← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য করণ
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
মুমূর্ষু বা মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির পাশে থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে, যা হাদিস ও ইসলামী গ্রন্থ থেকে জানা যায়। নিচে এ সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
এটি মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ‘তালকীন’ অর্থ হলো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে কালেমা স্মরণ করিয়ে দেওয়া বা তার কাছে পাঠ করা, যাতে সে শুনে তা পাঠ করতে পারে — ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে কালিমায়ে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) তালকীন দিও।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৬ (সহীহ)।
* ফযিলত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬২১ (সহীহ)।
* পদ্ধতি: রোগীর পাশে এমনভাবে কালিমা পাঠ করা উচিত যাতে সে শুনতে পায় এবং স্মরণ করতে পারে। তাকে বারবার পড়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়, যাতে সে বিরক্ত হয়ে অস্বীকার না করে বসে। মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে কেবল কালিমাটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া — প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত।
মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে বসে শুধু ভালো কথা বলা এবং তার জন্য কল্যাণের দু‘আ করা অত্যন্ত জরুরি।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে কিংবা কোন মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে ভাল ভাল কথা বলবে। কারণ তোমরা তখন যা বলো, (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলেন।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৭ (সহীহ)।
* এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য চেয়ে এবং মৃতপ্রায় ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাত চেয়ে দু‘আ করা উচিত। যেমন বলা যেতে পারে, "হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর এবং তার ওপর রহম কর" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৭ (সহীহ)।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবী আবূ সালামাহ (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর তার জন্য এভাবে দু‘আ করেছিলেন:
> ’’আল্ল-হুম্মাগফির লিআবী সালামাহ্, ওয়ারফা’ দারাজাতাহূ ফিল মাহদীয়্যিন, ওয়াখলুফহু ফী ’আক্বিবিহী ফিল গ-বিরীন, ওয়াগফির লানা- ওয়ালাহূ ইয়া- রব্বাল ’আ-লামীন, ওয়া আফসিহ লাহূ ফী কবরিহী, ওয়ানাওয়ির লাহূ ফিহী’’
> (অর্থ: হে আল্লাহ! আবূ সালামাকে মাফ করে দাও। হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। তার ছেড়ে যাওয়া লোকদের জন্য তুমি সহায় হয়ে যাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও তাকে মাফ করে দাও। তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও। তার জন্য কবরকে নূরের আলোতে আলোকিত করে দাও।) — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৯ (সহীহ)।
যে ব্যক্তি রোগী দেখতে যাবে, তার উচিত হবে রোগীকে তওবা করা, জরুরি অছিয়ত করা এবং সর্বদা আল্লাহর যিক্র করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। কারণ, এ সময়ে রোগী এ জাতীয় বিষয়ের খুব বেশি মুখাপেক্ষী থাকে — জানাযার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৭০টি প্রশ্ন।
হাদিসে মু’মিন ব্যক্তির রূহ বা আত্মা কবয করার সুন্দর বর্ণনা এসেছে
মুমূর্ষু বা মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির পাশে থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে, যা হাদিস ও ইসলামী গ্রন্থ থেকে জানা যায়। নিচে এ সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. কালিমা ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ তালকীন করানো
এটি মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ‘তালকীন’ অর্থ হলো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে কালেমা স্মরণ করিয়ে দেওয়া বা তার কাছে পাঠ করা, যাতে সে শুনে তা পাঠ করতে পারে — ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে কালিমায়ে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) তালকীন দিও।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৬ (সহীহ)।
* ফযিলত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬২১ (সহীহ)।
* পদ্ধতি: রোগীর পাশে এমনভাবে কালিমা পাঠ করা উচিত যাতে সে শুনতে পায় এবং স্মরণ করতে পারে। তাকে বারবার পড়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়, যাতে সে বিরক্ত হয়ে অস্বীকার না করে বসে। মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে কেবল কালিমাটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া — প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত।
২. উত্তম কথা বলা ও কল্যাণের দু‘আ করা
মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে বসে শুধু ভালো কথা বলা এবং তার জন্য কল্যাণের দু‘আ করা অত্যন্ত জরুরি।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে কিংবা কোন মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে ভাল ভাল কথা বলবে। কারণ তোমরা তখন যা বলো, (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলেন।” — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৭ (সহীহ)।
* এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য চেয়ে এবং মৃতপ্রায় ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাত চেয়ে দু‘আ করা উচিত। যেমন বলা যেতে পারে, "হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর এবং তার ওপর রহম কর" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৭ (সহীহ)।
* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবী আবূ সালামাহ (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর তার জন্য এভাবে দু‘আ করেছিলেন:
> ’’আল্ল-হুম্মাগফির লিআবী সালামাহ্, ওয়ারফা’ দারাজাতাহূ ফিল মাহদীয়্যিন, ওয়াখলুফহু ফী ’আক্বিবিহী ফিল গ-বিরীন, ওয়াগফির লানা- ওয়ালাহূ ইয়া- রব্বাল ’আ-লামীন, ওয়া আফসিহ লাহূ ফী কবরিহী, ওয়ানাওয়ির লাহূ ফিহী’’
> (অর্থ: হে আল্লাহ! আবূ সালামাকে মাফ করে দাও। হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। তার ছেড়ে যাওয়া লোকদের জন্য তুমি সহায় হয়ে যাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও তাকে মাফ করে দাও। তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও। তার জন্য কবরকে নূরের আলোতে আলোকিত করে দাও।) — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৬১৯ (সহীহ)।
৩. তওবা ও অছিয়তের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া
যে ব্যক্তি রোগী দেখতে যাবে, তার উচিত হবে রোগীকে তওবা করা, জরুরি অছিয়ত করা এবং সর্বদা আল্লাহর যিক্র করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। কারণ, এ সময়ে রোগী এ জাতীয় বিষয়ের খুব বেশি মুখাপেক্ষী থাকে — জানাযার বিধিবিধান সংক্রান্ত ৭০টি প্রশ্ন।
৪. মু’মিন ব্যক্তির রূহ কবযের অবস্থা
হাদিসে মু’মিন ব্যক্তির রূহ বা আত্মা কবয করার সুন্দর বর্ণনা এসেছে