পরিচ্ছেদঃ ১৫৩: মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ

মাতম করা হারাম। (এ বিষয়ে নিষিদ্ধ বস্তু অধ্যায়ে এক পরিচ্ছেদ আসবে ইন-শাআল্লাহু তা’আলা।) কাঁদা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীস এসেছে। আর যে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ’’মৃতকে তার পরিবার-পরিজনদের কাঁদার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়’’ তার অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি কাঁদার অসিয়ত করে মারা যাবে। পক্ষান্তরে কেবলমাত্র সেই কান্না নিষিদ্ধ, যাতে মৃতের প্রশংসা করা হয় অথবা মাতম করা হয়। আর প্রশংসা ও মাতমবিহীন কান্নার বৈধতার ব্যাপারেও বহু হাদীস রয়েছে; তার কিছু নিম্নরূপঃ-


১/৯৩০। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ’আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনে উবাদার সাক্ষাতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ’আনহুও ছিলেন। সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁদা দেখে লোকেরাও কাঁদতে আরম্ভ করল। অতঃপর তিনি বললেন, ’’তোমরা কি শুনতে পাও না যে, আল্লাহ চোখের অশ্রু এবং অন্তরের দুঃখের উপর শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।’’ সেই সাথে তিনি নিজের জিভের দিকে ইঙ্গিত করলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]

(153) بَابُ جَوَازِ الْبُكَاءِ عَلَى الْمَيِّتِ بِغَيْرِ نَدْبٍ وَلاَ نِيَاحَةٍ

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد سعد بن عباده ومعه عبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص، وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم، فبكي رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فلما رأي القوم بكاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ، بكوا ؛ فقال‏:‏ “ألا تسمعون‏؟‏ إن الله لا يعذب بدمع العين، ولا بحزن القلب، ولكن بهذا أو يرحم‏ "‏ وأشار إلا لسانه‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏

عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد سعد بن عباده ومعه عبد الرحمن بن عوف وسعد بن ابي وقاص وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم فبكي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما راي القوم بكاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بكوا فقال الا تسمعون ان الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب ولكن بهذا او يرحم واشار الا لسانه متفق عليه

(153) Chapter: The Ruling of crying and wailing over a Dead Person


Wailing is unanimously forbidden (Haram) as will be mentioned later on. There are some Ahadith which forbid us from crying over somebody's death, and which inform us that the dead will be tormented in their graves as a result of their relatives crying over their death. This prohibition applies only to those cases where crying is accompanied with lamenting and wailing. Weeping without these two is, permissible; and the Ahadith in support of this are many, including the following:


Ibn 'Umar (May Allah be pleased with them) reported:
The Messenger of Allah (ﷺ) visited Sa'd bin 'Ubadah during his illness. He was accompanied by 'Abdur-Rahman bin 'Auf, Sa'd bin Abu Waqqas and 'Abdullah bin Mas'ud (May Allah be pleased with them). The Messenger of Allah (ﷺ) began to weep. When his Companions saw this, their tears also started flowing. He (ﷺ) said, "Do you not hear, Allah does not punish for the shedding of tears or the grief of the heart, but punishes or bestows mercy for the utterances of this (and he pointed to his tongue)."

[Al-Bukhari and Muslim].

Commentary: Under the stress of grief, man becomes heavy-hearted and tears flow out from his eyes. This is something natural and beyond human control. Rather the outflow of tears results from Divine compassion. This is neither forbidden nor subject to accountability. It is only wailing which is Haram, and is punishable. Yet, man is blessed with Divine mercy if he gives expression to patience and gratefulness by his tongue. Moreover, to mention the merits and excellence of a departed soul is in itself a good thing because others may be stimulated to adopt them. But to recount them by way of wailing is disliked. A Hadith says that a dead person is tormented because of the weeping of his household. Here weeping means lamenting and wailing. Otherwise, to weep is human instinct and no curbs can be put over it. Besides, this warning is meant for such a person who might have been accustomed to wailing during his lifetime. Or he might have left a will to his family for wailing over his death. May be he consciously avoided giving a predeath warning to his kith and kin against wailing. In all the three situations, he will be equally held accountable with his soul being tormented for the wailing of his relatives. In case, he is uninvolved in any of the situations, he will remain free from hellish torments. Instead the wailers will have to bear the brunt of their sin. As the Qur'an says, "No one laden with burdens can bear another's burden.'' (17:15).


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
৬/ রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ (كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه المكث عند قبره بعد دفنه) The Book of Visiting the Sick

পরিচ্ছেদঃ ১৫৩: মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ

২/৯৩১। উসামাহ রাদিয়াল্লাহু ’আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, ’’এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

(153) بَابُ جَوَازِ الْبُكَاءِ عَلَى الْمَيِّتِ بِغَيْرِ نَدْبٍ وَلاَ نِيَاحَةٍ

وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُفِعَ إِلَيْهِ ابنُ ابْنَتِهِ وَهُوَ فِي المَوتِ، فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ سَعدٌ: مَا هَذَا يَا رَسُولِ اللهِ ؟! قَالَ: « هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ تَعَالَى فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ». متفقٌ عَلَيْهِ

وعن اسامة بن زيد رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رفع اليه ابن ابنته وهو في الموت ففاضت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له سعد ما هذا يا رسول الله قال هذه رحمة جعلها الله تعالى في قلوب عباده وانما يرحم الله من عباده الرحماء متفق عليه

(153) Chapter: The Ruling of crying and wailing over a Dead Person


Usamah bin Zaid (May Allah be pleased with him) reported:
A grandson (child of the daughter) of the Messenger of Allah (ﷺ) was presented to him while the child was at his last breath. Tears began to flow from the eyes of the Messenger of Allah (ﷺ). Sa'd said to him: "What is this, O Messenger of Allah?" He (ﷺ) said, "It is mercy which Allah has placed in the hearts of his salves. Allah bestows His Mercy on the merciful among His slaves."

[Al-Bukhari and Muslim].


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
৬/ রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ (كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه المكث عند قبره بعد دفنه) The Book of Visiting the Sick

পরিচ্ছেদঃ ১৫৩: মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ

৩/৯৩২। আনাস রাদিয়াল্লাহু ’আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ’আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।’’ অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, ’’চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।’’ (বুখারী, মুসলিম কিছু অংশ) [1]

এ বিষয়ে আরো অনেক প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস রয়েছে।

(153) بَابُ جَوَازِ الْبُكَاءِ عَلَى الْمَيِّتِ بِغَيْرِ نَدْبٍ وَلاَ نِيَاحَةٍ

وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى ابْنِهِ إبْرَاهيمَ رضي الله عنه، وَهُوَ يَجُودُ بِنَفسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَذْرِفَانِ . فَقَالَ لَهُ عَبدُ الرَّحمَانِ بنُ عَوفٍ: وَأَنتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟! فَقَالَ: « يَا ابْنَ عَوْفٍ إنَّهَا رَحْمَةٌ» ثُمَّ أَتْبَعَهَا بأُخْرَى، فَقَالَ: « إنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ والقَلبُ يَحْزنُ، وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يُرْضِي رَبَّنَا، وَإِنَّا لِفِرَاقِكَ يَا إِبرَاهِيمُ لَمَحزُونُونَ ». رواه البخاري، وروى مسلم بعضه.

وعن انس رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دخل على ابنه ابراهيم رضي الله عنه وهو يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم تذرفان فقال له عبد الرحمان بن عوف وانت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا ابن عوف انها رحمة ثم اتبعها باخرى فقال ان العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول الا ما يرضي ربنا وانا لفراقك يا ابراهيم لمحزونون رواه البخاري وروى مسلم بعضه

(153) Chapter: The Ruling of crying and wailing over a Dead Person


Anas (May Allah be pleased with him) reported:
The Messenger of Allah (ﷺ) came to his son Ibrahim (May Allah be pleased with him) when he was breathing his last. The eyes of the Messenger of Allah (ﷺ) began shedding tears. 'Abdur-Rahman bin 'Auf (May Allah be pleased with him) said, "O Messenger of Allah, you too weep?" He (ﷺ) said, "O Ibn 'Auf! It is mercy." Then he began to weep and said, "The eyes are shedding tears and the heart is grieved, and we will not say except what pleases our Rubb. O Ibrahim! Indeed we are grieved by your departure."

[Al-Bukhari].

Commentary: The death of the Prophet's son, Ibrahim, born of Miriyah (May Allah be pleased with her) had occurred in the tenth year of Hijra. The Ahadith clearly prove that weeping over a loved one's death is permissible. But it should be void of wailing.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
৬/ রোগীদর্শন ও জানাযায় অংশগ্রহণ (كتاب عيادة المريض وتشييع الميت والصلاة عليه وحضور دفنه المكث عند قبره بعد دفنه) The Book of Visiting the Sick
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৩ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে