পরিচ্ছেদঃ
১৯৯১। তিনি এ আয়াত পাঠ করেন “আমার উদ্দেশ্য এই যে, সে (অর্থাৎ আযীয) যেন জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি”। তিনি বলেন যখন ইউসুফ (আঃ) সেটি বলেন (পাঠ করেন), তখন জিবরীল (আঃ) তাকে বললেনঃ হে ইউসুফ! তুমি তোমার উদ্বেগের কথা বল। তখন তিনি বলেনঃ “আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না।
হাদীসটি মুনকার।
এটিকে হাকিম তার তারীখ গ্রন্থে ইবনু মারদুবিয়্যাহ দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (২/৮১/১) তার সনদে মুয়াম্মিল ইবনু ইসমাঈল হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ এ মুয়াম্মিল। হাফিয ইবনু হাজার "আততাকরীব" গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী তবে ক্রটিপূর্ণ হেফযের অধিকারী।
হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ইমামগণের মতামত নকল করে তার একটি মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন। আমার বিশ্বাস এ হাদীসটি তার মুনকারগুলোরই একটি। কারণ তিনি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও হাদীসটিকে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন। এটিকে আফফান ইবনু মুসলিম ও যায়েদ ইবনু হুবাব বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি হাসান হতে। তিনি হাদীসটিকে মওকুফ মাকতু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হাসান হচ্ছেন বাসরী।
এটিকে ইবনু জারীর ত্ববার তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৬/১৪৫) বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রাঃ) এবং আবু হুযাইল(রাঃ) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই হচ্ছে সঠিক। অর্থাৎ মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করাই হচ্ছে সঠিক আর মারফু হিসেবে বর্ণনা করাটা হচ্ছে বাতিল। কারণ কুরআনের মধ্যে উল্লেখ করা ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিরোধী। বাদশার উদ্ধৃতিতে আল্লাহ্ তা’য়ালা উল্লেখ করেছেন যে,
قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُنَّ يُوسُفَ عَنْ نَفْسِهِ قُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ قَالَتِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَاوَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ٭ ذَٰلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِينَ ٭ وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ
"রাজা মহিলাদের জিজ্ঞেস করল– তোমরা যখন ইউসুফকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলে তখন তোমাদের কী হয়েছিল?’ তারা বলল, “আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমরা তার মাঝে কোন দোষ দেখতে পাইনি। আযীযের স্ত্রী বলল, “এখন সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে, আমিই তাকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলাম, নিশ্চয়ই সে ছিল সত্যবাদী।’ ইউসুফ বলল, “আমার উদ্দেশ্য এই যে, সে (অর্থাৎ আযীয) যেন জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি আর আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের কৌশলকে অবশ্যই সফল হতে দেন না।’ সে বলল, “আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, নফস্ তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করতেই থাকে, আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। আমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।” [সূরা ইউসুফঃ৫১- ৫৩]
وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي এ বাক্যটি হচ্ছে আযীযের স্ত্রীর। আর এটিকে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ অগ্রাধিকার দিয়েছেন আর ইবনু কাসীর তার অনুসরণ করেছেন।
قرأ هذه الآية: " ذلك ليعلم أني لم أخنه بالغيب "، قال: لما قالها يوسف عليه السلام، قال له جبريل عليه السلام: يا يوسف! اذكر همك، قال: " وما أبرئ نفسي
منكر
-
أخرجه الحاكم في " تاريخه " وابن مردويه والديلمي عن أنس رضي الله عنه مرفوعا. كذا في " الدر المنثور " (4 / 23) . وقد وقفت على إسناد الحاكم. أخرجه من طريقه الديلمي في " مسند الفردوس " (2 / 81 / 1) بسنده عن المؤمل بن إسماعيل: حدثنا حماد عن ثابت عن أنس.. قلت: وهذا إسناد ضعيف علته المؤمل هذا، قال الحافظ في " التقريب ": " صدوق سيء الحفظ ". وقد أورده الذهبي في " الميزان "، وحكى أقوال الأئمة فيه، وذكر له حديثا استنكره، وأعتقد أن هذا الحديث من مناكيره أيضا لأنه مع ضعفه قد خالف الثقات في رفعه
فقد رواه عفان بن مسلم وزيد بن حباب فقالا: عن حماد بن سلمة عن ثابت عن الحسن: فذكره موقوفا عليه مقطوعا. والحسن هو البصري. أخرجه ابن جرير الطبري في " تفسيره " (6 / 145 - شاكر) وأخرج نحوه عن سعيد بن جبير وأبي الهذيل نحوه موقوفا. وهذا هو الصواب: الوقف، ورفعه باطل، فإنه مخالف لسياق القصة في القرآن الكريم، فقد ذكر الله تعالى عن الملك أنه: " قال ما خطبكن إذ راودتن يوسف عن نفسه قلن حاش لله ما علمنا عليه من سوء. قالت امرأة العزيز الآن حصحص الحق أنا راودته عن نفسه وإنه لمن الصادقين. ذلك ليعلم (تعني الملك) أني لم أخنه بالغيب وأن الله لا يهدي كيد الخائنين. وما أبرئ نفسي إن النفس لأمارة بالسوء إلا ما رحم ربي إن ربي غفور رحيم ". فقوله: " وما أبرئ نفسي " هو
من تمام كلام امرأة العزيز، وهو الذي رجحه شيخ الإسلام ابن تيمية، وتبعه ابن كثير في " تفسيره " فراجعه إن شئت