← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
আক্বীদা কী?
৩০ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে আক্বীদার পরিচয় নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

আক্বীদা হলো ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস বা মূলনীতিসমূহ, যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই অন্তরে ধারণ করতে হয়। এটি দ্বীনের সেই ভিত্তি, যার উপর একজন মুসলিমের সকল আমল ও জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। সমস্ত জ্ঞানের মধ্যে দ্বীনের মূলনীতি বা আক্বীদা সম্পর্কিত জ্ঞানই সর্বোত্তম। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া

সঠিক ইসলামী আক্বীদা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। কারণ, এ বিষয়ে অজ্ঞতা মানুষকে শিরকের মতো মারাত্মক অপরাধে লিপ্ত করতে পারে, যা তার সমস্ত নেক আমলকে নিষ্ফল করে দেয়। — শির্ক কী ও কেন?, শির্ক কী ও কেন?

আক্বীদা বিষয়ক কিতাবগুলোতে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়। hadithbd.com-এ প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত প্রধান কিছু বিষয় হলো:

১. আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিশ্বাস (তাওহীদ ও সিফাত)


* তাওহীদ: আক্বীদার মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ, অর্থাৎ আল্লাহকে তাঁর উলুহিয়াত (ইবাদত) ও রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব)-এ এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্বাস করা। নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তিই ছিল এই তাওহীদ। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* আল্লাহর গুণাবলী (সিফাত): আল্লাহ নিজেকে যে সকল গুণে গুণান্বিত করেছেন (যেমন: হাত, মুখ, আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া) সেগুলোর উপর কোনো ধরণ বা প্রকৃতি নির্ধারণ না করে (বিনা কাইফ) বিশ্বাস স্থাপন করা। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও ইমাম মালিক (রহ.) এ বিষয়ে বলেছেন যে, আল্লাহর গুণাবলীর অর্থ বোধগম্য, কিন্তু তার প্রকৃতি অজ্ঞাত, এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ নিয়ে (অপ্রয়োজনীয়) প্রশ্ন করা বিদ'আত। — শির্ক কী ও কেন?
* আল্লাহকে মানবীয় কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা কুফরি। আল্লাহ তা'আলা তাঁর গুণাবলীতে মানুষের মতো নন। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া

২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও অন্যান্য গায়েবী বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস


* নবুওয়াত ও রিসালাত: মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা, মনোনীত নবী এবং পছন্দনীয় রাসূল—এই বিশ্বাস স্থাপন করা। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* মি'রাজ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মি'রাজ (ঊর্ধ্বগমন) দৈহিকভাবে জাগ্রত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছিল, এটি একটি সত্য ঘটনা। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* হাউযে কাউছার: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে উম্মতের পিপাসা নিবারণের জন্য যে হাউয প্রদান করবেন, তা সত্য এবং এর উপর বিশ্বাস রাখা আক্বীদার অংশ। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* শাফা'আত (সুপারিশ): কিয়ামতের দিন নবী (ﷺ)-এর শাফা'আত সত্য, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ‘শাফা’আতে উযমা’, যা হাশরের ময়দানে সমগ্র মানবজাতির জন্য হবে। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া

৩. তাকদীর বা ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস


* আল্লাহর জ্ঞান ও নির্ধারণ: আল্লাহ তা'আলা তাঁর জ্ঞান অনুসারেই সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবকিছু আগে থেকেই জানেন। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* কর্ম ও ভাগ্য: সৌভাগ্যবান ও হতভাগ্য ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালা অনুসারেই নির্ধারিত। তবে শেষ কর্ম দ্বারাই মানুষের ফলাফল নির্ধারিত হয় এবং যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেওয়া হয়। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া
* তাকদীরের যে জ্ঞান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং যা জানাননি তার অন্বেষণ থেকে বিরত থাকা ঈমানের জন্য অপরিহার্য। — শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া

আক্বীদা-বিরোধী কিছু বিশ্বাস


কিছু বিশ্বাস সঠিক আক্বীদার পরিপন্থী এবং তা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দিতে পারে। যেমন:
* জ্ঞানগত শিরক: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গায়েব জানতেন বা তিনি সর্বত্র হাজির-নাজির—এমন বিশ্বাস করা শিরক। — শির্ক কী ও কেন?
* ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের আক্বীদা: দ্রুয বা নুসাইরীদের মতো সম্প্রদায়ের বিশ্বাস اسلامی আক্বীদার সম্পূর্ণ বিরোধী এবং মুসলিমদের ঐকমত্যে তারা কাফের। — ইসলামী জ্ঞান: নিত্যদিনের প্রয়োজনে

সংক্ষেপে, আক্বীদা হলো সেইসব অকাট্য বিশ্বাস যা কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং যা একজন মুসলিমের ঈমানের মূল ভিত্তি তৈরি করে।

আর সব বিষয়েই আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানের অধিকারী।
হিজড়াদের বিয়ে করা কাদিয়ানি কারা এবং এদের আকিদা বিশ্বাস সম্পর্কে বল,