পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

اَلْوُضُوْءُ (واو বর্ণে যম্মাযোগে) শব্দের অর্থ উযূ করা আর واو বর্ণে ফাতাহ যোগে اَلْوَضُوْءُ -এর অর্থ উযূর পানি। অত্র অধ্যায়ে ঐ সমস্ত বিষয় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) বিনষ্ট করে ফেলে এবং অন্য একটি উযূ (নতুন উযূ) আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।


৩০০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ছুটে গেছে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কবূল হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত সে উযূ না করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتَّى يتَوَضَّأ»

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة من أحدث حتى يتوضأ»

ব্যাখ্যা: সে ব্যক্তির সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) প্রত্যাখ্যাত হয় বা গণ্য করা হয় না, সঠিক হয় না; যার সামনের এবং পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হয় যতক্ষণ না সে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে। আর উযূ পানি এবাং মাটি উভয়ের দ্বারাই হতে পারে। উযূ অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা যা গোসল, উযূ এবং তায়াম্মুম দ্বারা হতে পারে। এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়।

প্রথমত সামনের বা পিছনের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হওয়ার মাধ্যমে উযূ বিনষ্ট হবে আর উযূ না হলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সঠিক হবে না। চাই তার নির্গত হওয়াটা নিরুপায় অবস্থায় হোক বা স্বাভাবিক অবস্থায় হোক। কেননা হাদীসে উভয় অবস্থার মাঝে কোন পার্থক্য বর্ণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত ঐ লোকেদের প্রতিউত্তর যারা বলে যেহেতু তার উযূ নষ্ট হয়ে গেছে, তাই সে উযূ করে আগের সালাতের উপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত সকল সালাত পবিত্রতা অর্জনের উপর নির্ভরশীল। আর জানাযাহ্, ঈদ সহ সমস্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ- উযূ ছাড়া কোন সালাত গৃহীত হবে না।

قَوْلُهٗ (لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طَهُوْرٍ) (পবিত্রতা অর্জন ছাড়া সালাত গৃহীত হয় না)। অর্থাৎ- ‘পবিত্রতা ছাড়া’ অর্থ এ নয় সালাতটি পবিত্রতার পরিপন্থী কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে না। কেননা অন্যান্য শর্তের ন্যায় পবিত্রতার ভিন্নধর্মী বিষয়ের সাথেও সালাতের সম্পৃক্ততা থাকা অবশ্যক। তবে যদি পবিত্রতার পরিপন্থী দ্বারা তার সম্পূর্ণ বিপরীত উদ্দেশ্য হয় তাহলে ঠিক আছে। আর তা হলো حَدَثٌ হাদাস অর্থাৎ- এমন অপবিত্রতা যা উযূ, গোসল বা তায়াম্মুম ছাড়া দূরীভূত হয় না।

قَوْلُهٗ (وَلَا صَدَقَةُ مِنْ غُلُوْلٍ) (খিয়ানাতের মাল সদাক্বাহ্ (সাদাকা) হিসেবে গ্রহণ করা হয় না)غُلُوْلٌ  (গুলূল) অর্থ হারাম সম্পদ। غُلُوْلٌ -এর মূল অর্থ গনীমাতের মালে খিয়ানাত করা। গনীমাতের সম্পদ বণ্টিত হওয়ার পূর্বে তা চুরি করা হারাম।

যে ব্যক্তিই সংগোপনে কোন কিছুতে বিশ্বাসঘাতকতা করলো বা খিয়ানাত করলো সেই গুলূল করল। ইবনুল ‘আরাবী (রহঃ) বলেনঃ হারাম সম্পদের সদাক্বাহ্ (সাদাকা) প্রত্যাখ্যান এবং শাস্তির যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উযূ বা পবিত্রতা ছাড়াই সম্পাদিত সালাতের ন্যায়। অতএব, সালাত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সম্পদ পবিত্র হওয়া শর্ত। এ হুকুমটি সকল প্রকার হারাম সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এখানে গনীমাতের আত্মসাৎকৃত সম্পদের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটা হতে পারে যে, গনীমাত সকলের অধিকার সম্বলিত সম্পদ। আর অন্যের অধিকারযুক্ত সম্পদের সদাক্বাই যদি গ্রহণ করা না হয় তাহলে একক অধিকারভুক্ত সম্পদ গৃহীত না হওয়াটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০১-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা ছাড়া সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) এবং হারাম ধন-সম্পদের দান-খয়রাত কবূল হয় না। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبل صلاة بغير طهور ولا صدقة من غلول» . رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০২-[৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অত্যধিক ’মাযী’ বের হত। কিন্তু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যার (ফাত্বিমার) স্বামী, তাই এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি মাস্আলাটি জানার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করতে মিক্বদাদকে বললাম। সে (নাম প্রকাশ ব্যতীত) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ অবস্থায় সে প্রথমে পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে ও তারপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن عَليّ قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيتَوَضَّأ»

وعن علي قال: كنت رجلا مذاء فكنت أستحيي أن أسأل النبي صلى الله عليه وسلم لمكان ابنته فأمرت المقداد فسأله فقال: «يغسل ذكره ويتوضأ»

ব্যাখ্যা: مَذِىٌ (মাযী) বলা হয় সাদা পাতলা আঠালো ধরনের একপ্রকার পানি যা স্ত্রীর সাথে প্রেমালাপ, চুম্বন, সহবাসের স্মরণ বা পুনরায় সহবাসের ইচ্ছা হলে স্ত্রী-পুরুষের গোপন অঙ্গ থেকে বের হয়। আবার কখনো কখনো এর বের হওয়াটা অনুভূত হয় না।

مَذِىٌ (মাযী) সম্পর্কে জিজ্ঞেসের কারণ সেটি গোসল আবশ্যককারী নাপাকী কিনা তা জানা। মিক্বদাদ (রাঃ) কারো নাম উল্লেখ ছাড়াই এর হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যা শুধুমাত্র ‘আলীর জন্য প্রযোজ্য ছিল না। এ বিষয়ে প্রশ্নকারী নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যেমন এ বর্ণনায় মিক্বদাদ (রাঃ)-এর কথা আবার নাসায়ীর বর্ণনায় ‘আম্মার (রাঃ)-এর কথা এবং ইবনু হিব্বান ও তিরমিযীর বর্ণনায় ‘আলী (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ হয়েছে। ইবনু হিব্বান এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘আলী (রাঃ) প্রথমত আম্মার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে বলেন। পরবর্তীতে মিক্বদাদ (রাঃ)-কে বলেন। পরে তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন। কিন্তু ইবনু হিব্বান পরক্ষণে উল্লেখ করেন যে, ‘আলী  (রাঃ)-এর উক্তি ‘‘আমি লজ্জায় তাঁকে প্রশ্ন করতে পারিনি’’ এটি প্রমাণ করে তিনি স্বয়ং প্রশ্ন করেননি।

قَوْلُهٗ (يَغْسِلُ ذَكَرَةٌ) (মাযী বের হলে সে তার গোপন অঙ্গ ধৌত করবে) যেহেতু মাযী অপবিত্র তাই তা আগে অপসারণ করতে হবে। তারপর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)। গোপনাঙ্গের কতটুকু ধুইতে হবে তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সর্বাধিক প্রাধান্যযোগ্য অভিমত হলো মাযী বের হওয়ার স্থানটুকু ধৌত করাই যথেষ্ট, সবটুকু নয়। তবে সাবধানতা অবলম্বনার্থে মাযী ছড়িয়ে পড়া স্থানসমূহ ধৌত করা উত্তম। হাদীসের বাহ্যিক ভাষ্যমতে মাযী বের হলে পানি দ্বারা ধৌত করাই নির্দিষ্ট। হাদীসের শেষাংশ থেকে প্রতীয়মান হয় মাযীতে শুধু উযূই ভঙ্গ হয়। অতএব তাতে গোসল ওয়াজিব হয় না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৩-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আগুন দিয়ে পাকানো কোন জিনিস খেলে তোমরা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে নিবে। (মুসলিম)[1]

ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের হুকুম ইবনু ’আব্বাস-এর হাদীস দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে।

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «توضؤوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
قَالَ الشَّيْخُ الإِمَام الْأَجَل محيي السّنة C: هَذَا مَنْسُوخ بِحَدِيث ابْن عَبَّاس:

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «توضؤوا مما مست النار» . رواه مسلم قال الشيخ الإمام الأجل محيي السنة C: هذا منسوخ بحديث ابن عباس:

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৪-[৫] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর রানের (পাকানো) গোশত (গোশত/গোশত/গোসত) খেয়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন কিন্তু উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صلى وَلم يتَوَضَّأ

قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أكل كتف شاة ثم صلى ولم يتوضأ

ব্যাখ্যা: قَوْلُهٗ ( تَوَضُؤا وَمِمَّا مَسَّتِ النَّارُ) (তোমরা আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ করবে) পাকানো, ভাজা বা আগুন যাতে প্রভাব বিস্তার করে এমন খাদ্য হলো আগুনে পাকানো খাদ্য। উযূ (ওযু/ওজু/অজু) দ্বারা উদ্দেশ্য সালাতের উযূ। এ হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আগুনে পাকানো খাবার খাওয়া উযূ ভঙ্গের একটি অন্যতম কারণ। তবে এ মাসআলাতে ‘উলামার মতভেদ রয়েছে।

* পূর্ব ও পরবর্তী অধিকাংশ ‘উলামার মতে এটি উযূ ভঙ্গের কোন কারণ নয়।

* আর একদলের মতে আগুনে পাকানো খাবার খেলে শার‘ঈ উযূ করা আবশ্যক। তাদের দলীল আবূ - হুরায়রার এ হাদীসসহ এ বিষয়ে বর্ণিত আরো কতিপয় হাদীস। তবে প্রথম মতাবলম্বীরা বিভিন্নভাবে এ হাদীসের ব্যাখ্যা বা উত্তর দিয়েছেন। যথাঃ

(১) হাদীসে উযূ দ্বারা উদ্দেশ্য মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি ধোয়া। তবে তাদের এ কথাটি প্রত্যাখ্যাত। কেননা প্রতিটি শব্দের শার‘ঈ অর্থ অন্য অর্থের উপর প্রাধান্যযোগ্য।

(২) এ হাদীসে ‘আমরটি মুসতাহাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ওয়াজিব অর্থে নয়। তাদের এ দাবীও প্রত্যাখ্যাত। কেননা ‘আমর-এর আসল অর্থ হলো وجوب বা কোন কিছু আবশ্যক হওয়া।

যখন এ বিষয়ে বর্ণিত পরস্পর বিপরীত হাদীসগুলোর অগ্রাধিকার যোগ্যতা সুস্পষ্ট নয় তখন আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরবর্তী খুলাফায়ি রাশিদীনের ‘আমলের মাধ্যমে একটি দিককে প্রাধান্য দিব। ‘আল্লামা ইমাম নাবাবী (রহঃ) (شرح المهذب) গ্রন্থে এটিকে সন্তোষজনক অভিমত হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে ইমাম বুখারীর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসের ভূমিকায় তিন খলীফাহ্ হতে বর্ণিত আসার নিয়ে আমার রহস্যও উন্মোচিত হয়। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে সাহাবী তাবি‘ঈদের মাঝের মতবিরোধটা অতি সুপরিচিত। অতঃপর আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য সাব্যস্ত হয়েছে।

(৩) এ হাদীসটি আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে উযূ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

ভাষ্যকার বলেনঃ আমার নিকট তৃতীয় উত্তরটি অধিক শক্তিশালী। কারণ নাসখের দাবীর চেয়ে ঢের উত্তম। আর ইসলামের প্রাথমিক যুগে আগুনে পাকানো খাদ্যের ব্যাপারে উযূ করার আদেশ প্রদানের রহস্য হলো তারা (মুসলিমরা) অজ্ঞতার যুগে অল্পই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকত। অতঃপর ইসলামে যখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি স্বীকৃতি ও ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করলো, তখন মু’মিনদের প্রতি সহজকরণার্থে সে আদেশ রহিত করা হয়।

আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে শার‘ঈ উযূ আবশ্যক হওয়ার বর্ণনাটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা রহিতকরণের উপর এ বলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, রহিতকরণের দাবি তখনই সঠিক হবে যখন একটি আরেকটির পূর্বে ঘটেছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যাবে। এর উত্তরে বলা হয়েছেঃ বায়হাক্বী থেকে ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর বর্ণনামতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) মক্কা বিজয়ের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচর্যে এসেছেন যা মুহাম্মাদ বিন ‘আমর বিন ‘আত্বা হতে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয়। অতএব ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটি পরের।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে আবূ দাঊদ ও নাসায়ীতে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসটি অধিক সুস্পষ্ট যেখানে বলা হয়েছে كاَنَ أَخِرُ الْاَمْرَيْنِ مِنْ رَّسُوْله وَسَلَّمَِ (অর্থাৎ- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ ‘আমল ছিল আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে উযূ না করা)। হাদীসটি সহীহ হলেও কেউ কেউ এটির একটি ত্রুটি বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন, যে চেষ্টাকে মুসনাদে আহমাদে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বাতিল করে দেয়, যেখানে বলা হয়েছে ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে খাওয়া শেষে প্রস্রাব করার পর উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করে যুহর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর আবার সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে খেয়ে বিনা উযূতে ‘আসর সালাত আদায় করলেন।’’ এ হাদীস থেকে সুস্পষ্ট যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ আগুনে পাকানো খাদ্য খেয়ে উযূ করেননি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৫-[৬] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, আমরা কি বকরীর গোশত (গোশত/গোশত/গোসত) খেলে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি চাইলে করতে পারো, না চাইলে না কর। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, উটের গোশত খাবার পর কি উযূ করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খাবার পর উযূ কর। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলো, বকরী থাকার স্থানে কি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, পারো। তারপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, উটের বাথানে কি সালাত আদায় করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن جَابر بن سَمُرَة أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَتَوَضَّأْ» . قَالَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ؟ قَالَ: «نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ» قَالَ: أُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: أُصَلِّي فِي مبارك الْإِبِل؟ قَالَ: «لَا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر بن سمرة أن رجلا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أنتوضأ من لحوم الغنم؟ قال: «إن شئت فتوضأ وإن شئت فلا تتوضأ» . قال أنتوضأ من لحوم الإبل؟ قال: «نعم فتوضأ من لحوم الإبل» قال: أصلي في مرابض الغنم قال: «نعم» قال: أصلي في مبارك الإبل؟ قال: «لا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি উটের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) খাওয়ার ফলে সর্বাবস্থায় উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য চাই তা কাঁচা হোক বা পাকানো হোক।

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ছাগলের গোয়ালে সাধারণত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা বৈধ। আর এটিই সঠিক বক্তব্য যদিও ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও শাফি‘ঈ (রহঃ) এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।

উট বসার স্থানে সালাত আদায় করা হারাম। ইমাম আহমাদ এবং ইবনু হাযম এ অভিমতই ব্যক্ত করেছেন। আর এটিই সঠিক মত। তবে জমহূরের মতে যদি স্থানে নাজাসাত বা অপবিত্রতা না থাকে তাহলে সালাত আদায় করা মাকরূহ বা অপছন্দীয় আর যদি অপবিত্রতা থাকে তাহলে সালাত আদায় করা হারাম। জমহূরের এ উক্তিটি সঠিক হতো যদি নিষেধের কারণ নাজাসাত বা অপবিত্রতা হতো মূলত যা এখানে উটের পেশাব-পায়খানা কিন্তু এ কথা প্রমাণিত যে, যে সকল প্রাণীর গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) হালাল তার পেশাব-পায়খানাও হালাল। যদি উটের পেশাব-পায়খানা নাজাসাত হাওয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া হয় তারপরেও সেটিকে নিষেধের কারণ বানানো সঠিক হবে না। কেননা যদি নাজাসাতই কারণ হতো তাহলে উট এবং ছাগলের হুকুম ভিন্ন হতো না যেহেতু উভয়ের পেশাব-পায়খানার হুকুম একই।

মালিকী ও শাফি‘ঈগণের মতে নিষেধের কারণ উটের পলায়ন করার যে স্বভাব রয়েছে তা। কিন্তু এটিই যদি কারণ হতো তাহলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট গোয়ালে উপস্থিত থাকা এবং না থাকার মাঝে পার্থক্য করতেন না, বরং সর্বাবস্থায় যেখানে সালাত আদায় করা হারাম বলতেন চাই তা উপস্থিত থাক আর না থাক। এছাড়াও অনেকে আরও অন্যান্য কারণ উল্লেখ করেছেন যেগুলো বর্ণনা করার পর ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেনঃ নিষেধের কারণের ক্ষেত্রে এ মতবিরোধ জানার পর এ কথা স্পষ্ট হলো যে দাবী তাহরীম তথা (কোন কিছু হারাম সাব্যস্ত করা) এর উপর ক্ষান্ত থাকাই হলো সঠিক বক্তব্য, এখানে এর কারণ অন্বেষণের কোন অবকাশ নেই। যেমনটি ইমাম আহমাদ ও দাঊদ যাহিরী বলেছেন। তবে এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাহনকে সুত্‌রাহ্ (সুতরা) বানিয়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার হাদীসটি এর বিপরীত নয়। কারণ তা ছিল সফরে প্রয়োজনীয় অবস্থায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৬-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু (বায়ু) শব্দ পায় এবং এরপর তার সন্দেহ হয় যে, তার পেট হতে কিছু (বায়ু) বের হয়েছে কিনা, তাহলে সে যেন (উযূ (ওযু/ওজু/অজু) নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে মাসজিদ হতে বের না হয়, যে পর্যন্ত সে (বায়ু বের হবার দরুন) কোন শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায়। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا وجد أحدكم في بطنه شيئا فأشكل عليه أخرج منه شيء أم لا فلا يخرجن من المسجد حتى يسمع صوتا أو يجد ريحا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: قَوْلُهٗ (حَتّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَو يَجِدَ رِيْحًا) (যতক্ষণ না সে বায়ু বের হওয়ার শব্দ বা নির্গত বায়ুর গন্ধ পাবে ততক্ষণ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে আসবে না)। এর অর্থ হলো যতক্ষণ না সে শব্দ শ্রবণ বা গন্ধ পাওয়া বা অন্য যে কোন পন্থায় তার বায়ু নির্গত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয় ততক্ষণ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করবে না বা ছেড়ে আসবে না। তবে এতে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র শব্দ শ্রবণ বা গন্ধ পাওয়াটিই শর্ত নয়।

এ হাদীস আরও প্রমাণ করে যে, শারী‘আতের কোন বিষয়ে সন্দেহের মাধ্যমে সুনিশ্চিত বিষয় বাতিল হয়ে যাবে না। অতএব যার সন্দেহ হবে বায়ু নির্গত হয়েছে কিনা তবে সে তার উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত থাকবে। নিশ্চিত না হাওয়া পর্যন্ত এ সন্দেহ তার কোন ক্ষতি করবে না। আর এটি অন্যান্য বিষয়েও সমভাবে প্রযোজ্য।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৭-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেন, দুধের মধ্যে চর্বি থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ: «إِنَّ لَهُ دسما»

وعن عبد الله بن عباس قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم شرب لبنا فمضمض وقال: «إن له دسما»

ব্যাখ্যা: دَسَمٌ (দাসাম) অর্থ দুধের উপর প্রকাশিত চর্বি। এটি দুধ খেয়ে কুলি করার কারণের বর্ণনা। আর এটি প্রমাণ করছে প্রত্যেক চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে কুলি করা উত্তম। যাতে মুখের অবশিষ্ট চর্বি মুসল্লীর মনকে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) থেকে অন্যদিকে না নিয়ে যায়। এ হাদীস প্রমাণ করে যে, পরিষ্কার-পরিছন্নতার স্বার্থে চুর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হস্তদ্বয় ধৌত করা ভালো। অধ্যায়ের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হলো উল্লিখিত কুলিটা উযূর পরিপূরক।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৮-[৯] বুরায়দাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন এক উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-তে কয়েক ওয়াক্তের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আজ আপনি এমন কিছু করলেন যা পূর্বে কখনো করেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ’উমার! আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَنْ بُرَيْدَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الصَّلَوَات يَوْم الْفَتْح بِوضُوء وَاحِد وَمسح عل خُفَّيْهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: لَقَدْ صَنَعْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُهُ فَقَالَ: «عَمْدًا صَنَعْتُهُ يَا عمر» . رَوَاهُ مُسلم

وعن بريدة: أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الصلوات يوم الفتح بوضوء واحد ومسح عل خفيه فقال له عمر: لقد صنعت اليوم شيئا لم تكن تصنعه فقال: «عمدا صنعته يا عمر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: সাহাবীর বাচনভঙ্গি থেকে বুঝা যায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ‘আমল আদৌ করতেন না। মূলত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ কাজে অভ্যস্ত ছিলেন না বটে। তবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইতোপূর্বে এরূপ ‘আমল মাঝে মাঝে করতেন মর্মে প্রমাণিত রয়েছে। এ হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়।

প্রথমত, সর্বোত্তম হলো প্রতি সালাতের জন্য আলাদা আলাদা উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করা যেমনটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভ্যস্ত ছিলেন।

দ্বিতীয়ত এক উযূ দ্বারা অনেক ফরয এবং নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করাও বৈধ, মাকরূহ নয়। তবে প্রস্রাব-পায়খানার চাপ সৃষ্টি করলে তা সম্পূর্ণ করে নতুনভাবে উযূ করে নিবে। আর এটিই অধিকাংশ ‘উলামার অভিমত। তবে এটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী ‘‘যখনই তোমরা সালাত সম্পাদনের ইচ্ছা করবে তখন উযূ কর’’ এর সাথে সংঘর্ষিক মনে হয় যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করার আদেশ দিয়েছেন। এর সমাধানকল্পে অনেক মতের সৃষ্টি হয়েছে। জমহূরের মতে আয়াতে অর্থ হলো إذَا قُمْتُمْ إلى الصَّلَاةِ مُحْدِيْثِيْنَ (যখন তোমরা উযূ বিহীনবস্থায় সালাত সম্পাদনের ইচ্ছা করবে) অর্থাৎ- অযু অবস্থায় থাকলে পুনরায় উযূ করতে হবে না।

যদিও আয়াতটি বাহ্যিকভাবে পবিত্র অপবিত্র সকলের উযূ করার বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই জমহূরের মতানুযায়ী আয়াত দ্বারা উযূ বিহীন ব্যক্তির উযূ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। এটিই সঠিক অভিমত। আবার কেউ কেউ বলেনঃ আয়াতে আদেশ দ্বারা উত্তম উদেশ্য। অর্থাৎ- প্রত্যেকের জন্য প্রতিটি সালাতের প্রারম্ভে উযূ করা ভালো। আর উযূহীন ব্যক্তির ওপর উযূ আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আবার কেউ কেউ বলেন আয়াত দ্বারা সকলের ওপর উযূ আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি শুরুতে কার্যকর থাকলেও পরে তা রহিত হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে কারণে উযূ করা ওয়াজিব হয়

৩০৯-[১০] সুওয়াইদ ইবনু নু’মান (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বার যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তাঁরা খায়বারের অতি নিকটে ’সহবা’ নামক স্থানে যখন পৌঁছলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আসরের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর আহার পরিবেশন করতে বললেন, কিন্তু ছাতু ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। তিনি নির্দেশ দিলেন। তাই পানি দিয়ে ছাতু নরম করা হলো। এ ছাতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও খেলেন আমরাও খেলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং শুধু কুলি করলেন। আর আমরাও কুলি করলাম। এ অবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন, অথচ নতুনভাবে উযূ (ওযু/ওজু/অজু) করলেন না। (বুখারী)[1]

بَابُ مَا يُوْجِبُ الْوَضُوْءَ

وَعَن سُوَيْد ابْن النُّعْمَان: أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بالصهباء وَهِي أَدْنَى خَيْبَرَ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالْأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلَّا بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثمَّ صلى وَلم يتَوَضَّأ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن سويد ابن النعمان: أنه خرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام خيبر حتى إذا كانوا بالصهباء وهي أدنى خيبر صلى العصر ثم دعا بالأزواد فلم يؤت إلا بالسويق فأمر به فثري فأكل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأكلنا ثم قام إلى المغرب فمضمض ومضمضنا ثم صلى ولم يتوضأ. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে কয়েকটি বিষয় প্রতীয়মান হয়। প্রথমত সফরকালে খাদ্য বহন করা আল্লাহর ওপর ভরসার পরিপন্থী নয়। দ্বিতীয়ত মুহাম্মাদের মতে সরকারের জন্য খাদ্য সংকটের সময় খাদ্য গুদামজাতকারীদের পাকড়াও করে ক্রেতাদের নিকট সে গুদামজাতকৃত খাদ্য বিক্রয় করতে বাধ্য করা বৈধ। তৃতীয়ত চর্বিবিহীন কোন খাবার দাঁতের মাঝে আবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকলে তা থেকে কুলি করা মুস্তাহাব বা ভালো। চতুর্থত আগুনে পাকানো খাবার গ্রহণ উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভঙ্গের কোন কারণ নয় এবং উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তের সালাতের জন্য নতুনভাবে উযূ করা ওয়াজিব নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ১০ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে