ইমেইল পাঠাতে লগইন করুন

স্পাম প্রতিরোধে এই ফিচারটি শুধুমাত্র লগইনকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য।

লগইন সাইনআপ
৩৯০৮

পরিচ্ছেদঃ আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করলাম, সেই নির্দেশ আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা প্রবেশের সময় দ্বিতীয়বার প্রদান করেছিলেন, যেভাবে তিনি সারিফ নামক জায়গায় নির্দেশ প্রদান করেছিলেন

৩৯০৮. জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজের ইহরাম বেঁধে বের হই। আমাদের সাথে নারী ও শিশুরাও ছিল। অতঃপর যখন আমরা মক্কায় পৌঁছি, তখন আমরা বাইতুল্লাহ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেন, “যার কাছে হাদী নেই, সে যেন হালাল হয়ে যায়।” আমরা বললাম, “কোন হালাল?” তখন তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ হালাল।” অতঃপর যখন তারবিয়ার দিন হয়, তখন আমরা হজের ইহরাম বাঁধি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা উট ও গরুতে শরীক হও। প্রত্যেক সাতজন একটি উটে (শরীক হবে)।

রাবী বলেন, “সুরাকাহ বিন মালিক বিন জু‘শুম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের এই উমরাহ কি এই বছরের জন্য, নাকি চিরদিনের জন্য?” তিনি জবাবে বলেন, “বরং চিরদিনের জন্য।” তিনি আবার আরজ করেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমাদের কাছে আমাদের দ্বীন বর্ণনা করুন। মনে হচ্ছে যেন, আমাদেরকে এখন সৃষ্টি করা হলো! আমরা যে আমল করি, সেই ব্যাপারে আপনার অভিমত কী, এটা সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যাতে কলম শুকিয়ে গেছে এবং ভাগ্যলিপি কার্যকর হয়ে গেছে নাকি এটা সেটা যা, আমরা ভবিষ্যতে আমল করবো?” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “না, বরং এটা সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যাতে কলম শুকিয়ে গেছে এবং ভাগ্যলিপি কার্যকর হয়ে গেছে।” আমি বললাম, “তাহলে আমলের কী বিষয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা আমল করো। প্রত্যেককেই সহজ করে দেওয়া হবে (যেজন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে)।” [1]

আবূ হাতিম  ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের উল্লেখিত এসব হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ইফরাদ, কিরান ও তামাত্তু‘ হজ করার কথা বর্ণিত হয়েছে, যেই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কাল থেকে অদ্যবধি উলামাগণ মতভেদ করে আসছেন। আর এই কারণে বাতিলপন্থি ও বিদ‘আতীরা আমাদের উলামাদের ব্যাপারে অসম্মান করে থাকে। তারা বলে, “আপনারা একই ব্যক্তি, একই অবস্থা ও একই কাজের ব্যাপারে তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেগুলো পরস্পর বিরোধী! এবং আপনারা বলছেন যে, বর্ণনার দিকদিয়ে তিনটিই বিশুদ্ধ! অথচ আপনারা যা বলছেন, তা মানবীয় জ্ঞান-বিবেক প্রত্যাখ্যান করে। কারণ এটা অসম্ভব যে, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজে একই সাথে ইফরাদ, কিরান ও তামাত্তু হজ করেছেন। কাজেই যখন এটা ঠিক যে, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই সাথে ইফরাদ, কিরান ও তামাত্তু হজ করেননি, সুতরাং এটাও সঠিক হয়ে গেলো যে, এসব সহীহ হাদীসসমূহের মাঝে মানবীয় জ্ঞানের সাথে সামঞ্জশীল হাদীসগুলোই কেবল গ্রহণ করা হবে। আর যখন আপনাদের জন্য এটা বৈধ হলো যে, আপনারা কোন হাদীস সহীহ হওয়া সত্ত্বেও, তা প্রত্যাখ্যান করেন তারপর আপনারা সেটা অনুপাতে আমল করেন না, অথবা সেটার উপর অন্যটিকে অগ্রাধিকার দেন, যেমনটা আপনারা এই তিন হাদীসের ব্যাপারে করে থাকেন, তাহলে তো আপনাদের বিরোধীদের জন্যও এটা বৈধ হবে যে, আপনারা যা গ্রহণ করেছেন, সেটা তারা প্রত্যাখ্যান করবেন আর আপনারা যা প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেটা তারা গ্রহণ করবেন।”

এই কথার প্রবক্তা যদি নিভৃতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও মিনতি করতো এই মর্মে যে, তিনি যেন তাকে এসব  হাদীস পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ না হওয়া ও এসবের মাঝে সমন্বয় সাধন করার ক্ষেত্রে সত্য ও সঠিকতায় পৌঁছান, তবে সে মহা প্রতাপশালী এক আল্লাহর তাওফীকে অবশ্যই জানতো যে, নাবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহের মাঝে আদৌ কোন বিরোধ ও বৈপরীত্ব নেই এবং এসব হাদীস পরস্পরকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে না, যখন সেগুলো বিশুদ্ধ সূত্রে সাব্যস্ত হবে। এটা বুঝতে পারে ইলমের ক্ষেত্রে সেসব বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে মিথ্যাকে প্রতিহত করে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে নিন্দা অপসারণ করে, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদীসকে পরবর্তী উম্মতের যে কারো কথার ‍উপর অগ্রাধিকার দেয়।

এসব হাদীসমুহের মাঝে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কথা হলো আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে ইহরাম বেঁধেছিলেন, সেখানে তিনি উমরাহর ইহরাম বেঁধেছিলেন। এটি ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ থেকে, তিনি উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরাহর তালবিয়া পাঠ করতে করতে সারিফ নামক জায়গায় আসলে সাহাবীদের সেই নির্দেশ দেন, যা আমরা আফলাহ বিন হুমাইদের হাদীসে বর্ণনা করেছি। তারপর সাহাবীদের মাঝে কেউ কেউ ইফরাদ হজ বানিয়ে নেয় আবার কেউ কেউ উমরাহর উপর বহাল থাকেন, ফলে তারা হালাল হয়ে যাননি। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই সাথে হজ ও উমরাহ উভয়টির নিয়ত করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করেন। সাহাবীদের মাঝে যারা সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছিলেন, তারাও এমন করেন।

যেসব হাদীসে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিরান হজ করার কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন, কারণ তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কায় যাওয়া পর্যন্ত হজকে উমরাহর সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে দেখেছেন।

তারপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করেন ও বাইতুল্লাহ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করেন, তখন তিনি দ্বিতীয়বার আদেশ করেন, “যে ব্যক্তি সাথে কুরবানীর পশু নিয়ে আসেনি এবং উমরাহর ইহরাম বেঁধেছে, সে যেন এটাকে তামাত্তু‘তে পরিণত করে নেয় এবং সে যেন হালাল হয়ে যায়। আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন করে ইহরাম না করতে পারার জন্য আফসোস করেছেন, এমনকি তাঁর কিছু সাহাবী, যারা কুরবানীর পশু সাথে আনেননি, তারা হালাল হয়ে যাননি, যখন তারা দেখেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হালাল হননি। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা এমন হয় যে, তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে গমন করেন, যা আমরা বর্ণনা করেছি।

তারপর যখন তারবিয়ার দিন হয়, এবং তামাত্তু‘ হজ পালনকারীরা ইহরাম বাঁধেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু হজের তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনায় গমন করেন।

কেননা তিনি শুরুতে যে উমরাহর তালবিয়া পাঠ করেছিলেন, সেটা মক্কায় প্রবেশ করার পর বাইতুল্লাহ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করার দ্বারা সম্পন্ন হয়ে যায়। এজন্য ইবনু উমার ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এককভাবে শুধু হজ পালন করেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মক্কা থেকে মিনায় গমনের সময়; এমন নয় যে, এসব হাদীসের মাঝে বিরোধ ও বৈপরীত্ব রয়েছে।

মহান আল্লাহ আমাদের এমন সব কাজ করার তাওফীক দান করুন, যা আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে দিবে। কোন হাদীস সহীহ সূত্রে বর্ণিত হলে, তা মেনে নেওয়ার তাওফীক দান করুন। আর যখন আমাদেরকে সঠিক বাস্তবতা জানার তাওফীক না দেওয়া হলে যেন আমাদেরকে নিজেদেরকে অভিযুক্ত করি এবং এটাকে নিজেদের ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করি; যেন আমরা সুন্নাহকে ত্রুটিযুক্ত না গণ্য করি এবং বিপরীত মতামত ও কিয়াস গ্রহণ না করি। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম মাসউল (যার কাছে প্রার্থনা করা হয়)।”

ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمَرَهُمْ مَا وَصَفْنَا قَبْلَ دُخُولِهِمْ مَكَّةَ مَرَّةً أُخْرَى مِثْلَ مَا أَمَرَهُمْ بِهِ بسرف

3908 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْمُلَائِيُّ وَيَحْيَى بْنُ آدَمَ قَالَا: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ أَبُو خَيْثَمَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُهِلِّين بِالْحَجِّ وَمَعَنَا النِّسَاءُ وَالذَّرَارِيُّ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ طُفْنَا بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُحِلَّ) فَقُلْنَا: أَيُّ الْحِلِّ؟ فَقَالَ: (الحِلُّ كُلَّهُ) فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ أَهْلَلْنَا بِالْحَجِّ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (اشْتَرِكُوا فِي الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ كُلُّ سَبْعَةٍ فِي بَدَنَةٍ) قَالَ: فَجَاءَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ عُمْرَتَنَا هَذِهِ لِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِلْأَبَدِ؟ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: (لَا بَلْ لِلْأَبَدِ) فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيِّنْ لَنَا دِينَنَا كَأَنَّمَا خُلِقْنَا الْآنَ أَرَأَيْتَ الْعَمَلَ الَّذِي نَعْمَلُ بِهِ أَفِيمَا جَفَّت بِهِ الْأَقْلَامُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ أَمْ مِمَّا نَسْتَقْبِلُ؟ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: (لَا بَلْ فِيمَا جفَّت بِهِ الْأَقْلَامُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ) قُلْتُ: فَفِيمَ الْعَمَلُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (اعْمَلُوا فَكُلٌّ ميسَّرُ) الراوي : جَابِر بْن عَبْدِ اللَّهِ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان الصفحة أو الرقم: 3908 | خلاصة حكم المحدث: صحيح - ((صحيح أبي داود)) (1569): ق. قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رضي الله عنه: فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا فِي إِفْرَادِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم الْحَجَّ وَقِرَانِهِ وَتَمَتُّعِهِ بِهِمَا مِمَّا تَنَازَعَ فِيهَا الْأَئِمَّةُ مِنْ لَدُنِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِنَا هَذَا ويُشنِّعُ بِهِ الْمُعَطِّلَةُ وَأَهْلُ الْبِدَعِ عَلَى أَئِمَّتِنَا وَقَالُوا: رَوَيْتُمْ ثَلَاثَةَ أَحَادِيثَ مُتَضَادَّةٌ فِي فِعْلٍ وَاحِدٍ وَرَجُلٍ وَاحِدٍ وَحَالَةٍ وَاحِدَةٍ وَزَعَمْتُمْ أَنَّهَا ثَلَاثَتُهَا صِحَاحٌ مِنْ جِهَةِ النَّقْلِ وَالْعَقْلُ يَدْفَعُ مَا قُلْتُمْ إِذْ مُحَالٌ أَنْ يَكُونَ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ كَانَ مُفْردًا قَارِنًا مُتَمَتِّعًا فَلَمَّا صَحَّ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي حَالَةٍ وَاحِدَةٍ قَارِنًا مُتَمَتِّعًا مُفْردًا صَحَّ أَنَّ الْأَخْبَارَ يَجِبُ أَنْ يُقبل مِنْهَا مَا يُوَافِقُ الْعَقْلَ وَمَهْمَا جَازَ لَكُمْ أَنْ تردُّوا خَبَرًا يَصِحُّ ثُمَّ لَا تَسْتَعْمِلُوهُ أَوْ تُؤْثِرُوا غَيْرَهُ عَلَيْهِ كَمَا فَعَلْتُمْ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ الثَّلَاثَةِ يَجُوزُ لِخِصْمِكُمْ أَنْ يَأْخُذَ مَا تَرَكْتُمْ وَيَتْرُكَ مَا أَخَذْتُمْ. وَلَوْ تملق قائل هذا في الخلوة إلى البارىء ـ جَلَّ وَعَلَا ـ وَسَأَلَهُ التَّوْفِيقَ لِإِصَابَةِ الْحَقِّ وَالْهِدَايَةِ لِطَلَبِ الرُّشْدِ فِي الْجَمْع بَيْنَ الْأَخْبَارِ وَنَفْي التَّضَادِّ عَنِ الْآثَارِ لَعَلِمَ بِتَوْفِيقِ الْوَاحِدِ الْجَبَّارِ - أَنَّ أَخْبَارَ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم لَا تَضَادَ بَيْنَهَا وَلَا تَهَاتُرَ وَلَا يُكَذِّبُ بَعْضُهَا بَعْضًا إِذَا صَحَّت مِنْ جِهَةِ النَّقْلِ لَعَرِفَهَا الْمخصُوصُونَ فِي الْعِلْمِ الذَّابون عَنِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم الْكَذِبَ وَعَنْ سُنَّتِهِ الْقَدَحَ الْمُؤْثِرُونَ مَا صَحَّ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَوْلِ مَنْ بَعْدَهُ مِنْ أُمَّتِهِ صلى الله عليه وسلم. وَالْفَصْلُ بَيْنَ الْجَمْعِ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ أَنَّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم أَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ حَيْثُ أَحْرَمَ كَذَلِكَ قَالَهُ مَالِكٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ فَخَرَجَ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُهِلُّ بِالْعُمْرَةِ وَحْدَهَا حَتَّى بَلَغَ سَرِفَ أَمَرَ أَصْحَابَهُ بِمَا ذَكَرْنَا فِي خَبَرِ أَفْلَحَ بْنِ حُمَيْدٍ فَمِنْهُمْ مَنْ أَفْرَدَ حِينَئِذٍ وَمِنْهُمْ مَنْ أَقَامَ عَلَى عُمْرَتِهِ وَلَمْ يَحِلَّ فَأَهَلَّ صلى الله عليه وسلم بِهِمَا مَعًا حِينَئِذٍ إِلَى أَنْ دَخَلَ مَكَّةَ وَكَذَلِكَ أَصْحَابُهُ الَّذِينَ سَاقُوا مَعَهُمُ الْهَدْيَ وَكُلُّ خَبَرٍ رُوِيَ فِي قِرَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ حَيْثُ رَأَوْهُ يُهِلُّ بِهِمَا بَعْدَ إِدْخَالِهِ الْحَجَّ عَلَى الْعُمْرَةِ إِلَى أَنْ دَخَلَ مَكَّةَ فَلَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ صلى الله عليه وسلم وَطَافَ وَسَعَى أَمَرَ ثَانِيًا مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقٍ الْهَدْيَ وَكَانَ قَدْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ أَنْ يَتَمَتَّعَ وَيَحِلَّ وَكَانَ يَتَلَهَّفُ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَا فَاتَهُ مِنَ الْإِهْلَالِ حَيْثُ كَانَ سَاقٍ الْهَدْيَ حَتَّى إِنَّ بَعْضَ أَصْحَابِهِ مِمَنْ لَمْ يَسُقِ الْهَدْيَ لَمْ يَكُونُوا يُحِلُّونَ حَيْثُ رَأَوا الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم لَمْ يَحِلَّ حَتَّى كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا وَصَفْنَاهُ مِنْ دُخُولِهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَائِشَةَ وَهُوَ غَضْبَانُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَأَحْرَمَ الْمُتَمَتِّعُونَ خَرَجَ صلى الله عليه وسلم إِلَى مِنًى وَهُوَ يُهِلُّ بِالْحَجِّ مُفْردًا إِذِ الْعُمْرَةُ الَّتِي قَدْ أَهَلَّ بِهَا فِي أَوَّلِ الْأَمْرِ قَدِ انْقَضَتْ عِنْدَ دُخُولِهِ مَكَّةَ بِطَوَافِهِ بِالْبَيْتِ وَسَعْيِهِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَحَكَى ابْنُ عُمَرَ وَعَائِشَةُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ أَرَادَ مِنْ خُرُوجِهِ إِلَى مِنًى مِنْ مَكَّةَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَ هَذِهِْأَخْبَارِ تَضَادٌ أَوْ تَهَاتُرٌ. وَفَّقَنَا اللَّهُ لِمَا يُقَرِّبُنَا إِلَيْهِ ويُزلِفُنَا لديه من الخضوع عند ورد السُّنَنِ إِذَا صَحَّتْ وَالِانْقِيَادِ لِقُبُولِهَا وَاتِّهَامِ الْأَنْفُسِ وَإِلْزَاقِ الْعَيْبِ بِهَا إِذَا لَمْ نُوَفَّقْ لِإِدْرَاكِ حَقِيقَةِ الصَّوَابِ دُونَ الْقَدْحِ فِي السُّنَنِ وَالتَّعَرُّجِ عَلَى الْآرَاءِ الْمَنْكُوسَةِ وَالْمَقَايَسَاتِ الْمَعْكُوسَةِ إِنَّهُ خَيْرُ مسؤول!!.