পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩২-[১৯] উসামাহ্ ইবনু শরীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন : হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি ঔষধ ব্যবহার করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। হে আল্লাহর বান্দাগণ! চিকিৎসা করো। কেননা বার্ধক্য রোগ ব্যতীত আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় সৃষ্টি করেননি। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُول الله أفنتداوى؟ قَالَ: «نعم يَا عبد اللَّهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرم» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

عن أسامة بن شريك قال: قالوا: يا رسول الله أفنتداوى؟ قال: «نعم يا عبد الله تداووا فإن الله لم يضع داء إلا وضع له شفاء غير داء واحد الهرم» . رواه أحمد والترمذي وأبو داود

ব্যাখ্যাঃ (أفنتداوى) ‘‘আমরা কি ঔষধপত্র ব্যবহার করব?’’ অর্থাৎ আমরা কোন কিছু বিবেচনা না করে অসুখ হলে ঔষধপত্র ব্যবহার করে আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করব কি? এখানে প্রশ্নটা করা হয়েছে তাকদীর সমর্থনের জন্য।

(يَا عِبَادَ اللهِ) ‘‘হে আল্লাহর বান্দা’’ এখানে ইঙ্গিত আছে যে, চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা ঔষধপত্র ব্যবহার করা আল্লাহর বান্দা হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। প্রতিপালনকারীর জন্য (ব্যবস্থা গ্রহণ করতে) তাওয়াক্কুল বাধা প্রদান করে না। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘‘তুমি আগে তোমার উটটি বাঁধ, অতঃপর তাওয়াক্কুল কর। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(تَدَاوَوْا) ‘‘তোমরা ঔষধপত্র ব্যবহার কর’’। ফাতহুল ওয়াদূদ প্রণেতা বলেনঃ হাদীসটি হতে বাহ্যিকভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, আদেশটি বৈধতা ও অনুমতির জন্য। আর এটিই হলো সঠিক দাবী। কেননা প্রশ্নটি করা হয়েছিল এটা অকাট্যভাবে বৈধ কিনা তা জানার জন্য। পরবর্তীতে তার দ্রুত জবাব দেয়াটা প্রমাণ করে যে, এটি তিনি বৈধতার জন্য বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ হাদীসটি হতে বুঝেছেন হাদীসটিতে যে নির্দেশ দেয়া হলো তাতে প্রমাণিত হয় মানদূব, অর্থাৎ কাজটি করা চান। তবে এটি সত্য হওয়া থেকে অনেক দূরে। কোন কোন বর্ণনায় যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্বুল করে চিকিৎসা ও ঔষধপত্র ব্যবহার করা ছেড়ে দেয় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। হ্যাঁ। তবে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, এ কাজ যে জায়িয তা প্রমাণ করার জন্য। অতএব যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়্যাত করবে এর জন্য তাকে প্রতিদান দেয়া হবে।

(الْهَرم) ‘‘বার্ধক্য’’। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বার্ধক্যকে রোগ বলা হয়। এটা কেবল বার্ধক্যের দুর্বলতা। এটা এমন রোগের মতো নয় যা শরীরে রোগের সৃষ্টি করে। বয়স বৃদ্ধি হওয়ার ফলে অভ্যাসসমূহ পরিবর্তন হয় এবং হাড়সমূহ দুর্বল হয়ে পড়ে। এটাকে (বার্ধক্যকে) রোগের সাথে তুলনা করার কারণ হলো এটা সেই ক্ষতি ও রোগসমূহ নিয়ে আসে যার ফলে মৃত্যু ও ধ্বংস অনিবার্য হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫১; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৩-[২০] ’উকবাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের রোগীদের পানাহারের জন্য জবরদস্তি করো না। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে খাওয়ান এবং পান করান। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ। ইমাম তিরমিযী বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُكْرِهُوا مَرْضَاكُمْ عَلَى الطَّعَامِ فَإِنَّ اللَّهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن عقبة بن عامر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تكرهوا مرضاكم على الطعام فإن الله يطعمهم ويسقيهم» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যাঃ (فَإِنَّ اللهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ) ‘‘কেননা মহান আল্লাহ তাদেরকে খাওয়ান এবং পান করান’’। অর্থাৎ খাবার খাওয়া ও পানি পান করার স্থলাভিষিক্ত যা হয় তিনি তা সরবরাহ করেন এবং ক্ষুধার যন্ত্রণা ও পিপাসার উপর ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দান করেন, খাদ্য ও পানীয় যা পারে না। অনুরূপভাবে শরীরকে সুস্থ রাখা মহান আল্লাহর কাজ এটা খানা-পিনার কাজ নয়।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ আত্মাকে (রূহকে) হিফাযাত রাখতে ও শরীরকে শক্তিশালী রাখতে খাবার ও পানির যে উপকার মহান আল্লাহ সেটা সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের (রোগীদের) শক্তিকে সংরক্ষণ করেন। যেমনটি হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার রবের নিকট রাত্রি যাপন করেছি তিনি আমাকে খাদ্য খাওয়াইছেন ও পান করিয়েছেন- আর এ খাবার খাওয়ানো ও আমার খাবার মাঝে অনেক দূরত্ব ছিল- (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকিম)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৪-[২১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আস্’আদ ইবনু যুরারাহ্-এর গায়ে অগ্নি-বাতের দরুন তপ্ত লোহা দিয়ে দাগিয়েছেন। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেনঃ এ হাদীসটি গরীব)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَوَى أَسْعَدَ بْنَ زُرَارَةَ مِنَ الشَّوْكَةِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم كوى أسعد بن زرارة من الشوكة. رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যাঃ এর পরিচয়ে আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুখমণ্ডলে ও শরীর লাল হয়ে যাওয়া- (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫০)। এ রোগ হলে শরীর খুব ব্যথা হয়। ডাক্তারগণ এটাকে আগুন বা অগ্নিবাত বলেন। [সম্পাদক]

অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা গেল যে, কায় বা গরম লোহা দ্বারা দাগ দেয়া বৈধ।

ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘‘নায়লুল আওত্বার’’ কিতাবে বলেছেন, ‘কায়’-এর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে আবার অনুমতিও দেয়া হয়েছে। সা‘দ (রাঃ)-কে অনুমতি দেয়াটা প্রমাণ করে, এ কাজটি জায়িয। আর তা সৎ ব্যক্তির জন্য। যে ব্যক্তি আরোগ্য লাভের জন্য চিকিৎসা স্বরূপ অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। কিন্তু এ কাজ করা নিষেধ ঐ ব্যক্তির জন্য যে আরোগ্য লাভের জন্য অন্য ঔষধ ব্যবহার করতে সক্ষম। কারণ এতে আগুনের মাধ্যমে কষ্ট দেয়া হয়।

কায় তথা দাগ দেয়ার ব্যাপারে চার ধরনের কথা এসেছে। প্রথমঃ এটা করা নিষেধ, দ্বিতীয়ঃ এটা করা জায়িয। তৃতীয়ঃ এটা ছেড়ে দেয়াকে প্রশংসা করা হয়েছে। যেমন- সত্তর হাজার লোক যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, তাদের মধ্যে যারা এ কাজ করে না। চতুর্থতঃ এ কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পছন্দ নয়। যেমন- বুখারী মুসলিমের হাদীস- আমি উত্তপ্ত লোহা দ্বারা দাগ দেয়া পছন্দ করি না। সুতরাং তার পছন্দ না হওয়াটা প্রমাণ করে এটা না করাই উত্তম। আর এ কাজ ছেড়ে দেয়াকে প্রশংসা করা প্রমাণ করে এটা ছেড়ে দেয়াই উত্তম। সুতরাং দুই হাদীসের মধ্যে (দাগ দেয়ার ও না দেয়ার ব্যাপারে) কোন দ্বন্দ্ব থাকে না। (তুহফাতুল আহ্ওযায়ী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৫-[২২] যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পাঁজরে ব্যথার চিকিৎসায় কুস্তব বাহরী (চন্দন কাঠ) ও যায়তূনের তেল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن زيد بن أَرقم قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَدَاوَى مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ بِالْقُسْطِ البحريِّ وَالزَّيْت. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن زيد بن أرقم قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نتداوى من ذات الجنب بالقسط البحري والزيت. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) (ذَاتِ الْجَنْبِ) এর অর্থ করেছেন- যক্ষা। ইমাম হাফিয ইবনুল কইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ডাক্তারদের নিকট এ রোগটা দুই প্রকার : প্রথমটি হলো আসল আর দ্বিতীয়টি আসল নয়। তিনি আসলটির পাঁচটি লক্ষণ উল্লেখ করেছেন। ১. জ্বর, ২. কাশি, ৩. খোঁচা দেয়ার মতো ব্যথা, ৪. আত্মা সংকীর্ণ হওয়া, ৫. নাড়ী-ভূড়িতে ব্যথা হওয়া। এটি ভিতর থেকে পাজরের হাঁড়ের পাশে বের হয় এবং ফুলে যায়, গরম থাকে। এটি ভিতর থেকে খোঁচাতে থাকে। আর যেটি আসল না সেটির ব্যথা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত চন্দন কাঠ খুব ভালোভাবে গুঁড়ো করে গরম তেলের সাথে মিশিয়ে খুব যত্ন সহকারে দুর্গন্ধের স্থানে লাগিয়ে দিলে বা মালিশ করে দিলে খুবই উপকার হয়। এছাড়া যায়তূনের তেল শরীরকে শক্তি যোগায় ও হাড় মজবুত করে।

মুসায়হী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ কাঠটি হবে শুকনো গরম যা পেটকে অর্থাৎ ডায়রিয়া মুক্ত রাখতে সাহায্য করে, ভিতর থেকে শরীরকে শক্তি জোগায়, দুর্গন্ধকে দূর করে, ছিদ্রগুলোকে খুলে দেয়, যাতুল জান্ব-এর জন্য খুবই উপকারী। কেউ কেউ কাঁচা কাঠের ফাযীলাত বর্ণনা করেছেন। উল্লেখিত কাঠটি মগজের জন্য খুবই ভালো। (তুহফাতুল আহ্ওযায়ী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৭৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৬-[২৩] উক্ত রাবী [যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁজরে ব্যথার রোগের চিকিৎসায় যায়তূনের তেল এবং ওয়ারস ঘাস ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْعَتُ الزَّيْتَ وَالْوَرْسَ مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم ينعت الزيت والورس من ذات الجنب. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ভাষাবিদ আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ওয়ার্স ঘাস চাষাবাদ করতে হয়, তা উন্মুক্তভাবে হয় না। এটি ‘আরবদেশ ব্যতীত অন্য দেশে পাওয়া যায়- এ কথা আমার জানা নেই। আরব দেশের সর্বত্রই এটি পাওয়া যায় না কেবল ইয়ামানে ছাড়া। এটি গরম ও শুষ্ক এলাকায় ভালো জন্মে। এ ঘাসটি লাল, নরম ও কম আবর্জনাসহ জন্মে। এটি দাগ, চুলকানি ও শরীরের বহির্ভাগে উদিত ফোড়া, পাঁচড়া ও যাবতীয় ফুসকুড়ির জন্য খুবই উপকারী। এটি রং করার জন্য একটি আদর্শ ঘাস। এটা- রস করে পান করলে উজ্জ্বল হওয়ার জন্য উপকার পাওয়া যায়। এ ঘাস রস করার পরিমাণ হলো এক দিরহাম। উপকারের দিক দিয়ে এটি চন্দন কাঠের সমপর্যায়ের। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ৪৫৩৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৭-[২৪] আসমা বিনতু ’উমায়স (রাঃ)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমরা জোলাবের জন্য কি জিনিস ব্যবহার করো? আসমা বললেনঃ শুব্রুম ব্যবহার করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তা তো অত্যধিক গরম-ভীষণ গরম। আসমা বলেন, পরে আমি সানা দ্বারা জোলাব নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি মৃত্যু হতে রক্ষার কোন ঔষধ থাকত, তবে সানা-এর মধ্যেই থাকত। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব][1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَهَا: «بمَ تستَمشِينَ؟» قَالَت: بالشُّبْرمِ قَالَ: «حارٌّ حارٌّ» . قَالَتْ: ثُمَّ اسْتَمْشَيْتُ بِالسَّنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ أَنَّ شَيْئًا كَانَ فِيهِ الشِّفَاءُ مِنَ الْمَوْتِ لَكَانَ فِي السَّنَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن أسماء بنت عميس أن النبي صلى الله عليه وسلم سألها: «بم تستمشين؟» قالت: بالشبرم قال: «حار حار» . قالت: ثم استمشيت بالسنا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لو أن شيئا كان فيه الشفاء من الموت لكان في السنا» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ (شُبْرمِ) ‘শুব্রুম’-এর পরিচয়ে ইমাম জাযারী (রহিমাহুল্লাহ) ‘নিহায়াহ্’ গ্রন্থে বলেনঃ শুবরুম একপ্রকারের দানা যা আকারে চানাবুটের মতো যা সিদ্ধ করে ঔষধ হিসেবে তার পানি পান করা হয়।

‘সানা-’ হলো এক প্রকারের ঘাস যা রস করে সিদ্ধ করে তার পানি পান করতে হয়। পেট নামলে বা ডায়রিয়া হলে এটি খুবই উপকারী। এটি উকুন ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম। এটি পেশীবহুল হতে ও মাথার চুল গজাতে সহায়তা করে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৮১)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৮-[২৫] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা রোগ নাযিল করেছেন এবং প্রতিষেধকও। আর প্রত্যেক রোগের ঔষধও নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং তোমরা ঔষধ ব্যবহার করো, কিন্তু হারাম বস্তু দ্বারা ঔষধ সেবন করবে না। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وشطره الأول (صَحِيحٌ)
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ الدَّاءَ وَالدَّوَاءَ وَجَعَلَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءً فَتَدَاوُوا وَلَا تداوَوْا بحرامٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وشطره الأول (صحيح) وعن أبي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله أنزل الداء والدواء وجعل لكل داء دواء فتداووا ولا تداووا بحرام» . رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ ‘‘হারাম বস্তু দ্বারা ঔষধ সেবন করবে না’’।

ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত হাদীস এবং অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করার নিষিদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, হারাম ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা নেয়া যাবে না। কিন্তু এ হাদীসদ্বয়ের সাথে দ্বন্দ্ব বাধে ‘উরায়নাহ্ গোত্রের হাদীসের। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ গোত্রের কিছু লোককে উটের পেশাব পান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এ দ্বন্দ্বের নিরসন করা যায় তা এভাবে যে, নিষ্প্রয়োজনে বা নিরুপায অবস্থার সম্মুখীন হতে না হয় তাহলে হারাম বা অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন হারাম হারাম উভয় প্রকার ঔষধ পাওয়া যায় এমন ক্ষেত্রে হারাম বা অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না। আর হারাম বা অপবিত্র ঔষধের বিকল্প না থাকে; তাহলে সে ঔষধ ব্যবহার করা যায়। তবে ‘আল্লামা শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ সমাধানটিকে না বুঝে দেয়া হয়েছে। তাতে কোন গোপনীয়তা নেই। কেননা বিতর্কিত উটের পেশাব হারাম বা অপবিত্রের সাথে সম্পর্কিত হয়। তবে যদি মেনে নেয়া হয়, তাহলে ‘আম, (যেমন- হারাম দ্বারা চিকিৎসা নেয়া) আর খাসের মধ্যে (যেমন- উটের পেশাব দ্বারা ঔষধ ব্যবহার করা)। একত্রিকরণ বা সমাধান করা ওয়াজিব হয়ে পড়বে। আর তা এভাবে যে, সকল প্রকার হারাম দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা হারাম শুধু উটের পেশাব ব্যতীত।

শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে ইবনু রসলান (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ শাফি‘ঈ মাযহাবের সঠিক সিদ্ধান্ত হলো নেশাদার দ্রব্য ছাড়া সকল প্রকারের পবিত্রতা দ্বারা ঔষধ গ্রহণ করা জায়িয। এর দলীল হলো বুখারী মুসলিমে বর্ণিত ‘উরায়নাহবাসীদের হাদীস। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের পেশাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৩৯-[২৬] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম ও নাপাক জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে নিষেধ করেছেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الدَّوَاءِ الْخَبِيثِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

وعن أبي هريرة قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدواء الخبيث. رواه أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) অথবা অন্য একজন সাহাবী খবীস-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অপবিত্র অথবা হারাম অথবা বিষ জাতীয় বস্তু। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ঔষধের নাপাকি দু’ভাবে হয়ে থাকে, প্রথমটি হলো : নাজাসাত বা অপবিত্রের নাপাকী। তা হলো কোন হারাম বস্তু প্রবেশ করানো। যেমন- মদ ও যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না এমন প্রাণীর গোশত ইত্যাদি। ডাক্তারগণ কখনও কোন কোন রোগের কারণে আপত্তিকর কিছু অপবিত্র যা গ্রহণ করা হারাম সেগুলোকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলেছেন কিন্তু সবগুলোই অপবিত্রতা গ্রহণ করা হারাম তবে হাদীস দ্বারা যেগুলোর অনুমতি আছে, যেমন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উরায়নাহ্ ও ‘উকল গোত্রের কতক লোককে উটের পেশাব পান করার আদেশ দিয়েছিলেন সেটির কথা ভিন্ন। সুন্নতী পন্থা হলো প্রত্যেকটি জিনিস আপন আপন স্থানে রাখা, একটি আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক না করা। দ্বিতীয় হলো : ঔষধের নাপাকী কখনও খাবার ও স্বাদ আস্বাদন করার দিক থেকে হয়ে থাকে। কোন ঔষধ যদি না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে হালাল ঔষধের অভাবে জীবন রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে নাপাকী ঔষধ ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়। মাওয়ারদী ও অন্যান্যরা বলেন, বিষ চার প্রকারের :

১. যা বেশি বা কম খেলে মানুষ মারা যায়। এ জাতীয় বিষ ঔষধ বা অন্য কোন কিছুর জন্য সেবন করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ‘‘...আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না...’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২ : ১৯৫)।

২. যা খুব বেশি পরিমাণ পান করলে মারা যাবে। সুতরাং সেই বেশি পরিমাণ পান করা চিকিৎসার জন্য বা অন্য কোন কারণে যাতে মৃত্যু ঘটে তা হারাম। আর অল্প পান করলে যদি উপকার পাওয়া যায় তবে চিকিৎসার জন্য ঔষধ হিসেবে তা পান করা বৈধ।

৩. যা পান করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ মারা যায়, এরূপ পান করা বৈধ নয়, তবে যদি অল্প পান করলে সাধারণত মানুষ না মরে তবে তা পান করা বৈধ।

৪. বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পান করলে মানুষ মরে না, এরূপ পান করা বৈধ।

(তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড হাঃ ২০৪৫; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪০-[২৭] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদীমাহ্ (সেবিকা) সালমা (রাঃ)Adobe Systemsহতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ মাথা ব্যথার অভিযোগ নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি তাকে শিঙ্গা লাগাতে নির্দেশ দিতেন। আর কেউ পায়ের কষ্টের অভিযোগ নিয়ে এলে তাকে তাতে মেহেদী লাগানোর পরামর্শ দিতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ سَلْمَى خَادِمَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: مَا كَانَ أَحَدٌ يَشْتَكِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا فِي رَأْسِهِ إِلَّا قَالَ: «احْتَجِمْ» وَلَا وَجَعًا فِي رِجْلَيْهِ إِلَّا قَالَ: «اخْتَضِبْهُمَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن سلمى خادمة النبي صلى الله عليه وسلم قالت: ما كان أحد يشتكي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجعا في رأسه إلا قال: «احتجم» ولا وجعا في رجليه إلا قال: «اختضبهما» . رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ (وَجَعًا فِي رَأْسِه) ‘‘তার মাথা ব্যথার’’ মাথা ব্যথা হয় সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের কারণে আর (وَجَعًا فِي رِجْلَيْهِ) দুই পা ব্যথার কারণ হলো উত্তাপ বা গরম হয়ে যাওয়ার কারণ।

احْتَجِمْ ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তারীখে’ উল্লেখ করেছেন যে, মেহেদী দ্বারা প্রলেপ দাও।

মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসে সাধারণভাবে নারী-পুরুষ সকলকে মেহেদী লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে পুরুষের উচিত হলো শুধু পায়ের মাঝে লাগানো সীমাবদ্ধ রাখা। আঙ্গুলগুলোতে লাগাবে না যাতে মহিলাদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৪)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪১-[২৮] উক্ত রাবী [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদীমাহ্ সালমা(রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরে যখনই কোন আঘাত লাগত অথবা জখম হত, তখন তিনি আমাকে ঐ স্থানে মেহেদী লাগাতে নির্দেশ দিতেন। (তিরমিযী)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وعنها قَالَت: مَا كَانَ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرْحَةٌ وَلَا نَكْبَةٌ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاء. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعنها قالت: ما كان يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم قرحة ولا نكبة إلا أمرني أن أضع عليها الحناء. رواه الترمذي

ব্যাখ্যাঃ ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (قُرْحَةٌ) ‘‘করহাতুন’’ বলা হয়, তরবারি বা চাকুর আঘাতে যে জখমের সৃষ্টি হয় তাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُه ‘‘যদি তোমাদের কোন (তরবারি) আঘাত লেগে থাকে’’- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১৪০)।

আর (نَكْبَةٌ) ‘‘নুকবাহ্’’ বলা হয়, পাথর অথবা কাটা ইত্যাদির আঘাতে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে।

(أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاء) ‘‘আমি যেন তার উপর মেহেদী লাগিয় দেই’’ কারণ মেহেদী লাগালে তার শীতলতার কারণে জখমের উত্তাপ হালকা হয়ে যায় এবং রক্তের যন্ত্রণা কমে যায়।

(তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫৪; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪২-[২৯] আবূ কাবশাহ্ আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মাথায় এবং দু’ বাহুর মধ্যখানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং বলতেন, যে ব্যক্তি এসব স্থান হতে দূষিত রক্ত বের করে দেয়, তার জন্য অন্য কিছু দ্বারা কোন রোগের ঔষধ না করলেও কোন ক্ষতি হবে না। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن أبي كَبْشَة الْأَنْمَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يحتجم على هامته وَبَين كفيه وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ أَهْرَاقَ مِنْ هَذِهِ الدِّمَاءِ فَلَا يَضُرُّهُ أَنْ لَا يَتَدَاوَى بِشَيْءٍ لِشَيْءٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

وعن أبي كبشة الأنماري: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحتجم على هامته وبين كفيه وهو يقول: «من أهراق من هذه الدماء فلا يضره أن لا يتداوى بشيء لشيء» . رواه أبو داود وابن ماجه

ব্যাখ্যাঃ (عَلٰى هَامَّتِه) অর্থাৎ তার মাথায়, আরো বলা হয় যে, তার মাথার মাঝখানে। অর্থাৎ বিষের কারণে।

(وَبَينَ كَتِفَيْهِ) ‘‘আবার তার দুই কাঁধের মাঝে’’ এটা হতে পারে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার করেছিলেন অথবা একই সাথে করিয়েছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৫৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৩-[৩০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিতম্বে ব্যথা হওয়ায় তিনি সে স্থানে শিঙ্গা লাগিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ جَابِرٌ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ عَلَى وَرِكِهِ مِنْ وَثْءٍ كَانَ بِهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر: أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجم على وركه من وثء كان به. رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ (مِنْ وَثْءٍ) হাড় ভাঙ্গা ব্যতীত কোন অঙ্গে ব্যথা পাওয়ার কারণে। এটাও বলা হয় যে, বয়স হওয়ার কারণে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে।

কমূস এর মধ্যে وَثْءٍ-এর সম্বন্ধে বলা হয়েছে, এটা এমন ব্যথা যা গোশতের উপর লেগেছে কিন্তু তা হাড় পর্যন্ত পৌঁছায়নি। অথবা হাড়ে ব্যথা হয়েছে কিন্তু ভেঙ্গে যায়নি। অথবা হাড় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৪-[৩১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মি’রাজের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) কোন দলের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁরা তাঁকে বলেছেনঃ আপনি আপনার উম্মাতকে শিঙ্গা লাগাবার আদেশ করবেন। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান ও গরীব[[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن ابنِ مَسْعُود قَالَ: حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علن لَيْلَةَ أُسَرِيَ بِهِ: أَنَّهُ لَمْ يَمُرَّ عَلَى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا أَمَرُوهُ: «مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب

وعن ابن مسعود قال: حدث رسول الله صلى الله عليه وسلم علن ليلة أسري به: أنه لم يمر على ملأ من الملائكة إلا أمروه: «مر أمتك بالحجامة» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب

ব্যাখ্যাঃ (مُرْ) ‘‘আদেশ করুন’’ এর ব্যাখ্যায় মুল্লা ‘আলী কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এখানে আদেশসূচক যে বর্ণনাটি এসেছে তাতে উচ্চস্তরের মালায়িকাহ্’র ঐকমত্যের স্বীকৃতি রয়েছে। আর আদেশটা হচ্ছে মানদূরের জন্য অর্থাৎ করা চলে। আর এ নির্দেশটি উচ্চ স্তর সকল মালায়িকাহ্’র এবং তার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে থাকা ও তা বর্ণনা করাতে বিষয়টির গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। তবে বাহ্যিকভাবে এটি তাদের জন্য মহান আল্লাহরই নির্দেশ ছিল।

(أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ) জ্ঞানীগণ বলেন, শিঙ্গা লাগানোর হাদীসে বৃদ্ধদেরকে বাদে অন্যদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাদের শরীরে তাপমাত্রা কমে যায়। ইবনু সীরীন থেকে সহীহ সনদে ত্ববারী বর্ণনা করেছেনে যে, তিনি বলেন, চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছালে কোন ব্যক্তিকে শিঙ্গা লাগাবে না। ত্ববারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এর কারণ হলো তখন থেকে কম তার বয়স এবং দৈহিক শক্তির ঘাটতি আরম্ভ হয়। আর এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের শিঙ্গা লাগানোর প্রয়োজন নেই। সুতরাং রক্ত বের করে তার কষ্ট বৃদ্ধি করা উচিত নয়। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৫-[৩২] ’আবদুর রহমান ইবনু উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন এক চিকিৎসক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ঔষধের মধ্যে ব্যাঙ ব্যবহার করার হুকুম কী? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেন। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ: إِنَّ طَبِيبًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ضِفْدَعٍ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الرحمن بن عثمان: إن طبيبا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن ضفدع يجعلها في دواء فنهاه النبي صلى الله عليه وسلم عن قتلها. رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ (عَنْ قَتْلِهَا) অর্থাৎ তা দিয়ে ঔষধ তৈরি করতে। কারণ তা দ্বারা ঔষধ তৈরি করা নির্ভর করে থাকে হত্যা করার উপর। সুতরাং যখন তা হত্যা করা হারাম, তখন তা দিয়ে ঔষধ তৈরি করাও হারাম। এটি হতে পারে অপবিত্রতার কারণে আর হতে পারে ঘৃণার কারণে।

খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটি প্রমাণ করে যে, ব্যাঙ খাওয়া হারাম। কেননা পানির যেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ করা হয়েছে এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর প্রতিটি প্রাণীকে হত্যা না করার পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। হতে পারে তার সম্মানের জন্য হারাম। যেমন- মানুষ অথবা তার গোশতের জন্য হারাম। যেমন- মোটা মাথা, সাধা পেট ও সবুজ পিঠ বিশিষ্ট শিকারী পাখী এবং হুদহুদ পাখী ইত্যাদি। যদিও ব্যাঙ মানুষের মতো হারাম নয়। তবুও অন্যদিক থেকে তা নিষেধ করা হয়েছে। তা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত খাবার ছাড়া কোন প্রাণীকে যাবাহ করতে নিষেধ করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৬৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৬-[৩৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাড়ের দু’ পার্শ্বের দু’ রগে এবং দু’ বাহুর মধ্যখানে শিঙ্গা লাগাতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

আর তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ এ বাক্যগুলো যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ’’তাদের সতের, উনিশ এবং একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন’’ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَجِمُ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ: وَكَانَ يحتجمُ سبعَ عشرَة وتسع عشرَة وَإِحْدَى وَعشْرين

وعن أنس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتجم في الأخدعين والكاهل. رواه أبو داود وزاد الترمذي وابن ماجه: وكان يحتجم سبع عشرة وتسع عشرة وإحدى وعشرين

ব্যাখ্যাঃ (فِي الْأَخْدَعَيْنِ) বলা হয় ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগকে। নিহায়াহ্ কিতাবে এভাবে এসেছে।

‘‘নায়লুল আওত্বার’’ কিতাবে এসেছে, শব্দের বিশ্লেষণকারীগণ বলেন, (أَخْدَعَيْنِ) ‘‘আখদা‘আয়ন’’ বলা হয় ঘাড়ের দুই পার্শ্বের উভয় রগকে যাতে শিঙ্গা লাগানো হয়। আর (كَاهِلِ) ‘কাহিল’ বলা হয়, যা দুই কাঁধের মাঝে থাকে সেই জায়গাকে। আর তা হলো পিঠের সম্মুখভাগ।

‘‘যাদুল মা‘আদ’’ এর মধ্যে ইবনুল কইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (أَخْدَعَيْنِ) তথা ঘাড়ের দু্ই পার্শ্বের উভয় রগে শিঙ্গা লাগানো মাথা ও তার সাথে সংযুক্ত অঙ্গ, যেমন- মুখ, দাঁত, দুই কান, দুই চোখ এবং নাকের অসুখের জন্য উপকারী। শিঙ্গা তখন লাগাতে হয় যখন রক্ত খুব বেশী হয় অথবা নষ্ট হয়ে যায় অথবা উভয়টি এক সাথে হয়। তিনি আরো বলেন, শিঙ্গা লাগানো হিজাযবাসী ও গ্রীষ্ম প্রধান দেশের অধিবাসীদের জন্য, কারণ তাদের রক্ত থাকে পাতলা। শরীরের বাহ্যিকভাগ থেকে অত্যন্ত গরমের কারণে তাদের চামড়ার নিচ দিয়ে রক্ত হালকা হয়ে যায়। তাদের শরীরের লোমকূপ প্রশস্ত হয়। সুতরাং তাদের জন্য শিঙ্গা লাগানোর মাঝে ক্ষতি রয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৭-[৩৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের সতেরো, ঊনিশ এবং একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগানো পছন্দ করতেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَحِبُّ الْحِجَامَةَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ. رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يستحب الحجامة لسبع عشرة وتسع عشرة وإحدى وعشرين. رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল কাজ বিজ্ঞানসম্মত। তিনি যে কাজ করতেন তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। তা ছাড়া তিনি মহান আল্লাহর নিকট থেকে ওয়াহীপ্রাপ্ত হয়ে সকল ‘আমল করতেন। যদি এ কাজে ক্ষতি থাকতো তবে মহান আল্লাহ তাকে এ কাজ করতে নিষেধ করতেন। তাছাড়া হাদীসটি হতে বুঝা যায়, মাসের শেষার্ধের প্রথম দিকে শিঙ্গা লাগানো ভালো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই লাগিয়েছেন। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৮-[৩৫] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সতেরো, ঊনিশ ও একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাবে সে সকল রোগ হতে নিরাময় থাকবে। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ احْتَجَمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ كَانَ شِفَاءً لَهُ مِنْ كُلِّ دَاء» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من احتجم لسبع عشرة وتسع عشرة وإحدى وعشرين كان شفاء له من كل داء» . رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ (مَنِ احْتَجَمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ) ‘উলামায়ে কিরাম বলেনঃ এতে হিকমাত হলো মাসের প্রথমদিকে রক্ত বৃদ্ধি পায়। সুতরাং মাসের শেষার্ধের প্রথম দিকে শিঙ্গা লাগানো বেশি উপকারী। যেহেতু প্রথম দিকে রক্ত বেশি চলে আর শেষের দিকে কম চলে। সুতরাং শিঙ্গা লাগানোর মোক্ষম সময় হলো মাসের মাঝামাঝি সময়। এ হিকমাতের কথা উল্লেখ করেছেন ‘‘ফাতহুল ওয়াদূদ’’-এর গ্রন্থকার।

(وَإِحْدٰى وَعِشْرِينَ) অর্থাৎ- এ দিনগুলোর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য তিনি মাসের একুশ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন।

(مِنْ كُلِّ دَاء) এটি হলো ‘আম বা সাধারণ। তবে এর উদ্দেশ্য হলো খাস বা নির্দিষ্ট। উদ্দেশ্য হলো : রক্তকে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে সকল রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবে। সকল ডাক্তার যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে- এ হাদীসটি তার অনুকূলে। তা হল- মাসের দ্বিতীয়ার্ধকে শিঙ্গা লাগানো তার পূর্বে শিঙ্গা লাগানোর চেয়ে উত্তম। চতুর্থাংশের শেষ ভাগে লাগানো তার পূর্বের চেয়ে উত্তম। (নায়লুল আওত্বার; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৪৯-[৩৬] কাবশাহ্ বিনতু আবূ বকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নিজেই পরিবারের লোকেদেরকে মঙ্গলবারে শিঙ্গা লাগাতে নিষেধ করতেন এবং তিনি বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মঙ্গলবার রক্ত চলাচলের দিন এবং সে দিনের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যাতে রক্ত (নির্গত হলে তা) বন্ধ হয় না। (আবূ দাঊদ)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَن كبشةَ بنت أبي بكرةَ: أَنَّ أَبَاهَا كَانَ يُنْهِي أَهْلَهُ عَنِ الْحِجَامَةِ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وَيَزْعُمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ يَوْمُ الدَّمِ وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَرْقَأُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن كبشة بنت أبي بكرة: أن أباها كان ينهي أهله عن الحجامة يوم الثلاثاء ويزعم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أن يوم الثلاثاء يوم الدم وفيه ساعة لا يرقأ» . رواه أبو داود

ব্যাখ্যাঃ (يَوْمُ الدَّمِ) অর্থাৎ এমন দিন যাতে শরীরে অধিক রক্তের সঞ্চালন হয়। এটাও বলা হয় যে, তার অর্থ হলো এ দিনটি রক্তের দিন লেখা ছিল। অর্থাৎ আদামের ছেলে তার ভাইকে হত্যা করেছিল।

(سَاعَةٌ لَا يَرْقَأُ) অর্থাৎ সেদিন রক্ত স্থির থাকে না তথা থামে না। এর অর্থ হলো যদি কোন ব্যক্তি ঐ দিনে শিঙ্গা লাগায় তবে রক্ত বন্ধ না হওয়ার কারণে বেশির ভাগে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। মহান আল্লাহই ভালো জানেন। (‘আওনুল মা‘াবূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৮৫৮; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫০-[৩৭] ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বুধ অথবা শনিবারে শিঙ্গা লাগানোর দরুন শ্বেতকুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, সে যেন নিজেকেই ধিক্কার দেয়। [আহমাদ ও আবূ দাঊদ; ইমাম আবূ দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ হাদীসটি কেউ মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা সঠিক নয়।][1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنِ الزُّهْرِيِّ مُرْسَلًا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ احْتَجَمَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ أَوْ يَوْمَ السَّبْتِ فَأَصَابَهُ وَضَحٌ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ: وَقَدْ أسْند وَلَا يَصح

وعن الزهري مرسلا عن النبي صلى الله عليه وسلم: «من احتجم يوم الأربعاء أو يوم السبت فأصابه وضح فلا يلومن إلا نفسه» . رواه أحمد وأبو داود وقال: وقد أسند ولا يصح

ব্যাখ্যাঃ (فَأَصَابَهٗ وَضَحٌ) অর্থাৎ কুষ্ঠরোগ। আর الوضح বলা হয় সকল বস্তুর সাদাকে। সুতরাং وَضَحٌ এর অর্থ শ্বেতকুষ্ঠ রোগ। (فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهٗ) ‘‘সে যেন নিজেকে ধিক্কার দেয়’’ অর্থাৎ সে ব্যক্তি যে নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে সেজন্য অথবা সে যে তার জ্ঞানের বিপরীত ‘আমল করেছে সে জন্য যেন নিজেকে ধিক্কার দেয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৫৫১-[৩৮] ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ শনিবারে কিংবা বুধবারে শিঙ্গা লাগায় অথবা শরীরের যে কোন অঙ্গে ঔষধ মালিশ করায় এবং তার দরুন শ্বেত-কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়, তবে যেন সে নিজেকেই দোষারোপ করে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

الْفَصْلُ الثَّانِي

وَعَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ احْتَجَمَ أَوِ اطَّلَى يَوْمَ السَّبْتِ أَوِ الْأَرْبِعَاءِ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ فِي الوَضَحِ» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

وعنه مرسلا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من احتجم أو اطلى يوم السبت أو الأربعاء فلا يلومن إلا نفسه في الوضح» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যাঃ আলোচ্য হাদীসটি হতে বুঝা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির মধ্যে মাসের ও সপ্তাহের এমন কতিপয় নির্ধারিত সময় রয়েছে যাতে কিছু প্রভাব রয়েছে। এতে আল্লাহ যা চান তা সৃষ্টি করতে পারেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

অতএব একজন মুসলিমের উচিত, হাদীসে বর্ণিত দিনগুলোকে স্মরণ রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকে মূল্যায়ন করে সাবধানতা অবলম্বন করা যাতে পরবর্তীতে নিজেকে ধিক্কার না দিতে হয়। [সম্পাদক]


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى) 23. Medicine and Spells
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩৪ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »