পরিচ্ছেদঃ তাহারাত ব্যাতিরেকে সালাত কবুল হয় না।
১. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও হান্নাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তাহারাত ছাড়া সালাত কবূল হয় না আর খিয়ানতের মাল থেকে [1] সা’দকা (কবুল) হয় না। (ইমাম তিরমিযী রাবী হান্নাদ -এর সূত্রেও হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হান্নাদ بغير طهور এর স্থলে الا بطهور উল্লেখ করেছেন।)
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে উক্ত হাদীছটই হল সর্বপেক্ষা সহীহ এবং হাসান। এই বিষয়ে আবূল মালীহ তাঁর পিতার বরাতে এবং আবূ হুরাযরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। এই আবূল মলীহ হলেন উসামার পুত্র। তাঁর নাম আমির। ভিন্ন মতে তিনি হলেন যায়দ ইবনু উসামা ইবনু উমায়র আল-হুযালী। - ইবনু মাজাহ -২৭২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ " . قَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ " إِلاَّ بِطُهُورٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ . وَأَبُو الْمَلِيحِ بْنُ أُسَامَةَ اسْمُهُ عَامِرٌ وَيُقَالُ زَيْدُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرٍ الْهُذَلِيُّ .
(1) Chapter: What Has Been Related That Salat Is Not Accepted Without Purification
Ibn `Umar narrated that:
the Prophet said: "Salat will not be accepted without purification, nor Charity from Ghulul." Hannad said in his narration, "except with purification"
[Abu `Eisa said: This Hadith is the most correct thing on this topic, and the best. There are also narrations on this topic from Abu Al-Malih, from his father; and Abu Hurairah and Anas. And Abu Al-Malih bin Usamah's name is `Amir, and they also say it was Zaid bin Usamah bin `Umair Al-Hudhali.
পরিচ্ছেদঃ তাহারাতের ফযীলত।
২. ইসাহাক ইাবন মূসা আনসারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন মুসলিম অথবা মু’মিন বান্দা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আর সে তার মুখ ধোয় তখন উযূর পানি অথবা উযূর পানির শেষ ফোটার সাথে সাথে তার চেহারা থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে তার দু’চোখ দিয়ে দেখে ছিল; যখন সে তার দু’হাত ধোয় তখন উযূর পানি বা উযূর পানির শেষ ফোটার সাথে সাথে তার উভয় হাত থেকে সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে হাত দিয়ে ধরে ছিল; এমনি কি শেষ পর্যন্ত সে তার গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। - আত তা’লিকুর রাগীব ১/৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি ’’হাসান’’।
এই রিওয়ায়াতটি হল মালিক-সুহাইল-সুহাইলের পিতা আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। সুহাইলের পিতা আবূ সালিহ হচ্ছেন আবূ সালিহ আস্-সম্মান। তাঁর নাম হল যাকওয়ান। আবূ হুরায়রা (রা ) এর প্রকৃত নাম সম্পর্কে মত বিরোধ বিদ্যামান। কেউ কেউ বলেন, আবদ শামস; আবার কেউ কেউ বলেন, আবূল্লাহ ইবনু আমর। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীও এইরূপ বলেছেন। আর এটই অধিকতর শুদ্ধ।
এই বিষয়ে ইছমান, ছারবান, সুনাবিহী, আমর ইবনু আবাসা, সালমান এবং আবদুলুাহ ইাবন আমর (রা ) থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। যে সুনাবিহী তাহারাতের ফযীলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন ইনি হলেন আবদুল্লাহ সুনাবিহী। আর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে যে সুনাবিহী রিওয়ায়াত করেন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শোনার সুযোগ পানটি। তাঁর নাম হল আবদুর রহমান ইবনু উসায়লা। উপনাম হল আবূ আবদিল্লাহ। ইনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু যখন মদ্বীনার পথে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনি কিছু সংখ্যক হাদীছ (অন্যের সূত্রে) রিওয়াত করেছেন। সুনাবিহ ইবনুল আ’সার আল-আহমাসী ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী তাঁকেও সুনাবিহী বলা হয়। তাঁর বর্ণিত হাদীছটি হল, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,তিনি ইরশাদ করেন, তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গৌরব করব। সুতরাং তোমরা আমার পরে পরস্পরে খুন-খারাবী করো না।
باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ أَوْ نَحْوِ هَذَا وَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ مَالِكٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ . وَأَبُو هُرَيْرَةَ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ فَقَالُوا عَبْدُ شَمْسٍ وَقَالُوا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ الأَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَثَوْبَانَ وَالصُّنَابِحِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ وَسَلْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَالصُّنَابِحِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ . وَالصُّنَابِحُ بْنُ الأَعْسَرِ الأَحْمَسِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي " .
(2) Chapter: What Has Been Related About The Virtue Of Purification
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "When a Muslim, or believer, performs Wudu', washing his face, every evil that he looked at with his eyes leaves with the water - or with the last drop of water, or an expression similar to that - and when he washes his hands, every evil he did with his hands leaves with the water - or with the last drop of water - until he becomes free of sin." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ সালাতের চাবি হল তাহারাত।
৩. কুতায়বা, হান্নাদ ও মাহমূদ ইাবন গায়লান (রহঃ) .... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সালাতের চাবি হল তাহারাত, তাকবীরে তাহরীমা (সালাতের পরিপন্থী সকল কাজকে হারাম করে আর সালাম তা হালাল করে)। - ইবনু মাজাহ - ২৭৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে উল্লেখিত হাদীছটি হল সবচেয়ে সহীহ এবং সবচেয়ে উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল সত্যভাষী। তবে হাদীছ বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ তাঁর স্মরণশক্তির সমালোচনা করেন। আবূ ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, আল-হুমাইদী প্রমুখ হাদীছ বিশারদগণ আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীলের রিওয়ায়াত দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। মুহম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) বলেন, ইনি মুকারিবুল হদীছ তাঁর হাদীছ গ্রহণগোয্যতার নিকটবর্তী। এই বিষয়ে জাবির ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ أَنَّ مِفْتَاحَ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ " مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ هُوَ صَدُوقٌ وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَالْحُمَيْدِيُّ يَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ .
(3) Chapter: What Has been Related That The Key To Salat Is Purification
Ali narrated that :
the Prophet, said: "The key to Salat is the purification, its Tahrlm is the Takblr, and its Tahlil is the Taslim." (Hasan)
পরিচ্ছেদঃ সালাতের চাবি হল তাহারাত।
৪. আবূ বকর, মুহাম্মাদ ইাবন যানযাওয়ায়ই আল বাগদাদী (রহঃ) এবং আরো একধিক রাবী .... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ জান্নাতের চাবি হল সালাত আর সালাতের চাবি হল উযূ (ওজু/অজু/অযু)। - মিশকাত (২৯৪), তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটির প্রথম অংশ যঈফ (অর্থাৎ জান্নাতের চাবি হল সালাত)। দ্বিতীয় অংশ সহীহ (সালাতের চাবি হল উযূ (ওজু/অজু/অযু)।), পূর্বের হাদিসের অংশ হওয়ার কারনে।
باب مَا جَاءَ أَنَّ مِفْتَاحَ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجَوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلاَةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الْوُضُوءُ " .
(3) Chapter: What Has been Related That The Key To Salat Is Purification
Jabir bin 'Abdullah, may Allah be pleased with them, narrated that :
Allah's Messenger said: "The key to Paradise is Salat, and the key to Salat is Wudu'."
- First part D'aif and second part Grade: Sahih
পরিচ্ছেদঃ পায়খানা প্রবেশের দু'আ।
৫. কুবায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের কালে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
হে আল্লাহ! শয়তান,জ্বিন ও সকল কষ্টদায়ক প্রাণী থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি।
الخبث والبيث এর স্থলে الخبث والخبا ئث ও বর্ণিত আছে। এই হাদীছটির অন্যমত রাবী শু’বা বলেন, তাঁর উস্তাদ আবদুল আযীয ইবনু সুহাইাব اعوذبك এর স্থলে এক সময় اعوذ بالله ও রিওয়ায়াত করেছেন। - ইবনু মাজাহ ২৯৮, বুখারি ও মুসলিম,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, যায়দ ইবনু আরকাম, জাবির এবং ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিজী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদছিটি সর্বাপেক্ষা সহীহ ও হাসান। যায়াদ ইবনু আরকাম বর্ণিত হাদীছটির সনদে ইযতিরাব বিদ্যামন। হাদীছটি হিশাম আদ-দাসতায়াঈ ও সাঈদ ইবনু আবী আরূবা কাতাদা থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। সাঈদ তাঁর সনদে কাসিম ইবনু আওফ আশ শায়বানীর মাধ্যমে যায়দ ইবনুু আরকাম থেকে রিওয়ায়াত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন আর হিশাম উল্লেখ করেন যে, তিনি কাতাদর মাধ্যমে যায়দ ইবনু আরকাম থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি কাসিমের উল্লেখ করেননি।
শু’বা ও মা’মারও কাতাদার সূত্রে এই হাদছিটি নাযর ইবনু আনাস থোকে রিওয়ায়াত করেছেন। শু’[বা তাঁর রিওয়ায়াতে যায়দ ইবনু আরকাম সূত্রের উল্লেখ করেছেন। আর মা’মার নাযর ইবনু আনাস তাঁর পিতা আনাস থেকে হাদীছটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমযযী (রহঃ) বলেন মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে আমি এই ইযিতিরাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ যায়দ ইবনু আরকাম ও নাযর ইবনু আনাস উভয় থেকেই কাতাদার রিওয়ায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে।
باب مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ قَالَ شُعْبَةُ وَقَدْ قَالَ مَرَّةً أُخْرَى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبِيثِ أَوِ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَجَابِرٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ . وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ رَوَى هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ فَقَالَ سَعِيدٌ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ . وَقَالَ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ . وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَمَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ فَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ . وَقَالَ مَعْمَرٌ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَقَالَ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ قَتَادَةُ رَوَى عَنْهُمَا جَمِيعًا .
(4) Chapter: What Is Said When entering The Toilet
Anas bin Malik said:
"When the Prophet entered the toilet he would say: 'O Allah Indeed I seek refuge in You.'" Shu'bah (one of the narrators) said: "Another time he said: 'I seek refuge in You from AI-Khubthi and al-Khablth.' Or: 'Al-Khubthi and Al-Khaba'ith.'" (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পায়খানা প্রবেশের দু'আ।
৬. আহমদ ইবনু আদা আযযাব্বী ...... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশ কালে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি হাসান ও সহীহ। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
(4) Chapter: What Is Said When entering The Toilet
Anas bin Malik said:
"When the Prophet would enter the toilet 'He said: "O Allah! Indeed I seek refuge in You from Al-Khubith and Al- Khaba'ith." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পায়খানা থেকে বের হওয়ার দু'আ।
৭. মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ..... আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ غُفْرَانَكَ হে আল্লাহ, তোমার কাছে ক্ষমা চাই। - ইবনু মাজাহ ৩০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদছিটি ’হাসান গরীব’ অর্থাৎ উত্তম তবে অপ্রসিদ্ধ। ইসারাঈল ইউসুফ ইবনু আবূ বুরদা এর সনদ ব্যতীত অন্য কোন সনদে হাদীছটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। আবূ বুরদা ইবনু আবী মূসা, তাঁর আসল নাম হল আমির ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু কায়স আল আশআরী। এই বিষয়ে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর হাদছিটি ব্যতীত অন্য কোন রিওয়য়াত তেমন পরিচিত নয়।
باب مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ بْنِ يُونُسَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ قَالَ " غُفْرَانَكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ . وَأَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى اسْمُهُ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الأَشْعَرِيُّ . وَلاَ نَعْرِفُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلاَّ حَدِيثَ عَائِشَةَ رضى الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم .
(5) Chapter: What Is Said When Exiting The Toilet
Aishah, [may Allah be pleased with her] said:
"When the Prophet would exit the toilet he would say: 'Ghufranak.'" (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পেশাব-পায়খানাকালে কিবলামুখী হওয়া নিষিদ্ধ।
৮. সাঈদ ইবনু আবদির রাহমান আল মাখযামী ...... আবূ আইয়্যুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা পেশাব বা পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং সে দিকে পিছনও দিবে না বরং পূর্ব বা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে। আবূ আইয়্যুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ পরে আমরা যখন শামে এলাম তখন সেখানকার পায়খানাগুলো কিবলার দিকে মুখ করে নির্মিত দেখতে পেলাম। সুতরাং আমরা এ থেকে ফিরে বসতাম আর আল্লাহর কাছে ইস্থিগফার করতাম। - ইবনু মাজাহ ৩১৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ, মা’কিল ইবনু আবীল হায়ছাম, ইনি মাকিল ইবনু আবী মাকিল নামেও পরিচিত, আবূ উমামা, ইবূ হুরায়রা ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ আয়্যুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদছিটি এই বিষয়ে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বিশুদ্ধ। আবূ আয়্যুব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নাম হল খালিদ ইনব যায়দ। রাবী আয-যুহরীর নাম হল মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু উবায়দিল্লাহ ইবনু শিহাব আয-যুহরী। তাঁর উপনাম আবূ বকর। আবূল ওয়ালীদ মক্কী বলেন আবূ আবূদল্লাহ আশ শাফিঈ (রহঃ) বলেছেন, ’’হাদীছের হুকুম মাঠ বা খোলা জায়গার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নির্মিত পেশাব পায়খানায় কিবলার দিকে পেছন ফিরে বসার অনুমতি আছে।’’ ইমাম ইসহাককের বক্তব্যও অনুরূপ। আহমদ ইবনু হাম্মল (রহঃ) বলেনঃ পেশাব পায়খানার বেলায় কিবলার দিকে পেছন ফিরে বসার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু কিবলামুখী হয়ে বসার কোন অনুমতি নাই। অর্থাৎ তিনি খোলাস্থান বা নির্মিত পেশাব পায়খানার কোথায়ও কিবলামুখী হয়ে বসা জায়েয বলে মনে করেন না।
باب فِي النَّهْىِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ، بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلاَ بَوْلٍ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا " . فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَدِمْنَا الشَّأْمَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ مُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ وَمَعْقِلِ بْنِ أَبِي الْهَيْثَمِ وَيُقَالُ مَعْقِلُ بْنُ أَبِي مَعْقِلٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ . وَأَبُو أَيُّوبَ اسْمُهُ خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ . وَالزُّهْرِيُّ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ وَكُنْيَتُهُ أَبُو بَكْرٍ . قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ الْمَكِّيُّ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلاَ بِبَوْلٍ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا " . إِنَّمَا هَذَا فِي الْفَيَافِي وَأَمَّا فِي الْكُنُفِ الْمَبْنِيَّةِ لَهُ رُخْصَةٌ فِي أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا . وَهَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ إِنَّمَا الرُّخْصَةُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي اسْتِدْبَارِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَأَمَّا اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ فَلاَ يَسْتَقْبِلُهَا . كَأَنَّهُ لَمْ يَرَ فِي الصَّحْرَاءِ وَلاَ فِي الْكُنُفِ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ .
(6) Chapter: Regarding The Prohibition Of Facing The Qiblah When Defecating And Urinating.
Abu Ayyub Al-Ansari narrated that :
Allah's Messenger said: "When one of you arrives to defecate, then let none of you face the Qiblah while defecating, nor while urinating. And do not have your back towards it, but have it east of you or west of you." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ উক্ত বিষয়ে অনুমতি প্রসঙ্গে।
৯. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবনু মুছন্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, পেশাবের সময় কিবলামুখী হয়ে বসতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে তাঁকে আমি ঐ অবস্থায় কিবলামুখি হতে দেখেছি। - ইবনু মাজাহ ৩২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ কাতাদা, আইশা, আম্মার (রাঃ) থেকেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম তিরমযযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীছটি হাসান গরীব অর্থাৎ উত্তম তবে অপ্রসিদ্ধ।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِبَوْلٍ فَرَأَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ يَسْتَقْبِلُهَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَعَائِشَةَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ . وَحَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ . وَابْنُ لَهِيعَةَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
(7) Chapter: What Has Been Related About The Permission for That
Jabir bin Abdullah said:
"The Prophet prohibited us from facing the Qiblah while urinating. Then i saw him facing it a year before he died." (Hasan)
Abu Qatadah narrated that :
he saw the Prophet urinating while facing the Qiblah. Qutaibah narrated that to us, he said: "Ibn Lahi'ah informed us." Jabir's Hadlth about the Prophet is more correct than the Hadith of Ibn Lahi'ah. Ibn Lahi'ah is weak according to the scholars of Hadith. He was graded weak by Yahya bin Sa'eed Al-Qattan, and others, [due to his memorization].
পরিচ্ছেদঃ উক্ত বিষয়ে অনুমতি প্রসঙ্গে।
১০. ইবনু লাহী’আ .... আবূ কাতাদা সূত্রে বর্ণনা করেন, আবূ কাতাদা বলেছেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলামুখী হয়ে পেশাব করতে দেখেছেন। ইবনু লাহীআর এই রিওয়ায়াতটির তুলনায় জাবির সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে রিওয়ায়াতটি (৯নং) করেছেন সেটি অধিকতর সহীহ। হাদীছবেত্তাগণের নিকট ইবনু লাহী’আ যঈফ বলে গণ্য। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান প্রমুখ ইবনু লাহী’আকে তাঁর স্মৃতি শক্তির দিক থেকে যঈফ বলে বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ . وَحَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ . وَابْنُ لَهِيعَةَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
(7) Chapter: What Has Been Related About The Permission for That
Abu Qatadah narrated that :
he saw the Prophet urinating while facing the Qiblah. Qutaibah narrated that to us, he said: "Ibn Lahi'ah informed us." Jabir's Hadlth about the Prophet is more correct than the Hadith of Ibn Lahi'ah. Ibn Lahi'ah is weak according to the scholars of Hadith. He was graded weak by Yahya bin Sa'eed Al-Qattan, and others, [due to his memorization].
পরিচ্ছেদঃ উক্ত বিষয়ে অনুমতি প্রসঙ্গে।
১১. হান্নাদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি একদিন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে পিছন দিয়ে এবং শামের দিকে মুখ করে তাঁর হাজত পূরণ (ইস্তিঞ্জাহ) করছেন। - ইবনু মাজাহ ৩২২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি হাসান সহীহ।
باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَقِيتُ يَوْمًا عَلَى بَيْتِ حَفْصَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَتِهِ مُسْتَقْبِلَ الشَّأْمِ مُسْتَدْبِرَ الْكَعْبَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
(7) Chapter: What Has Been Related About The Permission for That
Ibn 'Umar said:
"One day I climbed on Hafsah's house, and I saw the Prophet relieving himself while facing Ash-Sham, with his back toward the Ka'bah." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ দাঁড়িয়ে পেশাব করা নিষেধ।
১২. আলী ইবনু হুজর ..... আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেনঃ কেউ যদি তোমাদের বলে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন তবে তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করো না। তিনি বসা ছাড়া পেশাব করতেন না। - ইবনু মাজাহ ৩০৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমর, বুরায়দা ও আবদুর রহমান ইবনু হাসানহ (রাঃ) থেকে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষযে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীছটই সর্বাপেক্ষা সহীহ এবং উত্তম। আবদুল করীম ...... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করাতে দেখে বললেনঃ হে উমর! দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীছটি কেবলমাত্র রাবী আবদুল করীম-ই মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি হাদীছবেত্তাগণের নিকট যঈফ বলে গণ্য। আয়্যুব আর সাখতিয়ানী তাঁকে যইফ বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ইসলাম গ্রহণের পর আমি কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করি নাই। আবদুল করীম বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে এই রিওয়ায়াতটি অধিক বিশুদ্ধ। এই বিষয়ে বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীছটি মাহফুজ (সংরক্ষেত) নয়। দঁড়িয়ে পেশাব করা হারাম বলে নয় বরং আদব ও শিষ্টাচারের দৃষ্টিকোন থেকে তা নিষেধ করা হয়েছে। ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ দাড়িয়ে পেশাব করা শিষ্টাচার বিরোধী।
باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنِ الْبَوْلِ، قَائِمًا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلاَ تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلاَّ قَاعِدًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَبُرَيْدَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَنَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ . وَحَدِيثُ عُمَرَ إِنَّمَا رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبُولُ قَائِمًا فَقَالَ " يَا عُمَرُ لاَ تَبُلْ قَائِمًا " . فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ أَبِي الْمُخَارِقِ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ وَتَكَلَّمَ فِيهِ . وَرَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه مَا بُلْتُ قَائِمًا مُنْذُ أَسْلَمْتُ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ وَحَدِيثُ بُرَيْدَةَ فِي هَذَا غَيْرُ مَحْفُوظٍ . وَمَعْنَى النَّهْىِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا عَلَى التَّأْدِيبِ لاَ عَلَى التَّحْرِيمِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ مِنَ الْجَفَاءِ أَنْ تَبُولَ وَأَنْتَ قَائِمٌ .
(8) Chapter: (What Has Been Related About) The Prohibition Of Urinating While Standing
Aishah said:
"Whoever narrated to you that the Prophet would urinate while standing; then do not believe him. He would not urinate except while squatting." [He said:] There are narrations on this topic from Umar, Buraidah, [and Abdur-Rahman bin Hasanah]. (Hasan)
পরিচ্ছেদঃ উক্ত বিষয়ের অনুমতি প্রসঙ্গে।
১৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি আস্তাকুঁড়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। আমি তাঁর উযূর পানি নিযে আসলাম। আমি সরে যেতে চাইলে তিনি আমাকে (ইশারায়) ডাকলেন। আমি তাঁর পিছনে এসে দাঁড়ালাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং চামড়ার মোজায় মাসেহ (মাসেহ) করলেন। - ইবনু মাজাহ ৩০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মানসূর এবং বায়দা আয-যাববী ও হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই ধরনের হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ ইবনু আবী সুলায়মান মূগীরা ইাবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই বিষয়ে আরেকটি হাদীছ রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ ওয়াইলেন বরাতে হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াতটই অধিকতর শুদ্ধ।
باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ عَلَيْهَا قَائِمًا فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوءٍ فَذَهَبْتُ لأَتَأَخَّرَ عَنْهُ فَدَعَانِي حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبَيْهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الأَعْمَشِ . ثُمَّ قَالَ وَكِيعٌ هَذَا أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ . وَسَمِعْتُ أَبَا عَمَّارٍ الْحُسَيْنَ بْنَ حُرَيْثٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى مَنْصُورٌ وَعُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ الأَعْمَشِ . وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَعَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثُ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَصَحُّ . .
(9) Chapter: What Has Been Related About The Permission For That
Hudhaifah narrated:
"Allah's Messenger came to a waste area used by people, so he urinated on it while standing. I brought him the (water for) Wudu. Then I left to be away from him, but he called me until I was behind him. So he performed Wudu and wiped (Masaba) over his Khuff." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পেশাব বা পায়খানার সময় আড়ালে যাওয়া।
১৪. কুবায়বা (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, পেশাব-পায়খানার সময় ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাপড় তুলতেন না। - আবু দাউদ ১১, সহিহাহ ১০৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু রাবী’আও আমাশু এর সনদে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণা করেছেন। ওয়াকী ও আবূ ইয়াহইয়া আল-হিম্মানী (রহঃ) ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে , পেশাব-পায়খানার সময় ভূমির নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় তুলতেন না।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উপরের দুটো হাদীছই মুরসাল। কারণ উভয় হাদীছই আ’মাশ এর সনদে বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বা অপর কোন সাহাবী থেকে আ’মাশ এর হাদীছ শোনার সুযোগ হয়নি। তবে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কে তিনি দেখেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাসকে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। অতঃপর তিনি আনস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সালাতের বিবরণ দেন। আ’মাশ এর পূর্ণ নাম সুলায়মান ইবনু মিহরান আবূ মুহাম্মাদ আল-কাহিলী। তিনি আল-কাহিল গোত্রের আযাদকৃত দাস ছিলেন। আ’মাশ বলেনঃ আমার পিতাকে শৈশবে দারূল হারব থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল পরবর্তীকালে ইমাম মাসরূক তাকে বৈধ উত্তরাধিকরী বলে রায় দিয়েছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الاِسْتِتَارِ عِنْدَ الْحَاجَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ الْمُلاَئِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْضِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ . وَرَوَى وَكِيعٌ وَأَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْضِ . وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ مُرْسَلٌ . وَيُقَالُ لَمْ يَسْمَعِ الأَعْمَشُ مِنْ أَنَسٍ وَلاَ مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَقَدْ نَظَرَ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَأَيْتُهُ يُصَلِّي . فَذَكَرَ عَنْهُ حِكَايَةً فِي الصَّلاَةِ . وَالأَعْمَشُ اسْمُهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْكَاهِلِيُّ وَهُوَ مَوْلًى لَهُمْ . قَالَ الأَعْمَشُ كَانَ أَبِي حَمِيلاً فَوَرَّثَهُ مَسْرُوقٌ .
(10) Chapter: [What Has Been Related] About Being Screened While Relieving Oneself
Anas, may Allah Most High be pleased with him, said:
"When the Prophet wanted to relieve himself, he would not raise his garment until he was close to the ground."
পরিচ্ছেদঃ ডান হাতে শৌচকর্ম মাকরূহ।
১৫. মুহাম্মদ ইবনু আবী উমর মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৩১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আইশা, সালমান, আবূ হুরায়রা এবং সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ উক্ত হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। আবূ কাতাদার আসল নাম আল-হারিছ ইবনু রিবাঈ। ফকীহ ও আলিমগণ এই হাদীছ আনুসারে আমল করে থাকেন এবং তাঁরা ডান হাতে শৌচকর্ম করা মাকরুহ মনে করেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهَةِ الاِسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ . وَفِي هَذَا الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَسَلْمَانَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ اسْمُهُ الْحَارِثُ بْنُ رِبْعِيٍّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الاِسْتِنْجَاءَ بِالْيَمِينِ .
Abdullah bin Abu Qatadah narrated from his father:
"The Prophet prohibited that a man should touch his penis with his right hand." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পাথর দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা।
১৬. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হল, আপনাদের নবী আপনাদের সবকিছুই শিখান এমনকি দেখা যায় ইস্তিঞ্জায় কেমন করে বসতে হবে তাও শিখিয়ে থাকেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, ডান হাতে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং পশুর মল ও হাড্ডী দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৩১৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আইশা, খুযাইমা ইবনু ছাবিত, জাবির (রাঃ) এবং খাল্লাদ ইবনুুস সাইব থেকে তাঁর পিতার বরাতেও এই বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছটি উত্তম এবং বিশুদ্ধ। এ হচ্ছে অধিকাংশ সাহাবী ও তৎপরবর্তী যুগের আলিম ও ফকীহগণের অভিমত। পেশাব ও পায়খানার পর যদি ভালভাবে পরিস্কার হয়ে যায় তা হলে পানি ব্যবহারে না করে কেবল মাত্র ঢিলা ব্যবহার করা যথেষ্ট হবে বলে তাঁরা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমদ, ইমাম ইসহাক (রহঃ)-ও এ মত প্রকাশ করেছেন।
باب الاِسْتِنْجَاءِ بِالْحِجَارَةِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ قِيلَ لِسَلْمَانَ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ فَقَالَ سَلْمَانُ أَجَلْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَأَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَخُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ وَجَابِرٍ وَخَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ سَلْمَانَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ رَأَوْا أَنَّ الاِسْتِنْجَاءَ بِالْحِجَارَةِ يُجْزِئُ وَإِنْ لَمْ يَسْتَنْجِ بِالْمَاءِ إِذَا أَنْقَى أَثَرَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abdur-Rahman bin Yazld said, :
"They said to Salman, 'Your Prophet taught you about everything, even defecating?' So Salman said, 'Yes. He prohibited us from facing the Qiblah when defecating and urinating, performing Istinja with the right hand, using less than three stones for Istinja, and using dung or bones for Istinja" (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিঞ্জায় দু'টি পাথর ব্যবহার করা
১৭. হান্নাদ ও কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ইস্তিঞ্জার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং বললেন, আমার জন্য তিনটি পাথর তালাশ করে নিয়ে আস। আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি দুটি পাথর ও এক টুকরা গোবর নিয়ে এলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর দুটি গ্রহণ করলেন এবং গোবর ফেলে দিলেন, বললেনঃ এটি নোংরা। - বুখারি ১৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কায়স ইবনুুর রাবী ইসরাঈলের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মা’মার এবং আম্মার ইবনু যুরাইক ও আবূ ইসহাক - আলকামা - আবদুল্লাহ - এর সূত্রে আর যুহাইর আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ - আসওয়াদ ইাবন ইয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে হাদীছাটি রিওয়ায়াত করেছেন। যাকরিয়া ইবনু আবী যাইদাও আবূ ইসহাক - আবদুর হরমান ইবনু উয়াযীদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ হাদীছাটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছটির সনদ ইযতিরাব বিশিষ্ট। ইমাম আবূ ঈসা তিরমযী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আবূ ইসহাকের বরাতে করা বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ? তিনি এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।
মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনিও কোনরূপ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেননি। তবে তাঁর আচরণে মনে হয় যে, তিনি যুহাইর-আবূ ইসহাক - আবদুর রাহমান ইবনুল আসওয়াদ-তাঁর পিতা আল-আসওয়াদ - আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন। তিনি এই সূত্রে বর্ণিত হাদীছটিকে তাঁর জামি’ সহীহ (বুখারী শরীফ)- তে স্থান দিয়েছেন। আমার মতে ইসরাঈল এবং কায়স-আবূ ইসহাক-আবূ উবাউদা আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রটি অধিক সহীহ। কেননা, আবূ ইসাহক থেকে হাদীছ বর্ণনার বিষয়ে এদের সবার চেয়ে ইসরাঈল অধিক নির্ভরযোগ্য এবং স্মৃতিধর। তদুপরি কায়স ইবনুুর রাবীও এই হাদীছটির বর্ণনায় ইসরাঈলের সহযোগী।
আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্নাকে বলতে শুনেছে যে, আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেনঃ ইসরাঈলের উপর ভরসা করেই সুফইয়ান ছাওরীর সূত্রে আবূ ইসাহাকের বর্ণিত হাদীছসমূহ আমি স্মরণ করিনি। কেননা, ইসরাঈল ঐ হাদীছসমূহ যথাযথ এবং পুরাপুরি ভাবে বর্ণনা করে থাকেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ ইসহাক থেকে হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে যুহাইার তেমন বির্ভরযোগ্য নন। কেননা তিনি আবূ ইসহাকের শেষ বয়সে তাঁর হাদীছ শুনেছেন। আহমদ ইবনুল হাসান আত-তিরমিযীকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যাইদা এবং যুহাইর থেকে কোন হাদীছ শুনতে পেলে অন্য কারো কাছ থেকে তা শুনলে কখনও এর পরওয়া করবে না। তবে আবূ ইসহাক থেকে বর্ণিত তাদের হাদীছের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। আবূ সিহাকের নাম হল আমর ইবনু আবূদল্লাহ আশ-শাবীঈ আল-হামদানী।
আবূ উবাইদা ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীছ শুনেননি। তাঁর নাম তত প্রসিদ্ধ নয়। মুহাম্মাদ ইবান বাশশার এর সূত্রে আমর ইবনু মুররা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আবূ উবাইদা ইাবন আবদুল্লাহকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি (আপনার পিতা) আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) থেকে কোন হাদীছ বর্ণনা স্মরণ রেখেছেন কি? তিনি উত্তরে বললেন না।
باب مَا جَاءَ فِي الاِسْتِنْجَاءِ بِالْحَجَرَيْنِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ فَقَالَ " الْتَمِسْ لِي ثَلاَثَةَ أَحْجَارٍ " . قَالَ فَأَتَيْتُهُ بِحَجَرَيْنِ وَرَوْثَةٍ فَأَخَذَ الْحَجَرَيْنِ وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ وَقَالَ " إِنَّهَا رِكْسٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ نَحْوَ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ . وَرَوَى مَعْمَرٌ وَعَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . وَرَوَى زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . وَرَوَى زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . وَهَذَا حَدِيثٌ فِيهِ اضْطِرَابٌ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ هَلْ تَذْكُرُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ شَيْئًا قَالَ لاَ .
Abdullah said:
"Allah's Messenger went out to relieve himself. So he said: 'Bring me tree stones.'" He said, "So I came with two stones and a piece of dung. So he took the two stones, and left the dung. He said: 'It is Riks (a degenerative or filthy thing)." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ যে সব বস্তু দিয়ে ইস্তিঞ্জা মাকরূহ।
১৮. হান্নাদ ..... তাঁর উস্তাদ হাফস ইবনু গিয়াছের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করবে না। কারণ এগুলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। - আল ইরওয়া ৪৬, মিশকাত ৩৫০, যইফা ১০৩৮ এর অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, সলামান, জাবির এবং ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম এবং অপর কতিপয় রাবীও এই হাদীছটি দাঊদ ইবনু আবী হিনদ-শা’বী আলকামা-আবদুল্লাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে উল্লেখ আছে যে, লাইলাতুল জ্বীন বা জ্বীন সম্পর্কিত ঘটনার রাতে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। শা’বী বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তোমরা গোবর এবং হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করো না। কেননা, এ হলো তোমাদের ভাই জ্বীনদের খাবার। হাফস ইবনু গিয়াসের বর্ণনার তুলনায় ইসমাঈলের বর্ণনা অধিকতর শুদ্ধ। ফকীহ আলিমগণ এই হাদীছের বক্তব্য অনুসারে আমল করেন। জাবির ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এ বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ مَا يُسْتَنْجَى بِهِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلاَ بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَسَلْمَانَ وَجَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَغَيْرُهُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ - الْحَدِيثَ بِطُولِهِ - فَقَالَ الشَّعْبِيُّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلاَ بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ " . وَكَأَنَّ رِوَايَةَ إِسْمَاعِيلَ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما .
Abdullah bin Mas'ud narrated that :
Allah's Messenger said: "Do not perform Istinja, with dung, nor with bones. For indeed it is provisions for your brothers among the Jinn." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ পানির দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা।
১৯. কুতায়বা এবং মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল মালিক ইবনু আবিশ শাওয়ারিব (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা কারেন যে, তিনি বলেছে তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানির সাহয্যে শৌচ ক্রিয়া সম্পাদন করতে নির্দেশ দিবে, আমি নিজে তাদের সে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এইরূপ করতেন। - ইরওয়া ৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জারীর ইবনু আবদিল্লাহ্ আল-বাজালী, আনাস এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। ফকীহ আলিমগণ এই ধরনের আমল করেন। পাথর বা ঢিলার সাহায্য ইস্তিঞ্জা যথেষ্ট হলেও পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাকে তাঁরা পছন্দনীয় ও উত্তম বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসাহাকও অনুরূপ মত পোষণ করেন।
باب مَا جَاءَ فِي الاِسْتِنْجَاءِ بِالْمَاءِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مُرْنَ أَزْوَاجَكُنَّ أَنْ يَسْتَطِيبُوا، بِالْمَاءِ فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ الاِسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَإِنْ كَانَ الاِسْتِنْجَاءُ بِالْحِجَارَةِ يُجْزِئُ عِنْدَهُمْ فَإِنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الاِسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَرَأَوْهُ أَفْضَلَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Aishah said:
"Encourage your Husbands to clean themselves with water, for I am too shy of them, and Allah's Messenger would do that." (Grade: Sahih)
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন হলে রাসুল (ﷺ) অনেক দূরে চলে যেতেন।
২০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মুগীরা বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি এক সফরে ছিলাম। তিনি তাঁর ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে অনেক দূর চলে গেলেন। - ইবনু মাজাহ ৩৩০১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুর রহমান ইবন আবী কুরাদ, আবূ কাতাদা, জাবির, উবায়দ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস ও বিলাল ইবনুল হারিছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি অবস্থানের জন্য যেমন পছন্দসই জায়গা তালাশ করে নিতেন তেমনি পেশাবের জন্যও নরম স্থান তালাশ করে নিতেন। আবূ সালমার পূর্ণ নাম হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহামান ইবনু আওফ আয-যুহরী।
باب مَا جَاءَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ أَبْعَدَ فِي الْمَذْهَبِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ فَأَبْعَدَ فِي الْمَذْهَبِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي قُرَادٍ وَأَبِي قَتَادَةَ وَجَابِرٍ وَيَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَيُرْوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَرْتَادُ لِبَوْلِهِ مَكَانًا كَمَا يَرْتَادُ مَنْزِلاً . وَأَبُو سَلَمَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ .
Al-Mughirah bin Shu'bah said:
I was with the Prophet on a journey. The Prophet had to relieve himself, so he went far away."
পরিচ্ছেদঃ গোসল করার স্থানে পেশাব করা অপছন্দনীয়।
২১. আলী ইবনু হুজর ও আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলখানায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণতঃ এ থেকেই ওয়াসওয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে। - প্রথম অংশ সহিহ দ্বিতীয় অংশ যইফ। ইবনু মাজাহ ৩০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে অপর এক সাহাবী থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি গরীব। আশ’আছ ইবনু আবদিল্লাহর সূত্র ব্যতীত মারফূ’ হিসাবে এটি রিওয়ায়াত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আশ্’আছ ইবনু আবদুল্লাহকে আশআছ আল-আ’মা বলেও অভিহিত করা হয়। আলিমগণের এক দল গোসলখানায় পেশাব করা অপছন্দ করেছেন। তাদের মতে সাধারণত এ থেকেই ওয়াস-ওয়াসার সৃষ্টি হয়। কোন কোন আলিম ফকীহ অবশ্য এই ব্যপারে অনুমতি দিয়েছেন। এদের মধ্যে ইবনু সীরীন (রহঃ) অন্যতম। তাঁকে বলা হয়েছিল যে, সাধারণতঃ এ থেকেই ওয়াসওয়াসার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তিনি বললেন, আল্লাহই আমাদের রব। তাঁর সাথে আমরা কাউকে শরীক করি না। ইবনুল মুবারক বলেন, পানি যদি স্থির না থেকে বেয়ে সরে যায় তবে সেইরূপ গোসলখানায় পেশাব করাতে ক্ষতি নেই। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, আহমদ ইবনু আবদাতা আল-আমুলী স্বীয় সনদে ইবনুল মুবারক থেকে উক্ত কথাটি বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْبَوْلِ فِي الْمُغْتَسَلِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، مَرْدَوَيْهِ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ فِي مُسْتَحَمِّهِ . وَقَالَ " إِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَيُقَالُ لَهُ أَشْعَثُ الأَعْمَى . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ الْبَوْلَ فِي الْمُغْتَسَلِ وَقَالُوا عَامَّةُ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ . وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ ابْنُ سِيرِينَ وَقِيلَ لَهُ إِنَّهُ يُقَالُ إِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ فَقَالَ رَبُّنَا اللَّهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ قَدْ وُسِّعَ فِي الْبَوْلِ فِي الْمُغْتَسَلِ إِذَا جَرَى فِيهِ الْمَاءُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الآمُلِيُّ عَنْ حِبَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ .
Abdullah bin Mughaffal narrated that :
the Prophet prohibited that a man should urinate in his bathing area. And he said: "It will only cause misgivings." [He said:] There are narrations on This topic from "a man from among the Companions of the Prophet."
পরিচ্ছেদঃ মিসওয়াক করা।
২২. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে এই অশংকা যদি না হত তা হলে আমি প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করতে তাদের নির্দেশ দিতাম। - ইবনু মাজাহ ২৮৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ সালমার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ থেকে এই হাদীছটি বর্ণিত হয়েছ। আবূ সালামার সূত্রে আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উভয় হাদীছই আমার জানা মতে সহীহ। কেননা, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীছটি আরো বহু সূত্রে বর্ণিত রয়েছে। তবে মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ সালামার সূত্রে যায়দ ইবনু খালিদ বর্ণিত হাদীছটি অধিকতর সহীহ বলে ধারণা পোষণ করেন। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক, আলী, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, হুযায়ফা, যায়দ ইবনু খালিদ, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমর, উম্মু হবীবা, আবূ উমামা, আবূ আইয়্যূব, তাম্মাম ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, উম্মু সালমা, ওয়াছিলা ইবনুল আসকা এবং আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে ও হাদীছ বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَحَدِيثُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كِلاَهُمَا عِنْدِي صَحِيحٌ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثُ . وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّمَا صَحَّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَأَمَّا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ فَزَعَمَ أَنَّ حَدِيثَ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَحُذَيْفَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَتَمَّامِ بْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَوَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ وَأَبِي مُوسَى .
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "If it were not that it would be difficult on my nation, then I would have ordered them to use the Siwak for each prayer."
পরিচ্ছেদঃ মিসওয়াক করা।
২৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে এই আশংকা যদি না হত তাহলে প্রতি সালাতের সময় তাদের আমি মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম আর রাত্রের এক তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত ইশার সালাত পিছিয়ে নিতাম। রাবী বলেন, লিপিকার তার কলম কানের যে স্থানে গুঁজে রাখে তেমনি যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কানে মিসওয়াক গুঁজে রেখে সালাতের জন্য মসজিদে হাযির হতেন। সালাতে দাঁড়ানোর সময় তিনি মিসওয়াক করে নিতেন এবং পুনরায় তা স্ব-স্থানে রেখে দিতেন। - সহিহ আবু দাউদ ৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান এবং সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَلأَخَّرْتُ صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ " . قَالَ فَكَانَ زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ فِي الْمَسْجِدِ وَسِوَاكُهُ عَلَى أُذُنِهِ مَوْضِعَ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ لاَ يَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ إِلاَّ اسْتَنَّ ثُمَّ رَدَّهُ إِلَى مَوْضِعِهِ " .
Zaid bin Khalid Al-Juhani said :
'I heard Allah's Messenger saying: 'If it were not that it would be difficult on my nation then, I would have ordered them to use the Siwak for each prayer and to delay the Isha prayer until the third of the night.'"He [Abu Salamah, one of the narrators] said: Zaid bin Khalid wouId attend the prayer in the Masjid and his Siwak would be on his ear in the location of the pen on the ear of a writer. He would not get up to pray without cleaning his teeth, then returning it to its location."
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রাভঙ্গের পর হাত না ধুয়ে পানির পাত্রে প্রবেশ না করানো।
২৪. আবূল ওয়ালীদ আহমদ ইবনু বাক্কার আদ্-দিমাশকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমাদের কেউ যদি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তবে সে হাতে দুই বা তিন বার পানি না ঢেলে তা পাত্রে ঢুকাবে না। কারণ, সে জানেনা তার হাত কোন কোন স্থানে রাত কাটিয়েছে। - ইবনু মাজাহ ৩৯৩, বুখারি ও মুসলিম, বুখারিতে সংখ্যার উল্লেখ নেই, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমর, জাবির ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতেও হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদীছটি হাসান ও সহীহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, আমি ভাল মনে করি, দিনে হোক বা রাতে হোক ঘুম থেকে জেগে উঠে কেউ যেন হাত না ধুয়ে তা উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পাত্রে প্রবেশ না করায়। অধৌত হাত পাত্রে প্রবেশ করানো আমি মাকরূহ মনে করি। কিন্তু হাতে কোন নাপাকী না থাকলে তাতে পানি ফাসিদ বা বিনষ্ট হবে না। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল বলেন, যদি রাতে কেউ জাগরিত হয় আর সে হাত না ধুযে তা উযূর পানি রাখা পাত্রে ঢুকিয়ে দেয় তবে সে পানি ফেলে দেওয়াই আমার নিকট উত্তম। ইসহাক (রহঃ) বলেন, রাতে বা দিনে যে কোন সময় ঘুম থেকে জাগরিত হলে হাত না ধুয়ে তা উযূর বরতনে ঢুকাবে না।
باب مَا جَاءَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلاَ يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، أَحْمَدُ بْنُ بَكَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ - يُقَالُ هُوَ مِنْ وَلَدِ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأُحِبُّ لِكُلِّ مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ قَائِلَةً كَانَتْ أَوْ غَيْرَهَا أَنْ لاَ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا فَإِنْ أَدْخَلَ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهَا كَرِهْتُ ذَلِكَ لَهُ وَلَمْ يُفْسِدْ ذَلِكَ الْمَاءَ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَلَى يَدِهِ نَجَاسَةٌ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ مِنَ اللَّيْلِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهَا فَأَعْجَبُ إِلَىَّ أَنْ يُهَرِيقَ الْمَاءَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ بِاللَّيْلِ أَوْ بِالنَّهَارِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا .
Abu Hurairah reported that the :
Prophet said: "When on of you awakens in the night, then let him not put his hand into the vessel until he has poured water on two times, or three times, for indeed he does not know where his hand has spent the night."
পরিচ্ছেদঃ উযু করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলা।
২৫. নাসর ইবনু আলী ও বিশর ইবনু মু’আয আল-আকাদী (রহঃ) ..... রাবাহ ইবন আবদির রাহমান ইবনু আবী সুফইয়ান ইবনু হুওয়ায়তিব (রহঃ) তাঁর পিতামহী থেকে বর্ণনা করেন। আমার পিতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিবে না, তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হবে না। - ইবনু মাজাহ ৩৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, আবূ সঈদ খুদরী, সাহল ইবনু সা’দ ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ইমাম আহমদ বলেছেন, এই বিষয়ে এমন কোন হাদিস আমার জানা নেই যে হাদিসটির সনদ জায়্যিদ বা উত্তম বলা যেতে পারে। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, ইচ্ছাপূর্বক ’’বিসমিল্লাহ’’ বলা পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূ করতে হবে। ভুলক্রমে কিংবা ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার আলোকে বিসমিল্লাহ পরিত্যাগ করলে পুনরায় উযূর দরকার হবে না। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে রাবাহ ইবনু আবদির রাহমান বর্ণিত হাদিসটই অধিক উত্তম।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানের পিতামহীর পিতা হলেন সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল। রাবী আবূ ছিকাল আল-মুররীর নাম হল ছুমামা ইবনু হুসায়ন। রাবাহ ইবনু আবদির রাহমানই হচ্ছেন আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়তিব। রাবীদের কেউ কেউ এই হদীছের বর্ণনায় পিতাম হুয়ায়াতিবের প্রতি সম্পর্কিত করে আবূ বকর ইবনু হুওয়ায়াতির রূপে তাঁকে উল্লেখ করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي التَّسْمِيَةِ عِنْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَبِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي ثِفَالٍ الْمُرِّيِّ، عَنْ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حُوَيْطِبٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ أَعْلَمُ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثًا لَهُ إِسْنَادٌ جَيِّدٌ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ تَرَكَ التَّسْمِيَةَ عَامِدًا أَعَادَ الْوُضُوءَ وَإِنْ كَانَ نَاسِيًا أَوْ مُتَأَوِّلاً أَجْزَأَهُ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَبَاحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَدَّتِهِ عَنْ أَبِيهَا . وَأَبُوهَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ . وَأَبُو ثِفَالٍ الْمُرِّيُّ اسْمُهُ ثُمَامَةُ بْنُ حُصَيْنٍ . وَرَبَاحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ أَبُو بَكْرِ بْنُ حُوَيْطِبٍ . مِنْهُمْ مَنْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حُوَيْطِبٍ فَنَسَبَهُ إِلَى جَدِّهِ .
Rabah bin Abdur-Rahman bin Abi Sufyan bin Huwaitib narrated from his grandmother, from her father; she said (that he said):
"I heard Allah's Messenger saying: there is no Wudu for one who does not mention Allah's Name over it."
পরিচ্ছেদঃ উযু করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলা।
২৬. হাসান ইবনু আলী আল-হুলওয়ানী (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনূরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي التَّسْمِيَةِ عِنْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي ثِفَالٍ الْمُرِّيِّ، عَنْ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حُوَيْطِبٍ، عَنْ جَدَّتِهِ بِنْتِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
Rabah Bin Abdur-Rahman bin Abu Sufyan bin Huwaitib narrated :
the same from his grandmother the daughter of Sa'eed bin Zaid, from her father, from the Prophet.
পরিচ্ছেদঃ কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
২৭. কুতায়বা (রহঃ) ..... সালমা ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে তখন নাকে পানি ঢেলে তা ঝেড়ে ফেলবে। আর কুলুখ ব্যবহার করলে তা বেজোড় সংখ্যায় করবে। - ইবনু মাজাহ ৪০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’উছমান, লাকীত ইবনু সাবিরা, ইবনু ’আব্বাস, মিকদাম ইবনু মা’দী কারিব, ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সালমা ইবনু কায়স বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। নাকে পানি দেওয়া ও কুলি করা ছেড়ে দিলে তার বিধান সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের একদল বলেন , কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ছেড়ে দিয়ে কেউ যদি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এবং সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) দিয়ে সালাত আদায় করে তবে তাকে সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে। উযূ ও ফরয গোসল উভয়ক্ষেত্রে বিধান একই। ইবনু আবী লায়লা, ’আবদুল্লাহ ইবনু ইবনু মুবারক, আহমদ, ইসহাক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম আহমদ বলেন, কুলি করা অপেক্ষা নাকি পানি দেয়ার বিষয়টি অধিকতর তাকীদপূর্ণ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ’আলিমদের অপর একদল বলেন, এমতাস্থায় ফরয গোসল পুনারায় করতে হবে; উযূ পুনারায় করতে হবে না। সুফইয়ান ছাওরী এবং কূফাবাসী আলিমগণের কারো মত অনুরূপ। অপর একদল ’আলিম বলেন উযূ ও ফরয গোসল কোনটাই পুনরায় করতে হবে না। এ হল ইমাম মালিক ও শাফি’ঈ এর অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَضْمَضَةِ وَالاِسْتِنْشَاقِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَجَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَثِرْ وَإِذَا اسْتَجْمَرْتَ فَأَوْتِرْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَلَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ وَوَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِيمَنْ تَرَكَ الْمَضْمَضَةَ وَالاِسْتِنْشَاقَ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ إِذَا تَرَكَهُمَا فِي الْوُضُوءِ حَتَّى صَلَّى أَعَادَ الصَّلاَةَ وَرَأَوْا ذَلِكَ فِي الْوُضُوءِ وَالْجَنَابَةِ سَوَاءً . وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ أَبِي لَيْلَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ أَحْمَدُ الاِسْتِنْشَاقُ أَوْكَدُ مِنَ الْمَضْمَضَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يُعِيدُ فِي الْجَنَابَةِ وَلاَ يُعِيدُ فِي الْوُضُوءِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَبَعْضِ أَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَتْ طَائِفَةٌ لاَ يُعِيدُ فِي الْوُضُوءِ وَلاَ فِي الْجَنَابَةِ لأَنَّهُمَا سُنَّةٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ تَجِبُ الإِعَادَةُ عَلَى مَنْ تَرَكَهُمَا فِي الْوُضُوءِ وَلاَ فِي الْجَنَابَةِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ فِي آخِرَةٍ .
Salamah bin Qais narrated that :
Allah's Messenger said: "When you perform Wudu then sniff water in the nose and blow it out, and when you use small stones (to remove filth) then make it odd (numbered)."
পরিচ্ছেদঃ একই কোষে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
২৮. ইয়াহ্য়া ইবনু মূসা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যায়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একই কোষে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে দেখেছি। তিনি এরূপ তিনাবর করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১১০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ’আবূ আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান গরীব। ’আমর ইবনুু ইয়াহইয়ার সূত্রে মালিক ও ইবনু ’উয়ায়না এবং আরো একাধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু ’’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কোষে কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন’’ বাক্যটি তারা উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র খালিদ ইবনু আবদিল্লাহ্ এটির উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিছগণের নিকট খালিদ নির্ভরযোগ্য ও হাফিজুল হাদিস হিসাবে স্বীকৃত। ’আলিমগণের কেউ কেউ বলেনঃ একই কোষে কুলি করলে ও নাকে পানি দিলে তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে। অপর এক দল বলেনঃ আমাদের নিকট পৃথক পৃথক কোষে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয় অধিক পছন্দনীয়। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ একই কোষে তা করা জায়েয হবে বটে; কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে করাই আমার নিকট উত্তম।
باب الْمَضْمَضَةِ وَالاِسْتِنْشَاقِ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى مَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى وَلَمْ يَذْكُرُوا هَذَا الْحَرْفَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ . وَإِنَّمَا ذَكَرَهُ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ . وَخَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثِقَةٌ حَافِظٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمَضْمَضَةُ وَالاِسْتِنْشَاقُ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ يُجْزِئُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ تَفْرِيقُهُمَا أَحَبُّ إِلَيْنَا . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنْ جَمَعَهُمَا فِي كَفٍّ وَاحِدٍ فَهُوَ جَائِزٌ وَإِنْ فَرَّقَهُمَا فَهُوَ أَحَبُّ إِلَيْنَا .
Abdullah bin Zaid said:
"1 saw the Prophet rinse his mouth and sniff water in his nose using one hand, he did that thrice,"
পরিচ্ছেদঃ দাঁড়ি খিলাল করা।
২৯. ইবনু আবী উমর (রহঃ) ..... হাসসান ইবনু বিলাল (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখলাম তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছেন। সে সময় তিনি দাড়ি খিলাল করলেন। আমি তাঁকে বললাম (বর্ণনান্তরে তাঁকে বলা হল), আপনি দাড়ি খিলাল করছেন? তিনি বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি। সূতরাং আমি তা থেকে বিরত থাকব কেন? - ইবনু মাজাহ ৪২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ أَوْ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ أَتُخَلِّلُ لِحْيَتَكَ قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ .
Hassan bin Bilal said:
"1 saw Ammar bin Yasir performing Wudu, so he went through his beard (with his hand). It was said to him" - or he said - "1 said: 'You go through your beard?' He said: 'And what is there to prevent me? Indeed I saw Allah's Messenger going through his beard.'"
পরিচ্ছেদঃ দাঁড়ি খিলাল করা।
৩০. ইবনু আবী ওমর (রহঃ) ....... সুফইয়ান সাঈদ ইবনু আবী আরুবা কাতাদা হাসসান ইবনু বিলাল (রহঃ) সূত্রেও হাদিসটির অনূরূপ রিওয়াত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে উছমান, আয়িশা, উম্মু ছালাম, আনাস ইবনু আবী আওফা ও আবূ আয়্যুব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ইবনু উয়ায়না থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন হাসসান ইবনু বিলাল থেকে আবদুল করীম (রহঃ) খিলাল সম্পর্কিত হাদিসটি শুনেননি।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী বলেন, এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিস সমূহের মধ্যে আমির ইবনু শাকীক-আবু ওয়াইল উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি সবচেয়ে সহীহ। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সাহাবী ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলিম দাড়ি খিলালের বিধান দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈও এই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। ইমাম আহমদ বলেন কেউ যদি দাড়ি খিলাল ভুলে যায় তবে তাতে অসুবিধা নেই, তা যায়েয। ইমাম ইসহাক বলেন, কেউ যদি ভুলে বা কোন ব্যাখার প্রেক্ষেিতে তা ছেড়ে দেয় তবে তাতে উযূ হয়ে যাবে। কিন্তু স্বেচ্ছায় যদি তা পরিত্যাগ করে তবে পুনারায় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে।
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ عَمَّارٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَبِي أَيُّوبَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمْ يَسْمَعْ عَبْدُ الْكَرِيمِ مِنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ حَدِيثَ التَّخْلِيلِ . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عُثْمَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ بِهَذَا أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ رَأَوْا تَخْلِيلَ اللِّحْيَةِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ سَهَا عَنْ تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ فَهُوَ جَائِزٌ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ تَرَكَهُ نَاسِيًا أَوْ مُتَأَوِّلاً أَجْزَأَهُ وَإِنْ تَرَكَهُ عَامِدًا أَعَادَ .
(In another narration) Ammar narrated :
the same from the Prophet.
পরিচ্ছেদঃ দাঁড়ি খিলাল করা।
৩১. ইয়হইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) ..... উছমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন। - ইবনু মাজাহ ৪৩০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
'Uthman bin Affan narrated that :
the Prophet would go through his beard."
পরিচ্ছেদঃ মাথা মাসেহের সময় সামনে থেকে শুরু করে পিছনের দিকে যেতে হবে।
৩২. ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতে মাথা মাসেহ করেছেন। উভয় হাতকে সামনে ও পিছনে নিয়েছেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে হাত দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে গেছেন। এরপর হাত দুটি আবার যে স্থান থেকে শুরু করেছিলেন সেস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তারপর তাঁর দুই পা ধুয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ৪৩৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মু’আবিয়া, মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বলেন এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদিসটি সবচেয়ে সহীহ ও উত্তম। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ أَنَّهُ يَبْدَأُ بِمُقَدَّمِ الرَّأْسِ إِلَى مُؤَخَّرِهِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاوِيَةَ وَالْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abdullah bin Zaid narrated that:
"Allah's Messenger wiped over his head with his hands, going over the front with them and the rear. He began with the front of his head until they went to the nape of his neck. Then he brought them back again to the place where he began. Then he washed his feet."
পরিচ্ছেদঃ মাসেহ মাথার পিছন থেকে শুরু করা প্রসঙ্গে।
৩৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... রুবায়্যি বিনত মু’আববিয ইবনু ’আফরা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা দুইবার মাসেহ করেন। তিনি মাথার পিছন থেকে শুরু করেন পরে সম্মুখ ভাগে তা শেষ করেন এবং কানের সম্মুখ ও পিছন উভয় ভাগও মাসেহ করেন। - ইবনু মাজাহ ৩৯০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসটি হাসান। এর তুলনায় আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ বর্ণিত হাদিসটি অধিক সহীহ ও উত্তম। ওয়াকী’ ইবনুল জাররাহ এর মত কূফাবাসী আলেমদের কেউ কেউ এই হাদিস অনুসারে অভিমত ব্যাক্ত করে থাকেন।
باب مَا جَاءَ أَنَّهُ يُبْدَأُ بِمُؤَخَّرِ الرَّأْسِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّتَيْنِ بَدَأَ بِمُؤَخَّرِ رَأْسِهِ ثُمَّ بِمُقَدَّمِهِ وَبِأُذُنَيْهِ كِلْتَيْهِمَا ظُهُورِهِمَا وَبُطُونِهِمَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَصَحُّ مِنْ هَذَا وَأَجْوَدُ إِسْنَادًا . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ مِنْهُمْ وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ .
Ar-Rubay' bint Mu'awwidh bin Afra' narrated:
"The Prophet wiped his head two times: He began with the rear of his head, then with the front of his head and with both of his ears, outside and Inside of them."
পরিচ্ছেদঃ একবার মাথা মাসেহ করা।
৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... রুবায়্যি’ বিনত মুআববিয ইবনু ’আফরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছেন। রুবায়্য’ বলেন, তিনি তাঁর মাথার সম্মুখ ভাগ ও পশ্চাৎ,কানপট্টি এবং তাঁর দুইকান একবার মাসেহ করলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’আলী এবং তালহা ইবনু মূসাররিফ ইবনু আমরের পিতামহ থেকেও হাদিস বার্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন রুবায়্যি’ বর্ণিত হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। একধিক ভাবে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা একবার মাসেহ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ও পরবর্তী আলিমদের অধিকাংশ এই হাদিস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছন। ইমাম জা’ফর ইবনু মুহাম্মাদ, সুফইয়ান ছাওরী, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাক ও মাথা মাসহ(মাসেহ) একবার করার মত পোষণ করেন। মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মাসসূর (রহঃ) বলেন যে, আমি শুনেছি সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না বলেন, আমি জা’ফর ইবনু মুহাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, একবার মাথা মাসেহ করলে যথেষ্ট হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।
باب مَا جَاءَ أَنَّ مَسْحَ الرَّأْسِ مَرَّةٌ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ قَالَتْ مَسَحَ رَأْسَهُ وَمَسَحَ مَا أَقْبَلَ مِنْهُ وَمَا أَدْبَرَ وَصُدْغَيْهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَدِّ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ الرُّبَيِّعِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ . وَبِهِ يَقُولُ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ رَأَوْا مَسْحَ الرَّأْسِ مَرَّةً وَاحِدَةً . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ يَقُولُ سَأَلْتُ جَعْفَرَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ مَسْحِ الرَّأْسِ أَيُجْزِئُ مَرَّةً فَقَالَ إِي وَاللَّهِ .
Ar-Rubayy bint Mu'awidh bin Afra narrated that :
she saw the Prophet performing Wudu. She said: "He wiped his head, and what is in the front of it and what is in its rear, and his temples and his ears one time."
পরিচ্ছেদঃ মাথা মাসহের জন্য নতুন পানি লওয়া প্রসঙ্গে।
৩৫. ’আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে লেগে থাকা পানি ছাড়াও অন্য পানি নিয়ে সে সময় তাঁর মাথা মাসেহ করলেন। - সহিহ আবু দাউদ ১১১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান ও সহিহ। ইবনু লাহী’আ ও হাববান এর সনদে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে থাকা পানি দিয়ে মাসেহ করে উযূ করেছেন। হাব্বানের সূত্রে ’আমর ইবনু হারিছ বর্ণিত হাদিসটি (যা এই অনুচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে) অধিকতর সহীহ। কেননা, একধিক সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মাসেহ -এর জন্য নতুন পানি নিয়েছেন। অধিকাংশ আলিম এই হাদিস অনুসারে মাথা মাসেহ -এর জন্য নতুন পানি গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ أَنَّهُ يَأْخُذُ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ حَبَّانَ بْنِ وَاسِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَأَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى ابْنُ لَهِيعَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبَّانَ بْنِ وَاسِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَأَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَبَرَ مِنْ فَضْلِ يَدَيْهِ " . وَرِوَايَةُ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حَبَّانَ أَصَحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَغَيْرِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ رَأَوْا أَنْ يَأْخُذَ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا .
'Abdullah bin Zaid narrated that :
he saw the Prophet performing Wudu, and that he wiped his head with water that was not left over from his hands.
পরিচ্ছেদঃ কানের সম্মুখ ও পিছন উভয় দিক মাসেহ করা।
৩৬. হান্নাদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা এবং পশ্চাৎ ও সম্মুখ ভাগসহ কান মাসেহ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৪৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে রুবায়্যি’ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে ওহাদিস বার্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমদের অধিকাংশ এই হাদিস অনুসারে কানের সম্মুখ ও পিছন ভাগ মাসেহ করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي مَسْحِ الأُذُنَيْنِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الرُّبَيِّعِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ مَسْحَ الأُذُنَيْنِ ظُهُورِهِمَا وَبُطُونِهِمَا .
Ibn 'Abbas narrated:
"The Prophet wiped his head and his ears: the outside and the inside of them."
পরিচ্ছেদঃ কানের বিধান মাথার সাথে সম্পৃক্ত।
৩৭. কুতায়াবা (রহঃ) ..... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তাঁর চেহারা ও হাত তিনবার ধৌত করলেন মাথা মাসেহ করলেন। পরে বললেন, কানের সম্পর্ক মাথার সাথে। - ইবনু মাজাহ ৪৪৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, কুতায়বা রিওয়ায়াত করেন যে, হাম্মাদ বলেনছেন, ’’কানের সম্পর্ক মাথার সাথে’’ এই কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি না আবূ উমামার উক্তি তা আমি জানি না। এই বিষয়ে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসের সনদটি তেমন প্রতিষ্ঠিত নয়। সাহাবী ও পরবর্তীদের অধিকাংশই এই হাদিসটির অনুসরণে অভিমত দিয়েছেন যে, কানের সম্পর্ক মাথার সাথে। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাকারে বক্তব্যও এ-ই। আলিমদের কেউ কেউ বলেছেন, কানের সামনের অংশের হল চেহারার সাথে আর পিছনের অংশের সম্বন্ধ হল মাথার সাথে। ইসাহাক বলেন, কানের সামনের অংশ চেহারার সথে এবং পিছনের অংশ মাথার সাথে মাসহ(মাসেহ) করা আমার নিকট পছন্দনীয়। ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) বলেন এ হল তাদের অবস্থান অনুসারে স্বতন্ত্র সুন্নত। নতুন করে পানি নিয়ে এ দুটোর মাসেহ করা হবে।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الأُذُنَيْنِ مِنَ الرَّأْسِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَقَالَ " الأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ حَمَّادٌ لاَ أَدْرِي هَذَا مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ قَوْلِ أَبِي أُمَامَةَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ الْقَائِمِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ أَنَّ الأُذُنَيْنِ مِنَ الرَّأْسِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مَا أَقْبَلَ مِنَ الأُذُنَيْنِ فَمِنَ الْوَجْهِ وَمَا أَدْبَرَ فَمِنَ الرَّأْسِ . قَالَ إِسْحَاقُ وَأَخْتَارُ أَنْ يَمْسَحَ مُقَدَّمَهُمَا مَعَ الْوَجْهِ وَمُؤَخَّرَهُمَا مَعَ رَأْسِهِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ هُمَا سُنَّةٌ عَلَى حِيَالِهِمَا يَمْسَحُهُمَا بِمَاءٍ جَدِيدٍ .
Abu Umamah narrated:
"The Prophet performed Wudu; so he washed his face three times, and his hands three times, and wiped his head, and he said: "The ears are part of the head."
পরিচ্ছেদঃ আঙ্গুলী খিলাল করা।
৩৮. কুতায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) ..... লাকীত ইবনু সবিরা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে অঙ্গুলী খিলাল করবে। - ইবনু মাজাহ ৪৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, মুস্তাওরিদ (তিনি হলেন, ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহরী) এবং আবূ আয়্যূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এই হাদিস অনুসারে উযূর সময় পায়ের অঙ্গুলী খিলাল করার বিধান দিয়েছেন। আহমদ, ইসহাকও এই অভিমত পোষণ করেন। ইসহাক বলেন, উযূর সময় হাত ও পায়ের অঙ্গুলী খিলাল করা হবে। রাবী আবূ হাশিমের নাম ইসমাঈল ইবনু কাছীর আল-মাক্কী।
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ الأَصَابِعِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلِ الأَصَابِعَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَالْمُسْتَوْرِدِ وَهُوَ ابْنُ شَدَّادٍ الْفِهْرِيُّ وَأَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يُخَلِّلُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ فِي الْوُضُوءِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ يُخَلِّلُ أَصَابِعَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فِي الْوُضُوءِ . وَأَبُو هَاشِمٍ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ الْمَكِّيُّ .
Asim bin Laqit bin Sabirah narrated from his father that :
the Prophet Muhammad said: "When performing Wudu go between the fingers."
পরিচ্ছেদঃ আঙ্গুলী খিলাল করা।
৩৯. ইবরাহীম ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তোমার হাত ও পায়ের অঙ্গুলী খিলাল করবে। - ইবনু মাজাহ ৪৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইামাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসটি হাসান ও গরীব।
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ الأَصَابِعِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، هُوَ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
Ibn Abbas narrated that :
Allah's Messenger said: "When performing Wudu go between the fingers of your hands and (toes of) your feet."
পরিচ্ছেদঃ আঙ্গুলী খিলাল করা।
৪০. কুতায়বা (রহঃ) ..... মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ ফিহরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় কনিষ্ঠ অঙ্গুলী দিয়ে পায়ের অঙ্গুলী মলতে দেখেছি। - ইবনু মাজাহ ৪৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসান-গরীব। ইবনু লাহী’আ ছাড়া আর কারো সনদে হাদিসটি পরিচিত নয়।
باب مَا جَاءَ فِي تَخْلِيلِ الأَصَابِعِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ الْفِهْرِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَضَّأَ دَلَكَ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ بِخِنْصَرِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ .
Al-Mustawrid bin Shaddad Al-Fihri said :
"I saw the Prophet when he was performing Wudu doing that to the toes on his feet with his pinky."
পরিচ্ছেদঃ উযুতে যাদের গোড়ালি ভিজেনি তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি।
৪১. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অযূতে যাদের গোড়ালী ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ, (ইনি হলেন ইবনু জায আয্-যুবায়দী), মু’আয়কীব, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, শুরাহবীল ইবনু হাসান, আমর ইবনুল আস, ইয়াযিদ ইবনু আবী সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন গোড়ালি এবং পায়ের পাতা যাদের ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। হাদিসটির মর্ম হল পায়ে চামড়ার মোযা কাপড়ের মোটা শক্ত মোযা না থাকলে পায়ে মাসেহ করা জায়েয নয়।
باب مَا جَاءَ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ "
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ هُوَ ابْنُ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيُّ وَمُعَيْقِيبٍ وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَشُرَحْبِيلَ بْنِ حَسَنَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ وَبُطُونِ الأَقْدَامِ مِنَ النَّارِ " . قَالَ وَفِقْهُ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْقَدَمَيْنِ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِمَا خُفَّانِ أَوْ جَوْرَبَانِ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Protect the heels from the Fire!"
পরিচ্ছেদঃ উযুতে প্রতি অঙ্গ একবার একবার করে ধোয়া
৪২. আবূ কুরায়ব, হান্নাদ, কুবায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ একবার একবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৪১১, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমর, জাবির, বুরায়দা, আবূ রাফি, ইবনুল ফকিহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। যাহহাক ইবনু শুরাহবীলের সূত্রে রিশদ্বীন ইবনু সা’দ ইবনু সা’দ প্রমুখ উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ এক একবার ধুয়ে উযূ করেছেন। তবে এই রিওয়ায়াতটি তেমন শুদ্ধ নয়। সহীহ হল সেটি, যেটি ইবনু আজনাল, হিশাম ইবনু সা,দ সুফইয়ান ছাওরী, আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مَرَّةً مَرَّةً
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَهَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالُوا حَدَّثَنَا وِكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَبِي رَافِعٍ وَابْنِ الْفَاكِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ . وَرَوَى رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً . قَالَ وَلَيْسَ هَذَا بِشَيْءٍ وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى ابْنُ عَجْلاَنَ وَهِشَامُ بْنُ سَعْدٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
Ibn Abbas narrated:
"The Prophet performed Wudu one time (for each limb)."
পরিচ্ছেদঃ উযুতে প্রতি অঙ্গ দুইবার করে ধোয়া।
৪৩. আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রতিটি অঙ্গ দুইবার করে ধুয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিজি (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই হাদিসটি হাসান-গরীব। ইবনু ছাওবান (রহঃ) আবূদল্লাহ ইবনু ফাযল (রহঃ) এর সনদ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটি বর্ণিত আছে কি না আমাদের জানা নেই। এই সনদটি হাসান ও সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করে উযূ করেছেন বলেও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত রয়েছে।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، هُوَ الأَعْرَجُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ ثَوْبَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ وَهُوَ إِسْنَادٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَمَّامٌ عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا " .
Abu Hurairah narrated:
"The Prophet performed Wudu two time (for each limb)."
পরিচ্ছেদঃ উযুতে প্রতি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া।
৪৪. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’উছমান, আয়িশা, রুবায়্যি, ইবনু উমর, আবূ উমামা, আবূ রাফি’, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, মু’আবিয়া, আবূ হুরায়বা, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, উবাই ইবনু কা’ব (আবূ যাবরা) (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিম ও ফকীহগণ এই হাদিস অনুসারে আমল করেন। প্রতিটি অঙ্গ একবার করে ধোয়া যথেষ্ট, দুইবার করে ধোয়া উত্তম আর সর্বোত্তম হল তিনবার করে ধোয়া। এই বিষয়ে এরপর আর কিছু করণীয় নেই। ইবনু মুবারাক বলেন, তিনবার থেকেও বেশী যদি কেউ ধোয় সে গোনাহগার হবে না বলে আমার মনে হয় না। ইমাম আহমদ ও ইসাহাক (রহঃ) বলেন সন্দেহ প্রবণ লোক ছাড়া তিনবারের অতিরিক্ত কেউ ধোয় না।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ وَالرُّبَيِّعِ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي رَافِعٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَمُعَاوِيَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْوُضُوءَ يُجْزِئُ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ أَفْضَلُ وَأَفْضَلُهُ ثَلاَثٌ وَلَيْسَ بَعْدَهُ شَيْءٌ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لاَ آمَنُ إِذَا زَادَ فِي الْوُضُوءِ عَلَى الثَّلاَثِ أَنْ يَأْثَمَ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ يَزِيدُ عَلَى الثَّلاَثِ إِلاَّ رَجُلٌ مُبْتَلًى .
Ali narrated that:
"The Prophet performed Wudu three times (for each limb)."
পরিচ্ছেদঃ একবার করে, দুইবার করে ও তিনবার করে ধুয়ে উযু করা।
৪৫. ইসমাঈল ইবনু মূসা আল-ফাযারী (রহঃ) ..... ছাবিত ইবন সাফিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি আবূ জা’ফারকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে ধুয়ে, দুইবার করে ধুয়ে এবং তিনবার করে ধুয়েও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন বলে জাবার রাদিয়াল্লাহু আনহু কি আপনাকে হাদিস শুনিয়েছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ। - ইবনু মাজাহ ৪১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ وَثَلاَثًا
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَكَ جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَثَلاَثًا ثَلاَثًا قَالَ نَعَمْ .
Thabit bin Abi Safiyyah said, :
"I asked Abu Ja'far: 'Did Jabir narrate to you that: "The Prophet performed Wudu one time each, and two times, and three times?" He said: "Yes."
পরিচ্ছেদঃ একবার করে, দুইবার করে ও তিনবার করে ধুয়ে উযু করা।
৪৬. ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যার সূত্রে ওয়াকী’ও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ছবিত বলেন আমি আবূ জফর’ কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার করে অঙ্গ সমূহ ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন বলে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু কি আপনাকে হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন শারীকের সূত্রে ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা বর্ণিত হাদিসটির তুলনায় এটি অধিকতর শুদ্ধ। কেননা ওয়াতকী’-এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ আরো অনেকেই ছাবিত থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর শারীক বহু ভুল করেন। ছাবিত ইবনু আবী সাফিয়্যা হলেন আবূ হামযা ছুমালী।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ وَثَلاَثًا
قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى وَكِيعٌ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَكَ جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً قَالَ نَعَمْ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ وَقُتَيْبَةُ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ هَذَا عَنْ ثَابِتٍ نَحْوَ رِوَايَةِ وَكِيعٍ . وَشَرِيكٌ كَثِيرُ الْغَلَطِ وَثَابِتُ بْنُ أَبِي صَفِيَّةَ
Thabit bin Abi Safiyyah said, :
"1 asked Abu Ja'far: 'Did Jabir narrate to you that: "The Prophet performed Wudu one time each?" He said: "Yes."
পরিচ্ছেদঃ উযুতে কিছু অঙ্গ দুইবার করে আর কিছু অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া।
৪৭. ইবনু আবী উমর (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে গিয়ে মুখ তিনবার ধৌত করলেন, দুই হাত দুইবার ধৌত করলেন আর মাথা মাসেহ করলেন ও দুই পা দুইবার করে ধৌত করলেন। - "দুই পা দুইবার করে ধৌত করলেন" অংশটি শাজ। আবু দাউদ ১০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি হাসনা ও সহীহ। একাধিক হাদীছে এই কথার উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু)-তে কিছু অঙ্গ একবার করে এবং কিছু অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেছেন। আলিমদের কেউ কেউ এই কথার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা উযূতে কিছু অঙ্গ তিনবার, কিছু অঙ্গ দুইবার বা একবার করে ধৌত করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَتَوَضَّأُ بَعْضَ وُضُوئِهِ مَرَّتَيْنِ وَبَعْضَهُ ثَلاَثًا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ مَرَّتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذُكِرَ فِي غَيْرِ حَدِيثٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ بَعْضَ وُضُوئِهِ مَرَّةً وَبَعْضَهُ ثَلاَثًا . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجْلُ بَعْضَ وُضُوئِهِ ثَلاَثًا وَبَعْضَهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ مَرَّةً .
Abdullah bin Zaid narrated that:
"The Prophet performed Wudu. So he washed his face three times, and washed his hands two times each, and wiped his head, and washed his feet [two times]."
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) এর উযু কেমন ছিল।
৪৮. হান্নাদ ও কুতায়বা ..... আবূ হায়্যা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে একদিন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। তিনি প্রথমে কবজি পর্যন্ত দুই হাত খুব পরিস্কার করে ধুইলেন। পরে তিনবার কুলী করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার চেহারা ধুইলেন, দুই হাত তিনবার ধুইলেন, একবার মাথা মাসেহ করলেন এবং গোড়ালির হাড্ডি পর্যন্ত দু্ পা ধুইলেন, তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং উযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে তা দাঁড়িয়েই পান করলেন এবং বললেন আমার মনে ইচ্ছা জাগল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি কি ছিল তা তোমাদের দেখাই। - সহিহ আবু দাউদ ১০১-১০৫, বুখারি সংক্ষেপিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উছমান, আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা, রুবায়্যি’ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ كَانَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَخَذَ فَضْلَ طَهُورِهِ فَشَرِبَهُ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ أَحْبَبْتُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ كَانَ طُهُورُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالرُّبَيِّعِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ وَعَائِشَةَ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ .
Abu Hayyah narrated:
"I saw Ali performing Wudu. He washed his hands until he cleaned them, then he rinsed out his mouth three times, sniffed water into his nose and blew it out three times, washed his face three times, and his forearms three times. He wiped his head once, then he washed his feet up to the ankles. Then he stood up, taking what was left over from his purification (water) and drank it while he was standing. Then he said, 'I wanted to show you how Allah's Messenger purified himself.'"
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) এর উযু কেমন ছিল।
৪৯. কুতায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) .... আবদ খায়রের সূত্রেও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি আবূ হায়্যার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আবদ খায়র বর্ণিত রিওয়ায়াতে আছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু উযূ (ওজু/অজু/অযু) শেষে অবশিষ্ট পানি হাতে নিয়ে তা পান করলেন। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি আবূ হায়্যা, আবদ খায়র, হারিছের সুত্রে আবূ ইসহাক হামদানীও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। যাইদা ইবনু কুদামা এবং আরো অনেক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কিত এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। শুবা ও এই হাদিসটি খালিদ ইবনু আলকামা থেকে বর্ণনা করেছন। কিন্তু শুবা খালিদ ও তাঁর পিতা আলকামার নামের ক্ষেত্রে ভুলক্রমে মালিক ইবনু আরফুত বলে ফেলেছেন। আবূ ’আওয়ানা-খালিদ ইবনু আলকামা-আবদ খায়রু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সূত্রেও হাদিসটি বর্ণিত আছে। কিন্তু শুদ্ধ হল খালিদ ইবনু আলকামা।
باب مَا جَاءَ فِي وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ كَانَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، ذَكَرَ عَنْ عَلِيٍّ، مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي حَيَّةَ إِلاَّ أَنَّ عَبْدَ خَيْرٍ، قَالَ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنْ طُهُورِهِ أَخَذَ مِنْ فَضْلِ طَهُورِهِ بِكَفِّهِ فَشَرِبَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ رَوَاهُ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ أَبِي حَيَّةَ وَعَبْدِ خَيْرٍ وَالْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ وَقَدْ رَوَى زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ رضى الله عنه حَدِيثَ الْوُضُوءِ بِطُولِهِ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ فَأَخْطَأَ فِي اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ فَقَالَ مَالِكُ بْنُ عُرْفُطَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ وَرُوِيَ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ وَرُوِيَ عَنْهُ عَنْ مَالِكِ بْنِ عُرْفُطَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ شُعْبَةَ وَالصَّحِيحُ خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ .
Abd Khair related a narration similar to that of Abu Hayyah, :
from Ali Except that Abd Khair's version includes the following additions: "When he was finished from his purification, he would take what was left over from his purification with his hand to drink it."
পরিচ্ছেদঃ উযুর পর কিছু পানি ছিটিয়ে দেওয়া।
৫০. নাসর ইবনু আলী জাহযামী এবং আহমদ এবং আহমদ ইবনু আবী ’উবায়দিল্লাহ আস-সালীমী আল-বসরী ...... আবূ হুরায়বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছন, একবার আমার নিকট জিবরীল এলেন, বললেন, হে মুহাম্মাদ! উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পর আপনি সামান্য পানি ছিটিয়ে দিবেন। - ইবনু মাজাহ ৪৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন,এই হাদিসটি গরীব। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, এই হাদিসটির অন্যতম রাবী হাসান ইবনু আলী আল-হাশিম হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুনকার। এই বিষয়ে আবূল হাকাম ইবনু সুফইয়ান, ইবনু আব্বাস, যায়দ ইবনু হারিছা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই হাদিসটির হাকাম ইবনু সুফইয়ানের সূত্রে উযতিরাব রয়েছে। কেউ কেউ সুফইয়ান ইবনু হাকাম অথবা হাকাম ইবনু সুফইয়ানও বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي النَّضْحِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ السَّلِيمِيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَضِحْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْحَكَمِ بْنِ سُفْيَانَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ سُفْيَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَوِ الْحَكَمُ بْنُ سُفْيَانَ وَاضْطَرَبُوا فِي هَذَا الْحَدِيثِ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Jibril came to me and he said: 'O Muhammad! When you perform wudu then perform Nadh.'"
পরিচ্ছেদঃ পরিপূর্ণভাবে উযু করা।
৫১. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তা’আলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, বেশি করে মসজিদে যাওয়া, এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা। এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত। - ইবনু মাজাহ ৪২৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ " .
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "Shall I tell you that for which Allah will wipe out your sins, and raise your ranks?" They said, "Of course Allah's Messenger!" He said: "Performing Wudu well in difficulty, and taking many steps to the Masajid, and waiting for Salat after Salat, That is the Ribat."
পরিচ্ছেদঃ পরিপূর্ণভাবে উযু করা।
৫২. কুবায়বা-’আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ -আলা সূত্রেও হাদিসটি অনুরূপভাবে রিওয়ায়াত করেছেন। তবে কুতায়বা তার রিওয়ায়াতে এ হলে রিবাত, এ হলো রিবাত, এ হলো রিবাত’’- অথাৎ ’’জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্তে প্রতিক্ষার মত’’ কথাটি তিনবার উল্লেখ করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে ’আলী, ’আবদুল্লাহ ’আমার, ইবনু ’আব্বাস, ’আবীদ (উবায়দা নামেও পরিচিত) ইবনু ’আমর, ’আয়িশা, আবদুর রহমান ইবনু ’আইশ আল-হাযরামী ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। ’আলা ইবনু ’আবদির রাহমান হলেন ইবনু ইয়াকুব আল-জুহানী আল-হুরাকী। হাদিস বিশারদদের নিকট তিনি নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃত।
باب مَا جَاءَ فِي إِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، نَحْوَهُ . وَقَالَ قُتَيْبَةُ فِي حَدِيثِهِ " فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ " . ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبِيدَةَ وَيُقَالُ عُبَيْدَةُ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ الْحَضْرَمِيِّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ يَعْقُوبَ الْجُهَنِيُّ الْحُرَقِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ .
Qutaibah said in his narration:
"For that is the Ribat, that is the Ribat, that is the Ribat" three times.
পরিচ্ছেদঃ উযুর পর রুমাল ব্যবহার করা
৫৩. সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী ইবনু জাররাহ (রহঃ) ..... আয়িশারাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক খন্ড কাপড় ছিল। এটি দিয়ে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর পানি মুছতেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটিও প্রতিষ্ঠিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা নেই। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটির রাবী আবূ মু’আয সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, ইনি হলেন সুলায়মান ইবনু আরকাম। তিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট দূর্বল। এই বিষয়ে মু’আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي التَّمَنْدُلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خِرْقَةٌ يُنَشِّفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لَيْسَ بِالْقَائِمِ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ . وَأَبُو مُعَاذٍ يَقُولُونَ هُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَرْقَمَ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ .
Aishah narrated:
"Allah's Messenger had a cloth that he would use to dry off with after Wudu."
পরিচ্ছেদঃ উযুর পর রুমাল ব্যবহার করা
৫৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... মু’আয ইবনু যাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমি দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তাঁর পরিহিত কাপড়ের কে প্রান্ত দিয়ে তাঁর চেহারা মুছে ফেলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি গরীব। এর সনদ দুর্বল। এই হাদীছের রাবী রিশদ্বীন ইবনু সা’দ এবং ’আবদুর রহমান ইবনু যয়াদ ইবনু আনউম আল-ইফরীকী উভয়েই হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল। সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিমগণের মধ্যে একদল উযূর পর রুমাল ব্যবহরের অনুমতি দিয়েছেন। ’’উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে’’-এই কথার উপর ভিত্তি করে কোন কোন আলেম উযূর পর সে পানি মুছে ফেলা অপছন্দ করেছেন। সাঈদ ইবনুল মূসায়্যব এবং ইমাম যুহরী থেকেও এই ধরনের কথা বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর রাযী-যহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন উযূর পানি অবশ্যই ওজন করা হবে বলে উযূর পর রুমাল ব্যাবহার করা পছন্দনীয় নয়।
باب مَا جَاءَ فِي التَّمَنْدُلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَضَّأَ مَسَحَ وَجْهَهُ بِطَرَفِ ثَوْبِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ . وَرِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الإِفْرِيقِيُّ يُضَعَّفَانِ فِي الْحَدِيثِ . وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ فِي التَّمَنْدُلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ وَمَنْ كَرِهَهُ إِنَّمَا كَرِهَهُ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُ قِيلَ إِنَّ الْوَضُوءَ يُوزَنُ . وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَالزُّهْرِيِّ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ قَالَ حَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ مُجَاهِدٍ عَنِّي وَهُوَ عِنْدِي ثِقَةٌ عَنْ ثَعْلَبَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ إِنَّمَا كُرِهَ الْمِنْدِيلُ بَعْدَ الْوُضُوءِ لأَنَّ الْوَضُوءَ يُوزَنُ .
Muadh bin Jabal narrated:
"I saw the Prophet when he performed Wudu, he wiped his face with the edge of his garment." Abu Eisa said: This Hadith is gharib, and its chain is weak. Rishdin bin Sa'd and Abdur- Rahman bin Ziyad bin An'um Al Ifriqi [narrators in the chain of this Hadith] are weak in Hadith. Some people of knowledge among the Companions of the Prophet and those after them, permitted using a towel after Wudu. Those who disliked it, only disliked it from the view of the saying: "Wudu is weighed." That as reported from Sa'eed bin Al- Musayyab and Az-Zuhri. Muhammad bin Humaid [Ar-Razi] narrated to us, Jarir narrated to us, he said: Ali bin Mujahid narrated to me, and he is trustworthy to me, from me, from: Tha'labah from Az-Zuhri, he said: "The towel is only disliked after Wudu because Wudu is weighed."
পরিচ্ছেদঃ উযু করার পর দু'আ।
৫৫. জা’ফর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইমরান আছ-ছ’লাবী আল-কূফী (রহঃ) ..... উমর ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন কোন ব্যক্তি যদি খুব ভাল করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এই দু’আ পড়ে তবে জান্নাতের সব দরজাই তার জন্য খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে সে ইচ্ছা করবে সেটি দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। দু’আটি হলঃ
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কেউ শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ্! আমাকে তওবাকারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত কর। - ইবনু মাজাহ ৪৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে আনাস এবং উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটির সনদে বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু হুবাবের সাথে অন্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় গরমিল বলেছে। অন্যান্য বর্ণনাকারিগণ আবূ ইদরীস খওলানী ও আবূ উছামন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে অপর এক রাবীল কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ প্রমুখ মু’আবিয়া ইবনু সালিহ-রাবী’আ ইবনু উয়যীদের সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি সনদে আবূ ইদরীস এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে উকবা ইবনু আমিরের নাম উল্লেখ করেছেন। এভাবে আবূ উছমান ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মাঝে জুবায়র ইবনু নুফায়লের নাম উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে যায়দ ইবনু হুবারের বর্ণনায় এরূপ নেই। যা হোক, এই হাদিসটির সনদে ইযতিরাব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ সনদে বিশেষ কিছু ছাবিত নেই। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেছেন, আবূ ইদরীস (রহঃ) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কোন কিছু শুনেননি।
باب فِيمَا يُقَالُ بَعْدَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ الثَّعْلَبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، وَأَبِي، عُثْمَانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ قَدْ خُولِفَ زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عُمَرَ . وَعَنْ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عُمَرَ . وَهَذَا حَدِيثٌ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ كَبِيرُ شَيْءٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَبُو إِدْرِيسَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُمَرَ شَيْئًا .
Umar bin Al-Khattab narrated that :
Allah's Messenger said: 'Whoever performs Wudu, making Wudu well, then says: (Ashhadu an la ilaha illallah, wahdahu la sharika lahu, wa ashhadu anna Muhammadan-abduhu wa rasuluhu, Allahummajalni minat tawwabin, waj'alni minal mutatahhirin) 'I testify that none has the right to be worshipped but Allah Alone, there are no partners for Him. And I testify that Muhammad is His servant and Messenger. O Allah! Make me among the repentant, and make me among those who purify themselves.' Then eight gates of Paradise are opened for him, that may enter by whichever of them wishes."
পরিচ্ছেদঃ এক মুদ পরিমান পানি দিয়ে উযু করা।
৫৬. আহমদ ইবনু মানী ও আলী ইবনু হজর (রহঃ) .... সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ ক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং এক সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। - ইবনু মাজাহ ২৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, জাবির ও আনাস ইবনু মালক রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। রাবী আবূ রায়হানার নাম হল আবদুল্লাহ ইবনু মাতার। আলিমগণের কেউ কেউ একমুদ পরিপাণ পানি দিয়ে উযূ এবং সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করার বিধান দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন, উযূ গোসলের জন্য বিশেষ এমন একটা পরিমাণ নির্ধারণ করা যে, এর কম বা বেশী পরিমাণ পানি ব্যাবহার করা জায়েয হবে না এই হাদিসটির মর্ম তা নয়। বরং কতটুকু পরমাণ পানি উযূ বা গোসলেন জন্য যথেষ্ট তা বর্ণনা করাই হল এর উদ্দেশ্য।
باب فِي الْوُضُوءِ بِالْمُدِّ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي رَيْحَانَةَ، عَنْ سَفِينَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَفِينَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو رَيْحَانَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَطَرٍ . وَهَكَذَا رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ بِالْمُدِّ وَالْغُسْلَ بِالصَّاعِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لَيْسَ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عَلَى التَّوْقِيتِ أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ أَكْثَرُ مِنْهُ وَلاَ أَقَلُّ مِنْهُ وَهُوَ قَدْرُ مَا يَكْفِي .
Safinah narrated:
"The Prophet would perform Wudu with a Mudd, and he would perform Ghusl with a Sa."
পরিচ্ছেদঃ উযুর মধ্যে পানির অপচয় পছন্দনীয় নয়।
৫৭. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, উযূ (ওজু/অজু/অযু)র জন্য একটি শয়তান নির্ধারিত রয়েছে। এর নাম হল ওয়ালাহান। সুতারাং তোমরা পানির ব্যাপারে সন্দেহ প্রবণতা থেকে বেঁচে থাকবে। - ইবনু মাজাহ ৪২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, উবাই ইবনুু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি গরীব। হাদিস বিশারদগণের নিকট এই হাদিসটির সনদ শক্তিশালী এবং সহীহ্ নয়। কারণ, খারিজা ব্যতীত আর কেউ এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত রাবী পরস্পরায় বা মুসনাদ হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এই কথাটি হানানের উক্তি হিসাবেও একধিক বর্ণনায় রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে সহীহ কিছু বর্ণিত নেই। হাদিস বিশারদদের নিকট খারিজা শক্তিশালী রারী বলে স্বীকৃত নন। ইবনু মুবারাক তাঁকে যঈফ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الإِسْرَافِ فِي الْوُضُوءِ بِالْمَاءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا خَارِجَةُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُتَىِّ بْنِ ضَمْرَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ لِلْوُضُوءِ شَيْطَانًا يُقَالُ لَهُ الْوَلْهَانُ فَاتَّقُوا وَسْوَاسَ الْمَاءِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَالصَّحِيحِ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لأَنَّا لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ غَيْرَ خَارِجَةَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْحَسَنِ قَوْلَهُ وَلاَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ . وَخَارِجَةُ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا وَضَعَّفَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ .
Ubayy bin Ka'b narrated that :
the Prophet said: "Indeed there is a Shaitan for Wudu' who is called "AI-Walahan." So beware of having misgivings about water."
পরিচ্ছেদঃ প্রতি সালাতের জন্য উযু করা।
৫৮. মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর-রাযী (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাক-নাপাক প্রত্যেক অবস্থায়ই প্রতি সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। রাবী হুমায়দ বলেন, আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনারা নিজেরা কি করতেন? তিনি বললেন আমরা একবার উযূ করে নিতাম। - সহিহ আবু দাউদ ১৬৩ নং হাদিসের অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন হুমায়দের সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও গরীব। পক্ষান্তরে আমর ইবনু আমির আল আনসারীর সূত্রে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি হাদিস বিশারদগণের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ। আলিমদের কেউ কেউ প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করা ওয়াজিব নয় বরং তা মুস্তাহাব বলে মত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ . قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ فَكَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ أَنْتُمْ قَالَ كُنَّا نَتَوَضَّأُ وُضُوءًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الأَنْصَارِيِّ عَنْ أَنَسٍ . وَقَدْ كَانَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَى الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلاَةٍ اسْتِحْبَابًا لاَ عَلَى الْوُجُوبِ .
Anas narrated that :
"The Prophet would perform wudu for every Salat, whether he was in state of purity or not in a state of purity."
পরিচ্ছেদঃ প্রতি সালাতের জন্য উযু করা।
৫৯. ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ..... সূত্রে একটি হাদীছে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাক অবস্থায় যে ব্যক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আল্লাহ্ তার জন্য দশটি করে নেকী লিখবেন। - ইবনু মাজাহ ৫১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আল-ইফরীকী (রহঃ) আবূ গুতায়ফ সূত্রে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদটি দুর্বল। আলী ইবনু আল-মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন হিশাম ইবনু উরওয়ার কাছে এই হাদিসটি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন এর সনদ হল পূর্বঞ্চলীয়। আহমদ ইবনুল হাসান বলেন, আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেছেন ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মত হাদিস বিশারদ কোন লোক আমি দেখিনি।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاَةٍ
وَقَدْ رُوِيَ فِي، حَدِيثٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ " . قَالَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الإِفْرِيقِيُّ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْمَرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ عَنِ الإِفْرِيقِيِّ . وَهُوَ إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ ذُكِرَ لِهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ هَذَا الْحَدِيثُ فَقَالَ هَذَا إِسْنَادٌ مَشْرِقِيٌّ . قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِعَيْنِي مِثْلَ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ .
It has been related in a narration from Ibn Umar that :
the Prophet said: "Whoever performs Wudu while in a state of purity, Allah writes for him on account of it ten good merits."
পরিচ্ছেদঃ প্রতি সালাতের জন্য উযু করা।
৬০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আমর ইবনু আমির আল-আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললাম আপনারা নিজেরা কি করতেন? তিনি বললেন উযূ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ সালাত আমরা একই উযূতে আদায় করতাম। - ইবনু মাজাহ ৫০৯, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। পক্ষান্তরে হুমায়দের সূত্রে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াতটি উত্তম এবং গরীব ও হাসান।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، هُوَ ابْنُ مَهْدِيٍّ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ . قُلْتُ فَأَنْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ نُحْدِثْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Amr bin Amir Al-Ansari narrated that he heard Anas bin Malik saying:
"The Prophet would perform Wudu for every Salat." I said, "So what about you, what would you do?" He said I wouId pray all of the prayers with one Wudu, as long as we had not committed Hadath (anything that invalidates Wudu)."
পরিচ্ছেদঃ এক উযুতে একাধিক সালাত আদায় করা।
৬১. মুহাম্মাদ ইবনু বাশা্শার (রহঃ) .... বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন এক উযূতে সব ক’টি সালাত আদায় করেছিলেন এবং চামড়ার মোজায় মাসেহ করেছিলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাঁকে বললেন আপনি আজকে এমন একটি কাজ করলেন যা পূর্বে কখনও করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, ইচ্ছা করেই এমন করেছি। - ইবনু মাজাহ ৫১০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলী ইবনু কাদিম এই হাদিসটি সুফইয়ান ছাওরীর সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে এতে নিম্নোক্ত বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ একবার করে ধুয়ে উযূ করেছেন।
সুফইয়ান ছাওরী এই হাদিসটি মুহারিব ইবনু দিছার সুলায়মান ইবনু বুরয়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করতেন। ওয়াকী সুফইয়ান মুহারিব সুলায়মান ইবনু বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী প্রমুখ রাবী এই হাদিসটি সুফইয়ান মুহারিব ইবনু দিছার সুলায়মান ইবনু বুরায়দা সূত্রে সুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটি ওয়াকী বর্ণিত রিওয়াত অপেক্ষা সহীহ।
আলিমগণ এই হাদিস অনুসারে মত পোষণ করেন তাঁরা বলেন উযূ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত একই উযূতে একধিক সালাত আদায় করা যায়। তাঁদের কেউ কেউ বলেন অধিক ফযীলত লাভের আশায় প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করা মুস্তহাব। আফিরীকী (রহঃ) আবূ গুতায়ফ সূত্রে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তাহারাত অবস্থায়ও যদি কেউ উযূ করে তবে আল্লাহ তাকে দশটি নেকী দিবেন। এই সনদটি যঈফ। এই বিষয়ে জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই উযূতে যুহর ও আসর আদায় করেছেন।
باب مَا جَاءَ أَنَّهُ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ . فَقَالَ عُمَرُ إِنَّكَ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ فَعَلْتَهُ . قَالَ " عَمْدًا فَعَلْتُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَزَادَ فِيهِ " تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً " . قَالَ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَغَيْرُهُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَكَانَ بَعْضُهُمْ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ اسْتِحْبَابًا وَإِرَادَةَ الْفَضْلِ . وَيُرْوَى عَنِ الإِفْرِيقِيِّ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ " . وَهَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ .
Sulaiman bin Buraidah narrated that his father said:
"The Prophet would perform Wudu for every Salat. So during the year of the Conquest, he performed all of the prayers with one Wudu, and he wiped over his Khuff. So Umar said, 'You did something that you have not done before?' He replied: "I did it on purpose."
পরিচ্ছেদঃ পুরুষ ও নারীর একই পাত্র থেকে উযু করা।
৬২. ইবনু আবী উমর (রহঃ) .... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি দিয়ে (ফরয) গোসল করেছি। - বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসটি হাসান-সহীহ। সাধারণভবে ফকীহগণের সকলেরই অভিমত এই যে, একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে স্বামী ও স্ত্রী গোসল করায় কোন দোষ নেই। এই বিষয়ে আলী, আইশা, আনাস, উম্মু হানী, উম্মু সুবাইয়্যা আল-জাহানিয়্যা, উম্মু সালমা ও ইবনু উমর (রাঃ) থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ রাবী আবূশ শা’ছা এর নাম হল জাবির ইবনু যায়দ।
باب مَا جَاءَ فِي وُضُوءِ الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنَ الْجَنَابَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ وَأُمِّ هَانِئٍ وَأُمِّ صُبَيَّةَ الْجُهَنِيَّةِ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبُو الشَّعْثَاءِ اسْمُهُ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ .
Maimunah said:
"I and Allah's Messenger would perform Ghusl for Janabah from one vessel."
পরিচ্ছেদঃ মহিলা কর্তৃক তাহারাতের জন্য ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ ব্যাবহার মাকরূহ
৬৩. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... বানী গিফারের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলা কর্তৃক তাহারাতের জন্য ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ ব্যাবহার করতে নিষেধ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৩৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন ফকীহগণের কেউ কেউ মহিলা কর্তৃক তাহারাতের জন্য ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করা মাকরূহ বলে মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাকের অভিমত এই। তাঁরা মহিলা কর্তৃক ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করা মাকরূহ বলে বিধান দিলেও তাদের উচ্ছিষ্ট খাদ্য গ্রহণে কোন আপত্তি করেন না।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ فَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي حَاجِبٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي غِفَارٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَكَرِهَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ الْوُضُوءَ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ كَرِهَا فَضْلَ طَهُورِهَا وَلَمْ يَرَيَا بِفَضْلِ سُؤْرِهَا بَأْسًا .
Abu Hajib narrated from a man from Banu Ghifar who said:
"The Prophet prohibited using the leftover (water) of a woman's Purification."
পরিচ্ছেদঃ মহিলা কর্তৃক তাহারাতের জন্য ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ ব্যাবহার মাকরূহ
৬৪. মুহাম্মাদ ইবনুুব বাশশার ও মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হাজিবের সূত্রে হাকাম ইবনু আমর আল-গিফারী থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলা কর্তৃক তাহারাতের জন্য ব্যবহৃত পানির অবশিষ্টাংশ দিয়ে (ভিন্ন বর্ণনায় তাদের উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করাতে পুরুষদের নিষেধ করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান। রাবী আবূ হাজিবের নাম হল সাওয়াদা ইবনু আসিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) তাঁর রিওয়ায়াতেأَوْ قَالَ بِسُؤْرِهَا -এর উল্লেখ করেননি।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ فَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَاجِبٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ . أَوْ قَالَ " بِسُؤْرِهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو حَاجِبٍ اسْمُهُ سَوَادَةُ بْنُ عَاصِمٍ . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ . وَلَمْ يَشُكَّ فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ .
Hakim bin Amr AI-Ghifari narrated that:
"The Prophet forbade that a man should perform Wudu with the leftover (water) from a woman's purifcation." Or, he said: "from her drinking."
পরিচ্ছেদঃ এই বিষয়ে অনুমতি প্রসঙ্গে।
৬৫. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈকা স্ত্রী একটি বড় গামলা থেকে পানি নিয়ে গোসল করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে চাইলে উক্ত স্ত্রী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো জুনূবী (অর্থাৎ ফরয গোসল জনিত নাপাক) ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন পানি কখনও জুনূবী অর্থাৎ অশুচি হয় না। - ইবনু মাজাহ ৩৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ও শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমতও তদ্রূপ।
باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَفْنَةٍ فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا . فَقَالَ " إِنَّ الْمَاءَ لاَ يُجْنِبُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ .
Ibn Abbas narrated:
"One of the wives of the Prophet performed Ghusl with a bowl. Allah's Messenger wanted to perform Wudu with it, so she said: 'O Messenger of Allah! Indeed I am ]unub.' So he said: 'Indeed, water does not become Junub.'"
পরিচ্ছেদঃ পানি অশুদ্ধি হয় না।
৬৬. হান্নাদ, হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল এবং একাধিক রাবী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একবার জিজ্ঞাসা করা হল হে, আল্লাহ্র রাসুল! বী’রে বুযা’আর পানি দিয়ে কি আমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে পারব? এই কূপটি তো এমন যে, এতে হায়যে ব্যবহৃত ছেড়া কাপড়, কুকুরের মাংস এবং ময়লা ফেলা হয়ে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন পানি তো পাক, একে কোন বস্তু অশুচি করাতে পারে না। - মিশকাত ৪৭৮, সহিহ আবু দাউদ ৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান। আবূ উসামা অতি উত্তম সনদে এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। বী’রে বুযা’আ সম্পর্কে বর্ণিত আবূ সঈদ-এর এই হাদিসটি আবূ উসামা অপেক্ষা উত্তম সনদে আর কেউ রিওয়ায়াত করেননি। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও একাধিক সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمَاءَ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَلُحُومُ الْكِلاَبِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ جَوَّدَ أَبُو أُسَامَةَ هَذَا الْحَدِيثَ فَلَمْ يَرْوِ أَحَدٌ حَدِيثَ أَبِي سَعِيدٍ فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ أَحْسَنَ مِمَّا رَوَى أَبُو أُسَامَةَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ .
Abu Sa'eed AI-Khudri narrated:
"It was said, 'O Allah's Messenger! Shall we use the water of Buda'ah well to perform ablution while it is a well in which menstruation rags, flesh of dogs and the putrid are dumped?" Allah's Messenger said: 'Indeed water is pure, nothing makes it impure.'"
পরিচ্ছেদঃ এই বিষয়ে আরো একটি অনুচ্ছেদ।
৬৭. হান্নাদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মাঠের ক্ষুদ্র জলাশায়গুলির পানি এবং এতে যে হিংস্র বা সাধারণ পশু পানি পান করতে আসে সে সম্পর্কে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, দুই কুল্লা পানি হলে তা আর নাপাকী বহন করে না। - ইবনু মাজাহ ৫১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) বলেন কুল্লা বড় মটকা। তা থেকে পানি পান করা হয়। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত। তারা বলেন পানি দুই কুল্লা হলে যতক্ষণ এর স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত না হবে ততক্ষন ঐ পানি আর কোনভাবেই নাপাক হবে না। তারা আরো বলেনঃ প্রায় পাঁচ মশক পরিমাণ পানিতে দুই কুল্লা হয়।
باب مِنْهُ آخَرُ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُسْأَلُ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلاَةِ مِنَ الأَرْضِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ السِّبَاعِ وَالدَّوَابِّ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ " . قَالَ عَبْدَةُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُلَّةُ هِيَ الْجِرَارُ وَالْقُلَّةُ الَّتِي يُسْتَقَى فِيهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ رِيحُهُ أَوْ طَعْمُهُ وَقَالُوا يَكُونُ نَحْوًا مِنْ خَمْسِ قِرَبٍ .
Ibn Umar narrated:
"I heard AlIah's Messenger while he was being asked about water in open areas of the land, and predators and beasts come to it." He said: 'So Allah's Messenger said: 'When the water is two Qullah it does not carry filth.'"
পরিচ্ছেদঃ স্থির পানিতে পেশাব করা মাকরূহ।
৬৮ মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন স্থির পানিতে পেশাব করে তাতে তোমরা কেউ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে না। - ইবনু মাজাহ ৩৪৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Let none of you urinate [in still water, then perform Wudu with it."
পরিচ্ছেদঃ সমুদ্রের পানি পাক।
৬৯. কুতায়বা ও আল-আনসারী ইসহাক ইবনু মূসা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রাসূল, অনেক সময় আমাদের সমুদ্র সফর করতে হয়। তখন সামান্য পানি আমরা আমদের সাথে নিয়ে যাই। যদি সে পানিতে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে যাই তবে আমাদের পিপাসার্ত থাকতে হয়। সুতরাং আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে পারি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এর পানি পাক এবং এর মুর্দা (সামুদ্রিক মাছ) হালাল। - ইবনু মাজাহ ৩৮৬-৩৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির ও আল-ফিরাসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। অধিকাংশ ফকীহ সাহাবীর মত এ-ই। এদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বকর, উমর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁরা সমুদ্রের পানি ব্যবহারে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। সাহাবীগণের কেউ কেউ সমুদ্রের পানি দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু উমর ও আবূদল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেনঃ এ তো আগুন।
باب مَا جَاءَ فِي مَاءِ الْبَحْرِ أَنَّهُ طَهُورٌ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، مِنْ آلِ ابْنِ الأَزْرَقِ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَالْفِرَاسِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِمَاءِ الْبَحْرِ . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْوُضُوءَ بِمَاءِ الْبَحْرِ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو هُوَ نَارٌ .
Abu Hurairah narrated:
"A man asked Allah's Messenger 'O Messenger of Allah! We sail the seas, and we only carry a little water with us. If we use it for Wudu then we will go thirsty. So shall we perform Wudu from the (water of the) sea?' Allah's Messenger said: 'Its water is pure, and its dead are lawful.'"
পরিচ্ছেদঃ পেশাব সম্পর্কে কঠোরতা।
৭০. হান্নাদ, কুতায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, এই দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। আর তা বিরাট কোন কিছুর জন্য নয়। এই জন তো পেশাব থেকে নিজেকে বাঁচাত না আর ঐ জন চোগলখুরী কর বেড়াত। - ইবনু মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ বকরা, আবূ হুরায়রা, আবূ মূসা ও আবূদর রাহমান ইবনু হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মুজাহিদ-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মানসূরও এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তিনি মুজাহিদ ও ইবনু আব্বাসের মাঝে তাউসের কথা উল্লেখ করেননি। শুরুতে বর্ণিত আ’মাশের রিওয়ায়াতটই (৭০নং হাদিছ) অধিকতর সহীহ। আবূ বকর হাম্মাদ ইবনু আবান আল-বালখীকে বলতে শুনেছি যে, ওয়াকী’ বলেছেন ইবরাহীম থেকে রিওয়ায়াতের ব্যাপারে মানসূরের তুলনায় আ’মাশ অধিকতর সঠিক।
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الْبَوْلِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ " إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا هَذَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ وَأَمَّا هَذَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي مُوسَى وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي بَكْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى مَنْصُورٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ طَاوُسٍ . وَرِوَايَةُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبَانَ الْبَلْخِيَّ مُسْتَمْلِي وَكِيعٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ الأَعْمَشُ أَحْفَظُ لإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ .
Ibn Abbas narrated:
"The Prophet passed by two graves. He said: 'These two are being punished. And they are not being punished for something major. As for this one, he would not protect himself from his urine. As for this one, he used to spread Namimah (slander).'"
পরিচ্ছেদঃ দুগ্ধপোষ্য শিশুর পেশাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়া।
৭১. কুতায়বা ও আহমদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ..... উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্রকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন এবং পরে তা পেশাবের স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। - ইবনু মাজাহ ৫২৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, যায়নাব, লুবাবা বিনত হারিছ-ইনি হলেন ফযল ইবনু আব্বাসের মা, আবূস-সামহি, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ লায়লা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একাধিক সাহাবী, তাবিঈ এবং ইমাম আহমদ ও ইসহাকের মত পরবর্তী যুগের ফকীহদের অভিমত এ-ই। তাঁরা বলেন, দুগ্ধপোষ্য ছেলের পেশাবের বেলায় পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট, আর মেয়ে হলে তা ধৌত করতে হতে। কিন্তু যদি দুগ্ধপোষ্য না হয় তবে ছেলে বা মেয়ে উভয়ের বেলায়ই তা ধৌত করতে হবে।
باب مَا جَاءَ فِي نَضْحِ بَوْلِ الْغُلاَمِ قَبْلَ أَنْ يَطْعَمَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، قَالَتْ دَخَلْتُ بِابْنٍ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَرَشَّهُ عَلَيْهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَزَيْنَبَ وَلُبَابَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَهِيَ أُمُّ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَبِي السَّمْحِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي لَيْلَى وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا يُنْضَحُ بَوْلُ الْغُلاَمِ وَيُغْسَلُ بَوْلُ الْجَارِيَةِ وَهَذَا مَا لَمْ يَطْعَمَا فَإِذَا طَعِمَا غُسِلاَ جَمِيعًا .
Umm Qais bin Mihsan narrated:
"I entered upon the Prophet with a son of mine who was not yet eating food. He urinated on him, so he called for water which he sprinkled over it."
পরিচ্ছেদঃ হালাল পশুর পেশাব।
৭২. হাসান ইবনু মুহাম্মাদ আয্-যা’ফরানী (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার উরায়না গোত্রের কিছু লোক মদিনা আসে। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের উপযোগী না হওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সদকার উট চারণের ক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন তোমরা উটের দুধ ও পেশাব পান করবে। শেষে এরা ইসালাম ত্যাগ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিযুক্ত রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এদেরকে ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হাযির করা হয়। অতঃপর বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হল। চোখ শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করা হল এবং এবং মদীনার পাথুরে ময়দান হাররায় নিক্ষেপ করা হল। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ এদের মধ্যে একজনকে আমি তখন মাটি কামড়াতে দেখেছি। হান্নাদ তাঁর রিওয়ায়াতে يكد الارض -এর স্থলে কোন কোন সময় يَكْدُمُ الأَرْضَ -ও রেওয়ায়াত করেছেন। - ইরওয়া ১৭৭, রাওয ৪৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত এরুপ। তারা বলেনঃ হালাল পশুর পেশাবে কোন দোষ নেই।
باب مَا جَاءَ فِي بَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، وَقَتَادَةُ، وَثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَاسًا، مِنْ عُرَيْنَةَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَاجْتَوَوْهَا فَبَعَثَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِبِلِ الصَّدَقَةِ وَقَالَ " اشْرَبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا " . فَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَاقُوا الإِبِلَ وَارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ فَأُتِيَ بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ مِنْ خِلاَفٍ وَسَمَرَ أَعْيُنَهُمْ وَأَلْقَاهُمْ بِالْحَرَّةِ . قَالَ أَنَسٌ فَكُنْتُ أَرَى أَحَدَهُمْ يَكُدُّ الأَرْضَ بِفِيهِ حَتَّى مَاتُوا . وَرُبَّمَا قَالَ حَمَّادٌ يَكْدُمُ الأَرْضَ بِفِيهِ حَتَّى مَاتُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ بَأْسَ بِبَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ .
Anas narrated:
"Some people from Urainah arrived in Al-Madinah, and they were uncomfortable (and ill from the climate). So Allah's Messenger sent them some camels from charity. He told them: "Drink from their milk and urine." So they killed the camel driver that Allah's Messenger sent, and they violently drove off the camels, and apostatized from Islam. So the Prophet came to them, he cut off their hands and feet on opposite side, and branded their eyes, and threw them in Al-Harrah." Anas said, "So I saw one of them working over the ground with his mouth, until they died."
পরিচ্ছেদঃ হালাল পশুর পেশাব।
৭৩. আল-ফযল ইবনু সাহল আল-আ’রাজ আল-বাগদাদী (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, এরা যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাখালদের চোখ শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করেছিল সেহেতু কিসাস হিসাবে তিনি তাদের চোখও শলাকা দিয়ে বিদ্ধ করেছিলেন। - প্রাগুক্ত। মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। কেননা রাবী ইয়াযীদ ইবনু যারায় থেকে আর কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। এই হাদিসটির মর্ম আল্লাহর কালাম وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ (যখমের বদলে অনুরুপ যখম) এর অনুরুপ। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন হুদূদ সম্পর্কিত বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সঙ্গে এই আচরণ করেছিলেন।
باب مَا جَاءَ فِي بَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ
حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ الأَعْرَجُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنَّمَا سَمَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْيُنَهُمْ لأَنَّهُمْ سَمَلُوا أَعْيُنَ الرُّعَاةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا ذَكَرَهُ غَيْرَ هَذَا الشَّيْخِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ . وَهُوَ مَعْنَى قَوْلِهِ : ( وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ) . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ إِنَّمَا فَعَلَ بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذَا قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ الْحُدُودُ .
Anas bin Malik narrated:
"Allah's Messenger only poked out their eyes because they had poked out the eyes of the camel driver." Abu 'Eisa said: This Hadfth is Gharib. We do not know anyone who mentioned it other than this shaikh, from Yazid bin Zurai. And it is in accordance with the meaning of Allah's saying: "And wounds equal for equal" It has been reported that Muhammad bin Sirin said: "The Prophet only did this to them before the legislated punishments were revealed."
পরিচ্ছেদঃ বাতকর্মের কারণে উযু করা।
৭৪ কুতায়বা ও হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শব্দ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না। - ইবনু মাজাহ ৫১৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الرِّيحِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ وُضُوءَ إِلاَّ مِنْ صَوْتٍ أَوْ رِيحٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "There no Wudu except for a sound or a smell."
পরিচ্ছেদঃ বাতকর্মের কারণে উযু করা।
৭৫. মুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের কারুর যদি মসজিদে অবস্থানকালে বায়ু নির্গত হচ্ছে বলে ধারণা হয় তবে শব্দ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত মসজিদ থেকে (উযূর) জন্য বের হবে না। - সহিহ আবু দাউদ ১৬৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ,আলী ইবনু তালক, আয়িশা, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে আলিমগণের অভিমত এই যে, বায়ু নির্গত আওয়াজ শুনে বা এর গন্ধ পেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উযূ করা ওয়াজিব নয়। আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক বলেন উযূ বিনষ্ট হওয়ার বিষয়ে যদি সন্দেহ হয় তবে, করার মত নিশ্চিত বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ওয়াজিব হবে না। তিনি আরো বলেনঃ কোন মহিলার পেশাবের পথে যদি বায়ু নির্গত হয় তবে তাকে উযূ করতে হবে। ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকরে অভিমতও এ-ই।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الرِّيحِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الْمَسْجِدِ فَوَجَدَ رِيحًا بَيْنَ أَلْيَتَيْهِ فَلاَ يَخْرُجْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَعَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ الْعُلَمَاءِ أَنْ لاَ يَجِبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ إِلاَّ مِنْ حَدَثٍ يَسْمَعُ صَوْتًا أَوْ يَجِدُ رِيحًا . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ إِذَا شَكَّ فِي الْحَدَثِ فَإِنَّهُ لاَ يَجِبُ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ حَتَّى يَسْتَيْقِنَ اسْتِيقَانًا يَقْدِرُ أَنْ يَحْلِفَ عَلَيْهِ . وَقَالَ إِذَا خَرَجَ مِنْ قُبُلِ الْمَرْأَةِ الرِّيحُ وَجَبَ عَلَيْهَا الْوُضُوءُ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَإِسْحَاقَ .
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "When one of you is in the Masjid, and he senses wind between his buttocks then he should not exit until he hears a sound or smells an odor."
পরিচ্ছেদঃ বাতকর্মের কারণে উযু করা।
৭৬. মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) বিনষ্ট হওয়ার পর উযূ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সালাত কবূল করবেন না। - আবু দাউদ ৫৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الرِّيحِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبَلُ صَلاَةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Indeed Allah does not accept the prayer of one of you when he commits Hadath, until he performs Wudu."
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রার কারণে উযু।
৭৭. ইসমাঈল ইবনু মূসা, হান্নাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ আল-মুহারিবী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদারত অবস্থায় ঘুমুতে দেখতে পেলেন। এমনাক তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ালেন ও সালাত আদায় করলেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আপনি তো ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। তিনি বললেনঃ শুয়ে না ঘুমালে উযূ (ওজু/অজু/অযু) ওয়াজিব হয় না। কারণ শুয়ে ঘুমালে জোড়াগুলি ঢিলে হয়ে যায়। - যইফ আবু দাউদ ২৫, মিশকাত ৩১৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সনদে উক্ত রাবী আবূ খালিদ-এর আসল নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদির রাহমান। এই বিষয়ে আয়িশা, ইবনু মাসউদ, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، - كُوفِيٌّ - وَهَنَّادٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ الْمَعْنَى وَاحِدٌ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ الْمُلاَئِيُّ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَامَ وَهُوَ سَاجِدٌ حَتَّى غَطَّ أَوْ نَفَخَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ قَدْ نِمْتَ قَالَ " إِنَّ الْوُضُوءَ لاَ يَجِبُ إِلاَّ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبُو خَالِدٍ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .
Ibn Abbas narrated that :
he saw the Prophet sleeping, while in the prostration position, until he snored or snorted. Then he stoodup to pray. So I said: "O Messenger of Allah! You were sleeping?" He said: "Wudu is not required except for sleeping while reclining. For when one reclines, joints relax."
পরিচ্ছেদঃ নিদ্রার কারণে উযু।
৭৮. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়তেন তারপর উঠে সালাত আদায় করতেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। - ইরওয়া ১১৪, সহিহ আবু দাউদ ১৯৪, মিশকাত ৩১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটিকে হাসান সহীহ।সালিহ ইবনু আবদিল্লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন বসাবস্থায় ইচ্ছা করে ঘুমিয়ে পড়া সম্পকর্কে ইবনু মুবারকের নিকট আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তার জন্য উযূ করা জরুরী নয়। সাঈদ ইবনু আবী আরূবা (রহঃ) কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উক্তি হিসাবে তাঁর রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবূল আলিয়ার উল্লেখ করেননি এবং মারফূরূপে তা বর্ননা করেননি। নিদ্রার কারণে উযূ করা সম্পর্কে আলিম ও ফিকহবিদগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শুয়ে নিদ্রা না গিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে নিদ্রা গেলে উযূ ওয়াজব হবে না বলে অধিকাংশ ফিকহবিদ অভিমত প্রকাশ করেছেন। ইমাম ছাওরী, ইবনু মুবারাক ও আহমদ (রহঃ) এর অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেন, নিদ্রার কারণে যদি জ্ঞান ও অনুভূতি আচ্ছন্ন হয়ে যায় তবে উযূ করতে হবে। ইমাম ইসহাকেরও এই অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে যদি কেউ স্বপ্ন দেখে বা ঘুমের ঘোরে যদি তার বসার স্থান সরে যায় তা হলে উযূ করতে হবে।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنَامُونَ ثُمَّ يَقُومُونَ فَيُصَلُّونَ وَلاَ يَتَوَضَّئُونَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَسَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ عَمَّنْ نَامَ قَاعِدًا مُعْتَمِدًا فَقَالَ لاَ وُضُوءَ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى حَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ أَبَا الْعَالِيَةِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَاخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِي الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ فَرَأَى أَكْثَرُهُمْ أَنْ لاَ يَجِبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ إِذَا نَامَ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا حَتَّى يَنَامَ مُضْطَجِعًا . وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ . قَالَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا نَامَ حَتَّى غُلِبَ عَلَى عَقْلِهِ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ مَنْ نَامَ قَاعِدًا فَرَأَى رُؤْيَا أَوْ زَالَتْ مَقْعَدَتُهُ لِوَسَنِ النَّوْمِ فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ .
Anas bin Malik narrated:
"The companions of Allah's Messenger would sleep, then stand to pray, They would not perform Wudu."
পরিচ্ছেদঃ আগুনে পাকানো খাদ্য আহারে উযু করা।
৭৯. ইবনু আবী উমার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন আগুনে পাক করা খাদ্য আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে। যদিও তা পনিরের টুকরো হয়। রাবী বলেন ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই কথা শুনে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন তাহলে কি তেল ব্যবহার করে বা গরম পানি ব্যবহার করেও আমাদের উযূ করতে হবে? আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোন হাদিস শুনলে এর উদাহরন দিতে যেও না। - ইবনু মাজাহ ৪৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, উম্মু সালামা, যায়দ ইবনু ছাবিত, আবূ তালহা, আবূ আয়্যুব ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ফিকহবিদ আলিমদের কেউ কেউ আগুনে প্রস্তুতকৃত খাদ্য আহার করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন। তবে সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী অধিকাংশ আলিম এই ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরুরী নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوُضُوءُ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ وَلَوْ مِنْ ثَوْرِ أَقِطٍ " . قَالَ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنَتَوَضَّأُ مِنَ الدُّهْنِ أَنَتَوَضَّأُ مِنَ الْحَمِيمِ قَالَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَا ابْنَ أَخِي إِذَا سَمِعْتَ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ تَضْرِبْ لَهُ مَثَلاً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي طَلْحَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ عَلَى تَرْكِ الْوُضُوءِ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ .
Abu Hurairah narrated that :
Allah's Messenger said: "Wudu is (required) from what fire has touched, even if it be a piece of cheese."
পরিচ্ছেদঃ আগুনে পাকানো খাদ্য আহারে উযু না করা।
৮০. আবী উমার (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমিও ঘর থেকে বের হলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী মহিলার বাড়িতে গেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি বকরী যবেহ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করলেন। তারপর সেই মহিলা এক কাঁদি কাঁচা খেজুর এনে হাযির করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে কিছু খেজুর খেলেন। পরে যুহরের উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং সালাত আদায় করে ফিরে বসলেন। উক্ত মহিলা বকরীটির মাংস থেকে যা অবশিষ্ট ছিল তা তাঁর সামনে এনে হাযির করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আহার করলেন। পরে তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন; কিন্তু উযূ করলেন না। - সহিহ আবু দাউদ ১৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, ইবনু মাসঊদ, আবূ রাফি, উম্মু হাকাম, আমর ইবনু উমায়্যা, উম্মু আমির, সুওয়ায়াদ ইবনু মু’নাম এবং উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। তবে সনদের দিক থেকে সেই রিওয়ায়াতটি সহীহ নয়। হাদিসটি গুসাম ইবনু মিসাকক-ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। হাফিজুল হাদিস নির্ভরযোগ্য রাবীগণ এভাবেই এটির রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু সীরীন-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সনদে একধিক সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আতা ইবনু ইয়াসার, ইকরিমা, মুহাম্মদ ইবন আমার ইবনু আতা, আবী ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু আব্বাস প্রমুখ হাফিজুল হাদিস রাবীগণ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা মাঝে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ করেননি। এটি অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবা, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী প্রায় সকল ফিকহবিদ আলিম যথা সুফইয়ান ছাওরী, ইবন মুবারক, শাফিঈ, আহমদ, ইসাহাক প্রমুখ এই হাদিস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করা জরুরী নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ আমল ছিল এরূপই। এই হাদিসটি আগুনে প্রস্তুত খাদ্য আহারের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান সম্বলিত হাদিসটি জন্য নাসিখ বা রহিতকারী বলে গণ্য।
باب مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ مِمَّا غَيَّرَتِ النَّارُ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، سَمِعَ جَابِرًا، . قَالَ سُفْيَانُ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ فَدَخَلَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَذَبَحَتْ لَهُ شَاةً فَأَكَلَ وَأَتَتْهُ بِقِنَاعٍ مِنْ رُطَبٍ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ تَوَضَّأَ لِلظُّهْرِ وَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَتْهُ بِعُلاَلَةٍ مِنْ عُلاَلَةِ الشَّاةِ فَأَكَلَ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي رَافِعٍ وَأُمِّ الْحَكَمِ وَعَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَأُمِّ عَامِرٍ وَسُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَلاَ يَصِحُّ حَدِيثُ أَبِي بَكْرٍ فِي هَذَا الْبَابِ مِنْ قِبَلِ إِسْنَادِهِ إِنَّمَا رَوَاهُ حُسَامُ بْنُ مِصَكٍّ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالصَّحِيحُ إِنَّمَا هُوَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . هَكَذَا رَوَى الْحُفَّاظُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ رَأَوْا تَرْكَ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ . وَهَذَا آخِرُ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَكَأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ نَاسِخٌ لِلْحَدِيثِ الأَوَّلِ حَدِيثِ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ .
Jabir narrated:
"Allah's Messenger went out and I went with him. He entered upon a woman from the Ansar. She slaughtered a sheep and he ate from it; and she brought a basket with ripe dates and he ate from it. Then he performed Wudu for Zuhr and prayed. Then he finished, so she brought him something from the remainder of the sheep. So he ate it, then prayed Asr and did not perform Wudu."
পরিচ্ছেদঃ উটের গোশত আহারে উযু।
৮১. হান্নাদ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, উটের মাংস আহরের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ এই কারণে তোমরা উযূ করে নিও। মেষের মাংস আহরের ক্ষেত্রে উযূ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বললেনঃ এতে তোমাদের উযূ করতে হবে না। - ইবনু মাজাহ ৪৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির ইবনু সামুরা, উসায়দ ইবনু হুযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ---আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা এর সূত্রে উসায়দ ইবনু হুযায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ হল আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা-বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন। উবায়দা আয্যাববী আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ্ আর-রাযী- আদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা যুল গুররা সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) হাজ্জাজ ইবনু আরতাত এর সনদে হাদিসটি বর্ণনা করতে দিয়ে এর সনদে ভুল করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহমান স্বীয় পিতা আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা উসায়দ ইবনু হাযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; অথচ সহীহ হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযী আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা -- বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ইসহাক (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে দুইটি রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ; একটি হল বারা এর এবং অপরটি হল জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াত। এ হল ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তাবিঈ ও অপরাপর কতক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর উটের মাংস আহারের কারণে উযূ করতে হবে বলে মনে করেন না। এ হলো সুফইায়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ فَقَالَ " تَوَضَّئُوا مِنْهَا " . وَسُئِلَ عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ فَقَالَ " لاَ تَتَوَضَّئُوا مِنْهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَأُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ . وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
Al-Bara bin Azib narrated:
Allah's Messenger was asked about performing Wudu for camel meat. He said: "Perform Wudu for it." He Was asked about Wudu after eating goat meat. So he said: "Do not perform Wudu for it."
পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।
৮২. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... বুসরা বিনত সাফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কেউ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করে সালাত পড়বে না। - ইবনু মাজাহ ৪৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, আবূ আয়্যূব, আবূ হুরায়রা, আরওয়া বিনত উনায়স, আয়িশা, জাবির, যায়দ ইবনু খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। হিশাম ইবনু উরওয়া-পিতা উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন।
باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلاَ يُصَلِّ حَتَّى يَتَوَضَّأَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَرْوَى ابْنَةِ أُنَيْسٍ وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِثْلَ هَذَا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُسْرَةَ .
Busrah bint Safwan narrated that :
the Prophet said: "Whoever touches his penis, then he is not to pray until he performs Wudu"
পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।
৮৩. আবূ উসামা এবং আরো অনেকে হিশাম ইাবন উরওয়া পিতা উরওয়া-মারওয়ান-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আর আবূ উসামার সূত্রে ইসহাক ইবনু মানসূর আমাকে এই সনদটি বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَرْوَانَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا .
Busrah narrated :
a similar report from the Prophet.
পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।
৮৪. আবূয যিনাদ (রহঃ) উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে এটির বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আলী ইবনু হুজরও আমাকে হাদিসটির রিওয়ায়ত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এই ধরনের বিধান দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটই অধিকতর সহীহ। আবূ যুর’আ বলেনঃ উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হল এই বিষয়ে বর্ণিত সর্বাধিক সহীহ। এটি হল আল-আলা ইবনু হারিছ---মাকহুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান---- উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা সনদে বর্ণিত হাদিস। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন মাকুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান থেকে কোন রিওয়ায়াত শুনেন নাই। ইনি মূলত এ হাদিস ছাড়া অন্যান্য হাদিস জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেছেন। সরাসারি আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেন নাই। সুতরাং ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) মাকহুল--আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি সহীহ বলে মনে করেন না।
باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ
وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ بُسْرَةَ . وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ حَدِيثُ أُمِّ حَبِيبَةَ فِي هَذَا الْبَابِ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لَمْ يَسْمَعْ مَكْحُولٌ مِنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَرَوَى مَكْحُولٌ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَنْبَسَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ هَذَا الْحَدِيثَ صَحِيحًا .
Busrah narrated that :
the Prophet said a similar Hadith
পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু না করা।
৮৫. হান্নাদ (রহঃ) .... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এরো (লজ্জাস্থান) তার শরীরের একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। - ইবনু মাজাহ ৪৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একধিক সাহাবী ও কতক তাবিঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা লজ্জাস্থান স্পর্শের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী বলে মনে করেন না। ইবনু মুবারক এবং কূফাবাসী ফকীহগণের অভিমতও এই। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এই হাদিসটই সর্বাধিক উত্তম। আয়্যূব ইবনু উতবা ও মুহাম্মাদ ইবনু জাবির (রহঃ) ...... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিসটির রিওয়ায়াত করেছেন। হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ইবনু জাবির ও আয়্যূব ইবান উতবা সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু বাদর (রহঃ) এর সূত্রে মুলাযিম ইবনু আমরের বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ এবং হাসান।
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ، هُوَ الْحَنَفِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَهَلْ هُوَ إِلاَّ مُضْغَةٌ مِنْهُ أَوْ بَضْعَةٌ مِنْهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَعْضِ التَّابِعِينَ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَهَذَا الْحَدِيثُ أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ عَنْ أَبِيهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ وَأَيُّوبَ بْنِ عُتْبَةَ . وَحَدِيثُ مُلاَزِمِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ أَصَحُّ وَأَحْسَنُ .
Qais bin Talq bin Ali - [and he is] Al-Hanafi narrated from his father, that:
the Prophet said: 'Is it other than a piece of his flesh?" Or: "part of him?"
পরিচ্ছেদঃ চুম্বনের কারণে উযু না করা।
৮৬. কুতায়বা, হান্নাদ আবূ কুরায়ব, আহমদ ইবনু মানী, মাহমূদ ইবনু গায়লান, আবূ আম্মার (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে গেলেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। রাবী উরওয়া বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ স্ত্রী আপনি ছাড়া আর কেউ হবেন না। এই কথা শুনে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসলেন। - ইবনু মাজাহ ৫০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈ, আলিম ও ফকীহদের থেকেও অনুরূপ মতামত রয়েছে। সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী ফকীহদের অভিমতও তা-ই। তাঁরা বলেনঃ চুম্বনের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরূরী নয়। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক ইবনু আনাস, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন চুম্বনের ক্ষেত্রে উযূ জরূরী। সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক আলিম ও ফকীহও এই মত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত উপরের হাদিসটি গ্রহণ না করার কারণ হল, এটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। আবূ বকার আল-আত্তার আল-বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সূত্রে বলতে শুনেছি যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল- কাত্তান এই হাদিসটিকে যঈফ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এটি সন্দেহ পূর্ণ, আর এটি কিছুই নয়। মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এই হাদিসটি যঈফ বলে সিদ্ধান্ত দিতে শুনেছি। তিনি বলেন বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত (রহঃ) উরওয়ার নিকট থেকে হাদিস শুনেননি। ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও নবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চুম্বন করেছেন; কিন্তু উযূ করেননি। এই হাদিসটিও সহীহ নয়। কারণ, ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে কোন হাদিস শুনেছেন বলে আমরা জানি না। মোট কথা, এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদিস নেই।
باب مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ مِنَ الْقُبْلَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ قُلْتُ مَنْ هِيَ إِلاَّ أَنْتِ قَالَ فَضَحِكَتْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لَيْسَ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَإِنَّمَا تَرَكَ أَصْحَابُنَا حَدِيثَ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا لأَنَّهُ لاَ يَصِحُّ عِنْدَهُمْ لِحَالِ الإِسْنَادِ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْعَطَّارَ الْبَصْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ ضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ جِدًّا . وَقَالَ هُوَ شِبْهُ لاَ شَىْءَ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَهَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . وَهَذَا لاَ يَصِحُّ أَيْضًا . وَلاَ نَعْرِفُ لإِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ . وَلَيْسَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ .
Urwah narrated from Aishah that:
"The Prophet kissed one of his wives, then he went to the prayer and did not perform Wudu." He (Urwah) said: "I said 'Who was it except you?'" [He said:] "So she laughed."
পরিচ্ছেদঃ বমি ও নাকসিরের কারণে উযু।
৮৭. আবূ উবায়দা ইবনু আবিস সাফার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মা’দান ইবনু আবী তালহার সনদে আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বমি হল। পরে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। মা’দান ইবনু আবী তালহা বরেন, দামিশক মসজিদে ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে তাঁর কাছে আবূদ -দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই রিওয়ায়াতটির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন আবূদ-দারদা সত্য বলোছেন। তখন আমিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। - ইরওয়া ১১১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসহাক বলেনঃ ইসহাক ইবনু মানসূল (রহঃ) ও (রাবীর নাম) মা’দান ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু আবী তালহা অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈগণের একধিক আলিম ও ফকীহ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূ করার বিধান দিয়েছেন। সুফইযান ছাওরী, ইবনু মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এরও এই অভিমত। আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেনঃ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূর দরকার নেই। ইমাম মালিক ও শাফিঈও এই মত পোষণ করেন হুসায়ন আল-মুআল্লিম এই হাদিসটি উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে হুসায়ন বর্ণিত হাদিসটই সর্বাধিক সহীহ। ইয়হইয়া ইবনু আবী কাছীরের সূত্রে মা’মারও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে ভুল করে ফেলেছেন এবং ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ-খালিদ ইবনু মা’দান-আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদের উল্লেখ করেছেন। এতে আল-আওযাই (রহঃ)-র উল্লেখ করেননি। তিনি খালিদ ইবনু মা’দান বলেছেন, অথচ ইনি হলেন মা’দান ইবনু আবী তালহা।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ
حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ فَتَوَضَّأَ . فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَابْنُ أَبِي طَلْحَةَ أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنَ التَّابِعِينَ الْوُضُوءَ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَدْ جَوَّدَ حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ هَذَا الْحَدِيثَ . وَحَدِيثُ حُسَيْنٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ . وَرَوَى مَعْمَرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَوْزَاعِيَّ وَقَالَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَإِنَّمَا هُوَ مَعْدَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ .
Madan bin Abi Talhah narrated from Abu Ad-Darda that :
"Allah's Messenger vomited [so he broke fast] so he performed Wudu." So I met Thawban in a Masjid in Damascus, and I mentioned that to him. He said: 'He told the truth, I poured the water for his Wudu."
পরিচ্ছেদঃ নবীয (ফল ভিজানো পানি) দ্বারা উযু করা।
৮৮. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার পাত্রে কি আছে? আমি বললামঃ নবীয। তিনি বললেনঃ খেজুর পবিত্র আর পানিও পাক। তারপর তিনি তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। - ইবনু মাজাহ ৩৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ যায়দ-আবদুল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এই আবূ যায়দ হাদিসবেত্তাদের নিকট মাজহুল বা অজ্ঞাত। এই হাদিসটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত তার আছে বলে আমরা জানি না। আলিমদের কেউ কেউ নবীয দিয়ে উযূ করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন। সুফইয়ান প্রমুখের মতও তা-ই। আলিমদের অপর একদল বলেন নবীয দিয়ে উযূ করা যাবে না। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট অধিক পছন্দের হল, কোন ব্যক্তি যদি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, নবীয ছাড়া তার নিকট অন্য কোন পনি নাই তাহলে সে নবীয দিয়ে উযূও করবে এবং তায়াম্মুমও করবে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যারা বলেন নবীয দিয়ে উযূ হবে না তাদের কথা কুরআনের অধিকতর নিকটবর্তী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ’’পানি না পেলে পবিত্র মাটির তায়াম্মুম করবে।’’
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ بِالنَّبِيذِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا فِي إِدَاوَتِكَ " . فَقُلْتُ نَبِيذٌ . فَقَالَ " تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ " . قَالَ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو زَيْدٍ رَجُلٌ مَجْهُولٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لاَ يُعْرَفُ لَهُ رِوَايَةٌ غَيْرُ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ بِالنَّبِيذِ مِنْهُمْ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنِ ابْتُلِيَ رَجُلٌ بِهَذَا فَتَوَضَّأَ بِالنَّبِيذِ وَتَيَمَّمَ أَحَبُّ إِلَىَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَوْلُ مَنْ يَقُولُ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ أَقْرَبُ إِلَى الْكِتَابِ وَأَشْبَهُ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: "فإِن لَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ".
Abdullah bin Mas'ud narrated:
"The Prophet asked me: "What is in your Idawah (water skin)?" I said: "Nabidh." He said: "Dates are wholesome and water is pure." He said: "So he performed Wudu with it."
পরিচ্ছেদঃ দুধ পান করে কুলি করা।
৮৯. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দুধ পান করলেন। পরে পানি আনতে বললেন এবং তা দিয়ে কুলি করলেন। বললেনঃ এতে তৈলাক্ততা রয়েছে। - ইবনু মাজাহ ৪৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাহল ইবনু সা’দ উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। কোন কোন আলিম দুধ পানের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার অভিমত দিয়েছেন। আমাদের মতে তা মুস্তাহাব। আলিমদের অপর এক দল দুধ পান করলে উযূ করা দরকার বলে মনে করেন না।
باب فِي الْمَضْمَضَةِ مِنَ اللَّبَنِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ " إِنَّ لَهُ دَسَمًا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ وَهَذَا عِنْدَنَا عَلَى الاِسْتِحْبَابِ وَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمُ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ .
Ibn Abbas narrated :
the Prophet drank milk. Then he called for water to rinse out his mouth. Then he said: "Indeed it has fat." [He said:] There are narrations on this topic from Sahl bin Sa'd As-Sa'idi and Umm Salamah. Abu Eisa said: [And] this Hadith is Hasan Sahih. Some of the people of knowledge held the view that one is to wash the mouth after drinking milk and this is recommended according us. Some others did not hold the view that one is to wash out the mouth after drinking milk.
পরিচ্ছেদঃ উযু ছাড়া সালামের জওয়াব দেওয়া পছন্দনীয় নয়।
৯০. নাসার ইবনু আলী ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) .... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে সালাম বলল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জওয়াব দিলেন না। - ইরওয়া ৫৪, সহিহ আবু দাউদ ১২-১৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। পেশাব বা পায়খানারত অবস্থায় আমাদের মতে সালামের জওয়াব দেওয়া মাকরূহ। কোন কোন আলিম হাদিসটির এইরূপই ব্যখ্যা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বর্ণিত রিওয়ায়াতের মধ্যে এটই সর্বোত্তম। এই বিষয়ে মুহাজির ইবনু কুনফুয, আদুল্লাহ ইবনু হানযালা, আলকামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির ও বারা’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب فِي كَرَاهَةِ رَدِّ السَّلاَمِ غَيْرَ مُتَوَضِّئٍ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَإِنَّمَا يُكْرَهُ هَذَا عِنْدَنَا إِذَا كَانَ عَلَى الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ . وَقَدْ فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَلِكَ . وَهَذَا أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَعَلْقَمَةَ بْنِ الْفَغْوَاءِ وَجَابِرٍ وَالْبَرَاءِ .
Ibn Umar narrated:
"A man greeted the Prophet (with Salam), and he was urinating, so he did not respond to him."
পরিচ্ছেদঃ কুকুরের উচ্ছিষ্ট।
৯১. সাওয়াযার ইবনু আবূদল্লাহ্ আল-আম্বারী (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা সাতবার ধৌত করতে হবে। প্রথমবার বর্ণনান্তরে শেষবার তাতে মাটি ঘষে ধৌত করতে হবে। আর পাত্রে বিড়াল মুখ দিলে তা ধৌত করতে হবে একবার। - সহিহ আবু দাউদ ৬৪-৬৬, মুসলিম অনুরূপ; কিন্তু তাতে বিড়ালের উল্লেখ নেই। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। ইমাম শাফিঈ আহমদ ও ইসহাকের অভিমতও এ-ই। অপর সনদে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে ’’বিড়াল মুখ দিলে একবার ধৌত করতে হবে’’ এই কথার উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
باب مَا جَاءَ فِي سُؤْرِ الْكَلْبِ
حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " يُغْسَلُ الإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَإِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ " إِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Wash the vessel the dog has drunk from seven times: the first or the last of them with dirt. And when the cat drinks out of it, wash it once."
পরিচ্ছেদঃ বিড়ালের উচ্ছিষ্ট।
৯২. ইসহাক ইবনু মূসা আনসারী (রহঃ) ...... আবূ কাতাদর পুত্রবধূ কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার তার কাছে এলেন। কাবশা বলেনঃ আমি তাঁর উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দিলাম। তিনি আরো বলেনঃ এমন সময় একটি বিড়াল এসে পানি পান করতে শুরু করল। আবূ কাতাদা বিড়ালটির জন্য পানির পাত্রটি কাত করে ধরলেন। বিড়ালটি পরিতৃপ্ত হয়ে পানি পান করল। তিনি আমাকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি এতে বিস্ময় প্রকাশ করছ! বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিড়ালের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়। কারণ বিড়াল তো তোমাদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে। - ইবনু মাজাহ ৩৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী, তাবিঈ ও তৎপরবর্তী ইমামগণ যেমন শাফিঈ, আহমদ, ইসহাক প্রমুখের অভিমত এ-ই। তাঁরা বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বস্তুতে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এই বিষয়ে এই হাদিসটই সর্বোত্তম। ইসহাক ইবন আবদিল্লাহ ইবনু আবী তালহার সূত্রে ইমাম মালিক খুবই উত্তমরূপে এই হাদিসটির রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মালিকের চেয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে আর কেউ এ হাদিসটির রিওয়ায়াত করেননি।
باب مَا جَاءَ فِي سُؤْرِ الْهِرَّةِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَكَانَتْ، عِنْدَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ عَلَيْهَا . قَالَتْ فَسَكَبْتُ لَهُ وَضُوءًا قَالَتْ فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا بِنْتَ أَخِي فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ لَمْ يَرَوْا بِسُؤْرِ الْهِرَّةِ بَأْسًا . وَهَذَا أَحَسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . وَقَدْ جَوَّدَ مَالِكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ وَلَمْ يَأْتِ بِهِ أَحَدٌ أَتَمَّ مِنْ مَالِكٍ .
Humaidah bint Ubaid bin Rifa'ah narrated:
"Kabshah bint Ka'b bin Malik - she was (married) with Ibn Abi Qatadah - narrated "That Abu Qatadah visited her, [so she said:] 'So I poured water for him to use for Wudu.' She said: 'A cat came to drink, so he lowered he container until it drank.' Kabshah said: 'So he saw me looking at it and said, "O my niece! Are you surprised at that?" So I said yes. He said: "Indeed Allah's Messenger said 'It is not impure, it is only one of those roam around among you.'"
পরিচ্ছেদঃ মোজায় মাসহ করা।
৯৩. হান্নাদ (রহঃ) .... হাম্মাম ইবনুল হারিছ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, জারীর ইবনু আবদিল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু পেশাব করলেন, তারপর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং তাঁর মোযায় মাসেহ করলেন। তাঁকে বলা হলঃ আপনি এ কী করছেন? তিনি বললেনঃ এ থেকে কোন আমি বিরত থাকব! আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। রাবী ইবরাহীম (রহঃ) বলেনঃ জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিস লোকদের নিকট খুবই পছন্দনীয় ছিল। কারণ তিনি সূরা মাইদা নাযিল ও হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। - ইবনু মাজাহ ৫৪৩,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ’উমর, আবল হুযায়ফা, মুগীরা, বিলাল, সা’দ, আবূ আয়্যূব, সালমান, বুরায়দা, আমর ইবনু উমায়্যা, আনাস, সাহল ইবনু সা’দ, ইয়া’লা ইবনুুর মুররা, উবাদা ইবনুস সামিত, উসামা উবন শারীক, আবূ উমামা, জাবির ও উসামা উবন যায়দ, ইবনু উবাদা (ইবনু ইমারাও বলা হয়), উবায় ইবনু ইমারা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
باب فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ بَالَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هَذَا قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ . قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَكَانَ يُعْجِبُهُمْ حَدِيثُ جَرِيرٍ لأَنَّ إِسْلاَمَهُ كَانَ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ . هَذَا قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ يَعْنِي كَانَ يُعْجِبُهُمْ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَحُذَيْفَةَ وَالْمُغِيرَةِ وَبِلاَلٍ وَسَعْدٍ وَأَبِي أَيُّوبَ وَسَلْمَانَ وَبُرَيْدَةَ وَعَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَيَعْلَى بْنِ مُرَّةَ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَأُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَجَابِرٍ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ عُبَادَةَ وَيُقَالُ ابْنُ عِمَارَةَ وَأُبَىُّ بْنُ عِمَارَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ جَرِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Hammam bin AI-Harith narrated:
"Jarir bin Abdullah urinated, then he performed Wudu, wiping over his Khuff. So he was asked, 'You do this?' He replied, 'What prevents me, when I have seen Allah's Messenger doing it?" He [Ibrahim] said "And they were impressed by the narration of Jarir since he accepted Islam after the revelation Sural Al-Ma'idah." [This is the saying of lbrahim, that is, "They were impressed."] [He said:] There are narrations on this topic from Umar, Ali, Hudhaifah, AI-Mughirah, Bilil, Sa'd, Abu Ayyub, Salman, Buraidah, Amr bin Umayyah, Anas, Sahl bin Sa'd, Ya'la bin Murrah, Ubadah bin As-Samit, Usamah bin Shank, Abu Umamah, Jabir, Usamah bin Zaid, and Ibn Ubadah. They call him Ibn Imarah and Ubayy bin Imarah.
পরিচ্ছেদঃ মোজায় মাসহ করা।
৯৪. শাহর ইবনু হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি তাঁর মোযার উপর মাসেহ করেছেন। তখন তাঁকে এই বিষয়ে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি। তিনি মোযায় মাসেহ করেছেন। আমি তখন জারীর’কে বললামঃ সূরা মাই’দা নাযিল হবার আগে না পরে তিনি তা করেছেন? জারীর বললেনঃ আমি তো সূরা মাইদা নাযিলের পরেই ইসলাম গ্রহণ করেছি। - ইরওয়া ১/১৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা .... শাহর ইবনু হাওশাবের সূত্রে জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। বাকিয়্যা (রহঃ) তাঁর সনদে জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি স্বব্যাখ্যায়িত। মোযায় মাসেহ করার কথা যারা অস্বীকার করেন তাদের কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা দেন যে, সূরা মাইদার হুকুম নাযিল হওয়ার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোযায় মাসেহ করেছেন। জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত এই হাদিসটি কারণে এই ধরানের ব্যাখ্যার কোন অবকাশ থাকেনা। কেননা, তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, মাইদার আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মোযায় মাসেহ করতে দেখছেন।
باب فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
وَيُرْوَى عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ رَأَيْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقُلْتُ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ . فَقُلْتُ لَهُ أَقَبْلَ الْمَائِدَةِ أَمْ بَعْدَ الْمَائِدَةِ فَقَالَ مَا أَسْلَمْتُ إِلاَّ بَعْدَ الْمَائِدَةِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ زِيَادٍ التِّرْمِذِيُّ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ . قَالَ وَرَوَى بَقِيَّةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ مُفَسِّرٌ لأَنَّ بَعْضَ مَنْ أَنْكَرَ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ تَأَوَّلَ أَنَّ مَسْحَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْخُفَّيْنِ كَانَ قَبْلَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ وَذَكَرَ جَرِيرٌ فِي حَدِيثِهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ .
It has been related from Sahr bin Hawshah that he said:
"I saw Jarir bin 'Abdullah performing Wudu and he wiped over his Khuff. I asked him about that. He replied, 'I saw 'I saw Allah's Messenger performing Wudu and he wiped over his Khuff.' So I said to him, before Surah AI-Ma'idah (was revealed) or after AI-Ma'idah?' So he replied, 'I did not acceot Islam until after Al-Ma'idah.'" Qutaibah narrated this to us; (saying) Khalid bin Ziyad At-Tirmidhi narrated it to us, from Muqatil bin Hayyan, from Shahr bin Hawshah, from Jarir. He said: Baqiyyah related it from Ibrahim bin Adham from Muqatil bin Hayyan, from Shahr bin Hawshah, from Jarir. This Hadith is explanatory, because some who dislike wiping over the Khuff give the interpretation that the Prophet's wiping over the two Khuff was before the revelation of Sural Al-Ma'idah. But in his Hadlth, Jarir mentions that he saw the Prophet wiping over his Khuff after the revelation of Surat Al-Ma'idah.
পরিচ্ছেদঃ মুসাফির ও মুকিমের জন্য চামড়ায় মোজায় মাসেহ করা।
৯৫. কুতায়বা (রহঃ) .... খুযায়মা ইবনু ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, চামড়ার মোযায় মাসেহ করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ মূসাফির তা করতে পারবে তিন দিন আর মুকীম পারবে একদিন। - ইবনু মাজাহ ৫৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন থেকে বর্ণিত আছে, তিনি মাসহ(মাসেহ) সম্পর্কে খুযায়মা বর্ণিত এই হাদিসটি সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন। রাবী আবূ আবদিল্লাহ আল-জাদালীর আসল নাম হল আবদ ইবনু আবদ।কেউ কেউ বলেনঃ আবদুর রহমান ইবনু আবদ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে আলী, আবূ কাবরা, আবূ হুরায়রা, সাফওয়ান ইব্নাআসসাল, আওফ ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ لِلْمُسَافِرِ وَالْمُقِيمِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ " لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةٌ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ " . وَذُكِرَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ صَحَّحَ حَدِيثَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ فِي الْمَسْحِ . وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ بْنُ عَبْدٍ وَيُقَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ وَعَوْفِ بْنِ مَالِكٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَرِيرٍ .
Khuzaimah bin Thabit narrated:
"The Prophet was asked about wiping over the Khuff. So he said: "Three (days) for the traveler, and one day for the resident."
পরিচ্ছেদঃ মুসাফির ও মুকিমের জন্য চামড়ায় মোজায় মাসেহ করা।
৯৬. হান্নাদ (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনু আসসাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমরা মূসাফির হলে ফরয গোসল ব্যতীত তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত চামড়ার মোযা না খুলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন। এই নির্দেশ ছিল পেশাব-পায়খানা ও নিদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। - ইবনু মাজাহ ৪৭৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। হাকাম ইবনু উতায়বা হাম্মাদ (রহঃ) ইবরাহীম আন্ নাখঈ- আবূ আবদিল্লাহ্ আল-জাদালী-খাযায়মা ইবনু ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে মাসেহ সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে এটির সনদ সহীহ নয়। আলী ইবনু’ল মাদীনী (রহঃ) শু’বা থেকে বর্ণনা করেন যে, শু’বা বলেনঃ ইবরাহীম আন্-নাখঈ (রহঃ) চামড়ার মোযায় মাসেহ সম্পর্কিত হাদিসটি আবূ আবদিল্লাহ আল জাদালী থেকে শুনেননি। যাইদা (রহঃ) মানসূর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমরা ইবরাহীম আত-তায়মীর হুজরায় ছিলাম। ইবরাহীম আন্-নাখঈও সেখানে আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ইবরাহীম আত-তায়মী আমদেরকে আমর ইবনু মায়মন-আবূ আবদিল্লাহ আল- জাদালী-খুযায়মা ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে চামড়ার মোযায় মাসেহ সম্পর্কিত হাদিসটি রিওয়ায়াত করেন।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে রাফওয়ান ইবনুু’ আসসাল আল-মুরাদী বর্ণিত হাদিসটি সর্বোত্তম। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী আলিম ও ফকীহগণ যেমন সুফইয়ান ছাওরী, ইাবন মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক প্রমুখের অভিমত এ-ই। তারা বলেনঃ মুকীম ব্যক্তি একদিন এক রাত এবং মূসাফির ব্যক্তি তিনদিন তিনরাত চামড়ার মোযায় মাসেহ করতে পারবে। আলিমদের কারো কারো যেমন, মালিক ইবনু আনাসের বক্তব্য হল, মাসহ(মাসেহ)র জন্য নির্ধারিত কোন সময় নাই। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, তবে সময় নির্ধারিত থাকার অভিমতটি অধিকতর সহীহ।
باب الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ لِلْمُسَافِرِ وَالْمُقِيمِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْرًا أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ وَحَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ وَلاَ يَصِحُّ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ لَمْ يَسْمَعْ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ مِنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ حَدِيثَ الْمَسْحِ . وَقَالَ زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ كُنَّا فِي حُجْرَةِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ وَمَعَنَا إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ فَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا يَمْسَحُ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَالْمُسَافِرُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ لَمْ يُوَقِّتُوا فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالتَّوْقِيتُ أَصَحُّ .
Safwan bin Assal narrated:
'When we were traveling, Allah's Messenger would order us not to remove our Khuff for three days and nights, except for Janabah, but not for defecating, urinating, and sleep."
পরিচ্ছেদঃ মোযার উপর ও নীচ উভয় দিকে মাসেহ করা।
৯৭. আবূল ওয়ালীদ দিমাশকী (রহঃ) .... মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোযার উপর ও নীচ উভয় পিঠেই মাসেহ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৫৫০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একধিক সাহাবী ও তাবিঈর অভিমত এ-ই। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত পোষণ করেন। এই হাদিসটি মা’লূল বা দোষযুক্ত। ছাওর ইবনু ইয়াযীদের সূত্রে মারফূ ও মুত্তাসিল হিসাবে ওয়ালীদ ইবনু মুগীরা (রহঃ) ছাড়া আর কেউ হাদিসটি রিওয়ায়াত করেননি। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আমি আবূ যুরা’আ ও মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ)- কে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা বললেনঃ এটি সহীহ নয়। কারণ, ইবনু মুবারক (রহঃ) রাজা’ ইবনু হায়ওয়া থেকে ছাওরের সূত্রে এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, মুগীরার লিপিকারের সূত্রে আমার নিকট হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি এটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। কারণ এতে সাহাবী মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নাম উল্লেখ করেননি।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ أَعْلاَهُ وَأَسْفَلِهِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَإِسْحَاقُ . وَهَذَا حَدِيثٌ مَعْلُولٌ لَمْ يُسْنِدْهُ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ غَيْرُ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ أَبَا زُرْعَةَ وَمُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالاَ لَيْسَ بِصَحِيحٍ لأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ رَوَى هَذَا عَنْ ثَوْرٍ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ مُرْسَلٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْمُغِيرَةَ .
AI-Mughirah bin Shu'bah narrated:
"The Prophet wiped over the Khuff and its bottom."
পরিচ্ছেদঃ চামড়ার মোযার উপরিভাগ মাসহে করা।
৯৮. আলী ইবনু হুজরী (রহঃ) .... মুগীরা ইবনু শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মোযার উপরিভাগে মাসেহ করতে দেখেছি। - মিশকাত ৫২২, সহীহ আবু দাউদ ১৫১-১৫২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ মুগীরা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান। এটি আবূয যিনাদ-উরওয়া-মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত আবদুর রহমান ইবনু আবিয্-যিনাদের রিওয়ায়াত। উরওয়া-মুগীরা সূত্রে আবদুর রহমান ব্যাতীত আর কেউ ’’মোযার উপরীভাগ’’ এর কথা রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। একধিক আলিমদের অভিমত এ-ই। সুফইয়ান ছাওরী এবং আহমদ (রহঃ) ও এই মত পোষণ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক আবদুর রহমান ইবনু আবিয্-যিনাদ্ (রহঃ) কে দুর্বল বলে ইঙ্গিত করতেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ ظَاهِرِهِمَا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى ظَاهِرِهِمَا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَهُوَ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا يَذْكُرُ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ " عَلَى ظَاهِرِهِمَا " . غَيْرَهُ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَحْمَدُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَكَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يُشِيرُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ .
AI-Mughirah bin Shu'bah narrated:
"I saw the Prophet wiping over the Khuff: on the tops of them."
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ের মোযা ও চপ্পলের উপর মাসহে করা।
৯৯. হান্নাদ ও মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... মুগীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় কাপড়ের মোযা ও চপ্পলের উপর মাসেহ করছেন। - ইবনু মাজাহ ৫৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। একাধিক আলিমের অভিমত এ-ই। সুফইয়ান ছাওরী, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত পোষণ করেন, তারা বলেনঃ কাপড়ের মোযা যদি মোটা হয় তাহলে পায়ে চপ্পল না থাকলেও তাতে মাসেহ করা যাবে।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ نَعْلَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ مُحَمَّدٍ التِّرْمِذِيَّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُقَاتِلٍ السَّمَرْقَنْدِيَّ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ جَوْرَبَانِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا ثُمَّ قَالَ فَعَلْتُ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ أَكُنْ أَفْعَلُهُ مَسَحْتُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَهُمَا غَيْرُ مُنَعَّلَيْنِ .
Al-Mughirah bin Shu`bah narrated:
"The Prophet performed Wudu' and wiped over his socks and sandals."
পরিচ্ছেদঃ পাগড়ীতে মাসহে করা প্রসঙ্গে।
১০০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার .... মুগীরা শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা হলে চামড়ার মোজা ও পাগড়ির উপর মাসেহ করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ১৩৭-১৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বকর বলেন, আমি ইবনুল মুগীরা থেকে সরাসরিও এই হাদিসটি শুনেছি। অন্যস্থলে মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার এই হাদিসটিতে উল্লেখ করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কপাল ও পাগড়িতে মাসেহ করেছেন। একাধিক সূত্রে মুহীরা ইবনু শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। কোন কোন রাবী ’’কপাল ও পাগড়ি’’ উভয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আর কেউ কেউ কপালের কথা উল্লেখ করেননি। আহমদ ইবনুুল-হাসানকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ ইবন হাম্বাল বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল- কাত্তানের মত উত্তম লোক আমার দু’চোখে দেখিনি।
এই বিষয়ে আমর ইবনু উমায়্যা, উমার ও আনসা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মত একাধিক সাহাবীর বক্তব্য এ-ই। ইমাম আওযাঈ, আহমদ এবং ইসহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু ও এই অভিমত পোষণ করেন। তারা বলেন, পাগড়ির উপর মাসেহ করা যায়। সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক ফিকহবিদ বলেন, পাগড়ির সাথে সাথে মাথা মাসেহ না করে কেবল পাগড়ি মাসেহ করলে যথেষ্ট হবে না। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবন মুবারক ও ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এরও বক্তব্য এ-ই। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ বলেন আমি জারুদ ইবনু মু’আযকে বলতে শুনেছি যে, ওয়াকী’ ইবনুল জাররাহ বলেছেনঃ এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিস রয়েছে বিধায় পাগড়ি উপর মাসেহ উযূর জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হবে।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْعِمَامَةِ . قَالَ بَكْرٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مِنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ . قَالَ وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَعِمَامَتِهِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ذَكَرَ بَعْضُهُمُ الْمَسْحَ عَلَى النَّاصِيَةِ وَالْعِمَامَةِ وَلَمْ يَذْكُرْ بَعْضُهُمُ النَّاصِيَةَ . وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِعَيْنِي مِثْلَ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَسَلْمَانَ وَثَوْبَانَ وَأَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَسٌ . وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ . وَقَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ لاَ يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ مَعَ الْعِمَامَةِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ بْنَ مُعَاذٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعَ بْنَ الْجَرَّاحِ يَقُولُ إِنْ مَسَحَ عَلَى الْعِمَامَةِ يُجْزِئُهُ لِلأَثَرِ .
Ibn Al-Mughirah bin Shu'bah narrated from his father:
"The Prophet performed Wudu and wiped over the Khuff and 'Imamah." Abu Bakr (one of the narrators) said: "And indeed I heard it from Ibn Al Mughirah."
পরিচ্ছেদঃ পাগড়ীতে মাসহে করা প্রসঙ্গে।
১০১. হান্নাদ .... বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোযা এবং পাগড়ির উপর মাসেহ করেছেন। - ইবনু মাজাহ ৫৬১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْخِمَارِ .
BilaI narrated:
"The Prophet wiped over the Khuff and the Khimar."
পরিচ্ছেদঃ পাগড়ীতে মাসহে করা প্রসঙ্গে।
১০২. কুবায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ উবায়দা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আম্মার ইবনু ইয়াসির (রহঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন চামড়ার মোযায় মাসেহ করা সম্পর্কে আমি জাবির ইবনু আবদিল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র, এটি সুন্নাত। তাঁকে পাগাড়ির উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ ভিজা হাতে মাথার চুল স্পর্শ করবে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সাহাবী ও তাবঈদের একধিক ফিকহবিদ বলেনঃ পাগড়ির সাথে সাথে মাসেহ না করে কেবল পাগড়ি মাসেহ করলে যথেষ্ট হবে না। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু মুবারক ও ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর বক্তব্য এ-ই।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، هُوَ الْقُرَشِيُّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ السُّنَّةُ يَا ابْنَ أَخِي . قَالَ وَسَأَلْتُهُ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْعِمَامَةِ فَقَالَ أَمِسَّ الشَّعَرَ الْمَاءَ .
Abu Ubaidah bin Muttammad bin Ammar bin Yasir said:
"I asked Jabir bin Abdullah about wiping over the Khuff. He said, 'O my nephew! It is the Sunnah.'" [He said:] "And I asked him about wiping over the lmamah. He said, '[Wipe1 the hair [with water].'"
পরিচ্ছেদঃ জানাবাতের গোসল।
১০৩. হান্নাদ (রহঃ) .... মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য গোসলের পনি রাখলাম। তিনি জানাবতের গোসল করলেন। প্রথমে বাম হাতে পানি রাখা পাত্রটি কাত করে ডান হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত কবজা পর্যন্ত ধৌত করলেন। পরে পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে লজ্জাস্থানে পানি ঢাললেন এবং দেয়ালে কিংবা মাটিতে হাত দু’টি ঘষে ধুইলেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দুই হাত ধৌত করলেন। পরে মাথায় তিনবার পানি ঢাললেন, তারপর সারা শরীরে পনি ঢেলে দিলেন। এরপর কিছুটা সরে দুই পা ধুইলেন। - ইবনু মাজাহ ৫৭৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই বিষয়ে উম্মু সালমা, জাবির আবূ সাঈদ, জুবায়র ইবনু মুতইম ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ خَالَتِهِ، مَيْمُونَةَ قَالَتْ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُسْلاً فَاغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ فَأَكْفَأَ الإِنَاءَ بِشِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَأَفَاضَ عَلَى فَرْجِهِ ثُمَّ دَلَكَ بِيَدِهِ الْحَائِطَ أَوِ الأَرْضَ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثًا ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .
Ibn 'Abbas narrated that his maternal aunt Maimunah said:
"I prepared some water for the Prophet to perform Ghusl for Janabah with. So he turned the vessel with his left hand, (pouring some water) over his right. Then he washed his hands. Then he entered his hand into the vessel to pour water over his private area, then he rubbed his hands on the wall, or the ground. Then he rinsed out his mouth and washed his nose by putting water in and blowing it out, and washed his face and forearms. Then he poured water over his head three times, then he poured water over the remainder of his body, then he moved from where he was and washed his feet."
পরিচ্ছেদঃ জানাবাতের গোসল।
১০৪. ইবনু আবী উমার (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রসাূল জানাবাতের গোসল করতে ইচ্ছা করলে পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে প্রথমে তা ধুয়ে নিতের। এরপর লজ্জাস্থান ধুইতেন ও সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার ন্যায় উযূ করতেন। পরে সবগুলি লোম পনিতে ভিজাতেন ও মাথায় তিন অঞ্জলী পানি ঢেলে দিতেন। - ইরওয়া ১৩২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিগণ জানাবাতের গোসলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতই গ্রহণ করেছেন। তারা বলেন যে, সালাতের উযূর মত উযূ করবে, মাথায় তিনবার পানি ঢালবে এবং সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করবে এবং পরে দুই পা ধুইবে। আলিমগণ এই ক্ষেত্রে এরূপ আমলই গ্রহণ করেছেন। তারা বলেনঃ জানাবাতওয়ালা ব্যক্তি যদি পানিতে ডুব দেয় এবং যদি উযূ না করে তবু তা পবিত্রতা লাভের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক এবং ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) এর অভিমত এ-ই।
باب مَا جَاءَ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا الإِنَاءَ ثُمَّ غَسَلَ فَرْجَهُ وَيَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُشَرِّبُ شَعْرَهُ الْمَاءَ ثُمَّ يَحْثِي عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ حَثَيَاتٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ أَنَّهُ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُفْرِغُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَالُوا إِنِ انْغَمَسَ الْجُنُبُ فِي الْمَاءِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ أَجْزَأَهُ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
Aishah narrated:
"When AlIah's Messenger wanted to perform Ghusl for Janabah, he would begin by washing his hands before putting them into the vessel. Then he would wash his private area, and perform the Wudu (as one does) for Salat. Then he would wet his hair with the water, then he would pour water over his head with his hands three times."
পরিচ্ছেদঃ গোসলের সময় মহিলাদের বেণী খুলতে হবে কি না।
১০৫. ইবনু আবী উমার (রহঃ) .... উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার চুলের বেণী তো খুব শক্ত করে বাঁধি। জানাবতের গোসলের জন্য কি তা খুলে ফেলতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, মাথায় তিন অঞ্জলী পনি ঢেলে দিবে। পরে সারা শরীরে পানি প্রবহিত করবে। বাস এতেই তুমি পাক হয়ে যাবে। - ইবনু মাজাহ ৬০৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমগণ এই হাদিস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন যে, জানবাতের গোসলের বেলায় কোন মহিলা মাথায় পানি ঢেলে দিলে বেণী না খুললেও তা যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে।
باب هَلْ تَنْقُضُ الْمَرْأَةُ شَعْرَهَا عِنْدَ الْغُسْلِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي أَفَأَنْقُضُهُ لِغُسْلِ الْجَنَابَةِ قَالَ " لاَ إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِينَ عَلَى رَأْسِكِ ثَلاَثَ حَثَيَاتٍ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ تُفِيضِينَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِكِ الْمَاءَ فَتَطْهُرِينَ " . أَوْ قَالَ " فَإِذَا أَنْتِ قَدْ تَطَهَّرْتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا اغْتَسَلَتْ مِنَ الْجَنَابَةِ فَلَمْ تَنْقُضْ شَعْرَهَا أَنَّ ذَلِكَ يُجْزِئُهَا بَعْدَ أَنْ تُفِيضَ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهَا .
Umm Salamah narrated :
"I said: 'O Messenger of Allah! I am woman with tight braids on my head, should I undo it to perform Ghusl for Janabah? He said: 'No. It is sufficient that you only pour three scoops of water (with hands held together) over your head, then pour water over the rest of your body, to be purified.'" Or he said: "Then you will be purified."
পরিচ্ছেদঃ প্রতিটি লোমকূপের নীচে অপবিত্রতা বিদ্যমান।
১০৬. নাসর ইবনু আলী (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি লোমের নীচে অপবিত্রতা বিদ্যমান। সুতরাং তোমরা চুল ধুয়ে নাও এবং শরীরের চামড়া ভাল করে সাফ করে নাও। - ইবনু মাজাহ ৫৯৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে্ ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হারিছ ইবনুল ওয়াজীহ বর্ণিত এই হাদিসটি গরীব। তৎকর্তৃক রিওয়ায়াত ভিন্ন অন্য কোন সূত্রে এটি বর্ণিত আছে বলে আমদের জানা নাই। তিনি এমন এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন যার উপর নির্ভর করা যায় না। একাধিক হাদিসবিশেষজ্ঞ তাঁর বরাতে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি এই হাদিসটি মালিক ইবনু দ্বীনার থেকে রিওয়ায়াত করার ব্যাপারে একা। তাঁর সমর্থনে অন্য কারো রিওয়ায়াত নাই। তিনি হারিছ ইবনু ওয়াজীহ এবং ইবন ওয়জবা নামেও পরিচিত।
باب مَا جَاءَ أَنَّ تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ جَنَابَةً
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ جَنَابَةٌ فَاغْسِلُوا الشَّعَرَ وَأَنْقُوا الْبَشَرَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْحَارِثِ بْنِ وَجِيهٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِهِ وَهُوَ شَيْخٌ لَيْسَ بِذَاكَ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَّةِ . وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ وَيُقَالُ الْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ وَيُقَالُ ابْنُ وَجْبَةَ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Under every hair is sexual impurity so wash (all of) the hair and cleanse the skin."
পরিচ্ছেদঃ গোসলের পর উযু করা।
১০৭. ইসমাঈল ইবনু মূসা ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। - ইবনু মাজাহ ৫৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসন ও সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক ফকীহের অভিমত এই যে, গোসলের পর উযূর বিধান নাই।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ بَعْدَ الْغُسْلِ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتَوَضَّأُ بَعْدَ الْغُسْلِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ أَنْ لاَ يَتَوَضَّأَ بَعْدَ الْغُسْلِ .
Aishah narrated:
"The Prophet would not perform Wudu after the Ghusl."
পরিচ্ছেদঃ স্বামী-স্ত্রীর খাতনা স্থান পরস্পর মিলিত হলে গোসল ফরয।
১০৮. আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, মিলন-কালে স্বামী-স্ত্রীর খাতনা করার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। আমার ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে এরূপ হয়েছে। তখন আমরা গোসল করেছি। - ইবনু মাজাহ ৬০৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর এবং রাফি’ ইবনু খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَجَبَ الْغُسْلُ
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ فَعَلْتُهُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاغْتَسَلْنَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ .
Aishah narrated:
"When the circumcised meets the circumcised, then indeed Ghusl is required. Myself and Allah's Messenger did that, so we performed Ghusl."
পরিচ্ছেদঃ স্বামী-স্ত্রীর খাতনা স্থান পরস্পর মিলিত হলে গোসল ফরয।
১০৯. হান্নাদ (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। - ইরওয়া ১/১২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। একাধিক সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এই রূপ বর্ণিত আছে যে, পরস্পরের খাতনার স্থানটুকু অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়। আবূ বকর, উমর, উছমান, আলী, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সহ অধিকাংশ ফকীহ সাহাবী, তাবিঈ এবং তৎপরবর্তী আলিম ও ফকীহ যথা (ইমাম আবূ হানীফা), সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত এ-ই। তারা বলেন পরস্পরে খাতনার স্থান অতিক্রম হলেই গোসল ফরয হয়।
باب مَا جَاءَ إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَجَبَ الْغُسْلُ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ وَجَبَ الْغُسْلُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ " إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَعَائِشَةُ وَالْفُقَهَاءِ مِنَ التَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَجَبَ الْغُسْلُ .
Aishah narrated that :
the Prophet said: "When the circumcised meets the circumcised then Ghusl is required."
পরিচ্ছেদঃ বীর্যস্খলনের সাথেই গোসল ফরয হওয়ার সম্পর্ক।
১১০. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনেঃ বীর্যরূপ পানি বের হলে পর গোসলের নির্দেশ ছিল ইসলামের প্রাথামিক যুগে প্রদত্ত একটি অবকাশ। পরে সে হুকুম রহিত হয়ে যায়। - ইবনু মাজাহ ৬০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ إِنَّمَا كَانَ الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ ثُمَّ نُهِيَ عَنْهَا .
Ubayy bin Ka'b narrated:
"Water is for water,' was only permitted in the beginning of Islam. Then it was prohibited."
পরিচ্ছেদঃ বীর্যস্খলনের সাথেই গোসল ফরয হওয়ার সম্পর্ক।
১১১. আহমদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ..... যুহরীর বরাতে একই সনদে এই হাদিসটি উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। বীর্যস্খলন হলেই গোসলের বিধান ছিল ইসালামের প্রাথমিক যুগে। পরে তা মানসূক হযে যায়। উবাই ইবনু কা’ব ও রাফি’ ইবনু খাদীছ (রহঃ) সহ একধিক সাহাবী এই ধরনের রিওয়ায়াত করেছেন। অধিকাংশ আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কেউ যোনীদ্বার দিয়ে স্ত্রী সংগম করলে বীর্যপান না হলেও উভয়ের উপর গোসল করা ফরয। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَإِنَّمَا كَانَ الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ ثُمَّ نُسِخَ بَعْدَ ذَلِكَ .
Ma'mar narrated :
a similar narration from, Az-Zuhri, with this chain.
পরিচ্ছেদঃ বীর্যস্খলনের সাথেই গোসল ফরয হওয়ার সম্পর্ক।
১১২. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ’’বীর্যপাত ঘটলে গোসল ফরয হবে’’ এই কথা কেবলমাত্র স্বপ্নদোষের বেলায় প্রযোজ্য। - "এই কথা কেবলমাত্র স্বপ্নদোষের বেলায় প্রযোজ্য" এই অংশটুকুর সনদ যইফ। আর সেটা মাওকুফ। হাদিসের বাকি অংশ সহিহ, ইবনু মাজাহ ৬০৬-৬০৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যে, ওয়াকী বলেছেন শরীক ছাড়া আর কাউকেই ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করতে পাইনি। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটির অন্যতম রাবী আবূল-জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবন আবী আওফ। সুফইয়ান ছাওরী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ছিলেন সন্তোষজনক ও আস্থাভাজন ব্যাক্তি।
এই বিষয়ে উছমান ইবনু আফফান, আলী ইবনু আবী তালিব, যুবইর, তালহা, আবূ আয়্যূব এবং আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ বীর্যরূপ পানির সাথে হল গোসলের পানি ব্যবহারের সম্বন্ধ (বীর্যপাতের ফলেই গোসল ওয়াজিব হয়)। - সহিহ, ইবনু মাজাহ ৬০৬-৬০৭
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْجَحَّافِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ فِي الاِحْتِلاَمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ لَمْ نَجِدْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ عِنْدَ شَرِيكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبُو الْجَحَّافِ اسْمُهُ دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَوْفٍ . وَيُرْوَى عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْجَحَّافِ وَكَانَ مَرْضِيًّا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرِ وَطَلْحَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ " .
Ibn 'Abbas said:
"Water is for water' is only about the wet dream."
পরিচ্ছেদঃ ঘুম থেকে জেগে যদি কেউ আর্দ্রতা দেখে কিন্তু স্বপ্নদোষের কথা মনে না পড়ে তবে সে কি করবে?
১১৩. আহমাদ ইবনু মানি (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ কেউ ঘুম থেকে জোগে (তার শরীরে বা কাপড়ে) বীর্যের আর্দ্রতা দেখতে পেল কিন্তু স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে। এমনিভবে কারো যদি স্বপ্নদোষের কথা মনে পড়ে কিন্তু জেগে কোনরূপ আর্দ্রতা দেখতে না পায় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে গোসল করতে হবে না। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের কেউ যদি এই ধরনের কিছু দেখে তবে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ,মেয়েরা তো পুরুষেরই অংশ। - সহিহ আবু দাউদ ২৩৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ’’ঘুম থেকে জেগে কেউ আর্দ্রতা দেখতে পেলে কেন্তু স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ে না-এই বিষয়ের আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদিসটি উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমরের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রেওয়ায়াত করেছেন। বিখ্যাত রিজাল বিশেষজ্ঞ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হাদীছের স্মরণ শক্তির বিষয়ে আবদুল্লাহকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। কেউ যদি ঘুম থেকে জেগে আর্দ্রতা দেখতে পায় আর স্বপ্নদোষের কথা যদি তার মনে না পড়ে তবে তাকে গোসল করতে হবে বলে সাহাবী ও তাবিঈগেদর অধিকাংশ আলিম ও ফকীহ অভিমত দিয়েছেন। এই বিষয়ে সুফইয়ান ও ইমাম আহমদের বক্তব্যও এ-ই। তাবিঈ আলিদের কেউ কেউ বলেনঃ এই আর্দ্রতা যদি বীর্য জনিত আর্দ্রতা বলে বিশ্বাস হয় তবেই কেবল গোসল করাতে হবে। ইমাম শাফিঈ এবং ইসহাক ও এই অভিমত পোষণ করেন। আর যদি এমন হয় যে, স্বপ্নদোষের কথা তো মনে পড়ছে কিন্তু কোনরূপ আর্দ্রতা পরিলক্ষেত হচ্ছে না তবে সাধারণভাবে প্রায় সকল আলিমের বক্তব্য হল,তাকে গোসল করতে হবে না।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَسْتَيْقِظُ فَيَرَى بَلَلاً وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، هُوَ الْعُمَرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا قَالَ " يَغْتَسِلُ " . وَعَنِ الرَّجُلِ يَرَى أَنَّهُ قَدِ احْتَلَمَ وَلَمْ يَجِدْ بَلَلاً قَالَ " لاَ غُسْلَ عَلَيْهِ " . قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ تَرَى ذَلِكَ غُسْلٌ قَالَ " نَعَمْ إِنَّ النِّسَاءَ شَقَائِقُ الرِّجَالِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ حَدِيثَ عَائِشَةَ فِي الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ فِي الْحَدِيثِ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ إِذَا اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ فَرَأَى بِلَّةً أَنَّهُ يَغْتَسِلُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ إِنَّمَا يَجِبُ عَلَيْهِ الْغُسْلُ إِذَا كَانَتِ الْبِلَّةُ بِلَّةَ نُطْفَةٍ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَإِسْحَاقَ . وَإِذَا رَأَى احْتِلاَمًا وَلَمْ يَرَ بِلَّةً فَلاَ غُسْلَ عَلَيْهِ عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ
Aishah narrated:
"The Prophet was asked about a man who finds wetness and he does not remember having a wet dream. So he said: 'He is to perform Ghusl. And (he was asked) about a man who had a wet dream but does not find any wetness, so he said: 'No Ghusl is required of him.' Umm Salamah said: 'O Messenger of Allah! Is the woman required to perform Ghusl if she sees that?' He replied: 'Yes. Indeed women are the partners of men.'"
পরিচ্ছেদঃ মনী ও মযী।
১১৪. মুহাম্মাদ ইবন আমার আস-সাওওয়াক আল-বালখী ও মাহদূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ মযী বের হলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে আর মনী বের হলে গোসল করতে হবে। - ইবনু মাজাহ ৫০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মিকদাদ ইবনুল-আসওয়াদ এবং উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীছীটি হাসান ও সহীহ। একধিক সনদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই কথা বর্ণিত আছে যে, মযীর ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এবং মনীর ক্ষেত্রে গোসল করতে হয়। এ হল সাধারণভবে সকল সাহাবী ও তাবিঈর অভিমত। ইমাম আবূ হানীফা) ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَنِيِّ وَالْمَذْىِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَذْىِ فَقَالَ " مِنَ الْمَذْىِ الْوُضُوءُ وَمِنَ الْمَنِيِّ الْغُسْلُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ " مِنَ الْمَذْىِ الْوُضُوءُ وَمِنَ الْمَنِيِّ الْغُسْلُ " . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Ali narrated:
"I asked the Prophet about Al-Madhi. He said: "For Al-Madhi is Wudu, and for AI-Mani is Ghusl."
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ে মযী লাগা।
১১৫. হান্নাদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ মযীর কারণে আমি অত্যন্ত কষ্টে ছিলাম। এর জন্য আমকে বহুবার গোসল করতে হত। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা বললাম এবং এই সম্পর্কে বিধান জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এই ক্ষেত্রে তোমার জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু)ই যথেষ্ট। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যদি তা আমার কাপড়ে লাগে তবে কি হবে? তিনি বললেনঃ এক অঞ্জলী পানি নিবে আর যেখানে যেখানে লেগেছে বলে দেখতে পাবে সেখানে ঐ পানি ছিটিয়ে দিবে। - ইবনু মাজাহ ৫০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মযীর ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এই রিওয়ায়াতটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত আমাদের জানা নাই। মযী কাপড়ে লাগলে এর গুকুম সম্পর্কে আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ ধুয়ে না ফেলা পর্যন্ত তা পাক হবে না। ইমাম শাফঈ ও ইসহাকরে অভিমত এ-ই। কেউ কেউ বলেনঃ এইক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেনঃ এতে পানি ছিটিয়ে দিলে যথেষ্ট হবে বলে আশা করি।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَذْىِ يُصِيبُ الثَّوْبَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدٍ، هُوَ ابْنُ السَّبَّاقِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الْمَذْىِ شِدَّةً وَعَنَاءً فَكُنْتُ أُكْثِرُ مِنْهُ الْغُسْلَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَأَلْتُهُ عَنْهُ فَقَالَ " إِنَّمَا يُجْزِئُكَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ قَالَ " يَكْفِيكَ أَنْ تَأْخُذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَتَنْضَحَ بِهِ ثَوْبَكَ حَيْثُ تَرَى أَنَّهُ أَصَابَ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَلاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ فِي الْمَذْىِ مِثْلَ هَذَا . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمَذْىِ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يُجْزِئُ إِلاَّ الْغَسْلُ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُجْزِئُهُ النَّضْحُ . وَقَالَ أَحْمَدُ أَرْجُو أَنْ يُجْزِئَهُ النَّضْحُ بِالْمَاءِ .
Sahl bin Hunaif said:
"I suffered from a severe and troubling case of Al-Madhi. I was performing Ghusl often because of it. So I mentioned that to Allah's Messenger and asked him about it. He said: "You only need to perform Wudu for that." I said: "O Messenger of Allah! How about when it gets on my clothes?" He said: "It is sufficient for you to take a handful of water and sprinkle it n your garment wherever you see that it has touched it."
পরিচ্ছেদঃ কাপড়ে মনী লাগা।
১১৬. হান্নাদ (রহঃ) .... হাম্মাম ইবনু হারিছ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহআ এর কাছে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁকে একটি হলুদ রঙ্গের চাঁদরে বিশ্রাম করতে দিলেন। উক্ত মেহমান তা গায়ে জাড়িয়ে পড়লেন। তার স্বপ্নদোষ হল। বীর্যের দাগসহ চাঁদরটি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে ফেরত পাঠাতে খুব লজ্জাবোধ হয়। তাই এটি পানিতে চুবিয়ে ধুয়ে তিনি তা ফেরত পাঠালেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা দেখে বললেনঃ আমার চাঁদারটি ভিজিয়ে নষ্ট করলে কেন? আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ফেলে দিলেই তো যথেষ্ট হত। অনেক দিনই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে আমিতা অঙ্গুল দিয়ে রগড়ে ঘষে সাফ করে দিয়েছি। - ইবনু মাজাহ ৫৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান, আহমদ ও ইসহাকের মত একধিক ফকীহের অভিমত এ-ই। তারা বলেনঃ মনীা কাপড়ে লাগলে না ধুয়ে কেবল আঙ্গুল দিয়ে রগড়ে নিলেই যথেষ্ট হবে। আমশের উক্ত রিওয়ায়াতের মত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে মানসূর থেকেও রিওয়ায়াত আছে। আবূ ম’শারও ইবরাহীম-আসওয়াদ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আ’মাশ বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিক সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ ضَافَ عَائِشَةَ ضَيْفٌ فَأَمَرَتْ لَهُ بِمِلْحَفَةٍ صَفْرَاءَ فَنَامَ فِيهَا فَاحْتَلَمَ فَاسْتَحْيَا أَنْ يُرْسِلَ بِهَا وَبِهَا أَثَرُ الاِحْتِلاَمِ فَغَمَسَهَا فِي الْمَاءِ ثُمَّ أَرْسَلَ بِهَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ أَفْسَدَ عَلَيْنَا ثَوْبَنَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَفْرُكَهُ بِأَصَابِعِهِ وَرُبَّمَا فَرَكْتُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصَابِعِي . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا فِي الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ يُجْزِئُهُ الْفَرْكُ وَإِنْ لَمْ يُغْسَلْ . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَائِشَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ الأَعْمَشِ . وَرَوَى أَبُو مَعْشَرٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ وَحَدِيثُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ .
Hammam bin AI-Harith narrated:
"Aishah had a guest to whom she lent a yellow wrap for him to sleep in. He had a wet dream, and was too embarrassed to send it to her while the traces of the wet dream were present on it. So he submerged it (washing it) in water, then he sent it to her. Aishah said, "Why did he ruin our garment? It would have been sufficient for him to scrape it off with his fingers. Sometimes I would scrape it off of the garment of Allah's Messenger with my fingers."
পরিচ্ছেদঃ মনী লাগার জন্য কাপড় ধোয়া।
১১৭. আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় থেকে মনী ধুয়েছেন। - ইবনু মাজাহ ৫৩৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসন ও সহীহ। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাপড় থেকে মনী ধৌত করা সম্পর্কিত হাদিসটি আঙ্গুলী দিয়ে কাপড়ের মনী সাফ করা সম্পর্কিত হাদিসটির বিরোধী নয়। কেননা, রগড়ে সাফ করা যথেষ্ট বটে তবুও এমনভবে তা সাফ করা যেন কাপড়ে কোনরূপ দাগ অবশিষ্ট না থাকে, অধিক পছন্দনীয়। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মনী হল নাকের হয়লার মত। ইযখির জাতীয় ঘাস দিয়ে হলেও তা দূর করে দাও।
باب غَسْلِ الْمَنِيِّ مِنَ الثَّوْبِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا غَسَلَتْ مَنِيًّا مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَحَدِيثُ عَائِشَةَ أَنَّهَا غَسَلَتْ مَنِيًّا مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - لَيْسَ بِمُخَالِفٍ لِحَدِيثِ الْفَرْكِ لأَنَّهُ وَإِنْ كَانَ الْفَرْكُ يُجْزِئُ فَقَدْ يُسْتَحَبُّ لِلرَّجُلِ أَنْ لاَ يُرَى عَلَى ثَوْبِهِ أَثَرُهُ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمَنِيُّ بِمَنْزِلَةِ الْمُخَاطِ فَأَمِطْهُ عَنْكَ وَلَوْ بِإِذْخِرَةٍ .
Sulaiman bin Yasar narrated from Aishah, that :
she washed Mani from the garment of Allah's Messenger.
পরিচ্ছেদঃ জুনুবী বা অপবিত্র ব্যাক্তির গোসল না করে ঘুমানো।
১১৮. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুবী অর্থাৎ গোসল ফরয অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেও কোন কোন সময় ঘুমিয়ে পড়তেন। - ইবনু মাজাহ ৫৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ يَنَامُ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ وَلاَ يَمَسُّ مَاءً .
Aishah narrated:
"Allah's Messenger would sleep while he was Junub, and without touching water (performing Ghusl)."
পরিচ্ছেদঃ জুনুবী বা অপবিত্র ব্যাক্তির গোসল না করে ঘুমানো।
১১৯. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবূ ইসহাকরে সূত্রেও অনুরূপভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাঈদ ইবনুল মূসায়্যাব প্রমুখের অভিমতও এ-ই। একাধিক রাবী আসওয়াদের সূত্রে আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাবার আগে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিতেন। এই হাদিস আবূ ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত আসওয়াদরে প্রথমোক্ত সনদে বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে অধিক সহীহ। শু’বা ও ছাওরী (রহঃ) সহ আরো অনেকেই আবূ ইসহাকের সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে উক্ত ভুল সংঘটিত হয়েছে বলে মত পোষণ করেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ يَنَامُ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَغَيْرِهِ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ، وَاحِدٍ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَتَوَضَّأُ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الأَسْوَدِ . وَقَدْ رَوَى عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ . وَيَرَوْنَ أَنَّ هَذَا غَلَطٌ مِنْ أَبِي إِسْحَاقَ .
Abu Ishaq:
There is a similar report narrated via Abu Ishaq.
পরিচ্ছেদঃ ঘুমাতে চাইলে অপবিত্র ব্যাক্তির উযু করা।
১২০. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) .... উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেছিলেন হ্যাঁ পারে, যদি সে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। - ইবনু মাজাহ ৫৮৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আম্মার, আয়িশা, জাবির, আবূ সাঈদ ও উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেওে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক সহীহ। সাহাবী ও তাবিঈদের অনেকের অভিমতও এ-ই। সুফইয়ান, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ জুনুবী বা অপবিত্র ব্যাক্তি ঘুমাতে চাইলে উযূ করে নিবে।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ لِلْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيَنَامُ أَحَدُنَا وَهُوَ جُنُبٌ قَالَ " نَعَمْ إِذَا تَوَضَّأَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمَّارٍ وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا إِذَا أَرَادَ الْجُنُبُ أَنْ يَنَامَ تَوَضَّأَ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ .
Umar narrated that :
he asked the Prophet: "Can one of us sleep while he is Junub?" So he replied: "Yes, when he performs Wudu."
পরিচ্ছেদঃ অপবিত্র (জুনুবী) ব্যাক্তির সাথে মুসাফাহা করা।
১২১. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। তখন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থান। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে আমি চুপি চুপি সরে পড়লাম এবং গোসল করে পরে তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেনঃ কোথায় ছিলে? কই গিয়েছিলে? আমি বললামঃ আমি অপবিত্র ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু’মিন কখনও (এমন) অপবিত্র হয় না, (যে, তাকে স্পর্শ করা যাবে না)। - ইবনু মাজাহ ৫৩৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে হুযায়ফা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমদের অনেকেই অপবিত্র ব্যক্তির সাথে মূসাফাহা করার অনুমতি দিয়েছেন ঋতুবতী মহিলা ও অপবিত্র ব্যক্তির ঘামে নাপাকজনিত কোনরূপ অসুবিধা নাই বলে তারা মনে করেন।
باب مَا جَاءَ فِي مُصَافَحَةِ الْجُنُبِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ وَهُوَ جُنُبٌ قَالَ فَانْبَجَسْتُ أَىْ فَانْخَنَسْتُ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ فَقَالَ " أَيْنَ كُنْتَ أَوْ أَيْنَ ذَهَبْتَ " . قُلْتُ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا . قَالَ " إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حُذَيْفَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ لَقِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جُنُبٌ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي مُصَافَحَةِ الْجُنُبِ وَلَمْ يَرَوْا بِعَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ بَأْسًا . وَمَعْنَى قَوْلِهِ فَانْخَنَسْتُ يَعْنِي تَنَحَّيْتُ عَنْهُ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet met him while he was Junub. He said: "[So I slipped away from him - meaning:] I withdrew - to perform Ghusl. Then he returned, so he said: 'Where have you been?' Or: 'Where did you go?' I replied: 'I was Junub.' So he said: 'Indeed the believer is not defiled.'''
পরিচ্ছেদঃ পুরুষের মত কোন মহিলার যদি স্বপ্নদোষ হয়।
১২২. ইবনু আবী উমর (রহঃ) .... উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, উম্মু সুলায়ম বিনত মিলহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো সত্যের ব্যাপারে কোন লজ্জা করেন না। পুরুষদের মত কোন মহিলার যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে সেই মহিলার উপরও কি কোন কিছু অর্থাৎ গোসল ফরয হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, যদি সে পানি (মনি) দেখতে পায় তবে অবশ্যই সে যেন গোসল করে নেয়। উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন যে, আমি উম্মু সুলায়মকে বললামঃ হে উম্মু সুলায়ম, মেয়েদের তুমি লাঞ্ছিত করে ফেললে। - ইবনু মাজাহ ৬০০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহহি। সাধরণভাবে সকল ফকীহের অভিমত এই যে, কোন মহিলার পুরুষের মত স্বপ্নদোষ হলে এবং এতে মনীস্খলন হলে তাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে। সুফইয়ান ছাওরী ও ইমাম শাফিঈরও এই অভিমত। এই বিষয় উম্মু সুলায়ম, খাওলা, আয়িশা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ بِنْتُ مِلْحَانَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ تَعْنِي غُسْلاً إِذَا هِيَ رَأَتْ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ قَالَ " نَعَمْ إِذَا هِيَ رَأَتِ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ " . قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قُلْتُ لَهَا فَضَحْتِ النِّسَاءَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا رَأَتْ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ فَأَنْزَلَتْ أَنَّ عَلَيْهَا الْغُسْلَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ وَخَوْلَةَ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ .
Umm Salamah narrated:
Umm Sulaim bint Milhan came to the Prophet and she said: 'O Messenger of Allah! Indeed Allah is not embarrassed of the truth. So is it required of a woman - meaning Ghusl - when she sees in her sleep similar to what a man sees?' He replied: 'Yes. When she finds water (wetness), then she is perform Ghusl.'" Umm Salamah said: "I said to her: 'O Umm SuIaim! You have disgraced the women!'"
পরিচ্ছেদঃ গোসলের পর স্ত্রীর শরীর জড়িয়ে ধরে তাপ গ্রহন।
১২৩. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, অনেক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাত বা যৌনমিলন-জনিত গোসল করে আসতেন এবং আমার শরীরের তাপ নিতেন আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরতাম অথচ তখনও আমি গোসল করি নাই। - ইবনু মাজাহ ৫৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটির সনদে দূর্বলতা নেই। একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এর অভিমত এই যে, যদি স্বামী গোসল করে নেয় আর স্ত্রী গোসল না করে থাকে তবুও স্বামী তার স্ত্রীর শরীর জড়িয়ে ধরে তাপ নিতে এবং তরা তাতে ঘুমাতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ এবংয় ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَسْتَدْفِئُ بِالْمَرْأَةِ بَعْدَ الْغُسْلِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حُرَيْثٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ رُبَّمَا اغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ جَاءَ فَاسْتَدْفَأَ بِي فَضَمَمْتُهُ إِلَىَّ وَلَمْ أَغْتَسِلْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ بِإِسْنَادِهِ بَأْسٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا اغْتَسَلَ فَلاَ بَأْسَ بِأَنْ يَسْتَدْفِئَ بِامْرَأَتِهِ وَيَنَامَ مَعَهَا قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Aishah narrated:
"Sometimes the Prophet would perform Ghusl from Janabah then come to seek warmth from me, he would hold me and not perform Ghusl."
পরিচ্ছেদঃ পানি না পাওয়া গেলে জানাবাতবিশিষ্ট ব্যাক্তির তায়াম্মুম করা।
১২৪. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) .... আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দশ বছর ধরেও যদি পানি না পায় তা হলেও পাক মাটি একজন মুসলিমের জন্য পবিত্রতার উপকরণ বলে বিবেচ্য হবে। অতঃপর যখন সে পানি পাবে তখন তা দিয়ে সে তার শরীর ধুয়ে নিবে। এ-ই তার জন্য উত্তম। মাহমূদ ইবনু গায়লান তাঁর রিওয়ায়াতে ’’পাক মাটি মুসলিমের জন্য উযুর উপকরণ’’ এই কথাটির উল্লেখ করেছেন। - মিশকাত ৫৩০, সহিহ সবু দাউদ ৩৫৭, ইরওয়া ১৫৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ খালিদ আল-হাযযা (রহঃ) এর সূত্রে আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ কিলাব-বানূ আমিরের জনৈক ব্যাক্তি আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বানূ আমিরের ব্যাক্তিটির নাম উল্লেখ না করে আয়্যূব এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এই হাদিসটি হাসান। সাধারণভাবে সমস্ত ফকীহ আলিমের অভিমত এই যে, জুনুবী ব্যাক্তি বা হায়েযওয়ালী নারীদের কেউ যদি পানি না পায় তবে তায়াম্মুম করেই সালাত আদায় করে নিবে। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি না পাওয়া অবস্থায়ও তিনি জুনুবী ব্যাক্তির জন্য তায়াম্মুম করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন না। তবে তাঁর থেকে এই কথাও বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই মত প্রত্যাহার করে বলেছেনঃ পানি না পাওয়া গেলে জুনুবী ব্যক্তি তায়াম্মুম করতে পারবে। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي التَّيَمُّمِ لِلْجُنُبِ إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ طَهُورُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ فَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيُمِسَّهُ بَشَرَتَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ " . وَقَالَ مَحْمُودٌ فِي حَدِيثِهِ " إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَامِرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَلَمْ يُسَمِّهِ . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنَّ الْجُنُبَ وَالْحَائِضَ إِذَا لَمْ يَجِدَا الْمَاءَ تَيَمَّمَا وَصَلَّيَا . وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى التَّيَمُّمَ لِلْجُنُبِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ . وَيُرْوَى عَنْهُ أَنَّهُ رَجَعَ عَنْ قَوْلِهِ فَقَالَ يَتَيَمَّمُ إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Abu Dharr narrated that :
AlIah's Messenger said: "Pure clean earth is a purifier for the Muslim; even if he did not find water for ten years. Then if he finds water, then let him use it (for purification) on his skin. For, that is better."
পরিচ্ছেদঃ মুস্তাহাযা মহিলা প্রসঙ্গে।
১২৫. হান্নাদ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা বিনত আবী হুবায়শ নামক জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে এসে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল, আমি তো ইস্তিহাযায় আক্রান্ত একজন মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি সালাত ছেড়ে দিব কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয় বরং শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়যের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে ক’দিন নামায ছেড়ে দিবে আর হায়যের দিনগুলো চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নিবে এবং সালাত আদায় করবে। রাবী আবূ মুআবিয়া তার রিওয়ায়াতে আরো উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মহিলাকে বলেছিলেনঃ আরেক সালাতের ওয়াক্ত না আসা পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিবে। - ইবনু মাজাহ ৬২১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে ওহাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই হচ্ছে একধিক সাহাবী ও তাবিঈর বক্তব্য। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ (রহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করে বলেনঃ হায়যের নির্ধরিত দিনগুলো অতিক্রমের পর ইসতিহাযায় আক্রান্ত মহিলা গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।
باب مَا جَاءَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدَةُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ " لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي " . قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ " تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ إِذَا جَاوَزَتْ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا اغْتَسَلَتْ وَتَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ .
Aishah narrated:
"Fatimah bint Abi-Hubaish came to the Prophet and said: 'O Messenger of Allah! I am a woman who suffers from persistent bleeding and I do not become clean. Shall I give up Salat?' He said: 'No. That is only a bIood vessel, it is not menstruation. When your menstruation begins then leave the Salat. And when it ends, then wash the blood from you and perform Salat."
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলার প্রত্যেক সালাতের জন্য উযু করা।
১২৬. কুতায়বা (রহঃ) .... আদী ইবনু ছাবিত তার পিতা পিতামত এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইসতিহাযায় আক্রান্ত মহিলা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পূর্বে তার হায়যের যে নির্ধারিত দিনগুলি ছিল সেই দিনগুলির সালাত সে ছেড়ে দিবে। সে দিনগুলো অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে আর যথারীতি সিয়াম ও সালাত আদায় করতে থাকবে। - ইবনু মাজাহ ৬২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ " تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ فِيهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَتَصُومُ وَتُصَلِّي " .
Adiyy bin Thabit narrated from his father, that :
the Prophet said about the Mustahadah that she should: "Leave the Salat for the days of her period which she menstruates in, then perform Ghusl, and perform Wudu for every Salat, and observe Saum and perform Salat."
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলার প্রত্যেক সালাতের জন্য উযু করা।
১২৭. আলী ইবনু হুজরের বরাতেও অনুরূপ মর্মে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূল ইয়াকযানের সূত্রে কেবলমাত্র শরীকই এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে এই হাদিসটি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আদী ইবনু ছাবিতের পিতামহের নাম কি? তিনি তার নাম জানেন না। আমি বললামঃ ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন বলেছেন, তার নাম হল দ্বীনার। কিন্তু মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) এইদিকে দৃকপাত করলেন না। ইমাম আহমদ ও ইসহাক বলেছেনঃ মুস্তাহাযা মহিলা যদি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করে নেয় তবে সেটি হবে তার জন্য সতর্কতামূলক পন্থা। তবে প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিলে তার জন্য যথেষ্ট হবে। দুই সালাতের জন্য যদি একবার গোসল করে তবে তাও যথেষ্ট হবে। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ قَدْ تَفَرَّدَ بِهِ شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقُلْتُ عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ جَدُّ عَدِيٍّ مَا اسْمُهُ فَلَمْ يَعْرِفْ مُحَمَّدٌ اسْمَهُ وَذَكَرْتُ لِمُحَمَّدٍ قَوْلَ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّ اسْمَهُ دِينَارٌ فَلَمْ يَعْبَأْ بِهِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِنِ اغْتَسَلَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ هُوَ أَحْوَطُ لَهَا وَإِنْ تَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ أَجْزَأَهَا وَإِنْ جَمَعَتْ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ أَجْزَأَهَا .
A similar narration as no. 120. :
Abu Eisa said: Sharik is alone in narrating this Hadith from Abu Al Yaqzan.[He said:] I asked Muhammad (ibn Isma'il AI-Bukhari) about this Hadlth. I said: "Adiyy bin Thabit from his father, from his grandfather; what is the name of Adiyy's grandfather?" But Muhammad did not know his name. And I mentioned to Muhammad that Yahya bin Ma'in said his name is Dinar, and he did not contradict him. Ahmad and 1shaq said ahout the Mustahadah: If she performs Ghusl for every prayer that is more prudent for her, and if she performs Wudu for each prayer, then that is acceptable from her, and if she combines between two prayers with (one) Ghusl then that is acceptable.
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলার প্রত্যেক সালাতের জন্য উযু করা।
১২৮. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... হামনা বিনত জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি খুব ভীষণভবে ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলাম। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এই বিষয়ে ফতওয়া জানতে এলাম। তাঁকে আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন যয়নাব বিনত জাহাশের ঘরে পেলাম। বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ভীষণভাবে ইস্তিহাযা আক্রান্ত। এ বিষয়ে আপনি কি করতে বলেন? এ তো আমাকে সালাত ও সওম থেকে ফিরিয়ে রাখছে। তিনি বললেনঃ তোমাকে আমি তুলা ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছি। এতে রক্ত শুষে নিবে। আমি বললামঃ রক্তের পরিমান এর থেকেও বেশি। তিনি বললেনঃ তবে তা দিয়ে লাগমের মত বেধে নাও। আমি বললামঃ না, রক্তের পরিমাণ তো আরো বেশি। তিনি বললেন তবে এর নীচে আর একটি কাপড়ের পট্টি লাগিয়ে নাও। বললাম, রক্ততো আরো বেশি। স্রোতের মত তা ধেয়ে বেরুচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে আমি দু’টো বিষয়ের কথা বলছি। এ দু’টোর যে কোন একটি করতে পারলে তোমার জন্য যথেষ্ট। আর উভয়টি করতে তোমার শক্তি হলে তুমিই ভাল জান কোনটি তুটি গ্রহণ করবে। শোন, এ হলো শয়তানের গুতো।
যা হোক, ছয়দিন বা সাতদিন আল্লাহর জ্ঞানে বা তোমার জন্য নির্ধারিত সেদিনগুলো হায়েয হিসাবে ধরবে পরে তা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে গোসল করে নিবে। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পাক হয়ে গেছ এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছ তখন চব্বিশ দিন বা তেইশ দিন সালাত ও সিয়াম পালন করবে। আর এ-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। সাধারণভাবে মহিলারা হাযেয ও তুহরের (পাক থাকার) নির্ধারিত দিনগুলোতে যা করে তুমিও সেদিনগুলোতে তা করবে।
আর পাক থাকার নির্ধারিত দিনগুলোতে তোমার জন্য যুহরের সালাত পিছিয়ে এবং আছরের সালাত কিছুটা এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের একবার গোসল করেলে দুই ওয়াক্তের সালাত আদায় করা সম্ভব হলে তা করবে। এমনিভাবে মাগরিবের সালাত পিছিয়ে এবং ’ইশার সালাত এগিয়ে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের জন্য একবার গোসল করে দু’টো আদায় করো এবং ফজরের সময় গোসল করে তা আদায় করা সম্ভব হলে তদ্রম্নপভাবে সালাত ও সিয়াম পালন করবে। হ্যাঁ, তোমার শক্তিতে কুলালে তা-ই করো। আর দুটো বিষয়ের মধ্যে এই বিষয়টই আমার নিকট অধিক পছন্দের। - ইবনু মাজাহ ৬২৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উবায়দুল্লাহ ইবনু আমর আর রাক্কী, ইবনুুর জুরাইজ এবং শরীক (রহঃ) ও হামনা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবেত ইবনু জুরাইজ তাঁর সনদে জনৈক রাবীল নাম উমর ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ শুদ্ধ হল ইমরান ইবনু তালহা।
মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) কে এই হাদিসটি সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন এই হাদিসটি হাসান। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ)ও উক্তরূপ অভিমত প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
ইমাম আহমদ ও ইসহাক বলেন ইস্তিহাযা আক্রান্ত মহিলা যদি হায়যের আগমন ও এর অতিক্রান্ত হওয়া বুঝতে পারে তবে ফাতিমা বিনত আবী হুবায়শ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ বিধান তার জন্য প্রযোজ্য হবে। সাধারণতঃ হায়যের আগমন বুঝার উপায় হল, এই সময় এর রং থাকে কাল আর অতিক্রন্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝার উপায় হল তখন এর রং হয়ে যায় হরিদ্রাভ। আর সেই মহিলার যদি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে হায়যের নির্ধারিত দিন থেকে থাকে তবে ইস্তিহাযা আক্রান্ত হওয়ার পরেও সে উক্ত নির্ধারিত দিন সমূহের সালাত আদায় ছেড়ে দিবে। এই দিনগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে পাক হওয়ার জন্য গোসল করবে এবং পরে প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তা আদায় করবে। কিন্তু তার যদি সব সময় রক্ত ঝরতে থাকে, হায়যের কোন নির্দিষ্ট দিন না থাকে, রক্তের রঙ্গের মাধ্যমে হায়যের শুরু ও শেষ বুঝতে না পারে তবে তার জন্য বিধান হামনা বিনত জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত (১২৮ নং) হাদীছের অনুরূপ।
আবূ উবায়দাও অনুরূপ কথা বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেনঃ শুরু থেকে ই যদি কোন মহিলার রক্ত প্রবাহিত হতে থাক আর তা বন্ধ না হয় তবে পনের দিনের মাঝের দিনগুলির সালাত সেছেড়ে দিবে। পনেরতম দিন বা এর পূর্বে সে যদি পাক হয়ে যায় তবে এই দিনগুলি হায়যের দিন হিসাবে গণ্য হবে। পনের দিনের পরও যদি রক্ত দেখে তবে সে চৌদ্দ দিনের সালাত কাযা করবে। পরবর্তীতে হায়বের সর্বনিম্ন সময় একদিন ও একরাতের সালাত ছেড়ে দিবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মুদ্দত সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন সর্বনিম্ন মুদ্দত হল তিনদিন আর সর্বোচ্চ পরিমাণ হল দশদিন। এ হল সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের অভিমত। ইবনু মুবারকও এই অভিমত গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর নিকট থেকে ভিন্নরূপ বর্ণনাও রয়েছে। অপর একদল আলিম যাদের মধ্যে আতা ইবনু আবী রাবাহও রয়েছেন তারা বলেন হায়যের সর্বনিম্ন মুদ্দত হল একদিন একরাত আর সর্বোচ্চ পারমান হল পনের দিন। ইমাম মালিক, আওযোঈ, শাফিঈ, আহমদ, সিহাক ও আবূ উবয়দা (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
باب مَا جَاءَ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عِمْرَانَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّهِ، حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ كُنْتُ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْتَفْتِيهِ وَأُخْبِرُهُ فَوَجَدْتُهُ فِي بَيْتِ أُخْتِي زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَمَا تَأْمُرُنِي فِيهَا قَدْ مَنَعَتْنِي الصِّيَامَ وَالصَّلاَةَ قَالَ " أَنْعَتُ لَكِ الْكُرْسُفَ فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَتَلَجَّمِي " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاتَّخِذِي ثَوْبًا " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ إِنَّمَا أَثُجُّ ثَجًّا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا صَنَعْتِ أَجْزَأَ عَنْكِ فَإِنْ قَوِيتِ عَلَيْهِمَا فَأَنْتِ أَعْلَمُ " . فَقَالَ " إِنَّمَا هِيَ رَكْضَةٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ فِي عِلْمِ اللَّهِ ثُمَّ اغْتَسِلِي فَإِذَا رَأَيْتِ أَنَّكِ قَدْ طَهُرْتِ وَاسْتَنْقَأْتِ فَصَلِّي أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ ثَلاَثًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً وَأَيَّامَهَا وَصُومِي وَصَلِّي فَإِنَّ ذَلِكِ يُجْزِئُكِ وَكَذَلِكِ فَافْعَلِي كَمَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَكَمَا يَطْهُرْنَ لِمِيقَاتِ حَيْضِهِنَّ وَطُهْرِهِنَّ فَإِنْ قَوِيتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِي الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِي الْعَصْرَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ حِينَ تَطْهُرِينَ وَتُصَلِّينَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ تُؤَخِّرِينَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِينَ الْعِشَاءَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فَافْعَلِي وَتَغْتَسِلِينَ مَعَ الصُّبْحِ وَتُصَلِّينَ وَكَذَلِكِ فَافْعَلِي وَصُومِي إِنْ قَوِيتِ عَلَى ذَلِكِ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَهُوَ أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَىَّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ وَابْنُ جُرَيْجٍ وَشَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَمِّهِ عِمْرَانَ عَنْ أُمِّهِ حَمْنَةَ إِلاَّ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ يَقُولُ عُمَرُ بْنُ طَلْحَةَ وَالصَّحِيحُ عِمْرَانُ بْنُ طَلْحَةَ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا كَانَتْ تَعْرِفُ حَيْضَهَا بِإِقْبَالِ الدَّمِ وَإِدْبَارِهِ وَإِقْبَالُهُ أَنْ يَكُونَ أَسْوَدَ . وَإِدْبَارُهُ أَنْ يَتَغَيَّرَ إِلَى الصُّفْرَةِ فَالْحُكْمُ لَهَا عَلَى حَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ وَإِنْ كَانَتِ الْمُسْتَحَاضَةُ لَهَا أَيَّامٌ مَعْرُوفَةٌ قَبْلَ أَنْ تُسْتَحَاضَ فَإِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّي وَإِذَا اسْتَمَرَّ بِهَا الدَّمُ وَلَمْ يَكُنْ لَهَا أَيَّامٌ مَعْرُوفَةٌ وَلَمْ تَعْرِفِ الْحَيْضَ بِإِقْبَالِ الدَّمِ وَإِدْبَارِهِ فَالْحُكْمُ لَهَا عَلَى حَدِيثِ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ . وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ الْمُسْتَحَاضَةُ إِذَا اسْتَمَرَّ بِهَا الدَّمُ فِي أَوَّلِ مَا رَأَتْ فَدَامَتْ عَلَى ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَإِذَا طَهُرَتْ فِي خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا أَوْ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا أَيَّامُ حَيْضٍ فَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ أَكْثَرَ مِنْ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَإِنَّهَا تَقْضِي صَلاَةَ أَرْبَعَةَ عَشَرَ يَوْمًا ثُمَّ تَدَعُ الصَّلاَةَ بَعْدَ ذَلِكَ أَقَلَّ مَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَهُوَ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ وَأَكْثَرِهِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلاَثَةٌ وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَأْخُذُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَرُوِيَ عَنْهُ خِلاَفُ هَذَا . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ أَقَلُّ الْحَيْضِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَأَكْثَرُهُ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي عُبَيْدٍ .
Hamnah bint Jahsh narrated:
"I had a case of blood flow that was severe and excessive. So I went to the Prophet to inform him and ask him about it. I found him in the house of my sister Zainab bint Jahsh. I said, 'O Messenger of Allah! I suffer from a case of severe and excessive blood flow. So what do you order me to do for it, and does this prevent me from fasting and performing Salat?' He said: 'Tie a cotton rag around yourself and the bIood will go away.' I said, 'It is more than that.' He said: 'Make it tight.' I said, 'It is more than that.' He said: 'Then use a cloth (to bind it).' I said, it is more than that. It flows too much.' So the Prophet said: 'I will order you to do one of two things, which ever of them you do, it will be acceptable for you. You should know which of them you are able to do.' Then he said: 'This is only a blow from Shaitan. Menstruate for six or seven days, which Allah knows, then perform Ghusl. When you see that you have become pure and clean, then perform Salat for twenty-three or twenty-four nights and their days. Perform Salat and fast, and that will be acceptable for you. So do this (if you can) just as (other) women who menstruate and become pure during their periods of menstruation and purity. If (not, and) you are able to delay Zuhr and hasten Asr then perform Ghusl when you have become pure, and pray Zuhr and Asr together. Then delay Maghrib and hasten Isha, then perform Ghusl and combine the two prayers. So do this (if you are able). Then perform Ghusl with the dawn and pray. Do this, and fast if you are able to do so.' Then Allah's Messenger said: 'That is what is preferable to me of the two.'"
পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু না করা।
১২৯. কুবায়বা (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, উম্মু হাবীবা বিনত জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফতওয়া জানতে দিয়ে বলেন আমি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। কোন সময়ই পাক হই না। আমি সালাত ছেড়ে দেব কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন না, এতো শিরার রক্ত। তুমি গোসল করে সালাত আদায় করে নিবে। এরপর উম্মু হাবীবা বিনত জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রতি সালাতের জন্য গোসল করে নিতেন। - ইবনু মাজাহ ৬২৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা বলেন যে, লায়ছ বলেছেন প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হাবীবাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ইবনু শিহাব উল্লেখ করেননি। বরং উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজ থেকে তা করতেন। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যুহরী আমর’ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও এই হাদিসটি বর্ণিত আছে। আলিমদের কেউ কেউ বলেন যে, ইসতিহাযা আক্রান্ত মহিলাকে প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতে হবে। আওযাঈ (রহঃ) যুহরী থেকে এবং তিনি উরওয়া ও আমরা থেকে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ " لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي " . فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ اللَّيْثُ لَمْ يَذْكُرِ ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أُمَّ حَبِيبَةَ أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَلَكِنَّهُ شَيْءٌ فَعَلَتْهُ هِيَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ . وَرَوَى الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ .
Aishah narrated:
"Umm Habibah hint Jahsh sought a verdict from Allah's Messenger. She said 'I suffer from persistent bleeding such that I do not become pere. Shall I give up the Salat?' He said: 'No, that is only a blood vessel. So perform Ghusl then pray.' So she would perform Ghusl for each prayer."
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট মহিলার সালাত কাযা করতে হবে না।
১৩০. কুতায়বা (রহঃ) .... মুআযাহ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক মহিলা একবার আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞাসা করল, হায়যের সময়ের সালাত আমদের কাযা করতে হবে কি? আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন তুমি কি হারুবী (খারিজী মতালম্বী) না কি? আমাদের তো তা কাযা করতে নির্দেশ দেয়া হয়নি। - ইবনু মাজাহ ৬৩১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান ও সহীস। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, হায়য বিশিষ্ট মহিলাদের সালাত কাযা করতে হবে না। এ হল সাধারণভাবে সকল ফকীহ আলিমদের বক্তব্য। হায়য বিশিষ্ট মহিলারা সিয়াম কাযা করতে, তাদের সালাত কাযা করতে হবে না’’ এই বিষযৈ ফকীহদের মধ্যে কোন মতবিরোধ নেই।
باب مَا جَاءَ فِي الْحَائِضِ أَنَّهَا لاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَتَقْضِي إِحْدَانَا صَلاَتَهَا أَيَّامَ مَحِيضِهَا فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قَدْ كَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ فَلاَ تُؤْمَرُ بِقَضَاءٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ أَنَّ الْحَائِضَ لاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ فِي أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ .
Mu'adhah narrated that :
a woman asked Aishah: "Shouldn't one of us make up her prayers the days of her menstruation?" So she said, "Are you one of the Haruriyyah? Indeed we would menstruate, and we were not ordered to make up."
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট মহিলা এবং যাদের উপর গোসল ফরয তারা কুরআন তিলওয়াত করতে পারবে না।
১৩১. আলী ইবনু হুজর ও হাসান ইবনু আরাফা (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন হায়য বিশিষ্ট মহিলা এবং যাদের উপর গোসল ফরয তারা কুরআনের কিছুই তিলওয়াত করতে পারবে না। - ইবনু মাজাহ ৫৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসমাঈল ইবনু আয়্যাশ মূসা ইবান উকবা এর সূত্র ছাড়া অন্য কোন ভাবে ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটির কথা আমাদের জানা নেই। সাহাবী, তাবিঈ এবং সুফইয়ান ছাওরী, ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকের মত পরবর্তী যুগেরআলিমগণের অভিমতও এ-ই। তারা বলেন আয়াতের কোন অংশ বা শব্দ বা এই ধরনের কিছু ছাড়া কুরআন থেকে কিছু তিলাওয়াত করা হায়য বিশিষ্ট মহিলা এবং যাদের উপর গোসল ফরয তাদের জন্য বৈধ নয়।তবে আলেমগন তাদের জন্য তাসবীহ তাহলীলের অনুমতি দিয়েছেন।
আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল বুখারী (রহঃ)কে বলেতে শুনেছি ইসমাঈল ইবন আয়্যাশ হিজায ও ইরাকবাসীদের থেকেবহু মুনকার (প্রত্যাখানযোগ্য) হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের মর্ম হচ্ছে, তিনি হিজায ও ইরাকবাসী রাবীদের বরাতে বর্ণিত ইবন আয়্যশের একক রিওয়ায়াতসমূহ যঈফ বলে সাব্যস্ত করছেন। ইমাম বুখারী আরো বলেছেন শামবাসীদের বরাতে বর্ণিত ইবনু আয়্যাশের রিওয়ায়াতসমূহ গ্রহণযোগ্য। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) বলেন ইসমাঈল ইবন আয়্যাশ রাবী বাকিয়্যার তুলনায় গ্রহণযোগ্য। বাকিয়্যা বহু ছিকাহ রাবীর বরাতে মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ أَنَّهُمَا لاَ يَقْرَآنِ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقْرَإِ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْرَإِ الْجُنُبُ وَلاَ الْحَائِضُ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لاَ تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا إِلاَّ طَرَفَ الآيَةِ وَالْحَرْفَ وَنَحْوَ ذَلِكَ وَرَخَّصُوا لِلْجُنُبِ وَالْحَائِضِ فِي التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ إِنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عَيَّاشٍ يَرْوِي عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْعِرَاقِ أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ . كَأَنَّهُ ضَعَّفَ رِوَايَتَهُ عَنْهُمْ فِيمَا يَنْفَرِدُ بِهِ . وَقَالَ إِنَّمَا حَدِيثُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَهْلِ الشَّأْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ أَصْلَحُ مِنْ بَقِيَّةَ وَلِبَقِيَّةَ أَحَادِيثُ مَنَاكِيرُ عَنِ الثِّقَاتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ ذَلِكَ .
Ibn Umar narrated that :
the Prophet said: "The menstruating woman does not recite - nor the Junub - anything from the Qur'an." [He said:] There is narration on this topic from Ali
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন।
১৩২. বুন্দার (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার হায়য হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইযার পরতে বলতেন। এরপর তিনি আমাকে আলিঙ্গল করতেন। - ইবনু মাজাহ ২৬০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উম্ম সালমা ও মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এ হল সাহাবী ও তাবিঈ আলিমগণের একধিকজনের অভিমত। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই অভিমত পোষন করেন।
باب مَا جَاءَ فِي مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حِضْتُ يَأْمُرُنِي أَنْ أَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُنِي . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَمَيْمُونَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Aishah narrated that:
"When I would menstruate, Allah's Messenger ordered me to wear a waist wrap, then he would fondle me."
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে একত্রে আহার করা এবং তার উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে।
১৩৩. আব্বাস আল আমবারী ও মুহাম্মদ ইবনু আবদিল আলা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে আহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন তুমি তার সাতেই আহার করো। - ইবনু মাজাহ ৬৫১,তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন আবদুল্লাহ ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও গরীব। সাধারণভাবে সকল আলিমের অভিমত এ-ই। হায়য বিশেষ্টি মাহিলার সাথে আহারে কোন অসুবিধা আছে বলে তাঁরা মনে করেন যা। তবে তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অবশিষ্ট পানি ব্যবাহার করা সম্পর্কে আলিমগন মতবিরোধ করেছেন। একদল এর অনুমতি দিয়েছেন আরকদল তা ব্যবহার করা মাকরুহ বলে মত প্রকাশ করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي مُؤَاكَلَةِ الْحَائِضِ وَسُؤْرِهَا
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَرَامِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ مُوَاكَلَةِ الْحَائِضِ فَقَالَ " وَاكِلْهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بِمُوَاكَلَةِ الْحَائِضِ بَأْسًا . وَاخْتَلَفُوا فِي فَضْلِ وَضُوئِهَا فَرَخَّصَ فِي ذَلِكَ بَعْضُهُمْ وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ فَضْلَ طَهُورِهَا .
Abdullah bin Sa'd narrated:
I asked the Prophet about eating with a menstruating woman. He said: "Eat with her."
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট মহিলা কর্তৃক হাত বাড়িয়ে মসজিদ থেকে কিছু লওয়া।
১৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হাত বাড়িয়ে মসজিদ থেকে একটি চাটাই দিতে বললেন। আমি বললাম আমি তো হায়য বিশিষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার হাতে তো আর হায়েয নেই। - ইবনু মাজাহ ৬৩২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবন উমর ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। সাধারনভাবে সকল আলিমের অভিমত এ-ই। হায়য বিশিষ্ট মহিলার জন্য মসজিদ থেকে কোন কিছু হাত বাড়িয়ে নেওয়াতে কোন দোষ না হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে কোন মত বিরোধ আছে বলে আমাদের জানা নেই।
باب مَا جَاءَ فِي الْحَائِضِ تَتَنَاوَلُ الشَّىْءَ مِنَ الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ " . قَالَتْ قُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ . قَالَ " إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا فِي ذَلِكَ بِأَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ تَتَنَاوَلَ الْحَائِضُ شَيْئًا مِنَ الْمَسْجِدِ .
Aishah narrated:
"Allah's Messenger said to me: 'Bring me the Khumrah from the Masjid.' She said: "I said: 'I am menstruating.' He said: 'Indeed your menstruation is not in your hand.'"
পরিচ্ছেদঃ হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম হারাম।
১৩৫. বুন্দার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কেউ হায়য বিশিষ্ট মহিলার সাথে সঙ্গম করলে বা স্ত্রীর পশ্চাৎদ্বার দিয়ে মিলিত হলে বা গণকের কাছে গেলে সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অবতীর্ণ বিষয়সমূহের সাথে কুফরী করল। - ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাকীম আল-আছরাম আবূ তামীম আল হুজায়মী আবূ হুরায়বা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এই হাদিসটি সম্পর্কে আমদের জানা নেই। আলিমগণ বলেন-এই হাদিসটির তাৎপর্য হল, এই বিষয়গুলি সম্পর্ক কঠোরতা প্রদর্শন। (এই ধরনের ব্যক্তি আসলেই কাফির হয়ে যাবে তা এর মর্ম নয়) রাসূল থেকে বর্ণিত আছে যে, কেউ যদি হায়য বিশিষ্ট মলিার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয় যে যেন এক দ্বীনার সদকা করে দেয়। হায়য বিশিষ্ট স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হওয়া যদি বাস্তবিকই কুফরী হত তবে এক দ্বীনার দিয়ে এক কাফফারার বিধান দেওয়ার কোন অর্থ হত না। ইমাম মুহাম্মদ আল বুখারী (রহঃ) সনদের দিকক থেকে হাদিসটিকে যঙ্গফ বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাবী আবূ তামীম আল হুজায়মীর নাম হল তারীফ ইবনু মুজালিদ।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ إِتْيَانِ الْحَائِضِ
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَبَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَكِيمٍ الأَثْرَمِ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم " . قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَكِيمٍ الأَثْرَمِ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى التَّغْلِيظِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَتَى حَائِضًا فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ " . فَلَوْ كَانَ إِتْيَانُ الْحَائِضِ كُفْرًا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ بِالْكَفَّارَةِ . وَضَعَّفَ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ قِبَلِ إِسْنَادِهِ . وَأَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ اسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ .
Abu Hurairah narrated that :
the Prophet said: "Whoever engages in sexual intercourse with a menstruating woman, or a woman in her anus, consults a soothsayer, then he has disbelieved in what was revealed to Muhammad."
পরিচ্ছেদঃ এই ক্ষেত্রে কাফফারা প্রদান প্রসঙ্গে।
১৩৬. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, কেউ যদি হায়য অবস্থায় স্ত্রী সঙ্গত হয় তার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে যেন অর্ধ দ্বীনার সা’দকা করে দেয়।* - যইফ আবু দাউদ ৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْكَفَّارَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ " يَتَصَدَّقُ بِنِصْفِ دِينَارٍ " .
Ibn Abbas narrated that :
the Prophet said about a man who had sexual intercourse with his wife while she is menstruating: "He should give half a Dinar in charity."
পরিচ্ছেদঃ এই ক্ষেত্রে কাফফারা প্রদান প্রসঙ্গে।
১৩৭. হুসায়ন ইবনু হুরায়ছ (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন রক্ত যদি লাল বর্ণের হয় তবে এক দ্বীনার আর হলদে হলে অর্ধ দ্বীনার কাফফারা দিবে। - এই বিশ্লেষণে সহীহ সনদে মাওকুফ, সহিহ আবু দাউদ ২৫৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হায়য বিশিষ্ট স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হলে এর কাফফারা সম্পর্কিত হাদিসটি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকূফ ও মারফূ উভয়ভাবেই বর্ণিত রয়েছে। এ হল আলিমদের কারো কারো অভিমত। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত এ-ই। ইবনু মুবারাক বলেন এতে কাফফারা নেই; বরং সে ব্যক্তি এই গুনাহর জন্য ইসতিগফার করবে। কতিপয় তাবেঈ থেকেও ইবনু মুবারকের অনুরূপ অভিমত বর্ণিত আছে। তাদের মধ্যে সাঈদ ইবনু জুবায়র ও ইবরাহীম নাখ’ঈ বিভিন্ন অঞ্চলের আলিমগণের সাধারণ অভিমত এ-ই।
باب مَا جَاءَ فِي الْكَفَّارَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ السُّكَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ دَمًا أَحْمَرَ فَدِينَارٌ وَإِذَا كَانَ دَمًا أَصْفَرَ فَنِصْفُ دِينَارٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْكَفَّارَةِ فِي إِتْيَانِ الْحَائِضِ قَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا وَمَرْفُوعًا . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ يَسْتَغْفِرُ رَبَّهُ وَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ . وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ قَوْلِ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ بَعْضِ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ عُلَمَاءِ الأَمْصَارِ .
Ibn Abbas narrated that :
the Prophet said: "When the blood is red then (give) a Dinar. And when the blood is yellow then half Dinar."
পরিচ্ছেদঃ কাপড় থেকে হায়েযের রক্ত ধৌত করা।
১৩৮. ইবনু আবী উমর ..... আসমা বিনত আবী বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক মহিলা কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগলে এর পাক করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেনঃ প্রথমে তা খুচিয়ে তুলে ফেল, পরে পানি ভিজিয়ে আঙ্গলে রগড়ে নাও এরপর তাতে পানি ঢেলে দাও আর তা পরে সালাত আদায় করতে থাক। - ইবনু মাজাহ ৬২৯, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও উম্মু কায়স বিনত মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ রক্ত ধৌত করা সম্পর্কিত আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। কাপড়ে রক্ত লাগলে তা ধৌত করার পূর্বে সেই কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে আলিমদর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবিঈনদের কতক আলিমের অভিমত হল, এক দিরহাম পরিমাণ রক্ত হলে তা ধৌত না করে যদি কেউ সেই কাপড়ে সালাত আদায় করে তবে তা পুনরায় আদায় করতে হবে। অপর একদল বলেন রক্তের পরিমাণ যদি এক দিরহামের অতিরিক্ত হয় তবে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে। সুফইয়ান ছাওরী [ইমাম আবূ হানীফা] এবং ইবনু মুবারকের অভিমতও এ-ই। তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের ফকীহ আলিমদের কেউ কেউ রক্তের পরিমাণ এক দিরহামের চেয়ে বেশি হলেও সালাত পুনরায় আদায় করাতে হবে বলে অভিমত পোষণ করেন না। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত এ-ই। ইমাম শাফিঈ এই বিষয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। তিনি বলেন, রক্তের পরিমাণ এক দিরহাম থেকে কম হলেও তা ধৌত করা ওয়াজিব।
باب مَا جَاءَ فِي غَسْلِ دَمِ الْحَيْضِ مِنَ الثَّوْبِ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الثَّوْبِ يُصِيبُهُ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُتِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِالْمَاءِ ثُمَّ رُشِّيهِ وَصَلِّي فِيهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَسْمَاءَ فِي غَسْلِ الدَّمِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الدَّمِ يَكُونُ عَلَى الثَّوْبِ فَيُصَلِّي فِيهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهُ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ إِذَا كَانَ الدَّمُ مِقْدَارَ الدِّرْهَمِ فَلَمْ يَغْسِلْهُ وَصَلَّى فِيهِ أَعَادَ الصَّلاَةَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ الدَّمُ أَكْثَرَ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ أَعَادَ الصَّلاَةَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَلَمْ يُوجِبْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ عَلَيْهِ الإِعَادَةَ وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ يَجِبُ عَلَيْهِ الْغَسْلُ وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ وَشَدَّدَ فِي ذَلِكَ .
Asma' bint Abu Bakr narrated that :
a woman asked the Prophet about a garment that was touched by some menstrual blood. So Allah's Messenger said: "Remove it, and scrub it, then rinse it and pray in it"
পরিচ্ছেদঃ নিফাস বিশিষ্ট মহিলাকে কত দিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৩৯. নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) .... উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ চল্লিশ দিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকতেন। চেহার ফ্যাকাশে হয়ে কৃষ্ণাভ হয়ে যেত বলে আমরা তখন চেহারায় হলুদ বর্ণের ওয়ারস পত্রের প্রলেপ ব্যবহার করতাম। - ইবনু মাজাহ ৬৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি গরীব। আবূ সাহল মুসসা আল আযদিয়া উম্মু সলামা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সূত্র ব্যতীত অন্য কেন সূত্রে এই হাদিসটি আমাদের জানা নাই। আবূ সাহলের নাম হল কাছীর ইবনু যিয়াদ। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল বুখারী (রহঃ) বলেন আলী ইবনু আবদিল আলা ও আবূ সাহল রাবী হিসাবে নির্ভরযোগ্য। আবূ সাহলের সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এই হাদিসটির কথা ইমাম মুহাম্মদ আল বুখারী জানেন না।
সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের আলিমদের সকলেই একমত যে, নেফাস বিশিষ্ট মহিলাগণ সালাত থেকে চল্লিশ দিন বিরত থাকবে। তবে এর পূর্বেই যদি পাক হয়ে যায় তবে গোসল করে যথারীতি সালাত আদায় করতে থাকবে। চল্লিশ দিনের পরও যদি রক্ত নির্গত হতে দেখে তবে অধিকাংশ আলিমের মতে সে আর সালতা ত্যাগ করতে পারবে না। অধিকাংশ ফকীহের অভিমত এ-ই। ইমাম (আবূ হানীফা) সুফইয়ান, ছাওরী, ইবনু মুবারক শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এই মত ব্যক্ত করেছেন। হাসান বসরী থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি পাক না হয় তবে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত সে সালাত থেকে বিরত থকবে। আতা ’ইবনু আবী রাবাহ এবং শা’বী থেকে বর্ণিত আছে যে, ষাট দিন পর্যন্ত সে সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকবে।
باب مَا جَاءَ فِي كَمْ تَمْكُثُ النُّفَسَاءُ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ أَبُو بَدْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَكُنَّا نَطْلِي وُجُوهَنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَاسْمُ أَبِي سَهْلٍ كَثِيرُ بْنُ زِيَادٍ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ثِقَةٌ وَأَبُو سَهْلٍ ثِقَةٌ . وَلَمْ يَعْرِفْ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ . وَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ عَلَى أَنَّ النُّفَسَاءَ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا إِلاَّ أَنْ تَرَى الطُّهْرَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي . فَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ فَإِنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ تَدَعُ الصَّلاَةَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَيُرْوَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ إِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ خَمْسِينَ يَوْمًا إِذَا لَمْ تَرَ الطُّهْرَ . وَيُرْوَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَالشَّعْبِيِّ سِتِّينَ يَوْمًا .
Umm Salamah narrated:
"The time of waiting for Nifas during the time of AIlah's Messenger was forty days. We used to cover our faces with reddish-brown Wars."
পরিচ্ছেদঃ এক গোসলে একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলন।
১৪০. বুনদার মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোসলে তাঁর স্ত্রীগণের সাথে মিলিত হয়েছে। - ইবনু মাজাহ ৫৮৮, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ রাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এক গোসলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের হঙ্গে মিলিত হয়েছেন আনাস বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। হাসান বসরীসহ একধিক ফকীহ আলিমদের অভিমত এই যে, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ছাড়াই পুনরায় সঙ্গত হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ এই হাদিসটি সুফইয়ান থেকে আবূ উরওয়া আবূল খাত্তাব আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। আবূ উরওয়ার নাম হল মা’মার ইবনু রাশিদ (রহঃ) আর আবূল খাত্তাব হলেন কাতাদা ইবনু দি’আমা (রহঃ)। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ রাবীদের কেউ কেউ মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ সুফইয়ান ইবনু আবী উরওয়া আবূল খাত্তাব সূত্রের উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তা ভুল। শুদ্ধ হল আবূ উরওয়া, ইবনু আবী উরওয়া নয়।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ أَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ يَعُودَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ . وَقَدْ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ هَذَا عَنْ سُفْيَانَ فَقَالَ عَنْ أَبِي عُرْوَةَ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ عَنْ أَنَسٍ . وَأَبُو عُرْوَةَ هُوَ مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ . وَأَبُو الْخَطَّابِ قَتَادَةُ بْنُ دِعَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ ابْنِ أَبِي عُرْوَةَ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ . وَهُوَ خَطَأٌ وَالصَّحِيحُ عَنْ أَبِي عُرْوَةَ .
Anas narrated:
"Allah's Messenger would go around to his women with one Ghusl."
পরিচ্ছেদঃ জুনুবী ব্যাক্তি পুনরায় স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চাইলে উযু করে নিবে।
১৪১. হান্নাদ (রহঃ) .... আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদে মধ্যে কেউ একবার স্ত্রীর সাথে মিলনের পর পুনরায় মিলিত হতে চাইলে সে যেন মাঝে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। - ইবনু মাজাহ ৫৮৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ সাঈদ বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অভিমত এ-ই। বহু আলিম ও এই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। তাঁর বলেন একবার স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার পর কেউ পুনরায় মিলনের ইচ্ছা করলে সে যেন এর আগে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেয়। রাবী আবূল মুতাওয়াককিলের নাম হল আলী ইবনু দাঊদ। সাহাবী আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নাম হল, সা’দ ইবনু মালিক ইবনু সিনান।
باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعُودَ تَوَضَّأَ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ فَلْيَتَوَضَّأْ بَيْنَهُمَا وُضُوءًا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَقَالَ بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا جَامَعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ فَلْيَتَوَضَّأْ قَبْلَ أَنْ يَعُودَ . وَأَبُو الْمُتَوَكِّلِ اسْمُهُ عَلِيُّ بْنُ دَاوُدَ . وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ .
Abu Sa'eed Al-Khudri narrated that :
the Prophet said: When one of you comes to his wife, then he wants to repeat (it), let him perform Wudu between them."
পরিচ্ছেদঃ ইকামত হওয়ার পরও কেউ শৌচাগারে গমনের প্রয়োজন অনুভব করলে আগেই তা সেরে নিবে।
১৪২. হান্নাদ ইাবনুস সারী (রহঃ) ..... উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন তাঁর কওমের ইমাম। একদিন ইকামত হওয়ার পর তিনি জনৈক মুসুল্লিকে হাত ধরে সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং বললেন রাসূলল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ইকামত হয়ে যাওয়ার পর যদি তোমাদের কেউ শৌচাগার গমনের তাকিদ অনুভব করে তবে তা আগে সেরে নিবে। - ইবনু মাজাহ ৬১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, আবূ হুরায়রা, ছাওবান এবং আবূ ওমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। মালিক ইবনু আনাস, ইয়াহইয়া ইবান সাঈদ আল কাত্তান এবং আরো বহু হাফিজুল হাদিস হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা উরওয়া আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। উহায়ব প্রমুখ হিশাম ইবনু উরওয়া তার পিতা উরওয়া জনৈক রাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আরকাম সনদে এটি রিওয়াত করেছেন। সাহাবী ও তাবিঈগণের অনেকেরই অভিমত এ-ই। [ইমাম আবূ হানীফা] ইামম আহমদ ও ইসহাক ও এই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন সালাত শুরু করে দেওয়ার পর যদি কেউ পেশাব পায়খানার প্রয়োজন অনুভব করে তবে সালাত আদায়ে অমনোযোগীতা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সে সালাত ত্যাগ করবে না। কোন কোন আলিম বলেন সালাত আদায়ে অমনোযোগিতা সৃষ্টির আশংকা না হওয়া পর্যন্ত পেশাব পায়খানার তাকিদ সত্ত্বেও সালত আদায়ে কোন অসুবিধা নেই।
باب مَا جَاءَ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَوَجَدَ أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلْيَبْدَأْ بِالْخَلاَءِ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأَخَذَ بِيَدِ رَجُلٍ فَقَدَّمَهُ وَكَانَ إِمَامَ قَوْمِهِ وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَوَجَدَ أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلْيَبْدَأْ بِالْخَلاَءِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَثَوْبَانَ وَأَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . هَكَذَا رَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْحُفَّاظِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ . وَرَوَى وُهَيْبٌ وَغَيْرُهُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالاَ لاَ يَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ يَجِدُ شَيْئًا مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ . وَقَالاَ إِنْ دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ فَوَجَدَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَلاَ يَنْصَرِفْ مَا لَمْ يَشْغَلْهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ بَأْسَ أَنْ يُصَلِّيَ وَبِهِ غَائِطٌ أَوْ بَوْلٌ مَا لَمْ يَشْغَلْهُ ذَلِكَ عَنِ الصَّلاَةِ .
Hisham bin Urwah narrated from his father, (Urwah) from Abdullah bin AI-Arqam. :
He (Urwah) said: "While standing for the prayer he (Abdullah bin Al-Arqam) took a man by the hand leading him forward, he (Abdullah) was in front of the people, and he said: 'I heard Allah's Messenger say: "When standing for the prayer and one of you finds that he has to relieve himself then let him relieve himself first."
পরিচ্ছেদঃ পথের আবর্জনা মাড়িয়ে আসার কারণে উযু।
১৪৩. আবূ রাজা কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুর রাহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উম্মু ওয়ালাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমি উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে বললাম, আমি কাপড়ের আঁচল খুবই ঝুলিয়ে পরি। অনেক সয় ময়লা জায়গা দিয়েও আমার হাঁটতে হয়। এমতাবাস্থায় আমার করণীয় কি? তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পরবর্তী স্থানই তা পাক করে দিবে। - ইবনু মাজাহ ৫৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। পথ-চলতি-ময়লার কারণে আমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতাম না।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একাধিক আলিম এই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। তাঁর বলেন কেউ যদি আবর্জনাযুক্ত জায়গা হেঁটে যায় তবে তার পা ধোয়া জরুরী নয়। হ্যাঁ, আর্দ্র জাতীয় ময়লা হলে যে স্থানে তা লাগবে সে স্থানটি ধৌত করতে হবে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক এই হাদিসটি মালিক ইবনু আনাস মুহাম্মদ ইবনু উমারা মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম এর সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি তাঁর সনদে হুদ ইবনু আবদির রহমান ইবনু আওফের জনৈক উম্মু ওয়ালাদ উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এতে কিছু ভ্রান্তি রয়েছে। কারণ, আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হুদ নামের কোন পুত্র ছিল না। বস্তুত শুদ্ধ হল, আবদুর রহমান ইবনু আওফের পুত্র ইবরাহীমের পুত্র ইবরাহীমের উম্মু ওয়ালাদ এটি উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْمَوْطَإِ
حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أُمِّ وَلَدٍ، لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَتْ قُلْتُ لأُمِّ سَلَمَةَ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ فَقَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ نَتَوَضَّأُ مِنَ الْمَوْطَإِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا وَطِئَ الرَّجُلُ عَلَى الْمَكَانِ الْقَذِرِ أَنَّهُ لاَ يَجِبُ عَلَيْهِ غَسْلُ الْقَدَمِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَطْبًا فَيَغْسِلَ مَا أَصَابَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِهُودِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَهُوَ وَهَمٌ وَلَيْسَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ابْنٌ يُقَالُ لَهُ هُودٌ وَإِنَّمَا هُوَ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَهَذَا الصَّحِيحُ .
Abdur-Rahman bin Awf's Umm Walad said, :
"I said to Umm Salamah: 'Indeed I am a woman with lengthy hems, and I walk in places of filth.' So she said: 'Allah's Messenger said: "It is purified by what comes after it."
পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম।
১৪৪. আবূ হাফস আমর ইবনু আলী আল ফাললাস (রহঃ) .... আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা ও দুই হাত পর্যন্ত মাসেহ করে তায়াম্মুম করতে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। - আবু দাউদ ৩৫০,৩৫৩, বুখারি ও মুসলিম (আরো পূর্ণ রূপে বর্ণনা করেছেন) তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা, ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। একাধিক ফকীহ সাহাবীর অভিমত এ-ই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলী, আম্মার, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
একাধিক তাবিঈ ও এইরূপ মত পোষণ করেন। তাঁদের মাঝে রয়েছেন, শাবী, আতা ও মাকহুল। তারা বলেন তায়াম্মুম হল চেহারা ও করদ্বয়ে হাত মারা। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও অনুরূপ ব্যক্ত করেছেন। ইবনু উমর, জাবির, ইবরাহীম, হাসান (রহঃ) সহ আলিমদের কেউ কেউ বলেন যে, তায়াম্মুম হল, চেহারার জন্য একবার এবং কনুই পর্যন্ত হাতদ্বয়ের জন্য আরেকবার মাসেহর উদ্দেশ্য হাত মারা।
সুফইয়াত ছাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ (রহঃ)ও এই ধরনের অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। চেহারা ও করদ্বয়ের উল্লেখ সম্বলিত তায়াম্মুম বিষয়ক এই হাদিসটি আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে আমরা কাঁধ ও বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করেছি। কাঁধ ও বগল পর্যন্ত তায়াম্মুম করা সম্পর্কে আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটির কারণে তাঁর বর্ণিত চেহারা ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত পর্যন্ত সম্পর্কিত হাদিসটিকে আলিমদের কেউ কেউ যঈফ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ইবনু মাখলাদ আল হানযালী (রহঃ) বলেন আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত চেহারা ও করদ্বয় তায়াম্মুম করার হাদিসটি হাসান ও সহীহ। এই হাদিসটির সাথে কাঁদ ও বগল সম্পর্কিত আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিসটির মূলত কোন বিরোধ নেই। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতে তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে এতে তিনি উল্লেখ করেননি বরং তিনি বলেছেন, আমরা এরূপ করেছি। এতে বোঝা যায়, প্রথমে নিজে থেকে এই ধরনের তায়াম্মুম করেছিলেন পরে তিনি যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চেহারা ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে শেষ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা শিক্ষা দিলেন তা অর্থাৎ চেহারা ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার কথা স্থির হয়।
এর প্রমাণ হল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু তায়াম্মুম সম্বন্ধে চেহারা ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করার ফতওয়া দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শেষে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা অনুসারে চেহারা ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত তায়াম্মুম করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি নিজে অন্যদের এ কথা শিক্ষা দিয়েছিলেন। আবূ যুর’আ উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদিল করীম (রহঃ) কে বলতে শুনেছি আলী ইবনু আল মাদীনী, ইবনুুশ শাযাকূনী এবং আমর ইবনু আলী আল ফাল্লাস (রহঃ) এই তিনজন অপেক্ষা অধিক স্বরণশক্তি সম্পন্ন বসরায় আমি আর কাউকে দেখিনি। আবূ যুরআ (রহঃ) আরো বলেনঃ আমর ইবনু আলী থেকে আফফান ইবনু মুসলিমও হাদিস বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي التَّيَمُّمِ
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلاَّسُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِالتَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمَّارٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَمَّارٍ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عَلِيٌّ وَعَمَّارٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَغَيْرِ وَاحِدٍ مِنَ التَّابِعِينَ مِنْهُمُ الشَّعْبِيُّ وَعَطَاءٌ وَمَكْحُولٌ قَالُوا التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَجَابِرٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَالْحَسَنُ قَالُوا التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَمَّارٍ فِي التَّيَمُّمِ أَنَّهُ قَالَ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَمَّارٍ أَنَّهُ قَالَ تَيَمَّمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ . فَضَعَّفَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ حَدِيثَ عَمَّارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ لَمَّا رُوِيَ عَنْهُ حَدِيثُ الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ الْحَنْظَلِيُّ حَدِيثُ عَمَّارٍ فِي التَّيَمُّمِ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ عَمَّارٍ تَيَمَّمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَنَاكِبِ وَالآبَاطِ لَيْسَ هُوَ بِمُخَالِفٍ لِحَدِيثِ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ لأَنَّ عَمَّارًا لَمْ يَذْكُرْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُمْ بِذَلِكَ وَإِنَّمَا قَالَ فَعَلْنَا كَذَا وَكَذَا فَلَمَّا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِالْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ فَانْتَهَى إِلَى مَا عَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ مَا أَفْتَى بِهِ عَمَّارٌ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي التَّيَمُّمِ أَنَّهُ قَالَ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ فَفِي هَذَا دَلاَلَةٌ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى مَا عَلَّمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَّمَهُ إِلَى الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ يَقُولُ لَمْ أَرَ بِالْبَصْرَةِ أَحْفَظَ مِنْ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةِ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَابْنِ الشَّاذَكُونِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ الْفَلاَّسِ . قَالَ أَبُو زُرْعَةَ وَرَوَى عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ حَدِيثًا .
Ammar bin Yasir narrated that :
the Prophet ordered him to perform Tayammum by rubbing his face and two palms.
পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম।
১৪৫. ইয়াহইয়া ইাবন মূসা (রহঃ) ....... ইকরিমা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ কে তায়াম্মুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন উযূ (ওজু/অজু/অযু)র কথা বলতে যেয়ে আল্লাহ তা’আলা আল কুরআনে ইরশাদ করেছেনঃ
فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ
’’তোমরা তোমদের চেহারা ধোবে আর হাত ধোবে কনুই পর্যন্ত।’’
আর তায়াম্মুমের কথা বলতে যেয়ে ইরশাদ করেছেনঃ
فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ
’’তোমরা তোমাদরে চেহারা ধোবে আর হাত ধোবে কনুই পর্যন্ত।’’
চুরির হদ বর্ণনা করতে যেয়েও তিনি হাতের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ করেছেনঃ
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا
’’চোর পুরুষ ও নারীর হাত কেটে ফেলবে।’’
এই ক্ষেত্রে বিধান হল কব্জি পর্যন্ত হাত কাটা। সুতরাং তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও হাত বলত কেব্জি পর্যন্ত বোঝাবে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসটি হাসান, গরীব ও সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي التَّيَمُّمِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ التَّيَمُّمِ، فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَالَ فِي كِتَابِهِ حِينَ ذَكَرَ الْوُضُوءَ: (فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إلى المَرَافِقِ)، وَقَالَ في التَّيَمُّمِ: (فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ) وَقَالَ: (وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيِهْمَا) فَكَانَتِ السُّنَّةُ في القَطْعِ الكَفَّينِ، إِنَّمَا هُوَ الوَجْهُ وَالكَفَّانِ، يَعْنِي التَّيَمُّمَ".
Ikrimah narrated that :
Ibn Abbas was asked ahout Tayammum. He said: "When Allah mentioned Wudu in His Book, He said: "So wash your faces and your hands (forearms) up to the elbows." And He said about Tayammum: "And rub therewith your faces and hands" And He said: "And the male thief and the female thief; cut off their hands." So the Sunnah for cutting is the two hands. So it is only the face and the hands, meaning, Tayammum."
পরিচ্ছেদঃ জুনুবী না হলে কোন অবস্থায় কুরআন তিলওয়াত করা যায়।
১৪৬. আবূ সাঈদ আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) .... আলীরাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, জুনুবী না হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল অবস্থায়ই কুরআন শিক্ষা দিতেন। - ইবনু মাজাহ ৫৯৪, ইরওয়া ১৯২,৪৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন আলী বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। সাহাবী ও তাবিঈগণের একাধিক আলিম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছাড়াও কুরআন তিলাওয়াত করা যায়। তবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছাড়া হামাইল শরীফ স্পর্শ করে পড়া যায় না। ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَعُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، وَابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . قَالُوا يَقْرَأُ الرَّجُلُ الْقُرْآنَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ وَلاَ يَقْرَأُ فِي الْمُصْحَفِ إِلاَّ وَهُوَ طَاهِرٌ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
Ali narrated:
"Allah's Messenger would recite the Qur'an in all conditions, as long as he was not Junub."
পরিচ্ছেদঃ মাটিতে পেশাব লাগলে।
১৪৭. ইবনু আবী উমর ও সাঈদ ইবনু আবদির রাহমান আল মাখযূমী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মসজিদে বসা ছিলেন। তখন এক বেদুঈন মসজিদে এসে প্রবেশ করল। সালাত আদায় করল। পরে দুআ করে বলল হে আল্লাহ! আমাকে আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তুমি দয়া কর। আমাদের সাথে আর কাউকে দয়া করো না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে চাইলেন। বললেন বহু প্রশস্ত এক বিষয়কে তুমি বড় সংকীর্ণ করে ফেললে। কিছুক্ষণ পরেই লোকটি মসজিদেই পেশাব করতে শুরু করল। অন্যান্যরা তাকে বাধা দিতে দ্রুত ছুটে গেলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা এতে এক বালতি পানি ঢেলে দাও। এরপর বললেন তোমদরেকে সহ্জ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠিন করার জন্য পাঠানো হয়নি। - ইবনু মাজাহ ৫২৯, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الْبَوْلِ يُصِيبُ الأَرْضَ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ الْمَسْجِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فَصَلَّى فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا . فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا " . فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَأَسْرَعَ إِلَيْهِ النَّاسُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَهْرِيقُوا عَلَيْهِ سَجْلاً مِنْ مَاءٍ أَوْ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ وَلَمْ تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ " .
Abu Hurairah narrated:
"A Bedouin entered the Masjid while the Prophet was sitting. He prayed, then when he was finished, he said: 'O Allah! Have mercy upon me and Muhammad, and do not have mercy on anyone along with us.' The Prophet turned, towards him and said: 'You have restricted something that is unrestricted.' It was not long before he was urinating in the Masjid. So the people rushed to him. But Prophet said: 'Pour a bucket of water over it - or - a tumbler of water over it.' Then he said: 'You have been sent to make things easy (for the people); you have not been sent to make things difficult for them.'"
পরিচ্ছেদঃ মাটিতে পেশাব লাগলে।
১৪৮. সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। - সহিহ আবু দাউদ ৪০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস এবং ওয়াছিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। আলিমদের কেউ কেউ এই হাদিস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এরও অভিমত এ-ই। যুহরী উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে ইউনুস এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْبَوْلِ يُصِيبُ الأَرْضَ
قَالَ سَعِيدٌ قَالَ سُفْيَانُ وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، نَحْوَ هَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ وَوَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَوَى يُونُسُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
Anas bin Malik narrated
[He said:] There are narrations on this topic from 'Abdullah bin Mas'ud, Ibn Abbas, and Wathilah bin AI-Asqa.