পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِـيْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ
অর্থাৎ, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সূরা গাফের ৬০)
তিনি বলেন,
اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعاً وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ
অর্থাৎ, তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা আ’রাফ ৫৫ অয়াত)
তিনি আরো বলেন,
وَإذَا سَألَكَ عِبَادِيْ عَنِّـيْ فَإِنِّـيْ قَريْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
অর্থাৎ, আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই। (সূরা বাক্বারাহ১৮৬)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
أَمَّـنْ يُـجِيْبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوْءَ
অর্থাৎ, অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদণ্ডআপদ দূরীভূত করেন। (সূরা নামল ৬২)
(৩৬৩৯) নুমান বিন বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দু’আই তো ইবাদত।
وَعَنْ النُّعْمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الدُّعَاءُ هُوَ العِبَادَةُ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, (আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,) শ্রেষ্ঠ ইবাদত হল দু’আ।
عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَفْضَلُ العِبادَةِ الدُّعاءُ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট দু’আ অপেক্ষা অন্য কোন জিনিস অধিক মর্যাদাপূর্ণ নয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ مِنَ الدُّعَاءِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪২) সালমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তাঁর কাছে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالٰـى حَيِىٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِى مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহর কাছে দু’আ বা প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَدْعُ اللهَ غَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ
وفي رواية مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৪) সালমান ফারেসী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’আ ছাড়া অন্য কিছু তাকদীর রদ্দ্ (খণ্ডন) করতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া অন্য কিছু আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না। (তিরমিযী ২১৩৯, সহীহুল জামে’ ৭৬৮৭)
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ وَلاَ يَزِيدُ في الْعُمُرِ إِلاَّ الْبِرُّ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৫) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ দু’আ এই হত, ’আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্য়্যা হাসানাহ, অফিল আ-খিরাতে হাসানাহ, অক্বিনা আযাবান্নার।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও। (বুখারী ৬৩৮৯, মুসলিম ৭০১৬)
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় বর্ধিত আকারে আছে, আনাস (রাঃ) যখন একটি দু’আ করার ইচ্ছা করতেন, তখন ঐ দু’আ করতেন। আবার যখন (বিভিন্ন) দু’আ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তার মাঝেও ঐ দু’আ করতেন।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ أَكثَرُ دُعَاءِ النَّبِيّ ﷺ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ متفقٌ عَلَيْهِ
زاد مسلم في روايتهِ قَالَ : وَكَانَ أَنَسٌ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدَعْوَةٍ دَعَا بِهَا فََإِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدُعَاءٍ دَعَا بِهَا فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৬) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ করতেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অত্তুক্বা অলআফা-ফা অলগিনা।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট হেদায়াত, পরহেযগারী, অশ্লীলতা হতে পবিত্রতা এবং সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الهُدَى وَالتُّقَى وَالعَفَافَ، وَالغِنَى رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৭) ত্বারেক ইবনে আশয়্যাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেউ ইসলাম ধর্মে দীক্ষেত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নামায শিখাতেন। তারপর তাকে এই দু’আ পাঠ করতে আদেশ করতেন, ’আল্লা-হুম্মাগফিরলী, অরহামনী, অহদিনী, অ আ-ফিনী, অরযুক্বনী।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে নিরাপত্তা দান কর এবং আমাকে জীবিকা দাও। (মুসলিম ৭০২৫-৭০২৬)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ত্বারেক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন তাঁর নিকটে একটি লোক এসে নিবেদন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! যখন আমি আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করব, তখন কী বলব?’ তখন তিনি বললেন, ’’বল, ’আল্লাহুম্মাগ ফিরলী---।’ কারণ, এই শব্দগুলিতে তোমার ইহকাল-পরকাল উভয়ই শামিল রয়েছে।’’
وَعَنْ طَارِقِ بنِ أَشْيَمَ قَالَ : كَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَسْلَمَ عَلَّمَهُ النَّبِيُّ ﷺ الصَّلاَةَ ثُمَّ أَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَؤلاَءِ الكَلِمَاتِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِني وَعَافِني وَارْزُقْنِي رواه مسلم
وَفِي رِوَايَةٍ لَـهُ عَنْ طَارِقٍ : أنَّه سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ كَيْفَ أَقُولُ حِيْنَ أَسْأَلُ رَبِّي ؟ قَالَ قُلْ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِني وارْزُقْنِي فَإِنَّ هَؤُلاَءِ تَجْمَعُ لَكَ دُنْيَاكَ وَآخِرَتَكَ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৮) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মা মুসাররিফাল ক্বুলূবি স্বাররিফ ক্বুলূবানা আলা ত্বা-আ’তিক।’
অর্থঃ- হে আল্লাহ! হে হৃদয়সমূহকে আবর্তনকারী! তুমি আমাদের হৃদয়সমূহকে তোমার আনুগত্যের উপর আবর্তিত কর।
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ القُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৪৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (রাঃ) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে বল, ’(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা) মিন জাহদিল বালা-ই অদারাকিশ শাক্বা-ই অসূইল ক্বায্বা-ই অশামা-তাতিল আ’দা-’।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য), দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন-হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি। (বুখারী ৬৩৪৭, ৬৬১৬, মুসলিম ৭০৫২)
এক বর্ণনায় সুফিয়ান বলেছেন, ’আমার সন্দেহ হয় যে, ঐ কথাগুলির মধ্যে একটি কথা আমি বাড়িয়ে দিয়েছি।’
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ جَهْدِ البَلاَءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ القَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ متفق عَلَيْهِ
وفي روايةٍ قَالَ سُفيَانُ : أَشُكُّ أنِّي زِدْتُ وَاحِدَةً مِنْهَا
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫০) উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মা আস্বলিহ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ইসমাতু আমরী, অ আস্ব্লিহ লী দুনয়্যা-য়্যাল্লাতী ফীহা মাআ-শী, অ আস্ব্লিহ লী আ-খিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মাআ-দী। অজআলিল হায়া-তা যিয়া-দাতাল লী ফী কুল্লি খাইর্। অজআলিল মাউতা রা-হাতাল লী মিন কুল্লি শার্র্।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার দ্বীনকে শুধ্রে দাও, যা আমার সকল কর্মের হিফাযতকারী। আমার পার্থিব জীবনকে শুধরে দাও, যাতে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার পরকালকে শুধ্রে দাও, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন হবে। আমার জন্য হায়াতকে প্রত্যেক কল্যাণে বৃদ্ধি কর এবং মওতকে প্রত্যেক অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক কর।
وَعَنْهُ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِيْ دِيْنِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتي فِيهَا مَعَاشِي وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِيَ الَّتي فِيهَا مَعَادِي وَاجْعَلِ الحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ المَوتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫১) আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’তুমি বল, ’আল্লাহুম্মাহদিনী অসাদ্দিদনী।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত কর ও সোজাভাবে রাখ।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অস্সাদা-দ’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত ও সরল পথ কামনা করছি।
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قُلْ : اَللّٰهُمَّ اهْدِنِـيْ وَسَدِّدْنِـيْ
وفي رواية اللَّهُمَّ إنّـِيْ أَسْأَلُكَ الهُدٰى وَالسَّدَادَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজযি অল-কাসালি অল-জুবনি অল-হারামি অল-বুখল, অ আঊযু বিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি, অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়্যা অল-মামাতি, (অ য্বালাইদ্ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।)’
অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, স্থবিরতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে, আশ্রয় কামনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে (এবং ঋণের ভার ও মানুষের প্রতাপ থেকে)। (বুখারী ২৮২৩, মুসলিম ৭০৪৮)
’অ য্বালাইদ্ দাইনি অ গালাবাতির রিজা-ল।’ অপর বর্ণনায় (যুক্ত) আছে। (বুখারী ৬৩৬৯)
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالكَسَلِ وَالجُبْنِ وَإِلٰهَرَمِ وَالبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ
وفي رواية وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৩) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ’আমাকে এমন দু’আ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আমার নামাযে প্রার্থনা করব।’ তিনি বললেন, ’’তুমি বল, ’আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরাঁউ অলা য়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা অরহামনী, ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম।
এক বর্ণনায় আছে, ’(যা দিয়ে আমি আমার নামাযে) এবং আমার ঘরে (প্রার্থনা করব।)’ ’যুলমান কাসীরান’-এর স্থলে কোন কোন বর্ণনায় ’যুলমান কাবীরান’ও বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং উচিত হল, উভয় বর্ণনা একত্র করে ’যুলমান কাসীরান কাবীরান’ বলা।
وَعَنْ أَبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّه قَالَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُوْ بِهِ فِي صَلاَتِي قَالَ قُلْ : اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْماً كَثِيْراً وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ متفق عَلَيْهِ
وفي روايةٍ وَفِي بَيتِيْ وَرُوِيَ ظُلماً كَثِيراً وَرُوِي كَبِيراً بالثاء المثلثة وبالباء الموحدة ؛ فينبغي أنْ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا فَيُقَالُ : كَثِيرًا كَبِيرًا
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৪) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পড়তেন,
’আল্লা-হুম্মাগফির লী খাত্বীআতী অজাহলী অইসরা-ফী ফী আমরী, অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী। আল্লা-হুম্মাগফির লী জিদ্দী অহাযলী অখাত্বাঈ অআমদী, অকুল্লু যা-লিকা ইনদী। আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখখারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখখিরু অআন্তা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপ, মূর্খামি, কর্মে সীমালংঘনকে এবং যা তুমি আমার চেয়ে অধিক জান, তা আমার জন্য ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ গো! তুমি আমার অযথার্থ ও যথার্থ, অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃতভাবে করা পাপসমূহকে মার্জনা করে দাও। আর এই প্রত্যেকটি পাপ আমার আছে।
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা তুমি অধিক জান। তুমিই অগ্রসরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী এবং তুমি প্রতিটি বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
وَعَنْ أَبي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّه كَانَ يَدْعُو بِهٰذَا الدُّعَاءِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسرَا فِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جِدِّي وَهَزْلِي؛ وَخَطَئِي وَعَمْدِي؛ وَكُلُّ ذٰلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ المُقَدِّمُ وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৫) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ দু’আতে এই শব্দগুলি বলতেন,
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শাররি মা আমিলতু অ মিন শাররি মা লাম আ’মাল।’
এ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আমার কৃত (পাপের) অনিষ্ট হতে এবং অকৃত (পুণ্যের) মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (অথবা অপরের কৃত পাপের ব্যাপক শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৬) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি দু’আ ছিল,
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন যাওয়া-লি নি’মাতিকা অতাহাউবুলি আ-ফিয়াতিকা অফাজআতি নিক্বমাতিকা অজামী-ই সাখাত্বিক।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট তোমার অনুগ্রহের অপসরণ, নিরাপত্তার প্রত্যাবর্তন, আকস্মিক পাকড়াও এবং যাবতীয় অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : كَانَ مِن دُعَاءِ رَسُولِ اللهِ ﷺ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৭) যায়েদ ইবনে আরক্বাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পাঠ করতেন,
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজযি অলকাসালি অলবুখলি অলহারামি অ আযা-বিল ক্বাবর্। আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা অযাক্কিহা আনতা খাইরু মান যাক্কা-হা, আনতা অলিয়্যুহা অমাউলা-হা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ইলমিল লা য়্যানফা’, অমিন ক্বালবিল লা য়্যাখশা’, অমিন নাফসিল লা তাশবা’, অমিন দা’ওয়াতিল লা য়্যুসতাজা-বু লাহা।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, স্থবিরতা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমার আত্মায় তোমার ভীতি প্রদান কর এবং তাকে পবিত্র কর, তুমিই শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী। তুমিই তার অভিভাবক ও প্রভু। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট সেই ইলম থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কোন উপকারে আসে না। সেই হৃদয় থেকে পানাহ চাচ্ছি যা বিনয়ী হয় না। সেই আত্মা থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা তৃপ্ত হয় না এবং সেই দু’আ থেকে পানাহ চাচ্ছি যা কবুল হয় না।
وَعَنْ زَيدِ بنِ أَرْقَمَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالكَسَلِ وَالبُخْلِ وَإِلٰهَرَمِ وَعَذَابِ القَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّها أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجابُ لَهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আটি পড়তেন,
’আল্লা-হুম্মা লাকা আসলামতু অবিকা আ-মানতু, অ আলাইকা তাওয়াক্কালতু, অ ইলাইকা আনাবতু, অবিকা খা-স্বামতু অ ইলাইকা হা-কামতু ফাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখখারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু আনতাল মুক্বাদ্দিমু অআনতাল মুআখখিরু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা (অলা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।)’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরেই ঈমান (বিশ্বাস) রেখেছি, তোমার উপরেই ভরসা করেছি, তোমার দিকে অভিমুখী হয়েছি, তোমারই সাহায্যে বিতর্ক করেছি, তোমারই নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছি। অতএব তুমি আমার পূর্বের, পরের, গুপ্ত ও প্রকাশ্য পাপকে মাফ করে দাও। তুমিই অগ্রসরকারী ও তুমিই পশ্চাদপদকারী। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। (কোন কোন বর্ণনাকারীর বর্ধিত বর্ণনা) আল্লাহর তাওফীক ছাড়া পাপ থেকে ফিরার ও সৎকাজ করার (নড়া-সরার) সাধ্য নেই।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وإلَيْكَ أنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وإلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أعْلَنْتُ أنتَ المُقَدِّمُ وأَنْتَ المُؤَخِّرُ لا إِلٰهَ إِلاَّ أنْتَ زَادَ بَعْضُ الرُّوَاةِ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৫৯) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দাবলী যোগে দু’আ করতেন,
’আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিন্নারি অআযাবিন্নারি, অমিন শাররিল গিনা অলফাকর।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের ফিতনা থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে এবং ধনবত্তা ও দারিদ্রের মন্দ থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَدعُو بِهَؤُلاَءِ الكَلِمَاتِ اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَمِنْ شَرِّ الغِنَى وَالفَقْرِ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح وهذا لفظ أَبي داود
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬০) যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ স্বীয় চাচা কুত্ববাহ ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পড়তেন, ’’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-ক্বি অলআ’মা-লি অলআহওয়া-’।’’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
وَعَنْ زِيَادِ بنِ عِلاَقَةَ عَن عَمِّهِ وَهُوَ قُطْبَةُ بنُ مالِكٍ قَالَ : كَان النَّبيَّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إنِّي أعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأخْلاَقِ، وَالأعْمَالِ والأهْواءِ رواه الترمذي، وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬১) শাকাল ইবনে হুমাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দু’আ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, ’’বল,
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শাররি সাময়ী, অমিন শাররি বাস্বারী, অমিন শাররি লিসানী, অমিন শাররি ক্বালবী, অমিন শাররি মানিইয়্যী।’’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য (যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে শরণ চাচ্ছি।
وَعَنْ شَكَلِ بنِ حُـمَيدٍ قَالَ : قُلتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ عَلِّمْنيِ دُعَاءً قَالَ قُلْ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِيْ وَمِنْ شَرِّ لِسَانِيْ وَمِنْ شَرِّ قَلْبِيْ وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বারাস্বি অলজুনূনি অলজুযা-মি অমিন সাইয়্যিইল আসক্বা-ম।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ, কু’রোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ وَالجُنُونِ وَالجُذَامِ، وَسَيِّيءِ الأَسْقَامِ رواه أَبُو داود بإسناد صحيحٍ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আটি পাঠ করতেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল জূ-’, ফাইন্নাহু বি’সায্ য্বাজী-’। অ আঊযু বিকা মিনাল খিয়ানাহ, ফাইন্নাহা বি’সাতিল বিত্বা-নাহ।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে পানাহ চাচ্ছি, কারণ তা নিকৃষ্ট শয়ন-সাথী। আর আমি খেয়ানত থেকেও পানাহ চাচ্ছি, কারণ তা নিকৃষ্ট সহচর।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ وَأَعُوذُ بِكَ منَ الخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ البِطَانَةُ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬৪) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন ’মুকাতিব’ (লিখিত চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কৃতদাস) তাঁর নিকট এসে নিবেদন করল, ’আমি আমার নির্ধারিত অর্থ দিতে অপারগ, অতএব আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, ’তোমাকে কি এমন দু’আ শিখিয়ে দিব না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর পর্বত সমপরিমাণ ঋণও থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ ক’রে দেবেন। বল, ’আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা আন হারা-মিক, অআগনিনী বিফায্বলিকা আম্মান সিওয়া-ক।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার হালাল রুযী দিয়ে হারাম রুযী থেকে আমার জন্য যথেষ্ট কর এবং তুমি ছাড়া অন্য সকল থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী কর।
