পরিচ্ছেদঃ ১. ওযু ও সালাত ফরয হওয়া সম্পর্কে
৬৭৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আগবাড়িয়ে (প্রশ্ন করা) থেকে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো, তখন কোনো মরুবাসী ও বুদ্ধিমান বেদুঈন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হতাম। (একদিন) আমরা তাঁর নিকট বসে ছিলাম, এমতাবস্থায় তেমনি একটি ঘটনা ঘটলো। এক বেদু’ঈন এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। তারপর সে বললো: হে মুহাম্মদ, আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন, আল্লাহ আপনাকে (রাসূল) হিসেবে পাঠিয়েছেন?
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সে সত্যই বলেছে”। বেদুঈন লোকটি বললো: সেই সত্তার কসম, যিনি আসমানকে সুউচ্চ করেছেন এবং ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন এবং পাহাড়সমূহকে প্রোথিত করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: আমাদের উপর নাকি দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।”
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এ আদেশ করেছেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: বছরে একমাস সিয়াম পালন করা নাকি আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।”
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: আমাদের মাল-সম্পদ থেকে যাকাত দেওয়া নাকি আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।”
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনি নাকি বলেন: আমাদের মধ্যে থেকে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সামর্থবানদের উপর বায়তুল্লাহ’র হাজ্জ্ব পালন করা নাকি ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।”
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: তাহলে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এর থেকে কোনো কিছু ছেড়েও দিব না, আবার এর থেকে কোনো কিছু অতিরিক্তও করব না।” তিনি (আনাস রা:) বলেন: এরপর বেদুঈন লোকটি লাফাতে লাফাতে দৌড় দিলো। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: “বেদুঈন লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[1]
بَاب فَرْضِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا نُهِينَا أَنْ نَبْتَدِئَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَقْدُمَ الْبَدَوِيُّ وَالْأَعْرَابِيُّ الْعَاقِلُ فَيَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَجَثَا بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَسُولَكَ أَتَانَا فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ وَبَسَطَ الْأَرْضَ وَنَصَبَ الْجِبَالَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي السَّنَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا فِي أَمْوَالِنَا الزَّكَاةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ إِلَى الْبَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَدَعُ مِنْهُنَّ شَيْئًا وَلَا أُجَاوِزُهُنَّ قَالَ ثُمَّ وَثَبَ الْأَعْرَابِيُّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ صَدَقَ الْأَعْرَابِيُّ دَخَلَ الْجَنَّةَ
إسناده صحيح والحديث متفق عليه
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইলম ৬৩; সহীহ মুসলিম ১২; আর আমরা মুসনাদুল মাউসিলী ৩৩৩৩ নং ও সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৪, ১৫৫ নং হাদীসের তাখরীজে এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ১. ওযু ও সালাত ফরয হওয়া সম্পর্কে
৬৭৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একদা) এক বেদু’ঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো: হে বনী আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! ’আস-সালামু আলাইকা’ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তখন তিনি বললেন: “ওয়া আলাইকা (তোমার উপরও)।”
লোকটি বললো: আমি আপনার মাতুল বংশ বনী সা’দ ইবনু বাকর গোত্রের এক ব্যক্তি। আর আমি আমার গোত্রের দূত ও প্রতিনিধি হিসেবে আপনার নিকট এসেছি। আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করবো এবং আমি কসম দিয়ে আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করবো এবং আমার এ কসম দিয়ে জিজ্ঞাসার ব্যাপারে আমি আপনার প্রতিই কঠোরতা অবলম্বন করবো। তিনি বললেন: “হে বনী সা’দ গোত্রের ভাই! তুমি তোমার প্রশ্ন করা শুরু কর।”
সে লোকটি বললো, আপনাকে কে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লোকদেরকেই বা কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহ।”
লোকটি বলল, আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।”
সে বললো, সাত আসমান ও সাত জমিনকে কে সৃষ্টি করেছেন এবং এদের মাঝে রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন কে? তিনি বললেন: “আল্লাহ।”
লোকটি বলল, আমি আপনাকে তাঁরই কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।”
সে বলল, আমরা আপনার (প্রেরিত) পত্রে পেয়েছি এবং আপনার দূত আমাদেরকে আদেশ করেছে যে, আমরা যেন দিনে ও রাতে নির্দিষ্ট সময়মত পাঁচবার সালাত আদায় করি। আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে (এর) আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।”
অতঃপর সে বলল, আমরা আপনার (প্রেরিত) পত্রে পেয়েছি এবং আপনার দূত আমাদেরকে আদেশ করেছে যে, আমরা যেন আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিকট থেকে সম্পদ (এর কিছু অংশ) সংগ্রহ করি এবং আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করি। আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে (এর) আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।”
অতঃপর সে বলল, পঞ্চম (প্রশ্ন)টি আমি আর জিজ্ঞেস করছি না। এবং এর কোনো প্রয়োজনও আমার নেই। তারপর সে বললো, আমি এবং আমার কওমের যারা আমার অনুসরণ করবে, আমরা সকলে অবশ্যই এর উপর আমল করব।’ এরপর সে ফিরে গেল। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেঁসে ফেললেন, এমনকি তাঁর দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে পড়লো। অতঃপর তিনি বললেন: “যে সত্তার হাতের মুঠোয় আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[1]
بَاب فَرْضِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا غُلَامَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ وَعَلَيْكَ وَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَخْوَالِكَ مِنْ بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ وَأَنَا رَسُولُ قَوْمِي إِلَيْكَ وَوَافِدُهُمْ وَإِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ مَسْأَلَتِي إِلَيْكَ وَمُنَاشِدُكَ فَمُشَدِّدٌ مُنَاشَدَتِي إِيَّاكَ قَالَ خُذْ عَنْكَ يَا أَخَا بَنِي سَعْدٍ قَالَ مَنْ خَلَقَكَ وَخَلَقَ مَنْ قَبْلَكَ وَمَنْ هُوَ خَالِقُ مَنْ بَعْدَكَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَرْسَلَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ وَأَجْرَى بَيْنَهُنَّ الرِّزْقَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَرْسَلَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ إِنَّا وَجَدْنَا فِي كِتَابِكَ وَأَمَرَتْنَا رُسُلُكَ أَنْ نُصَلِّيَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ لِمَوَاقِيتِهَا فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَمَرَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّا وَجَدْنَا فِي كِتَابِكَ وَأَمَرَتْنَا رُسُلُكَ أَنْ نَأْخُذَ مِنْ حَوَاشِي أَمْوَالِنَا فَنَرُدَّهَا عَلَى فُقَرَائِنَا فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَمَرَكَ بِذَلِكَ قَالَ نَعَمْ ثُمَّ قَالَ أَمَّا الْخَامِسَةُ فَلَسْتُ بِسَائِلِكَ عَنْهَا وَلَا أَرَبَ لِي فِيهَا ثُمَّ قَالَ أَمَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَأَعْمَلَنَّ بِهَا وَمَنْ أَطَاعَنِي مِنْ قَوْمِي ثُمَّ رَجَعَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ
إسناده ضعيف محمد بن فضيل متأخر السماع من عطاء
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল ঈমান; আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬২৩ নং এ এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ১. ওযু ও সালাত ফরয হওয়া সম্পর্কে
৬৭৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু সা’দ ইবনু বাকর, যিমাম ইবনু ছা’লাবা রাদ্বিযাল্লাহু আনহুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পাঠিয়েছিলো। এরপর সে এসে তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। এরপর সে তার উটটিকে মসজিদের দরজার সামনে বসিয়ে বেঁধে রাখলো এবং সে মসিজেদ প্রবেশ করলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের মাঝে বসে ছিলেন। আর যিমাম ছিল শক্তিশালী এক পুরুষ, যার লম্বা চুলগুলোতে দুটি বেনী করা ছিলো। সে সোজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে থামলো। অতঃপর সে বললো: তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের (বংশের) পুত্র কে?
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি হলাম আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র।
সে জিজ্ঞেস করলো: (আপনি কি) মুহাম্মাদ? তিনি বললেন: “হাঁ।”
সে বললো: হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং আমি সে প্রশ্নের ব্যাপারে রূঢ়তা দেখাবো। কিন্তু আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন না।
তিনি বললেন: “তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞেস কর, আমি অসন্তুষ্ট হবো না।
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আমাদের নিকট রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।”
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর সাথে কোনোকিছুকে যেন শরীক না করি? আরে আমাদের পূর্ব পূরুষরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে সকল শরীকদের ইবাদত করতো, আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করি? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।”
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।”
তিনি (বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস রা:) বলেন: এরপর সে একটি একটি করে ইসলামের ফরযসমূহের প্রত্যেক ফরয যেমন, যাকাত, সিয়াম, হাজ্জ্ব ও ইসলামী বিধানসমূহ উল্লেখ করতে লাগলো। এবং এর প্রত্যেকটি উল্লেখ করার সময় তাঁকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করলো যেভাবে সে পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলিতে তাঁকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করল। এরপর যখন সে বিরত হলো, তখন বলল: তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মা’বুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর আমি অবিলম্বেই এসকল ফরয আদায় করব এবং আপনি আমাকে যেসকল বিষয় থেকে নিষেধ করলেন, আমি সেগুলো পরিহার করবো।
তারপর সে বললো: আমি এতে কিছু বাড়াবোও না, আবার কমাবোও না। তারপর সে তার উটের নিকট ফিরে গেলো। আর যখন সে ফিরে গেলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “দু’বেনীওয়ালা যদি সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
তারপর লোকটি তার উটের নিকট এসে তার বাঁধন খুলে দিলো তারপর চলে গেল। তারপর সে তার কওমের নিকট উপনীত হয়ে তাদেরকে তার নিকট একত্রিত করলো। এরপর সেই প্রথমে কথা বলা শুরু করলো। সে বললো: কত মন্দ লাত ও উযযা!
তারা (কওমের লোকজন) বলল: হে যিমাম, থামো! কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়াকে ভয় করো, পাগল হওয়াকে ভয় করো এবং গোদ রোগকে ভয় করো।
সে বললো: তোমরা ধ্বংস হও! আল্লাহর কসম! এ দুটো তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনোই উপকার করতে পারে না। তোমরা যে অবস্থায় ছিলে, তা থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মা’বুদ নেই, এবং আরও (সাক্ষ্য দিচ্ছি) যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আর তিনি তোমাদেরকে যা করার আদেশ করেছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন, সেসব নিয়ে আমি তাঁর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি।
তিনি (ইবনু আব্বাস রা:) বলেন: আল্লাহর কসম! সেদিন সেখানে উপস্থিত পুরুষ ও নারী সকলেই সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই মুসলিম হয়ে গিয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু আব্বাস রা: বলেন: আমরা যিমাম ইবনু ছা’লাবার চেয়ে উত্তম কোনো কওমের প্রতিনিধির কথা শুনিনি।[1]
بَاب فَرْضِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ نُوَيْفِعٍ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَ بَنُو سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ ضِمَامَ بْنَ ثَعْلَبَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدِمَ عَلَيْهِ فَأَنَاخَ بَعِيرَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فِي أَصْحَابِهِ وَكَانَ ضِمَامٌ رَجُلًا جَلْدًا أَشْعَرَ ذَا غَدِيرَتَيْنِ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّكُمْ ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ مُحَمَّدٌ قَالَ نَعَمْ قَالَ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنِّي سَائِلُكَ وَمُغَلِّظٌ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلَا تَجِدَنَّ فِي نَفْسِكَ قَالَ لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي فَسَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ قَالَ إِنِّي أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ بَعَثَكَ إِلَيْنَا رَسُولًا قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَعْبُدَهُ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَأَنْ نَخْلَعَ هَذِهِ الْأَنْدَادَ الَّتِي كَانَتْ آبَاؤُنَا تَعْبُدُهَا مِنْ دُونِهِ قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ ثُمَّ جَعَلَ يَذْكُرُ فَرَائِضَ الْإِسْلَامِ فَرِيضَةً فَرِيضَةً الزَّكَاةَ وَالصِّيَامَ وَالْحَجَّ وَشَرَائِعَ الْإِسْلَامِ كُلَّهَا وَيُنَاشِدُهُ عِنْدَ كُلِّ فَرِيضَةٍ كَمَا نَاشَدَهُ فِي الَّتِي قَبْلَهَا حَتَّى إِذَا فَرَغَ قَالَ فَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَسَأُؤَدِّي هَذِهِ الْفَرِيضَةَ وَأَجْتَنِبُ مَا نَهَيْتَنِي عَنْهُ ثُمَّ قَالَ لَا أَزِيدُ وَلَا أُنْقِصُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَعِيرِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ وَلَّى إِنْ يَصْدُقْ ذُو الْعَقِيصَتَيْنِ يَدْخُلْ الْجَنَّةَ فَأَتَى إِلَى بَعِيرِهِ فَأَطْلَقَ عِقَالَهُ ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَكَانَ أَوَّلَ مَا تَكَلَّمَ أَنْ قَالَ بِاسْتِ اللَّاتِ وَالْعُزَّى قَالُوا مَهْ يَا ضِمَامُ اتَّقِ الْبَرَصَ وَاتَّقِ الْجُنُونَ وَاتَّقِ الْجُذَامَ قَالَ وَيْلَكُمْ إِنَّهُمَا وَاللَّهِ مَا يَضُرَّانِ وَلَا يَنْفَعَانِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ رَسُولًا وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا اسْتَنْقَذَكُمْ بِهِ مِمَّا كُنْتُمْ فِيهِ وَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَقَدْ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِهِ بِمَا أَمَرَكُمْ بِهِ وَنَهَاكُمْ عَنْهُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَمْسَى مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَفِي حَاضِرِهِ رَجُلٌ وَلَا امْرَأَةٌ إِلَّا مُسْلِمًا قَالَ يَقُولُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمَا سَمِعْنَا بِوَافِدِ قَوْمٍ كَانَ أَفْضَلَ مِنْ ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ
إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬২২ এর তাখরীজে এ হাদীসের পূর্ণ তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন, পূর্বের টীকা দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২. পাক-পবিত্রতা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে
৬৭৬. আবু মালিক আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ, আর ’আলহামদুলিল্লাহ’ মীযান (ওজনের পাল্লা) পূর্ণ করে দেয়। আর ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার’ আসমান ও জমিন- এতদুভয়ের মধ্যবর্তী শূন্যস্থল পূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সাদাকা (দান) দলীল এবং ওযু হচ্ছে উজ্জ্বলতা। আর কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ প্রতিদিন সকালে নিজ সত্তাকে বিক্রয় করে, ফলে হয় সে নিজেকে (আগুন থেকে) মুক্তিদানকারী হয়, অথবা, সে নিজেকে ধ্বংসকারী হয়।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الطُّهُورِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ زَيْدٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ يَمْلَآَنِ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالْوُضُوءُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ وَكُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, তাহারাত ২২৩; আর আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৪৪ নং এ; সেখানে দেখতে চাইলে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২. পাক-পবিত্রতা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে
৬৭৭. বনী সালীম গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাতের মধ্যে তাঁর হাত রেখে (একে) শক্ত করে ধরলেন- অথবা তিনি বলেছেন, তিনি তাঁর হাতে আমার হাত নিয়ে (একে) শক্ত করে ধরলেন- আর তাঁর (অপর) হাত ছিল আমার হাতের মধ্যে (এমতাবস্থায় তিনি বললেন): “সুবহানাল্লাহ মীযানের অর্ধেক (ভরে দেয়), আলহামদুলিল্লাহ’ মীযানকে পরিপূর্ণ ভরে দেয়। আর ’আল্লাহু আকবার’ আসমান ও জমিন- এতদুভয়ের মধ্যবর্তী শূন্যস্থল পূর্ণ করে দেয়। আর ওযু হচ্ছে ঈমানের অর্ধাংশ। আর সিয়াম হচ্ছে সবরের (ধৈর্য্যের) অর্ধাংশ।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الطُّهُورِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ جُرَيٍّ النَّهْدِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ عَقَدَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَدِي أَوْ قَالَ عَقَدَهُنَّ فِي يَدِهِ وَيَدُهُ فِي يَدِي سُبْحَانَ اللَّهِ نِصْفُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَاللَّهُ أَكْبَرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْوُضُوءُ نِصْفُ الْإِيمَانِ وَالصَّوْمُ نِصْفُ الصَّبْرِ
إسناده جيد
তাখরীজ: আহমদ ৪/২৬০, ৫/৩৭০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩/২৯১ নং ৩৫৭৫; তিরমিযী, ৩৫১৪ (সংক্ষেপে); আহমদ (অপর একটি হাসান সনদে) ৫/৩৬৫০।
পরিচ্ছেদঃ ২. পাক-পবিত্রতা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে
৬৭৮. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত গোলাম সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা (দ্বীনের বিধি-বিধান পালনে) অটল থাকো, আর তোমরা কখনো (তোমাদের আমলসমূহকে) গুণে গুণে রেখো না। আর তোমরা জেনে রাখো, তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত।” তিনি অন্যত্র বলেন: “আর তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। আর মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউই উযু’র যথাযোগ্য হিফাযত করে না।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الطُّهُورِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ وَالْأَعْمَشِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَقَالَ الْآخَرُ إِنَّ مِنْ خَيْرِ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةَ وَلَنْ يُحَافِظَ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমরা এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৩৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৪ এ পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি। এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন, খতীব, তারীখ ১/২৯৩; মালিক, মু’য়াত্তা ৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ২. পাক-পবিত্রতা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে
৬৭৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত গোলাম সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ঠিকভাবে (ও মধ্যমপন্থায় আমল) করতে থাকো এবং নৈকট্য লাভ করো। আর তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। আর মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউই উযু’র যথাযোগ্য হিফাযত করে না।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الطُّهُورِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْبَانَ قَالَ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ أَنَّ أَبَا كَبْشَةَ السَّلُولِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَنْ يُحَافِظَ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ
তাখরীজ: আহমদ, ৫/২৮২; ইবনু হিব্বান নং ১০৩৭; তাবারানী, কাবীর ২/১০১ নং ১৪৪৪; (আয়শা রা: হতে সহীহ বুখারী, ৬৪৬৩, ৬৪৬৪, ৬৪৬৭; সহীহ মুসলিম ২৮১৬)।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আল্লাহর বাণী: যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর”- আয়াত
৬৮০. ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এক ওযু দিয়েই সব সালাত আদায় করতেন। আর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রত্যেক সালাতের জন্য (নতুন) ওযু করতেন। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: “যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর।”[1] (সূরা মায়িদাহ: ৬)
بَابُ {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ، فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} الْآيَةَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّ سَعْدًا كَانَ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَأَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ الْآيَةَ
رجاله ثقات ولكنه منقطع قال أبو حاتم: عكرمة لم يسمع من سعد بن أبي وقاص
তাখরীজ: সা’দ রা: এর হাদীসটি তাবারী, তাফসীর ৬/১১১; আলী রা: এর হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন, তাবারী, তাফসীর ৬/১১২। আরও দেখুন নাসিখুল কুরআন ওয়াল মানসূখাহ;- ইবনুল জাওযী, নাওয়াসিখুল কুরআন, পৃ: ৩৬৯-৩৭০ আমার তাহক্বীক্বকৃত; নাহহাস, নাসিখ ওয়াল মানসুখ পৃ: ১২২; দূররে মানসূর ২/২৬২।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আল্লাহর বাণী: যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর”- আয়াত
৬৮১. মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হিব্বান, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতে বর্ণণা করেন, তিনি বলেন, আমি (আব্দুল্লাহকে) বললাম: তুমি কি দেখনি যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওযু থাকা বা না থাকা- উভয় অবস্থায় প্রত্যেক সালাতের পূর্বে ওযু করতেন? এর কারণ কী? তিনি জবাবে (একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে) বলেন: তার নিকট আসমা বিনতে যাইদ ইবনুল খাত্তাব হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ ইবনু আবী আমির তার (আসমার) নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রতি সালাতের জন্য ওযু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু যখন এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কষ্টকর হলো, তখন প্রত্যেক সালাতের জন্য মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হলো। ইবনু উমার রা: মনে করতেন, তিনি এটি (প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু) করতে সক্ষম ছিলেন; বিধায় তিনি কোনো সালাতের সময়ই ওযু করা পরিত্যাগ করতেন না।”[1]
بَابُ {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ، فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} الْآيَةَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ تَوَضُّؤَ ابْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّ ذَلِكَ قَالَ حَدَّثَتْهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ أُمِرَ بِالسِّوَاكِ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَرَى أَنَّ بِهِ عَلَى ذَلِكَ قُوَّةً فَكَانَ لَا يَدَعُ الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلَاةٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমদ, ৫/২২৫; আবু দাউদ, ৪৮; বাইহাকী, তাহারাত ১/৩৭; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ১৩৬ নং; আবী আসিম, আল আহাদ ওয়াল মাছনা ৪/২৪৪ নং ২২৪৭; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/১৫৫-১৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আল্লাহর বাণী: যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর”- আয়াত
৬৮২. ইবনু বুরাইদাহ তার পিতা (বুরাইদাহ রা:) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন। কিন্তু তিনি মক্কা বিজয়ের দিন তিনি এক ওযুতে এবং দু’মোজার উপর মাসেহ করে সকল সালাত আদায় করলেন। এরপর উমার রা: তাঁকে বললেন: আপনাকে এমন কিছু আমি করতে দেখলাম, যা আপনি (ইতিপূর্বে) করেননি। তিনি বললেন: “হে উমার, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওটা করেছি।”
আবু মুহাম্মদ (দারেমী) বলেন: সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল হচ্ছে এ কথার দলীল যে, আল্লাহ তা’আলার এ বাণী: (“যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর”- আল মায়িদাহ: ৬) -এর অর্থ প্রত্যেক ’মুহদিস’ (ওযু ভঙ্গকারী ব্যক্তি) এর জন্য ওযু করতে হবে, ওযু থাকলে তার জন্য এ নির্দেশ প্রযোজ্য নয়। এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “ওযু ভঙ্গকারী লোক ব্যতীত আর কারো জন্য ওযু (জরুরী) নয়।” আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।[1]
بَابُ {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ، فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} الْآيَةَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ حَتَّى كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ صَلَّى الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ رَأَيْتُكَ صَنَعْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُهُ قَالَ إِنِّي عَمْدًا صَنَعْتُ يَا عُمَرُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد فَدَلَّ فِعْلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ مَعْنَى قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ الْآيَةَ لِكُلِّ مُحْدِثٍ لَيْسَ لِلطَّاهِرِ وَمِنْهُ قَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
তাখরীজ: আহমদ ৫/৩৫০, ৩৫১,৩৫৮; আব্দুর রাযযাক ১/৫৫ নং ১৫৮; মুসলিম ২৭৭; আবু দাউদ ১৭২; তিরিমিযী ৬১; নাসাঈ ১/৬; আবু আওয়ানাহ ১/২৩৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪১; বাইহাকী, ১/১৬২; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ১; বাগবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৩১; ইবনু খুযাইমাহ ১২; তায়ালিসী ১/৫৪ নং ১৮৭;; ইবনু আবী শাইবা ১/২৯; ইবনু মাজাহ ৫১০;...।
পরিচ্ছেদঃ ৪. হাজতের (পেশাব-পায়খানার) জন্য যাওয়া প্রসঙ্গে
৬৮৩. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতক সফরে সাথে তাঁর ছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাজত পূরণে (পায়খানায়) গমন করতেন, তখন তিনি অনেক দূরে চলে যেতেন।[1]
بَابٌ: فِي الذَّهَابِ إِلَى الْحَاجَةِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَهَبَ إِلَى الْحَاجَةِ أَبْعَدَ
إسناده حسن
তাখরীজ: আহমদ ৪/২৪৮; আবু দাউদ ১; তিরিমিযী ২০; নাসাঈ ১/১৮, ১৯; ইবনুল জারুদ নং ২৭; বাইহাকী, ১/৯৩। আর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুর রহমান্ ইবনু আবী কুরাদ হতে নাসাঈ ১/১৭, ১৮; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ৫১। আর মুগীরা’র হাদীসটি রয়েছে বুখারী ৩৬৩ ও মুসলিম ২৭৪ (৭৭) যেখানে রয়েছে: “যখন তিনি হাজতে যেতেন, তখন চলতে থাকতেন এমনকি তিনি আমার দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যেতেন এবং হাজত সারতেন।”
পরিচ্ছেদঃ ৪. হাজতের (পেশাব-পায়খানার) জন্য যাওয়া প্রসঙ্গে
৬৮৪. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মলত্যাগ করতে যেতেন তখন অনেক দূরে চলে যেতেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: এটাই এর শিষ্টাচার।[1]
بَابٌ: فِي الذَّهَابِ إِلَى الْحَاجَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَمْرِو بْنِ وَهْبٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَبَرَّزَ تَبَاعَدَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ الْأَدَبُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. হাজতের (পেশাব-পায়খানার) সময় আড়ালে যাওয়া প্রসঙ্গে
৬৮৫. আবু হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে সুরমা ব্যবহার করে, সে যেন বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে; যে ব্যক্তি এরূপ (বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার) করে, সে উত্তম (কাজ) করে, আর যে এরূপ (বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার) না করে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি কুলুখ ব্যবহার করে, সে যেনো বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি এরূপ (বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার) করে, সে উত্তম (কাজ) করে, আর যে এরূপ (বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার) না করে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি খাওয়ার পর খিলাল দ্বারা দাঁতের ভুক্ত অংশ বের করে সে যেনো তা (মুখ থেকে বাইরে) ফেলে দেয়। আর জিহবার স্পর্শে যা বের হয়, তা যেন যেন খেয়ে ফেলে। যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে উত্তম (কাজ) করে, আর যে এরূপ না করে, তাতে কোনো দোষ নেই। যে ব্যক্তি পায়খানায় গমন করে, সে যেন আড়াল করে নেয়। যদি আড়াল করার মতো কিছু না পায়, তবে সে যেন অন্ততঃ বালুর স্তুপ করে তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসে। কেননা, শয়তান বনী আদমের গুপ্তাঙ্গ (পর্দার স্থান তথা পেশাব-পায়খানার স্থান) নিয়ে খেলা করে। যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে উত্তম (কাজ) করে, আর যে এরূপ না করে, তাতে কোনো দোষ নেই।[1]
بَابٌ فِي التَّسَتُّرِ عِنْدَ الْحَاجَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ الْحِمْيَرِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْخَيْرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ مَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ مَنْ أَكَلَ فَلْيَتَخَلَّلْ فَمَا تَخَلَّلَ فَلْيَلْفِظْ وَمَا لَاكَ بِلِسَانِهِ فَلْيَبْتَلِعْ مَنْ أَتَى الْغَائِطَ فَلْيَسْتَتِرْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ إِلَّا كَثِيبَ رَمْلٍ فَلْيَسْتَدْبِرْهُ فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ يَتَلَاعَبُونَ بِمَقَاعِدِ بَنِي آدَمَ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪১০। (এটি বর্ণনা করেছেন: আহমদ ২/৩৭১ নং ৮৮২৫; আবু দাউদ নং ৩৫; ইবনু মাজাহ ৩৩৭-৩৩৮, ৩৪৯৮; বাইহাকী, আল কুবরা ১/৯৪; হাকিম ৪/১৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান ৪/২৫৭ নং ১৪১০; )
পরিচ্ছেদঃ ৫. হাজতের (পেশাব-পায়খানার) সময় আড়ালে যাওয়া প্রসঙ্গে
৬৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাজত পূরণের সময় যা দিয়ে আড়াল করতেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল টিলা (উচ্চভূমি) এবং একত্রিত খেজুর গাছ।[1]
بَابٌ فِي التَّسَتُّرِ عِنْدَ الْحَاجَةِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ كَانَ أَحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৪২; বাইহাকী, ১/৯৪; ইবনু খুযাইমা নং ৫৩; পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৮৭, ৬৭৮৮ (আমাদের তাহক্বীক্বকৃত)।
পরিচ্ছেদঃ ৬. পেশাব কিংবা পায়খানার সময় কিবলাকে পেছনে রাখা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে
৬৮৭. সাহল ইবনু হুনাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: “তুমি মক্কাবাসীর প্রতি আমার প্রেরিত দূত। ফলে তুমি তাদেরকে বলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে সালাম জানিয়েছেন এবং আদেশ করেছেন যে, যখন তোমরা (পেশাব-পায়খানার উদ্দেশ্যে) যাও, তখন কিবলাকে সম্মুখে কিংবা পিছনে রেখে বসো না।”[1]
بَابُ النَّهْيِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ مَالِكٍ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ مَوْلَى سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ أَنْتَ رَسُولِي إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ فَقُلْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ عَلَيْكُمْ السَّلَامَ وَيَأْمُرُكُمْ إِذَا خَرَجْتُمْ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا
إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح بشواهده
তাহক্বীক্ব: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১০২৩, ৬৯৮৫ এ। (বুখারী, আত তারীখুল কাবীর ১/২১১, তরজমাহ ৬৬৪; হাকিম, আল মুসতাদরাক ৩/৪১২ ; আব্দুর রাযযাক, আল মুসান্নাফ ৮/৪৬৬ নং ১৫৯২০; আহমদ ৩/৪৮৭ নং ১৬০২৭- ফাতহুল মান্নান হা/৭০৯ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৬. পেশাব কিংবা পায়খানার সময় কিবলাকে পেছনে রাখা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে
৬৮৮. আবু আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা পায়খানায় যাও, তখন কিবলার দিকে মুখ করে বসো না এবং পিছন করেও বসো না- পায়খানার সময়ও না, পেশাব করতেও না; বরং পূর্বদিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসো।”[1] আবু আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর আমরা শাম (সিরিয়া) গেলাম। সেখানে আমরা দেখলাম যে, শৌচাগারগুলো কিবলার দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হয়েছে। তখন আমরা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতাম এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।[2]আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি আব্দুল কারীমের হাদীসের চেয়ে অধিক সহীহ। আর আব্দুল কারীম ’মাতরুক’ -হওয়ার নিকটবর্তী।
بَابُ النَّهْيِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَيْتُمْ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا قَالَ ثُمَّ قَالَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ عِنْدَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ وَعَبْدُ الْكَرِيمِ شِبْهُ الْمَتْرُوكِ
إسناده صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৩৯৪; সহীহ মুসলিম ২৬৪; আর আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪১৬, ১৪১৭; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮২।
পরিচ্ছেদঃ ৭. পরিচ্ছেদ নাই
৬৮৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পেশাব-পায়খানার সময়) ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কাপড় উঠাতেন না।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: এটাই শিষ্টাচার। এটি মুগীরাহ’র হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
بَابٌ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَرْفَعُ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنْ الْأَرْضِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ أَدَبٌ وَهُوَ أَشْبَهُ مِنْ حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ
إسناده ضعيف لم يسمعه الأعمش من أنس
তাখরীজ: তিরমিযী ১৪; আবু দাউদ ১৪; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/২০৮।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু উমার হতে আবু দাউদ ১৪; বাইহাকী ১/৯৬ অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে এ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১/১০৭ মুনকাতি’ সনদে; বাইহাকী ১/৯৬ এ অপর একটি সহীহ সনদে।
এর অপর শাহিদ জাবির রা: হতে মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১০৩৪ এ এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৮. কিবলাকে সম্মুখে রাখার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে
৬৯০. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’একদা আমি আমাদের ঘরের উপরে উঠে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি ইটের উপর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বসেছেন।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمَّهُ وَاسِعَ بْنَ حَبَّانَ أَخْبَرَهُ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ظَهْرِ بَيْتِنَا فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৪৮-১৪৯; সহীহ মুসলিম ২৬৬; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪১৮,১৪২১; আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/৯৮; সুনানে দারুকুতনী ১/৬১; আল মুহাল্লা ১/১৯৪-১৯৫; তামহীদ ১/৩০৫-৩০৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯. দাঁড়িয়ে পেশাব করা সম্পর্কে
৬৯১. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা এক কওমের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে এসে দাঁড়িয়ে পেশাব করলেন।[1]আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি এ ব্যাপারে অপছন্দনীয় কিছু আছে বলে জানি না।
بَاب فِي الْبَوْلِ قَائِمًا
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى سُبَاطَةِ قَوْمٍ فَبَالَ وَهُوَ قَائِمٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد لَا أَعْلَمُ فِيهِ كَرَاهِيَةً
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২২৪; সহীহ মুসলিম ২৭৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪২৪, ১৪২৫, ১৪২৭, ১৪২৮; মুসনাদে হুমাইদী নং ৪৪৭; দেখুন নাইলুল আওতার ১/১০৯।
পরিচ্ছেদঃ ১০. পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলতে হয়
৬৯২: আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ”- হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র জিনিস ও শয়তান থেকে তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি।”[1]
بَاب مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْمَخْرَجَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
إسناده صحيح
তাখরজি: সহীহ বুখারী ১৪২; সহীহ মুসলিম ৩৭৫; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯০২, ৩৯৩১, ৩৯৪০ এবং সহীহ ইবনু হ্বিব্বান নং ১৪০৭।
হাদীসের শিক্ষা
১. বাথরুমে পায়খানা ব্যবহার করার জন্য গেলে উপরোক্ত দো'আ পাঠ করা সুন্নাত।
২. আলেমগণ বলেছেন, এর মাধ্যমে শয়তানের ওয়াসওয়াসা, কুমন্ত্রণা ও বিভিন্ন প্রকার ধোকা থেকে হিফাযত থাকা যায়। শয়তান ওযূতে সমস্যা করে, সালাত বিনষ্ট করতে চেষ্টা চালায় এসব থেকে বাঁচার জন্য এ দোআ করা উচিত।
৩. শয়তানের অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে মানুষকে ময়লা, পায়খানা ইত্যাদির মাধ্যমে অশুচি করে ফেলবে। তাই শয়তানদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া জরুরী।
৪. ময়লা ও অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা ফরয: অনুরূপভাবে যা মানুষকে এসব থেকে বাঁচাতে পারবে তা অবলম্বন করাও জরুরী; কারণ হাদীসে পেশাব থেকে না বাঁচার কারণে কবরে শাস্তি হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে।
৫. 'ইস্তেআযাহ' হচ্ছে অদৃশ্য শত্রুর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় চাওয়া। এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে চাওয়ার অর্থ হচ্ছে শির্ক করা। সুতরাং ইস্তেআযাহ কেবল আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. পবিত্রতা অর্জন করা
৬৯৩. আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যায়, সে যেন তার সাথে তিনটি পাথর (কুলুখ) নিয়ে যায়, যা দ্বারা সে পবিত্রতা অর্জন করবে। আর এটাই তার জন্য যথেষ্ট।[1]
بَابُ الِاسْتِطَابَةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ قُرْطٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ
إسناده جيد
তাখরীজ: আহমদ ১/১৩৩; আবু দাউদ ৪০; বাইহাকী, ১/১০৩; নাসাঈ ১/৪১-৪২; বুখারী, আল কাবীর ৭/২৭১; দারুকুতনী ১/৫৪-৫৫; তাহাবী শারহু মা’আনিল আছার ১/১২১।
দেখুন, নাসাবুর রায়াহ ১/২১৫; তালখীসুল হাবীর ১/১০৯; নাইলুল আওতার ১/১১০।
পরিচ্ছেদঃ ১১. পবিত্রতা অর্জন করা
৬৯৪. খুযাইমাহ ইবনু ছাবিত আল আনসারী তার পিতা (ছাবিত) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ইস্তিনজার সময় কয়টি পাথর ব্যবহার করা উচিত- এ মর্মে জিজ্ঞাসিত হয়ে) বলেছেন: তিনটি পাথর, যার মধ্যে গোবর থাকবে না। এর অর্থ: পবিত্রতা অর্জনের জন্য।[1]
بَابُ الِاسْتِطَابَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَخْبَرَنَا عَلِيٌّ هُوَ ابْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ خُزَيْمَةَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةُ أَحْجَارٍ لَيْسَ مِنْهُنَّ رَجِيعٌ يَعْنِي الِاسْتِطَابَةَ
إسناده جيد
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১/১৫৪; আহমদ ৫/২১৩,২১৪,২১৫; আবু দাউদ ৪১; বাইহাকী ১/১০৩; ইবনু মাজাহ ৩১৫; ইবনু আব্দুল বার, তামহীদ ২২/৩০৯; দেখুন নাইলুল আওতার ১/১৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ১২. ইনতিনজায় হাড় অথবা গোবর ব্যবহার করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
৬৯৫. সাহল ইবনু হুনাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেনঃ “তুমি মক্কাবাসীর প্রতি আমার প্রেরিত দূত। ফলে তুমি তাদেরকে বলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে সালাম জানিয়েছেন এবং আদেশ করেছেন যে, তোমরা হাড় কিংবা পশুর মল (গোবর) দ্বারা ইসতিনজা (পবিত্রতা অর্জন) করো না।[1]
আবু আসিম একবার বলেছেন: ’তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন, (আরেকবার বলেছেন) অথবা তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।’
بَابُ النَّهْيِ عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِعَظْمٍ أَوْ رَوْثٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ هُوَ ابْنُ أَبِي الْمُخَارِقِ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ مَالِكٍ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ مَوْلَى سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ أَنْتَ رَسُولِي إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ فَقُلْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ عَلَيْكُمْ السَّلَامَ وَيَأْمُرُكُمْ أَنْ لَا تَسْتَنْجُوا بِعَظْمٍ وَلَا بِبَعْرَةٍ قَالَ أَبُو عَاصِمٍ مَرَّةً وَيَنْهَاكُمْ أَوْ يَأْمُرُكُمْ
إسناده ضعيف والحديث صحيح
পরিচ্ছেদঃ ১৩. ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা করা নিষেধ
৬৯৬. আব্দুল্লাহ্ ইবনু আবী কাতাদাহ তার পিতা (আবু কাতাদাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “(যখন পায়খানায় যায় তখন) তোমাদের কেউ তার ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে যেন শৌচকার্য না করে।”[1]
بَابُ النَّهْيِ عَنِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَمَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ১৫৩, ১৫৪; মুসলিম ২৬৭; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৩৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. পাথর দিয়ে ইসতিনজা করা
৬৯৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সন্তানদের পিতা যেভাবে (শিক্ষা দেয়), আমিও তোমাদেরকে ঠিক তেমনিভাবেই শিক্ষা দেই। অতএব, তোমরা কিবলাকে সামনে রেখে কিংবা পিছনে রেখে (পেশাব-পায়খানায়) বসবে না; আর যখন তোমরা ইসতিনজা (পবিত্রতা অর্জন) করবে, তখন ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা করবে না।
আর তিনি আমাদেরকে তিনটি পাথর দিয়ে (ইসতিনজা করতে) আদেশ করতেন এবং পশুর মল (গোবর) ও হাড় দ্বারা (ইসতিনজা করতে) নিষেধ করতেন।[1]আর যাকারিয়া বলেন: এর অর্থ জীর্ণ বা পুরাতন হাড়।
بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْأَحْجَارِ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ لِلْوَلَدِ أُعَلِّمُكُمْ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَإِذَا اسْتَطَبْتَ فَلَا تَسْتَطِبْ بِيَمِينِكَ وَكَانَ يَأْمُرُنَا بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ وَيَنْهَى عَنْ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ قَالَ زَكَرِيَّا يَعْنِي الْعِظَامَ الْبَالِيَةَ
إسناده حسن
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৩১, ১৪৪০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৮, ১২৯, ১৩০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০১৮ তে।
আরও বর্ণনা করেছেন, শাফিঈ, আল উম্মু ১/২২, মুসনাদ ১/২৮; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ১/৩৪৩ নং ৮৪৬।
(সুনান ১/১০ নং ৫০; সুনানুল কুবরা ১/৯১; আহমদ, আল মুসনাদ ২/২৪৭, ২৫০ নং ৭৩৬২, ৭৪০৩; আবু দাউদ ৮; নাসাঈ ৪০; ইবনু মাজাহ ৩১২; সহীহ মুসলিম, কিতাবুত তাহারাত (সংক্ষিপ্ত আকারে)- ফাতহুল মান্নান। - অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ১৫. পানি দ্বারা ইসতিনজা করা
৬৯৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর হাজত (প্রাকৃতিক প্রয়োজন) সারতে যেতেন, তখন আমি ও একটি ছেলে ’আনাযাহ’ ও পানির পাত্র নিয়ে তাঁর নিকট যেতাম। অতঃপর তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।[1]
بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا ذَهَبَ لِحَاجَتِهِ أَتَيْتُهُ أَنَا وَغُلَامٌ بِعَنَزَةٍ وَإِدَاوَةٍ فَيَتَوَضَّأُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৫০; মুসলিম ২৭১; আমরা পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৫৯, ৩৬৬২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৪২; পরবর্তী টীকাটি দেখুন। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/১২১।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. পানি দ্বারা ইসতিনজা করা
৬৯৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বের হতেন, তখন একটি বালক পানির পাত্র নিয়ে আসতো। তিনি তা দ্বারা ইসতিনজা করতেন।[1]
بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي مُعَاذٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ الْخَلَاءِ جَاءَ الْغُلَامُ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ كَانَ يَسْتَنْجِي بِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو مُعَاذٍ اسْمُهُ عَطَاءُ بْنُ مَنِيعٍ أَبِي مَيْمُونَةٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী নং ১৫০-১৫১। এবং পূর্ববর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. পানি দ্বারা ইসতিনজা করা
৭০০. মুসাইয়্যেব ইবনু নুজাবাহ বলেন, আমার চাচা যিনি হুযায়ফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র অধীনে থাকতেন, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পানি দিয়ে ইসতিনজা করতেন।”[1]
بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ ذَرٍّ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ نَجَبَةَ قَالَ حَدَّثَتْنِي عَمَّتِي وَكَانَتْ تَحْتَ حُذَيْفَةَ أَنَّ حُذَيْفَةَ كَانَ يَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ
إسناده ضعيف فيه جهالة
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১/১৫২।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. ইসতিনজার পরে যিনি মাটিতে হাত ঘষেন, সে সম্পর্কে
৭০১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমার জন্য পানি আনো।” তারপর তিনি ঝোপের আড়ালে প্রবেশ করলেন। তখন আমি তাঁর জন্য পানি নিয়ে এলাম আর তিনি পানি দ্বারা ইসতিনজা (শৌচকার্য) করলেন তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর তিনি তাঁর উভয় হাত ধুয়ে ফেললেন।[1]
بَابُ فِيمَنْ يَمْسَحُ يَدَهُ بِالتُّرَابِ بَعْدَ الِاسْتِنْجَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ أَبَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ مَوْلًى لِأَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ائْتِنِي بِوَضُوءٍ ثُمَّ دَخَلَ غَيْضَةً فَأَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فَاسْتَنْجَى ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالتُّرَابِ ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ
إسناده ضعيف لجهالة مولى أبي هريرة
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৩৬, ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪০৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৯ হাসান হাদীস এটি। দেখুন এরপরেরটিও। (আহমদ ২/৩১১, ৩৫৮, ৪৫৪ নং ৮০৯০, ৮৬৮০, ৯৮৬২; আবু দাউদ ৪৫; নাসাঈ ৫০, ৫১; ইবনু মাজাহ ৩৫৮, ৩৫৯; বাইহাকী, সুনানুল কুবরা ১/১০৬, ১০৭; সহীহ ইবনু হিব্বান ৮৯; তাবারানী, আল কাবীর ২/৩৮০ নং ২৩৯৩- ফাতহুল মান্নান হা/৭২৩। - অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ১৬. ইসতিনজার পরে যিনি মাটিতে হাত ঘষেন, সে সম্পর্কে
৭০২. ইবরাহীম ইবনু জরীর ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে তাঁর পিতা (জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে (পূর্বের হাদীসটির) অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
بَابُ فِيمَنْ يَمْسَحُ يَدَهُ بِالتُّرَابِ بَعْدَ الِاسْتِنْجَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
رجاله ثقات غير أنه منقطع إبراهيم بن جرير لم يسمع من أبيه
তাখরীজ: নাসাঈ ১/৪৫।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. পায়খানা হতে বের হওয়ার সময় যা বলতে হয়
৭০৩. আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পায়খানা হতে বের হতেন, তখন বলতেন: ’গুফরা-নাকা’ (আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।”[1]
بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ الْخَلَاءِ قَالَ غُفْرَانَكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৪৪। দেখুন, নাইলুল আওতার ১/৮৮ ও আল মা’রিফাহ ১/৩৩৮ নং ৮২৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মিসওয়াক সম্পর্কে
৭০৪. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মিসওয়াক করতে বলছি।”[1]
بَابٌ فِي السِّوَاكِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮৮৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৬৬। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মিসওয়াক সম্পর্কে
৭০৫. (অপর সূত্রে) আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদেরকে বেশি বেশি মিসওয়াক করতে বলছি।”[1]
بَابٌ فِي السِّوَاكِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৭১; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মিসওয়াক সম্পর্কে
৭০৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি যদি আমার উম্মতের উপরে কঠিন মনে না করতাম তবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় এর নির্দেশ দিতাম।”[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: ’এর’ অর্থ ’মিসওয়াক করার’।
بَابٌ فِي السِّوَاكِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِهِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي السِّوَاكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮৮৭; সহীহ মুসলিম ২৫২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭০, ৬৩৪৩, ৭১২৭, ৭১৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৮; আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/১২৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. মিসওয়াক মুখ পবিত্রকারী বস্তু
৭০৭. আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মিসওয়াক হচ্ছে মুখের জন্য পবিত্র হওয়ার উপকরণ এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায়।[1]
بَابُ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ هُوَ الْقَطْوَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ أَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ
إسناده ضعيف لضعف إبراهيم بن إسماعيل ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫৬৯, ৪৫৯৮, ৪৯১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৬৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬২ এ। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/১২৫। (আহমাদ ৬/১২৪, ১৪৬ নং ২৪৯৬৯, ২৫১৭৬; নাসাঈ ৫; আবু ইয়ালা মাওসিলী ৮/৫১ নং ৪৫৬৯; ইবনু হিব্বান নং ১০৬৭; ইবনু খুযাইমা নং ১৩৫ বাইহাকী, সুনানুল কুবরা ১/৩৪; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৯৪, ১৫৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১/৩৯৪ নং ১৯৯; শাফিঈ, আল মুসনাদ নং ৭১; আর হাদীসটি হাসান, যেমন বলেছেন বাগাবী তার শারহুস সুন্নাহ’তে- ফাতহুল মান্নান হা/৭২৯।- অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ২০. তাহজ্জুদের সময় মিসওয়াক করা
৭০৮. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাহাজ্জুদের সালাতের জন্য উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।[1]
بَاب السِّوَاكِ عِنْدَ التَّهَجُّدِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى التَّهَجُّدِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৮৮৯; সহীহ মুসলিম (৪৭), ২৫৫। আমরা এর তাখরজি পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৭২; দেখুন নাইলুল আওতার ১/১২৯।
পরিচ্ছেদঃ ২১. পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না
৭০৯. আবুল মালীহ-এর পিতা (উসামাহ ইবনু উমাইর আল হাযালী) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাত বা চুরির (গণিমাত বা অন্যান্য যেকোন খিয়ানতের) মালের সাদাকা কবুল করেন না।”[1]
بَابُ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭০৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৫। (আহমাদ ৫/৭৪, ৭৫; আবু দাউদ ৫৯; নাসাঈ ১৩৯; ইবনু মাজাহ ২৭১; ইবনু আবী শাইবা ১/৫; তাবারানী, আল কাবীর ১/১৯১ নং ৫০৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১/৩২৯ নং ১৫৭; তায়ালিসী ১/৪৯ নং ১৫৩; বাইহাকী ১/২৩০। মাওয়ারিদুয যাম’আন, হা/১৪৬ এর টীকা।- অনুবাদক)
এবং এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু হুরাইরা হতে যার পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬২৩০; আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/১৪৫।
পরিচ্ছেদঃ ২২. সালাতের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা
৭১০. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সালাতের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা, আর এর তাকবীর হলো (সালাতের বাইরের সকল কাজ) হারামকারী এবং এর সালাম হলো (সালাতের বাইরের বৈধ কাজ) হালালকারী।[1]
بَابُ مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ
إسناده حسن
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি এবং এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি যা একে শক্তিশালী করে, মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬১৬ ((আহমাদ ১/১২৩, ১২৯; আবু দাউদ ৬১; তিরমিযী ৩; ইবনু মাজাহ ২৭৫; শাফিঈ, আল উম্মু ১/১০০; বাইহাকী ২/১৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা ৬১৬; দারুকুতনী পৃ: ১৩৮। ...
এর শাহিদ রয়েছে জাবির রা: হতে আহমাদ ৩/৩৪০; তিরমিযী ৩। আবু সাঈদ আল খুদরী হতে তিরযিমী ২৩৮; ইবনু মাজাহ ২৭৬ যয়ীফ সনদে; হাকিম ১/১৩২ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন তিনি এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন। আলী রা: হতেও শাহিদ রয়েছে যা হাকিম উল্লেখ করেছেন।- তাহক্বীক্ব, মুসনাদুল মাওসিলী হা/৬১৬ এর টীকা দ্রষ্টব্য)- অনুবাদক)); মাজমাউয যাওয়াইদ ২৬২৬-২৬২৮; আরও দেখুন নাসবুর রায়াহ ১/৩০৭-৩০৮ এবং উকাইলী, আদ দুয়া’ফাউল কাবীর ২/১৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. ওযুতে কতটুকু পানি যথেষ্ট হবে
৭১১. সাফীনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মুদ্দ পানি দ্বারা ওযু করতেন এবং এক সা’আ পানি দ্বারা গোসল করতেন।[1]
بَابُ كَمْ يَكْفِي فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْمَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا أَبُو رَيْحَانَةَ عَنْ سَفِينَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৬৫; আহমাদ ৫/২২২; আবু আউয়ানাহ ১/২৩৩; ইবনুল জারুদ, মুনতাকা নং ৬২; সহীহ মুসলিম ৩২৬ (৫৩); ইবনু মাজাহ ২৬৭; বাইহাকী ১/১৯৫।
সা’আ: হলো চার মুদ্দের সমপরিমাণ। যার পরিমাণ শাফিঈদের নিকট ২১৭৫ গ্রাম ও হানাফীদের নিকট ৩৮০০ গ্রাম- ড. যুহাইলী, ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. ওযুতে কতটুকু পানি যথেষ্ট হবে
৭১২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ’মাক্কুক’ (পেয়ালা) পানি দ্বারা ওযু করতেন এবং পাঁচ ’মাক্কুক’ পানি দ্বারা গোসল করতেন।’[1]
بَابُ كَمْ يَكْفِي فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْمَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ بِالْمَكُّوكِ وَيَغْتَسِلُ بِخَمْسِ مَكَاكِي
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩২৫; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০৩, ১২০৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. (পবিত্রতা অর্জনের) পাত্র থেকে ওযু করা
৭১৩. রুবাঈ’ বিনতে মুয়াওয়িয ইবনু আফরা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বাড়িতে আমাদের নিকট আসতেন। তখন এক মুদ্দ ও এর তিন ভাগের একভাগ অথবা চার ভাগের একভাগ পানি ধরে, আমাদের এমন একটি পানির পাত্র নিয়ে আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিতাম, আর তিনি (ওযুর অঙ্গসমূহ) তিন তিনবার করে ধুয়ে ওযু করতেন।[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنَ الْمِيضَأَةِ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِينَا فِي مَنْزِلِنَا فَآخُذُ مِيضَأَةً لَنَا تَكُونُ مُدًّا وَثُلُثَ مُدٍّ أَوْ رُبُعَ مُدٍّ فَأَسْكُبُ عَلَيْهِ فَيَتَوَضَّأُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا
إسناده حسن
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ৩৯০; বাইহাকী ২৩৭ হাসান সনদে; (অপর সনদে) আবু দাউদ ১২৬; তিরমিযী ৩৩; হাকিম ১/১৫২; আহমদ ৬/৩৫৮-৩৬০; আবু দাউদ ১২৭-১২৯ ও ১৩১; হুমাইদী নং ৩৪৫। দেখুন, নাসবুর রায়াহ ১/১২; ফাতহুল বারী ১/২৮৬; নাইলুল আওতার ১/১৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. অযুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা
৭১৪. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ওযুর শুরুতে ’বিসমিল্লাহ’ বলে না, তার ওযু হয় না।”[1]
بَابُ التَّسْمِيَةِ فِي الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنِي رُبَيْحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ
إسناده حسن
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১০৬০, ১২২১; এর শাহিদ হাদীস আবু হুরাইরা হতে যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৪০৯; আব্দুল্লাহ্ ইবনু যাইদ হতে যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১/৩২৪। এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন, দারু কুতনী ১/৭১; ইবনু আবী শাইবা ১/২; ((আহমাদ ৩/৪১ নং ১১৩৮৮; ইবনু মাজাহ ৩৯৭; তাবারানী, আদ দু’আ ২/৯৭২ নং ৩৮০; তিরমিযী, আল ইলাল ১/১১২; আবু ইয়ালা ২/৪২৪ নং ১২২১; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুন্তাখাব /২৮৫ নং ৯১০।- ফাতহুল মান্নান হা/৭৩৬ এর টীকা- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২৬. দু’হাত ধোয়ার পূর্বে পাত্রে প্রবেশ করানো (উচিত নয়)
৭১৫. ইবনু আউস তার দাদা আউস ইবনু আবী আউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওযু করতে দেখেছেন। আর তিনি তিনবার করে পানি ঢাললেন। অতঃপর আমি তাকে (দাদাকে) বললাম: আপনি তিনবার কোন্ জিনিসে পানি ঢাললেন? তিনি বললেন: তিনি তিনবার করে তাঁর হাত দু’টি ধুলেন।”[1]
بَابُ فِيمَنْ يُدْخِلُ يَدَيْهِ فِي الْإِنَاءِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهُمَا
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ يُحَدِّثُ عَنْ جَدِّهِ أَوْسِ بْنِ أَبِي أَوْسٍ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَاسْتَوْكَفَ ثَلَاثًا فَقُلْتُ أَنَا لَهُ أَيُّ شَيْءٍ اسْتَوْكَفَ ثَلَاثًا قَالَ غَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/৫১ নং ১৬৮; আহমাদ ৪/৮-৯-১০; নাসাঈ ১/৬৪; সুনানুল কুবরা নং ৮৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. (অঙ্গসমূহ) তিনবার করে ধুয়ে ওযু করা
৭১৬. উছমান ইবনু আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর গোলাম হুমরান ইবনু আবান হতে বর্ণিত, উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (একদা) ওযু করলেন। আর (প্রথমে) তিনি কুলি করলেন এবং নাকি পানি দিলেন। তারপর তিনি তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন এবং দু’হাত তিনবার করে ধুলেন আর মাথা মাসেহ করলেন এবং দু’পা তিনবার করে ধুলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি যেভাবে ওযু করলাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি সেভাবেই ওযু করলেন, অতঃপর বললেন: যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর মতো করে ওযু করবে, এরপর দু’রাকাত সালাত আদায় করবে যার মধ্যে সে আপনমনে কোনো কথাবার্তা বলবে না, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।”[1]
بَاب الْوُضُوءُ ثَلَاثًا
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ كَمَا تَوَضَّأْتُ ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৫৯,১৬০; সহীহ মুসলিম ২২৬; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণরূপে দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬০,১০৪১, ১০৫৮, ১০৬০ নং এ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৫ এ। এটি আরও বর্ণনা করেছেন, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৬৭; দারুকুতনী ১/৮৩ নং ১৪।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওযুতে (অঙ্গসমূহ) দু’ দু’বার করে ধোয়া
৭১৭. আমর ইবনু ইয়াহইয়া আল মুযানী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একপাত্র পানি চাইলেন। এরপর তিনি তার দু’হাতে পানি ঢেলে হাত দু’টি তিনবার ধুলেন, আর তার মুখমণ্ডলও তিনবার ধুলেন। এরপর কনুই পর্যন্ত দু’হাত দু’ দু’বার করে ধুলেন। তারপর বললেন, আমি এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওযু করতে দেখেছি।[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَخَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ دَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ فَأَكْفَأَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৮৫; সহীহ মুসলিম ২৩৫; আর আমরা এর তাখরীজ পূর্ণরূপে দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৭৭, ১০৮৩-১০৮৫, ১০৯৩; নং এ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২১ এ। এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন, বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ১/২৮৩ নং ৬৫৬; দারুকুতনী ১/৮২ নং ১৩।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওযুতে (অঙ্গসমূহ) দু’ দু’বার করে ধোয়া
৭১৮. (অপর সনদে) আমর ইবনু ইয়াহইয়া আল মুযানী তার পিতা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوًا مِنْهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: পূর্বের হাদীসের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. ওযুতে (অঙ্গসমূহ) একবার করে ধোয়া
৭১৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযু সম্পর্কে জানাবো না, কিংবা খবর দিব না? এরপর তিনি একবার করে (অঙ্গ সমূহ ধুয়ে) ওযু করলেন, অথবা তিনি বললেন: একবার একবার (করে তিনি অঙ্গ সমূহ ধুতেন)।[1]
بَابُ الْوُضُوءُ مَرَّةً مَرَّةً
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ أَوْ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِوُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً أَوْ قَالَ مَرَّةً مَرَّةً
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ১৫৭; আর আমরা এর তাখরীজ পূর্ণরূপে দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৯৫। পূর্ণ তাখরীজের জন্য নিচের টীকা দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. ওযুতে (অঙ্গসমূহ) একবার করে ধোয়া
৭২০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একবার করে অঙ্গসমূহ ধুতেন এবং একবার পানি নিয়েই তা দিয়ে কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন।”[1]
بَابُ الْوُضُوءُ مَرَّةً مَرَّةً
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً جَمَعَ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু হিব্বান নং ১০৭৬ আমাদের তাহক্বীক্বকৃত; হাকিম ১/১৫০; বাইহাকী ১/৫০; আর আমরা এর তাখরীজ পূর্ণরূপে দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান এ। আরো দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বানে নং ১০৭৮ এবং আগের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. পূর্ণরূপে ওযু করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৭২১. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন: “আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিসের কথা জানিয়ে দেব না, যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের গুণাহসমূহ মোচন করবেন এবং নেকীর পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেবেন? তারা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: তা হচ্ছে কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক সালাতের পরে পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ عَقِيلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يُكَفِّرُ اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَزِيدُ بِهِ فِي الْحَسَنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكْرُوهَاتِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ
إسناده حسن والحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ৪০২; মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩৫৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২। (সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১১৭, ১৭৭, ৩৫৭; হাকিম ১/১৯১, ১৯২; আহমাদ ৩/৩; বাইহাকী ২/১৬; ইবনু আবী শাইবা ১/৭; ইবনু মাজাহ ৪২৭; আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু হুরায়রা হতে সহীহ মুসলিম ২৫১; তিরমিযী ৫১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৩৮; তাবারানী, আল কাবীর ২৩/৪১৮; আহমদ ৫/২৭০ নং ২২৩৮০। এছাড়া জাবির রা: থেকেও এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৩৯; বাযযার ৪৪৯, ৪৫০।- দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন, মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত নং ১৬২; ফাতহুল মান্নান নং ৭৪৩ এর টীকা।- অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৩০. পূর্ণরূপে ওযু করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৭২২. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন: (পূর্বের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ بِنَحْوِهِ
إسناده حسن
তাখরীজ: আবু ইয়ালা মাউসিলী নং ১৩৫৫; পূর্ণ তাখরীজ দেখুন পূর্বের হাদীসের টীকায়।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. পূর্ণরূপে ওযু করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৭২৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে ওযু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْجَهْضَمِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْنَا بِإِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩২; বাইহাকী ১০/২৩; মা’রেফাহ ১৪/৯৯ নং ১৯২৭৫; ইবনু মাজাহ ৪২৬; ইবনু খুযাইমাহ নং১৭৫; তিরমিযী ১৭০১; আবু দাউদ ৮০৮; নাসাঈ ১/৮৯; তিরমিযী বলেন: এ অনুচ্ছেদে আলী রা: হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর এ হাদীসটি হাসান সহীহ।’’; তাবারানী, আল কাবীর ১১/১৫৫ নং ১১৩৪৪ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. কুলি করা সম্পর্কে
৭২৪. আবদু খায়ের বর্ণনা করেন: একদা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফজর সালাত আদায় করার পর (কুফার) খোলা ময়দানে গমন করলেন। আর তিনি ময়দানে বসে পড়লেন। তারপর তিনি তার গোলামকে বললেন: আমার জন্য ওযুর পানি নিয়ে আসো। ফলে গোলামটি এক পাত্র পানি এবং একটি খালি গামলা নিয়ে এলো। আবদু খায়ের বলেন: আমরা বসে তার দিকে দেখছিলাম। তখন তিনি ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে দিলেন মুখ ভর্তি পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তিনি তিনবার এরকম করলেন। অতঃপর বললেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযু দেখে আনন্দিত হতে চায়, (সে যেন আমার এ ওযু দেখে নেয়)। কেননা, এটিই ছিল তাঁর ওযু।[1]
بَابٌ فِي الْمَضْمَضَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ خَيْرٍ قَالَ دَخَلَ عَلِيٌّ الرَّحَبَةَ بَعْدَمَا صَلَّى الْفَجْرَ قَالَ فَجَلَسَ فِي الرَّحَبَةِ ثُمَّ قَالَ لِغُلَامٍ لَهُ ائْتِنِي بِطَهُورٍ قَالَ فَأَتَاهُ الْغُلَامُ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ قَالَ عَبْدُ خَيْرٍ وَنَحْنُ جُلُوسٌ نَنْظُرُ إِلَيْهِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فَمَلَأَ فَمَهُ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَنَثَرَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى فَعَلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى طُهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَذَا طُهُورُهُ
إسناده صحيح
তাখরজি: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৬, ১০৭৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০, ১৫১। (ইবনু খুযাইমা, ১৪৭; আবু দাউদ ১১১,১১২; তিরমিযী ৪৯; নাসাঈ ১/৬৮; বাইহাকী আল কুবরা ১/৪৭, ৪৮, ৬৮, ৭৪; ইবনু হিব্বান ১০৪২; দারুকুতনী ১/৩৩।- মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০ এর টীকা হতে।-অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৩১. কুলি করা সম্পর্কে
৭২৫. (অপর সনদে) আবদে খায়ের (পরবর্তী একই রাবী সূত্রে) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1]
بَابٌ فِي الْمَضْمَضَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عُقْبَةَ الْمُرَادِيُّ أَخْبَرَنِي عَبْدُ خَيْرٍ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি ।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. নাকে পানি দেওয়া এবং পাথর দ্বারা কুলুখ করা সম্পর্কে
৭২৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে নাকে পানি দেয়, সে যেন নাক ঝেড়ে ফেলে এবং যে পাথর (কুলখ) দ্বারা (পেশাব-পায়খানার পর) পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, সে যেন তা বিজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে।[1]
بَابٌ فِي الِاسْتِنْشَاقِ وَالِاسْتِجْمَارِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَائِذِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ اسْتَنْشَقَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ
إسناده ضعيف محمد بن إسحاق قد عنعن وهو مدلس. ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৬১; সহীহ মুসলিম ২৩৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৩৮, ১৪৩৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯০৯, ৬৫৭২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. দাড়ি খিলাল করা সম্পর্কে
৭২৭. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ বলেন, আমি উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছি। আর তিনি দাড়ি খিলাল করলেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এভাবে ওযু করতে দেখেছি।[1]
بَاب فِي تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ وَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ
إسناده حسن
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৮১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৪। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/১৮৪-১৮৬; দিরায়াহ ১/২২-২৪; তালখীসুল হাবীর ১/৮৫-৮৭; নিসবুর রায়াহ ১/২৩। সামনেও এ সম্পর্কিত হাদীস আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. আঙ্গুলসমূহ খেলাল করা সম্পর্কে
৭২৮. লাকিত্ব ইবনু সাবরাহ তার পিতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, যিনি বানু আল মুনতাফিক গোত্রের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তুমি যখন ওযু করবে, তখন পরিপূর্ণরূপে ওযু করবে এবং তোমার আঙ্গুলসমূহের মাঝে খিলাল করবে।[1]
باب في تخليل الأصابع
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي إِسْمَعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ عَنْ أَبِيهِ وَافِدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَأَسْبِغْ وُضُوءَكَ وَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৯। এটি আরও রয়েছে, ইবনুল জারুদ নং ৮০; দেখুন নাইলুল আওতার ১/১৭৯-১৮০।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালির জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি
৭২৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। (তাই), তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করো।”[1]
بَابٌ: وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ
إسناده حسن
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/২৬; তার সূত্রে সহীহ মুসলিম ২৪১; ইবনু মাজাহ ৪৫০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৫; আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২০৭-২১০; তাফসীর তাবারী ৬/১৩৩. ১৩৪।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালির জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি
৭৩০. মুহাম্মদ ইবনু যিয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি একদিন আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন আর লোকেরা পানির পাত্র থেকে পানি নিয়ে ওযু করছিলো, আর তিনি বলছিলেন, তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করো। কেননা, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।[1]
আবু মুহাম্মদ (দারেমী) বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর-এর হাদীস অপেক্ষা এটি আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
بَابٌ: وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ يَمُرُّ بِنَا وَالنَّاسُ يَتَوَضَّئُونَ مِنْ الْمِطْهَرَةِ وَيَقُولُ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا أَعْجَبُ إِلَيَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৬৫; সহীহ মুসলিম ২৪২;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৮৮। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২১০-২১২।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. মাথা ও দু’কান মাসেহ করা
৭৩১. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছিলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা ও দু’কানের বাইরের ও ভিতরের অংশ মাসেহ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি যেমন, (রাবীর সন্দেহ) কিংবা- যেরূপ করলাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেরূপ করতে দেখেছি।[1]
بَابٌ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ وَالْأُذُنَيْنِ
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ أَوْ كَالَّذِي صَنَعْتُ
إسناده حسن
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা (মাসেহ করা)-এর জন্য নতুন ভাবে পানি নিতেন
৭৩২. যায়িদ ইবনু আসিম আল মাযিন্নী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জুহফাহ নামক স্থানে ওযু করতে দেখেছি। তিনি কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, এরপর তিনবার তাঁর দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর তিনি মাথা মাসেহ্ করলেন এবং তাঁর পা দু’টি খুব ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর ভেজা হাতে আদ্রতা দ্বারা মাথা মাসেহ না করে (নতুনভাবে) পানি নিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: এ (মাথা মাসেহের পুনরায় কথা উল্লেখ করা) এর উদ্দেশ্য হলো প্রথম বারের মাথা মাসেহের ব্যাখ্যা দেয়া।[1]
بَابُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ وَاسِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيِّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ بِالْجُحْفَةِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُرِيدُ بِهِ تَفْسِيرَ مَسْحِ الْأَوَّلِ
إسناده ضعيف فيه ابن لهيعة
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৩৬; আহমাদ ৪/৪১; আবু দাউদ ১২০; তিরমিযী ৩৫, তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ; তবে আব্দুল্লাহ ইবনু যায়দ থেকে সহীহ সূত্রে একথাটুকু নেই: ‘তারপর ভেজা হাতে আদ্রতা দ্বারা মাথা মাসেহ না করে (নতুনভাবে) পানি নিয়ে মাথা মাসেহ করলেন’। আর সেটির তাখরীজ গত হয়েছে ৭২১ নং এ (যা আমাদের ক্রমিকে যা ৭১৭ নং-অনুবাদক)।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. পাগড়ীর উপর মাসেহ করা
৭৩৩. জাফর আমর ইবনু উমাইয়া আয যামরী তাঁর পিতা (উমাইয়া) রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর উভয় মোজার উপর এবং তাঁর পাগড়ীর উপর মাসেহ করতে দেখেছেন।’[1]
আবু মুহাম্মদকে বলা হলো: আপনি কি তা গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ, আল্লাহর শপথ!
بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْعِمَامَةِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ إِي وَاللَّهِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২০৫; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৮৩। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৩। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২০৪-২০৬; দিরায়াহ ১/৭০-৭৭ যেখানে ৪৬ জন সাহাবা হতে মোজার উপর মাসেহের হাদীস বর্ণিত হয়েছে; ও তালখীসুল হাবীর ১/১৫৭-১৬২; নাসবুর রায়াহ ১৬২-১৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. ওযুর পরে লজ্জাস্থানে পানি ছিটানো
৭৩৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একবার করে (অঙ্গসমূহ) ধৌত করে ওযু করেছেন এবং তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন।[1]
بَابٌ فِي نَضْحِ الْفَرْجِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَنَضَحَ فَرْجَهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: বাইহাকী ১/১৬২।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. ওযুর পরে তোয়ালে বা রুমাল (দ্বারা মোছা)
৭৩৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহ আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাবাতের (বড় অপবিত্রতার) গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, তাঁর নিকট পানির পাত্র আনা হতো। তখন তিনি ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢেলে দিতেন, তারপর তিনি তাঁর লজ্জাস্থানে লেগে থাকা অপবিত্রতা ধুয়ে ফেলতেন। এরপর তিনি সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন। তারপর তিনি তাঁর মাথা এবং সারা শরীর ধুতেন। এরপর সেই স্থান হতে একটু সরে যেতেন এবং তাঁর দু’পা ধুতেন। তারপর তাঁকে একটি রুমাল বা তোয়ালে দেয়া হলে তিনি তা তার সামনে রেখে দিতেন অতঃপর তাঁর আঙ্গুলসমূহ ঝাড়া দিতেন কিন্তু তিনি তা স্পর্শ করতেন না।”[1]
بَابُ الْمِنْدِيلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَأَلْتُ مَيْمُونَةَ خَالَتِي عَنْ غُسْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَنَابَةِ فَقَالَتْ كَانَ يُؤْتَى بِالْإِنَاءِ فَيُفْرِغُ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ وَمَا أَصَابَهُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَسَائِرَ جَسَدِهِ ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَغْسِلُ رِجْلَيْهِ ثُمَّ يُؤْتَى بِالْمِنْدِيلِ فَيَضَعُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَيَنْفُضُ أَصَابِعَهُ وَلَا يَمَسُّهُ
إسناده ضعيف لضعف محمد بن أبي ليلى لكن الحديث متفق عليه
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৫৯; সহীহ মুসলিম ৩১৭; আবু আওয়ানাহ ১/২৯৯, ৩০০ সহীহ সনদে।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯০ এ; মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭১০১ এ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩১৮ এর টীকায়। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/৩০৯।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. মোজার উপর মাসেহ করা
৭৩৬. উরওয়াহ ইবনুল মুগীরাহ কর্তৃক তাঁর পিতা (মুগীরাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোনো রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমার সাথে কি পানি আছে?” আমি বললাম: হাঁ। তারপর তিনি তাঁর বাহন হতে নামলেন। অতঃপর তিনি হাঁটতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি রাতের অন্ধকারের মধ্যে আমার থেকে আড়ালে চলে গেলেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন আর আমি পানির পাত্র হতে তাঁকে পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দু’টি এবং মুখমণ্ডল ধুলেন। আর তাঁর পরণে ছিল সূফ (পশমের) জুব্বা। ফলে তিনি জুব্বার (হাতা দিয়ে) তাঁর হাত দুটি বের করতে পারছিলেন না, ফলে জুব্বার নিচ দিয়ে হাত দু’টি বের করলেন এবং উভয় হাত ধুলেন, মাথা মাসেহ করলেন অতঃপর আমি তাঁর (পায়ের) মোজা জোড়া খুলতে চাইলাম। তখন তিনি বললেন: “ও দু’টো থাক, আমি তো ও দু’টো পবিত্র অবস্থায়ই পরেছিলাম।” (এ বলে) তিনি সেই দু’টোর উপর মাসেহ করলেন।[1]
بَابٌ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا هُوَ ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي سَفَرٍ فَقَالَ أَمَعَكَ مَاءٌ فَقُلْتُ نَعَمْ فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَمَشَى حَتَّى تَوَارَى عَنِّي فِي سَوَادِ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ مِنْ الْإِدَاوَةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُخْرِجَ ذِرَاعَيْهِ مِنْهَا حَتَّى أَخْرَجَهُمَا مِنْ أَسْفَلِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ أَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ فَقَالَ دَعْهُمَا فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২০৬ (সংক্ষিপ্ত আকারে); সহীহ মুসলিম ২৭৪ (৭৯)।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৭ এ; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭৫. ৭৭৬ এর টীকায়। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২২৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. মাসেহ’র সময়সীমা
৭৩৭. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করেছেন।’ এর দ্বারা তিনি মোজার উপর মাসেহ করা (-এর সময়সীমা)কে বুঝিয়েছেন।[1]
بَابُ التَّوْقِيتِ فِي الْمَسْحِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ يَعْنِي الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৭৬।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২২, ১৩২৭, ১৩৩১। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২৩০-২৩১; দিরায়াহ ১/৭০-৭৭; ও তালখীসুল হাবীর ১/১৫৭-১৬২; নাসবুর রায়াহ ১৬২-১৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. জুতার উপর মাসেহ করা
৭৩৮. আবদে খায়ের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছি। আর তিনি জুতার উপর মাসেহ করলেন এবং অনেকখানি জায়গা নিয়ে মাসেহ করলেন। অতঃপর বললেন: আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ করতে না দেখতাম যেরূপ করতে আমাকে তোমরা দেখলে, তবে অবশ্যই আমি এ মত পোষণ করতাম যে, দু’পায়ের (জুতাদ্বয়ের) উপরের অংশ মাসেহ করার চেয়ে নিচের অংশ মাসেহ করাই তো বরং অধিক সংগত ছিল। (কিন্তু আমি যেহেতু তাঁকে জুতার উপরের অংশ মাসেহ করতে দেখেছি, তাই আমিও জুতার নিচে মাসেহ না করে উপরের অংশই মাসেহ করলাম।)
আবু মুহাম্মদ বলেন: আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং গিঁঠ পর্যন্ত পা ধৌত কর।” সূরা মায়িদাহ : ৬) দ্বারা এ হাদীস রহিত হয়ে গিয়েছে।[1]
بَابُ الْمَسْحِ عَلَى النَّعْلَيْنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى النَّعْلَيْنِ فَوَسَّعَ ثُمَّ قَالَ لَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ لَرَأَيْتُ أَنَّ بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ أَحَقُّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا الْحَدِيثُ مَنْسُوخٌ بِقَوْلِهِ تَعَالَى وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: বাইহাকী ১/২৯২; আবু দাউদ ১৬২-১৬৪; দারুকুতনী ১/২০৪-২০৫ নং ৪; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/১১১।
হাফিজ (ইবনু হাজার আসকালানী) ‘বুলুগুল মারাম’ (উস্তাদ যুহাইরী কৃর্তৃক তাহক্বীক্বকৃত) নং ৬০-এ বলেন: “এটি আবু দাউদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।”
তিনি তালখীসুল হাবীর ১/১৬০ এ বলেন: এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, এর সনদ সহীহ।’ আরও দেখুন, দিরায়াহ ১/৮০; নাইলুল আওতার ১/২৩১-২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. ওযুর পরের দু’আ
৭৩৯. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধে গমণ করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর সাহাবীদের নিকট বসে কথা-বার্তা বলছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: “যখন সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হয়ে যায়, তখন যে ব্যক্তি উঠে উত্তমরূপে ওযু করে অতঃপর দু’রাকাত সালাত আদায় করে, তাহলে তার গুনাহসমূহ এমনভাবে বের হয়ে যায় (এবং সে গুনাহবিহীন হয়ে যায়), যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে।”
তখন উক্ববা বললেন: আমি বললাম, সেই আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একথা শোনার তাওফীক দিলেন।
তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার মুখোমুখি বসা ছিলেন, তিনি বললেন: তুমি একথায় খুব আশ্চর্যান্বিত হলে? কিন্তু তুমি আসার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়েও অধিক বিস্ময়কর কথা বলেছেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবান হোন, সেটি কী?
তখন উমার বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে, অথবা তিনি বলেছেন: আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলবে:
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি এক ও একক। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।”) তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে এবং সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”[1]
بَابُ الْقَوْلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَمِّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا يُحَدِّثُ أَصْحَابَهُ فَقَالَ مَنْ قَامَ إِذَا اسْتَقَلَّتْ الشَّمْسُ فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ فَقَالَ عُقْبَةُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي أَنْ أَسْمَعَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَكَانَ تُجَاهِي جَالِسًا أَتَعْجَبُ مِنْ هَذَا فَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْجَبَ مِنْ هَذَا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَ فَقُلْتُ وَمَا ذَلِكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَقَالَ عُمَرُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ أَوْ قَالَ نَظَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهِنَّ شَاءَ
في إسناده جهالة
তাখরীজ: মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০, ২৪৯, ১৭৬৩ এর সনদ সহীহ, (যদিও মুহাক্বিক্ব এখানে মুসনাদুল মাউসিলীর এ সনদকে সহীহ বলছেন, কিন্তু তিনি নিজেই মুসনাদুল মাওসিলীর তাহক্বীক্বে উপরোক্ত সবগুলি সনদকেই যয়ীফ বলেছেন। দেখুন, দারানীর তাহক্বীক্ব, মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০, ২৪৯, ১৭৬৩ এর টীকা। এছাড়া এ সনদকে শাইখ আলবানী এবং আরনাউত্ব উভয়ে যয়ীফ বলেছেন, আর আলবানী এ বাড়তি অংশ “আকাশের দিকে তাকিয়ে”- ‘মুনকারাহ’ বলেছেন।- দেখুন আবু দাউদ ১৭০, উভয়ের তাহক্বীক্বকৃত।-অনুবাদক); আহমদ ৪/১৫৩; সহীহ মুসলিম ২৩৪; নাসাঈ ১৪২; আবু দাউদ ১৬৯ (১৭০); আবু আউয়ানাহ ১/২২৫-২২৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ২২২; হাকিম ২/৩৯৮-৩৯৯; দেখুন তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৫২-২৫৩। আমরা উপরোল্লিতি (মুসনাদুল মাউসিলীর নং সমূহে) পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি। এছাড়া ইবনু হিব্বান নং ১০৫০ এও সকল সূত্র ও বর্ণনা একত্রিত করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ওযুর ফযীলত
৭৪০. আসিম ইবনু সুফিয়ান হতে বর্ণিত, তারা সালাসিল যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তারা মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ফিরে গেলেন। তখন তাঁর নিকট আবু আইয়্যুব ও উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা অবস্থান করছিলেন। তখন আবু আইয়্যুব বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যেভাবে আদেশ করা হয়েছে সেই অনুসারে যে ব্যক্তি ওযু করলো এবং যেভাবে তা আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী সালাত আদায় করলো, তার পেছনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হলো।” হে উক্ববাহ, তাই নয় কি? তিনি বললেন: হাঁ।[1]
بَابُ فَضْلِ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُفْيَانَ أَنَّهُمْ غَزَوْا غَزْوَةَ السَّلَاسِلِ فَرَجَعُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ وَعِنْدَهُ أَبُو أَيُّوبَ وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ أَكَذَاكَ يَا عُقْبَةُ قَالَ نَعَمْ
إسناده جيد
তাখরীজ: তাবারানী, আল কাবীর ৪/ ১৫৬-১৫৭ নং ৩৯৯৪, ৩৯৯৫; আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৯, ১১৬২ আমাদের তাহক্বীক্বকৃত। আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬ তে এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৪৪ এ। (আহমাদ ৫/৪২৩; নাসাঈ ১৪৪; ইবনু মাজাহ ১৩৯৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৪৪। মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬ এর টীকা হতে- অনুবাদক ।)
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ওযুর ফযীলত
৭৪১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন মুসলিম বা মু’মিন বান্দা ওযু করে, আর সে মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন সে তার চোখের নজরের মাধ্যমে যে সকল গুনাহ করেছিল, সেই সমস্ত গুনাহ তার মুখমণ্ডল হতে পানির সাথে কিংবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। আবার যখন সে তার হাতদু’টি ধৌত করে, তখন হাত দিয়ে ধরার মাধ্যমে যে গুনাহ সে করেছিল, সেই সমস্ত গুনাহ পানির সাথে কিংবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। এমনকি এভাবে সে সমস্ত গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে যায়।[1]
بَابُ فَضْلِ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوْ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنِهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنْ الذُّنُوبِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৪০ এ। ( আহমাদ ২/৩০৩ নং ৮০০৭; সহীহ মুসলিম ২৪৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ নং ৪; তিরমিযী ২, তিরমিযী বলেন: এ হাদীসটি হাসান সহীহ; আব্দুর রাযযাক নং ১৫৫; মালিক, মুয়াত্বা- ফাতহুল মান্নান, হা/৭৬৩ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ওযুর ফযীলত
৭৪২. আবু উছমান বলেন, আমি সালমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে একটি গাছের নিচে ছিলাম। তখন তিনি গাছের একটি শুকনো ডাল নিলেন এবং সেটি ঝাঁকাতে লাগলেন। এমনকি এর পাতাসমূহ ঝরে পড়লো। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে জিজ্ঞেস করবে না, আমি এটি কেন করলাম? আমি তাকে বললাম: আপনি তা কেন করলেন? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আমার সামনে এরূপ করেছিলেন। তারপর বলেছিলেন: “মুসলিম যখন সুন্দর করে ওযু করে এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তখন তার গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে এ পাতা ঝরে গেলো। তারপর তিনি পাঠ করলেন: “এবং সালাত কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাত্রির কিছু অংশে; নিঃসন্দেহে নেককাজ সমূহ মুছে ফেলে মন্দ কাজসমূহকে; এটিই হচ্ছে একটি (ব্যাপক) নাসীহাত, নাসীহাত মান্যকারীদের জন্য।”[1] (সূরা হুদ: ১১৪)
بَابُ فَضْلِ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ قَالَ كُنْتُ مَعَ سَلْمَانَ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَأَخَذَ مِنْهَا غُصْنًا يَابِسًا فَهَزَّهُ حَتَّى تَحَاتَّ وَرَقُهُ قَالَ أَمَا تَسْأَلُنِي لِمَ أَفْعَلُ هَذَا قُلْتُ لَهُ لِمَ فَعَلْتَهُ قَالَ هَكَذَا فَعَلَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَصَلَّى الْخَمْسَ تَحَاتَّتْ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحَاتَّ هَذَا الْوَرَقُ ثُمَّ قَالَ وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِلَى قَوْلِهِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
إسناده ضعيف ولكن يتقوى بشواهده
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের জন্য ওযু করা
৭৪৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন, আর আমাদের কারো ’হাদাস’ (ওযু ভঙ্গের কারণ) না ঘটা পর্যন্ত আমাদের পূর্বের ওযুই যথেষ্ট হতো।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلَاةٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَكَانَ أَحَدُنَا يَكْفِيهِ الْوُضُوءُ مَا لَمْ يُحْدِثْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২১৪; তারীখুল কাবীর ৬/৩৬৫; বাইহাকী ১/১৬২; বাগবী, শারহুস সুন্নাহ ১/৪৪৭ নং ২৩০; তিরমিযী ৬০; আহমাদ ৩/১৫৪; দেখুন নাইলুল আওতার ১/২৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. ‘হাদাস’ (ওযু ভঙ্গের কারণ) ঘটা ব্যতীত ওযুর প্রয়োজন নেই
৭৪৪. আবু হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ সালাতে থাকাকালীন যদি তার পশ্চাদ্দেশে কম্পন অনুভব করে, ফলে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয় যে, তার ’হাদাস’ (তথা বায়ু নির্গমনের মাধ্যমে ওযু নষ্ট) হয়েছে, নাকি হয়নি, তবে সে যেন অবশ্যই তার সালাত ত্যাগ না করে, যতক্ষণ না সে (বায়ু নির্গমনের) শব্দ শোনে অথবা, দুর্গন্ধ পায়।[1]
بَابُ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ حَرَكَةً فِي دُبُرِهِ فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَحْدَثَ أَوْ لَمْ يُحْدِثْ فَلَا يَنْصَرِفَنَّ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ২/৪১৪; আবু দাউদ ১৭৭; সহীহ মুসলিম ৩৬২; বাইহাকী ১/১১৭; তিরমিযী ৭৪; দেখুন তালখীসুল হাবীর ১/১২৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. ঘুমের কারণে ওযু করা
৭৪৫. মুয়াবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “চক্ষুদ্বয় হলো পশ্চাদ্দ্বারের বাঁধন। অতএব, চক্ষু যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার বাঁধনও ঢিলে হয়ে যায়।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ حَدَّثَنِي عَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ الْكَلَاعِيُّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا الْعَيْنَانِ وِكَاءُ السَّهِ فَإِذَا نَامَتْ الْعَيْنُ اسْتَطْلَقَ الْوِكَاءُ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ لَا إِذَا نَامَ قَائِمًا لَيْسَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৭২ এ। (বাইহাকী ১/১৮৪; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যিয়াদাহ ৪/৯৭; দারুকুতনী ১/১৬০- মুসনাদুল মাউসিলী ৭৩৭২ এর টীকা।- অনুবাদক)।
এটি আরো বর্ণিত হয়েছে, তাবারানী, আল কাবীর ১৯/৩৭২ নং ৮৭৫; মুসনাদুশ শামিয়্যিন নং ১৪৯৪; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৯/৩০৫; তাহাবী, মুশকিলুল আসার ৪/৩৫৫; বাইহাকী, আল মা’রেফাহ নং ৯৩১। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২৪১-২৪২; আল মুহাল্লা ১২৩১; কাশফুল খফা’ নং ১৭৯৮; তালখীসুল হাবীর ১/১১৮।
(আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যা বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ২০৩; ইবনু মাজাহ ৪৭৭; বাইহাকী ১/১১৮ সকলেই য়য়ীফ সনদে।- মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৭২ এ টীকা দ্র:। -অনুবাদক)
আমাদের এ হাদীসটির শাহিদ আলী রা: এর হাদীসটি যেটিকে ‘হাসান’ বলেছেন: মুনযিরী, নববী ও ইবনু সালাহ । (এবং আলবানী ও, তাহক্বীক্ব: আবু দাউদ, ২০২- অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. মযী
৭৪৬. সাহল ইবনু হুনাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রচুর পরিমাণে ’মযী’ বের হতো। ফলে এর জন্য আমাকে অনেক বার গোসল করতে হতো। ফলে আমি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বর্ণনা করলাম এবং এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: “এর ফলে তোমার জন্য ওযু করাই যথেষ্ট।” তিনি বলেন, আমি বললাম, আর আমার কাপড়ে এ থেকে যা লেগে যায়, সেই ব্যাপারে কী করবো? তিনি বললেন: “এক কোষ পানি নাও, আর তুমি কাপড়ের যেখানে তা লেগে থাকতে দেখো, সেখানে ছিটিয়ে দাও।”[1]
بَابٌ فِي الْمَذْيِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ كُنْتُ أَلْقَى مِنْ الْمَذْيِ شِدَّةً فَكُنْتُ أُكْثِرُ الْغُسْلَ مِنْهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَأَلْتُهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّمَا يُجْزِئُكَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ قَالَ قُلْتُ فَكَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ قَالَ خُذْ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَانْضَحْهُ حَيْثُ تَرَى أَنَّهُ أَصَابَهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯১ নং ২৯১; আবু দাউদ ২১০; তিরমিযী ১১৫; ইবনু মাজাহ ৫০৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২৯১; আমরা এর তাহক্বীক্ব ও এর উপর টীকা দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪০; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১০৪।
আলী রা: হতে বর্ণিত সহীহ হাদীস এর শাহিদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যার পূর্ণ তাখরীজ আমরা সহীহ ইবনু হিব্বান ১১০২, ১১০৪; এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪১, ২৪২,২৪৩ এ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওযু করা
৭৪৭. বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে ওযু করতে হবে।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي ابْنُ حَزْمٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَتَوَضَّأُ الرَّجُلُ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৭২; আর এ বুসরাহ বিনতে সাফওয়ানের হাদীসটি আমরা পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১১২-১১১৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২১১-২১৪ এ টীকাসহ। (নাসাঈ ১৬৪, ৪৪৫, ৪৪৬; ইবনু মাজাহ ৪৭৯; তিরমিযী বাইহাকী আল কুবরা ১/১২৯, ১৩২ নং ৫০৫; আল খিলাফিয়্যাত ২/২২৯; তাবারানী, আল কাবীর ২৪/১৯৪ নং ৪৮৮। এছাড়া এর মুতাবিয়াত বর্ণনা রয়েছে অনেক। দেখুন, ফাতহুল মান্নান হা/৭৬৯ এর টীকা।- অনুবাদক)।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওযু করা
৭৪৮. বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “যে ব্যক্তি লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো সে যেনো ওযু করে”। আবু মুহাম্মাদ বলেন, লজ্জাস্থান স্পর্শ করা সম্পর্কিত হাদীসগুলোর মধ্যে এই বর্ণনাটি বেশি শক্তিশালী।[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا أَوْثَقُ فِي مَسِّ الْفَرْجِ
إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৫১. আগুনের জ্বাল দেয়া (রান্না করা) খাদ্য আহার করার কারণে ওযু করা
৭৪৯. যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আগুনে জ্বাল দেয়া বস্তু আহার করলে ওযু করবে।”[1] আবু মুহাম্মদকে বলা হলো: আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: না।
بَابُ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْوُضُوءُ مِمَّا مَسَّتْ النَّارُ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ لَا
إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث
তাখরীজ: তাবারানী, আল কাবীর ৫/১২৮ নং ৪৮৩৬, ৪৮৩৩, ৪৮৩৪ সহীহ সনদে; (অপর সনদে) সহীহ মুসলিম ৩৪১; তাবারানীর সনদে খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকিহ ১/১২৭-১২৮ নং৪৮৩৫-৪৮৪০ সনদ সহীহ; দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১২৪-১১৬০; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৩১৫-১৩৩২ এ দুটি আমাদের তাহক্বীক্বকৃত।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. এর জন্য (রান্না করা খাবার খেয়ে) ওযু না করার অবকাশ প্রদান
৭৫০. আমর ইবনু উমাইয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, তিনি নিজে হাতে একটি বকরীর কাঁধের মাংশ কাটছেন। (তারপর তিনি তা থেকে খেলেন[1]) এরপর সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি যে ছুরি দিয়ে মাংস কাটছিলেন, তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর সালাত আদায় করলেন কিন্তু তিনি ওযু করেননি।”[2]
بَابُ الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ أَنَّ أَبَاهُ عَمْرَو بْنَ أُمَيَّةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ شَاةٍ فِي يَدِهِ ثُمَّ دُعِيَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَلْقَى السِّكِّينَ الَّتِي كَانَ يَحْتَزُّ بِهَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
إسناده ضعيف كسابقه ولكن الحديث صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ আগেরটির মতই যয়ীফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৫৫; আমরা পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৪১; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৩৩৪-১৩৬৭ এ আমাদের তাহক্বীক্বকৃত। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২৫২, ২৫৫, ২৬২-২৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. সাগরের পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুদলিজ গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এই সাগর পাড়ের অধিবাসী। আমরা ছোট নৌকার মাধ্যমে শিকার করার চেষ্টা করি। ফলে (কখনো কখনো) একরাত, দু’রাত, তিনরাত ও চাররাত পর্যন্ত (উপকূল ছেড়ে) আমাদের সাগরের বুকে অনেক দূরে যেতে হয়। তাই আমরা খাওয়ার জন্য মিষ্টি পানি সাথে নিয়ে যাই। সুতরাং যদি আমরা এ পানি দিয়ে ওযু করি, তবে আমাদের জীবন নাশের আশংকা করি, আর যদি (এ পানির ব্যাপারে) আমাদের জীবনকে অগ্রাধিকার দিই এবং সাগরের পানি দিয়ে ওযু করি, তবে এ (ওযুর) ব্যাপারে আমাদের মনে খটকা অনুভব করি; ফলে আমাদের মনে আশংকা জাগে যে, হয়তোবা (এ পানি দ্বারা ওযু করার মাধ্যমে) আমাদের পবিত্রতা অর্জন হয় না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমরা তা (সাগরের পানি) দ্বারা ওযু করতে থাকো। কেননা, সাগরের পানি পবিত্র এবং এর মৃত জন্তু হালাল।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَرَّانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ الْجُلَاحِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَخْزُومِيِّ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى رِجَالٌ مِنْ بَنِي مُدْلِجٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَصْحَابُ هَذَا الْبَحْرِ نُعَالِجُ الصَّيْدَ عَلَى رَمَثٍ فَنَعْزُبُ فِيهِ اللَّيْلَةَ وَاللَّيْلَتَيْنِ وَالثَّلَاثَ وَالْأَرْبَعَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا مِنْ الْعَذْبِ لِشِفَاهِنَا فَإِنْ نَحْنُ تَوَضَّأْنَا بِهِ خَشِينَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَإِنْ نَحْنُ آثَرْنَا بِأَنْفُسِنَا وَتَوَضَّأْنَا مِنْ الْبَحْرِ وَجَدْنَا فِي أَنْفُسِنَا مِنْ ذَلِكَ فَخَشِينَا أَنْ لَا يَكُونَ طَهُورًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّئُوا مِنْهُ فَإِنَّهُ الطَّاهِرُ مَاؤُهُ الْحَلَالُ مَيْتَتُهُ
رجاله ثقات لكن محمد بن إسحاق قد عنعن وهو مدلس
তাখরীজ: হাকিম ১/১৪১; ((তিরমিযী ৬৯; ইবনু মাজাহ ৩৮৬; বুখারী, তারীখ ৩/৪৭৮ তরজমাহ নং ১৫৯৯; বুখারী সূত্রে বাইহাকী, মা’রেফাহ ১/২২৭; তাহাবী, মুশকিলুল আছার ১০/২০৭ নং ৪০৩৬; আরও দেখুন, বাইহাকী, সুনানুল কুবরা ১/৩; মা’রিফাহ ১/২২৬ নং ৪৭৫; আহমাদ আল মুসনাদ ২/৩৭৮ নং ৮৮৯৯। এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির রা: হতে আহমাদ, আল মুসনাদ ৩/৩৭৩ নং ১৫০৫৪; ইবনু মাজাহ ৩৮৮; ইবনু হিব্বান নং ১২৪৪; ইবনু খুযাইমা নং ১১২; হাকিম ১/১৪৩; দারুকুতনী ১/৩৪। আনাস ইবনু মালিক হতে আব্দুর রাযযাক, আল মুসান্নাফ ১/৯৪ নং ৩২০; দারুকুতনী ১/৩৫। আলী ইবনু আবী তালিব, ইবনু আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে বর্ণনা করেছেন, হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/১৪২-১৪৩; দারুকুতনী ১/৩৫। আবু বাকর সিদ্দীক রা: এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে আবু উবাইদ আল কাসিম, আত তহুর ১৮৩ নং ২২৬; ইবনুল মুনজির, আল আওসাত ১/২৪৮ আছার নং ১৫৯; ইবনু আবী শাইবা ১/১৩০।-ফাতহুল মান্নান হা/৭৭৩ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক।))
আর হাফিজ ইবনু হাজার তাহযীব ১০/২৫৭ এ বলেন: ‘আবী হুরাইরা হতে তার (মাখযুমী’র) সমুদ্র সম্পর্কিত হাদীসকে সহীহ বলেছেন: ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, ইবনুল মুনযির, আল খাত্তাবী, তাহাবী, ইবনু মানদাহ, হাকিম, ইবনু হাযম, বাইহাকী, আব্দুল হাক্ব এবং অন্যরা’।’ আরও দেখুন পরবর্তী হাদীসটি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. সাগরের পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫২. আবু হুরাইরা বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে প্রশ্ন করলো। বললো: আমরা সমূদ্রে যাতায়াত করি, আমাদের সাথে সামান্য পরিমাণে (খাওয়ার) পানি থাকে। ফলে আমরা যদি তা দিয়ে ওযু করি, তবে পিপাসায় কাতর হয়ে যাবো। এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দ্বারা ওযু করতে পারবো? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তার পানি তো পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণীও হালাল।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَالِكٍ قِرَاءَةً عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ مِنْ آلِ الْأَزْرَقِ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَمَعَنَا الْقَلِيلُ مِنْ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদ ৮৩; হাকিম ১/১৪০; ইবনু মাজাহ ৩৮৬; তিরমিযী ৬৯; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নরং ১২৪৩; মাওয়ারিদুয যামআন নং ১১৯ এ।
এছাড়া এটি বর্ণিত হয়েছে: বাইহাকী, আল মা’রেফাহ নং ৪৭৩; দারুকুতনী ১/৩৬ নং ১৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৮১; খতীব, তারীখে বাগদাদ ৭/১৩৯; হাকিম ১/১৪০-১৪২; যা সামনে ২০৫৪ (২০৫৮) নং আসছে।
আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ১/৯-১২; নাইলুল আওতার ১/১৭-২১; দিরায়াহ ১/৫৩-৫৪ এবং পূর্বের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. আবদ্ধ পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেনো বদ্ধ বা স্থির পানিতে পেশাব না করে। (হয়তো) পরে সেই পানিতেই সে আবার গোসল করবে।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ مِنَ الْمَاءِ الرَّاكِدِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَبُولُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৩৯; সহীহ মুসলিম ২৮২;
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৫১, ১২৫৪, ১২৫৬; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৭৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৯, ১০০০ এ। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ১/১০৫-১০৬; নাইলুল আওতার ১/৩৯-৪১; দিরায়াহ ১/৫৬; নাসবুর রায়াহ ১/১০১।
তাঁর কথা: “পেশাব না করে” নিষেধ অর্থে এসেছে, এর জোরদার প্রমাণ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. যে পরিমাণ পানি অপবিত্র হয় না, তার পরিমাণ
৭৫৪. উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার তার পিতা (ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, (যখন) তাঁকে জঙ্গলের কুয়ার পানি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো, যাতে গৃহপালিত পশু ও হিংস্র প্রাণী পানি পান করার জন্য এসে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “পানি দুই কুল্লাহ পরিমাণ হলে কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।”[1]
بَابُ قَدْرِ الْمَاءِ الَّذِي لَا يَنْجُسُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُسْأَلُ عَنْ الْمَاءِ يَكُونُ بِالْفَلَاةِ مِنْ الْأَرْضِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنْ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ فَقَالَ إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ
إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن إسحاق ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং৫৫৯০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৪৯; মাউয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৭ এ। (আহমাদ ২/১২, ২৩; তিরমিযী ৬৭; দারুকুতনী ১/১৯ নং ১৪; আবু দাউদ ৬৩, ৬৪, ৬৫; ইবনু মাজাহ ৫১৭, ৫১৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১৫, ১৬; বাইহাকী, ১/২৬২; হাকিম ১/১৩৩। (অপর সনদে) নাসাঈ ১/৪৬, ১৭৫; ইবনু হিব্বান ১২৩৭; হাকিম ১/১৩২; ইবনু খুযাইমা ৯২।- মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৯০ এর টীকা হতে।- অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. যে পরিমাণ পানি অপবিত্র হয় না, তার পরিমাণ
৭৫৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (যখন) পানি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো, যাতে গৃহপালিত পশু ও হিংস্র প্রাণী পানি পান করার জন্য এসে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “পানি দুই কুল্লাহ পরিমাণ হলে তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না (অপবিত্র হয় না)।”[1]
بَابُ قَدْرِ الْمَاءِ الَّذِي لَا يَنْجُسُ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْمَاءِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنْ الدَّوَابِّ وَالسِّبَاعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ الْخَبَثَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: পূর্বের টীকাটি দেখুন। এটি পূর্বের হাদীসের পূনরোক্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬: ব্যবহৃত পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫৬. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি অসুস্থ ছিলাম, আমার কোনো জ্ঞান ছিল না, (এমতাবস্থায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং ওযুর (অবশিষ্ট) পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম।’[1]
بَابُ الْوُضُوءِ بِالْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ وَأَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ جَاءَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي وَأَنَا مَرِيضٌ لَا أَعْقِلُ فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ مِنْ وَضُوئِهِ عَلَيَّ فَعَقَلْتُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: বুখারী ১৯৪; সহীহ মুসলিম ১৬১৬; আর আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০১৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ১২৬৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. স্ত্রীলোকের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো একজন স্ত্রী দাঁড়িয়ে পাত্রের পানি দিয়ে জানাবাতের গোসল করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে এর উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল করলেন। তখন সে বললো: আমি তো আপনার পূর্বে এ পানিতে গোসল করেছি?’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “পানির কোনো অপবিত্রতা নেই।”[1]
بَابُ الْوُضُوءِ بِفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَامَتْ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاغْتَسَلَتْ فِي جَفْنَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى فَضْلِهَا يَسْتَحِمُّ فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ اغْتَسَلْتُ فِيهِ قَبْلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَى الْمَاءِ جَنَابَةٌ
الحديث صحيح بشواهده
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪১১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৪১, ১২৪২, ১২৬৯ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৬, ২২৬ এ। ((আবু দাউদ ৬৮; তিরমিযী ৬৫; ইবনু মাজাহ ৩৭০; বাইহাকী ১/১৮৯; তাবারী, তাহযীবুল আছার ২/৬৯২ নং ২৯-৩০; আহমাদ ১/২৩৫; নাসাঈ ১/১৭৩; দারুকুতনী ১/৫১ নং ৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২/২৭ নং ২৫৯; ইবনু খুযাইমা নং ৯১; হাকিম ১/১৫৯; বাযযার নং ২৫০।- মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪১১ নং এর টীকা থেকে।- অনুবাদক ))
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. স্ত্রীলোকের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত পানি দ্বারা ওযু করা
৭৫৮. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَابُ الْوُضُوءِ بِفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
এছাড়া ইবনু আব্বাস মায়মুনাহ হতেও এটি বর্ণনা করেছেন, যা আমরা মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭০৯৮ তে পূর্ণ তাখরীজ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. বিড়াল যখন পানির পাত্রে মুখ দেয়
৭৫৯. কাবশা বিনতে কা’ব ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র পুত্রবধূ। একদা আবু কাতাদা (গৃহে) আগমণ করলে তিনি তাঁকে ওযুর পানি দিলেন। তারপর একটি বিড়াল এসে তা থেকে পানি পান করতে লাগলো। তখন (বিড়ালের পান করার সুবিধার্থে) তিনি (আবু কাতাদা) পাত্রটিকে কাত করে ধরলেন। এমনকি বিড়ালটি তৃপ্তি সহকারে পান করলো। কাবশাহ বলেন, তিনি আমাকে এর প্রতি তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করছো? জবাবে আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই এরা (বিড়াল) অপবিত্র (প্রাণী) নয়। নিশ্চয়ই এরা তোমাদের আশেপাশে ঘোরাফেরাকারী ও অধিক বিচরণকারী প্রাণী।[1]
بَابُ الْهِرَّةِ إِذَا وَلَغَتْ فِي الْإِنَاءِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا أَبُو قَتَادَةَ الْإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا بِنْتَ أَخِي قُلْتُ نَعَمْ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنْ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ
إسناده جيد
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯৯ এ। (মালিক ১৩; শাফিঈ, আল উম্মু ১/৮; আব্দুর রাযযাক ১/১০১ নং ৩৫৩; ইবনু আবী শাইবা ১/৩১; আহমদ ৫/৩০৩, ৩০৯; আবু দাউদ ৭৫; তিরমিযী ৯২; নাসাঈ ১/৫৫, ১৭৮; ইবনু মাজাহ ৩৬৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১৮; বাইহাকী ১/২৪৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২/৬৯ নং ২৮৬; আর একে সহীহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযাইমা ১০৪; হাকিম ১/৬০, আর যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।
হাফিজ তার তালখীসুল হাবীর ১/১৪১ এ বলেন: একে সহীহ বলেছৈন বুখারী, তিরমিযী, উকাইলী, দারুকুতনী...।”
আর এর শাহিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন আয়েশা রা: হতে আমাদের তাহক্বীক্বকৃত আবু ইয়ালা নং ৪৯৫১।- মুহাক্কিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২১ এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
আরো বর্ণিত হয়েছে: বাইহাকী, মা’রেফাতুস সুনান ২/৬৭ নং ১৭৭০; আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৩৪
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. কুকুর (পাত্রে) মুখ দেয়া প্রসঙ্গে
৭৬০. আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কুকুর যখন কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধুবে এবং অষ্টমবারে মাটিতে ঘষে নেবে।[1]
بَابٌ فِي وُلُوغِ الْكَلْبِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مِرَارٍ وَالثَّامِنَةَ عَفِّرُوهُ فِي التُّرَابِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৮০; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯৮ এ।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রা: হতে যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত। এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি আমি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৬৭৮, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯৪-১২৯৭ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৭ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. ঘিয়ে ইদুর পড়া
৭৬১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, ঘিয়ের মধ্যে একটি ইঁদুর পড়ে মরে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সেটি (ইঁদুরটি) এবং এর আশপাশের ঘি ফেলে দাও এবং (অবশিষ্ট ঘি থেকে) তোমরা খাও।”[1]
بَابُ الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ أَنَّ فَأْرَةً وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَمَاتَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا وَكُلُوهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭০৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯২ এ। এছাড়া মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩১৪। সামনে আসছে ২১২৮ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. পেশাব থেকে সতর্ক থাকা
৭৬২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: এদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে, তবে কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখুরী করে বেড়াতো এবং অপরজন পেশাব হতে পবিত্র থাকতো না।” তিনি বলেন: অতঃপর তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে (দু’ টুকরো করে) ভেঙ্গে প্রত্যেক কবরের মাথার নিকট এক টুকরো করে পুঁতে দিলেন। তারপর বললেন: “আশা করি, এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এদের আযাব হালকা করা হবে।”[1]
بَابُ الِاتِّقَاءِ مِنَ الْبَوْلِ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ كَانَ أَحَدُهُمَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَكَانَ الْآخَرُ لَا يَسْتَنْزِهُ عَنْ الْبَوْلِ أَوْ مِنْ الْبَوْلِ قَالَ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَكَسَرَهَا فَغَرَزَ عِنْدَ رَأْسِ كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا قِطْعَةً ثُمَّ قَالَ عَسَى أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا حَتَّى تَيْبَسَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২১৬; সহীহ মুসলিম ২৯২; (আহমাদ ১৯৮০)। জাবির রা: হতে বর্ণিত এর শাহিদ হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ করেছি আমি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪/৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১২৮-৩১২৯ এবং মুসনাদুল মাওসিলী নং ১০৫০ এ জাবির রা: এর সহীহ হাদীসের টীকাটি দেখুন।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরকে কবরে আযাব দেওয়ার যে কারণ, তা ত্যাগ করা তাদের ওপর কঠিন ছিল না। বস্তুত কেউ যদি অন্যায় থেকে বাঁচার চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ চেষ্টা করে না।
জীবিত মানুষের যেসব আমল মৃতদের কাজে লাগে
সর্বসম্মত মতে, জীবিত মানুষের পক্ষ থেকে দো'আ ঈমানদার মৃত মানুষের কাজে লাগে। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তা দো'আর সমতুল্য। সুতরাং সেটা কাজে লাগবে। কিন্তু অন্য কারো জন্য এ ধরনের গাছ ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারটি কোথাও বর্ণিত হয়নি। সুতরাং, বর্তমানে কারো জন্য গাছ ভেঙ্গে রোপন করলে সেটা কার্যকরী হবে বলা যায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত কাজটি তার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট, অন্য কারো সাথে তা কার্যকারী হওয়ার প্রমাণ নেই। কারণ, এ হাদীসেরই অপর বর্ণনায় যা সহীহ মুসলিমে এসেছে, “আমার সুপারিশের কারণে আল্লাহ তাদের শাস্তি গাছের ডালটি শুষ্ক হওয়া পর্যন্ত লাঘব করবেন।” [সহীহ মুসলিম ৩০০৬]
ইমাম খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এটা এর উপর ধরা হবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুই কবরবাসীর ‘আযাব লাঘবের জন্য দো'আ করেছেন; যতক্ষণ তা তরতাজা থাকবে। এটা নয় যে, আযাব বন্ধ করার ব্যাপারে গাছের ডালে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে বা কাঁচা ডালে কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শুকনো ডালে নেই। [আউনুল মাবুদ (১/২৫)]
অথচ আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অনেক মুসলিমকে দেখা যায় তারা কবরের উপর ফুল দিচ্ছে, যা কখনও জয়েয নেই, প্রথমত: এটাতো নাসারাদের কাজ। দ্বিতীয়ত: যদি এ হাদীস দলীল হয় তবে এ হাদীস তো প্রমাণ করছে যে, এখানে মৃতব্যক্তির আযাব হচ্ছে, তারা যেখানে ফুল দিচ্ছে কিংবা খেজুর ডাল পুঁতে দিচ্ছে তাদের কাছে কি এসব কবরে আযাব হওয়ার বিষয়টির সংবাদ এসেছে?
হাদীসের শিক্ষা
১. কবরের আযাব হক্ব ও যথার্থ।
২. আরো বুঝা যায় যে, চোগলখুরী বা একের কথা অন্যের কাছে লাগানো হারাম ও কবীরা গুনাহ। এর মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করা আরো বড় হারাম।
৩. চোগলখুরী ও পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়া কবর আযাবের অন্যতম কারণ।
৪. আল্লাহ তা'আলা কখনও কখনও মানুষের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নিদর্শন প্রকাশ করে দেন; যাতে মানুষ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
৫. সালাতের বিষয়টি অত্যধিক মহৎ হওয়া; কারণ এর একটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় বান্দার ওপর শাস্তি হচ্ছে। যারা সালাত ত্যাগ করে তাদের পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে তা থেকেই অনুমেয়।
৬. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা; এমনকি তাদের মধ্যে যারা গুনাহগার তাদের নাজাতের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাতেন।
৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ কখনও কখনও কিছু সময়ের জন্য বা বড় কষ্ট থেকে ছোট কষ্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য হতে পারে; কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ "আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আশা করা যায় যতক্ষণ এ দু'টি ডাল শুষ্ক না হলে ততক্ষণ তাদের ওপর সে আযাব হালকা করা হবে।
৮. সাহাবায়ে কেরাম সর্বদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাজের কারণ ও হিকমত জানতে সচেষ্ট থাকতেন। এজন্য তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি এ কাজটি কেন করলেন?
৯. সাধারণ অপরাধী ও গুনাহগারদের অপমান না করে তাদেরকে গোপন করা জরুরী। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'জনের নাম বর্ণনা করেননি।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. মসজিদে পেশাব করা
৭৬৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক বেদুঈন এলো। অতঃপর সে উঠে দাঁড়াল এবং মসজিদের এক কোণে পেশাব করতে শুরু করলো।তিনি (রাবী) বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ হৈ চৈ শুরু করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার থেকে তাদেরকে নিবৃত্ত করলেন, অতঃপর এক বালতি পানি আনিয়ে তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন।[1]
بَابُ الْبَوْلِ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَامَ بَالَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ قَالَ فَصَاحَ بِهِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَفَّهُمْ عَنْهُ ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَى بَوْلِهِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২১৯; সহীহ মুসলিম ২৮৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৩৪৬৭, ৩৬৫২, ৩৬৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪০১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৩০; আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. যে শিশু (এখনও মাতৃদুগ্ধ ব্যতীত অন্য কোনো) খাদ্য খায় নি, এমন শিশুর পেশাব
৭৬৪. উম্মু কায়িস বিনতে মিহসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তার এক শিশু পুত্রকে নিয়ে এলেন, যে তখনও খাবার খাওয়ার মতো বয়সে পৌঁছায়নি। তিনি তাকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিলো। তখন তিনি পানি আনালেন, অতঃপর তা তাঁর (কাপড়ের) উপর ছিটিয়ে দিলেন কিন্তু তিনি তা ধৌত করলেন না।[1]
بَابُ بَوْلِ الْغُلَامِ الَّذِي لَمْ يَطْعَمْ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَحَدَّثَنَاهُ عَنْ يُونُسَ أَيْضًا عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ أَنَّهَا أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِابْنٍ لَهَا لَمْ يَبْلُغْ أَنْ يَأْكُلَ الطَّعَامَ فَأَجْلَسَتْهُ فِي حِجْرِهِ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২২৩; সহীহ মুসলিম ২৮৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৭৩, ১৩৭৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. ভূমির এক অংশ আরেক অংশকে পবিত্র করে
৭৬৫. ইবরাহীম ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আউফ এর উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) হতে বর্ণিত, তিনি উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে প্রশ্ন করেছিলেন এই বলে: আমি একজন নারী, আমার কাপড়ের নিম্নভাগ প্রলম্বিত করে (ঝুলিয়ে) পরি। এরপর (অনেক সময়) আমি ময়লা আবর্জনার স্থান দিয়েও চলাচল করি। (ফলে আমার কাপড় কিভাবে পবিত্র করবো?) উম্মু সালামাহ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এ (অপবিত্র মাটির) পরবর্তী যে (পবিত্র) মাটি রয়েছে, তা একে পবিত্র করে দেবে।”[1] আমি (রাবী) আবু মুহাম্মদ (দারেমী)কে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি এটি গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: আমি জানি না।
بَابُ الْأَرْضِ يُطهِّرُ بَعْضُهَا بعْضًا
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي فَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهَذَا قَالَ لَا أَدْرِي
في إسناده جهالة ولكنه صحيح بشواهده
আবার এর শাহিদ আয়েশা রা: হতে বর্ণিত হাদীসটি যা সহীহ বুখারী নং ২২২; সহীহ মুসলিম ২৮৬ এ সংকলিত হয়েছে। আর এর তাখরীজ করেছি আমরা মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৬২৩ এ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৭২ এ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯২৫, ৬৯৮১ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. তায়াম্মুম করা
৭৬৬. ’ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। এরপর (পথিমধ্যে) তিনি অবতরণ করলেন এবং ওযুর পানি চাইলেন অতঃপর ওযু করলেন। অতঃপর সালাতের জন্য আহবান করা হলে তিনি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন তিনি সালাত (শেষ করে পিছনে) ঘুরলেন, তখন দেখলেন এক ব্যক্তি লোকদের সাথে সালাত আদায় না করে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী দাঁড়িয়ে আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “হে অমুক! কিসে তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায়ে বাধা দিল? তখন সে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার উপর জানাবাতের কারণে গোসল ফরয হয়েছে, কিন্তু পানি নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “মাটি ব্যবহার করো (তায়াম্মুম করো)। আর এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।”[1]
بَابُ التَّيمُّمِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ حَدَّثَنِي أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ ثُمَّ نَزَلَ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَلَمَّا انْفَتَلَ مِنْ صَلَاتِهِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَنَعَكَ يَا فُلَانُ أَنْ تُصَلِّيَ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৪৪; সহীহ মুসলিম ৬৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০১, ১৩০২, ১৪৬১; এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১২২; বাইহাকী, দালাইলুন নবুওয়াত ৪/২৭৭-২৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. তায়াম্মুম করা
৭৬৭. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি কোনো এক সফরে বের হলো। এরপর সালাতের সময় উপস্থিত হলো, কিন্তু তাদের সাথে কোনো পানি ছিল না। তখন তারা উভয়ে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করলো এবং সালাত আদায় করলো। এরপর সালাতের ওয়াক্ত পার হওয়ার পর তারা পানি পেলো। ফলে তাদের মধ্যেকার একজন ওযু করে পুনরায় সালাত আদায় করলো, কিন্তু অপর জন তা পুনরায় আদায় করলো না। তারপর তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে এ ঘটনা উল্লেখ করলো। তখন যে লোকটি সালাত পুনরায় আদায় করেনি, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি সুন্নাতকে গ্রহণ করেছো এবং তোমার এ সালাত তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।” আর যে ওযু করে পুনরায় সালাত আদায় করেছিলো, তিনি তাকে বললেন: “তোমার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।”[1]
بَابُ التَّيمُّمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَجُلَانِ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتْهُمَا الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ بَعْدُ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلَاةَ بِوُضُوءٍ وَلَمْ يُعِدْ الْآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَا ذَلِكَ فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَتْكَ صَلَاتُكَ وَقَالَ لِلَّذِي تَوَضَّأَ وَأَعَادَ لَكَ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ
إسناده حسن
তাখরীজ: আবুদাউদ ৩৩৮; নাসাঈ ৪৩৩; দারুকুতনী ১/১৮৯; বাইহাকী ১/২৩১; এটি ইবনু লাহিয়া ও লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ -এ দু’জনের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর এ দু’জনই যয়ীফ।
আর শাহিদ আয়িশা রা: বর্ণিত হাদীস যা এর মানকে সমুন্নত করে, তা সামনে ৭৭৩ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. তায়াম্মুম এক বার করে (মাসেহ করা)
৭৬৮. আম্মার ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়াম্মুমের ব্যাপারে বলতেন: “মুখমণ্ডল ও হাত (মাসেহ)-এর জন্য মাটিতে (হাত) মারা একবার।”[1] আব্দুল্লাহ বলেন: এর সনদ সহীহ।
بَابُ التَّيمُّمِ مرَّةً
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عَزْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي التَّيَمُّمِ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ صَحَّ إِسْنَادُهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: (সহীহ বুখারী ৩৪৭; সহীহ মুসলিম ৩৬৮) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০৩, ১৮৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৪৪।
এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনুল জারুদ নং ১২৬; দারুকুতনী ১/১৮২-১৮৩। আরও দেখুন মুয়ায রা: এর হাদীস যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. তায়াম্মুম এক বার করে (মাসেহ করা)
৭৬৯. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র নিকট হতে একটি গলার হার ধার করেছিলেন। (পাথিমধ্যে) সেটি হারিয়ে গেলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সেটির খোঁজে পাঠালেন। যখন সালাতের সময় হলো, তখন তারা ওযু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ফিরে এলেন, তখন তারা এ ব্যাপারে তাঁর নিকট অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হলো। তখন উসাইদ ইবনু হুযাইর (আয়েশা রা: কে লক্ষ্য করে) বললেন: ’আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।’ কেননা, আল্লাহর কসম! আপনি যখনি কোনো (অপছন্দনীয়) অবস্থায় পড়েছেন, তখনই আল্লাহ আপনাকে তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দিয়েছেন এবং সেই বিষয়টিতে মুসলিমগণের জন্য বরকত রেখেছেন।[1]
بَابُ التَّيمُّمِ مرَّةً
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا اسْتَعَارَتْ قِلَادَةً مِنْ أَسْمَاءَ فَهَلَكَتْ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِهِ فِي طَلَبِهَا فَأَدْرَكَتْهُمْ الصَّلَاةُ فَصَلَّوْا مِنْ غَيْرِ وُضُوءٍ فَلَمَّا أَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَكَوْا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَنَزَلَتْ آيَةُ التَّيَمُّمِ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ قَطُّ إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ لَكِ مِنْهُ مَخْرَجًا وَجَعَلَ لِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ بَرَكَةً
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৩৪-৩৩৬; সহীহ মুসলিম ৩৬৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০০, ১৭০৯।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. জানাবাত (বড় অপবিত্রতা) হতে গোসল করা
৭৭০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (জানাবাতের গোসলের) জন্য পানি রাখলাম। (প্রথমে) তিনি তাঁর হাত দু’টিতে পানি ঢাললেন। এরপর (বাম) হাত দিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। এরপর তিনি (হাতে) পানি ঢাললেন এবং মাটিতে কিংবা দেয়ালে (রাবী সুলাইমানের সন্দেহ) (বাম) হাত ঘষে নিলেন। অতঃপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন। এবং এরপর তিনি মাথা ও সারা শরীরে পানি ঢাললেন। যখন তিনি গোসল শেষ করলেন, তখন একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুলেন। এরপর আমি তাকে একটি রুমাল দিলাম, তিনি তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন। তিনি (আরও) বলেন: তিনি যতক্ষণ গোসল করতেন, ততক্ষণ আমি তাঁকে পর্দা করে রাখতাম। (বর্ণনাকারী) সুলাইমান বলেন: (অপর বর্ণনাকারী) সালিম উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গোসল ছিল জানাবাতের গোসল।[1]
بَابٌ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاءً فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَغْسِلُ بِهَا فَرْجَهُ فَلَمَّا فَرَغَ مَسَحَهَا بِالْأَرْضِ أَوْ بِحَائِطٍ شَكَّ سُلَيْمَانُ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ وَجَسَدِهِ فَلَمَّا فَرَغَ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ فَأَعْطَيْتُهُ مِلْحَفَةً فَأَبَى وَجَعَلَ يَنْفُضُ بِيَدِهِ قَالَتْ فَسَتَرْتُهُ حَتَّى اغْتَسَلَ قَالَ سُلَيْمَانُ فَذَكَرَ سَالِمٌ أَنَّ غُسْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا كَانَ مِنْ جَنَابَةٍ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৪৯; সহীহ মুসলিম ৩১৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯০ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. জানাবাত (বড় অপবিত্রতা) হতে গোসল করা
৭৭১. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (জানাবাতের গোসলের) শুরুতে দু’হাত ধুতেন। এরপর সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন। তারপর পানিতে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে হাত দিয়ে তাঁর চুলের গোড়া খিলাল করতেন যতক্ষণ না তাঁর মনে হতো যে (চুলের গোড়ার) মাথার চামড়া ভিজে গেছে। হাত দিয়ে অঞ্জলী ভরে মাথায় তিন অঞ্জলী পানি ঢালতেন। তারপর মাথায় পানি ঢালতেন এবং (এরপর সারা শরীর) ধৌত করতেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: সালিম ইবনু আবীল জা’দের হাদীসের চেয়ে এটাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
بَابٌ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُدْخِلُ كَفَّهُ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعْرِهِ حَتَّى إِذَا خُيِّلَ إِلَيْهِ أَنَّهُ قَدْ اسْتَبْرَأَ الْبَشَرَةَ غَرَفَ بِيَدِهِ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ فَصَبَّهَا عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ اغْتَسَلَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حَدِيثِ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৪৮; সহীহ মুসলিম ৩১৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯১, ১১৯৬, ১১৯৭; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. কোনো লোক ও তার স্ত্রী উভয়ের একই পাত্র হতে গোসল করা
৭৭২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র হতে (পানি নিয়ে) জানাবাতের গোসল করেছি।’[1]
بَابُ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ يَغْتَسِلَانِ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنْ الْجَنَابَةِ
الحديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৫০; সহীহ মুসলিম ৩১৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪১২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১০৮, ১১৯৩-১১৯৫; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. কোনো লোক ও তার স্ত্রী উভয়ের একই পাত্র হতে গোসল করা
৭৭৩. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র হতে (পানি নিয়ে) গোসল করেছি। আর সেই পাত্রটি ছিল ’ফারাক’[1]।’[2]
بَابُ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ يَغْتَسِلَانِ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَهُوَ الْفَرَقُ
إسناده صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরুক্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. যে ব্যক্তি জানাবাতের গোসলে চুল পরিমাণ স্থানও (শুকনো অবস্থায়) ছেড়ে দেয়
৭৭৪. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জানাবাতের গোসলে চুল পরিমাণ স্থানও (শুকনো অবস্থায়) ছেড়ে দেয়, যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তাকে জাহান্নামে এই এই শাস্তি দেয়া হবে”। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আর এই জন্যই আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করি। আর তিনি তাঁর চুলকে কেটে ফেলেন।[1]
بَابُ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ فُعِلَ بِهَا كَذَا وَكَذَا مِنْ النَّارِ قَالَ عَلِيٌّ فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي وَكَانَ يَجُزُّ شَعْرَهُ
لم يحكم عليه المحقق
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০০; ইবনু মাজাহ ৫৯৯; তায়ালিসী ১/৬১ নং ২৩১; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/২০০; আহমাদ ১/৯৪, ১০৪; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আল মুসনাদ ১/১৩৩; আবু দাউদ ২৪৯; বাইহাকী ১/১৭৫, ২২৭; তাবারী, তাহযীবুল আছার, মুসনাদে আলী পৃ: ২৭৬ নং ৪১, ৪২; বাযযার, আল বাহরুয যুখ্খার নং ৮১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭০. আহত ব্যক্তি জুনুবী বা নাপাক হলে
৭৭৫. আতা ইবনু আবী রাবাহ বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি আহত হয়। এরপর (রাতে) তার স্বপ্নদোষ হয়। আর লোকেরা তাকে গোসল করার জন্য নির্দেশ দেয়। ফলে সে মৃত্যু বরণ করে। তখন এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন: “তারা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! প্রশ্ন করাই (তাদের) অজ্ঞতার প্রতিকার নয় কি?”[1]আতা বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: “সে যদি তার আঘাতপ্রাপ্ত স্থান মাথা বাদ দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলতো, (তবে তা-ই যথেষ্ট হতো)।”[2]
بَابُ الْمَجْرُوحِ تُصِيبُهُ الْجَنَابَةُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ إِنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يُخْبِرُ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَهُ جُرْحٌ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَصَابَهُ احْتِلَامٌ فَأُمِرَ بِالِاغْتِسَالِ فَمَاتَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَتَلُوهُ قَتَلَهُمْ اللَّهُ أَلَمْ يَكُنْ شِفَاءَ الْعِيِّ السُّؤَالُ وَقَالَ عَطَاءٌ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ لَوْ غَسَلَ جَسَدَهُ وَتَرَكَ رَأْسَهُ حَيْثُ أَصَابَهُ الْجُرْحُ
إسناده منقطع ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩১৪; ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০১। ((হাকিম ১/১৬৫, ১৭৮, হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন; ইবনু মাজাহ ৫৭২; বাইহাকী ১/২২৬-২২৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ নং ২৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০৪; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ৮৬৭; আহমাদ ১/৩৩০; আবু দাউদ ৩৩৭।
আর এর শাহিদ হাদীস জাবির রা: থেকে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৩৩৫, ৩৩৬; বাইহাকী ১/২২৭ )
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদও মুনকাতি’। এটি আতা’ হতে মুরসাল বর্ণনাসমূহের একটি।
তাখরীজ: দারুকুতনী ১/১৯১; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ২/৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যিনি একাধিক স্ত্রীর নিকট গমণ করে একবার গোসল করেন
৭৭৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের নিকট গমণ করতেন।[1]
بَابٌ فِي الَّذِي يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১২৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪২, ৩১৭৫, ৩১৭৬, ৩২০৩, ৩৭১৮, ৩৭১৯, ৩৮৮৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০৬-১২০৯; এবং পরের টীকাটি দেখুন। (সহীহ বুখারী ২৬৮; সহীহ মুসলিম ৩০৯; আহমাদ ৩/১৮৫; তিরমিযী ১৪০; আবু দাউদ ২১৮; নাসাঈ ১/১৪৩, ১৪৪ ও ৬/৫৩, ৫৪; ইবনু মাজাহ ৫৮৮; বাইহাকী ১/২০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২৩১; সহীহ ইবনু হিব্বান , ১১৯৫. ১১৯৬; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১০৬১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৬৯, ২৭০; আবুশ শাইখ, আখলাকুন নাবী সা:, পৃ: ২৩১; আবু আওয়ানাহ ১/২৮০; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৩২; তাবারানী, আস সগীর ১/২৪৬; অনেকগুলো সূত্রে। - মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪১, ২৯৪২ এর টীকা অনুসরণে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যিনি একাধিক স্ত্রীর নিকট গমণ করে একবার গোসল করেন
৭৭৭. (অপর সূত্রে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের সাথে মিলিত হতেন।[1]
بَابٌ فِي الَّذِي يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ جُمَعَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৫২; আর পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. যা দিয়ে পর্দা করা পছন্দনীয়
৭৭৮. আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা আমাকে তাঁর বাহনে তাঁর পিছনে আরোহন করালেন। তারপর তিনি আমাকে একটি গোপন কথা বললেন যা আমি কোনো লোককে বলিনি। আর তাঁর হাজত পূরণের সময় যা দিয়ে আড়াল করতে তিনি পছন্দ করতেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল টিলা (উচ্চভূমি) অথবা, ঘন খেজুর বাগান।[1]
بَابُ مَا يُسْتَحَبُّ أَنْ يُسْتَتَرَ بِهِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ فَأَسَرَّ إِلَيَّ حَدِيثًا لَا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنْ النَّاسِ وَكَانَ أَحَبَّ مَا اسْتَتَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আর এটি গত হয়েছে ৬৯০ নং এ গত হয়েছে (আমাদের গণনায় তা ৬৮৬ নং-অনুবাদক)। দেখুন নাইলুল আওতার ১/৯২।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. ‘জুনুবী’ (বীর্যপাতের কারণে অপবিত্র ব্যক্তি) যদি ঘুমাতে চায়
৭৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) উমার রিদওয়ানুল্লাহু আলাইহি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলেন। বললেন: ’রাতে যদি ’জুনুবী’ (অপবিত্র) হয়ে পড়ি (এমতাবস্থায় আমি গোসল না করে ঘুমাতে পারব কি)? তখন তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন যে, সে যেন তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে নেয় এবং ওযু করে, এরপর ঘুমায়।[1]
بَابُ الْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ مِنْ اللَّيْلِ فَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأَ ثُمَّ يَرْقُدَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ২৮৭; সহীহ মুসলিম ৩০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ এ; এটি আরও বর্ণিত, হয়েছে: বাইহাকী, মা’রেফাতুস সুনান নং ১৫১৬; দেখুন, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. ‘জুনুবী’ (বীর্যপাতের কারণে অপবিত্র ব্যক্তি) যদি ঘুমাতে চায়
৭৮০. আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় ঘুমাতে চাইলে কী করতেন? তিনি বললেন: তিনি সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন এরপর ঘুমাতেন।[1]
بَابُ الْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ فَقَالَتْ كَانَ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يَنَامُ
محمد بن إسحاق مدلس وقد عنعن ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৮৬; সহীহ মুসলিম ৩০৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ এ; এটি আরও বর্ণিত, হয়েছে: বাইহাকী, মা’রেফাতুস সুনান নং ১৫১৭, ১৫২০; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২২০, ২২১।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. পানি (বীর্যপাত)-এর ফলে পানি ব্যবহার (গোসল ফরয) হয়
৭৮১. আবু আইয়্যুব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম বলেছেন: “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।”[1]
بَابُ الْمَاءِ مِنَ الْمَاءِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُعَادٍ وَكَانَ مَرْضِيًّا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ
إسناده ليس بذاك ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৮, ২২৯ এ; মাওয়ারিদে আমাদের সংযোজিত টীকা দেখুন। আর এ হাদীসটি মানসুখ (রহিত)। দেখুন পরবর্তী হাদীসগুলি এবং এরউপর আমাদের টীকাসমূহ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. পানি (বীর্যপাত)-এর ফলে পানি ব্যবহার (গোসল ফরয) হয়
৭৮২. সাহল ইবনু সা’দ আস সাঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত (ইন্তেকাল) হয়, তখন তার বয়স ছিল পনের বছর। তিনি বলেন, আমার নিকট উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) এ বাণী: “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।” এর দ্বারা তারা যে ফতোয়া দিতেন, তা ছিলো আসলে একটি বিশেষ ছাড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি পরবর্তীকালে (বীর্যপাত না হলেও) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ বলেন: অপর একজন বলেন: যুহরী বলেছেন: সাহল ইবনু সা’দ এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন যিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট।[1]
بَابُ الْمَاءِ مِنَ الْمَاءِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَمِعَ مِنْهُ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أَنَّ الْفُتْيَا الَّتِي كَانُوا يُفْتَوْنَ بِهَا فِي قَوْلِهِ الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ رُخْصَةٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِيهَا فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ ثُمَّ أَمَرَ بِالِاغْتِسَالِ بَعْدُ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَقَالَ غَيْرُهُ قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي بَعْضُ مَنْ أَرْضَى عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ
إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৮, ২২৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৯ এ আমরা দীর্ঘ টীকা সংযোজন করেছি। আরও দেখুন পরবর্তী টীকাটি এবং ইবনু শাহীন, নাসিখ ওয়াল মানসূখ নং ১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. পানি (বীর্যপাত)-এর ফলে পানি ব্যবহার (গোসল ফরয) হয়
৭৮৩. সাহল ইবনু সা’দ আস সাঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।” এ কথার দ্বারা তারা যে ফতোয়া দিতেন, তা ছিলো আসলে একটি বিশেষ ছাড় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের প্রথম দিকে কিংবা প্রাথমিক যুগে এ অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি পরবর্তীকালে (বীর্যপাত না হলেও) গোসল করতেন।[1]
بَابُ الْمَاءِ مِنَ الْمَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْجَمَّالُ حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ الْحَلَبِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ أَبِي غَسَّانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنِي أُبَيٌّ أَنَّ الْفُتْيَا الَّتِي كَانُوا يُفْتَوْنَ بِهَا الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ كَانَتْ رُخْصَةً رَخَّصَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ أَوْ الزَّمَانِ ثُمَّ اغْتَسَلَ بَعْدُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন। (আরও দেখুন, সহীহ মুসলিম ৩৫০-অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. একজনের লজ্জাস্থান অপরের লজ্জাস্থান স্পর্শ করার (ফলে গোসল ফরয হওয়া) সম্পর্কে
৭৮৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সে (কোনো পূরুষ) তার (স্ত্রীর) চার শাখার (দু’হাত ও দু’পায়ের) মাঝখানে বসবে এবং তার সাথে (সঙ্গমে) চেষ্টারত হবে, তখন গোসল ফরয হবে।”[1]
بَابٌ: فِي مَسِّ الْخِتَانِ الْخِتَانَ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯১; সহীহ মুসলিম ৩৪৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৪, ১১৭৮, ১১৮২।
এটি আরও বর্ণনা করেছেন, হাইছাম ইবনু কুলাইব, আল মুসনাদ নং ১৪২১।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. পুরুষ যা স্বপ্নে দেখে, যদি স্ত্রীলোক তা স্বপ্নে দেখে (পূরুষের মত স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে) এ সম্পর্কে
৭৮৫. আতা আল খুরাসানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ. কে বলতে শুনেছি: আমার খালা খাওলাহ বিনতে হাকীম আল সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ’ইহতিলাম’ (স্বপ্নদোষ) হওয়া স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।[1]
بَابٌ: فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ سَأَلَتْ خَالَتِي خَوْلَةُ بِنْتُ حَكِيمٍ الْسُلَمِيَّةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمَرْأَةِ تَحْتَلِمُ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৪০৯; ইবনু মাজাহ ৬০২; তাবারাণী ২৪/২৪১ নং ৬১৩... (এ সনদের) আলী ইবনু যাইদ যয়ীফ।
(এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে আনাস ইবনু মালিক, আয়িশা এবং উম্মু সালামাহ রা: হতে সহীহ মুসলিম ৩১০-৩১৪। -অনুবাদক। পরবর্তী হাদীস দু’টি দেখুন)
দেখুন, উসদুল গাবাহ ৭/৯৩; আল ইসাবা ১২/২৩৪-২৩৫; আমার তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৪৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. পুরুষ যা স্বপ্নে দেখে, যদি স্ত্রীলোক তা স্বপ্নে দেখে (পূরুষের মত স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে) এ সম্পর্কে
৭৮৬. উরওয়া ইবনু যুবাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবী তালহার সন্তানের মাতা উম্মু সুলাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নিশ্চয়ই আল্লাহ হক্ব (সত্য প্রকাশ)-এর ব্যাপারে লজ্জাবোধ করেন না। পুরুষ ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায়, যদি কোনো স্ত্রীলোক তা দেখে তবে সে কি গোসল করবে বলে আপনি মনে করেন? তখন তিনি বললেন: “হাঁ।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তখন আমি বললাম, তোমার জন্য আফসোস! স্ত্রীলোকও কি সেটা দেখে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে ফিরে বললেন: “তোমার ডান হাত ধুলি মলিণ হোক! তা না হলে (সন্তান তার) সদৃশ হয় কিভাবে?”[1]
بَابٌ: فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ أُمَّ بَنِي أَبِي طَلْحَةَ دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ أَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَرَى فِي النَّوْمِ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ قَالَ نَعَمْ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ أُفٍّ لَكِ أَتَرَى الْمَرْأَةُ ذَلِكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ
إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯৫, ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৬৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. পুরুষ যা স্বপ্নে দেখে, যদি স্ত্রীলোক তা স্বপ্নে দেখে (পূরুষের মত স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে) এ সম্পর্কে
৭৮৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উম্মু সালামাহ ছিলেন, এমতাবস্থায় উম্মু সুলাইম তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন, পুরুষ ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায়, যদি কোনো স্ত্রীলোক তা দেখে (তবে সে কী করবে)? তখন উম্মু সালামাহ বললেন, তোমার হাত দু’টি ধুলি মলিণ হোক! হে উম্মু সুলাইম, তুমি নারী জাতিকে অপমানিত করেছো।’ তখন উম্মু সুলাইমের সাহাযার্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বরং তোমার দু’হাত ধুলি মলিন হোক! তোমাদের মধ্যে উত্তম তো সেই স্ত্রীলোক যে তার প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে (জেনে নেয়)। যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায়, তবে সে যেন গোসল করে।” উম্মু সালামাহ বলেন, স্ত্রীলোকদেরও কি পানি (বীর্য নির্গত) হয়? তিনি বললেন: “হাঁ, তা না হলে সন্তান তাদের সৃদশ হয় কিভাবে? নিশ্চয়ই তারা (এক্ষেত্রে) পুরুষদের সমকক্ষ।”[1]
بَابٌ: فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمُّ سُلَيْمٍ وَعِنْدَهُ أُمُّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ الْمَرْأَةُ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ تَرِبَتْ يَدَاكِ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ فَضَحْتِ النِّسَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْتَصِرًا لِأُمِّ سُلَيْمٍ بَلْ أَنْتِ تَرِبَتْ يَدَاكِ إِنَّ خَيْرَكُنَّ الَّتِي تَسْأَلُ عَمَّا يَعْنِيهَا إِذَا رَأَتْ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَلِلنِّسَاءِ مَاءٌ قَالَ نَعَمْ فَأَنَّى يُشْبِهُهُنَّ الْوَلَدُ إِنَّمَا هُنَّ شَقَائِقُ الرِّجَالِ
إسناده ضعيف محمد بن كثير هو: الصنعاني وهو ضعيف. ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩১০, ৩১৪; আহমাদ ৩/১৯৯, ২৮২; নাসাঈ ১৯৫; বাইহাকী ১/১৬৯; ইবনু আব্দুল বার, আত তামহীদ ৮/৩৩৮; ইবনু হিব্বান নং ১১৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. যে ব্যক্তি ‘ইহতিলাম’ (স্বপ্নদোষ) -এর কথা স্মরণ করতে পারল না, কিন্তু কাপড়ে আদ্রতা (ভেজা) দেখতে পেল
৭৮৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে লোক জেগে উঠে কাপড়ে আদ্রতা (ভেজা) দেখে কিন্তু স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারে না। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “সে যেন গোসল করে, কারণ যদি তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু (বীর্যপাতের কারণে) কাপড়ে আদ্রতা দেখতে না পায়, তবে তার গোসলের প্রয়োজন নেই।” [1]
بَابُ مَنْ يَرَى بَلَلًا، وَلَمْ يَذْكُرِ احْتِلَامًا
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَوْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرَّجُلِ يَسْتَيْقِظُ فَيَرَى بَلَلًا وَلَمْ يَذْكُرْ احْتِلَامًا قَالَ لِيَغْتَسِلْ فَإِنْ رَأَى احْتِلَامًا وَلَمْ يَرَ بَلَلًا فَلَا غُسْلَ عَلَيْهِ
إسناده حسن
তাখরীজ: আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৯৪ তে এ সনদ কে যয়ীফ বলেছি।
((বাইহাকী ১/১৬৭; আহমাদ ৬/২৫৬; আবু দাউদ ২৩৬; তিরমিযী ১১৩; ইবনু মাজাহ ৬১২।- মুহাক্বিক্ব দারানীর তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৬৯৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
এটি আরও বর্ণনা করেছেন: দারুকুতনী ১/১৩৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জেগে ওঠে
৭৮৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন তার হাত তিনবার ধোয়ার পূর্বে তা ওযুর পাত্রের পানিতে ডুবিয়ে না দেয়।”[1]
بَابُ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْوَضُوءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৮০; সহীহ মুসলিম ৬০৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৬৩, ৫৯৬১, ৫৯৭৩; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৬১, ১০৬২; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮১-৯৮২।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. যে ব্যক্তি পায়খানা থেকে বের হওয়ার পরপরই খাদ্য গ্রহণ করে
৭৯০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি পায়খানায় প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বের হলেন, ইতোমধ্যে খাবার নিয়ে আসা হলো। তাঁকে বলা হলো: আপনি ওযু করলেন না? তখন জবাবে তিনি বললেন: “আমি কি সালাত আদায় করবো যে, ওযু করতে হবে?”[1]
بَابُ الرَّجُلِ يَخْرُجُ مِنَ الْخَلَاءِ فَيأْكُلُ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ الْغَائِطَ ثُمَّ خَرَجَ فَأُتِيَ بِطَعَامٍ فَقِيلَ أَلَا تَتَوَضَّأُ فَقَالَ أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৭৪ (১১৯); তিরমিযী, শামাইল নং ১৮৬, ১৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/২৩৯; বাইহাকী ১/৪২; আহমদ ১/৩৫৯; আবু দাউদ ৩৭৬০; নাসাঈ ১৩২; তাবারানী, আল কাবীর ১১/১২২ নং ১১২৪১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৮৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমা, অপর একটি সহীহ সনদে; আহমাদ ১/২৮২ অপর সনদে; অপর সনদে তাবারানী, আল কাবীর ১২/৮২ নং ১২৫৪৭; আরও দেখুন ফাতহুল বারী ১/২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. ‘মুস্তাহাযা’ (রক্তপ্রদরের) রোগিণী
৭৯১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ, যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তুমি গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।” আয়িশা বলেন: এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। আর তিনি তার বোন যায়নাব বিনতে জাহশের একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো।[1]
بَابٌ: فِي الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَبْعَ سِنِينَ فَشَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَإِنَّمَا هِيَ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ ثُمَّ تُصَلِّي وَكَانَتْ تَقْعُدُ فِي مِرْكَنٍ لِأُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى إِنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ২২৮; সহীহ মুসলিম ৩৩৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৮, ১৩৫০, ১৩৫৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৩।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
৭৯২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়ামরত অবস্থায় তার সাথে মেলামেশা[1] (স্পর্শ) করতেন।[2]
بَابُ الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ
إسناده صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৯২৭; সহীহ মুসলিম ১১০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
৭৯৩. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়ামরত অবস্থায় তার সাথে মেলামেশা[1] (স্পর্শ) করতেন।[2]
بَابُ الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ رَوْحُ بْنُ أَسْلَمَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ
إسناده صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পূনরুক্তি। আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮২. নারীর হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় জায়নামায বিছিয়ে দেয়া
৭৯৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: “আমাকে জায়নামায[1] এনে দাও।” তখন তিনি (আয়েশা) বলেন, আমি তো হায়েযগ্রস্ত। তখন তিনি বলেন: “তা তো তোমার হাতে লেগে নেই।”[2]
بَابُ الْحَائِضِ تُبْسِطُ الْخُمْرَةَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سُلَيْمَانُ أَخْبَرَنِي عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ قَالَتْ إِنِّي حَائِضٌ قَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ فِي يَدِكِ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪৮৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫৭, ১৩৫৮ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে (এর হুকুম)
৭৯৫. ফাতিমা বিনতে আল মুনযির তার দাদি আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এক মহিলা হতে শুনেছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, যখন সে হায়েয হতে পবিত্র হবে, তখন সে তার কাপড় কিভাবে (পবিত্র) করবে? তিনি বলেছিলেন: “যদি সে তার কাপড়ে রক্ত দেখতে পায় তবে সে তা ঘষে ও খুঁটিয়ে তুলে ফেলবে অতঃপর তোমার পুরো কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দেবে। এরপর তুমি সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।”[1]
بَابٌ فِي دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ جَدَّتِهَا أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً وَهِيَ تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ تَصْنَعُ بِثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ مِنْ مَحِيضِهَا قَالَ إِنْ رَأَيْتِ فِيهِ دَمًا فَحُكِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ ثُمَّ انْضَحِي فِي سَائِرِ ثَوْبِكِ ثُمَّ صَلِّي فِيهِ
إسناده صحيح
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৬, ৩৬১; আহমাদ ৬/৩৪৫, ৩৪৬,৩৫৩; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫; বুখারী ২২৭; সহীহ মুসলিম ২৯১; তিরমিযী ১৩৮; নাসাঈ ২৯৪; আমি এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯৬-১৩৯৮ নং ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩২২ তে পূর্ণ তাখরীজ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৭৯৬. উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হায়িয (এর গোসল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি জবাবে বললেন: “তোমরা কুলপাতা মিশ্রিত পানি নাও, এরপর (তা দিয়ে) সুন্দরভাবে ধৌত করো এবং মাথায় পানি ঢালবে যাতে তা তোমার চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়। তারপর সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো কাপড় নিয়ে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা দ্বারা সে কিভাবে (পবিত্রতা অর্জন) করবে? তখন তিনি চুপ থাকলেন। সে আবার বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা দ্বারা সে কিভাবে (পবিত্রতা অর্জন) করবে? তখনও তিনি চুপ থাকলেন। তখন আয়িশা বললেন: সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো কাপড় নিয়ে তা রক্তের চিহ্নের উপর বুলিয়ে দিবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা শুনলেন কিন্তু তিনি এতে অস্বীকৃতি জানাননি।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ سَأَلَتْ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْحَيْضِ قَالَ خُذِي مَاءَكِ وَسِدْرَكِ ثُمَّ اغْتَسِلِي وَأَنْقِي ثُمَّ صُبِّي عَلَى رَأْسِكِ حَتَّى تَبْلُغِي شُؤُونَ الرَّأْسِ ثُمَّ خُذِي فِرْصَةً مُمَسَّكَةً قَالَتْ كَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ قَالَتْ فَكَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ خُذِي فِرْصَةً مُمَسَّكَةً فَتَتَبَّعِي بِهَا آثَارَ الدَّمِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَعُ فَمَا أَنْكَرَ عَلَيْهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: বুখারী ৩১৪; সহীহ মুসলিম ৩৩২;
আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯৯, ১২০০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৭ তে পূর্ণ তাখরীজ ও পার্শ্বটীকা দিয়েছি, কিন্তু সহীহ ইবনু হিব্বানে সূত্র উল্লেখে করতে ভুল করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৭৯৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা। আমি পবিত্র হই না, ফলে সালাত পরিত্যাগ করি। তখন তিনি বললেন: না, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তোমার (দেহ) হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং সালাত আদায় করবে।”[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ قَالَ لَا إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু আউয়ানাহ, ১/৩১৯; সহীহ বুখারী ২২৮; সহীহ মুসলিম ৩৩৩।
আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৬, ৪৭৯৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৩ তে পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি। হাদীসটি সামনে ৮০৬ নং আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৭৯৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহাশের কন্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সে পানি ভরা একটি পাত্রের মধ্যে বসতো এবং তাতে (শরীরের নিম্নাংশ) ডুবানোর পর পাত্র হতে উঠে আসতো। তখন পানির উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তবর্ণ ধারণ করতো। অতঃপর সে সালাত আদায় করতো।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَةَ جَحْشٍ اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَإِنْ كَانَتْ لَتَدْخُلُ الْمِرْكَنَ وَإِنَّهُ لَمَمْلُوءٌ مَاءً فَتَنْغَمِسُ فِيهِ ثُمَّ تَخْرُجُ مِنْهُ وَإِنَّ الدَّمَ لَعَالِيهِ فَتُصَلِّي
إسناده ضعيف فيه عنعنة محمد بن إسحاق
তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৩৭; তাবারানী, আস সগীর ১/৭৫; আবু দাউদ ২৯২; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৯৮, ১০১; দেখুন সামনের ৮০৫ নং হাদীসটি। আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪০৫, ৪৪১০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫০. ১৩৫৩ তে পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৭৯৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক মহিলাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে নির্দেশ দেন। ফলে সেটি তার উপর কষ্টদায়ক হলে যোহর ও আসর সালাতকে একত্রে এক গোসলে, মাগরিব ও ঈশা’ এক গোসলে এবং ফজর এক গোসলে আদায় করতে নির্দেশ দেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: লোকেরা বলতো, (মহিলাটির নাম ছিল) সাহলাহ বিনতু সুহাইল; ইয়াযীদ ইবনু হারুন বলেন, (তার নাম) সুহাইলাহ বিনতু সাহল।
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا هِيَ فُلَانَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَمَرَهَا بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهَا أَمَرَهَا أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ وَبَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ وَتَغْتَسِلَ لِلْفَجْرِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد النَّاسُ يَقُولُونَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ قَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ سُهَيْلَةُ بِنْتُ سَهْلٍ
إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن إسحاق
তাখরীজ: আবু দাউদ ২৯৫ (একই অর্থে ভিন্ন সনদে); যা সামনে ৮১২ নং এ আসছে। এর জন্য পূর্বের আয়িশার হাদীসটি ও পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০০. শু’বাহ বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিমকে মুসতাহাযাহ’ (ইস্তিহাযাহগ্রস্ত) নারী’র ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি তার পিতার সূত্রে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে তাকে আদেশ দেয়া হয়েছিল.... তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আব্দুর রহমানকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আদেশ করেছিলেন? তিনি বললেন: আমি তোমাকে আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কোনোকিছু বর্ণনা করব না। তিনি বলেন: তাকে আদেশ করা হয়েছিল, সে (মহিলা) যেন আসরের সালাত তার প্রারম্ভিক সময়ে এবং যুহরের সালাত তার শেষ সময়ে একই গোসলে আদায় করে। একইভাবে সে যেন মাগরিবকে পিছিয়ে তার শেষ সময়ে এবং ঈশা’কে তার প্রথম সময়ে একই গোসলে আদায় করে এবং ফজরের সালাতের জন্য একবার গোসল করে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ فَأَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ امْرَأَةً اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُمِرَتْ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهَا قَالَ لَا أُحَدِّثُكَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَأُمِرَتْ أَنْ تُؤَخِّرَ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلَ الْعَصْرَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلًا وَتُؤَخِّرَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلَ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلًا وَتَغْتَسِلَ لِلصُّبْحِ غُسْلًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/৬৩ নং ২৪১; আবু দাউদ ২৯৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০০; বাইহাকী ১/৩৫২।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ, যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তুমি গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।” আয়িশা বলেন: এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। তিনি আরও বলেন: আর তিনি তার বোন যায়নাব বিনতে জাহশের একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ سَبْعَ سِنِينَ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِحِيضَةٍ إِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ ثُمَّ تُصَلِّي قَالَتْ وَكَانَتْ تَقْعُدُ فِي مِرْكَنٍ لِأُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى إِنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৮৩; আবু ইয়ালা মাউসিলী, আল মুসনাদ ৪৪০৫; মুসনাদুল মাউসিলীতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি, সেখানে দেখুন। আরও দেখুন পূর্বোক্ত ৮০২ (৭৯১ আমাদের ক্রমিকে-অনুবাদক) নং হাদীসের টীকাটি এবং পরবর্তী ৮০৮-৮১১ নং হাদীস দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা। এর জন্য আমি কি সালাত পরিত্যাগ করব? তখন তিনি বললেন: না, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। এটি হায়েয নয়। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তার (হায়েযের) নির্ধারিত দিনগুলি অতিবাহিত হবে, তখন তোমার (দেহ) হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং গোসল করে সালাত আদায় করবে। হিশাম বলেন: আমার পিতা বলতেন: তুমি প্রথমে একবার গোসল করবে, এরপর যা কিছু হবে, তা পবিত্র অবস্থা (ধরে নিতে) হবে এবং তুমি সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ أَفَأَتْرُكُ الصَّلَاةَ قَالَ لَا إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحِيضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلَاةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَتَوَضَّئِي وَصَلِّي قَالَ هِشَامٌ فَكَانَ أَبِي يَقُولُ تَغْتَسِلُ غُسْلَ الْأَوَّلِ ثُمَّ مَا يَكُونُ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَطَّهَّرُ وَتُصَلِّي
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০৩; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন হাদীস নং ৮০১ (আমাদের ক্রমিকে দেখুন ৭৯৭ নং হাদীস এর টীকা-অনুবাদক। )
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক মহিলার রক্ত নির্গত হতেই থাকতো। ফলে উম্মু সালামাহ তার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ফতোয়া চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “সে এখন যে অবস্থায় (রক্ত ঝরা রোগাবস্থায়), এ অবস্থা শুরু হওয়ার পূর্বে যে কয়দিন হায়েয হতো, সে যেন সেই কয়দিন গণনা করে; কেননা, মাসের সেই কয়দিন তার (হায়েযের) নির্ধারিত সময়। ফলে সেই কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করবে, আবার যখন এ কয়দিন অতিক্রান্ত হবে, তখন সালাতের সময় উপস্থিত হলে তুমি গোসল করে এবং কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَجُلًا أَخْبَرَهُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَفْتَتْ أُمُّ سَلَمَةَ لَهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ لِتَنْظُرْ عَدَدَ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ قَبْلَ أَنْ يَكُونَ بِهَا الَّذِي كَانَ وَقَدْرَهُنَّ مِنْ الشَّهْرِ فَتَتْرُكْ الصَّلَاةَ لِذَلِكَ فَإِذَا خَلَفَتْ ذَلِكَ وَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ تُصَلِّي
إسناده فيه جهالة ولكن الحديث صحيح
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার প্রচুর রক্ত নির্গত হয়। তখন তিনি বলেন: “গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।”[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَلَبَنِي الدَّمُ قَالَ اغْتَسِلِي وَصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: আহমাদ ৬/১৪১; পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য আগের ৮০৫ (৮০১) নং হাদীসের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৫. আম্মারাহ বিনতে আব্দুর রহমান ইবনু সা’দ ইবনু যিরারাহ হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলো। আর তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। ফলে তিনি এ ব্যাপারে তাঁর নিকট অভিযোগ করলেন এবং তাঁর নিকট ফতোয়া চাইলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। তুমি গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।” আয়িশা বলেন: এরপর উম্মু হাবীবাহ প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। আর তিনি একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো। তারপর তিনি সালাত আদায় করতেন।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ جَاءَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَيْهِ وَاسْتَفْتَتْهُ فِيهِ فَقَالَ لَهَا إِنَّ هَذَا لَيْسَ بِالْحِيضَةِ إِنَّمَا هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّي وَكَانَتْ تَجْلِسُ فِي الْمِرْكَنِ فَتَعْلُو حُمْرَةُ الدَّمِ الْمَاءَ ثُمَّ تُصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু আউয়ানাহ ১/৩২০; আবু ইয়ালা, আল মুসনাদ নং ৪৪১০; ইবনু হিব্বান, আস সহীহ নং ১৩৫১; আরও দেখুন পূর্বের ৮০৫ নং হাদীসটি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন আমার তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী ও সহীহ ইবনু হিব্বান।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহাশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে যখন সে পানি ভরা একটি পাত্রের মধ্যে বসতো এবং তাতে (শরীরের নিম্নাংশ) ডুবানোর পর পাত্র হতে উঠে আসতো, তখন পানির উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তবর্ণ ধারণ করতো। অতঃপর সে সালাত আদায় করতো।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ كَانَتْ اسْتُحِيضَتْ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَإِنْ كَانَتْ لَتَنْغَمِسُ فِي الْمِرْكَنِ وَإِنَّهُ لَمَمْلُوءٌ مَاءً ثُمَّ تَخْرُجُ مِنْهُ وَإِنَّ الدَّمَ لَعَالِيهِ فَتُصَلِّي
في إسناده عنعنة ابن إسحاق
তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৩৭; এটি ৮০২, ৮০৫ (৭৯৮, ৮০১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৭. কাসিম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (সেই মহিলা) ছিল বাদিয়্যাহ বিনতে গায়লান আস সাকাফিয়্যাহ।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ أَنَّهَا كَانَتْ بَادِيَةَ بِنْتَ غَيْلَانَ الثَّقَفِيَّةَ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি (ইসতিহাযাগ্রস্ত সেই মহিলা) ছিলো সাহলাহ বিনতে সুহাইল ইবনু আমর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে নির্দেশ দেন। ফলে সেটি তার উপর কষ্টদায়ক হলে তিনি তাকে যোহর ও আসর সালাতকে একত্রে এক গোসলে, মাগরিব ও ঈশা’ এক গোসলে এবং ফজর এক গোসলে আদায় করতে নির্দেশ দেন।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا هِيَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو اسْتُحِيضَتْ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَمَرَهَا بِالْغُسْلِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ فَلَمَّا جَهَدَهَا ذَلِكَ أَمَرَ أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ وَتَغْتَسِلَ لِلصُّبْحِ
إسناده ضعيف غير أن الحديث صحيح
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০১; ইবনু মানদাহ- হাফিজ (ইবনু হাজার) তার আল ইসাবাহ ১২/১৫১-১৫২ অপর সনদে এটি উল্লেখ করেছেন। আর এর সনদটি যয়ীফ। তবে হাদীসটি সহীহ, যা ৮০৩ (অনুবাদের ক্রমিক নং ৭৯৯) তে গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮০৯. সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (সেই ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার নাম সম্পর্কে) লোকদের মধ্যকার মতভেদ যে, তারা ছিল তিন মহিলা- এ সংক্রান্ত বিষয়টি আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট পৌঁছেছিলো। তাদের কেউ বললো: ’তিনি ছিলেন উম্মু হাবীবাহ।’ আবার কেউ বললো: ’তিনি ছিলেন বাদিয়্যাহ।’ আবার কেউ বললেন: ’তিনি ছিলেন সাহলাহ বিনতে সুহাইল।’[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِنَّمَا جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ أَنَّهُنَّ ثَلَاثَتَهُنَّ كُنَّ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ أُمُّ حَبِيبَةَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ بَادِيَةُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দেখুন, আগের টীকা দু’টি। এছাড়া উসদুল গাবাহ ৭/৩৪, ১৫৪-১৫৫, ২১৪; এবং হাদীস নং ৮০৩ (অনুবাদের ক্রমিক নং ৭৯৯) এর টীকাটি দেখুন। আরও দেখুন, আল ইসাবাহ ১১২, ১৫১-১৫২, ৩১৯-৩২০, ১৩/১৯২।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১০. কা’কা’ ইবনু হাকীম বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ রাহি. কে ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অবগত কোনো ব্যক্তি আর অবশিষ্ট নেই। যখন তার (মহিলা) হায়েয হয়, তখন সে যেন সালাত পরিত্যাগ করে; আর যখন হায়েয অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى أَنَّ الْقَعْقَاعَ بْنَ حَكِيمٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدًا عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي مَا بَقِيَ أَحَدٌ أَعْلَمُ بِهَذَا مِنِّي إِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَلْتَدَعْ الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ
إسناده صحيح إلى سعيد
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬-১২৭; বাইহাকী ১/৩৩০ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, (ইতিপূর্বে) যে কয়দিন তার হায়েয হতো, সেই কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করবে, তারপর গোসল করবে, অতঃপর (গোপনাঙ্গে তুলা) ভরে পুটলি বানিয়ে পট্টি বাঁধবে এরপর সালাত আদায় করবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো, যদি তার রক্ত ঝরতে থাকে, (তাহলেও কি সে সালাত আদায় করবে)? যদি তার এই নলের (ধারার) মতো রক্ত ঝরতে থাকে, (তবুও সে সালাত আদায় করবে)।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ ثُمَّ تَحْتَشِي وَتَسْتَثْفِرُ ثُمَّ تُصَلِّي فَقَالَ الرَّجُلُ وَإِنْ كَانَ يَسِيلُ قَالَ وَإِنْ كَانَ يَسِيلُ مِثْلَ هَذَا الْمَثْعَبِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/২৫২ এটি টীকায় উল্লেখ করেছেন; ইসতিহাযা গ্রস্ত নারীর গোসল করা সম্পর্কে ইবনু আব্বাসের বর্ণনা সমূহ দেখুন নং ৮১৬, ৮২৪, ৮২৭, ৮২৮, ৮৩১ ((৮১২, ৮২০, ৮২৩, ৮২৪, ৮২৭ নং অনুবাদের ক্রম)) হাদীসগুলো দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১২. আম্মার ইবনু আবী আম্মার হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ইসতিহাযাগ্রস্ত নারীদের ব্যাপারে মতামতের ক্ষেত্রে লোকদের মাঝে সকলের চেয়ে অধিক কঠোর ছিলেন। যদিও তিনি পরে তার নিকট যখন এক মহিলা এসে জিজ্ঞাসা করলো: আমি কি হায়েয অবস্থায় কা’বায় প্রবেশ করতে পারি? এরপর তিনি এর অনুমতি দিয়ে বলেন: হাঁ, যদি তোমার হায়েযের রক্ত প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে থাকে, তবে (গোপনাঙ্গে) তুলা দিয়ে পট্টি বেধে নাও, এরপর কা’বায় প্রবেশ করো।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ قَوْلًا فِي الْمُسْتَحَاضَةِ ثُمَّ رَخَّصَ بَعْدُ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ أَدْخُلُ الْكَعْبَةَ وَأَنَا حَائِضٌ قَالَ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتِ تَثُجِّينَهُ ثَجًّا اسْتَدْخِلِي ثُمَّ اسْتَثْفِرِي ثُمَّ ادْخُلِي
إسناده صحيح
তাখরীজ: আগের হাদীসের টীকাটি দেখুন। এটি আমি এ ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৩. (মাসরুকের স্ত্রী) ক্বমীর বিনতে ’ইমরান হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রা: থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (কমীর) বলেন, আমি তাকে (আয়িশা রা: কে) ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি (আয়িশা রা:) বলেন: ’এর পূর্বে (হায়েযের সময়) যে কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করতো, সেই কয়দিন সময় সে অপেক্ষা করবে। অতঃপর বিগত দিনে হায়েয অতিক্রান্ত হয়ে যখন পবিত্র হতো, সেই দিনে সে পবিত্র হবে, গোসল করবে তারপর প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُهَا عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَتْ تَنْتَظِرُ أَقْرَاءَهَا الَّتِي كَانَتْ تَتْرُكُ فِيهَا الصَّلَاةَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ طُهْرِهَا الَّذِي كَانَتْ تَطْهُرُ فِيهِ اغْتَسَلَتْ ثُمَّ تَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَصَلَّتْ
إسناده ضعيف لضعف مجالد بن سعيد
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০৫ এটি আয়িশা রা: থেকে মাওকুফ হিসেবে সহীহ; ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬; আব্দুর রাযযাক নং ১১৭০; বাইহাকী ১/৩৪৬; দেখুন সুনান আবু দাউদ ১/২১০-২১১ ৩০০ নং হাদীসের পববর্তী আলোচনা এবং সুনানে বাইহাকী ১/৩৪৬, ৩৪৭; এবং পরবর্তী হাদীসটি দুটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা যা বললেন, আবী জা’ফর থেকেও এর অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُعْتَمِرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ حَيِّهِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مِثْلَ مَا قَالَتْ عَائِشَةُ
إسناده ضعيف فيه جهالة
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬ অপর সনদে আবী জা’ফর হতে মাওকুফ হিসেবে সহীহ। যা সামনে ৮২৫ (৮২১ অনুবাদের নং) এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৫. আয়িশা রা: হতে বর্ণিত, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে (তিনি বলেন:) ’ইতিপূর্বে (হায়েযের সময়) যে কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করতো, সেই কয়দিন সময় সে অপেক্ষা করবে। অতঃপর বিগত দিনে হায়েয অতিক্রান্ত হয়ে যখন পবিত্র হতো, সেই দিনে সে পবিত্র হবে, গোসল করবে তারপর প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَامِرٍ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَنْتَظِرُ أَيَّامَهَا الَّتِي كَانَتْ تَتْرُكُ الصَّلَاةَ فِيهَا فَإِذَا كَانَ يَوْمُ طُهْرِهَا الَّذِي كَانَتْ تَطْهُرُ فِيهِ اغْتَسَلَتْ ثُمَّ تَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَصَلَّتْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদের ৩০০ নং হাদীসের পরের টীকাটি দেখুন; এবং এর পূর্বর্তী হাদীসটি এবং পরবর্তী ৮২৬ (৮২২ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৬. আদী ইবনু ছাবিত তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা প্রত্যেক মাসে তার হায়িয এর দিনগুলিতে সালাত পরিত্যাগ করবে। এরপর যখন এটা সমাপ্ত হবে, তখন সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সিয়াম পালন করবে। আর সে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ حَيْضِهَا فِي كُلِّ شَهْرٍ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ انْقِضَائِهَا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ وَصَامَتْ وَتَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح بشواهده
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০২; আবু দাউদ ২৯৭; তিরমিযী ১২৬, ১২৭; ইবনু মাজাহ ৬২৫; বাইহাকী ১/৩৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৭. হাসান রাহিমাহুল্লাহ হতে ইস্তিহাযাহগ্রস্ত মহিলাদের যারা তাদের হায়েযের দিনগুলি অবগত, তাদের সম্পর্কে (তিনি বলেন:) যদি তাকে তালাক প্রদান করা হয়, আর দীর্ঘদিন যাবত তার রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তবে সে তিন হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলির সমপরিমাণ সময় (ইদ্দত) গণনা করবে; আর সালাতের ব্যাপারে কথা হলো, প্রত্যেক মাসে যখন হায়েযের নির্ধারিত সময় আসবে তখন সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ كَثِيرٍ وَحَفْصٍ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا طُلِّقَتْ فَيَطُولُ بِهَا الدَّمُ فَإِنَّهَا تَعْتَدُّ قَدْرَ أَقْرَائِهَا ثَلَاثَ حِيَضٍ وَفِي الصَّلَاةِ إِذَا جَاءَ وَقْتُ الْحَيْضِ فِي كُلِّ شَهْرٍ أَمْسَكَتْ عَنْ الصَّلَاةِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক, ৬/৩৪৫-৩৪৬; ইবনু আবী শাইবা, ৫/১৫৮।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৮. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তার পিতা বলেন, আমি কাতাদা রাহি. কে বললাম, যে মহিলা তার হায়েযের দিনগুলি নির্দিষ্ট ছিলে; কিন্তু তার (নির্ধারিত সময়ের) চেয়েও পাঁচ দিন কিংবা চারদিন কিংবা তিনদিন অতিরিক্ত (রক্ত) প্রবাহিত হলো। (তাহলে সে কি এ দিনগুলিতে সালাত আদায় করবে)? তিনি জবাবে বললেন: সে সালাত আদায় করবে। আমি বললাম, যদি দুই দিন অতিরিক্ত হয়? তিনি বললেন, তবে সে দু’দিন তার হায়েযের দিনগুলির অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আমি এ বিষয়ে ইবনু সীরীন রাহি. কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: ’এ ব্যাপারে মহিলারাই ভালো জানে।’[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ امْرَأَةٌ كَانَ حَيْضُهَا مَعْلُومًا فَزَادَتْ عَلَيْهِ خَمْسَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ أَوْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قَالَ تُصَلِّي قُلْتُ يَوْمَيْنِ قَالَ ذَاكَ مِنْ حَيْضِهَا وَسَأَلْتُ ابْنَ سِيرِينَ قَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ২/৫৩৮; সুনানে আবু দাউদ ২৮৬ নং হাদীসের পরবর্তী ব্যাখ্যা; এবং আল মুহাল্লা ২/২০৩; ও আত তামহীদ ১৬/৭৫।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮১৯. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তার পিতা হাসান রাহি. হতে সেই মহিলা সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে তার পবিত্রতার দিনগুলিতেও রক্ত দেখতে পায়। তিনি (হাসান) বলেন, আমি মনে করি, সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الدَّمَ أَيَّامَ طُهْرِهَا قَالَ أَرَى أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ
إسناده صحيح إلى الحسن
তাখরীজ: সামনে ৮৯৪ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৯০) নং এ আসছে। আরও দেখুন, মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪।
তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান শাহর ইবনু হাওশাব এর কারণে।
তাখরীজ: আগের ৮১৫ (৮১১ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২০. শাহর ইবনু হাওশাব বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: যে কয়টা দিন ধরে তার হায়েয হতো, সে সেই কয়টা দিন পরিমাণ সময় অপেক্ষা করবে, এবং তার উপর সালাত আদায় করা হারাম। তারপর সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ না তার (পূণরায়) হায়েয হয়। (হায়েয হলে) তখন তার উপর সালাত আদায় হারাম। এরপর সে যেন গোসল করে। আর ওটি শয়তানের পক্ষ হতে। সে তাদের দু’জনের একজনকে কাফির বানাতে চায়।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ الْمَرْأَةِ تُسْتَحَاضُ قَالَ تَنْتَظِرُ قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحِيضُ فَلْتُحَرِّمْ الصَّلَاةَ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ حَتَّى إِذَا كَانَ أَوَانُهَا الَّذِي تَحِيضُ فِيهِ فَلْتُحَرِّمْ الصَّلَاةَ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ فَإِنَّمَا ذَاكَ مِنْ الشَّيْطَانِ يُرِيدُ أَنْ يُكْفِرَ إِحْدَاهُنَّ
إسناده حسن من أجل شهر بن حوشب
তাখরীজ: আগের ৮১৫ (৮১১ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২১. মুহাম্মদ ইবনু আবী জা’ফর হতে বর্ণিত, তিনি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন যে, সে তার হায়েযের দিনগুলির সমান সংখ্যক দিন সালাত পরিত্যাগ করবে। (তা অতিক্রান্ত হলে) তারপর সে গোসল করবে, (তার গোপনাঙ্গে) তুলা দিয়ে পট্টি বেধে প্রত্যেক (ওয়াক্ত) সালাতের সময় ওযু করে সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَبِي جَعْفَرٍ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَحْتَشِي كُرْسُفًا وَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি ৮১৮ (৮১৪) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২২. মাসরুকের স্ত্রী ক্বমীর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ’ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা তার হায়েযের নির্ধারিত সময়ের দিনগুলিতে (সালাত আদায় হতে) বিরত থাকবে। (তা অতিক্রান্ত হলে) তারপর সে একবার মাত্র গোসল করবে, কিন্তু প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ فِرَاسٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ قَمِيرَ امْرَأَةِ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ الْمُسْتَحَاضَةُ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৮১৭ (অনুবাদের ক্রম ৮১৩) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৩. আনাস ইবনু সীরীন বলেন, আনাসের পরিবারের এক মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত হলে তারা আমাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: এ প্রসঙ্গে কথা হলো যখন সে প্রবলভাবে (গাড় লাল) রক্ত প্রবাহিত হতে দেখবে, তখন সে সালাত আদায় করবে না। তারপর যদি সে দিনের কোনো এক মুহুর্তের জন্যও পবিত্র অবস্থা লক্ষ্য করে, তবে সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ اسْتُحِيضَتْ امْرَأَةٌ مِنْ آلِ أَنَسٍ فَأَمَرُونِي فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَمَّا مَا رَأَتْ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلَا تُصَلِّي فَإِذَا رَأَتْ الطُّهْرَ وَلَوْ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৮; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/১৬৭; আবু দাউদ ২৮৬ নং হাদীসের পরে (সনদবিহীনভাবে); বাইহাকী সুনান ১/৩৪০, আল মা’রিফাহ ১/১৬৭ নং ২২৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৪. আনাস ইবনু সীরীন বলেন, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) এক মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত হলে তারা আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা নিকট এ ব্যাপারে ফতোয়া চাই। ফলে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: যখন সে প্রবলভাবে (গাড় লাল) রক্ত প্রবাহিত হতে দেখবে, তখন সে সালাত আদায় করবে না। আর যখন সে পবিত্র অবস্থা লক্ষ্য করবে, তখন সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ كَانَتْ أُمُّ وَلَدٍ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرُونِي أَنْ أَسْتَفْتِيَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلَا تُصَلِّي فَإِذَا رَأَتْ الطُّهْرَ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ
إسناده صحيح
তাখরীজ: পূর্বের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৫. দাহহাক রাহি. হতে বর্ণিত, এক মহিলা তাকে কোনো একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলো। সে বললো, আমি একজন ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা। তখন তিনি বললেন: তুমি যখন তাজা রক্ত দেখতে পাবে, তখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে (সালাত আদায় হতে) বিরত থাকবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ حَدَّثَنَا قُرَّةُ عَنْ الضَّحَّاكِ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْهُ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَقَالَ إِذَا رَأَيْتِ دَمًا عَبِيطًا فَأَمْسِكِي أَيَّامَ أَقْرَائِكِ
إسناده ضعيف لضعف حجاج بن نصير
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৬. ইবরাহীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসতিহাযার রোগিণী মহিলা হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে (সালাত আদায় হতে) বিরত থাকবে। (যখন হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলির সমপরিমাণ সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাবে), তারপর সে যুহর ও আসর সালাতের জন্য একবার গোসল করবে। আর মাগরিবকে পিছিয়ে দিয়ে (তার শেষ সময়ে) এবং ঈশা’ কে এগিয়ে (তার প্রথম সময়ে) ঈশা’র ওয়াক্তে (এক গোসলে) আদায় করবে। আর ফজরের জন্য একবার গোসল করবে। সে সিয়াম পালন করবে না, আর তার স্বামীও তার নিকট আসতে (তার সাথে সহবাস করতে) পারবে না এবং আর সে (কুরআনের) মুসহাফ স্পর্শ করতে পারবে না।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ لِلظُّهْرِ وَالْعَصْرِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلُ الْعِشَاءَ وَذَلِكَ فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ وَلِلْفَجْرِ غُسْلًا وَاحِدًا وَلَا تَصُومُ وَلَا يَأْتِيهَا زَوْجُهَا وَلَا تَمَسُّ الْمُصْحَفَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৭২; ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ২/২১৪।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৭. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন: সে যুহর এবং আসর সালাতের জন্য একবার গোসল করবে; মাগরিব ও ঈশা’র সালাতের জন্যও একবার গোসল করবে। আর তিনি আরও বলতেন: সে যুহরকে বিলম্বিত করে (তার শেষে সময়ে) ও আসরকে এগিয়ে নিয়ে (তার প্রথম সময়ে) আদায় করবে। আর মাগরিবকে বিলম্বিত করে (তার শেষ সময়ে) এবং ঈশা’কে আগে আগে আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ غُسْلًا وَاحِدًا لِلظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَغُسْلًا لِلْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَكَانَ يَقُولُ تُؤَخِّرُ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلُ الْعَصْرَ وَتُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلُ الْعِشَاءَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭; দেখুন সুনান আবু দাউদ ১/২০৮ এবং সামনের ৮৩৩, ৯২০, ৯৩৪ (অনুবাদের ক্রম ৮২৯, ৯১৬, ৯৩০) নং হাদীসগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৮. মুজাহিদ রাহি. হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি তার (হায়েযের) নির্ধারিত দিনসমূহ (কুরু’) পরিবর্তন হয়ে যায়, আর তা যদি আসর সালাতের কাছাকাছি সময়ে হয়, তবে সে পরিপূর্ণরূপে ওযু করবে, অতঃপর কাপড় নিয়ে তা দ্বারা (তার গোপনাঙ্গে) পট্টি বাধবে। তারপর সে যুহর ও আসর সালাত একত্রে আদায় করবে। এরপর সে অনুরূপ কাজগুলো করবে, তারপর মাগরিব ও ঈশা’র সালাত একত্রে আদায় করবে। এরপর সে পুনরায় অনুরূপ কাজগুলো করে ফজরের সালাত আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا خَلَفَتْ قُرُوءَهَا فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْعَصْرِ تَوَضَّأَتْ وُضُوءًا سَابِغًا ثُمَّ لِتَأْخُذْ ثَوْبًا فَلْتَسْتَثْفِرْ بِهِ ثُمَّ لِتُصَلِّ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ لِتَفْعَلْ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ لِتُصَلِّ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا ثُمَّ لِتَفْعَلْ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ تُصَلِّي الصُّبْحَ
إسناده صحيح إلى مجاهد
তাখরীজ: এ স্থান ব্যতীত এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮২৯. আতা’, সাঈদ ও ইকরিমাহ রাহিমাহুমুল্লাহ ’ইসিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: সে প্রতিদিন প্রথম সালাত (তথা যুহর) ও আসরের সালাতের জন্য একবার গোসল করবে এবং এ দু’টি সালাত (একত্রে) আদায় করবে। আবার মাগরিব ও ঈশা’র সালাতের জন্য পুনরায় গোসল করবে এবং এ দু’টি সালাত আদায় করবে। অনুরূপভাবে সে ফজরের সালাতের জন্যও পুনরায় গোসল করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ عَطَاءٍ وَسَعِيدٍ وَعِكْرِمَةَ قَالُوا فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ لِصَلَاةِ الْأُولَى وَالْعَصْرِ فَتُصَلِّيهِمَا وَتَغْتَسِلُ لِلْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَتُصَلِّيهِمَا وَتَغْتَسِلُ لِصَلَاةِ الْغَدَاةِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আতা’র হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ১১৭১; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২১৪। সাঈদের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২১৪; আর ইবনু হাযম সনদবিহীনভাবে ইকরিমার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন, হাদীস নং ৮৩১, ৯২০, ৯৩৪ (অনুবাদের ক্রম ৮২৭, ৯১৬, ৯৩০)।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. মুস্তাহাযাহ (রক্ত প্রদরের রোগিণী)-এর গোসল সম্পর্কে
৮৩০. আব্দুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা গোসল করবে, তারপর যুহর এবং আসর সালাত একত্রে আদায় করবে। অতঃপর সে যদি কিছু (রক্ত) দেখতে পায়, তবে গোসল করবে এবং মাগরিব ও ঈশা’র সালাত একত্রে আদায় করবে।[1]
بَابٌ فِي غُسْلِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ ثُمَّ تَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا اغْتَسَلَتْ وَجَمَعَتْ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদ ২৯৬ নং হাদীসের পরে এটি সনদবিহীনভাবে উল্লেখ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩১. সুমাইয়্যি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি.-কে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি বললেন: তার হায়েযের নির্ধারিত (কুরু’র) দিনগুলি পরিমাণ সময় সে বসে (সালাত হতে বিরত) থাকবে। আর সে দৈনিক এক যুহর হতে পরবর্তী যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে। সে কাপড় দ্বারা মজবুতভাবে (স্ত্রীঅংগে) পট্টি বেঁধে নেবে। তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে এবং সে সিয়াম পালনও করতে পারবে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার থেকে বর্ণনা করছেন? তখন তিনি (ছুঁড়ে মারার জন্য) নুড়িপাথর হাতে তুললেন।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُمَيٍّ قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ فَقَالَ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا وَتَغْتَسِلُ مِنْ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ وَتَسْتَذْفِرُ بِثَوْبٍ وَيَأْتِيهَا زَوْجُهَا وَتَصُومُ فَقُلْتُ عَمَّنْ هَذَا فَأَخَذَ الْحَصَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ১১৬৯; আবু দাউদ ১/১৯৮; এটি সামনে ৮৩৭ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৩৩) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩২. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সে (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) এক যুহর হতে পরবর্তী যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য (নুতনভাবে) ওযু করবে। ইসতিহাযার সময় অধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হলে কাপড় দ্বারা (স্ত্রীঅংগে) মজবুতভাবে পট্টি বেঁধে নেবে।’[1] আর হাসানও একথা বলতেন।[2]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَإِنْ غَلَبَهَا الدَّمُ اسْتَثْفَرَتْ وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ ذَلِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ যয়ীফ সনদে।
[2] হাসানের হাদীসটিও ইবনু আবী শাইবা ১/১২৯ তে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৩. ইয়াহইয়া বর্ণনা করেন: আবু বকর ইবনু আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম এর দাস সুমাইয়্যি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, কা’কা’আ ইবনু হাকীম ও যাইদ ইবনু আসলাম তাকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি.-এর নিকট ’ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা কিভাবে গোসল করবে’- সেই সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন। তখন সাঈদ বললেন: সে আজকের যুহর হতে আগামীকাল যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে। ইসতিহাযার সময় অধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হলে কাপড় দ্বারা (স্ত্রীঅংগে) মজবুতভাবে পট্টি বেঁধে নেবে। আর প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى أَنَّ سُمَيًّا مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْقَعْقَاعَ بْنَ حَكِيمٍ وَزَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ أَرْسَلَاهُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ يَسْأَلُهُ كَيْفَ تَغْتَسِلُ الْمُسْتَحَاضَةُ فَقَالَ سَعِيدٌ تَغْتَسِلُ مِنْ الظُّهْرِ إِلَى مِثْلِهَا مِنْ الْغَدِ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ فَإِنْ غَلَبَهَا الدَّمُ اسْتَثْفَرَتْ وَتَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَصَلَّتْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩০১ সহীহ সনদে; মালিক ১০৯; ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭; আব্দুর রাযযাক নং ১১৬৯; এটি ৮৩৫ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৩১) নং এ গত হয়েছে।
আবু দাউদ বলেন: এটি ইবনু উমার, আনাস ইবনু মালিক ... ও আয়িশা রা; হতে বর্ণিত হয়েছে।... আর এটি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ, হাসান ও আতা’র মত।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৪. হাসান রাহি. হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, সে যুহর সালাত হতে পরের দিন যুহর সালাত পর্যন্ত একবার গোসল করবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُعْتَمِرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ إِلَى صَلَاةِ الظُّهْرِ مِنْ الْغَدِ
إسناده جيد إلى الحسن
তাখরীজ: মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ১২১০; এবং আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৫. (অপর সনদে) হাসান রাহি. হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, মাসে তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে সে সালাত পরিত্যাগ করবে। তারপর সে এক যুহর হতে পরবর্তী যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে। এরপর প্রত্যেক সালাতের সময় (নতুন) ওযু করবে। আর সে সিয়াম পালন করবে, সালাত আদায় করবে এবং তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ حَيْضِهَا مِنْ الشَّهْرِ ثُمَّ تَغْتَسِلُ مِنْ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ وَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتَصُومُ وَتُصَلِّي وَيَأْتِيهَا زَوْجُهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: পুর্বের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৬. হাসান ও আতা’ রাহি. হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَبَّادِ بْنِ مَنْصُورٍ عَنْ الْحَسَنِ وَعَطَاءٍ مِثْلَ ذَلِكَ
إسناده ضعيف لضعف عباد بن منصور
তাখরীজ: আবু দাউদ তার সুনানের ১/২১২ তে বলেন: এটি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ, হাসান ও আতা’র বক্তব্য।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৭. মাসরুকের স্ত্রী ক্বমীর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহা হতে ’ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, সে দৈনিক একবার মাত্র গোসল করবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ دَاوُدَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ قَمِيرَ امْرَأَةِ مَسْرُوقٍ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّةً
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২১৪ আয়িশা রা: হতে।
দেখুন, পূর্বের ৮১৭ (অনুবাদের ক্রমিক ৮১৩) নং হাদীসটি এবং ৮৩৭ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৩৩) নং হাদীসের টীকায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, আবু দাউদ ৩০০ তে মারফু’ হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এর সনদকে তিনি যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন।...
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৮. নাফি’ (আব্দুল্লাহ) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা এক যুহর সালাত হতে অপর যুহর সালাত পর্যন্ত একবার গোসল করবে।[1]
মারওয়ান বলেন: এটি আওযাঈ’রও মত।
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مَعْرُوفٍ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ مِنْ ظُهْرٍ إِلَى ظُهْرٍ قَالَ مَرْوَانُ وَهُوَ قَوْلُ الْأَوْزَاعِيِّ
إسناده حسن
তাখরীজ: আবু দাউদ তার সুনান ১/২১১ তে বলেন: এটি ইবনু উমার, আনাস ইবনু মালিকের বক্তব্য যে, “সে এক যুহর হতে অপর যুহর পর্যন্ত একবার গোসল করবে।” আরও দেখুন, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক নং ১১৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. যিনি বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) যুহর হতে (পরদিন) যুহর পর্যন্ত (একবার) গোসল করবে, স্বামীর সাথে মিলিত হবে এবং সিয়াম পালন করবে
৮৩৯. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা প্রতিদিন প্রথম (যুহর) সালাতের সময় গোসল করবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ تَغْتَسِلُ مِنَ الظُّهْرِ إِلَى الظُّهْرِ، وَتُجَامِعُ وَتَصُومُ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ عِنْدَ صَلَاةِ الْأُولَى
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২১০।
উল্লেখ্য যে, মুদ্রিত সংস্করণে অতিরিক্ত রয়েছে, ‘এর উপর আমল নেই।’
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪০. ইকরিমা সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তার স্বামী তার সাথে সহবাস করবে- তিনি এতে কোনো অপরাধ আছে বলে মনে করতেন না।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَتَّابٌ هُوَ ابْنُ بَشِيرٍ الْجَزَرِيُّ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ لَمْ يَرَ بَأْسًا أَنْ يَأْتِيَهَا زَوْجُهَا
إسناده صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪১. সালিম আল আফতাস বলেন: সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি.-কে প্রশ্ন করা হলো, ’ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর সাথে সহবাস করতে পারবে কি?’ জবাবে তিনি বললেন: ’সহবাস করা হতে সালাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ (সুতরাং সালাত আদায় বৈধ হলে সহবাসও করতে পারবে)।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَالِمٍ الْأَفْطَسِ قَالَ سُئِلَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ أَتُجَامَعُ الْمُسْتَحَاضَةُ فَقَالَ الصَّلَاةُ أَعْظَمُ مِنْ الْجِمَاعِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৮৭ সহীহ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯ অপর সহীহ সনদে। পরবর্তী সূত্রটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪২. সুমাইয়্যি বর্ণনা করেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. বলেন, (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার সাথে) তার স্বামী সহবাস করতে পারবেন।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ يَأْتِيهَا زَوْجُهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৮৬ সহীহ সনদে। পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দেখুন, এর আগের হাদীসটিতে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৩. ইউনুস হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: ’তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।’[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ يَغْشَاهَا زَوْجُهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৮৬ সহীহ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯ অপর সহীহ সনদে। পরবর্তী ৮৫০ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৪৬) নং হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৪. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: ’তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে, যদিও মাদুর (বিছানায়) ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তে থাকে তবুও।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ يَغْشَاهَا زَوْجُهَا وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ
إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن مسلم
তাখরীজ: দেখুন, পুর্ববর্তী ৮৪৫, ৮৪৬ (অনুবাদের ক্রম ৮৪১, ৮৪২) নং হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৫. হাম্মাদ হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাকর ইবনু আব্দুল্লাহকে বলা হলো যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না। বাকর ইবনু আব্দুল্লাহ আল মুযানী বলেন: সালাতের মর্যাদা (সহবাসের চেয়ে) অনেক বেশি। সুতরাং (যখন সালাত আদায় করতে পারবে, তখন) তার স্বামীও তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ قِيلَ لِبَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ الْحَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ يَقُولُ إِنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ لَا يَغْشَاهَا زَوْجُهَا قَالَ بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ الصَّلَاةُ أَعْظَمُ حُرْمَةً يَغْشَاهَا زَوْجُهَا
إسناده منقطع
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৬. হুমাইদ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন: তার (’ইসতিহাযা’গ্রস্ত মহিলার) স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ يَأْتِيهَا زَوْجُهَا
তাখরীজ: এটি পূর্বে ৮৪৭ (অনুবাদের ক্রম ৮৪৩) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৭. আতা ইবনু সাইব আতা রাহি. হতে বর্ণনা করেন। তিনি ’ইসতিহাযা’গ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে। আর সে তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে সালাত পরিত্যাগ করবে। পরে যখন (হায়েযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে) তার জন্য সালাত আদায় করা বৈধ হবে, তখন তার স্বামীও তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ حَيْضِهَا فَإِذَا حَلَّتْ لَهَا الصَّلَاةُ فَلْيَطَأْهَا
إسناده ضعيف خالد بن عبد الله متأخر السماع من عطاء
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯; দেখুন পুর্ববর্তী ৮৪০ (অনুবাদের ক্রম ৮৩৬) নং ও পরবর্তী ৮৫৩ (অনুবাদের ক্রম ৮৪৯) নং হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৮. শা’বী রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।’[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ زُرْعَةَ الْخَارِفِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
إسناده ضعيف محمد بن سالم هو: الهمداني وهو ضعيف وعمر بن زرعة الخارفي قال البخاري في الكبير 157/ 6: فيه نظر
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯; কিন্তু এর শাহিদ হলো পূর্বের হাদীসগুলি। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন। )
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যিনি বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে
৮৪৯. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, হাসান ও আতা রাহি. হতে বর্ণিত, তারা ’ইসতিহাযা’গ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। আর তার স্বামীও তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: الْمُسْتَحَاضَةُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَالْحَسَنِ وَعَطَاءٍ قَالُوا فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَيَغْشَاهَا زَوْجُهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৯ যয়ীফ সনদে; আরও দেখুন ৮৩৯, ৮৪০, ৮৪৩ (অনুবাদের ক্রম ৮৩৫, ৮৩৬, ৮৩৯) নং হাদীসগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. যিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না
৮৫০. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলতেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না।[1] আবু নু’মান বলেন, আমাকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি এমন কাউকে চিনি না, যে হাসান থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন।
بَابُ مَنْ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الْمُسْتَحَاضَةَ زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ حَفْصٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ كَانَ يَقُولُ الْمُسْتَحَاضَةُ لَا يَغْشَاهَا زَوْجُهَا قَالَ أَبُو النُّعْمَانِ قَالَ لِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ لَا أَعْلَمُ أَحَدًا قَالَ هَذَا عَنْ الْحَسَنِ
إسناده صحيح ولكنه شاذ
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. যিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না
৮৫১. খালিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ (ইবনু সীরীন) রাহি. ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার সাথে তার স্বামীর সহবাস করাকে অপছন্দ (মাকরূহ মনে) করতেন।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الْمُسْتَحَاضَةَ زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ خَالِدٍ قَالَ كَانَ مُحَمَّدٌ يَكْرَهُ أَنْ يَغْشَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৮ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. যিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না
৮৫২. ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না। আর সে সিয়াম পালন করবে না এবং মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করবে না।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الْمُسْتَحَاضَةَ زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ لَا يَأْتِيهَا زَوْجُهَا وَلَا تَصُومُ وَلَا تَمَسُّ الْمُصْحَفَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৯২, ১১৯৩ সহীহ সনদে; দেখুন আত তামহীদ ১৬/৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. যিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না
৮৫৩. কুমাইর হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না।[1]
بَابُ مَنْ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الْمُسْتَحَاضَةَ زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الْأَعْوَرُ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ الْمُسْتَحَاضَةُ لَا يَأْتِيهَا زَوْجُهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৭৮ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. যিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না
৮৫৪. ইবরাহীম রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (লোকদের মাঝে) বলা হতো যে, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার (স্বামীর সাথে) সহবাস করতে পারবে না। আর সে সিয়াম পালন করবে না এবং মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করবে না। আর সালাতের ব্যাপারে তার সাথে নমনীয় (আচরণ) করা হয়েছে।[1]
ইয়াযীদ বলেন, তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে। আর (অন্যান্য) পবিত্র মহিলার জন্য যা হালাল, তার জন্যও তা হালাল হবে।
بَابُ مَنْ قَالَ: لَا يُجَامِعُ الْمُسْتَحَاضَةَ زَوْجُهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ يُقَالُ الْمُسْتَحَاضَةُ لَا تُجَامَعُ وَلَا تَصُومُ وَلَا تَمَسُّ الْمُصْحَفَ إِنَّمَا رُخِّصَ لَهَا فِي الصَّلَاةِ قَالَ يَزِيدُ يُجَامِعُهَا زَوْجُهَا وَيَحِلُّ لَهَا مَا يَحِلُّ لِلطَّاهِرِ
إسناده حسن
তাখরীজ: দেখুন পূর্বের ৮৫৬ (অনুবাদের ক্রম ৮৫২) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৫৫. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলা হায়েযের নির্ধারিত সাতদিন সালাত হতে বিরত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সে পবিত্র হয়ে গেলে সেটিই (তার পবিত্রতার সময় বলে গণ্য হবে)। আর তা না হলে সে তখন থেকে (সর্বোচ্চ) দশদিন পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে। এর মধ্যে সে পবিত্র হয়ে গেলে সেটিই (তার পবিত্রতার সময় গণ্য হবে)। আর (এর মধ্যে সে পবিত্র) না হলে সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে। আর সে আসলে ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ تُمْسِكُ الْمَرْأَةُ عَنْ الصَّلَاةِ فِي حَيْضِهَا سَبْعًا فَإِنْ طَهُرَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا أَمْسَكَتْ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعَشْرِ فَإِنْ طَهُرَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ وَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি (এ সনদে) আর কোথাও পাইনি।
আবু দাউদ ১/১৯৮ ২৮৬ নং হাদীসের পরে উল্লেখ করেছেন: ইউনুস হাসান হতে বর্ণনা করেন, যখন হায়েযগ্রস্ত মহিলার অধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হবে, তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলির পরে সে একদিন কিংবা দু’দিন বিরত থাকবে; তখন সে আসলে ইসতিহাযাগ্রস্ত।’ আর সম্মুখে ৯৮৯ (অনুবাদের ক্রমিক ৯৮৫) নং এ অনুরূপ সনদে আসছে। তাই পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন। আরেও দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৫৬. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হায়েযের মেয়াদ দশদিন। এরচেয়ে বেশি দিন যাবত রক্তস্রাব হলে সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الرَّبِيعِ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْحَيْضُ عَشْرٌ فَمَا زَادَ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده حسن
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৫১ হাসান সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৫৭. আতা বলেন: হায়েযের মেয়াদ পনেরো দিন।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
وَقَالَ عَطَاءٌ الْحَيْضُ خَمْسَ عَشْرَةَ
إسناده حسن
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩২১ হাসান সনদে; ইবনু আবী শাইবা ৫/২; অপর সনদে বাইহাকী ৭/৪১৯; সামনের ৮৭০ (অনুবাদের ক্রম ৮৬৬) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৫৮. মুয়াবিয়া ইবনু কুররাহ আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হায়েযের মেয়াদকাল দশ দিন। এর চেয়ে বেশি দিন (রক্তস্রাব) হলে সেই মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْجَلْدِ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي إِيَاسٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ الْحَيْضُ عَشْرَةٌ فَمَا زَادَ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده ضعيف جدا قال سفيان بن عيينة: حديث الجلد بن أيوب في الحيض حديث محدث لا أصل له
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/২৮৩; আব্দুর রাযযাক নং ১১৫০; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ৩/৪৭; তার সূত্রে বাইহাকী ১/৩২২; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৫৯৮; উকাইলী, আদ দু’আফা’ ১/২০৫; আমরা এটি তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪১৫০ এ। আরও দেখুন, পরবর্তী ৮৬৪, ৮৬৮ (অনুবাদের ক্রম ৮৬০, ৮৬৪) নং হাদীস।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৫৯. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হায়েযের মেয়াদকাল তেরো দিন পর্যন্ত। এরপর আরো বেশিদিন (রক্তস্রাব হতে) থাকলে সেই মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ الْحَيْضُ إِلَى ثَلَاثَ عَشْرَةَ فَمَا زَادَ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/২৮৩; এটি পরবর্তীতে ৮৬৫ (অনুবাদে ৮৬১) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬০. (অপর সনদে) মুয়াবিয়া ইবনু কুররাহ আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হায়েযের মেয়াদ দশদিন। এরপর (আরো বেশিদিন রক্তস্রাব হতে থাকলে) সেই মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الْجَلْدِ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ الْحَيْضُ عَشْرَةُ أَيَّامٍ ثُمَّ هِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده ضعيف جدا
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬১. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হায়েযের মেয়াদকাল তেরো দিন পর্যন্ত। এর চেয়ে অধিক দিন (রক্তস্রাব হতে) থাকলে সেই মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ الْحَيْضُ إِلَى ثَلَاثَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি ৮৬৩ (অনুবাদে ৮৫৯) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬২. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কোন মহিলা রক্তস্রাব দেখে তবে সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে। আর তার হায়েযের দিনগুলির সাথে (অতিরিক্ত) একদিন বা দু’দিনকে (হায়েযের দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে) গণ্য করবে। এরপর থেকে (রক্তস্রাব থাকলে) সে মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ فَإِنَّهَا تُمْسِكُ عَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ أَيَّامِ حَيْضِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ ثُمَّ هِيَ بَعْدَ ذَلِكَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দেখুন ৮৫৯ (অনুবাদে ৮৫৫) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬৩. মুয়াবিয়া ইবনু কুররাহ আনাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা (হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলির পরও রক্ত দেখলে) অপেক্ষা করবে তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ দিন।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ الْجَلْدِ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَنْتَظِرُ ثَلَاثًا أَرْبَعًا خَمْسًا سِتًّا سَبْعًا ثَمَانِيًا تِسْعًا عَشْرًا
إسناده ضعيف جدا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/২৮৩; এটি ৮৬২, ৮৬৪ (অনুবাদে ৮৫৮, ৮৬০) গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬৪. ইবনু জুরাইজ আতা’ রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা তার হায়েযের নির্ধারিত দিনসমূহের পরে একদিন অপেক্ষা করবে।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ بَلَغَنَا أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَنْتَظِرُ أَعْلَى أَقْرَائِهَا بِيَوْمٍ
إسناده ضعيف ابن جريج مدلس وقد عنعن
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬৫. রবী ইবনু সাবীহ যিনি আনাস ইবনু মালিক থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, তিনি বলেন: দশদিনের পরে যদি অধিক সময় পর্যন্ত (রক্তস্রাব হতে) থাকে, তবে সে মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ صَبِيحٍ عَنْ مَنْ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ مَا زَادَ عَلَى الْعَشْرِ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده ضعيف لانقطاعه
তাখরীজ: এটি এ সনদে আমি আর কোথাও পাইনি। দেখুন, দারুকুতনী ১/২০৯; পুর্বের ৮৬২, ৮৬৪ (অনুবাদে ৮৫৮, ৮৬০) নং হাদীস দু’টিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. অধিক সময় হায়েয হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
৮৬৬. ইবনু জুরাইজ আতা’ রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হায়েযের সর্ব্বোচ্চ মেয়াদ পনেরো দিন।[1]
بَابُ: مَا جَاءَ فِي أَكْثَرِ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ مُفَضَّلِ بْنِ مُهَلْهَلٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ أَقْصَى الْحَيْضِ خَمْسَ عَشْرَةَ
إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن جريج
তাখরীজ: দারুকুতনী ১/২০৮; বাইহাকী ১/৩২১; আল মা’রিফাহ ২/১৭১ নং ২২৭৪; আরও দেখুন বিগত ৮৬১ (অনুবাদে ৮৫৭) নং হাদীসটি।
বুখারী হায়েয অধ্যায়ে এটি তা’লীক (সনদবিহীনভাবে) বর্ণনা করেছেন। আর হাফিজ (ইবনু হাজার) ফাতহুল বারী ১/৪২৫ এ বলেন: ‘দারেমী এটি অবিচ্ছিন্নভাবে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা সম্পর্কে
৮৬৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা তিনদিন।[1]আব্দুল্লাহ আদ-দারেমীকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি এ মত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ, যদি সেটি তার রীতি হয়ে থাকে। আমি তাকে এ ব্যাপারে আবারও জিজ্ঞেস করলাম। (এবারে) তিনি বললেন: হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা একদিন একরাত আর এর সর্বোচ্চ সীমা পনেরো দিন।
بَابٌ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ بَلَغَنِي عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ أَدْنَى الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ سُئِلَ عَبْدُ اللَّهِ الدَّارِمِيُّ تَأْخُذُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ إِذَا كَانَ عَادَتَهَا وَسَأَلْتُهُ أَيْضًا عَنْ هَذَا قَالَ أَقَلُّ الْحَيْضِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَأَكْثَرُهُ خَمْسَ عَشْرَةَ
إسناده ضعيف لانقطاعه
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও আছে বলে জানতে পারিনি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা সম্পর্কে
৮৬৮. হাসান রাহি. হলে বর্ণিত, তিনি বলেন, হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা তিনদিন।[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ أَبُو سَعْدٍ الصَّغَّانِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الرَّبِيعِ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ أَدْنَى الْحَيْضِ ثَلَاثٌ
إسناده ضعيف لضعف محمد بن أبي زكريا
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা সম্পর্কে
৮৬৯. আতা’ রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা একদিন।[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ أَدْنَى الْحَيْضِ يَوْمٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দারুকুতনী ১/৮০২; বাইহাকী ১/৩২০, ৭/৪১৯;
এবং বুখারী হায়েয অধ্যায়ে এটি তা’লীক (সনদবিহীনভাবে) বর্ণনা করেছেন। আর হাফিজ (ইবনু হাজার) ফাতহুল বারী ১/৪২৫ এ বলেন: ‘দারেমী এটি অবিচ্ছিন্নভাবে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ২/১৭১ এ ইমাম শাফিঈ’র কথা উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন: ‘আমাদের নিকট আতা’ হতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি বলতেন, হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা একদিন।’
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. হায়েযের সর্বনিম্ন সীমা সম্পর্কে
৮৭০. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কোন মহিলা তার হায়েয শুরু হওয়ার একদিন বা দু’দিন পূর্বে রক্তস্রাব দেখে তবে তা তার হায়েয বলে গণ্য হবে।[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ قَبْلَ حَيْضِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ الْحَيْضِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯০. কিশোরী মেয়ের রক্তস্রাব (শুরু হয়ে) অবিরামভাবে চলতে থাকা প্রসঙ্গে
৮৭১. কাতাদা ও কাইস ইবনু সা’দ উভয়ে আতা’ রাহি. হতে কুমারী মেয়ের সম্পর্কে বর্ণনা করেন: যখন তার নিফাস[1] (সন্তান জন্মদানের পরের রক্তস্রাব) শুরু হবে, অতঃপর (নির্ধারিত সময় পরেও) রক্তস্রাব চলতে থাকবে’, তারা বলেন, ’মেয়েটি সেই কয়দিন সালাত হতে বিরত থাকবে, যে কয়দিন তার পরিবারের অপর কোনো মেয়ে সালাত থেকে বিরত থাকে।[2]
بَابٌ فِي الْبِكْرِ يَسْتَمِرُّ بِهَا الدَّمُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ قَتَادَةَ وَقَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُمَا قَالَا فِي الْبِكْرِ إِذَا نَفِسَتْ فَاسْتُحِيضَتْ قَالَا تُمْسِكُ عَنْ الصَّلَاةِ مِثْلَ مَا تُمْسِكُ الْمَرْأَةُ مِنْ نِسَائِهَا
الأثران إسنادهما صحيح
[2] তাহক্বীক্ব: আছার (হাদীস) দু’টির সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আতার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১২০০ যয়ীফ সনদে।
বাইহাকী ১/৩৪০ এ বলেন: ইমাম শাফিঈ রাহি. আতা ইবনু আবী রাবাহ হতে ‘কুমারী মেয়ে’ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যার রক্তস্রাব অব্যাহতভাবে চলতে থাকে,’: তার পরিবারের নারীরা যেভাবে (সালাত পরিত্যাগ করে) বসে থাকে, সেও সেভাবে বসে থাকবে।’
আর কাতাদা’র হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ১২০০ এ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯০. কিশোরী মেয়ের রক্তস্রাব (শুরু হয়ে) অবিরামভাবে চলতে থাকা প্রসঙ্গে
৮৭২. সুফিয়ান বলেন, যখন নারীর প্রথম হায়েয হবে, তখন সে তার (পরিবারের) অপরাপর নারীদের হায়েযের (নির্ধারিত সময়ের) অনুরূপ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আব্দুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সেটিই সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।[1]
بَابٌ فِي الْبِكْرِ يَسْتَمِرُّ بِهَا الدَّمُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ إِذَا كَانَتْ الْمَرْأَةُ أَوَّلَ مَا تَحِيضُ تَجْلِسُ فِي الْحَيْضِ مِنْ نَحْوِ نِسَائِهَا سُئِلَ عَبْد اللَّهِ عَنْ هَذَا فَقَالَ هُوَ أَشْبَهُ الْأَشْيَاءِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২০৩ সহীহ সনদে। সেখানে অতিরিক্ত রয়েছে: ‘হায়েযের দিনগুলিতে হলুদ রংয়ের স্রাব ও রক্তস্রাবের হুকুম একই।’
পরিচ্ছেদঃ ৯১. বৃদ্ধা মহিলা যখন রক্তস্রাব লক্ষ্য করে
৮৭৩. আতা রাহি. হতে ’বৃদ্ধা মহিলার রক্তস্রাব দেখতে পাওয়া’ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা একে হায়েয গণ্য করি না।[1]
بَابٌ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ لَيْثٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ قَالَ لَا نَرَاهُ حَيْضًا
إسناده ضعيف وليث هو: ابن أبي سليم وهو ضعيف
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৯১. বৃদ্ধা মহিলা যখন রক্তস্রাব লক্ষ্য করে
৮৭৪. ইবনু জুরাইজ আতা’ রাহি. হতে সেই মহিলা সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে মহিলার তিরিশ বছর যাবত হায়েয বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তারপর (আকস্মিকভাবে) রক্তস্রাব দেখতে পেলো। তিনি এমন মহিলার ব্যাপারে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার অবস্থার হুকুম লাগান।[1] (সে মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার মতো সালাত, সিয়াম চালু রাখবে।)
بَابٌ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنِيهِ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي امْرَأَةٍ تَرَكَهَا الْحَيْضُ ثَلَاثِينَ سَنَةً ثُمَّ رَأَتْ الدَّمَ فَأَمَرَ فِيهَا بِشَأْنِ الْمُسْتَحَاضَةِ
إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن جريج
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৮১। পরবর্তী আছারটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯১. বৃদ্ধা মহিলা যখন রক্তস্রাব লক্ষ্য করে
৮৭৫. ইবনু জুরাইজ রাহি. হতে বর্ণিত, আতা’ রাহি. সেই বৃদ্ধা মহিলা যে (অনেক দিন পূর্বে হায়েয বন্ধ হওয়ার পরে আবার) রক্তস্রাব দেখতে পেলো - তার সম্পর্কে বলেন, সেতো ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্থলাভিষিক্ত। একজন ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা যা যা করে, সেও তা-ই করবে।[1]
بَابٌ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ قَالَ هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ تَفْعَلُ كَمَا تَفْعَلُ الْمُسْتَحَاضَةُ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯১. বৃদ্ধা মহিলা যখন রক্তস্রাব লক্ষ্য করে
৮৭৬. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত। যে বৃদ্ধা মহিলা হায়েয থেকে মুক্ত হয়ে গেছে, তার সম্পর্কে আতা’ ও হাকাম ইবনু উতাইবাহ বলেন: যদি সে রক্ত দেখে, তবে সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে কিন্তু সে গোসল করবে না। আব্দুল্লাহকে বৃদ্ধা মহিলার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে আর যখন তাকে তালাক দেয়া হবে তখন সে নির্দিষ্ট মাসসমূহ ইদ্দাত পালন করবে।[1]
بَابٌ فِي الْكَبِيرَةِ تَرَى الدَّمَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ وَالْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ فِي الَّتِي قَعَدَتْ مِنْ الْمَحِيضِ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ وَلَا تَغْتَسِلُ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ عَنْ الْكَبِيرَةِ قَالَ تَوَضَّأُ وَتُصَلِّي وَإِذَا طُلِّقَتْ تَعْتَدُّ بِالْأَشْهُرِ
إسناده ضعيف فيه حجاج بن أرطاة وما وقعت عليه بهذا اللفظ
তাখরীজ: আমি এটি এ শব্দে আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯২. পবিত্রাবস্থার সর্বনিম্ন পরিমাণ সম্পর্কে
৮৭৭. সুফিয়ান বলেন, পবিত্রাবস্থা (এর সর্বনিম্ন সীমা) পনেরো দিন।[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الطُّهْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ الطُّهْرُ خَمْسُ عَشْرَةَ
তাখরীজ: আমি এটি এ শব্দে আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯২. পবিত্রাবস্থার সর্বনিম্ন পরিমাণ সম্পর্কে
৮৭৮. ইবরাহীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কোনো মহিলার মাসে কিংবা চল্লিশ দিনে তিনবার হায়েয হয়, আর তিনজন ন্যায়পরায়ণা মহিলা এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় যে, সে তার থেকে এমনকিছু দেখেছে যা তার উপর সালাতকে হারাম করে দেয়, অর্থাৎ, হায়েযের রক্ত যা হায়েয হিসেবে সমধিক পরিচিত, তবে তার হায়েযের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাবে।[1] (সে পবিত্র হয়ে যাবে)
بَابٌ فِي أَقَلِّ الطُّهْرِ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِي شَهْرٍ أَوْ فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثَلَاثَ حِيَضٍ فَإِذَا شَهِدَ لَهَا الشُّهُودُ الْعُدُولُ مِنْ النِّسَاءِ أَنَّهَا رَأَتْ مَا يُحَرِّمُ عَلَيْهَا الصَّلَاةَ مِنْ طُمُوثِ النِّسَاءِ الَّذِي هُوَ الطَّمْثُ الْمَعْرُوفُ فَقَدْ خَلَا أَجَلُهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَمِعْت يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ يَقُولُ أَسْتَحِبُّ الطُّهْرَ خَمْسَ عَشْرَةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১০/২৭২; আল হাফিজ ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১/৪২৫ তে বলেন: দারেমীও এটি ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।...
পরিচ্ছেদঃ ৯২. পবিত্রাবস্থার সর্বনিম্ন পরিমাণ সম্পর্কে
৮৭৯. আমির রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা আলী রা: এর নিকট এলো সে তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করেছে আর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। মহিলাটি বললো, আমার একমাসে তিনবার হায়েয হয়েছে। তখন আলী কাযী শুরাইহকে বললেন: এদের দু’জনের মাঝে ফায়সালা করে দাও। কাজী শুরাইহ বললেন: ইয়া আমীরুল মু’মিনীন! আপনিই তো এখানে রয়েছেন।’ তিনি আবারও বললেন: ’তুমি তাদের দু’জনের মধ্যে ফায়সালা করে দাও।’ তখন তিনি (শুরাইহ) বললেন, যদি এ মহিলার পরিবারের ঘনিষ্ঠ কোনো মহিলা যার দীনদারী ও আমানতদারী গ্রহণযোগ্য, সে যদি দাবী করে যে এ মহিলার মাসে তিনবার হায়েয হয়েছে এবং প্রত্যেক হায়েযের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পবিত্র হয়েছে এবং সালাত আদায় করেছে, তবে তার জন্য এটা (তালাক) বৈধ হয়েছে। তা না হলে (তা বৈধ) নয়। তখন আলী রা: বললেন: ’ক্বালুন’। আর ’ক্বালুন’ শব্দটি রোমান ভাষার। যার অর্থ: তুমি সুন্দর (ফায়সালা) করেছো।[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الطُّهْرِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَامِرٍ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى عَلِيٍّ تُخَاصِمُ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا فَقَالَتْ قَدْ حِضْتُ فِي شَهْرٍ ثَلَاثَ حِيَضٍ فَقَالَ عَلِيٌّ لِشُرَيْحٍ اقْضِ بَيْنَهُمَا قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْتَ هَا هُنَا قَالَ اقْضِ بَيْنَهُمَا قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْتَ هَا هُنَا قَالَ اقْضِ بَيْنَهُمَا قَالَ إِنْ جَاءَتْ مِنْ بِطَانَةِ أَهْلِهَا مِمَّنْ يُرْضَى دِينُهُ وَأَمَانَتُهُ تَزْعُمُ أَنَّهَا حَاضَتْ ثَلَاثَ حِيَضٍ تَطْهُرُ عِنْدَ كُلِّ قُرْءٍ وَتُصَلِّي جَازَ لَهَا وَإِلَّا فَلَا فَقَالَ عَلِيٌّ قَالُونُ وَقَالُونُ بِلِسَانِ الرُّومِ أَحْسَنْتَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সাঈদ ইবনু মানসূর নং ১৩০৯, ১৩১০; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১০/৩৭২; বাইহাকী ৭/৪১৮-৪১৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯২. পবিত্রাবস্থার সর্বনিম্ন পরিমাণ সম্পর্কে
৮৮০. খালিদ আল হাযযা’ থেকে বর্ণিত, ইকরিমাহ রাহি. (وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ) অর্থ: “তাদের জন্য জায়েয নয় যে, তারা তা গোপন করবে, যা আল্লাহ তাদের গর্ভে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা বাকারাহ: ২২৮) (এ আয়াত সম্পর্কে) বলেন: (এর অর্থ) হায়েয।
আবু মুহাম্মদ (আব্দুল্লাহ আদ-দারিমী)কে বলা হলো, আপনিও কি তাই বলেন? তিনি বললেন, না। আর আব্দুল্লাহকে শুরাইহ’-এর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনিও কি অনুরূপ বলেন? তিনি বললেন, না। তিনি বলেন, একমাসে তিন বার হায়েয হওয়া কিভাবে সম্ভব?[1]
بَابٌ فِي أَقَلِّ الطُّهْرِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ قَالَ الْحَيْضُ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ أَتَقُولُ بِهَذَا قَالَ لَا سُئِلَ عَبْد اللَّهِ عَنْ حَدِيثِ شُرَيْحٍ تَقُولُ بِهِ قَالَ لَا وَقَالَ ثَلَاثُ حِيَضٍ فِي الشَّهْرِ كَيْفَ يَكُونُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/২৩৪; সাঈদ ইবনু মানসূর ও বাইহাকী এটি বর্ণনা করেছেন বলে সুয়ূতী দূররে মানসূর ১/২৭৬ এ উল্লেখ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮১. আমরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হায়েযের সময় মহিলাদেরকে রাতের বেলায় (রক্তস্রাব) পর্যবেক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: তা (স্রাব) হলুদ রংয়ের এবং ঘোলা (মেটে) রংয়ের হতে পারে।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ قَالَتْ كَانَتْ عَائِشَةُ تَنْهَى النِّسَاءَ أَنْ يَنْظُرْنَ لَيْلًا فِي الْمَحِيضِ وَتَقُولُ إِنَّهُ قَدْ يَكُونُ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; বাইহাকী ১/৩৩৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮২. ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ দাসী আমরাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরাহ মহিলাদেরকে গোসল করতে নিষেধ করতেন যতক্ষণ তুলা সাদা বর্ণ অবস্থায় না বের হয়।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مَوْلَاةِ عَمْرَةَ قَالَتْ كَانَتْ عَمْرَةُ تَأْمُرُ النِّسَاءَ أَنْ لَا يَغْتَسِلْنَ حَتَّى تَخْرُجَ الْقُطْنَةُ بَيْضَاءَ
إسناده ضعيف فيه جهالة
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এ সনদটি উল্লিখিত সনদের চেয়েও অধিক যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৩. সুফিয়ান রাহি. বলেন, হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে ঘোলা (মেটে) ও হলুদ বর্ণের যা-ই নির্গত হোক, তা হায়েয বলে গণ্য হবে। আর হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার পরে রক্তবর্ণ, ঘোলা (মেটে) বর্ণ, কিংবা হলুদ বর্ণের কিছু দেখলে সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1] আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি সুফিয়ানের এ মত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ।
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ الْكُدْرَةُ وَالصُّفْرَةُ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ حَيْضٌ وَكُلُّ شَيْءٍ رَأَتْهُ بَعْدَ أَيَّامِ الْحَيْضِ مِنْ دَمٍ أَوْ كُدْرَةٍ أَوْ صُفْرَةٍ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ سُئِلَ تَأْخُذُ بِقَوْلِ سُفْيَانَ قَالَ نَعَمْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২০৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর থেকে বর্ণিত, তিনি তার স্ত্রী ফাতিমাহ বিনতে মুহাম্মদ হতে বর্ণনা করেন। আর ফাতিমা আমরাহ’র কোলে প্রতিপালিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি কুরাইশদের এক মহিলাকে আমরাহ’র নিকট তুলার পুটলি পাঠিয়েছিলাম- যা হলুদ রং ধারণ করেছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করতো: যখন কোনো মহিলা হায়িযের রক্তস্রাব না দেখে কেবল এটা (হলুদ বর্ণ) দেখে, তাহলে কি সে পবিত্র হয়ে গেছে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন: না, যতক্ষণ সে পুরোপুরি সাদা বর্ণ না দেখবে।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ صَاحِبَتِهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ مُحَمَّدٍ وَكَانَتْ فِي حِجْرِ عَمْرَةَ قَالَتْ أَرْسَلَتْ امْرَأَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى عَمْرَةَ بِكُرْسُفَةِ قُطْنٍ فِيهَا كَالصُّفْرَةِ تَسْأَلُهَا هَلْ تَرَى إِذَا لَمْ تَرَ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحِيضَةِ إِلَّا هَذَا أَنْ قَدْ طَهُرَتْ فَقَالَتْ لَا حَتَّى تَرَى الْبَيَاضَ خَالِصًا
إسناده ضعيف محمد بن إسحاق قد عنعن وهو مدلس
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৩৬; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৫. ফাতিমা (রাঃ), আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ফাতিমা) বলেন, আমরা আসমা রাঃ এর গৃহে প্রতিপালিত হয়েছি। যখন আমাদের কারো হায়েয হতো, এরপর সে পবিত্র হলে গোসল করতো এবং সালাত আদায় করতো। তারপর পুনরায় হালকা হলুদ বর্ণের স্রাব হতো। তখন তিনি (আসমা রাঃ) আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন যে, যতক্ষণ পুরোপুরি সাদা রং না দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত পরিত্যাগ করি।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ عَنْ أَسْمَاءَ قَالَتْ كُنَّا نَكُونُ فِي حِجْرِهَا فَكَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ ثُمَّ تَطْهُرُ فَتَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي ثُمَّ تَنْكُسُهَا الصُّفْرَةُ الْيَسِيرَةُ فَتَأْمُرُنَا أَنْ نَعْتَزِلَ الصَّلَاةَ حَتَّى لَا نَرَى إِلَّا الْبَيَاضَ خَالِصًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; বাইহাকী ১/৩৩৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৬. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন: হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে ঘোলা (মেটে) ও হলুদ বর্ণের- যা-ই নির্গত হোক, তা সবই হায়েযের (রক্তস্রাবের) স্থলাভিষিক্ত বলে গণ্য হবে।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ الْكُدْرَةُ وَالصُّفْرَةُ وَالدَّمُ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ بِمَنْزِلَةِ الْحَيْضِ
إسناده ضعيف ابن جريج قد عنعن
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৫৮, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৭. আতা ইবনু আবী রাবাহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যদি কোন মহিলা রক্তস্রাব দেখে তবে সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ সে ধবধবে কাপড়ের মতো পুরোপুরি সাদা পবিত্রাবস্থা না দেখবে। অতঃপর সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ فَلْتُمْسِكْ عَنْ الصَّلَاةِ حَتَّى تَرَى الطُّهْرَ أَبْيَضَ كَالْقَصَّةِ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي
إسناده حسن من أجل سليمان بن موسى
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৩৬, ৩৩৭; মা’রিফাতুস সুনান ২/১৫৫ নং ২১৮৪ আয়িশার দাসী, আলকামাহ’র মাতা হতে সহীহ সনদে; মালিক ৯৯; আব্দুর রাযযাক নং ১১৫৫৯; দেখুন ফাতহুল বারী ১/৪২০।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৮. হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, আমির আল আহওয়াল বলেন, হাসান রাহি. হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে কিছুই গণ্য করতেন না, আর মাংস ধোয়া পানির মতো (হালকা লালচে রংকেও) নয়।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ قَالَ كَانَ الْحَسَنُ لَا يَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ وَلَا مِثْلَ غُسَالَةِ اللَّحْمِ شَيْئًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: এ আছারটি (হাদীসটি) আমি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। দেখুন, সামনের ৮৯৪ (অনুবাদে ৮৯০) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. কিভাবে পবিত্র হবে
৮৮৯. মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, উম্মু আতিয়াহ বলতেন, আমরা হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে কোনো কিছুই গণ্য করতাম না।[1]
بَابُ: الطُّهْرِ كَيْفَ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا لَا نَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ شَيْئًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩২৬; আবু দাউদ ৩০৭, ৩০৮; নাসাঈ ৩৬৮; ইবনু মাজাহ ৬৪৭; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/১৭৪, ১৭৫; বাইহাকী ১/৩৩৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/১৬৭। দেখুন, মা’রিফাতুস সুনান ২/১৫৬; নাইলুল আওতার ১/৩৪৫-৩৪৬ এবং পরবর্তী ৯০০ (অনুবাদের ৮৯৬) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯০. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, যে মহিলা তার পবিত্রাবস্থার দিনগুলিতে রক্ত দেখতে পায়- তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন: আমার মত হলো, সে গোসল করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الدَّمَ فِي أَيَّامِ طُهْرِهَا قَالَ أَرَى أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এ শব্দে আর কোথাও পাইনি। তবে ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এ হাসান হতে বর্ণনা করেন, যখন সে গোসলের পরে কিছু নির্গত হতে দেখবে, তখন সে ভালভাবে কাপড় বেঁধে নেবে, ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে। এর সনদ হাসান।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯১. ইবনু সীরীন বলেন, হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে লোকেরা দোষণীয় কিছু মনে করতেন না।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَ بِالْكُدْرَةِ وَالصُّفْرَةِ بَأْسًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩-৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯২. আব্দুল আ’লা হতে বর্ণিত, ’যে মহিলা পবিত্র হওয়ার পর হলুদ রং (এর স্রাব) দেখতে পেল, তার সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন: এটা যতসামান্য (হলুদ বা ঘোলা রং) মাত্র। ফলে সে তা ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করে সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ قَالَ تِلْكَ التَّرِيَّةُ تَغْسِلُهُ وَتَوَضَّأُ وَتُصَلِّي
إسناده ضعيف
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; এর শব্দগুলো হলো: ‘‘এটি কিছুই নয়।” অর্থাৎ যতসামান্য হলুদ বা মেটে রং মাত্র।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৩. ইউনুস ও হামীদ হতে বর্ণিত, হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোসলের পরে যতসামান্য স্রাব দেখলেও তা পবিত্রতাবস্থা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَحَجَّاجٌ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ لَيْسَ فِي التَّرِيَّةِ شَيْءٌ بَعْدَ الْغُسْلِ إِلَّا الطُّهُورُ قَالَ عَبْد اللَّهِ التَّرِيَّةُ الصُّفْرَةُ وَالْكُدْرَةُ
إسناده صحيح
তাখরীজ; দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; কিন্তু বাইহাকী যয়ীফ সনদে হাসান রাহি. হতে বর্ণনা করেছেন: কোনো মহিলা সামান্য স্রাব দেখলে সে সালাত থেকে বিরত থাকবে কেননা, তা হায়েয।’ এর সনদ যয়ীফ। (সুতরাং এটি প্রমাণিত নয়।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৪. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু বলেন: যদি কোনো মহিলা গোসলের পরে দু’-একদিন যতসামান্য স্রাব দেখে, তবুও তা পবিত্রতাবস্থা বলে গণ্য হবে। আর সে সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ إِذَا رَأَتْ الْمَرْأَةُ التَّرِيَّةَ بَعْدَ الْغُسْلِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ فَإِنَّهَا تَطَهَّرُ وَتُصَلِّي
إسناده ضعيف حجاج هو: ابن أرطاة وهو ضعيف
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, নং ১১৬১ অতি লম্বা আকারে, হাসান সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩ যয়ীফ সনদে।
কিন্তু পরবর্তী হাদীস দেখুন, যা এটাকে শক্তিশালী করে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৫. কাইস হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন: গোসলের পরে যতসামান্য স্রাব দেখলেও তা পবিত্রতাবস্থা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ لَيْسَ فِي التَّرِيَّةِ بَعْدَ الْغُسْلِ إِلَّا الطُّهُورُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এর ভাষা: “সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।” সনদ হাসান । আরও দেখুন, নিচের ৯০৫, ৯০৭ (অনুবাদে ৯০১, ৯০৩) নং হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৬. উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা গোসলের পর ঘোলা (মেটে) ও হলুদ রং (এর স্রাব)কে কিছুই গণ্য করতাম না।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أُمِّ الْهُذَيْلِ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ وَكَانَتْ قَدْ بَايَعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنَّا لَا نَعْتَدُّ بِالْكُدْرَةِ وَالصُّفْرَةِ بَعْدَ الْغُسْلِ شَيْئًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: হাকিম ১/১৭৪; আবু দাউদ ৩০৭; আর সেটি বুখারীতেও রয়েছে, যা ৮৯৩ (৮৮৯) নং এ গত হয়েছৈ। সেখানে আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৭. ইউনূস রাহি. হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, যখন হায়িযগ্রস্ত মহিলা গোসলের পরে দু’-একদিন তাজা রক্ত দেখে, তবে সে অবশ্যই একদিন সালাত হতে বিরত থাকবে। আর এরপর (রক্তস্রাব চলতে থাকলে) সে তখন ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا رَأَتْ الْحَائِضُ دَمًا عَبِيطًا بَعْدَ الْغُسْلِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ فَإِنَّهَا تُمْسِكُ عَنْ الصَّلَاةِ يَوْمًا ثُمَّ هِيَ بَعْدَ ذَلِكَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৮. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন কোনো মহিলা হায়েয থেকে পবিত্র হয়, তারপর পবিত্রতার পরে (রক্তস্রাব) দেখে, যা তাকে সন্দেহে নিপতিত করে, এটা জরায়ুতে শয়তানের চলাচলের (বা পদাঘাতের) ফলে সৃষ্ট। ফলে যখন সে এরূপ প্রবাহমান রক্ত, রক্তের ফোঁটা কিংবা মাংস ধোয়া পানির মতো রং দেখে, তখন সে সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করবে, এরপর সালাত আদায় করবে। আর তা যদি তাজা রক্ত হয় যা গোপন থাকে না, তবে সে যেন সালাত পরিত্যাগ করে।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি ইয়াযীদ ইবনু হারুন রাহি. কে বলতে শুনেছি, যদি কোনো মহিলার (হায়েযের) সাতদিন অতিক্রান্ত হয়, আর সে পবিত্র অবস্থার সাদা রং দেখে, ফলে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, অতঃপর সে দশদিনের মধ্যেই আবার রক্ত দেখে, তবে তার বিবাহ বৈধ ও সঠিক হবে। আর যদি সে সাত দিনের কমে নিজেকে পবিত্র অবস্থায় দেখে, ফলে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর রক্তস্রাব দেখে, তবে তা (তার বিবাহ) বৈধ হবে না, কারণ এটা হায়েয। আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনিও কি একথা বলেন? তিনি বললেন: হাঁ।
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ إِذَا تَطَهَّرَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْمَحِيضِ ثُمَّ رَأَتْ بَعْدَ الطُّهْرِ مَا يَرِيبُهَا فَإِنَّمَا هِيَ رَكْضَةٌ مِنْ الشَّيْطَانِ فِي الرَّحِمِ فَإِذَا رَأَتْ مِثْلَ الرُّعَافِ أَوْ قَطْرَةِ الدَّمِ أَوْ غُسَالَةِ اللَّحْمِ تَوَضَّأَتْ وُضُوءَهَا لِلصَّلَاةِ ثُمَّ تُصَلِّي فَإِنْ كَانَ دَمًا عَبِيطًا الَّذِي لَا خَفَاءَ بِهِ فَلْتَدَعْ الصَّلَاةَ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ يَقُولُ إِذَا كَانَ أَيَّامُ الْمَرْأَةِ سَبْعَةً فَرَأَتْ الطُّهْرَ بَيَاضًا فَتَزَوَّجَتْ ثُمَّ رَأَتْ الدَّمَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعَشْرِ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ صَحِيحٌ فَإِنْ رَأَتْ الطُّهْرَ دُونَ السَّبْعِ فَتَزَوَّجَتْ ثُمَّ رَأَتْ الدَّمَ فَلَا يَجُوزُ وَهُوَ حَيْضٌ وَسُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
إسناده حسن من أجل الحارث الأعور
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৮৯৯. হারিছ হতে বর্ণিত, যে মহিলার ছয় দিন কিংবা সাত দিন হায়েয হয়, অতঃপর সে ঘোলা বর্ণ কিংবা হলুদ বর্ণের স্রাব অথবা দু’-এক ফোঁটা রক্ত দেখতে পায়, আলী রা: এ ধরনের মহিলা সম্পর্কে বলেন: এমতাবস্থায় সেটি অকার্যকর; তা তার (পবিত্রাবস্থার) কোনো ক্ষতি করবে না।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ فِي الْمَرْأَةِ يَكُونُ حَيْضُهَا سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ ثُمَّ تَرَى كُدْرَةً أَوْ صُفْرَةً أَوْ تَرَى الْقَطْرَةَ أَوْ الْقَطْرَتَيْنِ مِنْ الدَّمِ أَنَّ ذَلِكَ بَاطِلٌ وَلَا يَضُرُّهَا شَيْءٌ
إسناده ضعيف شريك متأخر السماع من أبي إسحاق
তাখরীজ: দেখুন, বিগত ৮৯৮ (অনুবাদে ৮৯৪) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৯০০. আব্দুল কারীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা’কে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার হায়েয হতে পবিত্রতার গোসল করে, অতঃপর হলুদ বর্ণের স্রাব দেখতে পায়, (সে কি করবে)? তিনি বললেন, সে ওযু করবে এবং পানি ছিটিয়ে দেবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ سَأَلْتُ عَطَاءً عَنْ الْمَرْأَةِ تَغْتَسِلُ مِنْ الْحَيْضِ فَتَرَى الصُّفْرَةَ قَالَ تَوَضَّأُ وَتَنْضَحُ
إسناده حسن من أجل شريك
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; আরও দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৯০১. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: সে তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে সালাত পরিত্যাগ করবে; তবে এতে দু’একদিন (কম-বেশি) হতে পারে। তারপর সে গোসল করবে। এটি যদি (হায়েযের) প্রথম দিকে হয়, তবে সে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। যদি সে সামান্য কোনো (হলুদ বা মেটে রং এর) স্রাব দেখতে পায়, তবে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে। আর যদি সে রক্ত দেখতে পায়, তবে যোহরকে পিছিয়ে এবং আসর সালাতকে (এর প্রথম সময়ে) এগিয়ে নিবে। এরপর এ দু’টি সালাতকে এক গোসলে (একত্রিত করে) আদায় করবে। যদি এরপর রক্ত দেখে, মাগরিবকে পিছিয়ে দেবে এবং ঈশা’র সালাতকে এগিয়ে নিবে তারপর এ দু’টি সালাত এক গোসলে (একত্রিত করে) আদায় করবে। এরপর যদি ফজর উদিত হয়, সে পুনরায় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যদি সামান্য স্রাব লক্ষ্য করে তবে ওযু করে সালাত আদায় করবে, আর যদি রক্ত দেখে, তবে গোসল করে ফজরের সালাত আদায় করবে। এভাবে প্রতি দিনে রাতে সে তিনবার (গোসল) করবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ تَدَعُ الصَّلَاةَ فِي قُرُوئِهَا ذَلِكَ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ ثُمَّ تَغْتَسِلُ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْأُولَى نَظَرَتْ فَإِنْ كَانَتْ تَرِيَّةً تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ وَإِنْ كَانَ دَمًا أَخَّرَتْ الظُّهْرَ وَعَجَّلَتْ الْعَصْرَ ثُمَّ صَلَّتْهُمَا بِغُسْلٍ وَاحِدٍ فَإِذَا غَابَتْ الشَّمْسُ نَظَرَتْ فَإِنْ كَانَتْ تَرِيَّةً تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ وَإِنْ كَانَ دَمًا أَخَّرَتْ الْمَغْرِبَ وَعَجَّلَتْ الْعِشَاءَ ثُمَّ صَلَّتْهُمَا بِغُسْلٍ وَاحِدٍ فَإِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ نَظَرَتْ فَإِنْ كَانَتْ تَرِيَّةً تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ وَإِنْ كَانَ دَمًا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ الْغَدَاةَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْأَقْرَاءُ عِنْدِي الْحَيْضُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, নং ১১৬১ হাসান সনদে; নং ১১৭১ এ অপর একটি যয়ীফ সনদে। আরও দেখুন, বিগত ৮৯৯ (অনুবাদে ৮৯৫) নং ও পরবর্তী ৯০৭ (অনুবাদে ৯০৩) নং হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৯০২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রমযান মাসে) ই’তিকাফ করলেন, তার কোনো স্ত্রীও তাঁর সাথে ই’তিকাফ করেছিলেন। আর তিনি ছিলেন ইসতিহাযাগ্রস্ত। ফলে তিনি রক্ত দেখতে পেতেন। তিনি রক্তস্রাবের কারণে প্রায়ই তার নিচে একটি পাত্র বসিয়ে রাখতেন এবং তার (বর্ণনাকারী ইকরিমার) ধারণা, আয়িশা রা: হলুদ রংয়ের পানি দেখে বললেন: এ তো সেই বস্তু যা অমুক (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো স্ত্রী’) দেখতে পেয়েছিল।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَكَفَ وَاعْتَكَفَ مَعَهُ بَعْضُ نِسَائِهِ وَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ تَرَى الدَّمَ فَرُبَّمَا وَضَعَتْ الطَّسْتَ تَحْتَهَا مِنْ الدَّمِ وَزَعَمَ أَنَّ عَائِشَةَ رَأَتْ مَاءَ الْعُصْفُرِ فَقَالَتْ كَانَ هَذَا شَيْئًا كَانَتْ فُلَانَةُ تَجِدُهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৩০৯, ৩১০; আহমাদ ৬/১৩১; আবু দাউদ ২৪৭৬; ইবনু মাজাহ ১৭৮০; বাইহাকী ১/৩২৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৯০৩. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা’ রাহি. কে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যে হায়েয থেকে পবিত্র হয়, অতঃপর হলুদ রং (এর স্রাব) দেখতে পায়। তিনি বলেন, সে ওযু করবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ عَنْ الْحَجَّاجِ قَالَ سَأَلْتُ عَطَاءً عَنْ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ مِنْ الْمَحِيضِ ثُمَّ تَرَى الصُّفْرَةَ قَالَ تَوَضَّأُ
তাখরীজ: দেখুন, বিগত ৮৯৯, ৯০৫ (অনুবাদে ৮৯৬, ৯০১) হাদীস দু’টি।
আবু দাউদ বলেন: ‘এটি বর্ণিত হয়েছে সাঈদ ইবনু জুবাইর, আলী, ইবনু আব্বাস... ও আয়িশা রা: থেকে যে, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে সালাত পরিত্যাগ করবে।
এটি হাসান, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, আতা, মাকহুল, ইবরাহীম, সালিম ও কাসিম রাহি. এরও মত।’
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. হায়েযের পরে যদি ঘোলা (মেটে) বর্ণ দেখা দেয়
৯০৪. আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন: আমি যাইদ ইবনু ইয়াহইয়ার নিকট মালিক ইবনু আনাস থেকে (এ হাদীসটি) পাঠ করলাম যে, তিনি বলেছেন: আমি এমন মহিলা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম যার সাত দিন যাবত হায়েয হলো, এরপর তা আরো বৃদ্ধি পেলো। তিনি বলেন: সে তিনদিনেই পবিত্র হয়ে যাবে।[1]
بَابُ الْكُدْرَةِ إِذَا كَانَتْ بَعْدَ الْحَيْضِ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد قَرَأْتُ عَلَى زَيْدِ بْنِ يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ هُوَ ابْنُ أَنَسٍ قَالَ سَأَلْتُهُ عَنْ الْمَرْأَةِ كَانَ حَيْضُهَا سَبْعَةَ أَيَّامٍ فَزَادَتْ حَيْضَتُهَا قَالَ تَسْتَظْهِرُ بِثَلَاثَةِ أَيَّامٍ
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি।-অনুবাদক) দেখুন, আত তামহীদ ১৬/৭৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯০৫. হিশাম হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, কোনো মহিলা সালাতের ওয়াক্তে হায়েয হতে পবিত্র হলো, আর সে তখনও গোসল করেনি, যদিও সে গোসল করতে সক্ষম ছিল, সে এ সালাতের কাযা’ আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَوَّامٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا طَهُرَتْ الْمَرْأَةُ فِي وَقْتِ صَلَاةٍ فَلَمْ تَغْتَسِلْ وَهِيَ قَادِرَةٌ عَلَى أَنْ تَغْتَسِلَ قَضَتْ تِلْكَ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح إلى الحسن
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯০৬. আমর হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, যদি কোনো মহিলা দু’রাকাত সালাত আদায় করার পর তার হায়েয শুরু হয়ে যায়, তবে পবিত্র হয়ে সে সেই সালাতের কাযা আদায় করবে না।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ عَمْرٍو عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا صَلَّتْ الْمَرْأَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ حَاضَتْ فَلَا تَقْضِي إِذَا طَهُرَتْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৯ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯০৭. মা’মার থেকে বর্ণিত। তিনি কাতাদা থেকে....[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا الْمَعْمَرِيُّ أَبُو سُفْيَانَ مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক ১২৮৮; এটি সুফিয়ান সাওরীরও মত। দেখুন, ৯১৭ (অনুবাদে ৯১৩) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯০৮. (তার দারিমীর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনু ঈসার সূত্রে) হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত, যে মহিলা যুহর সালাতের সময় (হায়েয হতে) পবিত্র হয়, কিন্তু সে গোসলকে পিছিয়ে দেয়, এমনকি আসরের ওয়াক্ত চলে আসে- এমন মহিলা সম্পর্কে আতা (ও কাতাদা) উভয়ে বলেন: তাকে যুহর সালাতের কাযা আদায় করতে হবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
قَالَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الظُّهْرِ فَتُؤَخِّرُ غُسْلَهَا حَتَّى يَدْخُلَ وَقْتُ الْعَصْرِ قَالَا تَقْضِي الظُّهْرَ
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।- অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯০৯. ইউনুস বর্ণনা করেন, তিনি হাসান থেকে....[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭; আব্দুর রাযযাক নং ১২৮৬ সহীহ সনদে। ৯১৬ (অনুবাদে ৯১২) নং হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১০. এবং মুগীরাহ বর্ণনা করেন, তিনি আমির হতে ......[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
وَمُغِيرَةُ عَنْ عَامِرٍ
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১১. উবাইদাহ ইবরাহীম হতে বর্ণিত, যে মহিলা সালাত আদায়ের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, এমনকি তার হায়েয শুরু হয়ে যায়, তার সম্পর্কে ইবরাহীম বলেন: (হায়েযমুক্ত হওয়ার পর) সে (কাযা হিসেবে) এ সালাত পুনরায় আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
وَعُبَيْدَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْمَرْأَةِ تُفَرِّطُ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى يُدْرِكَهَا الْحَيْضُ قَالُوا تُعِيدُ تِلْكَ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৯ যয়ীফ সনদে; আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১২. হাম্মাদ ইবনু আবী সুলাইমান ও ইউনুস থেকে বর্ণিত, সালাতের সময় হওয়ার পর যে মহিলা তা আদায়ে শৈথিল্য করতে থাকে, এমনকি তার হায়েয এসে যায়-এমন মহিলা সম্পর্কে হাসান রাহি. হতে তারা উভয়ে বর্ণনা করেন: যখন সে পবিত্রতার গোসল করবে, তখন সে এ সালাতের কাযা আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ وَيُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ فِي امْرَأَةٍ حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَفَرَّطَتْ حَتَّى حَاضَتْ قَالَا تَقْضِي تِلْكَ الصَّلَاةَ إِذَا اغْتَسَلَتْ
তাখরীজ: এটি ৯১৩ (অনুবাদে ৯০৯) নং এ গত হয়েছে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৩. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাসান ও কাতাদা উভয়ে বলেন: যখন কোনো মহিলা সালাতকে নষ্ট করে (অলসতা করে সালাতের ওয়াক্তে তা আদায় না করে), এমনকি তার হায়েয এসে যায়, তবে পবিত্র হওয়ার পর তার উপর এ সালাতের কাযা আদায় করা জরুরী।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ وَقَتَادَةَ قَالَا إِذَا ضَيَّعَتْ الْمَرْأَةُ الصَّلَاةَ حَتَّى تَحِيضَ فَعَلَيْهَا الْقَضَاءُ إِذَا طَهُرَتْ
তাখরীজ: হাসানের হাদীসটি গত হয়েছে ৯১৩, ৯১৬ (অনুবাদে ৯০৯, ৯১২) নং এ। আর কাতাদার হাদীসটিও গত হয়েছে ৯১১ (অনুবাদে ৯০৭) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৪. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, শা’বী বলেন: যখন কোনো মহিলা (সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার পর সালাত আদায়ে) শৈথিল্য প্রদর্শন করতে থাকে, এরপর তার হায়েয এসে যায়, তবে (পবিত্র হওয়ার পর) তাকে তা কাযা আদায় করতে হবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ إِذَا فَرَّطَتْ ثُمَّ حَاضَتْ قَضَتْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯১৪ (অনুবাদে ৯১০) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৫. আবী ইউসুফ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. বলেন, সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে যদি কোনো মহিলার হায়েযে এসে যায়, তবে তার উপর সেই সালাতের কাযা আদায় করা ওয়াযিব নয়।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: ইয়া’কুব হলেন কা’কা’র ছেলে কাযী হাদীস বর্ণনাকারী। আর আবু ইউসুফ হচ্ছেন মক্কার শাইখ।
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَنْ يَعْقُوبَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِي وَقْتِ الصَّلَاةِ فَلَيْسَ عَلَيْهَا الْقَضَاءُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْقُوبُ هُوَ ابْنُ الْقَعْقَاعِ قَاضِي مَرْوٍ وَأَبُو يُوسُفَ شَيْخٌ مَكِّيٌّ
إسناده جيد
তাখরীজ: এটি আমি অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৫. আবী ইউসুফ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. বলেন, সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে যদি কোনো মহিলার হায়েযে এসে যায়, তবে তার উপর সেই সালাতের কাযা আদায় করা ওয়াযিব নয়।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: ইয়া’কুব হলেন কা’কা’র ছেলে কাযী হাদীস বর্ণনাকারী। আর আবু ইউসুফ হচ্ছেন মক্কার শাইখ।
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
915 - حدثنا سعيد بن المغيرة قال بن المبارك حدثنا عن يعقوب عن أبي يوسف عن سعيد بن جبير قال إذا حاضت المرأة في وقت الصلاة فليس عليها القضاء قال أبو محمد يعقوب هو بن القعقاع قاضي مرو وأبو يوسف شيخ مكي إسناده جيد
তাখরীজ: এটি আমি অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৬. হাজ্জাজ ও কায়িস হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, যদি কোন মহিলা মাগরিবের পূর্বে (হায়েয হতে) পবিত্রতা লাভ করে, তবে সে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করবে। আর যদি ফজরের সালাতের পূর্বে পবিত্র হয়, তবে সে মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَجَّاجٍ وَقَيْسٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ الْمَغْرِبِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَإِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ الْفَجْرِ صَلَّتْ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ২/৩৩৬, ৩৩৭; সামনের ৯২৪ (অনুবাদে ৯২০) নং হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৭. আলী ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব থেকেও অনুরূপ (বর্ণিত আছে)।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مِثْلَهُ
إسناده ضعيف لضعف علي بن زيد
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও এ সনদে পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৮. মুক্বসিম হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতেও অনুরূপ (বর্ণিত আছে)।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَهُ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ২/৩৩৭ যয়ীফ সনদে; তবে এটি সহীহ সনদে ৮৩১ (অনুবাদে ৮২৭) নং এ গত হয়েছে। দেখুন, সামনে ৯৪০ (অনুবাদে ৯৩৬) নং ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯১৯. ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রহি. বলেন, হায়েযগ্রস্ত মহিলা যে ওয়াক্তে (হায়েয হতে) পবিত্রতা লাভ করবে, সেই ওয়াক্তের সালাত সে আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْحَائِضِ تُصَلِّي الصَّلَاةَ الَّتِي طَهُرَتْ فِي وَقْتِهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৮৬ সহীহ সনদে, যে, যদি আসরের ওয়াক্তে পবিত্র হয়, তবে সে আসরের সালাত আদায় করবে, যুহর আদায় করবে না।”
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২০. আবু নাজিহ হতে বর্ণিত, আতা’, তাউস ও মুজাহিদ বলেন, যখন হায়েযগ্রস্ত মহিলা ফজরের পূর্বে পবিত্রতা লাভ করবে, সে মাগরিব ও ঈশা’র সালাত আদায় করবে। আর যদি সূর্য ডোবার পূর্বে পবিত্র হয়, তবে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَطَاءٍ وَطَاوُسٍ وَمُجَاهِدٍ قَالُوا إِذَا طَهُرَتْ الْحَائِضُ قَبْلَ الْفَجْرِ صَلَّتْ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَإِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭ সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ১২৮১, আতা ও মা’মার ইবনু তাউস হতে, তিনি তার পিতা তাউস হতে; আতার হাদীসটির সনদ যয়ীফ, কিন্তু তাউসের হাদীসটির সনদ সহীহ। ইবনু আবী শাইবাতে বিভিন্ন সনদে এটি বর্ণিত। আবার আতার হাদীসটি ৯২০ (অনুবাদে ৯১৬) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২১. মানসূর হতে বর্ণিত, হাকাম রাহি. হায়েযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: দিনের শেষভাগে যদি সে পবিত্রাবস্থা লক্ষ্য করে, তবে সে যুহর ও আসর সালাত আদায় করবে। আর সে যদি রাতের শেষভাবে পবিত্রতা লাভ করে, তবে মাগরিব ও ঈশা’ সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ الْحَكَمِ فِي الْحَائِضِ إِذَا رَأَتْ الطُّهْرَ آخِرَ النَّهَارِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَإِذَا طَهُرَتْ آخِرَ اللَّيْلِ صَلَّتْ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৮২; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২২. লাইছ হতে বর্ণিত, তাউস রাহি. হতেও অনুরূপ বণির্ত হয়েছে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ مِثْلَهُ
إسناده ضعيف لضعف ليث وهو: ابن أبي سليم
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭; দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১২৮২।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২৩. শু’বাহ হতে বর্ণিত, মুগীরাহ বলেন, ইবরাহীম রাহি. বলতেন: যদি আসরের সময় সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) পবিত্রতা লাভ করে, তবে সে যুহর এবং আসরের সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُغِيرَةَ قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَقُولُ إِذَا طَهُرَتْ عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৬-৩৩৭ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২৪. আবু যাইদ বর্ণনা করেন, শু’বাহ বলেন, আমি হাম্মাদকে প্রশ্ন করেছিলাম। জবাবে তিনি বললেন: যখন সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্রতা লাভ করবে, তখন সে (সেই সালাত) আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ قَالَ قَالَ شُعْبَةُ سَأَلْتُ حَمَّادًا قَالَ إِذَا طَهُرَتْ فِي وَقْتِ صَلَاةٍ صَلَّتْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২৫. ইউনুস ও হামীদ হাসান রাহি. হতে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ’যখন সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্রতা লাভ করবে, তখন সে সেই সালাত আদায় করবে। আর এ সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত সে আদায় করবে না।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا طَهُرَتْ فِي وَقْتِ صَلَاةٍ صَلَّتْ تِلْكَ الصَّلَاةَ وَلَا تُصَلِّي غَيْرَهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. সালাতের সময় যদি মহিলার হায়েয হয় কিংবা পবিত্র হয়
৯২৬. আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন: আমি যাইদ ইবনু ইয়াহইয়ার নিকট মালিক থেকে (এ হাদীসটি) পাঠ করলাম, তিনি বললেন: আমি এমন মহিলা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে আসরের পরে পবিত্র হলো। তিনি বললেন: সে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করবে। আমি বললাম: যদি সূর্যাস্তের নিকটবর্তী সময়ে সে পবিত্রতা লাভ করে? তিনি বললেন, সে আসরের সালাত আদায় করবে, তবে তাকে যুহর সালাত আদায় করতে হবে না। আর যদি সে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তবে তাকে কিছুই করতে হবে না।[1] আব্দুল্লাহ (দারিমী)কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: না।
بَابُ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ عِنْدَ الصَّلَاةِ أَوْ تَحِيضُ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد قَرَأْتُ عَلَى زَيْدِ بْنِ يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ قَالَ سَأَلْتُهُ عَنْ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ بَعْدَ الْعَصْرِ قَالَ تُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ قُلْتُ فَإِنْ كَانَ طُهْرُهَا قَرِيبًا مِنْ مَغِيبِ الشَّمْسِ قَالَ تُصَلِّي الْعَصْرَ وَلَا تُصَلِّي الظُّهْرَ وَلَوْ أَنَّهَا لَمْ تَطْهُرْ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا شَيْءٌ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ لَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯২৭. সাঈদ্ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: একদা তাঁর নিকট এক মহিলা লিখে পাঠাল: ’এত এত সময় পর্যন্ত আমার ইসতিহাযা হয়েছে। তারপর আমার নিকট এ খবর পৌঁছল যে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’ (একথা শুনে) ইবনু আব্বাস বললেন: আলী যা বলেছেন, তা ব্যতীত তার ব্যাপারে আমরা অন্য কিছু জানতে পারিনি।’[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ الْمُحَارِبِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَتَبَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ إِنِّي قَدْ اسْتُحِضْتُ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا فَبَلَغَنِي أَنَّ عَلِيًّا قَالَ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا نَجِدُ لَهَا غَيْرَ مَا قَالَ عَلِيٌّ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৭৩, ১১৭৮; ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ সহীহ সনদে; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৯৯-১০০, ১০১ সহীহ সনদে; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯২৮. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর থেকে বর্ণিত, আবু সালামাহ কিংবা ইকরিমাহ বলেন, যায়নাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ই’তিকাফ করছিলেন, এমতাবস্থায় তার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। তখন তিনি তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَوْ عِكْرِمَةُ قَالَ كَانَتْ زَيْنَبُ تَعْتَكِفُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ تُرِيقُ الدَّمَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
إسناده منقطع
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৫১। এখানে আবু সালামাহ ‘ও’ ইকরিমাহ রয়েছে; আব্দুর রাযযাক নং ১১৭ (এ নম্বরটি ভুল, আসলে এটি ১১৭৫, যা প্রিন্টিংয়ে ১১৭ হয়ে গেছে হয়তো। আর এখানে যায়নাব’ এর পরিবর্তে ‘উম্মু সালামাহ’র কথা রয়েছে। আর মুহাক্কিক্বের টীকার বর্ণনানুযায়ী হাদীসটি ১১৭৭ নং যাতে আবী সালামাহ’র মতামত উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে যায়নাবের ই’তিকাফ বা ইসতিহাযাগ্রস্ত হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই ।- অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯২৯. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর থেকে বর্ণিত, আলি ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বলেন: ’ইসতিহাযাগ্রস্ত নারী প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ عَلِيًّا وَابْنَ مَسْعُودٍ كَانَا يَقُولَانِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
إسناده منقطع
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস রা: হতে... মুনকাতি’ সনদে; অপর সনদে ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস রা: থেকে... এটিও ‘ইনকিতা’র কারণে যয়ীফ। আর আলী রা: এর হাদীসটি ৯০২ (অনুবাদে ৮৯৮) নং এ গত হয়েছে। আর ইবনু মাসউদ রা: এর হাদীসটি আমি কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩০. আওযাঈ বলেন, আমি আতা’ ইবনু আবী রাবাহ রাহি. কে বলতে শুনেছি, ’সে (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) প্রতি দু’ সালাতের জন্য একবার করে গোসল করবে। আর ফজরের সালাতের জন্য একবার গোসল করবে।[1] আওযাঈ আরও বলেন, যুহরী ও মাকহুল উভয়ে বলতেন: প্রত্যেক সালাতের সময় সে গোসল করবে।’
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ يَقُولُ تَغْتَسِلُ بَيْنَ كُلِّ صَلَاتَيْنِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَغْتَسِلُ لِلْفَجْرِ غُسْلًا وَاحِدًا قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ وَكَانَ الزُّهْرِيُّ وَمَكْحُولٌ يَقُولَانِ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৮৩১, ৮৩৩, ৯২০ (অনুবাদে ৮২৭, ৮২৯, ৯১৬) নং এ। আরও দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৭১ দীর্ঘাকারে (যয়ীফ সনদে)।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩১. আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে এবং সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ قَالَ وَهْبٌ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ وَأَنَّهَا سَأَلَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَاكَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّيَ
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৫১।
আবু দাউদ ২৯৩, অপর সনদে মহিলার নামোল্লেখ ছাড়াই উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন যার সনদ সহীহ ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩২. আবু বাশার বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. কে বলতে শুনেছি, এক মহিলা ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র নিকট লিখে পাঠালেন: আমি ইসতিহাযায় আক্রান্ত হয়েছি, ফলে আমি কখনো পবিত্র হই না। আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি (আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি) যে, আপনারা উভয়ে আমাকে ফতোয়া দিবেন। আর আমি আপনাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছি।’ তখন তারা (লোকেরা) বলল, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’ আমি (বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু জুবাইর) একথা (ইবনু আব্বাসের নিকট) উল্লেখ করলাম। আর আমি নিজের হাতে উত্তর লিখে দিলাম আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যা বলেছেন, তা ব্যতীত তার জন্য আর কিছুই আমি পেলাম না। তখন তাকে বলা হলো, কুফা’ হলো শীতল ঠাণ্ডা এলাকা। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তবে একে এর চেয়েও কঠিন পরীক্ষায় ফেলবেন।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَقُولُ كَتَبَتْ امْرَأَةٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ الزُّبَيْرِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ وَإِنِّي أُذَكِّرُكُمَا اللَّهَ إِلَّا أَفْتَيْتُمَانِي وَإِنِّي سَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالُوا كَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَقَرَأْتُ وَكَتَبْتُ الْجَوَابَ بِيَدِي مَا أَجِدُ لَهَا إِلَّا مَا قَالَ عَلِيٌّ فَقِيلَ إِنَّ الْكُوفَةَ أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَقَالَ لَوْ شَاءَ اللَّهُ لَابْتَلَاهَا بِأَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৭৩,১১৭৯; অপর সনদে তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০০ সনদ সহীহ।
দ্রষ্টব্য: ইবনু জুবাইরের মুরসালটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক, আর তাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উমার, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনু জুবাইরের মুরসালসমূহ বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৩. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলা হলো: সে মহিলার দেশ (কুফা) খুব ঠাণ্ডার দেশ। তখন তিনি বললেন: সে যুহর সালাতকে পিছিয়ে দেবে এবং আসর সালাতকে আগে আগে আদায় করবে, আর (এ দু’টি সালাতের জন্য) একবার গোসল করবে; অনুরূপভাবে মাগরিবকে পিছিয়ে দেবে এবং ঈশাকে আগে আগে আদায় করবে, আর (এ দু’টি সালাতের জন্য) আরেকবার গোসল করবে। আর ফজর সালাতের জন্য একবার গোসল করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ قَيْسٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ أَرْضَهَا أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَقَالَ تُؤَخِّرُ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلُ الْعَصْرَ وَتَغْتَسِلُ غُسْلًا وَتُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلُ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلُ غُسْلًا وَتَغْتَسِلُ لِلْفَجْرِ غُسْلًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০১-১০২।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৪. যায়নাব বিনতে উম্ম সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহশের কন্যা যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি ইসতিহাযাগ্রস্ত ছিলেন। ফলে তিনি (যে পানিভরা পাত্রে বসে থাকতেন, সেই) পাত্র হতে যখন উঠে আসতেন, তখন পাত্রের উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তে লাল হয়ে যেতো। এমতাবস্থায়ই তিনি সালাত আদায় করতেন।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ ابْنَةَ جَحْشٍ كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَكَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَكَانَتْ تَخْرُجُ مِنْ مِرْكَنِهَا وَإِنَّهُ لَعَالِيهِ الدَّمُ فَتُصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৮ ...। আরও দেখুন, উসদুল গাবাহ ৭/৬৯-৭১, ৩১৪-৩১৫; আল ইসাবাহ ১২/১৯১-১৯২, ২৮২-২৮৩, ১৩/১৯২; ইসতিযকার ৩/২২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৫. আওযাঈ বলেন, আমি যুহরী ও ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীরকে বলতে শুনেছি, তারা উভয়ে বলেন: “সে প্রত্যেক সালাতের জন্য এককভাবে গোসল করবে।” আওযাঈ বলেন: মাকহুল থেকে এটার অনুরূপ বক্তব্য আমার নিকট পৌছেছে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدٍ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ وَيَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ يَقُولَانِ تُفْرِدُ لِكُلِّ صَلَاةٍ اغْتِسَالَةً قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ وَبَلَغَنِي عَنْ مَكْحُولٍ مِثْلُ ذَلِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। মাকহুল হতে আওযাঈ’র বর্ণনাটি যয়ীফ। আর পূর্বে বর্ণিত, আয়িশা রা: এর হাদীস দেখুন নং ৭৯৫ (অনুবাদে ৭৯১)।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৬. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন: প্রতি দু’সালাতের জন্য একবার গোসল করবে এবং ফজর সালাতের জন্য এককভাবে গোসল করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعَيْبٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ لِكُلِّ صَلَاتَيْنِ اغْتِسَالَةٌ وَتُفْرِدُ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ اغْتِسَالَةً
তাখরীজ: এটি ৮৩১, ৯২২ (অনুবাদে ৮২৭, ৯১৮) নং এ গত হয়েছে। আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী ১/৮৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৭. হাম্মাদ আল কুফী থেকে বর্ণিত, এক মহিলা ইবরাহীমকে জিজ্ঞেস করল। সে বললো, আমি ইসতিহাযায় আক্রান্ত। তখন তিনি বললেন: তোমার উপর পানি ব্যবহার ওয়াজিব। তুমি পানি ছিটিয়ে দেবে। ফলে পানি তোমার (শরীর) থেকে রক্ত মুছে দেবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَمَّادٍ الْكُوفِيِّ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَقَالَ عَلَيْكِ بِالْمَاءِ فَانْضَحِيهِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ الدَّمَ عَنْكِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। -অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৮. ইউনুস থেকে বর্ণিত, তালাকপ্রাপ্তা মহিলা, যে তার ব্যাপারে সন্দিহান, তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন, সে এক বছর সময় প্রতীক্ষা করবে। এরপর যদি তার হায়েয হয়, (তবে তার ইদ্দত শেষ হবে), তা না হলে একবছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আরও তিনমাস অপেক্ষা করবে। এরপর যদি তার হায়েয হয়, তবে তার ইদ্দত শেষ হবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دِينَارٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُطَلَّقَةِ الَّتِي ارْتِيبَ بِهَا تَرَبَّصُ سَنَةً فَإِنْ حَاضَتْ وَإِلَّا تَرَبَّصَتْ بَعْدَ انْقِضَاءِ السَّنَةِ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ حَاضَتْ وَإِلَّا فَقَدْ انْقَضَتْ عِدَّتُهَا
إسناده حسن
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক ১১০৯৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৩৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ বলেন, মালিককে ’ইসতিহাযাগ্রস্ত তালাকপ্রাপ্তা মহিলা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইবনু শিহাব হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: ’সেই মহিলার ইদ্দতকাল একবছর।’[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি মালিকের মত।
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ عِدَّةِ الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا طُلِّقَتْ فَحَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ عِدَّتُهَا سَنَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ قَوْلُ مَالِكٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: মালিক, তালাক অধ্যায় ৭১; ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮; এটি সামনে ৯৪৮ (অনুবাদে ৯৪৪) নং এ আসছে। আব্দুর রাযযাক নং ১১১২৪।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪০. আমর ইবনু দীনার বলেন, জাবির ইবনু যাইদ রাহি. কে ’তালাকপ্রাপ্তা যুবতী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো বার্ধক্য ছাড়াই যার হায়েয বন্ধ হয়ে হয়ে আছে। তিনি বলেন: হায়িয বন্ধ থাকা অবস্থা থেকে তার হায়েয হওয়া (-ই তার ইদ্দতকাল)। আর তাউস বলেন: (তার ইদ্দতকাল) তিনমাস।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ سُئِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ الْمَرْأَةِ تُطَلَّقُ وَهِيَ شَابَّةٌ فَتَرْتَفِعُ حِيضَتُهَا مِنْ غَيْرِ كِبَرٍ قَالَ مِنْ غَيْرِ حَيْضٍ تَحَيَّضُ وَقَالَ طَاوُسٌ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি জাবিরের হাদীসটি আর কোথাও পাইনি। আর তাওসের বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১১১২২।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪১. মা’মার হতে বর্ণিত, যুহরী রাহি. বলেন: যদি কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তারপর তার একবার বা দু’বার হায়েয অতিক্রান্ত হয়, এরপর তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি তা বার্ধক্যজনিত কারণে হয়, তবে সে তিনমাস ইদ্দত গণনা করবে। আর যদি সে যুবতী হয় এবং হায়েযশুন্য অবস্থা হয়ে থাকে (তার ধারণা হয় যে তার হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে), সে হায়েয শুন্য হওয়ার পর থেকে একবছর ইদ্দত গণনা করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَحَاضَتْ حَيْضَةً أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ ارْتَفَعَتْ حَيْضَتُهَا إِنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْ كِبَرٍ اعْتَدَّتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ وَإِنْ كَانَتْ شَابَّةً وَارْتَابَتْ اعْتَدَّتْ سَنَةً بَعْدَ الرِّيبَةِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১০৯৭; তাবারী ২৮/১৪০-১৪১।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪২. কাতাদা থেকে বর্ণিত, ইকরিমাহ বলেন: যে মহিলার হায়েয সুনির্ধারিত (নিয়মিত) নয়, কোনো মাসে একবার হয়, আবার কোনো মাসে দু’বারও হয়, তার ইদ্দতকাল তিনমাস।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ وَالَّتِي لَا يَسْتَقِيمُ لَهَا حَيْضٌ فَتَحِيضُ فِي شَهْرٍ مَرَّةً وَفِي الشَّهْرِ مَرَّتَيْنِ عِدَّتُهَا ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ
إسناده صحيح
আব্দুর রাযযাক নং ১১১২৩ সহীহ সনদে; তাবারী ২৮/১৪১; ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮-১৫৯ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৩. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাম্মাদ রাহি. বলেন, ’কুরূ’সমূহের (হায়েয) দ্বারা সে ইদ্দত গণনা করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَمَّادٍ قَالَ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮, এখানে এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৪. ইবনু শিহাব (যুহুরী) হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত নারীর ইদ্দতকাল এক বছর।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ عِدَّةُ الْمُسْتَحَاضَةِ سَنَةٌ
أثر صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯৪৩ (অনুবাদে ৯৩৯) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৫. (ইসহাক ইবনু ঈসার সূত্রে) ইউনুস হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা ’কুরূ’সমূহের (হায়েযের) দ্বারা তার ইদ্দত গণনা করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
إسناده ضعيف فيه هشيم وقد عنعن
তাখরীজ: একাধিক সনদে ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮ সহীহ এবং অপর একটি হাসান সনদে। এটি সম্মুখে আসছে ৯৫১ (৯৪৭) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৬. মা’মার হতে বর্ণিত, যুহরী রাহি. বলেন: ’কুরূ’সমূহের (হায়েয) দ্বারা (সে ইদ্দত গণনা করবে)।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ بِالْأَقْرَاءِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَهْلُ الْحِجَازِ يَقُولُونَ الْأَقْرَاءُ الْأَطْهَارُ وَقَالَ أَهْلُ الْعِرَاقِ هُوَ الْحَيْضُ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَأَنَا أَقُولُ هُوَ الْحَيْضُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/১২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৭. (মুসা ইবনু খালিদ সূত্রে) ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা ’কুরূ’সমূহের (হায়েযের) দ্বারা তার ইদ্দত গণনা করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
إسناده صحيح
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৮. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, আর তার স্ত্রী হায়েযসম্পন্না যুবতী নারী। কিন্তু তালাক দেওয়ার পর থেকে তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়। তারপর সে আর রক্ত দেখতে পায়নি। -এ ধরণের নারী সম্পর্কে আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম, সে কতদিন ইদ্দত গণনা করবে? জবাবে তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ الْهِقْلِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ شَابَّةٌ تَحِيضُ فَانْقَطَعَ عَنْهَا الْمَحِيضُ حِينَ طَلَّقَهَا فَلَمْ تَرَ دَمًا كَمْ تَعْتَدُّ قَالَ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৪৯. তিনি (আওযাঈ) বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে আরও জিজ্ঞেস করলাম, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, এরপর তার দু’বার হায়েয হয়। তারপর তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে কতদিন অপেক্ষা করবে? তিনি বলেন: ’তার ইদ্দত এক বছর।’[1]
তিনি (আওযাঈ) বলেন, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, যার হায়েয হয়। সে মহিলা তিনমাস অপেক্ষা করা (তার হায়েয বন্ধ থাকা)-এর পর তার আরেকবার হায়েয হয়। তারপর তার হায়েয আসতে দেরি হয়। তারপর সে সাত-আট মাস অপেক্ষা করে। তারপর (এভাবে) তার একবার তাড়াতাড়ি হায়েয হয়, আরেকবার দেরিতে হায়েয হতে থাকে। এমন স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম: এমতাবস্থায়, সে কতদিন হায়েয গণনা করবে? তিনি বলেন: যদি তার হায়েয তার নির্ধারিত সময় হতে বিভিন্ন রকম হয়, তবে তার ইদ্দত এক বছর।[2]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
قَالَ وَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَحَاضَتْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ ارْتَفَعَتْ حَيْضَتُهَا كَمْ تَرَبَّصُ قَالَ عِدَّتُهَا سَنَةٌ قَالَ وَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ تَحِيضُ تَمْكُثُ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ تَحِيضُ حَيْضَةً ثُمَّ يَتَأَخَّرُ عَنْهَا الْحَيْضُ ثُمَّ تَمْكُثُ السَّبْعَةَ الْأَشْهُرَ وَالثَّمَانِيَةَ ثُمَّ تَحِيضُ أُخْرَى تَسْتَعْجِلُ إِلَيْهَا مَرَّةً وَتَسْتَأْخِرُ أُخْرَى كَيْفَ تَعْتَدُّ قَالَ إِذَا اخْتَلَفَتْ حِيضَتُهَا عَنْ أَقْرَائِهَا فَعِدَّتُهَا سَنَةٌ
তাখরীজ: দেখুন, বিগত ৯৪১ (অনুবাদে ৯৩৭) নং হাদীসটি।
[2] তাহক্বীক্ব: এটিও আগের হাদীসের সনদই। আর সেটি জাইয়্যিদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ((মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৫০. (আওযাঈ বলেন) আমি বললাম: যদি এমন মহিলাকে তালাক দেয়া হয়, যার প্রতি বছরে মাত্র একবার করে হায়েয হয়, তবে সে কিভাবে ইদ্দত গণনা করবে? তিনি বললেন: যদি তার হায়েয হয়, আর তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি (কুরূ’সমূহ) জানা থাকে, তবে সেটাই তার হায়েযের নির্ধারিত দিন (কুরূ’) হিসেবে ধরতে হবে। আর আমার মতে, সে তার কুরূ’সমূহ (হায়েয) অনুযায়ী ইদ্দত গণনা করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
قُلْتُ وَكَيْفَ إِنْ كَانَ طَلَّقَ وَهِيَ تَحِيضُ فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً كَمْ تَعْتَدُّ قَالَ إِنْ كَانَتْ تَحِيضُ أَقْرَاؤُهَا مَعْلُومَةٌ هِيَ أَقْرَاؤُهَا فَإِنَّا نُرَى أَنْ تَعْتَدَّ أَقْرَاءَهَا
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোন তাখরীজ করেননি।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৫১. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে একটি লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে একটি দাসী ক্রয় করলো যে এখনো হায়েযে উপনীত হয়নি আর গর্ভধারণের মতো (বয়সও তার) হয়নি। এমতাবস্থায় সেই লোকটি কতদিন তার থেকে সম্পর্কহীন থাকবে? তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الرَّجُلِ يَبْتَاعُ الْجَارِيَةَ لَمْ تَبْلُغْ الْمَحِيضَ وَلَا تَحْمِلُ مِثْلُهَا بِكَمْ يَسْتَبْرِئُهَا قَالَ بِثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ
তাখরীজ: এটি সামনে ১২১৭ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৫২. এবং ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর বলেন, পঁয়তাল্লিশ দিন।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ بِخَمْسَةٍ وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا
তাখরীজ: এটি সামনে ১২১৮ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৫৩. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন, সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّي
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস হতে... মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. যখন কোনো মহিলার হায়েযের দিনগুলি ইসতিহাযার দিনগুলি সাথে মিশ্রিত হয়ে যায়
৯৫৪.[1] এবং হাম্মাদ রাহি. বলেন, যদি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা (ইসতিহাযার হুকুম) না জানার কারণে কয়েক মাস যাবত সালাত পরিত্যাগ করে, তবে সে এ সালাতসমূহের কাযা আদায় করবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সে কিভাবে এগুলোর কাযা আদায় করবে? তিনি জবাবে বললেন, যদি সম্ভব হয় তবে, সে এগুলো একদিনের মধ্যেই আদায় করে নেবে।[2] আব্দুল্লাহকে বলা হলো: আপনিও কি তাই বলেন? তিনি বললেন, অবশ্যই, আল্লাহর কসম।
بَابُ إِذَا اخْتَلَطَتْ عَلَى الْمَرْأَةِ أَيَّامُ حَيْضِهَا فِي أيَّامِ اسْتِحَاضَتِهَا
وَقَالَ حَمَّادٌ لَوْ أَنَّ مُسْتَحَاضَةً جَهِلَتْ فَتَرَكَتْ الصَّلَاةَ أَشْهُرًا فَإِنَّهَا تَقْضِي تِلْكَ الصَّلَوَاتِ قِيلَ لَهُ وَكَيْفَ تَقْضِيهَا قَالَ تَقْضِيهَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ إِنْ اسْتَطَاعَتْ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ إِي وَاللَّهِ
[2] তাহক্বীক্ব: এ হাদীসের সনদ সহীহ। আর পূর্বের হাদীসের সনদই এর সনদ।
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৫৫. মালিক ইবনু আনাস রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহুরী রাহি. কে এমন গর্ভবতী মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রক্ত (আসতে) দেখে। জবাবে তিনি বলেন, সে সালাত পরিত্যাগ করবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ فَقَالَ تَدَعُ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: মালিক, মু’আত্তা, ১০৩; আব্দুর রাযযাক ১২০৯; আমাদের পরিপূর্ণ বক্তব্য হলো, এর সনদ সহীহ। দেখুন আল ইসতিযকার, ৩/১৯৮, ১৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৫৬. উসমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্ত্রী, যে রক্ত দেখতে পায়, তার সম্পর্কে আমি মুজাহিদ রাহি.কে প্রশ্ন করলাম। আর আমার ধারণা, সে গর্ভবতী। তিনি বললেন, এটি হলো গর্ভেরই সামান্য পরিমাণ (রক্ত)। (আল্লাহ তা’আলা বলেন:)( (اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ) অর্থ: “প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন।” (সূরা রা’দ: ৮)
তিনি বললেন: ফলে (রক্ত বের হওয়ার মাধ্যমে গর্ভের মধ্যে) যে পরিমাণই কমে যায়, তার গর্ভের মধ্যে ঠিক সেই পরিমাণে বৃদ্ধি হয়।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ امْرَأَتِي رَأَتْ دَمًا وَأَنَا أُرَاهَا حَامِلًا قَالَ ذَلِكَ غَيْضُ الْأَرْحَامِ اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ فَمَا غَاضَتْ مِنْ شَيْءٍ رَأَتْ مِثْلَهُ فِي الْحَمْلِ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১০ অধিক শব্দে সহীহ সনদে। তাবারী অপর সনদে মুজাহিদ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৫৭. আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, (اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ) অর্থ: “প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন এবং তাঁর বিধানে প্রত্যেক বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে।” (সূরা রা’দ: ৮)- এ আয়াত সম্পর্কে ইকরিমাহ রাহি. বলেন, এ হায়েয হলো গর্ভের জন্য। গর্ভাবস্থায় একদিনের হায়েযও গর্ভাবস্থায় তার পবিত্রতা বাড়িয়ে দেয়।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عِكْرِمَةَ فِي هَذِهِ الْآيَةِ اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ قَالَ ذَلِكَ الْحَيْضُ عَلَى الْحَبَلِ لَا تَحِيضُ يَوْمًا فِي الْحَبَلِ إِلَّا زَادَتْهُ طَاهِرًا فِي حَبَلِهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১১, ইকরিমাহ হতে সহীহ সনদে। তিনি অপর সনদেও ইকরিমাহ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।... দেখুন, সামনের ৯৬৫ নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৫৮. হাম্মাদ ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ রাহি. বলেন, আমাদের মাঝে একটি বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। (সেটি হলো), আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখতে পায়, সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَمْرٌ لَا يُخْتَلَفُ فِيهِ عِنْدَنَا عَنْ عَائِشَةَ الْمَرْأَةُ الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ أَنَّهَا لَا تُصَلِّي حَتَّى تَطْهُرَ
إسناده ضعيف لانقطاعه وربما كان معضلا
তাখরীজ: এটি সামনে ৯৬৮ নং এও আসছে। আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। কিন্তু পরবর্তী ৯৭৩ ও৯৭৪ নং হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৫৯. আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, (وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ) (অর্থ: “জরায়ুতে যা কিছু কমে”..। সূরা রা’দ: ৮) এ সম্পর্কে ইকরিমাহ বলেন: সেটি হলো গর্ভাকালীন হায়েয।
(وَمَا تَزْدَادُ) (অর্থ: “আর যা কিছু বাড়ে....”। সূরা রা’দ: ৮) এ সম্পর্কে তিনি বলেন: তার গর্ভকালীন প্রতি একদিনের হায়েয তার পবিত্রাবস্থাকে এক এক দিন করে বাড়িয়ে দেয়। এমনকি পবিত্রাবস্থায়ই সে নয় মাস পূর্ণ করে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ عِكْرِمَةَ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ قَالَ هُوَ الْحَيْضُ عَلَى الْحَبَلِ وَمَا تَزْدَادُ قَالَ فَلَهَا بِكُلِّ يَوْمٍ حَاضَتْ فِي حَمْلِهَا يَوْمًا تَزْدَادُ فِي طُهْرِهَا حَتَّى تَسْتَكْمِلَ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ طَاهِرًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১১; এটি গত হয়েছে ৯৬৩ (অনুবাদে ৯৫৭) নং এ, পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬০. আবু বাশার থেকে বর্ণিত, (وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ) (অর্থ: “জরায়ুতে যা কিছু কমে”..। সূরা রা’দ: ৮) এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ রাহি. বলেন, যখন গর্ভবতী নারীর হায়েয হয়, তখন তা হয় গর্ভের সন্তানের ক্ষতি/ঘাটতি থেকে। আর (গর্ভ) যদি নয় মাসের অধিককাল হয়, তবে তা সন্তানের ক্ষতি বা ঘাটতির পূর্ণতা দানকারী হবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ قَالَ إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ وَهِيَ حَامِلٌ قَالَ يَكُونُ ذَلِكَ نُقْصَانًا مِنْ الْوَلَدِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى تِسْعَةِ أَشْهُرٍ كَانَ تَمَامًا لِمَا نَقَصَ مِنْ وَلَدِهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১০৯-১১০; পূর্ণ তাখরীজের জন্য ৯৬৩ ও ৯৬৫ (অনুবাদে ৯৫৭, ৯৫৯) নং হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬১. হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে বর্ণিত, বাকর ইবনু আব্দুল্লাহ আল মুযানী বলেন, আমার স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় হায়েয হয়েছিলো।’[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ امْرَأَتِي تَحِيضُ وَهِيَ حُبْلَى
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি আমি অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬২. আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন, আমি সুলাইমান ইবনু হারবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় হায়েয হলো।[1]
৯৬২. সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন গর্ভবতী নারী রক্ত দেখবে, তখন সে যেন সালাত পরিত্যাগ করে, কেননা, তা হায়েয।[2]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ امْرَأَتِي تَحِيضُ وَهِيَ حُبْلَى
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ إِذَا رَأَتْ الْحُبْلَى الدَّمَ فَلْتُمْسِكْ عَنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّهُ حَيْضٌ
তাখরীজ: এটিও আমি আর কোথাও পাইনি।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ যয়ীফ।
তাখরীজ: আর এটি গত হয়েছে ৯৬৪ (অনুবাদ ৯৫৮) নং এ। ইবনু আব্দুল বার, আল ইসতিযকার নং ৩৩৮৭; দেখুন নং ৯৭৩, ৯৭৪, ৯৮৫ (অনুবাদে ৯৬৭, ৯৬৮, ৯৭৯) নং হাদীসগুলি যা সামনে আসছে। এবং সুনানে বাইহাকী ৭/৪২৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৩. মালিক বর্ণনা করেছেন, যে তার নিকট আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে অনুরূপ বক্তব্য পৌঁছেছে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ مِثْلُ ذَلِكَ
إسناده معضل
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৪. লাইছ থেকে বর্ণিত, গর্ভবতী মহিলা যে রক্ত দেখে, তার সম্পর্কে শা’বী রাহি. বলেন, রক্ত যদি তাজা রক্ত হয়, তবে সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে। আর তা যদি সামান্য কোনো (হলুদ বা মেটে রং এর) স্রাব হয়, তবে সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।’[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ إِنْ كَانَ الدَّمُ عَبِيطًا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ وَإِنْ كَانَتْ تَرِيَّةً تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ
إسناده ضعيف لضعف الليث وهو: ابن أبي سليم
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/২১২;
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৫. আবুল মুগীরাহ, আওযাঈ রাহি. হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ مِثْلَهُ
رجاله ثقات
তাখরীজ: এটি আর এখানে ছাড়া আর কোথাও পাইনি। দেখুন, আল ইসতিযকার ৩/১৯৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৬. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, সে যদি তেমনি স্রাব দেখে, যেমন সে দেখেছিল এর পূর্বে হায়েযের দিনগুলিতে, তবে সে সালাত পরিত্যাগ করবে। আর যদি তা দু’-একদিন ধরে হয়, তবে সে সালাত পরিত্যাগ করবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبَّادُ هُوَ ابْنُ الْعَوَّامِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِنْ كَانَتْ تَرَاهُ كَمَا كَانَتْ تَرَاهُ قَبْلَ ذَلِكَ فِي أَقْرَائِهَا تَرَكَتْ الصَّلَاةَ وَإِنْ كَانَ إِنَّمَا هُوَ فِي الْيَوْمِ أَوْ الْيَوْمَيْنِ لَمْ تَدَعْ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ২/২১২।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৭. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তার সম্পর্কে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এটি তাকে কোনো সালাত থেকে বিরত রাখতে পারবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ وَعَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ مَطَرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَتْ لَا يَمْنَعُهَا ذَلِكَ مِنْ صَلَاةٍ
لم يحكم عليه المحقق
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ২/২১২; বাইহাকী ৭/৪২৩; আরও দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৮. (অপর সনদে) আতা রাহি. হতে বর্ণিত, যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তার সম্পর্কে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।’[1] ইয়াযীদ বলেন, সে গোসল করবে না। আব্দুল্লাহ বলেন, আমার মত ইয়াযীদের মতই।
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ مَطَرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَتْ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي قَالَ يَزِيدُ لَا تَغْتَسِلُ قَالَ عَبْد اللَّهِ أَقُولُ بِقَوْلِ يَزِيدَ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: দারুকুতনী ১/২১৯ নং ৬৩; বাইহাকী ৭/২৩; সামনে ৯৮৫ (অনুবাদে ৯৭৯) হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৬৯. ইউনুস থেকে বর্ণিত, যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন: সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্থলাভিষিক্ত। সে সালাত পরিত্যাগ করবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَ هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ غَيْرَ أَنَّهَا لَا تَدَعُ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২১০; সামনে ৯৭৯ (অনুবাদে ৯৭৩) এ আসছে। আরও দেখুন, বিগত ৮৩৮, ৮৩৯ (অনুবাদে ৮৩৪, ৮৩৫) নং হাদীস দুটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭০. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তার সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন: তার দেহ হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করে সালাত আদায় করবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَ تَغْسِلُ عَنْهَا الدَّمَ وَتَتَوَضَّأُ وَتُصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/২১২; দেখুন, পরবতী ৯৮২ (অনুবাদে ৯৭৬) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭১. হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত, আতা ও হাকাম উভয়ে বলেন: গর্ভবতী নারী যদি রক্ত দেখে, তবে সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।’[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ عَطَاءٍ وَالْحَكَمِ قَالَا إِذَا رَأَتْ الْحَامِلُ الدَّمَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ
إسناده ضعيف لضعف حجاج وهو: ابن أرطاة
তাখরীজ: এটি সামনে ৯৮৩ (অনুবাদের ক্রম ৯৭৭) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭২. জামি’ ইবনু আবু রাশিদ হতে বর্ণিত, যে গর্ভবতী নারী রক্ত দেখে, তার সম্পর্কে আতা রাহি. বলেন, সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ جَامِعٍ هُوَ ابْنُ أَبِي رَاشِدٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَ تَوَضَّأُ وَتُصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ২/১২ ((সম্ভবত এটি ভুল, কারণ, মুহাক্বিক্ব ২/১২ এর অধীনে যে বাবের নাম উল্লেখ করেছেন, ২/১২ তে এ নামে কোনো বাব নেই, বরং সেটি রয়েছে ২/২১২ তে। সুতরাং সঠিক হওয়া উচিত ২/২১২ - অনুবাদক)); পূর্বের টীকাটি এবং পরবর্তী ৯৮৩, ৯৮৪ নং হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৩. ইউনুস থেকে বর্ণিত, (যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত নির্গত হতে দেখে, তার সম্পর্কে) হাসান রাহি. বলেন: সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্থলাভিষিক্ত।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أثر صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯৭৫ (অনুবাদে ৯৬৯) নং এ; এবং সামনের ৯৮১ (অনুবাদে ৯৭৫) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৪. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, গর্ভকালীন (স্রাব) হায়েয বলে গণ্য হবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ عَنْ جَرِيرٍ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ لَا يَكُونُ حَيْضٌ عَلَى حَمْلٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আগের ৯৭৬ (অনুবাদে ৯৭০) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৫. হিশাম হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন: সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্থলাভিষিক্ত।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ قَالَ هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯৭৫, ৯৭৯ (অনুবাদে ৯৬৯, ৯৭৩) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৬. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন: যে গর্ভবতী মহিলা রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, সে সালাত পরিত্যাগ করবে না।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ إِذَا رَأَتْ الْحَامِلُ الدَّمَ لَمْ تَدَعْ الصَّلَاةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯৮০ (অনুবাদে ৯৭৪) নং এ। আরও দেখুন, ৯৭৬ (অনুবাদে ৯৭০) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৭. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত, আতা ও হাকাম ইবনু উতাইবাহ রাহি. উভয়ে বলেন: গর্ভবতী মহিলা ও যার হায়েয বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এমন মহিলারা যদি রক্ত (নির্গত হতে) দেখে, তবে তারা দু’জন ওযু করবে, সালাত আদায় করবে এবং তারা গোসল করবে না।’[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنْ عَطَاءٍ وَالْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ أَنَّهُمَا قَالَا فِي الْحُبْلَى وَالَّتِي قَعَدَتْ عَنْ الْمَحِيضِ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ تَوَضَّأَتَا وَصَلَّتَا وَلَا تَغْتَسِلَانِ
إسناده ضعيف لضعف حجاج بن أرطاة
তাখরীজ: আর এটি ৯৭৭ (অনুবাদে ৯৭১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৮. মাতর হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, তারা (গর্ভবতী ও হায়েযবন্ধ মহিলারা) উভয়ে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ مَطَرٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ تَغْتَسِلَانِ وَتُصَلِّيَانِ
إسناده ضعيف رواية مطر عن عطاء ضعيفة
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–।অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৭৯. আতা ইবনু আবু রাবাহ থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, গর্ভবতী নারীর কখনো হায়েয হয় না। ফলে সে রক্ত দেখলে সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى الدِّمَشْقِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّ الْحُبْلَى لَا تَحِيضُ فَإِذَا رَأَتْ الدَّمَ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ
إسناده حسن من أجل سليمان بن موسى
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২১৪; দেখুন পুর্বের ৯৬৮, ৯৭৩, ৯৭৪ (অনুবাদে ৯৬২, ৯৭৭, ৯৭৮) নং হাদীসগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৮০. হাকাম থেকে বর্ণিত, আসন্ন প্রসবা নারী যদি রক্ত দেখতে পায়, তার সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন, তা হচ্ছে হায়েয, ফলে সে সালাত পরিত্যাগ করবে।[1]
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْمَرْأَةِ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ وَهِيَ تَمَخَّضُ قَالَ هُوَ حَيْضٌ تَتْرُكُ الصَّلَاةَ
إسناده قوي
তাখরীজ: ইবনু্ আবী শাইবা ২/২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখে
৯৮১. ইউনুস হতে বর্ণিত, গর্ভবতী নারীর সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন, যদি তার প্রসব বেদনা উঠে, আর সে প্রসবকালীন রক্ত দেখে, তবে সে যেন সালাত থেকে বিরত থাকে।[1]
আব্দুল্লাহ বলেন: বাচ্চা প্রসব না করা পর্যন্ত সে সালাত আদায় করবে।
بَاب فِي الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمَرْأَةِ الْحَامِلِ إِذَا ضَرَبَهَا الطَّلْقُ وَرَأَتْ الدَّمَ عَلَى الْوَلَدِ فَلْتُمْسِكْ عَنْ الصَّلَاةِ وَقَالَ عَبْد اللَّهِ تُصَلِّي مَا لَمْ تَضَعْ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু্ আবী শাইবা ২/২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮২. মা’মার হতে বর্ণিত, কাতাদা রাহি. (মহিলাদের) নিফাসের (প্রসূতি অবস্থার) সময়সীমা সম্পর্কে বলেন, তা তাদের পরিবারের অন্যান্য নারীদের সময়সীমা অনুসারে হবে, যেমন পবিত্রতার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو سُفْيَانَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ فِي النُّفَسَاءِ كَطُهْرِ امْرَأَةٍ مِنْ نِسَائِهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৩. ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. প্রসূতি (নিফাসগ্রস্ত) মহিলা সম্পর্কে বলেন, সে সালাত আদায় করা হতে চল্লিশ দিন বিরত থাকবে। তারপর যদি সে পবিত্রাবস্থা লক্ষ্য করে তো তা (ভালোই)। আর যদি সে পবিত্রাবস্থা দেখতে না পায়, তবে এরপর সে পাঁচ-ছয়দিন যাবত সালাত হতে বিরত থাকবে। যদি সে পবিত্রতা লক্ষ্য করে তো ভালোই। তা না হলে সে এরপর থেকে পঞ্চাশ দিন হওয়া পর্যন্ত যে কয়দিন অবশিষ্ট থাকবে, সে কয়দিনও সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে। এরপর যদি সে পবিত্র হয়ে যায় তো ভালো, তা না হলে সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي النُّفَسَاءِ تُمْسِكُ عَنْ الصَّلَاةِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَإِنْ رَأَتْ الطُّهْرَ فَذَاكَ وَإِنْ لَمْ تَرَ الطُّهْرَ أَمْسَكَتْ عَنْ الصَّلَاةِ أَيَّامًا خَمْسًا سِتًّا فَإِنْ طَهُرَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا أَمْسَكَتْ عَنْ الصَّلَاةِ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْخَمْسِينَ فَإِنْ طَهُرَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
তাখরীজ: এটি ৮৫৯ (অনুবাদে ৮৫৫) নং এ গত হয়েছে। আরও দেখুন পরবর্তী টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৪. হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, উছমান ইবনু আবিল আ’স চল্লিশ দিন তার (নিফাসগ্রস্ত) প্রসূতি স্ত্রীলোকদের নিকটবর্তী হতেন না। এবং হাসান বলেন, নিফাস (প্রসূতি)-এর মেয়াদকাল পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত। এরচেয়ে বেশিদিন ধরে (নিফাসকালীন স্রাব) হলে সে মহিলা ইসতিহাযাগ্রস্ত ।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ أَنَّهُ كَانَ لَا يَقْرَبُ النُّفَسَاءَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا وَقَالَ الْحَسَنُ النُّفَسَاءُ خَمْسَةٌ وَأَرْبَعُونَ إِلَى خَمْسِينَ فَمَا زَادَ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ
إسناده منقطع الحسن لم يسمع من عثمان شيئا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২০১; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ১১৮; পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৫. (অপর সূত্রে) হাসান রাহি. হতে বর্ণিত, উছমান ইবনু আবিল আ’স বলেন: নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা চল্লিশ দিন। যদি এ সময়ের মধ্যে পবিত্র হয়ে যায়, তো ভালো; আর (পবিত্র) না হলে সে এ সীমা (চল্লিশ দিন) অতিক্রম করবে না। এমনকি সে সালাত আদায় করতে থাকবে।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ وَقْتُ النُّفَسَاءِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَإِنْ طَهُرَتْ وَإِلَّا فَلَا تُجَاوِزْهُ حَتَّى تُصَلِّيَ
إسناده ضعيف لضعف إسماعيل بن مسلم والحسن لم يسمع من عثمان شيئا
তাখরীজ: বাইহাকী, ১/৩৪১ আগের সনদটির চেয়েও অধিক যয়ীফ।...; আব্দুর রাযযাক নং ১২০২ এ সনদে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে; হাফিজ তালখীসুল হাবীর ১/১৭১ এ বলেন, এটি মুনকাতি’ এবং মাশহুর হলো এটি উছমান এর কথা হিসেবে মাওকুফ। আরও দেখুন, দারুকুতনী ১/২২০ নং ৬৭, ৬৮, ৬৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৬. আশ’আস হতে বর্ণিত, আতা বলেন, নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলার (পূর্ব) অভ্যাস থাকে, (তবে সেটি হবে তার সময়সীমা;) তা নাহলে সে চল্লিশ দিন অপেক্ষা করবে।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ إِنْ كَانَ لِلنُّفَسَاءِ عَادَةٌ وَإِلَّا جَلَسَتْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩৬৮, সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৭. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, নিফাস হচ্ছে হায়েয।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ النِّفَاسُ حَيْضٌ
إسناده ضعيف وابن جريج قد عنعن وهو مدلس
তাখরীজ: ((মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. নিফাস (প্রসূতি) অবস্থার সময়সীমা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৯৮৮. ইউসুফ ইবনু মাহাক থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলা চল্লিশ দিন অথবা, অনুরূপ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।[1]
بَابُ: وَقْتِ النُّفَسَاءِ وَمَا قِيلَ فِيهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَنْتَظِرُ النُّفَسَاءُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ نَحْوَهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩৬৮; বাইহাকী ১/৩৪১; সামনে ৯৯৭ (অনুবাদে ৯৯১) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৮৯. উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) নারীরা চল্লিশদিন কিংবা চল্লিশ রাত্রি বিরত থাকতো। আমাদের কেউ কেউ মুখের তামাটে রংয়ের দাগ (দূর করার) জন্য মুখমণ্ডলে ’ওয়ার্’সা’[1] নামক গাছের (নির্যাসের) প্রলেপ ব্যবহার করতেন।[2]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى عَنْ أَبِي سَهْلٍ الْبَصْرِيِّ عَنْ مُسَّةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَتْ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَكَانَتْ إِحْدَانَا تَطْلِي الْوَرْسَ عَلَى وَجْهِهَا مِنْ الْكَلَفِ
إسناده جيد
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ জাইয়্যেদ। ... হাফিজ তাকরীব’ এ বলেন: একে সহীহ বলেছেন, বুখারী, তিরমিযী, হাকিম, যাহাবী এবং হাসান ও জাইয়্যেদ বলেছেন নববী তার ‘আল মাজমু’ ২/৫২৫ তে...।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৬৮; আহমাদ ৬/৩০০, ৩০৩, ৩০৪, ৩০৯-৩১০; আবু দাউদ ৩১১; হাকিম ১/১৭৫; দারুকুতনী ১/২২২; বাইহাকী ১/৩৪১; আল মা’রিফাহ নং ২২৮১; ইবনু হিব্বান, আল মাজরুহীন ২/২২৪-২২৫; তিরমিযী ১৩৯; ইবনু মাজাহ ৬৪৮। মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০২৩ এ আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
এ অনুচ্ছেদে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রা: থেকে, যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৭৯১। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ১/১৭১।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯০. মুয়াবিয়াহ ইবনু কুররাহ হতে বর্ণিত, আয়িয ইবনু আমরের এক স্ত্রী নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) হলেন, তারপর বিশ রাত অতিক্রান্ত হলে সেই স্ত্রী তার (আয়িযের) লেপের নিচে প্রবেশ করতে গেলে তিনি বলেন: তুমি কে? সেই স্ত্রী বললো: আমি অমুক (স্ত্রী)। আমি পবিত্রতা লাভ করেছি’। একথা শুনে তিনি তাকে পা দিয়ে লাথি মেরে বললেন: আমার দীন নিয়ে আমার সাথে প্রতারণা করো না। (তুমি আমার নিকটবর্তী হয়ো না) যতক্ষণ না চল্লিশ রাত অতিক্রান্ত হয়।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ جَلْدٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ أَنَّ امْرَأَةً لِعَائِذِ بْنِ عَمْرٍو نُفِسَتْ فَجَاءَتْ بَعْدَمَا مَضَتْ عِشْرُونَ لَيْلَةً فَدَخَلَتْ فِي لِحَافِهِ فَقَالَ مَنْ هَذِهِ قَالَتْ أَنَا فُلَانَةُ إِنِّي قَدْ تَطَهَّرْتُ فَرَكَضَهَا بِرِجْلِهِ فَقَالَ لَا تُغَرِّنِي عَنْ دِينِي حَتَّى تَمْضِيَ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً
إسناده ضعيف جدا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩৬৭; দারুকুতনী ১/২২২, দারুকুতনী জালদ-কে যয়ীফ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯১. ইউসুফ ইবনু মাহাক হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলা চল্লিশ দিন মতো অপেক্ষা করবে।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ نَحْوًا مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا
তাখরীজ: এটি ৯৯৪ (অনুবাদে ৯৮৮) এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯২. (অপর সূত্রে) ইউসুফ ইবনু মাহাক হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলা চল্লিশ দিন মতো অপেক্ষা করবে।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ النُّفَسَاءُ تَنْتَظِرُ نَحْوًا مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯৩. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, হাসান রাহি. বলেন, নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলা যে রক্ত দেখতে পায়, সে চল্লিশ রাত অপেক্ষা করবে। তারপর সে সালাত আদায় করবে। তিনি বলেন: এবং শা’বী (এ সম্পর্কে) বলেন: (সেই মহিলা) দু’মাস (অপেক্ষা করবে), তারপর (ও স্রাব চলতে থাকলে) সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার স্থলাভিষিক্ত হবে।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ الْحَسَنَ قَالَ فِي النُّفَسَاءِ الَّتِي تَرَى الدَّمَ تَرَبَّصُ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ تُصَلِّي وَقَالَ الشَّعْبِيُّ شَهْرَيْنِ ثُمَّ هِيَ بِمَنْزِلَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ
أثران بإسناد واحد وهو أسناد جيد
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩৬৭-৩৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯৪. আলা’ ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, মাকহুল বলেন, ছেলে সন্তান হলে মহিলা তিরিশ দিন অপেক্ষা করবে; আর মেয়ে সন্তান হলে চল্লিশ দিন অপেক্ষা করবে। এর অর্থ: নিফাসগ্রস্ত (প্রসূতি) মহিলা।
মারওয়ান বলেন: এটি সাঈদ ইবনু আব্দুল আযীযেরও মত। আর আওযাঈ বলেন: তারা (ছেলে-মেয়ে) উভয়ে সমান।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْأَفْطَسُ قَالَ سَمِعْتُ الْعَلَاءَ بْنَ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ الْمَرْأَةُ تَنْتَظِرُ مِنْ الْغُلَامِ ثَلَاثِينَ يَوْمًا وَمِنْ الْجَارِيَةِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا يَعْنِي النُّفَسَاءَ قَالَ مَرْوَانُ هُوَ قَوْلُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ هُمَا سَوَاءٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি আমি আর অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯৫. ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, যদি সে (গর্ভবতী) নারী প্রসবের নিকটবর্তী সময়ে দু’-একদনি রক্ত দেখে, তবে তা নিফাসগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ عِنْدَ الطَّلْقِ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ النِّفَاسِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. হায়েযগ্রস্ত মহিলা পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন পোশাকে সালাত আদায় করতে পারবে
৯৯৬. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, এমন গর্ভবতী মহিলা, যার প্রসব আসন্ন, সে যদি রক্ত দেখতে পায়, তার সম্পর্কে আতা’ রাহি. বলেন, একজন ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা যা করে, সেও তাই করবে।[1]
بَابٌ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ وَهِيَ تَطْلُقُ قَالَ تَصْنَعُ مَا تَصْنَعُ الْمُسْتَحَاضَةُ
إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن جريج
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ যয়ীফ। ইবনু জুরাইজ আন’আন পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুদাল্লিস। কিন্তু এটি ‘হাদ্দাছানা’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১২১২ তে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
৯৯৭. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, এমন মহিলা যে, ’জুনুবী’ হয়, আর এর পরপরই তার হায়েয আসে- এমন মহিলা সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন, তাকে (জানাবাতের ফরয) গোসল করতে হবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْمَرْأَةِ تُجْنِبُ ثُمَّ تَحِيضُ قَالَ تَغْتَسِلُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৭; আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৯, ১০৬০ সহীহ সনদে। এটি ১০০৬ (অনুবাদে ১০০০) নং এ আসছে। সেখানে পূর্ণ তারখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
৯৯৮. হিশাম রাহি. হাসান রাহি. হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ مِثْلَهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৯, ১৩০০ সহীহ সনদে; এটি সামনে ১০০৮ (অনুবাদে ১০০২) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
৯৯৯. আলা ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আতা রাহি. বলেছেন, হায়েয (জানাবাত হতে) অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ বিষয়।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ الْحَيْضُ أَكْبَرُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৯, ১০৬০, ১২৯৯ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
১০০০. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, এমন মহিলা যার স্বামী তার সাথে মিলিত হলো, এরপর তার হায়েয হলো- এমন মহিলা সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন, ’সে গোসল করবে’- এটাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي رَجُلٍ غَشِيَ امْرَأَتَهُ فَحَاضَتْ فَقَالَ تَغْتَسِلُ أَحَبُّ إِلَيَّ
أثر صحيح
তাখরীজ: এটি ১০০৩ (অনুবাদে ৯৯৭)
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
১০০১. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত, আতা ও (ইবরাহীম) আন নাখঈ’ উভয়ে বলেন, সে যেন জানাবাতের গোসল করে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ وَالنَّخَعِيِّ قَالَا لِتَغْتَسِلْ مِنْ الْجَنَابَةِ
إسناده ضعيف حجاج هو: ابن المنهال وحماد هو: ابن سلمة وحجاج هو: ابن أرطاة وهو سبب ضعف هذا الإسناد
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি-অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
১০০২. আমির আল আহওয়াল হতে, তিনি হাসান রাহি. হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ الْحَسَنِ مِثْلَ ذَلِكَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি ১০০৪ (অনুবাদে ৯৯৮) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
১০০৩. আলা’ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন, আমি এমন মহিলা সম্পর্কে হাম্মাদ রাহি.কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেন, ইবরাহীম রাহি. বলেন, সে গোসল করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ قَالَ سُئِلَ عَنْهَا حَمَّادٌ فَقَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ تَغْتَسِلُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি ১০০৩ (আমাদের অনুবাদে ৯৯৭) নং এ গত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে, ইবনু আবী শাইবা ১/৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. কোনো মহিলা ‘জুনুবী’ হয়, এর পরপরই তার হায়েয আসে
১০০৪. মুহাম্মদ ইবনু সালিম হতে বর্ণিত, শা’বী রাহি. বলেন, সে মহিলা গোসল করবে।’[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ تَجْنُبُ ثُمَّ تَحِيضُ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ فُضَيْلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ تَغْتَسِلُ
إسناده ضعيف حديث محمد بن سالم لا يسوى شيئا
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি। দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১/৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে
১০০৫. ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব বলেন, আমি হাকাম ইবনু উতাইবাহ রাহি.কে বলতে শুনেছি, মহিলাদের এ বিষয়টি লোকদেরকে পছন্দনীয় ছিলো যে, হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্ত হলে সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করবে, আল্লাহর তাসবীহ (’সুবহানাল্লাহ’) পাঠ করবে এবং তাকবীর (আল্লাহর বড়ত্ব - আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে।[1]
بَابُ: الْحَائِضِ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَكَمَ بْنَ عُتَيْبَةَ يَقُولُ كَانَ يُعْجِبُهُمْ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ أَنْ تَوَضَّأَ وُضُوءَهَا لِلصَّلَاةِ ثُمَّ تُسَبِّحَ اللَّهَ وَتُكَبِّرَهُ فِي وَقْتِ الصَّلَاةِ
إسناده صحيح
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এ সনদে এটি আর কোথাও পাইনি। তবে ইবনু আবী শাইবা ২/২৪৩ এ শু’বাহ হতে বর্ণনা করেন, আমি হাকাম ও হাম্মাদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা দু’জন এটি অপছন্দ করলেন’।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে
১০০৬. সুলাইমান আত তাইমী বলেন, আমি আবু কিলাবাহ রাহি.কে বললাম, হায়িযগ্রস্ত মহিলা কি প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে এবং আল্লাহর যিকির করবে? তিনি বললেন, আমি এর কোনো ভিত্তি পাইনি।[1]
بَابُ: الْحَائِضِ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ الْحَائِضُ تَتَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ وَتَذْكُرُ اللَّهَ فَقَالَ مَا وَجَدْتُ لِهَذَا أَصْلًا
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪২... সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে
১০০৭. উক্ববাহ ইবনু আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হায়িযগ্রস্ত মহিলাকে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করে তার সালাতের স্থানে বসে আল্লাহর যিকির ও তাসবীহ পড়ার নির্দেশ দিতেন।[1]
بَابُ: الْحَائِضِ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الصَّدَفِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ الْمَرْأَةَ الْحَائِضَ عِنْدَ أَوَانِ الصَّلَاةِ أَنْ تَوَضَّأَ وَتَجْلِسَ بِفِنَاءِ مَسْجِدِهَا فَتَذْكُرَ اللَّهَ وَتُسَبِّحَ
তাখরীজ: তবে আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল মুকরী’ সূত্রে এটি ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪৩ এ বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে
১০০৮. আব্দুল মালিক বর্ণনা করেন, ’হায়িযগ্রস্ত মহিলা কুরআন পাঠ করবে কি-না’ এ সম্পর্কে আতা রাহি. বলেন, না, তবে আয়াতের অংশবিশেষ পড়তে পারে। তবে, সে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে, কিবলাহ মুখী হবে এবং তাসবীহ-তাকবীর পাঠ করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করবে।[1]
بَابُ: الْحَائِضِ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ أَتَقْرَأُ قَالَ لَا إِلَّا طَرَفَ الْآيَةِ وَلَكِنْ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ ثُمَّ تَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ وَتُسَبِّحُ وَتُكَبِّرُ وَتَدْعُو اللَّهَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪২; এটি ১০৩৯ (অনুবাদে ১০৩৩) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে
১০০৯. ইয়াহইয়া ইবনু আবী আমর আশ শাইবানী, যিনি রামলাহ’র অধিবাসী তিনি বর্ণনা করেন, মাকহুল বলেছেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে যে, সালাতের ওয়াক্তে তারা গোসল করবে, কিবলামুখী হবে এবং আল্লাহ তা’আলার যিকির করবে।[1]
بَابُ: الْحَائِضِ تَوَضَّأُ عِنْدَ وَقْتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ حَدَّثَنَا السَّيْبَانِيُّ وَهُوَ يَحْيَى بْنُ أَبِي عَمْرٍو مِنْ أَهْلِ الرَّمْلَةِ حَدَّثَنَا مَكْحُولٌ قَالَ تُؤْمَرُ الْحَائِضُ تَتَوَضَّأُ عِنْدَ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ وَتَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ وَتَذْكُرُ اللَّهَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এখানে ব্যতীত এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১০. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা ও ’জুনুবী’ মহিলা যদি সিজদা শুনতে পায় (সাজদাতুত তিলাওয়াত), তবে জুনুবী মহিলা গোসল করবে এবং সাজদা আদায় করবে, কিন্তু হায়িযগ্রস্ত মহিলা এ সাজদার কাযা আদায় করবে না। কেননা, (এ অবস্থায়) সে সালাতই আদায় করে না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِذَا سَمِعَ الْحَائِضُ وَالْجُنُبُ السَّجْدَةَ يَغْتَسِلُ الْجُنُبُ وَيَسْجُدُ وَلَا تَقْضِي الْحَائِضُ لِأَنَّهَا لَا تُصَلِّي
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪০; আব্দুর রাযযাক ১২৩২ সহীহ সনদে। দেখুন, পরবর্তী সনদটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১১. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা সিজদা (আত-তিলাওয়াত) শুনতে পেলে, তার সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন: সে এ সাজদার কাযা আদায় করবে না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدَةَ قَالَ لَا تَقْضِي
إسناده صحيح
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এখানে তাখরীজের প্রয়োজন মনে করেননি-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১২. আবু মা’শার হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, তার উপর কোনো কিছুই (ওয়াজিব) নয়।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ لَيْسَ عَلَيْهَا شَيْءٌ
رجاله ثقات غير أن سماع جعفر وسعيد من ابن أبي عروبة متأخر
তাখরীজ: দেখুন পূর্বের হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৩. আল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থাকা অবস্থায় আমরা হায়েযগ্রস্ত হতাম, কিন্তু তিনি আমাদের মধ্যকার কোনো নারীকে সালাত পুনরায় (কাযা) আদায়ের নির্দেশ দেননি।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ مُعَتِّبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا يَأْمُرُ امْرَأَةً مِنَّا بِرَدِّ الصَّلَاةِ
إسناده ضعيف لضعف عبيدة بن معتب
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১৬৭০।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৪. মা’য়াযাহ রাহি. হতে বর্ণিত, এক মহিলা আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলো, আমাদের কেউ কি তার হায়েযের দিনগুলির সালাতের কাযা আদায় করবে? তিনি বললেন: ’তুমি কি হারুরী (খারিজী)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমাদের কারো হায়েয হতো, কিন্তু তাকে কাযা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো না।’[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ مُعَاذَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ عَائِشَةَ أَتَقْضِي إِحْدَانَا صَلَاةَ أَيَّامِ حَيْضِهَا فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قَدْ كَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا تُؤْمَرُ بِقَضَاءٍ
حديث صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩২১; সহীহ মুসলিম ৩৩৫। আমরা এর সকল সনদ ও তাখরীজ একত্র করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৩৭, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৯ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৫. ইয়াযীদ আর রাশক, মা’য়াযাহ রাহি. হতে বর্ণনা করেন...। আবুন নু’মান বলেন, হাম্মাদ রাহি. যেন আউয়্যুবের হাদীসটিকে আলাদা করে রাখতেন। তারপর তিনি এটি নিয়ে আসলেন।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ عَنْ مُعَاذَةَ قَالَ أَبُو النُّعْمَانِ كَأَنَّ حَمَّادًا فَرِقَ حَدِيثَ أَيُّوبَ فَجَاءَ بِهَذَا
لم يحكم عليه المحقق
তাখরীজ: রাশকির হাদীসটি সহীহ মুসলিমে এসেছে ৩৩৫ নং এ। আরও দেখুন আগের টীকা দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৬. আতা ইবনু সায়িব হতে বর্ণিত, আমির রাহি. বলেন, যদি হায়িযগ্রস্ত মহিলা সিজদা শুনতে পায়, তবুও সে সিজদা (আত-তিলাওয়াত আদায়) করবে না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَامِرٍ قَالَ إِذَا سَمِعَتْ الْحَائِضُ السَّجْدَةَ فَلَا تَسْجُدْ
إسناده ضعيف خالد بن عبد الله متأخر السماع من عطاء
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৭. খালিদ আল-হিযাই হতে বর্ণিত, আবু কিলাবাহ রাহি. বলেন, যদি হায়িযগ্রস্ত মহিলা সিজদা শুনতে পায়, তবু সে সিজদা করবে না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ لَا تَسْجُدُ الْمَرْأَةُ الْحَائِضُ إِذَا سَمِعَتْ السَّجْدَةَ
سناده صحيح
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৮. হাসান ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত যে, সিজদা শুনে হায়িযগ্রস্ত মহিলার সিজদা করাকে ইবরাহীম রাহি. এটি অপছন্দ করতেন।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ لِلْحَائِضِ أَنْ تَسْجُدَ إِذَا سَمِعَتْ السَّجْدَةَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০১৯. আবু গালিব ’ইজলান বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম যে, হায়িয ও নিফাসগ্রস্ত মহিলারা কি পবিত্রতা লাভ করার পর (হায়েযকালীন পরিত্যক্ত) সালাতের কাযা করবে? তিনি বললেন: ’এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণেরও হতো; যদি তারা একাজ (সালাতের কাযা) করতেন, তবে আমরাও আমাদের স্ত্রীদেরকে এর নির্দেশ দিতাম।[1] (যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে হায়েযকালীন সালাতের কাযা আদায় করতে আদেশ করেননি, তাই আমরাও আমাদের স্ত্রীদেরকে এর কাযা আদায় করতে বলিনা।)
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَوْنٍ عَنْ أَبِي غَالِبٍ عَجْلَانَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ النُّفَسَاءِ وَالْحَائِضِ هَلْ تَقْضِيَانِ الصَّلَاةَ إِذَا تَطَهَّرْنَ قَالَ هُوَ ذَا أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَوْ فَعَلْنَ ذَلِكَ أَمَرْنَا نِسَاءَنَا بِذَلِكَ
إسناده جيد
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০২০. আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম তার পিতা কাসিম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট এক মহিলা এসে জিজ্ঞেস করলো, আমি কি হায়েয হতে পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন দিনগুলিতে পরিত্যক্ত সালাতসমূহের কাযা আদায় করবো? তখন আয়িশা বলেন, ’তুমি কি হারুরী (খারিজী)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমাদের কারো হায়েয হতো এবং সে পবিত্রতা লাভ করতো, কিন্তু তিনি আমাদেরকে কাযা আদায়ের নির্দেশ দিতেন না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَتْ امْرَأَةٌ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أَقْضِي مَا تَرَكْتُ مِنْ صَلَوَاتِي فِي الْحَيْضِ عِنْدَ الطُّهْرِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ وَتَطْهُرُ فَلَا يَأْمُرُنَا بِالْقَضَاءِ
إسناده ضعيف لضعف الليث بن أبي سليم ولكن الحديث متفق عليه
তাখরীজ: এটি ১০১৯, ১০২০, ১০২১ (অনুবাদে ১০১৩, ১০১৪, ২০১৫) নং এ গত হয়েছে। আর আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৩৭ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০২১. শারীক রাহি. হতে বর্ণিত, কাছীর ইবনু ইসমাঈল রাহি. বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে আলীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আপনার হায়েযের দিনগুলির সালাতসমূহের কাযা আদায় করেন? তিনি বললেন, না।[1]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ كَثِيرٍ أَبِي إِسْمَعِيلَ قَالَ قُلْتُ لِفَاطِمَةَ يَعْنِي بِنْتَ عَلِيٍّ أَتَقْضِينَ صَلَاةَ أَيَّامِ حَيْضِكِ قَالَتْ لَا
إسناده ضعيف لضعف كثير
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪০।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. হায়িয (অতিক্রান্ত) হলে মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করবে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করবে না
১০২২. শারীক বলেন, আমি মা’য়াযাহ রাহি. কে বলতে শুনেছি, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এক মহিলা এসে জিজ্ঞেস করলো, হায়েযগ্রস্ত মহিলা (পবিত্রতা লাভ করার পর হায়েযকালীন দিনগুলিতে পরিত্যক্ত সালাতসমূহের) কাযা আদায় করবে? তখন আয়িশা বলেন, ’তুমি কি হারুরী (খারিজী)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণের কারো হায়েয হতো, তখন তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিতেন, যা (কাযা আদায় করা হতে) তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।[1]
আব্দুল্লাহ বলেন: এর অর্থ: তারা কাযা আদায় করতেন না।[2]
بَابٌ فِي الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ عَنْ عَائِشَةَ سَأَلَتْهَا امْرَأَةٌ أَتَقْضِي الْحَائِضُ الصَّلَاةَ قَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قَدْ حِضْنَ نِسَاءُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُنَّ يَجْزِينَ قَالَ عَبْد اللَّهِ مَعْنَاهُ أَنَّهُنَّ لَا يَقْضِينَ
إسناده صحيح
তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৩৫ (৬৮); নববী, শরহে মুসলিম ১/৬৩৯ বলেন: এটি সহীহ ব্যাখ্যা।’ পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন বিগত ১০১৯, ১০২০, ১০২১, ১০২৬ (অনুবাদে ১০১৩, ১০১৪, ১০১৫, ১০২০) নং হাদীসগুলি।
[2] আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৩. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন: হায়িযগ্রস্ত মহিলা ও ’জুনুবী (সহবাসের কারণে অপবিত্র) ব্যক্তি আল্লাহর যিকির করতে পারবে এবং ’বিসমিল্লাহ’ও বলতে পারবে।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْحَائِضُ وَالْجُنُبُ يَذْكُرَانِ اللَّهَ وَيُسَمِّيَانِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৩০৫ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৪. সুফিয়ান বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইবরাহীম ও সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. উভয়ে বলেন: ’জুনুবী’ ব্যক্তি ও হায়িয্গ্রস্ত মহিলা পূর্ণ আয়াত পাঠ করবে না, তবে হরফ পড়তে পারবে।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ بَلَغَنِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُمَا قَالَا لَا يَقْرَأْ الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ آيَةً تَامَّةً يَقْرَآنِ الْحَرْفَ
إسناده ضعيف
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০২ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৫. ফিরাস হতে বর্ণিত, আমির রাহি. বলেন, ’জুনুবী’ ও হায়িযগ্রস্ত মহিলা কুরআন পাঠ করবে না।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ فِرَاسٍ عَنْ عَامِرٍ الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ لَا يَقْرَآنِ الْقُرْآنَ
إسناده حسن من أجل شريك
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০২, ১০৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৬. হাকাম হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ’জুনুবী’ ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার কুরআন পাঠ অপছন্দ করতেন কিংবা নিষেধ করতেন।[1]
শু’বাহ বলেন, আমি কিতাবে (অতিরিক্ত) পেয়েছি: ’এবং হায়িযগ্রস্ত মহিলা।’
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ عُمَرُ يَكْرَهُ أَوْ يَنْهَى أَنْ يَقْرَأَ الْجُنُبُ قَالَ شُعْبَةُ وَجَدْتُ فِي الْكِتَابِ وَالْحَائِضُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৩০৭; ইবনু আবী শাইবা ১/১০২ সহীহ সনদে, ১/১০৩ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৭. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, চারটি অবস্থায় কুরআন পাঠ করবে না। ১. পায়খানায় ২. গোসলখানায় অবস্থানকালে ৩. ’জুনুবী’ অবস্থায় এবং ৪. হায়িযগ্রস্ত অবস্থায়। তবে জুনুবী ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলা এক আয়াত ও এর অনুরূপ পরিমাণ পাঠ করতে পারবে।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَرْبَعَةٌ لَا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ عِنْدَ الْخَلَاءِ وَفِي الْحَمَّامِ وَالْجُنُبُ وَالْحَائِضُ إِلَّا الْآيَةَ وَنَحْوَهَا لِلْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১১৪ তবে সেখানে ‘গোসলখানায়’ এর পরিবর্তে ‘স্ত্রী সহবাসরত অবস্থায়’ আছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৮. আতা ও হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম ও সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা ও জুনুবী ব্যক্তি কোনো আয়াত পড়া শুরু করলেও তা সম্পূর্ণ পড়ে শেষ করবে না।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ وَحَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالُوا الْحَائِضُ وَالْجُنُبُ يَسْتَفْتِحُونَ الْآيَةَ وَلَا يُتِمُّونَ آخِرَهَا
إسناده ضعيف لضعف حجاج وهو: ابن أرطاة
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০২।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০২৯. আসিম আল আহওয়াল হতে বর্ণিত, আবুল আলীয়া রাহি. হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন, সে কুরআন পাঠ করবে না।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي الْحَائِضِ قَالَ لَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০৩০. ইবনু আবী মুলাইকা হতে বর্ণিত, আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ঝাড়ফুঁক করতেন।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا أَخْبَرَنَا السَّائِبُ بْنُ عُمَرَ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَرْقِي أَسْمَاءَ وَهِيَ عَارِكٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি-অনুবাদক।)
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০৩১. হিশাম রাহি হতে বর্ণিত, কাতাদা রাহি. বলেন, জুনুবী ব্যক্তি আল্লাহর নামের যিকির করতে পারবে।’[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ الْجُنُبُ يَذْكُرُ اسْمَ اللَّهِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৩০২।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০৩২. ইয়াসার রাহি. হতে বর্ণিত, আবু ওয়াইল রাহি. বলেন, তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, জুনুবী ব্যক্তি (কুরআন থেকে কিছু) পাঠ করবে না; আর হায়িযগ্রস্ত মহিলাও পাঠ করবে না এবং গোসলখানার মধ্যেও কিছু পাঠ করবে না। দু’টি অবস্থায় বান্দা আল্লাহর যিকির করবে না: পায়খানায় অবস্থানকালে এবং স্ত্রী সহবাসকালীন অবস্থায়। তবে কোনো লোক যখন স্ত্রী সহবাস করতে চাইবে, তখন ’বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করবে।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَيَّارٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ كَانَ يُقَالُ لَا يَقْرَأُ الْجُنُبُ وَلَا الْحَائِضُ وَلَا يُقْرَأُ فِي الْحَمَّامِ وَحَالَانِ لَا يَذْكُرُ الْعَبْدُ فِيهِمَا اللَّهَ عِنْدَ الْخَلَاءِ وَعِنْدَ الْجِمَاعِ إِلَّا أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ بَدَأَ فَسَمَّى اللَّهَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০২ সংক্ষেপে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০৩৩. আব্দুল মালিক রাহি. থেকে বর্ণিত, ’হায়িযগ্রস্ত মহিলার কুরআন পাঠ করা’ সম্পর্কে আতা রাহি. বলেন: না, (সে কুরআন পাঠ করবে না)। তবে সে আয়াতাংশ পাঠ করতে পারবে।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَقْرَأُ قَالَ لَا إِلَّا طَرَفَ الْآيَةِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: এটি ১০১৪ (অনুবাদে ১০০৮) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. হায়িযগ্রস্ত মহিলা আল্লাহর যিকির করবে কিন্তু কুরআন পাঠ করবে না
১০৩৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ’চারটি জিনিস জুনুবী ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার উপর হারাম নয়: ১. ’সুবহানাল্লাহ’, ২. ’হামদুলিল্লাহ’ ৩. ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ৪. ’আল্লাহু আকবার’।[1]
بَابُ الْحَائِضِ تَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عَطَّافٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَرْبَعٌ لَا يَحْرُمْنَ عَلَى جُنُبٍ وَلَا حَائِضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
إسناده جيد
তাখরীজ: আমি এ হাদীসটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৩৫. মুসলিম ইবনু সাবীহ হতে বর্ণিত, যে হায়িযগ্রস্ত মহিলা (তিলাওয়াতের) সাজদা শুনতে পায়- তার সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সে সিজদা করবে না। কারণ সিজদাই সালাত।[1] (আর সালাত আদায় তার জন্য নিষিদ্ধ)
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدَةَ قَالَ لَا تَسْجُدُ لِأَنَّهَا صَلَاةٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৩৬. হাসান ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম এবং আবু দুহা (রাহি.) উভয়ে বলেন: সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সিজদা করবে না।[1]
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَأَبِي الضُّحَى قَالَا لَا تَسْجُدُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৩৭. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম ও সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. উভয়ে বলেন, তার (হায়িযগ্রস্ত মহিলার) ও উপর এটি (সাজদা) ওয়াজিব নয়। অথচ সালাত তো এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।[1] (সেই সালাতই জন্য জায়েয নয়।)
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَا لَيْسَ عَلَيْهَا ذَاكَ الصَّلَاةُ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ
إسناده ضعيف فيه حجاج وهو: ابن أرطاة وهو ضعيف
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৩৮. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, তাকে তো এর চেয়েও অধিক উত্তম বিষয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর তা হলো: ফরয সালাত।[1]
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ مُنِعَتْ خَيْرًا مِنْ ذَلِكَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ
إسناده ضعيف ابن جريج قد عنعن وهو مدلس
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১৪; আব্দুর রাযযাক নং ১২৩০; আগের টীকাটি দেখুন দেখুন, কেননা, আগের এবং পরের হাদীসগুলি একে শক্তিশালী করে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৩৯. আশ’আছ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সাজদা করবে না।[1]
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ لَا تَسْجُدُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোনখানে পাইনি। তবে আব্দুর রাযযাক নং ১২৩১ টি দেখতে পারেন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৪০. ইউনুস হতে বর্ণিত, ’যে মহিলা (হায়িযের মধ্যে) পবিত্রাবস্থা লক্ষ্য করলো, তারপর সে (তিলাওয়াতের) সিজদা শুনতে পেলো, এমন মহিলা সম্পর্কে যুহুরী রাহি. বলেন, ’সে গোসল না করা পর্যন্ত সিজদা করবে না।[1]
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يُونُسَ عَنْ الزُّهْرِيِّ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الطُّهْرَ فَتَسْمَعُ السَّجْدَةَ قَالَ لَا تَسْجُدُ حَتَّى تَغْتَسِلَ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইন। তবে আব্দুর রাযযাক নং ১২৩১ হাদীসটি দেখতে পারেন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. হাযিযগ্রস্ত মহিলা সাজদা শুনতে পেলেও সিজদা করবে না
১০৪১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের সম্পর্কে বলেন: “তোমরা সাদাকা করো, কেননা, তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। সম্ভ্রান্ত শ্রেণির নয়, এমন এক মহিলা বলে উঠলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কারণে? অথবা, কিসের জন্য? কিংবা কোন্ বিষয়ে? তিনি বললেন: “তোমরা অধিক পরিমাণে লা’নত (অভিশাপ) দাও এবং স্বামীর নাফরমানী কর।” তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আর আব্দুল্লাহ বললেন: নারীদের চেয়ে দীন ও বুদ্ধির ঘাটতি সম্পন্ন আর এমন কেউ নেই, যে পুরুষদের উপরে তাদের কাজকর্মে প্রাধান্য বিস্তার করে। তখন একজন লোক জিজ্ঞেস করলো: তাদের বুদ্ধির ঘাটতির বিষয়টা কী? তিনি বললেন: দু’জন নারীর সাক্ষ্যকে একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান করা হয়েছে। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো: আর তাদের দীনের ঘাটতির বিষয়টা কী রকম? তিনি বললেন: সে এত দিন এত রাত বিরত থাকে, আল্লাহর জন্য কোনো সালাতই সে আদায় করতে পারে না।[1]
بَابَ: الْحَائِضِ تَسْمَعُ السَّجْدةَ فَلَا تَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ ذَرًّا عَنْ وَائِلِ بْنِ مُهَانَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِلنِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ لِمَ أَوْ بِمَ أَوْ فِيمَ قَالَ إِنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ قَالَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا مِنْ نَاقِصِي الدِّينِ وَالْعَقْلِ أَغْلَبَ لِلرِّجَالِ ذَوِي الْأَمْرِ عَلَى أَمْرِهِمْ مِنْ النِّسَاءِ قَالَ رَجُلٌ لِعَبْدِ اللَّهِ مَا نُقْصَانُ عَقْلِهَا قَالَ جُعِلَتْ شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ قَالَ سُئِلَ مَا نُقْصَانُ دِينِهَا قَالَ تَمْكُثُ كَذَا وَكَذَا مِنْ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لَا تُصَلِّي لِلَّهِ صَلَاةً
إسناده حسن من أجل وائل بن مهانة
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১১২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩২৩ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮১৮; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২ এবং এতে টীকাও সংযোজন করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪২. আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যখন কোনো মহিলা হায়িয হতে পবিত্রতা লাভ করে, তখন সে তার (হায়েয অবস্থায়) পরিহিত কাপড় ভালভাবে লক্ষ্য করবে; ফলে কাপড়ে কোনো অপবিত্রতা লেগে থাকলে তা ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়েই সে সালাত আদায় করবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا طَهُرَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحَيْضِ فَلْتَتَّبِعْ ثَوْبَهَا الَّذِي يَلِي جِلْدَهَا فَلْتَغْسِلْ مَا أَصَابَهُ مِنْ الْأَذَى ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩০৮; বাইহাকী ২/৪০৬-৪০৭।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৩. আতা রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এমন হতো, যে আমাদের মাত্র একটি করে জামা ছিলো, যা পরিহিত অবস্থায় সে হায়েযগ্রস্ত হতো এবং সেই কাপড় পরিহিত অবস্থাই সে জুনুবী (অপবিত্র) হতো। তারপর সে কাপড়ে তার হায়েযের রক্তের ফোঁটা লেগে থাকতে দেখতো। তখন সে তাতে থুথু লাগিয়ে নখ দিয়ে ঘষে তুলে ফেলতো।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ يَكُونُ لِإِحْدَانَا الدِّرْعُ فِيهِ تَحِيضُ وَفِيهِ تُجْنِبُ ثُمَّ تَرَى فِيهِ الْقَطْرَةَ مِنْ دَمِ حَيْضَتِهَا فَتَقْصَعُهُ بِرِيقِهَا
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৮, ৩৬৪; আব্দুর রাযযাক নং ১২২৯ সহীহ সনদে; বুখারী ৩১২; বাইহাকী ২/৪০৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৪. হাসান রাহি. তার মাতা হতে বর্ণনা করেন, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তোমাদের কারো কারো (কাপড়ের) উপরে রক্তের ফোঁটা উঠে আসে। যদি তোমাদের কারো এমন অবস্থা হয়, তাহলে সে যেনো তাতে থুথু লাগিয়ে নখ দিয়ে ঘষে তুলে ফেলে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أُمِّهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ إِنَّ إِحْدَاكُنَّ تَسْبِقُهَا الْقَطْرَةُ مِنْ الدَّمِ فَإِذَا أَصَابَتْ إِحْدَاكُنَّ ذَلِكَ فَلْتَقْصَعْهُ بِرِيقِهَا
لم يحكم عليه المحقق
তাখরীজ: আমি এ হাদীসটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। তবে, উম্মু সালামার হাদীসটি ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫ তে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৫. মায়া’যাহ আল আদাওয়িয়্যাহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: কোনো মহিলা (কাপড়ের) রক্ত ধোয়ার পরও যদি তা না যায়, তবে সে যেনো হলুদ রংয়ের কুসুম কিংবা জাফরাণ রং দ্বারা তাকে (কাপড়ের রক্তবর্ণকে) পরিবর্তন করে দেয়।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا غَسَلَتْ الْمَرْأَةُ الدَّمَ فَلَمْ يَذْهَبْ فَلْتُغَيِّرْهُ بِصُفْرَةِ وَرْسٍ أَوْ زَعْفَرَانٍ
إسناده صحيح
তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৭; তার সূত্রে বাইহাকী ২/৪০৮।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৬. মা’য়াযাহ আল আদাওয়িয়্যাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এক মহিলা জিজ্ঞেস করলো, কাপড়ে রক্ত লেগেছিল, তারপর আমি কাপড় ধোয়ার পরও তা যায়নি। এমতাবস্থায় আমি কি কাপড় কেটে ফেলবো? তিনি বলেন: (না, বরং) পানিই তা পবিত্রকারী।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَهَا امْرَأَةٌ الدَّمُ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ فَأَغْسِلُهُ فَلَا يَذْهَبُ فَأُقَطِّعُهُ قَالَتْ الْمَاءُ طَهُورٌ
إسناده صحيح
তাখরীজ: বাইহাকী ২/৪০৮।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৭. খিলাসা ইবনু আমর রাহি. বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি, আবুল কাসিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে আমার শরীরে লাগানো একই কাপড়ের নীচে শয়ন করতেন, আর তখন আমি হায়েযগ্রস্ত থাকতাম। আমার (শরীর) থেকে কোনো কিছু (হায়েযর রক্ত) তার শরীরে লেগে গেলে তিনি শুধু ঐ স্থানটুকু ধুয়ে ফেলতেন, তা বাদে বাকী অংশ ধুতেন না; এবং এ কাপড়েই সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি (আমার নিকট) ফিরে আসতেন। পুনরায় আমার (শরীর) থেকে কোনো কিছু (হায়েযের রক্ত) তার শরীরে লেগে গেলে তিনি অনুরূপ করতেন: তিনি শুধু ঐ স্থানটুকু ধুয়ে ফেলতেন, তা বাদে বাকী অংশ ধুতেন না; এবং এ কাপড়েই সালাত আদায় করতেন।’[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ قَالَ سَمِعْتُ خِلَاسَ بْنَ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُو الْقَاسِمِ يَكُونُ مَعِي فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ طَامِثٌ إِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَيْءٌ غَسَلَ مَا أَصَابَهُ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ وَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ يَعُودُ وَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَيْءٌ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ غَسَلَ مَكَانَهُ لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ وَصَلَّى فِيهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি ও এর শাহিদ হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৮০২ এ।
(আহমাদ ৬/৪৪; আবু দাউদ ২৬৯, ২১৬৬; বাইহাকী ১/৩১৩; নাসাঈ ২৮৫, ৩৮২, ৭৭৪; বুখারী (শব্দের পরিবর্তনসহ) ৩০৮; ইবনু মাজাহ ৬৩০।)
এর শাহিদ রয়েছে আসমা বিনতে আবু বাকর হতে হুমাইদী নং ৩২০; শাফিঈ, আল উম্মু ১/৬৭; আব্দুর রাযযাক নং ১২২৩; আহমাদ ৬/৩৪৫, ৩৪৬; বুখারী ৩০৭; মুসলিম ২৯১; মালিক ১০৫।
অপর একটি শাহিদ হাদীস উম্মু কাইস হতে ইবনু হিব্বান নং ১৩৮২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৮. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, কোনো মহিলা হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় যে কাপড় পরিধান করে, যদি তাতে রক্ত লাগে, তবে সে তা ধুয়ে নেবে। আর তা না হলে তার জন্য তা ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়। আর যদি সেই কাপড়ে সে ঘামে ভিজে যায়, তবে তাতে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট হবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِيمَا تَلْبَسُ الْمَرْأَةُ مِنْ الثِّيَابِ وَهِيَ حَائِضٌ إِنْ أَصَابَهُ دَمٌ غَسَلَتْهُ وَإِلَّا فَلَيْسَ عَلَيْهَا غَسْلُهُ وَإِنْ عَرِقَتْ فِيهِ فَإِنَّهُ يُجْزِئُهَا أَنْ تَنْضَحَهُ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৪৯. উছমান হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা (পবিত্রতা লাভের পর) হায়েয অবস্থায় পরিহিত কাপড়ে সালাত আদায় করতে পারবে। কিন্তু, যদি তার শরীর থেকে কাপড়ের কোথাও রক্ত লেগে যায়, তবে সে শুধু রক্তের স্থানটুকু ধুয়ে নেবে।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْمَرْأَةُ الْحَائِضُ تُصَلِّي فِي ثِيَابِهَا الَّتِي تَحِيضُ فِيهَا إِلَّا أَنْ يُصِيبَ شَيْئًا مِنْهَا دَمٌ فَتَغْسِلَ مَوْضِعَ الدَّمِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫০. ফাতিমাহ বিনতে মুনযির হতে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হায়েযগ্রস্ত মহিলার কাপড়ে লাগা রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “তুমি সেটি ঘষে তুলে দাও, অতঃপর তাতে পানি ছিটিয়ে দাও।”[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ قَالَ حُتِّيهِ ثُمَّ رُشِّيهِ بِالْمَاءِ
إسناده صحيح
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২২৭, ৩০৭; সহীহ মুসলিম ২৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩২২ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫১. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, ’হায়েযগ্রস্ত মহিলার কাপড়ে রক্ত না লাগলে সে তার কাপড় ধৌত করবে না।’[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْحَائِضُ لَا تَغْسِلُ ثَوْبَهَا إِذَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ دَمٌ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। আরও দেখুন, বিগত ১০৫৪ (অনুবাদে ১০৪৮) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫২. ফাতিমাহ বিনতে মুনযির থেকে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি এক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি, হায়েযগ্রস্ত মহিলা হায়েয হতে পবিত্র হলে তার কাপড় কিভাবে (পরিষ্কার) করবে? তিনি বলেন: “যদি তুমি তাতে রক্ত দেখতে পাও, তবে তা (রক্ত) ঘষে তুলে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে তারপর পূরো কাপড় ভালভাবে ধুয়ে নেবে তারপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।”[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ مِنْ مَحِيضِهَا كَيْفَ تَصْنَعُ بِهِ قَالَ إِنْ رَأَيْتِ فِيهِ دَمًا فَحُكِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِمَاءٍ ثُمَّ انْضَحِي فِي سَائِرِهِ فَصَلِّي فِيهِ
তাখরীজ: এটি ৭৯৯, ১০৫৪ (অনুবাদ ৭৯৩, ১০৫০) নং এ গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫৩. উম্মু কায়িস বিনতে মিহসানের দাস আদী ইবনু দীনার হতে বর্ণিত, উম্মু কায়িস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাপড়ে হায়িযের রক্ত লেগে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “পানি এবং বরই পাতা দ্বারা ধুয়ে নাও এবং (এর আগে) এক টুকরা কাঠ বা হাড় দিয়ে তা ঘষে নাও।”[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ثَابِتٍ الْحَدَّادِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ دِينَارٍ مَوْلَى أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ عَنْ أُمِّ قَيْسٍ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ دَمِ الْحِيضَةِ يَكُونُ فِي الثَّوْبِ فَقَالَ اغْسِلِيهِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَحُكِّيهِ بِضِلَعٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৫৫, ৩৫৬; আবু দাউদ ৩৬৩; বাইহাকী ২/৪০৭; নাসাঈ ২৯৩; ইবনু মাজাহ ৬২৮; আব্দুর রাযযাক ১২২৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫৪. কারীমাহ বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহাকে বলতে শুনেছি... এবং আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: এক মহিলার কাপড়ে তার হায়েযের রক্ত লেগে গেলে (সে কী করবে)? তিনি বললেন: সে যেন তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে। সে মহিলা বলল, আমরা তো তা ধুয়ে ফেলি, কিন্তু তার দাগ যে থেকে যায়? তিনি বলেন: নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী।’[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ سَمِعْتُ كَرِيمَةَ قالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ وَسَأَلَتْهَا امْرَأَةٌ فَقَالَتْ الْمَرْأَةُ يُصِيبُ ثَوْبَهَا مِنْ دَمِ حِيضَتِهَا فَقَالَتْ لِتَغْسِلْهُ بِالْمَاءِ قَالَتْ فَإِنَّا نَغْسِلُهُ فَيَبْقَى أَثَرُهُ قَالَتْ إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯৮; আরও দেখুন, সুনান বাইহাকী ২/৪০৮।
আর এটি সহীহ সনদে ১০৫২ (অনুবাদে ১০৪৬) এ গত হয়েছে, সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. হাযিযগ্রস্ত মহিলা তার পরিধেয় কাপড় পবিত্র করে সেই কাপড়েই সালাত আদায় করতে পারবে
১০৫৫. আতা রাহি. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তার কাপড়ে হায়েযের সামান্য রক্ত দেখতে পেতেন। ফলে তিনি পাথর বা কাঠি কিংবা শিং দ্বারা তা ঘষে তুলে ফেলতেন, তারপর পানি ছিটিয়ে দিতেন।[1]
بَابُ الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تُصَلِّي فِي ثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَرَى الشَّيْءَ مِنْ الْمَحِيضِ فِي ثَوْبِهَا فَتَحُتُّهُ بِالْحَجَرِ أَوْ بِالْعُودِ أَوْ بِالْقَرْنِ ثُمَّ تَرُشُّهُ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, (আল মুসান্নাফ) নং ১২২৮ (সেখানে ‘শিং’ এর বদলে ‘হাড়’ এবং ‘পানি ছিটিয়ে দিতেন’ এরপরে অতিরক্তি ‘তারপর তাতে সালাত আদায় করতেন’ রয়েছে)।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ইবনু খুছাইম বলেন, ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি যে তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যায়, তারপর সে তা দ্বারা ঘাম মুছে ফেলে- এমন লোক সম্পর্কে আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এতে কোনো দোষ নেই।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ الْجُنُبِ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ ثُمَّ يَمْسَحُهُ بِهِ قَالَ لَا بَأْسَ بِهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ইবনু খুছাইম হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি.বলেন, ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যাওয়া’ -কে আপত্তিকর মনে করতেন না।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بِعَرَقِ الْجُنُبِ فِي الثَّوْبِ بَأْسًا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৫৮. আতা ইবনু সায়িব হতে বর্ণিত, শা’বী রাহি.ও একে আপত্তিকর মনে করতেন না।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ الشَّعْبِيِّ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بِهِ بَأْسًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৫৯. হামীদ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেক সাহাবীর দু’টি করে কাপড় থাকতো না।এবং তিনি বলেন, যখন তুমি যখন গোসল কর, তখন কি (একটিও) কাপড় পরিধান কর না? বরং ঐ ঐ (কাপড় তুমি পরিধান কর)।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ مَا كُلُّ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يَجِدُونَ ثَوْبَيْنِ فَقَالَ إِذَا اغْتَسَلْتَ أَلَسْتَ تَلْبَسُهُ فَذَاكَ بِذَاكَ
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি। তবে ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১ এ রয়েছে: হাসান রাহি. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি এবং হায়িযগ্রস্ত মহিলার তার কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে যাওয়া’ -কে আপত্তিকর মনে করতেন না।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬০. কাসিম ইবনু মুহাম্মদ রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার পর পোশাক পরিধান করলো, তারপর এ কাপড়ে সে ঘেমে উঠলো। কিন্তু তিনি (আয়িশা রা:) একে আপত্তিকর মনে করেননি।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ عَائِشَةَ سُئِلَتْ عَنْ الرَّجُلِ يُصِيبُ الْمَرْأَةَ ثُمَّ يَلْبَسُ الثَّوْبَ فَيَعْرَقُ فِيهِ فَلَمْ تَرَ بِهِ بَأْسًا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩১; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; বাইহাকী ২/৪০৯।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬১. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলা যে কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে ভিজে যায়, তাদের সেই কাপড়ে সালাত আদায় করাতে কোনো আপত্তি নেই।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ يَعْرَقَ الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ فِي الثَّوْبِ يُصَلَّى فِيهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬২. আবী হামযাহ হতে বর্ণিত, ’জুনুবী’ ব্যক্তির কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে গেলে’ সেই সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন: এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং তা পানি ঢালার (বা ছিটানোর) কোনো প্রয়োজন নেই।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْجُنُبِ يَعْرَقُ فِي ثَوْبِهِ قَالَ لَا يَضُرُّهُ وَلَا يَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬৩. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘামলে’ সেই সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন, তাতে পানি ছিটিয়ে (বা ঢেলে) দেয়াই তার জন্য যথেষ্ট।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْحَائِضِ إِذَا عَرِقَتْ فِي ثِيَابِهَا فَإِنَّهُ يُجْزِئُهَا أَنْ تَنْضَحَهُ بِالْمَاءِ
তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬৪. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ’জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় কোনো কাপড় পরে ঘামতেন, আবার সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ
তাখরীজ: মালিক ৮৯; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১৪২৮।
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘাম সম্পর্কে
১০৬৫. ইকরিমাহ হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহুমা ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘামকে আপত্তিকর বলে মনে করতেন না।[1]
بَاب فِي عَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ هِشَامٍ هُوَ ابْنُ حَسَّانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَرَى بَأْسًا بِعَرَقِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ
তাখরীজ: এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩০; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১ ; বাইহাকী ২/৪০৯; হিশাম ইবনুল হিসান সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৬৬. মালিক ইবনু আনাস সূত্রে যাইদ ইবনু আসলাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমার স্ত্রীর (সাথে কোন কোন আচরণ) আমার জন্য হালাল? তিনি বললেন: “স্ত্রীলোক তার পাজামা শক্তভাবে বেঁধে নেবে, তারপর তার উর্ধ্বাংশে তোমার কাজ (তথা তার উর্ধ্বাংশ দ্বারা তুমি উপকৃত হতে পারো)।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا يَحِلُّ لِي مِنْ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ لِتَشُدَّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ شَأْنَكَ بِأَعْلَاهَا
তাখরীজ: মালিক, তাহারাত ৯৫; বাইহাকী ৭/১৯১; তাবারাণী, আল কাবীর ১০/৩৮২ নং ১০৭৬৫; ইবনু আব্বাস হতে... যয়ীফ সনদে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৫৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৬৭. মালিক রাহি. থেকে বর্ণিত, নাফি’ রাহি. বলেন, (আব্দুল্লাহ ইবনু) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার এক ব্যক্তিকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন যে, হায়িয অবস্থায় কোনো লোক তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে পারবে কি? তখন তিনি বললেন: তার নিচের অংশে ইযার (নিম্নাংশের পরিধেয় কাপড়) শক্ত করে বেঁধে নেবে, অতঃপর স্বামী তার সাথে মেলামেশা করিবে।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ قَالَ أَرْسَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ إِلَى عَائِشَةَ لِيَسْأَلَهَا هَلْ يُبَاشِرُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَتْ لِتَشُدَّ إِزَارَهَا عَلَى أَسْفَلِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا
তাখরীজ: মালিক তাহারাত ৯৭; বাইহাকী ৭/১৯০-১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১২৪১।
আয়িশা ও মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে কোনো ব্যক্তির জিজ্ঞাসার জবাবে, যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে কেমন আচরণ করতেন তাদের হায়িয অবস্থায়। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন। আরও দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪, ২৫৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৬৮. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার পেট ও গুপ্তাংগের মধ্যবর্তী (প্রবেশ করানোর মত কোমল[1]) স্থানে এবং তার উভয় উরুর মাঝে সংগম করতে পারে। যদি স্বামীর (বীর্য) নির্গত হয়ে স্ত্রীর শরীরে লাগে, তবে সে তা ধুয়ে ফেলবে আর স্বামী গোসল করবে।[2]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْحَائِضُ يَأْتِيهَا زَوْجُهَا فِي مَرَاقِّهَا وَبَيْنَ فَخِذَيْهَا فَإِذَا دَفَقَ غَسَلَتْ مَا أَصَابَهَا وَاغْتَسَلَ هُوَ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
এ অর্থে ইবরাহীম হতে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ৯৭১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৬৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আদী বলেন, আমি আব্দুল কারীম কে হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ইবরাহীম বলেছেন, (আমার স্ত্রী) উম্মু ইমরাণ জানে যে, তার হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমি তার নিতন্বে খোঁচা দিতাম (বিদ্ধ করতাম)।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ الْكَرِيمِ عَنْ الْحَائِضِ فَقَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لَقَدْ عَلِمَتْ أُمُّ عِمْرَانَ أَنِّي أَطْعُنُ فِي أَلْيَتِهَا يَعْنِي وَهِيَ حَائِضٌ
তাখরীজ: আমি এটি আর অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭০. মালিক ইবনু মাগুল বলেন, এক ব্যক্তি আতা রাহি. কে হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি রক্ত (নির্গত হওয়ার স্থান) ব্যতীত অন্যত্র বা এর আশপাশে (সংগম করায়) কোনো দোষ আছে বলে মনে করেননি।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَطَاءً عَنْ الْحَائِضِ فَلَمْ يَرَ بِمَا دُونَ الدَّمِ بَأْسًا
তাখরীজ: আমি এখানে ব্যতীত এটি আর কোথাও পাইনি। তবে আব্দুর রাযযাক নং ১২৪২ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭১. আসওয়াদ রাহি. হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমার হায়িয হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিতেন ফলে আমি ইযার পরিধান করতাম এবং (এরপর) তিনি আমার সাথে মেলামেশা করতেন।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ إِذَا حِضْتُ أَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَّزِرُ وَكَانَ يُبَاشِرُنِي
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩০০; সহীহ মুসলিম ২৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৮১০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭২. মায়মুন ইবনু মিহরাণ রাহি. বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো পুরুষের স্ত্রী হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ব্যবহার কতটুকু তার জন্য হালাল? তিনি বলেন, ইযার (পাজামা)-এর উপর দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَتْ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫। আরও দেখুন ১০৭২, ১০৭৩, ১০৭৭ (অনুবাদে ১০৬৬, ১০৬৭, ১০৭১) নং গুলো।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৩. মাসুরুক বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কে বললাম, কোনো পুরুষের স্ত্রী হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ব্যবহার কতটুকু তার জন্য হালাল? তিনি বলেন, সহবাস ব্যতীত সবকিছুই হালাল। তিনি (মাসরুক) বলেন, আমি বললাম, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মুহরিম (হজ্জ্বের ইহরাম বাঁধা) অবস্থায় স্বামীর উপর কোন কোন কাজ হারাম? তিনি বললেন, স্ত্রীর সাথে কথা-বার্তা বলা ব্যতীত আর সবই হারাম।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ عَنْ مَرْوَانَ الْأَصْفَرِ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ إِذَا كَانَتْ حَائِضًا قَالَتْ كُلُّ شَيْءٍ غَيْرُ الْجِمَاعِ قَالَ قَلْتُ فَمَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ مِنْهَا إِذَا كَانَا مُحْرِمَيْنِ قَالَتْ كُلُّ شَيْءٍ غَيْرُ كَلَامِهَا
তাখরীজ: দেখুন, আগের আয়িশার হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৪. কোনো এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রক্তের চিহ্ন (স্থান) হতে দূরে থাকো।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ جَلْدِ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لِإِنْسَانٍ اجْتَنِبْ شِعَارَ الدَّمِ
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১২৪০, ১২৪১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৫. ইসমাঈল হতে বর্ণিত, শা’বী রাহি. বলেন, (হায়িযগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মেলামেশা করতে পারবে,) যদি তার অপবিত্রতা তথা রক্তের স্থানে কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করা হয়।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَعِيلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ إِذَا كَفَّ الْأَذَى يَعْنِي الدَّمَ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮৪ সহীহ সনদে।
আর এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫ শাইবানী হতে সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৬. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার দুই উরুতে অথবা তার নাভীতে (তার স্বামীর) সহবাস করাতে কোনো দোষ নেই।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تُؤْتَى الْحَائِضُ بَيْنَ فَخِذَيْهَا وَفِي سُرَّتِهَا
তাখরীজ: তবে হাসান সনদে এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৬ হাসান রাহি. হতে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৭. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, সামনে অথবা পিছন থেকে (সহবাস করায়) কোনো দোষ নেই, তবে পায়ুপথে অথবা হায়িযের সময় ব্যতীত।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ يُقْبِلُ بِهِ وَيُدْبِرُ إِلَّا الدُّبُرَ وَالْمَحِيضَ
তাখরীজ; আমি এ শব্দে এটি আর কোথাও পাইনি। তবে আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৮. আবী সালামাহ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক লেপের নিচে ছিলাম। এমতাবস্থায় মেয়েদের যেরূপ হয়ে থাকে (তথা হায়িয), আমিও সেটা অনুভব করলাম। ফলে আমি উঠে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার কি হলো? তোমার কি নিফাস (তথা হায়িয) হয়েছে?” আমি বললাম, মেয়েদের যেরূপ হয়, আমিও সেরূপ অনুভব করছি (তথা আমার হায়িয হয়েছে)। তিনি বললেন: ওটি এমন জিনিস যা আল্লাহ আদম (আ:) এর কন্যা সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি উঠে গেলাম এবং নিজের অবস্থা ঠিকঠাক করে নিয়ে তারপর ফিরে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “লেপের ভেতরে প্রবেশ করো।” তারপর আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِحَافٍ فَوَجَدْتُ مَا تَجِدُ النِّسَاءُ فَقُمْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَكِ أَنَفِسْتِ قُلْتُ وَجَدْتُ مَا تَجِدُ النِّسَاءُ قَالَ ذَاكَ مَا كَتَبَ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ قَالَتْ فَقُمْتُ فَأَصْلَحْتُ مِنْ شَأْنِي ثُمَّ رَجَعْتُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْخُلِي فِي اللِّحَافِ فَدَخَلْتُ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৯৪; ইবনু মাজাহ ৬৩৭; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ১২/৪২৬ এ; আরও দেখুন, পরবর্তী টীকাটি, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪ ও মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ১২৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৭৯. যাইনাব বিনতে উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি মখমলের কম্বলের নিচে শায়িত ছিলাম। আকস্মিকভাবে আমার হায়িয শুরু হলে আমি চুপে চুপে বেরিয়ে গিয়ে আমার হায়িযের কাপড় পরিধান করে নিলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমার কি নিফাস (হায়িয) হয়েছে?” আমি বললাম: জ্বি। তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে ডাকলেন ফলে আমি তার সাথে কম্বলের ভেতর শুয়ে পড়লাম।তিনি বলেন: তিনি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়ে এক পাত্র হতে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতেন। আর তিনি সিয়ামরত অবস্থায় তাকে চুম্বন করতেন।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ بَيْنَا أَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعَةٌ فِي الْخَمِيلَةِ إِذْ حِضْتُ فَانْسَلَلْتُ فَأَخَذْتُ ثِيَابَ حِيضَتِي فَقَالَ أَنَفِسْتِ قُلْتُ نَعَمْ قَالَتْ دَعَانِي فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ قَالَتْ وَكَانَتْ هِيَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْتَسِلَانِ مِنْ الْإِنَاءِ الْوَاحِدِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَكَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯৮; সহীহ মুসলিম ২৯৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮০. আব্দুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ রাহি. হতে বর্ণিত, মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের কারো কারো সাথে ইযার (পায়জামা)-এর উপর দিয়ে মেলামেশা করতেন, অথচ তখন সেই স্ত্রী হায়িয অবস্থায় থাকতেন।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ فَوْقَ الْإِزَارِ وَهِيَ حَائِضٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৮; আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী ৭/১৯১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮১. আবী মায়সারাহ আমর ইবনু শুরাহবীল হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের কারো হায়িয হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিতেন যে, সে যেনো তার ইযার শক্তভাবে বেঁধে নেয়। এরপর তিনি তার সাথে মেলামেশা করতেন।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا أَنْ تَشُدَّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا
তাখরীজ: ১০৭৭ (অনুবাদে ১০৭১) নং এর তাখরীজ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ
১০৮২. আবী মাইসারাহ হতে বর্ণিত, উম্মুল মু’মিনীনদের কোনো একজন বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত হলে ইযার পরিধান করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর লেপের ভেতরে প্রবেশ করতাম।[1]
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ قَالَ قَالَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ كُنْتُ أَتَّزِرُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أَدْخُلُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِحَافِهِ
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩১৪; আগের টীকাটি দেখুন। এছাড়া আয়িশা রা: এর হাদীস পরবর্তী ১০৯২ (অণুবাদে ১০৮৬) নং এও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৩. ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ বলেন, ইবনু জুবাইর কে জিজ্ঞেস করা হলো, স্ত্রী যখন হায়িযগ্রস্ত হয়, তখন একজন পুরুষের জন্য তার স্ত্রীর কতটুকু হালাল?তিনি বললেন: ইযার (পাজামা)-এর উপর দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ جُبَيْرٍ مَا لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ إِذَا كَانَتْ حَائِضًا قَالَ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৪. মুহাম্মদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে আবীদাহ রাহি. বলেন, বিছানা একটিই হবে, তবে লেপ হতে হবে আলাদা। কিন্তু যদি আলাদা লেপ না থাকে, তবে স্বামী নিজের লেপ দিয়েই তাকে জড়িয়ে নেবে।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ فِي الْحَائِضِ قَالَ الْفِرَاشُ وَاحِدٌ وَاللُّحُفُ شَتَّى فَإِنْ كَانُوا لَا يَجِدُونَ رَدَّ عَلَيْهَا مِنْ لِحَافِهِ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮২।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৫. মুহাম্মদ ইবনু সীরীন হতে বর্ণিত, শুরাইহ রাহি. বলেন: (হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর) নাভীর উপরের অংশে যা কিছু করা সম্ভব, (স্বামী করতে পারে)।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ لَهُ مَا فَوْقَ السَّرَرِ أَوْ السُّرَّةِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৩৯; তাবারী, তাফসীর ২/৩৮৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৬. ইয়াযীদ ইবনু বাবানূস থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, আমি হায়িযগ্রস্ত থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জড়িয়ে ধরতেন এবং আমার মাথায় আদর করতেন। তখন আমার ও তাঁর মাঝে কেবল একটি কাপড় থাকতো।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَشَّحُنِي وَأَنَا حَائِضٌ وَيُصِيبُ مِنْ رَأْسِي وَبَيْنِي وَبَيْنَهُ ثَوْبٌ
তাখরীজ: ((মুসনাদে আহমাদ ৬/১৮৭ নং ২৫৫৮৩)); আবু দাউদ তায়ালিসী ১/৬২ নং ২৩৮; বাইহাকী ১/৩১২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন ১০৭৭, ১০৭৮, ১০৮৭, ১০৮৮ (অনুবাদে ১০৭১, ১০৭২, ১০৮১, ১০৮২) নং হাদীসগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৭. ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, যখন ইয়াহুদীদের কোনো নারীর হায়েয হতো, তখন তারা তার সাথে একত্রে বসে খানাপিনা করতো এবং তাকে ঘর থেকে বের করে দিতো আর সেও তাদের সাথে একইঘরে থাকতো না।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: (“এবং তারা তোমাকে (স্ত্রীলোকদের) ঋতুকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে; তুমি বলো: ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা...।” (সুরা বাকার: ২২২)) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের (হায়িযগ্রস্ত মহিলাদের) সাথে একত্রে বসে খানাপিনা করতে এবং তাকে তাদের সাথে একইঘরে থাকতে নির্দেশ দিলেন। আর সহবাস ব্যতীত আর সকল কিছু করতে তাদেরকে আদেশ করলেন। তখন এক ইয়াহুদী বললো, এ লোকটি তো উদ্দেশ্যই হলো প্রতিটি কাজেই আমাদের বিরোধিতা করা।
তারপর আব্বাদ ইবনু বিশর ও উসাইদ ইবনু হুযাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে এ খবর দিয়ে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাদের হায়িযকালীন সময়ে আমরা কি তাদের সাথে মিলিত হবো না? (একথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা ভীষণ বিবর্ণ হয়ে গেলো। এমনকি আমরা ধারণা করলাম, তিনি তাদের দু’জনের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। তারা উঠে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। আর তখনই দুধ হাদিয়া এসে গেলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের দু’জনের অনসন্ধানে লোক পাঠালেন এবং সে তাদেরকে ফিরিয়ে আনল এবং তিনি তাদেরকে (দুধ) পান করালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, তিনি তাদের দু’জনের উপর রাগান্বিত হননি।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الْيَهُودَ كَانُوا إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِيهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَأَخْرَجُوهَا مِنْ الْبَيْتِ وَلَمْ تَكُنْ مَعَهُمْ فِي الْبُيُوتِ فَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَأَنْ يُشَارِبُوهُنَّ وَأَنْ يَكُنَّ مَعَهُمْ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَفْعَلُوا كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلَا النِّكَاحَ فَقَالَتْ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلَّا خَالَفَنَا فِيهِ فَجَاءَ عَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَاهُ بِذَلِكَ وَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمَعُّرًا شَدِيدًا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ وَجَدَ عَلَيْهِمَا فَقَامَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةُ لَبَنٍ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آثَارِهِمَا فَرَدَّهُمَا فَسَقَاهُمَا فَعَلِمْنَا أَنَّهُ لَمْ يَغْضَبْ عَلَيْهِمَا
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩০২; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৮. শাইবা ইবনু হিশাম আর রাসিবী বলেন, আমি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে একই লেপের মধ্যে শয়ন করে। কথা হলো, আমরা উমারের (রা:) পরিবারের লোক। অতএব, আমাদের স্ত্রীগণ হায়িযগ্রস্ত হলে আমরা তাদের থেকে দূরে থাকি।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ حَدَّثَنِي شَيْبَةُ بْنُ هِشَامٍ الرَّاسِبِيُّ قَالَ سَأَلْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الرَّجُلِ يُضَاجِعُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فِي لِحَافٍ وَاحِدٍ فَقَالَ أَمَّا نَحْنُ آلَ عُمَرَ فَنَهْجُرُهُنَّ إِذَا كُنَّ حُيَّضًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৮৯. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি ব্যাবহারে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ সে ’জুনুবী’ (অপবিত্র) অথবা হায়েযগ্রস্ত না হয়।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ لَا بَأْسَ بِفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ مَا لَمْ تَكُنْ جُنُبًا أَوْ حَائِضًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৩৩; আব্দুর রাযযাক নং ৩৯৪ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৯০. গায়লান হতে বর্ণিত, হাকাম বলেন, সেই মহিলা তার স্বামীর সাথে যথাস্থানে তথা গোপনাঙ্গের উপর জড়াজড়ি করতে পারবে (এতে কোনো দোষ নেই। তবে, স্বামী তাতে প্রবিষ্ট করাবে না)।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ غَيْلَانَ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ يَضَعُهُ وَضْعًا يَعْنِي عَلَى الْفَرْجِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫; সেখানকার শব্দাবলি: “তার গোপনাঙ্গে তা স্থাপন করাতে কোনো দোষ নেই, তবে সে তা প্রবিষ্ট করাতে পারবে না।”
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা
১০৯১. মায়মুনাহ’র মুক্তদাসী নুদবাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের কারো সাথে মেলামেশা (জড়াজড়ি) করতেন, অথচ সে তখন হায়িযগ্রস্ত থাকতো। তখন তার পরিধেয় ইযার (নিম্নাংশের পোশাক) তার উরুদ্বয় কিংবা হাঁটুদ্বয়ের অর্ধাংশ পর্যন্ত আবৃত রাখতো।[1]
بَاب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ حَبِيبٍ مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ نُدْبَةَ مَوْلَاةِ مَيْمُونَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ إِذَا كَانَ عَلَيْهَا إِزَارٌ يَبْلُغُ أَنْصَافَ الْفَخِذَيْنِ أَوْ الرُّكْبَتَيْنِ مُحْتَجِزَةً بِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী (৭০৮২, ৭০৮৯, ৭০৯২, ৭১০৪ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৫। আরও দেখুন, বিগত ১০৮৬ (অনুবাদে ১০৮০) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯২. উরওয়াহ রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা আঁচড়ে দিতাম, অথচ তখন আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় ছিলাম।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ
তাখরীজ: মালিক ১০৪; সহীহ বুখারী ২৯৫; সহীহ মুসলিম ২৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ৪৬৩২ নং ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৩. হিশাম ইবনু উরওয়াহ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা আঁচড়ে দিতাম, অথচ তখন আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় ছিলাম।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ
তাখরীজ: দেখুন, আগের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৪. মালিক রাহি. হতে বর্ণিত, নাফিঈ’ রাহি. বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর দাসীগণ তার পা দু’টি ধুয়ে দিত এবং তাকে ’খুমরাহ’ বা জায়নামায এনে দিত; অথচ তখন তারা হায়িযগ্রস্ত থাকত।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كُنَّ جَوَارِي ابْنِ عُمَرَ يَغْسِلْنَ رِجْلَيْهِ وَهُنَّ حُيَّضٌ وَيُعْطِينَهُ الْخُمْرَةَ
তাখরীজ: মালিক ৯০; আব্দুর রাযযাক নং ১২৫৫; ইবনু আবী শাইবা ১/২০২।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৫. মিক্বদাম ইবনু শুরাইহ ইবনু হানী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমার নিকট পাত্র আনা হলে আমি তা থেকে পান করতাম। এরপর আমি পাত্রের যে স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঠিক সেইস্থানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আমাকে মাংসের হাড্ডি দেয়া হলে আমি মাংসের হাড়ের যেস্থানে কামড় দিতাম, তিনিও ঠিক সেইস্থানেই মুখ লাগিয়ে কামড় দিতেন। তারপর আমার হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় তিনি আমাকে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি আমার সাথে মেলামেশা (জড়াজড়ি) করতেন।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُوتَى بِالْإِنَاءِ فَأَضَعُ فَمِي فَأَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ فَيَضَعُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَهُ عَلَى الْمَكَانِ الَّذِي وَضَعْتُ فَيَشْرَبُ وَأُوتَى بِالْعَرْقِ فَأَنْتَهِسُ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى الْمَكَانِ الَّذِي وَضَعْتُ فَيَنْتَهِسُ ثُمَّ يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ وَأَنَا حَائِضٌ وَكَانَ يُبَاشِرُنِي
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩০০; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯৩, ১৩৬০, ১৩৬১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৬. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, তার নিকট বলা হয়েছে: হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয তার হাতে লেগে নেই। সে তার হাত ধুয়ে নেবে এবং আটার খামীর বানাবে এবং নবীয তৈরি করবে।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ يُقَالُ الْحَائِضُ لَيْسَتْ الْحِيضَةُ فِي يَدِهَا تَغْسِلُ يَدَهَا وَتَعْجِنُ وَتَنْبِذُ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে এটি মারফু’ হিসেবে সহীহ। দেখুন ৭৯৮ ও ১১০৫ (অনুবাদে ৭৯২, ১০৯৯) নং ও পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৭. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলতেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয তার হাতে লেগে নেই। তিনি আরও বলতেন: হায়িযগ্রস্ত মহিলা তো জীবিত (অনেক নারী-পূরুষে)-দের প্রিয়ভাজন ব্যক্তি।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ يَقُولُ إِنَّ الْحَائِضَ حِيضَتُهَا لَيْسَتْ فِي يَدِهَا وَكَانَ يَقُولُ الْحَائِضُ حُبُّ الْحَيِّ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৮. হাম্মাদ রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম রাহি. কে ইযাহুদী, নাসারা এবং অগ্নিপুজকদের সাথে মুসাফাহ’ করা ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এ জন্য ওযু করা প্রয়োজন বলে মনে করেননি।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَمَّادٍ قَالَ سَأَلْتُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُصَافَحَةِ الْيَهُودِيِّ وَالنَّصْرَانِيِّ وَالْمَجُوسِيِّ وَالْحَائِضِ فَلَمْ يَرَ فِيهِ وُضُوءًا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৪৫৫।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১০৯৯. আব্দুল্লাহ আল বাহী বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তার দাসীকে ডেকে বললেন: “আমাকে ’খুমরাহ’ বা জায়নামায এনে দাও।” তিনি (আয়িশা রা:) বলেন, তিনি তা বিছিয়ে সালাত আদায় করতে চেয়েছিলেন। তখন সেই দাসী বলল যে, তার তো হায়িয হয়েছে। তখন তিনি বললেন: “তোমার হাতে তো আর হায়িয লেগে নেই।”[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ السُّدِّيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ قَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ لِلْجَارِيَةِ نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ قَالَتْ أَرَادَ أَنْ يَبْسُطَهَا وَيُصَلِّيَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ إِنَّهَا حَائِضٌ فَقَالَ إِنَّ حِيضَتَهَا لَيْسَ فِي يَدِهَا
তাখরীজ: বুখারী ৩০১; মুসলিম ২৯৭; আবু আউয়ানা ১/৩১৩ সহীহ সনদে। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৬৮, ৩৬৬৯। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি এবং বিগত ১০৯৮, ১০৯৯ ও ১১০৬ (অনুবাদে ১০৯২, ১০৯৩ ও ১১০০) নং হাদীসসমূহ।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০০. উরওয়াহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে অবস্থানকালে তাঁর মাথা বের করে দিতেন এবং আমি তা ধুয়ে দিতাম। তারমানে তখন তিনি ই’তিকাফকারী ছিলেন।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْرِجُ إِلَيَّ رَأْسَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ فَأَغْسِلُهُ يَعْنِي وَهُوَ مُعْتَكِفٌ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৮ (৮)। সামনে ১১০৯ (অনুবাদে ১১০৩) নং এ আসছে। পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য দেখুন বিগত ১০৯৮, ১০৯৯ (অনুবাদে ১০৯২, ১০৯৩) নং হাদীসগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০১. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা কর্তৃক অসুস্থ ব্যক্তিকে ওযু করানোকে ইবরাহীম রাহি. দোষণীয় মনে করতেন না।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا أَنْ تُوَضِّئَ الْحَائِضُ الْمَرِيضَ
তাখরীজ: সামনে ১১১০ (অণুবাদে ১১০৪) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০২. আল-আসওয়াদ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা ধুয়ে দিতাম, অথচ তখন আমি ছিলাম হায়িযগ্রস্ত।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْسِلُ رَأْسَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ
তাখরীজ: বুখারী নং ৩০১; মুসলিম ২৯৭; সহীহ আবী আউয়ানাহ ১/৩১৩ সহীহ সনদে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৮, ৩৬৭৯। এবং পরবর্তী হাদীসটি এবং বিগত ১০৯৮, ১০৯৯, ১১০৬ (অনুবাদে ১০৯২, ১০৯৩, ১১০০) নং হাদীসগুলি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৩. উরওয়াহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা ধুয়ে দিয়েছি, অথচ তখন আমি ছিলাম হায়িযগ্রস্ত, আর তিনি ছিলেন ই’তিকাফরত।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ كُنْتُ أَغْسِلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ وَهُوَ عَاكِفٌ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১১০৬ (অনুবাদে ১১০০) নং এ। আগের হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৪. শু’বাহ বলেন, আমি মুগীরাহকে বলতে শুনেছি, আবী যুবইয়ান এক ব্যক্তিকে ইবরাহীম রাহি. এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালেন যে, হায়িযগ্রস্ত মহিলা অসুস্থ ব্যক্তিকে ওযু করাতে পারবে কি-না?
তিনি বললেন: হাঁ।’ (তাকে আরও জিজ্ঞেস করা হলো,) ’সে তার উপর ঠেস দিতে পারবে কি? তিনি বলেন: না।
তখন আমি (শু’বাহ) মুগীরাহকে বললাম, আপনি কি একথা ইবরাহীমের নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, না।[1]আব্দুল্লাহ বলেন: ’সে তার উপর ঠেস দিতে পারবে কি?’-একথার অর্থ সালাতের মধ্যে (ঠেস দেওয়া সম্পর্কে)।
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ مُغِيرَةَ قَالَ أَرْسَلَ أَبُو ظَبْيَانَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ يَسْأَلُهُ عَنْ الْحَائِضِ تُوَضِّئُ الْمَرِيضَ قَالَ نَعَمْ وَتُسْنِدُهُ قَالَ لَا فَقُلْتُ لِلْمُغِيرَةِ سَمِعْتَهُ مِنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ لَا قَالَ عَبْد اللَّهِ وَتُسْنِدُهُ يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৫৯; ইবনু আবী শাইবা ১/২০২। এটি ১১০৭ (অনুবাদে ১১০২) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৫. কাসিম আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “আমাকে ’খুমরাহ’ বা জায়নামাযটি এনে দাও।” তখন তিনি বললেন যে, আমার তো হায়িয হয়েছে। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “তা (তোমার হায়িয) তো আর তোমার হাতে হয়নি।”[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سُلَيْمَانُ أَخْبَرَنِي عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ قَالَتْ إِنِّي حَائِضٌ قَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ فِي يَدِكِ
তাখরীজ: আবু আওয়ানাহ ১/৩১৩; সহীহ মুসলিম ২৯৮; আবু দাউদ ২৬১; নাসাঈ ২৭২, ২৭৩; তিরমিযী ১৩৪; এটি ৭৯৭ ((এটি ভূল, আসলে মুহাক্বিক্বের নুসখায় এটি ৭৯৮ নং এ রয়েছে-অনুবাদক)) ও ১১০৫ (অনুবাদে ৭৯১ ও ১০৯৯) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৬. কাছীর ইবনু শিনযীর হাসান রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হায়িযগ্রস্ত মহিলা যে পানি থেকে পান করেছে, সেই পানি দ্বারা কি ওযু করা যাবে? তিনি হেঁসে বললেন, হাঁ।’[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ امْرَأَةٍ حَائِضٍ شَرِبَتْ مِنْ مَاءٍ أَيُتَوَضَّأُ بِهِ فَضَحِكَ وَقَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৩৯১ সহীহ সনদে, অপর সনদে ৩৯৩; ইবনু আবী শাইবা ৩৪/১ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৭. হারাম ইবনু হাকীম তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত মহিলার সাথে আহার করা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “আর তুমি তার সাথে আহার করো।”[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حَرَامِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مُؤَاكَلَةِ الْحَائِضِ قَالَ وَاكِلْهَا
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৪২ ও ৫/২৯৩; তিরমিযী ১৩৩; ইবনু মাজাহ ৬৫১; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৯/৫১; আরও দেখুন, আবু দাউদ ২১২; বাইহাকী ১/৩১২।
তিরমিযী বলেন: ‘এ অনুচ্ছেদে আয়িশা, আনাস রা: .... থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। এটি সকল আহলে ইলমগণের মত। তারা হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীলোকের সাথে খাওয়াকে দোষণীয় মনে করতেন না....।’
আর এ সম্পর্কে দ্বিতীয় হাদীসটি সামনে ১১১৫ (অনুবাদে ১১০৯) এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৮. নাফিঈ’ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার কোনো এক দাসীকে মসজিদ হতে জায়নামায নিয়ে আসার নির্দেশ দিতেন, আর সে দাসী বলতো, আমি তো হায়িযগ্রস্ত। তখন তিনি বলতেন, তোমার হায়িয তো আর তোমার হাতে লেগে নেই। তখন সে ওটা নিয়ে আসতো।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ جَارِيَتَهُ أَنْ تُنَاوِلَهُ الْخُمْرَةَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَتَقُولُ إِنِّي حَائِضٌ فَيَقُولُ إِنَّ حِيضَتَكِ لَيْسَتْ فِي كَفِّكِ فَتُنَاوِلُهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০ সহীহ সনদে। আরও দেখুন, আয়িশার হাদীস যা ১১১১ (১১০৫) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১০৯. হারাম ইবনু হাকীম তাঁর চাচা (আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত মহিলার সাথে আহার করা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যেও কারো হায়িয হয়েছে এবং ইনশা আল্লাহ আমরা রাতে একসাথে আহার করবো।”[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ حَرَامِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَمِّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مُؤَاكَلَةِ الْحَائِضِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ بَعْضَ أَهْلِي لَحَائِضٌ وَإِنَّا لَمُتَعَشُّونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ جَمِيعًا
তাখরীজ: এটি ১১১৪ (এটিও ভূল, আসলে মুহাক্কিক্বের নুসখায় এটির ক্রম ১১১৩ অনুবাদে ১১০৭) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলা তার স্বামীর চুল আঁচড়ে দিতে পারে
১১১০. আব্দুর রহমান ইবনু কাসিম তার পিতা কাসিম রাহি. হতে, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি হায়িযগ্রস্ত মহিলা কর্তৃক জায়নামায স্পর্শ করাকে দোষণীয় মনে করতেন না।[1]
بَاب الْحَائِضِ تَمْشُطُ زَوْجَهَا
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ لَا تَرَى بَأْسًا أَنْ تَمَسَّ الْحَائِضُ الْخُمْرَةَ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১১. উছমান ইবনুল আসওয়াদ মুজাহিদ রাহি. হতে বর্ণনা করেন ....[1]
(একই সনদে) ইউনূস হাসান রাহি. হতে ....[2]
(একই সনদে) আব্দুল মালিক, আতা রাহি. হতে .....[3]
মুহাম্মদ বলেন: এবং ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান, উছমান ইবনুল আসওয়াদ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, (তিনি বলেন,) হায়িযগ্রস্ত মহিলা যখন রক্তস্রাব হতে পবিত্র হবে, এরপর সে গোসল না করা পর্যন্ত তার স্বামী তার নিকটবর্তী হবে না।[4]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَيُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ وَعَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ فِي الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ الدَّمِ لَا يَقْرَبُهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩১০; ইবনু আবী শাইবা ১৯৬; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৬।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬ হাসান সনদে।
[3] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬; আরও দেখুন, মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ১২৪৫, ১২৭৩।
[4] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬ সহীহ সনদে; আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১২. উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা, উছমান ইবনুল আসওয়াদ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, এর অনুরূপ অভিন্ন (মত বর্ণনা করেছেন।)[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ مِثْلَهُ سَوَاءً
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন। পরবর্তী ১১২২ (অনুবাদে ১১১৬) নং হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৩. মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ বলেন, সুফিয়ান রাহি. কে জিজ্ঞেস করা হলো, যখন কোনো স্ত্রীলোকের (হায়িযের) রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তখন সে গোসল করার পূর্বেই তার স্বামী তার সাথে মিলিত হতে পারবে কি? তিনি বললেন: না। এরপর তাকে বলা হলো, সেই মহিলা যদি দু’দিন বা তারও অধিক দিন গোসল করা পরিত্যাগ করে, তাহলে এ ব্যাপারে আপনার মত কি? তিনি বললেন: তবে তাকে তাওবা করতে বলতে হবে।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ سُئِلَ سُفْيَانُ أَيُجَامِعُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِذَا انْقَطَعَ عَنْهَا الدَّمُ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ فَقَالَ لَا فَقِيلَ أَرَأَيْتَ إِنْ تَرَكَتْ الْغُسْلَ يَوْمَيْنِ أَوْ أَيَّامًا قَالَ تُسْتَتَابُ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৪. মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ এক ব্যক্তি হতে, যিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর বাণী: “অতঃপর যতক্ষণ তারা পবিত্রতা লাভ না করবে, ততক্ষণ তাদের নিকটবর্তী হয়োনা।” (সূরা বাকারাহ: ২২২) (এ আয়াত সম্পর্কে) তিনি (মুজাহিদ) বলেন, যখন রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। (আল্লাহর বাণী:) “অতঃপর যখন তারা পবিত্রতা লাভ করে” (সুরা বাকারা: ২২২) (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) তিনি বলেন: যখন তারা গোসল করবে।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ مُجَاهِدٍ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ قَالَ حَتَّى يَنْقَطِعَ الدَّمُ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ قَالَ إِذَا اغْتَسَلْنَ
তাখরীজ: পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৫. ইবনু নাজীহ হতে বর্ণিত, তিনি মুজাহিদ হতে, (“যতক্ষণ তারা পবিত্রতা লাভ না করবে”) (সূরা বাকারাহ: ২২২) তিনি বলেন: (এর অর্থ) যখন রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যাবে। (“অতঃপর যখন তারা পবিত্রতা লাভ করে...।”) (সুরা বাকারা: ২২২) তিনি বলেন: (এর অর্থ) যখন তারা গোসল করবে।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ حَتَّى يَطْهُرْنَ قَالَ إِذَا انْقَطَعَ الدَّمُ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ قَالَ اغْتَسَلْنَ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৫, ৩৮৬; আব্দুর রাযযাক (বিস্তারিতভাবে) নং ১২৭২; সহীহ সনদে। দেখুন, দুররে মানছুর ২/২৬০।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৬. উছমান ইবনুল আসওয়াদ বলেন, আমি ইবরাহীম রাহি. কে এমন এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, পবিত্রাবস্থা দেখতে পেলো। এমতাবস্থায় সে গোসল করার পূর্বে তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা হালাল কি? তিনি বললেন: না। যতক্ষণ না তার জন্য সালাত আদায় করা জায়িয হয়।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ امْرَأَةٍ رَأَتْ الطُّهْرَ أَيَحِلُّ لِزَوْجِهَا أَنْ يَأْتِيَهَا قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ قَالَ لَا حَتَّى تَحِلَّ لَهَا الصَّلَاةُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬ সহীহ সনদে। দেখুন এরপূর্বের ১১১৭ (অনুবাদে ১১১১) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৭. হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ বলেন, আমি আতা ও মায়মুন ইবনু মিহরাণ কে প্রশ্ন করে জেনেছিলাম এবং হাম্মাদ ইবরাহীম রাহি. হতে আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,[1] সে (স্বামী) তার (স্ত্রীর) গোসল না করা পর্যন্ত তার সাথে মিলিত হবে না।[2]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ هُوَ ابْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ قَالَ سَأَلْتُ عَطَاءً وَمَيْمُونَ بْنَ مِهْرَانَ وَحَدَّثَنِي حَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالُوا لَا يَغْشَاهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ
[1] ((এটি মুহাক্বিক্বের পরিবর্তন। মুল নুসখা এবং ফাতহুল মান্নানের বর্ণনামতে এখানে, ‘তিনি বললেন’ এর স্থানে ‘তারা বললেন’ রয়েছে। ফলে ফাতহুল মান্নানে, এটিকে আতা, মাইমুন ইবনু মিহরাণ ও ইবরাহীম- এ তিনজেনের মত আলাদাভাবে তিনটি হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মুহাক্বিক্বের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি হাদীস হিসেবে এবং আতা, মাইমুন ইবনু মিহরাণ ও হাম্মাদ হতে ইবরাহীম রাহি. এর মত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, আমরা সেভাবেই অনুবাদ করলাম।- অনুবাদক))
[2] তাহক্বীক্ব: হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: এটি ১১১৭ (অনুবাদে ১১১১) নং এ গত হয়েছে। পরবর্তী ১১২৭ (১১২১) নং হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৮. হিশাম হতে বর্ণিত, এক মহিলা পবিত্রাবস্থা দেখতে পেয়েছে, এমতাবস্থায় সে গোসল করার পূর্বে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করলো। এ সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন, সে তো গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত হায়িযগ্রস্ত বলে গণ্য। আর সে লোকটির উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে। আর তার স্ত্রীর গোসল না করা পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর নিকট প্রত্যাগমন করতে পারবে না।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ فِي الرَّجُلِ يَطَأُ امْرَأَتَهُ وَقَدْ رَأَتْ الطُّهْرَ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ قَالَ هِيَ حَائِضٌ مَا لَمْ تَغْتَسِلْ وَعَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ وَلَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا مَا لَمْ تَغْتَسِلْ
তাখরীজ: এটি ১১১৭ (অনুবাদে ১১১১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১১৯. ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না (স্ত্রীর গোসল করার পূর্বে)।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ لَا يَغْشَاهَا زَوْجُهَا
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৬ এবং এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, ‘যতক্ষণ সে গোসল না করে এবং তার জন্য সালাত আদায় করা হালাল না হয়।’ এর সনদও সহীহ। আরও দেখুন, ১১১৭ (অনুবাদে ১১১১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১২০. আবুল খায়ের মারছাদ ইবনু আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উক্ববাহ ইবনু আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম! যেই দিনে আমার স্ত্রী পবিত্রতা লাভ করে, সেই দিনেই আমি আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হই না, যতক্ষণ একদিন গত না হয়।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ يَقُولُ قَالَ أَبُو الْخَيْرِ مَرْثَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ يَقُولُ وَاللَّهِ إِنِّي لَا أُجَامِعُ امْرَأَتِي فِي الْيَوْمِ الَّذِي تَطْهُرُ فِيهِ حَتَّى يَمُرَّ يَوْمٌ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১২১. আব্দুল মালিক বর্ণনা করেন, কোনো এক মহিলা পবিত্রাবস্থা দেখতে পেলো। এমতাবস্থায় সে গোসল করার পূর্বে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে কি? আতা রাহি. বললেন: না। যতক্ষণ না সে (স্ত্রী) গোসল করবে।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الطُّهْرَ أَيَأْتِيهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ قَالَ لَا حَتَّى تَغْتَسِلَ
তাখরীজ: এটি ১১১৭, ১১২৩ (অনুবাদে ১১১১, ১১১৭) নং এ গত হয়েছে। এছাড়া মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১২৪৫ নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১২২. লাইছ ইবনু আবী সুলায়ম হতে, তিনি আতা হতে, কোনো মহিলার (হায়িযের) রক্তস্রাব বন্ধ হলো-এ সম্পর্কে তিনি (আতা) বলেন: যদি কামাসক্তি স্বামীকে পেয়ে বসে, তবে সে (স্ত্রী) তার গোপনাঙ্গ ধৌত করবে, তারপর তার স্বামী তার সাথে মিলিত হবে।[1]
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ يَنْقَطِعُ عَنْهَا الدَّمُ قَالَ إِنْ أَدْرَكَهُ الشَّبَقُ غَسَلَتْ فَرْجَهَا ثُمَّ أَتَاهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. হায়িযগ্রস্ত মহিলার পবিত্রতা লাভের পর গোসল করার পূর্বেই তার সাথে মিলিত হওয়া প্রসঙ্গে
১১২৩. ফুরওয়াহ ইবনু আবীল মাগরা’আ বলেন, আমি শারীক হতে শুনেছি, এক ব্যক্তি তাকে একথা জিজ্ঞেস করলো যে, এক স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় সে গোসল করার পূর্বে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে কি? তিনি বললেন, আব্দুল মালিক আতা রাহি. হতে বর্ণনা করেছেন যে, কামাসক্তি (এর আধিক্য)-এর কারণে তিনি (আতা) এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন, আমার আশংকা হয় যে, তিনি ভূল করেছেন। আমার আরও আশংকা হলো, এটি লাইছের হাদীস (যেটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে), আব্দুল মালিকের এ হাদীস আমি জানি না। আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন, الشبق : যে ব্যক্তি (নারীসঙ্গ) কামনা করে।
بَاب مُجَامَعَةِ الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ
أَخْبَرَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ قَالَ سَمِعْتُ شَرِيكًا وَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ الْمَرْأَةُ يَنْقَطِعُ عَنْهَا الدَّمُ أَيَأْتِيهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ فَقَالَ قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُ رَخَّصَ فِي ذَلِكَ لِلشَّبِقِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَخَافُ أَنْ يَكُونَ ذَا خَطَأً أَخَافُ أَنْ يَكُونَ مِنْ حَدِيثِ لَيْثٍ لَا أَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الشَّبِقُ الَّذِي يَشْتَهِي
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৪. আবী হুররাহ ওয়াসিল ইবনু আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, আমি মদীনার নারীদেরকে দেখেছি, তারা খিযাব লাগানো অবস্থায় সালাত আদায় করে।[1]
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى قَالَ زَعَمَ لَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي حُرَّةَ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ رَأَيْتُ نِسَاءً مِنْ نِسَاءِ الْمَدِينَةِ يُصَلِّينَ فِي الْخِضَابِ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৫. আবী নাজিহ কর্তৃক এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’কে এমন এক মহিলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো যে খিযাব লাগায়। তখন তিনি বললেন: বরং ছুরি দিয়ে হাত কেটে ফেলাও আমার নিকট এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।[1]
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَمَّنْ سَمِعَ عَائِشَةَ سُئِلَتْ عَنْ الْمَرْأَةِ تَمْسَحُ عَلَى الْخِضَابِ فَقَالَتْ لَأَنْ تُقْطَعَ يَدِي بِالسَّكَاكِينِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ ذَلِكَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২০; বাইহাকী ১/৭৭;
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৬. আবী সাঈদ হতে বর্ণিত, এক মহিলা আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, কোনো এক মহিলা খিযাব লাগিয়ে সালাত আদায় করে। (এর হুকুম কি?) তিনি বললেন: জোর করে হলেও তা ধুয়ে তুলে ফেলো।[1]আবু মুহাম্মদ বলেন: আবু সাঈদ হলেন ইবনু আবীল আম্বাস। আর আবীল আম্বাসের নাম সাঈদ ইবনু কাছীর ইবনু উবাইদ।
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ عَائِشَةَ تُصَلِّي الْمَرْأَةُ فِي الْخِضَابِ قَالَتْ اسْلُتِيهِ وَرَغْمًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو سَعِيدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي الْعَنَبْسِ وَاسْمُ أَبِي الْعَنَبْسِ سَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১১৯; বাইহাকী ১/৭৭; দেখুন, আবী উবাইদ, গারীবুল হাদীস ৪/৩২৬ ...।
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৭. আবী মিজলায হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমাদের স্ত্রীগণ রাত্রি বেলায় খিযাব লাগাত, এরপর যখন সকাল হতো, তখন তারা তা তুলে ফেলতো, অতঃপর ওযু করে সালাত আদায় করতো। তারপর সালাতের পরে তারা পূণরায় খিযাব লাগাতো, তারপর যখন যুহরের সময় নিকটবর্তী হতো, তখন তারা তা তুলে ফেলতো, অতঃপর ওযু করে সালাত আদায় করতো। খিযাব (রং) ও হতো সুন্দরতর, আর তা সালাত হতেও বিরত রাখতো না।[1]
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنَّ نِسَاؤُنَا يَخْتَضِبْنَ بِاللَّيْلِ فَإِذَا أَصْبَحْنَ فَتَحْنَهُ فَتَوَضَّأْنَ وَصَلَّيْنَ ثُمَّ يَخْتَضِبْنَ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الظُّهْرِ فَتَحْنَهُ فَتَوَضَّأْنَ وَصَلَّيْنَ فَأَحْسَنَّ خِضَابَهُ وَلَا يَمْنَعُ مِنْ الصَّلَاةِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২০; বাইহাকী ১/৭৭; আব্দুর রাযযাক নং ৭৯৩০; এটি সামনে ১১৩৫ (অনুবাদে ১১২৯) নং এও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৮. নাফিঈ’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার স্ত্রীগণ খিযাব লাগাতেন, অথচ তখন তারা হায়িযগ্রস্ত থাকতেন।[1]
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ نِسَاءَ ابْنِ عُمَرَ كُنَّ يَخْتَضِبْنَ وَهُنَّ حُيَّضٌ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১১০. হায়িযগ্রস্ত মহিলার খিযাব ব্যবহার করা ও খিযাব ব্যবহার করে মহিলার সালাত আদায় করা
১১২৯. (অপর সনদে) আবী মিজলায হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমাদের স্ত্রীগণ যখন সর্বশেষ সালাত ঈশা’ আদায় করতো, তখন তারা খিযাব লাগাত। এরপর যখন সকাল হতো, তখন তারা তা তুলে ফেলতো, অতঃপর ওযু করে সালাত আদায় করতো। তারপর যখন যুহরের সালাত আদায় করতো, তখন তারা পূণরায় খিযাব লাগাতো, তারপর যখন আসরের সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতো, তখন তারা তা তুলে ফেলতো। ফলে খিযাব (রং) ও হতো সুন্দরতর, আর তা সালাত হতেও তাদেরকে বিরত রাখতো না।[1]
بَاب فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ تَخْتَضِبُ وَالْمَرْأَةِ تُصَلِّي فِي الْخِضَابِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنَّ نِسَاؤُنَا إِذَا صَلَّيْنَ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ اخْتَضَبْنَ فَإِذَا أَصْبَحْنَ أَطْلَقْنَهُ وَتَوَضَّأْنَ وَصَلَّيْنَ وَإِذَا صَلَّيْنَ الظُّهْرَ اخْتَضَبْنَ فَإِذَا أَرَدْنَ أَنْ يُصَلِّينَ الْعَصْرَ أَطْلَقْنَهُ فَأَحْسَنَّ خِضَابَهُ وَلَا يَحْبِسُ عَنْ الصَّلَاةِ
তাখরীজ: এটি ১১৩৩(অনুবাদে ১১২৭) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩০. মুগীরাহ ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণনা করেন, .....[1]
এবং ইসমাঈল ইবনু আবী খালিদ, আমীর রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তারা উভয়ে বলেন, তা (তার সাথে মিলিত হওয়া) গুনাহের কাজ হয়েছে। সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তাঁর নিকট তাওবা করবে। আর সে এ কাজের পুনরাবৃত্তি করবে না।[2]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ ح وَأَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ فِيمَنْ أَتَى أَهْلَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَا ذَنْبٌ أَتَاهُ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَيَتُوبُ إِلَيْهِ وَلَا يَعُودُ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২; আব্দুর রাযযাক নং ১২৬৮ ইবরাহীম বলেন, তার উপর কোনো কিছুই ওয়াজিব নয়। সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করবে।’ এর সনদ সহীহ।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩১. মুছান্না হতে বর্ণিত, আতা রাহি. হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ الْمُثَنَّى عَنْ عَطَاءٍ مِثْلَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২।
এর শাহিদ বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১২৬৯ ইবনু জুরাইজ হতে, তিনি মুদাল্লিস এবং এটি আনআন পদ্ধতিতে বর্ণনা করায় এটি যয়ীফ। এটি সামনে ১১৪০ (অনুবাদে ১১৩৬) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩২. মুহাম্মদ ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর বলেন, তা (তার সাথে মিলিত হওয়া) গুনাহের কাজ হয়েছে। কিন্তু তার উপর কাফফারা ওয়াজিব নয়।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى وَأَبُو النُّعْمَانِ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ الْقَعْقَاعِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ ذَنْبٌ أَتَاهُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩৩. আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম তার পিতা কাসিম রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীর হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় তার সাথে মিলিত হয়। তিনি বলেন: সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং আল্লাহর নিকট তাওবা করবে।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَعْتَذِرُ إِلَى اللَّهِ وَيَتُوبُ إِلَى اللَّهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩৪. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, ’তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তোমার উপর আর কোনো কিছু (কাফফারা) ওয়াজিব নয়।’ (রাবী বলেন) এর অর্থ: যখন সে (কোনো ব্যক্তি) তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ تَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَيْءٌ يَعْنِي إِذَا وَقَعَ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ
তাখরীজ: এটি ১১৩৭ (অনুবাদে ১১৩১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩৫. মালিক ইবনু খাত্তাব আল আম্বারী হতে বর্ণিত, ইবনু আবী মুলাইকা রাহি. বলেন, আমি শুনলাম, তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তার স্ত্রীর হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় তার সাথে মিলিত হয়। তিনি বললেন: সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْخَطَّابِ الْعَنْبِرِيِّ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ سُئِلَ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ الرَّجُلِ يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩৬. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বললো: আমি স্বপ্নে দেখছি, আমি যেন রক্ত পেশাব করছি। তুমি কি তোমার স্ত্রীর হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় তার সাথে মিলিত হও? তখন সে বললো, হাঁ। তখন তিনি বললেন: আল্লাহকে ভয় কর। পূণরায় একাজ আর করো না।[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّ رَجُلًا أَتَى أَبَا بَكْرٍ فَقَالَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنِّي أَبُولُ دَمًا قَالَ تَأْتِي امْرَأَتَكَ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ نَعَمْ قَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَعُدْ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৭০; ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩১।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. যখন কোনো লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়
১১৩৭. হিশাম হতে বর্ণিত, যে লোক তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তার সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনু সীরীন রাহি. বলেন, সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’[1]
بَاب إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৩৮. ইয়াযীদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, আমি হাসান রাহি. কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমযান মাসে একদিন সিয়াম ভঙ্গ করবে, তার ব্যাপারে তিনি বলেন, (কাফফারা হিসেবে) একটি দাস মুক্ত করা কিংবা একটি হৃষ্টপুষ্ট পশু কুরবাণী করা কিংবা চল্লিশজন মিসকীনকে বিশ সা’আ খাদ্য দান করা তার উপর ওয়াজিব। আবার যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে, তার জন্যও এর অনুরূপ (কাফফারা ওয়াজিব হবে)।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ فِي الَّذِي يُفْطِرُ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ قَالَ عَلَيْهِ عِتْقُ رَقَبَةٍ أَوْ بَدَنَةٌ أَوْ عِشْرِينَ صَاعًا لِأَرْبَعِينَ مِسْكِينًا وَفِي الَّذِي يَغْشَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ مِثْلُ ذَلِكَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২, দু’টি সনদে হাসান হতে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দাবলী হলো: যিহারকারী পুরুষের উপর যা ওয়াজিব তারমতে এ ব্যক্তির উপরও তা ওয়াজিব।’
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৩৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে, যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: “সে অর্ধ দীনার সাদাকা করবে।”[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِنِصْفِ دِينَارٍ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৭২, ৩২৫; আবু দাউদ ২৬৬; তার সূত্রে বাইহাকী ১/৩১৬; তিরমিযী ১৩৬; ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩১; আব্দুর রাযযাক নং ১২৬১, ১২৬৩। পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪০. মিকসাম হতে, ’যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে এক দীনার সাদাকা করবে’- কিংবা (বর্ণনাকারী) হাকামের সন্দেহ- ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ شَكَّ الْحَكَمُ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩০, ২৮৬; আবু দাউদ ২৬৪, ২১৬৮; নাসাঈ ১/১৫৩; ইবনু মাজাহ ৬৪০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১০৮; ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩১; বাইহাকী ১/৩১৪।
হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/১৭১-১৭২ এ একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আগের ও পরের হাদীস দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪১. (অপর সনদে) মিকসাম হতে, ’যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে এক দীনার কিংবা ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করবে।’[1]
শু’বাহ বলেন, আমার যতটা স্মরণ আছে, এটি মারফু’ হিসেবেই বর্ণিত। কিন্তু, অমুক ও অমুক ব্যক্তিদ্বয় একে ’গয়রে মারফু’ বলেছেন।
লোকদের কেউ বললো, অমুক অমুকের কথা বাদ দিন, আপনি আপনার স্মৃতি (বা মুখস্ত) থেকেই আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন।
তখন তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমার নিকট এটি পছন্দনীয় নয় যে, আমি নূহ আলাইহিস সালামের মত দীর্ঘজীবন লাভ করি এবং (আজীবন) এ হাদীস আমি বর্ণনা করে যাই। নতুবা (আমার নিকট পছন্দনীয় হলো) এ ব্যাপারে আমি চুপ করে থাকি।আবু মুহাম্মদ বলেন: আব্দুল হামীদ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু খাত্তাব, তিনি উমার ইবনু আব্দুল আযীয কর্তৃক নিযুক্ত কুফার গভর্ণর ছিলেন।
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الَّذِي يَغْشَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ قَالَ شُعْبَةُ أَمَّا حِفْظِي فَهُوَ مَرْفُوعٌ وَأَمَّا فُلَانٌ وَفُلَانٌ فَقَالَا غَيْرُ مَرْفُوعٍ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ حَدِّثْنَا بِحِفْظِكَ وَدَعْ مَا قَالَ فُلَانٌ وَفُلَانٌ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنِّي عُمِّرْتُ فِي الدُّنْيَا عُمُرَ نُوحٍ وَأَنِّي حَدَّثْتُ بِهَذَا أَوْ سَكَتُّ عَنْ هَذَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد عَبْدُ الحَمِيدِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحمَنِ بْنِ زَيدِ بْنِ الخَطَّابِ وَكَانَ وَالِيَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَلَى الْكُوفَةِ
তাখরীজ: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১০৯; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের হাদীসটি দেখুন। এছাড়া দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪২. এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ’সে ব্যক্তি যদি তার (হায়িযগ্রস্ত) স্ত্রীর সাথে রক্ত নির্গত হওয়া অবস্থায় মিলিত হয়, তবে সে এক দীনার সাদাকা করবে। আর যদি তার স্ত্রীর রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, এমতাবস্থায় (পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে) সে তার সাথে মিলিত হলে ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا أَتَاهَا فِي دَمٍ فَدِينَارٌ وَإِذَا أَتَاهَا وَقَدْ انْقَطَعَ الدَّمُ فَنِصْفُ دِينَارٍ
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৩. ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে অর্ধ দীনার সাদাকা করবে।”[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِنِصْفِ دِينَارٍ
তাখরীজ: এটি ১১৪৫ (অনুবাদে ১১৩৯) নং এ। আগের টীকাগুলিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৪. আব্দুল হামীদ ইবনু যাইদ ইবনু খাত্তাব বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাবের একজন স্ত্রী ছিলো যে সহবাস করতে অপছন্দ করতো। ফলে তিনি যেদিনই তার সাথে মিলিত হতে চাইতেন, সেদিনই সে তার নিকট হায়িযগ্রস্ত হওয়ার অজুহাত দিতেন। তারপর তিনি একদিন তার সাথে মিলিত হলেন, যেদিন সে সত্যই (হায়িযগ্রস্ত) ছিলো। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন (এবং বিষয়টি তাঁকে জানালেন।) তখন তিনি তাকে এক দীনারের দুই-পঞ্চমাংশ দান করতে আদেশ দিলেন।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ كَانَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ امْرَأَةٌ تَكْرَهُ الْجِمَاعَ فَكَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَهَا اعْتَلَّتْ عَلَيْهِ بِالْحَيْضِ فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَإِذَا هِيَ صَادِقَةٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِخُمُسَيْ دِينَارٍ
তাখরীজ: আবু দাউদ ২৬৬। এ হাদীস বর্ণনার পর আবু দাউদ বলেছেন: ‘এটি মু’দ্বাল’। সুনানে বাইহাকী ১/৩১৬।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি কোনো ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় আর তার রক্তস্রাব যদি তাজা (টকটকে লাল) হয়ে থাকে, তবে সে যেনো এক দীনার সাদাকা করে। আর যদি হলুদ বর্ণের স্রাব হতে থাকে, এমতাবস্থায় (মিলিত হলে) সে যেনো ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَى الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَإِنْ كَانَ الدَّمُ عَبِيطًا فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ وَإِنْ كَانَتْ صُفْرَةً فَلْيَتَصَدَّقْ بِنِصْفِ دِينَارٍ
তাখরীজ: দেখুন, তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর নং ১২১৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৬. (অপর সনদে) মিকসাম হতে বর্ণিত, ’যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সে এক দীনার কিংবা ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করবে।’[1]এবং ইবরাহীম রাহি. বলেন, সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে।’[2]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا حَفْصٌ هُوَ ابْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। তবে এর তাখরীজের জন্য ১১৩৯-১১৪৩ ও ১১৪৫ নং হাদীসের তাখরীজ দেখা যেতে পারে। -অনুবাদক))
[2] তাহক্বীক্ব: এ হাদীসটির সনদ আগের হাদীসের সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট । আব্দুর রাযযাক নং ১২৬৮ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৭. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ’যখন কোনো ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তখন তার উপর এক দীনার সাদাকা করা ওয়াজিব।’[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا وَقَعَ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِدِينَارٍ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন বিগত ১১৫১ (অণুবাদে ১১৪৫) বরং ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত সকল হাদীসমূহ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৮. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, ’যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আতা রাহি. বলেন, সে এক দীনার সাদাকা করবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৪৯. (অপর সনদে) মিকসাম হতে, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, সে এক দীনার কিংবা ’অর্ধ দীনার’ সাদাকা করবে।’[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ
তাখরীজ: এটি ১১৫৩ (অনুবাদে ১১৪৬-৪৭) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৫০. শুয়াইব ইবনু ইসহাক হতে বর্ণিত, ’কোনো লোক তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় অথচ তার স্ত্রী তখন হায়িযগ্রস্ত, কিংবা সে (হায়িয হতে) পবিত্রতাবস্থা দেখতে পেয়েছে, কিন্তু তখনও সে গোসল করেনি, -এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আওযাঈ রাহি. বলেন, সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং পাঁচ দীনার সাদাকা করবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ فِي رَجُلٍ يَغْشَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ أَوْ رَأَتْ الطُّهْرَ وَلَمْ تَغْتَسِلْ قَالَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَيَتَصَدَّقُ بِخُمُسَيْ دِينَارٍ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এটার কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৫১. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, ’যখন কোনো ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তখন সে এক দীনার সাদাকা করবে।
তখন লোকদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো, হাসান বলে থাকেন, সে একটি দাস মুক্ত করবে। তিনি বললেন, তোমাদের সাধ্যমত আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে আমি তোমাদেরকে বাধা দিবো না।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ إِذَا وَقَعَ الرَّجُلُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِنِصْفِ دِينَارٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ فَإِنَّ الْحَسَنَ يَقُولُ يُعْتِقُ رَقَبَةً فَقَالَ مَا أَنْهَاكُمْ أَنْ تَقَرَّبُوا إِلَى اللَّهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ
তাখরীজ: ((এর কোনো তাখরীজ দেননি; সম্ভবত: বিগত ১১৪৮ নং এ এর তাখরীজ গত হয়েছে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১২. যিনি বলেন, তার উপর কাফফারাহ ওয়াজিব
১১৫২. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, ’যে ব্যক্তি তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, সে এক দীনার সাদাকা করবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৩. ইবনু সাবিত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাফসাহ বিনতে আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকরকে প্রশ্ন করলাম। তাকে বললাম, আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পাচ্ছি।
তিনি বললেন: হে ভাতিজা! তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞেস করতে পারো।
তিনি (ইবনু সাবিত) বলেন, আমি আপনাকে পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি?
তখন তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আনসারগণ (তাদের স্ত্রীদের নিকট গমণ করার সময় তাদেরকে) উপুড় করতেন না। কিন্তু মুহাজিরগণ উপুড় (করে গমণ) করতেন। একজন মুহাজির এক আনসার মহিলাকে বিবাহ করলেন। তখন তিনি (তার স্ত্রীকে) উপুড় করতে চাইলেন, কিন্তু তার স্ত্রী তা অস্বীকার করলো এবং সে বের হয়ে গেলো। তখন উম্মু সালামাহ এঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: “মহিলাকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে এসো।” তাকে ডেকে আনা হলে তিনি তাকে বললেন: “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩) (তবে গমণের জন্য) পথ একটিই।” আর ’الصمام ’হলো একটিই পথ।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ ابْنِ سَابِطٍ قَالَ سَأَلْتُ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ أَبِي بَكْرٍ قُلْتُ لَهَا إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكِ عَنْ شَيْءٍ وَأَنَا أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَكِ عَنْهُ قَالَتْ سَلْ يَا ابْنَ أَخِي عَمَّا بَدَا لَكَ قَالَ أَسْأَلُكِ عَنْ إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ فَقَالَتْ حَدَّثَتْنِي أُمُّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَتْ الْأَنْصَارُ لَا تُجَبِّي وَكَانَتْ الْمُهَاجِرُونَ تُجَبِّي فَتَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ امْرَأَةً مِنْ الْأَنْصَارِ فَجَبَّاهَا فَأَبَتْ الْأَنْصَارِيَّةُ فَأَتَتْ أُمَّ سَلَمَةَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهَا فَلَمَّا أَنْ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَحْيَتْ الْأَنْصَارِيَّةُ وَخَرَجَتْ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ أُمُّ سَلَمَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ادْعُوهَا لِي فَدُعِيَتْ لَهُ فَقَالَ لَهَا نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكَمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ سِمَامًا وَاحِدًا وَالسِّمَامُ السَّبِيلُ الْوَاحِدُ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩০৫, ৩১০, ৩১৮-৩১৯; তাবারী, আত তাফসীর ২/৯২, ৩৯৬; তিরমিযী ২৯৮৩, তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩০-২৩১; বাইহাকী ৭/১৯৫; আব্দুর রাযযাক নং ২০৯৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৪. মুজাহিদ রাহি. বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহুমা’র নিকট তিনবার কুরআন শুনিয়েছি, প্রত্যেক আয়াতে থেমে থেমে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি, তা কোন্ বিষয়ে এবং কোথায় নাযিল হয়েছে। আমি তাঁকে বললাম, হে ইবনু আব্বাস! আপনি কি আল্লাহর তাআলার এ বাণী লক্ষ্য করেছেন? [“যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” সুরা বাকারা: ২২২] তিনি বললেন, (এ আয়াতাংশে সেখান দিয়ে গমণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন) যেখান থেকে আল্লাহ তোমাদেরকে বিরত থাকার আদেশ করেছেন।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ لَقَدْ عَرَضْتُ الْقُرْآنَ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ ثَلَاثَ عَرَضَاتٍ أَقِفُ عِنْدَ كُلِّ آيَةٍ أَسْأَلُهُ فِيمَ أُنْزِلَتْ وَفِيمَ كَانَتْ فَقُلْتُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَرَأَيْتَ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ قَالَ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ أَنْ تَعْتَزِلُوهُنَّ
তাখরীজ: আবু দাউদ ২১৬৪; তাবারাণী, আল কাবীর নং ১১০৯৭; হাকিম ২/১৫৯, ১৭৯; তাবারী, আত তাফসীর ৩৯৫-৩৯৬; ওয়াহিদী, আসবাবুন নুযুল পৃ: ৫২; হাকিম ও যাহাবী একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। ...ইবনু কাছীর তার তাফসীর ১/৩৮২ এ বলেছেন: ‘আবু দাউদ এক্ষেত্রে একাকী হয়ে গেছেন। তবে এর সহীহ হওয়ার সাক্ষ্য দেয় পূর্বে বর্ণিত হাদীসসমূহ...’।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৫. উছমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, [“তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” সুরা বাকারা: ২২২] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) মুজাহিদ রাহি. বলেন, তোমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা সেই স্থান দিয়ে গমণ করবে, (হায়িযের সময়) যে স্থান থেকে তাদেরকে বিরত থাকার আদেশ করা হয়েছিল।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ قَالَ أُمِرُوا أَنْ يَأْتُوا مِنْ حَيْثُ نُهُوا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২-২৩৩ সহীহ সনদে; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৮, ১৯/১০৫; আরও দেখুন সামনে ১১৬৩ (অনূবাদে ১১৫৭) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৬. আ’মাশ হতে বর্ণিত, [“তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” সুরা বাকারা: ২২২] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) আবী রযীন বলেন, যখন তারা পবিত্রতার সময় (তাদের নিকট গমণ করবে)।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي رَزِينٍ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ قَالَ مِنْ قِبَلِ الطُّهْرِ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৮-৩৮৯ সহীহ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩৩ সহীহ সনদে; এবং ৪/২৩০;
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৭. ইবরাহীম ইবনু মুহাজির থেকে বর্ণিত, (আল্লাহর বাণী:) [“তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীলোক সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে তোমরা বর্জন করছো?” সুরা শু’আরা: ১৬৬] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) মুজাহিদ রাহি. বলেন: আল্লাহর কসম, সেটি (স্ত্রীলোকের) সম্মুখ রাস্তা (তথা যৌনাঙ্গ)।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ قَالَ هُوَ وَاللَّهِ الْقُبُلُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২; এটি ১১৬১ (অনূবাদে ১১৫৫) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৮. খালিদ ইবনু রাবাহ থেকে বর্ণিত, (আল্লাহর বাণী:) [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইকরিমাহ রাহি. বলেন, নিশ্চয়ই সে স্থানটি হলো যৌনাঙ্গ।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ رَبَاحٍ عَنْ عِكْرِمَةَ نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ إِنَّمَا هُوَ الْفَرْجُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৯, ২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৫৯. আলী ইবনু আলী আর রিফাঈ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হাসান রাহি. কে বলতে শুনেছি, ইয়াহুদীরা (মুসলিমদের বিভিন্নভাবে স্ত্রী-গমণের বিষয়টিকে বিদ্রূপ করতে) কোনো রকম কসূর করতো না, যা মুসলিমদের উপর খুব কঠিন মনে হলো। তারা (ইয়াহুদীরা) বলতো, হে মুহাম্মদের সাথীগণ! আল্লাহর কসম! একটি মাত্র দিক (সামনের থেকে) ব্যতীত আর কোনো দিক থেকেই তোমাদের স্ত্রীগণের নিকট গমণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয়।তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] ফলে আল্লাহ (এভাবে) মু’মিনদের প্রয়োজনকে অবমুক্ত করে দিলেন।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ كَانَتْ الْيَهُودُ لَا تَأْلُو مَا شَدَّدَتْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ كَانُوا يَقُولُونَ يَا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْتُوا نِسَاءَكُمْ إِلَّا مِنْ وَجْهٍ وَاحِدٍ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ فَخَلَّى اللَّهُ بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَبَيْنَ حَاجَتِهِمْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬০. সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, [“অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, তোমরা স্ত্রীদের নিকট সামনের থেকে ও পেছনের দিক থেকে গমণ কর, তবে তা যেন গমণস্থলে (যৌনাঙ্গে) হয়।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ ائْتِهَا مِنْ بَيْنِ يَدَيْهَا وَمِنْ خَلْفِهَا بَعْدَ أَنْ يَكُونَ فِي الْمَأْتَى
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৯২ যয়ীফ সনদে; দেখুন বাইহাকী, সুনান ৭/১৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬১. ইকরিমাহ রাহি. বলেন, জাহিলী যুগের লোকেরা স্ত্রীলোকের হায়িয অবস্থায় মাজুসী (অগ্নিপুজারী) সম্প্রদায়ের লোকদের মতো (তাদের সাথে সহবাস) করতো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিষয়টি উত্থাপিত হলো, তখন এ আয়াত নাযিল হলো: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা।” (সুরা বাকারা: ২২২)] ফলে এ আদেশটি (হায়িয অবস্থায় উভয় রাস্তায় সংগম হারাম করার মাধ্যমে[1]) স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে কঠোরতাই বৃদ্ধি করেছে।[2]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَصْنَعُونَ فِي الْحَائِضِ نَحْوًا مِنْ صَنِيعِ الْمَجُوسِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَلَمْ يَزْدَدْ الْأَمْرُ فِيهِنَّ إِلَّا شِدَّةً
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও সনদ সহ পাইনি। ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৯ সাকাফীর সুত্রে সংক্ষেপে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬২. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, [“তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা।” (সুরা বাকারা : ২২২)] এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ রাহি. বলেন, ওটা (কষ্টদায়ক অবস্থা অর্থ) হচ্ছে রক্ত।’[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قُلْ هُوَ أَذًى قَالَ هُوَ الدَّمُ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮১ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৩. মু’তামির হতে বর্ণিত, [“তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা।” (সুরা বাকারা : ২২২)] এ আয়াত সম্পর্কে কাতাদা রাহি. বলেন, ওটা (’কষ্টদায়ক অবস্থা’ অর্থ) হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা বা পঙ্কিলতা।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ قُلْ هُوَ أَذًى قَالَ قَذَرٌ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮১ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৪. ঈসা ইবনু কায়িস হতে বর্ণিত, (আল্লাহর বাণী:) [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে ’আযল’ করো, আবার ইচ্ছা করলে ’আযল’ নাও করতে পারো।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا حَدَّثَ عَنْ عِيسَى بْنِ قَيْسٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ إِنْ شِئْتَ فَاعْزِلْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَعْزِلْ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৯৫ যয়ীফ সনদে। নতুবা, এমন বর্ণনাকারীর সূ্ত্রে যাকে আমি চিনি না।
ওয়াহিদী, আসবাবুন নুযূল পৃ: ৫৪ যয়ীফ সনদে: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৫. আউফ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, তুমি যে অবস্থায় ইচ্ছা কর, (স্ত্রী-সহবাস করতে পারো)? অর্থা সহবাস করবে স্ত্রীলোকদের যৌনাঙ্গে।’ [1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ عَوْفٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ كَيْفَ شِئْتَ يَعْنِي إِتْيَانَهَا فِي الْفَرْجِ
তাখরীজ: দেখুন, সয়ূতী, দুররে মানছুর ১/২৬২।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৬. মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির রাহি. হতে বর্ণিত, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইয়াহুদীগণ মুসলিমদেরকে বলতো, যে লোক পিছনের দিক থেকে স্ত্রী সহবাস করবে, তার সন্তান টেরা চোখবিশিষ্ট হবে। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।”[1] (সুরা বাকারা: ২২৩)]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِلْمُسْلِمِينَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ مُدْبِرَةٌ جَاءَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২০২৪ এ ((“বুখারী, আস সহীহ ৪৫২৮; মুসলিম, আস সহীহ ১৪৩৫; আবু দাউদ ২১৬৩; তিরমিযী ২৯৮২; ইবনু মাজাহ ১৯২৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪০; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৯৬; বাইহাকী, আস সুনান ৭/১৯৪-১৯৫; ইবনু হিব্বান ৪১৭৪, ৪২০৫”- মুসনাদুল মাওসিলী নং ২০২৪ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে-অনুবাদক। )) ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭৪, ৪২০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩০০ এ।
এছাড়াও : ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩০; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ১০/১৬০ নং ১৪৫২; আরও দেখুন, দুররে মানছুর ১/২৬১।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৭. খালিদ আল হাজ্জা হতে বর্ণিত, [“অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ’ইকরিমাহ রাহি. বলেন, ’স্ত্রীলোকের দাঁড়ানো কিংবা বসা অবস্থায়, সামনে থেকে কিংবা পিছন থেকে, যে অবস্থায়ই চায়, সেভাবেই সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারে।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ يَأْتِي أَهْلَهُ كَيْفَ شَاءَ قَائِمًا وَقَاعِدًا وَبَيْنَ يَدَيْهَا وَمِنْ خَلْفِهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৯ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. পশ্চাদ্দার দিয়ে মহিলাদের নিকট গমণ করা
১১৬৮. ইয়াযীদ ইবনুল ওয়ালীদ থেকে বর্ণিত, [“তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” সুরা বাকারা: ২২২] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবরাহীম রাহি. বলেন, (সহবাস হতে হবে) যৌনাঙ্গে।[1]
بَاب إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْأَشَجُّ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ قَالَ فِي الْفَرْجِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৬৯. উছমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করবে, তবে এ স্ত্রীলোক পুরুষের স্থলাভিষিক্ত হবে (কেননা, সেটা পুরুষের সাথে ’লিওয়াতাত’ এর মতো)। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” (সুরা বাকারা: ২২২)] (এ আয়াতের) ’তোমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করবে’ অর্থ: হায়িয অবস্থায় যৌনাঙ্গ (দিয়ে সহবাস পরিত্যাগ করবে)। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।” (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এর অর্থ:) দাড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) যৌনাঙ্গে।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَهُوَ مِنْ الْمَرْأَةِ مِثْلُهُ مِنْ الرَّجُلِ ثُمَّ تَلَا وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ أَنْ تَعْتَزِلُوهُنَّ فِي الْمَحِيضِ الْفَرْجَ ثُمَّ تَلَا نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَائِمَةً وَقَاعِدَةً وَمُقْبِلَةً وَمُدْبِرَةً فِي الْفَرْجِ
তাখরীজ: দুররে মানছুর ১/২৬৫ এ সুয়ূতী একে আব্দ ইবনু হুমাইদ এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
এছাড়া বর্ণনা করেছেন তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৭-৩৮৮; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২, ২৩৩ সহীহ সনদে; পূর্বের ১১৬০, ১১৬১, ১১৬৩ (অনূবাদে ১১৫৪, ১১৫৫, ১১৫৭) নং হাদীসগুলি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭০. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, “যে ব্যক্তি হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীলোকের সাথে সঙ্গম করে কিংবা স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে, অথবা গণকের কাছে যায় এবং সে যা বলে তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, তবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে ব্যক্তি তাতে কুফরী করলো।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ حَكِيمٍ الْأَثْرَمِ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫২-২৫৩; আহমাদ ২/৪০৮, ৪৭৬; বুখারী, আল কাবীর ৩/১৬, ১৭; আবু দাউদ ৩৯০৪; তিরমিযী ১৩৫; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০১৬; ইবনু মাজাহ ৬৩৯; ইবনুল জারুদ নং ১০৭; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ১/৩১৮; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৩৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪৫; বাইহাকী ৭/১৯৮।
তিরমিযী বলেন: আহলুল ইলম গণের নিকট এর অর্থ ‘কঠোরতা’ করা.... । কেননা, যদি হায়িয অবস্থায় স্ত্রী-গমণ (প্রকৃত) কুফর হতো, তবে এর জন্য কাফ্ফারা দেওয়ার আদেশ করা হতো না।’
দেখুন, ইবনু আব্বাসের হাদীস গত ১১৪৬ (অনূবাদে ১১৪০) নং এবং পরবর্তী ১১৮০ (অনূবাদে ১১৭৪) নং হাদীসটি। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৩/১৮০-১৮৮; তাবারাণী, মু’জামুল আওসাত নং ৯১৭৫; মাজমাউল বাহরাইন ৪/১৯০ নং ২৩১১।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭১. আবী কা’কা’ আজ জারমী রাহি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বলল, হে আবূ আব্দুর রহমান! আমি কি আমার স্ত্রীর সাথে যেখান দিয়ে ইচ্ছা মিলিত হতে পারবো? তিনি বললেন: হাঁ। লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, আমি যে দিক দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করি, (সেদিক দিয়েই)? তিনি বললেন, হাঁ।
লোকটি আবার বললো, আমি যেভাবে ইচ্ছা করি, (সেভাবেই)? তিনি বললেন: হাঁ। তখন তাকে এক লোক বললো, হে আবূ আব্দুর রহমান, এ লোক মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করছে। তিনি বললেন, না, বরং মহিলাদের পশ্চাদ্দার তোমাদের জন্য হারাম।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الشَّقَرِيِّ عَنْ أَبِي الْقَعْقَاعِ الْجَرْمِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ آتِي امْرَأَتِي حَيْثُ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَمِنْ أَيْنَ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَكَيْفَ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ هَذَا يُرِيدُ السُّوءَ قَالَ لَا مَحَاشُّ النِّسَاءِ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫২; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪৬ অতি সংক্ষেপে যয়ীফ সনদে, উভয়েই মাওকুফ হিসেবে।
কিন্তু দাওলাবী, আল কু্ন্নী ২/৮৫ ইবনু মাসউদ হতে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে....। এর রাবী বিসর মাজহুল। বুখারী তার সম্পর্কে বলেন: মুনকার (হাদীস বর্ণনায় অস্বীকৃত) এবং এ সনদ মাজহুল (অজ্ঞাত)।....
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭২. ইকরিমাহ রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে, কোনো লোকের জন্য তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে তার সাথে মিলিত হওয়াকে তিনি অপছন্দ (’মাকরূহ’ মনে) করতেন। এবং (কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করলে) তিনি তাকে কঠিনভাবে তিরস্কার করতেন।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ دَاوُدَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ إِتْيَانَ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا وَيَعِيبُهُ عَيْبًا شَدِيدًا
তাখরীজ: বাইহাকী ৭/১৯৯; তাবারী, আত তাফসীর ২০/১৪৪ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৩. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, [“তোমরা তো এমন এক অশ্লীল কর্ম করছো, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি।” (সুরা ’আনকাবুত ২৯: ২৮)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) আমর ইবনু দীনার রাহি. বলেন: ’লূত সম্প্রদায়ের পূর্ব পর্যন্ত পূরুষ কর্তৃক পুরুষে উপগত হওয়ার কুকর্ম কখনো সংঘটিত হয়নি।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ الْعَالَمِينَ قَالَ مَا نَزَى ذَكَرٌ عَلَى ذَكَرٍ حَتَّى كَانَ قَوْمُ لُوطٍ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৯৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৪০০।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে তার দিকে তাকাবেন না।”[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ مُخَلَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا لَمْ يَنْظُرْ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৪৪৪; আবু দাউদ ২১৬২; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১৪০৬৯; নাসাঈ, আল কুবরা ৯০১৫। এর শব্দাবলী হলো: “যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করলো, সে অভিশপ্ত।” এর তাখরীজ আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৬২ এ দিয়েছি।
এছাড়াও, আব্দুর রাযযাক- মা’মারের জামি’ তে ২০৯৫২ নং এ; এর সূত্রে নাসাঈ, আল কুবরা ৯১৪ নং এ; বাইহাকী ৭/১৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২২৯৭।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৭৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০২, ১৩০৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৩, ৪২০৪, ৪৪১৮ তে আমরা তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন, তারীখ জুরজান পৃ: ৩২৭ এবং ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১১৩০।
আবার (অপর সনদে) ইবনু মাজাহ ১৯২৩; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৪; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৩; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০১১, ৯০১২, ৯০১৮, ৯০১৯.....।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৫. আলী ইবনু তালক হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে ’হাদাস’ (ওযু ভঙ্গ) হয়, তবে সে যেন ফিরে যায় এবং ওযু করে, তারপর (পূণরায়) সালাত আদায় করে।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: “তোমরা স্ত্রীলোকদের পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করো না। আর আল্লাহ তা’আলা সত্য কথার (প্রকাশে) ব্যাপারে লজ্জা করেন না।”[1]আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, আলী ইবনু তালক কি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) ’সুহবত’ (সঙ্গ) লাভ করেছিলেন? তিনি বললেন: হাঁ।
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عِيسَى بْنِ حِطَّانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَلَّامٍ الْحَنَفِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَتَوَضَّأْ ثُمَّ يُصَلِّي وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ عَلِيُّ بْنُ طَلْقٍ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৩, ২০৪ ((আবু দাউদ ২০৫, ১০০৫; দারুকুতনী ১/১৫৩; বাইহাকী ২/২৫৫; বাগাবী শারহুস সুন্নাহ ৩/২৭৭ নং ৭৫২; আব্দুর রাযযাক ১/১৩৯ নং ৫২৯; তাহাবী ৩/৪৫; আহমাদ ১/৮৬; তিরমিযী নং ১১৬৪, ১১৬৬। - মাওয়ারিদে মুহাক্বিক্বের টীকা হতে- অনুবাদক)) ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৩৭, ৪১৯৯, ৪২০১ এ।
এছাড়া দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫১; সুনানে বাইহাকী ৭/১৯৮; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০২৩-৯০২৬।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৬. সাঈদ্ ইবনু ইয়াসার আবী হুব্বাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে বললাম, দাসীদের সাথে যদি আমি ’তাহমীদ’ করি, সে ব্যাপারে আপনার মত কি? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ’তাহমীদ’ করা কি? তখন আমি পশ্চাদ্দারে (সঙ্গম করা)-এর কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: মুসলিমদের মাঝেও একাজ কেউ করে না-কি?[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ يَعْقُوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَبِي الْحُبَابِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ مَا تَقُولُ فِي الْجَوَارِي حِينَ أُحَمِّضُ بِهِنَّ قَالَ وَمَا التَّحْمِيضُ فَذَكَرْتُ الدُّبُرَ فَقَالَ هَلْ يَفْعَلُ ذَاكَ أَحَدٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪১ সহীহ সনদে; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৮৯৭৯;
ইবনু কাছীর তার তাফসীর ১/৩৮৯ এ এ হাদীস সম্পর্কে বলেন: ‘এটি তার তথা ইবনু উমার হতে সাব্যস্ত রয়েছে।
আর এটি আবী হানীফা, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও তার সাথীদেরও মত।
আবার এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, আবী সালামাহ, ইকরিমাহ, তাউস, আতা, সাঈদ ইবনু জুবাইর, উরওয়া ইবনু জুবাইর, মুজাহিদ ইবনু জাবির, হাসান ও অন্যান্য সালাফদের মত যে: তারা এটিকে কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন; আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কর্মকারীর উপর ‘কুফর’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। আর এটি জমহুর (অধিকাংশ) উলামার মত।’
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৭. হারাম ইবনু আব্দুল্লাহ বলেন: আমরা বনী ওয়াকিফ গোত্রের এক মজলিসে নারীদের অবস্থা এবং তাদের সাথে মিলিত হওয়ার অবস্থা সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলাম। তখন খুযাইমাহ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ তা’আলা সত্য কথা (প্রকাশের) ব্যাপারে লজ্জা করেন না। তোমরা স্ত্রীলোকদের পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করো না।”[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُصَيْنٍ الْأَنْصَارِيِّ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِي وَكَانَ مِنْ أَسْنَانِي حَدَّثَنِي هَرَمِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَذَاكَرْنَا شَأْنَ النِّسَاءِ فِي مَجْلِسِ بَنِي وَاقِفٍ وَمَا يُؤْتَى مِنْهُنَّ فَقَالَ خُزَيْمَةُ بْنُ ثَابِتٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৮. মুজাহিদ রাহি. বলেন, তারা (লোকেরা) হায়িযের সময় নারীদের (যৌনাঙ্গে সঙ্গম করা)-কে পরিত্যাগ করতো, কিন্তু তখন তাদের পশ্চাদ্দার দিয়ে সঙ্গম করতো। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো, ফলে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করলেন: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।” (সুরা বাকারা: ২২২)] (তা হলো) যৌনাঙ্গ, আর একে অতিক্রম করবে না।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كَانُوا يَجْتَنِبُونَ النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَيَأْتُونَهُنَّ فِي أَدْبَارِهِنَّ فَسَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ فِي الْفَرْجِ وَلَا تَعْدُوهُ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮১।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে
১১৭৯. আবাদ ইবনু সালিহ তাউস, সাঈদ, মুজাহিদ ও আতা রাহিমাহুমুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তারা এটিকে কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন; আর তারা বলতেন, এমন কর্ম ’কুফর’।[1]
بَاب مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنِي ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي أَبَانُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ طَاوُسٍ وَسَعِيدٍ وَمُجَاهِدٍ وَعَطَاءٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يُنْكِرُونَ إِتْيَانَ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ وَيَقُولُونَ هُوَ الْكُفْرُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে; দেখুন দুররে মানছুর ১/২৬২-২৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮০. আওযাঈ হতে বর্ণিত, আতা ও যুহরী রাহি. উভয়ে বলতেন: ’জানাবাতের গোসল’ ও হায়িযের গোসল হবে একটিই।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَطَاءٍ وَالزُّهْرِيِّ قَالَا الْغُسْلُ مِنْ الْجَنَابَةِ وَالْحَيْضِ وَاحِدٌ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮১. ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণিত, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বলেন: “জাহান্নামের আগুন তোমার চুলে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তোমার চূলে (এর গোড়ায়) পানি ছড়িয়ে দাও, (ফলে) তাতে (আগুনে) এর (তোমার মাথার চুলের) অবস্থান হবে সামান্য সময়ই।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ لِامْرَأَتِهِ خَلِّلِي شَعْرَكِ بِالْمَاءِ قَبْلَ أَنْ تَخَلَّلَهُ نَارٌ قَلِيلَةُ الْبُقْيَا عَلَيْهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪; সামনে সংযুক্ত সনদে আসছে ১১৯৭, ১১৯৮ (অনূবাদে ১১৯১, ১১৯২) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮২. বানী তাইমিল্লাহ ইবনু ছা’লাবাহ গোত্রের এক ব্যক্তি জুমাই ইবনু উমাইর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার মা ও খালার সাথে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করলাম। তাদের মধ্যে কোন একজন তাকে জিজ্ঞেস করলো, আমরা কিভাবে গোসল করবো?তখন তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পবিত্রতা অর্জনের মতো করে পবিত্রতা অর্জন করতেন (ওযু করতেন)। তিনি তাঁর মাথায় তিনবার পানি প্রবাহিত করতেন। আর আমরা আমাদের মাথায় পাঁচবার পানি প্রবাহিত করতাম আমাদের চুলে খোঁপা বাঁধা থাকার কারণে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ صَدَقَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْحَنَفِيِّ حَدَّثَنِي جُمَيْعُ بْنُ عُمَيْرٍ أَحَدُ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أُمِّي وَخَالَتِي عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلَتْهَا إِحْدَاهُمَا كَيْفَ تَصْنَعِينَ عِنْدَ الْغُسْلِ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَطَهَّرُ طُهُورَهُ لِلصَّلَاةِ وَيُفِيضُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَنَحْنُ نُفِيضُ عَلَى رُءُوسِنَا خَمْسًا مِنْ أَجْلِ الضَّفْرِ
তাখরীজ: আবু দাউদ ২৪১; বাইহাকী ১/১৮০; ইবনু মাজাহ ৫৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে গোসল করবে। (গোসলের সময়) সে কি তার চুল খুলবে? তখন তিনি বললেন: বাহ! তবে তো সে এক আউন্স (উকিয়া) পানি (অতিরিক্ত) খরচ করে ফেলবে! নিশ্চয়ই তার মাথায় তিনবার পানি ঢালা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَاذِي عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ الْمَرْأَةِ تَغْتَسِلُ تَنْقُضُ شَعْرَهَا فَقَالَتْ بَخٍ وَإِنْ أَنْفَقَتْ فِيهِ أُوقِيَّةً إِنَّمَا يَكْفِيهَا أَنْ تُفْرِغَ عَلَى رَأْسِهَا ثَلَاثًا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৪. আলকামাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (মহিলা গোসল করার সময়) তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তা (তার চুল) খিলাল করবে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تُخَلِّلُهُ بِأَصَابِعِهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৫. আবী যুবাইর হতে বর্ণিত, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হায়িযগ্রস্ত এবং ’জুনুবী’ মহিলা (এর গোসল) সম্পর্কে বলেন, তারা উভয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালবে । কিন্তু তাদের চুল (খোঁপা বাঁধা থাকলে) খুলবে না।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ فِي الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ يَصُبَّانِ الْمَاءَ صَبًّا وَلَا يَنْقُضَانِ شُعُورَهُمَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৬. হাজ্জাজ হতে বর্ণিত, আতা হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ مِثْلَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৭. মানছুর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম রাহি. বলেছেন, (মহিলাদের গোসলের সময়) যখন তার চুলের গোড়া ও এর আশপাশ ভিজে যায়, তখন আর তার চুল (এর খোঁপা) খোলার প্রয়োজন নেই।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ إِذَا بَلَّتْ أُصُولَهُ وَأَطْرَافَهُ لَمْ تَنْقُضْهُ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। তবে এর শাহিদ হলো পরবর্তী উম্মু সালামার হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৮. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রীগণ ও তাঁর উম্মু ওয়ালাদ (সন্তানদানকারী দাসী)-গণ যখন গোসল করতেন, তখন তারা তাদের চুলের খোঁপা খুলতেন না; না হায়িযের গোসলে, আর না জানাবাতের গোসলে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ نِسَاءَ ابْنِ عُمَرَ وَأُمَّهَاتِ أَوْلَادِهِ كُنَّ إِذَا اغْتَسَلْنَ لَمْ يَنْقُضْنَ عِقَصَهُنَّ مِنْ حَيْضٍ وَلَا جَنَابَةٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪; আব্দুর রাযযাক নং ১০৪৭; সামনে ১২০৩ (অনূবাদে ১১৯৭) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৮৯. উম্মু মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তারা তাদের চুলের খোঁপা খুলবে না; না হায়িযের গোসলে, আর না জানাবাতের গোসলে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمِّ مُحَمَّدٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لَا تَنْقُضْنَ عِقَصَكُنَّ مِنْ حَيْضٍ وَلَا مِنْ جَنَابَةٍ
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, আমি তো আমার মাথায় শক্ত করে বেণী করি অথবা খোঁপা বাঁধি। (এমতাবস্থায় গোসলের সময় আমি কি তা খুলে ফেলবো?) তিনি বললেন: “(দুই হাতের কোষ ভরে পানি নিয়ে) মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালো, অতঃপর প্রতি আঁজলা পানির স্থান ভালভাবে চাপ দিয়ে নেড়ে দাও।”[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنِّي أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي أَوْ عُقَدَهُ قَالَ احْفِنِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ ثُمَّ اغْمِزِي عَلَى إِثْرِ كُلِّ حَفْنَةٍ غَمْزَةً
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৩০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৫৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৯৬।...
এছাড়া ইবনু আবী শাইবা ১/৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯১. হাম্মাম ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বলেন, তুমি তোমার চুল উপড়ে ফেলো, (তাহলে) জাহান্নামের আগুন তোমার চুলে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না; (ফলে) তাতে এর (তোমার মাথার চুলের) অবস্থান হবে সামান্য সময়ই।[1]
মানসূর বলেন: অর্থা জানাবাতের অবস্থায়।
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ قَالَ لِامْرَأَتِهِ اسْتَأْصِلِي الشَّعْرَ لَا تَخَلَّلُهُ نَارٌ قَلِيلٌ بُقْيَاهَا عَلَيْهِ قَالَ مَنْصُورٌ يَعْنِي الْجَنَابَةَ
তাখরীজ: বাইহাকী ১/১৮০; ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৩ মুনকাতি’ ও মাজহুল সনদে। দেখুন, তাহযীবুর আছার, মুসনাদে আলী নং ৪৩৪, ৪৩৬।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯২. (অপর সনদে) হাম্মাম ইবনুল হারিছ হতে বর্ণিত, হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বলেন, তুমি তোমার চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাও, (তাহলে) জাহান্নামের আগুন তোমার চুলে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না; (ফলে) একে (তোমার মাথাকে) তাতে (আগুনে) সামান্যই অবস্থান করতে হবে (তথা অবস্থান করতে হবে না)।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ قَالَ لِامْرَأَتِهِ اسْتَأْصِلِي الشَّعْرَ بِالْمَاءِ لَا تَخَلَّلُهُ نَارٌ قَلِيلٌ بُقْيَاهَا عَلَيْهِ
তাখরীজ: আগের টীকাটি এবং তাহযীবুল আছার মুসনাদে আলী নং ৪৩৬ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯৩. আবীয যুবাইর রাহি. হতে বর্ণিত, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন কোনো মহিলা জানাবাতের গোসল করবে, সে যেন তার চুল (এর খোঁপা) না খোলে। তবে সে তার চুলের গোড়ায় পানি ঢালবে এবং তা ভালভাবে ভিজিয়ে দেবে।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ إِذَا اغْتَسَلَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْجَنَابَةِ فَلَا تَنْقُضْ شَعْرَهَا وَلَكِنْ تَصُبُّ الْمَاءَ عَلَى أُصُولِهِ وَتَبُلُّهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪। আরও দেখুন, গত ১১৯১ (অনূবাদে ১১৮৫) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯৪. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. হতে এমন মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যে ’জুনুবী’ হয়েছে, আর তার মাথার চুল বেণী করা রয়েছে, (গোসলের সময়) সে কি বেণী খুলে ফেলবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, না। তবে তার মাথায় অধিক পরিমাণে পানি ঢালতে হবে যতক্ষণ না তার চুলের গোড়া ভিজে যায়।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تُصِيبُهَا الْجَنَابَةُ وَرَأْسُهَا مَعْقُوصٌ تَحُلُّهُ قَالَ لَا وَلَكِنْ تَصُبُّ عَلَى رَأْسِهَا الْمَاءَ صَبًّا حَتَّى تُرَوِّيَ أُصُولَ الشَّعْرِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১০৫৫, ১০৫৬ (ভিন্ন ও অতিরিক্ত শব্দসহ) যয়ীফ সনদে। আরও দেখুন, গত ১১৯২ (অনূবাদে ১১৮৬) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯৫. আমরাহ বিনতে হায়্যান আস সাহমিয়্যাহ বলেন, আমাকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন হায়িয হতে পবিত্রতা অর্জন করে, তখন সে কি ’কুশতু’ জাতীয় কোনো সুগন্ধি ধোঁয়া ব্যবহার করতে পারে না? তা না পেলে, মেহিদীর সুগন্ধি, তাও না পেলে কোনো (গাছের শক্ত) আঁটি, তাও না পেলে অন্তত: লবন দিয়ে হলেও?[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَتْنِي حَبِيبَةُ بِنْتُ حَمَّادٍ حَدَّثَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ حَيَّانَ السَّهْمِيَّةُ قَالَتْ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَسْتَطِيعُ إِحْدَاكُنَّ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ حَيْضِهَا أَنْ تُدَخِّنَ شَيْئًا مِنْ قُسْطٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ آسٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ نَوًى فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَشَيْئًا مِنْ مِلْحٍ
তাখরীজ: আমি এ শব্দে আমি কোথাও পাইনি। দেখুন, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীস নং ৩৩২ ও সুনানে বাইহাকী ১/১৮৩ এবং পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯৬. মু’আযা আল আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন কোনো মহিলা হায়িয হতে পবিত্রতা অর্জন করবে, তখন সে যেন রক্তের চিহ্নের স্থানে কোনো সুগন্ধি দ্বারা পরশ বুলিয়ে নেয়।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِذَا اغْتَسَلَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحَيْضِ فَلْتُمِسَّ أَثَرَ الدَّمِ بِطِيبٍ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি, তবে এর অনুরূপ হাদীস সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, যা আগের হাদীসের তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয শুরু হওয়ার পূর্বে গোসল ফরয থাকলে তার গোসল করা
১১৯৭. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবুন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার স্ত্রীগণ ও উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) গন হায়িযের এবং জানাবাতের গোসল করতেন, তবে তারা চূল খুলতেন না। কিন্তু তা (পুরোপুরি) ভিজে যাওয়া পর্যন্ত (পানি) পৌঁছাতে থাকতেন।[1]
بَاب اغْتِسَالِ الْحَائِضِ إِذَا وَجَبَ الْغُسْلُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ تَحِيضَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ نِسَاءَهُ وَأُمَّهَاتِ أَوْلَادِهِ كُنَّ يَغْتَسِلْنَ مِنْ الْحِيضَةِ وَالْجَنَابَةِ وَلَا يَنْقُضْنَ شُعُورَهُنَّ وَلَكِنْ يُبَالِغْنَ فِي بَلِّهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে। এটি ১১৯৪ (অনূবাদে ১১৮৮) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. হায়িযগ্রস্ত মহিলার মসজিদে প্রবেশ
১১৯৮. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, মসজিদ হতে হায়িযগ্রস্ত নারীর কোনো কিছু এনে দেওয়ায় কোনো দোষ নেই।[1]
بَاب دُخُولِ الْحَائِضِ الْمَسْجِدَ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تَتَنَاوَلَ الْحَائِضُ مِنْ الْمَسْجِدِ الشَّيْءَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০;পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. হায়িযগ্রস্ত মহিলার মসজিদে প্রবেশ
১১৯৯. মানছুর হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা মসজিদ হতে কোনো কিছু এনে দিতে পারবে, তবে সে তাতে প্রবেশ করবে না।[1]
بَاب دُخُولِ الْحَائِضِ الْمَسْجِدَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ تَتَنَاوَلُ الْحَائِضُ الشَّيْءَ مِنْ الْمَسْجِدِ وَلَا تَدْخُلُهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০ সহীহ সনদে; আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. হায়িযগ্রস্ত মহিলার মসজিদে প্রবেশ
১২০০. হিশাম হতে বর্ণিত, কাতাদা রাহি. বলেন, ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ হতে কোনো কিছু নিতে পারবে, কিন্তু তাতে অবস্থান করতে পারবে না।[1]
بَاب دُخُولِ الْحَائِضِ الْمَسْجِدَ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ الْجُنُبُ يَأْخُذُ مِنْ الْمَسْجِدِ وَلَا يَضَعُ فِيهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. হায়িযগ্রস্ত মহিলার মসজিদে প্রবেশ
১২০১. আব্দুল মালিক বর্ণনা করেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলা মসজিদ হতে কিছু আনতে পারবে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে আতা রাহি. বলেন, হাঁ, তবে কুরআন ব্যতীত।[1]
بَاب دُخُولِ الْحَائِضِ الْمَسْجِدَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَائِضِ تَنَاوَلُ مِنْ الْمَسْجِدِ الشَّيْءَ قَالَ نَعَمْ إِلَّا الْمُصْحَفَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৬০।
আমি বলছি: এর শাহিদ হাদীস হলো আয়িশা রা: কর্তৃক বর্ণিত যা পূর্বে ৭৯৮ (অনূবাদে ৭৯৪) নং এ গত হয়েছে।
‘জুনুবী’ লোকের মসজিদে প্রবেশের ব্যাপারে উলামাগণ মতভেদ করেছেন:
১. এদের মধ্যে রয়েছেন যারা সাধারণভাবে এথেকে নিষেধ করেছেন। এটি মালিক ও তার সাথীদের মত।
২. এবং এদের মধ্যে রয়েছেন, যারা মসজিদ অতিক্রমকারী ব্যতীতে সেখানে অবস্থানকারীদেরকে এ থেকে নিষেধ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ইমাম শাফিঈ।
৩. সেই সকল উলামা যারা সকলের জন্য একে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দাউদ তার সাথীরা, এবং কতক শাফিঈ ফকীহ।
আর ইবনু আব্বাস, আলী, সাঈদ ইবনু যুবাইর, মুজাহিদ, হাসান, হাকাম, এবং ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, আছে পথচারী তথা মুসাফির জুনুবী হয়ে পানি না পেলে তাকে তায়াম্মুম করতে হবে।
ইবনু মাসউদ হতে মুনকাতি‘ সনদে, ইবনু আব্বাস ‘শক্তিশালী নয়’ এমন সনদে পুর্বে উল্লেখিত হয়েছে, এবং সাঈদ , আবী যুবাইর, ইকরিমাহ ও ইবরাহীম রাহি. হতে বর্ণিত আছে যে, এর অর্থ সালাতের স্থানের তথা মসজিদের নিকটবর্তী না হওয়া, তবে তোমাদের জন্য কেবল সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য (মসজিদ অতিক্রম করার) অনুমতি আছে।...
এ অনুচ্ছেদে হায়িযগ্রস্ত মহিলার সম্পর্কে যে মতভেদ তা হচ্ছে মুলত: জুনুবীর সম্পর্কে মতভেদ।......।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির মসজিদের মধ্যে যাতায়াত
১২০২. মিজলায হতে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’ (সুরা নিসা ৪: ৪৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তারা হলেন মুসাফির।[1]
بَاب مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ قَالَ هُوَ الْمُسَافِرُ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির মসজিদের মধ্যে যাতায়াত
১২০৩. সাল্ম আল আলাবী হতে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’ (সুরা নিসা ৪: ৪৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু মসজিদে বসতে পারবে না।[1]
بَاب مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَلْمٌ الْعَلَوِيُّ عَنْ أَنَسٍ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ قَالَ الْجُنُبُ يَجْتَازُ بِالْمَسْجِدِ وَلَا يَجْلِسُ فِيهِ
তাখরীজ: বাইহাকী, ২/৪৪৩; দেখুন, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৫০৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির মসজিদের মধ্যে যাতায়াত
১২০৪. আব্দুল কারীম আল জাযারী থেকে বর্ণিত, আবী উবাইদাহ বলেন, ’জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি মসজিদ অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু মসজিদে বসতে পারবে না। তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: [“আর পথচারী অবস্থায় থাকা ব্যতীত না জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় (সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা)।’[1] (সুরা নিসা ৪: ৪৩)]
بَاب مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ الْجُنُبُ يَمُرُّ فِي الْمَسْجِدِ وَلَا يَقْعُدُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৪৬; তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির মসজিদের মধ্যে যাতায়াত
১২০৫. সাঈদ হতে ইকরিমাহ ও সালিম উভয়ে বলেছেন, সে (মসজিদ) অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু এর মধ্যে বসতে পারবে না।[1]
بَاب مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ وَسَالِمٍ عَنْ سَعِيدٍ قَالَا يَمُرُّ وَلَا يَقْعُدُ فِيهِ
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৫/৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির মসজিদের মধ্যে যাতায়াত
১২০৬. আবী যুবাইর রাহি. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা জুনুবী অবস্থায় মসজিদ অতিক্রম করতাম। আর আমরা একে দোষণীয় মনে করতাম না।[1]
بَاب مُرُورِ الْجُنُبِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا نَمْشِي فِي الْمَسْجِدِ وَنَحْنُ جُنُبٌ لَا نَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৪৬; বাইহাকী ২/৪৪৩ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। দেখুন, দুররে মানছুর ২/১৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ১১৮. হায়িযগ্রস্ত মহিলার তা’বীয
১২০৭. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেছেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার গলায় তা’বীয কিংবা লিখিত কিছু থাকে, আর তা যদি চামড়ায় মোড়া থাকে, তবে তা খুলে ফেলতে হবে। আর তা যদি রূপার তৈরী কোনো গহনা জাতীয় কোনো তা’বীযের মধ্যে থাকে, তবে কোনোই অসুবিধা নেই: ইচ্ছে করলে তা খুলে রাখবে, আবার ইচ্ছে করলে তা নাও খুলতে পারে।[1]
بَاب التَّعْوِيذِ لِلْحَائِضِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ الْحَائِضِ فِي عُنُقِهَا التَّعْوِيذُ أَوْ الْكِتَابُ قَالَ إِنْ كَانَ فِي أَدِيمٍ فَلْتَنْزِعْهُ وَإِنْ كَانَ فِي قَصَبَةٍ مُصَاغَةٍ مِنْ فِضَّةٍ فَلَا بَأْسَ إِنْ شَاءَتْ وَضَعَتْ وَإِنْ شَاءَتْ لَمْ تَفْعَلْ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/৩৮ নং ৩৫৯৫; আব্দুর রাযযাক নং ১৩৪৭ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৯. হায়িয্গ্রস্ত পবিত্রতা লাভের সময় পানি না পেলে
১২০৮. মাতার বলেন, আমি হাসান এবং আতা রাহি. কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সফর অবস্থায় এক লোকের সাথে তার স্ত্রী রয়েছে। আর তখন সে মহিলার হায়িয হয়। তারপর সে পবিত্র হয় (স্রাব বন্ধ হয়ে যায়), কিন্তু সে পানি পায় না। (এমতাবস্থায় সে কী করবে?)
তারা উভয়ে বলেছেন: সে তায়াম্মুম করবে এবং সালাত আদায় করবে। তিনি (মাতার) বলেন: আমি তাদের উভয়কে বললাম, তার স্বামী কি তার সাথে সহবাস করবে? তারা উভয়ে বললেন: হাঁ। এর চেয়ে সালাত অনেক বড় মহত কাজ।[1] (তাই সালাত আদায় বৈধ হলে সহবাস তো আরও অধিক বৈধ)।
بَاب الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ وَلَمْ تَجِدْ الْمَاءَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَوْذَبٍ حَدَّثَنَا عَنْ مَطَرٍ قَالَ سَأَلْتُ الْحَسَنَ وَعَطَاءً عَنْ الرَّجُلِ تَكُونُ مَعَهُ امْرَأَتُهُ فِي سَفَرٍ فَتَحِيضُ ثُمَّ تَطْهُرُ وَلَا تَجِدُ الْمَاءَ قَالَا تَتَيَمَّمُ وَتُصَلِّي قَالَ قُلْتُ لَهُمَا يَطَؤُهَا زَوْجُهَا قَالَا نَعَمْ الصَّلَاةُ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ
তাখরীজ: হাসান হতে... ইবনু আবী শাইবা ১/৯৭ মুনকাতি’ সনদে...; বাইহাকী ১/৩১০।
আতার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৭ যয়ীফ সনদে; দেখুন বিগত ১১২৭ (অনূবাদ ১১২১) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১৯. হায়িয্গ্রস্ত পবিত্রতা লাভের সময় পানি না পেলে
১২০৯. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, তিনি আতা হতে, যে মহিলা (হায়িয হতে) পবিত্র (স্রাব বন্ধ) হয়, কিন্তু (গোসলের জন্য) পানি না পায়, এমন মহিলা সম্পর্কে তিনি (আতা) বলেন, যদি সেই মহিলা তায়াম্মুম করে নেয়, তবে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে।[1]
بَاب الْحَائِضِ إِذَا طَهُرَتْ وَلَمْ تَجِدْ الْمَاءَ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ وَلَا تَجِدُ الْمَاءَ قَالَ يُصِيبُهَا زَوْجُهَا إِذَا تَيَمَّمَتْ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ إِي وَاللَّهِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৯২৫; আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. দাসীর ইসতিবরা’আ’
১২১০. লাইছ হতে বর্ণিত, ’হায়িয হয়নি-এমন দাসীর ইসতিবরাআ’ সম্পর্কে তাউস রাহি. বলেন, (তা) পঁয়তাল্লিশ দিন।’[1]
بَاب اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ فِي اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَحِيضُ قَالَ خَمْسَةً وَأَرْبَعِينَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৬ জাইয়্যেদ সনদে।
আর এর শাহিদ হাদীস আলী, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আবী মা’শার, উবাদাহ, ইবনু উমার, হাসান এর হাদীসমূহ। দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৫/১৬৬-১৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. দাসীর ইসতিবরা’আ’
১২১১. খালিদ আল হাজ্জা থেকে বর্ণিত, আবী কিলাবাহ রাহি. বলেন, (তা) তিন মাস।[1]
بَاب اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ
তাখরীজ: বাইহাকী, ৭/৪৫০ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. দাসীর ইসতিবরা’আ’
১২১২. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, একটি লোক একটি দাসী ক্রয় করলো যে এখনো হায়েযে উপনীত হয়নি আর গর্ভধারণের মতো (বয়সও তার) হয়নি। এমতাবস্থায় সেই লোকটি কতদিন তার থেকে সম্পর্কহীন থাকবে? তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
بَاب اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الرَّجُلِ يَبْتَاعُ الْجَارِيَةَ لَمْ تَبْلُغْ الْمَحِيضَ وَلَا تَحْمِلُ مِثْلُهَا كَمْ يَسْتَبْرِئُهَا قَالَ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ
তাখরীজ: এটি ৯৫৬ (অনূবাদে ৯৫১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. দাসীর ইসতিবরা’আ’
১২১৩. এবং ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর বলেন, পঁয়তাল্লিশ দিন।[1]
بَاب اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ بِخَمْسَةٍ وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا
তাখরীজ: এটি ৯৫৭ (অনূবাদে ৯৫২) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. দাসীর ইসতিবরা’আ’
১২১৪. ইয়াহইয়া ইবনু বাশার হতে বর্ণিত, ইকরিমাহ বলেন, এক মাস।[1]আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করা হলো: এতদুভয়ের মধ্যে আপনার মত কোনটি? তিনি বললেন: তিনমাসই অধিকতর শক্তিশালী মত। আর একমাস যথেষ্ট।
بَاب اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ بِشْرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ بِشَهْرٍ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ بِأَيِّهِمَا تَقُولُ قَالَ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ أَوْثَقُ وَشَهْرٌ يَكْفِي