পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪০৬-[১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ’মুকল্লিবিল কুলূব’ (অন্তর পরিবর্তনকারী) বলে কসম করতেন। (বুখারী)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَكْثَرُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يحلف: «لَا ومقلب الْقُلُوب» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابن عمر رضي الله عنهما اكثر ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يحلف: «لا ومقلب القلوب» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়, যে হৃদয়ের ‘আমল যা ইচ্ছাশক্তি হতে আসে এবং সকল ‘আমল সবই আল্লাহরই সৃষ্টি। হাদীসে আরও বৈধতা প্রমাণিত হয় যে, এমন সিফাত যা আল্লাহর শানে প্রযোজ্য তা দিয়ে শুরু করা বৈধ।

হাদীসে আরও প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তি আল্লাহর সিফাত দ্বারা কসম করে পরে আবার তা ভঙ্গ করে তার জন্য কাফফারা বা জরিমানা অপরিহার্য- এ ব্যাপারে মূলত কোনো মতানৈক্য নেই। মতানৈক্য হলো কোনো সিফাত তথা গুণ দ্বারা কসম সংঘটিত হবে আর এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট সে কসমে তার সাথে অন্য কাউকে না বাড়ায়। যেমন- (مُقَلِّبِ الْقُلُوبِ) অন্তর নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনকারী প্রভু।

কাযী আবূ বাকর ইবনু ‘আরাবী বলেনঃ হাদীসে বৈধতা প্রমাণ করে আল্লাহর কার্যাবলী দ্বারা কসম করা বৈধ যখন গুণে পরিণত হয় আর যদিও তার নাম উল্লেখ না করে। আর হানাফীরা পার্থক্য করেন ক্ষমতা এবং জ্ঞানের মাঝে। তারা বলেন, আল্লাহর ক্ষমতা দ্বারা কসম করা বৈধ। আর জ্ঞান দ্বারা কসম করলে তা সংঘঠিত হবে না।
আর রাগিব বলেনঃ ‘‘আল্লাহর পরিবর্তন করা অন্তর ও চোখকে’’ এর অর্থ হলো এক সিদ্ধান্ত হতে আর এক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বাণী (সূরা আন্ নাহল ১৬ : ৪৬) : أَوْ يَأْخُذَهُمْ فِي تَقَلُّبِهِمْ আর বহুল পরিমাণে পরিবর্তনের কারণে কলবকে কলব বলা হয়।

কখনও কখনও এ অর্থ হতে বের হয়ে অন্যান্য নির্ধারিত কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন রূহ, জ্ঞান, সাহসিকতা।

রূহের অর্থে الْقُلُوب الْحَنَاجِر আর জানা বা জ্ঞান অর্থে لِمَنْ كَانَ لَه قَلْبٌ সাহস অর্থে وَلِتَطْمَئِنَّ بِه قُلُوبُكُمْ।

কাযী আবূ বাকর বলেন, কলব হলো শরীরেরই অংশ যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আর তা মানুষের জন্য জ্ঞান ও কথাবার্তা এবং অন্যান্য কিছুর বাতেনী তথা লুকায়িত সিফাতের স্থান আর শরীরের দৃশ্যমানকে কার্যক্রম ও বলার স্থান বানিয়েছেন।

আর অন্তরে মালাক (ফেরেশতা) নিয়োগ করে যে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে আর শায়ত্বনকেও নিয়োগ করেছেন যে অকল্যাণের পথে পরিচালিত করে। আর আক্ল তার আলো দিয়ে তাকে হিদায়াতে পরিচালিত করে এবং প্রবৃত্তি তার অন্ধকার দিয়ে পথভ্রষ্টতার দিকে পরিচালিত করে। আর তাকদীর প্রত্যেকের ব্যাপৃত এবং কলব ভালো মন্দ ও দু’টোর মধ্যে পরিবর্তন হয়। কখনও বন্ধুত্ব মালায়িকার পক্ষ হতে কখনও শায়ত্বনের পক্ষ হতে আর তার হিফাযাত আল্লাহর পক্ষ হতেই। (ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৬২৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪০৭-[২] উক্ত রাবী [ইবনু ’উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। অতএব যদি কারো কসম করতেই হয়, সে যেন আল্লাহ তা’আলার নামেই কসম করে অথবা নিশ্চুপ থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ ليصمت»

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان الله ينهاكم ان تحلفوا باباىكم من كان حالفا فليحلف بالله او ليصمت»

ব্যাখ্যা: ইমাম নববী বলেনঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর কসম খাওয়ার নিষেধের হিকমাহ্ হলো, যেই জিনিসের দ্বারা কসম করা হয় প্রকৃতপক্ষে তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ হয়ে থাকে অথচ সত্যিকার মর্যাদার একচ্ছত্র অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : لَأَنْ أَحْلِفَ بِاللّٰهِ مِائَةَ مَرَّةٍ فَآثَمُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِه فَأَبَرَّ

আমি একশতবার আল্লাহর কসম খাব, অতঃপর আমি গুনাহগার হব, এটা উত্তম আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্য কিছুর কসম খাব, নেককাজ করব। আর তিনি ঘৃণা করতেন আল্লাহর নাম ও গুণ ব্যতিরেকে অন্যকিছুর নামে শপথ করাকে চাই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে বা কা‘বাহ্ ঘর, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ), জীবন, রূহ বা অন্য যে নামে হোক না কেন আর সবচেয়ে খারাপ হলো আমানাতের নামে কম্ম খাওয়া। তবে আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্ট মাখলূকের যে কোনো জিনিসের কসম করতে পারবে।

কাযী বলেনঃ যদি এই প্রশ্ন করা হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে এক লোক সম্পর্কে মন্তব্য করার পর أَفْلَحَ وَأَبِيهِ বলে, পিতার নামে শপথ করছিলেন। এটার উত্তর এই যে, উক্ত কসম দ্বারা বস্তুর বা যেই জিনিসের দ্বারা কসম করা হয়েছে তার মর্যাদা বিকাশ উদ্দেশ্য ছিল না বরং কথাটাকে সুদৃঢ়ভাবে প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছিল অথবা এটাও বলা যায় যে, তা বিধি-নিষেধ প্রয়োগ হওয়ার পূর্বের ঘটনা এবং এটাই সঠিক মত। আবার কেউ কেউ বলেছেন, নিষেধ অর্থ হারাম নয়। সুতরাং প্রয়োজনে কথাটি সুদৃঢ় করার জন্য এ কসম করা বৈধ।
(মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪০৮-[৩] ’আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহদ্রোহীর (প্রতীমার) নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَحْلِفُوا بِالطَّوَاغِي وَلَا بِآبَائِكُمْ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن عبد الرحمن بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تحلفوا بالطواغي ولا باباىكم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: الطَّوَاغِي অর্থ মূর্তিসমূহ طاغية একবচন। طاغية মূলত সম্মান বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে যখনই সীমানা অতিক্রম করে তাই طغى। যেমন আল্লাহর বাণী: إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاءُ حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ ‘‘যখন জ্বলোচ্ছাস হয়েছিল’’- (সূরা আল হা-ককাহ্ ৬৯ : ১১) তথা পানি যখন সীমা অতিক্রম করেছিল। কারও মতে যারা কুফরীর সীমা অতিক্রম করেছে, আবার এটা দ্বারা শায়ত্বনও উদ্দেশ্য। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৪৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪০৯-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কসমের মধ্যে ’লাত’ ও ’উযযা’ (প্রতীমা)-এর নাম বলে ফেলে, সে যেন তাৎক্ষণিকভাবে ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো ইলাহ নেই) বলে। আর কেউ যদি তার সঙ্গী-সাথীকে এ বলে আহবান করে যে, ’আসো, আমরা জুয়া খেলি’, সে যেন অবশ্যই সাদাকা করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ: بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ: تَعَالَ أقامرك فليتصدق

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من حلف فقال في حلفه: باللات والعزى فليقل: لا اله الا الله. ومن قال لصاحبه: تعال اقامرك فليتصدق

ব্যাখ্যা: অন্য সানাদে এসছে,

مِنْ طَرِيقِ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ فَحَلَفْتُ بِاللَّاتِ وَالْعُزّٰى فَقَالَ لِي أَصْحَابِي بِئْسَ مَا قُلْتَ فَذَكَرْتُ ذٰلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ قُلْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه

মুস্‘আব বিন সা‘ঈদ, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমরা নতুন মুসলিম ছিলাম আমি কসম খেতাম ‘লাত’ ও ‘উয্যা’-এর নামে তখন আমার সাথী বললেন কতই না খারাপ তুমি যা বললে। অতঃপর বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তুলে ধরলাম, তিনি বললেনঃ তুমি বল, আল্লাহর ছাড়া সত্য কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক এবং তার কোনো শরীক নেই।

খত্ত্বাবী বলেনঃ কসম শুধুমাত্র মহান মা‘বূদের নামেই হবে আর যে লাতের নামে কসম খেল সে কাফির সদৃশ হলো আর যে অজ্ঞতা ও ভুলবশতঃ করল সে যেন বলে لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ। তাহলে আল্লাহ তা হতে মিটিয়ে দিবেন এবং তার হৃদয়কে প্রবৃত্তি হতে আল্লাহর স্মরণে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং তার জিহ্বা ব্যবহৃত হবে সত্যের পক্ষে আর তার হতে অনর্থক বিষয়াদি সরিয়ে দিবেন।

সাদাকা করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জিহবা দিয়ে যা বলা হয়েছিল (আমি জুয়া খেলব) সাদাকা তার জরিমানা স্বরূপ। মুসলিম-এর বর্ণনায় এসেছে, (فَلْيَتَصَدَّقْ بِشَيْءٍ) সে যেন কিছু দান করে। কিছু হানাফী বলে তার ওপর ওয়াজিব হবে শপথের জরিমানা।

জুমহূরের নিকট হাদীসটি সুস্পষ্ট দলীল যে পাপের দৃঢ়সংকল্প যখন অন্তরে স্থায়ী হয় তখন তা পাপ হিসেবে লেখা হবে, তবে যে অন্তরে স্থায়ী হয় না তা পাপ হিসেবে ধর্তব্য হবে না। তবে আমি ভাষ্যকার (ইবনু হাজার) বলি, আমি জানি না এ বক্তব্য কোথা হতে নেয়া হলো।

হাদীসের সুস্পষ্ট ভাষ্য হলো, (تَعَالَ أُقَامِرُكَ) আসো আমি তোমার সাথে জুয়া খেলব সে তাকে ডেকেছে পাপের দিকে আর সর্বসম্মত জুয়া হারাম। সুতরাং সে কার্যের দিকে আহবান করা হারাম। এখানে শুধুমাত্র দৃঢ়সংকল্প নয়। সামনে এ বিষয়ে আলোচনা আসবে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬১০৭)

শারহুস্ সুন্নাহ্ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যে গায়রুল্লাহর নামে বা ইসলামের পরিপন্থী কিছুর নামে শপথ করলে তাকে কোনো প্রকারের কাফফারা আদায় করতে হবে না। অবশ্য শক্ত গুনাহগার হবে, কাজেই তার জন্য তাওবাহ্ করাটা অপরিহার্য। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ধরনের ব্যক্তিকে তার দীন ও ঈমান সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন তার মালের উপর কিছুই ওয়াজিব করেননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১০-[৫] সাবিত ইবনুয্ যহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে শপথ করে, তাহলে সে যেন তদ্রূপ হয়ে যায় যা সে বলেছে। কোনো আদম সন্তানের পক্ষে ঐরূপ মানৎ পূর্ণ করা ওয়াজিব নয়, যার সে সত্তা নয়। যে ব্যক্তি কোনো জিনিস দ্বারা দুনিয়াতে আত্মহত্যা করল, কিয়ামত দিবসে তাকে ঐ জিনিসের মাধ্যমেই শাস্তি দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনকে লা’নাত (অভিসম্পাত) করল, সে যেন তাকে হত্যাই করল। আর যে কোনো মু’মিনকে কাফির বলে অপবাদ দিল, সে যেন তার হত্যাযজ্ঞের শামিল। যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে, আল্লাহ তা’আলা তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে বরং কমিয়ে দেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى مِلَّةٍ غَيْرِ الْإِسْلَامِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَلَيْسَ عَلَى ابْنِ آدَمَ فِيمَا لَا يَمْلِكُ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَقَتْلِهِ وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِ وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى كَاذِبَةً لِيَتَكَثَّرَ بِهَا لَمْ يَزِدْهُ اللَّهُ إِلَّا قِلَّةً»

وعن ثابت بن الضحاك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من حلف على ملة غير الاسلام كاذبا فهو كما قال وليس على ابن ادم فيما لا يملك ومن قتل نفسه بشيء في الدنيا عذب به يوم القيامة ومن لعن مومنا فهو كقتله ومن قذف مومنا بكفر فهو كقتله ومن ادعى دعوى كاذبة ليتكثر بها لم يزده الله الا قلة»

ব্যাখ্যা: কাযী বলেনঃ ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের নামে শপথ করার অর্থ হলো সে তার ইসলামকে নষ্ট করল, এ ধরনের শপথের মাধ্যমে সে যেরূপ বলল তদ্রূপই হলো আর সম্ভাবনা রয়েছে এটাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে শপথ ভঙ্গের মাধ্যমে। যেমন বর্ণিত হয়েছে,

مَنْ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الْإِسْلَامِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ، وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْإِسْلَامِ سَالِمًا

বুরায়দাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বলে আমি ইসলাম হতে মুক্ত যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তাহলে সে যেরূপ বলেছে সে তদ্রূপই হবে আর যদি সত্যবাদী হয় তাহলে সে ইসলামে অবশ্যই সহীহভাবে ফিরবে না।

কারও মতে, মূলত উদ্দেশ্য তা নয় বরং ভীতিপ্রদর্শনেই উদ্দেশ্য। সে প্রকৃত ইয়াহূদী হুকুমের মধ্যে পড়েনি এবং ইসলাম হতে মুক্তও হয়নি, মনে হয় সে ইয়াহূদীদের মতো শাস্তির হকদার হয়েছে। আর এর সাদৃশ্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ مَنْ تَرَكَ صَلَاةً فَقَدْ كَفَرَ ‘‘যে সালাত ছেড়ে দিল সে কাফির হলো।’’ এখানে ধমকি স্বরূপ বলা হয়েছে।

ইমাম আবূ হানীফাহ্সহ অধিকাংশ যেমন ইমাম নাখ‘ঈ, আওযা‘ঈ, সাওরী এবং আহমাদ-এর মতে এরূপ কথা বললে তা কসমে পরিণত হবে এবং ভাঙ্গলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। কিন্তু ইমাম মালিক, শাফি‘ঈসহ মদীনার ‘উলামাগণ বলেন, তা শপথ নয়। সুতরাং কাফফারা ওয়াজিব হবে না, তবে এমন উক্তিকারী গুনাহগার হবে তাতে সত্য বলুক আর মিথ্যা বলুক।

(وَلَيْسَ عَلَى ابْنِ اٰدَمَ فِيمَا لَا يَمْلِكُ) কোনো আদাম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় এমন জিনিসের মানৎ করলে তাতে কিছুই হয় না। ইবনু মালিক বলেনঃ যদি কেউ বলে যদি আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেন তাহলে অমুক গোলাম স্বাধীন অথচ সে তার মালিকাধীন না।

ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এর ভাবার্থ হলো কেউ যদি মানৎ করে দাস আযাদ করে দিবে অথচ সে দাস তার মালিকাধীনে নেই অথবা ছাগল বা অন্য কিছু কুরবানী করবে আর তা তার অধীনে নেই তা পুরা করা ওয়াজিব হবে না যদি তা পারে তা মালিকাধীনে আসে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১১-[৬] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আমি যদি কোনো বস্তুর উপর কসম করি, তখন ঐ কসমের বিপরীত করা উত্তম বলে মনে করি। অতঃপর ইনশা-আল্লা-হ আমি আমার কসমের কাফফারা আদায় করে দেই এবং যে কাজটি উত্তম, তাই করি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ»

وعن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اني والله ان شاء الله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها الا كفرت عن يميني واتيت الذي هو خير»

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্যমতে, কসম ভাঙ্গাই উত্তম যদি তার বিপরীত জিনিস উত্তম হয় যেমন কেউ কসম করল সে তার পিতা বা সন্তানের সাথে কথা বলবে না, কারণ সেখানে রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্কেচ্ছ। শারহেস্ সুন্নাতে এসেছে, কসম ভাঙ্গার পূর্বে কাফফারা হবে না পরে।

অধিকাংশ সাহাবী, শাফি‘ঈ, আহমাদ, মালিক-এর নিকট কসম ভাঙ্গার পূর্বে কাফফারা আদায় করবে তবে শাফি‘ঈ-এর মতে কসম ভাঙ্গার পূর্বে সওম দিয়ে কাফফারা আদায় করা বৈধ নয় আর আযাদ করা মিসকীনকে খাওয়ানো ও বস্ত্র দেয়ার মাধ্যমে কাফফারা আদায় বৈধ, কেননা যাকাত আদায় করা বৈধ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কিন্তু রমাযানের সওম সময় হওয়ার পূর্বে বৈধ নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১২-[৭] ’আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ’আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্! নেতৃত্ব প্রত্যাশা করো না। কেননা, আকাঙ্ক্ষার কারণে যদি তুমি নেতৃত্ব পাও, তাহলে তোমাকে তার ওপর ন্যস্ত করা হবে। আর যদি বিনা আকাঙ্ক্ষায় তোমাকে নেতৃত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেই নেতৃত্ব পালনকালে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যখন কোনো কসম কর, অতঃপর তার ব্যতিক্রম করা ভালো বলে মনে কর; তখন তোমার কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে এবং সেই উত্তম কাজটি করবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, প্রথমে সেই উত্তম কাজটি কর, অতঃপর তোমার কসমের কাফফারা আদায় কর। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لَا تَسْأَلِ الْإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُوتِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أُوتِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فَأْتِ الَّذِي هُوَ خير وَكفر عَن يَمِينك»

وعن عبد الرحمن بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا عبد الرحمن بن سمرة لا تسال الامارة فانك ان اوتيتها عن مسالة وكلت اليها وان اوتيتها عن غير مسالة اعنت عليها واذا حلفت على يمين فرايت غيرها خيرا منها فكفر عن يمينك وات الذي هو خير» . وفي رواية: «فات الذي هو خير وكفر عن يمينك»

ব্যাখ্যা: কোনো পদ বা ক্ষমতা যদি আপনা-আপনি এসে যায় সেকালে প্রবৃত্তির লালসা থাকে না। সুতরাং সেক্ষেত্রে আল্লাহর রহমাতের আশা করা যায় কিন্তু তা অর্জন করার চেষ্টা করলে কখনও নিঃস্বার্থ হতে পারে না। কাজেই তাতে আল্লাহর সাহায্য পাবে না।

(وَأْتِ الَّذِىْ هُوَ خَيْرٌ) হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেনঃ যে পাপ কাজের কসম খায় যেমন সালাত আদায় করবে না তার পিতার সাথে কথা বলবে না, অবশ্যই সে উমুককে হত্যা করবে তার উচিত হবে কসম ভাঙ্গানো। ইবনু হুমাম বলেনঃ তার ওপর ওয়াজিব হলো কসম ভেঙ্গে কাফফারা আদায় করবে। আর যার ওপর কসম খাওয়া হয় তা কয়েক প্রকার যেমন পাপ কাজ করার জন্য অথবা ফরয কাজ ছেড়ে দেয়া তখন ওয়াজিব হলো কসম ভাঙ্গা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

হাদীসের উপকারিতা বা শিক্ষা নেতৃত্ব চাওয়া ঘৃণিত কাজ, চাই তা ক্ষমতার নেতৃত্ব হোক বা বিচারক হিসেবে হোক। এটি বর্ণনা যে বা যারা নেতৃত্বের লোভ লালসা করে বা চেয়ে নেয় তাতে আল্লাহর সাহায্য থাকে না। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১৩-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কসম করে এবং পরে তার ব্যতিক্রম করা উত্তম বলে মনে করে, তখন তার কসমের কাফফারা আদায় করা উচিত এবং সেই (উত্তম) কাজটি করা। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وليفعل» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من حلف على يمين فراى خيرا منها فليكفر عن يمينه وليفعل» . رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১৪-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে কসম করে এবং সে কসমের কাফফারা আদায় করার পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা তার ওপর যা ফরয করেছেন- তার (কসমের) উপর দৃঢ় থাকে। তখন সে আল্লাহ তা’আলার নিকট অধিক গুনাহগার হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ الله نم أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والله لان يلج احدكم بيمينه في اهله اثم له عند الله نم ان يعطي كفارته التي افترض الله عليه»

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত এমন বিষয়ের কসম খায় আর কসম না ভাঙ্গলে পরিবারের ওপর ক্ষতির আশংকা রয়েছে তখন তার উচিত হবে কসম ভেঙ্গে কাফফারা আদায় করে ঐ কাজ করা যাতে তার পরিবার ক্ষতির আশংকা হতে মুক্ত হয়। আর যদি সে মনে করে আমি শপথ ভাঙ্গব না, বরং আমি অটুট থাকব শপথ ভাঙ্গার গুনাহের ভয়ে। এমনটি করলেই যে অন্যায়কারী হবে। শপথ না ভাঙ্গার উপর। অথচ শপথ না ভাঙ্গার উপর থেকে পরিবারকে কষ্ট দেয়া আরও বেশী গুনাহের কাজ। কাযী ‘ইয়ায আর ত্বীবী বলেনঃ হাদীসে সাব্যস্ত হয় শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করা ফরয। (ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৬২৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১৫-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার কসম তখন অর্থবহ হবে, যখন তোমার সঙ্গী-সাথী তোমাকে (কসমের) সত্যায়িত করবে। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ عَلَيْهِ صَاحبك» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يمينك على ما يصدقك عليه صاحبك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি প্রমাণ বহন করে, কসমের উপর কাযীর বিচারকের কসম তলব করা। যখন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে সত্য কিছু দাবী করে বিচারক তাকে কসম খাওয়াবে, আর সে কসম খেল ও গোপন করল। এক্ষেত্রে বিচারক যা চেয়েছেন বিচারকের চাহিদানুযায়ী কসম সাব্যস্ত হবে আর কসমকারীর তাওরিয়্যাহ্ (গোপনীয় উদ্দেশ্য) সাব্যস্ত হবে না, অর্থাৎ সে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে। এর উপর সবই ঐকমত্য আর হাদীসটি তাই প্রমাণ করে।

