পরিচ্ছেদঃ ১. মদ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
২১২৭. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মি’রাজের রাতে ’ঈলইয়া’[1] নামক শহরে তাঁর সম্মুখে দুধ ও শরাবের দু’টি পেয়ালা পেশ করা হল। তখন তিনি এ দু’টির দিকে তাকালেন এবং তিনি দুধের পেয়ালাটি নিলেন। তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, আলহামদু লিল্লাহ! সেই আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আপনাকে ’ফিতরাত’ (তথা স্বভাব ধর্ম ইসলাম) এর দিকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।[2]
بَاب مَا جَاءَ فِي الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ بِإِيلِيَاءَ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ وَلَبَنٍ فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا ثُمَّ أَخَذَ اللَّبَنَ فَقَالَ جِبْرِيلُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَاكَ لِلْفِطْرَةِ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, আম্বিয়া ৩৩৯৪; মুসলিম, ঈমান ১৬৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১, ৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. মদ কিভাবে হারাম হয়েছিলো
২১২৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি আবূ তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। এমন সময় মদ হারামের আয়াত নাযিল হলো। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন। তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং দেখ তো বিষয়টি কী। তখন আমি বাইরে গেলাম এবং বললাম, বিষয়টি হলো, একজন ঘোষণাকারী এ মর্মে ঘোষণা দিচ্ছে যে, সাবধান! শরাব এখন হতে হারাম করে দেয়া হয়েছে। তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। তিনি (আনাস রাঃ) বলেন, সে দিন মাদ্বীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ ’’যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না’’- (আল-মা-য়িদাহ: ৯৩)।”[1]
بَاب فِي تَحْرِيمِ الْخَمْرِ كَيْفَ كَانَ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنْتُ سَاقِيَ الْقَوْمِ فِي مَنْزِلِ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ فَنَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ قَالَ فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ اخْرُجْ فَانْظُرْ مَا هَذَا فَخَرَجْتُ فَقُلْتُ هَذَا مُنَادٍ يُنَادِي أَلَا إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ فَقَالَ لِيَ اذْهَبْ فَأَهْرِقْهَا قَالَ فَجَرَتْ فِي سِكَكِ الْمَدِينَةِ قَالَ وَكَانَتْ خَمْرُهُمْ يَوْمَئِذٍ الْفَضِيخَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ قُتِلَ قَوْمٌ وَهِيَ فِي بُطُونِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا الْآيَةَ
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ২৪৬৪; মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৮০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০০৮, ৩০৪২, ৩৩৬১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪৫, ৫৩৫২, ৫৩৬১, ৫৩৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. মদপানকারীদের উপর কঠোর হুঁশিয়ারী
২১২৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করবে, অত:পর তা হতে তাওবা করবে না, আখিরাতে তার জন্য তা হারাম করা হবে, ফলে সে তা থেকে পান করতে পারবে না।”[1]
بَاب فِي التَّشْدِيدِ عَلَى شَارِبِ الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ لَمْ يَتُبْ مِنْهَا حُرِمَهَا فِي الْآخِرَةِ فَلَمْ يُسْقَهَا
তাখরীজ: মালিক, আশরিবাহ ১১ সহীহ সনদে; বুখারী, আশরিবাহ ৫৫৭৫; মুসলিম, আশরিবাহ ২০০৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. মদপানকারীদের উপর কঠোর হুঁশিয়ারী
২১৩০. আবদুল্লাহ্ ইবন দায়লামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি তাঁর তায়েফস্থিত ওহাত নামক বাগানে ছিলেন। তিনি কুরায়শের এক যুবকের মাজা ধরে ছিলেন। লোকদের ধারনা ছিল যে, ঐ যুবক মদ পান করতো। আমি বললাম, আমার নিকট আপনার বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে যে, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করে থাকেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি এক ঢোক শরাব পান করবে, চল্লিশ দিন তার সালাত কবুল হবে না।” সে যুবকটি মদের আলোচনা শোনামাত্র আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাত থেকে তার হাত এক ঝটকায় সরিয়ে নিয়ে চলে গেল।
তখন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহ! আমি যা বলিনি, আমার উপর তা আরোপ করা কারো জন্য হালাল করি না। নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি এক ঢোক শরাব পান করবে, চল্লিশ দিন তার সালাত কবুল হবে না। অত:পর যদি সে তাওবা করে, তবে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া-তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন।” আমার মনে নাই, তিনি এভাবে তৃতীয় বারে নাকি চতুর্থবারে বলেছেন, “তাহলে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া-তায়ালা নিশ্চিতরুপে তাকে কিয়ামতের দিন ’রদগতিল খাবাল’ (দোযখীদের পুঁজ) পান করাবেন।”[1]
بَاب فِي التَّشْدِيدِ عَلَى شَارِبِ الْخَمْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فِي حَائِطٍ لَهُ بِالطَّائِفِ يُقَالُ لَهُ الْوَهْطُ فَإِذَا هُوَ مُخَاصِرٌ فَتًى مِنْ قُرَيْشٍ يُزَنُّ ذَلِكَ الْفَتَى بِشُرْبِ الْخَمْرِ فَقُلْتُ خِصَالٌ بَلَغَتْنِي عَنْكَ أَنَّكَ تُحَدِّثُ بِهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ شَرْبَةً لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَلَمَّا أَنْ سَمِعَهُ الْفَتَى يَذْكُرُ الْخَمْرَ اخْتَلَجَ يَدَهُ مِنْ يَدِ عَبْدِ اللَّهِ ثُمَّ وَلَّى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ اللَّهُمَّ إِنِّي لَا أُحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ شَرْبَةً لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَا أَدْرِي فِي الثَّالِثَةِ أَمْ فِي الرَّابِعَةِ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৫৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৭৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. মদ পরিবেশন করা হয় এমন খানায় বসার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
২১৩১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে, যেখানে মদ পান করা হয়।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الْقُعُودِ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَقْعُدْ عَلَى مَائِدَةٍ يُشْرَبُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯২৫ তে।
এছাড়া, তাবারাণী, আল আওসাত নং ৬৯২, ১৭১৫, ২৫৩১; খতীব, তারিখ বাগদাদ ১/৪৪৪ নং ৩২০; সাহমী, তারিখ জুরজান পৃ: ১৯১-১৯২।
আর এ হাদীসের শাহিদ রয়েছে কয়েকটি: উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫১ তে। সেখানে আমরা এর শাহিদ সমূহ উল্লেখ করেছি। ফাতহুল বারী ৯/২৫০ তে হাফিজ (ইবনু হাজার) একে নাসাঈ’র দিকে সম্বন্ধিত করেছেন এবং বলেছেন, এর সনদ জাইয়্যেদ’ বা উত্তম। এটি রয়েছে (নাসাঈ’র) কুবরা নং ৬৭৪১; আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৩/১৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ৫. মাদকাসক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে
২১৩২. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ব্যভিচারিনীর সন্তান, উপকার করে খোঁটাদানকারী, (পিতা-মাতার) অবাধ্য সন্তান এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”[1]
بَاب فِي مُدْمِنِ الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ جَابَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَلَدُ زِنْيَةٍ وَلَا مَنَّانٌ وَلَا عَاقٌّ وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৮২ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. মাদকাসক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে
২১৩৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(পিতা-মাতার) অবাধ্য সন্তান, উপকার করে খোঁটাদানকারী এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”[1]
بَاب فِي مُدْمِنِ الْخَمْرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ عَنْ جَابَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌّ وَلَا مَنَّانٌ وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৮৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৮৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬. মাদকদ্রব্যে কোনো আরোগ্য নেই
২১৩৪. ওয়াইল (ইবনু হুজর) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, সুওয়াইদ ইবনু তারিক্ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মদ (দ্বারা চিকিৎসা করা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন। তখন তিনি বললেন, এটি তো রোগ থেকে আরোগ্যদানকারী। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এটি তো আরোগ্যদানকারী নয়-ই, বরং তা নিজেই একটি রোগ।”[1]
بَاب لَيْسَ فِي الْخَمْرِ شِفَاءٌ
أَخْبَرَنَا سُهَيْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ قَالَ سَمِعْتُ عَلْقَمَةَ بْنَ وَائِلٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ وَائِلٍ أَنَّ سُوَيْدَ بْنَ طَارِقٍ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخَمْرِ فَنَهَاهُ عَنْهَا أَنْ يَصْنَعَهَا فَقَالَ إِنَّهَا دَوَاءٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا لَيْسَتْ دَوَاءً وَلَكِنَّهَا دَاءٌ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৮৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৮৯, ১৩৯০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৭৭ তে। দেখুন, মানহাতুল মা’বূদ নং ১৭২২।
পরিচ্ছেদঃ ৭. যে সকল দ্রব্য থেকে মদ তৈরী হয়
২১৩৫. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “মদ এ দু’টি গাছ হতে তৈরী হয়: খেজুর ও আঙ্গুর।”[1]
بَاب مِمَّا يَكُونُ الْخَمْرُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا كَثِيرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْخَمْرُ فِي هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ النَّخْلَةِ وَالْعِنَبَةِ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৮৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০০২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২১৩৬. ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’বিত’আ’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় পানীয় হারাম।”[1]
بَاب مَا قِيلَ فِي الْمُسْكِرِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْبِتْعِ قَالَ كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ حَرَامٌ
তাখরীজ: মালিক, আশরিবাহ ৯; বুখারী, আশরিবাহ ৫৫৮৫; মুসলিম, আশরিবাহ ২০০১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৬০, ৪৫২৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৪৫, ৫৩৭১, ৫৩৭২, ৫৩৯৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৮৩ তে। আরও দেখুন, মানহাতুল মা’বূদ নং ১৭২৯।
পরিচ্ছেদঃ ৮. নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২১৩৭. বুরদাহ ইবনু আবী মূসা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ও মুয়ায ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন বললেন: “তোমরা পান করবে, তবে কোনো নেশা উদ্রেককারী দ্রব্য পান করবে না। কেননা, প্রত্যেক নেশা উদ্রেককারী দ্রব্যই হারাম।”[1]
بَاب مَا قِيلَ فِي الْمُسْكِرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَمُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ اشْرَبُوا وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا فَإِنَّ كُلَّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৩৮, মাগাযী ৪৩৪৩; মুসলিম, আশরিবাহ ১৭৩৩, জিহাদ ১৩৭৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৭৩, ৫৩৭৬, ৫৩৭৭ তে। আরও দেখুন, মানহাতুল মা’বূদ নং ১৭২৪, ১৭২৮।
পরিচ্ছেদঃ ৮. নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২১৩৮. সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার অধিক পরিমাণ (ব্যবহারে) নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণ (ব্যবহার) থেকেও আমি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।”[1]
بَاب مَا قِيلَ فِي الْمُسْكِرِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ سِنَانٍ حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنْهَاكُمْ عَنْ قَلِيلِ مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, নং ৩৮১৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৪, ৬৯৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৭০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২১৩৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “সর্বপ্রথম যা উল্টে দেয়া হবে,- যাইদ বলেন, অর্থাৎ ইসলামের মধ্যে (যে বিষয়টি উল্টে দেয়া হবে)- যেভাবে পাত্র কে উল্টে দেয়া হয়- তা হলো মদ। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সেটি কিভাবে হবে, যেখানে আল্লাহ তা’আলা তা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: “তার নামকে অন্য নামে পরিবর্তন করে একে হালাল মনে করা হবে।”[1]
بَاب مَا قِيلَ فِي الْمُسْكِرِ
حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْكَلَاعِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُكْفَأُ قَالَ زَيْدٌ يَعْنِي الْإِسْلَامَ كَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ كَفْيَ الْخَمْرِ فَقِيلَ فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ فِيهَا مَا بَيَّنَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا فَيَسْتَحِلُّونَهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৩১ তে। আরও দেখুন, হাকিম, মুসতাদরাক ৪/১৪৭; বাইহাকী, শারবু ৮/১৯৪-২৯৫; ইবনু আবী শাইবা, নং ৩৮২৮ এ সনদে জাহালত (অজ্ঞাত পরিচয় রাবী) রয়েছে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৫২; ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৫১।
পরিচ্ছেদঃ ৮. নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২১৪০. উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সর্বপ্রথম তোমাদের বিচার-শাসন ব্যবস্থা হবে নবুয়তী এবং (তা) রহমত স্বরূপ; এরপর আসবে রাজতন্ত্র এবং (তাও) রহমত স্বরূপ; এরপর আবার রাজতন্ত্র আর তা অত্যধিক ধুলিযুক্ত (মলিন); এরপর আবার রাজতন্ত্র এবং (তাতে) জবরদস্তি থাকবে-সে সময় মদ ও রেশমকে হালাল মনে করা হবে।”আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’অত্যধিক ধুলি’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তা সেই মাটি বা ধুলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ- যাতে কোনো কল্যাণ নেই।”[1]
بَاب مَا قِيلَ فِي الْمُسْكِرِ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي أَبُو وَهْبٍ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ دِينِكُمْ نُبُوَّةٌ وَرَحْمَةٌ ثُمَّ مُلْكٌ وَرَحْمَةٌ ثُمَّ مُلْكٌ أَعْفَرُ ثُمَّ مُلْكٌ وَجَبَرُوتٌ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الْخَمْرُ وَالْحَرِيرُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْأَعْفَرُ شِبْهُ التُّرَابِ لَيْسَ فِيهِ طَمَعٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৭৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. মদ ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২১৪১. উরওয়াহ ইবনু মুগীরাহ ইবনু শু’বা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করল, সে যেন শুকুর যবেহ করে অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দিল।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, সে (রাবী ’আমর ইবনু বায়ান মূলত:) ছিলো উমার ইবনু বায়ান।
بَاب النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ وَشِرَائِهَا
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا طُعْمَةُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ بَيَانٍ التَّغْلِبِيُّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ بَاعَ الْخَمْرَ فَلْيُشَقِّصْ الْخَنَازِيرَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِنَّمَا هُوَ عُمَرُ بْنُ بَيَانٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭৮ তে।
এটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসী ১/৩৩৮ নং ১৭১৯ তে।
فَلْيُشَقِّصِ الْخَنَازِير অর্থ: ইবনুল আছীর বলেন, ‘ছাগলের গোশতে যেভাবে টুকরা টুকরা করে বন্টন করা হয়, তদ্রুপ সে যেন শুকরের গোশ কেটে বন্টন করলো।’
অর্থ: যে ব্যক্তি মদ ব্যবসাকে হালাল মনে করে, সে যেন শুকর ব্যবসাকে হালাল মনে করলো। কেননা, এ দু’টিই হারাম হওয়ার দিক থেকে অনুরূপ। এটি নির্দেশ অর্থে। আর নিষেধ অর্থে: যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করলো, শুকরের গোশত বন্টনকারী হলো।’
পরিচ্ছেদঃ ৯. মদ ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২১৪২. আব্দুর রহমান ইবনু ওয়া’লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট মদ বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাকীফ কিংবা দাওস গোত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক বন্ধু ছিল। মক্কা বিজয়ের বছরে তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর নিকট এক মশক মদ হাদিয়া স্বরুপ নিয়ে আসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে অমুক! তুমি কি জাননা যে, আল্লাহ তা’আলা উহা হারাম করে দিয়েছেন?” অতঃপর লোকটি তার গোলামের কাছে গিয়ে তাকে বলল, যাও, এটি বিক্রয় কর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে অমুক! তুমি তাকে কী আদেশ দিলে?” সে বলল, আমি তাকে ইহা বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছি। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যিনি ইহা পান করা হারাম করেছেন, তিনি ইহার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন।” রাবী বলেন, এরপর সে একে মাটিতে ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলো।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ وَشِرَائِهَا
حَدَّثَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ فَقَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدِيقٌ مِنْ ثَقِيفٍ أَوْ مِنْ دَوْسٍ فَلَقِيَهُ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ بِرَاوِيَةٍ مِنْ خَمْرٍ يُهْدِيهَا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا فُلَانُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ حَرَّمَهَا قَالَ فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ عَلَى غُلَامِهِ فَقَالَ اذْهَبْ فَبِعْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَاذَا أَمَرْتَهُ يَا فُلَانُ قَالَ أَمَرْتُهُ بِبَيْعِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا حَرَّمَ بَيْعَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ فِي الْبَطْحَاءِ
তাখরীজ: মুসলিম, মুসাক্বাহ ১৫৭৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৬৮, ২৫৯০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪২, ৪৯৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. মদ ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২১৪৩. ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এই সংবাদ পৌছল যে, সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদ বিক্রি করেছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ সামুরার সর্বনাশ করুক। সে কি জানে না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদী জাতির উপর অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের উপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল। এরপর তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে।[1]
সুফিয়ান বলেন, جَمَلُوهَا তথা ’তা গলাতো’ অর্থ: ’তরলে রুপান্তরিত করত’।
بَاب النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ وَشِرَائِهَا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَلَغَ عُمَرَ أَنَّ سَمُرَةَ بَاعَ خَمْرًا فَقَالَ قَاتَلَ اللَّهُ سَمُرَةَ أَمَا عَلِمَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الشُّحُومُ فَجَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا قَالَ سُفْيَانُ جَمَلُوهَا أَذَابُوهَا
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২২৩; মুসলিম, মুসাক্বাহ ১৫৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩৮, ৬২৫৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. মদ পানের শাস্তি
২১৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোনো ব্যক্তি নেশা করে, তোমরা তাকে চাবুক মারবে। অতঃপর পুণরায় নেশা করলে তাকে চাবুক মারবে। অতঃপর পুণরায় নেশা করলে তাকে চাবুক মারবে। অতঃপর পুণরায় নেশা করলে তার গর্দান মেরে দাও। অর্থাৎ চতুর্থবারে।”[1]
بَاب الْعُقُوبَةِ فِي شُرْبِ الْخَمْرِ
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِذَا سَكِرَ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ يَعْنِي فِي الرَّابِعَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৭ ও ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫১৭ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মুয়াবিয়া হতে, আমরা যার পূর্ণাঙ্গ টীকা সহ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১৩/৩৪৯-৩৫৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫১৯ তে। আরও দেখুন, নিসবুর রায়াহ ৩/৩৪৬-৩৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ১১. মদপানকারীর ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী
২১৪৫. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যভিচারী মু’মিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না এবং কোন চোর মু’মিন অবস্থায় চুরি করে না এবং কোন মদ্যপায়ী মু’মিন অবস্থায় মদ পান করে না।”[1]
بَاب فِي التَّغْلِيظِ لِمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ২৪৭৫; মুসলিম, ঈমান ৫৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৯৯, ৬৩০০, ৬৩৬৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬, ৫১৭২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. যে সকল পাত্রে নাবী (ﷺ) এর জন্য নাবীয প্রস্তুত করা হয়েছে
২১৪৬. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য মশকে নবীয প্রস্তুত করা হতো। মশক না পাওয়া গেলে (পাথর নির্মিত) গামলা জাতীয় বড় পাত্রে নবীয প্রস্তুত করা হতো।[1]
بَاب فِيمَا يُنْبَذُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ يُنْبَذُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السِّقَاءِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ سِقَاءٌ نُبِذَ لَهُ فِي تَوْرٍ مِنْ بِرَامٍ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৯৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৬৯ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৮৭, ৫৩৯৬, ৫৪১২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. আঙ্গুর বা কিশমিশ ভেজানো শরবত সম্পর্কে
২১৪৭. দায়লামীর পূত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, একদা তার পিতা অথবা তাদের মধ্যকার অপর এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমরা কোথা থেকে আমরা এসেছি, আবার আপনি এও জানেন যে, আমরা কাদের মাঝ দিয়ে এসেছি ? আমাদের ওলী বা তত্তাবধানকারী কে? তিনি বলেনঃ “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল।” তখন তারা বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এমন অঞ্চলে বাস করি যেখানে প্রচুর আংগুর ও মদ উৎপাদন হয়। আর মদ তো আল্লাহ হারাম করেছেন। এখন আঙ্গুরের ব্যাপারে আমরা কি করবো? তিনি বলেনঃ “তোমরা তা শুকিয়ে কিশমিশ হিসেবে রেখে দেবে।” এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমরা কিশমিশ দিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা তা চামড়ার মশকের মধ্যে ভিজিয়ে রাখবে। তা সকালে ভিজিয়ে রেখে সন্ধ্যায় পান করবে এবং সন্ধ্যায় ভিজিয়ে রেখে সকালে পান করবে। আর দু’বেলা অতিক্রান্ত হলে তা মদে পরিণত হওয়ার পূর্বে তা সিরকায় পরিণত হবে।”[1]
بَاب فِي النَّقِيعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أَبَاهُ أَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ خَرَجْنَا مِنْ حَيْثُ عَلِمْتَ وَنَزَلْنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ مَنْ قَدْ عَلِمْتَ فَمَنْ وَلِيُّنَا قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا أَصْحَابَ كَرْمٍ وَخَمْرٍ وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ الْخَمْرَ فَمَا نَصْنَعُ بِالْكَرْمِ قَالَ اصْنَعُوهُ زَبِيبًا قَالُوا فَمَا نَصْنَعُ بِالزَّبِيبِ قَالَ انْقَعُوهُ فِي الشِّنَانِ انْقَعُوهُ عَلَى غَدَائِكُمْ وَاشْرَبُوهُ عَلَى عَشَائِكُمْ وَانْقَعُوهُ عَلَى عَشَائِكُمْ وَاشْرَبُوهُ عَلَى غَدَائِكُمْ فَإِنَّهُ إِذَا أَتَى عَلَيْهِ الْعَصْرَانِ كَانَ خَلًّا قَبْلَ أَنْ يَكُونَ خَمْرًا
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১৮/৩৩১ নং ৮৫১; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৫২৪৪; আবূ ইয়ালা মাউসিলী সংক্ষেপে নং ৬৮২৫; আহমাদও সংক্ষেপে ৪/২৩২; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তারজমাহ ৮৬৭ সহীহ সনদে এবং অপর একটি সহীহ সনদে। এছাড়া আহমাদ ৪/৩৩২; আবূ দাউদ, আশরিবাহ ৩৭১০; নাসাঈ, কুবরা নং ৫২৪৫ এ অপর একটি সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কলসে নাবীয প্রস্তুত এবং এতে যা কিছু ভিজিয়ে রাখা হয় তা নিষিদ্ধ
২১৪৮. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে মাটির কলসে তৈরী করা নবীয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম করেছেন। এরপর আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্যটি জানালাম। তখন তিনি বললেন: আবূ আব্দুর রহমান ঠিকই বলেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَمَا يُنْبَذُ فِيهِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَزْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ فَقَالَ حَرَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَقِيتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ صَدَقَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৯৭; ]
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪০৩।
এছাড়া, তাবারাণী, কাবীর ১২/৪৩ নং ১২৪২০; আরো দেখুন, ১২৩৫৫, ১২৪৪৭, ১২৫৫৫, ১২৬৩২, ১২৯৫৯, ১২৯৫০।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কলসে নাবীয প্রস্তুত এবং এতে যা কিছু ভিজিয়ে রাখা হয় তা নিষিদ্ধ
২১৪৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা দু’ব্বা (লাউয়ের খোল) ও মুযাফফাত’ (আলকাতরার প্রলেপযুক্ত পাত্র) এ নবীয প্রস্তুত করো না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَمَا يُنْبَذُ فِيهِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَنْتَبِذُوا فِي الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৫৮৭; মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৯২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৪৫, ৩৫৮৯, ৩৫৯৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কলসে নাবীয প্রস্তুত এবং এতে যা কিছু ভিজিয়ে রাখা হয় তা নিষিদ্ধ
২১৫০. আবীল হাকাম বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কলসে তৈরী করা নবীয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম বা তাকে জিজ্ঞেস করতে শুনলাম। তখন তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলস ও ’দুব্বা’(লাউয়ের খোল থেকে তৈরী পাত্র) থেকে নিষেধ করেছেন। আমি ইবনুয যুবাইর রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনিও ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর অনুরূপ কথা বললেন।
তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হারামকৃত বস্তুকে হারাম জেনে খুশী হয়, অথবা, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হারামকৃত বস্তুকে হারাম জানে, সে যেনো নবীযকে হারাম জানে।তিনি বলেন, আমার ভাই আবী সাঈদ খুদরী হতে বর্ণনা করেন, যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলস ও ’দুব্বা’(লাউয়ের খোল থেকে তৈরী পাত্র) ও মুযাফ্ফাত (আলকাতরার প্রলেপযুক্ত পাত্রের ব্যবহার) থেকে এবং কাঁচা খেজুর ও পাকা খেজুর (এর নবীয) থেকে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَمَا يُنْبَذُ فِيهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ أَوْ سَمِعْتُهُ سُئِلَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَسَأَلْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ مِثْلَ قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحَرِّمَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَوْ مَنْ كَانَ مُحَرِّمًا مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ فَلْيُحَرِّمْ النَّبِيذَ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَخِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَعَنْ الْبُسْرِ وَالتَّمْرِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৭, ২২৯; তায়ালিসী ১/৩৩৪ নং ১৬৯৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/১৫২-১৫৩ নং ১২৭৩৮; মাওকুফ হিসেবে বর্ণনাটি তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২৩৪৪;
আর ইবনু যুবাইরের হাদীসটি আমরা তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৮০৯ তে।
আর আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসনাদুল মাওসিলী নং ১২২৩ তে, এর সনদে জাহালাত রয়েছে। তবে হাদীসটি সহীহ। দেখুন, মুসনাদুল মাওসিলী নং ১০৪১, ১১৩৯, ১১৭৬, ১১৭৭, ১২১১, ১৩২২, ১৪৪০।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কলসে নাবীয প্রস্তুত এবং এতে যা কিছু ভিজিয়ে রাখা হয় তা নিষিদ্ধ
২১৫১. ফুযাইল ইবনু যাইদ আর রাক্কাশী রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর এসে বললেন, আমাদের যে সকল পানীয় হারাম করা হয়েছে, আপনি আমাকে সেগুলি জানান। তিনি বললেন, মদ। তিনি বলেন, আমি বললাম, তা তো কুরআনেই আছে।
তিনি বললেন, আমি তোমাকে কেবল এমন হাদীসই বর্ণনা করব, যা আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি।– তিনি তাঁর নাম দিয়ে কিংবা রিসালাত দিয়ে শুরু করলেন।তিনি বলেন, তখন তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ’দুব্বা’ (লাউয়ের খোলের) ও ’হানতাম’ (মাটি দ্বারা তৈরী এক প্রকার সবুজ কলস) ও ’নাকির’ (খেজুর গাছের মুল-কাণ্ড খুঁড়ে বানানো কাঠের পাত্র বিশেষ) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَمَا يُنْبَذُ فِيهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ زَيْدٍ الرَّقَاشِيِّ أَنَّهُ أَتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِمَا يَحْرُمُ عَلَيْنَا مِنْ الشَّرَابِ فَقَالَ الْخَمْرُ قَالَ قُلْتُ هُوَ فِي الْقُرْآنِ قَالَ مَا أُحَدِّثُكَ إِلَّا مَا سَمِعْتُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَأَ بِالِاسْمِ أَوْ قَالَ بِالرِّسَالَةِ قَالَ نَهَى عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/৩৩৭-৩৩৮ নং ১৭১৬; আহমাদ ৪/৮৬, ৫/৫৭; তাবারাণী, আওসাত নং ৫২৭৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. দু’টি বস্তু একত্রে মিশ্রন তৈরী করা নিষেধ সম্পর্কে
২১৫২. আবূ ক্বাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা খুরমা ও তাজা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ও খুরমা একত্র করে নবীয প্রস্তুত করো না। আর এগুলোর প্রত্যেকটিকে আলাদাভাবে ভিজিয়ে ’নবীয’ তৈরী করবে।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الْخَلِيطَيْنِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَسَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَاللَّفْظُ لِيَزِيدَ قَالَا أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَنْتَبِذُوا الزَّهْوَ وَالرُّطَبَ جَمِيعًا وَلَا تَنْتَبِذُوا الزَّبِيبَ وَالتَّمْرَ جَمِيعًا وَانْتَبِذُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى حِدَتِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/, ২৯৫, ৩০৭, ৩১০ ;বুখারী, আশরিবাহ ৫৬০২; মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৮৮; নাসাঈ, আল কুবরা ৫০৭০, ৫০৭৬, ৫০৭৭; ইবনু মাজাহ, আশরিবাহ ৩৩৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. আঙ্গুর কে ‘কারম’ বলা নিষেধ সম্পর্কে
২১৫৩. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আর তোমাদের কেউ আঙ্গুরকে (বুঝানর জন্য) ’আল কারামু’ বলবে না বরং ’আল ইনাবু’ ও ’আল হাবলাহ’ বলবে।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ أَنْ يُسَمَّى الْعِنَبُ الْكَرْمَ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُولُوا الْكَرْمَ وَقُولُوا الْعِنَبَ أَوْ الْحَبَلَةَ
তাখরীজ: মুসলিম, আলফাজ ২২৪৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/২০৮।
আবী হুরাইরা হতে এ বাবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সমিমল্লিত ভাবে বর্ণিত। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৩০ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯২৯ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৩২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. মদকে সিরকায় পরিণত করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
২১৫৪. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তিনি আবূ তালুহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়িতে ইয়াতীম হিসাবে ছিলেন। আর তিনি তাদের জন্য মদ কিনে আনতেন। এরপর যখন মদ হারাম করে আয়াত নাযিল হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার নিকট তা উল্লেখ করলেন। তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি কি এ দিয়ে সির্কা বানাব না? তিনি বলেনঃ “না।” ফলে তিনি তা ঢেলে ফেলে দিলেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ أَنْ يُجْعَلَ الْخَمْرُ خَلًّا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ السُّدِّيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ فِي حِجْرِ أَبِي طَلْحَةَ يَتَامَى فَاشْتَرَى لَهُمْ خَمْرًا فَلَمَّا نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ أَجْعَلُهُ خَلًّا قَالَ لَا فَأَهْرَاقَهُ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ১৯৮৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৪৫, ৪০৫১ তে।
এছাড়াও, ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৪/১৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. পান করার ক্ষেত্রে সুন্নাত কী?
২১৫৫. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করতে দেখেন। তখন তাঁর বাম দিকে ছিলেন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং ডান দিকে জনৈক মরুবাসী বেদুঈন বসা ছিল। তিনি (দুধ পান) করে বাকী দুধ উক্ত বেদুঈনকে দিয়ে বলেনঃ “ডান দিক, ডান দিকে দাও।”[1]
بَاب فِي سُنَّةِ الشَّرَابِ كَيْفَ هِيَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا وَعَنْ يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ وَعَنْ يَمِينِهِ رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ فَأَعْطَى الْأَعْرَابِيَّ فَضْلَهُ ثُمَّ قَالَ الْأَيْمَنَ فَالْأَيْمَنَ
তাখরীজ: বুখারী, মুসাকাহ ২৩৫২; মুসলিম, আশরিবাহ ২০২৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৫২,৩৫৫৩, ৩৫৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৩৩, ৫৩৩৪, ৫৩৩৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা নিষেধ
২১৫৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الشُّرْبِ مِنْ فِي السِّقَاءِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُشْرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, আশরিবাহ ৩৭১৯; ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৭-২০৮ নং ৪১৮০; তাবারাণী, আল কাবীর ১১/৩০৬ নং ১১৮১৯, ১১৮২১; আহমাদ ১/২২৬, ২৯৩, ৩২১; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮২৬; বুখারী, আশরিবাহ ৫৬২৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩০৪০; ইবনু মাজাহ, আশরিবাহ ৩৪২১; আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৮০, ২৪৯৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩১৬ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা নিষেধ
২১৫৭. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الشُّرْبِ مِنْ فِي السِّقَاءِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُشْرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৬২৭, ৫৬২৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৭৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা নিষেধ
২১৫৮. আবূ সা’ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখ বাঁকা করে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الشُّرْبِ مِنْ فِي السِّقَاءِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ اخْتِنَاثِ الْأَسْقِيَةِ
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৬৫২৫, ৬৫২৬; মুসলিম, আশরিবাহ ২০২৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৯৬, ১১২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩১৭ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৭।
পরিচ্ছেদঃ ২০. তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করা সম্পর্কে
২১৫৯. ছুমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পাত্র হতে (পান করার সময়) দুই কিংবা তিনবার দম নিতেন, আর তাঁর ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্র হতে দুই কিংবা তিন দমে (পানি) পান করতেন।[1]
بَاب فِي الشُّرْبِ بِثَلَاثَةِ أَنْفَاسٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ ثُمَامَةَ قَالَ كَانَ أَنَسٌ يَتَنَفَّسُ فِي الْإِنَاءِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا وَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَنَفَّسُ فِي الْإِنَاءِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৬৩১; মুসলিম, আশরিবাহ ২০২৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩২৯ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/২১৮ নং ৪২২৪৪।
পরিচ্ছেদঃ ২১. যিনি এক নিঃশ্বাসে পানি পান করেন, তাঁর সম্পর্কে
২১৬০. আবীল মুছান্না রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মারওয়ানের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় সেখানে আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রবেশ করলেন। আর তিনি বললেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো এক শ্বাসে পানি পান করে তৃপ্তি পাই না। তিনি বললেন: “তাহলে তোমার মুখ থেকে পানির পেয়ালাটি সরিয়ে নিবে এবং শ্বাস ফেলবে।” লোকটি বলল, পাত্রে আবর্জনা পরিলক্ষিত হলে? তিনি বললেন: “তা ঢেলে ফেলে দাও।”[1]
بَاب مَنْ شَرِبَ بِنَفَسٍ وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى قَالَ كُنْتُ عِنْدَ مَرْوَانَ فَجَاءَ أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَا أَرْوَى مِنْ نَفَسٍ وَاحِدٍ قَالَ فَأَبِنْ الْإِنَاءَ عَنْ فِيكَ ثُمَّ تَنَفَّسْ قَالَ إِنِّي أَرَى الْقَذَاةَ قَالَ أَهْرِقْهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩২৭ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬৭।
এছাড়াও, আহমাদ ৩/৫৭; ইবনু আবী শাইবা ৮/২২০ নং ৪৩২০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১১/৩৭২ নং ৩০৩৬; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/৩৯১। দেখুন, ফাতুহল বারী ১০/৯৩; নাইলুল আওতার ৯/৭৮-৮০; ইবনু আবী শাইবা ৮/২৬-২১৮।
পরিচ্ছেদঃ ২১. যিনি এক নিঃশ্বাসে পানি পান করেন, তাঁর সম্পর্কে
২১৬১. আবী কাতাদা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “তোমাদের কেউ যখন পেশাব করে তখন সে যেন ডান হাত দিয়ে তার পুরূষাঙ্গ স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা না করে এবং (পান করার সময়) যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে।”[1]
بَاب مَنْ شَرِبَ بِنَفَسٍ وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَسْتَنْجِي بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, উযু ১৫৩-১৫৪; মুসলিম, ত্বহারাত ২৬৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩২৯ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/২১৮ নং ৪২২৪৪।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যিনি প্রবাহমান নদী হতে চুমুক দিয়ে পানি পান করেন, তাঁর সম্পর্কে
২১৬২. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক লোকের কাছে গেলেন। এরপর তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। আর (পাশ দিয়ে) পানির নহর প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি আনসারীকে বললেনঃ “তোমার কাছে যদি মশকে রাখা গত রাতের পানি থাকে তাহলে আমাদের পান করাও। আর না থাকলে আমরা (নদীতে) মুখ লাগিয়েই পান করব।”[1]
بَاب فِي الَّذِي يَكْرَعُ فِي النَّهْرِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ يَعُودُهُ وَجَدْوَلٌ يَجْرِي فَقَالَ إِنْ كَانَ عِنْدَكُمْ مَاءٌ بَاتَ فِي الشَّنِّ وَإِلَّا كَرَعْنَا
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৬১৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৯৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩১৪, ৫৩৮৯ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/২২৮-২২৯ নং ৪২৬৮।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে
২১৬৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন।[1]
بَاب فِي الشُّرْبِ قَائِمًا
حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ الْخُزَاعِيُّ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ الْبَرَاءِ ابْنِ ابْنَةِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ مِنْ فَمِ قِرْبَةٍ قَائِمًا
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৭৬, ৪৩১; তিরমিযী, শামাইল ২১৫; তাবারাণী, আল কাবীর ২৫/১২৭ নং ৩০৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে
২১৬৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমরা দাঁড়িয়ে পান করতাম এবং হাঁটতে হাঁটতে খেতাম।[1]
بَاب فِي الشُّرْبِ قَائِمًا
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُدَيْرٍ عَنْ أَبِي الْبَزَرِيِّ يَزِيدَ بْنِ عُطَارِدَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَشْرَبُ وَنَحْنُ قِيَامٌ وَنَأْكُلُ وَنَحْنُ نَسْعَى عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪৩, ৫৩২২, ৫৩২৫ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬৯, ১৩৭০, ১৩৭১।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৫ নং ৪১৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে
২১৬৫. (অপর সনদে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي الشُّرْبِ قَائِمًا
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৫ নং ৪১৭০। আরো দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৩-২০৬।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. যিনি দাঁড়িয়ে পান করা অপছন্দ করেন
২১৬৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে (দাঁড়িয়ে) খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,“ সেটি তো আরও অধিক মন্দ।”[1]
بَاب مَنْ كَرِهَ الشُّرْبَ قَائِمًا
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الشُّرْبِ قَائِمًا قَالَ فَسَأَلْتُهُ عَنْ الْأَكْلِ فَقَالَ ذَاكَ أَخْبَثُ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০২৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৬৭, ২৯৭৩, ৩১১১, ৩১৬৫, ৩১৯৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. যিনি দাঁড়িয়ে পান করা অপছন্দ করেন
২১৬৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে দেখে তাকে বলেন,“তুমি বিড়ালের সাথে পান করতে পছন্দ করবে কি?” সে বললো, না। তিনি বললেন: “এর চেয়েও অধিক অনিষ্টকারী শয়তান তোমার সাথে পান করেছে।”[1]
بَاب مَنْ كَرِهَ الشُّرْبَ قَائِمًا
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي زِيَادٍ الطَّحَّانِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ رَآهُ يَشْرَبُ قَائِمًا قِئْ قَالَ لِمَ قَالَ أَتُحِبُّ أَنْ تَشْرَبَ مَعَ الْهِرِّ قَالَ لَا قَالَ فَقَدْ شَرِبَ مَعَكَ شَرٌّ مِنْهُ الشَّيْطَانُ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩০১; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/১৯; দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৮২।
ইমাম নাবাবী এ উভয় প্রকার হাদীসের সমন্বয় সাধনে তার শারহে মুসলিম ৪/৭৭ এ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যার সংক্ষিপ্ত সার: দাঁড়িয়ে পান করার নিষেধাজ্ঞা মুলত: মাকরূহ তানযীহী। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাঁড়িয়ে পান করার বর্ণনা মুলত: তা জায়েয বর্ণনা করে দেওয়া উদ্দেশ্য।” আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৮১-৮৫; ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৩-২০৬।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. রূপার পাত্রে পান করা
২১৬৮. উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রৌপ্য পাত্রে পান করে সে তো তার উদরে জাহান্নামের অগ্নি প্রবিষ্ট করায়।”[1]
بَاب الشُّرْبِ فِي الْمُفَضَّضِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ فَإِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৬৩৪; মুসলিম, লিবাস ২০৬৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৮২, ৬৯১৩, ৬৯৩৯, ৬৯৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৪১, ৫৩৪২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. রূপার পাত্রে পান করা
২১৬৯. ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে মাদাইন অভিমুখে বের হলাম। এরপর একসময় তিনি পানি পান করতে চাইলেন। তখন তাঁর নিকট একজন গোত্রপতি একটি রূপার পাত্র নিয়ে হাজির হলো। তিনি সেটি তার মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন। তখন আমরা বললাম: তোমরা থামো। কেননা, আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা না করলে, তিনি আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন না। কিছুক্ষণ পরে তিনি বললেন, আমি এটি কেন নিক্ষেপ করেছি তা কি তোমরা জানো? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, আমি এ ব্যক্তিকে এরূপ করতে (এর আগে) নিষেধ করেছিলাম। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করতে এবং মোটা ও পাতলা রেশম বস্ত্র পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তি এও বলেছেন, “এ দু’টি বস্তু দুনিয়াতে তাদের (অর্থাৎ অমুসলিমদের) জন্য ভোগ্যবস্তু। আর তোমাদের জন্য তা আখিরাতের ভোগ্য বস্তু।”[1]
بَاب الشُّرْبِ فِي الْمُفَضَّضِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ خَرَجْنَا مَعَ حُذَيْفَةَ إِلَى الْمَدَائِنِ فَاسْتَسْقَى فَأَتَاهُ دِهْقَانٌ بِإِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فَرَمَى بِهِ وَجْهَهُ فَقُلْنَا اسْكُتُوا فَإِنَّا إِنْ سَأَلْنَاهُ لَمْ يُحَدِّثْنَا فَلَمَّا كَانَ بَعْدُ قَالَ أَتَدْرُونَ لِمَ رَمَيْتُهُ قُلْنَا لَا قَالَ إِنِّي كُنْتُ نَهَيْتُهُ وَذَكَرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ الشُّرْبِ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَعَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ وَقَالَ هُمَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةِ
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৪২৬, আশরিবাহ ৫৬৩৩; ; মুসলিম, লিবাস ওয়ায যিনাত ২০৬৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৩৯, ৫৩৪৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৪৪, ৪৪৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. পাত্র ঢেকে রাখা সম্পর্কে
২১৭০. আবী হুমাইদ সাঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক বাটী দুধ নিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি এটিকে ঢাকলে না? একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখা দরকার।”[1]
بَاب فِي تَخْمِيرِ الْإِنَاءِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ حَدَّثَنِي جَابِرٌ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَبَنٍ فَقَالَ أَلَا خَمَّرْتَهُ وَلَوْ تَعْرِضُ عَلَيْهِ عُودًا
তাখরীজ: বুখারী, আশরিবাহ ৫৬০৫, ৫৬০৬; মুসলিম, লিবাস ২০১০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৭০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. পাত্র ঢেকে রাখা সম্পর্কে
২১৭১. অবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি ঢেকে রাখতে, মশকের মুখ বন্ধ করতে এবং খালি পাত্র উপুড় করে রাখতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
بَاب فِي تَخْمِيرِ الْإِنَاءِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَغْطِيَةِ الْوَضُوءِ وَإِيكَاءِ السِّقَاءِ وَإِكْفَاءِ الْإِنَاءِ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৬৭; ইবনু মাজাহ, আশরিবাহ ৩৪১১; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ১২৮; বাইহাকী, তাহারাত ১/২৫৭।
এর শাহিদ রয়েছে বুখারী, বাদাউল খালক ৩৩০৪; মুসলিম, আশরিবাহ ২০১২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. পানপাত্রে ফুঁক দেওয়া নিষেধ
২১৭২. আবীল মুছান্না আল জুহানী (রহঃ) বলেন, মারওয়ান আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পানীয় দ্রব্যে ফুঁক দিতে নিষেধ করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ مَرْوَانُ لِأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: এটি ২১৬৭ (অনুবাদে ২১৫৭) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. পানপাত্রে ফুঁক দেওয়া নিষেধ
২১৭৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় দ্রব্যে ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ
তাখরীজ: মুসনাদুল হুমাইদী (আমাদের তাহক্বীক্বকৃত) নং ৫৩৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩১৬ তে। এছাড়া, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩০৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. লোকদেরকে পানি পরিবেশনকারীর সর্বশেষে পান করা প্রসঙ্গে
২১৭৪. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “লোকদেরকে পানি পরিবেশনকারী সর্বশেষে পান করবে।”[1]
بَاب فِي سَاقِي الْقَوْمِ آخِرُهُمْ شُرْبًا
حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاقِي الْقَوْمِ آخِرُهُمْ شُرْبًا
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাজিদ ৬৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৩৮ তে। এছাড়াও, তাবারাণী, সগীর ২/৪০।