পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১০-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (বায়ু নির্গত হবার) শব্দ কিংবা গন্ধ পেলেই কেবল উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে। (আহমাদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ صَوْتٍ أَوْ رِيحٍ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا وضوء إلا من صوت أو ريح» . رواه أحمد والترمذي

ব্যাখ্যা: ‘‘উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি কারণ হলো গুহ্যদ্বারে বায়ু নির্গত হওয়া।’’ কোন ব্যক্তি যদি এমন সন্দেহে নিপতিত হয় যে, তার বায়ু নির্গত হলো কি-না সে বুঝতে পারছে না। সেক্ষেত্রে বিধান এই যে, সন্দেহের কারণে তার উযূ ভঙ্গ হবে না। বরং বায়ু নির্গত হওয়ার শব্দ অথবা বায়ু নির্গত হওয়ার দুর্গন্ধ পেলে তার উযূ ভঙ্গ হয়েছে বলে সে নিশ্চিত হবে, নচেৎ নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১১-[১২] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’মাযী’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ’মাযীর’ কারণে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আর ’মানীর’ কারণে গোসল করতে হবে। (তিরমিযী)[1]

وَعَن عَلِيٍّ قَالَ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ الْمَذْيِ فَقَالَ: «مِنَ الْمَذْيِ الْوُضُوءُ وَمِنَ الْمَنِيِّ الْغسْل» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن علي قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم من المذي فقال: «من المذي الوضوء ومن المني الغسل» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়। প্রথমত মাযী বের হলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ওয়াজিব হয়, গোসল নয়। আর মানী সম্পর্কে প্রশ্ন করা না হলেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সম্পর্কে বলেছেন যে, মানী বের হলে গোসল ওয়াজিব। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুধাবন করেছেন যে, মানুষ এ বিষয়ে মুখপেক্ষী হবে। আর বালাগাতের পরিভাষায় এটিকে أُسْلُوْبُ الحَكْيْمِ বলা হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১২-[১৩] উক্ত রাবী [’আলী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের চাবি হলো ’উযূ (ওযু/ওজু/অজু), আর সালাতের ’তাহরীম’ হলো ’তাকবীর’ (অর্থাৎ- আল্লা­-হু আকবার বলা) এবং তার ’তাহলীল’ হলো (সালাতের শেষে) সালাম ফিরানো। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও দারিমী)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ والدارمي

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم» . رواه أبو داود والترمذي والدارمي

ব্যাখ্যা: সালাতের চাবি হলো (উযূ, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে) পবিত্রতা অর্জন করা সক্ষম ব্যক্তির জন্য পানি দ্বারা আর পানি ব্যবহারে অক্ষমের জন্য মাটি দ্বারা। এখানে রূপকার্থে তাকবীর এবং সালামকে সালাতের হারাম ও হালাল সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যথায় প্রকৃত হালাল-হারামকারী হলো আল্লাহ তা‘আলা। হারাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সালাতের মধ্যে যে সকল কথা কাজ হারাম করেছেন তা তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে হারাম হওয়া আর হালাল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা সালাতের বাইরে যে সকল কথাকর্ম হালাল করেছেন তা সালামের মাধ্যমে হালাল হওয়া।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৩-[১৪] ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটিকে ’আলী ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْهُ وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ

ورواه ابن ماجه عنه وعن أبي سعيد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৪-[১৫] ’আলী ইবনু ত্বলক্ব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারও যখন বায়ু বের হয়, তখন সে যেন আবার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নেয়। আর তোমরা নারীদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করবে না। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن عَليّ بن طلق قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِذا فسا أحدكُم فَليَتَوَضَّأ وَلَا تأتو النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

وعن علي بن طلق قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا فسا أحدكم فليتوضأ ولا تأتو النساء في أعجازهن» . رواه الترمذي وأبو داود

ব্যাখ্যা: যখন কারো পিছনের রাস্তা দিয়ে শব্দহীন বাতাস বের হয় যা শোনা যায় না চাই তা ইচ্ছাকৃত বের হোক বা অনিচ্ছাকৃত তখন সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় রয়েছে, সে যেন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে ফিরে যায় এবং উযূ করে পুনরায় তা আদায় করে। আর মহিলাদের পিছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করা হরাম। এখানে উভয় বাক্যের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বিধান হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বায়ুর বিষয়টি উল্লেখ করলেন যা পিছনের রাস্তা দিয়ে বের হয় এবং পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকে দূরীভূত করে দেয় তখন সাথে সাথে সে বিষয়েরও উল্লেখ করলেন যা পবিত্রতা দূরীকরণে আরো কঠোর। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হওয়া উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৫-[১৬] মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবী সুফ্ইয়ান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চোখ দু’টো হলো গুহ্যদ্বারের ফিতা-বন্ধন স্বরূপ। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায় ফিতা (ঢাকনা) তখন খুলে যায়। (দারিমী)[1]

وَعَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ: «إِنَّمَا الْعَيْنَانِ وِكَاءُ السَّهِ فَإِذَا نَامَتِ الْعَيْنُ اسْتطْلقَ الوكاء» . رَوَاهُ الدِّرَامِي

وعن معاوية بن أبي سفيان أن النبي صلى الله عليه وسلم: قال: «إنما العينان وكاء السه فإذا نامت العين استطلق الوكاء» . رواه الدرامي

ব্যাখ্যা: এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম عَيْنٌ (চক্ষু) দ্বারা জাগ্রত অবস্থা বুঝিয়েছেন। কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তির অবলোকন করতে সক্ষম কোন চক্ষু থাকে না। তিনি জাগ্রত অবস্থাকে মশকের বাঁধনের ন্যায় নিতম্বের বাধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেমনিভাবে মশকের মালিকের ইচ্ছায় রশি দ্বারা যেমনভাবে তা সর্বদায় বাঁধা থাকে ঠিক তেমনিভাবে মানুষের ইচ্ছায় জাগ্রত অবস্থার মাধ্যমে তার নিতম্বটি কোন কিছু বের হওয়া থেকে সংরক্ষিত থাকে। এর অর্থ হলো জাগ্রত অবস্থাটা নিতম্বের বাঁধনস্বরূপ বা কোন কিছু বের হওয়া থেকে সংরক্ষক। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত সে জাগ্রত থাকে ততক্ষণ পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হলে বুঝতে পারে কিন্তু যখনই সে ঘুমিয়ে পড়ে তখন তা আর বুঝতে পারে না। ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুমের কারণে নিজের ওপর কর্তৃত্ব হারায়। ফলে অধিকাংশ সময় তার পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হয়ে যায় যা সে বুঝতেই পারে না। যার ফলে শারী‘আত এ প্রবল বিষয়টিকে ইয়াকিনের স্থলাভিষিক্ত করে তার উপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) আবশ্যক করেছে।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৬-[১৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুহ্যদ্বারের ফিতা বা ঢাকনা হলো চক্ষুদ্বয়। তাই যে ব্যক্তি ঘুমাবে সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। [আবূ দাঊদ[1];

আর শায়খ ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন, যারা বসে ঘুমায় তারা ব্যতীত অন্যদের জন্য এ আদেশ প্রযোজ্য]

وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ فَمَنْ نَامَ فَليَتَوَضَّأ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
قَالَ الشَّيْخ الإِمَام محيي السّنة C: هَذَا فِي غير الْقَاعِد لما صَحَّ:

وعن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وكاء السه العينان فمن نام فليتوضأ» . رواه أبو داود قال الشيخ الإمام محيي السنة C: هذا في غير القاعد لما صح:

ব্যাখ্যা: এ হাদীস এবং পরবর্তী হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র ঘুমই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের কারণ নয় বরং ভেঙ্গে যায়। আর এজন্য এর হুকুম থেকে যে ঘুমকে বের করে দেয়া হয়েছে যা জমিনের উপর উপবিষ্ট হয়ে পাতা সম্ভব। অর্থাৎ- এ প্রকারের ঘুমে উযূ ভাঙ্গবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৭-[১৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ ’ইশার সালাতের জন্য বসে অপেক্ষা করতেন। এমনকি ঘুমের আমেজে তাদের মাথা নীচের দিকে ঝুঁকে পড়তো। এরপর তারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, অথচ নতুন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না। (আবূ দাঊদ)[1] তবে ইমাম তিরমিযী ’’ইশার সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকতেন’’- এর জায়গায় ’’ঘুম যেতেন’’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।

عَن أنس قَالَ: كَانَ أَصَابَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْتَظِرُونَ الْعشَاء حَتَّى تخفق رؤوسهم ثمَّ يصلونَ وَلَا يتوضؤون. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ إِلَّا أَنه ذكرفيه: ينامون بدل: ينتظرون الْعشَاء حَتَّى تخفق رؤوسهم

عن أنس قال: كان أصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون العشاء حتى تخفق رؤوسهم ثم يصلون ولا يتوضؤون. رواه أبو داود والترمذي إلا أنه ذكرفيه: ينامون بدل: ينتظرون العشاء حتى تخفق رؤوسهم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়। প্রথমত যে ব্যক্তি শুয়ে বা চিৎ হয়ে ঘুমায় এর দ্বারা তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভেঙ্গে যাবে। দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি জমিনের উপর তার নিতম্ব রেখে বসে বসে ঘুমায়, অতঃপর জাগ্রত হয়ে দেখে যে, সে তার নিতম্ব বা বসন আগের অবস্থায় রয়েছে তাহলে এর দ্বারা তার উযূ বাতিল হবে না। তৃতীয়ত কেউ কেউ বলেনঃ এ হাদীসটি হালকা ঘুমের ক্ষেত্রে উযূ ভঙ্গ হয় না। তেমনিভাবে নাক ডাকা এবং জাগ্রতকারটিও। কারণ কেউ কেউ গভীর ঘুমে যাওয়ার পূর্বে ঘুমের সাথে সাথেই নাক ডাকা শুরু করে, আবার কাউকে এ অবস্থায় জাগিয়ে তুলতে হয় যাতে সে গভীর ঘুমে তন্ময় না হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৮-[১৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই উযূ (ওযু/ওজু/অজু) সে ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব যে কাত হয়ে ঘুমায়। কারণ কাত হয়ে ঘুমালে শরীরের বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْوُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مفاصله. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الوضوء على من نام مضطجعا فإنه إذا اضطجع استرخت مفاصله. رواه الترمذي وأبو داود

ব্যাখ্যা: ঘুমের মাধ্যমে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের বিষয়ে ‘উলামাহ্ আটটি অভিমতে বিভক্ত হয়েছে যেগুলোকে তিনটিতে সীমিত করা যায়। যথা-

১ম অভিমতঃ সর্বাস্থায় ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে, চাই ঘুম কম হোক বা বেশি হোক।

২য় অভিমতঃ কোন অবস্থাতেই ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে না।

৩য় অভিমতঃ হালকা এবং গভীর ঘুমের মাঝে পার্থক্যকরণ। (অর্থাৎ- হালকা ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে না আর গভীর ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গ হবে।) এটি প্রধান সহাবা (সাহাবা), তাবি‘ঈ ফুকহায়ূল ইমাম চতুষ্টয়ের অভিমত। আর এটি সঠিক অভিমত। অতএব, শুধুমাত্র ঘুমই উযূ ভঙ্গের কারণ নয় বরং এজন্য যে, ঘুম বায়ুর নিগর্মন নিয়ন্ত্রণকারী বা রোধকারী গ্রন্থীসমূহ শিথিল হওয়াই কারণ।

৩য় মতাবলম্বীরা আবার ঘুম কম বেশির পরিমাণ বর্ণনা, উযূ ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিবেচিত বা গ্রহণযোগ্য ঘুম নির্ধারণ এবং সেই ঘুমের পরিমাণ নির্দিষ্টকরণে অনেক মতবিরোধ করেছেন যা গ্রন্থিসমূহ শিথিল হওয়ার কারণ এবং অনুভূতি চেতনা লোপ হওয়ার কারণ।

ভাষ্যকার ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (রহঃ) বলেন, আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য মত হলো যে ঘুমের মাধ্যমে চেতনা লোপ পায়, সেই গভীর ঘুমই উযূ ভঙ্গের কারণ, চাই তা যে ধরনের ঘুমই হোক না কেন। তাই চেতনা লোপ পাওয়াটাই আমার নিকট ঘুমের মাধ্যমে উযূ ভঙ্গের শর্ত। অতএব, যখন চেতনা বা অনুভূতি লোপ পায় তখন ঘুমন্ত ব্যক্তি যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তার উযূ ভেঙ্গে যাবে। আর হুকুমটি শুধুমাত্র গা এলিয়ে শায়িত ব্যক্তির সাথে সীমিত নয় যেমনটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি প্রমাণ করে। কারণ এ হাদীসটি য‘ঈফ। আর শায়িত ব্যক্তির হালকা ঘুমের মাধ্যমে তার উযূ বাতিল হবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩১৯-[২০] বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে তাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে। (মুওয়াত্ত্বা মালিক, আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1]

وَعَن بسرة قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه والدارمي

وعن بسرة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا مس أحدكم ذكره فليتوضأ» . رواه مالك وأحمد وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে যে সব মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত হয় তা হলোঃ

কোন ব্যক্তি (পুরুষ) স্বহস্তে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করা তা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ হবে। এখানে স্পর্শ দ্বারা উদ্দেশ্য হাতের তালুর উপর বা নিম্নভাগ দ্বারা কোন প্রকার আবরণ ছাড়াই স্পর্শ করা। আর এটিই সহাবা (সাহাবা) ও তাবি‘ঈগণের একটি দল, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম মালিক (রহঃ)-এর প্রসিদ্ধ অভিমত।

অনুরূপভাবে কোন মহিলা যদি হাতের তালুর উপরিভাগ বা নিম্নভাগ দ্বারা স্বীয় লজ্জাস্থান স্পর্শ করে তবে তারও উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বাতিল হযে যাবে। যা মুসনাদে আহমাদ ও বায়হাক্বীতে ‘আমর বিন শু‘আয়ব কর্তৃক তার পিতা, তার দাদা থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَيُّمَا رَجُلٍ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأَ، وَأَيَّمَا اِمْرَأَةً مَسَّتْ فَرْجَهَا فَلْتَتَوَضَّأَ (অর্থাৎ- কোন পুরুষ তার লজ্জাস্থান কোন আবরণ) ছাড়া স্পর্শ করবে সে যেন উযূ করে। আর কোন মহিলা কোন আবরণ ছাড়া স্বীয় লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে সেও যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। ইমাম তিরমিযী اَلْعِلَلُ (আল ‘ইলাল) গ্রন্থে ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ হাদীসটি সহীহ বলে অভিহিত করেছেন। আর এ হাদীসটি এই বিষয়ে মহিলা পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য না থাকার স্পষ্ট প্রমাণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২০-[২১] ত্বলক্ব ইবনু ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার পর কেউ যদি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে এর হুকুম কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা তো মানুষের শরীরেরই একটা অংশবিশেষ। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্)[1]

ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেছেন, এ হাদীসটি মানসূখ (রহিত)। কেননা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব-এর মদীনাহ্ আগমনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

وَعَن طلق بن عَليّ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَسِّ الرَّجُلِ ذَكَرَهُ بَعْدَمَا يَتَوَضَّأُ. قَالَ: «وَهَلْ هُوَ إِلَّا بَضْعَةٌ مِنْهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحوه قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ مُحْيِي السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللَّهُ: هَذَا مَنْسُوخٌ لِأَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَسْلَمَ بَعْدَ قدوم طلق

وعن طلق بن علي قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن مس الرجل ذكره بعدما يتوضأ. قال: «وهل هو إلا بضعة منه» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي وروى ابن ماجه نحوه قال الشيخ الإمام محيي السنة رحمه الله: هذا منسوخ لأن أبا هريرة أسلم بعد قدوم طلق

ব্যাখ্যা: বাহ্যিকভাবে এ হাদীস থেকে লজ্জাস্থান স্পর্শ করায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণিত হয়। আর হানাফীগণ এ মতাবলম্বী। তারা (নিজের মত প্রতিষ্ঠাকল্পে বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান-এর হাদীসের দশটির বেশি উত্তর দিয়ে তা খণ্ডন করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন যার সবগুলোই ভিত্তিহীন ও প্রত্যাখ্যাত। শায়খ ‘আবদুর রহমান মুবারকপূরী পাঁচটি তুহফাতে প্রতিউত্তর উল্লেখ করেছেন। অবশিষ্টগুলো এখানে উল্লেখ করা হলোঃ

(১) তারা বলেন যে, বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান-এর হাদীসটি মারওয়ান থেকে ‘উরওয়াহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত, আর মারওয়ান তার অপকর্মের কারণে বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। অথবা হাদীসটি মারওয়ান-এর দেহরক্ষী থেকে ‘উরওয়াহ্-এর সূত্রে বর্ণিত যে, একজন অপরিচিত রাবী। (অতএব হাদীসটি সহীহ নয়)

‘উরওয়ার উক্তির মাধ্যমেই এর উত্তর দেয়া যায়, তিনি বলেনঃ ‘‘মারওয়ানকে হাদীস বর্ণনায় অভিযুক্ত করা হতো না।’’ এছাড়াও তার থেকে সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক তাঁর হাদীসের উপর আস্থা রেখেছেন। ইমাম বুখারীও তাঁর সহীহ গ্রন্থে হাদীস নিয়ে এসেছেন। আর ‘উরওয়াহ্ তার থেকে এ হাদীসটি তার অপকর্ম এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশের পূর্বে গ্রহণ করেছেন। ইবনু হাযম (রাহঃ) বলেনঃ ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরোধিতা করার পূর্বে মারওয়ান-এর কোন ত্রুটি আমরা জানি না। আর সে সময়েই তার সাথে ‘উরওয়ার সাক্ষাৎ ঘটেছে।

অপরদিকে এটিও প্রমাণিত যে, ‘উরওয়াহ্ বুসরাহ্ থেকে কারো মাধ্যম ছাড়াই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যা ইবনু খুযায়মাহ্, ইবনু হিব্বান, হাকিমসহ আরও অনেক মুহাদ্দিস নিশ্চিত করে বলেছেন। আর বুসরার হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম তাদের উভয়ের গ্রন্থে সংকলন না করায় এটা প্রমাণিত হয় না যে, ‘উরওয়াহ্ বুসরাহ্ থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননি। কারণ তাদের শর্তানুপাতে অনেক সহীহ হাদীসই তারা তাদের কিতাবে সংকলন করেননি। উপরন্তু ‘আলী ইবনুল মাদীনী ইয়াহ্ইয়া ইবনু মা‘ঈন-এর সাথে তর্কে ইয়াহ্ইয়া এর উক্তি (ثُمَّ لَمْ يَقْنَعُ ذلِكَ عُرْوَةً حَتّى أَتى بُسْرَةَ نَسْأَلُهَا وَشَافَهْتُهُ بِالْحَدِيْثِ) (অর্থাৎ- ‘উরওয়াহ্ মারওয়ান থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সরাসরি বুসরার কাছে এসে এ হাদীস সম্বন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি [বুসরাহ্] তাকে তা মুখে মুখে বর্ণনা করেন) এর প্রতিউত্তর করেননি বা খণ্ডন করেননি। ইমাম আহমাদ (রহঃ)-ও হাদীসটি এ সানাদে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সঠিক বলেছেন। অতএব, উক্ত ইমামের নিকট ‘উরওয়ার হাদীসটি বুসরাহ্ থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত। এজন্যই আহমাদ এবং ইবনু মা‘ঈন বুসরার হাদীসটি সহীহ বলেছেন। (তাই তাদের এ দাবীটি একেবারে ভিত্তিহীন)

(২) তারা বলেনঃ বুসরার হাদীসের সানাদটি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। কারণ কিছু রাবী তা বুসরাহ্ থেকে মারওয়ান-এর মাধ্যমে ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছে, আবার কেউ কেউ বুসরাহ্ থেকে কারো মাধ্যমে ছাড়াই ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছে। (অতএব, হাদীসটি সহীহ নয়)

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) বর্ণনাকারীদের এ ভিন্নতাটি সে পর্যায়ের কোন ত্রুটি নয় যার মাধ্যমে হাদীসটি য‘ঈফ হিসেবে আখ্যায়িত হবে। কারণ ‘উরওয়াহ্ হাদীসটি প্রথমত মারওয়ান-এর মাধ্যমে বুসরাহ্ হতে শ্রবণ করেছেন। অতঃপর বুসরার নিকট এসে সরাসরি তার মুখ থেকে কোন মাধ্যম ছাড়াই তা শুনেছেন এবং তাদের কাছ থেকে অন্যরা হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে কখনো মারওয়ান-এর মাধ্যমে বুসরাহ্ থেকে ‘উরওয়ার সূত্রে আবার কখনো মারওয়ান-এর মাধ্যম ছাড়াই বুসরাহ্ থেকে সরাসরি ‘উরওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন আর এটি সে ধরনের কোন ভিন্নতা বা বৈপরীত্য নয় যা হাদীসের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। (তাই তাদের এ দাবীও ভিত্তিহীন)

(৩) তারা বলেনঃ এ হাদীসের রাবী হিশাম তার পিতা থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননি যা ত্ববারানীর বর্ণনা থেকে প্রমাণিত। (অতএব হাদীসের সানাদে বিছিন্নতা থাকায় তা য‘ঈফ)

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী এবং হাকিম-এর বর্ণনাটি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন যে, হিশাম হাদীসটি তার পিতা থেকে শ্রবণ করেছেন। আর যদি এ ত্রুটিটি সঠিকও হয়ে থাকে তারপরেও তা এ হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ হিশাম ছাড়াও ‘আবদুল্লাহ বিন আবূ বাকর, তার পিতা আবূ বাকর-এর মতো বিশ্বস্ত রাবীগণ হাদীসটি ‘উরওয়াহ্ থেকে সরাসরি শ্রবণ করে বর্ণনা করেছেন। যা মুয়াত্ত্বা মালিক, মুসনাদে আহমাদ এবং ইবনু জারূদ-এর বর্ণনা প্রমাণ করে। (অতএব তাদের এ দাবীটিও ভিত্তিহীন)

(৪) তারা বলেনঃ হাদীসটি মহিলা সাহাবী থেকে বর্ণিত অথচ বিধান পুরুষ সম্পর্কিত। অতএব, কিভাবে তা কেবলমাত্র মহিলারাই বর্ণনা করতে পারে? (তাই তা সঠিক নয়, নইলে পুরুষেরাও বর্ণনা করত)।

(আমরা তাদের প্রতিউত্তরে বলব) এর বিষয়ের হাদীস শুধুমাত্র মহিলারাই বর্ণনা করেননি বরং তা পুরুষেরাও বর্ণনা করেছেন। যেমনটি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি।

(৫) তারা বলেনঃ যে মাস্আলাহ্ কষ্টকে অন্তর্ভুক্ত করে সে ধরনের মাস্আলার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষত এ ধরনের খবর।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) সহীহ হাদীসসমূহকে প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশে হানাফীগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত এ নিয়মটি অবান্তর, বাতিল। যা ইমাম শাওকানী أِرْشَادُ الفُحُوْلِ আর ইবনু হাযম তাঁর الاَحْكَامُ فِى أُصُولِ الاَحْكَامَ এবং ইবনু কুদামাহ্ তাঁর جَنَّةُ الْمَنَاظِرِ গ্রন্থে বাতিল ঘোষণা করেছেন। আর যদিও এ নিয়মটি মেনে নেয়া হয় তারপরেও তা এ হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ এ হাদীসটি খবরে ওয়াহিদ পর্যায়ের নয় বরং তা নাবীয (খেজুর ভেজানো পানি) দ্বারা উযূর হাদীসের চেয়েও প্রসিদ্ধ এবং তা সতেরজন সহাবা (সাহাবা) কর্তৃক বর্ণিত।

(৬) তারা বলেনঃ হাদীসটির বিশুদ্ধতা মেনে নেয়া হলেও তাতে এ বিষয়ে কোন দলীল নেই। কারণ সকলের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে তা বাহ্যিকভাবে বর্জিত। কেননা لَمْسٌ শব্দের আভিধানিক অর্থ সাধারণ স্পর্শ। আর তারা এটিকে কামভাবের সাথে বা হাতের নিম্নভাগ দ্বারা বা কোন আবরণ ছাড়া সহ আরও যেসব শর্ত দ্বারা করেছে তা এ হাদীসের মুতলাক্ব অর্থের সীমাবদ্ধকরণ আর এটাও সুস্পষ্ট যে, তারা হাদীসের কথা বলে না।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় স্পর্শ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাত দ্বারা স্পর্শ করা চাই তা হাতের উপরিভাগ হোক বা নিম্নভাগ। কিন্তু তা আবরণ ছাড়াই হতে হবে যা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি প্রমাণ করে। আর একটি বর্ণনা অন্য একটি বর্ণনার ব্যাখ্যাস্বরূপ। অতএব আমরা এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসের কথাই বলছি এবং তার উপরই ‘আমল করছি। কিন্তু অন্যান্য যে সকল শর্তের কথা ফুকাহায়ে শাফি‘ঈসহ অন্যরা বলেছেন আমরা সেদিকে দৃষ্টিপাত করবো না। কেননা হাদীসের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই।

(৭) তারা বলেনঃ বুসরার হাদীস প্রমাণে বা সত্যায়নে বিনা আবরণে (লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা) উযূ ভেঙ্গে যাওয়ার পক্ষের প্রবক্তারা অনেকগুলো মত এবং বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন যার সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি যা ইবনুল ‘আরাবী তিরমিযীর শারাহতে বর্ণনা করেছেন। একটি বর্ণনার প্রমাণে তাদের মতবিরোধটি এর দলীল গ্রহণে সন্দেহের জন্ম দেয় যা প্রমাণ করে যে, তা তাদের নিকটই প্রমাণিত নয় এবং হাদীসের প্রয়োগের ক্ষেত্রটি নির্দিষ্ট নয়। অতএব, যদি হাদীসটি সহীহ হয় এবং ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর তার অগ্রাধিকার পাওয়াটি প্রমাণিত হয় তাহলে হাদীসটি মুজমাল হওয়াটাও সহীহ যার উদ্দেশ্য এর প্রবক্তাদের নিকট স্পর্শ হয়নি। পক্ষান্তরে লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূ ভাঙ্গার বিপক্ষের প্রবক্তাদের মাঝে তা নিয়ে কোন মতবিরোধ নেই। (তাই তাদের মতটি গ্রহণযোগ্য নয়)

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয়ই হাদীসের অর্থ স্পষ্ট, তার প্রমাণ বা সত্যায়নও প্রকাশিত ও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রটিও সুনির্দিষ্ট। কিন্তু এটি সুন্নাহ দরদী লেখকদের নিকটে। আর প্রতিষ্ঠিত ও সহীহ হাদীসগুলো প্রত্যাখ্যানের জন্য কৌশল অবলম্বনকারী স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তিরাই সর্বদা এই ধরনের ভিত্তিহীন বাতিল গাদ্দারীতে লেগে থাকে। এছাড়া মালিকী, শাফি‘ঈ সহ অন্যরা হাদীসের অর্থ বর্ণনায় যে মতবিরোধ করেছেন- আমাদের নিকট তা ধর্তব্য নয়। অতএব হাদীসটির অর্থ সুস্পষ্ট, যা মুজমাল নয়।

(৮) তারা বলেনঃ লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা প্রসবের পরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জনের দিকে ইঙ্গিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অধিকাংশ সময় প্রস্রাবের পরে অপবিত্রতা বের হয়ে থাকে। ফলে লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা এটি বর্ণনা করা হয়েছে আর যেসব ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করাটা খারাপ মনে হয় সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের ইঙ্গিতমূলক উল্লেখ করা রয়েছে।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) প্রথমত নিশ্চয়ই এ সম্ভাবনাটি অনেক দূরবর্তী বরং তা বাতিল, যাকে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত পরবর্তী হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করে। দ্বিতীয়ত সহাবা (সাহাবা), তাবি‘ঈসহ সালফে সলিহীনদের কারো মনে এ সম্ভাবনার উদয় ঘটেনি এবং তাদের কেউ এ কথা বলেননি বরং তাদের সকলেই একে তার বাহ্যিক অর্থেই বুঝেছেন যেদিকে ব্রেন দ্রুত ধাবিত হয়।

(৯) তারা বলেনঃ হাদীসটি সেই সময়ের শর্তযুক্ত যখন লজ্জাস্থান থেকে কোন কিছু বের হয়।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) এই শর্তারোপের উপর কোন প্রমাণ নেই। অতএব, তা প্রত্যাখ্যাত।

(১০) তারা বলেনঃ হাদীসে مَسٌّ ক্রিয়ার কর্মটি লুক্বায়িত রয়েছে যা উল্লেখ করাটা খারাপ মনে করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাদীসের অর্থ হলোঃ مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ بِفَرْجِ اِمْرَأتِه فَلْيَتَوَضَأَ (অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থানকে স্বীয় স্ত্রীর গুপ্তাঙ্গের সাথে স্পর্শ করাবে সে যেন উযূ করে)

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) এটি হাদীসের বিকৃতি করা যা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করেছে। যেখানে বলা হয়েছে اَنْضى بِيَدِه (তার হাত নিয়ে যায় লজ্জাস্থানের কাছে)।

তাদের কেউ কেউ বলেনঃ বুসরার হাদীসের অর্থের দাবী অনুপাতে রাবী হাদীসটি রিওয়ায়াত বিল মা‘না করেছেন।

(তাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বলব) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর এ বর্ণনাটি রিওয়ায়াত বিল মা‘না হওয়ার দাবী করাটা মাযহাবের পক্ষপাতিত্বকরণ মস্তিষ্ক এবং শ্রবণশক্তি যাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কারণ বিষয়টি যদি এমনই হয় তাহলে হাদীসের বর্ণনাসমূহের বিশ্বস্ততা, নির্ভরতা, নিশ্চয়তা সব উঠে যাবে।

তাদের কেউ কেউ আবার বলেনঃ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি এভাবে তা‘বিল করা যেতে পারে যে, যে ব্যক্তি নিজ হাত দ্বারা লজ্জাস্থানকে স্ত্রীর লজ্জাস্থানে পৌঁছাবে সে যেন উযূ (ওযু/ওজু/অজু)  করে। কারণ إنضاء ক্রিয়াটি কর্ম দাবী করে আর হাততো কেবলমাত্র একটি উপকরণ বা অস্ত্র। তাই পরবর্তীটুকু এর কর্ম।

এটি মূলত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সাথে কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয় যার উত্তর দানের প্রয়োজন নেই। কারণ এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের চূড়ান্ত বিকৃতকরণ।

তারা আরও বলেনঃ বুসরার হাদীসের ‘আমর বা নির্দেশ দ্বারা মুসতাহাব উদ্দেশ্য।

(তাদের প্রতিউত্তরে আমরা বলব) প্রথমত ‘আমর-এর মূল অর্থ হচ্ছে ওয়াজিব হওয়া। দ্বিতীয়ত মুসনাদে আহমাদ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিও এ কথা প্রত্যাখ্যান করছে যেখানে বলা হয়েছেঃ  (مَنْ أَنْضَى بِيَدِه إِلى ذَكَرَهُ لَيْسَ دَوْنَه سَتْرٌ فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوَضُوْءَ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি কোন আবরণ ছাড়াই নিজ হাতকে লজ্জাস্থানের কাছে নিয়ে গিয়ে তা স্পর্শ করলো তার ওপর উযূ ওয়াজিব হয়ে গেল। তৃতীয়ত দারাকুত্বনীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিও তাদের এ দাবীকে প্রত্যাখ্যান করছে যেখানে বলা হয়েছে (وَيْلُ لِّلَّذِيْنَ يَمَسُّوْنَ فُرُوْجَهُمْ وَلَا يَتَوَضُّوْنَ) অর্থাৎ- ‘যারা নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করে উযূ করে না তাদের জন্য দুর্ভোগ’। আর অকল্যাণ শুধুমাত্র ওয়াজিব পরিত্যাগ করার ফলে হয়ে থাকে।