وَعَنْ عَليٍّ أَنَّ مُكَاتِباً جَاءَهُ فَقَالَ : إِنِّي عَجَزْتُ عَنْ كِتَابَتِي فَأَعِنِّي قَالَ : ألاَ أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ عَلَّمَنِيهنَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ كَانَ عَلَيْكَ مِثْلُ جَبَلٍ دَيْناً أَدَّاهُ اللهُ عَنْكَ؟ قُلْ اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ رواه الترمذي، وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬৫)আবূল ফাযল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন জিনিস শিক্ষা দান করুন, যা মহান আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি বললেন, ’’আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা চাও। অতঃপর আমি কিছুদিন থেমে থাকার পর পুনরায় এসে বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আল্লাহর কাছে চেয়ে নেব।’ তিনি আমাকে বললেন, হে আব্বাস! হে আল্লাহর রসূলের চাচা! আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা কর।
وَعَنْ أَبِـي الْفَضْلِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ عَلِّمْنِي شَيْئاً أَسْألُهُ اللهَ تَعَالٰـى، قَالَ سَلوا اللهَ العَافِيَةَ فَمَكَثْتُ أَيَّاماً، ثُمَّ جِئْتُ فَقُلتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ عَلِّمْنِي شَيْئاً أَسْألُهُ الله تَعَالٰـى قَالَ لِـيْ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللهِ سَلُوا اللهَ العَافِيَةَ في الدُّنيَا وَالآخِرَةِ رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬৬) শাহর ইবনে হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে বললাম, হে মু’মিন জননী! আল্লাহর রসূল যখন আপনার নিকট অবস্থান করতেন, তখন কোন্ দু’আ তিনি অধিক মাত্রায় পাঠ করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ এই দু’আ পড়তেন, ’ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবি সাব্বিত ক্বালবী আলা দীনিক।’ অর্থাৎ, হে হৃদয়সমূহকে বিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।
وَعَنْ شَهْرِ بنِ حَوشَبٍ قَالَ : قُلْتُ لأُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا يَا أُمَّ المُؤمِنِينَ مَا كَانَ أَكثَرُ دُعَاءِ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ عِنْدَكِ ؟ قَالَتْ : كَانَ أَكْثَرُ دُعَائِهِ يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ দু‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ) এর কতিপয় দু‘আর নমুনা
(৩৬৬৭) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়া যাল জালালি অলইকরাম!’ বাক্যটি আবশ্যিকভাবে বড্ড গুরুত্ব দাও।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلِظُّوا ( يَاذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ) رواه الترمذي، ورواه النسائي مِنْ رِوِايَةِ رَبِيْعَةَ بْنِ عَامِرٍ الصَّحَابِي قَالَ الحَاكِمُ حَدِيْثٌ صَحِيْحُ الْإِسْنَادِ
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِـيْـنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ
অর্থাৎ, তুমি ক্ষমা-প্রার্থনা কর তোমার এবং মু’মিন নর-নারীদের ত্রুটির জন্য। (সূরা মুহাম্মাদ ১৯)
তিনি আরো বলেছেন,
وَاسْتَغْفِرُ اللهَ إِنَّ اللهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ১০৬)
তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
অর্থাৎ, সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি অধিক তাওবা গ্রহণকারী। (সূরা নাসর ৩)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
لِلَّذِيْنَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّات إلٰـى قَولِهِ عز وجل وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالْأَسْحَارِ
অর্থাৎ, যারা সাবধান (পরহেযগার) হয়ে চলে তাদের জন্য রয়েছে উদ্যানসমূহ যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তার দাসদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত। যারা বলে, ’হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা বিশ্বাস করেছি; অতএব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা কর এবং দোযখের শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর।’ যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দানশীল এবং রাত্রির শেষাংশে ক্ষমাপ্রার্থী। (সূরা আলে ইমরান ১৫-১৭)
তিনি আরো বলেছেন,
وَمَنْ يَّعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُورًا رَحِيْمًا
অর্থাৎ, আর যে কেউ মন্দ কার্য করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে, কিন্তু পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুরূপে পাবে। (সূরা নিসা ১১০)
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيْهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ
অর্থাৎ, আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এরূপ নন যে, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (সূরা আনফাল ৩৩)
তিনি আরো বলেছেন,
وَالَّذِيْنَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ وَمَنْ يَّغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
অর্থাৎ, যারা কোন অশ্লীল কাজ ক’রে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা (অপরাধ) করে ফেলে তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না। (সূরা আলে ইমরান ১৩৫)
এ প্রসঙ্গে আরো বিদিত বহু আয়াতসমূহ রয়েছে
(৩৬৬৮) আগার মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে নিমেষভর বাধাপ্রাপ্ত হয়। সেহেতু আমি দিনে একশত বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা চাই।
وَعَنِ الْأَغَرِّ المُزَنِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغفِرُ اللهَ فِي اليَوْمِ مِئَةَ مَرَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৬৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) ও তওবা করে থাকি।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأتُوبُ إِلَيْهِ فِي اليَومِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন আছে! যদি তোমরা পাপ না কর, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন ক’রে দিয়ে (তোমাদের পরিবর্তে) এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম ৭১৪১)
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللهُ تَعَالٰـى بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَومٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللهَ تَعَالٰـى فَيَغْفِرُ لَهُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭১) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একই মজলিসে বসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (এই ইস্তিগফারটি) পাঠ করা অবস্থায় একশো বার পর্যন্ত গুণতাম,
’রাব্বিগফির লী অতুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আন্তাত্ তাউওয়াবুর রাহীম।’
অর্থাৎ, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর, আমার তওবা কবুল কর, নিশ্চয় তুমি অতিশয় তওবাহ কবুলকারী দয়াবান।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كُنَّا نَعُدُّ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ فِي المَجْلِسِ الْوَاحِدِ مِئَةَ مَرَّةٍ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح غريب
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭২) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ দু’আ পড়বে, ’আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূমু অ আতূবু ইলাইহ্।’
অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি।
সে ব্যক্তির পাপরাশি মার্জনা করা হবে; যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে (যাওয়ার পাপ করে) থাকে।
وَعَنِ ابْنِ مَسعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ : أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّـذِيْ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُومُ وَأتُوبُ إِلَـيْهِ غُفِرَتْ ذُنُوبُهُ وَإِنْ كانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ رواه أبو داود والترمذي والحاكم وقال حديث صحيح على شرط البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৩) শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাঃ)কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’সায়্যিদুল ইস্তিগফার (শ্রেষ্ঠতম ক্ষমা প্রার্থনার দু’আ) হল বান্দার এই বলা যে,
’আল্লা-হুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা খালাক্বতানী, অ আনা আব্দুকা অ আনা আলা আহদিকা অ অ’দিকা মাসতাত্বা’তু, আঊযুবিকা মিন শাররি মা স্বনা’তু, আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা অ আবূউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়্যাগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থ- হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার দাস। আমি তোমার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি তার মন্দ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর তোমার যে সম্পদ রয়েছে তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও, যেহেতু তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ মার্জনা করতে পারে না।
যে ব্যক্তি দিনে (সকাল) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ দু’আটি পড়বে অতঃপর সে সেই দিনে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (সন্ধ্যায়) এ দু’আটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পড়বে অতঃপর সে সেই রাতে ভোর হওয়ার পূর্বেই মারা যাবে, তাহলে সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ سَيِّدُ الاِسْتِغْفَارِ أَنْ يَقُولَ الْعَبْدُ : اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَاۤ إِلٰـهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ مَنْ قَإِلٰهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِناً بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِي فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ وَمَنْ قَإِلٰهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৪) সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযান্তে সালাম ফিরে তিনবার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) বলে এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মা আন্তাস সালা-মু অমিনকাস সালা-ম, তাবা-রাকতা ইয়া যাল জালা-লি অল ইকরা-ম।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি শান্তি (সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র) এবং তোমার নিকট থেকেই শান্তি। তুমি বরকতময় হে মহিমময়, মহানুভব!
এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী ইমাম আওযায়ীকে প্রশ্ন করা হল, ইস্তিগফার কিভাবে হবে? তিনি বললেন, ’বলবে, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।’ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।)
وَعَنْ ثَوبَانَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ، اسْتَغْفَرَ اللهَ ثَلاَثاً وَقَالَ اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ قِيلَ لِلأَوْزَاعِيِّ ـ وَهُوَ أَحَدُ رُوَاتِهِ - : كَيفَ الاِسْتِغْفَارُ ؟ قَالَ : يَقُولُ : أَسْتَغْفِرُ اللهَ أَسْتَغْفِرُ اللهَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৫) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই দু’আটি অধিকমাত্রায় পড়তেন, ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, আস্তাগফিরুল্লাহা অআতূবু ইলাইহ্।’
অর্থাৎ, আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর নিকট তওবাহ করছি।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ قَبْلَ مَوْتِهِ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! যখন তুমি আমাকে ডাকবে ও আমার ক্ষমার আশা রাখবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করব, তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন; আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও, তবুও আমি তোমাকে ক্ষমা করব; আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর; কিন্তু আমার সঙ্গে কাউকে শরীক না ক’রে থাক, তাহলে পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে আমি তোমার নিকট উপস্থিত হব।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ قَالَ اللهُ تَعَالٰـى: يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ، ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلاَ أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطَايَا، ثُمَّ لَقِيتَنِي لاَ تُشْرِكُ بِي شَيْئاً لأَتَيْتُكَ بِقُرابِهَا مَغْفِرَةً رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৭) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’নিশ্চয় শয়তান বলেছে, ’আপনার ইয্যতের কসম হে রব! আমি তোমার বান্দাদিগকে অবিরামভাবে ভ্রষ্ট করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহের মধ্যে তাদের প্রাণ অবশিষ্ট থাকবে।’ রব বলেছেন, ’আর আমার ইযযত ও প্রতাপের কসম! আমি অবিরামভাবে তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব, যতক্ষণ তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّ لَا أَبْرَحُ أُغْوِي عِبَادَكَ مَا دَامَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِي أَجْسَادِهِمْ، قَالَ الرَّبُّ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَزَالُ أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِي
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৮) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদেরকে সম্বোধন ক’রে) বললেন, হে মহিলা সকল! তোমরা সাদকাহ-খয়রাত করতে থাক ও অধিকমাত্রায় ইস্তিগফার কর। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীরূপে দেখলাম।’’ একজন মহিলা নিবেদন করল, ’আমাদের অধিকাংশ জাহান্নামী হওয়ার কারণ কী? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, তোমরা অভিশাপ বেশি কর এবং নিজ স্বামীর অকৃতজ্ঞতা কর। বুদ্ধি ও ধর্মে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিচক্ষণ ব্যক্তির উপর তোমাদের চাইতে আর কাউকে বেশি প্রভাব খাটাতে দেখিনি। মহিলাটি আবার নিবেদন করল, ’বুদ্ধি ও ধর্মের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কী?’ তিনি বললেন, দু’জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্য সমতুল্য। আর (প্রসবোত্তর খুন ও মাসিক আসার) দিনগুলিতে মহিলা নামায পড়া বন্ধ রাখে।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ مِنَ الاِسْتِغْفَارِ؛ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ : مَا لَنَا أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ؟ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ، مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِيْ لُبٍّ مِنْكُنَّ قَالَتْ: مَا نُقْصَانُ العَقْلِ وَالدِّينِ ؟ قَالَ شَهَادَةُ امْرَأتَيْنِ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ، وَتَمْكُثُ الأَيَّامَ لاَ تُصَلِّي رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য
(৩৬৭৯) আস্বেম আহওয়াল (রহঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে সার্জিস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দু’আ ক’রে বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।’ তিনি বললেন, আর তোমাকেও (আল্লাহ ক্ষমা করুন)। আস্বেম বলেন, আমি আব্দুল্লাহকে প্রশ্ন করলাম, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ’হ্যাঁ, আর তোমার জন্যও তো।’ অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন, যার অর্থঃ (হে নবী!) তুমি নিজের জন্য ও মু’মিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।
وَعَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَرْجِسَ قَالَ : قُلْتُ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ يَا رَسُوْلَ اللهِ غَفَرَ اللهُ لَكَ قَالَ وَلَكَ قَالَ عَاصِمٌ : فَقُلْتُ لَهُ : أَسْتَغْفَرَ لَكَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ؟ قَالَ : نَعَمْ وَلَكَ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ: وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَلِـذِكْرُ اللهِ أَكْـبَـرُ
অর্থাৎ, অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। (সূরা আনকাবূত ৪৫)
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
فَـاذْكُرُوْنِـيْ أَذْكُرْكُـمْ
অর্থাৎ, তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। (সূরা বাক্বারা ১৫২)
তিনি অন্যত্র বলেন,
وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعاً وَخِيفَةً وَدُونَ الجَهْرِ مِنَ القَوْلِ بِالغُدُوِّ والآصَالِ وَلاَ تَكُنْ مِنَ الغَافِلِينَ
অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না। (সূরা আ’রাফ ২০৫)
তিনি অন্য জায়গায় বলেন,
وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অর্থাৎ, আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআহ ১০)
তিনি আরো বলেছেন,
إِنَّ الْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ إِلَى قَوْله تَعَالٰـى وَالذَّاكِرِينَ اللهَ كَثِيراً وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأجْرَاً عَظِيْمًا
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নারী, বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী—এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন। (সূরা আহযাব ৩৫) তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللهَ ذِكْرًا كَثِيْرًا وَسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَأَصِيْلًا
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। (সূরা আহযাব ৪১-৪২)
(৩৬৮০) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে আল্লাহর যিকর করে আর যে যিকর করে না, উভয়ের উদাহরণ মৃত ও জীবন্ত মানুষের মত।’’ (বুখারী ৬৪০৭)
মুসলিম এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ’’যে ঘরে আল্লাহর যিকর করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহর যিকর করা হয় না, উভয়ের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের ন্যায়।’’ (মুসলিম ১৮৫৯)
وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشعَرِي عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُهُ مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ رواه البخاري ورواه مسلم فَقَالَ مَثَلُ البَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ وَالبَيْتِ الَّذِي لاَ يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ مَثَلُ الحَيِّ والمَيِّتِ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮১) হারেস আশআরী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আল্লাহ সুবহানাহু অতাআলা য়্যাহয়্যা বিন যাকারিয়া আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পাঁচটি বাক্য দিয়ে তার উপর আমল করতে এবং বানী ইস্রাঈলকে আমল করতে আদেশ দিতে বললেন। অতঃপর তিনি সে ব্যাপারে প্রায় দেরী করে ফেলেছিলেন। সুতরাং ঈসা (আঃ) তাঁকে বললেন, ’আল্লাহ তাআলা আপনাকে পাঁচটি বাক্য দিয়ে তার উপর আমল করতে এবং বানী ইস্রাঈলকে আমল করতে আদেশ দিতে বলেছেন। অতএব আপনি কি তাদেরকে আদেশ করবেন, নাকি আমি তাদেরকে আদেশ করব?’ য়্যাহয়্যা বললেন, ’আমার ভয় হয়, আপনি আমার আগে বললে আমাকে মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।’ সুতরাং য়্যাহয়্যা বায়তুল মাক্বদিসে লোকেদেরকে জমা করলেন। মসজিদ ভরে গেলে লোকেরা উঁচু জায়গাতেও বসল।
অতঃপর তিনি বললেন, ’আল্লাহ তাআলা আমাকে পাঁচটি বাক্য দিয়ে তার উপর আমল করতে এবং তোমাদেরকে আমল করতে আদেশ দিতে বলেছেন।’ উক্ত বাক্যাবলীর পঞ্চম বাক্য ছিল, ’’আমি তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর যিকর কর। যেহেতু এর উপমা হল সেই ব্যক্তির মতো, যার পশ্চাতে শত্রু ত্রস্তপদে ধাওয়া করেছে। পরিশেষে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে এসে নিজেকে তাদের হাত হতে রক্ষা করেছে। অনুরূপই আল্লাহর যিকর ছাড়া বান্দা নিজেকে শয়তান থেকে রক্ষা করতে পারে না।’’ (আহমাদ ১৭৩০২, তিরমিযী ২৮৬৩, নাসাঈর কুবরা ৮৮১৫, সহীহুল জামে’ হা/ ১৭২৪)
উক্ত হাদীসেই আছে, ’’আর আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন নামাযের। সুতরাং যখন তোমরা নামায পড়বে, তখন অন্যমনস্ক হয়ো না। যেহেতু আল্লাহ নিজের চেহারা নামাযে নিজ বান্দার চেহারার সাথে স্থির রাখেন, যতক্ষণ সে অন্যমনস্ক হয় না।’’
وَعَن الْحَارِثِ الأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللهَ أَمَرَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ يَعْمَلَ بِهَا وَيَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا وَإِنَّهُ كَادَ أَنْ يُبْطِئَ بِهَا فَقَالَ عِيسَى : إِنَّ اللهَ أَمَرَكَ بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ لِتَعْمَلَ بِهَا وَتَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا فَإِمَّا أَنْ تَأْمُرَهُمْ وَإِمَّا أَنَا آمُرُهُمْ فَقَالَ يَحْيَى : أَخْشَى إِنْ سَبَقْتَنِي بِهَا أَنْ يُخْسَفَ بِي أَوْ أُعَذَّبَ فَجَمَعَ النَّاسَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَامْتَلأَ الْمَسْجِدُ وَقَعَدُوا عَلَى الشُّرَفِ فَقَالَ : إِنَّ اللهَ أَمَرَنِي بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ أَعْمَلَ بِهِنَّ وَآمُرَكُمْ أَنْ تَعْمَلُوا بِهِنَّ وَآمُرُكُمْ أَنْ تَذْكُرُوا اللهَ فَإِنَّ مَثَلَ ذٰلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ خَرَجَ الْعَدُوُّ فِي أَثَرِهِ سِرَاعًا حَتّٰـى إِذَا أَتَى عَلَى حِصْنٍ حَصِينٍ فَأَحْرَزَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ كَذٰلِكَ الْعَبْدُ لاَ يُحْرِزُ نَفْسَهُ مِنَ الشَّيْطَانِ إِلاَّ بِذِكْرِ اللهِ وَإِنَّ اللهَ أَمَرَكُمْ بِالصَّلاَةِ فَإِذَا صَلَّيْتُمْ فَلاَ تَلْتَفِتُوا فَإِنَّ اللهَ يَنْصِبُ وَجْهَهُ لِوَجْهِ عَبْدِهِ فِي صَلاَتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। (অর্থাৎ, সে যদি ধারণা রাখে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তার তওবা কবুল করবেন, বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে তাই করি।) আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের (ফিরিশতাদের) সভায় স্মরণ করি।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَقُولُ اللهُ تَعَالٰـى : أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِيْ بِيْ وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلأٍ ذَكَرتُهُ فِي مَلأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৩)উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুফার্রিদগণ অগ্রগমন করেছে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, ’মুফাররিদ’ কারা, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, অতিমাত্রায় আল্লাহকে স্মরণকারী নর ও নারী।
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَبَقَ المُفَرِّدُونَ قَالُوا : وَمَا المُفَرِّدُونَ ؟ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ الذَّاكِرُونَ اللهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৪) আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! ইসলামী বিধান তো আমার ক্ষেত্রে অনেক বেশী। সুতরাং আপনি আমাকে এমন একটি কাজ বলে দিন, যেটাকে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি।’ তিনি বললেন, আল্লাহর যিকরে তোমার রসনা যেন সর্বদা সিক্ত থাকে।
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ بُسْرٍ أَنَّ رَجُلاً قَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ فَأَخْبِرْنِي بِشَيءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ قَالَ لاَ يَزالُ لِسَانُكَ رَطبًا مِنْ ذِكْرِ اللهِ رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৫) একদা মুআয বিন জাবাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ’কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়?’ উত্তরে তিনি বললেন, আজীবন আল্লাহর যিকরে তোমার জিভ ভিজে থাকা।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ: أَيُّ الأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالٰـى؟ قَالَ أَنْ تَمُوتَ وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِنْ ذِكْرِ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৬) আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বললেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম কাজের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা সবার চেয়ে বেশি বৃদ্ধিকারী, সোনা-চাঁদি দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়ে শ্রেয়।’’ সকলে বলল, ’অবশ্যই বলে দিন।’ তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলার যিকর।
وَعَنْ أَبِي الدَّردَاءِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيْكِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيرٍ لَكُمْ مِنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ والفِضَّةِ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ أَن تَلْقَوا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ؟ قَالَوا : بَلَى قَالَ ذِكرُ الله تَعَالٰـى رواه الترمذي قَالَ الحاكم أَبُو عبد الله إسناده صحيح
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৭) ইমরান বিন হুস্বাইন (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ আবেদ হবে প্রশংসাকারিগণ।
عَنْ عِمْرَانَ بن حُصَيْنٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَفْضَلَ عِبَادِ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْحَمَّادُونَ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৮) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধীর-স্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং জলদিবাজি শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহর চেয়ে বেশি ওজর কবুল করার কেউ নেই। আর প্রশংসার চেয়ে অধিক প্রিয় আল্লাহর কাছে অন্য কিছু নয়।
وعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّأْنِيْ مِنَ اللهِ وَالْعَجْلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَمَا أَحَدٌ أَكْثَرُ مَعَاذِيْرِ مِنَ اللهِ، وَمَا مِنْ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنَ الْحَمْدِ
পরিচ্ছেদঃ যিকর তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
(৩৬৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর এমন ৯৯টি এক কম একশটি নাম রয়েছে, যে কেউ তা (দু’আতে) গণনা করবে (বা মুখস্ত ক’রে তার অর্থ ও দাবী অনুযায়ী আমল করবে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِنَّ للهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلاَّ وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর যিকর সর্বাবস্থায়
দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, ওযূহীন ও (বীর্যপাত বা সঙ্গমজনিত) অপবিত্র অবস্থায় এবং মহিলাদের মাসিক অবস্থায় আল্লাহর যিকর করা যায়। অবশ্য (বীর্যপাত বা সঙ্গমজনিত) অপবিত্র অবস্থায় এবং মহিলাদের মাসিক অবস্থায় কুরআন পাঠ বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ فِـيْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُوْلِي الْأَلْبَابِ الَّذِيْنَ يَذْكُرُونَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُوداً وَعَلَى جُنُوبِهِمْ
অর্থাৎ, নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকেদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে। (সূরা আলে ইমরান ১৯০-১৯১)
(৩৬৯০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ (সর্বাবস্থায়) আল্লাহর যিকর করতেন।’
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَذْكُرُ اللهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ رواهُ مسلم
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
এবং উক্ত মজলিসে অংশগ্রহণ করা উত্তম আর বিনা ওজরে তা ছেড়ে চলে যাওয়া নিষেধ।
আল্লাহ বলেছেন,
واصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُريدُوْنَ وَجْهَهُ وَلاَ تَعْدُ عَيْناكَ عَنْهُمْ
অর্থাৎ, তুমি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখ, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে থাকে এবং তুমি তাদের নিকট হতে স্বীয় দৃষ্টি ফিরায়ো না। (সূরা কাহফ ২৮)
(৩৬৯১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’নিশ্চয় আল্লাহর কিছু ফিরিশতা আছেন, যাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে-ফিরে আহলে যিকর খুঁজতে থাকেন। অতঃপর যখন কোন সম্প্রদায়কে আল্লাহর যিকররত অবস্থায় পেয়ে যান, তখন তাঁরা একে অপরকে আহবান ক’রে বলতে থাকেন, ’এস তোমাদের প্রয়োজনের দিকে।’ সুতরাং তাঁরা (সেখানে উপস্থিত হয়ে) তাদেরকে নিজেদের ডানা দ্বারা নিচের আসমান পর্যন্ত বেষ্টিত ক’রে ফেলেন। অতঃপর তাঁদেরকে তাঁদের প্রতিপালক জানা সত্ত্বেও তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, ’আমার বান্দারা কী বলছে?’ ফিরিশতারা বলেন, ’তারা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, আপনার মহত্ত্ব বর্ণনা করছে, আপনার প্রশংসা ও গৌরব বয়ান করছে।’ আল্লাহ বলেন, ’তারা কি আমাকে দেখেছে?’ ফিরিশতারা বলেন, ’জী না, আল্লাহর কসম! তারা আপনাকে দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ’কী হত, যদি তারা আমাকে দেখত?’ ফিরিশতারা বলেন, ’যদি তারা আপনাকে দেখত, তাহলে আরো বেশী বেশী ইবাদত, গৌরব বর্ণনা ও তসবীহ করত।’ আল্লাহ বলেন, ’কী চায় তারা?’ ফিরিশতারা বলেন, ’তারা আপনার কাছে বেহেশত্ চায়।’ আল্লাহ বলেন, ’তারা কি বেহেশত দেখেছে?’
ফিরিশতারা বলেন, ’জী না, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা তা দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ’কী হত, যদি তারা তা দেখত?’ ফিরিশতারা বলেন, ’তারা তা দেখলে তার জন্য আরো বেশী আগ্রহান্বিত হত। আরো বেশী বেশী তা প্রার্থনা করত। তাদের চাহিদা আরো বড় হত।’ আল্লাহ বলেন, ’তারা কী থেকে পানাহ চায়?’ ফিরিশতারা বলেন, ’তারা দোযখ থেকে পানাহ চায়।’ আল্লাহ বলেন, ’তারা কি দোযখ দেখেছে?’ ফিরিশতারা বলেন, ’জী না, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা তা দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ’কী হত, যদি তারা তা দেখত?’ ফিরিশতারা বলেন, ’তারা তা দেখলে বেশী বেশী করে তা হতে পলায়ন করত। বেশী বেশী ভয় করত।’ তখন আল্লাহ বলেন, ’আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি তাদেরকে মাফ করে দিলাম।’ ফিরিশতাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, ’কিন্তু ওদের মধ্যে অমুক ওদের দলভুক্ত নয়। সে আসলে নিজের কোন প্রয়োজনে সেখানে এসেছে।’ আল্লাহ বলেন, ’(আমি তাকেও মাফ করে দিলাম! কারণ,) তারা হল এমন সম্প্রদায়, যাদের সাথে যে বসে সেও বঞ্চিত (হতভাগা) থাকে না।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إنَّ للهِ تَعَالٰـى مَلائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمَاً يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ تَنَادَوْا : هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِم إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَسْألُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أعْلَم : مَا يَقُولُ عِبَادي؟ قَالَ : يَقُولُون يُسَبِّحُونَكَ وَيُكبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ ويُمَجِّدُونَكَ فيَقُولُ : هَلْ رَأَوْنِي ؟ فيَقُولُونَ : لاَ وَاللهِ مَا رَأَوْكَ فَيَقُولُ : كَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي قَالَ : يَقُولُونَ : لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيداً وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحاً فَيَقُولُ : فَمَاذَا يَسْأَلُونَ ؟ قَالَ : يَقُولُونَ: يَسْأَلُونَكَ الجَنَّةَ قَالَ : يَقُولُ : وَهَل رَأَوْهَا ؟ قَالَ : يَقُولُونَ : لاَ وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ : يَقُولُ : فَكَيفَ لَوْ رَأَوْهَا ؟ قَالَ : يَقُولُونَ : لَوْ أَنَّهُمْ رَأوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصاً وَأَشَدَّ لَهَا طَلَباً، وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً قَالَ : فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ ؟ قَالَ : يَقُولُون : يَتَعَوَّذُونَ مِنَ النَّارِ ؛ قَالَ : فيَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا ؟ قَالَ : يَقُولُونَ : لاَ وَاللهِ مَا رَأَوْهَا فيَقُولُ : كَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا قَالَ : يَقُولُونَ : لَوْ رَأوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَاراً وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً قَالَ : فيَقُولُ : فَأُشْهِدُكُمْ أنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُم قَالَ : يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ المَلاَئِكَةِ : فِيهِمْ فُلاَنٌ لَيْسَ مِنْهُمْ إنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ : هُمُ الجُلَسَاءُ لاَ يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯২) মুসলিমের আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই আল্লাহর অতিরিক্তি কিছু ভ্রাম্যমান ফিরিশতা আছেন, যাঁরা যিকরের মজলিস খুঁজতে থাকেন। অতঃপর যখন কোন এমন মজলিস পেয়ে যান, যাতে আল্লাহর যিকর হয়, তখন তাঁরা সেখানে বসে যান। তাঁরা পরস্পরকে ডানা দিয়ে ঢেকে নেন। পরিশেষে তাঁদের ও নিচের আসমানের মধ্যবর্তী জায়গা পরিপূর্ণ ক’রে দেন। অতঃপর লোকেরা মজলিস ত্যাগ করলে তাঁরা আসমানে উঠেন। তখন আল্লাহ আযযা অজাল্ল অধিক জানা সত্ত্বেও তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, ’তোমরা কোথা থেকে এলে?’ তাঁরা বলেন, ’আমরা পৃথিবী থেকে আপনার এমন কতকগুলি বান্দার নিকট থেকে এলাম, যারা আপনার তাসবীহ, তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ পড়ে এবং আপনার নিকট প্রার্থনা করে।’ তিনি বলেন, ’তারা আমার নিকট কী প্রার্থনা করে?’
তাঁরা বলেন, ’তারা আপনার নিকট আপনার জান্নাত প্রার্থনা করে।’ তিনি বলেন, ’তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে?’ তাঁরা বলেন, ’না, হে প্রতিপালক!’ তিনি বলেন, ’কেমন হত, যদি তারা আমার জান্নাত দেখত?’ তাঁরা বলেন, ’তারা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে।’ তিনি বলেন, ’তারা আমার নিকট কি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে?’ তাঁরা বলেন, ’আপনার জাহান্নাম থেকে, হে প্রতিপালক!’ তিনি বলেন, ’তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে?’ তাঁরা বলেন, ’না।’ তিনি বলেন, ’কেমন হত, যদি তারা আমার জাহান্নাম দেখত?’ তাঁরা বলেন, ’আর তারা আপনার নিকট ক্ষমা চায়।’ তিনি বলেন, ’আমি তাদেরকে ক্ষমা ক’রে দিলাম, তারা যা প্রার্থনা করে তা দান করলাম এবং যা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তা থেকে আশ্রয় দিলাম।’ তাঁরা বলেন, ’হে প্রতিপালক! ওদের মধ্যে অমুক পাপী বান্দা এমনি পার হতে গিয়ে তাদের সাথে বসে গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ’আমি তাকেও ক্ষমা ক’রে দিলাম! কারণ তারা সেই সম্প্রদায়, তাদের সাথে যে বসে সেও বঞ্চিত হয় না।’
وَفِي رِوَايَةِ لِمُسلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً سَيَّارَةً فُضُلاً يَتَتَبُّعُونَ مَجَالِسَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا مَجْلِساً فِيهِ ذِكْرٌ قَعَدُوا مَعَهُمْ وَحَفَّ بَعْضُهُمْ بَعْضاً بِأَجْنِحَتِهِمْ حَتّٰـى يَمْلَؤُوا مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَإِذَا تَفَرَّقُوا عَرَجُوا وَصَعدُوا إِلَى السَّمَاءِ فَيَسْأَلُهُمْ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ أَعْلَمُ : مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ ؟ فَيَقُولُونَ : جِئْنَا مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ فِي الأَرْضِ : يُسَبِّحُونَكَ وَيُكبِّرُونَكَ وَيُهَلِّلُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيَسْألُونَكَ قَالَ : وَمَاذَا يَسْألُونِي ؟ قَالُوا : يَسْألُونَكَ جَنَّتَكَ قَالَ : وَهَلْ رَأَوْا جَنَّتِي؟ قَالُوا : لاَ أَيْ رَبِّ قَالَ : فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا جَنَّتِي؟ قَالُوا : وَيَستَجِيرُونَكَ قَالَ : وَمِمَّ يَسْتَجِيرُونِي؟ قَالُوا : مِنْ نَارِكَ يَا رَبِّ قَالَ: وَهَلْ رَأوْا نَارِي؟ قَالُوا : لاَ قَالَ : فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا نَارِي قَالُوا : وَيَسْتَغفِرُونَكَ؟ فيَقُولُ: قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ وَأَعْطَيْتُهُمْ مَا سَأَلُوا وَأَجَرْتُهُمْ مِمَّا اسْتَجَارُوا قَالَ : فيَقُولُونَ : رَبِّ فِيهِمْ فُلاَنٌ عَبْدٌ خَطَّاءٌ إنَّمَا مَرَّ فَجَلَسَ مَعَهُمْ فيَقُولُ : وَلهُ غَفَرْتُ هُمُ القَومُ لاَ يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) ও আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহ আযযা অজাল্লার যিক্রে রত হয়, তখনই তাদেরকে ফিরিশতাবর্গ ঢেকে নেন, তাদেরকে রহমত আচ্ছন্ন করে নেয়, তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশতাবর্গের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।
وَعَنهُ وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالاَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ يَقْعُدُ قَومٌ يَذْكُرُوْنَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ حَفَّتْهُمُ المَلائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ ؛ وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৪) আবূ ওয়াক্বেদ হারেস ইবনে আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কিছু লোকও ছিল। ইতিমধ্যে তিনজন লোক আগমন করল। তাদের মধ্যে দু’জন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে উপস্থিত হল এবং একজন চলে গেল। নবাগত দু’জন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের একজন সভার মধ্যে ফাঁক দেখে সেখানে বসে পড়ল। আর অপরজন সভার পিছনে বসে গেল। আর তৃতীয় ব্যক্তি পিঠ ঘুরিয়ে প্রস্থান করল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবসর পেলেন, তখন বললেন, ’’তোমাদেরকে তিন ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না কি? তাদের একজন তো আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করল, ফলে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দান করলেন। আর দ্বিতীয়জন সে (সভার মধ্যে ঢুকে বসতে) লজ্জাবোধ করল, বিধায় আল্লাহও তাঁর ব্যাপারে লজ্জাশীলতা প্রয়োগ (ক’রে তাকে রহম) করলেন। আর তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়ে নিল, বিধায় আল্লাহও তার দিক থেকে বিমুখ হয়ে গেলেন।
وَعَنْ أَبِي وَاقِدٍ الحَارِثِ بنِ عَوفٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي المَسْجِدِ وَالنَّاسُ مَعَهُ، إِذْ أَقْبَلَ ثَلاثَةُ نَفَرٍ، فَأَقْبَلَ اثْنَانِ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَذَهَبَ وَاحِدٌ فَوَقَفَا عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَرَأَى فُرْجَةً فِي الحَلْقَةِ فَجَلَسَ فِيهَا وَأَمَّا الآخَرُ فَجَلَسَ خَلْفَهُمْ وَأَمَّا الثَّالِثُ فَأَدْبَرَ ذَاهِباً فَلَمَّا فَرَغَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ عَنِ النَّفَرِ الثَّلاَثَةِ :أَمَّا أَحَدُهُمْ فَأَوَى إِلَى اللهِ فآوَاهُ اللهُ إِلَيْهِ وَأَمَّا الآخَرُ فَاسْتَحْيَى فَاسْتَحْيَى اللهُ مِنْهُ وَأَمَّا الآخَرُ فَأَعْرَضَ فَأَعْرَضَ اللهُ عَنْهُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৫) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়াহ (রাঃ) একবার মসজিদে (কিছু লোকের) এক হালকায় (গোল বৈঠকে) এসে বললেন, ’তোমরা এখানে কী উদ্দেশ্যে বসেছ?’ তারা বলল, ’আল্লাহর যিকর করার উদ্দেশ্যে বসেছি।’ তিনি বললেন, ’আল্লাহর কসম! তোমরা একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই বসেছ?’ তারা জবাব দিল, ’(হ্যাঁ,) আমরা একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই বসেছি।’ তিনি বললেন, ’শোন! তোমাদেরকে (মিথ্যাবাদী) অপবাদ আরোপ ক’রে কসম করাইনি। (মনে রাখবে) কোন ব্যক্তি এমন নেই, যে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আমার সমমর্যাদা লাভ করেছে এবং আমার থেকে কম হাদীস বর্ণনা করেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) স্বীয় সহচরদের এক হালকায় উপস্থিত হয়ে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এখানে কী উদ্দেশ্যে বসেছ?
তাঁরা জবাব দিলেন, ’উদ্দেশ্য এই যে, আমরা আল্লাহর যিকর করব এবং তাঁর প্রশংসা করব যে, তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন ও তার মাধ্যমে আমাদের প্রতি বড় অনুগ্রহ করেছেন।’ এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’আল্লাহর কসম! তোমরা একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই এখানে বসেছ?’’ তাঁরা বললেন, ’আল্লাহর কসম! আমরা কেবল এই উদ্দেশ্যেই বসেছি।’ তিনি বললেন, শোন! আমি তোমাদেরকে এ জন্য কসম করাইনি যে, আমি তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী ভেবে অপবাদ আরোপ করছি। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার এই যে, জিবরীল আমার কাছে এসে বললেন, ’আল্লাহ তোমাদেরকে নিয়ে ফিরিশতাদের সামনে গর্ব করছেন!
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي قَالَ: خَرَجَ مُعَاوِيَةَ عَلَى حَلْقَةٍ فِي المَسْجِدِ فَقَالَ : مَا أَجْلَسَكُمْ؟ قَالُوا : جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللهَ قَالَ: آللهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ؟ قَالُوا: مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ، قَالَ :أَمَّا إِنِّي لَمْ اسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَمَا كَانَ أَحَدٌ بِمَنْزِلَتِي مِنْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَقَلَّ عَنْهُ حَدِيثاً مِنِّي : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ خَرَجَ عَلَى حَلْقَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا أَجْلَسَكُمْ ؟ قَالُوا : جَلَسْنَا نَذْكُرُ اللهَ وَنَحْمَدُهُ عَلَى مَا هَدَانَا لِلإِسْلاَمِ ؛ وَمَنَّ بِهِ عَلَيْنَا قَالَ اللهِ مَا أَجْلَسَكُمْ إِلاَّ ذَاكَ ؟ قَالُوا : وَاللهِ مَا أَجْلَسَنَا إِلاَّ ذَاكَ قَالَ أَمَا إنِّي لَمْ أَسْتَحْلِفْكُمْ تُهْمَةً لَكُمْ وَلَكِنَّهُ أَتَانِي جِبرِيلُ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ الله يُبَاهِي بِكُمُ المَلاَئِكَةَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৬)আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকর করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।’ বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।’ অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتّٰـى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَـهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৭) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈলের বংশধরের চারটি মানুষকে দাসত্বমুক্ত করা অপেক্ষা ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকরকারী দলের সাথে বসাটা আমার নিকট অধিক প্রিয়। অনুরূপ চারটি জীবন দাসত্বমুক্ত করার চেয়ে আসরের নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যিকরকারী সম্প্রদায়ের সাথে বসাটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ تَعَالٰـى مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حَتّٰـى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৮)আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এমন মজলিসে বসে, যেখানে সে আল্লাহর যিকর করে না (এর জন্য) আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর পরিতাপ ও কমি আসবে। আর যে ব্যক্তি এমন জায়গায় শয়ন করে, যেখানে সে আল্লাহর যিকর করে না (এর জন্য) আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপর পরিতাপ ও কমি আসবে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَعَدَ مَقْعَدًا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ فِيْهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةً وَمَنِ اضْطَجَعَ مَضْجَعًا لاَ يَذْكُرُ اللهَ فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةً
পরিচ্ছেদঃ যিকরের মজলিসের ফযীলত
(৩৬৯৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কোনও সম্প্রদায় কোন মজলিস থেকে আল্লাহ যিকর না করেই উঠে গেল, তারা যেন মৃত গাধার মত কোন কিছু হতে উঠে গেল। আর তাদের জন্য রয়েছে কমি ও পরিতাপ।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ قَوْمٍ يَقُومُونَ مِنْ مَجْلِسٍ لاَ يَذْكُرُونَ اللهَ فِيهِ إِلاَّ قَامُوا عَنْ مِثْلِ جِيْفَةِ حِمَارٍ وَكَانَ لَهُمْ حَسْرَةً
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০০) আবূ মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ’আলহামদু লিল্লাহ’ (কিয়ামতে নেকীর) দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেবে এবং ’সুবহানাল্লাহ’ ও ’আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও যমীনের মধ্যস্থিত শূন্যতা পূর্ণ ক’রে দেয়।
وَعَنْ أَبي مَالِكٍ الأَشعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيْمَانِ، وَالحَمْدُ للهِ تَمْلأُ المِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ للهِ تَمْلآنِ أَوْ تَمْلأُ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার এই বাক্যমালা ’সুবহানাল্লাহি অলহামদুলিল্লাহি অলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অল্লাহু আকবার’ (অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ ছাড়া (সত্যিকার) কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সব চাইতে মহান) পাঠ করা সেই সমস্ত বস্তু অপেক্ষা অধিক প্রিয়, যার উপর সূর্যোদয় হয়।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لأَنْ أَقُولَ : سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ للهِ وَلَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ أَحَبُّ إلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০২) একদা আবূ হুরাইরা (রাঃ) একটি বৃক্ষ রোপন করছিলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে পার হলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’হে আবূ হুরাইরা! তুমি কী রোপন করছ? আবূ হুরাইরা (রাঃ) বললেন, ’একটি বৃক্ষ।’ তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম বৃক্ষ রোপনের কথা বলে দেব না?’’ আমি বললাম, অবশ্যই বলে দিন হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’। এর প্রত্যেকটির বিনিময়ে বেহেশতে তোমার জন্য একটি ক’রে বৃক্ষ রোপন করা হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا الَّذِي تَغْرِسُ قُلْتُ : غِرَاسًا لِي قَالَ أَلاَ أَدُلُّكُ عَلَى غِرَاسٍ خَيْرٍ لَكَ مِنْ هٰذَا قَالَ : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ قُلْ : سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ يُغْرَسْ لَكَ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৩) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’ গোনাহসমূহকে ঝরিয়ে দেয়, যেমন গাছ তার পাতাসমূহকে ঝরিয়ে দেয়।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺإِنَّ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ تَنْفُضُ الْخَطَايَا كَمَا تَنْفُضُ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৪) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,) নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্র বন্টন ক’রে দিয়েছেন, যেমন তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের রুযী বন্টন ক’রে দিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি তাকে দুনিয়া দান করেন, যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং যাকে তিনি ভালোবাসেন না। কিন্তু তিনি ঈমান দান করেন কেবল তাকে, যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ধন ব্যয় করতে কার্পণ্য করে, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে ভয় করে এবং রাত্রি জেগে ইবাদত করতে ভয় করে, তার উচিত বেশি বেশি ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’ বলা।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ وَإِنَّ اللهَ يُؤْتِي الْمَالَ مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَّا يُحِبُّ وَلَا يُؤْتِى الْإِيْمَانَ إِلَّا مَنْ أَحَبَّ فَإِذَا أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا أَعْطَاهُ الْإِيْمَانَ فَمَنْ ضَنَّ بِالْمَالِ أَنْ يُّنْفِقَهُ وَهَابَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ وَالْلَيْلُ أَنْ يُكَابِدَهُ فَلْيُكْثِرْ مِنْ قَوْلٍ لَا إِلَـهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَالْحَمْدُ للهِ وَسُبْحَانَ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তোমাদের ঢাল সংগ্রহ কর। তাঁরা বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! কোন শত্রু উপস্থিত হল কি?’ তিনি বললেন, না। বরং জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল। তোমরা ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’, ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’ বল। যেহেতু এগুলি কিয়ামতের দিন অগ্রণী হয়ে, আযাব রোধক হয়ে, ক্রমাগতভাবে শুভ-পরিণাম হয়ে উপস্থিত হবে। আর এগুলিই হল স্থায়ী সৎকর্ম।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذُوا جُنَّتَكُمْ قَالُوا : يَا رَسُوْلَ اللهِ أَمِنْ عَدُوٍّ قَدْ حَضَرَ ؟ قَالَ : لا وَلَكِنْ جُنَّتُكُمْ مِنَ النَّارِ قَوْلُ : سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلا إِلٰهَ إِلا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ فَإِنَّهُنَّ يَأْتِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُجَنِّبَاتٍ وَمُعَقِّبَاتٍ وَهُنَّ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ চারটি বাক্য নির্বাচিত করেছেনঃ ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’। সুতরাং যে ব্যক্তি ’সুবহানাল্লাহ’ বলবে, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হবে এবং ২০টি গোনাহ মোচন করা হবে। যে ব্যক্তি ’আল্লাহু আকবার’ বলবে, তারও অনুরূপ উপকার হবে। যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, তারও অনুরূপ উপকার হবে। আর যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে ’আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ বলবে, তার জন্য ৩০টি নেকি লেখা হবে এবং ৩০টি গোনাহ মোচন করা হবে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ اصْطَفَى مِنْ الْكَلَامِ أَرْبَعًا سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ فَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ كُتِبَ لَهُ عِشْرُونَ حَسَنَةً وَحُطَّ عَنْهُ عِشْرُونَ سَيِّئَةً وَمَنْ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ فَمِثْلُ ذٰلِكَ وَمَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ فَمِثْلُ ذٰلِكَ وَمَنْ قَالَ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ كُتِبَ لَهُ بِهَا ثَلَاثُونَ حَسَنَةً أَوْ حُطَّ عَنْهُ ثَلَاثُونَ سَيِّئَةً
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৭) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পশুরক্ষক আবী সালমা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাঃ! বাঃ! পাঁচটি জিনিস মীযানে কতই না ভারী! ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ’আল্লাহু আকবার’, ’সুবহানাল্লাহ’ ও ’আলহামদু লিল্লাহ’। আর নেক সন্তান, যে মারা গেলে মুসলিম (মা-বাপ) তাতে সওয়াব কামনা করে।
عَنْ أَبِيْ سَلْمَى رَاعِي رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ:بَخٍ بَخٍ لِخَمْسٍ مَا أَثْقَلَهُنَّ فِي الْمِيزَانِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ، وَالْوَلَدُ الصَّالِحُ يُتَوَفَّى لِلْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فَيَحْتَسِبُهُ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৮) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মি’রাজের রাতে ইব্রাহীম (আঃ)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! তুমি তোমার উম্মতকে আমার সালাম পেশ করবে এবং তাদেরকে বলে দেবে যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র ও উৎকৃষ্ট, তার পানি মিষ্ট। আর তা একটি বৃক্ষহীন সমতলভূমি। আর ’সুবহানাল্লাহ’, ’আলহামদু লিল্লাহ’ ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আল্লাহু আকবার’ হল তার রোপিত বৃক্ষ।
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَقِيْتُ إِبْرَاهِيْمَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِيْ فَقَالَ : يَا مُحَمّدُ أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلاَمَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ الجَنَّةَ طَيَّبَةُ التُّرْبَةِ عَذْبَةُ الْمَاءِ وَأَنَّهَا قِيْعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا: سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭০৯) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হচ্ছে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ أَفْضَلُ الذِّكْرِ : لَاۤ إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১০) সা’দ ইবনে আবূ অক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি? তাঁর সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করল, ’কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম ৭০২৭)
وَعَنْ سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ قَالَ : كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَيَعجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ فِي كُلِّ يَومٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسائِهِ : كَيْفَ يَكْسِبُ أَلفَ حَسَنَةٍ ؟ قَالَ يُسَبِّحُ مِئَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلفُ خَطِيئَةٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১১) আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকের প্রত্যেক (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রাত্যহিক (প্রদেয়) সাদকাহ রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল (লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার বলা) সাদকাহ এবং ভাল কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ। এ সব কাজের পরিবর্তে চাশতের দু’রাক্আত নামায যথেষ্ট হবে।
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقةٌ : فَكُلُّ تَسْبيحَةٍ صَدَقةٌ وَكُلُّ تَحْميدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَهْلِيلةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وأَمْرٌ بِالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيٌ عَنِ المُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذٰلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১২)মু’মিন জননী জুয়াইরিয়াহ বিনতে হারেস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ভোরে ফজরের নামায সমাপ্ত করে তাঁর নিকট থেকে বাইরে গেলেন। আর তিনি (জুয়াইরিয়াহ) স্বীয় জায়নামাযে বসেই রইলেন। তারপর চাশতের সময় তিনি যখন ফিরে এলেন, তখনও তিনি সেখানেই বসেছিলেন। এ দেখে তিনি তাঁকে বললেন, আমি যে অবস্থায় তোমাকে ছেড়ে বাইরে গেলাম, সে অবস্থাতেই তুমি রয়েছ? তিনি বললেন, ’হ্যাঁ।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার নিকট থেকে যাবার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার পড়েছি। যদি সেগুলিকে তোমার সকাল থেকে (এ যাবৎ) পঠিত দু’আর মুকাবেলায় ওজন করা যায়, তাহলে তা ওজনে সমান হয়ে যাবে। আর তা হচ্ছে এই যে,
’সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহী আদাদা খালক্বিহী, অরিযা নাফসিহী, অযিনাতা আরশিহী, অমিদা-দা কালিমা-তিহ্।’ অর্থাৎ, আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি; তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর নিজ মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজন বরাবর ও তাঁর বাণীসমূহের সমান সংখ্যক প্রশংসা। (মুসলিম ৭০৮৮-৭০৮৯)
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ’সুবহা-নাল্লা-হি আদাদা খালক্বিহ, সুবহা-নাল্লা-হি রিযা নাফসিহ, সুবহা-নাল্লা-হি যিনাতা আরশিহ, সুবহা-নাল্লা-হি মিদা-দা কালিমা-তিহ।’
আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন,) আমি কি তোমাকে এমন বাক্যাবলী শিখিয়ে দেব না, যা তুমি বলতে থাকবে? তা হচ্ছে এই যে, ’সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহী। (প্রত্যেক বাক্য তিনবার করে।) (তিরমিযী ৩৫৫৫)
وَعَنْ أُمِّ المُؤمِنِينَ جُوَيْرِيَةَ بِنتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ النَّبيَّ ﷺ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِيْنَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ فَقَالَ مَا زِلْتِ عَلَى الحَالِ الَّتي فَارَقَتُكِ عَلَيْهَا ؟ قَالَتْ : نَعَمْ فَقَالَ النَّبيُّ ﷺ لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ اليَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ : سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ رواه مسلم
وفي روايةٍ لَهُ سُبْحانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ الله رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ وفي رواية الترمذي أَلاَ أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهَا؟ سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ؛ سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ الله رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ الله زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ الله زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’টি কালিমা (বাক্য) রয়েছে, যে দু’টি দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে (উচ্চারণে) খুবই সহজ, আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। তা হচ্ছে, ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম।’ অর্থাৎ, আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيْلَتَانِ فِي الْمِيْزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَانِ : سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العظيمِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৪) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’
অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। (বিশাল) রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্ত্ততিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।
যে ব্যক্তি এই দু’আটি দিনে একশবার পড়বে, তার দশটি গোলাম আযাদ করার সমান নেকী অর্জিত হবে, একশ’টি নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে, তার একশ’টি গুনাহ মোচন করা হবে, উক্ত দিনের সন্ধ্যা অবধি তা তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার রক্ষামন্ত্র হবে এবং তার চেয়ে সেদিন কেউ উত্তম কাজ করতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার চেয়ে বেশী আমল করে তবে।’’ (বুখারী ৬৪০৩, মুসলিম ৭০১৯)
তিনি আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে একশবার ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ পড়বে তার গুনাহসমূহ মোচন করা হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়। (বুখারী ৬৪০৫, মুসলিম ৭০১৮)
وَعَنهُ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وكُتِبَتْ لَهُ مِئَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِئَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزاً مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذٰلِكَ حَتّٰـى يُمْسِي وَلَمْ يَأتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ وَقَالَ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৫) আবু যার্র (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কথা তোমাকে জানাব না কি? আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কথা হল, ’সুবহানাল্লা-হি অবিহামদিহ’ (অর্থাৎ, আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।)
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلاَ أُخْبِرُكَ بِأَحَبِّ الْكَلاَمِ إِلَى اللهِ ؟ إِنَّ أَحَبَّ الْكَلاَمِ إِلَى اللهِ : سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৬)উক্ত বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসিত হলেন, ’কোন্ যিকর সর্বশ্রেষ্ঠ?’ এর উত্তরে তিনি বললেন, যা তিনি নিজ ফিরিশতামণ্ডলী অথবা নিজ বান্দাগণের জন্য নির্বাচিত করেছেনঃ ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ।
عَنْ أَبِى ذَرٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ سُئِلَ أَىُّ الْكَلاَمِ أَفْضَلُ قَالَ مَا اصْطَفَى اللهُ لِمَلَائِكَتِهِ أَوْ لِعِبَادِهِ سُبْحَانَ اللهِ وَبِـحَمْدِهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৭) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ পড়ে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপন করা হয়।
وَعَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ : سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمدِهِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الجَنَّةِ رواه الترمذي، وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৮) আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর’ দিনে দশবার পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ইসমাঈলের বংশধরের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লাভ করবে।
وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ الأَنصَارِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ ؛ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ منْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭১৯) আমর বিন শুআইব, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তাঁর পিতা তাঁর (আমরের) পিতামহ হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ’’যে ব্যক্তি সূর্যের উদয় ও অসেত্মর পূর্বে ১০০ বার ’সুবহা-নাল্লাহ’ বলবে, তার জন্য তা ১০০টি (মক্কায় কুরবানীযোগ্য) উষ্ট্রী অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি সূর্যের উদয় ও অসেত্মর পূর্বে ১০০বার ’আলহামদু লিল্লাহ’ বলবে তার জন্য তা আল্লাহর পথে (জিহাদের) জন্য সওয়ারী ১০০টি ঘোড়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। যে ব্যক্তি সূর্যের উদয় ও অসেত্মর পূর্বে ১০০ বার ’আল্লাহ আকবার’ বলবে, তার জন্য তা ১০০টি ক্রীতদাস স্বাধীন করা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আর যে ব্যক্তি সূর্যের উদয় ও অসেত্মর পূর্বে ১০০বার ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু, অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’ বলবে সে ব্যক্তির আমল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে কিয়ামতে আর অন্য কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। অবশ্য যদি কেউ তারই অনুরূপ অথবা তার চেয়ে অধিকবার ঐ যিকর বলে থাকে তবে সে পারবে।
عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ جَدِّهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ : سُبْحَانَ اللهِ مِئَةَ مَرَّةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا كَانَ أَفْضَلَ مِنْ مِئَةِ بَدَنَةٍ وَمَنْ قَالَ : الْحَمْدُ للهِ مِئَةَ مَرَّةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا كَانَ أَفْضَلَ مِنْ مِئَةِ فَرَسٍ يَحْمِلُ عَلَيْهَا وَمَنْ قَالَ : اللهُ أكْبَرُ مِئَةَ مَرَّةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا كَانَ أَفْضَلَ مِنْ عِتْقِ مِئَةِ رَقَبَةٍ وَمَنْ قَالَ : لَا إِلٰـهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَة لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ مِئَةَ مَرَّةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا لَمْ يَجِىءْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَدٌ بِعَمَلٍ أَفْضَلَ مِنْ عَمَلِهِ إِلاَّ مَنْ قَالَ قَوْلَهُ أَوْ زَاد
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭২০) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে এসে নিবেদন করল, ’আমাকে একটি কথা শিখিয়ে দিন, আমি তা বলব।’ তিনি বললেন, বল, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, আল্লাহু আকবারু কাবীরা, অলহামদু লিল্লাহি কাসীরা, অসুবহানাল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন, অলা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আযীযিল হাকীম।’
অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আল্লাহ সর্বাধিক মহান, আল্লাহর অতীব প্রশংসা, বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া নড়া-চড়া করার (পাপ ও অশুভ জিনিস থেকে বেঁচে থাকা এবং পুণ্যার্জন ও মঙ্গল সাধন করার) ক্ষমতা নেই।
লোকটি বলল, ’এ সব কথাগুলি আমার প্রভুর জন্য হল, আমার জন্য কী?’ তিনি বললেন, তুমি বল, ’আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অহদিনী অরযুক্বনী।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। আমার প্রতি দয়া কর। আমাকে সৎপথ প্রদর্শন কর ও আমাকে জীবিকা দাও।’
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِيْ وَقَّاصٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابيٌّ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ : عَلِّمْنِي كَلاَماً أَقُولُهُ قَالَ قُلْ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ اللهُ أَكْبَرُ كَبِيراً وَالحَمْدُ للهِ كَثيراً وَسُبْحَانَ اللهِ رَبِّ العَالِمينَ وَلاَ حَولَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ العَزِيزِ الحَكِيمِ قَالَ : فَهَؤُلاَءِ لِرَبِّي فَمَا لِي؟ قَالَ قُلْ : اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় যিকরের বিশেষ মাহাত্ম্য
(৩৭২১) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভান্ডারের কথা বলে দেব না কি?’’ আমি বললাম, ’অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, ’’তা হল, ’লা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
وَعَنْ أَبي مُوسٰى قَالَ : قَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلٰى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ ؟ فَقُلتُ : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২২) আমর বিন আবাসা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষ রাতের গভীরে প্রতিপালক নিজ বান্দার সবচেয়ে বেশী নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি যদি ঐ সময় আল্লাহর যিকরকারীদের দলভুক্ত হতে সক্ষম হও, তাহলে তা হয়ে যাও।
عَنْ عَمْرٍو بْنِ عَبَسَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الرَّبُّ مِنَ الْعَبْدِ في جَوْفِ اللَّيْلِ الْآخِرِ فَإِنِ اسْتَطعْتَ أَنْ تَكُوْنَ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللهَ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিশতা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৪) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা রাতে কুকুর ও গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট (শয়তান থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ তারা তা দেখতে পায়, যা তোমরা দেখতে পাও না।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلاَبِ وَنَهِيقَ الْحُمُرِ بِاللَّيْلِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ فَإِنَّهُنَّ يَرَيْنَ مَا لاَ تَرَوْنَ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৫) উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে (নিম্নের দু’আ) বলে আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশ লক্ষ গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে দশ লক্ষ মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং জান্নাত তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করে দেন।
’লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু, য়্যুহয়ী অয়্যুমীতু, অহুয়া হাইয়্যুল লা য়্যামূতু, বিয়্যাদিহিল খাইরু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব ও তাঁরই নিমিত্তে সমুদয় প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু প্রদান করেন। আর তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। তাঁর হাতেই সর্বপ্রকার মঙ্গল এবং তিনি সর্ব বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান।
عَنْ عَمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ حِينَ يَدْخُلُ السُّوقَ : لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ كُلُّهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৬) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি এমন কোন মজলিসে বসে, যাতে তার শোরগোল বেশী হয়ে থাকে, তবে ঐ মজলিস থেকে উঠার পূর্বে যদি সে (নিম্মরে দু’আ) বলে, তবে উক্ত মজলিসে তার স্বকৃত গোনাহসমূহকে মার্জনা করা হয়। (দু’আটি নিম্মরূপ) ’সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা অআতূবু ইলাইক্।’
অর্থাৎঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার প্রতি তওবা (অনুশোচনার সাথে প্রত্যাবর্তন) করছি।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ كَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ : سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ ثُمَّ أَتُوبُ إِلَيْكَ إِلاَّ غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذٰلِكَ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যদি তোমাদের কেউ স্ত্রী সহবাসের ইচ্ছা করে, তখন এই দু’আ পড়ে,
’বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বা-না অজান্নিবিশ শায়ত্বা-না মা রাযাক্বতানা।’
অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি, হে আল্লাহ! তুমি শয়তানকে আমাদের নিকট থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে (সন্তান) দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।
তাহলে ওদের ভাগ্যে সন্তান এলে, শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ : بِسْمِ الله اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَقُضِيَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرَّهُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদ ও কষ্টের সময় এই দু’আ পড়তেন, ’লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুল আরশিল আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুস সামা-ওয়া-তি অরাব্বুল আরযিব অরাব্বুল আরশিল কারীম।’
অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُوْلُ عِنْدَ الكَرْبِ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ العَرْشِ العَظيمِ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ، وَرَبُّ الأَرْضِ، وَرَبُّ العَرْشِ الكَرِيمِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ সাময়িক যিকর ও দু‘আ
(৩৭২৯) উসামাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ’জাযাকাল্লাহু খায়রা’ (অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন) বলে দু’আ দিল, সে নিঃসন্দেহে (উপকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল।
وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ، فَقَالَ لِفاعِلهِ: جَزَاكَ اللهُ خَيراً، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ رواه الترمذي، وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩০) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, বেটা! যখন বাড়িতে প্রবেশ করবে তখন তুমি তোমার পরিবারের উপর সালাম দাও। তোমার উপর এবং তোমার পরিবার-পরিজনের উপর বরকত হবে।
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ يَكُونُ بَرَكَةً عَلَيْكَ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِكَ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩১) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মানুষ যখন নিজ বাড়ি প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় ’বিসমিল্লাহ’ বলে, তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে, ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।’ যখন সে বাড়ি প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম নেয় এবং রাতে খাবার সময় না নেয়, তাহলে শয়তান বলে, ’তোমরা রাতের খাবার পেলে, কিন্তু রাত্রিযাপনের জায়গা নেই।’ আর যখন সে খাবার সময়েও আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান বলে, ’তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং খাবারও পেলে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ لاَ مَبِيتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিয়ো না (অর্থাৎ কবরে যেমন নামায বা তেলাঅত হয় না তেমনি বিনা নামায ও তেলাঅতে ঘরকেও তার মত করো না; বরং তাতে নামায ও তেলাঅত করতে থাক।) অবশ্যই শয়তান সেই ঘর হতে পলায়ন করে যে ঘরে সূরা বাক্বারাহ পাঠ করা হয়।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِى تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩৩) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের গৃহে সূরা বাক্বারাহ পাঠ কর। কারণ, যে ঘরে ঐ সূরা পাঠ করা হয় সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺاِقْرَءُوْا سُوْرَةَ الْبَقَرَةِ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَدْخُلُ بَيْتًا يُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩৪) নু’মান বিন বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও ধরণী সৃষ্টির দুই সহস্রবৎসর পূর্বে এক গ্রন্থ (লওহে মাহফুয) লিপিবদ্ধ করেন, যা আরশের নিকট অবস্থিত। তিনি ঐ (গ্রন্থ) হতে দুটি আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার দ্বারায় সূরা বাক্বারার সমাপ্তি করেন। যে গৃহে ঐ আয়াত দুটি তিন দিন পঠিত হবে, শয়তান সে গৃহের নিকটবর্তী হবে না। (আহমাদ ১৮৪১৪, তিরমিযী ২৮৮২, হাকেম ২০৬৫, ত্বাবারানী ৭০০০)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সূরা বাক্বারাহ কোন বাড়িতে পাঠ করা হলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হয় না। (সহীহ তারগীব ১৪৬৭)
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَيْ عَامٍ فَأَنْزَلَ مِنْهُ آيَتَيْنِ فَخَتَمَ بِهِمَا سُوْرَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا تُقْرَأَانِ فِي دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبَهَا الشَّيْطَانُ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩৫) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’বান্দা যখন নিজ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ’বিসমিল্লাহ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, অলা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে, তখন বলা হয়, ’যথেষ্ট! তুমি সঠিক পথ পেলে, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলে এবং সকল অকল্যাণ থেকে বেঁচে গেলে।’ অতঃপর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ يُقَالُ لَـهُ : كُفِيتَ وَوُقِيتَ وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ
পরিচ্ছেদঃ গৃহ সম্পর্কিত কতিপয় যিকর
(৩৭৩৬) অন্য বর্ণনায় আছে, যখন মানুষ ঘর হতে বের হয় এবং এই দু’আ বলে, ’বিসমিল্লা-হ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লা-হ, লা হাউলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’অর্থাৎ ’আল্লাহর নাম নিয়ে বের হলাম, আল্লাহর উপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত পাপ হতে প্রত্যাবর্তন এবং সৎকার্য বরণ করার (নড়া-সরা করার) কোন শক্তি নেই।’ তখন তার জন্য বলা হয়, ’তুমি সুপথ পেলে, (আল্লাহর সাহায্য চাইলে তাই) তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হলেন এবং নিরাপত্তা পেলে।’ আর শয়তান তার নিকট হতে দূরে সরে যায়। তখন অপর এক শয়তান তাকে বলে, ’এমন লোকের কাছে তোর উপায় কোথায়? যে (আল্লাহর নাম নিয়ে সুপথ পেয়েছে, (আল্লাহ)তার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং সে নিরাপত্তা পেয়েছে।’
إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ قَالَ يُقَالُ حِينَئِذٍ هُدِيتَ وَكُفِيتَ وَوُقِيتَ فَتَتَنَحَّى لَهُ الشَّيَاطِينُ فَيَقُولُ لَهُ شَيْطَانٌ آخَرُ كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِىَ وَكُفِىَ وَوُقِىَ
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
আল্লাহ বলেছেন,
وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِيْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيْفَةً وَدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغَافِلِيْنَ
অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না। (সূরা আ’রাফ ২০৫)
আরবী ভাষাবিদগণ বলেছেন, آصال শব্দটি أصيل এর বহুবচন। এ (সন্ধ্যা) হল আসর ও মাগরেবের মধ্যবর্তী সময়।
তিনি আরো বলেছেন,
وَسَبِّحْ بِـحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا
অর্থাৎ, সূর্যের উদয় ও অস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা কর। (সূরা ত্বাহা ১৩০)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
وَسَبِّحْ بِـحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْأِبْكَارِ
অর্থাৎ, সকাল-বিকালে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। (সূরা মু’মিন ৫৫)
আরবী ভাষাবিদগণ বলেছেন, عشي (বিকাল) হল সূর্য ঢলার পর থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়।
তিনি অন্য স্থানে বলেছেন,
فِيْ بُيُوْتٍ أَذِنَ اللهُ أنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهُ يُسْبِّحُ لَهُ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ رِجَالٌ لَا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَلاَ بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللهِ
অর্থাৎ, সে সব গৃহে-যাকে আল্লাহ সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন—সকাল ও সন্ধ্যায় তাতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, সে সব লোক যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে বিরত রাখে না। (সূরা নূর ৩৬-৩৭)
তিনি আরো বলেন,
إِنَّا سَخَّرْنَا الْـجِبَالَ مَعَهُ يُسَبِّحْنَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِشْرَاقِ
অর্থাৎ, আমি পর্বতমালাকে তার (দাঊদের) বশীভূত করেছিলাম; ঐগুলি সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। (সূরা স্বা-দ ১৮)
(৩৭৩৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ’সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ একশতবার পাঠ করবে, কিয়ামতের দিনে ওর চাইতে উত্তম আমল কেউ আনতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার সমান বা তার থেকে বেশি সংখ্যায় ঐ তাসবীহ পাঠ ক’রে থাকে (তাহলে ভিন্ন কথা)।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ حِيْنَ يُصْبِحُ وَحينَ يُمْسِي : سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ مِئَةَ مَرَّةٍ لَمْ يَأَتِ أَحَدٌ يَوْمَ القِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৩৮) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে নিবেদন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! গত রাতে বিছার কামড়ে আমি যে কত কষ্ট পেয়েছি, (তা বলার নয়)।’ তিনি বললেন, ’’শোন! যদি তুমি সন্ধ্যাবেলায় এই দু’আ পাঠ করতে,
’আঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব।’ অর্থাৎ, আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
তাহলে তা তোমার ক্ষতি করতে পারত না।
وَعَنهُ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ الله مَا لَقِيْتُ مِنْ عَقْرَبٍ لَدَغَتْنِي البَارِحَةَ! قَالَ أَمَا لَوْ قُلْتَ حِيْنَ أَمْسَيْتَ : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ : لَمْ تَضُرَّك رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৩৯) উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালে এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা অবিকা আমসাইনা, অবিকা নাহ্ইয়া, অবিকা নামূতু অইলাইকান নুশূর।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন। আর সন্ধ্যায় এই দু’আ পড়তেন,
’আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, অবিকা নাহ্ইয়া, অবিকা নামূতু অইলাইকান নুশূর।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হল, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন।
وَعَنهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّه كَانَ يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ وَإِذَا أَمسَى قَالَ اَللّٰهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلْيَكَ النُّشُورُ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৪০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কিছু বাক্য বাতলে দিন, যেগুলি সকাল-সন্ধ্যায় আমি পড়তে থাকব।’ তিনি বললেন, বল, ’আল্লা-হুম্মা ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি অল আরয্বি আ-লিমাল গায়বি অশশাহা-দাহ, রাব্বা কুল্লি শাইয়িন অমালীকাহ, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা আঊযু বিকা মিন শাররি নাফসী অশাররিশ শায়ত্বা-নি অশিরকিহ।’
অর্থাৎ, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শিরক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এটি সকাল-সন্ধ্যা তথা শোবার সময় পাঠ করো।
وَعَنهُ : أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ قَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ مُرْنِـيْ بِكَلِمَاتٍ أَقُوْلُهُنَّ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ قَالَ قُلْ : اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاواتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ؛ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ أَنْتَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَّرِّ نَفْسِيْ وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قَالَ قُلْهَا إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৪১) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যাবেলায় এই দু’আ পড়তেন,
’আমসাইনা অ আমসাল মুলকু লিল্লা-হ, অলহামদু লিল্লা-হ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। রাব্বি আস্আলুকা খাইরা মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ খাইরা মা বা’দাহা, অ আঊযু বিকা মিন শাররি মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ শাররি মা বা’দাহা, রাব্বি আঊযু বিকা মিনাল কাসালি অ সূইল কিবার, রাব্বি আঊযু বিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি অ আযা-বিন ফিল ক্বাবর।’
অর্থাৎ, আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, (বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বললেন,) তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্ত্ততি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি।
তিনি যখন সকালে উঠতেন তখনও এই দু’আ পাঠ করতেন; বলতেন ’আসবাহনা ও আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ------।’
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ قَالَ : كَانَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ إِذَا أَمْسَى قَالَ أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى المُلْكُ للهِ وَالحَمْدُ للهِ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ قَالَ الرَّاوِي : أَرَاهُ قَالَ فِيهِنَّ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدير رَبِّ أَسْألُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الكَسَلِ وَسُوءِ الكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي القَبْرِ وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذٰلِكَ أَيضاً أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ المُلْكُ للهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৪২) মুআয বিন আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করে বলেন, তাঁর পিতা বলেছেন, একদা আমরা বৃষ্টিময় ঘোর অন্ধকার রাত্রে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুঁজতে বের হলাম। উদ্দেশ্য ছিল, তিনি আমাদের নামাযের ইমামতি করবেন। আমরা তাঁকে পেয়ে নিলে তিনি বললেন, ’’বল।’’ আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বললেন, ’বল।’ আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, ’বল।’ এবারে আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! কী বলব?’ তিনি বললেন, ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, ক্বুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও ক্বুল আঊযু বিরাব্বিন্নাস’ সকাল সন্ধ্যায় তিনবার করে বল; প্রত্যেক জিনিস থেকে তাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।
وعَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ خُبَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْنَا فِى لَيْلَةِ مَطَرٍ وَظُلْمَةٍ شَدِيدَةٍ نَطْلُبُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لِيُصَلِّىَ لَنَا فَأَدْرَكْنَاهُ فَقَالَ أَصَلَّيْتُمْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا فَقَالَ قُلْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ قُلْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا ثُمَّ قَالَ قُلْ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَقُولُ قَالَ (قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ) وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِى وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকর
(৩৭৪৩) উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দু’আ তিনবার করে পড়বে, ’বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা য়্যাযুররু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরযিব অলা ফিসসামা-ই অহুওয়াস সামীউল আলীম।’
অর্থাৎ, আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যার নামের সাথে পৃথিবীর ও আকাশের কোন জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা।
কোন জিনিস সে ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবে না।
وَعَنْ عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ : بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ إِلاَّ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ رواه أَبُو داود والترمذي، وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৪) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় (নামাযের) রুকূ ও সিজদাতে এই তাসবীহটি অধিক মাত্রায় পড়তেন, ’সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা অবিহামদিক, আল্লাহুম্মাগফিরলী।’ অর্থাৎ, হে আমাদের প্রভু আল্লাহ! তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُكْثِرُ أَنْ يَّقُوْلَ فِيْ رُكُوْعِهِ وَسُجُوْدِهِ سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِـحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِـيْ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৫)উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় (নামাযের) রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, ’সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন রাব্বুল মালা-ইকাতি অররূহ।’ অর্থাৎ, অতি নিরঞ্জন, অসীম পবিত্র ফিরিশতামণ্ডলী ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রভু (আল্লাহ)।
وَعَنهُا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِيْ رُكُوْعِهِ وَسُجُوْدِهِ سبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৬) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রুকুতে তোমরা রবের বড়াই বর্ণনা কর (অর্থাৎ, ’সুবহানা রাব্বিয়্যাল আযীম’ পড়)। আর সিজদায় দু’আ করতে সচেষ্ট হও। কারণ, তোমাদের জন্য সে দু’আ কবূল হওয়ার উপযুক্ত।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ - عَزَّ وَجَلَّ - وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সাজদার অবস্থায় হয়। সুতরাং (ঐ সময়) তোমরা বেশি মাত্রায় দু’আ কর।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ العَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৮) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করার সময় এই দু’আ পড়তেন, ’আল্লা-হুম্মাগফিরলী যামবী কুল্লাহ, দিক্ক্বাহু অজিল্লাহ, অআউওয়ালাহু অ আ-খিরাহ, অ আলা-নিয়্যাতাহু অসিররাহ।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার কম ও বেশী, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার পাপকে মাফ করে দাও।
وَعَنهُ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُوْلُ فِيْ سُجُوْدِهِ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ كُلَّهُ : دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৪৯) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (বিছানায়) নিখোঁজ পেলাম। কাজেই আমি হাতড়াতে হাতড়াতে তাকে রুকু বা সিজদার অবস্থায় পেলাম। তিনি তাতে পড়ছিলেন, ’সুবহানাকা অবিহামদিকা লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি তাঁর নামাযের স্থানে (সিজদায়) ছিলেন। তাঁর দু’টি পায়ের চেটোয় আমার হাত পড়ল। তাঁর পায়ের পাতা দুটো খাড়া ছিল এবং তিনি এই দু’আ পড়ছিলেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিরিযা-কা মিন সাখাত্বিক, অবিমুআফা-তিকা মিন উক্বূবাতিক, অ আঊযু বিকা মিনকা লা উহস্বী সানা-আন আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা আলা নাফসিক্।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার সন্তুষ্টির অসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার ক্ষমাশীলতার অসীলায় তোমার শাস্তি থেকে এবং তোমার সত্তার অসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার উপর তোমার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারি না, যেমন তুমি নিজের প্রশংসা নিজে করেছ।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : افْتَقَدْتُ النَّبيَّ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَتَحَسَّسْتُ فَإِذَا هُوَ رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ يَقُولُ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ أَنتَ
وَفِي رِوَايَةٍ : فَوَقَعَتْ يَدِيْ عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي المَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ اَللّٰهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫০) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযসমূহের শেষাংশে এই দু’আ পড়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বুখলি অ আঊযু বিকা মিনাল জুবনি অ আঊযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিদ্দুনয়্যা অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল ক্বাবর।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, স্থবিরতার বয়সে কবলিত হওয়া থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।
وَعَنْ سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَتَعَوَّذُ دُبُرَ الصَّلَواتِ بِهؤُلاَءِ الكَلِمَاتِ اَللّٰهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ وَالبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ العُمُرِ وَأعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ القَبْرِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫১) মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বললেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি।’’ অতঃপর তিনি বললেন, ’’হে মুআয! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষাংশে এ দু’আটি পড়া অবশ্যই ত্যাগ করবে না,
’আল্লা-হুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা অশুকরিকা অহুসনি ইবা-দাতিক।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিকর (স্মরণ), শোকর (কৃতজ্ঞতা) এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর।
وَعَنْ مُعَاذٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ يَا مُعَاذُ وَاللهِ إنِّي لأُحِبُّكَ فَقَالَ أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لاَ تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَة تَقُولُ : اَللّٰهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যখন তোমাদের কেউ (নামাযের মধ্যে) তাশাহহুদ (অর্থাৎ, আত্-তাহিয়্যাত) পড়বে, তখন সে এ চারটি জিনিস হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে; বলবে,
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম, অমিন আযা-বিল ক্বাবর, অমিন ফিতনাতিল মাহয়্যা অলমামা-ত, অমিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং কানা দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ يَقُولُ : اَللّٰهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ القَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৩) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে শেষ বেলায় অর্থাৎ সালাম ফিরবার আগে) এই দু’আ পড়তেন, আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা-ক্বাদ্দামতু অমা আখখারতু অমা আসরারতু অমা আ’লানতু অমা আসরাফতু অমা আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখখিরু লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। তুমি আদি, তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই।
وَعَنْ عَليٍّ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يَكُونُ مِنْ آخِرِ مَا يَقُولُ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ أَنْتَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৪) সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায থেকে সালাম ফিরার পর ঘুরে বসতেন, তখন তিনবার ’ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) করতেন আর পড়তেন, ’আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু অমিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি অল-ইকরাম। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, তোমার নিকট থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও মহানুভব।
এ হাদীসটির অন্যতম বর্ণনাকারী আওযায়ী (রহঃ) কে প্রশ্ন করা হল, ’ইস্তিগফার’ কীভাবে হবে? উত্তরে তিনি বললেন, বলবে, ’আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।’ (অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।)
وَعَنْ ثَوبَانَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاثَاً وَقَالَ اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ قِيلَ لِلأَوْزَاعِيِّ وَهُوَ أَحَدُ رُوَاةِ الحَدِيثِ : كَيْفَ الاِسْتِغْفَارُ ؟ قَالَ : يَقُولُ : أَسْتَغْفِرُ الله أَسْتَغْفِرُ الله رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৫) মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযান্তে সালাম ফিরতেন, তখন এই দু’আ পড়তেনঃ
’লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা-নিয়া লিমা আ’ত্বাইতা, অলা মু’ত্বিয়া লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ্।’
অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। (বিশাল) রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্ত্ততিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না।
وَعَنِ المُغِيرَةِ بنِ شُعبَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلاَةِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اَللّٰهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৬) আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি প্রতিটি নামাযের পশ্চাতে যখন সালাম ফিরতেন, তখন এই দু’আটি পড়তেন,
’লা- ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। লা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অলা না’বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু লাহুন্নি’মাতু অলাহুল ফাযলু অলাহুস সানা-উল হাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিস্বীনা লাহুদ্দীনা অলাউ কারিহাল কা-ফিরূন।’
অর্থাৎ, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। (বিশাল) রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্ত্ততিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার (নড়া-সরার) শক্তি নেই। আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। তাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদত করিনা, তাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাঁরই যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাঁরই যাবতীয় সুপ্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁরই উপাসনা করি, যদিও কাফেরদল তা অপছন্দ করে।
ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দু’আটি প্রত্যেক নামাযের পর পড়তেন।
وَعَنْ عَبدِ الله بنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ الله تَعَالٰـى عَنهُمَا أَنَّه كَانَ يَقُولُ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ حِيْنَ يُسَلِّمُ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَـهُ لَـهُ المُلْكُ وَلَـهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إيَّاهُ لَـهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الحَسَنُ لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الكَافِرُونَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ : وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা গরীব মুহাজির (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো উঁচু উঁচু মর্যাদা ও চিরস্থায়ী সম্পদের অধিকারী হয়ে গেল। তারা নামায পড়ছে, যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা রোযা রাখছে, যেমন আমরা রাখছি। কিন্তু তাদের উদ্বৃত্ত মাল আছে, ফলে তারা হজ্জ করছে, উমরাহ করছে, জিহাদ করছে ও সাদকাহ করছে, (আর আমরা করতে পারছি না)।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিস শিখিয়ে দেব না, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের মর্যাদা লাভ করবে, তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অগ্রবর্তী থাকবে এবং তোমাদের মত কাজ যে করবে, সে ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠতর হতে পারবে না? তাঁরা বললেন, ’অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! (আমাদেরকে তা শিখিয়ে দিন।)’ তিনি বললেন, প্রত্যেক (ফরয) নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করবে।
আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণনাকারী আবূ সালেহ বলেন, ’কিভাবে পাঠ করতে হবে, তা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ’সুবহানাল্লাহ’, ’আল্লাহু আকবার’ ও ’আল-হামদু লিল্লাহ’ বলবে। যেন প্রত্যেকটি বাক্য ৩৩ বার ক’রে হয়। (বুখারী ৮৪৩, মুসলিম ১৩৭৫)
মুসলিমের বর্ণনায় এ কথা বাড়তি আছে যে, অতঃপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’আমরা যে আমল করছি, সে আমল আমাদের ধনী ভায়েরা শোনার পর তারাও আমল শুরু ক’রে দিয়েছে? (এখন তো তারা আবার আমাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ে যাবে।)’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হল আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ فُقَراءَ المُهَاجِرِينَ أَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالُوا : ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثورِ بِالدَّرَجَاتِ العُلَى وَالنَّعِيمِ المُقِيمِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ وَيَعْتَمِرُونَ وَيُجَاهِدُونَ وَيَتَصَدَّقُونَ فَقَالَ أَلاَ أُعَلِّمُكُمْ شَيْئاً تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلاَ يَكُونُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلاَّ مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ قَالَ أَبُو صَالِحٍ الرَّاوِي عَن أَبِي هُرَيرَةَ لَمَّا سُئِلَ عَنْ كَيْفِيَّةِ ذِكْرِهِنَّ قَالَ يَقُول : سُبْحَان اللهِ وَالحَمْدُ للهِ واللهُ أكْبَرُ حَتّٰـى يَكُونَ مِنهُنَّ كُلُّهُنَّ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ متفقٌ عَلَيْهِ
وَزَادَ مُسلِمٌ فِي رِوَايَتِهِ : فَرَجَعَ فُقَرَاءُ المُهَاجِرِينَ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالُوا : سَمِعَ إِخْوَانُنَا أَهْلُ الأَمْوَالِ بِمَا فَعَلْنَا فَفَعَلُوا مِثْلَهُ ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ذٰلِكَ فَضْلُ الله يُؤتِيهِ مَنْ يَشَاءُ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৮) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক (ফরয) নামায বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং একশত পূর্ণ করতে ’লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর’ পড়বে, তার গুনাহসমূহ মাফ ক’রে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।
وَعَنهُ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ وحَمِدَ اللهَ ثَلاثاً وَثَلاَثِينَ وَكَبَّرَ الله ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ وَقَالَ تَمَامَ المِئَةِ : لَا إِلٰـهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ভিতরে, শেষাংশে ও পরের যিকর ও দু‘আ
(৩৭৫৯) কা’ব ইবনে উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযান্তে কিছু বাক্য রয়েছে বা কিছু কর্ম রয়েছে, সেগুলি যে পড়বে বা (পাঠ) করবে, সে আদৌ ব্যর্থ হবে না। তা হচ্ছে প্রত্যেক ফরয নামায বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া।
وَعَنْ كَعْبِ بنِ عُجْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ مُعَقِّبَاتٌ لاَ يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ أَوْ فَاعِلُهُنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ: ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثٌ وثَلاَثُونَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ تَكْبِيرَةً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّماوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ، الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللهَ قِيَاماً وَقُعُوداً وَعَلَى جُنُوبِهمْ وَيَتَفَكَّرُونَ في خَلْقِ السَّمَاواتِ وَالأَرْضِ
অর্থাৎ, নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকেদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে। (সূরা আলে ইমরান ১৯০-১৯১)
(৩৭৬০) হুযাইফা ও আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শোবার সময় এই দু’আ পড়তেন, ’বিসমিকাল্লাহুম্মা আহ্ইয়াহ অ আমূত।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি বাঁচি ও মরি)।
وَعَنْ حُذَيْفَةَ وَأَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِراشِهِ قَالَ بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ أَحْيَا وَأَمُوتُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬১) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা তাঁকে ও ফাতেমাকে বললেন, যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার ’আল্লাহ আকবার’, ৩৩ বার ’সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ’আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করবে।’’ অন্য এক বর্ণনা অনুপাতে ৩৪ বার ’সুবহানাল্লাহ’, আর এক বর্ণনা অনুপাতে ৩৪ বার ’আল্লাহু আকবার’ পড়তে আদেশ করেছিলেন।
وَعَنْ عليٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهُ وَلِفَاطِمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا أَوْ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَبِّرا ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ وَسَبِّحَا ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ واحْمَدَا ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ وَفِي رِوَايَةٍ : التَّسْبِيحُ أَرْبَعاً وَثَلاَثِينَ وَفِي رِوَايَةٍ : التَّكْبِيرُ أَرْبَعاً وَثَلاَثِينَ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করবে, তখন সে যেন নিজ লুঙ্গীর একাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে কি কি জিনিস সেখানে এসেছে। তারপর এই দু’আ পড়বে,
’বিসমিকা রাব্বি অয্বা’তু যামবী অবিকা আরফাউহু ফাইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা অইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহী ইবা-দাকাস স্ব-লিহীন।’
অর্থাৎ, হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমারই নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমারই নামে তা উঠাব। অতএব যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার প্রতি করুণা করো। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তাহলে তাকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফাযত কর, যার দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের ক’রে থাক।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَليَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا خَلَفَهُ عَلَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ: بِاسمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬৩)আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন, তখন নিজ হাত দু’টিতে ’মুআউবিযাত’ (তিন ক্বুল) পড়ে ফুঁ দিতেন এবং তার দ্বারা নিজ সমস্ত শরীরে বুলাতেন। (বুখারী ৬৩১৯, মুসলিম ৫৮৪৫)
এক অন্য বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাতে যখন ঘুমাবার জন্য শয্যা গ্রহণ করতেন তখন দু’ হাতের চেটো একত্রে জমা করতেন এবং তাতে তিন ক্বুল পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর তার দ্বারা দেহের ওপর যতদূর সম্ভব বুলাতেন; মাথা, চেহারা ও দেহের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ তিনি তিনবার করতেন। (বুখারী ৫০১৭, মুসলিম)
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ نَفَثَ فِي يَدَيْهِ وَقَرَأَ بِالمُعَوِّذَاتِ ومَسَحَ بِهِمَا جَسَدَهُ متفق عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِما مَا استْطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأَسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذٰلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬৪) বারা’ ইবনে আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের ওযূর ন্যায় ওযূ করবে। তারপর ডানপাশে শুয়ে এই দু’আ পড়বে,
’আল্লা-হুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইক, অ অজ্জাহতু অজহিয়া ইলাইক, অফাউওয়াযতু আমরী ইলাইক, অ আলজা’তু যাহরী ইলাইক, রাগবাতাঁঊ অরাহবাতান্ ইলাইক্, লা মালজাআ’ অলা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা অ বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালত্।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণ তোমার প্রতি সমর্পণ করেছি, আমার মুখমণ্ডল তোমার প্রতি ফিরিয়েছি, আমার সকল কর্মের দায়িত্ব তোমাকে সোপর্দ করেছি, আমার পিঠকে তোমার দিকে লাগিয়েছি (তোমার উপরেই সকল ভরসা রেখেছি), এসব কিছু তোমার সওয়াবের আশায় ও তোমার আযাবের ভয়ে করেছি। তোমার নিকট ছাড়া তোমার আযাব থেকে বাঁচতে কোন আশ্রয়স্থল নেই। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ তার উপর এবং তুমি যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর ঈমান এনেছি।
وَعَنِ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَتَيتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وَضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الأَيْمَن وَقُلْ : اَللّٰهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيكَ وَأَلْجَأتُ ظَهرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيكَ آمَنْتُ بِكِتابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ، فَإِنْ مِتَّ مِتَّ عَلَى الفِطْرَةِ وَاجْعَلْهُنَّ آخِرَ مَا تَقُولُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬৫) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন এই দু’আ পড়তেন, ’আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্বআমানা অ সাক্বা-না অকাফা-না অ আ-ওয়া-না, ফাকাম মিম্মাল লা কা-ফিয়া লাহু অলা মু’বী।’
অর্থাৎ, সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ কত এমন লোক আছে যাদের যথেষ্টকারী ও আশ্রয়দাতা নেই।
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ اَلحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার সময়ের দু‘আ
(৩৭৬৬) হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাবার ইচ্ছা করতেন, তখন স্বীয় ডান হাতটি গালের নিচে স্থাপন করতেন, তারপর এই দু’আ পাঠ করতেন। ’আল্লাহুম্মা ক্বিনী আযাবাকা য়্যাওমা তাব্আসু ইবাদাকা।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! সেই দিনের আযাব থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দাও, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান ঘটাবে। (তিরমিযী ৩৩৯৮-৩৩৯৯, হাসান)
আবূ দাঊদ এ হাদীসটিকে হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে যে, তিনি ঐ দু’আ তিনবার পড়তেন। (কিন্তু তা সহীহ নয়।)
وَعَنْ حُذَيفَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ اليُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ، ثُمَّ يَقُولُ اَللّٰهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ رواه الترمذي وقال حديث حسن
ورواه أَبُو داود من رواية حَفْصَةَ رَضِيَ اللهُ عنها وفيهِ : أَنَّهُ كَانَ يَقُولُهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাবার ও ঘুম থেকে উঠার সময় দু‘আ
(৩৭৬৭) হুযাইফা ও আবু যার্র (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় শোবার জন্য যেতেন, তখন এই দু’আ পড়তেন, ’বিসমিকাল্লাহুম্মা আহ্ইয়া অআমূত।’ (অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি বাঁচি ও মরি)। আর যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন পড়তেন। ’আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহয়্যা-না বা’দা মা আমা-তানা অ ইলাইহিন নুশূর।’ অর্থাৎ, যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে মারার পর আবার জীবিত করলেন এবং তাঁরই প্রতি পুনরুত্থান ঘটবে।
عَنْ حُذَيفَةَ وَأَبِي ذَرٍّ رَضِي اللهُ عَنهُمَا قَالاَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ أَحْيَا وَأَمُوتُ وَإذَا اسْتَيقَظَ قَالَ الحَمْدُ للهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَماتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৬৮) আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখনই কোন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের জন্য পশ্চাতে অদৃশ্যে দু’আ করে, তখনই তার (মাথার উপর নিযুক্ত) ফিরিশতা বলেন, ’আর তোমার জন্যও অনুরূপ।
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلمٍ يَدْعُو لأَخِيهِ بِظَهْرِ الغَيْبِ إِلاَّ قَالَ المَلَكُ : وَلَكَ بِمِثْلٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৬৯) আবূ দারদা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য মুসলিমের দু’আ কবুল করা হয়। তার মাথার কাছে নিযুক্ত এক ফিরিশতা থাকেন। যখনই সে তার ভায়ের জন্য কোন মঙ্গলের দু’আ করে, তখনই উক্ত ফিরিশতা বলেন, ’আমীন, আর তোমার জন্যও অনুরূপ।
عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭০) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী গাযী, হাজী ও উমরাহ আদায়কারী আল্লাহর প্রতিনিধি দল। তারা দু’আ করলে, তিনি তা কবুল করেন এবং তাঁর কাছে কিছু চাইলে, তিনি তাদেরকে তা দিয়ে থাকেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْغَازِى فِى سَبِيلِ اللهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিনটি দু’আ এমন আছে যার কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ নেই; অত্যাচারিতের দু’আ, মুসাফির ব্যক্তির দু’আ এবং ছেলের উপর তার মা-বাপের বদ্দুআ।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ يَقُولُ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ : دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা সিজদার অবস্থায় স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা অধিক মাত্রায় (ঐ অবস্থায়) দু’আ কর।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُونُ العَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৩) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আযান ও ইকামতের মাঝে দু’আ রদ্দ করা হয় না। (অর্থাৎ, কবুল করা হয়।)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৪) সাহল বিন সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই (সময়ে দু’আ) রদ্দ করা হয় না অথবা খুব কম রদ্দ করা হয়; আযানের সময় দু’আ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সাথে যুদ্ধ চলার সময় দু’আ।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثِنْتَانِ لاَ تُرَدَّانِ أَوْ قَلَّمَا تُرَدَّانِ : الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعِنْدَ الْبَأْسِ حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করব।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالٰـى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ وَمَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৬)জাবের (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাত্রিকালে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখনই তা লাভ ক’রে মুসলিম ব্যক্তি ইহ-পরকালের কোন কল্যাণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তখনই তিনি তাকে তা প্রদান করে থাকেন। অনুরূপ প্রত্যেক রাত্রিতেই ঐ মুহূর্ত আবির্ভূত হয়ে থাকে।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُولُ إِنَّ فِى اللَّيْلِ لَسَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَذٰلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৭)আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমআর দিনে এমন একটি (সামান্য) মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা নামায পড়া অবস্থায় তা পায় এবং আল্লাহর নিকট কোন মঙ্গল প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ ﷺ إِنَّ فِى الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ قَائِمٌ يُصَلِّى يَسْأَلُ اللهَ خَيْرًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
পরিচ্ছেদঃ কবুল দু‘আ
(৩৭৭৮) আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, ’জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দু’আ বেশী কবুলের যোগ্য?’ উত্তরে তিনি বললেন, রাতের শেষাংশে এবং ফরয নামাযসমূহের পশ্চাতে। (অর্থাৎ, সালাম ফিরার আগে)।
عَنْ أَبِى أُمَامَةَ قَالَ: قِيلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَىُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ قَالَ جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৭৯) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সন্তান-সন্ততির বিরুদ্ধে, নিজেদের ধন-সম্পদের বিরুদ্ধে বদ্দুআ করো না (কেননা, হয়তো এমন হতে পারে যে,) তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি সময় পেয়ে বস, যখন আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, তোমাদের জন্য তা কবূল করে নেবেন।’’ (কাজেই বদ দু’আও কবূল হয়ে যাবে। অতএব এ থেকে সাবধান)।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺلاَ تَدْعُوْا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلاَ تَدعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ، وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَموَالِكُمْ، لاَ تُوافِقُوا مِنَ اللهِ سَاعَةً يُسأَلُ فِيهَا عَطَاءً فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮০)আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কোন ব্যক্তির দু’আ গৃহীত হয়; যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে; বলে, ’আমার প্রভুর নিকট দু’আ তো করলাম, কিন্তু তিনি আমার দু’আ কবূল করলেন না।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ : أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ : يَقُوْلُ : قَدْ دَعْوتُ رَبِّي فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮১) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, বান্দার দু’আ ততক্ষণ পর্যন্ত কবূল করা হয়, যতক্ষণ সে গুনাহর জন্য বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দু’আ না করে, আর যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! তাড়াহুড়ো মানে কী?’ তিনি বললেন, দু’আকারী বলে, ’দু’আ করলাম, আবার দু’আ করলাম, অথচ দেখলাম না যে, তিনি আমার দু’আ কবূল করছেন।’ কাজেই সে তখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বসে পড়ে ও দু’আ করা ত্যাগ ক’রে দেয়।
وفي روايةٍ لِمُسْلِمٍ لاَ يَزالُ يُسْتَجَابُ لِلعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بإِثْمٍ أَوْ قَطيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ قيل : يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الاِسْتِعْجَالُ ؟ قَالَ يَقُوْلُ : قَدْ دَعوْتُ وَقَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ أرَ يَسْتَجِيبُ لِي فَيَسْتحْسِرُ عِنْدَ ذٰلِكَ وَيَدَعُ الدُّعَاءَ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮২) উবাদাহ ইবনে স্বামেত (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধরার বুকে যে মুসলিম ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে দু’আ করে (তা ব্যর্থ যায় না); হয় আল্লাহ তা তাকে দেন অথবা অনুরূপ কোন মন্দ তার উপর থেকে অপসারণ করেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সে (দু’আকারী) গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দু’আ না করবে। একটি লোক বলল, ’তাহলে তো আমরা অধিক মাত্রায় দু’আ করব।’ তিনি বললেন, আল্লাহ সর্বাধিক অনুগ্রহশীল। (তিরমিযী ৩৫৭৩, হাসান সহীহ)
হাকেম আবূ সাঈদ হতে এগুলি বর্ধিত আকারে বর্ণনা করেছেন, অথবা তার সম পরিমাণ পুণ্য তার জন্য সঞ্চিত রাখা হয় (যা তার পরকালে কাজে আসবে)। (হাকেম ১৮১৬)
وَعَنْ عُبَادَةَ بنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا عَلَى الأَرْضِ مُسْلِمٌ يَدْعُو الله تَعَالٰـى بِدَعْوَةٍ إِلاَّ آتَاهُ اللهُ إيَّاهَا، أَوْ صَرفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ القَومِ: إِذاً نُكْثِرُ قَالَ اللهُ أكْثَرُ رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح
وَرَوَاهُ الحَاكِمُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ وَزَادَ فِيهِ أَوْ يَدَّخِرَ لَهُ مِن الأَجْرِ مثْلَها
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৩) সালমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের বরকতময় মহান প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالٰـى حَيِىٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِى مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৪) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ কর কবুল হবে এই দৃঢ় প্রত্যয় রেখে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ উদাসীন ও অন্যমনস্কের হৃদয় থেকে দু’আ মঞ্জুর করেন না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْعُوا اللهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالإِجَابَةِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ لاَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ غَافِلٍ لاَهٍ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৫) হুযাইফা বিন য়্যামান (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! তোমরা অবশ্য অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা দান করবে, নচেৎ সম্ভবতঃ আল্লাহ তাঁর নিকট থেকে কোন শাস্তি প্রেরণ করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর নিকট দু’আ করবে, কিন্তু তোমাদের দু’আ কবুল করা হবে না।
عَن حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنِ النَّبِيِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ وَالَّذِي نَفسِيْ بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوْشِكَنَّ اللهَ أَنْ يَبْعَثَ عِقَابًا مِنْهُ ثمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’হে লোক সকল! আল্লাহ পবিত্র; তিনি পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই আদেশই করেছেন; যে আদেশ রসূলগণকে করেছেন, তিনি বলেছেন, ’হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু আহার কর ও সৎকাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।’’ (সূরা মুমিনূন ৫১)
আর তিনি (মু’মিনদের উদ্দেশ্যে) বলেছেন, ’হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যা দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর---।’ (সূরা বাকারাহ ১৭২)
অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি ধুলোধূসরিত আলুথালু বেশে (সৎকাজের উদ্দেশ্যে) সফর করে। তার হাত দু’টিকে আকাশের দিকে তুলে, ’হে প্রভু! হে আমার প্রতিপালক!’ বলে (দু’আ করে), কিন্তু তার আহার্য হারাম, তার পরিধেয় হারাম এবং হারাম খাদ্যে সে প্রতিপালিত হয়েছে। সুতরাং কেমন করে তার প্রার্থনা মঞ্জুর হবে? (মুসলিম ২৩৯৩, তিরমিযী ২৯৮৯)
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّبًا وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) وَقَالَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِىَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذٰلِكَ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৭) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প শব্দে বহুল অর্থবোধক দু’আ পছন্দ করতেন এবং তা ছাড়া অন্য দু’আ পরিহার করতেন।’
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَسْتَحِبُّ الجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ، وَيَدَعُ مَا سِوَى ذٰلِكَ رواه أَبُو داود بإسناد جيدٍ
পরিচ্ছেদঃ দু‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়
(৩৭৮৮) আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, একদা এক মরুবাসী বেদুঈনের নিকট আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেহমানি করলেন। তিনি তাকে তাঁর নিকট আসতে বললেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’’তোমার কোন প্রয়োজন আছে কি? লোকটি বলল, ’একটি জিন সহ উটনী এবং একটি দুধেল বকরী।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা দিয়ে বিদায় করলেন। অতঃপর বললেন, ’’তোমাদের কেউ কি বনী ইসরাঈলের বুড়ির মত হতে অসমর্থ হয়? সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ’বনী ইসরাঈলের বুড়ির ব্যাপার কী হে আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, ’’মূসা বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে নিয়ে যখন মিসর ত্যাগ করতে চাইলেন, তখন তাঁরা রাস্তা ভুলে গেলেন।
তাঁদের উলামাগণ বললেন, ইউসুফ মৃত্যুর সময় আমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা মিসর থেকে বের হলে তাঁর লাশ না নিয়ে যেন বের না হই। মূসা বললেন, কিন্তু তাঁর কবর চিনবে কে? কেউ বলল, এক বুড়ি তাঁর কবর চেনে। অতঃপর সেই বুড়ির কাছে যাওয়া হলে সে বলল, আমি কবরের খবর বলে দেব। কিন্তু আমার একটি শর্ত ও চাহিদা আছে তা আপনাকে পূরণ করতে হবে। মূসা বললেন, তোমার চাহিদা কি তা বল। বুড়ি বলল, আমি জান্নাত আপনার সঙ্গে বাস করতে চাই! মূসা আল্লাহর নিকট থেকে বুড়ির সেই চাহিদা পূরণের দু’আ করলেন। কবর চেনা হল। অতঃপর লাশ সঙ্গে নিলে তাঁরা রাস্তা পেলেন।
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْرَابِيًّا فَأَكْرَمَهُ فقَالَ لَهُ اِئْتِنَا فَأَتَاهُ فقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "سَلْ حَاجَتَكَ" قَالَ نَاقَةٌ نَرْكَبُهَا وَأَعْنُزٌ يَحْلِبُهَا أَهْلِي فقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَعَجَزْتُمْ أَنْ تَكُونُوا مِثْلَ عَجُوزِ بَنِي إِسْرَائِيلَ" قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا عَجُوزُ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ "إِنَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا سَارَ بِبَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ مِصْرَ ضَلُّوا الطَّرِيقَ فقَالَ مَا هَذَا فقَالَ عُلَمَاؤُهُمْ إِنَّ يُوسُفَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَخَذَ عَلَيْنَا مَوْثِقًا مِنَ اللَّهِ أَنْ لَا نَخْرُجَ مِنْ مِصْرَ حَتَّى نَنْقُلَ عِظَامَهُ مَعَنَا قَالَ فَمَنْ يَعْلَمُ مَوْضِعَ قبره قالعَجُوزٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَبَعَثَ إِلَيْهَا فَأَتَتْهُ فقَالَ دُلِّينِي عَلَى قَبْرِ يُوسُفَ قَالَتْ حَتَّى تُعْطِيَنِي حُكْمِي قَالَ وَمَا حُكْمُكِ قَالَتْ أَكُونُ مَعَكَ فِي الْجَنَّةِ فَكَرِهَ أَنْ يُعْطِيَهَا ذَلِكَ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ أَنْ أَعْطِهَا حُكْمَهَا فَانْطَلَقَتْ بِهِمْ إِلَى بُحَيْرَةٍ مَوْضِعِ مُسْتَنْقَعِ مَاءٍ فَقَالَتْ أَنْضِبُوا هَذَا الْمَاءَ فَأَنْضَبُوهُ فَقَالَتْ احْتَفِرُوا فَاحْتَفَرُوا فَاسْتَخْرَجُوا عِظَامَ يُوسُفَ فَلَمَّا أَقَلُّوهَا إِلَى الْأَرْضِ وَإِذَا الطَّرِيْقُ مِثْلَ ضُوْءِ النَّهَارِ
পরিচ্ছেদঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’ কারো এরূপ দু‘আ করা মাকরূহ; বরং দৃঢ়চিত্তে প্রার্থনা করা উচিত
(৩৭৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন ’হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’, হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমার প্রতি দয়া কর’ অবশ্যই না বলে। বরং যেন দৃঢ়চিত্তে প্রার্থনা করে। কারণ, তাঁকে কেউ বাধ্য করতে পারে না। (মুসলিম ৬৯৮৯)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, বরং সে যেন দৃঢ়চিত্তে চায় এবং যেন বিরাট আগ্রহ প্রকাশ করে। কেননা, আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে প্রার্থিত বস্তু দান করা কোন বড় ব্যাপার নয়। (৬৯৮৮)
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ: اَللّٰهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِم المَسْأَلَةَ فَإِنَّهُ لاَ مُكْرِهَ لَهُ متفق عليه
وفي رواية لمسلم وَلكِنْ لِيَعْزِمْ وَلْيُعَظمِ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللهَ تَعَالٰـى لاَ يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ
পরিচ্ছেদঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’ কারো এরূপ দু‘আ করা মাকরূহ; বরং দৃঢ়চিত্তে প্রার্থনা করা উচিত
(৩৭৯০) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন দু’আ করবে, সে যেন দৃঢ়-সংকল্প হয়ে চায়। আর যেন না বলে যে, ’আল্লাহ গো! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও।’ কেননা, তাঁকে বাধ্য করার মত কেউ নেই।
وَعَنْ أنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ وَلاَ يَقُولَنَّ : اَللّٰهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي فَإِنَّهُ لاَ مُسْتَكْرِهَ لَهُ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ঝাড়ফুঁক ও তাবীয সংক্রান্ত হাদীস
(৩৭৯১) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবা আরবের কোন এক বসতিতে এলেন। কিন্তু সে খানকার বাসিন্দারা তাঁদেরকে মেহমানরূপে বরণ করল না (এবং কোন খাদ্যও পেশ করল না)। অতঃপর তাঁরা সেখানে থাকা অবস্থায় তাদের সর্দারকে (বিছুতে) দংশন করল। তারা বলল, ’তোমাদের কাছে কি কোন ওষুধ অথবা ঝাড়ফুঁককারী (ওঝা) আছে?’ তাঁরা বললেন, ’তোমরা আমাদেরকে মেহমানরূপে বরণ করলে না। সুতরাং আমরাও পারিশ্রমিক ছাড়া (ঝাড়ফুঁক) করব না।’ ফলে তারা এক পাল ছাগল পারিশ্রমিক নির্ধারিত করল।
একজন সাহাবী উম্মুল ক্বুরআন (সূরা ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং থুথু জমা ক’রে (দংশনের জায়গায়) দিতে লাগলেন। সর্দার সুস্থ হয়ে উঠল। তারা ছাগলের পাল হাজির করল। তাঁরা বললেন, ’আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা না ক’রে গ্রহণ করব না।’ সুতরাং তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি হেসে বললেন, ’তোমাকে কিসে জানাল যে, ওটি ঝাড়ফুঁকের মন্ত্র! ছাগলগুলি গ্রহণ কর এবং আমার জন্য একটি ভাগ রেখো।’ (বুখারী ৫৭৩৬)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সাহাবী গিয়ে ’আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ পড়তে লাগলেন। ফলে সে যেন বাঁধন থেকে মুক্ত হল এবং সুস্থ হয়ে চলাফিরা করতে লাগল।
এই বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে বললেন, ’তোমরা ঠিক করেছ।’ (বুখারী ২২৭৬)
এক বর্ণনায় আছে, ’তোমরা যে সব জিনিসের উপর পারিশ্রমিক গ্রহণ কর,তার মধ্যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (বুখারী ৫৭৩৭)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ أَتَوْا عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَلَمْ يَقْرُوهُمْ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذٰلِكَ إِذْ لُدِغَ سَيِّدُ أُولَئِكَ فَقَالُوا هَلْ مَعَكُمْ مِنْ دَوَاءٍ أَوْ رَاقٍ فَقَالُوا إِنَّكُمْ لَمْ تَقْرُونَا وَلَا نَفْعَلُ حَتّٰـى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلًا فَجَعَلُوا لَهُمْ قَطِيعًا مِنْ الشَّاءِ فَجَعَلَ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَيَجْمَعُ بُزَاقَهُ وَيَتْفِلُ فَبَرَأَ فَأَتَوْا بِالشَّاءِ فَقَالُوا لَا نَأْخُذُهُ حَتّٰـى نَسْأَلَ النَّبِيَّ ﷺ فَسَأَلُوهُ فَضَحِكَ وَقَالَ وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ خُذُوهَا وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ
পরিচ্ছেদঃ ঝাড়ফুঁক ও তাবীয সংক্রান্ত হাদীস
(৩৭৯২) ঈসা বিন আব্দুর রহমান তাবেঈ বলেন, আমি সাহাবী আবূ মা’বাদ জুহানীর নিকট গেলাম। তখন তাঁর মুখমণ্ডল ও দেহে ফুলে ওঠা লাল লাল (একটা রোগ) হয়েছিল। আমি বললাম, ’আপনি কোন তাবীয বাঁধেন না কেন?’ তিনি বললেন, ’নাঊযু বিল্লাহি মিন যালিক (তার থেকে আল্লাহর পানাহ)! মৃত্যু তার চেয়ে বেশি নিকটবর্তী। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যা লটকাবে (বা দেহে ধারণ করবে), তাকে তার দিকেই সঁপে দেওয়া হবে।
عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِى لَيْلَى قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عُكَيْمٍ أَبِى مَعْبَدٍ الْجُهَنِىِّ أَعُودُهُ وَبِهِ حُمْرَةٌ فَقُلْنَا أَلاَ تُعَلِّقُ شَيْئًا قَالَ الْمَوْتُ أَقْرَبُ مِنْ ذٰلِكَ قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঝাড়ফুঁক ও তাবীয সংক্রান্ত হাদীস
(৩৭৯৩) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (বাইআত করার উদ্দেশ্যে) ১০ জন লোক উপস্থিত হল। তিনি ন’জনের নিকট থেকে বাইয়াত নিলেন। আর মাত্র একজন লোকের নিকট হতে বাইআত নিলেন না। সকলে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি ন’জনের বাইআত গ্রহণ করলেন, কিন্তু এর করলেন না কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ওর দেহে কবচ রয়েছে তাই। অতঃপর সে নিজ হাতে তা ছিঁড়ে ফেলল। সুতরাং তার নিকট থেকেও বাইআত নিলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি কবচ লটকায়, সে ব্যক্তি শিরক করে।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْطٌ فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ فَقَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هٰذَا قَالَ إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا فَبَايَعَهُ وَقَالَ مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ
পরিচ্ছেদঃ ঝাড়ফুঁক ও তাবীয সংক্রান্ত হাদীস
(৩৭৯৪) ইবনে মসঊদ (রাঃ) এর পত্নী যয়নাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ’’এক বুড়ি আমাদের বাড়ি আসা-যাওয়া করত এবং সে বাতবিসর্পরোগে ঝাড়-ফুঁক করত। আমাদের ছিল লম্বা খুরো-বিশিষ্ট খাট। (স্বামী) আব্দুল্লাহ বিন মসঊদ যখন বাড়িতে প্রবেশ করতেন, তখন গলা-সাড়া বা কোন আওয়াজ দিতেন। একদিন তিনি বাড়িতে এলেন। (এবং অভ্যাসমত বাড়ি প্রবেশের সময় গলা-সাড়া দিলেন।) বুড়ি তাঁর আওয়াজ শোনামাত্র লুকিয়ে গেল। এরপর তিনি আমার পাশে এসে বসলেন। তিনি আমার দেহ স্পর্শ করলে (গলায় ঝুলানো মন্ত্র-পড়া) সুতো তাঁর হাতে পড়ল। তিনি বলে উঠলেন, ’এটা কি?’ আমি বললাম, ’সুতো-পড়া; বাতবিসর্পরোগের জন্য ওতে মন্ত্র পড়া হয়েছে।’ একথা শুনে তিনি তা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ’ইবনে মসঊদের বংশধর তো শিরক থেকে মুক্ত। আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ’’নিশ্চয়ই মন্ত্র-তন্ত্র, তাবীয-কবচ এবং যোগ-যাদু ব্যবহার করা শিরক।’’
যয়নাব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ’কিন্তু একদা আমি বাইরে বের হলাম। হঠাৎ করে আমাকে অমুক লোক দেখে নিল। অতঃপর আমার যে চোখটা ঐ লোকটির দিকে ছিল সেই চোখটায় পানি ঝরতে লাগল। এরপর যখনই আমি ঐ চোখে মন্ত্র পড়াই, তখনই পানি ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। আর যখনই না পড়াই, তখনই পানি ঝরতে শুরু করে। (অতএব বুঝা গেল যে, মন্ত্রের প্রভাব আছে।)’
ইবনে মসঊদ (রাঃ) বললেন, ’’ওটা তো শয়তানের কারসাজি। যখন তুমি (মন্ত্র পড়িয়ে) ওর আনুগত্য কর, তখন সে ছেড়ে দেয় (এবং তোমার চোখে পানি আসে না)। আর যখনই তুমি তার আনুগত্য কর না, তখনই সে নিজ আঙ্গুল দ্বারা তোমার চোখে খোঁচা মারে (এবং তার ফলে তাতে পানি আসে; যাতে তুমি মন্ত্রকে বিশ্বাস কর এবং শির্কে লিপ্ত হয়ে পড়)। তবে যদি তুমি সেই কাজ করতে, যা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম ও মঙ্গল হত এবং অধিকরূপে আরোগ্য লাভ করতে। আর তা এই যে, চোখে পানি ছিটাতে এবং বলতে,
أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ اِشْفِ أَنْتَ الشَّافِـيْ لَا شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَّا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আযহিবিল বা’সা রব্বান-নাসি ইশফি আন্তাশ্ শাফী লা- শিফায়া ইল্লা শিফাউক শিফায়াল্ লাইউগদিরু সাক্বমা।
عَنِ ابْنِ أُخْتِ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ زَيْنَبَ قَالَتْ: كَانَتْ عَجُوزٌ تَدْخُلُ عَلَيْنَا تَرْقِي مِنَ الْحُمْرَةِ، وَكَانَ لَنَا سَرِيرٌ طَوِيلُ الْقَوَائِمِ، وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا دَخَلَ تَنَحْنَحَ وَصَوَّتَ، فَدَخَلَ يَوْمًا فَلَمَّا سَمِعَتْ صَوْتَهُ احْتَجَبَتْ مِنْهُ، فَجَاءَ فَجَلَسَ إِلَى جَانِبِي فَمَسَّنِي فَوَجَدَ مَسَّ خَيْطٍ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ: رُقًى لِي فِيهِ مِنَ الْحُمْرَةِ فَجَذَبَهُ وَقَطَعَهُ فَرَمَى بِهِ وَقَالَ: لَقَدْ أَصْبَحَ آلُ عَبْدِ اللَّهِ أَغْنِيَاءَ عَنِ الشِّرْكِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ الرُّقٰـى، وَالتَّمَائِمَ، وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ» ، قُلْتُ: فَإِنِّي خَرَجْتُ يَوْمًا فَأَبْصَرَنِي فُلَانٌ، فَدَمَعَتْ عَيْنِي الَّتِي تَلِيهِ، فَإِذَا رَقَيْتُهَا سَكَنَتْ دَمْعَتُهَا، وَإِذَا تَرَكْتُهَا دَمَعَتْ، قَالَ: ذَاكِ الشَّيْطَانُ، إِذَا أَطَعْتِهِ تَرَكَكِ، وَإِذَا عَصَيْتِهِ طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي عَيْنِكِ، وَلَكِنْ لَوْ فَعَلْتِ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ خَيْرًا لَكِ، وَأَجْدَرَ أَنْ تُشْفَيْنَ تَنْضَحِينَ فِي عَيْنِكِ الْمَاءَ وَتَقُولِينَ: «أَذْهِبِ الْبَاسْ رَبَّ النَّاسْ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিখারা (মঙ্গল জ্ঞান লাভ করা) ও পরামর্শ করা প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَشَاوِرْهُمْ فِـي الْأَمْرِ
অর্থাৎ, কাজে-কর্মে তুমি তাদের সাথে পরামর্শ কর। (সূরা আলে ইমরান ১৫৯)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
وَأَمْرُهُمْ شُوْرٰى بَيْنَهُمْ
অর্থাৎ, তারা আপোসে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে। (সূরা শূরা ৩৮)
(৩৭৯৫) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যাবতীয় কাজের জন্য ইসেত্মখারা শিখাতেন। যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (আর) বলতেন, ’যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু’ রাকআত নামায প’ড়ে এই দু’আ বলেঃ
’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফায্বলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা (—) খাইরুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অয়্যাসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা আরযিনী বিহ।’
অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার ইলমের সাথে মঙ্গল প্রার্থনা করছি। তোমার কুদরতের সাথে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং তোমার বিরাট অনুগ্রহ থেকে ভিক্ষা যাচনা করছি। কেননা, তুমি শক্তি রাখ, আমি শক্তি রাখি না। তুমি জান, আমি জানি না এবং তুমি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি তুমি এই (—) কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে ভালো জান, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে মন্দ জান, তাহলে তা আমার নিকট থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকে ওর নিকট থেকে সরিয়ে দাও। আর যেখানেই হোক মঙ্গল আমার জন্য বাস্তবায়িত কর, অতঃপর তাতে আমার মনকে পরিতুষ্ট করে দাও।
তিনি বলেন, সে এ সময়ে তার প্রয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ করবে। (অর্থাৎ, দু’আ কালীন সময়ে ’আন্না হা-যাল আমরা’ এর জায়গায় প্রয়োজনীয় বিষয়টি উল্লেখ করবে।)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُعَلِّمُنَا الاسْتِخَارَةَ في الأُمُورِ كُلِّهَا كَالسُّورَةِ مِنَ القُرْآنِ يَقُولُ إِذَا هَمَّ أحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَركعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الفَرِيضَةِ ثُمَّ ليَقُلْ : اَللّٰهُمَّ إنِّي أسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْألُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيْمِ فَإنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أعْلَمُ وَأنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اَللّٰهُمَّ إنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أنَّ هٰذَا الأمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِلِ أمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أنَّ هٰذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِلِ أمْرِي وَآجِلِهِ ؛ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أرْضِنِي بِهِ قَالَ وَيُسَمِّيْ حَاجَتَهُ رواه البخاري