পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি বৃহৎ দল পরস্পরে মারাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত না হবে। এ উভয় দলের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হবে, অথচ তাদের মূল দাবি হবে এক অভিন্ন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন না ঘটবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর নবী বলে দাবি করবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত (দীনী) বিদ্যা উঠিয়ে নেয়া হবে। ভূমিকম্পের সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে যাবে। সময়ের (পরিধি) নিকটবর্তী হয়ে আসবে। ফিতনার সূচনা ঘটবে। খুন-খারাবি বেড়ে যাবে। আর এমনকি তোমাদের মধ্যে ধন-সম্পদের এমন প্রাচুর্য দেখা দেবে যে, সম্পদশালী লোক ও ধন-সম্পদের মালিক চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এজন্য যে, কে তার সাদাকা গ্রহণ করবে? এমনকি যার কাছেই তা পেশ করা হবে বলে উঠবে, আমার এই সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই।
আর যতক্ষণ না লোকজন সুউচ্চ দালান নির্মাণকার্যে একে অপরের প্রতিযোগিতা করবে। যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের কাছ দিয়ে গমনকালে বলবে, হায়! আমি যদি এ স্থানে থাকতাম। আর যতক্ষণ না পশ্চিমদিক হতে সূর্য উদিত হবে। অতঃপর সূর্য যখন (পশ্চিমদিক হতে) উদিত হবে, তখন লোকেরা তা দেখার পর সকলেই ঈমান আনবে। কিন্তু সে সময় এমন হবে যে, তখনকার ঈমান কোন লোকের কাজে আসবে না। সে ব্যক্তি ইতোপূর্বে ঈমান গ্রহণ করেনি কিংবা ঈমানদার অবস্থায় কোন ভালো কাজ করেনি। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, দু’ ব্যক্তি (ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশে) একে অন্যের সম্মুখে কাপড় খুলবে, কিন্তু সে কাপড় ক্রয়-বিক্রয় করার কিংবা গুটিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে এমতাবস্থায় যে, এক ব্যক্তি তার উষ্ট্রী দোহন করে দুগ্ধ নিয়ে আসবে, কিন্তু তা পান করারও সময় পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি তার চৌবাচ্চা ঠিকঠাক বা নির্মাণ করতে থাকবে, কিন্তু তাতে সে পানি পান করার সময় পাবে না। আর কিয়ামত এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে অবশ্যই সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি খাদ্যের লোকমা বা গ্রাস তার মুখ পর্যন্ত উত্তোলন করবে, কিন্তু সে তা খাওয়ার সুযোগ পাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قا ل: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ تَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعَوَاهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يبْعَث دجالون كذابون قريب مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَحَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ وَيظْهر الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ وَهُوَ الْقَتْلُ وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولُ الَّذِي يعرضه عَلَيْهِ: لَا أَرَبَ لِي بِهِ وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا) وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلَانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا فَلَا يَتَبَايَعَانِهِ وَلَا يَطْوِيَانِهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلَا يَطْعَمُهُ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يُلِيطُ حَوْضَهُ فَلَا يَسْقِي فِيهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلَا يطْعمهَا . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7121) و مسلم (248 / 157)، (396 و 2340 و 7256 و 7302) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قا ل: لا تقوم الساعة حتى تقتتل فئتان عظيمتان تكون بينهما مقتلة عظيمة دعواهما واحدة وحتى يبعث دجالون كذابون قريب من ثلاثين كلهم يزعم أنه رسول الله وحتى يقبض العلم وتكثر الزلازل ويتقارب الزمان ويظهر الفتن ويكثر الهرج وهو القتل وحتى يكثر فيكم المال فيفيض حتى يهم رب المال من يقبل صدقته وحتى يعرضه فيقول الذي يعرضه عليه: لا أرب لي به وحتى يتطاول الناس في البنيان وحتى يمر الرجل بقبر الرجل فيقول: يا ليتني مكانه وحتى تطلع الشمس من مغربها فإذا طلعت ورآها الناس آمنوا أجمعون فذلك حين (لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا) ولتقومن الساعة وقد نشر الرجلان ثوبهما بينهما فلا يتبايعانه ولا يطويانه ولتقومن الساعة وقد انصرف الرجل بلبن لقحته فلا يطعمه ولتقومن الساعة وهو يليط حوضه فلا يسقي فيه ولتقومن الساعة وقد رفع أكلته إلى فيه فلا يطعمها . متفق عليه

ব্যাখ্যা : বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) বিশুদ্ধ সনদে যায়দ ইবনু ওয়াহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা কেমন আছ! তোমাদের দীনের অনুসারীরাই তো পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তারা তখন বলেন, আপনি আমাদেরকে এ ব্যাপারে কি আদেশ প্রদান করছেন? অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তাদের দিকে লক্ষ্য কর যারা ‘আলী (রাঃ)-এর খিলাফতের দিকে আহ্বান করছে। অতঃপর উক্ত দলের আনুগত্য গ্রহণ কর, কারণ ওটা হকের উপর রয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান আল জু'ফী (রহিমাহুল্লাহ) যিনি ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর একজন উস্তায ছিলেন, তিনি তার প্রণীত কিতাব “কিতাবুস সিফফীন” নামক গ্রন্থে গ্রহণযোগ্য সনদে আবূ মুসলিম আল খওলানী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। নিশ্চয় তিনি (আবূ মুসলিম আল খওলানী (রহিমাহুল্লাহ)] মু'আবিয়াহ (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি তো খিলাফতের বিষয়ে ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন, আপনি কি তার সমকক্ষ? তিনি বললেন : না, আমি এটা অবশ্যই জানি যে, নিশ্চয় তিনি আমার চেয়ে অনেক শ্ৰেষ্ঠ ও খিলাফতের সর্বাধিক হকদার। কিন্তু তোমরা কি এটা জান না যে, নিশ্চয় ‘উসমান (রাঃ) নির্যাতিত অবস্থায় অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছেন? অথচ আমি তাঁর চাচাত ভাই, আমি তার রক্তের বিনিময় চাই। তোমরা ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে যাও এবং তাকে বল তিনি যেন ‘উসমান (রাঃ) -এর হত্যাকারীকে আমাদের হাতে তুলে দেন। অতঃপর তারা আমীরুল মু'মিনীন ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে এ বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি [আলী (রাঃ)] বললেন, সে খিলাফতের বায়'আতে প্রবেশ করেছে এবং তাদের বিচারের দায়িত্ব আমার। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) ‘ইরাক থেকে সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিফফীনে অবতরণ করেন অন্যদিকে মুআবিয়াহ (রাঃ) সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিফফীনে অবতরণ করলেন। আর এটা সংঘটিত হয়েছিল ৩০ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে।
মুসনাদে আহমাদে হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, আমরা সিফফীনে থাকা অবস্থায় ‘আমর (রাঃ) মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আপনি একটি মুসহাফ (কুরআন) আলী (রাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে দিন এবং তাকে আল্লাহর কিতাবের ফায়সালার দিকে আহ্বান করুন, কেননা তিনি 'আলী (রাঃ)] আপনার এ প্রস্তাব কোনক্রমেই অস্বীকার করতে পারবেন না।

অতঃপর এক লোক মুসহাব নিয়ে এসে বলল: আমাদের ও আপনাদের মাঝে বিবাদ নিরসন করবে আল্লাহর কিতাব। অর্থাৎ কিতাবুল্লাহর ফায়সালা আমরা উভয়পক্ষ মেনে নেব। আল্লাহ তা'আলার বাণী : “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যাদেরকে কিতাবের অংশবিশেষ প্রদান করা হয়েছিল? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তারপর তাদের একদল ফিরে যায় বিমুখ হয়ে।” (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩: ৩)
অতঃপর ‘আলী (রাঃ) বলেন, “হ্যাঁ, আমি এ ব্যাপারে সর্বাধিক অগ্রগামী। অতঃপর ‘আলী (রাঃ)-এর পক্ষ অবলম্বনকারী একদল যারা পরবর্তীতে খাওয়ারিজ হয়েছিল তারা বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! এ সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আপনি কি ভাবছেন, আমরা কি তরবারি নিয়ে তাদের সঙ্গে ততক্ষণ যুদ্ধ করব না যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে ফায়সালা এসে যায়? অতঃপর সাহল ইবনু হুনায়দ (রাঃ) বললেন, হে লোকসকল! তোমরা সংযত হও অবশ্যই আমরা তো হুদায়বিয়ার দিন দেখেছি। অতঃপর তিনি মুশরিকদের সাথে করা নবী (সাঃ) -এর সন্ধিচুক্তির ঘটনা বর্ণনা করলেন।

আলোচ্য হাদীসে নবী (সা.) প্রায় ৩০ জন মিথ্যা নবীর আবির্ভাবের কথাও বলেছেন।
ইবনু যুবায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, নিশ্চয় কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ৩০ জন মিথ্যুক নবীর আবির্ভাব ঘটবে, তন্মধ্যে একজন সান’আর অধিবাসী আল আসওয়াদ আল আনাসী এবং ইয়ামামার অধিবাসী মুসায়লামাহ্। আহমাদ-এর শব্দে রয়েছে, আবূ ইয়া'লা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ৩০ জন মিথ্যুকের আগমন ঘটবে। আমি বললাম, (আবূ ইয়া'লা) তাদের আলামত কি? তিনি বললেন, তারা এমন কিছু পদ্ধতি নিয়ে আসবে তোমরা ইতোপূর্বে কখনও ছিলে না। যখন তোমরা তাদেরকে দেখবে অবশ্যই তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে। (ফাতহুল বারী ১৩/১০০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১১-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা পশমের জুতা পরিধানকারী এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং যতক্ষণ না তোমরা তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা ছোট চক্ষু, লাল চেহারা, চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট, তাদের মুখমগুল হবে পরতে পরতে ভাঁজ করা চামড়ার ঢালের মতো। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ وَحَتَّى تُقَاتِلُوا التُّرْكَ صِغَارَ الْأَعْيُنِ حُمْرَ الْوُجُوهِ ذُلْفَ الْأُنُوفِ كأنَّ وجوهَهُم المجَانُّ المُطْرَقة» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2928) و مسلم (62، 66 / 2912)، (7310 و 7311 و 7312 و 7313 و 7314) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا قوما نعالهم الشعر وحتى تقاتلوا الترك صغار الأعين حمر الوجوه ذلف الأنوف كأن وجوههم المجان المطرقة» . متفق عليه

ব্যাখ্যা : এ সব কিছু নবী (সা.) -এর মু'জিযাহ, ঐ সকল তুর্কীদের সাথে যুদ্ধের সময় নবী (সা.)-এর বর্ণনাকৃত সমস্ত গুণাবলি তাদের মাঝে পাওয়া গেছে, যেমন: তাদের ছোট ছোট চোখ, চেহারা লাল বর্ণ, চ্যাপ্টা নাক, গোলাকার মুখমণ্ডল যেন তাদের মুখমণ্ডল পেটানো চ্যাপ্টা ঢালের ন্যায়, তারা লোমের তৈরি জুতা পরবে। আমাদের যামানায় নবী (সা.)-এর দেয়া তাদের ব্যাপারে সমস্ত গুণাবলি মুসলিমগণ পেয়েছেন। মুসলিমগণ তাদের সাথে একাধিকবার যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের (তুর্কীদের) যুদ্ধ এখনও চলমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলার কাছে মুসলিমদের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করছি। (শারহুন নাবাবী ১৮/৩৯৬ পৃ., হা. ২৯১২)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১২-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে পর্যন্ত তোমরা আজমী ’খূয ও কিরমান’ জাতির সাথে যুদ্ধ করবে না, সে পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের চেহারা হবে লাল বর্ণের, চ্যাপ্টা নাক, ছোট চক্ষুবিশষ্ট এবং মুখমণ্ডল হবে পরতে পরতে ভাঁজ চামড়ার ঢালের মতো। আর তাদের জুতা হবে পশমের। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوزًا وَكِرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فُطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشّعْر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3590) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا خوزا وكرمان من الأعاجم حمر الوجوه فطس الأنوف صغار الأعين وجوههم المجان المطرقة نعالهم الشعر» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা : এখানে ‘খূয' এবং ‘কিরমান’- এ দু'টি নগরী তুর্কীর অন্তর্ভুক্ত নয়। খূয' হলো ‘ইরাকের অনারব একটি অঞ্চল। কারো মতে খূয' হলো অনারবদের একটা শ্রেণিমাত্র। আর কিরমান হলো অনারবদের একটি প্রসিদ্ধ নগরী যা খুরাসান ও ভারত সাগরের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। (ফাতহুল বারী ৬/৪০১ পৃ., হা. ৩৫৯০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৩-[৪] অপর এক বর্ণনাতে ’আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, তাদের চেহারা হবে চওড়া।

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَفِي راوية لَهُ وَعَن عَمْرو بن تغلب: «عراض الْوُجُوه»

رواہ البخاری (2927) ۔
(صَحِيح)

وفي راوية له وعن عمرو بن تغلب: «عراض الوجوه»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৪-[৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মুসলিমগণ ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তখন মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। এমনকি ইয়াহূদী পাথর এবং গাছের আড়ালে লুকিয়ে আত্মগোপন করবে, তখন সেই পাথর ও বৃক্ষ বলবে, হে মুসলিম! ওহে আল্লাহর বান্দা! এই যে ইয়াহুদী আমার পিছনে রয়েছে। অতএব এদিকে আসো এবং তাকে হত্যা কর। তবে শুধু ’গারকদ’ নামক বৃক্ষ ডেকে বলবে, না, কেননা তা ইয়াহুদীদের গাছ। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يختبئ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ وَالشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ فَإِنَّهُ من شجر الْيَهُود . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (82 / 2922)، (7339) ۔
(صَحِيح)

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون اليهود فيقتلهم المسلمون حتى يختبئ اليهودي من وراء الحجر والشجر فيقول الحجر والشجر: يا مسلم يا عبد الله هذا يهودي خلفي فتعال فاقتله إلا الغرقد فإنه من شجر اليهود . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : গারকদ হলো এক ধরনের সুপরিচিত কাঁটাদার বৃক্ষ যা বায়তুল মাকদিস অঞ্চলে উৎপাদন হয়ে থাকে। আর এখানেই দাজ্জাল ও ইয়াহূদীরা নিহত হবে। (শারূহুন নাবাবী ১৮/৩৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৫-[৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ’কাহতান’ গোত্র হতে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে, সে লোকেদেরকে লাঠি দ্বারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بعصاه» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3517) ومسلم (60 / 2910)، (7308) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يخرج رجل من قحطان يسوق الناس بعصاه» . متفق عليه

ব্যাখ্যা : নু'আয়ম ইবনু হাম্মাদ আরতাত ইবনু মুনযির (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় কাহত্বানী ইমাম মাহদী (আঃ) -এর পরে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ইমাম মাহদী (আঃ) -এর অনুসারী হবে। আরতাত ইবনু মুনযির-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, নিশ্চয় কাহত্বানী লোকটি ২০ বছর যাবৎ রাজত্ব করবে। তবে এটা কঠিন মনে হয় যে, ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সময়কালে কাহত্বানী লোকটাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪০৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৬-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহজাহ নামক এক লোক মানুষের শাসক না হওয়া পর্যন্ত রাত্র-দিনের আবর্তন শেষ হবে না (কিয়ামত হবে)। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে যাবৎ গোলাম বংশ হতে ’জাহজাহ’ নামক এক ব্যক্তি শাসক না হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَذْهَبُ الْأَيَّامُ وَاللَّيَالِي حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: الْجَهْجَاهُ . وَفِي رِوَايَةٍ: حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ مِنَ الْمَوَالِي يُقَالُ لَهُ: الجَهجاه . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (61 / 2911)، (7309) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تذهب الأيام والليالي حتى يملك رجل يقال له: الجهجاه . وفي رواية: حتى يملك رجل من الموالي يقال له: الجهجاه . رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৭-[৮] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রাসূল (সা.) বলেছেন] নিশ্চয় মুসলিমদের এক দল ’কিসরার’ (পারস্যের) সম্রাট বংশের গোপন সম্পদ জয় করবে যা একটি শ্বেত প্রাসাদে রক্ষিত রয়েছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَتَفْتَحَنَّ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَنْزَ آلِ كِسْرَى الَّذِي فِي الْأَبْيَض» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (78 / 2919)، (7331) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لتفتحن عصابة من المسلمين كنز آل كسرى الذي في الأبيض» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-সহ সকল ‘উলামাগণ বলেছেন যে, এর অর্থ হলো : ‘ইরাকে কিসরা বলতে কিছু থাকবে না এবং সিরিয়াতে কায়সার রাজত্বও থাকবে না যেমনটা নবী (সা.) -এর যামানায় ছিল। নবী (সা.) আমাদেরকে কিসরা ও কায়সার টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। অতএব নবী (সা.) যা বলেছেন, তাই বাস্তবায়িত হবে। অতএব মুসলিমগণ সে দুটি নগরীতে বিজয় লাভ করবে এবং মুসলিমদের জন্য তা আবাসস্থল হবে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা”। আর মুসলিমগণ কিসরা ও কায়সারের সমস্ত সম্পদগুলো আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় ব্যয় করবে। যেমনটা নবী (সা.) বলেছেন। (শারহুন নাবাবী ১৮ খণ্ড, ৪১০ পৃ., হা. ২৯১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (পারস্য সম্রাট) কিসরা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কিসরা হবে না। আর শীঘ্রই (রোম সম্রাট) কায়সার ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কায়সার হবে না। এটাও অবশ্যম্ভাবী যে, তাদের রক্ষিত ধন-সম্পদ বিজিত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় বণ্টিত হবে। আর তিনি (সা.) যুদ্ধকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَكَ كِسْرَى فَلَا يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ وَقَيْصَرُ لِيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لَا يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ» وَسَمَّى «الْحَرْبُ خُدْعَةٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3027 ۔ 3028) و مسلم (76 / 2918)، (7327) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلك كسرى فلا يكون كسرى بعده وقيصر ليهلكن ثم لا يكون قيصر بعده ولتقسمن كنوزهما في سبيل الله» وسمى «الحرب خدعة» . متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৯-[১০] নাফি’ ইবনু ’উতবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ’আরব উপদ্বীপে যুদ্ধ অভিযান চালাবে এবং আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তাতে বিজয়ী করবেন। অতঃপর পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। তারপর রূমকদের (রোমানদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এটাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। অবশেষে তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّال فيفتحه الله» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (38 / 2900)، (7284) ۔
(صَحِيح)

وعن نافع بن عتبة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تغزون جزيرة العرب فيفتحها الله ثم فارس فيفتحها الله ثم تغزون الروم فيفتحها الله ثم تغزون الدجال فيفتحه الله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : এখানে সাহাবীগণকে সম্বোধন করা হলেও এর দ্বারা সমগ্র জাতি উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা মুসলিমদের বিজয় দান করবেন এবং মুসলিম মিল্লাতের সাহায্যার্থে বণী ইসরাঈলদের ওপর আল্লাহর পক্ষ হতে ধ্বংস পতিত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২০-[১১] ’আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় আমি নবী (সা.) -এর খিদমতে আসলাম। এ সময় তিনি (সা.) একটি চামড়ার তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শনকে তুমি গণনা করে রাখ।

১. আমার মৃত্যু।
২. অতঃপর বায়তুল মাক্বদিস বিজয়।
৩. ব্যাপক মহামারি যা তোমাদেরকে বকরির মড়কের মতো আক্রমণ করবে।
৪. ৫. ধনসম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কোন ব্যক্তিকে একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেও সে (নগণ্য মনে করে) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে।
৬. অতঃপর রূমকদের (রোমানদের) সাথে তোমাদের একটি সন্ধিচুক্তি হবে, পরে তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে তোমাদের বিরুদ্ধে আশিটি পতাকার নীচে অবস্থান নিয়ে বারো হাজার করে সৈন্য থাকবে। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن عَوْف بن مَالك قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ تَبُوكَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ: اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: مَوْتِي ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ مُوتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلُّ سَاخِطًا ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةً تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3176) ۔
(صَحِيح)

وعن عوف بن مالك قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك وهو في قبة من أدم فقال: اعدد ستا بين يدي الساعة: موتي ثم فتح بيت المقدس ثم موتان يأخذ فيكم كقعاص الغنم ثم استفاضة المال حتى يعطى الرجل مائة دينار فيظل ساخطا ثم فتنة لا يبقى بيت من العرب إلا دخلته ثم هدنة تكون بينكم وبين بني الأصفر فيغدرون فيأتونكم تحت ثمانين غاية تحت كل غاية اثنا عشر ألفا . رواه البخاري

ব্যাখ্যা : আবূ দাউদে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং উক্ত বর্ণনার শুরুতে রয়েছে যে, অচিরেই তোমরা রূমকদের (রোমানদের) সাথে সন্ধি চুক্তি করবে, অতঃপর তোমরা এবং তারা মিলিত হয়ে শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে, তাদেরকে তোমরা সাহায্যও করবে। অতঃপর তোমরা এক ভূখণ্ডে অবতরণ করবে। অতঃপর কুশধারী একজন লোক ক্রুশ উত্তোলন করে বলবে, ক্রুশের বিজয় হয়েছে (খ্রিষ্টানদের বিজয় হয়েছে)।
অতঃপর একজন মুসলিম তার প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে যাবে তখন রূমকরা (খ্রিষ্টানরা) বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং মালহামার যুদ্ধের জন্য একত্রিত হতে থাকবে। ইবনু মাজাহর অপর বর্ণনায় মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, মালহামার বড় যুদ্ধ, কুসতুনিয়ার বিজয় এবং দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ সাত মাসের মাঝেই সংঘটিত হবে। তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, মালহামার যুদ্ধ ও মদীনাহ বিজয়ের মাঝের ব্যবধান থাকবে মাত্র ৬ বছর এবং সপ্তম বছরেই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪১৭ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আউফ ইবনু মালিক (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২১-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না রূমকগণ (রোমানগন) (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) আ’মাক অথবা দাবিক নামক স্থানে অবতরণ করবে এবং মদীনার তৎকালীন উত্তম লোকদের একটি সেনাদল তাদের মোকাবিলায় বের হবে। যুদ্ধের জন্য যখন মুসলিমগণ সারিবদ্ধ হবে, তখন রূমকগণ বলবে, তোমাদের যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের কিছু সংখ্যক লোকজনকে বন্দি করে নিয়ে এসেছ। তাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করব। মুসলিমগণ বলবেন, আল্লাহর শপথ! এটা কখনো হতে পারে না। আমরা আমাদের সেই সকল মুসলিম ভাইদেরকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য ছেড়ে দিতে পারি না। এরপর মুসলিমগণ রূমক কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, কিন্তু মুসলিমদের এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের মোকাবিলা থেকে পলায়ন করবে। আল্লাহ তা’আলা এই পলায়নকারীদের তাওবাহ্ কখনো গ্রহণ করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে, তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট উত্তম শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। আর এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের ওপর বিজয়ী হবে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে কখনো ফিতনায় ফেলবেন না। অবশেষে তারাই কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। অতঃপর যখন তারা গনীমতের মাল-সম্পদ ভাগ করণে ব্যস্ত হবে এবং তাদের তরবারিসমূহ যায়তুন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে, ঠিক এ সময় হঠাৎ শয়তান এ ঘোষণা দেবে যে, তোমাদের অনুপস্থিতিতে মাসীহে দাজ্জাল তোমাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। এতদশ্রবণে মদীনার সেই সেনাদল সেদিকে বের হয়ে পড়বে। অথচ সেই ঘোষণাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যখন মুসলিমগণ কনস্টান্টিনোপল ছেড়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করবে তখনই দাজ্জালের আগমন ঘটবে। এ সময় মুসলিমগণ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুতি নিতে থাকবে এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে, তৎক্ষণাৎ সালাতের উদ্দেশে (মুয়াযযিন কর্তৃক) ইকামত দেয়া হবে এবং এ মূহুর্তে ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) আকাশ থেকে (দামিশকের জামে মসজিদের মিনারায়) অবতরণ করবেন এবং মুসলিমদের ইমামতি করে সলাত আদায় করাবেন। অতঃপর যখন আল্লাহর শত্রু (দাজ্জাল) তাঁকে দেখতে পাবে, তখন সে এমনিভাবে গলে যেতে থাকবে যেমনিভাবে লবণ পানিতে গলে যায়। আর যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিতেই ছেড়ে দিতেন, তবুও সে এমনিতেই গলে ধ্বংস হয়ে যেত, কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাকে ’ঈসা (আঃ) যে বর্শা দিয়ে তাকে হত্যা করবেন, রক্তমাখা সে বর্শাটি তিনি লোকেদের সকলকেই দেখাবেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالْأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ: خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ: لَا وَاللَّهِ لَا نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لَا يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لَا يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قسطنطينية فَبينا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ: إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جاؤوا الشامَ خرجَ فَبينا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلَاة فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لَانْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فيريهم دَمه فِي حربته . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (34 / 2897)، (7278) ۔
(صَحِيح)

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقوم الساعة حتى ينزل الروم بالأعماق أو بدابق فيخرج إليهم جيش من المدينة من خيار أهل الأرض يومئذ فإذا تصافوا قالت الروم: خلوا بيننا وبين الذين سبوا منا نقاتلهم فيقول المسلمون: لا والله لا نخلي بينكم وبين إخواننا فيقاتلونهم فينهزم ثلث لا يتوب الله عليهم أبدا ويقتل ثلثهم أفضل الشهداء عند الله ويفتتح الثلث لا يفتنون أبدا فيفتتحون قسطنطينية فبينا هم يقتسمون الغنائم قد علقوا سيوفهم بالزيتون إذ صاح فيهم الشيطان: إن المسيح قد خلفكم في أهليكم فيخرجون وذلك باطل فإذا جاؤوا الشام خرج فبينا هم يعدون للقتال يسوون الصفوف إذ أقيمت الصلاة فينزل عيسى بن مريم فأمهم فإذا رآه عدو الله ذاب كما يذوب الملح في الماء فلو تركه لانذاب حتى يهلك ولكن يقتله الله بيده فيريهم دمه في حربته . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : আ'মাক এবং দাবিক এ দু'টি সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীর কাছাকাছি প্রসিদ্ধ স্থানের নাম। আর কুসতুনতুনিয়্যাহ্ হলো রোমের প্রসিদ্ধ বড় শহরগুলোর মধ্য হতে একটি বড় শহর। (শারুহুন্ নাবাবী ১৮ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২২-২২৩)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২২-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত মীরাস ভাগ করা হবে না এবং গনীমতের মালেও লোকেরা খুশি হবে না। অতঃপর ইবনু মাস’উদ (রাঃ) (এটার ব্যাখ্যায়) বলেছেন, শত্রু অর্থাৎ রূমক (রোমান) নাসারাগণ সিরিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক বিরাট সেনাদলের সমাবেশ করবে। আর মুসলিমগণও রূমকদের মোকাবিলায় এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করবে। অতঃপর মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে শত্রুর মোকাবিলায় মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেবে, পূর্ণ বিজয় লাভ না করে যারা প্রত্যাবর্তন করবে না। তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধ করতে থাকবে রাত্রের আঁধার নেমে বাধা সৃষ্টি না করা পর্যন্ত। অতঃপর উভয়পক্ষের প্রত্যেকেই আপন আপন শিবিরে ফিরে আসবে। কেউই কারো ওপর বিজয়ী হবে না। অবশ্য উভয় সেনাদলের অগ্রবর্তী সৈন্যরা সকলেই নিহত হয়ে যাবে। অতঃপর (দ্বিতীয় দিন) মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য পাঠাবে, যারা বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অবশেষে রাত্র তাদের মধ্যে আড়াল হয়ে যাবে এবং উভয় দলই বিজয় ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলও নিহত হয়ে যাবে। এরপর তৃতীয় দিনও মুসলিমগণ একদল সৈন্য পাঠাবে এবং বিজয়ী হওয়া ব্যতীত ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞা করবে। অতঃপর সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয়পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। পরিশেষে উভয়পক্ষই বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলটিও বিলীন হয়ে যাবে। অতঃপর চতুর্থ দিন মুসলিমদের অবশিষ্ট সকলেই একত্রে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহ তা’আলা কাফিরদেরকে পরাজিত করে মুসলিমদেরকে তাদের ওপর বিজয় দান করবেন।
এ যুদ্ধে মুসলিমগণ এমন লড়াই করবে যে, ইতোপূর্বে এরূপ ঘোরতম যুদ্ধ আর কখনো দেখা যায়নি। এমনকি যদি কোন উড়ন্ত পাখি লড়াইয়ের ময়দানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে তা সেনাদলকে পিছনে ফেলতে সক্ষম হবে না, বরং তা মরে পড়ে যাবে (পঁচা লাশের দুর্গন্ধের কারণে অথবা যুদ্ধেক্ষেত্র অতিক্রম করতে অক্ষম হওয়ার কারণে) কোন পিতা বা পরিবারের একশত সন্তান থাকলে যুদ্ধ শেষে গুণে দেখবে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি লোক বেঁচে আছে। এমতাবস্থায় কিভাবে গনীমাতের সম্পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি আনন্দিত হতে পারে? আর কারই বা মীরাস বণ্টিত হবে? মুসলিমগণ এ অবস্থায় থাকতেই সহসা এটা অপেক্ষা আরো একটি বিরাট যুদ্ধের সংবাদ শুনতে পাবে। তারা এ ঘোষণা শুনতে পাবে যে, তাদের অনুপস্থিতিতে দাজ্জাল (সদলবলে) তাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে পৌছে গেছে। এ সংবাদ শ্রবণমাত্রই তাদের হাতে যা কিছু ছিল তা সেখানে ফেলে দিয়েই দাজ্জালের উদ্দেশে ছুটে চলবে এবং শত্রুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠাবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছেন, যে দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠানো হবে নিশ্চিতভাবে আমি তাদের ও তাদের বাপ-দাদাদের নাম-ধাম এবং তাদের অশ্বগুলোর বর্ণ কিরূপ হবে তা অবগত আছি। তারা হবে সর্বাপেক্ষা উত্তম অশ্বারোহী। অথবা বলেছেন, তৎকালীন ভূপৃষ্ঠের উত্তম আরোহীদের অন্যতম। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: إِنَّ الساعةَ لَا تقومُ حَتَّى لَا يُقْسَمَ ميراثٌ وَلَا يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ. ثُمَّ قَالَ: عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لِأَهْلِ الشَّامِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الْإِسْلَامِ (يَعْنِي الرّوم) فيتشرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء كل غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يَتَشَرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غالبة فيقتتلون حت يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يشْتَرط الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فيقتتلون حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَد إِليهم بقيةُ أهلِ الإِسلام فيجعلُ الله الدَبَرةَ عَلَيْهِم فيقتلون مَقْتَلَةً لَمْ يُرَ مِثْلُهَا حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ ليمر يجنابتهم فَلَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيِّتًا فَيَتَعَادَّ بَنُو الْأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلَا يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلَّا الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَيِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أيّ مِيرَاث يقسم؟ فَبينا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ: أَنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشْرَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْض يَوْمئِذٍ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (37 / 2899)، (7281) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: إن الساعة لا تقوم حتى لا يقسم ميراث ولا يفرح بغنيمة. ثم قال: عدو يجمعون لأهل الشام ويجمع لهم أهل الإسلام (يعني الروم) فيتشرط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حتى يحجز بينهم الليل فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يتشرط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حت يحجز بينهم الليل فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يشترط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حتى يمسوا فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة فإذا كان يوم الرابع نهد إليهم بقية أهل الإسلام فيجعل الله الدبرة عليهم فيقتلون مقتلة لم ير مثلها حتى إن الطائر ليمر يجنابتهم فلا يخلفهم حتى يخر ميتا فيتعاد بنو الأب كانوا مائة فلا يجدونه بقي منهم إلا الرجل الواحد فبأي غنيمة يفرح أو أي ميراث يقسم؟ فبينا هم كذلك إذ سمعوا ببأس هو أكبر من ذلك فجاءهم الصريخ: أن الدجال قد خلفهم في ذراريهم فيرفضون ما في أيديهم ويقبلون فيبعثون عشر فوارس طليعة . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إني لأعرف أسماءهم وأسماء آبائهم وألوان خيولهم هم خير فوارس أو من خير فوارس على ظهر الأرض يومئذ» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : হয়তো সম্পদ কমে যাওয়া, ফকীর বেড়ে যাওয়া এবং মীরাস বণ্টন সংঘটিত হওয়ার কারণে কোন উত্তরাধিকারী না পাওয়া অথবা ঋণের পরিমাণ অধিক থাকায় উত্তরাধিকারীদের মাঝে মীরাস বণ্টন হবে না। অথবা এটাও হতে পারে যে, সম্পদশালীরা অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদের সম্পদ বায়তুল মালে জমা হবে, ফলে তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোন সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৩-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) বলেছেন: তোমরা কি এমন একটি শহরের নাম শুনেছ, যার একদিকে খোলা ময়দান এবং অপরদিকে সাগর রয়েছে? তারা বললেন, হ্যা শুনেছি, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! তিনি (সা.) বললেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ইসহাক (আঃ)-এর বংশধরের সত্তর হাজার লোক উক্ত শহরে যুদ্ধ করবে। তারা যখন তথায় আসবে তখন তারা এর আশেপাশে অবস্থান করবে, কিন্তু অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করবে না এবং কোন বর্শা তীরও নিক্ষেপ করবে না। বরং তার শুধুমাত্র ’লা- ইলা-হা ইল্লা-হু ওয়াল্লহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করবে। শহরের এক পার্শ্বের প্রাচীর এতেই ভেঙ্গে পড়বে। বর্ণনাকারী সাওর ইবনু ইয়াযীদ বলেন, আমার ধারণা, রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেছেন। (প্রথম ধ্বনিতে) সাগর পার্শ্বের দেয়ালটি ভেঙ্গে পড়বে। অতঃপর তারা দ্বিতীয়বার ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করবে। এবার অপর দিকের প্রাচীরটি (যা ময়দানের দিকে ছিল) ভেঙ্গে পড়বে। তারপর যখন তৃতীয়বার তারা লা- ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াল্লহু আকবার’ বলে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করবে, তখন শহরের প্রবেশ দ্বারটি বিস্তৃত হয়ে যাবে এবং তারা এতে প্রবেশ করবে, আর গনীমাত সংগ্রহ করতে থাকবে। তারা যখন এ গনীমাতের সম্পদ বণ্টনে ব্যস্ত হবে, তখন হঠাৎ ঘোষণা শুনতে পাবে। যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হয়েছে। তখন তারা সেই সমস্ত ধন-সম্পদ ফেলে দাজ্জালের মোকাবিলায় ফিরে আসবে। (মুসলিম)।

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَلْ سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَرِّ وَجَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوَهَا سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ بني إِسحاق فَإِذا جاؤوها نَزَلُوا فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسِلَاحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهْمٍ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيَسْقُطُ أحدُ جانبيها. - قالَ ثورُ بنُ يزِيد الرَّاوِي: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ -: الَّذِي فِي الْبَحْر يَقُولُونَ الثَّانِيَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الْآخَرُ ثُمَّ يَقُولُونَ الثَّالِثَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيُفَرَّجُ لَهُم فيدخلونها فيغنمون فَبينا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْمَغَانِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيخُ فَقَالَ: إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَيْءٍ ويرجعون . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (78 / 2920)، (7333) ۔
(صَحِيح)

وعن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «هل سمعتم بمدينة جانب منها في البر وجانب منها في البحر؟» قالوا: نعم يا رسول الله قال: لا تقوم الساعة حتى يغزوها سبعون ألفا من بني إسحاق فإذا جاؤوها نزلوا فلم يقاتلوا بسلاح ولم يرموا بسهم قال: لا إله إلا الله والله أكبر فيسقط أحد جانبيها. - قال ثور بن يزيد الراوي: لا أعلمه إلا قال -: الذي في البحر يقولون الثانية: لا إله إلا الله والله أكبر فيسقط جانبها الآخر ثم يقولون الثالثة: لا إله إلا الله والله أكبر فيفرج لهم فيدخلونها فيغنمون فبينا هم يقتسمون المغانم إذ جاءهم الصريخ فقال: إن الدجال قد خرج فيتركون كل شيء ويرجعون . رواه مسلم

ব্যাখ্যা : নবী (সা.) -এর কথা: এমন একটি শহরের কথা তোমরা শুনেছ যার কিছু অংশ স্থলভাগ ও কিছু অংশ হবে পানিতে। যেখানে ৭০ হাজার বানূ ইসহাক্ব তথা ইসহাক-এর বংশধরেরা যুদ্ধ করবে। আল কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: জামিউল উসূলেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন: কোন কোন ‘উলামাগণ বলেন যে, প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ মত হলো বানী ইসমাঈল-এর বংশধর। আর আলোচ্য হাদীসটি এটারই প্রমাণ বহন করে। কেননা এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘আরব। অর্থাৎ ‘আরবরা উল্লেখিত শহরে যুদ্ধ করবে। আর এ শহর বলতে কুসতুনতুনিয়্যাহ্-কেই বুঝানো হয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৮/৩৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১৪ পর্যন্ত, সর্বমোট ১৪ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে