পরিচ্ছেদঃ ১. রামায়ান মাসের ফযীলত
৬৮২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাইতান ও দুষ্ট জিনদেরকে রামাযান মাসের প্রথম রাতেই শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং এর দরজাও তখন আর খোলা হয় না, খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজাগুলো এবং এর একটি দরজাও তখন আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণ অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর বহু লোককে আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ হতে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। — সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৬৪২)
আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, ইবনু মাসউদ ও সালমান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ. وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَيُنَادِي مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَسَلْمَانَ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "On the first night of the month of Ramadan, the Shayatin are shackled, the jinns are restrained, the gates of the Fires are shut such that no gate among them would be opened. The gates of Paradise are opened such that no gate among them would be closed, and a caller calls: 'O seeker of the good; come near!' and 'O seeker of evil; stop! For there are those whom Allah frees from the Fire.' And that is every night."
পরিচ্ছেদঃ ১. রামায়ান মাসের ফযীলত
৬৮৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রামাযান মাসের রোযা পালন করলো এবং (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) রাতে জেগে রইলো, তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক লাইলাতুল কাদূরের (ইবাদাতের জন্য) রাতে জেগে থাকে, তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
– সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৩২৬),বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা আবু বকর ইবনু আবূ য়াসের সূত্রে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব বলেছেন। আমরা আমাশ-আবু সালিহ-এর সূত্রে বর্ণিত আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে শুধুমাত্ৰ আবূ বকর ইবনু আইয়াসের মাধ্যমেই জেনেছি। আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে তার বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত রামাযান মাসের প্রথম রাতে...... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। মুহাম্মাদ বলেন, আমার নিকটে এই সনদটি আবু বাকর ইবনু আইয়াসের তুলনায় বেশি সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَالْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي رَوَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ .
قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَوْلَهُ " إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهَذَا أَصَحُّ عِنْدِي مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "Whoever fasts Ramadan and stands (in the night prayer) for it out of faith and seeking a reward (from Allah), he will be forgiven what preceded of his sins. Whoever stands (in the night prayer) on the Night of Al-Qadr out of faith and seeking a reward (from Allah), he will be forgiven what preceded of his sins."
পরিচ্ছেদঃ ২. রামাযান মাস আসার পূর্বক্ষণে রোযা পালন করো না
৬৮৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাস আসার একদিন কিংবা দুইদিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল) রোযা পালন করো না। হ্যাঁ, তবে তোমাদের কারো পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী রোযা পালনের দিন পড়ে গেলে সে ঐ দিনের রোযা পালন করতে পারবে। তোমরা রোযা রাখ চাঁদ দেখে এবং রোযা শেষও কর চাঁদ দেখেই। (২৯ তারিখে) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন পুরো কর চাঁদ দেখতে না পেলে), এরপর ইফতার কর (রোযা শেষ কর)। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫০ ও ১৬৫৫), বুখারী, মুসলিম৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন। তাদের মতে রামাযান মাস শুরুর অব্যবহিত নির্ধারিত দিনে রোযা আদায়ের পূর্ব-অভ্যাস কারো থাকলে এবং রামাযানের আগের দিন সেই দিন হলে তবে এদিনে তার রোযা পালনে কোন সমস্যা নেই।
باب مَا جَاءَ لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِصَوْمٍ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِيَوْمٍ وَلاَ بِيَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ ثُمَّ أَفْطِرُوا " . رَوَى مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَتَعَجَّلَ الرَّجُلُ بِصِيَامٍ قَبْلَ دُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ لِمَعْنَى رَمَضَانَ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يَصُومُ صَوْمًا فَوَافَقَ صِيَامُهُ ذَلِكَ فَلاَ بَأْسَ بِهِ عِنْدَهُمْ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Do not precede the month with a day nor with two days, unless that fast falls on a day that one of you would have (normally) fasted. Fast with its sighting and break fast with its sighting, and if it is cloudy, then count for thirty days, and then break (the fast)."
পরিচ্ছেদঃ ২. রামাযান মাস আসার পূর্বক্ষণে রোযা পালন করো না
৬৮৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রামাযান মাস শুরুর এক দিন বা দু’দিন আগে রোযা পালন করো না। হ্যাঁ, তবে যে লোক অভ্যাসমত রোযা পালন করে সে লোক ঐ দিনে রোযা পালন করতে পারে। - সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৬৫০), বুখারী, মুসলিম।
এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِصَوْمٍ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِصِيَامٍ قَبْلَهُ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "Do no precede the month of Ramadan by fasting a day or two before it, unless it is the case of a man who normally performs some fast, then let him fast it."
পরিচ্ছেদঃ ৩. সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন করা মাকরূহ
৬৮৬। সিলা ইবনু যুফার (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর নিকটে আমরা উপস্থিত ছিলাম। একটি ভুনা বকরী (খাবারের উদ্দেশ্যে) নিয়ে আসা হলে তিনি বললেন, তোমরা সকলেই খাও। কিন্তু কোন এক লোক দূরে সরে গিয়ে বলল, আমি রোযাদার। আম্মার (রাঃ) বললেন, সন্দেহযুক্ত দিনে যে লোক রোযা পালন করে সে লোক আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফারমানী করে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৪৫)
আবু হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে বেশিরভাগই আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর এরকমই অভিমত। সন্দেহের দিনে রোযা পালন করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। উক্ত দিনে কেউ রোযা পালন করলে আর তা রামাযান মাস হলে, তথাপিও বেশিরভাগ আলিমের মত অনুযায়ী সে লোককে এই দিনের স্থলে একটি কাযা রোযা পালন করতে হবে।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا . فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يَشُكُّ فِيهِ النَّاسُ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمَّارٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ كَرِهُوا أَنْ يَصُومَ الرَّجُلُ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ وَرَأَى أَكْثَرُهُمْ إِنْ صَامَهُ فَكَانَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَنْ يَقْضِيَ يَوْمًا مَكَانَهُ .
Silah bin Zufar said:
"We were with Ammar bin Yasir when a roasted sheep was brought and he said: 'Eat.' Someone among the people said: 'I am fasting.' So Ammar said: 'Whoever fasts on a day in which there is doubt, then he has disobeyed Abul-Qasim (pbuh)."
পরিচ্ছেদঃ ৪. রামাযান মাস নির্ধারণের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদের গণনা
৬৮৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রামাযানের মাস নির্ধারণের জন্য শাবানের চাদেরও হিসাব রাখ। — হাসান, সহীহা (৫৬৫)
আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এ হইনি। সহীহ রিওয়ায়াত হলঃ মুহাম্মাদ ইবনু আমর-আবু সালামা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসকে তোমরা এক দিন বা দুদিন এগিয়ে সামনে নিয়ে আসবে না। ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর হতে তিনি আবু সালামা হতে, তিনি আবু হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুহাম্মাদ ইবনু আমর আল-লাইসীর হাদীসের মতই হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي إِحْصَاءِ هِلاَلِ شَعْبَانَ لِرَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ حَجَّاجٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْصُوا هِلاَلَ شَعْبَانَ لِرَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ . وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ " . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو اللَّيْثِيِّ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "Count the (the appearances of) the crescent of Sha'ban for Ramadan."
পরিচ্ছেদঃ ৫. চাঁদ দেখে রোযা আরম্ভ করা এবং চাঁদ দেখে রোযা শেষ করা
৬৮৮। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রামাযানের পূর্বে রোযা রেখ না। তোমরা রামাযানের চাঁদ দেখার পর রোযা রাখা আরম্ভ কর এবং চাঁদ দেখার পর তা ভাঙ্গ। মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে তবে ত্রিশ দিন পূর্ণকর। — সহীহ আবু দাউদ (২০১৬)
আবু হুরাইরা, আবু বাকরা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। তার নিকট হতে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الصَّوْمَ لِرُؤْيَةِ الْهِلاَلِ وَالإِفْطَارَ لَهُ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلاَثِينَ يَوْمًا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .
Ibn Abbas narrated that :
the Messenger of Allah said: "Do not fast before Ramadan. Fast with its sighting, and break fast with its sighting, and if it is obscured from you, then complete thirty days."
পরিচ্ছেদঃ ৬. উনত্রিশ দিনেও একমাস পূর্ণ হয়
৬৮৯। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা যতবার ত্রিশ দিন রোযা পালন করেছি, এর চেয়ে বেশী ঊনত্রিশ দিন রোযা পালন করেছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫৮)
উমার, আবু হুরাইরা, আইশা, সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস, ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার, আনাস, জা-বির, উম্মু সালামা ও আবু বাকরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উনত্রিশ দিনেও মাস পূর্ণ হয়।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنِي عِيسَى بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ مَا صُمْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تِسْعًا وَعِشْرِينَ أَكْثَرُ مِمَّا صُمْنَا ثَلاَثِينَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَجَابِرٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ " .
Ibn Mas'ud said:
"What I fasted with the Prophet hat was twenty-nine (days), was more than what we fasted that was thirty."
পরিচ্ছেদঃ ৬. উনত্রিশ দিনেও একমাস পূর্ণ হয়
৬৯০। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মাসের জন্য তার স্ত্রীদের সাথে ঈলা (শপথ) করেন। ঘরের মাচানের একটি কক্ষে তিনি ২৯ দিন থাকেন। লোকেরা বলল, হে রাসূলুল্লাহ! আপনি তো এক মাসের জন্য ঈলা (শপথ) করেছিলেন? তিনি বললেনঃ এই মাসটি উনত্রিশ দিনের। —সহীহ, বুখারী।
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ قَالَ آلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نِسَائِهِ شَهْرًا فَأَقَامَ فِي مَشْرُبَةٍ تِسْعًا وَعِشْرِينَ يَوْمًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ آلَيْتَ شَهْرًا فَقَالَ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Anas narrated:
"The Messenger of Allah vowed to stay away from his wives for a month, so he stayed in a loft for twenty-nine days. They said: 'O Messenger of Allah, your vow was for a month,' so he said: 'The month is twenty-nine (days).'"
পরিচ্ছেদঃ ৭. সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রোযা রাখা
৬৯১। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, কোন এক বিদুঈন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, আমি (রামাযানের) নতুন চাঁদ দেখেছি। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই? তুমি কি আরো সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও তারা যেন আগামীকাল হতে রোযা রাখে।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬৫২)
অন্য একটি সূত্রেও একই রকম হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সনদে মতের অমিল আছে।
সুফিয়ান সাওরী প্রমুখ এটিকে সিমাক ইবনু হারব, ইকরিমার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীস অনুযায়ী আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, রোযার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রোযা রাখা যাবে। ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও কূফাবাসীদের এই মত। ইসহাক বলেন, দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য ব্যতীত রোযা রাখা যাবে না। তবে রোযা ভেঙ্গে ফেলার ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল নেই যে, এই ব্যাপারে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য আবশ্যিক।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ بِالشَّهَادَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلاَلَ . قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا " .
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، نَحْوَهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ اخْتِلاَفٌ . وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَغَيْرُهُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَأَكْثَرُ أَصْحَابِ سِمَاكٍ رَوَوْا عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا تُقْبَلُ شَهَادَةُ رَجُلٍ وَاحِدٍ فِي الصِّيَامِ . وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ . قَالَ إِسْحَاقُ لاَ يُصَامُ إِلاَّ بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ . وَلَمْ يَخْتَلِفْ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الإِفْطَارِ أَنَّهُ لاَ يُقْبَلُ فِيهِ إِلاَّ شَهَادَةُ رَجُلَيْنِ .
Ibn Abbas narrated:
"A Bedouin came to the Prophet and said: 'I have seen the crescent.' So he said: 'Do you testify that none has the right to be worshipped but Allah? Do you testify that Muhammad is the Messenger of Allah?' He said: 'Yes.' So he said: 'O Bilal! Announce to the people that they should fast tomorrow.'"
পরিচ্ছেদঃ ৮. ঈদের দুই মাস কম হয় না
৬৯২। আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ঈদের মাস রামাযান ও যুলহিজ্জা (একসঙ্গে) কম হয় না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫৯), বুখারী, মুসলিম
আবু বাকরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু আবু বাকরার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। ইমাম আহমাদ এ হাদীসের তাৎপর্য প্রসঙ্গে বলেনঃ “একসাথে দুই ঈদের মাস কম হয় না। অর্থাৎ একই বৎসর একটি মাস কম হয়ে গেলে (২৯ দিন হলে) অন্যটি পূর্ণ হবে" (৩০ দিন হবে)। ইসহাক বলেন, কম হবে না অর্থ হচ্ছে উনত্রিশ দিনে মাস হলেও পূর্ণ মাস হিসাবে এটি গণ্য হবে, তাতে কোনরকম অপূর্ণতা নেই। ইসহাক (রাহঃ)-এর মতানুসারে এই দুই মাস একই বছরে কম (২৯ দিনে) হতে পারে।
باب مَا جَاءَ شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي بَكْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . قَالَ أَحْمَدُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ " . يَقُولُ لاَ يَنْقُصَانِ مَعًا فِي سَنَةٍ وَاحِدَةٍ شَهْرُ رَمَضَانَ وَذُو الْحِجَّةِ إِنْ نَقَصَ أَحَدُهُمَا تَمَّ الآخَرُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ مَعْنَاهُ " لاَ يَنْقُصَانِ " يَقُولُ وَإِنْ كَانَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ فَهُوَ تَمَامٌ غَيْرُ نُقْصَانٍ . وَعَلَى مَذْهَبِ إِسْحَاقَ يَكُونُ يَنْقُصُ الشَّهْرَانِ مَعًا فِي سَنَةٍ وَاحِدَةٍ .
Abdur-Rahman bin Abi Bakrah narrated from his father that :
the Messenger of Allah said: "The two months of Eid will not both be deficient: Ramadn and Dhul-Hijjah."
পরিচ্ছেদঃ ৯. প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চাঁদ দেখাই ধর্তব্য হবে
৬৯৩। কুরাইব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুআবিয়া (রাঃ)-এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে উম্মুল ফাযল বিনতুল হারিস (রাঃ) তাকে শামে (সিরিয়ায়) প্রেরণ করেন। কুরাইব (রাহঃ) বলেন, সিরিয়ায় পৌছার পর আমি উম্মুল ফাযল (রাঃ)-এর কাজটি শেষ করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকা অবস্থায়ই রামাযান মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়া গেল। আমরা জুমুআর রাতে (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) চাঁদ দেখতে পেলাম। রামাযানের শেষের দিকে আমি মদীনায় ফিরে আসলাম।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে (কুশলাদি) জিজ্ঞাসা করার পর চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বললেন, কোন দিন তোমরা চাঁদ দেখতে পেয়েছিলে? আমি বললাম, জুমুআর রাতে চাঁদ দেখতে পেয়েছি। তিনি বললেন, জুমুআর রাতে তুমি কি স্বয়ং চাঁদ দেখতে পেয়েছ? আমি বললাম, লোকেরা দেখতে পেয়েছে এবং তারা রোযাও পালন করেছে, মুআবিয়া (রাঃ)-ও রোযা পালন করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, কিন্তু আমরা শনিবার (শুক্রবার দিবাগত) রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব ত্রিশ দিন পুরো না হওয়া পর্যন্ত অথবা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত আমরা রোযা পালন করতে থাকব। আমি বললাম, মুআবিয়া (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও তার রোযা থাকা আপনার জন্য কি যথেষ্ট নয়? তিনি বলেন, না। আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১০২১), মুসলিম
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চাদ দেখাই ধর্তব্য হবে।
باب مَا جَاءَ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتُهُمْ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ . قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ هِلاَلُ رَمَضَانَ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْنَا الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ . فَقَالَ أَأَنْتَ رَأَيْتَهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ رَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . قَالَ لَكِنْ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ يَوْمًا أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ قَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتَهُمْ .
Muhammad bin Abi Harmalah narrated:
"Kuraib informed me that Umm Al-Fadl bin Al-Harith sent him to Mu'awiyah in Ash-Sham. He said: 'So I arrived in Ash-Sham and finished her errand, and I saw the crescent of Ramadan while I was in Ash-Sham. We saw the crescent on the night of Friday. Then I arrived in Al-Madinah at the end of the month. Ibn Abbas was questioning me, then he mentioned the crescent and he said: "When did you see the crescent?" I said: "We saw it n the night of Friday." He said: "Did you see it on the night of Friday?" I said: "The people saw it, so they fasted, and Mu'awiyah fasted." He said: "But we saw it on the night of Saturday, so we will not stop fasting until we complete thirty days or we see it." So I said: "Is not the sighting and fasting of Mu'awiyah enough for you?" He said: "This is not how the Messenger of Allah ordered us."
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে সব খাদ্য সামগ্ৰী দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব
৬৯৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (ইফতারের সময়) খেজুর পায় সে যেন তা দিয়ে ইফতার করে। আর যে ব্যক্তি তা না পায় সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। যেহেতু পানি পবিত্র বা পবিত্রকারী।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬৯৯)
এই অনুচ্ছেদে সালমান ইবনু আমির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি শুবার সূত্রে সাঈদ ইবনু আমির ছাড়া অন্য কেউ এরকম বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীসটি মাহফুয (নির্ভরযোগ্য) নয়। আবদুল আযীয ইবনু সুহাইব-আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটির কোন ভিত্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই। শুবার শাগরিদগণ এই হাদীস শুবা হতে তিনি আসিম আল-আহওয়াল হতে তিনি হাফসা বিনতি সীরীন হতে তিনি রাবাব হতে তিনি সালমান ইবনু আমির হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনু আমিরের রিওয়াতের তুলনায় এটি বেশী সহীহ্। তারপর তারা শুবা, আসিম, হাফসা বিনতি সীরন, সালমান ইবনু আমিরের সনদেও এটি বর্ণনা করেছেন। এতে শুবা রাবাব-এর নাম উল্লেখ করেননি। সুফিয়ান সাওরী, ইবনু উআইনা প্রমুখ রাবী আসিম আল-আহওয়াল, হাফসা বিনতি সীরন, রাবাব, সালমান ইবনু আমির হতে এই বর্ণনাটিই সহীহ। রাবাব হলেন উম্মুর রায়িহ।
باب مَا جَاءَ مَا يُسْتَحَبُّ عَلَيْهِ الإِفْطَارُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدَ تَمْرًا فَلْيُفْطِرْ عَلَيْهِ وَمَنْ لاَ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْ شُعْبَةَ مِثْلَ هَذَا غَيْرَ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ وَهُوَ حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَلاَ نَعْلَمُ لَهُ أَصْلاً مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ . وَقَدْ رَوَى أَصْحَابُ شُعْبَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ . وَهَكَذَا رَوَوْا عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ سَلْمَانَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ شُعْبَةُ عَنِ الرَّبَابِ . وَالصَّحِيحُ مَا رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . وَابْنُ عَوْنٍ يَقُولُ عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . وَالرَّبَابُ هِيَ أُمُّ الرَّائِحِ .
Anas bin Malik narrated that :
the Messenger of Allah said: "Whoever has dried dates, then let him break the fast with that, and whoever does not, then let him break the fast with water, for indeed water is purifying."
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে সব খাদ্য সামগ্ৰী দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব
৬৯৫। সালমান ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে তখন সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। ইবনু উআইনার বর্ণনায় আরো আছেঃ এতে বারকাত রয়েছে। কেউ যদি তা না পায় তবে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা পানি পবিত্র বা পবিত্রকারী।
এ বর্ণনাটিও যঈফ
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
باب مَا جَاءَ مَا يُسْتَحَبُّ عَلَيْهِ الإِفْطَارُ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، . وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنِ الرَّبَابِ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ " . زَادَ ابْنُ عُيَيْنَةَ " فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Salman bin Amir Ad-Dabbi narrated that :
the Prophet said: "When one of you breaks his fast, then let him do so with dried dates. And whoever does not find dates, then water, for it is purifying."
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে সব খাদ্য সামগ্ৰী দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব
৬৯৬। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিবের) নামায আদায়ের পূর্বেই কয়েকটা তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। তিনি তাজা খেজুর না পেলে কয়েকটা শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন আর শুকনো খেজুরও না পেলে তবে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। — সহীহ, ইরওয়া (৯২২) সহীহ আবু দাউদ (২৩৫৬)
এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। অপর বর্ণনায় আছেঃ শীতের সময় শুকনো খেজুর দ্বারা এবং গ্রীষ্মের সময় পানি দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করতেন।
باب مَا جَاءَ مَا يُسْتَحَبُّ عَلَيْهِ الإِفْطَارُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى رُطَبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيْرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرُوِيَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُفْطِرُ فِي الشِّتَاءِ عَلَى تَمَرَاتٍ وَفِي الصَّيْفِ عَلَى الْمَاءِ .
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। মাগরিবের নামাজ পড়ার পূর্বে বা আগে কতিপয় সরস টাটকা খেজুর দ্বারা রোজা ইফতার করা উত্তম। যদি সরস টাটকা খেজুর না থাকে, তাহলে শুকনো খেজুর দ্বারা রোজা ইফতার করা উত্তম। যদি শুকনো খেজুরও না থাকে, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করে রোজা ইফতার করা ভালো। যদি উল্লিখিত বস্তুর মধ্যে থেকে কিছুই না থাকে, তাহলে আল্লাহর প্রদত্ত যে কোনো হালাল বা বৈধ খাদ্য বা পানীয় বস্তুর দ্বারা রোজা ইফতার করে নেওয়াই ভালো।
২। প্রকৃত ইসলাম ধর্মে রোজা হলো: মহান আল্লাহর এমন একটি ইবাদত বা উপাসনা, যেই ইবাদত বা উপাসনাতে ফজরের আভা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী সমস্ত বস্তু বর্জন করে নিরম্ব উপবাস থাকা।
Anas bin Malik narrated:
"The Messenger of Allah would break the fast with fresh dates before performing Salat. If there were no fresh dates then (he would break the fast) with dried dates, and if there were no dried dates then he would take a few sips of water."
পরিচ্ছেদঃ ১১. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সম্মিলিতভাবে পালন করা
৬৯৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেদিন তোমরা সবাই রোযা পালন কর সে দিন হল রোযা। যেদিন তোমরা সবাই রোযা ভঙ্গ কর সে দিন হল ঈদুল ফিতর। আর যেদিন তোমরা সবাই কুরবানী কর সে দিন হল ঈদুল আযহা। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬০)
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীসটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোন কোন আলিম বলেন, এক সাথে এবং অধিক সংখ্যকের সাথে রোযা ও ঈদ পালন করতে হবে।
باب مَا جَاءَ الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَفَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا أَنَّ الصَّوْمَ وَالْفِطْرَ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَعُظْمِ النَّاسِ .
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে কোনো ঈমানদার মুসলিম ব্যক্তি যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণের সাথেই রোজা পালন করতে শুরু করবে, এবং তাদের সাথেই ঈদুল ফেতর পালন করার জন্য রোজা রাখা ভঙ্গ করবে। তদ্রূপ তাদের সাথেই ঈদুল আদহার কুরবানি জবাই করবে। এবং তাদের সাথেই ঈদ পালন করবে। আর কোনো ঈমানদার মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা জায়েজ নয় যে, সে যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণকে বাদ দিয়ে নিজে একাই একতরফাভাবে রোজা পালন করবে অথবা ঈদ পালন করবে কিংবা ঈদুল আদহার কুরবানি জবাই করবে। কেননা যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য এবং তাদের মধ্যে থেকে অনৈক্য, পার্থক্য এবং দ্বন্দ্ব দূরে রাখাও একটি অনিবার্য বিষয়।
২। এই হাদীসটির দাবি অনুযায়ী এই বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত ইসলামের বিধিবিধানের একটি লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন রক্ষা করা, মুসলিমগণকে একত্রিত করে রাখা, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখা। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে মুসলিমগণকে ইবাদত উপাসনা, রোজা, কুরবানি এবং ঈদের নামাজের বিষয়ে একত্রিত করা ও তাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো মূল্য নেই। যদিও প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তিগত মতামতগুলি বিশেষভাবে কোনো দিক দিয়ে সত্য ও সঠিক বলে মনে হয়।
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "The fast is the day the people fast, the breaking of the fast is the day the people break their fast, and the sacrifice is the day the people sacrifice."
পরিচ্ছেদঃ ১২. যখন রাত আসে এবং দিন চলে যায় তখন রোযাদার ইফতার করবে
৬৯৮। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রাত আসে, দিন চলে যায় এবং সূর্য অস্তমিত হয় তখন তুমি ইফতার কর। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩৬), ইরওয়া (৯১৬),বুখারী, মুসলিম
ইবনু আবূ আওফা ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرْتَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Umar bin Al-Khattab narrated that:
The Messenger of Allah said: "When the night advances and the day retreats, and the sun is hidden, then the fast is to be broken."
পরিচ্ছেদঃ ১৩. বিলম্ব না করে ইফতার করা
৬৯৯। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত দিন পর্যন্ত লোকেরা বিলম্ব না করে ইফতার করবে তত দিন পর্যন্ত তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। — সহীহ, ইরওয়া (৯১৭)
আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, আইশা ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবীগণ ও অপরাপর আলিম মুস্তাহাব বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এরকমই অভিমত রয়েছে।
باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، ح قَالَ وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قِرَاءَةً عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ اسْتَحَبُّوا تَعْجِيلَ الْفِطْرِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Sahl bin Sa'd narrated that :
the Messenger of Allah said: "The people will remain upon goodness as long as they hasten to break the fast."
পরিচ্ছেদঃ ১৩. বিলম্ব না করে ইফতার করা
৭০০। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমার বান্দাদের মাঝে যারা তাড়াতাড়ি ইফতার করে তারাই আমার বেশী প্রিয়।
যঈফ, মিশকাত (১৯৮৯), তা’লীকুর রাগীব (২/৯৫), তা’লীকুল জিয়াদ
باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ عِبَادِي إِلَىَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا " .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "Allah, Mighty and Sublime is He, said: 'Those of My worshippers who are most beloved to me are the quickest to break their fast.'"
পরিচ্ছেদঃ ১৩. বিলম্ব না করে ইফতার করা
৭০১। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ... আওযাঈ হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব। (য’ঈফঃ দেখুন পূর্বের হাদীস)
باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَأَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
See Previous Hadith
পরিচ্ছেদঃ ১৩. বিলম্ব না করে ইফতার করা
৭০২। আবু আতিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আইশা (রাঃ)-এর নিকটে গিয়ে বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুজন সাহাবীর মধ্যে একজন ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন বিলম্ব না করে আর অন্যজন ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন বিলম্ব করে। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং নামায আদায় করেন? আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)। তিনি বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। অপর সাহাবী ছিলেন আবু মূসা (রাঃ)। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩৯), মুসলিম
এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবু আতিয়্যার নাম মালিক, পিতা আবু আমির হামদানী, মতান্তরে ইবনু আমির এবং এটিই অধিকতর সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ . قَالَتْ أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . قَالَتْ هَكَذَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَالآخَرُ أَبُو مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو عَطِيَّةَ اسْمُهُ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرٍ الْهَمْدَانِيُّ وَيُقَالُ مَالِكُ بْنُ عَامِرٍ الْهَمْدَانِيُّ وَابْنُ عَامِرٍ أَصَحُّ .
Abu Atiyyah said:
"Masruq and I entered upon Aishah and we said: 'O Mother of the Believers! There are two men from the Companions of Muhammad, one of them hastens to break the fasts and he hastens to perform Salat. The other delays breaking the fast and he delays the Salat.' She said: 'Which of them hastens to break the fast and hastens to perform the Salat?' We said that it was Abdullah bin Mas'ud. She said: 'This is how the Messenger of Allah did it.' And the other was Abu Musa."
পরিচ্ছেদঃ ১৪. বিলম্ব করে সাহরী খাওয়া
৭০৩। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরী খাওয়া শেষ করেই আমরা নামায আদায় করতে দাঁড়ালাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কি পরিমাণ ব্যবধান ছিল এ দুটির মাঝে তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াতের সমপরিমাণ (তিলাওয়াতের সময়)।
- সহীহ বুখারী, মুসলিম
باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ قُلْتُ كَمْ كَانَ قَدْرُ ذَلِكَ قَالَ قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً .
Anas (bin Malik) narrated that :
Zaid bin Thabit said: "We ate Sahar with the Messenger of Allah, then we stood for the Salat." I (Anas) said: "How long was that?" He said: "About the lengthy of fifty Ayahs."
পরিচ্ছেদঃ ১৪. বিলম্ব করে সাহরী খাওয়া
৭০৪। উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি হিশাম হতে। তাতে আছে “পঞ্চাশ আয়াত পাঠের সমপরিমাণ"। হুযাইফা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এরকম মতই ইমাম, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। বিলম্ব করে সাহরী খাওয়াকে তারা মুস্তাহাব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، بِنَحْوِهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قَدْرُ قِرَاءَةِ خَمْسِينَ آيَةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حُذَيْفَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ اسْتَحَبُّوا تَأْخِيرَ السُّحُورِ .
Anas (bin Malik) narrated:
(Another chain) except that he said: "About the length for reciting fifty Ayahs."
পরিচ্ছেদঃ ১৫. ফজরের (সুবহি সাদিকের) বর্ণনা
৭০৫। তালক ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (ভোররাতে) পানাহার করে যাও। তোমাদের যেন উর্ধ্বগামী আলোকরশ্মি খাবার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা পানাহার করে যেতে পার লাল দীপ্তিটুকু প্রশস্তভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত। – হাসান সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩৩)
আদী ইবনু হাতিম, আবু যার ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা তালুক ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে এই সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক আলিমগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, রোযা পালনকারীর জন্য ফজরের লালচে আলো প্রস্থে বিস্তৃত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার অবৈধ নয়। এটাই বেশিরভাগ আলিমের মত।
باب مَا جَاءَ فِي بَيَانِ الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، حَدَّثَنِي أَبِي طَلْقُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُوا وَاشْرَبُوا وَلاَ يَهِيدَنَّكُمُ السَّاطِعُ الْمُصْعِدُ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَعْتَرِضَ لَكُمُ الأَحْمَرُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَسَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ لاَ يَحْرُمُ عَلَى الصَّائِمِ الأَكْلُ وَالشُّرْبُ حَتَّى يَكُونَ الْفَجْرُ الأَحْمَرُ الْمُعْتَرِضُ . وَبِهِ يَقُولُ عَامَّةُ أَهْلِ الْعِلْمِ .
Talq bin Ali narrated that :
The Messenger of Allah said: "Eat and drink, and do not be disturbed by the rising glow, eat and drink until the redness appears to you on the horizon."
পরিচ্ছেদঃ ১৫. ফজরের (সুবহি সাদিকের) বর্ণনা
৭০৬। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদেরকে যেন সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে বিলালের আযান এবং দিগন্তবৃত্তে প্রকাশিত ভোরের আলো (সুবহে কাযিব), দিগন্তবৃত্তে উদ্ভাসিত বিস্তৃত আলো (সুবহি সাদিক) ব্যতীত। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৩১), মুসলিম
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي بَيَانِ الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ سَوَادَةَ بْنِ حَنْظَلَةَ، هُوَ الْقُشَيْرِيُّ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعَنَّكُمْ مِنْ سُحُورِكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيلُ وَلَكِنِ الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيرُ فِي الأُفُقِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
Samurah bin Jundub narrated that :
the Messenger of Allah said: "Do not let the Adhan of Bilal prevent you from your Sahar, nor the drawn out Fajr, but the Fajr that spreads on the horizon."
পরিচ্ছেদঃ ১৬. রোযা থাকা অবস্থায় গীবাত
৭০৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যায় কথাবার্তা (গীবাত, মিথ্যা, গালিগালাজ, অপবাদ, অভিসম্পাত ইত্যাদি) ও কাজ যেলোক (রোযা থাকা অবস্থায়) ছেড়ে না দেয়, সে লোকের পানাহার ত্যাগে আল্লাহ তা’আলার কোন প্রয়োজন নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৯), বুখারী
আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الْغِيبَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ بِأَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Whoever does not leave false speech, and acting according to it, then Allah is not in any need of him leaving his food and his drink."
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সাহরী খাওয়ার ফযীলত
৭০৮। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা, সাহরী খাওয়ার মধ্যে বারকাত আছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৯২),বুখারী, মুসলিম৷
আবদ ও আবু দারদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ আমাদের ও আহলি কিতাবদের (ইয়াহুদী ও খৃষ্টান) রোযার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহরী খাওয়া।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَالْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَعُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Anas bin Malik narrated that :
the Messenger of Allah said: "Partake of Sahar, for indeed there is a blessing in the Sahar."
পরিচ্ছেদঃ ১৬. রোযা থাকা অবস্থায় গীবাত
৭০৯। উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কুতাইবা লাইস হতে, তিনি মূসা ইবনু আলী হতে, তিনি তার পিতা (আলী) হতে, তিনি আবৃ কাইস হতে, তিনি আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সূত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। - সহীহ, হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা (পৃঃ ৮৮), সহীহ আবু দাউদ (২০২৯), মুসলিম
এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেন। এ হাদীসটির বর্ণনাকারী মূসা প্রসঙ্গে মিসরবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু আলী এবং ইরাকবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মূসা ইবনু উলাই। তিনি হলেন মূসা ইবনু উলাই ইবনু রাবাহু আল-লাখমী।
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الْغِيبَةِ لِلصَّائِمِ
وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي قَيْسٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ وَهُوَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيُّ .
Amr bin Al-As narrated :
see previous hadith
পরিচ্ছেদঃ ১৮. সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন করা মাকরূহ
৭১০। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হন। তিনি রোযা রাখেন এবং লোকেরাও তার সাথে রোযা রাখে। কুরাউল গামীমে পৌছানোর পর তাকে বলা হল, রোযা রাখা লোকদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আপনি কি করেন তারা সেই অপেক্ষায় আছে। আসরের নামায আদায়ের পর তিনি এক পেয়ালা পানি চেয়ে আনালেন এবং তা পান করলেন। তখন লোকেরা তার দিকে তাকিয়ে দেখছিল। ফলে তাদের মধ্যেকার কিছু লোক রোযা ভাঙ্গলো এবং কিছু লোক রোযা থাকল। তখনও কিছু লোক রোযা অবস্থায় আছে এ কথা তার নিকটে পৌছলে তিনি বললেনঃ এরী হচ্ছে অবাধ্য নাফরমান। — সহীহ, ইরওয়া (৪/৫৭), মুসলিম
কাব ইবনু আসিম, ইবনু আব্বাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “সফরের মাঝে রোযা পালন করাটা সাওয়াবের কাজ নয়”।
আলিমদের মধ্যে সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন করা প্রসঙ্গে মতবিরোধ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের মতানুযায়ী সফরে থাকা অবস্থায় রোযা পালন না করাই উত্তম। এমনকি কারো কারো মতানুযায়ী সফরে থাকাবস্থায় কোন লোক রোযা পালন করলে তাকে আবার সে রোযা কাযা করতে হবে। সফরে রোযা না পালনের পক্ষে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য আরেকদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও আলিম বলেছেন শক্তি-সামর্থ্যবান লোকে যদি সফরে রোযা পালন করে তাহলে তা ভাল এবং তাই উত্তম, রোযা আদায় না করলে তাকেও ভাল বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের.এই মত। ইমাম শাফিঈ বলেন, “সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়” এবং “এরা নাফরমান” এই কথার তাৎপর্য হচ্ছে, যে লোকের অন্তর আল্লাহর দেয়া অবকাশ (রুখসাত) গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় সে লোকের ক্ষেত্রে ঐ কথা প্রযোজ্য। কিন্তু সফরে রোযা ভেঙ্গে ফেলাকে যে লোক জায়িয মনে করে এবং রোযা রাখার সামর্থ্য থাকায় রোযা পালন করে, তা আমার নিকটে পছন্দনীয়।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ وَصَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ وَإِنَّ النَّاسَ يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ . فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَأَفْطَرَ بَعْضُهُمْ وَصَامَ بَعْضُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ أَفْضَلُ حَتَّى رَأَى بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الإِعَادَةَ إِذَا صَامَ فِي السَّفَرِ . وَاخْتَارَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَهُوَ أَفْضَلُ وَإِنْ أَفْطَرَ فَحَسَنٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . وَقَوْلُهُ حِينَ بَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " . فَوَجْهُ هَذَا إِذَا لَمْ يَحْتَمِلْ قَلْبُهُ قَبُولَ رُخْصَةِ اللَّهِ فَأَمَّا مَنْ رَأَى الْفِطْرَ مُبَاحًا وَصَامَ وَقَوِيَ عَلَى ذَلِكَ فَهُوَ أَعْجَبُ إِلَىَّ .
Jabir bin Abdullah narrated:
"The Messenger of Allah went to Makkah in the Year of the Conquest, so he fasted until he reached Kura Al-Ghamim and the people were fasting with him. Then it was said to him: 'The fast has become difficult for the people, and they are watching you to see what you will do.' So after Asr, he called for a cup of water and drank it while the people were looking at him. Some of them broke the fast while some of them continued their fasting. It was conveyed to him that people were still fasting, so he said: "Those are the disobedient.'"
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
৭১১। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসলাম গোত্রের হামযা ইবনু আমর (রাঃ) সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। আর তিনি প্রায়ই রোযা পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি রোযা পালন করতেও পার আবার ইচ্ছা করলে ভাঙ্গতেও পার। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬২), বুখারী, মুসলিম
আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবু দারদা ও হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত ’হামযা ইবনু আমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছেন’ হাদীসটি হাসান সহীহ।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ وَكَانَ يَسْرُدُ الصَّوْمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Aishah narrated that :
Hamzah bin Amr Al-Aslami asked the Messenger of Allah about fasting while traveling, and he fasted regularly. So the Messenger of Allah said: 'If you wish then fast, and if you wish then break (the fast).'"
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
৭১২। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা সফরে গিয়েছি। কিন্তু রোযাদারকে সফরে রোযা পালনের কারণে কিংবা রোযা ভঙ্গকারীকে রোযা ভেঙ্গেফেলার কারণে কোনরকম দোষারোপ করতেন না। – সহীহা (৩/১৪৩), মুসলিম
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَمَا يَعِيبُ عَلَى الصَّائِمِ صَوْمَهُ وَلاَ عَلَى الْمُفْطِرِ إِفْطَارَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Sa'eed (Al-Khudri) narrated:
"We were on a journey with the Messenger of Allah during the month of Ramadan. No one objected to the fast of the one fasting nor the fast breaking of the one who broke his fast."
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
৭১৩। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা সফরে যেতাম। আমাদের মধ্যে রোযাদার এবং রোযা ভঙ্গকারী উভয়েই থাকতেন। রোযাদারের বিরুদ্ধে রোযা ভঙ্গকারী এবং রোযা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে রোযাদার কোনরকম অভিযোগ করেননি। তারা মনে করতেন, শক্তিশালী লোক রোযা পালন করলে তা ভালই করেছে এবং দুর্বল লোক রোযা পালন না করলে তাও ভাল করেছে — সহীহ, মুসলিম
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ فَلاَ يَجِدُ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ وَلاَ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ فَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ مَنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَمَنْ وَجَدَ ضَعْفًا فَأَفْطَرَ فَحَسَنٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Sa'eed Al-Khudri narrated:
"We were on a journey with the Messenger of Allah. Some of us were fasting and some of us broke their fast. The one who broke their fast had no objection to the one who fasted, and the one who fasted had no objection to the one who broke his fast. They saw that whoever had the strength to fast then that was good, and whoever was weak, then breaking it was better."
পরিচ্ছেদঃ ২০. যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের রোযা ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি আছে।
৭১৪। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে সফরে রোযা রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রামাযান মাসে দুটি যুদ্ধ করেছি- বদর ও মক্কা বিজয় যুদ্ধ। এ সময় আমরা রোযা ভেঙ্গে ফেলেছি। সনদ দুর্বল
এই অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই আমরা জেনেছি। আর আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক যুদ্ধে রোযা ভেঙ্গে ফেলার হুকুম করেছিলেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতেও এরকমই বর্ণিত আছে যে, তিনি শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় রোযা না রাখার সম্মতি (রুখসাত) দিয়েছেন। কোন কোন আলিমেরও এই মত।
باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ لِلْمُحَارِبِ فِي الإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي حُيَيَّةَ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَأَلَهُ عَنِ الصَّوْمِ، فِي السَّفَرِ فَحَدَّثَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ غَزْوَتَيْنِ يَوْمَ بَدْرٍ وَالْفَتْحِ فَأَفْطَرْنَا فِيهِمَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ بِالْفِطْرِ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ نَحْوُ هَذَا أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الإِفْطَارِ عِنْدَ لِقَاءِ الْعَدُوِّ وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ .
Ma'mar bin Abi Huyaiyah narrated that:
he asked Ibn Al-Musaiyab about fasting on a journey, so he narrated to him that Umar bin Al-Khattab said: "We fought in two battles along with the Messenger of Allah during Ramadan; the Day of Badr, and the Conquest (of Makkah), so we broke our fast during them."
পরিচ্ছেদঃ ২১. গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারিণী মায়ের জন্য রোযা ভঙ্গের অনুমতি আছে
৭১৫। আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব গোত্রের আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অশ্বারোহী বাহিনী হঠাৎ আক্রমণ করল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলাম। আমি তাকে সকালের খাবার খাওয়ারত অবস্থায় পেলাম। তিনি বললেনঃ কাছে আস এবং খাও। আমি বললাম, আমি রোযা আছি। তিনি বললেনঃ সামনে আস, আমি তোমাকে রোযা প্রসঙ্গে কথা বলব। আল্লাহ্ তা’আলা মুসাফির লোকের রোযা ও অর্ধেক নামায কমিয়ে দিয়েছেন আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের রোযা মাফ করে দিয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজনের কিংবা একজনের কথা বলেছেন। আমার আফসোস এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমি খাবার খাইনি। – হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬৭)
আবু উমাইয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আনাস ইবনু মালিক আল-কা’বী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এই একটি মাত্র হাদীস ছাড়া তার (আনাস) সূত্রে বর্ণিত অন্য কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।
এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। অন্য একদল আলিম বলেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাগণ রোযা ভেঙ্গে ফেলবে, পরে এর কায আদায় করবে এবং (মিসকীনদের) খাওয়াবে। এরকম অভিমতই প্রকাশ করেছেন সুফিয়ান, মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)।
অন্য আরেকদল আলিম বলেন এরা রোযা আদায় করবে না এবং মিসকীনদের খাবার খাওয়াবে। কাযা রোযা পালন করাটা তাদের উপর জরুরী নয়, ইচ্ছা করলে কাযা আদায় করবে, তাহলে মিসকীন খাওয়াতে হবে না। এরকম অভিমত ইসহাকেরও।
باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي الإِفْطَارِ لِلْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ يَتَغَدَّى فَقَالَ " ادْنُ فَكُلْ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " ادْنُ أُحَدِّثْكَ عَنِ الصَّوْمِ أَوِ الصِّيَامِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ وَعَنِ الْحَامِلِ أَوِ الْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوِ الصِّيَامَ " . وَاللَّهِ لَقَدْ قَالَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَيْهِمَا أَوْ إِحْدَاهُمَا فَيَا لَهْفَ نَفْسِي أَنْ لاَ أَكُونَ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الْكَعْبِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَلاَ نَعْرِفُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْحَامِلُ وَالْمُرْضِعُ تُفْطِرَانِ وَتَقْضِيَانِ وَتُطْعِمَانِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ وَمَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ تُفْطِرَانِ وَتُطْعِمَانِ وَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِمَا وَإِنْ شَاءَتَا قَضَتَا وَلاَ إِطْعَامَ عَلَيْهِمَا . وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ .
Anas bin Malik, a man from Banu Abdullah bin Ka'b said:
"Some cavalry man of the Messenger of Allah came galloping upon us, so I came to the Messenger of Allah and found him having lunch. He said: "Come and eat." I said: 'I am fasting.' So he said: 'Come and I will narrate to you about the fast - fasting. Indeed Allah Most High lifted (the fast and) half of the Salat from the traveler, and (He lifted) the fast - or fasting - from the pregnant person, or the sick person.' And by Allah! The Prophet said both of them r one of them. So woe tome! For I did not eat from the meal of the Prophet."
পরিচ্ছেদঃ ২২. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে রোযা আদায় করা
৭১৬। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি মহিলা এসে বলল, আমার বোন মারা গেছে, অথচ তার উপর পরস্পর দুমাসের রোযা কাযা অবস্থায় আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখ কোন ঋণ যদি তোমার বোনের উপর থাকত তাহলে কি তুমি সেটা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে আল্লাহ তা’আলার হাক (অধিকার) সবচেয়ে অগ্রগণ্য। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৫৮), বুখারী, মুসলিম
বুরাইদা, ইবনু উমার ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ عَنِ الْمَيِّتِ
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، وَمُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَطَاءٍ، وَمُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ . قَالَ " أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُخْتِكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " فَحَقُّ اللَّهِ أَحَقُّ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ .
Ibn Abbas narrated:
"A woman came to the Prophet and said: 'My sister died while she had two consecutive months of fasting due.' So he said: 'Do you not see that if there was a debt due from your sister then you would have to pay it?' She said: 'Yes.' He said: 'Then the right of Allah is more appropriate.'"
পরিচ্ছেদঃ ২২. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে রোযা আদায় করা
৭১৭। আবু কুরাইব আবূ খালিদ আল-আহমার হতে, তিনি আমাশ হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, আবু খালিদ আল-আহমার এই হাদীসটি আমাশ হতে বর্ণনার ক্ষেত্রে উত্তম কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আবূ খালিদ ব্যতীত আরো অনেকে আমাশ (রহঃ) হতে আবু খালিদের মতই বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন, আবু মুআবিয়া প্রমুখ এই ইবনু জুবাইর হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে তারা বর্ণনাকারী সালামা ইবনু কুহাইল, আতা ও মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেননি। আবু খালিদের নাম সুলাইমান ইবনু হাইয়্যান।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ عَنِ الْمَيِّتِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا، يَقُولُ جَوَّدَ أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ، . قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رَوَى غَيْرُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، مِثْلَ رِوَايَةِ أَبِي خَالِدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ وَلاَ عَنْ عَطَاءٍ وَلاَ عَنْ مُجَاهِدٍ . وَاسْمُ أَبِي خَالِدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ .
Ibn Abbas narrated:
see previous Hadith
পরিচ্ছেদঃ ২৩. রোযার কাফফারা
৭১৮। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এক মাসের রোযা অসম্পন্ন রেখে মৃত্যু বরণ করে তার পক্ষ হতে প্রতিদিনের রোযার জন্য একজন করে মিসকীনকে যেন খাওয়ানো হয়।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭৫৭)
আবূ ঈসা বলেন, শুধুমাত্র এই সনদেই আমরা ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি মারফু হিসেবে অবগত হয়েছি। ইবনু উমার (রাঃ)-এর উক্তি হিসাবে মাওকুফরুপে বর্ণনাটিই সহীহ। মৃতের পক্ষ হতে জীবিতরা রোযা রাখতে পারবে কি না এই প্রসঙ্গে আলিমগণের মাঝে মতের অমিল আছে। একদল আলিম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে রোযা রাখা যায়। আহমাদ ও ইসহাকের এই মত। তারা বলেন, মৃত ব্যক্তির ওপর যদি মানতের রোযা অসম্পন্ন থাকে তবে তার পক্ষ হতে সেই রোযা রাখা যাবে। আর যদি তার দায়িত্বে রামাযান মাসের রোযা বাকি থাকে তবে তার পক্ষ থেকে মিসকীনদের খাওয়াতে হবে। ইমাম মালিক, সুফিয়ান ও শাফিঈ বলেন, একজন অন্য জনের পক্ষ হতে রোযা রাখতে পারবে না। আশআস হলেন সাওয়ারের পুত্র এবং মুহাম্মাদ হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলার পুত্র।
باب مَا جَاءَ فِي الْكَفَّارَةِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرٍ فَلْيُطْعِمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالصَّحِيحُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفٌ قَوْلُهُ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْبَابِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَامُ عَنِ الْمَيِّتِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالاَ إِذَا كَانَ عَلَى الْمَيِّتِ نَذْرُ صِيَامٍ يَصُومُ عَنْهُ وَإِذَا كَانَ عَلَيْهِ قَضَاءُ رَمَضَانَ أَطْعَمَ عَنْهُ . وَقَالَ مَالِكٌ وَسُفْيَانُ وَالشَّافِعِيُّ لاَ يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ . قَالَ وَأَشْعَثُ هُوَ ابْنُ سَوَّارٍ . وَمُحَمَّدٌ هُوَ عِنْدِي ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى .
Ibn Umar narrated that :
the Prophet said: "Whoever died while he had a month to fast, then a needy person should be fed on his behalf in place of every day."
পরিচ্ছেদঃ ২৪. রোযাদার ব্যাক্তি বমি করলে
৭১৯। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিস রোযাদারের রোযা ভঙ্গ করে নাঃ রক্তমোক্ষণ, বমি ও স্বপ্নদোষ।
যঈফ, তাখরীজ হকীকাতুস সিয়াম (২১-২২), যইফ আবূ দাউদ (৪০৯)
আবূ ঈসা বলেন, আবূ সাঈদ খুদরীর হাদীসটি নির্ভরযোগ্য নয়। আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমুখ এই হাদীসটিকে যাইদ ইবনু আসলাম হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
এতে তারা আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি। আবদুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আমি আবূ দাউদ সিজয়ীকে বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে আবদুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ সম্পর্কে কোন সমস্যা নেই। মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে আলী ইবনু আবদুল্লাহ্ হতে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম নির্ভরযোগ্য রাবী, কিন্তু আবদুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম দুর্বল রাবী। মুহাম্মাদ আরও বলেন, আমি তার হতে কিছুই বর্ণনা করি না।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَذْرَعُهُ الْقَىْءُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ لاَ يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ الْحِجَامَةُ وَالْقَىْءُ وَالاِحْتِلاَمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ . وَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ مُرْسَلاً . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ السِّجْزِيَّ يَقُولُ سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ فَقَالَ أَخُوهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ لاَ بَأْسَ بِهِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ثِقَةٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ضَعِيفٌ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَرْوِي عَنْهُ شَيْئًا .
Abu Sa'eed Al-Khudri narrated that:
the Messenger of Allah said: "Three things do not break the fast of the fasting person: Cupping, vomiting, and the wet dream."
পরিচ্ছেদঃ ২৫. যে লোক (রোযা থাকাবস্থায়) ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে
৭২০। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের রোযা থাকাবস্থায় বমি হলে সে লোককে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে না। কিন্তু কোন লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে তাকে কাযা রোযা আদায় করতে হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৬)
আবু দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীসটি ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্র ছাড়া হিশাম ইবনু সীরন-এর সূত্রে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মাদ বুখারী বলেন, আমি ঈসা ইবনু ইউনুসকে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মনে করি না।
আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদগুলো সহীহ নয়। আবূ দারদা, সাওবান ও ফাযালী ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করলেন এবং রোযা পালন করা ছেড়ে দিলেন।” এ হাদীসের মর্ম হল এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল রোযা পালন করছিলেন। বমি হওয়াতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়ায় রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। এ বিষয়টি কোন কোন হাদীসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আলিমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত কোন কাযা আদায় করতে হবে না। কিন্তু কোন লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে সে কাযা রোযা আদায় করবে। ইমাম শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাকের এই অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِيمَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَمَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لاَ أَرَاهُ مَحْفُوظًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يَصِحُّ إِسْنَادُهُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ صَائِمًا مُتَطَوِّعًا فَقَاءَ فَضَعُفَ فَأَفْطَرَ لِذَلِكَ . هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الصَّائِمَ إِذَا ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِ وَإِذَا اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Whoever is overcome by vomiting, then he is not required to make up (the fast), and whoever vomits on purpose, then he must make it up."
পরিচ্ছেদঃ ২৬. রোযাদার ব্যাক্তি ভুলবশতঃ কিছু পানাহার করলে
৭২১। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভুলবশতঃ যে লোক (রোযা থাকা অবস্থায়) কিছু খায় বা পান করে সে যেন রোযা ভেঙ্গে না ফেলে। কেননা, এটা এমন এক রিযিক যা আল্লাহ তা’আলা তাকে ভোজন করিয়েছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৩), নাসা-ঈ
باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ نَاسِيًا
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ نَاسِيًا فَلاَ يُفْطِرْ فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ " .
Abu Hurairah narrated that the Messenger of Allah said:
"Whoever eats or drinks forgetfully, then he has not broken (the fast), for it was only a provision that Allah provided for him."
পরিচ্ছেদঃ ২৬. রোযাদার ব্যাক্তি ভুলবশতঃ কিছু পানাহার করলে
৭২২। আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আবু উসামা হতে, তিনি আউফ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেছেন। -সহীহ দেখুন-পূর্বের হাদীস।
আবূ সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আল-গানাবিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করতে বলেছেন। সুফিয়ান সাওর, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেন, ভুলবশতঃ পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয় না। ইমাম মালিক বলেন, কোন লোক রামাযান মাসে ভুলবশতঃ পানাহার করলে সে লোককে এর কায আদায় করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতই বেশি সঠিক।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ نَاسِيًا
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، وَخِلاَسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأُمِّ إِسْحَاقَ الْغَنَوِيَّةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِذَا أَكَلَ فِي رَمَضَانَ نَاسِيًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
Abu Hurairah narrated:
see previous Hadith.
পরিচ্ছেদঃ ২৭. নিজের ইচ্ছায় রোযা ভেঙ্গে ফেললে
৭২৩। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অজুহাত বা রোগ ছাড়া রামাযান মাসের একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তার পুরো জিন্দেগীর রোযা দিয়েও এর ক্ষতিপূরণ হবে না। যদিও সে জীবনভর রোযা রাখে।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬৭২)
আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরার হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই অবগত হয়েছি। আমি মুহাম্মাদ বুখারীকে বলতে শুনেছি, আবূল মুতাওবিস-এর নাম ইয়াযীদ এবং পিতার নাম মুতাওবিস। এই হাদীস ব্যতীত তার সূত্রে বর্ণিত অন্য কোন হাদীস আছে কি না তা আমাদের জানা নেই।
باب مَا جَاءَ فِي الإِفْطَارِ مُتَعَمِّدًا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُطَوِّسِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلاَ مَرَضٍ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَإِنْ صَامَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ أَبُو الْمُطَوِّسِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ الْمُطَوِّسِ وَلاَ أَعْرِفُ لَهُ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "Whoever breaks the fast during Ramadan without an allowance or illness, then if he fasted for all time, his fasting would not make up for it."
পরিচ্ছেদঃ ২৮. রামাযানের রোযা ভঙ্গের কাফফারা
৭২৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করল? সে বলল, আমি রোযা থাকাবস্থায় স্ত্রীসংগম করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম মুক্ত করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একসাথে দু’মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বস। লোকটি বসে রইল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক (বড়) ঝুড়িভর্তি খেজুর আসলো। তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো নিয়ে দান-খায়রাত করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে দরিদ্র মদীনার পাথরময় দুপ্রান্তের মাঝে আর কোন লোক নেই। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, (তার কথায়) তিনি হেসে দিলেন, এমনকি তার চোয়ালের দাত দেখা গেলো। তিনি বললেনঃ এগুলো নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও।
– সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭১), বুখারী, মুসলিম
ইবনু উমার, আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, রামাযান মাসে কোন লোক স্বেচ্ছায় স্ত্রীসংগম দ্বারা রোযা ভেঙ্গে ফেললে প্রত্যেকটি রোযার জন্য তাকে একটি করে দাস মুক্ত করতে হবে অথবা দু’মাস একটানা রোযা পালন করতে হবে অথবা ষাটজন গরীব লোককে খাওয়াতে হবে। কিন্তু পানাহারের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় কোন লোক রোযা ভেঙ্গে ফেললে তার কাফফারা প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতবিরোধ আছে।
একদল আলিম বলেন, তাকে রোযার কাযা ও কাফফারা দুটোই আদায় করতে হবে। পানাহারকে তারা স্ত্রীসংগমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এরকমই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাকের।
অন্য একদল আলিম বলেন, তাকে কাযা রোযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফফারা আদায় করতে হবে না। কারণ, স্ত্রীসংগমের ক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাফফারার উল্লেখ আছে, পানাহারের ক্ষেত্রে এর কোন উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রীসংগমের সাথে পানাহারের সাদৃশ্য নেই। এরকম অভিমত ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)-এর।
ইমাম শাফিঈ বলেন, যে লোক রোযা ভেঙ্গে ফেলেছিলো সে লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত খেজুর দান করেছিলেন। তার উক্তি “নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তা খাওয়াও” বাক্যাংশ বিভিন্ন অর্থ বহন করে। এমনও হতে পারে যে, যে ব্যক্তির সামর্থ আছে তাকে কাফফারা আদায় করতে হয়। কিন্তু এ লোকটি কাফফারা আদায় করার মত সামর্থবান ছিল না। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছু দান করে তার মালিক বানিয়ে দিলে সে বলল, আমাদের চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত এ এলাকায় অন্য কোন লোক নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিয়ে নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও”। কেননা, কাফফারা বাধ্যতামূলক হয় জীবনধারণের কোন অতিরিক্ত সম্পদ থাকলেই। এরকম অবস্থাসম্পন্ন লোক সম্বন্ধে ইমাম শাফিঈর অভিমত হচ্ছে, সে লোক ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার দায়িত্বে ঋণ হিসাবে থেকে যাবে। সে যে সময়ে তা দিতে সমর্থ হবে সে সময়েই কাফফারা আদায় করতে হবে।
باب مَا جَاءَ فِي كَفَّارَةِ الْفِطْرِ فِي رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَأَبُو عَمَّارٍ وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ وَاللَّفْظُ لَفْظُ أَبِي عَمَّارٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ . قَالَ " وَمَا أَهْلَكَكَ " . قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ . قَالَ " هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُعْتِقَ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ . قَالَ " اجْلِسْ " . فَجَلَسَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ - وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ الضَّخْمُ قَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَحَدٌ أَفْقَرَ مِنَّا . قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ . قَالَ " فَخُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي مَنْ أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ مُتَعَمِّدًا مِنْ جِمَاعٍ وَأَمَّا مَنْ أَفْطَرَ مُتَعَمِّدًا مِنْ أَكْلٍ أَوْ شُرْبٍ فَإِنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي ذَلِكَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَالْكَفَّارَةُ . وَشَبَّهُوا الأَكْلَ وَالشُّرْبَ بِالْجِمَاعِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ لأَنَّهُ إِنَّمَا ذُكِرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْكَفَّارَةُ فِي الْجِمَاعِ وَلَمْ تُذْكَرْ عَنْهُ فِي الأَكْلِ وَالشُّرْبِ . وَقَالُوا لاَ يُشْبِهُ الأَكْلُ وَالشُّرْبُ الْجِمَاعَ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِلرَّجُلِ الَّذِي أَفْطَرَ فَتَصَدَّقَ عَلَيْهِ " خُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . يَحْتَمِلُ هَذَا مَعَانِيَ يَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ الْكَفَّارَةُ عَلَى مَنْ قَدَرَ عَلَيْهَا وَهَذَا رَجُلٌ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى الْكَفَّارَةِ فَلَمَّا أَعْطَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا وَمَلَكَهُ فَقَالَ الرَّجُلُ مَا أَحَدٌ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنَّا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . لأَنَّ الْكَفَّارَةَ إِنَّمَا تَكُونُ بَعْدَ الْفَضْلِ عَنْ قُوتِهِ . وَاخْتَارَ الشَّافِعِيُّ لِمَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ هَذَا الْحَالِ أَنْ يَأْكُلَهُ وَتَكُونَ الْكَفَّارَةُ عَلَيْهِ دَيْنًا فَمَتَى مَا مَلَكَ يَوْمًا مَا كَفَّرَ .
Abu Hurairah narrated that:
A man came and said: "O Messenger of Allah; I am ruined!" He said: "What has ruined you?" He said: "I had sexual relations with my wife during Ramadan." He said: "Are you able to free a slave?" He said, "No." He said: "Then are you able to fast for two consecutive months?" He said, "No." He said: "Then are you able to feed sixty needy people?" He said, "No." He said: "Sit." So he sat. A big basket full of dates was brought to the Prophet, and he said: "Give it in charity." So he said: "There is no one needier than us between its two mountains." So the Prophet laughing until his pre-molar teeth appeared, and he said: "Then take it to feed your family."
পরিচ্ছেদঃ ২৯. রোযাদারের মিসওয়াক করা
৭২৫। আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোযা থাকা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি।
যঈফ, ইরওয়া (৬৮)
এই অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমির ইবনু রাবীআর হাদীসটি হাসান। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেন, রোযাদারের মিসওয়াক করায় কোন সমস্যা নেই। তবে একদল আলিম কাচা ডাল দিয়ে এবং দিনের শেষাংশে মিসওয়াক করা অপছন্দ করেছেন। ইমাম শাফিঈ দিনের যে কোন অংশে মিসওয়াক করাতে কোন সমস্যা মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক দিনের শেষাংশে মিসওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।
باب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَا لاَ أُحْصِي يَتَسَوَّكُ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِالسِّوَاكِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا إِلاَّ أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا السِّوَاكَ لِلصَّائِمِ بِالْعُودِ الرَّطْبِ وَكَرِهُوا لَهُ السِّوَاكَ آخِرَ النَّهَارِ وَلَمْ يَرَ الشَّافِعِيُّ بِالسِّوَاكِ بَأْسًا أَوَّلَ النَّهَارِ وَلاَ آخِرَهُ وَكَرِهَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ السِّوَاكَ آخِرَ النَّهَارِ .
Abdullah bin Amir bin Rabi'ah narrated from his father who said:
"I saw the Prophet - (a number of times) such that I was not able to count - using the Siwak while he was fasting."
পরিচ্ছেদঃ ৩০. রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যাবহার করা
৭২৬। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, আমার চোখ ব্যথা করে। আমি রোযা থাকা অবস্থায় তাতে সুরমা লাগাতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। - সনদ দুর্বল
এই অনুচ্ছেদে আবূ রাফি (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাসের হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সহীহ্ কিছু বর্ণিত নেই। আবূ আতিকা একজন দুর্বল রাবী। রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতের অমিল আছে। সুফিয়ান, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাকের মতে রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করা মাকরূহ। ইমাম শাফিঈর মতে তা ব্যবহারের সম্মতি আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اشْتَكَتْ عَيْنِي أَفَأَكْتَحِلُ وَأَنَا صَائِمٌ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ . وَأَبُو عَاتِكَةَ يُضَعَّفُ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ فَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .
Anas bin Malik narrated that :
a man came to the Prophet and said: "My eyes are bothering me, can I use Kuhl while I am fasting?" He said: "Yes."
পরিচ্ছেদঃ ৩১. রোযা থাকাবস্থায় (স্ত্রীকে) চুমু দেয়া
৭২৭। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রোযা থাকাবস্থায় স্ত্রীকে) চুমু দিতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৩), মুসলিম, বুখারী অনুরূপ
আব্বাস, আনাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রোযা থাকাবস্থায় চুমু দেয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী চুমু দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু যুবকদেরকে রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে এই অনুমতি দেননি। আর তাদের মতে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করার বিষয়টি আরো বেশি মারাত্মক।
কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে রোযার সাওয়াব কমে, কিন্তু তাতে রোযা নষ্ট হয় না। তাদের মতে, রোযা পালনকারী নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সে চুম্বন করতে পারে। আর যদি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার আস্থা না থাকে তাহলে সে চুম্বন করবে না, যাতে করে রোযার হিফাযাত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়। এরকম মতই সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈর।
باب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَحَفْصَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ فَرَخَّصَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْقُبْلَةِ لِلشَّيْخِ وَلَمْ يُرَخِّصُوا لِلشَّابِّ مَخَافَةَ أَنْ لاَ يَسْلَمَ لَهُ صَوْمُهُ وَالْمُبَاشَرَةُ عِنْدَهُمْ أَشَدُّ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْقُبْلَةُ تَنْقُصُ الأَجْرَ وَلاَ تُفْطِرُ الصَّائِمَ . وَرَأَوْا أَنَّ لِلصَّائِمِ إِذَا مَلَكَ نَفْسَهُ أَنْ يُقَبِّلَ وَإِذَا لَمْ يَأْمَنْ عَلَى نَفْسِهِ تَرَكَ الْقُبْلَةَ لِيَسْلَمَ لَهُ صَوْمُهُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ .
Aishah narrated:
"The Prophet would kiss during the month of fasting."
পরিচ্ছেদঃ ৩২. রোযা থাকাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন
৭২৮। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রোযা থাকাবস্থায় আলিঙ্গন করতেন। তবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি সামর্থবান ছিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮৪), বুখারী, মুসলিম
باب مَا جَاءَ فِي مُبَاشَرَةِ الصَّائِمِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ .
Aishah narrated:
"The Messenger of Allah would fondle me while he was fasting, and he had the most control among you of his limb (li irbihi)."
পরিচ্ছেদঃ ৩২. রোযা থাকাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন
৭২৯। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রোযা থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (স্ত্রীকে) চুম্বন দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। আর তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের অধিকারী ছিলেন।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৮), বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবু মাইসারার নাম আমর এবং পিতার নাম শুরাহবীল। ’লিইরবিহি’ অর্থ ’তার নিজের উপর।
باب مَا جَاءَ فِي مُبَاشَرَةِ الصَّائِمِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مَيْسَرَةَ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ . وَمَعْنَى لإِرْبِهِ لِنَفْسِهِ .
Aishah narrated:
"The Messenger of Allah would kiss and fondle while he was fasting, and he had the most control among you of his limbs."
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. রাত থাকাবস্থায় সংকল্প (নিয়্যাত) না করলে রোযা হয় না
৭৩০। হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ফজরের পূর্বেই যে লোক রোযা থাকার নিয়্যাত করেনি তার রোযা (কুবুল) হয়নি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০০)
আবু ঈসা বলেন, শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটি আমরা মারফুভাবে জেনেছি। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ)-এর উক্তি হিসাবেও বর্ণিত আছে এবং এটিই বেশি সহীহ্। এভাবেই হাদীসটি যুহরী হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। কিছু আলিমের মতানুযায়ী এই হাদীসটির অর্থ হচ্ছেঃ রাত থাকতেই অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বেই রামাযানের রোযা অথবা কাযা বা মানতের রোযার ক্ষেত্রে কোন লোক নিয়্যাত না করলে তার রোযা আদায় হবে না। কিন্তু ভোর হওয়ার পরও নফল রোযার নিয়্যাত করা যায়। এরকম মতই ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
باب مَا جَاءَ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَعْزِمْ مِنَ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَفْصَةَ حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَوْلُهُ وَهُوَ أَصَحُّ وَهَكَذَا أَيْضًا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ مَوْقُوفًا وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ إِلاَّ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فِي رَمَضَانَ أَوْ فِي قَضَاءِ رَمَضَانَ أَوْ فِي صِيَامِ نَذْرٍ إِذَا لَمْ يَنْوِهِ مِنَ اللَّيْلِ لَمْ يُجْزِهِ وَأَمَّا صِيَامُ التَّطَوُّعِ فَمُبَاحٌ لَهُ أَنْ يَنْوِيَهُ بَعْدَ مَا أَصْبَحَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
Hafsah narrated that:
the Prophet said: "Whoever did not decide to fast before Fajr then there is no fast for him."
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. নফল রোযা ভেঙ্গে ফেলা প্রসঙ্গে
৭৩১। উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি বসা ছিলাম। তার কাছে কিছু শরবত নিয়ে আসা হল। তা হতে তিনি পান করলেন, তারপর আমাকে তা দিলেন। আমিও তা হতে কিছু পান করলাম। আমি বললাম, আমি তো অপরাধ করে ফেলেছি। আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ তা কিভাবে? আমি বললাম, আমি রোযা রেখেছিলাম, তা ভেঙ্গে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কোন রোযার কাযা আদায় করছিলে কি? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই।
— সহীহ, তাখরীজুল মিশকাত (২০৭৯), সহীহ আবু দাউদ (২১২০)
আবু সাঈদ ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي إِفْطَارِ الصَّائِمِ الْمُتَطَوِّعِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ ابْنِ أُمِّ هَانِئٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ كُنْتُ قَاعِدَةً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ نَاوَلَنِي فَشَرِبْتُ مِنْهُ فَقُلْتُ إِنِّي أَذْنَبْتُ فَاسْتَغْفِرْ لِي . فَقَالَ " وَمَا ذَاكِ " . قَالَتْ كُنْتُ صَائِمَةً فَأَفْطَرْتُ . فَقَالَ " أَمِنْ قَضَاءٍ كُنْتِ تَقْضِينَهُ " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " فَلاَ يَضُرُّكِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَائِشَةَ .
Umm Hani narrated:
"I was sitting with the Prophet when some drink was brought, so he drank from it, then he offered it to me and I drank it. Then I said: 'I have indeed sinned, so seek forgiveness for me.' He said: 'What is that?' I said: 'I was fasting, then I broke the fast.' He said: 'Were you performing a fast that you had to make up?' I said: 'No.' He said: 'Then it is no harm for you.'"
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. নফল রোযা ভেঙ্গে ফেলা প্রসঙ্গে
৭৩২। উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে আসেন এবং পানীয় আনতে বলেন। তা হতে তিনি নিজে পান করলেন, তারপর উম্মু হানীকে দিলেন এবং তিনিও তা পান করলেন। তারপর উম্মু হানী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো রোযা রেখেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নফল রোযা পালনকারী নিজের আমানাতদার। সে ব্যক্তি চাইলে রোযা পূর্ণও করতে পারে আবার ভাঙ্গতেও পারে।
— সহীহ, প্রাগুক্ত
শুবা বলেন, আমি জা’দাকে বললাম আপনি কি উম্মু হানী (রাঃ) হতে সরাসরি এ হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বলেন, না। আবু সালিহ্ ও আমাদের পরিবারের লোকজন উম্মু হানী (রাঃ)-এর মারফতে আমার নিকট তা বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা এই হাদীস সিমাক হতে, তিনি উম্মু হানীর দৌহিত্র হারূন হতে, তিনি উম্মু হানী (রাঃ)-এর সূত্রে। বর্ণনা করেছেন। শুবার রিওয়ায়াতটি অধিক হাসান।
মাহমূদ ইবনু গাইলান আবু দাউদের সূত্রে এটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে বলেছেন, “রোযা পালনকারী নিজের আমানতদার”। আবু দাউদের সূত্রে মাহমূদ ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীগণ সংশয়পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন যে, “রোযাদার ব্যক্তি নিজের উপর ক্ষমতাবান অথবা নিজের আমানাতদার"। শুবা হতেও একাধিক সূত্রে দ্বিধা সহকারে এরকমই বর্ণিত আছে। উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে বিরূপ বক্তব্য আছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের মতে নফল রোযা পালনকারী যদি তা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে তার উপর কোন কাযা নেই। তবে ইচ্ছা করলে (মুস্তাহাব হিসাবে) সে লোক কাযা আদায় করতে পারে। এ মত সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ, ইসহাক ও শাফিঈর।
باب مَا جَاءَ فِي إِفْطَارِ الصَّائِمِ الْمُتَطَوِّعِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ كُنْتُ أَسْمَعُ سِمَاكَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ أَحَدُ ابْنَىْ أُمِّ هَانِئٍ حَدَّثَنِي فَلَقِيتُ، أَنَا أَفْضَلَهُمَا، وَكَانَ، اسْمُهُ جَعْدَةَ وَكَانَتْ أُمُّ هَانِئٍ جَدَّتَهُ فَحَدَّثَنِي عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَى بِشَرَابٍ فَشَرِبَ ثُمَّ نَاوَلَهَا فَشَرِبَتْ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا إِنِّي كُنْتُ صَائِمَةً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّائِمُ الْمُتَطَوِّعُ أَمِينُ نَفْسِهِ إِنْ شَاءَ صَامَ وَإِنْ شَاءَ أَفْطَرَ " . قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لَهُ أَأَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَ لاَ أَخْبَرَنِي أَبُو صَالِحٍ وَأَهْلُنَا عَنْ أُمِّ هَانِئٍ . وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ فَقَالَ عَنْ هَارُونَ ابْنِ بِنْتِ أُمِّ هَانِئٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ . وَرِوَايَةُ شُعْبَةَ أَحْسَنُ . هَكَذَا حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ عَنْ أَبِي دَاوُدَ فَقَالَ " أَمِينُ نَفْسِهِ " . وَحَدَّثَنَا غَيْرُ مَحْمُودٍ عَنْ أَبِي دَاوُدَ فَقَالَ " أَمِيرُ نَفْسِهِ أَوْ أَمِينُ نَفْسِهِ " . عَلَى الشَّكِّ وَهَكَذَا رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ شُعْبَةَ " أَمِينُ أَوْ أَمِيرُ نَفْسِهِ " عَلَى الشَّكِّ . قَالَ وَحَدِيثُ أُمِّ هَانِئٍ فِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الصَّائِمَ الْمُتَطَوِّعَ إِذَا أَفْطَرَ فَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ أَنْ يَقْضِيَهُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَالشَّافِعِيِّ .
Simak bin Harb narrated:
"A person from the offspring of Umm Hani narrated to me - I met one of the most virtuous among them, and his name was Ja'dah, and Umm Hani was his grandmother - he narrated to me from his grandmother that the Messenger of Allah entered upon her and asked for some drink, and he drank. Then he offered it to her and she drank it. Then she said: "O Messenger of Allah! I was fasting." So the Messenger of Allah said: "The one fasting a voluntary fast is the trustee for himself; if he wishes he fasts, and if he wishes he breaks." Shu'bah (one of the narrators) said: "I said to him (Ja'dah), 'Did you hear this from Umm Hani?' He said: 'No Abu Salih and our family informed us of it from Umm Hani.'"
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. রাত্রি চলে যাওয়ার পর নফল রোযা রাখা
৭৩৩। উম্মুল মু’মিনীন আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমার নিকট আসলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে (খাওয়ার) কোন কিছু আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে আমি রোযা রাখলাম। - হাসান সহীহ, ইরওয়া (৯৬৫), সহীহ আবু দাউদ (২১১৯), মুসলিম
باب صِيَامِ الْمُتَطَوِّعِ بِغَيْرِ تَبْيِيتٍ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ " . قَالَتْ قُلْتُ لاَ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " .
Aishah, the Mother of the Believers, narrated:
"The Messenger of Allah visited me one day and said: 'Do you have anything (to eat)?'" She said: "I said: 'No.' He said: 'Then I am fasting.'"
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. রাত্রি চলে যাওয়ার পর নফল রোযা রাখা
৭৩৪। মু’মিনদের মাতা আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ তোমার নিকট সকালের খাবার কোন কিছু আছে কি? আমি বলতাম, না। তিনি বলতেনঃ আমি রোযা রাখলাম। আইশা (রাঃ) বলেন, তিনি একদিন আমার নিকট আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু উপহার এসেছে আমাদের জন্য। তিনি বললেনঃ তা কি? আমি বললাম, হাইস’। তিনি বললেনঃ আমি তো সকাল হতে রোযা রেখেছি। আইশা (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি তা খেলেন। — হাসান সহীহ, প্রাগুক্ত
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেন, তালহা ইবনু সাঈদ হাদীস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন।
باب صِيَامِ الْمُتَطَوِّعِ بِغَيْرِ تَبْيِيتٍ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي فَيَقُولُ " أَعِنْدَكِ غَدَاءٌ " . فَأَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ " إِنِّي صَائِمٌ " . قَالَتْ فَأَتَانِي يَوْمًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ . قَالَ " وَمَا هِيَ " . قَالَتْ قُلْتُ حَيْسٌ . قَالَ " أَمَا إِنِّي قَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . قَالَتْ ثُمَّ أَكَلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
Aishah, the Mother of the Believers, narrated:
"The Messenger of Allah came to me saying, 'Do you have anything for breakfast?' I said: 'No.' Then he said: 'I am fasting.'" She said: "One day he came to me and I said: 'O Messenger of Allah; I have received a gift for us.' He said: 'What is it?'" She said: "I said 'Hais' He said: 'I began the day fasting'" She said: "Then he ate."
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. (নফল) রোযা ভেঙ্গে ফেললে তার কাযা করা অপরিহার্য
৭৩৫। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি ও হাফসা (রাঃ) দু’জনেই রোযা (নফল) ছিলাম। আমাদের সামনে খাবার আসলো এবং সে খাবারের প্রতি আমাদের লোভ জাগলো। তাই আমরা তা খেয়ে ফেললাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। হাফসা (রাঃ) আমার আগেই তার নিকটে গেলেন। আর তিনি ছিলেন পিতার কন্যা। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দু’জন রোযা ছিলাম। আমাদের সামনে লোভজনক খাবার আসলে আমরা তা খেয়ে ফেললাম। তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জনে এর বদলে আর একদিন রোযা রেখে নিও।
যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪২৩)
আবূ ঈসা বলেন, সালিহ্ ইবনু আবূল আখযার ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হাফসা তাদের এই হাদীসটিকে যুহরী, উরওয়া, আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস, মামার, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু উমার, যিয়াদ ইবনু সা’দ প্রমুখ যুহরীর সূত্রে আইশা (রাঃ)-এর নিকট হতে এই হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা উরওয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এই সনদ সূত্রটিই অনেক বেশী সহীহ। যেহেতু ইবনু জুরাইজ বলেন, আমি যুহরীকে প্রশ্ন করলামঃ আপনার নিকট আইশা (রাঃ)-এর বরাতে উরওয়া কিছু বর্ণনা করেছেন কি? তিনি বললেন, এই হাদীস প্রসঙ্গে আমি উরওয়ার নিকটে কিছু শুনিনি। তবে সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিকের শাসনামলে (৭১৫-৭১৭ খৃঃ) কিছু সংখ্যক ব্যক্তির মাধ্যমে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে আমি এটি শ্রবণ করেছি। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমাদের নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন আলী ইবনু ঈসা রাওহ ইবনু উবাদার সূত্রে ইবনু জুরাইজ হতে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তাবিঈ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। অর্থাৎ নফল রোযা ভেঙ্গে ফেললে তার কায আদায় করতে হবে। ইমাম মালিকের ফতোয়াও তাই।
باب مَا جَاءَ فِي إِيجَابِ الْقَضَاءِ عَلَيْهِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ، صَائِمَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَدَرَتْنِي إِلَيْهِ حَفْصَةُ وَكَانَتِ ابْنَةَ أَبِيهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا صَائِمَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ . قَالَ " اقْضِيَا يَوْمًا آخَرَ مَكَانَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى صَالِحُ بْنُ أَبِي الأَخْضَرِ وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ مِثْلَ هَذَا . وَرَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَمَعْمَرٌ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَزِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْحُفَّاظِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَائِشَةَ مُرْسَلاً . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ عُرْوَةَ وَهَذَا أَصَحُّ .
لأَنَّهُ رُوِيَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ قُلْتُ لَهُ أَحَدَّثَكَ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَ لَمْ أَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ فِي هَذَا شَيْئًا وَلَكِنِّي سَمِعْتُ فِي خِلاَفَةِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ مِنْ نَاسٍ عَنْ بَعْضِ مَنْ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ يَزِيدَ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ فَرَأَوْا عَلَيْهِ الْقَضَاءَ إِذَا أَفْطَرَ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .
Aishah narrated:
"Hafsah and I were both fasting when we were presented some food that we really wanted, so we ate from it. The Messenger of Allah came, and Hafsah beat me to him - she was the daughter of her father - and she said: 'O Messenger of Allah! We were both fasting when we were presented with some food that we wanted, so we ate from it.' He said: 'Make up another day in its place.'"
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. শা'বানকে রামাযানের সাথে মিলানো
৭৩৬। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি শাবান ও রামাযান ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটানা দু’মাসের রোযা পালন করতে দেখিনি।
— সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৩৪৮)
আইশা (রাঃ)-এর সূত্রেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلاَّ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .
وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ، أَيْضًا عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُهُ إِلاَّ قَلِيلاً بَلْ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ .
Umm Salamah narrated:
"I did not see the Prophet fasting two consecutive months except for Sha'ban and Ramadan."
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. শা'বানকে রামাযানের সাথে মিলানো
৭৩৭। আবু সালামার সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শা’বান মাসের অনুরূপ অন্য কোন মাসে এত বেশি (নফল) রোযা পালন করতে দেখিনি। কিছু অংশ ছাড়া এ মাসের পুরো মাসটাই, বলতে কি সারা মাসটাই তিনি (নফল) রোযা রাখতেন। — হাসান সহীহ, প্রাগুক্ত
এ হাদীস প্রসঙ্গে ইবনুল মুবারাক বলেছেন, যদি কোন লোক মাসের বেশিরভাগ দিন রোযা পালন করে তবে আরবী বাগধারা অনুযায়ী বলা যায় সে লোক সারা মাসই রোযা পালন করেছে। যেমন আরবরা বলে থাকে, অমুক লোক সম্পূর্ণ রাত (নামাযে) দাড়িয়েছিল। অথচ সে লোক রাতের খাবারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনে কিছু সময় ব্যয় করেছে। ইবনুল মুবারাক এর প্রেক্ষিতে মনে করেন, হাদীস দুটির তাৎপর্য একই। হাদীসটির তাৎপর্য হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মাসের বেশিরভাগ দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করতেন। আবু ঈসা বলেন, সালিম আবূ নাযর এবং আরও অনেকে আবু সালামার সূত্রে আইশ হতে মুহাম্মাদ ইবনু আমরের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ جَائِزٌ فِي كَلاَمِ الْعَرَبِ إِذَا صَامَ أَكْثَرَ الشَّهْرِ أَنْ يُقَالَ صَامَ الشَّهْرَ كُلَّهُ وَيُقَالُ قَامَ فُلاَنٌ لَيْلَهُ أَجْمَعَ . وَلَعَلَّهُ تَعَشَّى وَاشْتَغَلَ بِبَعْضِ أَمْرِهِ . كَأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ قَدْ رَأَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ مُتَّفِقَيْنِ يَقُولُ إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ كَانَ يَصُومُ أَكْثَرَ الشَّهْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو .
(Another chain, a Hadith similar to previous hadith) for that, from Aishah, :
from the Prophet.
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. রামাযান মাসের সম্মানার্থে শা'বান মাসের শেষ অর্ধেকে রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৩৮। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাবান মাসের অর্ধেক বাকী থাকতে তোমরা আর রোযা পালন করো না।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫১)
আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই শব্দে এ সূত্র ছাড়া আর কোন বর্ণনা আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিমদের মতানুযায়ী এই হাদীসটি সে সব লোকের জন্য প্রযোজ্য যে সাধারণতঃ (শাবানের) রোযা পালন করে না, কিন্তু শা’বান মাসের কিছু দিন বাকী থাকতেই রামাযানের সম্মানার্থে রোযা পালন শুরু করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত অভিমতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি হাদীস আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর মারফতেও বর্ণিত আছে।
তা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শা’বানের) রোযা রেখে তোমরা রামাযানকে স্বাগত জানাবে না। তবে কারো নির্ধারিত দিনগুলোর রোযার সাথে এই দিনের রোযার মিল পড়ে গেলে ভিন্ন কথা। এ হাদীস হতে জানা গেল যে, কোন ব্যক্তির রামাযানকে স্বাগত জানানোর জন্য (শাবানের) রোযা রাখা মাকরূহ।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي النِّصْفِ الثَّانِي مِنْ شَعْبَانَ لِحَالِ رَمَضَانَ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَقِيَ نِصْفٌ مِنْ شَعْبَانَ فَلاَ تَصُومُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ مُفْطِرًا فَإِذَا بَقِيَ مِنْ شَعْبَانَ شَيْءٌ أَخَذَ فِي الصَّوْمِ لِحَالِ شَهْرِ رَمَضَانَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا يُشْبِهُ قَوْلَهُمْ حَيْثُ قَالَ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِصِيَامٍ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ " . وَقَدْ دَلَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّمَا الْكَرَاهِيَةُ عَلَى مَنْ يَتَعَمَّدُ الصِّيَامَ لِحَالِ رَمَضَانَ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "When a half of Sha'ban remains then do not fast."
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. মধ্য শা'বান রাতের ফাযীলত
৭৩৯। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না)। আমি (তার সন্ধানে) বের হলাম। এসে দেখলাম তিনি বাকী কবরস্থানে আছেন। তিনি বলেনঃ তুমি কি ভয় করছ আল্লাহ ও তার রাসূল তোমার প্রতি কোন অবিচার করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনুমান করলাম আপনি আপনার অন্য কোন বিবির নিকটে গিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা মধ্য শা’বানে (১৫ তারিখের রাতে) দুনিয়ার কাছের আকাশে অবতীর্ণ হন। তারপর কালব গোত্রের বকরী পালের লোমের চেয়েও বেশী সংখ্যক লোককে তিনি মাফ করে দেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৩৮৯)
এই অনুচ্ছেদে আবূ বকর সিদীক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাজ্জাজের বরাতে এই সূত্রটি ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটি প্রসঙ্গে আমরা কিছুই অবগত নই। আমি মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে উল্লেখিত হাদীসকে দুর্বল বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, রাবী ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর উরওয়া (রহঃ) হতে কোন হাদীস শুনেননি। মুহাম্মাদ আল-বুখারী আরও বলেন, এমনিভাবে হাজ্জাজও ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীরের নিকট হতে কিছুই শুনেননি।
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَخَرَجْتُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ فَقَالَ " أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الْحَجَّاجِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ .
Aishah narrated:
"I could not find the Messenger of Allah one night. So I left and found him at Al-Baqi. He said: 'Did you fear that you had been wronged by Allah and His Messenger?' I said: 'O Messenger of Allah! I thought that you had gone to one of your wives.' So he said: 'Indeed Allah, Mighty and Sublime is He, descends to the lowest Heavens during the night of the middle of Sha'ban, to grant forgiveness to more than the number of hairs on the sheep of (Banu) Kalb.'"
পরিচ্ছেদঃ ৪০. মুহাররামের রোযা
৭৪০। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের রোযার পরে আল্লাহ তা’আলার মাস মুহাররামের রোযাই সবচেয়ে ফায়ীলাতপূর্ণ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৪২), মুসলিম
আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الْمُحَرَّمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ صِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "The most virtuous fasting after the month of Ramadan is Allah's month Al-Muharram."
পরিচ্ছেদঃ ৪০. মুহাররামের রোযা
৭৪১। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল, রামাযান মাসের পর কোন মাসের রোযা রাখতে আপনি আমাকে আদেশ করেন? তিনি তাকে বললেন, এই বিষয়ে আমি কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করতে শুনিনি। তবে হ্যাঁ, এক সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বসা ছিলাম। এই সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল। রামাযান মাসের পর আর কোন মাসের রোযা পালনে আপনি আমাকে আদেশ করেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রামাযান মাসের পর তুমি যদি আরো রোযা রাখতে ইচ্ছুক হও তবে মুহারামের রোযা রাখ। যেহেতু এটা আল্লাহ তা’আলার মাস। এই মাসে এমন একটি দিবস আছে যেদিন আল্লাহ তা’আলা এক গোত্রের তাওবা কুবুল করেছিলেন এবং তিনি আরোও অনেক গোত্রের তাওবাও এই দিনে কুবুল করবেন।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/৭৭)
আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الْمُحَرَّمِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ لَهُ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَسْأَلُ عَنْ هَذَا إِلاَّ رَجُلاً سَمِعْتُهُ يَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا قَاعِدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ " إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُمِ الْمُحَرَّمَ فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ فِيهِ يَوْمٌ تَابَ اللَّهُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
An-Nu'man bin Sa'd narrated:
"A man asked Ali: "Which month do you order me to fast after the month of Ramadan?' He said to him, 'I have not heard anyone ask this except for a man whom I heard asking the Messenger of Allah while I was sitting with him. He said: "O Messenger of Allah! Which month do you order me to fast after the month of Ramadan?" He said: "If you will fast after the month of Ramadan, then fast Al-Muharram, for indeed it is Allah's month in which there is a day that Allah accepted the repentance of a people, and in which He accepts the repentance of other people."
পরিচ্ছেদঃ ৪১. জুমু’আর দিন রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৪২। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রত্যেক মাসের শুরুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন রোযা পালন করতেন এবং জুমুআর দিনের রোযা খুব কমই ভাঙ্গতেন।
— হাসান, তাখরীজুল মিশকাত (২০৫৮) তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২১৪৯), সহীহ আবু দাউদ (২১১৬)
ইবনু উমার ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। জুমু’আর দিন রোযা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণের একদল মুস্তাহাব বলেছেন, জুমুআর আগের বা পরের দিন রোযা পালন না করে শুধু জুমুআর দিন রোযা পালন করাকে মাকরূহ বলেছেন। আসিম (রাহঃ)-এর বরাতে শুবাও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এটিকে তিনি মারফুভাবে বর্ণনা করেননি (মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন)।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، وَطَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ غُرَّةِ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَإِنَّمَا يُكْرَهُ أَنْ يَصُومَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . قَالَ وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
Abdullah narrated:
"The Messenger of Allah would fasting during the beginning of every month for three days, and Friday was the least of the days that he did not fast."
পরিচ্ছেদঃ ৪২. শুধুমাত্র জুমু'আর দিন রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৪৩। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন শুধুমাত্র জুমুআর দিনে রোযা না রাখে জুমুআর আগের দিন বা পরের দিন রোযা না রেখে।
-সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৭২৩), বুখারী, মুসলিম
আলী, জাবির, জুনাদা আল-আযদী, জুওয়াইরিয়া, আনাস এবং আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন। তারা আগের বা পরের দিনের সাথে না মিলিয়ে শুধুমাত্র জুমুআর দিনে রোযা পালন করাকে মাকরূহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَحْدَهُ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُومُ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَجُنَادَةَ الأَزْدِيِّ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْتَصَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abu Hurairah narrated that :
the Messenger of Allah said: "None of you should fast on Friday unless he fasts before it, or he fasts after it."
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. শনিবারের রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৪৪৷ আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রহঃ) হতে তার বোনের সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের উপর ফরযকৃত রোযা ছাড়া তোমরা শনিবারে আর অন্য কোন রোযা পালন করো না। আঙ্গুরের লতার বাকল বা গাছের ডাল ছাড়া তোমাদের কেউ যদি আর কিছু না পায় (সেদিনের আহারের জন্য) তবে সে যেন তাই চিবিয়ে নেয় (রোযা ভাঙ্গার জন্য)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২৬)
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শুধুমাত্র শনিবারের দিনকে রোযা পালনের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়াই মাকরূহ হওয়ার কারণ। কেননা, শনিবারের প্রতি ইয়াহূদীরা বিশেষ মর্যাদা প্রদর্শন করে থাকে।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ السَّبْتِ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، عَنْ أُخْتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلاَّ فِيمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلاَّ لِحَاءَ عِنَبَةٍ أَوْ عُودَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضُغْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمَعْنَى كَرَاهَتِهِ فِي هَذَا أَنْ يَخُصَّ الرَّجُلُ يَوْمَ السَّبْتِ بِصِيَامٍ لأَنَّ الْيَهُودَ تُعَظِّمُ يَوْمَ السَّبْتِ .
Abdullah bin Busr narrated from his sister that :
the Messenger of Allah said: "Do not fast on Saturday except for what has been made obligatory upon you (by Allah). If one of you does not find but a grape peal or a tree's twig, then let him chew it."
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৪৫। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি বেশি খেয়াল রাখতেন।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৩৯)
হাফসা, আবু কাতাদা, আবু হুরাইরা ও উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلاَّسُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى صَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حَفْصَةَ وَأَبِي قَتَادَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
Aishah narrated:
"The Prophet used to try to fast on Mondays and Thursdays."
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৪৬। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাসের শনি, রবি ও সোমবার রোযা রাখতেন এবং অপর মাসের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।
যঈফ, তাখরীজুল মিশকাত, তাহকীক ছানী (২০৫৯)
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী এই হাদীসটি সুফিয়ান (রাহঃ) হতে (মাওকুফ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, তবে মারফু করেননি।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالأَحَدَ وَالاِثْنَيْنِ وَمِنَ الشَّهْرِ الآخَرِ الثُّلاَثَاءَ وَالأَرْبِعَاءَ وَالْخَمِيسَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُفْيَانَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
Aishah narrated:
"The Messenger of Allah would fast Saturdays, Sundays, and Mondays in one months, and Tuesdays, Wednesdays and Thursdays in the next month."
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৪৭। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তা’আলার দরবারে) আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমার আমলসমূহ যেন রোযা পালনরত অবস্থায় পেশ করা হোক এটাই আমার পছন্দনীয়।
— সহীহ, তাখরাজুল মিশকাত (২০৫৬), তা’লীকুর রাগীব (৮৪/২), ইরওয়া (৯৪৯)
এই অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
Abu Hurairah narrated that:
the Messenger of Allah said: "Deeds are presented on Monday and Thursday, and I love that my deeds be presented while I am fasting."
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা প্রসঙ্গে
৭৪৮। উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-কুরাশী (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো বছর রোযা রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম বা তাকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বলেনঃ তোমার উপর অবশ্যই তোমার পরিবারের অধিকার আছে। অতএব তুমি রামাযান ও এর পরের মাস (শাওয়ালের ছয়টি নফল রোযা) এবং প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখ। এই পদ্ধতি মানলে তুমি যেন পুরো বছরই রোযা রাখলে এবং রোযা ভেঙ্গে ফেলার সুযোগ পেলে।
যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪২০)
এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, মুসলিম আল-কুরাশীর হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এটিকে হারূন উবাইদুল্লাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الأَرْبِعَاءِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَدُّويَهْ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ " إِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا صُمْ رَمَضَانَ وَالَّذِي يَلِيهِ وَكُلَّ أَرْبِعَاءٍ وَخَمِيسٍ فَإِذًا أَنْتَ قَدْ صُمْتَ الدَّهْرَ وَأَفْطَرْتَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ هَارُونَ بْنِ سَلْمَانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ .
Ubaidullah (bin Muslim) Al-Qurashi narrated from his father who said:
"I asked - or; the Prophet was asked - about fasting daily. So he said: 'Your family has a right over you.' Then he said: 'Fast Ramadan and that which is after it, and every Wednesday and Thursday. If you do that, then you will have fasted daily, as well as broken (the fast).'"
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আরাফার দিন রোযা পালনের ফযীলত
৭৪৯। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি আল্লাহ্ তা’আলার নিকট আরাফাতের দিনের রোযা সম্পর্কে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৩০), মুসলিম
আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আরাফাতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্যদের জন্য এই দিনে রোযা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ صَوْمِ عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ أَهْلُ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ عَرَفَةَ إِلاَّ بِعَرَفَةَ .
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। আরাফার দিনে হজ্জ সম্পাদনের কাজে রত থাকা ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য মুসলিমগণকে আরাফার দিনে রোজা রাখার প্রতি এই হাদীসটি উৎসাহ প্রদান করে।
২। আরাফার দিনের একটি রোজা তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের পাপের কাফ্ফারা হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো ছোটো ছোটো পাপের কাফ্ফারা এবং বড়ো পাপের ক্ষমা প্রাপ্ত হওয়ার জন্য তওবার আনুষঙ্গিক বিষয়ের সহিত তওবা করার প্রয়োজন রয়েছে।
৩। ইসলাম ধর্মের শিক্ষা মোতাবেক আল্লাহর নিকটে সৎকর্মের দ্বারা মুসলিম ব্যক্তি উচ্চমর্যাদা লাভ করতে পারবে।
Abu Qatadah narrated that :
the Prophet said: "Fast the Day of Arafah, for indeed I anticipate that Allah will forgive (the sins) of the year after it, and the year before it."
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. আরাফাতে অবস্থানকালে সে দিনের রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৫০। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। সেদিন তার জন্য উম্মুল ফাদল (রাঃ) কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা পান করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১০৯), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২১০২), উম্মুল ফাযল হতে বুখারী ও মুসলিম
আবু হুরাইরা, ইবনু উমার ও উম্মুল ফাযল (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমি হাজ্জ করেছি কিন্তু আরাফার দিন তিনি রোযা পালন করেননি; আবু বাকর (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি; উমার (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, তিনিও সেদিন রোযা পালন করেননি এবং উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি কিন্তু তিনিও রোযা পালন করেননি।
এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম আমলের কথা বলেছেন। তারা আরাফার দিন দু’আর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের জন্য রোযা পালন না করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। অবশ্য আরাফাতে অবস্থানকালে কোন কোন আলিম সে দিনের রোযা পালন করেছেন।
باب كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ بِعَرَفَةَ وَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ بِلَبَنٍ فَشَرِبَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ الْفَضْلِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَصُمْهُ يَعْنِي يَوْمَ عَرَفَةَ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ الإِفْطَارَ بِعَرَفَةَ لِيَتَقَوَّى بِهِ الرَّجُلُ عَلَى الدُّعَاءِ وَقَدْ صَامَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَوْمَ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ .
Ibn Abbas narrated:
"The Prophet broke (the fast) of Arafah, Umm Fadl sent him some milk to drink."
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. আরাফাতে অবস্থানকালে সে দিনের রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৫১। ইবনু আবূ নাজীহ (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আরাফাতের দিন রোযা পালন প্রসঙ্গে ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ করেছি, তিনি সেদিন রোযা পালন করেননি। আবু বাকর (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। উমার (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। উসমান (রাঃ)-এর সাথেও হাজ্জ করেছি, ঐ দিন তিনিও রোযা পালন করেননি। এ দিন আমি নিজেও রোযা পালন করিনা, কাউকে রোযা রাখতেও বলি না এবং নিষেধও করি না।
— সনদ সহীহ
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীসটি ইবনু ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবু নাজীহ-এর নাম ইয়াসার।
باب كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ صَوْمِ، يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ فَقَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ . وَأَنَا لاَ أَصُومُهُ وَلاَ آمُرُ بِهِ وَلاَ أَنْهَى عَنْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَأَبُو نَجِيحٍ اسْمُهُ يَسَارٌ وقد سمع من ابن عمر.
Ibn Abi Najib narrated from his father who said:
"Ibn Umar was asked about fasting (the Day of) Arafah (at Arafat). He said: 'I performed Hajj with the Prophet, and he did not fast it, and with Abu Bakr, and he did not fast it, and with Umar, and he did not fast it, and with Uthman, and he did not fast it. I do no fast it, nor order it nor forbid it."
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. আশূরার দিন রোযা পালনের উৎসাহ প্রদান করা
৭৫২। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিকট আমি আশাপোষণ করি যে, তিনি আশূরার রোযার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের (গুনাহ) ক্ষমা করে দিবেন।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৩৮), মুসলিম
এই অনুচ্ছেদে আলী, মুহাম্মাদ ইবনু সাইফী, সালামা ইবনুল আকওয়া, হিন্দ ইবনু আসমা, ইবনু আব্বাস, রুবাই বিনতু মুআওবিয ইবনু এবং আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) প্রমুখ বর্ণনা করেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে আশূরার দিন রোযা পালন করতে উৎসাহিত করেছেন।
আবূ ঈসা বলেন, আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি ছাড়া আর অন্য কোন বর্ণনায় "আশুরার দিনের রোযা এক বছরের (গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ" এই কথা উল্লেখ আছে বলে আমাদের জানা নেই। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) আবু কাতাদা (রাঃ)-এর হাদীস অনুযায়ীই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْحَثِّ عَلَى صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَمُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَهِنْدِ بْنِ أَسْمَاءَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَلَمَةَ الْخُزَاعِيِّ عَنْ عَمِّهِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ذَكَرُوا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حَثَّ عَلَى صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ . قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْلَمُ فِي شَيْءٍ مِنَ الرِّوَايَاتِ أَنَّهُ قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ كَفَّارَةُ سَنَةٍ " . إِلاَّ فِي حَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ . وَبِحَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abu Qatadah narrated that :
the Prophet said: "Fast the Day of Ashura, for indeed I anticipate that Allah will forgive (the sins of) the year before it."
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. আশূরার দিন রোযা পালন না করার সুযোগ
৭৫৩। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরাইশরা জাহিলী যুগে এমন একটি দিনে রোযা রাখত যে দিনটি ছিল আশূরা। সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রোযা পালন করতেন। তিনি মদীনায় আসার পরও ঐ রোযা পালন করেছেন এবং রোযা পালনের জন্য লোকদেরকেও আদেশ করেছেন। রামাযান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর এটাই ফরয হিসাবে রয়ে গেল এবং তিনি আশূরার রোযা ছেড়ে দিলেন। ফলে এই দিনে যে লোক ইচ্ছা করে সে রোযা পালন করতে পারে আর যে ইচ্ছা না করে সে তা ছেড়েও দিতে পারে।
— সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১১০), বুখারী, মুসলিম
ইবনু মাসউদ, কাইস ইবনু সা’দ, জাবির ইবনু সামুরা, ইবনু উমার ও মুআবিয়া (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার মত ব্যক্ত করেছেন। এই হাদীস সহীহ। আশূরার রোযাকে তারা ওয়াজিব মনে করেন না। কিন্তু কোন ব্যক্তির এই দিনে রোযা রাখার আগ্রহ হলে সে তা রাখতে পারে। কারণ, বিভিন্ন হাদীসে এই দিনের রোযা প্রসঙ্গে অনেক ফাযীলাতের কথা উল্লেখ আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ عَاشُورَاءُ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةَ وَتَرَكَ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَقَيْسِ بْنِ سَعْدٍ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَمُعَاوِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى حَدِيثِ عَائِشَةَ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ لاَ يَرَوْنَ صِيَامَ يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَاجِبًا إِلاَّ مَنْ رَغِبَ فِي صِيَامِهِ لِمَا ذُكِرَ فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ .
Aishah narrated:
"Ashura was a day that the Quraish used to fast during Jahiliyyah, and the Messenger of Allah used to fast it. But when (the fast of) Ramadan became obligatory, the Ramadan was the required and Ashura was left. So whoever wanted to, he fasted it, and whoever wanted to, he left it."
পরিচ্ছেদঃ ৫০. কোনটি আশুরার দিন?
৭৫৪। হাকাম ইবনুল আ’রাজ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি যমযম কূপের সামনে তার চাদরকে বালিশের মত করে হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আমি বললাম, আমাকে আশুরা প্রসঙ্গে কিছু বলে দিন তো, কোন দিনটিতে আমি রোযা রাখব? তিনি বললেন, যখন মুহাররামের চাঁদ দেখতে পাবে তখন হতেই তুমি দিন গুনতে থাকবে। আর রোযা শুরু করবে নয় তারিখ ভোর হতে। আমি বললাম, এভাবেই কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
— সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১১৪), মুসলিম
باب مَا جَاءَ عَاشُورَاءُ أَىُّ يَوْمٍ هُوَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَاجِبِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ الأَعْرَجِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ رِدَاءَهُ فِي زَمْزَمَ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَىُّ يَوْمٍ هُوَ أَصُومُهُ فَقَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلاَلَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ ثُمَّ أَصْبِحْ مِنَ التَّاسِعِ صَائِمًا . قَالَ فَقُلْتُ أَهَكَذَا كَانَ يَصُومُهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ .
Al-Hakam bin Al-Arfaj said:
"I met up with Ibn Abbas while he was reclining on his Rida at the Zamzam (well). So I said: 'Inform me about the Day of Ashura. On which day is it fasted?' He said: 'When you see the crescent of Al-Muharram, then count, then fast on the morning of the ninth day.'" He said: 'I said: Is this how Muhammad fasted it?' He said: 'Yes.'"
পরিচ্ছেদঃ ৫০. কোনটি আশুরার দিন?
৭৫৫। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (মুহাররামের) দশম তারিখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার রোযা পালন করতে আদেশ করেছেন। – সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১১৩), মুসলিম আরও পূর্ণাঙ্গ রূপে।
আবূ ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে আশূরার দিন প্রসঙ্গে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ (মুহাররামের) নয় তারিখের কথা বলেন, আবার অন্য একদল দশ তারিখের কথা বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা নয় ও দশ (এই দুই দিন) রোযা পালন কর এবং (এই ক্ষেত্রে) ইয়াহুদীদের বিপরীত কর। এই হাদীস অনুযায়ী মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।
باب مَا جَاءَ عَاشُورَاءُ أَىُّ يَوْمٍ هُوَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَوْمِ عَاشُورَاءَ يَوْمَ الْعَاشِرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ التَّاسِعِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ الْعَاشِرِ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Ibn Abbas narrated:
"The Messenger of Allah ordered fasting the tenth day for the Day of Ashura."
পরিচ্ছেদঃ ৫১. যুলহিজ্জ মাসের (প্রথম) দশ দিন রোযা পালন প্রসঙ্গে
৭৫৬। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (যুলহিজ্জা মাসের) দশ দিন রোযা পালন করতে দেখিনি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২৯), মুসলিম
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটিকে সাওরী প্রমুখ বর্ণনাকারী মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম... সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দশ দিন কখনও রোযা অবস্থায় দেখা যায়নি। এই হাদীসটিকে আবুল আহওয়াস মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনাকারী আসওয়াদের উল্লেখ করেননি। এই হাদীসের সনদে মানসূরের পরবর্তী বর্ণনাকারীগণ উক্ত মতবিরোধ করেছেন। আমাশের বর্ণনাটিই এই সনদগুলোর মধ্যে অধিক সহীহ্ এবং মুত্তাসিল। ওয়াকী বলেন, মানসূরের নিকট হতে বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবরাহীম অপেক্ষা আমাশ বেশি বিশ্বস্ত সংরক্ষক
باب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَائِمًا فِي الْعَشْرِ قَطُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ . وَرَوَى الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُرَ صَائِمًا فِي الْعَشْرِ . وَرَوَى أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَائِشَةَ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ الأَسْوَدِ . وَقَدِ اخْتَلَفُوا عَلَى مَنْصُورٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرِوَايَةُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ وَأَوْصَلُ إِسْنَادًا . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ الأَعْمَشُ أَحْفَظُ لإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ .
Aishah narrated:
"I did not see the Prophet fasting at all during the ten."
পরিচ্ছেদঃ ৫২. যুলহিজ্জা মাসের দশ দিনের সৎকাজের ফযীলত
৭৫৭। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনসমূহের সৎকাজ আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যুলহিজ্জা মাসের এই দশ দিনের সৎকাজ অপেক্ষা বেশি প্রিয়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা’আলার পথে জিহাদ করাও কি (এত প্রিয়) নয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলার পথে জিহাদও তার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তবে জান-মাল নিয়ে যদি কোন লোক আল্লাহ্ তা’আলার পথে জিহাদে বের হয় এবং এ দুটির কোনটিই নিয়ে যদি সে আর ফিরে না আসতে পারে তার কথা (অর্থাৎ সেই শহীদের মর্যাদা) আলাদা।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২৭), বুখারী
ইবনু উমার, আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْعَمَلِ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، هُوَ الْبَطِينُ وَهُوَ ابْنُ عِمْرَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
Ibn Abbas narrated that :
the Messenger of Allah said: "There are no days in which righteous deeds are more beloved to Allah than those ten days." They said: "O Messenger of Allah! Not even Jihad in Allah Cause?" The Messenger of Allah said: "Not even Jihad in Allah's Cause, unless a man were to out with his self and his wealth and not return from that with anything."
পরিচ্ছেদঃ ৫২. যুলহিজ্জা মাসের দশ দিনের সৎকাজের ফযীলত
৭৫৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭২৮)
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। শুধু উল্লেখিত সূত্রেই আমরা হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনিও এই সূত্র ব্যতীত অনুরূপ কিছু বলতে পারেননি। তিনি বলেন, কাতাদা হতে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উল্লিখিত হাদীসের কিছু অংশ মুরসাল হিসেবে বর্ণিত আছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) নাহহাস ইবনু কাহম-এর স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْعَمَلِ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ، عَنْ نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مَسْعُودِ بْنِ وَاصِلٍ عَنِ النَّهَّاسِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ مِثْلَ هَذَا . وَقَالَ قَدْ رُوِيَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً شَيْءٌ مِنْ هَذَا . وَقَدْ تَكَلَّمَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "There are no days more beloved to Allah that He be worshipped in them than the ten days of Dhul-Hijjah, fasting every day of them is the equivalent of fasting a year, and standing every night of them (in prayer) is the equivalent of standing on the Night of Qadr."
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোযা পালন করা
৭৫৯। আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক রামাযান মাসে রোযা পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোযা পালন করলো, সে লোক যেন সম্পূর্ণ বছরই রোযা পালন করলো। – হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১৬), মুসলিম
জাবির, আবু হুরাইরা ও সাওবান (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীসের ভিত্তিতে শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোযা পালন করাকে মুস্তাহাব মনে করেন।
ইবনুল মুবারাক বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালনের মত এটিও মুস্তাহাব। এ রোযা রামাযানের রোযার পরপরই পালনের কথা কোন কোন হাদীসে উল্লেখ আছে। তাই তিনি এই ছয়টি রোযা শাওয়াল মাসের শুরুর দিকে পালন করাকে বেশি পছন্দীয় মনে করেছেন তিনি আরও বলেছেনঃ শাওয়াল মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনের রোযা পালন করাও জায়িয আছে।
আবু ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ এই হাদীসটি সাফওয়ান ইবনু সুলাইম ও সা’দ ইবনু সাঈদের সূত্রে উমার ইবনু সাবিত হতে আবু আইয়ূব (রাঃ)-এর সনদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রাঃ) এই হাদীস ওয়ারকা ইবনু উমার হতে সা’দ ইবনু সাঈদ (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সাদ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর ভাই। একদল হাদীস বিশেষজ্ঞ তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন।
— হাসান বাসরী হতে বর্ণিত আছে যে, তার নিকট শাওয়ালের ছয়টি রোযার উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি পূর্ণ বৎসরের পরিবর্তে এই মাসের রোযার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সনদ সহীহ্, মাকতু।
باب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَثَوْبَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ صِيَامَ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ هُوَ حَسَنٌ هُوَ مِثْلُ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَيُرْوَى فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ " وَيُلْحَقُ هَذَا الصِّيَامُ بِرَمَضَانَ " . وَاخْتَارَ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَنْ تَكُونَ سِتَّةَ أَيَّامٍ فِي أَوَّلِ الشَّهْرِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ إِنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ مُتَفَرِّقًا فَهُوَ جَائِزٌ . قَالَ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ وَسَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ . وَسَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ هُوَ أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ إِسْرَائِيلَ أَبِي مُوسَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ قَالَ كَانَ إِذَا ذُكِرَ عِنْدَهُ صِيَامُ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ فَيَقُولُ وَاللَّهِ لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ بِصِيَامِ هَذَا الشَّهْرِ عَنِ السَّنَةِ كُلِّهَا .
Abu Ayub narrated that :
the Messenger of Allah said: "Whoever fasts Ramadan, then follows it with six from Shawwal, then that is (equal in reward) to fasting everyday."
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করা
৭৬০। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বিষয়ে আমার নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নেন। আমি যেন বিতর আদায়ের পূর্বে না ঘুমাই, প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা আদায় করি এবং চাশতের নামায নিয়মিত আদায় করি।
– সহীহ, ইরওয়া (৯৪৬), সহীহ আবু দাউদ (১২৮৬), বুখারী, মুসলিম
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ عَهِدَ إِلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةً أَنْ لاَ أَنَامَ إِلاَّ عَلَى وِتْرٍ وَصَوْمَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَأَنْ أُصَلِّيَ الضُّحَى .
Abu Hurairah narrated:
"The Messenger of Allah took a covenant from me for three: To not sleep except after performing Witr, to fast three days of every month, and to perform the Duha prayer."
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করা
৭৬১। আবূ যার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ হে আবু যার! তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করতে চাইলে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে তা পালন কর।
– হাসান সহীহ, ইরওয়া (৯৪৭), মিশকাত তাহকীক ছানী (২০৫৭)
আবূ কাতাদা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, কুররা ইবনু ইয়াস আইশা, কাতাদা ইবনু মিলহান, উসমান ইবনু আবুল আস ও জারীর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু যার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। কোন কোন হাদীসে বর্ণিত আছেঃ প্রতি মাসে যে লোক তিন দিন রোযা পালন করলো সে যেন সারা বছর রোযা পালন করলো।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَامٍ، يُحَدِّثُ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَقُرَّةَ بْنِ إِيَاسٍ الْمُزَنِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي عَقْرَبٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَقَتَادَةَ بْنِ مِلْحَانَ وَعُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِي وَجَرِيرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ أَنَّ " مَنْ صَامَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ كَانَ كَمَنْ صَامَ الدَّهْرَ " .
Abu Dharr narrated that :
the Messenger of Allah said: "O Abu Dharr! When you fast three days out of a month, then fast the thirteenth, fourteenth, and fifteenth."
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করা
৭৬২। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি মাসে যে লোক তিন দিন রোযা পালন করে তা যেন সারা বছরই রোযা পালনের সমান। আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে তার কিতাবে আয়াত অবতীর্ণ করেছেনঃ “কোন লোক যদি একটি সাওয়াবের কাজ করে তাহলে তার প্রতিদান হচ্ছে এর দশ গুণ” (সূরাঃ আন’আম- ১৬০)। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান।
— সহীহ, ইরওয়া
আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শুবা এই হাদীসটি আবু আবু হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ " . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ : (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ) . الْيَوْمُ بِعَشَرَةِ أَيَّامٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي شِمْرٍ وَأَبِي التَّيَّاحِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
Abu Dharr narrated:
"The Messenger of Allah said: 'Whoever fasts three days in every month, then that is (similar to) fasting every day.' Then Allah Mighty and Sublime is He, attested to that in His Book, by revealing: Whoever brings a good deed, shall have ten times the like thereof. So a day is like ten."
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করা
৭৬৩। মু’আযাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আইশা (রাঃ)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, কোন কোন তারিখে তিনি এই রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, তিনি যে কোন দিন এই রোযা রাখতেন, এই বিষয়ে তিনি কোন সংকোচ করতেন না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০৮), মুসলিম
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। বর্ণনাকারী ইয়ামীদ আর-রিশক হলেন ইয়াযীদ আয-যুবাঈ এবং ইনিই ইয়াযীদ ইবনুল কাসিম। ইনি ছিলেন বণ্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় ’রিশক অর্থ বণ্টনকারী।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ، قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قَالَتْ نَعَمْ . قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ كَانَ لاَ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَيَزِيدُ الرِّشْكُ هُوَ يَزِيدُ الضُّبَعِيُّ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ وَهُوَ الْقَسَّامُ وَالرِّشْكُ هُوَ الْقَسَّامُ بِلُغَةِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ .
Yazid Ar-Rishk said:
"I heard Mu'adhah saying to Aishah: 'Did the Messenger of Allah fast three days of every month?' She replied in the affirmative. So she said: 'Which of them would he fast?' She said: 'Which of them he would fast was not noticeable.'"
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. রোযা পালনের ফযীলত
৭৬৪। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রতিপালক বলেন, “প্রতিটি সৎ কাজের প্রতিদান হলো দশ গুণ হতে সাত শত গুণ পর্যন্ত। কিন্তু রোযা শুধুমাত্র আমার জন্যই এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই দিব।” রোযা জাহান্নাম হতে (বাচার) ঢালস্বরূপ। আল্লাহ্ তা’আলার নিকট রোযা পালনকারীর মুখের গন্ধ কন্তুরী ও মিশক আম্বরের গন্ধের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। তোমাদের কোন রোযা পালনকারীর সাথে যদি কোন জাহিল মূর্খতা সুলভ আচরণ করে তবে সে যেন বলে, আমি রোযাদার। — সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/৫৭-৫৮), সহীহ আবু দাউদ (২০৪৬)
মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সাদ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কাইসার ও বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ)-এর নাম যাহম ইবনু মা’বাদ, খাসাসিয়্যা হলেন তার মাতা। আবু ঈসা এই সূত্রে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ رَبَّكُمْ يَقُولُ كُلُّ حَسَنَةٍ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ وَالصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَإِنْ جَهِلَ عَلَى أَحَدِكُمْ جَاهِلٌ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَكَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَسَلاَمَةَ بْنِ قَيْصَرٍ وَبَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ . وَاسْمُ بَشِيرٍ زَحْمُ بْنُ مَعْبَدٍ وَالْخَصَاصِيَةُ هِيَ أُمُّهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
Abu Hurairah narrated that:
The Messenger of Allah said: "Indeed your Lord said: 'Every good deed is rewarded with ten of the same up to seven hundred times over. Fasting is for Me, and I shall reward for it.' Fasting is a shield from the Fire. The smell coming from the mouth of the one fasting is more pleasant to Allah than the scent of musk. If one of you is abused by an ignorant person while fasting, then let him say: 'Indeed I am fasting.'"
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. রোযা পালনের ফযীলত
৭৬৫ সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “রাইয়্যান” নামে জান্নাতে একটি দরজা আছে। রোযা পালনকারীকে এই দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। যে সব লোক রোযা পালন করে তারা এই দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। আর তাতে যে লোক প্রবেশ করবে সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৪০), “পিপাসার্ত হবে না" ব্যাক্যাংশ ব্যতীত - বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান, সহীহ গারীব বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَبَابًا يُدْعَى الرَّيَّانَ يُدْعَى لَهُ الصَّائِمُونَ فَمَنْ كَانَ مِنَ الصَّائِمِينَ دَخَلَهُ وَمَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
Sahl bin Sa'd narrated that:
The Prophet said: "There is a gate in Paradise called Ar-Raiyyan, those who fast shall be invited into it, and whoever was among those who fasted, then he will enter it; and whoever enters it, he will never thirst again."
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. রোযা পালনের ফযীলত
৭৬৬। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযা পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ আছে- একটি আনন্দ যখন সে ইফতার করে এবং আরেকটি আনন্দ যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৩৮), মুসলিম
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that:
The Messenger of Allah said: "There are two joys for the fasting person: the joy when he breaks his fast, and the joy of when he meets his Lord."
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. সারা বছর রোযা পালন করা প্রসঙ্গে
৭৬৭। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে সব লোকের কাজগুলো কেমন যে সব লোক সারা বছর রোযা পালন করে? তিনি বললেনঃ তার রোযা পালনও হল না, ইফতারও হল না। — সহীহ, ইরওয়া (৯৫২), মুসলিম
আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবু মূসা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সারা বছর রোযা পালন করাকে আলিমগণের একদল মাকরূহ মনে করেন। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনও (কুরবানীর দিনের পরবর্তী তিন দিন) যদি কোন লোক রোযা পালন করে তবে সেটা হবে সারা বছর রোযা (যা মাকরূহ)। যেসব লোক এই দিনগুলোতে রোযা পালন করবে না সে উপরোক্ত মাকরূহ-এর মধ্যে পড়বে না এবং সে সারা বছর রোযাদার হবে না। একইরকম অভিমত ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) হতেও বর্ণিত আছে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এটাই। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আইয়্যামে তাশরীক এই পাঁচ দিন রোযা পালন করতে নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের রোযা ত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الدَّهْرِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ صَامَ الدَّهْرَ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " . أَوْ " لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صِيَامَ الدَّهْرِ وَأَجَازَهُ قَوْمٌ آخَرُونَ وَقَالُوا إِنَّمَا يَكُونُ صِيَامُ الدَّهْرِ إِذَا لَمْ يُفْطِرْ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَمَنْ أَفْطَرَ هَذِهِ الأَيَّامَ فَقَدْ خَرَجَ مِنْ حَدِّ الْكَرَاهِيَةِ وَلاَ يَكُونُ قَدْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ نَحْوًا مِنْ هَذَا وَقَالاَ لاَ يَجِبُ أَنْ يُفْطِرَ أَيَّامًا غَيْرَ هَذِهِ الْخَمْسَةِ الأَيَّامِ الَّتِي نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهَا يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ .
Abu Qatadah said:
"It was said: 'O Messenger of Allah! What is the case of the one who fasts daily?' He said: 'He did not fast nor break (the fast).'" Or, he said: "He never fasted nor broke (his fast)."
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. অব্যাহতভাবে রোযা পালন করা
৭৬৮। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা পালন প্রসঙ্গে আইশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করেই যেতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি তো রোযা পালন করেই যাচ্ছেন। আবার রোযা আর রোযা পালন করবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও রামাযান মাস ব্যতীত সম্পূর্ণ মাস রোযা পালান করেননি।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১০), বুখারী, মুসলিম ৷
আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي سَرْدِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . قَالَتْ وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً إِلاَّ رَمَضَانَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abdullah bin Shaqiq narrated:
"I asked Aishah about the Prophet's fasting.' She said: 'He would fast until we said: "He has fasted" and he would abstain from fasting until we said: "He has abstained from fasting." (She said:) 'The Messenger of Allah did not fast an entire month except Ramadan.'"
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. অব্যাহতভাবে রোযা পালন করা
৭৬৯। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোন মাসে তিনি রোযা পালন করতে শুরু করলে মনে হত যে, তার হয়তো আর রোযা ত্যাগের ইচ্ছা নেই। আবার যখন তিনি রোযা পালন করা ছেড়ে দিতেন তখন মনে হত তিনি হয়তো আর রোযা পালন করবেন না। তুমি যদি তাকে রাতে নামায রত অবস্থায় দেখতে ইচ্ছা করতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে। আর তুমি যদি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে ইচ্ছা করতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে।
— সহীহ, বুখারী (১৯৭২), মুসলিম (৩/১৬২), নামাযের ব্যাক্যাংশ বাদে সংক্ষিপ্তভাবে।
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي سَرْدِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَرَى أَنَّهُ لاَ يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَرَى أَنَّهُ لاَ يُرِيدُ أَنْ يَصُومَ مِنْهُ شَيْئًا وَكُنْتَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ مُصَلِّيًا وَلاَ نَائِمًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ نَائِمًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Jafar bin Humaid narrated that:
Anas bin Malik was asked about the Prophet's fasting and he said: "He would fast during a month until we thought that he did not want to abstain from fasting during any of it. And, he would not fast during a month until we thought that he did not want to fast during any of it. (There was no time) that I wanted to see if he was performing Salat during the night, except that I would see him praying, nor to see him sleeping, except that I would see him sleeping."
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. অব্যাহতভাবে রোযা পালন করা
৭৭০। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ভাই দাউদ (আঃ)-এর রোযা হল সবচেয়ে উত্তম রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না। আর যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মুখোমুখী হলে তিনি পালাতেন না। – সহীহ, বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনাকারী আবুল আব্বাস একজন মক্কার কবি ছিলেন এবং তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তার নাম সাইব ইবনু ফাররূখ। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, সবচেয়ে উত্তম (নফল) রোযা হচ্ছে সেই রোযা যা একদিন পরপর পালন করা হয়। বলা হয় যে, এই নিয়মে রোযা রাখা কঠিন।
باب مَا جَاءَ فِي سَرْدِ الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ الشَّاعِرُ الْمَكِّيُّ الأَعْمَى وَاسْمُهُ السَّائِبُ بْنُ فَرُّوخَ . قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَفْضَلُ الصِّيَامِ أَنْ تَصُومَ يَوْمًا وَتُفْطِرَ يَوْمًا . وَيُقَالُ هَذَا هُوَ أَشَدُّ الصِّيَامِ .
Abdullah bin Amr narrated that:
The Messenger of Allah said: "The most virtuous fast is the fast of my brother Dawud. He would fast a day, and not fast (the next) day. He would not flee at the time of engagement (with the enemy)."
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. দুই ঈদের দিন রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৭১৷ আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে কুরবানীর দিন দেখতে পেয়েছি যে, খুতবা দেওয়ার আগে প্রথমে তিনি নামায আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, এই দুই ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি রোযা পালন করতে নিষেধ করতে শুনেছি। ঈদুল ফিতরের দিন হল তোমাদের (সারা মাসের) রোযা ভঙ্গের দিন এবং মুসলিমদের ঈদের দিন। আর তোমরা ঈদুল আযহার দিন তোমাদের কুরবানীর মাংস খাবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২২), বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আবূ উবাইদের নাম সা’দ। তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আযহারের মাওলাও বলা হয়। আবদুর রাহমান ইবনু আযহার হলেন আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর চাচাত ভাই।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ شَهِدْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي يَوْمِ النَّحْرِ بَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ صَوْمِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَفِطْرُكُمْ مِنْ صَوْمِكُمْ وَعِيدٌ لِلْمُسْلِمِينَ وَأَمَّا يَوْمُ الأَضْحَى فَكُلُوا مِنْ لُحُومِ نُسُكِكُمْ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اسْمُهُ سَعْدٌ وَيُقَالُ لَهُ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ أَيْضًا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَزْهَرَ هُوَ ابْنُ عَمِّ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ .
Abu Ubaid, the freed slave of Abdur-Rahman bin Awf narrated:
"I witnessed Umar bin Al-Khattab on the Day of Nahr beginning with the Salat before the Khutbah. Then he said: 'I heard the Messenger of Allah prohibit fasting on these two days. As for the Day of Fitr, then it is for you to take a break from your fasting, and a celebration for the Muslims. As for the Day of Adha, then eat from the flesh that you have sacrificed.'"
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. দুই ঈদের দিন রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৭২। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’দিন রোযা পালন করতে বারণ করেছেনঃ ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরের দিন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২১), বুখারী , ইরওয়া (৯৬২), আর রাওয (৬৪৩), সহীহ আবু দাউদ (২০৮৮), মুসলিম।
উমার, আলী, আইশা, আবু হুরাইরা, উকবা ইবনু আমির ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। আবু ঈসা বলেন, আমর ইবনু ইয়াহইয়া হলেন ইবনু উমারা ইবনু আবুল হাসান আল-মাযিনী আল-মাদানী। তিনি একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। সুফিয়ান সাওরী, শুবা ও মালিক ইবনু আনাস তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامَيْنِ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَمْرُو بْنُ يَحْيَى هُوَ ابْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْمَازِنِيُّ الْمَدَنِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ .
Abu Sa'eed Al-Khudri narrated:
"The Messenger of Allah prohibited two fasts: Fasting the Day of Adha and the Day of Fitr."
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. আইয়্যামে তাশরীক-এ রোযা পালন করা মাকরূহ
৭৭৩। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের মুসলিম জনগণের ঈদের দিন হচ্ছে আরাফার দিন, কুরবানীর দিন ও তাশরীকের দিন। এ দিনগুলো হচ্ছে পানাহারের দিন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৯০), ইরওয়া (৪/১৩০)
আলী, সাদ, আবু হুরাইরা, জাবির, নুবাইশা, বিশর ইবনু সুহাইম, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা, আনাস, হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী, কাব ইবনু মালিক, আইশা, আমর ইবনুল আস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
আবু ঈসা উকবা ইবনু আমির হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাশরীকের দিনগুলোতে রোযা পালন করাকে তারা মাকরুহ (হারাম) মনে করেন। কিন্তু তামাত্তু হাজ পালনকারীর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম এই দিনগুলোতে রোযা পালনের সুযোগ দিয়েছেন- যদি তারা কুরবানীর জানোয়ার না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে রোযা পালন করতে না পেরে থাকে। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)।
আবু ঈসা বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দিসগণ বলেন, (বর্ণনাকারীর নাম) মূসা ইবনু আলী ইবনু রাবাহ। মিসরবাসীগণ বলেন, মূসা ইবনু উলাই। আবু ঈসা আরও বলেন, কুতাইবাকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলতে শুনেছেন যে, মূসা ইবনু আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীররূপে (উলাই) উচ্চারণ কারো জন্য হালাল মনে করি না।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَعْدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَنُبَيْشَةَ وَبِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ وَأَنَسٍ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ وَكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَعَائِشَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ الصِّيَامَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ إِلاَّ أَنَّ قَوْمًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ رَخَّصُوا لِلْمُتَمَتِّعِ إِذَا لَمْ يَجِدْ هَدْيًا وَلَمْ يَصُمْ فِي الْعَشْرِ أَنْ يَصُومَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ . وَقَالَ سَمِعْتُ قُتَيْبَةُ يَقُولُ سَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ قَالَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ لاَ أَجْعَلُ أَحَدًا فِي حِلٍّ صَغَّرَ اسْمَ أَبِي .
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। এই হাদীসটির দ্বারা একটি বিষয় সাব্যস্ত হয়, আর সেই বিষয়টি হলো এই যে, আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং কুরবানির দিনের পর আইয়ামে তাশরীকের আরো তিন দিন ধরে কুরবানির ঈদের দিনের সংখ্যা হলো সর্ব মোট পাঁচ দিন। তবে কুরবানি ও হাদয়ী জবাই করা শুরু হয় ইয়াওমুন্নাহারের দিন। এবং সেই দিনটি হয় জুলহিজ্জা মাসের দশ তারিখের দিন। তাই কুরবানি ও হাদয়ী জবাই করা চলতে থাকবে কুরবানির দিনের পর আইয়ামে তাশরীকের আরো তিন পর্যন্ত অর্থাৎ কুরবানির দিনের পরেও আরো তিন দিন। সুতরাং জুলহিজ্জা মাসের দশ তারিখ থেকে তেরো তারিখ পর্যন্ত কুরবানি ও হজ্জের হাদয়ী জবাই করার কাজ চালু রাখা বৈধ হবে।
২। আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং কুরবানির দিনের পর আইয়ামে তাশরীকের আরো তিন দিন কুরবানির ঈদের দিনগুলির অন্তর্ভুক্ত। তাই কুরবানির ঈদের দিনের সর্ব মোট সংখ্যা হলো পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিন হলো পানাহার করার দিন। কিন্তু যে ব্যক্তি কিরান অথবা তামাত্তু হজ্জ পালন করবে এবং হজ্জ পালন করার হাদয়ী জবাই করার ক্ষমতা রাখবে না, সে ব্যক্তির জন্য আইয়ামে তাশরীকের (কুরবানির দিনের পর তিন দিন) দিনগুলিতে রোজা রাখা বৈধ। অনুরূপভাবে যারা হজ্জ পালন করার কাজে লিপ্ত হবে না, তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখার মহা মর্যদার বিষয়টিও নির্ধারিত রয়েছে।
৩। প্রকৃত ইসলাম ধর্মে ঈদের আসল অর্থ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো এই যে, ঈদের সময় সমস্ত মুসলমান সেই মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। যেই মহান আল্লাহ তাদেরকে তাঁর ইবাদত উপাসনা করার শক্তি ও সুযোগ প্রদান করেছেন।
৪। প্রকৃত ইসলাম ধর্মে সারা বছরের মধ্যে কুরবানির দিনগুলির মধ্যে ইয়াওমুন্নাহারের দিন জুলহিজ্জা মাসের দশ তারিখের দিনটি সব চেয়ে বশি মর্যাদাপূর্ণ দিন। তাই এই কুরবানির ঈদের দিনটি হলো সবচেয়ে মহান এবং সর্ব শ্রেষ্ঠ দিন আর এই ইদুলআদহা হলো ইদুল ফিতেরের চেয়েও অনেক বড়ো ও উত্তম ঈদ।
Uqbah bin Amir narrated that :
The Messenger of Allah said: "The Day of Arafah, the Day of Nahr, and the Days of Tashriq are Eid for us. The people of Islam, and they are days of eating and drinking,"
পরিচ্ছেদঃ ৬০. রোযা থাকা অবস্থায় রক্তক্ষরণ করানো
৭৭৪। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক রক্তক্ষরণ করে এবং যাহার রক্তক্ষরণ করানো হয় তাদের দু’জনের রোযাই নষ্ট হয়ে যায়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৯-১৬৮১)
আলী, সাদ, শাদাদ ইবনু আওস, সাওবান, উসামা ইবনু যাইদ, আইশা, মাকিল ইবনু সিনান (বলা হয় ইনি মাকিল ইবনু ইয়াসার), আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, আবু মূসা ও বিলাল (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা রাফি ইবনু খাদীজ হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহঃ) বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসই এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস এবং আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আউস হতে বর্ণিত হাদীসই হচ্ছে এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস। ইয়াহইয়া ইবনু আবু কাসীর (রহঃ) আবু কিলাবা (রাঃ) হতে সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওমের দুটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন।।
রোযা অবস্থায় রক্তক্ষরণ করানোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমের একটি দল মাকরূহ মনে করেন। এমনকি অনেক সাহাবী (রামাযানের) রাতে তা করাতেন যেমন আবূ মূসা আল-আশআরী ও ইবনু উমার (রাঃ)। এরকম মতপ্রকাশ করেছেন ইবনুল মুবারাকও। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, কেউ যদি রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করায় তাহলে তাকে এর কায আদায় করতে হবে। এরকম মত দিয়েছেন আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও ইসহাকও।
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেছেন, রোযা পালনরত অবস্থায়ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। আবার এটাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ রক্তক্ষরণকারী এবং যে লোকের রক্তক্ষরণ করা হয় তাদের উভয়ের রোযাই বাতিল হয়ে গেল। আমার এ দুটি হাদীসের মধ্যে একটিও সঠিক বলে জানা নেই। কোন ব্যক্তি যদি রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করানো হতে দূরে থাকে তাহলে সেটাই আমার মতে বেশি পছন্দনীয়। আর যদি কোন লোক তার রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করায় সেক্ষেত্রে আমি মনে করি না এতে করে তার রোযা বাতিল হয়।
আবু ঈসা বলেন, বাগদাদে থাকা অবস্থায় ইমাম শাফিঈর মত ছিল এটাই। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি মিসরে যাওয়ার পর রক্তক্ষরণের অনুমতির পক্ষপাতী ছিলেন এবং কোনরকম সমস্যা আছে বলে মনে করেননি রোযা থাকাবস্থায় রক্তমোক্ষণ করানোতে। তার এই মতের সমর্থনে তিনি দলীল হিসাবে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা ও ইহরাম অবস্থায় বিদায় হজ্জে রক্তক্ষরণ করিয়েছেন।
باب كَرَاهِيَةِ الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَعْدٍ وَشَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ وَثَوْبَانَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَعَائِشَةَ وَمَعْقِلِ بْنِ سِنَانٍ وَيُقَالُ ابْنُ يَسَارٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي مُوسَى وَبِلاَلٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَذُكِرَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَنَّهُ قَالَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ . وَذُكِرَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ ثَوْبَانَ وَشَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ لأَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ رَوَى عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ الْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا حَدِيثَ ثَوْبَانَ وَحَدِيثَ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ حَتَّى أَنَّ بَعْضَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ بِاللَّيْلِ مِنْهُمْ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ وَابْنُ عُمَرَ وَبِهَذَا يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ مَنِ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ وَهَكَذَا قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ . وَقَالَ أَبُو عِيسَى وَأَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . وَلاَ أَعْلَمُ وَاحِدًا مِنْ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ ثَابِتًا وَلَوْ تَوَقَّى رَجُلٌ الْحِجَامَةَ وَهُوَ صَائِمٌ كَانَ أَحَبَّ إِلَىَّ وَلَوِ احْتَجَمَ صَائِمٌ لَمْ أَرَ ذَلِكَ أَنْ يُفْطِرَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا كَانَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ بِبَغْدَادَ وَأَمَّا بِمِصْرَ فَمَالَ إِلَى الرُّخْصَةِ وَلَمْ يَرَ بِالْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا وَاحْتَجَّ بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ .
Rafi bin Khadi narrated that:
The Prophet said: "The cupper and the one cupped have broke the fast."
পরিচ্ছেদঃ ৬১. এই বিষয়ে (রক্তক্ষরণের) অনুমতি প্রসঙ্গে
৭৭৫। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রোযা পালন ও ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। — সহীহ, এই অর্থে "রোযা থাকাবস্থায় তিনি রক্তক্ষরণ করিয়েছেন", বুখারী, ইবনু মা-জাহ (১৬৮২)
এই হাদীসটিকে আবু ঈসা সহীহ বলেছেন। আব্দুল ওয়ারিসের বর্ণনার ন্যায় ওহাইবও বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম আইয়ুব হতে তিনি ইকরিমা হতে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন ইবনু আব্বাসের উল্লেখ না করে।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى وُهَيْبٌ نَحْوَ رِوَايَةِ عَبْدِ الْوَارِثِ . وَرَوَى إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
Ibn Abbas narrated:
"the Messenger of Allah was cupped while he was fasting and in Ihram."
পরিচ্ছেদঃ ৬১. এই বিষয়ে (রক্তক্ষরণের) অনুমতি প্রসঙ্গে
৭৭৬। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। — সহীহ প্রাগুক্ত
আবু ঈসা বলেন, উপরোক্ত সূত্রে হাদীসটি হাসান গারিব।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
Ibn Abbas narrated:
"The Prophet was cupped while he was fasting."
পরিচ্ছেদঃ ৬১. এই বিষয়ে (রক্তক্ষরণের) অনুমতি প্রসঙ্গে
৭৭৭। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদীনার মাঝখানে ইহরাম ও রোযা অবস্থায় রক্তক্ষরণ করিয়েছেন।
এই শব্দের হাদীসটি মুনকার। প্রগুক্ত
এই অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তাবিঈ এই হাদীস অনুসারে অভিমত দিয়েছেন যে, রোযাব্রত অবস্থায় রক্তক্ষরণ (শিঙ্গা লাগানো) করানোতে কোন সমস্যা নেই। সুফিয়ান সাওর, মালিক ইবনু আনাস ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর একই মত।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ فِيمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَرَوْا بِالْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ .
Ibn Abbas narrated:
"The Prophet was cupped somewhere between Makkah and Al-Madinah and he was fasting and in Ihram."
পরিচ্ছেদঃ ৬২. সাওমে বিসাল মাকরূহ
৭৭৮। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাওমে বিসাল কর না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সাওমে বিসাল করেন। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের কারো মত নই। আমাকে আমার প্রতিপালক পানাহার করান। — সহীহ, বুখারী
বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। সাওমে বিসালকে তারা মাকরূহ বলে মত দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওমে বিসাল করতেন এবং ইফতার করতেন না।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْوِصَالِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، وَخَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُوَاصِلُوا " . قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ إِنَّ رَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَبَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْوِصَالَ فِي الصِّيَامِ . وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ يُوَاصِلُ الأَيَّامَ وَلاَ يُفْطِرُ .
Anas narrated that :
the Messenger of Allah said: "Do not perform Wisal" They said: "But you perform Wisal O Messenger of Allah." He said: "I am not like you are, indeed my Lord feeds me and gives me to drink."
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. রোযা পালন করতে ইচ্ছা পোষণকারীর নাপাক অবস্থায় ফজর হওয়া
৭৭৯। আবু বাকর ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আইশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) জানিয়েছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (কোন কোন সময়) কোন স্ত্রীর (সাথে সহবাসের) কারণে নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে যেত। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং রোযা পালন করতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০৩), বুখারী, মুসলিম
আইশা ও উম্মু সালামা হতে বর্ণিত হাদীসকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। এ মত দিয়েছেন সুফিয়ান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)। তাবিঈগণের একটি দল বলেন, সহবাসজনিত কারণে নাপাক অবস্থায় কোন লোকের ফজর হয়ে গেলে সে লোককে এই দিনের রোযার কায করতে হবে। তবে প্রথমে বর্ণিত মতটিই অধিক সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ يُرِيدُ الصَّوْمَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، وَأُمُّ سَلَمَةَ زَوْجَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فَيَصُومُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ مِنَ التَّابِعِينَ إِذَا أَصْبَحَ جُنُبًا يَقْضِي ذَلِكَ الْيَوْمَ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
Abu Bakr Bin Abdur-Rahman bin Al-Harith bin Hashim said:
"Aishah and Umm Salamah, the wives of the Prophet informed me that the Prophet would find that it was Fajr while he was Junub from (relations with) his wives, then he would perform Ghusl and fast."
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. রোযা থাকাবস্থায় দাওয়াত গ্রহণ করা
৭৮০। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলে সেলোক যেন তা গ্রহণ করে। সে রোযাদার হলে (দাওয়াতকারীর জন্য) যেন দু’আ করে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৫০), মুসলিম
باب مَا جَاءَ فِي إِجَابَةِ الصَّائِمِ الدَّعْوَةَ
حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ " . يَعْنِي الدُّعَاءَ .
Abu Hurairah narrated that:
The Prophet said: "When one of you is invited to eat then let him respond, if he is fasting then let him pray." Meaning: supplicate.
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. রোযা থাকাবস্থায় দাওয়াত গ্রহণ করা
৭৮১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাৰী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন রোযাদারকে যদি খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযা আছি। - সহীহ, প্রাগুক্ত
আবু ঈসা আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত উভয় হাদিসকেই হাসান সহিহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي إِجَابَةِ الصَّائِمِ الدَّعْوَةَ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ فِي هَذَا الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that :
The Prophet said: "When one of you is invited (to a meal) and he is fasting, then let him said: 'Indeed I am fasting.'"
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর (নফল) রোযা আদায় করা মাকরূহ
৭৮২। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া রামাযান মাসের রোযা ব্যতীত একদিনও অন্য কোন (নফল) রোযা পালন না করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬১), নাসা-ঈ- রামাযানের উল্লেখ ব্যতীত।
ইবনু আব্বাস ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আবৃ্য যানাদ হতে, তিনি মূসা ইবনু আবূ উসমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ الْمَرْأَةِ إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ يَوْمًا مِنْ غَيْرِ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
Abu Hurairah narrated that:
The Prophet said: "A woman may not fast a day - other than in the month of Ramadan - while her husband is present, except with his permission."
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. রামাযানের রোযার কাযা আদায়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করা প্রসঙ্গে
৭৮৩। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি শাবান মাস ব্যতীত আমার রামাযান মাসের কাযা রোযা আদায় করতে পারতাম না (কোন সংগত ওজরবশত), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল। – সহীহ, ইরওয়া (৯৪৪), রাওযুন নায়ীর (৭৬৩), সহীহ আবু দাউদ (২০৭৬), তামামুল মিন্নাহ বুখারী, মুসলিম
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটিকে ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ আনসারী (রাহঃ) আবু সালামা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ قَضَاءِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ السُّدِّيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا كُنْتُ أَقْضِي مَا يَكُونُ عَلَىَّ مِنْ رَمَضَانَ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَ هَذَا .
Aishah narrated:
"I would not make up what was due upon me from Ramadan except in Sha'ban, until the Messenger of Allah died."
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. রোযাদারের সামনে খেলে তার (রোযাদারের) ফাযীলত
৭৮৪। লাইলা (রাহঃ) হতে তার আযাদকারিনী মহিলা (উম্মু উমারা)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদার ব্যক্তির সামনে বেরোযদার লোকেরা যদি খাবার খায় তাহলে ফেরেশতাগণ তার (রোযাদারের) জন্য দু’আ করেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭৪৮)
আবূ ঈসা বলেন, শুবা এই হাদীসটি হাবীব ইবনু যাইদ..... তার পিতামহী উম্মু উমারা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْلَى، عَنْ مَوْلاَتِهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّائِمُ إِذَا أَكَلَ عِنْدَهُ الْمَفَاطِيرُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ لَيْلَى عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
Laila narrated from the one who freed her (Umm Amarah) that:
The Prophet said: "When those who are not fasting eat in the presence of the fasting person, the angels send Salat upon him."
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. রোযাদারের সামনে খেলে তার (রোযাদারের) ফাযীলত
৭৮৫। হাবীব ইবনু যাইদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের আযাদকৃত দাসী লায়লাকে উম্মু উমারা বিনতু কা’ব আল-আনসারিয়্যা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় তার বাড়িতে আসেন। তখন তিনি তার সামনে খাবার আনলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমিও খাও। তিনি বলেন, আমি (নফল) রোযা রেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোযাদার ব্যক্তির সামনে বেরোযদার লোকেরা যদি খায় তাহলে ফেরেশতাগণ তার (রোযাদারের) জন্য দু’আ করেন। রাবী কোন কোন সময় “হাত্তা ইয়াফরুগু" (খাওয়া শেষ না করা পর্যন্ত) এর জায়গায় “হাত্তা ইয়াশবাউ" (পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত) শব্দ বর্ণনা করেছেন। - যঈফ, প্রাগুক্ত
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটি শারীকের হাদীসের চাইতে অধিক সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ مَوْلاَةً، لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى تُحَدِّثُ عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَدَّمَتْ إِلَيْهِ طَعَامًا فَقَالَ " كُلِي " . فَقَالَتْ إِنِّي صَائِمَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّائِمَ تُصَلِّي عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ حَتَّى يَفْرُغُوا " . وَرُبَّمَا قَالَ " حَتَّى يَشْبَعُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ .
Habib bin Zaid said:
"I heard a freed slave of ours called Laila narrated from [his (Habib's) grandmother] Umm Amarah bint Ka'b Al-Ansar, that the Prophet entered upon her and some food was brought to him. He said: 'Eat.' She said: 'I am fasting.' So the Messenger of Allah said: 'Indeed the angels send Salat upon the fasting person when (others) eat in his presence, until they finish.' And perhaps he said: 'Until they have eaten their fill.'"
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. রোযাদারের সামনে খেলে তার (রোযাদারের) ফাযীলত
৭৮৬। উম্মু উমারা বিনতি কাব (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। তবে এই বর্ণনায় “হাত্তা ইয়াফরুগু আও ইয়াশবাউ" শব্দাবলীর উল্লেখ নেই। (পূর্বের হাদীসের ন্যায়)। এটিও যঈফ
আবূ ঈসা বলেন, উম্মু উমারা (রাঃ) হলেন হাবীব ইবনু যাইদ আল-আনসারী (রাহঃ)-এর পিতামহী।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مَوْلاَةٍ، لَهُمْ يُقَالُ لَهَا لَيْلَى عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " حَتَّى يَفْرُغُوا أَوْ يَشْبَعُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأُمُّ عُمَارَةَ هِيَ جَدَّةُ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ .
(Another chain) from Umm Amarah bint Ka'b Al-Ansari:
From the Prophet, that is similar, except that he did not mention "Until they finish, or they have eating their fill."
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. ঋতুবতী মহিলার রোযা কাযা করা ও নামায কাযা না করা প্রসঙ্গে
৭৮৭। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমরা মাসিক ঋতুর পর পবিত্র হলে তখন আমাদেরকে তিনি রোযার কাযা আদায়ের হুকুম করতেন কিন্তু নামায কাযা আদায়ের কথা বলতেন না। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬৩১) মুসলিম, বুখারীতে নামাযের কথা উল্লেখ নেই।
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুআযা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। এই বিষয়ে তাদের মাঝে কোন মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই অর্থাৎ ঋতুবতী মহিলাকে তার বাদ পড়ে যাওয়া রোযার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু নামাযের কাযা করতে হবে না। আবু ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী উবাইদা হলেন ইবনু মুআত্তিব আয যাববী আল-কুফী তার উপনাম আবু আবদুল কারম।
باب مَا جَاءَ فِي قَضَاءِ الْحَائِضِ الصِّيَامَ دُونَ الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَطْهُرُ فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصِّيَامِ وَلاَ يَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُعَاذَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصِّيَامَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعُبَيْدَةُ هُوَ ابْنُ مُعَتِّبٍ الضَّبِّيُّ الْكُوفِيُّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْكَرِيمِ .
Aishah narrated:
"We would menstruate during the time of the Messenger of Allah, then when we became pure we were ordered to make up the fasts but we were not ordered to make up the Salat."
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. রোযাদারের নাকের ভিতরে পানি পৌছানো মাকরূহ
৭৮৮। লাকীত ইবনু সাবিরা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ওযু প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ ভালোভাবে ওযু কর, আঙ্গুলগুলোর মাঝে খিলাল কর এবং রোযা পালনকারী না হলে নাকের গভীরে পানি পৌছাও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০৭)
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। রোযা পালনকারীর জন্য নাক দিয়ে ঔষধ গ্রহণ করাকে আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। এরফলে রোযা ভেঙ্গে যায় বলে তারা মনে করেন। এই মতের পক্ষে উল্লেখিত হাদীস হতে জোরালো সমর্থন পাওয়া যায়।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ مُبَالَغَةِ الاِسْتِنْشَاقِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْبَغْدَادِيُّ الْوَرَّاقُ، وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ، . قَالَ " أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ أَهْلُ الْعِلْمِ السَّعُوطَ لِلصَّائِمِ وَرَأَوْا أَنَّ ذَلِكَ يُفْطِرُهُ وَفِي الْحَدِيثِ مَا يُقَوِّي قَوْلَهُمْ .
Asim bin Laqit bin Sabrah narrated:
From his father who said: "I said. 'O Messenger of Allah! Inform me about Wudu.' So he said: "Perform Wudu well, and go between the fingers, and perform Istinshaq extensively except when fasting."
পরিচ্ছেদঃ ৭০. কোন ব্যাক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে তাদের অনুমতি ব্যাতিত (নফল) রোযা রাখবে না
৭৮৯। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন সম্প্রদায়ের অতিথি হলে সে যেন তাদের সম্মতি ছাড়া নফল রোযা না রাখে।
খুবই দুর্বল, ইবনু মাজাহ (১৭৬৩)
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। কোন নিৰ্ভযোগ্য রাবী হিশাম ইবনু উরওয়া হতে এই হাদীসটি রিওয়াত করেছেন বলে আমরা অবগত নই। মূসা ইবনু দাউদ, আবূ বকর মাদানী হতে তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া-তৎপিতা উরওয়া হতে তিনি আইশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই রিওয়াতটিও যঈফ। আবূ বকর বিশেষজ্ঞদের মতে দুর্বল। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে আবূ বকর আল-মাদানী উপনামের যে রাবী হাদীস রিওয়াত করেছেন তার নাম আল-ফাযল ইবনু মুবাশশির। তিনি এই আবূ বকর আল-মাদানী হতে বেশী বিশ্বস্ত ও অগ্রগণ্য।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَلاَ يَصُومُ إِلاَّ بِإِذْنِهِمْ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ وَاقِدٍ الْكُوفِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَزَلَ عَلَى قَوْمٍ فَلاَ يَصُومَنَّ تَطَوُّعًا إِلاَّ بِإِذْنِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لاَ نَعْرِفُ أَحَدًا مِنَ الثِّقَاتِ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . وَقَدْ رَوَى مُوسَى بْنُ دَاوُدَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْمَدِينِيِّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوًا مِنْ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ أَيْضًا . وَأَبُو بَكْرٍ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَأَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ اسْمُهُ الْفَضْلُ بْنُ مُبَشِّرٍ وَهُوَ أَوْثَقُ مِنْ هَذَا وَأَقْدَمُ .
Aishah narrated that:
The Messenger of Allah said: "Whoever stays with a people, then he is not to fast without their permission."
পরিচ্ছেদঃ ৭১. ইতিকাফের বর্ণনা
৭৯০। আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযানের শেষ দশকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ করতেন। - সহীহ, ইরওয়া (৯৬৬), সহীহ আবু দাউদ (২১২৫), বুখারী, মুসলিম
উবাই ইবনু কাব, আবু লাইলা, আবু সাঈদ, আনাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَأَبِي لَيْلَى وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah and Aishah narrated:
"The Prophet would perform I'tikaf during the last ten (days) of Ramadan until Allah took him."
পরিচ্ছেদঃ ৭১. ইতিকাফের বর্ণনা
৭৯১। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার ইচ্ছা করতেন তখন ফজরের নামায আদায় করে ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করতেন।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৭১),বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ-আমরার সুত্রে এই হাদিসটি মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে আমরার সূত্রে ইমাম মালিক (রাহঃ) এবং একাধিক বর্ণনাকারী মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। আওযাঈ ও সুফিয়ান সাওরী-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আমরা হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে এই হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কোন কোন আলিমের মতে, কোন ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চাইলে ফজরের নামায আদায়ের পর তাকে ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীমের এই মত।
অপর একদল আলিম বলেছেন, যে দিন হতে কোন ব্যক্তি ইতিকাফ শুরু করতে চায় সে দিনের পূর্বের রাতের সন্ধ্যায় সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যেন সে ব্যক্তি ইতিকাফে বসে। এরকম মতই সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর।
باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ فِي مُعْتَكَفِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . رَوَاهُ مَالِكٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ مُرْسَلاً . وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ إِذَا أَرَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ فِي مُعْتَكَفِهِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْتَغِبْ لَهُ الشَّمْسُ مِنَ اللَّيْلَةِ الَّتِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهَا مِنَ الْغَدِ وَقَدْ قَعَدَ فِي مُعْتَكَفِهِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .
Aishah narrated:
"When the Messenger of Allah wanted to perform I'tikaf, he would perform Fajr prayer and then he would enter his place of I'tikaf."
পরিচ্ছেদঃ ৭২. লাইলাতুল কাদর (কাদরের রাত্রি)
৭৯২। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসের শেষের দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকতেন (ইতিকাফ করতেন)। তিনি বলতেনঃ রামাযান মাসের শেষের দশদিন তোমরা কাদরের রাতকে খোজ কর। — সহীহ। বুখারী, মুসলিম
উমার, উবাই ইবনু কা’ব, জাবির ইবনু সামুরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, ইবনু উমার, ফালাতান ইবনু আসিম, আনাস আবু সাইদ, আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস, আবু বাকরা, ইবনু আব্বাস, বিলাল ও উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইউজাবিরু’ শব্দের অর্থ তিনি ইতিকাফ করতেন। এই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ হাদীসের শব্দ হচ্ছেঃ শেষ দশদিনের প্রতি বিজোড় রাত্রে তোমরা লাইলাতুল কাদর খোজ কর। লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তা হল একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ, উনত্রিশ বা রামাযানের শেষরাত্র।
ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমার মতে এর অর্থ হল, আল্লাহ তা’আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেভাবেই উত্তর প্রদান করতেন তাকে যেভাবে প্রশ্ন করা হত। তার কাছে কোন ব্যক্তি প্রশ্ন করেছে, অমুক রাত্রে কি আমরা তা খোজ করব? উত্তরে তিনি বলেছেন, তোমরা অমুক রাত্রে তা খোজ কর। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আরও বলেন, আমার নিকটে একুশ তারিখ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতটি হচ্ছে এ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী।
আবু ঈসা বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) শপথ করে বলতেনঃ তা হল সাতাশ তারিখের রাত্রি।তিনি আরও বলতেন, এর আলামত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন এবং তা আমরা হিসাব করে রেখেছি এবং স্মরণ রেখেছি।
আবু কিলাবা (রাঃ) বলেন, লাইলাতুল কাদর শেষ দশকের মাঝে আবর্তিত হতে থাকে। আবদ ইবনু হুমাইদ আবদুর রাযযাক হতে, তিনি মামার হতে, তিনি আইয়ুব হতে, তিনি আবু কিলাবা (রাঃ) হতে এই বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَيَقُولُ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأُبَىٍّ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عُمَرَ وَالْفَلَتَانِ بْنِ عَاصِمٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبِلاَلٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَوْلُهَا يُجَاوِرُ يَعْنِي يَعْتَكِفُ . وَأَكْثَرُ الرِّوَايَاتِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي كُلِّ وِتْرٍ " . وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَنَّهَا لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَلَيْلَةُ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَسَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَتِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَآخِرُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ الشَّافِعِيُّ كَأَنَّ هَذَا عِنْدِي وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُجِيبُ عَلَى نَحْوِ مَا يُسْأَلُ عَنْهُ يُقَالُ لَهُ نَلْتَمِسُهَا فِي لَيْلَةِ كَذَا فَيَقُولُ الْتَمِسُوهَا فِي لَيْلَةِ كَذَا . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأَقْوَى الرِّوَايَاتِ عِنْدِي فِيهَا لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ كَانَ يَحْلِفُ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . وَيَقُولُ أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَلاَمَتِهَا فَعَدَدْنَا وَحَفِظْنَا . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ أَنَّهُ قَالَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ تَنْتَقِلُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ بِهَذَا .
Aishah narrated:
"The Messenger of Allah would Yujawir (stay in I'tikaf) during the last ten (nights) of Ramadan and he said: 'Seek the Night of Al-Qadr during the last ten (nights) of Ramadan.'"
পরিচ্ছেদঃ ৭২. লাইলাতুল কাদর (কাদরের রাত্রি)
৭৯৩। যির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-কে আমি বললাম, হে আবুল মুনযির! এই যে সাতাশের রাত লাইলাতুল কাদর আপনি সেটা কিকরে জানতে পারলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এই রাত্রের পরবর্তী সকালে সূর্য উদিত হয় ক্ষীণ আলো নিয়ে দীপ্তিহীন অবস্থায়। আমরা সেটাকে গুনে এবং স্মরণ করে রেখেছি। আল্লাহ তা’আলার শপথ! ইবনু মাসউদ (রাঃ)-ও জানেন যে, সেটা হচ্ছে রামাযানের রাত্র এবং সাতাশেরই রাত্র। কিন্তু তোমাদেরকে তিনি তা জানাতে পছন্দ করেননি, তোমরা যদি পরে এটার উপর নির্ভর করে বসে থাক।
— সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১২৪৭), মুসলিম অনুরূপ
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّى عَلِمْتَ أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ قَالَ بَلَى أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَّهَا لَيْلَةٌ صَبِيحَتُهَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ " . فَعَدَدْنَا وَحَفِظْنَا وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يُخْبِرَكُمْ فَتَتَّكِلُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Zirr said:
"I said to Ubayy bin Ka'b: 'O Abu Al-Mundhir! How do you know that it is the night of the twenty-seventh?' He said: 'Rather, the Messenger of Allah informed us that it is a night (after which) the sun rises without rays, so we counted and we remembered it. By Allah! Ibn Mas'ud learned that it is in Ramadan and that it is the nigh of the twenty-seventh, but he did not want to inform you lest you would depend on it."
পরিচ্ছেদঃ ৭২. লাইলাতুল কাদর (কাদরের রাত্রি)
৭৯৪। আবদুর রাহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে একবার আবু বাকরা (রাঃ)-এর কাছে আলোচনা হল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী শোনার কারণে আমি রামাযান মাসের শেষ দশদিন ব্যতীত অন্য কোন রাত্রে লাইলাতুল কাদরকে খোজ করি না। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কাদরের রাত্রে খোজ কর রামাযানের নয়দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচদিন বাকী থাকতে বা তিন দিন বাকী থাকতে অথবা এর শেষ রাত্রে।
— সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২০৯২)
বর্ণনাকারী বলেন, রামাযানের বিশদিন পর্যন্ত আবূ বকরা (রাঃ) সারা বছরের মতই নামায আদায় করতেন, কিন্তু তিনি শেষ দশদিন আসলে যতটুকু সম্ভব সাধনা করতেন।
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، ذُكِرَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عِنْدَ أَبِي بَكْرَةَ فَقَالَ مَا أَنَا بِمُلْتَمِسِهَا، لِشَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ " الْتَمِسُوهَا فِي تِسْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي خَمْسٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي ثَلاَثٍ أَوْ آخِرِ لَيْلَةٍ " . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرَةَ يُصَلِّي فِي الْعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ كَصَلاَتِهِ فِي سَائِرِ السَّنَةِ فَإِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ اجْتَهَدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Uyainah bin Abdur-Rahman narrated:
"My father narrated to me: 'The Night of Al-Qadr was mentioned in the presence of Abu Bakrah, so he said: "I do not search for it due to something that I heard from the Messenger of Allah, except for during the last ten (nights); for indeed I heard him say: 'Search for it when nine remain, or; when seven remain, or; when five remain, or; during the last three nights.'" He (Uyainah) said: "During the twenty (nights) of Ramadan, Abu Bakrah used to perform Salat just as he performed Salat during the rest of the year. But when the (last) ten began, he would struggle (performing more Salat during the night)."
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কেই)
৭৯৫। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযানের শেষ দশদিন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের (ইবাদতে মগ্ন থাকার জন্য) ঘুম থেকে উঠাতেন। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬৮), বুখারী, মুসলিম আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত।
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مِنْهُ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Ali narrated:
"The Prophet would awaken his family during the last ten (nights) of Ramadan."
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. (লাইলাতুল কাদর সম্পর্কেই)
৭৯৬। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইবাদাতে) এত বেশি সাধনা করতেন যে, অন্য কোন সময়ে এরকম সাধনা করতেন না।
— সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬৭)
এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
باب مِنْهُ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
Aishah narrated:
"The Messenger of Allah would struggle (to perform Salat more) during the last ten (nights) more than he would struggle in the rest of it."
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. শীতকালের রোযা
৭৯৭। আমির ইবনু মাসউদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শীতকালের রোযা হচ্ছে বিনা পরিশ্রমে যুদ্ধলন্ধ মালের অনুরূপ।
- সহীহ, সহীহা (১৯২২), আর-রাওয (৬৯)
আবূ ঈসা হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন। কারণ, আমির ইবনু মাসউদ (রাহঃ)-এর সাক্ষাৎ ঘটেনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে। যার সূত্রে শুবা ও সাওরী হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনু আমির আল-কুরাশীর পিতা।
باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ فِي الشِّتَاءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نُمَيْرِ بْنِ عَرِيبٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْغَنِيمَةُ الْبَارِدَةُ الصَّوْمُ فِي الشِّتَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ . عَامِرُ بْنُ مَسْعُودٍ لَمْ يُدْرِكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَالِدُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَامِرٍ الْقُرَشِيِّ الَّذِي رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ .
Amir bin Mas'ud narrated that:
The Prophet said: "Fasting during the winter is an easy reward."
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. "যেসব লোক রোযা আদায়ের সমর্থ হয়েও.. ." প্রসঙ্গে
৭৯৮। সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “যেসব লোক রোযা আদায়ের ক্ষেত্রে সামর্থবান হয়েও (না রাখবে) সেসব লোক যেন একজন মিসকীনের আহার দেয়” আমাদের মধ্যে তখন যার ইচ্ছা হত সে রোযা পালন না করে তার পরিবর্তে ফিদইয়া আদায় করত। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াত “তোমাদের মধ্যে যে লোক রামাযান মাস পায় সে লোক যেন রোযা পালন করে” অবতীর্ণ হলে উপরের আয়াতের (সূরাঃ বাকারা- ১৮৪) বিধান বাতিল হয়ে যায়। - সহীহ, ইরওয়া (৪/২২),বুখারী, মুসলিম
আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। ইয়াযীদ হলেন, ইবনু আবু উবাইদ সালামা ইবনু আকওয়ার মুক্তদাস।
باب مَا جَاءَ فِي (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ : (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ) كَانَ مَنْ أَرَادَ مِنَّا أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَيَزِيدُ هُوَ ابْنُ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ .
Salamah bin Al-Akwa said:
"When the following was revealed: 'And for those upon whom it is difficult, (they may) feed a poor person' - if one of us wanted we would not fast, and pay the ransom, until the Ayah after it was revealed abrogating it."
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. খাবারের পর কোন লোক সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে
৭৯৯। মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার সফরের উটটিতে হাওদা বেঁধে দেয়া হল। তিনি সফরের পোশাক পরলেন এবং খাবার নিয়ে আসতে বললেন, তারপর তিনি তা খেলেন। আমি বললাম, এটা কি সুন্নাত? তিনি বললেন, সুন্নাত। তারপর তিনি জন্তুযানে আরোহণ করলেন।
— সহীহ (তাসহীহ হাদীসে ইফতারিস সা-য়িসি কাবলা সাফারিহি বাদাল ফাজার (পৃঃ ১৩-২৮)
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَكَلَ ثُمَّ خَرَجَ يُرِيدُ سَفَرًا
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ يُرِيدُ سَفَرًا وَقَدْ رُحِلَتْ لَهُ رَاحِلَتُهُ وَلَبِسَ ثِيَابَ السَّفَرِ فَدَعَا بِطَعَامٍ فَأَكَلَ فَقُلْتُ لَهُ سُنَّةٌ قَالَ سُنَّةٌ . ثُمَّ رَكِبَ .
Muhammad bin Ka'b narrated:
"I went to Anas bin Malik during Ramadan and he was about to travel. His mount was prepared for him, and he put on his traveling clothes, then he called for some food to eat, and I said to him: 'Is it Sunnah?' He said: 'It is Sunnah.' Then he rode."
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. খাবারের পর কোন লোক সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে
৮০০। মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট আসলাম .... পূর্বোক্ত হাদীসের মতই।
এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হলেন ইবনু আবু কাসীর মাদীনী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফরের ভাই। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর হলেন ইবনু নাজীহ; তিনি আলী ইবনু আব্দুল্লাহ মাদীনীর পিতা। তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন দুর্বল বর্ণনাকারী বলেছেন।
এ হাদীসটির ভিত্তিতে কোন কোন আলিম বলেন, কোন মুসাফির লোক বাড়ী হতে সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে রোযা ভঙ্গ করে পানাহার করে নিতে পারবে, কিন্তু নামায কসর করতে পারবে না তার গ্রাম বা নগরপ্রাচীর অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَكَلَ ثُمَّ خَرَجَ يُرِيدُ سَفَرًا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَمَضَانَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ هُوَ مَدِينِيٌّ ثِقَةٌ وَهُوَ أَخُو إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ نَجِيحٍ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ وَكَانَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ يُضَعِّفُهُ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا لِلْمُسَافِرِ أَنْ يُفْطِرَ فِي بَيْتِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقْصُرَ الصَّلاَةَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ جِدَارِ الْمَدِينَةِ أَوِ الْقَرْيَةِ . وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيِّ .
(Another chain) from Muhammad bin Ka'b who said:
"I went to Anas bin Malik during Ramadan"
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. রোযাদারের জন্য উপহার
৮০১। হাসান ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদারের জন্য তোহফা হল তৈল ও লোবান জাতীয় সুগন্ধি।
মাওযু, যঈফা (১৬৬০)
আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব, এর সনদ খুবএকটা মজবুত নয়। সাদ ইবনু তারীফ ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে এই প্রসঙ্গে আমরা জানি না। সাদকে দুর্বল রাবী বলা হয়েছে। উমাইর ইবনু মামূনকে উমাইর ইবনু মামূমও বলা হয়।
باب مَا جَاءَ فِي تُحْفَةِ الصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ مَأْمُونٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " تُحْفَةُ الصَّائِمِ الدُّهْنُ وَالْمِجْمَرُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ . وَسَعْدُ بْنُ طَرِيفٍ يُضَعَّفُ وَيُقَالُ عُمَيْرُ بْنُ مَأْمُومٍ أَيْضًا .
Al-Hasan bin Ali narrated that:
The Messenger of Allah said: "The gift for the fasting person is (fragrant) oil and a censer."
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. কোন সময়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা হয়
৮০২। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যেদিন রোযা ভেঙ্গে ফেলে সেদিন হল ঈদুল ফিতর এবং লোকেরা যেদিন কুরবানী করে সেদিন ঈদুল আযহা।
– সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬০)
আবু ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আইশা (রাঃ)-এর নিকট কি মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তার হাদীসে তিনি বলেন, আইশা (রাঃ)-এর নিকট আমি শুনেছি। এই সূত্রে আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى مَتَى يَكُونُ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدًا قُلْتُ لَهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ سَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ قَالَ نَعَمْ يَقُولُ فِي حَدِيثِهِ سَمِعْتُ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
Aishah narrated that:
The Messenger of Allah said: "Al-Fitr is the day that the people break the fast, and Al-Adha is the day that the people sacrifice."
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. ইতিকাফ ভঙ্গ করার পর পুনরায় ইতিকাফ করা
৮০৩। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। কিন্তু তিনি এক বছর ইতিকাফ করতে সক্ষম হননি। তাই তিনি পরের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১২৬)
এ হাদীসটিকে আবু ঈসা আনাস ইবনু মালিকের হাদীস হিসেবে হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে নিয়্যাত করার পর পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম তার কাযা আদায় করাকে ওয়াজিব বলেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি দ্বারা তারা দলীল গ্রহণ করেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসলেন, পরে শাওয়াল মাসের দশদিন ইতিকাফ করেন।” এরকম মত ইমাম মালিক (রাহঃ)-এরও।
অন্য একদল আলিম বলেন, মানত বা নিজেদের জন্য অবশ্য পালনীয় ইতিকাফ যদি না হয়ে থাকে এবং যদি নফল ইতিকাফ হয়ে থাকে তাহলে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। যদি কেউ স্বেচ্ছায় কাযা করে তবে তা করতে পারে কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমার জন্য যেসব আমল ছেড়ে দেয়া জায়িয তুমি যদি এ ধরণের কোন আমল করতে শুরু কর এবং তা পূর্ণ না করে ছেড়ে দাও তাহলে তোমার উপর এ ধরণের কোন আমল কাযা করা ওয়াজিব নয় শুধুমাত্র হাজ্জ ও উমরা ব্যতীত। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمُعْتَكِفِ إِذَا قَطَعَ اعْتِكَافَهُ قَبْلَ أَنْ يُتِمَّهُ عَلَى مَا نَوَى فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا نَقَضَ اعْتِكَافَهُ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ فَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ نَذْرُ اعْتِكَافٍ أَوْ شَيْءٌ أَوْجَبَهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ مُتَطَوِّعًا فَخَرَجَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَقْضِيَ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ ذَلِكَ اخْتِيَارًا مِنْهُ وَلاَ يَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . قَالَ الشَّافِعِيُّ فَكُلُّ عَمَلٍ لَكَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ فِيهِ فَإِذَا دَخَلْتَ فِيهِ فَخَرَجْتَ مِنْهُ فَلَيْسَ عَلَيْكَ أَنْ تَقْضِيَ إِلاَّ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
Anas bin Malik narrated:
"The Prophet would perform I'tikaf during the last ten (nights) of Ramadan. One year he did not perform I'tikaf, so he performed I'tikaf for twenty (nights) in the following year."
পরিচ্ছেদঃ ৮০. প্রয়োজনবোধে ইতিকাফকারী বের হতে পারে কি না?
৮০৪। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফে থাকতেন, আমার দিকে তার মাথা এগিয়ে দিতেন এবং আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। মানবীয় প্রয়োজন (প্রশ্ৰাব-পায়খানা) ব্যতীত তিনি ঘরে আসতেন না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬৩৩) ও (১৭৭৮)
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী হাদীসটি একইরকম বর্ণনা করেছেন। তবে আইশা (রাঃ) হতে উরওয়া ও আমরা (রাহঃ)-এর সনদটি সহীহ।
باب الْمُعْتَكِفُ يَخْرُجُ لِحَاجَتِهِ أَمْ لاَ
حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ الْمَدَنِيُّ، قِرَاءَةً عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ أَدْنَى إِلَىَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ وَكَانَ لاَ يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلاَّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَالصَّحِيحُ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ .
Aishah narrated:
"When the Messenger of Allah performed I'tikaf, he would bring his head near me so I could comb it, and he would not enter the house except for some personal needs."
পরিচ্ছেদঃ ৮০. প্রয়োজনবোধে ইতিকাফকারী বের হতে পারে কি না?
৮০৫। ইবনু শিহাব হতে উরওয়া ও আমরা-আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে লাইস ইবনু সাদও হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। — সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস।
এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেছেন, মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফকার ইতিকাফস্থল হতে বাইরে বের হতে পারবে না। তারা সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, অবশ্যই সে প্রশ্ৰাব-পায়খানার প্রয়োজন হলে বের হতে পারবে। তবে ইতিকাফকারী রোগী দেখা, জুমুআ ও জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না তাদের মাঝে এ বিষয়ে মতপার্থক্য আছে।
কোন কোন সাহাবী ও তাবিঈর মতে সে লোক যদি ইতিকাফে বসার সময় এসব প্রয়োজনে বের হওয়ার শর্ত করে থাকে তাহলে সে লোক রোগী দেখতে, জানাযায় এবং জুমু’আর নামাযে উপস্থিত হতে পারবে। এরকম মতই দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও ইবনুল মুবারাক।
কোন কোন আলিম বলেন, সে লোক উল্লিখিত উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারবে না। তাদের মতে শহরে বসবাসকারী জামে মাসজিদ ব্যতীত আর অন্য কোথাও ইতিকাফ করবে না। জুমু’আর জন্য ইতিকাফের জায়গা ছেড়ে বের হওয়াকেও তারা মাকরূহ বলেন, আবার জুমুআ ত্যাগ করাকেও তারা জায়িয মনে করেন না। সুতরাং তারা বলেন, ইতিকাফ শুধু জামে মসজিদেই আদায় করবে যেন ইতেকাফস্থল হতে মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়ার প্রয়োজন না হয়। মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া বের হলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এরকম মত প্রকাশ করেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ।
ইমাম আহমাদ বলেন, আইশা (রাঃ)-এর হাদীসের আলোকে সে লোক রোগী দেখতে ও জানাযায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বের হতে পারবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, এই বিষয়ে সে লোক যদি পূর্বেই নিজে নিজে শর্ত করে নেয় তবে জানাযায় অংশগ্রহণ ও রোগী দেখার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারবে।
باب الْمُعْتَكِفُ يَخْرُجُ لِحَاجَتِهِ أَمْ لاَ
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا اعْتَكَفَ الرَّجُلُ أَنْ لاَ يَخْرُجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ إِلاَّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ وَاجْتَمَعُوا عَلَى هَذَا أَنَّهُ يَخْرُجُ لِقَضَاءِ حَاجَتِهِ لِلْغَائِطِ وَالْبَوْلِ . ثُمَّ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي عِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَشُهُودِ الْجُمُعَةِ وَالْجَنَازَةِ لِلْمُعْتَكِفِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَعُودَ الْمَرِيضَ وَيُشَيِّعَ الْجَنَازَةَ وَيَشْهَدَ الْجُمُعَةَ إِذَا اشْتَرَطَ ذَلِكَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَفْعَلَ شَيْئًا مِنْ هَذَا وَرَأَوْا لِلْمُعْتَكِفِ إِذَا كَانَ فِي مِصْرٍ يُجَمَّعُ فِيهِ أَنْ لاَ يَعْتَكِفَ إِلاَّ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ لأَنَّهُمْ كَرِهُوا الْخُرُوجَ لَهُ مِنْ مُعْتَكَفِهِ إِلَى الْجُمُعَةِ وَلَمْ يَرَوْا لَهُ أَنْ يَتْرُكَ الْجُمُعَةَ فَقَالُوا لاَ يَعْتَكِفُ إِلاَّ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ حَتَّى لاَ يَحْتَاجُ إِلَى أَنْ يَخْرُجَ مِنْ مُعْتَكَفِهِ لِغَيْرِ قَضَاءِ حَاجَةِ الإِنْسَانِ لأَنَّ خُرُوجَهُ لِغَيْرِ قَضَاءِ حَاجَةِ الإِنْسَانِ قَطْعٌ عِنْدَهُمْ لِلاِعْتِكَافِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ لاَ يَعُودُ الْمَرِيضَ وَلاَ يَتْبَعُ الْجَنَازَةَ عَلَى حَدِيثِ عَائِشَةَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنِ اشْتَرَطَ ذَلِكَ فَلَهُ أَنْ يَتْبَعَ الْجَنَازَةَ وَيَعُودَ الْمَرِيضَ .
That was narrated to us by Quraibah :
From Al-Laith
পরিচ্ছেদঃ ৮১. রামাযান মাসের কিয়াম (রাত্রের ইবাদাত)
৮০৬। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা রোযা পালন করেছি। তিনি আমাদেরকে নিয়ে রামাযান মাসে কোন (নফল) নামায আদায় করেননি। অবশেষে তিনি রামাযানের সাত দিন বাকী থাকতে আমাদেরকে নিয়ে নামাযে দাড়ালেন। এতে এক-তৃতীয়াংশ রাত চলে গেল। আমাদেরকে নিয়ে তিনি ষষ্ঠ রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়াননি। তিনি আবার আমাদের নিয়ে পঞ্চম রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়ান। এতে অর্ধেক রাত চলে গেল। আমরা তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের বাকী রাতটিও নামায আদায় করে পার করে দিতেন।
তিনি বললেনঃ ইমামের সাথে যদি কোন লোক (ফরয) নামাযে শামিল হয় এবং ইমামের সাথে নামায আদায় শেষ করে তাহলে সে লোকের জন্য সারা রাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর মাসের তিন রাত বাকী থাকা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেননি। আবার তিনি তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আমাদের নিয়ে নামাযের জন্য দাড়ালেন। তার পরিজন ও স্ত্রীগণকেও তিনি এ রাতে ডেকে তুললেন। এত (দীর্ঘ)-সময় ধরে তিনি নামায আদায় করলেন যে, যার ফলে সাহরীর সময় চলে যাওয়ার সংশয় হল আমাদের মনে। বর্ণনাকারী জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আবু বকর (রাঃ)-কে আমি বললামঃ "ফালাহ" কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া।
- সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৩২৭),
আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে রামাযানের রাতসমূহে (তারাবীহ নামায ও নফল ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান হওয়া প্রসঙ্গে দ্বিমত আছে। কোন কোন আলিম বলেন, বিতর সহকারে এর রাক’আত সংখ্যা একচল্লিশ। মদীনায় বসবাসকারীদের অভিমত এটাই এবং এরকমই আমল করেন এখানকার লোকেরা। কিন্তু আলী ও উমার (রাঃ) প্রমুখ সাহাবায়ি কিরাম হতে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিমের অভিমত অর্থাৎ (তারাবীহ ) বিশ রাক’আত। এই মত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মক্কা নগরীর লোকদেরকেও বিশ রাক’আত আদায় করতে দেখেছি। আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন প্রকার রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। এই ব্যাপারে তিনি কোনরকম সিদ্ধান্ত দেননি। ইসহাক বলেন, আমরা উবাই ইবনু কাব (রাঃ)-এর বর্ণনানুযায়ী একচল্লিশ রাক’আত আদায় করাকেই পছন্দ করি।
রামাযান মাসে ইমামের সাথে তারাবীহ আদায় করাকে ইবনুল মুবারাক, আহমাদ, ও ইসহাক (রহঃ) সমর্থন করেছেন। ইমাম শাফিঈ কুরআনের হাফিয ব্যক্তির জন্য একাকী (তারাবীহর) নামায আদায় করাকে উত্তম বলেছেন। আইশা, নুমান ইবনু বাশীর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُصَلِّ بِنَا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ مِنَ الشَّهْرِ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ وَقَامَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْنَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا هَذِهِ فَقَالَ " إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ " . ثُمَّ لَمْ يُصَلِّ بِنَا حَتَّى بَقِيَ ثَلاَثٌ مِنَ الشَّهْرِ وَصَلَّى بِنَا فِي الثَّالِثَةِ وَدَعَا أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ فَقَامَ بِنَا حَتَّى تَخَوَّفْنَا الْفَلاَحَ . قُلْتُ لَهُ وَمَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يُصَلِّيَ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ رَكْعَةً مَعَ الْوِتْرِ . وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَهُمْ بِالْمَدِينَةِ . وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِشْرِينَ رَكْعَةً . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً . وَقَالَ أَحْمَدُ رُوِيَ فِي هَذَا أَلْوَانٌ . وَلَمْ يَقْضِ فِيهِ بِشَيْءٍ . وَقَالَ إِسْحَاقُ بَلْ نَخْتَارُ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ رَكْعَةً عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . وَاخْتَارَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ الصَّلاَةَ مَعَ الإِمَامِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ . وَاخْتَارَ الشَّافِعِيُّ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَحْدَهُ إِذَا كَانَ قَارِئًا . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ .
Abu Dharr narrated:
"We fasted with the Prophet, so he did not pray (the night prayer) with us until seven (nights) of the month remained. Then he (pbuh) led us in prayer until a third of the night had gone, then he did not lead us in prayer on the sixth. Then he led us in prayer on the fifth until half of the night had gone. We said to him: 'O Messenger of Allah! Wouldn't you lead us in prayer for the remainder of the night?' He said: 'Indeed, whoever stands (praying) with the Imam until he finished, then it is recorded for him that he prayed the whole night.; Then he did not lead us in prayer until three (nights) of the month remained. Then he led us in prayer on the third and he called his family and his women to pray with us until we feared missing the Falah" I (Jubair bin Nufair) said to him: "What is the Falah" He said: "The Suhur."
পরিচ্ছেদঃ ৮২. রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযীলত
৮০৭। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন রোযা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোযা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৪৬)
আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। নিশ্চয় রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো একটি উত্তম কর্ম এবং সৎ কর্ম। আর এই সৎ কর্মে মানুষের জন্য অনেক মঙ্গল নিহিত রয়েছে, তার মধ্যে হলো: মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় যদিও তাদের স্থান ও দেশগুলি দূর দূরান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই হাদীসটি রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। আর রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর পূণ্য ও মর্যাদা বর্ণনা করে।
২। নিকটের আত্মীয়-স্বজন রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো বেশি পুণ্যের কাজ। কেননা এর দ্বারা রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো হয় এবং নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয়। তবে যদি দেখা যায় যে, নিকটের আত্মীয়-স্বজন চেয়ে অন্য লোক বেশি অভাবগ্রস্ত, এবং সে রোজা ইফতার করার কিছু পাচ্ছে না, তাহলে এই অবস্থায় নিকটের আত্মীয়- স্বজন ছাড়া অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোই হবে বেশি পুণ্যের কাজ। যেহেতু এর দ্বারা তার অভাব দূর করা হবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করা হবে।
৩। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা উচিত যে, সে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে। বিশেষভাবে ওই সব রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে, যারা রোজা ইফতার করার জন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছেনা। এবং তাদেরকে রোজা ইফতার করার জন্য কেউ কিছু দিচ্ছে না।
Zaid bin Khalid Al-Juhani narrated that:
The Messenger of Allah said: "Whoever provides the food for a fasting person to break his fast with, then for him is the same reward as his (the fasting person's), without anything being diminished from the reward of the fasting person."
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. রামাযান মাসে (রাত্রের ইবাদাত) দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা এবং এর ফযীলত
৮০৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের (রাত্র জেগে) ইবাদাত-বন্দিগীতে মাশগুল থাকতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করতেন, তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেনঃ ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রামাযান মাসে (রাতে ইবাদাতে) দণ্ডায়মান হবে সে লোকের পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। এ নিয়মই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত চালু ছিল। এ বিষয়টি আবু বাকর (রাঃ)-এর খিলাফাত এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এমনই ছিল। – সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১২৪১), নাসা-ঈ, ইমাম বুখারীর মতে মৃত্যু পর্যন্ত...... এই ব্যাক্যাংশটি যুহরী হাদীসে সংযোগ করেছেন।
আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। যুহরী-উরওয়া হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-হতে এই সূত্রেও এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَمَا جَاءَ فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ وَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ كَذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى ذَلِكَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عن النبي قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
Abu Hurairah narrated:
"The Messenger of Allah would encourage the night prayer in Ramadan without firmly ordering it, and he would say: "Whoever stands (in the night prayer) for Ramadan with faith and seeking the reward (from Allah), then he will be forgiven what has preceded of his sins.' So the Messenger of Allah died and the matter was like that. Then the matter was the same during the Khilafah of Abu Bakr and it continued during a portion of the Khilafah of Umar bin Al-Khattab."