← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
হিজড়াদের বিয়ে করা
৩০ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

আপনার প্রশ্নের উত্তরে hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিচে আলোচনা করা হলো:

অনুসন্ধানের ফলাফলে হিজড়াদের বিয়ে করার বিষয়ে সরাসরি কোনো হাদিস বা ফতোয়া পাওয়া যায়নি। তবে হিজড়াদের সামাজিক অবস্থান, তাদের সাথে আচরণ এবং ইসলামে বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

হিজড়াদের সাধারণ বিধান



ইসলামের দৃষ্টিতে হিজড়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিয়ে ও যৌনতা সংক্রান্ত কিছু বিধি-বিধান ছাড়া মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তারাও আল্লাহর প্রতি ঈমান, ইবাদত, আনুগত্য, ইসলামের বিধিবিধান পালন এবং সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে অন্য সাধারণ মানুষের মতোই। তারা ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত হবে এবং অন্যায় করলে শাস্তির সম্মুখীন হবে, কারণ তারাও আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ এবং প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উপর আল্লাহর আদেশ-নিষেধ প্রযোজ্য — ফাতাওয়া ও প্রশ্নোত্তর

বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করার বিষয়ে ইসলামের বিধান



হাদিস শরিফে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য বা বেশভূষা অবলম্বন করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটিকে হারাম ও কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

* অভিশাপ ও বহিষ্কার: ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীরূপী পুরুষ (হিজড়া) এবং পুরুষরূপী নারীদের উপর লা'নত (অভিশাপ) করেছেন। তিনি বলেছেন, "ওদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।" এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উমার (রাঃ) নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৬৩৭৩ (সহিহ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), হাদিস ৫৮৮৬ (সহিহ)।

* শাস্তি ও নির্বাসন: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার নবী (ﷺ)-এর কাছে একজন হিজড়াকে আনা হলো, যার হাত-পা মেহেদী দিয়ে রাঙানো ছিল। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে সাহাবীগণ বলেন, সে নারীর বেশ ধারণ করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে 'আন-নকী' নামক স্থানে নির্বাসন দেওয়ার নির্দেশ দেন। সাহাবীগণ তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, "সালাত আদায়কারীকে হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে" — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৪৯২৮ (সহিহ), মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৪৪৮১ (সহিহ)।

নারীদের সাথে হিজড়াদের পর্দা ও মেলামেশা



হিজড়াদেরকে নারীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে, বিশেষ করে যদি তাদের মধ্যে নারীদের প্রতি আকর্ষণ বা তাদের শারীরিক গঠন সম্পর্কে বোঝার ক্ষমতা থাকে।

* উম্মু সালামাহ (রাঃ) এবং আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, একজন হিজড়া ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীদের নিকট প্রবেশ করত এবং তাকে যৌন জ্ঞানহীন মনে করা হতো। কিন্তু একদিন রাসূল (ﷺ) শুনতে পান যে সে একজন মহিলার শারীরিক গঠনের বর্ণনা দিচ্ছে। তখন তিনি বলেন, "সাবধান! এ তো দেখছি এখানকার (নারী রহস্যের) বিষয়াদি বুঝে শুনে। সে যেন তোমাদের নিকট কখনো প্রবেশ না করে।" এরপর থেকে রাসূলের স্ত্রীগণ তার থেকে পর্দা করতেন — সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস ৫৫৮৪ (সহিহ), সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), হাদিস ৪৩২৪ (সহিহ)।

সারসংক্ষেপ হলো, অনুসন্ধানের ফলাফলে হিজড়াদের বিয়ে করার সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিধান পাওয়া যায়নি। তবে এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে বিয়ে ও যৌনতার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ভিন্ন বিধান রয়েছে। হাদিসগুলোতে মূলত ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য করণীয় আক্বীদা কী?