পরিচ্ছেদঃ

১৪১৪। হায়যের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে তিনদিন আর সর্বোচ্চ হচ্ছে দশদিন।

হাদীসটি মুনকার।

হাদীসটিকে ত্ববারানী "আলমুজামুল আওসাত" গ্রন্থে (কাফ ১/৩৬-৫৯৩/৬১০) আহমাদ হতে, তিনি মুহরিয ইবনু আউন ও ফাযল ইবনু গানেম হতে, তারা দুজন হাসসান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে, তিনি আলা ইবনু কাসীর হতে, তিনি মাকহূল হতে, তিনি আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ত্ববারানী বলেনঃ মাকহুল হতে একমাত্র ’আলা বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদে আলী ইবনু কাসীরকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর "আলমুজামুল কাবীর" গ্রন্থে এর বিপরীত ঘটেছে। তিনি (৮/১৫২/৭৫৮৬/৭৪৬৫) আহমাদ ইবনু বাশীর তায়ালিসী হতে, তিনি ফাযল ইবনু গানেম হতে, তিনি হাসসান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে, তিনি আলা ইবনু হারেস হতে, তিনি মাকহুল হতে ... বর্ণনা করেছেন।

হায়সামী ত্ববারানীর দু’ মু’জামের সনদের মধ্যের বর্ণনাকারী ’আলার পিতার ব্যাপারে উল্লেখিত এ ভিন্নতার দিকে লক্ষ্য করেননি। এ কারণে তিনি তার ভাষায় উভয় সনদের ’আলাকে এক করে ফেলে "আলমাজমউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে (১/২৮০) বলেছেনঃ হাদীসটিকে ত্ববারানী "আলকাবীর" এবং "আলআওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যার সনদে আব্দুল মালেক কূফী রয়েছেন তিনি ’আলা ইবনু কাসীর হতে বর্ণনা করেছেন। জানি না তিনি কে?

“আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে টীকা লেখক হুবহু একই কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ দু’আলার মাঝের পার্থক্যটা বিশাল।

আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন লাইসী দেমাস্কী, তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাতরূক। তাকে ইবনু হিব্বান জাল করার দোষে দোষী করেছেন।

আর ’আলা ইবনুল হারেস হচ্ছেন হাযরামী দেমাস্কী। তিনি নির্ভরযোগ্য। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ফাকীহ। তবে তাকে কাদরিয়া সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ততার দোষে দোষী করা হয়েছিল এবং তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট দুটি কারণে আলোচ্য হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি অর্থাৎ আহমাদ ইবনু কাসীর লাইসী দেমাস্কী, হাযরামী ননঃ

১। “আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে এ সনদটি হাসসান ইবনু ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ। কারণ হাসসান থেকে বর্ণনাকারী মুহরিয ইবনু আউন নির্ভরযোগ্য, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। অনুরূপভাবে ইমাম ত্ববারানীর শাইখ আহমাদ ইবনুল কাসেম ইবনে মুসাবির আবু জাফার জাওহারীও নির্ভরযোগ্য। “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৪/৩৪৯-৩৫০) এর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ত্ববারানীর “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থের সনদটি এর বিপরীত। কারণ তাতে হাসসান পর্যন্ত সনদটি সহীহ নয়। মানবী "আলফায়েয" গ্রন্থে বলেনঃ এ সনদের বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু বাশীর তায়ালিসী সম্পর্কে হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর ফাযল ইবনু গানেম সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বলেছেনঃ তিনি কিছুই না। অন্যরা তাকে চালিয়ে দিয়েছেন। আর ’আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ’আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে ইমাম বুখারীর যে উক্তি মানবী উল্লেখ করেছেন তা তার থেকে ভুলক্রমে ঘটেছে। কারণ ইমাম বুখারীর এ মন্তব্য ’আলা ইবনু কাসীর সম্পর্কে, ’আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে নয়।

২। আলেমগণ সনদে উল্লেখিত ’আলা ইবনু কাসীরকে উল্লেখ করেই হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান হাদীসটিকে "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (২/১৮১-১৮২) আলা ইবনু কাসীরের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ’আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন বানু উমাইয়্যার দাস, তিনি শামীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মাকহুল ও আমর ইবনু শুয়াইব হতে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে শামী এবং মিসরীরা বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি যেগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলোর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা অবৈধ যদিও সে ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যরা তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন। আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাকে ’আলা ইবনুল হারেস মনে করেছেন। অথচ তিনি এরূপ নন। কারণ ’আলা ইবনুল হারেস হচ্ছেন হাযরামী ইয়ামানের। আর ’আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন বানু উমাইয়্যার দাস। তিনি (ইবনুল হারেস) সত্যবাদী আর ইনি (ইবনু কাসীর) হাদীসের ক্ষেত্রে কিছুই নন। ইনিই মাকহুল হতে, আর তিনি আবু উমামাহ্ (রাঃ) হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি তিনি আরো পরিপূর্ণরূপে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি (ইবনু হিব্বান) তার সনদে এবং ইবনু আদী "আলকামেল" গ্রন্থে (কাফ ১/৯৯), দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃঃ ৮০) এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী "আলআহাদীসিল ওয়াহিয়্যাহ" গ্রন্থে (১/৩৮৪) ও বাইহাকী (১/৩২৬) বিভিন্ন সূত্রে হাসসান ইবনু ইবরাহীম কিরমানী হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি মাকহুলকে বলতে শুনেছি যার ভাষাটি নিম্নরূপঃ

"কুমারী নারী এবং বিবাহিতা নারী যার মাসিকের রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে তারও হায়যের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে তিনদিন আর সর্বোচ্চ হচ্ছে দশদিন। দশ দিন থেকেও রক্ত যদি আরো বেশী দিন অব্যাহত থাকে তাহলে তা হচ্ছে মুসতাহাযাহ। অর্থাৎ হায়যের (নির্দিষ্ট) দিনগুলোর চেয়ে যতদিন বেশী হবে সেদিনগুলোর রক্ত হচ্ছে ইসতিহাযার রক্ত। হায়যের রক্ত হবে কালো গাঢ় যাতে লাল রং প্রাধান্য পাবে। আর ইসতিহাযার রক্ত হবে পাতলা যাতে পীত বর্ণ প্রাধান্য পাবে। সালাতের মধ্যে যদি কোন মহিলার (ইসতিহাযার রক্ত) বেশী বেশী হয় তাহলে তুলা দিয়ে দিবে। সালাতের মধ্যে যদি এর পরেও রক্ত প্রবাহিত হয় তাহলেও সালাত ছাড়বে না যদিও ফোটা ফোটা হয়ে পড়তে থাকে। তার নিকটে তার স্বামী আসবে (সহবাসের জন্য) এবং সে সওমও পালন করবে।"

দারাকুতনী এবং তার অনুসরণ করে বাইহাকী ও ইবনুল জাওযীও বলেনঃ উক্ত আব্দুল মালেক মাজহুল (অপরিচিত)। ’আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আর মাকহুল আবু উমামাহ (রাঃ) হতে কোন কিছুই শ্রবণ করেননি।

আর ইবনু আদী হাসসান কিরমানীর দ্বারা হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। তিনি তার জীবনীতে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি আমার নিকট সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। তিনি সে দলের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের ব্যাপারে সনদ এবং হাদীসের ভাষা বর্ণনার অধ্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করতেন এরূপ ধারণা পোষণ করা হয়ে থাকে। তার থেকে এটি ভুলবশত ঘটেছে। আমার নিকট তার কোন সমস্যা নেই।

হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আল্লাহই বেশী জানেন তবে সমস্যা হচ্ছে তার উপরে। হয় তার শাইখ আব্দুল মালেক যিনি মাজহুল (অপরিচিত) আর না হয় ’আলা ইবনু কাসীর, যাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করা হয়েছে।

এ হাদীসের কারণে কতিপয় পূর্ববতী এবং পরবর্তী গোঁড়া হানাফী পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন। যাদের মধ্যে ইবনুত তুরকুমানী রয়েছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন অথবা কমপক্ষে এটিকে সহীহ বলে সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। তিনি "আলজাওহারুন্নাকী" গ্রন্থে ইমাম বাইহাকীর পূর্বোক্ত কথার (আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল) সমালোচনা করে বলেনঃ এ বর্ণনায় ’আলার উদ্ধৃতি নেই। দারাকুতনী যে বলেছেনঃ ’আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর। তা ইমাম ত্ববারানীর বর্ণনা বিরোধী যিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যার সনদের মধ্যে আল ইবনু হারেস রয়েছেন। আর আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন তিনি নির্ভরযোগ্য, মাকহুলের সাথীগণের মধ্য থেকে তার চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য হিসেবে আমি কাউকে চিনি না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ বিরোধিতার কোনই মূল্য নেই। এর কারণ হিসেবে একটু পূর্বে উল্লেখকৃত ব্যাখ্যাগুলোই যথেষ্ট যদি অন্ধভাবে মাযহাবী গোড়ামী না থাকে তাহলে যে গোড়ামীর দ্বারা জ্ঞানের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়। তার পরেও সংক্ষেপে পুনরায় আলোচনা করতে কোন সমস্যা নেইঃ

১। ইমাম ত্ববারানীর নিকট বর্ণনাকারী ’আলা পর্যন্ত দুটি সনদ রয়েছে। যার একটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে তিনি হচ্ছেন (খুবই দুর্বল) ’আলা ইবনু কাসীর। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ’আলা ইবনুল হারেস যিনি নির্ভরযোগ্য। এ কারণে তিনি (ইবনুত তুরকুমানী) ঢালাওভাবে ত্ববারানীর উদ্ধৃতিতে যা বলেছেন তা বাস্তবতা বিরোধী, চাতুরতা হতেই ঘটেছে, যা কোন বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তির নিকটেই অস্পষ্ট নয়।

২। ত্ববারানীর সে সনদটিও ’আলা ইবনুল হারেস পর্যন্ত দুর্বল যা তার (ত্ববারানীর) আলা ইবনু কাসীর পর্যন্ত সনদটির বিপরীত। কারণ এ সনদটি আলা ইবনু কাসীর পর্যন্ত সহীহ। যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

৩। বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি এবং ভালো আখ্যা দানকারী ইমামগণ বর্ণনা করেছেন যে, আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন খুবই দুর্বল। অতএব পরবর্তী যুগের মধ্য থেকে তাদের বিরোধিতাকারীদের সিদ্ধান্ত মূল্যহীন। বিশেষ করে যদি এ ক্ষেত্রে মাযহাবী গোঁড়ামী উৎসাহিত করে।

৪। তার পরেও জেনে নিন। ’আলা ইবনুল হারেস নির্ভরযোগ্য ঠিক আছে। কিন্তু তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তার ন্যায় ব্যক্তির দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না যে পর্যন্ত জানা না যাবে যে, তিনি মস্তিষ্ক বিকৃতির পূর্বে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এ ব্যাপারে কিছুই জানা যায় না।

৫। যদি ধরেই নেয়া হয় যে, জানা গেলো যে, তিনি মস্তিষ্ক বিকৃতির পূর্বেই বর্ণনা করেছেন অথবা তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ছিল সামান্য পরিমাণ যা ক্ষতিকর নয়। তাহলে এতে কী উপকারিতা রয়েছে যেখানে তার থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল মালেক মাজহুল (অপরিচিত)। যেমনটি দারাকুতনী প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে। ইবনুত তুরকিমানীও এটি স্বীকার করে নিয়েছেন অন্যথায় তিনি টীকা লিখতেন। অতএব আকাঙ্ক্ষাটা নিষ্ফল বেকার আকাঙ্ক্ষা।

হানাফী মাযহাবের যারা এ পথ অবলম্বন করেছেন তাদের মধ্যে আরো রয়েছেন শাইখ আলী আলকারী। কারণ তিনি "আলআসরারুল মারফুয়াহ" গ্রন্থে ইবনুল কাইয়্যিম আলজাওযিয়্যাহ কর্তৃক "আলমানার" গ্রন্থে (পৃঃ ১২২/২৭৫) বলা কথাকে উল্লেখ করেছেনঃ অনুরূপভাবে হায়েযের সর্বনিম্ন সময় তিনদিন আর সর্বোচ্চ সময় দশদিনকে নির্ধারণ করা মর্মে কোন সহীহ কিছু (হাদীস) নেই বরং এর সব কিছুই বাতিল।

অতঃপর তিনি (শাইখ আলকারী) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ তার (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসের) বহু সূত্র রয়েছে। হাদীসটি দারাকুতনী, ইবনু আদী ও ইবনুল জাওযী বর্ণনা করেছেন এবং বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেছেন যদিও সেগুলো দুর্বল। ফলে হাদীসটি হাসান পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতএব বানোয়াট হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করাটা ভালো হচ্ছে না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার পূর্বে ইবনুল হুমাম "ফাতহুল কাদীর” গ্রন্থে (১/১৪৩) একই দাবী করেন। অতঃপর আইনী "আলবিনায়াতু শারহুল হিদায়্যাহ" গ্রন্থে (১/৬১৮) একই পথ অবলম্বন করে তিনি আরো কিছু ভিত্তিহীন কথা বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ সে সূত্রগুলোর কোন কোনটি সহীহ।

অতঃপর কাওসারী হালাবী তার অন্ধ অনুসরণ করে "আলমানার" গ্রন্থের উপর টীকা লিখে বলেছেনঃ আল্লামাহ আলকারী সে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন যেগুলোর দিকে তিনি তার কিতাবে "ফাতহু বাবিল ইনায়াহ বিশারহি কিতাবুন্নকায়াহ" (১/২০২-২০৩) ইঙ্গিত করেছেন। যেটিকে আমি তাহকীক করেছি।

কিন্তু তিনি যদি সুন্নাত এবং ইনসাফ ভিত্তিক জ্ঞানের খেদমাত করতেন তাহলে এ ক্ষেত্রে তিনি রেফারেন্স দিতেন "নাসবুর রায়া" গ্রন্থের। কারণ এটি জ্ঞানীজনদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কারণ যায়লাঈ এ বিষয়ে সর্বপেক্ষা বেশী বিজ্ঞ, হানাফী মাযহাবের যাদেরকে উল্লেখ করেছি তাদের মধ্যে। কারণ তিনি এ হাদীসগুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে গবেষণা করেছেন এবং মাযহাবী গোড়ামীর উর্দ্ধে থেকে হাদীস শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী সনদগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। আর যারা তার পরে এসেছেন তারা বিপরীত ঘটনা ঘটিয়েছেন। কারণ তারা হাদীস শাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী চলেননি। তাদের দিকে লক্ষ্য করুন কিভাবে তারা কথা বলেছেনঃ “বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যদিও সেগুলো দুর্বল, এর দ্বারা হাদীসটি হাসান পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়।”

তারা জানেন যে, হাসান পর্যন্ত পৌছে যাওয়াটা ব্যাপকভাবে ঘটে না। বরং তা শর্তযুক্ত এভাবে যে, দুর্বলতাটা যেন শক্তিশালী না হয় যেমনটি “মুস্তালাহুল হাদীস” এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখুন ইবনু সলাহ কর্তৃক রচিত "উলুমুল হাদীস", ইবনু কাসীর কর্তৃক রচিত "আল-ইখতিসার" ও হাশিয়াতু শাইখ আলী আল-ক্বারী আলা শারহি নুখবাতুল ফিকর"।

আর এ শর্তটি এ হাদীসের ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়নি। কারণ এর সূত্রগুলোর সবগুলোর উপরেই মিথ্যুক, মাতরুক, মাজহুল বর্ণনাকারীগণ ঘুরপাক করেছে যাদের দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না। এখানে সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা হলোঃ

১। মুয়ায (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে আসাদ ইবনু সাঈদ বাজালী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান সদাফী হতে, তিনি ওবাদাহ ইবনু নাসী হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে, তিনি মুয়ায (রাঃ) হতে মারফু হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ

لا حيض أقل من ثلاث، ولا فوق عشر

"তিন দিনের নিচে হায়য হয় না আর দশ দিনের উপরে হায়য থাকে না।"

হাদীসটিকে ওকায়লী "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (৩৭৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ নন। তার হাদীস নিরাপদ নয় ।

ইবনু হাযম “আলমুহাল্লা” গ্রন্থে (২/১৯৭) বলেনঃ তিনি মাজহুল (অপরিচিত)। হাদীসটি সন্দেহ ছাড়াই বানোয়াট।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি (মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী আলমাসলুব (মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান) এর যিন্দীক (ধর্মহীন) হওয়ার ব্যাপারটিকে অস্বাভাবিক মনে করছি না। ইবনু আদী হাদীসটিকে "আলকামেল" গ্রন্থে (কাফ ২/২৯১) অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী হতে বর্ণনা করেছেন আর তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনুল হাসান) সনদ থেকে ওবাদাহ ইবনু নাসীকে উহ্য করে ফেলেছেন। সম্ভবত এটি তার মিথ্যা বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি মিথ্যুক ও জালকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার সম্পর্কে সুফইয়ান সাওরী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। আমর ইবনু আলী বলেনঃ তিনি বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী। ইবনু আদী এ উক্তিসহ তার দোষ বর্ণনা করে অন্য ইমামগণের উক্তিগুলো উল্লেখ করার পর তার কয়েকটি মুনকার বর্ণনা উল্লেখ করে বলেছেনঃ আমি যে বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছি এগুলো ছাড়াও আরো বর্ণনা রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশের মুতাবা’য়াত করা হয়নি।

এ কথা বলা যাবে না যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান সদাফী হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী ছাড়া অন্য কেউ। কারণ তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি তার নাম একশতবার পরিবর্তন করেছেন। আর তার থেকে বর্ণনাকারী আসাদ ইবনু সাঈদ বাজালী হচ্ছেন অপরিচিত। সম্ভবত তিনি সেই ব্যক্তি যাকে “আল-লিসান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছেঃ আসাদ ইবনু সাঈদ আবু ইসমাঈল কুফী। তার সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন তাকে চেনা যায় না। সম্ভবত তিনিই এ মিথ্যুক ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে ফেলেছেন।

২। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে হাসান ইবনু দীনার মুয়াবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ হতে মারফু হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ

الحيض ثلاثة أيام و أربعة و خمسة و ستة و سبعة و ثمانية و تسعة و عشرة ، فإذا جاوز العشرة فمستحاضة

“হায়য হিসেবে গণ্য হবে তিন দিন, চার দিন, পাঁচ দিন, ছয় দিন, সাত দিন, আট দিন, নয় দিন ও দশদিন। দশ দিনের বেশী হলে তা মুস্তাহাযাহ হিসেবে গণ্য হবে।”

এটিকে ইবনু আদী (কাফ ১/৮৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ হাদীসটি জিলদ ইবনু আইউব এর সাথে পরিচিত, তিনি মুয়াবিয়্যাহ্ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ বর্ণনাকারী এ জিলদ মাতরূক যেমনটি তার সম্পর্কে আলোচনা আসবে। আর হাসান ইবনু দীনার হচ্ছে মিথ্যুক যেমনটি আবু হাতিম ও আবু খায়সামাহ প্রমুখ বলেছেন। “আল-লিসান” গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। তিনি নিকৃষ্ট মিথ্যুক ও দোষীদের অন্তর্ভুক্ত।

হাদীসটি মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে জিলদ কর্তৃক মুয়াবিয়াহ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি।

এটিকে দারেমী (১/২০৯), দারাকুতনী (৭৭) ও বাইহাকী (১/৩২২) বিভিন্ন সূত্রে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে ইবনু আদী তার জীবনীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার দুর্বল হওয়ার বিষয়টি ইমাম শাফেঈ ও আহমাদ এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ বসরাবাসীগণ বর্ণনাকারী জিলদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। অনুরূপভাবে ওকায়লী বর্ণনা করে বলেছেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেনঃ তিনি দুর্বল শাইখ। ইবনু আদী ইবনু ওয়াইনাহ হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ হায়যের বিষয়ে জিলদ ইবনু আইউবের হাদীসটি নববিস্কৃত ভিত্তিহীন হাদীস।

তিনি ইয়াযীদ ইবনু যুরায়ই হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ আবু হানীফা হায়যের ব্যাপারে জিলদের হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীস পাননি।

দারাকুতনী আবূ যুর’আহ দেমাস্কী হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালকে জিলদ ইবনু আইউবের হাদীসকে অস্বীকার করতে দেখেছি। আমি আহমাদ ইবনু হাম্বালকে বলতে শুনেছিঃ যদি এটি সহীহ হতো তাহলে ইবনু সীরীন বলতেন না যে, আনাস (রাঃ)-এর উম্মু ওয়ালাদ ঋতুবতী হলে তিনি (আনাস) আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।

এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, আনাস (রাঃ) জিলদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেননি। এ অর্থ হচ্ছে তিনি খুবই দুর্বল। দারাকুতনী "আয-যুয়াফা অলমাতরূকীন" গ্রন্থে (১৬৮/১৪১) এদিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।

বাইহাকী ইমাম আহমাদ ইবনু সাঈদ দারেমী হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন আমি আবু আসেমকে বর্ণনাকারী জিলদ ইবনু আইউব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেনঃ তিনি আরবদের শাইখদের এক শাইখ ছিলেন। আমাদের সাথীগণ তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।

আনাস (রাঃ) হতে তার আরেকটি সূত্র রয়েছে সেটিও খুবই দুর্বল। সেটিকে ইসমাঈল ইবনু দাউদ ইবনে মিখরাক- আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি ওবায়দুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ

هي حائض فيما بينها و بين عشرة فإذا زادت فهي مستحاضة

"মহিলা ঋতুবতী হবে তিন দিন থেকে দশ দিনের সময়ের মধ্যে। যদি বেশী হয় তাহলে সে মুস্তাহাযার অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।"

মওকুফ হওয়া ছাড়াও এ সূত্রটির সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকার ইসমাঈল। কারণ তিনি খুবই দুর্বল। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল।

৩। ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস আলোচ্য হাদীসটির ন্যায়। এটিকে মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনে আনাস শামী- হাম্মাদ ইবনু মিনহাল বাসরী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু রাশেদ হতে, তিনি মাকহুল হতে বর্ণনা করেছেন।

এটিকে দারাকুতনী (পৃঃ ৮১) এবং তার সূত্র হতে ইবনুল জাওযী "আলওয়াহিয়্যাহ" গ্রন্থে (১/৩৮৫) বর্ণনা করে তারা উভয়েই বলেছেনঃ ইবনু মিনহাল মাজহুল (অপরিচিত), আর মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনে আনাস হচ্ছেন দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদের মধ্যে আরো দুটি সমস্যা রয়েছেঃ

এক. মুহাম্মাদ ইবনু রাশেদের মধ্যে দুর্বলতা। তিনি হচ্ছেন মাকহুলী খুযাঈ দেমাস্কী। ইবনু হিব্বান “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২/২৫৩) বলেনঃ তার বর্ণনার মধ্যে বহু মুনকারের সমাবেশ ঘটেছে ফলে তিনি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যোগ্য হয়ে যান। হাফিয যায়লাঈ হানাফী “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (১/১৯২) তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।

দুই. সনদে বিচ্ছিন্নতা। কারণ মাকহুল ওয়াসিলাহ হতে শ্রবণ করেননি যেমনটি ইমাম বুখারী বলেছেন। হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে ’আলা ইবনু কাসীর হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি আবু উমামাহ হতে। আর ’আলা ইবনু কাসীর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে।

৪। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) প্রমুখ হতে বর্ণিত হাদীস। ইয়াকুব ইবনু সুফইয়ান বলেনঃ আবু দাউদ নাখাঈ যার নাম সুলায়মান ইবনু আমর কুদরী। ইনি একজন মন্দ মিথ্যুক ব্যক্তি। তিনি উত্তর দেয়ার সময় মিথ্যা বলতেন। ইসহাক বলেনঃ আমি তার নিকট এসে তাকে বললামঃ আপনি হায়যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময় এবং দুহায়যের মধ্যর্তী পবিত্র সময় কতটুকু এ সম্পর্কে কী জানেন?

তিনি বললেনঃ আল্লাহু আকবার। আমাকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমাদেরকে আবু ত্বওয়ালাহ আবু সাঈদ খুদরী হতে এবং জাফার ইবনু মুহাম্মাদ তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মারফু হিসেবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং কিছু বৃদ্ধি করেছেনঃ

(و أقل ما بين الحيضتين خمسة عشر يوما)

"দু’হায়যের মাঝের সময়ের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে পনেরো দিন।"

হাদীসটি খাতীব বাগদাদী "তারীখু বাগদাদ" গ্রন্থে (৯/২০) এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী বর্ণনা করেছেন।

খাতীব হাদীসটিকে উক্ত নাখ’ঈর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বড় একদল ইমাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (নাখ’ঈ) মিথ্যুক হাদীস জালকারী।

“আল-লিসান” গ্রন্থে তার জীবনী আলোচিত হওয়ার শেষে উদ্ধৃত হয়েছেঃ ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ তিনি তাদের নিকট মিথ্যুক, হাদীস জালকারী এবং তারা (মুহাদ্দিসগণ) তার হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি (ইবনু হাজার) বলছি তার সম্পর্কে অগণিত সমালোচনা করা হয়েছে। তাকে মিথ্যুক আখ্যা দান এবং হাদীস জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন পূর্ববর্তী এবং পরের যুগের ত্রিশেরও অধিক আলেম (ইমাম) যাদের উক্তি (ভালো অথবা মন্দ হিসেবে) বর্ণনাকারী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে কোন কোন প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী তার (নাখ’ঈ) থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু জাবের হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি আবু উমামাহ (রাঃ) হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।

এটিকে ইবনু হিববান "আয-যুয়াফা অলমাতরূকীন" গ্রন্থে (১/৩৩৩) ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়া ওয়াসেতী সূত্রে সুলায়মান ইবনু আমর হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসটিকে এ সুলায়মানের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি বাহ্যিকভাবে ভালো লোক ছিলেন। তবে তিনি হাদীস জাল করতেন। তিনি কাদরী মতাবলম্বী ছিলেন। পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য ছাড়া তার হাদীস লিখাই বৈধ নয়।

তিনি ইবরাহীম ওয়াসেতীর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে (১/১১৫) বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এমন সব হাদীস নিয়ে এসেছেন যেগুলো নির্ভরশীলদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তিনি তা ইচ্ছাকৃত না করলেও তিনি ছিলেন মিথ্যুকদের উদ্ধৃতিতে মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। কারণ আমি তাকে দেখেছি তিনি ইমাম মালেক হতে বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেগুলোকে মূসা ইবনু মুহাম্মাদ বালকাবী সূত্রে ইমাম মালেক হতেও বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এসব সূত্র যেগুলোর দ্বারা হাদীসটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বলে শাইখ আলকারী ধারণা পোষণ করেছেন। এগুলো হুবহু সেইসব হাদীস যেগুলোকে তিনি তার "ফাতহু বাবিল ইনায়াহ" গ্রন্থে (১/২০২-২০৪) উল্লেখ করে উল্লেখিত জঘন্য সমস্যাগুলো এবং হাদীসের ইমামগণের উক্তিগুলো বর্ণনা করা থেকে চুপ থেকেছেন তার গবেষণার শেষে এ কথা বলার উদ্দেশ্যেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এসব হাদীস যেগুলো বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলো হাদীসটিকে দুর্বল থেকে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করছে।

কিন্তু এসূত্রগুলোর কিইবা মূল্য আছে যেগুলোর নির্ভরতা মিথ্যুক, মাতরূক ও মাজহুল বর্ণনাকারীদের উপর। সত্যিই বড় আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, আজকের কাওসারী এ হাদীসের অনুসরণকারী। অথচ তিনি তার কোন কোন টীকার মধ্যে লিখেছেন ’প্রত্যেক ইলমের ক্ষেত্রে সে ইলমের বিশেষজ্ঞদের নিকট ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। কিন্তু এখানে তার অবস্থান কোথায় যেখানে তার কর্ম দ্বারা তার কথার বিরোধিতা করছেন। তিনি হাদীসের ইমামগণের উক্তিগুলো থেকে (বরং আলোচ্য এ হাদীসকে প্রতাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্যের উক্তিগুলো থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!

ফায়েদাহঃ বাইহাকী তার "সুনান" গ্রন্থে বর্ণনাকারী জিলদের হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ দিন সম্পর্কে কতিপয় দুর্বল হাদীস রৰ্ণিত হয়েছে। সেগুলোর দুর্বলতার কারণগুলো “আলখিলাফিয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেনঃ এটি বাতিল, বরং হাদীসের আলেমগণের ঐকমত্যে এটি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি তার এ কথাটি "মাজমৃউ ফাতাওয়া" গ্রন্থ (২১/৬২৩) থেকে উল্লেখ করেছি।

শাওকানী "আসসায়লুল জারার” গ্রন্থে (১/১৪২) বলেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন আর সর্বোচ্চ সময় নির্দিষ্ট করে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে, তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়। বরং এ সম্পর্কে বর্ণিত সবগুলোই হয় বানোয়াট অথবা একেবারে দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটিই হচ্ছে সর্বপেক্ষা ইনসাফ ভিত্তিক উপকারী সংক্ষিপ্ত কথা, যা এ হাদীস সম্পর্কে বলা যেতে পারে এবং আল্লাহ আমাকে তা উপস্থাপন করার তাওফীক দান করেছেন।

ফায়েদাহঃ আলেমগণ হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তবে সহীহ এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত হচ্ছে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (১৯/২৩৭) যা বলেছেন সেটিই। তিনি বলেছেন যে, হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। বরং মহিলা যে সময়কে তার অভ্যাস হিসেবে দেখবে সেটিই তার হায়যের সময়। তা যদি এক দিনেরও কম সময় অব্যাহত থাকে তাহলে সে সময়টুকুই তার হায়যের সময়। কারণ শারীয়াত এবং আরবী ভাষা থেকে জানা গেছে যে, মহিলা কখনও পবিত্র থাকে আবার কখনও ঋতুবতী থাকে। আর তার পবিত্র থাকা অবস্থার জন্য রয়েছে (পৃথক) বিধান এবং ঋতুবতী থাকা অবস্থার জন্যও রয়েছে (পৃথক) বিধান।

أقل الحيض ثلاث، وأكثره عشر
منكر

-

رواه الطبراني في " الأوسط " (ق 36/1 - رقم 593 - مصورتي) : حدثنا أحمد قال
حدثنا محرز بن عون والفضل بن غانم قالا: نا حسان بن إبراهيم عن عبد الملك عن
العلاء بن كثير عن مكحول عن أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال
فذكره. وقال
" لم يروه عن مكحول إلا العلاء
قلت: وقع في الإسناد أنه العلاء بن كثير كما ترى، وفي " المعجم الكبير
خلافه فقال (8/152/7586) : حدثنا أحمد بن بشير الطيالسي: حدثنا الفضل بن
غانم: حدثنا حسان بن إبراهيم عن عبد الملك عن العلاء بن حارث عن مكحول به
ولم يتنبه الهيثمي لهذا الاختلاف الذي وقع في المعجمين في اسم والد العلاء
فجعله واحدا في كلامه على إسنادهما فقال في " مجمع الزوائد " (1/280)
" رواه الطبراني في " الكبير " و" الأوسط " وفيه عبد الملك الكوفي عن العلاء
ابن كثير، لا ندري من هو؟
وقلده المعلق على " المعجم الأوسط " (1/356) فنقله عنه بالحرف الواحد ولم
يزد عليه حرفا واحدا، وهكذا كل أوجل تعليقاته عليه ليس فيها شيء من العلم
الذي يستحق به أن يكتب عليه: تحقيق الدكتور فلان، فالله المستعان على تحقيقات
بل تجارات دكاترة آخر الزمان
واعلم أن الفرق بين العلاءين فرق شاسع، فابن كثير وهو الليثي الدمشقي متهم
قال الحافظ في " التقريب
" متروك رماه ابن حبان بالوضع
وأما ابن الحارث، وهو الحضرمي الدمشقي؛ فهو ثقة، قال الحافظ: " صدوق، فقيه لكن رمي بالقدر وقد اختلط
قلت: والراجح عندي أنه الأول، وذلك لسببين
الأول: أن السند بذلك صحيح إلى حسان بن إبراهيم فإن راويه عنه محرز بن عون ثقة
من رجال مسلم، وكذلك شيخ الطبراني أحمد الراوي عنه، وهو أحمد بن القاسم بن
مساور أبو جعفر الجوهري ثقة، مترجم في " تاريخ بغداد " (4/349 - 350)
بخلاف إسناد " كبير الطبراني " فإنه لا يصح إلى حسان، فقال المناوي في " الفيض

" وفيه أحمد بن بشير الطيالسي، قال في " الميزان ": لينه الدارقطني
والفضل بن غانم قال الذهبي: قال يحيى: ليس بشيء، ومشاه غيره، والعلاء بن
الحارث قال البخاري: منكر الحديث
قلت: وهذا الأخير منه وهم، فإن البخاري إنما قال ما ذكر في العلاء بن كثير
وليس العلاء بن الحارث
والآخر: أن العلماء أعلوا الحديث بابن كثير، وابن حبان ذكره في ترجمته من
كتابه " الضعفاء " فقال (2/181 - 182)
" العلاء بن كثير مولى بني أمية، من أهل الشام، يروي عن مكحول وعمرو بن شعيب
، روى عنه أهل الشام ومصر، وكان ممن يروي الموضوعات عن الأثبات، لا يحل
الاحتجاج بما روى وإن وافق فيها الثقات، ومن أصحابنا من زعم أنه العلاء بن
الحارث، وليس كذلك لأن العلاء بن الحارث حضرمي من اليمن، وهذا من موالي بني
أمية، وذاك صدوق، وهذا ليس بشيء في الحديث، وهو الذي روى عن مكحول عن أبي
أمامة
قلت: فذكر الحديث بأتم منه
ثم ساق إسناده هو وابن عدي في " الكامل " (ق 99/1) والدارقطني في " سننه
(ص 80) وعنه ابن الجوزي في " الأحاديث الواهية " (1/384) والبيهقي
1/326) من طرق عن حسان بن إبراهيم الكرماني قال: نا عبد الملك قال: سمعت
العلاء قال: سمعت مكحولا به مطولا ولفظه
" أقل ما يكون الحيض للجارية البكر والثيب التي أيست من المحيض ثلاثا، وأكثر
ما يكون الحيض عشرة أيام، فإذا زاد الدم أكثر من عشرة فهي مستحاضة، يعني ما
زاد على أيام أقرائها، ودم الحيض لا يكون إلا دما أسود عبيطا يعلوه حمرة
ودم المستحاضة رقيق تعلوه صفرة، فإن كثر عليها في الصلاة فلتحتش كرسفا، فإن
غلبها في الصلاة فلا تقطع الصلاة وإن قطر، ويأتيها زوجها، وتصوم
وقال الدارقطني وتبعه البيهقي وابن الجوزي
" عبد الملك هذا مجهول، والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث، ومكحول لم يسمع
من أبي أمامة شيئا
وأما ابن عدي فأعله بالكرماني، فإنه أورده في ترجمته فيما أنكر عليه وقال
" وهو عندي من أهل الصدق، إلا أنه يغلط في الشيء، وليس ممن يظن به أنه
يتعمد في باب الرواية إسنادا ومتنا، وإنما هو وهم منه، وهو عندي لا بأس به

وقال الحافظ في " التقريب
" صدوق يخطىء
قلت: فالعلة - والله أعلم - ممن فوقه، إما عبد الملك شيخه، وهو مجهول
وإما العلاء بن كثير المتهم، وهو ليس عليه بكثير
وقد ابتلي بهذا الحديث بعض متعصبة الحنفية من المتقدمين والمتأخرين، منهم
ابن التركماني فقد حاول أوعلى الأقل أوهم أنه صحيح! فقال في " الجوهر النقي
متعقبا على البيهقي قوله المتقدم: " والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث
" قلت: لم ينسب العلاء في هذه الرواية، وقول الدارقطني: هو ابن كثير يعارضه
أن الطبراني روى هذا الحديث، وفيه العلاء بن حارث، وقال أبو حاتم: ثقة لا
أعلم أحدا من أصحاب مكحول أوثق منه.. " إلخ
قلت: وهذه المعارضة لا قيمة لها البتة، وذلك بين مما شرحته آنفا لولا
التعصب المذهبي الأعمى، الذي يحاول قلب الحقائق العلمية لتتفق مع الأهواء
المذهبية دائما، ولكن لا بأس من تلخيص ذلك من وجوه
الأول: أن الطبراني له إسنادان إلى العلاء، في أحدهما التصريح بأنه ابن كثير الواهي، وفي الآخر أنه ابن الحارث الثقة، فإطلاق العزوللطبراني بهذا لا
يخفى على اللبيب ما فيه من الإيهام المخالف للواقع
الثاني: أن إسناده إلى ابن الحارث ضعيف، بخلاف إسناده إلى ابن كثير؛ فإنه
صحيح على ما سبق بيانه
الثالث: أن أئمة الجرح والتعديل بينوا أنه ابن كثير؛ الواهي، فلا قيمة لرأي
مخالفهم من المتأخرين، وبخاصة إذا كان الحامل له على ذلك التعصب المذهبي
الرابع: هب أنه ابن الحارث الثقة، ولكنه كان قد اختلط كما تقدم عن الحافظ،
فمثله لا يحتج به إلا إذا عرف أنه حدث به قبل الاختلاط، وهيهات
الخامس: افترض أنه عرف ذلك أوأن اختلاطه يسير لا يضر فما فائدة ذلك والراوي
عنه عبد الملك مجهول، كما تقدم عن الدارقطني وغيره، وابن التركماني مقر به
وإلا لعلق عليه، فحرصه على ترجيح أنه ابن الحارث حرص ضائع
ومنهم الشيخ علي القارىء، فإنه نقل في " الأسرار المرفوعة " عن ابن قيم
الجوزية قوله في " المنار " (ص 122/275 - حلب)
" وكذلك تقدير أقل الحيض بثلاثة أيام وأكثره بعشرة، ليس فيها شيء صحيح، بل
كله باطل
فتعقبه الشيخ القاريء بقوله (481 - بيروت)
" قلت: وله طرق متعددة، رواه الدارقطني وابن عدي وابن الجوزي، وتعدد
الطرق ولوضعفت، يرقي الحديث إلى الحسن، فالحكم بالوضع عليه لا يستحسن
قلت: وقد سبقه إلى هذه الدعوى ابن الهمام في " فتح القدير " (1/143) ثم
العيني في " البناية شرح الهداية " (1/618) وزاد ضغثا على إبالة قوله
" على أن بعض طرقها صحيحة
ثم قلدهم في ذلك الكوثري الحلبي في تعليقه على " المنار "، فإنه قال بعد أن
نقل كلام الشيخ علي المتقدم
" وقد ذكر العلامة القاري تلك الطرق المشار إليها في كتابه " فتح باب العناية
بشرح كتاب النقاية " (1: 202 - 203) الذي حققته وطبع بحلب سنة (1387)
فانظره "

ولو أنه أراد خدمة السنة والإنصاف للعلم لأحال في ذلك على كتاب " نصب الراية
" لأنه أشهر عند أهل العلم، ولأن مؤلفه الزيلعي أقعد بهذا الفن وأعرف به من
كل من ذكرناهم من الحنفية، فإنه بحث هذه الأحاديث بحثا حرا، ونقدها نقدا
حديثيا مجردا عن العصبية المذهبية، خلافا لهؤلاء الذين جاؤوا من بعده، فإنهم
لا يلتزمون القواعد الحديثية، فانظر إليهم كيف يقولون
" وتعدد الطرق ولوضعفت يرقي الحديث إلى الحسن "
فإنهم يعلمون أن هذا ليس على إطلاقه، بل ذلك مقيد بأن لا يشتد ضعفه كما هو
مذكور في " مصطلح الحديث " ، وهذا الشرط غير متوفر في هذا الحديث، لأن
مدار طرقه كلها على كذابين ومتروكين ومجهولين لا تقوم بهم حجة، وهاك بيانها
1 - حديث معاذ، يرويه أسد بن سعيد البجلي عن محمد بن الحسن (الصدفي) عن
عبادة بن نسي، عن عبد الرحمن بن غنم عنه مرفوعا بلفظ
" لا حيض أقل من ثلاث، ولا فوق عشر "
أخرجه العقيلي في " الضعفاء " (375) وقال
" محمد بن الحسن ليس بمشهور بالنقل، وحديثه غير محفوظ "
وقال ابن حزم في " المحلى " (2/197)
" وهو مجهول، فهو موضوع بلا شك
وأقول: لا أستبعد أن يكون محمد بن سعيد الشامي المصلوب في الزندقة، فقد
أخرجه ابن عدي في " الكامل " (ق 291/2) من طريق أخرى عن محمد بن سعيد الشامي
قال: حدثني عبد الرحمن بن غنم به. فأسقط من الإسناد عبادة بن نسي، ولعل هذا
من أكاذيبه، فإنه كذاب وضاع معروف بذلك، وقد قال فيه سفيان الثوري
" كذاب "
وقال عمرو بن علي
" يحدث بأحاديث موضوعة

وقال ابن عدي بعد أن روى هذا وغيره من أقوال الأئمة في تجريحه وساق له
أحاديث مما (أخذ) عليه
" وله غير ما ذكرت، وعامة ما يرويه لا يتابع عليه
ولا يقال: إن محمد بن الحسن الصفدي غير محمد بن سعيد الشامي؛ فإنه قد قيل
فيه: بأنهم قد قلبوا اسمه على مائة وجه ليخفى. والراوي عنه أسد بن سعيد
البجلي غير معروف، ومن المحتمل أنه الذي في " اللسان
" أسد بن سعيد أبو إسماعيل الكوفي، قال ابن القطان
لا يعرف
فيمكن أن يكون هو الذي قلب اسم هذا الكذاب
2 - حديث أنس، يرويه الحسن بن دينار عن معاوية بن قرة عنه مرفوعا بلفظ
" الحيض ثلاثة أيام وأربعة وخمسة وستة وسبعة وثمانية وتسعة وعشرة، فإذا
جاوز العشرة فمستحاضة
أخرجه ابن عدي (ق 85/1) وقال
" هذا الحديث معروف بالجلد بن أيوب عن معاوية بن قرة عن أنس
يعني موقوفا
قلت: وهو أعني الجلد متروك كما يأتي، أما الحسن بن دينار فهو كذاب كما قال
أبو حاتم وأبو خيثمة وغيرهما، وترجمته في " اللسان " من أسوأ ما تكون
تجريحا وتكذيبا
وقد روي موقوفا، وهو حديث الجلد بن أيوب عن معاوية بن قرة عن أنس به
أخرجه الدارمي (1/209) والدارقطني (77) والبيهقي (1/322) من طرق عنه
وكذلك رواه ابن عدي في ترجمته. وروى تضعيفه عن الشافعي وأحمد، وعن ابن
المبارك قال: " أهل البصرة يضعفون الجلد
وكذا رواه العقيلي وزاد
قال ابن المبارك: شيخ ضعيف

وعن ابن عيينة قال
" حديث الجلد بن أيوب في الحيض حديث محدث لا أصل له
وعن يزيد بن زريع قال
" ذاك أبو حنيفة لم يجد شيئا يحدث به في حديث الحيض إلا بالجلد
وروى الدارقطني عن أبي زرعة الدمشقي قال
" رأيت أحمد بن حنبل ينكر حديث الجلد بن أيوب هذا، وسمعت أحمد بن حنبل يقول
لوكان هذا صحيحا لم يقل ابن سيرين: استحيضت أم ولد لأنس بن مالك، فأرسلوني
أسأل ابن عباس رضي الله عنه
وهذا يعني بوضوح لا خفاء فيه أن أنسا رضي الله عنه لم يحدث بهذا الذي رواه
الجلد عنه. وهذا معناه أنه ضعيف جدا، وهذا ما يشير إليه الدارقطني في
الضعفاء والمتروكين " (168/141 - مكتبة المعارف - الرياض)
" متروك "
وروى البيهقي عن أحمد بن سعيد الدارمي قال: سألت أبا عاصم عن الجلد بن أيوب؟
فضعفه جدا، وقال
" كان شيخا من مشايخ العرب تساهل أصحابنا في الرواية عنه
وله طريق أخرى عن أنس شديدة الضعف أيضا، يرويه إسماعيل بن داود بن مخراق عن
عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن عبيد الله بن عمر عن ثابت عن أنس قال
" هي حائض فيما بينها وبين عشرة، فإذا زادت فهي مستحاضة
وآفة هذه الطريق - مع وقفها - هو إسماعيل هذا، فإنه ضعيف جدا، قال البخاري
" منكر الحديث
وقال أبو حاتم
ضعيف الحديث جدا
3 - حديث واثلة بن الأسقع مرفوعا مثل حديث الترجمة، رواه محمد بن أحمد بن أنس
الشامي: حدثنا حماد بن المنهال البصري عن محمد بن راشد عن مكحول

أخرجه الدارقطني (ص 81) ومن طريقه ابن الجوزي في " الواهية " (1/385)
وقالا
" ابن منهال مجهول، ومحمد بن أحمد بن أنس ضعيف
قلت: وفيه علتان أخريان
الأولى: ضعف محمد بن راشد وهو المكحولي الخزاعي الدمشقي، قال ابن حبان في
الضعفاء " (2/253)
كثرت المناكير في روايته فاستحق الترك
وأقره الزيلعي في " نصب الراية " (1/192) . وقال الحافظ
" صدوق يهم
والأخرى: الانقطاع، فإن مكحولا لم يسمع من واثلة كما قال البخاري، وقد روي
عن العلاء بن كثير عن مكحول عن أبي أمامة كما تقدم مع بيان وهائه
4 - حديث أبي سعيد الخدري وغيره، قال يعقوب بن سفيان
أبو داود النخعي اسمه سليمان بن عمرو، قدري، رجل سوء كذاب، كان يكذب مجاوبة
، قال إسحاق: أتيناه فقلنا له: أيش تعرف في أقل الحيض وأكثره وما بين
الحيضتين من الطهر؟ فقال: الله أكبر، حدثني يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب
عن النبي صلى الله عليه وسلم، وحدثنا أبو طوالة عن أبي سعيد الخدري، وجعفر
بن محمد عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا به وزاد
" وأقل ما بين الحيضتين خمسة عشر يوما
رواه الخطيب في " تاريخ بغداد " (9/20) ومن طريقه ابن الجوزي
ذكره الخطيب في ترجمة النخعي هذا وروى عن جمع غفير من الأئمة أنه كذاب يضع
الحديث. وفي آخر ترجمته من " اللسان
" قال ابن عبد البر: هو عندهم كذاب يضع الحديث وتركوا حديثه. قلت: الكلام
فيه لا يحصر، فقد كذبه ونسبه إلى الوضع من المتقدمين والمتأخرين ممن نقل
كلامهم في الجرح والعدالة - فوق الثلاثين نفسا
قلت: وقد رواه بعض المتروكين عنه عن يزيد بن جابر عن مكحول عن أبي أمامة به
نحوه
أخرجه ابن حبان في " الضعفاء والمتروكين " (1/333) من طريق إبراهيم بن زكريا
الواسطي: حدثنا سليمان بن عمرو به
ذكره في ترجمة سليمان هذا وقال فيه
" كان رجلا صالحا في الظاهر، إلا أنه كان يضع الحديث وضعا، وكان قدريا لا
تحل كتابة حديثه إلا على جهة الاختبار
وقال في ترجمة الواسطي هذا (1/115)
" يأتي عن الثقات ما لا يشبه حديث الأثبات إن لم يكن بالمتعمد لها، فهو المدلس
عن الكذابين، لأني رأيته قد روى أشياء عن مالك موضوعة، ثم رواها أيضا عن موسى
ابن محمد البلقاوي عن مالك
أقول: هذه هي الطرق التي زعم الشيخ القارىء أن الحديث يرقى بها إلى مرتبة
الحسن، وهي بعينها التي ساق أحاديثها في " فتح باب العناية " (1/202 - 204)
ساكتا عن كل هذه العلل الفاضحة، وعن أقوال أئمة الحديث فيها ليقول في نهاية
بحثه
" فهذه عدة أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بطرق متعددة ترفع الضعيف إلى
الحسن
فليت شعري ما قيمة هذه الطرق إذا كان مدارها على الكذابين والمتروكين
والمجهولين؟ ! وهم يعلمون من علم المصطلح أنها لا تعطي الحديث قوة، بل
تزيده وهنا على وهن
ومن العجائب حقا أن يتابعه في ذلك كوثري اليوم، فيحيل القراء عليه متبجحا كما
تقدم، وهو الذي يكتب في بعض تعليقاته أن يجب الرجوع في كل علم إلى أهل التخصص
فيه. فما باله هنا خالف فعله قوله، فأعرض عن أقوال أئمة الحديث بل إجماعهم
على رد هذا الحديث، وتمسك بقول المخالف لهم من الحنفية المتعصبة؟
أفلا يحق لي أن أقول
إن كنت لا تدري فتلك مصيبة * * * أوكنت تدري فالمصيبة أعظم؟
وزيادة في الفائدة على ما تقدم أقول: قال البيهقي في " سننه " عقب حديث الجلد
" وقد روي في أقل الحيض وأكثره أحاديث ضعاف، قد بينت ضعفها في (الخلافيات)
وسئل شيخ الإسلام ابن تيمية عن هذا الحديث فأجاب بقوله
" باطل، بل هو كذب موضوع باتفاق علماء الحديث
نقلته من " مجموع فتاويه " (21/623)
وقال الشوكاني في " السيل الجرار " (1/142)
" لم يأت في تقدير أقل الحيض وأكثره ما يصلح للتمسك به، بل جميع الوارد في
ذلك إما موضوع، أوضعيف بمرة
قلت: وهذا أعدل وأوجز ما يقال كخلاصة لهذا التحقيق الممتع الذي وفقني الله
إليه، راجيا المثوبة منه
(فائدة) لقد اختلف العلماء في تحديد أقل الحيض وأكثره والأصح كما قال شيخ
الإسلام ابن تيمية (19/237) أنه لا حد لأقله ولا لأكثره، بل ما رأته المرأة
عادة مستمرة فهو حيض، وإن قدر أنه أقل من يوم استمر بها على ذلك فهو حيض،
وأما إذا استمر الدم بها دائما، فهذا قد علم أنه ليس بحيض؛ لأنه قد علم من
الشرع واللغة أن المرأة تارة تكون طاهرا، وتارة تكون حائضا، ولطهرها أحكام
، ولحيضها أحكام. وراجع تمامه فيه إن شئت
وهذا الذي رجحه ابن تيمية مذهب ابن حزم في " المحلى "، وقد أطال النفس
كعادته - في الاستدلال له، والرد على مخالفيه، فراجعه في المجلد الثاني منه
(ص 200 - 203)

اقل الحيض ثلاث، واكثره عشر منكر - رواه الطبراني في " الاوسط " (ق 36/1 - رقم 593 - مصورتي) : حدثنا احمد قال حدثنا محرز بن عون والفضل بن غانم قالا: نا حسان بن ابراهيم عن عبد الملك عن العلاء بن كثير عن مكحول عن ابي امامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فذكره. وقال " لم يروه عن مكحول الا العلاء قلت: وقع في الاسناد انه العلاء بن كثير كما ترى، وفي " المعجم الكبير خلافه فقال (8/152/7586) : حدثنا احمد بن بشير الطيالسي: حدثنا الفضل بن غانم: حدثنا حسان بن ابراهيم عن عبد الملك عن العلاء بن حارث عن مكحول به ولم يتنبه الهيثمي لهذا الاختلاف الذي وقع في المعجمين في اسم والد العلاء فجعله واحدا في كلامه على اسنادهما فقال في " مجمع الزواىد " (1/280) " رواه الطبراني في " الكبير " و" الاوسط " وفيه عبد الملك الكوفي عن العلاء ابن كثير، لا ندري من هو؟ وقلده المعلق على " المعجم الاوسط " (1/356) فنقله عنه بالحرف الواحد ولم يزد عليه حرفا واحدا، وهكذا كل اوجل تعليقاته عليه ليس فيها شيء من العلم الذي يستحق به ان يكتب عليه: تحقيق الدكتور فلان، فالله المستعان على تحقيقات بل تجارات دكاترة اخر الزمان واعلم ان الفرق بين العلاءين فرق شاسع، فابن كثير وهو الليثي الدمشقي متهم قال الحافظ في " التقريب " متروك رماه ابن حبان بالوضع واما ابن الحارث، وهو الحضرمي الدمشقي؛ فهو ثقة، قال الحافظ: " صدوق، فقيه لكن رمي بالقدر وقد اختلط قلت: والراجح عندي انه الاول، وذلك لسببين الاول: ان السند بذلك صحيح الى حسان بن ابراهيم فان راويه عنه محرز بن عون ثقة من رجال مسلم، وكذلك شيخ الطبراني احمد الراوي عنه، وهو احمد بن القاسم بن مساور ابو جعفر الجوهري ثقة، مترجم في " تاريخ بغداد " (4/349 - 350) بخلاف اسناد " كبير الطبراني " فانه لا يصح الى حسان، فقال المناوي في " الفيض " وفيه احمد بن بشير الطيالسي، قال في " الميزان ": لينه الدارقطني والفضل بن غانم قال الذهبي: قال يحيى: ليس بشيء، ومشاه غيره، والعلاء بن الحارث قال البخاري: منكر الحديث قلت: وهذا الاخير منه وهم، فان البخاري انما قال ما ذكر في العلاء بن كثير وليس العلاء بن الحارث والاخر: ان العلماء اعلوا الحديث بابن كثير، وابن حبان ذكره في ترجمته من كتابه " الضعفاء " فقال (2/181 - 182) " العلاء بن كثير مولى بني امية، من اهل الشام، يروي عن مكحول وعمرو بن شعيب ، روى عنه اهل الشام ومصر، وكان ممن يروي الموضوعات عن الاثبات، لا يحل الاحتجاج بما روى وان وافق فيها الثقات، ومن اصحابنا من زعم انه العلاء بن الحارث، وليس كذلك لان العلاء بن الحارث حضرمي من اليمن، وهذا من موالي بني امية، وذاك صدوق، وهذا ليس بشيء في الحديث، وهو الذي روى عن مكحول عن ابي امامة قلت: فذكر الحديث باتم منه ثم ساق اسناده هو وابن عدي في " الكامل " (ق 99/1) والدارقطني في " سننه (ص 80) وعنه ابن الجوزي في " الاحاديث الواهية " (1/384) والبيهقي 1/326) من طرق عن حسان بن ابراهيم الكرماني قال: نا عبد الملك قال: سمعت العلاء قال: سمعت مكحولا به مطولا ولفظه " اقل ما يكون الحيض للجارية البكر والثيب التي ايست من المحيض ثلاثا، واكثر ما يكون الحيض عشرة ايام، فاذا زاد الدم اكثر من عشرة فهي مستحاضة، يعني ما زاد على ايام اقراىها، ودم الحيض لا يكون الا دما اسود عبيطا يعلوه حمرة ودم المستحاضة رقيق تعلوه صفرة، فان كثر عليها في الصلاة فلتحتش كرسفا، فان غلبها في الصلاة فلا تقطع الصلاة وان قطر، وياتيها زوجها، وتصوم وقال الدارقطني وتبعه البيهقي وابن الجوزي " عبد الملك هذا مجهول، والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث، ومكحول لم يسمع من ابي امامة شيىا واما ابن عدي فاعله بالكرماني، فانه اورده في ترجمته فيما انكر عليه وقال " وهو عندي من اهل الصدق، الا انه يغلط في الشيء، وليس ممن يظن به انه يتعمد في باب الرواية اسنادا ومتنا، وانما هو وهم منه، وهو عندي لا باس به وقال الحافظ في " التقريب " صدوق يخطىء قلت: فالعلة - والله اعلم - ممن فوقه، اما عبد الملك شيخه، وهو مجهول واما العلاء بن كثير المتهم، وهو ليس عليه بكثير وقد ابتلي بهذا الحديث بعض متعصبة الحنفية من المتقدمين والمتاخرين، منهم ابن التركماني فقد حاول اوعلى الاقل اوهم انه صحيح! فقال في " الجوهر النقي متعقبا على البيهقي قوله المتقدم: " والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث " قلت: لم ينسب العلاء في هذه الرواية، وقول الدارقطني: هو ابن كثير يعارضه ان الطبراني روى هذا الحديث، وفيه العلاء بن حارث، وقال ابو حاتم: ثقة لا اعلم احدا من اصحاب مكحول اوثق منه.. " الخ قلت: وهذه المعارضة لا قيمة لها البتة، وذلك بين مما شرحته انفا لولا التعصب المذهبي الاعمى، الذي يحاول قلب الحقاىق العلمية لتتفق مع الاهواء المذهبية داىما، ولكن لا باس من تلخيص ذلك من وجوه الاول: ان الطبراني له اسنادان الى العلاء، في احدهما التصريح بانه ابن كثير الواهي، وفي الاخر انه ابن الحارث الثقة، فاطلاق العزوللطبراني بهذا لا يخفى على اللبيب ما فيه من الايهام المخالف للواقع الثاني: ان اسناده الى ابن الحارث ضعيف، بخلاف اسناده الى ابن كثير؛ فانه صحيح على ما سبق بيانه الثالث: ان اىمة الجرح والتعديل بينوا انه ابن كثير؛ الواهي، فلا قيمة لراي مخالفهم من المتاخرين، وبخاصة اذا كان الحامل له على ذلك التعصب المذهبي الرابع: هب انه ابن الحارث الثقة، ولكنه كان قد اختلط كما تقدم عن الحافظ، فمثله لا يحتج به الا اذا عرف انه حدث به قبل الاختلاط، وهيهات الخامس: افترض انه عرف ذلك اوان اختلاطه يسير لا يضر فما فاىدة ذلك والراوي عنه عبد الملك مجهول، كما تقدم عن الدارقطني وغيره، وابن التركماني مقر به والا لعلق عليه، فحرصه على ترجيح انه ابن الحارث حرص ضاىع ومنهم الشيخ علي القارىء، فانه نقل في " الاسرار المرفوعة " عن ابن قيم الجوزية قوله في " المنار " (ص 122/275 - حلب) " وكذلك تقدير اقل الحيض بثلاثة ايام واكثره بعشرة، ليس فيها شيء صحيح، بل كله باطل فتعقبه الشيخ القاريء بقوله (481 - بيروت) " قلت: وله طرق متعددة، رواه الدارقطني وابن عدي وابن الجوزي، وتعدد الطرق ولوضعفت، يرقي الحديث الى الحسن، فالحكم بالوضع عليه لا يستحسن قلت: وقد سبقه الى هذه الدعوى ابن الهمام في " فتح القدير " (1/143) ثم العيني في " البناية شرح الهداية " (1/618) وزاد ضغثا على ابالة قوله " على ان بعض طرقها صحيحة ثم قلدهم في ذلك الكوثري الحلبي في تعليقه على " المنار "، فانه قال بعد ان نقل كلام الشيخ علي المتقدم " وقد ذكر العلامة القاري تلك الطرق المشار اليها في كتابه " فتح باب العناية بشرح كتاب النقاية " (1: 202 - 203) الذي حققته وطبع بحلب سنة (1387) فانظره " ولو انه اراد خدمة السنة والانصاف للعلم لاحال في ذلك على كتاب " نصب الراية " لانه اشهر عند اهل العلم، ولان مولفه الزيلعي اقعد بهذا الفن واعرف به من كل من ذكرناهم من الحنفية، فانه بحث هذه الاحاديث بحثا حرا، ونقدها نقدا حديثيا مجردا عن العصبية المذهبية، خلافا لهولاء الذين جاووا من بعده، فانهم لا يلتزمون القواعد الحديثية، فانظر اليهم كيف يقولون " وتعدد الطرق ولوضعفت يرقي الحديث الى الحسن " فانهم يعلمون ان هذا ليس على اطلاقه، بل ذلك مقيد بان لا يشتد ضعفه كما هو مذكور في " مصطلح الحديث " ، وهذا الشرط غير متوفر في هذا الحديث، لان مدار طرقه كلها على كذابين ومتروكين ومجهولين لا تقوم بهم حجة، وهاك بيانها 1 - حديث معاذ، يرويه اسد بن سعيد البجلي عن محمد بن الحسن (الصدفي) عن عبادة بن نسي، عن عبد الرحمن بن غنم عنه مرفوعا بلفظ " لا حيض اقل من ثلاث، ولا فوق عشر " اخرجه العقيلي في " الضعفاء " (375) وقال " محمد بن الحسن ليس بمشهور بالنقل، وحديثه غير محفوظ " وقال ابن حزم في " المحلى " (2/197) " وهو مجهول، فهو موضوع بلا شك واقول: لا استبعد ان يكون محمد بن سعيد الشامي المصلوب في الزندقة، فقد اخرجه ابن عدي في " الكامل " (ق 291/2) من طريق اخرى عن محمد بن سعيد الشامي قال: حدثني عبد الرحمن بن غنم به. فاسقط من الاسناد عبادة بن نسي، ولعل هذا من اكاذيبه، فانه كذاب وضاع معروف بذلك، وقد قال فيه سفيان الثوري " كذاب " وقال عمرو بن علي " يحدث باحاديث موضوعة وقال ابن عدي بعد ان روى هذا وغيره من اقوال الاىمة في تجريحه وساق له احاديث مما (اخذ) عليه " وله غير ما ذكرت، وعامة ما يرويه لا يتابع عليه ولا يقال: ان محمد بن الحسن الصفدي غير محمد بن سعيد الشامي؛ فانه قد قيل فيه: بانهم قد قلبوا اسمه على ماىة وجه ليخفى. والراوي عنه اسد بن سعيد البجلي غير معروف، ومن المحتمل انه الذي في " اللسان " اسد بن سعيد ابو اسماعيل الكوفي، قال ابن القطان لا يعرف فيمكن ان يكون هو الذي قلب اسم هذا الكذاب 2 - حديث انس، يرويه الحسن بن دينار عن معاوية بن قرة عنه مرفوعا بلفظ " الحيض ثلاثة ايام واربعة وخمسة وستة وسبعة وثمانية وتسعة وعشرة، فاذا جاوز العشرة فمستحاضة اخرجه ابن عدي (ق 85/1) وقال " هذا الحديث معروف بالجلد بن ايوب عن معاوية بن قرة عن انس يعني موقوفا قلت: وهو اعني الجلد متروك كما ياتي، اما الحسن بن دينار فهو كذاب كما قال ابو حاتم وابو خيثمة وغيرهما، وترجمته في " اللسان " من اسوا ما تكون تجريحا وتكذيبا وقد روي موقوفا، وهو حديث الجلد بن ايوب عن معاوية بن قرة عن انس به اخرجه الدارمي (1/209) والدارقطني (77) والبيهقي (1/322) من طرق عنه وكذلك رواه ابن عدي في ترجمته. وروى تضعيفه عن الشافعي واحمد، وعن ابن المبارك قال: " اهل البصرة يضعفون الجلد وكذا رواه العقيلي وزاد قال ابن المبارك: شيخ ضعيف وعن ابن عيينة قال " حديث الجلد بن ايوب في الحيض حديث محدث لا اصل له وعن يزيد بن زريع قال " ذاك ابو حنيفة لم يجد شيىا يحدث به في حديث الحيض الا بالجلد وروى الدارقطني عن ابي زرعة الدمشقي قال " رايت احمد بن حنبل ينكر حديث الجلد بن ايوب هذا، وسمعت احمد بن حنبل يقول لوكان هذا صحيحا لم يقل ابن سيرين: استحيضت ام ولد لانس بن مالك، فارسلوني اسال ابن عباس رضي الله عنه وهذا يعني بوضوح لا خفاء فيه ان انسا رضي الله عنه لم يحدث بهذا الذي رواه الجلد عنه. وهذا معناه انه ضعيف جدا، وهذا ما يشير اليه الدارقطني في الضعفاء والمتروكين " (168/141 - مكتبة المعارف - الرياض) " متروك " وروى البيهقي عن احمد بن سعيد الدارمي قال: سالت ابا عاصم عن الجلد بن ايوب؟ فضعفه جدا، وقال " كان شيخا من مشايخ العرب تساهل اصحابنا في الرواية عنه وله طريق اخرى عن انس شديدة الضعف ايضا، يرويه اسماعيل بن داود بن مخراق عن عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن عبيد الله بن عمر عن ثابت عن انس قال " هي حاىض فيما بينها وبين عشرة، فاذا زادت فهي مستحاضة وافة هذه الطريق - مع وقفها - هو اسماعيل هذا، فانه ضعيف جدا، قال البخاري " منكر الحديث وقال ابو حاتم ضعيف الحديث جدا 3 - حديث واثلة بن الاسقع مرفوعا مثل حديث الترجمة، رواه محمد بن احمد بن انس الشامي: حدثنا حماد بن المنهال البصري عن محمد بن راشد عن مكحول اخرجه الدارقطني (ص 81) ومن طريقه ابن الجوزي في " الواهية " (1/385) وقالا " ابن منهال مجهول، ومحمد بن احمد بن انس ضعيف قلت: وفيه علتان اخريان الاولى: ضعف محمد بن راشد وهو المكحولي الخزاعي الدمشقي، قال ابن حبان في الضعفاء " (2/253) كثرت المناكير في روايته فاستحق الترك واقره الزيلعي في " نصب الراية " (1/192) . وقال الحافظ " صدوق يهم والاخرى: الانقطاع، فان مكحولا لم يسمع من واثلة كما قال البخاري، وقد روي عن العلاء بن كثير عن مكحول عن ابي امامة كما تقدم مع بيان وهاىه 4 - حديث ابي سعيد الخدري وغيره، قال يعقوب بن سفيان ابو داود النخعي اسمه سليمان بن عمرو، قدري، رجل سوء كذاب، كان يكذب مجاوبة ، قال اسحاق: اتيناه فقلنا له: ايش تعرف في اقل الحيض واكثره وما بين الحيضتين من الطهر؟ فقال: الله اكبر، حدثني يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب عن النبي صلى الله عليه وسلم، وحدثنا ابو طوالة عن ابي سعيد الخدري، وجعفر بن محمد عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا به وزاد " واقل ما بين الحيضتين خمسة عشر يوما رواه الخطيب في " تاريخ بغداد " (9/20) ومن طريقه ابن الجوزي ذكره الخطيب في ترجمة النخعي هذا وروى عن جمع غفير من الاىمة انه كذاب يضع الحديث. وفي اخر ترجمته من " اللسان " قال ابن عبد البر: هو عندهم كذاب يضع الحديث وتركوا حديثه. قلت: الكلام فيه لا يحصر، فقد كذبه ونسبه الى الوضع من المتقدمين والمتاخرين ممن نقل كلامهم في الجرح والعدالة - فوق الثلاثين نفسا قلت: وقد رواه بعض المتروكين عنه عن يزيد بن جابر عن مكحول عن ابي امامة به نحوه اخرجه ابن حبان في " الضعفاء والمتروكين " (1/333) من طريق ابراهيم بن زكريا الواسطي: حدثنا سليمان بن عمرو به ذكره في ترجمة سليمان هذا وقال فيه " كان رجلا صالحا في الظاهر، الا انه كان يضع الحديث وضعا، وكان قدريا لا تحل كتابة حديثه الا على جهة الاختبار وقال في ترجمة الواسطي هذا (1/115) " ياتي عن الثقات ما لا يشبه حديث الاثبات ان لم يكن بالمتعمد لها، فهو المدلس عن الكذابين، لاني رايته قد روى اشياء عن مالك موضوعة، ثم رواها ايضا عن موسى ابن محمد البلقاوي عن مالك اقول: هذه هي الطرق التي زعم الشيخ القارىء ان الحديث يرقى بها الى مرتبة الحسن، وهي بعينها التي ساق احاديثها في " فتح باب العناية " (1/202 - 204) ساكتا عن كل هذه العلل الفاضحة، وعن اقوال اىمة الحديث فيها ليقول في نهاية بحثه " فهذه عدة احاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بطرق متعددة ترفع الضعيف الى الحسن فليت شعري ما قيمة هذه الطرق اذا كان مدارها على الكذابين والمتروكين والمجهولين؟ ! وهم يعلمون من علم المصطلح انها لا تعطي الحديث قوة، بل تزيده وهنا على وهن ومن العجاىب حقا ان يتابعه في ذلك كوثري اليوم، فيحيل القراء عليه متبجحا كما تقدم، وهو الذي يكتب في بعض تعليقاته ان يجب الرجوع في كل علم الى اهل التخصص فيه. فما باله هنا خالف فعله قوله، فاعرض عن اقوال اىمة الحديث بل اجماعهم على رد هذا الحديث، وتمسك بقول المخالف لهم من الحنفية المتعصبة؟ افلا يحق لي ان اقول ان كنت لا تدري فتلك مصيبة * * * اوكنت تدري فالمصيبة اعظم؟ وزيادة في الفاىدة على ما تقدم اقول: قال البيهقي في " سننه " عقب حديث الجلد " وقد روي في اقل الحيض واكثره احاديث ضعاف، قد بينت ضعفها في (الخلافيات) وسىل شيخ الاسلام ابن تيمية عن هذا الحديث فاجاب بقوله " باطل، بل هو كذب موضوع باتفاق علماء الحديث نقلته من " مجموع فتاويه " (21/623) وقال الشوكاني في " السيل الجرار " (1/142) " لم يات في تقدير اقل الحيض واكثره ما يصلح للتمسك به، بل جميع الوارد في ذلك اما موضوع، اوضعيف بمرة قلت: وهذا اعدل واوجز ما يقال كخلاصة لهذا التحقيق الممتع الذي وفقني الله اليه، راجيا المثوبة منه (فاىدة) لقد اختلف العلماء في تحديد اقل الحيض واكثره والاصح كما قال شيخ الاسلام ابن تيمية (19/237) انه لا حد لاقله ولا لاكثره، بل ما راته المراة عادة مستمرة فهو حيض، وان قدر انه اقل من يوم استمر بها على ذلك فهو حيض، واما اذا استمر الدم بها داىما، فهذا قد علم انه ليس بحيض؛ لانه قد علم من الشرع واللغة ان المراة تارة تكون طاهرا، وتارة تكون حاىضا، ولطهرها احكام ، ولحيضها احكام. وراجع تمامه فيه ان شىت وهذا الذي رجحه ابن تيمية مذهب ابن حزم في " المحلى "، وقد اطال النفس كعادته - في الاستدلال له، والرد على مخالفيه، فراجعه في المجلد الثاني منه (ص 200 - 203)
হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