পরিচ্ছেদঃ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুর্বে বর্ণিত রমল করেছেন তার বিবরণ
৩৮০০. আবুত তুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গমন করে বলি, “হে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, নিশ্চয়ই আপনার কওমের লোকেরা বলছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমল করেছেন এবং এটা সুন্নাত।”তখন তিনি বলেন, “তারা কিছু সত্য ও কিছু অসত্য কথা বলেছেন। অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমল করেছেন কিন্তু এটা সুন্নাত নয়।” তারপর তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় আগমন করেন আর মুশরিকরা কুয়াইকিআন নামক স্থানে ছিলো। তারা বলাবলি করছিলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ ক্লীষ্ট ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে রমল করার (বীরদর্পে জোর কদমে হাঁটার) নির্দেশ দেন, যাতে তিনি মুশরিকদের নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে পারেন।”[1]
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৬৪৭)
ذِكْرُ الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجَلِهَا رَمَلَ صلى الله عليه وسلم فِيمَا وَصَفْنَا
3800 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ فِطْرٍ: عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ إِنَّ قَوْمَكَ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَلَ وَأَنَّهُ سُنَّةٌ؟ فَقَالَ: صَدَقُوا وكَذَبُوا قَدْ رَمَلَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ ـ ثُمَّ قَالَ: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُشْرِكُونَ عَلَى قُعَيْقِعَانَ وَقَدْ تَحَدَّثُوا أَنَّ بِصَحَابَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُزَالاً وَجَهْدًا فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْمُلُوا ليُرِيَهُمْ أن بهم قوة.
الراوي : أَبُو الطُّفَيْلِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 3800 | خلاصة حكم المحدث: صحيح - ((صحيح أبي داود)) (1647): م ، ويأتي بنحوه (3830).
পরিচ্ছেদঃ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুর্বে বর্ণিত রমল করেছেন তার বিবরণ
৩৮০১. ইবনু খুসাইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আবুত তুফাইলকে কা‘বার সাথে সংযুক্ত তিনটি কোণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। আবুত তুফাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি এই ব্যাপারে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের সাথে সন্ধির সময়ে যখন মাররুয যাহরান নামক জায়গায় যাত্রা বিরতি দেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের কাছে সংবাদ পৌঁছলো যে, কুরাইশরা বলছে, “তোমরা দুর্বল লোকদের সাথে সন্ধি করেছো।”
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি আমরা আমাদের বাহনকে জবাই করতাম, তবে আমরা সেগুলোর চর্বি খেতে পারতাম এবং সেগুলোর ঝোল পান করতে পারতাম। অতঃপর কাল ভোরে আমরা কুরাইশ সম্প্রদায়ের কাছে শক্তিশালী অবস্থায় যেতে পারবো।” জবাবে তিনি বলেন, “না, তোমরা বরং তোমরা তোমাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসো।” অতঃপর তারা তাদের দস্তরখান বিছিয়ে দেন, তারপর তারা তাদের সমস্ত খাদ্য সামগ্রী একত্রিত করেন। তারপর তিনি তাদের জন্য তাতে বরকতের দু‘আ করেন। তারপর তারা তৃপ্তি সহকারে খাবার গ্রহণ করেন। তারপর তারা অবশিষ্ট খাবার তাদের পাত্রে ঢেলে নেন। অতঃপর যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের কাছে গমন করেন, আর কুরাইশরা হাজরে আসওয়াদের দিকে একত্রিত হয়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাদর ইবতেবা‘ (চাদরকে ডান বগলের নিচে নিয়ে দুই প্রান্তকে পিঠ ও বুকের উপর দিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখা) করে পরিধান করেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমাদের মাঝে যেন দুর্বলতা দেখতে না পায়।” অতঃপর তিনি রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করেন। অতঃপর কুরাইশরা অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি এবং সাহাবীগণ স্বাভাবিকভাবে হাঁটেন। অতঃপর তারা হাজরে আসওয়াদের রুকন চুম্বন করেন। এভাবে তিন চক্কর দেন। এজন্য কুরাইশরা মুসলিমদের রমল করে হাঁটা অবস্থায় তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলে, “যেন তারা হরিণ (এর মতো লাফিয়ে চলছে)।”
ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর এটি সুন্নাত হয়ে যায়।”[1]
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৬৫০)
ذِكْرُ الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجَلِهَا رَمَلَ صلى الله عليه وسلم فِيمَا وَصَفْنَا
3801 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ فَقُلْتُ: الْأَطْرَافُ الثَّلَاثَةُ الَّتِي تُسند بِالْكَعْبَةِ؟ قَالَ أَبُو الطُّفَيْلِ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْهَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا نَزَلَ مرَّ الظَّهْرَانِ فِي صُلْحِ قريشٍ بَلَغَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ قُرَيْشًا كَانَتْ تَقُولُ: تُبَايعُونَ ضُعَفَاءَ قَالَ أَصْحَابُهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَكَلْنَا مِنْ ظَهْرِنَا فَأَكَلْنَا مِنْ شُحُومِهَا وَحَسَوْنَا مِنَ الْمَرَقِ فَأَصْبَحْنَا غَدًا حَتَّى نَدْخُلَ عَلَى الْقَوْمِ وَبِنَا جِمَامٌ؟ قَالَ: (لَا وَلَكِنِ ائْتُونِي بِفَضْلِ أَزْوَادِكُمْ) فَبَسَطُوا أَنْطَاعَهُمْ ثُمَّ جَمَعُوا عَلَيْهَا مِنْ أَطْعِمَاتِهِمْ كُلَّهَا فَدَعَا لَهُمْ فِيهَا بِالْبَرَكَةِ فَأَكَلُوا حَتَّى تضلَّعوا شِبَعاً فَأَكْفَتُوا فِي جُرَبِهمْ فُضُولَ مَا فَضَلَ مِنْهَا فَلَمَّا دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على قُرَيْشٍ وَاجْتَمَعَتْ قُرَيْشٌ نَحْوَ الحِجْرِ اضْطَبَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ: (لَا يَرَى الْقَوْمُ فِيكُمْ غَميزَةً) وَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ وتغيِّبَتْ قُرَيْشٌ مَشَى هُوَ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى اسْتَلَمُوا الرُّكْنَ الْأَسْوَدَ فَطَافَ ثَلَاثَةَ أَطْوَافٍ فَلِذَلِكَ تَقُولُ قُرَيْشٌ ـ وَهُمْ يَمرُّون بِهِمْ يَرْمُلُون ـ: لَكَأَنَّهُمُ الْغِزْلَانُ قال ابن عباس: وكانت سُنَّةً
صحيح - ((صحيح أبي داود)) (1650) ، ((الصحيحة)) (2573).