পরিচ্ছেদঃ ১. সালাতের ফযীলত সম্পর্কে
১২১৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের উপমা হলো তোমাদের কারোর (বাড়ির) দরজার সামনে দিয়ে প্রবাহিত সুমিষ্ট (পানির) নদীর মতো যাতে সেই ব্যক্তি প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ كَمَثَلِ نَهَرٍ جَارٍ عَذْبٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ
তাখরীজ: আবূ আওয়ানাহ ২/২১; ইবনু হিব্বান নং ১৭২৫; সহীহ মুসলিম ৬৬৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৯৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৫ এ।
এছাড়াও, বাইহাকী ৩/৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ১. সালাতের ফযীলত সম্পর্কে
১২১৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: “আচ্ছা, বলো তো দেখি, তোমাদের মধ্যকার কারো দরজার সামনে যদি একটি নদী থাকে আর সে ব্যক্তি পাঁচবার তাতে গোসল করে, তবে তোমরা কী বলো, তার (শরীরে) কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে কি? তারা বললো, কোনো ময়লাই থাকতে পারে না। তিনি বললেন: “এমনটি-ই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপমা, এগুলোর দ্বারা আল্লাহ পাপসমূহ মোচন করে দেন।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ مَاذَا تَقُولُونَ ذَلِكَ مُبْقِيًا مِنْ دَرَنِهِ قَالُوا لَا يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ قَالَ كَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫২৮; সহীহ মুসলিম ৬৬৭; বাইহাকী ৩/৬২-৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৬।
পরিচ্ছেদঃ ২. সালাতের ওয়াক্তসমূহ
১২১৭. মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনুল হাসান ইবনু আলী রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিমা বলেন: হাজ্জাজের শাসনামলে আমরা জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, কারণ, সে (হাজ্জাজ) বিলম্বে সালাত আদায় করতো। তখন জাবির রা: বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর সালাত আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে পড়তো; আর আসর সালাত আদায় করতেন আর তখনও সূর্য সজীব থাকতো কিংবা স্বচ্ছ-পরিষ্কার থাকতো; আর মাগরিবের সালাত সূর্য অস্ত যেতেই আদায় করতেন এবং ’ইশার সালাত কখনো সকাল সকাল আদায় করতেন, আবার কখনো দেরীতে আদায় করতেন। যখন লোকেরা সমবেত হতো, তখন তিনি সকাল সকাল আদায় করতেন, আবার যখন লোকেরা দেরীতে আসতো, তখন তিনিও বিলম্বে আদায় করতেন। আর সকালের (ফজরের) সালাত কথনো তারা অথবা তিনি ’গালাসে’ (রাতের শেষভাগের অন্ধকার অবস্থায়) আদায় করতেন।[1]
بَاب فِي مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فِي زَمَنِ الْحَجَّاجِ وَكَانَ يُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ جَابِرٌ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ وَهِيَ حَيَّةٌ أَوْ نَقِيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ حِينَ تَجِبُ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ رُبَّمَا عَجَّلَ وَرُبَّمَا أَخَّرَ إِذَا اجْتَمَعَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا تَأَخَّرُوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ رُبَّمَا كَانُوا أَوْ كَانَ يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬০; সহীহ মুসলিম ৬৪৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৮ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০২৯, ২০৪৮, ২১০৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ২. সালাতের ওয়াক্তসমূহ
১২১৮. ইবনু শিহাব (যুহুরী) রাহি. হতে বর্ণিত, একদিন উমার ইবনু আব্দুল আযীয রাহি. বিলম্বে সালাত আদায় করলেন। তখন উরওয়া ইবনুয যুবাইর রাহি. তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একদিন বিলম্বে সালাত আদায় করলে আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাকে বললেন: হে মুগীরাহ, এটা কি হলো? তুমি কি অবগত নও যে, (একদিন) জীবরীল আলাইহি সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অবতীর্ণ হয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করলেন। অতঃপর জীবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হয়েছি।
তখন উমার ইবনু আব্দুল আযীয উরওয়াহকে বললেন: হে উরওয়াহ, তুমি কী বর্ণনা করছো, তা ভালভাবে ভেবে দেখো। জীবরীল আলাইহিস সালাম কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন? উরওয়াহ বললেন, বাশীর ইবনু আবী মাসউদ তাঁর পিতা হতে এরূপই বর্ণনা করে থাকেন।উরওয়াহ বলেন: আয়িশা রা: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সূর্য (রশ্মি) তখনও তার হুজরার মধ্যে থাকতো। তবে তা উপরে দিকে উঠে যাওয়ার পূর্বেই।[1]
بَاب فِي مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ بِهَذَا أُمِرْتَ قَالَ اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ أَوَ أَنَّ جِبْرِيلَ أَقَامَ وَقْتَ الصَّلَاةِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ
তাখরীজ: মালিক, ওয়াকুতুস সালাত নং ১১; তার সূত্রে আহমাদ ৫/২৭৪; বুখারী ৫২১; মুসলিম ৬১০ (১৬৭); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৪৯, ১৪৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আযানের সূচনা
১২১৯. মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে (আবু মুহাম্মদ দারেমী বলেন: তখা মদীনায়) আগমণ করলেন, তখন সালাতের ওয়াক্ত হলে লোকেরা তাঁর নিকট কোনো আহ্বান ছাড়াই তার নিকট সালাতের জন্য একত্রিত হতো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মনস্থ করলেন যে, ইয়াহুদীরা যেমন শিঙ্গা বাজিয়ে তাদের সালাতের জন্য আহবান করে থাকে, তেমনি একটি শিঙ্গা নির্ধারণ করে দিবেন। তারপর তিনি তা অপছন্দ করলেন। তারপর তিনি একটি ঘন্টা বানানোর নির্দেশ দিলেন, ফলে তা বানানো হলো যাতে তা বাজানোর মাধ্যমে মুসলিমদেরকে সালাতের দিকে আহবান করা যায়। তারা যখন এমন অবস্থায় রয়েছে, তখন আল হারিস ইবনুল খাযরাজ -এর ভাই আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দি রব্বিহ (স্বপ্নে) দেখলেন। এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আগমণ করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, রাতে আমি বারবার স্বপ্নে দেখলাম যে, দু’টি সবুজ কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে ’নাকুস’ (শিঙ্গা) নিয়ে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি ’নাকুস’টি বিক্রি করবেন? সে বললো, আপনি এটি দিয়ে কী করবেন?
আমি বললাম, আমি এটি দিয়ে সালাতের জন্য (লোকদেরকে) আহ্বান করবো। তখন সে বললো, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম (বস্তু) বলে দেবো না? আমি বললাম: সেটা কি? তিনি বললেন, আপনি বলুন: ’আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ। হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
তারপর সামান্য সময় বিরতি দিয়ে সে তার (আযানের বাক্যগুলোর) অনুরূপ পূণরায় বললো, তবে সেগুলি বিজোড় বানিয়ে (একবার করে) বললো। তবে সে (শেষের দিকে এ বাক্যগুলিও) বললো: ’ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ ’ক্বাদ ক্বমাতিস সালাহ’, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।
যখন সে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো, তখন তিনি বললেন: “ইনশা আল্লাহ এটি সত্য স্বপ্ন। তাই তুমি উঠে বিলালের সাথে যাও, এবং একথাগুলি তাকে বলে দাও। কেননা, সে তোমার চেয়ে উচ্চ কন্ঠেস্বরের অধিকারী।” তখন বিলাল আযান দিতে আরম্ভ করলো। আর উমার ইবনু খাত্তাব আযান শুনতে পেলো। তখন সে তখন বাড়িতে ছিলো। ফলে তিনি (বাড়ি থেকে) বেরিয়ে তার ’ইযার’ (লুঙ্গি) ধরে টানতে টানতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে উপস্থিত হলেন এবং বলতে লাগলেন, ইয়া নবীয়্যাল্লাহ, যে মহান সত্ত্বা আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ! আমিও তার অনুরূপ (স্বপ্ন) দেখেছি, যা সে দেখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, ফলে এ বিষয়টি অধিকতর শক্তিশালী হলো।[1]
بَاب فِي بَدْءِ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ قَالَ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَدِمَهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي الْمَدِينَةَ إِنَّمَا يُجْتَمَعُ إِلَيْهِ بِالصَّلَاةِ لِحِينِ مَوَاقِيتِهَا بِغَيْرِ دَعْوَةٍ فَهَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَجْعَلَ بُوقًا كَبُوقِ الْيَهُودِ الَّذِينَ يَدْعُونَ بِهِ لِصَلَاتِهِمْ ثُمَّ كَرِهَهُ ثُمَّ أَمَرَ بِالنَّاقُوسِ فَنُحِتَ لِيُضْرَبَ بِهِ لِلْمُسْلِمِينَ إِلَى الصَّلَاةِ فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ رَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ أَخُو بَلْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ طَافَ بِيَ اللَّيْلَةَ طَائِفٌ مَرَّ بِي رَجُلٌ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِي يَدِهِ فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَتَبِيعُ هَذَا النَّاقُوسَ فَقَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِهِ قُلْتُ نَدْعُو بِهِ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ أَفَلَا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ قُلْتُ وَمَا هُوَ قَالَ تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ غَيْرَ كَثِيرٍ ثُمَّ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ وَجَعَلَهَا وِتْرًا إِلَّا أَنَّهُ قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَلَمَّا خُبِّرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقُمْ مَعَ بِلَالٍ فَأَلْقِهَا عَلَيْهِ فَإِنَّهُ أَنْدَى صَوْتًا مِنْكَ فَلَمَّا أَذَّنَ بِلَالٌ سَمِعَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَجُرُّ إِزَارَهُ وَهُوَ يَقُولُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا رَأَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلِلَّهِ الْحَمْدُ فَذَاكَ أَثْبَتُ
তাখরীজ: আমরা এটি তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৭ ((আহমদ ৪/৪৩; দারুকুতনী ১/৪১ নং ২৯; বাইহাকী ১/৩৯০-৩৯১, ৪১৫; আবু দাউদ ৪৯৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১/১৯৩ নং ৩৭১; তিরমিযী ১৮৯; ইবনু মাজাহ ৭০৬; আব্দুর রাযযাক ১/৪৬০ নং ১৭৮৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১৩১-১৩২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২/২৫৭; তিরমিযী, আল ইলাল গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল তথা বুখারীকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেন, আমার নিকট এ হাদীস সহীহ।- মুহহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মাওয়ারিদুয যাম’আন ২৮৭ নং হাদীসের টীকা হতে।- অনুবাদক))
এছাড়া বাইহাকী দালাইলুল নবুওয়াত ৭/১৭-১৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আযানের সূচনা
১২২০. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দি রব্বিহ তার পিতা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي بَدْءِ الْأَذَانِ
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنِيهِ سَلَمَةُ قَالَ حَدَّثَنِيهِ ابْنُ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَنِي هَذَا الْحَدِيثَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ عَنْ أَبِيهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: আগের এবং পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. আযানের সূচনা
১২২১. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আব্দি রব্বিহ বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’নাকুস’ (ঘন্টা) বানানোর নির্দেশ দিলেন.... ।’ অতঃপর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেন।[1]
بَاب فِي بَدْءِ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ قَالَ لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاقُوسِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: দেখুন, আগের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. ফজরের আযানের ওয়াক্ত সম্পর্কে
১২২২. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু’ হিসেবে (তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “বিলাল রাত থাকতেই আযান দেয়, কাজেই ইবনু উম্মু মাকতুম আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পারো।”[1]
بَاب فِي وَقْتِ أَذَانِ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ يَرْفَعُهُ قَالَ إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬১৭; সহীহ মুসলিম ১০৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫৪৩২, ৫৪৯২, ৫৫৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৬৯, ৩৪৭০, ৩৪৭১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬২৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪. ফজরের আযানের ওয়াক্ত সম্পর্কে
১২২৩. নাফিঈ’ হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে,[1]
এবং কাসিম রাহি. হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু’জন মুয়াযযিন ছিল: বিলাল ও ইবনু উম্মু মাকতুম। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বিলাল রাত থাকতেই আযান দেয়, কাজেই ইবনু উম্মু মাকতুম আযান না শোনা পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পারো।”[2]তারপর কাসিম বলেন, আর উভয়ের মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র এতটুকু যে একজন নামতেন এবং আরেকজন (আযান দিতে) উঠতেন।
بَاب فِي وَقْتِ أَذَانِ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُؤَذِّنَانِ بِلَالٌ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا أَذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَقَالَ الْقَاسِمُ وَمَا كَانَ بَيْنَهُمَا إِلَّا أَنْ يَنْزِلَ هَذَا وَيَرْقَى هَذَا
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬২২, ৬২৩; মুসলিম ১০৯২ (৩৮)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৭৩ ও মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৩৮৫ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৬৯, ৩৪৭০, ৩৪৭১ টীকাসহ।
পরিচ্ছেদঃ ৫. ফজরের আযানে ‘তাছবীব’ (‘আস সালাতু খইরুম মিন আন নাওম’ উচ্চারণ) করা
১২২৪. মুয়াযযিন হাফস ইবনু উমার ইবনু সা’দ হতে বর্ণিত, আর সা’দ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদের মুয়াযযিন। হাফস বলেন, আমার পরিবার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, (একদা) বিলাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফজরের সালাতের জন্য ডাকতে আসলেন। তখন সে বললো, তিনি তো ঘুমিয়ে আছেন। তারপর বিলাল অতি উচ্চ স্বরে এ বলে ডেকে উঠলেন: ’সালাতু খইরুম মিনান্নাওম’ (ঘুম হতে সালাত উত্তম)। তখন ফজরের আযানে এটি বজায় রাখা (অনুমোদিত) হলো।[1]
بَاب التَّثْوِيبِ فِي أَذَانِ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ فَارِسٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ بْنِ سَعْدٍ الْمُؤَذِّنِ أَنَّ سَعْدًا كَانَ يُؤَذِّنُ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَفْصٌ حَدَّثَنِي أَهْلِي أَنَّ بِلَالًا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْذِنُهُ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ فَقَالُوا إِنَّهُ نَائِمٌ فَنَادَى بِلَالٌ بِأَعْلَى صَوْتِهِ الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنْ النَّوْمِ فَأُقِرَّتْ فِي أَذَانِ صَلَاةِ الْفَجْرِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُقَالُ سَعْدٌ الْقَرَظُ
তাখরীজ: তাবারাণী, আল কাবীর ৬/৪০ নং ৫৪৪৯; ইবনু আবী আছিম, আল আহাদুল মাছানী নং ২২৫৫।
‘আস সালাতু খইরুম মিনান্নাওম’ বাক্যটি সহীহ, দেখুন, আবী মাহযুরা’র হাদীস সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৮২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৯ ও মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১/৪৭২-৪৭৫।
পরিচ্ছেদঃ ৬. আযান (এর বাক্য) হবে জোড়া জোড়া এবং ইকামত (এর বাক্যগুলি) হবে বিজোড় সংখ্যায়
১২২৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আযানের বাক্যগুলি দু’বার করে এবং ইকামতের বাক্যগুলি একবার করে বলা হতো। কিন্তু ইকামতের মধ্যে ’ক্বদ ক্বমাতিস সালাহ’ বলার সময় এ বাক্যটি দু’বার বলা হতো। আমরা যখন (মুয়াযযিনের) ইকামত শুনতাম, তখন আমাদের কেউ উযু করতে যেত, এরপর (সালাতের আদায় করতে) বের হতো।[1]
بَاب الْأَذَانُ مَثْنَى مَثْنَى وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ عَنْ مُسْلِمٍ أَبِي الْمُثَنَّى عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ كَانَ الْأَذَانُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثْنَى مَثْنَى وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ فَإِذَا سَمِعْنَا الْإِقَامَةَ تَوَضَّأَ أَحَدُنَا وَخَرَجَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৭৪, ১৬৭৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন ২৯০, ২৯১। ((আবু দাউদ ৫১০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৪০৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা ৩৭৪; আহমাদ ২/৮৫, ৮৭; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১০৬; হাকিম ১/১৯৭, ১৯৮, তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; নাসাঈ ২/৩২/২০, ২১; বাইহাকী ১/৪১৩।- শাইখ আরনাউত্বের তাহক্বীক্বকৃত সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৭৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬. আযান (এর বাক্য) হবে জোড়া জোড়া এবং ইকামত (এর বাক্যগুলি) হবে বিজোড় সংখ্যায়
১২২৬. আবী কিলাবা হতে বর্ণিত, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আযান বাক্যসমূহ জোড়া জোড়া এবং ইকামাতের বাক্যসমূহ বিজোড়ভাবে বলার নির্দেশ প্রদান করা হয়।[1]
بَاب الْأَذَانُ مَثْنَى مَثْنَى وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَيُوتِرَ الْإِقَامَةَ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬০৩; সহীহ মুসলিম ৩৭৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৯২, ২৮৯৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৭৫, ১৬৭৬, ১৬৭৭ এ। আরও দেখুন, পরবতী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৬. আযান (এর বাক্য) হবে জোড়া জোড়া এবং ইকামত (এর বাক্যগুলি) হবে বিজোড় সংখ্যায়
১২২৭. (অপর সূত্রে) আবী কিলাবা হতে বর্ণিত, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আযান বাক্যসমূহ জোড়া জোড়া এবং ইকামাতের বাক্যসমূহ বিজোড়ভাবে বলার নির্দেশ প্রদান করা হয়, তবে ’ইকামত (এর অতিরিক্ত বাক্যগুলি)[1] ব্যতীত।[2]
بَاب الْأَذَانُ مَثْنَى مَثْنَى وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ سِمَاكِ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَيُوتِرَ الْإِقَامَةَ إِلَّا الْإِقَامَةَ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৭. আযানে ‘তারজী’ করা
১২২৮. আবী মাহযুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশজন লোককে এভাবে আযান দিতে নির্দেশ দেন, ফলে তারা আযান দিতে থাকে। তখন আবী মাহযুরার কণ্ঠস্বর তাঁকে মুগ্ধ করে; ফলে তিনি তাকে (এ বাক্যসমূহ দ্বারা) আযান শিক্ষা দেন: ’আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ।
আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ। হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’আর ইকামত (শিক্ষা দেন) জোড়া জোড়া বাক্যে।[1]
بَاب التَّرْجِيعِ فِي الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ نَحْوًا مِنْ عِشْرِينَ رَجُلًا فَأَذَّنُوا فَأَعْجَبَهُ صَوْتُ أَبِي مَحْذُورَةَ فَعَلَّمَهُ الْأَذَانَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَه إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَالْإِقَامَةَ مَثْنَى مَثْنَى
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৪১৬-৪১৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৮০,. ১৬৮১, ১৬৮২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৮, ২৮৯ ও আবী ইয়ালা, মু’জামুশ শুয়ুখ নং ১৩৬ এ। আরও দেখুন, আগের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৭. আযানে ‘তারজী’ করা
১২২৯. আবী মাহযুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ঊনিশটি বাক্যে আযান এবং সতেরোটি বাক্যে ইকামাত শিক্ষা দেন।[1]
بَاب التَّرْجِيعِ فِي الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ وَحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ قَالَا حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا عَامِرٌ الْأَحْوَلُ قَالَ حَجَّاجٌ فِي حَدِيثِهِ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ قَالَ حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ أَنَّ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا مَحْذُورَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَهُ الْأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالْإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৪১৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮. আযানের সময় (মুখমণ্ডল ডানে ও বামে) ফিরানো
১২৩০. আবী জুহাইফা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বিলাল কে আযান দিতে দেখেছেন। তিনি বলেন, তারপর থেকে (তার অনুসরণ করে) আযানে আমি মুখ এদিক সেদিক (ডানে-বামে) ফিরাই।[1]
بَاب الِاسْتِدَارَةِ فِي الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى بِلَالًا أَذَّنَ قَالَ فَجَعَلْتُ أَتْبَعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا بِالْأَذَانِ
[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ। বরং হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী নং ৬৩৪; সহীহ মুসলিম ৫০৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৮৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৮. আযানের সময় (মুখমণ্ডল ডানে ও বামে) ফিরানো
১২৩১. আবী জুহাইফার পিতা হতে বর্ণিত, বিলাল বর্শা পুঁতে দিলেন, তারপর আযান দিলেন, আর তার দু’টি আঙ্গুল তার দু’কানে স্থাপন করলেন। অতঃপর আমি তাকে আযানের মধ্যে (ডানে-বামে) ঘুরতে দেখলাম।’[1] আব্দুল্লাহ বলেন: ছাওরী’র হাদীস অধিক সহীহ।
بَاب الِاسْتِدَارَةِ فِي الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبَّادٌ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ بِلَالًا رَكَزَ الْعَنَزَةَ ثُمَّ أَذَّنَ وَوَضَعَ أُصْبُعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ فَرَأَيْتُهُ يَدُورُ فِي أَذَانِهِ قَالَ عَبْد اللَّهِ حَدِيثُ الثَّوْرِيِّ أَصَحُّ
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯. আযানের সময় দু’আ করা
১২৩২. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দু’টি বিষয় ফেরত দেওয়া হয়না” অথবা, তিনি বলেন, “দু’টি সময়ের (দু’আ) কদাচিতই ফেরত দেওয়া হয়: আযানের সময়ের দু’আ এবং যুদ্ধকালীন সময়ের দু’আ, যখন তারা একে অপরকে হত্যা করতে থাকে।[1]
بَاب الدُّعَاءِ عِنْدَ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُوسَى هُوَ ابْنُ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثِنْتَانِ لَا تُرَدَّانِ أَوْ قَلَّ مَا تُرَدَّانِ الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعِنْدَ الْبَأْسِ حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُ بَعْضًا
তাখরীজ: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১০৬৫; আবু দাউদ ২৫৪০; তাবারাণী, আল কাবীর ৬/১৩৫ নং ৫৭৫৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা ৪১৯; হাকিম ১/১৯৮; বাইহাকী ১/৪১০, ৩/৩৬০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২০. ১৭৬৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৯৭,২৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. আযানের (জবাবে) যা বলতে হয়
১২৩৩. আবী সাঈদ রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা মুয়াযযিনকে (আযান দিতে) শুনবে, তখন সে যা বলে, (তার জবাবে) তোমরাও সেরূপই বলবে।”[1]
بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمْ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ
তাখরীজ: সহীহ ইবনু খুযাইমা ৪১১; বুখারী ৬১১; সহীহ মুসলিম ৩৮৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৮৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. আযানের (জবাবে) যা বলতে হয়
১২৩৪. ঈসা ইবনু তালহা বলেন, আমরা মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট প্রবেশ করলে মুয়াযযিন আযান দিতে আরম্ভ করল: ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’। তখন মুয়াবিয়া রা:ও বলতে লাগলেন: ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’। যখন সে (মুয়াযযিন) বললো, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন মুয়াবিয়া রা:ও বলতে লাগলেন: আমিও বলছি, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, যখন সে (মুয়াযযিন) বললো, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, তখন মুয়াবিয়া রা:ও বলতে লাগলেন: আমিও (অনুরূপ) সাক্ষ্য দিচ্ছি।’[1](রাবী) ইয়াহইয়া বলেন: আমাদের কোনো কোনো সাথী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সে যখন ’হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বললো, তখন তিনি ’লা হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বললেন। তারপর মুয়াবিয়া রা: বললেন, আমি তোমাদের নবীকে এরূপই বলতে শুনেছি।’[2]
بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى مُعَاوِيَةَ فَنَادَى الْمُنَادِي فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَه إِلَّا اللَّهُ قَالَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ يَحْيَى وَأَخْبَرَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا أَنَّهُ لَمَّا قَالَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ مُعَاوِيَةُ سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ يَقُولُ هَذَا
[2] তাহখ্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬১২, ৬১৩, ৯১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৮৪, ১৬৮৭ তে। আরও দেখুন, হাফিজ ইবনু হাজার তাখরীজুল আযকার পৃ: ৩৪১ এবং পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১০. আযানের (জবাবে) যা বলতে হয়
১২৩৫. মুহাম্মদ ইবনু আমর তার পিতা (আমর) হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনতে পেলেন। যখন সে (মুয়াযযিন) বললো: ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’। তখন মুয়াবিয়া রা:ও বলতে লাগলেন: ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’। যখন মুয়াযযিন বললো, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ’আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। তখন মুয়াবিয়া রা:ও বলতে লাগলেন: আমিও বলছি, আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তারপর ’আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। যখন মুয়াযযিন বললো, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, তখন মুয়াবিয়া রা:ও বললেন: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ। মুয়াযযিন যখন ’হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বললো, তখন তিনি ’লা হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বললেন। মুয়াযযিন যখন বললেন: ’হাইয়্যা আলাল ফালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ,’ তখন তিনি বললেন, ’লা হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ । তারপর মুয়াযযিন বললেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ তখন তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ তারপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করেছেন।[1]
بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ الْأَذَانِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ مُعَاوِيَةَ سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ الْمُؤَذِّنُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَالَ الْمُؤَذِّنُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ الْمُؤَذِّنُ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ فَقَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ فَقَالَ الْمُؤَذِّنُ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ فَقَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ فَقَالَ الْمُؤَذِّنُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১৪৫; আরও দেখুন, হাফিজ ইবনু হাজার তাখরীজুল আযকার পৃ: ৩৬১-৩৬২ এবং পূর্ববর্তী টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ১১. আযান শুনে সময় শয়তান পালিয়ে যায়
১২৩৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে পিছন ফিরে পলায়ন করতে থাকে, যাতে সে আযান শুনতে না পায়। এরপর যখন আযান শেষ হয়, তখন সে ফিরে আসে। আবার যখন পূণরায় ডাকা (সালাতের জন্য ’ইকামাত’ দেয়া) হয়, তখন আবার সে পলায়ন করে। অতঃপর ডাকা (ইকামত) শেষ হলে সে পূনরায় ফিরে এসে লোকদের মনে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর। (এভাবে সে এমনসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়) যা ইতিপূর্বে তার স্মরণে আসেনি।”[1]
بَاب الشَّيْطَانُ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ فَرَّ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ الْأَذَانَ فَإِذَا قُضِيَ الْأَذَانُ أَقْبَلَ وَإِذَا ثُوِّبَ أَدْبَرَ فَإِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ فَيَقُولُ اذْكُرْ كَذَا وَكَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ قَبْلَ ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد ثُوِّبَ يَعْنِي أُقِيمَ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬০৮; সহীহ মুসলিম ৩৮৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৮, ৫৯৬৪, ৫৯৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬, ১৬৮৪, ১৬৮৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. আযানের পর মসজিদ হতে বের হওয়া মাকরূহ (অপছন্দনীয়)
১২৩৭. আবী শা’ছা’ই আল মুহারিবী হতে বর্ণিত, আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুয়াযযিন আযান দেওযার পর এক ব্যক্তিকে মসজিদ হতে বের হয়ে যেতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: একি! এ ব্যক্তিতো আবীল কাসিম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করলো।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْخُرُوجِ مِنْ الْمَسْجِدِ بَعْدَ النِّدَاءِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ الْمُحَارِبِيِّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَأَى رَجُلًا خَرَجَ مِنْ الْمَسْجِدِ بَعْدَ مَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَقَالَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৫৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০২৮ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. যুহর সালাতের ওয়াক্ত
১২৩৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, (একদা) সূর্য ঢলে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে এলেন এবং লোকদেরকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন।[1]
بَاب فِي وَقْتِ الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ حِينَ زَاغَتْ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ صَلَاةَ الظُّهْرِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৪০; সহীহ মুসলিম ২৩৫৯ (১৩৬); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১০৫, ৩১৩৪, ৩১৩৫, ৩৬০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৬, ১৫০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. যুহরকে ঠাণ্ডা করে (বিলম্বে) আদায় করা
১২৩৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন গ্রীষ্মকালীন উত্তাপ বৃদ্ধি পায়, তখন সালাত ঠাণ্ডা করে (কিছুটা বিলম্বে) আদায় করবে। কেননা, উত্তাপের তীব্রতা জাহান্নামের নি:শ্বাস (উত্তাপ বিচ্ছুরণ ও বিস্তার) থেকে উদ্ভূত হয়ে থাকে।”[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: আমার মতে, এর অর্থ হলো যখন গরমের কারণে কষ্ট হয়, তখন (সালাতকে) পিছিয়ে দেয়া।
بَاب الْإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا عِنْدِي عَلَى التَّأْخِيرِ إِذَا تَأَذَّوْا بِالْحَرِّ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৩৩, ৫৩৪; সহীহ মুসলিম ৬১৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫০৪,১৫০৬, ১৫০৭ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. আসর সালাতের ওয়াক্ত
১২৪০. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের সালাত আদায় করতেন, এরপর কোনো গমনকারী আওয়ালী (মদীনা হতে চার মাইল দূরের একটি স্থান)-এর দিকে রওয়ানা হয়ে যেতো এবং সেখানে পৌঁছেও যেতো, আর তখনও সূর্য বেশ উপরে থাকতো।[1]
بَاب وَقْتِ الْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي فَيَأْتِيهَا وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী নং ৫৫০, ৫৫১; সহীহ মুসলিম ৬২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫১৮ ,১৫১৯, ১৫২০ ((মুহাক্বিক্ব ভূলবশত: ১৬১৮, ১৬১৯, ৬১২০ নং বলে উল্লেখ করেছেন-অনুবাদক)) এ।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. মাগরিবের ওয়াক্ত
১২৪১. সালামাহ ইবনুল আকওয়াহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সুর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে, যখন এর (উপরের) কিনারাও অদৃশ্য হয়ে যেতো।[1]
بَاب وَقْتِ الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ هُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬১; সহীহ মুসলিম ৬৩৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫২৩। (( তিরমিযী ১৬৪; আবু দাউদ ৪১৭; ইবনু মাজাহ ৬৮৮; বাইহাকী ১/৪৪৬; আহমাদ ৪/৫৪; তাবারাণী ৬২৮৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৭২।- সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫২৩ নং এর মুহাক্বিক্ব আরনাউত্বের টীকা হতে-অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ১৭. মাগরিবের সালাতের ওয়াক্তকে পিছিয়ে দেয়া মাকরূহ
১২৪২. আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, তিনি বলেন: “আমার উম্মত ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা তারকারাজি চমকানো পর্যন্ত মাগরিবের বিলম্বিত করবে না।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ تَأْخِيرِ الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ عَنْ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ الْعَبَّاسِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَنْتَظِرُوا بِالْمَغْرِبِ اشْتِبَاكَ النُّجُومِ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ৬৮৯; বাযযার নং ১৩০৫; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭০১; উকাইলী, আয যু’আফা’ ৩/১৪৭; হাকিম সহীহ শাহিদ হিসেবে ১/১৯১; বাইহাকী ১/৪৪৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১/৪০৫;তাবারাণী, আস সগীর ১/২৮; আওসাত ১৭৯১।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু আইয়্যুব আনসারী রা: হতে আহমদ ৪/১৪৭, ৫/৪১৭,৪২২; আবু দাউদ ৪১৮ সহীহ সনদে। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন, দেখুন,ইলালুল হাদীস ১/১৭৭ নং ৫০৬।
এর অপর শাহিদ সাইব ইবনু ইয়াযীদ হতে বাইহাকী ১/৪৪৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/১৪ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. ঈশা’র সালাতের ওয়াক্ত
১২৪৩. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এ সালাত তথা এশার সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সালাত তৃতীয়ার চাঁদ অস্তমিত হওয়া পরিমাণ সময়ের পর আদায় করতেন।[1] ইয়াহইয়া বলেন, তিনি তার পাণ্ডুলিপি হতে আমাদের নিকট বাশীর ইবনু ছাবিত হতে বর্ণনা করেছেন।
بَاب وَقْتِ الْعِشَاءِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلَاةِ يَعْنِي صَلَاةَ الْعِشَاءِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ قَالَ يَحْيَى أَمَلَّهُ عَلَيْنَا مِنْ كِتَابِهِ عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৭২, ২৭৪; আবু দাউদ ৪১৯; তিরমিযী ১৬৫; নাসাঈ ৫২৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ঈশার সালাতকে পিছিয়ে দেয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৪৪. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন, এমনকি রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ কিংবা তার কাছাকাছি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। তারপর তিনি এলেন, লোকেরা তখন ছোট ছোট দলে (বিভক্ত হয়ে) বৃত্তাকারে ঘুমাচ্ছিলো, ফলে তিনি রাগান্বিত হলেন অত:পর বললেন:“যদি কোনো ব্যক্তি লোকদেরকে একটি মাংস ছাড়ানো হাড় কিংবা বর্শা (তথা খেলা-ধুলা)-এর দিকে আহবান করে- রাবী আমর বলেন, ডাকে, তবে অবশ্যই তারা সে আহবানে সাড়া দিতো। কিন্তু তারা এ সালাত (ঈশার সালাত) হতে পিছিয়ে থাকে। আর আমার ইচ্ছা হয়, আমি কোনো একজনকে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেই, অত:পর এ সকল বাড়ীঘরের অধিবাসী যারা সালাত হতে পিছিয়ে রয়েছে (হাজির হয়নি), তাদের নিকট যাই এবং সেগুলি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেই।”[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَأْخِيرِ الْعِشَاءِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَعَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَخَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْعِشَاءِ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى كَادَ أَنْ يَذْهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ قَرِيبُهُ فَجَاءَ وَالنَّاسُ رُقَّدٌ وَهُمْ عِزُونَ وَهِيَ حِلَقٌ فَغَضِبَ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا نَدَى النَّاسَ وَقَالَ عَمْرٌو نَدَبَ النَّاسَ إِلَى عَرْقٍ أَوْ مِرْمَاتَيْنِ لَأَجَابُوا إِلَيْهِ وَهُمْ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ لَهَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا لِيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَتَخَلَّفَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الدُّورِ الَّذِينَ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ فَأُضْرِمَهَا عَلَيْهِمْ بِالنِّيرَانِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৪৪; সহীহ মুসলিম ৬৫১; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯৬-২০৯৮; হুমাইদী নং ৯৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ঈশার সালাতকে পিছিয়ে দেয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৪৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন। তখন উমার রা: তাঁকে এই বলে ডাকলেন যে, নারী ও শিশুরা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেন: তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে আর কেউ নেই যে এ সালাত আদায় করছে।” আর তখন মদীনাবাসী ব্যতীত কেউ সালাত আদায় করতো না।[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَأْخِيرِ الْعِشَاءِ
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعِشَاءِ حَتَّى نَادَاهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَدْ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ غَيْرَكُمْ وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ يُصَلِّي يَوْمَئِذٍ غَيْرَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬৬; সহীহ মুসলিম ৬৩৮; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৩৫ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ঈশার সালাতকে পিছিয়ে দেয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৪৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন। এমনকি রাত্রির প্রথম (এক-তৃতীয়) অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলো। মসজিদে অবস্থানকারী লোকেরা ঘুমিয়ে পড়লো। অত:পর তিনি বের হলেন এবং ঈশার সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন: “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে আশংকা না করতাম, তবে এটিই এর (ঈশার সালাতের মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَأْخِيرِ الْعِشَاءِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ حَكِيمٍ أَنَّ أُمَّ كُلْثُومٍ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ أَخْبَرَتْهُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ وَرَقَدَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ فَصَلَّاهَا فَقَالَ إِنَّهَا لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ২১১৪; আহমাদ ৬/১৫০; সহীহ মুসলিম ৬৩৮ (২১৯); নাসাঈ ৫৩৭; আবু আউয়ানাহ ১/৩৬২; বাইহাকী ১/৪৫০; আরও দেখুন, আগের টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ঈশার সালাতকে পিছিয়ে দেয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৪৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নারী ও শিশুরা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর তিনি (মাথার) একপাশ হতে পানি মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে বললেন: “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে আশংকা না করতাম, তবে এটিই এর (ঈশার সালাতের মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَأْخِيرِ الْعِشَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ح وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الصَّلَاةَ نَامَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ فَخَرَجَ وَهُوَ يَمْسَحُ الْمَاءَ عَنْ شِقِّهِ وَهُوَ يَقُولُ هُوَ الْوَقْتُ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي
তাখরীজ: আবু ইয়ালা ২৩৯৮; হুমাইদী নং ৪৯৯; বুখারী ৫৭১; মুসলিম ৬৪২; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৯৮, ১৫৩২, ১৫৩৩।
পরিচ্ছেদঃ ২০. ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করা
১২৪৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজর সালাত আদায় করতাম। অত:পর চিনে ফেলার পূর্বেই আমরা আমাদের চাদরে আবৃত হয়ে প্রত্যবর্তন করতাম।[1]
بَاب التَّغْلِيسِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنَّ نِسَاءُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّينَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَجْرَ ثُمَّ يَرْجِعْنَ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ قَبْلَ أَنْ يُعْرَفْنَ
তাখরীজ: সহীহবুখারী ৩৭২; সহীহ মুসলিম ৬৪৫; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪১৫, ৪৪১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৯৮-১৫০১; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ২১. ফর্সা (আলোকিত) হয়ে যাওয়ার পর ফজর সালাত আদায় করা
১২৪৯. রাফিঈ’ ইবনু খাদিজ হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফজরের সালাতকে ফর্সা (আলোকিত) করে আদায় করো। কেননা, সাওয়াবের দিক থেকে সেটিই উত্তম।”[1]
بَاب الْإِسْفَارِ بِالْفَجْرِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَسْفِرُوا بِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮৯, ১৪৯০, ১৪৯১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩, ২৬৪, ২৬৫ টীকাসহ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১. ফর্সা (আলোকিত) হয়ে যাওয়ার পর ফজর সালাত আদায় করা
১২৫০. রাফিঈ’ ইবনু খাদিজ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফজরের সালাতকে আলোকিত (উজ্জ্বল) করে আদায় করো। কেননা, সাওয়াবের দিক থেকে সেটিই সর্ব্বোত্তম।”[1]
بَاب الْإِسْفَارِ بِالْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَوِّرُوا بِصَلَاةِ الْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন। এছাড়া, আব্দুর রাযযাক নং ২১৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ২১. ফর্সা (আলোকিত) হয়ে যাওয়ার পর ফজর সালাত আদায় করা
১২৫১. ইবনু ’ইজলান হতে অনুরূপ কিংবা “(তোমরা ফজরের সালাতকে) ফর্সা (আলোকিত) করে আদায় করো”- (কথাগুলিসহ) বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْإِسْفَارِ بِالْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ نَحْوَهُ أَوْ أَسْفِرُوا
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকা’আত পেলো, সে (পূরো সালাতই) পেয়ে গেলো
১২৫২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো সালাতের এক রাকা’আত পেলো, সে (পূরো) সালাত পেলো।[1]
بَاب مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلَاةٍ فَقَدْ أَدْرَكَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ صَلَاةٍ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَهَا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৮০; সহীহ মুসলিম ৬০৭, ৬০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৬২, ৫৯৬৬, ৫৯৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮৩, ১৪৮৫, ১৪৮৭; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৬।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকা’আত পেলো, সে (পূরো সালাতই) পেয়ে গেলো
১২৫৩. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلَاةٍ فَقَدْ أَدْرَكَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ
তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকা’আত পেলো, সে (পূরো সালাতই) পেয়ে গেলো
১২৫৪. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুর্য উদয়ের পূর্বে ফজর সালাতের এক রাকা’আত পায়, সে ফজরের সালাত পেয়েছে। যে ব্যক্তি সুর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসর সালাতের এক রাকা’আত পায়, সে আসরের সালাত পেয়েছে।[1]
بَاب مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنْ صَلَاةٍ فَقَدْ أَدْرَكَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ يُحَدِّثُونَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا وَمَنْ أَدْرَكَ مِنْ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا
তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. সালাতসমূহের সংরক্ষণ করা
১২৫৫. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যদি কোনো লোককে মসজিদে (যাতায়াতে) অভ্যস্ত দেখো, তবে তোমরা তার ঈমানের ব্যাপারে (মু’মিন বলে) সাক্ষ্য দিতে পারো। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: [“নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদ সমূহকে একমাত্র সেই ব্যক্তি আবাদ রাখে যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে।”(সুরা তাওবা: ১৮)][1]
بَاب الْمُحَافَظَةِ عَلَى الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ الرَّجُلَ يَعْتَادُ الْمَسَاجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيمَانِ فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১০। ((আহমাদ ৩/৬৮, ৭৬; তিরমিযী ২৬১৭, ৩০৯৩; ইবনু মাজাহ ৮০২; বাইহাকী ৩/৬৬; হাকিম ২/৩৩২। - আল ইহসান ফী তাক্বরীব সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৭২১ আরনাউত্বের টীকাসহ-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৩. সালাতসমূহের সংরক্ষণ করা
১২৫৬. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ’ঈশার সালাত জামা’আতে আদায় করলো, সে যেন অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত (নফল) সালাত আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতে আদায় করলো, সে যেন পূরো রাত্রি নফল সালাত আদায় করলো।”[1]
بَاب الْمُحَافَظَةِ عَلَى الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي سَهْلٍ قَالَ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৫৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৫৮,২০৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৫৭. আবী আমর আশ শাইবানী বলেন, আমার নিকট এ বাড়ির মালিক বর্ণনা করেছেন- একথা বলে তিনি তার হাত দ্বারা আব্দুল্লাহ’র বাড়ির দিকে ইশারা করলেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কো্ন্ কাজটি সর্বোত্তম, কিংবা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন: “ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করা।”[1]
بَاب اسْتِحْبَابِ الصَّلَاةِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ عَيْزَارٍ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ يَقُولُ حَدَّثَنِي صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ أَوْ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى مِيقَاتِهَا
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫২৭; সহীহ মুসলিম ৮৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৮৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৭৪-১৪৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১২৫৮. কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সংখ্যায় সাতজন লোক মসজিদে বসে ছিলাম, তার মধ্যে তিনজন ছিলাম আরব ও চারজন অনারব মাওয়ালী, অথবা চারজন ছিলাম আরব এবং তিনজন ছিল অনারব মাওয়ালী; এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো একটি হুজরা হতে আমাদের নিকট বেরিয়ে এসে আমাদের সাথে বসে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: কোন্ জিনিসটি তোমাদেরকে এখানে বসিয়ে রেখেছে?” আমরা বললাম, সালাতের জন্য প্রতীক্ষা। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে মাটি খুঁড়ে আবার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ঠিক করে দিলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন: “তোমাদের রব কী বলেছেন, তা তোমরা জানো কি?”
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক অবগত।তিনি বললেন: “তিনি (আল্লাহ তা’আলা) বলেন: ’যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করলো, আর সে সালাতের সীমা (উযু, রুকু’, সাজদা) সঠিকভাবে আদায় করলো, এর মাধ্যমে তার প্রতি আমার ওয়াদা হলো, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করলো না এবং সে সালাতের সীমা (উযু, রুকু’, সাজদা)ও সঠিকভাবে আদায় করলো না, তার প্রতি আমার কোনো ওয়াদা নেই; ইচ্ছা হলে আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো, অথবা, ইচ্ছা হলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।[1]
بَاب اسْتِحْبَابِ الصَّلَاةِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِسْحَقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ كَعْبٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ سَبْعَةٌ مِنَّا ثَلَاثَةٌ مِنْ عَرَبِنَا وَأَرْبَعَةٌ مِنْ مَوَالِينَا أَوْ أَرْبَعَةٌ مِنْ عَرَبِنَا وَثَلَاثَةٌ مِنْ مَوَالِينَا قَالَ فَخَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَعْضِ حُجَرِهِ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا يُجْلِسُكُمْ هَاهُنَا قُلْنَا انْتِظَارُ الصَّلَاةِ قَالَ فَنَكَتَ بِإِصْبَعِهِ فِي الْأَرْضِ وَنَكَسَ سَاعَةً ثُمَّ رَفَعَ إِلَيْنَا رَأْسَهُ فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا يَقُولُ رَبُّكُمْ قَالَ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ مَنْ صَلَّى الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَأَقَامَ حَدَّهَا كَانَ لَهُ بِهِ عَلَيَّ عَهْدٌ أُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَلَمْ يُقِمْ حَدَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عِنْدِي عَهْدٌ إِنْ شِئْتُ أَدْخَلْتُهُ النَّارَ وَإِنْ شِئْتُ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: এর উপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৭০১ এ।((মুসনাদে আহমাদ (তাহ: আরনাউত্ব) ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২, বুখারী, আত তারীখ ১/৩৮৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব ৩৭১; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৩১১, ৩১২; আউসাত ৪৭৬১; সাহমী, তারীখ জুরজান ২৯৬-২৯৭; তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ৩১৭৩, ৩১৭৪; হাইছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০২।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উবাদাহ ইবনু ছামিত রা: হতে আহমদ ৫/৩১৭ সহীহ সনদে; এবং আবী কাতাদা রা: হতে আবু দাউদ ৪৩০; ইবনু মাজাহ ১৪০৩ যয়ীফ সনদে।- আরনাউতের তাহক্বীক্ব, মুসনাদে আহমাদ ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২) এর টীকা হতে....... অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২৫. যে ব্যক্তি সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দেয়, তার পিছনে সালাত আদায় করা
১২৫৯. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: “যখন তুমি এমন লোকদের মাঝে অবশিষ্ট থাকবে যারা সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দেয়, তুমি তখন কী করবে?”
তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।তিনি বললেন: “তুমি ওয়াক্তমতোই সালাত আদায় করবে এবং বের হবে। এরপর যদি (জামা’আতে) সালাতের ইকামত দেয়া হয়, আর তুমি (সেই সময়) মসজিদে থাকো, তবে তুমিও তাদের সাথে সালাত আদায় করবে।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ خَلْفَ مَنْ يُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُدَيْلٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا بَقِيتَ فِي قَوْمٍ يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَاخْرُجْ فَإِنْ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ وَأَنْتَ فِي الْمَسْجِدِ فَصَلِّ مَعَهُمْ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৪৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮২, ১৭১৮, ১৭১৯। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. যে ব্যক্তি সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দেয়, তার পিছনে সালাত আদায় করা
১২৬০. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে আবী যারর! যখন তুমি এমন শাসকদেরকে পাবে, যারা সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দিবে (সালাতের সময় শেষ করে সালাত আদায় করবে), তুমি তখন কী করবে?”
তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন?
তিনি বললেন: “তুমি ওয়াক্তমতোই সালাত আদায় করবে এবং (এরপর যদি তাদের সাথে জামা’আত পাও তবে,) তাদের সাথে তোমার আদায়কৃত সালাতকে নফল বানিয়ে নাও।”[1]আবু মুহাম্মদ বলেন, ইবনু ছামিত হলেন আবী যারের ভাতিজা।
بَاب الصَّلَاةِ خَلْفَ مَنْ يُؤَخِّرُ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا ذَرٍّ كَيْفَ تَصْنَعُ إِذَا أَدْرَكْتَ أُمَرَاءَ يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا قُلْتُ مَا تَأْمُرُنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَاجْعَلْ صَلَاتَكَ مَعَهُمْ نَافِلَةً قَالَ أَبُو مُحَمَّد ابْنُ الصَّامِتِ هُوَ ابْنُ أَخِي أَبِي ذَرٍّ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৪৮; এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা সালাত আদায় করতে ভুলে যায়
১২৬১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা, সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে সে যেনো স্মরণ হওয়ামাত্রই তা আদায় করে নেয়। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: [“আমার স্মরণে সালাত আদায় করো।”][1] সুরা ত্বহা: ১৪
بَاب مَنْ نَامَ عَنْ صَلَاةٍ أَوْ نَسِيَهَا
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ أَقِمْ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৯৭; সহীহ মুসলিম ৬৮৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২৮৫৪, ২৮৫৫, ২৮৫৬; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৫৫, ১৫৫৬। ((আবু দাউদ ৪৪৩; তিরমিযী ১৭৮, নাসাঈ অনুচ্ছেদ: ৫২: যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভূলে যায়; ইবনু মাজাহ ৬৯৬; আহমাদ ৩/১০০, ২৪৩, ২৬৭, ২৬৯, ২৮২, ৫/২২; মালিক (ইবনু উমারের বক্তব্য হিসেবে) ৭৭।- দারেমী, তাহক্বীক্ব: ফাওয়ায আহমদ রমিযলী ও খালিদ সাবিঈ নং ১২২৯ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তির আসরের সালাত ‘ফাওত’ (বিনষ্ট) হলো, তার সম্পর্কে
১২৬২. ইবনু উমার হতে মারফু’ হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তির সালাত তথা আসরের সালাত ছুটে গেলো, তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেলো।”[1]
بَاب فِي الَّذِي تَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ يَرْفَعُهُ قَالَ إِنَّ الَّذِي تَفُوتُهُ الصَّلَاةُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৫২; সহীহ মুসলিম ৬২৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫৪৪৭; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৬৯। ((‘ইবনু মাজাহ ৬৮৫; আবু দাউদ ৪১৪; তিরমিযী ১৭৫।’- দারেমী, তাহক্বীক্ব: ফাওয়ায আহমদ রমিযলী ও খালিদ সাবিঈ নং ১২৩০ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তির আসরের সালাত ‘ফাওত’ (বিনষ্ট) হলো, তার সম্পর্কে
১২৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তির সালাত তথা আসরের সালাত ছুটে গেলো, তার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেলো।”[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, ’অথবা, তার ধন-সম্পদ’।
بَاب فِي الَّذِي تَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَوَلَدَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَوْ مَالَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটিরই পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. মধ্যবর্তী সালাত (সালাতুল ‘উছতা’) সম্পর্কে বর্ণনা
১২৬৪. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন: “আল্লাহ তাদের কবরসমূহ ও তাদের ঘর-বাড়িগুলিকে আগুনে পরিপূর্ণ করে দিন, যেভাবে তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত আদায় হতে বিরত রেখেছে, এমনকি সুর্য অস্ত গেলো।”[1]
بَاب فِي الصَّلَاةِ الْوُسْطَى
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا كَمَا حَبَسُونَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯৩১; সহীহ মুসলিম ৬২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৩৮৫ হতে ৩৯৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৪৫।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. সালাত তরককারী সম্পর্কে
১২৬৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বান্দা ও শিরক-কুফরের মাঝে সালাত পরিত্যাগ করা ব্যতীত আর কিছুই (প্রতিবন্ধকতা) নেই।”[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, বান্দা যখন ওযর ও কারণ ছাড়া তখন একে একথা বলা ব্যতীত গত্যন্তর নেই যে, তা কুফর, কিন্তু তাকে কাফির নামে আখ্যায়িত করা যাবে না।
بَاب فِي تَارِكِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ أَوْ قَالَ جَابِرٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ إِلَّا تَرْكُ الصَّلَاةِ قَالَ لِي أَبُو مُحَمَّد الْعَبْدُ إِذَا تَرَكَهَا مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ وَعِلَّةٍ وَلَا بُدَّ مِنْ أَنْ يُقَالَ بِهِ كُفْرٌ وَلَمْ يَصِفْ بِالْكُفْرِ
তাকরীজ: সহীহ মুসলিম ৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৭৮৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৫৩। ((তিরমিযী ২৬১৮, ২৬১৯; বাইহাকী ৩/৩৬৬; আহমাদ ৩/৩৭০; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৪; তাবারাণী, আস সগীর ২/১৪; ইবনু মানদাহ, আল ঈমান ২১৮, ২১৯। - আল ইহসান, (তাহক্বীক্ব: আরনাউত্বে) নং ১৪৫৩ হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩০. বায়তুল মাকদিস হতে কা’বার দিকে কিবলা পরিবর্তন সম্পর্কে
১২৬৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকেরা ’কু’বা’ নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাদের নিকট এসে বললো, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুরআন নাযিল হয়েছে; এবং তাঁকে নির্দেশ দান করা হয়েছে যেন তিনি (সালাতের সময়) কা’বা অভিমুখী হন। সুতরাং তোমরাও সেদিকে মুখ ফিরাও। তখন তাদের চেহারা ছিল শামের (বায়তুল মাকদিস) দিকে, ফলে তারা ঘুরে গিয়ে কাবা’র অভিমুখী হলো।[1]
بَاب فِي تَحْوِيلِ الْقِبْلَةِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ إِلَى الْكَعْبَةِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ فِي قُبَاءٍ جَاءَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَأُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا وَكَانَ وُجُوهُ النَّاسِ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا فَوَجَّهُوا إِلَى الْكَعْبَةِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৪০৩, ৪৪৯২; সহীহ মুসলিম ৫২৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭১৫, ১৭১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. বায়তুল মাকদিস হতে কা’বার দিকে কিবলা পরিবর্তন সম্পর্কে
১২৬৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহ আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যারা ইতোমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে আর তারা ’বাইতুল মাকদিস’ এর অভিমুখী হয়ে সালাত আদায় করতো। এদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: [“নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন নন, যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করেন।”[1] (সুরা বাকারা: ১৪৩)]
بَاب فِي تَحْوِيلِ الْقِبْلَةِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ إِلَى الْكَعْبَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الَّذِينَ مَاتُوا وَهُمْ يُصَلُّونَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭১৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭১৮ এ। আর বারা’আ রা: হতে এর শাহিদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, সহীহ বুখারী ৪০; সহীহ মুসলিম ৫২৫; আর এটির তাখরীজ করেছি ইবনু হিব্বান নং ১৭১৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. সালাতের প্রারম্ভ বা সূচনা
১২৬৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শুরু করতেন ’তাকবীর’ (আল্লাহু আকবার) দ্বারা এবং তিনি ক্বিরা’আত শুরু করতেন “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন” (ফাতিহা: ১) পাঠের দ্বারা এবং তা (সালাত) সমাপ্ত করতেন সালাম দ্বারা।[1]
بَاب فِي افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ الْعُقَيْلِيُّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْتَتِحُ الصَّلَاةَ بِالتَّكْبِيرِ وَيَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَيَخْتِمُهَا بِالتَّسْلِيمِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৩; সহীহ মুসলিম ৩৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২৮৮১, ২৯৮০ হতে ২৯৮৫ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৯৮, ১৭৯৯, ১৮০০, ১৮০২, ১৮০৩, এবং আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৩৩ এর টীকা দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. সালাতের প্রারম্ভে ‘রফউল ইয়াদাইন’ (দু’হাত উত্তোলণ) করা প্রসঙ্গে
১২৬৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই সালাতে দাঁড়াতেন, তখনই তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করে উত্তোলণ করতেন।[1]
بَاب رَفْعِ الْيَدَيْنِ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ إِلَّا رَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৬৯, ১৭৭৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৬; আমরা সেখানে টীকা দিয়েছি প্রয়োজনে দেখে নিন। আরও দেখুন, দারুকুতনী ১/২৯৭-২৯৮। ((আহমাদ ২/৩৭৫ নং ৮৮৬৩, ২/৪৩৪ নং ৯৬০৬, ২/৫০০ নং ১০৪৯৬; নাসাঈ ৮৮৩; ইবনু খুযাইমা নং ৪৫৯, ৪৬০, ৪৭৩; তিরমিযী ২৪০; তায়ালিসী ২৩৭৪; বাইহাকী ২/২৭; হাকিম ১/২৩৪; ইবনু হিব্বান (আল ইহসান অনুযায়ী) নং ১৭৭৭।- ফাতহুল মান্নান নং ১৩৪৯ এর টীকা হতে- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. সালাত শুরু করার পর যা বলতে হয়
১২৭০. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত আরম্ভ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন, এরপর বলতেন: ’আমি আমার মুখমণ্ডলকে যিনি আসমানসমূ ও ভূ-মণ্ডল সৃষিট করেছেন, তাঁর দিকে ঐকান্তিকভাবে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে ফিরিয়েছি, আর আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নিই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সকল কিছুই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য । যাঁর কোনো শরীক নাই-আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই সর্বপ্রথম মুসলিম। হে আল্লাহ! আপনিই প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি আমার প্রভু। আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, আমি আমার অপরাধের ব্যাপারে অনুতপ্ত। আপনি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনি ব্যতীত কেউ অপরাধ কেউ ক্ষমা করতে পারে না। আপনি আমাকে উত্তম আখলাকের দিকে পরিচালিত করুন। আপনি ব্যতীত অন্য কেউ সুন্দর চরিত্রের পথ দেখাতে পারে না। আপনি আমার চরিত্র থেকে অসত স্বভাবগুলি দূর করুন। আপনি ব্যতীত অন্য কেউ চরিত্রের অসদগণাবলী দূর করতে পারে না। আমি আপনার সমীপে হাযির আছি। সকল কল্যাণ আপনারই হাতের মুঠোয়, কোনো অকল্যাণ আপনার নিকট পৌঁছতে পারে না। আমি আপনার কাছে এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী, আপনি কতই না বরকতময়। আপনি মহান। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তাওবা করছি।”[1]
بَاب مَا يُقَالُ بَعْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَمِّهْ الْمَاجِشُونَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫, ৫৭৪, ৫৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৫; ((সহীহ মুসলিম ৭৭১; আহমাদ ১/১০২ নং ৮০৩; ইবনু হিব্বান ১৭৭৩; তায়ালিসী ১৫২; তিরমিযী ২৬৬, ৩৪২২; বাইহাকী, আল কুবার ২/৩২; তাহাবী শারহু মুশকিলিল আছার ১/৪৮৮; আবী আওয়ানাহ, মুসতাখরীজ ২/১০০; নাসাঈ ৮৯৭; আবু দাউদ ৭৬০; ইবনু আবী শাইবা ১/২৩১; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা ১৭৯; দারুকুতনী ১/২৯৬; তাবারাণী, ২/১০২৬... - ফাতহুল মান্নান ১৩৫০ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. সালাত শুরু করার পর যা বলতে হয়
১২৭১. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাকবীর দিয়ে বলতেন: “হে আল্লাহ! মহা পবিত্র আপনি, প্রশংসা আপনারই। আপনার নাম কতই না বরকতময়, আর আপনার মর্যাদা অতি উচ্চ আর আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
বিতাড়িত শয়তান, তার কু-মন্ত্রণা, কুপ্রভাব ও কুপ্ররোচনা থেকে সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” জা’ফর বলেন: মাতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ’হামযুহু’ (কুমন্ত্রণা) অর্থ: শয়তানী; ’নাফছুহু’ (কুপ্রভাব) অর্থ: (অশ্লীল) কবিতা; ’নাফখুহ’ (কুপ্ররোচনা) অর্থ: তার অহমিকা (উন্মত্ততা)।[1]
بَاب مَا يُقَالُ بَعْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ فَكَبَّرَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْثِهِ وَنَفْخِهِ ثُمَّ يَسْتَفْتِحُ صَلَاتَهُ قَالَ جَعْفَرٌ وَفَسَّرَهُ مَطَرٌ هَمْزُهُ الْمُوتَةُ وَنَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১০৮; এছাড়া, দারুকুতনী ১/২৯৮ নং ৪; বাইহাকী ২/৩৫; ইবনু আবী শাইবা ১/২৩২; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ৪৬৭। ((আহমাদ ৩/৫০; আবু দাউদ , ৭৬৪, ৭৭৫; তিরমিযী ২৪২; নাসাঈ ৪/১৩২; ইবনু মাজাহ ৮০৪, ৪১৭৬; ; ইবনু হিব্বান ৩২৪৫ - মুহাক্বিক্বের মুসনাদুল মাওসিলীর ১১০৮ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ উচ্চস্বরে বলা অপছন্দনীয়
১২৭২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বাকর, উমার ও উছমান কিরা’আত শুরু করতেন ’’আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন।’’ (ফাতিহা: ১) এর দ্বারা।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْجَهْرِ بِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد بِهَذَا نَقُولُ وَلَا أَرَى الْجَهْرَ بِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৩; সহীহ মুসলিম ৩৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮১; ইবনু হিব্বান নং ১৭৯৮-১৮০০; মুসনাদুল হুমাইদী ১২৩৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. সালাতে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরা
১২৭৩. আব্দুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল এর পিতা (ওয়াইল ইবনু হুজর রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ডান বাম হাতের কবজির কাছাকাছি স্থানে রাখতে দেখেছি।[1]
بَاب قَبْضِ الْيَمِينِ عَلَى الشِّمَالِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيبًا مِنْ الرُّسْغِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪০১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৮০৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. সুরা ফাতিহা ছাড়া সালাত নেই
১২৭৪. উবাদাহ ইবনু ছামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি (সালাতে) উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তার সালাত হলো না।[1]
بَاب لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৭৫৬; সহীহ মুসলিম ৩৯৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৭৮২, ১৭৮৫, ১৭৯২, ১৮৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. দু’বার চুপ থাকা
১২৭৫. সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাতে) দু’ দু’বার চুপ থাকতেন: যখন সালাতে প্রবেশ (শুরু) করতেন এবং যখন কিরা’আত পাঠ শেষ করতেন। ’ইমরাণ ইবনু হুসাইন একথা অস্বীকার করলে তারা উবাই ইবনু কা’ব রা: এর নিকট (ব্যাপারটি) লিখে পাঠালো। জবাবে তিনি তাদেরকে লিখে পাঠালেন যে, সামুরাহ সত্যই বলেছেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: কাতাদা তিনবার চুপ থাকার কথা বলতেন এবং মারফু’ হাদীসে রয়েছে দু’বার চুপ থাকার কথা।
بَاب فِي السَّكْتَتَيْنِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْكُتُ سَكْتَتَيْنِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ وَإِذَا فَرَغَ مِنْ الْقِرَاءَةِ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ فَكَتَبُوا إِلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ أَنْ قَدْ صَدَقَ سَمُرَةُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ قَتَادَةُ يَقُولُ ثَلَاثُ سَكَتَاتٍ وَفِي الْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ سَكْتَتَانِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনু হিব্বান নং ১৮০৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. দু’বার চুপ থাকা
১২৭৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাতে) তাকবীর ও কিরা’আতের মাঝে একবার চুপ থাকতেন- বলে আমার ধারণা। তিনি বলেন, (সেটি ছিল) ক্ষণিকের জন্য।
তখন আমি তাঁকে বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাকবীর ও কিরা’আতের মাঝে আপনার চুপ থাকার ব্যাপারটি কী? আপনি তখন কী পাঠ করে থাকেন?তিনি বললেন: “আমি এ সময় পাঠ করি: ’হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মাঝে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহ হতে পবিত্র করুন যেমনভাবে সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ সমূহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দিন।”[1]
بَاب فِي السَّكْتَتَيْنِ
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْكُتُ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ إِسْكَاتَةً حَسِبْتُهُ قَالَ هُنَيَّةً فَقُلْتُ لَهُ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِسْكَاتَتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ مَا تَقُولُ قَالَ أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৪৪; সহীহ মুসলিম ৫৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮১, ৬০৯৭, ৬১০৯; ইবনু হিব্বান নং ১৭৭৬, ১৭৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. 'আমীন' বলার ফযীলত
১২৭৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন কিরা’আতকারী (ইমাম) পাঠ করেন, [“গয়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।” (ফাতিহা: ৭)] আর তার পেছনের কোনো ব্যক্তি ’আমীন’ বলেন এবং এটি আসমানবাসীদের সাথে মিলে যায়, তবে তার পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ التَّأْمِينِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَالَ الْقَارِئُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقَالَ مَنْ خَلْفَهُ آمِينَ فَوَافَقَ ذَلِكَ أَهْلَ السَّمَاءِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৮২; সহীহ মুসলিম ৪১০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭৪; ইবনু হিব্বান নং ১৮০৪। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. 'আমীন' বলার ফযীলত
১২৭৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম যখন পাঠ করেন, [“গয়রিল মাগদ্বূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।” (ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলো, ’আমীন’ । কেননা, ফিরিশতাগণও বলেন, ’আমীন’ এবং ইমামও বলেন, ’আমীন’। আর যার ’আমীন’ বলা ফিরিশতাগণের ’আমীন’ বলার সাথে মিলে যায়, তার পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ التَّأْمِينِ
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَقُولُ آمِينَ وَإِنَّ الْإِمَامَ يَقُولُ آمِينَ فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. আমীন উচ্চস্বরে বলা
১২৭৯. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করলেন, [“ওয়ালাদ্দ্ব-ল্লীন।” (ফাতিহা: ৭)] তখন বললেন, “আমীন”। আর এতে তিনি তাঁর কন্ঠস্বর উচ্চ করলেন।[1]
بَاب الْجَهْرِ بِالتَّأْمِينِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ حُجْرِ بْنِ الْعَنْبَسِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَرَأَ وَلَا الضَّالِّينَ قَالَ آمِينَ وَيَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজ দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪৭। ((আহমাদ ৪/৩১৬, ৩১৭; আবু দাউদ ৯৩২; তিরমিযী ৩৪৮; বাইহাকী ২/৫৭, ৫৮; তাবারাণী, আল কাবীর ২২/৪৪ নং ১১১; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৩/২৬৩; দারুকুতনী ১/৩৩৩-৩৩৪ নং ১, ২, ৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/৫৮ নং ৫৮৬ সহীহ সনদে। একে সহীহ বলেছেন দারুকুতনী, হাসান বলেছেন তিরমিযী ও বাগাবী।
অপর সনদে আবু দাউদ ৯৩৩, তিরমিযী ২৪৮, ২৪৯। তিরমিযী (২৪৮ নং এর পরে) বলেন: আমি মুহাম্মদ তথা ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি: এ ব্যাপারে সুফিয়ানের হাদীস শু’বার হাদীস হতে অধিক সহীহ। শু’বাহ এ হাদীসের কয়েকটি স্থানে ভূল করেছেন।....” তিরমিযীও (২৪৯ নং এ) একই কথা বলেছেন।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আনের ৪৪৭ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪০. প্রত্যেক বার ঝুঁকে যাওয়া ও উঠার হওয়ার সময় তাকবীর বলা
১২৮০. আবী বাকর ইবনু আব্দুর রহমান ও আবী সালামাহ রাহি. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তারা দু’জন আবী হুরাইরা রা: এর পিছনে সালাত আদায় করলেন। তিনি রুকু’ করার সময় তাকবীর বললেন, আবার যখন (রুকু’ হতে) মাথা উঠালেন তখন ’সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললেন, অতঃপর ’রব্বানা লাকাল হামদ’ বললেন। তারপর তিনি সাজদা করার সময় তাকবীর বললেন, এরপর (সিজদাহ হতে) মাথা উঠানোর সময়ও তাকবীর বললেন। আবার যখন দ্বিতীয় রাকা’আত (শেষে) উঠে দাঁড়ালেন, তখনও তাকবীর বললেন। (এভাবে সালাত শেষ করে) তারপর তিনি বললেন, সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের চেয়ে আমার (সালাত) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (সালাতের) সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের আগ পর্যন্ত তাঁর সালাত এরূপই ছিল।[1]
بَاب التَّكْبِيرِ عِنْدَ كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُمَا صَلَّيَا خَلْفَ أَبِي هُرَيْرَةَ فَلَمَّا رَكَعَ كَبَّرَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ثُمَّ سَجَدَ وَكَبَّرَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَكَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ حِينَ قَامَ مِنْ الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا زَالَ هَذِهِ صَلَاتُهُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৮৫; সহীহ মুসলিম ৩৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৬৬, ১৭৬৭, ১৭৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. প্রত্যেক বার ঝুঁকে যাওয়া ও উঠার হওয়ার সময় তাকবীর বলা
১২৮১. আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (সালাতে) দেখেছি, তিনি প্রতিবার উঠা ও ঝুঁকে যাওয়ার সময় এবং দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর দিচ্ছেন।’[1]
بَاب التَّكْبِيرِ عِنْدَ كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ وَعَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ رَفْعٍ وَوَضْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০১, ৫১২৮, ৫৩৩৪। ((তিরমিযী ২৫৩; তিনি বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ’; তায়ালিসী ১/৯৫ নং ৪১৭; নাসাঈ ২/২০৫, ৩/৬২; বাইহাকী ২/১৭৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/২২০।- মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০১ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪১. রুকূ’ ও সিজদায় ‘রফউল ইয়াদাইন’ (উভয় হাত উত্তোলণ) প্রসঙ্গে
১২৮২. সালিম তার পিতা ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ (আরম্ভ) করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন। এবং যখন রুকূ’ করতেন, তখনও তাকবীর দিতেন এবং উভয় হাত উত্তোলন করতেন আবার যখন রুকূ হতে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও এরূপ করতেন। তবে দু’ সিজদার মাঝে কিংবা সিজদাসমুহের মাঝে তা উত্তোলন করতেন না।[1]
بَاب فِي رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا دَخَلَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ أَوْ فِي السُّجُودِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৫; সহীহ মুসলিম ৩৯০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২০, ৫৪৮১, ৫৫৩৪, ৫৫৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬১, ১৮৬৪, ১৮৬৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. রুকূ’ ও সিজদায় ‘রফউল ইয়াদাইন’ (উভয় হাত উত্তোলণ) প্রসঙ্গে
১২৮৩. মালিক ইবনুল হুয়াইরিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকবীর দিতেন তখন তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন, আবার তিনি যখন রুকূ’ করার ইচ্ছা করতেন, (তখনও তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন) এবং যখন রুকূ’ হতে মাথা উত্তোলন করতেন, (তখনও তাঁর উভয় হাত কান বরাবর উত্তোলন করতেন)।[1]
بَاب فِي رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ أُذُنَيْهِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৭; সহীহ মুসলিম ৩৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬৩, ১৮৭৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. রুকূ’ ও সিজদায় ‘রফউল ইয়াদাইন’ (উভয় হাত উত্তোলণ) প্রসঙ্গে
১২৮৪. ওয়ায়িল আল হাযরামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি ঝূঁকে যাওয়ার সময় ও উঠার সময় তাকবীর দিতেন এবং তাকবীর দেওয়ার সময় উভয় হাত উত্তোলন করতেন। আর তিনি সালাম ফেরাতেন (প্রথমে) ডান দিক থেকে এবং (তারপর) বাম দিক থেকে।
তিনি বলেন, আমি বললাম, তখন কি তার চেহারার শুভ্রতা দেখা যেতো? তিনি বললেন, হাঁ।[1]
بَاب فِي رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ حَدَّثَنِي أَبُو الْبَخْتَرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْيَحْصُبِيِّ عَنْ وَائِلٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ يُكَبِّرُ إِذَا خَفَضَ وَإِذَا رَفَعَ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ التَّكْبِيرِ وَيُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ قَالَ قُلْتُ حَتَّى يَبْدُوَ وَضَحُ وَجْهِهِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বাইহাকী ২/২৬।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. যে ব্যক্তি ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য
১২৮৫. মালিক ইবনু হুয়াইরিছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার কওমের একটি (প্রতিনিধি) দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগমণ করলাম। আর আমরা ছিলাম যুবক। এরপর আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু এবং বন্ধু বৎসল। এরপর যখন তিনি আমাদের মধ্যে আপন পরিজনের (কাছে প্রত্যাবর্তনের) প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করো এবং তাদের মাঝে অবস্থান করো। আর তাদেরকে (কল্যাণকর কাজের) আদেশ দাও এবং (দ্বীন) শেখাও। আর তোমরা সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখলে। আর যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আযান দেয় অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় সে যেন ইমামিত করে।”[1]
بَاب مَنْ أَحَقُّ بِالْإِمَامَةِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِي وَنَحْنُ شَبَبَةٌ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفِيقًا فَلَمَّا رَأَى شَوْقَنَا إِلَى أَهْلِينَا قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَكُونُوا فِيهِمْ فَمُرُوهُمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي وَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬২৮; সহীহ মুসলিম ৬৭৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫৮, ১৮৭২, ২১২৮, ২১২৯, ২১৩০। এছাড়া বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৫৮৯৫; ইবনু কানি’ঈ, মু’জামুস সাহাবাহ ৩/৪৫ জীবনী নং ৯৮৯।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. যে ব্যক্তি ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য
১২৮৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তিন ব্যক্তি একত্রিত হবে, তখন তাদের একজন যেন তাদের ইমামতি করে, আর তাদের মধ্যে ইমামতির সর্বাধিক যোগ্য হলো সেই ব্যক্তি, যে অধিকতর বিশুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে।”[1]
بَاب مَنْ أَحَقُّ بِالْإِمَامَةِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اجْتَمَعَ ثَلَاثَةٌ فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৭২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ১২৯১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৩২।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. ইমামের সাথে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি (মুক্বতাদী) একজন হলে তার অবস্থান
১২৮৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, আমি (একরাতে) আমার খালা মায়মুনাহ’র নিকট ছিলাম। এরপর ঈশা’র সালাতের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঘরে) এসে চার রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে বললেন: “বালকটি কি ঘুমিয়ে পড়লো?” অথবা, অনুরূপ কথা বললেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আবার সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর আমি এসে তাঁর বাম পাশে (সালাতে) দাঁড়ালাম, তখন তিনি আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে আসলেন।’[1]
بَاب مَقَامِ مَنْ يُصَلِّي مَعَ الْإِمَامِ إِذَا كَانَ وَحْدَهُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ أَنَامَ الْغُلَيِّمُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا فَقَامَ فَصَلَّى فَجِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৮৩; সহীহ মুসলিম ৭৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ২৪৬৫; আবী ইয়ালা, মু’জামুশ শুয়ূখ নং ৩২৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৯, ২৫৯২, ২৬২৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৭৭ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. ইমামের বসা অবস্থায় যে ব্যক্তি তার পিছনে সালাত আদায় করে তার সম্পর্কে
১২৮৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ঘোড়ায় আরোহন করলেন এবং তা হতে পড়ে ডান পাশে আঘাতপ্রাপ্ত হলেন। ফলে তিনি বসে সালাত আদায় করলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। তারপর যখন তিনি সালাত থেকে বিরত হলেন, তিনি বললেন: “ইমাম এজন্যই বানানো হয়, যাতে তার অনুসরণ করা হয়। সুতরাং তার বিপরীত করো না। বরং সে যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে আদায় করবে। আর সে যখন রুকূ’ করে, তোমরাও তখন রুকূ’ করবে, আবার সে যখন (মাথা) উত্তোলন করে, তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে। আর সে যখন ’সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলেন তোমরা তখন বলো ’রব্বানা লাকাল হামদ’। আর সে বসে সালাত আদায় করলে তোমরা সকলেই বসে সালাত আদায় করবে।[1]
بَاب فِيمَنْ يُصَلِّي خَلْفَ الْإِمَامِ وَالْإِمَامُ جَالِسٌ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلَاةً مِنْ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ جَالِسٌ فَصَلَّيْنَا مَعَهُ جُلُوسًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৭৮; সহীহ মুসলিম ৪১১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ৩৫৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১০২, ২১০৩; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২২৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. ইমামের বসা অবস্থায় যে ব্যক্তি তার পিছনে সালাত আদায় করে তার সম্পর্কে
১২৮৯. উবাউদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আয়িশার নিকট প্রবেশ করে তাঁকে বললাম, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে হাদীস শোনাবেন না?
তখন তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ভারী (রোগে কাতর) হয়ে গেলেন, তখন তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতিক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: “আমার জন্য গামলায় পানি নিয়ে এসো।”
আয়িশা বলেন, আমরা পানি দিলাম। ফলে তিনি গোসল করলেন। তারপর তিনি যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু মুর্ছা গেলেন। এরপর জ্ঞান ফিরে এলে বললেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতিক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: “আমার জন্য গামলায় পানি নিয়ে এসো।”
আয়িশা বলেন, আমরা পানি দিলাম। ফলে তিনি গোসল করলেন। তারপর তিনি যেতে উদ্যত হলেন, কিন্তু মুর্ছা গেলেন। এরপর জ্ঞান ফিরে এলে বললেন: লোকেরা কি সালাত আদায় করে নিয়েছে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তারা আপনার প্রতীক্ষায় রয়েছে।
আয়িশা বলেন, লোকেরা সর্বশেষ ঈশার সালাতের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বাকর কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলার জন্য লোক পাঠালেন।
তিনি বলেন, লোকটি আবু বাকরের নিকট এসে তাঁকে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে আদেশ দিয়েছেন।
তখন আবু বাকর - যিনি অত্যন্ত দয়ালূ ব্যক্তি ছিলেন- তিনি বললেন, হে উমার, আপনি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করুন।
উমার তাঁকে বললেন, আপনিই এর অধিক উপযুক্ত।
আয়িশা বলেন, তারপর এ দিনগুলিতে আবু বাকরই লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।
তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন একটু হালকা বোধ করলেন, তখন তিনি দু’ ব্যক্তির মাঝে (তাদের উপর ভর করে) যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন, আর তাদের দু’জনের একজন ছিলেন আব্বাস, আর আবু বাকর তখন লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। যখন আবু বাকর তাঁকে দেখলেন, তিনি পিছিয়ে যেতে চাইলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় পিছিয়ে না যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি (পার্শ্ববর্তী) দু’জনকে বললেন: “আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও।” ফলে তারা দু’জন তাঁকে আবু বাকরের পাশে বসিয়ে দিলো।
আয়িশা বলেন, এরপর আবু বাকর দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের অনুসরণে সালাত আদায় করছিলেন এবং লোকেরা আবু বাকরের অনুসরণে সালাত আদায় করছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় ছিলেন।
উবাইদুল্লাহ বলেন, এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসের নিকট গিয়ে তাকে বললাম, আমি কি আপনার নিকট সেই হাদীস উপস্থাপন করব না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন?তখন তিনি বললেন, নিয়ে আসো। ফলে আমি আয়িশার হাদীসটি তার নিকট উপস্থাপণ করলাম। তখন তিনি এর কোনো কিছুই অস্বীকার করেননি। তবে তিনি বললেন, আব্বাসের সাথে অপর যে ব্যক্তি ছিল, তিনি কি তার নাম তোমাকে বলেছেন? আমি বললাম, না তো। তখন তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবনু আবী তালিব।[1]
بَاب فِيمَنْ يُصَلِّي خَلْفَ الْإِمَامِ وَالْإِمَامُ جَالِسٌ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ لَهَا أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ بَلَى ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ قُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ فَقُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ فَفَعَلْنَا ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ فَقُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَتْ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ قَالَتْ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَتْ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكَ بِأَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ قَالَتْ فَصَلَّى بِهِمْ أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الْأَيَّامَ قَالَتْ ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا يَتَأَخَّرَ وَقَالَ لَهُمَا أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُوَ قَائِمٌ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَهُ أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هَاتِ فَعَرَضْتُ حَدِيثَهَا عَلَيْهِ فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قُلْتُ لَا فَقَالَ هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৯৮ (অন্য বিভিন্ন স্থানসমূহেও); মুসলিম ৪১৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী ৪৪৭৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১১৬, ২১১৮, ২১১৯, ২১২৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩৫ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ইমাম যখন তার সঙ্গী (মুক্বতাদী)-দের থেকে উঁচুতে থেকে সালাত আদায় করেন
১২৯০. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, তিনি মিম্বারের উপর বসা অাছেন। এরপর তিনি (দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে সালাতের জন্য) তাকবীর দিলেন এবং তাঁর পিছনে লোকেরাও তাকবীর দিলো। অতঃপর তিনি (ক্বিরা’আত শেষে) মিম্বারের উপরেই রুকূ’তে গেলেন ও এরপর মাথা উত্তোলন করলেন। তারপর পিছিয়ে গিয়ে (মিম্বার হতে) অবতরণ করে মিম্বারের গোড়াতে সাজদা করলেন। এরপর তিনি পূণরায় (মিম্বারে ফিরে গেলেন এবং) এরূপ করতে থাকলেন তাঁর সালাত শেষ করা পর্যন্ত।
আবু মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারে অনুমতি রয়েছে যে, ইমাম তার সঙ্গীদের থেকে উঁচু স্থানে দাঁড়াতে পারবেন এবং এ পরিমাণ কাজ সালাতের মধ্যেও প্রযোজ্য।
بَاب الْإِمَامِ يُصَلِّي بِالْقَوْمِ وَهُوَ أَنْشَزُ مِنْ أَصْحَابِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَبَّرَ فَكَبَّرَ النَّاسُ خَلْفَهُ ثُمَّ رَكَعَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلَاتِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد فِي ذَلِكَ رُخْصَةٌ لِلْإِمَامِ أَنْ يَكُونَ أَرْفَعَ مِنْ أَصْحَابِهِ وَقَدْرُ هَذَا الْعَمَلِ فِي الصَّلَاةِ أَيْضًا
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. ইমামকে সালাত সংক্ষিপ্ত করা যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে
১২৯১. আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি ভোরের (ফজরের) সালাতে হাজির হই না। (কেননা,) অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ করে সালাত আদায় করে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নসীহত করার ক্ষেত্রে সেইদিনের চেয়ে অধিক রাগান্বিত হতে আর কখনো দেখিনি। তিনি তখন বললেন: “হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মাঝে বিরক্তি উতপাদনকারী লোকজন রয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেনো সালাত সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও প্রয়োজনগ্রস্ত (লোকজন) থাকে।[1]
بَاب مَا أُمِرَ الْإِمَامُ مِنْ التَّخْفِيفِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فِيهَا فُلَانٌ فَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ غَضَبًا فِي مَوْعِظَةٍ مِنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ فَمَنْ صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيَتَجَوَّزْ فَإِنَّ فِيهِمْ الْكَبِيرَ وَالضَّعِيفَ وَذَا الْحَاجَةِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৯০; সহীহ মুসলিম ৪৬৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৩৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৮।....
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. ইমামকে সালাত সংক্ষিপ্ত করা যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে
১২৯২. কাতাদা বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায়কারী।[1]
بَاب مَا أُمِرَ الْإِمَامُ مِنْ التَّخْفِيفِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَفَّ النَّاسِ صَلَاةً فِي تَمَامٍ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭০৬-৭০৮; সহীহ মুসলিম ৪৬৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ২৭৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৫৯, ১৮৫৬, ১৮৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. সালাতের ইকামত দেয়া হলে লোকেরা কখন উঠে দাঁড়াবে
১২৯৩. আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।”[1]
بَاب مَتَى يَقُومُ النَّاسُ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৩৭; সহীহ মুসলিম ৬০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৫৫, ২২২২, ২২২৩ ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. সালাতের ইকামত দেয়া হলে লোকেরা কখন উঠে দাঁড়াবে
১২৯৪. (অপর সূত্রে) আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।”[1]
بَاب مَتَى يَقُومُ النَّاسُ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. কাতার ঠিক (সোজা) করা প্রসঙ্গে
১২৯৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করো, কেননা, কাতার সোজা করা সালাতের পূর্ণতার অংশ।”[1]
بَاب فِي إِقَامَةِ الصُّفُوفِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ وَسَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭২৩; সহীহ মুসলিম ৪৩৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ২৯৯৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৭১, ২১৭৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. যে ব্যক্তি সালাতে কাতার মিলিয়ে রাখে, তার মর্যাদা
১২৯৬. বারা’আ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করো, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহ বিক্ষিপ্ত হবে না।”তিনি বলেন, তিনি আরও বলতেন: “আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ প্রথম কাতার অথবা, প্রথম কাতারসমূহের উপর রহমত বর্ষণ করেন।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ يَصِلُ الصَّفَّ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْسَجَةَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ سَوُّوا صُفُوفَكُمْ لَا تَخْتَلِفُ قُلُوبُكُمْ قَالَ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ أَوْ الصُّفُوفِ الْأُوَلِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৫৭, ২১৬১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. প্রথম কাতারের ফযীলত
১২৯৭. ইরবায ইবনু সারিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম কাতারের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصَّفِّ الْأَوَّلِ
خْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَغْفِرُ لِلصَّفِّ الْأَوَّلِ ثَلَاثًا وَلِلصَّفِّ الثَّانِي مَرَّةً
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৫৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৯৫ এ। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. প্রথম কাতারের ফযীলত
১২৯৮. ইরবায ইবনু সারিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصَّفِّ الْأَوَّلِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى الْأَشْيَبُ عَنْ شَيْبَانَ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. কোন্ লোক ইমামের পরবর্তী (নিকটবর্তী) থাকবে
১২৯৯. আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সময় আমাদের কাঁধ ধরে আমাদেরকে বলতেন, তোমরা বিচ্ছিন্ন (এলোমেলো) হয়ে (দাঁড়িও) না, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহও মতভেদপূর্ণ হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর দাঁড়াবে।” আবু মাসউদ বলেন: অথচ আজকে তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ বিরাজ করছে।[1]
بَاب مَنْ يَلِي الْإِمَامَ مِنْ النَّاسِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلَاةِ وَيَقُولُ لَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ فَأَنْتُمْ الْيَوْمَ أَشَدُّ اخْتِلَافًا
তাখলীজ: সহীহ মুসলিম ৪৩২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৭২, ২১৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. কোন্ লোক ইমামের পরবর্তী (নিকটবর্তী) থাকবে
১৩০০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, তারা তাদের পর দাঁড়াবে। আর তোমরা বিচ্ছিন্ন (এলোমেলো) হয়ে (দাঁড়িও) না, তাহলে তোমাদের অন্তরসমূহও মতভেদপূর্ণ হয়ে যাবে। এছাড়া তোমরা (মসজিদসমূহে) বাজারের মতো শোরগোল-চিতকার করা হতে বেঁচে থাকবে।”[1]
بَاب مَنْ يَلِي الْإِمَامَ مِنْ النَّاسِ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَإِيَّاكُمْ وَهَوْشَاتِ الْأَسْوَاقِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৩২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানদুল মাওসিলী নং ৫১১১, ৫৩২৪, ৫৩২৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৮০।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. নারীদের জন্য উত্তম কাতার কোনটি
১৩০১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “পুরুষদের জন্য উত্তম কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার; আর নারীদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হলো সর্বশেষ কাতার এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাতার হলো প্রথম কাতার।”[1]
بَاب أَيُّ صُفُوفِ النِّسَاءِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৪১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৭৯; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৩০, ১০৩১।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. কোন্ সালাত মুনাফিকদের উপর খুব ভারী
১৩০২. উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদা) ফজরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: “অমুক কি উপস্থিত আছে?” তারা বললেন, না। তিনি আবার বললেন, “অমুক কি উপস্থিত আছে?” তারা বললেন, ’না।’ কেননা, (সেই সময়) একদল মুনাফিক সালাতে উপস্থিত হতো না। অতঃপর তিনি বললেন: “নিশ্চয় এ সালাত দু’টি মুনাফিকদের নিকট অত্যন্ত কষ্টকর সালাত। আর এ দু’টি সালাতে কী (সাওয়াব) রয়েছে, তারা যদি তা জানতো তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দু’সালাতের জামা’আতে উপস্থিত হতো।”[1]
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ أَثْقَلُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ قَالُوا لَا فَقَالَ أَشَاهِدٌ فُلَانٌ فَقَالُوا لَا لِنَفَرٍ مِنْ الْمُنَافِقِينَ لَمْ يَشْهَدُوا الصَّلَاةَ فَقَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلَاتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪২৯ এ। ((দ্বিতীয় অংশ: ‘‘আর এ দু’টি সালাতে কী রয়েছে তারা যদি তা জানতো, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দু’টি সালাতে উপস্থিত হতো”- বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ৬৫৪।-অনুবাদক))
((তায়ালিসী ৫৫৪; বাইহাকী ৩/৬৭-৬৮; আহমাদ ৫/১৪০; আবু দাউদ ৫৫৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ১৪৭৭; হাকিম ১/২৪৭-২৪৮; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ২০০৪।- আল ইহসান, নং ২০৫৬ আরনাউত্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. কোন্ সালাত মুনাফিকদের উপর খুব ভারী
১৩০৩. আবু মুহাম্মদ বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাছীর বলেন, আমার পিতা আমার নিকট উবাই থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন এবং (বলেন) আমি উবাই হতে এটি শুনেছি।
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ أَثْقَلُ
قَالَ أَبُو مُحَمَّد عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَصِيرٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أُبَيٍّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَمِعْتُهُ مِنْ أُبَيٍّ
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. কোন্ সালাত মুনাফিকদের উপর খুব ভারী
১৩০৪. (অপর সূত্রে) উবাই ইবনু কা’ব হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ أَثْقَلُ
أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৫৭ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৪৩০। আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. কোন্ সালাত মুনাফিকদের উপর খুব ভারী
১৩০৫. (অপর সূত্রে) উবাই ইবনু কা’ব হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ أَثْقَلُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: আগের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. কোন্ সালাত মুনাফিকদের উপর খুব ভারী
১৩০৬. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় সর্বশেষ সালাত ’ঈশা’র সালাত ও ফজরের সালাতের চেয়ে মুনাফিকদের নিকট অধিক কষ্টকর সালাত আর নেই। আর এ দু’টি সালাতে কী (সাওয়াব) রয়েছে, তারা যদি তা জানতো তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দু’সালাতের জামা’আতে উপস্থিত হতো।”[1]
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ أَثْقَلُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ صَلَاةٍ أَثْقَلُ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
তাখরীজ: বুখারী ৬৫৭, সহীহ মুসলিম ৬৫১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯৮ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. সালাত আদায় করা থেকে যারা পিছিয়ে থাকে (জামা’আতে হাযির হয় না) তাদের সম্পর্কে
১৩০৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার ইচ্ছা হয়, আমি যুবকদেরকে কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেই, তারপর যারা এ সালাত হতে পিছিয়ে রয়েছে (জামা’আতে হাজির হয়নি), সেই সকল লোকদের পিছনে যাই এবং তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেই। যদি মাংস ছাড়ানো মোটা হাড় কিংবা ছাগলের ভালো দু’টি পা[1] ও তারা (এখানে আসলে) পেতো, তবে অবশ্যই তারা এ দু’টি সালাতে উপস্থিত হতো। আর এ দু’টি সালাতে কী (সাওয়াব) রয়েছে, তারা যদি তা জানতো তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দু’সালাতের জামা’আতে উপস্থিত হতো।[2]
بَاب فِيمَنْ تَخَلَّفَ عَنْ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَانِي فَيَجْمَعُوا حَطَبًا فَآمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى أَقْوَامٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ لَوْ كَانَ عَرْقًا سَمِينًا أَوْ مُعَرَّقَتَيْنِ لَشَهِدُوهَا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান। (তবে হাদীসটি সহীহ)।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৪৪; সহীহ মুসলিম ৬৫১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৩৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯৬ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. সফরে বৃষ্টি হলে জামা’আত ত্যাগ করার অনুমতি
১৩০৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি এক রাতে ’যাজনান’ নামক স্থানে অবতরণ করে সেখানে মুয়াযযিনকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। ফলে মুয়াযযিন ঘোষণা করলেন: ’বাড়িতেই সালাত (আদায় করো)।’ তারপর তিনি বর্ণনা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে থাকা অবস্থায় এক তীব্র ঠান্ডার রাতে কিংবা বৃষ্টির রাতে মুয়াযযিনকে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে সে একথা ঘোষণা দিয়েছিল যে, ’’তোমরা বাড়ীঘরেই সালাত আদায় করো।”[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ الْجَمَاعَةِ إِذَا كَانَ مَطَرٌ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ نَزَلَ بِضَجْنَانَ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى الصَّلَاةُ فِي الرِّحَالِ ثُمَّ أَخْبَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ أَوْ الْمَطَرِ أَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى الصَّلَاةُ فِي الرِّحَالِ
তাখরীখ: সহীহ বুখারী ৬৩২; সহীহ মুসলিম ৬৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৭৬, ২০৭৭, ২০৭৮, ২০৮০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. জামা’আতে সালাত আদায়ের ফযীলত
১৩০৯. দাউদ ইবনু আবী হিন্দ বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. কে বললাম, কোনো লোক তার বাড়ীতে সালাত আদায় করলো, এরপর (মসজিদে এসে) ইমামকে সালাতরত অবস্থায় পেলো। এমতাবস্থায় সে ইমামে সাথে (পুনরায়) সালাত আদায় করবে কি? তিনি বললেন: হাঁ। আমি বললাম, সে এ দু’টি সালাতের কোনটিকে (ফরয) সালাত হিসেবে গণ্য করবে? তিনি বললেন, যেটি সে ইমামের সাথে আদায় করেছে। কেননা, আবী হুরাইরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো লোকের একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে জামা’আতে সালাত আদায় করা (এর সাওয়াব) বিশ থেকেও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ قَالَ قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ رَجُلٌ صَلَّى فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْإِمَامَ وَهُوَ يُصَلِّي أَيُصَلِّي مَعَهُ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ بِأَيَّتِهِمَا يَحْتَسِبُ قَالَ بِالَّتِي صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ فَإِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمِيعِ تَزِيدُ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ بِضْعًا وَعِشْرِينَ جُزْءًا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৪৮; সহীহ মুসলিম ৬৪৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৫১, ২০৫৩; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭১৭ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. জামা’আতে সালাত আদায়ের ফযীলত
১৩১০. আব্দুল্লাহ (ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো লোকের জামা’আতে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে সাতাশ গুণ অধিক সাওয়াব হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تَزِيدُ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ سَبْعًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৪৫; সহীহ মুসলিম ৬৫০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৫২; সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৫২, ২০৫৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. মহিলাদের মসজিদে যেতে বারণ করার নিষেধাজ্ঞা এবং তারা (মসজিদে) যাওয়ার সময় কিভাবে বের হবে?
১৩১১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো স্ত্রী মসজিদের যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়, তবে সে যেনো তাকে নিষেধ না করে।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مَنْعِ النِّسَاءِ عَنْ الْمَسَاجِدِ وَكَيْفَ يَخْرُجْنَ إِذَا خَرَجْنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَأْذَنَتْ أَحَدَكُمْ زَوْجَتُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلَا يَمْنَعْهَا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮৬৫ ও সহীহ মুসলিম ৪৪৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২৬; সহীহ ইবনু হিব্বান ২২০৮, ২২০৯, ২২১০ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. মহিলাদের মসজিদে যেতে বারণ করার নিষেধাজ্ঞা এবং তারা (মসজিদে) যাওয়ার সময় কিভাবে বের হবে?
১৩১২. আবী হুরাইরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর দাসীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করো না; আর যখন তারা (মসজিদের দিকে) বের হয়, তখন তারা যেন সুগন্ধিবিহীন অবস্থায় বের হয়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مَنْعِ النِّسَاءِ عَنْ الْمَسَاجِدِ وَكَيْفَ يَخْرُجْنَ إِذَا خَرَجْنَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ وَلْيَخْرُجْنَ إِذَا خَرَجْنَ تَفِلَاتٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯১৫; সহীহ ইবনু হিব্বান ২২১৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩২৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০০৮ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. মহিলাদের মসজিদে যেতে বারণ করার নিষেধাজ্ঞা এবং তারা (মসজিদে) যাওয়ার সময় কিভাবে বের হবে?
১৩১৩. এ হাদীসের সনদে মুহাম্মদ ইবনু আমর বলেন, সাঈদ ইবনু আমির বলেছেন, ’التفلة’ (আত-তাফিলাহ’) অর্থ: যাতে কোনো সুগন্ধ নেই।’[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مَنْعِ النِّسَاءِ عَنْ الْمَسَاجِدِ وَكَيْفَ يَخْرُجْنَ إِذَا خَرَجْنَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو بِإِسْنَادِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ التَّفِلَةُ الَّتِي لَا طِيبَ لَهَا
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয় আর সেই অবস্থায় সালাতের জন্য ইকামত দেয়া হয়
১৩১৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাতের খাবার সামনে রাখা হয় এবং সালাতেরও সময় হয়, তখন তোমরা প্রথমেই রাতের খাবার খেয়ে নেবে।”[1] (এরপর সালাত আদায় করবে।)
بَاب إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتْ الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وُضِعَ الْعَشَاءُ وَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ
তাখরীজ: বুখারী ৬৭১; মুসলিম ৫৫৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৩১; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮২ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয় আর সেই অবস্থায় সালাতের জন্য ইকামত দেয়া হয়
১৩১৫. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেব বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয়ে যায় এবং সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন তোমরা প্রথমেই রাতের খাবার খেয়ে নেবে।”[1]
بَاب إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتْ الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ
তাখরীজ: বুখারী ৬৭২; মুসলিম ৫৫৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৯৬, ২৭৯৭, ৩৫৪৬, ৩৬০২; ইবুন হিব্বান নং ২০৬৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. কিভাবে সালাতে হেঁটে আসবে
১৩১৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যখন সালাতে আসবে, তখন তোমরা দৌড়ে আসবে না, বরং (ধীরে সুস্থে) হেঁটে আসবে। আর তোমাদের উপর ধীর-স্থিরতা অবলম্বন অপরিহার্য। অতঃপর তোমরা (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও আদায় করবে এবং যেটুকু ’ফাওত’ হবে, (একাকী) তা পূর্ণ করে নেবে।”[1]
بَاب كَيْفَ يُمْشَى إِلَى الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَيْتُمْ الصَّلَاةَ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمْ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৩৬; সহীহ মুসলিম ৬০২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৯৭; ইবুন হিব্বান নং ২১৪৫, ২১৪৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. কিভাবে সালাতে হেঁটে আসবে
১৩১৭. ইবনু আবী কাতাদা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যখন সালাতে আসবে, তখন ধীর-স্থিরতা অবলম্বন করা তোমাদের উপর অপরিহার্য। অতঃপর তোমরা (ইমামের সাথে) যতটুকু পাও আদায় করবে এবং যেটুকু ছুটে যাবে, (একাকী) তা পূর্ণ করে নেবে।”[1]
بَاب كَيْفَ يُمْشَى إِلَى الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَيْتُمْ الصَّلَاةَ فَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا سُبِقْتُمْ فَأَتِمُّوا
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৩৫, ৬৩৭; সহীহ মুসলিম ৬০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবুন হিব্বান নং ১৭৫৫, ২২২২, ২২২৩; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৩১ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. মসজিদসমূহের দিকে অধিক পদক্ষেপের (যাতায়াতের) ফযীলত
১৩১৮. উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনায় এক লোক ছিল, মদীনায় কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায়কারী কোনো লোকের বাড়ী ঐ লোকটির বাড়ী অপেক্ষা মসজিদ হতে অধিক দূরবর্তী ছিল আমার জানা নেই। কিন্তু লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সকল সালাতে (জামা’আতেই) উপস্থিত থাকতো। ফলে তাকে বলা হলো, তুমি যদি একটি গাধা ক্রয় করতে, তবে অত্যন্ত গরমের সময় এবং অন্ধকারেও তাতে আরোহন করে (মসজিদে আসতে) পারতে। তখন সে লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমার অবস্থান স্থলটি মসজিদ সংলগ্ন হোক- এ বিষয়টি আমাকে মোটেও আনন্দিত করে না। ফলে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জানানো হলে তিনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন সে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যেন আমার পদচিহ্ন, আমার পদক্ষেপ, আমার পরিবারের নিকট প্রত্যাবর্তন এবং (মসজিদে) আমার গমনাগমন (আমার আমল নামায়) লিখা হয়।’ অথবা, সে যেরূপ বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “এর প্রত্যেকটি আল্লাহই তোমাকে দিয়েছেন এবং তুমি যেসব বিষয় একত্রিত করে কামনা করেছো, তার সবই তোমার জন্য দেয়া হয়েছে।” অথবা, তিনি যেরূপ বলেছেন।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ كَانَ رَجُلٌ بِالْمَدِينَةِ لَا أَعْلَمُ بِالْمَدِينَةِ مَنْ يُصَلِّي إِلَى الْقِبْلَةِ أَبْعَدَ مَنْزِلًا مِنْ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ لَوْ ابْتَعْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الرَّمْضَاءِ وَالظَّلْمَاءِ قَالَ وَاللَّهِ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي بِلِزْقِ الْمَسْجِدِ فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْمَا يُكْتَبَ أَثَرِي وَخُطَايَ وَرُجُوعِي إِلَى أَهْلِي وَإِقْبَالِي وَإِدْبَارِي أَوْ كَمَا قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْطَاكَ اللَّهُ ذَلِكَ كُلَّهُ وَأَعْطَاكَ مَا احْتَسَبْتَ أَجْمَعَ أَوْ كَمَا قَالَ
তাখরীজ: মুসলিম ৬৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবুন হিব্বান নং ২০৪০, ২০৪১; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮০ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. কাতারের পেছনে যে ব্যক্তি একাকী সালাত আদায় করে
১৩১৯. হিলাল ইবনু্ ইসাফ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদ ইবনু আবীল জা’দ আমার হাত ধরলেন এবং তারপর বণী আসাদ গোত্রের এক শাইখের (বৃদ্ধ) সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন, যাকে ওয়াবিসাহ ইবনু মা’বাদ বলে ডাকা হতো। এরপর তিনি বলেন, আমার নিকট এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন - আর লোকে শুনেছে- যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন এবং (তিনি বর্ণনা করেন) এক লোক তাঁর পিছে সালাত আদায় করেছে, যে কাতারের সাথে মিলিত হয়ে দাঁড়ায়নি। তখন সেই ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, আহমাদ ইবনু হাম্বল আমর ইবনু মুররাহ’র হাদীসকে[2] সাব্যস্ত করেছেন। আর আমি ইয়াযীদ ইবনু যিয়াদ ইবনু আবীল জা’দ এর হাদীসের দিকে গিয়েছি (অবলম্বন করেছি)।
بَاب فِي صَلَاةِ الرَّجُلِ خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ هُوَ عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ قَالَ أَخَذَ بِيَدِي زِيَادُ بْنُ أَبِي الْجَعْدِ فَأَقَامَنِي عَلَى شَيْخٍ مِنْ بَنِي أَسَدٍ يُقَالُ لَهُ وَابِصَةُ بْنُ مَعْبَدٍ فَقَالَ حَدَّثَنِي هَذَا وَالرَّجُلُ يَسْمَعُ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ صَلَّى خَلْفَهُ رَجُلٌ وَلَمْ يَتَّصِلْ بِالصُّفُوفِ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ يُثْبِتُ حَدِيثَ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ وَأَنَا أَذْهَبُ إِلَى حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৮৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৯৮-২২০১ এ। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
[2] আমর ইবনু মুররাহ’র হাদীসটি আমরা তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৯৮, ২১৯৯ এ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪০৩, ৪০৪ এ। এর আগের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. কাতারের পেছনে যে ব্যক্তি একাকী সালাত আদায় করে
১৩২০. ওয়াবিসা ইবনু মা’বাদ হতে বর্ণিত, একটি লোক কাতারসমূহের পিছনে একাকী সালাত আদায় করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন।[1]আবু মুহাম্মদ বলেন, এটিই আমার মত।
بَاب فِي صَلَاةِ الرَّجُلِ خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ أَنَّ رَجُلًا صَلَّى خَلْفَ الصُّفُوفِ وَحْدَهُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُعِيدَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهَذَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২০১; দেখুন, আগের টীকা দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. কাতারের পেছনে যে ব্যক্তি একাকী সালাত আদায় করে
১৩২১. আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত। তাঁর দাদী মুলাইকাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে খাবার খাওয়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। এরপর তিনি এসে খাওয়া-দাওয়া করলেন এবং বললেন: “তোমরা দাঁড়িয়ে যাও, যাতে আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারি।”
আনাস বলেন, এরপরে আমি উঠে গিয়ে আমাদের একটি মাদুর নিয়ে এলাম, যেটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিলো। ফলে আমি তাতে পানি ছিটিয়ে দিলাম, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর দাঁড়ালেন আর আমি ও এক ইয়াতিম বালক তার পিছনে কাতারবদ্ধ হলাম, আর বৃদ্ধা (আমার দাদী) আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করলেন, এরপর তিনি ফিরে গেলেন।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الرَّجُلِ خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ جَدَّتَهُ مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ قُومُوا فَلِأُصَلِّيَ بِكُمْ قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدْ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ وَرَاءَنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৮০; সহীহ মুসলিম ৬৫৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী’ নং ৪২০৬, ৪২২৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যুহরের সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩২২. আবী সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম দু’রাকা’আতে তিরিশ আয়াত পাঠের সময় পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং শেষ দু’রাকা’আতে তার অর্ধেক পরিমাণ দাঁড়াতেন; আর আসরের সালাতে যুহরের শেষ দু’ রাকা’আতের সম পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন এবং শেষ দু’রাকা’আতে এর অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنْ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُومُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ قَدْرَ ثَلَاثِينَ آيَةً وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ عَلَى قَدْرِ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ وَفِي الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ الْأُخْرَيَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ عَلَى قَدْرِ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৫২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮২৫, ১৮২৮ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যুহরের সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩২৩. আবী সাঈদ হতে (অপর সনদে), অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে, “(তাঁর) কিরা’আতের পরিমাণ ছিল [“আলিফ লাম মিম, তানযীল।” সুরা: সিজদা] পাঠের সমান।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ بِنَحْوِهِ وَزَادَ قَدْرَ قِرَاءَةِ الم تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৫২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, আগের টীকাগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যুহরের সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩২৪. জাবির ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতে ওয়াস্ সামাই ওয়াত্ ত্বরিক্ব’ (সুরা আত ত্বরিক্ব: ১) ও “ওয়াস্ সামাই যাতিল বুরুজ” (সুরা: আল বুরুজ: ১) পাঠ করতেন।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮২৭ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৪৬৫ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. যুহর ও আসরের সালাতে কিভাবে কিরা’আত করতে হবে
১৩২৫. ইবনু আবী কাতাদার পিতা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের সালাতের প্রথম দু’রাকা’আতে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) এবং এর সাথে আরও দু’টি পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদেরকে শুনাতেন, আর তিনি প্রথম রাকা’আতে দীর্ঘ (কিরা’আত) করতেন।[1]
بَاب كَيْفَ الْعَمَلُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَبِسُورَتَيْنِ مَعَهَا فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ أَحْيَانًا وَكَانَ يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৭৮; সহীহ মুসলিম ৪৫১; আবু আউয়ানাহ ২/১৫২; নাসাঈ ২/১৬৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৩১; পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য আরও দেখুন পরবর্তী টীকাটি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. যুহর ও আসরের সালাতে কিভাবে কিরা’আত করতে হবে
১৩২৬. ইয়াহইয়া হতে তার সনদেও অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।[1]
بَاب كَيْفَ الْعَمَلُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
তাখরীজ: দেখুন, আগের ও পরের টীকাগুলি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. যুহর ও আসরের সালাতে কিভাবে কিরা’আত করতে হবে
১৩২৭. ইবনু আবী কাতাদার পিতা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের সালাতের প্রথম দু’রাকা’আতে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) এবং এর সাথে আরও দু’টি পাঠ করতেন এবং পরবর্তী দু’রাকা’আত কেবল উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি কোনো কোনো আয়াত আমাদেরকে শুনাতেন। আর তিনি প্রথম রাকা’আতে দীর্ঘ (কিরা’আত) করতেন, কিন্তু দ্বিতীয় রাকা’আতে তত দীর্ঘ করতেন না। আর আসরের সালাতেও তিনি এরূপ করতেন এবং ফজরের সালাতেও তিনি এরূপ করতেন।[1]
بَاب كَيْفَ الْعَمَلُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَبِسُورَتَيْنِ وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَكَانَ يُسْمِعُنَا الْآيَةَ وَكَانَ يُطِيلُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مَا لَا يُطِيلُ فِي الثَّانِيَةِ وَهَكَذَا فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ وَهَكَذَا فِي صَلَاةِ الْغَدَاةِ
তাখরীজ: সহীহ মুসিলম ৪৫১ (১৫৫); বুখারী ৭৭৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮২৯; পূর্ণ তাখরীজ দেখুন, আগের টীকাগুলিতে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. মাগরিবের সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩২৮. উম্মুল ফাদল হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিব সালাতে ’সুরা মুরসালাত’ পড়তে শুনেছেন।”[1]
بَاب فِي قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالْمُرْسَلَاتِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৬৩; সহীহ মুসলিম ৪৬২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৩২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৪০।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. মাগরিবের সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩২৯. জুবাইর ইবনু মুতয়িম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিব সালাতে ’সুরা তূর’ পড়তে শুনেছেন।[1]
بَاب فِي قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৬৫; মুসলিম ৪৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৯৩, ৭৪০৭, ৭৪১৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৩৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. ঈশার সালাতে কিরা’আতের পরিমাণ
১৩৩০. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, মু’য়ায রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতেন, এরপর সে তার কওমের লোকদের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের নিয়ে সালাত আদায় করতনে। একরাতে ’আতামাহ’ (’ঈশা) -এর সালাতে তিনি সুরা বাকারা পড়তে লাগলেন। তখন এক আনসারী ব্যক্তি এসে (একাকী) সালাত আদায় করে চলে গেলো। এরপর তার নিকট খবর পৌঁছল যে, মু’য়ায তাকে তিরস্কার করেছেন। তাই সে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট অভিযোগ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়াযকে বললেন:
“ফাতিনান, ফাতিনান, ফাতিনান, (ফিতনা সৃষ্টিকারী) অথবা ফাত্তানান, ফাত্তানান, ফাত্তানান” (ফিতনা সৃষ্টিকারী)। এরপর তাকে ’ওয়াসাতুল মুফাসসাল’ সুরা সমূহ থেকে দু’টি সূরা পাঠ করতে নির্দেশ দিলেন।[1]আবু মুহাম্মদ বলেন, আমরা এ মত গ্রহণ করেছি।
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْعِشَاءِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ مُعَاذًا كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يَأْتِي قَوْمَهُ فَيُصَلِّي بِهِمْ فَجَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى الْعَتَمَةَ وَقَرَأَ الْبَقَرَةَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَصَلَّى ثُمَّ ذَهَبَ فَبَلَغَهُ أَنَّ مُعَاذًا يَنَالُ مِنْهُ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمُعَاذٍ فَاتِنًا فَاتِنًا فَاتِنًا أَوْ فَتَّانًا فَتَّانًا فَتَّانًا ثُمَّ أَمَرَهُ بِسُورَتَيْنِ مِنْ وَسَطِ الْمُفَصَّلِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد نَأْخُذُ بِهَذَا
তাখরীজ: বুখারী ৭০০, ৭০১; মুসলিম ৪৬৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৪০, ২৪০০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৮৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ফজর সালাতে কিরাআতের পরিমাণ
১৩৩১. যিয়াদ ইবনু ’ইলাকা বলেন, আমি আমার চাচাকে বলতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি তাঁকে ফজর সালাতের দু’রাকা’আতের এক রাকাআতে [والنخل باسقات সুরা ক্বফ: ১০] পড়তে শুনেছেন।শু’বা বলেন, আমি তাকে আরেকবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: আমি তাঁকে [“ক্বফ।”] (সুরা ক্বফ: ১) পড়তে শুনেছি।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَمِّي يَقُولُ إِنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَهُ يَقْرَأُ فِي إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الصُّبْحِ وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ قَالَ شُعْبَةُ وَسَأَلْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى قَالَ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ بْ ق
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৫৭; এছাড়া পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ফজর সালাতে কিরাআতের পরিমাণ
১৩৩২. কুতবাহ ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফজর সালাতের প্রথম রাকা’আতে [ والنخل باسقات لها طلع نضيد] (’সুরা ক্বফ: ১০) পড়তে শুনেছি।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ عَنْ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ
তাখরীজ: আর এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। ফলে সেটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ফজর সালাতে কিরাআতের পরিমাণ
১৩৩৩. আমর ইবনু হুরাইছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফজর সালাতে [إذا الشمس كورت] (’সুরা তাকভীর: ১) পড়তে শুনেছেন। অতঃপর যখন তিনি ( والليل إذا عسعس ) (সুরা তাকভীর: ১৭) এ আয়াতে পৌঁছেন, তখন আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, ’আল লাইলি ইযা আসআস’ (অর্থ: রাতের কসম, যখন তা বিদায় নিয়েছে) আবার কী?[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ سَرِيعٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى هَذِهِ الْآيَةِ وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ جَعَلْتُ أَقُولُ فِي نَفْسِي مَا اللَّيْلُ إِذَا عَسْعَسَ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৫৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৫৭, ১৪৬৩, ১৪৬৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮১৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ফজর সালাতে কিরাআতের পরিমাণ
১৩৩৪. (অপর সূত্রে) আমর ইবনু হুরাইছ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ الْوَلِيدِ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. ফজর সালাতে কিরাআতের পরিমাণ
১৩৩৫. সাইয়ার ইবনু সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে আবী বরযাহ আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি তখন বাঁশ বা বেতের তৈরী একটি উঁচু আসনে উপবিষ্ট ছিলেন। আমার পিতা তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, ’হাজির’ যাকে তোমরা ’যাহিরাহ’ (যুহর) বলে ডাকো, এ সালাত তিনি সুর্য় মধ্য আকাশ হতে ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আর তিনি আসর সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, এরপর (সালাত শেষে) আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রান্তে অবস্থিত তার পরিবারের নিকট চলে যেতো এবং তখনও সূর্য উজ্জ্বল থাকতো।তিনি (রাবী) বলেন, তিনি মাগরিব সম্পর্কে কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর যাকে তোমরা ’আতামাহ’ বলে ডাকো, সেই ’ইশার সালাতকে তিনি বিলম্বে আদায় করতে পছন্দ করতেন। আর তিনি যখন ফজরের সালাত (শেষ করে) ফিরতেন তখন কোনো লোক তার পাশের সঙ্গীকে চিনতে পারতো। আর তিনি এতে ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।[1]
بَاب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلَامَةَ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ وَهُوَ عَلَى عِلْوٍ مِنْ قَصَبٍ فَسَأَلَهُ أَبِي عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَ الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتْ الشَّمْسُ وَكَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَنْطَلِقُ أَحَدُنَا إِلَى أَهْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ قَالَ وَنَسِيتُ مَا ذَكَرَ فِي الْمَغْرِبِ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ مِنْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ الَّتِي تَدْعُونَ الْعَتَمَةَ وَكَانَ يَنْصَرِفُ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَالرَّجُلُ يَعْرِفُ جَلِيسَهُ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا مِنْ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ
তাখরীজ: বুখারী ৫৪১, মুসলিম ৬৪৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৪২২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫০৩, ১৮২২ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. সালাতরত অবস্থায় আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকানো (মাকরূহ) অপছন্দনীয়
১৩৩৬. জাবির ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, আর তারা সালাতরত অবস্থায় আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল। তখন তিনি বললেন, “তোমরা অবশ্যই (এ থেকে) বিরত হবে, নচেত তোমাদের দৃষ্টিশক্তি আর তোমাদের নিকট ফিরে আসবে না।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ رَفْعِ الْبَصَرِ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ رَفَعُوا أَبْصَارَهُمْ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ لَتَنْتَهُنَّ أَوْ لَا تَرْجِعُ إِلَيْكُمْ أَبْصَارُكُمْ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪২৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৪৭৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. সালাতরত অবস্থায় আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকানো (মাকরূহ) অপছন্দনীয়
১৩৩৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “লোকদের কী হলো যে, তারা সালাতরত অবস্থায় তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে উঠিয়ে রাখে?” এ সম্পর্কে তাঁর কথা কঠিন হতে লাগল। এমনকি তিনি বললেন: “তোমরা অবশ্যই এ থেকে বিরত হবে, নচেত আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের দৃষ্টিশক্তি হরণ করে নেবেন।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ رَفْعِ الْبَصَرِ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ لَتَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَيَخْطَفَنَّ اللَّهُ أَبْصَارَكُمْ
তাখরীজ: বুখারী ৭৫০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯১৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. রুকূতে যা করতে হয়
১৩৩৮. মুস’আব ইবনু সা’দ বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ যখন রুকূ করতেন, তখন তারা হাত দু’টিকে তাদের উভয় উরুর মাঝে রাখতেন। এরপর আমি একবার সা’দ রা: এর পাশে সালাত আদায় করলাম এবং আমিও একাজ (হাত উরুর মাঝে রাখা) করলাম। তখন তিনি আমার হাতে আঘাত করলেন। এরপর তিনি সালাত শেষে বললেন, হে বালক, তুমি তোমার দু’হাত তোমার দু’হাঁটুতে স্থাপন করবে। এরপর আরেকদিন আমি তার পাশে সালাত আদায় করার সময় আবার এ কাজ করলাম। তখন তিনি আমার হাতে আঘাত করলেন। এরপর সালাত শেষে তিনি বললেন, আমরা ঐরকম করতাম (হাঁটুর মাঝে হাত রাখতাম), এরপর আমাদেরকে আদেশ দেয়া হলো যে, আমরা যেন আমাদের হাতের তালু আমাদের হাঁটুর উপর স্থাপন করি।[1]
بَاب الْعَمَلِ فِي الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو يَعْفُورٍ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ كَانَ بَنُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ إِذَا رَكَعُوا جَعَلُوا أَيْدِيَهُمْ بَيْنَ أَفْخَاذِهِمْ فَصَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ سَعْدٍ فَصَنَعْتُهُ فَضَرَبَ يَدِي فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ يَا بُنَيَّ اضْرِبْ بِيَدَيْكَ رُكْبَتَيْكَ ثُمَّ فَعَلْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى بَعْدَ ذَلِكَ بِيَوْمٍ فَصَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَضَرَبَ يَدِي فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا وَأُمِرْنَا أَنْ نَضْرِبَ بِالْأَكُفِّ عَلَى الرُّكَبِ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৭৯০; মুসলিম ৫৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৯, ৮১২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮২, ১৮৮৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. রুকূতে যা করতে হয়
১৩৩৯. আবী ইসহাক হতে, তিনি মুস’আব হতে, তার সনদেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْعَمَلِ فِي الرُّكُوعِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ مُصْعَبٍ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. রুকূতে যা করতে হয়
১৩৪০. আতা ইবনু সায়িব বলেন, যিনি আমার নিকট আমার আপন সত্তার চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য সেই সালিম আল বাররাদ বলেন, আবী মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবো না? তিনি (রাবী) বলেন, এরপর তিনি তাকবীর দিলেন ও (কিরা’আত শেষে) রুকূতে গেলেন এবং তিনি তার উভয় হাত দু’হাটুর উপর স্থাপন করলেন, আর তার আঙ্গুল সমূহের মাঝে ফাঁক করে রাখলেন, এমনকি সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির হয়ে গেলো।[1]
بَاب الْعَمَلِ فِي الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَالِمٍ الْبَرَّادِ قَالَ وَكَانَ أَوْثَقَ عِنْدِي مِنْ نَفْسِي قَالَ قَالَ لَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَكَبَّرَ وَرَكَعَ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَيْءٍ مِنْهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১১৯, ১২০; আবু দাউদ ৮৬৩; তার সূত্রে বাইহাকী ২/১২৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ নং ৫৯৮; হাকিম ১/২২৪; নাসাঈ ২/১৮৬ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. রুকূ’তে যা বলতে হবে
১৩৪১. ইয়াস ইবনু আমির বলেন, আমি উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহুকে বলতে শুনেছি, যখন [(فسبح باسم ربك العظيم ) (অর্থ: “ফলে তুমি তোমার মহান প্রভুর নামে তাসবীহ পাঠ করো।” সুরা: ওয়াকিয়াহ: ৭৪)] আয়াতটি নাযিল হলো, তখন তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমাদের রুকূ’তে (পাঠ করার জন্য) একে নিধারণ করো। আবার যখন [(سبح اسم ربك الأعلى) অর্থ: “তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামে তাসবীহ পাঠ করো।” (সুরা আ’লা: ১) এ সুরা নাযিল হলে তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের সিজদা’র মধ্যে (পাঠ করার জন্য) একে নির্ধারণ করো।”[1]
بَاب مَا يُقَالُ فِي الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنِي عَمِّي إِيَاسُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اجْعَلُوهَا فِي رُكُوعِكُمْ فَلَمَّا نَزَلَتْ سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى قَالَ اجْعَلُوهَا فِي سُجُودِكُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৮ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. রুকূ’তে যা বলতে হবে
১৩৪২. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক রাতে তিনি সালাত আদায় করলেন। তিনি রুকু’তে গিয়ে ’সুবহানা রব্বী আল’আ’যীম’ এবং সিজদায় গিয়ে ’সুবহানা রব্বী আল ’আ’লা’ পাঠ করছিলেন। এছাড়াও (কিরা’আত পাঠের সময়) যখনই কোনো রহমতের বর্ণনা সম্বলিত আয়াত আসছিল তখনই তিনি সেখানে থেমে তিনি (রহমত) প্রার্থনা করছিলেন। আবার যখনই কোনো আযাবের বর্ণনা সম্বলিত আয়াত আসছিল, তখনই সেখানে থেমে তিনি (আযাব হতে) আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন।[1]
بَاب مَا يُقَالُ فِي الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ الْمُسْتَوْرِدِ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَفِي سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى وَمَا أَتَى عَلَى آيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ عِنْدَهَا فَسَأَلَ وَمَا أَتَى عَلَى آيَةِ عَذَابٍ إِلَّا تَعَوَّذَ
তাখরীজ: মুসলিম ৭৭২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৭, ২৬০৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭০. রুকূ’তে দূরত্ব বজায় রাখা
১৩৪৩. আব্বাস ইবনু সাহল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনু মাসলামাহ, আবু উসাইদ, আবু হুমাইদ ও সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এক মজলিসে একত্রিত হন এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন আবু হুমাইদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লামের সালাত সম্পর্কে আপনাদের চেয়ে সমধিক অবগত আছি। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম (সালাতে) দাঁড়াতেন তখন তাকবীর দিতেন এবং তাঁর দু’হাত উঠাতেন। এরপর যখন রুকূ’র জন্য তাকবীর দিতেন তখনও তাঁর দু’হাত উঠাতেন, এরপর রুকূ’তে যেতেন এবং তাঁর দু’ হাত দু’ হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন যেন তিনি সে দু’টিকে আঁকড়ে ধরেছেন। আর তিনি তাঁর হাতদু’টিকে বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্বদেশ হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন এবং মাথাকে (পিঠের চেয়ে) নিচু করতেন না, আবার উঁচুও করতেন না (সমান করে রাখতেন)।
بَاب التَّجَافِي فِي الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ قَالَ اجْتَمَعَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَأَبُو حُمَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ فَذَكَرُوا صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ ثُمَّ رَكَعَ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَأَنَّهُ قَابِضٌ عَلَيْهِمَا وَوَتَرَ يَدَيْهِ فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقْنِعْهُ
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৪. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, এরপর যখন রুকূ’ করতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন, এবং বলতেন, ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’, আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্। কিন্তু তিন সাজদায় এরূপ করতেন না।[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ فَإِذَا رَكَعَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৫; মুসলিম ৩৯০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২০, ৫৪৮০, ৫৫৩৪, ৫৫৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬১, ১৮৬৪, ১৮৬৮, ১৮৭৭ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৫. (অপর সূত্রে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে তিনি (সেখানে) বলেছেন: “রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। ফলে সেটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম যখন ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’, তখন তোমরা বলো, ’রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ وَإِذَا قَالَ الْإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
তাখরীজ: এটি ১২৯১ (অনূবাদে ১২৮৮) নং এ দীর্ঘ বর্ণনাসহ গত হয়েছে। আরও দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯০৮।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম এজন্যই বানানো হয়, যাতে তার অনুসরণ করা হয়। ফলে সে যখন তাকবীর দিবে, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে। আর সে যখন রুকূ’ করে, তোমরাও তখন রুকূ’ করবে, আবার সে যখন সাজদা করে, তোমরাও সাজদা করবে। আর সে যখন ’সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলে, তোমরা তখন বলবে, ’আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’। আর সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর সে বসে সালাত আদায় করলে তোমরাও সকলেই বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ
তাখরীজ: বুখারী ৭২২; ৪১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১০৭, ২১১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৮. আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন এরপর আমাদেরকে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য পন্থা-পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন: “সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো একজন যেন তোমাদের ইমামতি করে। ফলে সে যখন তাকবীর দেবে, তখন তোমরাও তাকবীর দেবে। আর যখন সে পাঠ করবে [“গয়রিল মাগদ্বুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্বল্লীন।” (সুরা ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলবে, ’আমীন’। তাহলে আল্লাহ তোমাদের (দু’আ) কে কবুল করবেন।
আর যখন সে তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে। তবে ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে রুকু’ করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ’ হতে উঠবেন।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বলবে, ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা, তিনি বলেন: ’রব্বানা লাকাল হামদ’। কেননা, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র প্রশংসা করে, মহান আল্লাহ তা শোনেন।’)”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا وَسَنَّ لَنَا سُنَّتَنَا قَالَ أَحْسَبُهُ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمْ اللَّهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ أَوْ قَالَ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৪৯. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ থেকে মাথা উত্তোলনের সময় বলতেন, “রব্বানা লাকাল হামদু মিল’আস সামাওয়াতি ওয়া মিল’আল আরদ্বু, ওয়া মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়্যিম বা’দু আহলুস ছানাই ওয়াল মাজদি, আহাক্বু মা ক্বলাল আব্দু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আব্দুন; আল্লাহুম্মা লা মানি’আ লিমা আ’তইতা, ওয়ালা মু’তিয়া লিমা মানা’তা; ওয়ালা ইয়ানফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ قَيْسٍ عَنْ قَزَعَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭২২৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. রুকু’ হতে মাথা উঠিয়ে যা বলতে হয়
১৩৫০. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ থেকে মাথা উত্তোলনের সময় বলতেন, “সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হামদু, মিল’আস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বু, ওয়া মিল’আ মা বাইনাহুমা ওয়া মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়্যিম বা’দু।”[1] আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনি কি এটি অবলম্বন করছেন? তিনি বললেন: না। তাকে আরও বলা হলো, আপনি কি একে ফরয বলে মনে করেন। তিনি বললেন: সম্ভবত। তিনি আরও বললেন: এসবগুলোই উত্তম।”
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَمِّهْ الْمَاجِشُونَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ لَا وَقِيلَ لَهُ تَقُولُ هَذَا فِي الْفَرِيضَةِ قَالَ عَسَى وَقَالَ كُلُّهُ طَيِّبٌ
তাখরীজ: মুসলিম ৭৭১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫, ৫৭৪, ৫৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯০৪, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৭৩, ১৭৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. রুকূ’ ও সাজদায় ইমামের অগ্রগামী হওয়া নিষেধ
১৩৫১. মু’য়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি এখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেছি। ফলে আমার পূর্বে তোমরা রুকূ’-সিজদা করবে না। (কখনো কখনো এরূপ হয় যে,) আমি তোমাদের যত আগেই রুকূ’তে যায় না কেন, তোমরা আমার মাথা উঠানোর পূর্বেই আমাকে পেয়ে যাও (ধরে ফেলো)। আবার আমি তোমাদের যত আগেই সিজদা করি না কেন, তোমরা আমাকে সিজদা হতে মাথা উঠানোর আগেই পেয়ে যাও।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُبَادَرَةِ الْأَئِمَّةِ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي قَدْ بَدَّنْتُ فَلَا تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ وَلَا بِالسُّجُودِ فَإِنِّي مَهْمَا أَسْبِقُكُمْ حِينَ أَرْكَعُ تُدْرِكُونِي حِينَ أَرْفَعُ وَمَهْمَا أَسْبِقُكُمْ حِينَ أَسْجُدُ تُدْرِكُونِي حِينَ أَرْفَعُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২৯, ২২৩০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮২, ৩৮৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬১৩ তে। (আহমাদ ৪/৯২; বাইহাকী ২/৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমা ১৫৯৪; আবু দাউদ ৬১৯; ইবনু মাজাহ ৯৬৩; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/২৭৩-২৭৪ নং ৮৬২।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮৩ এর টীকা হতে। - অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৭২. রুকূ’ ও সাজদায় ইমামের অগ্রগামী হওয়া নিষেধ
১৩৫২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় তখন সে কি ভয় করে না যে, তার মাথাকে আল্লাহ গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দেবেন কিংবা তার চেহারাকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করে দেবেন?”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُبَادَرَةِ الْأَئِمَّةِ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ أَوْ أَلَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ
তাখরীজ: বুখারী ৬৯১; মুসলিম ৪২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮২, ২২৮৩।
এছাড়া, বাইহাকী মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৩৪৫৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/৪১৭ নং ৮৪৯; আবু নুয়াইম, যিকরু আখবারু আসবাহান ১/২৬৯, ২/৫৫, ২১৮, ২৯৯; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ২/৭৩; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১০৬১, ৪/১৫৬৬, ৬/২২৩৭; ইবনু হিব্বান, আল মাজরুহীন ২/৩৫-৩৬; তাবারাণী, আল আওসাত ৩৩৩০, ৩৬০৯, ৩৯৩০, ৫৯৫৯, ৭১৯৩; ও সগীর ১/১১০; আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. রুকূ’ ও সাজদায় ইমামের অগ্রগামী হওয়া নিষেধ
১৩৫৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সালাতের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করতেন এবং তিনি যখন তাদের ইমামতি করতেন তখন তাঁর পূর্বে রুকূ’ সিজদায় গমণ করতে তাদেরকে নিষেধ করতেন। এছাড়া তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই তাদেরকে সালাত শেষ করতে যেতে নিষেধ করতেন। এবং তিনি বলেন: “আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক থেকেও দেখতে পাই, আর সামনের দিক থেকে তো দেখিই।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُبَادَرَةِ الْأَئِمَّةِ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا الْمُخْتَارُ بْنُ فُلْفُلٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَثَّهُمْ عَلَى الصَّلَاةِ وَنَهَاهُمْ أَنْ يَسْبِقُوهُ إِذَا كَانَ يَؤُمُّهُمْ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَأَنْ يَنْصَرِفُوا قَبْلَ انْصِرَافِهِ مِنْ الصَّلَاةِ وَقَالَ إِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ خَلْفِي وَأَمَامِي
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩২৮; মুসলিম ৪২৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯৫২, ৩৯৫৭, ৩৯৬০, ৩৯৬৩;
এছাড়া, আবু আওয়ানাহ ২/১৩৬; বাইহাকী ২/৯১-৯২।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. সাতটি অঙ্গে সাজদা করা ও সাজদায় যা করতে হবে
১৩৫৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমারদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন সাতটি অঙ্গের উপর সাজদা করেন এবং চুল ও পোশাক গুটিয়ে না রাখেন। শু’বা বলেন, অন্য আরেকবার তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সাজদা করতে এবং চুল ও পোশাক না গুটাতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।[1]
بَاب السُّجُودِ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ وَكَيْفَ الْعَمَلُ فِي السُّجُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةٍ وَأُمِرَ أَنْ لَا يَكُفَّ شَعَرًا وَلَا ثَوْبًا قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِيهِ مَرَّةً أُخْرَى قَالَ أُمِرْتُ بِالسُّجُودِ وَلَا أَكُفَّ شَعَرًا وَلَا ثَوْبًا
তাখরীজ: বুখারী ৮০৯; মুসলিম ৪৯০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৮৯, ২৪৩১, ২৪৬৪, ২৬৬৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯২১, ১৯২৩, ১৯২৪, ১৯২৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০০, ৫০১, ৫০২। দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. সাতটি অঙ্গে সাজদা করা ও সাজদায় যা করতে হবে
১৩৫৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে সাতটি অঙ্গ যথা: কপাল, - (বর্ণনাকারী উহাইব বলেন, একথা বলে তিনি (ইবনু আব্বাস) তার নাকের দিকে ইশারা করলেন;) - দু’হাত, দু’হাঁটু দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহ- এর উপর সাজদা করতে এবং পোশাক ও চুল না গুটাতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।[1]
بَاب السُّجُودِ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ وَكَيْفَ الْعَمَلُ فِي السُّجُودِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَيَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَا حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ الْجَبْهَةِ قَالَ وُهَيْبٌ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أَنْفِهِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ وَلَا نَكُفَّ الثِّيَابَ وَلَا الشَّعَرَ
তাখরীজ: বুখারী ৮১২; মুসলিম ৪৯০; এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। ফলে পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. সিজদায় যাওয়ার সময় মানুষের যে অঙ্গ সর্বপ্রথম মাটিতে স্থাপিত হবে
১৩৫৬. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি যখন সাজদায় যেতেন তখন মাটিতে হাত রাখার পূর্বেই হাঁটু রাখতেন।[1]
بَاب أَوَّلِ مَا يَقَعُ مِنْ الْإِنْسَانِ الْأَرْضَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ
((এ হাদীসটি নিয়ে ব্যাপক ইখতিলাফ পরিলক্ষিত হয়। এর সনদকে তিরমিযী হাসান গরীব বলেছেন; ইবনু খুযাইমা, হাকিম সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন। তবে বুখারী, তিরমিযী, দারুকুতনী, ইবনু আবী দাউদ, বাইহাকী এ বর্ণনায় শারীকের একাকী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন (ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ১/২৫৪ নং হা/৩৮০ /১৫) এবং দারুকুতনী শারীকের ব্যাপারে মূলনীতি উল্লেখ করে বলেছেন: শারীক কোনো বর্ণনায় একাকী হলে তা যয়ীফ। আর এর যয়ীফ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বাইহাকী (আফ্ফান হতে), আলবানী, আরনাউত্ব, মুস্তফা আ’যমী, মাহির ইয়াসীন আল ফাহল (তাহক্বীক্ব: ইবনু খুযাইমা, তা’লীকাতুল হিসান, আল ইহসান)। এছাড়াও, এটি দু’টি সহীহ হাদীসের বিপরীত বর্ণনা যা ১. ইবনু উমার হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: “তিনি সিজদা করার সময় হাঁটুর পূর্বে দু’হাত মাটিতে রাখতেন” (বুখারী, আযান বাব ১২, তা’লিক হিসেবে; দারুকুতনী ১/৩৪৪ নং ২ (নং ১৩০৩ আরনাউত্বের টীকাসহ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ হতে),; তাহাবী ১/২৫৪; সহীহ বলেছেন ইবনু খুযাইমা ৬২৭; হাকিম ১/২২৬ ও যাহাবী তা বজায় রেখেছেন) ও
২. পরের হাদীসটি যা আবী হুরাইরা হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে যে, “... তোমাদের যখন কেউ সাজদায় গমণ করে, তখন সে যেন উটের মতো হাঁটু গেড়ে না বসে, বরং সে যেন হাঁটু মাটিতে রাখার পূর্বে দু’হাত রাখে।” (আবু দাউদ ৮৪০, আহমাদ ২/৩৮১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/১৩৪; বাইহাকী ২/৯৯; তাহাবী ১/২৫৪ ও অন্যান্য)
যাহোক, এজন্য সালাফগণ এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক মতভেদ করেছেন। মালিক ও আউযাঈ, আহমদেরও একটি মত (আল মুগনী ১/৫১৪ তে বর্ণিত) এবং আহলে হাদীসের অধিকাংশের মতে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখা মুস্তাহাব। বিপরীতে ‘হাতের পূর্বে হাঁটু রাখা’ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী ও খাত্তাবী উল্লেখ করেছেন যে, এটি অনেক উলামার মত। ইবনুল মুনযির এটি উমার, নাখঈ, মুসলিম ইবনু ইয়াসার, সুফিযান সাওরী, আহমদ, ইসহাক ও ‘আসহাবুর রাই’ (হানাফী)-দের থেকে উল্লেখ করেছেন।- আল ইহসান, তাহ: আরনাউত্ব হা/১৯১২ এর টীকা দ্র:) - অনুবাদক))
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯১২; মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৮৭। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৪০ তে আমাদের টীকাটি।
((আবু দাউদ ৮৩৮; তিরমিযী ২৬৮; ইবনু মাজাহ ৮৮২; নাসাঈ ১/২০৬; দারুকুতনী ১/৩৪৫; তাবারাণী ২২/৯৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/২৫৫; বাইহাকী ২/৯৮; হাযিমী, আল ই’তিবার পৃ: ১৬১; ইবনু খুযাইমা নং ৬২৬, ৬২৯; হাকিম ১/২২৬।- আল ইহসান, তাহক্বীক্ব: আরনাউত্ব, ১৯১২ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. সিজদায় যাওয়ার সময় মানুষের যে অঙ্গ সর্বপ্রথম মাটিতে স্থাপিত হবে
১৩৫৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের যখন কেউ সালাত আদায় করে করে, তখন সে যেন উটের মতো হাঁটু গেড়ে না বসে, বরং সে যেন দু’হাঁটু মাটিতে রাখার পূর্বে দু’হাত রাখে।”[1]
আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনি কী বলেন?
তিনি বলেন, প্রত্যেকটিই উত্তম। তিনি আরও বলেন, আহলে কুফা’ (কুফাবাসীগণ তথা হানাফীগণ) প্রথমটি (হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা) কে পছন্দ করেছেন।
بَاب أَوَّلِ مَا يَقَعُ مِنْ الْإِنْسَانِ الْأَرْضَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَا يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ مَا تَقُولُ قَالَ كُلُّهُ طَيِّبٌ وَقَالَ أَهْلُ الْكُوفَةِ يَخْتَارُونَ الْأَوَّلَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি এবং হাদীস বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৫৪০। এছাড়া আগের টীকাটিও দেখুন। (((আবু দাউদ ৮৪০, আহমাদ ২/৩৮১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/১৩৪; বাইহাকী ২/৯৯; তাহাবী ১/২৫৪; হাযিমী, আল ই’তিবার পৃ: ১৫৮-১৫৯। - মুসনাদুল মাউসিলী ৬৫৪০ নং মুহাক্বিক্বের টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. (সিজদায় হাত) বিছিয়ে দেয়া ও কাকের ন্যায় ঠোকর মারা নিষেধ
১৩৫৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ধীর-স্থিরতার সাথে রুকূ’ করো এবং তোমাদের কেউ যেন (সিজদা সময়) তার (কনুই পর্যন্ত) দু’হাত কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِافْتِرَاشِ وَنَقْرَةِ الْغُرَابِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ وَسَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَدِلُوا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ بِسَاطَ الْكَلْبِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮২২; সহীহ মুসলিম ৪৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯২৬ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. (সিজদায় হাত) বিছিয়ে দেয়া ও কাকের ন্যায় ঠোকর মারা নিষেধ
১৩৫৯. আব্দুর রহমান ইবনু শিবলি আল আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র জন্তুর মতো (কনুই পর্যন্ত দু’হাত) বিছিয়ে দিতে, কাকের মতো ঠোকর মারতে এবং উটের জায়গা নির্দিষ্ট করার ন্যায় (মসজিদে মধ্যে) কোনো লোকের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে নিতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِافْتِرَاشِ وَنَقْرَةِ الْغُرَابِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ تَمِيمِ بْنِ مَحْمُودٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ افْتِرَاشِ السَّبُعِ وَنَقْرَةِ الْغُرَابِ وَأَنْ يُوطِنَ الرَّجُلُ الْمَكَانَ كَمَا يُوطِنُ الْبَعِيرُ
তাখরীজ: আমরা তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৭ এ। ((আবু দাউদ ৮৬২, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. উভয় সিজদার মাঝে যা বলতে হবে
১৩৬০. হুযাইফাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ সিজদার মাঝে বলতেন: “রব্বিগফির লী।”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ رَبِّ اغْفِرْ لِي فَقِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ هَذَا قَالَ رُبَّمَا قُلْتُ وَرُبَّمَا سَكَتُّ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৯৭, ৪০০; ইবনু মাজাহ ৮৯৭ সহীহ সনদে; নাসাঈ, আল কুবরা ৬৫৬, ৭৩১, ১৩৭৮, ১৩৭৯; নাসাঈ বলেন, “এ হাদীসটি আমার নিকট মুরসাল।” আবু দাউদ ৮৭৪; তিরমিযী, শামাইল ২৭০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৯১০; বাইহাকী ২/১২১-১২২; আবু দাউদ তায়ালিসী ৪১৬।...
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. রুকূ’ ও সিজদায় কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করা নিষেধ
১৩৬১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সর্বশেষ অসুস্থতার সময়ে ঘরের) পর্দা তুলে ধরলেন- তখন লোকেরা আবু বাকরের পিছনে কাতারবদ্ধ ছিলেন। তখন তিনি বললেন: “হে মানবমণ্ডলী! নবুওয়াতের সুসংবাদের আর কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, তবে কোনো মুসলিম যে সুস্বপ্ন দেখবে বা তার পক্ষে দেখানো হবে, তা ব্যতীত। আর জেনে রাখো, আমাকে রুকূ কিংবা সিজদারত অবস্থায় কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকূতে তোমাদের রবের ’তা’যীম’ (মহত্ত্ব) বর্ণনা করবে এবং সিজদায় (বেশি বেশি) দু’আ করার চেষ্টা করবে। কেননা, সেটি তোমাদের দু’আ কবুলের উপযুক্ত সময়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ مُبَشِّرَاتِ النُّبُوَّةِ إِلَّا الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ أَوْ تُرَى لَهُ أَلَا إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا رَبَّكُمْ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৭৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৭, ২৩৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৯৫ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. রুকূ’ ও সিজদায় কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করা নিষেধ
১৩৬২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার রুকূ’ অথবা সাজদারত অবস্থায় আমাকে কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকূতে তোমাদের রবের ’তা’যীম’ (মহত্ত্ব) বর্ণনা করবে এবং সিজদায় (বেশি বেশি) দু’আ করার চেষ্টা করবে। কেননা, সেটি হলো তোমাদের দু’আ কবুলের উপযুক্ত সময়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَإِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ وَأَنَا رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. যে ব্যক্তি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে না, তার সম্পর্কে
১৩৬৩. আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রুকূ’ ও সিজদায় (তথা রুকূ’ ও সিজদা হতে উঠে) তার পিঠ সোজা করবে না, তার সালাত যথেষ্ট হবে না।”[1]
بَاب فِي الَّذِي لَا يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ هُوَ ابْنُ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُجْزِئُ صَلَاةٌ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ فِيهَا صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯২, ১৮৯৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০১, ৫০২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৯। ((আবু দাউদ ৮৫৫; আহমাদ ৪/১১৯, ১২২; তায়ালিসী ১/৯৭ নং ৪২৭; ইবুন হাযম, আল মুহাল্লা ৩/২৫৭; তাবারাণী, আল কাবীর ১৭/২১৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১/৩০০ নং ৫৯১, ৫৯২, ৬৬৬; ইবনু হিব্বান নং ১৮৯০; দারুকুতনী ১/৩৪৮; ইবনু মাজাহ ৮৭০; তিরমিযী ২৬৫; আব্দুর রাযযাক ২/১৫০ নং ২৮৫৬, ৩৭৩৬; হুমাইদী ১/২১৬ নং ৪৫৪; বাইহাকী ২/৮৮; নাসাঈ ২/১৮৩, ২১৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৬১৭।- মাওয়ারিদুয যাম’আন ৫০১, ৫০২ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. যে ব্যক্তি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে না, তার সম্পর্কে
১৩৬৪. আবী কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো সেই লোক যে তার সালাত চুরি করে।” তারা বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সালাত আবার সে কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন: “সে সালাতের রুকূ’ ও সিজদা কোনোটিই পরিপূর্ণভাবে আদায় করে না।”[1]
بَاب فِي الَّذِي لَا يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আবী ইয়া’লা’র মু’জামুস শুয়ূখ’ নং ১৫০ এবং সেখানে এর সনদকে সহীহ বলা ভূল হয়েছে; এবং মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৭৪৪ এ।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী সাঈদ খুদরী, আবী হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল হতে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৪৫, ২৭৪৬, ২৭৪৭ এ।
আবী হুরাইরা’র সহীহ হাদীসটি আমরা সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০৩ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. যে ব্যক্তি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে না, তার সম্পর্কে
১৩৬৫. রাফি’র দুই পূত্র রিফা’আ ও মালিক দু’ভাই যারা বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাদের উভয় থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারপাশে বসে ছিলাম- রাবী হাম্মামের সন্দেহ- অথবা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে ছিলেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করতে আরম্ভ করে দিলো। এরপর যখন সে সালাত শেষ করলো, তখন সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও লোকদেরকে সালাম দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার উপরও (সালাম)। তুমি ফিরে গিয়ে (পুনরায়) সালাত আদায় করো। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।” তখন লোকটি ফিরে গেলো এবং পুনরায় সালাত আদায় করতে লাগলো। আর আমরা তার সালাত পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু আমরা বুঝতে পারছিলাম না সে সালাতে কী ত্রুটি করেছিলো। এরপর যখন সে সালাত শেষ করলো, তখন সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও লোকদেরকে সালাম দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার উপরও (সালাম)। তুমি ফিরে গিয়ে (পুনরায়) সালাত আদায় করো। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।”
হাম্মাম (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি জানিনা, তিনি তাকে দু’বার নাকি তিনবার এর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
লোকটি বললো, আমি তো কম করিনি; ফলে আমি আমার সালাতে কী ত্রুটি করেছি তা নিজে থেকে বুঝতে পারছি না।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমাদের কারো সালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করবে, যেভাবে আল্লাহ তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন- তথা সে তার মুখমণ্ডল ও দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে আর তার মাথা মাসেহ করবে এবং গিঁঠ পর্যন্ত দু’পা ধৌত করবে; এরপর ’আল্লাহু আকবার’ বলে তাঁর ’হামদ’-প্রশংসা বর্ণনা করবে, অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যেটুকু অনুমতি দিয়েছেন সে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করবে। অতঃপর তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে আর সে এতে তার উভয় হাতের তালু উভয় হাঁটুতে স্থাপন করবে যতক্ষণ না তার শরীরের জোড়াসমূহ শিথিল হয়ে স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি স্থির হয়ে যাবে। এরপর সে বলবে: ’সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’। এরপর সে সটান দাঁড়িয়ে যাবে যতক্ষণ না তার পিঠ সোজা হয়ে যায় ফলে তার হাড়সমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। এরপর সে তাকবীর বলে সিজদায় গমণ করবে এবং তার চেহারাকে -” (রাবী) হাম্মাম বলেন, সম্ভবত তিনি বলেছেন, “- তার কপালকে মাটিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, যতক্ষণ না তার শরীরের জোড়াসমূহ শিথিল হয়ে স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি স্থির হয়ে যাবে। সে তাকবীর দিয়ে তার অবস্থানস্থলে সোজা হয়ে বসে যাবে যতক্ষণ না তার পিঠ সোজা হয়ে যাবে।” এভাবে তিনি এ চার রাকা’আত সালাত আদায় পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (শেষে বললেন:) “তোমাদের কারো সালাত পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না সে এরূপ করবে।”[1]
بَاب فِي الَّذِي لَا يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلَّادٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمِّهِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ وَكَانَ رِفَاعَةُ وَمَالِكُ ابْنَيْ رَافِعٍ أَخَوَيْنِ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ وَنَحْنُ حَوْلَهُ شَكَّ هَمَّامٌ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَصَلَّى فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْكَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى وَجَعَلْنَا نَرْمُقُ صَلَاتَهُ لَا نَدْرِي مَا يَعِيبُ مِنْهَا فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْكَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ قَالَ هَمَّامٌ فَلَا أَدْرِي أَمَرَهُ بِذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا قَالَ الرَّجُلُ مَا أَلَوْتُ فَلَا أَدْرِي مَا عِبْتَ عَلَيَّ مِنْ صَلَاتِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَغْسِلُ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَيَمْسَحُ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُكَبِّرُ اللَّهَ وَيَحْمَدُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا أَذِنَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ فِيهِ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ فَيَضَعُ كَفَّيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ وَيَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَيَسْتَوِي قَائِمًا حَتَّى يُقِيمَ صُلْبَهُ فَيَأْخُذَ كُلُّ عَظْمٍ مَأْخَذَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْجُدُ فَيُمَكِّنُ وَجْهَهُ قَالَ هَمَّامٌ وَرُبَّمَا قَالَ جَبْهَتَهُ مِنْ الْأَرْضِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْتَوِي قَاعِدًا عَلَى مَقْعَدِهِ وَيُقِيمُ صُلْبَهُ فَوَصَفَ الصَّلَاةَ هَكَذَا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ حَتَّى فَرَغَ لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬২৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮৪ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. সিজদায় (দু’হাতকে পার্শ্বদেশ হতে) পৃথক রাখা
১৩৬৬. মাইমুনাহ বিনতুল হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি তার দু’হাতকে (পার্শ্বদেশ হতে) আলাদা করে রাখতেন এমনকি তাঁর পেছনে যারা থাকতেন, তারা তাঁর উভয় বাহুমুলের ঔজ্জ্বল্য স্পষ্টভাবে দেখতে পেতেন।[1]
بَاب التَّجَافِي فِي السُّجُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ جَافَى حَتَّى يَرَى مَنْ خَلْفَهُ وَضَحَ إِبِطَيْهِ
তাখরীজ: মুসলিম ৪৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৯৬, ৭০৯৭, ৭১০২ এ।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. সিজদায় (দু’হাতকে পার্শ্বদেশ হতে) পৃথক রাখা
১৩৬৭. মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি (তার দু’হাতকে) পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, একটি ছাগলের বাচ্চা ইচ্ছে করলে তাঁর নিচ দিয়ে চলে যেতে পারতো।[1]
بَاب التَّجَافِي فِي السُّجُودِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَإِسْمَعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ عَمِّهِ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ جَافَى حَتَّى لَوْ شَاءَتْ بَهْمَةٌ تَمُرُّ تَحْتَهُ لَمَرَّتْ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. সিজদায় (দু’হাতকে পার্শ্বদেশ হতে) পৃথক রাখা
১৩৬৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি তার দু’বাহুকে পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, তাঁর পেছন থেকে তাঁর উভয় বাহুমুলের শুভ্রতা স্পষ্টভাবে দেখা যেতো। আর যখন বসতেন তখন তাঁর বাম উরুর উপর শান্ত হয়ে বসতেন।[1]
بَاب التَّجَافِي فِي السُّجُودِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ خَوَّى بِيَدَيْهِ يَعْنِي جَنَّحَ حَتَّى يُرَى وَضَحُ إِبْطَيْهِ مِنْ وَرَائِهِ وَإِذَا قَعَدَ اطْمَأَنَّ عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৯৭; দেখুন, আগের হাদীসটি এবং আমার তাহক্বীক্বৃকত মাজমাউয যাওয়াইদে ২২৮৬ নং টি।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. নাবী (ﷺ) (রুকূ’-সিজদা হতে) মাথা উঠিয়ে যতটুকু সময় অপেক্ষা করতেন, এর পরিমাণ
১৩৬৯. বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রুকু’, রুকূ’ হতে মাথা উঠানোর পরবর্তী সময়, সাজদা ও উভয় সাজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় সম পরিমাণ হতো।[1]
بَاب قَدْرُ كَمْ كَانَ يَمْكُثُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رُكُوعُهُ إِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وَسُجُودُهُ وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنْ السَّوَاءِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৯২; মুসলিম ৪৭১ (১৯৪)। আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৮০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮৪ তে। পরবর্তী হাদীসটি ও তার টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. নাবী (ﷺ) (রুকূ’-সিজদা হতে) মাথা উঠিয়ে যতটুকু সময় অপেক্ষা করতেন, এর পরিমাণ
১৩৭০. বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত পর্যবেক্ষণ করেছি। অতএব, তাঁর কিয়াম (সালাতে দাঁড়ানো), রুকূ’, রুকূ’ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর অবস্থা, এরপর তাঁর সাজদা ও উভয় সিজদার মধ্যবর্তী বসা, অতঃপর তাঁর (দ্বিতীয়) সাজদা এবং সালাম ও (মুসল্লীদের দিকে) ফিরে বসার মধ্যবর্তী সময় - এ সবগুলোকেই প্রায় সমান পেয়েছি।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, হিলাল ইবনু হুমাইদ হলেন আবু হুমাইদ আল ওয়াযযান।
بَاب قَدْرُ كَمْ كَانَ يَمْكُثُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ هِلَالِ بْنِ حُمَيْدٍ الْوَزَّانِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ رَمَقْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ فَوَجَدْتُ قِيَامَهُ وَرَكْعَتَهُ وَاعْتِدَالَهُ بَعْدَ الرَّكْعَةِ فَسَجْدَتَهُ فَجِلْسَتَهُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فَسَجْدَتَهُ فَجِلْسَتَهُ بَيْنَ التَّسْلِيمِ وَالِانْصِرَافِ قَرِيبًا مِنْ السَّوَاءِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هِلَالُ بْنُ حُمَيْدٍ أُرَى أَبُو حُمَيْدٍ الْوَزَّانُ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৭১; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। তাই পূর্ণ তাখরীজ সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. কারো সালাতের কোনো অংশ ছুটে গেলে সেক্ষেত্রে সুন্নাত হলো
১৩৭১. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগিয়ে চললেন এবং মুগীরা ইবনু শু’বাও তাঁর সাথে এগিয়ে চললেন। তখন তাঁরা লোকদেরকে ফজর সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় পেলেন। আর লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনু আউফ কে তাদের নিয়ে সালাত আদায়ের জন্য আগে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসার পূর্বে আব্দুর রহমান তাদের নিয়ে ফজর সালাতের এক রাকা’আত আদায় করলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন এবং দ্বিতীয় রাকা’আতে আব্দুর রহমানের পিছনে লোকদের সাথে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর যখন আব্দুর রহমান সালাম ফিরালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে (ছুটে যাওয়া এক রাকা’আত) সালাত আদায় করলেন। এজন্য লোকেরা ভীত হয়ে পড়লো এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়তে লাগলো। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন লোকদেরকে বললেন: “তোমরা ঠিকই করেছো” অথবা “তোমরা ভালই করেছো”।[1]
بَاب السُّنَّةِ فِيمَنْ سُبِقَ بِبَعْضِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبَّادُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَحَمْزَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ أَنَّهُمَا سَمِعَا الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يُخْبِرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ وَأَقْبَلَ مَعَهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَتَّى وَجَدُوا النَّاسَ قَدْ أَقَامُوا الصَّلَاةَ صَلَاةَ الْفَجْرِ وَقَدَّمُوا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ يُصَلِّي بِهِمْ فَصَلَّى بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ رَكْعَةً مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَفَّ مَعَ النَّاسِ وَرَاءَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَفَزِعَ النَّاسُ لِذَلِكَ وَأَكْثَرُوا التَّسْبِيحَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ قَالَ لِلنَّاسِ قَدْ أَصَبْتُمْ أَوْ قَدْ أَحْسَنْتُمْ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২৪; মাওয়ারিদ নং ৩৭১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭৫; পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন। ((সহীহ মুসলিম ২৭৪ (১০৫); আহমাদ ৪/২৪৯, ২৫১; আবু দাউদ ১৪৯; নাসাঈ ৭৯; বাগাবী শারহুস সুন্নাহ ১/৪৫৫-৪৫৬ নং ২৩৬; বাইহাকী ১/২৭৪; তাবারাণী, আল কাবীর ২০/৩৭৬ নং ৮৮০, ৮৮১; ইবনু খুযাইমা ৩/৮ নং ১৫১৪।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং৩৭১ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৮১. কারো সালাতের কোনো অংশ ছুটে গেলে সেক্ষেত্রে সুন্নাত হলো
১৩৭২. মুগীরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন আমরা লোকদের নিকট এসে পৌঁছলাম, তখন তারা সালাতে ছিলো, আর আব্দুর রহমান ইবনু আউফ তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর তখন তিনি তাদের সাথে রুকূ’ করছিলেন। ফলে তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতি টের পেলেন, তিনি পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার জন্য তাকে হাত দ্বারা ইশারা করলেন। এরপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং আমরা ছুটে যাওয়া এক রাকা’আত সালাত আদায় করলাম।[1]
بَاب السُّنَّةِ فِيمَنْ سُبِقَ بِبَعْضِ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ يُصَلِّي بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَقَدْ رَكَعَ بِهِمْ فَلَمَّا أَحَسَّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ فَأَوْمَى إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَصَلَّى بِهِمْ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُمْتُ فَرَكَعْنَا الرَّكْعَةَ الَّتِي سُبِقْنَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ فِي الْقَضَاءِ بِقَوْلِ أَهْلِ الْكُوفَةِ أَنْ يَجْعَلَ مَا فَاتَهُ مِنْ الصَّلَاةِ قَضَاءً
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৭৪ (৮১)। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২৬, ১৩৪৬, ১৩৪৭, ২২২৪, ২২২৫ তে। ((আগের টীকাটি দেখুন- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮২. (অতিরিক্ত) গরম ও ঠাণ্ডার সময় কাপড়ের উপর সাজদা করার অনুমতি প্রসঙ্গে
১৩৭৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বলেন, আমরা ভীষণ গরমের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি। এমতাবস্থায় যখন আমাদের কেউ জমিনে কপাল স্থির রাখতে সক্ষম হতো না, তখন সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সালাত আদায় (সাজদা) করতো।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي السُّجُودِ عَلَى الثَّوْبِ فِي الْحَرِّ وَالْبَرْدِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا غَالِبٌ الْقَطَّانُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ مِنْ الْأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৮৫; মুসলিম ৬২০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৫২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৫৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. তাশাহুদের সময় ইশারা করা
১৩৭৪. আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর এর পিতা (যুবাইর) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি সালাতে এভাবে দু’আ করতেন।’ (এটি বর্ণনার সময় বর্ণনাকারী) ইবনু উয়াইনাহ তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন। আর (অপর বর্ণনাকারী) আবীল ওয়লীদ তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।[1]
بَاب الْإِشَارَةِ فِي التَّشَهُّدِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو هَكَذَا فِي الصَّلَاةِ وَأَشَارَ ابْنُ عُيَيْنَةَ بِأُصْبُعِهِ وَأَشَارَ أَبُو الْوَلِيدِ بِالسَّبَّاحَةِ
তাখরীজ: মুসলিম ৫৭৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮০৬, ৬৮০৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪৩, ১৯৪৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০৩ তে। আঙ্গুল নাড়ানো জন্য দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬২, ৬৬৩। সেটিই পরের হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. তাশাহুদের সময় ইশারা করা
১৩৭৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের শেষে (বৈঠকে) বসতেন, তখন তাঁর বাম হাত তাঁর বাম হাঁটুর উপর এবং ডান হাত তাঁর ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং তাঁর (তর্জনী) আঙ্গুল উঠিয়ে রাখতেন।[1]
بَاب الْإِشَارَةِ فِي التَّشَهُّدِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَعَدَ فِي آخِرِ الصَّلَاةِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَنَصَبَ إِصْبَعَهُ
তাখরীজ: মুসলিম ৫৮০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬২।
হুমাইদীতে অতিরিক্ত আছে: ‘সুফিয়ান বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আমি মুসলিমের সাথে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমার নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং এতে অতিরিক্ত বললেন: ‘এটি শয়তান তাড়ানোর যন্ত্র, ফলে কেউ যেন তা ভূলে না যায়।’ আর আরও বলতেন: আর তা ‘এভাবে’ (নাড়াতে হবে বলে) হুমাইদী তার আঙ্গুল উঠিয়ে রাখলেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. তাশাহ্হুদ সম্পর্কে
১৩৭৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করার সময় আমরা বলতাম: ’আস সালামু আলাল্লাহ ক্ববলা ইবাদিহী; আস সালামু আলা জিবরীল, আস সালামু আলা মীকাঈল, আস সালামু আলা ইসরাফীল, আস সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন: “আল্লাহ তা’আলা তো নিজেই ’আস সালাম’। ফলে যখন তোমরা সালাতে বসবে, তখন বলবে: ’আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ তোমরা যখন একথা বলবে, তখন আসমান-যমীনের সকল সালেহীন বান্দাগণ তা প্রাপ্ত হবে।- (এরপর বলবে) ’আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।’ এরপর সে ইচ্ছামতো (দু’আ) বেছে নেবে।”[1]
بَاب فِي التَّشَهُّدِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْنَا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ عَلَى مِيكَائِيلَ السَّلَامُ عَلَى إِسْرَافِيلَ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ قَالَ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى هُوَ السَّلَامُ فَإِذَا جَلَسْتُمْ فِي الصَّلَاةِ فَقُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمُوهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مَا شَاءَ
তাখরীজ: বুখারী ৮৩১ সহ অন্যান্য স্থানে; মুসলিম ৪০২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৮২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪৮, ১৯৪৯, ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. তাশাহ্হুদ সম্পর্কে
১৩৭৭. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরে সালাতে তাশাহহুদ পাঠ তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন: “আত তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ যুহাইর (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার ধারণা, তিনি আরও বলেছেন: ’আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।’ তিনি (বর্ণনাকারী) এ বাক্য দু’টির ব্যাপারেও (তিনি বলেছিলেন কি-না তা নিয়ে) সন্দেহে নিপতিত হয়েছেন - ’’যখন তুমি এটি করলে অথবা সম্পন্ন করলে, তখন তুমি তোমার সালাত সম্পন্ন করলে। (এরপর) তুমি উঠে যেতে চাইলে উঠে যেতে পারো, আবার বসে থাকতে চাইলে বসেও থাকতে পারো।”[1]
بَاب فِي التَّشَهُّدِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ حُرٍّ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُخَيْمِرَةَ قَالَ أَخَذَ عَلْقَمَةُ بِيَدِي فَحَدَّثَنِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ أَخَذَ بِيَدِهِ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ عَبْدِ اللَّهِ فَعَلَّمَهُ التَّشَهُّدَ فِي الصَّلَاةِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ قَالَ زُهَيْرٌ أُرَاهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَيْضًا شَكَّ فِي هَاتَيْنِ الْكَلِمَتَيْنِ إِذَا فَعَلْتَ هَذَا أَوْ قَضَيْتَ فَقَدْ قَضَيْتَ صَلَاتَكَ إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া ইবনু হিব্বান নং ১৯৬১; আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. নাবী (ﷺ) এর উপর সালাত (দরূদ) প্রেরণ
১৩৭৮. হাকাম বলেন, আমি ইবনু আবী লাইলা রাহি. কে বলতে শুনেছি, আমার নিকট কা’ব ইবনু উজরাহ এসে বললেন, আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেবো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বেরিয়ে এলে আমরা তাঁকে বললাম, আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হবে, তা তো আমরা শিখেছি, কিন্তু আমরা আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠাবো কিভাবে?তিনি বললেন: “তোমরা বলো: ’আল্লাহুম্মা সল্লি ’আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা ’আলা ইবরাহীম, ওয়া ’আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ; ’আল্লাহুম্মা বারিক ’আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ’আলা ইবরাহীম, ওয়া ’আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْحَكَمُ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى يَقُولُ لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ أَلَا أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقُلْنَا قَدْ عَلِمْنَا السَّلَامَ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
তাখরীজ: বুখারী ৩৩৭০ ও অন্যত্র; মুসলিম ৪০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১২, ১৯৫৭, ১৯৬৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭২৮, ৭২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. নাবী (ﷺ) এর উপর সালাত (দরূদ) প্রেরণ
১৩৭৯. উমার ইবনুল খাত্তাব এর মুক্ত দাস নুয়াইম আল মুজমিরি হতে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ আল আনসারী যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে স্বপ্নে আযান (এর বাক্যাবলী ও পদ্ধতি) দেখেছিলেন, তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবী মাসউদ আল আনসারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এসে আমাদের সাথে সা’দ ইবনু উবাদাহ’র মাজলিসে বসে গেলেন। তখন বুশাইর ইবনু সা’দ তথা আবু নু’মান ইবনু বাশীর তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করবো? তিনি (রাবী) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকলেন, এমনকি আমরা কামনা করতে লাগলাম যে, সে যদি এ প্রশ্নটি তাঁকে জিজ্ঞেসই না করতো! এরপর তিনি বললেন: “তোমরা বলো: ’আল্লাহুম্মা সল্লি ’আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা ’আলা ইবরাহীম; ’ওয়া বারিক ’আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ’আলা ইবরাহীম ফীল ’আলামীন, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’ আর সালাম (কিভাবে দিবে তা) তো তোমরা জেনেছেই।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ الَّذِي كَانَ أُرِيَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ مَعَنَا فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ وَهُوَ أَبُو النُّعْمَانِ بْنُ بَشِيرٍ أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ
তাখরীজ: মালিক ৭০; তার সূত্রে মুসলিম ৪০৫; ; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৫৮, ১৯৫৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. তাশাহ্হুদের পরে দু’আ করা
১৩৮০. মুহাম্মদ ইবনু আয়িশা বলেন, আমি আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ শেষ করে, তখন সে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে: ’জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা ও মাসীহিদ দাজ্জাল এর অনিষ্ট হতে।”[1]
بَاب الدُّعَاءِ بَعْدَ التَّشَهُّدِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنْ التَّشَهُّدِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৫৮৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০০২, ১০১৮, ১০১৯, ১৯৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. তাশাহ্হুদের পরে দু’আ করা
১৩৮১. আওযাঈ হতে ও অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب الدُّعَاءِ بَعْدَ التَّشَهُّدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. সালাতের মধ্যে সালাম ফিরানো
১৩৮২. আমর ইবনু সা’দ হতে বর্ণিত, তার পিতা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডানদিকে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, (পাশ থেকে) তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। এরপর বাম দিকে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো।[1]
بَاب التَّسْلِيمِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ ثُمَّ يُسَلِّمُ عَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ
তাখরীজ: মুসলিম ৫৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. সালাতের মধ্যে সালাম ফিরানো
১৩৮৩. আবী মা’মার বলেন, আমি মক্কায় এক ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি দুই সালাম (-এর মাধ্যমে সালাত শেষ) করলেন। এ বিষয়টি যখন আমি আব্দুল্লাহ’ (ইবনু মাসউদ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন, সে এ (সুন্নাত) টি কোথা থেকে পেয়েছে? আর হাকাম বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন (তথা দু’দিকে সালাম ফিরাতেন)।[1]
بَاب التَّسْلِيمِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ وَمَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَجُلٍ بِمَكَّةَ فَسَلَّمَ تَسْلِيمَتَيْنِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ أَنَّى عَلِقَهَا وَقَالَ الْحَكَمُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ ذَلِكَ
তাখরীজ: মুসলিম ৫৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৪৪। ‘أنى علقها’ অর্থ: সে এ সুন্নাতটি কোথা থেকে হাসিল ও সংরক্ষণ করেছে?! দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী হাদীস নং ৫০৫১, ৫১০২।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. সালামের পরে যা বলতে হয় (যিকির)
১৩৮৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।” এ (দু’আ) টি পড়তে যতটুকু সময় লাগে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পরে এর অধিক পরিমাণ সময় বসতেন না।[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ السَّلَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ بَعْدَ الصَّلَاةِ إِلَّا قَدْرَ مَا يَقُولُ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
তাখরীজ: মুসলিম ৫৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০০, ২০০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. সালামের পরে যা বলতে হয় (যিকির)
১৩৮৫. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করতেন, তখন তিনি তিনবার ’আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন এরপর পড়তেন, “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”[1]
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ السَّلَامِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৫৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০৩।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. সালামের পরে যা বলতে হয় (যিকির)
১৩৮৬. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাতিব (লিপিকার) ওয়াররাদ বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর (নিকট পাঠানোর) জন্য একটি খাতায় লিখে দিতে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের শেষে পাঠ করতেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি’আ লিমা আ’তইতা, ওয়া লা মু’তিআ লিমা মানা’তা, ওয়া লা ইয়ানফা’ঊ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।”[1] (অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোনোই শারীক নেই। সকল রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসাও তাঁরই জন্য। আর তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দেন, তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা আটকে দেন, তা দানকারী কেউ নেই। কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার মোকাবেলায় কোনো উপকারে আসে না।)
بَاب الْقَوْلِ بَعْدَ السَّلَامِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ وَرَّادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتَابٍ إِلَى مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
তাখরীজ: বুখারী ৮৪৪; মুসলিম ৫৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮০তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. সালাত শেষে (ইমাম) কোন্ পাশ দিয়ে (মুসল্লির দিকে) ঘুরে বসবে
১৩৮৭. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের কেউ যেন শয়তানের জন্য তার সালাতের কোনো অংশ নির্দিষ্ট না করে। তা হলো, কারো এ ধারণা করা যে, কেবল ডান পাশ দিয়ে ঘুরে বসাই তার জন্য জরুরী। বরং আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অধিকাংশ সময় বামপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
بَاب عَلَى أَيِّ شِقَّيْهِ يَنْصَرِفُ مِنْ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَا يَجْعَلْ أَحَدُكُمْ لِلشَّيْطَانِ نَصِيبًا مِنْ صَلَاتِهِ يَرَى أَنَّ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ لَا يَنْصَرِفَ إِلَّا عَنْ يَمِينِهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَثِيرًا يَنْصَرِفُ عَنْ يَسَارِهِ
তাখরীজ: বুখারী ৮৫২; মুসলিম ৭০৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৭৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. সালাত শেষে (ইমাম) কোন্ পাশ দিয়ে (মুসল্লির দিকে) ঘুরে বসবে
১৩৮৮. সুদ্দী বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডানপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
بَاب عَلَى أَيِّ شِقَّيْهِ يَنْصَرِفُ مِنْ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ
তাখরীজ: মুসলিম ৭০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৪২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯৬; আগের টীকাটি ও পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. সালাত শেষে (ইমাম) কোন্ পাশ দিয়ে (মুসল্লির দিকে) ঘুরে বসবে
১৩৮৯. (অপর সনদে) সুদ্দী বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাতে (এর শেষে) ডানপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
بَاب عَلَى أَيِّ شِقَّيْهِ يَنْصَرِفُ مِنْ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ انْصَرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯০. সালাত শেষে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া
১৩৯০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সম্পদশালী লোকেরাই তো সব সাওয়াব নিয়ে গেলো। তারা আমাদের মতোই সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সিয়াম পালন করে। অধিকন্তু তাদের তো অর্থ-বিত্ত রয়েছে অনেক যা তারা সাদাকা করে, কিন্তু আমাদের তো কিছুই নেই (যা আমরা সাদাকা করবো)। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমাকে কি আমি এমন কিছু কালিমা শিক্ষা দেবো না, যা বললে তুমি তোমার অগ্রবর্তীদের নাগাল পেয়ে যাবে, কিন্তু তোমার পশ্চাদবর্তীগণ তোমার নাগাল পাবে না, যদি না তারাও তোমার মতো আমল করে (তথা সেগুলো বলে)?”
তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই, ইয়া রাসূলুল্লাহ।তিনি বললেন: “তুমি প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও তেঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। আর, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর”- পাঠের মাধ্যমে তা শেষ করবে।[1]
بَاب التَّسْبِيحِ فِي دُبُرِ الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا هِقْلٌ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَصْحَابُ الدُّثُورِ بِالْأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فُضُولُ أَمْوَالٍ يَتَصَدَّقُونَ بِهَا وَلَيْسَ لَنَا مَا نَتَصَدَّقُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ إِذَا أَنْتَ قُلْتَهُنَّ أَدْرَكْتَ مَنْ سَبَقَكَ وَلَمْ يَلْحَقْكَ مَنْ خَلَفَكَ إِلَّا مَنْ عَمِلَ بِمِثْلِ عَمَلِكَ قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ تُسَبِّحُ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدُهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرُهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَخْتِمُهَا بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
এর সনদ সহীহ।
সহীহ মুসলিম ৮৪৩; মুসলিম ৫৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০১৫, ২০১৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯০. সালাত শেষে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া
১৩৯১. যাইদ ইবনু ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও চৌঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতাম। তখন আনসারগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট কেউ এলো কিংবা স্বপ্নে দেখানো হলো যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি তোমাদেরকে প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও চৌঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন?
তিনি বললেন: হাঁ। তখন সে বললো, এর প্রতিটিকে (বাড়িয়ে) পঁচিশ-পঁচিশ করে নির্ধারণ করো। আর, এর সাথে তাহলীল (“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) কে যোগ করে নাও।’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ খবর দেওয়া হলে তিনি বললেন: “তোমরা তা-ই করো।”[1]
بَاب التَّسْبِيحِ فِي دُبُرِ الصَّلَوَاتِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ أُمِرْنَا أَنْ نُسَبِّحَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَنَحْمَدَهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَنُكَبِّرَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ فَأُتِيَ رَجُلٌ أَوْ أُرِيَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فِي الْمَنَامِ فَقِيلَ أَمَرَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُسَبِّحُوا اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدُوا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرُوا أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاجْعَلُوهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ خَمْسًا وَعِشْرِينَ وَاجْعَلُوا مَعَهَا التَّهْلِيلَ فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ افْعَلُوهَا
তাখরীজ: নাসাঈ ৩/৭৬; কুবরা ১/৪০১-৪০২ নং ১২৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯১. কিয়ামত দিবসে বান্দার সর্ব প্রথম যে বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে
১৩৯২. তামীম দারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দার সর্ব প্রথম যে বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো সালাত। আর তা যদি পরিপূর্ণ হিসেবে পায়, তবে তা পরিপূর্ণ হিসেবে লিখা হবে। আর তাতে কোনো ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তা’আলা মালাইকা (ফিরিশতা) দেরকে বলবেন, “তোমরা (খুঁজে) দেখো, আমার বান্দার নফল (সালাত) আছে কি-না। (থাকলে) তার ফরয সালাতের যে ঘাটতি রয়েছে, তার এ (নফল) দ্বারা তোমরা তা পূর্ণ করে দাও। তারপর যাকাত, তারপর অন্যান্য আমলসমূহের হিসাবও (এভাবে) নেওয়া হবে।”[1]
بَاب مَا أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الصَّلَاةُ فَإِنْ وَجَدَ صَلَاتَهُ كَامِلَةً كُتِبَتْ لَهُ كَامِلَةً وَإِنْ كَانَ فِيهَا نُقْصَانٌ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ فَأَكْمِلُوا لَهُ مَا نَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ ثُمَّ الزَّكَاةُ ثُمَّ الْأَعْمَالُ عَلَى حَسَبِ ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد لَا أَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ غَيْرَ حَمَّادٍ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ صَحَّ هَذَا قَالَ إِي
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১৪২৬; আহমাদ ৪/১০৩; আবু দাউদ ৮৬৬; বাইহাকী ২/৩৮৭; হাকিম ১/২৬২-২৬৩; তাবারাণী, আল আওয়াইল নং ৩০।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রা: হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী ৬২২৬ নং এ ((ইবনু মাজাহ, ১৪২৫- অনুবাদক)); এবং আনাস রা: হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯৭৬ নং ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬৩১ এ তাখরীজ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৯২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৩৯৩. আতা রাহি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশ জন সাহাবী- যাদের মাঝে আবী কাতাদাও ছিলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে আবী হুমাইদ আস সাঈদীকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমি অধিক অবগত আছি। তখন তাঁরা বললেন, কি কারণে? আপনি তো আমাদের চেয়ে তাঁকে অধিক অনুসরণ করেননি, আর তাঁর সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারেও আপনি আমাদের থেকে অগ্রগামী নন, (তাহলে)? তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা বললেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বললেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়াতেন তখন তিনি তাঁর উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, এরপর তাকবীর দিতেন। এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে স্থির হয়ে যেতো। এরপর তিনি কিরা’আত করতেন, এরপর রুকূ’র জন্য তাকবীর দিতেন ও তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এরপর রুকূ’তে যেতেন এবং তাঁর দু’ হাতের তালু দু’ হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। আর তাঁর মাথাকে (পিঠের চেয়ে) নিচু করতেন না, আবার উঁচুও করতেন না (সমান করে রাখতেন)।
এরপর তিনি তাঁর মাথা উঠাতেন এবং বলতেন: ’সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন।- (রাবী) আবু আসিমের ধারণা, তিনি আরও বলেছেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে যথাযথভাবে ফিরে আসতো। এরপর তিনি ’আল্লাহু আকবার’ বলে মাটির দিকে ঝুঁকে যেতেন এবং (সিজদায় গিয়ে) তাঁর দু’হাত দু’পাঁজর হতে পৃথক করে রাখতেন। এরপর (এভাবে) সিজদা করতেন। তারপর মাথা উঠাতেন এবং বাম পা ভাঁজ করে তার উপর বসতেন। আর সিজদার সময় তাঁর পায়ের আঙ্গুল সমূহ খুলে দিতেন। এরপর তিনি পূনরায় সাজদা করতেন। এরপর ’আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা উঠাতেন ও বাম পা ভাঁজ করে তার উপর স্থিরভাবে বসতেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে যথাযথভাবে ফিরে আসতো। এরপর দাঁড়িয়ে যেতেন এবং অপর রাকা’আতেও এরূপ করতেন। আর যখন (বৈঠক শেষে) দ্বিতীয় রাকা’আত হতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলতেন ও তাঁর উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, যেমন করতেন তিনি সালাত শুরু করার সময়। তারপর তাঁর অবশিষ্ট সালাত এরূপভাবে আদায় করতেন। যখন শেষ শেষ রাকা’আত বা সালামের (শেষ) বৈঠক আসতো, তখন বাম পা পিছিয়ে দিয়ে বাম পাশের নিতন্বের উপর ভর দিয়ে বসতেন।রাবী বলেন, তাঁরা বললেন: আপনি সত্যই বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত এরূপই ছিল।[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا لِمَ فَمَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً قَالَ بَلَى قَالُوا فَاعْرِضْ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ حَتَّى يَقَرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ وَلَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يُقْنِعُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ يَظُنُّ أَبُو عَاصِمٍ أَنَّهُ قَالَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ فَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ ثُمَّ يَسْجُدُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ ثُمَّ يَعُودُ فَيَسْجُدُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا مُعْتَدِلًا حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَصْنَعُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَإِذَا قَامَ مِنْ السَّجْدَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا فَعَلَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ ثُمَّ يَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلَاتِهِ حَتَّى إِذَا كَانَتْ السَّجْدَةُ أَوْ الْقَعْدَةُ الَّتِي يَكُونُ فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ قَالَ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬৫-১৮৬৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪২ ও ৪৯১-৪৯৫ এ। ((বাইহাকী ২/১১৬; আহমাদ ৫/৪২৪; আবু দাউদ ৭৩০, ৭৬৩; তিরমিযী ৩০৪; বাগাবী, শারহুসু সুন্নাহ ৩/১ নং ৫৫৫-; নাসাঈ ৩/৩৪-৩৫; ইবনু খুযাইমা ১/২৯৭ নং ৫৮৭; ইবনু মাজাহ ১০৬১.... মাওয়ারিদ নং ৪৪২ এ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৩৯৪. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, আমি নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত দেখেছি, তিনি কিভাবে সালাত আদায় করতেন। তখন আমি তার দিকে দেখতে লাগলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর দিয়ে তাঁর উভয় হাত তাঁর কান বরাবর উঠালেন, এরপর ডান হাত বাম হাতে তালুর পিঠের উপর স্থাপন করলেন।
তিনি বলেন, এরপর যখন রুকূ’ করার ইচ্ছা করলেন, তখন আগের মতো দু’হাত উঠালেন ও তাঁর দু’হাত দু’হাঁটুর উপর স্থাপন করলেন। এরপর (রুকূ’ হতে) মাথা উঠানোর সময়ও অনুরূপভাবে দু’হাত উঠালেন। এরপর সাজদা করলেন এবং তাঁর হাত দু’টিকে কান বরাবর রাখলেন। এরপর (রুকূ’ হতে) উঠে বাম পা বিছিয়ে বসলেন ও বামহাতের তালু তার বাম উরু ও হাঁটুর উপর রাখলেন এবং তার ডান কনুই ডান উরুর উপর স্থাপন করলেন। এরপর তিনি কনিষ্ঠ ও অনামিক আঙ্গুল দু’টিকে আবদ্ধ করে রাখেন। এরপর একটি (বৃদ্ধাঙ্গুল ও মধ্যমা অাঙ্গুল দ্বারা) একটি বৃত্তাকার বানান। এরপর (তর্জনী) আঙ্গুল উঠিয়ে রাখেন। আর আমি তাকে সেটা নাড়াতে দেখলাম, যা দিয়ে তিনি দু’আ করছিলেন।এর কিছুদিন পর আমি সেখানে অত্যন্ত ঠাণ্ডার সময় গিয়ে দেখতে পাই যে, লোকেরা তাদের শরীরে কাপড় জড়িয়ে রয়েছেন এবং স্ব-স্ব কাপড়ের নিচ দিয়েই তাদের হাত গুলি নড়াচড়া করছিল।[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّ وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ أَخْبَرَهُ قَالَ قُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُصَلِّي فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَقَامَ فَكَبَّرَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بِأُذُنَيْهِ وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى قَالَ ثُمَّ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَرَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذَاءِ أُذُنَيْهِ ثُمَّ قَعَدَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ وَرُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَجَعَلَ مِرْفَقَهُ الْأَيْمَنَ عَلَى فَخْذِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ قَبَضَ ثِنْتَيْنِ فَحَلَّقَ حَلْقَةً ثُمَّ رَفَعَ أُصْبُعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا قَالَ ثُمَّ جِئْتُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي زَمَانٍ فِيهِ بَرْدٌ فَرَأَيْتُ عَلَى النَّاسِ جُلَّ الثِّيَابِ يُحَرِّكُونَ أَيْدِيَهُمْ مِنْ تَحْتِ الثِّيَابِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০৯ এ। ((আবু দাউদ ৭২৭; আহমদ ৪/৩১৮; নাসাঈ ২/১২৬;, ৩/৩৭; বাইহাকী ২/১৩২; ইবনু খুযাইমা ১/২৪৩ নং ৪৮০; দারুকুতনী ১/৯২; তাবারাণী ২২/৩৫... মাওয়ারিদ নং ৪৮৫ এ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৩৯৫. হিত্তান ইবনু আব্দুল্লাহ আর রুকাশী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি আবূ মুসা রা: এর সাথে ’ইশা’র সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদের বৈঠকে ছিলেন তখন মুসল্লীদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, ’সালাত নেকী ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে’। হিত্তান বলেন, আবূ মুসা রা: যখন সালাত শেষ করে সালাম ফিরালেন তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে এই ধরণের কথা কে বলেছো? সবাই চুপ করে রইলো। তিনি আবার বললেন, এরকম কথা তোমাদের মধ্য থেকে কে বলেছো? সবাই চুপ করে রইলো। তিনি বললেন, হিত্তান! তুমিই হয়তো এরকম বলেছো।’ হিত্তান বললেন, আমি এটা বলিনি। আমি ভয় করছিলাম যে, আপনি এ কারণে আমাকে তিরস্কার করবেন। অতঃপর এক ব্যক্তি বললো, আমি এটি বলেছি। আর আমি এর কেবলমাত্র সাওয়াবের উদ্দেশ্যেই বলেছি।’
আবূ মূসা রা: বললেন, তোমরা তোমাদের সালাতে কী বলবে, তা জান না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন এরপর আমাদেরকে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য পন্থা-পদ্ধতি (সুন্নাত) প্রবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন: “সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো একজন যেন তোমাদের ইমামতি করে। ফলে সে যখন তাকবীর দেবে, তখন তোমরাও তাকবীর দেবে। আর যখন সে পাঠ করবে [“গয়রিল মাগদ্বুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্বল্লীন।” (সুরা ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলবে, ’আমীন’। তাহলে আল্লাহ তোমাদের (দু’আ) কে কবুল করবেন। আর যখন সে তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে।
তবে ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে রুকু’ করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ’ হতে উঠবেন।” নবীউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বলবে, ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা, তিনি বলেন: ’রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। কেননা, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, ’সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র প্রশংসা করে, মহান আল্লাহ তা শোনেন)।’
এরপর তিনি যখন তাকবীর দিয়ে সাজদা করবে, তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে সাজদা করবে। আর ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে সাজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই (সিজদা হতে মাথা) উঠাবেন।”নবীউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বসবে, তোমাদের কারো প্রথম কথা যেন হয়: ’আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু- অথবা সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু- অথবা সালামু- আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ তোমরা যখন একথা বলবে, তখন আসমান-যমীনের সকল সালেহীন বান্দাগণ তা প্রাপ্ত হবে।- (এরপর বলবে) ’আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।”[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى إِحْدَى صَلَاتَيْ الْعَشِيِّ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أُقِرَّتْ الصَّلَاةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ فَلَمَّا قَضَى أَبُو مُوسَى الصَّلَاةَ قَالَ أَيُّكُمْ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ لَعَلَّكَ يَا حِطَّانُ قُلْتَهَا قَالَ مَا أَنَا قُلْتُهَا وَقَدْ خِفْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَمَا أَرَدْتُ بِهَا إِلَّا الْخَيْرَ فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَوَ مَا تَعْلَمُونَ مَا تَقُولُونَ فِي صَلَاتِكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا قَالَ أَحْسَبُهُ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمْ اللَّهُ فَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ أَوْ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمْ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ أَوْ سَلَامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ أَوْ سَلَامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭ তে। দেখুন, বিগত ১৩৫১ (অনূবাদে ১৩৪৮) নং টি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. সালাতের মধ্যে যে কাজ করণীয়
১৩৯৬. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে সালাত আদায় করলেন, অথচ তাঁর ঘাড়ে অথবা, কাঁধে উমামাহ বিনতে যায়নাব (যায়নাবের শিশু সন্তান) কে বহন করছিলেন। আর যখন তিনি রুকূ’ করলেন, তাকে নামিয়ে রাখলেন। আবার যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন তাকে (কাঁধে বা ঘাড়ে) উঠিয়ে নিলেন।[1]
بَاب الْعَمَلِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ هُوَ النَّبِيلُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يُصَلِّي وَقَدْ حَمَلَ عَلَى عُنُقِهِ أَوْ عَاتِقِهِ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
তাখরীজ: বুখারী ৫১৬; মুসলিম ৫৪৩। আমরা এর পূর্ণ তাখলীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১১০৯, ১১১০, ২৩৩৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৬ এ। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. সালাতের মধ্যে যে কাজ করণীয়
১৩৯৭. আবী কাতাদাহ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমামাহ বিনতে যায়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে যায়নাবের শিশু সন্তান) কে (কাঁধে বা ঘাড়ে) বহন করছিলেন, অথচ, তিনি তখন সালাতে ছিলেন। করলেন, আর যখন তিনি রুকূ’ করলেন, তাকে নামিয়ে রাখলেন। আবার যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন তাকে উঠিয়ে নিলেন।[1]
بَاب الْعَمَلِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ حَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. সালাতরত অবস্থায় কিভাবে সালামের জবাব দিতে হবে
১৩৯৮. সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিলাম, আর তখন তিনি সালাতরত ছিলেন। আর তিনি ইশারায় আমার সালামের জবাব দিলেন। লাইছ বলেন, আমার ধারণা, তিনি এও বলেছেন: ’তাঁর আঙ্গুল দ্বারা’।[1]
بَاب كَيْفَ يَرُدُّ السَّلَامَ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ أَخْبَرَنِي بُكَيْرٌ هُوَ ابْنُ الْأَشَجِّ عَنْ نَابِلٍ صَاحِبِ الْعَبَاءِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَرَدَّ إِلَيَّ إِشَارَةً قَالَ لَيْثٌ أَحْسَبُهُ قَالَ بِأُصْبُعِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখলীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৫৯; দেখুন পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. সালাতরত অবস্থায় কিভাবে সালামের জবাব দিতে হবে
১৩৯৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী আমর ইবনু আওফের মসজিদে প্রবেশ করলেন। আর লোকেরাও সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলো, অথচ তিনি তখন সালাতরত ছিলেন।তিনি বলেন, আমি সুহাইবকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিভাবে তাদের সালামের জবাব দিলেন? তিনি বললেন, “এভাবে”, (একথা বলে) তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলেন।[1]
بَاب كَيْفَ يَرُدُّ السَّلَامَ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَسْجِدَ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَدَخَلَ النَّاسُ يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ فَسَأَلْتُ صُهَيْبًا كَيْفَ كَانَ يَرُدُّ عَلَيْهِمْ قَالَ هَكَذَا وَأَشَارَ بِيَدِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৩৮, ৫৬৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৫৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫৩২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৪৮ এ। ((আহমাদ ২/১০; আব্দুর রাযযাক ২/৩৩৬ নং ৩৫৯৭; নাসাঈ ৩/৫; ইবনু মাজাহ ১০১৭; বাইহাকী ২/২৫৯; ইবনু খুযাইমা ২/৪৯ নং ৮৮৮- মুসনাদে আবী ইয়ালা মাউসিলী নং ৫৬৩৮ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. পুরুষদের জন্য তাসবীহ ও নারীদের জন্য হাত তালি দেওয়া
১৪০০. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পুরুষদের জন্য তাসবীহ ও নারীদের জন্য হাত তালি দেওয়া (অনুমোদিত)।”[1]
بَاب التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
তাখরীজ: বুখারী ১২০৩; মুসলিম ৪২২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৫, ৬০৪২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৬২, ২২৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৮ এ। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. পুরুষদের জন্য তাসবীহ ও নারীদের জন্য হাত তালি দেওয়া
১৪০১. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ যখন তোমাদের সালাতে মধ্যে হঠাৎ কোনো কিছু ঘটে, তখন পুরুষরা যেন ’তাসবীহ’ (সুবহানাল্লাহ) বলে এবং নারীরা হাত তালি দেয়।”[1]
بَاب التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نَابَكُمْ فِي صَلَاتِكُمْ شَيْءٌ فَلْيُسَبِّحْ الرِّجَالُ وَلْتُصَفِّحْ النِّسَاءُ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৬৮৪; মুসলিম ৪২১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১৩, ৭৫১৭, ৭৫২৪, ৭৫৪৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫৬ এ। মুসনাদুল মাউসিলী এ হাদীসটির উপর আমাদের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. পুরুষদের জন্য তাসবীহ ও নারীদের জন্য হাত তালি দেওয়া
১৪০২. (অপর সনদে) সাহল ইবনু সা’দ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।”[1]
بَاب التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. কোন্ স্থানে নফল (সুন্নাত) সালাত আদায় করা উত্তম
১৪০৩. যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কর্তব্য হলো তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করা। কেননা, কোনো লোকের সর্বোত্তম সালাত হলো তাই যা সে তার ঘরে আদায় করে, তবে জামা’আত (তথা ফরয সালাত[1]) ব্যতীত।”[2]
بَاب صَلَاةُ التَّطَوُّعِ فِي أَيِّ مَوْضِعٍ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالصَّلَاةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الْجَمَاعَةَ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৭৩১; মুসলিম ৭৮১। আমরা সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৯১ এ এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. বাড়িতে সালাত আদায় করার পর পূণরায় সে সালাত জামা’আতে আদায় করা প্রসঙ্গে
১৪০৪. ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ আস সাওয়াঈ হতে বর্ণিত, তিনি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত আদায়ের সময় দু’ ব্যক্তি সালাত আদায় না করে (মসজিদের) এক প্রান্তে বসে রইলো। তিনি বলেন, ফলে তাদের দু’জনকে ডেকে আনা হলো। তখন তারা দু’জন ভীষণ ভয়ে কঁম্পমান অবস্থায় হাযির হলো। অতঃপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: “আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে কিসে তোমাদেরকে বাধা দিয়েছে?” তারা বললো, আমরা আমাদের ঘরে সালাত আদায় করে এসেছি। তিনি বললেন: “তোমরা এইরূপ করো না। বরং যখন তোমরা তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করবে তারপর ইমামের সাথে (জামা’আত) পাবে, তখন তোমরা (তার সাথে) পূনরায় সালাত আদায় করবে, তাহলে তা তোমাদের জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।”
তিনি বলেন, তখন লোকেরা দাঁড়িয়ে গেলো এবং তাঁর হাত ধরে তা তাদের মুখমণ্ডলে মাসেহ করতে লাগলো।তিনি বলেন, তখন আমিও তাঁর হাত ধরে তা দিয়ে আমার মুখমণ্ডল মাসেহ করলাম। (তখন দেখলাম) তা ছিল বরফের চেয়েও শীতল, আর মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত।[1]
بَاب إِعَادَةِ الصَّلَوَاتِ فِي الْجَمَاعَةِ بَعْدَ مَا صَلَّى فِي بَيْتِهِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ يَزِيدَ بْنِ الْأَسْوَدِ السُّوَائِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ قَالَ فَإِذَا رَجُلَانِ حِينَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدَانِ فِي نَاحِيَةٍ لَمْ يُصَلِّيَا قَالَ فَدَعَا بِهِمَا فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا قَالَ مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا قَالَا صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا قَالَ فَلَا تَفْعَلَا إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمَا ثُمَّ أَدْرَكْتُمَا الْإِمَامَ فَصَلِّيَا فَإِنَّهَا لَكُمَا نَافِلَةٌ قَالَ فَقَامَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ بِيَدِهِ يَمْسَحُونَ بِهَا وُجُوهَهُمْ قَالَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَمَسَحْتُ بِهَا وَجْهِي فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنْ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رِيحًا مِنْ الْمِسْكِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৬৪, ২৩৯৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৪, ৪৩৫ তে। ((আহমাদ ৪/১৬০; তিরমিযী ২১৯; নাসাঈ ৮৫৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ১২৭৯; দারুকুতনী ১/৪১৩; বাইহাকী ২/৩০১; তায়ালিসী ১/১৩৭ নং ৬৫৬; আবু দাউদ ৫৭৫, ৫৭৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আসার ১/৩৬৩; আব্দুর রাযযাক ২/৪২১ নং ৩৯৩৪; তাবারাণী ২২/২৩২-২৩৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৯/৯৮; হাকিম একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন...।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৪ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. যে মসজিদে একবার জামা’আতে সালাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে পূনরায় সালাতের জামা’আত করা প্রসঙ্গে
১৪০৫. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে একজন একাকী সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেন: “এমন কেউ কি নেই, যে এ লোকটিকে সাদাকা করবে, তথা এর সাথে সালাত আদায় করবে?[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ فِي مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ مَرَّةً
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَسْوَدُ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّي مَعَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৫৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৬ তে। ((আহমাদ ৩/৬৪; বাইহাকী ৩/৬৯; আবু দাউদ ৫৭৪; হাকিম ১/২০৯; হাকিম একে সহীহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।; তিরমিযী ২২০ ...।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. যে মসজিদে একবার জামা’আতে সালাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে পূনরায় সালাতের জামা’আত করা প্রসঙ্গে
১৪০৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মসজিদে এমন সময় প্রবেশ করলো, ততক্ষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে নিয়েছেন। তখন তিনি বললেন: “এমন কেউ কি নাই, যে এ লোকটিকে সাদাকা করবে, তথা এর সাথে সালাত আদায় করবে?”[1] আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি আসর সালাত আদায় করতেন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, তবে (সে দু’টিকে) একত্রে আদায় করতেন।
بَاب فِي صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ فِي مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ مَرَّةً
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَسْوَدُ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَجُلًا دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّي مَعَهُ قَالَ عَبْد اللَّهِ يُصَلِّي صَلَاةَ الْعَصْرِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ وَلَكِنْ يَشْفَعُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৯৮, ২৩৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৩৭, ৪৩৮ তে। আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. একটি মাত্র কাপড়ে সালাত আদায় করা
১৪০৭. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোনো লোক একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারবে কি? তিনি বললেন: “তোমাদের প্রত্যেকেরই দু’টি করে কাপড়ের সংস্থান আছে কি? অথবা, তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই দু’টি করে কাপড় আছে কি?”[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُصَلِّي الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ قَالَ أَوَ كُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ أَوْ لِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ
তাখরীজ: বুখারী ৩৫৮; মুসলিম ৫১৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৮৩ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৯৫, ২২৯৬, ২২৯৮; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. একটি মাত্র কাপড়ে সালাত আদায় করা
১৪০৮. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন এক কাপড় পরা অবস্থায় সালাত আদায় না করে, যখন তার (কাপড়ের) কিছু অংশ তার দু’কাঁধে না থাকে।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقِهِ مِنْهُ شَيْءٌ
তাখরীজ: বুখারী ৩৫৯; মুসলিম ৫১৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৬২, ৬৩৫৩ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩০৩, ২৩০৪; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. (সালাতে) ‘সাম্মা’ করে (শরীরে) কাপড় জড়ানো নিষেধ
১৪০৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ভাবে কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন: ১. তোমাদেরকে এক কাপড়ে ’ইহতিবা’ করা (এমনভাবে পেঁচিয়ে বসতে) যাতে তার লজ্জাস্থানের ও আসমানের মাঝে (কাপড়ের) কোনো অংশ না থাকে এবং ইয়াহুদীদের কাপড় জড়ানোর ন্যায় ’সাম্মা’ করা হতে।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لِبْسَتَيْنِ أَنْ يَحْتَبِيَ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ بَيْنَ فَرْجِهِ وَبَيْنَ السَّمَاءِ شَيْءٌ وَعَنْ الصَّمَّاءِ اشْتِمَالِ الْيَهُودِ
ইমাম নববী বলেন, অভিধানবিদদের ব্যাখ্যা অনুসারে এটি মাকরূহ হবে। কেননা, কোনো কারণে হাত বের করা প্রয়োজন হলে হাত বের করা খুব কষ্টকর হবে, ফলে তার ক্ষতি হতে পারে।’
-----
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৯০, ৫৪২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. মাদুরের উপর সালাত আদায় করা
১৪১০. মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কাপড় কিংবা খেজুর পাতা দ্বারা বুনানো) মাদুরের উপর সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى الْخُمْرَةِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَأَبُو الْوَلِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ عَنْ مَيْمُونَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ
তাখরীজ: বুখারী ৩৩৩; মুসলিম ৫১৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৯০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০১. মাদুরের উপর সালাত আদায় করা
১৪১১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদুর (বা চাটাইয়ের) উপর সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى الْخُمْرَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَا حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى حَصِيرٍ
তাখরীজ: এটি ১৩২৪ (অনূবাদে ১৩২১) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. নারীদের (দেহের সাথে সম্পৃক্ত) কাপড়ের ভিতর থেকে সালাত আদায় করা
১৪১২. মুয়া’বিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি (উম্মুল মু’মিনীন) উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এমন কাপড়ে সালাত আদায় করতেন যে কাপড়ে তিনি আপনার সাথে শয়ন করতেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তাতে কোনো নাপাকী না দেখতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي ثِيَابِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ حَبِيبَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُضَاجِعُكِ فِيهِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. নারীদের (দেহের সাথে সম্পৃক্ত) কাপড়ের ভিতর থেকে সালাত আদায় করা
১৪১৩. মুয়া’বিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি তার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি এমন কাপড়ে সালাত আদায় করতেন যে কাপড় পরে তিনি আপনার সাথে মিলিত হতেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তাতে কোনো নাপাকী না দেখতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي ثِيَابِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُخْتِهِ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سَأَلَهَا هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُجَامِعُهَا فِيهِ قَالَتْ نَعَمْ إِذَا لَمْ يَرَ فِيهِ أَذًى
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২৬, ৭১৪০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৩১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৭ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২২৩৯ (আমার তাহক্বীক্বকৃত) তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৪১৪. আবী মাসলামাহ সাঈদ ইবনু ইয়াযীদ আল আযদী হতে বর্ণিত, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ।[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي النَّعْلَيْنِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ الْأَزْدِيُّ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী ৩৮৬; মুসলিম ৫৫৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯১২, ৩৬৬৭, ৪৩৪২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৪১৫. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর জুতা জোড়া খুলে বাম পাষে রাখলেন। ফলে তাঁরাও তাদের জুতা খুলে বাম পাশে রাখলো। এরপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন: “কোন্ জিনিস তোমাদের জুতা খুলতে উদ্বুদ্ধ করলো?” তারা বললো, আমরা আপনাকে জুতা খুলতে দেখলাম, তাই আমরাও জুতা খুলেছি। তিনি বললেন: “জীবরীল আমার নিকট এসে- কিংবা এসে আমাকে খবর দিলেন যে, ও দু’টিতে অপবিত্র বস্তু কিংবা ময়লা রয়েছে। তাই যখন তোমাদের কেউ মসজিতে আসে, তখন সে যেন তার জুতা উল্টিয়ে (দেখে) নেয়, আর যদি তাতে কোন ময়লা লক্ষ্য করে, তবে সে যেন জুতা জোড়া (মাটির উপর লম্বা করে) ঘষে নেয়, অতঃপর (পরিষ্কার হয়ে গেলে) তা পরে সালাত আদায় করে।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي النَّعْلَيْنِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَأَبُو النُّعْمَانِ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ إِذْ خَلَعَ نَعْلَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَنْ يَسَارِهِ فَخَلَعُوا نِعَالَهُمْ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى إِلْقَائِكُمْ نِعَالَكُمْ قَالُوا رَأَيْنَاكَ خَلَعْتَ فَخَلَعْنَا قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي أَوْ آتٍ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ فِيهِمَا أَذًى أَوْ قَذَرًا فَإِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُقَلِّبْ نَعْلَيْهِ فَإِنْ رَأَى فِيهِمَا أَذًى فَلْيُمِطْ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৯৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৮৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৬০ তে। ((ইবনু খুযাইমাহ ২/১০৭ নং ১০১৭; তায়ালিসী ১/৮৪ নং ৩৬০; ইবনু আবী শাইবা ২/৪১৭; আহমাদ ৩/২০, ৯২; আবু দাউদ ৬৫০; বাইহাকী ২/৪৩১; আব্দুর রাযযাক ১/৩৮৮ নং ১৫১৬; হাকিম ১/২৬০ তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থনে করেছেন। ... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৩৬০ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. সালাতে ‘সাদল’ করা (কাপড় ঝুলিয়ে পরা) নিষেধ
১৪১৬. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি ’সাদল’ করা অপছন্দ করতেন।’ আর একে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন)।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ عِسْلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَرِهَ السَّدْلَ وَرَفَعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
খাত্তাবী ‘মা’আলিমুস সুনান’ ১/১৭৯ এ বলেন: কোনো লোকের মাটি পর্যন্ত প্রলম্বিত করে কাপড় পরিধান করা।
-
[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। সাঈদ ইবনু আমির সাঈদ ইবনু আবী আরীবাহ থেকে হাদীস শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে রয়েছে এবং আসাল ইবনু সুফিয়ান যয়ীফ। তবে হাদীসটি হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮৯, ২৩৫৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৭৮, ৪৭৯ টীকাতে। ((আবু দাউদ ৬৪৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২/৪২৬ নং ৫১৯; ইবনু খুযাইমাহ ১/৩৭৯ নং ৭৭২; বাইহাকী ২/২৪২; হাকিম ১/২৫৩ তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৭৮ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. (পুরুষদের) চুলে বেণী বা ঝুটি বাধা (অবস্থায় সালাত আদায়)
১৪১৭. আবী রাফি’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সাজদারত অবস্থায় দেখতে পেলেন, আর তখন আমি চুলে বেণী বা খোঁপা বেঁধে রেখেছিলাম- অথবা, তিনি বলেন, আমি চুল বেঁধে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা খুলে দিলেন।[1]
بَاب فِي عَقْصِ الشَّعْرِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مِخْوَلٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا سَاجِدٌ وَقَدْ عَقَصْتُ شَعْرِي أَوْ قَالَ عَقَدْتُ فَأَطْلَقَهُ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৭৪।
((আবু দাউদ ৬৪৬; তিরমিযী ৩৮২; ইবনু মাজাহ ১০৪২; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২/৫৮ নং ৯১১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৬ (আল ইহসান); বাইহাকী ২/১০৯; আব্দুর রাযযাক ২/১৮৩ নং ২৯৯০; হাকিম ১/২৬১-২৬২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৬৪৬; তাবারাণী, আল কাবীর ৯৯০-৯৯৩; আহমাদ ৬/৮, ১০, ৩৯১।... মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৭৪ নং এর টীকা ও ড. মাহির ইয়াসীন ফাহল এর তাহক্বীক্বকৃত সহীহ ইবনু খুযাইমা ৯১১ নং এর টীকা হতে। এসব কিতাবে এটি এভাবে এসেছে: “ একদা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত দাস) আবু রাফি’ হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র পাশ দিয়ে গমন করেন। এ সময় হাসান রা: সালাতরত ছিলেন এবং তার মাথার চুল উপরে (খোঁপা) বাঁধা ছিল। আবূ রাফি’ তখন তাঁর পিছনে গিয়ে তার খোঁপা খুলে দিলেন। ফলে হাসান রা: তাঁর প্রতি রাগান্বিত হয়ে তাকালে আবু রাফি’ রা: বলেন, আপনি আগে সালাত সমাপ্ত করুন, রাগান্বিত হবেন না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি: ‘এটা শয়তানের আসন। অর্থাত শয়তানের আড্ডস্থল- অর্থাত পুরুষের খোঁপা বা বেণী।” (আবু দাউদ ৬৪৬ সহ অন্যরা)- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. (পুরুষদের) চুলে বেণী বা ঝুটি বাধা (অবস্থায় সালাত আদায়)
১৪১৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার মুক্ত দাস কুরাইবা দেখেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ সালাত আদায় করছেন এবং তার মাথার পিছন দিকে খোঁপা বা বেণী বাঁধা রয়েছে। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তা খুলে দিতে থাকলেন এবং অপরজন তা (নিশ্চুপভাবে) মেনে নিলেন। এরপর তিনি সালাত শেষে ইবনু আব্বাস রা: এর নিকট এসে বললেন, আমার মাথা সাথে আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “এর দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মত যে পেছনে দু’হাত বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করে।”[1]
بَاب فِي عَقْصِ الشَّعْرِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي بَكْرٌ هُوَ ابْنُ مُضَرَ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرٍ أَنَّ كُرَيْبًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَأَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ يُصَلِّي وَرَأْسُهُ مَعْقُوصٌ مِنْ وَرَائِهِ فَقَامَ وَرَاءَهُ فَجَعَلَ يَحُلُّهُ وَأَقَرَّ لَهُ الْآخَرُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ مَا لَكَ وَرَأْسِي قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا كَمَثَلِ الَّذِي يُصَلِّي وَهُوَ مَكْتُوفٌ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম নং ৪৯২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮০ তে। ((আবু দাউদ ৬৪৭; নাসাঈ ২/২১৫-২১৬; কুবরা ৭০১; আহমাদ ১/২০৪, ৩১৬; আবু আউয়ানাহ ২/৮১; ইবনু হিব্বান ২২৮০; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ৯১০।- মাহির ফাহলের তাহক্বীক্বকৃত সহীহ ইবনু খুযাইমা ৯১০ নং এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. সালাতের মধ্যে হাই তোলা সম্পর্কে
১৪১৯. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো হাই আসে সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। কেননা, (মুখ দিয়ে) শয়তান প্রবেশ করে...।”[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: অর্থাত মুখের উপর (হাত দ্বারা বাধা দেবে)।
بَاب التَّثَاؤُبِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَشُدَّ يَدَهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي عَلَى فِيهِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৬২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় (মাকরূহ)
১৪২০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কারো (প্রবল) ঘুম পায়, তবে সে যেনো ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ তার ঘুম দূরীভূত না হয়। কেননা, সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে হয়তোবা (ঘুমের ঘোরে) নিজেকে গালি দিয়ে বসবে।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الصَّلَاةِ لِلنَّاعِسِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ النَّوْمَ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَنَمْ حَتَّى يَذْهَبَ نَوْمُهُ فَإِنَّهُ عَسَى يُرِيدُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ
তাখরীজ: বুখারী ২১২; মুসলিম ৭৮৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৮৩, ২৫৮৪; মুসনাদুল মাউসিলী ৫/১৮৬ নং ২৮০০ তে আনাস রা: হতে এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. বসে সালাত আদায়কারীর (ফযীলত) দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর অর্ধেক
১৪২১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির বসা অবস্থায় আদায়কৃত সালাত (এর ফযীলত) হলো (দাঁড়িয়ে আদায়কৃত) সালাতের অর্ধেক।” তিনি বলেন, এরপর (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বসে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, আপনি বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির বসা অবস্থায় আদায়কৃত সালাত (এর ফযীলত) হলো (দাঁড়িয়ে আদায়কৃত) সালাতের অর্ধেক।” অথচ আপনিই বসা অবস্থায় সালাত আদায় করছেন। জবাবে তিনি বললেন: “হাঁ, নিশ্চয়ই। তবে আমি তোমাদের কারো মতো নই।”[1]
بَاب صَلَاةُ الْقَاعِدِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلَاةِ الْقَائِمِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الرَّجُلِ جَالِسًا نِصْفُ الصَّلَاةِ قَالَ فَدَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ صَلَاةُ الرَّجُلِ جَالِسًا نِصْفُ الصَّلَاةِ وَأَنْتَ تُصَلِّي جَالِسًا قَالَ أَجَلْ وَلَكِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক ৪১২৩; আহমাদ ২/২০৩; মুসলিম ৭৩৫; আবু দাউদ ৯৫০; বাইহাকী ৭/৬২; নাসাঈ ৩/২২৩; সহীহ ইবনু খুযাইমা ১২৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. নফল সালাত বসে আদায় করা
১৪২২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। অবশেষে তাঁর ইন্তিকালের এক বছর বা দু’ বছর আগে থেকে নফল সালাত বসে আদায় করতেন এবং যে সূরা পাঠ করতেন তা এতই তারতীলের সাথে (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে) পাঠ করতেন যে, তা এর চেয়ে দীর্ঘ সূরার চাইতেও অধিক দীর্ঘ হয়ে যেতো।[1]
بَاب صَلَاةِ التَّطَوُّعِ قَاعِدًا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ أَنَّ حَفْصَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ حَتَّى كَانَ قَبْلَ أَنْ يُتَوَفَّى بِعَامٍ وَاحِدٍ أَوْ عَامَيْنِ فَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ فَيُرَتِّلُ السُّورَةَ حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا
তাখরীজ: মালিক, জামা’আত ২২; মুসলিম ৭৩৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩০।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. নফল সালাত বসে আদায় করা
১৪২৩. (অপর সনদে) হাফসা সূত্রে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب صَلَاةِ التَّطَوُّعِ قَاعِدًا
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: মালিক, জামা’আত ২২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১০. (সালাতের মধ্যে) পাথর সরানো নিষেধ
১৪২৪. মুয়াইক্বীব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মসজিদে কংকর (নুড়ি পাথর) সরানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেন: “যদি তা করা তোমার জন্য অতি জরুরী হয়, তবে একবার (করতে পারো)।” হিশাম (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার ধারণা, তিনি (যা) বললেন, এ দ্বারা তিনি কংকর বা নুড়ি পাথর সরানোকে বুঝিয়েছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مَسْحِ الْحَصَا
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ حَدَّثَنِي مُعَيْقِيبٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ فِي الْمَسْحِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ إِنْ كُنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًا فَوَاحِدَةً قَالَ هِشَامٌ أُرَاهُ قَالَ مَسْحِ الْحَصَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৪১১; আহমাদ ৫/৪২৫; মুসলিম ৫৪৬; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ২১৮; বুখারী ১২০৭; বাইহাকী ২/২৮৪, ২৮৫; আবু আউয়ানাহ ২/১৯০-১৯১; ইবনু খুযাইমাহ ৮৯৫; আবু দাউদ ৯৪৬; তিরমিযী ৩৮০; নাসাঈ ৩/৭; ইবনু মাজাহ ১০২৬।...
পরিচ্ছেদঃ ১১০. (সালাতের মধ্যে) পাথর সরানো নিষেধ
১৪২৫. আবী যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন তার সামনের দিক হতে রহমত নাযিল হয়। সে যেন (তার সামনের থেকে) কংকর না সরায়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مَسْحِ الْحَصَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ فَلَا يَمْسَحْ الْحَصَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী ১২৮ তে। এছাড়া: তায়ালিসী ১/১০০ নং ৪৪৫; ইবনুল জারুদ ২১৯; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৩/২০৪ নং ৪২৭৪ ও।
((আবু দাউদ ৯৪৫; তিরমিযী ৩৭৯; নাসাঈ ৩/৬; মালিক, কসর সালাত নং ৪৩ ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৮৮ হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১১. কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত জমিনের সকল স্থানই পবিত্র
১৪২৬. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হযেছে, যা আমার পূর্বে আর কোনো নবীকেই প্রদান করা হয়নি। ১. প্রত্যেক নবী নির্দিষ্ট কওম (গোত্র)-এর জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সকল মানুষের জন্য। ২. আমার জন্য গণিমাত (যুদ্ধেলব্ধ মাল-সম্পদ) হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তীদের জন্য হারাম ছিল। ৩. আমার জন্য সমগ্র ভূমিকে পবিত্র মসজিদ (সালাতের স্থান) ও পবিত্রকারী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ৪. আমাদের শত্রুদের (অন্তরে) আমাদের থেকে এক মাসের দূরত্ব সত্বেও ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ৫. আমাকে শাফা’আত (এর অনুমতি) প্রদান করা হয়েছে।”[1]
بَاب الْأَرْضُ كُلُّهَا طَاهِرَةٌ مَا خَلَا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ الْفَقِيرَ يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي كَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً وَأُحِلَّتْ لِيَ الْمَغَانِمُ وَحُرِّمَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلِي وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَيِّبَةً مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَيَرْعَبُ مِنَّا عَدُوُّنَا مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ
তাখরীজ: বুখারী ৩৩৫; মুসলিম ৫২১; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১১. কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত জমিনের সকল স্থানই পবিত্র
১৪২৭. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জমিনের সকল স্থানই মাসজিদ (সালাতের স্থান), কেবল কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত।”[1] আবী মুহাম্মদ কে বলা হলো, কবরস্থানে আদায়কৃত সালাতের সাওয়াব পাওয়া যাবে কি? তিনি বললেন: যখন তা সরাসরি কবরের উপরে না হবে, তখন হ্যাঁ, পাবে। তিনি আরও বলেন, এ হাদীসটি অধিকাংশ বর্ণনাকারীই ’মুরসাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
بَاب الْأَرْضُ كُلُّهَا طَاهِرَةٌ مَا خَلَا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنَا سَأَلْتُهُ عَنْهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تُجْزِئُ الصَّلَاةُ فِي الْمَقْبَرَةِ قَالَ إِذَا لَمْ تَكُنْ عَلَى الْقَبْرِ فَنَعَمْ وَقَالَ الْحَدِيثُ أَكْثَرُهُمْ أَرْسَلُوهُ
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩৫০, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৩৮ তে। এছাড়া: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৪৭৯, ১৪৮০; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/২২১-২২২; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৮/৩১৬।
((আবু দাউদ ৪৯২; তিরমিযী ৩১৭; ইবনু মাজাহ ৭৪৫- ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৯০ হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১২. ছাগলের খোঁয়াড়ে এবং উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করা
১৪২৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি সালাতের সময় উপস্থিত হয়, আর তোমরা ছাগলের খোঁয়াড় এবং উটের আস্তাবল ব্যতীত আর কোনো স্থান না পাও, তবে তোমরা ছাগলের খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করে নেবে কিন্তু উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করবে না।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَمَعَاطِنِ الْإِبِلِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلَمْ تَجِدُوا إِلَّا مَرَابِضَ الْغَنَمِ وَأَعْطَانَ الْإِبِلِ فَصَلُّوا فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَلَا تُصَلُّوا فِي أَعْطَانِ الْإِبِلِ
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৮৪, ১৭০০, ১৭০১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৩৬, ৩৩৭ তে।
((তিরমিযী ৩৪৮, ৩৪৯; ইবনু মাজাহ ৭৬৮ ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৯১ হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ বানায়
১৪২৯. মাহমূদ ইবনু লাবীদ হতে বর্ণিত, যখন উছমান মসজিদ নির্মানের ইচ্ছা করলেন, তখন লোকেরা এটি অপছন্দ করলো। তখন উছমান রা: বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মান করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ (ঘর) নির্মান করেন।”[1]
بَاب مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ أَنَّ عُثْمَانَ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَبْنِيَ الْمَسْجِدَ كَرِهَ النَّاسُ ذَلِكَ فَقَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ
তাখরীজ: বুখারী ৪৫০; মুসলিম ৫৩৩। এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. মসজিদে প্রবেশ করার সময় দু’রাকা’আত সালাত আদায় করা (দুখুলিল মসজিদ)
১৪৩০. আবী কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আগমন করে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়।”[1]
بَاب الرَّكْعَتَيْنِ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَفُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ
তাখরীজ: বুখারী ৪৪৪; মুসলিম ৭১৪; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৯৫, ২৪৯৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩২৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. মসজিদে প্রবেশ করার সময় যা বলতে হয়
১৪৩১. আবী হুমাইদ ও আবী উসাইদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবী’র উপর সালাম প্রেরণ করে এরপর বলে, ’আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রহমতিকা’। আর যখন বের হবে, তখন সে যেন বলে, ’আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকা’।”[1]
بَاب الْقَوْلِ عِنْدَ دُخُولِ الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ أَوْ أَبَا أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ لِيَقُلْ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
তাখরীজ: মুসলিম ৭১৩; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৪৮, ২০৪৯।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. মসজিদে থুথু ফেলা অপছন্দনীয়
১৪৩২. শু’বাহ বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছেন: “মসজিদে থুথু ফেলা একটি পাপের কাজ”? তিনি বললেন, হাঁ। আর এর কাফফারা (প্রতিবিধান) হলো একে (মাটিতে) পুঁতে ফেলা।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ أَسَمِعْتَ أَنَسًا يَقُولُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ قَالَ نَعَمْ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا
তাখরীজ: বুখারী ৪১৫; মুসলিম ৫৫২; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৫০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. মসজিদে থুথু ফেলা অপছন্দনীয়
১৪৩৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা যখন সালাত আদায় করে, তখন কেবল তার রবের সাথে গোপনে আলাপ করে- অথবা, তার রব তার ও তার কিবলার মাঝে থাকেন। তাই যখন তোমাদের কেউ থুথু ফেলবে, সে যেন তার বামপাশে অথবা, তার পায়ের নিচে থুথু ফেলে, অথবা তিনি এরূপ বলেছেন।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ أَوْ رَبُّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَإِذَا بَزَقَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ أَوْ يَقُولُ هَكَذَا وَبَزَقَ فِي ثَوْبِهِ وَدَلَكَ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ
তাখরীজ: বুখারী ২৪১; মুসলিম ৫৫১; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. মসজিদে থুথু ফেলা অপছন্দনীয়
১৪৩৪. ইবনু উমার বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন মসজিদে কিবলার দিকে তিনি কফ দেখতে পেলেন। ফলে তিনি মসজিদের লোকদের উপর ভীষণ রাগ করলেন এবং বললেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাতে রত থাকে, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। ফলে সে অবশ্যই (সেদিকে) থুথু ফেলবে না। অথবা- তিনি বলেছেন: নাক ঝাড়বে না। এরপর তিনি এর স্থানটি ঘষে তুলে ফেলার আদেশ দিলেন, অথবা, তিনি আদেশ দিলে তা (মলে) বিবর্ণ করে দেয়া হলো।”হাম্মাদ বলেন, আমি কেবল এটা শুনেছি যে, ’তিনি বললেন, ওখানে ’জা’ফরান দ্বারা (মলে দাও)’।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِذْ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَتَغَيَّظَ عَلَى أَهْلِ الْمَسْجِدِ وَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قِبَلَ أَحَدِكُمْ إِذَا كَانَ فِي صَلَاتِهِ فَلَا يَبْزُقَنَّ أَوْ قَالَ لَا يَتَنَخَّعَنَّ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُكَّ مَكَانُهَا وَأَمَرَ بِهَا فَلُطِخَتْ قَالَ حَمَّادٌ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ بِزَعْفَرَانٍ
তাখরীজ: বুখারী ৭৫৩, ১২১৩; বাইহাকী ২/২৯৩; আহমাদ ২/৬, ১৪১; মুসলিম ৫৪৭ (৫১); আবু দাউদ ৪৭৯; মালিক, কিবলা ৪।...
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. মসজিদে থুথু ফেলা অপছন্দনীয়
১৪৩৫. আবী সাঈদ ও আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখতে পেলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লাঠি এনে তা ঘষে তুলে ফেললেন, এরপর বললেন: “যদি তোমাদের কেউ নাক ঝাড়ে (বা কফ ফেলে), তবে সে যেনো তার সম্মুখের দিকে ও ডান দিকে তা না ফেলে। বরং সে যেন তা তার বাম পাশে কিংবা পায়ের নিচে ফেলে।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى نُخَامَةً فِي جِدَارِ الْمَسْجِدِ فَتَنَاوَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَصَاةً وَحَتَّهَا ثُمَّ قَالَ إِذَا تَنَخَّمَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَخَّمَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ
তাখরীজ: বুখারী ৪০৮, ৪০৯; মুসলিম ৫৪৮; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৫, ৯৯৩, ১০৮১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৪৫, ৭৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. মসজিদে ঘুমানো
১৪৩৬. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি মসজিদে ঘুমাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তাঁর পা দিয়ে আমাকে নাড়া দিলেন এবং বললেন: “তুমি তো দেখি (মসজিদ)-এর মধ্যে ঘুমাচ্ছো, তাই নয়কি?” আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার খুব ঘুম পেলো।’[1]
بَاب النَّوْمِ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ عَنْ عَمِّهِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَتَانِي نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا نَائِمٌ فِي الْمَسْجِدِ فَضَرَبَنِي بِرِجْلِهِ قَالَ أَلَا أَرَاكَ نَائِمًا فِيهِ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ غَلَبَتْنِي عَيْنِي
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৬৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. মসজিদে ঘুমানো
১৪৩৭. ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে রাত্রি যাপন করতাম, তখন আমার কোনো পরিবার-পরিজন ছিল না। সেসময় আমি (একদা) স্বপ্নে দেখলাম যে, আমাকে যেন একটি কুপের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যেখানে কিছু লোককে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর বলা হলো, ’তাকে ডান দিকে নিয়ে চলো।’ এরপর এ স্বপ্নের কথা আমি হাফসার নিকট বর্ণনা করে বললাম: তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এটি (স্বপ্নটি) বর্ণনা করবে। ফলে সে তাঁর নিকট এটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: “এ (স্বপ্ন)টি কে দেখেছে?” সে (হাফসা) বললো, ’ইবনু উমার (দেখেছে)।’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “(আব্দুল্লাহ) কতই না ভাল যুবক!”- অথবা তিনি বলেছেন: “(আব্দুল্লাহ) কতই না ভাল লোক! যদি সে রাতে সালাত (তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল্লাইল) আদায় করতো!”তিনি বলেন, আর আমি যখন ঘুমাতাম তখন ভোর (ফজরের) হওয়ার আগে উঠতাম না।’ এরপর তিনি (রাবী) বলেন, এরপর থেকে ইবনু উমার রাতে সালাত (কিয়ামুল্লাইল) আদায় করতেন।[1]
بَاب النَّوْمِ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ أَبِيتُ فِي الْمَسْجِدِ وَلَمْ يَكُنْ لِي أَهْلٌ فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّمَا انْطُلِقَ بِي إِلَى بِئْرٍ فِيهَا رِجَالٌ مُعَلَّقُونَ فَقِيلَ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى ذَاتِ الْيَمِينِ فَذَكَرْتُ الرُّؤْيَا لِحَفْصَةَ فَقُلْتُ قُصِّيهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَصَّتْهَا عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ رَأَى هَذِهِ قَالَتْ ابْنُ عُمَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِعْمَ الْفَتَى أَوْ قَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ قَالَ وَكُنْتُ إِذَا نِمْتُ لَمْ أَقُمْ حَتَّى أُصْبِحَ قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي اللَّيْلَ
তাখরীজ: বুখারী ১১২১, ১১২২; মুসলিম ২৪৭৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৭০, ৭০৭১, ৭০৭২ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৮. মসজিদে হারানো বিজ্ঞপ্তি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ঘোষণা দেওয়া নিষেধ
১৪৩৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমরা মসজিদের মধ্যে কাউকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখো, তবে তোমরা বলবে: ’আল্লাহ যেন তোমার ব্যবসা লাভজনক না করেন।’ আর তোমরা যদি মসজিদে কাউকে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে দেখো, তবে বলবে: ’আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফেরত না দেন।’[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ اسْتِنْشَادِ الضَّالَّةِ فِي الْمَسْجِدِ وَالشِّرَى وَالْبَيْعِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي الْمَسْجِدِ فَقُولُوا لَا أَرْبَحَ اللَّهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيهِ الضَّالَّةَ فَقُولُوا لَا أَدَّى اللَّهُ عَلَيْكَ
তাখলীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৩ তে। ((সহীহ ইবনু খুযাইমা২/২৭৪ নং ১৩০৫; তিরমিযী ১৩২১; নাসাঈ, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইল নং ১৭৬; বাইহাকী ২/৪৪৭; হাকিম ২/৫৬ তিনি একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; দেখুন, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১/৪৪১ নং ১৭২৫।- মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৩ এর টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১৯. মসজিদের ভেতর দিয়ে অস্ত্র বহন করা নিষেধ
১৪৩৯. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, আমি আমর ইবনু দীনার কে জিজ্ঞেস করলাম, যে, ’এক ব্যক্তি তীর সাথে নিয়ে (মসজিদ) অতিক্রম করছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি এর ফলাগুলো (ধারালো অংশ) (হাত দিয়ে) ধরে রাখো।” -আপনি কি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে এ হাদীস বলতে শুনেছেন? তিনি (আমর) বললেন, হাঁ।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ حَمْلِ السِّلَاحِ فِي الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَسَمِعْتَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ مَرَّ رَجُلٌ فِي الْمَسْجِدِ يَحْمِلُ نَبْلًا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْسِكْ نُصُولَهَا قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী ৪৫১; মুসলিম ২৬১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৪৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. কবরকে মসজিদ বা সিজদার স্থানে পরিণত করা নিষেধ
১৪৪০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটি চাদর (কালো কাপড়) দিয়ে মুখমণ্ডল আবৃত করছিলেন। যখন এতে কষ্ট হতে লাগলো তখন তিনি তাঁর মুখের উপর থেকে সেটাকে সরিয়ে দিলেন। তখন তিনি যা বললেন, তা ছিল এরূপ: “ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত (অভিশাপ)! তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।” (এভাবে) তারা যে (শিরকী) কার্যকলাপ করেছিলো, তেমন (কার্যকলাপ) থেকে তিনি সতর্ক করছিলেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ اتِّخَاذِ الْقُبُورِ مَسَاجِدَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ قَالَا لَمَّا نُزِلَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّرُ مِثْلَ مَا صَنَعُوا
তাখরীজ: বুখারী ৪৩৫, ৪৩৬; মুসলিম ৫৩১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২১. মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় ‘ইশতিবাক’ (এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলসমূহে প্রবেশ করা করানো) নিষেধ
১৪৪১. আবী ছুমামাহ আল হান্নাত্ব বলেন, কা’ব ইবনু ’ঊজরাহ আমাকে (মসজিদের) আঙিনায় এমতাবস্থায় পেলেন, যখন আমি আমার (হাতের) আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মাঝে প্রবিষ্ট করা অবস্থায় ছিলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ ওযু করে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার (উভয় হাতের) আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِاشْتِبَاكِ إِذَا خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ الْفَرَّاءُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ أَبِي ثُمَامَةَ الْحَنَّاطِ قَالَ أَدْرَكَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ بِالْبَلَاطِ وَأَنَا مُشَبِّكٌ بَيْنَ أَصَابِعِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الصَّلَاةِ فَلَا يُشَبِّكُ بَيْنَ أَصَابِعِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৩৬, ২১৪৯, ২১৫০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৫, ৩১৬ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১২১. মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় ‘ইশতিবাক’ (এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলসমূহে প্রবেশ করা করানো) নিষেধ
১৪৪২. কা’ব ইবনু ’ঊজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তুমি ওযু করে মসজিদে (যাওয়ার) ইচ্ছা করবে, তখন তুমি (উভয় হাতের) আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করাবে না। কেননা, তুমি তো সালাতরত (বলেই গণ্য)।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِاشْتِبَاكِ إِذَا خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَعَمَدْتَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلَا تُشَبِّكَنَّ بَيْنَ أَصَابِعِكَ فَإِنَّكَ فِي صَلَاةٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং- ২১৪৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৬ তে। পরবর্তী ও পূর্ববর্তী টীকা দু’টিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১২১. মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় ‘ইশতিবাক’ (এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলসমূহে প্রবেশ করা করানো) নিষেধ
১৪৪৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ওযু করে সালাতের উদ্দেশ্যে (মসজিদের দিকে) বের হয়, সে তো সালাতেই রত থাকে, যতক্ষণ না সে তার বাড়িতে ফিরে আসে। ফলে তোমরা এইভাবে ধরো না।”- অর্থাৎ: তিনি তাঁর এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِاشْتِبَاكِ إِذَا خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ
أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ ثُمَّ خَرَجَ يُرِيدُ الصَّلَاةَ فَهُوَ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ فَلَا تَقُولُوا هَكَذَا
তাখরীজ: ইবনু খুযাইমা নং ৪৪৬; হাকিম ১/২০৬ হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী ‘বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ’ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১২২. যে ব্যক্তি মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে, তার ফযীলত
১৪৪৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা যতক্ষণ তার ’মুসাল্লা’য় তথা তার সালাত আদায়ের স্থানে বসে থাকে, তার (সেখান থেকে) উঠে না দাঁড়ানো অথবা তার ’হাদাছ’ (ওযু নষ্ট) না হওয়া পর্যন্ত ফিরিশতাগণ তার জন্য এ বলে দু’আ করতে থাকে: ’হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে রহম করুন’।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ جَلَسَ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَزَالُ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى الْعَبْدِ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ مَا لَمْ يَقُمْ أَوْ يُحْدِثْ تَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ
তাখরীজ: বুখারী ৪৪৫; মুসলিম ৬৪৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৩. মসজিদসমূহকে সুসজ্জিত ও কারুকার্যমণ্ডিত করা সম্পর্কে
১৪৪৫. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামত সঙ্ঘটিত হবে না, যতক্ষণ মসজিদসমূহের ব্যাপারে লোকেরা পরস্পর গর্ব-অহংকারের প্রতিযোগীতায় লিপ্ত না হবে।”[1]
بَاب فِي تَزْوِيقِ الْمَسَاجِدِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬১৩, ১৬১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩০৭, ৩০৮ তে। ((মুসনাদে আবী ইয়ালা আল মাউসিলী ৫/১৮৪ নং ২৭৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২/৩৫০ নং ৪৬৪))
পরিচ্ছেদঃ ১২৪. সুতরা’মুখী হয়ে সালাত আদায় করা
১৪৪৬. হাকাম ইবনু উতাইবাহ বলেন, আমি আবী জুহাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন দুপুর বেলায় ’বাতহা’ (মক্কার একটি উপত্যকা)-এর দিকে বের হয়ে গেলেন। এরপর (সেখানে) তিনি যুহরের দু’ রাকা’আত ও আসরের দু’ রাকা’আত (কসর) সালাত আদায় করলেন, তখন তাঁর সামনে একটি বর্শা (প্রোথিত) ছিল। আর তাঁর সামনে দিয়ে (উটের হাওদার মধ্যে আরোহনকারীনী) মহিলারা যাতায়াত করছিলো।[1]
بَاب الصَّلَاةِ إِلَى سُتْرَةٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَطْحَاءِ بِالْهَاجِرَةِ فَصَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ وَإِنَّ الظُّعُنَ لَتَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ
তাখলীজ: বুখারী ১৮৭; মুসলিম ৫০৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৮৭, ৮৯১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৪. সুতরা’মুখী হয়ে সালাত আদায় করা
১৪৪৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি বর্শা স্থাপন করা হতো, সেটির দিকে (মুখ করে) তিনি সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ إِلَى سُتْرَةٍ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ تُرْكَزُ لَهُ الْعَنَزَةُ يُصَلِّي إِلَيْهَا
তাখরীজ: বুখারী ৪৯৪; মুসলিম ৫০১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ১২৫. সালাত আদায়কারীর সুতরা’র কাছাকাছি থাকা সম্পর্কে
১৪৪৮. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে গমণ করতে না দেয়। আর যদি সে (গমণকারী) তা না মানে, তবে সে (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে। কেননা, নিশ্চয়ই সে একটি শয়তান।[1]
بَاب فِي دُنُوِّ الْمُصَلِّي إِلَى السُّتْرَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ
তাখরীজ: বুখারী ৫০৯; মুসলিম ৫০৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৪০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৬৭, ২৩৬৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৬. বাহনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা
১৪৪৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাহনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ إِلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْأَحْمَرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي إِلَى رَاحِلَتِهِ
তাখরীজ: বুখারী ৪৩০, ৫০৭; মুসলিম ৫০২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৩৬, ৫৪৫৯, ৫৫৮৮, ৫৬৪৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৭৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৭. মুসল্লীর সামনে কোনো মহিলার অবস্থান করা
১৪৫০. উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর হতে বর্ণিত, তার নিকট আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রাতে) সালাত আদায় করতেন, আর তিনি তখন তাঁর ও তাঁর কিবলার মাঝে জানাযার মতো আড়াআড়িভাবে বিছানায় শুয়ে থাকতেন।[1]
بَاب الْمَرْأَةِ تَكُونُ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي وَهِيَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ عَلَى فِرَاشِ أَهْلِهِ اعْتِرَاضَ الْجَنَازَةِ
তাখরীজ: বুখারী ৩৮২, ৩৮৩; মুসলিম ৫১২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৪১, ২৩৪২, ২৩৪৩, ২৩৪৪, ২৩৯০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৮. যা সালাতকে নষ্ট করে এবং যা সালাতকে নষ্ট করে না
১৪৫১. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, গাধা, কালো কুকুর ও নারী কোনো লোকের সালাত নষ্ট করে দেয়, যখন তার সামনে হাওদার পিছনের কাঠের মতো (উঁচু) কোনো বস্তু তার সামনে না থাকে।তিনি বলেন, আমি বললাম, হলুদ- লাল (কুকুর) হতে কালো রং এর (কুকুরের পার্থক্য) কী? তখন তিনি বললেন, তুমি যেভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করছো, আমিও সেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: “কালো (কুকুর)টি একটি শয়তান।”[1]
بَاب مَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ وَمَا لَا يَقْطَعُهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّهُ قَالَ يَقْطَعُ صَلَاةَ الرَّجُلِ إِذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَآخِرَةِ الرَّحْلِ الْحِمَارُ وَالْكَلْبُ الْأَسْوَدُ وَالْمَرْأَةُ قَالَ قُلْتُ فَمَا بَالُ الْأَسْوَدِ مِنْ الْأَحْمَرِ مِنْ الْأَصْفَرِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ الْأَسْوَدُ شَيْطَانٌ
তাখরীজ: মুসলিম ৫১০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৮৩, ২৩৮৪, ২৩৮৫, ২৩৮৮, ২৩৮৯, ২৩৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২৯. কোনো কিছুই সালাতকে নষ্ট করে না
১৪৫২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আমি এবং ফাযল এলাম-তথা একটি গাধীর পিঠে আরোহন করে এলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনা কিংবা আরাফাতে সালাত আদায় করছিলেন। তখন আমি কোনো একটি কাতার অতিক্রম করে গাধীর পিঠ থেকে অবতরণ করলাম এবং চরবার উদ্দেশ্যে একে ছেড়ে দিয়ে আমি কাতারের মধ্যে ঢুকে পড়লাম।’[1]
بَاب لَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ شَيْءٌ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جِئْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ يَعْنِي عَلَى أَتَانٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِمِنًى أَوْ بِعَرَفَةَ فَمَرَرْتُ عَلَى بَعْضِ الصَّفِّ فَنَزَلْتُ عَنْهَا وَتَرَكْتُهَا تَرْعَى وَدَخَلْتُ فِي الصَّفِّ
তাখরীজ: বুখারী ৭৬; মুসলিম ৫০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৮২ তে।...
পরিচ্ছেদঃ ১৩০. মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা/চলে যাওয়া অপছন্দনীয়
১৪৫৩. বুসর ইবনু সাঈদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জুহাইম আল আনসারী আমাকে যাইদ ইবনু খালিদ আল জুহানীর নিকট জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি মুসল্লীর (সালাতরত ব্যক্তির) সম্মুখ দিয়ে গমণ করে, তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তিনি কী শুনেছেন। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসল্লীর (সালাতরত ব্যক্তির) সম্মুখ দিয়ে গমণ করার চেয়ে তোমাদের কারো চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাও তার জন্য উত্তম।”তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি জানি না, তা (চল্লিশ) বছর, মাস, নাকি দিন।[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْمُرُورِ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَرْسَلَنِي أَبُو جُهَيْمٍ الْأَنْصَارِيُّ إِلَى زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَسْأَلُهُ مَا سَمِعَ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَأَنْ يَقُومَ أَحَدُكُمْ أَرْبَعِينَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي قَالَ فَلَا أَدْرِي سَنَةً أَوْ شَهْرًا أَوْ يَوْمًا
তাখরীজ: মুসলিম ৫০৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩০. মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা/চলে যাওয়া অপছন্দনীয়
১৪৫৪. বুসর ইবনু সাঈদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাইদ ইবনু খালিদ আল জুহানী তাকে আবু জুহাইমের নিকট একথা জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন যে, মুসল্লীর (সালাতরত ব্যক্তির) সম্মুখ দিয়ে গমণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তিনি কী বলতে শুনেছেন। তখন আবু জুহাইম বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসল্লীর (সালাতরত ব্যক্তির) সম্মুখ দিয়ে গমণকারী ব্যক্তি যদি জানতো যে, এর জন্য তার উপর কী (পাপের বোঝা) চেপেছে, তবে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাও তার জন্য উত্তম হতো।”[1] আবু নাযর (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি জানি না, চল্লিশ দিন, মাস নাকি বছর।
بَاب كَرَاهِيَةِ الْمُرُورِ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ أَنَّ بُسْرَ بْنَ سَعِيدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ أَرْسَلَهُ إِلَى أَبِي جُهَيْمٍ يَسْأَلُهُ مَاذَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي الْمَارِّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيْ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لَا أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً
তাখরীজ: বুখারী ৫১০; মুসলিম ৫০৭; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান ২৩৬৬ ও মুসনাদুল হমাইদী নং ৮৩৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩১. নাবী (ﷺ) এর মসজিদে সালাত আদায় করার ফযীলত
১৪৫৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার এ মসজিদে (আদায়কৃত) একটি সালাত অন্যান্য মসজিদে (আদায়কৃত) এক হাজার সালাত অপেক্ষা উত্তম, কেবল মসজিদুল হারাম ছাড়া।”[1]
بَاب فَضْلِ الصَّلَاةِ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
1455 - أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ « صَلاَةٌ فِى مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ » . تحفة 8038
তাখরীজ: আহমাদ ২/১৬, ২৯, ৫৩, ৫৪, ৬৮, ১০২; মুসলিম ১৩৯৫; ইবনু মাজাহ ১৪০৫; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৭১।
পরিচ্ছেদঃ ১৩১. নাবী (ﷺ) এর মসজিদে সালাত আদায় করার ফযীলত
১৪৫৬. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার এ মসজিদে (আদায়কৃত) একটি সালাত অন্যান্য মসজিদে (আদায়কৃত) এক হাজার সালাত অপেক্ষা উত্তম, কেবল মসজিদুল হারাম ছাড়া।”[1]
بَاب فَضْلِ الصَّلَاةِ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
1456 - أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهِْرىِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ قَالَ « صَلاَةٌ فِى مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ
إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ » . تحفة 13144
তাখরীজ: বুখারী ১১৯০; সহীহ মুসলিম ১৩৯৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫৭, ৫৮৭৫, ৬১৬৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬২১, ১৬২৫ ও মসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৯ তে। আরও দেখুন, পূর্বের ১৪৫৮ (অনূবাদে ১৪৫৪) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩১. নাবী (ﷺ) এর মসজিদে সালাত আদায় করার ফযীলত
১৪৫৭. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার এ মসজিদে (আদায়কৃত) একটি সালাত অন্যান্য মসজিদে (আদায়কৃত) এক হাজার সালাত অপেক্ষা উত্তম, কেবল মসজিদুল হারাম ছাড়া।”[1]
بَاب فَضْلِ الصَّلَاةِ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
তাখরীজ: বুখারী ১১৯০; সহীহ মুসলিম ১৩৯৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫৭, ৫৮৭৫, ৬১৬৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬২১, ১৬২৫ ও মসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৯ তে। আরও দেখুন, পূর্বের ১৪৫৮ (অনূবাদে ১৪৫৪) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৩. (রাতের) অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়ার ফযীলত
১৪৫৮. আবূ দারদা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে কোনো সালাতের দিকে হেঁটে যায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে নূর প্রদান করবেন।”[1]
بَاب فَضْلِ الْمَشْيِ إِلَى الْمَسَاجِدِ فِي الظُّلَمِ
1458 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِىٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِى أُنَيْسَةَ عَنْ جُنَادَةَ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِى إِدْرِيسَ عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِىِّ قَالَ « مَنْ مَشَى فِى ظُلْمَةِ لَيْلٍ إِلَى صَلاَةٍ آتَاهُ اللَّهُ نُوراً يَوْمَ الْقِيَامَةِ »
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৪৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪২২; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২১০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৪. সালাতের মধ্যে (অন্যদিকে) তাকানো (বা মনোযোগ দেওয়া) নিন্দনীয় (মাকরূহ)
১৪৫৯. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা সালাতের মধ্যে যতক্ষণ (অন্যদিকে) দৃষ্টিপাত না করে (বা অন্যমনস্ক না হয়), ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার দিকে লক্ষ্য রাখেন। অপরদিকে যখন সে (অন্যদিকে) দৃষ্টিপাত করে (বা অন্যমনস্ক হয়), তখন আল্লাহও তার দিক থেকে তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ
1459 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِى اللَّيْثُ حَدَّثَنِى يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَحْوَصِ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله
عليه وسلم « لاَ يَزَالُ اللَّهُ تعالى مُقْبِلاً عَلَى الْعَبْدِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ فَإِذَا صَرَفَ وَجْهَهُ انْصَرَفَ عَنْ هُ »
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৭৫; আবু দাউদ ৯১০; নাসাঈ, কুবরা ১১১৮।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির, আবী হুরাইরা, আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম, আবী দারদা’আ ও ইবনু মাসউদ রা: হতে যা আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৪৫২, ২৪৫৩, ২৪৫৪, ২৪৫৫, ২৪৫৭, ২৪৫৯ তে, যা একে শক্তিশালী করে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৪. সালাতের মধ্যে (অন্যদিকে) তাকানো (বা মনোযোগ দেওয়া) নিন্দনীয় (মাকরূহ)
১৪৬০. আবী যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা সালাতের মধ্যে যতক্ষণ (অন্যদিকে) দৃষ্টিপাত না করে (বা অন্যমনস্ক না হয়), ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার দিকে লক্ষ্য রাখেন। অপরদিকে যখন সে (অন্যদিকে) দৃষ্টিপাত করে (বা অন্যমনস্ক হয়), তখন আল্লাহও তার দিক থেকে তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْأَحْوَصِ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ اللَّهُ مُقْبِلًا عَلَى الْعَبْدِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ فَإِذَا صَرَفَ وَجْهَهُ انْصَرَفَ عَنْهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৭৫; আবু দাউদ ৯১০; নাসাঈ, কুবরা ১১১৮।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির, আবী হুরাইরা, আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম, আবী দারদা’আ ও ইবনু মাসউদ রা: হতে যা আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৪৫২, ২৪৫৩, ২৪৫৪, ২৪৫৫, ২৪৫৭, ২৪৫৯ তে, যা একে শক্তিশালী করে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৫. কোন্ সালাত সর্বোত্তম?
১৪৬১. আব্দুল্লাহ ইবনু হুবশী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “সংশয়মুক্ত ঈমান ও খিয়ানতমুক্ত জিহাদ এবং ’মাবরুর’ (পূণ্যময়) হাজ্জ্ব।”
তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ সালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: দীর্ঘ কিয়াম (তথা ক্বিরা’আত বিশিষ্ট সালাত)।”জিজ্ঞাস করা হলো: সর্বোত্তম সাদাক্বাহ কোনটি? তিনি বললেন: অনটনগ্রস্ত ব্যক্তির কষ্টসাধ্যের দান। জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ হিজরত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: আল্লাহ তোমার উপর যা হারাম করেছেন, তা থেকে হিজরত (পরিত্যাগ) করা। জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।” জিজ্ঞাসা করা হলো, সম্মানজনক নিহত হওয়া কোনটি? তিনি বললেন: যার ঘোড়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে।”[1]
بَاب أَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ وَجِهَادٌ لَا غُلُولَ فِيهِ وَحَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ قِيلَ فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ قَالَ طُولُ الْقِيَامِ قِيلَ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ جُهْدُ مُقِلٍّ قِيلَ فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْكَ قِيلَ فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ قِيلَ فَأَيُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ قَالَ مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيقَ دَمُهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪১১-৪১২; আবু দাউদ ১৪৪৯; নাসাঈ (কিতাবুয যাকাত বাব: ৪৯ ও কিতাবুল ঈমান বাব: ১); আল কুবরা ২৩০৫, ১১৭০৭; বুখারী, আল কাবীর ৫/২৫। আরও দেখুন, তারগীব ওয়াত তারহীব ২/২৯৩ নং ৩০; দুররে মানছুর ১/২৪৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৬. ফজর ও আসরের সালাতের ফযীলত
১৪৬২. আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দু’ঠাণ্ডার (সময়ের) সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[1] আবু মুহাম্মদ কে জিজ্ঞেস করা হলো: ’দু’ঠাণ্ডা’র সালাত’ কী? তিনি বললেন: ফজর ও আসর।
بَاب فَضْلِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ مَا الْبَرْدَيْنِ قَالَ الْغَدَاةُ وَالْعَصْرُ
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৭৪; মুসলিম ৬৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান নং১৭৩৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৬. ফজর ও আসরের সালাতের ফযীলত
১৪৬৩. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মায় (নিরাপত্তার ভেতরে) চলে এলো। ফলে তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে খিয়ানত (নষ্ট) করো না। আর যে ব্যক্তি আসরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মায় (নিরাপত্তার ভেতরে) চলে এলো। ফলে তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে খিয়ানত (নষ্ট) করো না।”[1]
بَاب فَضْلِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي جِوَارِ اللَّهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي جَارِهِ وَمَنْ صَلَّى الْعَصْرَ فَهُوَ فِي جِوَارِ اللَّهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي جَارِهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا أُمِّنَ وَلَمْ يَفِ فَقَدْ غَدَرَ وَأَخْفَرَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৫২।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে, ইবনু উমার, আনাস, আবী বাকর, আবী মালিক আল আশযাঈ, তাঁর পিতা হতে। আমি এর তাখরীজ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬৩, ১৬৬৪, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯,১৬৭০, ১৬৭১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩৭. সালাতে পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে দাঁড়ানো নিষেধ
১৪৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু-আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন: “সালাত শুরুর প্রাক্কালে তোমাদের কারো যদি পায়খানার বেগ হয়, তবে সে যেন প্রথমে পায়খানার প্রয়োজন সম্পন্ন করে।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ دَفْعِ الْأَخْبَثَيْنِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كُنَاسَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَرْقَمِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ وَأَرَادَ الرَّجُلُ الْخَلَاءَ فَابْدَأْ بِالْخَلَاءِ
তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং২০৭১; মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৯৪ ও মুসনাদুল হুমাউদী নং ৮৯৬ তে।
((আবু দাউদ ৮৮; তিরমিযী ১৪২; নাসাঈ ৮৫৩; ইবনু মাজাহ ৬১৬;বাইহাকী ৩/৭২; ইবনু খুযাইমা ৯৩২; আহমাদ ৪/৩৫; হাকিম ১/১৬৮, তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।– মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৪ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮. সালাতের মধ্যে কোমরে হাত রাখা নিষেধ
১৪৬৫. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো লোককে কোমরে হাত রাখা অবস্থায় সালাত আদায় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الِاخْتِصَارِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا
তাখরীজ: বুখারী ১২২০; মুসলিম ৫৪৫; এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮৫ তে।
ইবনু আবী শাইবা ২/৪৭-৪৮ এ এ হাদীসের তাখরীজের (বর্ণনার) পরে ইবনু সীরীন ‘ইখতিস্বর’ এর পরিচিতিতে বলেছেন: “তা হলো কারো উভয় কোমরে তার উভয় হাত রাখা, অথচ সে সালাতে রয়েছে।”
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. ঈশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা নিষেধ
১৪৬৬. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النَّوْمِ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثِ بَعْدَهَا
أَخْبَرَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْمِنْهَالِ الرِّيَاحِيِّ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا
তাখরীজ: বুখারী ৫৪১; এটি বিস্তারিত আকারে গত হয়েছে ১৩৩৮ নং এ; পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪০. মুশরিকদের জন্য মসজিদুল হারামে প্রবেশ নিষেধ
১৪৬৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু –কে প্রেরণ করেন তখন আমি ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে ছিলাম। আর (কুরবানীর দিন মিনায়) তিনি চারটি বিষয়ের ঘোষণা দিতে থাকেন, এমনকি তাঁর কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যায়- যে, তোমরা জেনে রাখো, মু’মিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর এ বছরের পর থেকে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও (আল্লাহর) ঘরের তাওয়াফ করতে পারবে না। আর যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুক্তি (বা অঙ্গীকার) রয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত অবকাশ রয়েছে চার মাস পর্যন্ত। আর যখন চার মাস অতীত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং তাঁর রাসূলও।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ دُخُولِ الْمُشْرِكِ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ الْبَزَّارُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ الْمُحَرَّرِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَى بِأَرْبَعٍ حَتَّى صَهَلَ صَوْتُهُ أَلَا إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُؤْمِنَةٌ وَلَا يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ فَإِنَّ أَجَلَهُ إِلَى أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ فَإِنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৯; মুসলিম ১৩৪৭। এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৬, ১০৪, ৪৫২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮ তে। এটি সামনে ২৫৪৮ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪১. শিশুদেরকে কখন সালাতের আদেশ দেয়া হবে
১৪৬৮. সাবরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাত বৎসর বয়স হলে শিশুদের সালাত শিক্ষা দিবে আর দশ বৎসর হলে এর জন্য (প্রয়োজনবোধে) প্রহার করবে।”[1]
بَاب مَتَى يُؤْمَرُ الصَّبِيُّ بِالصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْجُهَنِيُّ حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلَاةَ ابْنَ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرٍ
তাখরীজ: তিরমিযী ৪০৭; তাবারাণী, আল কাবীর ৭/১১৫ নং ৬৫৪৬, ৬৫৪৭,৬৫৪৮, ৬৫৪৯; তাহাবী , শারহু মুশকিলিল আছার ৩/২৩১; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১০০২; হাকিম ১/২৫৮; বাইহাকী ৩/৮৩-৮৪; মা’রিফাতুস ুসুনান ওয়াল আছার নং ৫৭২২; ইবনু আবী শাইবা ১/৩৪৭; আহমাদ ৩/৪০৪; আবু দাউদ ৪৯৪; দারুকুতনী ১/২৩০।
তিরমিযী বলেন: এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাকিম বলেন: এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তার এ মত সমর্থন করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. যে সকল সময়ে সালাত আদায় করা মাকরুহ (নিষেধ)
১৪৬৯. উকবা ইবনু আমির আল- জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, তিন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং মৃতদের কবরস্থ করতে নিষেধ করতেন: সূর্য যখন উদিত হয়, তা পূর্ণভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত; ও যখন ঠিক দ্বিপ্রহর হয়, এরপর সূর্য পশ্চিম দিকে না হেলে পড়া পর্যন্ত এবং যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার দিকে ঝুঁকে যায়, তখন (থেকে পূর্ণভাবে) অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত।”[1]
بَاب أَيُّ سَاعَةٍ تُكْرَهُ فِيهَا الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ
তাখরীজ: মুসলিম, ৮৩১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১৭৫৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৪৬, ১৫৫১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. যে সকল সময়ে সালাত আদায় করা মাকরুহ (নিষেধ)
১৪৭০. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন সন্তোষভাজন ব্যক্তি - ’উমারও যাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ’উমার-ই আমার নিকট অধিক সন্তোষভাজন ব্যক্তি- তারা আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ফজরের সালাতের পর (থেকে) সূর্য (পূর্ণরূপে) উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নাই এবং আসরের সালাতের পর (থেকে) সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নাই।”[1]
بَاب أَيُّ سَاعَةٍ تُكْرَهُ فِيهَا الصَّلَاةُ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১২৫০; বুখারী ৫৮১; মুসলিম ৮২৬ (২৮৭); তিরমিযী ১৮৩; নাসাঈ ৫৬৩; আহমাদ ১/১৮; আবু দাউদ ১২৭৬।
ইমাম তিরমিযী সাহাবীগণ হতে এরূপ আরও হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন: উমার রা: হতে ইবনু আব্বাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু সাহাবী ও তাবেঈদের মধ্যকার অধিকাংশ ফকীহ গণ ও তাদের পরবর্তী অনেকের মত।”
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩. আসরের পরের দু’রাকাত সালাত আদায় সম্পর্কে
১৪৭১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, একদিনের জন্যও এমন হয়নি যে, তিনি তার নিকট অবস্থান করা কালীন এ দু’রাকা’আত সালাত আদায় করেননি।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, অর্থা? আসরের পরবর্তী দু’রাকাত।
بَاب فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْأَسْوَدَ بْنَ يَزِيدَ وَمَسْرُوقًا يَشْهَدَانِ عَلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا شَهِدَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهَا يَوْمًا إِلَّا صَلَّى هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد تَعْنِي بَعْدَ الْعَصْرِ
তাখরীজ: বুখারী ৫৯০; মুসলিম ৮৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৯ আমাদের হাদীসের এ অংশের জন্য, এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭০, ১৫৭১, ১৫৭২, ১৫৭৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩. আসরের পরের দু’রাকাত সালাত আদায় সম্পর্কে
১৪৭২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের পরবর্তী দু’রাকাআত কখনও ছাড়েননি।[1]
بَاب فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ قَطُّ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩. আসরের পরের দু’রাকাত সালাত আদায় সম্পর্কে
১৪৭৩. ইবন আব্বাসের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস, আব্দুর রহমান ইবন আযহার এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সকলে মিলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট প্রেরণ করলেন এবং বলে দিলেন, তাঁকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং তাঁকে আসরের পরের দু- রাকআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। এবং এ কথাও বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনিও সেই দু রাকআত সালাত আদায় করে থাকেন, অথচ আমাদের নিকট (হাদীস) পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’রাকাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন ।
ইবন আব্বাসরাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমিও উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে এ দুই রাকা’আত (সালাত আদায় করা)-এর কারণে লোকদেরকে প্রহার করতাম।
কুরাইব বলেন, আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁরা যে সকল বক্তব্যসহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন তা সব পৌঁছে দিলাম । তিনি (আয়িশা রাঃ) বললেন, উম্মু সালামাকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা কর।’ ফলে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে যারা আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের কাছে এলাম এবং তাঁদেরকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা যা বলেছিলেন তা অবহিত করলাম। তারা আমাকে পূনরায় উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট প্রেরণ করলেন, যা দিয়ে আমাকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তখন (আমার বক্তব্য শুনে ) উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ দু’রাকাত আদায় করা হতে নিষেধ করতে শুনেছিলাম, পরে তাঁকেই এ দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলাম । আর তাঁর এ দু-রাকআত সালাত আদায়ের ব্যাপারটি হলো, তিনি একদা আসরের সালাত আদায় করলেন অতঃপর (আমার নিকট) প্রবেশ করলেন। তখন আনসারগনের বনী হারাম গোত্রের কতিপয় মহিলা আমার নিকট বসেছিলেন। এরপর তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন। আমি একটি দাসীকে তাঁর নিকট পাঠালাম এবং বলে দিলাম, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়াবে এবং তাঁকে বলবে, উম্মে সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন,’ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি আপনাকে এ দু’রাকা’আত হতে নিষেধ করতে শুনিনি? অথচ এখন আপনাকেই সে দু-রাকআত আদায় করতে দেখছি!’ তখন তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন তাহলে পিছনে সরে দাঁড়াবে।
তিনি (উম্মে সালামা) বলেন, দাসীটি তাই করল। ফলে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করলেন। আর সে (দাসীটি) পিছনে সরে দাঁড়াল । সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি কি আমাকে আসরের পরের দু- রাকআত সালাত সস্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? (এর ব্যাপারটি হলো) আমার নিকট আবদুল কায়স গোত্রের কতিপয় লোক তাদের গোত্রের পক্ষ হতে ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল। ফলে তারা আমাকে যুহরের পরের দু’রাকা’আতসালাত হতে ব্যস্ত (বিরত) রেখেছিল। আর এ হলো সেই দু-রাকআত।”[1] আবু মুহাম্মদকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন, আমি মত পোষণ করি সেই হাদীস অনুযায়ী, যা উমার কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে,“ফজরের সালাতের পর (থেকে) সূর্য (পূর্ণরূপে) উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নাই এবং আসরের সালাতের পর (থেকে) সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নাই।”
بَاب فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهُمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكُنْتُ أَضْرِبُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَلَيْهِمَا قَالَ كُرَيْبٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا وَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلَّاهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنْ الْأَنْصَارِ فَصَلَّاهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي أُمُّ سَلَمَةَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَمْ أَسْمَعْكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ قَالَتْ فَفَعَلَتْ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ يَا ابْنَةَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالْإِسْلَامِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنْ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ أَنَا أَقُولُ بِحَدِيثِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَلَا بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
তাখরীজ: বুখারী ১২৩৩; মুসলিম ৮৩৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৪৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৭৬, ১৫৭৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৪. সুন্নাত ছালাত সম্পর্কে
১৪৭৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের আগে দু’রাকা’আত ও যুহরের পরে দু’রাকা’আত, মাগরিবের পরে তাঁর ঘরে (গিয়ে) দু’রাকাআত, ঈশার পরে দু’রাকা’আত এবং জুমু’আর সালাতের পরে ঘরে গিয়ে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ السُّنَّةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ
তাখরীজ: বুখারী ৯৩৭; মুসলিম ৮৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫, ৫৭৭৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫৪, ২৪৬২, ২৪৭৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৯০
পরিচ্ছেদঃ ১৪৪. সুন্নাত ছালাত সম্পর্কে
১৪৭৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “প্রত্যেক মুসলিম বান্দা যে প্রতিদিন ফরয ছাড়াও ঐচ্ছিকভাবে (আরও) বারো রাকা’আত সালাত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ি থাকবে- অথবা জান্নাতে তার জন্য একটি বাড়ি বানানো হবে।”[1] উম্মু হাবীবাহ বলেন, এরপর আর কখনো (এ বারো রাকা’আত) সালাত আদায় করা আমি ছাড়িনি। আর আমরও অনুরূপ কথা বলেছেন। আবার নু’মানও অনুরূপ কথা বলেছেন।
بَاب فِي صَلَاةِ السُّنَّةِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ الثَّقَفِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ الْفَرِيضَةِ إِلَّا لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ أَوْ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ مَا بَرِحْتُ أُصَلِّيهِنَّ بَعْدُ وَقَالَ عَمْرٌو مِثْلَهُ وَقَالَ النُّعْمَانُ مِثْلَهُ
তাখরীজ: মুসলিম ৭২৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২৪, ৭১৩৫, ৭১৩৮, ৭১৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫১, ২৪৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৪. সুন্নাত ছালাত সম্পর্কে
১৪৭৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের আগের চার রাকা’আত ও ফজরের পূর্বের দু’ রাকা’আত সালাত কখনো ছাড়তেন না।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ السُّنَّةِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
তাখরীজ; আহমাদ ৬/৬৩, ১৪৮; তায়ালিসী ১/১১৩ নং ৫২২; তার সূত্রে বাইহাকী ৩/৪৭২; বুখারী ১১৮২; বুখারী সূত্রে বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৮৭১; আবু দাউদ ১২৫৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ১০/২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৫. মাগরিবের পূর্বে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করা
১৪৭৭. আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক দু’ আযানের (আযান ও ইকামাতের) মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, প্রত্যেক দু’ আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, প্রত্যেক দু’ আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য যে ইচ্ছা করে।”[1]
بَاب الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ لِمَنْ شَاءَ
তাখরীজ: বুখারী ৬২৪; মুসলিম ৮৩৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৫৯, ১৫৬০, ১৫৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৫. মাগরিবের পূর্বে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করা
১৪৭৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে মুয়াযিযন যখন মাগরিবের আযান দিতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ সাহাবীগনের একটি দল দ্রুত স্তম্ভের নিকট যেতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত তারা এরূপ (করতেন)। তিনি বলেন: আর তিনি (আসতে) খুব সামান্য সময়ই দেরি করতেন।[1]
بَاب الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا قَالَ كَانَ الْمُؤَذِّنُ يُؤَذِّنُ لِصَلَاةِ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُومُ لُبَابُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ حَتَّى يَخْرُجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ كَذَلِكَ قَالَ وَقَلَّ مَا كَانَ يَلْبَثُ
তাখরীজ: বুখারী ৫০৩, ৬২৫; মুসলিম ৮২৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৮৯, ২৪৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৬. ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) এর ক্বিরাআত
১৪৭৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দু’ রাতা’আতে চুপে চুপে ক্বিরাআত পড়তেন। আর তিনি (দু’টি সূরা) উল্লেখ করলেন, “কু্ল ইয়া আইয়্যূহাল কাফিরূন।” (সূরা আল কাফিরূন: ১) এবং [“কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ।”[1] সূরা আল ইখলাস:১)(বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেন, অর্থা? ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) সালাতে।
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْفِي مَا يَقْرَأُ فِيهِمَا وَذَكَرَتْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ سَعِيدٌ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মাআনিল আছার ১/২৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৬. ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) এর ক্বিরাআত
১৪৮০. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হাফসাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর উদিত (সময়) হওয়ার পরে শুধু সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। সেই সময়টিতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করতাম না।[1]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي سَجْدَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَعْدَ مَا يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَكَانَتْ سَاعَةً لَا أَدْخُلُ فِيهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী ৬১৮; মুসলিম ৭২৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৩২, ৭০৩৬, ৭০৫৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৫৪, ২৪৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৯০ তে। এছাড়া পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৬. ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) এর ক্বিরাআত
১৪৮১. হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআয্যিন যখন ভোরের আযান (শেষে) থেমে যেতো এবং সুবহে সাদিক (ভোর) শুরু হতো, তখন সালাত (-এর জামা’আত) দাঁড়ানোর আগে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংক্ষেপে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে নিতেন।[1]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ أَذَانِ الصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تُقَامَ الصَّلَاةُ
তাখরীজ: মালিক, মু’আত্তা, কিতাবুস সালাতুল লাইল ২৯; বুখারী ৬১৮; মুসলিম ৭২৩।
পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে।
আমি বলি জামা’আতের পূর্বে সুন্নাতের ব্যাপারে অনেকগুলি হাদীস বর্ণিত হয়েছে: এর মধ্যে রয়েছে, আবী হুরাইরা, আলী, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, সাফিয়্যাহ- এঁদের থেকে বর্ণিত সকল হাদীস যয়ীফ যা শারঈ হুকুমের দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয়।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৬. ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) এর ক্বিরাআত
১৪৮২. সালিমের পিতা ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর পরে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[1] হাফসা তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সুবহে সাদিক (ভোর) স্পষ্ট (আলোকিত) হয়ে উঠলে তিনি (ফজরের জামা’আতের আগে) দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।[2]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ وَأَخْبَرَتْهُ حَفْصَةُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي إِذَا أَضَاءَ الصُّبْحُ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী ৯৩৭; মুসলিম ৮৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে।
আমি বলি জামা’আতের পূর্বে সুন্নাতের ব্যাপারে অনেকগুলি হাদীস বর্ণিত হয়েছে: এর মধ্যে রয়েছে, আবী হুরাইরা, আলী, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, সাফিয়্যাহ- এঁদের থেকে বর্ণিত সকল হাদীস যয়ীফ যা শারঈ হুকুমের দলীল হওয়ার উপযুক্ত নয়।
তবে ইবনু উমার হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জুমু’আর আগে দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করতেন এবং জুমু’আর পরেও….।
ফলে এটি সাধারণ নফল সালাত, রাতেবাহ (সুন্নাত) নয়। আর এতে ‘ক্ববলাল জুমু’আহ’ (জুমু’আ’র পূর্বের) সালাতের জন্য কোনো দলীল নেই, কেননা, এটি সাধারণ (উন্মুক্ত) বর্ণনা। আল্লাহই ভাল জানেন।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হাফসার হাদীস গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের হাদীসগুলি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৭. ফজরের দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) সালাতের পরে কথা বলা
১৪৮৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বে দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) আদায় করতেন। এরপর কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমার সাথে কথা বলতেন, আর তা না হলে সালাতের জন্য বের হয়ে যেতেন।[1]
بَاب الْكَلَامِ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ كَلَّمَنِي بِهَا وَإِلَّا خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ
তাখরীজ: ইবনু আদী, আল কামিল ৩/৯৩৪; ইবনু আবী শাইবা ২/২৪৯; তার সূত্রে মুসলিম ৭৪৩ তবে তাঁর শব্দাবলি: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) আদায় করতেন, এরপর আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন, আর তা না হলে তিনি শুয়ে থাকতেন।” আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৮. ফজরের দু’রাকা’আত (সুন্নাত) সালাতের পরে শয়ন করা
১৪৮৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগারো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি এর প্রত্যেক দু’ রাকা’আতে সালাম ফেরাতেন। এক রাকা’আত বিতর পড়তেন। আর যখন মুয়াযযিন প্রথম আযান (শেষ করে) থেমে যেতেন, তখন তিনি সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তাঁর নিকট মুয়াযযিন না আসা পর্যন্ত তিনি শুয়ে থাকতেন। এরপর (মুয়াযযিন এলে) তিনি তার সাথে বের হয়ে যেতেন।[1]
بَاب فِي الِاضْطِجَاعِ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ يُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ الْأَذَانِ الْأَوَّلِ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيَخْرُجُ مَعَهُ
তাখরীজ: বুখারী ৬২৬; মুসলিম ৭৩৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৩১, ২৪৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৯. যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই
১৪৮৫. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।”[1]
بَاب إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৭১। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৯. যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই
১৪৮৬. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلَّاسُ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ وَرْقَاءَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: মুসলিম ৭১০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৭৯, ৬৩৮০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৯০, ২১৯৩, ২৪৭০। এটি সামনে ১৪৯১ নং এও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪৯. যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই
১৪৮৭. ইবনু বুহাইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতের ইকামত হয়ে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর (ফরয) সালাত শেষ করলেন, তখন লোকেরা তার (ঐ ব্যক্তির) নিকট একত্রিত হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি কি ফজর (এর সালাত) চার রাকা’আত আদায় করো?”[1]
بَاب إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَرَأَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ لَاثَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৪৫, ৩৪৬; ইবনু আবী শাইবা ২/২৫৩; বুখারী ৬৬৩; মুসলিম ৭১১; নাসাঈ ২/১১৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৭২; বাইহাকী ২/৪৮২
পরিচ্ছেদঃ ১৪৯. যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই
১৪৮৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সালাতের ইকামত দেয়া হয়, তখন ফরয সালাত ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।”আবু মুহাম্মদ বলেন, যদি সে তার বাড়িতে থাকে, তবে বাড়িতে (এমন করা) লঘুতর অপরাধ।[1]
بَاب إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا كَانَ فِي بَيْتِهِ فَالْبَيْتُ أَهْوَنُ
তাখরীজ: এর তাখরীজ ১৪৮৯ (ও ১৪৯০) নং এ গত হয়েছে। আরো দেখুন, আল ইলালুল ওয়ারিদাতু ফীল আহাদীস’ ১১/৮৩-৯৩ নং ২১৩৯ ।
পরিচ্ছেদঃ ১৫০. দিনের প্রথমভাগে (সকালে) চার রাকা’আত (চাশত/ দুহা’র) সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৪৮৯. নুয়াইম ইবনু হাম্মারী আল গাত্বফানী থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা বলেন: ’হে আদম সন্তান! তুমি দিনের প্রথমভাগে আমার জন্য চার রাকা’আত সালাত আদায় করো, তাহলে আমি তোমার দিনের শেষভাগের জন্যও একে যথেষ্ট করে দেবো।”[1]
بَاب فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ بُرْدٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ قَيْسٍ الْجُذَامِيِّ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ الْغَطَفَانِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ابْنَ آدَمَ صَلِّ لِي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ أَكْفِكَ آخِرَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৩, ২৫৩৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩৪ তে। আবু দাউদ ১২৮৯; আহমাদ ৫/২৮৭; বাইহাকী ৩/৪৭-৪৮; এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে উক্ববাহ ইবনু আমির হতে মুসনাদুল মাউসিলী ৪/২৯৪ নং ১৭৫৭; আবী যারর ও আবী দারদা’আ হতে তিরমিযী ৪৭৫ তে। আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/২৩৫-২৩৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫১. দুহা’র (চাশতের) সালাত
১৪৯০. আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) বলেন, আর কেউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেননি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দুহা’র সালাত আদায় করতে দেখেছেন; কেবল উম্মু হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন পূর্বাহ্ণে তাঁর ঘরে গিয়ে গোসল করেলেন। এরপর তিনি আট রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন, আমি আর কখনো তাঁকে এরচেয়ে অধিক সংক্ষিপ্তভাবে সালাত আদায় করতে দেখি নি। তবে তিনি রুকু’ ও সিজ্দা পুর্নাঙ্গরুপে আদায় করছিলেন।[1]
بَاب صَلَاةِ الضُّحَى
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ أَنْبَأَنِي قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى يَقُولُ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الضُّحَى غَيْرُ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّهُ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا ثُمَّ صَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ قَالَتْ وَلَمْ أَرَهُ صَلَّى صَلَاةً أَخَفَّ مِنْهَا غَيْرَ أَنَّهُ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
তাখরীজ: বুখারী ১১৬৭; মুসলিম ৩৩৬ (৮০); পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৫১. দুহা’র (চাশতের) সালাত
১৪৯১. উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তিনি গোসল করছেন আর তাঁর মেয়ে ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে একটি কাপড় দ্বারা পর্দা করে রেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁকে সালাম করলাম, আর তখন ছিল চাশতের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ “কে এটা?” আমি উত্তর দিলামঃ আমি উম্মু হানী। তিনি বলেনঃ তিনি যখন গোসল শেষ করলেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং একটি কাপড়ে আবৃত হয়ে আট রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সালাত শেষ করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার সহোদর ভাই [’আলী ইবন আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু] একটি লোককে হত্যা করতে চায়, অথচ আমি সে লোকটিকে আশ্রয় দিলাম। (সে লোকটি হলো) হুবায়রার ছেলে অমুক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাঁকে আশ্রয় দিলাম।”[1]
بَاب صَلَاةِ الضُّحَى
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ تُحَدِّثُ أَنَّهَا ذَهَبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدَتْهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ بِنْتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ قَالَتْ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَذَلِكَ ضُحًى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ هَذِهِ فَقُلْتُ أَنَا أُمُّ هَانِئٍ قَالَتْ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا أَجَرْتُهُ فُلَانَ بْنَ هُبَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ
তাখরীজ: মালিক, মুয়াত্ত্বা ৩১; বুখারী ৩৫৭; মুসলিম ৩৩৬ (৮২)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৮৭, ১১৮৮, ১১৮৯, ১১৯০ ২৫৩৭, ২৫৩৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩১।
পরিচ্ছেদঃ ১৫১. দুহা’র (চাশতের) সালাত
১৪৯২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসীয়াত (নির্দেশ প্রদান) করেছেন, যেগুলি আমি আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পরিত্যাগ করবো না: আমি যেন ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায় করি, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করি এবং দু’হার (পূর্বাহ্নের) সময় দু’ রাকা’আত সালাত (আদায় করি)।[1]
بَاب صَلَاةِ الضُّحَى
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَا أَدَعُهُنَّ حَتَّى أَمُوتَ الْوِتْرِ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ وَصَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَمِنْ الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী ১১৭৮; মুসলিম ৭২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী রনং ৬২২৬, ৬৩৬৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৬ যা সামনে ১৭৮৬ নং এ আসছে। এছাড়া, খতীব, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক্ব নং ৯৪৬; আহমাদ ২/২২৯, ২৩৩, ২৬০, ৩২৯, ৩৩১, ৭২-৪৭৩; তায়ালিসী ২/৫২ নং ২১৪০; নাসাঈ ৪/২১৮; তাবারাণী, আস সগীর ১/১৭৯; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া: (সেখানে) ‘সালাতুত দুহা’-র পরিবর্তে ‘জুম’আর দিনে গোসল করা’ র কথা রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫২. এ (সালাতুদ দুহা’) অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৯৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো দুহা’র (নফল) সালাত আদায় করেননি- না সফরে, আর না বাড়িতে।[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي الْكَرَاهِيَةِ فِيهِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبْحَةَ الضُّحَى فِي سَفَرٍ وَلَا حَضَرٍ
তাখরীজ: বুখারী ১১২৮; মুসলিম ৭১৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১২, ৩১৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৫২. এ (সালাতুদ দুহা’) অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৯৪. আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তাঁর পিতা (আবী বাকর) লোকদেরকে দু’হার সালাত আদায় করতে দেখেন। তখন তিনি বলেন, জেনে রাখো! তারা এমন এক সালাত আদায় করছে, যে সালাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো আদায় করেননি, আর তাঁর বড় বড় সাহাবীগণও আদায় করেননি।[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي الْكَرَاهِيَةِ فِيهِ
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْفُضَيْلِ بْنِ فَضَالَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ أَبَاهُ رَأَى أُنَاسًا يُصَلُّونَ صَلَاةَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا إِنَّهُمْ لَيُصَلُّونَ صَلَاةً مَا صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا عَامَّةُ أَصْحَابِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪৫; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৪৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৩. সালাতুল আওয়াবীন (অধিক তাওবাকারীগণের সালাত) প্রসঙ্গে
১৪৯৫. যাইদ ইবনু আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট বেরিয়ে এলেন, তখন সূর্য উদিত হওয়ার পরে তারা সালাত আদায় করছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “’আওয়াবীন’দের সালাত (বেশি বেশি তাওবাকারীগণের সালাত)-এর সময় হয় যখন উষ্ট্রীর বাচ্চার (পায়ের নীচের বালু সূর্যতাপে) উত্তপ্ত হয়ে উঠে।”[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الْأَوَّابِينَ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ إِذَا رَمِضَتْ الْفِصَالُ
তাখরীজ: মুসলিম ৭৪৮; ইবনু আবী শাইবা ২/৪০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৪. রাত-দিনের সালাত দু’-দু’ রাকা’আত করে
১৪৯৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দিন-রাতের সালাত দু’-দু’ রাকা’আত করে।”আর তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, ’দু’ রাকা’আত দু’ রাকা’আত করে।’[1]
بَاب صَلَاةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَغُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى وَقَالَ أَحَدُهُمَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহহি ইবনু হিব্বান নং ২৪৮২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৩৬ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৫. রাতের সালাত (তাহজ্জুদ) সম্পর্কে
১৪৯৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তখন তিনি বললেন: “দু’- দু’ রাকা’আত করে। আর যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন সে যেন এক রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়, যা তার (পূর্বে) আদায়কৃত সালাতকে বিতির (বিজোড়) করে দেবে।”[1]
بَاب فِي صَلَاةِ اللَّيْلِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ فَقَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ مَا قَدْ صَلَّى
তাখরীজ: বুখারী ৪৭২; মুসলিম ৭৪৯। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬২৩, ৫৪৩১, ৫৪৯৪, ৫৬১৮, ৫৬২০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪২৬, ২৬১৯, ২৬২০, ২৬২৩, ২৬২৪ তে। সামনে ১৬২৫ নং এ এটি আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৬. রাতের সালাত (তাহজ্জুদ) আদায় করার ফযীলত
১৪৯৮. আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন লোকেরা তাঁকে সসম্মানে অভ্যর্থনা জানাল। তখন তারা বলাবলি করতে লাগল যে, ’(আমাদের মাঝে) আল্লাহর রাসূল এসেছেন! আল্লাহর রাসূল এসেছেন!’ দেখতে আসা লোকদের সাথে আমিও তাঁকে দেখতে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা যখন আমার সামনে প্রতিভাত হল, তখন আমি চিনে ফেললাম যে, এ মুখচ্ছবি কোন মিথ্যাবাদীর মুখচ্ছবি নয়। সর্বপ্রথম আমি তাঁকে যা বলতে শুনলাম, তা হলো, তিনি বলছিলেন: “হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাবে, লোকদেরকে খাদ্য খাওয়াবে, আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা (রাতের) সালাত আদায় করবে। তাহলে তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”[1]
بَاب فَضْلِ صَلَاةِ اللَّيْلِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ عَوْفٍ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامَ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ اسْتَشْرَفَهُ النَّاسُ فَقَالُوا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ فَخَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ فَلَمَّا رَأَيْتُ وَجْهَهُ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ فَكَانَ أَوَّلُ مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلَامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الْأَرْحَامَ وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৬২৪ নং ৫৭৯১; আহমাদ ৫/৪৫১; তিরমিযী ২৪৮৭; ইবনু মাজাহ ১৩৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯২৬;হাকিম ৩/১৩ ও ৪/১৬০। হাকিম ১ম বর্ণনাটির পর বলেন: হাদীসটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার এমত সমর্থন করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৭. যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সাজদা করে, তার ফযীলত
১৪৯৯. আহনাফ ইবনু কায়িস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে এক ব্যক্তি বেশি বেশি রুকূ’-সাজদা করছে (নফল সালাত আদায় করছে)।
আমি (মনে মনে) বললাম, আমি এখান থেকে বের হচ্ছি না, যতক্ষণ না জানতে পারছি যে, সে (এ লোকটি) জানতে পারছেন কি যে, তিনি জোড় রাক’আত না বেজোড় রাক’আত পড়ে সালাত শেষ করছেন। যখন লোকটি নামায শেষ করলেন তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি জানেন কি, আপনি জোড় রাকা’আত না বেজোড় রাকা’আত পড়ে সালাত শেষ করছেন? তিনি উত্তরে বললেন, যদি আমি নাও জানি, তবে আল্লাহ্ তো তা নিশ্চয়ই জানেন। তারপর বললেন, আমি আমার প্রিয়তম আবুল কাসিম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে বান্দা আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে সাজদাই করবে, আল্লাহ এর জন্য তার একটা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, আর এর জন্য তার একটা পাপ মাফ করে দিবেন।” আমি (রাবী) বললাম, আল্লাহ্ আপনার প্রতি দয়া করুন, (আমাকে বলুন,) আপনি কে? তিনি উত্তরে বললেন, আমি আবূ যারর।’ একথা শুনে আমি (লজ্জায়) মনে মনে খুব ছোট হয়ে গেলাম।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ سَجَدَ لِلَّهِ سَجْدَةً
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ دَخَلْتُ مَسْجِدَ دِمَشْقَ فَإِذَا رَجُلٌ يُكْثِرُ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ قُلْتُ لَا أَخْرُجُ حَتَّى أَنْظُرَ أَعَلَى شَفْعٍ يَدْرِي هَذَا يَنْصَرِفُ أَمْ عَلَى وِتْرٍ فَلَمَّا فَرَغَ قُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَعَلَى شَفْعٍ تَدْرِي انْصَرَفْتَ أَمْ عَلَى وِتْرٍ فَقَالَ إِنْ لَا أَدْرِي فَإِنَّ اللَّهَ يَدْرِي ثُمَّ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً قُلْتُ مَنْ أَنْتَ رَحِمَكَ اللَّهُ قَالَ أَنَا أَبُو ذَرٍّ قَالَ فَتَقَاصَرَتْ إِلَيَّ نَفْسِي
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৩৫৬১; তার সূত্রে আহমাদ ৫/১৬২; বাইহাকী ২/৪৮৯ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৮. শোকরের সাজদা সম্পর্কে
১৫০০. শা’ছাআ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আবূ আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখলাম। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (মক্কা) বিজয়ের কিংবা আবূ জাহলের শিরশ্ছেদের সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি দিবসের প্রথমভাগে (শোকরানা স্বরূপ) দু’ রাক’আত সালাত আদায় করেন।[1]
بَاب فِي سَجْدَةِ الشُّكْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَتْنَا شَعْثَاءُ قَالَتْ رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَقَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ حِينَ بُشِّرَ بِالْفَتْحِ أَوْ بِرَأْسِ أَبِي جَهْلٍ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১৩৯১; তাহযীবুল কামাল, মিযযী ৩৫/২০৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৯. (আল্লাহ ব্যতীত) কারো উদ্দেশ্যে সাজদা করা নিষেধ
১৫০১. কাইস ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন (পারস্যের) হীরা নামক শহরে গমণ করলাম, সেখানে দেখলাম, তারা তাদের নেতা/ রাজাকে সিজদা করছে। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি আপনাকে সাজদা করবো না?তিনি বললেন: “আমি যদি কোনো ব্যক্তিকে (অন্য কারো উদ্দেশ্যে) সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে অবশ্যই আমি নারীদেরকে তাদের স্বামীদের উদ্দেশ্যে সাজদা করার নির্দেশ দিতাম। কারণ, আল্লাহ তাদের (স্ত্রীলোকদের) উপর তাদের (স্বামীদের) (অনেক বেশি) হাক্ব (অধিকার) নির্ধারণ করেছেন।”[1]
بَاب النَّهْيِ أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ الْأَزْرَقُ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانَ لَهُمْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَسْجُدُ لَكَ فَقَالَ لَوْ أَمَرْتُ أَحَدًا لَأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لِأَزْوَاجِهِنَّ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْهِنَّ مِنْ حَقِّهِمْ
তাখরীজ: আবু দাউদ (নিকাহ) ২১৪০; হাকিম ১/১৮৭, হাকিম একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন;বাইহাকী কসম ও নুশুয ৭/২৯১।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী আওফা রা: হতে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭১, মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৯০ তে, যার সনদ হাসান।
অপর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে আবী হুরাইরা রা: হতে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৬২, মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৯১ তে, যার সনদও হাসান।
আমি বলি: এসকল সনদগুলির দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, হাদীসটি সহীহ। আল্লাহই ভাল জানেন। আরও দেখুন, কাশফুল আসতার নং ২১১৪ ও পরের হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১৫৯. (আল্লাহ ব্যতীত) কারো উদ্দেশ্যে সাজদা করা নিষেধ
১৫০২. ইবনু বুরাইদার পিতা (বুরাইদাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে আপনার উদ্দেশ্যে সাজদা করার অনুমতি দিন। তিনি বললেন: “আমি যদি কোনো ব্যক্তিকে (আল্লাহ ব্যতীত) অন্য কারো উদ্দেশ্যে সিজদা করার নির্দেশ দিতামই হতো, তবে অবশ্যই আমি স্ত্রীলোককে তার স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজদা করতে নির্দেশ দিতাম।”[1]
بَاب النَّهْيِ أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ صَالِحِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فَلِأَسْجُدَ لَكَ قَالَ لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ تَسْجُدُ لِزَوْجِهَا
তাখরীজ: হাকিম ৪/১৭২; (শাহিদ হাদীসগুলি জন্য) আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬০. সুরা ‘আন নাজম’ এ সাজদা করা
১৫০৩. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সুরা) [’আন নাজম’] পাঠ করলেন এবং এর মধ্যে সাজদা করলেন, তখন কেউই সাজদা না করে রইলো না; কেবল এক বৃদ্ধ ব্যতীত। সে একমুষ্টি মাটি নিয়ে তার কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বললো, ’আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।’[1]
بَاب السُّجُودِ فِي النَّجْمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ النَّجْمَ فَسَجَدَ فِيهَا وَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ إِلَّا سَجَدَ إِلَّا شَيْخٌ أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ وَقَالَ يَكْفِينِي هَذَا
তাখরীজ: বুখারী (সুজুদুল কুরআন) ১০৬৭; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২১৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬১. সূরা ‘ছোয়াদ’ (ص) এর সাজদা
১৫০৪. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ’একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন, তখন তিনি (সুরা) [’ছোয়াদ’ (ص)] পাঠ করলেন, অতঃপর যখন তিনি সিজদা (এর আয়াত) অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (মিম্বার থেকে) অবতরণ করে সাজদায় পতিত হলেন, আমরাও তাঁর সাথে সাজদা করলাম। আবার আরেকবার তিনি এ সূরা পাঠ করার সময় যখন সাজদা (এর আয়াতে) পৌঁছলেন, তখন আমরা সাজদা করার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। এরপর তিনি যখন আমাদেরকে (প্রস্তুতি নিতে) দেখলেন, তখন তিনি বললেন: “নিশ্চয় এটি নবীর জন্য তওবা স্বরূপ, কিন্তু, তোমারাও দেখছি সিজদার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছো।” (এ বলে) তিনি (মিম্বার হতে) অবতরণ করলেন এবং সিজদা করলেন, আর আমরাও সাজদা করলাম।’[1]
بَاب السُّجُودِ فِي ص
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ عَنْ سَعِيدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَرَأَ ص فَلَمَّا مَرَّ بِالسَّجْدَةِ نَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدْنَا مَعَهُ وَقَرَأَهَا مَرَّةً أُخْرَى فَلَمَّا بَلَغَ السَّجْدَةَ تَيَسَّرْنَا لِلسُّجُودِ فَلَمَّا رَآنَا قَالَ إِنَّمَا هِيَ تَوْبَةُ نَبِيٍّ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَدْ اسْتَعْدَدْتُمْ لِلسُّجُودِ فَنَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدْنَا
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬৫, ২৭৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৮৯, ৬৯০ তে। (আবু দাউদ ১৪১০; সহীহ ইবনু খুযাইমা২/৩৫৪ নং ১৪৫৫; দারুকুতনী ১/৪০৮ নং ৭; হাকিম ১/২৮৪-২৮৫, হাকিম একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।; বাইহাকী (সালাত) ২/৩১৮; ইমাম নববী তার আল মাজমু’ ৪/৬১ তে একে ‘বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ’ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬১. সূরা ‘ছোয়াদ’ (ص) এর সাজদা
১৫০৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি (সুরা) [’ছোয়াদ’ (ص)] এর সাজদা’ সম্পর্কে বলেন যে, এটি অপরিহার্য সাজদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাতে সাজদা করতে দেখেছি।[1]
بَاب السُّجُودِ فِي ص
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ هُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ فِي السُّجُودِ فِي ص لَيْسَتْ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِيهَا
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩৬০; বুখারী (আহাদীসুল আম্বিয়া) ৩৪২২; আবু দাউদ (সালাত) ১৪০৯; তিরমিযী (সালাত) ৫৭৭; এর তাখরীজের জন্য দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৬২. সুরা [ইযাস্ সামাউন শাকক্বাত্-(ইনশিক্বাক্ব:১)]-এ সাজদা করা প্রসঙ্গে
১৫০৬. আবী সালামাহ বলেন, আমি আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সুরা [’ইযাস সামাউন শাক্ক্বাত’-(ইনশিক্বাক্ব :১)]-এ সাজদা করতে দেখলাম। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি এমন একটি সুরায় সাজদা করলেন, যাতে কখনো সাজদা করা হয় না! তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাতে সাজদা করতে দেখেছি।[1]
بَاب السُّجُودِ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَسْجُدُ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ فَقِيلَ لَهُ تَسْجُدُ فِي سُورَةٍ مَا يُسْجَدُ فِيهَا فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْجُدُ فِيهَا
তাখরীজ: আবু ইয়ালা আল মাউসিলী, আল মুসনাদ ৫৯৫০। এছাড়া এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। বুখারী, (আযান) ৭৬৬; মুসলিম, (মাসাজিদ) ৫৭৮। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে যা গত হয়েছে ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬২. সুরা [ইযাস্ সামাউন শাকক্বাত্-(ইনশিক্বাক্ব:১)]-এ সাজদা করা প্রসঙ্গে
১৫০৭. আবী সালামাহ বলেন, আমি আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সুরা [’ইযাস সামাউন শাক্ক্বাত’-(ইনশিক্বাক্ব :১)]-এ সাজদা করতে দেখলাম। তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবী হুরাইরা! আমি কি আপনাকে সুরা [’ইযাস সামাউন শাক্ক্বাত’-(ইনশিক্বক্ব :১)]-এ সাজদা করতে দেখলাম না? তখন উত্তরে তিনি বললেন: ’যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ (সূরা)-তে সাজদা করতে না দেখতাম, তবে আমিও তাতে সাজদা করতাম না।’[1]
بَاب السُّجُودِ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَسْجُدُ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرَاكَ تَسْجُدُ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ فَقَالَ لَوْ لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِيهَا لَمْ أَسْجُدْ
তাখরীজ: আবু ইয়ালা আল মাউসিলী, আল মুসনাদ ৫৯৯৬, সহীহ সনদে। তবে এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। পূর্বের ও পরের হাদীস দু’টিতে আমাদের টীকা দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬২. সুরা [ইযাস্ সামাউন শাকক্বাত্-(ইনশিক্বাক্ব:১)]-এ সাজদা করা প্রসঙ্গে
১৫০৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরা [’ইযাস সামাউন শাক্ক্বাত’-(ইনশিক্বক্ব :১)]-এ সাজদা করেছেন।[1]
بَاب السُّجُودِ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৬; তবে এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০২২ তে। আরও দেখুন, আগের ও পরের হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৩. [ইকরা বিসমি রব্বিকা - সূরা: আলাক্ব:১] -এ সাজদা করা প্রসঙ্গে
১৫০৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সুরা [’ইযাস সামাউন শাক্ক্বাত’-(ইনশিক্বাক্ব :১)] ও সূরা [“ইকরা বিসমি রব্বিকা”- সূরা আলাক্ব:১]-এ সাজদা করেছি।[1]
بَاب السُّجُودِ فِي اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৬ সহীহ সনদে; তবে এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৯০ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০২১ তে। আরও দেখুন, আগের ও পরের হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৪. যে ব্যক্তি সাজদা (এর আয়াত) শুনে, কিন্তু সিজদা করে না, তাঁর সম্পর্কে
১৫১০. যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সূরা ’আন নাজম’ পাঠ করলাম, কিন্তু তিনি তাতে সাজদা করেননি।[1]
بَاب فِي الَّذِي يَسْمَعُ السَّجْدَةَ وَلَا يَسْجُدُ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ قَرَأْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا
তাখরীজ: বুখারী, (সুজুদুল কুরআন) ১০৭২, ১০৭৩; মুসলিম, (আল মাসাজিদ) ৫৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৬২, ২৭৬৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৫১১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাম ঈশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগারো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি এর প্রত্যেক দু’ রাকা’আতে সালাম ফেরাতেন। আর এক রাকা’আত বিতর পড়তেন। এছাড়াও, তিনি তাঁর নফল সালাতে এতো (দীর্ঘ) সময় সিজদায় থাকতেন যে, (সিজদা হতে) তাঁর মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমান পাঠ করতে পারতো। আর যখন মুয়াযযিন প্রথম আযান (শেষ করে) থেমে যেতেন, তখন তিনি সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তাঁর নিকট মুয়াযযিন না আসা পর্যন্ত তিনি শুয়ে থাকতেন। এরপর (মুয়াযযিন এলে) তিনি তার সাথে বের হয়ে যেতেন।[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ وَيَسْجُدُ فِي سُبْحَتِهِ بِقَدْرِ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ الْأَذَانِ الْأَوَّلِ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيَخْرُجَ مَعَهُ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১৪৮৭ (অনূবাদে ১৪৮৪) নং এ। আবার সামনে ১৬২৬ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৫১২. আবী সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লামের রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মোট) তেরো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন: (প্রথমে) আট রাকা’আত সালাত আদায় করতেন, এরপর (তিন রাকা’আত) বিতর সালাত আদায় করতেন, এরপর দু’ রাকা’আত সালাত বসে আদায় করতে থাকতেন। এরপর যখন রুকূ’ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং রুকূ’ করতেন। আর সকালের (ফজর) সালাতের আযান ও ইকামতের মাঝে দু’ রাকা’আত (ফজরের সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন।[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَا حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاللَّيْلِ فَقَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي ثَمَانَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ يُوتِرُ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالْإِقَامَةِ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ
তাখরীজ: নাসাঈ, (ক্বিয়ামুল লাইল ওয়া তাত্বওয়াউন নাহার) ৩/২৫৬; বুখারী, (আযান) ৬১৯; মুসলিম, (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৩৭। আগের ও পরের হাদীস দু’টিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাতের বৈশিষ্ট্য
১৫১৩. যুরারা (রাহি.) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, সাদ ইবন হিশাম ইবন আমির (রাহি.) (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার ইচ্ছা করে) তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং মদীনায় এসে তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করে তা যূদ্ধাস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহে ব্যয় করতে মনস্থ করলেন। তারপর আনসারদের একটি দলের সাথে তার সাক্ষাৎ হলে তাঁরা তাঁকে বললেন, ’আমাদের মধ্যকার ছয় জন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় এরুপ করার ইচ্ছা করেছিলো । তখন তিনি তাদের নিষেধ করেন এবং বলেন, “আমার মধ্যে কি তোমাদের জন্য কোন আদর্শ নেই?” এরপর তিনি বছরায় চলে গেলেন এবং তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সেখানে) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি (ইবন আব্বাস) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিতর সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ব্যক্তি সম্পর্কে কি তোমাকে বলে দিব না?
আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি (ইবন আব্বাস) বললেন, তিনি হলেন উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)। তাঁর কাছে গিয়ে তুমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে, এরপর তোমাকে তিনি যা বলেন, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে। আমি তখন হাকীম ইবনু আফলাহ (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম: তুমি আমার সঙ্গে উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে চলো। তিনি বললেন, আমি তো তাঁর নিকট যাই না। কেননা (বিবাদমান) এ দু’টি দল থেকে আমি তাকে বারণ করেছিলাম, কিন্তু তিনি তা হতে নিবৃত্ত থাকতে অস্বীকার করেন। আমি বললাম, আমি তোমাকে (সেখানে) যাওয়ার জন্য কসম দিলাম। তখন (তিনি যেতে রাজী হলেন এবং) আমরা (আয়েশা রাঃ-এর উদ্দেশ্যে) চললাম এবং (তাঁর কাছে গিয়ে) তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি হাকিম এর কণ্ঠস্বর চিনতে পারলেন এবং বললেন, এটি কে? উত্তরে আমি বললাম, সা’দ ইবনু হিশাম।
তিনি (আয়িশা রা:) বললেন, কোন হিশাম ? আমি বললাম, হিশাম ইবনু আমির।
তিনি (আয়িশা রাঃ) বললেন, (হিশাম ইবনু আমির) অতি উত্তম লোক। তিনি উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।
আমি (সা’দ) বললাম, আপনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আখলাক (স্বভাব-চরিত্র) সস্পর্কে অবহিত করুন!
তিনি বললেন, তুমি কি কুরআন পাঠ কর না ? আমি বললাম, হাঁ, অবশ্যই।
তিনি বললেন, সেটা (কুর’আন)-ই তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আখলাক।
(সা’দ বলেন,) তখন আমার ইচ্ছে হলো যে, আমি উঠে যাই এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ না করা (মৃত্যু) পর্যন্ত কাউকে কোন বিষয় জিজ্ঞাসা না করি। তখনই আমার (মনের) কাছে ’ক্বিয়াম’-এর কথা আবির্ভূত হলো (মনে পড়লো), তাই আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ’ক্বিয়াম’ (রাতের সালাত) সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন!
তিনি বললেন, তুমি কি সূরা “ইয়া আয়্যুহাল মুযৃযামিল” পড়ো না? আমি বললাম, হাঁ।
তিনি বললেন, সেটাই ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ’ক্বিয়াম’। এ সূরার প্রথমাংশ নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (তাহাজ্জুদের জন্য) রাত্রি জাগরণ করলেন, এমনকি তাঁদের পদ্বসমূহ ফুলে যেতে লাগলো। আর এ সূরার শেষ অংশ ষোল মাস পর্যন্ত আসমানে আটকে রাখা হলো। অতঃপর তা (এ সূরার শেষ অংশ) নাযিল হলো। ফলে রাত্রি জাগরণ ফরয হওয়ার পরে আবার নফলে পরিণত হলো । (সা’দ বলেন,) তখন আমার ইচ্ছে হলো যে, আমি উঠে যাই এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা (মৃত্যু) পর্যন্ত কাউকে কোন বিষয় জিজ্ঞাসা না করি। তখনই আমার (মনের) ভেতরে ’বিতর’-এর কথা আবির্ভাব হলো, তাই আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ’বিতর’ সালাত সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন! তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুমাতেন, তখন তাঁর মিসওয়াক আমার নিকট রেখে দিতেন। এরপর আল্লাহ যখন ইচ্ছা করতেন, তখন তাঁকে জাগিয়ে দিতেন । এরপর তিনি নয় রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। তিনি অষ্টম রাকা’আতে ব্যতীত এর মাঝে আর বসতেন না। তখন তিনি আল্লাহর ’হামদ’ (প্রশংসা) করতেন, এবং তাঁর রবের কাছে দু’আ করতেন। তারপর সালাম না করেই উঠে পড়তেন এবং নবম রাকা’আত আদায় করে বসতেন এবং আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) করতেন এবং তাঁর রবের কাছে দুআ করতেন। আর একবার সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। এরপর বসে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। ফলে, হে বৎস, এ হলো মোট এগার রাকা’আত।
পরে যখন তিনি বয়ো:বৃদ্ধ হলেন এবং স্থুলদেহী হয়ে গেলেন, তখন সাত রাকাআত সালাত আদায় করতেন, যার ষষ্ঠ রাকা’আতে ব্যতীত তিনি (আর কোনও রাকা’আতে) বসতেন না। তখন তিনি আল্লাহর ’হামদ’ (প্রশংসা) করতেন, এবং তাঁর রবের কাছে দু’আ করতেন। তারপর সালাম না করেই উঠে পড়তেন এবং সপ্তম রাকা’আত আদায় করে বসতেন এবং আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) করতেন এবং তাঁর রবের কাছে দুআ করতেন। আর একবার মাত্র সালাম ফিরাতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। এরপর বসে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। ফলে, হে বৎস, এ হলো মোট নয় রাকা’আত।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিদ্রা প্রবল হতো, অথবা, তাঁর অসুস্থতা প্রবল হতো, তিনি দিনের বেলা বার রাক’আতসালাত আদায় করে নিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো নীতি বা আচরণ অবলম্বন করতেন তখন তাতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা পসন্দ করতেন। আর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোর পর্যন্ত সারা রাত সালাতে দাঁড়ান নি (আদায় করেননি) এবং এক রাতে পূর্ণ কুরআন পাঠ করেননি এবং এবং রমযান ব্যতীত অন্য কোন মাসে পুরো মাস সাওম পালন করেননি।
(সাদ র) বলেন,) এরপর আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং (আয়িশা রাঃ বর্ণিত হাদীস) তাঁর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তিনি তোমাকে যথার্থই বলেছেন। জেনে রাখো, আমি যদি তাঁর নিকট যেতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই আমি (তাঁর কাছে গিয়ে) সরাসরি তাঁর মুখে এ হাদীস শুনে আসতাম। তিনি (সা’দ রাহি.) বলেন, আমি বললাম, জেনে রাখুন, আমি যদি বুঝতে পারতাম যে, আপনি তাঁর কাছে যান না, তবে তাঁর হাদীস আমি আপনার নিকট বর্ণনা করতাম না।[1]
بَاب صِفَةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَأَتَى الْمَدِينَةَ لِبَيْعِ عَقَارِهِ فَيَجْعَلَهُ فِي السِّلَاحِ وَالْكُرَاعِ فَلَقِيَ رَهْطًا مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالُوا أَرَادَ ذَلِكَ سِتَّةٌ مِنَّا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنَعَهُمْ وَقَالَ أَمَا لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ ثُمَّ إِنَّهُ قَدِمَ الْبَصْرَةَ فَحَدَّثَنَا أَنَّهُ لَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلَهُ عَنْ الْوِتْرِ فَقَالَ أَلَا أُحَدِّثُكَ بِأَعْلَمِ النَّاسِ بِوِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ بَلَى قَالَ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةُ فَأْتِهَا فَاسْأَلْهَا ثُمَّ ارْجِعْ إِلَيَّ فَحَدِّثْنِي بِمَا تُحَدِّثُكَ فَأَتَيْتُ حَكِيمَ بْنَ أَفْلَحَ فَقُلْتُ لَهُ انْطَلِقْ مَعِي إِلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ قَالَ إِنِّي لَا آتِيهَا إِنِّي نَهَيْتُ عَنْ هَذِهِ الشِّيعَتَيْنِ فَأَبَتْ إِلَّا مُضِيًّا قُلْتُ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ لَمَا انْطَلَقْتَ فَانْطَلَقْنَا فَسَلَّمْنَا فَعَرَفَتْ صَوْتَ حَكِيمٍ فَقَالَتْ مَنْ هَذَا قُلْتُ سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ قَالَتْ مَنْ هِشَامٌ قُلْتُ هِشَامُ بْنُ عَامِرٍ قَالَتْ نِعْمَ الْمَرْءُ قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ قُلْتُ أَخْبِرِينَا عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ قُلْتُ بَلَى قَالَتْ فَإِنَّهُ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُومَ وَلَا أَسْأَلَ أَحَدًا عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أَلْحَقَ بِاللَّهِ فَعَرَضَ لِي الْقِيَامُ فَقُلْتُ أَخْبِرِينَا عَنْ قِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَلَسْتَ تَقْرَأُ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُلْتُ بَلَى قَالَتْ فَإِنَّهَا كَانَتْ قِيَامَ رَسُولِ اللَّهِ أُنْزِلَ أَوَّلُ السُّورَةِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ وَحُبِسَ آخِرُهَا فِي السَّمَاءِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ أُنْزِلَ فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ أَنْ كَانَ فَرِيضَةً فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُومَ وَلَا أَسْأَلَ أَحَدًا عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أَلْحَقَ بِاللَّهِ فَعَرَضَ لِي الْوِتْرُ فَقُلْتُ أَخْبِرِينَا عَنْ وِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَامَ وَضَعَ سِوَاكَهُ عِنْدِي فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ لِمَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ فَيُصَلِّي تِسْعَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ إِلَّا فِي الثَّامِنَةِ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيَدْعُو رَبَّهُ ثُمَّ يَقُومُ وَلَا يُسَلِّمُ ثُمَّ يَجْلِسُ فِي التَّاسِعَةِ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيَدْعُو رَبَّهُ وَيُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً يُسْمِعُنَا ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَيَّ فَلَمَّا أَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَمَلَ اللَّحْمَ صَلَّى سَبْعَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ إِلَّا فِي السَّادِسَةِ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيَدْعُو رَبَّهُ ثُمَّ يَقُومُ وَلَا يُسَلِّمُ ثُمَّ يَجْلِسُ فِي السَّابِعَةِ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيَدْعُو رَبَّهُ ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَتِلْكَ تِسْعٌ يَا بُنَيَّ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا غَلَبَهُ نَوْمٌ أَوْ مَرَضٌ صَلَّى مِنْ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ خُلُقًا أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهِ وَمَا قَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً حَتَّى يُصْبِحَ وَلَا قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ وَلَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ صَدَقَتْكَ أَمَا إِنِّي لَوْ كُنْتُ أَدْخُلُ عَلَيْهَا لَشَافَهْتُهَا مُشَافَهَةً قَالَ فَقُلْتُ أَمَا إِنِّي لَوْ شَعَرْتُ أَنَّكَ لَا تَدْخُلُ عَلَيْهَا مَا حَدَّثْتُكَ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৪৭১৪; তার সুত্রে মুসলিম, (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৪৬; নাসাঈ, (কিয়ামুল লাইল ৩/২৪১-২৪২; আবু আওয়ানাহ ২/৩২১-৩২২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং২৪২০, ২৪২৩, ২৪৩১, ২৪৬৭, ২৫৫১ তে। এ বাবের অন্যান্য টীকাসমূহও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৬. 'রাতের সালাত' কোন্ সময়ে সর্বোত্তম
১৫১৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ফরয সালাতের পরে সর্বোত্তম সালাত হলো মধ্যরাতের সালাত।”[1]
بَاب أَيُّ صَلَاةِ اللَّيْلِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَوْفٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, (সিয়াম) ১১৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৯২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৬৩, ৩৬৩৬ তে। এছাড়া এটি হাকিমও ১/৩০৭ এ বর্ণনা বর্ণনা করেছেন, তবে সেটি (বুখারী ও মুসলিমের) বাদ পড়া হাদীস নয় বরং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, যা পূর্বে দেখলাম।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৭. কোনো ব্যক্তি তার নিয়মিত ওয়াযীফা আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লে
১৫১৫. উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি (রাতে) তার নিয়মিত ওয়াযীফা বা তার অংশ বিশেষ আদায় করতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়ল এবং পরে ফজর সালাত ও যুহর সালাতের মধ্যবর্তী সময় তা পড়ে নিল, তবে তার জন্য তেমনই লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে।”[1]
بَاب إِذَا نَامَ عَنْ حِزْبِهِ مِنْ اللَّيْلِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ أَوْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الظُّهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنْ اللَّيْلِ
তাখরীজ: মুসলিম, (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৪৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৪৩ তে। এছাড়াও, আহমাদ ১/৩২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১৮৫; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১১৭১; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৮/৩২৬ সকলেই সহীহ সনদে; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১২; তাবারাণী, আস সগীর ২/৭১।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫১৬. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক রাতেই শেষ অর্ধেকের সময় কিংবা শেষ এক-তৃতীয়াংশের সময় আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন : “কে আছে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে আমার কাছে যাচ্ঞা করবে, আমি তাকে তা দেব। কে আছে আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।” ফজর (সুবহে সাদিক) উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ইমাম ফজরের সালাতের কিরা’আত সমাপ্ত না করা পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে “[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْزِلُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ لِنِصْفِ اللَّيْلِ الْآخِرِ أَوْ لِثُلُثِ اللَّيْلِ الْآخِرِ فَيَقُولُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ أَوْ يَنْصَرِفَ الْقَارِئُ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ
তাখরীজ: বুখারী, (তাহাজ্জুদ)১১৪৫; মুসলিম (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৫৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৮০, ৫৯৩৬, ৫৯৩৭, ৬১৫৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১৯, ৯২০ তে।...
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫১৭. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালীন প্রত্যেক রাতেই বরকতময় নামের অধিকারী আমাদের রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন : “কে আছে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছে আমার কাছে যাচ্ঞা করবে? আমি তাকে তা দেব।” ফজর (সুবহে সাদিক) পর্যন্ত (এভাবেই চলতে থাকে)।”[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْأَغَرُّ صَاحِبَا أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ اسْمُهُ كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ حَتَّى الْفَجْرِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি। ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ ১/৩০১ নং ১৯২ (১৫) তে বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫১৮. নাফি’ ইবনু জুবাইর ইবনু মুত’ঈমের পিতা (জুবাইর ইবনু মুত’ঈম) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন : “কোন যাচ্ঞাকারী আছে কি, আমি তাকে তা দেব? কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?”[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَنْزِلُ اللَّهُ تَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েীছ মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৪০৮, ৭৪০৯ তে, চাইলে সেখানে দেখুন। এছাড়াও, আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ২৭৭; ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ ১/ ৩১৫ নং ১৯৭ (৩৯); ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ নং ৫০৭; বাইহাক্বী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ৪৫১।
...
এ ধরণের হাদীস সম্পর্কে আওযাঈ, মালিক, সুফিয়ান সাওরী, লাইছ ইবনু সা’দ রাহি. বলতেন: “যেভাবে বর্ণিত আছে সেভাবেই তারা তা বর্ণনা করতেন, কোনো ধরণ বা প্রকৃতি বর্ণনা ব্যতীতই।”
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫১৯. রিফা’আহ ইবনু ’উরাবাহ আল জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাতের অর্ধেক কিংবা এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, এরপর বলতে থাকেন : “আমার বান্দা আমি ব্যতীত আর কারো কাছে চাইবে না। কে আছে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছে আমার কাছে যাচ্ঞা করবে? আমি তাকে তা দান করব।” ফজর (সুবহে সাদিক) উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত (এভাবেই চলতে থাকে)।”[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ عَرَابَةَ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَضَى مِنْ اللَّيْلِ نِصْفُهُ أَوْ ثُلُثَاهُ هَبَطَ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَقُولُ لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي غَيْرِي مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৬; ইবনু মাজাহ(ইক্বামাতুস সালাত) ১৩৬৭; আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ২৭৫, ২৭৬; ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ ১/৩১২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫২০. আতা ইবনু ইয়াসার হতে রিফা’আহ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رِفَاعَةَ أَخْبَرَهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৬; আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ২৭৫, ২৭৬; ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ ১/৩১২।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫২১. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধাংশ (অতিক্রান্ত) হয়, .... ।” এরপর তিনি ’নুযূল’ (মহান আল্লাহর অবতরণের হাদীস) বর্ণনা করেন।[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُخْتَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفُ اللَّيْلِ فَذَكَرَ النُّزُولَ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। তবে এটি যেহেতু সামনে ১৫২৩ আসছে, তাই তাখরীজের জন্য সেখানে দেখা যেতে পারে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫২২. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যদি আমার উম্মতের উপর কষ্টকর না হতো, তবে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রতি সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম এবং সর্বশেষ ঈশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে দিতাম। কেননা, যখন রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। আর ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়া পর্যন্ত সেথায় অবস্থান করতে থাকেন।(এ সময়) একজন আহবানকারী বলতে থাকেন : “ কোনো যাচ্ঞাকারী কি নাই, (যে যাচ্ঞা করবে), ফলে তাকে (তার প্রার্থিত জিনিস) প্রদান করা হবে? কোনো রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কি নাই, যে তার রোগমুক্তি কামনা করবে, আর তাকে রোগমুক্তি দান করা হবে? কোনো ক্ষমাপ্রার্থী কি নাই, যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ফলে তাকে ক্ষমা করা হবে?”[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ عَطَاءٍ مَوْلَى أُمِّ صُبَيَّةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَلَأَخَّرْتُ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ هَبَطَ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَلَمْ يَزَلْ هُنَالِكَ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ يَقُولُ قَائِلٌ أَلَا سَائِلٌ يُعْطَى أَلَا دَاعٍ يُجَابُ أَلَا سَقِيمٌ يَسْتَشْفِي فَيُشْفَى أَلَا مُذْنِبٌ يَسْتَغْفِرُ فَيُغْفَرَ لَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭৬ ও পরবর্তী হাদীসটির সনদও একই। পূর্বের ১৫১৯, ১৫১৬ নং হাদীসও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮. আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন
১৫২৩. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি’র পিতা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস আবী রাফি’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَسَارٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭৬ তে, এর পূর্বর্তী হাদীসটি সহ, যার সনদ একই।
পরিচ্ছেদঃ ১৬৯. তাহজ্জুদের সময়কালীন দু’আ
১৫২৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু’আয় বলতেন- “ইয়া আল্লাহ! আপনারই জন্যই সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন এবং এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর নূর। আর আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ, যমীন এবং এসবের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর (’ক্বইয়্যুম’) তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর মালিক। আপনিই চির সত্য। আপনার বাণী সত্য; আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাৎ সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; পুনুরুত্থান সত্য; নবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করালাম, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করলাম; আপনার (সস্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য-গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, আর আপনার শক্তি ও ক্ষমতা ব্যতীত আর কারো কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।”[1]
بَاب الدُّعَاءِ عِنْدَ التَّهَجُّدِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ يَتَهَجَّدُ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالْبَعْثُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ
তাখরীজ: বুখারী (তাহাজ্জুদ) ১১২০; মুসলিম (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৬৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৯৭, ২৫৯৮, ২৫৯৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৩ তে। সেখানে আমাদের টীকা দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭০. যে ব্যক্তি সূরাতুল বাক্বারা’র শেষ দু’ আয়াত পাঠ করে
১৫২৫. আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে সূরাতুল বাক্বারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করবে, সেই দু’টি-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে।”[1]
بَاب مَنْ قَرَأَ الْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْآيَتَيْنِ الْآخِرَتَيْنِ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
তাখরীজ: বুখারী, (ফাযাইলূল কুরআন) ৫০০৮, ৫০০৯; মুসলিম, (আস সালাতুল মুসাফিরীন) ৮০৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি
ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮১, ২৫৭৫, ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭১. কুর’আনকে সুন্দর সূরে তিলাওয়াত করা
১৫২৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো নবীর উচ্চস্বরে সূর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ যেভাবে কান পেতে শ্রবণ করেন, আর কোন কিছুই তিনি এমনভাবে কান পেতে শ্রবন করেন না।”[1]
بَاب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ كَإِذْنِهِ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী (ফাযাইলূল কুরআন) ৫০২৪; মুসলিম (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৫১, ৭৫২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৯ তে। এটি সামনে ১৫৩২ নং এও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭১. কুর’আনকে সুন্দর সূরে তিলাওয়াত করা
১৫২৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মুসা কে কুরআন পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: তাকে দাঊদ (আঃ) পরিবারের বাশরী সমুহের মধ্য থেকে এটি (অর্থাৎ সুমধুর সূর) দান করা হয়েছে।”[1]
بَاب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ أُرَاهُ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا مُوسَى وَهُوَ يَقْرَأُ فَقَالَ لَقَدْ أُوتِيَ هَذَا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ
তাখরীজ: ((নাসাঈ ২/১৮০; আর আবূ মূসা হতে বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন ৫০৪৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৩; তিরমিযী ৩৮৫৫; আহমাদ ৫/৩৪৯ ও ২/৩৬৯-৪৫০। -সুনানে দারেমী’র ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত, নং ১৪৮৯। -অনুবাদক।))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৯৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৮৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭১. কুর’আনকে সুন্দর সূরে তিলাওয়াত করা
১৫২৮. সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুন্দর সূরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভূক্ত নয়।”[1]
بَاب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ
তাখরীজ: ((আবু দাউদ, সালাত ১৪৭০; আহমাদ ১/১৭২-১৭৫-১৭৯; বাযযার ও তাবারাণী, যেমন মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/১৭০ এ বলা হয়েছে। আর এটি আবূ হুরাইরা হতে বুখারী বর্ণনা করেছেন।- -সুনানে দারেমী’র ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত, নং ১৪৯০। -অনুবাদক।))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯, ৭৪৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭১. কুর’আনকে সুন্দর সূরে তিলাওয়াত করা
১৫২৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একজন নবীর সূর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ যেভাবে কান পেতে শ্রবণ করেন, আর কোন কিছুই তিনি এমনভাবে কান পেতে শ্রবন করেন না।”আবূ মুহাম্মদ বলেন, (’কান পেতে শোনা’)এর দ্বারা তিনি ’সন্তুষ্ট হওয়া’ বুঝিয়েছেন।[1]
بَاب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُرِيدُ بِهِ الِاسْتِغْنَاءَ
তাখরীজ: এটি ১৫২৯ (অনূবাদে ১৫২৬) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭২. উম্মুল কুরআন (তথা সূরাতুল ফাতিহাহ’)-ই হলো বার বার পঠিত সাতটি আয়াত (সাব’উল মাছানী’)
১৫৩০. আবী সাঈদ ইবনুল মু’আল্লী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন (ও আমাকে ডাকলেন, তখন আমি সালাতরত ছিলাম)। ফলে তিনি বললেন: “আল্লাহ কি বলেন নি যে, “ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিবে, যখন তোমাদেরকে ডাক দেন।” (সূরাতুন নামল: ২৪)?” এরপর তিনি বললেন: “তুমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আমি কি তোমাকে কুরআনের সূরাসমূহ থেকে একটি অতি মহান সূরাহ আমি তোমাকে শিক্ষা দিব না?” এরপর তিনি যখন মসজিদ হতে বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন: [“আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ’আলামীন।”] আর এটিই হলো বার বার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল আমাকেই দেয়া হয়েছে।”[1]
بَاب أُمُّ الْقُرْآنِ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ سُورَةً أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنْ الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُمْ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৪৭৪; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৬৮৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৩. কতদিনে কুরআন খতম করা হবে
১৫৩১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনদিনের চেয়েও কম সময়ে যে ব্যক্তি কুরআন খতম করে, সে (কুরআনের) কিছুই বুঝতে পারে না।”[1]
بَاب فِي كَمْ يُخْتَمُ الْقُرْآنُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ
তাখরীজ: আহমাদ ২/১৯৫; তিরমিযী, (ক্বিরা’আত) ২৯৫০; ইবনু মাজাহ (ইকামাতিস সালাত) ১৩৪৭; আবু দাউদ, (আস সালাত) ১৩৯৪;
এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে সাঈদ ইবনু মানছুরে সহীহ সনদে ইবনু মাসউদ রা: হতে: তোমরা সাতদিনে কুরআন খতম করো, তবে তিনদিনের কম সময়ে কুরআন পড়ো (খতম করো) না।”
আয়িশা রা: হতে আবী উবাইদ বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করতেন না।”
পরিচ্ছেদঃ ১৭৪. যখন কোনো লোক (সালাত আদায় করতে গিয়ে) তিন রাকা’আত নাকি চার রাকা’আত আদায় করেছে, তা বুঝতে পারে না
১৫৩২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন (সালাতের জন্য) আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে পিছন ফিরে পলায়ন করতে থাকে, যাতে সে আযান শুনতে না পায়। এরপর যখন আযান শেষ হয়, তখন সে ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের ’ইকামাত’ হয়, তখন আবার সে পলায়ন করে। অতঃপর ’ইকামত’ শেষ হলে সে পূনরায় ফিরে এসে লোকদের মনে কুমন্ত্রণা দিতে (স্মরণ করাতে) থাকে এবং বলে, ’এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর।’ (এভাবে সে এমনসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়) যা ইতিপূর্বে তার স্মরণে আসেনি। তখন এমন হয় যে, সেই লোকটি আর মনে করতে পারে না, সে কত রাকা’আত আদায় করেছে। ফলে যখন তোমাদের কেউ এরূপ মনে করতে না পারবে যে, সে কত রাকা’আত সালাত আদায় করেছে, চার- নাকি তিন রাকা’আত, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দু’টি (সাহু) সিজদা করে।”[1]
بَاب الرَّجُلُ لَا يَدْرِي أَثَلَاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نُودِيَ بِالْأَذَانِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ الْأَذَانَ فَإِذَا قُضِيَ الْأَذَانُ أَقْبَلَ فَإِذَا ثُوِّبَ أَدْبَرَ فَإِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ فَيَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَعْنِي يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ كَمْ صَلَّى ثَلَاثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ
তাখরীজ: এটি ১২৪০ (অনূবাদে ১২৩৬) নং এ গত হয়েছে। ((সহীহ বুখারী ৬০৮; সহীহ মুসলিম ৩৮৯))
পরিচ্ছেদঃ ১৭৪. যখন কোনো লোক (সালাত আদায় করতে গিয়ে) তিন রাকা’আত নাকি চার রাকা’আত আদায় করেছে, তা বুঝতে পারে না
১৫৩৩. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ এরূপ মনে করতে না পারবে যে, সে কত রাকা’আত সালাত আদায় করেছে, চার রাকা’আত- নাকি তিন রাকা’আত, তখন সে যেন দাঁড়িয়ে আরো এক রাকা’আত সালাত আদায় করে অতঃপর এরজন্য বসা অবস্থায় দু’টি (সাহু) সিজদা করে। ফলে যদি (মোট) সে পাঁচ রাকা’আত সালাত আদায় করে থাকে, তবে এ দু’টি (সাজদা) তার সালাতকে জোড় বানিয়ে দিবে। আর যদি সে চার রাকা’আত আদায় করে থাকে, তবে এ দু’টি (সাজদা) হবে শয়তানের জন্য লাঞ্ছনা (বা মাটি নিক্ষেপ) স্বরূপ।”[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি এ মত গ্রহণ করেছি।
بَاب الرَّجُلُ لَا يَدْرِي أَثَلَاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ أَثَلَاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً ثُمَّ يَسْجُدُ بَعْدَ ذَلِكَ سَجْدَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعَتَا لَهُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى أَرْبَعًا كَانَتَا تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد آخُذُ بِهِ
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৪১, ১২৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৬৩, ২৬৬৪, ২৬৬৭, ২৬৬৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. সালাতে বৃদ্ধির কারণে সাহু সিজদা
১৫৩৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবাভাগের দুই ওয়াক্ত সালাতের কোন এক সালাত (অর্থাৎ যোহর কিংবা আসরের সালাত) আদায় করলেন। কিন্তু দুই রাকা’আত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি রাগান্বিত মনে মসজিদের মধ্যস্থানে স্থাপিত একটি (খেজুর) কাষ্ঠখণ্ডের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন।
ইয়াযীদ (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা ইবনু আউনকে তার দু’ হাতের তালুর একটিকে অপরটির পিঠের উপর স্থাপন করতে দেখলাম। এরপর তিনি সবচেয়ে লম্বা আঙ্গুলটিকে সবচেয়ে নিচু আঙ্গুলটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে রেখে দিলেন।তিনি বলেন, তাড়াহুড়াকারী লোকেরা তো এ কথা বলতে বলতে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো যে, সালাতকে কমিয়ে দেয়া হয়েছে, সালাতকে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সময় সবার মাঝে আবু বকর ও উমারও ছিলেন। কিন্তু (এই পরিস্থিতিতে) তারা কেউই কোনো কথা বলছিলেন না। অতঃপর যুলইয়াদাইন নামে পরিচিত লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি সালাত ভুলে গিয়েছেন- নাকি সালাতকেই কম করে দেয়া হয়েছে?
একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি ভূলেও যাইনি, আবার সালাতকেও সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়নি।” তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “ব্যাপারটা কি সেরকমই?” (সে যা বলছে, তা কি ঠিক?) সবাই জবাব দিলো, হাঁ। (সে যা বলেছে সত্য বলেছে।) তখন তিনি সালাতের বাকী অংশ আদায় করে সালাম ফিরালেন। এর পর তাকবীর বলে লম্বা সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। তারপর আবার তাকবীর বলে অনুরূপ সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। এরপর তিনি (সালাত) সমাপ্ত করলেন।”[1]
بَاب فِي سَجْدَتَيْ السَّهْوِ مِنْ الزِّيَادَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِحْدَى صَلَاتَيْ الْعَشِيِّ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ وَقَامَ إِلَى خَشَبَةٍ مُعْتَرِضَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا قَالَ يَزِيدُ وَأَرَانَا ابْنُ عَوْنٍ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ إِحْدَاهُمَا عَلَى ظَهْرِ الْأُخْرَى وَأَدْخَلَ أَصَابِعَهُ الْعُلْيَا فِي السُّفْلَى وَاضِعًا وَقَامَ كَأَنَّهُ غَضْبَانُ قَالَ فَخَرَجَ السَّرَعَانُ مِنْ النَّاسِ وَجَعَلُوا يَقُولُونَ قُصِرَتْ الصَّلَاةُ قُصِرَتْ الصَّلَاةُ وَفِي الْقَوْمِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَلَمْ يَتَكَلَّمَا وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ طَوِيلُ الْيَدَيْنِ يُسَمَّى ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسِيتَ الصَّلَاةَ أَمْ قُصِرَتْ فَقَالَ مَا نَسِيتُ وَلَا قُصِرَتْ الصَّلَاةُ فَقَالَ أَوَ كَذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَرَجَعَ فَأَتَمَّ مَا بَقِيَ ثُمَّ سَلَّمَ وَكَبَّرَ فَسَجَدَ طَوِيلًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَكَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ مَا سَجَدَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَانْصَرَفَ
তাখরীজ: বুখারী, (সালাত) ৪৮২; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭৩; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫৮৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী ১০১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. সালাতে বৃদ্ধির কারণে সাহু সিজদা
১৫৩৫. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সেই সালাতের দুই রাকা’আত আদায় করার পরই তিনি সালাম ফিরালেন। অতঃপর ’যুশিমালাইন’ নামে পরিচিত ইবনু আব্দু আমর ইবনু নাদ্বলাহ আল খুযাঈ, যে বনী যুহরাহ গোত্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল, সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, সালাতকেই কম করে দেয়া হয়েছে - নাকি আপনিই ভুলে গিয়েছেন? (একথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি ভূলেও যাইনি, আবার (সালাতকে) সংক্ষিপ্তও করে দেয়া হয়নি।”
তখন ’যুশিমালাইন’ বললো, হে আল্লাহর রাসূল, এতদুভয়ের কোনো একটি তো হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের দিকে ফিরে বললেন: “যুলইয়াদাইন’ কি ঠিক বলেছে?”সবাই জবাব দিলো, হাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত পূর্ণ করলেন। আর তাদের মধ্যে আর কেউই বর্ণনা করেননি যে, ’ঐ সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় দু’টি সাজদা করলেন।’ এর কারণ হিসেবে যা ধারণা করা হয় - আসলে আল্লাহই ভাল জানেন-, তাহলো এই যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিতরূপে সেটি জানতে না পারেন, তখন লোকেরা তাঁকে (বিষয়টি) নিশ্চিত করে দেন।[1]
بَاب فِي سَجْدَتَيْ السَّهْوِ مِنْ الزِّيَادَةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الظُّهْرِ أَوْ الْعَصْرِ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ مِنْ إِحْدَاهُمَا فَقَالَ لَهُ ذُو الشِّمَالَيْنِ بْنُ عَبْدِ عَمْرِو بْنِ نَضْلَةَ الْخُزَاعِيُّ وَهُوَ حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ أَقُصِرَتْ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تُقْصَرْ فَقَالَ ذُو الشِّمَالَيْنِ قَدْ كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُحَدِّثْنِي أَحَدٌ مِنْهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ وَذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ مِنْ أَجْلِ أَنَّ النَّاسَ يَقَّنُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى اسْتَيْقَنَ
তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. সালাতে বৃদ্ধির কারণে সাহু সিজদা
১৫৩৬. আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের সালাত পাঁচ রাকা’আত আদায় করলেন। যখন তাকে (বিষয়টি) বলা হলো, তখন তিনি দু’টি সাজদা করলেন।[1]
بَاب فِي سَجْدَتَيْ السَّهْوِ مِنْ الزِّيَادَةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ لَهُ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, (সালাত) ৪০১; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭২; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫০০২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৫৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী ৯৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. সালাতে কোনো কমতি হলে
১৫৩৭. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। সালাত শেষে আমরা যখন তাঁর সালামের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি তাকবীর দিয়ে বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করেন অত:পর তিনি সালাম ফিরান।[1]
بَاب إِذَا كَانَ فِي الصَّلَاةِ نُقْصَانٌ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الْأَعْرَجِ عَنْ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ وَلَمْ يَجْلِسْ وَقَامَ النَّاسُ فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ نَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ فَكَبَّرَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ سَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, (আযান) ৮২৯; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭০; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৬৩৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. সালাতে কোনো কমতি হলে
১৫৩৮. ইবন বুহায়না হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং তিনি (বসার জন্য) প্রত্যাবর্তন করেননি, এমনকি তিনি (এভাবেই) তাঁর সালাত শেষ করেন। এরপর তিনি ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করেন অত:পর তিনি সালাম ফিরান।[1]
بَاب إِذَا كَانَ فِي الصَّلَاةِ نُقْصَانٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ مَالِكِ ابْنِ بُحَيْنَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ أَوْ الْعَصْرِ فَلَمْ يَرْجِعْ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْ الْوَهْمِ ثُمَّ سَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, (সাহু) ১২২৫; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭০; এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. সালাতে কোনো কমতি হলে
১৫৩৯. যিয়াদ ইবনু ’ইলাকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের জন্য) দন্ডায়মান হন। ফলে এজন্য তাঁর পিছনের মুসল্লীগণ তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতে আরম্ভ করেন, তখন তিনি তাদেরকে ইশারায় দাঁড়িয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি তাঁর সালাত শেষ করে সালাম ফিরান এবং তিনি ভুলের জন্য দুইটি সাহু (ভূলের) সিজদা করেন অত:পর সালাম ফিরান এবং বলেন: ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সঙ্গে (সালাত আদায়ের সময়) এরূপ করেছেন।’[1]
بَاب إِذَا كَانَ فِي الصَّلَاةِ نُقْصَانٌ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَامَ وَلَمْ يَجْلِسْ فَسَبَّحَ بِهِ مَنْ خَلْفَهُ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنْ قُومُوا فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ سَلَّمَ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ وَسَلَّمَ وَقَالَ هَكَذَا صَنَعَ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَزِيدُ يُصَحِّحُونَهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৪৭, ২৫৩, ২৫৪; আবু দাউদ (সালাত) ১০৩৬, ১০৩৭; তিরমিযী, আস সালাত ৩৬৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৪/১৭২; আব্দুর রাযযাক নং ৩৪৮৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৭. সালাতের মধ্যে কথা বলা নিষেধ
১৫৪০. মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে কোনো একটি সালাত আদায় করেছিলাম। ইত্যবসরে লোকদের মধ্য থেকে একজন হাঁচি দিল। ফলে আমি বললাম, ’ইয়ারহামুকাল্লাহ’।
তিনি বলেন, তখন লোকেরা আড়চোখে আমার দিকে তাকাতে লাগল। আমি বললাম “আমার মায়ের পুত্র বিয়োগ হোক! তোমরা আমার প্রতি (এভাবে) তাকাচ্ছো কেন? তখন তারা তাদের উরুর উপর হাত চাপড়াতে লাগল। আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি বললাম, তোমরা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছো কেন? যাহোক, আমি চুপ হয়ে গেলাম। তিনি বলেন, অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শেষ করলেন, আমার মাতা-পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক! আমি কোনো শিক্ষাদাতাকে তার মতো এত সুন্দর করে শিক্ষা দান করতে পূর্বেও কখনো দেখিনি, তাঁর পরেও কখনো দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে মারলেন না, ধমক দিলেন না, গালিও দিলেন না। বরং তিনি বললেন: “আমাদের এ সালাতে কোনো লোকের কোনো কথাবার্তা বলা ঠিক নয়। বরং তা হচ্ছে- তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্য।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْكَلَامِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ قَالَ بَيْنَا أَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ قَالَ فَحَدَّقَنِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَا ثُكْلَاهُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَيَّ قَالَ فَضَرَبَ الْقَوْمُ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُسْكِتُونَنِي قُلْتُ مَا لَكُمْ تُسْكِتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ وَاللَّهِ مَا ضَرَبَنِي وَلَا كَهَرَنِي وَلَا سَبَّنِي وَلَكِنْ قَالَ إِنَّ صَلَاتَنَا هَذِهِ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ إِنَّمَا هِيَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাজিদ ৫৩৭; নাসাঈ, সাহু ৩/১৪-১৮; আবু আউয়ানাহ ২/১৪১; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৪৬; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৪০১ নং ৯৪৫, ৯৪৭; বাইহাকী, আস সালাত ২/২৪৯; খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাকিহ নং ৯৮২; আহমাদ ৫/৪৪৭, ৪৪৮; ইবনু আবী শাইবা ২/৪৩২; আবু দাউদ, আস সালাত ৯৩০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৭২৬; ইবনুল জারুদ নং ২১২; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৩/১৪৯ ও ৪/৪; তায়ালিসী ১/১০৭ নং ৪৮৬; আমরা এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫,২২৪৭, ২২৪৮ তে। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ১/২৮০, ২৮১।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৭. সালাতের মধ্যে কথা বলা নিষেধ
১৫৪১. (অপর সূত্রে) মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনূরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْكَلَامِ فِي الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ عَنْ يَحْيَى عَنْ هِلَالٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪৪৭, ৪৪৮। এটি আগের হাদীসের পূনরাবৃত্তি। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. সালাতরত অবস্থায় সাপ ও বিচ্ছু হত্যা প্রসঙ্গে
১৫৪২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, সালাতরত অবস্থায় দু’টি কালো প্রাণিকে মেরে ফেলার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন: কালো রং এর প্রাণী দু’টি হলো: সাপ ও বিচ্ছু।[1]
بَاب قَتْلِ الْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ فِي الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ ضَمْضَمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلَاةِ قَالَ يَحْيَى وَالْأَسْوَدَيْنِ الْحَيَّةُ وَالْعَقْرَبُ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৫১, ২৩৫২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫২৬, ৫২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. সফরে সালাত কসর (সংক্ষেপ) করা:
১৫৪৩. ইয়া’লা ইবনু উমাইয়া বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আল্লাহ তা’আলা তো বলেছেন: [“যদি তোমরা আশংকা করো, তবে তোমরা তোমাদের সালাত সমূহ ’কসর’ করলে এতে তোমাদের কোনো পাপ নেই।” (সূরা: নিসা: ১০১)] আর এখনতো লোকেরা নিরাপত্তা লাভ করেছে! (ফলে, এখনতো আর সালাত কসর করার প্রয়োজন নেই!)তখন তিনি বললেন: যে ব্যাপারটিতে তুমি বিস্মিত হচ্ছো, আমিও তাতে বিস্মিত হয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে (এটি) তোমাদের জন্য একটি সাদাকা (বিশেষ দান)। তাই তোমরা সেটি কবুল করো।”[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ تَقْصُرُوا مِنْ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ فَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ قَالَ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوهَا
তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৮৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৩৯, ২৭৪০, ২৭৪১। এছাড়াও, ফাসওয়ী, আল মা’রেফাতুত তারীখ ২/২০৫; খতীব, আল মাওদিহ ১/৩০৪; ইবনু আবী শাইবা ২/৪৪৭; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১৪৬; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৪/২৬৬-২৬৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১০২৪; ইবনুল আ’রাবী, মু’জাম নং ৯৩২; আব্দুর রাযযাক নং ৪২৭৫।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. সফরে সালাত কসর (সংক্ষেপ) করা:
১৫৪৪. সালিমের পিতা (ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন। (অর্থাৎ কসর করেছেন) আবূ বকর দু’ রাকা’আত, উমার দু’ রাকা’আত এবং উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর শাসনামলের প্রথমভাগে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন। এর পরবর্তীতে তিনি (উছমান) সালাত সম্পূর্ণ (তথা চার রাকা’আত) আদায় করেছেন।[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَعُمَرُ رَكْعَتَيْنِ وَعُثْمَانُ رَكْعَتَيْنِ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا بَعْدَ ذَلِكَ
তাখরীজ: বুখারী, তাক্বসীরুস সালাত ১০৮২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৪; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৭৯৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৪৩, ২৭৪৪, ২৭৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. সফরে সালাত কসর (সংক্ষেপ) করা:
১৫৪৫. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদীনাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে চার রাকা’আত সালাত আদায় করলাম। এরপর তাঁর সাথে ’যুল হুলাইফা’-তে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলাম।[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَلَّيْنَا الظُّهْرَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَصَلَّيْنَا مَعَهُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, (তাক্বসীরুস সালাত) ১০৮৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯০; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. সফরে সালাত কসর (সংক্ষেপ) করা:
১৫৪৬. ইবরাহীম ইবনু মায়সারাহ ও মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় চার রাকা’আত এবং ’যুল হুলাইফা’-তে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলেন।[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ وَمُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَبِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, (তাক্বসীরুস সালাত) (১০৮৯) ১৫৪৬, ১৫৪৭, ১৫৪৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯০; পূর্ববর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. সফরে সালাত কসর (সংক্ষেপ) করা:
১৫৪৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় সালাতকে দু’ রাকা’আত করে ফরয করা হয়। অতঃপর সফরে সালাতকে সেভাবেই (দু’ রাকা’আত) বজায় রাখা হয়েছে এবং নিজ আবাসে সালাতকে পূর্ণ (চার রাকা’আত) করা হয়েছে।
(বর্ণনাকারী যুহুরী বলেন) আমি (উরওয়া কে) বললাম, তিনি নিজে সফরে পূর্ণ সালাত (চার রাকা’আত) আদায় করেন কেন?তিনি (উরওয়া) বললেন: উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনিও (আয়িশা রা:) সেভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন।[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّ الصَّلَاةَ أَوَّلَ مَا فُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ وَأُتِمَّتْ صَلَاةُ الْحَضَرِ فَقُلْتُ مَا لَهَا كَانَتْ تُتِمُّ الصَّلَاةَ فِي السَّفَرِ قَالَ إِنَّهَا تَأَوَّلَتْ كَمَا تَأَوَّلَ عُثْمَانُ
তাখরীজ: বুখারী, (তাক্বসীরুস সালাত) ৩৫০, ১০৯০; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৮৫; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৬৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৩৬, ২৭৩৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮০. কোনো লোক কোনো শহরে অবস্থান করার ইচ্ছে করলে কতদিন পর্যন্ত অবস্থান করলে সালাত কসর করবে
১৫৪৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে (হাজ্জের সফরে) বের হলাম। তখন আমরা মক্কায় না পৌঁছা পর্যন্ত তিনি সালাত কসর করে যাচ্ছিলেন। আর তিনি সেখানে দশদিন অবস্থান করলেন এবং আর ফিরে না আসা পর্যন্ত কসর করতে থাকলেন। আর সেটি ছিল তাঁর হাজ্জে (এর সফর)।[1]
بَاب فِيمَنْ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِبَلْدَةٍ كَمْ يُقِيمُ حَتَّى يَقْصُرَ الصَّلَاةَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَقْصُرُ حَتَّى قَدِمْنَا مَكَّةَ فَأَقَامَ بِهَا عَشَرَةَ أَيَّامٍ يَقْصُرُ حَتَّى رَجَعَ وَذَلِكَ فِي حَجِّهِ
তাখরীজ: বুখারী, (তাক্বসীরুস সালাত) ১০৮১; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৩; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৫১, ২৭৫৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮০. কোনো লোক কোনো শহরে অবস্থান করার ইচ্ছে করলে কতদিন পর্যন্ত অবস্থান করলে সালাত কসর করবে
১৫৪৯. ’আলা ইবনুল হাযরামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হাজ্জ্বের কার্যাবলী সম্পন্ন করার পরে মুহাজিরগণের জন্য মক্কায় অবস্থান হবে তিনদিন।”[1]
بَاب فِيمَنْ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِبَلْدَةٍ كَمْ يُقِيمُ حَتَّى يَقْصُرَ الصَّلَاةَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُكْثُ الْمُهَاجِرِ بَعْدَ قَضَاءِ نُسُكِهِ ثَلَاثٌ
তাখরীজ: বুখারী, (মানাক্বিবুল আনসার) ৩৯৩৩; মুসলিম, আল হাজ্জ ১৩৫২; এছাড়াও, ইবনু ক্বনি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ৮৩৭; আব্দুর রাযযাক নং ৮৮৪২; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯০৬, ৩৯০৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮০. কোনো লোক কোনো শহরে অবস্থান করার ইচ্ছে করলে কতদিন পর্যন্ত অবস্থান করলে সালাত কসর করবে
১৫৫০. ’আলা ইবনুল হাযরামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’তাওয়াফুস সদর’ সম্পন্ন করার পরে মুহাজিরগণের জন্য মক্কায় তিনদিন অবস্থানের অনুমতি দিয়েছেন।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন: এটি আমারও মত।
بَاب فِيمَنْ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِبَلْدَةٍ كَمْ يُقِيمُ حَتَّى يَقْصُرَ الصَّلَاةَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَفْصٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُهَاجِرِينَ أَنْ يُقِيمُوا ثَلَاثًا بَعْدَ الصَّدَرِ بِمَكَّةَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
‘সদর সম্পন্ন করার পরে’ অর্থ: হাজ্জের কার্যাবলী সম্পন্ন করার পরে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮১. বাহনের উপর সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৫৫১. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনের উপর থাকা অবস্থায় পূর্ব দিকে ফিরেও সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি বাহন থেকে নেমে যেতেন এবং কিব্লামুখী হতেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُصَلِّيَ الْمَكْتُوبَةَ نَزَلَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ
তাখরীজ: বুখারী , তাক্বসীরুস সালাত ১০৯৯; মুসলিম, মাসাজিদ ৫৪০; ((আবু দাউদ, সালাতুস সফর ১২২৭; তিরমিযী, সালাত ৩৫১; নাসাঈ, সাহু ৩/২৬- ফাওয়ায আহমাদ এর দারেমী, ১৫১৪ নং এর টীকা দ্র:- অনুবাদক))।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১২০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১২০ ((এটি মুদ্রণজনিত ভূল হতে পারে, এটি মুলত: রয়েছে ২৫০৮, ২৫১০, ২৫১১, ২৫১২ নং এ- অনুবাদক)) তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮১. বাহনের উপর সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৫৫২. আমির ইবনু রাবী’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছি, বাহনের উপর উপবিষ্ট অবস্থায় বাহনের মুখ যেদিকেই ফিরানো থাকতো, তিনি সেদিকে ফিরেই মাথা দিয়ে ইশারা করে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয সালাতে এরূপ করতেন না।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عَلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ أَنَّ عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَبِّحُ وَهُوَ عَلَى الرَّاحِلَةِ وَيُومِي بِرَأْسِهِ قِبَلَ أَيِّ وَجْهٍ تَوَجَّهَ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ
তাখরীজ: বুখারী , তাক্বসীরুস সালাত ১০৯৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৭০১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮২. দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৫৫৩. মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের বছরে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে বের হয়েছিলাম। সে সময়ে তিনি সালাত জমা’ (একত্রিত) করতেন: (অর্থাৎ) যুহর ও আসর সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং (তাঁবুতে) প্রবেশ করতেন; অতঃপর (সময় হলে) আবার তিনি (তাঁবু হতে) বের হয়ে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ أَنَّ أَبَا الطُّفَيْلِ عَامِرَ بْنَ وَاثِلَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ غَزْوَةِ تَبُوكَ وَكَانَ يَجْمَعُ الصَّلَاةَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ بَعْدَ ذَلِكَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৫৮, ১৫৯১, ১৫৯৫ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৪৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮২. দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৫৫৪. আবী আইয়্যুব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিদায় হাজ্জে মুযদালিফা’র) ’জাম’আ’ নামক স্থানে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِجَمْعٍ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا
তাখরীজ: বুখারী , হাজ্জ্ব ১৬৭৪; মুসলিম, হাজ্জ্ব, ১২৮৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৫৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮৭ তে। এছাড়া এটি সামনে ১৯২৫ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮২. দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৫৫৫. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (সফরে) দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলতেন, তখন মাগরিব ও ঈশার সালাত একত্রে আদায় করতেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ
তাখরীজ: বুখারী , তাক্বসীরুস সালাত ১০৯১; মুসলিম, সালাতুল মুসাফির, ৭০৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫৪২২, ৫৪৩০, ৫৪৮৫। এটি সামনে ১৯২৬ নং এও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩. মুযদালিফায় দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৫৫৬. হাকাম ও সালামা ইবনু কুহাইল উভয়ে বর্ণনা করেন, সাঈদ ইবনু জুবাইর ’জাম’আ’ নামক স্থানে আমাদেরকে নিয়ে এক ইকামতে মাগরিবের তিন রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। এরপর সালাম ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ঈশার দুই রাকা’আত (কসর) সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি (ইবনু উমার) এ স্থানে তাদেরকে সাথে নিয়ে এরূপ করেছেন। আর ইবনু উমার রা: বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ স্থানে এরূপ করেছেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِالْمُزْدَلِفَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي الْحَكَمُ وَسَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ قَالَا صَلَّى بِنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ بِجَمْعٍ بِإِقَامَةٍ الْمَغْرِبَ ثَلَاثًا فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ الْعِشَاءَ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ صَنَعَ بِهِمْ فِي ذَلِكَ الْمَكَانِ مِثْلَ ذَلِكَ وَحَدَّثَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ فِي ذَلِكَ الْمَكَانِ مِثْلَ ذَلِكَ
তাখরীজ: বুখারী, তাক্বসীরুস সালাত ১০৯২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ১২৮৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৮৫৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩. মুযদালিফায় দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৫৫৭. শু’বাহ রাহি. তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِالْمُزْدَلِفَةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
তাখরীজ: পূর্বের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৪. কোনো লোকের সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে
১৫৫৮. কা’ব ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা সকাল বেলায় (দু’হা’র সময়) সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন। এরপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর লোকদের জন্য বসতেন।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الرَّجُلِ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ وَعَمِّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنَيْ كَعْبٍ عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ إِلَّا بِالنَّهَارِ ضُحًى ثُمَّ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَجْلِسُ لِلنَّاسِ
তাখরীজ: বুখারী , জিহাদ ৩০৮৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৭১৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৭০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫. সালাতুল খওফ (ভীতিকালীন সালাত)
১৫৫৯. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নাজদের দিকে একটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখী সমান্তরালভাবে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একদল তাঁর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখী অবস্থান নিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে যারা ছিলেন তিনি তাঁদের নিয়ে একটি রুকু ও দু’টি সিজদা করলেন। এরপর এ দলটি যারা সালাত আদায় করেনি, তাঁদের স্থানে চলে গেলেন এবং যারা সালাত আদায় করেনি, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে এগিয়ে এলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সঙ্গে একটি রুকু ও দু’টি সিজদা করলেন এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরালেন। এরপর মুসলিমগণের প্রত্যেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকু ও দু’টি সিজদা (সহ সালাত শেষ) করলেন।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةً قِبَلَ نَجْدٍ فَوَازَيْنَا الْعَدُوَّ وَصَافَفْنَاهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي لَنَا فَقَامَ طَائِفَةٌ مِنَّا مَعَهُ وَأَقْبَلَ طَائِفَةٌ عَلَى الْعَدُوِّ فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَنْ مَعَهُ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفُوا فَكَانُوا مَكَانَ الطَّائِفَةِ الَّتِي لَمْ تُصَلِّ وَجَاءَتْ الطَّائِفَةُ الَّتِي لَمْ تُصَلِّ فَرَكَعَ بِهِمْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ كُلُّ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَرَكَعَ لِنَفْسِهِ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী , সালাতুল খওফ ৯৪২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৮৩৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫. সালাতুল খওফ (ভীতিকালীন সালাত)
১৫৬০. সাহল ইবনু আবী হাছমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সালাতুল খাওফ (ভীতিকালীন সালাত) সম্পর্কে বলেন, ইমাম একদলকে নিয়ে সালাত আদায় করবেন এবং অপর দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থানে থাকবেন। ফলে তিনি (ইমাম) তাঁর সঙ্গের লোকদের নিয়ে এক রাকা’আত সালাত আদায় করবেন এবং এরা (সালাত আদায়কারী দলটি) তাদের সাথী (যে দলটি এখনও সালাত আদায় করেননি)-দের কাতারের স্থানে চলে যাবে এবং তারা (যে দলটি এখনও সালাত আদায় করেননি) চলে আসবেন এবং (তিনি) ইমাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকা’আত সালাত আদায় করবেন। আর তারা (বাঁকী) এক রাকা’আত নিজে নিজে আদায় করে নিবেন।’[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ يُصَلِّي الْإِمَامُ بِطَائِفَةٍ وَطَائِفَةٌ مُوَاجِهَةُ الْعَدُوِّ فَيُصَلِّي بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً وَيَذْهَبُ هَؤُلَاءِ إِلَى مَصَافِّ أَصْحَابِهِمْ وَيَجِيءُ أُولَئِكَ فَيُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَةً وَيَقْضُونَ رَكْعَةً لِأَنْفُسِهِمْ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪১৩১; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৮৪১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৮৫, ২৮৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫. সালাতুল খওফ (ভীতিকালীন সালাত)
১৫৬১. (অপর সূত্রে) সাহল ইবনু আবী হাছমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৮৪১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৯৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৯০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬. সালাত আদায় করা থেকে বাধাপ্রাপ্ত হলে
১৫৬২. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাদেরকে (সালাত হতে) বিরত রাখা হয়েছিল এমনকি রাত নেমে এলো, কিন্তু সেটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর তা-ই হলো আল্লাহ তা’আলার এই আয়াতের বক্তব্য: [“যুদ্ধে মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহই হলেন সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।” (আহযাব ৩৩:২৫)]
তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল -কে ইকামত দেওয়ার আদেশ করেন। তখন তিনি যুহরের সালাতের ইকামত দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াক্তের মধ্যে সে সালাত যেভাবে উত্তমরূপে আদায় করেন, তেমনিভাবে তিনি যোহরের (কাযা) সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি তাকে আদেশ দিলে সে (বিলাল) আসরের সালাতের জন্য ইকামত দেয় এবং তিনি আসরের (কাযা) সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি তাকে আদেশ দিলে সে (বিলাল) মাগরিবের সালাতের জন্য ইকামত দেয় এবং তিনি মাগরিবের (কাযা) সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি তাকে আদেশ দিলে সে (বিলাল) ঈশার সালাতের জন্য ইকামত দেয় এবং তিনি ঈশার সালাত আদায় করেন। আর এটি ছিল (যুদ্ধের) এ আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা: [“অতঃপর যদি তোমরা (শত্রুর ভয়ের) আশংকা করো, সে অবস্থায় পদব্রজে বা যানবাহনাদির উপর (সালাত আদায় করে নেবে)...।” সূরা: বাক্বারা ২: ২৩৯][1]
بَاب الْحَبْسِ عَنْ الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ حُبِسْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَتَّى ذَهَبَ هَوِيٌّ مِنْ اللَّيْلِ حَتَّى كُفِينَا وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا فَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا فَأَمَرَهُ فَأَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ فَأَحْسَنَ كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعَصْرَ فَصَلَّاهَا ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ فَصَلَّاهَا ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ فَصَلَّاهَا وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا
তাখরীজ: ((নাসাঈ, মাওয়াক্বিত (বাব:৫৫) ও আযান (বাব:২৩); আহমাদ ৩/২৫- দারেমী, ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত, নং ১৫২৪ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৯৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৯০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৩. আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। তাই যখনই তোমরা এ দু’টিতে (চন্দ্র-সূর্যে) গ্রহণ সংঘটিত হতে দেখবে, তখনই তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হয়ে যাবে।”[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيْسَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَقُومُوا فَصَلُّوا
তাখরীজ: বুখারী, কুসূফ ১০৪১; মুসলিম, কুসূফ ৯১১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় আট রুকূ’ ও চার সিজদাসহ (দু’ রাকা’আত) সালাত আদায় করেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيُّ وَمُسَدَّدٌ قَالَا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي كُسُوفٍ ثَمَانَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২২৫; ইবনু আবী শাইবা ২/৪৬৭; মুসলিম, কুসূফ ৯০৮; বাইহাকী ৩/৩২৭; নাসাঈ, কুসূফ ৩/১২৮-১২৯; আরও দেখুন ১৫৬৯ নং ও পরবর্তী হাদীসের টীকা দুটি।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট এলো। এরপর সে (মহিলাটি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে) বলল, ’আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করুন।’ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এলে তাঁকে তিনি (আয়িশা) জিজ্ঞেস করলেন, লোকদেরকে কি তাদের কবরে আযাব দেওয়া হবে? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ “(তা থেকে) আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” (এরপর) কোন এক দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে আসেন এবং (সাওয়ারী হতে) অবতরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই স্থানে গেলেন যেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। তারপর (তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং) লোকেরাও তাঁর পেছনে দাঁড়ালো। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে থাকলেন। তারপর (মাথা) উঠালেন, আবার দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে এ কিয়াম প্রথম কিয়ামের চাইতে স্বল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ’ করেন। তবে এ রুকূ’ প্রথম রুকূ’র চাইতে স্বল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি দু’টি সিজদা করলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে পুনরায় (প্রথম রাকা’আতের) অনুরূপ করেন। এরপর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেলো, তখন তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলেন। এরপর বললেন: “আমি তোমাদেরকে দেখলাম, তোমাদের কবরে তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় ফিতনায় ফেলা হচ্ছে।”আমি তাঁকে (এও) বলতে শুনেছি: “আল্লাহুম্মা ইন্নী ’আ’উযুবিকা মিন আযাবিল ক্বাবরী, ওয়া ’আ’উযুবিকা মিন আযাবিন নার।”[1] (অর্থ: ’হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি জাহান্নামের আযাব হতেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’)
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ يَهُودِيَّةً دَخَلَتْ عَلَيْهَا فَقَالَتْ أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَتْهُ أَيُعَذَّبُ النَّاسُ فِي قُبُورِهِمْ قَالَ عَائِذٌ بِاللَّهِ قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ يَوْمًا مَرْكَبًا فَخَسَفَتْ الشَّمْسُ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَ ثُمَّ عَمَدَ إِلَى مَقَامِهِ الَّذِي كَانَ يُصَلِّي فِيهِ فَقَامَ النَّاسُ خَلْفَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ تَجَلَّتْ الشَّمْسُ فَدَخَلَ عَلَيَّ فَقَالَ إِنِّي أُرَاكُمْ تُفْتَنُونَ فِي قُبُورِكُمْ كَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ سَمِعْتُهُ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ
তাখরীজ: বুখারী, কুসূফ ১০৪৯, ১০৫০; মুসলিম, কুসূফ ৯০৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮৪১ (বিস্তারিত টীকাসহ); সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৪০, ২৮৪১, ২৮৪২, ২৮৪৫, ২৮৪৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৯, ১৮০ তে।...
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেছেন। এরপর ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) সালাত ছিল দু’ রাকা’আত। আর এ দু’ রাকা’আতের প্রত্যেক রাকা’আতে দু’টি করে রুকূ’ করেন। এরপর তিনি তাদেরকে খুতবা দেন। তিনি (খুতবায়) বলেন: “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। আর কারো মৃত্যু বা জন্মগ্রহণের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ সংঘটিত হয় না। তাই যখনই তোমরা তা (চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ হতে) দেখবে, তখনই ভীতিসহ আল্লাহর যিকিরের (সালাতের) প্রতি ধাবিত হবে।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ الْبُوَيْطِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ هُوَ الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَسَفَتْ الشَّمْسُ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَكَى ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ صَلَاتَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ خَطَبَهُمْ فَقَالَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ
তাখরীজ: মালিক, কুসূফ (২); বুখারী, কুসূফ ১০৫২; মুসলিম, কুসূফ ৯০৭; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৭০৩৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৩২, ২৮৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৭. (অপর সূত্রে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে (অনুরূপ) বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
قَالَ وَأَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ
তাখরীজ: মালিক, কুসূফ (১); বুখারী, কুসূফ ১০৪৪; মুসলিম, কুসূফ ৯০৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৮৪০, ৪৮৪১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৪০ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৯, ১৮০ তে। দেখুন, আগের ১৫৬৮ নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এরপর তিনি (আয়িশা) বর্ণনা করেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেন, যার প্রত্যেক রাকা’আতে দু’টি করে রুকূ’ করেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
قَالَ وَأَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَسَفَتْ الشَّمْسُ فَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَكَتْ أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: মালিক, কুসূফ (৩); দেখুন, আগের হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৬৯. আসমা বিনতে আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, সূর্যগ্রহণের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাসমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ حِينَ كَسَفَتْ الشَّمْسُ بِعَتَاقَةٍ
তাখরীজ: মালিক, কুসূফ (৪); বুখারী, আল ইলম (৮৬); মুসলিম, কুসূফ ৯০৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৫৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. সূর্যগ্রহণের সময়কালীন সালাত
১৫৭০. (অপর সনদে) আসমা বিনতে আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الصَّلَاةِ عِنْدَ الْكُسُوفِ
قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ عَنْ أَسْمَاءَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: বুখারী, আল ইতক্ব ২৫১৯; পূর্বের হাদীস ওটীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৮. ইস্তিস্কার (বৃষ্টি প্রার্থনা)’র সালাত
১৫৭১. আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, লোকদের সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে মুসাল্লা’র (সালাত আদায়ের মাঠের) উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাঁর চাদর উল্টে নিলেন।[1]
بَاب صَلَاةِ الِاسْتِسْقَاءِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَخْبَرَهُ عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ يَذْكُرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بِالنَّاسِ إِلَى الْمُصَلَّى يَسْتَسْقِي فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ
তাখরীজ: বুখারী, ইসতিসক্বা ১০০৫; মুসলিম, ইসতিসক্বা ৮৯৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৬৪, ২৮৬৫, ২৮৬৬, ২৮৬৭ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৯, ৪২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৮. ইস্তিস্কার (বৃষ্টি প্রার্থনা)’র সালাত
১৫৭২. আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা (আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ) বর্ণনা করেন যে, লোকদের সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে মুসাল্লা’র (সালাত আদায়ের মাঠের) উদ্দেশ্যে বের হলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায়ই আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন, এরপর তিনি ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হলেন এবং তাঁর চাদরটি উল্টে নিলেন, তখন তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো।[1]
بَاب صَلَاةِ الِاسْتِسْقَاءِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عَبَّادُ بْنُ تَمِيمٍ أَنَّ عَمَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بِالنَّاسِ إِلَى الْمُصَلَّى يَسْتَسْقِي لَهُمْ فَقَامَ فَدَعَا اللَّهَ قَائِمًا ثُمَّ تَوَجَّهَ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَحَوَّلَ رِدَاءَهُ فَأُسْقُوا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পূনরাবৃত্তি। বুখারী, ইসতিসকা, ১০২৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৮৯. ইসতিসক্বা’র দু’আয় দু’হাত উঠানো
১৫৭৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’ইসতিসক্বা’র (বৃষ্টি জন্য) দু’আয় ব্যতীত আর কোথাও (কোনো দু’আয়) দু’হাত তুলতেন না।[1]
بَاب رَفْعِ الْأَيْدِي فِي الِاسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ الدُّعَاءِ إِلَّا فِي الِاسْتِسْقَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, ইসতিসকা, ১০৩১; মুসলিম, ইসতিসকা ৮৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৩৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯০. জুমু’আ’র দিন গোসল করা
১৫৭৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ জুমু’আ’র (সালাতে) আসে, সে যেনো গোসল করে।”[1]
بَاب الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ ৮৭৭; মুসলিম, জুমু’আ ৮৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৮০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২২৩, ১২২৪, ১২২৫, ১২২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬২০, ৬২১, ৬২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯০. জুমু’আ’র দিন গোসল করা
১৫৭৫. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর জুমু’আ’র দিন গোসল করা ওয়াজিব।”[1]
بَاب الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮৫৮; মুসলিম, জুমু’আ ৮৪৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৮, ১১০০, ১১২৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২২৮, ১২২৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯০. জুমু’আ’র দিন গোসল করা
১৫৭৬. (অপর সনদে) আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনূরুপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৯০. জুমু’আ’র দিন গোসল করা
১৫৭৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি (মসজিদে) প্রবেশ করলো। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে ইঙ্গিতে কিছু বললেন। অতঃপর জবাবে লোকটি বললো: হে আমীরুল মু’মিনীন! আযান শুনার পর আমি উযূ ব্যতীত আর বেশি কিছু করতে পারিনি। তখন তিনি (উমার) বললেন: আর কেবলমাত্র উযুই? তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শোনোনি: “যখন তোমাদের কেউ জুমু’আ’র (সালাতে) আসে, সে যেনো গোসল করে”?[1]
بَاب الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ بَيْنَمَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَعَرَّضَ بِهِ عُمَرُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا زِدْتُ أَنْ تَوَضَّأْتُ حِينَ سَمِعْتُ النِّدَاءَ فَقَالَ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا أَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৮৭৮; মুসলিম, জুমু’আ ৮৪৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৩০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯০. জুমু’আ’র দিন গোসল করা
১৫৭৮. সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন উযূ করে, সে কতই না উত্তম কাজ করে। আর যে ব্যক্তি গোসল করে- তবে (প্রকৃতপক্ষে) সেটিই তো সর্বোত্তম।”[1]
بَاب الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ لِلْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنْ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৯৭; আহমাদ ৫/২২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ২/৩৫২; বাইহাকী, তাহারাত ১/২৯৫; আবু দাউদ, তাহারাত ৩৫৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১১৯; তাবারাণী, আল কাবীর ৭/১৯৯ নং ৬৮১৭; বাইহাকী, মা’রেফাতুস সুনান নং ২১০৪, ৬৩৭৪; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ১০/৭৯; নাসাঈ, জুমু’আ ৩/৯৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১৭৫৭; তিরমিযী, সালাত ৪৯৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩৩৫; আব্দুর রাযযাক নং ৫৩১১ মুরসাল হিসেবে বিশ্বস্ত রাবীগণের সূত্রে; তিরমিযী বলেন: সামুরা’র হাদীসটি হাসান।’...
আমি বলছি: এ বাবে আনাস, জাবির, আবী সাঈদ, ইবনু আব্বাস, আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা আমরা একত্রিত করেছি ও তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩০৯২, ৩০৯৩, ৩০৯৪, ৩০৯৫, ৩০৯৬ তে। আরও দেখুন, আনাস রা: এর হাদীসটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩৩১ তে।
মুলত: এ সকল হাদীসের কোনেটির সনদই দূর্বলতা হতে মুক্ত নয়। তবে সবগুলি সনদ সামগ্রিকভাবে হাদীসটিকে শক্তিশালী করে এবং একে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করে। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯১. জুমু’আ’র ফযীলত ও জুমু’আর দিনে গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহারের ফযীলত সম্পর্কে
১৫৭৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী সালমান ফারিসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, এরপর (মসজিদে) চলে যায় এবং দু’জন লোকের মাঝে ফাঁক না করে, তারপর তার ভাগ্যে নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং যখন ইমাম (খুতবা দেওয়ার জন্য) বের হন, তখন চুপ থাকে, তা হলে এ জুমু’আ এবং পরবর্তী জুমু’আর মধ্যবর্তী তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْجُمُعَةِ وَالْغُسْلِ وَالطِّيبِ فِيهَا
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَدِيعَةَ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ مِنْ دُهْنِهِ أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ ثُمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৮৮৩, ৯১০; বাইহাকী, জুমু’আ ৩/২৩২; ইবনু আবী শাইবা ২/১৫২; তায়ালিসী ১/২৪২ নং ৬৭৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৭৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯২. জুমু’আর দিন ফজরের সালাতের ক্বিরা’আত
১৫৮০. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমু’আর দিন ফজর সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম [“তানযীল...” আস সিজদা] এবং [“হাল আতা আলাল ইনসান”]।[1] (আল ইনসান: ১)
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي صَلَاةِ الْغَدَاةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ وَهَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৮৯১; মুসলিম, জুমুআ ৮৮০; নাসাঈ, ইফতিতাহ ২/১৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩. জুমু’আর সালাতের উদ্দেশ্যে আগে আগে (মসজিদে) গমণের ফযীলত
১৫৮১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জুমু’আর দিন আগে আগে মসজিদে আগমণকারী ব্যক্তি একটি মোটাতাজা উট কুরবানীকারীর ব্যক্তির ন্যায়। এরপর যে আসে সে একটি গাভী কুরবানীকারীর ব্যক্তির ন্যায়। তারপর আগমণকারী ব্যক্তি একটি মেষ কোরবানিকারীর ন্যায়। এরপর ইমাম যখন মিম্বারে বসে যান তখন ফিরিশতাগণ তাঁদের খাতা গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।”[1]
بَاب فَضْلِ التَّهْجِيرِ إِلَى الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَعَجِّلُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَالْمُهْدِي جَزُورًا ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي شَاةً فَإِذَا جَلَسَ الْإِمَامُ عَلَى الْمِنْبَرِ طُوِيَتْ الصُّحُفُ وَجَلَسُوا يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৮৮১; মুসলিম, জুমুআ ৮৫০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ২৭৭৪, ২৭৭৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৩, ৯৬৪ তে। আরও দেখুন পরবর্তী হাদীসটি এবং মুসনাদ আহমাদ ২/২৩৯, ২৫৯, ২৮০, ৪৯৯, ৫১২।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৩. জুমু’আর সালাতের উদ্দেশ্যে আগে আগে (মসজিদে) গমণের ফযীলত
১৫৮২. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জুমু’আর দিন এলে মসজিদের দরজাসমূহে ফিরিশতাগণ বসে যান এবং তারা আগমনকারীদের নাম ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। ইমাম যখন বের হন তখন তারা নথিপত্র গুটিয়ে নিয়ে আলোচনা শোনার জন্য চলে আসেন।” তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: “মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী ব্যক্তি উট কোরবানিকারীর সমতুল্য, তারপরে আগমনকারী গরু কোরবানিকারীর সমতুল্য, তারপরে মেষ কোরবানিকারীর সমতুল্য, তারপরে আগমনকারী হাঁস কোরবানিকারীর সমতুল্য, তারপরে আগমনকারী মুরগী কোরবানিকারীর সমতুল্য, তারপরে আগমনকারী ডিম সাদাকাকারীর সমতুল্য।”[1]
بَاب فَضْلِ التَّهْجِيرِ إِلَى الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْأَغَرِّ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ صَاحِبِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَعَدَتْ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَكَتَبُوا مَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَإِذَا رَاحَ الْإِمَامُ طَوَتْ الْمَلَائِكَةُ الصُّحُفَ وَدَخَلَتْ تَسْتَمِعُ الذِّكْرَ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَهَجِّرُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي شَاةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَطَّةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي دَجَاجَةً ثُمَّ كَالْمُهْدِي بَيْضَةً
তাখরীজ: পুর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪. জুমু’আর সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে
১৫৮৩. যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জুমু’আর সালাত্ আদায় করতাম, তারপর ফিরে আসতাম। এরপর আমরা বনী গনম গোত্রের দূর্গের ছায়া দিয়ে দ্রুত যেতাম। আর তখন (দেখতাম) সে ছায়াগুলি কেবলমাত্র আমাদের কদম পরিমাণে (হেলানো) থাকতো।”[1]
بَاب فِي وَقْتِ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ جُنْدُبٍ عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامٍ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَرْجِعُ فَنَتَبَادَرُ الظِّلَّ فِي أُطُمِ بَنِي غَنْمٍ فَمَا هُوَ إِلَّا مَوَاضِعُ أَقْدَامِنَا
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/১৪১ নং ৬৭২; বাইহাকী, জুমু’আ ৩/১৯১; আহমাদ ১/১৬৪, ১৬৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮০ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩১৩৭। তবে এর পরবর্তী হাদীসটি এর শাহিদ।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪. জুমু’আর সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে
১৫৮৪. আইয়াস ইবনে সালামা ইবনুল আকওয়া থেকে তার পিতা (সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’)-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে জুমু’আর সালাত আদায় করার পর যখন ফিরে আসতাম তখন প্রাচীরের এমন কোন ছায়াই পড়তো না, যে ছায়ার নিচে আমরা আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি (অর্থাৎ সূর্য ঢলে যাওয়ার পরপরই নামায পড়া হতো)।[1]
بَاب فِي وَقْتِ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ الْحَارِثِ قَالَ سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَنْصَرِفُ وَلَيْسَ لِلْحِيطَانِ فَيْءٌ يُسْتَظَلُّ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী, ৪১৬৮; মুসলিম, জুমুআ ৮৬০; এছাড়াও দারুকুতনী ২/১৮ নং ২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫১১, ১৫১২।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫. জুমু’আর দিন খুতবা শোনা ও খুতবার সময় চুপ থাকা
১৫৮৫. আওস (রাঃ)হতে বর্ণিত, তিনি এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি জুমুআর দিন উত্তমরূপে (মাথা) ধৌত করবে এবং আগে আগে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসবে এবং (খুতবার সময়) চুপ থাকবে এবং ইমামের (খুতবা) শেষ করা পর্যন্ত যাবতীয় অনর্থক কথা (ও কাজ) হতে বিরত থাকবে, তার জন্য প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের সিয়াম পালন ও রাত জেগে সালাত আদায়ের সমান সওয়াব রয়েছে।”[1]
بَاب فِي الِاسْتِمَاعِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عِنْدَ الْخُطْبَةِ وَالْإِنْصَاتِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ هُوَ ابْنُ خَالِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ يَرُدُّهُ إِلَى أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ يَرُدُّهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ غَدَا وَابْتَكَرَ ثُمَّ جَلَسَ قَرِيبًا مِنْ الْإِمَامِ وَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ حَتَّى يَنْصَرِفَ الْإِمَامُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا كَعَمَلِ سَنَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا
তাখরীজ: ((আহমাদ ৪/১০৪; আবু দাউদ, তাহারাত ৩৪৫; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১০৮৭; বাগাবী শারহুস সুন্নাহ ১০৬৪, ১০৬৫; হাকিম ১/২৮২; তিরমিযী, সালাত ৪৯৬; নাসাঈ ৩/৯৫-৯৬; ইবনু খুযাইমা ১৭৬৭- আরনাউত্বের তাহক্বীক্বকৃত “আল ইহসান” এর ২৭৮১ নং হাদীসের টীকা হতে- অনুবাদক)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫৫৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫. জুমু’আর দিন খুতবা শোনা ও খুতবার সময় চুপ থাকা
১৫৮৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার সাথীকে বল, ’চুপ থাকো’, তবে তুমিও অনর্থক কাজ করলে।”[1]
بَاب فِي الِاسْتِمَاعِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عِنْدَ الْخُطْبَةِ وَالْإِنْصَاتِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৯৩৪; মুসলিম, জুমুআ ৮৫১; মালিক, জুমু’আ (৬)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৪৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৯৩, ২৭৯৫ ও মসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৬। এছাড়া পরবর্তী হাদীস দু’টিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫. জুমু’আর দিন খুতবা শোনা ও খুতবার সময় চুপ থাকা
১৫৮৭. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার সাথীকে বল, ’চুপ থাকো’, তবে তুমিও অনর্থক কাজ করলে।”[1]
بَاب فِي الِاسْتِمَاعِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عِنْدَ الْخُطْبَةِ وَالْإِنْصَاتِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
তাখরীজ: পূর্বের ও পরের হাদীস দুটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫. জুমু’আর দিন খুতবা শোনা ও খুতবার সময় চুপ থাকা
১৫৮৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي الِاسْتِمَاعِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عِنْدَ الْخُطْبَةِ وَالْإِنْصَاتِ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: পূর্বের হাদীস দুটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬. যে ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করে, তার সম্পর্কে
১৫৮৯. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় অথবা, ইমামের বের হওয়ার পর (মসজিদে) আসে, তবে সে যেনো দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়।”[1]
بَاب فِيمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ أَوْ قَدْ خَرَجَ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৯৩০; মুসলিম, জুমুআ ৮৭৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯৪৬, ২২৭৬, ২২৮৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫০০, ২৫০১, ২৫০২ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬. যে ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করে, তার সম্পর্কে
১৫৯০. ইয়ায ইবনু আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) জুমু’আর দিন (মসজিদে) ঢুকলেন, আর মারওয়ান তখন খুতবা দিচ্ছিল। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। মারওয়ানের দেহরক্ষীরা তাঁর কাছে এসে তাঁকে বাধা দিলো। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ দু’ রাকা’আত আদায়ের জন্য আদেশ করতে দেখেছি। ফলে আমি এ দুই রাক’আত কখনও ছাড়তে পারি না।”[1]
بَاب فِيمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ جَاءَ أَبُو سَعِيدٍ وَمَرْوَانُ يَخْطُبُ فَقَامَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَأَتَاهُ الْحَرَسُ يَمْنَعُونَهُ فَقَالَ مَا كُنْتُ أَتْرُكُهُمَا وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ بِهِمَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৯৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫০৩, ২৫০৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৫৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬. যে ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করে, তার সম্পর্কে
১৫৯১. রবী’- যিনি হলেন ইবনু সাবীহ আল বাসরী- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় হাসানকে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর হাসান বলেন, “যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় (মসজিদে) আসে, তবে সে যেনো সংক্ষেপে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমি এ মত পোষণ করি।
بَاب فِيمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الرَّبِيعِ هُوَ ابْنُ صَبِيحٍ الْبَصْرِيُّ قَالَ رَأَيْتُ الْحَسَنَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ وَقَالَ الْحَسَنُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ يَتَجَوَّزُ فِيهِمَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ
তাখরীজ: ((ইবনু মাজাহ, ইক্বামাহ ১১১৪; আবু দাউদ ১১১৭; মুসলিম, জুমু’আ ৮৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৯২; বাইহাকী, জুমু’আ ৩/১৯৪। এছাড়া এর শাহিদ আবী হুরাইরা রা: এর হাদীসটিও সহীহ।- মুসনাদুল মাউসিলী ১৯৪৬ নং এ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে- অনুবাদক।)) মুসনাদুল মাউসিলী ২২৭৬; আর এর তাখরীজের জন্য দেখুন, সেখান থেকে ১৯৪৬, ২১৮৬ নং দুটির টীকা।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭. জুমু’আর দিন খুতবায় কুরআন তিলাওয়াত করা প্রসঙ্গে
১৫৯২. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। তখন তিনি “সূরা সোয়াদ” তিলাওয়াত করলেন। এরপর যখন সিজদা (-এর আয়াত) অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (মিম্বার) হতে অবতরণ করলেন এবং সিজদা করলেন।[1]
بَاب فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ أَخْبَرَنِي خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَرَأَ ص فَلَمَّا مَرَّ بِالسَّجْدَةِ نَزَلَ فَسَجَدَ
তাখরীজ: এটি ১৫০৭ (অনূবাদে ১৫০৪) নং এ গত হয়েছৈ।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৮. খুতবার মধ্যে কথা বলা
১৫৯৩. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জুমু’আর দিন এক লোক মুসজিদে প্রবেশ করলো, আর সেই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি (লোকটিকে) জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কি সালাত আদায় করেছো?” লোকটি বললো, না। তিনি বললেন: “তাহলে তুমি দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নাও।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমিও এ মত পোষণ করি।
بَاب الْكَلَامِ فِي الْخُطْبَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ أَصَلَّيْتَ قَالَ لَا قَالَ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ, ৯৩০; মুসলিম, জুমুআ ৮৭৫। এটি ১৫৯২ (অনূবাদে ১৫৮৯) নং এ গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৯. খুতবা সংক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৫৯৪. আবু ওয়াইল (রহঃ) বলেছেন, আম্মার ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের উদ্দেশ্যে একটি সারগর্ভ অথচ সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। তখন আমরা তাঁকে বললাম, হে আবুল ইয়াকযান! আপনি যদি তা কিছুটা দীর্ঘ করতেন! তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “কোন ব্যক্তির দীর্ঘ সালাত ও সংক্ষিপ্ত খুতবা (ভাষণ) তার প্রজ্ঞার পরিচায়ক। অতএব, তোমরা এ সালাতকে দীর্ঘ করো এবং খুতবা (ভাষণ)-কে সংক্ষিপ্ত করো। কেননা, অবশ্যই কোন কোন ভাষণে যাদুকরি প্রভাব থাকে।”[1]
بَاب فِي قَصْرِ الْخُطْبَةِ
أَخْبَرَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عُصَيْمٍ الْجُعْفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبْجَرَ عَنْ وَاصِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ خَطَبَنَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَأَبْلَغَ وَأَوْجَزَ فَقُلْنَا يَا أَبَا الْيَقْظَانِ لَوْ كُنْتَ نَفَّسْتَ شَيْئًا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ طُولَ صَلَاةِ الرَّجُلِ وَقِصَرَ خُطْبَتِهِ مَئِنَّةٌ مِنْ فِقْهِهِ فَأَطِيلُوا هَذِهِ الصَّلَاةَ وَاقْصُرُوا هَذِهِ الْخُطَبَ وَإِنَّ مِنْ الْبَيَانِ سِحْرًا
তাখরীজ: মুসলিম, জুমু’আ ৮৬৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৪২; তার সূত্রে ইবনু হিব্বান, আস সহীহ নং ২৭৯১।
আমরা এর তাখরীজ পূর্ণভাবে দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬১৮. ১৬২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯৯. খুতবা সংক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৯৫. জাবির ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি। তাঁর সালাত মধ্যম প্রকৃতির এবং তাঁর খুতবাও ছিল মধ্যম প্রকৃতির।[1] (অর্থাৎ অতি দীর্ঘও নয়, আবার অতি সংক্ষিপ্তও নয়)
بَاب فِي قَصْرِ الْخُطْبَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَتْ صَلَاتُهُ قَصْدًا وَخُطْبَتُهُ قَصْدًا
তাখরীজ: মুসলিম, আল জুমু’আ ৮৬৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮০২ তে। আরও দেখুন, মা’রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৬৫০৮।
পরিচ্ছেদঃ ২০০. দুই খুতবার মাঝে বসা
১৫৯৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম দণ্ডায়মান অবস্থায় দু’টি খুতবা দিতেন। আর তিনি এ দু’য়ের (দু’ খুতবার) মাঝখানে বসার মাধ্যমে একটিকে অপরটি হতে আলাদা করতেন।[1]
بَاب الْقُعُودِ بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ وَهُوَ قَائِمٌ وَكَانَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجُلُوسٍ
তাখরীজ: বুখারী. জুমু’আ ৯২০, ৯২৮; নাসাঈ, জুমু’আ ৩/১০৯; মুসলিম, জুমু’আ ৮৬১; তিরমিযী, সালাত ৫০৬; আবু দাউদ, সালাত ১০৯২; আহমাদ ২/৯৮। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০০. দুই খুতবার মাঝে বসা
১৫৯৭. জাবির ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুতবা ছিলো দু’টি। আর তিনি উভয় খুতবার মাঝখানে বসতেন, (খুতবায়) কুরআন পাঠ করতেন এবং লোকদেরকে উপদেশ দিতেন।[1]
بَاب الْقُعُودِ بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ كَانَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَتَانِ يَجْلِسُ بَيْنَهُمَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/১১২; মুসলিম, জুমু’আ ৮৬২; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮০৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০১. খুতবার মাঝে ইমাম কিভাবে ইশারা করবেন
১৫৯৮. হুসাইন হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিশর ইবনু মারওয়ানকে মিম্বারের উপর (দু’আর জন্য) দু’হাত উঠানো অবস্থায় দেখে বলেন, আল্লাহ এই হাত দু’টিকে ধ্বংস করুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিম্বারের উপর (খুতবা দিতে) দেখেছি। কিন্তু তিনি (দু’আর সময়) কেবলমাত্র তাঁর (শাহাদত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।[1]
بَاب كَيْفَ يُشِيرُ الْإِمَامُ فِي الْخُطْبَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ قَالَ رَأَى عُمَارَةُ بْنُ رُوَيْبَةَ بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ رَافِعًا يَدَيْهِ فَقَالَ قَبَّحَ اللَّهُ هَذِهِ الْيَدَيْنِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَمَا يُشِيرُ إِلَّا بِأُصْبُعِهِ
তাখরীজ: মুসলিম, জুমু’আ ৮৭৪; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৮২ তে। এছাড়া পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০১. খুতবার মাঝে ইমাম কিভাবে ইশারা করবেন
১৫৯৯. হুসাইন ইবনু আব্দুর রহমান উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তিনি (উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ) বিশর ইবনু মারওয়ানকে জুমু’আর দিন মিম্বারের উপর দু’আর জন্য দু’হাত উঠানো অবস্থায় দেখলেন। তখন তিনি তাকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিম্বারের উপর (খুতবা দিতে) দেখেছি। তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা এরূপ করা ব্যতীত (দু’আতে) আর কিছুই করতেন না।” আর (এ বলে) তিনি তার শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা কটিদেশের নিকটে ইশারা করলেন।[1]
بَاب كَيْفَ يُشِيرُ الْإِمَامُ فِي الْخُطْبَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ قَالَ رَأَى بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ فَسَبَّهُ وَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَمَا يَقُولُ بِأُصْبُعِهِ إِلَّا هَكَذَا وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ عِنْدَ الْخَاصِرَةِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২০২. খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের অবস্থান
১৬০০. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিম্বার তৈরীর পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠ খণ্ডের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন। তারপর যখন মিম্বর তৈরী করা হল, তখন এই কাষ্ঠখণ্ডটি এমনভাবে কাঁদতে লাগল যে, আমরা এর কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটির উপর তাঁর হাত রাখলেন, ফলে এটি শান্ত হল।”[1]
بَاب مَقَامِ الْإِمَامِ إِذَا خَطَبَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُومُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يُجْعَلَ الْمِنْبَرُ فَلَمَّا جُعِلَ الْمِنْبَرُ حَنَّ ذَلِكَ الْجِذْعُ حَتَّى سَمِعْنَا حَنِينَهُ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَسَكَنَ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব, নং ৩৫৮৫। এর মূল রয়েছে বুখারী, নং ৪৪৯, ৯১৪, ২০৯৫, ৩৫৮৪, ৩৫৮৫ তে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫০৮ তে। ((আহমাদ, আল মুসনাদ ৩/২৯৩; বুখারী ৪৪৯; সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫০৮- - ফাতহুল মান্নান, নং ৩৪ এর টীকা- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২০২. খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের অবস্থান
১৬০১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিম্বার বানানোর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠ খণ্ডের নিকট (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। তারপর যখন মিম্বার বানানো হলো এবং তিনি এর দিকে স্থানান্তরিত হলেন, তখন কাষ্ঠ খণ্ডটি কান্নাজুড়ে দিল। তিনি যখন এটিকে আলিঙ্গন করলেন, অতঃপর এটি শান্ত হল। তখন তিনি বললেন: ’আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে তা অবশ্যই কিয়ামত পর্য়ন্ত (এভাবে) কাঁদতে থাকত।’[1]
بَاب مَقَامِ الْإِمَامِ إِذَا خَطَبَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يَتَّخِذَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ تَحَوَّلَ إِلَيْهِ حَنَّ الْجِذْعُ فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ وَقَالَ لَوْ لَمْ أَحْتَضِنْهُ لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: এটি ৩৯ নং এ গত হয়েছে। ((আহমাদ, আল মুসনাদ ১/২৪৯, ২৬৩, ২৬৭; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৮৪ নং ১১৭৯৫; আবদ্ ইবনু হুমাইদ ১৩৩৬; বুখারী, আল কাবীর ৭/২৬; তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর ১২/১৮৭ নং ১২৮৪১।- ৩৯ নং হাদীসের টীকা অনুযায়ী- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২০২. খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের অবস্থান
১৬০২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب مَقَامِ الْإِمَامِ إِذَا خَطَبَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: এটি ৪০ নং এ গত হয়েছে। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ২০২. খুতবা দেওয়ার সময় ইমামের অবস্থান
১৬০৩. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন মদীনার লোকসংখ্যা বেড়ে গেলো। এক একজন করে লোক আসতে শুরু করলো, অতঃপর লোকেরা দলে দলে আগমন করতে লাগলো। ফলে তারা (দূরবর্তীতার কারণে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী শুনতে সক্ষম হচ্ছিল না। ফলে তারা তাঁর নিকট হতে ফিরে চলে যেতে লাগলো। তখন লোকজন তাঁকে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (মদীনায়) অধিবাসী সংখ্যা তো বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনো আগত ব্যক্তি এসে আপনার কথা শুনতে পাচ্ছে না। তখন তিনি বললেন: “তাহলে তোমাদের কী ইচ্ছা?” এরপর তিনি আনসারদের নাজ্জার গোত্রের এক মহিলার গোলামের নিকট লোক পাঠালেন আর (মদীনা থেকে নয় মাইল দূরবর্তী) গাবা নামক স্থানের পাশ্ববর্তী অঞ্চলের দিকেও (পাঠালেন)। ফলে তারা তাঁর জন্য দু’টি কিংবা তিনটি সিঁড়ি (বিশিষ্ট একটি মিম্বার) বানালো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর বসতেন এবং এর উপর (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিতেন। যখন তারা সেটি (মিম্বার তৈরী) করলো, তখন যে কাষ্ঠ খণ্ডটির নিকট দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেই কাষ্ঠ খণ্ডটি কাঁন্না জুড়ে দিলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে তার নিকট গেলেন এবং তার উপর তাঁর হাত রাখলেন, অতঃপর সেটি শান্ত হল।[1]
بَاب مَقَامِ الْإِمَامِ إِذَا خَطَبَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ لَمَّا كَثُرَ النَّاسُ بِالْمَدِينَةِ جَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ وَالْقَوْمُ يَجِيئُونَ فَلَا يَكَادُونَ أَنْ يَسْمَعُوا كَلَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يَرْجِعُوا مِنْ عِنْدِهِ فَقَالَ لَهُ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ كَثُرُوا وَإِنَّ الْجَائِيَ يَجِيءُ فَلَا يَكَادُ يَسْمَعُ كَلَامَكَ قَالَ فَمَا شِئْتُمْ فَأَرْسِلْ إِلَى غُلَامٍ لِامْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ نَجَّارٍ وَإِلَى طَرْفَاءِ الْغَابَةِ فَجَعَلُوا لَهُ مِرْقَاتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ عَلَيْهِ وَيَخْطُبُ عَلَيْهِ فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ حَنَّتْ الْخَشَبَةُ الَّتِي كَانَ يَقُومُ عِنْدَهَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَسَكَنَتْ
তাখরীজ: এটি ৪১ নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ৯১৭; মুসলিম ৫৪৪; ইবনু মাজাহ ১৪১৬; ইবনু আবী শাইবাহ ১১/৪৮৫ নং ১১৭৯৬- ৪১ নং এর টীকা হতে- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ২০৩. জুমু’আর সালাতের কিরাআত
১৬০৪. উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবা থেকে বর্ণিত, দাহহাক ইবনু কায়িস নু’মান ইবনু বাশীর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর দিন সূরা জুমু’আর পরে (দ্বিতীয় রাকা’আতে) আর কোন্ সূরা পাঠ করতেন?তিনি বললেন: [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।”][1] (সূরা গশিয়াহ:১)
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ سَأَلَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيَّ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى إِثْرِ سُورَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ
তাখরীজ: মালিক, জুমু’আহ ২১; মুসলিম, জুমু’আ ৮৭৮; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীস দুটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০৩. জুমু’আর সালাতের কিরাআত
১৬০৫. (অপর সূত্রে) উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবা থেকে বর্ণিত, দাহহাক ইবনু কায়িস আল ফিহরী বলেন, আমরা নু’মান ইবনু বাশীর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে জুমু’আর দিন বর্ণিত সূরা- তথা সূরা জুম’আহ’র সাথে (দ্বিতীয় রাকা’আতে) আর কোন্ সূরা পাঠ করতেন?তিনি বললেন: তিনি এর (সূরা জুমু’আর) সাথে পাঠ করতেন, [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।”][1] (সূরা গশিয়াহ: ১)
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ الْفِهْرِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَأَلْنَاهُ مَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِمْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مَعَ السُّورَةِ الَّتِي ذُكِرَتْ فِيهَا الْجُمُعَةُ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ مَعَهَا هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া, সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৪৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০৩. জুমু’আর সালাতের কিরাআত
১৬০৬. নূমান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদে এবং জুমু’আর সালাতে [“সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ’লা”-(সূরা আ’লা:১)] এবং [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।”] (সূরা গশিয়াহ: ১)পাঠ করতেন । রাবী বলেন, ঈদ ও জুমু-আ একই দিনে একত্রিত হয়ে পড়লে উক্ত সূরা দু-টি উভয় সালাতে পাঠ করতেন ।[1]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فَقَرَأَ بِهِمَا
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, জুমু’আহ ৮৭৮ (৬৩); সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৪৫; পূর্ণ তাখরীজের জন্য সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮০৭, ২৮২০, ২৮২১ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০৪. (বিশেষ) একটি মুহুর্ত যা জুমু’আর দিনে রয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছে
১৬০৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা’ব এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করতে আরম্ভ করলাম, আর সে তাওরাত থেকে বর্ণনা করতে লাগলো। এভাবে চলতে চলতে আমরা যখন জুমু’আর প্রসঙ্গে পৌঁছলাম, তখন আমি তাকে বললাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই এতে (জুমু’আর দিবসে) এমন একটি মুহুর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম বান্দা সেই সময়ে সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কল্যাণকর কোনো কিছু চায়, তবে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা প্রদান করেন।”[1]
بَاب السَّاعَةِ الَّتِي تُذْكَرُ فِي الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ مَخْلَدِ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ الْتَقَيْتُ أَنَا وَكَعْبٌ فَجَعَلْتُ أُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعَلَ يُحَدِّثُنِي عَنْ التَّوْرَاةِ حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ذِكْرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِيهَا لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আ নং ৯৩৫; মুসলিম, জুমু’আ ৮৫২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৭২, ২৭৭৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০১৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৫. যে ব্যক্তি ‘ওযর’ (শরীয়তসম্মত কারণ) ব্যতীত জুমু’আ পরিত্যাগ করে, তার সম্পর্কে
১৬০৮. আবদুল্লাহ ইবনে উমার ও আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর মিম্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: “লোকদেরকে নিশ্চয়ই জুমু’আর সালাত পরিত্যাগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন, অতঃপর তারা বিস্মৃতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”[1]
بَاب فِيمَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ سَلَّامٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلَّامٍ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مِينَا أَنَّ ابْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ وَأَبَا هُرَيْرَةَ أَنَّهُمَا سَمِعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدَعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১০৫৪; মুসলিম, জুমু’আ ৮৬৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/২৩১, ২৩২; বাইহাকী, জুমু’আ ৩/১৭১।...
এ বাবে ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আর আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৪২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৮৫; মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫৫ তে। আরও দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ২/১৫৪ ও মুশকিলিল আছার ৪/২৩১ ও সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১৮৫৫।
পরিচ্ছেদঃ ২০৫. যে ব্যক্তি ‘ওযর’ (শরীয়তসম্মত কারণ) ব্যতীত জুমু’আ পরিত্যাগ করে, তার সম্পর্কে
১৬০৯. আবুল জা’দ্ আদ-যামরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি একটি জুমুআ (-এর সালাত) এর প্রতি অবহেলাবশত: বা অবজ্ঞাভরে পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন।”[1]
بَاب فِيمَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبِيدَةَ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ
তাখরীজ: ((আবু দাউদ ১০৫২; তিরমিযী ৫০০; নাসাঈ, জুমু’আ বাব (২); ইবনু মাজাহ, ১১২৫; আহমাদ ৩/৪২৪; এছাড়া আবী কাতাদা রা: হতে আহমাদ ও হাকিম এবং জাবির রা: হতে আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ ও হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন।- ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী, হা/১৫৭১ এর টীকা দেখুন।- অনুবাদক))
আমরা এটি পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬০০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৮; মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫, ৬২ ৫৫৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৬. জুমু’আর ফযীলত
১৬১০. আওস ইবন আওস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে জুমুআর দিন। এই দিনেই হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয় এবং ঐ দিনেই শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। আর ঐ দিনেই (সমস্ত সৃষ্টিকুল) বেহুঁশ্ হবে। অতএব, তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক পরিমাণে সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, কেননা তোমাদের সালাতসমূহ (দরূদ) আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার দেহ তো পচে-গলে যাবে, অর্থাৎ ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। এমতাবস্থায় আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? তিনি বললেনঃ “আল্লাহ নবীগণের দেহসমূহ মাটির জন্য (বিনষ্ট করা) হারাম করে দিয়েছেন।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَفْضَلَ أَيَّامِكُمْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ يَعْنِي بَلِيتَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১০ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৫৫০, আবার এর কতকগুলি শাহিদও উল্লেখ করেছি।
((আবু দাউদ ১০৪৭; নাসাঈ৩/৯১-৯২; ইবনু মাজাহ নং ১০৮৫; ইবনু খুযাইমা নং ১৭৩৩; ইবনু হিব্বান নং ৫৫০০; হাকিম ১/২৭৮। হাকিম একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। মুনযিরী, ইবু হাজার একে হাসান বলেছেন। আর নববী, আল আযকার’ এ একে সহীহ বলেছেন।-- ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী, হা/১৫৭২ এর টীকা থেকে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২০৭. বা’দাল জুমু’আ (জুমু’আর পরের সুন্নাত/নফল) সালাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছ
১৬১১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর সালাতের পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।”[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ
তাখরীজ: এটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিত বর্ণনা। এটি ১৪৭৭ (অনূবাদে ১৪৭৩) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৭. বা’দাল জুমু’আ (জুমু’আর পরের সুন্নাত/নফল) সালাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছ
১৬১২. সালিমের পিতা (ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর সালাতের পরে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করতেন।”[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ
তাখরীজ: ((বুখারী জুমু’আ ৯৩৭; মুসলিম জুমু’আ ৮৮২)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৩৫ তে। আর এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২০৭. বা’দাল জুমু’আ (জুমু’আর পরের সুন্নাত/নফল) সালাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছ
১৬১৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমু’আর সালাতের পরে সালাত আদায় করবে, সে যেন এরপর চার রাকা’আত সালাত আদায় করে।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমি জুমু’আর পরে দু’ রাকা’আত অথবা চার রাকা’আত সালাত আদায় করি।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعًا
তাখরীজ: মুসলিম, জুমু’আ ৮৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৭৭, ২৪৭৮, ২৪৭৯, ২৪৮০, ২৪৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৮. বিতর সম্পর্কে
১৬১৪. খারিজা ইবনু হুযাফাহ আল আদাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে বললেন: “আল্লাহ তোমাদের জন্য একটি সালাত বৃদ্ধি করেছেন, যা লাল রংয়ের চতুস্পদ জন্তু হতেও উত্তম। আর তিনি তোমাদের জন্য একে নির্ধারণ করেছেন ঈশার সালাত হতে শুরু করে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়ের মাঝে।”[1]
بَاب فِي الْوِتْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثٌ هُوَ ابْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ الزَّوْفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُرَّةَ الزَّوْفِيِّ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَمَدَّكُمْ بِصَلَاةٍ هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ جَعَلَهُ لَكُمْ فِيمَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ
তাখরীজ: আবু দাউদ, সালাত ১৪১৮; তাবারাণী, কাবীর ৪/২১১ নং ৪১৩৬; হাকিম ১/৩০৬; তিরমিযী, সালাত ৪৫২; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৬৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৩০; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/৯২০; দারুকুতনী, সুনান ২/৩০; তার সূত্রে ইবনুল জাউযী, আল ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ নং ৭৬৯; বাইহাকী, সালাত ২/৪৬৯, ৪৭৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯৭৫; ইবনু আবী শাইবা ২/২৯৬-২৯৭;
তিরমিযী বলেন: খারিজা ইবনু হুযাফাহ এর হাদীস গারীব। আমরা ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব ব্যতীত আর কারো সূত্রে এটি জানতে পারিনি।’
আমি বলি: কিন্তু ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য), ফকীহ। আর তার একাকী বর্ণনা করাটা এ হাদীসের কোনো ঘাটতি (ক্ষতি) করে না। আল্লাহই ভাল জানেন।
হাকিম বলেন: এ হাদীসটির সনদ সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি.....। যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
......
আর এ হাদীসের শাহিদ হাদীস দেখুন, নাসবুর রায়াহ ২/১০৮-১১২; তালখীসুল হাবীর ২/১৬; দিরায়াহ ১/১৮৮-১৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৮. বিতর সম্পর্কে
১৬১৫. জুমাহী - যিনি শামে বসবাস করতেন এবং মুওয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন- তিনি বর্ণনা করেন যে, বনী কিনানা’র অপরিণত অবস্থায় জন্ম গ্রহণকারী এক ব্যক্তি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, শামে আবূ মুহাম্মদ নামে এক লোক ছিল। তিনি তার সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। (একদা) সেই লোকটি তাকে জানাল যে, বিতর (সালাত) ওয়াজিব। অপরিণত অবস্থায় জন্ম গ্রহণকারী লোকটি ’উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট চলে গেলেন এবং তাঁর নিকট এ বিষয়টি উত্থাপন করলেন। তখন উবাদা রা: বলেন, আবূ মুহাম্মদ মিথ্যা (ভূল) বলেছে। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি সালাতের কোন হককে গুরুত্বহীন বিবেচনা করে নষ্ট না করে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, নিশ্চয় তার জন্য আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার হলো, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি তা (সালাতের হক নষ্ট করবে কিংবা যথাযথভাবে সালাত) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর নিকট কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন, আর ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”[1]
بَاب فِي الْوِتْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ الْقُرَشِيَّ ثُمَّ الْجُمَحِيَّ أَخْبَرَهُ وَكَانَ يَسْكُنُ بِالشَّامِ وَكَانَ أَدْرَكَ مُعَاوِيَةَ أَنَّ الْمُخْدَجِيَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُكْنَى أَبَا مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ فَرَاحَ الْمُخْدَجِيُّ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ مَنْ أَتَى بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْ حَقِّهِنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ جَاءَ وَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৩১, ১৭৩২, ২৭১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫২, ২৫৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯১ তে। এছাড়াও: তায়ালিসী ১/৬৬-৬৭ নং ২৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩/১৪৩-১৪৪ নং ৩১৪০।
((আবু দাউদ, বিতর ১৪২০; নাসাঈ, সালাত বাব:৬; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৪০১; আহমাদ ৪/২৪২ ও ৫/৩১৫, ৩১৯, ৩২২; হাকিম ও ইবনু হিব্বান- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী হা/১৫৭৭ এর টীকা হতে-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২০৮. বিতর সম্পর্কে
১৬১৬. তালহা ইবন ’উবাদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একজন গ্রাম্য আরব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলেন, যার মাথা (-এর চুল) ছিল বিক্ষিপ্ত (এলোমেলো)। তারপর তিনি বললেন, ইয়ারাসুলুল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কী কী সালাত ফরজ করেছেন? তিনি বললেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত এবং সিয়াম।” রাবী বলেন, এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ইসলামের (ফরয) বিধানসমূহ জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর অতিরিক্ত আর কিছুই করব না এবং এর থেকে কিছু কমাবোও না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বললেনঃ “তার পিতার শপথ, সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল” কিংবা বলেছেন: “তার পিতার শপথ, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।”[1]
بَاب فِي الْوِتْرِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَائِرَ الرَّأْسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ قَالَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَالصِّيَامَ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَرَائِعِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ وَالَّذِي أَكْرَمَكَ لَا أَتَطَوَّعُ شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৪৬; মুসলিম, ঈমান ১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, আস সহীহ নং ৩০৬; ইবনু মানদাহ, আত তাওহীদ ১/২৭৯ নং ১৩৪; ইবনু বিশকাল, গাওয়াযুল আসমা নং ১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৪, ৩২৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৮. বিতর সম্পর্কে
১৬১৭. আসিম ইবনু জামরাহ বলেন, আমি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় বিতির (ফরয) সালাতের ন্যায় বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি একটি সুন্নাত। তাই তোমরা এটি পরিত্যাগ করো না।[1]
بَاب فِي الْوِتْرِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ ضَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَالصَّلَاةِ وَلَكِنَّهُ سُنَّةٌ فَلَا تَدَعُوهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০৯. বিতর আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান
১৬১৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন ’বিতর’ বা বেজোড় (অর্থাৎ এক); আর তাই তিনি বিতর (বেজোড়) কে পছন্দ করেন।”[1]
بَاب الْحَثِّ عَلَى الْوِتْرِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى عَنْ هِقْلِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
তাখরীজ: বুখারী, শুরুত্ব ২৭৩৬; মুসলিম, যিকির ওয়াদ দু’আ ২৬৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৭ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮০৭, ৮০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৮৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬১৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের সালাত ছিল তেরো রাকা’আত, এবং এর মধ্যে তিনি পাঁচ রাকা’আত বিতর আদায় করতেন। এছাড়া, তিনি এ পাঁচ রাকা’আতের মধ্যে আর কোথাও বসতেন না, এমনকি তিনি (কেবলমাত্র) শেষ (রাকা’আতে/ বৈঠকে) বসতেন, এরপর সালাম ফিরাতেন।[1]
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ صَلَاتُهُ مِنْ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِخَمْسٍ لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ مِنْ الْخَمْسِ حَتَّى يَجْلِسَ فِي الْآخِرَةِ فَيُسَلِّمَ
তাখরীজ: বুখারী, তাহাজ্জুদ ১১৪০; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৩৬; আমরা এর সকল সনদ একত্রিত করেছি এবং এর উপর টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫০ তে। আরও দেখুন, ৪৫২৬, ৪৬৫৭, ৪৭৩৭, ৪৭৮৭ নং গুলো।
এছাড়াও তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৩০, ২৪৩৭, ২৪৩৯, ২৪৪০, ২৬১২, ২৬১৩, ২৬১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬২০. আবী আইয়্যূব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ “তুমি বিতির আদায় করো পাঁচ রাকা’আত; যদি তুমি তা করতে সক্ষম না হও, তবে তিন রাকা’আত। যদি তুমি তাও করতে সক্ষম না হও, তবে এক রাকা’আত। যদি তুমি তাও করতে সক্ষম না হও, তবে (মাথা কিংবা চোখ দ্বারা) একবার ইশারা করো।”[1]
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْتِرْ بِخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَبِثَلَاثٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَبِوَاحِدَةٍ فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَأَوْمِ إِيمَاءً
তাখরীজ: ((নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল, বাব: ৪০; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৯০; আহমাদ ৫/৩৫৬- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী হা/১৫৭৭ এর টীকা হতে-অনুবাদক))
তায়ালিসী ১/১১৯-১২০ ৫৫৮ -৫৫৯ নং এর মাঝে নম্বরবিহীনভাবে।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৭ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮০৭, ৮০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৮৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬২১. আবী আইয়্যূব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তিনি অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬২২. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তখন তিনি বললেন: “দু’- দু’ রাকা’আত করে। আর যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন সে যেন এক রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়, যা তার (পূর্বে) আদায়কৃত সালাতকে বিতর (বিজোড়) করে দেবে।”[1]
আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ।
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ فَقَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ مَا قَدْ صَلَّى قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: এটি ১৫০০ (অনূবাদে ১৪৯৭) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ৪৭২; মুসলিম ৭৪৯। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬২৩, ৫৪৩১, ৫৪৯৪, ৫৬১৮, ৫৬২০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪২৬, ২৬১৯, ২৬২০, ২৬২৩, ২৬২৪ তে।- ১৪৯৭ নং এর টীকা হতে- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬২৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত ও ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে এগারো রাকা’আত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি এর প্রত্যেক দু’ রাকা’আতে সালাম ফেরাতেন। এক রাকা’আত বিতর পড়তেন।[1]
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
خْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১৪৮৭ (অনূবাদে ১৪৮৪) নং এ। ((বুখারী, তাহাজ্জুদ, ১১৩৭; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন, ৭৪৯; তিরমিযী ৪৩৭; মালিক, সালাতুল লাইল হা/১৩- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৫৮৫ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১০. বিতর কত রাকা’আত
১৬২৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন রাকা’আত বিতর পড়তেন [“সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা” সূরা আ’লা: ১], [“ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূণ।” সূরা কাফিরূণ: ১] এবং [“ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।” সূরা ইখলাছ: ১] দ্বারা।[1]
بَاب كَمْ الْوِتْرُ
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৫৫ তে। (( তিরমিযী, আবওয়াবুস সালাত ৪৬২; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/১৩৬; ইবনু মাজাহ, আহমাদ- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৫৮৬ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১১. বিতরের ওয়াক্ত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৬২৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সকল অংশেই (প্রথম রাতে, মধ্য রাতে এবং শেষ রাতে) বিতর আদায় করেছেন। এবং (জীবনের) শেষের দিকে এসে তিনি সেহেরীর সময় বিতর আদায় করতেন।”[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي وَقْتِ الْوِتْرِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فِي كُلِّ الْوَقْتِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ৯৯৬; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৪২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৪৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১১. বিতরের ওয়াক্ত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৬২৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন: “তোমরা ফজরের (সুবহে সাদিকের) পূর্বে বিতর আদায় করো।”[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي وَقْتِ الْوِتْرِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو نَضْرَةَ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْوِتْرِ فَقَالَ أَوْتِرُوا قَبْلَ الْفَجْرِ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৭১; তায়ালিসী ১/১১৯ নং ৫৫৪; আবূ আউয়ানাহ ২/৩০৯; ইবনু আবী শাইবা ২/২৮৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৫৪; বাইহাকী, সালাত ২/৪৭৮; ইবনু খুযাইমা নং ১০৮৯; হাকিম ১/৩০১; আব্দুর রাযযাক নং ৪৫৮৯;তিরমিযী, সালাত ৪৬৮; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/২৩১; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/৬১।
পরিচ্ছেদঃ ২১২. বিতরের সালাতের কিরা’আত
১৬২৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন রাকা’আত বিতর পড়তেন। এর প্রথম রাকা’আতে তিনি [“সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা” সূরা আ’লা: ১], দ্বিতীয় রাকা’আতে [“ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূণ।” সূরা কাফিরূণ: ১] এবং তৃতীয় রাকা’আতে [“ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।” সূরা ইখলাছ: ১] পাঠ করতেন।[1]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي الْوِتْرِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ زَكَرِيَّاءُ حَدَّثَنِي عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ يَقْرَأُ فِي الْأُولَى بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَفِي الثَّانِيَةِ بِقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَفِي الثَّالِثَةِ بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
তাখরীজ: এটি ১৬২৭ (অনূবাদে ১৬২৩) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৩. সাওয়ারীর পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতর আদায়
১৬২৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতরের সালাত আদায় করতেন।[1]
আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।
بَاب الْوِتْرِ عَلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُوتِرُ عَلَى الْبَعِيرِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ৯৯৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭০০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪১৩, ২৫১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৪. কুনুতের দু’আ
১৬২৯. আবীল হাওরা’ আস সা’দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন্ বিষয়টি স্মরণে রেখেছেন?
তিনি বললেন: তিনি আমাকে তাঁর কাঁধে বহন করছিলেন, তখন আমি সাদাকা’র খেজুর থেকে একটি খেজুর তুলে নিয়েছিলাম। অতঃপর তা আমার মুখে পুরে দিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: “সেটি ছুঁড়ে ফেলে দাও। তুমি কি জানো না যে, আমাদের জন্য সাদাকাহ হালাল নয়?”
তিনি বলেন, আর তিনি এ দু’আটি দিয়ে দু’আ করতেন: “আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফী মান হাদাইতা, ওয়া ’আফিনী ফী মান ’আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফী মান তাওয়াল্লাইতা। ওয়া বারিক লী ফী মা আ’ত্বইতা, ওয়া ক্বিনী শারর মা ক্বযাইতা। ইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইয়্যূক্বযা আলাইকা। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, তাবারকতা ওয়া তা’আলাইতা।”[1]
(অর্থ: হে আল্লাহ আপনি যাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন, আমাকে তাদের সাথে হেদায়েত করুন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে নিরাপত্তা দান করুন। আপনি যাদেরকে আপনার নৈকট্য দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে আপনার নৈকট্য দান করুন। আর আপনি আমাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন। আর আপনি যে (তাক্বদীর) নির্ধারণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আমাকে বাঁচান। আপনিই নির্ধারণ করেন, আপনার বিরুদ্ধে নির্ধারণ করা যায় না। আর নিশ্চয়ই আপনি যাকে নৈকট্য দান করেছেন, তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। আর আপনি মহা বরকতময় এবং সর্বোচ্চ মহান।)
بَاب الدُّعَاءِ فِي الْقُنُوتِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ مَا تَذْكُرُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَمَلَنِي عَلَى عَاتِقِهِ فَأَخَذْتُ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَأَدْخَلْتُهَا فِي فَمِي فَقَالَ أَلْقِهَا أَمَا شَعَرْتَ أَنَّا لَا تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ قَالَ وَكَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৫৯, ৬৭৬২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯৪৫ ও মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৫১২,৫১৩; পরবর্তী হাদীস দু’টিও দেখুন। ((আবু দাউদ, সালাত ১৪২৫-১৪২৬; তিরমিযী, আবওয়াবুস সালাত ৪৬৪; নাসাঈ, কিয়ামুল লাইল ৩/২৪৯; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১১৭৮; আহমাদ ১/১৯৯-২০০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা পৃ: ১৪২; মারওয়াযী, বিতর পৃ: ১৩৪; হাকিম, ৩/১৭২ ও ৪/৯৯; বাইহাকী, সুনান ২/২০৯; হাকিম একে সহীহ বলেছেন। শাইখ আহমেদ শাকিরও (তাহক্বীক্ব: তিরমিযী ২/৩২৯ তে) একে সহীহ বলেছেন।- ফাওয়ায আহমেদের টীকা, দারেমী হা/১৫৯৩।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১৪. কুনুতের দু’আ
১৬৩০. হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছু (দু’আর) বাক্যাবলী শিখিয়েছিলেন, যেগুলো আমি কুনুতে পড়ি।’ এরপর তিনি (পূর্বের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।[1]
بَاب الدُّعَاءِ فِي الْقُنُوتِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي الْقُنُوتِ فِي الْوِتْرِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১৪. কুনুতের দু’আ
১৬৩১. (অপর সনদে) হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছু (দু’আর) বাক্যাবলী শিখিয়েছিলেন, যেগুলো আমি বিতরের কুনুতে পড়ি। (তা হলো:) “আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফী মান হাদাইতা, ওয়া ’আফিনী ফী মান ’আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফী মান তাওয়াল্লাইতা। ওয়া বারিক লী ফী মা আ’ত্বইতা, ওয়া ক্বিনী শারর মা ক্বযাইতা। ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইয়্যূক্বযা আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, তাবারকতা ওয়া তা’আলাইতা।”[1]
((অর্থ: হে আল্লাহ আপনি যাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন, আমাকে তাদের সাথে হেদায়েত করুন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে নিরাপত্তা দান করুন। আপনি যাদেরকে আপনার নৈকট্য দান করেছেন, আমাকেও তাদের সাথে আপনার নৈকট্য দান করুন। আর আপনি আমাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন। আর আপনি যে (তাক্বদীর) নির্ধারণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আমাকে বাঁচান। আপনিই নির্ধারণ করেন, আপনার বিরুদ্ধে নির্ধারণ করা যায় না। আর নিশ্চয়ই আপনি যাকে নৈকট্য দান করেছেন, তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। আর আপনি মহা বরকতময় এবং সর্বোচ্চ মহান।))
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবুল হাওরা’র নাম রবী’আ ইবনু শাইবান।
بَاب الدُّعَاءِ فِي الْقُنُوتِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو الْحَوْرَاءِ اسْمُهُ رَبِيعَةُ بْنُ شَيْبَانَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১৫. বিতর সালাতের পরে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় প্রসঙ্গে
১৬৩২. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “(রাত্রি) জাগরণ অতি কষ্টকর এবং অত্যন্ত ভারী। ফলে যখন তোমাদের কেউ বিতর আদায় করে, এরপর সে যেন দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়। এরপর যদি সে রাতে (সালাতে) দণ্ডায়মান হতে পারে, (তবে তো ভালো); নতুবা এ দু’ রাকা’আতই তার জন্য (যথেষ্ট) হবে।”[1]
আর বর্ণিত হয়েছে: هَذَا السَّفَرَ (এই সফর)। তবে আমি বলি: السَّهَرَ (রাত্রি জাগরণ)।
بَاب فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْوِتْرِ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ثَوْبَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ هَذَا السَّهَرَ جَهْدٌ وَثِقَلٌ فَإِذَا أَوْتَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ قَامَ مِنْ اللَّيْلِ وَإِلَّا كَانَتَا لَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৮৩; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩০২১, ৩৫২৪ তে। ((ইহসান, ৪/১২২ নং ২৫৬৮; ইবনু খুযাইমা ২/১৫৯ নং ১১০৬; বাযযার ১/৩৩৩ নং ৬৯২; তাবারাণী, কাবীর ২/৯২ নং ১৪১০; বাইহাকী, সালাত ৩/৩৩; হাইছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৬৩ তিনি বলেন: এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন, এতে লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ রয়েছে; তার দলীলযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।... মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৮৩ নং এ টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১৬. রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পাঠ করা
১৬৩৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো বিপক্ষে বদদু’আ করার ইচ্ছা করতেন কিংবা কারো জন্য দু’আ করতে চাইতেন, তখন তিনি রুকূ’র পরে ’কুনুত’ পড়তেন। কখনো “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু’” বলার পরেই তিনি (দু’আয়) বলতেন: ’’হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনুল ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবূ রবীআ ও (মক্কা’র) অসহায় মু’মিনদের নাজাত (মুক্তি) দিন। হে আল্লাহ্! মুযার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও জোরদার করুন এবং তাদের উপর ইউসুফ (আ:) এর সময়কার দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দিন।’’ তিনি উচ্চ স্বরে এ দু’আ করতেন। আর তিনি আরবের গোত্রসমূহের মধ্য থেকে কোনো কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে ফজরের সালাতে (দু’আ কুনুতে) বলতেন: “হে আল্লাহ! অমুক অমুকের উপর লা’নত বর্ষণ করুন।” ফলে আল্লাহ তা’আলা (এ আয়াত) নাযিল করলেন: [“এ কার্যে তোমার কোনোই কর্তৃত্ব নেই যে, তিনি তাদেরকে ক্ষমা করেন অথবা শাস্তি প্রদান করেন; কেননা, নিশ্চয়ই তারা অত্যাচারী।”][1] (সূরা: আলে ইমরান: ১২৮)
بَاب فِي الْقُنُوتِ بَعْدَ الرُّكُوعِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى أَحَدٍ أَوْ يَدْعُوَ لِأَحَدٍ قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ فَرُبَّمَا قَالَ إِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ وَيَجْهَرُ بِذَلِكَ يَقُولُ فِي بَعْضِ صَلَاتِهِ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا لِحَيَّيْنِ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى لَيْسَ لَكَ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৭৯৭, দাওয়াত ৬৩৯৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭৩, ৫৯৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৭২, ১৯৮৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৬৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৬. রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পাঠ করা
১৬৩৪. আসিম রাহি. বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ’কুনুত’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি উত্তরে বললেন: “(তা) রুকূ’র পূর্বে।” তিনি (আসিম) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, অমুকের ধারণা, আপনি নাকি বলেছেন, (তা হচ্ছে) রুকূ’র পরে। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে) এক মাস ধরে রুকূ’র পরে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়েছেন। আর এতে তিনি বনী সুলাইম গোত্রের বিরূদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন।[1]
بَاب فِي الْقُنُوتِ بَعْدَ الرُّكُوعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنْ الْقُنُوتِ فَقَالَ قَبْلَ الرُّكُوعِ قَالَ فَقُلْتُ إِنَّ فُلَانًا زَعَمَ أَنَّكَ قُلْتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ قَالَ كَذَبَ ثُمَّ حَدَّثَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ يَدْعُو عَلَى حَيٍّ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ
তাখরীজ: বুখারী, বিতর ১০০১, ১০০২, ১০০৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯২১, ৩০২৮, ৩০৫৭, ৩০৬৯, ৩০৮২, ৩০৯৬, ৩১১৫, ৩২৩১, ৩৯১৬, ৩৯৯৪, ৪০০০, ৪০২৬, ৪০৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৭৩, ১৯৮২, ১৯৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৬. রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পাঠ করা
১৬৩৫. বারা’আ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের (ফজরের) সালাতে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়তেন।[1]
بَاب فِي الْقُنُوتِ بَعْدَ الرُّكُوعِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْنُتُ فِي الصُّبْحِ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাজিদ ৬৭৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৭৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৮০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৬. রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পাঠ করা
১৬৩৬. শু’বাহ হতে, তার সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي الْقُنُوتِ بَعْدَ الرُّكُوعِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ شُعْبَةَ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পরের হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১৬. রুকূ’র পরে ‘কুনুত’ পাঠ করা
১৬৩৭. মুহাম্মদ রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সকালের (ফজরের) সালাতে কুনূত (-এ নাযেলা) পড়েছেন? তিনি উত্তরে বললেন: হাঁ। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, রুকূ’র পূর্বে না-কি রুকূ’র পরে? তিনি বললেন, রুকূ’র পরে সংক্ষিপ্তভাবে।
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমিও এ মত পোষণ করি। আর একমাত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রেই এটি অবলম্বন করা যায় (কুনূতে নাযেলা পড়া যায়) বলে আমি মনে করি।
بَاب فِي الْقُنُوتِ بَعْدَ الرُّكُوعِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَقَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ قَالَ نَعَمْ فَقِيلَ لَهُ أَوَ قُلْتَ لَهُ قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَ الرُّكُوعِ قَالَ بَعْدَ الرُّكُوعِ يَسِيرًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ وَآخُذُ بِهِ وَلَا أَرَى أَنْ آخُذَ بِهِ إِلَّا فِي الْحَرْبِ
পরিচ্ছেদঃ ২১৭. ঈদের দিন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া প্রসঙ্গে
১৬৩৮. আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদার পিতা (বুরাইদা আল আসলামী) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঈদুল) ফিতরের দিন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার পূর্বে কিছু খেয়ে যেতেন আর কুরবানীর (ঈদের) দিন (ঈদের সালাত শেষ করে) ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি কিছু খেতেন না। এরপর ফিরে এসে তিনি তাঁর কুরবানীর মাংস থেকে খেতেন।[1]
بَاب فِي الْأَكْلِ قَبْلَ الْخُرُوجِ يَوْمَ الْعِيدِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ الْأَصَمِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَطْعَمُ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ وَكَانَ إِذَا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ لَمْ يَطْعَمْ حَتَّى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ ذَبِيحَتِهِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১২, ২৮১৩, ২৮১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৭. ঈদের দিন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া প্রসঙ্গে
১৬৩৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي الْأَكْلِ قَبْلَ الْخُرُوجِ يَوْمَ الْعِيدِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১৮. দু’ ঈদের সালাতে কোনো আযান ও ইক্বামাত নেই এবং সালাত হবে খুতবার পূর্বে
১৬৪০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক ঈদের দিনের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আযান ও ইকামাত ছাড়াই খুতবার পূর্বে সর্বপ্রথম সালাত আদায় করা আরম্ভ করলেন।[1]
بَاب صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ بِلَا أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ شَهِدْتُ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৫৩; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৯ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৩৩ তে। সেখানকার টীকা দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১৮. দু’ ঈদের সালাতে কোনো আযান ও ইক্বামাত নেই এবং সালাত হবে খুতবার পূর্বে
১৬৪১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ঈদের দিন খুতবার পূর্বে সর্বপ্রথম দু রাকা’আত সালাত দিয়ে শুরু করেন। এরপর তিনি খুতবা দেন। তারপর যখন তাঁর মনে হলো যে, মহিলারা তাঁর কথা শুনতে পাননি, তখন তিনি তাদের নিকট এলেন এবং তাদেরকে উপদেশ দিলেন, নসীহত করলেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেনো সাদাকা করে। সেই সময় বিলাল তার কাপড়ে তা সংগ্রহ করছিলেন। তখন এক এক করে মহিলাগণ তাদের আংটি ও যা ছিল তা-ই নিয়ে আসতে লাগলেন এবং সেগুলি বিলালের কাপড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলেন।[1]
بَاب صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ بِلَا أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنِي ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ بَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعْ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ أَنْ يَتَصَدَّقْنَ وَبِلَالٌ قَابِضٌ بِثَوْبِهِ فَجَعَلَتْ الْمَرْأَةُ تَجِيءُ بِالْخُرْصِ وَالشَّيْءِ ثُمَّ تُلْقِيهِ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ
তাখরীজ: বুখারী, ঈলম ৯৮; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮২৩, ২৮২৪ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭২ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১৮. দু’ ঈদের সালাতে কোনো আযান ও ইক্বামাত নেই এবং সালাত হবে খুতবার পূর্বে
১৬৪২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এবং (তারপরে) আবূ বকর, উমার ও উছমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে (ঈদের সালাতে) উপস্থিত থেকেছি। তারা সকলেই খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করেছেন।[1]
بَاب صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ بِلَا أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ شَهِدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ يُصَلُّونَ قَبْلَ الْخُطْبَةِ فِي الْعِيدِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬২; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪; আব্দুর রাযযাক নং ৬৫৩২; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৫/৫৮৮; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের ও পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১৯. ঈদের সালাতের পূর্বেও কোনো সালাত নেই, আবার এর পরেও কোনো সালাত নেই
১৬৪৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন (ঈদের সালাতের জন্য) বের হলেন, অতঃপর দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। আর এর পূর্বেও তিনি কোনো সালাত আদায় করেননি এবং এর পরেও নয়।[1]
بَاب لَا صَلَاةَ قَبْلَ الْعِيدِ وَلَا بَعْدَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ لِي وَأَوْمَأَ إِي نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬৪; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪ (১৩); পূর্বের হাদীসটি দেখুন। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৮ টি।
পরিচ্ছেদঃ ২২০. দু’ ঈদের সালাতে তাকবীর
১৬৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আম্মারের দাদা (আম্মার বিন সা’দ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের সালাতের প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। আর তিনি খুতবার পূর্বেই সালাত আদায় করা শুরু করতেন।[1]
بَاب التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ الْمُؤَذِّنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي الْعِيدَيْنِ فِي الْأُولَى سَبْعًا وَفِي الْأُخْرَى خَمْسًا وَكَانَ يَبْدَأُ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১২৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ২২১. দু’ ঈদের সালাতের কিরা’আত
১৬৪৫. নূমান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের সালাতে এবং জুমু’আর সালাতে [“সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ’লা”-(সূরা আ’লা:১)] এবং [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।”] (সূরা গশিয়াহ:১)পাঠ করতেন । রাবী বলেন, কখনো এ দু’টি (ঈদ ও জুমু-আ) একই দিনে একত্রিত হয়ে পড়লে উক্ত সূরা দু-টি উভয় সালাতে পাঠ করতেন ।[1]
بَاب الْقِرَاءَةِ فِي الْعِيدَيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فَقَرَأَ بِهِمَا
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, জুমু’আহ ৮৭৮ (৬৩); এটি গত হয়েছে ১৬০৯ (অনূবাদে ১৬০৬) নং এ, সেখানে দেখুন।এছাড়াও পূর্ণ তাখরীজের জন্য সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮২১ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২২২. সাওয়ারীর উপর খুতবা দান
১৬৪৬. ইবনু নুবাইত ইবনু আবী হিনদ থেকে তার পিতার সূত্রে অথবা, নুয়াইম ইবনু আবী হিন্দ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা ও চাচার সাথে হাজ্জ করলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বলেন, লাল উটের পিঠে আরোহনকারী এই ব্যক্তিকে দেখো! যিনি উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় খুতবাহ দিচ্ছেন, ইনিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম।[1]
بَاب الْخُطْبَةِ عَلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ يَعْنِي ابْنَ نُبَيْطٍ حَدَّثَنِي أَبِي أَوْ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي قَالَ حَجَجْتُ مَعَ أَبِي وَعَمِّي فَقَالَ لِي أَبِي تَرَى ذَلِكَ صَاحِبَ الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ الَّذِي يَخْطُبُ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩০৫; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১২৮৬; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫৩; বুখারী, তারীখূল কাবীর ৪/২/১৩৭; ইবনু কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ ১১৪৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯১৬ জাহালতপূর্ণ সনদে; আবূ দাউদের সনদে ইবনু কাছীর, আল বিদা’আ ৫/১৭১।
পরিচ্ছেদঃ ২২৩. দু’ ঈদের সালাতের জন্য নারীদের বের হওয়া
১৬৪৭. উম্মে আতিয়্যা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, তিনি (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোন- আমাদেরকে ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের সালাতের জন্য বের করতে আদেশ করেছেন। বয়স্কা ও পর্দানশীল নির্বিশেষে সবার জন্য এ আদেশ। তবে ঋতুমতী মহিলারা কাতার (ঈদের সালাত) হতে দূরে থাকবে কিন্তু ’কল্যাণ ও মুসলিমদের দু’আতে অংশগ্রহণ করবে।” আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি আমাদের কারো ওড়না থাকে না (সে কি করবে?) তিনি বললেন, “নিজের ওড়নার ভেতরে তার বোনকে নিয়ে (ওড়না পরিধানে) শরীক করবে।[1]
بَاب خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْنِ
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ أَمَرَنَا بِأَبِي هُوَ أَنْ نُخْرِجَ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ الْعَوَاتِقَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَإِنَّهُنَّ يَعْتَزِلْنَ الصَّفَّ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لِإِحْدَاهُنَّ الْجِلْبَابُ قَالَ تُلْبِسُهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا
তাখরীজ: বুখারী, হায়েয ৩২৪; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৯০; ইবনু খুযাইমা নং ১৪৬৬; ইবনু আবী শাইবা ২/১৮২; বাইহাকী, ঈদাইন ৩/৩০৫, ৩০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৬, ২৮১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২৪. ঈদের দিন সাদাকা করার জন্য অনুপ্রাণিত করা
১৬৪৮. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ঈদের দিন সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার পূর্বে প্রথমে সালাত আরম্ভ করলেন। তারপর তিনি বিলালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। এরপর মহিলাদের নিকট গেলেন এরপর তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং তাদেরকে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বললেন, “তোমরা সাদাকা কর।” এরপর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের কোনো একটি বিষয় বর্ণনা করলেন। তখন মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মহিলা উঠে দাঁড়াল যার উভয় গালে কিছু কালো দাগ ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তা কেন? তিনি বললেন, “তোমরা অধিক হারে অভিযোগ করে থাকো এবং লা’নত (অভিশাপ) দিয়ে থাকো এবং স্বামীদের উপকার অস্বীকার কর।” (রাবী বলেন), তখন মহিলাগণ সাদাকা স্বরূপ তাদের অলংকারাদি- তাদের কানের দুল, তাদের আংটি ইত্যাদি খুলে বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে ছুঁড়ে ফেলতে আরম্ভ করল।[1]
بَاب الْحَثِّ عَلَى الصَّدَقَةِ يَوْمَ الْعِيدِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ شَهِدْتُ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلَالٍ حَتَّى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِتَقْوَى اللَّهِ قَالَ تَصَدَّقْنَ فَذَكَرَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ جَهَنَّمَ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ مِنْ سَفِلَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُفْشِينَ الشَّكَاءَ وَاللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ فَجَعَلْنَ يَأْخُذْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ وَأَقْرَاطِهِنَّ وَخَوَاتِيمِهِنَّ يَطْرَحْنَهُ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ يَتَصَدَّقْنَ بِهِ
তাখরীজ: এটি সংক্ষিপ্ত আকারে ১৬৪৩ (অনূবাদে ১৬৩৯ ) নং এ গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজ দেখুন সেখানে।
পরিচ্ছেদঃ ২২৪. ঈদের দিন সাদাকা করার জন্য অনুপ্রাণিত করা
১৬৪৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْحَثِّ عَلَى الصَّدَقَةِ يَوْمَ الْعِيدِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَ هَذَا
তাখরীজ: এটি ১৬৪৬ (অনূবাদে ১৬৪২ ) নং এ গত হয়েছে। দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ২/১৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ২২৫. যখন দু’ ঈদ (তথা ঈদ ও জুমু’আ) একই দিনে একত্রিত হয়
১৬৫০. ইয়াস ইবনু আবী রামলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি যাইদ ইবনু আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এমন দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন যেদিন একই দিনে দু’ঈদ (অর্থাৎ ঈদ ও জুম’আ) একত্রিত হয়েছিল? তিনি বললেন, হাঁ। তখন তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, সেদিন তিনি কী করেছিলেন? তিনি বলেন, তিনি ঈদের সালাত আদায় করেছিলেন এবং জুম’আর ব্যাপারে ছাড় দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন: “যে (জুমু’আর) সালাত আদায় করতে চায়, সে আদায় করুক, (যে না চায়, সে না করুক)।” [1]
بَاب إِذَا اجْتَمَعَ عِيدَانِ فِي يَوْمٍ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُعَاوِيَةَ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ أَشَهِدْتَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِيدَيْنِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَكَيْفَ صَنَعَ قَالَ صَلَّى الْعِيدَ ثُمَّ رَخَّصَ فِي الْجُمُعَةِ فَقَالَ مَنْ شَاءَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُصَلِّ
তাখরীজ: আল ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৩০৩; তার সূত্রে বাইহাকী, সালাতুল ঈদাইন ৩/৩১৭; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বূদ ১/১৪৫-১৪৬ নং ৭০৪; তার সূত্রে তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৫৩; আহমাদ ৪/৩৭২; ইবনু আবী শাইবা ২/১৮৮; আবূ দাউদ, সালাত ১০৭০; নাসাঈ, সালাতুল ঈদাইন ৩/১৯৪; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৩১০; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/২৮৮; হাকিম বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ যদিও তা তারা উভয়ে বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তার মত সমর্থন করেছেন।
আমরা বলছি: এর অনেকগুলি শাহিদ হাদীস রয়েছে, যা এক শক্তিশালী ও সহীহ পর্যায়ে উন্নীত করবে। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২৬. ঈদের ময়দানে এক রাস্তা দিয়ে গমণ করা এবং তা ভিন্ন অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
১৬৫১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের (মাঠের) উদ্দেশ্যে (এক রাস্তা দিয়ে) গমণ করেছিলেন আর অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন।[1]
بَاب الرُّجُوعِ مِنْ الْمُصَلَّى مِنْ غَيْرِ الطَّرِيقِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ إِلَى الْعِيدِ رَجَعَ فِي طَرِيقٍ آخَرَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৫; মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৫৯২ তে। আর এর শাহিদ হাদীস জাবির রা: হতে বুখারী, ঈদাইন ৯৮৬ তে বর্ণিত হয়েছে।
((তিরমিযী, সালাত ৫৪১; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/২৯৬ হাকিম একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; আবূ দাউদ, সালাত ১১৫৬।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬১৩।-অনুবাদক))