পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
’ইলমের মর্যাদা এবং ’ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়ার মর্যাদা বিষয়ে যা কিছু ’ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট তার বিবরণ, ভাষাগতভাবে ’ইলম কি? এবং ’ইলমের ফরয ও নফলের বিবরণ। এছাড়া ’ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়, এখানে ’ইলমের সারবস্ত্ত ও বাস্তবতার বিবরণ আনা হয়নি, কেননা সারবস্ত্ত কিতাবের বিষয় নয়। কিতাবুল ’ইলম সকল কিতাবের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এটিকেই অন্য সব কিতাবের পূর্বভাগে স্থান দেয়া হয়েছে। আবার এটিকে কিতাবুল ঈমান ও এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন- তাক্বদীর, কবরের শাস্তি, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আঁকড়ে ধরা কিংবা কুফর এবং ঈমানে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অন্যান্য বিষয়ের পূর্বে স্থান দেয়া হয়নি। কারণ শারী’আতের দায়িত্ব পালনের যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বপ্রথম ওয়াজিব এবং সর্বাধিক সম্মানিত বিষয় হচ্ছে ঈমান। এক্ষেত্রে ’ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হবে ইবনু জামা’আর تذكرة السامع والمتعلم মৃঃ ৭৩৩ হিজরী, ইবনু ’আবদুল বার-এর جامع بيان العلم মৃঃ ৪৬২ হিজরী এবং এ বিষয়ের আরো অন্যান্য কিতাব অধ্যয়ন করা।
১৯৮-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে (মানুষের কাছে) একটি বাক্য হলেও পৌঁছিয়ে দাও। বনী ইসরাঈল হতে শোনা কথা বলতে পারো, এতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে প্রস্তুত করে নেয়। (বুখারী)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা যায়, কুরআনের একটি ছোট আয়াতও যদি কারো জানা থাকে তাহলে তা প্রচার করতে হবে। আর কুরআন স্বয়ং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যা তিনি আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন। যে কুরআন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তার ধারক-বাহক অধিক হওয়া এবং স্বয়ং আল্লাহ তার সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়া সত্ত্বেও তা আরো প্রচারের জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অতএব হাদীস প্রচারের দায়িত্ব সমধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বানী ইসরাঈলের মাঝে যেসব আশ্চর্যজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তা যদিও এ উম্মাতের মাঝে তা ঘটা অসম্ভব মনে হয় তথাপিও তা বর্ণনা করা যাবে। যেমন- কুরবানীকে গ্রাস করার জন্য আকাশ হতে আগুন নেমে আসার বিষয়কে আমরা মিথ্যা বলে জানি না এবং এ ধরনের তাদের আরো ঘটনাবলী যেমন বানী ইসরাঈল গোবৎসের উপাসনা করার পর অনুশোচনায় নিজেদেরকে হত্যা করা এবং কুরআনে বিবৃত ঘটনাবলী যাতে শিক্ষণীয় কিছু আছে, তা বর্ণনা করাতে কোন দোষ নেই। তবে বানী ইসরাঈল থেকে যে ঘটনাবলী এসেছে তা নিয়ে একেবারে ব্যাস্ত হয়ে পড়তে এবং তাওরাতের রহিত হওয়া বিধানের প্রতি ‘আমল করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে।
ইসলামের সূচনাতে যখন বিধি-বিধান নির্ধারিত না থাকা অবস্থায় বানী ইসরাঈল হতে কোন কিছু বর্ণনা করা হলে তার প্রতি কখনো কখনো মানুষ ‘আমল করতো বিধায় ঐসব ঘটনা বর্ণনা করা নিষেধ ছিল। অতঃপর যখন ইসলামী বিধি-বিধান স্থির হয়ে গেল তখন পূর্বোক্ত নিষেধাজ্ঞা আর বাকী রইল না। হাদীসের শেষাংশে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যে কোন ধরনের মিথ্যারোপ করাকে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব যারা দীনের প্রতি উৎসাহ দেয়ার জন্য এবং আল্লাহর প্রতি ভয় দেখানোর উদ্দেশে মিথ্যা হাদীস তৈরি করা জায়িয বলে থাকে তাদের এ ধরনের দাবীকে খণ্ডন করা হয়েছে। সুতরাং সর্বাবস্থায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা ছড়ানো হারাম।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৯৯-[২] সামুরাহ্ বিন জুনদুব ও মুগীরাহ্ বিন শু’বাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হতে এমন হাদীস বলে, যা সে মিথ্যা মনে করে, নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদীদের একজন। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَن سَمُرَة بن جُنْدُب وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: কোন একটি হাদীস তৈরি করে তা রসূলের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে- এ বিষয়টি পরিষ্কার জানার পরেও কোন ব্যক্তি যদি তা রসূলের হাদীস বলে মানুষের সামনে উল্লেখ করে তাহলে সে ব্যক্তি হাদীস তৈরিকারীদের একজন। তবে হাদীস উল্লেখের পর যদি বলে দেয় এ হাদীসটি তৈরিকৃত তবে ঐ ব্যক্তির হুকুম আলাদা।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০০-[৩] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যার কল্যাণ কামনা করেন, কল্যাণ চান, তাকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। বস্ত্তত আমি শুধু বণ্টনকারী। আর আল্লাহ তা’আলা আমাকে দান করেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদে সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهِ يُعْطِي»
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওয়াহীর জ্ঞান বিতরণ করা কোন ব্যক্তি বিশেষকে কেন্দ্র করে নয়; তথাপিও ওয়াহীর জ্ঞান বুঝার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যায়। তার কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে তাদের তাক্বদীর অনুপাতে ‘ইলম দান করে থাকেন।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০১-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সোনা-রূপার খনির ন্যায় মানবজাতিও খনিবিশেষ। যারা জাহিলিয়্যাতের (অন্ধকারের) যুগে উত্তম ছিল, দীনের জ্ঞান লাভ করার কারণে তারা ইসলামের যুগেও উত্তম। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النَّاسُ مَعَادِنُ كَمَعَادِنِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوا» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: মানুষ সম্মান ও হীনতার দিক দিয়ে বংশগত ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে যেমন- স্বর্ণ, রূপা ও অন্যান্য পদার্থের খনি বিভিন্ন রকম হয়। খনির সাথে মানুষকে সাদৃশ্য দেয়ার অন্য কারণ এমনও হতে পারেঃ মানুষ যেমন সম্মান, জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সংরক্ষণকারী খনি তেমন উৎকৃষ্ট পদার্থ ও উপকারী বস্তুর অংশ সংরক্ষণকারী। হাদীসে বলা হয়েছে, যারা জাহিলী যুগে সর্বোত্তম গোত্রের আওতাভুক্ত ছিল; কৃতিত্ব, উত্তম গুণাবলী, জ্ঞানে, বীরত্বে, অন্যের সমকক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কুফর ও মূর্খতার অন্ধকারে ঢাকা ছিল তারা মূলত খনিতে থাকা ঐ স্বর্ণ রৌপ্যের মতো যা প্রথমে মাটি মিশ্রিত থাকে পরে স্বর্ণকারগণ তা আহরণ করে মাটি হতে আলাদা করে নেয়। জাহিলী যুগের সর্বোত্তম ব্যক্তিগণ যখন ইসলামী যুগে শারী‘আতী জ্ঞান লাভ করে তখন সে তার জ্ঞান ও ঈমানের আলোতে আলোকিত হয়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০২-[৫] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে হিংসা করা ঠিক নয়। প্রথম ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা’আলা সম্পদ দান করেছেন, সাথে সাথে তা সত্যের পথে (ফী সাবীলিল্লাহ) বা সৎকার্যে ব্যয় করার জন্য তাকে তাওফীক্বও দিয়েছেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা’আলা হিকমাহ্, অর্থাৎ- জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে এ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগায় এবং (লোকদেরকে) তা শিখায়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٍ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٍ آتَاهُ اللَّهُ لْحِكْمَة فَهُوَ يقْضِي بهَا وَيعلمهَا)
ব্যাখ্যা: হাদীসে মূলত حَسَدَ শব্দ উল্লেখ হয়েছে যার প্রকৃত অর্থ অন্যের সম্পদ নষ্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা, এতে আকাঙ্ক্ষাকারীর ঐ সম্পদ অর্জন হোক আর না হোক। তবে হাদীসে বর্ণিত حَسَدَ দ্বারা মূলত তা উদ্দেশ্য নয়। বরং غِبْطَةٌ বা ঈর্ষা উদ্দেশ্য। غِبْطَةٌ বলা হয় অন্যের সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করে অন্যের সম্পদের ন্যায় নিজেরও সম্পদ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করা। غِبْطَةٌ এটি জায়িয, পক্ষান্তরে حَسَدَ জায়িয নয়। তবে حَسَدَ শব্দটি হাদীসে ব্যবহারের কারণ এই যে, অধিকাংশ সময় হাদীসে বর্ণিত দু’টি বিষয়ে মানুষের حَسَدَ বা হিংসা সৃষ্টি হয়ে থাকে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৩-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ’আমল বন্ধ (নিঃশেষ) হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি ’আমলের সাওয়াব (অব্যাহত থাকে): (১) সদাক্বায়ি জারিয়াহ্, (২) জ্ঞান- যা থেকে মানুষ উপকৃত হতে থাকে এবং (৩) সুসন্তান- যে তার (পিতা-মাতার) জন্য দু’আ করে। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أوعلم ينْتَفع بِهِ أوولد صَالح يَدْعُو لَهُ)
رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: নিশ্চয়ই মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ‘আমলের সাওয়াব আর লেখা হয় না, কেননা সাওয়াব মূলত তার ‘আমলের বদলা আর তা ব্যক্তি মারা যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। তবে সর্বদাই কল্যাণকর ও উপকারী কাজের বদলা চলতে থাকে। যেমন- কোন কিছু ওয়াকফ করে যাওয়া অথবা শারী‘আতী বিদ্যা লিখে যাওয়া অথবা শিক্ষা দিয়ে যাওয়া বা ব্যবস্থা করে যাওয়া অথবা সৎ সন্তান রেখে যাওয়া। সৎ সন্তান মূলত ‘আমলেরই আওতাভুক্ত, কেননা পিতাই মূলত সন্তানের অস্তিত্বের কারণ ও তাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে সৎ করে তোলার কারণ। সন্তান ছাড়া অন্য কেউ যদি মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করে তাহলে মৃত ব্যক্তির জন্য ঐ দু‘আ কাজে আসবে তথাপিও হাদীসে সন্তানকে নির্দিষ্ট করার কারণ হচ্ছে সন্তানকে দু‘আর ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৪-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মু’মিনের দুনিয়ার বিপদসমূহের কোন একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ তা’আলা তার আখিরাতের বিপদসমূহের মধ্য হতে একটি (কঠিন) বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত লোকের অভাব (সাহায্যের মাধ্যমে) সহজ করে দিবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিনে তাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করবেন। যে ব্যক্তি কোন মু’মিনের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে (প্রকাশ করবে না), আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদেরকে ততক্ষণ পর্যন্ত সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করতে থাকে। যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোন পথ বা পন্থায় অনুপ্রবেশ করার সন্ধান করে, আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তার জান্নাতে প্রবেশ করার পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং জ্ঞানচর্চা করে, তাদের ওপর আল্লাহর তরফ থেকে স্বস্তি ও প্রশান্তি নাযিল হতে থাকে, আল্লাহর রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয় এবং মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তা’আলা মালায়িকাহ্’র নিকট তাদের উল্লেখ করেন। আর যার ’আমল তাকে পিছিয়ে দেয় তার বংশ তাকে এগিয়ে দিতে পারে না। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمِنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نسبه» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি দরিদ্র ব্যক্তির কাছ থেকে পাওনা আদায়ে অবকাশ দেয় অথবা পাওনার কিছু অংশ ছেড়ে দেয় অথবা পাওনার সম্পূর্ণ অংশই ছেড়ে দেয় তাহলে আল্লাহ এ ধরনের পাওনাদার ব্যক্তিকে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে সহজতা দান করবেন। আর যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইকে কাপড় দ্বারা আবৃত করবে বা তার দোষ-ত্রুটি মানুষের সামনে প্রকাশ না করে গোপন করে রাখবে আল্লাহ ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন এ ব্যক্তির নগ্ন দেহকে কাপড় দ্বারা আবৃত করবেন বা তার দোষ-ত্রুটিসমূহ গোপন করে রাখবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাই থেকে ক্ষতিকর বিষয় প্রতিহত করা ও উপকার করার মাধ্যমে তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকবে আল্লাহও তার সহযোগিতায় থাকবেন। আর যে কোন সম্প্রদায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে নির্মিত মাসজিদ, মাদ্রাসা, মাহফিলে বসে পরস্পরের মধ্যে দীনী বিদ্যা চর্চা করবে, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে তাহলে রহমাত তাদেরকে ঢেকে নিবে, তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হবে। তাদের উত্তম কাজের জন্য তাদের ওপর রহমাত ও বারাকাতের মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) অবতীর্ণ হবেন। যে ব্যক্তিকে তার মন্দ ‘আমল পরকালের সৌভাগ্যমণ্ডিত স্থানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে অথবা সৎ ‘আমলে যার অগ্রগামিতা তাকে পিছিয়ে রাখবে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি, অর্থ, দৈহিক বিশাল আকারের গঠন উচ্চ বংশ মর্যাদা আল্লাহর কাছে কোন কাজে আসবে না।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৫-[৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন প্রথমে এক শাহীদ ব্যক্তির ব্যাপারে বিচার হবে। আল্লাহ তা’আলার সামনে হাশ্রের (হাশরের) ময়দানে তাকে পেশ করবেন এবং তাকে তিনি তার সকল নি’আমাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। অতঃপর তার এসব নি’আমাতের কথা স্মরণ হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এসব নি’আমাত পাবার পর দুনিয়াতে তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকারে কী কাজ করেছো? সে উত্তরে বলবে, আমি তোমার (সন্তুষ্টির) জন্য তোমার পথে (কাফিরদের বিরুদ্ধে) লড়াই করেছি, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমাকে শাহীদ করে দেয়া হয়েছে। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তোমাকে বীরপুরুষ বলবে এজন্য তুমি লড়েছো। আর তা বলাও হয়েছে (তাই তোমার উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে)। তখন তার ব্যাপারে হুকুম দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি- যে নিজে জ্ঞানার্জন করেছে, অন্যকেও তা শিক্ষা দিয়েছে ও কুরআন পড়েছে, তাকে উপস্থিত করা হবে। তাকে দেয়া সব নি’আমাত আল্লাহ তাকে স্মরণ করিয়ে দিবেন। এসব নি’আমাত তার স্মরণ হবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এসব নি’আমাতের তুমি কি শোকর আদায় করেছো? সে উত্তরে বলবে, আমি ’ইলম অর্জন করেছি, মানুষকে ’ইলম শিক্ষা দিয়েছি, তোমার জন্য কুরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো, তোমাকে ’আলিম বলা হবে, ক্বারী বলা হবে, তাই তুমি এসব কাজ করেছ। তোমাকে দুনিয়ায় এসব বলাও হয়েছে। তারপর তার ব্যাপারে হুকুম দেয়া হবে এবং মুখের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর তৃতীয় ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা’আলা বিভিন্ন ধরনের মাল দিয়ে সম্পদশালী করেছেন, তাকেও আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে দেয়া সব নি’আমাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। এসব তারও মনে পড়ে যাবে। আল্লাহ তাকে এবার জিজ্ঞেস করবেন, এসব নি’আমাত পেয়ে তুমি কি ’আমল করেছো? সে ব্যক্তি উত্তরে বলবে, আমি এমন কোন খাতে খরচ করা বাকী রাখিনি, যে খাতে খরচ করাকে তুমি পছন্দ কর। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো, তুমি খরচ করেছো, যাতে মানুষ তোমাকে দানবীর বলে। সে খিতাব তুমি দুনিয়ায় অর্জন করেছো। তারপর তার ব্যাপারে হুকুম দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِن أول النَّاس يقْضى عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أَمر بِهِ فسحب على وَجهه حَتَّى ألقِي فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعلم ليقال عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ব্যাখ্যা: (فَعَرَّفَه نِعَمَه فَعَرَفَهَا؟) ‘‘তাকে আল্লাহ তা‘আলা তার নি‘আমাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন, ফলে তার তা স্মরণ হয়ে যাবে।’’ অর্থাৎ- ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিনের ভয়াবহতা অবলোকন করে পৃথিবীতে তাকে আল্লাহর দেয়া নি‘আমাতের কথা ভুলে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যখন তাকে দুনিয়াতে আল্লাহর দেয়া নি‘আমাতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন তখন তার সেসব নি‘আমাতের কথা স্মরণ হবে এবং সে তা স্বীকার করবে।
(فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا) ‘‘তোমাকে যে নি‘আমাত দান করা হয়েছিল তার মোকাবিলায় তুমি কি করেছ?’’ অর্থাৎ- সে নি‘আমাতরাজি পেয়ে তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তুমি কি করেছ?
(قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ) ‘‘আমি তোমার পথে লড়াই করে শাহীদ হয়েছি।’’ অর্থাৎ- তোমার সন্তুষ্টির জন্য কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমার জীবন বিলিয়ে দিয়েছি।
(كَذَبْتَ) ‘‘তুমি মিথ্যে বলছো’’। অর্থাৎ- ‘‘আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছি’’ তোমার এ দাবীতে তুমি মিথ্যাবাদী, তুমি সত্য বলনি।
হাদীস হতে বুঝা যায় ‘আমলে স্বচ্ছ নিয়্যাত থাকা আবশ্যক যা আল্লাহর বাণী কর্তৃকও প্রমাণিত। যেমন আল্লাহ বলেন- ‘‘তাদের এছাড়া অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে’’- (সূরাহ্ আল বাইয়্যিনাহ্ ৯৮ঃ ৫)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৬-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ যুগে) আল্লাহ তা’আলা ’ইলম’ বা জ্ঞানকে তাঁর বান্দাদের অন্তর হতে টেনে বের করে উঠিয়ে নিবেন না, বরং (জ্ঞানের অধিকারী) ’আলিমদেরকে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নিয়ে যাবার মাধ্যমে ’ইলম বা জ্ঞানকে উঠিয়ে নিবেন। তারপর (দুনিয়ায়) যখন কোন ’আলিম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন লোকজন অজ্ঞ মূর্খ লোকেদেরকে নেতারূপে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট (মাস্আলাহ্-মাসায়িল) জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তারা বিনা ’ইলমেই ’ফাতাওয়া’ জারী করবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فضلوا وأضلوا»
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বিদ্যা অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করা হতে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিনা ‘ইলমে ফাতাওয়া দাতাদের নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি যারা কুরআন-সুন্নাহর ‘ইলম ছাড়া ফাতাওয়া দিবে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট ও অপরকে পথভ্রষ্টকারী হবে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৭-[১০] শাক্বীক্ব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে লোকজনের সামনে ওয়ায-নাসীহাত করতেন। একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন, হে আবূ ’আবদুর রহমান! আমরা চাই, আপনি এভাবে প্রতিদিন আমাদেরকে ওয়ায-নাসীহাত করুন। তখন তিনি [’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ)] বললেন, এরূপ করতে আমাকে এ কথাই বাধা দিয়ে থাকে যে, আমি প্রতিদিন (ওয়ায-নাসীহাত) করলে তোমরা বিরক্ত হয়ে উঠবে। এ কারণে আমি মাঝে মধ্যে ওয়ায-নাসীহাত করে থাকি, যেমনিভাবে আমাদেরকে ওয়ায-নাসীহাত করার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য রাখতেন যাতে আমাদের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক না হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَن شَقِيق: كَانَ عبد الله يُذَكِّرُ النَّاسَ فِي كُلِّ خَمِيسٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ لَوَدِدْتُ أَنَّكَ ذكرتنا كُلِّ يَوْمٍ قَالَ أَمَا إِنَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْ ذَلِكَ أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُمِلَّكُمْ وَإِنِّي أَتَخَوَّلُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِهَا مَخَافَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا
ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে ওয়ায-নাসীহাতের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে যাতে মানুষ বিরক্তবোধ না করে ও মূল উদ্দেশ্য ছুটে না যায়। সুতরাং নাসীহাতের সময় নাসীহাতকারীকে সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে ও মানুষের অবস্থা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ হাদীসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার মানুষকে নাসীহাত করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এ থেকে ইমাম বুখারী মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত করেছেন-নাসীহাতের জন্য উস্তায (উস্তাদ) কর্তৃক সপ্তাহের কোন দিন ধার্য করা জায়িয।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৮-[১১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন (অধিকাংশ সময়) তিনবার বলতেন, যাতে মানুষ তাঁর কথাটা ভালো করে বুঝতে পারে। এভাবে যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনও সম্প্রদায়ের কাছে যেতেন তাদেরও সালাম করতেন তখন তাদের তিনবার করে সালাম করতেন। (বুখারী)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَعَادَهَا ثَلَاثًا حَتَّى تُفْهَمَ عَنْهُ وَإِذَا أَتَى عَلَى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلَاثًا . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে এসেছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথা বলতেন তখন তিনবার করে বলতেন। হাদীসে বর্ণিত এ কাজটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থা অনুপাতে করতেন, অর্থাৎ- উপস্থাপিত শব্দ যদি কঠিন হত অথবা শ্রোতাদের কাছে অপরিচিত হত অথবা শ্রোতাদের সংখ্যা অধিক হত তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন করতেন, সর্বদা নয়। কেননা বিনা প্রয়োজনে কথার পুনরুক্তি বালাগাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। হাদীস থেকে বুঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় স্থানে একজন শিক্ষকের জন্য উচিত হবে তার কথাকে একাধিকবার বলা। এমনিভাবে কোন ব্যক্তি যখন একবার কোন কথা শুনার পর মুখস্থ করতে পারবে না বা বুঝতে পারবে না তখন বক্তা/শিক্ষক তার কথা বুঝিয়ে দেয়ার উদ্দেশে বা মুখস্থ করিয়ে দেয়ার উদ্দেশে একাধিকবার বলতে পারেন।
হাদীসে স্থান পেয়েছে ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায়ের কাছে গমন করতেন তখন তিনবার সালাম দিতেন’’ এ কথার তাৎপর্য প্রথম সালাম দিতেন অনুমতির জন্য দ্বিতীয় সালাম দিতেন ঘরে প্রবেশের জন্য এবং তৃতীয় সালাম বিদায়ের মুহূর্তে- এ প্রত্যেকটিই সুন্নাত।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০৯-[১২] আবূ মাস্’ঊদ আল আনসারী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার সওয়ারী চলতে পারছে না, আপনি আমাকে একটি সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ সময় তো আমার নিকট তোমাকে দেবার মতো কোন সওয়ারী নেই। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে এমন এক লোকের সন্ধান দিতে পারি, যে তাকে সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। এটা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে কোন কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শন করে, সে উক্ত কার্য সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
عَن أبي مَسْعُود الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي أُبْدِعَ بِي فَاحْمِلْنِي فَقَالَ مَا عِنْدِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا أَدُلُّهُ عَلَى مَنْ يَحْمِلُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مثل أجر فَاعله» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কথা, কাজ, ইশারা-ইঙ্গিত বা লিখনীর মাধ্যমে পুণ্যময় কোন কাজ বা ‘ইলমের দিক-নির্দেশনা দিবে তাহলে দিক-নির্দেশক নির্দেশনাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো সাওয়াব লাভ করবে। এতে দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাওয়াবে ঘাটতি হবে না। ইমাম নাবাবী বলেন ‘‘দিক-নির্দেশক দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো সাওয়াব লাভ করবে’’ উক্তি হতে উদ্দেশ্য হলো দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেমন সাওয়াব লাভ করবে ঠিক তেমনি দিক-নির্দেশকও অনুরূপ সাওয়াব লাভ করবে, এতে উভয়ের সাওয়াব সমান হওয়া আবশ্যক নয়। ইমাম কুরতুবী বলেন- গুণে পরিমাণে উভয়ের সাওয়াব সমান, কেননা কাজের পর যে সাওয়াব দেয়া হয় তা আল্লাহর তরফ হতে অনুগ্রহ; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তা দেন।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১০-[১৩] জারীর ইবনু ’আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা দিনের প্রথম বেলায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। এমন সময়ে কাঁধে তরবারি ঝুলিয়ে একদল লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছল। তাদের শরীর প্রায় উলঙ্গ, ’আবা’ বা কালো ডোরা চাদর দিয়ে কোন রকমে শরীর ঢেকে রেখেছিল। তাদের অধিকাংশ লোক, বরং সকলেই ’মুযার’ গোত্রের ছিল। তাদের চেহারায় ক্ষুধার লক্ষণ প্রকাশ পেতে দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবারের খোঁজে ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর কিছু না পেয়ে বেরিয়ে আসলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে (আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিতে) নির্দেশ করলেন। বিলাল (রাঃ)আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন এবং সকলকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবাহ্ (খুতবা) দিলেন এবং এ আয়াত পড়লেনঃ
ياَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَّاحِدَةٍ إِلى اخِرِ الْايَةِ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبًا
’’হে মানুষেরা! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তা হতে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, এরপর এ জোড়া হতে বহু নারী-পুরুষ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পর (নিজেদের অধিকার) দাবি করে থাক এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কেও সতর্ক থাক। আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।’’
(সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১)
অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ আল্ হাশর-এর এ আয়াত পড়লেনঃ
اتَّقُوا اللهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ
’’হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের প্রত্যেকে ভেবে দেখুক আগামীকালের জন্য (কিয়ামতের (কিয়ামতের) জন্য) কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’’ (সূরাহ্ আল হাশর ৫৯: ১৮)
(অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের) প্রত্যেকেরই তাদের দীনার, দিরহাম, কাপড়-চোপড়, গম ও খেজুরের ভান্ডার হতে দান করা উচিত। অবশেষে তিনি বললেন, যদি খেজুরের এক টুকরাও হয়। বর্ণনাকারী (জারীর) বলেন, এটা শুনে আনসারদের এক ব্যক্তি একটি থলে নিয়ে এলো, যা সে বহন করতে পারছিল না। অতঃপর লোকেরা একের পর এক জিনিসপত্র আনতে লাগলো। এমনকি আমি দেখলাম, শস্যে ও কাপড়-চোপড়ে দু’টি স্ত্তপ হয়ে গেছে এবং দেখলাম, (আনন্দে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা ঝকমক করছে, যেন তা স্বর্ণে জড়ানো।
অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলামে যে ব্যক্তি কোন নেক কাজ চালু করলো সে এ চালু করার সাওয়াব তো পাবেই, তার পরের লোকেরা যারা এ নেক কাজের উপর ’আমল করবে তাদেরও সমপরিমাণ সাওয়াব সে পাবে। অথচ এদের সাওয়াব কিছু কমবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ রীতির প্রচলন করলো, তার জন্য তো এ কাজের গুনাহ আছেই। এরপর যারা এ মন্দ রীতির উপর ’আমল করবে তাদের জন্য গুনাহও তার ভাগে আসবে, অথচ এতে ’আমলকারীদের গুনাহ কম করবে না। (মুসলিম)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَن جرير قَالَ: (كُنَّا فِي صدر النهارعند رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُ قَوْمٌ عُرَاةٌ مُجْتَابِي النِّمَارِ أَوِ الْعَبَاءِ مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ عَامَّتُهُمْ مِنْ مُضَرَ بَلْ كُلُّهُمْ مِنْ مُضَرَ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا رَأَى بِهِمْ مِنَ الْفَاقَةِ فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ وَأَقَامَ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ)
إِلَى آخَرِ الْآيَةِ (إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رقيبا)
وَالْآيَةُ الَّتِي فِي الْحَشْرِ (اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ)
تَصَدَّقَ رَجُلٌ مِنْ دِينَارِهِ مِنْ دِرْهَمِهِ مِنْ ثَوْبِهِ مِنْ صَاعِ بُرِّهِ مِنْ صَاعِ تَمْرِهِ حَتَّى قَالَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ بِصُرَّةٍ كَادَتْ كَفُّهُ تَعْجَزُ عَنْهَا بل قد عجزت قَالَ ثُمَّ تَتَابَعَ النَّاسُ حَتَّى رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَثِيَابٍ حَتَّى رَأَيْتُ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَهَلَّلُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْء» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: হাদীসে কল্যাণকর বিষয় সূচনার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে যাতে সমাজে তার ধারা চলতে থাকে। পক্ষান্তরে অকল্যাণকর কাজ সমাজে প্রসার ঘটবে এ আশংকায় অকল্যাণকর কাজ চালু করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ‘ইলম অধ্যায়ের সাথে হাদীসটির সামঞ্জস্যতা হচ্ছে- নিঃশ্চয়ই সন্তোষজনক সুন্নাত চালু করা উপকারী ‘ইলম অধ্যায়েরই আওতাভুক্ত। ভালো কাজের প্রচলন বলতে এমন কাজ যা রসূলের সুন্নাতের বহির্ভূত নয়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১১-[১৪] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকেই অন্যায়ভাবে হত্যা করা হোক, তার খুনের (গুনাহের) একটি অংশ প্রথম হত্যাকারী ’আদম সন্তানের ওপর বর্তাবে। কারণ সে-ই (’আদমের সন্তান কাবীল) প্রথম হত্যার প্রচলন করেছিল। (বুখারী ও মুসলিম; মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত لَا يَزَالُ مِنْ أُمَّتِىْ হাদীসটি আমি ثَوَابِ هذِهِ الْأُمَّةِ ’’উম্মাতের সাওয়াব’’ অধ্যায়ে উল্লেখ করবো, ইন-শা-আল্লাহ)[1]
الْفَصْلُ الْلأَوَّلُ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ» . وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ مُعَاوِيَةَ: «لَا يَزَالُ مِنْ أُمَّتِي» فِي بَابِ ثَوَابِ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِنْ شَاءَ الله تَعَالَى
ব্যাখ্যা: কোন ভালো কাজের প্রচলন করলে প্রচলনকারী পরবর্তী কাজ সম্পাদনকারীর সাওয়াবের মতোই সাওয়াব লাভ করে তেমনিভাবে খারাপ কাজের প্রচলন ঘটালেও প্রচলনকারীর ওপর ঐ কাজের কর্তার পাপের মতো পাপ বর্তাবে। হাদীসে আদম সন্তান কাবীল কর্তৃক হাবীল-কে হত্যা করার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে এটাই বুঝানো হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১২-[১৫] কাসীর বিন ক্বায়স (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দিমাশক-এর মসজিদে আবুদ্ দারদা (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার নিকট একজন লোক এসে বললো, হে আবুদ্ দারদা! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহর মদীনাহ্ থেকে শুধু একটি হাদীস জানার জন্য আপনার কাছে এসেছি। আমি শুনেছি আপনি নাকি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আর কোন উদ্দেশে আমি আপনার কাছে আসিনি। তার এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি (কুরআন ও হাদীসের) ’ইলম সন্ধানের উদ্দেশে কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পৌঁছিয়ে দিবেন এবং মালায়িকাহ্ ’ইলম অনুসন্ধানকারীর সন্তুষ্টি এবং পথে তার আরামের জন্য তাদের পালক বা ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর ’আলিমদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দু’আ করে থাকেন, এমনকি পানির মাছসমূহও (ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে)। ’আলিমদের মর্যাদা মূর্খ ’ইবাদাতকারীর চেয়ে অনেক বেশী। যেমন পূর্ণিমা চাঁদের মর্যাদা তারকারাজির উপর এবং ’আলিমগণ হচ্ছে নবীদের ওয়ারিস। নবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম (ধন-সম্পদ) মীরাস (উত্তরাধিকারী) হিসেবে রেখে যান না। তাঁরা মীরাস হিসেবে রেখে যান শুধু ’ইলম। তাই যে ব্যক্তি ’ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশগ্রহণ করেছে। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্ ও দারিমী)[1] আর তিরমিযী হাদীস বর্ণনাকারীর নাম ক্বায়স বিন কাসীর বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রাবীর নাম কাসীর ইবনু ক্বায়সই এটিই সঠিক (যা মিশকাতের সংকলকও নকল করেছেন)।
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
عَن كثير بن قيس قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِد دمشق فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنِّي جِئْتُكَ مِنْ مَدِينَةِ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا جِئْتُ لِحَاجَةٍ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ يسْتَغْفر لَهُ من فِي السَّمَوَات وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَسَمَّاهُ التِّرْمِذِيُّ قَيْسَ بن كثير
ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দীনী বিদ্যার্জনের উদ্দেশে পৃথিবীর কোন রাস্তা অতিক্রম করে তাহলে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তাদের সহযোগিতায় এবং সম্মানার্থে সদা প্রস্তুত থাকে। হাদীস হতে এটাও প্রতীয়মান হয়, নফল ‘ইবাদাতের চাইতে দীনী বিদ্যায় ব্যাস্ত থাকা উত্তম।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৩-[১৬] আবূ উমামাহ্ আল বাহিলী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এদের একজন ছিলেন ’আবিদ (’ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন ’আলিম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, ’আবিদের ওপর ’আলিমের মর্যাদা হলো যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির ওপর। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা, তাঁর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ’ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দু’আ করে। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَن أبي أُمَامَة الْبَاهِلِيّ قَالَ: ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى معلم النَّاس الْخَيْر» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حسن غَرِيب
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে দীনী বিদ্যা শিক্ষাদানের প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। হাদীস থেকে বুঝা যায় দীনী বিদ্যা শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। যার জন্য মানুষ, জিন্, মালায়িকাহ্ এমনকি গর্তের ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়া এবং সমুদ্রের অতল তলের মাছসহ সকল প্রাণী দু‘আ করে থাকে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৪-[১৭] দারিমী এ হাদীস মাকহূল (রহঃ) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি। আর তিনি বলেছেন, ’আবিদের তুলনায় ’আলিমের মর্যাদা এমন, যেমন তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের ওপর আমার মর্যাদা। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথার প্রমাণে কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ إِنَّمَا يَخْشَى اللهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
’’নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে ’আলিমরাই তাঁকে ভয় করে’’- (সূরাহ্ ফাত্বির/মালায়িকাহ্ ৩৫: ৮)। এছাড়া তার হাদীসের অবশিষ্টাংশ তিরমিযীর বর্ণনার অনুরূপ।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنْ مَكْحُولٍ مُرْسَلًا وَلَمْ يَذْكُرْ: رَجُلَانِ وَقَالَ: فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: (إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء)
وسرد الحَدِيث إِلَى آخِره
ব্যাখ্যা: বিদ্বান ব্যক্তি আল্লাহ ও আল্লাহর সম্মান এবং তাঁর বড়ত্ব সম্পর্কে বেশি জানার কারণে তার ঐ বিদ্যা অন্তরে ভয় সঞ্চার করে এবং ভয় তাক্বওয়ার জন্ম দেয়, পরিশেষে তাক্বওয়া ব্যক্তিকে মর্যাদাবান করে। হাদীস থেকে আরো বুঝা যায়, যে ব্যক্তির ‘আমল আল্লাহভীতিতে পূর্ণ হবে না সে মূর্খের ন্যায় বরং মূর্খই।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৫-[১৮] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা লোকেরা (আমার পরে) তোমাদের অনুসরণ করবে। আর তারা দূর-দূরান্ত হতে দীনের জ্ঞানার্জনের উদ্দেশে তোমাদের কাছে আসবে। সুতরাং তারা তোমাদের নিকট এলে তোমরা তাদেরকে ভালো কাজের (দীনের ’ইলমের) নাসীহাত করবে। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّ رِجَالًا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بهم خيرا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসটি দুর্বল কারণ এর সানাদে আবূ হারূন আল আবদারী আছে সে মাতরূক। অতএব হাদীসটি যে রসূলের মুখনিঃসৃত বাণী সে নিশ্চয়তা নেই। তবে মানুষের সাথে ভালো আচরণ করার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে বহু প্রমাণ রয়েছে, সুতরাং মানুষের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে বিশেষ করে দীনী বিদ্যা শিক্ষার্থীদের সাথে আরো ভালো আচরণ করতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৬-[১৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্ঞানের কথা মু’মিনের হারানো ধন। সুতরাং মু’মিন যেখানেই তা পাবে সে-ই হবে তার অধিকারী। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব। তাছাড়াও এর অপর বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ইবনু ফাযলকে দুর্বল (য’ঈফ) বলা হয়েছে।
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْكَلِمَةُ الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْحَكِيمِ فَحَيْثُ وَجَدَهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الْفَضْلِ الرَّاوِي يضعف فِي الحَدِيث
আলবানী বলেনঃ বরং ইবরাহীম ইবনুল ফাযল মাতরূক, অর্থাৎ- তার বর্ণিত হাদীস অগ্রহণযোগ্য, মুহাদ্দিসগণ এ রাবীর হাদীস গ্রহণ করেননি। (তাকরীবুত্ তাহযীব)
ব্যাখ্যা: উপরোক্ত কথাটিকে রসূলের দিকে সম্বন্ধ না করে এভাবে বলা যেতে পারে যা কোন কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী হবে না। অর্থাৎ- প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি হিকমাতপূর্ণ কথা অনুসন্ধান করে চলে, অতঃপর যখনই সে হিকমাতপূর্ণ কথা পেয়ে যায় তখনই সাধারণত ঐ হিকমাতপূর্ণ কথার অনুসরণ করে ও সে অনুপাতে কাজ করে। অথবা, উদ্দেশ্য বুঝার ক্ষেত্রে, অতএব কুরআন-সুন্নাহর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝার ক্ষেত্রে যার বুঝ শক্তির ঘাটতি রয়েছে তার উচিত হবে আল্লাহ যাকে সূক্ষ্ম বিষয় বুঝার ক্ষমতা দান করেছেন তার জ্ঞানকে অস্বীকার না করে বরং স্বীকৃতি দেয়া এবং তার সাথে মতানৈক্যে লিপ্ত না হওয়া। যেমন হারানো বস্ত্তর মালিক তার বস্ত্ত ফিরে পাওয়ার পর তার সাথে কেউ মতানৈক্যে লিপ্ত হয় না। অথবা হারানো বস্ত্তকে যে ব্যক্তি পায় তার কাছ থেকে হারানো বস্ত্তর মালিক হারানো বস্ত্ত নিয়ে যাওয়ার সময় হারানো বস্ত্ত পাওয়া ব্যক্তি হতে মালিককে নিষেধ করা যেমন হালাল হয় না, তেমন একজন ‘আলিম ব্যক্তি যখন প্রশ্নকারীর বুঝার আগ্রহ দেখতে পাবে তখন ‘আলিম ব্যক্তির জন্য ঐ প্রশ্নকারীকে উত্তর প্রদান না করে জানার বিষয় থেকে বঞ্চিত করা হালাল হবে না। অথবা এটাও বলা যেতে পারে যে, অনেক সময় এমন ব্যক্তির সাথে হিকমাতপূর্ণ কথা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় যে ঐ কথার উপযুক্ত; যে হিকমাতপূর্ণ কথা তুচ্ছ মনে করে না। যেমন কোন ব্যক্তি তার কোন কিছু হারিয়ে ফেলার পর যখন তা কারো কাছে পেয়ে যায় তখন ঐ পাওয়া বস্ত্তকে তার কাছ থেকে গ্রহণ করা তুচ্ছ মনে করে না যদিও হয়ত ঐ বস্ত্ত তুচ্ছ।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৭-[২০] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন ফাক্বীহ (’আলিমে দীন) শায়ত্বনের (শয়তানের) কাছে হাজার ’আবিদ (’ইবাদাতকারী) হতেও বেশী ভীতিকর। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه)
ব্যাখ্যা: মূল ভাষ্যতে উল্লিখিত فَقِيْهٌ শব্দ থেকে যদি ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য হয় যাকে দীন ও দীনের মূল উৎসের ক্ষেত্রে বুঝ শক্তি দেয়া হয়েছে তাহলে উদ্দীষ্ট ব্যক্তি শায়ত্বনের (শয়তানের) চক্রান্ত ও তিরস্কার সম্বন্ধে জানে এবং বিপদ থেকে বাঁচার ‘ইলম এবং অন্তরসমূহের ষড়যন্ত্র ও কুমন্ত্রণার ব্যাপারে অনুভূতি শক্তি তাকে দান করা হয়েছে। আর যদি فَقِيْهٌ শব্দ দ্বারা দীনের হুকুম-আহকাম ও তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি উদ্দেশ্য হয় যেমন উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব তাহলে فَقِيْهٌ শব্দ দ্বারা পূর্বোক্ত ব্যাখ্যার মতো ব্যাখ্যা উদ্দেশ্য। কেননা সে এ ধরনের ‘ইলম দ্বারা হারাম স্থানসমূহ সম্পর্কে সতর্ক থাকে, ফলে সে হারাম স্থানগুলোকে হালকা ও বৈধ মনে করে না এবং সে কুফরের জটিলতায় পতিত হয় না, সে ঐ ‘ইবাদাতকারীর বিপরীত যে ‘ইবাদাতকারী উল্লিখিত দু’টি অর্থের স্তরে নয়।
হাদীসে একজন ফাক্বীহকে শায়ত্বনের (শয়তানের) কাছে হাজার মূর্খ ‘ইবাদাতকারী অপেক্ষা কঠিন বলা হয়েছে তার কারণ ফাক্বীহ ব্যক্তি শায়ত্বনের (শয়তানের) বক্রতাকে গ্রহণ করে না, মানুষকে কল্যাণকর কাজের নির্দেশ দেয় এবং তাদেরকে শায়ত্বনের (শয়তানের) বক্রতা থেকে রক্ষা করে, পক্ষান্তরে একজন ‘আবিদের (‘ইবাদাতকারী) চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে শায়ত্বনের (শয়তানের) চক্রান্ত থেকে রক্ষা করা অথচ সে এ ব্যাপারে সক্ষম না বরং শায়ত্বন (শয়তান) তাকে এমনভাবে গ্রাস করে যে সে বুঝতেই পারে না।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৮-[২১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’ইলম বা জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয এবং অপাত্রে তথা অযোগ্য মানুষকে ’ইলম শিক্ষা দেয়া শুকরের গলায় মণিমুক্তা বা স্বর্ণ পরানোর শামিল।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَوَاضِعُ الْعِلْمِ عِنْدَ غير أَهله كمقلد الْخَنَازِير الْجَوْهَر واللؤلؤ وَالذَّهَبَ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ إِلَى قَوْلِهِ مُسْلِمٍ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ مَتْنُهُ مَشْهُورٌ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ وَقَدْ رُوِيَ من أوجه كلهَا ضَعِيف
বায়হাক্বী এ বর্ণনাটি শু‘আবুল ঈমান-এ ‘মুসলিম’ শব্দ পর্যন্ত নকল করেছেন এবং বলেছেন, এ হাদীসের মাতান (মূল ভাষ্য) মাশহুর, আর সানাদ য‘ঈফ। বিভিন্ন সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, এসবই য‘ঈফ।
তবে ‘আল্লামা সুয়ূত্বী এর পঞ্চাশটির মতো সানাদ উল্লেখ করেছেন, এ কারণে তিনি এ হাদীসের প্রতি সহীহ হওয়ার হুকুম লাগিয়েছেন। ইমাম ‘ইরাক্বীও কোন কোন আয়িম্মায়ে মুহাদ্দিসীনের পক্ষ থেকে সহীহ বলেছেন। আর অনেকেই একে হাসান বলেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। তবে এ হাদীসের শেষে مسلمة শব্দ যা সাধারণের মধ্যে প্রসিদ্ধ। অবশ্য এর কোনই ভিত্তি নেই। আর কোন কোন সানাদে এর শুরুতে اطلبوا العلم ولو بالصين অর্থাৎ- ‘‘বিদ্যার্জন কর, যদি এর জন্য সুদূর চীন যেতে হয় তবুও।’’ সম্পূর্ণ বাতিল কথা। বিস্তারিত দেখুন আল আহাদীসুয্ য‘ঈফাহ্ (হাদীস নং ৪১৬)।
ব্যাখ্যা: (طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلى كُلِّ مُسْلِمٍ) এ অংশটুকু বিশুদ্ধ। এ অংশ উল্লিখিত শব্দটির মুসলিম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক রীতিতে শারী‘আতের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ফলে মুসলিম শব্দের আওতা থেকে পাগল, শিশু বেরিয়ে যাবে, কারণ শারী‘আতের পক্ষ থেকে এদের ওপর কোন দায়িত্ব নেই এবং মুসলিম শব্দ দ্বারা মুসলিম ব্যক্তি উদ্দেশ্য, বিধায় মুসলিম ব্যক্তি বলতে নারী-পুরুষ উভয়কে শামিল করবে।
‘আল্লামা সুয়ূত্বী বলেন, ইমাম নাবাবীকে এ হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সানাদগতভাবে হাদীসটি দুর্বল, যদিও অর্থ বিশুদ্ধ।’’ অতএব মাতানটিকে সানাদের দৃষ্টিকোণ থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ না করে মানুষের উপস্থাপিত উপমার মতো ধরে নেয়া যায়। ভাষ্যটুকুর মর্মার্থ হলো- সর্বাধিক নিকৃষ্ট প্রাণী শুকরের গলায় উৎকৃষ্ট অলংকার পরানো যেমন মূল্যহীন বরং যুলম তেমন যে ‘ইলমের ক্বদর (কদর) বুঝে না তাকে ‘ইলম দান করা মূল্যহীন ও যুলম।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৯-[২২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিক্বের মধ্যে দু’টি অভ্যাস একত্র হতে পারে না- নেক চরিত্র ও দীনের সুষ্ঠু জ্ঞান। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَصْلَتَانِ لَا تَجْتَمِعَانِ فِي مُنَافِقٍ: حُسْنُ سَمْتٍ وَلَا فِقْهٌ فِي الدّين . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে মু’মিনদেরকে সৎচরিত্রবান হতে, সৎকর্মশীলদের সাজে সজ্জিত হতে এবং দীনের এমন জ্ঞান অর্জন করতে বলা হয়েছে, অন্তরে থাকবে যে জ্ঞানের প্রতি অটুট বিশ্বাস, যবানে থাকবে বহিঃপ্রকাশ, ‘আমলে যার বাস্তব রূপ এবং আল্লাহ ভীতি ও তাক্বওয়ার ছোঁয়া। পক্ষান্তরে উল্লিখিত দু’টি গুণের বিপরীত গুণ হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২০-[২৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য বের হয়েছে, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই রয়েছে। (তিরমিযী ও দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يرجع» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي
ব্যাখ্যা: হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’মিনদেরকে দীনের ব্যাপারে খরচ করতে, তাদের একটি দল জিহাদের উদ্দেশে বাড়ি হতে বেরিয়ে যেতে এবং সর্বদা একটি দলকে জ্ঞানার্জনে রত থাকতে উৎসাহিত করেছেন। হাদীসে দীনের জ্ঞান অর্জনকে আল্লাহর পথে জিহাদের শামিল বলে গণ্য করা হয়েছে- এ কথার মর্মার্থ হচ্ছে, জিহাদকারী যেমন দীনকে জীবন্তকরণে, শায়ত্বন (শয়তান)কে পরাজিতকরণে ও নিজ আত্মাকে হার মানাতে রত থাকে দীনের জ্ঞান অর্জনকারী ব্যক্তিও অনুরূপ।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২১-[২৪] সাখবারাহ্ আল আযদী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানানুসন্ধান করে, তা তার পূর্ববর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যাবে। (তিরমিযী ও দারিমী)[1]
ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি সানাদের দিক দিয়ে য’ঈফ। কারণ এর একজন রাবী আবূ দাঊদ (নকী ইবনু হারিস)-কে য’ঈফ বলা হয়ে থাকে।
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَن سَخْبَرَة الْأَزْدِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ طَلَبَ الْعِلْمَ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضَى» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفُ الْإِسْنَادِ وَأَبُو دَاوُدَ الرَّاوِي يُضَعَّفُ
ব্যাখ্যা: অতএব মাতানটিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ নয়। বরং ‘আমল করার উদ্দেশে শার‘ঈ বিদ্যা অর্জন করা এবং তাওবাহ্ করা, অন্যায় ও অন্যান্য পাপের কাজ বর্জন করা গুনাহ মাফের মাধ্যম।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২২-[২৫] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তি কল্যাণকর কাজে অর্থাৎ- জ্ঞানার্জনে পরিতৃপ্ত হতে পারে না, যে পর্যন্ত না পরিণামে সে জান্নাতে পৌঁছে যায়। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يَشْبَعَ الْمُؤْمِنُ مِنْ خَيْرٍ يَسْمَعُهُ حَتَّى يَكُونَ مُنْتَهَاهُ الْجنَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ইমাম তিরমিযী কিতাবুল ‘ইলম-এর মধ্যে হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদে আবুল হায়সাম থেকে দার্রাজ-এর বর্ণনা রয়েছে যিনি (দার্রাজ) একজন দুর্বল রাবী। বিশেষতঃ আবুল হায়সাম থেকে বর্ণনাকালে।
ব্যাখ্যা: খায়রী সা‘ঈদ বর্ণিত হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন- সুতরাং এ রকম হাদীস বর্ণনা করা উচিত নয়। আর মাতানের দিক দিয়েও হাদীসটি সঠিক নয়। কারণ একজন মানুষ কি জান্নাতী হওয়ার জন্য নিশ্চিত হতে পারে? কাজেই জান্নাতে না পৌঁছা পর্যন্ত সে কিভাবে জ্ঞান অর্জনে পরিতৃপ্ত হতে পারে না। মৃত্যুর সময় থেকেই তার সব ‘আমল বন্ধ হয়ে যাবে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৩-[২৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে এমন কোন জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে, অথচ গোপন রাখে (বলে না), কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «من سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ
ইমাম হাকিম ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে এর শাহিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন। যাহাবীও এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
ব্যাখ্যা: কোন ব্যক্তি যদি কোন বিদ্বানকে দীনে শারী‘আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে এবং জিজ্ঞাসাকারী ঐ বিষয়ে ‘ইলম ধারণ করার যোগ্যতা রাখে এবং জিজ্ঞাসার বিষয় যদি দীনের আবশ্যকীয় কোন বিষয় হয় যেমন- ইসলাম, সালাতের শিক্ষা, হারাম ও হালাল তাহলে অবশ্যই সম্ভাব্যতা অনুযায়ী জিজ্ঞাসু ব্যক্তিকে উত্তর দিতে হবে। যদি জিজ্ঞাসাকারীকে উত্তর দেয়া না হয় তাহলে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে বিদ্বান ব্যক্তিকে বাকশক্তিহীন চতুষ্পদ জন্তুর মতো মুখে আগুনের লাগাম লাগিয়ে উপস্থিত করা হবে। পক্ষান্তরে যদি দীনের কোন নফল বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তাহলে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির এ বিষয়ে উত্তর দেয়া বা না দেয়া ইচ্ছাধীন।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৪-[২৭] ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটিকে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। (দেখুন পূর্বের হাদীস)
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن أنس
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৫-[২৮] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করে ’আলিমদের ওপর গৌরব করার জন্য অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করার জন্য অথবা মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يصرف بِهِ وُجُوه النَّاس إِلَيْهِ أَدخل الله النَّار» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: যে বিদ্যা অন্বেষণকারী ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য বাদ দিয়ে মানুষের সামনে নিজ ‘ইলমের প্রকাশের জন্য বিদ্বান ব্যক্তির সাথে তর্কে লিপ্ত হবে, অজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে সন্দেহে লিপ্ত করার জন্য বিদ্যা শিক্ষা করবে অথবা সম্পদ ও সম্মান অর্জনের উদ্দেশে, জনসাধারণ ও বিদ্যা অন্বেষণকারীদের দৃষ্টিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়ার উদ্দেশে এবং তাদের সকলকে খাদিমে পরিণত করতে তাহলে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৬-[২৯] ইবনু মাজাহ এ হাদীসটি ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن ابْن عمر
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৭-[৩০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ’ইলম বা জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, কেউ সে জ্ঞান পার্থিব স্বার্থোদ্ধারের অভিপ্রায়ে অর্জন করলে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» يَعْنِي رِيحَهَا. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْن مَاجَه
ইমাম হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি দীনী বিদ্যা শিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া দুনিয়ার সম্পদের ইচ্ছা করবে সে জান্নাতের আশ-পাশেও ভিড়তে পারবে না। তবে কেউ যদি তা’ দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য করে। অতঃপর দুনিয়ার সম্পদের প্রতি তার ঝোঁক থাকে সে ব্যক্তি হাদীসে উল্লিখিত শাস্তির আওতাভুক্ত হবে না।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৮-[৩১] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও রক্ষা করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছে। কারণ জ্ঞানের অনেক বাহক নিজে জ্ঞানী নয়। আবার কেউ কেউ এমন আছে যারা নিজেরা জ্ঞানী হলেও, নিজের তুলনায় বড় জ্ঞানীর নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যায়। তিনটি বিষয়ে মুসলিমের অন্তর বিশ্বাসঘাতকতা (অবহেলা) করতে পারে নাঃ (১) আল্লাহর উদ্দেশে নিষ্ঠার সাথে কাজ করা, (২) মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা এবং (৩) মুসলিমের জামা’আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ মুসলিমের দু’আ বা আহবান তাদের পরবর্তী (মুসলিমদেরও) শামিল করে রাখে। (শাফি’ঈ, বায়হাক্বী তাঁর ’মাদখাল’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا وَوَعَاهَا وَأَدَّاهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ. ثَلَاثٌ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَالنَّصِيحَةُ لِلْمُسْلِمِينَ وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ ورائهم» . رَوَاهُ الشَّافِعِي وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل
ব্যাখ্যা: হাদীসের প্রথমাংশ থেকে বুঝা যায়, দীনী বিদ্যা অর্জনের পর তা মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়াই মূল লক্ষ্য। জ্ঞানের অনেক বাহক আছে যারা অর্জন করা জ্ঞান থেকে মাসআলাহ্ সাব্যস্ত করতে পারে না বিধায় অর্জিত জ্ঞান থেকে তেমন কিছু উপকৃত হতে পারে না। পক্ষান্তরে এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের কাছে জ্ঞান বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তারা সে জ্ঞান থেকে যথার্থভাবে মাস্আলাহ্ সাব্যস্ত করতে পারে ফলে সে জ্ঞান দ্বারা নিজে উপকৃত হয় জ্ঞানের বাহক উপকৃত হয়।
হাদীসের শেষে বলা হচ্ছে, এমন তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা যার উপর একজন মু’মিন ব্যক্তিকে সদা অটল থাকতে হবে। তিনটি বৈশিষ্ট্যের মাঝে তৃতীয় নম্বর বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে মুসলিমদের জামা‘আত বা দল আঁকড়িয়ে ধরতে হবে। অতএব মুসলিমকে অন্যান্য মুসলিমের সাথে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক বিশ্বাসে, সৎ ‘আমলে, জামা‘আতের সালাতে, জুমু‘আর সালাতে দু’ ঈদের সালাতে এবং মুসলিম নেতাদের আনুগত্যে ও অন্যান্য বিষয়ে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে। ফলে শায়ত্বনের (শয়তানের) চক্রান্ত ও পথভ্রষ্টতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৯-[৩২] আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ হাদীসটি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিযী ও আবূ দাঊদثَلَاثٌ لَّا يَغِلُّ হতে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ. إِلَّا أَنَّ التِّرْمِذِيّ وَأَبا دواد لَمْ يَذْكُرَا: «ثَلَاثٌ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ» . إِلَى آخِره
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩০-[৩৩] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কোন কথা শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই অন্যের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রোতা থেকে অধিক স্মরণকারী হয়। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَن ابْن مَسْعُودٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى لَهُ مِنْ سَامِعٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
ব্যাখ্যা: (فَبَلَّغَهٗ كَمَا سَمِعَهٗ) ‘‘যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিয়েছে।’’ অর্থাৎ- শ্রবণকৃত কথার মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন পরিবর্ধন ও কমবেশী না করে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের নিকটে পৌঁছিয়েছে যেভাবে তা শুনেছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাস করে হাদীস বর্ণনাকারীর জন্য দু‘আ করেছেন এজন্য যে, তিনি ‘ইলমের উজ্জ্বলতা এবং সুন্নাতের সংস্কারের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে যে, তাই তার প্রতিদান স্বরূপ তার জন্য উপযোগী দু‘আ করেছেন। এ হাদীস প্রমাণ করেন হাদীস বর্ণনাকারী ও তার শিক্ষা অর্জনকারীর জন্য অনেক মর্যাদা ও ফাযীলাত রয়েছে। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস সংরক্ষণকারী ও তা বর্ণনাকারীর জন্য এমন দু‘আ করেছেন যা তার উম্মাতের মাঝে অন্য কারোর জন্য করেননি।
(فَرُبَّ مُبَلَّغٍ اًوْعى لَهٗ مِنْ سَامِعٍ) ‘‘অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রোতার চাইতে অধিক স্মরণকারী হয়।’’ অর্থাৎ- অনেক সময় এমন লোক দেখা যায় যে, যিনি কারো নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন কিন্তু তিনি ঐ হাদীসের মর্ম অনুধাবন করতে পারেননি। বরং এ ব্যক্তি হাদীসটি যখন অন্য কারোর নিকট পৌঁছিয়ে দেন তখন ঐ দ্বিতীয় শ্রোতা প্রথম শ্রোতার চাইতে হাদীসের মর্ম বুঝতে অধিক পারঙ্গম হয়। তার অর্থ বুঝতে অধিক বুদ্ধিমান হয়। এতে প্রথম শ্রোতার চাইতে দ্বিতীয় শ্রোতা অধিক লাভবান হয় এবং তার দ্বারা অন্যান্য লোকজন হাদীস দ্বারা মাস্আলাহ্-মাসায়েল জানার মাধ্যমে অনেক উপকৃত হন।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩১-[৩৪] এ হাদীসটি দারিমী আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ الدَّارمِيّ عَن أبي الدَّرْدَاء
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩২-[৩৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে। যে পর্যন্ত আমার হাদীস বলে তোমরা নিশ্চিত না হবে, তা বর্ণনা করবে না। কেননা, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যারোপ করেছে (বর্ণনা করেছে), সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নাম নির্ধারণ করে নিয়েছে। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّي إِلَّا مَا عَلِمْتُمْ فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: একাধিক সানাদ ও একাধিক শাহিদের কারণে ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে হাদীসের সত্যতা জানার পর হাদীস বর্ণনা করতে হবে যাতে কেউ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপে শামিল না হয়। এ হাদীসে ‘ইলম স্বচ্ছ ধারণাপ্রসূত বিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করছে। মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য সহকারে অকাট্য ধারণার মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান করাকে বৈধ বলেছেন যা মূলত হাদীস বর্ণনার চেয়ে সংকীর্ণ। علم (‘ইলম) শব্দটি আরো সমর্থন করছে যে, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে লিখনীর উপর নির্ভর করা বৈধ।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৩-[৩৬] ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসকে ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম অংশ ’আমার পক্ষ হতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে’ অংশটুকু বর্ণনা করেননি।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَلَمْ يَذْكُرِ: «اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّي إِلَّا مَا علمْتُم»
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৪-[৩৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কোন মতামত দিয়েছে সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে তৈরি করে নেয়। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে (শব্দগুলো হল), যে লোক কুরআন সম্পর্কে নিশ্চিত ’ইলম ছাড়া (মনগড়া) কোন কথা বলে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: যেহেতু হাদীসটি দুর্বল, সেজন্য এ হাদীসটিকে সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ করা যাবে না। তবে সকলের কাছে এ কথা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যে, বিনা ‘ইলমে শারী‘আতের ব্যাপারে কোন কথা বলা হারাম। কুরআনের শব্দ, ক্বিরাআত (কিরআত) অথবা অর্থের ক্ষেত্রে আহাদীসে মারফূ‘আহ্ বা মাওকূ‘ফাতে তাফসীর অনুসন্ধান এবং শারী‘আতের নীতিমালার অনুকূল ‘আরাবী ভাষাবিদ ইমামদের উক্তি অনুসন্ধান ছাড়াই যে নিজের তরফ থেকে কোন কথা বলবে বরং তার জ্ঞান যা দাবী করে সে অনুপাতে কথা বলবে সে আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِه عِلْمٌ কে লঙ্ঘন করবে।
নীসাপূরী বলেনঃ কথার সারাংশ হচ্ছে- কুরআনের কোন আয়াতের তাফসীর কুরআনের অন্য আয়াত এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করা ছাড়া এমনটা বলা যাবে না। উল্লিখিত ইবারত হতে উদ্দেশ্য করা বৈধ হবে না। কেননা সাহাবীগণ তাফসীর করেছেন এবং সে তাফসীরের ব্যাপারে তাঁরা মতানৈক্য করেছেন এবং তাঁরা প্রত্যেকে যা বলেছেন তা কেবল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করার পরই বলেছেন এমনও নয়। কারণ যদি পরিস্থিতি এমনই হয়ে থাকে তাহলে সে মুহূর্তে ইবনু ‘আব্বাসের জন্য রসূলের দু‘আ اَللّهُمَّ فَقَهْهُ فِي الدِّيْنِ وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيْلِ কোন উপকারে আসবে না।
অতএব বলা যেতে পারে, না জেনে কুরআন সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না এর দ্বারা নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো দু’টিঃ একটি- কোন বিষয়ে ব্যক্তির কোন অভিমত থাকা ও সে দিকে তার স্বভাব, প্রবৃত্তি ঝুঁকে পড়া, অতঃপর নিজ উদ্দেশ্যকে বিশুদ্ধকরণের নিমিত্তে প্রবৃত্তি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা। ব্যক্তির কাছে এ বিষয়টি ‘ইলমের অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও আয়াত দ্বারা (কক্ষনো) তা উদ্দেশ্য হয় না। আবার কখনো কোন আয়াতের তাফসীরকে ধারণাভিত্তিক করা সত্ত্বেও তা প্রকৃত তাফসীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নিজ অভিমতকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে তা নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয়- কুরআনের অপরিচিত ও অস্পষ্ট শব্দগুলো এবং যেখানে তাক্বদীম ও তা‘খীর আছে এবং বিলুপ্ত ইবারত আছে সে স্থানগুলোর তাফসীর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে ‘আরাবী ভাষার বাহ্যিক দিক লক্ষ্য করে দ্রুত তাফসীর করা। সুতরাং বাহ্যিক তাফসীর এর ক্ষেত্রে প্রথমত আবশ্যক হচ্ছে, তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ বা কুরআন ও হাদীস হতে নকল হতে হবে। যাতে এর মাধ্যমে ভুলের স্থানগুলো আলাদা হয়ে যায়। অতঃপর ব্যক্তির পক্ষে জ্ঞান খাটানো ও মাসআলাহ্ ইস্তিম্বাততের সুযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা তাফসীর করার দু’টি নিষেধাজ্ঞা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আর কোন কারণ নেই; যতক্ষণ তা ‘আরাবী জ্ঞান-বিজ্ঞানের নীতিমালা ও মূল ও শাখা-প্রশাখাজনিত নিয়ম অনুযায়ী হবে।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেনঃ যে ভাষাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সে ভাষা ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী, তাবি‘ঈদের থেকে মাশহুর এবং অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা, আয়াত অবতীর্ণের কারণ, নাসিখ এবং মানসূখ যে ব্যক্তি না জানবে সে ব্যক্তির জন্য কুরআনের তাফসীর বা গবেষণাতে লিপ্ত হওয়া হারাম।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৫-[৩৮] জুনদুব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজের মনগড়া কোন কথা বললো এবং সে সত্যেও উপনীত হলো, এরপরও সে ভুল করলো (কেননা, সে মনগড়া কথা বলে ভুল পন্থা অবলম্বন করেছে)। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَأَصَابَ فقد أَخطَأ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
আলবানী বলেনঃ এর সানাদ খুবই দুর্বল এবং এর দুর্বলতা ইতোপূর্বেও আমি বর্ণনা করেছি। ‘কিতাবুত্ তাজ’ এর মধ্যে আমি এর তাহক্বীক্ব ও অনুভূতি ব্যক্ত করেছি। এখানেও তার প্রতি আমি ইঙ্গিত করলাম।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৬-[৩৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনের কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া কুফরী। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد
ইমাম হাকিম একে সহীহ বলেছেন, যাহাবীও তা সমর্থন করেছেন। আর এর সহীহ হওয়ার কারণ এ হাদীসের অনেক শাহিদ হাদীস আছে। যেগুলো আমি ত্ববারানীর ‘‘আল মু‘জামুস্ সগীর’’ গ্রন্থে তা‘লীক্ব হিসেবে উল্লেখ করেছি।
ব্যাখ্যা: সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কুরআন সম্পর্কে বাদানুবাদ করা, অর্থাৎ- কুরআন আল্লাহর কালাম কিনা- এ ব্যাপারে সন্দেহ করা, আয়াতে মুতাশাবিহাত এর ব্যাপারে এমন তর্কে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিকে ঐ আয়াতসমূহ অস্বীকার করার দিকেই ঠেলে দেয়া, কুরআনের পঠনরীতি ও তার শব্দের বিভিন্নতার ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে যা মূলত আল্লাহর তরফ থেকেই অবতীর্ণ; অথবা তাক্বদীরের আয়াতগুলো নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া যা প্রবৃত্তির অনুসারীরা তর্কে লিপ্ত হয়ে থাকে। এছাড়া যে কোনভাবে কুরআন সম্পর্কে তর্কে লিপ্ত হওয়া কুফরীর শামিল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৭-[৪০] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দল সম্পর্কে শুনলেন, তারা পরস্পর কুরআন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, ঝগড়া করেছে। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের দ্বারা বাতিল করার চেষ্টা করছিল। অথচ আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তার এক অংশ অপর অংশের পরিপূরক হিসেবে ও সত্যতা প্রমাণ করার জন্য। তাই তোমরা এর এক অংশকে অপর অংশের দ্বারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করো না, বরং তোমরা তার যতটুকু জানো শুধু তা-ই বলো, আর যা তোমরা জানো না তা কুরআনের ’আলিমের নিকট সোপর্দ কর। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قوما يتدارؤون فِي الْقُرْآنِ فَقَالَ: إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِهَذَا: ضَرَبُوا كِتَابَ اللَّهِ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ وَإِنَّمَا نَزَلَ كِتَابُ اللَّهِ يُصَدِّقُ بَعْضُهُ بَعْضًا فَلَا تُكَذِّبُوا بَعْضَهُ بِبَعْضٍ فَمَا عَلِمْتُمْ مِنْهُ فَقُولُوا وَمَا جَهِلْتُمْ فَكِلُوهُ إِلَى عَالِمِهِ . رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: কুরআন এবং সুন্নাহ নিয়ে বিবাদ করা হারাম, অর্থাৎ- নিজ মতামতকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশে অন্যের দলীলকে রদ করার মনোবৃত্তি পোষণ করে কুরআন-সুন্নাহ নিয়ে তর্ক করা হারাম। উদাহরণস্বরূপ মুহাদ্দিস মাযহার বলেন- আহলুস্ সুন্নাহগণ বলে থাকেন কল্যাণ ও অকল্যাণ সকলই আল্লাহর তরফ থেকে যেমন আল্লাহ বলেন- قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِندِ اللّهِ এবং ক্বদারিয়্যাহরা আল্লাহর এ বাণীকে আল্লাহর অপর বাণী কর্তৃক রদ করে দেয় যেমন- مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ আয়াত দ্বারা রদ করে দেয়। তারা তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস থেকে বিরত থেকেছে। সুতরাং ঐ পন্থাটিই গ্রহণ করতে হবে যার উপর সকলেই একমত এবং অপর আয়াতটির كُلٌّ مِّنْ عِندِ اللّهِ তা‘বীল ঐভাবেই করতে হবে যেভাবে আমরা বলে থাকি- ‘‘নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিস তাক্বদীরের উপর নির্ভরশীল’’ এ কথার উপর সকলের ঐকমত্য সংঘটিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আল্লাহর বাণী- وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ তাক্বদীরের মাসআলার বহির্ভূত; কেননা এর অর্থ হচ্ছে পরাজয় বরণ করা, সম্পদ বিনষ্ট হওয়া ও অসুস্থ হওয়ার বিপদ দ্বারা তোমার কাছে যা পৌঁছে তা মূলত তুমি যে সমস্ত গুনাহ করেছো তার বদলাস্বরূপ।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৮-[৪১] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন মাজীদ সাত হরফের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক আয়াতের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিক রয়েছে। প্রত্যেকটি দিকের একটি ’হাদ্’ (সীমা) রয়েছে। আর প্রত্যেকটি সীমার একটি অবগতির স্থান রয়েছে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ لِكُلِّ آيَةٍ مِنْهَا ظَهْرٌ وَبَطْنٌ وَلِكُلِّ حَدٍّ مَطْلَعٌ» رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ
হাদিসের প্রথম অংশ সহীহ যা বুখারী ও মুসলিমে উল্লেখ আছে। কিন্তু উপরোক্ত সানাদটি দুর্বল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৩৯-[৪২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’ইলম বা জ্ঞান তিন প্রকার- (১) আয়াতে মুহকামাতের জ্ঞান, (২) সুন্নাতে ক্বায়িমার জ্ঞান এবং (৩) ফারীযায়ে আদিলার জ্ঞান। এর বাইরে যা আছে তা অতিরিক্ত। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْعِلْمُ ثَلَاثَةٌ: آيَةٌ مُحْكَمَةٌ أَوْ سُنَّةٌ قَائِمَةٌ أَوْ فَرِيضَةٌ عَادِلَةٌ وَمَا كَانَ سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ فضل . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
এ হাদীসের সানাদে দু’জন রাবী ‘আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন না‘ঈম, ‘আবদুর রহমান রাফি‘ য‘ঈফ। বিধায় ইমাম যাহাবী তার ‘তালখীস’ নামক গ্রন্থের ৩/৩২২ পৃষ্ঠায় হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন।
ব্যাখ্যা: শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদীসটিকে তাঁর সংকলিত দুর্বল হাদীসের গ্রন্থে নিয়ে এসেছেন।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪০-[৪৩] ’আওফ ইবনু মালিক আল আশজা’ঈ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [তিন ব্যক্তি বাগাড়ম্বর করে] (১) শাসক (২) শাসকের পক্ষ হতে নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি (৩) অথবা কোন অহংকারী লোক। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَو مختال» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
মুসনাদে আহমাদে এর অনেক সানাদ আছে যার কোন কোনটি সহীহ।
ব্যাখ্যা: ‘‘তিন শ্রেণীর লোক ওয়ায করে থাকে শাসক, শাসক কর্তৃক নির্দেশিত ব্যক্তি অথবা অহংকারী।’’ অর্থাৎ- এ তিন শ্রেণী ব্যতীত এ ধরনের কাজ সংঘটিত হয় না। আর এটা সুনিশ্চিত যে, ওয়ায করা একটি ভাল কাজ। আর তা শাসক অথবা শাসক কর্তৃক অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা তা সম্পাদন হওয়া প্রয়োজন। অহংকারী ব্যক্তি দ্বারা তা সম্পাদন হওয়া উচিত নয়।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪১-[৪৪] দারিমী এ হাদীসটি ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসের এ বর্ণনায় শব্দ مختال এর পরিবর্তে مراء উল্লেখ রয়েছে।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَرَوَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَفِي رِوَايَته بدل «أَو مختال»
দারিমী ‘কিতাবুর্ রিক্বাক’-এ য‘ঈফ সানাদে বর্ণনা করেছেন। ইবনু মাজাহ্ও এটি বর্ণনা করেছেন হাদীস নং ৩৭৫৩। এ হাদীসটির সানাদ সহীহ।
ব্যাখ্যা: হাদীসে ইমামের ‘আমীরের অনুমতি ছাড়া ওয়ায করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা জনসাধারণের কল্যাণ সম্পর্কে মানুষের মাঝে তিনিই বেশি অবহিত। সুতরাং তিনি যার মাঝে উত্তম ধ্যান-ধারণা ও সততা দেখতে পাবেন তাকে তিনি মানুষের সামনে ওয়ায করতে অনুমতি দিবেন, অন্যথায় দিবেন না।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪২-[৪৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে ভুল ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ- বিনা ’ইলমে (বিদ্যায়) ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে এর গুনাহ তার ওপর বর্তাবে যে তাকে ফাতাওয়া দিয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার কোন ভাইকে (অপরকে) এমন কোন কাজের পরামর্শ দিয়েছে, যা কল্যাণ হবে না বলে সে জানে, সে নিশ্চয়ই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَفْتَى بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ وَمَنْ أَشَارَ عَلَى أَخِيهِ بِأَمْرٍ يَعْلَمُ أَنَّ الرُّشْدَ فِي غَيْرِهِ فَقَدْ خانه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: হাদীসে বিনা ‘ইলমে ফাতাওয়া দেয়া নিষেধ করা হয়েছে, ধমকানো হয়েছে। এমনকি ফাতওয়াদাতা যদি তার ইজতিহাদে ঘাটতি রেখে ভুল ফাতাওয়া দেয় তাহলে গুনাহ ফাতাওয়া দাতার ওপর বর্তাবে। হাদীসে আরো বলা হয়েছে, জেনে-শুনে ভুল দিক-নির্দেশনা দেয়া খিয়ানাত করার শামিল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৩-[৪৬] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: إِنَّ النَّبِيَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْأُغْلُوطَاتِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৪-[৪৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (আমার নিকট হতে) ফারায়িয ও কুরআন শিখে নাও এবং লোকেদেরকেও তা শিখিয়ে দাও। কারণ আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে (আমার মৃত্যু হবে)। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَالْقُرْآنَ وَعَلِّمُوا النَّاسَ فَإِنِّي مَقْبُوضٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
[এ হাদীসে ইযতিরাব আছে। অর্থাৎ- সানাদে রাবীর নাম এবং মাতানে শব্দের কম বেশি হয়েছে, এছাড়া ইমাম আহমাদ (রহঃ) মুহাম্মাদ বিন আল্ ক্বাসিম আল্ আসাদী-কে য‘ঈফ বলেছেন। আলবানী বলেন, বরং আহমাদ, দারাকুত্বনী একে মিথ্যাবাদী বলেছেন। এছাড়া এর সানাদে শাহর বিন হাওশাব রাবী য‘ঈফ। তবে ইমাম তিরমিযী, দারিমী ও হাকিম এ হাদীসটিকে অন্য একটি মারফূ‘ সানাদে বর্ণনা করেছেন। এটিকে হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন।]
ব্যাখ্যা: হাদীসের সানাদটি দুর্বল। তবে এ হাদীসটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদের সানাদে ইমাম আহমাদ, আত্ তিরমিযী, নাসায়ী ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম হাকিম সেটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীসটি দ্বারা ‘ইলমে মীরাস ও কুরআন শিক্ষা করা ও তা মানুষকে শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৫-[৪৮] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (ইন্তিকালের নিকটবর্তী সময়ে তাঁর) সাথে ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠালেন, অতঃপর বললেন, এটা এমন সময় যখন মানুষের নিকট হতে ’ইলমকে (দীনী বিদ্যাকে) ছিনিয়ে নেয়া হবে, এমনকি তারা ’ইলম হতে কিছুই রাখতে পারবে না। (তিরমিযী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَخَصَ بِبَصَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ قَالَ: «هَذَا أَوَانٌ يُخْتَلَسُ فِيهِ الْعِلْمُ مِنَ النَّاسِ حَتَّى لَا يَقْدِرُوا مِنْهُ على شَيْء» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে শেষ যামানার দিকে ইশারা করে ‘আলিমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ‘ইলমে ওয়াহী উঠিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৬-[৪৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন সময় খুব বেশি দূরে নয়, মানুষ যখন জ্ঞানের সন্ধানে উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ- উটে আরোহণ করে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে)। কিন্তু মদীনার ’আলিমদের চেয়ে বড় কোন ’আলিম কোথাও খুঁজে পাবে না।[1]
জামি’ আত্ তিরমিযীতে ইবনু ’উআয়নাহ্ হতে বর্ণিত হয়েছে, মদীনার সে ’আলিম মালিক ইবনু আনাস। ’আবদুর রাযযাক্বও এ কথা লিখেছেন। আর ইসহাক ইবনু মূসার বর্ণনা হলো, আমি ইবনু ’উআয়নাহকে এ কথা বলতে শুনেছি, মদীনার সে ’আলিম হলো ’উমারী জাহিদ। অর্থাৎ- ’উমার ফারূক (রাঃ)-এর খান্দানের লোক। তার নাম হলো ’আবদুল ’আযীয ইবনু ’আবদুল্লাহ।
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَن أبي هُرَيْرَة رِوَايَةً: «يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلَا يَجِدُونَ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْ عَالم الْمَدِينَة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي جَامِعِهِ. قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ: إِنَّهُ مَالِكُ بْنُ أنس وَمثله عَن عبد الرَّزَّاق قَالَ اسحق بْنُ مُوسَى: وَسَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ أَنَّهُ قَالَ: هُوَ الْعُمَرِيُّ الزَّاهِدُ وَاسْمُهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عبد الله
ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি বর্ণনা করে ইমাম হাকিম বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে হাদীসটি সহীহ। হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায়, মানুষ বিদ্যার্জনের জন্য এক দেশ হতে অন্য দেশে ভ্রমণ করবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ধরনের উক্তি বিদ্যা অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। হাদীসে ‘‘মদীনার ‘আলিম অপেক্ষা অধিক বড় ‘আলিম বলে কাউকে পাওয়া যাবে না’’ বলে সাহাবী ও তাবি‘ঈদের যুগের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা তাদের যুগের পর মদীনার বড় ‘আলিম এর সংখ্যা অপেক্ষা এর বাইরে ইসলামী বিশ্বের ‘আলিমের সংখ্যা বেশি ছিল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৭-[৫০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবগত হয়েছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা এ উম্মাতের (কল্যাণের) জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের দীনকে সংস্কার করবেন। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْهُ فِيمَا أَعْلَمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةٍ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: প্রত্যেক হিজরী শতাব্দীর শেষ লগ্নে আল্লাহ এমন ব্যক্তি পাঠাবেন যিনি কিতাব এবং সুন্নাহ এর ‘আমল ও এগুলোর দাবী অনুপাতে যে সমস্ত নির্দেশ রয়েছে তা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো জীবিত করবে; নতুন আবিষ্কৃত জিনিসগুলোর মূলোৎপাটন করে। বক্তব্য লিখনী পাঠদান বা অন্যান্য পদ্ধতিতে বিদ্‘আতকারীদেরকে প্রতিহত করবে। তবে এ মুজাদ্দিদ ব্যক্তিকে তাঁর সমসাময়িক যুগের ‘আলিমগণ তার বিভিন্ন অবস্থা ও তার ‘ইলম কর্তৃক মানুষের উপকৃত হওয়ার পরিমাণ দেখে কেবল ব্যাপক ধারণার ভিত্তিতে জানতে পারবে। কেননা মুজাদ্দিদ ব্যক্তির প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য দীনে শারী‘আহ্ সম্পর্কে জ্ঞানবান হওয়া আবশ্যক এবং সুন্নাতের সাহায্যকারী, বিদ্‘আতের মূলোৎপাটনকারী, তার ‘ইলম তার যুগের লোকেদের মাঝে ব্যাপকতা লাভ করা আবশ্যক। আর দীনের সংস্কার কেবল প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে হবে। সে সময় সুন্নাতের বিলুপ্তি ঘটবে, বিদ্‘আত প্রকাশ পাবে। ফলে তখন দীনের সংস্কারের প্রয়োজনে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি হতে পরবর্তী প্রজন্ম হতে এক বা একাধিক মুজাদ্দিদ নিয়ে আসবেন। কারণ দীনের সংস্কারের জন্য বিভিন্ন গুণাবলীর ‘আলিম লাগবে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৮-[৫১] ইবরাহীম ইবনু ’আবদুর রহমান আল ’উযরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আগত জামা’আতের মধ্যে নেক, তাক্বওয়াসম্পন্ন এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ (কিতাব ও সুন্নাহর) এ জ্ঞান গ্রহণ করবেন। আর তিনিই এ জ্ঞানের মাধ্যমে (কুরআন-সুন্নাহ) সীমালঙ্ঘনকারীদের রদবদল, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা অপবাদ এবং জাহিল অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে বিদূরিত করবেন।[1]
ইমাম বায়হাক্বী হাদীসটি ’মাদ্খাল’ গ্রন্থে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস فَاِنَّمَا شِفَاءُ الْعَىِّ السُّوَالُ আমি তায়াম্মুম সম্পর্কিত অধ্যায়ে বর্ণনা করবো ইন-শা-আল্লাহু তা’আলা।
اَلْفَصْلُ الثَّانِيْ
وَعَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلين» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ
ব্যাখ্যা: প্রত্যেক শতাব্দীর বিদ্বানগণ কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানকে বহন করবেন ও তার প্রতি নিজেরা ‘আমল করবেন ও মৃত হুকুম আহকামগুলোকে সমাজে জীবিতকরণে সদা সচেষ্ট হবেন। যারা কুরআন-সুন্নাহকে এর উদ্দেশিত অর্থের পরিবর্তনকারীদের থেকে, বাতিলপন্থীদের বাতিল অগ্রহণযোগ্য কথা থেকে এবং মূর্খদের বেঠিক ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবেন। হাদীসে কুরআন-সুন্নাহর হুকুম আহকাম সমাজে প্রতিষ্ঠাকরণে উৎসাহিত করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৪৯-[৫২] হাসান আল বসরী (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন ব্যক্তি যার মৃত্যু এসে পৌঁছেছে এমন অবস্থায়ও ইসলামকে জীবন্ত করার উদ্দেশে ’ইলম বা জ্ঞানার্জনে মশগুল রয়েছে, জান্নাতে তার সাথে নবীদের মাত্র একধাপ পার্থক্য থাকবে। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
عَنِ الْحَسَنِ مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَاءَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ يَطْلُبُ الْعِلْمَ لِيُحْيِيَ بِهِ الْإِسْلَامَ فَبَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ دَرَجَةٌ وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসটিতে বলা হয়েছে ইসলামকে জীবিত করার লক্ষ্যে দীনী বিদ্যা অর্জন করা অবস্থায় যার কাছে মৃত্যু আগমন করবে ঐ ব্যক্তি ও নাবীদের মাঝে জান্নাতে কাছাকাছি মর্যাদা থাকবে। হাদীসটি হতে বুঝা যাচ্ছে সৎকর্মশীল ‘আলিমদের হতে ওয়াহীর মর্যাদা ছাড়া আর কিছু হাত ছাড়া হয় না। (পক্ষান্তরে নাবীদের কাছে ওয়াহী আসে।)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫০-[৫৩] হাসান আল বসরী (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বনী ইসরাঈলের দু’জন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তাদের একজন ছিলেন ’আলিম, যিনি ওয়াক্তিয়া ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার পর বসে বসে মানুষকে তা’লীম দিতেন। আর দ্বিতীয়জন দিনে সিয়াম পালন করতেন, গোটা রাত ’ইবাদাত করতেন। (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল) এ দু’ ব্যক্তির মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে উত্তম কে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়াক্তিয়া ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করার পরপরই বসে বসে যে ব্যক্তি তা’লীম দেয়, সে ব্যক্তি যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে ’ইবাদাত করে তার চেয়ে তেমন বেশী মর্যাদাবান। যেমন- তোমাদের একজন সাধারণ মানুষের ওপর আমার মর্যাদা। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَحَدُهُمَا كَانَ عَالِمًا يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ وَالْآخِرُ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَضْلُ هَذَا الْعَالِمِ الَّذِي يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ عَلَى الْعَابِدِ الَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
ব্যাখ্যা: (أَحَدُهُمَا كَانَ عَالِمًا) ‘‘তাদের একজন ‘আলিম ছিলেন।’’ অর্থাৎ- তার ‘ইবাদাতের চাইতে ‘ইলমের চর্চা বেশী ছিল।
(يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ) ‘‘ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতো।’’ অর্থাৎ- তার ওপর নির্ধারিত ফরয ‘ইবাদাত আদায় করতো। কিন্তু নফল ‘ইবাদাত করতো না।
(فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ) ‘‘মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দিতো।’’ অর্থাৎ- পাঠ দান অথবা পুস্তক রচনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ‘ইল্মের চর্চা করত এবং তাদের ‘ইবাদাতের পদ্ধতি শিখাতো।
(يَصُومُ النَّهَارَ) ‘‘দিনে সিয়াম পালন করতো।’’ অর্থাৎ- সর্বদাই অথবা অধিকাংশ সময়ই দিনের বেলায় সিয়াম পালন করতো।
(وَيَقُومُ اللَّيْلَ) ‘‘রাতের বেলায় ‘ইবাদাত করতো।’’ অর্থাৎ- সারারাত জেগে অথবা রাতের আংশিক জেগে ‘ইবাদাতে মগ্ন থাকতো। কিন্তু ‘ইলমের চর্চা করতো না।
(أَيُّهُمَا أَفْضَلُ) ‘‘তাদের দু’জনের মধ্যকার মর্যাদা বেশী?’’ অর্থাৎ- কার সাওয়াব বেশী।
হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, নফল ‘আমল অপেক্ষা দীনী বিদ্যা শিক্ষা ও মানুষকে শিখানো উত্তম কাজ।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫১-[৫৪] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম ব্যক্তি হলো সে যে দীন ইসলামের জ্ঞানে সমৃদ্ধ। যদি তার কাছে লোকজন মুখাপেক্ষী হয়ে আসে, তাহলে সে তাদের উপকার সাধন করে। আর যখন তার কাছে মানুষের প্রয়োজন থাকে না, তখন তাকে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। (রযীন)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نِعْمَ الرَّجُلُ الْفَقِيهُ فِي الدِّينِ إِنِ احْتِيجَ إِلَيْهِ نَفَعَ وَإِنِ اسْتُغْنِيَ عَنْهُ أَغْنَى نَفْسَهُ» . رَوَاهُ رزين
আলবানী বলেন, এ হাদীসটি মাওযূ‘ (জাল)। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। আমি এর সানাদ সম্বন্ধে অবগত হয়েছি। ইবনু আসাকির তাঁর তারীখে দামিশক ১৩ খণ্ডের ১৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। ‘ঈসা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আলী এ সূত্রে। দারাকুত্বনী বলেন, এ ‘ঈসা মাতরূকুল হাদীস। ইবনু হিব্বান বলেন, সে তার পিতার বরাতে অনেক কথা বলেছেন। (১/৮৪ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫২-[৫৫] ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হে ’ইকরিমাহ্! প্রত্যেক জুমু’আয় (সপ্তাহে) মাত্র একদিন মানুষকে ওয়ায-নাসীহাত শুনাবে। যদি একবার ওয়ায-নাসীহাত করা যথেষ্ট নয় মনে কর তাহলে সপ্তাহে দু’বার। এর চেয়েও যদি বেশী করতে চাও তাহলে সপ্তাহে তিনবার ওয়ায-নাসীহাত কর। তোমরা এ কুরআনকে মানুষের নিকট বিরক্তিকর করে তুলো না। কোন জাতি যখন তাদের কোন ব্যাপারে আলাপ-আলোচনায় ব্যাস্ত থাকে তখন তোমরা সেখানে পৌঁছলে তাদের আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে তাদের কাছে ওয়ায-নাসীহাত করতে যেন আমি কখনো তোমাদেরকে না দেখি। এ সময় তোমরা চুপ করে থাকবে। তবে তারা যদি তোমাদেরকে ওয়ায-নাসীহাত করার জন্য বলে তখন তাদের আগ্রহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে হাদীস শুনাও। কবিতার ছন্দে দু’আ করা পরিত্যাগ করবে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণকে দেখেছি, তারা এরূপ করতেন না। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن عِكْرِمَة أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ: حَدِّثِ النَّاسَ كُلَّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ أَبَيْتَ فَمَرَّتَيْنِ فَإِنْ أَكْثَرْتَ فَثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَلَا تُمِلَّ النَّاسَ هَذَا الْقُرْآنَ وَلَا أُلْفِيَنَّكَ تَأْتِي الْقَوْمَ وَهُمْ فِي حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِهِمْ فَتَقُصُّ عَلَيْهِمْ فَتَقْطَعُ عَلَيْهِمْ حَدِيثَهُمْ فَتُمِلَّهُمْ وَلَكِنْ أَنْصِتْ فَإِذَا أَمَرُوكَ فَحَدِّثْهُمْ وَهُمْ يَشْتَهُونَهُ وَانْظُرِ السَّجْعَ مِنَ الدُّعَاءِ فَاجْتَنِبْهُ فَإِنِّي عَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ لَا يَفْعَلُونَ ذَلِك رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: সপ্তাহের প্রতিদিন মানুষকে নাসীহাত করা আল্লাহর কিতাবকে বা হাদীসকে তাদের সামনে বিরক্তিকর হিসেবে উপস্থাপনের শামিল। অনুরূপ কোন সম্প্রদায়ের কাছে যেয়ে তাদের আলাপরত অবস্থাতেও নাসীহাত করা তা বিরক্তিকর হিসেবে উপস্থাপনের শামিল।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৩-[৫৬] ওয়াসিলাহ্ বিন আসক্বা’ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্ঞান সন্ধান করেছে ও অর্জন করতে পেরেছে, তার সাওয়াব দুই গুণ। আর যদি সে জ্ঞান অর্জন করতে অপারগ হয়ে থাকে, তাহলেও তার সাওয়াব (চেষ্টা করার জন্য) এক গুণ। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ فَأَدْرَكَهُ كَانَ لَهُ كِفْلَانِ مِنَ الْأَجْرِ فَإِنْ لَمْ يُدْرِكْهُ كَانَ لَهُ كفل من الْأجر» . رَوَاهُ الدِّرَامِي
ব্যাখ্যা: হাদীসের সানাদটি অত্যন্ত দুর্বল। তবে ত্ববারানী এ হাদীসটি তার কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যার রাবীগণ নির্ভরশীল। হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায়, যে ব্যক্তি দীনী বিদ্যা অনুসন্ধান করবে, অতঃপর তা ভালোভাবে অর্জন করতে পারবে তার জন্য সঠিক ফাতাওয়াতে পৌঁছতে পারা মুজতাহিদ ব্যক্তির মতো দু’টি সাওয়াব থাকবে। একটি সাওয়াব ‘ইলম অনুসন্ধানের কষ্টের কারণে। অন্যটি ভালোভাবে ‘ইলম অর্জনের কারণে। পক্ষান্তরে ‘ইলম অর্জন করতে না পারলে তার জন্য ফাতাওয়া দানে ভুলকারী মুজতাহিদ ব্যক্তির ন্যায় একটি সাওয়াব।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৪-[৫৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের ইন্তিকালের পরও তার যেসব নেক ’আমল ও নেক কাজের সাওয়াব তার নিকট সব সময় পৌঁছতে থাকবে, তার মধ্যে- (১) ’ইলম বা জ্ঞান- যা সে শিখেছে এবং প্রচার করেছে; (২) নেক সন্তান- যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গেছে; (৩) কুরআন- যা উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেছে; (৪) মাসজিদ যা সে নির্মাণ করে গেছে; (৫) মুসাফিরখানা- যা সে পথিক-মুসাফিরদের জন্য নির্মাণ করে গেছে; (৬) কূপ বা ঝর্ণা- যা সে খনন করে গেছে মানুষের পানি ব্যবহার করার জন্য এবং (৭) দান-খয়রাত- যা সুস্থ ও জীবিতবস্থায় তার ধন-সম্পদ থেকে দান করে গেছে। মৃত্যুর পর এসব নেক কাজের সাওয়াব তার নিকট পৌঁছতে থাকবে। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী-এর শু’আবুল ঈমান)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا علمه ونشره وَولدا صَالحا تَركه ومصحفا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أخرجهَا من مَاله فِي صِحَّته وحياته يلْحقهُ من بعد مَوته» . رَوَاهُ بن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان
ব্যাখ্যা: হাদীসের শেষের দিকে বলা হয়েছে ব্যক্তি তার জীবিত ও সুস্থাবস্থায় তার সম্পদ হতে যা সদাক্বাহ্ (সাদাকা) হিসেবে দিয়ে থাকে তার সাওয়াব তার মৃত্যুর পর তার ‘আমলনামাতে লিপিবদ্ধ হয়। উল্লিখিত হাদীসাংশ দ্বারা সুস্থাবস্থায় দান করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে যাতে তার এ সদাক্বাটি তার জীবনের সর্বোত্তম সদাক্বাতে পরিণত হতে পারে। যেমন অপর এক হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো পুণ্যের দিক থেকে সর্বাধিক বড় সদাক্বাহ্ (সাদাকা) কোনটি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন- সুস্থ ও মন কার্পণ্যপূর্ণ অবস্থায় সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করা।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৫-[৫৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওয়াহী পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি ’ইলম (বিদ্যা) হাসিল করার জন্য কোন পথ ধরবে, আমি তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দিব। আর যে ব্যক্তির দুই চোখ আমি নিয়ে নিয়েছি, তার বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করব। ’ইবাদাতের পরিমাণ বেশি হবার চেয়ে ’ইলমের পরিমাণ বেশি হওয়া উত্তম। দীনের মূল হলো তাক্বওয়া তথা হারাম ও দ্বিধা-সন্দেহের বিষয় হতে বেঁচে থাকা। (বায়হাক্বী-এর শু’আবুল ঈমান)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنَّهُ مَنْ سَلَكَ مَسْلَكًا فِي طَلَبِ الْعِلْمِ سَهَّلْتُ لَهُ طَرِيقَ الْجَنَّةِ وَمَنْ سَلَبْتُ كَرِيمَتَيْهِ أَثَبْتُهُ عَلَيْهِمَا الْجَنَّةَ. وَفَضْلٌ فِي عِلْمٍ خَيْرٌ مِنْ فَضْلٍ فِي عِبَادَةٍ وَمِلَاكُ الدِّينِ الْوَرَعُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘তিনি যার দু’টি সম্মানিত জিনিস তথা দু’টি চক্ষুকে নিয়ে নিবেন এবং এরপরে ব্যক্তি এতে ধৈর্য ধরবে তাকে তিনি জান্নাত দিবেন’’ উল্লিখিত হাদীস থেকে বুঝা যায় আল্লাহ যাকে বোবা করবেন এবং ব্যক্তি তাতে ধৈর্য ধরবে তাহলে ঐ ব্যক্তিকেও আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন। হাদীসের শেষাংশে বলা হয়েছে দীনের মূল আল্লাহভীতি তথা হারাম ও সন্দেহ-সংশয় থেকে বেঁচে থাকা, অর্থাৎ- হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না এমনকি যাতে হারামের সন্দেহ আছে তা হতেও বেঁচে থাকতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৬-[৫৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সামান্য কিছু সময় দীনের জ্ঞান আলোচনা করা (’ইবাদাতে রত থাকে) গোটা রাত জাগরণ অপেক্ষা উত্তম। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: تَدَارُسُ الْعِلْمِ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ خَيْرٌ من إحيائها. رَوَاهُ الدَّارمِيّ
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৭-[৬০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নাবাবীতে অনুষ্ঠিত দু’টি মাজলিসের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, উভয় মাজলিসই উত্তম কাজ করছে, কিন্তু এদের এক মাজলিস অন্য মাজলিস অপেক্ষা উত্তম। একটি দল ’ইবাদাতে লিপ্ত, তারা অবশ্য আল্লাহর নিকট দু’আ করছে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তাদের আশা পূর্ণও করতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে নাও পারেন। আর দ্বিতীয় দলটি হলো ফাক্বীহ ও ’আলিমদের। তারা ’ইলম অর্জন করেছে এবং মূর্খদের শিখাচ্ছে, তারাই উত্তম। আর আমাকে শিক্ষকরূপে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দলের সাথেই বসে গেলেন। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِمَجْلِسَيْنِ فِي مَسْجِدِهِ فَقَالَ: «كِلَاهُمَا عَلَى خَيْرٍ وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِهِ أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللَّهَ وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ. وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ أَوِ الْعِلْمَ وَيُعَلِّمُونَ الْجَاهِلَ فَهُمْ أَفْضَلُ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا» ثمَّ جلس فيهم. رَوَاهُ الدَّارمِيّ
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৮-[৬১] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রসূল! সে ’ইলমের সীমা কী যাতে পৌঁছলে একজন লোক ফাকীহ বা ’আলিম বলে গণ্য হবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের জন্য দীন সংক্রান্ত চল্লিশটি হাদীস মুখস্থ করেছে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন ফাক্বীহ হিসেবে (কবর হতে) উঠাবেন। আর আমি তার জন্য কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন শাফা’আত করবো ও তার আনুগত্যের সাক্ষ্য দিবো।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا حَدُّ الْعِلْمِ الَّذِي إِذَا بَلَغَهُ الرَّجُلُ كَانَ فَقِيهًا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «من حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا فِي أَمْرِ دِينِهَا بَعَثَهُ اللَّهُ فَقِيهًا وَكُنْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَة شافعا وشهيدا»
ব্যাখ্যা: হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, কোন ব্যক্তি যখন চল্লিশটি হাদীস জেনে তা মুসলিম ভাইদের নিকট পৌঁছিয়ে দিবে ঐ ব্যক্তিকে ফাক্বীহ তথা ‘আলিমদের দলে গণ্য করা হবে। এ হাদীসের দিকে লক্ষ্য করেই সালাফ ও খালাফ ‘উলামার অনেকে এ ধরনের বহু কিতাব লিখেছেন এবং প্রত্যেকেই তাদের কিতাবের নাম أربعين দিয়েছেন।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৫৯-[৬২] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা বলতে পারো, সর্বাপেক্ষা বড় দানশীল কে? সাহাবীগণ উত্তরে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল সবচেয়ে বেশী জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দান-খয়রাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় দাতা হলেন আল্লাহ তা’আলা। আর বানী আদমের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা বড় দাতা। আর আমার পর বড় দাতা হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে ’ইলম শিক্ষা করবে এবং তা বিস্তার করতে থাকবে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন সে একাই একজন ’আমীর’ অথবা বলেছেন, একজন ’উম্মাত’ হয়ে উঠবে। (বায়হাক্বী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَنْ أَجْوَدُ جُودًا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «اللَّهُ تَعَالَى أَجْوَدُ جُودًا ثُمَّ أَنَا أَجْوَدُ بَنِي آدَمَ وَأَجْوَدُهُمْ مِنْ بَعْدِي رَجُلٌ عَلِمَ عِلْمًا فَنَشَرَهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمِيرًا وَحده أَو قَالَ أمة وَحده»
ব্যাখ্যা: হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহ সর্বাধিক বড় দাতা। কেননা বিশ্বের সমস্ত কিছুই বিভিন্নভাবে তাঁর দান ও অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। আদম সন্তানদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতঃপর বড় দাতা ঐ ব্যক্তি যে ‘ইলম শিক্ষা করে পাঠদান, লিখনী বা উৎসাহের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এ ব্যক্তির মর্যাদা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে এত বেশি হবে যে, সে একাই একজন নেতা হিসেবে আগমন করবে আর তার সাথে তার অনুসারী ও সম্মান প্রদর্শনকারী সেবকরা থাকবে। অথবা বর্ণনাকারীর সন্দেহ যে, হাদীসে নেতা শব্দ ব্যবহার না করে একটি উম্মাতের কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ- মান-মর্যাদায় ব্যক্তি একাই একটি দল হিসেবে আগমন করবে। আর এর দৃষ্টান্ত আল্লাহ তা‘আলার বাণী (সূরাহ্ আন্ নাহল ১৬ : ১২) আল্লাহ ইব্রা-হীম (রাঃ)-কে একাকী একটি উম্মাত বলে অভিহিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬০-[৬৩] উক্ত রাবী [আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)] হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’জন লোভী ব্যক্তির পেট কখনো পরিতৃপ্তি লাভ করে না। একজন জ্ঞানপিপাসু লোক- ’ইলম দ্বারা তার পেট কখনো ভরে না। দ্বিতীয়জন হলো দুনিয়া পিপাসু- দুনিয়ার ব্যাপারে সেও কখনো পরিতৃপ্ত হয় না। [বায়হাক্বী’র ’’শু’আবুল ঈমান’’-এ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেছেনঃ মানুষের মাঝে হাদীসের ভাষ্যটি খুবই প্রসিদ্ধ, কিন্তু এর সানাদ সহীহ নয়][1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ: مَنْهُومٌ فِي الْعِلْمِ لَا يَشْبَعُ مِنْهُ وَمَنْهُومٌ فِي الدُّنْيَا لَا يَشْبَعُ مِنْهَا «. رَوَى الْبَيْهَقِيُّ الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ فِي» شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ: قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ فِي حَدِيثِ أَبِي الدَّرْدَاءِ: هَذَا مَتْنٌ مَشْهُورٌ فِيمَا بَين النَّاس وَلَيْسَ لَهُ إِسْنَاد صَحِيح
ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা দীনী জ্ঞানার্জনের প্রতি অনুপ্রেরণা জাগানো হয়েছে, পক্ষান্তরে দীনী সকল হুকুম-আহকাম পরিপালনের পর বৈধভাবে প্রয়োজন অনুপাতে দুনিয়া অর্জন করাতে দোষ নেই।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬১-[৬৪] ’আওন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) বলেছেনঃ দুই পিপাসু ব্যক্তি কক্ষনো পরিতৃপ্ত হয় না। তার একজন হলেন ’আলিম আর অপরজন দুনিয়াদার। কিন্তু এ দু’জনের মর্যাদা সমান নয়। কেননা ’আলিম ব্যক্তি, তার প্রতি তো আল্লাহর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর দুনিয়াদার তো (ধীরে ধীরে) আল্লাহর অবাধ্যতার পথে অগ্রসর হতে থাকে। অতঃপর ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) দুনিয়াদার ব্যক্তি সম্পর্কে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ
كَلَّا إِنَّ الْأِنْسَانَ لَيَطْغى* أَنْ رَّاهُ اسْتَغْنى
’’কক্ষনো নয়, নিশ্চয় মানুষ নিজকে (ধনে জনে সম্মানে) স্বয়ংসম্পূর্ণ ভেবে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে থাকে।’’ (সূরাহ্ আল ’আলাক্ব ৯৬: ৬-৭)
বর্ণনাকারী বলেন, অপর ব্যক্তি ’আলিম সম্পর্কে তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ
إِنَّمَا يَخْشَى اللهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء
’’আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিশ্চয় ’আলিমরাই তাঁকে ভয় করে’’- (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫: ২৮)। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
عَن عَوْنٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ صَاحِبُ الْعِلْمِ وَصَاحِبُ الدُّنْيَا وَلَا يَسْتَوِيَانِ أَمَّا صَاحِبُ الْعِلْمِ فَيَزْدَادُ رِضًى لِلرَّحْمَنِ وَأَمَّا صَاحِبُ الدُّنْيَا فَيَتَمَادَى فِي الطُّغْيَانِ. ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ (كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى)
قَالَ وَقَالَ الْآخَرُ (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عباده الْعلمَاء. رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা যায়, বিদ্যার অধিকারী ও দুনিয়াদার ব্যক্তি সমান নয়, উভয়ের মাঝে অনেক পার্থক্য। দুনিয়াদার সীমালঙ্ঘন বাড়াতে থাকে, মন্দ কাজের জন্য আল্লাহ থেকে দূরে থাকে। পক্ষান্তরে বিদ্যার অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহভীতি ও শিষ্টাচারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য বাড়াতে প্রয়াসী হয়।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬২-[৬৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমার উম্মাতের কতক লোক দীনের ’ইলম অর্জনে তৎপর হবে ও কুরআন অধ্যয়ন করবে। তারা বলবে, আমরা আমীর-উমরাদের কাছে যাবো এবং তাদের পার্থিব স্বার্থে কিছু ভাগ বসিয়ে আমাদের দীন নিয়ে আমরা সরে পড়বো। কিন্তু তা কখনো হবার নয়। যেমন কাঁটার গাছ থেকে শুধু কাঁটাই পাওয়া যায়, কোন ফল লাভ করা যায় না, ঠিক এভাবে আমীর-উমরাদের নৈকট্য দ্বারা। মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ (রহঃ) বলেন, গুনাহ ছাড়া কিছু অর্জিত হয় না। (ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: إِنَّ أُنَاسًا مِنْ أُمَّتِي سَيَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ ويقرءون الْقُرْآن يَقُولُونَ نَأْتِي الْأُمَرَاءَ فَنُصِيبُ مِنْ دُنْيَاهُمْ وَنَعْتَزِلُهُمْ بِدِينِنَا وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ كَمَا لَا يُجْتَنَى مِنَ الْقَتَادِ إِلَّا الشَّوْكُ كَذَلِكَ لَا يُجْتَنَى مِنْ قُرْبِهِمْ إِلَّا - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ: كَأَنَّهُ يَعْنِي - الْخَطَايَا . رَوَاهُ ابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: হাদীসটি ইঙ্গিত করছে আমীরদের মুখাপেক্ষী হওয়াতে দীনী ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই ঘটে না।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৩-[৬৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আলিমগণ যদি ’ইলমের হিফাযাত ও মর্যাদা রক্ষা করতেন, উপযুক্ত ও যোগ্য লোকেদের কাছে ’ইলম সোপর্দ করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাদের ’ইলমের কারণে নিজেদের যুগের লোকেদের নেতৃত্ব করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা দুনিয়াদারদের কাছে বিলিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের কাছ থেকে দুনিয়ার কিছু স্বার্থ লাভ করতে পারেন। তাই তারা দুনিয়াদারদের কাছে মর্যাদাহীন হয়ে পড়েছেন। আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত চিন্তাকে এক মাকসুদ, অর্থাৎ- শুধুমাত্র আখিরাতের চিন্তায় নিবদ্ধ করে নিবে- আল্লাহ তার দুনিয়ার যাবতীয় মাকসুদ পূরণ করে দিবেন। অপরদিকে যাকে দুনিয়ার নানা দিক ব্যতিব্যাস্ত করে রাখবে, তার জন্য আল্লাহর কোন পরওয়াই নেই, চাই সে কোন জঙ্গলে (দুনিয়ায় যে কোন অবস্থায়) ধ্বংস হোক না কেন। (ইবনু মাজাহ্)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: لَوْ أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ صَانُوا الْعِلْمَ وَوَضَعُوهُ عِنْدَ أَهْلِهِ لَسَادُوا بِهِ أَهْلَ زَمَانِهِمْ وَلَكِنَّهُمْ بَذَلُوهُ لِأَهْلِ الدُّنْيَا لِيَنَالُوا بِهِ مِنْ دُنْيَاهُمْ فَهَانُوا عَلَيْهِمْ سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ جَعَلَ الْهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا هَمَّ آخِرَتِهِ كَفَاهُ اللَّهُ هَمَّ دُنْيَاهُ وَمَنْ تَشَعَّبَتْ بِهِ الْهُمُومُ فِي أَحْوَالِ الدُّنْيَا لَمْ يُبَالِ اللَّهُ فِي أَيِّ أَوْدِيَتِهَا هَلَكَ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৪-[৬৭] বায়হাক্বী এ হাদীসকে শু’আবুল ঈমানে ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে তার বক্তব্য হিসেবে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِنْ قَوْلِهِ: «مَنْ جَعَلَ الْهُمُومَ» إِلَى آخِره
ব্যাখ্যা: হাদীসটি দুর্বল, তবে মারফূ‘ অংশটুকু হাসান বা গ্রহণযোগ্য। মারফূ‘ অংশটুকুর ব্যাখ্যা- যে ব্যক্তিকে দুনিয়াবী ও পরকালীন সকল চিন্তা গ্রাস করে নিবে এ অবস্থায় ঐ ব্যক্তি যদি সকল চিন্তা ত্যাগ করে এক পরকালীন চিন্তাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে তাহলে আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এমন করবে না আল্লাহ তার দুনিয়া ও পরকালীন কোন ধরনের চিন্তার জন্য তিনি ভ্রূক্ষেপ করবেন না।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৫-[৬৮] আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’ইলমের জন্য বিপদ হলো (’ইলম শিখে) তা ভুলে যাওয়া। অযোগ্য লোক ও অপাত্রে ’ইলমের কথা বলা বা জ্ঞান দেয়া ’ইলমকে ধ্বংস করার সমতুল্য। দারিমী মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «آفَةُ الْعِلْمِ النِّسْيَانُ وَإِضَاعَتُهُ أَنْ تُحَدِّثَ بِهِ غَيْرَ أَهْلِهِ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ مُرْسلا
ব্যাখ্যা: মূল ভাষ্যের অর্থ সঠিক হওয়াতে বলা যেতে পারে বিদ্যার্জনের পর তা ভুলে যাওয়া ব্যক্তির জন্য বিপদ, সুতরাং বিদ্যা ভুলে যাওয়ার যে সকল কারণ রয়েছে যেমন- পাপ করা, বিভিন্ন চিন্তাতে ব্যাস্ত হওয়া, নিজ ও দুনিয়া নিয়ে ব্যাস্ত হওয়া মুখস্থ বিদ্যাকে বার বার পুনরাবৃত্তি করা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকতে এবং তার উপযুক্ত মন-মানসিকতা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে অনুপযুক্ত ব্যক্তির কাছে হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৬-[৬৯] সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) কা’ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, প্রকৃত ’আলিম কারা? তিনি [কা’ব (রাঃ)] বললেন, যারা অর্জিত ’ইলম অনুযায়ী ’আমল করে। ’উমার (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ’আলিমের অন্তর থেকে ’ইলমকে বের করে দেয় কোন্ জিনিস? তিনি বললেন, (সম্মান ও সম্পদের) লোভ-লালসা। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ سُفْيَانَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لِكَعْبٍ: مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ؟ قَالَ: الَّذِي يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ. قَالَ: فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ؟ قَالَ الطَّمَعُ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
ব্যাখ্যা: ভাষ্যটুকু দ্বারা বুঝা যায় ‘আমল ছাড়া ‘ইলম মূল্যহীন এবং ‘ইলম ধরে রাখার শর্ত হচ্ছে লোভ-লালসা ছেড়ে দেয়া। আরো বলা যেতে পারে দুনিয়ার প্রতি লোভ-লালসা মানুষকে রিয়া (দেখানোর জন্য) ও সুম্‘আর (যা শোনানোর জন্য) দিকে নিয়ে যায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া ‘ইলম ও ‘আমল মানুষকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৭-[৭০] আহ্ওয়াস ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মন্দ (লোক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না, বরং ভালো সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বলেন, সাবধান! ’আলিমগণের মধ্যে যে মন্দ, সে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আর ’আলিমগণের মধ্যে যে ভালো, সে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن الْأَحْوَص بن حَكِيم عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ سلم عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ: «لَا تَسْأَلُونِي عَنِ الشَّرِّ وَسَلُونِي عَنِ الْخَيْرِ» يَقُولُهَا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: «أَلَا إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ شِرَارُ الْعُلَمَاءِ وَإِنَّ خير الْخَيْر خِيَار الْعلمَاء» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: দীনী বিদ্যাতে শিক্ষিত ব্যক্তিগণ যখন তাদের বিদ্যানুযায়ী ‘আমল করবে তখন তারা হবে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম। পক্ষান্তরে তারা যখন তাদের ‘ইলম অনুযায়ী ‘আমল করা ছেড়ে দিবে তখন তারা হবে মানুষের মাঝে সর্বনিকৃষ্ট।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৮-[৭১] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বাধিক মন্দ সে ব্যক্তি হবে, যে তার ’ইলমের দ্বারা উপকৃত হতে পারেনি। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ: عَالِمٌ لَا ينْتَفع بِعِلْمِهِ . رَوَاهُ الدَّارمِيّ
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৬৯-[৭২] যিয়াদ ইবনু হুদায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ’উমার (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি বলতে পারো, ইসলাম ধ্বংস করবে কোন্ জিনিসে? আমি বললাম, আমি বলতে পারি না। তখন তিনি [’উমার (রাঃ)] বললেন, ’আলিমদের পদস্খলন, আর আল্লাহর কিতাব কুরআন নিয়ে মুনাফিক্বদের ঝগড়া-বিবাদ বা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এবং পথভ্রষ্ট শাসকদের শাসনই ইসলামকে ধ্বংস করবে। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن زِيَاد بن حدير قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْإِسْلَامَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا. قَالَ: يَهْدِمُهُ زَلَّةُ الْعَالِمِ وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكْمُ الْأَئِمَّةِ المضلين . رَوَاهُ الدِّرَامِي
ব্যাখ্যা: হাদীসে কিতাব শব্দ দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য। হাদীসে কুরআনকে খাসভাবে বর্ণনা করার কারণ- যেহেতু কুরআন নিয়ে বাদানুবাদ করা সর্বাধিক মন্দকাজ যা মানুষকে কুফরীর দিকে ঠেলে দেয়। হাদীস থেকে বুঝা যায়, পথভ্রষ্ট ইমামদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী দেয়া হুকুম, সে প্রবৃত্তির ব্যাপারে মানুষকে জোর জবরদস্তি করা, অতঃপর সত্য-বিচ্যুত ‘আলিম সম্প্রদায়, বিদ্‘আতপন্থী ঝগড়াটে মুনাফিক্ব এবং যালিম নেতারা ইসলামের রুকনসমূহকে দুর্বল করে দিবে এবং তাদের ‘আমলের মাধ্যমে সেগুলোর মর্মার্থকে নষ্ট করবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭০-[৭৩] হাসান [আল বসরী] (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’ইলম দুই প্রকার। এক প্রকার ’ইলম হলো অন্তরে, যা উপকারী ’ইলম। আর অপর প্রকার ’ইলম হলো মুখে মুখে, আর এটা হলো আল্লাহর পক্ষে বানী আদমের বিরুদ্ধে দলীল। (দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن الْحسن قَالَ: «الْعِلْمُ عِلْمَانِ فَعِلْمٌ فِي الْقَلْبِ فَذَاكَ الْعلم النافع وَعلم على اللِّسَان فَذَاك حُجَّةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى ابْنِ آدَمَ» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে عِلْمٌ فِي الْقَلْبِ বলতে ঐ ‘ইলমকে বুঝানো হয়েছে যে, ‘ইলমের উপর ‘আমল করার দরুন অন্তরে তার প্রভাব পড়ে ও জ্যোতি প্রকাশ পায়। যে ‘ইলম তার দাবী অনুপাতে বেগবান, সুন্নাতের প্রকাশ ঘটায় ও বিদ্‘আতকে ধ্বংস করে এটিই মূলত উপকারী ‘ইলম। পক্ষান্তরে عِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ বলতে ঐ عِلْمٌ যা মুখে চলে মুখের উপরই কেবল প্রকাশ পায়, অন্তরে তার কোন জ্যোতি ও প্রভাব প্রকাশ পায় না। যে عِلْمٌ হতে ‘আমল করা হয় না এ ধরনের عِلْمٌ-ই আদম সন্তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর দলীল। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে আল্লাহ তাকে বলবেন তুমি যা শিক্ষা করেছিলে সে অনুযায়ী কি ‘আমল করেছো? এ ধরনের বিদ্যা থেকেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম أَعُوْذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ দু‘আ দ্বারা পানাহ চাইতেন।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭১-[৭৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুই পাত্র (দুই প্রকারের ’ইলম) শিখেছি। এর মধ্যে এক পাত্র আমি তোমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি, কিন্তু অপর পাত্রের ’ইলম- তা যদি আমি তোমাদেরকে বলে দিই তাহলে আমার এ গলা কাটা যাবে। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وِعَاءَيْنِ فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَبَثَثْتُهُ فِيكُمْ وَأَمَّا الْآخَرُ فَلَوْ بَثَثْتُهُ قُطِعَ هَذَا الْبُلْعُومُ يَعْنِي مجْرى الطَّعَام» رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক দু’পাত্র ‘ইলম শিক্ষার কথা উল্লেখ আছে। ‘‘দু’পাত্র ‘ইলম শিক্ষা’’ কথাটির মর্মার্থ হচ্ছে যদি সে ‘ইলম লিখা হয় তাহলে দু’টি পাত্র পূর্ণ হয়ে যাবে। এক পাত্র ‘ইলমকে তিনি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অন্য পাত্রের ‘ইলম যা তিনি মানুষের সামনে প্রকাশ করেননি; তা মূলত ফিতনাহ্ (ফিতনা) ও ব্যাপক যুদ্ধের খবরসমূহ, শেষ যামানাতে অবস্থাসমূহের বিবর্তন এবং যে ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় কুরায়শী নির্বোধ ক্রীতদাসের হাতে দীন নষ্ট হওয়ার খবর দিয়েছেন।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কখনো কখনো বলতেন- আমি চাইলে তাদের নামসহ চিহ্নিত করতে পারি। অথবা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক গোপন করা ‘ইলম দ্বারা ঐ হাদীসসমূহও হতে যেগুলোতে অত্যাচারী আমীরদের নাম, তাদের অবস্থাসমূহ ও তাদের যামানার বিবরণ আছে। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কখনো কখনো এদের কতক সম্পর্কে ইশারা করতেন তাদের থেকে নিজের ওপর ক্ষতির আশংকায় তা স্পষ্ট করে বলতেন না যেমন তাঁর উক্তি- আমি ষাট দশকের মাথা ও তরুণদের নেতৃত্ব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) উল্লিখিত উক্তি দ্বারা ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর খিলাফাত এর দিকে ইশারা করতেন, কেননা তার খিলাফাত ছিল ষাট হিজরী সন। আল্লাহ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর দু‘আতে সাড়া দিলেন, অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ষাট হিজরীর এক বছর পূর্বেই মারা যান।
ইবনুল মুনীর বলেন- বাত্বিনী সম্প্রদায় এ হাদীসটিকে বাতিলপন্থীদের সঠিক বলার কারণ স্বরূপ উপস্থাপন করে থাকে। যেমন তারা বিশ্বাস করে শারী‘আতের একটি বাহ্যিক ও একটি আভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে এ উক্তির মাধ্যমে ঐ বাতিলপন্থীদের অর্জিত বিষয়টি হলো দীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া। ইবনুল মুনযীর বলেন- আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তার উক্তি- قطع দ্বারা উদ্দেশ করেছেন অত্যাচারী ব্যক্তিরা যদি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা ও তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার কথা জানতে পারে তাহলে তার মাথা কেটে নিবে। এ বিশ্লেষণটি ঐ কথাকে আরো জোরদার করছে যে, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর গোপন করা বিষয়টি যদি শারী‘আতী কোন হুকুম-আহকাম হতো তাহলে তা গোপন করা বৈধ হতো না। কারণ তিনি এমন বাক্য উল্লেখ করেছেন যা ‘ইলম গোপনকারী ব্যক্তির নিন্দা জ্ঞাপন করে।
ইবনুল মুনযীর ছাড়াও অন্য আরেকজন বলেছেন- আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তার গোপন করা ‘ইলম সাধারণ ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্ত করা থেকে বিরত থেকেছেন, বিশেষ ব্যক্তিদের কাছে নয়। অতএব বাতিলপন্থীরা কিভাবে এর দ্বারা দলীল উপস্থাপন করছে যে, শারী‘আতে এক প্রকার বাত্বিনী ‘ইলম আছে? কিংবা আমরা যা জানি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তার গোপন করা বিষয় প্রকাশ করেননি; অতএব আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) যা গোপন করেছেন বাতিলপন্থীরা তা কোথা থেকে জানতে পারলো? এরপরও যে ব্যক্তি এ ধরনের দাবী করবে তার উচিত সে ব্যাপারে দলীল পেশ করা।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭২-[৭৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে লোক সকল! যে যা জানে সে তা-ই যেন বলে। আর যে জানে না সে যেন বলে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কারণ যে ব্যাপারে তোমার কিছু জানা নেই সে ব্যাপারে ’’আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত আছেন’’ এ কথা ঘোষণাই তোমার জ্ঞান। (কুরআনে) আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীকে বলেছেনঃ ’’আপনি বলুন, আমি (দীন প্রচারের বিনিময়ে) তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না। আর যারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই’’- (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮:৮৬)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ عَلِمَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُ أعلم فَإِن من الْعلم أَن يَقُول لِمَا لَا تَعْلَمُ اللَّهُ أَعْلَمُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ (قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنا من المتكلفين)
ব্যাখ্যা: জনৈক ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদকে ‘‘ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন ধোঁয়ার আগমন ঘটা’’ সম্পর্কে বললে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তার কথার অস্বীকৃতি স্বরূপ বলেন- যা তোমরা জানো না সে ব্যাপারে তোমাদের জানা আছে এ কথা বুঝানোর ভান করো না। পূর্ণাঙ্গ হাদীস হতে আমরা যা বুঝতে পারি তা হলো অজানা বিষয় জানা আছে এ কথা বুঝানোর জন্য কারো সামনে ভান করা যাবে না এবং অজানা বিষয়ের اللّهُ أَعْلَمُ বলে উত্তর দিতে হবে, কারণ অজানা বিষয় হতে জানা বিষয়কে আলাদা করাও এক প্রকার বিদ্যা। পক্ষান্তরে এর বিপরীত করা সুন্নাহ বহির্ভূত অনুচিত কাজ।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৩-[৭৬] ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এ (সানাদের) ’ইলম হচ্ছে দীন। অতএব তোমরা লক্ষ্য রাখবে যে, তোমাদের দীন কার নিকট হতে গ্রহণ করছো। (মুসলিম)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ: إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ব্যাখ্যা: উল্লিখিত আসার থেকে বুঝা যায়, দলীল-প্রমাণাদি ছাড়া দীনের কোন বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়। এক সময় এমন ছিল মানুষ সানাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো না, অতঃপর যখন ফিতনাহ্ সংঘটিত হলো অর্থাৎ- সুফিবাদী ও অন্যান্য ইসলাম বিধ্বংসীরা হাদীস তৈরি করতে লাগলো, তখন মুহাদ্দিসদের কাছে কোন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করলে তাঁরা সে হাদীসের রাবীদের নাম উল্লেখ করতে বলতেন। অতঃপর রাবীদেরকে সুন্নাতের অনুসারী পেলে তাদের হাদীস গ্রহণ করতো আর বিদ্‘আতকারী হিসেবে পেলে তাদের হাদীস প্রত্যাখ্যান করতেন। মানুষদেরকে হাদীসের সানাদের প্রতি খেয়াল করতে উৎসাহিত করতেন ও সতর্ক করতো।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৪-[৭৭] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (তাবি’ঈদের উদ্দেশে) বলেন, হে কুরআন-ধারী (’আলিম) গণ! সোজা সরল পথে চলো। কেননা (প্রথমে দীন গ্রহণ করার দরুন পরবর্তীদের তুলনায়) তোমরা অনেক অগ্রসর হয়েছো। অপরপক্ষে তোমরা যদি (সরল পথ বাদ দিয়ে) ডান ও বামের পথ অবলম্বন কর, তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হবে। (বুখারী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ اسْتَقِيمُوا فَقَدْ سَبَقْتُمْ سَبْقًا بَعِيدًا وَإِنْ أُخِذْتُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا لَقَدْ ضللتم ضلالا بَعيدا. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসটির দু’টি অর্থ হতে পারে, প্রথম অর্থ- ওহে কুরআন সুন্নাহতে পারদর্শী সাহাবীগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন ও তাঁর নিষেধ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যম সরল-সঠিক পথের উপর চলো কেননা তোমরা ইসলামের প্রথম অবস্থা পেয়েছো, অতএব যদি তোমরা কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়িয়ে ধরো তাহলে প্রত্যেক কল্যাণকর বিষয়ে তোমরা অগ্রগামী হবে; কেননা তোমাদের পরে যারা আসবে তারা যদি তোমাদের ‘আমল অনুপাতে ‘আমল করে তাহলে তারা ইসলামে তোমাদের পশ্চাদগামী হওয়ার দরুন মর্যাদায় তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, কারণ অনুসৃত ব্যক্তির মর্যাদা অনুসরণকারীর ওপরে থাকে।
দ্বিতীয় অর্থ- সরল-সঠিক পন্থা অবলম্বনের গুণে যারা গুণান্বিত তারা আল্লাহর নিকট তোমাদের অপেক্ষা অগ্রগামী। সুতরাং এ ধরনের পিছে পড়ে থাকাকে তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য কিভাবে মেনে নিচ্ছ যা সরল-সঠিক পন্থা থেকে ডান ও বাম দিকে নিয়ে যায়। স্থায়ী ধ্বংসকে টেনে আনে। হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে সরল-সঠিক পথের উপর থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন যা প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তিকে সরল-সঠিক পথের উপর অবিচল থাকতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৫-[৭৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ’জুব্বুল হুযন’ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ’জুব্বুল হুযন’ কী? তিনি বললেন, এটা হলো জাহান্নামের মধ্যে একটি গর্ত। এ গর্ত হতে বাঁচার জন্য জাহান্নামও নিজেই দৈনিক চারশ’ বার আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! এতে (এ গর্তে) কারা যাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যারা দেখাবার উদ্দেশে ’আমল ও কুরআন অধ্যয়ন করে থাকে।
তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ মুক্বদ্দামাহ্; ইবনু মাজার অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাও বলেছেন, কুরআন অধ্যয়নকারী (’আলিম)-গণের মধ্যে তারাই আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত, যারা আমীর-উমারার সাথে বেশী বেশী সাক্ষাৎ বা মেলামেশা করে।[1] মুহারিবী বলেনঃ উমারা বলতে বুঝানো হয়েছে অত্যাচারী শাসক।
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ جُبِّ الْحَزَنِ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا جُبُّ الْحَزَنِ؟ قَالَ: «وَادٍ فِي جَهَنَّمَ تَتَعَوَّذُ مِنْهُ جَهَنَّم كل يَوْم أَرْبَعمِائَة مرّة» . قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَدْخُلُهَا قَالَ: «الْقُرَّاءُ الْمُرَاءُونَ بِأَعْمَالِهِمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَكَذَا ابْنُ مَاجَهْ وَزَادَ فِيهِ: «وَإِنَّ مِنْ أَبْغَضِ الْقُرَّاءِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الَّذِينَ يَزُورُونَ الْأُمَرَاءَ» . قَالَ الْمُحَارِبِيُّ: يَعْنِي الجورة
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ‘জুববুল হুযন’ নামক জাহান্নামের একটি গভীর উপত্যকার কথা এসেছে যা পূর্ণাঙ্গ গভীরতার কারণে কূপের সাথে সাদৃশ্য রাখে। হাদীসে আরো উল্লেখ হয়েছে, জাহান্নাম ‘জুববুল হুযন’ হতে প্রত্যেকদিন চারশত বার আশ্রয় চায়, অন্য বর্ণনাতে আছে একশত বার আশ্রয় চায়। উভয় বর্ণনাতে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পার্থক্য মনে হলেও মূলত কম সংখ্যা বেশী সংখ্যার পরিপন্থী নয়। হাদীসের শেষে الْقُرَّاءُ দ্বারা কুরআন-সুন্নাহয় জ্ঞানী ব্যক্তি উদ্দেশ্য। হাদীসটি দ্বারা বুঝা যায়, জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর রয়েছে যাদের কোনটির শাস্তি কোনটি হতে তীব্রতর। ফলে কোনটি কোনটি হতে আশ্রয় চায়। হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যায়, দীনী উদ্দেশ্য ছাড়া সম্মান ও সম্পদের উদ্দেশে আমীরদের সাথে সাক্ষাৎকারীরা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৬-[৭৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই মানুষের ওপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু নাম ব্যতীত ইসলামের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, সেদিন কুরআনের অক্ষরই শুধু অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মাসজিদগুলো তো বাহ্যিকভাবে আবাদ হতে থাকবে, কিন্তু হিদায়াতশূন্য থাকবে। তাদের ’আলিমগণ হবে আকাশের নীচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট হতেই (দীনের) ফিতনাহ্-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনাহ্ (ফিতনা) তাদের দিকেই ফিরে আসবে। (বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ وَلَا يَبْقَى مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ مَسَاجِدُهُمْ عَامِرَةٌ وَهِيَ خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى عُلَمَاؤُهُمْ شَرُّ مَنْ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ مِنْ عِنْدِهِمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ تَعُودُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان
ব্যাখ্যা: হাদীসটি অনুরূপভাবে ইমাম হাকিম-এর তারীখে ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। দায়লামী মু‘আয এবং আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকেও বর্ণনা করেছেন। হাদীস থেকে বুঝা যায়, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হবে যে, ইসলামের নাম যেমন সালাত, সিয়াম, হাজ্জ, যাকাত ছাড়া ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ও প্রকৃত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ), সিয়াম, হাজ্জ (হজ/হজ্জ), যাকাত কিছুই থাকবে না এবং কুরআনের লেখা ছাড়া তার ওপর মানুষের ‘আমল থাকবে না, মাসজিদসমূহ উঁচু দালান ও কারুকার্য খচিত প্রাচীর দ্বারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে আবাদ হবে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হবে হিদায়াতশূন্য। ‘আলিমদের দ্বারা ফিতনাহ্ শুরু হয়ে তার মন্দ পরিণতি তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৭-[৮০] যিয়াদ ইবনু লাবীদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয় বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা ’ইলম উঠে যাওয়ার সময় সংঘটিত হবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে ’ইলম উঠে যাবে? অথচ আমরা তো কুরআন শিক্ষা করছি, আমাদের সন্তানদেরকেও কুরআন শিক্ষা দিচ্ছি। আমাদের সন্তানগণ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি তাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতে থাকবে! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। আমি তো তোমাকে মদীনার একজন বিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তি বলেই মনে করতাম। এসব ইয়াহূদী ও নাসারাগণ কি তাওরাত ও ইঞ্জীল পড়ছে না? কিন্তু তারা তদনুযায়ী কাজ করছে না এমন নয় কি? আহমাদ, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ যিয়াদ (রাঃ)হতে বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَن زِيَاد بن لبيد قَالَ ذَكَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَقَالَ: «ذَاكَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَنحن نَقْرَأ الْقُرْآن ونقرئه أبناءنا ويقرؤه ابناؤنا أَبْنَاءَهُم إِلَى يَوْم الْقِيَامَة قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ زِيَادُ إِنْ كُنْتُ لَأُرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رَجُلٍ بِالْمَدِينَةِ أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ لَا يَعْمَلُونَ بِشَيْءٍ مِمَّا فِيهِمَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنهُ نَحوه
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আমল না করাকে সমাজ থেকে ‘ইলম চলে যাওয়া ও পৃথিবীতে মূর্খতা প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ- কোন বিদ্যা (কুরআন ও হাদীসের) জানার পর সে অনুযায়ী ‘আমল না করা সে বিদ্যা না জানা বা মূর্খতারই নামান্তর। অতএব একজন মূর্খ ব্যক্তি ও শিক্ষিত ‘আমলহীন ব্যক্তি উভয়ই সমান, পর্যায়ক্রমে শিক্ষিত ‘আমলহীন ব্যক্তি বোঝা বহনকারী গাধা। হাদীসটি মানুষকে ‘আমলের প্রতি উৎসাহিত ও সতর্ক করছে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৮-[৮১] ইমাম দারিমীও আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَكَذَا الدَّارمِيّ عَن أبي أُمَامَة
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৭৯-[৮২] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমরা ’ইলম শিক্ষা কর, লোকদের তা শিক্ষা দিতে থাকো। তোমরা অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো (বা ফারায়িয) শিখবে, অন্যকেও শিখাবে। এভাবে কুরআন শিখ, লোকদেরও শিখাও। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে, ’ইলমও উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ফিতনাহ্-ফাসাদ ও হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। এমনকি দুই ব্যক্তি অবশ্য পালনীয় বিষয়ে মতভেদ করবে, অথচ ঐ দুই ব্যক্তি এমন কাউকে পাবে না, যে এ দু’জনের মধ্যে মীমাংসা করে দিতে পারে। (দারিমী ও দারাকুত্বনী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوهَا النَّاسَ تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَعَلِّمُوهُ النَّاسَ فَإِنِّي امْرُؤٌ مَقْبُوضٌ وَالْعِلْمُ سَيُقْبَضُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ حَتَّى يَخْتَلِفَ اثْنَانِ فِي فَرِيضَةٍ لَا يَجِدَانِ أَحَدًا يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ وَالدَّارَقُطْنِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসটি ‘ইলম, ফারায়িয ও কুরআন শিক্ষার ব্যাপারে ও তা মানুষকে শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ করছে এবং এতে অদূর ভবিষ্যতে ‘ইলম উঠিয়ে নেয়া, ফিতনাহ্ (ফিতনা) প্রকাশ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কোন একটি ফরয বিষয় নিয়ে দু’ ব্যক্তি মতানৈক্যে পতিত হবে কিন্তু তারা এমন কাউকে পাবে না যে, তাদের দু’জনের মাঝে মীমাংসা করে দিবে। আর তা বিদ্যার কমতি বা ফিতনার আধিক্যের কারণে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২৮০-[৮৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ’ইলম বা জ্ঞান দ্বারা কারো কোন উপকার হয় না, তা এমন এক ধনভান্ডারের ন্যায় যা থেকে আল্লাহর পথে খরচ করা হয় না। (আহমাদ ও দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ عِلْمٍ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ كَمَثَلِ كَنْزٍ لَا يُنْفَقُ مِنْهُ فِي سَبِيل الله» . رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, বিদ্যা যদিও উপকারী কিন্তু তা শিক্ষার পর যদি সে অনুযায়ী ‘আমল করা না হয় এবং মানুষকে শিক্ষা দেয়া না হয় তাহলে এ ধরনের বিদ্যার দৃষ্টান্ত ঐ গচ্ছিত ধন-ভান্ডারের মতো যা থেকে ব্যক্তি নিজের ওপর খরচ করে না এবং কোন কল্যাণকর কাজেও ব্যয় করে না। হাদীসে বিদ্যার সাথে গচ্ছিত ধন ভান্ডারের সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে তা উপকৃত না হওয়ার দিক দিয়ে। মোদ্দা কথা- বিদ্যার সার্থকতা হচ্ছে ‘আমল ও অপরকে তা শিখানো; যদি এটি করা না হয় তাহলে সার্থকতা নষ্ট হয়। হাদীসটি মানুষকে বিদ্যা শিক্ষার পর সে অনুপাতে ‘আমল করতে ও অন্যকে তা শিখাতে উৎসাহিত করছে।