পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৬. (হাসান সহীহ) ইয়াযীদ বিন আখনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
’’তোমাদের পরস্পরের মাঝে দু’টি বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রতিযোগিতা নেই। এক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ কুরআন (কুরআনের জ্ঞান) দান করেছেন, তাই সে রাত-দিন তা দ্বারা নামায পড়ে থাকে এবং তার মধ্যে যে নির্দেশ আছে তার অনুসরণ করে থাকে। তখন আরেক ব্যক্তি বলেঃ আল্লাহ্ যেমন এই ব্যক্তিকে দিয়েছেন, যদি আমাকে সেরূপ দিতেন তবে সে যেমন নামায পড়ে আমিও তেমন নামায পড়তাম। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন, সে তা ব্যয় করে ও সাদকা করে। তখন আরেক ব্যক্তি পূর্বের জনের মত কমনা করে (বলেঃ আমাকে যদি আল্লাহ্ সম্পদ দিতেন তবে আমিও ঐ ব্যক্তির মত খরচ করতাম ও সাদকা করতাম)
(ত্বাবরানী, আলবানী বলেন, হাদীছটি ইমাম আহমাদও স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৪/১০৪।)
الترغيب في قيام الليل
(حسن ) وَعَنْ يزيد بن الأخنس وكانت له صحبة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال : لَا تَنَافُسَ بَيْنَكُمْ إِلَّا فِي اثْنتَيْنِ: رَجُلٍ أعطاه اللهُ قرآنا فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَيَتَّبِعُ مَا فِيهِ، فَيَقُولُ رَجُلٌ: لَوْ أَنَّ اللهَ أَعْطَانِي مَا أَعْطَى فلَاناً فَأَقُومُ بِهِ كما يَقُومُ ، وَرَجُلٍ أَعْطَاهُ اللهُ مَالًا فَهُوَ يُنْفِقُ منه وَيَتَصَدَّقُ فيقول رجل مثل ذلك. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১) দিবা-রাত্রি বারো রাকাআত সুন্নাত নিয়মিত আদায়ে উদ্বুদ্ধকরণ
৫৭৯. (সহীহ) উম্মে হাবীবা রমলা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছিঃ
’’কোন মুসলিম বান্দা যদি আল্লাহ্ তা’আলার উদ্দেশ্যে দিনে-রাতে ১২ (বারো) রাকাআত নফল- ফরয নয় এমন নামায আদায় করে, তাহলে আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। অথবা তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করা হয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম ৭২৮, আবু দাউদ ১২৫০, নাসাঈ ৩/২৬১ ও তিরমিযী ৪১৫, ইবনু মাজাহ ১১৪১)
তিরমিযী আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেনঃ
أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاةِ الْغَدَاةِ".
’’যোহরের পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পর দু’রাকাআত, এশার পর দু’রাকাআত এবং সকাল তথা ফজরের পূর্বে দু’ রাকাআত।’’ (তিরমিযী ৪১৫)
الترغيب في المحافظة على ثنتي عشرة ركعة من السنة في اليوم والليلة
(صحيح) عن أم حبيبة رملة بنت أبي سفيان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قالت سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ تعالى في كل يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلَّا بَنَى اللَّهُ تعالى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ.رواه مسلم وأبو داود والنسائي والترمذي
পরিচ্ছেদঃ ১) দিবা-রাত্রি বারো রাকাআত সুন্নাত নিয়মিত আদায়ে উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮০. (সহীহ লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ (বারো) রাকাআত নামায নিয়মিত আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যোহরের পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে দু’রাকাআত, মাগরিবের পর দু’ রাকাআত, এশার পর দু’রাকাআত এবং ফজরের পূর্বে দু’রাকাআত।’’
(ইমাম নাসাঈ ৩/২৬০, তিরমিযী ৪১৪ ও ইবনে মাজাহ্ ১১৪০ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) হাদীছের বাক্য নাসাঈর।
الترغيب في المحافظة على ثنتي عشرة ركعة من السنة في اليوم والليلة
(صحيح لغيره) و عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ ثَابَرَ عَلَى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ دَخَلَ الْجَنَّةَ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ .رواه النسائي وهذا لفظه والترمذي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ২) ফজরের পূর্বে দু'রাকাআত নামাযে গুরুত্বারোপের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮১. (সহীহ) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) নামায দুনিয়া এবং উহার মধ্যস্থিত সকল বস্তু হতে উত্তম।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেন ইমাম মুসলিম ৮২৫ ও তিরমিযী ৪১৬। )
মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে,
لهما أحب إلي من الدنيا جميعا
“ঐ দুরাকাত নামায আমার নিকট সারা দুনিয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।’’ (মুসলিম ১৭২২)
الترغيب في المحافظة على ركعتين قبل الصبح
(صحيح) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. رواه مسلم والترمذي
পরিচ্ছেদঃ ২) ফজরের পূর্বে দু'রাকাআত নামাযে গুরুত্বারোপের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮২. (সহীহ) আয়েশা (রাঃ) আরো বলেন, নফল নামায সমূহের মধ্যে থেকে ফজরের দু’রাকাআতের চেয়ে অন্য কোন নামাযের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এত অধিক গুরুত্বারোপ করতেন না।
(বুখারী ১১৬৯, মুসলিম ৭২৫, আবু দাউদ ১২৪৫, নাসাঈ ৩/২৫২ ও ইবনে খুযাইমাহ্ হাদীছটি বর্ণনা করেন।)
ইবনে খুযাইমার অপর বর্ণনায় এসেছেঃ তিনি (আয়েশা) বলেন,
مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شَيْءٍ مِنَ الْخَيْرِ أَسْرَعُ مِنْهُ إِلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ ، وَلاَ إِلَى غَنِيمَةٍ
ফজরের পূর্বের দু’রাকাআতের চাইতে অন্য কোন কল্যাণজনক কাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আমি এত দ্রুত গতি দেখিনি। এমনকি কোন গণীমতের প্রতিও নয়। (ইবনে খুযাইমাহ ২/১৬১)
الترغيب في المحافظة على ركعتين قبل الصبح
(صحيح) وَعَنْها رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت: لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أشَدَّ تَعَاهُدَاً مِنهُ عَلَى رَكْعَتَي الفَجْرِ. رواه البخاري ومسلم أبو داود والنسائي وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ২) ফজরের পূর্বে দু'রাকাআত নামাযে গুরুত্বারোপের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৩. (সহীহ লি গাইরিহী) ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বরাবর। ’কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফেরূন’ কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুটি সূরা ফজরের দু’রাকাআত সুন্নতে পাঠ করতেন।
হাদীসটি আবু ইয়ালা হাসান সনদে ১০১৭ ও ত্ববরানী [কাবীর] গ্রন্থে বর্ণনা করেন। বাক্যগুলো ত্ববরানী থেকেই গৃহীত।
الترغيب في المحافظة على ركعتين قبل الصبح
(صحيح لغيره) وَعَنْ ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) (الإخلاص 1 ) تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ . و (قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ) (الكافرون 1 ) تعدل ربع القرآن وكان يقرؤهما في ركعتي الفجر ..
رواه أبو يعلى بإسناد حسن والطبراني في الكبير واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ৩) যোহরের পূর্বে ও পরে সুন্নাত নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৪. (হাসান সহীহ) উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে একথা বলতে শুনেছি, “যে ব্যাক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে চার রাকাআতের প্রতি যত্নবান হবে (যথারীতি আদায় করবে) আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।’’
হাদীসটি বর্ণনা করেন আহমাদ ৬/৪২৬, আবূ দাঊদ ১২৬৯, নাসাঈ ৩/২৬৫ ও তিরমিযী ৪২৮, ইবনে মাজাহ ১১৬০, ইবনে খুযায়মাহ ২/২০৫। নাসাঈর অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ
فتمَسّ وجهَه النارُ أبداً
“কখনই তার মুখমণ্ডল জাহান্নামের আগুনে স্পর্শ করবে না।’’ (নাসাঈ ১৮১৩)
الترغيب في الصلاة قبل الظهر وبعدها
(حسن صحيح) عن أُمُّ حَبِيبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت: سمعت رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
مَنْ يُحَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا ، حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ .رواه أحمد وأبو داود والنسائي والترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৩) যোহরের পূর্বে ও পরে সুন্নাত নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৫. (হাসান লি গাইরিহী) আবু আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যোহরের পূর্বে চার রাকাআত নামায.... তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।
হাদীসটি বর্ণনা করেন আবূ দাঊদ ১২৭০ ও ইবনে মাজাহ ১১৫৭। উপরোক্ত বাক্য আবূ দাঊদ থেকে গৃহীত।
ইমাম ত্ববরানী [কাবীর ও আওসাত] গ্রন্থদ্বয়ে হাদীছটি নিম্নলিখিত বাক্যে রেওয়ায়েত করেনঃ
(হাসান লি গাইরিহী) আবু আইয়ুব (রাঃ) বলেনঃ
لما نزل رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علي رأيته يديم أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَقَالَ : إِنَّهُ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَلا يُغْلَقُ مِنْهَا بَابٌ حَتَّى يُصَلَّى الظُّهْرُ ، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ لِي فِي تِلْكَ السَّاعَةِ خَيْرٌ .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমার বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন, তখন আমি দেখেছি তিনি যোহরের পূর্বে সর্বদা চার রাকাআত ছালাত আদায় করতেন।
তিনি বলেনঃ “যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যায়, তখন আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। যোহর নামায পড়া পর্যন্ত কোন দরজা বন্ধ করা হয় না। তাই আমি পছন্দ করি উক্ত সময়ে যেন আমার একটি কল্যাণ উপরে উঠানো হয়।’’
الترغيب في الصلاة قبل الظهر وبعدها
(حسن صحيح) وروي عَنْ أَبِي أَيُّوبَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ تُفْتَحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ. رواه أبو داود واللفظ له وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩) যোহরের পূর্বে ও পরে সুন্নাত নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৬. (হাসান লি গাইরিহী) ক্বাবূস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আয়েশা (রাঃ) এর কাছে একজন লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কোন নামাযটি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ছিল- তিনি নিয়মিত উহা আদায় করতেন? তিনি বললেনঃ তিনি যোহরের পূর্বে চার রাকাত আদায় করতেন। এ নামাযে দীর্ঘ সময় দন্ডায়মান থাকতেন এবং সুন্দর করে রুকূ’ ও সিজদা করতেন। (হাদীসটি বর্ণনা করেন ইবনে মাজাহ ১১৫৬)
الترغيب في الصلاة قبل الظهر وبعدها
(حسن صحيح) وَعَنْ قابوس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عن أبيه قال: ارْسَلَ ابِي الَى عَائِشَةَ: ايُّ صَلاةِ رَسُولِ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ احَبَّ الَيْهِ انْ يُوَاظِبَ عَلَيْهَا ؟ قَالَتْ:
كَانَ يُصَلِّي ارْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ . يُطِيلُ فِيهِنَّ الْقِيَامَ ، وُيحْسِنُ فِيهِنَّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ. رواه ابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৩) যোহরের পূর্বে ও পরে সুন্নাত নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৭. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন সায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহরের পূর্বে চার রাকাআত নামায পড়তেন।[1] তিনি এরশাদ করেন, “এটা এমন সময় যখন আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, এ সময় আমার একটি নেক আমল আল্লাহর নিকট উত্থিত হোক।’’
(হাদীসটি বর্ণনা করেন আহমাদ ৩/৪১১ ও তিরমিযী ৪৭৮)
الترغيب في الصلاة قبل الظهر وبعدها
(صحيح) و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ؛ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّى أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِى فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ. رواه أحمد والترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৪) আসরের পূর্বে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৮. (সহীহ) ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহ রহম করুন সেই ব্যাক্তিকে যে আসরের পূর্বে চার রাকাআত নামায পড়বে।’’
হাদীসটি বর্ণনা করেন আহমাদ ২/১১৭, আবূ দাঊদ ১২৭১, তিরমিযী ৪৩০, ইবনু খুযাইমা ২/২০৬ ও ইবনু হিব্বান ২৪৪৪।
الترغيب في الصلاة قبل العصر
(حسن ) عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا. رواه أحمد وأبو داود والترمذي وحسنه وابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৫) মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৮৯. (সহীহ) আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী (تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنْ الْمَضَاجِعِ) ’’তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে।’’ (সূরা সিজদাহ্-১৬) এ আয়াতটি নাযিল হয় রাতের (এশার) নামাযের জন্য অপেক্ষা করার ক্ষেত্রে।
(হাদীসটি বর্ণনা করেন তিরমিযী ৩১৯৬ ও আবূ দাঊদ ১৩২১।)
(সহীহ্) আবূ দাঊদের বর্ণনায় বলা হয়ঃ
كانوا يَتَنَفَّلُونَ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ يُصَلُّونَ
وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ قِيَامُ اللَّيْلِ
তারা (সাহাবীগণ) মাগরীব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে জাগ্রত থাকতেন ও নামায পড়তেন। হাসান বাসরী একে ক্বিয়ামুল্লাইল বলতেন। (আবূ দাঊদ ১৩২১)
الترغيب في الصلاة بين المغرب والعشاء
(حسن ) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، في قوله تعالى (تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ) نَزَلَتْ فِى انْتِظَارِ هَذِهِ الصَّلاَةِ الَّتِى تُدْعَى الْعَتْمَةَ. رواه الترمذي
পরিচ্ছেদঃ ৫) মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৯০. (সহীহ) হুযাইফা (রাঃ) বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এলাম, তারপর তার সাথে মাগরিবের ছালাত আদায় করলাম। তারপর দেখলাম তিনি এশা পর্যন্ত ছালাতে রত থাকলেন।
(হাদীসটি নাসাঈ ৩৮০ উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
الترغيب في الصلاة بين المغرب والعشاء
(صحيح) وَعَنْ حذيفة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: أتيت النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فصليت مَعَهُ الْمَغْرِبِ فصلى إلَى وَالْعِشَاءِ. رواه النسائي
পরিচ্ছেদঃ ৬) এশার পর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৫৯১. (সহীহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন এশার নামায শেষ করে বাড়ী ফিরতেন তখন (বাড়ীতে) চার রাকাআত নামায পড়তেন।
(শায়খ আলবানী বলেনঃ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীসটি সহীহ বুখরীতে বর্ণিত হয়েছে।)
অন্যান্য হাদীছগুলো আমরা এ জন্যে উল্লেখ করিনি যে, তাতে উদ্বুদ্ধ করণের জন্যে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন কথা নেই; বরং এশার নামাযের পর তাঁর আমল থেকে কিছু হাদীছ আছে।
الترغيب في الصلاة بعد العشاء
(صحيح) أنَّ النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صلَّى الْعِشَاءَ وَرَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَضْرَبْتُ عَنْ ذِكْرِ هَا لِأَنَّهَا لَيْسَتْ مِنْ شَرْطِ كِتَابِنَا (أَيْ هِيَ مِنْ فِعْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلاَ تُفِيْرُ التَّرْغِيْبَ)
পরিচ্ছেদঃ ৭) বিতর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, যে বিতর পড়ে না তার সম্পর্কে যা এসেছে তার বর্ণনা
৫৯২. (সহীহ লি গাইরিহী) আলী (রাঃ) বলেন, ফরয নামাযের ন্যায় বিতর নামায অত্যাবশ্যক নয়। তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ নামায সুন্নাত (প্রবর্তন) করেছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ একক, তিনি একক তথা বিতর নামায পছন্দ করেন। সুতরাং হে কুরআনের অনুসারীগণ তোমরা বিতর পড়।’’
(হাদীসটি বর্ণনা করেন আবূ দাঊদ ১৪১৬, তিরমিযী ৪৫৩, নাসাঈ ৩/২২৮, ইবনে মাজাহ্ ১১৬৯ ও ইবনে খুযাইমা ২/১৩৭। হাদীসটির বাক্য তিরমিযী থেকে নেয়া।)
الترغيب في صلاة الوتر وما جاء فيمن لم يوتر
(صحيح لغيره) عن علي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: الوِتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلاَةِ المَكْتُوبَةِ ، وَلَكِنْ سَنَّ رسولُ الله - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ، قَالَ : ( إنَّ اللهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الوِتْرَ ، فَأَوْتِرُوا يَا أهْلَ القُرْآنِ ). رواه أبو داود والترمذي واللفظ له والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৭) বিতর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, যে বিতর পড়ে না তার সম্পর্কে যা এসেছে তার বর্ণনা
৫৯৩. (সহীহ) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যাক্তি এরুপ আশংকা করে যে, শেষ রাতে কিয়াম করতে (তাহাজ্জুদ পড়তে) পারবে না, তবে সে যেন রাতের প্রথমাংশেই বিতর পড়ে নেয়। আর যে ব্যাক্তি শেষ রাতে কিয়াম করার আশা রাখে সে যেন শেষ রাতেই বিতর পড়ে। কেননা শেষ রাতের নামায সাক্ষ্য স্বরূপ হবে, তাকে উপস্থিত করা হবে। আর এটাই উত্তম। (বিতর শেষ রাতেই পড়া উত্তম)’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেন, ইমাম মুসলিম ৭৫৫, তিরমিযী ৪৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৭ প্রমূখ)
الترغيب في صلاة الوتر وما جاء فيمن لم يوتر
(صحيح) وَعَنْ جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ ، فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ ، فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ ، فَإِنَّ صَلاَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ.. رواه مسلم والترمذي وابن ماجه وغيرهم
পরিচ্ছেদঃ ৭) বিতর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, যে বিতর পড়ে না তার সম্পর্কে যা এসেছে তার বর্ণনা
৫৯৪. (হাসান সহীহ্) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “হে কুরআনের অনুসারীগণ তোমরা বিতর নামায পড়। কেননা আল্লাহ বেজোড় তথা একক, তিনি বেজোড় নামায পছন্দ করেন।’’
(হাদীছটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেন ১৪১৬, ইবনে খুযায়মাহ ২/১৩৮)
উক্ত হাদীছটি ইবনু খুযায়মাহ্ স্বীয় [সহীহ] গ্রন্থে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ্ বেজোড় বা একক, তিনি বেজোড় তথা বিতর ছালাত পছন্দ করেন।’’ (মুসলিম ২৬৭৭)
الترغيب في صلاة الوتر وما جاء فيمن لم يوتر
(حسن صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ أَوْتِرُوا ، فَإِنَّ اللهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ. رواه أبو داود ورواه ابن خزيمة مختصرا من حديث أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ ৭) বিতর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, যে বিতর পড়ে না তার সম্পর্কে যা এসেছে তার বর্ণনা
৫৯৫. (সহীহ্) ইবনে ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’যে ব্যক্তি চাশতের নামায আদায় করবে, প্রত্যেক মাসে তিনটি (নফল) রোযা রাখবে, গৃহে অবস্থান ও সফর কালে বিতর নামায পরিত্যাগ করবে না, তার জন্য একজন শহীদের প্রতিদান লিখে দেয়া হবে।’’ (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] ১৩৭০৭)
الترغيب في صلاة الوتر وما جاء فيمن لم يوتر
(صحيح) وروي عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول من صلى الضحى وصام ثلاثة أيام من الشهر ولم يترك الوتر في سفر ولا حضر كتب له أجر شهيد. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ৭) বিতর নামাযের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, যে বিতর পড়ে না তার সম্পর্কে যা এসেছে তার বর্ণনা
৫৯৬. (সহীহ) আবূ তামীম আল জায়শানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমর ইবনুল আস (রা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জনৈক ছাহাবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য একটি নামায বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। এ নামায তোমরা এশা এবং ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করবে। উহা হল বিতর নামায, বিতর নামায।’’
সংবাদদাতা সাহাবীর নাম হল আবু বাসরাহ আল গিফারী (রাঃ)।
হাদীছটি রেওয়ায়াত করেন, আহমাদ ৬/৩৯৭ ও ত্ববরানী।
এ হাদীছটি মুআয বিন জাবাল, আবদুল্লাহ্ বিন আমর, ইবনু আব্বাস, ঊক্ববা বিন আমের আল জুহানী, আমর বিন আছ (রাঃ) প্রমূখ সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
الترغيب في صلاة الوتر وما جاء فيمن لم يوتر
(صحيح) وَعَنْ أبي تميم الجيشاني رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ يَقُولُ : أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
إِنَّ اللهَ ، عَزَّ وَجَلَّ ، زَادَكُمْ صَلاَةً ، فَصَلُّوهَا فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى صَلاَةِ الصُّبْحِ ، الْوَتْرُ ، الْوَتْرُ.
لاَ وَإِنَّهُ أَبُو بَصْرَةَ الْغِفَارِيُّ.. رواه أحمد والطبراني
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৫৯৭. (হাসান লি গাইরিহী) ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যাক্তি পবিত্রবস্থায় রাত কাটায়, তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বস্তুতে (যেমন বস্ত্র ইত্যাদি) একজন করে ফেরেশতা রাত কাটায়। সে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতা তার জন্য দু’আ করে আর বলে, হে আল্লাহ! তোমার উমুক বান্দাকে ক্ষমা কর, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় রাত অতিবাহিত করেছে।’’
হাদীছটি বর্ণনা করেন ইবনে হিব্বান তার [সহীহ] গ্রন্থে ১০৪৮।
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(صحيح) عن ابن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ بَاتَ طَاهِرًا، بَاتَ فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ لَا يَسْتَيْقِظُ إِلَّا قَالَ الْمَلَكُ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ فُلَانٌ فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًا ". رواه ابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৫৯৮. (সহীহ) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “কোন মুসলিম ব্যাক্তি যদি পবিত্রাবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, অতঃপর রাতে জাগ্রত হয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কোন কল্যাণ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে তবে আল্লাহ্ তাকে উহা দান করেন।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেন আবু দাঊদ ৫০৪২, নাসাঈ ৮০৬ ও ইবনে মাজাহ ৩৮৮১)
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(صحيح) وَعَنْ معاذ بن جبل رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَبِيتُ طَاهِرًا ، فَيَتَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ ، فَيَسْأَلُ اللهَ خَيْراً مِنْ أمر الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ.رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৫৯৯. (হাসান লি গাইরিহী) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “তোমাদের শরীরগুলো পাক-সাফ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে পবিত্র করবেন। কেননা বান্দা যখন পবিত্রাবস্থায় রাত্রি যাপন করে, তখন তার সাথে শরীরের বস্ত্র ইত্যাদিতে একজন ফেরেশতা রাত্রি যাপন করেন। যখনই রাতের একটি প্রহর শেষ হয়, তখনই সে ফেরেশতা দু’আ করে, হে আল্লাহ! তোমার এ বান্দাকে ক্ষমা কর। কেননা সে পবিত্রাবস্থায় রাত যাপন করছে।’’
(হাদীছটি ত্বাবরানী স্বীয় [আওসাত] গ্রন্থে উত্তম সনদে বর্ণনা করেন, সিলসিলা সহীহা ২৫৩৯)
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(حسن لغيره) وَعَنْ ابن عباس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال طَهِّرُوا هَذِهِ الأَجْسَادَ طَهَّرَكُمُ اللَّهُ , فَإِنَّهُ لَيْسَ عَبْدٌ يَبِيتُ طَاهِرًا إِلا بَاتَ معه فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ لا يَنْقَلِبُ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ إِلا قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًا.رواه الطبراني في الأوسط بإسناد جيد
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৬০০. (হাসান লি গাইরিহী) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কোন ব্যাক্তির যদি রাতে নামায পড়ার অভ্যাস থাকে, অতঃপর নিদ্রা তাকে পরাজিত করে দেয় (ফলে উক্ত নামায আদায় করতে পারে না), তবে আল্লাহ তার জন্য সেই নামাযের প্রতিদান লিখে দেন এবং তার নিদ্রা তার জন্য সাদকা স্বরূপ হয়ে যায়।
(হাদীসটি বর্ণনা করেন, ইমাম মালেক ১/১১৭, আবূ দাউদ ১৩১৪ ও নাসাঈ ৩/২৫৭ এবং ইবনু আবী দুনিয়া কিতাবুত্ তাহাজ্জুদ গ্রন্থে)
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(حسن لغيره) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: مَا مِنْ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلَاةٌ بِلَيْلٍ فَيَغْلِبُهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَ صَلَاتِهِ وَكَانَ نَوْمُهُ عَلَيْهِ صَدَقَةً. رواه مالك وأبو داود والنسائي ورواه ابن أبي الدنيا في كتاب التهجد
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৬০১. (সহীহ) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত হাদীছটি পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যাক্তি রাতে নফল ছালাত আদায় করার নিয়তে বিছানা গ্রহণ করে, অতঃপর তার চোখ তাকে পরাজিত করে দেয়, ফলে নামায না পড়েই সকাল হয়ে যায়, তবে সে যা নিয়ত করেছিল তার ছওয়াব তাকে লিখে দেয়া হয়। আর তার নিদ্রা পালনকর্তার পক্ষ থেকে হয়ে যায় সাদকা স্বরূপ।’’
(হাদীছটি রেওয়ায়াত করেন, নাসাঈ ৩/২৫৮ ও ইবনে মাজাহ উত্তম সনদে ১৩৪৪। ইবনে খুযায়মাও তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন ৫২৮৯)
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يبلغ به النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَنْ أَتَى فِرَاشَهُ وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يَقُومَ يُصَلِّيَ مِنْ اللَّيْلِ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ حَتَّى يُصْبِحَ كُتِبَ لَهُ مَا نَوَى وَكَانَ نَوْمُهُ صَدَقَةً عَلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ. رواه النسائي ابن ماجه بإسناد جيد وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ৮) ক্বিয়ামুল্লাইল করার নিয়তে পবিত্রাবস্থায় নিদ্রা যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দান
৬০২. (সহীহ) আবূ যার অথবা আবূ দারদা (রাঃ) (বর্ণনাকারী শো’বার সন্দেহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কোন বান্দা যখন রাতের একটি মূহুর্তে ক্বিয়াম করার (নফল নামাযের) নিয়ত করে, অতঃপর নিদ্রার কারণে তা পুরা করতে সক্ষম না হয়, তবে তার নিদ্রা ছাদকা স্বরূপ হয়ে যায়। আল্লাহ তাকে উহা ছাদকা স্বরূপ দান করেন। আর যে কাজের সে নিয়ত করেছিল, তার প্রতিদান লিখে দেন।’’
(হাদীছটি ইবনু হিব্বান স্বীয় [সহীহ] গ্রন্থে মারফু সূত্রে ২৫৭৯ এবং ইবনে খুযাইমা স্বীয় [সহীহ] গ্রন্থে মাওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেন ২/১৯৭)
الترغيب في أن ينام الإنسان طاهرا ناويا للقيام
(صحيح) وَعَنْ أبي ذر أو أبِيْ الدَّرْداَءِ شك شعبة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ما من عبد يحدث نفسه بقيام ساعة من الليل فينام عنها إلا كان نومه صدقة تصدق الله بها عليه وكتب له أجر ما نوى.
رواه ابن حبان في صحيحه مرفوعا ورواه ابن خزيمة في صحيحه موقوفا لم يرفعه
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৩. (সহীহ) বারা ইবনে আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নিদ্রার উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় আসবে, তখন স্বলাতের ওযুর ন্যায় ওযু করবে। অতঃপর ডান পার্শ্বের উপর শুয়ে পড়বে। অতঃপর পাঠ করবে,
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী আসলামতু নাফসী ইলায়কা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহী ইলায়কা, ওয়া ফাওয়াযতু আমরী ইলায়কা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলায়কা, রাগবাতান ও রাহবাতান ইলায়কা, লা মালজা’ ওলা মান্জা’ মিনকা ইল্লা ইলায়কা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আন্যালতা, ওয়া বে নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।
অর্থঃ হে আল্লাহ আপনার নিকট আমার প্রাণকে সমর্পন করছি। আমার মুখমণ্ডল আপনার সম্মুখে পেশ করছি, আমার যাবতীয় বিষয় আপনার নিকট সমর্পন করছি। আমার পৃষ্ঠদেশ আপনার নিকট পেশ করছি। আপনার কাছে আশা পোষণ করছি, আপনাকেই ভয় করছি। আপনি ছাড়া আপনার আযাব থেকে কোন আশ্রয়স্থল, কোন মুক্তিস্থল নেই। আপনি যে কিতাব নাযীল করেছেন, যে নবী পাঠিয়েছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি।
তিনি বলেন, তুমি যদি সে রাতে মৃত্যু বরণ কর তবে ফিতরাতের (ইসলামের) উপর মৃত্যু বরণ করবে। এই দুআটি তোমার সর্বশেষ কথা হিসেবে নির্ধারিত করবে।’’
বারা বলেনঃ আমি দুআটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট পূণরাবৃত্তি করলাম। যখন এই স্থানে পৌছলাম; আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আন্যালতা- বললাম, ওয়া রাসূলেকা, নবী (সা.) বললেন, এ ভাবে নয়; বরং ওয়া নাবিয়্যেকাল্লাযী আরসালতা।[1]
(হাদীসটি বর্ণনা করেন ইমাম বুখারী ২৪৭, মুসলিম ২৭১০, আবূ দাউদ ৫০৪৬, তিরমিযী ৩৩৯৪, নাসাঈ ৭৮১ ও ইবনে মাজাহ্ ৩৮৭৬)
বুখারী ও তিরমিযীর বর্ণনায় এরূপ রয়েছে,
فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ لَيلَتِكَ مِتَّ عَلَى الفِطْرَةِ ، وَإِنْ أصْبَحْتَ أَصَبْتَ خَيراً
’’তুমি যদি সে রাতে মৃত্যু বরণ কর, তবে ফিতরাত তথা ইসলামের উপর মৃত্যু বরণ করবে। আর যদি সকালে জাগ্রত হও তবে কল্যাণ লাভ করবে।’’ (বুখারী ২৪৭, তিরমিযি ৩৩৯৪)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(صحيح) عن البراء بن عازب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قال النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الْأَيْمَنِ ثم قَلْ اللَّهُمَّ إنِّي أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ ووجهت وَجْهِي إليك وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ َرَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجأ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَإِنْ مِتَّ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ، فَأَنْتَ عَلَى الْفِطْرَةِ وَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَتَكَلَّمُ بِهِ قَالَ، فَرَدَدْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَلَمَّا بَلَغْتُ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ قُلْتُ: وَرَسُولِكَ قَالَ: لاَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ .رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৪. (সহীহ) ইবনে আবী লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আলী (রাঃ) আমাদের কাছে হাদীছ বর্ণনা করেছেনঃ যাঁতা টানার কারণে ফাতিমা (রাঃ) এর হাত ব্যথিত হয়ে গিয়েছিল। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধ বন্দী কিছু দাসী লাভ করলেন। তখন ফাতিমা নবীজীর কাছে গেলেন কিন্তু তাঁকে পেলেন না। আয়েশা (রাঃ) কে পেয়ে তাঁর আগমণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করলেন। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এলে আয়েশা (রাঃ) ফাতিমার আগমণ সম্পর্কে তাঁকে বললেন। তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আগমণ করলেন। তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমরা উঠতে চাইলাম। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, শুয়ে থাক। তিনি আমাদের দু’জনের মধ্যবর্তী স্থানে বসে পড়লেন এমনকি তাঁর পায়ের ঠান্ডা আমার সিনায় অনুভব করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ
’’তোমরা যা চেয়েছো আমি কি তোমাদেরকে তার চেয়ে উত্তম কিছু শিখিয়ে দিব না? তোমরা যখন শয্যা গ্রহণ করবে তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্ পাঠ করবে এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্ পাঠ করবে। এগুলো তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়ে উত্তম।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৬৩১ ও মুসলিম ২৭২৭)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(صحيح) قلت : ولفظ الشيخين في حديث علي المذكور في الضعيف عن أبي ليلى : حَدَّثَنَا عَلِيٌّ أَنَّ فَاطِمَةَ اشْتَكَتْ مَا تَلْقَى مِنْ الرَّحَى فِي يَدِهَا وَأتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيٌ فَانْطَلَقَتْ فَلَمْ تَجِدْهُ وَلَقِيَتْ عَائِشَةَ فَأَخْبَرَتْهَا فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ بِمَجِيءِ فَاطِمَةَ إِلَيْهَا فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا فَذَهَبْنَا نَقُومُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَكَانِكُمَا فَقَعَدَ بَيْنَنَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمِهِ عَلَى صَدْرِي ثُمَّ قَالَ
أَلَا أُعَلِّمُكُمَا خَيْرًا مِمَّا سَأَلْتُمَا إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا أَنْ تُكَبِّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ وَتُسَبِّحَاهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدَاهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَهْوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৫. (হাসান লি গাইরিহী) ফারওয়া বিন নওফল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা নওফল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা নওফলকে বললেনঃ ’’পড় (কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফেরূন) তারপর সূরাটি শেষ করে ঘুমিয়ে পড়। কেননা উহা হচ্ছে শির্ক থেকে মুক্তিনামা।’’
(আবু দাউদ ৫০৫৫, তিরমিযী ৩৪০০, নাসাঈ ৮০২, ইবনে হিব্বান ৭৮৭ ও হাকেম ২/৫৩৮ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) হাদীছের বাক্য আবু দাউদের। তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীছটি মুত্তাসেল ও মুরসাল উভয় সনদে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেনঃ সনদ ছহীহ্)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(حسن لغيره) وَعَنْ فروة بن نوفل عن أبيه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِنَوْفَلٍ اقْرَأْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ثُمَّ نَمْ عَلَى خَاتِمَتِهَا فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنْ الشِّرْكِ.رواه أبو داود واللفظ له والترمذي والنسائي متصلا ومرسلا وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৬. (সহীহ) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’কোন মুসলিম বান্দা যদি দু’টি বৈশিষ্টের প্রতি যত্নবান হয়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বিষয় দু’টি খুবই সহজ। যে তার প্রতি আমল করবে তার জন্য খুবই অল্প। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর দশবার ’সুবহানাল্লাহ্’ বলবে। দশবার ’আল হামদু লিল্লাহ্’ বলবে এবং দশবার বলবে ’আল্লাহু আকবার’। এগুলো মুখে বললে সংখ্যায় (পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে) মাত্র একশত পঞ্চাশ বার। কিন্তু ওযনে এক হাজার পাঁচশত বারের সমান। আর যখন শয্যা গ্রহণ করবে তখন পাঠ করবে ’আল্লাহু আকবার’ চৌত্রিশবার, ’আল হামদু লিল্লাহ্’ তেত্রিশবার এবং ’সুবহানাল্লাহ্’ তেত্রিশবার। এগুলো মুখে বললে সংখ্যায় হবে একশত বার কিন্তু ওযনে এক হাজার বারের সমান।’’
আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডান হাতের আঙ্গুলের সাহয্যে সেগুলো গণনা করতেন।
তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ’’এই বৈশিষ্ট দু’টো সহজ এবং যে উহা আমল করবে তার জন্যে অল্প’’ আপনার একথা বলার কারণ কি? তিনি বললেন,
’’তোমাদের মধ্যে কোন মানুষ যখন নিদ্রা যায় তখন শয়তান আসে এবং ওগুলো বলার পূর্বেই নিদ্রা চাপিয়ে দেয়। নামাযের সময় আসে এবং ওগুলো বলার পূর্বে কোন প্রয়োজনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৫০৬৫, তিরমিযী ৩৪০৭, নাসাঈ ৩/৭৪ ও ইবনে হিব্বান ২০০৯) হাদীছের বাক্য আবু দাউদের।
ইবনে হিব্বানের বর্ণনায়ঃ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَمِائَةِ سيئة
’ওযনে এক হাজার পাঁচশতবার’ বলার পরে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে দিনে-রাতে দু’হাজার পাঁচশতটি গুনাহ করে থাকে?’’
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَصْلَتَانِ أَوْ خَلَّتَانِ لَا يُحَافِظُ عَلَيْهِمَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ يُسَبِّحُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُ عَشْرًا وَيُكَبِّرُ عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسُونَ وَمِئَةٌ بِاللِّسَانِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَصْلَتَانِ أَوْ خَلَّتَانِ لَا يُحَافِظُ عَلَيْهِمَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ يُسَبِّحُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُ عَشْرًا وَيُكَبِّرُ عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسَمِئَةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ وَخَمْسُ مِئَةٍ فِي الْمِيزَانِ وَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ وَيَحْمَدُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَيُسَبِّحُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَذَلِكَ مِائَةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْقِدُهَا . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ هُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ قَالَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ يَعْنِي الشَّيْطَانَ فِي مَنَامِهِ فَيُنَوِّمُهُ قَبْلَ أَنْ يَقُولَهُ وَيَأْتِيهِ فِي صَلَاتِهِ فَيُذَكِّرُهُ حَاجَةً قَبْلَ أَنْ يَقُولَهَا. رواه أبو داود واللفظ له والترمذي وقال حديث حسن صحيح والنسائي وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৭. (সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ পূর্বক এই দু’আটি পাঠ করবেঃ
لا إله إلا الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
(লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা-শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া ’আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর। লা- হাউলা অলা- কুউঅতা ইল্লা- বিল্লা-হ। সুবহানাল্লা-হি অল হামদুলিল্লা-হি অলা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।)
’’আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ ছাড়া কোন উপায় নেই। অতি পবিত্র আল্লাহ্ তা’আলা, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ্ মহান।’’
তার গুনাহ সমূহ বা ত্রুটি সমূহ (বর্ণনাকারী মিসআরের সন্দেহ) ক্ষমা করা হবে যদিও উহা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’’
(নাসাঈ ৮১০ ও ইবনে হিব্বান ৫৫০৩ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য ইবনে হিব্বানের)
নাসাঈর বর্ণনায় আছেঃ (সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি) এবং তার শেষে বলা হয়েছেঃ ’’তার পাপ রাশী ক্ষমা করা হবে যদিও উহা সমুদ্রের ফেনারাশীর চেয়ে বেশী হয়।’’
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : مَنْ قَالَ حِينَ يَأْوِي إلَى فِرَاشِهِ ، لاَ إلَهَ إلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ ، لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِالله العلي العَظِيْم ، سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمدُ لله ، وَلاَ إلَهَ إلاَّ اللَّهُ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ، غُفِرْت ذُنُوبُهُ أو خطاياه وإن كانت مثل زبد البحر. رواه النسائي، وابن حبان في صحيحه واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৮. (সহীহ লি গাইরিহী) আবু আবদুর রহমান আল হুবলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) আমাদের সামনে একটি খাতা বের করলেন এবং বললেনঃ আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কথাগুলো শিক্ষা দিতেন,
اللهم فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأرْضِ، عاَلِمَ الغَيْبِ وَالشَّهاَدَةِ، ربَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، اَشْهَدُ أنْ لاإله إلا أنْتَ، أعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَشَرِّ الشَّيْطاَنِ وَشِرْكِهِ، وأنْ أقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوْءً، أوْ أجُرُّهُ إلَى مُسْلِمٍ. رواه أحمد بسند حسن
’’হে আল্লাহ্ তুমি আসমান-যমিনের সৃষ্টিকর্তা, তুমি গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুই জান। তুমি সকল বস্ত্তর প্রভু এবং সব কিছুর মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই। আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে এবং শয়তান ও তার শিরকের অনিষ্ট থেকে। আর আশ্রয় কামনা করছি নিজের উপর অন্যায় করা থেকে বা সে অন্যায় কোন মুসলিমের উপর চাপিয়ে দেয়া থেকে।’’
আবু আবদুর রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে এই কথা শিখিয়েছিলেন যখন তিনি নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করবেন তখন পাঠ কর করার জন্য।
(হাসান সনদে ইমাম আহমাদ হাদীছটি বর্ণনা করেন ২/১৭১, সিলসিলা সহীহা ৩৪৪৩)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(صحيح لغيره) عن أبي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ حَدَّثَهُ قَالَ : أَخْرَجَ لَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قِرْطَاسًا وَقَالَ: كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا يَقُولُ : اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَهُ كُلِّ شَيْءٍ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ وَالْمَلَائِكَةُ يَشْهَدُونَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي إِثْمًا أَوْ أَجُرَّهُ عَلَى مُسْلِمٍ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو أَنْ يَقُولَ ذَلِكَ حِينَ يُرِيدُ أَنْ يَنَامَ
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬০৯. (হাসান) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করে পাঠ করবেঃ
(الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَاني وَآوَاني الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأفْضَلَ)
[সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমার প্রয়োজন পূরণ করেছেন এবং আমাকে আশ্রয় দান করেছেন। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাকে পানাহার করিয়েছেন। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করে আমাকে উত্তম করেছেন।] তাহলে সে সকল সৃষ্টিজীব আল্লাহর যা প্রশংসা করে তা সবই সে করে ফেলল।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বায়হাক্বী ৪৩৮২)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(حسن ) وَعَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:"مَنْ قَالَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي وَسَقَانِي، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَنَّ عَلَيَّ فَأَفْضَلَ، فَقَدْ حَمِدَ اللهَ بِجَمِيعِ مَحَامِدِ الْخَلْقِ كُلِّهِمْ ". رواه البيهقي
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬১০. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে রমাযানের যাকাত (ফিতরা) পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দিলেন। একজন লোক এসে নিজের অঞ্জলি ভর্তি করে খাদ্যদ্রব্য নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, অবশ্যই আমি তোমাকে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট সোপর্দ করবো। সে বলল, আমি অভাবী, আমি ঋণগ্রস্থ এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমারই উপর আর আমার অভাব খুবই তীব্র। (তাই আমাকে ছেড়ে দিন।) আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। প্রভাতে নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ
’’হে আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার বন্দীর খবর কি?’’
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে পরিজন ও নিজের তীব্র অভাবের কথা আমাকে বললে আমি করুণা করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।
তিনি বললেন,’’ সাবধান! সে তোমাকে মিথ্যা কথা বলেছে এবং সে পুনরায় আসবে।’’
রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কথায় আমি নিশ্চিত হলাম যে সে পুনরায় আসবে। সুতরাং আমি তার অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকলাম। সে পুনরায় এল এবং অঞ্জলি পূর্ণ করে খাদ্যদ্রব্য নিতে লাগল। এভাবে আবু হুরায়রা আগের মতই হাদীছ বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন, তৃতীয়বার আমি তাকে পাকড়াও করে বললামঃ অবশ্যই আমি তোমাকে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট নিয়ে যাব। এটা তৃতীয়বার, তুমি বারবার বলছো যে আর আসবে না। কিন্তু ঠিকই আবার আসছো। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আপনাকে কিছু কথা শিখিয়ে দিব। তা দ্বারা আল্লাহ্ আপনাকে উপকৃত করবেন। আমি বললাম সেটা কি? সে বলল, যখন আপনি শয্যা গ্রহণ করবেন তখন পাঠ করবেন আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম..) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান আপনার নিকটবর্তী হতে পারবে না। তখন আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলায় রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ
’’গত রাতে তোমার বন্দীর খবর কি?’’
আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে মনে করেছে আমাকে কিছু কথা শিখিয়ে দিবে। যা দ্বারা আল্লাহ্ আমাকে উপকৃত করবেন। তাই আমি তার পথ ছেড়ে দিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ’’উহা কি?’’
আমি বললাম, সে আমাকে বলেছেঃ যখন আপনি শয্যা গ্রহণ করবেন তখন আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম..) প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবেন। সে আমাকে বলেছেঃ তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য একজন পাহারাদার নিয়োগ করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান আপনার নিকটবর্তী হতে পারবে না। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) সাহাবায়ে কেরাম কল্যাণজনক বিষয়ের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। তাই আবু হুরায়রা চোরটিকে ছেড়ে দিয়েছেন।
তখন নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ’’হ্যাঁ, সে তোমাকে একটি সত্য কথা বলেছে কিন্তু সাবধান সে বড় মিথ্যুক। আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো গত তিন রাত যাবত কার সাথে কথা বলছিলে? আমি বললাম, না।
তিনি বললেন, ’’সে ছিল শয়তান।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ২৩১১, তিরমিযি ২৮৮৩ ও ইবনে খুযায়মা) শায়খ আলবানী বলেনঃ এ বর্ণনাটি ইমাম বুখারী মুআল্লাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَكَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ فَأَتَانِي آتٍ فَجَعَلَ يَحْثُو مِنْ الطَّعَامِ فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ لَأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي مُحْتَاجٌ وَعَلَيَّ عِيَالٌ وَلِي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ فَخَلَّيْتُ عَنْهُ فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ .
قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَكَا حَاجَةً شَدِيدَةً وَعِيَالًا فَرَحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ قَالَ:
أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَعُودُ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ سَيَعُودُ فَرَصَدْتُهُ فَجَاءَ يَحْثُو مِنْ الطَّعَامِ وذكر الحديث إلى أن قال فَأَخَذْتُهُ يعني في الثالثة فَقُلْتُ لَأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ وَهَذَا آخِرُ ثَلَاثِ مَرَّاتٍ أَنَّكَ تَزْعُمُ لَا تَعُودُ ثُمَّ تَعُودُ قَالَ دَعْنِي أُعَلِّمْكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا قُلْتُ مَا هُوَ قَالَ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ [ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ] حَتَّى تَخْتِمَ الْآيَةَ فَإِنَّكَ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنْ اللَّهِ حَافِظٌ وَلَا يَقْرَبَنَّكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ
قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهَا فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ قَالَ مَا هِيَ
قُلْتُ قَالَ لِي إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى تَخْتِمَ الْآيَةَ [ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ]
وَقَالَ لِي لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنْ اللَّهِ حَافِظٌ وَلَا يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ وَكَانُوا أَحْرَصَ شَيْءٍ عَلَى الْخَيْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ.
قَلْتُ: لَا قَالَ:
ذَاكَ شَيْطَانٌ.رواه البخاري وابن خزيمة وغيرهما
পরিচ্ছেদঃ ৯) নিদ্রার আগে যে দুআ পড়তে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান এবং আল্লাহর যিকির না করে কেউ ঘুমিয়ে পড়লে কি করতে হবে তার বর্ণনা
৬১১. (হাসান সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতঃ আল্লাহকে স্মরণ করবে না। (কোন দু’আ পাঠ করবে না) তবে কিয়ামত দিবসে এটা তার আক্ষেপের কারণ হবে। আর যে ব্যক্তি মজলিসে বসে আল্লাহকে স্মরণ করবে না। তবে উহা তার জন্য কিয়ামত দিবসে ক্ষতি ও আক্ষেপের কারণ হবে।’’
(আবু দাউদ ৫০৫৯ ও নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৪০৪)
الترغيب في كلمات يقولهن حين يأوي إلى فراشه وما جاء فيمن نام ولم يذكر الله تعالى
(حسن صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنِ اضْطَجَعَ مَضْجَعًا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ فِيهِ كَانَ عَلَيْهِ تِرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ قعد مقعدا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ فِيهِ كَانَ عَلَيْهِ تِرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ. رواه أبو داود والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১০) রাতে জাগ্রত হলে যে দু’আ পাঠ করতে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান
৬১২. (সহীহ্) উবাদা ইবনে সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে এই দু’আটি পাঠ করবে,
لا إله إلا الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، الْحَمْدُ لِلَّهِ وَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
(লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা-শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া ’আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর। আল হামদুলিল্লা-হি অ সুবহানাল্লা-হি অলা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অল্লা-হু আকবার অ লা-হাউলা অলা-কুউঅতা ইল্লা বিল্লাহ)
’’আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই। তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য রাজত্ব, তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অতি পবিত্র আল্লাহ্ তা’আলা, আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ্ মহান। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ ছাড়া কোন উপায় নেই।’’
তারপর সে বলবেঃ হে আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা কর। অথবা কোন দু’আ করবে, তবে তা কবূল করা হবে। যদি ওযু করে অতঃপর নামায আদায় করে, তবে তার নামায কবূল করা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১১৫৪, আবু দাউদ ৫০৬০, তিরমিযী ৩৪১৪, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্)
الترغيب في كلمات يقولهن إذا استيقظ من الليل
(صحيح) عن عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَعَارَّ مِنْ اللَّيْلِ فَقَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي أَوْ دَعَا اسْتُجِيبَ لَهُ فَإِنْ تَوَضَّأَ وَصَلَّى قُبِلَتْ صَلَاتُهُ. رواه البخاري وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৩. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের কোন ব্যক্তি রাত্রে নিদ্রা গেলে শয়তান তার কাঁধে তিনটি গিরা দেয়। প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় ফুঁ দিয়ে বলে, এখনো দীর্ঘ রাত অবশিষ্ট। সুতরাং ঘুমিয়ে থাকো। সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়, ওযু করলে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। আর নামায আদায় করলে সবগুলো গিরা খুলে যায়। তখন প্রফুল্ল ও পবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়, অন্যথা অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়।’’
(মালেক ১/১৭৬, বুখারী ১১৪২, মুসলিম ৭৭৬, আবু দাউদ ১৩৬০, নাসাঈ ৩/২০৩ ও ইবনে মাজাহ্ ১৩২৯ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
(সহীহ্) ইবনে মাজাহর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
فَيُصْبِحُ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ قَدْ أَصَابَ خَيْرًا وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ أَصْبَحَ كَسِلًا خَبِيثَ النَّفْسِ لَمْ يُصِبْ خَيْرًا
’’প্রফুল্ল ও পবিত্র মন নিয়ে তার সকাল হয় এবং সে প্রভূত কল্যাণ লাভ করে। আর এরূপ না করলে অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার সকাল হয় আর কোন কল্যাণই সে লাভ করতে পারে না।’’
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنْ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقَدُهُ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ.رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৪. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে কোন পুরুষ বা নারী রাত্রে যখন নিদ্রা যায় তখন তার মাথায় রশিতে গিরা বেঁধে দেয়া হয়। যখন সে জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। বিছানা থেকে উঠে যদি ওযু করে সালাত আদায় করে, তবে সবগুলো গিরা খুলে যায়। তখন হালকা ও পবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয় এবং কল্যাণ লাভ করে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে খুযায়মা ২/১৭৫ ও ইবনে হিব্বান ২৫৪৫)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قَالَ : رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا مِنْ ذَكَرٍ وَلاَ أُنْثَى إِلاَّ عَلَى رَأْسِهِ جَرِيرٌ مَعْقُودٌ حِينَ يَرْقُدُ ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ ، وَإِذَا قَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى انْحَلَّتِ الْعُقَدُ
وَأَصْبَحَ خَفِيفًا طَيِّبَ النَّفْسِ ، قَدْ أَصَابَ خَيْرًا.رواه ابن خزيمة و ابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৫. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’রমাযানের পর সর্বোত্তম ছিয়াম হচ্ছে আল্লাহর সম্মানিত মাস মুহাররমের ছিয়াম। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (নফল) নামায।’’
(মুসলিম ১১৬৩, আবু দাউদ, তিরমিযী ৪৩৮, নাসাঈ ১৬১৩ ও ইবনে খুযায়মাহ্ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ : شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ ، وَأفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ : صَلاَةُ اللَّيْلِ.رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৬. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন প্রথমবার মদীনায় আগমণ করেন, তখন সমস্ত মানুষ দ্রুত তাঁর কাছে উপস্থিত হয়। আমিও ছিলাম তাদের মধ্যে একজন। আমি যখন তাঁর মুখমণ্ডল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলাম, তখন নিশ্চিত হলাম যে, এ মুখমণ্ডল কোন মিথ্যুকের হতে পারে না। তাঁর মুখ থেকে প্রথম যে বাণী আমি শুনেছিলাম তা হচ্ছেঃ
’’হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচার কর, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, রাতে যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায আদায় কর, তবে নিরাপদে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ২৮৮৫, ইবনে মাজাহ ৩২৫১ ও হাকেম ৩/১৩। হাকেম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن سلام رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: أول ما قدم رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ انْجَفَلَ النَّاسُ إليه فكنت فيمن جاءه فلما تأملت وجهه واستبنته عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ قَالَ: فَكَانَ أَوَّلَ ما سمعت من كلامه أن قال :
أَيُّهَا النَّاسُ ، أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصَلُّوا الأرْحاَمَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلامٍ
رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح وابن ماجه والحاكم وقال: صحيح على شرط الشيخين
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৭. (হাসান সহীহ) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ’’জান্নাতের মধ্যে এমন ঘর আছে যার ভিতর থেকে বাইরে দেখা যায়। আর বাইরে থেকে ভিতরে দেখা যায়।’’
আবু মালেক আশআরী (রাঃ) বললেন, ওটা কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল?
তিনি বললেনঃ ’’যে ব্যক্তি পবিত্র কথা বলে, মানুষকে খাদ্য দান করে আর মানুষ যখন ঘুমন্ত থাকে তখন নামায অবস্থায় রাত কাটায়।’’
(ত্ববারানী [কাবীর গ্রন্থে] হাসান সনদেও হাকেম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ)
الترغيب في قيام الليل
(حسن صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: فِي الْجَنَّةِ غُرْفَةً يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا.
فقال أبو مالك الأشعري لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِمَنْ أَطَابَ الْكَلَامَ، وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَبَاتَ قَائِمًا وَالنَّاسُ نِيَامٌ.رواه الطبراني في الكبير بإسناد حسن والحاكم وقال صحيح على شرطهما
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৮. (সহীহ লি গাইরিহী) আবু মালেক আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’নিশ্চয় জান্নাতে কিছু ঘর আছে যার ভিতর থেকে বাইরে দেখা যায়। আর বাইরে থেকে ভিতরে দেখা যায়। আল্লাহ্ উহা প্রস্ত্তত করেছেন এমন লোকের জন্য যে (অভূক্ত) মানুষকে খাদ্য দান করে, সালামের প্রচার করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায আদায় করে।’’
(ইবনে হিব্বান [ছহীহ্] গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৫০৯, তিরমিযি ৫৭৯)
(সহীহ লি গাইরিহী) জামাআতে নামায অধ্যায়ে ইবনে আব্বাসের হাদীছ উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছেঃ
وَالدَّرَجَاتُ إِفْشَاءُ السَّلَامِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَالصَّلَاةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ
’’উচ্চ মর্যাদা সমূহ হচ্ছেঃ সালামের প্রচার করা, খাদ্য দান করা এবং রাতে মানুষ যখন নিদ্রায় থাকে তখন নামায আদায় করা।’’
(হাদীছটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তাকে হাসান বলেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح لغيره) وَعَنْ أبي مالك الأشعري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرَفًا يَرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا , وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِمَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ وأفشى السلام ، ، وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ ". رواه ابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬১৯. (সহীহ্) মুগীরা বিন শো’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এত অধিক নামায আদায় করতেন যে, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁর পদযুগল ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলঃ আল্লাহ্ তো আপনার পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন?
তিনি বললেনঃ ’’আমি কি একজন শোকর গুজার বান্দা হব না!?’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১১৩, মুসলিম ২৮১৯, তিরমিযী ৪১২, নাসাঈ ৩/২১৯) বুখারীর আরেক বর্ণনায় এসেছেঃ
إن كأنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَقُومَ أوْ لِيُصَلِّيَ حَتَّى تَرِمُ قَدَمَاهُ أَوْ سَاقَاهُ فَيُقَالُ لَهُ فَيَقُولُ أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا
’নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন এমনকি তাঁর পদযুগল বা দু’পায়ের নলা ফুলে যেতো। তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেনঃ
’’আমি কি একজন কৃতজ্ঞ পরায়ন বান্দা হব না!?’’
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ المغيرة بن شعبة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قام النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا. رواه البخاري ومسلم والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২০. (হাসান সহীহ) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এত বেশী দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এরূপ করছেন; অথচ আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কাছে এ কথা এসেছে যে, তিনি আপনার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন?
তিনি বললেনঃ ’’আমি কি একজন শোকর গুজার বান্দা হব না!?’’
(ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ২/২০১)
শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীছটি তিরমিযী শামায়েল গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ ও নাসাঈ সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في قيام الليل
(حسن صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: كاَنَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ حَتَّى تَرِمَ قَدَمَاهُ ، فَقِيلَ لَهُ : أَيْ رَسُولُ اللهِ أَتَصْنَعُ هَذَا وَقَدْ جَاءَكَ مِنَ اللهِ أَنْ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ؟ قَالَ : أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا. رواه ابن خزيمة في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২১. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে দাঁড়িয়ে নামায পড়তেন এমনকি তাঁর পদযুগল ফুলে যেতো। আমি তাঁকে বললামঃ কেন আপনি এরূপ করছেন? অথচ আপনার তো পূর্বের পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ ’’আমি কি একজন কৃতজ্ঞ পরায়ন বান্দা হতে পছন্দ করব না!?’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১১৩ ও মুসলিম ১৮১৯)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كاَنَ يَقُومُ مِنْ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقُلْتُ لَهُ لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلَا أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُورًا. رواه البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২২. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় নামায হচ্ছে দাউদ (আঃ) এর নামায। আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় সিয়াম হচ্ছে দাউদ (আঃ) এর সিয়াম। তিনি রাতের অর্ধেক সময় নিদ্রায় থাকতেন এবং এক তৃতীয়াংশ নামাযে রত থাকতেন এবং এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। একদিন সিয়াম পালন করতেন একদিন সিয়াম ভঙ্গ করতেন।’’
(বুখারী ১৩৩১, মুসলিম ১১৫৯, আবু দাউদ ২৪৪৮, তিরমিযী ৭৭০, নাসাঈ ৩/২১৪ ও ইবনে মাজাহ্ ১৭০৭ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمرو بن العاص رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَكَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَيَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا.
رواه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৩. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’নিশ্চয় রাতে এমন একটি সময় আছে কোন মুসলিম যদি সে সময়টি লাভ করে এবং তখন দুনিয়া ও আখেরাতের কোন কল্যাণ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে উহা প্রদান করে থাকেন। আর ইহা প্রত্যেক রাতেই আছে।’’ (ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ৭৫৭)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول:
إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ. رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৪. (হাসান লি গাইরিহী) আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তোমরা কিয়ামুল্লায়ল কর। কেননা উহা তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের নেক লোকদের অভ্যাস। তোমাদের পালনকর্তার নৈকট্য দানকারী। পাপ সমূহ মোচনকারী এবং গুনাহর কাজ থেকে বাধা দানকারী।’’
(তিরমিযী ৩৫৪৯, ইবনে আবী দুনিয়া, ইবনে খুযায়মা ২/১৭৭ ও হাকেম ১/৩০৮) হাকেম বলেন হাদীছটি বুখারীর শর্তের ভিত্তিতে সহীহ।
الترغيب في قيام الليل
(حسن لغيره) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ الباهلي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأَبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ وَقُرْبَةٌ إِلَى رَبِّكُمْ وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ عن الْإِثْمِ. رواه الترمذي وابن أبي الدنيا وابن خزيمة والحاكم وقال صحيح على شرط البخاري
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৫. (হাসান) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’আল্লাহ্ দয়া করুন সেই পুরুষকে যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং তার স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। সে উঠতে না চাইলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। আর দয়া করুন সেই নারীকে যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং তার স্বামীকে ঘুম থেকে জাগ্রত করে। সে উঠতে না চাইলে তার মুখে পানির ছিটা দেয়।’’
(আবু দাউদ ১৩০৮, নাসাঈ ৩/২০৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৬, ইবনে খুযায়মা ২/১৮৩, ইবনে হিব্বান ২৫৫৭ ও হাকেম ৩০৯। হাদীছের বাক্য আবু দাউদের। হাকেম বলেন হাদীছটি মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে সহীহ)
الترغيب في قيام الليل
(حسن ) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ ورَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنْ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ. رواه أبو داود وهذا لفظه والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان والحاكم وقال صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৬. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) ও আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যদি কোন মানুষ নিজের পরিবারকে নিদ্রা হতে জাগ্রত করে উভয়ে নামায আদায় করে অথবা উভয়ে দু’রাকাআত নামায আদায় করে, তবে তাদেরকে যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারীনী নারীদের মধ্যে শামিল করা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ১১৮১)
হাদীছটি নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান ও হাকেম প্রায় কাছাকাছি শব্দ প্রয়োগে বর্ণনা করেন।
مَنْ اسْتَيْقَظَ مِنْ اللَّيْلِ وَأَيْقَظَ أهْلَهُ فَصَلَّيَا رَكْعَتَيْنِ زاد النسائي جَمِيعًا كُتِبَا مِنْ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ
’’যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হবে এবং তার স্ত্রীকে জাগ্রত করবে। অতঃপর দু’রাকাআত নামায আদায় করবে।’’
নাসাঈ এই শব্দটি বেশী উল্লেখ করেছেনঃ ’’উভয়ে মিলে, তবে তাদের নাম অধিকহারে আল্লাহকে যিকিরকারী পুরুষ ও নারীদের মধ্যে লিখে নেয়া হবে।’’
(হাকেম বলেন, হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে সহীহ)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ و أبي سعيد رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قالا قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ مِنْ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ. رواه أبو داود
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৭. (হাসান লি গাইরিহী) সাহল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জিবরীল (আঃ) নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আগমণ করে বললেনঃ ’’হে মুহাম্মাদ! (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যতদিন ইচ্ছা আপনি জীবন-যাপন করুন, অবশ্যই আপনি মৃত্যু বরণ করবেন। যা ইচ্ছা আমল করুন, আপনাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। যাকে ইচ্ছা ভালোবাসুন তাকে একদিন ছেড়ে যেতে হবে। জেনে রাখুন! মু’মিনের মর্যাদা হচ্ছে ক্বিয়ামুল্লায়ল করার মধ্যে এবং সম্মান হচ্ছে মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী থাকাতে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] ২/২৫৩)
الترغيب في قيام الليل
(حسن لغيره) وَعَنْ سهل بن سعد رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال جاء جبريل إلى النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال يا محمد عش ما شئت فإنك ميت واعمل ما شئت فإنك مجزي به وأحبب من شئت فإنك مفارقه واعلم أن شرف المؤمن قيام الليل وعزه استغناؤه عن الناس.
رواه الطبراني في الأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৮. (সহীহ্) আমর বিন আবসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছেনঃ ’’পালনকর্তা বান্দার সর্বাধিক নিকটবর্তী হন মধ্য রাত্রের শেষাংশে। যদি সম্ভব হয় সে সময় তুমি আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে হয়ে যাও।’’
(তিরমিযী ৩৫৭৯ ও ইবনে খুযায়মা ২/১৮২ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য তিরমিযীর, তিনি বলেনঃ হাদীছটি হাসান ছহীহ্ গরীব)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) عن عمرو بن عبسة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه سمع النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الرَّبُّ مِنْ الْعَبْدِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ الْآخِرِ فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللَّهَ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ. رواه الترمذي واللفظ له وابن خزيمة.
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬২৯. (হাসান) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ ভালবাসেন, তাদের কাজে হাসেন এবং তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করেনঃ
১) এক ব্যক্তি, যখন যুদ্ধের জন্য সৈনিকদল বের হয়, তখন সে তাদের সাথে থেকে নিজের জান বাজী রেখে আল্লাহর পথে লড়াই করে। হয় সে নিহত হয় অথবা আল্লাহ তাকে বিজয় দান করেন এবং তাকে বাঁচিয়ে দেন। আল্লাহ্ বলেন, দেখো আমার এই বান্দাকে কিভাবে নিজের জান বাজী রেখে আমার পথে ধৈর্য ধারণ করেছে?!
২) দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার ঘরে আছে সুন্দরী স্ত্রী, আছে নরম ও সুন্দর বিছানা। সে রাত্রে উঠে নামায আদায় করে। আল্লাহ্ বলেন, সে নিজের খাহেশাতকে দমন করে আমাকে স্মরণ করছে। চাইলে সে শুয়ে থাকতে পারতো।
৩) তৃতীয় ব্যক্তি, যখন সে সফরে থাকে। তার সাথে সফর সঙ্গী আছে। তারা রাত জেগেছে এরপর শুয়ে পড়েছে। তখন সে শেষ রাতে উঠে আরামে থাকুক বা কষ্টে থাকুক নামায আদায় করেছে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(حسن ) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ثلاثة يحبهم الله ويضحك إليهم ويستبشر بهم الذي إذا انكشفت فئة قاتل وراءها بنفسه لله عز وجل فإما أن يقتل وإما أن ينصره الله عز وجل ويكفيه فيقول انظروا إلى عبدي هذا كيف صبر لي بنفسه؟ والذي له امرأة حسنة وفراش لين حسن فيقوم من الليل فيقول يذر شهوته ويذكرني ولو شاء رقد، والذي إذا كان في سفر وكان معه ركب فسهروا ثم هجعوا فقام من السحر في ضراء وسراء. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩০. (হাসান লি গাইরিহী) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’দু’জন মানুষের কাজে আমাদের পালনকর্তা আশ্চর্য হন। এক ব্যক্তি নরম বিছানা ছেড়ে লেপের নীচে থেকে লাফ দিয়ে বের হয়, নিজের স্ত্রী ও প্রিয়তম ব্যক্তিদের ছেড়ে নামাযের দিকে অগ্রসর হয়। তখন মহিমান্বিত সুমহান আল্লাহ্ বলেনঃ হে আমার ফেরেশতাকুল! দেখো আমার বান্দাকে, নরম বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছে, স্ত্রী ও প্রিয়জন ছেড়ে নামাযের প্রতি অগ্রসর হয়েছে- আমার কাছে যা আছে তা পাওয়ার আগ্রহে, আমার কাছে যে শাস্তি আছে তার ভয়ে। আরেক ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছে। তার সাথীরা পরাজিত হয়েছে। সে জেনেছে যে পরাজিত হলে কি বিপদ আসতে পারে এবং যুদ্ধে ফেরত গেলে কি পুরস্কার পাবে, তখন সে যুদ্ধে ফেরত আসে এমনকি (সে নিহত হয়) তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়। তখন আল্লাহ্ ফেরেশতাদেরকে বলেন, দেখো আমার বান্দাকে সে যুদ্ধের ময়দানে ফেরত এসেছে- আমার কাছে যে পুরস্কার আছে তা পাওয়ার আশায় এবং আমার কাছে যে শাস্তি আছে তার ভয়ে- শেষ পর্যন্ত নিজের রক্ত প্রবাহিত করে দিয়েছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ১/৪১৬, আবু ইয়া’লা, ত্বাবরানী ও ইবনে হিব্বান ২৫৪৮)
(সহীহ লি গাইরিহী মাওকূফ) ত্বাবরানী মাওকূফ সূত্রে হাসান সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন। তার বাক্য এরূপঃ
إِنَّ اللَّهَ يَضْحَكُ إِلَى رَجُلَيْنِ، رَجُلٍ قَامَ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ مِنْ فِرَاشِهِ وَلِحَافِهِ وَدِثَارِهِ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى صَلاةٍ، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَلائِكَتِهِ مَا حَمَلَ عَبْدِي هَذَا عَلَى مَا صَنَعَ؟ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا رَجَاءَ مَا عِنْدَكَ، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدَكَ، فَيَقُولُ: فَإِنَّي قَدْ أَعْطَيْتُهُ مَا رَجَا وَأَمَّنْتُهُ مِمَّا يَخَافَ،
’’দু’জন লোকের কাজে আল্লাহ্ হাসেন। একজন লোক ঠান্ডার রাতে নিজের বিছানা, লেপ ও গাত্রাবরণ ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, ওযু করে তারপর নামাযে দন্ডায়মান হয়। তখন মহাসম্মানিত আল্লাহ্ ফেরেশতাদেরকে বলেনঃ আমার বান্দা যা করেছে তাতে তাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? তাঁরা বলেন, হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার কাছে যে পুরস্কার আছে তা পাওয়ার আশায় এবং আপনার কাছে যে অনুগ্রহ ও দান আছে তা লাভের আকাংখায়। তখন তিনি বলেনঃ অতএব সে যা আশা করেছে আমি তাকে তা দিয়ে দিলাম। যাকে সে ভয় করে তা থেকে তাকে নিরাপদ করলাম।’’ এরপর তিনি হাদীছের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন।
الترغيب في قيام الليل
(حسن لغيره) وَعَنْ ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: عجب ربنا تعالى من رجلين رجل ثار عن وطائه ولحافه من بين أهله وحبه إلى صلاته فيقول الله جل وعلا انظروا إلى عبدي ثار عن فراشه ووطائه من بين حبه وأهله إلى صلاته رغبة فيما عندي وشفقة مما عندي، ورجل غزا في سبيل الله وانهزم أصحابه وعلم ما عليه في الانهزام وما له في الرجوع فرجع حتى يهريق دمه فيقول الله انظروا إلى عبدي رجع رجاء فيما عندي وشفقة مما عندي حتى يهريق دمه. رواه أحمد وأبو يعلى والطبراني وابن حبان في صحيحه
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩১. (হাসান লি গাইরিহী) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ ’’আমার উম্মতের মধ্যে একজন লোক রাতে নিদ্রা থেকে উঠে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের চিকিৎসা করে। কেননা তার উপর অনেকগুলো গিরা দেয়া থাকে। যখন সে দু’হাত ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়। যখন মুখ ধৌত করে আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন মাথা মাসেহ করে আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন দু’পা ধৌত করে আরেকটি গিরা খুলে যায়। তখন যারা পর্দার অন্তরালে আছে তাদেরকে (ফেরেশতাদেরকে) ডেকে মহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ আমার এই বান্দাকে দেখো কিভাবে নিজের চিকিৎসা করছে। আমার কাছে প্রার্থনা করছে। এ বান্দা আমার কাছে যা চাইবে সেটাই তার জন্য করে দিব।’’
(আহমাদ ৪/১৫৬ ও ইবনে হিব্বান ২৫৪৬। হাদীছের বাক্য ইবনে হিব্বানের)
الترغيب في قيام الليل
(حسن لغيره) وَعَنْ عقبة بن عامر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: رَجُلاَنِ مِنْ أُمَّتِي ، يَقُومُ مِنَ اللَّيْلَ ، يُعَالِجُ نَفْسَهُ إِلَى الطَّهُورِ ، وَعَلَيْهِ عُقَدٌ ، ُ ، فَإِذَا وَضَّأَ يَدَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ ، وَإِذَا وَضَّأَ وَجْهَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ ، وَإِذَا مَسَحَ رَأْسِهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ ، وَإِذَا وَضَّأَ رِجْلَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ ، فَيَقُولُ اللَّهُ ، عَزَّ وَجَلَّ ، لِلَّذِينَ وَرَاءَ الْحِجَابِ : انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُعَالِجُ نَفْسَهُ ، يَسْأَلُنِي ، مَاسَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا ، فَهُوَ لَهُ. رواه أحمد وابن حبان في صحيحه واللفظ له
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩২. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আবী ক্বায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ’ক্বিয়ামুল্লায়ল ছাড়িও না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো তা ছাড়তেন না। তিনি কখনো অসুস্থ হলে বা ক্লান্তি অনুভব করলে বসে বসে নামায পড়তেন।’
(আবু দাউদ ১৩০৭ ও ইবনে খুযায়মা ২/১৭৮ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن أبي قيس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال قالت عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا لَا تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا. رواه أبو داود وابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৩. (সহীহ লি গাইরিহী মাওকূফ) ত্বারেক্ব বিন শিহাব থেকে বর্ণিত। তিনি একদা সালমান (রাঃ) এর নিকট রাত কাটালেন। উদ্দেশ্য তিনি কিরূপ ইবাদত করেন তা দেখবেন। তিনি বলেনঃ তিনি রাতের শেষাংশে উঠে নামায পড়লেন। তিনি (ত্বারেক্ব) তাঁর সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করছিলেন তা যেন তিনি দেখতে পেলেন না। তাই বিষয়টি তাঁর নিকট উত্থাপন করলেন। সালমান (রাঃ) বললেনঃ
’’তোমরা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের যথাযথভাবে হেফাযত কর। কেননা এগুলো এ পাপ সমূহের কাফ্ফরা স্বরূপ, যতক্ষণ পর্যন্ত এমন পাপে লিপ্ত না হও যা তোমাদেরকে হত্যা করে ফেলে (অর্থাৎ কাবীরা গুনাহে লিপ্ত না হও)।
এশা নামায আদায় করার পর মানুষ তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়ে যায়ঃ তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যার কাজ তার ক্ষতি করে উপকারে আসে না। কেউ আছে যার কাজ তার উপকার করে ক্ষতি করে না। আবার কেউ এমন আছে যার কাজ তার উপকারও করে না ক্ষতিও করে না। একজন লোক রাতের অন্ধকারকে গণীমত মনে করে এবং মানুষের অসতর্কতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যায় কাজ করার জন্য ঘোড়া ছুটায়। এ কাজ তার ক্ষতি করবে কোন উপকার বয়ে আনবে না। আরেক জন লোক রাতের অন্ধকারকে গণীমত মনে করে এবং মানুষের অসতর্কতাকে কাজে লাগিয়ে উঠে নামায আদায় করে। তার এ কাজ উপকারে আসবে কোন ক্ষতি করবে না। আর যার কাজ কোন উপকারে আসবে না ক্ষতিও করবে না সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। তার এ কাজ উপকারে আসবে না ক্ষতিও করবে না। সাবধান! খুব দ্রুত চলবে না।[1] মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং যে আমল করবে তা নিয়মিত আদায় করবে।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন ৬/২১৭, অনেকে তা মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ طَارِقِ بن شِهَابٍ، أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَيَنْظُرَ مَا اجْتِهادُهُ، قَالَ: فَقَامَ يُصَلِّي مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ الَّذِي كَانَ يَظُنُّ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ سَلْمَانُ:"حَافِظُوا عَلَى هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، فَإِنَّهُنَّ كَفَّارَاتٌ لِهَذِهِ الْجِرَاحَاتِ مَا لَمْ تُصَبُ الْمَقْتَلَةُ، فَإِذَا صَلَّى النَّاسُ الْعِشَاءَ صَدَرُوا عَلَى ثَلاثِ مَنَازِلَ: مِنْهُمْ مَنْ عَلَيْهِ وَلا لَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ لَهُ وَلا عَلَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ لا لَهُ وَلا عَلَيْهِ، فَرَجُلٌ اغْتَنَمَ ظُلْمَةَ اللَّيْلِ فِي غَفْلَةِ النَّاسِ، فَرَكِبَ فَرَسُهُ فِي الْمَعَاصِي، فَذَلِكَ عَلَيْهِ وَلا لَهُ، وَمَنْ لَهُ وَلا عَلَيْهِ فَرَجُلٌ اغْتَنَمَ ظُلْمَةَ اللَّيْلِ وَغَفْلَةَ النَّاسِ، فَقَامَ يُصَلِّي فَذَلِكَ لَهُ وَلا عَلَيْهِ، وَمَنْ لا لَهُ وَلا عَلَيْهِ فَرَجُلٌ صَلَّى ثُمَّ نَامَ، فَذَلِكَ لا لَهُ وَلا عليه، إياك والحقحقة وعليك بالقصد وداومه. رواه الطبراني في الكبير موقوفا
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৪. (হাসান লি গাইরিহী) সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলতেনঃ
’’দু’টি বিষয় ছাড়া দুনিয়াতে কোন হিংসা[1] নেই। একজন লোক আরেক লোককে হিংসা করে এজন্যে যে, আল্লাহ্ তাকে অনেক সম্পদ দিয়েছেন। সেখান থেকে সে ব্যয় করে। খুব বেশী ব্যয় করে। তখন সেই লোকটি বলেঃ আমার কাছে যদি সম্পদ থাকতো, তবে এ লোক যেমন সৎভাবে ব্যয় করে আমিও তেমন ব্যয় করতাম। সে তাকে হিংসা করে। আরেক ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং কিয়ামুল্লায়ল করে। তার পাশে আরেক জন লোক আছে সে কুরআন জানে না। ঐ ব্যক্তির কিয়ামুল্লায়ল দেখে সে তাকে হিংসা করে। অথবা মহামহিম আল্লাহ যে তাকে কুরআন শিখিয়েছেন তাতে হিংসা করে। বলেঃ আল্লাহ যদি এ লোকের মত আমাকে কুরআন শিখাতেন, তবে সে যেমন ক্বিয়ামুল্লায়ল করে আমিও তেমন করতাম।’’
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترغيب في قيام الليل
(حسن لغيره) وَعَنْ سمرة بن جندب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال كأنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَنَا:"لَيْسَ فِي الدُّنْيَا حَسَدٌ إِلا فِي اثْنَيْنِ: الرَّجُلِ يغبط الرَّجُلَ أَنْ يُعْطِيَهُ اللَّهُ الْمَالَ الْكَثِيرَ، فَيُنْفِقَ مِنْهُ فَيُكْثِرَ النَّفَقَةَ، يَقُولُ الآخَرُ: لَوْ كَانَ لِي ماَلٌ لأَنْفَقْتُ مِثْلَ مَا يُنْفِقُ هَذَا وَأَحْسَنَ، فَهُوَ يَحْسُدُهُ، وَرَجُلٍ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، فَيَقُومُ اللَّيْلَ، وَعِنْدَهُ رَجُلٌ إِلَى جَنْبِهِ لا يَعْلَمُ الْقُرْآنَ , فَهُوَ يَحْسُدُهُ عَلَى قِيَامِهِ، وَعَلَى مَا عَلَّمَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنَ الْقُرْآنَ، فَيَقُولُ: لَوْ عَلَّمَنِيَ اللَّهُ مِثْلَ هَذَا لَقُمْتُ مِثْلَ مَا يَقُومُ. رواه الطبراني في الكبير
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৫. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’দু’টি বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে ঈর্ষা করা বৈধ নেই। এক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। সে তা দ্বারা রাত-দিন নামায পড়ে। আরেক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন। সে উহা থেকে রাত-দিন ব্যয় করে থাকে।’’
(মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেন ৮১৫)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لا حَسَدَ إِلا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٍ آتاه اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ , وَرَجُلٍ آتاه اللَّهُ مَالا فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ. رواه مسلم وغيره
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৭. (সহীহ্) আবু ইয়া’লা আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে উত্তম সনদে পূর্বের হাদীছটির মতই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) ورواه أبو يعلى من حديث أبي سعيد نحوه بإسناد جيد
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৮. (হাসান) ফাযালা বিন উবাইদ ও তামীম দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ’কেনতার’ পরিমাণ ছওয়াব লিখা হবে। আর কেনতার হচ্ছে দুনিয়া এবং তার মধ্যস্থিত সকল বস্ত্ত হতে উত্তম। কিয়ামত দিবসে সুমহান আল্লাহ্ বলবেনঃ প্রত্যেকটি আয়াত পড় এবং একটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠ। এভাবে তার সাথে যত আয়াত আছে তার শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। মহামহিম আল্লাহ্ বান্দাকে বলবেনঃ আঁকড়ে ধর। তখন বান্দা বলবে, হাত দিয়ে হে আমার পালনকর্তা! আপনি অধিক জ্ঞান রাখেন। তিনি বলবেনঃ এই (ডান) হাত দিয়ে চিরস্থায়ীত্ব আঁকড়ে ধর এবং এই (বাম) হাত দিয়ে চিরকালীন সুখ চেপে ধর।’’ (ত্বাবরানী ১২৫৩)
الترغيب في قيام الليل
(حسن) وَعَنْ فضالة بن عبيد و تميم الداري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ ، كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ ، وَالْقِنْطَارُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ، فَإِذَا كَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، يَقُولُ رَبُّكَ عَزَّ وَجَلَّ : اقْرَأْ وَارْقَ لِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةً ، حَتَّى يَنْتَهِيَ إِلَى آخِرِ آيَةٍ مَعَهُ ، يَقُولُ الله عَزَّ وَجَلَّ لِلْعَبْدِ : اقْبِضْ ، فَيَقُولُ الْعَبْدُ بِيَدِهِ يَا رَبُّ أَنْتَ أَعْلَمُ ، يَقُولُ بِهَذِهِ الْخُلْدَ ، وَبِهَذِهِ النَّعِيمَ.رواه الطبراني في الكبير والأوسط
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৩৯. (হাসান সহীহ) আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
’’যে ব্যক্তি দশটি আয়াত পড়ে কিয়ামুল্লাইল করবে তার নাম গাফেল-উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আর যে ব্যক্তি একশতটি আয়াত পড়ে কিয়ামুল্লাইল করবে তার নাম কানেতীনদের[1] অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যে ব্যক্তি এক হাজারটি আয়াত দ্বারা কিয়ামুল্লাইল করবে তার নাম মুকান্তেরীণদের[2] মধ্যে লিখা হবে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মা)
(হাফেয মুনযেরী বলেনঃ তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলকু.. থেকে শেষ পর্যন্ত এক হাজার আয়াত। আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন।)
الترغيب في قيام الليل
(حسن) وَعَنْ عبد الله بن عمرو بن العاص رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْمُقَنْطِرِينَ. رواه أبو داود وابن خزيمة
[2] . যাদেরকে বিপুল পরিমাণ প্রতিদান প্রদান করা হয় তাদেরকে মুকান্তেরীণ বলা হয়।
পরিচ্ছেদঃ ১১) ক্বিয়ামুল্লায়ল (রাতে নফল নামায পড়া) করার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
৬৪০. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ’’যে ব্যক্তি এই ফরয নামায সমূহের সংরক্ষণ করবে, সে গাফেল-উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। যে ব্যক্তি রাতে একশতটি আয়াত পাঠ করবে তার নাম গাফেল-উদাসীনদের মধ্যে লিখা হবে না। অথবা তার নাম কানেতীনদের মধ্যে লিখা হবে।’’
(ইবনে খুযায়মা ২/১৮০, হাকেম ১/৩০৮ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
(সহীহ লি গাইরিহী) হাকেমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ،
’’যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার নাম গাফেল-উদাসীনদের মধ্যে লিখা হবে না।’’ (হাকেম বলেন হাদীছটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ)
الترغيب في قيام الليل
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: مَنْ حَافَظَ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ لَمْ يَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ ، وَمَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ مِئَةَ آيَّةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ ، أَوْ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ. رواه ابن خزيمة
পরিচ্ছেদঃ ১২) তন্দ্রাবস্থায় নামায ও কুরআন পাঠের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৬৪১. (সহীহ্) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’নামায পড়া অবস্থায় তোমাদের কেউ যদি ঝিমুতে থাকে, তখন সে যেন পুরোপুরি ঘুমিয়ে নেয়। কেননা ঝিমানো অবস্থায় নামায পড়তে থাকলে সে হয়তো নিজের জন্য মাগফিরাত চাইতে গিয়ে বদদু’আ করে ফেলবে।’’
(বুখারী ২১২, মুসলিম ৭৮৬, আবু দাউদ ১৩১০, তিরমিযী ৩৫৫, নাসাঈ ১/১০০ ও ইবনে মাজাহ্ ১৩৭০)
(সহীহ্) নাসাঈর বর্ণনারূপ এরকমঃ
إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وهو يصلي فَلْينْصَرِفْ فلعله يدعو على نفسه وهو لا يدري
’’নামায পড়তে পড়তে তোমাদের কোন ব্যক্তির যদি তন্দ্রা এসে যায়, তবে সে যেন ফিরে যায়। কেননা হয়তো সে নিজের উপর বদদু’আ করে বসবে অথচ সে তা বুঝতে পারবে না।’’
الترهيب من صلاة الإنسان وقراءته حال النعاس
(صحيح) عن عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ ، فَإنَّ أحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ ، لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ )) .رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي وابن ماجه والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১২) তন্দ্রাবস্থায় নামায ও কুরআন পাঠের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৬৪২. (সহীহ্) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে ঝিমুতে থাকে, তখন যেন সে ততক্ষণ ঘুমাতে থাকে যতক্ষণ সে বুঝতে পারে যে, সে নামাযের মধ্যে কি পড়ছে।’’
(বুখারী ২১৩ ও নাসাঈ ১/২১৬ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
(সহীহ্) তবে নাসাঈর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَرْقُدْ
’’নামাযের মধ্যে তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ঝিমুতে থাকে, তবে সে যেন ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।’’
الترهيب من صلاة الإنسان وقراءته حال النعاس
(صحيح) وَعَنْ أنس رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَنَمْ حَتَّى يَعْلَمَ مَا يَقْرَأُ. رواه البخاري والنسائي
পরিচ্ছেদঃ ১২) তন্দ্রাবস্থায় নামায ও কুরআন পাঠের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন
৬৪৩. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন কিয়ামুল্লায়ল করে তখন কুরআন পাঠ করতে গিয়ে (তন্দ্রার কারণে) মুখে জড়তা আসে, তখন বুঝতে পারে না যে সে কি পাঠ করছে, তখন সে যেন ঘুমিয়ে যায়।’’
(হাদীছটি ইমাম মুসলিম ৭৮৭, আবু দাউদ ১৩১১, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্ ১৩৭২ বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من صلاة الإنسان وقراءته حال النعاس
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ ، فَاسْتَعْجَمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ ، فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ ، فَلْيَضْطَجِعْ.)"رواه مسلم وأبو داود والترمذي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১৩) রাতে কিছু সময় ক্বিয়ামুল্লাইল না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৬৪৪. (সহীহ্) ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত ঘুমিয়ে সকাল করেছে।[1] তিনি বললেন, এটা এমন লোক শয়তান যার দু’কানে পেশাব করেছে। অথবা বলেছেন, তার কানে পেশাব করেছে।’’
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১১৪৪, মুসলিম ৭৭৪, নাসাঈ ৩/২০৪ ও ইবনে মাজাহ্ ১৩৩০, আহমাদ ১/৪২৭)
ইবনে মাজাহ বলেনঃ ’’তার দু’কানে’’। তিনি লিবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি ’অথবা’ উল্লেখ করেননি।
الترهيب من نوم الإنسان إلى الصباح وترك قيام شيء من الليل
(صحيح) عن ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: ذكر عند النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَهُ حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ أَوْ قَالَ فِي أُذُنِهِ.رواه البخاري ومسلم والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১৩) রাতে কিছু সময় ক্বিয়ামুল্লাইল না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৬৪৫. (সহীহ লি গাইরিহী) পূর্বের হাদীছটি ইমাম আহমাদ সহীহ সনদে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ ’তার এক কানে’ এখানে তিনি একবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। ’অথবা’ উল্লেখ করেননি। তিনি হাদীছের শেষাংশে উল্লেখ করেছেনঃ
’’আল্লাহর শপথ শয়তানের পেশাব খুবই ভারী।’’
الترهيب من نوم الإنسان إلى الصباح وترك قيام شيء من الليل
(صحيح لغيره) ورواه أحمد بإسناد صحيح عن أبي هريرة وقالفي أذنه على الإفراد من غير شك وزاد في آخرهقال الحسن إن بوله والله ثقيل
পরিচ্ছেদঃ ১৩) রাতে কিছু সময় ক্বিয়ামুল্লাইল না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৬৪৬. (সহীহ্) আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাকে রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’হে আবদুল্লাহ! তুমি উমুক লোকের মত হয়ো না, যে লোক রাতে উঠে নামায পড়তো, কিন্তু এখন তা ছেড়ে দিয়েছে।’’
(বুখারী ১১৫২, মুসলিম ১১৫৯ ও নাসাঈ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
الترهيب من نوم الإنسان إلى الصباح وترك قيام شيء من الليل
(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمرو بن العاص رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قال قال لي رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا عَبْدَ اللهِ لاَ تَكُنْ مِثْلَ فُلاَنٍ، كَانَ يَقُومُ اللَّيْلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ.رواه البخاري ومسلم والنسائي وغيرهم
পরিচ্ছেদঃ ১৩) রাতে কিছু সময় ক্বিয়ামুল্লাইল না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৬৪৭. (সহীহ্) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের কোন ব্যক্তি রাত্রে নিদ্রা গেলে শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি গিরা দেয়। প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় ফুঁ দিয়ে বলে, এখনো দীর্ঘ রাত অবশিষ্ট। সুতরাং ঘুমিয়ে থাক। সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়, ওযু করলে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। আর নামায আদায় করলে সবগুলো গিরা খুলে যায়। তখন প্রফুল্ল ও পবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়, অন্যথা অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার ভোর হয়।’’
(ইমাম মালেক ৬০৫, বুখারী ১১৪২, মুসলিম, আবু দাউদ ১৩০৬, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্ ১৩২৯ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
(সহীহ্) ইবনে মাজাহর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
فَيُصْبِحُ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ ، قَدْ أَصَابَ خَيْرًا ، وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ أَصْبَحَ كَسِلانَ خَبِيثَ النَّفْسِ ، لَمْ يُصِبْ خَيْرًا.)".
’’প্রফুল্ল ও পবিত্র মন নিয়ে তার সকাল হয় এবং প্রভূত কল্যাণ সে লাভ করে। আর এরূপ না করলে অলস ও অপবিত্র মন নিয়ে তার সকাল হয় কোন কল্যাণই সে লাভ করতে পারে না।’’
الترهيب من نوم الإنسان إلى الصباح وترك قيام شيء من الليل
(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ؛ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ، عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِن اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ الله انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ .رواه مالك والبخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه
পরিচ্ছেদঃ ১৩) রাতে কিছু সময় ক্বিয়ামুল্লাইল না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৬৪৮. (সহীহ্) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ’’যে কোন পুরুষ বা নারী রাত্রে যখন নিদ্রা যায় তখন তার মাথায় রশিতে গিরা বেঁধে দেয়া হয়। যখন সে ওযু করে ও নামাযে দন্ডায়মান হয়, তখন প্রফুল্ল অবস্থায় সকাল করে ও কল্যাণ লাভ করে এবং সবগুলো গিরা খুলে যায়। আর যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ না করে, তখন গিরা থাকা অবস্থায় তার ভোর হয় এবং ভারী ও অলস থাকে। আর কোন কল্যাণ সে লাভ করতে পারে না।’’
(ইবনে খুযায়মা ও ইবনে হিব্বান ২৫৫৬, এ বাক্যগুলো ইবনে হিব্বানের)
الترهيب من نوم الإنسان إلى الصباح وترك قيام شيء من الليل
(صحيح) وَعَنْه (يعني جابرا) رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أيضا أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ما من مسلم ذكر ولا أنثى ينام إلا وعليه جرير معقود فإن هو توضأ وقام إلى الصلاة أصبح نشيطا قد أصاب خيرا وقد انحلت عقده كلها وإن استيقظ ولم يذكر الله أصبح وعقده عليه وأصبح ثقيلا كَسِلانَ لَمْ يُصِبْ خَيْرًا. رواه ابن خزيمة وابن حبان
পরিচ্ছেদঃ ১৪) সকাল ও সন্ধ্যায় যে সকল আয়াত ও যিকির পাঠ করতে হয় তার প্রতি উৎসাহ দান
৬৪৯. (হাসান সহীহ) মুআয বিন আবদুল্লাহ বিন খুবাইব থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ বিন খুবাইব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা বৃষ্টিযুক্ত কঠিন অন্ধকার এক রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে খোঁজ করার জন্য বের হলাম। যাতে তিনি আমাদেরকে নামায পড়ান। তাঁকে আমরা পেয়ে গেলাম। তিনি বললেনঃ ’’তুমি বল’’ আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেনঃ ’’তুমি বল’’ কিন্তু আমি কিছুই বললাম না। তিনি পুনরায় বললেনঃ ’’তুমি বল’’ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি বলব? তিনি বললেনঃ ’’কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআববেযাতাইন (নাস-ফালাক)।’’ যখন সন্ধ্যা হবে এবং যখন সকাল হবে তখন তিনবার করে পাঠ করবে। তবে এগুলো সকল বস্ত্তর (অনিষ্ট) থেকে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।’’
(আবু দাউদ ৫০৮২, তিরমিযী ৩৫৭৫, নাসাঈ ৫৪২৮ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের বাক্য আবু দাউদ থেকে চয়ন করা হয়েছে। নাসাঈ হাদীছটি মুসনাদ ও মুরসাল উভয়ভাবে বর্ণনা করেন।)
الترغيب في آيات وأذكار يقولها إذا أصبح وإذا أمسى
(حسن صحيح) عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْنَا فِي لَيْلَةِ مَطَرٍ وَظُلْمَةٍ شَدِيدَةٍ نَطْلُبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُصَلِّيَ بِنَا فَأَدْرَكْنَاهُ فَقَالَ " قُلْ " فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ قُلْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ قُلْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَقُولُ قَالَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُصْبِحُ وَحِينَ تُمْسِي ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ. رواه أبو داود واللفظ له والترمذي وقال حسن صحيح غريب ورواه النسائي مسندا ومرسلا