তবে বিচারকের শপথের চাহিদার নির্দেশ ব্যতিরেকে যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে এবং শপথের মূল বিষয় গোপন করে তবে তার গোপনকৃত ধারণা কাজে আসবে এবং সে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে না। চাই কারও কর্তৃক প্রথমেই শপথের প্রতি আদিষ্ট হোক বা বিচারক ব্যতিরেকে কেউ অথবা তার স্থলাভিষিক্ত ভিন্ন অন্য কেউ শপথের আদেশ দিলে উভয়ই একই বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। বিচারক ব্যতিরেকে অন্য কারও দ্বারা শপথের আদিষ্ট হলে শপথ কাঙিক্ষত ব্যক্তি শপথ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। মোটকথা সর্বক্ষেত্রে শপথকারীর শপথ তার নিয়্যাতানুযায়ী প্রযোজ্য হবে। তবে বিচারক কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত যদি দাবীর ক্ষেত্রে শপথ কামনা করে তবে শপথ কামনাকারীর নিয়্যাতই প্রযোজ্য হবে, এটাই হাদীসের উদ্দেশ্য। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৫৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১৬-[১১] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কসমকারীর গ্রহণযোগ্যতা কসম প্রদানকারীর নিয়্যাতের উপর নির্ভর করে। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْيَمِينُ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اليمين على نية المستحلف» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: শপথে শপথকারীর নিয়্যাত বা উদ্দেশের ভিত্তিতেই শপথ প্রযোজ্য হবে তবে শপথকারী যদি রূপক বা বিকৃত অর্থের শপথ তলবকারীর উদ্দেশের ভিন্ন শপথ করে থাকে তখন শপথ ভঙ্গ হিসেবে কার্যকর হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪১৭-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অত্র আয়াত ’’তোমাদেরকে নিরর্থক কসমের জন্য আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দায়ী করবেন না’’- (সূরা আল বাকারা ২ : ২২৫) ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যেلَا وَاللهِ (না, আল্লাহর কসম) এবংبَلٰى وَاللهِ (হ্যাঁ, আল্লাহর কসম) বলে। (বুখারী)[1]

আর শারহুস্ সুন্নাহ্-এর মধ্যে এ বর্ণনা মাসাবীহ গ্রন্থকারের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। শারহুস্ সুন্নাহ্’তে আরও বলা হয়েছে যে, কোনো কোনো রাবী এ হাদীস ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ’ হিসেবে (তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীরূপে) বর্ণনা করেছেন।

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: (لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ)
فِي قَوْلِ الرَّجُلِ: لَا وَاللَّهِ وَبَلَى وَاللَّهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي شَرْحِ السُّنَّةِ لَفْظُ الْمَصَابِيحِ وَقَالَ: رَفَعَهُ بَعْضُهُمْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ

عن عاىشة رضي الله عنها قالت: انزلت هذه الاية: (لا يواخذكم الله باللغو في ايمانكم) في قول الرجل: لا والله وبلى والله. رواه البخاري وفي شرح السنة لفظ المصابيح وقال: رفعه بعضهم عن عاىشة رضي الله عنه

ব্যাখ্যা: لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللّٰهُ بِاللَّغْوِ فِى ايْمَانِكُمْ ‘‘তোমাদেরকে আল্লাহর শক্তি দিবেন না তোমাদের অনর্থক কসমের জন্য।’’ اللَّغْوِ (লাগ্ব) দ্বারা এর অর্থ হলো পরিত্যক্ত কথাবার্তায় যা ধর্তব্য না।

আর অনর্থক কসম বলতে যা মজবুত হয় না বা সংঘঠিত হয় না। যেমন কুরআনের দলীল وَلٰكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ ‘‘তবে আল্লাহ পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্য যা তোমরা মজবুত করে থাক।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৮৯)

আয়াটি অবতীর্ণ হয়েছে ব্যক্তির কথার প্রেক্ষিতে আর তা হলো لَا وَاللّٰهِ না-বোধক শপথে। وَبَلٰى وَاللّٰهِ হ্যাঁ-বোধক শপথে। শপথের উদ্দেশ্য ছাড়াই বরং শুধুমাত্র হুকুমটি দৃঢ়তার উদ্দেশ্য যা মানুষের মুখে সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ইবনু হুমাম হিদায়ার ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ اللَّغْوِ (লাগ্ব) কসম হলো ব্যক্তি কোনো বিষয়ের কসম খায় এবং যেমনটি করেছে তার সে ধারণা করে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এর বিপরীত। যেমন বলে, আল্লাহর কসম! আমি বাড়ীতে প্রবেশ করেছি, আল্লাহর কসম! যায়দ-এর সাথে কথা বলেছি বাস্তবে যে তা করেনি এমন সংজ্ঞা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।

অতীতের অথবা ভবিষ্যতের কোনো কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাধারণত মানুষ নিজের কথাটিকে সুদৃঢ় করার উদ্দেশে যে কসম করে থাকে অথচ তা দ্বারা তার কসম করা উদ্দেশ্য এমন কসমকে লাগ্ব বলে এটা শাফি‘ঈ-এর মতে। আর শা‘বী ও মাসরূক বলেছেন, লাগ্ব কসম করা নিজের জন্য হারাম যে সব বিষয়ে আল্লাহ হালাল করেছেন কথা কাজে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪১৮-[১৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার নাম ব্যতীত তোমরা তোমাদের বাপ-দাদা, মা এবং প্রতীমার নামে শপথ করো না। যদি তোমরা তাতে সত্যবাদী হয়ে থাক। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ وَلَا بِأُمَّهَاتِكُمْ وَلَا بِالْأَنْدَادِ وَلَا تَحْلِفُوا بِاللَّهِ إِلَّا وَأَنْتُمْ صَادِقُونَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تحلفوا باباىكم ولا بامهاتكم ولا بالانداد ولا تحلفوا بالله الا وانتم صادقون» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (وَلَا بِالْأَنْدَادِ) মূর্তির কসম খেও না। ফাতহুল বারীতে এসেছে, এ কসম খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা কি হারাম- এ ব্যাপারে দু’টি মত মালিকীদের নিকট অনুরূপ, ইবনু দাক্বীকও বলেন। প্রসিদ্ধ হলো, এটা ঘৃণিত আর হাম্বালীদের নিকট মতানৈক্য রয়েছে তবে প্রসিদ্ধ হলো হারাম যা জাহিরীরাও হারাম হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইবনুল বার বলেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করা বৈধ না- এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৪৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪১৯-[১৪] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে শির্ক (অংশী স্থাপন) করল। (তিরমিযী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من حلف بغير الله فقد اشرك» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: অনেক আহলে ‘ইলমের নিকট হাদীসের ব্যাখ্যাটি এরূপ সে কাফির হলো বা শির্ক করল। বক্তব্যটি কঠিনতার জন্য বলা হয়েছে। দলীল হিসেবে ইবনু ‘উমার-এর হাদীস:

أن النبى ﷺ سمع عمر يَقُولُ وَأَبِي وَأَبِي فَقَالَ أَلَا إِنَّ اللّٰهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার -কে বলতে শুনলেন আমার পিতার কসম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খবরদার নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার কসম খেতে নিষেধ করেছেন। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন: (من قال في حلفه باللات وَالْعُزّٰى فَلْيَقُلْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) যে ব্যক্তি লাত্ ‘উয্যার কসম খায় সে যেন لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ বলেন। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৫৩৫)

যে ব্যক্তি সম্মানপ্রদর্শন ও তা‘যীমের নিয়্যাতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর কসম খায় সে সুস্পষ্ট মুশরিক। ইবনু হুমাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতিরেকে যেমন নাবী এবং কা‘বাহ্ ঘরের কসম খায় সে কসমকারী নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি কসমকারী হবে সে যেন আল্লাহর কসম খায় অথবা চুপ থাকে। (বুখারী, মুসলিম)

হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেনঃ যদি কেউ কুরআনের কসম খায় আর সে জানে না এটা আল্লাহর সিফাত বা গুণ, তাহলে তার কসম সাব্যস্ত হবে না আর যদি জানে তাহলে কসম সাব্যস্ত হবে। আর কুরআনের শপথ করা তিন ইমামের নিকট বৈধ। জীবনের কসম বা শরীরে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খাওয়াকে কল্যাণকর বিশ্বাস করে তাহলে কাফির হবে। ইবনু মাস্‘ঊদ বলেনঃ (لَأَنْ أَحْلِفَ بِاللّٰهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِ اللّٰهِ صَادِقًا) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সত্য কসম খাওয়ার চেয়ে আল্লাহর মিথ্যা কসম খাওয়া আমি বেশী পছন্দ করি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২০-[১৫] বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ’আমানত’ শব্দের দ্বারা কসম করল, সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। (আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ منا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن بريدة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من حلف بالامانة فليس منا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (فَلَيْسَ مِنَّا) সে আমাদের দলভুক্ত নয় তথা যারা আমাদের ত্বরীকাকে অনুসরণ করে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কাযী বলেনঃ যারা আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বরং সে আমাদের ব্যতিরেকে অন্যদের সাদৃশ্য রাখে সে আসলে কিতাবের আদর্শে আদর্শিত। সম্ভবত এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাস্তির ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
নিহায়াহতে বলেছেন, আমানত-এর নামে কসম খাওয়া ঘৃণিত। কেননা নির্দেশ হলো, ব্যক্তি কসম খাবে আল্লাহর নামে এবং তার গুণাবলী দ্বারা আর আমানত হলো আদেশসমূহের মধ্যে এক আদেশ। সুতরাং এটা দ্বারা কসম খাওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে আল্লাহর নামসমূহ ও তার মাঝে সমতা হওয়ার (অথচ দু’টি আলাদা বিষয়)। যেমন নিষেধ করা হয়েছে বাপ-দাদাদের কসম খাওয়া আর যখন কসম খাওয়া ব্যক্তি বলবে, আল্লাহর আমানাতের কসম। আবূ হানীফাহ্-এর নিকট কসম বলে ধর্তব্য হবে আর ইমাম শাফি‘ঈ-এর নিকট গণ্য হবে না।

আর ‘আমানত’ শব্দটি ব্যবহার হয় ‘ইবাদাত আনুগত্য গচ্ছিত সম্পদ টাকা-পয়সা ইত্যাদির ক্ষেত্রে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৫১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২১-[১৬] উক্ত রাবী [বুরায়দাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলল ’আমি ইসলাম হতে বিচ্ছিন্ন’ যদিও সে মিথ্যাবাদী হয়, তাহলেও সে যা বলছে তা-ই। আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবুও সে নিশ্চিন্ত-নিরাপদে কক্ষনো ইসলামে ফিরে আসতে পারবে না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ: إِنِّي بَرِيءٌ مِنَ الْإِسْلَامِ فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَإِنْ كَانَ صَادِقًا فَلَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْإِسْلَامِ سَالِمًا . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: اني بريء من الاسلام فان كان كاذبا فهو كما قال وان كان صادقا فلن يرجع الى الاسلام سالما . رواه ابو داود والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (فَإِنْ كَانَ كَاذِبًا) সে যদি কসমে মিথ্যাবাদী হয়। (فَهُوَ كَمَا قَالَ) যেরূপ বলেছে ‘তা-ই হবে’ বাক্যটি অধিকভাবে ধমকানো উদ্দেশ্য। ইবনু ‘আব্বাস, আবূ হুরায়রাহ্, ‘আত্বা, কাতাদাহ ও বিভিন্ন অঞ্চলের জুমহূর ফুকাহার মতে, এ ধরনের কসমে যদি অন্তর হতে বলে, তাহলে কাফির হবে।

আর আওযা‘ঈ, সাওরী, আবূ হানীফাহ্, আহমাদ ও ইসহক-এর মতে তা কসম এবং কাফফারা অবশ্যই লাগবে। ইবনু মুনযির বলেনঃ প্রথম অভিমতই অধিক সহীহ। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী : (مَنْ حَلَف بِاَللَّاتِي وَالْعُزّٰى فَلْيَقُلْ لَا إِلٰه إِلَّا اللّٰه) যে ব্যক্তি লাত ও ‘উয্যার কসম খায় সে যেন لَا إِلٰه إِلَّا اللّٰه বলে। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফ্ফারার কথা বলেননি। অন্য কেউ বদ্ধি করে বলেছেন এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (مَنْ حَلَف بِاَللَّاتِي وَالْعُزّٰى فَلْيَقُلْ لَا إِلٰه إِلَّا اللّٰه) যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের কসম করে সে যেরূপ বলেছেন তাই হবে। মূলত এর দ্বারা উদ্দেশ্য কঠোরতা আরোপ করা কসমের ব্যাপারে যাতে অন্য কেউ এ ধরনের পদক্ষেপ না নেয়। খত্ত্বাবী বলেনঃ হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, যে ব্যক্তি ইসলাম হতে বিচ্ছিন্ন কসম খায় সে গুনাহগার হবে আর এর জন্য তার ওপর কাফফারা লাগবে না। কেননা শাস্তি তার দীনদারীতে করা হয়েছে মালের উপর কোনো কিছু আরোপ করা হয়নি। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৫৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২২-[১৭] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কসমের উপর অটল থাকতে চাইতেন, তখন বলতেন, ’লা- ওয়াল্লাযী নাফসু আবিল ক-সিমি বিয়াদিহী’’ অর্থাৎ- এরূপ নয়! সে পবিত্র সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আবুল কাসিম (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাণ। (আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اجْتَهَدَ فِي الْيَمِينِ قَالَ: «لَا وَالَّذِي نفس أَبُو الْقَاسِم بِيَدِهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي سعيد الخدري قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اجتهد في اليمين قال: «لا والذي نفس ابو القاسم بيده» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (إِذَا اجْتَهَدَ فِى الْيَمِينِ) কসমে যখন আরও অধিক দৃঢ় করতে চাইতেন।

(وَالَّذِىْ نَفْسُ أَبُو الْقَاسِمِ) তথা তার রূহ ও সত্তা। (بِيَدِه) তার হস্তক্ষেপ, যথেচ্ছভাব ক্ষমতা ও তার ইচ্ছার অধীনে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৬১)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২৩-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শপথ করলে বলতেন, ’লা- ওয়া আসতাগফিরুল্লা-হ’ অর্থাৎ- এটা নয়, এবং আমি আল্লাহ তা’আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: كَانَتْ يَمِينُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَلَفَ: «لَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة قال: كانت يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا حلف: «لا واستغفر الله» . رواه ابو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যা: (وَأَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ) ‘‘আর আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি’’ যদি বিষয়টি এটার বিপরীত হয় ‘‘আস্থাগফিরুল্লাহ’’ বাক্যটি শপথ বাক্য নয়। অতএব তার দ্বারা কসম হয় না শুধুমাত্র কসমের সাথে সাদৃশ্যের কারণে এ ধরনের উক্তিকে কসম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৬২)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২৪-[১৯] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কসম করে এবং ইনশা-আল্লা-হ বলে, তখন সে ঐ কসমের বিপরীত করলে গুনাহগার হবে না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1] তবে ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, জুমহূর ’উলামাগণের একটি দল হাদীসটিকে ইবনু ’উমার-এর ওপর মাওকূফ করেছেন (অর্থাৎ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেনি)।

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

مَرْفُوع وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله ليه وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَلَا حِنْثَ عَلَيْهِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَذَكَرَ التِّرْمِذِيُّ جَمَاعَةً وَقَفُوهُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ

مرفوع وعن ابن عمر ان رسول الله صلى الله ليه وسلم قال: من حلف على يمين فقال: ان شاء الله فلا حنث عليه . رواه الترمذي وابو داود والنساىي وابن ماجه والدارمي وذكر الترمذي جماعة وقفوه على ابن عمر

ব্যাখ্যা: (عَلٰى يَمِينٍ) যার ওপর কসম খাওয়া হয়েছে তা করুক আর না করুক কসমে ইনশা-আল্লা-হ সংযুক্ত হলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, আল্লাহর ইচ্ছা সংযোজনে কসম সংঘটিত হওয়াতে বাধা দেয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩২৫৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪২৫-[২০] আবুল আহ্ওয়াস ’আওফ ইবনু মালিক তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের নিকট প্রয়োজনবশত কিছু (সাহায্য) চাই, তখন সে আমাকে কিছুই দেয় না এবং এমনকি সদ্ব্যবহারও করে না- এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ করেন? অতঃপর যখন সে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে আমার কাছে এসে কিছু চায়, অথচ আমি এ কসম করেছিলাম যে, তাকে কিছুই দেব না এবং তার সাথে সদ্ব্যবহারও করব না। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নির্দেশ করলেন, আমি যেন সে কাজটিই করি যা উত্তম এবং আমার কসমের কাফফারা আদায় করে দেই। (নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[1]

অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি [ইমাম মালিক (রহঃ)] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার চাচাতো ভাই আমার নিকট কিছু চাইলে তখন আমি এই বলে কসম করি যে, আমি তাকে (কিছুই) দেব না এবং তার সাথে সদ্ব্যবহারও করব না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দাও।

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَن أَبِي الْأَحْوَصِ
عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ ابْنَ عَم لي آتيه فَلَا يُعْطِينِي وَلَا يَصِلُنِي ثُمَّ يَحْتَاجُ إِلَيَّ فَيَأْتِينِي فَيَسْأَلُنِي وَقَدْ حَلَفْتُ أَنْ لَا أُعْطِيَهُ وَلَا أَصِلَهُ فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَأُكَفِّرَ عَنْ يَمِينِي. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ يَأْتِينِي ابْنُ عَمِّي فَأَحْلِفُ أَنْ لَا أُعْطِيَهُ وَلَا أَصِلَهُ قَالَ: «كَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ»

عن ابي الاحوص عوف بن مالك عن ابيه قال: قلت: يا رسول الله ارايت ابن عم لي اتيه فلا يعطيني ولا يصلني ثم يحتاج الي فياتيني فيسالني وقد حلفت ان لا اعطيه ولا اصله فامرني ان اتي الذي هو خير واكفر عن يميني. رواه النساىي وابن ماجه وفي رواية قال: قلت: يا رسول الله ياتيني ابن عمي فاحلف ان لا اعطيه ولا اصله قال: «كفر عن يمينك»

ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী বলেনঃ কোনো কল্যাণ নেই আধিক্যের দৃষ্টিতে বরং অর্থটি প্রযোজ্য আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ও কল্যাণসূচক কার্য হতে বিরত থাকা এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাদেরকে দেয়া।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহ প্রদান করেছেন তার বাণী: صِلْ مَنْ قَطَعَكَ، وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ، وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তা সাথে সুসম্পর্ক রাখ, যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দাও, যে তোমার ওপর জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুল আহওয়াস (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪২৬-[১] আবূ হুরায়রাহ্ ও ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মানৎ করো না। কেননা মানৎ তাকদীরের কোনই পরিবর্তন করতে পারে না। অবশ্য এর দ্বারা কৃপণের ব্যয়-নির্বাহ হয় মাত্র। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَنْذُرُوا فَإِنَّ النَّذْرَ لَا يُغْنِي مِنَ الْقَدَرِ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ من الْبَخِيل»

عن ابي هريرة وابن عمر رضي الله عنهم قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تنذروا فان النذر لا يغني من القدر شيىا وانما يستخرج به من البخيل»

ব্যাখ্যা: (إِنَّه لَا يَرُدُّ مِنَ الْقَدَرِ شَيْئًا) মানৎ তাকদীরের কিছু্ পরিবর্তন করতে পারে না। মাযিরী বলেনঃ বাক্যটি নেতিবাচক বলার উদ্দেশ্য। সম্ভবত মানৎ করলে ব্যক্তির জন্য পূরণ অপরিহার্য হয়ে উঠে। ফলে উৎসাহ ব্যতিরেকে তার জন্য তা বাস্তবায়ন করা খুবই কষ্টকর হয়। এও সম্ভাবনা রয়েছে, নেকির উদ্দেশ্যই মানৎকে নিজের জন্য অপরিহার্য করেছে কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়াই, ফলে প্রতিদান কম হয়। আর ‘ইবাদাত কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্য হয়।

সম্ভবনা রয়েছে মানৎ না করার অনেক অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে মানতের দ্বারা তাকদীর পরিবর্তন হয় এবং তাকদীর অর্জনে বাধা দান করে- অজ্ঞদের এই ভ্রান্ত ‘আক্বীদার আশঙ্কায় এটার কারণে মূলত নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসের ভাষ্য এটার সমর্থন করে। [আল্লাহই বেশী ভালো জানেন] (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৪০)

 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪২৭-[২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যের মানৎ করে, সে যেন অবশ্যই তা আদায় করে। আর যে ব্যক্তি তাঁর নাফরমানীর মানৎ করে, সে যেন অবশ্যই তা না করে। (বুখারী)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من نذر ان يطيع الله فليطعه ومن نذر ان يعصيه فلا يعصه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (قَالَ : مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللّٰهَ فَلْيُطِعْهُ) যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানৎ করে সে যেন অবশ্যই তা করে, মানৎ ব্যতিরেকেই আল্লাহর আনুগত্য ওয়াজিব। সুতরাং মানৎকে যখন দৃঢ় করে নিবে সঠিকভাবে তা ওয়াজিব হবে না।

শারহুস্ সুন্নাতে রয়েছে, যে হাদীস দলীল হিসেবে সাব্যস্ত হয়, যে আনুগত্য করার মানৎ করে তা বাস্তবায়ন করা আবশ্যিক হয়ে উঠে যদিও কোনো কিছুর সংশ্লিষ্ট না হয় আর যে পাপের মানৎ করে তা পুরা করা বৈধ না আর কাফফারা আদায় করা আবশ্যিক না যদি তাতে কাফফারা থাকে। তবে আমি ভাষ্যকার বলি, কাফফারা সাব্যস্ত হওয়া না হওয়াতে হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় না, হুকুম ‘আম্ভাবে বর্ণিত হয়েছে। মুসলিম-এর হাদীসে كَفَّارَةُ النَّذْرِ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ মানতের কাফফারা হলো কসমের কাফ্ফারার মতো।

আরও সুস্পষ্ট হাদীস যা আবূ দাঊদ, তিরমিযী নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। «لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَكَفَّارَتُه كَفَّارَةُ يَمِينٍ» পাপ কাজে কোনো মানৎ নেই এবং তার কাফ্ফারা কসমের কাফ্ফারার মতো, এর উপর ভিত্তি করে কেউ যদি মানৎ করে ঈদের দিনে সওম পালন করবে তার ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না।

কেউ যদি তার সন্তানকে কুরবানী করার মানৎ করে তা বাতিল বলে গণ্য হবে- এ মতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশাল সংখ্যক সাহাবী গেছেন আর এটা মালিক ও শাফি‘ঈ-এরও বক্তব্য। আর যে কেউ মানৎ করে ‘আম্ভাবে সে বলে আমার ওপর মানৎ বা আমি মানৎ করলাম আর কোনো কিছু উল্লেখ করল না তার ওপর কসমের কাফফারা হবে। যেমন ‘উমার বিন ‘আমির-এর হাদীস,

 قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ - ﷺ- : كَفَّارَةُ النَّذْرِ إِذَا لَمْ يُسَمِّ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ

মানতের কাফফারা যখন তা উল্লেখ করা হয় না তা কসমের কাফফারা হবে।

অনুরূপ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, مَنْ نَذَرَ وَلَمْ يُسَمِّه، فَكَفَّارَتُه كَفَّارَةُ يَمِينٍ، وَمَنْ نَذَرَ شَيْئًا لَا يُطِيقُه فَكَفَّارَتُه كَفَّارَةُ يَمِينٍ যে মানৎ করে এবং তা উল্লেখ করল না তার কাফফারা হলো কসমের কাফ্ফারার মতো আর সে কোনো মানৎ করল আর তা বাস্তবায়নে সক্ষম না, তার কাফফারা কসমের কাফ্ফারার মতো। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪২৮-[৩] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহর কাজের মানৎ পূরণ করতে নেই। আর যে জিনিসের মালিক বান্দা নয়, এরূপ জিনিসের মানৎ করলে তাও পূর্ণ করতে হয় না। (মুসলিম)[1]

অপর বর্ণনায় আছে, আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন প্রত্যেক কাজে মানৎ বাস্তবায়িত হয় না।

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةٍ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ الْعَبْدُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ: «لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيّة الله»

وعن عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا وفاء لنذر في معصية ولا فيما لا يملك العبد» . رواه مسلم وفي رواية: «لا نذر في معصية الله»

ব্যাখ্যা: গুনাহ হয় এমন কাজের মানৎ পুরা করতে নেই, কেননা তা মানতেই সংঘটিত হয় না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪২৯-[৪] ’উকবা ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানতের কাফফারা শপথের কাফফারার ন্যায়। (মুসলিম)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَن عقبَة بن عَامر عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَفَّارَةُ النَّذْرِ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن عقبة بن عامر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كفارة النذر كفارة اليمين» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (كَفَّارَةُ النَّذْرِ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ) ‘‘মানতের কাফফারা হলো শপথের কাফ্ফারার মতো’’ বাক্যটির উদ্দেশে ‘উলামারা মতানৈক্য করেছেন। জুমহূরের ভাষ্য হলো, এটা জিদের মানতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন কোনো মানুষ মায়েদের সাথে কথা না বলার ইচ্ছা করেছে। উদাহরণ স্বরূপ আমি যদি যায়দ-এর সাথে কথা বলি, তাহলে আমার ওপর অমুক বিষয় বর্তাবে। অতঃপর সে কথা বলল তাহলে তার ইচ্ছাধীন রয়েছে ইচ্ছা করলে কসমের কাফফারা আদায় করবে অথবা সে নিজের যা ধার্য করেছে তা আদায় করবে। আর এটাই আমাদের নিকট সহীহ মাযহাব। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৪৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩০-[৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা প্রদান করছিলেন। এমন সময় দেখলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা বলল, তিনি আবূ ইসরাঈল। সে মানৎ করেছে যে, দাঁড়িয়ে থাকবে বসবে না, ছায়ায় থাকবে না এবং কথাবার্তা বলবে না এবং সিয়ামরত থাকবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে বলে দাও, সে যেন অবশ্যই কথা বলে এবং ছায়ায় থাকে ও বসে, আর সিয়াম পালন করে। (বুখারী)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: بَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِذا هُوَ بِرَجُل قَائِم فَسَأَلَهُ عَنْهُ فَقَالُوا: أَبُو إِسْرَائِيلَ نَذَرَ أَنْ يَقُومَ وَلَا يَقْعُدَ وَلَا يَسْتَظِلَّ وَلَا يَتَكَلَّمَ وَيَصُومَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَقْعُدْ وَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: بينا النبي صلى الله عليه وسلم يخطب اذا هو برجل قاىم فساله عنه فقالوا: ابو اسراىيل نذر ان يقوم ولا يقعد ولا يستظل ولا يتكلم ويصوم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «مروه فليتكلم وليستظل وليقعد وليتم صومه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্যমতে, বৈধ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা আল্লাহর আনুগত্য নয়। আবূ দাঊদ-এর হাদীস ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, (صمت يَوْم إِلَى اللَّيْلِ) দিন হতে রাত্রি পর্যন্ত নিরবতা থাকা বৈধ না। আর আবূ বাকর সিদ্দীক নির্দিষ্ট একজন মহিলাকে বলেছিলেন, নিশ্চুপ থাকা জাহিলী প্রথা। হাদীসে আরও সাব্যস্ত হয়, মানুষ যা কিছু দ্বারা কষ্ট পায় যেমন খালি পায়ে হাঁটা, রৌদ্রে বসে থাকা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব এটা দ্বারা মানৎ বাস্তবায়ন হবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ ইসরাঈল-কে অন্যান্য কাজগুলো ছাড়া সওম পুরা করতে বলেছেন। কেননা তাতে তার কষ্ট হবে না, আর আদেশ করেছেন বসতে, কথা বলতে এবং ছায়া গ্রহণ করতে।

কুরতুবী বলেনঃ জুমহূরদের জন্য এ হাদীসটি সুস্পষ্ট দলীল পাপের কাজে এবং এমন কাজে অনুগত্য নেই তাতে মানৎ করতে কাফফারা ওয়াজিব করে না। ইমাম মালিক বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাফ্ফারার আদেশের বিষয়টি পাইনি। (ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৭০৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩১-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, তার দুই পুত্রের কাঁধে ভর দিয়ে চলছে। তখন জিজ্ঞেস করলেন, লোকটির কি হয়েছে? লোকেরা বলল, সে মানৎ করেছে যে, পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত যাবে। এতদশ্রবণে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এই লোককে কষ্ট দেয়া আল্লাহ তা’আলার নিষ্প্রয়োজন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সওয়ারীতে আরোহণের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى شَيْخًا يُهَادَى بَيْنَ ابْنَيْهِ فَقَالَ: «مَا بَالُ هَذَا؟» قَالُوا: نَذَرَ أَنْ يَمْشِيَ إِلَى بَيت الله قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى عَنْ تَعْذِيبِ هَذَا نَفسه لَغَنِيّ» . وَأمره أَن يركب

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم راى شيخا يهادى بين ابنيه فقال: «ما بال هذا؟» قالوا: نذر ان يمشي الى بيت الله قال: «ان الله تعالى عن تعذيب هذا نفسه لغني» . وامره ان يركب

ব্যাখ্যা: (أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ رَأَى شَيْخًا يُهَادَى بَيْنَ ابْنَيْهِ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, এক বৃদ্ধ তার দুই পুত্রের কাঁধের উপর ভর করে চলছে। ত্বীবী বলেন, এই বৃদ্ধ লোকটি হলো আবূ ইসরাঈল। (ফাতহুল বারী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৮৬৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩২-[৭] মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ বৃদ্ধকে বললেন, হে বৃদ্ধ! তুমি সওয়ারীতে আরোহণ কর। কেননা আল্লাহ তা’আলা তোমার ও তোমার মানতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «ارْكَبْ أَيُّهَا الشَّيْخُ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكَ وَعَن نذرك»

وفي رواية لمسلم عن ابي هريرة قال: «اركب ايها الشيخ فان الله غني عنك وعن نذرك»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৩-[৮] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফতোয়া জানতে চাইলেন যে, তার মা একটি মানৎ করেছিল, কিন্তু তা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফতোয়া দিলেন, তাঁর পক্ষ থেকে তুমি তা আদায় করে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ سَعْدَ بن عبَادَة رَضِي الله عَنْهُم اسْتَفْتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ فَأَفْتَاهُ أَنْ يَقْضِيَهُ عَنْهَا

وعن ابن عباس: ان سعد بن عبادة رضي الله عنهم استفتى النبي صلى الله عليه وسلم في نذر كان على امه فتوفيت قبل ان تقضيه فافتاه ان يقضيه عنها

ব্যাখ্যা: হাদীসে দলীল সাব্যস্ত হয় যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে তার অধিকার আদায় করা ওয়াজিব। সুতরাং মালের অধিকার তার পক্ষ হতে আদায় করা সর্বসম্মত ইজমা। শারীরিক ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে মতানৈক্য রয়েছে। অন্যত্র আমরা এই কিতাবে আলোচনা করেছি।

শাফি‘ঈ মাযহাব ও অন্যান্যদের নিকট মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে মালের অধিকার আদায় করা ওয়াজিব যেমন যাকাত, কাফফারা, মানৎ ইত্যাদি চাই তা ওয়াসিয়্যাত করুক বা নাই করুক। মানুষের ঋণের মতো। মালিক, আবূ হানীফাহ্ ও তাদের সাথীদের মতে যদি ওয়াসিয়্যাত করে না যায় তাহলে কোনো কিছু আদায় করা ওয়াজিব না।
কাযী ‘ইয়ায বলেনঃ উম্মু সা‘দ-এর মানতের বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কারও মতে ‘আম্ মানৎ ছিল, কারও মতে সওম, আবার কেউ বলেন গোলাম আযাদ, আবার কেউ বলেন সাদাকার ব্যাপারে ছিল। আর প্রত্যেকেই উম্মু সা‘দ-এর হাদীসের ঘটনাকেই দলীল হিসেবে পেশ করেছে, তবে অধিকতর শক্তিশালী মত হলো তার মানৎ ছিল মালের ব্যাপারে যা দারাকুত্বনীর বর্ণনাকে শক্তিশালী করে।

(حَدِيثِ مَالِكٍ فَقَالَ لَه يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ اسق عنها الماء) মালিক-এর হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তার পক্ষ হতে পানির ব্যবস্থা কর তথা করুণার ব্যবস্থা কর। সওমের হাদীসে ব্যাপারে সানাদ ও মাতানের দিক হতে মতানৈক্য রয়েছে। আর অন্য গোলাম আযাদ করব এটা মালের সাথে সামঞ্জস্য রাখে, কেননা গোলাম আযাদের বিষয়টি অর্থের সাথে জড়িত। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৪-[৯] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয় আমার তাওবার মধ্যে এটাও রয়েছে যে, আমি সম্পূর্ণরূপে আমার ধন-সম্পদ হতে পৃথক হয়ে যাব, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য সাদাকা হয়ে যাবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্পদের কিয়দংশ তোমার নিজের জন্য রেখে দাও। সেটাই হবে তোমার জন্য উত্তম। আমি (কা’ব) বললাম, তাহলে আমি আমার খায়বারের অংশটি নিজের জন্য রেখে দেই। উল্লেখিত বর্ণনাটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابٌ فِى النُّذُوْرِ

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمْسِكْ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ» . قُلْتُ: فَإِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِي الَّذِي بِخَيْبَر. وَهَذَا طرف من حَدِيث مطول

وعن كعب بن مالك قال: قلت: يا رسول الله ان من توبتي ان انخلع من مالي صدقة الى الله والى رسوله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «امسك بعض مالك فهو خير لك» . قلت: فاني امسك سهمي الذي بخيبر. وهذا طرف من حديث مطول

ব্যাখ্যা: কা‘ব বিন মালিক তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবিদের মধ্যে অন্যতম কবি ছিলেন, যিনি তিনজনের একজন ছিলেন যারা তাবূকের যুদ্ধে খাওয়া হতে নিজেদেরকে বিরত রেখেছিলেন আর তিনজন হলেন কা‘ব বিন মালিক, হিলাল বিন উমাইয়্যাহ্, মুররাহ্ বিন রাবী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ) তুমি কিছু অংশ নিজের ওপর রেখে দাও, দৃশ্যত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ ছিল কিছু সম্পদ বের করা ও কিছু সম্পদ রেখে দেয়া। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে আর হাদীস সুস্পষ্ট প্রমাণ করে, সমস্ত সম্পদ সাদাকা করা ঘৃণিত। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ‘যাকাত অধ্যায়ে’ আলোচনা হয়ে গেছে। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাঃ ২৭৫৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৫-[১০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ সংক্রান্ত কাজে কোনো মানৎ নেই। আর তার কাফফারা হলো শপথের কাফফারার ন্যায়। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী)[1]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ الْيَمِينِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيّ

عن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا نذر في معصية وكفارته كفارة اليمين» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী (রহঃ) ‘‘মা‘আলিম’’ গ্রন্থে বলেন, যদি হাদীস সহীহ হয় তাহলে কাফফারা অবশ্যই ওয়াজিব হবে। তবে গুনাহের কাজের মানৎ করলে তা আদায় করতে হবে না। যদিও হাদীসের গবেষকরা হাদীসটি মাকতূ‘ হিসেবে মন্তব্য করেছেন তথা য‘ঈফ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৪৩৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৬-[১১] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো অমূলক জিনিসের মানৎ করল, তার কাফফারা কসমের কাফফারার ন্যায়। আর যে কোনো গুনাহের কাজের মানৎ করল, তার কাফফারাও কসমের কাফফারার ন্যায়। আর যে এমন কাজের মানৎ করল যা আদায় করার সে সামর্থ্য রাখে না, তার কাফফারাও কসমের কাফ্ফারার ন্যায়। আর যে ব্যক্তি এমন কাজের মানৎ করল যা আদায় করার সামর্থ্য রাখে, তাহলে সে যেন অবশ্যই তা আদায় করে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; কোনো কোনো রাবী এ হাদীসটিকে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর ওপর মাওকূফ করেছেন)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لم يسمه فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ. وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَا يُطِيقُهُ فَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ. وَمَنْ نَذَرَ نَذْرًا أَطَاقَهُ فَلْيَفِ بِهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَه وَوَقفه بَعضهم على ابْن عَبَّاس

وعن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من نذر نذرا لم يسمه فكفارته كفارة يمين. ومن نذر نذرا لا يطيقه فكفارته كفارة يمين. ومن نذر نذرا اطاقه فليف به» . رواه ابو داود وابن ماجه ووقفه بعضهم على ابن عباس

ব্যাখ্যা: (مَنْ نَذَرَ نَذْرًا لَمْ يُسَمِّه) তথা মানৎকারী বলল, আমি মানৎ করলাম এবং কোনো মানৎ নির্দিষ্ট করল না তার সওম না অন্য কিছু। হাদীসে প্রমাণিত হয়, যে মানৎ উল্লেখ হয় না তার কাফফারা কসমের কাফফারার ন্যায়। ইমাম নববী বলেন, হাদীসের মর্মার্থের ব্যাপারে ‘উলামাগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। জুমহূরদের মতে এটা প্রযোজ্য জিদ বা একগুয়েমীর ক্ষেত্রে মানৎকারী ইচ্ছা করলে মানৎ পুরা করতে পারে, আবার কাফফারাও দিতে পারে।

ইমাম মালিক এবং অনেকে মানৎ দ্বারা ‘আম্ মানৎ পোষণ করেছেন। আর ফুকাহায়া সকল প্রকার মানৎকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তারা বলেন, সকল প্রকার মানতে মানৎকারীর স্বাধীনতা রয়েছে ইচ্ছা করলে পুরা করবে অথবা কসমের কাফফারা দিবে।

ইমাম শাওকানী বলেনঃ দৃশ্যত হাদীসের ভাষ্য এমন মানতের ক্ষেত্রে উল্লেখ হয়নি। আর নামীয় মানৎ যদি আনুগত্যশীল হয় তবে বাস্তবায়নে অসাধ্য হয় তাহলে কসমের কাফফারা হবে। আর যদি সাধ্যের মধ্যে হয় তাহলে সে মানৎ পুরা করা ওয়াজিব, চাই তা শারীরিকের মাধ্যমে হোক বা অর্থের মাধ্যমে হোক। আর যদি নামীয় মানৎ পাপমুক্ত হয় তা পুরো করতে হবে ও বাস্তবায়নও হবে না এবং কাফ্ফারাও অপরিহার্য হবে না। আর যদি মানৎ মুবাহ তথা বৈধ হয় এবং সাধ্যের মধ্যে তাহলে অধিকতর সঠিক মত হলো তা বাস্তবায়ন হবে। আর যদি সাধ্যের বাইরে হয় তাহলে কাফফারা লাগবে। আর এটাই সহীহ হাদীসগুলোর মর্মার্থ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৪৩৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৭-[১২] সাবিত ইবনুয্ যহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বুওয়ানাহ্ নামক স্থানে একটি উট যাবাহ করার মানৎ করল। অতঃপর সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, জাহিলিয়্যাত যুগে কি সেখানে কোনো প্রতিমার পূজা-অর্চনা হত? সাহাবীগণ বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো জিজ্ঞেস করলেন, সে অঞ্চলে কি কাফিরদের কোনো মেলা বসত। সাহাবীগণ বললেন, না। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার মানৎ আদায় কর। কেননা, যে কাজে আল্লাহ তা’আলার নাফরমানী হয়, এমন মানৎ পূরণ করতে নেই এবং আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয়, সেই জিনিসের মানৎ করলে তা পূর্ণ করতে হয় না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن ثَابت بن الضَّحَّاك قَالَ: نَذَرَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَنْحَرَ إِبِلًا بِبُوَانَةَ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟» قَالُوا: لَا قَالَ: «فَهَلْ كَانَ فِيهِ عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟» قَالُوا: لَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أوف بِنَذْرِك فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ثابت بن الضحاك قال: نذر رجل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ينحر ابلا ببوانة فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هل كان فيها وثن من اوثان الجاهلية يعبد؟» قالوا: لا قال: «فهل كان فيه عيد من اعيادهم؟» قالوا: لا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اوف بنذرك فانه لا وفاء لنذر في معصية الله ولا فيما لا يملك ابن ادم» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِىْ مَعْصِيَةِ اللّٰهِ) যে কাজে আল্লাহর নাফরমানী হয় এমন মানৎ পুরা করতে নেই। হাদীস সুস্পষ্ট প্রমাণ করে বৈধ ক্ষেত্রে মানৎ করা বিশুদ্ধ যখন পাপ কাজে মানৎ নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং এটা ব্যতিরেকে অন্য স্থানে বৈধ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৩০৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৮-[১৩] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা [’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)] হতে বর্ণনা করেন। জনৈকা মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মানৎ করেছি যে, (আপনি জিহাদ শেষে আগমনকালে) আমি আপনার সামনে দফ বাজাব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মানৎ পুরো কর। (আবূ দাঊদ)[1]

আর রযীন আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন। মহিলাটি বলল, জাহিলিয়্যাত যুগে লোকেরা যেখানে পশু যাবাহ করত আমি সে সকল অঞ্চলে পশু যাবাহ করার মানৎ করেছি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, জাহিলিয়্যাত যুগে সে সকল স্থানে কি কোনো দেব-দেবী ছিল? যেগুলোর পূজা-অর্চনা করা হতো। তখন মহিলাটি বলল, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি কাফিরদের কোনো মেলা আয়োজন হতো? মহিলাটি বলল, না। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে তোমার মানৎ আদায় করতে পার।

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده رَضِي الله عَنهُ أَنَّ امْرَأَةً قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَضْرِبَ عَلَى رَأْسِكَ بِالدُّفِّ قَالَ: «أَوْفِي بِنَذْرِكِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ رَزِينٌ: قَالَتْ: وَنَذَرْتُ أَنْ أَذْبَحَ بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا مَكَانٌ يَذْبَحُ فِيهِ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ: «هَلْ كَانَ بِذَلِكِ الْمَكَانِ وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟» قَالَتْ: لَا قَالَ: «هَلْ كَانَ فِيهِ عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟» قَالَتْ: لَا قَالَ: «أَوْفِي بِنَذْرِك»

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده رضي الله عنه ان امراة قالت: يا رسول الله اني نذرت ان اضرب على راسك بالدف قال: «اوفي بنذرك» . رواه ابو داود وزاد رزين: قالت: ونذرت ان اذبح بمكان كذا وكذا مكان يذبح فيه اهل الجاهلية فقال: «هل كان بذلك المكان وثن من اوثان الجاهلية يعبد؟» قالت: لا قال: «هل كان فيه عيد من اعيادهم؟» قالت: لا قال: «اوفي بنذرك»

ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী বলেনঃ দফ বাজানো ‘ইবাদাতের কাজ নয় যা মানতের সাথে সংশ্লিষ্ট, বরং এটা একটি মুবাহ কাজ (দফ এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র দেখতে অনেকটা গোল চালনীর মতো, যা একদিক হতে আওয়াজ করা বা বাজানো যায়)।

আর বিশেষ করে দফ বাজানো হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে, যখন তিনি যুদ্ধের ময়দান হতে বিজয়বেশে ফিরে আসতেন আনন্দ প্রকাশের জন্য আর তা কাফিরদের জন্য ছিল কষ্টকর এবং মুনাফিকদের জন্য ছিল লাঞ্ছনার। এজন্য বিবাহের অনুষ্ঠানে দফ বাজানোকে মুস্তাহাব করা হয়েছে বৈধ আনন্দোৎসব প্রকাশের জন্য অবৈধ লাম্পট্য হতে মুক্তির জন্য। আর এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ব্যক্তবের সাথে সাদৃশ্য রাখে। (اهْجُوا قُرَيْشًا ; فَإِنَّهُ أَشَدُّ عَلَيْهِمْ مِنْ رَشْقِ النَّبْلِ) তোমরা কাফিরদের ব্যঙ্গনবিশ বা ব্যঙ্গাত্মক কর, কারণ এটা তীর নিক্ষেপের চেয়েও তাদের ওপর কঠিন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৩৯-[১৪] আবূ লুবাবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমার পূর্ণাঙ্গ তওবা্ এটাই হবে যে, আমি আমার বংশীয় আবাসস্থল পরিত্যাগ করব, যে ঘরে আমি এ পাপকার্যে লিপ্ত হয়েছি এবং আমি আমার সমস্ত ধন-সম্পদ সাদাকাস্বরূপ প্রদান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার জন্য এক-তৃতীয়াংশই যথেষ্ট। (রযীন)[1]

وَعَن أبي لبَابَة: أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَهْجُرَ دَارَ قَوْمِي الَّتِي أَصَبْتُ فِيهَا الذَّنْبَ وَأَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي كُلِّهِ صَدَقَةً قَالَ: «يُجْزِئُ عَنْكَ الثُّلُثُ» . رَوَاهُ رزين

وعن ابي لبابة: انه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: ان من توبتي ان اهجر دار قومي التي اصبت فيها الذنب وان انخلع من مالي كله صدقة قال: «يجزى عنك الثلث» . رواه رزين

ব্যাখ্যা: আবূ লুবাবাহ্, তিনি হলেন কিফায়াহ্ ইবনু ‘আবদুল মুনযীর আল আনসারী আল আওসী, তিনি তার উপনাম আবূ লুবাবাহ্ নামে বেশী পরিচিত ছিলেন, তিনি  বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন, কারও মতে অংশগ্রহণ করেননি।

হাদীসের ভাষ্যে ঘটনার বিবরণ, আবূ লুবাবাহ্ আল আনাসারী -এর পরিবার-পরিজন ও বিষয়-সম্পত্তি ইয়াহূদী এলাকায় ছিল বলে তার উক্ত সম্প্রদায়ের সাথে বাহ্যিক হৃদ্যতা ছিল যে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবায়যাকে ২৫ দিন ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন। তখন তারা ভীত হলো এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আবূ লুবাবাকে আমাদের কাছে পাঠান, আমরা তার সাথে পরামর্শ করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাদের কাছে পাঠালেন, তারা আবূ লুবাবাকে কেঁদে কেঁদে জিজ্ঞেস করল, যদি আমরা নিজেদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সোপর্দ করি তাহলে তিনি আমাদের সঙ্গে কি আচরণ করবেন? তখন আবূ লুবাবাহ্ নিজের গলার উপর হাত বুলে এদিকে ইঙ্গিত করলেন যে, তিনি তোমাদের যাবাহ (হত্যা) করবেন। এই গোপনীয়তা প্রকাশ করতেই তার মনে জাগল যে, তিনি তো বিরাট আমানাতের খিয়ানাত করে ফেলেছেন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য ভীষণ অনুতপ্ত হলেন আর বললেন, সে আল্লাহর ও রসূলের খিয়ানাত করেছে- এ প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে, يٰاَيُّهَا الَّذِينَ اٰمَنُوا لَا تَخُونُوا اللّٰهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা খিয়ানাত করো না আল্লাহর সাথে ও রসূলের সাথে এবং খিয়ানাত করো না নিজেদের পারস্পারিক আমানাতে জেনে শুনে’’- (সূরা আল আনফাল ৮ : ২৭)।

এ ঘটনার পর আবূ লুবাবাহ্ মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করলেন এবং নিজকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে নিলেন যতদিন পর্যন্ত আমার তাওবাহ্ কবুল না করেন আল্লাহ ততদিন পর্যন্ত, খানাপিনা আমার জন্য হারাম এভাবে যতদিন থাকলেন। অতঃপর বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন আর আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবুল করলেন, তাকে বলা হলো আপনার তাওবাহ্ আল্লাহ কবুল করেছেন নিজকে মুক্ত করুন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম আমি নিজকে বাঁধনমুক্ত করব না যতক্ষণ না বাঁধনমুক্ত করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এসে তার বন্ধন খুলে দিলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কথাটি বলেছিলেন যা হাদীসে বর্ণিত।
(‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২৩০৯)

হাদীসে দলীল প্রমাণিত হয় যে, মানৎকারীর ওপর তার সকল সম্পদ সাদাকা করা আবশ্যিক হয় না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪০-[১৫] জাবির ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মক্কা বিজয়ের দিন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট এই মানৎ করেছি যে, আল্লাহ তা’আলা যদি আপনাকে মক্কা বিজয় দান করেন, তাহলে আমি বায়তুল মাকদিসে দু’ রাক্’আত সালাত আদায় করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখানে (মসজিদুল হারামে) সালাত আদায় করে নাও। লোকটি পুনরায় আবেদন করল। এবারও বললেন, এ জায়গায় সালাত আদায় করে নাও। লোকটি তৃতীয়বারও সে কথার পুনরাবৃত্তি করল। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মনোষ্কামনা পূরণ কর। (আবূ দাঊদ, দারিমী)[1]

وَعَن جَابر بن عبد الله: أَنَّ رَجُلًا قَامَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَقَالَ: يَا رَسُول الله لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ مَكَّةَ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ رَكْعَتَيْنِ قَالَ: «صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَهُنَا» ثمَّ عَاد فَقَالَ: «صل هَهُنَا» ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ: «شَأْنَكَ إِذًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد والدارمي

وعن جابر بن عبد الله: ان رجلا قام يوم الفتح فقال: يا رسول الله لله عز وجل ان فتح الله عليك مكة ان اصلي في بيت المقدس ركعتين قال: «صلى الله عليه وسلم ههنا» ثم عاد فقال: «صل ههنا» ثم اعاد عليه فقال: «شانك اذا» . رواه ابو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: (قَالَ : صَلِّ هٰهُنَا) তুমি এখানে তথা মক্কার মসজিদে হারামে সালাত আদায় কর, কেননা এটা অধিক ফযীলতপূর্ণ। এতদসত্ত্বেও এখানে সালাত আদায় করা সহজ।
إِذًا জওয়াব এবং প্রতিদান। যখন তুমি এখানে সালাতে আদায় করতে অস্বীকার করছ তাহলে তুমি তাই কর যা মানৎ করেছ বায়তুল আকসায় সালাত আদায় করতে।
হিদায়াহ্ ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি কেউ মানৎ করে মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করবে আর সে যদি মসজিদে হারামে সালাত আদায় করে তাহলে তার মানৎ আদায় হবে তবে যদি মসজিদে আকসা মানৎ আদায় করে তাহলে মানৎ আদায় হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هٰذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ) আমরা এই মসজিদে সালাত আদায় অন্য মসজিদের চেয়ে এক হাজার গুণ, তবে মসজিদে হারাম ব্যতিরেকে। হ্যাঁ যদি মসজিদে হারামে সালাত আদায় করার মানৎ করে আর মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করে তাহলে মানৎ আদায় হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪১-[১৬] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উকবা ইবনু ’আমির (রাঃ)-এর বোন মানৎ করল যে, সে পদব্রজে হজে/হজ্জে যাবে অথচ তার সে শক্তি-সামর্থ্য নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বোনের পায়ে হাঁটার প্রতি আল্লাহ তা’আলা মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং সে যেন সওয়ারীতে আরোহণ করে যায় এবং (কাফফারা স্বরূপ) একটি উট যাবাহ করে। (আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

আবূ দাঊদ-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহিলাকে আরোহণ করে যাওয়ার পরে একটি কুরবানী করার নির্দেশ করেছিলেন। আবূ দাঊদ-এর অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমার বোনের এ কষ্টের দরুন কোনো সাওয়াব দেবেন না। সুতরাং সে যেন আরোহণ করে হজে/হজ্জে যায় এবং মানতের কাফফারা আদায় করে।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ مَاشِيَة وَأَنَّهَا لَا تطِيق ذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ مَشْيِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ: فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَرْكَبَ وَتُهْدِيَ هَدْيًا وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَصْنَعُ بِشَقَاءِ أُخْتِكَ شَيْئًا فَلْتَرْكَبْ ولتحج وتكفر يَمِينهَا»

وعن ابن عباس: ان اخت عقبة بن عامر رضي الله عنهم نذرت ان تحج ماشية وانها لا تطيق ذلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ان الله لغني عن مشي اختك فلتركب ولتهد بدنة» . رواه ابو داود والدارمي وفي رواية لابي داود: فامرها النبي صلى الله عليه وسلم ان تركب وتهدي هديا وفي رواية له: فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ان الله لا يصنع بشقاء اختك شيىا فلتركب ولتحج وتكفر يمينها»

ব্যাখ্যা: (وَتُهْدِىَ هَدْيًا) সর্বনিম্ন কুরবানী হলো ছাগল আর সর্বোচ্চ হলো উট, তবে ছাগল যথেষ্ট হবে আর উটের কুরবানী ভালো।

কাযী (রহঃ) বলেনঃ পায়ে হেঁটে হজ্জ/হজ করা যখন অন্যতম নৈকট্যৈর উদ্দেশ্য হয় তাতে মানৎ ওয়াজিব হয়। ফলে অন্য সকল ‘আমলও অন্তর্ভুক্ত হবে তা ছেড়ে দেয়া বৈধ না, তবে যে অপারগ ছেড়ে দেয়ার জন্য তাকে ফিদ্ইয়াহ্ দিতে হবে, ওয়াজিবের ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। ‘আলী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য উট কুরবানী দিতে হবে। আবার কারও মতে ছাগল, যেমন কেউ মীকাত অতিক্রম করে তার জন্য ছাগল আর উটের বিষয়টি নুদুব তথা ভালো। আবার কারও মতে, কোনো কিছু ওয়াজিব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দের দৃষ্টিভঙ্গিতে বলেছেন, ওয়াজিব দৃষ্টিতে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪২-[১৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উকবা ইবনু ’আমির (হজে/হজ্জের সফরকালীন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর বোন এই মানৎ করেছে যে, সে খালি পায়ে এবং অনাবৃত মাথায় হজ্জ/হজ করবে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে বল, সে যেন মাথা ঢেকে নেয় এবং সওয়ার হয়ে হজ্জ/হজ আদায় করে, অতঃপর তিনটি সওম পালন করে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عُقْبَةَ بن عَامر سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أُخْتٍ لَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ حَافِيَةً غَيْرَ مُخْتَمِرَةٍ فَقَالَ: «مُرُوهَا فَلْتَخْتَمِرْ وَلْتَرْكَبْ وَلْتَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي

وعن عبد الله بن مالك ان عقبة بن عامر سال النبي صلى الله عليه وسلم عن اخت له نذرت ان تحج حافية غير مختمرة فقال: «مروها فلتختمر ولتركب ولتصم ثلاثة ايام» . رواه ابو داود والترمذي والنساىي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: الخار বলতে যা দ্বারা মহিলার মাথা ঢাকে। فَلْتَخْتَمِرْ কেননা মহিলাদের মাথা খুলে রাখাটা লজ্জাস্থান। আর এটা পাপ কাজ, তাতে কোনো মানৎ নেই। لْتَرْكَبْ সওয়ার হয়ে হজ্জ/হজ করে তার অপারগতার জন্য। ইমাম খত্ত্বাবী বলেনঃ (وَلْتَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ) এ তিনটি সওম কুরবানীর বদলে। আবার কারও মতে তিনটি সওম মাথা না ঢাকার মানতের কারণে। কেননা পাপের মানৎ করেছিল। সুতরাং ওয়াজিব হয়েছে কসমের কাফফারা। এটা তাদেরই দলীল যারা পাপের নজর মানা কাফফারা ওয়াজিব, তবে বায়হাক্বী এর সানাদে মতানৈক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ৩২৮৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪৩-[১৮] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই আনসারী ভাই কারো কাছ থেকে মীরাস (উত্তরাধিকার) পেল। অতঃপর এক ভাই অপর ভাইয়ের নিকট তা ভাগ-বণ্টন করার অনুরোধ করল। তখন সে বলল, যদি তুমি আমার নিকট পুনরায় বণ্টনের কথা বল, তাহলে আমার সমস্ত ধন-সম্পদ কা’বার জন্য দান করে দেব। অতঃপর ’উমার তাকে বললেন, কা’বাহ্ তোমার ধন-সম্পদের মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং তুমি তোমার কসমের কাফফারা আদায় কর এবং তোমার ভাইয়ের সাথে এ ব্যাপারে কথাবার্তা বল। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কসম ও মানৎ পূরণ করতে নেই- রবে্র নাফরমানীর কাজে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারে এবং এমন জিনিসে, যার মালিক তুমি নও। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن سعيد بن الْمسيب: أَنَّ أَخَوَيْنِ مِنَ الْأَنْصَارِ كَانَ بَيْنَهُمَا مِيرَاثٌ فَسَأَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ الْقِسْمَةَ فَقَالَ: إِنْ عُدْتَ تَسْأَلُنِي الْقِسْمَةَ فَكُلُّ مَالِي فِي رِتَاجِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: إِنَّ الْكَعْبَةَ غَنِيَّةٌ عَنْ مَالِكَ كَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَكَلِّمْ أَخَاكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَمِينَ عَلَيْكَ وَلَا نَذْرَ فِي مَعْصِيَةِ الرَّبِّ وَلَا فِي قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَلَا فِيمَا لَا يملك» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن سعيد بن المسيب: ان اخوين من الانصار كان بينهما ميراث فسال احدهما صاحبه القسمة فقال: ان عدت تسالني القسمة فكل مالي في رتاج الكعبة فقال له عمر: ان الكعبة غنية عن مالك كفر عن يمينك وكلم اخاك فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يمين عليك ولا نذر في معصية الرب ولا في قطيعة الرحم ولا فيما لا يملك» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: নিহায়াহ্ গ্রন্থে الرِّتَاجُ অর্থ এখানে উদ্দেশ্য কা‘বাহ্ ঘর। কারণ যে কা‘বাহ্ ঘরের উদ্দেশে উৎসর্গ দরজার জন্য না। দরজা দ্বারা রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে, কেননা দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।

ত্বীবী বলেন, (لَا يَمِيْنَ عَلَيْكَ) এর মর্মার্থ তুমি যা মানৎ করেছ তা পুরো করতে হবে না, আর মানৎকে কসম নামে। এজন্য বলা হয়েছে, কসমের মাধ্যমে যা অপরিহার্য হয় মানতের মাধ্যমে তাই হয়।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪৪-[১৯] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শুনেছি, মানৎ দু’ প্রকার। সুতরাং যে ব্যক্তি নেক কাজের জন্য মানৎ করবে, তা কেবল আল্লাহর জন্য হবে। আর যে ব্যক্তি গুনাহের কাজের জন্য মানৎ করে, তা কেবল শায়ত্বনের জন্য হবে। এই জাতীয় মানৎ পূরণ করতে নেই। সুতরাং কসম ভঙ্গ করলে যেরূপ কাফফারা আদায় করতে হয়, অনুরূপ তা করতে হবে। (নাসায়ী)[1]

عَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: النَّذْرُ نَذْرَانِ: فَمَنْ كَانَ نَذَرَ فِي طَاعَةٍ فَذَلِكَ لِلَّهِ فِيهِ الْوَفَاءُ وَمَنْ كَانَ نَذَرَ فِي مَعْصِيَةٍ فَذَلِكَ لِلشَّيْطَانِ وَلَا وَفَاء فِيهِ وَيُكَفِّرُهُ مَا يُكَفِّرُ الْيَمِينَ . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ

عن عمران بن حصين قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: النذر نذران: فمن كان نذر في طاعة فذلك لله فيه الوفاء ومن كان نذر في معصية فذلك للشيطان ولا وفاء فيه ويكفره ما يكفر اليمين . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: (لَا وَفَاء فِيهِ) মানৎ পুরো করা উচিত হবে না বরং ওয়াজিব হলো ভেঙ্গে ফেলা এবং কাফফারা আদায় করবে।

ইবনু হুমাম বলেনঃ যখন কাফির কসম করে, অতঃপর ভেঙ্গে ফেলে কুফরী অবস্থায় অথবা ইসলাম গ্রহণের পর তাহলে তার কোনো কাফফারা নেই। আর কাফির যদি মানৎ করে, সাদাকা অথবা সওম পালনের আমাদের নিকট ইসলাম গ্রহণ করার পরে অথবা পূর্বে তার ওপর কোনো কিছু নেই।

আর শাফি‘ঈ ও আহমাদ-এর মতে অবশ্যই লাগবে। দলীল পেশ করেন বুখারী ও মুসলিম-এর। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ : يَا رَسُولَ اللّٰهِ! إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيْلَةً فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَفِي رِوَايَةٍ يَوْمًا، فَقَالَ : أَوْفِ بِنَذْرِكَ.

‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! জাহিলী যুগে আমি মানৎ করেছি যে, আমি মসজিদ হারামে এক রাত্রি ই‘তিকাফ করব। অন্য বর্ণনায় ‘রাত্রি’ জবাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার মানৎ পুরা কর। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মানৎ

৩৪৪৫-[২০] মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মানৎ করল, আল্লাহ তা’আলা যদি তাকে শত্রুর মুকাবেলায় রক্ষা করেন, তাহলে সে নিজেকে কুরবানী করে দেবে। এতদসম্পর্কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, মাসরূক (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস কর। সে ব্যক্তি মাসরূক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তুমি নিজেকে কুরবানী করো না। কেননা তুমি যদি মু’মিন হও, তাহলে তুমি যেন এক মু’মিনকে হত্যা করলে। আর যদি কাফির হও, তাহলে জাহান্নামে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হলে। বরং তুমি একটি দুম্বা ক্রয় করে মিসকীনদের জন্য যাবাহ করে দাও। কেননা, ইসহাক (আঃ) তোমার চেয়ে উত্তম মানব ছিলেন। অথচ তাঁর বিনিময়ে একটি দুম্বা কুরবানী করাই যথেষ্ট ছিল। পরে ইবনু ’আব্বাস -কে জানানো হলে তিনি বললেন, আমিও অনুরূপ ফতোয়া দিতে চেয়েছিলাম। (রযীন)[1]

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا نَذَرَ أَنْ يَنْحَرَ نَفْسَهُ إِنْ نَجَّاهُ اللَّهُ مِنْ عَدُوِّهِ فَسَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَهُ: سَلْ مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ: لَا تَنْحَرْ نَفْسَكَ فَإِنَّكَ إِنْ كُنْتَ مُؤْمِنًا قَتَلْتَ نَفْسًا مُؤْمِنَةً وَإِنْ كُنْتَ كَافِرًا تَعَجَّلْتَ إِلَى النَّارِ وَاشْتَرِ كَبْشًا فَاذْبَحْهُ لِلْمَسَاكِينِ فَإِنَّ إِسْحَاقَ خَيْرٌ مِنْكَ وَفُدِيَ بِكَبْشٍ فَأَخْبَرَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ: هَكَذَا كُنْتُ أَرَدْتُ أَنْ أُفْتِيَكَ. رَوَاهُ رَزِينٌ

وعن محمد بن المنتشر قال: ان رجلا نذر ان ينحر نفسه ان نجاه الله من عدوه فسال ابن عباس فقال له: سل مسروقا فساله فقال له: لا تنحر نفسك فانك ان كنت مومنا قتلت نفسا مومنة وان كنت كافرا تعجلت الى النار واشتر كبشا فاذبحه للمساكين فان اسحاق خير منك وفدي بكبش فاخبر ابن عباس فقال: هكذا كنت اردت ان افتيك. رواه رزين

ব্যাখ্যা : ত্বীবী বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস প্রশ্নকারীকে মাসরূক-এর নিকট পাঠালেন সতর্কতার জন্য, কেননা তিনি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে শিক্ষা নিতেন।

ফতোয়া দানকারীর উচিত ফতোয়া প্রদান যেন তাড়াহুড়া না করে, বরং সে যেন পরামর্শ গ্রহণ করে অথবা দলীলের মুখাপেক্ষী হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৫: কসম ও মানৎ (كتاب الأيمان والنذور) 15. Oaths and Vows
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৪০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৪০ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে