পরিচ্ছেদঃ স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য
১২৮. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাসের উপর জন্ম গ্রহন করে, অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানায়।”[1]
بَابُ الْفِطْرَةِ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا مُبَشِّرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ وَيُمَجِّسَانِهِ"
الراوي : أَبِو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 128 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح
পরিচ্ছেদঃ আমরা যে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছি, সেগুলোর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক
১২৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাসের উপর জন্ম গ্রহন করে, অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানায়।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ" أَرَادَ بِهِ عَلَى الْفِطْرَةِ الَّتِي فطره الله عليها جل وعلا يوم أَخْرَجَهُمْ مِنْ صُلْبِ آدَمَ لِقَوْلِهِ جَلَّ وَعَلَا {فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} .
يَقُولُ: لَا تَبْدِيلَ لِتِلْكَ الْخِلْقَةِ الَّتِي خَلَقَهُمْ لَهَا إِمَّا لِجَنَّةٍ وَإِمَّا لِنَارٍ حَيْثُ أَخْرَجَهُمْ مِنْ صُلْبِ آدَمَ فَقَالَ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ وَهَؤُلَاءِ لِلنَّارِ أَلَا تَرَى أَنَّ غُلَامَ الْخَضِرِ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "طَبَعَهُ اللَّهُ يَوْمَ طَبَعَهُ كَافِرًا" وَهُوَ بَيْنَ أَبَوَيْنِ مُؤْمِنَيْنِ فَأَعْلَمَ اللَّهُ ذَلِكَ عَبْدَهُ الْخَضِرَ وَلَمْ يُعْلِمْ ذَلِكَ كَلِيمَهُ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَا ذَكَرْنَا فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كُتُبِنَا.
আবু হাতিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী “প্রত্যেক শিশু স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, যেদিন তিনি মানুষকে আদম আলাইহিস সালাম এর পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: আল্লাহর ফিতরাত (স্বভাবজাত চেতনা, ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাস, একাত্ববাদ) যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই।” (সূরা রূম: ৩০) তিনি বলেন: আল্লাহর ঐ সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই, যেজন্য তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন তাদেরকে আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে সৃষ্টি করেছেন, তখনি তাদেরকে হয়তো জান্নাত নতুবা জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তিনি বলেছেন: এরা জান্নাতী আর এরা জাহান্নামী। তুমি কি লক্ষ্য করো না, খাযির আলাইহিস সালাম যে শিশুকে হত্যা করেছিলেন, তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মহান আল্লাহ যখন তার প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন, তখন কাফের প্রকৃতি দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। অথচ সে মুমিন পিতা-মাতার সন্তান ছিল। তার ব্যাপারটি মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা খাযির আলাইহিস সালামকে জানিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলা মুসা আলাইহিস সালামকে জানাননি। এসব বিষয় আমরা আমাদের কিতাবের অন্যত্র বর্ণনা করেছি।”
ذِكْرُ إِثْبَاتِ الْأَلِفِ بَيْنَ الْأَشْيَاءِ الثَّلَاثَةِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ"
الراوي : أَبِو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 129 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যারা বলেন যে, হাদীসটি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের কথা অপনোদনে হাদীস
১৩০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাসের উপর জন্ম গ্রহন করে, অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানায়। যেমনভাবে তোমাদের উষ্ট্রীগুলো বাচ্চা দেয়, তাতে কি তোমরা কান কাটা দেখতে পাও? আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহ তা’আলা আনহু বলেন: তোমরা চাইলে মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী পড়ে দেখতে পারো: আল্লাহর ফিতরাত (স্বভাবজাত চেতনা, ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাস, একাত্ববাদ) যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই।” (সূরা রূম: ৩০) [1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ وَيُمَجِّسَانِهِ" مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا إِنَّ الْعَرَبَ تُضِيفُ الْفِعْلَ إِلَى الْآمِرِ كَمَا تُضِيفُهُ إِلَى الْفَاعِلِ فَأَطْلَقَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَ التَّهَوُّدِ وَالتَّنَصُّرِ وَالتَّمَجُّسِ عَلَى مَنْ أَمَرَ وَلَدَهُ بِشَيْءٍ مِنْهَا بِلَفْظِ الْفِعْلِ لَا أَنَّ الْمُشْرِكِينَ هُمُ الَّذِينَ يُهَوِّدُونَ أَوْلَادَهُمْ أَوْ يُنَصِّرُونَهُمْ أَوْ يُمَجِّسُونَهُمْ دُونَ قَضَاءِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي سَابِقِ عِلْمِهِ فِي عبيده على حسب مَا ذَكَرْنَاهُ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كُتُبِنَا وهذا كقول بن عُمَرَ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَلَقَ رَأْسَهُ فِي حَجَّتِهِ يُرِيدُ بِهِ أَنَّ الْحَالِقَ فَعَلَ ذَلِكَ بِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَفْسَهُ وَهَذَا كَقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ حِينَ يَخْرُجُ أَحَدُكُمْ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى الصَّلَاةِ فَخُطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالْأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً" يُرِيدُ أَنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ لَا أَنَّ الْخُطْوَةَ تَحُطُّ الْخَطِيئَةَ أَوْ تَرْفَعُ الدَّرَجَةَ وَهَذَا كَقَوْلِ النَّاسِ الْأَمِيرُ ضَرَبَ فُلَانًا أَلْفَ سَوْطٍ يُرِيدُونَ أَنَّهُ أَمَرَ بِذَلِكَ لا أنه فعل بنفسه.
আবু হাতিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী “প্রত্যেক শিশু স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে”আমরা আমাদের কিতাবে বলেছি যে, ক্রিয়াকে যেমনভাবে তার কর্তার দিকে সম্পর্কিত করা হয় অনুরুপভাবে আরবরা কোন কোন সময় ক্রিয়াকে নির্দেশদাতার দিকে সম্পর্কিত করে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানানোর ক্রিয়াকে এসব হওয়ার নির্দেশদাতার প্রতি সম্পর্কিত করেছেন। এখানে এর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, বান্দার ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বজ্ঞান অনুসারে তাঁর ফায়সালা ছাড়াই মুশরিকরা তাদের সন্তানকে ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান বা অগ্নীপূজক বানায়। এসব আমরা আমাদের কিতাবের অন্যত্র বর্ণনা করেছি। এটি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা এর উক্তির মতই। তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জের সময় মাথা মুন্ডন করেছিলেন।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুন্ডনকারী তাঁকে মুন্ডন করে দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তিনি নিজেই মাথা মুন্ডন করেছিলেন। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিম্নোক্ত বাণীর মতই: তোমাদের কেউ যখন তার বাড়ি থেকে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন তার দুই পদক্ষেপের এক পদক্ষেপ পাপ মোচন করে দেয় আরেক পদক্ষেপ মর্যাদা সমুন্নত করে দেয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ এমনটা করতে নির্দেশ দেন, এর অর্থ এটা নয় যে, খোদ পদক্ষেপই পাপ মুছে দেয়। এটি মানুষের এই কথার মতই: “আমীর ওমুক ব্যক্তিকে প্রহার করেছেন।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমীর প্রহার করার নির্দেশ দিয়েছেন; এর উদ্দেশ্য এটা নয় যে, আমীর নিজেই তাকে প্রহার করেছেন।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ هَذَا الْخَبَرَ تَفَرَّدَ بِهِ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ وَيُمَجِّسَانِهِ كَمَا تَنْتِجُونَ إِبِلَكُمْ هَذِهِ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ؟ " ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَاقْرَؤُوا إن شئتم {فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} "
الراوي : أَبِو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 130 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যে হাদীস কোন আলিমকে সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত দুই হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক
১৩১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুশরিক সন্তানদের (পরিণতি) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে জবাবে তিনি বলেন: “তারা (বেঁচে থাকলে) কী আমল করতো, তা আল্লাহ সম্যক অবগত।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ قَدْ يُوهِمُ عَالِمًا مِنَ النَّاسِ أَنَّهُ مُضَادُّ لِلْخَبَرَيْنِ اللَّذَيْنِ ذَكَرْنَاهُمَا قَبْلُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بن يحيى حدثنا بن وهب أنبأنا يونس عن بن شِهَابٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِينَ فقال: "الله أعلم بما كانوا عاملين"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 131 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যে হাদীস ইলমে হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণিত হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক
১৩২. আসওয়াদ বিন সারি’, যিনি একজন কবি ছিলেন এবং এই মাসজিদে তিনিই প্রথম ওয়াজ করা শুরু করেন, তিনি বলেন: এক সময় মুশরিকদের মাঝে মানুষ হত্যার ব্যাপারটি এমন হয় যে, তারা শিশু হত্যা শুরু করে। এই সংবাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন: “মুশরিকদের সন্তানরা কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ নয়? প্রতিটি শিশু ইসলামের সহজাত চেতনা-বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে, বালেগ হওয়া পর্যন্ত তারা এই চেতনার উপর থাকে। অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানায়।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: فِي خَبَرِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ هَذَا: "مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُولَدُ إِلَّا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ" أَرَادَ بِهِ الْفِطْرَةَ الَّتِي يَعْتَقِدُهَا أَهْلُ الْإِسْلَامِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا قَبْلُ حَيْثُ أَخْرَجَ الْخَلْقَ مِنْ صُلْبِ آدَمَ فَإِقْرَارُ الْمَرْءِ بِتِلْكَ الْفِطْرَةِ مِنَ الْإِسْلَامِ فَنَسْبُ الْفِطْرَةُ إِلَى الإسلام عند الاعتقاد على سبيل المجاورة.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “আসওয়াদ বিন সারি’ এর হাদীসের ভাষ্য: “প্রতিটি শিশু ইসলামের সহজাত চেতনা-বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে” –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেসব আকীদা-বিশ্বাস যা মুসলিমরা বিশ্বাস করে থাকেন। এই সম্পর্কে আলোচনা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মহান আল্লাহ আদম সন্তানকে আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করেছেন। কাজেই কোন মানুষের উক্ত ফিতরাতের স্বীকৃতি দেওয়া ইসলামের অর্ন্তভূক্ত। সুতরাং আকীদার ক্ষেত্রে ফিতরাতকে ইসলামের দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে নিকটবর্তী হওয়ার কারণে।”
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةَ الْحَدِيثِ أَنَّهُ مُضَادُّ لِخَبَرِ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى أَبُو الْهَيْثَمِ وَكَانَ عَاقِلًا حَدَّثَنَا الْحَسَنُ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ وَكَانَ شَاعِرًا وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ قَصَّ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ قَالَ: أَفْضَى بِهِمُ الْقَتْلُ إِلَى أَنْ قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "أَوَلَيْسَ خِيَارُكُمْ أَوْلَادَ الْمُشْرِكِينَ مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُولَدُ إِلَّا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ حَتَّى يُعْرِبَ فَأَبَوَاهُ يهودانه وينصرانه ويمجسانه"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 132 | خلاصة حكم المحدث: رجاله ثقات
হাদীসটির রাবীদেরকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহা: ৪০২)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বক্তব্য “তারা (বেঁচে থাকলে) কী আমল করতো, তা আল্লাহ সম্যক অবগত”, “প্রতিটি শিশু ইসলামের সহজাত চেতনা-বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে” তাঁর এই বক্তব্যের পরে ছিল- এই মর্মে সুষ্পষ্ট হাদীস
১৩৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক শিশু ইসলামের সঠিক আকীদা-বিশ্বাসের উপর জন্ম গ্রহন করে, অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রীষ্টান ও অগ্নীপূজক বানায়। যেমনভাবে উষ্ট্রী পরিপূর্ণ বাচ্চা জন্ম দেয়, তাতে কি তোমরা কান কাটা দেখতে পাও? সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেসব শিশুর ব্যাপারে আপনার কী অভিমত যারা শৈশবেই মারা যায়? তিনি বলেন: “তারা (বেঁচে থাকলে) কী আমল করতো, তা আল্লাহ সম্যক অবগত” [1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُصَرِّحَ بِأَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ", كَانَ بَعْدَ قَوْلِهِ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ".
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَحَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ كَمَا تُنَاتَجُ الْإِبِلُ مِنْ بَهِيمَةٍ جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّ مِنْ جَدْعَاءَ"؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَرَأَيْتَ مَنْ يَمُوتَ وَهُوَ صَغِيرٌ قَالَ: "اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عاملين"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 133 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط الشيخين
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহা: ৪০২)
পরিচ্ছেদঃ “মুশরিকদের সন্তানরা কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ নয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বক্তব্যের কারণ
১৩৪. আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবুল কাসিম মুহাম্মাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “আমাদের প্রতিপালক একদল লোক দেখে মুগ্ধ হন, যাদেরকে শিকল পড়িয়ে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "عَجِبَ رَبُّنَا", مِنْ أَلْفَاظِ التَّعَارُفِ الَّتِي لَا يَتَهَيَّأُ عِلْمُ الْمُخَاطَبِ بِمَا يُخَاطَبُ بِهِ فِي الْقَصْدِ إِلَّا بِهَذِهِ الْأَلْفَاظِ الَّتِي اسْتَعْمَلَهَا الناس فيما بينهم والقصد في هذا الْخَبَرِ السَّبْيُ الَّذِي يَسْبِيهِمُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ دَارِ الشِّرْكِ مُكَتَّفِينَ فِي السَّلَاسِلِ يُقَادُونَ1 بِهَا إِلَى دُورِ الْإِسْلَامِ حَتَّى يُسْلِمُوا فَيَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلِهَذَا الْمَعْنَى أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِ في خبر الأسود بن سريع "أوليس خِيَارَكُمْ أَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ" وَهَذِهِ اللَّفْظَةُ أُطْلِقَتْ أَيْضًا بحذف من عنها يريد أوليس من خياركم.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী “"عَجِبَ رَبُّنَا" “ (আমাদের প্রতিপালক মুগ্ধ হন) –এগুলো মানুষের মাঝে প্রচলিত শব্দ; এগুলি এমন কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ শব্দ যা শ্রোতা তাদের মাঝে প্রচলিত এই ধরণের শব্দ ছাড়া উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না।[2]
হাদীসের মর্ম হলো সেই সব লোক যাদেরকে মুসলিমগণ দারুল কুফর থেকে কিছু মুশরিকদের বন্দি করে শিকল পরিয়ে দারুল ইসলামে নিয়ে আসে, অতঃপর এক পর্যায়ে তারা মুসলিম হয়ে যান। ফলে তাঁরা জান্নাতে প্রবেশ করেন।
“মুশরিকদের সন্তানরা কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ নয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বক্তব্যের অর্থও এমনই; এই বাক্যেও مِنْ (অন্যতম) উহ্য আছে। কাজেই বাক্যের মর্মার্থ হলো: মুশরিকদের সন্তানরা কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত নয়?”
ذكر العلة مِنْ أَجْلِهَا قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَوَلَيْسَ خِيَارَكُمْ أَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ"
سَمِعْتُ أَبَا خَلِيفَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ بَكْرِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ مُسْلِمٍ يَقُولُ سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ مُسْلِمٍ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ زِيَادٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ أَقْوَامٍ يُقَادُونَ إِلَى الْجَنَّةِ فِي السَّلَاسِلِ"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 134 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
[2] আল্লাহর সিফাত হিসেবে ব্যবহৃত এই ধরণের শব্দগুলোর প্রকৃত ও প্রচলিত অর্থই গ্রহন করতে হবে। (মাজমূ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া: ১/২৪৩; ঈমান: ১১১) এই ধরণের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা, বিকৃতি প্রভৃতি করে প্রকৃত অর্থ বাতিল করা যাবে না বা অন্য অর্থে ব্যবহার করা যাবে না। (মাজমূ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম বিন বায রহিমাহুল্লাহ: ৬/৩৫০) -অনুবাদক
পরিচ্ছেদঃ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি ভালভাবে জ্ঞান অর্জন করেননি এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত
১৩৫. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক যুদ্ধে একজন নিহত নারীকে দেখলেন, অতঃপর তিনি এটাকে খুবই অপছন্দ করলেন এবং নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ مَنْ لَمْ يُحْسِنْ طَلَبَ الْعِلْمِ مِنْ مَظَانِّهِ أَنَّهُ مُضَادُّ لِلْأَخْبَارِ الَّتِي تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهَا
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ: "أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ امْرَأَةً مَقْتُولَةً فَأَنْكَرَ ذلك ونهى عن قتل النساء والصبيان"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 135 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط الشيخين
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল ইরওয়া: ১২১০)
পরিচ্ছেদঃ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি মজবুত জ্ঞান অর্জন করেননি এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত
১৩৬. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, সা’ব বিন জাস্সামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, সেসময় আমি আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান নামক জায়গায় ছিলাম।আমি তাঁকে বন্য গাধার মাংস হাদীয়া দিলে, তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, অতঃপর যখন তিনি আমার চেহারায় অপছন্দের ভাব লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন: “আমরা এটা তোমাকে ফিরিয়ে দিতাম না কিন্তু আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো জিজ্ঞেস করা হয় মুশরিকদের বাড়িতে রাত্রে আকস্মিক আক্রমন করা সম্পর্কে যাতে তাদের নারী ও শিশু আক্রান্ত হয়, জবাবে তিনি বলেন: “ওরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।”
রাবী বলেন, আমি তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “চারণভূমি সংরক্ষিত করার অধিকার আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতিত আর কারো নেই।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةَ الْحَدِيثِ أَنَّهُ مُضَادُّ لِلْأَخْبَارِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا قَبْلُ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْنَاهُ مِنِ الزُّهْرِيِّ عَودًا وَبَدْءًا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ بن عَبَّاسٍ قَالَ أَخْبَرَنِي الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ قَالَ: مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا بِالْأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَأَهْدَيْتُ إِلَيْهِ لَحْمَ حِمَارٍ وَحْشٍ فَرَدَّهُ عَلَيَّ فَلَمَّا رَأَى الْكَرَاهِيَةَ فِي وَجْهِي قَالَ: "إِنَّهُ لَيْسَ بِنَا رَدٌّ عَلَيْكَ وَلَكِنَّا حُرُمٌ".
وَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الدَّارِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يُبَيَّتُونَ فَيُصَابُ مِنْ نِسَائِهِمْ وَذَرَارِيِّهِمْ قَالَ: "هُمْ مِنْهُمْ".
قَالَ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: "لَا حِمَى إِلَّا لله ورسوله"
الراوي : عَبْد اللَّهِ بن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 136 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
হাদীসটি প্রথম দুই অংশ বর্ণিত হয়েছে মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৭; সহীহ মুসলিম: ১১৯৪; ইবনু মাজাহ: ৩০৯০; মুয়াত্তা মালিক: ১/৩২৫; সহীহ বুখারী: ১৮২৫; নাসাঈ: ৫/১৮৩; বাইহাকী: ৫/১৯১; তাবারানী: ৭৪৩১; তিরমিযী: ৮৪৯ প্রভৃতি কিতাবে।
হাদীসটির দ্বিতীয় অংশ বর্ণিত হয়েছে মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা: ১২/৩৮৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৭; মুসলিম; ১৭৪৫; আবু দাউদ: ২৬৭২; তিরমিযী: ১৫৭০; ইবনু মাজাহ: ২৮৩৯ প্রভৃতিতে।
হাদীসটির তৃতীয় অংশ বর্ণিত হয়েছে মুসনাদ আহমাদ: ৪/৭১; সহীহ বুখারী: ৩০১২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯৭৫০; তাবারানী: ৭৪১৯; বাইহাকী: ৬/১৪৬; আবু দাউদ: ৩০৮৩; দারাকুতনী: ৪/২৩৮ প্রভৃতি কিতাবে।
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২৭০৫)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “ওরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। ”পরবর্তীতে তিনি মুশরিকদের শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন মর্মে সুস্পষ্ট হাদীস
১৩৭. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সা’ব বিন জাস্সামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “চারণভূমি সংরক্ষিত করার অধিকার আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতিত আর কারো নেই।”
আমি তাঁকে আরো প্রশ্ন করেছি মুশরিকদের শিশুদের সম্পর্কে; আমরা কি মুশরিকদের সাথে তাদের শিশুদেরও হত্যা করবো? তিনি বলেন: “হ্যা, তাদেরকেও হত্যা করবে। কেননা ওরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।” এরপর তিনি হুনাইনের যুদ্ধে তাদের শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُصَرِّحِ بِأَنَّ نَهْيَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِ الذَّرَارِيِّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ كَانَ بَعْدَ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "هُمْ مِنْهُمْ"
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سِنَانٍ الْقَطَّانُ بِوَاسِطَ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ بن عَبَّاسٍ عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم يقول: "لا حمى إلا لله ولرسوله" وسألته عن أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ أَنَقْتُلُهُمْ مَعَهُمْ قَالَ: "نَعَمْ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ" ثُمَّ نَهَى عَنْ قَتْلِهِمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ.
الراوي : عَبْد اللَّهِ بن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 137 | خلاصة حكم المحدث: إسناده حسن
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২৩৯৭)
পরিচ্ছেদঃ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি চোখ বন্ধ রাখে এবং অন্য ইলমে নিজেকে নিয়োজিত রাখে এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত
১৩৮. উম্মুল মুমিনীন ’আইশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, একটা শিশু মারা গেলে আমি বললাম: “শিশুটি কতো ভাগ্যবান! সে জান্নাতের চড়ুইপাখিগুলোর মাঝে একটি চড়ুইপাখি! (এটা শুনে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “’আইশা, তুমি কী জাননা, আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন অতঃপর জান্নাতের জন্য তার অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন এবং জাহান্নামের জন্যও তার অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِ هَذَا تَرْكَ التَّزْكِيَةِ لِأَحَدٍ مَاتَ عَلَى الْإِسْلَامِ وَلِئَلَّا يُشْهَدَ بِالْجَنَّةِ لِأَحَدٍ وَإِنْ عُرِفَ مِنْهُ إِتْيَانُ الطَّاعَاتِ وَالِانْتِهَاءُ عَنِ الْمَزْجُورَاتِ لِيَكُونَ الْقَوْمُ أَحْرَصَ عَلَى الْخَيْرِ وَأَخْوَفَ مِنَ الرَّبِّ لَا أَنَّ الصَّبِيَّ الطِّفْلَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يُخَافُ عَلَيْهِ النَّارُ وَهَذِهِ مَسْأَلَةٌ طَوِيلَةٌ قَدْ أَمْلَيْنَاهَا بِفُصُولِهَا وَالْجَمْعُ بَيْنَ هَذِهِ الْأَخْبَارِ فِي كِتَابِ فُصُولُ السُّنَنِ وَسَنُمْلِيهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بَعْدَ هَذَا الْكِتَابِ فِي كِتَابِ الْجَمْعُ بَيْنَ الْأَخْبَارِ وَنَفْيُ التَّضَادِّ عَنِ الْآثَارِ إِنْ يسر الله تعالى ذلك وشاء.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো ইসলামের উপর মৃত্যুবরণকারী কারো জন্য প্রশংসা না করা এবং কারো জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য না দেওয়া যদিও সে ব্যক্তি ভালো কাজ পালন এবং নিষিদ্ধ কাজ বর্জনকারী হিসেবে সুপরিচিত হন, যাতে মানুষ কল্যানের কাজে বেশি আগ্রহী হতে পারে এবং তার প্রতিপালককে বেশি ভয় করে। এই হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, মুসলিম শিশু মারা গেলে তার জাহান্নামে যাওয়ার আশংকা আছে। এটি একটি বৃহত্তর মাসআলাহ; যা আমরা এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করেছি। এই সমস্ত হাদীসের মাঝে সমন্বয় ’ফুসূলুস সুনান’ কিতাবে আছে। যদি আল্লাহ চান এবং সহজ করে দেন তাহলে এই সম্পর্কে এই কিতাবের পর الْجَمْعُ بَيْنَ الْأَخْبَارِ وَنَفْيُ التَّضَادِّ عَنِ الْآثَارِ নামক কিতাবে লিখবো ইনশাআল্লাহ।”
ذِكْرُ خَبَرٍ قَدْ أَوْهَمَ مَنْ أَغْضَى عَنْ عِلْمِ السُّنَنِ وَاشْتَغَلَ بِضِدِّهَا أَنَّهُ يُضَادُّ الْأَخْبَارَ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا قَبْلُ
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ تُوُفِّيَ صَبِيٌّ فَقُلْتُ طُوبَى لَهُ عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَوَلَا تَدْرِينَ أَنَّ اللَّهَ خَلَقَ الجنة وخلق النار فخلق لهذه أهلا ولهذه أهلا"
الراوي : عَائِشَة أُمّ الْمُؤْمِنِينَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 138 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইবনু মাজাহ: ৮২)
পরিচ্ছেদঃ শরীয়তের দায়-দায়িত্ব - মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাধ্যাতিত কাজের দায়িত্ব দেন না, এই মর্মে বর্ণিত হাদীসসমূহ
১৩৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর এই আয়াত নাযিল হলো:
{لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}
অর্থ: “আসমানসমূহ ও যমিনে যা কিছু আছে, সব আল্লাহর জন্যই। তোমাদের মনে যা আছে তা যদি প্রকাশ করো অথবা গোপন রাখো, আল্লাহ এই ব্যাপারে তোমাদের হিসাব নিবেন।অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন আর যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।” (সূরা আল বাকারা: ২৮৪)
এই সময় সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে হাটু গেড়ে বসলেন এবং বলতে লাগলেন: “আমরা তো এটা মানতে সক্ষম হবো না, আমাদের এমন কিছু আমল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা পালন করার ক্ষমতা আমরা রাখি না।” তখন আয়াত নাযিল হলো:
{آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ} থেকে {غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} এই পর্যন্ত ।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের পূর্ববতী আহলে কিতাবরা যেভাবে বলেছিল, তোমরাও সেভাবে বলো না। ওরা বলেছিল: “আমরা শুনলাম আর অবাধ্য হলাম।” বরং তোমরা বলো যে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আমরা তোমার ক্ষমা চাচ্ছি, হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।” এসময় আয়াত নাযিল হলো:
{لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا}
অর্থ: “আল্লাহ মানুষকে তার সাধ্যাতিত কাজের দায়িত্ব দেন না। সে ভাল যা উপার্জন করে, তার কর্মফল তারই আর মন্দ যা উপার্জন করে তার ফলাফলও তারই উপর বর্তাবে। হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করি, এজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না।” (সূরা আল বাকারা: ২৮৬) (বান্দা যখন এই দু’আ করে তখন আল্লাহ) বলেন: “হ্যাঁ, তাই হবে।”
{رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا}
অর্থ: ”হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না, যেভাবে তুমি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলে।” (সূরা আল বাকারা: ২৮৬) আল্লাহ বলেন: “হ্যাঁ, তাই হবে।”
{رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ}
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদের উপর এমন কিছু চাপিয়ে দিয়ো না, যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের মাফ করে দাও, ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের প্রতি দয়া করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক। অতএব তুমি আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের উপর বিজয় দান করো।” (সূরা আল বাকারা: ২৮৬) আল্লাহ বলেন: “হ্যাঁ, তাই হবে।”[1]
بَابُ التَّكْلِيفِ- ذِكْرُ الْأَخْبَارِ عَنْ نَفْيِ تَكْلِيفِ اللَّهِ عِبَادَهُ مَا لَا يُطِيقُونَ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ الْآيَةُ {لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} أَتَوَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَثَوْا عَلَى الرُّكَبِ وَقَالُوا لَا نُطِيقُ لَا نَسْتَطِيعُ كُلِّفْنَا مِنَ الْعَمَلِ مَا لَا نُطِيقُ وَلَا نَسْتَطِيعُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ} إلى قوله: {غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تَقُولُوا كَمَا قَالَ أَهْلُ الْكِتَابِ مِنْ قَبْلِكُمْ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا بَلْ قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ" فَأَنْزَلَ اللَّهُ {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} قَالَ: نَعَمْ {رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا} قَالَ: نَعَمْ {رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} قال نعم.
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 139 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ “দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই” (সূরা আল বাকারা: ২৫৬) আয়াতটি যে অবস্থায় নাযিল হয়, তার বর্ণনা
১৪০. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি “দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই” (সূরা আল বাকারা: ২৫৬) এই আয়াতের ব্যাপারে বলেন: ইসলামপূর্ব যুগে আনসারী কোন নারীর সন্তান বেঁচে না থাকলে, তখন এই শপথ করতো যে, যদি তার কোন সন্তান বেঁচে থাকে, তাহলে সে তাকে ইয়াহুদি বানাবে। অতঃপর যখন বানু নাযীর ইয়াহুদি গোত্রকে দেশান্তর করা হয়, তখন আনসারগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের (এই ধরণের মান্নত করা কিছু সন্তান ইয়াহুদিদের মাঝে আছে) এসব সন্তানদের কী হবে? তখন আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেন: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} “দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই” (সূরা আল বাকারা: ২৫৬) সাঈদ বিন যুবাইর বলেন: এরপর যার ইচ্ছা ইয়াহুদিদের সাথে যুক্ত হয়, আর যার ইচ্ছা সে ইসলামে প্রবেশ করেন।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنِ الْحَالَةِ الَّتِي مِنْ أَجْلِهَا أنزل الله جل وعلا: {لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ}
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بِبُسْتَ قَالَ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} [البقرة: 256] قَالَ: كَانَتَ الْمَرْأَةُ مِنَ الْأَنْصَارِ لَا يَكَادُ يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ فَتَحْلِفُ لَئِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ لَتُهَوِّدَنَّهُ فَلَمَّا أُجْلِيَتْ بَنُو النَّضِيرِ إِذَا فِيهِمْ نَاسٌ مِنْ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبْنَاؤُنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَمَنْ شَاءَ لَحِقَ بهم ومن شاء دخل في الإسلام.
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 140 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرطهما
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২৪০৪)
পরিচ্ছেদঃ যে ফরযকে আল্লাহ তা‘আলা নফল হিসেবে নির্ধারণ করেন, হতে পারে সেটাকে তিনি দ্বিতীয় বার ফরয করে দিবেন, ফলে যে কাজটি প্রথমে ফরয ছিল, সেটা শেষাবধি আবার ফরয হিসেবে গণ্য হবে
১৪১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রমযানের একরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (স্বীয় হুজরা থেকে মাসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হলেন। অতঃপর মাসজিদে তারাবীহর সালাত আদায় করলেন। এসময় কিছু সাহাবী তাঁর সালাতের ইকতিদা করে তার পেছনে সালাত আদায় করেন।পরদিন সকালে এই বিষয় নিয়ে লোকদের মাঝে আলোচনা হয়। ফলে এদিন আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক মাসজিদে জমায়েত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিতীয় রাতেও মাসজিদে আসলেন এবং সাহাবাগণ তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। পরদিন সকালে আবারো এই বিষয় নিয়ে লোকদের মাঝে আলোচনা হয়। ফলে তৃতীয় রাতে মাসজিদে প্রচুর লোক জমায়েত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তৃতীয় রাতেও মাসজিদে আসলেন এবং সাহাবাগণ তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। এভাবে চতুর্থ রাতে এতো বিপুল সংখ্যক জমায়েত হলো যে, মাসজিদে জায়গা সংকুলান হচ্ছিল না। এ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য ছাড়া আর মাসজিদে আসেননি। ফজরের সালাত শেষ হলে তিনি মানুষের সামনে আগমন করেন এবং খুতবা পাঠ করে বলেন: “অতঃপর, তোমাদের অবস্থান আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমার আশংকা হচ্ছিল এটা তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে আর তখন তোমরা তা পালন করতে পারবে না।”
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ব্যাপারে বিধানগত কোন ফায়সালা না দিয়ে মানুষকে এই সালাত আদায় করার জন্য উৎসাহিত করতেন।তিনি বলতেন: “যে ব্যক্তি রমাযানে রাতে ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ”অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে চলে যান, এই ব্যাপারটি এমনি থাকে। আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত কালে এবং উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের প্রথম দিকেও ব্যাপারটি এমনি ছিল।[1] (অতঃপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের কিছুকাল পর তারাবীহর সালাত জামা’আতে পড়ার প্রচলন শুরু হয়।)
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْفَرْضَ الَّذِي جَعَلَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا نَفْلًا جَائِزٌ أَنْ يُفْرَضَ ثَانِيًا فَيَكُونُ ذَلِكَ الْفِعْلُ الَّذِي كَانَ فَرَضًا فِي الْبِدَايَةِ فَرْضًا ثَانِيًا فِي النِّهَايَةِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَجَ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ حَفْصٍ النُّفَيْلِيُّ قَالَ قَرَأْنَا عَلَى مَعْقِلِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى رِجَالٌ وَرَاءَهُ بِصَلَاتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا بِذَلِكَ فَاجْتَمَعَ أَكْثَرَهُمْ مِنْهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثَّانِيَةَ فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا بِذَلِكَ فَاجْتَمَعَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ لَيْلَةَ الثَّالِثَةِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إلَا لِصَلَاةِ الْفَجْرِ فَلَمَّا قُضِيَتْ صَلَاةُ الْفَجْرِ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ: "أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ مَكَانُكُمْ وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَقْعُدُوا عَنْهَا".
وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِقَضَاءِ أَمْرٍ فِيهِ يَقُولُ: "مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذنبه" فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خلافة عمر رضوان الله عليهم أجمعين.
الراوي : عَائِشَة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 141 | خلاصة حكم المحدث: إسناده حسن
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সালাতুত তারাবীহ)
পরিচ্ছেদঃ ঐ কারণের বিবরণ, যে কারণ না থাকলে গোনাহ লিখার কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়
১৪২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন শ্রেণির মানুষ থেকে (গোনাহ লিখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।(১) ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে, যতক্ষণ না সে ঘুম থেকে জাগ্রত হয় (২) নাবালেগ শিশু থেকে যতক্ষণ না সে বালেগ হয় (৩) পাগল থেকে যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়।” [1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنِ الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجْلِهَا إِذَا عُدِمَتْ رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ عَنِ النَّاسِ فِي كِتْبَةِ الشَّيْءِ عَلَيْهِمْ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْغُلَامِ حَتَّى يَحْتَلِمَ وعن المجنون حتى يفيق".
الراوي : عَائِشَة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 142 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইবনু মাজাহ: ২০৪১)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় হাদীস যা আমাদের উল্লেখিত বিষয়কে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে
১৪৩. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী বিন আবু তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওমুক গোত্রের পাগলীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যে ব্যভিচার করেছিল। ফলে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করার আদেশ দিলেন। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে ছেড়ে নিলেন। এরপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আমিরুল মুমিনূন, আপনি কি একে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে চান? জবাবে তিনি বললেন: হ্যা। তখন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আপনার কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা স্মরণ নেই? তিনি বলেছেন: তিন শ্রেণির মানুষ থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। (১) ঐ পাগল থেকে যার জ্ঞানের উপর উন্মত্ততা জয়যুক্ত হয়েছে (২) ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে যতক্ষন না সে জাগ্রত হয় (৩) শিশু থেকে যতক্ষন না সে বালেগ হয়।” এটি শুনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হ্যা, আপনি সত্যই বলেছেন। অতঃপর তিনি তাকে ছেড়ে দেন।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا يونس بن عبد الأعلى حدثنا بن وَهْبٍ أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَرَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله تعالى عَنْهُ بِمَجْنُونَةِ بَنِي فُلَانٍ قَدْ زَنَتْ أَمَرَ عُمَرُ بِرَجْمِهَا فَرَدَّهَا عَلِيٌّ وَقَالَ لِعُمَرَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتَرْجُمُ هَذِهِ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: أو ما تَذْكُرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ" قَالَ صَدَقْتَ فخلى عنها.
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 143 | خلاصة حكم المحدث: رجاله ثقات رجال مسلم.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল ইরওয়া: ২/৫)
পরিচ্ছেদঃ আমরা পূর্বের দুটো হাদীস ব্যাখ্যা করেছি যে, যাদের থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে বস্তুত তাদের পাপ লিখনের কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; সাওয়াব লিখনের কলম নয়- এর প্রমাণে হাদীস
১৪৪. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিদায় হজ্জের পর মদীনার উদ্দেশ্যে) মক্কা থেকে বের হলেন। অতঃপর যখন তিনি রাওহা নামক জায়গায় পৌঁছলেন তখন একদল আরোহী ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। এসময় তিনি তাদেরকে সালাম দেন এবং জিজ্ঞেস করেন: আপনারা কারা? তাঁরা জবাব দেন: আমরা মুসলিম। আপনারা কারা? জবাবে বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এসময় তাদের এক নারী তড়িঘড়ি করে তার হাওদা থেকে তার বাচ্চাকে বাহু ধরে উঁচু করে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এই বাচ্চার হজ্জ হয়েছে কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: হ্যা, হয়েছে। আর তোমার জন্যও এর সাওয়াবের একটা অংশ রয়েছে।”[1]
قَالَ إِبْرَاهِيمُ: فحدثتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ فَحَجَّ بأهله أجمعين
রাবী ইবরাহিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’আমি হাদীসটি ইবনুল মুনকাদির রহিমাহুল্লাহকে বর্ণনা করলে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে হ্জ্জ করেন।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى صِحَّةِ مَا تَأَوَّلْنَا الْخَبَرَيْنِ الْأَوَّلَيْنِ اللَّذَيْنِ ذَكَرْنَاهُمَا بِأَنَّ الْقَلَمَ رُفِعَ عَنِ الْأَقْوَامِ الَّذِينَ ذَكَرْنَاهُمْ فِي كِتْبَةِ الشَّرِّ عَلَيْهِمْ دُونَ كِتْبَةِ الْخَيْرِ لَهُمْ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُهُ مِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ كُرَيْبًا يُخْبِرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَرَ مِنْ مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ بِالرَّوْحَاءِ اسْتَقْبَلَهُ رَكْبٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: "مَنِ الْقَوْمُ؟ " قَالُوا: الْمُسْلِمُونَ "فَمَنْ أَنْتُمْ؟ " قَالَ: "رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ" فَفَزِعَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُمْ فَرَفَعَتْ صَبِيًّا لَهَا مِنْ مِحَفَّةٍ وَأَخَذَتْ بِعَضَلَتِهِ فقالت: يا رسول هَلْ لِهَذَا حَجٌّ؟ قَالَ: "نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ"
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 144 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১৫২৫)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মনে এমন কিছু উদিত হয় যা মুখে উচ্চারণ করা জায়েয নেই- এমন ব্যক্তির থেকে আল্লাহ পাপ উঠিয়ে নিয়েছেন মর্মে হাদীস
১৪৫. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললো: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা আমাদের অন্তরে এমন কিছু পাই, যা আমরা মুখে উচ্চারণ করা পছন্দ করি না, যদিও এর বিনিময়ে সূর্য যার উপর উদিত হয় অর্থাৎ পৃথিবীর মধ্যস্থিত সকল কিছু দেওয়া হয়। ”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা আসলেই এমনটা অনুভব করো কী?” তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, আমরা এমনটা অনুভব করি।” অতঃপর তিনি বললেন: “এটাই তো সুস্পষ্ট ঈমান।”[1] [2]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا وَضَعَ اللَّهُ مِنَ الْحَرَجِ عَنِ الْوَاجِدِ فِي نَفْسِهِ مَا لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَنْطِقَ بِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ الله إنا لنجد في أَنْفُسِنَا أَشْيَاءَ مَا نُحِبُّ أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَا وَإِنَّ لَنَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "قَدْ وَجَدْتُمْ ذَلِكَ"؟ قالوا: نعم, قال: "ذاك صريح الإيمان"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 145 | خلاصة حكم المحدث: إسناده حسن.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আয যিলাল: ৬৫৫)
[2] “এটাই তো সুস্পষ্ট ঈমান” যে ব্যক্তি মনে অবাঞ্চিত কথার উদয় হওয়াকে এতোটাই অপছন্দ করে যে, তাকে দুনিয়ার সমস্ত কিছু দেওয়া হলেও তা সে মুখে উচ্চারণ করবে না, সেসব কথা বিশ্বাস করা তো বহু দূরের কথা। কাজেই অবাঞ্চিত ভাবনার ব্যাপারে মনের এমন দৃঢ় চেতনা কেবল পাক্কা মুমিনের অন্তরেই জাগ্রত হতে পারে। বস্তুত এই ধরণের মনোভাব সুস্পষ্টে ঈমান থেকেই উৎসারিত হয়। ঈমানই মানুষের মনে এমন গুরুভাব জাগ্রত করে। আর কাফির, ফাজের, মুনাফিকদের নিয়ে শয়তান অনায়াসে খেলা করে, তাদের অন্তরে এমন পাপ বোধ আদৌ জন্ম হয় না। (দ্রষ্টব্য: শারহু মুসলিম: ২/১৫৪) -অনুবাদক
পরিচ্ছেদঃ সহীহ হাদীস বিষয়ে যার পান্ডিত্ব নেই এবং হাদীসের মর্ম যিনি গভীরভাবে অনুধাবন করে না তাকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমরা মনে যা উদিত হওয়ার কথা বললাম, খোদ সেটার উপস্থিতিই হলো নির্ভেজাল ঈমান
১৪৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, সাহাবাগণ আরয করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা আমাদের মনে এমন কিছু অনুভব করি, যা উচ্চারণ করার চেয়ে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া আমাদের কাছে বেশি প্রিয়!” জবাবে তিনি বলেন: “এটা নির্ভেজাল ঈমান।”[1]
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: إِذَا وَجَدَ الْمُسْلِمُ فِي قَلْبِهِ أَوْ خَطَرَ بِبَالِهِ مِنَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي لَا يَحِلُّ لَهُ النُّطْقُ بِهَا مِنْ كَيْفِيَّةِ الْبَارِي جَلَّ وَعَلَا أَوْ مَا يُشْبِهُ هَذِهِ فَرَدَّ ذَلِكَ عَلَى قَلْبِهِ بِالْإِيمَانِ الصَّحِيحِ وَتَرَكَ الْعَزْمَ عَلَى شَيْءٍ مِنْهَا كَانَ رَدُّهُ إِيَّاهَا مِنَ الْإِيمَانِ بَلْ هُوَ مِنْ صَرِيحِ الْإِيمَانِ لَا أَنَّ خطرات مثلها من الإيمان.
ইমাম আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: যখন কোন মুসলিম তার অন্তরে অনুভব করে অথবা মনে এমন কিছুর উদয় হয় যা মুখে উচ্চারণ করা জায়েয নেই। যেমন: মহান আল্লাহর ধরন বা এই জাতীয় কিছু। অতঃপর বিশুদ্ধ ঈমানের মাধ্যমে সে তার অন্তর থেকে তা অপসারিত করে, এবং এর কোন কিছু অন্তরে বদ্ধমূল হতে দেয় না। সংশংয়কে মন থেকে অপসারিত করা ঈমানের কারণে হয়ে থাকে বরং এটা নির্ভেজাল ঈমানের কারণে হয়ে থাকে; এই জাতীয় সংশয়গুলো ঈমানের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ مَنْ لَمْ يَتَفَقَّهْ فِي صَحِيحِ الْآثَارِ وَلَا أَمْعَنَ فِي مَعَانِي الْأَخْبَارِ أَنَّ وُجُودَ مَا ذَكَرْنَا هُوَ مَحْضُ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِحَرَّانَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا بن أبي عدي عن شعبة عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا شَيْئًا لَأَنْ يَكُونَ أَحَدُنَا حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ قَالَ: "ذاك محض الإيمان"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 146 | خلاصة حكم المحدث: إسناده حسن.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আয যিলাল: ৬৫৫-৬৫৬)
পরিচ্ছেদঃ মানুষের জন্য এটা বৈধ যে তার অন্তরে শয়তানের ওয়াসওয়াসা আসলে তা অন্তর দিয়ে বিশ্বাস না করে তা প্রত্যাখ্যান করবে
১৪৭. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি তার মনে এমন কিছু পায়, যা মুখে বলার চেয়ে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া তার কাছে বেশি প্রিয়!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা শুনে বললেন: “আল্লাহু আকবার! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তার ব্যাপারটিকে শেষাবধি ওয়াসওয়ায় পরিণত করেছেন।”[1] [2]
ذِكْرُ الْإِبَاحَةِ لِلْمَرْءِ أَنْ يَعْرِضَ بِقَلْبِهِ شَيْءٌ مِنْ وَسَاوِسِ الشَّيْطَانِ بَعْدَ أَنْ يَرُدَّهَا مِنْ غَيْرِ اعْتِقَادِ الْقَلْبِ عَلَى مَا وَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ قَالَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ ذَرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَحَدَنَا لَيَجِدُ فِي نَفْسِهِ الشَّيْءَ لَأَنْ يَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الوسوسة".
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 147 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرطهما.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আয যিলাল: ৬৫৮)
[2] অর্থাৎ শয়তান তাকে বিভ্রান্ত বা মহান আল্লাহ সম্পর্কে বাতিল ধারণা তার অন্তরে বদ্ধমূল করে দিতে না পেরে অবশেষে তার মনে শুধু ওয়াসওয়াসা দিয়েই ক্ষ্যান্ত থাকছে।এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। (শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ) -অনুবাদক
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি পূর্বে উল্লেখিত বিষয় অন্তরে অনুভব করে এবং যিনি মনে মনে তা চিন্তা করে উভয় ব্যক্তির হুকুম একই
১৪৮. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, সাহাবাগণ আরয করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের কেউ কেউ মনে এমন কিছু অনুভব করে, যা মুখে উচ্চারণ করা খু্বই গুরুতর অন্যায় মনে হয়। জবাবে তিনি বলেন: তোমরা আসলেই এমনটা অনুভব করো নাকি? এটা তো সুস্পষ্ট ঈমান।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ حُكْمَ الْوَاجِدِ فِي نَفْسِهِ مَا وَصَفْنَا وَحُكْمَ الْمُحَدِّثِ إِيَّاهَا بِهِ سِيَّانَ مَا لَمْ يَنْطِقْ بِهِ لِسَانُهُ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَحَدَنَا لَيُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِالشَّيْءِ يَعْظُمُ عَلَى أَحَدِنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ قَالَ: "أَوَقَدْ وجدتموه؟ ذاك صريح الإيمان"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 148 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط الصحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আয যিলাল: ৬৫৪)
পরিচ্ছেদঃ আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস
১৪৯. আলী বিন আসসাম বলেন, আমি ওয়াসওয়াসা সম্পর্কিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য সু’আইর বিন খিম্স এর কাছে আসলাম, কিন্তু তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন না, ফলে আমি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলাম। এরপর তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে বললেন, আসুন (আপনাকে সেই হাদীস শুনাই); আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেনে মুগীরা, তিনি ইবরাহিমের মাধ্যমে আলকামা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি অন্তরে এমন কিছুর উপস্থিতি অনুভব করে যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আসমান থেকে পড়ার পর পাখি ছো্ঁ মেরে তাকে নিয়ে যাবে- সেটাকেই সে বেশি পছন্দনীয় মনে করে! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এটাই তো সুস্পষ্ট ঈমান।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْذِرِ النَّيْسَابُورِيُّ بِمَكَّةَ وَعِدَّةٌ قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْفَرَّاءُ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَثَّامٍ يَقُولُ أَتَيْتُ سُعَيْرَ بْنَ الْخِمْسِ أَسْأَلُهُ عَنْ حَدِيثِ الْوَسْوَسَةِ فَلَمْ يُحَدِّثْنِي فَأَدْبَرْتُ أَبْكِي ثُمَّ لَقِيَنِي فَقَالَ تَعَالَ حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الشَّيْءَ لَوْ خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفَهُ الطَّيْرُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ قَالَ: "ذاك صريح الإيمان"
الراوي : عَبْد اللَّهِ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 149 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আয যিলাল: ৬৫৪)
পরিচ্ছেদঃ শয়তানের ওয়াসওয়াসার সময় আল্লাহর একাত্ববাদ ও তাঁর মনোনিত বান্দা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের স্বীকারক্তি দেওয়ার নির্দেশ
১৫০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “শয়তান মানুষের কাছে এসে এরকম বলতে মোটেও ছাড়বে না: ’কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন?’ তখন সে বলে: আল্লাহ। অতঃপর সে আবার প্রশ্ন তুলে বলে: তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন? সে জবাবে বলে: আল্লাহ। অবশেষে সে প্রশ্ন তুলে: আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?
তোমাদের কেউ এই ধরণের প্রশ্ন মনে অনুভব করলে সে যেন বলে: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি।”[1]
ذِكْرُ الْأَمْرِ لِلْمَرْءِ بِالْإِقْرَارِ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا بِالْوَحْدَانِيَّةِ وَلِصَفِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالرِّسَالَةِ عِنْدَ وَسْوَسَةِ الشَّيْطَانِ إِيَّاهُ
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانَ السَّامِيُّ بِالْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَذْحِجِيُّ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَنْ يَدَعَ الشَّيْطَانُ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ, فَيَقُولُ: فَمَنْ خَلَقَكَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ, فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا حَسَّ أَحَدُكُمْ بِذَلِكَ فليقل آمنت بالله وبرسله"
الراوي : عَائِشَة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 150 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১১৬)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ফযিলত - যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে সে জান্নাতে যাবে তার বিবরণ
১৫১. জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই বলে পাঠালেন যে: “মানুষের মাঝে তুমি ঘোষনা দাও যে, যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ অতঃপর তিনি (তা ঘোষনা দেওয়ার জন্য) বের হলেন, পথিমধ্যে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমি বললাম: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন।’ এটা শুনে তিনি বললেন: তুমি ফিরে যাও। কিন্তু আমি ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানালাম। ফলে তিনি আমার বুকে এমনভাবে ঘুষি মারলেন যে, আমি তাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলাম। অতঃপর কোন উপায় না পেয়ে আমি ফিরে আসলাম।
উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি কী একে এই এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরয করলেন: (এটা শুনে) মানুষ (জান্নাতের) আশায় (আমল বাদ দিয়ে বসে) থাকবে এবং তারা ভয় করবে।[1] অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাবিরকে বললেন: “ঠিক আছে, বসো।”[2]
[1] (وَخَشُوا )“এবং তারা ভয় করবে।”- এই অংশটুকু রাবী ভুল করে বর্ণনা করেছেন, আসলে সঠিক হবে "خبثوا" ’এবং তারা খারাপ হয়ে যাবে।’ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন: মূল সূত্রে "خبثوا" ’এবং তারা খারাপ হয়ে যাবে।’ এমনি আছে।ইবনু খুযাইমার ’আত তাওহীদ’ কিতাবেও এমনটি আছে। এবং অর্থগতভাবেও এটাও সঠিক। (সহীহ মাওয়ারিদুয যমআন: ১/৯৫; আস সহীহাহ: ১৩১৪, ২৩৫৫।)
[2] হাদীসটি হাফিয জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহিমাহুল্লাহ তাঁর ’আল জামি’উল কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু খুযাইমা ও সা’ঈদ বিন মানসূর রহিমাহুমাল্লাহ এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন। এই ব্যাপারে আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে হাদীস রয়েছে। হাদীস নং ৩১ এবং মুয়ায বিন জামাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস আছে। হাদীস নং ৩২।
আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: হাদীসের রাবী মুহার্রর বিন কা’নাবকে হাফিয আবু যুর’আহ সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হাদীসের অন্যান্য রাবী নির্ভরযোগ্য। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৩৫৫)
بَابُ فَضْلِ الْإِيمَانِ - ذكر البيان بأنه مَنْ قَالَ: "لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ" دَخَلَ الْجَنَّةَ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ حَدَّثَنَا مُحَرَّرُ بْنُ قَعْنَبٍ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا رِيَاحُ بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ ذَكْوَانَ السَّمَّانِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "نَادِ فِي النَّاسِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ" فَخَرَجَ فَلَقِيَهُ عُمَرُ فِي الطَّرِيقِ فَقَالَ: أَيْنَ تُرِيدُ؟ قُلْتُ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَذَا وَكَذَا قَالَ: ارْجِعْ, فَأَبَيْتُ فَلَهَزَنِي لَهْزَةً فِي صَدْرِي أَلَمُهَا فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَجِدْ بُدًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَعَثْتَ هَذَا بِكَذَا وَكَذَا قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ طَمِعُوا وَخَشُوا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "أقعد".
الراوي : جَابِر بْن عَبْدِ اللَّهِ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 151 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح.
পরিচ্ছেদঃ শ্রেষ্ঠ আমল আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা
১৫২. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন আমল শ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বলেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর রাহে জিহাদ করা।” [1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ أَفْضَلَ الْأَعْمَالِ هُوَ الْإِيمَانُ بِاللَّهِ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ حدثنا سفيان والداروردي عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ الْغِفَارِيِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: "إِيمَانٌ بِاللَّهِ وجهاد في سبيله.
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 152 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৪৯০)
পরিচ্ছেদঃ আবু যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত ‘ওয়াও’ (এবং) সংযুক্তির ওয়াও নয় বরং এটি সুম্মা (তারপর) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে
১৫৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন আমল সর্বশ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন: তারপর কোনটি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: কবুল হজ্জ।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْوَاوَ الَّذِي فِي خَبَرِ أَبِي ذَرٍّ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ لَيْسَ بِوَاوِ وَصْلٍ وَإِنَّمَا هُوَ وَاوٌ بِمَعْنَى "ثُمَّ"
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ اللَّخْمِيُّ بِعَسْقَلَانَ حَدَّثَنَا بن أَبِي السَّرِيِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: "الْإِيمَانُ بِاللَّهِ" قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: "ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ" قَالَ: ثُمَّ ماذا؟ قال: "ثم حج مبرور"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 153 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বলেন: রাবী ইবনু আবী আস সারিয়্যূ হলেন: মুহাম্মাদ বিন মুতাওয়াক্কিল আল আসকালানী। ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর ‘আস সিকাত’ (নির্ভরযোগ্য রাবীদের সংকলন) এ উল্লেখ করে বলেন: ‘তিনি হাফেযে হাদীসদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।’ ইবনু হাজার আসকালানী রচিত ‘আত তাকরীব’ কিতাবে বলা হয়েছে: ‘তিনি সত্যনিষ্ঠ, জানা-শোনা ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অনেক ভুল আছে। ’তবে এখানে তার সমর্থক বর্ণনাকারী আছেন। হাদীসের অন্যান্য রাবীগণ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের রাবী।”
আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য না করলেও তিনি মূলত হাদীসটিকে হাসান বলতে চেয়েছেন। কেননা তিনি যে রাবীদের বিবরণ তুলে ধরছেন, উসূলে হাদীসের পরিভাষা অনুসারে এই ধরণের রাবীদের বর্ণিত হাদীস সাধারণত হাসান হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহু আ‘লাম। -অনুবাদক
আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আন নাসাঈ: ২৪৬১)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ফরয
১৫৪. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে বসে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি উটের উপর আরোহন করে আসলেন অতঃপর মাসজিদে উট বসালেন এবং উট বেঁধে রাখলেন, তারপর সাহাবীদের বললেন: ’আপনাদের মাঝে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে?’ এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। রাবী বলেন: আমরা তাকে বললাম: এই যে হেলান দেওয়া ফর্সা ব্যক্তি। তখন সে ব্যক্তি তাঁকে বললেন: ’হে আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ’ঠিক আছে, আমি আপনার কথা শুনছি (বলুন)।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা আরোপ করবো, এতে আপনি মনে কোন কষ্ট নিবেন না।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আপনার মনে যা চায়, আপনি পশ্ন করুন।’
অতঃপর ব্যক্তিটি বললেন: ’আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে সমস্ত মানুষের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন আমাদেরকে দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন আমাদেরকে বছরের এই মাসে সিয়াম রাখতে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন যে আপনি আমাদের ধনীদের থেকে যাকাত গ্রহন করবেন অতঃপর তা আমাদের গরীবদের মাঝে বন্টন করে দিবেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ অতঃপর সেই লোকটি বললেন: ’আপনি যে শারী’আত নিয়ে এসেছেন, আমি তার প্রতি ঈমান আনয়ন করলাম, আমি আমার পশ্চাতের লোকদের জন্য বার্তাবাহক। আর আমি বানু সা’দ বিন বকর গোত্রের যিমাম বিন সা’লাবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)।”[1]
بَابُ فَرْضِ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم متكىء بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: هَذَا الْأَبْيَضُ المتكىء فقال له الرجل: با ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (قَدْ أَجَبْتُكَ) فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا مُحَمَّدُ إِنِّي سَائِلُكَ فمُشتدٌّ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلَا تَجِدَنَّ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (سَلْ مَا بَدَا لَكَ) فَقَالَ الرَّجُلُ: نَشَدْتُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (اللَّهُمَّ نَعَمْ) قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ: آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (اللَّهُمَّ نَعَمْ) قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ: آللَّهُ أَمَرَكَ أَنَ نَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (اللَّهُمَّ نَعَمْ) قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ: آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (اللَّهُمَّ نَعَمْ) فَقَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ ـ أخو بني سعد بن بكر ـ.
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 154 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৫০৪)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ফরয
১৫৫. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমাদেরকে (একান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়া) কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ফলে আমরা কামনা করতাম যে, বেদুঈন ব্যক্তি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করুক আর আমরা তা শ্রবণ করি। অতঃপর একজন বেদুঈন ব্যক্তি আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের কাছে আপনার বার্তাবাহক এসে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তিনি সত্য কথাই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’কে আসমান সৃষ্টি করেছেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?’ জবাবে বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’এই পর্বত কে স্থাপন করেছেন?’ তিনি বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’এই উপকারী জিনিসগুলো কে সৃষ্টি করেছেন?’ তিনি বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তাতে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং এখানে উপকারী জিনিসসমূহ সৃষ্টি করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ তিনি জবাবে বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনার বার্তাবাহক বলেছেন যে, দিনে-রাতে আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আবশ্যক।’ তিনি বললেন: ’তিনি সত্যই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?’ জবাবে তিনি বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনার বার্তাবাহক বলেছেন যে, আমাদের মধ্যে যাদের বায়তুল্লাহ পর্যন্ত যাতায়াতের পাথেয় আছে, তার উপর হজ্জ করা আবশ্যক।’ তিনি বললেন: ’তিনি সত্যই বলেছেন।’ বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?’ জবাবে তিনি বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি এরচেয়ে বেশিও আমল করবো না, এরচেয়ে কোন কিছু কমও করবো না।’ অতঃপর লোকটি যখন চলে গেলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ [1]
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: هَذَا النَّوْعُ مِثْلُ الْوُضُوءِ وَالتَّيَمُّمِ وَالِاغْتِسَالِ مِنَ الْجَنَابَةِ وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ وَالصَّوْمِ الْفَرْضِ وَمَا أَشْبَهَ هَذِهِ الْأَشْيَاءَ الَّتِي هِيَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ لَا الكل.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই জাতীয় বিধি-বিধান যেমন ওযূ, তায়াম্মুম, নাপাকীর গোসল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ফরয সিয়াম, এবং এই জাতীয় আরো অন্যান্য আমলগুলো মুখাতাব তথা শরীয়তের বিধি-বিধান বর্তায় এমন ব্যক্তির উপর কিছু অবস্থায় প্রযোজ্য; সর্বাস্থায় নয়।”
بَابُ فَرْضِ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْخَطَّابِ الْبَلَدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجُدِّيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَأْتِيَهُ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ قال: "صدق" قال فمن خَلَقَ السَّمَاءَ قَالَ: "اللَّهُ" قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ قَالَ: "اللَّهُ" قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ قَالَ: "اللَّهُ" قَالَ: فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ قَالَ: "اللَّهُ" قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَنَصَبَ الْجِبَالَ وَجَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا قَالَ: "صَدَقَ" قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَدَقَةً فِي أَمْوَالِنَا قَالَ: "صَدَقَ" قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي سَنَتِنَا قَالَ: "صَدَقَ" قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا قَالَ: "صَدَقَ" قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: "نَعَمْ", قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا فَلَمَّا قَفَّى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَئِنْ صَدَقَ ليدخلن الجنة.
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 155 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৫০৪)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ফরয
১৫৬. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে পাঠান, তখন তাঁকে বলেন: ’আপনি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছেন, অতএব তাদের প্রতি আপনার প্রথম দা’ওয়াত যেন হয় আল্লাহর ইবাদত। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন আপনি জানাবেন যে, আল্লাহ তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যখন তারা এটা পালন করবে, তখন তাদেরকে জানাবেন যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে অতঃপর তাদের গরীবদের মাঝে তা বন্টন করা হবে। যদি তারা তা মেনে নেয়, তাহলে তাদের থেকে তা গ্রহন করবেন। তবে মানুষের উত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবেন।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ ـ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ـ: هَذَا النَّوْعُ مِثْلُ الْحَجِّ وَالزَّكَاةِ وَمَا أَشْبَهَهُمَا مِنَ الْفَرَائِضِ الَّتِي فُرضت عَلَى بَعْضِ الْعَاقِلِينَ الْبَالِغِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ لَا الْكُلِّ.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’’এই প্রকার বিধি-বিধান যেমন হজ্জ, যাকাত এবং এই জাতীয় অন্যান্য আমলগুলো এমন ফরয বিধানের অন্তর্ভূক্ত যা কিছু জ্ঞানবান, বালেগ ব্যক্তির উপর কিছু অবস্থায় ফরয; সর্বাস্থায় নয়।”
بَابُ فَرْضِ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: "إِنَّكَ تَقَدُمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللَّهِ فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ وَإِذَا فَعَلُوهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً تُؤْخَذُ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِذَا أَطَاعُوا بِهَذَا فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أموال الناس.
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 156 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১৪১২)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ফরয
১৫৭. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: ’আমরা রাবী’আহ গোত্রের লোক। আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের কুফফাররা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ফলে আমরা আপনার কাছে হারাম মাস ছাড়া অন্য কোন সময় আসতে পারিনা। অতএব আপনি আমাদেরকে এমন কিছুর আদেশ দিন, যা আমরা আমল করবো এবং আমাদের পিছে রেখে আসা লোকদের দা’ওয়াত দিব।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আমি আপনাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ করছি: (১) আল্লাহর প্রতি ঈমান, এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল (২) সালাত প্রতিষ্ঠা করা (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) তোমাদের প্রাপ্ত গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।’ আমি আপনাদেরকে কদুর খোলস, সবুজ কলসি, খেজুরের কাষ্ঠ খোদাই করা পাত্র ও আল কাতরার প্রলেপ দেওয়া পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: رَوَى هَذَا الْخَبَرَ قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَعِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসটি কাতাদা সা’ঈদ বিন মুসায়্যিব ও ইকরামার সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা[2] থেকে এবং আবু নাযরাহ আবু সা’ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে[3] বর্ণনা করেছেন।”
بَابُ فَرْضِ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم قالوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ ـ قَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضر وَلَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ فمرنا بأمر نعمل به وندعوا مَنْ وَرَاءَنَا قَالَ:
(آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ: الْإِيمَانِ بِاللَّهِ شهادة أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وَأَنْ تؤدُّوا خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاء والحنتم والنقير والمقير)
الراوي : ابْن عَبَّاسٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 157 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তাহাবিয়্যাহ: ৪২৬)
[2] হাদীসটি ইবনু মান্দাহ ‘ঈমান’ কিতাবে (১৫৬) বর্ণনা করেছেন।
[3] আবু সা‘ঈদ আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি মুসনাদ আহমাদ: ৩/২২-২৩; সহীহ মুসলিম: ১৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৯২৯ প্রভৃতি কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ঈমান ও ইসলাম একই জিনিসের দুই নাম এই মর্মে বর্ণনা
১৫৮. প্রখ্যাত তাবি’ঈ তাউস রহিমাহুল্লাহ বলেন: এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন: ’আপনি কি যুদ্ধ করবেন না?’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: ’নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা ও বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَانِ خَبَرَانِ خَرَجَ خِطَابُهُمَا عَلَى حَسَبِ الْحَالِ لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ الْإِيمَانَ ثُمَّ عَدَّهُ أَرْبَعَ خِصَالٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْإِسْلَامَ وَعَدَّهُ خَمْسَ خِصَالٍ وَهَذَا مَا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا بِأَنَّ الْعَرَبَ تَذْكُرُ الشَّيْءَ فِي لُغَتِهَا بِعَدَدٍ مَعْلُومٍ وَلَا تُرِيدُ بِذِكْرِهَا ذَلِكَ الْعَدَدَ نَفْيًا عَمَّا وَرَاءَهُ وَلَمْ يُرِدْ بِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْإِيمَانَ لَا يَكُونُ إِلَّا مَا عُدَّ فِي خبر بن عَبَّاسٍ لِأَنَّهُ ذَكَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَيْرِ خَبَرٍ أَشْيَاءَ كَثِيرَةً مِنَ الْإِيمَانِ ليست في خبر بن عمر ولا بن عباس اللذين ذكرناهما.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই দুই হাদীসের বক্তব্য অবস্থা অনুযায়ী হয়েছে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানের কথা উল্লেখ করেছেন তারপর ঈমানকে চারটি বৈশিষ্ট্যে গণনা করেছেন। তারপর তিনি ইসলামের কথা আলোচনা করেছেন এবং ইসলামকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যে গণনা করেছেন। এটা আমরা আমাদের কিতাবে বলে থাকি যে, আরবরা কোন কোন সময় তাদের ভাষায় নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেন, এবং এর মাধ্যমে অন্য সংখ্যাকে নাকচ করে শুধুমাত্র ঐ সংখ্যাকেই উদ্দেশ্য নেন না। এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য দ্বারা এটা আদৌ উদ্দেশ্য নয় যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের হাদীসে যে বৈশিষ্ট্যগুলো গণনা করা হয়েছে অন্য কিছুতে ঈমান নেই। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একাধিক হাদীসে অনেক বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের উল্লেখিত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর হাদীসে নেই।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ وَالْإِسْلَامَ اسْمَانِ لِمَعْنًى وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ بْنَ خَالِدٍ يُحَدِّثُ طَاوُسًا أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِابْنِ عُمَرَ: أَلَا تَغْزُو؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَحَجِّ البيت".
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 158 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭৪১)
পরিচ্ছেদঃ ঈমান ও ইসলাম একই জিনিসের দুই নাম এই মর্মে বর্ণনা
১৫৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসলেন। এমন সময় একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে হেঁটে আসলেন, অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, রাসূলগণ ও তাঁর সাক্ষাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, পরকালের পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ তিনি বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’ইসলাম হলো তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের সিয়াম পালন করবে।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইহসান কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’ইহসান হলো তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে (মনে করবে যে) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি আবারো বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তবে অচিরেই আমি কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলবো। কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দাসীকে দেখবে তার মুনীবকে প্রসব করতে, দেখবে বিবস্ত্র, নগ্নপদ ব্যক্তিদের মানুষের নেতা হতে। কিয়ামতের জ্ঞান ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্গত, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান।” (সূরা লুকমান: ৩৪।) তারপর লোকটি চলে যায়। অতঃপর সাহাবীগণ তাঁকে খোঁজ করেন, কিন্তু তাঁকে পাননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন, মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিতে।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ وَالْإِسْلَامَ اسْمَانِ لِمَعْنًى وَاحِدٍ
أخبرنا عبد الله من مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ يَمْشِي فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: (أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَلِقَائِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الْآخِرِ) قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ:
(لَا تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ) قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ:
(أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ) قَالَ يَا مُحَمَّدُ فمتى الساعة؟ قال: (ما المسؤول عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا: إِذَا وَلَدَتِ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا ورأيتَ الْعُرَاةَ الْحُفَاةَ رؤوس النَّاسِ فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ: {إن الله عنده علم الساعة .. } الآية [لقمان: 34] ثُمَّ انْصَرَفَ الرَّجُلُ فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَقَالَ: (ذاك جبريل جاء ليُعَلِّمَ الناس دينهم).
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 159 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৯০৩।)
পরিচ্ছেদঃ ঐ হাদীসের আলোচনা যে হাদীস প্রমাণ করে যে, ঈমান ও ইসলাম একই অর্থবোধক, এবং এই অর্থ যুগপৎভাবে বাচনিক ও কর্মগত আমলকে অন্তর্ভূক্ত করে
১৬০. হাকীম বিন মু’আবিয়া তাঁর বাবা মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এসেছি, অথচ এর আগে আমি আমার আঙ্গুলের সংখ্যা পরিমাণ শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে কখনই আসবো না। তিনি আপনাকে কী সহ পাঠিয়েছেন?’ তিনি জবাবে বললেন: ’ইসলাম।’ তিনি বললেন: ’ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’তুমি তোমার হৃদয়কে আল্লাহর কাছে সমর্পিত করবে, তোমার চেহারাকে আল্লাহর জন্য মনোনিবেশ করবে, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে। (প্রত্যেক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য) দুই ভাই (স্বরুপ যারা) পরস্পরকে সাহায্যকারী। আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির তাওবা কবুল করেন না, যে ইসলাম গ্রহণ করার পর শিরক করে।”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ الْإِسْلَامَ وَالْإِيمَانَ اسْمَانِ بِمَعْنًى وَاحِدٍ يَشْتَمِلُ ذَلِكَ الْمَعْنَى عَلَى الْأَقْوَالِ وَالْأَفْعَالِ مَعًا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي قَزَعَةَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أتيتُك حَتَّى حلفتُ عَدَدَ أَصَابِعِي هَذِهِ أَنْ لَا آتِيَكَ فَمَا الَّذِي بَعَثَكَ بِهِ؟ قَالَ: (الْإِسْلَامُ) قَالَ: وَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: (أَنْ تُسلم قَلْبَكَ لِلَّهِ وَأَنْ تُوَجِّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ وَأَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ أَخَوَانِ نَصِيرَانِ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ عَبْدٍ تَوْبَةً أشرك بعد إسلامه.)
الراوي : مُعَاوِيَة | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 160 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, তবে তিনি ‘তাওবা’ এর স্থলে ‘আমল’ এর শব্দ ব্যবহার সঠিক বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩৬৯; আল ইরওয়াউল গালীল: ৫/৩২।)
পরিচ্ছেদঃ ঈমান ও ইসলাম একই অর্থবোধক দুটি নাম মর্মে হাদীস
১৬১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ وَالْإِسْلَامَ اسْمَانِ بِمَعْنًى وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْمُسْلِمُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ في سبعة أمعاء.
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 161 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/১২২।)
পরিচ্ছেদঃ ঐ হাদীসের বর্ণনা, যে হাদীস প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত হাদীসের শব্দ আম তথা ব্যাপক কিন্তু উদ্দেশ্য খাস তথা নির্দিষ্ট; হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য কিছু লোক, সব লোক নয়
১৬২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাসায় একজন কাফির ব্যক্তি মেহমান হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে তার দুধ পান করলো। তারপর তার জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। সে সেটারও দুধ পান করলো। এভাবে সে সাতটি ছাগীর দুধ পান করলো। তার পরদিন সকালে সে ব্যক্তি মুসলিম হয়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। দুধ দোহন করা হলো। অতঃপর তিনি তার দুধ পান করলেন। তারপর তাঁর জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তিনি সেই দুধ পান করে শেষ করতে পারলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ هَذَا الْخَطَّابَ مَخْرَجُهُ مَخْرَجُ الْعُمُومِ وَالْقَصْدُ فِيهِ الْخُصُوصُ أَرَادَ بِهِ بَعْضَ النَّاسِ لَا الْكُلَّ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَجَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَ حِلَابَهَا حَتَّى شَرِبَ حِلَابَ سَبْعِ شِيَاهٍ ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرَ يَشْرَبُ فِي سبعة أمعاء".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 162 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/১২২।)
পরিচ্ছেদঃ ঐ হাদীসের আলোচনা যেই হাদীস কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ঈমান ও ইসলামের মাঝে পার্থক্য রয়েছে
১৬৩. সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশ কিছু লোককে দান করলেন কিন্তু তাদের মাঝে একজন ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। তখন আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি ওমুক, ওমুক ব্যক্তিকে দিলেন অথচ ওমুক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না, অথচ সে ব্যক্তি মু’মিন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’(সে মু’মিন) নাকি মুসলিম?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি তিনবার বললেন। ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’’আমরা কালেমা মুখে পড়াকে ইসলাম মনে করি আর আমলকে ঈমান মনে করি।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ عَالِمًا مِنَ النَّاسِ أَنَّ الْإِسْلَامَ وَالْإِيمَانَ بَيْنَهُمَا فَرْقَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا بْنُ أَبِي السَّرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَى رِجَالًا وَلَمْ يُعْطِ رَجُلًا مِنْهُمْ شَيْئًا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلَانًا وَفُلَانًا وَلَمْ تُعْطِ فُلَانًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَوْ مُسْلِمٌ" قَالَهَا ثَلَاثًا قَالَ الزُّهْرِيُّ: نَرَى أَنَّ الْإِسْلَامَ الْكَلِمَةُ والإيمان العمل.
الراوي : سَعْد بْن أَبِي وَقَّاصٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 163 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনানু আবী দাউদ: ৪৬৮৩)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ইলমে হাদীস তার মূল উৎস থেকে গ্রহণ করেনি, তাকে যে হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয়, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত দু‘টি হাদীসের বিপরীত, সেই হাদীসের বিবরণ
১৬৪. মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এই ব্যাপারে আপনার কী অভিমত, আমার যদি কোন কাফির ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর সে আমার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় এবং তরবারী দিয়ে আমার এক হাতে আঘাত করে তা কেটে ফেলে দেয়, তারপর সে আমার থেকে বাঁচতে গাছের আড়ালে আশ্রয় নেয় এবং বলে, ’আমি আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণ করলাম’ এটা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করতে পারবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না।’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে আমার হাত কেটে ফেলেছে, আমার হাত কাটার পর তারপর সে এমনটা বলেছে, আমি কি তাকে হত্যা করবো না?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ ـ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ـ قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ) يُرِيدُ بِهِ: أَنَّكَ تُقْتَلُ قَوَدًا لِأَنَّهُ كَانَ قَبْلَ أَنْ أَسْلَمَ حَلَالَ الدَّمِ وَإِذَا قَتَلْتَهُ بَعْدَ إِسْلَامِهِ صِرْتَ بِحَالَةٍ تُقْتَلُ مِثْلَهُ قَوَدًا بِهِ لَا أَنَّ قَتْلَ الْمُسْلِمِ يُوجِبُ كُفْرًا يُخْرِجُ مِنَ الْمِلَّةِ إِذِ اللَّهُ قَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} [البقرة: 178].
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’ –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাহলে কিসাস স্বরুপ তোমাকে হত্যা করা হবে। কারণ ইসলাম গ্রহণ করার পর তার রক্ত বৈধ ছিল, যদি তুমি তাকে ইসলাম গ্রহণ করার পর হত্যা করো, তাহলে তুমি এমন অবস্থায় পরিণত হবে যে, কিসাস স্বরুপ তার মত তোমাকেও হত্যা করা হবে। হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, কোন মুসলিমকে হত্যা করা এমন কুফর যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন: ’হে ঈমানদারগণ, নিহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কিসাসকে ফরয করা হয়েছে।’ (সূরা আল বাকারা: ১৭৮।)
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ بَعْضَ الْمُسْتَمِعِينَ مِمَّنْ لَمْ يَطْلُبِ الْعِلْمَ مِنْ مَظَانِّهِ أَنَّهُ مُضَادُّ لِلْخَبَرَيْنِ اللذين ذكرناهما
أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءَ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَرَأَيْتَ إِنْ لقيتُ رَجُلًا مِنَ الْكُفَّارِ فَقَاتَلَنِي فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ فَقَطَعَهَا ثُمَّ لَاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ وَقَالَ: أَسْلَمْتُ لِلَّهِ أَفَأَقْتُلُهُ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (لَا تَقْتُلْهُ) قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ قَطَعَ يَدِي ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ بَعْدَ أَنْ قَطَعَهَا أَفَأَقْتُلُهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (لَا تَقْتُلْهُ فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَأَنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ)
الراوي : الْمِقْدَاد بْن الْأَسْوَدِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 164 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আবু দাউদ: ২৩৭৬)
পরিচ্ছেদঃ যুগপৎভাবে দুই শাহাদাহ স্বীকৃতি দানকারী ব্যক্তির জন্য ঈমান সাব্যস্ত করা
১৬৫. মু’আবিয়া বিন হাকাম আস সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমার কিছু ছাগল ছিল, যা আমার এক দাসী উহুদ ও আল জাওওয়ানা নামক জায়গার দিকে চরাতো। একদিন আমি তার কাছে গিয়ে জানলাম যে, এক নেকড়ে আমার একটি ছাগল নিয়ে চলে গেছে। ফলে আদম সন্তান হিসেবে অন্যান্যদের মত আমারও আফসোস হলো। অতঃপর প্রচন্ডভাবে তাকে থাপ্পড় দিলাম। তারপর ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। ফলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললাম: ’আমি কি তাকে মুক্ত করে দিব না?’ তিনি আমাকে বললেন: ’তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’ অতঃপর আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন: ’আল্লাহ কোথায়?’ সে জবাবে বললো: ’আসমানে।’ তিনি বললেন: ’আমি কে?’ সে জবাবে বললো: ’আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন তিনি বললেন: ’একে মুক্ত করে দাও, নিশ্চয়ই সে একজন মু’মিনা।’[1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ الْإِيمَانِ لِلْمُقِرِّ بِالشَّهَادَتَيْنِ مَعًا
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حدثنا بن أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ قَالَ: كَانَتْ لِي غُنَيْمَةٌ تَرْعَاهَا جَارِيَةٌ لِي فِي قِبَلِ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ فَاطَّلَعْتُ عَلَيْهَا ذَاتَ يَوْمٍ وَقَدْ ذَهَبَ الذِّئْبُ مِنْهَا بِشَاةٍ وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً فَعَظُمَ ذَلِكَ عَلَيَّ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: "ائْتِنِي بِهَا" فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ: "أَيْنَ اللَّهُ؟ " قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: "مَنْ أَنَا؟ " قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مؤمنة".
الراوي : مُعَاوِيَة بْن الْحَكَمِ السُّلَمِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 165 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩১৬১।)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিভিন্ন অংশ ও শাখা-প্রশাখা আছে
১৬৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে অথবা (রাবীর সন্দেহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَشَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْخَبَرِ إِلَى الشيء الذي هو فرض على المخاطبين في جَمِيعِ الْأَحْوَالِ فَجَعَلَهُ أَعْلَى الْإِيمَانِ ثُمَّ أَشَارَ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ فَجَعَلَهُ أَدْنَى الْإِيمَانِ فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ وَكُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى بَعْضِ الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ وَكُلَّ شَيْءٍ هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ كُلُّهُ من الإيمان.
وَأَمَّا الشَّكُّ فِي أَحَدِ الْعَدَدَيْنِ فَهُوَ مِنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ فِي الْخَبَرِ كَذَلِكَ قَالَهُ مَعْمَرٌ عَنْ سُهَيْلٍ وَقَدْ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً" وَلَمْ يَشُكَّ وَإِنَّمَا تَنَكَّبْنَا خَبَرَ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ وَاقْتَصَرْنَا عَلَى خَبَرِ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ لِنُبَيِّنَ أَنَّ الشَّكَّ فِي الْخَبَرِ لَيْسَ مِنْ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّمَا هُوَ كَلَامُ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ كَمَا ذكرناه.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুখাতাব (যাদের উপর শরীয়তের বিধি-বিধান আরোপিত হয়) ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তারপর তিনি মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাজেই এই হাদীস প্রমাণ করে যে, মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয, কিছু মুখাতাবের উপর কোন কোন সময় ফরয এবং মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল- এসবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত বিষয়।
আর হাদীসে দুই সংখ্যার যে সংশয়, এই সংশয়টি এসেছে রাবী সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে। সুহাইল থেকে মা’মার এভাবেই (সন্দেহযুক্তভাবে) বর্ণনা করেছেন। অথচ হাদীসটি সুলাইমান বিন বিলাল আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে তিনি আবু সালিহ থেকে মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে।’ এখানে তিনি কোন সংশয় প্রকাশ করেননি। আমরা এখানে সুলাইমান বিন বিলালের হাদীস কাঁধে তুলে নিয়েছি আর সুহাইল বিন আবী সালিহ এর হাদীস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি এটা স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য যে, হাদীসে বর্ণিত সংশয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আসেনি বরং তা এসেছে সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে, যা আমরা ইতোমধ্যেই উল্লেখ করেছি।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ وَشُعَبٌ لَهَا أَعْلَى وَأَدْنَى
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً فَأَرْفَعُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطريق والحياء شعبة من الإيمان.
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 166 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে তিনি ৭০ সংখ্যার হাদীসটিকে বেশি সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। (আস সহীহাহ: ১৭৬৯।)
পরিচ্ছেদঃ যারা ধারণা করে যে, হাদীসটি সুহাইল বিন আবী সালিহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের ধারণা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা
১৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ اخْتَصَرَ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ هَذَا الْخَبَرَ فَلَمْ يَذْكُرْ ذِكْرَ الْأَعْلَى وَالْأَدْنَى مِنَ الشُّعَبِ وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ السِّتِّينَ دُونَ السَّبْعِينَ وَالْخَبَرُ فِي بِضْعٍ وَسَبْعِينَ خَبَرٌ مُتَقَصًّى صَحِيحٌ لَا ارْتِيَابَ فِي ثُبُوتِهِ وَخَبَرُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ خَبَرٌ مُخْتَصَرٌ غَيْرُ مُتَقَصًّى وَأَمَّا الْبِضْعُ فَهُوَ اسْمٌ يَقَعُ عَلَى أَحَدِ أَجْزَاءِ الْأَعْدَادِ لِأَنَّ الْحِسَابَ بِنَاؤُهُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ عَلَى الْأَعْدَادِ وَالْفُصُولِ وَالتَّرْكِيبِ فَالْأَعْدَادُ مِنَ الْوَاحِدِ إِلَى التِّسْعَةِ وَالْفُصُولُ هِيَ الْعَشَرَاتُ وَالْمِئُونُ وَالْأُلُوفُ وَالتَّرْكِيبُ مَا عَدَا مَا ذَكَرْنَا وَقَدْ تَتَبَّعْتُ مَعْنَى الْخَبَرِ مُدَّةً وَذَلِكَ أَنَّ مَذْهَبَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَتَكَلَّمْ قَطُّ إِلَّا بِفَائِدَةٍ وَلَا مِنْ سُنَنِهِ شَيْءٌ لَا يُعْلَمُ مَعْنَاهُ فَجَعَلْتُ أَعُدُّ الطَّاعَاتِ مِنَ الْإِيمَانِ فَإِذَا هِيَ تَزِيدُ عَلَى هَذَا الْعَدَدِ شَيْئًا كَثِيرًا فَرَجَعْتُ إِلَى السُّنَنِ فَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ مِنَ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ فَرَجَعْتُ إِلَى مَا بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ مِنْ كَلَامِ رَبِّنَا وَتَلَوْتُهُ آيَةً آيَةً بِالتَّدَبُّرِ وَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ عَنِ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ فَضَمَمْتُ الْكِتَابَ إِلَى السُّنَنِ وَأَسْقَطْتُ الْمُعَادَ مِنْهَا فَإِذَا كُلُّ شَيْءٍ عَدَّهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ فِي كِتَابِهِ وَكُلُّ طَاعَةٍ جَعَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ فِي سُنَنِهِ تِسْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً لَا يَزِيدُ عَلَيْهَا وَلَا يَنْقُصُ مِنْهَا شَيْءٌ فَعَلِمْتُ أَنَّ مُرَادَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الْخَبَرِ أَنَّ الْإِيمَانَ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَنِ .
فَذَكَرْتُ هَذِهِ المسألة بِكَمَالِهَا بِذِكْرِ شُعْبَةَ فِي كِتَابِ "وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ" بِمَا أَرْجُو أَنَّ فِيهَا الْغَنِيَّةَ لِلْمُتَأَمِّلِ إِذَا تَأَمَّلَهَا فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارهَا فِي هَذَا الْكِتَابِ. وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ بِشُعَبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ" فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ هِيَ كُلُّهَا فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقُلْ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَالْإِيمَانُ بِمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنْ أَجْزَاءِ هَذِهِ الشُّعْبَةِ وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ جُزْءٍ وَاحِدٍ مِنْهَا حَيْثُ قَالَ: "أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ" فَدَلَّ هَذَا عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ كُلُّهَا مِنَ الْإِيمَانِ ثُمَّ عَطَفَ فَقَالَ وَأَدْنَاهَا "إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ" هِيَ نَفْلٌ كُلُّهَا لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ الَّتِي هِيَ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ وَكُلَّ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الشُّعَبِ الَّتِي هِيَ مِنْ بَيْنِ الْجُزْأَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ فِي هَذَا الْخَبَرِ اللذين هما من أَعْلَى الْإِيمَانِ وَأَدْنَاهُ كُلُّهُ مِنَ الْإِيمَانِ.
وَأَمَّا قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ" فَهُوَ لَفْظَةٌ أُطْلِقَتْ عَلَى شَيْءٍ بِكِنَايَةِ سَبَبِهِ وَذَلِكَ أَنَّ الْحَيَاءَ جِبِلَّةٌ فِي الْإِنْسَانِ فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُكْثِرُ فِيهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقِلُّ ذَلِكَ فِيهِ وَهَذَا دَلِيلٌ صَحِيحٌ عَلَى زِيَادَةِ الْإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ لِأَنَّ النَّاسَ لَيْسُوا كُلُّهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِي الْحَيَاءِ فَلَمَّا اسْتَحَالَ اسْتِوَاؤُهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِيهِ صَحَّ أَنَّ مَنْ وُجِدَ فِيهِ أَكْثَرُ كَانَ إِيمَانُهُ أَزِيدَ وَمَنْ وُجِدَ فِيهِ مِنْهُ أَقَلُّ كَانَ إِيمَانُهُ أَنْقَصَ وَالْحَيَاءُ فِي نَفْسِهِ هُوَ الشَّيْءُ الْحَائِلُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَبَيْنَ مَا يُبَاعِدُهُ مِنْ ربه عن الْمَحْظُورَاتِ فَكَأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ تَرْكَ الْمَحْظُورَاتِ شُعْبَةً مِنَ الْإِيمَانِ بِإِطْلَاقِ اسْمِ الحياء عليه على ما ذكرناه.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সুলাইমান বিন বিলাল হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখা উল্লেখ করেননি এবং সত্তরটি উল্লেখ না করে ষাটটি উল্লেখের উপর ক্ষ্যান্ত থেকেছেন। সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট হাদীসটি বিস্তারিত ও সহীহ, সেটি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সুলাইমান বিন বিলালের হাদীসটি সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত নয়।
আরবি الْبِضْعُ (৩-৯ পর্যন্ত সংখ্যা) শব্দটি একক যে কোন সংখ্যার উপর ব্যবহৃত হয়। কেননা সংখ্যার গণনা তিনটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত; একক সংখ্যা, ফুসূল (দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ) এবং যৌগিক সংখ্যা। একক সংখ্যা হলো ১-৯ পর্যন্ত, ফুসূল হলো দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ আর বাকীগুলো যৌগিক সংখ্যা।
আমি হাদীসটির অর্থ একটা দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেছি। কারণ আমাদের অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফায়দা বিহীন কোন কথা বলেননি। আর হাদীসেও এমন কোন কিছু নেই যার অর্থ জানা যায় না। ফলে আমি সৎকাজগুলোকে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ধরে গণনা করতে থাকি, অতঃপর দেখি যে, তার এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হয়। অতঃপর আমি হাদীসে ফিরে যাই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব আমলকে ঈমানের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখি সেগুলো সত্তরের কম হয়। তারপর আমি দুই খন্ডে সংরক্ষিত আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে গেলাম এবং তিনি তাঁর কিতাবে যেসব আমলকে ঈমান হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখলাম সেগুলি সত্তরের কম হয়। তারপর হাদীসের সংখ্যার সাথে কুরআনের সংখ্যা যোগ করলাম এবং পুনরুক্ত বিষয়গুলো বাদ দিলাম, ফলে আমি দেখলাম যে, যেসব আমলকে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন এবং যেসব আমলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন, সেগুলি ৭৯ টি; একটিও কম-বেশি নেই। ফলে আমি জানলাম যে, হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও হাদীসে ঈমানের শাখা সত্তরের অধিক।
অতঃপর ঈমানের প্রত্যেকটি শাখার আলোচনা وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ (ঈমান ও তার শাখা-প্রশাখার বিবরণ) নামক কিতাবে পরিপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছি। আমি আশা করি, চিন্তাশীল মানুষের জন্য সেটিই যথেষ্ট, যদি তিনি সেটা চিন্তা-গবেষণা করেন। আর এজন্য আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা এখানে পুনারাবৃত্তি করছি না। ঈমান বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত এই মর্মে দলীল হলো আব্দুল্লাহ বিন দীনার বর্ণিত হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের মাঝে একটি শাখার একাংশের কথা বলেছেন, যে শাখার পুরোটা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয। কারণ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেননি যে, ’আমি আল্লাহর রাসূল।’ ফেরেস্তা, আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, জান্নাত, জাহান্নাম প্রভৃতির প্রতি ঈমান এই শাখার অন্তর্ভূক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে একটি শাখার একাংশ উল্লেখ করে বলেছেন: ’সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য বাকী অংশগুলোও ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। এরপর তিনি আতফ করে (পূর্বের বাক্যের সাথে যোগ করে) বলেছেন: ’সর্বনিম্ন হলো: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা।’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের একটির অংশ উল্লেখ করেছেন, যার সম্পূর্ণটাই মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য অংশসমূহ এবং ঈমানের শাখাসমূহের মধ্য হতে হাদীসে উল্লেখিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুটি অংশ- সবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’ এখানে الْحَيَاءُ শব্দটি একটি জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপকরণের প্রতি ইঙ্গিত করে। কারণ الْحَيَاءُ মানুষের মাঝে একটি প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য যা কিছু মানুষের মাঝে বেশি পরিমাণে থাকে আবার কিছু মানুষের মাঝে তা অল্প পরিমাণে থাকে। কাজেই ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বিশুদ্ধ দলীল। কারণ লজ্জার ক্ষেত্রে একই পর্যায়ভূক্ত নয়। কাজেই লজ্জার ক্ষেত্রে যখন মানুষ একই পর্যায়ভূক্ত হওয়া সম্ভব নয়, সুতরাং এটি সঠিক কথা যে, যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে আর যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে কম হবে। আর মানুষ ও যেসব নিষিদ্ধ জিনিস মানুষকে তার প্রভু থেকে দূরে ঠেলে দেয়- উভয়ের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সেসব জিনিসই হলো সত্তাগতভাবে الْحَيَاءُ বা লজ্জা। কাজেই লজ্জাকে ঈমানের শাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যেন তিনি নিষিদ্ধ জিনিস বর্জন করাকেই ঈমানের শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন, যা আমরা আলোচনা করলাম।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ هَذَا الْخَبَرَ تَفَرَّدَ بِهِ سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وستون شعبة والحياء شعبة من الإيمان".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 167 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৭৬৯।)
পরিচ্ছেদঃ ব্যাপক অর্থবোধক কিছু শাখা-প্রশাখাসহ ঈমানের বিবরণ
১৬৮. ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ও হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম যে, হতে পারে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাবো, (যদি সাক্ষাৎ পাই) তাহলে আমরা তাঁকে ভাগ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো। অতঃপর আমরা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার সাক্ষাৎ পেয়ে গেলাম। আমার মনে পড়ে যে, আমার সঙ্গী আমাকে কথা বলার দায়িত্ব দেন। ফলে আমরা তাঁকে বললাম: ’হে আবু আব্দুর রহমান (এটি আব্দুল্লাহ বিন উমারের উপনাম), আমাদের মাঝে একদল লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যার কুরআন পাঠ করে, ইলমও অর্জন করে- তারা বলে যে, ’ভাগ্য বলতে কিছু নেই। নিশ্চয়ই সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবেই ঘটে।’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার বলেন: ’যদি তুমি তাদের সাক্ষাৎ পাও, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিয়ো যে, আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরুপে মুক্ত, আর তারাও আমার থেকে মুক্ত। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা শপথ করে বলেন: ’যদি তাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করে আর ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনয়ন না করে, তবে তাদের সে দান কখনই গ্রহন করা হবে না।’ তারপর তিনি বলেন:
’আমাকে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, ’একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে বসে ছিলেন। এমন সময় অত্যন্ত কালো দাড়ি ও ধবধবে সাদা পোশাক বিশিষ্ট্য একজন ব্যক্তি আসলেন। তিনি তাঁর হাঁটু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাঁটুর সাথে লাগালেন। অতঃপর বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: “এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ভাগ্যের ভাল-মন্দ, তিক্ততা-মিষ্টতা প্রভৃতির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ইহসান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ইহসান হলো তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে (মনে করবে যে) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি আবারো বললেন: ’আমাকে বলুন, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তিনি বললেন: ’তাহলে তার আলামত কী।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দাসীকে দেখবে তার মুনীবকে প্রসব করতে, দেখবে বিবস্ত্র, নগ্নপদ, ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করতে। তারপর লোকটি চলে যায়। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ’এর তিনদিন পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বলেন: ’হে উমার, তুমি কি জানো সেই লোকটি কে ছিল?’ আমি বললাম: ’জ্বী, না।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন,আপনাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ وَصْفِ الْإِسْلَامِ وَالْإِيمَانِ بِذِكْرِ جَوَامِعِ شُعَبِهِمَا
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ وَقُلْنَا لَعَلَّنَا لَقِينَا رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فنسأله عن القدر فلقينا بن عُمَرَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ فَقُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَدْ ظَهَرَ عِنْدَنَا أناس يقرؤون الْقُرْآنَ يَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ تَقَفُّرًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنُفٌ قَالَ: فَإِنْ لَقِيتَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَهُمْ مِنِّي بُرَآءُ والذي يحلف به بن عُمَرَ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا ثُمَّ لَمْ يُؤْمِنْ بِالْقَدَرِ لَمْ يُقْبَلْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله تعالى عَنْهُ قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ جَالِسًا إِذْ جَاءَ شَدِيدُ سَوَادِ اللِّحْيَةِ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ فَوَضَعَ رُكْبَتَهُ عَلَى رُكْبَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ قَالَ: "شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ" قَالَ: صَدَقْتَ فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ قَالَ: فَأَخْبِرْنِي مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: "أَنْ تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ حُلْوِهِ وَمُرِّهِ" قَالَ: صَدَقْتَ قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إياه وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ قَالَ: فَأَخْبِرْنِي مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: "أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ" قَالَ فَأَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ قَالَ: "مَا الْمَسْؤُولُ بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ" قَالَ: فَمَا أَمَارَتُهَا؟ قَالَ: "أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ" قَالَ: فَتَوَلَّى وَذَهَبَ فَقَالَ عُمَرُ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ثَالِثَةٍ فَقَالَ: "يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ؟ " قُلْتُ: لَا قَالَ: "ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يعلمكم دينكم".
الراوي : يَحْيَى بْن يَعْمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 168 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৯০৩।)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় হাদীস যা, ইলমে হাদীসে জ্ঞান মজবুত নয়, এমন ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, পুরো ঈমান হলো মুখে শাহাদাহ এর স্বীকৃতি দেওয়া; অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল ঈমানের সাথে যুক্ত নয়
১৬৯. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?’ তিনি জবাবে বলেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ أَوْهَمَ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةَ الْحَدِيثِ أَنَّ الْإِيمَانَ بِكَمَالِهِ هُوَ الْإِقْرَارُ بِاللِّسَانِ دُونَ أَنْ يَقْرِنَهُ الْأَعْمَالُ بِالْأَعْضَاءِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بِسْطَامٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْأَعْمَشِ وَحَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ؟: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ" فَقُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ: "وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سرق".
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 169 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৮২৬।)
পরিচ্ছেদঃ আমাদের যেসব ইমাম বলেন যে উক্ত হাদীস ইসলামের প্রথম যুগের মক্কার, যে সময় ইসলামের বিধি-বিধানগুলো অবতীর্ণ হয়নি- তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীসের আলোচনা
১৭০. যাইদ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, অবশ্যই আমি রাবাযাহ নামক জায়গায় আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন: ’আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মদীনার কঙ্করময় এলাকা দিয়ে হাঁটছিলাম। আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় পড়লো, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’হে আবু যার, আমার মোটেও পছন্দ নয় যে, উহুদ পাহাড় আমার জন্য সোনায় পরিণত হয়ে তার একটি দীনারও সন্ধা পর্যন্ত আমার কাছে থাকুক। তবে সেটা ব্যতিত যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রাখি।’ তারপর তিনি চলতে লাগলেন আমিও তাঁর সাথে চললাম। তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার!’ আমি বললাম: ’আমি আপনার এবং আপনার সন্তুষ্টির কাছে সদাপ্রস্তুত! তিনি বললেন: ’(দুনিয়াতে ধন-সম্পদের দিক দিয়ে) আধিক্যতা লাভকারীরা কিয়ামতের দিন (সাওয়াব প্রাপ্তির দিক দিয়ে) স্বল্প লাভকারী হবে।’ তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার, আমি তোমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই থাকো।’ এরপর তিনি চলতে লাগলেন এমনকি তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। অতঃপর আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি মনে মনে বললাম: ’আমিও চলি।’ তারপরেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা মনে পড়লো। ফলে তিনি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আসলে আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম, ফলে আমি আপনার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করি কিন্তু পরক্ষণেই আপনার কথা মনে হয়।’ তিনি বলেন: ’উনি জিবরীল, আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন: ’আমার উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তি মারা যাবে এমতাবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]
উপরোক্ত হাদীসটি আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে।[2]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ مِنْ أَئِمَّتِنَا أَنَّ هَذَا الْخَبَرَ كَانَ بِمَكَّةَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ قَبْلَ نُزُولِ الْأَحْكَامِ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ يَقُولُ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرَّةِ الْمَدِينَةِ فَاسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ أُحُدًا لِي ذَهَبًا أُمْسِي وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلَّا أَصْرِفُهُ لِدَيْنٍ", ثُمَّ مَشَى وَمَشَيْتُ مَعَهُ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ", قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ فَقَالَ: "إِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ" ثُمَّ قَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ لَا تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ؟ " ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى فَسَمِعْتُ صَوْتًا فَقُلْتُ أَنْطَلِقُ ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي فَلَبِثْتُ حَتَّى جَاءَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فَأَرَدْتُ أَنْ أُدْرِكَكَ فَذَكَرْتُ قَوْلَكَ لِي فَقَالَ: "ذَلِكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ" قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: "وَإِنْ زنى وإن سرق".
أخبرناه القطان في عقبه حدثنا هشام بن عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ.
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 170 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৮২৬।)
[2] সহীহ আল বুখারী: ৬২৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৪৭।
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৮২৬।)
পরিচ্ছেদঃ যে হাদীস আলিম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ঈমান হলো এক আল্লাহকে স্বীকার করা; সৎকর্মগুলো ঈমানের শাখার অন্তর্ভূক্ত নয়
১৭১. আবু মালিক আল আশজা’য়ী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে জানবে, তাঁকে ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয়, সেসবকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল (অন্য মুসলিমদের জন্য) হারাম হয়ে যাবে। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ عَالِمًا مِنَ النَّاسِ أَنَّ الْإِيمَانَ هُوَ الْإِقْرَارُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ دُونَ أَنْ تَكُونَ الطَّاعَاتُ مِنْ شُعَبِهِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ وَحَّدَ اللَّهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِهِ حرم ماله ودمه وحسابه على الله".
الراوي : أَبو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيّ عن أبيه | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 171 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪২৮।)
পরিচ্ছেদঃ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে জানবে, তাঁকে ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয়, সেসবকে অস্বীকার করবে’- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা
১৭২. আবু হামযা রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও মানুষের মাঝে দোভাষী হিসেবে কাজ করছিলাম। এসময় তাঁর কাছে এক মহিলা এসে তাঁকে কলসির শরবত পান করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি জবাবে বলেন: ’একবার আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বলেন: ’আপনারা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বলেছেন: ’আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক?’ তাঁরা বললেন: ’আমরা রাবি’আহ গোত্রের লোক।’ তিনি বললেন: ’এই কওম বা প্রতিনিধিদলকে স্বাগতম, আপনারা লাঞ্চিতও হবেন না এবং অনুশোচনাও করবেন না।’ তাঁরা বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা আপনার কাছে অনেক দূর থেকে আসি। আমাদের ও আপনার মাঝে কুফফার মুযার গোত্রের আছে ফলে আমরা আপনার কাছে হারাম মাস ছাড়া অন্য কোন সময় আসতে পারি না। অতএব আপনি আমাদেরকে এমন কিছুর আদেশ দিন, যা আমাদের পিছে রেখে আসা লোকদের জানিয়ে দিব এবং তা আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।’ রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ করেন এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করেন। তাঁদেরকে তিনি আদেশ করলেন এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে, তিনি বললেন: ’আপনারা কি জানেন এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী?’ তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভালো জানেন।’ তিনি বলেন: ’সেটি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল’, (তিনি আরো আদেশ করলেন) সালাত প্রতিষ্ঠা করতে, যাকাত প্রদান করতে, রমযানের সিয়াম পালন করতে এবং তোমাদের প্রাপ্ত গনীমত হতে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে।’ তিনি তাঁদেরকে নিষেধ করেন কদুর খোলস, সবুজ কলসি, আল কাতরার প্রলেপ দেওয়া পাত্র এবং খেজুরের কাষ্ঠ খোদাই করা পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেন।’ এখানে ইমাম শু’বাহ রহিমাহুল্লাহ কোন কোন সময় النَّقِيرِ আবার কোন কোন সময় الْمُقَيَّرِ বলেছেন (অর্থ একই)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বলেন: ’আপনারা এসব ভালভাবে মুখস্ত করে নিন এবং এসব আপনাদের পিছে থাকা লোকদের জানিয়ে দিবেন।’[1]
ذِكْرُ وَصْفِ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَّدَ اللَّهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِهِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ: كُنْتُ أُتَرْجِمُ بَيْنَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَبَيْنَ النَّاسِ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ تَسْأَلُهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ فَقَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنِ الْوَفْدُ أَوْ مَنِ الْقَوْمُ؟ " قَالُوا: رَبِيعَةُ قَالَ: "مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى" قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْتِيكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ إِنَّ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ وَإِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نُخْبِرُ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا وَنَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ قَالَ: فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَقَالَ: "هَلْ تَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟ " قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: "شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ" قَالَ شُعْبَةُ وَرُبَّمَا قَالَ: وَالنَّقِيرِ وَرُبَّمَا قَالَ: الْمُقَيَّرِ وَقَالَ: "احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوهُ من وراءكم".
الراوي : أَبو جَمْرَةَ عن ابْنِ عَبَّاسٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 172 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৫৭।)
পরিচ্ছেদঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হাদীসে ঈমানের যে শাখা-প্রশাখা ও অংশ বর্ণিত হয়েছে এছাড়াও ঈমানের আরোপ শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যা পরম বিশ্বস্ত জিবরীল ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফায়সালায় এসেছে
১৭৩. ইয়াহইয়া বিন ইয়া’মার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বললাম: ’হে আবু আব্দুর রহমান (এর দ্বারা তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমারকে বুঝিয়েছেন), কিছু লোক বিশ্বাস করে যে, ভাগ্য বলতে কিছু নেই।’ তিনি বললেন: ’আপনাদের মাঝে (এখানে) তাদের কেউ আছে কি?’ আমি বললাম: ’জ্বী, না।’ তিনি বলেন: ’যখনি আপনি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যে, ’নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তোমাদের থেকে আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত, আর তোমরাও তাঁর থেকে দায়মুক্ত।’ এরপর তিনি বলেন: ’আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেছেন: ’আমরা একদিন কিছু লোকের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে বসে ছিলাম, এমন সময় একজন লোক আসলেন, যার উপর সফরের কোন আলামত ছিল না আর সে আমাদের শহরের লোকও ছিল না। তিনি মানুষকে ডিঙ্গিয়ে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বসলেন। অতঃপর বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: “ইসলাম হলো আপনি এই সাক্ষ্য দিবেন যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, যাকাত প্রদান করবেন, হজ্জ করবেন উমরা করবেন, নাপাকীর গোসল করবেন, পরিপূর্ণভাবে ওযূ করবেন এবং রমযানের সিয়াম পালন করবেন।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এসব পালন করবো, তখন কি আমি মুসলিম হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে বলুন, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করবেন, বিশ্বাস করবেন জান্নাত, জাহান্নাম ও মীযানের প্রতি, বিশ্বাস করবেন মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি, আরো বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এসব বিশ্বাস করবো, তখন কি আমি মু’মিন হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ইহসান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ইহসান হলো আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যে, যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন। যদি আপনি তাকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন যে) নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এমন করবো, তখন কি আমি মুহসিন হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন:কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’সুবহানাল্লাহ! এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তবে আপনি চাইলে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলতে পারি।’ তিনি বললেন: ’জ্বী, বলুন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দেখবে অভাবী, বিবস্ত্র, নগ্নপদ, ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করতে আর তারা রাজা হয়ে যাবে।’ তিনি বললেন: ’অভাবী, বিবস্ত্র, নগ্নপদ কী?’ তিনি বলেন: ’নিম্ন শ্রেণির গ্রাম্য লোক। আর যখন তুমি দাসীকে তার মুনীবকে প্রসব করতে দেখবে, এসব কিয়ামতের আলামত।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তারপর তিনি উঠে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তোমরা লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’ অতঃপর আমরা তাঁকে সাধ্যমত খোঁজা-খুঁজি করলাম, কিন্তু তাঁকে খুঁজে বের করতে পারলাম না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’কি জানো সেই লোকটি কে ছিল? উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন,আপনাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তোমরা তাঁর থেকে এসব শিখে নাও। আল্লাহর শপথ! জিবরীল আলাইহিস সালাম যতবার আমার কাছে এসেছেন, (তাঁকে চেনার ক্ষেত্রে) এবার ছাড়া আর কখনই সংশয়পূর্ণ হয়নি। আর এবার তিনি চলে যাওয়ার পরেই তাঁকে চিনতে পেরেছি।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ وَالْإِسْلَامَ شُعَبٌ وَأَجْزَاءٌ غير ما ذكرنا في خبر بن عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ بِحُكْمِ الْأَمِينَيْنِ مُحَمَّدٍ وَجِبْرِيلَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي لِابْنِ عُمَرَ إِنَّ أَقْوَامًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدَرٌ قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟ قُلْتُ: لَا قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ يَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ بُرَآءُ مِنْهُ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُنَاسٍ إذ جاء رجل لَيْسَ عَلَيْهِ سَحْنَاءُ سَفَرٍ وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَكَ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم فقال: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: "الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ محمد رَسُولُ اللَّهِ وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ" قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: صَدَقْتَ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: "أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْمِيزَانِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ" قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: صَدَقْتَ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: "الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ" قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا فَأَنَا مُحْسِنٌ؟ قَالَ: "نَعَمْ" قَالَ: صَدَقْتَ قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: "سُبْحَانَ اللَّهِ مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ إِنْ شِئْتَ نَبَّأْتُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا" قَالَ: أَجَلْ قَالَ: "إِذَا رَأَيْتَ الْعَالَةَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ وَكَانُوا مُلُوكًا" قَالَ: مَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ قَالَ: "الْعُرَيْبُ" قَالَ: "وَإِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ تَلِدُ رَبَّتَهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ" قَالَ: صَدَقْتَ ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "عَلَيَّ بِالرَّجُلِ" فَطَلَبْنَاهُ كُلَّ مَطْلَبٍ فلم نقدر عليه فقال رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "هَلْ تَدْرُونَ مَنْ هَذَا؟ هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لَيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ خُذُوا عَنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ وَمَا عَرَفْتُهُ حَتَّى وَلَّى".
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: تَفَرَّدَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ بِقَوْلِهِ: "خُذُوا عَنْهُ" وَبِقَوْلِهِ: "تعتمر وتغتسل وتتم الوضوء".
الراوي : يَحْيَى بْن يَعْمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 173 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৯০৩।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সব কিছুর উপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত
১৭৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।’ যখন তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।’ এবং আমি ও আমার আনিত সমস্ত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে সম্পদের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]
এটি দারাওয়ারদি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি আমাদের শাইখ বলেছেন।
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ بِكُلِّ مَا جَاءَ بِهِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ بِالْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا شَهِدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَآمَنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُ بِهِ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ".
تفرد به الدراوردي قاله الشيخ.
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 174 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৭।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সব কিছুর উপর বিশ্বাস করা এবং তদনুযায়ী আমল করা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত
১৭৫. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং আমি আল্লাহর রাসূল, এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত প্রদান করে। যখন তারা এমনটা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: تَفَرَّدَ بِهِ شُعْبَةُ.
وَفِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ بِأَنَّ الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ وَشُعَبٌ تَتَبَايَنُ أَحْوَالُ الْمُخَاطَبِينَ فِيهَا لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ (حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ) فَهَذَا هُوَ الْإِشَارَةُ إِلَى الشُّعْبَةِ الَّتِي هِيَ فرضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ ثُمَّ قَالَ: (وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ) فَذَكَرَ الشيء الذي هو فرض على المخاطبين في بَعْضِ الْأَحْوَالِ ثُمَّ قَالَ: (وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ) فَذَكَرَ الشيء الذي هو فرض على المخاطبين في بَعْضِ الْأَحْوَالِ فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الطَّاعَاتِ الَّتِي تُشْبِهُ الْأَشْيَاءَ الثَّلَاثَةَ الَّتِي ذَكَرَهَا فِي هَذَا الْخَبَرِ مِنَ الْإِيمَانِ.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “হাদীসটি ইমাম শু’বাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, ঈমানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও অংশ রয়েছে, যাতে মুখাতাবগণের অবস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদীসে বলেছেন: ’যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং আমি আল্লাহর রাসূল’ এটা হলো ঈমানের ঐ শাখার প্রতি ইঙ্গিত, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয। তারপর তিনি বলেছেন: ’এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে’ এখানে তিনি এমন একটি ইবাদতের বিষয়ে বলেছেন, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর কিছু অবস্থায় ফরয। তারপর তিনি বলেছেন: ’যাকাত প্রদান করে।’ এখানে তিনি এমন একটি ইবাদতের বিষয়ে বলেছেন, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর কিছু অবস্থায় ফরয। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, হাদীসে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিটি সৎ আমল ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْإِيمَانَ بِكُلِّ مَا أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ مَعَ الْعَمَلِ بِهِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى بِالْمَوْصِلِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ حدثنا شعبة عن واقد بن محمد عن أبيه عن بْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ".
الراوي : عبد الله بن عمر | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 175 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৮।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ঈমানের কোন অংশ বাস্তবায়ন করে, তার ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা
১৭৬. আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঈমান কী?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যখন তোমার সৎ আমল তোমাকে আনন্দ দিবে, পাপ কাজ তোমার খারাপ লাগবে, তবে তুমি মু’মিন।’ তিনি আবার বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পাপ কী?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’যখন তোমার অন্তরে কোন কিছু খটকা লাগবে, তখন সেটি তুমি বর্জন করবে।’ [1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ أَتَى بِبَعْضِ أَجْزَائِهِ
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْإِيمَانُ قَالَ: "إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَاتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَاتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ" قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِثْمُ؟ قَالَ: "إِذَا حاك في قلبك شيء فدعه".
الراوي : أَبو أُمَامَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 176 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৫৫০।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ঈমানের কোন অংশের অংশ বাস্তবায়ন করে, তার ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা
১৭৭. মদীনার বিচারপতি আতা’ বিন ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’অচিরেই আমার পরে কিছু শাসক আসবে, যারা এমন কিছু বলবে যা তারা নিজেরাই আমল করবে না, আর এমন কিছু করবে যা তাদেরকে করতে আদেশ করা হয়নি। যে ব্যক্তি তাদের সাথে হাত দিয়ে জিহাদ করবে, সে মু’মিন, যে ব্যক্তি তাদের সাথে জবান দিয়ে জিহাদ করবে, সেও মু’মিন, যে ব্যক্তি তাদের সাথে অন্তর দিয়ে জিহাদ করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর কোন ঈমান নেই।’[1]
রাবী আতা’ রহিমাহুল্লাহ বলেন, তাঁর কাছ থেকে হাদীসটি শুনে আমি এই ব্যাপারে আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর কাছে গেলাম। অতঃপর হাদীসটি তাঁকে বর্ণনা করলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, ’আপনি নিজেই কি হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীসটি শুনেছেন?’ আতা’ রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’তিনি তো অসুস্থ, তাঁকে দেখতে যাচ্ছেন না কেন?’ তিনি বললেন: ’আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে চলুন।’ এরপর তিনি চলতে লাগলেন আমিও তাঁর সাথে চলতে লাগলাম। তারপর তিনি তাঁকে তাঁর অসুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। এরপর তিনি অত্র হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাবী আতা’ বলেন, এরপর আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর কাছ থেকে বের হলেন এবং হাতের তালু উল্টিয়ে বললেন: “উম্মু আবদ এর ছেলে (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে মিথ্যা কথা বলেন না।”
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ أَتَى جُزْءًا مِنْ بَعْضِ أَجْزَائِهِ
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ السِّمْطِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي ثُمَّ اسْتَكْتَمَنِي أَنْ أُحَدِّثَ بِهِ مَا عَاشَ مُعَاوِيَةُ فَذَكَرَ عَامِرٌ قَالَ: سَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ وَهُوَ قَاضِي الْمَدِينَةِ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ وَهُوَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (سَيَكُونُ أُمَرَاءُ مِنْ بَعْدِي يَقُولُونَ مالا يفعلون ويفعلون مالا يَؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ لَا إِيمَانَ بَعْدَهُ) قَالَ عَطَاءٌ: فَحِينَ سَمِعْتُ الْحَدِيثَ مِنْهُ انْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: أَنْتَ سَمِعْتَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ هَذَا؟ كالمُدخِلِ عَلَيْهِ فِي حَدِيثِهِ - قَالَ عَطَاءٌ: فَقُلْتُ: هُوَ مَرِيضٌ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَعُودَهُ؟ قَالَ: فَانْطَلِقْ بِنَا إِلَيْهِ فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَسَأَلَهُ عَنْ شكْوَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ عَنِ الْحَدِيثِ قَالَ: فَخَرَجَ ابْنُ عُمَرَ وَهُوَ يُقَلِّبُ كَفَّهُ وَهُوَ يَقُولُ: مَا كَانَ ابْنُ أُمِّ عبدٍ يكذِب عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم.
الراوي : عبد الله بْن مَسْعُودٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 177 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদ আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ উত্তম বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক ‘আলা ইসলাহিল মাসাজিদ: ৪৪।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি স্বীকৃতি দানের শাখা-প্রশাখার কোন একটি অংশের উপর আমল করবে, তার ক্ষেত্রে ‘ঈমান’ নাম ব্যবহার বিষয়ে আলোচনা
১৭৮. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’কোন বান্দা মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। সে এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, আর নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, বিশ্বাস স্থাপন করবে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে ভাগ্যের প্রতি ।’[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ أَتَى بِجُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِ الْإِقْرَارِ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا يُؤْمِنُ الْعَبْدُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَعٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ الله ويؤمن بالبعث بعد الموت ويؤمن بالقدر.
الراوي : عَلِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 178 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ১০৪।)
পরিচ্ছেদঃ ঈমানের ‘জানা’ শাখার কোন একটি অংশের উপর আমলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ঈমান’ নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা
১৭৯. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা ও সমস্ত মানুষ অপেক্ষা প্রিয় হবো।’[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ أَتَى بِجُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الشُّعْبَةِ الَّتِي هِيَ الْمَعْرِفَةُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لا يؤمن أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَلَدِهِ ووالده والناس أجمعين.
الراوي : أَنَس | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 178 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুখতাসার মুসলিম: ২৩।)
পরিচ্ছেদঃ এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করা, যাকে মানুষ তাদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে
১৮০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন। আর মু’মিন ঐ ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে।’[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ آمَنَهُ النَّاسُ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَأَمْلَاكِهِمْ
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ بِمِصْرَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ عَنِ بن عَجْلَانَ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُؤْمِنُ مَنْ أمنه الناس على دمائهم وأموالهم".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 180 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মজবুত বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৫৪৯।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ঈমান একক বিষয়; এটি বাড়েও না, কমেও না- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বিবরণ
১৮১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের সত্তর অথবা বাহাত্তরটি দরজা রয়েছে। সর্বোচ্চ দরজা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সর্বনিম্ন দরজা হলো রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: الِاقْتِصَارُ فِي هَذَا الْخَبَرِ عَلَى هَذَا الْعَدَدِ الْمَذْكُورِ فِي خَبَرِ ابْنِ الْهَادِ مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا: إِنَّ الْعَرَبَ تَذْكُرُ الْعَدَدَ لِلشَّيْءِ وَلَا تُرِيدُ بِذِكْرِهَا ذَلِكَ الْعَدَدَ نَفْيًا عَمَّا وَرَاءَهُ وَلِهَذَا نَظَائِرُ نوَّعنا لِهَذَا أَنْوَاعًا سَنَذْكُرُهَا بِفُصُولِهَا فِيمَا بَعْدُ إِنْ شاء الله.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাবী ইবনুল বর্ণিত এই হাদীসে উল্লেখিত সংখ্যার উপর ক্ষ্যান্ত থাকা হয়েছে, এই ব্যাপারে আমরা আমাদের কিতাবে বলেছি যে, আরবরা কোন কোন সময় কোন কিছুর সংখ্যা বর্ণনা করে কিন্তু ঐ সংখ্যা উল্লেখের মাধ্যমে তারা অন্যান্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নেন না। এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এটিকে আমরা অনেক প্রকারে বিভক্ত করেছি।পরবর্তীতে আমরা এই বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْإِيمَانَ شَيْءٌ وَاحِدٌ وَلَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ بِخَبَرٍ غَرِيبٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّنْجِيُّ سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ حدثنا بن أَبِي مَرْيَمَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنِ بْنِ الْهَادِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم قال: "الْإِيمَانُ سَبْعُونَ أَوِ اثْنَانِ وَسَبْعُونَ بَابًا أَرْفَعُهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهُ إِمَاطَةُ الْأَذَى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 181 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে তিনি ৭০ সংখ্যার হাদীসটিকে বেশি সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। (আস সহীহাহ: ১৭৬৯।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বলেন যে, সমস্ত মুসলিমের ঈমান একই; এতে কোন কম-বেশি নেই- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা
১৮২. আবু সা’ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আল্লাহ তা’আলা জান্নাতবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যাকে ইচ্ছা তিনি স্বীয় রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তারপর তিনি বলবেন: ’যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে, তাকে তোমরা জাহান্নাম থেকে বের করো।’ অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এমতাবস্থায় যে তারা অঙ্গারে পরিণত হয়ে গিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে জান্নাতের একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হবে ফলে তারা জেগে উঠবে যেভাবে নদীর ধারে শষ্যদানা গজিয়ে উঠে। তোমরা কি সেগুলোকে হলুদ বর্ণ ও মোচড় খাওয়া পেঁচানো দেখতে পাও না?’[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ إِيمَانَ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدٌ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ فِيهِ زِيَادَةٌ أَوْ نُقْصَانٌ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "يُدْخِلُ اللَّهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ بِرَحْمَتِهِ وَيُدْخِلُ أَهْلَ النَّارِ [النَّارَ] ثُمَّ يَقُولُ أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا حُمَمًا فَيُلْقَوْنَ فِي نَهْرٍ فِي الْجَنَّةِ فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ حَبَّةٌ فِي جَانِبِ السَّيْلِ أَلَمْ تَرَهَا صفراء ملتوية".
الراوي : أَبُوْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 182 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাত: ৮৪২।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য: ‘যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে, তাকে তোমরা জাহান্নাম থেকে বের করো।’-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাদের অন্তরে কীরাত পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার পর, এদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে
১৮৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’যখন জান্নাতবাসী ও জাহান্নাবাসীদের পৃথক করা হবে এবং জান্নাতবাসীরা জান্নাতে আর জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন রাসূলগণ দাঁড়াবেন অতঃপর তাঁরা সুপারিশ করবেন। তখন তাঁদের বলা হবে: ’আপনারা যান এবং যাকে বুঝতে পারবেন যে, তার অন্তরে এক কীরাত পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে আপনারা জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসেন।’ অতঃপর তাঁরা অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন। তারপর তাঁদেরকে আবার বলা হবে: ’আপনারা যান এবং যাকে বুঝতে পারবেন যে, তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে, তাকে আপনারা জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসেন।’ অতঃপর তাঁরা অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন।’ তারপর সুমহান আল্লাহ বলবেন: ’আমি এখন আমার নি’য়ামত ও রহমতের বদৌলতে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবো।’ ফলে নাবীগণ যে পরিমাণ বের করে এনেছিলেন তার চেয়ে বহু গুণ লোক তিনি জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন এমতাবস্থায় যে, তারা পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়ে গেছে। অতঃপর তাদেরকে নদীতে অথবা (রাবীর সন্দেহ যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাতের একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হবে, ফলে তাদের পোড়া অংশ ঐ নদীর কিনারায় পড়ে যাবে এবং তারা সা’আরীর উদ্ভিদের ন্যায় শুভ্র হয়ে যাবে। তাদের গর্দানে লেখা থাকবে ’এরা আল্লাহর আজাদকৃত’ এবং তাদেরকে জাহান্নাম ভোগকারী হিসেবে অভিহিত করা হবে।’[1]
সা’আরীর হলো এক জাতীয় ছোট উদ্ভিদ। এটি আমাদের শাইখ বলেছেন।
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ أَرَادَ بِهِ بَعْدَ إِخْرَاجِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ قَدْرُ قِيرَاطٍ مِنْ إِيمَانٍ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي رَجَاءِ بْنِ أَبِي عُبَيْدَةَ الْحَرَّانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِذَا مُيِّزَ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ قَامَتِ الرُّسُلُ فَشَفَعُوا فَيُقَالُ اذْهَبُوا فَمَنْ عَرَفْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ قِيرَاطٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ فَيُخْرِجُونَ بَشَرًا كَثِيرًا ثُمَّ يُقَالُ اذْهَبُوا فَمَنْ عَرَفْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ خَرْدَلَةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ فَيُخْرِجُونَ بَشَرًا كَثِيرًا ثُمَّ يَقُولُ جَلَّ وَعَلَا أَنَا الْآنَ أُخْرِجُ بِنِعْمَتِي وَبِرَحْمَتِي فَيُخْرِجُ أَضْعَافَ مَا أَخْرَجُوا وَأَضْعَافَهُمْ قَدِ امْتَحَشُوا وَصَارُوا فَحْمًا فَيُلْقَوْنَ فِي نَهْرٍ أَوْ فِي نَهْرٍ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ فَتَسْقُطُ مُحَاشُّهُمْ عَلَى حَافَةِ ذَلِكَ النَّهَرِ فَيَعُودُونَ بِيضًا مِثْلَ الثَّعَارِيرِ فَيُكْتَبُ فِي رِقَابِهِمْ عُتَقَاءُ اللَّهِ وَيُسَمَّوْنَ فِيهَا الْجَهَنَّمِيِّينَ".
الثَّعَارِيرُ: الْقِثَّاءُ الصِّغَارُ قَالَهُ الشيخ.
الراوي : جَابِر | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 183 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩০৫৪।)
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নামবাসীরা কয়লায় পরিণত হওয়ার পর শুভ্র হয়ে যাবে, জান্নাতবাসীরা তাদের উপর পানি ছিটা দিবেন- এই মর্মে বর্ণনা
১৮৪. আবু সা’ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আর জাহান্নামবাসীরা, তারা সেখানে মৃত্যুবরণ করবে না, ভালোভাবে বেঁচেও থাকবে না। কিন্তু কিছু মানুষ থাকবে, যারা তাদের পাপের কারণে জাহান্নামের শাস্তি পাবে অতঃপর যখন তারা পুড়ে কয়লায় পরিণত হবে, তখন তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হবে। ফলে তাদেরকে দলে দলে আনা হবে। অতঃপর তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে জান্নাতবাসীদের সামনে রাখা হবে। তারপর বলা হবে: ’হে জান্নাতবাসীগণ, আপনারা তাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিন। ফলে তারা স্রোতবাহিত পলিমাটিতে চারা গজিয়ে উঠার ন্যায় গজিয়ে উঠবে।’ তখন একজন সাহাবী বললেন: ’আল্লাহর নাবী যেন গ্রামে বসবাস করতেন।’[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ بِأَنَّهُمْ يَعُودُونَ بِيضًا بَعْدَ أَنَّ كَانُوا فَحْمًا يَرُشُّ أَهْلُ الْجَنَّةِ عَلَيْهِمُ الْمَاءَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ حَمْزَةَ قَالَ حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ قَالَ بِخَطَايَاهُمْ حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُّوا عَلَى أَهْلِ الْجَنَّةِ ثُمَّ قِيلَ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ قَالَ فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ" فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: كَأَنَّهُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بالبادية.
الراوي : أَبُوْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 184 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৫৫১।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ঈমান সর্বদা একই অবস্থায় থাকে; তাতে কমতি বা কামালিয়াত প্রবেশ করে না- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা
১৮৫. তারিক বিন শিহাব রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’এক ইয়াহুদী উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললো যে, ’আজ তোমাদের উপর তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম...। (সূরা আল মায়িদা: ৩) যদি আমরা ইয়াহুদীরা জানতাম যে, এই আয়াত কখন নাযিল হয়েছে, তাহলে সেই সময়কে আমরা ঈদ বা উৎসবের সময় হিসেবে গ্রহণ করতাম। আর যদি আমরা জানতাম যে, এই আয়াত কোন দিন নাযিল হয়েছে, তাহলে সেই দিনকে আমরা ঈদ বা উৎসবের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম।’ তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন: ’আমি জানি যে, আয়াতটি কখন নাযিল হয়েছে এবং কোন রাতে নাযিল হয়েছে সেটাও জানি। আয়াতটি নাযিল হয়েছে জুমু’আর দিন, এসময় আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আরাফায় ছিলাম।’[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْإِيمَانَ لَمْ يَزَلْ عَلَى حَالَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَدْخُلُهُ نَقْصٌ أَوْ كَمَالٌ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: قَالَ يَهُودِيٌّ لِعُمَرَ: لَوْ عَلِمْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ مَتَى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَاتَّخَذْنَاهُ عِيدًا {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3] وَلَوْ نَعْلَمُ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ لاتخذناه عيدا فقال عمر رضي الله تعالى عَنْهُ: "قَدْ عَلِمْتُ الْيَوْمَ الَّذِي أُنْزِلَتْ فِيهِ وَاللَّيْلَةَ الَّتِي أُنْزِلَتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَفَاتٍ.
الراوي : طَارِق بْن شِهَابٍ عَنْ عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 185 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আন নাসাঈ: ২৮০৮।)
পরিচ্ছেদঃ এমন শব্দ ব্যবহার করা যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ নয় বরং অপরিপূর্ণ এমন জিনিসের সেই জিনিসের নাম ব্যবহারকে নাকচ করা; বাহ্যিকভাবে তার ভিত্তিতে হুকুম দেওয়া উদ্দেশ্য নয়- এই ব্যাপারে স্পষ্ট দ্বিতীয় হাদীস
১৮৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ব্যভিচারী ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন সে মু’মিন থাকে না। চোর যখন চুরি করে তখন সে মু’মিন থাকে না। মদ পানকারী ব্যক্তি যখন মদ পান করে তখন সে মু’মিন থাকে না। লুণ্ঠনকারী ব্যক্তি যখন কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির লুণ্ঠন করে আর মুসলিমরা তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মু’মিন থাকে না।[1]
অধঃস্তন রাবী ইমাম আওযাঈ রহিমাহুল্লাহ তাঁর উস্তাদ ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন: ’এর মর্মার্থ কী?’ তখন তিনি জবাবে বললেন: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া আর আমাদের দায়িত্ব হলো মেনে নেওয়া।’
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِإِطْلَاقِ لَفْظَةٍ مُرَادُهَا نَفْيُ الِاسْمِ عَنِ الشَّيْءِ لِلنَّقْصِ عَنِ الْكَمَالِ لَا الْحُكْمُ عَلَى ظَاهِرِهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُونَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم قال: "لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرُ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ الْمُسْلِمُونَ إِلَيْهَا أَبْصَارَهُمْ وَهُوَ حِينَ يَنْتَهِبُهَا مُؤْمِنٌ".
فَقُلْتُ لِلزُّهْرِيِّ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا التَّسْلِيمُ".
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 186 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইবনু আবী শায়বাহ, আল ঈমান: ১৩ পৃষ্ঠা)
পরিচ্ছেদঃ পূর্বে উল্লেখিত অর্থকে সুস্পষ্টকারী তৃতীয় হাদীসের বিবরণ
১৮৭. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’তোমরা আমার পরে কুফফার (দের মত) হয়ে যেয়ো না যে, তোমরা একে অন্যের গর্দানে মারবে।’[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَالِثٍ يُصَرِّحُ بِالْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَابْنُ كَثِيرٍ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ وَاقِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ بن عُمَرَ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بعض".
الراوي : ابن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 187 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২০০৮, ১৯৭৪।)
পরিচ্ছেদঃ আরবরা তাদের ভাষায় কোন জিনিসের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তার নাম এর সাথে সম্পৃক্ত করে দেয় আবার কোন জিনিসের কামালিয়াত থেকে কমতি থাকার কারণে তার ক্ষেত্রে ঐ নাম ব্যবহার করাকে নাকচ করে- এই ব্যাপারে বিবরণ
১৮৮. যাইদ বিন খালিদ আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়ায় ফজরের সালাত আদায় করেন। এর আগে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাম ফিরালেন, তখন তিনি মানুষদের মুখোমুখি হয়ে বললেন: ’তোমরা কি জানো তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন?’ সাহাবাগণ বললেন: ’আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভাল জানেন।’ তিনি বলেন, তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন: ’আজকে আমার বান্দাদের কতেক আমার প্রতি বিশ্বাসী আর কতেক অবিশ্বাসী হয়ে সকাল করেছে। যারা বলেছে যে, ’আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে আমাদের বৃষ্টি দেওয়া হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাসী ও গ্রহ-নক্ষত্রের (প্রভাবের) প্রতি অবিশ্বাসী। আর যারা বলেছে যে, ’আমাদেরকে ওমুক, ওমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি দেওয়া হয়েছে, তারা আমার প্রতি অবিশ্বাসী ও গ্রহ-নক্ষত্রের (প্রভাবের) প্রতি বিশ্বাসী।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْعَرَبَ فِي لُغَتِهَا تُضِيفُ الِاسْمَ إِلَى الشَّيْءِ لِلْقُرْبِ مِنَ التَّمَامِ وَتَنْفِي الِاسْمَ عَنِ الشَّيْءِ لِلنَّقْصِ عَنِ الْكَمَالِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: "هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ " قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: "أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وبرحمته فذلك مؤمن بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بالكواكب.
الراوي : زَيْد بْن خَالِدٍ الْجُهَنِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 188 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল ইরওয়াউল গালীল: ৩/৬৮১/১৪৪)
পরিচ্ছেদঃ আরেকটি হাদীস যা আমাদের উল্লেখিত কথার বিশুদ্ধতাকে স্পষ্ট করে দেয় যে, আরবরা কোন কোন সময় কোন জিনিসের অংশ বিশেষকে খোদ ঐ জিনিসের নামে অভিহিত করে থাকে
১৮৯. শারীদ বিন সুয়াইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার মা অসিয়ত করে গেছেন যে, আমরা যেন তার পক্ষ থেকে একজন দাস মুক্ত করে দেই। আমার কাছে একটি কালো দাসী আছে।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আসো।’ অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ’তোমার রব্ব কে?’ সে জবাবে বললো: ’আল্লাহ’। তিনি আবার বললেন: ’আমি কে?’ সে বললো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীকে বললেন: ’একে মুক্ত করে দাও। কারণ সে মু’মিনা।’[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ آخَرَ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَا أَنَّ الْعَرَبَ تَذْكُرُ فِي لُغَتِهَا الشَّيْءَ الْوَاحِدَ الَّذِي هُوَ مِنْ أَجْزَاءِ شَيْءٍ بِاسْمِ ذَلِكَ الشَّيْءِ نَفْسِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ الشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي أَوْصَتْ أَنْ نُعْتِقُ عَنْهَا رَقَبَةً وَعِنْدِي جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ قَالَ: "ادْعُ بِهَا" فَجَاءَتْ فَقَالَ: "مَنْ رَبُّكِ؟ " قَالَتِ: اللَّهُ قَالَ: "مَنْ أَنَا؟ " قَالَتْ: رَسُولُ اللَّهِ قال: "أعتقها فإنها مؤمنة".
الراوي : الشَّرِيد بْن سُوَيْدٍ الثَّقَفِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 189 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩১৬১)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য ’কারণ সে মু‘মিনা।’ –এটি ঐ পর্যায়ের শব্দ, যেমনটা আমরা বলেছি যে, আরবরা যখন কোন জিনিসের অনেক শাখা-প্রশাখা ও অংশ থাকে, তখন কোন কোন অংশ ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে ঐ পুরো জিনিসের নাম ব্যবহার করে থাকে, যদিও এই শাখা-প্রশাখা ও অংশ ঐ পুরো জিনিস নয়
১৯০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের সত্তরেরও বেশি দরজা রয়েছে। আর লজ্জাও ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ مِنَ الْأَلْفَاظِ الَّتِي ذَكَرْنَا أَنَّ الْعَرَبَ إِذَا كَانَ الشَّيْءُ لَهُ أَجْزَاءٌ وَشُعَبٌ تُطْلِقُ اسْمَ ذَلِكَ الشَّيْءِ بِكُلِّيَّتِهِ عَلَى بَعْضِ أَجْزَائِهِ وَشُعَبِهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ الْجُزْءُ وَتِلْكَ الشُّعْبَةُ ذَلِكَ الشَّيْءَ بِكَمَالِهِ
أَخْبَرَنَا حَبَّانُ بْنُ إِسْحَاقَ بِالْبَصْرَةِ قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ الرُّخَامِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دينار عن أبي صالح عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بابا والحياء من الإيمان".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 190 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৭৬৯।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য: ‘ঈমানের সত্তরেরও বেশি দরজা রয়েছে।’ এর দ্বরা উদ্দেশ্য হলো ‘ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা’
১৯১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:’ ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই’ এই সাক্ষ্য দেওয়া। আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا", أَرَادَ بِهِ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ بِسْطَامٍ بِالْأُبُلَّةِ قَالَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ [عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق".
الراوي : أَبُوْ هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 191 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৭৬৯।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি এমন কিছু কাজ সম্পন্ন করে, যা করার কারণে তার ঈমান হ্রাস পায়- এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে আলোচনা
১৯২. আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:’মু’মিন ব্যক্তি পরনিন্দক, অতিশয় অভিশম্পাতকারী, দুশ্চরিত্রের অধিকারী এবং অশ্লীলভাষী হয় না।’ [1]
ذِكْرُ نَفْيِ اسْمِ الْإِيمَانِ عَمَّنْ أَتَى بِبَعْضِ الْخِصَالِ الَّتِي تَنْقُصُ بِإِتْيَانِهِ إِيمَانَهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ أَبُو هِشَامٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: "ليس الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللِّعَانِ وَلَا الْبَذِيءِ وَلَا الفاحش.
الراوي : عَبْد اللَّهِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 192 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩২০।)
পরিচ্ছেদঃ উল্লেখিত হাদীসের আমরা যে ব্যাখ্যা করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস
১৯৩. আবু সা’ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’হোঁচট খাওয়া ছাড়া কেউ ধৈর্যশীল হতে পারে না আর অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রজ্ঞাপূর্ণ হতে পারে না।’[1]
মাওহাব বলেন, আমাকে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেছেন: ’আপনি শামে কী লিপিবদ্ধ করেছেন?’ অতঃপর আমি তাঁকে এই হাদীসটির কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন: ’আপনি যদি সেখানে এই হাদীস ছাড়া আর কোন হাদীসই শ্রবণ না করতেন, তবুও আপনার সফর বৃথা যেত না!
ذِكْرُ خَبَرٍ يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ مَا تَأَوَّلْنَا لِهَذِهِ الْأَخْبَارِ
أخبرنا بن قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ وَمَوْهَبُ بْنُ يزيد قالاحدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: "لَا حَلِيمَ إِلَّا ذُو عَثْرَةٍ وَلَا حَكِيمَ إِلَّا ذُو تَجْرِبَةٍ".
قَالَ مَوْهَبٌ: قَالَ لِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ أَيْشٍ كَتَبْتَ بِالشَّامِ؟ فَذَكَرْتُ لَهُ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ: لَوْ لَمْ تَسْمَعْ إلا هذا لم تذهب رحلتك.
الراوي : أَبو سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 193 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ য‘ঈফ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। (তাখরীজুল মিশকাত: ৫০৫৬, দ্বিতীয় তাহকীক।)
[হাদীসটিকে ইবনু আদী তাঁর ‘আল কামিল ফিদ দু‘আফা (৪/৪৮৩), হাফিয যাহাবী ‘তালখীসুল ইলাল আল মুতানাহিয়াহ (৩০), ইবনু মুফলিহ ‘আল আদাবুশ শার‘ইয়্যাহ (১/৩২৩) প্রভৃতি কিতাবে য‘ঈফ বলেছেন। কারণ অত্র হাদীসের সানাদে দাররাজ নামক রাবী রয়েছে, যিনি দুর্বল। এছাড়া অন্যান্য সানাদেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এর কোন সানাদের রাবীগণ সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়। -অনুবাদক।]
পরিচ্ছেদঃ উল্লেখিত হাদীসগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোন জিনিস পরিপূর্ণ না হওয়ার কারনে তার থেকে ঐ জিনিসের নাম ব্যবহার না করা- এর প্রমাণে হাদীস
১৯৪. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন: ’যার আমানতদারিতা নেই, তার ঈমান নেই, আর যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তার কোন দ্বীন নেই।’[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِهَذِهِ الْأَخْبَارِ نَفْيُ الْأَمْرِ عَنِ الشَّيْءِ لِلنَّقْصِ عَنِ الْكَمَالِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثابت عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ فِي الْخُطْبَةِ: "لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ولا دين لمن لا عهد له".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 194 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজুল মিশকাত: ৩৫।)
পরিচ্ছেদঃ উল্লেখিত হাদীসগুলোর অর্থ যা আমরা বলেছি যে, আরবরা কামেল না হলে সে ক্ষেত্রে তারা সেই নাম ব্যবহার করেন না আবার কামালিয়্যাতের কাছাকাছি হলে তার নাম ব্যবহার করেন- আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস
১৯৫. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাকী’ আল গারকাদের দিকে রওয়ানা দিলেন। আমিও তাঁর পিছে চললাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: ’হে আবু যার!’ আমি বললাম: ’আমি আপনার এবং আপনার সন্তুষ্টির কাছে সদাপ্রস্তুত! আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত হতে প্রস্তুত! তিনি বললেন: : ’(দুনিয়াতে ধন-সম্পদের দিক দিয়ে) আধিক্যতা লাভকারীরা কিয়ামতের দিন (সাওয়াব প্রাপ্তির দিক দিয়ে) স্বল্প লাভকারী হবে, তবে সে ব্যতিত যে ব্যক্তি তার সম্পদ ডানে ও বামে এভাবে এভাবে খরচ করবে ’ তিনি এই কথাটি তিনবার বললেন। তারপর আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় পড়লো।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’হে আবু যার, আমার এটা মোটেও পছন্দ নয় যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের নিকট এক দীনার বা এক মিসকাল সোনাও সন্ধা পর্যন্ত থাকুক।’ আমি বললাম: আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। এরপর আমাদের সামনে আরো একটি উপত্যকা পড়লো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার মাঝে অবতরণ করলেন। আমি এক প্রান্তে বসে পড়লাম। আমার মনে হলো তাঁর কোন হাজত আছে। তিনি আমার কাছে আসতে বিলম্ব করলেন। ফলে আমার মনে মন্দ ধারণা উদয় হলো (যে হয়তো কোন শত্রু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে পড়েছে।) এমন সময় আমি মুনাজাত (চুপি চুপি সংলাপ) এর আওয়াজ শুনতে পেলাম। তিনি আমাকে বললেন: ’উনি জিবরীল, আমার উম্মাতের ব্যাপারে আমাকে জানিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে, (তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।)’[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى صِحَّةِ مَا ذَكَرْنَا أَنَّ مَعَانِيَ هَذِهِ الْأَخْبَارِ مَا قُلْنَا إِنَّ الْعَرَبَ تَنْفِي الِاسْمَ عَنِ الشَّيْءِ لِلنَّقْصِ عَنِ الْكَمَالِ وَتُضِيفُ الِاسْمَ إِلَى الشَّيْءِ لِلْقُرْبِ مِنَ التَّمَامِ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: انْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نحو بَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَانْطَلَقْتُ خَلْفَهُ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ" فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ ثُمَّ سَعْدَيْكَ وَأَنَا فِدَاؤُكَ فَقَالَ: "الْمُكْثِرُونَ هُمُ الْمُقِلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ" قَالَهَا ثَلَاثًا ثُمَّ عَرَضَ لَنَا أُحُدٌ فَقَالَ: "يَا أَبَا ذَرٍّ مَا يَسُرُّنِي أَنَّهُ لِآلِ مُحَمَّدٍ ذَهَبًا يُمْسِي مَعَهُمْ دِينَارٌ أَوْ مِثْقَالٌ" فَقُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ثُمَّ عَرَضَ لَنَا وَادٍ فَاسْتَبْطَنَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَزَلَ فِيهِ وَجَلَسْتُ عَلَى شَفِيرِهِ فَظَنَنْتُ أَنَّ لَهُ حَاجَةً فَأَبْطَأَ عَلَيَّ وَسَاءَ ظَنِّي فَسَمِعْتُ مُنَاجَاةً فَقَالَ: "ذَلِكَ جِبْرِيلُ يُخْبِرُنِي لِأُمَّتِي مَنْ شَهِدَ مِنْهُمْ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ" فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: "وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ.
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 195 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৮২৬।)
পরিচ্ছেদঃ যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন, তার জন্য ইসলাম সাব্যস্ত করা
১৯৬. ইমাম শা’বী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, এই প্রাসাদ তথা কা’বার রবের শপথ! আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’মুহাজির ঐ ব্যক্তি যে মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে আর মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন।’[1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ الْإِسْلَامِ لِمَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ الْحَافِظُ بِتُسْتُرَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَرَبِّ هَذِهِ الْبَنِيَّةِ يَعْنِي الْكَعْبَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "الْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ السَّيِّئَاتِ وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ".
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرٍو | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 196 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আবী দাউদ: ১২৪৩।)
পরিচ্ছেদঃ যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন, তিনি উত্তম মুসলিম
১৯৭. জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’ইসলামের দিক দিয়ে মুসলিমদের মাঝে ঐ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ ইসলামের অধিকারী যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ كَانَ مِنْ أَسْلَمِهِمْ إِسْلَامًا
أَخْبَرَنَا عَبْدَانُ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا أبو عاصم عن بن جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "أَسْلَمُ الْمُسْلِمِينَ إِسْلَامًا مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ ويده.
الراوي : جَابِر بْن عَبْدِ اللَّهِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 197 | خلاصة حكم المحدث: شاذ.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
شاذ بالزيادة في أوله , والمحفوظ بهذا الإسناد عن جابر: ((المسلم من سلم .... )) ـ
অর্থ: হাদীসের প্রথমে বর্দ্ধিত অংশ শায (দুর্বল), মাহফুয বর্ণনা হলো এই সানাদে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: ‘মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন। (দ্রষ্টব্য: আয য‘ঈফা: ২৭৬৭।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি এবং সে ঋণ ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্নসাৎ করা থেকে মুক্ত থাকে, তবে সে অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেই
১৯৮. সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’যে ব্যক্তি তিনটি জিনিস থেকে মুক্ত হয়ে কিয়ামতের দিন আসবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনটি জিনিস হলো অহংকার, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্নসাৎ ও ঋণ।’[1]
ذِكْرُ إِيجَابِ دُخُولِ الْجَنَّةِ لِمَنْ مَاتَ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَتَعَرَّى عَنِ الدَّيْنِ وَالْغُلُولِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرِ وَأُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ قَالَا حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: "مَنْ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَرِيئًا مِنْ ثَلَاثٍ دخل الجنة الكبر والغلول والدين".
الراوي : ثَوْبَان | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 198 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৭৮৫।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় সে ব্যক্তি অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম
১৯৯. বানু আব্দুদুদ দার গোত্রের সুহাইল বিন বাইদ্বো রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর যারা তাঁর সামনে ছিলেন তাঁরা বসে পড়লেন এবং যারা পিছে পড়ে ছিলেন, তাঁরা তাঁর কাছে পৌঁছলেন, এভাবে সবাই যখন একত্রিত হলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, জাহান্নামের আগুন আল্লাহ তার উপর হারাম করে দিবেন এবং তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিবেন।’[1]
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: هَذَا خَبَرٌ خَرَجَ خِطَابُهُ عَلَى حَسَبِ الْحَالِ وَهُوَ مِنَ الضَّرْبِ الَّذِي ذَكَرْتُ فِي كِتَابِ فُصُولُ السُّنَنِ أَنَّ الْخَبَرَ إِذَا كَانَ خِطَابُهُ عَلَى حَسَبِ الْحَالِ لَمْ يَجُزْ أَنْ يُحْكَمَ بِهِ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ وَكُلُّ خِطَابٍ كَانَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَسَبِ الْحَالِ فَهُوَ عَلَى ضَرْبَيْنِ أَحَدُهُمَا وُجُودُ حَالَةٍ مِنْ أَجْلِهَا ذَكَرَ مَا ذَكَرَ لَمْ تُذْكَرْ تِلْكَ الْحَالَةُ مَعَ ذَلِكَ الْخَبَرِ وَالثَّانِي أَسْئِلَةٌ سُئِلَ عَنْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَجَابَ عَنْهَا بِأَجْوِبَةٍ فَرُوِيَتْ عَنْهُ تِلْكَ الْأَجْوِبَةُ مِنْ غَيْرِ تِلْكَ الْأَسْئِلَةِ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يُحْكَمَ بِالْخَبَرِ إِذَا كَانَ هَذَا نَعَتُهُ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ دُونَ أَنْ يُضَمَّ مجمله إلى مفسره ومختصره إلى متقصاه.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসের বক্তব্য তৎকালীন অবস্থা অনুযায়ী ছিল। এটা ঠিক ঐ প্রকারের বক্তব্য যা আমরা ’ফুসূলুস সুনান’ কিতাবে উল্লেখ করেছি, আর তা হলো: যখন কোন হাদীসের বক্তব্য সমকালীন অবস্থার পরিপেক্ষিতে হয়, সেই হাদীসকে সর্বাবস্থায় প্রয়োগ করা জায়েয হবেনা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যেসব বক্তব্য সমকালীন অবস্থার পরিপেক্ষিতে বলেছেন, সেগুলি দুই প্রকার। প্রথমত: কোন একটি অবস্থার পরিপেক্ষিতে তিনি যা বলার তা বলেছেন, কিন্তু হাদীস উল্লেখ করার সময় সেই অবস্থার বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু প্রশ্ন করা হয়, আর তিনি সেই প্রশ্নের পরিপেক্ষিতে জবাব দিয়েছেন। তারপর প্রশ্ন উল্লেখ না করে হাদীসে শুধু উত্তর উল্লেখ করা হয়। কাজেই কোন বক্তব্যের অবস্থা যখন এমন হবে, তখন তাঁর সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাহীন বক্তব্যের সাথে বিস্তারিত, ব্যাখ্যামূলক বক্তব্যকে যুক্ত না করে স্রেফ এই ধরণের হাদীস অনুযায়ী সব জায়গায় বিধান দেওয়া জায়েয হবে না “
ذِكْرُ إِيجَابِ الْجَنَّةِ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا بِالْوَحْدَانِيَّةِ مَعَ تَحْرِيمِ النَّارِ عَلَيْهِ بِهِ
أخبرنا بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ قَالَ حَدَّثَنَا بن وهب قال أخبرني حيوة قال حدثنا بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الصَّلْتِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ بَيْضَاءَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِي سَفَرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ مَنْ كَانَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَحِقَهُ مَنْ كَانَ خَلْفَهُ حَتَّى إِذَا اجْتَمَعُوا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أنه مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ وَأَوْجَبَ لَهُ الْجَنَّةَ".
الراوي : سُهَيْل بْن بَيْضَاءَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 199 | خلاصة حكم المحدث: صحيح لغيره.
আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘হাদীসটির রাবীগণ সবাই সহীহ বুখারীর রাবী সা‘ঈদ বিন আস সালত ব্যতীত। তাকে ইবনু হিব্বান ছাড়া আর কেউ নির্ভরযোগ্য বলেননি। তবে হাদীসটির সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস থাকার কারণে হাদীসটি সহীহ হিসেবে গণ্য হবে।’
আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সানাদগত ভাবে দুর্বল বললেও, এর সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস থাকার কারণে হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান ‘আলা সহীহ ইবনু হিব্বান: ১৯৯।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে, কাজেই একনিষ্ঠভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে শুধুমাত্র শাহাদাহ এর স্বীকৃতি দিলে তা জান্নাত অবধারিত করবে না- এই মর্মে বর্ণনা
২০০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন তিনি বলেন: ’তাবুর পর্দা উঠিয়ে দাও, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনছি, তিনি বলেছেন: ’যে ব্যক্তি অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে এই সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।’[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ تعالى عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "دَخَلَ الْجَنَّةَ", يُرِيدُ بِهِ جَنَّةً دُونَ جُنَّةٍ لِأَنَّهَا جِنَانٌ كَثِيرَةٌ فَمَنْ أَتَى بِالْإِقْرَارِ الَّذِي هُوَ أَعْلَى شُعَبِ الْإِيمَانِ وَلَمْ يُدْرِكِ الْعَمَلَ ثُمَّ مَاتَ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ أَتَى بَعْدَ الْإِقْرَارِ مِنَ الْأَعْمَالِ قَلَّ أَوْ كَثُرَ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ جَنَّةً فَوْقَ تِلْكَ الْجَنَّةِ لِأَنَّ مَنْ كَثُرَ عَمَلُهُ عَلَتْ دَرَجَاتُهُ وَارْتَفَعَتْ جَنَّتُهُ لَا أَنَّ الْكُلَّ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَدْخُلُونَ جَنَّةً وَاحِدَةً وَإِنْ تَفَاوَتَتْ أَعْمَالُهُمْ وَتَبَايَنَتْ لِأَنَّهَا جِنَانٌ كَثِيرَةٌ لَا جنة واحدة.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য: ’সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ছোট জান্নাত। কারণ জান্নাতের সংখ্যা অনেক। কাজেই যে ব্যক্তি ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা তথা শাহাদাহর স্বীকৃতি দান করবে অতঃপর কোন আমল করার সুযোগ পাওয়ার আগেই মারা যাবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি শাহাদাহর স্বীকৃতির পর অল্প বা বেশি আমল করার সুযোগ পায়, সেও জান্নাতে যাবে। তবে তার জান্নাত পূর্বের ব্যক্তির জান্নাতের চেয়ে বড় হবে। কেননা যার আমল বেশি হবে তার মর্যাদা ও জান্নাত সমুন্নত হবে। বিষয়টি এমন নয় যে, মুসলিমদের আমলের ভিন্নতা ও তারতম্য থাকার পরেও সব মুসলিম এক জান্নাতে প্রবেশ করবে। কারণ জান্নাতের সংখ্যা একটি নয় বরং অনেক।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا بِالْوَحْدَانِيَّةِ وَكَانَ ذَلِكَ عَنْ يَقِينٍ مِنْ قَلْبِهِ لَا أَنَّ الْإِقْرَارَ بِالشَّهَادَةِ يُوجِبُ الْجَنَّةَ لِلْمُقِرِّ بِهَا دُونَ أَنْ يُقِرَّ بِهَا بِالْإِخْلَاصِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَسْكَرِيُّ بِالرَّقَّةِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَكِيلُ قَالَ حَدَّثَنَا بن أَبِي زَائِدَةَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ مُعَاذًا لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: اكْشِفُوا عَنِّي سِجْفَ الْقُبَّةِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: "من شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ".
الراوي : جَابِر عن معاذ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 200 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৩৫৫।)
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যা আমরা বলেছি যে, যে ব্যক্তি শাহাদাহ অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে বলবে তারপর তার উপর মৃত্যুবরণ করবে
২০১. উসমান বিন আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে নিশ্চিতরুপে জানে যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ أَتَى بِمَا وَصَفْنَا عَنْ يَقِينٍ مِنْ قَلْبِهِ ثُمَّ مَاتَ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ أَبِي بِشْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ يقول سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله دخل الجنة".
الراوي : عُثْمَان بْن عَفَّانَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 201 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্যের সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে
২০২. সুনাবিহী রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’আমি উবাদাহ বিন সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম, এসময় তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। ফলে আমি কেঁদে ফেললাম। এটা দেখে তিনি আমাকে বললেন: ’থামুন! আপনি কাঁদছেন কেন? আল্লাহর কসম! যদি আপনার পক্ষে আমার কাছে সাক্ষী চাওয়া হতো, তবে অবশ্যই আমি আপনার পক্ষে সাক্ষী দিতাম, সুপারিশ চাওয়া হলে অবশ্যই আমি সুপারিশ করবো, আর আমার সামর্থ থাকলে, অবশ্যই আমি আপনার উপকার করতাম।’ তারপর তিনি বললেন: ’আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যে হাদীসই শুনেছি, যাতে আপনাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে, তা আমি অবশ্যই আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছি, তবে একটা হাদীস ব্যতিত। সে হাদীসটি অচিরেই আমি আপনাদের কাছে বলবো। এখন তো মৃত্যু আমাকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন।’ [1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا بِالْوَحْدَانِيَّةِ وَقَرَنَ ذَلِكَ بِالشَّهَادَةِ لِلْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالرِّسَالَةِ
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ بِالْفُسْطَاطِ قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ أَخْبَرَنَا الليث عن بن عَجْلَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ بن مُحَيْرِيزٍ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ لِي: مَهْ لِمَ تَبْكِي فَوَاللَّهِ لَئِنَ اسْتُشْهِدْتُ لَأَشْهَدَنَّ لَكَ وَلَئِنْ شُفِّعْتَ لَأَشْفَعَنَّ لَكَ وَلَئِنِ اسْتَطَعْتُ لَأَنْفَعَنَّكَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ مَا مِنْ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكُمْ فِيهِ خَيْرٌ إِلَّا حَدَّثْتُكُمُوهُ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا وَسَوْفَ أُحَدِّثَكُمُوهُ الْيَوْمَ وَقَدْ أُحِيطَ بِنَفْسِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حرمه الله على النار"
الراوي : الصُّنَابِحِيّ عن عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 202 | خلاصة حكم المحدث: حسن.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (মুসলিম: ১/৪৩।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে
২০৩. মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’জমিনের উপর কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি এবং এই সাক্ষ্য দেয় যে, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, তার এই সাক্ষ্য যদি ইয়াকীনদার হৃদয়ের দিকে ফিরে যায় (অর্থাৎ অন্তরের ইয়াকীনের সাথে এই সাক্ষ্য দেয়), তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’[1]
অধঃস্তন রাবী হিসসান বলেন, আমি আব্দুর রহমান বিন সামুরাহকে বললাম আপনি নিজেই কি হাদীসটি মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছেন?’ একথা বলার কারণে লোকজন আমার সাথে কঠোর ব্যবহার করতে লাগলো। তখন আমি আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’তাকে ছেড়ে দিন। কারণ সে মন্দ কোন কথা বলেনি। জ্বী, আমি নিজেই হাদীসটি মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে শুনেছি। আর তিনি বলেছেন যে, তিনি এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে শুনেছেন।
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ شَهِدَ لِلَّهِ بِالْوَحْدَانِيَّةِ وَلِنَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالرِّسَالَةِ وَكَانَ ذَلِكَ عَنْ يَقِينٍ مِنْهُ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مسدد بن مسرهد عن بن أَبِي عَدِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ قَالَ: أخبرني حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ قَالَ حَدَّثَنِي هِصَّانُ بْنُ كَاهِنٍ قَالَ جَلَسْتُ مَجْلِسًا فِيهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَمُرَةَ وَلَا أَعْرِفُهُ فَقَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَا عَلَى الْأَرْضِ نَفْسٌ تَمُوتُ لَا تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا وَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ يَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى قَلْبٍ مُوقِنٍ إِلَّا غُفِرَ لَهَا". قُلْتُ: أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ مُعَاذٍ قَالَ فَعَنَّفَنِي الْقَوْمُ فَقَالَ دَعُوهُ فَإِنَّهُ لم يسىء الْقَوْلَ نَعَمْ سَمِعْتُهُ مِنْ مُعَاذٍ زَعَمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
الراوي : مُعَاذُ بْن جَبَلٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 203 | خلاصة حكم المحدث: حسن.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২২৭৮।)
পরিচ্ছেদঃ নিশ্চয়ই জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যেমনটা আমরা বর্ণনা করেছি যে, যে ব্যক্তি ইয়াকীনের সাথে সাক্ষ্য দিবে অতঃপর তার উপরই মৃত্যুবরণ করবে
২০৪. উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা কোন যদি অন্তর থেকে সত্যনিষ্ঠভাবে বলে অতঃপর তার উপর মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন। বাক্যটি হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ شَهِدَ بِمَا وَصَفْنَا عَنْ يَقِينٍ مِنْهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا مِنْ قَلْبِهِ فَيَمُوتُ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ لَا إِلَهَ إِلَّا الله".
الراوي : عُمَر بْن الْخَطَّابِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 204 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল আহাদীসুল মুখতারাহ: ২৩৮।)
পরিচ্ছেদঃ আমরা যার বিবরণ দিলাম, যে ব্যক্তি তা মৃত্যুর সময় বলবে, তার আমলনামায় মহান আল্লাহ নূর দিবেন
২০৫. তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী সু’দা আল মুর্রিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি তাঁকে বললেন: ’কী ব্যাপার, আপনাকে বিষন্ন লাগছে, আপনার চাচাতো ভাইয়ের (আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর) খলীফা হওয়ার বিষয়টি কি আপনার খারাপ লাগছে?’ তিনি বললেন: ’না, তা নয়। কিন্তু আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিলাম, তিনি বলেছিলেন: ’আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি কোন বান্দা তা মৃত্যুর সময় বলে, তাহলে তা সেই ব্যক্তির আমলনামায় নূর হবে এবং মৃত্যুর সময় তার শরীর ও রুহ শান্তি পাবে।’ অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গিয়েছেন, কিন্তু তাঁকে সেই বাক্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারিনি।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আমি জানি সেটি কোন বাক্য। সেটা হলো ঐ বাক্য যা তিনি তাঁর চাচাকে (আবু তালিবকে) বলতে বলেছিলেন। যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতেন যে, এই বাক্য ছাড়া অন্য কোন বাক্য তাঁর চাচার নাজাতের ক্ষেত্রে অধিক ক্রিয়াশীল হবে, তবে তিনি তাকে সেই বাক্যই বলতে আদেশ করতেন।”[1]
ذِكْرُ إِعْطَاءِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا نُورَ الصَّحِيفَةِ مَنْ قَالَ عِنْدَ الْمَوْتِ مَا وَصَفْنَاهُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّهِ سُعْدَى الْمُرِّيَّةِ قَالَتْ مَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِطَلْحَةَ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: مَا لَكَ مُكْتَئِبًا أَسَاءَتْكَ إِمْرَةُ ابْنِ عَمِّكَ؟ قَالَ: لَا وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: "إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلَّا كَانَتْ لَهُ نُورًا لِصَحِيفَتِهِ وَإِنَّ جَسَدَهُ وَرُوحَهُ لَيَجِدَانِ لَهَا رَوْحًا عِنْدَ الْمَوْتِ" فَقُبِضَ وَلَمْ أَسْأَلْهُ فَقَالَ: مَا أَعْلَمُهُ إِلَّا الَّتِي أَرَادَ عَلَيْهَا عَمَّهُ وَلَوْ عَلِمَ أَنَّ شيئا أنجى له منها لأمره".
الراوي : سُعْدَى الْمُرِّيَّة | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 205 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪৮-৪৯ পৃষ্ঠা।)
পরিচ্ছেদঃ আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করলাম, যে বক্তি তা পালন করবে, মহান তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে দৃঢ় রাখবেন
২০৬. বারা বিন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মু’মিন ব্যক্তি কবরে যখন সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে পারবে, এটাই হলো আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর মর্মার্থ, মহান আল্লাহ বলেছেন: “আল্লাহ মজবুত বাণীর মাধ্যমে ঈমানদার ব্যক্তিদের সুদৃঢ় রাখবেন দুনিয়াতে এবং আখিরাতে।” (সূরা ইবরাহিম: ২৭।)[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا يُثَبِّتُ فِي الدَّارَيْنِ مَنْ أَتَى بِمَا وَصَفْنَا قَبْلُ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنِ الْبَرَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "الْمُؤْمِنُ إِذَا شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَعَرَفَ مُحَمَّدًا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَبْرِهِ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [ابراهيم: 27].
الراوي : الْبَرَاء | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 206 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আত তিরমিযী: ৩৩৩৯।)
পরিচ্ছেদঃ আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করলাম, যে বক্তি তা পালন করবে এবং সাথে সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের স্বীকৃতি দান করবে ও ‘ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনোয়ন করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে
২০৭. উবাদা বিন সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ’ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা, রাসূল এবং তাঁর কালিমা; যা তিনি মারইয়াম আলাইহাস সালাম এর প্রতি প্রক্ষেপ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে রূহ, আরো সাক্ষ্য দিবে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য তবে সে ব্যক্তি জান্নাতের আটটি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, তাঁকে আল্লাহ সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ أَتَى بِمَا وَصَفْنَا وَقَرَنَ ذَلِكَ بِالْإِقْرَارِ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَآمَنَ بِعِيسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ عَنِ ابْنِ جَابِرٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَيْرُ بْنُ هَانِئٍ حَدَّثَنِي جُنَادَةُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ وَأَنَّ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ شاء".
الراوي : عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 207 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ২/৪৩১-৪৩২।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দু‘আ এবং যে ব্যক্তি তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় না, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বদ-দু‘আ
২০৮. ফাযালাহ বিন উবাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে আল্লাহ, যে ব্যক্তি তোমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে এবং সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয়ই আমি আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার কাছে তোমার সাক্ষাতকে প্রিয় করে তুলো, তোমার ফায়সালা (অর্থাৎ তার মৃত্যুকে) তার কাছে সহজ করে দিয়ো এবং তাকে দুনিয়ার ভোগ-সামগ্রী অল্প পরিমাণে দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে না এবং সাক্ষ্য দিবে না যে, নিশ্চয়ই আমি আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার কাছে তোমার সাক্ষাতকে প্রিয় করে তুলো না, তোমার ফায়সালা (অর্থাৎ তার মৃত্যুকে) তার কাছে সহজ করে দিয়ো না এবং তাকে দুনিয়ার ভোগ-সামগ্রী অধিক পরিমাণে দাও।”[1]
ذِكْرُ دُعَاءِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَنْ شَهِدَ بِالرِّسَالَةِ لَهُ وَعَلَى مَنْ أَبَى ذَلِكَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ قَالَ حَدَّثَنَا بن وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي هَانِئٍ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "اللَّهُمَّ مَنْ آمَنَ بِكَ وَشَهِدَ أَنِّي رَسُولُكَ فَحَبِّبْ إِلَيْهِ لِقَاءَكَ وَسَهِّلْ عَلَيْهِ قَضَاءَكَ وَأَقْلِلْ لَهُ مِنَ الدُّنْيَا وَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِكَ وَلَمْ يَشْهَدْ أَنِّي رَسُولُكَ فَلَا تُحَبِّبْ إِلَيْهِ لِقَاءَكَ وَلَا تُسَهِّلْ عَلَيْهِ قَضَاءَكَ وَأَكْثِرْ لَهُ مِنَ الدُّنْيَا".
الراوي : فَضَالَة بْن عُبَيْدٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 208 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৩৩৮।)
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর একত্ববাদ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যে ব্যক্তি নাবী-রাসূলদের সত্যায়ন করে, জান্নাতে তাঁর অবস্থানের বিবরণ
২০৯. সাহল বিন সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই মর্যাদাগত তারতম্যের কারণে জান্নাতবাসীরা সুরম্য অট্টালিকার অধিবাসীদের দেখতে পাবে যেমনভাবে তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তে উদিত উজ্জ্বল তারকা দেখতে পাও।” সাহাবাগণ আরজ করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এগুলো বোধ হয় নবীদের থাকার জায়গা, যাতে অন্য কেউ পৌঁছতে পারবে না!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হ্যাঁ, অবশ্যই পৌঁছতে পারবে। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, সেখানে পৌঁছতে পারবে এমন কিছু লোক যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে এবং রাসূলদের সত্যায়ন করেছে।”[1]
ذِكْرُ وَصْفِ الدَّرَجَاتِ فِي الْجِنَانِ لِمَنْ صَدَّقَ الْأَنْبِيَاءَ وَالْمُرْسَلِينَ عِنْدَ شَهَادَتِهِ لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا بِالْوَحْدَانِيَّةِ
أَخْبَرَنَا وَصِيفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ بِأَنْطَاكِيَةَ قَالَ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَرَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ كَمَا تَرَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ فِي الْأُفُقِ مِنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمَا" قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ قَالَ: "بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رجال آمنوا بالله وصدقوا المرسلين".
الراوي : سَهْل بْن سَعْدٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 209 | خلاصة حكم المحدث: صحيح لغيره.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২০৯।)
পরিচ্ছেদঃ নিশ্চয়ই জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি আমাদের বর্ণিত ঈমানের শাখা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিবে এবং সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে অন্যান্য আমল করবে; এমন নয় যে, যে ব্যক্তি আমল না করে শুধু মৌখিক স্বীকারোক্তি দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে
২১০. মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দার উপর আল্লাহর হক কী?” সাহাবাগণ বললেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বলেন: “বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে শরীক করবে না।” তিনি বলেন: “বান্দা যখন এমন করবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দার হক কী হবে?” তাঁরা বললেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বলেন: “তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাদেরকে শাস্তি দিবেন না।”[1]
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ بِأَنَّ الْأَخْبَارَ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا قَبْلُ كُلُّهَا مُخْتَصَرَةٌ غَيْرُ مُتَقَصَّاةٍ وَأَنَّ بَعْضَ شُعَبِ الْإِيمَانِ إِذَا أَتَى الْمَرْءُ بِهِ لَا تُوجِبُ لَهُ الْجَنَّةَ فِي دَائِمِ الْأَوْقَاتِ أَلَا تَرَاهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَعِبَادَةُ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا إِقْرَارٌ بِاللِّسَانِ وَتَصْدِيقٌ بِالْقَلْبِ وَعَمَلٌ بِالْأَرْكَانِ ثُمَّ الْمُسْلِمُونَ لَمَّا سَأَلُوهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ حَقِّهِمْ عَلَى اللَّهِ فَقَالُوا فَمَا حَقُّهُمْ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ وَلَمْ يَقُولُوا فَمَا حَقُّهُمْ عَلَى اللَّهِ إِذَا قَالُوا ذَلِكَ وَلَا أَنْكَرَ عَلَيْهِمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ اللَّفْظَةَ فَفِيمَا قُلْنَا أَبْيَنُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ لَا تَجِبُ لِمَنْ أَتَى بِبَعْضِ شُعَبِ الْإِيمَانِ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ بَلْ يُسْتَعْمَلُ كُلُّ خَبَرٍ فِي عُمُومِ مَا وَرَدَ خِطَابُهُ عَلَى حَسَبِ الْحَالِ فِيهِ عَلَى مَا ذكرناه قبل.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে যে, আমরা পূর্বে যে হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি, সবগুলোই সংক্ষিপ্ত; বিস্তারিত নয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের কোন শাখা প্রতিপালন করবে, এটা তাকে সব সময় জান্নাত ওয়াজিব করবে না। তুমি কি দেখছো না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বান্দার উপর আল্লাহর হক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যে, তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর ইবাদত হলো জবান দ্বারা স্বীকৃতি দান করা, অন্তর দ্বারা সত্যায়ন করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। তারপর মুসলিমরা যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন আল্লাহর উপর বান্দার হক সম্পর্কে, তাঁরা বলেন: “যখন বান্দা তা আমল করবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দার কী হক হবে?” তাঁরা বলেননি, “যখন বান্দা তা বলবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দার কী হক হবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সে শব্দচয়ণকে অস্বীকার করেননি। কাজেই আমরা যা বললাম তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, যে ব্যক্তি ঈমানের কোন শাখা প্রতিপালন করবে, সব সময় তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে না। বরং প্রত্যেক হাদীসের বক্তব্য যে অবস্থা অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে, সে ব্যাপকতার উপর প্রযোজ্য হবে, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْجَنَّةَ إِنَّمَا تَجِبُ لِمَنْ أَتَى بِمَا وَصَفْنَا مِنْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَرَنَ ذَلِكَ بِسَائِرِ الْعِبَادَاتِ الَّتِي هِيَ أَعْمَالٌ بِالْأَبْدَانِ لَا أَنَّ مَنْ أَتَى بِالْإِقْرَارِ دُونَ الْعَمَلِ تَجِبُ الْجَنَّةُ لَهُ فِي كُلِّ حَالٍ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الشَّرْقِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ زَاجٌ قَالَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ"؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ, قَالَ: "أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ", قَالَ: "فَمَا حَقُّهُمْ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ"؟ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ, قَالَ: "يَغْفِرُ لَهُمْ ولا يعذبهم".
الراوي : مُعَاذ بْن جَبَلٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 210 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ: ৭২১/৯৪৩।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, তার জন্য সুপারিশ অবধারিত
২১১. আউফ বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে বিশ্রামের জন্য যাত্রা বিরতি দিলেন। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তি তার বাহনের বাহু বিছিয়ে নিলেন (তাতে মাথা ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য)। রাবী বলেন: “রাতে কোন এক সময়ে আমি জাগ্রত হই। অতঃপর দেখতে পাই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উটের সামনে কেউ নেই। ফলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খোঁজার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। এমন সময় আমি দেখতে পেলাম যে, মুয়ায বিন জাবাল ও আব্দুল্লাহ বিন কাইস দাঁড়িয়ে আছেন। আমি বললাম: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথায়?” তাঁরা বললেন: “আমরা জানি না। তবে আমরা উপত্যকার উপরে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছি।” এসময় আমি যাতা পেষণের মত আওয়াজ শুনতে পেলাম। রাবী বলেন: “অতঃপর আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। অতঃপর বললেন: “নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক এসেছিলেন। তিনি আমাকে সুপারিশ করা অথবা আমার উম্মতের অর্ধাংশ জান্নাতের যাওয়া (উভয়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ারের কথা) জানিয়েছেন। আমি সুপারিশ করাকেই বেছে নিয়েছি।” তখন সাহাবীগণ বললেন: “আপনার সাহচর্য ও আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আপনি অবশ্যই আমাদেরকে আপনার সুপারিশ পাওয়ার হকদার করবেন।” তিনি বলেন: “তোমরা আমার সুপারিশ পাবে।” রাবী বলেন, যখন সাহাবীগণ (পুনরায় যাত্রা আরম্ভ করার জন্য) বাহনে উঠেন, তখন তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই আমি উপস্থিত লোকদের সাক্ষি রেখে বলছি: “নিশ্চয়ই আমার সুপারিশ হবে তাদের জন্য যারা মৃত্যুবরণ করবে এমন অবস্থায় যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকেই শরীক করেনি।”[1]
ذِكْرُ إِيجَابِ الشَّفَاعَةِ لِمَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّةِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: عَرَّسَ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَرَشَ كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا ذِرَاعَ رَاحِلَتِهِ قَالَ فَانْتَبَهْتُ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ فَإِذَا نَاقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ قُدَّامَهَا أَحَدٌ فَانْطَلَقْتُ أَطْلُبُ رسول لله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ قَائِمَانِ فَقُلْتُ: أَيْنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَا: لَا نَدْرِي غَيْرَ أَنَّا سَمِعْنَا صَوْتًا بِأَعْلَى الْوَادِي فَإِذَا مِثْلُ هَدِيرِ الرَّحَى قَالَ: فَلَبِثْنَا يَسِيرًا ثُمَّ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: " إِنَّهُ أَتَانِي مِنْ ربي آت فيخبرني بِأَنْ يَدْخُلَ نِصْفُ أُمَّتِي الْجَنَّةَ وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ وَإِنِّي اخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ" فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَنْشُدُكَ بِاللَّهِ وَالصُّحْبَةِ لَمَا جَعَلْتَنَا مِنْ أَهْلِ شَفَاعَتِكَ قَالَ: "فَأَنْتُمْ مِنْ أَهْلِ شَفَاعَتِي" قَالَ: فَلَمَّا رَكِبُوا قَالَ: "فَإِنِّي أُشْهِدُ مَنْ حَضَرَ أَنَّ شَفَاعَتِي لِمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شيئا من أمتي".
الراوي : عَوْف بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 211 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ৮১৮।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে অতঃপর তার উপর অটল-অবিচল থাকে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাত লিপিবদ্ধ ও অবধারিত করে দিবেন
২১২. রিফা’আহ বিন ’আরাবাহ আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে মক্কা থেকে বের হলাম। অতঃপর লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চাইতে লাগলেন, তিনিও তাঁদের অনুমতি দিতে থাকলেন। তারপর বললেন: “কী ব্যাপার! গাছের যে অংশ আল্লাহর রাসূলের নিকটে সেই অংশটি তোমাদের কাছে গাছের অপর অংশের চেয়ে বেশি অপছন্দনীয়!”[1] রাবী বলেন, অতঃপর সবাইকে আমরা কাঁদতে দেখলাম। রাবী বলেন, তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “এরপর যে ব্যক্তি আপনার কাছে অনুমতি চাইবে, সে মতে সে একটা নির্বোধ।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দন্ডায়মান হলেন অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। আর যখন তিনি শপথ করতেন, তখন বলতেন: “ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষী দিয়ে বলছি, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনোয়ন করবে তারপর তার উপর অটল-অবিচল থাকবে, সে ব্যক্তি জান্নাতের পথে পরিচালিত হবে।
আমার প্রতিপালক আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাব ও বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমি আশাবাদী যে, তাঁরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা এবং তোমাদের সৎকর্মশীল স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতিগণ তাতে প্রবেশ করে নিজের আবাসস্থল প্রস্তুত করে নিয়েছো।” তারপর তিনি বলেছেন: “যখন রাতের অর্ধাংশ চলে যায় অথবা (রাবীর সন্দেহ যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনটি বলেছেন) দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায়, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: “আমার বান্দাকে আমি ছাড়া আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না। কে আছে এমন যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দিবো, কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো, কে আছে যে আমার কাছে দু’আ করবে, আমি তার দু’আ কবুল করবো।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এই অবস্থা সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।”[2]
ذِكْرُ كِتْبَةِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا الْجَنَّةَ وَإِيجَابِهَا لِمَنْ آمَنَ بِهِ ثُمَّ سَدَّدَ بَعْدَ ذَلِكَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ حَدَّثَنِي هِلَالُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ: حَدَّثَنِي رِفَاعَةُ بْنُ عَرَابَةَ الْجُهَنِيُّ قَالَ صَدَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ فَجَعَلَ نَاسٌ يَسْتَأْذِنُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَأْذَنُ لَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَا بَالُ شِقِّ الشَّجَرَةِ الَّتِي تَلِي رَسُولَ اللَّهِ أَبْغَضَ إِلَيْكُمْ مِنَ الشِّقِّ الْآخَرِ" قَالَ: فَلَمْ نَرَ مِنَ الْقَوْمِ إِلَّا بَاكِيًا قَالَ يَقُولُ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ الَّذِي يَسْتَأْذِنُكَ بَعْدَ هَذَا لَسَفِيهٌ فِي نفسي فقام رسول الله صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَكَانَ إِذَا حَلَفَ قَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ ثُمَّ يُسَدِّدُ إِلَّا سُلِكَ بِهِ فِي الْجَنَّةِ وَلَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعِينَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا يَدْخُلُوهَا حتى تتبوؤوا أَنْتُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَذَرَارِيِّكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ" ثُمَّ قَالَ: "إِذَا مَضَى شَطْرُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُثَاهُ يَنْزِلُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي غَيْرِي مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصبح".
الراوي : رِفَاعَةُ بْنُ عَرَابَةَ الْجُهَنِيُّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 212 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
[2] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৬; ইবনু মাজাহ: ৪২৮৫, ১৩৬৭, সংক্ষিপ্তভাবে; তাবারানী: ৪৫৫৬; আত তায়ালিসী: ১২৯১; বাযযার: ৩৫৪৩; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১০/৪০৮।
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৪০৫।)
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ওয়াজিব ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন সমকক্ষ নির্ধারণ করেনি
২১৩. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছিলেন অতঃপর আমাকে শুভ-সুংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মাতের মাঝে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে এমন অবস্থায় যে সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।”
অধঃস্তন রাবী সুলাইমান রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি যাইদকে বললাম: হাদীসটি তো আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করা হয়।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ" يُرِيدُ بِهِ إِلَّا أَنْ يرتكب شيئا أوعدته عَلَيْهِ دُخُولَ النَّارِ.
وَلَهُ مَعْنًى آخَرُ وَهُوَ أَنَّ مَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَمَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ لَا مَحَالَةَ وَإِنْ عُذِّبَ قَبْلَ دخوله إياها مدة معلومة.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য: “আমার উম্মাতের মাঝে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে এমন অবস্থায় যে সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি সে ব্যক্তি এমন কিছু না করে যাতে জাহান্নামে প্রবেশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হাদীসটির আরো একটি অর্থ রয়েছে সেটি হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে সে ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও সে জান্নাতে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট কিছু দিন শাস্তি দেওয়া হয়।”
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ إِيجَابِ الْجَنَّةِ لِمَنْ حَلَّتِ الْمَنِيَّةُ بِهِ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ مَعَ اللَّهِ ندا
أخبرنا محمد بن الحسن بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّارُ بِالْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا خَلَّادُ بْنُ أَسْلَمَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ وَسُلَيْمَانَ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالُوا سَمِعْنَا زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَتَانِي جِبْرِيلُ فَبَشَّرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ".
قَالَ سُلَيْمَانُ: فَقُلْتُ لِزَيْدٍ: إِنَّمَا يُرْوَى هَذَا عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ.
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 213 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৮২৬।)
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ওয়াজিব ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন সমকক্ষ নির্ধারণ করেনি
২১৪. আব্দুর রহমান বিন গানাম রহিমাহুল্লাহ মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম: “আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: চমৎকার! চমৎকার! তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো। এটা সহজ ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে আল্লাহ সহজ করে দেন। তুমি ফরয সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে আর আল্লাহর সাথে কোন কিছুকেই শরীক করবে না।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ الله تعالى عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا", أَرَادَ بِهِ الْأَمْرَ بِتَرْكِ الشِّرْكِ.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: “আল্লাহর সাথে কোন কিছুকেই শরীক করবে না।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক বর্জন করার নির্দেশ দান করা।”
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ إِيجَابِ الْجَنَّةِ لِمَنْ حَلَّتِ الْمَنِيَّةُ بِهِ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ مَعَ اللَّهِ ندا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ حدثنا علي بن الجعد قال أخبرنا بن ثَوْبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَعَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بن جبل عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قُلْتُ: حَدِّثْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ قَالَ: "بَخٍ بَخٍ سَأَلْتَ عَنْ أَمْرٍ عَظِيمٍ وَهُوَ يَسِيرٌ لِمَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ بِهِ تُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَلَا تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا".
الراوي : عَبْد الرَّحْمَنِ بْن غَنْمٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 214 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১৪।)
পরিচ্ছেদঃ মহান আল্লাহ কোন কোন ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তি ও তার হত্যাকারী কাফির ব্যক্তিকে জান্নাতে একত্রিত করবেন, যখন সেই ব্যক্তি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সঠিক পথে অটল থাকেন
২১৫. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মহান আল্লাহ ঐ দুই ব্যক্তিকে দেখে হাসেন; যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করেছে আর তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে। একজন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেন অতঃপর শাহাদাত বরণ করেন। তারপর তার হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেন। অতঃপর তিনিও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করেন।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا قَدْ يَجْمَعُ فِي الْجَنَّةِ بَيْنَ الْمُسْلِمِ وَقَاتِلِهِ مِنَ الْكُفَّارِ إِذْ سَدَّدَ بَعْدَ ذَلِكَ وَأَسْلَمَ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "يَضْحَكُ اللَّهُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ وَكِلَاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلُ ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى الْقَاتِلِ فَيُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُسْتَشْهَدُ".
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 215 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১০৭৪।)
পরিচ্ছেদঃ মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর মনোনিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনোয়ন করে
২১৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন, তারপর আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হন এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হয়ে যায়, তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “হে আবু বকর, আপনি মানুষের সাথে কিভাবে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। যে ব্যক্তি বলবে ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই’ সে ব্যক্তি আমার থেকে তার রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।” আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমি যুদ্ধ করবো তাদের সাথে যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা একটি ছাগলের বাচ্চাও যাকাত দিতে অস্বীকার করে, যে ছাগলের বাচ্চা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাকাত হিসেবে দিতো, তবে অবশ্যই আমি তা দিতে অস্বীকার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহর কসম, এটা এছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হৃদয়কে (হকের জন্য) উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, এটিই হক।”[1]
ذِكْرُ أَمْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا صَفِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقِتَالِ النَّاسِ حَتَّى يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ بِحِمْصَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وكان أبو بكر بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ: عُمَرُ: يَا أَبَا بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (أُمِرْتُ أَنْ أُقاتل النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ)؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فرَّق بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ مِنْ حَقِّ الْمَالِ وَوَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ: فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ عرفتُ أنه الحق.
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 216 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৭।)
পরিচ্ছেদঃ কোন কোন সময় কোন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিমের কাছেও কোন ইলম গোপন থাকতে পারে, যা তাঁর চেয়ে বড় আলিমের জানা থাকে- এই মর্মে বর্ণনা
২১৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন, এবং আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হন এবং আরবের যারা কাফের হওয়ার তারা কাফের হয়ে যায়, তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “হে আবু বকর, আপনি মানুষের সাথে কিভাবে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। যে ব্যক্তি বলবে ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই’ সে ব্যক্তি আমার থেকে তার রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।” আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমি যুদ্ধ করবো তাদের সাথে যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা (যাকাত বেঁধে নেওয়ার জন্য) রশি দিতেও অস্বীকার করে, যে রশি তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে দিতো, তবে অবশ্যই আমি তা দিতে অস্বীকার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহর কসম, এটা এছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, এটিই হক।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْخَيِّرَ الْفَاضِلَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَدْ يَخْفَى عَلَيْهِ مِنَ الْعِلْمِ بَعْضُ مَا يُدْرِكُهُ مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فِيهِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عَقِيلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بكر رضي الله تعالى عَنْهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عمر رضي الله تعالى عَنْهُ لِأَبِي بَكْرٍ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بحقه وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ" قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ الله تعالى عَنْهُ: وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ.
قَالَ عُمَرُ: فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ عرفت أنه الحق"
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 217 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৭।)
পরিচ্ছেদঃ একজন ব্যক্তি আল্লাহকে স্বীকার করার মাধ্যমে তার জান-মাল রক্ষা করতে পারে, যখন সে ব্যক্তি তার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়
২১৮. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ““আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। যে ব্যক্তি বলবে ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই’ সে ব্যক্তি আমার থেকে তার রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।”
আল্লাহ তা’আলা স্বীয় কিতাবে আয়াত নাযিল করেছেন অতঃপর একদল লোকের কথা আলোচনা করেছেন যারা অহংকার করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: “যখন তাদেরকে বলা হয় ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই’ তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে।” তিনি আরো বলেছেন: “যখন কাফিররা তাদের অন্তরে জাহেলী যুগের গোত্রীয় অহমিকা পোষণ করেছিল, তখন আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করেন এবং তাঁদেরকে তাকওয়ার কালেমায় সুদৃঢ় করেন।” (সূরা আল ফাতহ: ২৬)
আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এখানে তাকওয়ার কালেমা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।) এবং مُحَمَّدٌ رَسُولُ الله (মহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল)। হুদাইবিয়ার দিন মুশরিকরা এই কালেমা স্বীকার করতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمَرْءَ إِنَّمَا يَعْصِمُ مَالَهُ وَنَفْسَهُ بِالْإِقْرَارِ لِلَّهِ إِذَا قَرَنَهُ بِالشَّهَادَةِ لِلْمُصْطَفَى بِالرِّسَالَةِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ بِحِمْصَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ". وَأَنْزَلَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ فَذَكَرَ قَوْمًا اسْتَكْبَرُوا فَقَالَ: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ} وَقَالَ: {إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى} [الفتح: 26] وَهِيَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَمُحَمَّدٌ رَسُولُ الله استكبر عنها المشركون يوم الحديبية".
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 218 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২/৪০৭।)
পরিচ্ছেদঃ একজন ব্যক্তি উল্লেখিত দুই শাহাদাহ স্বীকার করে তার জান-মাল নিরাপদ করতে পারে, যখন সে অন্যান্য ফরযসমূহ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দুই শাহাদাহকে প্রতিষ্ঠিত করবে
২১৯. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত প্রদান করে। যখন তারা এমনটা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمَرْءَ إِنَّمَا يُحْقَنُ دَمُهُ وَمَالُهُ بِالْإِقْرَارِ بِالشَّهَادَتَيْنِ اللَّتَيْنِ وَصَفْنَاهُمَا إِذَا أَقَرَّ بِهِمَا بِإِقَامَةِ الْفَرَائِضِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ وَاقِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ بْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بحق الإسلام وحسابهم على الله.
الراوي : عبد الله بن عمر | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 219 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৮।)
পরিচ্ছেদঃ একজন ব্যক্তি তার জান-মাল নিরাপদ করতে পারবে, যখন সে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সমস্ত বিধানের প্রতি ঈমান আনবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে শুধু শুধু উল্লেখিত শাহাদাহর উপর নির্ভর করে থাকবে না
২২০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং আমি ও আমার আনিত সমস্ত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, যখন তারা এমনটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে সম্পদের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمَرْءَ إِنَّمَا يُحْقَنُ دَمُهُ وَمَالُهُ إِذَا آمَنَ بِكُلِّ مَا جَاءَ بِهِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا وَفَعَلَهَا دُونَ الِاعْتِمَادِ عَلَى الشَّهَادَتَيْنِ اللَّتَيْنِ وَصَفْنَاهُمَا قَبْلُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنِ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَآمَنُوا بِي وبما جئت به فإذا فعلوا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ".
الراوي : أَبو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 220 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৪০৭।)
পরিচ্ছেদঃ যেই হাদীস শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, যে ব্যক্তি শাহাদাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সর্বাবস্থায় তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা হারাম হবে
২২১. আবু আমরাহ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একটি যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছিলাম। অতঃপর সাহাবীদের প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়ে যায়। ফলে তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কিছু বাহন জবেহ করার অনুমতি চান। এসময় উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের কী অবস্থা হবে, যদি আমরা ক্ষুধার্ত ও পদব্রজ অবস্থায় শত্রুদের মুখোমুখি হই? হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি আপনি উপযু্ক্ত মনে করেন, তাহলে মানুষদেরকে তাদের অবশিষ্ট খাবার নিয়ে আনতে বলুন।” (অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটাই করার নির্দেশ দিলে) সাহাবীগণ তাদের তাদের অবশিষ্ট খাবার নিয়ে আসতে লাগলেন। কোন ব্যক্তি এক পাত্র খেজুর, কেউ তার একটু বেশি এভাবে আনতে লাগলেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে যিনি বেশি নিয়ে এসেছিলেন তিনি যিনি এক সা’ (প্রায় আড়াই কেজি) খেজুর নিয়ে এসেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেগুলো কয়েকটি বস্ত্র খন্ডের উপর রাখলেন, তারপর আল্লাহর ইচ্ছা মাফিক যা দু’আ করার তা দু’আ করলেন। তারপর লোকজনকে তাদের পাত্র আনতে বললেন। এসময় সেনাদলে এমন কোন পাত্র ছিল না, যা উক্ত খাবার দিয়ে ভর্তি করা হয়নি। তারপরেও তা আগের মতোই ছিল। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এমনকি তাঁর দাঁত প্রকাশ পেয়ে গেলো। তারপর তিনি বললেন: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল। আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্যি দিয়ে বলছি যে, কোন ব্যক্তি যদি এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে এই সাক্ষ্যদ্বয় তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।”[1]
আবু আমরাহ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নাম হলো সা’লাবাহ বিন আমর বিন মিহসান।
ذِكْرُ خَبَرٍ أَوْهَمَ مُسْتَمِعَهُ أَنَّ مَنْ لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بِالشَّهَادَةِ حَرُمَ عَلَيْهِ دُخُولُ النَّارِ فِي حَالَةٍ مِنَ الْأَحْوَالِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ وَمُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ حَنْطَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ فَأَصَابَ النَّاسَ مَخْمَصَةٌ شَدِيدَةٌ فَاسْتَأْذَنُوا رَسُولَ اللَّهِ فِي نَحْرِ بَعْضِ ظَهْرِهِمْ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِنَا إِذَا لَقِينَا عَدُوَّنَا جِيَاعًا رَجَّالَةً وَلَكِنْ إِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَدْعُوَ النَّاسَ بِبَقِيَّةِ أَزْوِدَتِهِمْ فَجَاؤُوا بِهِ يَجِيءُ الرَّجُلُ بِالْحِفْنَةِ مِنَ الطَّعَامِ وَفَوْقَ ذَلِكَ وَكَانَ أَعْلَاهُمُ الَّذِي جَاءَ بِالصَّاعِ مِنَ التَّمْرِ فَجَمَعَهُ عَلَى نِطَعٍ ثُمَّ دَعَا اللَّهَ بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ ثُمَّ دَعَا النَّاسَ بِأَوْعِيَتِهِمْ فَمَا بَقِيَ فِي الْجَيْشِ وِعَاءٌ إِلَّا مَمْلُوءٌ وَبَقِيَ مِثْلُهُ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ثُمَّ قَالَ: "أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أني رسول اللَّهِ وَأَشْهَدُ عِنْدَ اللَّهِ لَا يَلْقَاهُ عَبْدٌ مُؤْمِنٌ بِهِمَا إِلَّا حَجَبَتَاهُ عَنِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ".
أَبُو عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ هَذَا اسْمُهُ ثَعْلَبَةُ بن عمرو بن محصن.
الراوي : أَبو عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 221 | خلاصة حكم المحدث: صحيح لغيره.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩২২১।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য: “এই সাক্ষ্যদ্বয় তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে”- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি সে এমন কিছু না করে যার কারণে তার জাহান্নামে প্রবেশ করা অবধারিত হয় এবং মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে না থাকে
২২২. আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে আর জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মহান আল্লাহ বলবেন: “আপনারা লক্ষ্য করুন যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে, তাকে আপনারা জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসেন।” অতঃপর তাঁরা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন, এমন অবস্থায় যে, তারা পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে নাহরুল হায়াত বা জীবন সঞ্জীবনী নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। ফলে তারা স্রোতধারার তীরে চারা গজিয়ে উঠার ন্যায় গজিয়ে উঠবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা কি সেগুলোকে হলুদ বর্ণ ও মোচড় খাওয়া পেঁচানো দেখতে পাও না?”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَجَبَتَاهُ عَنِ النَّارِ أَرَادَ بِهِ إِلَّا أَنْ يَرْتَكِبَ شَيْئًا يَسْتَوْجِبُ مِنْ أَجْلِهِ دُخُولَ النَّارِ وَلَمْ يَتَفَضَّلِ الْمَوْلَى جَلَّ وَعَلَا عَلَيْهِ بِعَفْوِهِ
أَخْبَرَنَا وَصِيفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ بِأَنْطَاكِيَةَ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، وَيَدْخُلُ أَهْلُ النَّارِ النَّارَ، ثُمَّ يَقُولُ جَلَّ وَعَلَا: انْظُرُوا مَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنَ الْإِيمَانِ فَأَخْرِجُوهُ»، قَالَ: «فَيَخْرُجُونَ مِنْهَا حُمَمًا بَعْدَمَا امْتَحَشُوا، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهْرِ الْحَيَاةِ، فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ إِلَى جَانِبِ السَّيْلِ»، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَمْ تَرَوْهَا كَيْفَ تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةً؟».
الراوي : أَبُوْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 222 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আয যিলাল: ৮৪২।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কোন এক অবস্থায় একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দিবেন
২২৩. মাহমূদ বিন রাবী‘ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘ইতবান বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন বাদরী, আনসারী সাহাবী ছিলেন। তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে আর আমি আমার কওমের ইমামতি করি। যখন বৃষ্টি হয়, তখন আমার ও তাদের মাঝের উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায় ফলে আমি তাদের মাসজিদে এসে ইমামতি করতে পারি না। কাজেই হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার আশা যে, আপনি আমার বাড়িতে আসবেন এবং সেখানে সালাত আদায় করবেন, যাতে সেই জায়গা আমি সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নিতে পারি।” রাবী বলেন, তখন তিনি বলেন: “অচিরেই আমি তা করবো।” ‘ইতবান বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পরদিন সকালে যখন সূর্য উর্দ্ধ আকাশে সমুন্নত হয়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার বাড়িতে আসেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি চান। আমি তাঁকে অনুমতি দেই। তারপর তিনি আর বসেন নি, এমনকি তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বলেন: “আপনি আপনার বাড়ির কোথায় সালাত আদায় করা পছন্দ করেন?” আমি বাড়িতে একটি জায়গার প্রতি ইঙ্গিত করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে দাঁড়ান এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলেন। আমরাও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে যাই। অতঃপর তিনি দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরান। আমরা তাঁর জন্য খাযীরা[1] নামক খাবার প্রস্তুত করেছিলাম, সেই খাবার গ্রহণ করার জন্য অবস্থান করতে তাঁকে অনুরোধ করি। এসময় আমাদের পরিবারের অনেক সদস্য তাঁর পাশে জমায়েত হয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে একজন বলেন: “মালিক বিন দুখশুন কোথায়?” তখন তাদের মধ্যে আরেকজন বললেন: “সে একজন মুনাফিক, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসে না।” এটি শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেন: “তার ব্যাপারে তুমি এমন কথা বলো না। তুমি দেখনি যে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সে বলেছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই)?” তখন সাহাবীগণ বললেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আমরা এটাই দেখতে পাই যে, মুনাফিকদের প্রতিই সে ঝোঁকপ্রবণ এবং ওদের জন্যই সে কল্যাণ কামনা করে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “মহান আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই)।[2]
ইবনু শিহাব যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন: “আমি পরবর্তীতে মাহমূদ বিন রাবী‘ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই হাদীস সম্পর্কে বানু সালীম গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আনসারী রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি তা সত্যায়ন করেন।”
ذِكْرُ تَحْرِيمِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا عَلَى النَّارِ مَنْ وَحَّدَهُ مُخْلِصًا فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ دُونَ الْبَعْضِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ: أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ -: وَهُوَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الْأَنْصَارِ - أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَنْكَرْتُ بَصَرِي وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي وَإِذَا كَانَ الْأَمْطَارُ سَالَ الْوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ وَلَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ لَهُمْ وَدِدْتُ أَنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَأْتِي فَتُصَلِّي فِي بَيْتِي أَتَّخِذُهُ مُصَلًّى قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (سَأَفْعَلُ) قَالَ عِتْبَانُ: فَغَدَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَاسْتَأْذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأذِنْتُ لَهُ فَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ ثُمَّ قَالَ: (أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ؟ ) قَالَ: فَأَشَرْتُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ الْبَيْتِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَبَّرَ وَقُمْنَا وَرَاءَهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ قَالَ: وَحَبَسْنَاهُ عَلَى خَزِيرَةٍ صَنَعْنَاهَا لَهُ قَالَ: فَثَابَ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ حَوْلَهُ حَتَّى اجْتَمَعَ فِي الْبَيْتِ رِجَالٌ ذَوُو عَدَدٍ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ: أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: ذَاكَ مُنَافِقٌ وَلَا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (لَا تَقُلْ لَهُ ذَلِكَ أَلَا تَرَاهُ قَدْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يُرِيدُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ؟ ) قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ إِنَّمَا نَرَى وَجْهَهُ وَنَصِيحَتَهُ لِلْمُنَافِقِينَ! قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا حرَّم عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ)
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: ثُمَّ سَأَلْتُ الْحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيَّ - وَهُوَ أَحَدُ بَنِي سَالِمٍ وَهُوَ مِنْ سَرَاتِهِمْ - عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ فصدَّقه بِذَلِكَ.
الراوي : مَحْمُود بْن الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 223 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
[2] সহীহ আল বুখারী: ৪২৫; সহীহ মুসলিম: ৩৩, ২৬৪; তাবারানী, আল মু‘জামুল কাবীর: ১৮/৫০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৫০; দারাকুতনী: ২/৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯২৯; মুসনাদ আবু আওয়ানা: ১/১২; ইবনু মান্দাহ, আল ঈমান: ৫০; নাসাঈ: ২/১০৫; বাইহাকী, আস সুনান: ২/১৮১-১৮২।
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু ‘আলা ইবনু খুযাইমা: ১৬৫৩-১৬৫৪।)
পরিচ্ছেদঃ যার অন্তরে ঈমানের নূন্যতম একটি শাখা থাকবে, তাকে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে চিরস্থায়ী জাহান্নামী করবেন না
২২৪. আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না আর যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান থাকবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا بِتَفَضُّلِهِ لَا يُدْخِلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ أَدْنَى شُعْبَةٍ مِنْ شُعَبِ الْإِيمَانِ عَلَى سَبِيلِ الْخُلُودِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ وَلَا يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ من إيمان".
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن مَسْعُودٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 224 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (গায়াতুল মারাম: ১১৪/৮৯।)
পরিচ্ছেদঃ মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ও তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোন কোন সময় নিজ অনুগ্রহে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ভালবাসেন, তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন, যদিও তার এমন অতিরিক্ত নেকি থাকে না, যা তার পাপসমূহ মোচন করতে পারে
২২৫. আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তিকে সমস্ত মাখলুক হতে আলাদা করবেন। অতঃপর তার সামনে নিরানব্বইটি (আমলনামার) রেকর্ডবুক প্রকাশ করবেন, প্রতিটি রেকর্ডবুক দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপর মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “তুমি এর কোন কিছুকে অস্বীকার করো কি? আমল সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধকারী আমার ফেরেস্তারা তোমার উপর যুলম করেছে কি?” সে জবাবে বলবে: “না, হে আমার প্রতিপালক!” মহান আল্লাহ বলবেন: “তোমার কি কোন ওজর বা নেকী আছে কি?” তখন সে হতবাক হয়ে বলবে: “না, হে আমার প্রতিপালক!” তখন মহান আল্লাহ বলবেন: “হ্যাঁ, আমাদের কাছে তোমার একটি নেকী আছে। আজ তোমার উপর কোন যুলম করা হবে না।” অতঃপর তিনি তার সামনে একটি কার্ড বের করবেন, যাতে লেখা আছে: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “মীযানের কাছে আসো।” সে বলবে: “হে আমার প্রতিপালক, এতগুলি রেকর্ডবুকের মোকাবিলায় এই একটি কার্ড দিয়ে কী হবে?” মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “নিশ্চয়ই তোমার উপর যুলম করা হবে না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “অতঃপর (আমলনামার) রেকর্ডবুকসমূহ এক পাল্লায় আর কার্ডটি এক পাল্লায় তুলে দেওয়া হবে। তো রেকর্ডবুকের পাল্লা হালকা হয়ে যাবে আর কার্ডের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। তিনি বলবেন: “আল্লাহর নামের চেয়ে ভারী আর কিছুই নেই।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا بِتَفَضُّلِهِ قَدْ يَغْفِرُ لِمَنْ أَحَبَّ مِنْ عِبَادِهِ ذُنُوبَهُ بِشَهَادَتِهِ لَهُ وَلِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ فَضْلُ حَسَنَاتٍ يَرْجُو بِهَا تَكْفِيرَ خَطَايَاهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ يَحْيَى عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَعَافِرِيِّ الْحُبُلِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: " إِنَّ اللَّهَ سيُخلِّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رؤوس الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلًا كُلُّ سِجِلٍّ مَدُّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ: أَتُنْكِرُ شَيْئًا مِنْ هَذَا؟ أَظَلَمَكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ فَيَقُولُ: أَفَلَكَ عُذْرٌ أَوْ حَسَنَةٌ؟ فيُبهت الرَّجُلُ وَيَقُولُ: لَا يارب فَيَقُولُ: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً وَإِنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فيُخرج لَهُ بِطَاقَةً فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ: احْضُرْ وَزْنَكَ فيقول: يارب مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَّاتِ؟ فَيَقُولُ: إِنَّكَ لَا تُظْلَم قَالَ: فتُوضع السِّجِلَّاتُ فِي كفةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كفةٍ فَطَاشَتَ السِّجِلَّاتُ وثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ قَالَ: فَلَا يَثْقُلُ اسْمَ اللَّهِ شَيْءٌ.
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 225 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২৪০-২৪১।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, মহান আল্লাহ তাকে নিজ অনুগ্রহে তার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন, যে গোনাহগুলো তার ও তার রবের মাঝে ছিল
২২৬. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেছেন: “হে আদম সন্তান, যদি তুমি জমিন সমপরিমান পাপ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এমন অবস্থায় যে, তুমি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করো নি, তবে আমি জমিন পরিপূর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবো।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ بِأَنَّ اللَّهَ قَدْ يَغْفِرُ بِتَفَضُّلِهِ لِمَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا جَمِيعَ الذُّنُوبِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ لَقِيتَنِي بِمِثْلِ الْأَرْضِ خَطَايَا لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُكَ بِمِلْءِ الأرض مغفرة.
الراوي : أَبو ذَرٍّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 226 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সাহীহাহ: ৫৮১।)
পরিচ্ছেদঃ আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের মাঝে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে, তাদেরকে মহান আল্লাহ দ্বিগুণ সাওয়াব দান করবেন
২২৭. সালিহ বিন সালিহ আল হামদানী রহিমাহুল্লাহ ইমাম শা‘বী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, সালিহ হামদানী বলেন: “আমি খুরাসানের এক ব্যক্তিকে ইমাম শা‘বীর নিকট আসতে দেখেছি, তিনি ইমাম শা‘বীকে বলেন: “হে আবু আমর, আমাদের দিকে খুরাসানবাসী বলে: “যখন কোন ব্যক্তি তার দাসীকে আযাদ করে দেয় তারপর তাকে বিবাহ করে, সে ব্যক্তি কুরবানীর পশুর উপর আরোহনকারীর মতো!” তখন ইমাম শা‘বী রহিমাহুল্লাহ বলেন: “ আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ, তিনি তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তিন শ্রেণির মানুষকে তাদের প্রতিদান দ্বিগুণ দেওয়া হয়। (১) আহলে কিতাবের ঐ ব্যক্তি যিনি তাঁর নাবীর প্রতি ঈমান আনোয়ন করেছেন। তারপর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানা পান, ফলে তিনি তাঁর প্রতিও ঈমান আনেন এবং তাঁকে অনুসরণ করেন। তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। (২) ঐ দাস যে তার উপর আল্লাহর হক আদায় করে এবং তার উপর তার মুনীবের হক আদায় করে। তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। (৩) ঐ ব্যক্তি যার একটি দাসী ছিল, অতঃপর তিনি তাকে উত্তমভাবে পানাহার করায়, উত্তমভাবে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, তারপর তাকে আযাদ করে তাকে বিবাহ করে নেয়। তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব।”[1]
ইমাম শা‘বী রহিমাহুল্লাহ ঐ খুরাসানী ব্যক্তিকে বলেন: “কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই তুমি হাদীসটি গ্রহণ করো, ইতিপূর্বে মানুষ এর চেয়েও ছোট হাদীস জানার জন্য মদীনায় সফর করতো।”
ذِكْرُ إِعْطَاءِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا الْأَجْرَ مَرَّتَيْنِ لِمَنْ أَسْلَمَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحٍ الْهَمْدَانِيِّ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: رَأَيْتُ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ أَتَاهُ فَقَالَ: يَا أَبَا عَمْرٍو إِنَّ مَنْ قِبَلَنَا مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يَقُولُونَ: إِذَا عَتَقَ الرَّجُلُ أَمَتَهُ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا فَهُوَ كَالرَّاكِبِ بَدَنَتَهُ فَقَالَ الشَّعْبِيُّ: حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم قَالَ: ثَلَاثَةٌ يُؤتون أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ ثُمَّ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآمَنَ بِهِ وَاتَّبَعَهُ فَلَهُ أَجْرَانِ وَعَبْدٌ مَمْلُوكٌ يُؤَدِّي حَقَّ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا عَلَيْهِ وَحَقَّ الَّذِي عَلَيْهِ لِمَوْلَاهُ فَلَهُ أَجْرَانِ وَرَجُلٌ كَانَتْ لَهُ أَمَةٌ فغذَّاها فَأَحْسَنَ غِذَاءَهَا وَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ أَدَبَهَا ثُمَّ أَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ.
قَالَ الشَّعْبِيُّ لِلْخُرَاسَانِيِّ خُذْ هَذَا الْحَدِيثَ بِغَيْرِ شَيْءٍ فَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يرحل إلى المدينة فيما هو دونه.
الراوي : أَبُو بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 227 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সাহীহাহ: ১১৫৩।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি তার ইসলাম সুন্দর করবে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার নেকীসমূহ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবেন
২২৮. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ তার ইসলামকে সুন্দর করবে, সে ব্যক্তি যে নেকীর কাজ করবে, তার সাওয়াব দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর সে কোন মন্দ কাজ করলে, তার জন্য একটি গোনাহ লেখা হবে। মৃত্যু পর্যন্ত এমনটি করা হবে।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا تَفَضَّلَ اللَّهُ عَلَى الْمُحْسِنِ فِي إِسْلَامِهِ بِتَضْعِيفِ الْحَسَنَاتِ لَهُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سبع مئة ضِعْفٍ وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا يُكتب لَهُ مِثْلُهَا حتى يلقى الله جل وعلا.
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 228 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সাহীহাহ: ৩৯৫৯।)
পরিচ্ছেদঃ মু‘মিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ
২২৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একজন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দয্যের অন্তর্ভূক্ত হলো অনর্থক জিনিস ছেড়ে দেওয়া।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَاتِ الْمُؤْمِنِينَ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ حُسْنِ إسلام المرء تركه ما لا يعنيه.
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 229 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল মিশকাত: ৪৮৩৯।)
পরিচ্ছেদঃ মু‘মিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ
২৩০. আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন, আর মুহাজির ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত জিনিস পরিত্যাগ করেন।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَاتِ الْمُؤْمِنِينَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ بِفَمِ الصُّلْحِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ بَيَانِ بْنِ بِشْرٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هاجر ما نهى الله عنه.
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 230 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২২৪৩।)
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমদের পরস্পরে সহযোগিতা করা এমন উপকরণের অন্তর্ভূক্ত যা তাদেরকে স্রষ্টার নিকটবর্তী করে দেয়
২৩১. আবু মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একজন মু‘মিন আরেক মু‘মিনের জন্য প্রাসাদ সমতুল্য; যার একাংশ অপরাংশকে শক্তিশালী করে।”[1]
ذِكْرُ الْأَمْرِ بِمَعُونَةِ الْمُسْلِمِينَ بَعْضِهِمْ بَعْضًا فِي الْأَسْبَابِ الَّتِي تُقَرِّبُهُمْ إِلَى الْبَارِي جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِنَّ الْمُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يشد بعضه بعضا".
الراوي : أَبو مُوسَى | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 231 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু মুশকিলাতুল ফাকরি: ১০৪।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘মিনদের প্রাসাদের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন, যার একাংশ অপরাংশকে আঁকড়ে ধরে
২৩২. আবু মুসা আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমদের পারস্পরিক দৃষ্টান্ত হলো প্রাসাদের ন্যায়।” রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো মাটির ভিতর ঢুকিয়ে দেন এবং বলেন: “এর একাংশ অপরাংশকে আঁকড়ে ধরে।”[1]
ذِكْرُ تَمْثِيلِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنِينَ بِالْبُنْيَانِ الَّذِي يُمْسِكُ بَعْضُهُ بَعْضًا
أَخْبَرَنَا بَكْرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْقَزَّازُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُقَدَّمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِيمَا بَيْنَهُمْ كَمَثَلِ الْبُنْيَانِ" قال: وأدخل أصابع يده في الأرض وقال: " يمسك بعضها بعضا".
الراوي : أَبو مُوسَى | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 232 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু মুশকিলাতুল ফাকরি: ১০৪।)
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমদের পারস্পরিক আবশ্যিক দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৃষ্টান্ত পেশ
২৩৩. নু‘মান বিন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “মু‘মিনের দৃষ্টান্ত হলো একটি দেহের ন্যায়, যার কোন অংশ পীড়িত হলে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।”[1]
ذِكْرُ تَمْثِيلِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا يَجِبُ أَنْ يَكُونُوا عَلَيْهِ مِنَ الشفقة والرأفة
أخبرنا بْنُ قَحْطَبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ النَّخَعِيِّ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ شَيْءٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الجسد.
الراوي : النُّعْمَان بْن بَشِيرٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 233 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১০৮৩।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে না- তার ঈমানকে নাকচ করা
২৩৪. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।”[1]
ذِكْرُ نَفْيِ الْإِيمَانِ عَمَّنْ لَا يُحِبُّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ بِاللَّهِ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 234 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৭৩।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে না- তার ঈমানকে নাকচ করার উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত ঈমানকে নাকচ করা; খোদ ঈমানকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় আর ‘তার ভাইয়ের জন্য ভালবাসবে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার জন্য কল্যাণকর বিষয়কে পছন্দ করবে; অকল্যাণকর বিষয় পছন্দ করবে না
২৩৫. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমান পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, যতক্ষণ না সে মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ نَفْيَ الْإِيمَانِ عَمَّنْ لَا يُحِبُّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ إِنَّمَا هُوَ نَفْيُ حَقِيقَةِ الْإِيمَانِ لَا الْإِيمَانَ نَفْسَهُ مَعَ الْبَيَانِ بِأَنَّ مَا يُحِبُّ لِأَخِيهِ أَرَادَ بِهِ الْخَيْرَ دُونَ الشَّرِّ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي سَمِينَةَ قال حدثنا بن أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا يَبْلُغُ عَبْدٌ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يُحِبَّ لِلنَّاسِ مَا يُحِبُّ لنفسه من الخير".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 235 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৭৩।)
পরিচ্ছেদঃ যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালবাসে না, তাদের থেকে ঈমানকে নাকচ করা
২৩৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা মু‘মিন হয়েছো, আর তোমরা মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি আমলের সন্ধান দিব না, যা পালন করলে তোমরা পরস্পরকে ভালবাসতে পারবে? সেটি হলো: “তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও।”[1]
ذِكْرُ نَفْيِ الْإِيمَانِ عَمَّنْ لَا يَتَحَابُّ فِي اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الرَّمَّاحِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَمْرٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلَامَ بينكم".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 236 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭৭৭।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কওমকে ভালবাসে, তার জন্য ঈমানের মিষ্টতার উপস্থিতি সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে আলোচনা
২৩৭. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনটি জিনিস যার মধ্যে থাকবে, তিনি ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবেন। (১) যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হবে (২) যে ব্যক্তি কোন কওমকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসে (৩) ঐ ব্যক্তি যিনি ইয়াহুদী বা খ্রীষ্টান ধর্মে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে যদি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, সেটাই তার কাছে বেশি প্রিয় হবে।”[1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ وُجُودِ حَلَاوَةِ الْإِيمَانِ لِمَنْ أَحَبَّ قَوْمًا لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَالرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا فِي اللَّهِ وَالرَّجُلُ إِنْ قُذِفَ فِي النَّارِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 237 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু ফিকহিস সীরাহ: ১৯৮।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কওমকে ভালবাসে, তার জন্য ঈমানের মিষ্টতার উপস্থিতি সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে আলোচনা
২৩৮. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনটি জিনিস যার মধ্যে থাকবে, তিনি ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবেন। (১) যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হবে (২) যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালবাসে (৩) ঐ ব্যক্তি যিনি কুফরে ফিরে যাওয়াকে তেমন অপছন্দ করবে, যেমন অপছন্দ করে প্রজ্জ্বলিত আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে।”[1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ وُجُودِ حَلَاوَةِ الْإِيمَانِ لِمَنْ أَحَبَّ قَوْمًا لِلَّهِ جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لا يحبه إلا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ تُوقَدَ لَهُ نَارٌ فَيُقْذَفَ فِيهَا".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 238 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু ফিকহিস সীরাহ: ১৯৮।)
পরিচ্ছেদঃ এক মুসলিম ব্যক্তির উপর তার অপর মুসলিম ভাইয়ের যেসব হক আদায় করা ওয়াজিব
২৩৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনটি জিনিস; যার প্রত্যেকটি মুসলিম ব্যক্তির উপর পালন করা আবশ্যক; তা হলো রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় উপস্থিত হওয়া এবং হাঁচিদানকারীর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।) বলা, যখন হাঁচিদানকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করবে (‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলবে)।”[1]
ذِكْرُ مَا يَجِبُ عَلَى الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ الْمُسْلِمِ مِنَ الْقِيَامِ فِي أَدَاءِ حُقُوقِهِ
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "ثَلَاثٌ كُلُّهُنَّ عَلَى الْمُسْلِمِ عِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَشُهُودُ الْجَنَازَةِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ الله".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 239 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮০০।)
পরিচ্ছেদঃ উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয়
২৪০. আবু মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এক মুসলিমের জন্য আরেক মুসলিম উপর চারটি বৈশিষ্ট্য আবশ্যক। (১) সে অসুস্থ হলে, তাকে দেখতে যাবে (২) মারা গেলে, তার জানাযায় উপস্থিত হবে (৩) হাঁচি দিলে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।) বলবে (৪) দা‘ওয়াত দিলে কবুল করবে।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُرِدْ بِهَذَا الْعَدَدِ الْمَذْكُورِ نَفْيًا عَمَّا وَرَاءَهُ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ أَرْبَعُ خِلَالٍ يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ ويجيبه إذا دعاه".
الراوي : أَبُو مَسْعُودٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 240 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্টভাবে কোন মন্তব্য করেননি। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২১৫৪।)
পরিচ্ছেদঃ আবু মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয়
২৪১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “এক মুসলিমের উপর আরেক মুসলিমের পাঁচটি হক রয়েছে। তা হলো: সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, দা‘ওয়াত কবুল করা, হাঁচিদানকারীর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।) বলা।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ هَذَا الْعَدَدَ الَّذِي ذَكَرَهُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَبَرِ أَبِي مَسْعُودٍ لَمْ يُرِدْ بِهِ النَّفْيَ عَمَّا وَرَاءَهُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدعوة وتشميت العاطس".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 241 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ সা‘ঈদ বিন মুসায়্যিব রহিমাহুল্লাহর হাদীসে বর্ণিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয়
২৪২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এক মুসলিমের উপর আরেক মুসলিমের ছয়টি হক রয়েছে। তা হলো: তার সাথে দেখা হলে, সালাম দিবে, দা‘ওয়াত দিলে কবুল করবে, উপদেশ চাইলে উপদেশ দিবে, যখন সে হাঁচি দেয় এবং ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে, তখন তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।) বলবে, যখন সে অসুস্থ হয়, তখন তাকে দেখতে যাবে, আর মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ করবে।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ هَذَا الْعَدَدَ الْمَذْكُورَ فِي خَبَرِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ لَمْ يُرِدْ بِهِ النَّفْيَ عَمَّا وَرَاءَهُ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم قال: "حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ" قَالُوا: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: "إِذَا لَقِيَهُ سَلَّمَ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاهُ أَجَابَهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَ نَصَحَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ يُشَمِّتُهُ وَإِذَا مرض عاده وإذا مات صحبه".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 242 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ যে হাদীসে মুসলিমদেরকে বৃক্ষের সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে, সে হাদীসের বিবরণ
২৪৩. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে কে বলবে এমন একটি বৃক্ষের কথা, যার দৃষ্টান্ত হলো মু‘মিন ব্যক্তির ন্যায়, সেই বৃক্ষের মূল মজবুতভাবে প্রোথিত আর তার শাখাগুলো আসমানে (এর দিকে উত্থিত), এটি তার প্রতিপালকের অনুমতিতে সব সময় ফল দেয়?” আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, এটি হলো খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমার বাবার অবস্থানের কারণে তা বলতে পারিনি।” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এটি হলো খেজুর বৃক্ষ।” পরে বিষয়টি আমার বাবাকে (উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললে, তিনি বলেন: “তুমি যদি তা বলতে তবে তা আমার জন্য এতো এতো সম্পদের চেয়েও প্রিয় হতো।” রাবী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন: “লাল উষ্ট্রী।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا يُشْبِهُ الْمُسْلِمِينَ مِنَ الْأَشْجَارِ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ الْقَسْمَلِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَنْ يُخْبِرُنِي عَنْ شَجَرَةٍ مَثَلُهَا مَثَلُ الْمُؤْمِنِ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا"؟ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ هِيَ النَّخْلَةُ فَمَنَعَنِي مَكَانُ أَبِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "هِيَ النَّخْلَةُ" فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِأَبِي فَقَالَ: لَوْ قُلْتَهَا كَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ كَذَا وَكَذَا أَحْسَبُهُ قَالَ: حمر النعم.
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 243 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ যে গাছের সাথে মুসলিমদের সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে, সেই গাছের বিবরণ
২৪৪. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম, এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খেজুর গাছের মজ্জা দেওয়া হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বৃক্ষসমূহের মাঝে একটি বৃক্ষ আছে, যার বারাকাহ মুসলিম ব্যক্তির মতোই।” আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “আমার মনে হলো যে, এটি খেজুর বৃক্ষ। তারপর আমি কওমের অন্যান্য লোকদের দিকে তাকালাম, আমি দেখলাম যে, আমি দশ বছর বয়সী আর আমি কওমের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী। ফলে আমি চুপ থাকলাম।” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি হলো খেজুর গাছ।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ وَصْفِ مَا يُشْبِهُ الْمُسْلِمَ مِنَ الشَّجَرِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مجاهد عن بن عُمَرَ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وَسَلَّمَ إِذْ أُتِيَ بِجُمَّارٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةٌ بَرَكَتُهَا كَالْمُسْلِمِ" قَالَ: فَأُرِيتُ أَنَّهَا النَّخْلَةُ ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى الْقَوْمِ فَإِذَا أَنَا عَاشِرُ عَشَرَةٍ وَأَنَا أَحْدَثُ الْقَوْمِ فَسَكَتُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "هي النخلة".
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 244 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ যে গাছের সাথে মুসলিমদের সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে, সেই গাছের বিবরণ
২৪৫. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা আমাকে বলো এমন একটি বৃক্ষের কথা, যার দৃষ্টান্ত মু‘মিন ব্যক্তির মতো। রাবী বলেন, এরপর লোকজন জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে আলোচনা করতে লাগলেন। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “আমার অন্তরে বা মনে হলো যে, এটি খেজুর গাছ। তিনি বলেন, আমি বলতে উদ্যত হলাম, অতঃপর আমি সেখানে কওমের প্রবীণ ব্যক্তিদের দেখতে পেলাম, ফলে আমি কথা বলতে ভয় পেলাম। কিন্তু তাঁরা তা আবিষ্কার করতে পারলেন না। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এটি হলো খেজুর গাছ।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ وَصْفِ مَا يُشْبِهُ الْمُسْلِمَ مِنَ الشَّجَرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّيْرَفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أبي الخليل عن مجاهد عن بْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا لِأَصْحَابِهِ: " أَخْبِرُونِي عَنْ شَجَرَةٍ مَثَلُهَا مَثَلُ الْمُؤْمِنِ" قَالَ: فَجَعَلَ الْقَوْمُ يَتَذَاكَرُونَ شَجَرًا مِنْ شَجَرِ الْوَادِي قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَأُلْقِيَ فِي نَفْسِي أَوْ رَوْعِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ قَالَ: فَجَعَلْتُ أُرِيدُ أَنْ أَقُولَ فَأَرَى أَسْنَانًا مِنَ الْقَوْمِ فَأَهَابُ أَنْ أَتَكَلَّمَ فَلَمْ يَكْشِفُوا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هي النخلة".
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 245 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস
২৪৬. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বৃক্ষসমূহের মাঝে একটি বৃক্ষ আছে, যার পাতা পড়ে না, সেটি মুসলিম ব্যক্তির মতোই। তোমরা আমাকে বলো, সেটি কোন গাছ?” ফলে লোকজন জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে লাগলো। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “আমার মনে হলো যে, এটি খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জা বোধ করলাম। তারপর সাহাবীগণ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের বলুন, সেটি কোন গাছ?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সেটি হলো খেজুর গাছ।”
পরে বিষয়টি আমার বাবাকে (উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললে, তিনি বলেন: “তুমি যদি বলতে যে এটি খেজুর গাছ তবে তা আমার জন্য এতো এতো সম্পদের চেয়েও প্রিয় হতো।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرَةٌ لَا يَسْقُطُ وَرَقُهَا وَإِنَّهَا مِثْلُ الْمُسْلِمِ فَحَدِّثُونِي مَا هِيَ"؟ فَوَقَعَ النَّاسُ فِي شَجَرِ الْبَوَادِي قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ فَاسْتَحْيَيْتُ ثُمَّ قَالُوا: حَدِّثْنَا مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: "هِيَ النَّخْلَةُ" فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعُمَرَ فَقَالَ: لِأَنْ تَكُونَ قُلْتَ هِيَ النَّخْلَةُ أَحَبَّ إِلَيَّ من كذا وكذا.
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 246 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৮৩২।)
পরিচ্ছেদঃ পবিত্র জিনিস ভক্ষণ করা ও পবিত্র জিনিস বের করার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মু‘মিন ব্যক্তিকে মৌমাছির সাথে দৃষ্টান্ত পেশ করা
২৪৭. আবু রাযীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মু‘মিন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হলো মৌমাছির মতো, যা কেবল পবিত্র জিনিসই ভক্ষণ করে আর কেবল পবিত্র জিনিসই প্রদান করে।”[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “ইমাম শু‘বাহ রহিমাহুল্লাহ ‘উদুস’ নামের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। মূলত সেটি হবে ‘হুদুস’, যেমনটা হাম্মাদ বিন সালামা এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন।”
ذِكْرُ تَمْثِيلِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنَ بِالنَّحْلَةِ فِي أَكْلِ الطَّيِّبِ وَوَضْعِ الطَّيِّبِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ وَكِيعِ بْنِ عُدُسٍ عَنْ عَمِّهِ أَبِي رَزِينٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ النَّحْلَةِ لَا تَأْكُلُ إِلَّا طَيِّبًا وَلَا تَضَعُ إِلَّا طَيِّبًا".
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: شُعْبَةُ وَاهِمٌ فِي قَوْلِهِ: عُدُس إِنَّمَا هُوَ حُدُسٍ كما قاله حماد بن سلمة وأولئك.
الراوي : أَبُو رَزِينٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 247 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩৫৫।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মানুষকে কাফির বলবে, সে অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে
২৪৮. আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন কোন ব্যক্তি কাউকে কাফির বলে, তখন সেটি তাদের যে কোন একজনের দিকে ফিরে যায়, যদি সে কাফির হয়, (তাহলে ঠিক আছে) অন্যথায় কাফির বলার কারণে সে নিজেই কাফির হয়ে যাবে।”[1]
فَصْلٌ ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ مَنْ أَكْفَرَ إِنْسَانًا فَهُوَ كَافِرٌ لَا مَحَالَةَ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ حَدَّثَنَا سلمة بن الفضل عن بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: "ما أكفر رجل قَطُّ إِلَّا بَاءَ أَحَدُهُمَا بِهَا إِنْ كَانَ كافرا وإلا كفر بتكفيره".
الراوي : أَبُو سَعِيدٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 248 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৮৯১।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মানুষকে কাফির বলবে, সে অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে
২৪৯. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে, তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে।”[1]
فَصْلٌ ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ مَنْ أَكْفَرَ إِنْسَانًا فَهُوَ كَافِرٌ لَا مَحَالَةَ
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الله بن دينار عن بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "أَيُّمَا رَجُلٌ قَالَ لِأَخِيهِ كَافِرٌ فقد باء به أحدهما".
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 249 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৮৯১।)
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্ক্তব্য ’তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে’ এর বিবরণ
২৫০. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে, তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে। যদি সে কাফির হয়, (তাহলে ঠিক আছে) অন্যথায় তা নিজের দিকেই ফিরে আসবে।”[1]
ذِكْرُ وَصْفِ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ بَاءَ بِهِ أَحَدُهُمَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ أَنَّهُ سمع بْنَ عُمَرَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ كَافِرٌ فَقَدْ بَاءَ بِهِ أَحَدُهُمَا إِنْ كَانَ كَمَا قال وإلا رجعت عليه.
الراوي : ابْن عُمَرَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 250 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৮৯১।)
পরিচ্ছেদঃ শিরক ও নিফাক সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে - যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করবে, সে নিশ্চিতভাবেই জাহান্নামে যাবে
২৫১. আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুটি বাক্য; যার একটি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি আর আরেকটি আমি নিজে বলি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে শিরক করেছে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”
আর আমি বলি: ““যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে শিরক করেনি, তবে তিনি তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الشِّرْكِ وَالنِّفَاقِ - ذِكْرُ اسْتِحْقَاقِ دُخُولِ النَّارِ لَا مَحَالَةَ مَنْ جَعَلَ لله نداً
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَلِمَتَانِ سَمِعْتُ إِحْدَاهُمَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى أَنَا أَقُولُهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ((لَا يَلْقَى اللَّهَ عَبْدٌ يُشْرِكُ بِهِ إِلَّا أَدْخَلَهُ النَّارَ))
وَأَنَا أَقُولُ لَا يَلْقَى اللَّهَ عبدٌ لَمْ يُشرِك به إلا أدخلهُ الجنّة.
الراوي : ابْن مَسْعُودٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 251 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩৫৬৬।)
পরিচ্ছেদঃ ইসলাম শিরকের বিপরীত এই মর্মে হাদীস
২৫২. আবু সা‘ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তি তাঁর বাবার হাত ধরে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে চাইবেন, তখন ঘোষনা করা হবে: “জান্নাতে কোন মুশরিক ব্যক্তি প্রবেশ করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক মুশরিকের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন।” তখন সেই ব্যক্তি বলবেন: “হে আমার প্রভূ, হে আমার প্রভূ, ইনি তো আমার বাবা!” অতঃপর সে ব্যক্তি (মুশরিক বাবা, যাকে সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করাতে চাচ্ছেন) বীভৎস আকৃতি ধারণ করবে এবং তার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াবে, ফলে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যাবেন।”[1]
আবু সা‘ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ মনে করতেন যে, সেই ব্যক্তি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলেননি।
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ الْإِسْلَامَ ضِدُّ الشرك
أخبرنا إسحاق بن إبراهيم ين إِسْمَاعِيلَ بِبُسْتَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم قَالَ: (لَيَأَخُذَنَّ رَجُلٌ بِيَدِ أَبِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرِيدُ أَنْ يُدخله الْجَنَّةَ فيُنادى: إِنَّ الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا مُشْرِكٌ إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى كُلِّ مُشْرِكٍ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ أَيْ رَبِّ أَبِي قَالَ: فَيَتَحَوَّلُ فِي صُورَةٍ قَبِيحَةٍ وَرِيحٍ مُنْتِنَةٍ فيَتْرُكُهُ) قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرَوْنَ أَنَّهُ إِبْرَاهِيمُ وَلَمْ يَزِدْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على ذلك.
الراوي : أَبُو سَعِيدٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 252 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৫২।)
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর সাথে শিরকের ক্ষেত্রে ‘যুলম’ নাম ব্যবহার
২৫৩. আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “যখন এই আয়াত নাযিল হয় “যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং তাদের ঈমানের সাথে যুলম সংমিশ্রণ করেনি...।” (সূরা আন‘আন: ৮২) তখন সাহাবীগণ বলেন: “আমাদের মাঝে এমন কে আছেন, যিনি নিজের উপর যুলম করেনি?” রাবী বলেন, এর পরিপেক্ষিতে নাযিল হয়: “নিশ্চয়ই শিরক মহা যুলম।” (সূরা লুকমান: ১৩)[1]
ইবনু ইদরীস বলেছেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার বাবা, তিনি আবান বিন তাগলিব থেকে তিনি আ‘মাশ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি আ‘মাশ রহিমাহুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে, তিনি আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ الظُّلْمِ عَلَى الشِّرْكِ بِاللَّهِ جل وعلا
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فِيلٍ الْبَالِسِيُّ بِأَنْطَاكِيَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إيمانهم بظلم} [الأنعام: 82] قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أيُّنا لَمْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ؟ قَالَ: فَنَزَلَتْ: {إن الشرك لظلم عظيم} [لقمان: 13].
قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ: حَدَّثَنِيهِ أَبِي عَنْ أَبَانَ بْنِ تَغْلِبَ عَنِ الْأَعْمَشِ ثُمَّ لَقِيتُ الْأَعْمَشَ فحدثني به.
الراوي : ابْن مَسْعُودٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 253 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৫২।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিফাকের কোন একটি অংশ বাস্তবায়ন করবে, তার ক্ষেত্রে নিফাক নাম ব্যবহার
২৫৪. আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যার মধ্যে চারটি বৈশিষ্ট্যে আছে, সে ব্যক্তি খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যতক্ষন তা পরিত্যাগ করে। (বৈশিষ্ট্যগুলো হলো) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, চুক্তি করলে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিলে লঙ্ঘন করে, বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে।”[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ النِّفَاقِ عَلَى مَنْ أَتَى بِجُزْءٍ مِنْ أَجْزَائِهِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (أربعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهَا كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ من النقاق حَتَّى يَدَعَهَا: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ.)
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرٍو | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 254 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২৭/৪।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন মুর্রাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস
২৫৫. আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যার মধ্যে চারটি বৈশিষ্ট্যে আছে, সে ব্যক্তি খাঁটি মুনাফিক। (বৈশিষ্ট্যগুলো হলো) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে লঙ্ঘন করে, চুক্তি করলে ভঙ্গ করে, বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে। আর যার মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।”[1]
ذكر الخبر المدحض قول من زعم أن هذا الخبر تفرد به عبد الله بْنُ مرة
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم: (أربعُ خلالٍ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا: مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ من النفاق.)
الراوي : عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرٍو | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 255 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/২৭।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন মুর্রাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস
২৫৬. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1]
ذكر الخبر المدحض قول من زعم أن هذا الخبر تفرد به عبد الله بْنُ مرة
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ فِي عَقِبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم بمثله.
الراوي : جَابِر | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 256 | خلاصة حكم المحدث: شاذ عن جابر , والمحفوظ: عن ابن عمرو , وهو الذي قبله.
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উল্লেখিত হাদীসটির বক্তব্য অমুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস
২৫৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, সে ব্যক্তি মুনাফিক, যদিও সে সিয়াম রাখে, সালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম দাবী করে। যে ব্যক্তি কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে লঙ্ঘন করে, তার কাছে আমানত রাখা হলে, খেয়ানত করে।”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ خِطَابَ هَذَا الْخَبَرِ وَرَدَ لِغَيْرِ الْمُسْلِمِينَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحَبِيبٍ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وإذا ائتمن خان".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 257 | خلاصة حكم المحدث: حسن.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/২৭, ২৮।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি তিন জুমু‘আর সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকে, তার ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টভাবে নিফাক শব্দ ব্যবহার
২৫৮. আবুল জা‘দ আদ্ব দ্বোমরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ওজর ছাড়া তিন জুমু‘আহ ছেড়ে দেয়, সে মুনাফিক।”[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ النِّفَاقِ عَلَى غَيْرِ الْمَعْدُودِ إِذَا تَخَلَّفَ عَنْ إِتْيَانِ الْجُمُعَةِ ثَلَاثًا
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سِنَانٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلَاثًا مِنْ غير عذر فهو منافق".
الراوي : أَبُو الْجَعْدِ الضَّمْرِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 258 | خلاصة حكم المحدث: حسن صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৫৯।)
পরিচ্ছেদঃ সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে অবস্থান করে, যে ব্যক্তি আসরের সালাত সেই সময় বিলম্বিত করে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিফাক নাম ব্যবহার
২৫৯. ‘আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার এক সঙ্গী যোহরের পর আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের বললেন: “আপনারা কি আসরের সালাত আদায় করেছেন?” রাবী বলেন, আমরা বললাম: “জ্বী, না।” তিনি বললেন: “আপনারা হুজরার নিকট সালাত আদায় করে নিন।” অতঃপর আমরা সালাত শেষ করলাম। আর তিনি সালাত অনেক দীর্ঘ করলেন। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রথম যা বললেন, তা হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এটি মুনাফিকের সালাত। কোন ব্যক্তি সালাতকে বিলম্বিত করে এমনকি সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় অতঃপর চারটি ঠোকর দেয় আর তাতে খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।”[1]
ذِكْرُ إِطْلَاقِ اسْمِ النِّفَاقِ عَلَى الْمُؤَخِّرِ صَلَاةَ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَكُونَ الشَّمْسُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ عَنِ بْنِ عَجْلَانَ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَالَ أَصَلَّيْتُمَا الْعَصْرَ قَالَ: فَقُلْنَا لَا قَالَ: فَصَلِّيَا عِنْدَكُمَا فِي الْحُجْرَةِ فَفَرَغْنَا وَطَوَّلَ هُوَ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فَكَانَ أَوَّلَ مَا كَلَّمَنَا بِهِ أَنْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم: "تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يُمْهِلُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا كانت الشمس عَلَى قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يذكر الله فيها إلا قليلا.
الراوي : الْعَلَاء بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 259 | خلاصة حكم المحدث: حسن صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৪৪১।)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি ‘আলা বিন আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার বক্তব্য অপনোদনে হাদীস
২৬০. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাদেরকে মুনাফিকদের সালাত সম্পর্কে জানাবো না? সে আসরের সালাত আদায় করে না যতক্ষণ না সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় অতঃপর মোরগের ন্যায় চারটি ঠোকর দেয় আর তাতে খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ هَذَا الْخَبَرَ تَفَرَّدَ بِهِ الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى بِالْمَوْصِلِ حَدَّثَنَا هَارُونُ بن معروف حدثنا بن وهب أخبرنا أسامة بن زيد عن بن شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَحَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ حَفْصَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِصَلَاةِ الْمُنَافِقِينَ يَدَعُ الْعَصْرَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ كَنَقَرَاتِ الدِّيكِ لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهِنَّ إلا قليلا".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 260 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৪৪১।)
পরিচ্ছেদঃ সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি আসরের সালাত বিলম্ব করে, তার ক্ষেত্রে মুনাফিক নাম ব্যবহার
২৬১. ‘আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যোহরের পর আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গেলাম। অতঃপর তিনি আসরের সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন আমরা অথবা তিনি নিজেই তাড়াতাড়ি সালাত আদায় করার কথা আলোচনা করলেন। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এটি মুনাফিকের সালাত।” এই কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (তারপর তিনি বলেন) কোন ব্যক্তি সালাত আদায় না করে বসে থাকে, এমনকি সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অথবা উপরে অবস্থান করে, তখন সে ব্যক্তি চারটি ঠোকর দেয় আর তাতে খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।”[1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ اسْمِ الْمُنَافِقِ عَلَى الْمُؤَخِّرِ صَلَاةَ الْعَصْرِ إِلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلَاةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ بَيْنَ قرني الشيطان أو على قرني الشيطان فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قليلا".
الراوي : الْعَلَاء بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 261 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৪৪১।)
পরিচ্ছেদঃ সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সালাত বিলম্ব করে আদায় করা মুনাফিকের সালাত
২৬২. ‘আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি একবার যোহরের সালাত সম্পন্ন করে বসরায় অবস্থিত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে যান। যখন আমরা তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমাদের বললেন: “আপনারা কি আসরের সালাত আদায় করেছেন?”রাবী বলেন, আমরা বললাম: “আমরা তো সবেমাত্র যোহরের সালাত সম্পন্ন করলাম।” রাবী বলেন, তাঁরা আসরের সালাত আদায় করেন ফলে আমরাও দাঁড়িয়ে যাই এবং আসরের সালাত আদায় করি। যখন আমরা সালাত সম্পন্ন করলাম, তখন তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “এটি মুনাফিকের সালাত। কোন ব্যক্তি বসে থাকে আর সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করে এমনকি সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় অতঃপর চারটি ঠোকর দেয় আর তাতে খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।”[1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ تَأْخِيرَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ يَقْرُبَ اصْفِرَارُ الشَّمْسِ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ
أَخْبَرَنَا بْنِ خُزَيْمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ حِينَ انْصَرَفَ مِنَ الظُّهْرِ قَالَ وَدَارُهُ بجنب الْمَسْجِدِ فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ قَالَ صَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ قُلْنَا إِنَّمَا انْصَرَفْنَا السَّاعَةَ مِنَ الظُّهْرِ قَالَ فَصَلُّوا الْعَصْرَ فَقُمْنَا فَصَلَّيْنَا الْعَصْرَ فَلَمَّا انْصَرَفْنَا قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إلا قليلا".
الراوي : الْعَلَاء بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 262 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৪৪১।)
পরিচ্ছেদঃ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস
২৬৩. ‘আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার এক সঙ্গী যোহরের পর আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের বললেন: “আপনারা কি আসরের সালাত আদায় করেছেন?”রাবী বলেন, আমরা বললাম: “জ্বী, না।” তিনি বললেন: “আপনারা হুজরায় আমাদের নিকট সালাত আদায় করে নিন।” অতঃপর আমরা সালাত শেষ করলাম। আর তিনি সালাত অনেক দীর্ঘ করলেন। তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রথম যা বললেন, তা হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এটি মুনাফিকের সালাত। কোন ব্যক্তি (সালাত আদায় না করে) বসে থাকে এমনকি সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অথবা উপরে অবস্থান করে, তখন সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় অতঃপর চারটি ঠোকর দেয় আর তাতে খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।”[1]
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ مَوْلَى الْحُرَقَةِ أَنَّهُ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَصَاحِبٌ لِي بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَالَ: أَصَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ؟ قَالَ: فَقُلْنَا: لَا قَالَ: فَصَلِّيَا عِنْدَنَا فِي الْحُجْرَةِ فَفَرَغْنَا وَطَوَّلَ هُوَ وَانْصَرَفَ إِلَيْنَا فَكَانَ أَوَّلَ مَا كَلَّمَنَا بِهِ أَنْ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم قال: "تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يَقْعُدُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَتْ عَلَى قَرْنِ الشَّيْطَانِ أَوْ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فيها إلا قليلا".
الراوي : الْعَلَاء بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 263 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ৪৪১।)
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমদের সাথে মুনাফিকদের আচরণের বিবরণ
২৬৪. আবু জা‘ফার রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, উবাইদ বিন উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় আলোচনা করছিলেন এসময় তাঁর কাছে আব্দুল্লাহ বিন উমার, আব্দুল্লাহ বিন সাফওয়ান এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অন্যান্য সাহাবীগণও ছিলেন। উবাইদ বিন উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো দুই ছাগলের মাঝে অবস্থানকারী ছাগীর ন্যায়, যদি সে এদিকে ধাবিত হয়, তাকে গুতা মারা হয় আর যদি ওদিকে ধাবিত হয়, তবুও তাকে গুতা মারা হয়।” তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “হাদীসটি এভাবে নয়।” তখন উবাইব বিন উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রেগে গেলেন এবং বললেন: “আপনি আমার প্রতিবাদ করছেন?” তিনি বলেন: “আমি আপনার প্রতিবাদ করছি না তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাদীসটি বলেন, তখন আমি তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলাম।” তখন আব্দুর রহমান বিন সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “হে আবু আব্দুর রহমান, হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে বলেছেন?” তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “بَيْنَ الرَّبِيضَيْنِ (দুই ছাগলের মাঝখানে)”তখন আব্দুর রহমান বিন সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “হে আবু আব্দুর রহমান, بَيْنَ الرَّبِيضَيْنِ আর بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ তো একই কথা!” তখন তিনি বলেন: “এভাবেই আমি শুনেছি। এভাবেই আমি শুনেছি। এভাবেই আমি শুনেছি “ রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন কিছু শুনলে, তাতে সামান্য পরিমানেও কোন কম-বেশি করতেন না।[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ وَصْفِ عِشْرَةِ الْمُنَافِقِ لِلْمُسْلِمِينَ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ عبد الله اليحمدي حدثنا بن الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُصُّ بِمَكَّةَ وَعِنْدَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ وَنَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ الشَّاةِ بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ إِنْ مَالَتْ إِلَى هَذَا الْجَانِبِ نُطِحَتْ وَإِنْ مَالَتْ إِلَى هَذَا الْجَانِبِ نُطِحَتْ" قَالَ ابْنُ عُمَرَ: لَيْسَ هَكَذَا فَغَضِبَ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ وَقَالَ: تَرُدُّ عَلَيَّ؟ قَالَ: إِنِّي لَمْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إِلَّا أَنِّي شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالَ: فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ: فَكَيْفَ قَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ؟ قَالَ: "بَيْنَ الرَّبِيضَيْنِ" قَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بَيْنَ الرَّبِيضَيْنِ وَبَيْنَ الْغَنَمَيْنِ سَوَاءٌ قَالَ: كَذَا سَمِعْتُ كَذَا سَمِعْتُ كَذَا سَمِعْتُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سَمِعَ شَيْئًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَعْدُهُ وَلَمْ يَقْصُرْ دُونَهُ.
الراوي : الْعَلَاء بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 264 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওদ্ব: ৫৫৪।)
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর সিফাত বা বিশেষণ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে - আল্লাহর সিফাত তাঁর মর্যাদার সাথে যেমন সামঞ্জস্যশীল, তেমনই; তাঁর সিফাত মাখলূকাতের সিফাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়
২৬৫. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহকে যথাযথ মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে... নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্র্রষ্টা।” (সূরা নিসা: ৫৮।)
অত্র আয়াত সম্পর্কে আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে কানের উপর এবং শাহাদাহ আঙ্গুলিকে চোখের উপর রাখতে।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَضْعِهِ أُصْبُعَهُ عَلَى أُذُنِهِ وَعَيْنِهِ تَعْرِيفَ النَّاسِ أَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا لَا يسمع بالأذن التي لَهَا سِمَاخٌ وَالْتِوَاءٌ وَلَا يُبْصِرُ بِالْعَيْنِ الَّتِي لَهَا أَشْفَارٌ وَحَدَقٌ وَبَيَاضٌ جَلَّ رَبُّنَا وَتَعَالَى عَنْ أَنْ يُشَبَّهَ بِخَلْقِهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ بَلْ يَسْمَعُ وَيُبْصِرُ بِلَا آلَةٍ كَيْفَ يشاء.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “কান ও চোখের উপর আঙ্গুল রাখার দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জানিয়ে দেওয়া যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কান দিয়ে শুনেন না, যা পেঁচানো ও ছিদ্র বিশিষ্ট্য, এবং এমন চোখ দিয়ে দেখেন না, যাতে চোখের পাতা, মনি ও সাদা থাকে। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজীবের কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া থেকে সুমহান। বস্তুত তিনি কোন অঙ্গ ছাড়াই যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে দেখেন ও শুনেন।”
بَابُ مَا جَاءَ فِي الصِّفَاتِ - ذكر البيان بأن صفاة الله يليق بجلاله جل وعلا ولا يشبه صفاة المخلوقين
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يحيى الذهلي حدثنا المقرىء حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ عَنْ أَبِي يُونُسَ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَاسْمُهُ سُلَيْمُ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذِهِ الْآيَةِ {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} إِلَى قَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعاً بَصِيراً} [النساء: 58] رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ إِبْهَامَهُ عَلَى أُذُنِهِ وَأُصْبَعَهُ الدَّعَّاءَ عَلَى عَيْنِهِ.
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 265 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ৬১৪।)
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর সিফাত বা বিশেষণ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে - আল্লাহর সিফাত তাঁর মর্যাদার সাথে যেমন সামঞ্জস্যশীল, তেমনই; তাঁর সিফাত মাখলূকাতের সিফাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়
২৬৬. আবু মুসা আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না, আর ঘুমানো তার জন্য সঙ্গতও নয়। তিনি দাঁড়িপাল্লা অবনমিত করেন এবং সমুন্নত করেন। রাতের আগেই তাঁর কাছে দিনের আমল পেশ করা হয় এবং দিনের আগেই রাতের আমল তাঁর কাছে পেশ করা হয়। তাঁর হিজাব হলো নূর। যদি তিনি তাঁর নূরের একটি স্তর উন্মুক্ত করে দেন, তাহলে তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতা তার শেষ সীমা পর্যন্ত সব কিছুকে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দিবে। তিনি তাঁর হাতকে রাতে পাপকারী ব্যক্তির জন্য রেখেছেন, যাতে সে দিনে তাওবা করে এবং দিনে পাপকারীর জন্য রেখেছেন, যাতে সে রাতে তাওবা করতে পারে। (এই অবস্থা চলতেই থাকবে) যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।”[1]
بَابُ مَا جَاءَ فِي الصِّفَاتِ - ذكر البيان بأن صفاة الله يليق بجلاله جل وعلا ولا يشبه صفاة المخلوقين
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ اللَّهَ لَا يَنَامُ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ اللَّيْلِ وَعَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ النَّهَارِ حِجَابُهُ النُّورُ لَوْ كُشِفَ طَبَقُهَا أَحْرَقَ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ كُلَّ شَيْءٍ أَدْرَكَهُ بَصَرُهُ وَاضِعٌ يَدَهُ لِمُسِيءِ اللَّيْلِ لِيَتُوبَ بِالنَّهَارِ وَلُمُسِيءِ النَّهَارِ لِيَتُوبَ بِاللَّيْلِ حَتَّى تطلع الشمس من مغربها".
الراوي : أَبُو مُوسَى | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 266 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩০৮১।)
পরিচ্ছেদঃ যে সব সিফাত মাখলূকাতের দিকে সম্পর্কিত করা হলে, মাখলূকাতের জন্য ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়, সেসব সিফাতকে মহান সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্পর্কিত করা জায়েয নয়
২৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেছেন: “আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অথচ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা তার জন্য মোটেও সমীচীন নয়, আদম সন্তান আমাকে গালমন্দ করে অথচ আমাকে গালমন্দ করা তার জন্য মোটেও সমীচীন নয়। আমাকে সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এভাবে যে, সে বলে: “তিনি আমাকে কখনই পুনরায় সৃষ্টি করতে পারবেন না, যেমনভাবে তিনি আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।” অথচ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করার চেয়ে প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার কাছে সহজ ছিল নয় কি? সে আমাকে গালমন্দ করে এভাবে যে, সে বলে: “আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন!” অথচ আমি আল্লাহ এক, মুখাপেক্ষীহীন, আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আর আমাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আমার সমতুল্য কেউ নেই।”[1]
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: فِي قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أوليس أَوَّلُ خَلْقٍ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ" فِيهِ الْبَيَانُ الْوَاضِحُ أَنَّ الصِّفَاتِ الَّتِي تُوقِعُ النَّقْصَ عَلَى مَنْ وُجِدَتْ فِيهِ غَيْرُ جَائِزٍ إِضَافَةُ مِثْلِهَا إِلَى اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا إِذِ الْقِيَاسُ كَانَ يُوجِبُ أَنْ يُطْلِقَ بَدَلَ هَذِهِ اللَّفْظَةِ "بِأَهْوَنَ عَلَيَّ" بِأَصْعَبَ عَلَيَّ فَتَنَكَّبَ لَفْظَةَ التَّصْعِيبِ إِذْ هِيَ مِنْ أَلْفَاظِ النَّقْصِ وَأُبْدِلَتْ بِلَفْظِ التهوين الذي لا يشوبه ذلك.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বক্তব্য: “দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করার চেয়ে প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার কাছে সহজ ছিল নয় কি?” এখানে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, যেসব সিফাত কারো মাঝে পাওয়া গেলে তা ব্যক্তিকে ত্রুটিতে নিপতিত করে, এমন সিফাত মহান আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা জায়েয নেই। কারণ উক্ত বাক্যের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল ‘আমার কাছে সহজ ছিল নয় কি’ এর পরিবর্তে ‘কঠিন ছিল নয় কি’ ব্যবহার করা। অতঃপর কঠিন শব্দটিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ শব্দটি ত্রুটিবাচক। ফলে সহজ শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ত্রুটির কোন সংমিশ্রন নেই।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ كُلَّ صِفَةٍ إِذَا وُجِدَتْ فِي الْمَخْلُوقِينَ كَانَ لَهُمْ بِهَا النَّقْصُ غَيْرُ جَائِزٍ إِضَافَةُ مِثْلِهَا إِلَى الْبَارِي جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ قَالَ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ أَنْ يُكَذِّبَنِي وَيَشْتُمُنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتُمَنِي فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ لَنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي أَوَ لَيْسَ أَوَّلُ خَلْقٍ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا وَأَنَا اللَّهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِي كفوا أحد".
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 267 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আন নাসাঈ: ১৯৬৫।)
পরিচ্ছেদঃ যেই হাদীসের মাধ্যমে বিদ‘আতীরা আমাদের ইমামদের দোষারোপ করেন অথচ তাদেরকে সেই হাদীসের অর্থ অনুধাবনের তাওফীক দেওয়া হয়নি
২৬৮. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জাহান্নামে (মানুষকে) নিক্ষেপ করা হবে আর জাহান্নাম বলতে থাকবে: “আরো আছে কি?” এক পর্যায়ে প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় কদম তাতে রাখবেন ফলে জাহান্নাম বলবে: “যথেষ্ট, যথেষ্ট।”[1]
قال أبو حاتم: هذا الخبر من الْأَخْبَارِ الَّتِي أُطْلِقَتْ بِتَمْثِيلِ الْمُجَاوَرَةِ وَذَلِكَ أَنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُلْقَى فِي النَّارِ مِنَ الْأُمَمِ وَالْأَمْكِنَةِ الَّتِي عُصِيَ اللَّهُ عَلَيْهَا فَلَا تَزَالُ تَسْتَزِيدُ حَتَّى يَضَعَ الرَّبُّ جَلَّ وَعَلَا مَوْضِعًا مِنَ الكفار والأمكنة في النار فتمتلىء فَتَقُولُ قَطْ قَطْ تُرِيدُ حَسْبِي حَسْبِي لِأَنَّ الْعَرَبَ تُطْلِقُ فِي لُغَتِهَا اسْمَ الْقَدَمِ عَلَى الْمَوْضِعِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا {لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ} يُرِيدُ مَوْضِعَ صِدْقٍ لَا أَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا يَضَعُ قَدَمَهُ فِي النَّارِ جَلَّ رَبُّنَا وَتَعَالَى عَنْ مِثْلِ هَذَا وَأَشْبَاهِهِ.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “অত্র হাদীসটি সেসব হাদীসের অন্তর্ভূক্ত যাতে মুজাওয়ারাত বা নিকটবর্তী বা পার্শবর্তী এর উদাহরণ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটি হলো কিয়ামতের দিন বিভিন্ন জাতীর মানুষ ও যেসব জায়গায় আল্লাহর নাফরমানী করা হয়েছে- সেসবকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে কিন্তু জাহান্নাম আরো বেশি চাইতেই থাকবে। এক পর্যায়ে মহান প্রতিপালক কাফির ও জায়গাসমুহের মধ্য হতে কোন একটি জায়গা জাহান্নামে রাখবেন ফলে জাহান্নাম পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে: “ক্বত, ক্বত অর্থাৎ যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। কেননা আরবরা ‘কদম’ শব্দটিকে জায়গা অর্থে ব্যবহার করে থাকে। যেমন, মহান আল্লাহ বলেছেন: “তাঁদের জন্য তাঁদের প্রতিপালকের কাছে থাকবে সুনিশ্চিত সম্মানজনক অবস্থান।” আয়াতে قَدَمَ صِدْقٍ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো مَوْضِعَ صِدْقٍ । হাদীস দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, মহান আল্লাহ তাঁর পা জাহান্নামে রাখবেন। এই কাজ এবং এই জাতীয় কাজ থেকে তিনি সুমহান, সুউচ্চ।” [2]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৪৮৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৩৪; সহীহ মুসলিম: ২৮৪৮; তিরমিযী: ৩২৭২; ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ: ৯৭, ৯৮।
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ৫২৫।)
[2] ইমাম তিরমিযী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
وقد رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم روايات كثيرة مثل هذا، والمذهب في هذا عن أهل العلم من الأئمة مثل: سفيان الثوري، ومالك بن أنس، وابن المبارك، وسفيان بن عيينة، ... وغيرهم، أنهم قالوا: نروي هذه الأحاديث، ونؤمن بها، ولا يُقال: كيف؟ وهذا الذي اختاره أهل الحديث أن يرووا هذه الأشياء كيف جاءت، ويُؤمن بها، ولا تُفَسَّر، ولا تُتوهَّم، ولا يقال: كيف؟ وهذا أمر أهل العلم الذي اختاروه وذهبوا إليه.
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই ধরণের অনেকগুলি বর্ণনা এসেছে। এই ব্যাপারে সুফইয়ান সাওরী, ইমাম মালিক, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, সুফইয়ান বিন উয়াইনা... ও অন্যান্য আহলুল ইলম তথা বিদ্বানদের অভিমত হলো, তাঁরা বলেন: “আমরা এসব হাদীস বর্ণনা করবো এবং তৎপ্রতি ঈমান আনয়ন করবো ক্ষেত্রে বলা যাবে না: সেটা কিভাবে?” এই মতটিই মুহাদ্দিসগণ পছন্দ করেছেন যে, তাঁরা এই জাতীয় জিনিসগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করবেন এবং তার প্রতি ঈমান আনয়ন করবেন, সেগুলিকে ব্যাখ্যা করা যাবে না, সেগুলির ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করা যাবে না, এরকম বলা যাবে না: “সেটি কিভাবে?” আহলুল ইলমগণ এই মতটিই পছন্দ করেছেন এবং এই মত পোষণ করেছেন।” (সুনান আত তিরমিযী: ৪/৬৯২) -অনুবাদক
ذِكْرُ خَبَرٍ شَنَّعَ بِهِ أَهْلُ الْبِدَعِ عَلَى أَئِمَّتِنَا حَيْثُ حُرِمُوا التَّوْفِيقَ لِإِدْرَاكِ مَعْنَاهُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "يُلْقَى فِي النَّارِ فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ الرَّبُّ جَلَّ وَعَلَا قَدَمَهُ فِيهَا فَتَقُولُ قَطْ قَطْ".
الراوي : أَنَس بْن مَالِكٍ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 268 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
পরিচ্ছেদঃ এই জাতীয় শব্দগুলো মানুষ যা চিনে-জানে তার ভিত্তিতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়-এই মর্মে হাদীস
২৬৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মহিমান্বিত আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে বলবেন, “হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসো নি!” তখন আদম সন্তান বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনাকে দেখতে যাবো, অথচ আপনি জগৎসমূহের প্রতিপালক?” মহান আল্লাহ বলবেন: “তুমি কি জানতে না যে, আমার ওমুক বান্দা অসুস্থ্ হয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে দেখতে যাওনি, তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে তবে তুমি আমাকে পেতে?” তিনি বলবেন: “হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাও নি!” তখন আদম সন্তান বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনাকে পানি পান করাবো, অথচ আপনি জগৎসমূহের প্রতিপালক?” মহান আল্লাহ বলবেন: “তুমি কি জানতে না যে, আমার ওমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি, তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে পানি পান করাতে তবে তুমি তা আমার কাছে পেতে?” তিনি আরো বলবেন: “হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাও নি!” তখন আদম সন্তান বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনাকে খাদ্য দিবো, অথচ আপনি জগৎসমূহের প্রতিপালক?” মহান আল্লাহ বলবেন: “তুমি কি জানতে না যে, আমার ওমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে খাদ্য দাওনি, তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে খাদ্য দিতে তবে তুমি তা আমার কাছে পেতে?”[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَلْفَاظَ مِنْ هَذَا النَّوْعِ أُطْلِقَتْ بِأَلْفَاظِ التَّمْثِيلِ وَالتَّشْبِيهِ عَلَى حَسَبِ مَا يَتَعَارَفُهُ النَّاسُ فِيمَا بَيْنَهُمْ دُونَ الْحُكْمِ عَلَى ظَوَاهِرِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بِنَسَا قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (يَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي فَيَقُولُ: يَا رَبِّ وَكَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ فَيَقُولُ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي؟ وَيَقُولُ: با ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي فَيَقُولُ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ فَيَقُولُ: أما علمت أن عبدي فلان اسْتَسْقَاكَ فَلَمْ تُسقه أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ يَا ابْنَ آدم استطعمتك فلم تطعمني فيقول: يا رب وكيف أُطْعِمُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ فَيَقُولُ: أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا اسْتَطْعَمَكَ فَلَمْ تُطعمه أَمَا إنك لو أطعمته وجدت ذلك عندي.
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 269 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/৪৮।)
পরিচ্ছেদঃ এই জাতীয় শব্দগুলো মানুষ যা চিনে-জানে তার ভিত্তিতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়-এই মর্মে হাদীস
২৭০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোন বান্দা পবিত্র উপার্জন থেকে সাদাকা করলে, -আল্লাহ পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু আসমান পানে উত্থিত হয় না- তবে সে যেন দয়াময় আল্লাহর হাতে সে দান রাখে অতঃপর তিনি তা প্রতিপালন করেন, যেমনভাবে তোমাদের কেউ ঘোড়া ও উটের বাচ্চা প্রতিপালন করে। এমনকি এক লোকমা খাবার কিংবা একটি খেজুর কিয়ামতের দিন বিশাল পাহাড়ের মত হয়ে আবির্ভূত হবে।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (إِلَّا كَأَنَّمَا يَضَعُهَا فِي يَدِ الرَّحْمَنِ) يُبَيِّنُ لَكَ أَنَّ هَذِهِ الْأَخْبَارَ أُطْلِقَتْ بِأَلْفَاظِ التَّمْثِيلِ دُونَ وُجُودِ حَقَائِقِهَا أَوِ الْوُقُوفِ عَلَى كَيْفِيَّتِهَا إِذْ لَمْ يَتَهَيَّأْ مَعْرِفَةُ الْمُخَاطَبِ بِهَذِهِ الْأَشْيَاءِ إِلَّا بِالْأَلْفَاظِ الَّتِي أُطْلِقَتْ بِهَا.
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তবে সে যেন দয়াময় আল্লাহর হাতে সে দান রাখে” এটি প্রমাণ করে যে, এই হাদীসগুলো উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এর প্রকৃত অর্থ বা ধরণ অবগত করা উদ্দেশ্য নয়। কেননা এই জিনিসগুলো উল্লেখিত শব্দ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা মুখাতাব বা শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানানো সম্ভব নয়।”
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَلْفَاظَ مِنْ هَذَا النَّوْعِ أُطْلِقَتْ بِأَلْفَاظِ التَّمْثِيلِ وَالتَّشْبِيهِ عَلَى حَسَبِ مَا يَتَعَارَفُهُ النَّاسُ فِيمَا بَيْنَهُمْ دُونَ الْحُكْمِ عَلَى ظَوَاهِرِهَا
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابن عجلان عن سعيد ين يَسَارٍ أَبِي الْحُبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (مَا تصدَّق عَبْدٌ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ - وَلَا يَقْبَلُ اللَّهُ إِلَّا طَيِّبًا وَلَا يَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ إِلَّا طَيِّبٌ - إِلَّا كَأَنَّمَا يَضَعُهَا فِي يَدِ الرَّحْمَنِ فيُرَبِّيها لَهُ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ وَفَصِيلَهُ حَتَّى إِنَّ اللُّقْمَةَ أَوِ التَّمْرَةَ لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلَ الْجَبَلِ الْعَظِيمِ.)
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 270 | خلاصة حكم المحدث: صحيح.
হাদীসটির সানাদকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/১৮।)