আর প্রাধান্যযোগ্য কথা হলো ত্বলক্ব-এর এ হাদীসটি হাসান স্তরের হলেও বুসরার হাদীসটি তার চেয়ে কয়েক কারণে অধিক সহীহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। প্রথমত ত্বলক্ব-এর হাদীসের কোন রাবী দ্বারা বুখারী মুসলিম দলীল পেশ করেননি। পক্ষান্তরে বুসরার হাদীসের সকল রাবী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। দ্বিতীয়ত বুসরার হাদীসের অনেকগুলো সানাদ ও শাহিদ বর্ণনা থাকার সাথে সাথে একে সহীহ হিসেবে আখ্যায়িতকারী মুহাদ্দিসের সংখ্যাও অধিক। আঠারজনের মতো সাহাবী বুসরার হাদীসের অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) অন্যতম। তৃতীয়ত বুসরাহ্ (রাঃ) হাদীসটি মুহাজির আনসারপূর্ণ তাদের কেন্দ্রে বর্ণনা করলেও কেউ তার বিরোধিতা করেননি বরং কেউ কেউ একে সমর্থন করেছেন। [অতএব, বুসরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসটি ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর অগ্রাধিকার যোগ্য।]


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২১-[২২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ’’তোমাদের কারো হাত নিজের পুরুষাঙ্গের উপর লাগলে এবং হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ না থাকলে তাকে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতে হবে’’। (শাফি’ঈ ও দারাকুত্বনী)[1]

وَقد روى أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَفْضَى أَحَدُكُمْ بِيَدِهِ إِلَى ذَكَرِهِ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا شَيْءٌ فَلْيَتَوَضَّأْ» . رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ والدراقطني

وقد روى أبو هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أفضى أحدكم بيده إلى ذكره ليس بينه وبينها شيء فليتوضأ» . رواه الشافعي والدراقطني

ব্যাখ্যা: ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহর মতো ইবনু হিব্বান, ত্ববারানী, ইবনুল ‘আরাবী হাযিমীসহ আরো অনেককেই মানসূখ হওয়ার দাবী করেছেন। কারণ, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব বিন আলমী (রাঃ)-এর ইয়ামান থেকে আগমনের পরে ৭ম হিজরীতে খায়বারের বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর ত্বলক্ব (রাঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে নাবাবী নির্মাণের সময় ১ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতএব, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর সংবাদটি ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ)-এর সংবাদের সাত বছরে পরের ছিল যা প্রমাণ করে যে, ত্বলক্ব-এর হাদীসটি মানসূখ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২২-[২৩] নাসায়ী (রহঃ) বুসরাহ্ (রাঃ)থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ’’হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ নেই’’- এ শব্দগুলো বর্ণনা করেননি।[1]

وَرَوَاهُ النَّسَائِيُّ عَنْ بُسْرَةَ إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يذكر: «لَيْسَ بَينه بَينهَا شَيْء»

ورواه النسائي عن بسرة إلا أنه لم يذكر: «ليس بينه بينها شيء»

ব্যাখ্যা: ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বুসরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ- বুসরাহ্ ত্বলক্ব-এর পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ বুসরাহ্ আগেই ইসলাম গ্রহণ করে হিজরত করেছেন। যেমনটি হাযিমীসহ অন্যরা বলেছেন। আর যদি এটি মেনে নেয়া হয় তাহলে তা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণের মতো ত্বলক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) এর হাদীস মানসূখ করার উপর দলীল হয় না। ইমাম শাওকানী তাঁর ‘‘নায়লুল আওত্বার’’ গ্রন্থে বলেছেন, বুসরাহ্ (রাঃ) ত্বলক্ব (রাঃ)-এর পরবর্তী মুসলিম হওয়ার দ্বারা ত্বলক্ব-এর হাদীস মানসূখ হওয়ার দাবী শক্তিশালী হলেও উসূলবিদ বিশ্লেষকদের নিকট তা মানসূখের দলীল নন।

আর ইবনু হাযম-এর المخلى গ্রন্থে বলেছেন, ত্বলক্ব-এর হাদীসটি সহীহ। তবে এতে তাদের পক্ষে কোন দলীল নেই। আর তা কয়েকটি কারণে যথা- প্রথমত এ হাদীসটি লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূর নির্দেশ আসার পূর্বে মানুষেরা যে বিধানে ছিল তার উপযোগী। আর এ বিষয়টিতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। যখন হাদীসটির অবস্থা এরূপ তখন লজ্জাস্থান স্পর্শ দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের সাথে সাথে হুকুমটি নিশ্চিতভাবেই মানসূখ হয়ে গেছে। আর যার মানসূখ হওযা সুনিশ্চিত তা গ্রহণ করে নাসেককে পরিত্যাগ করা আদৌ ঠিক নয়।

ভাষ্যকার বলেনঃ আমাদের নিকট ত্বলক্ব-এর হাদীসের উপর বুসরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসকে প্রাধান্য দেয়ার মতটি মানসূখ বা য‘ঈফ বলার চেয়ে উত্তম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৩-[২৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীকে চুমু দিতেন, এরপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, অথচ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করতেন না।[1]

ইমাম তিরমিযী বলেছেন, আমাদের হাদীসবেত্তাদের মতে কোন অবস্থাতেই ’উরওয়ার সানাদ ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে, এমনকি ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ)-এর সানাদও ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে সহীহ হতে পারে না।

আবূ দাঊদ বলেছেন, এ হাদীসটি মুরসাল। কারণ ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে শুনেননি।

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُ بَعْضَ أَزْوَاجِهِ ثُمَّ يُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: لَا يَصِحُّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا بِحَالٍ إِسْنَادُ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَأَيْضًا إِسْنَادُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْهَا
وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا مُرْسل وَإِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ لم يسمع من عَائِشَة

وعن عائشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقبل بعض أزواجه ثم يصلي ولا يتوضأ. رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه. وقال الترمذي: لا يصح عند أصحابنا بحال إسناد عروة عن عائشة وأيضا إسناد إبراهيم التيمي عنها وقال أبو داود: هذا مرسل وإبراهيم التيمي لم يسمع من عائشة

ব্যাখ্যা: (قَوْله وَلَا يَتَوَضَّأُ) এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চুম্বন দ্বারা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয় না। যদিও তা শুধু স্পর্শের উপর স্তরের এবং সচরাচর তা কামভাব থেকেই হয়ে থাকে। আর এটিই হলো মূলনীতি যেটির নির্ধারক হলো এ হাদীসটি। এটিই আমাদের নিকট বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অভিমত যার স্বপক্ষে আরো অনেক দলীল রয়েছে।

* তন্মধ্যে প্রথমটি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেনঃ

كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُوْل اللهِ ﷺ وَرِجْلَاىَّ فِىْ قِبْلَتِه فَإِذَا سَجَدَ عَمَرَنِىْ فَقَبَضْتُ رِجْدَىَ – الحديث

অর্থাৎ- আমি (সালাতরত অবস্থায়) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে থাকতাম আর আমার পদদ্বয় তাঁর ক্বিবলার দিকে থাকত। ফলে যখন তিনি সিজদায় যেতেন তখন আমায় গুতো মারলে আমি পদদ্বয় গুটিয়ে নিতাম।

তবে ইবনু হাজার (রহঃ) ফাতহুল বারীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর এ হাদীসের ব্যাপারে তা পর্দার আড়ালে হওয়া বা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকার মর্মে যে অজুহাত পেশ করেছেন তা শুধু শুধু কষ্ট করা এবং বাহ্যিকের বিপরীত। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাস হওয়ার বিষয়টি দলীল ছাড়া সাব্যস্ত হবে না। আর আবরণ বা পর্দার অন্তরালে হওয়ার বিষয়টি কেবলমাত্র ইমামের পক্ষপাতিত্বকারী ব্যক্তিই কল্পনা করতে পারে।

২য়টি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে নাসায়ীতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেনঃ

إِنَّ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيُصَلِّىْ، وَإِنِّىْ لَمُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ اِعْتَرَاضِ الْجَنَازَةِ، حَتّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوْتَرَ مَسَّنِىَ بِرِجْلِه.

অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, আর আমি তার সামনে জানাযার মতো লম্বা হয়ে পড়ে থাকতাম। অতঃপর যখন তিনি বিজোড় করার (সিজদা্) ইচ্ছা করতেন তখন আমাকে পা দ্বারা ইঙ্গিত বা স্পর্শ করতেন।

তৃতীয়তঃ

فَقَّدْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَيْلَةً مِّنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسَتْهُ، فَوَضَعْتُ يَدَىَّ عَلى قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِى الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوْبَتَانِ- الحديث

অর্থাৎ- আমি একরাত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিছানা থেকে হারিয়ে ফেললাম। পরে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে তার খাড়া পদদ্বয়ের উপরিভাগে আমার হাত পড়লো। এমতাবস্থায় তিনি মসজিদে অবস্থান করছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৪-[২৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেড়ার বাজুর গোশত (গোশত/গোশত/গোসত) খেলেন, তারপর আপন হাতকে আপন পায়ের তলায় ঘষে মুছে নিলেন, অতঃপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে দাঁড়িয়ে গেলেন, অথচ (নতুন করে) উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন না। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]

وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتِفًا ثُمَّ مَسَحَ يَده بِمِسْحٍ كَانَ تَحْتَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَأحمد

وعن ابن عباس قال: أكل رسول الله صلى الله عليه وسلم كتفا ثم مسح يده بمسح كان تحته ثم قام فصلى. رواه أبو داود وابن ماجه وأحمد

ব্যাখ্যা : এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়ঃ

* আগুন দ্বারা পাকানো খাদ্য খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হবে না।

* খাওয়ার পরে হাত ধৌত করা ওয়াজিব নয় বরং তা মুছে নিলেই যথেষ্ট হবে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩২৫-[২৬] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঁজরের ভুনা গোশত (গোশত/গোশত/গোসত) পেশ করলাম। তিনি তা থেকে কিছু খেলেন, তারপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন, নতুন করে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেননি। (আহমাদ)[1]

وَعَن أم سَلمَة أَنَّهَا قَالَتْ: قَرَّبْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَنْبًا مَشْوِيًّا فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ

وعن أم سلمة أنها قالت: قربت إلى النبي صلى الله عليه وسلم جنبا مشويا فأكل منه ثم قام إلى الصلاة ولم يتوضأ. رواه أحمد

ব্যাখ্যা: (قَرَّبْتُ إِلَى النَّبِيَّ ﷺ جَنْبًا مَشْوِيًّا) ‘‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঁজরের ভুনা গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) পেশ করলাম।’’ অর্থাৎ- আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবারের উদ্দেশে আগুন দিয়ে ভুনা করা পাঁজরের হাড়সহ গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) পেশ করলাম।

(وَلَمْ يَتَوَضَّأْ) অর্থাৎ- তিনি ঐ গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়ার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) না করেই সালাতে দাঁড়ালেন।

এ হাদীস প্রমাণ করে যে, আগুন দ্বারা পাকানো কোন কিছু খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১৬ পর্যন্ত, সর্বমোট ১৬ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে