পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০২৬) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’রমযান উপস্থিত হলে জান্নাতের দ্বারসমূহকে উন্মুক্ত করা হয়, দোযখের দ্বারসমূহকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, আর সকল শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলিত।’’ (বুখারী ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম ২৫৪৭)

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ

عن ابى هريرة رضى الله عنه ان رسول الله ﷺ قال اذا جاء رمضان فتحت ابواب الجنة وغلقت ابواب النار وصفدت الشياطين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০২৭) উক্ত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযান মাসের প্রথম রাত্রি যখন আগত হয়, তখন সকল শয়তান ও অবাধ্য জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করা হয়, সুতরাং তার একটি দরজাও খোলা হয় না। পরন্তু জান্নাতের সকল দরজা খুলে রাখা হয়, সুতরাং তার একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না। আর একজন আহ্বানকারী এই বলে আহবান করে, হে মঙ্গলকামী! তুমি অগ্রসর হও। আর হে মন্দকামী! তুমি পিছে হটো (ক্ষান্ত হও)। আল্লাহর জন্য রয়েছে দোযখ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ (সম্ভবতঃ তুমিও তাদের দলভুক্ত হতে পার)। এরূপ আহবান প্রত্যেক রাত্রেই হতে থাকে।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجِنَانِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَنَادَى مُنَادٍ : يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلِكَ عِنْدَ كُلِّ لَيْلَةٍ

عن ابي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان اول ليلة من رمضان صفدت الشياطين ومردة الجن وغلقت ابواب النار فلم يفتح منها باب وفتحت ابواب الجنان فلم يغلق منها باب ونادى مناد : يا باغي الخير اقبل ويا باغي الشر اقصر ولله عتقاء من النار، وذلك عند كل ليلة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০২৮) মালিক বিন হাসান বিন মালিক বিন হুয়াইরিষ তাঁর পিতা হতে, তিনি (হাসান) তাঁর (মালেকের) পিতামহ (মালিক বিন হুয়াইরিস) হতে বর্ণনা করে বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে চড়েন। প্রথম ধাপে চড়েই বললেন, আমীন। অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে চড়ে বললেন, আমীন অনুরূপ তৃতীয় ধাপেও চড়ে বললেন, আ-মীন। অতঃপর তিনি (এর রহস্য ব্যক্ত করে) বললেন, আমার নিকট জিবরীল উপস্থিত হয়ে বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি রমযান পেল অথচ পাপমুক্ত হতে পারল না আল্লাহ তাকে দূর করেন। তখন আমি (প্রথম) ’আ-মীন’ বললাম।

তিনি আবার বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে জীবিতাবস্থায় পেল অথচ তাকে দোযখে যেতে হবে, আল্লাহ তাকেও দূর করুন। এতে আমি (দ্বিতীয়) ’আ-মীন’ বললাম। অতঃপর তিনি বললেন, যার নিকট আপনার (নাম) উল্লেখ করা হয় অথচ সে আপনার উপর দরূদ পাঠ করে না, আল্লাহ তাকেও দূর করুন। এতে আমি (তৃতীয়) ’আমীন’ বললাম।

عَنْ مَالِكُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ: "آمِينَ": ثمَّ رقى أُخْرَى فقَالَ: "آمِينَ" ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً فَقَالَ: "آمين" ثمَّ قَالَ: "أَتَانِي جِبْرِيل عليه السلام فقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يغْفر لَهُ فَأَبْعَده الله فَقلت آمِينَ قَالَ وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدخل النَّار فَأَبْعَده الله فَقلت آمين قَالَ وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ فَقلتُ آمين

عن مالك بن الحسن بن مالك بن الحويرث عن ابيه عن جده رضي الله عنه قال صعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر فلما رقي عتبة قال: "امين": ثم رقى اخرى فقال: "امين" ثم رقي عتبة ثالثة فقال: "امين" ثم قال: "اتاني جبريل عليه السلام فقال يا محمد من ادرك رمضان فلم يغفر له فابعده الله فقلت امين قال ومن ادرك والديه او احدهما فدخل النار فابعده الله فقلت امين قال ومن ذكرت عنده فلم يصل عليك فابعده فقلت امين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০২৯) আনাস বিন মালিক (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযান উপস্থিত হলে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই মাস তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়েই গেল। এই মাসে এমন একটি রাত্রি রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। যে ব্যক্তি ঐ রাত্রের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হল, সে যেন সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত থেকে গেল। আর একান্ত চিরবঞ্চিত ছাড়া ঐ রাত্রের কল্যাণ থেকে অন্য কেউ বঞ্চিত হয় না।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلَ رَمْضَانَ فقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنّ هذا الشَّهْرَ قد حَضَرَكمْ وفيه لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ ألْفِ شَهْرِ مَنْ حُرِمَها فقد حُرِمَ الخَيْرَ كُلّهُ ولا يُحْرَمُ خَيْرَها إلاّ مَحْرُومٌ

عن انس بن مالك قال دخل رمضان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان هذا الشهر قد حضركم وفيه ليلة خير من الف شهر من حرمها فقد حرم الخير كله ولا يحرم خيرها الا محروم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০৩০) আবু উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যহ ইফতারী করার সময় আল্লাহ বহু মানুষকেই দোযখ থেকে মুক্তিদান করে থাকেন।

عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتقاءُ

عن ابي امامة عن النبي ﷺ قال ان لله عز وجل عند كل فطر عتقاء

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের ফযীলত

(১০৩১) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই (রমযানের) দিবারাত্রে বরকতময় মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে বহু (দোযখ থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ (যাদেরকে তিনি মুক্ত করে থাকেন)। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রয়েছে প্রত্যহ দিবারাত্রে গ্রহণ (কবুল) যোগ্য দু’আ। (প্রার্থনা করলে মঞ্জুর হয়ে থাকে।)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالى عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ يَعْنِيْ فِيْ رَمَضَانَ وَإِنَّ لِكُلِّ مُسْلِمٍ دَعْوَةً مُسْتَجَابَةً

عن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لله تبارك وتعالى عتقاء في كل يوم وليلة يعني في رمضان وان لكل مسلم دعوة مستجابة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩২) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আযযা অজাল্ল বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য; তবে সিয়াম নয়, যেহেতু তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কারো সিয়ামের দিন হলে সে যেন অশ্লীল না বকে ও ঝগড়া-হৈচৈ না করে; পরন্তু যদি তাকে কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়তে চায় তবে সে যেন বলে, আমি সিয়াম রেখেছি, আমার সিয়াম আছে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুবাস অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধময়। রোযাদারের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী, যা সে লাভ করে; যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারী নিয়ে খুশী হয়। আর যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার সিয়াম নিয়ে খুশী হবে।

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِى وَأَنَا أَجْزِى بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلاَ يَسْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّى امْرُؤٌ صَائِمٌ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ وَإِذَا لَقِىَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ قال الله عز وجل كل عمل ابن ادم له الا الصيام فانه لى وانا اجزى به والصيام جنة فاذا كان يوم صوم احدكم فلا يرفث يومىذ ولا يسخب فان سابه احد او قاتله فليقل انى امرو صاىم والذى نفس محمد بيده لخلوف فم الصاىم اطيب عند الله يوم القيامة من ريح المسك وللصاىم فرحتان يفرحهما اذا افطر فرح بفطره واذا لقى ربه فرح بصومه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৩) সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতের এক প্রবেশদ্বার রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন ঐ দ্বার দিয়ে সিয়াম পালনকারী গণ প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউই ঐ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না। সিয়াম পালনকারী গণ প্রবিষ্ট হয়ে গেলে দ্বার রুদ্ধ করা হবে। ফলে সে দ্বার দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করবে না।

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ فِى الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ

عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ ان فى الجنة بابا يقال له الريان يدخل منه الصاىمون يوم القيامة لا يدخل معهم احد غيرهم يقال اين الصاىمون فيدخلون منه فاذا دخل اخرهم اغلق فلم يدخل منه احد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৪) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সিয়াম এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি ওকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং ওর ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। আর কুরআন বলবে, আমি ওকে রাত্রে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং ওর ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতএব ওদের উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ

عن عبد الله بن عمرو ان رسول الله ﷺ قال الصيام والقران يشفعان للعبد يوم القيامة يقول الصيام اي رب منعته الطعام والشهوات بالنهار فشفعني فيه ويقول القران منعته النوم بالليل فشفعني فيه قال فيشفعان

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৫) হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে হেলান দিয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে একদিন সিয়াম রাখার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় কিছু সাদকাহ করার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সেও জান্নাত প্রবেশ করবে।

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ أَسْنَدْتُ النَّبِيَّ ﷺ إِلَى صَدْرِي فَقَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ قَالَ حَسَنٌ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ

عن حذيفة قال اسندت النبي ﷺ الى صدري فقال من قال لا اله الا الله قال حسن ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৬) আবু উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কোন আমলের আদেশ করুন। তিনি বললেন, সিয়াম রাখ, কারণ এর কোন তুলনাই নেই। পুনরায় আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কোন আমলের আদেশ করুন। তিনিও পুনঃ ঐ কথাই বললেন, তুমি সিয়াম রাখ, কারণ এর কোন তুলনাই নেই।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ قَالَ: عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عَدْلَ لَهُ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مُرْنِي بِعَمَلٍ قَالَ: عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ

عن ابي امامة، قال: قلت: يا رسول الله مرني بعمل قال: عليك بالصوم فانه لا عدل له قلت: يا رسول الله مرني بعمل قال: عليك بالصوم فانه لا عدل له

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৭) আবু সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র সিয়াম রাখবে সেই বান্দাকে আল্লাহ ঐ সিয়ামের বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন।

عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِى سَبِيلِ اللهِ بَاعَدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا

عن ابى سعيد الخدرى رضى الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ يقول من صام يوما فى سبيل الله باعد الله وجهه عن النار سبعين خريفا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযীলত

(১০৩৮) আমর বিন আবাসাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র সিয়াম রাখবে, সেই ব্যক্তি থেকে জাহান্নাম ১০০ বছরের পথ পরিমাণ দূরে সরে যাবে।

عن عَمْرِو بنِ عَبَسَةَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ بَعُدَتْ مِنْهُ النَّارُ مَسِيرَةَ مِائَةِ عَامٍ

عن عمرو بن عبسة: قال رسول الله ﷺ من صام يوما في سبيل الله بعدت منه النار مسيرة ماىة عام

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবন আবাসা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের সিয়াম ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

মহান আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّھَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَﰆﺫ اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍﺚ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَﺚ وَعَلَی الَّذِیْنَ یُطِیْقُوْنَهٗ فِدْیَةٌ طَعَامُ مِسْكِیْنٍﺚ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا فَھُوَ خَیْرٌ لَّهٗﺚ وَاَنْ تَصُوْمُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَﰇ شَھْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ ھُدًی لِّلنَّاسِ وَبَیِّنٰتٍ مِّنَ الْھُدٰی وَالْفُرْقَانِﺆ فَمَنْ شَھِدَ مِنْكُمُ الشَّھْرَ فَلْیَصُمْهُﺚ وَمَنْ كَانَ مَرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَﺚ

অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের (সিয়ামের) বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযমশীল হতে পার। (সিয়াম) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যারা সিয়াম রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সিয়াম রাখতে চায় না (যারা সিয়াম রাখতে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। পরন্তু যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তোমরা সিয়াম রাখ, তাহলে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণপ্রসূ; যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার। রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে অবশ্যই সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ অথবা মুসাফির থাকে, তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। (সূরা বাক্বারাহ-০২:১৮৩- ১৮৫)


(১০৩৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই; কিন্তু রোযা স্বতন্ত্র, তা আমারই জন্য, আর আমিই তার প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ অতএব তোমাদের কেউ যেন সিয়ামের দিনে অশ্লীল না বলে এবং হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ তাকে গালি-গালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, ’আমি সিয়াম রেখেছি।’

সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে, নিঃসন্দেহে রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা বেশী উৎকৃষ্ট। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মূহূর্ত রয়েছে, তখন সে আনন্দিত হয়; (১) যখন সে ইফতার করে (ইফতারের জন্য সে আনন্দিত হয়)। আর (২) যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, স্বীয় সিয়ামের জন্য সে আনন্দিত হবে। (বুখারী ১৯০৪, মুসলিম ২৭৬২, এই শব্দগুলি বুখারীর)

বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, সে (সিয়াম পালনকারী) পানাহার ও যৌনাচার বর্জন করে একমাত্র আমারই জন্য। সিয়াম আমার জন্যই। আর আমি নিজে তার পুরস্কার দেব। আর প্রত্যেক নেকী দশগুণ বর্ধিত হয়। (বুখারী ১৮৯৪)

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎকর্ম কয়েকগুণ বর্ধিত করা হয়। একটি নেকী দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, কিন্তু রোযা ছাড়া। কেননা, তা আমার উদ্দেশ্যে (পালিত) হয়। আর আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। সে পানাহার ও কাম প্রবৃত্তি আমার (সন্তুষ্টি অর্জনের) উদ্দেশ্যেই বর্জন করে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে। একটি আনন্দ হল ইফতারের সময়, আর অপরটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকালে। আর নিশ্চয় তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَام فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَإِذَا كَانَ يَومُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ: إنِّي صَائِمٌ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوْفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ
وَفِيْ رِوَايَةٍ لمسلمكُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ اَلْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِئَةِ ضِعْفٍ قَالَ الله تَعَالَى: إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأنَا أَجْزِي بِهِ؛ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ

وعن ابي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ قال الله عز وجل : كل عمل ابن ادم له الا الصيام فانه لي وانا اجزي به والصيام جنة، فاذا كان يوم صوم احدكم فلا يرفث ولا يصخب فان سابه احد او قاتله فليقل: اني صاىم والذي نفس محمد بيده لخلوف فم الصاىم اطيب عند الله من ريح المسك للصاىم فرحتان وفي رواية لمسلمكل عمل ابن ادم يضاعف الحسنة بعشر امثالها الى سبعمىة ضعف قال الله تعالى: الا الصوم فانه لي وانا اجزي به؛ يدع شهوته وطعامه من اجلي للصاىم فرحتان: فرحة عند فطره وفرحة عند لقاء ربه ولخلوف فيه اطيب عند الله من ريح المسك

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের সিয়াম ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

(১০৪০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া বস্তু ব্যয় করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দাহ! এ দরজাটি উত্তম (এদিকে এস)। সুতরাং যে নামাযীদের দলভুক্ত হবে, তাকে নামাযের দরজা থেকে ডাক দেওয়া হবে। আর যে মুজাহিদদের দলভুক্ত হবে তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী দের দলভুক্ত হবে, তাকে ’রাইয়ান’ নামক দরজা থেকে আহবান করা হবে। আর দাতাকে দানের দরজা থেকে ডাকা হবে।

এ সব শুনে আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, যাকে ডাকা হবে, তার ঐ সকল দরজার তো কোন প্রয়োজন নেই। (কেননা মুখ্য উদ্দেশ্য হল, কোনভাবে জান্নাতে প্রবেশ করা।) কিন্তু এমন কেউ হবে কি, যাকে উক্ত সকল দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর আশা করি, তুমি তাদের দলভুক্ত হবে।

وَعَنْه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللهِ نُودِيَ مِنْ أَبْوَابِ الجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللهِ هَذَا خَيرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِقَالَ أَبُو بَكْرٍ بِأَبي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ مَا عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ مِنْ ضَرورةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الأَبوَابِ كُلِّهَا ؟ فَقَالَ نَعَمْ وَأَرْجُو أنْ تَكُونَ مِنْهُمْ متفقٌ عليه

وعنه : ان رسول الله ﷺ قال من انفق زوجين في سبيل الله نودي من ابواب الجنة يا عبد الله هذا خير فمن كان من اهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من اهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من اهل الصيام دعي من باب الريان ومن كان من اهل الصدقة دعي من باب الصدقةقال ابو بكر بابي انت وامي يا رسول الله ما على من دعي من تلك الابواب من ضرورة فهل يدعى احد من تلك الابواب كلها ؟ فقال نعم وارجو ان تكون منهم متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের সিয়াম ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

(১০৪১) সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ’রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল সিয়াম পালনকারী গণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দণ্ডায়মান হবে। (এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে) তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

وَ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إنَّ في الجَنَّةِ بَاباً يُقَالُ لَهُ : الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَومَ القِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أحدٌ غَيْرُهُمْ يقال : أيْنَ الصَّائِمُونَ ؟ فَيَقُومُونَ لاَ يَدخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ متفقٌ عليه

و عن سهل بن سعد عن النبي ﷺ قال ان في الجنة بابا يقال له : الريان يدخل منه الصاىمون يوم القيامة لا يدخل منه احد غيرهم يقال : اين الصاىمون ؟ فيقومون لا يدخل منه احد غيرهم فاذا دخلوا اغلق فلم يدخل منه احد متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের সিয়াম ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

(১০৪২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (অর্থাৎ, জিহাদকালীন বা প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনকল্পে) একদিন সিয়াম রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন সিয়ামের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِي ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْماً فِي سَبِيلِ اللهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ اليَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفَاً متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي سعيد الخدري ﷺ قال : قال رسول الله ﷺ ما من عبد يصوم يوما في سبيل الله الا باعد الله بذلك اليوم وجهه عن النار سبعين خريفا متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযানের সিয়াম ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

(১০৪৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা ক’রে দেওয়া হয়।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ متفقٌ عليه

وعن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال من صام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ মাহে রমযানে অধিকাধিক সৎকর্ম ও দান খয়রাত করা তথা এর শেষ দশকে আরো বেশী সৎকর্ম করা প্রসঙ্গে

(১০৪৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত লোকের চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। আর মাহে রমযানে যখন জিবরীল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো বেশী বদান্যতা প্রদর্শন করতেন। জিবরীল মাহে রমযানের প্রত্যেক রজনীতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর কাছে কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অবশ্যই কল্যাণবহ মুক্ত বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْريلُ وَكَانَ جِبْرِيلُ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ القُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللهِ ﷺ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبرِيلُ أَجْوَدُ بِالخَيْرِ مِن الرِّيحِ المُرْسَلَةِ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال : كان رسول الله ﷺ اجود الناس وكان اجود ما يكون في رمضان حين يلقاه جبريل وكان جبريل يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القران، فلرسول الله ﷺ حين يلقاه جبريل اجود بالخير من الريح المرسلة متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ মাহে রমযানে অধিকাধিক সৎকর্ম ও দান খয়রাত করা তথা এর শেষ দশকে আরো বেশী সৎকর্ম করা প্রসঙ্গে

(১০৪৫) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রমযানের) শেষ দশক প্রবেশ করলে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং রাতে জাগতেন এবং পরিবার-পরিজনদেরকেও জাগাতেন। আর (ইবাদতের জন্য) কোমর বেঁধে নিতেন।

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ وَشَدَّ المِئْزَرَ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت : كان رسول الله ﷺ اذا دخل العشر احيا الليل وايقظ اهله وشد المىزر متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম পালনকারী নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে সিয়ামের পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে

(১০৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কারো সিয়ামের দিন হবে, সে যেন অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ না করে ও হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়াই ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে যে, আমি সিয়াম পালনকারী।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ : إنِّي صَائِمٌ متفقٌ عَلَيْهِ

عن ابي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ اذا كان يوم صوم احدكم فلا يرفث ولا يصخب فان سابه احد او قاتله فليقل : اني صاىم متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম পালনকারী নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে সিয়ামের পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে

(১০৪৭) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর আমল করা পরিহার না করল, তখন আল্লাহর কোন দরকার নেই যে, সে তার পানাহার ত্যাগ করুক।

وَعَنْهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ للهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُرواه البخاري

وعنه قال : قال النبي ﷺ من لم يدع قول الزور والعمل به فليس لله حاجة في ان يدع طعامه وشرابهرواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম পালনকারী নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে সিয়ামের পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে

(১০৪৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম নয়। সিয়াম তো অসার, বাজে ও অশ্লীল কথা থেকে বিরত থাকার নাম। যদি তোমাকে কেউ গালি দেয় অথবা তোমার সাথে কেউ মূর্খামি করে তবে তাকে বল, আমি সিয়াম রেখেছি। আমি সিয়াম রেখেছি।

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الأَكْلِ وَالشَّرْبِ فَقَطْ إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ فَإِنْ سَابَّكَ أَحَدٌ أَوْ جَهِلَ عَلَيْكَ فَقَلْ : إِنِّى صَائِمٌ إِنِّى صَائِمٌ

عن ابى هريرة قال قال رسول الله ﷺ ليس الصيام من الاكل والشرب فقط انما الصيام من اللغو والرفث فان سابك احد او جهل عليك فقل : انى صاىم انى صاىم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

(১০৪৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি ভুলবশতঃ কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলবে, তখন সে যেন তার সিয়াম (না ভেঙ্গে) পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإنَّمَا أطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ متفقٌ عليه

عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال اذا نسي احدكم فاكل او شرب فليتم صومه فانما اطعمه الله وسقاه متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

(১০৫০) লাক্বীত্ব ইবনে স্বাবেরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! ওযূ সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন, পূর্ণাঙ্গরূপে ওযূ কর। আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী জায়গাগুলো খিলাল কর। সজোরে নাকে পানি টেনে (নাক ঝাড়ো); তবে সিয়ামের অবস্থায় নয়। (অর্থাৎ সিয়ামের অবস্থায় বেশি জোরে নাকে পানি টানা চলবে না।)

وَعَنْ لَقِيطِ بنِ صَبِرَةَ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الوُضُوءِ ؟ قَالَ أَسْبِغِ الوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الاسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِماً رواه أَبُو داود والترمذي، وقَالَ حديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ

وعن لقيط بن صبرة قال : قلت : يا رسول الله اخبرني عن الوضوء ؟ قال اسبغ الوضوء وخلل بين الاصابع وبالغ في الاستنشاق الا ان تكون صاىما رواه ابو داود والترمذي، وقال حديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

(১০৫১) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কখনো কখনো) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভোর এভাবে হত যে, তিনি স্ত্রী-মিলন হেতু অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন। অতঃপর তিনি গোসল করতেন এবং সিয়াম করতেন।

وَعَنْ عَائِشَة وَأُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتَا: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُدْرِكُهُ الفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيَصُومُ رواه البخاري

وعن عاىشة وام سلمة رضي الله عنهما قالتا: كان رسول الله ﷺ يدركه الفجر وهو جنب من اهله، ثم يغتسل ويصوم رواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়াম সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

(১০৫২) আয়েশা ও উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনা স্বপ্নদোষে (স্ত্রী সহবাসজনিত) অপবিত্র অবস্থায় ভোর করতেন, তারপর সিয়াম পালন করতেন।

وَعَنْهُمَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتَا : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصْبِحُ جُنُباً مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ ثُمَّ يَصُومُ متفقٌ عَلَيْهِ

وعنهما رضي الله عنهما قالتا : كان رسول الله ﷺ يصبح جنبا من غير حلم ثم يصوم متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ চাঁদ দেখে সিয়াম

(১০৫৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখ এবং চাঁদ দেখে সিয়াম ছাড়। যদি (কালক্রমে) তোমাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় (এবং চাঁদ দেখতে না পাওয়া যায়), তাহলে শা’বান (মাসের) গুনতি ত্রিশ পূর্ণ করে নাও।

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন সিয়াম রাখ।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ ﷺ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤيَتِهِ، فَإِنْ غَبِيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاَثِينَ - متفقٌ عَلَيْهِ وهذا لفظ البخاري وَفِيْ رِوَايَةٍ لمسلمفَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلاَثِينَ يَوْماً

وعن ابي هريرة ﷺ ان رسول الله ﷺ قال صوموا لرويته، وافطروا لرويته، فان غبي عليكم فاكملوا عدة شعبان ثلاثين - متفق عليه وهذا لفظ البخاري وفي رواية لمسلمفان غم عليكم فصوموا ثلاثين يوما

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ চাঁদ দেখে সিয়াম

(১০৫৪) কুরাইব বলেন, একদা উম্মুল ফাযল বিনতুল হারেস আমাকে শাম দেশে মুআবিয়ার নিকট পাঠালেন। আমি শাম (সিরিয়া) পৌঁছে তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলাম। অতঃপর আমার শামে থাকা কালেই রমযান শুরু হল। (বৃহস্পতিবার দিবাগত) জুমআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষ দিকে মদীনায় এলাম। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) আমাকে চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা জুমআর রাত্রে দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি নিজে দেখেছ? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। আর লোকেরাও দেখে সিয়াম রেখেছে এবং মুআবিয়াও সিয়াম রেখেছেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, কিন্তু আমরা তো (শুক্রবার দিবাগত) শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব আমরা ৩০ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সিয়াম রাখতে থাকব। আমি বললাম, মুআবিয়ার দর্শন ও তাঁর সিয়ামের খবর কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ রকমই আদেশ দিয়েছেন।

عَنْ كُرَيْبٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِى آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِى عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهما - ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِى بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ

عن كريب ان ام الفضل بنت الحارث بعثته الى معاوية بالشام قال فقدمت الشام فقضيت حاجتها واستهل على رمضان وانا بالشام فرايت الهلال ليلة الجمعة ثم قدمت المدينة فى اخر الشهر فسالنى عبد الله بن عباس رضى الله عنهما - ثم ذكر الهلال فقال متى رايتم الهلال فقلت رايناه ليلة الجمعة فقال انت رايته فقلت نعم وراه الناس وصاموا وصام معاوية فقال لكنا رايناه ليلة السبت فلا نزال نصوم حتى نكمل ثلاثين او نراه فقلت اولا تكتفى بروية معاوية وصيامه فقال لا هكذا امرنا رسول الله ﷺ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কুরায়ব (রহ.)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ নতুন চাঁদ দেখলে যা বলতে হয়

(১০৫৫) ত্বালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দু’আ পড়তেন, আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি অলঈমা-নি অসসালা-মাতি অলইসলা-ম, রাব্বী অরাব্বুকাল্লা-হ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ঐ চাঁদকে আমাদের উপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। (হেদায়াত ও কল্যাণময় চাঁদ!)

عَن طَلحَةَ بنِ عُبَيدِ اللهِ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ إِذَا رَأَى الهلاَلَ قَالَ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالإيمانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالإسْلاَمِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُرواه الترمذي وقَالَ حَدِيْثٌ حسن

عن طلحة بن عبيد الله ان النبي ﷺ كان اذا راى الهلال قال اللهم اهله علينا بالامن والايمان والسلامة والاسلام ربي وربك اللهرواه الترمذي وقال حديث حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

(১০৫৬) আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সেহরী খাও। কেননা, সেহরীতে বরকত নিহিত আছে।

عَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَسَحَّرُوا ؛ فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً متفقٌ عليه

عن انس قال : قال رسول الله ﷺ تسحروا ؛ فان في السحور بركة متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

(১০৫৭) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ তাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করেন, যারা সেহরী খায়, আর ফিরিশতাবর্গও তাদের জন্য দু’আ করে থাকেন।

عَنِ ابنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتُهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ

عن ابن عمر قال : قال رسول الله ﷺ ان الله وملاىكته يصلون على المتسحرين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

(১০৫৮) আমর বিন আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সিয়াম ও কিতাবধারীদের (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের) সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, সেহরী খাওয়া।

وَعَنْ عَمرِو بنِ العَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وصِيَامِ أَهْلِ الكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ رواه مسلم

وعن عمرو بن العاص ان رسول الله ﷺ قال فصل ما بين صيامنا وصيام اهل الكتاب اكلة السحر رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

(১০৫৯) যায়েদ ইবনে সাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সেহরী খেয়েছি, অতঃপর নামাযে দাঁড়িয়েছি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ওই দুয়ের (নামায ও সেহরীর) মাঝখানে ব্যবধান কতক্ষণ ছিল? তিনি বললেন, (প্রায়) পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মত সময়।

وَعَنْ زَيدِ بنِ ثَابِتٍ قَالَ : تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ قِيلَ : كَمْ كَانَ بَينَهُمَا ؟ قَالَ : قَدْرُ خَمْسِينَ آيةً متفقٌ عَلَيْهِ

وعن زيد بن ثابت قال : تسحرنا مع رسول الله ﷺ ثم قمنا الى الصلاة قيل : كم كان بينهما ؟ قال : قدر خمسين اية متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

(১০৬০) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’জন মুআযযিন ছিলেন; বিলাল ও ইবনে উম্মে মাকতূম। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিলাল যখন রাতে আযান দেবে, তখন তোমরা পানাহার (সেহরী ভক্ষণ) কর; যতক্ষণ পর্যন্ত না ইবনে উম্মে মাকতূম আযান দেবে। (ইবনে উমার) বলেন, আর তাঁদের উভয়ের আযানের মাঝে এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, উনি নামতেন, আর ইনি চড়তেন।

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ مُؤَذِّنَانِ : بِلاَلٌ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ قَالَ : وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمَا إِلاَّ أَنْ يَنْزِلَ هَذَا وَيَرْقَى هَذَا متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: كان لرسول الله ﷺ موذنان : بلال وابن ام مكتوم فقال رسول الله ﷺ ان بلالا يوذن بليل فكلوا واشربوا حتى يوذن ابن ام مكتوم قال : ولم يكن بينهما الا ان ينزل هذا ويرقى هذا متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬১) সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত মুসলিমেরা শীঘ্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ متفقٌ عَلَيْهِ

عن سهل بن سعد ان رسول الله ﷺ قال لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দ্বীন ততকাল বিজয়ী থাকবে, যতকাল লোকেরা ইফতার করতে তাড়াতাড়ি করবে। কারণ, ইহুদী ও খ্রিষ্টানরা দেরী করে ইফতার করে।

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَّلَ النَّاسُ الْفِطْرَ لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ

عن ابى هريرة عن النبى ﷺ قال لا يزال الدين ظاهرا ما عجل الناس الفطر لان اليهود والنصارى يوخرون

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৩) আবূ আত্বিয়্যাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আয়েশা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাঁকে বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরদের মধ্যে দু’জন সহচর কল্যাণের ব্যাপারে আদৌ ত্রুটি করেন না। তাঁদের একজন মাগরিব ও ইফতার সত্বর সম্পাদন করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার দেরীতে সম্পাদন করেন। এ কথা শুনে আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কে মাগরিব ও ইফতার সত্বর করেন? তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)। তিনি বললেন, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।

وَعَنْ أَبي عطِيَّةَ قَالَ : دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا فَقَالَ لَهَا مَسْرُوق : رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ كِلاَهُمَا لاَ يَألُو عَنِ الخَيْرِ ؛ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ ؟ فَقَالَتْ : مَنْ يُعَجِّلُ المَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ ؟ قَالَ : عَبْدُ اللهِ - يعني : ابن مسعود - فَقَالَتْ : هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللهِ يَصْنَعُ رواه مسلم

وعن ابي عطية قال : دخلت انا ومسروق على عاىشة رضي الله عنها فقال لها مسروق : رجلان من اصحاب محمد ﷺ كلاهما لا يالو عن الخير ؛ احدهما يعجل المغرب والافطار والاخر يوخر المغرب والافطار ؟ فقالت : من يعجل المغرب والافطار ؟ قال : عبد الله - يعني : ابن مسعود - فقالت : هكذا كان رسول الله يصنع رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৪) উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে আগমন করবে এবং দিন এ (পশ্চিম) দিক থেকে প্রস্থান করবে এবং সূর্য ডুবে যাবে, তখন অবশ্যই সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে।

وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ مِنْ هَاهُنَا وَأَدْبَرَ النَّهَارُ مِنْ هَاهُنَا وَغَرَبَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَر الصَّائِمُ متفقٌ عليه

وعن عمر بن الخطاب قال: قال رسول الله ﷺ اذا اقبل الليل من هاهنا وادبر النهار من هاهنا وغربت الشمس فقد افطر الصاىم متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৫) আবূ ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্যে পথ চলছিলাম, তখন তিনি সিয়াম পালনকারী ছিলেন। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত গেল, তখন তিনি সফররত সঙ্গীদের একজনকে বললেন, হে অমুক! বাহন থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি আর একটু সন্ধ্যা করতেন (তাহলে ভাল হত।) তিনি বললেন, তুমি বাহন থেকে নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।

সে বলল, এখনো দিন হয়ে আছে। তিনি আবার বললেন, তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সে নেমে তাঁদের জন্য ছাতু গুলে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করলেন এবং বললেন, যখন তোমরা প্রত্যক্ষ করবে যে, রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে এসে পড়েছে, তখন অবশ্যই সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে। আর সেই সাথে তিনি পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন।

وَعَنْ أَبِي إِبرَاهِيمَ عَبدِ اللهِ بنِ أَبي أَوفَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ لِبَعْضِ القَوْمِ يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ لَوْ أَمْسَيْتَ ؟ قَالَ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا قَالَ : إِنَّ عَلَيْكَ نَهَاراً، قَالَ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا قَالَ : فَنَزَلَ فَجَدَحَ لَهُمْ فَشَرِبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هَاهُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَأشَارَ بِيَدِهِ قِبَلَ المَشْرِقِ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي ابراهيم عبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما قال : سرنا مع رسول الله ﷺ وهو صاىم فلما غربت الشمس قال لبعض القوم يا فلان انزل فاجدح لنا فقال : يا رسول الله لو امسيت ؟ قال انزل فاجدح لنا قال : ان عليك نهارا، قال انزل فاجدح لنا قال : فنزل فجدح لهم فشرب رسول الله ﷺ ثم قال اذا رايتم الليل قد اقبل من هاهنا فقد افطر الصاىم واشار بيده قبل المشرق متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৬) আবূ উমামা বাহেলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম; এমন সময় (স্বপ্নে) আমার নিকট দুই ব্যক্তি উপস্থিত হলেন। তাঁরা আমার উভয় বাহুর ঊর্ধ্বাংশে ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ের নিকট উপস্থিত করলেন এবং বললেন, আপনি এই পাহাড়ে চড়ুন। আমি বললাম, এ পাহাড়ে চড়তে আমি অক্ষম। তাঁরা বললেন, আমরা আপনার জন্য চড়া সহজ করে দেব। সুতরাং আমি চড়ে গেলাম। অবশেষে যখন পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছলাম তখন বেশ কিছু চিৎকার-ধ্বনি শুনতে পেলাম।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম এ চিৎকার-ধ্বনি কাদের? তাঁরা বললেন, এ হল জাহান্নামবাসীদের চীৎকার-ধ্বনি। পুনরায় তাঁরা আমাকে নিয়ে চলতে লাগলেন। হঠাৎ দেখলাম একদল লোক তাদের পায়ের গোড়ালির উপর মোটা শিরায় (বাঁধা অবস্থায়) লটকানো আছে, তাদের কেশগুলো কেটে ও ছিঁড়ে আছে এবং কশবেয়ে রক্তও ঝরছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললাম, ওরা কারা? তাঁরা বললেন, ওরা হল তারা; যারা সময় হওয়ার পূর্বে-পূর্বেই ইফতার করে নিত।

وَعَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ أَتَانِي رَجُلَانِ فَأَخَذَا بِضَبْعَيَّ فَأَتَيَا بِي جَبَلا وَعْرًا فَقَالَا : اصْعَدْ فَقُلْتُ : إِنِّي لَا أُطِيقُهُ فَقَالَا : إِنَّا سَنُسَهِّلُهُ لَكَ فَصَعِدْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي سَوَاءِ الْجَبَلِ إِذَا بِأَصْوَاتٍ شَدِيدَةٍ فَقُلْتُ : مَا هَذِهِ الْأَصْوَاتُ قَالُوا : هَذَا عُوَاءُ أَهْلِ النَّارِ ثُمَّ انْطَلَقَا بِي فَإِذَا أَنَا بِقَوْمٍ مُعَلَّقِينَ بِعَرَاقِيبِهِمْ مُشَقَّقَةٍ أَشْدَاقُهُمْ تَسِيلُ أَشْدَاقُهُمْ دَمًا فَقُلْتُ : مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَا : هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يُفْطِرُونَ قَبْلَ تَحِلَّةِ صَوْمِهِمْ

وعن ابي امامة الباهلي رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا انا ناىم اذ اتاني رجلان فاخذا بضبعي فاتيا بي جبلا وعرا فقالا : اصعد فقلت : اني لا اطيقه فقالا : انا سنسهله لك فصعدت حتى اذا كنت في سواء الجبل اذا باصوات شديدة فقلت : ما هذه الاصوات قالوا : هذا عواء اهل النار ثم انطلقا بي فاذا انا بقوم معلقين بعراقيبهم مشققة اشداقهم تسيل اشداقهم دما فقلت : من هولاء قالا : هولاء الذين يفطرون قبل تحلة صومهم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৭) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়ার আগে কতিপয় টাটকা পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি টাটকা পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর যোগে ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুরও না হত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّي عَلَى رُطَبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٌ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيْرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ رواه أَبُو داود والترمذي وقَالَ حديث حسن

وعن انس قال: كان رسول الله ﷺ يفطر قبل ان يصلي على رطبات فان لم تكن رطبات فتميرات فان لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء رواه ابو داود والترمذي وقال حديث حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৮) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন এই দু’আ বলতেন, যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল উরুক্বু অসাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লাহ।

অর্থাৎ, পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং ইন শাআল্লাহ সওয়াব সাব্যস্ত হল।

عَنِ ابنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُرواه أبو داود

عن ابن عمر قال كان رسول الله ﷺ اذا افطر قال ذهب الظما وابتلت العروق وثبت الاجر ان شاء اللهرواه ابو داود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৬৯) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি রুটি ও (যায়তুনের) তেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে পেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ভক্ষণ করে এই দু’আ পড়লেন,

উচ্চারণ আফত্বারা ইন্‌দাকুমুস স্বা-য়িমূন, অআকালা ত্বাআমাকুমুল আবরার, অস্বাল্লাত আলাইকুমুল মালাইকাহ।

অর্থাৎ, সিয়াম পালনকারীগণ তোমাদের নিকট ইফতার করল। সৎব্যক্তিগণ তোমাদের খাবার ভক্ষণ করল এবং ফিরিশতাগণ তোমাদের (ক্ষমার) জন্য দু’আ করলেন।

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ جَاءَ إِلَى سَعْدِ بنِ عُبَادَةَ فَجَاءَ بِخُبْزٍ وَزَيْتٍ فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الأَبرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ المَلاَئِكَةُ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

وعن انس ان النبي ﷺ جاء الى سعد بن عبادة فجاء بخبز وزيت فاكل ثم قال النبي ﷺ افطر عندكم الصاىمون واكل طعامكم الابرار وصلت عليكم الملاىكة رواه ابو داود باسناد صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু‘আ

(১০৭০) যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সিয়াম পালনকারী-কে ইফতার করাবে, সে (রোযাদারের) সমান নেকীর অধিকারী হবে। আর তাতে রোযাদারের নেকীর কিছুই কমবে না।

عَن زَيدِ بنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ فَطَّرَ صَائِماً كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أنَّهُ لاَ يُنْقَصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْءٌرواه الترمذي وقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ

عن زيد بن خالد الجهني عن النبي ﷺ قال من فطر صاىما كان له مثل اجره غير انه لا ينقص من اجر الصاىم شيءرواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সহবাসে সিয়াম নষ্ট করার কাফ্ফারা

(১০৭১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংসগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। তিনি বললেন, কোন্ জিনিস তোমাকে ধ্বংসগ্রস্ত ক’রে ফেলল? লোকটি বলল, আমি সিয়াম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ক’রে ফেলেছি। এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি একটি ক্রীতদাস মুক্ত করতে পারবে? লোকটি বলল, জী না। তিনি বললেন, তাহলে কি তুমি একটানা দুই মাস সিয়াম রাখতে পারবে? সে বলল, জী না। তিনি বললেন, তাহলে কি তুমি ষাট জন মিসকীনকে খাদ্যদান করতে পারবে? লোকটি বলল, জী না।

কিছুক্ষণ পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঝুড়ি খেজুর এনে বললেন, এগুলি নিয়ে দান করে দাও। লোকটি বলল, আমার চেয়ে বেশী গরীব মানুষকে হে আল্লাহর রসূল? আল্লাহর কসম! (মদীনার) দুই হার্রার মাঝে আমার পরিবার থেকে বেশী গরীব অন্য কোন পরিবার নেই! এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন এবং তাতে তাঁর ছেদক দাঁত দেখা গেল। অতঃপর বললেন, তোমার পরিবারকেই তা খেতে দাও!

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ هَلَكْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ وَمَا أَهْلَكَكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِى فِى رَمَضَانَ قَالَ هَلْ تَجِدُ مَا تُعْتِقُ رَقَبَةً قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَجِدُ مَا تُطْعِمُ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لاَ قَالَ ثُمَّ جَلَسَ فَأُتِىَ النَّبِىُّ ﷺ بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ تَصَدَّقْ بِهَذَا قَالَ أَفْقَرَ مِنَّا فَمَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنَّا فَضَحِكَ النَّبِىُّ ﷺ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال جاء رجل الى النبى ﷺ فقال هلكت يا رسول الله قال وما اهلكك قال وقعت على امراتى فى رمضان قال هل تجد ما تعتق رقبة قال لا قال فهل تستطيع ان تصوم شهرين متتابعين قال لا قال فهل تجد ما تطعم ستين مسكينا قال لا قال ثم جلس فاتى النبى ﷺ بعرق فيه تمر فقال تصدق بهذا قال افقر منا فما بين لابتيها اهل بيت احوج اليه منا فضحك النبى ﷺ حتى بدت انيابه ثم قال اذهب فاطعمه اهلك

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ কিয়ামে রমযান বা তারাবীহর স্বলাত মুস্তাহাব

(১০৭২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে (তারাবীহ পড়বে), তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ متفقٌ عَلَيْهِ

عن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال من قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ কিয়ামে রমযান বা তারাবীহর স্বলাত মুস্তাহাব

(১০৭৩) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামে রমযান (তারাবীহ) সম্পর্কে দৃঢ় আদেশ (ওয়াজেব) না করেই, তার প্রতি উৎসাহ দান করতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানে কিয়াম (তারাবীহর নামায আদায়) করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে।

وَعَنْه قَالَ : كَانَ رَسُول اللهِ ﷺ يُرَغِّبُ في قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أنْ يَأمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ، فيَقُوْلمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إيمَاناً وَاحْتِسَاباً غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِرواه مسلم

وعنه قال : كان رسول الله ﷺ يرغب في قيام رمضان من غير ان يامرهم فيه بعزيمة، فيقولمن قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبهرواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ কিয়ামে রমযান বা তারাবীহর স্বলাত মুস্তাহাব

(১০৭৪) আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান-অরমযান সকল সময়ে ১১ রাকআতের বেশী (রাতের) নামায পড়তেন না।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً

عن عاىشة قالت: ما كان رسول الله ﷺ يزيد في رمضان ولا في غيره على احدى عشرة ركعة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযান মাসে ই’তিকাফ সম্পর্কে

(১০৭৫) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন।

عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : كان رسول الله ﷺ يعتكف العشر الاواخر من رمضان

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযান মাসে ই’তিকাফ সম্পর্কে

(১০৭৬) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে মহান আল্লাহ তাঁকে মৃত্যুদান করা পর্যন্ত ই’তিকাফ করেছেন। তাঁর (তিরোধানের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ই’তিকাফ করেছেন।

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ تَعَالَى ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن عاىشة رضي الله عنها : ان النبي ﷺ كان يعتكف العشر الاواخر من رمضان حتى توفاه الله تعالى ثم اعتكف ازواجه من بعده متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ রমযান মাসে ই’তিকাফ সম্পর্কে

(১০৭৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমযান মাসের (শেষ) দশদিন ই’তিকাফ করতেন। তারপর যে বছরে তিনি দেহত্যাগ করেন, সে বছরে বিশ দিন ই’তিকাফ করেছিলেন।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ العَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْماً رواه البخاري

وعن ابي هريرة قال: كان النبي ﷺ يعتكف في كل رمضان عشرة ايام فلما كان العام الذي قبض فيه اعتكف عشرين يوما رواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَةِ الْقَدْرِ وَمَاۤ اَدْرٰىكَ مَا لَیْلَةُ الْقَدْرِ لَیْلَةُ الْقَدْرِﺃ خَیْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَھْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوْحُ فِیْھَا بِاِذْنِ رَبِّھِمْ مِنْ كُلِّ اَمْرٍ سَلٰمٌ ھِیَ حَتّٰی مَطْلَعِ الْفَجْرِ

অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমি এ (কুরআন) কে অবতীর্ণ করেছি মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিতে (শবেকদরে)। আর মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সম্বন্ধে তুমি কি জান? মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। ঐ রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময় সেই রাত্রি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা ক্বাদর) তিনি আরো বলেছেন,

حٰمٓ وَالْكِتٰبِ الْمُبِیْنِ اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَةٍ مُّبٰرَكَةٍ اِنَّا كُنَّا مُنْذِرِیْنَ فِیْھَا یُفْرَقُ كُلُّ اَمْرٍ حَكِیْمٍ اَمْرًا مِّنْ عِنْدِنَاﺕ اِنَّا كُنَّا مُرْسِلِیْنَ رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّكَ اِنَّهٗ ھُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ

অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি এ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় (আশিসপূত শবেক্বদর) রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার আদেশত্রুমে, আমি তো রসূল প্রেরণ করে থাকি। এ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণা; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা দুখান ৩)


(১০৭৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশা রেখে রমযানের সিয়াম রাখে, তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি শবেক্বদরে (ভাগ্যরজনী অথবা মহিয়সী রজনীতে) ঈমানসহ নেকীর আশায় কিয়াম করে (নামায পড়ে), তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال من صام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه ومن قام ليلة القدر ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৭৯) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবাকে স্বপ্নযোগে (রমযান মাসের) শেষ সাত রাতের মধ্যে শবেক্বদর দেখানো হল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি দেখছি যে, শেষ সাত রাতের ব্যাপারে তোমাদের স্বপ্নগুলি পরস্পরের মুতাবিক। সুতরাং যে ব্যক্তি শবেক্বদর অনুসন্ধানী হবে, সে যেন শেষ সাত রাতে তা অনুসন্ধান করে।

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ أُرُوا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي المَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ متفقٌ عليه

وعن ابن عمر رضي الله عنهما : ان رجالا من اصحاب النبي ﷺ اروا ليلة القدر في المنام في السبع الاواخر فقال رسول الله ﷺ ارى روياكم قد تواطات في السبع الاواخر فمن كان متحريها فليتحرها في السبع الاواخر متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৮০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিনে এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশকে শবেক্বদর অনুসন্ধান কর।

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُجَاوِرُ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، ويَقُوْلتَحرَّوا لَيْلَةَ القَدْرِ في العَشْرِ الأَوَاخرِ مِنْ رَمَضَانَ متفقٌ عليه

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت : كان رسول الله ﷺ يجاور في العشر الاواخر من رمضان، ويقولتحروا ليلة القدر في العشر الاواخر من رمضان متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৮১) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের শেষ দশকের বিজোড় (রাত)গুলিতে শবেক্বদর অনুসন্ধান কর।

وعنها رَضِيَ اللهُ عَنْهُا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوَتْرِ مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ رواه البخاري

وعنها رضي الله عنها : ان رسول الله ﷺ قال تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الاواخر من رمضان رواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৮২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কোমরে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন।

وَعَنْهَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ الأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ أَحْيَا اللَّيْلَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ المِئزَرَ -متفقٌ عَلَيْهِ

وعنها رضي الله عنها قالت : كان رسول الله ﷺ اذا دخل العشر الاواخر من رمضان احيا الليل وايقظ اهله، وجد وشد المىزر -متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৮৩) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আল্লাহর ইবাদতের জন্য রমযানের) শেষ দশকে যত মেহনত করতেন অন্য দিনগুলিতে তত মেহনত করতেন না।

وَعَنْهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِهِ

وعنها قالت : كان رسول الله ﷺ يجتهد فى العشر الاواخر ما لا يجتهد فى غيره

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক স‎ম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

(১০৮৪) উক্ত রাবী (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি (ভাগ্যক্রমে) শবেক্বদর জেনে নিই, তাহলে তাতে কোন্ (দু’আ) পড়ব? তিনি বললেন, এই দু’আ, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন (কারীমুন) তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, (মহানুভব) ক্ষমা ভালবাস। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।

وَعَنْهَا قَالَتْ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَيُّ لَيلَةٍ لَيْلَةُ القَدْرِ مَا أَقُوْلُ فِيهَا ؟ قَالَ قُولِي: اللَّهُمَّ إنَّكَ عَفُوٌ (كَرِيْمٌ) تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنّي

وعنها قالت : قلت : يا رسول الله ارايت ان علمت اي ليلة ليلة القدر ما اقول فيها ؟ قال قولي: اللهم انك عفو (كريم) تحب العفو فاعف عني

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের কাযা

(১০৮৫) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সিয়াম বাকী রেখে মারা যায়, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক সিয়াম রেখে দেবে।

عَنْ عَائِشَةَ - رَضِىَ اللهُ عَنْها - أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ

عن عاىشة - رضى الله عنها - ان رسول الله ﷺ قال من مات وعليه صيام صام عنه وليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের কাযা

(১০৮৬) আমরাহর মা রমযানের সিয়াম বাকী রেখে ইন্তেকাল করলে তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি? আয়েশা (রাঃ) বললেন, না। বরং তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা’ (প্রায় ১কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।

عَنْ عَمْرَةَ: أَنَّ أُمَّهَا مَاتَتْ وَعَلَيْهَا مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَتْ لِعَائِشَةَ: أَقْضِيْهِ عَنْهَا؟ قَالَتْ: لَا بَلْ تُصَدِّقِيْ عَنْهَا مَكَانَ كُلَّ يَوْمٍ نِصْفَ صَاعٍ عَلى كُلِّ مِسْكِيْنٍ

عن عمرة: ان امها ماتت وعليها من رمضان فقالت لعاىشة: اقضيه عنها؟ قالت: لا بل تصدقي عنها مكان كل يوم نصف صاع على كل مسكين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সিয়ামের কাযা

(১০৮৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর সিয়াম না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তার পক্ষ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তার কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের সিয়াম বাকী রেখে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক (বা ওয়ারেস) সিয়াম রাখবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا مَرِضَ الرَّجُلُ فِى رَمَضَانَ ثُمَّ مَاتَ وَلَمْ يَصُمْ أُطْعِمَ عَنْهُ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَإِنْ كَانَ عَلَيْهِ نَذْرٌ قَضَى عَنْهُ وَلِيُّهُ

عن ابن عباس قال اذا مرض الرجل فى رمضان ثم مات ولم يصم اطعم عنه ولم يكن عليه قضاء وان كان عليه نذر قضى عنه وليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শওয়াল মাসের ছ’দিন সিয়াম পালনের ফযীলত

(১০৮৮) আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের সিয়াম পালনের পর শওয়াল মাসের ছয়দিন সিয়াম রাখল, সে যেন সারা বছর সিয়াম রাখল।

عَن أَبي أَيُّوبَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتّاً مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ

عن ابي ايوب ان رسول الله ﷺ قال من صام رمضان ثم اتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১০৮৯) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোমবার দিনে সিয়াম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ওটি এমন একটি দিন, যেদিন আমার জন্ম হয়েছে, যেদিন আমি (নবীরূপে) প্রেরিত হয়েছি অথবা ঐ দিনে আমার প্রতি (সর্বপ্রথম) ’অহী’ অবতীর্ণ করা হয়েছে।

عَنْ أَبي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ سُئِلَ عَنْ صَومِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ ذَلِكَ يَومٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَومٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِرواه مسلم

عن ابي قتادة ان رسول الله ﷺ سىل عن صوم يوم الاثنين فقال ذلك يوم ولدت فيه ويوم بعثت او انزل علي فيهرواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১০৯০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মানুষের) আমলসমূহ সোম ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। তাই আমি ভালবাসি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি সিয়ামের অবস্থায় থাকি।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَومَ الاِثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأنَا صَائِمٌرواه الترمذي وقالحديث حسن

وعن ابي هريرة عن رسول الله ﷺ قال تعرض الاعمال يوم الاثنين والخميس فاحب ان يعرض عملي وانا صاىمرواه الترمذي وقالحديث حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১০৯১) উক্ত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবারে (মানুষের) সকল আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হয়। আর (ঐ উভয় দিনে) আল্লাহ আযযা অজাল্ল প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে মার্জনা করে দেন যে কোন কিছুকে তাঁর অংশী স্থাপন করে না। তবে সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না যার নিজ ভাইয়ের সাথে বিদ্বেষ থাকে; এই দুই ব্যক্তির জন্য (ফিরিশতার উদ্দেশ্যে) তিনি বলেন, উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও। উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও।

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ تُعْرَضُ أَعْمَالُ النَّاسِ فِى كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ إِلاَّ عَبْدًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ اتْرُكُوا أَوِ ارْكُوا - هَذَيْنِ حَتَّى يَفِيئَا

عن ابى هريرة عن رسول الله ﷺ قال تعرض اعمال الناس فى كل جمعة مرتين يوم الاثنين ويوم الخميس فيغفر لكل عبد مومن الا عبدا بينه وبين اخيه شحناء فيقال اتركوا او اركوا - هذين حتى يفيىا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১০৯২) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবারে সিয়াম রাখার জন্য সমধিক সচেষ্ট থাকতেন।

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَت: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَحَرَّى صَومَ الاِثْنَيْنِ وَالخَمِيس رواه الترمذي وقَالَ حَدِيْثٌ حسن

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يتحرى صوم الاثنين والخميس رواه الترمذي وقال حديث حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

প্রতি মাসে শুরু পক্ষের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে সিয়াম পালন করা উত্তম। অন্য মতে ১২, ১৩, ও ১৪ তারীখে। প্রথমোক্ত মতটিই প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ।


(১০৯৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন; প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করা। চাশতের দু’ রাকআত নামায আদায় করা এবং নিদ্রা যাবার পূর্বে বিতর নামায পড়া।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : أَوْصَانِي خَلِيلِي ﷺ بِثَلاَثٍ : صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَي الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أنَامَ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي هريرة قال : اوصاني خليلي ﷺ بثلاث : صيام ثلاثة ايام من كل شهر وركعتي الضحى وان اوتر قبل ان انام متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৪) আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না; প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করা, চাশতের নামায পড়া এবং বিতর না পড়ে নিদ্রা না যাওয়া।

وَعَنْ أَبي الدَّردَاءِ قَالَ : أَوصَانِي حَبِيبِي ﷺ بِثَلاَثٍ لَنْ أَدَعَهُنَّ مَا عِشْتُ : بِصِيَامِ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَصَلاَةِ الضُّحَى وَبِأَنْ لاَ أَنَامَ حَتَّى أُوْتِرَ رواه مسلم

وعن ابي الدرداء قال : اوصاني حبيبي ﷺ بثلاث لن ادعهن ما عشت : بصيام ثلاثة ايام من كل شهر وصلاة الضحى وبان لا انام حتى اوتر رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৫) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা, সারা বছর ধরে সিয়াম রাখার সমান।

وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَوْمُ ثَلاَثَةِ أيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ متفقٌ عليه

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ صوم ثلاثة ايام من كل شهر صوم الدهر كله متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৬) মুআযাহ আদাবিয়্যাহ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, মাসের কোন্ কোন্ দিনে সিয়াম রাখতেন? তিনি বললেন, মাসের যে কোন দিনে সিয়াম রাখতে তিনি পরোয়া করতেন না।

وَعَنْ مُعَاذَةَ العَدَوِيَّةِ : أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا : أَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثة أيَّامٍ ؟ قَالَت : نَعَمْ فقلتُ : مِنْ أيِّ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ ؟ قَالَت : لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أيِّ الشَّهْرِ يَصُومُ

وعن معاذة العدوية : انها سالت عاىشة رضي الله عنها : اكان رسول الله ﷺ يصوم من كل شهر ثلاثة ايام ؟ قالت : نعم فقلت : من اي الشهر كان يصوم ؟ قالت : لم يكن يبالي من اي الشهر يصوم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৭) আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক মাসে (নফল) সিয়াম পালন করলে (শুক্লপক্ষের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে পালন করো।

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثاً، فَصُمْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَرواه الترمذي وقَالَ حَدِيْثٌ حسن

وعن ابي ذر قال : قال رسول الله ﷺ اذا صمت من الشهر ثلاثا، فصم ثلاث عشرة، واربع عشرة وخمس عشرةرواه الترمذي وقال حديث حسن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৮) ক্বাতাদাহ ইবনে মিলহান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শুক্লপক্ষের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে সিয়াম রাখার জন্য আদেশ করতেন।

وَعَنْ قَتَادَةَ بنِ مِلْحَانَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ -رواه أَبُو داود

وعن قتادة بن ملحان قال : كان رسول الله ﷺ يامرنا ان نصوم البيض ثلاث عشرة واربع عشرة وخمس عشرة -رواه ابو داود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১০৯৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ও সফরে কোথাও শুক্লপক্ষের (তিন) দিনের সিয়াম ছাড়তেন না।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يُفْطِرُ أَيَّامَ البِيضِ فِي حَضَرٍ وَلاَ سَفَرٍ رواه النسائي بإسنادٍ حسن

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال : كان رسول الله ﷺ لا يفطر ايام البيض في حضر ولا سفر رواه النساىي باسناد حسن

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১১০০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্যের (রমযান) মাসে সিয়াম আর প্রত্যেক মাসের তিনটি সিয়াম অন্তরের বিদ্বেষ ও খটকা দূর করে দেয়।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْمُ شَهْرِ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يُذْهِبْنَ وَحَرَ الصَّدْرِ

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صوم شهر الصبر وثلاثة ايام من كل شهر يذهبن وحر الصدر

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা মুস্তাহাব

(১১০১) আবূ যার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে ৩টি করে সিয়াম রাখবে, তার সারা বছর সিয়াম রাখা হবে। আল্লাহ আযযা অজাল্ল এর সত্যায়ন অবতীর্ণ করে বলেন, কেউ কোন ভাল কাজ করলে, সে তার ১০ গুণ প্রতিদান পাবে। (সূরা আনআম ১৬০) এক দিন ১০ দিনের সমান।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم من صَامَ من كل شهر ثَلَاثَة أَيَّام فَذَلِك صِيَام الدَّهْر فَأنْزل الله تَصْدِيق ذَلِك فِي كِتَابه : من جَاءَ بِالْحَسَنَة فَلهُ عشر أَمْثَالهَا : الْيَوْم بِعشْرَة أَيَّام

عن ابي ذر قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم من صام من كل شهر ثلاثة ايام فذلك صيام الدهر فانزل الله تصديق ذلك في كتابه : من جاء بالحسنة فله عشر امثالها : اليوم بعشرة ايام

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০২) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার দিনে রাযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গোনাহ মোচন করে দেয়।

وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ صَومِ يَوْمِ عَرَفَةَ قَالَيُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ وَالبَاقِيَةَ رواه مسلم

وعن ابي قتادة قال : سىل رسول الله ﷺ عن صوم يوم عرفة قاليكفر السنة الماضية والباقية رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৩) সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আরাফার দিন সিয়াম রাখে তার উপর্যুপরি দুই বৎসরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ ذَنْبُ سَنَتَيْنِ مُتَتابِعَتَيْنِ

عن سهل بن سعد، قال: قال رسول الله ﷺ من صام يوم عرفة غفر له ذنب سنتين متتابعتين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহে রমযানের পর সর্বোত্তম সিয়াম, আল্লাহর মাস মুহার্রাম। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ : شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعدَ الفَرِيضَةِ : صَلاَةُ اللَّيْلِ رواه مسلم

وعن ابي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ افضل الصيام بعد رمضان : شهر الله المحرم وافضل الصلاة بعد الفريضة : صلاة الليل رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার (মুহার্রম মাসের দশম) দিনে স্বয়ং সিয়াম রেখেছেন এবং ঐ দিনে সিয়াম রাখতে আদেশ করেছেন।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ صَامَ يَومَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيامِهِ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما: ان رسول الله ﷺ صام يوم عاشوراء وامر بصيامه متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৬) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় এলেন, তখন দেখলেন, ইয়াহুদীরা আশূরার দিনে সিয়াম পালন করছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কী এমন দিন যে, তোমরা এ দিনে সিয়াম রাখছ? ইয়াহুদীরা বলল, এ এক উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রু থেকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন। তাই মূসা এরই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে এই দিনে সিয়াম পালন করেছিলেন। (আর সেই জন্যই আমরাও এ দিনে সিয়াম রেখে থাকি।) এ কথা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসার স্মৃতি পালন করার ব্যাপারে তোমাদের চাইতে আমি অধিক হকদার। সুতরাং তিনি ঐ দিনে সিয়াম রাখলেন এবং সকলকে সিয়াম রাখতে আদেশ দিলেন।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهما أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِى تَصُومُونَهُ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ

عن ابن عباس رضى الله عنهما ان رسول الله ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء فقال لهم رسول الله ﷺ ما هذا اليوم الذى تصومونه فقالوا هذا يوم عظيم انجى الله فيه موسى وقومه وغرق فرعون وقومه فصامه موسى شكرا فنحن نصومه فقال رسول الله ﷺ فنحن احق واولى بموسى منكم فصامه رسول الله ﷺ وامر بصيامه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের সিয়ামের পর আশুরার দিন ছাড়া কোন দিনকে অন্য দিন অপেক্ষা মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করতেন না।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَكُنْ يَتَوَخَّى فَضْلَ يَوْمٍ عَلَى يَوْمٍ بَعْدَ رَمَضَانَ إِلا يَوْمَ عَاشُورَاءَ

عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما، ان النبي ﷺ لم يكن يتوخى فضل يوم على يوم بعد رمضان الا يوم عاشوراء

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৮) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আশূরার দিনে সিয়াম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তা বিগত এক বছরের গুনাহ মোচন করে দেয়।

وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ سُئِلَ عَنْ صِيامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ، فَقَالَ يُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ

وعن ابي قتادة ان رسول الله ﷺ سىل عن صيام يوم عاشوراء، فقال يكفر السنة الماضية

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১০৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আগামী বছর যদি আমি বেঁচে থাকি, তাহলে মুহার্রম মাসের নবম তারীখে অবশ্যই সিয়াম রাখব। (অর্থাৎ, নবম ও দশম দু’দিন ব্যাপী সিয়াম রাখব।)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لأَصُومَنَّ التَّاسِعَ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ لىن بقيت الى قابل لاصومن التاسع

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১১০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশূরার সিয়াম রাখলেন এবং সকলকে রাখার আদেশ দিলেন, তখন লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ দিনটিকে তো ইয়াহুদ ও নাসারারা তা’যীম করে থাকে। তিনি বললেন, তাহলে আমরা আগামী বছরে ৯ তারীখেও সিয়াম রাখব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হয়ে গেল।

عَنِ ابْنِ عَبَّاس قَالَ: حِينَ صَامَ النَّبِىُّ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَنَا بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّىَ رَسُولُ اللهِ ﷺ

عن ابن عباس قال: حين صام النبى ﷺ يوم عاشوراء وامرنا بصيامه قالوا يا رسول الله انه يوم تعظمه اليهود والنصارى فقال رسول الله ﷺ فاذا كان العام المقبل صمنا يوم التاسع فلم يات العام المقبل حتى توفى رسول الله ﷺ

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১১১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা ৯ ও ১০ তারীখে সিয়াম রাখ এবং ইয়াহুদীদের বৈপরীত্য কর।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ

عن ابن عباس قال: صوموا التاسع والعاشر وخالفوا اليهود

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১১২) রুবাইয়ে’ বিনতে মুআউবিয বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার সকালে মদীনার আশেপাশে আনসারদের বস্তিতে বস্তিতে খবর পাঠিয়ে দিলেন যে, যে সিয়াম অবস্থায় সকাল করেছে, সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সিয়াম না রাখা অবস্থায় সকাল করেছে সেও যেন তার বাকী দিন পূর্ণ করে নেয়।

রুবাইয়ে’ বলেন, আমরা তার পর হতে ঐ সিয়াম রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকেও রাখাতাম। তাদের জন্য তুলোর খেলনা তৈরী করতাম এবং তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ খাবারের জন্য কাঁদতে শুরু করলে তাকে ঐ খেলনা দিতাম। আর এইভাবে ইফতারের সময় এসে পৌঁছত।

عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ قَالَتْ أَرْسَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قُرَى الأَنْصَارِ الَّتِى حَوْلَ الْمَدِينَةِ مَنْ كَانَ أَصْبَحَ صَائِمًا فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ وَمَنْ كَانَ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ فَكُنَّا بَعْدَ ذَلِكَ نَصُومُهُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا الصِّغَارَ مِنْهُمْ إِنْ شَاءَ اللهُ وَنَذْهَبُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهَا إِيَّاهُ عِنْدَ الإِفْطَارِ

عن الربيع بنت معوذ بن عفراء قالت ارسل رسول الله ﷺ غداة عاشوراء الى قرى الانصار التى حول المدينة من كان اصبح صاىما فليتم صومه ومن كان اصبح مفطرا فليتم بقية يومه فكنا بعد ذلك نصومه ونصوم صبياننا الصغار منهم ان شاء الله ونذهب الى المسجد فنجعل لهم اللعبة من العهن فاذا بكى احدهم على الطعام اعطيناها اياه عند الافطار

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১১৩) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’কুরাইশরা জাহেলিয়াতের যুগে আশূরার সিয়াম পালন করত। আর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও জাহেলিয়াতে ঐ সিয়াম রাখতেন। (ঐ দিন ছিল কাবায় গিলাফ চড়াবার দিন।) অতঃপর তিনি যখন মদীনায় এলেন, তখনও তিনি ঐ সিয়াম রাখলেন এবং সকলকে রাখতে আদেশ দিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল, তখন আশূরার সিয়াম ছেড়ে দিলেন। তখন অবস্থা এই হল যে, যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে এবং যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে না।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْها قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُهُ فَلَمَّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قَالَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ

عن عاىشة رضى الله عنها قالت كانت قريش تصوم عاشوراء فى الجاهلية وكان رسول الله ﷺ يصومه فلما هاجر الى المدينة صامه وامر بصيامه فلما فرض شهر رمضان قال من شاء صامه ومن شاء تركه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ আরাফা ও আশুরার সিয়াম রাখার ফযীলত

(১১১৪) মুআবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজকে আশূরার দিন; এর সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেননি। তবে আমি সিয়াম রেখেছি। সুতরাং যার ইচ্ছা সে সিয়াম রাখবে, যার ইচ্ছা সে রাখবে না।

مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِى سُفْيَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ وَلَمْ يَكْتُبِ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُفْطِرَ فَلْيُفْطِرْ

معاوية بن ابى سفيان قال قال رسول الله ﷺ هذا يوم عاشوراء ولم يكتب الله عليكم صيامه وانا صاىم فمن احب منكم ان يصوم فليصم ومن احب ان يفطر فليفطر

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শা’বানের সিয়াম

(১১১৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ সিয়াম রাখতে দেখিনি। আর শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে সিয়াম রাখতে দেখিনি।

عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ

عن عاىشة رضي الله عنها قالت : ما رايت رسول الله ﷺ استكمل صيام شهر الا رمضان وما رايته اكثر صياما منه في شعبان

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শা’বানের সিয়াম

(১১১৬) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাস চাইতে বেশি নফল সিয়াম অন্য কোন মাসে রাখতেন না। নিঃসন্দেহে তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, অল্প কিছুদিন ছাড়া তিনি পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম রাখতেন।

عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ يَصُومُ مِنْ شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ وَفِيْ رِوَايَةٍ : كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً متفقٌ عَلَيْهِ

عن عاىشة رضي الله عنها قالت : لم يكن النبي ﷺ يصوم من شهر اكثر من شعبان فانه كان يصوم شعبان كله وفي رواية : كان يصوم شعبان الا قليلا متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ শা’বানের সিয়াম

(১১১৭) উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শা’বান মাসে যত সিয়াম রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কী)? উত্তরে তিনি বললেন, এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, সিয়াম রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক।

عن أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ : قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ، قَالَ ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِى وَأَنَا صَائِمٌ

عن اسامة بن زيد : قال: قلت يا رسول الله لم ارك تصوم شهرا من الشهور ما تصوم من شعبان، قال ذلك شهر يغفل الناس عنه بين رجب ورمضان وهو شهر ترفع فيه الاعمال الى رب العالمين فاحب ان يرفع عملى وانا صاىم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে সিয়াম রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার সিয়াম পূর্বের সিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে

(১১১৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন রমযান মাসের এক বা দু’দিন আগে (শা’বানের শেষে) সিয়াম পালন শুরু না করে। অবশ্য সেই ব্যক্তি সিয়াম রাখতে পারে, যে ঐ দিনে সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُم رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَومَهُ فَليَصُمْ ذَلِكَ اليَوْمَ متفقٌ عليه

عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال لا يتقدمن احدكم رمضان بصوم يوم او يومين الا ان يكون رجل كان يصوم صومه فليصم ذلك اليوم متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে সিয়াম রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার সিয়াম পূর্বের সিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে

(১১১৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রমযানের পূর্বে সিয়াম রেখো না। তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখ এবং চাঁদ দেখে সিয়াম ছাড়। আর যদি তার সামনে কোন মেঘ আড়াল করে, তবে (মাসের) ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمضَانَ صُومُوا لِرُؤيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤيَتِهِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلاثِينَ يَوْماًرواه الترمذي وقالحديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ لا تصوموا قبل رمضان صوموا لرويته وافطروا لرويته فان حالت دونه غياية فاكملوا ثلاثين يومارواه الترمذي وقالحديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে সিয়াম রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার সিয়াম পূর্বের সিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে

(১১২০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন শা’বান মাসের অর্ধেক বাকী থাকবে, তখন তোমরা সিয়াম রাখবে না।

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا بَقِيَ نِصْفٌ مِنْ شَعْبَانَ فَلاَ تَصُومُوا رواه الترمذي وقالحديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ اذا بقي نصف من شعبان فلا تصوموا رواه الترمذي وقالحديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে সিয়াম রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার সিয়াম পূর্বের সিয়ামের সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে

(১১২১) আবুল ইয়াক্বাযান আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে সিয়াম রাখল, সে অবশ্যই আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাফরমানী করল।

وَعَنْ أَبي اليَقَظَانِ عَمَّارِ بن يَاسِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : مَنْ صَامَ اليَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا القَاسِمِ ﷺ رواه أَبُو داود والترمذي وقالحديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ

وعن ابي اليقظان عمار بن ياسر رضي الله عنهما قال : من صام اليوم الذي يشك فيه فقد عصى ابا القاسم ﷺ رواه ابو داود والترمذي وقالحديث حسن صحيح

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ দাঊদী সিয়াম

(১১২২) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সিয়াম হল দাঊদ (আঃ)-এর রোযা। আর আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় নামায হল দাঊদ (আঃ)-এর নামায। তিনি অর্ধ রাত্রি ঘুমাতেন। অতঃপর তৃতীয় প্রহরে নামায পড়ে পুনরায় ষষ্ঠভাগে ঘুমাতেন, আর তিনি একদিন পানাহার করতেন ও পরদিন সিয়াম রাখতেন।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَحَبَّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَأَحَبَّ الصَّلاَةِ إِلَى اللهِ صَلاَةُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنهما - قال قال رسول الله ﷺ ان احب الصيام الى الله صيام داود واحب الصلاة الى الله صلاة داود عليه السلام كان ينام نصف الليل ويقوم ثلثه وينام سدسه وكان يصوم يوما ويفطر يوما

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সওমে বিসাল, অর্থাৎ একাদিক্রমে দুই বা ততোধিক দিন ধরে বিনা পানাহারে সিয়াম রাখা হারাম

(১১২৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ نَهَى عَنِ الوِصَالِ متفق عَلَيْهِ

عن ابي هريرة وعاىشة رضي الله عنهما : ان النبي ﷺ نهى عن الوصال متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সওমে বিসাল, অর্থাৎ একাদিক্রমে দুই বা ততোধিক দিন ধরে বিনা পানাহারে সিয়াম রাখা হারাম

(১১২৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল রাখতে নিষেধ করলেন। লোকেরা নিবেদন করল, আপনি তো সওমে বিসাল রাখেন? তিনি বললেন, (এ বিষয়ে) আমি তোমাদের মতো নই। আমাকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) পানাহার করানো হয়।

*(অর্থাৎ, এ ব্যাপারে আমি তোমাদের মতো নই। এতে যে কষ্ট তোমরা পাবে, আমি পাব না। কারণ মহান আল্লাহ আমাকে পানাহার করান। সুতরাং এ সিয়াম আল্লাহর রসূলের জন্য নির্দিষ্ট, অন্যের জন্য তা বৈধ নয়।)

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنِ الوِصَالِ قَالُوا : إِنَّكَ تُوَاصِلُ ؟ قَالَإِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى متفق عَلَيْهِ وهذا لفظ البخاري

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : نهى رسول الله ﷺ عن الوصال قالوا : انك تواصل ؟ قالاني لست مثلكم اني اطعم واسقى متفق عليه وهذا لفظ البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ সওমে বিসাল, অর্থাৎ একাদিক্রমে দুই বা ততোধিক দিন ধরে বিনা পানাহারে সিয়াম রাখা হারাম

(১১২৫) আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সমস্ত দিনগুলি সিয়াম রাখে, তার প্রতি জাহান্নামকে এত সংকীর্ণ করা হয়, পরিশেষে তা এতটুকু হয়ে যায়। আর এ কথা বলার সাথে সাথে তিনি তাঁর হাতের মুঠোকে বন্ধ করলেন।

عَن أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَامَ الدَّهْرَ ضُيِّقَتْ عَلَيْهِ جَهَنَّمُ هَكَذَا وَقَبَضَ كَفَّهُ

عن ابي موسى عن النبي ﷺ قال من صام الدهر ضيقت عليه جهنم هكذا وقبض كفه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ স্বামীর বর্তমানে স্ত্রীর সিয়াম

(১১২৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা যেন স্বামীর বর্তমানে তার বিনা অনুমতিতে রমযানের সিয়াম ছাড়া একটি দিনও সিয়াম না রাখে।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قال وَلَا تَصُومُ امْرَأَةٌ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ يَوْمًا غَيْرَ رَمَضَانَ إِلَّا بِإِذْنِهِ

عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال ولا تصوم امراة وزوجها شاهد يوما غير رمضان الا باذنه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম

পরিচ্ছেদঃ স্বামীর বর্তমানে স্ত্রীর সিয়াম

(১১২৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলার জন্য এ হালাল নয় যে, তার স্বামী (ঘরে) উপস্থিত থাকাকালে তার বিনা অনুমতিকে সে (নফল) সিয়াম রাখে এবং তার বিনা অনুমতিতে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করতে কাউকে অনুমতি দেয়।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ

عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله ﷺ قال لا يحل للمراة ان تصوم وزوجها شاهد الا باذنه ولا تاذن في بيته الا باذنه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৮/ সিয়াম
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০২ পর্যন্ত, সর্বমোট ১০২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে