পরিচ্ছেদঃ ৭/১. রোযার ফযীলাত।
১/১৬৩৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর মর্জি হলে আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকাজের প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ্ বলেনঃ তবে রোযা ব্যতীত, তা আমার জন্যই (রাখা হয়) এবং আমিই তার প্রতিদান দিবো। সে তার প্রবৃত্তি ও পানাহার আমার জন্যই ত্যাগ করে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দঃ একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং আরেকটি আনন্দ রয়েছে তার প্রভু আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাতের সময়। রোযাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ مَا شَاءَ اللهُ يَقُولُ اللهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Every good deed of the son of Adam will be multiplied manifold. A good deed will be multiplied ten times up to as many as seven hundred times, or as much as Allah wills. Allah says: ‘Except for fasting, which is for Me and I shall reward for it. He gives up his desire and his food for My sake.’ The fasting person has two joys, one when he breaks his fast and another when he meets his Lord. The smell that comes from the mouth of a fasting person is better before Allah than the fragrance of musk.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১. রোযার ফযীলাত।
২/১৬৩৯। ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেমন তোমাদের রক্ষাকারী, রোযাও তদ্রূপ জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ أَنَّ مُطَرِّفًا مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ الثَّقَفِيَّ دَعَا لَهُ بِلَبَنٍ يَسْقِيهِ قَالَ مُطَرِّفٌ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «الصِّيَامُ جُنَّةٌ مِنْ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنْ الْقِتَالِ».
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
Mutarrif, from the tribe of Banu ‘Amir bin Sa’sa’ah narrated that ‘Uthman bin Abul-‘As Ath-Thaqafi invited him to drink some milk that he poured for him. Mutarrif said:
“I am fasting.” ‘Uthman said: “I heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: ‘Fasting is a shield against the Fire just like the shield of anyone of you against fighting.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১. রোযার ফযীলাত।
৩/১৬৪০। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতের একটি দরজার নাম ’রাইয়্যান’। কিয়ামতের দিন সেখান থেকে আহবান করা হবেঃ রোযাদারগণ কোথায়? যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, সে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يُدْعَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَمَنْ كَانَ مِنْ الصَّائِمِينَ دَخَلَهُ وَمَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا».
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। (তাহযীবুল কামাল রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Sahl bin Sa’d that the Prophet (ﷺ) said:
“In Paradise there is a gate called Rayyan. On the Day of Resurrection the call will go out saying: ‘Where are those who used to fast?’ Whoever is among those who used to fast will enter it, and whoever enters it will never thirst again.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২. রমযান মাসের ফযীলত
১/১৬৪১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখলো, তার পূর্বের গুণাহরাশি মাফ করা হলো।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘Whoever fasts Ramadan out of faith and the hope of reward will be forgiven his previous sins.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২. রমযান মাসের ফযীলত
২/১৬৪২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন রমযান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অভিশপ্ত জিনদের শৃংখলিত করা হয়,জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এর একটি দরজাও বন্ধ হয় না এবং একজন ঘোষক ডেকে বলেন, হে সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি! অগ্রসর হও, হে অসৎকর্মপরায়ণ! থেমে যাও। আল্লাহ্ (রমযানের) প্রতিটি রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَنَادَى مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنْ النَّارِ وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“When the first night of Ramadan comes, the satans and mischievous jinns are chained up, and the gates of the Fire are closed, and none of its gates are opened. The gates of Paradise are opened and none of its gates are closed. And a caller cried out: ‘O seeker of good, proceed, O seeker of evil, stop.’ And Allah has necks (people) whom He frees (from the Fire), and that happens every day.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২. রমযান মাসের ফযীলত
৩/১৬৪৩। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি ইফতারের অর্থাৎ প্রতি রাতে বেশ সংখ্যক লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلهِ عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءَ وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
It was narrated from Jabir that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“At every breaking of the fast Allah has people whom He frees (from the Fire), and that happens every night.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২. রমযান মাসের ফযীলত
৪/১৬৪৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাস শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের নিকট এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُومٌ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন বিলাল সম্পর্কে আবু জা'ফার আল-উকায়লী বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, আমি তার ব্যাপারে ভাল ছাড়া খারাফ কিছু শুনিনি। ইমাম যাহাবী বলেন, মানুষ যেভাবে ভুল করে তিনিও সেরকম ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৯৯, ২৪/৫৪৫ নং পৃষ্ঠা)
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। রমাজান মাস হলো ধৈর্যধারণ, রোজা পালন, নামাজ, উপাসনা, জিকির, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করার মাস। এই মাসে একটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ রজনী আছে। সেই একটি রজনীতে সৎ কর্ম সম্পাদন করলে, সেই সৎ কর্মের মান হবে এক হাজার মাসে সৎকর্ম সম্পাদন করার চেয়ে বেশি উত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই মর্যাদা থেকে দূরে থাকবে, সেই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।
২। এই হাদীসটির দ্বারা এই বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যে, মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন এই কল্যাণময় রমাজান মাসে বেশি বেশি সৎ কর্ম সম্পাদন করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করে। যাতে মহান আল্লাহ তাকে পুণ্য দান করেন এবং তার পাপ ক্ষমা করে দেন।
It was narrated that Anas bin Malik said:
“Ramadan began, and the Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘This month has come to you, and in it there is a night that is better than a thousand months. Whoever is deprived of it is deprived of all goodness, and no one is deprived of its goodness except one who is truly deprived.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩. সন্দেহের দিনের (ইয়াওমুল-শাক্ক) রোযা।
১/১৬৪৫। সিলা ইবনু যুফার (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সন্দেহের দিনে আমরা আম্মার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি (ভুনা) বকরী পেশ করা হলো। কতক লোক পিছনে সরে গেলো। আম্মার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আজ রোযা রাখলো সে তো অবশ্যই আবূল কাসিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবাধ্যাচরণ করলো।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارٍ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَأُتِيَ بِشَاةٍ فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ هَذَا الْيَوْمَ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী জুরজানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হুজ্জাহ নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সিকাহ রাবীর সদৃস্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Silah bin Zufar said:
“We were with ‘Ammar on the day concerning which there was some doubt. A (roasted) sheep was brought and some of the people moved away. ‘Ammar said: ‘Whoever is fasting on this day has disobeyed Abu Qasim (ﷺ).’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩. সন্দেহের দিনের (ইয়াওমুল-শাক্ক) রোযা।
২/১৬৪৬। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, চাঁদ দেখার একদিন আগে থেকে রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ تَعْجِيلِ صَوْمِ يَوْمٍ قَبْلَ الرُّؤْيَةِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তার মজলিসে বসে জানতে পেরেছি যে, তার মাঝে মিথ্যা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনু মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী ও আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু যুরআহ তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩০৫, ৩৫/৩১ নং পৃষ্ঠা)। উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন সাঈদ এর কারণে দুর্বল। হাদিসটির ৭৫১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩৭ টি অধিক দুর্বল। ১৯৫ টি দুর্বল, ১৯৩ টি হাসান, ৩২৬ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৯০০, ১৯০৬, ১৯০৭, ১৯০৯, মুসলিম ১০৮০, তিরমিযি ৬৮৪, ৬৮৫, ৬৮৮, আবু দাউদ ২৩২৬, ২৩২৭, ২৩৩৫, ২৩৪২, দারিমী ১৬৮৪, ১৬৮৫, ১৬৮৯, ১৬৯০, ১৬৯১ ইত্যাদি।
It was narrated that Abu Hurairah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) forbade anticipating the fast by fasting one day before sighting (of the crescent).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩. সন্দেহের দিনের (ইয়াওমুল-শাক্ক) রোযা।
৩/১৬৪৭। কাসিম আবূ ’আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছেন, রমাযান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ রোযা অমুক অমুক দিন। আমরা আগেই সেই রোযা রাখবো। অতএব যার ইচ্ছা সে আগে রোযা রাখুক, আর যার ইচ্ছা পরে রাখুক।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ قَبْلَ شَهْرِ رَمَضَانَ الصِّيَامُ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا وَنَحْنُ مُتَقَدِّمُونَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَتَقَدَّمْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَتَأَخَّرْ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হায়সাম বিন হুমায়দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার ভাল ছাড়া খারাফ কিছু জানি না। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু মুসহির বলেন, তিনি দুর্বল ও কাদিরিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৪৩, ৩০/৩৭০ নং পৃষ্ঠা) ২. আলা ইবনুল হারিস সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ তবে কাদিরিয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৬০, ২২/৪৭৮ নং পৃষ্ঠা) ৩. কাসিম আবু আব্দুর রহমান সম্পর্কে আল আজালী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি সিকাহ নন। ইমাম তিরমিযি তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অপরিচিত। মুফাদদাল বিন গাসসান বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলীগত ফিসক এর সাথে জড়িত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮০০, ২৩/৩৮৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Qasim Abu ‘Abdur-Rahman that he heard Mu’awiyah bin Abu Sufyan on the pulpit saying:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to say from the pulpit, before the month of Ramadan: ‘Fasting will begin on such and such a day, but we are going to start fasting earlier, so whoever wants to start fasting earlier (i.e., in Sha’ban), let him do so, and whoever wants to wait until Ramadan begins, let him do so.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪. শাবান মাসে রোযা রাখতে রাখতে রমযান মাসে পৌঁছা।
১/১৬৪৮। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে রোযা রাখতে রাখতে রমযানে পৌঁছতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে সাওরীর হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Umm Salamah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to join Sha’ban to Ramadan.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪. শাবান মাসে রোযা রাখতে রাখতে রমযান মাসে পৌঁছা।
২/১৬৪৯। রবীআহ ইবনুল গায (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি ’আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় গোটা শাবান মাস রোযা রাখতেন, এমনকি এভাবে রমযান মাসে উপনীত হতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ «كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ حَتَّحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ حَتَّى يَصِلَهُ بِرَمَضَانَ».ى يَصِلَهُ بِرَمَضَانَ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
It was narrated that Rabi’ah bin Ghaz asked ‘Aishah about the fasting of the Messenger of Allah (ﷺ). She said:
“He used to fast all of Sha’ban, until he joined it to Ramadan.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫. রমযান মাস শুরু হওয়ার আগের দিন রোযা রাখা নিষেধ, কিন্তু কারো নিয়মিত রোযা রাখতে রাখতে সেদিন পৌঁছলে তার জন্য নয়।
১/১৬৫০। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমাযান মাসের এক দিন বা দু’ দিন আগে রোযা রাখা শুরু না করে। তবে যে ব্যক্তি অনবরত রোযা রাখতে অভ্যস্ত, সে ঐ দিন রোযা রাখতে পারে।
بَاب مَا جَاءَ فِي النَّهْيِ عَنْ أَنْ يُتَقَدَّمَ رَمَضَانُ بِصَوْمٍ إِلَّا مَنْ صَامَ صَوْمًا فَوَافَقَهُ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبٍ وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا تَقَدَّمُوا صِيَامَ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلَا بِيَوْمَيْنِ إِلَّا رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَيَصُومُهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল হামিদ বিন হাবীব বিন আবুল ঈশরীন সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী ও আবু হাতিম আর-রাযী সিকাহ বললেও ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭১০, ১৬/৪২০ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘Do not anticipate Ramadan by fasting one or two days before, except for a man who has a habitual pattern of fasting, in which case let him fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫. রমযান মাস শুরু হওয়ার আগের দিন রোযা রাখা নিষেধ, কিন্তু কারো নিয়মিত রোযা রাখতে রাখতে সেদিন পৌঁছলে তার জন্য নয়।
২/১৬৫১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে রমযান মাস না আসা পর্যন্ত কোন রোযা নাই।
بَاب مَا جَاءَ فِي النَّهْيِ عَنْ أَنْ يُتَقَدَّمَ رَمَضَانُ بِصَوْمٍ إِلَّا مَنْ صَامَ صَوْمًا فَوَافَقَهُ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ ح و حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ قَالَا حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَلَا صَوْمَ حَتَّى يَجِيءَ رَمَضَانُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘When it is the middle of Sha’ban, do not fast until Ramadan comes.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬. নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান।
১/১৬৫২। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে (সন্ধ্যায়) নতুন চাঁদ দেখেছি। তিনি বলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, ’’আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’’? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ হে বিলাল! ওঠো এবং লোকেদের মধ্যে ঘোষণা দাও যে, তারা যেন আগামীকাল থেকে রোযা রাখে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهَادَةِ عَلَى رُؤْيَةِ الْهِلَالِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَوْدِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبْصَرْتُ الْهِلَالَ اللَّيْلَةَ فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ قَالَ قُمْ يَا بِلَالُ فَأَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا قَالَ أَبُو عَلِيٍّ هَكَذَا رِوَايَةُ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ وَالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ فَلَمْ يَذْكُرْ ابْنَ عَبَّاسٍ وَقَالَ فَنَادَى أَنْ يَقُومُوا وَأَنْ يَصُومُوا.
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী সিমাক বিন হারব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তার পূর্বে বর্ণিত হাদিস যারা শ্রবন করেছেন তা সহিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭৯, ১২/১১৫ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“A Bedouin came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘I have seen the new crescent tonight.’ He said: ‘Do you bear witness that none has the right to be worshipped but Allah and that Muhammad is the Messenger of Allah (ﷺ)?’ He said: ‘Yes.’ He said: ‘Get up, O Bilal, and announce to the people that they should fast tomorrow.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬. নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান।
২/১৬৫৩। আবূ উয়াইমির ইবনু আনাস ইবনু মালিক (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী এবং আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমার এক চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেন, মেঘের কারণে আমরা শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখতে পাইনি। আমরা (পরের দিন) রোযা রাখলাম। দিনের শেষভাগে একটি কাফেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে গতকাল চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদেরকে ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করার এবং পরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهَادَةِ عَلَى رُؤْيَةِ الْهِلَالِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُمُومَتِي مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا أُغْمِيَ عَلَيْنَا هِلَالُ شَوَّالٍ فَأَصْبَحْنَا صِيَامًا فَجَاءَ رَكْبٌ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ فَشَهِدُوا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ رَأَوْا الْهِلَالَ بِالْأَمْسِ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنْ يُفْطِرُوا وَأَنْ يَخْرُجُوا إِلَى عِيدِهِمْ مِنْ الْغَدِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Umair bin Anas bin Malik said:
“My paternal uncles among the Ansar who were among the Companions of the Messenger of Allah (ﷺ) told me: ‘The new crescent of Shawwal was covered with clouods, so we fasted the next day. Then some riders came at the end of the day and testified to the Prophet (ﷺ) that they had seen the new crescent the night before. The Messenger of Allah (ﷺ) commanded them to break their fast and to go out to offer the ‘Eid prayer the following morning.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৭. চাঁদ দেখে রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করো।
১/১৬৫৪। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার (রোযার সমাপ্তি) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে (তিরিশ দিন) পূর্ণ করবে। ইবনু ’উমার (রাঃ) নতুন চাঁদ দেখার একদিন আগেও রোযা রাখতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ
حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمْ الْهِلَالَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَصُومُ قَبْلَ الْهِلَالِ بِيَوْمٍ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমান আল উসমানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Umar that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘When you see the new crescent, fast, and when you see it, stop fasting. If it is cloudy then calculate it (as thirty days).” Ibn ‘Umar used to fast one day before the new crescent was seen.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৭. চাঁদ দেখে রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করো।
২/১৬৫৫। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নতুন চাঁদ দেখে রোযা রাখা শুরু করবে এবং (শাওয়ালের) নতুন চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তোমরা তিরিশ দিন রোযা রাখবে।
بَاب مَا جَاءَ فِي صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ
حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمْ الْهِلَالَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلَاثِينَ يَوْمًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমান আল উসমানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“When you see the new crescent then fast, and when you see it then stop fasting. If it is cloudy then fast thirty days.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৮. ঊনতিরিশ দিনেও মাস হয়।
১/১৬৫৬। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ মাসের কত দিন গত হয়েছে? রাবী বলেন, আমরা বললাম, বাইশ দিন এবং আট দিন বাকী আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনে হয় এবং মাস এত দিনেও হয়। তৃতীয়বার তিনি এক আঙ্গুল বন্ধ রাখেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَمْ مَضَى مِنْ الشَّهْرِ قَالَ قُلْنَا اثْنَانِ وَعِشْرُونَ وَبَقِيَتْ ثَمَانٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الشَّهْرُ هَكَذَا وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَالشَّهْرُ هَكَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَأَمْسَكَ وَاحِدَةً
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘How much of the month has passed?” We said: “Twenty-two (days), and there are eight left.” The Messenger of Allah (ﷺ) said: “The month is like that, and the month is like that, (and the month is like that), three times, and he withheld one finger the last time.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৮. ঊনতিরিশ দিনেও মাস হয়।
২/১৬৫৭। সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনেও হয় এবং তৃতীয়বারে তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ করে রাখেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا وَعَقَدَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ فِي الثَّالِثَةِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Muhammad bin Sa’d bin Abu Waqqas that his father said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘The month is like that and like that and like that,’ and he showed nine fingers on the third time to indicate twenty-nine.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৮. ঊনতিরিশ দিনেও মাস হয়।
৩/১৬৫৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ঊনত্রিশ দিনের চেয়ে বেশির ভাগ তিরিশ দিনই (রমযানের রোযা) রেখেছি।
بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ
حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا صُمْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تِسْعًا وَعِشْرِينَ أَكْثَرُ مِمَّا صُمْنَا ثَلَاثِينَ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
It was narrated that Abu Hurairah said:
"(The months in which) We fasted twenty-nine days at the time of the Messenger of Allah (ﷺ), were more than (the months in which) we fasted thirty days.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৯. ঈদের দু’ মাস
১/১৬৫৯। আবূ বকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈদের দু’মাস রমযান এবং যুল-হিজ্জা (সাধারণত) একই বছরে কম (ঊনতিরিশ দিনে) হয় না।
بَاب مَا جَاءَ فِي شَهْرَيْ الْعِيدِ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ شَهْرَا عِيدٍ لَا يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that from ‘Abdur-Rahman bin Abu Bakrah, from his father, that the Prophet (ﷺ) said:
“Two months of ‘Eid whose reward cannot be reduced (even if they are twenty-nine days): ‘Ramaadan and Dhul-Hijjah.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৯. ঈদের দু’ মাস
২/১৬৬০। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন তোমরা ইফতার (রোযা শেষ) করো সেদিন ঈদুল ফিতর এবং যেদিন তোমরা কুরবানী করো সেদিন ঈদুল আযহা।
بَاب مَا جَاءَ فِي شَهْرَيْ الْعِيدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي عُمَرَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالْأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন উমার বিন আবু উমার আল-মুকরী সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞাত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৯৮, ২৬/১৭৬ নং পৃষ্ঠা)। উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন উমার বিন আবু উমার আল-মুকরী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৬২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১৬ টি দুর্বল, ২৬ টি হাসান, ২০ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ৬৯৭, ৮০২, সুনান আদ দারাকুতনী ২১৬০, ২১৬১, ২৪২৪, শারহুস সুন্নাহ ১৭২৫, ১৭২৬, মু'জামুল আওসাত ৩৩১৫ ইত্যাদি।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে কোনো ঈমানদার মুসলিম ব্যক্তি যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণের সাথেই রোজা পালন করতে শুরু করবে, এবং তাদের সাথেই ঈদুল ফেতর পালন করার জন্য রোজা রাখা ভঙ্গ করবে। তদ্রূপ তাদের সাথেই ঈদুল আদহার কুরবানি জবাই করবে। এবং তাদের সাথেই ঈদ পালন করবে। আর কোনো ঈমানদার মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা জায়েজ নয় যে, সে যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণকে বাদ দিয়ে নিজে একাই একতরফাভাবে রোজা পালন করবে অথবা ঈদ পালন করবে কিংবা ঈদুল আদহার কুরবানি জবাই করবে। কেননা যে কোনো মুসলিম সমাজে মুসলিমগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য এবং তাদের মধ্যে থেকে অনৈক্য, পার্থক্য এবং দ্বন্দ্ব দূরে রাখাও একটি অনিবার্য বিষয়।
২। এই হাদীসটির দাবি অনুযায়ী এই বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত ইসলামের বিধিবিধানের একটি লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন রক্ষা করা, মুসলিমগণকে একত্রিত করে রাখা, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখা। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে মুসলিমগণকে ইবাদত উপাসনা, রোজা, কুরবানি এবং ঈদের নামাজের বিষয়ে একত্রিত করা ও তাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো মূল্য নেই। যদিও প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তিগত মতামতগুলি বিশেষভাবে কোনো দিক দিয়ে সত্য ও সঠিক বলে মনে হয়।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Al-Fitr is the day when you break your fast and Al-Adha is the day when you offer sacrifices.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১০. সফররত অবস্থায় রোযা রাখা।
১/১৬৬১। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সফররত অবস্থায় রোযা রাখতেন এবং কখনো রাখতেন না।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ وَأَفْطَرَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) fasted while he was traveling, and he broke his fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১০. সফররত অবস্থায় রোযা রাখা।
২/১৬৬২। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা আল-আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করে বলেন, আমি রোযা রাখি। আমি কি সফররত অবস্থায়ও রোযা রাখবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি চাইলে রোযা রাখো, আর যদি চাও না রাখো।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلَ حَمْزَةُ الْأَسْلَمِيُّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“Hamzah Al-Aslami asked the Messenger of Allah (ﷺ): ‘I am fasting, should I fast while traveling?’ The Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘If you wish, then fast, and if you wish, then break your fast.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১০. সফররত অবস্থায় রোযা রাখা।
৩/১৬৬৩। আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রচন্ড গরমের মৌসুমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে প্রচন্ড খরতাপের শিকার হলাম। গরমের তীব্রতার কারণে লোকেরা তাদের হাত মাথার উপর রাখছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) ব্যতীত দলের মধ্যে আর কেউ রোযাদার ছিলো না।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ح و حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَمَّالُ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَيَّانَ الدِّمَشْقِيِّ حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فِي الْيَوْمِ الْحَارِّ الشَّدِيدِ الْحَرِّ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِي الْقَوْمِ أَحَدٌ صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা) ২. উসমান বিন হায়্যান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি আল-ওয়ালীদ বিন আবদুল মালিক এর কর্মচারী। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮০৬, ১৯/৩৬০ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Abu Darda’ said:
“We were with the Messenger of Allah (ﷺ) on one of his journeys on a hot day, and it was extremely hot. A man would put his hand over his head because of the intense heat. No one among the people was fasting except for the Messenger of Allah (ﷺ) and ‘Abdullah bin Rawahah.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১১. সফররত অবস্থায় রোযা না রাখা।
১/১৬৬৪। কা’ব ইবনু আসেম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফরে রোযা রাখা সওয়াবের কাজ নয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِفْطَارِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Ka’b bin ‘Asim that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘It is not an act of righteousness to fast while traveling.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১১. সফররত অবস্থায় রোযা না রাখা।
২/১৬৬৫। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফরে রোযা রাখা সওয়াবের কাজ নয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِفْطَارِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Umar that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"It is not an act of righteousness to fast while traveling."
পরিচ্ছেদঃ ৭/১১. সফররত অবস্থায় রোযা না রাখা।
৩/১৬৬৬। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফরে রোযা রাখে সে আবাসে উপস্থিত রোযা ভঙ্গকারী ব্যক্তির অনুরূপ। আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, হাদীসটি নির্ভরযোগ্য নয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِفْطَارِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى التَّيْمِيُّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَائِمُ رَمَضَانَ فِي السَّفَرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন মুসা আত-তায়মী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৯৭, ১৬/১৮৪ নং পৃষ্ঠা) ২. উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজলী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from ‘Abdur-Rahman bin ‘Awf that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“The one who fasts Ramadan while traveling is like one who breaks his fast when not traveling.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১২. গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের রোযা না রাখার সুযোগ।
১/১৬৬৭। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল আশহাল গোত্রের এবং ’আলী ইবনু মুহাম্মাদের মতে ’আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের উপর হামলা করলো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলাম যে, তিনি সকালের নাস্তা করছেন। তিনি বলেনঃ কাছে এসো এবং আহার করো। আমি বললাম, আমি রোযাদার। তিনি বলেনঃ বসো, আমি তোমার সাথে রোযা সম্পর্কে আলোচনা করবো। মহান আল্লাহ্ মুসাফির থেকে অর্ধেক সালাত হ্রাস করেছেন এবং মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীকে রোযা রাখার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দু’টি অথবা একটির কথা বলেছেন। আমার নিজের জন্য দুঃখ হয়, আমি কেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে আহার করলাম না!
بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِفْطَارِ لِلْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ ادْنُ فَكُلْ قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ اجْلِسْ أُحَدِّثْكَ عَنْ الصَّوْمِ أَوْ الصِّيَامِ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنْ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنْ الْمُسَافِرِ وَالْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوْ الصِّيَامَ وَاللهِ لَقَدْ قَالَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَاهُمَا أَوْ إِحْدَاهُمَا فَيَا لَهْفَ نَفْسِي فَهَلَّا كُنْتُ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু হিলাল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। বাযযার বলেন, তিনি গায়র হাফিয। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৫৬, ২৫/২৯২ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Anas bin Malik that a man from the tribe of Banu ‘Abdul-Ashhal, while (one narrator) ‘Ali bin Muhammad said (he was) a man from the tribe of Banu ‘Abdullah bin Ka’b, said:
“The cavalry of the Messenger of Allah (ﷺ) attacked us, so I came to the Messenger of Allah (ﷺ) while he was eating a meal. He said: ‘Come and eat.’ I said: ‘I am fasting.’ He said: ‘Sit down and I will tell you about fasting. Allah has relieved the traveler of half of the prayer, and He has relieved the traveler, the pregnant, and the nursing mothers of the duty to fast.’ By Allah, the Prophet (ﷺ) said them, both, or one of them, and now I feel so disappointed that I had not eaten of the food of the Messenger of Allah (ﷺ).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১২. গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের রোযা না রাখার সুযোগ।
২/১৬৬৮। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে গর্ভবতী নারী নিজ জীবনের ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং যে স্তন্যদায়িনী মা তার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রোযা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِفْطَارِ لِلْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِلْحُبْلَى الَّتِي تَخَافُ عَلَى نَفْسِهَا أَنْ تُفْطِرَ وَلِلْمُرْضِعِ الَّتِي تَخَافُ عَلَى وَلَدِهَا
তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী রাবী' বিন বাদর সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৮৫৪, ৯/৬৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Anas bin Malik said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) granted a concession to pregnant women who fear for themselves, allowing them not to fast, and to nursing mothers who fear for their infants.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৩. রমযানের রোযা কাযা করা।
১/১৬৬৯। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উপর রমযান মাসের রোযার কাযা থাকলে আমি শাবান মাস না আসা পর্যন্ত তা রাখতাম না।
بَاب مَا جَاءَ فِي قَضَاءِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ إِنْ كَانَ لَيَكُونُ عَلَيَّ الصِّيَامُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَمَا أَقْضِيهِ حَتَّى يَجِيءَ شَعْبَانُ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী ইবনুল মুনযীর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সিকাহ। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ২১/১৪৫ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Abu Salamah said:
“I heard ‘Aishah say: ‘I used to owe fasts from the month of Ramadan, and I would not make them up for until Sha’ban came.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৩. রমযানের রোযা কাযা করা।
২/১৬৭০। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আমরা ঋতুবতী হতাম। তিনি আমাদের (ছুটে যাওয়া) রোযার কাযা করার নির্দেশ দিতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي قَضَاءِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّوْمِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী উবায়দ সম্পর্কে আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মানুষ তাকে বর্জন করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৬০, ১৯/২৭৩ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু উবায়দাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৬ টি শাহিদ হাদিস রিয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৩২১, মুসলিম ৩৩৬, ৩৩৭, তিরমিযি ৭৮৭, আবু দাউদ ২৬২, দারিমী ৯৮৬, ৯৮৮, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১২৭৭, শারহুস সুন্নাহ ৩২৩ ইত্যাদি।
It was narrated that ‘Aishah said:
“We used to menstruate at the time of the Prophet (ﷺ), and he would order us to make up for the (missed) fasts.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৪. যে ব্যক্তি রমযানের একটি রোযাও ভঙ্গ করে তার কাফফারা।
১/১৬৭১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিান বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বলেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো। সে বললো, আমি রমযানের রোযারত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করো সে বললো, আমার সেই সামর্থ্য নাই। তিনি বলেনঃ তাহলে একাধারে দু’ মাস রোযা রাখো। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নাই। তিনি বলেনঃ তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নাই। তিনি বলেনঃ তুমি বসো। অতএব সে বসে থাকলো। ইতোমধ্যে এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তিনি বলেনঃ যাও এটা দান করে দাও। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! মদিনার দু’ কংকরময় প্রান্তরের মাঝে আমাদের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। তিনি বলেনঃ যাও, এগুলো তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।
১/১৬৭১ (১)। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার পরিবর্তে একদিন রোযা রাখো।
بَاب مَا جَاءَ فِي كَفَّارَةِ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا أَهْلَكَكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ لَا أَجِدُ قَالَ صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لَا أُطِيقُ قَالَ أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لَا أَجِدُ قَالَ اجْلِسْ فَجَلَسَ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أُتِيَ بِمِكْتَلٍ يُدْعَى الْعَرَقَ فَقَالَ اذْهَبْ فَتَصَدَّقْ بِهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنَّا قَالَ فَانْطَلِقْ فَأَطْعِمْهُ عِيَالَكَ
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَقَالَ وَصُمْ يَوْمًا مَكَانَهُ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল জাব্বার বিন উমার সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একাধিক মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-যাহলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৯৫, ১৬/৩৮৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল জাব্বার বিন উমার এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫১৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ৬৬ টি অধিক দুর্বল, ১৫৪, টি দুর্বল, ১৪১ টি হাসান, ১৫৩ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৯৩৫, ১৯৩৬, ১৯৩৭, ২৬০০, ৫৩৬৮, ৬০৮৭, ৬১৬৪, ৬৭০৯, ৬৭১০, ৬৭১১, ৬৮২২, মুসলিম ১১১২, ১১১৩, তিরমিযি ১১৯৮, ১১৯৯, ৩২৯৯, সুনান আবু দাউদ ২২১৩, ২২১৪, ২২১৭, ২২১৮, ২২২১, ২২২২, ২৩৯০, ২৩৯৪, দারিমী ১৭১৬, ১৭১৮, ২২৭৩ ইত্যাদি।
It was narrated that Abu Hurairah said:
“A man came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘I am doomed.’ He said: ‘Why are you doomed?’ He said: ‘I had intercourse with my wife in Ramadan.’ The Prophet (ﷺ) said: ‘Free a slave.’ He said: ‘I cannot.’ He said: ‘Fast for two consecutive months.’ He said: ‘I cannot.’ He said: ‘Feed sixty poor persons.’ He said: ‘I cannot.’ He said: ‘Sit down.’ So he sat down, and while doing so a basketful of dates was brought. The Prophet (ﷺ) said: ‘Go and give this in charity.’ He said: ‘O Messenger of Allah, by the One Who sent you with the truth, there is no household between its two lava fields (i.e., in Al-Madinah) that is more in need of it than us.’ He said: ‘Then go and feed your family.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৪. যে ব্যক্তি রমযানের একটি রোযাও ভঙ্গ করে তার কাফফারা।
২/১৬৭২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওজরে রমযান মাসের একদিন রোযা ভাঙ্গে সে সারা জীবন রোযা রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না।
بَاب مَا جَاءَ فِي كَفَّارَةِ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ ابْنِ الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِيهِ الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ لَمْ يُجْزِهِ صِيَامُ الدَّهْرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী (ইয়াযীদ) ইবনুল মুতাব্বিস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তাকে চিনি না। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি তার পিতা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা তার হাদিসের অনুসরণ করা যায় না। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৬৩৪, ৩৪/২৯৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মুতাব্বিস সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬০১০, ২৮/৮৯ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever does not fast one day in Ramadan without having a concession allowing that, fasting for a lifetime will not make up for that.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৫. কোন ব্যক্তি ভুলবশত রোযা ভঙ্গ করলে।
১/১৬৭৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন রোযাদার ভুলক্রমে আহার করলে সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ্ তাকে পানাহার করিয়েছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَفْطَرَ نَاسِيًا
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَوْفٍ عَنْ خِلَاسٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكَلَ نَاسِيًا وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"Whoever eats out of forgetfulness while fasting, let him complete his fast, for it is Allah Who has fed him and given him to drink."
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৫. কোন ব্যক্তি ভুলবশত রোযা ভঙ্গ করলে।
২/১৬৭৪। আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করলাম, তারপর সূর্য প্রকাশ পেলো। অধস্তন রাবী বলেন, আমি হিশাম (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদেরকে কাযা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল কি? তিনি বলেন, অবশ্যই।
بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَفْطَرَ نَاسِيًا
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ أَفْطَرْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ غَيْمٍ ثُمَّ طَلَعَتْ الشَّمْسُ قُلْتُ لِهِشَامٍ أُمِرُوا بِالْقَضَاءِ قَالَ فَلَا بُدَّ مِنْ ذَلِكَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। বুখারী, তাতে অতিরিক্ত মুয়াল্লাক রূপে আছে হিশাম বলেছেনঃ আমি জানিনা তারা কি কাযা করেছেন না করেন নি?
It was narrated that Asma’ bint Abu Bakr said:
“We broke our fast on a cloudy day at the time of the Messenger of Allah (ﷺ), then the sun appeared.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৬. রোযাদার বমি করলে
১/১৬৭৫। ফাদালা ইবনু উবাইদ আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন রোযারত অবস্থায় তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তিনি পানির পাত্র চেয়ে নিয়ে পানি পান করেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আপনি তো এই দিন (নফল)রোযা রেখেছিলেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে আমি বমি করেছি।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَقِيءُ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَعْلَى وَمُحَمَّدُ ابْنَا عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيِّ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ قَالَ سَمِعْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ يُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْهِمْ فِي يَوْمٍ كَانَ يَصُومُهُ فَدَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا يَوْمٌ كُنْتَ تَصُومُهُ قَالَ أَجَلْ وَلَكِنِّي قِئْتُ
It was narrated that Abu Masruq said:
“I heard Fadalah bin ‘Ubaid Al- Ansari narrating that the Prophet (ﷺ) came out to them on a day when he was fasting. He called for a vessel and drank. We said: ‘O Messenger of Allah, you were fasting today.’ He said: ‘Yes, but I vomited.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৬. রোযাদার বমি করলে
২/১৬৭৬। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার মুখ ভরে বমি হয় তাকে রোযা কাযা করতে হবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তাকে রোযার কাযা করতে হবে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَقِيءُ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ ح و حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ أَبُو الشَعْثَاءِ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ فَلَا قَضَاءَ عَلَيْهِ وَمَنْ اسْتَقَاءَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Prophet (ﷺ) said:
“Whoever unintentionally vomits, he does not have to make up for the fast, but whoever makes himself vomit, has to make up for the fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৬/১৭. রোযাদারের মিসওয়াক করা ও সুরমা লাগানো।
১/১৬৭৭। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদারের উত্তম গুণাবলির একটি হলো দাঁতন করা।
بَاب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ وَالْكُحْلِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَعِيلَ الْمُؤَدِّبُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْرِ خِصَالِ الصَّائِمِ السِّوَاكُ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু ইসমাইল আল-মুআদ্দিব সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন সালিহ আল জায়লী তাকে সিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৮, ২/৯৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মুজালীদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from ‘Aishah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“One of the best actions of the fasting person is using the tooth stick.”
পরিচ্ছেদঃ ৬/১৭. রোযাদারের মিসওয়াক করা ও সুরমা লাগানো।
২/১৬৭৮। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযারত অবস্থায় সুরমা লাগিয়েছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ وَالْكُحْلِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو التَّقِيِّ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اكْتَحَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবুত তাকী হিশাম বিন আবদুল মালিক আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৮৩, ৩০/২২৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) applied kohl to his eyes while he was fasting.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৮. রোযাদারের রক্তমোক্ষণ করানো
১/১৬৭৯। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়, তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ وَدَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بِشْرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন বিশর সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবূরী বলেন, তিনি আ'মাশ থেকে একাধিক হাদিস মুনকার সুত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু হাজার আল আসকালানী বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই কিন্তু ইবনু মাঈন ও ইবনু হিব্বান তার বিরোধিতা করেছেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাফিয নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি যুহরীর হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৮২, ১৪/৩৩৬ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘The cupper and the one for whom cupping is done both break their fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৮. রোযাদারের রক্তমোক্ষণ করানো
২/১৬৮০। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو قِلَابَةَ أَنَّ أَبَا أَسْمَاءَ حَدَّثَهُ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ».
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Thawban said:
“I heard the Prophet (ﷺ) say: ‘The cupper and the one for whom cupping is done both break their fast.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৮. রোযাদারের রক্তমোক্ষণ করানো
৩/১৬৮১। আবূ কিলাবা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি অবহিত করেন যে, একদা শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বাকী নামক স্থানে হাঁটছিলেন। তিনি এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গমন করেন, যে রক্তমোক্ষণ করছিল, তখন রমযান মাসের আঠার দিন গত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রক্তমোক্ষক ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ شَدَّادَ بْنَ أَوْسٍ بَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَقِيعِ فَمَرَّ عَلَى رَجُلٍ يَحْتَجِمُ بَعْدَ مَا مَضَى مِنْ الشَّهْرِ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Qilabah that when Shaddad bin Aws was walking with the Messenger of Allah (ﷺ) in Al-Baqi’, he passed by a man who was being cupped, after eighteen days of the month (of Ramadan) had passed. The Messenger of Allah (ﷺ) said:
“The cupper and the one for whom cupping is done both break their fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৮. রোযাদারের রক্তমোক্ষণ করানো
৪/১৬৮২। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা ও ইহরামরত অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ مُحْرِمٌ
তাহকীক আলবানীঃ তিনি মুহরিম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন, এ শব্দে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৯১, ৩২/১৩৫ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) said: “The Messenger of Allah (ﷺ) had cupping done when he was fasting and in Ihram.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৯. রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে
১/১৬৮৩। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে চুমা দিতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ الْجَرَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৯৯, ১৪/৩৬১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Prophet (ﷺ) used to kiss during the month of fasting.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৯. রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে
২/১৬৮৪। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন, তোমাদের মধ্যে কে নিজের উপর তদ্রূপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রাখে!
بَاب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to kiss when he was fasting, and who among you can control his desire as the Messenger of Allah (ﷺ) used to control his desire?”
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৯. রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে
৩/১৬৮৫। হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ عَنْ حَفْصَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ
It was narrated from Hafsah that:
The Messenger of Allah (ﷺ) used to kiss when he was fasting.
পরিচ্ছেদঃ ৭/১৯. রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে
৪/১৬৮৬। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাসী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রোযাদার দম্পতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, স্বামী তাকে চুমা দিয়েছে। তিনি বলেনঃ তারা রোযা ভঙ্গ করেছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
. حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي يَزِيدَ الضِّنِّيِّ عَنْ مَيْمُونَةَ مَوْلَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَهُمَا صَائِمَانِ قَالَ قَدْ أَفْطَرَا
তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু ইয়াযীদ আদ-দিন্নী সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি পরিচিত নন। ইবনু মাকুলা বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একজন অপরিচিত ব্যাক্তি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৭০৫, ৩৪/৪০৮ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Maimunah the freed (female) slave of the Messenger of Allah (ﷺ), said:
“The Prophet (ﷺ) was asked about a man who kissed his wife when they were both fasting. He said: ‘They have broken their fast.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২০. রোযা অবস্থায় স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করা।
১/১৬৮৭। ইবরাহীম (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসওয়াদ ও মাসরূক (রহ.) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযারত অবস্থায় কি স্ত্রীর দেহের সাথে নিজ দেহ মিলাতেন? তিনি বলেন, তিনি তা করতেন। আর তিনি ছিলেন তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সংযমী।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ دَخَلَ الْأَسْوَدُ وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَا أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ قَالَتْ كَانَ يَفْعَلُ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِإِرْبِهِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Ibrahim said:
“Al-Aswad and Masruq entered upon ‘Aishah and said: ‘Did the Messenger of Allah (ﷺ) touch (his wife) when he was fasting?’ She said: ‘He used to do that, and he was the strongest of all of you in controlling his desire.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২০. রোযা অবস্থায় স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করা।
২/১৬৮৮। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বৃদ্ধ রোযাদারকে স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং যুবকদের জন্য তা অপছন্দ করা হয়েছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رُخِّصَ لِلْكَبِيرِ الصَّائِمِ فِي الْمُبَاشَرَةِ وَكُرِهَ لِلشَّابِّ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও তিনি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি জঘন্য মিথ্যুক। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আল খাল্লাল তাকে খুবই দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫১৭৮, ২৫/১৩৯ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৮ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৪ টি অধিক দুর্বল, ৯ টি দুর্বল, ১ টি হাসান, ৪ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, আবু দাউদ ২৩৮৭, মু'জামুল আওসাত ৮৪২১, আহমাদ ৬৭০০, ৭০১৪।
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“A concession was granted to those who are older with regard to touching while fasting, but it was disliked on the part of those who are younger.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২১. রোযাদার ব্যক্তির গীবত ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া।
১/১৬৮৯। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যাচার, মূর্খতা ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করলো না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْغِيبَةِ وَالرَّفَثِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْجَهْلَ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَا حَاجَةَ لِلَّهِ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘Whoever does not give up evil and ignorant speech, and acting in accordance with that, Allah has no need of his giving up his food and drink.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২১. রোযাদার ব্যক্তির গীবত ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া।
২/১৬৯০। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কত রোযাদার আছে যাদের রোযার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْغِيبَةِ وَالرَّفَثِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“There are people who fast and get nothing from their fast except hunger, and there are those who pray and get nothing from their prayer but a sleepless night.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২১. রোযাদার ব্যক্তির গীবত ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া।
৩/১৬৯১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রোযা অবস্থায় অশ্লীল ও মূর্খতাসুলভ আচরণ না করে। কেউ তার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার। তাহকীক আলবানীঃ
بَاب مَا جَاءَ فِي الْغِيبَةِ وَالرَّفَثِ لِلصَّائِمِ
- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ وَإِنْ جَهِلَ عَلَيْهِ أَحَدٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“When anyone of you is fasting, let him not utter evil or ignorant speech. If anyone speaks to him in an ignorant manner, let him say: ‘I am fasting.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২২. সাহরী খাওয়া
১/১৬৯২। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাবে। কেননা সাহরীতে বরকত আছে।
بَاب مَا جَاءَ فِي السُّحُورِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Anas bin Malik that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Eat Suhur, for in Suhur there is a blessing.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২২. সাহরী খাওয়া
২/১৬৯৩। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে দিনে রোযা রাখার জন্য এবং দিনে বিশ্রামের মাধ্যমে রাতে নামায ড়ার জন্য সাহায্য গ্রহণ করো।
بَاب مَا جَاءَ فِي السُّحُورِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اسْتَعِينُوا بِطَعَامِ السَّحَرِ عَلَى صِيَامِ النَّهَارِ وَبِالْقَيْلُولَةِ عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সহিহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০০৩, ৯/৩৮৬ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Abbas that the Prophet (ﷺ) said:
“Seek help by eating Suhur for fasting that day, and by taking a brief rest (at midday) for praying at night.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৩. বিলম্বে সাহরী খাওয়া
১/১৬৯৪। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাহরী খেলাম, এরপর সালাতে দাঁড়ালাম। রাবী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, সাহরী ও সালাতের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বলেন, পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করার পরিমাণ সময়।
بَاب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ قُلْتُ كَمْ بَيْنَهُمَا قَالَ قَدْرُ قِرَاءَةِ خَمْسِينَ آيَةً
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Anas bin Malik that Zaid bin Thabit said:
“We ate Suhur with the Messenger of Allah (ﷺ) then we got up to perform prayer.” I said: “How long was there between the two?” He said: “As long as it takes to recite fifty Verses.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৩. বিলম্বে সাহরী খাওয়া
২/১৬৯৫। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বলতে গেলে দিনেই সাহরী খেয়েছি, পার্থক্য এতটুকু যে, তখনও সূর্য উদিত হয়নি।
بَاب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ تَسَحَّرْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ النَّهَارُ إِلَّا أَنَّ الشَّمْسَ لَمْ تَطْلُعْ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন বাহদালাহ সম্পর্কে আবু বকর আল বাযযার বলেন, তিনি হাফিয ছিলেন না, তার হাদিস কেউ বর্জন করেছেন এমন কাউকে পাওয়া যায় না। আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছাড়া তার মাঝে অন্য কোন দোষ পায়নি। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। ইসমাইল বিন উলায়্যাহ বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০০২, ১৩/৪৭৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Hudhaifah said:
“I ate Suhur with the Messenger of Allah (ﷺ) when it was daybreak but the sun had not yet risen.” [(One of the narrators) Abu Ishaq said: “The Hadith of Hudhaifah is abrogated and does not mean anything.”]
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৩. বিলম্বে সাহরী খাওয়া
৩/১৬৯৬। ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে তার সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাবার বা সতর্ক করার জন্য এবং তোমাদের সালাতীকে সালাতে রত বা অবসর হওয়ার জন্য আযান দিয়ে থাকে। আর এ সময়কে ফজর বলা হয় না, বরং উর্ধাকাশে আড়াআড়িভাবে সাদা আভা প্রকাশ পাওয়াই ফজর।
بَاب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ
- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ مِنْ سُحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ لِيَنْتَبِهَ نَائِمُكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمُكُمْ وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَلَكِنْ هَكَذَا يَعْتَرِضُ فِي أُفُقِ السَّمَاءِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin Mas’ud that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“The Adhan of Bilal should not prevent anyone of you from eating Suhur, for he gives the Adhan to alert those among you who are asleep, and so that anyone who is praying can prepare himself for fasting. The Fajr does not come in this manner, rather it comes in this manner, and it appears along the horizon.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৪. যথাসময়ে ইফতার করা
১/১৬৯৭। সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ কল্যাণের সাথে থাকবে, যাবত তারা জলদি(যথাসময়ে) ইফতার করতে থাকবে।
بَاب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الْإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Sahl bin Sa’d that the Prophet (ﷺ) said:
“The people will remain upon goodness as long as they hasten to break their fast.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৪. যথাসময়ে ইফতার করা
২/১৬৯৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাবত লোকেরা যথাসময়ে ইফতার করবে তাবত তারা কল্যাণের সাথে থাকবে। তাই তোমরা যথাসময়ে ইফতার করো। কারণ ইহুদীরা বিলম্বে ইফতার করে।
بَاب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الْإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ عَجِّلُوا الْفِطْرَ فَإِنَّ الْيَهُودَ يُؤَخِّرُونَ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইমাম যাহাবী বলেন তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"The people will remain upon goodness so long as they hasten to break the fast. Hasten to break the fast, for the Jews delay it."
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৫. যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব
১/১৬৯৯। সালমান ইবনু আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ইফতার করলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। সে খেজুর না পেলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ তা পবিত্র।
بَاب مَا جَاءَ عَلَى مَا يُسْتَحَبُّ الْفِطْرُ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ ح و حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ الرَّبَابِ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ عَنْ عَمِّهَا سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى الْمَاءِ فَإِنَّهُ طَهُورٌ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, আর সহীহ হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কার্য ছিল। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা) ২. রাবাব উম্মু রায়িহ সুলায় সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অজ্ঞাত ব্যাক্তি। তার থেকে হাফসাহ ব্যাতিত কেউ হাদিস বর্ণনা করেনি। আল্লামা আলবানী সানাদের বর্ণনা কারী রাবাব সম্পর্কে আপত্তি তুলেছেন এবং যারা হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, রাবাব থাকার কারণে তিনি তা সমালোচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী বলেন, হাফসাহ থেকে বর্ণিত রেওয়াতটি ছাড়া তাকে চিনা যায় না। ইবনু হাজার আল-আসকালানী তাকে মাকবুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৮৩৬, ৩৫/১৭১ নং পৃষ্ঠা)
Salman bin ‘Amr narrated that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"When any one of you breaks his fast, let him break it with dates. If he cannot find dates, then let him break it with water, for it is a means of purification."
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৬. রাত থাকতে ফরয রোযার নিয়াত করা এবং নফল রোযার নিয়াতে বিলম্ব করা যায়।
১/১৭০০। হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরয রোযার নিয়াত করলো না তার রোযা হয়নি।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَرْضِ الصَّوْمِ مِنْ اللَّيْلِ وَالْخِيَارِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْقَطَوَانِيُّ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ حَازِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَفْرِضْهُ مِنْ اللَّيْلِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. খালিদ বিন মাখলাদ আল-কাতওয়ানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল জুরজানী বলেন, ইনশাআল্লাহ্ আমার আমার নিকট তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইমাম যাহাবী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৬৫২, ৮/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন হাযিম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযদী বলেন, তিনি কাদিরিয়া মতাবলম্বী। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কাদারিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। ইমাম যাহাবী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৮, ২/৪১৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Hafsah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"There is no fast for the one who did not make it incumbent upon himself from the night before."
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৬. রাত থাকতে ফরয রোযার নিয়াত করা এবং নফল রোযার নিয়াতে বিলম্ব করা যায়।
২/১৭০১। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বলেনঃ তোমাদের কাছে (আহার করার মত) কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তাহলে আমি রোযা রাখলাম। অতঃপর তিনি রোযা অবস্থায় থাকেন। আমাদের নিকট কিছু হাদিয়া এলে তিনি রোযা ভাঙ্গ করেন। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি কখনো রোযা রাখতেন আবার কখনো রোযা রাখতেন না। রাবী মুজাহিদ (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তা কিভাবে? ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তার দৃষ্টান্ত এরূপ যে, কোন ব্যক্তি সদকার মাল নিয়ে দান করার উদ্দেশে বের হয়ে এর কিছু অংশ দান করে, আর কিছু অংশ রেখে দেয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي فَرْضِ الصَّوْمِ مِنْ اللَّيْلِ وَالْخِيَارِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ فَنَقُولُ لَا فَيَقُولُ إِنِّي صَائِمٌ فَيُقِيمُ عَلَى صَوْمِهِ ثُمَّ يُهْدَى لَنَا شَيْءٌ فَيُفْطِرُ قَالَتْ وَرُبَّمَا صَامَ وَأَفْطَرَ قُلْتُ كَيْفَ ذَا قَالَتْ إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا مَثَلُ الَّذِي يَخْرُجُ بِصَدَقَةٍ فَيُعْطِي بَعْضًا وَيُمْسِكُ بَعْضًا.
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শিয়া মতাবলম্বী। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন ও তার রাফিদি মতাবলম্বী। হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯১, ৩/২১০ নং পৃষ্ঠা) ২. তালহাহ বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৮৪, ১৩/৪৪১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) would enter upon me and say: ‘Do you have anything (any food)?’ If we said: ‘No,’ he would say: ‘Then I am fasting.’ So he would continue fasting, then it we were given some food, he would break his fast.” She said: “Sometimes he would fast and (then) break fast (i.e., combine fasting and breaking fast in one day).” I said: “How is that?” She said: “Like the one who goes out with charity (i.e., something to give in charity),and he gives some away and keeps some.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৭. রোযা রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তির অপবিত্র অবস্থায় ভোরহলে।
১/১৭০২। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর আল-কারী (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, না, কা’বার প্রভুর শপথ! এ কথা আমি বলছি নাঃ যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো সে রোযা ভঙ্গ করুক’’। বরং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا وَهُوَ يُرِيدُ الصِّيَامَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو الْقَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ لَا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ مَا أَنَا قُلْتُ مَنْ أَصْبَحَ وَهُوَ جُنُبٌ فَلْيُفْطِرْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَالَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Abdullah bin ‘Amr Al-Qari said:
“I heard Abu hurairah say: ‘No, by the Lord of the Ka’bah! I did not say: “Whoever wakes up in a state of sexual impurity (and wants to fast) then he must not fast.” Muhammad (ﷺ) said it.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৭. রোযা রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তির অপবিত্র অবস্থায় ভোরহলে।
২/১৭০৩। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় রাতে ঘুমাতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাতের জন্য ডাকতেন। তখন তিনি উঠে গোসল করতেন। আমি তাঁর মাথা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তে দেখেছি। তারপর তিনি বের হয়ে যেতেন এবং ফজরের সালাতে আমি তাঁর কন্ঠস্বর শুনতে পেতাম। মুতাররিফ (রহ.) বলেন, আমি ’আমের (রহ.)-কে বললাম, তা কি রমযানে? তিনি বলেন, রমযান ও অন্য মাস একই সমান।
بَاب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا وَهُوَ يُرِيدُ الصِّيَامَ
َدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «يَبِيتُ جُنُبًا فَيَأْتِيهِ بِلَالٌ فَيُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ فَيَقُومُ فَيَغْتَسِلُ فَأَنْظُرُ إِلَى تَحَدُّرِ الْمَاءِ مِنْ رَأْسِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَأَسْمَعُ صَوْتَهُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ».
قَالَ مُطَرِّفٌ فَقُلْتُ لِعَامِرٍ أَفِي رَمَضَانَ قَالَ رَمَضَانُ وَغَيْرُهُ سَوَاءٌ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Prophet (ﷺ) used to spend the night in a state of sexual impurity, then Bilal would come to him and inform him that it is time for prayer. So he would get up and have a bath, and I would see the water dripping from his head, then he would go out and I would hear his voice during Fajr prayer.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৭. রোযা রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তির অপবিত্র অবস্থায় ভোরহলে।
৩/১৭০৪। নাফি’ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট জানতে চাইলাম যে, এক ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো, সে রোযা রাখতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নদোষজনিত নয়, বরং সহবাসজনিত নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন, অতঃপর গোসল করতেন এবং তাঁর রোযা পূর্ণ করতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا وَهُوَ يُرِيدُ الصِّيَامَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ سَأَلْتُ أُمَّ سَلَمَةَ عَنْ الرَّجُلِ يُصْبِحُ وَهُوَ جُنُبٌ يُرِيدُ الصَّوْمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ الْوِقَاعِ لَا مِنْ احْتِلَامٍ ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيُتِمُّ صَوْمَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।
It was narrated that Nafi’ said:
“I asked Umm Salamah about a man who gets up in the morning when he is in a state of sexual impurity and wants to fast. She said: “The Messenger of Allah (ﷺ) used to get up in the morning in a state of sexual impurity after having intercourse, not from a wet dream, then he would take a bath and complete his fast.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৮. সারা বছর রোযা রাখা।
১/১৭০৫। ’আবদুল্লাহ্ ইবনশ শিখখীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা রোযা রাখে সে রোযাও রাখেনি, আবার রোযা ভঙ্গও করেনি।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ الدَّهْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَأَبُو دَاوُدَ قَالُوا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin Shikhkhir that his father said:
“The Prophet (ﷺ) said: ‘Whoever fasts continually, he neither fasts nor breaks his fast.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৮. সারা বছর রোযা রাখা।
২/১৭০৬। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা রোযা রাখে, সে রোযাই রাখেনি।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ الدَّهْرِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ وَسُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمَكِّيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ
It was narrated from ‘Abdullah bin ‘Amr that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“There is no fasting for one who fasts continually.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৯. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা
১/১৭০৭। মিনহাল (রহ.) বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমুল বীয অর্থাৎ প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন তা সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।
১/১৭০৭ (১)। ইসহাক বিন মানসূর-হিববান বিন হিলাল, হাম্মাম-আনাস বিন সীরীন, আবদুল মালিক-ক্বাতাদাহ বিন ক্বায়সী তার পিতা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। ইবনু মাজাহ বলেন, এক্ষেত্রে শু’বাহ ভুল করেছেন এবং হাম্মাম ঠিক করেছেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِصِيَامِ الْبِيضِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ وَيَقُولُ هُوَ كَصَوْمِ الدَّهْرِ أَوْ كَهَيْئَةِ صَوْمِ الدَّهْرِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قَتَادَةَ بْنِ مَلْحَانَ الْقَيْسِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ ابْن مَاجَةَ أَخْطَأَ شُعْبَةُ وَأَصَابَ هَمَّامٌ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, লিগাইরিহি।
It was narrated from ‘Abdul-Malik bin Minhal, from his father that:
The Messenger of Allah (ﷺ) used to enjoin fasting the bright days – the thirteenth, fourteenth and fifteenth (when the moon is full). He said: “It is like fasting for a lifetime.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৯. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা
২/১৭০৮। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখলো, তা যেন সারা বছর রোযা রাখলো। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কিতাবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) ’’কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে’’ (সূরা আনআমঃ ১৬০)। অর্থাৎ প্রতিটি দিন দশ দিনের সমান।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ فَذَلِكَ صَوْمُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا) فَالْيَوْمُ بِعَشْرَةِ أَيَّامٍ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Dharr that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever fasts three days in every month, that is fasting for a lifetime.” Then, in testimony of that, Allah revealed: “Whoever brings a good deed shall have ten time the like thereof to his credit.” [6:160] So one day is equivalent to ten (in reward).
পরিচ্ছেদঃ ৭/২৯. প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা
৩/১৭০৯। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, মাসের কোন্ কো্ দিন? তিনি বলেন, তিনি যে কোন দিন রোযা রাখতে ইতস্তত করতেন না।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ كَانَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Mu’adhah Al-‘Adawiyyah that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to fast three days of each month.” I said: “Which were they?” She said: “He did not care which days they were.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩০. নাবী ﷺ -এর রোযা।
১/১৭১০। আবূ সালামাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তিনি একাধারে রোযা রেখেই যেতেন। এমনকি আমরা বলতাম, তিনি রোযা রেখেই যাবেন। আবার তিনি একাধারে রোযাহীন অবস্থায় কাটাতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি রোযাহীন অবস্থায়ই থাকবেন। শা’বান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে আমি তাঁকে এত অধিক রোযা রাখতে দেখিনি। তিনি প্রায় পুরা শাবান মাসই রোযা রাখতেন। তিনি শাবানের অল্প কিছুদিন বাদ দিয়ে পুরা মাসই রোযা রাখতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ النَّبِيِّ ﷺ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَلَمْ أَرَهُ صَامَ مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلَّا قَلِيلًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Salamah said:
“I asked ‘Aishah about the fasting of the Prophet (ﷺ). She said: ‘He used to fast until we thought he would always fast. And he used to not fast until we thought he would always not fast. I never saw him fast more in any month than in Sha’ban. He used to fast all of Sha’ban; he used to fast all of Sha’ban except a little.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩০. নাবী ﷺ -এর রোযা।
২/১৭১১। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে রোযা রেখে যেতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা ভঙ্গ করবেন না। আবার কখনো তিনি একাধারে রোযাহীন থাকতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা রাখবেন না। মদিনায় আসার পর থেকে তিনি রমযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে সম্পূর্ণ মাস রোযা রাখেননি।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ النَّبِيِّ ﷺ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ وَمَا صَامَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا إِلَّا رَمَضَانَ مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to fast until we thought he would never stop fasting. And he used to not fast until we thought we would never fast. And he never fasted any compelte month apart from Ramadan, from the time he came to Al- Madinah.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩১. দাঊদ আলাইহিস সালামের রোযা
১/১৭১২। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাসমূহের মধ্যে দাঊদ (আঃ)-এর রোযা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তিনি এক দিন রোযা রাখতেন এবং পরবর্তী দিন রোযা রাখতেন না। আল্লাহর নিকট দাঊদ (আঃ)-এর সালাত অধিক প্রিয়। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ সালাতে কাটাতেন এবং আবার এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام
- حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الشَّافِعِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيُصَلِّي ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin ‘Amr that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“The most beloved fast to Allah is the fast of Dawud, for he used to fast one day and not the next. And the most beloved of prayer to Allah is the prayer of Dawud; he used to sleep half of the night, pray one-third of the night and sleep one-sixth of the night.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩১. দাঊদ আলাইহিস সালামের রোযা
২/১৭১৩। ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি দু’ দিন রোযা রাখে এবং এক দিন রাখে না, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেনঃ কেউ কি তার সামর্থ্য রাখে? ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি এক দিন রোযা রাখে এবং এক দিন রাখে না? তিনি বলেনঃ সেটা হলো দাঊদ (আঃ)-এর রোযা। ’উমার (রাঃ) বললেন, যে ব্যক্তি এক দিন রোযা রাখে এবং দু’ দিন রাখে না? তিনি বলেনঃ আমি পছন্দ করি যে, আমাকে এ ধরনের রোযা রাখার সামর্থ্য দান করা হোক।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ذَلِكَ صَوْمُ دَاوُدَ قَالَ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Qatadah said:
“Umar bin Khattab said: ‘O Messenger of Allah! What about a person who fasts two days and does not fast one day?’ He said: ‘Is anyone able to do that?’ He said: ‘O Messenger of Allah! What about a person who fasts one day and not the next?’ He said: ‘That is the fast of Dawud.’ He said: ‘What about a man who fasts one day and does not fast the next two days?’ He said: ‘I wish that I were given the ability to do that.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩২. নূহ আলাইহিস সালামের রোযা।
১/১৭১৪। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ নূহ (আঃ) ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহার দিন ব্যতীত সারা বছর রোযা রাখতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ نُوحٍ عَلَيْهِ السَّلَام
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِي فِرَاسٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ صَامَ نُوحٌ الدَّهْرَ إِلَّا يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন, কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবুল কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Firas that he heard ‘Abdullah bin ‘Amr say:
“I heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: ‘(Prophet) Nuh fasted for a lifetime, except for the Day of Fitr and the Day of Adha.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৩. শাওয়াল মাসের ছয় দিনের রোযা।
১/১৭১৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তাদাস সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোযা রাখলো, তা পূর্ণ বছর রোযা রাখার সমতুল্য। ’’কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে’’ (সূরা আন’আমঃ ১৬০)।
بَاب صِيَامِ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذَّمَارِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَسْمَاءَ الرَّحَبِيَّ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ كَانَ تَمَامَ السَّنَةِ (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا)
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Thawban, the freed slave of the Messenger of Allah (ﷺ), that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever fasts six days after the Fitr will have completed the year, for whoever does a good deed will have the reward of ten like it.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৩. শাওয়াল মাসের ছয় দিনের রোযা।
২/১৭১৬। আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখবে, তা যেন সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।
بَاب صِيَامِ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصَوْمِ الدَّهْرِ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সা'দ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি বলেন, তার হিফযের পূর্বে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২২০৮, ১০/১৬২ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Ayyub that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever fasts Ramadan then follows it with six days of Shawwal, it is as if he fasted for a lifetime.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৪. আল্লাহর রাস্তায় এক দিন রোযা রাখার ফযীলাত।
১/১৭১৭। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিন রোযা রাখে, আল্লাহ্ ঐ দিনের বিনিময়ে জাহান্নামকে তার মুখমণ্ডল থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ الْهَادِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ النَّارَ مِنْ وَجْهِهِ سَبْعِينَ خَرِيفًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Sa’eed Al-Khudri that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever fasts one day in the cause of Allah, Allah will keep the Fire away from his face the distance of seventy autumns (years) for that day.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৪. আল্লাহর রাস্তায় এক দিন রোযা রাখার ফযীলাত।
২/১৭১৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিন রোযা রাখে, আল্লাহ্ তার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে তার মুখমণ্ডল কে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখেন।
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ اللَّيْثِيُّ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ زَحْزَحَ اللهُ وَجْهَهُ عَنْ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযীয আল-লায়সী সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাকে মুনকার বলেছেন। জাওযুজানী বলেন, তিনি যুহরী থেকে মুনকার ভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আহমদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল ও শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৯৫, ১৫/২৩৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযীয আল-লায়সী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৩৭ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ২৫ টি অধিক দুর্বল, ৭১ টি দুর্বল, ৫৩ টি হাসান, ৮৮ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ বুখারী ২৮৪০, মুসলিম, ১১৫৪, ১১৫৫, তিরমিযি ১৬২২, ১৬২৩, ১৬২৪, দারিমী ২৩৯৯, আহমাদ ৭৯৩০, ৮৪৭৫, ১০৪২৭, ১০৮২৬, ১১০১৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৯৬৮৩, ৯৬৮৪, ৯৬৮৫, মু'জামুল আওসাত ১৬০, ২১৭৩, ৩১১৮, ৩২৪৩, ৩২৪৯, ৩৫৭৪, ৪৬৬০ ইত্যাদি।
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever fasts one day for the sake of Allah, Allah will move his face away from the Fire a distance of seventy autumns (years).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৮. যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে ইবাদত করে।
১/১৭১৯। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মিনার দিনসমূহ হলো পানাহারের দিন।
بَاب فِيمَنْ قَامَ فِي لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيَّامُ مِنًى أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“The days of Mina (11th, 12th, and 13th of Dhul-Hijjah) are days of eating and drinking.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৫. আইয়্যামে তাশরীকে রোযা রাখা নিষেধ
২/১৭২০। বিশর ইবনু সুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়্যামে তাশরীকে ভাষণ দেন। তিনি বলেনঃ মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং এই দিনসমূহ হচ্ছে পানাহারের দিন।
بَاب مَا جَاءَ فِي النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ بِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ فَقَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَإِنَّ هَذِهِ الْأَيَّامَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Bishr bin Suhaim that:
The Messenger of Allah (ﷺ) delivered a sermon on the days of Tashriq (11th, 12th, and 13th of Dhul-Hijjah) and said: “No one will enter Paradise but a Muslim soul, and these days are the days of eating and drinking.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৬. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখা নিষেধ।
১/১৭২১। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى التَّيْمِيُّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ قَزَعَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Sa’eed that:
The Messenger of Allah (ﷺ) forbade fasting on the Day of Fitr and the Day of Adha.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৬. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখা নিষেধ।
২/১৭২২। আবূ উবাইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে ঈদের দিন উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবাহর আগে সালাত পড়েন, অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এ দু’ দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। কেননা ঈদুল ফিতরের দিন হচ্ছে তোমাদের রোযা ভঙ্গের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন তোমরা তোমাদের কুরবাণীর মাংস খাবে।
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَيَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَيَوْمُ الْأَضْحَى تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu ‘Ubaid said:
“I was present for ‘Eid with ‘Umar bin Khattab. He started with the prayer before the sermon, and said: ‘The Messenger of Allah (ﷺ) forbade fasting on these two days, the Day of Fitr and the Day of Adha. As for the Day of Fitr, it is the day when you break your fast, and on the Day of Adha you eat the meat of your sacrifices.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৭. জুমু‘আহর দিন রোযা রাখা
১/১৭২৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আহর আগের দিন বা পরের দিনসহ রোযা রাখা ব্যতীত, কেবলমাত্র জুমু’আহর দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ إِلَّا بِيَوْمٍ قَبْلَهُ أَوْ يَوْمٍ بَعْدَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Hurairah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) forbade fasting on a Friday unless it (is joined to) the day before or the day after.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৭. জুমু‘আহর দিন রোযা রাখা
২/১৭২৪। মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর ঘর তাওয়াফকালে জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমু’আহর দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ, এই ঘরের প্রভুর শপথ!
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ وَأَنَا أَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ نَعَمْ وَرَبِّ هَذَا الْبَيْتِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Muhammad bin ‘Abbad bin Ja’far said:
“While I was circumambulating the House, I asked Jabir bin ‘Abdullah: ‘Did the Prophet (ﷺ) forbid fasting on a Friday?’ He said: ‘Yes, by the Lord of this House.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৭. জুমু‘আহর দিন রোযা রাখা
৩/১৭২৫। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জুমু’আহর দিন খুব কমই রোযাহীন দেখেছি।
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَلَّمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন বাহদালাহ সম্পর্কে আবু বকর আল-বাযযার বলেন, তিনি হাফিয ছিলেন না। তার হাদিস কেউ বর্জন করেছেন এমন কাউকে পায়নি। আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছাড়া তার মাঝে অন্য কোন দোষ পাইনি। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০০২, ১৩/৪৭৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Abdullah bin Mas’ud said:
“I rarely saw the Messenger of Allah (ﷺ) not fasting on a Friday.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৮. শনিবারের রোযা
১/১৭২৬। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের উপর যে রোযা ফরয করা হয়েছে সেই রোযা ব্যতীত তোমরা শনিবার রোযা রাখবে না। তোমাদের কেউ আঙ্গুরের ডাল বা গাছের ছাল ব্যতীত কিছু না পেলে সে যেন তা চুষে (শনিবারের) রোযা ভঙ্গ করে।
১/১৭২৬ (১) হুমাইদ বিন মাস’আদাহ-সুফ্ইয়ান বিন হুবাইব সাওর বিন ইয়াযিদ হতে তিনি খালিদ বিন মা’দান হতে তিনি আবদুল্লাহ বিন বুসর তার বোন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ব’লে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ يَوْمِ السَّبْتِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيمَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا عُودَ عِنَبٍ أَوْ لِحَاءَ شَجَرَةٍ فَلْيَمُصَّهُ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ عَنْ أُخْتِهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin Busr that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Do not fast on Saturdays apart from days when you are obliged to fast. If anyone of you cannot find anything other than grape stalks or the bark of a tree, let him suck on it.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৯. দশ দিনের রোযা।
১/১৭২৭। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট (যুলহিজ্জার) দশ দিনের সৎকাজের চাইতে অধিক পছন্দনীয় সৎকাজ আর নেই। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি? তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে বের হয়ে তার কোন কিছু নিয়ে আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)।
بَاب صِيَامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي الْعَشْرَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Ibn ‘Abbas that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“There are no days during which righteous deeds are more beloved to Allah than these days,” meaning the (first) ten days of Dhul- Hijjah. They said: “O Messenger of Allah! Not even Jihad in the cause of Allah?” He said: “Not even Jihad in the cause of Allah, unless a man goes out with himself and his wealth and does not bring anything back.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৯. দশ দিনের রোযা।
২/১৭২৮। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যুলহিজ্জার) দশ দিনের ইবাদতের চেয়ে দুনিয়ার অন্য কোন দিনের ইবাদত মহান আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় নয়। এই ক’দিনের মধ্যকার এক এক দিনের রোযা এক বছর রোযা রাখার সমান এবং তার এক একটি রাত কদরের রাতের সমান।
بَاب صِيَامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ بْنِ عَبِيدَةَ حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ عَنْ النَّهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامٌ أَحَبُّ إِلَى اللهِ سُبْحَانَهُ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ أَيَّامِ الْعَشْرِ وَإِنَّ صِيَامَ يَوْمٍ فِيهَا لَيَعْدِلُ صِيَامَ سَنَةٍ وَلَيْلَةٍ فِيهَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মাসউদ বিন ওয়াসীল সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইমাম দারাকুতনী, সুলায়মান বিন দাউদ আত-তায়লাসী ও তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক তারা সকলে বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯১৪, ২৪/৪৮১ নং পৃষ্ঠা) ২. নাহহাস বিন কাহম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, তিনি সিকাহ রাবী থেকে এককভাবে বর্ণনা করলে তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৮২, ৩০/২৮ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“There are no days in this world during which worship is more beloved to Allah, Glorious is He, than the (first) ten days (of Dhul- Hijjah). Fasting one of these days is equivalent to fasting for one year, and one night of them is equal to Lailatul-Qadr.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৩৯. দশ দিনের রোযা।
৩/১৭২৯। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (যুলহিজ্জার) দশ দিন কখনো রোযা রাখতে দেখিনি।
بَاب صِيَامِ الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ الْعَشْرَ قَطُّ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Aswad that ‘Aishah said:
“I never saw the Messenger of Allah (ﷺ) fasting the (first) ten days (of Dhul- Hijjah).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪০. আরাফাত দিবসের রোযা।
১/১৭৩০। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আল্লাহর নিকট আরাফাত দিবসের রোযার এই সওয়াব আশা করি যে, তিনি তাঁর বিনিময়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالَّتِي بَعْدَهُ
It was narrated from Abu Qatadah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Fasting on the Day of ‘Arafah, I hope from Allah, expiates for the sins of the year before and the year after.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪০. আরাফাত দিবসের রোযা।
২/১৭৩১। ক্বাতাদাহ্ ইবনু নো’মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আরাফাত দিবসে রোযা রাখলো, তার আগের বছরের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ করা হলো।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ سَنَةٌ أَمَامَهُ وَسَنَةٌ بَعْدَهُ
It was narrated that Qatadah bin Nu’man said:
“I heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: ‘Whoever fasts the Day of ‘Arafah, his sins of the previous and following year will be forgiven.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪০. আরাফাত দিবসের রোযা।
৩/১৭৩২। ইকরিমা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর বাড়িতে গিয়ে তাকে আরাফাতের ময়দানে আরাফাত দিবসে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে আরাফাত দিবসে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنِي حَوْشَبُ بْنُ عَقِيلٍ حَدَّثَنِي مَهْدِيٌّ الْعَبْدِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فِي بَيْتِهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَاتٍ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَاتٍ
তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হাওশাব বিন আকীল সম্পর্কে হাকিম একে বুখারীর শর্তে সহিহ বলেছেন, যাহাবী তাতে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু এটা তাদের অশোভনীয় ধারানা মাত্র। কেননা সানাদে হাওশাব ইবনু আকীল এবং তার শায়খ মাহদী আল-আবাদী হতে ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৫৭১, ৭/৪৬১ নং পৃষ্ঠা) ২. মাহদী আল-আবদী সম্পর্কে ইবনু হাযম তার মুহাল্লা গ্রন্থে বলেন, তিনি অজ্ঞাত। ইমাম যাহাবী আল-মীযান গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন। আবু হাতিম ও ইবনু মাঈনও তাই বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬২২০, ২৮/৫৮৬ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Ikrimah said:
“I entered upon Abu Hurairah in his house and asked him about fasting the Day of ‘Arafah at ‘Arafat. Abu Hurairah said: ‘The Messenger of Allah (ﷺ) forbade fasting the Day of ‘Arafah at ‘Arafat.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
১/১৭৩৩। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখতেন এবং এ দিন রোযা রাখতে নির্দেশ দিতেন।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ عَاشُورَاءَ وَيَأْمُرُ بِصِيَامِهِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to fast ‘Ashura’, and he ordered (others) to fast it too.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
২/১৭৩৪। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরত করে) মাদ্বীনাহ্য় পৌঁছে ইহূদীদের রোযা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন : এটা কী? তারা বললো, এ দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে মুক্তি দেন এবং ফিরাউনকে ডুবিয়ে মারেন। তাই মূসা (আঃ)- এ দিন শোকরানা রোযা রাখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমরা মূসা (আঃ)-এর (অনুসরণের) ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। তারপর তিনি এদিনে রোযা রাখেন এবং অন্যদেরও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنِ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صُيَّامًا فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ أَنْجَى اللهُ فِيهِ مُوسَى وَأَغْرَقَ فِيهِ فِرْعَوْنَ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَحْنُ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالَ يَعْنِي أَهْلَ الْعَرُوضِ حَوْلَ الْمَدِينَةِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“The Prophet (ﷺ) came to Al- Madinah, and he found the Jews observing a fast. He said: ‘What is this?’ They said: ‘This is the day when Allah saved Musa and drowned Pharaoh, so Musa fasted this day in gratitude.’ The Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘We have more right to Musa than you do.’ So he fasted (that day) and enjoined (others) to fast it also.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
৩/১৭৩৫। মুহাম্মাদ ইবনু সাইফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশূরার দিন আমাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের কেউ আজ আহার করেছে কি? আমরা বললাম, আমাদের কতক আহার করেছে এবং কতক আহার করেনি। তিনি বলেন, তোমরা যারা আহার করেছো এবং যারা আহার করোনি, তোমাদের অবশিষ্ট দিনটি রোযা রাখো। আর তোমরা মাদ্বীনাহর পার্শ্ববর্তীদের নিকট লোক পাঠিয়ে দাও, তারাও যেন দিনটির অবশিষ্টাংশ রোযা রাখে।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ مِنْكُمْ أَحَدٌ طَعِمَ الْيَوْمَ قُلْنَا مِنَّا طَعِمَ وَمِنَّا مَنْ لَمْ يَطْعَمْ قَالَ فَأَتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ مَنْ كَانَ طَعِمَ وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْ فَأَرْسِلُوا إِلَى أَهْلِ الْعَرُوضِ فَلْيُتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ قَالَ يَعْنِيْ أَهْلَ الْعَرُوْضِ حَوْلَ الْمَدِيْنَةِ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Muhammad bin Saifi that the Messenger of Allah (ﷺ) said to us on the Day of ‘Ashura’:
“Has anyone among you eaten today?” We said: “Some of us have eaten and some of us have not.” He said: “Complete the rest of your day (i.e., do not eat for the rest of the day), whoever has eaten and whoever has not eaten. And send word to the people of the suburbs to complete the rest of their day.” He was referring to the people of the suburbs around Al-Madinah.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
৪/১৭৩৬। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আগামী বছর বেঁচে থাকলে অবশ্যই (মুহাররমের) নবম তারিখে রোযা রাখবো। ইবনু আবূ যি’ব-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ তাঁর থেকে আশূরার রোযা চলে যাওয়ার আশঙ্কায় (তিনি এ কথা বলেন)।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَيْرٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ الْيَوْمَ التَّاسِعَ
قَالَ أَبُو عَلِيٍّ رَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ زَادَ فِيهِ مَخَافَةَ أَنْ يَفُوتَهُ عَاشُورَاءُ.
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Ibn ‘Abbas that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“If I live until next year, I will fast the ninth day (of Muharram) too.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
৫/১৭৩৭। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আশূরার দিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জাহিলী যুগে লোকেরা এ দিন রোযা রাখতো। অতএব তোমাদের কেউ এ দিন রোযা রাখতে আগ্রহী হলে রাখতে পারে এবং কেউ অনাগ্রহী হলে নাও রাখতে পারে।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَوْمًا يَصُومُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَرِهَهُ فَلْيَدَعْهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin ‘Umar that the Day of ‘Ashura’ was mentioned in the presence of the Messenger of Allah (ﷺ). The Messenger of Allah (ﷺ) said:
“That was a day when the people of the Ignorance used to fast. So whoever among you wants to fast may do so, and whoever does not want to may leave it.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪১. আশূরার দিনের রোযা
৫/১৭৩৮। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আশূরার দিনের রোযার দ্বারা আমি আল্লাহর নিকট বিগত বছরের গুনাহ মাফের আশা রাখি।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Qatadah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Fasting the day of ‘Ashura’, I hope, will expiate for the sins of the previous year.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪২. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা।
১/১৭৩৯। রবীআ ইবনুল গায (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি ’আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَتَحَرَّى صِيَامَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Rabi’ah bin Ghaz that he asked ‘Aishah about the fasting of the Messenger of Allah (ﷺ). She said:
“He used to make sure he fasted on Mondays and Thursdays.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪২. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা।
২/১৭৪০। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রেখ থাকেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ দু’ দিন পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দু’ ব্যক্তি ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিমকে ক্ষমা করেন। তিনি (ফেরেশতাদের) বলেনঃ তারা সন্ধিতে আবদ্ধ হওয়া অবধি তাদের ত্যাগ করো।
بَاب صِيَامِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّكَ تَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فَقَالَ إِنَّ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ يَغْفِرُ اللهُ فِيهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ إِلَّا مُهْتَجِرَيْنِ يَقُولُ دَعْهُمَا حَتَّى يَصْطَلِحَا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Prophet (ﷺ) used to fast on Mondays and Thursdays. It was said:
“O Messenger of Allah, why do you fast on Mondays and Thursdays?” He said: “On Mondays and Thursdays Allah forgives every Muslim except two who have forsaken one another. He says: ‘Leave these two until they reconcile.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৩. হারাম মাসসমূহের রোযা।
১/১৭৪১। আবূ মুজীবা আল-বাহিলী (রহ.) থেকে তার পিতা অথবা তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি সেই ব্যক্তি, গত বছরও আপনার নিকট এসেছিলাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ কী ব্যাপার, আমি তোমার শরীর দুর্বল দেখছি কেন? তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি দিনে আহার করি না, রাতেই আহার করি। তিনি বলেনঃ নিজের দেহকে শাস্তি দিতে কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে?
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অধিক শক্তিশালী। তিনি বলেনঃ তুমি ধৈর্যের মাসের রোযা রাখো এবং এরপর (প্রতি মাসে) এক দিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমি তো অধিক শক্তিশালী। তিনি বলেনঃ তুমি ধৈর্যের মাসের রোযা রাখো এবং প্রতি মাসে দু’ দিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমি এর অধিক শক্তি রাখি। তিনি বলেনঃ তুমি ধৈর্যের মাসের রোযা রাখো, অতঃপর পতিমাসে তিন দিন এবং হারাম মাসসমূহে রোযা রাখো।
بَاب صِيَامِ أَشْهُرِ الْحُرُمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ عَنْ أَبِي مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ عَمِّهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ أَنَا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتُكَ عَامَ الْأَوَّلِ قَالَ فَمَا لِي أَرَى جِسْمَكَ نَاحِلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا بِالنَّهَارِ مَا أَكَلْتُهُ إِلَّا بِاللَّيْلِ قَالَ مَنْ أَمَرَكَ أَنْ تُعَذِّبَ نَفْسَكَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمَيْنِ بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ بَعْدَهُ وَصُمْ أَشْهُرَ الْحُرُمِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। এর সানাদ ভাল নয়। কেননা এর সানাদে ইদতিরাব হয়েছে। যা হাফিয ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে এবং তার পূর্বে মানযিরী ‘মুখতাসার সুন্সান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, এর সানাদে এরূপ মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করলেন। আর এ জন্যই আমাদের কতিপয় শায়খ এটি দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এতে আরেকটি দোষ আছে তা হল জাহালাত।
It was narrated from Abu Mujibah Al-Bahili that his father or, his paternal uncle, said:
“I came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘O Prophet of Allah, I am the man who came to you last year.’ He said: ‘Why do I see your body so thin (and weak)?’ He said: ‘O Messenger of Allah! I do not eat during the day; I only eat at night.’ He said: ‘Who commanded you to punish yourself?’ I said: ‘O Messenger of Allah! I am strong enough.’ He said: ‘Fast the month of patience* and one day after it.’ I said: ‘I am strong enough (to do more).’ He said: ‘Fast the month of patience and two days after it.’ I said: ‘I am strong enough (to do more).’ He said: ‘Fast the month of patience and three days after it, and fast the sacred months.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৩. হারাম মাসসমূহের রোযা।
২/১৭৪২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, রমযান মাসের পর কোন্ রোযা উত্তম? তিনি বলেনঃ আল্লাহর সেই মাস যাকে তোমরা মুহাররম বলে থাকো।
بَاب صِيَامِ أَشْهُرِ الْحُرُمِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ شَهْرُ اللهِ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Hurairah said:
“A man came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘Which fasting is better after the month of Ramadan?’ He said: ‘The month of Allah which is called Muharram.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৩. হারাম মাসসমূহের রোযা।
৩/১৭৪৩। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।
بَاب صِيَامِ أَشْهُرِ الْحُرُمِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ رَجَبٍ
তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আতা সম্পর্কে ইমাম বুখারী মুনকার বলেছেন। আবু হাতিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। আবু বাকর আল-বায়হাকী ও ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৭৫, ৮/৪১৯ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Abbas that:
The Prophet (ﷺ) forbade fasting Rajab.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৩. হারাম মাসসমূহের রোযা।
৪/১৭৪৪। মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রহ.) থেকে বর্ণিত। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হারাম মাসসমূহে রোযা রাখতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি শাওয়াল মাসে রোযা রাখো। অতঃপর তিনি হারাম মাসসমূহের রোযা রাখা ছেড়ে দেন এবং আমরণ শাওয়াল মাসে রোযা রাখেন।
بَاب صِيَامِ أَشْهُرِ الْحُرُمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ كَانَ يَصُومُ أَشْهُرَ الْحُرُمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صُمْ شَوَّالًا فَتَرَكَ أَشْهُرَ الْحُرُمِ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَصُومُ شَوَّالًا حَتَّى مَاتَ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযীয আদ-দারওয়ারদী সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজালী তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি যখন তার কিতাব থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা সহিহ কিন্তু যখন মানুষের কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন তিনি সন্দেহ করতেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Muhammad bin Ibrahim that Usamah bin Zaid used to fast the sacred months. The Messenger of Allah (ﷺ) said to him:
“Fast Shawwal.” So he forsook the sacred months and he continued to fast Shawwal until he died.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৪. রোযা হলো দেহের যাকাত।
১/১৭৪৫। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি জিনিসের যাকাত আছে। রোযা হলো শরীরের যাকাত। মুহরিযের হাদীসে আরো আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোযা হলো ধৈর্যের অর্ধাংশ।
بَاب فِي الصَّوْمِ زَكَاةُ الْجَسَدِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ح و حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ جَمِيعًا عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ جُمْهَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةٌ وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ زَادَ مُحْرِزٌ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصِّيَامُ نِصْفُ الصَّبْرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন উবায়দাহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হুজ্জাহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬২৮০, ২৯/১০৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“For everything there is Zakat and the Zakat of the body is fasting.” (A narrator in one of the chains) Muhriz added in his narration: "And the Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Fasting is half of patience.'"
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৫. যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করালো তার সওয়াব।
১/১৭৪৬। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করায়, তার জন্য রয়েছে ইফতারকারীদের সমান সওয়াব এবং এজন্য তাদের সওয়াব থেকে কিছুই হ্রাসপ্রাপ্ত হবে না।
بَاب فِي ثَوَابِ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى وَخَالِي يَعْلَى عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ حَجَّاجٍ كُلُّهُمْ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু লায়লা সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, আমি তার চেয়ে দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ব্যাক্তি আর কাউকে দেখিনি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪০৬, ২৫/৬২২ নং পৃষ্ঠা) ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়, অন্যত্রে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ তবে ইবনু আবু লায়লা ও হাজ্জাজ এর রেওয়য়াতে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৮৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ৮ টি অধিক দুর্বল, ২৭ টি দুর্বল, ৪৭ টি হাসান, ১০১ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বুখারী ৪৮৪৩, মুসলিম ১৮৯৬, ১৮৯৭, তিরমিযি ৮০৭, ১৬২৮, ১৬২৯, ১৬৩১, আবু দাউদ ২৫০৯, দারিমী ১৭০২, ২৪১৯, আহমাদ ১৬৫৯১, ১৬৫৯৬, ১৬৫৯৭, ১৬৬০৮, ২১১৬৭, ২১১৭২, ২১৫৩২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৭৯০৫, মু'জামুল আওসাত ৫৩২, ১০৪৮, ৭১৩৬, ৭৭০০, ৭৮৮৩, ৮০৩৮, ৮৪৩৮ ইত্যাদি।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। নিশ্চয় রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো একটি উত্তম কর্ম এবং সৎ কর্ম। আর এই সৎ কর্মে মানুষের জন্য অনেক মঙ্গল নিহিত রয়েছে, তার মধ্যে হলো: মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় যদিও তাদের স্থান ও দেশগুলি দূর দূরান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই হাদীসটি রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। আর রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর পূণ্য ও মর্যাদা বর্ণনা করে।
২। নিকটের আত্মীয়-স্বজন রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো বেশি পুণ্যের কাজ। কেননা এর দ্বারা রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো হয় এবং নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয়। তবে যদি দেখা যায় যে, নিকটের আত্মীয়-স্বজন চেয়ে অন্য লোক বেশি অভাবগ্রস্ত, এবং সে রোজা ইফতার করার কিছু পাচ্ছে না, তাহলে এই অবস্থায় নিকটের আত্মীয়- স্বজন ছাড়া অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোই হবে বেশি পুণ্যের কাজ। যেহেতু এর দ্বারা তার অভাব দূর করা হবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করা হবে।
৩। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা উচিত যে, সে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে। বিশেষভাবে ওই সব রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে, যারা রোজা ইফতার করার জন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছেনা। এবং তাদেরকে রোজা ইফতার করার জন্য কেউ কিছু দিচ্ছে না।
It was narrated from Zaid bin Khalid Al-Juhani that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever gives food for a fasting person to break his fast, he will have a reward like theirs, without that detracting from their reward in the slightest.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৫. যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করালো তার সওয়াব।
২/১৭৪৭। ’আবদুল্লাহ্ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ)-এর এখানে ইফতার করেন, অতঃপর বলেনঃ তোমাদের এখানে রোযাদারগণ ইফতার করেছেন, নেককারগণ তোমাদের খাদ্যদ্রব্য আহার করেছেন এবং ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য রহমত কামনা করেছেন।
بَاب فِي ثَوَابِ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى اللَّخْمِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ أَفْطَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَقَالَ أَفْطَرَ عِنْدَكُمْ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمْ الْمَلَائِكَةُ
তাহকীক আলবানীঃ ইফতার করার কথা ব্যতীত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন আমর সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু আদী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় সমস্যা নেই। ইমাম নাসাঈ তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা) ২. মুসআব বিন সাবিত সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তাকে দুর্বল হিসেবেই জানি। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন তবে সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি গায়ির সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৮০, ২৮/১৮ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Abdullah bin Zubair said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) broke his fast with Sa’d bin Mu’adh and said: ‘Aftara ‘indakumus-saimun, wa akala ta’amakumul-abrar, wa sallat ‘alaikumul- mala’ikah (May fasting people break their fast with you, may the righteous eat your food, and may the angels send blessing upon you).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৬. রোযাদারের সামনে কেউ পানাহার করলে।
১/১৭৪৮। উম্মু ’উমারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলে আমরা তাঁর সামনে খাদ্যসামগ্রী পরিবেশন করলাম। তাঁর সাথের কতক লোক ছিল রোযাদার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোযাদারের সামনে আহার করা হলে ফেরেশতাগণ তার জন্য (আল্লাহর) অনুগ্রহ কামনা করেন।
بَاب فِي الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسَهْلٌ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا لَيْلَى عَنْ أُمِّ عُمَارَةَ قَالَتْ أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا فَكَانَ بَعْضُ مَنْ عِنْدَهُ صَائِمًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّائِمُ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ الطَّعَامُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী লায়লা সম্পর্কে ইমাম যাহাবী অজ্ঞাত নারীর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তার সুত্রে হাবিব ইবনু যায়দ একক হয়ে গেছেন। হাফিয তার সম্পর্কে মুতাবআতের ক্ষেত্রে মাকবুল বলেছেন। অন্যথায় তিনি হাদিস গ্রহনে শিথিল। কিন্তু তার মুতাবিআত জানা যায়নি। বরং একথা বলা সম্ভব যে, তিনি বিপরীত করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯২৭, ৩৫/৩০১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Umm ‘Umarah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) came to us and we brought food for him. Some of those who were with him were fasting, and the Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘If food is eaten in the presence of one who is fasting, the angels send blessing upon him.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৬. রোযাদারের সামনে কেউ পানাহার করলে।
২/১৭৪৯। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ হে বিলাল! সকালের খাবার। বিলাল (রাঃ) বলেন, আমি রোযাদার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা আমাদের রিযিক আহার করবো, আর বিলালের অংশ রয়েছে জান্নাতে। হে বিলাল! তুমি কি জানো যে, রোযাদারের সামনে খাওয়া-দাওয়া করা হলে, তার হাড়সমূহ আল্লাহর গুণগান করে এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে!
بَاب فِي الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِبِلَالٍ الْغَدَاءُ يَا بِلَالُ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَأْكُلُ أَرْزَاقَنَا وَفَضْلُ رِزْقِ بِلَالٍ فِي الْجَنَّةِ أَشَعَرْتَ يَا بِلَالُ أَنَّ الصَّائِمَ تُسَبِّحُ عِظَامُهُ وَتَسْتَغْفِرُ لَهُ الْمَلَائِكَةُ مَا أُكِلَ عِنْدَهُ
তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. বাকিইয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গন্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারনা শব্দদয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গন্য হবেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৮, ৪/১৯২ নং পৃষ্ঠা) ৩. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল-উকায়লী বলেন, তিনি অপরিচিত, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আল-আযদী তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী তাকে উল্লেখ করে বলেন, তার মাঝে জাহালাত রয়েছে। তিনি সন্দেহভাজন নির্ভরযোগ্য নয়। তার সম্পর্কে আবুল ফাত্তাহ আদ্দী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪১৬, ২৫/৬৫৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Sulaiman bin Buraidah that his father said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) said to Bilal: ‘Come and eat, O Bilal.’ He said: ‘I am fasting.’ The Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘We are eating our provision, but most of Bilal’s provision is in Paradise. Do you realise, O Bilal, that the bones of the fasting person glorify Allah and the angels pray for forgiveness for him so long as food is eaten in front of him?’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৭. রোযাদারকে আহার গ্রহণের জন্য আহবান করা হলে।
১/১৭৫০। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমাদের কাউকে আহার করার জন্য ডাকা হয়, অথচ সে রোযাদার, তখন সে যেন বলে, আমি রোযাদার।
بَاب مَنْ دُعِيَ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Prophet (ﷺ) said:
“If anyone of you is invited to eat when he is fasting, let him say: ‘I am fasting.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৭. রোযাদারকে আহার গ্রহণের জন্য আহবান করা হলে।
২/১৭৫১। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনঃ রোযাদার ব্যক্তিকে আহার গ্রহণের আহবান জানানো হলে সে যেন তাতে সাড়া দেয়। অতঃপর তার ইচ্ছা হলে খাবে অথবা খাবে না।
بَاب مَنْ دُعِيَ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ دُعِيَ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيُجِبْ فَإِنْ شَاءَ طَعِمَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Jabir that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Whoever is invited to eat when he is fasting, let him accept the invitation; and if he wants to let him eat, and if he wants let him not eat.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৮. রোযাদারের দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না (কবুল হয়)।
১/১৭৫২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি ব্যক্তির দু’আ রদ হয় নাঃ ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোযাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মজলুমের দু’আ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার দু’আ মেঘমালার উপরে তুলে নিবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং আল্লাহ্ বলবেনঃ আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো, একটু বিলম্বেই হোক না কেন।
بَاب فِي الصَّائِمِ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سَعْدَانَ الْجُهَنِيِّ عَنْ سَعْدٍ أَبِي مُجَاهِدٍ الطَّائِيِّ وَكَانَ ثِقَةً عَنْ أَبِي مُدِلَّةَ وَكَانَ ثِقَةً عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ يَرْفَعُهَا اللهُ دُونَ الْغَمَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَتُفْتَحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَيَقُولُ بِعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মুদিল্লাহ হল আইশাহ (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস এবং আমরা তাকে এই হাদিস দ্বারা চিনতে পেরেছি। বিষয়টি যদি তাই হয় তবে উসুলী কায়িদাহ অনুযায়ী সে একজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি। ইমাম মাদানী বলেছেন, তার নাম জানা যায়নি। সে অজ্ঞাত এবং আবু মুজাহিদ ব্যাতিত কেউ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেনি। মুলতঃ তার সম্পর্কে এরূপ বক্তব্য তার হাদিসকে হাসান করেন না, বিশেষ করে হাদিসটি আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত ভিন্ন একটি হাদিসের বিপরীত। সেই হাদিসটি রয়েছে সহীহাহ ২য় খণ্ড ৭ম অধ্যায়ে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৬১১, ৩৪/২৬৯ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Hurairah that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
There are three whose supplications are not turned back: A just ruler, and a fasting person until he breaks his fast. And, the supplication of one who has been wronged is raised by Allah up to the clouds on the Day of Resurrection, and the gates of heaven are opened for it, and Allah says, ‘By My Might I will help you (against the wrongdoer) even if it is after a while.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৮. রোযাদারের দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না (কবুল হয়)।
২/১৭৫৩। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইফতারের সময় রোযাদারের অবশ্যই একটি দু’আ আছে, যা রদ হয় না (কবুল হয়)। ইবনু আবূ মুলাইকা (রহ.) বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে ইফতারের সময় বলতে শুনেছিঃ ’’হে আল্লাহ্! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন’’।
بَاب فِي الصَّائِمِ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ الْمَدَنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ
قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ إِذَا أَفْطَرَ اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي.
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন উবায়দুল্লাহ আল-মাদানীর কারণে হাদিসটি দুর্বল হয়েছে। তার সম্পর্কে শায়খ আলবানী ইরওয়া'উল গালীল এর মধ্যে প্রায় ৫ পৃষ্ঠা আলোচনা করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ইরওয়া'উল গালীল।
It was narrated from ‘Abdullah bin ‘Amr bin ‘As that the Messenger of Allah (ﷺ) said: “When the fasting person breaks his fast, his supplication is not turned back.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৯. ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে আহার করা।
১/১৭৫৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর না খেয়ে (ঈদের মাঠে) রওয়ানা হতেন না।
بَاب فِي الْأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ
حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ تَمَرَاتٍ
It was narrated that Anas bin Malik said:
“The Prophet (ﷺ) would not go out on the Day of Fitr until he had eaten some dates.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৯. ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে আহার করা।
২/১৭৫৫। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে তাঁর সাহাবীদের ফিতরা পরিশোধের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত (ঈদগাহে) রওয়ানা হতেন না।
بَاب فِي الْأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ
حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ حَدَّثَنَا مَنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ صَهْبَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يُغَذِّيَ أَصْحَابَهُ مِنْ صَدَقَةِ الْفِطْرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্ (আল্লাহ্ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মানদাল বিন আলী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াকুব বিন শসায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৭৬, ২৮/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা) ৩. উমার বিন সহবান সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ বলেন, তার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ এতো কথা বলেছেন, যে তা অন্য কারো ব্যাপারে আমি আর দেখিনি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৬০, ২১/৩৯৮ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Ibn ‘Umar said:
“The Prophet (ﷺ) would not go out on the Day of Fitr until he had had given his Companions some of the charity of Fitr to eat.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৪৯. ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে আহার করা।
৩/১৭৫৬। বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন আহার না করে (ঈদের মাঠে) রওয়ানা হতেন না এবং কুরবাণীর দিন ঈদগাহ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত আহার করতেন না।
بَاب فِي الْأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ثَوَابُ بْنُ عُتْبَةَ الْمَهْرِيُّ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ وَكَانَ لَا يَأْكُلُ يَوْمَ النَّحْرِ حَتَّى يَرْجِعَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Ibn Buraidah from his father, that:
The Messenger of Allah (ﷺ) would not go out on the Day of Fitr until he had eaten, and he would not eat on the Day of Nahr (the day of sacrifice) until he came back.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫০. যে ব্যক্তি অবহেলা করে রমাযানের রোযা অনাদায় রেখে মারা গেলো।
১/১৭৫৭। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার যিম্মায় রমযান মাসের রোযা বাকি রেখে মারা গেলো, তার পক্ষ থেকে প্রতি দিনের রোযার জন্য যেন একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে আহার করানো হয়।
بَاب مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ رَمَضَانَ قَدْ فَرَّطَ فِيهِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْثَرُ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرٍ فَلْيُطْعَمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينٌ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আশআস (বিন সাওয়ার) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন সিকাহ বললেও অন্যত্রে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। উসমান বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৪, ৩/২৬৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Umar that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
‘Whoever dies owing the fasts of a month, one poor person should be fed on his behalf for each day.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫১. যে ব্যক্তি মানতের রোযা যিম্মায় রেখে মারা গেলো।
১/১৭৫৮। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোন তার যিম্মায় রমযানের পরপর দু’ মাসের রোযা রেখে মারা গেছে। তিনি বলেনঃ তুমি কি মনে করো, তোমার বোন ঋণগ্রস্ত থাকলে তুমি তা পরিশোধ করতে? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ আল্লাহর প্রাপ্য তো অধিক পরিশোধযোগ্য।
بَاب مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ مِنْ نَذْرٍ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ وَالْحَكَمِ وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَعَطَاءٍ وَمُجاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُخْتِكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَحَقُّ اللهِ أَحَقُّ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল-আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালিহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Ibn ‘Abbas said:
“A woman came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘O Messenger of Allah, my sister has died and she owed a fast of two consecutive months.’ He said: ‘Do you not think that if your sister owed a debt, you would pay it off for her?’ She said: ‘Of course.’ He said: ‘The right of Allah is greater.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫১. যে ব্যক্তি মানতের রোযা যিম্মায় রেখে মারা গেলো।
২/১৭৫৯। বুরাইদাহ (রাঃ) বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা তার যিম্মায় রোযা রেখে মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখবো? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।
بَاب مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ مِنْ نَذْرٍ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمٌ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন আতা সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযগে অভিযুক্ত। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি আহলে ইমমের নিকট নির্ভরযোগ্য। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল ও তাদলীস করেন। ইমাম যাহাবী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪২৯, ১৫/৩১১ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn Buraidah that his father said:
“A woman came to the Prophet (ﷺ) and said: ‘O Messenger of Allah, my mother has died and she owed a fast. Should I fast on her behalf?’ He said: ‘Yes.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫২. যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইসলাম গ্রহণ করলো।
১/১৭৬০। আতিয়্যা ইবনু সুফ্ইয়ান ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু রবীয়া (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের যে প্রতিনিধি দলটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিায়ছিল, তারা সাকীফ গোত্রের ইসলাম গ্রহণের বর্ণনা দেয়। রাবী বলেন, তারা তাঁর নিকটে রমযান মাসে উপস্থিত হয়। তিনি মসজিদে তাদের জন্য একটি তাঁবু খাটিয়ে দিয়েছিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করার পর রমযান মাসের অবশিষ্ট রোযাগুলো রেখেছিল।
بَاب فِيمَنْ أَسْلَمَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ حَدَّثَنَا وَفْدُنَا الَّذِينَ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِإِسْلَامِ ثَقِيفٍ قَالَ وَقَدِمُوا عَلَيْهِ فِي رَمَضَانَ فَضَرَبَ عَلَيْهِمْ قُبَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَسْلَمُوا صَامُوا مَا بَقِيَ عَلَيْهِمْ مِنْ الشَّهْرِ
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that ‘Atiyyah bin Sufyan bin ‘Abdullah bin Rabi’ah said:
“Our delegation who went to the Messenger of Allah (ﷺ) to announce the Islam of Thaqif told us that they came to him in Ramadan. He set up a tent for them in the mosque, and when they became Muslim, they fasted what was left of the month.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৩. যে মহিলা তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত (নফল) রোযা রাখে।
১/১৭৬১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বামীর উপস্থিতিতে তার সম্মতি ব্যতীত স্ত্রী রমযান মাসের রোযা ছাড়া এক দিনও রোযা রাখবে না।
بَاب فِي الْمَرْأَةِ تَصُومُ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ يَوْمًا مِنْ غَيْرِ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلَّا بِإِذْنِهِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Hurairah that the Prophet (ﷺ) said:
“When her husband is present, no woman should fast any day apart from the month of Ramadan without his permission.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৩. যে মহিলা তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত (নফল) রোযা রাখে।
২/১৭৬২। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে তাদের স্বামীদের সম্মতি ব্যতীত রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।
بَاب فِي الْمَرْأَةِ تَصُومُ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ أَنْ يَصُمْنَ إِلَّا بِإِذْنِ أَزْوَاجِهِنَّ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Sa’eed said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) forbade women from fasting without the permission of their husbands.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৪. কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) রোযা রাখবে না।
১/১৭৬৩। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে যেন তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) রোযা না রাখে।
بَاب فِيمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَلَا يَصُومُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ
- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ وَخَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا نَزَلَ الرَّجُلُ بِقَوْمٍ فَلَا يَصُومُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ
তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী আবু বকর আল-মাদানী সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম যাহাবী দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল।
It was narrated from ‘Aishah that the Prophet (ﷺ) said:
“If a man stays among a people, he should not fast without their permission.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৫. যে ব্যক্তি বলে, কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতুল্য।
১/১৭৬৪। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতুল্য।
بَاب فِيمَنْ قَالَ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ كَالصَّائِمِ الصَّابِرِ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأُمَوِيِّ عَنْ مَعْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ الْأَسْلَمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ بِمَنْزِلَةِ الصَّائِمِ الصَّابِرِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল উমাবী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী ও তাহরিরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৬৮, ১৫/১৮৫ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইয়াকুব বিন হুমায়দ ও আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল উমাবী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩ টি জাল, ৯ টি অধিক দুর্বল, ২০ টি দুর্বল, ১৩ টি হাসান, ৯ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ২৪৮৬, দারিমী ২০২৪, আহমাদ ৭৭৪৭, ৭৮২৯, ১৮৫৩৪, মু'জামুল আওসাত ৭৩৮১, শারহুস সুন্নাহ ২৮৩২ ইত্যাদি।
It was narrated from Abu Hurairah that the Prophet (ﷺ) said:
“A grateful eater is equal to a patient fasting person.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৫. যে ব্যক্তি বলে, কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতুল্য।
২/১৭৬৫। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী সিনান ইবনু সান্নাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৃতজ্ঞ আহারকারির জন্য রয়েছে ধৈর্যশীল রোযাদারের অনুরূপ প্রতিদান।
بَاب فِيمَنْ قَالَ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ كَالصَّائِمِ الصَّابِرِ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي حُرَّةَ عَنْ عَمِّهِ حَكِيمِ بْنِ أَبِي حُرَّةَ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَنَّةَ الْأَسْلَمِيِّ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الصَّائِمِ الصَّابِرِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযিয আদ-দারাওয়ারদী সম্পর্কে মুহাম্মাদ বোন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল আজালী তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি যখন তার কিতাব হতে কোন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা সহীহ কিন্তু যখন মানুষের কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন তিনি সন্দেহ করতেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Sinan bin Sannah Al-Aslami, the Companion of the Prophet (ﷺ), that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
“A grateful eater will have a reward like that of a patient fasting person.”
পরিচ্ছেদঃ ৮/৫৬. লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) সম্পর্কে
১/১৭৬৬। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রমযান মাসের মধ্যম দশকে ই’তিকাফ করেছিলাম। তিনি বলেনঃ আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল; পরে তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা রমযান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে তা অনুসন্ধান করো।
بَاب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ اعْتَكَفْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَ إِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَأُنْسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْوَتْرِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Sa’eed Al-Khudri said:
“We observed I’tikaf with the Messenger of Allah (ﷺ) during the middle ten days of Ramadan. He said: ‘I have been shown Lailatul-Qadr, then I was caused to forget it, so seek it in the last ten night, on the odd-numbered nights.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৭. রমযান মাসের শেষ দশকের ফযীলাত।
১/১৭৬৭। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ইবাদতে অধিক মশগুল থাকতেন।
بَاب فِي فَضْلِ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ وَأَبُو إِسْحَقَ الْهَرَوِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَاتِمٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Prophet (ﷺ) used to strive hard (in worship) in the last ten nights of Ramadan as he never did at any other time.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৭. রমযান মাসের শেষ দশকের ফযীলাত।
২/১৭৬৮। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশকে রাত জাগতেন, তহবন্দ শক্ত করে বেঁধে নিতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে (ইবাদতে মশগুল হওয়ার জন্য) জাগিয়ে দিতেন।
بَاب فِي فَضْلِ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَتْ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“When the last ten days of Ramadan began, the Prophet (ﷺ) used to stay up at night, tighten his waist- wrap, and wake up his family (to pray).”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৮. ই‘তিকাফ সম্পর্কে।
১/১৭৬৯। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। তবে তিনি ইনতিকালের বছর বিশ দিন ই’তিকাফ করেন। প্রতি বছর (রমযান মাসে) তাঁর কাছে একবার কুরআন পেশ করা হতো। তবে তাঁর ইনতিকালের বছর তাঁর কাছে তা দু’বার পেশ করা হয়।
بَاب مَا جَاءَ فِي الِاعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ كُلَّ عَامٍ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا وَكَانَ يُعْرَضُ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ عُرِضَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that Abu Hurairah said:
“The Prophet (ﷺ) used to observe I’tikaf for ten days every year. In the year in which he passed away, he observed I’tikaf for twenty days. And the Qur’an would be reviewed with him once every year, but in the year in which he passed away, it was reviewed with him twice.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৮. ই‘তিকাফ সম্পর্কে।
২/১৭৭০। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। তবে তিনি কোন এক বছর এ সময় সফরে অতিবাহিত করেন। এরপর পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الِاعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَسَافَرَ عَامًا فَلَمَّا كَانَ مِنْ الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।
It was narrated from Ubayy bin Ka’b that:
The Prophet (ﷺ) used to spend the last ten days of Ramadan in I’tikaf. One year he was traveling, so the following year he spent twenty days in I’tikaf.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৫৯. যে ব্যক্তি ইতিকাফে বসলো এবং ইতিকাফের কাযা সম্পর্কে।
১/১৭৭১। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফ করার ইচ্ছা করলে ফজরের সালাত পড়ার পর ইতিকাফের উদ্দেশে নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি রমযানের শেষ দশদিন ই’তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন এবং তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) -ও তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন। অতএব তার জন্যও বেষ্টনী তৈরি করা হলো। হাফসা (রাঃ)-ও একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিলে তাঁর জন্যও তা তৈরি করা হলো। যয়নাব (রাঃ) তাদের দু’জনের বেষ্টনী দেখে আরেকটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন এবং তার জন্যও তা তৈরি করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বলেন : তোমরা কি পুণ্য লাভের উদ্দেশে এমনটি করছো! এরপর তিনি আর রমযান মাসে ই’তিকাফ করলেন না, পরে শাওয়াল মাসের দশ দিন ই’তিকাফ করেন।
بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَبْتَدِئُ الِاعْتِكَافَ وَقَضَاءِ الِاعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الصُّبْحَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَكَانَ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ فَأَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَأَمَرَ فَضُرِبَ لَهُ خِبَاءٌ فَأَمَرَتْ عَائِشَةُ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا وَأَمَرَتْ حَفْصَةُ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا فَلَمَّا رَأَتْ زَيْنَبُ خِبَاءَهُمَا أَمَرَتْ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ آلْبِرَّ تُرِدْنَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ رَمَضَانَ وَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“When the Prophet (ﷺ) wanted to start I’tikaf, he would pray the Subh, then he would enter the place where he wanted to observe I’tikaf. He wanted to spend the last ten days of Ramadan in I’tikaf, so he ordered that a tent be set up for him.” Then ‘Aishah ordered that a tent be set up for her, and Hafash ordered that a tent be set up for her. When Zainab saw their two tents, she also ordered that a tent be set up for her. When the Messenger of Allah (ﷺ) saw that, he said: “It is righteousness that you seek?” Then he did not observe I’tikaf during Ramadan, and he observed I’tikaf during ten days of Shawwal.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬০. এক দিন অথবা এক রাত ই‘তিকাফ করা।
১/১৭৭২। ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জাহিলী যুগে তার এক রাত ই’তিকাফ করার মানত ছিল। তিনি এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে ই’তিকাফ করার নির্দেশ দেন।
بَاب فِي اعْتِكَافِ يَوْمٍ أَوْ لَيْلَةٍ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مُوسَى الْخَطْمِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ نَذْرُ لَيْلَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَكِفُهَا فَسَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَكِفَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Umar that he had vowed during the Ignorance days to spend one night in I’tikaf. He asked the Prophet (ﷺ) about it, so he commanded him to spend it in I’tikaf.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬১. ই‘তিকাফকারী মসজিদের একটি স্থান নির্ধারণ করে নিবে।
১/১৭৭৩। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন। নাফি’ (রহ.) বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইতিকাফের স্থানটি দেখিয়েছেন।
بَاب فِي الْمُعْتَكِفِ يَلْزَمُ مَكَانًا مِنْ الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا يُونُسُ أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ
قَالَ نَافِعٌ وَقَدْ أَرَانِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ الْمَكَانَ الَّذِي كَانَ يَعْتَكِفُ فِيهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from ‘Abdullah bin ‘Umar that:
The Messenger of Allah (ﷺ) used to spend the last ten days of Ramadan in I’tikaf.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬১. ই‘তিকাফকারী মসজিদের একটি স্থান নির্ধারণ করে নিবে।
২/১৭৭৪। ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইতিকাফের ইচ্ছা করলে তার জন্য উসতুওয়ানায়ে তাওবা’’-এর পেছনে তাঁর বিছানা দেয়া হতো অথবা তাঁর খাট রাখা হতো।
بَاب فِي الْمُعْتَكِفِ يَلْزَمُ مَكَانًا مِنْ الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عِيسَى بْنِ عُمَرَ بْنِ مُوسَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا اعْتَكَفَ طُرِحَ لَهُ فِرَاشُهُ أَوْ يُوضَعُ لَهُ سَرِيرُهُ وَرَاءَ أُسْطُوَانَةِ التَّوْبَةِ
তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী নু'আয়ম বিন হাম্মাদ সম্পর্কে আল-আজলী সিকাহ বলেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ ও ভুল করেন। মুসলিম বিন কাসিম বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি কিছু হাদিসের ব্যাপারে বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু বিশর আদ দাওলানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস গ্রহনের ব্যাপারে শিথিল। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায়অধিক ভুল করেন।(তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৫১, ২৯/৪৬৬ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Umar that:
When the Prophet (ﷺ) observed I’tikaf, his bedding would be spread for him, or his bed would be placed there for him, behind the Pillar or Repentance.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬২. মসজিদের অভ্যন্তরে তাঁবুতে ই‘তিকাফ করা।
১/১৭৭৫। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি তুর্কী তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফে বসেন, যার জানালায় টাঙ্গানো ছিলো চাটাইয়ের টুকরা। রাবী বলেন, তিনি তাঁর হাত দিয়ে চাটাইটি সরিয়ে বেষ্টনীর পাশে রাখেন, অতঃপর মাথা বের করে লোকেদের সাথে কথা বলেন।
بَاب الِاعْتِكَافِ فِي خَيْمَةِ الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَكَفَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ عَلَى سُدَّتِهَا قِطْعَةُ حَصِيرٍ قَالَ فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Abu Sa’eed Al-Khudri that:
The Messenger of Allah (ﷺ) observed I’tifak in a Turkish tent, over the door of which was a piece of reed matting. He pushed the mat aside, then he put his head out and spoke to the people.
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৩. ই‘তিকাফকারির রোগীকে দেখতে যাওয়া ও জানাযায় উপস্থিত হওয়া।
১/১৭৭৬। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ই’তিকাফরত অবস্থায় কেবলমাত্র প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরে যেতাম এবং ঘরে রোগী থাকলে হাঁটতে হাঁটতে তাকে দেখতে যেতাম। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফকালে প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে যেতেন না।
بَاب فِي الْمُعْتَكِفِ يَعُودُ الْمَرِيضَ وَيَشْهَدُ الْجَنَائِزَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنْ كُنْتُ لَأَدْخُلُ الْبَيْتَ لِلْحَاجَةِ وَالْمَرِيضُ فِيهِ فَمَا أَسْأَلُ عَنْهُ إِلَّا وَأَنَا مَارَّةٌ قَالَتْ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةٍ إِذَا كَانُوا مُعْتَكِفِينَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated that ‘Aishah said:
“I used to enter the house to relieve myself, and there was a sick person there, and I only inquired after him as I was passing through.” She said: “And the Messenger of Allah (ﷺ) would not enter the house except to relieve himself, then they were observing I’tikaf.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৩. ই‘তিকাফকারির রোগীকে দেখতে যাওয়া ও জানাযায় উপস্থিত হওয়া।
২/১৭৭৭। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ই’তিকাফকারী জানাযায় শরীক হতে পারে এবং রোগীকেও দেখতে যেতে পারে।
بَاب فِي الْمُعْتَكِفِ يَعُودُ الْمَرِيضَ وَيَشْهَدُ الْجَنَائِزَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْهَيَّاجُ الْخُرَاسَانِيُّ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الْخَالِقِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُعْتَكِفُ يَتْبَعُ الْجِنَازَةَ وَيَعُودُ الْمَرِيضَ
তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হায়্যাজ (বিন বিসতাম) আল-খুরাসানী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তার হাদিস বর্জন করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৩৭, ৩০/৩৫৭ নং পৃষ্ঠা) ২. আম্বাসাহ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম তিরমিযি ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৩৬, ২২/৪১৬ নং পৃষ্ঠা) ৩. আবদুল খালিক সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অত্যান্ত দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। এছাড়াও এ হাদিসটি সহীহ হাদিসের বিপরীত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৩২, ১৬/৪৬৬ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated that Anas bin Malik said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) said: ‘The person observing I’tikaf may attend funerals and visit the sick.’”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৪. যে ইতিকাফকারী তার মাথা ধোয় এবং চুল অাঁচড়ায়।
১/১৭৭৮। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফরত অবস্থায় তাঁর মাথা আমার দিকে এগিয়ে দিতেন। আমি তা ধৌত করে দিতাম এবং আঁচড়িয়ে দিতাম। তখন আমি হায়েয অবস্থায় আমার ঘরে থাকতাম এবং তিনি মসজিদে থাকতেন।
بَاب مَا جَاءَ فِي الْمُعْتَكِفِ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَيُرَجِّلُهُ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «يُدْنِي إِلَيَّ رَأْسَهُ وَهُوَ مُجَاوِرٌ فَأَغْسِلُهُ وَأُرَجِّلُهُ وَأَنَا فِي حُجْرَتِي وَأَنَا حَائِضٌ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ».
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।
It was narrated that ‘Aishah said:
“The Messenger of Allah (ﷺ) used to bring his head towards me when he was next door (observing I’tikaf), and I would wash it and comb his hair, when I was in my apartment and I was menstruating, and he was in the mosque.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৫. ই‘তিকাফকারির সাথে তার পরিবার-পরিজনের সাক্ষাত করা।
১/১৭৭৯। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রমযান মাসের শেষ দশকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই’তিকাফ করেছিলেন। তখন সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর সাথে দেখা করতে আসেন এবং রাতের কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন। অতঃপর তিনি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাকে বিদায় দেয়ার জন্য দাঁড়ান।
সাফিয়্যা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর ঘরের নিকটবর্তী মসজিদের দরজার কাছাকাছি পৌঁছলে দু’জন আনসারী তাদেরকে অতিক্রম করে গেলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতে লাগলেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলেনঃ থামো! এ হচ্ছে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই। তারা বলেন, সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রসূল! বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন মনে হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান আদম-সন্তানের শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহের মত ধাবিত হয়। আমি আশঙ্কা করছিলাম, শয়তান তোমাদের অন্তরে কোনরূপ কুধারণার সৃষ্টি করে কিনা?
بَاب فِي الْمُعْتَكِفِ يَزُورُهُ أَهْلُهُ فِي الْمَسْجِدِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُوسَى بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَزُورُهُ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فِي الْمَسْجِدِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً مِنْ الْعِشَاءِ ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ فَقَامَ مَعَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْلِبُهَا حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ بَابَ الْمَسْجِدِ الَّذِي كَانَ عِنْدَ مَسْكَنِ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِهِمَا رَجُلَانِ مِنْ الْأَنْصَارِ فَسَلَّمَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَفَذَا فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ قَالَا سُبْحَانَ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ وَكَبُرَ عَلَيْهِمَا ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
It was narrated from Safiyyah bint Huyai, the wife of the Prophet (ﷺ), that she came to visit the Messenger of Allah (ﷺ) when he was in I’tikaf during the last ten days of the month of Ramadan. She spoke with him for a while during the evening, then she stood up to go back. The Messenger of Allah (ﷺ) got up to take her home. When she reached the door of the mosque that was by the home of Umm Salamah, the wife of the Prophet (ﷺ), two men from among the Ansar passed by them. They greeted the Messenger of Allah (ﷺ) with peace, then went away. The Messenger of Allah (ﷺ) said:
“Take it easy, she is Safiyyah bint Huyai.” They said: “Glorious is Allah, O Messenger of Allah!” And they were very upset by that (i.e., that he thought they may have some doubts). The Messenger of Allah (ﷺ) said: “The Satan flows through the son of Adam like blood, and I was afraid that he might cast some doubt into your hearts.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৬. রক্তপ্রদর রোগিনীর ই‘তিকাফ করা।
১/১৭৮০। ইকরিমা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক স্ত্রী তাঁর সাথে ই’তিকাফ করেন। তিনি লাল ও হলদে বর্ণের রক্ত দেখতে পেতেন। তাই অধিকাংশ সময় তিনি তার নিচে একটি ছোট প্লেট পেতে রাখতেন।
بَاب فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَعْتَكِفُ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّبَّاحُ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ اعْتَكَفَتْ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةٌ مِنْ نِسَائِهِ فَكَانَتْ تَرَى الْحُمْرَةَ وَالصُّفْرَةَ فَرُبَّمَا وَضَعَتْ تَحْتَهَا الطَّسْتَ
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
‘Aishah said:
“One of the wives of the Messenger of Allah (ﷺ) observed I’tikaf with him, and she used to see red and yellow discharge, and sometime she would put a basin beneath her.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৭. ইতিকাফের সওয়াব।
১/১৭৮১। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফকারী সম্পর্কে বলেনঃ সে নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং নেককারদের সকল নেকী তার জন্য লেখা হয়।
بَاب فِي ثَوَابِ الِاعْتِكَافِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أُمَيَّةَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُوسَى الْبُخَارِيُّ عَنْ عُبَيْدَةَ الْعَمِّيِّ عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْمُعْتَكِفِ هُوَ يَعْكِفُ الذُّنُوبَ وَيُجْرَى لَهُ مِنْ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلِّهَا
তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ঈসা বিন মুসা আল-বুখারী সম্পর্কে মুসলিম বিন কাসিম বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো কখনো হাদিস বর্ণনায় সিকাহ রাবীর বিপরীত বর্ণনা করেন। হাকিম বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিনতি ১০০ জন অপরিচিত ব্যাক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ২. উবায়দাহ আল-আম্মী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৫১, ১৯/২৫৬ নং পৃষ্ঠা) ৩. ফারকাদ আস-সাবাখী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আল-আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু আহমাদ আল-হাকিম, আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ ও আবু যুরআহ আর-রাযী তারা বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭১৫, ২৩/১৬৪ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Ibn ‘Abbas that:
The Messenger of Allah (ﷺ) said concerning the person observing I’tikaf. “He is refraining from sin and he will be given a reward like that of one who does all kinds of good deeds.”
পরিচ্ছেদঃ ৭/৬৮. যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে ইবাদত করে।
১/১৭৮২। আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ইবাদত করবে তার অন্তর ঐ দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে।
بَاب فِيمَنْ قَامَ فِي لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ
حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ
তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. বাকিইয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গন্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারনা শব্দদয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গন্য হবেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৮, ৪/১৯২ নং পৃষ্ঠা)
It was narrated from Abu Umamah that the Prophet (ﷺ) said:
“Whoever spends the nights of the two ‘Eid in praying voluntary prayers, seeking reward from Allah, his heart will not die on the Day when hearts will die.”