাই! তেমন ভাই! অর্থাৎ এভাবে তাঁর ভাইয়ের খ্যাতির বর্ণনা করতে লাগল। ’আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহার জ্ঞান ফিরলে বোনকে বললেন, তুমি আমাকে নিয়ে যখন যা বলেছ, আমাকে তখনই জিজ্ঞেস করা হয়েছে, এসব গুণে গুণী আমি কিনা? অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত বর্ণনা এসেছে, যখন ’আবদুল্লাহ (মূতার যুদ্ধে) তখন তার বোন ’আমরাহ্ আর তাঁর জন্য কাঁদেননি। (বুখারী)[1]

وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: أُغْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ فَجَعَلَتْ أُخْتُهُ عَمْرَةُ تبْكي: واجبلاه واكذا واكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِينَ أَفَاقَ: مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِيلَ لِي: أَنْتَ كَذَلِكَ؟ زَادَ فِي رِوَايَةٍ فَلَمَّا مَاتَ لَمْ تَبْكِ عَلَيْهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن النعمان بن بشير قال: اغمي على عبد الله بن رواحة فجعلت اخته عمرة تبكي: واجبلاه واكذا واكذا تعدد عليه فقال حين افاق: ما قلت شيىا الا قيل لي: انت كذلك؟ زاد في رواية فلما مات لم تبك عليه. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীস মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করতে নিরুৎসাহিত করেছে। এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তার জন্য ক্রন্দন করা যাবে। তবে কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে, তবে তার জন্য বিলাপ সহকারে উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা যাবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাঃ) একবার অসুস্থতার কারণে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তখন তার বোন অত্যধিক ক্রন্দন করেন এবং বিলাপ করতে থাকেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাঃ) এ রোগে মারা যায়নি বরং তিনি ৮ম হিজরীতে মূতার যুদ্ধে শাহীদ হন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৬-[২৫] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় এবং তার আপন ক্রন্দনকারীরা এ কথা বলে কাঁদে, হে আমার পাহাড়তুল্য অমুক! হে সরদার! ইত্যাদি ইত্যাদি, তখন আল্লাহ তা’আলা ঐ মৃত ব্যক্তির নিকট দু’জন মালাক (ফেরেশতা) প্রেরণ করেন, যারা তার বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা মারে আর জিজ্ঞেস করে, তুমি কি এমনই ছিলে? (তিরমিযী; এবং তিনি বলেন, এ হাদীসটি গরীব ও হাসান)[1]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا من ميت يَمُوت فَيقوم باكيهم فيقولك: واجبلاه واسيداه وَنَحْوَ ذَلِكَ إِلَّا وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ مَلَكَيْنِ يَلْهَزَانِهِ وَيَقُولَانِ: أَهَكَذَا كُنْتَ؟ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ

وعن ابي موسى قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ما من ميت يموت فيقوم باكيهم فيقولك: واجبلاه واسيداه ونحو ذلك الا وكل الله به ملكين يلهزانه ويقولان: اهكذا كنت؟ . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب حسن

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মৃত ব্যক্তি উদ্দেশে তার জীবিত সময়ের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বকে উল্লেখ করে বিলাপ করে ক্রন্দন করার ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

হাদীসের মধ্যে বলা হয়েছে যে, যখন কারো মৃত্যুকে মানুষ পাহাড়সম বিপদের সাথে তুলনা করে এবং তার মৃত্যুর পূর্বের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে ক্রন্দন করে তখন ‘আযাবের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) তাকে শাস্তি দিতে থাকে। আর তাকে তিরস্কার ও ভৎর্সনা করতে থাকে। সুতরাং আমাদের উচিত এ সকল কাজ থেকে বিরত থাকা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য নীরবে চোখের পানি ফেলে মাগফিরাত কামনা করা।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৭-[২৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের কোন একজন (যায়নাব) মারা গেলেন। তখন কয়েকজন মহিলা একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য কাঁদতে লাগল। এ অবস্থায় ’উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করলেন, আর ভাগিয়ে দিতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থা দেখে বললেন, ’উমার! এদেরকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। কারণ এদের চোখ কাঁদছে, হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত, আর মৃত্যুর সময়ও নিকটবর্তী। (আহমাদ, নাসায়ী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَاتَ مَيِّتٌ مِنْ آلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاجْتَمَعَ النِّسَاءُ يَبْكِينَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ يَنْهَاهُنَّ وَيَطْرُدُهُنَّ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهُنَّ فَإِنَّ الْعَيْنَ دَامِعَةٌ وَالْقَلْبَ مُصَابٌ وَالْعَهْدَ قَرِيبٌ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ

وعن ابي هريرة قال: مات ميت من ال رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجتمع النساء يبكين عليه فقام عمر ينهاهن ويطردهن. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دعهن فان العين دامعة والقلب مصاب والعهد قريب» . رواه احمد والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তির জন্য নীরবে কান্না করা জায়িয আছে। এখানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের লোক বলে তাঁর কন্যা যায়নাব (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে মহিলারা একত্রিত হয়ে ক্রন্দন করতে লাগলে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ) কে বললেন, তাদেরকে কান্নার সুযোগ দাও।

দেখা যাচ্ছে, এ হাদীসটি এ অধ্যায়ের অন্যান্য হাদীসের বিরোধী। আসলে তা নয়। এর সমাধানে মুহাদ্দিসীনগণ বিভিন্ন মতামত পেশ করেছেন। যেমন, আল্লামা সিনদী (রহঃ) বলেন, তাদের কান্না ছিল নীরবে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে, যাতে কোন উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ ছিল না। আর এ ধরনের কান্নার ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতকে ছাড় দিয়েছেন।

আল্লামা ক্বারী (রহঃ) বলেন, তারা শব্দ করে কাঁদছিলেন। তবে তা উচ্চৈঃস্বরে ছিল না।

এ হাদীস থেকে আরো বুঝা যাচ্ছে যে, অন্তরের মধ্যে দুঃখ উপলব্ধি হয় এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে চোখের পানি বিসর্জনের মাধ্যমে। বিপদের সময়ের নিকটবর্তী হলো। সুতরাং বিপদের সময় ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন কাজ। তারপরও মু’মিনকে সকল বিপদে ধৈর্যধারণ করতে হবে। তাহলে আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৮-[২৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা যায়নাব (রাঃ)মারা গেলে মহিলারা কাঁদতে লাগল। ’উমার (রাঃ) হাতের কোড়া দিয়ে তাদেরকে আঘাত করলেন। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার (রাঃ) কে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, ’উমার! কোমল হও। আর মহিলাদের বললেন, তোমরা তোমাদের গলার আওয়াজ শায়ত্বন (শয়তান) থেকে দূরে রাখো (অর্থাৎ চিৎকার করে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদ না।) তারপর বললেন, যা কিছু চোখ (অশ্রু) ও হৃদয় (দুঃখ বেদনা ও শোক-তাপ) বের হয় তা আল্লাহর তরফ থেকেই বের হয়। এটা হয় রহমতের কারণে। আর যা কিছু হাত ও মুখ হতে বের হয় তা হয় শায়ত্বনের (শয়তানের) তরফ হতে। (আহমাদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَاتَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَكَتِ النِّسَاء فَجعل عُمَرُ يَضْرِبُهُنَّ بِسَوْطِهِ فَأَخَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَقَالَ: «مهلا يَا عمر» ثُمَّ قَالَ: «إِيَّاكُنَّ وَنَعِيقَ الشَّيْطَانِ» ثُمَّ قَالَ: «إِنَّهُ مَهْمَا كَانَ مِنَ الْعَيْنِ وَمِنَ الْقَلْبِ فَمِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمِنَ الرَّحْمَةِ وَمَا كَانَ مِنَ الْيَدِ وَمِنَ اللِّسَانِ فَمِنَ الشَّيْطَانِ» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن ابن عباس قال: ماتت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فبكت النساء فجعل عمر يضربهن بسوطه فاخره رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده وقال: «مهلا يا عمر» ثم قال: «اياكن ونعيق الشيطان» ثم قال: «انه مهما كان من العين ومن القلب فمن الله عز وجل ومن الرحمة وما كان من اليد ومن اللسان فمن الشيطان» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: যায়নাব (রাঃ) ছিলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বড় মেয়ে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবূওয়্যাতের পূর্বে যায়নাবের প্রথম বিবাহ হয়, তখন তার বয়স ছিল দশ বছর। তার খালাত ভাই আবুল ‘আস ইবনু রাবী তাকে বিবাহ করেন। যায়নাব (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বাদ্‌র (বদর) যুদ্ধের পরে তিনি হিজরত করে মদীনায় চলে আসেন। অষ্টম হিজরীর শুরুর দিকে তিনি ইন্তিকাল করেন। তার একটি পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা সন্তান ছিল। পুত্রের নাম ‘আলী এবং মেয়ের নাম উমামাহ্। ‘আলী (রাঃ) পরিণত বয়সে তার পিতার জীবদ্দশায় ইন্তিকাল করেন। আর উমামাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত স্নেহ করেন। ফাত্বিমাহ্ (রাঃ)-এর ইন্তিকালের পরে ‘আলী (রাঃ) উমামাকে বিবাহ করেন।

এ হাদীসে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে মুখ চাপড়ানো কাপড় ছিঁড়ে ফেলা ও শোক গাঁথা কবিতা আবৃতি করা এবং বিলাপ সহ ক্রন্দন করাকে শায়ত্বনের (শয়তানের) সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উল্লেখিত বিষয় ব্যতীত শুধু অন্তরের দুঃখ-কষ্ট ফুটিয়ে তোলার জন্য যে চোখের পানি প্রবাহিত হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমাত।

এখানে যেসব কাজ হাত দ্বারা সংঘটিত হয় তা হল, মুখ চাপড়ানো, গলায় আঘাত করা, কাপড় ছিঁড়ে ফেলা ও চুল ছিঁড়ে ফেলা। এ কাজগুলো শায়ত্বনের (শয়তানের) পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং শারী‘আতে এগুলো নিষিদ্ধ মুখ দিয়ে যে সকল কাজ হয়ে থাকে তা হল, উচ্চৈঃস্বরে কাঁদা, বিলাপ করা ও এমন সব কথা বলা, যাতে আল্লাহ অখুশী হন। এ সব শায়ত্বনের (শয়তানের) পক্ষ থেকে এবং শারী‘আতে এসব কাজ নিষিদ্ধ।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৪৯-[২৮] ইমাম বুখারী সানাদবিহীন তা’লীক্ব পদ্ধতিতে উল্লেখ করেন যে, যখন হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ) এর ছেলে (ইমাম) হাসান মারা যান, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর কবরের উপর এক বছর পর্যন্ত তাঁবু খাটিয়ে রেখেছিলেন। তাঁবু ভাঙার পর অদৃশ্য হতে শুনতে পেলেন, ’’এ তাঁবু খাটিয়ে কি তারা হারানো ধন ফিরে পেলো?’’ এ কথার জবাবে আবার (অদৃশ্য হতেই) অন্য একজন বলল, না! বরং নিরাশ হয়ে ফিরে গিয়েছে।[1]

وَعَنِ الْبُخَارِيِّ تَعْلِيقًا قَالَ: لَمَّا مَاتَ الْحَسَنُ بن الْحسن بن عَليّ ضَرَبَتِ امْرَأَتُهُ الْقُبَّةَ عَلَى قَبْرِهِ سَنَةً ثُمَّ رَفَعَتْ فَسَمِعَتْ صَائِحًا يَقُولُ: أَلَا هَلْ وَجَدُوا مَا فَقَدُوا؟ فَأَجَابَهُ آخَرُ: بَلْ يَئِسُوا فَانْقَلَبُوا

وعن البخاري تعليقا قال: لما مات الحسن بن الحسن بن علي ضربت امراته القبة على قبره سنة ثم رفعت فسمعت صاىحا يقول: الا هل وجدوا ما فقدوا؟ فاجابه اخر: بل يىسوا فانقلبوا

ব্যাখ্যা: তা‘লীক্ব বলা হয় সানাদবিহীন হাদীসকে। এ হাদীসে ক্ববরের উপর তাঁবু বা সামিয়ানা তৈরি করে রাখাকে তিরস্কার করা হয়েছে। এখানে হাসান ইবনু হাসান অর্থাৎ হাসানের ছেলে হাসান আর তার স্ত্রী ফাত্বিমাহ্ বিনতে হুসায়ন। তারা একদিকে যেমন স্বামী-স্ত্রী, অপরদিকে চাচাত ভাই-বোন। যখন হাসান ইবনু হাসান মারা যায় তখন তার স্ত্রী ফাত্বিমাহ্ বিনতু হুসায়ন তার ক্ববরের উপর এক বছর তাঁবু তৈরি করে রাখেন। অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নেন। উঠিয়ে নেয়ার পর তিনি শুনতে পান দু’জন লোক একজন আরেক জনকে বলছে যে, সে যা হারিয়েছে তা কি ফিরে পেয়েছে? তখন অপরজন বলল, না বরং নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। এখানে দু’জন চিৎকারকারী হলেন, কোন মু’মিন জিন্ অথবা মালাক (ফেরেশতা)।

এ হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ক্ববরের উপর তাঁবু তৈরি করা মাকরূহ। আর ইমাম আহমাদ (রহঃ) এ কথার উপরই রায় দিয়েছেন। আর এটাই সত্য।

ইবনু কুদামাহ্ (রহঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ) ক্ববরের উপর তাঁবু বা সামিয়ানা তৈরি করাকে মাকরূহ বলেছেন। সাহাবী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি ওয়াসিয়াত করে যান যে, তার ক্ববরে যেন কোন তাঁবু টানানো না হয়।

ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় কিতাব বুখারীতে এ হাদীসটিকে ‘‘ক্ববরের উপর মাসজিদ বানানো ঘৃণিত কাজ’’ নামক অধ্যায়ে বর্ণনা করে প্রমাণ করেছেন যে, তার কাছেও ক্ববরে তাঁবু টানানো মাকরূহ। সুতরাং কোন ভাবেই ক্ববরের উপর তাঁবু টানানো যাবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫০-[২৯] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন ও আবূ বারযাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক জানাযায় গিয়েছিলাম। ওখানে এমন কিছু লোককে দেখা গেল, যারা শোকের চিহ্নের জন্য তাদের গায়ের চাদর খুলে রেখে শুধু জামা পরে হাঁটছে। (এ অবস্থা দেখে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জাহিলিয়্যাতের কার্যক্রমের (মূর্খতা ও অজ্ঞতার) উপর ’আমল করছ অথবা জাহিলিয়্যাতের কার্যক্রমের মতো কার্যক্রম অবলম্বন করছ? তারপর তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা হচ্ছে এমন বদ্দু’আ করতে যাতে তোমরা ভিন্ন আকৃতি নিয়ে (অর্থাৎ বানর বা শুয়োরের আকৃতিতে) ঘরে ফিরে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে তারা তাদের চাদরগুলো গায়ে পড়ল। এরপর কখনো তারা এমনটি করেনি। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَأَبِي بَرْزَةَ قَالَا: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَرَأَى قَوْمًا قَدْ طَرَحُوا أَرْدَيْتَهُمْ يَمْشُونَ فِي قُمُصٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبِفِعْلِ الْجَاهِلِيَّةِ تَأْخُذُونَ؟ أَوْ بِصَنِيعِ الْجَاهِلِيَّةِ تَشَبَّهُونَ؟ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَدْعُوَ عَلَيْكُمْ دَعْوَةً تَرْجِعُونَ فِي غَيْرِ صُوَرِكُمْ» قَالَ: فَأخذُوا أرديتهم وَلم يعودوا لذَلِك. رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن عمران بن حصين وابي برزة قالا: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة فراى قوما قد طرحوا ارديتهم يمشون في قمص فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ابفعل الجاهلية تاخذون؟ او بصنيع الجاهلية تشبهون؟ لقد هممت ان ادعو عليكم دعوة ترجعون في غير صوركم» قال: فاخذوا ارديتهم ولم يعودوا لذلك. رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে শোক প্রকাশের জন্য প্রচলিত পোশাকের পরিচর্যা করে লাশের সাথে হাঁটতে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এ জাতীয় কাজ জাহিলী যুগের লোকদের কাজের সাথে সাদৃশ্য রাখে। কেননা তাদের প্রচলিত পোশাক ছিল জামার উপর চাদর পরা। শোক প্রদর্শনের জন্য তারা জামার উপর চাদর তুলে রাখতো। যারা এ জাতীয় কাজ করবে তাদের জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সতর্ক বাণী হল, আমার ইচ্ছা হয় যে, তোমাদের চেহারা বিকৃতির জন্য বদ্দু‘আ করি।

এ ব্যাখ্যায় আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এটা চেহারা বিকৃত হয়ে ফিরে যাওয়া সম্ভাবনা রাখে।

মীরাক বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, তোমরা এমন অবস্থায় তোমাদের বাড়ীতে ফিরবে যে, তোমাদের চেহারা বিকৃত হয়ে যাবে। অথবা তোমরা যে অবস্থায় আছ তা পরিবর্তন হয়ে যাবে।

মূলত এ কথা দ্বারা সতর্ক করা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির সাথে তথা লাশের সাথে উলঙ্গ শরীরে হাটা যাবে না। এ হাদীসটি দুর্বল সানাদে ইবনু মাজাতে বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫১-[৩০] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে জানাযায় শরীক হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন যে জানাযার সাথে মাতমকারী মহিলা থাকে। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُتْبَعَ جَنَازَةٌ مَعهَا رانة. رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه

وعن ابن عمر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان تتبع جنازة معها رانة. رواه احمد وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে এমন জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, যে জানাযার সাথে বিলাপ করে ক্রনদনকারী মহিলা আছে।

হাদীসে رانه শব্দের অর্থ কামুস গ্রন্থের আলোকে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ সহ ক্রন্দনকারিণী মহিলা। অর্থাৎ জানাযার পেছনে কোন মহিলার উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করাকে বুঝানো হয়েছে। এরই সাথে এ হাদীসটি এমন জানাযার সাথে হাঁটার ক্ষেত্রে হারামের দলীল, যার সাথে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে ক্রন্দনকারী মহিলা রয়েছে।

ক্বারী (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হল, যখন জানাযার সাথে কোন খারাপ কিছু থাকবে তখন এ বিধান।

ইবনু মাজাহ ও ইমাম আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু মাজাহয় এ হাদীসের সানাদে ইয়াহ্ইয়া আবূ ইয়াহ্ইয়া কাত্তাত নামে একজন রাবী আছেন। ইসরাঈল আবূ ইয়াহ্ইয়া কাত্তাত থেকে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনু মু‘ঈন বলেন, এর সানাদ দুর্বল।

ইয়া‘কূব ইবনু সুফ্ইয়ান এবং বাযযার বলেন, এতে কোন সমস্যা নেই।

হাফিয ইরাক্বী বলেন, হাদীসটি সহীহ-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা নুহা তথা বিলাপ হারাম হওয়ার হাদীসগুলো দ্বারা তার সমর্থন পাওয়া যায়।

সর্বোপরি কথা হল, এ হাদীসের সমর্থনে আরো অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে, যা মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহ উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করার হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ ভাল জানেন।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫২-[৩১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আমার একটি পুত্র সন্তান মারা গেছে, যার জন্য আমি শোকাহত। আপনি কি আপনার বন্ধু (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোন কথা শুনেছেন যা আমাদের হৃদয়কে খুশী করতে পারে? আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতে সাগরের মাছের মতো সাঁতার কাটতে থাকবে। যখন তারা তাদের পিতাকে পাবে তখন পিতার কাপড়ের কোণা টেনে ধরবে। পিতাকে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ছাড়বে না। (মুসলিম, আহমাদ; ভাষা ইমাম আহমাদের)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لَهُ: مَاتَ ابْنٌ لِي فَوَجَدْتُ عَلَيْهِ هَلْ سَمِعْتَ مِنْ خَلِيلِكَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ شَيْئًا يَطَيِّبُ بِأَنْفُسِنَا عَنْ مَوْتَانَا؟ قَالَ: نَعَمْ سَمِعْتُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يلقى أحدهم أَبَاهُ فَيَأْخُذ بِنَاحِيَةِ ثَوْبِهِ فَلَا يُفَارِقُهُ حَتَّى يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ» . رَوَاهُ مُسلم وَأحمد وَاللَّفْظ لَهُ

وعن ابي هريرة ان رجلا قال له: مات ابن لي فوجدت عليه هل سمعت من خليلك صلوات الله عليه شيىا يطيب بانفسنا عن موتانا؟ قال: نعم سمعته صلى الله عليه وسلم قال: «صغارهم دعاميص الجنة يلقى احدهم اباه فياخذ بناحية ثوبه فلا يفارقه حتى يدخله الجنة» . رواه مسلم واحمد واللفظ له

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে সে সকল মু’মিন পিতা-মাতার ফাযীলাত ও গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে, যাদের ছোট ছোট সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। হাদীসে رجال বলে আবূ হাসান আল কায়সীকে বুঝানো হয়েছে। এর স্বপক্ষে সহীহ মুসলিমে রিওয়ায়াত রয়েছে।

যখন আবূ হাসান-এর ছোট একটি সন্তান যারা যায়, তখন তিনি অত্যন্ত দুঃখ পান। অতঃপর তিনি আবূ হুরায়রার কাছে জানতে চান যে, এ ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কোন সুসংবাদ আছে কিনা। তখন আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল মু’মিনদের ছোট ছোট সন্তান মারা যায় তারা জান্নাতের মধ্যে অবস্থান করবে। পিতা-মাতার ইন্তিকালের পরে তারা তাদের কাপড়ের পার্শ্ব শক্ত করে ধরবে এবং তাদেরকে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

এ হাদীসে পিতার কথা উল্লেখ থাকলেও মুসলিমের অপর হাদীসে পিতা-মাতার উভয়ের কথা উল্লেখ আছে। এ হাদীসে জামার কথা থাকলেও মুসলিমের অপর হাদীসে হাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ছোট সন্তানরা পিতা-মাতাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে। এ হাদীস এ কথারও দলীল যে, মু’মিনদের যে সকল ছোট ছোট সন্তান মারা যাবে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। আর পিতা-মাতা যদি নেককার হয় এবং এ কারণে সাওয়াবের আশা করে তাহলে পিতা-মাতাও সন্তানের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৩-[৩২] আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ আপনার বাণী শুনে উপকৃত হচ্ছে, (এ অবস্থায়) আপনি আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন, যেদিন আমরা আপনার খিদমাতে উপস্থিত হব। আপনি আমাদেরকে ওসব কথা শুনাবেন, যা আল্লাহ আপনাকে বলেছেন। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দিন ও স্থান নির্ধারণ করে উপস্থিত থাকতে বললেন। সে মতে মহিলাগণ সেখানে একত্রিত হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ওসব কথাই শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার তিনটি সন্তান তার আগে মৃত্যুবরণ করেছে, সে তার ও জাহান্নামের মধ্যে আড়াল হবে। এ কথা শুনে তাদের একজন জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! যদি আগে দু’ সন্তান মৃত্যুবরণ করে এবং সে কথাটি দু’বার পুনরাবৃত্তি করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- যদি দু’জনও হয়, দু’জন হয়, দু’জন হয়। (বুখারী)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ فَاجْعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْمًا نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ. فَقَالَ: «اجْتَمِعْنَ فِي يَوْمِ كَذَا وَكَذَا فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا» فَاجْتَمَعْنَ فَأَتَاهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تُقَدِّمَ بَيْنَ يَدَيْهَا من وَلَدهَا ثَلَاثَة إِلَّا كَانَ لَهَا حِجَابا ن النَّارِ» فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوِ اثْنَيْنِ؟ فَأَعَادَتْهَا مَرَّتَيْنِ. ثُمَّ قَالَ: «وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابي سعيد قال: جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوما ناتيك فيه تعلمنا مما علمك الله. فقال: «اجتمعن في يوم كذا وكذا في مكان كذا وكذا» فاجتمعن فاتاهن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلمهن مما علمه الله ثم قال: «ما منكن امراة تقدم بين يديها من ولدها ثلاثة الا كان لها حجابا ن النار» فقالت امراة منهن: يا رسول الله او اثنين؟ فاعادتها مرتين. ثم قال: «واثنين واثنين واثنين» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ হাদীসে ‘ইলমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও জ্ঞান অর্জন করবে। যিনি ‘ইলম শিক্ষা দেবেন তিনি নারীদের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও স্থান ঠিক করে তাদেরকে শারী‘আতের জ্ঞান শিক্ষা দেবেন। তারপর মহিলাদেরকে একটি বিষয়ে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীর দু’টি বা তিনটি সন্তান তার জীবদ্দশায় অপ্রাপ্ত বয়সে মারা যায় তাহলে উক্ত মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করবে।

হাদীসে যে মহিলার আসার কথা বলা হয়েছে তার নাম হল, আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনু সাকান (রাঃ)। আসমা (রাঃ)-এর কথা ‘‘পুরুষরা হাদীস নিয়ে চলে গেছে’’ এর মর্মার্থ সম্পর্কে আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, পুরুষরা তাদের অংশগ্রহণ করেছ এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে উপদেশ নিয়ে ফিরে গেছে।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হল পুরুষরা সফলতা নিয়ে ফিরে গেছে। আর আমরা নারীরা এসব থেকে বঞ্চিত রয়েছি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৪-[৩৩] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দু’জন মুসলিম ব্যক্তির অর্থাৎ মাতা-পিতার তিনটি সন্তান (তাদের আগে) মারা যাবে, আল্লাহ তাদেরকে তাঁর বিশেষ রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! দু’জন মারা গেলেও কী? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দু’জন মারা গেলেও। সাহাবীগণ আবারো বললেন, একজন মারা গেলেও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, একজন মারা গেলেও। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাঁর হাতের মুঠোয় আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, যদি কোন মহিলার গর্ভপাত হয়ে যায় সেই মা ধৈর্য ধরে সাওয়াবের আশা করে, তাহলে সে সন্তানও তার নাড়ী ধরে টেনে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। (আহমাদ, আর ইবনু মাজাহ এ বর্ণনা ’’আল্লাহর কসম’’ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত উদ্ধৃত করেছেন।)[1]

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يُتَوَفَّى لَهُمَا ثَلَاثَةٌ إِلَّا أَدْخَلَهُمَا اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إِيَّاهُمَا» . فَقَالُوا: يَا رَسُولَ الله أَو اثْنَان؟ قَالَ: «أواثنان» . قَالُوا: أَوْ وَاحِدٌ؟ قَالَ: «أَوْ وَاحِدٌ» . ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ السِّقْطَ لَيَجُرُّ أُمَّهُ بِسَرَرِهِ إِلَى الْجَنَّةِ إِذَا احْتَسَبَتْهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ مِنْ قَوْلِهِ: «وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ»

وعن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مسلمين يتوفى لهما ثلاثة الا ادخلهما الله الجنة بفضل رحمته اياهما» . فقالوا: يا رسول الله او اثنان؟ قال: «اواثنان» . قالوا: او واحد؟ قال: «او واحد» . ثم قال: «والذي نفسي بيده ان السقط ليجر امه بسرره الى الجنة اذا احتسبته» . رواه احمد وروى ابن ماجه من قوله: «والذي نفسي بيده»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে গর্ভপাতজনিত কারণে যে সকল সন্তান মারা যায় তাদের গুরুত্ব ও ফাযীলাতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও যে সকল মুসলিমের এক বা একাধিক সন্তান নাবালেগ অবস্থায় মারা যায়, তাদের কথাও বলা হয়েছে।

এ হাদীসে সন্তান বলতে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই বুঝানো হয়েছে। আর তাদের দুই জনকে বলতে মুসলিম পিতা-মাতাকে বুঝানো হয়েছে। হাদীসের মধ্যে اياهما বলে পিতা-মাতাকে বুঝানো হয়েছে, সন্তানকে নয়। আল্লাহ তা‘আলা পিতা-মাতাকে স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আরো অনেক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, সন্তানের কারণে পিতা-মাতার উপর দয়া ও অনুগ্রহ করা হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, যে সকল মুসলিম পিতা-মাতার এক বা একাধিক সন্তান নাবালেগ অবস্থায় মারা যাবে আল্লাহ তা‘আলা সে সকল পিতা-মাতাকে নিজ অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

سقط বলা হয়, এমন সন্তানকে যে পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই মায়ের গর্ভ থেকে পড়ে যায়। যদি কোন মায়ের গর্ভ থেকে সন্তান নষ্ট হয়ে পড়ে যায়। আর মা সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করে তাহলে এ সন্তান তাকে জান্নাতে টেনে নিয়ে যাবে।

এখানে সাওয়াবের আশা বলতে বুঝানো হয়েছে যে, এর উপর ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর পক্ষ হতে এর পুরস্কার পাওয়ার আশা রাখতে হবে। গর্ভপাতজনিত কারণে যে সকল সন্তান পড়ে যাবে তারা তাদের রবের সাথে বাদানুবাদ করবে। তখন আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমরা তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাও। তখন তারা পিতা-মাতাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৫-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির জীবদ্দশায় তার তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান মারা যাবে, তারা তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাবার জন্য অত্যন্ত মজবুত আশ্রয়স্থল হয়ে যাবে। (এ কথা শুনে) আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি তো দু’টি শিশু সন্তান হারিয়েছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ দু’টি হলেও হবে। কারীদের ইমাম উবাই ইবনু কা’ব, যার ডাকনাম ছিল ’আবুল মুনযির, তিনি বললেন, আমিও তো একজন পাঠিয়েছি। অর্থাৎ আমার একটি সন্তান মারা গেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ একটি হলেও এমন অবস্থা। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: من قَدَّمَ ثَلَاثَةً مِنَ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ: كَانُوا لَهُ حِصْنًا حَصِينًا مِنَ النَّارِ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ: قَدَّمْتُ اثْنَيْنِ. قَالَ: «وَاثْنَيْنِ» . قَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أَبُو الْمُنْذِرِ سَيِّدُ الْقُرَّاءِ: قدمت وَاحِد. قَالَ: «وَوَاحِد» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قدم ثلاثة من الولد لم يبلغوا الحنث: كانوا له حصنا حصينا من النار فقال ابو ذر: قدمت اثنين. قال: «واثنين» . قال ابي بن كعب ابو المنذر سيد القراء: قدمت واحد. قال: «وواحد» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি তিনটি সন্তানকে আগাম পাঠায় অর্থাৎ যদি তার পূর্বে তার তিনটি সন্তান মারা যায়, যারা পাপ কাজ করার বয়সে পৌঁছেনি, তাহলে এ সন্তান ঢাল হয়ে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।

হাদীসের الحنث এর অর্থ পাপ, এর দ্বারা উদ্দেশ্য প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া।

এ হাদীস থেকে আরো প্রমাণ হয় যে, যাদের দু’টি বা একটি সন্তান মারা যাবে তারাও পিতা-মাতার জন্য ঢাল স্বরূপ কাজ করবে। এখানে ঢাল বলতে শক্তিশালী পর্দাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তারা পিতা-মাতা ও জাহান্নামের মাঝ পথে পর্দা স্বরূপ অবস্থান করবে, যাতে করে তাদের পিতা-মাতাকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো না হয়।

উবাই ইবনু কা‘বকে ‘‘সাইয়্যিদুল কুররা’’ বলার কারণ হল, সে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে কুরআন শিক্ষা দেবে উবাই ইবনু কা‘ব। হাদীসটি ইবনু মাজাহ ও সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি গরীব।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৬-[৩৫] কুররাহ্ আল মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার ছেলেকে সঙ্গে করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কি তোমার ছেলেকে বেশী ভালবাসো? সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা’আলা আপনাকে ভালবাসেন যেমনভাবে আমি তাকে ভালবাসি। (কিছু দিন পর একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে তার পিতার সাথে দেখতে পেলেন না।) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অমুক ব্যক্তির সন্তানের কি হলো? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার ছেলেটি মারা গেছে। (এরপর ওই ব্যক্তি উপস্থিত হলে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এ কথা পছন্দ করো না যে, তুমি (কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন) জান্নাতের যে দরজাতেই যাবে, সেখানেই তোমার সন্তানকে তোমার জন্য অপেক্ষারত দেখবে? এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! এ শুভসংবাদ কি শুধু এ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট, না সকলের জন্য? তিনি বললেন, সকলের জন্য। (আহমাদ)[1]

وَعَنْ قُرَّةَ الْمُزَنِيِّ: أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَأْتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ ابْنٌ لَهُ. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُحِبُّهُ؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبَّكَ اللَّهُ كَمَا أُحِبُّهُ. فَفَقَدَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَا فَعَلَ ابْنُ فُلَانٍ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاتَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَّا تحب أَلا تَأْتِيَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلَّا وَجَدْتَهُ يَنْتَظِرُكَ؟» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَهُ خَاصَّةً أَمْ لِكُلِّنَا؟ قَالَ: «بَلْ لِكُلِّكُمْ» . رَوَاهُ أَحْمد

وعن قرة المزني: ان رجلا كان ياتي النبي صلى الله عليه وسلم ومعه ابن له. فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «اتحبه؟» فقال: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم احبك الله كما احبه. ففقده النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «ما فعل ابن فلان؟» قالوا: يا رسول الله مات. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اما تحب الا تاتي بابا من ابواب الجنة الا وجدته ينتظرك؟» فقال رجل: يا رسول الله له خاصة ام لكلنا؟ قال: «بل لكلكم» . رواه احمد

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীস দ্বারা এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, কোন মু’মিন ব্যক্তির নাবালেগ সন্তান মারা গেলে সে সন্তান তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য জান্নাতের দরজায় অপেক্ষা করবে। অতঃপর সে তার পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ করবে এবং সে পিতা-মাতার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হল সে তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য চাবি হয়ে অপেক্ষমাণ থাকবে।

এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে। আল্লামা হায়সামী (রহঃ) বলেন, এর সানাদটি সহীহ। হাদীসটি সুনানে নাসায়ীতেও বর্ণিত হয়েছে।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সানাদ সহীহ। এ ছাড়াও মুসতাদরাকে হাকিম, বায়হাক্বী ও ইবনু আবী শায়বাহ্ প্রমুখ হাদীসের কিতাবেও সহীহ সানাদে বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৭-[৩৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া সন্তানও তার পিতা-মাতাকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর সময় তার ’রবের’ সাথে বিতর্ক করবে। এর ফলে তখন বলা হবে, হে গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া সন্তান! তোমার মাতা-পিতাকে জান্নাতে নিয়ে যাও। তখন সে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান তার মাতা-পিতাকে নিজের নাড়ী দিয়ে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِن السِّقْطَ لَيُرَاغِمُ رَبَّهُ إِذَا أَدْخَلَ أَبَوَيْهِ النَّارَ فَيُقَالُ: أَيُّهَا السِّقْطُ الْمُرَاغِمُ رَبَّهُ أَدْخِلْ أَبَوَيْكَ الْجَنَّةَ فَيَجُرُّهُمَا بِسَرَرِهِ حَتَّى يُدْخِلَهُمَا الْجَنَّةَ . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان السقط ليراغم ربه اذا ادخل ابويه النار فيقال: ايها السقط المراغم ربه ادخل ابويك الجنة فيجرهما بسرره حتى يدخلهما الجنة . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে গর্ভপাতজনিত কারণে পড়ে যাওয়া সন্তান প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। যে সকল সন্তান গর্ভপাতজনিত কারণে মারা যায় তারা তাদের পিতা-মাতার জন্য স্বীয় রবের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়বে। বাদানুবাদ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হল যে, তারা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে জান্নাতে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। অতঃপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। আর আল্লাহ বলবেন, হে বাদানুবাদকারী! তুমি তোমার পিতামাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। অতঃপর সে তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো পর্যন্ত টানতে থাকবে।

শিক্ষাঃ যদি কোন পিতা-মাতার কোন সন্তান গর্ভপাতজনিত কারণে পড়ে যায়, তাহলে তারা যেন নিরাশ না হয়। বরং এর উপর ধৈর্যধারণ করে। তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এর মহান পুরস্কার দান করবেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৮-[৩৭] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা’আলা (মানুষকে উদ্দেশ করে) বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যদি বিপদের প্রথম সময়ে ধৈর্যধারণ করো এবং আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা পোষণ করো, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সাওয়াবে সন্তুষ্ট হব না। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ابْنَ آدَمَ إِنْ صَبَرْتَ وَاحْتَسَبْتَ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى لَمْ أَرْضَ لَكَ ثَوَابًا دُونَ الْجَنَّةِ . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي امامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تبارك وتعالى: ابن ادم ان صبرت واحتسبت عند الصدمة الاولى لم ارض لك ثوابا دون الجنة . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বিপদে-আপদে ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেন, বানী আদম তথা আদম সন্তান যদি বিপদের প্রাথমিক অবস্থায় ধৈর্যধারণ করে এবং ভাল আশা রাখে, তাহলে তার একমাত্র পুরস্কার হল জান্নাত। আশা করার অর্থ হল যে, এ বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কার ও সাওয়াব পাওয়ার আশা করা। আল্লামা সিনদী (রহঃ) বলেন, জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য তার ঈমান থাকতে হবে। হাদীসটি ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে।

যাওয়ায়িদ কিতাবে বলা হয়েছে যে, হাদীসের সানাদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণও বিশ্বস্ত।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৫৯-[৩৮] হুসায়ন ইবনু ’আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, কোন মুসলিম নর-নারী কোন বিপদাপদে পড়ার যত দীর্ঘ সময় পর মনে জেগে ওঠে আর সে নতুনভাবে ’’ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি রা-জি’ঊন’’ পড়ে তাহলে আল্লাহ তাকে নতুনভাবে সে সাওয়াবই দিবেন যে সাওয়াব সে বিপদে পতিত হওয়ার প্রথম দিনই পেয়েছে। (আহমাদ, বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ وَلَا مُسْلِمَةٍ يُصَابُ بِمُصِيبَةٍ فَيَذْكُرُهَا وَإِنْ طَالَ عَهْدُهَا فَيُحْدِثُ لِذَلِكَ اسْتِرْجَاعًا إِلَّا جَدَّدَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ عِنْدَ ذَلِكَ فَأَعْطَاهُ مِثْلَ أَجْرِهَا يَوْمَ أُصِيبَ بِهَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن الحسين بن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما من مسلم ولا مسلمة يصاب بمصيبة فيذكرها وان طال عهدها فيحدث لذلك استرجاعا الا جدد الله تبارك وتعالى له عند ذلك فاعطاه مثل اجرها يوم اصيب بها» . رواه احمد والبيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করার গুরুত্ব ও ফাযীলাত সম্পর্কে জানা যায়। যখন কোন মুসলিম নর-নারীর ওপর কোন বিপদ নেমে আসে, আর সে এ উপর ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে, অতঃপর পাঠ করে انا لله وانا اليه راجعون অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আল্লাহ তা‘আলা তার এ বিপদ দূর করে তাকে নতুন কোন সুসংবাদের ও খুশীর সম্মুখীন করে দেন। আর সে যে পরিমাণ বিপদের সম্মুখীন হয়, আল্লাহ তা‘আলা তাকে সে অনুপাতে বেশী পরিমাণে সাওয়াব দান করবেন। আর এ বিপদে ধৈর্য ধারণ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাকে অন্যান্য বিপদ থেকে নিরাপত্তা দান করবেন।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৬০-[৩৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও সে যেন ইস্‌তিরজা’ (ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জি’ঊন) পড়ে। কারণ এটা একটা বিপদই। (বায়হাক্বী’র শু’আবুল ঈমান)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا انْقَطَعَ شِسْعُ أَحَدِكُمْ فَلْيَسْتَرْجِعْ فَإِنَّهُ مِنَ المصائب» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا انقطع شسع احدكم فليسترجع فانه من المصاىب» . رواه البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: বিপদ যত ছোটই হোক না কেন তা বিপদ। এ হাদীস সে দিকেই ইঙ্গিত বহন করছে। এখানে شسع অর্থা হল জুতার ফিতা, যা দুই আঙ্গুলের মাঝে থাকে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কারো জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায়, সে যেন নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে দেয়। অর্থাৎ সে যেন পাঠ করে اِنَّا لِلّهِ وَاِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْن কেননা এটাও এক প্রকার বিপদ। মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, জুতার ফিতা ছিঁড়ার দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদের নিম্ন স্তর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি বায়হাক্বীতে বর্ণিত রয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা

১৭৬১-[৪০] উম্মুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবুদ্ দারদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি আবুল ক্বাসিমকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ হে ’ঈসা! আমি তোমার পরে এমন এক উম্মাত পাঠাব, যারা তাদের পছন্দনীয় জিনিস পেলে আল্লাহর প্রশংসা করবে, আর বিপদে পড়লে সাওয়াবের আশা করবে ও ধৈর্যধারণ করবে। অথচ এ সময় তাদের কোন জ্ঞান ও ধৈর্যশক্তি থাকবে না। এ সময় তিনি [’ঈসা (আঃ)] নিবেদন করবেন, হে আমার রব! তাদের জ্ঞান ও ধৈর্য না থাকলে এটা কেমন করে হবে? তখন আল্লাহ বললেন, আমি আমার সহিষ্ণুতা ও জ্ঞান হতে তাদেরকে কিছু দান করব। (উপরের দু’টি হাদীসই বায়হাক্বীর শু’আবিল ঈমানে বর্ণিত হয়েছে)[1]

وَعَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ: سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ: يَا عِيسَى إِنِّي بَاعِثٌ مِنْ بَعْدِكَ أُمَّةً إِذَا أَصَابَهُمْ مَا يُحِبُّونَ حَمِدُوا اللَّهَ وَإِنْ أَصَابَهُمْ مَا يَكْرَهُونَ احْتَسَبُوا وَصَبَرُوا وَلَا حِلْمَ وَلَا عَقْلَ. فَقَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ يَكُونُ هَذَا لَهُمْ وَلَا حِلْمَ وَلَا عَقْلَ؟ قَالَ: أُعْطِيهِمْ مِنْ حِلْمِي وَعِلْمِي . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان

وعن ام الدرداء قالت: سمعت ابا الدرداء يقول: سمعت ابا القاسم صلى الله عليه وسلم يقول: ان الله تبارك وتعالى قال: يا عيسى اني باعث من بعدك امة اذا اصابهم ما يحبون حمدوا الله وان اصابهم ما يكرهون احتسبوا وصبروا ولا حلم ولا عقل. فقال: يا رب كيف يكون هذا لهم ولا حلم ولا عقل؟ قال: اعطيهم من حلمي وعلمي . رواهما البيهقي في شعب الايمان

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, সুখ শান্তির সময় আল্লাহর গুণগান গেতে হবে, বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং সাওয়াবের আশা রাখতে হবে। এর সাথে এ হাদীসে ‘ঈসা (আঃ) এর পরবর্তী উম্মাত তথা আমাদের মান-মর্যাদার কথা তুলে ধরা হযেছে।

হাদীসের মধ্যে امة এর অর্থ হল, বিরাট দল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেককার উম্মাতগণ। আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আঃ) কে বললেন, তোমার পরে এমন একটি জাতি আসবে তাদের কাছে যখন কোন সুসংবাদ আসবে এবং যখন তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নি‘আমাতপ্রাপ্ত হবে তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে। এজন্যে উম্মাতে মুহাম্মাদী সর্বদা আনন্দের সময় আল্লাহর গুণকীর্তন গায়।

আর যখন তাদের কাছে তাদের অপছন্দনীয় কোন সংবাদ আসবে তথা কোন বিপদ মেনে আসবে তখন তারা এর উপর ধৈর্য ধারণ করবে। আর আল্লাহর কাছে এর জন্য সাওয়াবের আশা করবে। অথচ তাদের কোন ধৈর্য ও জ্ঞান নেই। ‘ঈসা (আঃ) বললেন, হে আল্লাহ! এটা কি করে সম্ভব যে, তাদের ধৈর্য ও জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধারণ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে ধৈর্য, কৌশল ও জ্ঞান দান করব।

এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ধৈর্য আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিরাট নি‘আমাত।

সর্বশেষ কথা হল, এ হাদীস ঐ ব্যক্তিকে ধৈর্যের প্রতি উৎসাহ দান করেছে, যে নিজের ব্যাপারে ও তার মালের ব্যাপারে বিপদের মধ্যে রয়েছে। এ হাদীস উম্মাতে মুহাম্মাদীর গুরুত্ব ও ফাযীলাতের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

এ অধ্যায়ে কবর যিয়ারতের বৈধতা, এর গুরুত্ব ও ফাযীলাত এবং এর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।


১৭৬২-[১] বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। (কিন্তু এখন) তোমাদেরকে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিচ্ছি। (ঠিক) এভাবে আমি তোমাদেরকে কুরবানীর মাংস (মাংস/গোসত) তিন দিনের বেশী জমা করে রাখতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন তোমরা যতদিন খুশী তা রাখতে পারো। আর আমি তোমাদেরকে ’নবীয (নামক শরাব) মশক ছাড়া অন্য কোন পাত্রে রেখে পান করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন তোমরা তা যে কোন পাত্রে রেখে পান করতে পার। তবে সাবধান! নেশা এনে দেয় এমন কোন দ্রব্য কখনো পান করবে না। (মুসলিম)[1]

بَابُ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ

عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقَاءٍ فَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَةِ كُلِّهَا وَلَا تشْربُوا مُسكرا» . رَوَاهُ مُسلم

عن بريدة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها ونهيتكم عن لحوم الاضاحي فوق ثلاث فامسكوا ما بدا لكم ونهيتكم عن النبيذ الا في سقاء فاشربوا في الاسقية كلها ولا تشربوا مسكرا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি এ দিকে ইঙ্গিত বহন করছে যে, ইসলামের প্রথম দিকে কবর যিয়ারত করা বৈধ ছিল না। পরবর্তীতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। এ ছাড়া আরো এমন কতিপয় বিষয় সম্পর্কে এ হাদীসে বলা হয়েছে, যা ইসলামের প্রথম যুগে অবৈধ ছিল পরবর্তীতে তা বৈধ করা হয়েছে।

ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন এবং পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই কবর যিয়ারত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, এ নির্দেশ অনুমতি ও মুস্তাহাবের জন্য।

ইবনু ‘আবদুল বার কতিপয় ‘আলিমের বরাত দিয়ে বলেন, এ নির্দেশ ওয়াজিবের জন্য।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) তার ফাতহুল বারী কিতাবে বলেছেন, এ হাদীস কবর যিয়ারতের জায়িয বিধানকে সুস্পষ্ট করেছে। এ হাদীসের মাধ্যমে কবর যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা রহিত করা হয়েছে।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, আবদারী ও হাযিমীসহ অধিকাংশ ‘উলামায়ে কিরাম একমত হয়েছেন যে, পুরুষের জন্য কবর যিয়ারত জায়িয তথা বৈধ। অনুরূপভাবে অনেকে এটাকে মাকরূহ বলেছেন।

ইবনু আবী শায়বাহ্ ইবনু সীরীন, ইবরাহীম নাখ‘ঈ ও শা‘বী থেকে বর্ণনা করেছেন, সাধারণভাবে কবর যিয়ারত করা মাকরূহ।

শা‘বী (রহঃ) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কবর যিয়ারত করতে নিষেধ না করতেন তাহলে আমি আমার মেয়ের কবর যিয়ারত করতাম।

এর বিপরীতে ইবনু হাযম-এর কথা হল, জীবনে একবার হলেও কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব।

মহিলাদের কবর যিয়ারত করার ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, নারী-পুরুষ সকলের জন্য কবর যিয়ারত করা জায়িয। আবার কেউ কেউ বলেন, এটা পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট। সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে যেমনটি পাওয়া যায়।

ইসলামের প্রথম দিকে কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ থাকার কারণ হল যে, তারা ইতোপূর্বে জাহিলী যুগের মধ্যে ছিল। তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-আর্চনা করত। তাই কবর যিয়ারত এ আশঙ্কায় নিষেধ করা হল যে, তারা জাহিলী যুগের মতো কবরবাসীর কাছে কিছু প্রার্থনা করে না বসে। এছাড়া এ আশংকাও ছিল যে, যিয়ারতকারী কবরবাসীর ইবাদাতে লিপ্ত হতে পারে, বিপদ দূর করার জন্য তার কাছে প্রার্থনা করতে পারে, তার কাছে প্রয়োজন মিটানোর জন্য প্রার্থনা করতে পারে। এ সব আশংকায় প্রথম দিকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করা হয়। অতঃপর যখন তারা তাওহীদের ব্যাপারে সুদৃঢ় হল, তখন তাদেরকে কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হল।

আল্লামা বাদরুদ্দীন আয়নী (রহঃ) বলেন, কবর যিয়ারত ইসলামের প্রথম দিকে নিষেধ ছিল। কেননা এ সকল লোক (মুসলিম) কিছু কাল আগে মূর্তি পূজায় অভ্যস্ত ছিল। তারা কবরকে ‘ইবাদাতখানা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। অতঃপর যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হল ঈমানের পক্ষে মানুষের অন্তর দৃঢ় হল তখন কবর যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞা রহিত করা হল। কেননা কবর যিয়ারত আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয় আর দুনিয়া ত্যাগী বানিয়ে দেয়।

ইসলামের প্রথম দিকে কুরবানীর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) তিন দিনের বেশী রেখে খাওয়া নিষেধ ছিল। এ নিষেধাজ্ঞার কারণ হল তখন অনেক অসহায় লোক মদীনায় এসে আশ্রয় গ্রহণ করত। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করণার্থে এ নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছিল।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, তাদের জন্য নিষেধ ছিল কুরবানীর বাকী গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) তিনদিনের বেশী রেখে খাওয়া। এর দ্বারা তাদের ওপর সদাক্বাকে ওয়াজিব করা হয়েছে। অতঃপর সমস্যা দূর হয়ে গেলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৩-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার নিজের মায়ের কবরে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাঁর আশেপাশের লোকদেরকেও কাঁদালেন। তারপর বললেন, আমি আমার মায়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হলো না। তারপর আমি আমার মায়ের কবরের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। তাই তোমরা কবরের কাছে যাবে। কারণ কবর মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়। (মুসলিম)[1]

بَابُ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: زَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهَ فَقَالَ: «اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَن أسْتَغْفر لَهَا فَلم يُؤذن لي ن وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِي فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ابي هريرة قال: زار النبي صلى الله عليه وسلم قبر امه فبكى وابكى من حوله فقال: «استاذنت ربي في ان استغفر لها فلم يوذن لي ن واستاذنته في ان ازور قبرها فاذن لي فزوروا القبور فانها تذكر الموت» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আব্ওয়া নামক স্থানে স্বীয় মায়ের কবর যিয়ারত করেন। এটা ছিল মক্কা বিজয় সময়কার ঘটনা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মায়ের ক্ববরের পাশে কান্নার কারণ হল যে, তার মায়ের ওপর ‘আযাব হচ্ছিল। এ হাদীসটি কবরস্থানে কান্না করা জায়িযের ব্যাপারে দলীল। অর্থাৎ কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে কান্না করা জায়িয।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চাইলেন, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দিলেন না। এ অনুমতি না দেয়ার কারণ সম্পর্কে ‘উলামায়ে কিরাম বিভিন্ন মত পেশ করেছেন।

ইবনু মালিক (রহঃ) বলেন, কেননা তাঁর মা ছিলেন কাফির। আর কাফিরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নাজায়িয। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।

আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এ ব্যাপারে দলীল যে, যারা ইসলামী আদর্শের বাইরে ইন্তিকাল করবে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা অবৈধ তথা নাজায়িয।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা কাফিরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাকে নিষেধ করা হয়েছে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে স্বীয় মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে আল্লাহ তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দিলেন।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, মুশরিকদের সাথে তাদের জীবদ্দশায় সাক্ষাত করা জায়িয এবং মৃত্যুর পর কবর যিয়ারত করা জায়িয। কেননা যখন মৃত্যুর পর জায়িয তাহলে জীবিত অবস্থায় সাক্ষাত করাতো আরো উত্তম।

আল্লাহ তা‘আলা মাতা-পিতা সম্পর্কে বলেন, ‘‘দুনিয়াতে তারা দু’জন সন্তানের জন্য উত্তম সাথী।’’ (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৫)

গ্রন্থকার বলেন, আমি বলবঃ এ হাদীস এ কথা নির্দেশ করছে যে, তাঁর মা ইসলামের উপর মারা যাননি।

ইমাম নাবাবী (রহঃ) ও ইবনু মাজাহ স্ব স্ব কিতাবে এ হাদীসকে যে অধ্যায়ের মধ্যে উল্লেখ করেছেন তার নাম করেছেন باب زيارة قبر المشرك অর্থাৎ মুশরিকের কবর যিয়ারত সংক্রান্ত অধ্যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৪-[৩] বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গেলে এ দু’আ পড়তে শিখিয়েছেনঃ ’’আস্‌সালা-মু ’আলায়কুম আহলাদ দিয়া-রি মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্ল-হু বিকুম লালা-হিকূনা নাসআলুল্ল-হা লানা- ওয়ালাকুমুল ’আ-ফিয়াহ্’’ (অর্থাৎ হে কবরবাসী মু’মিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমরা আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।)। (মুসলিম)[1]

بَابُ زِيَارَةِ الْقُبُوْرِ

وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن بريدة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمهم اذا خرجوا الى المقابر: «السلام عليكم اهل الديار من المومنين والمسلمين وانا ان شاء الله بكم للاحقون نسال الله لنا ولكم العافية» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মধ্যে কবর যিয়ারতের নিয়ম-কানুন জানা যায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কবরস্থানের উদ্দেশে বের হতেন, তখন তিনি সাহাবীদেরকে শিক্ষা দিতেন অর্থাৎ কবরস্থানে পৌঁছে কি বলতে হবে তা শিক্ষা দিতেন। আর তা হল

 اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ اَهْلَ الدِّيَارِ... وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে শিক্ষা দিতেন যে, কিভাবে কবরবাসীকে সালাম দিতে হবে। আর এটা এজন্য যে, জাহিলী যুগের লোকেরা আগে নাম বলত এবং পরে নাম বলত।

আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, মৃতের ওপর সালাম দিতে হবে সেভাবে, যেভাবে জীবিত ব্যক্তির ওপর সালাম দেয়া হয়। এ সালাম দু‘আ পাঠের পূর্বে। অর্থাৎ কবর যিয়ারত শুরু হবে সালাম দিয়ে। সালামের ক্ষেত্রে নাম পরে আসবে, সালাম আগে হবে। অর্থাৎ عَلَيْكَ سَّلَامُ اللهِ না হয়ে اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ হবে।

এ ব্যাপারে কুরআন মাজীদে একাধিক স্থানে দলীল পাওয়া যায়। সূরাহ্ হূদ-এর ৭৩ নং আয়াতে রয়েছে যে, رَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكتُهٗ عَلَيْكُمْ اَهْلَ الْبَيْتِ সূরাহ্ আস্ সা-ফ্ফা-ত এর ১৩০ নং আয়াতে রয়েছে سَلَامٌ عَلى اِلْ يَاسِيْنَ

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরবাসীকে اهل الديار বলার কারণ হল যে, আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত ব্যক্তি সাথে তুলনা করে তাদেরকে اهل الديار বলেছেন। অর্থাৎ জীবিতরা যেমন এক সাথে বাস করে, ঠিক তেমনি মৃতরাও কবরস্থানে একত্রে বসবাস করে।

এ হাদীসের মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে যে, কবরবাসীদের মধ্যে মু’মিন ও মুসলিমের জন্য সালাম প্রযোজ্য। যদি এর মধ্যে কোন মুনাফিক্ব থাকে তাহলে তাকে সালাম দেয়া যাবে না।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আল্লাহ চান তাহলে আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হব অর্থাৎ ইন্তিকালের মাধ্যমে তোমাদের সাথে কবর জগতে মিলিত হব। এখানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শর্ত যুক্ত করার কারণ হল, এর দ্বারা বারাকাত লাভ করা ও নিজেকে সোপর্দ করা। আর আল্লাহ তা‘আলা انشاء الله (ইনশা-আল্ল-হ) ছাড়া কোন কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

আমরা আমাদের জন্য এবং তোমাদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় যে, কবরবাসীকে সালাম দেয়া এবং তাদের জন্য দু‘আ করা উভয়ই মুস্তাহাব কাজ। এ হাদীসটি মুসলিম ছাড়াও মুসনাদে আহমাদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ কিতাবে বর্ণিত আছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৫-[৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) মদীনার কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি কবরস্থানের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, ’’আস্‌সালা-মু ’আলায়কুম ইয়া- আহলাল কুবূরি, ইয়াগফিরুল্ল-হু লানা- ওয়ালাকুম, আন্‌তুম সালাফুনা- ওয়ানাহনু বিল আসার’’ (অর্থাৎ হে কবরবাসী! তোমাদের ওপর সালাম পেশ করছি। আল্লাহ তা’আলা আমাদের ও তোমাদেরকে মাফ করুন। তোমরা আমাদের পূর্ববর্তী আর আমরা তোমাদের পশ্চাৎগামী)। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبُورٍ بِالْمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

عن ابن عباس قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بقبور بالمدينة فاقبل عليهم بوجهه فقال: «السلام عليكم يا اهل القبور يغفر الله لنا ولكم انتم سلفنا ونحن بالاثر» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে উম্মাতের পথপ্রদর্শক ও শিক্ষক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতকে কবর যিয়ারতের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গেলেন এবং কবরবাসীদের দিকে ফিরে সালাম দিলেন।

আল্লামা মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এদিকে নির্দেশ করছে যে, কবর যিয়ারতকারীদের ক্ববরের দিকে ফিরে সালাম দেয়া এবং তাদের জন্য দু‘আ করার সময় ক্ববরের দিকে ফেরা মুস্তাহাব। সমস্ত মুসলিমদের এর উপরই ‘আমল করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, দু‘আর সময় ক্বিবলামুখী হওয়ার সুন্নাত। যেমনিভাবে সাধারণ দু‘আর ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়।

মৃতদের উদ্দেশে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী, তোমরা আমাদের অগ্রে চলে গেছ। যেহেতু তারা মৃত্যুর মাধ্যমে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের পূর্বে চলে যায়, তাই তাদেরকে সালাফ বলা হয়েছে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ونحن بالاثر অর্থাৎ আমরা তোমাদের পশ্চাদপদ অনুরসণ করব। অর্থাৎ আমরা পেছনে অনুসরণকারী হয়ে তোমাদের সাথে মিলিত হব। তোমরা যেমন মৃত্যুবরণ করে কবর জগতে চলে গেছ। সুতরাং আমরাও সে মৃত্যুর মাধ্যমে কবর জগতে তোমাদের সাথে মিলিত হব। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও গরীব।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৬-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসতেন, সেদিন শেষ রাতে উঠে তিনি বাক্বী’তে (মদীনার কবরস্থান) চলে যেতেন। (ও স্থানে) তিনি বলতেন,

’’আস্‌সালা-মু ’আলায়কুম দা-রা ক্বওমিন মু’মিনীন, ওয়া আতা-কুম মা- তূ’ইদূনা গাদান মুআজ্জালূনা, ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্ল-হু বিকুম লা-হিকূন, আল্ল-হুম্মাগফির লিআহলি বাক্বী’ইল গারক্বদ’’

(অর্থাৎ হে মু’মিনের দল! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদেরকে আগামীকালের (কিয়ামতের (কিয়ামতের)) যে প্রতিশ্রুতি (সাওয়াব অথবা শাস্তি) দেয়া হয়েছিল তা তোমরা কি পেয়ে গেছ? যে ব্যাপারে তোমাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত)। আর নিশ্চয়ই আমরাও আল্লাহ চাইলে তোমাদের সাথে মিলিত হবই। হে আল্লাহ! বাক্বী’ গারক্বদ্বাসীদেরকে মাফ করে দিন!)। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلَّمَا كَانَ لَيْلَتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ إِلَى الْبَقِيعِ فَيَقُولُ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوعِدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأهل بَقِيع الْغَرْقَد» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كلما كان ليلتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج من اخر الليل الى البقيع فيقول: «السلام عليكم دار قوم مومنين واتاكم ما توعدون غدا موجلون وانا ان شاء الله بكم لاحقون اللهم اغفر لاهل بقيع الغرقد» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে শেষ রাতে দু‘আর ফাযীলাত ও কবর যিয়ারতের ফাযীলাত সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের শেষাংশে বাক্বী‘তে যেতেন।

আল্লামা সিনদী (রহঃ) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতের উদ্দেশে বাকীতে যেতেন।

কেউ কেউ বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল যখন তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করতেন, তখন রাতের শেষাংশে বাক্বী‘র উদ্দেশে বের হতেন। আর বাক্বী' হল- মদীনাবাসীদের কবরস্থান, যা অত্যন্ত প্রশস্ত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৭-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কবর যিয়ারতে আমি কি বলব? তিনি বললেন, তুমি বলবে,

’’আস্‌সালা-মু ’আলা- আহলিদ দিয়া-রি মিনাল মু’মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা, ওয়া ইয়ারহামুল্ল-হুল মুসতাক্বদিমীনা মিন্না- ওয়াল মুস্‌তা’খিরীনা, ওয়া ইন্না- ইনশা-আল্ল-হু বিকুম লালা-হিকূন’’

(অর্থাৎ সালাম বর্ষিত হোক মু’মিন মুসলিমের বাসস্থানের অধিবাসীদের প্রতি! আর আল্লাহ আমাদের রহম করুন যারা প্রথমে চলে গেছে আর যারা পরে আসবে তাদের উপর, ইনশাআল্লাহ আমরাও শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিত হব।)। (মুসলিম)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَيْفَ أَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ تَعْنِي فِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ قَالَ: قُولِي: السَّلَامُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ للاحقون . رَوَاهُ مُسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كيف اقول يا رسول الله؟ تعني في زيارة القبور قال: قولي: السلام على اهل الديار من المومنين والمسلمين ويرحم الله المستقدمين منا والمستاخرين وانا ان شاء الله بكم للاحقون . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে কবরবাসীকে সালাম দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন যে, হে আল্লাহর রসূল! আমি কবরস্থানে গিয়ে কিভাবে কবরবাসীকে সালাম প্রদান করব। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলবে- اَلسَّلُامَ عَلى اَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُوْمِنِيْنَ অর্থাৎ সমস্ত মু’মিন মুসলিম ঘরবাসীর উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এখানে নারীর ওপর পুরুষকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর যারা মৃত্যু দ্বারা আমাদের আগে কবরবাসী হয়েছে এবং যারা আমাদের পরে হবে তাদের সকলের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে যারা মৃত এবং যারা জীবিত সকলের ওপর আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক। এ হাদীস ঐ ব্যক্তির স্বপক্ষে দলীল, যে নারীর অধিকার রক্ষার্থে শর্তসাপেক্ষে তাদের কবর যিয়ারতকে বৈধ বলে থাকেন। অর্থাৎ এ হাদীস মহিলাদের কবর যিয়ারতকে জায়িয করেছে। এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে এবং এটা নাসায়ী ও বায়হাক্বীতেও বর্ণিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৮-[৭] মুহাম্মাদ ইবনু নু’মান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ হাদীসের সানাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমু’আতে নিজ মাতা-পিতা অথবা তাদের দু’জনের বা একজনের কবর যিয়ারত করবে (সেখানে দু’আয়ে মাগফিরাত করবে) তাদের মাফ করে দেয়া হবে। (যিয়ারতকারী মাতা-পিতার সাথে) সদাচরণকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। (বায়হাক্বী মুরসাল হাদীস হিসেবে শু’আবুল ঈমানে বর্ণনা করেন।)[1]

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ يُرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ زَارَ قَبْرَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدِهِمَا فِي كُلِّ جُمُعَةٍ غُفِرَ لَهُ وَكُتِبَ بَرًّا» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان مُرْسلا

وعن محمد بن النعمان يرفع الحديث الى النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من زار قبر ابويه او احدهما في كل جمعة غفر له وكتب برا» . رواه البيهقي في شعب الايمان مرسلا

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মা-বাবার কবর যিয়ারতের ফাযীলাতের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবনু নু‘মান ইবনু বাশীর ছিলেন একজন বিশ্বস্ত তাবি‘ঈ। তিনি সাহাবী রাবীকে মাঝখান থেকে বাদ দিয়ে অথবা অন্য কাউকে বাদ দিয়ে তিনি সরাসরি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ জাতীয় হাদীসকে হাদীসে মুরসাল বলা হয়।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি জুমু‘আর দিন বা প্রতি সপ্তাহে পিতা-মাতা দু’জনের অথবা এক জনের কবর যিয়ারত করে, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অর্থাৎ তার সাগীরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। জুমু‘আর দিনের হাদীসকে আবূ বাকর (রাঃ) হতে ইবনু ‘আদী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শক্তিশালী করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, من زار قبر والديه او احدهما يوم الجمعة অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন মা-বাবা দু’জনের অথবা একজনের কবর যিয়ারত করে।

হাদীসে বলা হয়েছে كتب برا অর্থাৎ নেককার হিসেবে লেখা হয়। অর্থাৎ যে প্রতি জুমু‘আর দিনে মা-বাবার কবর যিয়ারত করে তার নাম নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় যে, প্রত্যেক জুমু‘আর দিন মা-বাবার কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব তথা উত্তম সাওয়াবের কাজ। যদিও হাদীসটি মুরসাল। আর এ ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত আছে, তার সবই দুর্বল।


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৬৯-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন) তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কারণ কবর যিয়ারত দুনিয়ার আকর্ষণ কমিয়ে দেয় ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا وتذكر الْآخِرَة» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابن مسعود ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فانها تزهد في الدنيا وتذكر الاخرة» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, কবর যিয়ারতের মধ্যে অনেক গুরুত্ব ও ফাযীলাত রয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, كنت نهيتكم عن زيارة القبور অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। অর্থাৎ আমি তোমাদের ব্যাপারে এ আশংকা করেছিলাম যে, তোমরা কবর যিয়ারত করতে গিয়ে জাহিলী যুগের কাজ করে ফেল। আর তা হল- কবরবাসীর কাছে ক্রন্দন করা এবং তার কাছে এমন কিছু উল্লেখ করা যা ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় উচিত নয়, এখন তোমাদের মাঝে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তোমরা আল্লাহভীরু হয়েছ। তাই এখন তোমরা কবর যিয়ারত কর।

এ হাদীসের মধ্যে ناسخ তথা রহিতকারী ও منسوخ তথা যাকে রহিত করা হয়েছে এক সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কবর যিয়ারতের আদেশ দ্বারা কবর যিয়ারতের নিষেধাজ্ঞাকে রহিত করা হয়েছে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কবর যিয়ারতের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া বিমুখ হয়। অর্থাৎ কবর যিয়ারতের মাধ্যমে দুনিয়া ত্যাগী হয়, দুনিয়ার প্রতি কোন লোভ, লালসা ও মোহ থাকে না। আর আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়। ক্ববরের পাশে দাঁড়ালে জীবিতদের চিন্তা আসে এক সময় আমার অবস্থাও এমন হবে। অর্থাৎ ক্ববরে চলে যেতে হবে। এ হাদীসটি ইবনু মাজাহতে উল্লেখ করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৭০-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশী বেশী কবর যিয়ারতকারী মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। তিনি আরো বলেছেন, কোন কোন ’আলিমের ধারণা এ হাদীসটি কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ সময়ের। কিন্তু কবর যিয়ারতের অনুমতি দেবার পর পুরুষ মহিলা সকলেই এর মধ্যে গণ্য হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে কোন কোন ’আলিমের মতে, মহিলারা অপেক্ষাকৃত অধৈর্য, অসহিষ্ণু ও কোমলমতি বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সেখানে যাওয়া অপছন্দ করেছেন। তাই কবর যিয়ারতে যাওয়া মহিলাদের জন্য এখনো নিষিদ্ধ। ইমাম তিরমিযীর কথা পূর্ণ হলো।)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم لعن زوارات الْقُبُورِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيح
وَقَالَ: قَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ هَذَا كَانَ قبل أَن يرخص النَّبِي فِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَلَمَّا رَخَّصَ دَخَلَ فِي رُخْصَتِهِ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّمَا كَرِهَ زِيَارَةَ الْقُبُورِ لِلنِّسَاءِ لِقِلَّةِ صَبْرِهِنَّ وَكَثْرَةِ جَزَعِهِنَّ. تمّ كَلَامه

وعن ابي هريرة: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن زوارات القبور. رواه احمد والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح وقال: قد راى بعض اهل العلم ان هذا كان قبل ان يرخص النبي في زيارة القبور فلما رخص دخل في رخصته الرجال والنساء. وقال بعضهم: انما كره زيارة القبور للنساء لقلة صبرهن وكثرة جزعهن. تم كلامه

ব্যাখ্যা: বেশী বেশী কবর যিয়ারতের পরিণতি সম্পর্কে এ হাদীসে আলোকপাত করা হয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারীকে লা‘নাত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মুল্লা ‘আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, অধিক পরিমাণে কবর যিয়ারত করা।

আল্লামা কুরতুবী (রহঃ) বলেন, এ লা‘নাত তাদের জন্য যারা বেশী বেশী কবর যিয়ারত করে। কেননা زوارات শব্দটি আধিক্যতার অর্থ প্রদান করে। তাই এ লা‘নাত ঐ সকল নারীর জন্য যারা বেশী বেশী করে কবর যিয়ারত করে। হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাতে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস হাসান ও সহীহ। তিনি আরো বলেন, কতিপয় ‘আলিম বলেন, এ অভিশাপ ছিল ইসলামের প্রথম দিকে। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী-পুরুষ সকলকে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। তখন সেটা রহিত হয়ে গেছে।

আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, বক্তারা দলীল পেশ করে যে, যিয়ারতের ক্ষেত্রে নারীদের সম্পৃক্ততা পুরুষের সাথে ব্যাপকতার ভিত্তিতে।

ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় গ্রন্থ সহীহুল বুখারীতে মহিলাদের কবর যিয়ারত নাজায়িয বলে প্রমাণ করেছেন। এ সংক্রান্ত হাদীস হল, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এক মহিলার কাছ থেকে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় সে ক্ববরের পাশে বসে ক্রন্দন করছে। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর।

আল্লামা বাদরুদ্দীন আয়নী (রহঃ) বলেন, নারীদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করার কারণ হল, তাদের ধৈর্য শক্তি কম এবং তাদের দুঃখ প্রবণতা বেশী অর্থাৎ অল্পতে তারা ভেঙ্গে পড়ে। সর্বোপরি কথা হল যে, নারীদের জন্য কবর যিয়ারত করা বৈধ নয়। সুতরাং যাবতীয় ফিতনাহ্ (ফিতনা) থেকে ইসলামী সমাজকে রক্ষা করতে হলে এর উপর ‘আমল করতে হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals

পরিচ্ছেদঃ ৮. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবর যিয়ারত

১৭৭১-[১০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন সেই ঘরে প্রবেশ করতাম যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে আছেন তখন আমি আমার চাদর খুলে রাখতাম। আমি মনে মনে বলতাম, তিনি তো আমার স্বামী, আর অপরজনও আমার পিতা। কিন্তু যখন ’উমার (রাঃ) কে এখানে তাঁদের সাথে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম, তখন থেকে আমি যখনই ঐ ঘরে প্রবেশ করেছি, ’উমারের কারণে লজ্জায় শরীরে চাদর পেঁচিয়ে রেখেছি। (আহমাদ)[1]

وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: كُنْتُ أَدْخُلُ بَيْتِيَ الَّذِي فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنِّي وَاضِعٌ ثَوْبِي وَأَقُولُ: إِنَّمَا هُوَ زَوْجِي وَأَبِي فَلَمَّا دُفِنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَعَهُمْ فَوَاللَّهِ مَا دَخَلْتُهُ إِلَّا وَأَنَا مَشْدُودَةٌ عَلَيَّ ثِيَابِي حَيَاء من عمر. رَوَاهُ أَحْمد

وعن عاىشة قالت: كنت ادخل بيتي الذي فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم واني واضع ثوبي واقول: انما هو زوجي وابي فلما دفن عمر رضي الله عنه معهم فوالله ما دخلته الا وانا مشدودة علي ثيابي حياء من عمر. رواه احمد

ব্যাখ্যা: এ হাদীস মহিলাদের কবরস্থানে প্রবেশ করা জায়িযের দলীল। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সেই ঘরে প্রবেশ করলেন যেই ঘরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পিতা আবূ বাকর (রাঃ)-কে দাফন করা হয়েছিল। প্রবেশ করার পর তিনি উভয় ক্ববরের পাশে আলাদা আলাদাভাবে গেলেন। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরের পাশে গিয়ে বললেন, এটা আমার স্বামীর কবর। আবার আবূ বাকর (রাঃ)-এর ক্ববরের পাশে গিয়ে বললেন, এটা আমার পিতার কবর। এরপর ‘উমার (রাঃ)-কে তাদের দু’জনের সাথে দাফন করা হয়।

এ হাদীসের দাবী হল, কবর যিয়ারতের সময় মৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ সম্মান করতে হবে যেমন তাকে তার জীবদ্দশায় সম্মান করা হত।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি এ কথার উপর দলীল যে, কবরবাসীকে সম্মান করা ওয়াজিব। প্রত্যেক ক্ববরের কাছে গমন করতে হবে তাদের দুনিয়ায় যে মর্যাদা ছিল তার ধারাবাহিকতার আলোকে। যেমন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আগে গেলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ববরের পাশে। তারপর আবূ বাকর-এর ক্ববরের পাশে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৫: জানাযা (كتاب الجنائز) 5. Funerals
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২৪৯ পর্যন্ত, সর্বমোট ২৪৯ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে