পরিচ্ছেদঃ ১. এই উম্মতের ভোর বেলায় বরকত
২৪৭৪. সাখর আল্-গামিদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেবর্ণনা করেন,তিনি এ বলে দু’আ করেছেনঃ ’’হে আল্লাহ্! আমার উম্মতের মধ্যে যারা ভোর বেলায় সফরে বের হয় তাদেরকে বরকত দান করো।’’ আর য়খন তিনি কোন সেনাদল বা সাঁজোয়া বাহিনী পাঠাতেন, তখন ভোর বেলাতেই পাঠাতেন। অত্র ব্যক্তি (হাদীসের বর্ণনাকারী সাখ্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর ছেলেদের দিনের প্রথমাংশে (ভোরে) পাঠাতেন (আর বেশ লাভবান হতেন)। এরূপে তাঁর ধন-সম্পদ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়।[1]
بَاب بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَدِيدٍ عَنْ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً بَعَثَهَا مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ قَالَ فَكَانَ هَذَا الرَّجُلُ رَجُلًا تَاجِرًا فَكَانَ يَبْعَثُ غِلْمَانَهُ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ فَكَثُرَ مَالُهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৫৪, ৪৭৫৫ তে। এছাড়াও, বুখারী, কাবীর ৪/৩১০; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ নং ৪৬৩; ইবনু হুমাইদ নং ৪৩২। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৬০৫- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৪৩৫ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
এ অনুচ্ছেদে আলী, ইবনু মাসউদ, ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে হাদীস বর্ণিত আছে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে পর্যায়ক্রমে ৪২৫, ৫৪০৬, ৭৫০০ নং তে। এবং নাওয়াস্ ইবনু সাম’আন ও আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি আবী ইয়া’লা’র মু’জামুশ শুয়ূখ নং ২৭১, ২৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. বৃহস্পতিবার অভিযানে বের হওয়া প্রসঙ্গে
২৪৭৫. কা’বইবনুমালিকরাদ্বিয়াল্লাহু আনহুহতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিন সফরের উদ্দেশ্যে খুব কমই বের হতেন।[1]
بَاب فِي الْخُرُوجِ يَوْمَ الْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَقَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ إِذَا أَرَادَ سَفَرًا إِلَّا يَوْمَ الْخَمِيسِ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪৫৬; বুখারী, জিহাদ ২৯৪৯; সাঈদ ইবনু মানসূর, নং ২৩৮০; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৬০ নং ১১০; আবীশ শাইখ, আখলাকুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; ইবনু খুযাইমা, নং ২৫১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. উত্তম সাথী সম্পর্কে
২৪৭৬. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ সঙ্গী হল সেই যে তার সঙ্গী-সাথীর নিকট উত্তম, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হল সেই যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।”[1]
بَاب فِي حُسْنِ الصَّحَابَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَابْنُ لَهِيعَةَ قَالَا حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ شَرِيكٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৮, ৫১৯ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ২০৫১ তে।
((তিরমিযী, বিরর ওয়াস সুলহ ১৯৪৪; আহমাদ ২/১৬৭-১৬৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/৩০-৩১; ইবনু মানসূর ২৩৮৮; - ফাতহুল মান্নান, শারহু দারেমী হা/২৫৯৪ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪. উত্তম সাথী, যোদ্ধা ও সৈন্যদল সম্পর্কে
২৪৭৭. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম সঙ্গী সংখ্যা হল চার। সর্বোত্তম পূর্ণ বাহিনী হল চার হাজারের। আর সর্বোত্তম খন্ড বাহিনী হল চার শতের। আর বার হাজার সদস্যের বাহিনী ধৈর্য্যধারণ করলে এবং নিষ্ঠা অবলম্বন করলে কখনো সংখ্যাল্পতার কারণে পরাজিত হতে পারে না।”[1]
بَاب فِي خَيْرِ الْأَصْحَابِ وَالسَّرَايَا وَالْجُيُوشِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ يُونُسَ وَعُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الْأَصْحَابِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلَافٍ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُ مِائَةٍ وَمَا بَلَغَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا فَصَبَرُوا وَصَدَقُوا فَغُلِبُوا مِنْ قِلَّةٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭১৭ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬৬৩ তে। ((আবু দাউদ, জিহাদ ২৬১১; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৫৫।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/২৪৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫. সেনাদল প্রেরণের প্রাক্কালে ইমামের উপদেশ
২৪৭৮. বুরায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সেনাদলের উপর কাউকে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন আমীরকে লক্ষ্য করে বিশেষভাবে উপদেশ দিতেন, যেন সে নিজে আল্লাহ্ কে ভয় করে চলে আর তাঁর সঙ্গী মুসলিক সৈন্যদের প্রতি কল্যাণকামী হয়। আর তিনি বলতেন: “তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হও এবং ঐ সকল কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যারা আল্লাহর তা’আলার সাথে কুফরী (অস্বীকার) করেছে। তোমরা যুদ্ধ করে যাও, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করো না, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আত্মসাত করো না, নিহত শত্রুর নাক-কান ইত্যাদি কেটে বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না।”[1]
بَاب وَصِيَّةِ الْإِمَامِ لِلسَّرَايَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمَّرَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ وَبِمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا وَقَالَ اغْزُوا بِسْمِ اللَّهِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ اغْزُوا وَلَا تَغْدِرُوا وَلَا تَغُلُّوا وَلَا تُمَثِّلُوا وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا
তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৭৩১; এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৪৫৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ২/২১৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৩৯ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৬১২; তিরমিযী, সিয়ার ১৬১৭।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/২৪৩৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬. শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না
২৪৭৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে লোক সকল! শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলায় অবতীর্ণ হবার কামনা করবে না এবং আল্লাহ্ তা’আলার নিকট নিরাপত্তার দু’আ করবে। অতঃপর যখন তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হবে তখন তোমরা দৃঢ়পদ থাকবে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করবে। আর তারা যখন শোরগোল ও চেঁচামেচি করবে, তখন তোমাদের উপর নিরবতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।”[1]
بَاب لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِنْ لَقِيتُمُوهُمْ فَاثْبُتُوا وَأَكْثِرُوا ذِكْرَ اللَّهِ فَإِنْ أَجْلَبُوا وَضَجُّوا فَعَلَيْكُمْ بِالصَّمْتِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, নং ৯৫১৮; ইবনু আবী শাইবা, ১২/৪৬১-৪৬২ নং ১৫২৬৫; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৫৩।
আর "তোমরা দৃঢ় থাক" এ অংশের শাহিদ রয়েছে ইবনু আবী আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, জিহাদ ২৯৬৬ এবং আবী হুরাইরা হতে বুখারী জিহাদ ৩০২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. যুদ্ধের সময় দু’আ করা
২৪৮০. সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন (যুদ্ধের) দিন দু’আয় বলেছেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সাহায্যেই প্রচেষ্টা করি এবং আপনার সাহায্যেই আক্রমণ করি এবং আপনার সাহায্যেই যুদ্ধ করি।”[1]
بَاب فِي الدُّعَاءِ عِنْدَ الْقِتَالِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو أَيَّامَ حُنَيْنٍ اللَّهُمَّ بِكَ أُحَاوِلُ وَبِكَ أُصَاوِلُ وَبِكَ أُقَاتِلُ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৩২, ৩৩৩, ৬/১৬; তাবারাণী, কাবীর ৮/৪৮ নং ৭৩১৮; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৮. (মুশরিকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পূর্বে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো
২৪৮১. সুলাইমান ইবনু বুরাইদা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সেনাদলের উপর কাউকে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন আমীরকে লক্ষ্য করে (একথা বলে) উপদেশ দিতেন: “যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের সাক্ষাৎ পাবে তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের মধ্য হতে যে কোন একটি গ্রহণ করার জন্য আহবান জানাবে। আর যে কোন একটি গ্রহণ করলে তুমি তাতে সায় দিবে এবং তাদের উপর আত্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে।
১. তুমি (প্রথমে) তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান জানাবে। যদি এতে সাড়া দেয়, তুমি মেনে নিবে আর তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। তারপর তাদেরকে নিজ দেশে ছেড়ে মুহাজিরদের দেশে অর্থাৎ মদীনায় হিজরত করার আহবান জানাবে। আর তাদেরকে অবহিত করে দিবে যে, হিজরত করার পর মুহাজিরগণ যে সকল সুযোগ-সুবিধাভোগ করেন, তারাও সে সকল সুবিধা ভোগ করবে। আর (জিহাদের) যে সকল দায়- দায়িত্ব মুহাজিরদের ওপর বর্তায়, তাদের ওপরও তা সমভাবে বর্তাবে। তারা যদি এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায় (রাযী না হয় বা প্রত্যাখ্যান করে আর নিজ দেশেই অবস্থান করতে চায়) তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তারা হবে বেদুঈন মুসলিমগণের মতো। তাদেরকে আল্লাহ আদেশ- নিষেধ ও বিধি- বিধান মেনে চলতে হবে যেরূপে মুসলিমগণ তা মেনে চলেন। ’ফাই’ ও গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের) কোন ভাগ তারা পাবে না, যদি মুজাহিদগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে।
২. আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে (তাদের নিরাপত্তার জন্য) জিয্ইয়া প্রদান করার প্রস্তাব দিবে। যদি তারা তা প্রদান করে, তবে তুমি মেনে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না।
৩. যদি তারা (জিযইয়া দিতে) অস্বীকার করে তবে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আর যখন তুমি কোন শত্রুর দূর্গ অবরোধ করবে আর তারা তাদের ব্যাপারে তোমার নিকট আল্লাহ্ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র যিম্মাহ’ বা প্রতিশ্রুতি/অঙ্গীকার কামনা করে, তবে তাদেরকে আল্লাহ্ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র যিম্মাহ’ বা আশ্রয় প্রদান করবে না। তবে তুমি তোমার, তোমার পিতার ও তোমার সঙ্গী-সাথীদের ’যিম্মা বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করতে পার। কেননা, আল্লাহ্ ও রাসূলের যিম্মাহ’ বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেয়ে তোমাদের ও তোমাদের পিতা-পিতামহের যিম্মা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা তোমাদের জন্য সহজতর। আর যদি তুমি কোন শত্রুর দূর্গ অবরোধ করো, আর তখন তারা আল্লাহর বিধান ভিত্তিতে দুর্গ হতে অবতরণের ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তখন তুমি আ্লাহ্ অথবা রাসূলের নির্দেশের ভিত্তিতে তাদের অবতরণ করাবে না বরং তোমার নিজ সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদেরকে অবতরণ করাবে। কারণ, তোমার জানা নেই তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ তুমি ঠিকমত কার্যকর করলে কী-না। এরপরে তাদের ব্যাপারে তোমার ইচ্ছানুযায়ী ফয়সালা করবে।”[1]
بَاب فِي الدَّعْوَةِ إِلَى الْإِسْلَامِ قَبْلَ الْقِتَالِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمَّرَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلَاثِ خِلَالٍ أَوْ خِصَالٍ فَأَيَّتُهُمْ مَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَخْبِرْهُمْ إِنْ هُمْ فَعَلُوا أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلَيْسَ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبٌ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا أَنْ يَدْخُلُوا فِي الْإِسْلَامِ فَسَلْهُمْ إِعْطَاءَ الْجِزْيَةِ فَإِنْ فَعَلُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ وَإِنْ حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَإِنْ أَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلَا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَلَا ذِمَّةَ نَبِيِّهِ وَلَكِنْ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَبِيكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ فَإِنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا بِذِمَّتِكُمْ وَذِمَّةِ آبَائِكُمْ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ وَإِنْ حَاصَرْتَ حِصْنًا فَأَرَادُوكَ أَنْ يَنْزِلُوا عَلَى حُكْمِ اللَّهِ فَلَا تُنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا ثُمَّ اقْضِ فِيهِمْ بِمَا شِئْتَ
তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৭৩১; আরও দেখুন, বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৮৪।
পরিচ্ছেদঃ ৮. (মুশরিকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পূর্বে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো
২৪৮২. নু’মান ইবনু মুক্বাররিন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي الدَّعْوَةِ إِلَى الْإِسْلَامِ قَبْلَ الْقِتَالِ
قَالَ عَلْقَمَةُ فَحَدَّثْتُ بِهِ مُقَاتِلَ بْنَ حَيَّانَ فَقَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمُ بْنُ هَيْصَمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, মুসলিম, জিহাদ ১৭৩১;
বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৮৪।
পরিচ্ছেদঃ ৮. (মুশরিকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পূর্বে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো
২৪৮৩. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ক্বওমকে (ইসলামের দিকে) দাওয়াত না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করেননি।”[1]
بَاب فِي الدَّعْوَةِ إِلَى الْإِسْلَامِ قَبْلَ الْقِتَالِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا قَاتَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا حَتَّى دَعَاهُمْ قَالَ عَبْد اللَّهِ سُفْيَانُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ يَعْنِي هَذَا الْحَدِيثَ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩১, ২৩৬; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৯৪, ২৫৯১; তাবারাণী, কাবীর ১১/১৩২ নং ১১১৫৯, ১১২৭০, ১১২৭১; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১০৭; হাকিম নং ৩৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ২/২১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৯. শত্রুদের উপর আক্রমণ করা
২৪৮৪. আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় অতর্কিত হামলা চালাতেন। তিনি (আযান) শোনার জন্য কান পাততেন; যখন তিনি (কোনো কওমের এলাকা থেকে) আযানের আওয়ায শুনতে পেতেন, তখন (তাদেরকে আক্রমণ করা হতে) বিরত হয়ে যেতেন। আর যখন আযান শুনতে পেতেন না, তখন হামলা চালাতেন।[1]
بَاب الْإِغَارَةِ عَلَى الْعَدُوِّ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُغِيرُ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَكَانَ يَسْتَمِعُ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِنْ لَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا أَغَارَ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৬১০; মুসলিম, সালাত ৩৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩০৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না বলা পর্যন্ত যুদ্ধ করা সম্পর্কে
২৪৮৫. আউস ইবনু আবী আউস সাকাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাফীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমণ করলাম। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে একটি কুব্বায় ছিলাম। আমি এবং তিনি ব্যতীত কুব্বায় কেউই ছিল, আর তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে তার সংগে গোপনে কিছু বললো, তিনি আমাকে বললেনঃ “যাও, তাকে হত্যা কর।”
এরপর তিনি বললেনঃ “সে কি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দান করে না?” রাবী শু’বা বলেন: এবং সেকি একথার সাক্ষ্য দান করে না যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বাসূল? তিনি বললেন, হাঁ, সে এরুপ বলে। তখন তিনি বললেনঃ “আমাকে লোকের বিরুদ্ধে যূদ্ধ করার আদেশ দান করা হয়েছে যতক্ষন না তারা বলে, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ যখন তারা এরুপ বলবে, তখন তাদের জানমাল আমার জন্য হারাম হয়ে যাবে,- তবে তার হক ব্যতীত।[1] রাবী বলেন, এ হলো সেই ব্যক্তি যে আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, সে তায়িফের শ্রেষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা না করা পর্যন্ত মরলো না।
بَاب فِي الْقِتَالِ عَلَى قَوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَوْسَ بْنَ أَبِي أَوْسٍ الثَّقَفِيَّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ قَالَ وَكُنْتُ فِي أَسْفَلِ الْقُبَّةِ لَيْسَ فِيهَا أَحَدٌ إِلَّا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَائِمٌ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَقَالَ اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ ثُمَّ قَالَ أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ شُعْبَةُ وَأَشُكُّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ بَلَى قَالَ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا حَرُمَتْ عَلَيَّ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ قَالَ وَهُوَ الَّذِي قَتَلَ أَبَا مَسْعُودٍ قَالَ وَمَا مَاتَ حَتَّى قَتَلَ خَيْرَ إِنْسَانٍ بِالطَّائِفِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৬২ তে।
এছাড়াও, তায়ালিসী ১/২৬ নং ৩৭; তাবারাণী, কাবীর ১/২১৮ নং ৫৯৪; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২; ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৪৩ নং ৬২৩১; ইবনু মাজাহ, ফিতান নং ৩৯২৯; আব্দুর রাযযাক নং ১৮৬৮৯।
এ মর্মে আবী হুরাইরা হাদীস রয়েছে যার তাখরীজের জন্য দেখুন ইবনু হিব্বান নং ১৭৩; ইবনু উমার হতে যার তাখরীজের জন্য দেখুন ১৭৫ এ।
পরিচ্ছেদঃ ১১. যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য দান করে, তার রক্ত হালাল নয়
২৪৮৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিন ব্যক্তি ব্যতীত; ১. কিসাসে প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ; ২. বিবাহিত যিনাকারী; ৩. যে ব্যক্তি ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল হতে পৃথক হয়ে যায়।”[1]
بَاب لَا يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ يَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِلَّا إِحْدَى ثَلَاثَةِ نَفَرٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ
তাখরীজ: এটি গত ২৩৪৪ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ 'সালাত একত্রকারী' এ কথা সম্পর্কে
২৪৮৭. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেনাপতিদের একটি দল প্রেরণ করলেন। এরপর তাঁরা চলে যেতে উদ্যত হলেন, এরপর আল্লাহ যতক্ষণ চান তারা অপেক্ষা করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহন করলেন, তারপর তিনি আদেশ দান করলে ঘোষণা দেয়া হলো: “সালাত হলো একত্রকারী।”[1]
بَاب فِي بَيَانِ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ خَالِدِ بْنِ سُمَيْرٍ قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ الْأَنْصَارِيُّ وَكَانَتْ الْأَنْصَارُ تُفَقِّهُهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ جَيْشَ الْأُمَرَاءِ قَالَ فَانْطَلَقُوا فَلَبِثُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَأَمَرَ فَنُودِيَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ
তাখরীজ: ইবনু সা’দ ৩/১/২৬, ৩২; বাইহাকী, দালাইল ৪/৩৬৭; আহমাদ ৫/২৯৯, ৩০০, ৩০১; নাসাঈ, কুবরা নং , ৮১৫৯, ৮২৪৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৯/১৬; ইবনু হিব্বান নং ৭০৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. পরমর্শদাতার বিশ্বস্ত হওয়া
২৪৮৮. আবী মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পরামর্শদাতা হবেন আমানতদার বা বিশ্বাসভাজন।”[1]
بَاب فِي الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ
أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও বেশকিছু শাহিদ উল্লেখ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৯১ তে। (আবূ দাউদ, আদাব ৫১২৮; তিরমিযী, আদাব, ২৮২৩; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৪৬, হাকিম, ৪/১৩১; বাইহাকী, আাদাবুল কাযী ১০/১১২; ।– ফাতহুল মান্নান শারহে দারেমী হা/২৬০৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৪. যুদ্ধ একটি কৌশল বা ধোকা মাত্র
২৪৮৯. কা’ব ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন (সঠিক স্থান প্রকাশ না করে) সেস্থান ব্যতীত অন্যত্র যাওয়ার মনস্থ করেছেন বলে বাহ্যিকভাবে দেখাতেন।[1]
بَاب فِي الْحَرْبِ خُدْعَةٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ غَزْوَةً وَرَّى بِغَيْرِهَا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১২/৫২৯-৫৩০ নং ১৫৫১০; আবূ দাউদ, ২৬৩৬; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৫০ সহীহ সনদে; আবূ দাউদে অতিরিক্ত আছে: ‘তিনি বলতেন: “যুদ্ধ প্রতারণা বা কৌশল মাত্র।” আহমাদ ৩/৪৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সাংকেতিক চিহ্ন
২৪৯০. সালমা ইবনুল আকওয়া হতে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের একজন গুপ্তচর আসলে তিনি লোকটিকে কতল করতে নির্দেশ দেন।) তখন আমিই সর্বপ্রথম তার মুখোমুখি হই এবং তাকে হত্যা করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ফেলে যাওয়া মালপত্র আমাকে প্রদান করেন। তখন আমার ও খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের মাঝে সাংকেতিক চিহ্ন ছিল, ’আমিত’ অর্থ: ’তাকে হত্যা কর।’[1]
بَاب الشِّعَارِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَارَزْتُ رَجُلًا فَقَتَلْتُهُ فَنَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلَبَهُ فَكَانَ شِعَارُنَا مَعَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ أَمِتْ يَعْنِي اقْتُلْ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৫১; মুসলিম, সিয়ার ওয়াল জিহাদ ১৭৫৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩৯, ৪৮৪৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ চেহারাসমূহ বিকৃত হয়ে গেছে
২৪৯১. আবূ আবদুর রহমান ফিহরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুনায়নের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা এমন এক সময় সফর করি, যখন ছিল প্রচন্ড গরম। ফলে, আমরা একটি গাছের নীচে অবতরন করি। এরপর তিনি পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। (তিনি বলেন:) তারপর তিনি এক মুষ্টি মাটি যমিন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমণ্ডল ে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেনঃ “তাদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে।” এভাবে আল্লাহ তা’আলা (এ দ্বারাই) তাদেরকে পরাজিত করলেন। বর্ণনাকারী ইয়া’লা বলেন, পরবর্তীতে তাদের ছেলেরা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের পিতারা বলেন: এরপর আমাদের এমন কোনো লোক অবশিষ্ট ছিল না, যার চোখ-মুখ সে এক মুষ্টি মাটির ধুলায় ভরে যায়নি।[1]
بَاب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاهَتْ الْوُجُوهُ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ أَبِي هَمَّامٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيِّ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ حُنَيْنٍ فَكُنَّا فِي يَوْمٍ قَائِظٍ شَدِيدِ الْحَرِّ فَنَزَلْنَا تَحْتَ ظِلَالِ الشَّجَرِ فَذَكَرَ الْقِصَّةَ ثُمَّ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ قَالَ فَحَدَّثَنِي الَّذِي هُوَ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنِّي أَنَّهُ ضَرَبَ بِهِ وُجُوهَهُمْ وَقَالَ شَاهَتْ الْوُجُوهُ فَهَزَمَ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ قَالَ يَعْلَى فَحَدَّثَنِي أَبْنَاؤُهُمْ أَنَّ أَبَاءَهُمْ قَالُوا فَمَا بَقِيَ مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا امْتَلَأَتْ عَيْنَاهُ وَفَمُهُ تُرَابًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৪/৫২৯ নং ১৮৮৪৪; আহমাদ ৫/২৮৬; আবূ দাউদ, আদাব ৫২৩৩; ইবনুল আসীর, আসাদুল গাবাহ ৬/২০০।
এর সহীহ শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. নাবী (ﷺ) কর্তৃক বাইয়াত (অঙ্গীকার) গ্রহণ প্রসঙ্গে
২৪৯২. উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একটি মাজলিসে ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেনঃ “তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লহ্র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন আর যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা।” তিনি বলেন, আমরা তাঁর নিকট এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।[1]
بَاب فِي بَيْعَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ مَعَهُ فِي مَجْلِسٍ بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ قَالَ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৮; মুসলিম, হুদূদ ১৭০৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯১ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪০৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) পলায়ন না করার বাইআত গ্রহণ প্রসঙ্গে
২৪৯৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার (সন্ধির) দিন আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ’। আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বাইআত হলাম। ’সামুরাহ’ গাছের নীচে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর হাত ধরে ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন না করার বাইআত করেছিলাম, কিন্তু মৃত্যুর জন্য বাইআত করিনি।[1]
بَاب فِي بَيْعَتِهِ أَنْ لَا يَفِرُّوا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ كُنَّا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ فَبَايَعْنَاهُ وَعُمَرُ آخِذٌ بِيَدِهِ تَحْتَ الشَّجَرَةِ وَهِيَ سَمُرَةٌ وَقَالَ بَايَعْنَاهُ عَلَى أَنْ لَا نَفِرَّ وَلَمْ نُبَايِعْهُ عَلَى الْمَوْتِ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪১৫৪; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৫৬
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৭৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. পরিখা খনন প্রসঙ্গে
২৪৯৪. বারা’ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাবের দিন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি আমাদের সঙ্গে মাটি বহন করছেন। আর মাটি তাঁর উভয় বাহুমূলের শুভ্রতা ঢেকে ফেলেছে। সে সময় তিনি আবৃত্তি করছিলেন: হে আল্লাহ্!
আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না;
সাদাকা দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না।
তাই আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন।
যখন আমরা শত্রু সম্মুখীন হই তখন আমাদের পা সুদৃঢ় করুন।
ওরা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
তারা যখনই কোন ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় তখনই আমরা তা থেকে বিরত থাকি।”
আবৃত্তি করার সময় তাঁর কন্ঠস্বর উঁচু হচ্ছিল।[1]
بَاب فِي حَفْرِ الْخَنْدَقِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْقُلُ مَعَنَا التُّرَابَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ وَقَدْ وَارَى التُّرَابُ بَيَاضَ إِبِطَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَأَنْزِلَنَّ سَكِينَةً عَلَيْنَا
وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا إِنَّ الْأُولَى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا
وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
وَيَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৩৬, ২৮৩৭; মুসলিম, সিয়ার ১৮০৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭১৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. নাবী (ﷺ) যেভাবে মক্কায় প্রবেশ করলেন
২৪৯৫. আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন তাঁর মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। তিনি যখন তা খুললেন, তখন তাঁকে বলা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হলো ইবনু খাতল, কা’বার পর্দায় জড়িয়ে ধরে আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তাকে হত্যা করে ফেল।”[1]
بَاب كَيْفَ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ حَازِمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ مِغْفَرٌ فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْتُلُوهُ
তাখরীজ: এটি ১৯৮১ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. নাবী (ﷺ) এর তরবারীর বাট সম্পর্কে
২৪৯৬. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলওয়ারের বাটটি ছিল রৌপ্য খচিত।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, হিশাম দুস্তাওয়ী তার বিপরীত কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাতাদাহ সাঈদ ইবনু আবীল হাসান হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আর লোকদের ধারণা, এটিই মাহফূজ বা সংরক্ষিত।
بَاب فِي قَبِيعَةِ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ قَبِيعَةُ سَيْفِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فِضَّةٍ قَالَ عَبْد اللَّهِ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ خَالَفَهُ قَالَ قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَعَمَ النَّاسُ أَنَّهُ هُوَ الْمَحْفُوظُ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, জিহাদ ২৫৮৩; মারাসীল ২৪৮৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১৬৬; তিরমিযী, জিহাদ ১৬৯১; শামাইল ১০০; নাসাঈ, কুবরা নং ৯৮১৩; বাইহাকী, যাকাত ৪/১৪৩; আবী শাইখ, আখলাকুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r পৃ: ১৪০।
এ হাদীসের অনেক গুলি শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. নবী (ﷺ) যখন কোন কওমের উপর বিজয়ী হতেন, তখন তিনি সেইস্থানে তিন রাত অতিবাহিত করতেন
২৪৯৭. আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কওমের উপর বিজয়ী হতেন, তখন তিনি সেইস্থানে তিন রাত অতিবাহিত করতে পছন্দ করতেন।[1]
بَاب أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقَامَ بِالْعَرْصَةِ ثَلَاثَةً
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَحَبَّ أَنْ يُقِيمَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلَاثًا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৬৫; মুসলিম, জান্নাত ওয়া সিফাতু নাঈমুহা ২৮৭৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪১৫, ৩১৭৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৭৬, ৪৭৭৭, ৪৭৭৮ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৫২ নং ১৩০৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. নাবী (ﷺ) কর্তৃক বনী নাযির গোত্রের বাগান জ্বালিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে
২৪৯৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীর গোত্রের খেজুরের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।[1]
بَاب فِي تَحْرِيقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ حَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ
তাখরীজ: বুখারী, হারছ ওয়াল মাযারাআহ ২৩২৬; মুসলিম, জিহাদ ১৭৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৩৭ তে। এছাড়াও, ইবনু মানসূর ২৬৪২।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. কাউকে আল্লাহর আযাবের ন্যায় আযাব দেয়া নিষিদ্ধ
২৪৯৯. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “অমুক অমুক দুই ব্যক্তিকে যদি পাও তবে এদের আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে।” পরের দিন তিনি আমাদের নিকট একজন লোক পাঠিয়ে বললেন: “অমুক অমুক দুই ব্যক্তিকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে আমার মনে হলো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আগুনে শাস্তি দিতে পারেন না। সুতরাং তোমরা যদি এদের দুই জনকে পাও তবে এদের হত্যা করবে।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ التَّعْذِيبِ بِعَذَابِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الدَّوْسِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيِّ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَرِيَّةٍ فَقَالَ إِنْ ظَفِرْتُمْ بِفُلَانٍ وَفُلَانٍ فَحَرِّقُوهُمَا بِالنَّارِ حَتَّى إِذَا كَانَ الْغَدُ بَعَثَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ بِتَحْرِيقِ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُ أَنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا اللَّهُ فَإِنْ ظَفِرْتُمْ بِهِمَا فَاقْتُلُوهُمَا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০১৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬১১ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ১২/২৮৯ নং ১৪০৮৮; ইবনু মানসূর ২৬৪৫; নাসাঈ, কুবরা নং , ৮৬১৩; বাইহাকী, সিয়ার ৯/৭১।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. নারী ও শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ
২৫০০. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক অভিযানে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করে দেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ وُجِدَ فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ مَقْتُولَةٌ فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০১৪, ৩০১৫; মুসলিম, জিহাদ ১৭৪৪ ; ইবনু আবী শাইবা, ১২/৩৮১ নং ১৪০৫৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/২২০;
আহমাদ ২/২২, ১২২, ১২৩; তাবারাণী, কাবীর ১২/৩৮৩ নং ৬৭৭; আওসাত ৮৯৩৫; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৬৬৮; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৬৯;ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৮৪১।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. নারী ও শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ
২৫০১. আসওয়াদ ইবনু সারি’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন মুশরিকদেরকে আয়ত্তে পেয়ে তারা তাদের লোকদেরকে দ্রুত হত্যা করে চললো। এমনকি তারা এক শিশু কে হত্যা করে ফেললো। তখন এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন: “লোকদের কী হলো? তারা হত্যা করতে এতই আগ্রাসী হয়েছে যে, তারা শিশুকেও হত্যা করে ফেললো! সাবধান! কোনো শিশুকে হত্যা করবে না।” একথা তিনি তিনিবার বললেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزَاةٍ فَظَفِرَ بِالْمُشْرِكِينَ فَأَسْرَعَ النَّاسُ فِي الْقَتْلِ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ ذَهَبَ بِهُمْ الْقَتْلُ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ أَلَا لَا تُقْتَلَنَّ ذُرِّيَّةٌ ثَلَاثًا
তাখরীজ:আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৫৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. শিশুদের হত্যা করার সময়সীমা
২৫০২. আতিয়্যা আল কুরাযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেদিন বনূ কুরায়যার বন্দীদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলো। (তারা পর্যবেক্ষণ করতো) যার (নাভির নিচের) চুল গজাত, তাকে হত্যা করা হতো, আর যার গজায় নি, তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। আর আমি ছিলাম তাদের একজন যাদের চুল গজায়নি। ফলে আমাকে হত্যা করা হয়নি। অর্থাৎ: বনী কুরাইযার দিনে।[1]
بَاب حَدِّ الصَّبِيِّ مَتَى يُقْتَلُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ قَالَ عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ فَمَنْ أَنْبَتَ الشَّعْرَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ تُرِكَ فَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ لَمْ يُنْبِتْ الشَّعْرَ فَلَمْ يَقْتُلُونِي يَعْنِي يَوْمَ قُرَيْظَةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৮০, ৪৭৮১, ৪৭৮২, ৪৭৮৩, ৪৭৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৯৯, ১৫০০, ১৫০১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১২, ৯১৩ তে। তে। ((আহমাদ ৪/৩১০, ৩৮৩, ৫/৩১২; ইবনু আবী শাইবা ১২/৫৩৯-৫৪০; আব্দুর রাযযাক ১০/১৭৯ নং ১৮৭৪৩; আবু দাউদ, হুদূদ ৪৪০৪; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৮৪; নাসাঈ, তালাক ৩৪৩০; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৪১, ২৫৪২।– ফাতহুল মান্নান শারহু দারিমী হা/২৬২১ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৭. বন্দীদের মুক্তিদান
২৫০৩. আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বন্দীদেরকে আযাদ কর এবং ক্ষুধার্তকে আহার্য দাও।”[1]
بَاب فِي فِكَاكِ الْأَسِيرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فُكُّوا الْعَانِيَ وَأَطْعِمُوا الْجَائِعَ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৪৬; আতইমাহ ৫৩৭৩। ((আবূ দাউদ, জানাইয ৩১০৫; নাসাঈ, কুবরা নং ৮৬৬৬))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩২৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. বন্দী বিনিময়
২৫০৪. ইমরান ইবনে হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের বিনিময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন।[1]
بَاب فِي فِدَاءِ الْأَسَارَى
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَادَى رَجُلًا بِرَجُلَيْنِ
তাখরীজ: মুসলিম, নুযূর ১৬৪১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি , ৪৩৯২, ৪৮৫৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৫১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. আমাদের পূর্বে আর কারো জন্য গণিমাত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হালাল ছিল না
২৫০৫. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পুর্বে আর কোনো নবীকে দান করা হয়নি।
(১) (অন্যান্য নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য;) আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে লাল-কালো (তথা সমগ্র) মানব জাতির জন্য।
(২) সমস্ত যমীনকে আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের (উপযোগী) স্থান বানানো হয়েছে।
(৩) আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি।
(৪) আমাকে একমাস দূরত্বের এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যার কারণে একমাসের দুরত্বেও শত্রু আমাদেরকে ভয় করবে।
(৫) এবং আমাকে বলা হয়েছে, ’তুমি চাও, তোমাকে তা দেয়া হবে।’ ফলে আমার উম্মাতের শাফা’আতের জন্য আমার দু’আকে আমি (কিয়ামত দিবসের জন্য) গোপণ করে রেখেছি; ইনশা আল্লাহ তা তোমাদের মধ্যকার এমন সকলেই পাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করেনি।”[1]
بَاب الْغَنِيمَةِ لَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ قَبْلَنَا
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي بُعِثْتُ إِلَى الْأَحْمَرِ وَالْأَسْوَدِ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ شَهْرًا يُرْعَبُ مِنِّي الْعَدُوُّ مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَقِيلَ لِي سَلْ تُعْطَهْ فَاخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي وَهِيَ نَائِلَةٌ مِنْكُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا
তাখরীজ: সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬২; আহমাদ ৫/১৪৮; বুখারী, কাবীর ৫/৪৫৫; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৩৫; হাকিম ২/৪২৪; বাযযার নং ৩৪৬১ যয়ীফ সনদে; তায়ালিসী ২/১২২ নং ২৪৪৪; বাইহাকী, দালাইল ৫/৪৭৩; আবূ দাউদ, সালাত ৪৮৯।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. শত্রুর দেশে অবস্থানরত অবস্থায়ই গণীমত বন্টন
২৫০৬. আবী ওয়াইল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন যুদ্ধের গণিমত বন্টন করেন জি’ইর্রানাহ’ নামক স্থানে। আবূ মুহাম্মদ বলেন, এ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রয়েছেন।[1]
بَاب قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعْرَانَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فِي الْإِسْنَادِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/৪২৭, ৪৫৬।
এটি এমন একটি হাদীসের অংশ যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৯২, ৫০৭২, ৫২০৫, ৫২১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫৭৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৬/৫২১।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. গণীমাত কোন পদ্ধতিতে বন্টিত হবে- সে সম্পর্কে
২৫০৭. আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার বিজয়ে হাযির ছিলাম। মুশরিকরা যখন পরাজিত হলো, তখন আমরা তাদের মালপত্রের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম এবং লোকেরা যে যে ছাগল-ভেড়াটি-ই পেলো, তারা সেটিই দ্রুত কব্জা করে নিলো। আর তাদের রান্নার ডেকচিগুলি খুব দ্রুতবেগে টগবগ করে ফুটছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেগুলি উল্টে দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে (গণীমত) বন্টন করে দিলেন; তখন আমাদের প্রত্যেক বারো জনের জন্য একটি করে ছাগল বা ভেড়া পাওয়া গেল।
তিনি বলেন, বনী ’অমুক’ ছিল নয় জন আর আমি একাই ছিলাম। ফলে আমি তাদের দিকে চলে গেলে আমরা দশ জন হলাম এবং আমাদের দশজনের জন্য (বরাদ্দ) হলো একটি ছাগল বা ভেড়া।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, আপনার সাথীরা কায়িস ইবনু মুসলিম থেকে বর্ণনা করতেন: সম্ভবত: তিনি বলতেন, তিনি এটি সংরক্ষণ (হিফজ) করেননি।
بَاب فِي قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ كَيْفَ تُقَسَّمُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَهِدْتُ فَتْحَ خَيْبَرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْهَزَمَ الْمُشْرِكُونَ فَوَقَعْنَا فِي رِحَالِهِمْ فَابْتَدَرَ النَّاسُ مَا وَجَدُوا مِنْ جَزُورٍ قَالَ فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ بِأَسْرَعَ مِنْ أَنْ فَارَتْ الْقُدُورُ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُكْفِئَتْ قَالَ ثُمَّ قَسَمَ بَيْنَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ لِكُلِّ عَشْرَةٍ شَاةً قَالَ وَكَانَ بَنُو فُلَانٍ مَعَهُ تِسْعَةً وَكُنْتُ وَحْدِي فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِمْ فَكُنَّا عَشْرَةً بَيْنَنَا شَاةٌ قَالَ عَبْد اللَّهِ بَلَغَنِي أَنَّ صَاحِبَكُمْ يَقُولُ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ كَأَنَّهُ يَقُولُ إِنَّهُ لَمْ يَحْفَظْهُ
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. গণীমাত কোন পদ্ধতিতে বন্টিত হবে- সে সম্পর্কে
২৫০৮. (অপর সনদে) আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
সেখানে তিনি বলেছেন, ’আমি তাদের দিকে ফিরে গেলাম।’আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমার নিকট সঠিক বর্ণনা হলো সেটি, যেটি যাকারিয়া (তার) সনদে বলেছেন।
بَاب فِي قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ كَيْفَ تُقَسَّمُ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ قَالَ فَأُلِّفْتُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الصَّوَابُ عِنْدِي مَا قَالَ زَكَرِيَّا فِي الْإِسْنَادِ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৪৮; তাবারাণী, আওসাত নং ৫০৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৩০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. নিকটাত্মীয়দের জন্য গণীমাতের অংশ
২৫০৯. ইয়াযীদ ইবন হুরমুয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাজদা ইবন আমর হারুরী ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট পত্র লিখে কিছু বিষয় জানতে চাইলেন, (যার মধ্যে ছিল, যাবিল কুরবা- বা নিকটাত্নীয় কারা?) তখন তিনি ইয়াযিদকে লিখলেনঃ, ’যাবিল কুরবা-বা নিকটাত্মীয়ের গণীমতের অংশ-যা আল্লাহ তাঁর কুরআনে উল্লেখ করেছেন-সে সন্মন্ধে তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছ (যে, তারা কারা?) আমরা মনে করি, তারা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটাত্মীয়রাই (অর্থাৎ আমরা)। কিন্তু আমাদের লোকেরা আমাদের ক্ষেত্রে সেটি অস্বীকার করেছে।[1]
بَاب سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ بَنُ عَامِرٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّكَ سَأَلْتَ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ وَإِنَّا كُنَّا نَرَى أَنَّ قَرَابَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُمْ فَأَبَى ذَلِكَ عَلَيْنَا قَوْمُنَا
তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৮১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৫০, ২৫৫১, ২৬৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮২৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৪২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. ঘোড়ার জন্য গণীমতের দু’অংশ রয়েছে
২৫১০. আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে অশ্বারোহী সৈনিকের জন্য তিন অংশ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক অংশ বণ্টন করেন।[1]
بَاب فِي سُهْمَانِ الْخَيْلِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْهَمَ يَوْمَ خَيْبَرَ لِلْفَارِسِ ثَلَاثَةَ أَسْهُمٍ وَلِلرَّاجِلِ سَهْمًا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৬৩; মুসলিম, জিহাদ ১৭৬২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮১০, ৪৮১০, ৪৮১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. ঘোড়ার জন্য গণীমতের দু’অংশ রয়েছে
২৫১১. (অপর সনদে) আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي سُهْمَانِ الْخَيْلِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ نَحْوَهُ
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. যারা যুদ্ধে বিজয়ের পরে আসে তাদেরকে গণিমাত দিতে হবে কি-না
২৫১২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গণিমাত বন্টনের সময় উপস্থিত থেকেছি, তখনই তিনি আমাকে তা থেকে অংশ দিয়েছেন, কেবলমাত্র খাইবারের দিন ব্যতীত। কেননা, তা ছিল হুদাইবিয়ার দিন উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। আর আবূ মূসা ও আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হুদাইবিয়া ও খাইবারের যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে (ইসলামের ছায়াতলে) আসেন।[1]
بَاب فِي الَّذِي يَقْدَمُ بَعْدَ الْفَتْحِ هَلْ يُسْهَمُ لَهُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَغْنَمًا إِلَّا قَسَمَ لِي إِلَّا يَوْمَ خَيْبَرَ فَإِنَّهَا كَانَتْ لِأَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ خَاصَّةً وَكَانَ أَبُو مُوسَى وَأَبُو هُرَيْرَةَ جَاءَا بَيْنَ الْحُدَيْبِيَةِ وَخَيْبَرَ
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ৩/১৬০-১৬১; আহমাদ ২/৫৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. দাস ও বালকদের জন্য গণীমতের অংশ প্রদান
২৫১৩. আবূল লাহমের মাওলা বা আযাদকৃত গোলাম উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খায়বার যুদ্ধে মালিকানাধীন দাস হিসেবে হাযির ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য গনীমত সম্পদের থেকে সামান্য তৈজশপত্রের কিছু জিনিস দিয়েছিলেন এবং তিনি আমাকে একটি তলোয়ার দিয়ে বলেন, “এটি তার গলায় লটকে দাও।”[1]
بَاب فِي سِهَامِ الْعَبِيدِ وَالصِّبْيَانِ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ أَخْبَرَنَا حَفْصٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ وَأَنَا عَبْدٌ مَمْلُوكٌ فَأَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ وَأَعْطَانِي سَيْفًا فَقَالَ تَقَلَّدْ بِهَذَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬৯ তে। ((আহমাদ ৫/২২৩; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৩০; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৫৭; নাসাঈ, কুবরা যেমন তুহফা’ ৮/২০৮ এ এসেছে; ইবনু মাজাহ ৩৮৫৫...।– ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩১ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. বন্টনের পূর্বে গণীমাতের মাল বিক্রয় করা নিষেধ
২৫১৪. আবী উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বন্টন না হওয়া পর্যন্ত গণীমাতের মাল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْمَغَانِمِ حَتَّى تُقْسَمَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمْيَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ الْقَاسِمِ وَمَكْحُولٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى أَنْ تُبَاعَ السِّهَامُ حَتَّى تُقْسَمَ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৮/১৫৪ নং ৭৫৯৪।
সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৭৫৯ মাকহুল পর্যন্ত মাওকুফ হিসেবে সহীহ সনদে।
আরও দেখুন, এ হাদীসটি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৫৬৯ আমাদের তাহক্বীক্বে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. (গর্ভবতী) দাসীর গর্ভ খালাস হওয়া (পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করার নিষিদ্ধতা) প্রসঙ্গে
২৫১৫. হানাশ সান’আনী বলেন, আমরা পশ্চিমাঞ্চল তথা মরক্কোতে যুদ্ধ করেছি আর সেখানে আমাদের উপর দায়িত্বশীল ছিলেন রুওয়াইফি’ ইবন সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আমরা জারবাহ’ নামক এক শহর জয় লাভ করলে রুওয়াইফি’ ইবনু সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হতাম না, যদি আমি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একথা বলতে না শুনতাম। তিনি খায়বার (যুদ্ধের) দিন আমরা সেখানে বিজয় লাভ করলে তিনি আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যেন কিছুতেই কোন (গর্ভবতী) যুদ্ধবন্দিনী নারীর সাথে সহবাস না করে, যতক্ষণ সে সন্তান প্রসব করে (পবিত্র না হয়)।”[1]
بَاب فِي اسْتِبْرَاءِ الْأَمَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ مَوْلًى لِتُجِيبَ قَالَ حَدَّثَنِي حَنَشٌ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ غَزَوْنَا الْمَغْرِبَ وَعَلَيْنَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ فَافْتَتَحْنَا قَرْيَةً يُقَالُ لَهَا جَرْبَةُ فَقَامَ فِينَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ خَطِيبًا فَقَالَ إِنِّي لَا أَقُومُ فِيكُمْ إِلَّا مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا يَوْمَ خَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحْنَاهَا فَقَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَأْتِيَنَّ شَيْئًا مِنْ السَّبْيِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৫০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৭৫ তে। ((আবূ দাউদ: নিকাহ ২১৫৮-৫৯, জিহাদ ২৭০৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১৩১।– ইবনু হিব্বান, তাহক্বীক্ব: আরনাউত্ব, হা/৪৮৫০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. গর্ভবতী (যুদ্ধবন্দিনী)-এর সাথে সহবাস করার নিষিদ্ধতা
২৫১৬. আবীদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন এক যুদ্ধের পরে) তিনি একটি তাবুর প্রবেশপথে জনৈক সন্তানসম্ভবা দাসীকে (দাঁড়িয়ে থাকতে) দেখেন। তখন তিনি বলেন, “সম্ভবতঃ সে (এর মালিক) এর সাথে সহবাস করেছে। তাঁরা (উপস্থিত সাহাবীগণ) বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, “আমি তার জন্য এমন লা’নত (বদদু’আ) করতে ইচ্ছা করেছি, যা তার সাথে কবরে প্রবেশ করবে। উক্ত সন্তানকে কিরূপে সে তার উত্তরাধিকারী বানাবে, অথচ সে তার জন্য বৈধ নয়? আর সে তাকে (সন্তানকে) কিরূপেই বা তার সেবক বানাবে, অথচ সে তার জন্য বৈধ নয়?”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ وَطْءِ الْحَبَالَى
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ أَبِي عُمَرَ الشَّامِيِّ الْهَمْدَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى امْرَأَةً مُجِحَّةً يَعْنِي حُبْلَى عَلَى بَابِ فُسْطَاطٍ فَقَالَ لَعَلَّهُ قَدْ أَلَمَّ بِهَا قَالُوا نَعَمْ قَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَلْعَنَهُ لَعْنَةً تَدْخُلُ مَعَهُ قَبْرَهُ كَيْفَ يُوَرِّثُهُ وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ وَكَيْفَ يَسْتَخْدِمُهُ وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ
তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী, ১/২৩৯ ন ১১৭২; মুসলিম, নিকাহ ১৪৪১; আহমাদ ৬/৪৪৬; আবূ দাউদ নিকাহ ২১৫৬।
পরিচ্ছেদঃ
২৫১৭. আবূ আব্দুর রহমান আল হুবুলী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবূ আইয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো এক সৈন্যদলে ছিলেন। সে সময় তিনি শিশুদেরকে তাদের মাতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, তারা (শিশুরা) কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। তখন তিনি শিশুকে তার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি মা ও তার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার ও তার প্রিয়জনের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে দিবেন।”[1]
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ قِرَاءَةً عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُنَادَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِىِّ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ كَانَ فِي جَيْشٍ فَفُرِّقَ بَيْنَ الصِّبْيَانِ وَبَيْنَ أُمَّهَاتِهِمْ فَرَآهُمْ يَبْكُونَ فَجَعَلَ يَرُدُّ الصَّبِيَّ إِلَى أُمِّهِ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا فَرَّقَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأَحِبَّاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪১২-৪১৩; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৮৩; হাকিম ২/৫৫ হাসান সনদে; আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সুলাইম আল আযুরী হতে দারুকুতনী ৩/৬৮ নং ২৫৭ অত্যন্ত দুর্বল সনদে। দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/২৩-২৪; তালখীসুল হাবীর ৩/১৫-১৬।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. কোনো কাফির ইসলাম গ্রহণ করে আসলে
২৫১৮. সাখর ইবনুল আইলাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবনু শু’বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র ফুফুকে বন্দী করলাম। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাঁর ফুফু কে (ফেরত) চাইলেন। এরপর তিনি (আমাকে ডেকে) বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে। তুমি তাকে (মুগীরার ফুফুকে) তাঁর (মুগীরার) নিকট ফিরিয়ে দাও।” আবার বনী সুলাইমের একটি পুকুর ছিল। অবশেষে বনী-সুলাইম ইসলাম গ্রহণ করার পর তারা তাঁর নিকট এসে এটি ফেরত চাইলো। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডেকে বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে। সুতরাং ঐ (কওমের পুকুর)-টি তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।” ফলে আমি তা ফেরত দিলাম।[1]
بَاب فِي الْحَرْبِيِّ إِذَا قَدِمَ مُسْلِمًا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ صَخْرِ بْنِ الْعَيْلَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ الْعِيلَةِ قَالَ أَخَذْتُ عَمَّةَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ فَقَدِمْتُ بِهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّتَهُ فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَكَانَ مَاءٌ لِبَنِي سُلَيْمٍ فَأَسْلَمُوا فَأَتَوْهُ فَسَأَلُوهُ ذَلِكَ فَدَعَانِي فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهُ إِلَيْهِمْ فَدَفَعْتُهُ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১৭১৫ (অনুবাদে ১৭১০) নং তে। ((ইবনু আবী শাইবা, ১২/৩১১; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/১৯; তাবারানী, কাবীর ৪/৩১০-৩১১; ৮/২৯-৩০ নং ৭২৭৯, ৭২৮০; আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৬৭; বাইহাকী, সিয়ার ১/১১৪; ইবনু কাছীর, বিদা’আহ ৪/৩৪২; আহমাদ ৪/৩১০; ১৭১৬ নং হাদীসটিও দেখুন। আরও দেখুন, আদ দিরায়াহ ২/১২১-১২২; তালখীসুল হাবীর ৪/১১০, ১২০; আর আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৪৭ তে।’- ১৭১৫ (অনুবাদে ১৭১০) নং হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪১. যুদ্ধলব্ধ সম্পদের (নির্ধারিত এক পঞ্চমাংশের) অতিরিক্ত অংশ প্রদান করা ইমামের উপর নির্ভরশীল
২৫১৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নাজদের দিকে) একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-ও ছিলেন। এ যুদ্ধে গনীমত হিসেবে তাঁরা বহু উট লাভ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাগে বারটি কিংবা এগারোটি করে উট পড়েছিল এবং তাঁদেরকে পুরস্কার হিসেবে আরো একটি করে উট দেয়া হয়েছিল।[1]
بَاب فِي أَنَّ النَّفْلَ إِلَى الْإِمَامِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابِنِ عُمَرَ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً فِيهَا ابْنُ عُمَرَ فَغَنِمُوا إِبِلًا كَثِيرَةً فَكَانَتْ سِهَامُهُمْ اثْنَيْ عَشَرَ بَعِيرًا أَوْ أَحَدَ عَشَرَ بَعِيرًا وَنُفِّلُوا بَعِيرًا بَعِيرًا
তাখরীজ: মালিক, জিহাদ ১৫ সহীহ সনদে; বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৩৪; মুসলিম জিহাদ ১৭৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩২, ৪৮৩৩, ৪৮৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. আক্রমণের প্রথম ভাগে একচতুর্থাংশ এবং ফিরতী হামলার ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ নফল বা অতিরিক্ত প্রদান
২৫২০. উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শত্রু রাজ্যে আক্রমণের প্রথম ভাগে একচতুর্থাংশ এবং প্রত্যাবর্তনকালীন যুদ্ধের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ নাফল বা অতিরিক্ত প্রদান করতেন।[1]
بَاب فِي أَنْ يُنَفَّلَ فِي الْبَدْأَةِ الرُّبُعُ وَفِي الرَّجْعَةِ الثُّلُثُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَغَارَ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ نَفَّلَ الرُّبُعَ وَإِذَا أَقْبَلَ رَاجِعًا وَكَلَّ النَّاسُ نَفَّلَ الثُّلُثَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৫৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৯৩ তে। ((তিরমিযী, সিয়ার ১৫৬১; নাসাঈ, কিসমুল ফাই ৭/১৩১; ইবনু মাজা:, জিহাদ ২৮৫২; আহমাদ ৫/৩১৯, ৩২২, ৩২৩ ।– ইবনু হিব্বান, তাহক্বীক্ব: আরনাউত্ব, হা/৪৮৫৫ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. খুমুস বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের নির্ধারিত অংশের অতিরিক্ত প্রদান
২৫২১. হাবীব ইবনে মাসলামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক-পঞ্চমাংশ নেয়ার পর অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ নফল (অতিরিক্ত) প্রদান করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّفْلِ بَعْدَ الْخُمُسِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ جَارِيَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفَّلَ الثُّلُثَ بَعْدَ الْخُمُسِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৭২ তে। এছাড়াও, ইবনুল কানি’ , মু’জামুস সাহাবাহ, ২১৪; আবী উবাইদ, আলআমওয়াল নং ৮০০; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৮৪৮, ৮৪৯, ৮৫০, ৮৫১, ৮৫২।((আবূ দাউদ ২৭৪৮, ২৭৪৯, ২৭৫০, আহমাদ ১৭০০৮, ১৭০১১, ; ইবনু মাজাহ জিহাদ, ২৮৫১, ২৮৫৩।– তাখরীজ ইবনু মাজাহ ২৮৫১।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. (যুদ্ধে) কোন ব্যক্তি কাউকে হত্যা করলে নিহত ব্যক্তির মালামাল হত্যাকারী পাবে
২৫২২. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ (হুনায়নের যুদ্ধের দিন) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে মুসলিম কোন কাফিরকে হত্যা করবে, সে সেই নিহত ব্যক্তির পরিত্যক্ত মালের অধিকারী হবে।” সেদিন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিশজন কাফিরকে হত্যা করেন এবং তাদের মালামাল লাভ করেন।”[1]
بَاب مَنْ قَتَلَ قَتِيلًا فَلَهُ سَلَبُهُ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ كَافِرًا فَلَهُ سَلَبُهُ فَقَتَلَ أَبُو طَلْحَةَ يَوْمَئِذٍ عِشْرِينَ وَأَخَذَ أَسْلَابَهُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩৬, ৪৮৩৮, ৪৮৪১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৭১ তে। ((মুসলিম, জিহাদ ১৮০৯; আহমাদ ৩/১১৪, ১৯০, ২৭৯; তায়ালিসী ২০৭৯; আবী দাউদ, জিহাদ ২৭১৭, ২৭১৮; ইবনু মাজাহ হাকিম ৩/৩৫৩; বাইহাকী ৬/৩০৭।– আরনাউত্বের তাহক্বীক্বকৃত ইবনু হিব্বান হা/৪৮৪১ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. (যুদ্ধে) কোন ব্যক্তি কাউকে হত্যা করলে নিহত ব্যক্তির মালামাল হত্যাকারী পাবে
২৫২৩. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন (কাফির) ব্যক্তির সাথে লড়াই করে তাকে হত্যা করলাম। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার মালামাল প্রদান করলেন।[1]
بَاب مَنْ قَتَلَ قَتِيلًا فَلَهُ سَلَبُهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ هُوَ عُمَرُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ بَارَزْتُ رَجُلًا فَقَتَلْتُهُ فَنَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلَبَهُ
তাখরীজ: বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৪২; মুসলিম জিহাদ ১৭৫১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. গণীমাতের মাল অপছন্দ করা ও তার বাণীঃ শক্তিশালী মুসলিমগণ দুর্বল মুসলিমকে গনীমতের মাল ফেরত দিবে
২৫২৪. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অপছন্দ করতেন। আর তিনি বলতেন: “শক্তিশালী মুসলিমগণ দুর্বল মুসলিমকে গনীমতের মাল ফেরত দিবে।”[1]
بَاب فِي كَرَاهِيَةِ الْأَنْفَالِ وَقَالَ لِيَرُدَّ قَوِيُّ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى ضَعِيفِهِمْ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ الْأَنْفَالَ وَيَقُولُ لِيَرُدَّ قَوِيُّ الْمُسْلِمِينَ عَلَى ضَعِيفِهِمْ
তাখরীজ: এর তাখরীজ ২৫২৫ (অনুবাদে ২৫১৭) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. তাঁর বাণীঃ 'সুঁই ও সুতা - সবই তোমরা গনীমতের মালের মধ্যে জমা দাও'-এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
২৫২৫. উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হুনায়নের যুদ্ধের দিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “(হে লোকসকল! তোমাদের গনীমতের মালের) সুঁই ও সুতা - সবই তোমরা গনীমতের মালের মধ্যে জমা দাও। আর (গনীমতের মাল) আত্মসাৎ করা হতে আত্মরক্ষা করো। কেননা, কিয়ামতের দিন তা আত্মসাৎকারীর জন্য লজ্জা-অপমানের কারণ হবে।”[1]
بَاب مَا جَاءَ أَنَّهُ قَالَ أَدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمَخِيطَ
وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ أَدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمَخِيطَ وَإِيَّاكُمْ وَالْغُلُولَ فَإِنَّهُ عَارٌ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির অংশবিশেষ। এছাড়াও, বুখারী, কাবীর ৮/৫৭ তালিক হিসেবে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. (বন্টনের পূর্বে) গণীমাতের মাল হতে নেওয়া কোনো পশুর উপর আরোহণ করা ও তা থেকে নিয়ে পোশাক পরিধান করা নিষেধ
২৫২৬. হানাশ সান’আনী বলেন, আমরা পশ্চিমাঞ্চল তথা মরক্কোতে যুদ্ধ করেছি আর সেখানে আমাদের উপর দায়িত্বশীল ছিলেন রুওয়াইফি’ ইবন সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আমরা জারবাহ’ নামক এক শহরটিতে বিজয় লাভ করলে রুওয়াইফি’ ইবনু সাবিত আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হতাম না, যদি আমি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে না শুনতাম। তিনি খায়বার (যুদ্ধের) দিন আমরা সেখানে বিজয় লাভ করলেতিনি আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলিমদের গণীমতের মালের কোন বাহনের উপর সওযার না হয়, এমনকি সে তার ক্ষতি করে- আবূ মুহাম্মদ বলেন: এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ যে, অথবা তিনি বলেছেন- তা দূর্বল করে - ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন মুসলিমদের প্রাপ্ত গণীমতের মাল থেকে কোন কাপড় না পরে, এমনকি সে তা পুরাতন করে এতে ফেরত দেয়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ رُكُوبِ الدَّابَّةِ مِنْ الْمَغْنَمِ وَلُبْسِ الثَّوْبِ مِنْهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ هُوَ ابْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ مَوْلًى لِتُجِيبَ قَالَ حَدَّثَنِي حَنَشٌ الصَّنْعَانِيُّ قَالَ غَزَوْنَا الْمَغْرِبَ وَعَلَيْنَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ فَافْتَتَحْنَا قَرْيَةً يُقَالُ لَهَا جَرْبَةُ فَقَامَ فِينَا رُوَيْفِعُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ خَطِيبًا فَقَالَ إِنِّي لَا أَقُومُ فِيكُمْ إِلَّا مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا يَوْمَ خَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحْنَاهَا مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَرْكَبَنَّ دَابَّةً مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَجْحَفَهَا أَوْ قَالَ أَعْجَفَهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَنَا أَشُكُّ فِيهِ رَدَّهَا وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ ثَوْبًا مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَخْلَقَهُ رَدَّهُ فِيهِ
তাখরীজ: এটি ২৫২0 (অনুবাদে ২৫১২) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. (গণীমাতের মাল) আত্মসাত করা সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারী
২৫২৭. উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধে একটি দল নিহত হলে লোকেরা বলতে লাগলো, অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়েছে। এভাবে তারা এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বললো, অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, কখনো নয়। আমি তাকে (গনীমতের মাল থেকে) একটি আবা (এক ধরণের পোষাক) আত্মসাৎ করার কারণে আগুনে জ্বলতে দেখেছি।” তিনি বললেন, হে ইবনু খাত্তাব, দাঁড়াও এবং লোকদের মাঝে ঘোষণা দাও যে, জান্নাতে মু’মিন ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না।”ফলে আমি দাঁড়িয়ে লোকদের মাঝে তা ঘোষণা করতে লাগলাম।[1]
بَاب مَا جَاءَ فِي الْغُلُولِ مِنْ الشِّدَّةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ قُتِلَ نَفَرٌ يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ حَتَّى ذَكَرُوا رَجُلًا فَقَالُوا فُلَانٌ شَهِيدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّا إِنِّي رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ فِي عَبَاءَةٍ أَوْ فِي بُرْدَةٍ غَلَّهَا قَالَ لِي يَا ابْنَ الْخَطَّابِ قُمْ فَنَادِ فِي النَّاسِ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ فَقُمْتُ فَنَادَيْتُ فِي النَّاسِ
তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ১১৪। এছাড়াও, আবী আওয়ানাহ ১/৪৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৪৯, ৪৮৫৭ তে। ((তিরমিযী, সিয়ার ১৫৭৪; বাইহাকী, ৯/১০১। - আরনাউত্বের তাহক্বীক্ব ইবনু হিব্বান, নং ৪৮৪৯ এর টীকা হতে।-অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. (গণীমাতের মাল) আত্মসাৎ করার শাস্তি সম্পর্কে
২৫২৮. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা ’উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী পেলে তোমরা তাকে মারধর করবে এবং তার সমস্ত মালামাল জ্বালিয়ে দেবে।”[1]
بَاب فِي عُقُوبَةِ الْغَالِّ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدْتُمُوهُ غَلَّ فَاضْرِبُوهُ وَأَحْرِقُوا مَتَاعَهُ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২২; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭১৩; তিরমিযী, হুদূদ ১৪৬১; ইবনু মানসূর নং ২৭২৯; ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২ নং ৮৭৩৯ ও ১২/৪৯৬-৪৯৭ নং ১৫৩৮৯; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৩৪১, ১৩৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. (গণীমাতের মাল) আত্মসাৎকারী তার আত্মসাৎকৃত মালসহ কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হওয়া সম্পর্কে
২৫২৯. কাছির ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “(মাল-সম্পদ) লুণ্ঠন করা যাবে না, আত্মসাৎও করা যাবে না, আবার গোপনে চুরি করাও যাবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মাল-সম্পদ আত্মসাৎ করবে, তা নিয়েই সে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হবে।”[1]
بَاب فِي الْغَالِّ إِذَا جَاءَ بِمَا غَلَّ بِهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُكْتِبُ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَهْبَ وَلَا إِغْلَالَ وَلَا إِسْلَالَ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْإِسْلَالُ السَّرِقَةُ
তাখরীজ: ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৮০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/১৭-১৮ নং ১৬।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. যুদ্ধে হাত কাটা যাবে না
২৫৩০. জুনাদাহ ইবনু উমাইয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যদি বুসর ইবনু আরতাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কে একথা বলতে না শুনতাম যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যুদ্ধে থাকাবস্থায় হাত কাটা যাবে না।”- তবে অবশ্যই আমি তা কেটে দিতাম।[1]
بَاب فِي أَنْ لَا تُقْطَعَ الْأَيْدِي فِي الْغَزْوِ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ عَنْ شِيَيْمِ بْنِ بَيْتَانَ عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ ابْنَ أَرْطَاةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تُقْطَعُ الْأَيْدِي فِي الْغَزْوِ لَقَطَعْتُهَا
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৮১; তিরমিযী, হুদূদ ১৪৫০; আল কামিল ২/৪৩৯; ইবনুল কানি’ , মু’জামুস সাহাবাহ, নং ৮১; অপর সহীহ সনদে আবূ দাউদ, হুদূদ ৪৪০৮;
বাইহাকী, সিয়ার ৯/১০৪; েইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ১/২১৪; ইবনুল কানি’ , মু’জামুস সাহাবাহ, নং ৮১। আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৩/৩৪৪; আল ইসাবাহ ১/২৪৩-২৪৪; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১৮১৬১।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. কোনো কর্মচারী তার কর্মের সময়ে যদি কোনো কিছু লাভ করে
২৫৩১. আবী হুমায়দ সা’ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যখন সে কর্মচারী তার কাজ (যাকাত আদায়) শেষ করে ফিরে আসলো, তখন সে বললোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এগুলো আপনাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দেওয়া হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি তোমার পিতা- মাতার গৃহে বসে থেকে দেখতে যে, তোমাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কি-না? “অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের সালাত শেষে মিম্বারের উপর দাঁড়ালেন এবং শাহাদতের বাক্য উচ্চারণ করে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান আদায়ের পর বললেনঃ “অত:পর, আমি যাকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করে পাঠাই, তার কী হলো যে, সে ফিরে এসে বলে, ’এই মাল তোমাদের এবং এইগুলি আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে?!’
সে তার পিতা-মাতার গৃহে বসে থেকে দেখলো না কেন যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? যাঁর হাতে মুহাম্মদের জীবন, সেই মহান সত্তার কসম! তোমাদের কেউ (যাকাতের সম্পদ হতে) কোনো জিনিস আত্মসাৎ করলে অবশ্যই কিয়ামতের দিন সে তা তার কাঁধে বহন করে নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সে উট গরগর করে আওয়ায করতে থাকবে। যদি গাভী হয়, তবে সেটি হাম্বা-হাম্বা ডাক দিতে দিতে আসবে। আর যদি বকরী হয়, তবে সেটিও ডাকতে থাকবে। আমি কি (তোমার হুকুম) পৌছে দিয়েছি ?” আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর তিনি তাঁর দু’হাত এত উপরে উঠালেন যে, এমনকি আমরা তাঁর উভয় বাহুমুলের লোমগুচ্ছ দেখতে পেলাম। আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আমার সাথে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছেন। ফলে তোমরা তাঁকে সেটি জিজ্ঞেস করে দেখ।[1]
بَاب فِي الْعَامِلِ إِذَا أَصَابَ مِنْ عَمَلِهِ شَيْئًا
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعْمَلَ عَامِلًا عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَهُ الْعَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الَّذِي لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَلَّا قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأَمِّكَ فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لَا ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشِيَّةً بَعْدَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَتَشَهَّدَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ هَذَا مِنْ عَمَلِكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَهَلَّا قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَنْظُرَ أَيُهْدَى لَهُ أَمْ لَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَغُلُّ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْهَا شَيْئًا إِلَّا جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خُوَارٌ وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعِرُ فَقَدْ بَلَّغْتُ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ ثُمَّ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبِطَيْهِ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ وَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مَعِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَسَلُوهُ
তাখরীজ: এটি ১৭১১ (অনুবাদে ১৭০৬) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী, জুমু’আহ ৯২৫, হিয়াল (কুটকৌশল) ৬৯৭৯; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৩২; আবূ দাউদ, ইমারাহ ২৯৪৬; আহমাদ ৫/২২৭-, ২৮৫, ৪২৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫১৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে।- অনুবাদ ১৭০৬ নং এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. মুশরিকদের প্রদত্ত হাদিয়া গ্রহণ করা প্রসঙ্গে
২৫৩২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, যুইয়াযান-এর শাসক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি পোশাক হাদীয়া দিয়েছিলেন যা তিনি ত্রেত্রিশটি উট কিংবা তেত্রিশটি উটনীর বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন। অত:পর তিনি সেটি গ্রহণ করেছিলেন।[1]
بَاب فِي قَبُولِ هَدَايَا الْمُشْرِكِينَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ مَلِكَ ذِي يَزَنٍ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلَّةً أَخَذَهَا بِثَلَاثَةٍ وَثَلَاثِينَ بَعِيرًا أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ نَاقَةً فَقَبِلَهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪১৮ তে। এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার নং ৪৩৪৪, ৪৩৪৫। ((আবু দাউদ, লিবাস, ৪০৩৪; আহমাদ ৩/২২১।– ফাতহুল মান্নান হা/২৬৫৩ এর টীকা হতে।- অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. মুশরিকদের প্রদত্ত হাদিয়া গ্রহণ করা প্রসঙ্গে
২৫৩৩. আবূ হুমাইদ সা’ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়লা নগরীর শাসনকর্তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি চিঠি পাঠান এবং তাঁকে একটি সাদা খচ্চর ও চাদর হাদিয়া দেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (সেখানকার শাসনকর্তারূপে বহাল থাকার) লিখিত নির্দেশ দেন এবং তাকে একটি চাদর হাদিয়া দেন।[1]
بَاب فِي قَبُولِ هَدَايَا الْمُشْرِكِينَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ بَعَثَ صَاحِبُ أَيْلَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ وَأَهْدَى لَهُ بَغْلَةً بَيْضَاءَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْدَى لَهُ بُرْدًا
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৯২; বাইহাকী, কাসামুল ফাই ওয়াল গনীমাহ ৬/৩৭২; বুখারী, ফাযাইলূল মদীনাহ ১৮৭২, মানাকিবুল আনসার ৩৭৯১, মাগাযী ৪৪২২, যাকাত ১৪৮১; আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নবুওয়াত ৫/২৬৬ অতি সংক্ষেপে; আহমাদ ৫/৪২৪-৪২৫; ইবনু আবী শাইবা ১৪/৫৩৯-৫৪০ নং ১৮৮৫২।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. নাবী (ﷺ) এর বণীঃ আমরা মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ করি না - সম্পর্কে
২৫৩৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমরা কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না।”[1]
بَاب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا لَا نَسْتَعِينُ بِالْمُشْرِكِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا لَا نَسْتَعِينُ بِمُشْرِكٍ
তাখরীজ: মুসলিম, জিহাদ ১৮১৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২১ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৯৫ নং ১৫০০৯।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. নাবী (ﷺ) এর বণীঃ আমরা মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ করি না - সম্পর্কে
২৫৩৫. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে এর চেয়েও দীর্ঘ আকারে বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا لَا نَسْتَعِينُ بِالْمُشْرِكِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ عَنْ رَوْحٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ فُضَيْلٍ هُوَ ابْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَطْوَلُ مِنْهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. আরব উপদ্বীপ হতে মুশরিকদেরকে বহিষ্কার করা
২৫৩৬. আবী উবাইদ ইবনু জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বশেষ যে বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলেছেন, (তা হলো), তিনি বলেছেন: “ইয়াহুদীদেরকে হিজায হতে এবং নাজরাণের অধিবাসী (খৃস্টান)-দেরকে আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দাও।”[1]
بَاب إِخْرَاجِ الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْمُونٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ عَنْ أَبِيهِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ كَانَ فِي آخِرِ مَا تَكَلَّمَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَخْرِجُوا يَهُودَ الْحِجَازِ وَأَهْلَ نَجْرَانَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৮৭২; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২০৯১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে। এছাড়াও, তাহাবী,
মুশকিলিল আছার নং ২৭৬০; বাইহাকী, জিযিয়া, ৯/২০৮; ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৪৪-৩৪৫ নং ১৩০৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. মুশরিকদের পাত্রে পান করা প্রসঙ্গে
২৫৩৭. আবূ সা’লাবা আল খুশানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এলাকায় বসবাস করি। আমরা তাদের পাত্রে খায়। উত্তরে তিনি বললেনঃ “তুমি যে এলাকার কথা উল্লেখ করলে, যদি তুমি সেই এলাকায় বসবাস কর, সেক্ষেত্রে তুমি নিরুপায় না হলে তাদের পাত্রে খাবে না। আর যদি নিরুপায় হয়ে পড়, তাহলে তাদের পাত্রগুলো ধুয়ে নিয়ে তাতে আহার কর।”[1]
بَاب فِي الشُّرْبِ فِي آنِيَةِ الْمُشْرِكِينَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ حَدَّثَنِي أَبُو ثَعْلَبَةَ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ أَهْلِ الْكِتَابِ فَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كُنْتَ بِأَرْضٍ كَمَا ذَكَرْتَ فَلَا تَأْكُلُوا فِي آنِيَتِهِمْ إِلَّا أَنْ لَا تَجِدُوا مِنْهَا بُدًّا فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مِنْهَا بُدًّا فَاغْسِلُوهَا ثُمَّ كُلُوا فِيهَا
তাখরীজ: বুখারী, যাবাইহ ওয়াস সইদ ৫৪৭৮; মুসলিম, সইদ ওয়াস যাবাইহ ১৯৩০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. গণীমাতের মাল বন্টনের পূর্বে তা থেকে কিছু খাবার খাওয়া
২৫৩৮. আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি (দুর্গ অবরোধকালে দুর্গ হতে) চর্বিভর্তি একটা থলে নিচে ফেলে দিল। আমি সেটির নিকট এসে তা সংরক্ষণ করি এবং বলিঃ আজ এ হতে আমি কাউকে কিছু দেব না। রাবী বলেনঃ হঠাৎ দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে চেয়ে মুচকি হাসছেন। (এতে আমি লজ্জিত হয়ে পড়লাম।)[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আশা করি যে, হুমাইদ আব্দুল্লাহ হতে শুনেছেন।
بَاب فِي أَكْلِ الطَّعَامِ قَبْلَ أَنْ تُقْسَمَ الْغَنِيمَةُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ دُلِّيَ جِرَابٌ مِنْ شَحْمٍ يَوْمَ خَيْبَرَ قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَالْتَزَمْتُهُ قَالَ ثُمَّ قُلْتُ لَا أُعْطِي مِنْ هَذَا أَحَدًا الْيَوْمَ شَيْئًا فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْتَسِمُ إِلَيَّ قَالَ عَبْد اللَّهِ أَرْجُو أَنْ يَكُونَ حُمَيْدٌ سَمِعَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ
তাখরীজ: আবু দাউদ, জিহাদ ২৭০২; বাইহাকী, দালাইলুল নবুওয়াত ৪/২৪১; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৭২; বুখারী, ফারযুল খুমুস ৩১৫৩, , যাবাইহ ওয়াস সইদ ৫৫০৮; আহমাদ ৪/৮৬ ও ৫/৫৬; নাসাঈ, যহায়া ৭/২৩৬; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৯২।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. 'মাজুসী' বা অগ্নিপুজকদের নিকট থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা সম্পর্কে
২৫৩৯. বাজালাহ হতে আমর বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’হাজার’ নামক স্থানের অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেছিলেন।[1]
بَاب فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ مِنْ الْمَجُوسِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ بَجَالَةَ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ لَمْ يَكُنْ عُمَرُ أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ
তাখরীজ: বুখারী, জিযিয়া, ৩১৫৬;
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৮৬০, ৮৬১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. একজন নগন্য মুসলিমও মুসলিমদের থেকে কাউকে আশ্রয় দিতে পারে
২৫৪০. উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। অত:পর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর ভাই (’আলী) হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্প করেছে, যাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমরাও তাকে আশ্রয় দিয়েছি।”[1]
بَاب يُجِيرُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَدْنَاهُمْ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ تُحَدِّثُ أَنَّهَا ذَهَبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا أَجَرْتُهُ فُلَانُ بْنُ هُبَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ
তাখরীজ: এটি ১৪৯৪ (অনুবাদে ১৪৮৯, ১৪৯০) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ১১৭৮; মুসলিম ৭২১-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬০. সংবাদবাহক (দূত) কে হত্যা করা নিষিদ্ধ
২৫৪১. ইবনু মুয়াইয আস সা’দী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার একটি ঘোড়াকে গাছ-পালা থেকে (পাতা) খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বের হলাম। এরপর বনী হানীফদের একটি মসজিদ অতিক্রম করছিলাম। তখন আমি তাদের বলতে শুনলাম, তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুসালামাহ আল্লাহ্র রাসূল। তখন আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফিরে এসে বিষয়টি তাকে জানালাম। তখন তিনি পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে তাদেরকে তার নিকট ধরে আনলেন। এরপর লোকেরা তাওবা করল এবং তাদের পুর্বের বক্তব্য হতে প্রত্যাবর্তন করল। ফলে তিনি তাদেরকে ছেড়ে দিলেন।
এরপর আব্দুল্লাহ ইবনু নুওয়াহাহ নামক তাদের এক লোকের নিকট এসে তিনি তাকে হত্যা করলেন। তখন তারা তাকে বললো, আপনি তো ঐ লোকগুলিকে ছেড়ে দিলেন কিন্তু একে মেরে ফেললেন যে? তখন তিনি বলেন আমি একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। তখন হঠাৎ এ ব্যক্তি ও মুসায়লামার দু’জন দূত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিটক প্রবেশ করলো। তখন দু’জন দূতকে এ মর্মে জিজ্ঞাসা করেনঃ “তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?”
তখন তারা দু’জন জবাবে বলল, আমরা তো সাক্ষ্য দিই যে, মুসায়লামাহ আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বললেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। যদি আমি দূতদেরকে হত্যা করতাম, তবে অবশ্যই আমি তোমাদেরদু’জনের শিরশ্ছেদ করতাম।” (রাবী বলেন) এজন্যই আমি একে হত্যা করলাম। আর তিনি নির্দেশ দিলে তাদের মসজিদসমূহ ধ্বংস করে দেওয়া হলো।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ الرُّسُلِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مُعَيْزٍ السَّعْدِيِّ قَالَ خَرَجْتُ أُسْفِرُ فَرَسًا لِي مِنْ السَّحَرِ فَمَرَرْتُ عَلَى مَسْجِدٍ مِنْ مَسَاجِدِ بَنِي حَنِيفَةَ فَسَمِعْتُهُمْ يَشْهَدُونَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ الشُّرَطَ فَأَخَذُوهُمْ فَجِيءَ بِهِمْ إِلَيْهِ فَتَابَ الْقَوْمُ وَرَجَعُوا عَنْ قَوْلِهِمْ فَخَلَّى سَبِيلَهُمْ وَقَدَّمَ رَجُلًا مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُوَاحَةَ فَضَرَبَ عُنُقَهُ فَقَالُوا لَهُ تَرَكْتَ الْقَوْمَ وَقَتَلْتَ هَذَا فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا إِذْ دَخَلَ هَذَا وَرَجُلٌ وَافِدَيْنِ مِنْ عِنْدِ مُسَيْلَمَةَ فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْهَدَانِ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَا لَهُ تَشْهَدُ أَنْتَ أَنَّ مُسَيْلَمَةَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ لَوْ كُنْتُ قَاتِلًا وَفْدًا لَقَتَلْتُكُمَا فَلِذَلِكَ قَتَلْتُهُ وَأَمَرَ بِمَسْجِدِهِمْ فَهُدِمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫০৯৭, ৫২২১, ৫২৪৭, ৫২৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৭৮, ৪৮৭৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২৯ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬১; আহমাদ ৩/৪৮৭-৪৮৮ সহীহ সনদে।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫০৩ এর টীকা।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬১. চুক্তিবদ্ধ (কাফির) কে হত্যা করা নিষিদ্ধ
২৫৪২. আবী বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি অসময়ে (তার চুক্তির মেয়াদের মধ্যে কিংবা যে সময়সীমার মধ্যে তাকে হত্যা করা জায়িয ছিল তা ব্যতীত) কোনো যিম্মি বা চুক্তিবদ্ধ (কাফির) ব্যক্তিকে হত্যা করবে, আল্লাহ তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেবেন।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ الْمُعَاهَدِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ الْغَطَفَانِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا فِي غَيْرِ كُنْهِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮১, ৪৮৮২, ৭৩৮২, ৭৩৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৩০, ১৫৩১, ১৫৩২ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭৬০; আহমাদ ৫/৩৬, ৩৮, ৪৬, ৫০, ৫১; তায়ালিসী ৮৭৯; নাসাঈ, কাসামাহ ৮/২৪-২৫; হাকিম ২/১৪২; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।–আল ইহসান, শাইখ আরনাউত্বের টীকা হা/৪৮৮১ হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যখন শত্রুদের কোনো ব্যক্তি মুসলিমের সম্পদ লাভ করে
২৫৪৩. ইমরান ইবন হুসায়ন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আযবা উটনীটি ছিল বনূ ’আকীলের’ জনৈক ব্যক্তির। একবার সে ব্যক্তিকে বন্দী করা হলো এবং আযবাকে পাকড়াও করা হলো। অত:পর পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। সে ছিলো বন্দী অবস্থায়।
তখন সে বলেঃ হে মুহাম্মদ! তুমি আমাকে এবং হাজীদের কাফিলার আগে গমনকারী (এ উট)-কে কেন পাকড়াও করলে? অথচ আমি তো ইসলাম গ্রহণ করেছি।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যখন তোমার ব্যাপারটি তোমার অধিকারে ছিলো, তখন যদি তুমি এ কথাটি বলতে, তাহলে তুমি পূর্ণ কামিয়াব ও সফলকাম হতে।”
অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আমি তোমাকে তোমাদের মিত্র (গোত্র ছাকীফ)-এর অপরাধের কারণে গ্রেফতার করেছি।”
(এর কয়েকদিন পূর্বে) সাকীফ গোত্রের লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল। আর এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গাধার পিঠে চড়ে আসলেন এবং তাঁর গায়ে একটি চাদর জড়ানো ছিলো। এমন সময় সে (লোকটি) বলে উঠলো, হে মুহাম্মদ! আমি ক্ষুধার্ত। আমাকে খাবার দিন! আমি পিপাসার্ত, আমাকে পান করতে দিন!
(জবাবে) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “এটাই হলো তোমার প্রয়োজন ও চাহিদা!”
পরে এক সময় (যে দু’জন মুসলিম বনী সাকীফের হাতে বন্দী হয়েছিল সেই) দু’জন লোকের বিনিময়ে এ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযবাকে বাহন হিসেবে রেখে দেন।
অত:পর একবার মুশরিকরা মদীনার উপকণ্ঠে হামলা চালিয়ে আযবা উটনীকে (চুরি করে) নিয়ে যায়। তারা ফিরে যাওয়ার সময় একজন মুসলিম নারীকে বন্দী করে নিয়ে যায়।
যখন তারা (কোথাও) অবতরণ করতো, তখন তাদের উটগুলিকে (রাতের বেলায়) তাদের আশপাশে - আবূ মুহাম্মদ বলেন, এরপর তিনি (বর্ণনাকারী) একটি বাক্য উচ্চারণ করল’[1]- (অর্থাৎ বিশ্রামের জন্য ছেড়ে রাখত)। এরপর তারা এক রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় সে মহিলা উঠে দাঁড়ায় (যাতে পালিয়ে যেতে পারে)। কিন্তু সে কোন উটের (কাছে গিয়ে) গায়ে হাত রাখলেই সে শোরগোল বাধিয়ে দিতে লাগলো। অবশেষে সে মহিলা আযবা উটনীর কাছে আসলো। (প্রকৃতপক্ষে) সে মহিলা একটি অনুগত এবং প্রশিক্ষিত (অভিজ্ঞ) উটের নিকটেই আসলো। তখন সে তার উপর সওয়ার হয়ে মদীনা অভিমুখে যাত্রা করলো এবং এরূপ মানত করলো যে, যদি আল্লাহ্ তাকে নাজাত দেন, তবে সে এটি (আযবা উটনী)-কে কুরবানী করবে।তিনি (রাবী) বলেন, অতঃপর সে মহিলা যখন মদীনায় পৌছলো, তখন সে উটনীটিকে চেনা গেলো; ফলে লোকেরা বলতে লাগলো যে, ’(এটি তো) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনী। তখন তারা সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলো। এবং মহিলাটি তার মানত সম্পর্কে তাঁকে জানালো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “উটনীটিকে তুমি কতই না মন্দ প্রতিদান দিতে চেয়েছ! – কিংবা তুমি একে কতই না অসম্মান করলে! আল্লাহ্ তা’আলা কি এজন্য একে নাজাত দিয়েছেন যে, তুমি এটিকে কুরবানী করবে? জেনে রাখ, আল্লাহর নাফরমানীমুলক বিষয়ে এবং বনূ আদম যার মালিক নয়, এমন বিষয়েও যে মানত করা হয়, তা পূরণ করার প্রয়োজন নেই।”[2]
بَاب إِذَا أَحْرَزَ الْعَدُوُّ مِنْ مَالِ الْمُسْلِمِينَ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كَانَتْ الْعَضْبَاءُ لِرَجُلٍ مِنْ بَنِي عُقَيْلٍ فَأُسِرَ وَأُخِذَتْ الْعَضْبَاءُ فَمَرَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي وَثَاقٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ عَلَى مَا تَأْخُذُونِي وَتَأْخُذُونَ سَابِقَةَ الْحَاجِّ وَقَدْ أَسْلَمْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتَهَا وَأَنْتَ تَمْلِكُ أَمْرَكَ أَفْلَحْتَ كُلَّ الْفَلَاحِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَأْخُذُكَ بِجَرِيرَةِ حُلَفَائِكَ وَكَانَتْ ثَقِيفٌ قَدْ أَسَرُوا رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حِمَارٍ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي جَائِعٌ فَأَطْعِمْنِي وَظَمْآنُ فَاسْقِنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ حَاجَتُكَ ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ فُدِيَ بِرَجُلَيْنِ فَحَبَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَضْبَاءَ لِرَحْلِهِ وَكَانَتْ مِنْ سَوَابِقِ الْحَاجِّ ثُمَّ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ أَغَارُوا عَلَى سَرْحِ الْمَدِينَةِ فَذَهَبُوا بِهِ فِيهَا الْعَضْبَاءُ وَأَسَرُوا امْرَأَةً مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَكَانُوا إِذَا نَزَلُوا قَالَ أَبُو مُحَمَّد ثُمَّ ذَكَرَ كَلِمَةً إِبِلُهُمْ فِي أَفْنِيَتِهِمْ فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ لَيْلَةٍ قَامَتْ الْمَرْأَةُ وَقَدْ نُوِّمُوا فَجَعَلَتْ لَا تَضَعُ يَدَيْهَا عَلَى بَعِيرٍ إِلَّا رَغَا حَتَّى أَتَتْ الْعَضْبَاءَ فَأَتَتْ عَلَى نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلُولٍ مُجَرَّسَةٍ فَرَكِبَتْهَا ثُمَّ تَوَجَّهَتْ قِبَلَ الْمَدِينَةِ وَنَذَرَتْ لَئِنْ اللَّهُ نَجَّاهَا لَتَنْحَرَنَّهَا قَالَ فَلَمَّا قَدِمَتْ عُرِفَتْ النَّاقَةُ فَقِيلَ نَاقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَوْا بِهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخْبَرَتْ الْمَرْأَةُ بِنَذْرِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِئْسَمَا جَزَيْتِهَا أَوْ بِئْسَمَا جَزَتْهَا إِنْ اللَّهُ نَجَّاهَا لَتَنْحَرَنَّهَا لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নুযূর ১৬৪১। আর এর তাখরীজ গত হয়েছে ২৩৮২ (অনুবাদে ২৩৭৩) নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. মুশরিকদের সাথে কৃত অঙ্গীকার বা চুক্তি রক্ষা করা সম্পর্কে
২৫৪৪. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–কে প্রেরণ করেন তখন আমি ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে ছিলাম। আর (কুরবানীর দিন মিনায়) তিনি চারটি বিষয়ের ঘোষণা দিতে থাকেন, এমনকি তাঁর কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যায়- (তা এই) যে, তোমরা জেনে রাখো, মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর এ বছরের পর থেকে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোন উলঙ্গ ব্যক্তিও (আল্লাহর) ঘরের তাওয়াফ করতে পারবে না। আর যার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুক্তি (বা অঙ্গীকার) রয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত অবকাশ রয়েছে চার মাস পর্যন্ত। আর যখন চার মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবেন এবং তাঁর রাসূলও।[1]
بَاب فِي الْوَفَاءِ لِلْمُشْرِكِينَ بِالْعَهْدِ
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْمُغِيرَةِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مُحَرَّرِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَادَى بِأَرْبَعٍ حَتَّى صَهَلَ صَوْتُهُ أَلَا لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَلَا يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ فَإِنَّ أَجَلَهُ إِلَى أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ فَإِنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ
তাখরীজ: বুখারী ৩৬৯; মুসলিম ১৩৪৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২০ তে। এটি গত হয়েছে ১৪৭০ ও ১৯৬০ তে। এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার নং ৩৫৯৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. হুদাইবিয়ার দিন নাবী (ﷺ) এর সন্ধি সম্পর্কে
২৫৪৫. বারা ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলকাদ মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ’র উদ্দেশ্যে বের হলেন। কিন্তু মক্কাবাসীরা তাঁকে মক্কা প্রবেশের জন্য ছেড়ে দিতে অস্বীকার করল। অবশেষে এই শর্তে তাদের সঙ্গে ফয়সালা করলেন যে, তিনদিন সেখানে অবস্থান করবেন। সন্ধিপত্র লিখতে গিয়ে তারা (মুসলিমরা) লিখলেন, এ সন্ধিপত্র সম্পাদন করেছেন, ’আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ তারা (মুশরিকরা) বলল, ’আমরা তো এটি (তাঁর রিসালাত) স্বীকার করি না। আমরা যদি জানতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল তাহলে তো আপনাকে আমরা বাধা-ই দিতাম না। তবে আপনি হলেন, ’আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’ তিনি বললেন, ’আমি আল্লাহর রাসূল এবং ’আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’
অতঃপর তিনি আলীকে বললেন, ’আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ’ শব্দটি মুছে দাও। তিনি বললেন, ’না। আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে কখনোই মুছব না।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন চুক্তিপত্রটি নিলেন এবং তিনি সুন্দর করে লিখলেন না। তিনি ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের’ স্থলে লিখলেন, ’এ সন্ধিপত্র মুহাম্মদ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ সম্পন্ন করেন: খাপবদ্ধ তরবারী ব্যতীত আর কোনো অস্ত্র নিয়ে তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন না। মক্কাবাসীদের কেউ তাঁর অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে তিনি তাকে বের করে নিবেন না। আর তাঁর সঙ্গীদের কেউ মক্কায় থাকতে চাইলে তাঁকে বাধা দিবেন না।’ তিনি যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা এসে আলীকে বলল, ’তোমার সঙ্গীকে আমাদের এখান হতে বের হয়ে যেতে বল। কেননা নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।’[1]
باب في صلح النبي صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذِي الْقَعْدَةِ فَأَبَى أَهْلُ مَكَّةَ أَنْ يَدَعُوهُ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ حَتَّى قَاضَاهُمْ عَلَى أَنْ يُقِيمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَتَبُوا هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا لَا نُقِرُّ بِهَذَا لَوْ نَعْلَمُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ مَا مَنَعْنَاكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أَنْتَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ أَنَا رَسُولُ اللَّهِ وَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ لِعَلِيٍّ امْحُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَا وَاللَّهِ لَا أَمْحُوهُ أَبَدًا فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِتَابَ وَلَيْسَ يُحْسِنُ يَكْتُبُ فَكَتَبَ مَكَانَ رَسُولِ اللَّهِ هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنْ لَا يَدْخُلَ مَكَّةَ بِسِلَاحٍ إِلَّا السَّيْفَ فِي الْقِرَابِ وَأَنْ لَا يُخْرِجَ مِنْ أَهْلِهَا أَحَدًا أَرَادَ أَنْ يَتْبَعَهُ وَلَا يَمْنَعَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِهِ أَرَادَ أَنْ يُقِيمَ بِهَا فَلَمَّا دَخَلَهَا وَمَضَى الْأَجَلُ أَتَوْا عَلِيًّا فَقَالُوا قُلْ لِصَاحِبِكَ فَلْيَخْرُجْ عَنَّا فَقَدْ مَضَى الْأَجَلُ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাইস সাইদ, ১৮৪৪, ২৬৯৯; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৮৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১৭০৩, ১৭১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৬৯, ৪৮৭৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. মুশরিকদের দাস যারা মুসলিমদের নিকট পালিয়ে যাবে, তাদের সম্পর্কে
২৫৪৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তায়িফ হতে দু’জন দাস চলে আসলে তিনি তাদের উভয়কে মুক্তি দেন, আর তাদের একজনকে মুক্ত করেন আবী বাকরাহ।[1]
باب فِي عَبِيدِ الْمُشْرِكِينَ يَفِرُّونَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَانِ مِنْ الطَّائِفِ فَأَعْتَقَهُمَا أَحَدُهُمَا أَبُو بَكْرَةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৫৬৪ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭৩৫৯, ৭৩৬০, ৭৩৬৩, ৭৩৬৪ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৫১১ নং ১৫৪৪৪, ১৪/৫০৯ নং ১৮৮০১; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৮০৭; বাইহাকী, জিযইয়া ৯/২৩০।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. সা’দ ইবনু মুয়ায (রাঃ) এর ফায়সালার উপর বনী কুরায়যা’র লোকদের (দুর্গ হতে) অবরতণ
২৫৪৭. জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাবের যুদ্ধের দিন সা’দ ইবনু মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু তীরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। এতে তাঁর বাহুর প্রধান রগটি কেটে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের সেক দিয়ে (তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ করে) দেন। পরে তার হাত ফুলে যায়। পরে পুনরায় রক্তক্ষরণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। আবার তিনি তাকে সেঁক দিয়ে (তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করে) দেন। এরপর পুনরায় তার হাত ফুলে যায়। সা’দ যখন এ অবস্থা দেখলেন, তখন দু’আ করলেন, হে আল্লাহ ! (ইয়াহুদী গোত্র) বনী কুরাইযার ব্যাপারে আমার চক্ষু শীতল না করে তুমি আমার প্রাণ হরণ করো না। সঙ্গে সঙ্গে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। একটি ফোটাও আর তার রক্ত পড়েনি।
অবশেষে বনী কুরাইযা তার ফায়সালানুসারে (দুর্গ হতে) অবতরণ করে। এই বিষয়েই তার কাছে ফায়সালার জন্য লোক প্রেরণ করা হয়েছিল। তখন তিনি ফায়সালা দেন যে, এদের পুরুষদের হত্যা করা হবে এবং মেয়েদের ও সন্তানদের জীবিত রাখা হবে। তাদের মাধ্যমে মুসলিমরা কাজ নিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের বিষয়ে তুমি মহান আল্লাহর (ইচ্ছামাফিক) ফায়সালায় উপনীত হয়ে পেরেছ।তাদের (বনী কুরাইযার পুরুষদের) সংখ্যা ছিল চারশ’। এদের হত্যা করা শেষ হলে তার (সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর) আঘাতপ্রাপ্ত রগটি পুনরায় ফেটে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[1]
باب فِي نُزُولِ أَهْلِ قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَبْجَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَنَزَفَهُ فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لَا تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ تُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَتُسْتَحْيَى نِسَاؤُهُمْ وَذَرَارِيُّهُمْ يَسْتَعِينُ بِهِمْ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتَ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ وَكَانُوا أَرْبَعَ مِائَةٍ فَلَمَّا فُرِغَ مِنْ قَتْلِهِمْ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ
তাখরীজ: এটি মুসলিমে সংক্ষিপ্ত আকারে রয়েছে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৮৪ তে। এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ৩৫৭৯; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৩/২/৮; বাইহাকী, দালাইলুল নবুওয়াত ৪/২৮; ইবনু কাছীর, বিদা’আ ৪/১২২। ((আহমাদ ৩/৩৫০; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৮২; নাসাঈ, কুবরা৫/২০৬-২০৭ নং ৮৬৭৯; মুসলিম, সালাম নং ২২০৮।– ফাতহুল মান্নান হা/২৬৬৮।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. নাবী (ﷺ)-কে মক্কা হতে বের হতে বের করে দেওয়া
২৫৪৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরা আয যুহুরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাওয়ারীর উপর ’হাযওয়ারাহ’ নামক স্থানে (মদীনার একটি বাজার) দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখেছি। আর তিনি বলছিলেন: “আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর যমীনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। আর যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দেওয়া হতো, তবে আমি কখনোই (তোমার থেকে) বের হতাম না।”[1]
باب فِي إِخْرَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ حَمْرَاءَ الزُّهْرِيَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَاقِفًا بِالْحَزْوَرَةِ يَقُولُ وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ وَلَوْلَا أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০২৫ তে। ((তিরমিযী, মানাকিব ৩৯২৫; নাসাঈ, কুবরা৪২৫২, ৪২৫৩; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩১০৮; হাকিম ২/১৩৭...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৬৬৯ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে আমরা যর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫৯৫৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. মৃত ব্যক্তিদেরকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ
২৫৪৯. ’আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা তো আপন কর্মফলের দিকে এগিয়ে গেছে।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ سَبِّ الْأَمْوَاتِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا
তাখরীজ: বুখারী, জানাইয ১৩৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই
২৫৫০. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ (মক্কা) বিজয়ের পরে আর হিজরত নেই, রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে।” [1]
باب لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ
তাখরীজ: বুখারী, সাইদ ওয়ায যাবাইহ ১৮৩৪; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৯২, ৪৮৬৫ তে। এছাড়াও, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২৬৩৬।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বুখারী মুসলিমের সম্মিলিতভাবে বর্ণিত; আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭০. হিজরাত শেষ হবে না
২৫৫১. আবী হিন্দ আল বাজালী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আর তিনি ছিলেন পূর্বসূরীদের (সালফে সলেহীনদের) একজন। তিনি বলেন, তারা মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সামনে জিহাদ সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলেন, আর তখন তিনি ছিলেন বিছানাগত। তখন তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “তাওবার দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না”– একথা তিনবার (বললেন)। “আর সূর্য যে পর্যন্ত পশ্চিম আকাশে উদিত না হয় সে পর্যন্ত তাওবার দরজা বন্ধ হবে না।”[1]
باب إِنَّ الْهِجْرَةَ لَا تَنْقَطِعُ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي عَوْفٍ وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هِنْدٍ الْبَجَلِيِّ وَكَانَ مِنْ السَّلَفِ قَالَ تَذَاكَرُوا الْهِجْرَةَ عِنْدَ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ عَلَى سَرِيرِهِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ ثَلَاثًا وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসগুলি উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৭১ তে। এছাড়াও, নাসাঈ, কুবরা নং ৮৭১১; তাহাবী, মুশিকিলিল আছার নং ২৬৩৪; তাাবারাণী, কাবীর ১৯/৩৮৭ নং ৯০৭; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৭। ((আহমাদ ৪/৯৯; আবু দাউদ, জিহাদ২৪৭৯।–ফাতহুল মান্নান নং ২৬৭২।–অনুবাদক))
এর সহীহ শাহিদ হাদীস রয়েছে ওয়াক্বদান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৬৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ যদি হিজরাত না হত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম
২৫৫২. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি হিজরত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنْ الْأَنْصَارِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنْ الْأَنْصَارِ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিবুল আনসার ৩৭৭৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩১৮, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৬৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. আমির বা শাসক হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
২৫৫৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দশজন ব্যক্তির উপর নিযুক্ত আমির বা শাসককেও কিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় নিয়ে আসা হবে যখন তার হাত তার কাঁধের সাথে শৃংখলিত থাকবে। সত্য বা ন্যায়পরায়নতা তাকে মুক্তি দিবে অথবা, তাকে বন্দী করে রাখবে।” [1]
باب فِي التَّشْدِيدِ فِي الْإِمَارَةِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ أَمِيرِ عَشَرَةٍ إِلَّا يُؤْتَى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْلُولَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ أَطْلَقَهُ الْحَقُّ أَوْ أَوْبَقَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭০, ৬৬১৪, ৬৬২৯ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭০৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. যুলুমের নিষিদ্ধতা
২৫৫৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাক। কেননা, জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারে রূপ নেবে।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الظُّلْمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظُّلْمَ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৭৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৮০ তে।
পরিচ্ছেদঃ
২৫৫৫. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা’আলা এই দ্বীনকে পাপাচারী লোকের দ্বারা সাহায্য করবেন।”[1]
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৬; মুসলিম, ঈমান ১১১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫১৯ তে। এছাড়াও, আবূ আওয়ানা ১/৪৬; তাবারাণী, সগীর ১/১২১; বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত ৪/২৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. এ উম্মাতের মাঝে বিভক্তি সম্পর্কে
২৫৫৬. মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেনঃ “জেনে রাখ! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে-কিতাব (ইয়াহুদী ও নাসারা)-গণ বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, আর এ মিল্লাতের লোকগণ অদূর ভবিষ্যতে তিহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। বাহাত্তর ফিরকা হবে জাহান্নামী, আর এক ফিরকা হবে জান্নাতী; আর তারা ঐ জামাআতভূক্ত, যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী হবে।[1]
باب فِي افْتِرَاقِ هَذِهِ الْأُمَّةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَازِيُّ عَنْ أَبِي عَامِرٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لُحَيٍّ الْهَوْزَنِيِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلَا إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ اثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْحَرَازُ قَبِيلَةٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১০২; আবূ দাউদ, সুন্নাহ ৪৫৯৭; তাবারাণী, মুসনাদুশ শামিয়্যিন নং ১০০৫, ১০০৬; কাবীর ১৯/৩৭৬ নং ৮৮৪; হাকিম ১/১২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. আনুগত্য ও জামাআত আঁকড়ে থাকার অপরিহার্যতা
২৫৫৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি স্বীয় আমীরের নিকট থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখবে সে যেন এতে ধৈর্যধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যু বরণ করবে, নিশ্চয়ই তার মৃত্যু হবে জাহিলি মৃত্যুর ন্যায়।”[1]
باب فِي لُزُومِ الطَّاعَةِ وَالْجَمَاعَةِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَرْوِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يُفَارِقُ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَيَمُوتُ إِلَّا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
তাখরীজ: বুখারী, ফিতান ৭০৫৩; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৪৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬১ নং ১২৭৫৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৭৪৯৭; কিতালু আহলুল বাগী ৮/১৫৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১৯/৪৭; আারও দেখুন, ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ নং ১১০১ ও ইরওয়াউল গালীল নং ২৪৫৩ ও সুনানি ওয়াল আসার নং ১৬৫২৪।
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলন বা ধারণ করবে সে আমাদের দলভূক্ত নয়
২৫৫৮. আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”[1]
باب مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَلَّ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا
তাখরীজ: আবূ আওয়ানা ১/৫৮; তাবারাণী, কাবীর ৭/১৬ নং ৬২৪২, ৬২৫১; আহমাদ ৪/৪৬, ৫৪; ইবনু আবী শাইবা ১০/১২১ নং ৮৯৭৯; মুসলিম, ঈমান, ৯৯;
বুখারী, কাবীর ৪/১৪৯; আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/৩৪৮ ও ফাতহুল বারী ১৩/২৪।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮২৭ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ মুসা হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৬১, ৭২৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. শাসন ক্ষমতা থাকবে কুরাইশদের মধ্যে
২৫৫৯. মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা তাঁর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিগনের উপস্থিতিতে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, (খিলাফত ও) শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে, যত দিন তারা দ্বীন কায়েমে লেগে থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ্ তাকে অধোঃমুখে নিক্ষেপ করবেন।”[1]
باب الْإِمَارَةُ فِي قُرَيْشٍ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عِنْدَهُ فِي وَفْدٍ مِنْ قُرَيْشٍ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ لَا يُعَادِيهِمْ أَحَدٌ إِلَّا كَبَّهُ اللَّهُ عَلَى وَجْهِهِ مَا أَقَامُوا الدِّينَ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫০০, আহকাম ৭১৩৯; বাইহাকী, কাসামাহ ৮/১৪১, দালাইলুন নুবুওয়াত ৫/৫২১; আহমাদ ৪/৯৪; তাবারাণী, কাবীর ৯/৩৩৮ নং ৭৮০; আহমাদ ৪/৪৬, ৫৪।
আরও দেখুন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস নং ৫৫৮৯, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস ৩৬৪৪, ৪০৩২, আবী বারযাহ’র হাদীস নং ৩৬৪৫ ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস ৫০২৪ আমরা যা একত্র করেছি এবং পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. কুরাইশগণের ফযীলত সম্পর্কে
২৫৬০. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুরাইশ, আনসার, মুযায়নাহ, জুহায়নাহ, আসলাম, গিফার এবং আশজা’ গোত্রগুলোর জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কোন আপন জন নেই।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُرَيْشٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشٌ وَالْأَنْصَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ وَأَسْلَمُ وَغِفَارٌ وَأَشْجَعُ لَيْسَ لَهُمْ مَوْلًى دُونَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫০৪, ৩৫১২,; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৮৫৩; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫২০; ইবনু আবী শাইবা ১২/১৬২,১৯৭ নং ১২৪২০, ১২৫২৭; আহমাদ ২/২৯১, ৩৮৮, ৪৬৭; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১৭০; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/২৭৭।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, চাইলে টীকাসহ দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. কুরাইশগণের ফযীলত সম্পর্কে
২৫৬১. আব্দুর রহমান ইবনু আবু বাকরাহ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তোমাদের কি মত, যদি আসলাম, গিফার, দু’টি গোত্র আসাদ ও গাতফানের চেয়ে উত্তম হয়, তাহলে তোমাদের ধারণা মতে তারা (আসাদ ও গাতফান) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলো? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, নিশ্চিতই এরা (আসলাম-গিফার) তাদের (আসাদ- গাতফান) চাইতে অনেক উত্তম।” তিনি বললেন: “মুযাইনা এবং জুহাইনা গোত্রদ্বয় তামীম, আমের ইবনু সা’সা’আ গোত্রের চেয়ে উত্তম হয়, তাহলে তোমাদের ধারণা মতে তারা (মুযাইনা এবং জুহাইনা) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলো? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, নিশ্চিতই এরা (মুযাইনা এবং জুহাইনা) তাদের (তামীম, আমের ইবনু সা’সা’আর) চাইতে অনেক উত্তম।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُرَيْشٍ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَ أَسْلَمُ وَغِفَارٌ خَيْرًا مِنْ الْحَلِيفَيْنِ أَسَدٍ وَغَطَفَانَ أَتُرَوْنَهُمْ خَسِرُوا قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَإِنَّهُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَتْ مُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ خَيْرًا مِنْ تَمِيمٍ وَعَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَمَدَّ بِهَا صَوْتَهُ أَتُرَوْنَهُمْ خَسِرُوا قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَإِنَّهُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫১৫, ৩৫১৬,; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫২২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৯০ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/১৯৬ নং ১২৫২৫ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. আসলাম ও গিফার গোত্রের ফযীলত
২৫৬২. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, আসলাম গোত্রকে নিরাপত্তা দান করেছেন।”[1]
باب فِي فَضْلِ أَسْلَمَ وَغِفَارٍ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৪৭-১৪৮; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫১৪; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারু আসবাহান ২/২২৪; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/৪২৬।
আমরা এর বিস্তারিত তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৩৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. আসলাম ও গিফার গোত্রের ফযীলত
২৫৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, আসলাম গোত্রকে নিরাপত্তা দান করেছেন। আর উসায়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের নাফরমানী করেছে।”[1]
باب فِي فَضْلِ أَسْلَمَ وَغِفَارٍ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ غِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَعُصَيَّةُ عَصَتْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫১৩; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫১৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৮৯ তে। এছাড়াও, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৮৫১, ৩৮৫২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/১৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. ইসলামে কোনো প্রতিজ্ঞা বা চুক্তি নেই
২৫৬৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “ইসলামে (অবৈধ) চুক্তি বা প্রতিজ্ঞার কোন স্থান নেই। আর জাহিলী যুগের শপথের মাঝে ভাল উদ্দেশ্যে যে ওয়াদা ও চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, ইসলাম তাকে আরো শক্তিশালী ও উজ্জীবিত করে দিয়েছে।”[1]
باب لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قِيلَ لِشَرِيكٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ وَفِي الْجَاهِلِيَّةِ لَمْ يَزِدْهُ الْإِسْلَامُ إِلَّا شِدَّةً وَجِدَّةً
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৬১ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯০২ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জুবাইর ইবনু মুতঈম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭১, ৪৩৭২ ও নাসিখুল কুরআন ওয়াল মানসূখাহ পৃ: ৭২ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে কাইস ইবনু আসিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৬৯ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২/৩৩০ তে।
পরিচ্ছেদঃ
২৫৬৫. শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি মু’আবিয়া ইবনু কুররাহ (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নু’মান ইবনু মুকার্রিন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলেন, “কোন কাওমের বোনের পুত্র সে কাওমেরই অন্তর্ভুক্ত”? তিনি বলেন, হাঁ।[1]
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قُلْتُ لِمُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ أَكَانَ أَنَسٌ يَذْكُرُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِلنُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ ابْنُ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৪৬; মুসলিম, যাকাত ১০৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০০২, ৩২০৭, ৩২২৯, ৩২৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮২. কোনো কওমের দাস ও তাদের বোনের ছেলে (ভাগ্নে) তাদেরই অন্তর্ভূক্ত
২৫৬৬. কাছীর ইবনু আব্দুল্লাহ তার পিতা হতে, তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন কাওমের গোলাম সে কওমেরই অন্তুর্ভূক্ত; আবার কোনো কওমের (মৈত্রিচুক্তিতে আবদ্ধ) মিত্র সেই কওমেরই অন্তুর্ভূক্ত; আবার কওমের বোনের পুত্র সে কওমেরই অন্তর্ভুক্ত।”[1]
باب فِي مَوْلَى الْقَوْمِ وَابْنُ أُخْتِهِمْ مِنْهُمْ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْهُمْ وَحَلِيفُ الْقَوْمِ مِنْهُمْ وَابْنُ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ
তাখরীজ: তাবারানী, কাবীর ১৭/১২ নং ২। দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ ৯৫৭, ৯৫৮, ৯৬১, ৯৬২ হাদীসগুলি।
আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/১৪৮-১৪৯ ও তালখীসুল হাবীর ৪/২১৪।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. যে দাস তার নিজের মনিব ছাড়া অন্যকে নিজের মনিব হিসেবে পরিচয় দেয়
২৫৬৭. ’আমর ইবনে খারিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (আরোহী) উটের নিচে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যকে তার পিতা বলে দাবী করে (পরিচয় দেয়) অথবা নিজের মনিবকে বাদ দিয়ে অপরকে মনিব বলে পরিচয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার নফল বা ফরয কোন কিছুই কবুল করা হবে না।”[1]
باب فِي الَّذِي يَنْتَمِي إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ قَالَ كُنْتُ تَحْتَ نَاقَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ رَغْبَةً عَنْهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫০৮ তে। ((তিরমিযী ২১২১; ইবনু মাজাহ, ওয়াসা’ইয়া ২৭১২; নাসায়ী ৩৬৪১, ৩৬৪২, ৩৬৪৩; আহমাদ ১৭২১০, ১৭৬১৫, ১৭৬২১। - অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩২-৩৩ নং ৬০; ইবনু মাজাহ, ওয়াসায়া ২৭১২; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ৭২৪; দারুকুতনী ৪/১৫২-১৫৩; বাইহাকী, ওয়াসায়া ৬/২৬৪; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৭৮৬, ২৪৮১; সাঈদ ইবনু মানসুর নং ৪২৮; ইবনু আবী শাইবা ১১/১৪৯ নং ১০৭৬৬; আব্দুর রাযযাক, নং ১৬৩০৬। আমি এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭১৯৮ তে।
((এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, জিযইয়া নং ২১৭২ তে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. যে দাস তার নিজের মনিব ছাড়া অন্যকে নিজের মনিব হিসেবে পরিচয় দেয়
২৫৬৮. সা’দ এবং আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা দু’জন বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, জান্নাত তার জন্য হারাম।”[1]
باب فِي الَّذِي يَنْتَمِي إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ سَعْدٍ وَأَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُمَا حَدَّثَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪৩২৬, ৪৩২৬; মুসলিম, ঈমান ৬৩। এটি সামনে ২৯০২ তে আসছে, সেখানে তাখরীজ দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৫, ৪১৬ তে।