⬍
Bangla Hadith Logo
≡
  • কুরআন ও তাফসীর
  • হাদিসসমূহ
  • গ্রন্থাবলী
  • ভিডিও
  • নাম ও বিবিধ
  • এআই(AI)NEW
  • ডাউনলোড
  • ডোনেশন
  • My Account
  • আল-কুরআন অনুবাদ, তাফসীর ও তিলাওয়াত
  • হিফজুল কুরআন
  • আল-কুরআন তিলাওয়াত
  • কুরআন সার্চ (শব্দ/বাক্য/আয়াত নাম্বার)
  • বিষয়ভিত্তিক আয়াত (কার্যক্রম চলমান)
  • হাদিস পড়ুন (সমস্ত গ্রন্থ)
  • তুলনামূলক হাদিস খুঁজুন
  • বিষয়ভিত্তিক হাদিস (কার্যক্রম চলমান)
  • হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা
  • বিষয়ভিত্তিক ইসলামী গ্রন্থাবলী
  • লেখকভিত্তিক ইসলামী গ্রন্থাবলী
  • শব্দ/বাক্য দিয়ে খুঁজুন
  • বিষয়ভিত্তিক ইসলামিক ভিডিও
  • ভিডিও সার্চ
  • আল্লাহর ৯৯ নাম ও অর্থ
  • শিশুদের নামের তালিকা (চলমান)
  • শিশুদের নাম খুঁজুন
  • মাহরাম ও গায়রে মাহরাম তালিকা
  • User Signup
  • User Login
  • Change Password!

  • ডোনার রেজিস্ট্রেশন
  • ডোনার লগইন
  • প্রোজেক্টে অনুদান
  • হাদিসবিডি এআই(AI)
  • এআই(AI) প্রশ্নোত্তর
সকল গ্রন্থ থেকে পড়ুন
১ সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
২ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩ মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৪ সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৫ সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৭ সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮ সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৯ সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১০ সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
১১ সুনান আন-নাসায়ী (তাহকীককৃত)
১২ সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৩ রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
১৪ সুনান ইবনু মাজাহ
১৫ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
১৬ সহীহ ইবনু হিব্বান (হাদিসবিডি)
১৭ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব
১৮ সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি)
১৯ আল-লুলু ওয়াল মারজান
২০ হাদীস সম্ভার
২১ বুলুগুল মারাম
২২ আল-আদাবুল মুফরাদ
২৩ মুসনাদে আহমাদ
২৪ মুয়াত্তা মালিক
২৫ সুনান আদ-দারাকুতনী
২৬ সহীহ হাদিসে কুদসি
২৭ রমযান বিষয়ে জাল ও দুর্বল হাদিসসমূহ
২৮ আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস
২৯ যঈফ ও জাল হাদিস
সম্পূর্ণ বই পড়ুন
১. মুকাদ্দিমাহ (المقدمة)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন ১. আল্লাহ তা’য়ালার হামদ্ (প্রশংসা) দ্বারা শুরু করার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে ২ ২. সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং এ সংশ্লিষ্ট বর্ণনা ও আদেশ-নিষেধ ১২ ৩য় ভাগ ১৩ ৪র্থ ভাগ ৫
২. কিতাবুল ওহী (كتاب الوحي)
৩. কিতাবুল ইসরা [ও মে’রাজ] (الإسراء)
৪. কিতাবুল ঈলম (كتاب العلم)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন ১. সুন্নাহ তথা হাদীস মুখস্ত করা ছেড়ে দিয়ে শুধু লিখার উপর নির্ভর করে বসে থাকার আশঙ্কায় সুন্নাহ বা হাদীস লিখার নিষেধাজ্ঞা: ১ কোন লোকের প্রশ্নের জবাব ইশারা-ইঙ্গিতে দেওয়া জায়েয, যদিও সেটি সেই অবস্থায় লোকটির প্রশংসাজ্ঞাপক না হয় ১ আলিমের জন্য আবশ্যক হলো, তার ইলমের অহঙ্কার পরিত্যাগ করা এবং সকল অবস্থায় আল্লাহর তা’আলার প্রতি মুখাপেক্ষীতা অবলম্বন করা- এ সংক্রান্ত বর্ণনা ১ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাব দান কালে আলিম কর্তৃক সাদৃশ্যতা ও কিয়াস তথা তুলনা বা যুক্তির মাধ্যমে জবাব দান করার বৈধতার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা ১ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাব তৎক্ষণাৎ না দিয়ে জবাবদান পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিকে অব্যহতি দান মুবাহ (জায়িয) হওয়ার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা ১ কোন বিষয়ে আলিমকে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর প্রদান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা এবং পরবর্তীতে শুরুতেই তার উত্তর প্রদান আলিমের জন্য জায়িয হওয়ার বর্ণনা ১ আলিম কর্তৃক শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া, যার উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে শুরুতে সেটা শিক্ষা এবং অনুরূপ বিষয়ে উৎসাহিত করা - এ বিষয়টির বৈধতার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা ১ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেক সময় একেক অবস্থা প্রকাশ পেত, যাতে তিনি সেই অবস্থার হুকুম (শরয়ী বিধান) উম্মাতকে জানাতে পারেন, যদিও সেটি পরবর্তীতে তাঁর উপর ওহী করা হতো- এ সংক্রান্ত বর্ণনা ১ শিক্ষার্থীর জন্য তার শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকের উপর আপত্তি করা জায়িয হওয়ার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা ১ কোন জিনিস সম্পর্কে জানা থাকা সত্বেও প্রশ্ন করা জায়েয, তবে এর দ্বারা উপহাস করা যাবে না ১ দ্বীন ইসলামে যে বিষয়গুলো প্রকাশ করা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেসবের পিছে না পড়া আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে ১ বিশুদ্ধ নিয়তে কোন ব্যক্তি তার উত্তম ইলম অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে- এই ব্যাপারে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়েত কিংবা গোমরাহীর দিকে আহবান করে, অতঃপর মানুষ তার আহবানে সাড়া দেয়, সেই ব্যক্তির বিধান ১ আলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না করা ১ আলিম ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কিতাব লিপিবদ্ধ করা বৈধ ১ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান, যদিও সে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা করতে না পারে ২ কুরআন শিক্ষা করা ও তদনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব, বিশেষত ফিতনার সময়ে ১ যে কুরআন নিজে শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়, সে শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভূক্ত ১ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তা ধরে রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার নির্দেশ ১ সুন্দর আওয়াজে কুরআন না পড়ার ব্যাপারে ধমকি ১ যাকে ঈমান ও কুরআন উভয়টি প্রদান করা হয়েছে অথবা যে কোন একটি প্রদান করা হয়েছে, তার বিবরণ ১ কুরআন ধারণকারী পথভ্রষ্ট হবে না ১ যে ব্যক্তি কুরআন অনুসরণ করবে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে আর যে ব্যক্তি কুরআন পরিত্যাগ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে ১ যে ব্যক্তি আমলের মাধ্যমে কুরআন অনুসরণীয় বানাবে, কুরআন তাকে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করবে আর যে ব্যক্তি আমল না করে কুরআনকে পেছনে রেখে দিবে, তবে কুরআন তাকে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে ১ যাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে অতঃপর সে ব্যক্তি তা দিয়ে দিবারাত্রি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তার ব্যাপারে ঈর্ষা করা বৈধ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য: “অতঃপর সে ব্যক্তি দিবারাত্রি তা খরচ করে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে ব্যক্তি সাদাকা করে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে খোলাফা রাশিদীন এবং প্রবীণ সাহাবীদের নিকট ওযূ ও সালাত সংক্রান্ত কোন বিধান গোপন থাকতে পারে না - তার এই কথা অপনোদনে হাদীস ১
৫. কিতাবুল ঈমান (كِتَابُ الْإِيمَانِ)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ১ আমরা যে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছি, সেগুলোর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক ১ যারা বলেন যে, হাদীসটি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের কথা অপনোদনে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বক্তব্য “তারা (বেঁচে থাকলে) কী আমল করতো, তা আল্লাহ সম্যক অবগত”, “প্রতিটি শিশু ইসলামের সহজাত চেতনা-বৈশিষ্ট্যের উপর জন্ম গ্রহন করে” তাঁর এই বক্তব্যের পরে ছিল- এই মর্মে সুষ্পষ্ট হাদীস ১ “মুশরিকদের সন্তানরা কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ নয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বক্তব্যের কারণ ১ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি ভালভাবে জ্ঞান অর্জন করেননি এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি মজবুত জ্ঞান অর্জন করেননি এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “ওরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। ”পরবর্তীতে তিনি মুশরিকদের শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন মর্মে সুস্পষ্ট হাদীস ১ ইলমে হাদীস বিষয়ে যিনি চোখ বন্ধ রাখে এবং অন্য ইলমে নিজেকে নিয়োজিত রাখে এমন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ শরীয়তের দায়-দায়িত্ব - মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাধ্যাতিত কাজের দায়িত্ব দেন না, এই মর্মে বর্ণিত হাদীসসমূহ ১ “দ্বীনের মধ্যে কোন জবরদস্তি নেই” (সূরা আল বাকারা: ২৫৬) আয়াতটি যে অবস্থায় নাযিল হয়, তার বর্ণনা ১ যে ফরযকে আল্লাহ তা‘আলা নফল হিসেবে নির্ধারণ করেন, হতে পারে সেটাকে তিনি দ্বিতীয় বার ফরয করে দিবেন, ফলে যে কাজটি প্রথমে ফরয ছিল, সেটা শেষাবধি আবার ফরয হিসেবে গণ্য হবে ১ ঐ কারণের বিবরণ, যে কারণ না থাকলে গোনাহ লিখার কলম উঠিয়ে নেওয়া হয় ১ দ্বিতীয় হাদীস যা আমাদের উল্লেখিত বিষয়কে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে ১ আমরা পূর্বের দুটো হাদীস ব্যাখ্যা করেছি যে, যাদের থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে বস্তুত তাদের পাপ লিখনের কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; সাওয়াব লিখনের কলম নয়- এর প্রমাণে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে এমন কিছু উদিত হয় যা মুখে উচ্চারণ করা জায়েয নেই- এমন ব্যক্তির থেকে আল্লাহ পাপ উঠিয়ে নিয়েছেন মর্মে হাদীস ১ সহীহ হাদীস বিষয়ে যার পান্ডিত্ব নেই এবং হাদীসের মর্ম যিনি গভীরভাবে অনুধাবন করে না তাকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমরা মনে যা উদিত হওয়ার কথা বললাম, খোদ সেটার উপস্থিতিই হলো নির্ভেজাল ঈমান ১ মানুষের জন্য এটা বৈধ যে তার অন্তরে শয়তানের ওয়াসওয়াসা আসলে তা অন্তর দিয়ে বিশ্বাস না করে তা প্রত্যাখ্যান করবে ১ যে ব্যক্তি পূর্বে উল্লেখিত বিষয় অন্তরে অনুভব করে এবং যিনি মনে মনে তা চিন্তা করে উভয় ব্যক্তির হুকুম একই ১ আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ শয়তানের ওয়াসওয়াসার সময় আল্লাহর একাত্ববাদ ও তাঁর মনোনিত বান্দা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের স্বীকারক্তি দেওয়ার নির্দেশ ১ ঈমানের ফযিলত - যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে সে জান্নাতে যাবে তার বিবরণ ১ শ্রেষ্ঠ আমল আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ১ আবু যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত ‘ওয়াও’ (এবং) সংযুক্তির ওয়াও নয় বরং এটি সুম্মা (তারপর) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ১ ঈমানের ফরয ৪ ঈমান ও ইসলাম একই জিনিসের দুই নাম এই মর্মে বর্ণনা ২ ঐ হাদীসের আলোচনা যে হাদীস প্রমাণ করে যে, ঈমান ও ইসলাম একই অর্থবোধক, এবং এই অর্থ যুগপৎভাবে বাচনিক ও কর্মগত আমলকে অন্তর্ভূক্ত করে ১ ঈমান ও ইসলাম একই অর্থবোধক দুটি নাম মর্মে হাদীস ১ ঐ হাদীসের বর্ণনা, যে হাদীস প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত হাদীসের শব্দ আম তথা ব্যাপক কিন্তু উদ্দেশ্য খাস তথা নির্দিষ্ট; হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য কিছু লোক, সব লোক নয় ১ ঐ হাদীসের আলোচনা যেই হাদীস কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ঈমান ও ইসলামের মাঝে পার্থক্য রয়েছে ১ যে ব্যক্তি ইলমে হাদীস তার মূল উৎস থেকে গ্রহণ করেনি, তাকে যে হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয়, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত দু‘টি হাদীসের বিপরীত, সেই হাদীসের বিবরণ ১ যুগপৎভাবে দুই শাহাদাহ স্বীকৃতি দানকারী ব্যক্তির জন্য ঈমান সাব্যস্ত করা ১ ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিভিন্ন অংশ ও শাখা-প্রশাখা আছে ১ যারা ধারণা করে যে, হাদীসটি সুহাইল বিন আবী সালিহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের ধারণা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ ব্যাপক অর্থবোধক কিছু শাখা-প্রশাখাসহ ঈমানের বিবরণ ১ দ্বিতীয় হাদীস যা, ইলমে হাদীসে জ্ঞান মজবুত নয়, এমন ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, পুরো ঈমান হলো মুখে শাহাদাহ এর স্বীকৃতি দেওয়া; অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল ঈমানের সাথে যুক্ত নয় ১ আমাদের যেসব ইমাম বলেন যে উক্ত হাদীস ইসলামের প্রথম যুগের মক্কার, যে সময় ইসলামের বিধি-বিধানগুলো অবতীর্ণ হয়নি- তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীসের আলোচনা ১ যে হাদীস আলিম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ঈমান হলো এক আল্লাহকে স্বীকার করা; সৎকর্মগুলো ঈমানের শাখার অন্তর্ভূক্ত নয় ১ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে জানবে, তাঁকে ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয়, সেসবকে অস্বীকার করবে’- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা ১ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হাদীসে ঈমানের যে শাখা-প্রশাখা ও অংশ বর্ণিত হয়েছে এছাড়াও ঈমানের আরোপ শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যা পরম বিশ্বস্ত জিবরীল ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফায়সালায় এসেছে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সব কিছুর উপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সব কিছুর উপর বিশ্বাস করা এবং তদনুযায়ী আমল করা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ১ যে ব্যক্তি ঈমানের কোন অংশ বাস্তবায়ন করে, তার ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা ১ যে ব্যক্তি ঈমানের কোন অংশের অংশ বাস্তবায়ন করে, তার ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা ১ যে ব্যক্তি স্বীকৃতি দানের শাখা-প্রশাখার কোন একটি অংশের উপর আমল করবে, তার ক্ষেত্রে ‘ঈমান’ নাম ব্যবহার বিষয়ে আলোচনা ১ ঈমানের ‘জানা’ শাখার কোন একটি অংশের উপর আমলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ঈমান’ নাম ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা ১ এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার করা, যাকে মানুষ তাদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ঈমান একক বিষয়; এটি বাড়েও না, কমেও না- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বিবরণ ১ যে ব্যক্তি বলেন যে, সমস্ত মুসলিমের ঈমান একই; এতে কোন কম-বেশি নেই- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য: ‘যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে, তাকে তোমরা জাহান্নাম থেকে বের করো।’-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাদের অন্তরে কীরাত পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার পর, এদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে ১ যে হাদীস কোন আলিমকে সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত দুই হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ যে হাদীস ইলমে হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণিত হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ জাহান্নামবাসীরা কয়লায় পরিণত হওয়ার পর শুভ্র হয়ে যাবে, জান্নাতবাসীরা তাদের উপর পানি ছিটা দিবেন- এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ঈমান সর্বদা একই অবস্থায় থাকে; তাতে কমতি বা কামালিয়াত প্রবেশ করে না- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ এমন শব্দ ব্যবহার করা যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ নয় বরং অপরিপূর্ণ এমন জিনিসের সেই জিনিসের নাম ব্যবহারকে নাকচ করা; বাহ্যিকভাবে তার ভিত্তিতে হুকুম দেওয়া উদ্দেশ্য নয়- এই ব্যাপারে স্পষ্ট দ্বিতীয় হাদীস ১ পূর্বে উল্লেখিত অর্থকে সুস্পষ্টকারী তৃতীয় হাদীসের বিবরণ ১ আরবরা তাদের ভাষায় কোন জিনিসের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তার নাম এর সাথে সম্পৃক্ত করে দেয় আবার কোন জিনিসের কামালিয়াত থেকে কমতি থাকার কারণে তার ক্ষেত্রে ঐ নাম ব্যবহার করাকে নাকচ করে- এই ব্যাপারে বিবরণ ১ আরেকটি হাদীস যা আমাদের উল্লেখিত কথার বিশুদ্ধতাকে স্পষ্ট করে দেয় যে, আরবরা কোন কোন সময় কোন জিনিসের অংশ বিশেষকে খোদ ঐ জিনিসের নামে অভিহিত করে থাকে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য ’কারণ সে মু‘মিনা।’ –এটি ঐ পর্যায়ের শব্দ, যেমনটা আমরা বলেছি যে, আরবরা যখন কোন জিনিসের অনেক শাখা-প্রশাখা ও অংশ থাকে, তখন কোন কোন অংশ ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে ঐ পুরো জিনিসের নাম ব্যবহার করে থাকে, যদিও এই শাখা-প্রশাখা ও অংশ ঐ পুরো জিনিস নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য: ‘ঈমানের সত্তরেরও বেশি দরজা রয়েছে।’ এর দ্বরা উদ্দেশ্য হলো ‘ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা’ ১ যে ব্যক্তি এমন কিছু কাজ সম্পন্ন করে, যা করার কারণে তার ঈমান হ্রাস পায়- এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈমান নাম ব্যবহার না করার বিষয়ে আলোচনা ১ উল্লেখিত হাদীসের আমরা যে ব্যাখ্যা করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ উল্লেখিত হাদীসগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোন জিনিস পরিপূর্ণ না হওয়ার কারনে তার থেকে ঐ জিনিসের নাম ব্যবহার না করা- এর প্রমাণে হাদীস ১ উল্লেখিত হাদীসগুলোর অর্থ যা আমরা বলেছি যে, আরবরা কামেল না হলে সে ক্ষেত্রে তারা সেই নাম ব্যবহার করেন না আবার কামালিয়্যাতের কাছাকাছি হলে তার নাম ব্যবহার করেন- আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন, তার জন্য ইসলাম সাব্যস্ত করা ১ যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন, তিনি উত্তম মুসলিম ১ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি এবং সে ঋণ ও অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্নসাৎ করা থেকে মুক্ত থাকে, তবে সে অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেই ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় সে ব্যক্তি অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম ১ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে, কাজেই একনিষ্ঠভাবে স্বীকৃতি না দিয়ে শুধুমাত্র শাহাদাহ এর স্বীকৃতি দিলে তা জান্নাত অবধারিত করবে না- এই মর্মে বর্ণনা ১ জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যা আমরা বলেছি যে, যে ব্যক্তি শাহাদাহ অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে বলবে তারপর তার উপর মৃত্যুবরণ করবে ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্যের সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে ১ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইয়াকীনের সাথে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে ১ নিশ্চয়ই জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যেমনটা আমরা বর্ণনা করেছি যে, যে ব্যক্তি ইয়াকীনের সাথে সাক্ষ্য দিবে অতঃপর তার উপরই মৃত্যুবরণ করবে ১ আমরা যার বিবরণ দিলাম, যে ব্যক্তি তা মৃত্যুর সময় বলবে, তার আমলনামায় মহান আল্লাহ নূর দিবেন ১ আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করলাম, যে বক্তি তা পালন করবে, মহান তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে দৃঢ় রাখবেন ১ আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করলাম, যে বক্তি তা পালন করবে এবং সাথে সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের স্বীকৃতি দান করবে ও ‘ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনোয়ন করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দু‘আ এবং যে ব্যক্তি তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় না, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বদ-দু‘আ ১ আল্লাহর একত্ববাদ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যে ব্যক্তি নাবী-রাসূলদের সত্যায়ন করে, জান্নাতে তাঁর অবস্থানের বিবরণ ১ নিশ্চয়ই জান্নাত ওয়াজিব হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি আমাদের বর্ণিত ঈমানের শাখা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিবে এবং সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে অন্যান্য আমল করবে; এমন নয় যে, যে ব্যক্তি আমল না করে শুধু মৌখিক স্বীকারোক্তি দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে ১ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, তার জন্য সুপারিশ অবধারিত ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে অতঃপর তার উপর অটল-অবিচল থাকে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাত লিপিবদ্ধ ও অবধারিত করে দিবেন ১ জান্নাত ওয়াজিব ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন সমকক্ষ নির্ধারণ করেনি ২ মহান আল্লাহ কোন কোন ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তি ও তার হত্যাকারী কাফির ব্যক্তিকে জান্নাতে একত্রিত করবেন, যখন সেই ব্যক্তি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সঠিক পথে অটল থাকেন ১ মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর মনোনিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনোয়ন করে ১ কোন কোন সময় কোন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিমের কাছেও কোন ইলম গোপন থাকতে পারে, যা তাঁর চেয়ে বড় আলিমের জানা থাকে- এই মর্মে বর্ণনা ১ একজন ব্যক্তি আল্লাহকে স্বীকার করার মাধ্যমে তার জান-মাল রক্ষা করতে পারে, যখন সে ব্যক্তি তার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় ১ একজন ব্যক্তি উল্লেখিত দুই শাহাদাহ স্বীকার করে তার জান-মাল নিরাপদ করতে পারে, যখন সে অন্যান্য ফরযসমূহ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দুই শাহাদাহকে প্রতিষ্ঠিত করবে ১ একজন ব্যক্তি তার জান-মাল নিরাপদ করতে পারবে, যখন সে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনিত সমস্ত বিধানের প্রতি ঈমান আনবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে শুধু শুধু উল্লেখিত শাহাদাহর উপর নির্ভর করে থাকবে না ১ যেই হাদীস শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, যে ব্যক্তি শাহাদাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, সর্বাবস্থায় তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা হারাম হবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য: “এই সাক্ষ্যদ্বয় তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে”- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি সে এমন কিছু না করে যার কারণে তার জাহান্নামে প্রবেশ করা অবধারিত হয় এবং মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে না থাকে ১ যে ব্যক্তি কোন এক অবস্থায় একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করে দিবেন ১ যার অন্তরে ঈমানের নূন্যতম একটি শাখা থাকবে, তাকে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে চিরস্থায়ী জাহান্নামী করবেন না ১ মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ও তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোন কোন সময় নিজ অনুগ্রহে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ভালবাসেন, তার পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন, যদিও তার এমন অতিরিক্ত নেকি থাকে না, যা তার পাপসমূহ মোচন করতে পারে ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, মহান আল্লাহ তাকে নিজ অনুগ্রহে তার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন, যে গোনাহগুলো তার ও তার রবের মাঝে ছিল ১ আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের মাঝে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে, তাদেরকে মহান আল্লাহ দ্বিগুণ সাওয়াব দান করবেন ১ যে ব্যক্তি তার ইসলাম সুন্দর করবে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার নেকীসমূহ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবেন ১ মু‘মিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ ২ মুসলিমদের পরস্পরে সহযোগিতা করা এমন উপকরণের অন্তর্ভূক্ত যা তাদেরকে স্রষ্টার নিকটবর্তী করে দেয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘মিনদের প্রাসাদের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন, যার একাংশ অপরাংশকে আঁকড়ে ধরে ১ মুসলিমদের পারস্পরিক আবশ্যিক দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৃষ্টান্ত পেশ ১ যে ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে না- তার ঈমানকে নাকচ করা ১ যে ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে না- তার ঈমানকে নাকচ করার উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত ঈমানকে নাকচ করা; খোদ ঈমানকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় আর ‘তার ভাইয়ের জন্য ভালবাসবে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার জন্য কল্যাণকর বিষয়কে পছন্দ করবে; অকল্যাণকর বিষয় পছন্দ করবে না ১ যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালবাসে না, তাদের থেকে ঈমানকে নাকচ করা ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন কওমকে ভালবাসে, তার জন্য ঈমানের মিষ্টতার উপস্থিতি সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে আলোচনা ২ এক মুসলিম ব্যক্তির উপর তার অপর মুসলিম ভাইয়ের যেসব হক আদায় করা ওয়াজিব ১ উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয় ১ আবু মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয় ১ সা‘ঈদ বিন মুসায়্যিব রহিমাহুল্লাহর হাদীসে বর্ণিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য নয় ১ যে হাদীসে মুসলিমদেরকে বৃক্ষের সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে, সে হাদীসের বিবরণ ১ যে গাছের সাথে মুসলিমদের সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে, সেই গাছের বিবরণ ২ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ পবিত্র জিনিস ভক্ষণ করা ও পবিত্র জিনিস বের করার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মু‘মিন ব্যক্তিকে মৌমাছির সাথে দৃষ্টান্ত পেশ করা ১ যে ব্যক্তি মানুষকে কাফির বলবে, সে অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে ২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্ক্তব্য ’তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে’ এর বিবরণ ১ শিরক ও নিফাক সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে - যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করবে, সে নিশ্চিতভাবেই জাহান্নামে যাবে ১ ইসলাম শিরকের বিপরীত এই মর্মে হাদীস ১ আল্লাহর সাথে শিরকের ক্ষেত্রে ‘যুলম’ নাম ব্যবহার ১ যে ব্যক্তি নিফাকের কোন একটি অংশ বাস্তবায়ন করবে, তার ক্ষেত্রে নিফাক নাম ব্যবহার ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন মুর্রাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ২ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উল্লেখিত হাদীসটির বক্তব্য অমুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি তিন জুমু‘আর সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকে, তার ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টভাবে নিফাক শব্দ ব্যবহার ১ সূর্য যখন শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে অবস্থান করে, যে ব্যক্তি আসরের সালাত সেই সময় বিলম্বিত করে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিফাক নাম ব্যবহার ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি ‘আলা বিন আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার বক্তব্য অপনোদনে হাদীস ১ সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি আসরের সালাত বিলম্ব করে, তার ক্ষেত্রে মুনাফিক নাম ব্যবহার ১ সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সালাত বিলম্ব করে আদায় করা মুনাফিকের সালাত ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মুসলিমদের সাথে মুনাফিকদের আচরণের বিবরণ ১ আল্লাহর সিফাত বা বিশেষণ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে - আল্লাহর সিফাত তাঁর মর্যাদার সাথে যেমন সামঞ্জস্যশীল, তেমনই; তাঁর সিফাত মাখলূকাতের সিফাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় ২ যে সব সিফাত মাখলূকাতের দিকে সম্পর্কিত করা হলে, মাখলূকাতের জন্য ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়, সেসব সিফাতকে মহান সৃষ্টিকর্তার দিকে সম্পর্কিত করা জায়েয নয় ১ যেই হাদীসের মাধ্যমে বিদ‘আতীরা আমাদের ইমামদের দোষারোপ করেন অথচ তাদেরকে সেই হাদীসের অর্থ অনুধাবনের তাওফীক দেওয়া হয়নি ১ এই জাতীয় শব্দগুলো মানুষ যা চিনে-জানে তার ভিত্তিতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়-এই মর্মে হাদীস ২
৬. সদাচারণ ও ন্যায়নিষ্ঠতা সংশ্লিষ্ট কিতাব (كِتَابُ الْبِرِّ وَالْإِحْسَانِ)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন সততা, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ সংক্রান্ত অধ্যায় ১ কোন মানুষ সদাসর্বদা সত্য কথা বললে, মহান আল্লাহ তাকে সিদ্দীকীনদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন ১ যারা সব সময় সত্য কথা বলেন, তাদের জান্নাতে প্রবেশ করার আশা ১ সত্য বলায় অভ্যস্থ হওয়া ও মিথ্যার উপকরণ থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব ১ মানুষ অপছন্দ করলেও হক কথা বলা ওয়াজিব ১ যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহকে সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, তার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি ১ সৃষ্টিজীব নারায হলেও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা মানুষের জন্য ওয়াজিব এই মর্মে হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ দেখবে বা অন্যায় বুঝতে পারবে, নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মত পরিস্থিতি না হলে হক কথা না বলে চুপ থাকার ব্যাপারে ধমকি ১ দুনিয়াতে শাসকদের নিকটে হক কথার কারণে কিয়ামতের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাওযে কাওসারে অবতরণ করবে ১ দুনিয়াতে শাসকদের নিকট হক কথা বলার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার আশা সম্পর্কে আলোচনা ১ আমরা যা বললাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি শাসকদের মিথ্যাকে সত্যায়ন করবে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন হাওযে কাওসারে অবতরণ করতে পারবে না ১ যে ব্যক্তি শাসকদেরকে তাদের যুলমের কাজে সহযোগিতা করবে অথবা তাদের মিথ্যাকে সত্যায়ন করবে, সে ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাওযে কাওসারে অবতরণ করতে পারবে না ১ শাসকদের মিথ্যাকে সত্যায়ন করা, তাদের যুলমের কাজে সাহায্য করার ব্যাপারে ধমকী কারণ যে ব্যক্তি এমন করবে সে ব্যক্তি হাওযে কাওসারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসতে পারবে না। মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। ১ শাসকদের মিথ্যা সত্যায়ন করা অথবা তাদের যুলমের কাজে সহযোগিতা করার ব্যাপারে ধমকী ১ যে ব্যক্তি শাসকদের মিথ্যা সত্যায়ন করা ও তাদের যুলমের কাজে সহযোগিতা করার জন্য শাসকদের কাছে গমন করে তার ব্যাপারে কঠোর বাণী ১ যে ব্যক্তি শাসকদের নিকট গমন করে এমন কথা বলে, যার অনুমোদন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেননি, সে ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টি অবধারিত ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো তার উর্দ্ধতন, সমপর্যায় ও নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, যখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে কল্যাণকামিতা; কাউকে নিন্দা করা নয় ১ সৎকাজের আদেশকারীকে মহান আল্লাহ তদনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব দান করেন, এতে আমলকারীর সাওয়াবের কোন কমতি হয় না ১ ইসলামী রাষ্ট্রে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার মাধ্যমে আল্লাহর শত্রু কাফিরদের উপর আল্লাহর সাহায্য নিজের উপর হালাল করে নেওয়া আবশ্যক ১ নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত হওয়ার সময় গাইরাত বা আত্নমর্যাদাবোধ আকড়ে ধরা আবশ্যক ১ আদম সন্তানের চেয়ে আল্লাহর আত্নমর্যাদাবোধ অধিক প্রকট ১ যে কারণে মহান আল্লাহর গাইরাত হয় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে গাইরাত আল্লাহ পছন্দ করেন আর যে গাইরাত অপছন্দ করেন ১ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর জন্য রেগে না যায়, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর ক্রোধ থেকে নিরাপদ থাকার আশা করা যায় ১ আল্লাহর সীমা পালনকারী ও তা লঙ্ঘনকারীর বিবরণ ১ আল্লাহর সীমা পালনকারী ও তা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গভীর সমুদ্রে সফরকারী ব্যক্তিদের সাথে উপমা দিয়েছেন ১ যখন কোন ব্যক্তি ত্রুটিমুক্তভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করে, তখন মহান আল্লাহ তার জন্য সাদাকা লিখে দেন ১ যারা সক্ষমতা থাকা সত্তেও সৎ কাজের আদেশ করে না, অসৎ কাজে নিষেধ করে না, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে ব্যাপক শাস্তির উপযুক্ত হবে ১ সাধারণ মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেওয়া অসৎ কাজে নিষেধ করা মুস্তাহাব, তবে শাসকদের এমন করতে গেলে যদি জীবনের উপর ঝুঁকি আসে, তাহলে তা করা মুস্তাহাব নয় ১ যে ব্যক্তি পাপ কাজ প্রতিহত করার ক্ষমতা থাকা সত্তেও তা প্রতিহত করে না, তার উপর আল্লাহর শাস্তির সম্ভাবনা ১ জবান দিয়ে অন্যায় প্রতিহত না করে কঠোরভাবে হাত দিয়ে প্রতিহত করা জায়েয, যখন এর মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করা না হবে ১ যখন মন্দ ও যুলম আত্নপ্রকাশ করে, তখন জানা ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তা প্রতিহত করা যাতে এর কারণে তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি নেমে না আসে ১ মর্যাদাবান ও আলিম ব্যক্তিও কোন কোন সময় কুরআতের আয়াত ব্যাখ্যায় ভুল করতে পারেন ১ কোন মন্দ কাজ দেখলে বা জানলে তা নিষেধ করার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি তারিক বিন শিহাব এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ অধ্যায়: সৎ কাজ ও তার সাওয়াব - প্রতিটি সৎ আমলকারীকে ঐ আমলের দরজা থেকে জান্নাতে ডাকা হবে ১ সৎকাজের ক্ষেত্রে কুনূত শব্দ ব্যবহার করা সংক্রান্ত হাদীস ১ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো উপকরণের ক্ষেত্রে সৎকাজে নিজেকে অভ্যস্থ করে তোলা ১ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার ক্ষেত্রে উত্তম হলো শুধু মৌখিক যিকরে সীমাবদ্ধ না থেকে শুকরিয়া স্বরুপ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমেও সৎকাজ করা ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের উপস্থিতিতে সৎকাজ ছেড়ে দিয়েছেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৎকাজ ছেড়ে দিয়েছেন ১ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে আল্লাহর নি‘আমতের শুকরিয়া করা ওয়াজিব, বিশেষত নি‘আমত যদি কোন বিপদাপদের পর আসে ১ সিয়াম না রাখা ব্যক্তি যখন তার প্রতিপালকের শুকরিয়া আদায় করে, তখন তাকে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীল সিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব দান করেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো ফরযসমূহ পালন করা, সাথে সাথে নফল ইবাদত করা এবং নিজের ও পরিবারের হক আদায় করা ১ আমরা যে সুন্নাহর কথা উল্লেখ করলাম, তার ব্যতিক্রম করার ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারী ১ যে সব নফল ইবাদত জিহাদের সমতুল্য ১ কোন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ যে সৎকাজ করার তাওফিক দিয়েছেন, মানুষ যাতে তা অনুসরণ করতে পারে এজন্য তা প্রকাশ করা জায়েয তবে এর মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়ে নিজের খাহেশাত পূরণ করা জায়েয নেই ১ একজন মানুষের উপর আবশ্যক হলো নফল ইবাদত পালন করার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের হক আদায় করা ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো সৎকাজে সদাসর্বদা লেগে থাকা ১ আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল হলো যা মানুষ নিয়মিত পালন করে, যদিও তা পরিমাণে কম হয় ১ যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন বিভিন্ন প্রকার ইবাদতে সচেষ্ট থাকা মুস্তাহাব ১ যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন ও রমযান মাসের মর্যাদা সমান ১ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের মহান আল্লাহ সৎকাজে নিয়োজিত করেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সৎ কাজে সচেষ্ট না হয়ে সমকালীন সৎ ব্যক্তিদের উপর ভরসা করার অভ্যাস পরিত্যাগ করা ১ যে ব্যক্তি ভাল কাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে এক বিঘত বা এক হাত এগিয়ে যায়, তবে আল্লাহর ক্ষমা ও উপায়-উপকরণ সেই ব্যক্তির দুই হাত নিকটবর্তী হয়ে যায় ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির চুল পেঁকে গেলে তার বদৌলতে মহান আল্লাহ সাওয়াব লিখে দেন, গোনাহ মিটিয়ে দেন এবং দুনিয়ায় তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন ১ অমুসলিম ব্যক্তিরাও কোন ভাল কাজ করলে, সেক্ষেত্রে কল্যাণ শব্দ ব্যবহার করা প্রসঙ্গে ১ কোন অমুসলিম ব্যক্তি যদি ভালো আমলও করে, তবুও সেটি পরকালে তার কোন উপকারে আসবে না ১ কাফির ব্যক্তির দুনিয়াতে ভালো কাজ অনেক বেশি হলেও, পরকালে তার কোন উপকারে আসবে না ১ জাহেলী যুগের লোকেরা তাদের বংশীয় লোকদের মাঝে যে উদ্দেশ্যে ভাল ব্যবহার করতো ১ ভালো কাজে অভিমূখী হওয়া একজন ব্যক্তির জন্য জরুরী, যদিও ইতিপূর্বে তার দ্বারা এমন নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত হয়েছে, যা মহান আল্লাহ অপছন্দ করেন ১ যেসব কাজ মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দিবে, সেসব কাজে প্রয়াসী না হয়ে আল্লাহর ফায়সালার উপর ভরসা করা নিষিদ্ধ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসটি সুলাইমান আল আ‘মাশ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের উপর আবশ্যক হলো নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত না থেকে এবং আদিষ্ট বিষয় পালন না করে আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালার উপর ভরসা করে বসে না থাকা ১ বিভিন্ন ভাল কাজ সম্পাদন ও অনেক আদিষ্ট বিষয় প্রতিপালন দ্বারা কম ধোঁকা খাওয়া ওয়াজিব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “প্রত্যেককেই সহজ করে দেওয়া হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর পূর্ব জ্ঞান অনুসারে যা তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে ১ শেষ আমল ভালো হওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিনয়-প্রার্থনা না করে নিজের কৃত ভালো আমলের উপর ভরসা করে বসে না থাকা আবশ্যক ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো শেষ দিকের কর্মের উপর নির্ভর করা; প্রথম দিকের কর্মের উপর নয় ১ যাকে শেষ জীবনে ভালো আমলের তাওফীক দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারেই মূলত কল্যাণ ইচ্ছা করা হয়েছে-এই মর্মে হাদীস ১ শেষ জীবনে কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক ভালো কাজের দরজা খুলে দেওয়া, ঐ ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহর কল্যান চাওয়ার আলামত ১ মৃত্যুর আগে কোন ব্যক্তির জন্য ভালো কাজ উন্মুক্ত হওয়া এমন উপকরণের অন্তর্ভূক্ত যার কারণে মহান আল্লাহ তার পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীর অন্তরে তার জন্য ভালবাসা ঢেলে দেন ১ কোন সময় ইবাদতে অবসাদ অবস্থা আসলে, খুব বেশি নিরাশ না হওয়া আবশ্যক ১ মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া অনুরুপভাবে তাদের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর প্রশস্ত রহমতের উপর ভরসা করে বসে না থাকা যদিও তার আমল অনেক বেশি হয় ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আশা রাখা এবং নিরাশ না হওয়া সাথে সাথে আশা পরিহার করে নিরাশ থাকবে ১ আল্লাহর আদেশ পালন এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকার সময় মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা জরুরী ১ সমস্ত বিষয়াদীতে কঠিন সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিজের ভালো আমলের উপর ভরসা না করা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা এবং মধ্যমপন্থার কাছাকাছি থাকা আর ইবাদতে এমন গভীরে না যাওয়া যে তার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হবে ১ ভালো কাজের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থার কাছাকাছি থাকার নির্দেশ। কেননা পরকালে সফলতা আসবে আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে; অধিক আমলের মাধ্যমে নয় ১ কাছাকাছি থাকার ক্ষেত্রে সকালে, বিকেলে ও রাতে ভালো আমল করার নির্দেশ ১ একজন ব্যক্তি নম্রতার সাথে আমল করবে এবং আমলের ক্ষেত্রে নিজের শরীরের অংশকে পরিহার করবে না ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে এমন নির্দেশ দেন ১ যে সব (নফল) ইবাদতের চাপ নিজের উপর বহন করতে পারবে না, সেসব ইবাদত ছেড়ে দেওয়া মুস্তাহাব ১ মানুষের উপর যা বহন করা কঠিন তা বহন না করে মহান আল্লাহ এক্ষেত্রে যে অবকাশ দিয়েছেন তা গ্রহণ করা কর্তব্য ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ভালো আমলের ক্ষেত্রে নমনীয়তা অবলম্বন করা এবং নিজের উপর এমন কিছু চাপিয়ে না নেওয়া যা সে বহন করতে পারবে না ১ ইবাদতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করার নির্দেশ, এবং নিজের উপর এমন কিছু চাপিয়ে নিবে যা সে পালন করতে পারবে না ১ মানুষের উপর আবশ্যক হলো মধ্যমপন্থার উপকরণ আঁকড়ে ধরা এবং যতটুকু আমল সম্পন্ন করতে তাতে শুভ সংবাদ গ্রহণ করা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আমলের ক্ষেত্রে সহজতা অবলম্বন করা এবং নিজের উপর সাধ্যাতিত বিষয় চাপিয়ে না নেওয়া ১ মানুষের জন্য বিভিন্ন সৎ আমলের যেসব ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, সেসব দ্বারা ধোঁকা না খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো প্রতিটি ভালো হতে কিছু আমল করা যাতে এর কোন একটি দিয়ে পরকালে নাজাত পেতে পারে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো গোপনে-প্রকাশ্যে সবসময় ইবাদতে লেগে থাকা যাতে তার মাধ্যমে সে পরকালে নাজাত পেতে পারে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার অবস্থার সংশোধন করা যাতে এটি তাকে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকে প্রিয় করে তুলে ১ জ্ঞানবান ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের মাঝে যখন খাস ব্যক্তিবর্গ কোন ব্যক্তিকে ভালোবাসে, সম্মান করে, তবে সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহর ভালোবাসা থাকার প্রমাণ ১ যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে আসমান ও জমিনবাসীও ভালোবাসেন এই মর্মে হাদীস ১ ভালো আমলের জন্য কোন মানুষের প্রতি অন্যান্য মানুষের মানুষের ভালোবাসা যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করলাম, এটি সে ব্যক্তির জন্য দুনিয়াতে ত্বড়িৎ অগ্রীম শুভ সংবাদ ১ কোন ব্যক্তির প্রতি মানুষের প্রশংসা, গুণকীর্তন করা- এটি ঐ ব্যক্তির জন্য দুনিয়াবী শুভ সংবাদ ১ মুসলিমদের মাঝে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসবে, মহান আল্লাহ তার ভালো বা মন্দ কর্মের তুলনায় বহুগুণ ভাল বা মন্দ গুণকীর্তন করেন ১ তৃতীয় পরিচ্ছেদ - মহান আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন যা কোন মানব ইন্দ্রীয় বর্ণনা দিতে পারবে না ১ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মু‘মিন ব্যক্তিদেরকে দুনিয়াতে তাঁদের কৃতকর্মের জন্য পরকালে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে অত্র হাদীসটি কাতাদা বিন আনাস এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ যে বৈশিষ্ট্যগুলো পালন করলে একজন ব্যক্তি আল্লাহর যামিনে চলে যায় ১ যেসব বৈশিষ্টসমূহ একজন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত আবশ্যক করে দেয় ১ কিছু বৈশিষ্ট্য যার সবগুলো অথবা কিছু বৈশিষ্ট্য কোন ব্যক্তি আমল করলে, তিনি জান্নাতবাসী হবেন ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য গোপনে ও প্রকাশ্যে কোন আমল করে, তার জন্য প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সাওয়াব লিখেন অতঃপর কারণ ছাড়াই তা অন্যের অবগতিতে চলে আসে ১ মানুষ সৎ আমলের মাধ্যমে স্রষ্টার যতোটা নিকটবর্তী হয়, আল্লাহর ক্ষমা অনুগত বান্দার প্রতি তারচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় ১ কোন কোন মু‘মিন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ দুনিয়াতে তার ভাল কর্মের প্রতিদান দেন যেভাবে তিনি দুনিয়াতে মন্দ কর্মের প্রতিদান দিয়ে থাকেন ১ কোন কোন সময় একজন ব্যক্তির একটি ভাল কাজের মাধ্যমে অতীতের অনেক গুনাহ মাফের আশা করা যায়- এই মর্মে হাদীস ১ ভাল আমলকারীর জন্য মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে দশগুণ সাওয়াব আর মন্দ আমল কারীর জন্য একটি গোনাহ লিখেন ১ কোন ব্যক্তি পাপ কাজ করতে উদ্যত হওয়ার পর তা ছেড়ে দিলে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাকে পাপ ছেড়ে দেওয়ার কারণে তাকে একটি সাওয়াব লিখে দিবেন ১ যে ব্যক্তি মন্দ করার চিন্তা করার পর যদি তা না করে, তবে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেন, আর যখন সেটি বাস্তবায়ন করে, তখন তার জন্য একটি গোনাহ লিখেন, আর তাওবা করলে তা মুছে দেন ১ যখন কোন ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছেড়ে দেয়, তখন তার জন্য এর বদৌলতে একটি সাওয়াব লিখে দেওয়া হয় ১ যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজ করার ইচ্ছা করে, সে ব্যক্তি সে কাজ বাস্তবায়ন না করলেও মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেন আর তা বাস্তবায়ন করলে দশগুণ সাওয়াব লিখে দেন ১ যখন আল্লাহ চান তখন কোন ব্যক্তির একটি ভালো কাজের সাওয়াব দশ গুণেরও সাওয়াব লিখে দেন ১ শেষ যামানায় আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য অনুসারে আমলকারী ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তার মত ৫০ জন আমলকারীর সাওয়াব দান করবেন ১ সামান্য নফল ইবাদতেও কখনও কখনও অনেক বড় বড় গোনাহ ক্ষমা করা হয় ১ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু নিষিদ্ধ কাজ করার ক্ষমতা থাকা সত্তেও যে ব্যক্তি পরিত্যাগ করবে, তার ক্ষেত্রে আশা করা যায় এর মাধ্যমে তার অতীত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে- এই মর্মে হাদীস ১ ইখলাস ও গোপন আমল ২ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো অন্তর হেফাযত করা এবং গোপন কাজের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া কেননা গোপন কাজ আল্লাহর নিকটে গোপন নয় ১ যে ব্যক্তি ধারণা এই আবু দ্বুহা থেকে কেবল আ‘মাশ হাদীসটি শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয় এমন প্রতিটি আমল বিশেষত শেষ পর্যায়ের আমলের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা অবলম্বন করা এবং নিয়ত পরিশুদ্ধ করা আবশ্যক ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো স্বীয় প্রভুর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো জান-মালের ব্যাপারে যত্নবান না হয়ে নিজের হৃদয় ও আমলের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে ইবাদতকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ না করবে, পরকালে তার কোন সাওয়াব দেওয়া হবে না ১ ইখলাস মুসলিম ব্যক্তিকে উপকার দিবে এমনকি ইসলামপূর্ব সময়ে যা মন্দ কাজ করেছিল তা মিটিয়ে দিবে, আর নিফাক থাকলে তার কোন সৎ আমল উপকারে আসবে না ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার গোপন বিষয়ে যত্নবান হওয়া এবং নগন্য গণ্য করা হয় এমন ভাল কাজে অবজ্ঞা না করা ১ একজন ব্যক্তি আত্নিক পরিশুদ্ধি ও নিজের গোপন দিক ভালো করার মাধ্যমে কোন কোন সময় এমন কিছু পায়, যা অনেক কষ্টসাধ্য আমল করেও পাওয়া যায় না ১ কিছু বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে একজন মানুষ আমাদের বর্ণনাকৃত উচ্চ মাকামে পৌঁছতে পারে, যাতে অনেক নফল ইবাদত ও ভাল কাজের চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে পৌঁছতে পারে না ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, যে ব্যক্তি তা পালন করবে, সে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের অন্তর্ভূক্ত হবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো গোপন আমল চর্চার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো গোপন সময়ে নিজের অবস্থার হেফাযত করা ১ যেসব কাজ মহান আল্লাহ অপছন্দ করেন, যা মানুষ জনসম্মুখে করে না, এমন কাজ নির্জনে সংঘটিত করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ যে ব্যক্তি তার কোন আমলে শিরক করবে, পরকালে সে ব্যক্তি তার আমলের কোন সাওয়াব পাবে না ১ আমলে আল্লাহর সাথে শিরক করার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে খ্যাতি লাভের জন্য এবং লোক দেখানো ইবাদত করবে, সে ব্যক্তি পরকালে তার আমলের কোন সাওয়াব পাবে না ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি লোক দেখানো আমল করবে, কিয়ামতের দিন সে প্রথম জাহান্নামে যাবে। আল্লাহর কাছে এমনটা হওয়া থেকে পানাহ চাই! ১ ইলমে হাদীসে যার পরিপক্বতা হয়নি, তাকে যে হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ছেলের সম্পদ বাবার জন্য ১ ঐ উপায় সম্পর্কে সতর্কীকরণ, যে উপায়ে একজন ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গালি দেয় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসে মিস‘আর বিন কিদাম ভুল করেছেন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ পিতৃপুরুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্পর্কে হুশিয়ারী, কেননা এই ধরণের কাজ এক ধরণের কুফরী ১ পিতৃপুরুষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী! কেননা কোন ব্যক্তির তার বাবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এক প্রকার কুফরী ১ যে ব্যক্তি নিজের বাবা ব্যতিত অন্য কাউকে বাবা হিসেবে পরিচয় দিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না ১ আমরা পূর্বে যে দুটি বিষয় উল্লেখ করলাম, যে ব্যক্তি এই দুটি কাজ করবে, তার উপর আল্লাহ ও ফেরেস্তাদের লা‘নত ২ যে ব্যক্তির জীবদ্দশাতেই বাবা-মা মারা গিয়েছেন, তিনি বাবা-মার সাথে সদাচারণ কীভাবে করবেন, তার বিবরণ ১ বাবা-মার অন্তরে হাসি ফুটানো নফল জিহাদের সমপর্যায়ভূক্ত ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর রাস্তায় নফল জিহাদের উপর বাবা-মার সাথে সদাচারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া ১ বাবা-মার সদাচারণে প্রাণান্তকর চেষ্টা করাই হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের সদাচারণ ১ নফল জিহাদের চেয়ে বাবা-মার সদাচারণ করা উত্তম ১ একজন মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো নফল জিহাদের উপর বাবা-মার সাথে সদাচারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেওয়া ১ একজন মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার পিতা-মাতার সাথে সদাচারণে অত্যধিক যত্নবান হওয়া যাতে তিনি এর মাধ্যমে সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন ১ অধিক পরিমাণে পিতা-মাতার সাথে সদাচারণের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের আশা করা যায় ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো বাবা নির্দেশ দিলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া, যদি এতে তার দ্বীনের ক্ষতি না হয় বা রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা না হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহুমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবার কথা মেনে স্ত্রীকে তালাক দিতে ১ বাবা মুশরিক হলেও তার সাথে সদাচারণ করা মুস্তাহাব যদি তাতে আল্লাহর নাফরমানী না হয় ১ বাবাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার আশা ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো বাবার মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সদাচারণের আশায় তাঁর ভাইদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, অত্র হাদীসটি ওয়ালিদ বিন আবুল ওয়ালিদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন ১ বাবার মৃত্যুর পর তাঁর ভাইদের সাথে সদাচারণ করা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা কবরস্থ বাবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার শামিল ১ সদাচারণের ক্ষেত্রে বাবার উপর মাকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্পর্কে হাদীস ১ যদি গোনাহ অবধারিত করে এমন কিছু না থাকে, তবে সদাচারণের ক্ষেত্রে বাবার উপর মাকে অধিক অগ্রাধিকার দিবে ১ যখন বাবা-মা না থাকে তখন একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো তার খালার সাথে সদাচারণ করা ১ পরিবারের লোকদের সাথে উত্তম আচরণের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা কারণ তিনি তাঁর পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি ছিলেন ১ যে অসুস্থতায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গিয়েছেন, সে অসুস্থতায় তিনি উম্মতকে রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করেছেন ১ যখন কোন ব্যক্তি অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে তিনি রিযিকে বরকত ও নিরাপদ-সুখময় জীবন লাভ করবেন ১ যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে তিনি রিযিকে বরকত ও নিরাপদ-সুখময় জীবন লাভ করবেন, যখন এসবের সাথে তাকওয়া যুক্ত হবে ১ উল্লেখিত আনাস বিন মালিকের হাদীস যা আমরা ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ মহান আল্লাহ যখন গর্ভাশয় বা রক্তসম্পর্ক সৃষ্টি করেন, তখন সেটি আল্লাহর কাছে রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী থেকে আশ্রয় চায়, মহান আল্লাহ তখন তাকে জানায় যে, যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে, তিনি সেই ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবেন আর যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন ১ যে ব্যক্তি রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথে মন্দ আচরণ করে, তার ব্যাপারে রক্ত সম্পর্ক আল্লাহর কাছে অভিযোগ করা প্রসঙ্গে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “الرَّحِمُ شِجْنَةٌ مِنَ الرَّحْمَنِ “এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ‘الرَّحِمُ’ (রক্ত সম্পর্ক বা জরায়ূ) শব্দটি ‘الرَّحْمَن’ (সর্বদয়ালূ) নাম থেকে নির্গত। ১ আমরা যে الرَّحِمُ (রক্ত সম্পর্ক বা জরায়ূ) এর অভিযেোগের কথা আলোচনা করলাম সেটি কিয়ামতের দিন হবে; দুনিয়াতে নয় ১ যার উপর রক্ত সম্পর্ক বজায়কারী নাম প্রযোজ্য হবে, তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি বোনদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে ১ (বোন বা কন্যাদের সাথে) কতদিন সদাচারণ করলে এই সাওয়াব পাওয়া যাবে ১ সন্তানের সাথে সদাচারণের মাধ্যমে কোন কোন সময় জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ ও জান্নাতে প্রবেশের আশা করা যায় ১ কেউ রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তার সাথে সম্পর্ক বজায় জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ ১ রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা সত্তেও যে ব্যক্তি সম্পর্ক বজায় রাখে, মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি দারাওয়ারদী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ একজন নারীর জন্য বৈধ হলো রক্তসম্পর্কীয় মুশরিক কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, যখন তার ইসলাম গ্রহণের আশা থাকে ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো তার নিকটাত্মীয় মুশরিক ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যখন তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা থাকে ১ রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না ১ রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারীর জন্য দুনিয়াতেই শাস্তির আশংকা ১ রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারীকে মহান আল্লাহ দুনিয়াতেই দ্রুত শাস্তি দেন ১ একজন ব্যক্তি মুসলিমদের সন্তানদের প্রতি দয়া করবেন এই আশায় যে, মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম করবেন ১ মুসলিম বড় ব্যক্তিদের সম্মান আর ছোটদের প্রতি দয়া না করার ব্যাপারে ধমকী ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আদম সন্তানের উপর কোমল আচরণ করা ১ ঐ ব্যক্তি অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেই, যে ব্যক্তি ইয়াতিমদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তাদের মাঝে ইনসাফ করে এবং যুলম করা থেকে দূরে থাকে ১ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে দয়াশীলদের প্রতিই দয়া করেন ১ ভাগ্যবান ব্যক্তিদের মাঝেই কেবল দয়া থাকে- এই মর্মে হাদীস ১ দুনিয়াতে যে ব্যক্তি মানুষের উপর দয়া করে না, আল্লাহও তার উপর দয়া করেন না ১ কেবল হতভাগ্যদের থেকেই দয়া উঠিয়ে নেওয়া হয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ দুনিয়াতে যে ব্যক্তি মানুষের উপর দয়া করে না, আল্লাহও তার উপর পরকালে দয়া করবেন না ১ মানুষের সাথে প্রশস্ত চেহারার পাশাপাশি কথা-বার্তায় নম্রতা অবলম্বন করার নির্দেশনা ২ যখন কোন ব্যক্তি নরম-কোমল প্রকৃতির, মানুষের নিকটবর্তী থাকে এবং সহজ-সরল হয়, এর মাধ্যমে তার জন্য জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতির আশা করা যায় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে হাদীসটি ‘আবদাহ বিন সুলাইমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজে লিপ্ত না হয়ে সমকালীন ব্যক্তিদের সাথে কোমল আচরণ করে, মহান আল্লাহ তার জন্য সাদাকাহ লিখে দেন ১ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে উত্তম কথা বলে, মহান আল্লাহ তার জন্য সাদাকাহ লিখে দেন ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির নিকট সম্পদ না থাকলে ভাল কথা বলা সম্পদ ব্যয় করার স্থলাভিষিক্ত হবে ১ কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে মুচকি হেঁসে কথা বলা মহান আল্লাহ তার জন্য সাদাকাহ লিখে দেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক উত্তম কথাকে খেজুরের সাথে আর মন্দ কথাকে তিক্ত শশার সাথে উপমা প্রদান ১ যে সব আমল মানুষকে অধিক পরিমাণে জান্নাতে নিয়ে যাবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তাকওয়া ও সচ্চরিত্র ১ মানুষের মাঝে সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তি হলো যিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ১ একজন মানুষকে যা কিছু প্রদান করা হয়, তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হলো সচ্চরিত্র ১ ঈমানের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ ঐ ব্যক্তি যিনি চরিত্রের দিকে দিয়ে সর্বোত্তম ১ একজন ব্যক্তি সচ্চরিত্রের মাধ্যমে সারারাত কিয়াম ও সারাদিন সিয়াম পালনের মর্যাদা প্রাপ্তির আশা করতে পারে ১ কিয়ামতের দিন একজন ব্যক্তি তার সচ্চরিত্রকে মীযানের পাল্লায় সবচেয়ে বেশি ভারী আমলসমূহের মাঝে অন্যতম পাবে ১ চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবেন ১ একজন ব্যক্তি উভয় জগতে তার সচ্চরিত্র দ্বারা এতটা উপকৃত হবেন যা তার বংশ দ্বারা সম্ভব নয় ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো দীর্ঘায়ূ হলে চরিত্র সুন্দর করা ১ যার চরিত্র সুন্দর হবে, কিয়ামতের দিন তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসার জায়গা হবে ১ দুনিয়াতে যার চরিত্র সুন্দর হবে, পরকালে সে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়পাত্র হবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো অন্যকে ক্ষমা করা; মন্দ এর প্রতিদানে মন্দ না করা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো কেউ সম্মানহানী করলে বা কষ্ট দিলে নিজের জন্য তার প্রতিশোধ না নেওয়া ১ যে ব্যক্তি সুন্দর কথা বলে এবং সালাম প্রদান করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায় ১ মুসলিমদের মাঝে সালামের বিস্তার ঘটানোর মাঝে নিরাপত্তা রয়েছে ১ সালামের সময় মুসলিমদের সাথে মুসাফাহ করা বৈধ ১ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে পরিপূর্ণভাবে সালাম দেয়, তার জন্য সাওয়াব লিপিবদ্ধকরণ ১ যে ব্যক্তি কোন কওমের মজলিসে এসে বসবে, সে ব্যক্তি সালাম দিবে অনুরূপভাবে সালাম দিবে যখন সে মজলিস থেকে উঠে যাবে ১ যখন কোন ব্যক্তি কোন কওমের মজলিসের কাছে পৌঁছবে, তখন সালাম দিবে অনুরূপভাবে যখন সেখান থেকে ফিরে আসবে তখনও সালাম দিবে ১ যে ব্যক্তি কোন কওমের মজলিসে আসবে, সে ব্যক্তি সালাম দিবে অনুরূপভাবে সালাম দিবে যখন সে সেখান থেকে উঠে যাবে ১ অল্প সংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে, পদব্রজ ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে এবং আরোহী ব্যক্তি পদব্রজ ব্যক্তিকে সালাম দিবে ১ দুই পদব্রজ ব্যক্তির একজন যখন তার সঙ্গীকে প্রথমে সালাম দিবে, সে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে ১ যে ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করার সময় তার পরিবারের লোকদের সালাম দেয় সে ব্যক্তি মারা গেলে মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশের জামিন হন আর বেঁচে থাকলে তার ও তার রিযিকের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান ১ ইয়াহুদি ও খ্রীষ্টানদের আগে সালাম দেওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী ২ মুসলিম ব্যক্তির জন্য জায়েয আছে আহলে যিম্মাহ (মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম) প্রদত্ত সালামের জবাব দেওয়া ১ ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানরা সালাম দিলে কীভাবে তার জবাব দিতে হবে, তার বিবরণ ১ সুন্দর কথা বলা ও অন্যকে খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ১ যে ব্যক্তি মানুষকে খাদ্য খাওয়ায়, সালামের প্রচলন ঘটায় সাথে সাথে দয়াময় আল্লাহর ইবাদত করে, সে ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার প্রত্যাশা ১ নিশ্চয়ই মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো এবং সালামের প্রচলন ঘটানো ইসলামের অন্তর্ভূক্ত ১ নিশ্চয়ই মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো ঈমানের অন্তর্ভূক্ত মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি সালামের প্রচলন ঘটায়, মানুষকে খাদ্য খাওয়ায় সাথে অন্যান্য ইবাদত করে, সে ব্যক্তি অবধারিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে ১ যে ব্যক্তি মানুষকে খাদ্য খাওয়ায়, নিয়মিত রাতের সালাত আদায় করে এবং সালামের প্রচলন ঘটায়, তার জন্য মহান আল্লাহ যে প্রাসাদ প্রস্তুত করে রেখেছেন তার বিবরণ ১ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত - এই মর্মে হাদীস ২ মহান আল্লাহ প্রতিবেশীর হককে যে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন এই মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো প্রতিবেশীর সাথে সদাচারণ করা এই আশায় যে এর বদৌলতে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ১ তরকারীর ঝোলে পানি বেশি দেওয়া অতঃপর প্রতিবেশীকে সেখান থেকে কিছু তরকারী দেওয়ার নির্দেশ ১ কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কিছু তরকারী দিবে; খুব কার্পণ্য করে দিবে না আবার সীমালঙ্ঘন করে অনেক বেশিও দিবে না ১ প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে কাঠ পুঁততে নিষেধ করার ব্যাপারে ধমকী ১ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে ধমকী কেননা প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া মু‘মিনদের কাজ ১ যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করবে, মহান আল্লাহ তাকে জীবন্ত প্রোথিত শিশুকে বাঁচানোর সাওয়াব দান করবেন ১ দুনিয়াতে যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম, সে ব্যক্তি আল্লাহর কাছেও উত্তম প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য হবে ১ উত্তম সঙ্গী ও উত্তম প্রতিবেশী সম্পর্কে হাদীস ১ প্রতিবেশী কষ্ট দিলে ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক ১ কোন মুসলিমের সাথে হাসিমুখে কথা বলা সৎ আমলের অন্তর্ভূক্ত ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো মন্দ কাজ করার পর সাধ্যমত ভাল কাজ করা ১ একজন বক্তির সৎকর্মপরায়ন হওয়ার আলামত ১ একজন ব্যক্তির ভাল ও মন্দ হওয়ার প্রমাণ ১ মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি যার থেকে ভাল কিছু আশা করা হয় এবং তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায় ১ মানুষের মাঝে যে ব্যক্তি নিজের ও অন্যের জন্য উত্তম ও মন্দ হিসেবে বিবেচিত ১ পথহারা ও অন্ধ ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেওয়া সাদাকার অন্তর্ভূক্ত ১ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে তার কষ্ট দূর করার জন্য শাসকের কাছে পৌঁছার মাধ্যম হয়, মহান আল্লাহ তাকে পুলসিরাত পার করাবেন ১ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য শাসকদের কাছে সুপারিশ করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো মুসলিমদের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হওয়া ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে, মহান আল্লাহ তার প্রয়োজন করবেন ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুসলিম ব্যক্তির বিপদ দূর করবে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো দুর্বলদের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তাদের কার্যসম্পাদন করে দেওয়া, যদিও তিনি অন্যের কোন কাজে নিয়োজিত থাকেন ১ যে ব্যক্তি মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলে তার জন্য ক্ষমার আশা ১ যে ব্যক্তি মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলে তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তির আশা ১ যে ব্যক্তি রাস্তা থেকে কাঁটার ডাল সরিয়ে ছিলেন, তিনি এছাড়া আর কোন আমল ইতিপূর্বে করেননি ১ ঐ ব্যক্তিকে তার সেই কাজের জন্য তার পূর্বের ও পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় ১ যে ব্যক্তি গাছ বা দেওয়াল থেকে কষ্টদায়ক বস্তু, যার মাধ্যমে মুসলিমরা কষ্ট পান, তা অপসারণ করে, তার জন্য ক্ষমার আশা ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা কেননা এটি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ১ যে ব্যক্তি কোন প্রাণীকে পানি পান করায়, মহান আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিবেন ১ যে ব্যক্তি কোন তৃষ্ণার্ত চতুষ্পদ প্রাণীকে পানি পান করাবে, তার জান্নাতে প্রবেশ করার আশা প্রসঙ্গে আলোচনা ১ চতুষ্পদ প্রাণীর প্রতি দয়া করা কোন কোন সময় এর বদৌলতে পরকালে পাপ মোচনের আশা করা যায় ১ চতুষ্পদ প্রাণীর প্রতি সদাচারণ না করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ পরকালে নাজাতের আশায় চতুষ্পদ প্রাণীর উপর সদাচারণ করা মুস্তাহাব ২ সমস্ত বিষয়ে কোমলতা প্রদর্শন করা মুস্তাহাব কেননা মহান আল্লাহ তা পছন্দ করেন ১ যে ব্যক্তি কাজে-কর্মে কোমলতা থেকে বঞ্চিত, সে ব্যক্তি কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ১ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কোমলতার উপর সাহায্য করেন এভাবে যে, তিনি কোমলতার জন্য যা দেন, কঠোরতার জন্য তা দেন না ১ নিশ্চয়ই কোমলতা বস্তুকে সুশোভিত করে তুলে আর কঠোরতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে তুলে ১ সমস্ত বিষয়ে অবধারিতভাবে কোমলতা অবলম্বন করার নির্দেশ, কেননা সবসময় কোমলতা অবলম্বন করা এটি দুনিয়া ও আখিরাতে তার শোভাবর্ধন করবে ১ সকল কাজে-কর্মে কোমলতা অবলম্বন করা ব্যক্তির জন্য আবশ্যক ১ যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাথে আচার-আচরণে কোমলতা অবলম্বন করে, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে এর দু‘আ আর যে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করে, তাদের জন্য তাঁর বদ-দু‘আ ১ একজন ব্যক্তি যেন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছাড়া কাউকে সঙ্গী না বানায় এবং তাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য খরচ না করে ১ মু‘মিন ছাড়া অন্য কাউকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা এবং মুত্তাকী ছাড়া অন্য কাউকে খাদ্য খাওয়ানোর ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ কোন ব্যক্তি কর্তৃক সৎ ব্যক্তিদের ভালবাসা ঐ ব্যক্তিকে তাদের সাথে জান্নাতে পৌঁছে দিবে, যদিও সে ব্যক্তি আমলে তাদের সমপর্যায়ভূক্ত নয় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উল্লেখিত হাদীসটি সেই ব্যক্তির সাথেই নির্দিষ্ট; সবার জন্য প্রযোজ্য নয়, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ সৎ ব্যক্তি ও তাদের মত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বারাকাহ নেওয়া মুস্তাহাব ১ দ্বীনদার জ্ঞানী মাশাইখদের সাথে থেকে তাঁদের থেকে বারাকাহ নেওয়া মুস্তাহাব ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো তার খাবার ও সাহচর্যতার ক্ষেত্রে তিনি মুত্তাকী ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিবেন ১ সেসব ব্যক্তিদের সাথে উঠা-বসা করার নির্দেশ যারা দ্বীনদার, সৎ; সেসব মুসলিমদের সাথে নয়, যারা এর বিপরীত চরিত্রের অধিকারী ১ কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে যাকে ভালবাসে, তার সাথে জান্নাতে যাওয়ার আশা প্রসঙ্গে ১ প্রশ্নকারী সাহাবী বস্তুত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসা সম্পর্কে বলেছেন ১ কোন মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক কোন কওমকে ভালবাসার ক্ষেত্রে ভাল নিয়ত থাকলে মহান আল্লাহ তাকে ভাল প্রতিদান দেন আর মন্দ নিয়ত থাকলে মন্দ প্রতিদান দেন ১ বাতিলপন্থীরা যে হাদীসের সঠিক মর্মার্থ বুঝতে না পেরে মুহাদ্দিসগণের নিন্দা করে থাকে ১ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের কাছে প্রিয় হবে, সে ব্যক্তি উত্তম ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হবে ১ কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা বা তাকে বিভিন্ন উপায়-উপকরণে ধোঁকা দেওয়ার ব্যাপারে সতর্তীকরণ ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির স্ত্রী বা গোলামকে খারাপ বানানোর ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ কোন মুসলিম ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালবাসলে তাকে ভালবাসার কথা জানিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব ১ কোন ব্যক্তি তার ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালবাসলে, তাকে ভালবাসার কথা জানিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, উক্ত হাদীসের আদৌ কোন ভিত্তি নেই, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালবাসা ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর ভালবাসা ১ কিয়ামতের দিন; যেদিন মানুষ চিন্তিত ও ভীত থাকবে, সেদিন আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালবাসা পোষনকারীদের অবস্থার বিবরণ ১ কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সেসব ব্যক্তিদের তাঁর ছায়া প্রদান করবেন, যারা তাঁর জন্য পরস্পরকে ভালবাসে, মহান আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তাঁদের অন্তর্ভূক্ত করুন! ১ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যের সাথে বসে, একে অন্যকে দেখতে যায়, তাদের জন্য আল্লাহর ভালবাসা অবধারিত হওয়ার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তার জন্য আল্লাহর ভালবাসা অবধারিত হওয়া প্রসঙ্গে ১ আল্লাহর ভালবাসা সেসব ব্যক্তিদের জন্য অবধারিত যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরের শুভাকাঙ্খী হয় একে অন্যের জন্য খরচ করে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার মুসলিম ভাইয়ের মন জয় করা, যদি তাতে কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কিছু না থাকে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সৎ সঙ্গীকে আতর বিক্রেতার সাথে উপমা প্রদান, যার কাছে মানুষ উঠাবসা করলে আতরের ঘ্রাণ পায়, যদিও সে আতর ক্রয় না করে ১ তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতে দুইজন মুসলিম ব্যক্তির সংগোপনে কথা বলার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ দুইজন মুসলিম ব্যক্তির সংগোপনে কথা বলার ব্যাপারে হুশিয়ারী, যখন তাদের কাছে তৃতীয় কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকে ১ দুইজনের উপস্থিতিতে মুসলিমদের পারস্পরিক গোপন সংলাপে লিপ্ত হওয়া জায়েয হওয়ার ব্যাপারে হাদীস ১ আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে সুস্পষ্ট হাদীস ১ যে কারণে এই ধরণের কাজ করতে বারণ করা হয়েছে ১ মুসলিমদের মজলিসগুলোর বিবরণ ১ মজলিস যখন সংকীর্ণ হয় যাবে, তখন তাদের জন্য আবশ্যক একজনকে না উঠিয়ে দিয়ে বরং অন্যকে বসার সুযোগ করে দিবে এবং বসার জায়গা প্রশস্ত করবে ১ কাউকে তার জায়গা থেকে উঠিয়ে দিয়ে, তার সেখানে নিজে বসার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ কোন ব্যক্তি তার জায়গা থেকে উঠার পর পুনরায় ফিরে আসলে সেই জায়গার ক্ষেত্রে সে অন্যের চেয়ে বেশি হকদার হবে ১ বসার সময় বাম পার্শ্বে হেলান দেওয়া বৈধতা প্রসঙ্গে ১ কোন মজলিস থেকে আল্লাহর যিকর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠ না করে উঠে গেলে কিয়ামতের দিন তা অনুতাপের কারণ হবে ১ আমরা যে অনুতাপের কথা উল্লেখ করলাম, তা সেসব ব্যক্তিদের জন্য হবে যাদের কথা আমরা উল্লেখ করলাম, যদিও তারা জান্নাতে প্রবেশ করে ১ আল্লাহর যিকর না করে মজলিস থেকে উঠে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ এমন একটি জিনিসের আলোচনা যা কোন ব্যক্তি যদি মজলিস থেকে উঠার সময় বললে আর যদি মজলিসটি ভাল মজলিস হয়, তবে তা দিয়ে মহরাঙ্কিত করা হবে আর কোন অসার কথা-বার্তার মজলিস হলে তা তার জন্য কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে ১ কোন মজলিসে যে অসার কথা-বার্তা হয়, উপরিউক্ত বাক্যগুলি যে ব্যক্তি বলবেন, মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি মুসলিমদের রাস্তায় বসবে, তাকে যেসব বৈশিষ্টগুলো পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ হাঁচিদানকারী হাঁচি দেওয়ার সময় ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বললে তার জবাব কী বলা হবে ১ আমরা যেভাবে বিবরণ দিলাম, যে ব্যক্তি সেভাবে হাঁচিদানকারীর জবাব দেয়, হাঁচিদানকারী ব্যক্তি তখন যা বলে জবাব দিবেন ১ হাঁচিদানকারী ব্যক্তি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ না বললে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) না বলার বৈধতা প্রসঙ্গে ১ হাঁচিদানকারী ব্যক্তি যদি আল্লাহর প্রশংসা না করে, তবে তার হাঁচির জবাব না দেওয়া আবশ্যক ১ যে দুইজন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাঁচি দিয়েছিলেন, তাদের বিবরণ ১ সর্দি লাগা ব্যক্তির হাঁচি দিলে প্রথম হাঁচির সময় হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বলা ওয়াজিব, এর পরের হাঁচির সময় দু‘আ না বলা ক্ষমার যোগ্য বিবেচিত হবে ১ মানুষদের থেকে আলাদা থাকা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের পর শ্রেষ্ঠ আমল ১ নির্জনে ইবাদত করা ফযিলতগতভাবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের পরেই মর্যাদা রাখে ১ যে ব্যক্তি তার ছাগ পাল নিয়ে একাকী আলাদা হয়ে যায়, সাথে সাথে সে আল্লাহর ইবাদত করেন, সে ব্যক্তি উল্লেখিত সাওয়াব পাবে, যদি সে ব্যক্তি তার হাত ও জবান দ্বারা মানুষকে কষ্ট না দিয়ে থাকে ১ পিতা-মাতার হক ১ সালামের প্রচলন ঘটানো এবং মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো ১ ভাল ও পুণ্যের কাজ ১ রাস্তায় বসা প্রসঙ্গে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ভালো কাজ করা ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে অত্যধিক সচেষ্ট হওয়া ১
৭. মন গলানো সুমিষ্ট উপদেশমালা (كِتَابُ الرَّقَائِقِ)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন লজ্জা ১ শয়তান মানুষের কাছে নিষিদ্ধ কাজ যখন সুশোভিত করে তুলে, তখন মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো লজ্জাকে আঁকড়ে ধরা ১ দ্বিতীয় আরেকটি হাদীস যা আমাদের উল্লেখিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে ১ লজ্জা ঈমানের অংশসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি অংশ। কেননা ঈমান বেশ কিছু অংশ সংবলিত শাখাসমূহের সমষ্টি, যে সম্পর্কে আলোচনা গত হয়ে গেছে ১ তাওবা (অনুশোচনা হলো তাওবা এই মর্মে হাদীস) ১ আবু সা‘ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর যে হাদীস মানুষের সামনে পেশ করা হয়, যা আমরা বর্ণনা উল্লেখ করলাম, তা তার সানাদ বিশুদ্ধ এই মর্মে সুস্পষ্ট হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে স্পষ্ট দ্বিতীয় হাদীস ২ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার থেকে যে ত্রুটি সংঘটিত হয়ে যায়, সেজন্য সবসময় আফসোস ও অনুশোচনা করা যাতে মহান আল্লাহ তার গোনাহ ক্ষমা করে দেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো কোন ভুল হলে অথবা ভুলে গেলে সব সময় তাওবা করা ও আল্লাহ অভিমুখী হওয়া ১ একজন মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সদা সময় এবং সকল উপায়-উপকরণে তাওবার সাথে লেগে থাকা ১ উক্ত ঘটনায় যে হারানো উটের দ্বারা উপমা দেওয়া হয়েছে, সেই উটের বিবরণ সম্বলিত হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার সকল উপায়-উপকরণে তাওবার সাথে লেগে থাকা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন সে নির্জনে থাকবে, তখন সে তার কৃত পাপের জন্য অব্যাহতভাবে কান্না করতে থাকবে, যদিও সে পাপ থেকে দূরে থাকে এবং তার বিপরীত কাজে সচেষ্ট থাকে ১ বান্দা নিজের কৃত পাপ থেকে তাওবা করলে, তার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হওয়া প্রসঙ্গে হাদীস ১ কোন ব্যক্তি প্রত্যেকবার পাপ সংঘটিত করার পর যদি তাওবা করে, তবে সে ব্যক্তি ‘পাপের উপর অনড় থাকার’ সীমা থেকে বেরিয়ে যায় ১ যে ব্যক্তি পাপ কাজ করার পর তাওবা করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে তারপর সালাত আদায় করে, মহান আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন ১ পাপ করে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, যদিও ক্ষমা প্রার্থনা করার আগে সালাত আদায় না করে ১ কোন ব্যক্তি দ্বিতীয়বার পাপ করে তাওবা করলে আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন; যখনই সে তাওবা করে, পাপ থেকে ফিরে আসে, তখনই তিনি ক্ষমা করে দেন ১ মহান আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারীর গোনাহ ক্ষমা করে দেন, যখনই সে আল্লাহ অভিমূখে ফিরে আসে, যতক্ষণ না শিরকের মাধ্যমে তার মাঝে ও আল্লাহর মাঝে পর্দার সৃষ্টি না হয় (আল্লাহর কাছে আমরা এমন হওয়া থেকে পানাহ চাই) ১ মাকহুল রহিমাহুল্লাহ এই হাদীসটি উমার বিন নু‘আইম থেকে শুনেছেন, তিনি হাদীসটি ‍উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন অনুরুপভাবে মাকহুল হাদীসটি সরাসরি উসামা থেকেও শ্রবণ করেছেন- এই মর্মে বর্ণনা ১ তাওবাকারীর উপর আল্লাহর অনুগ্রহ; যখনই সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখনই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন যতক্ষণ না মৃত্যুকালীন গড়গড় শব্দ না করে ১ তাওবাকারীর তাওবা কবুল হবে যখন তাওবা করা হয় সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগে; পরে নয় ১ যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি তাওবা করে দুনিয়া থেকে চলে যায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামে তার স্থানে কোন ইয়াহুদী অথবা খ্রীষ্টানকে প্রবেশ করিয়ে ‍উক্ত তাওবাকারী মুসলিম ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করবেন ১ (আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা) - আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা মুসলিম ব্যক্তির জন্য উৎকৃষ্ট ইবাদতের অন্তর্ভু্ক্ত ১ মা‘বূদের ব্যাপারে সুধারণা পরকালে উপকার দিবে ঐ ব্যক্তির জন্য যার জন্য আল্লাহ কল্যাণ ইচ্ছা করবেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সর্বাবস্থায় সুধারণা পোষণ করে আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষন করা ছেড়ে দেওয়া যদিও দুনিয়াতে মন্দ জীবন-যাপন অনেক বেড়ে যায় ১ মহান আল্লাহ মুসলিম বান্দাকে তা-ই দেন, যা সে আল্লাহর কাছে আশা ও কামনা করে ১ মুসলিম ব্যক্তির প্রতি নির্দেশ হলো সে তার মা‘বুদের প্রতি সুধারণা পোষণ করবে এবং সাথে সাথে ভাল আমলেও ত্রুটি কম করবে ১ আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষন করার জন্য মুসলিম ব্যক্তির প্রতি উৎসাহ প্রদান ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে তাদের মা‘বূদের ব্যাপারে সুধারণা পোষন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন ১ আল্লাহ তা‘আলাকে ধারণাকারীকে তার ধারণা অনুসারেই দিয়ে থাকেন, ভাল ধারণা করলে ভাল, মন্দ ধারণা করলে মন্দই দেন ১ আমরা যে সুধারণার কথা বললাম, তার সাথে অবশ্যই আল্লাহর ভয়ও থাকতে হবে ১ যে ব্যক্তি তার মা‘বূদের ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষণ করবে, তিনি তার সাথে তার ধারণা অনুযায়ী আচরণ করবেন, আর যে ব্যক্তি তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করবে, তিনি তার সাথে অনুরুপ আচরণ করবেন ১ আল্লাহ তা‘আলার অপার অনুগ্রহ তাদের উপর যাদের উপর বিভিন্ন রকমের শাস্তি অবধারিত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তাদেরকে বিভিন্ন রকমের নায-নি‘আমত দান করেন ১ তাক্বওয়া ও আল্লাহভীতি ২ নবীদের দিকে নিজেকে সম্পৃক্তকরণ পরকালে কোন উপকার আসবে না, তাঁদের সম্পৃক্তকারীর কেবল তাক্বওয়া ও আমলে সালেহ-এর মাধ্যমেই উপকার হবে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার সন্তানেরা দুনিয়াতে পাপ কাজ করলেও কোন ক্ষতি নেই- উক্ত কথার অপনোদনে হাদীস (মহান আল্লাহ ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা, তাঁর স্বামী ও সন্তানের প্রতি রাজি-খুশি হোন। অবশ্য তিনি তাঁদের প্রতি রাজি-খুশি হয়েছেন।) ১ নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটবর্তী মুত্তাকীগণ; তাঁর নিকটাত্বীয়গণ নয়, যখন তারা পাপিষ্ঠ হয় ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর হারামকৃত জিনিসের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে, তিনিই প্রকৃত সম্মানিত; সম্ভ্রান্ত বংশের ঐ ব্যক্তি সম্মানিত নয়, যিনি হারাম কাজে লিপ্ত হয় ১ যে ব্যক্তির আল্লাহকে ভয় করার অবস্থা আশাবাদী হওয়ার অবস্থার উপর প্রবল হয়, মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন ১ কোন মানুষের উপর আল্লাহর ভয় প্রবল থাকলে, কিয়ামতের দিন তার নাজাত আশা করা যায়- এই মর্মে হাদীস ১ উল্লেখিত ব্যক্তি দুনিয়াতে কবর খনন করতো (মৃত ব্যক্তিদের কাফনের কাপড় চুরি করার জন্য) ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো গাফিলতি থেকে দূরে থাকা এবং কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক থাকা ১ কিছু বৈশিষ্ট্য যার কোন একটি সম্পাদন করলে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে সেসব পরিত্যাগ করা মানুষের জন্য জরুরী- এই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি কাতাদাহ বিন দি‘আমাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো এমন কাজ থেকে দূরে থাকা, যা সম্পাদন করলে পরকালে শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে ১ মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো সে তার নিজের জন্য দুটো পথ নির্ধারণ করবে; একটি আশার আরেকটি ভয়ের ১ নিজের সৎ আমলের উপর নির্ভর করবে না, যদিও কোন ব্যক্তি সৎকাজ সম্পাদনে সচেষ্ট থাকে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর আযাব থেকে নিজেকে কম নিরাপদ মনে করা (আমরা এর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই), যদিও সে সৎ আমল সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সৎ আমলে ত্রুটির জন্য নিজেকে দোষারোপ করা, যদিও তাতে তার অনেক প্রচেষ্টা থাকে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো নিজের আমলের উপর নির্ভর না করা এবং বিভিন্ন অবস্থায় ‘বাধ্যগত অবস্থার’ প্রতি আশ্রয় নিবে না ১ শয়তান যখন মানুষের কাছে পাপ কাজ সুশোভিত করে তোলে আর সেসময় যখন মানুষ পাপ কাজে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের জন্য কী করা আবশ্যক- এই মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সৎ আমল ও গোনাহের কাজ অল্প হলেও তা অবজ্ঞা করবে না- এই মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো প্রতিটি কাজে পরিণামের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া; তার আয়ুষ্কালের উপর ভরসা করে বসে থাকা উচিৎ নয় ১ বৃষ্টির আগে প্রচন্ড বায়ু প্রবাহের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় (উদ্বিগ্নতার) যে ছাপ প্রকাশ পেত ১ যখন কোন ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে, নির্জনে সৎ আমল করে, সে ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো ভয়ের অবস্থা প্রবল হওয়া যাতে তার মাঝে এসব ইবাদতের মাধ্যমে আত্ন-অহমিকা তৈরি না হয়, যদিও সে ব্যক্তি ভাল মানুষ, দ্বীনদারিতার ক্ষেত্রে মুত্তাক্বী মানুষ ১ কোন মানুষ যদি ওয়াজ করার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে যান, সেটা করা ঠিক আছে ২ দারিদ্রতা, দুনিয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী হওয়া ও অল্পে তুষ্টি প্রসঙ্গে হাদীস ১ যখন মহান আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি তাকে দুনিয়া থেকে রক্ষা করেন ১ নশ্বর এই পৃথিবীতে সফল ব্যক্তিদের সম্পর্কে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ যাকে পবিত্র জীবন-জীবিকা দান করেন- তার সম্পর্কে বর্ণনা ১ যে সব প্রয়োজনাতিরিক্ত জিনিস মানুষকে দুনিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মানুষকে দুনিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলে, সেসব জিনিস বর্জন করার নির্দেশ ১ মুসলিম ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো নশ্বর দুনিয়ার অতিরিক্ত জিনিস থেকে দুরে থাকা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো পরকালে নাজাতের আশায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য ছেড়ে দেওয়া যাতে হারাম ভক্ষণকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে ১ এই উম্মাতের গরীব ব্যক্তিগণ, যারা আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের উপর ধৈর্যধারণ করেন, তাদেরকে ধনীদের (পরকালের) অর্ধ দিবস তথা (দুনিয়ার) পাঁচশত বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে অনুগ্রহ করবেন ১ এই দুনিয়াতে যারা সম্পদশালী কিয়ামতের দিন তাদের জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আটকে রাখা হবে ১ দরিদ্র মুহাজিরদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ হলো মহান আল্লাহ তাঁদেরকে ধনীদের নির্দিষ্ট সময়কাল আগে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ১ অত্র হাদীসে বর্ণিত সংখ্যা দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নেননি ১ নশ্বর এই দুনিয়ার প্রচুর সহায়-সম্পদ প্রাপ্ত ব্যক্তিকেও কোন কোন সময় ফকীর বলা যায় আবার যাকে এই দুনিয়ার সহায়-সম্পদ দেওয়া হয়নি তাকেও অনেক সময় ধনী বলা যায়- এই মর্মে হাদীস ১ আমরা যে ঐশ্বর্যের কথা বর্ণনা করলাম, তার বিবরণ ১ কোন কোন অবস্থায় কিছু দরিদ্র ব্যক্তি ধনী ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হয় ১ আসহাবে সুফ্ফার (মসজিদে নববীর পিছনের দিকে সামিয়ানার নিচে অবস্থানকারী) সাহাবীদের বিবরণ সম্পর্কে হাদীস ১ ইসলাম প্রকাশের প্রথম দিকে প্রধানত মুসলিমের খাবার কী ছিল তার বিবরণ ১ আমরা যে সাহাবীদের খাবারের বিবরণ পেশ করলাম, সেটার কারণ বর্ণনা ১ যে মুসলিম ব্যক্তিকে নশ্বর পৃথিবীর সহায়-সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং তাকে যে দরিদ্রতা দেওয়া হয়েছে, তাতে সে ধৈর্য ধারণ করে, মহান আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ লিপিবদ্ধ করেন ১ ধনীদের উপর গরীবদের মর্যাদার অন্যতম কারণ ১ যারা আল্লাহর আনুগত্য করেন, মহান তাদের জন্য দুনিয়াকে জেলখানা স্বরুপ করেন আর যারা তার অবাধ্য হয়, তিনি তাদের জন্য দুনিয়াকে জান্নাত স্বরুপ করে দেন ১ দুনিয়া মু‘মিনের জন্য জেলখানা স্বরুপ বানানো হয়েছে, যাতে মুসলিমরা দুনিয়ার প্রবৃত্তির চাহিদামূলক বস্তু পরিত্যাগ করে জান্নাতে পরিপূর্ণ নি‘আমত লাভ করতে পারেন ১ নশ্বর এই পৃথিবীর উপায়-উপকরণ বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তনশীল মর্মে হাদীস ১ এই দুনিয়ার যা কিছু অবশিষ্ট থেকে যায়, তা অধিকাংশ সময় বিপদ-আপদ ও পরীক্ষার বস্তু হিসেবে থেকে যায় ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যাকে এই নশ্বর দুনিয়ার উপায়-উপকরণ দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে ধোঁকা কম খাওয়া ১ এই দুনিয়াতে যাকে নারী ও অন্যান্য নি‘আমত দেওয়া হয়েছে, এসবের মাধ্যমে ধোঁকা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে এমন বৈধ কাজ করা থেকে বিরত থাকা যা মানুষকে নশ্বর ও প্রবঞ্চক দুনিয়ার দিকে ঢেলে দেয় ১ মু‘মিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো এমন জিনিস থেকে নিজেকে হেফাযত করা যা তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয় না এবং নিজেকে নশ্বর এই দুনিয়ার সাজ-সজ্জা, উপায়-উপকরণ থেকে নির্লিপ্ত রাখবে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো নশ্বর ও প্রবঞ্চক এই দুনিয়ার যা কিছু মানুষ মালিক হয়, তা অন্যের জন্য ব্যয় করে নিজেকে দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত রাখা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যেসব কাজের মন্দ পরিণাম আশংকা করা হয়, সেসব কাজ থেকে পরিবারকে বিরত রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া ১ নশ্বর দুনিয়ায় একজন মানুষের সেসব গুনাবলী থাকা জরুরী ১ নশ্বর এই দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত লোকের কাছে মর্যাদার মাপকাঠি ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “দুনিয়ার মানুষদের কাছে মর্যাদা হলো সম্পদ।”এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেসব লোক দুনিয়ার কাছে গমন করে ১ যেসব দুনিয়াদার লোকদের কাছে সম্মানের মাপকাঠি হলো সম্পদ, তাদের সম্পদের পরিণতি সম্পর্কে হাদীস ১ নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম সন্তানের খাদ্যের পরিণতিকে দুনিয়ার উপমা হিসেবে স্থাপন করেছেন। ১ দুনিয়ার যেসব জিনিস সমুন্নত হয়, অবশ্যই সেগুলো এক সময় অবনমিত হবে, কেননা দুনিয়ার এসব জিনিস হলো পঙ্কিল, যা নিঃশেষ হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো কল্যাণ ও কল্যাণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শুভ পরিণামের কথা মনকে স্মরণ করে দিয়ে নশ্বর দুনিয়ার প্রয়োজনাতিরিক্ত সহায়-সম্পদ না পাওয়ার ব্যাপারে নিজের মনকে সন্তুষ্ট রাখা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তাকে দুনিয়ার যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট থাকবে সাথে সাথে ইসলাম ও সুন্নাহ মাফিক চলবে ১ মানুষ দুনিয়া থেকে মুক্ত থাকবে এবং দুনিয়ার সেই পরিমাণ সম্পদ গ্রহণ করবে, যা একজন মুসাফির পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে থাকে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো প্রত্যুষে কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ না হলে আক্ষেপ না করা ২ দুনিয়ায় গভীরভাবে লিপ্ত হওয়া পরকালকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যেমনভাবে আখেরাত গভীরভাবে অন্বেষন করা দুনিয়ার প্রয়োজনাতিরিক্ত জিনিসের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন করে ১ দুনিয়াবী সহায়-সম্পত্তিতে অত্যধিক লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্কবার্তা কেননা এটি মানুষকে দুনিয়ার ব্যাপারে আসক্ত করে তোলে, তবে যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন, সে ব্যতীত ১ দুনিয়ার উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে যারা নিম্ন পর্যায়ের তাদের প্রতি লক্ষ্য করার নির্দেশ ১ মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সম্পদ ও দৈহিক গঠনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের মানুষের দিকে তাকাতে; তার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের মানুষের দিকে নয় ১ দুনিয়ার উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দিকে তাকানোর ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ আবু সালিহের হাদীসে যে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির কথা আমরা বর্ণনা করলাম, তার গুণাবলী ১ মানুষের জন্য উত্তম হলো সে নশ্বর এই দুনিয়া থেকে রিক্তহস্ত হয়ে চলে যাবে, তার উপর সহায়-সম্পদের বোঝা থাকার চেয়ে, যার জন্য তাকে হিসাবের মুখোমুখি করা হবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো মনের খাহেশাতের জন্য মনকে তিরস্কার করা এবং মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট স্বীকার করা ১ প্রকৃত শক্তিশালী ঐ ব্যক্তি যিনি প্রবৃত্তির চাহিদা ও ওয়াসওয়াসার সময় নিজের মনের উপর বিজয়ী হয়; ঐ ব্যক্তি নয় প্রকৃত শক্তিশালী নয়, যে নিজের জবানের মাধ্যমে মানুষকে পরাভূত করে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য দুনিয়াতে প্রবৃত্তির চাহিদামূলক কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে- এই মর্মে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ (আল্লাহভীরুতা ও তাওয়াক্কুল) - মানুষের জন্য আবশ্যক হলো উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে পরহেযগারিতা অবলম্বন করা; এমন নয় যে সে ঐ কাজে লিপ্ত হয়ে তার পক্ষে ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে, যদিও তার সে ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর সুযোগ আছে ১ দুনিয়াতে সন্দেহমূলক জিনিসের ব্যাপারে আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের অবস্থার বিবরণ সম্পর্কিত হাদীস ১ নশ্বর এই দুনিয়ার যেসব উপকরণ মানুষকে সন্দেহে নিপতিত করে দেয়, সে ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো কোন অবস্থাতেই আখিরাতের কোন উপকরণের বিনিময়েই নশ্বর এই দুনিয়ার কোন জিনিস গ্রহণ করবে না ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন তার কোন জিনিস হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন সে এজন্য হা-হুতাশ করবে না বরং সে তার জন্য যে প্রতিদান জমা করা হয়েছে, তার প্রতি লক্ষ্য করবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো দুনিয়ার উপকরণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাকে যে অনুগ্রহ দান করেছেন তার উপর ভরসা করা, যা পাননি তার জন্য হা-হুতাশ না করা- এই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি সমস্ত উপায়-উপকরণে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার উপর জান্নাত অবধারিত হওয়া মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সমস্ত জিনিসকে আল্লাহর উপর ন্যস্ত করা ১ মু‘মিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর ফায়সালার উপর প্রশান্ত থাকা এবং তার উদ্দেশ্য পরিপন্থী কোন কিছু জীবনে আসলে কম অস্থির হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হাদীস ১ কোন মানুষ যদি প্রকৃতপক্ষেই সৎকর্মপরায়ন হন, তবে সংকীর্ণ ও অপ্রাপ্তির অবস্থাতেও তার হৃদয় স্বচ্ছল ও পাপ্তির অবস্থার মতই থাকবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সর্বাবস্থায়, সমস্ত উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে মাখলুখাতের সাথে অন্তরের সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো অন্তর দ্বারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করা, এটি তার কথার পরিপন্থী যিনি সতর্কতা অবলম্বন করাকে অপছন্দ করেন ১ কুর‘আন পাঠ করা ১ উচ্চ আওয়াজ ও চুপিসারে এতদুভয়ের মাঝামাঝি আওয়াজে কুর‘আন পাঠ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বেশি প্রিয় ছিল ১ অনুচ্চ আওয়াজে কুর‘আন পাঠ করা আওয়াজ করে পাঠ করার চেয়ে উত্তম ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোন এক উম্মতকে আদেশ করেন, যেন তাঁকে কুর‘আন পাঠ করে শুনানো হয় ১ দুইজন মুহাজির ও দুইজন আনসার সাহাবী থেকে কুর‘আন সাক্ষী করার নির্দেশ ১ এই উম্মাতের জন্য সাত রীতিতে কুর‘আন পাঠ করার অনুমতি প্রসঙ্গে হাদীস ১ যে ব্যক্তি সাত রীতির যে কোন এক রীতিতে কুর‘আন পাঠ করবেন, তিনি সঠিক হিসেবে বিবেচিত হবেন- এই মর্মে হাদীস ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের কাছে তাঁর সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ১ কুর‘আন পাঠের ক্ষেত্রে উম্মাতের জন্য সহজতা চেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু প্রার্থনা করেছেন, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর প্রিয় রাসূলের সব দু‘আ কবুল করে তাঁর উপর অনুগ্রহ করেছেন ২ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নির্দিষ্ট সংখ্যক পঠন-রীতিতে কুর‘আন অবতীর্ণ করেছেন- এই মর্মে হাদীস ১ আমরা উল্লেখিত হাদীসে যা উল্লেখ করেছি, তার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্পর্কে হাদীস ১ যেই হাদীসের অর্থ বাতিলপন্থীরা বুঝতে না পেরে মুহাদ্দিসগণের উপর আপত্তি করে থাকে ১ আমরা পূর্বের হাদীসে যা বর্ণনা করলাম তার কিছু বর্ণনা বিষয়ে হাদীস ১ কোন ব্যক্তি সাত রীতির যে কোন রীতিতে কুরআন পাঠ করতে পারবেন, কোন সমস্যা নেই ১ যে ব্যক্তি সাত রীতির কোন এক রীতিতে কুর‘আন পাঠ করবে, তাকে তিরস্কার করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ নিয়ত বিশুদ্ধ রেখে সুন্দর আওয়াজে অনুরণিত করে কুরআন পাঠ করা বৈধ আছে ১ সুন্দর আওয়াজে কুর‘আন পাঠ করার বৈধতা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, বারা বিন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে আব্দুর রহমান বিন আওসাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন ১ কুর‘আন পাঠের ক্ষেত্রে আওয়াজ সুন্দর করা বৈধ কেননা সুন্দর আওয়াজে কুর‘আন পাঠ করলে মহান আল্লাহ তা শ্রবণ করেন ১ যুগপৎভাবে মনস্তাপ ও প্রত্যাশা সহ কুর‘আন পাঠ করলে মহান আল্লাহ তা মন দিয়ে শ্রবণ করেন ১ আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর উল্লেখিত হাদীস দু‘টির আমরা যে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ গায়িকার মালিক গায়িকার গান যেমন মনযোগের সাথে শ্রবণ করেন, পূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তির কুর‘আন মহান আল্লাহ তার চেয়েও বেশি মনযোগের সাথে শ্রবণ করেন ১ এই উম্মাতের কোন শ্রেণির মানুষ দ্বারা কুর‘আন পাঠ করা হবে ১ সাত দিনে কুর‘আন খতম করার মধ্যে ক্ষ্যান্ত থাকার ব্যাপারে হাদীস ১ কুর‘আনের পাঠককে সাত দিনে কুর‘আন অনুন্য সাত দিনে কুর‘আন খতম করার নির্দেশ ১ তিন দিনের কমে কুর‘আন খতম করার ব্যাপারে ধমকী, কেননা এই নিয়ম কুর‘আন বুঝা ও অনুধাবনের বেশি নিকটবর্তী ২ মানুষকে এই নির্দেশ প্রদান যে, সে তার কুর‘আন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল প্রত্যাশা করবে; দুনিয়াতে এর প্রতিদান তড়িৎ চাইবে না ১ কোন ব্যক্তির এরকম বলার ব্যাপারে ধমকী যে, সে বলবে "আমি ওমুক ওমুক আয়াত ভুলে গেছি" ১ কুর‘আন ভুলে যাওয়ার ভয়ে নিয়মিত কুর‘আন অধ্যয়ন করার নির্দেশ ১ নিয়মিত কুর‘আন অধ্যয়ন করার নির্দেশ ১ নিয়মিত কুর‘আন পাঠকারীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাঁধা উটের সাথে উপমা দিয়েছেন ১ নিয়মিত কুর‘আন পাঠকারী ও কুর‘আন পাঠে অবহেলাকারী ব্যক্তিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাঁধা উটের সাথে উপমা দিয়েছেন ১ কুর‘আন পাঠকারী ব্যক্তি দুনিয়াতে সর্বশেষ যে আয়াত পাঠ করেছে, আখেরাতে তার শেষ মানযিল সেখানে হবে ১ যিনি কুরআন পাঠে অভিজ্ঞ তাঁর প্রতি মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করবেন এভাবে যে, তিনি আমলনামা লিপিকার ফেরেস্তাদের সাথে থাকবেন আর যার উপর কুর‘আন পাঠ কষ্টকর তাকে তিনি দ্বিগুণ সাওয়াব দান করে অনুগ্রহ করবেন ১ যারা আল্লাহর কিতাব নিজেদের মাঝে পঠন-পাঠন করে, ফেরেস্তাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন এবং সে সময় রহমত ঘিরে রাখে ১ কুর‘আন পাঠের সময় মানুষের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় ১ কুর‘আন পাঠের দিকদিয়ে মু‘মিন ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির উদাহরণ ১ কুর‘আন পাঠকারী মু‘মিন ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির বিবরণ সম্পর্কে হাদীস ১ কুর‘আন পাঠের নিয়ত অনুসারে একদল ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত হয়, আরেক শ্রেণির মানুষের মর্যাদা অবনমিত হয় ১ আব্দুল্লাহ বিন আমর ছাড়া অন্য ব্যক্তিকে প্রথমে কুর‘আন পাঠের ব্যাপারে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ সূরা ফাতিহা কুর‘আনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সূরা ১ সূরা ফাতিহার পাঠক ও পাঠকের প্রতিপালকের মাঝে বিভক্ত ১ সূরা ফাতিহা বান্দা ও তার প্রতিপালকের মাঝে বিভক্ত হওয়ার পদ্ধতি ১ সূরা ফাতিহা কুর‘আনের সবচেয়ে মহানতম সূরা, এটি السَّبْعُ الْمَثَانِي (বারবার পঠিত সাত আয়াতবিশিষ্ট্য সূরা), যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করা হয়েছে ১ সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার শেষাংশ পাঠে যা চাওয়া হবে, তা প্রদান করা হবে ১ সূরা বাকারাহ পাঠকালে ফেরেস্তাগণ অবতীর্ণ হয় ১ সূরা বাকারাহকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কুঁজের সাথে তুলনা করেছেন ১ যে ব্যক্তি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, সেটি তার জন্য যথেষ্ট হবে ১ কোন বাড়িতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিন রাত পাঠ করা হলে, তার অধিবাসীগণ বাড়িতে প্রবেশ করার ব্যাপারে নিরাপদ থাকবে ১ যে বাড়িতে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে ১ আয়াতুল কুরসী পাঠের মাধ্যমে শয়তান থেকে বেঁচে থাকা (আমরা আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চাই।) ১ সূরা কাহফের দশ আয়াত পাঠ করার মাধ্যমে দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাওয়া (আমরা আল্লাহর কাছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।) ১ যেই আয়াতগুলো পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে দাজ্জাল থেকে রক্ষা করতে পারে, সেই আয়াতগুলো হলো সূরা কাহফের শেষ দিকের আয়াত ১ সূরা মুলক বেশি বেশি পাঠ করার নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি সূরা মুলক পাঠ করবে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার প্রতিদান রয়েছে ১ যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতে চাইবে তাকে সূরা কাফিরূন পড়ার নির্দেশ ১ যে কারণে এই আমলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ সূরা ইখলাস পাঠকারীকে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে এক-তৃতীয়াংশ কুর‘আন পাঠ করার সাওয়াব দান করবেন ১ আরবরা যেমনভাবে ক্রিয়াকে কর্তার দিকে সম্পর্কিত করে অনুরুপভাবে তারা ক্রিয়াকে অন্য ক্রিয়ার দিকেও সম্পর্কিত করে থাকে, উভয় ব্যাপারটিই তাদের কাছে সমান ১ যিনি সূরা ফাতিহাকে ভালবাসে, মহান আল্লাহও তাকে ভালবাসেন ১ কোন ব্যক্তির সূরা ইখলাস সবসময় পড়তে ভালবাসা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে ১ আল্লাহর নিকট সূরা ফালাকের চেয়ে উত্তম আর কিছু মানুষ পাঠ করতে পারে না ১ পাঠক সূরা নাস ও ফালাকের সদৃশ কোন সূরা পাঠ করতে পারে না ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার সকল উপায়-উপকরণে সূরা নাস-ফালাক পাঠ করবে ১ স্ত্রীর হায়েয অবস্থায় তার কোলে মাথা রেখে কুর‘আন পড়া বৈধ ১ কোন বক্তি যদি নাপাক না হন, তবে ওযূ ছাড়াই কুর‘আন পড়া বৈধ ২ যে ব্যক্তির ইলমে হাদীস বিষয়ে জ্ঞান নেই, তিনি কোন কোন সময় সংশয়ে পড়ে যান যে, নিচের হাদীসটি হয়তো আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলার হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ যে ব্যক্তির ইলমে হাদীস বিষয়ে গভীর জ্ঞান নেই, তিনি কোন কোন সময় সংশয়ে পড়ে যান যে, নিচের হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলার হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ যারা ইলমে হাদীসের বিষয়ের যারা ছাত্র নয়, কোন কোন সময় নিম্নোক্ত হাদীস তাকে সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বোক্ত দুটি হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ যিকর-আযকার ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিম ব্যক্তিকেও এই সংশয়ে নিপতিত করে যে, ওযূ বিহীন অবস্থায় আল্লাহর যিকর করা জায়েয নেই ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম করেছেন, যা আমরা বর্ণনা করলাম ১ মহান আল্লাহর যেসব নাম মুখস্তকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে ১ আল্লাহর সেসব নামসমূহের বিস্তারিত বিবরণ, যার মুখস্থকারী (অর্থ অনুধাবনকারী এবং এসব নামের দাবি অনুসারে আমলকারী) কে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ১ প্রকাশ্যে যিকর করার চেয়ে মনে মনে যিকর করা উত্তম ১ প্রকাশ্যে যিকর করার চেয়ে মনে মনে যিকর করা উত্তম মর্মে হাদীস ১ মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা তাঁকে সংগোপনে স্মরণ করেন, তিনিও তাদের কথা মনে মনে স্মরণ করেন আর যারা তাঁকে মানুষের মাঝে স্মরণ করেন, তিনিও তাদেরকে তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেস্তাদের মাঝে স্বরণ করেন ১ যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে মনে মনে স্মরণ করে, মহান আল্লাহ তাঁর রাজত্বে তাকে ক্ষমার মাধ্যমে স্মরণ করেন ১ যখন বান্দা আল্লাহর যিকর করার সাথে সাথে চিন্তা-ফিকির করে, তখন আল্লাহ তাদের নিয়ে ফেরেস্তাদের নিকট গর্ব করেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সকল উপায়-উপকরণে ও সদা সর্বদা আল্লাহর যিকর করা ১ আল্লাহর যিকরকারীর জন্য দ্রুত ক্ষমা প্রাপ্তির আশা করা যায়, যদি তার দুই ঠোট আল্লাহর যিকরে আন্দোলিত থাকে ১ দুনিয়াতে যারা আল্লাহর যিকর করবে, পরকালে মহান আল্লাহ তাদের যা দিয়ে সম্মানিত করবেন ১ প্রতিপালকের যিকরে আত্নভোলা হয়ে যাওয়া মুস্তাহাব ১ সব সময় আল্লাহর যিকর করা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল ১ যে ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর যিকর করবে, সেই বাড়িতে শয়তানের রাত্রি যাপন ও খাদ্য গ্রহণের সুযোগ থাকে না ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বেশি বেশি পড়া, কেননা এটি জান্নাতের অন্যতম এক ধন ভান্ডার ১ যখন কোন ব্যক্তি বেশি বেশি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবে, জান্নাতে তার জন্য বেশি বেশি গাছ লাগানো হবে ১ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় যে যিকর করলে, তার প্রবক্তাকে হেদায়েত দেওয়া হয়, সেটা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায় এবং তাকে রক্ষা করা হয় ১ যিনি শিংগায় ফুঁৎকার দেওয়ার অপেক্ষা করছে, তাকে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল’ বলার নির্দেশ ১ প্রাণহীন বর্ধনশীল উদ্ভিদ যতক্ষন পর্যন্ত সতেজ থাকে, ততক্ষন পর্যন্ত সেগুলো আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে ১ আল্লাহর তাসবীহ প্রকাশকারী ব্যক্তির গোনাহ মোচন করে এবং তার জন্য সাওয়াব লিপিবদ্ধ করে তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ করা প্রসঙ্গে ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর মহিমা প্রকাশার্থে সুবহানাল্লাহ বলবে, তাকে আরো বেশি সুবহানাল্লাহ বলার মাধ্যমে জান্নাতে বেশি বেশি বৃক্ষ রোপন করার নির্দেশ দানের মাধ্যমে তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ প্রসঙ্গে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উক্ত হাদীসটি হাজ্জাজ আস সাওওয়াফ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাদের ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যা, তাঁর সন্তুষ্টি, তাঁর আরশের ওযন ও তাঁর কালেমার কালি পরিমাণ আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করার নির্দেশ ১ একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বললে, মহান আল্লাহ তার বদৌলতে তার পূর্বের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন ১ যে তাসবীহ পাঠ করলে দিন সহ রাত এবং রাত সহ পুরো দিন তাসবীহ করার চেয়ে উত্তম হবে ১ যেই তাসবীহ মহান আল্লাহ ভালবাসেন, এবং কিয়ামতের দিন মীযানের পাল্লা ভারি হবে ১ যেই যিকরের বদৌলতে মহান আল্লাহ মানুষকে আসমান সমূহের ওযন সমপরিমাণ সাওয়াব দান করেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো কিয়ামতের দিন মীযানের পাল্লা ভারী হওয়ার আশায় বেশি বেশি সুবহাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং বেশি বেশি তাঁর মহিমা প্রশংসা করা ১ আমরা যেসব যিকর-আযকারের কথা বললাম, তা বলা একজন মানুষের জন্য ‘সূর্য যা কিছুর উপর উদয় হয়’ সেসব কিছুর অধিকারী হওয়ার চেয়ে উত্তম ১ যিকিরের উল্লেখিত বাক্যগুলো আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় বাক্যের অন্তর্ভূক্ত ১ উল্লেখিত বাক্যগুলি শ্রেষ্ঠ বাক্যের অন্তর্ভূক্ত, বাক্যগুলির মধ্য হতে যে কোন বাক্য আগে বলা হোক না কেন তাতে কোন ক্ষতি নেই ১ মহান আল্লাহ যত সংখ্যক কিছু করেছেন এবং যত সংখ্যক তিনি সৃষ্টি করেছেন, ততসংখ্যক সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলা ১ বান্দার প্রতিটি সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার কারণে মহান আল্লাহ তার জন্য সাদাকার সাওয়াব লিখে দেন ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম যে, সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা সর্বোত্তম বাক্য, এর যে কোন বাক্য দ্বারা শুরু করাতে কোন দোষ নেই ১ আমরা যেসব যিকর-আযকার উল্লেখ করলাম, সেসবের সাথে লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলা এমন সৎ কর্মের অন্তর্ভূক্ত যা পরকালে ও বহাল থাকবে ১ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষনার সাথে সাথে তাঁর বড়ত্ব ঘোষনা করলে মীযানের পাল্লা ভারী হয় ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আঙ্গুল গুনে গুনে সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষনা করা, কেননা কিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে এবং সেগুলো কথা বলবে ১ আমরা যে আমল বর্ণনা করলাম, এই ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা আমল করতেন ১ আল্লাহর প্রশংসাকারীকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন মীযান ভর্তি সাওয়াব দান করবেন ১ যেভাবে আল্লাহর প্রশংসা করলে, প্রশংসাকারীর জন্য ঠিক সেভাবেই লেখা হয়, যেভাবে সে প্রশংসা করে, যেন সে এই মাত্র কাজটি সম্পাদন করেছে ১ আলহামদু লিল্লাহ শ্রেষ্ঠ দু‘আ আর লা ইলাহা শ্রেষ্ঠ যিকর ১ মহান আল্লাহ মুসলিম ব্যক্তিকে যে ইসলামের জন্য হেদায়েত দান করেছেন, সেজন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সে আল্লাহর প্রশংসা করে, যখন সে অমুসলিমদের অথবা তাদের কবর দেখবে ১ মহান আল্লাহ যাদেরকে আল্লাহবিমুখ ব্যক্তিদের পথ থেকে হেফাযত করেছেন, তাদের জন্য আবশ্যক হলো এজন্য মহান আল্লাহর প্রশংসা করা ১ যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দশবার বললে একটি দাস মুক্তির সাওয়াব দেওয়া হয়, তার বিবরণ ১ আমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর যে বিবরণ দিলাম, যে ব্যক্তি এর সাথে জীবন ও মৃত্যুর বিষয় আল্লাহর সাথে যুক্ত করবে, তাকে একটি দাস মুক্ত করার সাওয়াব দেওয়া হয় ১ কিছু বাক্য যা কোন ব্যক্তি বললে, মহান আল্লাহ তা সত্যায়ন করেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর ফায়সালার উপর ভরসা করে না থেকে সকল উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে যিকিরের মাধ্যমে সতর্কতা গ্রহণ করা জরুরী ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করা, যাতে কিছু জায়গায় যিকির না করার কারণে কিয়ামতের দিন আক্ষেপের কারণ না হয় ১ যে জায়গায় আল্লাহর যিকির করা হয় এবং যে জায়গায় আল্লাহর যিকির করা হয় না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তার উপমা ১ আল্লাহর যিকির করার জন্য যারা একত্রিত হয়, ফেরেস্তাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখে সাথে সাথে তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় ১ যারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁর কাছে জান্নাত চায়, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায় (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই), মহান আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন ১ যে ব্যক্তি যিকিরকারীদের সাথে বসে, মহান আল্লাহ তাকে তাদের সাথে বসার কারণে সৌভাগ্যবান করেন ১ কিয়ামতের দিন অন্যান্য সৎ আমলকারীদের চেয়ে আল্লাহর যিকিরকারী নর ও নারীগণ অগ্রগামী হবেন ১ যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধায় ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ নির্দিষ্ট সংখ্যায় বলবে, তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন ১ একটি যিকির যা কোন ব্যক্তি সকাল বেলায় বললে কিয়ামতের দিন কোন ব্যক্তি তার সমপরিমাণ নেকি অর্জন করতে পারবে না ১ সকাল বেলায় যে যিকর করলে, তা ঐ দিনের শুকরিয়া আদায় হয়ে যাবে ১ যে যিকির কোন ব্যক্তি সকালে পাঠ করলে সন্ধা পর্যন্ত আর সন্ধায় পাঠ সকাল পর্যন্ত নিজেকে হেফাযত করতে পারে ১ যে ব্যক্তি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহা্ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, তার জন্য জান্নাত অবধারিত ১ বিপদ-আপদের সময় যে যিকির করলে, বিপদাপদ দূর হওয়ার আশা করা যায় ১ দুঃখ-কষ্ট ও কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসার সাথে সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার নির্দেশ ১ বিভিন্ন দু‘আ ২ ব্যাপক অর্থবোধক দু‘আর ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থা বর্ণনা এবং এক্ষেত্রে তার কী উদ্দেশ্য হওয়া জরুরী, তার বর্ণনা ১ ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যের মাধ্যমে মহান প্রতিপালকের কাছে কল্যান কামনা ও অকল্যান থেকে পরিত্রান চাওয়ার নির্দেশ ১ আল্লাহর কাছে বান্দার দু‘আ সবচেয়ে সম্মানজনক জিনিস ১ যে ব্যক্তি সব সময় দু‘আ করতে থাকে, তার বিপদাপদ মুক্তির আশা প্রসঙ্গে আলোচনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো নিয়মিত দু‘আ ও সৎ করা অব্যাহত রাখা ১ যখন কোন ব্যক্তি একনিষ্ঠ আমল ও বিশুদ্ধ নিয়তসহ আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তার দু‘আ কবূল করা হবে, যদিও তার কাঙ্খিত জিনিসটি অলৌকিক কিছু হয় ১ মাযলূমের দু‘আ অবশ্যই কবূল হয়, যদিও তা কিছুটা বিলম্বে হয় ২ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দু‘আ করার সময় দুই হাত উঠানো ১ মহান আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় দুই হাত উঠানো বৈধ ১ দুই হাত উঠিয়ে দু‘আ করার ক্ষেত্রে আবশ্যক হলো দুই হাত উঠানোর ক্ষেত্রে মাথা অতিক্রম করবে না ১ দু‘আ করার সময় ওয়াজিব হলো দু‘আকারী তার দুই হাতের তালূ তার মুখ বরাবর রাখবেন ১ যে ব্যক্তি দুই হাত উঠিয়ে তার প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করে, তার দু‘আ কবুল করা হয় ১ যে ব্যক্তি দুই হাত উঠিয়ে দু‘আ করে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা কবূল করেন, যদি না সে কোন পাপের দু‘আ করে অথবা দু‘আ কবূলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে দু‘আ করা ছেড়ে দেয় ১ আল্লাহর কাছে দু‘আ করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করার বিবরণ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন সে দু‘আ করার সময় ইশারা করার ইচ্ছা করবে, তখন ডান হাতের শাহাদাহ অঙ্গুলি কিছুটা হেলিয়ে তা দিয়ে ইশারা করবে ১ দু‘আর সময় দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে ইশারা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ যখন কোন ব্যক্তি কোন কাজ করার ইচ্ছা করবে, তখন তা শুরু করার আগে ইস্তিখারা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে আলোচনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি কোন কাজ করার ইচ্ছা করবে, তাকে যে ইস্তিখারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা ফরয ব্যতীত দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করার পর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ নতুন চাঁদ প্রথম দেখলে একজন ব্যক্তি কী বলবে, তার বর্ণনা ১ আল্লাহর কাছে চাওয়ার ক্ষেত্রে অল্প না চেয়ে বেশি বেশি চাওয়া মুস্তাহাব ১ সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে দু‘আ করা ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় ১ যেই জিনিসের মাধ্যমে প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করলে, তিনি কবূল করেন ১ আমরা যে দু‘আর কথা বর্ণনা করলাম সেটা হলো ইসমে আ‘যম এর মাধ্যমে দু‘আ, যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি দু‘আ করে ব্যর্থ মনোরথ হয় না ১ আল্লাহর মহান নাম যার মাধ্যমে কোন মানুষ কিছু চাইলে, আল্লাহ তা প্রদান করেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সমস্ত বিষয়াদি তার স্রষ্টার প্রতি ন্যস্ত করা, সাথে সাথে তার সকল উপায়-উপকরণের মধ্যে ছোট-বড় সব কিছু আল্লাহর কাছেই চাওয়া ২ যে কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ কোন ব্যক্তি যখন তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আমলের উসীলায় দু‘আ করে, তখন তার দু‘আ কবূল হওয়ার আশা করা যায়- এই মর্মে হাদীস ১ প্রতিপালকের কাছে বান্দার প্রার্থনা করা যেন তিনি বান্দাকে ইসলাম দান করা এবং প্রতিপালকের উপর তাওয়াক্কুল করার পর যেন পথভ্রষ্ট না করেন ১ আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্তির আগে এবং পরে যে দু‘আ করা মানুষের জন্য আবশ্যক ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বেশি বেশি হেদায়েত ও তাকওয়ার জন্য প্রতিপালকের কাছে আবেদন করা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে ভাল কাজের হেদায়েত চাওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো অন্তর আল্লাহর আনুগত্যের উপর পরিবর্তন হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে কামনা করা ১ প্রতিপালকের কাছে দু‘আকারী ব্যক্তি যদি সাদাকা করার সামর্থ না রাখে, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুণাবলী মাফিক দরুদ মাফিক পাঠ করলে সেটাই তার জন্য সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠকারীর দরুদ পাঠ করার কারণে গোনাহ মোচন করা হয় ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় বান্দা মুহাম্মাদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ তার জন্য নেকী লিখে দিবেন ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় বান্দা মুহাম্মাদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ এর বদৌলতে তাকে দশবার ক্ষমা করবেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম শোনার পর দরুদ পাঠ করলে তার জান্নাতে প্রবেশের আশা করা যায় আর যে ব্যক্তি তাঁর নাম শুনে তাঁর উপর দরুদ পাঠ করবে না, তার জাহান্নামে প্রবেশের আশংকা ১ দ্বিতীয় হাদীস যা আমাদের বর্ণিত বিষয়কে স্পষ্ট করে ১ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করে সে কৃপণ নয় ১ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করবে, সেই দরুদ কবরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে পেশ করা হয় ১ কিয়ামতের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সবচেয়ে নিকটে থাকবে ঐ ব্যক্তি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে ১ আল্লাহর বাণী (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) এর ব্যাখ্যাদানকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করবে, তার জন্য মহান আল্লাহ নেকী লিপিবদ্ধ করে দিবেন ১ মুসলিম ব্যক্তির সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে তাঁর কবরে পৌঁছানো হয় ১ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর সালাম পেশ করবে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাকে দশবার জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই) ১ মুসলিম ব্যক্তির উপর সালাত পেশ করার বৈধতা, এটা তাদের কথার বিপরীত যারা নবীগণ ব্যতীত অন্য কারো উপর সালাত পেশ করা অপছন্দনীয় মনে করেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে সালাত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত আর কারো উপর সালাত পেশ করা জায়েয নেই, তার কথার অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে সালাত শব্দ দ্বারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরিবার-পরিজন ব্যতীত অন্য কারো উপর সালাত পেশ করা জায়েয নেই, তার কথার অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো রাতের শেষ এক তৃতীয়াংশে দু‘আ ইস্তিগফার করা ১ যে সময়ে আমরা দু‘আ কবূল হওয়ার আশার কথা বলছি, সেটা মহান আল্লাহর নিয়মে প্রতি রাতেই হয়ে থাকে ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ের বিপরীত ১ কোন ব্যক্তি তার প্রভুর নিকটে তিনটি জিনিস চাইলে তার একটি তাকে দেওয়া হবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইস্তিগফার করতেন, তখন তিনবার ইস্তিগফার করতেন ১ পূর্বে উল্লেখিত ইস্তিগফারের সংখ্যাটি এমন নয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে বেশি ইস্তিগফার করতেন না ১ আমরা যে সংখ্যা উল্লেখ করলাম, সংখ্যাটি এমন নয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে বেশি ইস্তিগফার করতেন না ১ আমরা যে সংখ্যা উল্লেখ করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সংখ্যার উপর ক্ষ্যান্ত থাকতেন না যে, এর চেয়ে বেশি ইস্তিগফার করতেন না ১ আমরা যে সংখ্যা উল্লেখ করলাম সে সংখ্যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে ইস্তিগফার করতেন ১ আমরা ইস্তিগফারের যেসব বাক্য বর্ণনা করলাম, তার চেয়ে সংক্ষপ করেও ইস্তিগফার করা জায়েয ১ মানুষ যে কাজ করে, সেজন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করার নির্দেশ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো প্রতিটি পাপ কাজ করার পর ইস্তিগফার করা, যদিও সে অন্যান্য ভাল কাজে সচেষ্ট থাকে ১ যারা ইলমে মজবূতী অর্জন করেনি, তারা অত্র হাদীসের যেই শব্দটির অর্থ বুঝতে পারে না ১ সায়্যিদুল ইস্তিগফার, পাপের জন্য যার মাধ্যমে মানুষ তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে ১ সায়্যিদুল ইস্তিগফার, যা কোন ব্যক্তি পূর্ণ ইয়াকীনের সাথে বললে জান্নাতে প্রবেশ করবে ১ মহান আল্লাহ সর্বাবস্থায় যেন ইসলামের মাধ্যমে ব্যক্তিকে হেফাযত করেন এজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার নির্দেশ ১ মানুষ যখন স্বর্ণ রৌপ্য জমা করবে, তখন আল্লাহর কাছে দ্বীনের উপর অটল থাকা ও সঠিকতার উপর দৃঢ় থাকার প্রার্থনা করার নির্দেশ ১ প্রতিপালকের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ প্রার্থনা করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ মহান স্রষ্টার কাছে উভয় জগতে কল্যাণ চেয়ে দু‘আ করা মুস্তাহাব ১ আমরা যে দু‘আর বর্ণনা দিলাম তা দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বাবস্থায় বেশি বেশি দু‘আ করতেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইমাম শু‘বা ইসমাঈল বিন উলাইয়্যাহ থেকে জাফরান সংক্রান্ত হাদীস ছাড়া আর কোন হাদীস শুনেন নাই ১ আমরা যে দু‘আর কথা বর্ণনা করলাম, তাতে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের স্বীকারোক্তি দিয়ে দু‘আ করা মুস্তাহাব ১ আমরা যে দু‘আর বিবরণ দিলাম, এর বিপরীত দু‘আ করা মাকরুহ হওয়া প্রসঙ্গে হাদীস ১ যেসব আমল আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়, সেসব আমলের উপর অটল-অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা জরুরী যেন তিনি এর বদৌলতে মেহেরবানী করে এসব আমলের উপর অটল-অবিচল রাখেন ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করা, যেন তিনি তার অন্তরকে তাঁর পছন্দনীয় আমলের উপর অটল রাখেন ১ এই জাতীয় শব্দগুলো মানুষ নিজেদের মাঝে যেভাবে বুঝে সেভাবে স্রেফ উপমা ও উদাহরণ স্বরুপ ব্যবহার করা হয়েছে; বাহ্যিক অর্থ এখানে উদ্দেশ্য নয় ১ প্রতিপালকের কাছে হেদায়েত, নিরাপত্তা, তাঁর বেলায়েত (নৈকট্য, বন্ধুত্ব) কামনা করার নির্দেশ ১ প্রভুর নিকটে ক্ষমা, দয়া, হেদায়েত ও রিযিক প্রার্থনা করার জন্য নির্দেশ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো মহান প্রতিপালকের কাছে তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা ও হেদায়েত চাওয়া ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আমর বিন মুর্রা আব্দুল্লাহ বিন হারিস থেকে শুনেননি- তাদের বক্তব্য অপনোদনে হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে সমস্ত বিষয়ে নিরাপত্তা চাওয়া ১ আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করা, কেননা একজন মানুষকে যা কিছু দেওয়া হয় তন্মধ্যে তাওহীদের পর নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম আর কিছু দেওয়া হয় না ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইবে, তাকে নিরাপত্তার সাথে ক্ষমাও যুক্ত করে চাওয়ার নির্দেশ ১ নিরপত্তার পর ইয়াক্বীন চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ মানুষ যা আমল করে.. (আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মুল পান্ডুলিপিতে ৭টি শব্দ পরিমাণ লেখা মুছানো রয়েছে। এখানে ঠিক কী শব্দ ছিল, তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি।”) ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে এই কামনা করা যেন তিনি তার বিভিন্ন রকমের গোনাহ ক্ষমা করার মাধ্যমে তার প্রতি মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করেন ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো উপমার শব্দে মহান প্রতিপালকের ক্ষমা চাওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো এই দু‘আ করার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, যদিও প্রার্থনা চুড়ান্ত পর্যায়ের শব্দ দিয়ে করা হয় ১ দু‘আয় সর্বোচ্চ জান্নাত ফেরদাউস চাওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো মহান আল্লাহ যেমনভাবে মেহেরবানী করে তার চেহারাকে সুন্দর করেছেন, অনুরুপভাবে যেন তিনি তার চরিত্রকেও সুন্দর করে দেন, এজন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করা যেন তিনি তাকে মন্দ চরিত্র ও খারাপ প্রবৃত্তি থেকে দুরে রাখেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সকাল বিকেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাওয়া ১ সকাল ও সন্ধ্যায় একজন ব্যক্তি কী বলবে সকাল ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সকালে আল্লাহর কাছে ঐ দিনের কল্যাণ কামনা করবে ১ সকাল বেলা একজন ব্যক্তি কোন দু‘আর মাধ্যমে দু‘আ করবে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি হাম্মাদ বিন সালামা এককভাবে বর্ণনা করেছেন -তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ প্রতিপালকের নিকট ঋণ পরিশোধ করা এবং দরিদ্রতা থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য জন্য দু‘আ করা ১ যে কারণে মহান আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করেন “অতঃপর তারা তাদের উদ্দেশ্য তারা বিনীত হয়নি এবং তারা ক্রন্দনও করেনি” ১ জীবনে দুঃখ-কষ্ট নেমে আসলে কী দু‘আ করতে হবে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তা সুস্পষ্টকরণে দ্বিতীয় হাদীস ১ বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির দু‘আর বিবরণ ১ যে সব আমলের মাধ্যমে দুনিয়ায় বিপদমুক্তির আশা করা যায় ১ কাউকে কোন দুঃখ-কষ্ট পেয়ে বসলে, তা দূর করে তা খুশিতে পরিণত করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করার জন্য নির্দেশ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার শত্রুর জন্য এমন দু‘আ করা যাতে তার অংশ বর্জন করা হয় ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন তার উপর কোন বিষয় কঠিন হবে, তখন আল্লাহর কাছে তার সহজতা প্রার্থনা করা ১ দু‘আ করার পর দু‘আ কবূল হওয়ার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ দু‘আ-কারীর দু‘আ কবূল করা হয়, যদি দু‘আ-কারী তাতে তাড়াহুড়া না করেন-এটি তখনই হয়, যখন সে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে দু‘আ করে ১ কোন ব্যক্তির এই রকম দু‘আ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী যে সে বলবে “হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, যদি আপনি চান ১ দু‘আ করার ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় ছন্দময় শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে হেদায়েতের জন্য দু‘আ করা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি আ‘রাজ থেকে আবুয যিনাদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন-তার ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো নিজের মুশরিক আত্নীয়দের জন্য আদৌ দু‘আ করবেন না ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো মহান আল্লাহ তাকে যে মেহেরবানী করে হেদায়েত দান করেছেন, সেজন্য আল্লাহর প্রশংসা করার উপর ক্ষ্যান্ত থাকবে আর যাকে হেদায়েত ও সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তার জন্য হেদায়েত চাওয়ার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় প্রার্থনা করা বর্জন করবে ১ স্ত্রী সহবাসের সময় যে দু‘আ পড়লে শয়তান সেই সন্তানের কোন ক্ষতি করতে পারবে না ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে কোন কওমের কাছে বেড়াতে যাবে, তাদের কাছ থেকে ফিরে আসার সময় মেজবানের জন্য দু‘আ করা ১ কোন ব্যক্তি নিজের জন্য দু‘আ করে, তারপর তা অন্যের জন্য না হওয়ার দু‘আ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ কোন ব্যক্তির দু‘আয় অন্যকে শরীক না করে শুধু নিজের জন্য কল্যাণের দু‘আ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ প্রভুর নিকটে অন্যের উপর রহম না করার জন্য প্রার্থনা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন সে তার অন্য কোন ভাইয়ের জন্য দু‘আ করবে, তখন সে প্রথমে নিজেকে দিয়ে শুরু করবে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো অন্য ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দু‘আ করা, যাতে উভয়ের জন্যই দু্‘আ কবূল করা হয় ১ কোন মুসলিম ভাইয়ের সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধির জন্য দু‘আ করা বৈধ ১ মুসলিমের মাঝে অনাবৃষ্টি শুরু হলে কোন দু‘আ করবে, সেই প্রসঙ্গে ১ অব্যাহত ভারী বর্ষনের সময় কোন দু‘আ পড়বে ১ যখন মহান আল্লাহ মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষন করে অনুগ্রহ করবেন আর মানুষ তা দেখতে পাবে, তখন কী বলবে? মুসলিমের মাঝে অনাবৃষ্টি শুরু হলে কোন দু‘আ করবে, সেই প্রসঙ্গে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য هَنِيًّا (তৃপ্তিদায়ক) দ্বারা উদ্দেশ্য ‘উপকারী বৃষ্টি’ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো নিজের ফসলাদির ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে বারকাহর জন্য দু‘আ করবে; শুধু শুধু বৃষ্টির উপর নির্ভর করবে না ১ মুসলিমদের মাঝে পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্পর্ক ঠিক করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার নির্দেশ ২ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কোন ব্যক্তি যদি কোন একটা অবস্থায় থাকে, তাহলে আল্লাহর কাছে আবার ঐ অবস্থা কামনা করা যায় না, কেননা এটা অসম্ভব কথা- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ অধ্যায়: আশ্রয় প্রার্থনা - চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ ১ প্রকাশ্য ও প্রকাশ্য সব ধরণের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়া ১ আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে আমরা যে বিষয়গুলো উল্লেখ করলাম, তার সাথে আরো যেই বিষয়গুলো যোগ করা মুস্তাহাব ১ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ঐ দরিদ্রতা থেকে যা মানুষকে অবাধ্য করে তুলে এবং ঐ লাঞ্চনা থেকে যা মানুষের দ্বীনকে ধ্বংস করে দেয় ১ আল্লাহর কাছে ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ১ গাধার আওয়াজের সময় আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ১ যখন বায়ু প্রবাহিত হয়, তখন তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ১ যখন বায়ু প্রবাহিত হয়, তখন তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ১ প্রবল বায়ূ প্রবাহিত হলে কী বলবে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ভালো কাজে অলসতা করা থেকে এবং এবং বার্ধক্য থেকে যা মানুষকে ভালো কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা সুস্পষ্টতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ বার্ধক্যের বিবরণ যে বার্ধক্য থেকে পানাহ চাওয়া মু্স্তাহাব ১ নিজের সন্তান, সন্তানের সন্তানের ব্যাপারে কোন কিছু আশংকা করলে কীসের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি ইবনু আবী উনাইসা মিনহাল বিন আমর থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দিনে রাতে সব সময় মহান প্রভুর নিকট জান্নাত চাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা ১ মানুষের জন্য মু্স্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এমন সালাত থেকে যা কোন উপকার দেয় না এবং এমন নফস থেকে যা পরিতৃপ্ত হয় না ১ কোন দু‘আর মাধ্যমে মানুষ মন্দ ভাগ্য ও বিপদে শত্রুর খুশি হওয়া থেকে আশ্রয় চাইবে ১ শারীরিক অসুস্থতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া মুস্তাহাব ১ মানুষের জন্য মু্স্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া জীবন ও মৃত্যুর অনিষ্টতা থেকে ১ জীবনের যে অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়া আবশ্যক তার অন্তর্ভূক্ত হলো ফিতনা, মৃত্যুর অনিষ্টতাও অনুরুপ ১ বিষাক্ত প্রাণীর দংশন থেকে বেঁচে থাকার জন্য যে দু‘আর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হবে ১ বিকেলে যা বলার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সাপের দংশন থেকে বেঁচে থাকতে পারে ১ বিকেলে যা বলার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সাপের দংশন থেকে বেঁচে থাকতে পারে, যখন সে ব্যক্তি তা তিনবার বলবে, একবার নয় ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া দ্বীনে নিফাক ও ভালো কাজে লৌকিকতা প্রদর্শন করা থেকে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো মন্দ বয়সের কারণে দ্বীন ও দুনিয়া বিনষ্ট হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো এমন ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, যে ঋণ পরিশোধ করার মত কিছু থাকে না ১ কোন কোন সময় এক জিনিস আরেক জিনিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, যখন সেটি কোন একটি অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে জিনিস দুটি বিপরীতধর্মী হয় ১ আমরা ঋণের যে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া বান্দাদের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ক্ষুধা ও খেয়ানত করা থেকে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অন্যের উপর যুলুম করা বা অন্য কর্তৃক যুলুমের শিকার হওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া পরকালে পাপের জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাবের মুখোমুখী হওয়া এবং দুনিয়াতে এমন পাপ করা থেকে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি মানসূর বিন মু‘তামির ছাড়া আর কেউ অবিচ্ছিন্ন সানাদে বর্ণনা করেনি ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া পরিণামে মন্দ প্রতিবেশী থেকে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দিনে-রাতে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে জান্নাত কামনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া ১ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে আবেদন করে যেন তিনি ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন ১ যে দু‘আ করলে একজন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তা দিনে রাতে যেকেন সময়েই হোক না কেন ১ হাদীস বিষয়ে যে ব্যক্তি গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি, তাকে যে হাদীসটি এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, দু‘আ পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যকে প্রতিহত করতে পারে ১
৮. পবিত্রতা অর্জন (كِتَابُ الطَّهَارَةِ)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন যে ব্যক্তি ওযূর ব্যাপারে যত্নবান, তার জন্য ঈমান সাব্যস্ত করা ১ ওযূর ফযিলত (কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে ওযূ করার কারণে মর‌্যাদা সমুন্নত হয় এবং পাপ মোচন হয়) ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন ১ ওযূর কারণে পাপসমূহ মুছে যাওয়া এবং ওযূকারী ব্যক্তি ওযূ শেষ করার পর গোনাহসমূহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যায় ১ ওযূ করে সালাত আদায়কারী ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য ক্ষমা করে দেন ১ ওযূকারী ব্যক্তিকে ওযূ শেষ করার পর মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, যখন সে ঠিক ওযূ করে যেভাবে ওযূ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেভাবে সালাত আদায় করে, যেভাবে আদায় সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “তার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করা হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক সালাত থেকে আরেক সালাত পর্যন্ত ১ ওযূকারীর যে গোনাহ মাফের কথা আমরা উল্লেখ করলাম, এটা তখনই হবে সে ব্যক্তি কাবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে; যে ব্যক্তি কাবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে না, তার জন্য এটি প্রযোজ্য নয় ১ দুনিয়ায় ওযূর পানি যে পর্যন্ত পৌঁছবে, জান্নাতবাসীদের অলঙ্কার সেই পৌঁছবে (আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন আমাদের জান্নাতে অলঙ্কারগুলো সেই পর্যন্ত পৌঁছে) ১ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মাতকে কিয়ামতের দিন চেনা যাবে, দুনিয়াতে ওযূর কারণে হাত-পায়ের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে ১ দুনিয়ায় ওযূর প্রভাবের কারণে কিয়ামতে এই উম্মাহর বিবরণ ১ অন্যান্য উম্মাতের লোকেরা সালাতের জন্য ওযূ করলেও হাত-পা-চেহারার উজ্জ্বলতা শুধুমাত্র এই উম্মাতের জন্যই হবে ১ কিয়ামতের দিন ওযূকারী ব্যক্তির হাত-পা-চেহারার উজ্জ্বলতা হবে দুনিয়াতে যে পর্যন্ত ওযূর পানি পৌঁছবে ১ যে ব্যক্তি ওযূর পর আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালতের সাক্ষ্য দেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায় ১ যে ব্যক্তি ওযূ করে রাত্রি যাপন করবে, তার ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় ফেরেস্তা তার জন্য ইস্তিগফার করেন ১ শয়তান ঘুমানোর সময় যেমন মাথার পশ্চাৎভাগে গিরা দিয়ে থাকে, অনুরুপভাবে ওযূ অঙ্গসমূহেও গিরা দিয়ে থাকে ১ ওযূর ফরয - যে ব্যক্তি ওযূর ফরয আদায় করতে চায়, তাকে পরিপূর্ণভাবে ওযূ করার নির্দেশ ১ পরিপূর্ণভাবে ওযূ করার নিয়ত করার সাথে সাথে হাতের আঙ্গুলসমূহের মাঝে খেলাল করার নির্দেশ ১ যে কারণে পরিপূর্ণভাবে ওযূ করার নির্দেশ দিয়েছেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ওযূকারীর জন্য ফরয হলো দুই পা মাসেহ করা; ধৌত করা নয়-তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই কারণে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওযূর সময় দুই পা মাসেহ করতেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কা‘ব হলো পায়ের পাতার উপরিভাগে উদ্গত হাড্ডি; পায়ের দুই পাশে উদ্গত হাড্ডি নয়- তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ ওযূর সময় পায়ের গোড়ালীর উপর মোটা রগ ও পায়ের তালু ধৌত করার ব্যাপারে ভালভাবে খেয়াল না করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ ওযূর সুন্নাত সমূহ - ওযূ করা শুরুর সময় ওযূকারী ব্যক্তির পাত্রে হাত ঢুকানোর বিবরণ ১ যখন কোন ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন দু্ই হাত ধৌত করার আগে ওযূর শুরুতে পাত্রে হাত ঢুকানোর ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যক্তিকে পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে তিনবার হাত ধৌত করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যক্তিকে ওযূ শুরু করার আগে দুই হাত ধৌত করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি হাত কয়বার ধৌত করবে ১ হাত ধৌত করার নির্দেশ হাতে নাপাকী লাগার আশংকায়, কেননা ঘুমন্ত অবস্থায় সেটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে স্পর্শ করে ১ নিয়মিত মেসওয়াক করার নির্দেশ, কেননা এটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভূক্ত ১ মেসওয়াক কারীর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে নিয়মিত মেসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়ার অভিলাষ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “প্রত্যেক সালাতের সময়” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক সালাতের সময় যখন সে সালাতের জন্য ওযূ করা হয় ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছেন ১ ইমামের জন্য তার অধিনস্থ লোকদের সামনে মেসওয়াক করা বৈধ, যদি তা তাদেরকে লজ্জা বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে না দেয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে তাঁর পরম বন্ধুর কাছে মুনাজাত করার জন্যে উঠেন, তখন তাঁর মেসওয়াক করা প্রসঙ্গে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেসওয়াক এর বিবরণ ১ বাড়িতে প্রবেশের সময় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব ১ মানুষের জন্য মু্স্তাহাব হলো যখন রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠবে, তখন প্রথমে মেসওয়াক করা ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো ওযূতে এক সাথে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ১ ওযূকারী ব্যক্তির জন্য কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার বিবরণ ১ ওযূকারীর জন্য বৈধ হলো এক অঞ্জলি পানি দিয়ে একসাথে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ১ ওযূর সময় নাকে পানি দেওয়ার বিবরণ ১ ওযূ করার সময় মুখে পানির ঝাপটা মারা মুস্তাহাব ১ ওযূকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো ওযূ করার সময় দাড়ি খেলাল করা ১ ওযূকারীর জন্য হাত ঘষে পরিস্কার করা মুস্তাহাব ১ ওযূর সময় আমরা যে দুই হাত ঘষে পরিস্কার করার কথা বললাম, এটা করা ওয়াজিব হয়ে যায়, যখন ওযূর পানি কম হয় ১ কোন ব্যক্তি ওযূ করতে চাইলে কিভাবে মাথা মাসেহ করবে তার বিবরণ ১ ওযূকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো হাতের অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসেহ না করে নতুন পানি নিয়ে মাসেহ করা ১ ওযূকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো ওযূর সময় কানের বাহিরের অংশ দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আর কানের ভিতরের অংশ দুই তর্জনী অঙ্গুলি দ্বারা মাসেহ করা ১ ওযূর সময় হাতের আঙ্গুল খেলাল করার নির্দেশ ১ যে কারণে আঙ্গুলসমূহের মাঝে খেলাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ ওযূর সময় দুই হাত ধৌত করার আগে মুখ ধৌত করার মাধ্যমে ওযূ শুরু করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুসরণে ওযূ ও পোশাক পরিধান করার ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সকল কাজে ডান থেকে শুরু করা ১ ওযূর অঙ্গসমূহ তিনবার করে ধোয়া মুস্তাহাব ১ ওযূকারীর ব্যক্তির বৈধ রয়েছে ওযূর কিছু অঙ্গ জোড় সংখ্যায় আবার কিছু অঙ্গকে বেজোড় সংখ্যায় ধৌত করা ১ ওযূর অঙ্গুসমূহ দুইবার দুইবার করে ধৌত করে ক্ষ্যান্ত থাকা বৈধ ১ ওযূর অঙ্গুসমূহ একবার করে ধৌত করে ক্ষ্যান্ত থাকা বৈধ, যদি সে পরিপূর্ণভাবে ওযূ করে ১ ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ ১ বমি করলে ওযূ নষ্ট হয়ে যায়, চাই বমি কম হোক অথবা বেশি হোক- এই মর্মে হাদীস ১ যে হাদীসটি কোন কোন আলেমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, কোন কোন অবস্থায় ঘুম ওযূকে অবধারিত করে দেয় না ১ উল্লেখিত হাদীসটি ইসলামের প্রথম যুগের- এই মর্মে হাদীস ১ তন্দ্রার কারণে ওযূ অবধারিত হয় না বরং যে ঘুমের কারণে মানুষের জ্ঞান লোপ পায়, তাতে ওযূ অবধারিত হয় ১ মযী (উত্তেজনাবশত বীর্যরস) বের হওয়ার কারণে সালাতের ন্যায় ওযূ করার নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “সে যেন তার লজ্জাস্থানে পানি ছিটা দেয়” এর উদ্দেশ্য হলো “সে যেন লজ্জাস্থান ধৌত করে” ১ মযী বের হওয়ার কারণে ওযূ না করে পুরুষাঙ্গ ধৌত করা সালাতের জন্য যথেষ্ট নয় এবং কাপড়ে পানির ছিটা দেওয়ার পরিবর্তে ওযূ করা যথেষ্ট হবে ১ মযী বের হলে ওযূ করা এবং মনী তথা বীর্য বের হলে গোসল করা ওয়াজিব ১ যে ব্যক্তি ইলমে হাদীসে মজবুত ইলম অর্জন করেনি, তিনি কখনো এই সংশয়ে পড়েন যে, এই হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবূ আব্দুর রহমান আস সুলামী বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ তৃতীয় হাদীস যা সংশয়ে ফেলে দেয় ঐ ব্যক্তিকে যে সঠিক জায়গা থেকে ইলম অন্বেষন করেনি, সে মনে করে যে হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীস দুটির বিপরীত ১ মযী বের হলে ওযূ আর বীর্য বের হলে গোসল ওয়াজিব ১ মাহরাম নারীদের স্পর্শ করার কারণে ওযূ ওয়াজিব হয় না মর্মে দলীলের ন্যায় হাদীস ১ মাহরাম নারীদের স্পর্শ করার কারণে ওযূ ওয়াজিব হয় না মর্মে দলীল ১ মাহরাম নারীদের স্পর্শ করার কারণে ওযূ ওয়াজিব হয় না মর্মে হাদীস ১ কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্পর্শ করার কারণে ওযূ ওয়াজিব হয় না মর্মে দলীলের ন্যায় হাদীস ২ উরওয়া (রহ.) এই হাদীসটি নিজে বুসরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে শ্রবণ করেছেন, এই মর্মে হাদীস ১ উরওয়া (রহ.) এই হাদীসটি নিজে বুসরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে শ্রবণ করেছেন, এই মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে যে ওযূ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা সেই ওযূ যা ছাড়া সালাত বিশুদ্ধ হয় না- এই মর্মে হাদীস ১ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে যে ওযূ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা হলো সালাতের ওযূ- এই মর্মে দ্বিতীয় হাদীস, যদিও আরবরা হাত ধুয়া অর্থেও ওযূ শব্দ ব্যবহার করে থাকে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তাতে নারী পুরুষ সবাই সমান ১ আমরা যে হাদীসগুলো উল্লেখ করলাম সেগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ; বস্তুত স্পর্শ করলে ওযূ তখনই ওয়াজিব হবে, যখন কোন পর্দা ও অন্তরাল ছাড়া সরাসরি লজ্জাস্থান স্পর্শ করা হবে; অন্যান্য স্পর্শ বা অন্তরাল রেখে লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযূ ওয়াজিব হবে না ১ যে হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো বুসরার হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ লজ্জাস্থান স্পর্শ করার হুকুমের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করা উভয়টিই সমান ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কাইস বিন তলক থেকে মুলাযিম বিন আমর ব্যতীত অন্য কোন নির্ভরযোগ্য রাবী হাদীসটি বর্ণনা করেননি ১ তলক বিন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যে সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন ১ তলক বিন আলী রাদিআল্লাহু আনহু মদীনায় আগমন করার পর আবার স্বদেশে ফিরে যান মর্মে সুস্পষ্ট হাদীস ১ উটের গোসত খেলে ওযূ করার নির্দেশ, এটা তাদের কথার বিপরীত যারা ওযূ না করার কথা বলেন ২ যে হাদীস হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো ত্রুটিযুক্ত ১ উটের গোসত খেলে ওযূ করতে হবে, এই মর্মে সুস্পষ্ট হাদীস ১ উটের গোসত খাওয়ার কারণে যে ওযূ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটা সালাতের জন্য নির্ধারিত ওযূ; ওযূ দ্বারা শুধু দুই হাত ধোয়া উদ্দেশ্য নয়- এই ব্যাপারে হাদীস ১ যে হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, উটের গোসত খেলে ওযূ করা ওয়াজিব নয় ১ যে হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, উটের গোসত খেলে ওযূ করা ওয়াজিব নয় ১ যে হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, উটের গোসত খেলে ওযূ করা ওয়াজিব নয় ১ যে হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমরা যে ওযূ করার নির্দেশের কথা উল্লেখ করলাম সেটাকে রহিতকারী বা এটি সেই হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক ১ যে হাদীস কোন কোন আলেমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, এই হাদীসটি উটের গোসত খেলে ওযূ করা ওয়াজিব হওয়া মর্মে বর্ণিত হাদীসটিকে রহিত করে দিয়েছে ১ যে হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমরা যে ওযূ করার নির্দেশের কথা উল্লেখ করলাম সেটাকে রহিতকারী ১ যে হাদীস আমাদের উল্লেখিত হাদীসের সংক্ষিপ্ত শব্দের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে ২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে খাবার খেয়ে ওযূ করেননি, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে খাবার খেয়েছিলেন, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে খাবার খেয়ে ওযূ করেননি, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাঁধের গোসত খেয়ে ওযূ করেননি, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাঁধের গোসত খেয়ে ওযূ করেননি, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাঁধের গোসত খেয়ে নতুন করে ওযূ না করে সালাত আদায় করেছেন, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত নয়- এই মর্মে তৃতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাঁধের গোসত খেয়ে নতুন করে ওযূ করেননি, সেটা মেষের কাঁধের গোসত ছিল; উটের কাঁধের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কাঁধের গোসত খেয়ে নতুন করে ওযূ করেননি, সেটা মেষের কাঁধের গোসত ছিল; উটের কাঁধের গোসত নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে গোসত খেয়ে ওযূ করেননি, সেটা মেষের গোসত ছিল; উটের গোসত ছিল না মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই কাজ যে নির্দেশকে রহিত করে দিয়েছে, যা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি ১ আগুনে পাকানো জিনিস খেলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ওযূ করার নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য تَوَضَّأْ مِمَّا مَسَّتْهُ النَّارُ (আগুন যা স্পর্শ করেছে, তা খেয়ে ওযূ করবে) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আগুনে পাকানো জিনিস ১ আগুনে পাকানো মেষের গোসত খেলে ওযূ না করার বৈধতা প্রসঙ্গে আলোচনা ১ আগুনে পাকানো মেষের গোসত খেলে ওযূ না করা বৈধ ১ মেষের গোসত খেয়ে ওযূ করার ব্যাপারটি আগুনে পাকানো জিনিস খেয়ে ওযূ করার নির্দেশের পর হয়েছে ১ আগুনে পাকানো ছাতু খেলে ওযূ না করার বৈধতা ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো যখন সে আগুনে পাকানো গোসত খাবে তখন হাতে-মুখে পানি স্পর্শ না করেই সালাত আদায় করা ১ একমাত্র উটের গোসত ব্যতীত অন্য যে কোন আগুনে পাকানো জিনিস খেলে ওযূ করার নির্দেশ মানসূখ বা রহিত ১ আমাদের বর্ণনানুযায়ী একমাত্র উটের গোসত ব্যতীত অন্য যে কোন আগুনে পাকানো জিনিস খেলে ওযূ করা ওয়াজিব নয় মর্মে হাদীস ১ আগুনে পাকানো জিনিস খেয়ে ওযূ না করার যে বৈধতা তা থেকে উটের গোসত খেয়ে ওযূ করার নির্দেশটি ব্যতিক্রম এই মর্মে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ সব ধরণের দুধ পান করার কারণে ওযূ না করা বৈধ ১ দুধ পান করা পানকারী ব্যক্তির উপর ওযূ করা আবশ্যক করে না ১ ফল খেয়ে ওযূ না করার বৈধতা প্রমাণে হাদীস ১ মৃত ব্যক্তিকে বহন করার কারণে ওযূ করার নির্দেশ ১ দুই হাতে মাংসের কিছু চর্বি লেগে থাকলে তা না ধুয়ে কোন কিছু দিয়ে মুছে সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া বৈধ ১ পাকানো গোসত স্পর্শ করার কারণে ওযূ আবশ্যক হয়ে যায় না ১ (গোসল) - বীর্যপাতে গোসল ওয়াজিব হয়, যদিও দুই খাতনার জায়গা একত্রিত হয় ১ উম্মু সুলাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “নারীরা স্বপ্নে দেখে যেভাবে পুরুষরা দেখে থাকে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য স্বপ্নদোষ হওয়া ১ নারীদের স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা ওয়াজিব ১ মেয়েদের স্বপ্নদোষ হলে তখনই গোসল ওয়াজিব হয়, যখন বীর্যপাত হয়, যদি স্বপ্নদোষ হয় কিন্তু কাপড় ভেজা না পাওয়া যায়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে না ১ স্বপ্নদোষ হলে যদি ভেজা না পাওয়া যায়, তবে গোসল করার বিধান বাতিল হয়ে যাবে এই মর্মে হাদীস ১ ইসলামের প্রথম যুগে স্ত্রী মিলনের পর বীর্যপাত না হলে, তবে স্ত্রী-দেহ যতটুকু স্পর্শ করতো, ততটুকু ধৌত করে তারপর সালাত আদায়ের জন্য ওযূ করা ফরয ছিল; গোসল করা ফরয ছিল না ১ ইসলামের প্রথম যুগে স্ত্রী মিলনের পর বীর্যপাত না হলে, গোসল ছাড়া যা করা জরুরী ছিল ৩ উল্লেখিত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের হুকুম বৈধ থাকার পর পরবর্তীতে তা মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে ১ আমরা যে কাজের (স্ত্রী মিলন) কথা উল্লেখ করলাম, যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে, তার জন্য ওয়াজিব হলো গোসল করা, যদিও বীর্যপাত না হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক এমন কাজ করা যা না করার তিনি বৈধতা দিয়েছিলেন ১ স্ত্রী মিলনের সময় যদি দুই খাতনার জায়গা পরস্পর মিলিত হয়, তবে গোসল করা ফরয হয়ে যাবে, যদিও তাতে বীর্যপাত না হয় ১ যদি দুই খাতনার জায়গা পরস্পর মিলিত হয়, তবে গোসল করা ফরয হয়ে যাবে, যদিও তাতে বীর্যপাত না হয় ১ স্ত্রী মিলনের পর বীর্যপাত না হলেও গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে ১ স্ত্রী মিলনের পর বীর্যপাত না হলে গোসল ওয়াজিব না হওয়া বিধানটি ইসলামের প্রথম যুগে ছিল, পরবর্তীতে গোসল করার নির্দেশ দেওয়া হয় ১ যেই সময়ে এই বিধানটি রহিত করা হয়, তার বর্ণনা ১ সহবাস করার কারণে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায় যদিও বীর্যপাত না হয় ১ দুই খাতনার জায়গা একত্রিত হলে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়, যদিও তাতে বীর্যপাত না হয় এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে তৃতীয় হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, খোদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সেই কাজ করা ১ স্ত্রী সহবাস করলে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়, যদিও তাতে বীর্যপাত না হয় ১ স্বপ্নদোষ হলে যদি ভেজা না পাওয়া যায়, তবে গোসল করার বিধান বাতিল হয়ে যাবে এই মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে খোলা জায়াগায় গোসল করতে চাইবে, তখন সে কাউকে আদেশ করবে যেন তাকে কোন কাপড় দিয়ে পর্দা করে দেয়, যেন কোন দর্শক তাকে দেখতে না পায় ১ গোসলকারী ব্যক্তির জন্য এটা জায়েয আছে তার গোসলের সময় কোন মাহরাম নারী তার জন্য পর্দা করবেন ১ যে হাদীস অগভীর জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত আবূ মুর্রার হাদীসের বিপরীত ১ নাপাকী গোসল সম্পাদনকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ধৌত করা; ডান হাত দিয়ে নয় ১ নাপাক ব্যক্তি গোসল করতে চাইলে কিভাবে গোসল করবে তার বিবরণ ১ যখন কোন ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নাপাকী গোসল করার ইচ্ছা করবে, তখন আবশ্যক হলো স্ত্রী প্রথমে দুই হাতের উপর পানি ঢেলে (হাত ধুয়ে) নিবে তারপর দুইজন একসাথে গোসল করবে ১ নাপাক ব্যক্তির জন্য জায়েয আছে তার স্ত্রীর সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করা ১ একই পাত্র থেকে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে গোসল করা জায়েয হওয়ার কথা উল্লেখ ১ দুই নাপাক ব্যক্তির এক পাত্র থেকে গোসল করা বৈধ, যদিও পানি অল্প হয় ১ নাপাকী গোসল সম্পাদনকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো গোসলের সময় চুলের গোড়ায় খেলাল করা ১ নাপাক ব্যক্তি গোসলের সময় যে তিন অঞ্জলি পানি মাথায় দেয় তার বিবরণ ১ কোন নারী যখন নাপাকীর গোসল করবে, তখন তার জন্য বৈধ হলো বেনী না খুলে গোসল করা ১ ঋতুবতী মহিলার জন্য মুস্তাহাব হলো গোসলের পানিতে বরই পাতা ব্যবহার করা এবং গোসলের পর এক টুকরো সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করা ১ ঋতুবতী নারী গোসলের পর সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করার নির্দেশ, অন্য কাপড় নয় ১ (৬) গোসলের পানির পরিমাণ - যে পরিমাণ পানি দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোসল করতেন ১ যে পরিমাণ পানি দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা গোসল করতেন ১ আমরা নাপাকী গোসলের জন্য যে পানির পরিমাণের কথা বর্ণনা করলাম, এটা এমন পরিমাণ নয় যে, তার চেয়ে কম-বেশি করা যাবে না ১ আমরা নাপাকী গোসলের জন্য যে পানির পরিমাণের কথা বর্ণনা করলাম, এটা এমন পরিমাণ নয় যে, তার চেয়ে কম-বেশি করা যাবে না ১ (৭) নাপাক ব্যক্তির বিধি-বিধান - যে ঘরে নাপাক ব্যক্তি থাকে, সে ঘরে ফেরেস্তাদের প্রবেশ না করা প্রসঙ্গে ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো একাধিক স্ত্রীর বা দাসীদের কাছে গমন করে শেষে একবার গোসল করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কাজ শুধু একবার করেননি এই মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর যেসব স্ত্রীদের নিকট গমন করে শেষে একবার গোসল করতেন, সেসব স্ত্রীদের সংখ্যা প্রসঙ্গে ১ যে ব্যক্তি মজবূতভাবে ইলমে হাদীস অর্জন করে নাই, তাকে কোন কোন সময় এই হাদীস সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত দাসতুয়াইর হাদীসের বিপরীত ১ যে ব্যক্তি স্ত্রীর কাছে পুনরায় গমন করতে চায়, তাকে ওযূ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ যে কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ নাপাক ব্যক্তি গোসলের আগে ঘুমাতে চাইলে কী করবে, সেই সম্পর্কে হাদীস ২ নাপাক ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে লজ্জাস্থান ধুয়ে এবং সালাতের ন্যায় ওযূ করে গোসল না করেই ঘুমানো ১ নাপাক ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে গোসল না করে ওযূ করে ঘুমানো ১ নাপাক ব্যক্তি ঘুমাতে চাইলে তার জন্য ওযূ করা এমন ফরয নয় যে, ওযূ না করে ঘুমানো জায়েয নেই ১ নাপাক ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে সালাতের ন্যায় ওযূ করার পর ঘুমানো ১ নাপাক ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে ঘুমাতে চাইবে, তখন সালাতের ন্যায় ওযূ করবে, তারপর ঘুমাবে ১ (৮) জুমু‘আর দিনে গোসল করা ২ জুমু‘আর উদ্দেশ্যে গোসলকারী ব্যক্তি আগামী জুমু‘আহ পর্যন্ত পাপসমূহ থেকে পবিত্র হয়ে যায় ১ জুমু‘আর দিনে গোসল করা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভূক্ত ১ জুমু‘আয় যাওয়ার ইচ্ছা করলে, জুমু‘আর জন্য গোসল করা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি জুমু‘আয় আসবে তাকে গোসল করার নির্দেশ, আর যে জুমু‘আয় আসবে না তার থেকে গোসল করার নির্দেশ বাদ পড়ে যাবে ১ সকাল সকাল গমন করার অর্থে الرَّواح শব্দ ব্যবহার করা ১ নারীরা জুমু‘আয় আসতে চাইলে তাদের জন্য গোসল করা মু্স্তাহাব ১ যে শব্দ কোন কোন আলেম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ফরয; যা তরক করা জায়েয নেই ১ দ্বিতীয় হাদীস, যে হাদীস অনুসারে আমাদের কিছু মনে করেন যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ওয়াজিব ১ যে ব্যক্তি জুমু‘আয় আসতে ইচ্ছা করে, তিনি কিভাবে গোসল করবেন তার বিবরণ ১ পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহে যে গোসল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশ নির্দিষ্ট কারণবশত নির্দেশনা ও উত্তমতা নির্দেশক- এই ব্যাপারে হাদীস ১ যে ব্যক্তি জুমু‘আয় উপস্থিত হবে, তার জন্য গোসল করা ফরয নয়, এই ব্যাপারটি স্পষ্টকারী দ্বিতীয় হাদীস ১ তৃতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ফরয নয় ১ তৃতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ফরয নয়; বরং মুস্তাহাব ১ তৃতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভালো ও উত্তম ১ যে কারণে লোকদেরকে জুমু‘আর দিনে গোসল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ লোকজন জুমু‘আর দিন তাদের কাজের পোশাক পরিধান করে আসতো, এই জন্য তাদেরকে এই দিন গোসলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “ফলে তাদেরকে বলা হয়, “যদি তোমরা গোসল করতে, (তবে সেটা কতইনা ভালো হতো)” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এই নির্দেশ করেছিলেন ১ (৯) কাফির ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে গোসল করা প্রসঙ্গে - কাফির ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে গোসল করা ১ সুমামাকে বন্দি হওয়ার সময় খুটির সাথে বেধে রাখা হয়েছিল এই মর্মে বর্ণনা ১ কাফির ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো পানির সাথে বরই পাতা মিশিয়ে গোসল করা ১ (১০) পানির বিবরণ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি প্রবাহমান পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আবদ্ধ পানির ক্ষেত্রে নয়- তার ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি সাগরের পানি দিয়ে ওযূ করা নাজায়েয বলে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি সা‘ঈদ বিন সালামাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ঐ পানি দিয়ে গোসল করা বৈধ, যাতে কোন খাদ্যদ্রব্য মিশে যায়, যতক্ষন না সেই খাদ্যদ্রব্য আধিক্যের কারণে পানির উপর প্রাবল্যতা লাভ করে ১ যখন পানিতে অথবা পানীয়তে এমন কিছু পড়ে, যাদের প্রবাহমান রক্ত নেই, তবে সেক্ষেত্রে কী করবে ১ কোন পাত্রে মাছি পড়লে, পুরো মাছিকে পাত্রে ডুবিয়ে দিবে, কেননা মাছির এক ডানায় রোগ আরেক ডানায় আরোগ্য থাকে ১ যে বক্তি মনে করে যে, আবদ্ধ পানিতে নাপাকী গোসল করলে পানি নাপাক হয়ে যায় যদি পানি কম হয় অর্থাৎ পানির পরিমাণ দৈর্ঘ-প্রস্ত ও গভীরতায় অন্তত ১০×১০ বা ১০০ বর্গহাত না হবে- তার কথা ভুল প্রমাণে হাদীস ১ আমাদের উল্লেখিত হাদীসটিকে যেই দুটি বিশেষণে বিশেষিত হবে ১ আবদ্ধ পানি দুই কুল্লাহ বা ২০৪ লিটারের কম হলে তাতে পেশাব করার ব্যাপারে ধমকী ১ দুই কুল্লার কম পানিতে পেশাব করে, তারপর সেই পানিতে ওযূ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ নাপাক ব্যক্তির শরীরে লেগে থাকা নাপাকীর কারণে দুই কুল্লার কম পানিতে নাপাকীর গোসল করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ পূর্ববর্তী দুই অধ্যায়ে আমরা পানির যে ব্যাখ্যা করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ দুই কুল্লার কম পানিতে পেশাব করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ঐ ব্যক্তির জন্য যার নিয়ত রয়েছে যে সে তাতে পরে গোসল করবে ১ যে গোসলখানার পানি প্রবাহিত হয়ে চলে যায় না, এমন গোসলখানায় পেশাব করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ দুই কুল্লার কম পানিতে পেশাব করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ঐ ব্যক্তির জন্য যার ইচ্ছা রয়েছে যে সে পরে তাতে ওযূ করবে অথবা তা পান করবে ১ হাদীস বিষয়ে যে মজবুত ইলম অর্জন করেনি, তাকে কোন কোন সময় যে হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আবদ্ধ পানিতে নাপাক ব্যক্তি গোসল করলে পানি নাপাক হয়ে যায় ১ যে ব্যক্তি এই ধারণা করে যে, নাপাক ব্যক্তি পুকুরে গোসল করলে পুকুরের সব পানি নাপাক হয়ে যায়, তার ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি এই ধারণা করে যে, নাপাক ব্যক্তি পুকুরে গোসলের জন্য নামলে পুকুরের সব পানি নাপাক হয়ে যায়, তার ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ (১১) নারীর ওযূর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযূ করা ১ যে হাদীস এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রথম যুগে নিষিদ্ধ উক্ত কাজটি পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে করেছেন ১ উক্ত নিষিদ্ধ কাজটির বৈধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ হাকাম বিন আমরের হাদীসে এটি বর্ণিত হয়েছে যে, ব্যক্তি উক্ত নিষিদ্ধ কাজটি করেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রতিবাদ করেননি ১ নাপাকীর গোসলের পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযূ করা যে ব্যক্তি নাজায়েয বলে, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ একই পাত্র হতে নারী-পুরুষ উভয়েই ওযূ করা বৈধ ১ (১২) ব্যবহৃত পানি সম্পর্কে - যেই পানি ব্যবহার করে একবার ফরয আদায় করা হয়েছে সেই পানি ব্যবহার আরেক ফরয আদায় করা মর্মে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বৈধতা সুস্পষ্টকরণের মাধ্যমে যে হাদীস মন থেকে সংশয়কে দূর করে দেয় ১ সৎকর্মশীল আলিমদের ওযূর অবশিষ্ট পানি দ্বারা বরকত নেওয়া বৈধ, যখন তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর অনুসারী হবেন; বিদ‘আতী হবেন না ১ (১৩) পাত্রসমূহের বিবরণ - কাঠের তৈরি পাত্রে গোসল করা বৈধতা প্রসঙ্গে ১ রাতে পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ, একটি কাষ্ঠখন্ড দিয়ে আড়াআড়ি করে হলেও ১ রাতে ঘুমানোর সময় দরজা বন্ধ করে দেওয়া, পানপাত্রের মুখ বন্ধ করা, বাতি নিভিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য পাত্র ঢেকে দেওয়ার নির্দেশ ১ যে বিষয়গুলো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিসমিল্লাহ সহ এসব প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই মর্মে বর্ণনা ১ যে বিষয়গুলো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসব রাতে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; দিনে নয়, এই মর্মে বর্ণনা ১ যে বিষয়গুলো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসব রাতে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; দিনে নয়, এই মর্মে হাদীস ১ যে বিষয়গুলো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসব রাতের কিছু অংশে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; পুরো রাত নয় ১ এই সময়ে এসব নির্দেশ করার কারণ ১ (১৪) মৃত প্রাণীর চামড়া প্রসঙ্গে ১ জুহাইনাহ এলাকায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চিঠি পাঠ করার সময় আব্দুল্লাহ বিন উকাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উপস্থিত ছিলেন ১ হাদীসের যেই শব্দ কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি মুরসাল; মুত্তাসিল নয় ১ মৃত প্রাণীর চামড়ার মাধ্যমে যে কোন উপকার লাভ করার বৈধতা ১ আমরা যে চামড়ার কথা উল্লেখ করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীকে সেই চামড়া ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন ১ মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়ার নির্দেশ, যখন তা দাবাগত বা পাকা করা হয় ১ মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার বৈধ করা হয়েছে সেসময়, যখন দাবাগত করা হয়; তার আগে নয় ১ যেসব প্রাণী জবেহের মাধ্যমে ভক্ষন করা হালাল, সেসব মৃত প্রাণীর চামড়া দাবাগত করার পর বৈধ হয় ১ মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার বৈধ করা হয়েছে সেসময়, যখন দাবাগত করা হয়; তার আগে নয় ১ মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ, যখন তা দাবাগাত করা হয়, চাই সেই প্রাণী জবেহের মাধ্যমে হালাল হোক অথবা না হোক ১ প্রত্যেক মৃত প্রাণীর চামড়া দ্বারা উপকার লাভ করা বৈধ, যখন তা দাবাগত করা হয় বা দাবাগত করা যায়-এই ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে ইবনু ওয়ালা ও যাইদ বিন আসলাম শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ যেসব প্রাণী জবেহের মাধ্যমে ভক্ষন করা হালাল, সেসব প্রাণীর চামড়া দাবাগত করার পর তা ব্যবহার করা বৈধ, এমন মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করাও বৈধ ১ দাবাগত করার মৃত প্রাণীর চামড়া মাধ্যমে উপকার লাভ করা বৈধ ২ (১৫) বিভিন্ন ধরণের উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে - যে কুয়া থেকে পানি পান করা হয়, তাতে কুলি করা বৈধ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ঋতুবতী নারীর মুখের উচ্ছিষ্ট নাপাক, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ পাত্রে কুকুর মুখ দিলে নির্দিষ্ট সংখ্যায় তা ধৌত করার নির্দেশ ১ কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে তা নাপাক হয়ে যায়, এই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কোন পাত্রে কুকুর লাগানোর পর পাত্রের খাবার পবিত্র- তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সাত ধৌত করার ক্ষেত্রে প্রথমবার মাটি দিয়ে ধৌত করা প্রসঙ্গে ১ পাত্রে মুখ দিলে তা ধৌত করার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো অষ্টমবার মাটি দিয়ে মাজা ১ সমস্ত হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পাক, এই মর্মে হাদীস ১ (১৬) তায়াম্মুম করা ১ মাটি বা ধুলি ব্যাতিত, কয়লা, সীসা বা এ জাতীয় যে কোন জিনিস দিয়ে তায়াম্মুম করা বৈধ নয় ২ পানি না পাওয়া গেলে যে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা যায়, সেই তায়াম্মুমের বিবরণ ১ দ্বিতীয় হাদীস যা স্পষ্ট করে যে, পুরো দুই হাত মাসেহ করা ওয়াজিব নয় ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, পুরো দুই হাত মাসেহ করা ওয়াজিব; যা ছেড়ে দেওয়া বৈধ নয়, তার কথা অপনোদনে হাদীস ২ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে দুইবার মাটিতে হাত মেরে পুরো হাত মাসেহ না করে মুখ মুন্ডল ও হাতের কব্জি মাসেহের উপর ক্ষান্ত থাকার নির্দেশ ১ তায়াম্মুমের জন্য হাত মাটিতে মারার পর দুই হাতে ফুঁক দেওয়া মুস্তাহাব ১ যেই হাদীস হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহের বিপরীত ১ নিশ্চয়ই পানি না পাওয়া ব্যক্তির জন্য পবিত্র মাটিই হলো ওযূর বিকল্প ব্যবস্থা, যদিও কয়েক বছর পর্যন্ত পানি না পায় ১ পানি পাওয়া ব্যক্তি যদি জুনুবী থাকে, তবে তার জন্য আবশ্যক হলো তখনই শরীরে পানি স্পর্শ করানো অর্থাৎ গোসল করা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি খালিদ আল হায্যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পানি পাওয়া সত্তেও তায়াম্মুম করা বৈধ, যখন সে পানি ব্যবহার করার কারণে নিজের প্রাণ নাশের আশংকা করবে ১ জুনুবী ব্যক্তির জন্য গোসল না করে ওযূ বা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা বৈধ, যখন সে প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে নিজের প্রাণ নাশের আশংকা করবে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সালামের জবাব দেবার জন্য তায়াম্মুম করা, যদিও সে মুকীম থাকে ১ মুসাফির ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে দুনিয়াবী কোন জিনিসের কারণে এমন জায়গায় যাত্রা বিরতি করা জায়েয, যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই ১ ১৭ - চামড়ার মোজা ও অন্যান্য জিনিসের উপর মাসেহ করা ১ ওযূবিহীন অবস্থায় মোজার উপর মাসেহ করার বৈধতা দেওয়া হয়েছে কিন্তু শরীর নাপাক হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে মাসেহ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি ১ মুকীম ও মুসাফিরের জন্য ওযূবিহীন অবস্থায় মোজার উপর মাসেহ করার বৈধতা দেওয়া হয়েছে কিন্তু শরীর নাপাক হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে মাসেহ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি ২ মোজার উপর মাসেহ করার নির্দেশ অনুমতি ও প্রশস্ততা জ্ঞাপন নির্দেশ; বাধ্যতামূলক নয় ১ মুকীম ব্যক্তি যখন সফরে না থাকে তার জন্য মোজার উপর মাসেহ করাকে যে ব্যক্তি নাকচ করে, তার বক্তব্য অপনোদনকারী হাদীস ১ মুসাফিরের জন্য মোজার উপর মাসেহ করা তখনই বৈধ, যখন সে মোজা ওযূ করার পর পরিধান করবে ১ মোজার উপর মাসেহ করা তখনই বৈধ, যখন সে মোজা ওযূ করার পর পরিধান করা হবে ১ মোজার উপর মাসেহ কারী ব্যক্তির জন্য তখনই সালাত আদায় বৈধ হবে, যখন সে মোজা ওযূ করার পর পরিধান করা হবে ১ যে ব্যক্তি মুসাফিরের জন্য মাসেহ করা ও মাসেহ করার সময়সীমাকে নাকচ করে, তার বক্তব্য অপনোদনকারী হাদীস ১ মুকীম ও মুসাফিরের জন্য মোজার উপর মাসেহ করার সময়সীমা মুসাফিরের জন্য মোজার উপর মাসেহ করা তখনই বৈধ, যখন সে মোজা ওযূ করার পর পরিধান করবে ১ মুসাফির মুকীমের জন্য জন্য মোজার উপর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসেহ করার বৈধতা, যে সময় অতিক্রম করা বৈধ নয় ১ মুকীম ব্যক্তির মোজার উপর কতদিন মাসেহ করতে পারবে, সে সম্পর্কে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য তিনদিন এবং একদিন উদ্দেশ্য হলো রাতসহ ১ মুসাফিরের জন্য মোজার উপর তিনদিন ও তিনরাত মাসেহ করা বৈধ ১ মুসাফিরের জন্য তিনদিন মোজার উপর মাসেহ করা দ্বারা উদ্দেশ্য রাতসহ তিনদিন এবং মুকীমের জন্য একদিন মোজার উপর মাসেহ করা দ্বারা উদ্দেশ্য রাতসহ একদিন ১ ওযূ ভেঙ্গে যাওয়ার পর মোজার উপর মাসেহ কারী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে পছন্দমত সালাত আদায় করা, যদি মাসেহের মেয়াদ অতিক্রম না করে থাকে ১ সূরা আল মায়েদা অবতীর্ণ হওয়ার পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোজার উপর মাসেহ করেছেন এই মর্মে বর্ণনা ১ জারীর বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের শেষ দিকে সূরা আল মায়িদা অবতীর্ণ হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোজার উপর মাসেহ করার অনুমতি দিয়েছেন সূরা আল মায়েদায় মহান আল্লাহ যে পা ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তার আগে- উক্ত কথার অপনোদনকারী হাদীস ১ মোজার উপর মাসেহ করার বৈধতা যখন তা জুতার সাথে থাকে ২ অতিরিক্ত ওযূর ক্ষেত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুতার উপর মাসেহ করেছেন, সুনির্দিষ্ট কারণে ওযূ ভেঙ্গে গেলে সেক্ষেত্রে জুতার উপর মাসেহ করেননি মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উক্ত শব্দে হাদীসটি জারীর বিন আব্দুল হামীদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো ওযূর সময় একই সাথে কপাল ও পাগড়ির উপর মাসেহ করা ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো কপাল মাসেহ না করে বরাবর মোজার ন্যায় পাগড়ীর উপর মাসেহ করা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উক্ত হাদীসটি আমর বিন উমাইয়্যাহ আয যমরী এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তাদের কথা অপনোদনে হাদীস ১ সালমান আল ফারেসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য (وَعَلَى خِمَارِهِ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য পাগড়ী ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মোজার উপর মাসেহ করা হয়তো জায়েয নেই ১ হাদীসের অংশ “তিনি কপালের উপর মাসেহ করেছেন” এই বাক্য সুলাইমান আত তাইমী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, এই মর্মে বর্ণনা ১ (১৮) হায়েয (ঋতুস্রাব) ও ইস্তিহাযাহ (ঋতুস্রাব বহির্ভুত রক্তনির্গমন) - কোন ধরণের রক্ত নির্গমন হলে, সেটাকে হায়েয হিসেবে ধরা হবে ১ ঋতুবতী নারী যখন পবিত্র হবে, তখন তার জন্য বৈধ আছে ঋতুস্রাব চলাকালিন সময়ের সালাত আদায় না করা ১ হায়েয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেওয়া আর হায়েয শেষ হলে গোসল করার নির্দেশ ১ ইস্তিহাযাগ্রস্থ নারীকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করার নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীসটি উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি আমর বিন হারিস ও আওযা‘ঈ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ইস্তিহাযাগ্রস্থ নারীকে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযূ করার নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসের উল্লেখিত শব্দ আবূ হামযা ও আবূ হানিফা এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ঋতুবতী স্ত্রীর মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা গ্রহণ করা প্রসঙ্গে ১ সর্বাবস্থায় ঋতুবতী স্ত্রীর মাধ্যমে কাজে সহযোগিতা গ্রহণ করা যায় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সুফিয়ান থেকে উক্ত হাদীসটি মু‘আবিয়া বিন হিশাম এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তাদের ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই সময় মেয়েদের জন্য সালাত আদায় করা বৈধ নয় (হায়েয বা এজাতীয় পরিস্থিতিতে), সে সময় ঐ নারীর জন্য তার স্বামীর মাথার চুল আচড়িয়ে দেওয়া বৈধ ১ ঋতুবতী নারীর সাথে পানাহার করা বৈধ ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা পান করার জন্য পানপাত্র গ্রহণ করতেন এবং খাওয়ার জন্য মাংসল হাড় নিতেন ১ ঋতুবতী নারীর সাথে পানাহার করা ও বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কেননা ইয়াহুদীরা এরকম করে না ১ হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে শয়ন করা বৈধ ১ হায়েয অবস্থায় যখন কোন নারী তার স্বামীর সাথে শয়ন করবে, তখন তার জন্য আবশ্যক হলো অন্তর্বাস পরিধান করে নেওয়া ১ ঋতুবতী নারী স্বামীর সাথে শয়ন করলে কিভাবে অন্তর্বাস পরিধান করবে তার বিবরণ ১ ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে হেলান দেওয়া ও লজ্জাস্থান ব্যতীত অন্য যেকোন জায়গায় আলিঙ্গন করা বৈধ ১ কোন ঋতুবতী নারীর সাথে তার স্বামী আলিঙ্গন করতে চাইলে তাকে অন্তর্বাস পরিধান করে নেওয়ার নির্দেশ ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “তারপর তিনি তার সাথে আলিঙ্গন করতেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “তারপর তিনি তার সাথে শুয়ে থাকতেন” ১ (১৯) অধ্যায়: নাপাকী ও তার পবিত্রকরণ - মুসলিম ব্যক্তি জুনুবী হোক অথবা না হোক তাকে নাপাক হিসেবে অভিহিত করা যাবে না, যদি সে অল্প পানিতে নামে, এতে সেই পানি নাপাক হয়ে যায় না ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর দিকে ধাবিত / মনযোগী হয়েছিলেন, তার বর্ণনা ১ মানুষের চুল পবিত্র, চুল পানিতে পড়লে পানি নাপাক হয়ে যায় না আর যদি চুল কাপড়ের মাঝে থাকে, তবে তাতে সালাত আদায় করাতে কোন বাধা নেই ১ ছেলে শিশু সন্তান যে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কোন খাবার খায় না, তার পেশাব কাপড়ে লাগলে তা ধৌত না করা বৈধ ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “فَأَتْبَعَهُ الْمَاءَ” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন ১ যে ছেলে শিশু বুকের দুধ ছাড়া আর কোন খাবার খায় না, সেই শিশু কাপড়ে পেশাব করে দিলে, তাতে পানির ছিটা দেওয়াই যথেষ্ট ১ পানি ছিটা দেওয়ার হুকুম ছেলে শিশুর জন্য; মেয়ে শিশুর জন্য নয় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে মিসক সুগন্ধি নাপাক, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে মিসক সুগন্ধি নাপাক, তার কথা অপনোদনকারী দ্বিতীয় হাদীস ১ তৃতীয় হাদীস যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, মিসক বা সুগন্ধি পবিত্র ১ কোন কাপড়ে বীর্য লাগলে তা ধৌত করা ছাড়াই তা পরিধান করে সালাত আদায় করা জায়েয ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, বীর্য নাপাক, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীস দুটোর বিপরীত ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সুলাইমান বিন ইয়াসার হাদীসটি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে শুনেননি ১ যেসব প্রাণীর গোসত খাওয়া বৈধ, সেসব প্রাণীর গোবর পবিত্র- এই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, যেসব প্রাণীর গোসত খাওয়া বৈধ, সেসব প্রাণীর পেশাব নাপাক- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেসব জায়গায় ‘গোসত খাওয়া হালাল’ এমন প্রাণীর পেশাব-গোবর লাগলেও সেখানে সালাত আদায় করা জায়েয ১ যেসব প্রাণীর গোসত খাওয়া বৈধ, সেসব প্রাণীর গোসত খাওয়া বৈধ, এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদীস ২ যে কারণে উরানী গোত্রের লোকদের উটের পেশাব পান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, উরানী গোত্রের লোকদেরকে উটের পেশাব পান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল চিকিৎসার জন্য; এজন্য নয় যে, উটের পেশাব পবিত্র- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, উরানী গোত্রের লোকদেরকে উটের পেশাব পান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল চিকিৎসার জন্য; এজন্য নয় যে, উটের পেশাব পবিত্র- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উরানী গোত্রের লোকদেরকে চিকিৎসার জন্য উটের পেশাব পান করার অনুমতি দেননি- এই মর্মে হাদীস ১ কারো পাত্রে ইঁদুর পড়লে কি করবে, এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ইলম যথাযথভাবে অর্জন করেননি, তাকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ইবনু উআইনার হাদীসটি ভুল বা ত্রুটিযুক্ত ১ এই হাদীসের উল্লেখিত দুটো সানাদই মাহফূয (সহীহ) মর্মে হাদীস ১ (২০) নাজাসাত বা নাপাকি দূরীকরণ ২ উক্ত নারী কাপড়ে হায়েযের রক্ত লাগলে তা পবিত্র করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন; অন্য কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেননি ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তারপর তাতে পানি ছিটা দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আশেপাশে পানি ছিটা দিবে; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, হায়েযের রক্ত ধৌত করা অংশে পানি ছিটা দিবে ১ জমিনে মানুষের পেশাব লাগলে, তা পবিত্র করার জন্য তাতে এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ ১ জমিনে ছড়িয়ে পড়া নাপাকের উপর যখন পবিত্র পানি এমনভাবে প্রাবল্যতা লাভ করে যে, নাজাসাতের সত্তা অপসারিত হয়ে যায়, তখন সেই জমিন পবিত্র হয়ে যায় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা তাকে ছেড়ে দাও” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বেদুঈন ব্যক্তি দ্বীন ও দ্বীনের বিধি-বিধান যা সে জানত না, তা নম্রতার সাথে শিক্ষা দেওয়া ১ আমরা যে বেদুঈনের কথা উল্লেখ করলাম, তার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিনম্র আচরণের পর মসজিদে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন ১ জুতা দিয়ে নাপাকী পদদলিত করলে, তারপর মাটির মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি মজবূত ইলম অর্জন করেননি, তিনি কখন এই সংশয়ে নিপতিত হয়ে যান যে, ইমাম আওযাঈ রহিমাহুল্লাহ হাদীসটি সা‘ঈদ আল মাকবূরী থেকে শ্রবণ করেননি ১ (২১) পবিত্রতা অর্জন করা [পেশাব-পায়খানা করার পর ওযূ করতে চাইলে শৌচকার্য করা প্রসঙ্গে] ১ টয়লেটে প্রবেশের সময় কী বলবে, তার বর্ণনা ১ টয়লেটে প্রবেশের ইচ্ছা করার সময় আশ্রয় প্রার্থনার কোন দু‘আ পড়বে ১ টয়লেটে প্রবেশের ইচ্ছা করার সময় আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট নর ও নারী জিন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ বাড়িতে টয়লেট না থাকলে মেয়েদের জন্য প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য খোলা জায়গায় গমন করা যায়েয ১ যে ব্যক্তি হাজত সারার ইচ্ছা করে, সে যেন সে সময় অন্য মানুষ থেকে পর্দা অবলম্বন করে ১ হাজত পূরণের উদ্দেশ্যে যখন বসার ইচ্ছা করবে, তখন পর্দা করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে ১ হাজত সারার সময়ে টিলা বা খেজুর গাছের ঝুপড়ির মাধ্যমে পর্দা করে নেওয়া বৈধ ১ আল্লাহর যিকর রয়েছে, এমন কিছু নিয়ে টয়লেটে গমন করা বৈধ নয় মর্মে হাদীস ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম টয়লেটে গমনের সময় তাঁর আংটি খুলে রাখতেন ১ মানুষ চলাচলের রাস্তায় এবং তাদের উঠানে পেশাব করার ব্যাপারে ধমকী ১ পেশাব-পায়খানা করার সময় কিবলার দিকে মুখ করা ও পিঠ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ২ আমরা হাদীসের যে ব্যাপক শব্দরুপ বর্ণনা করলাম, তা খাছকারী দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয়ের বর্ণনা ২ যে ব্যক্তি মজবূতভাবে ইলমে হাদীস অর্জন করেননি, তাকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত ধমকীমূলক হাদীসকে রহিত করে দিয়েছে ১ হাদীসে বর্ণিত ধমকী খোলা মাঠে হাজত পূরণের সময় প্রযোজ্য; আবদ্ধ বা ঢাকা জায়গায় হাজত পূরণের সময় এটি প্রযোজ্য নয়- এই মর্মে হাদীস ১ পেশাব-পায়খানায় রত দুই ব্যক্তি একে অন্যের দিকে তাকানো ও সেই জায়গায় পরস্পরের সাথে কথা বলাবলি করার ব্যাপারে ধমকী ১ জরুরী সময় ব্যতীত দাঁড়িয়ে পেশাব করার ব্যাপারে ধমকী ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি দাঁড়িয়ে পেশাব করবে না” এর আমরা যে ব্যাখ্যা করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ৩ পেশাবকারী ব্যক্তির নিকটবর্তী হওয়া জায়েয, যখন পেশাবকারী ব্যক্তি তার ব্যাপারে লজ্জাবোধ না করবে ১ হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটবর্তী হয়েছিলেন তাঁর নির্দেশক্রমে ১ যে ব্যক্তি ধারনা করে যে, এই হাদীসটি সুলাইমান আল আ‘মাশ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ইলমে হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ গোবর ও হাড্ডি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ১ যে কারণে গোবর ও হাড্ডি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার ব্যাপারে ধমকী দেওয়া হয়েছে ১ ডান হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা পেশাব করার সময় প্রযোজ্য ১ ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ যে ব্যক্তি ঢিলা-কুলূখ করার ইচ্ছা করবে, তাকে বেজোড় সংখ্যায় ঢিলা-কুলূখ ব্যবহার করার ব্যাপারে নির্দেশ সম্পর্কে বর্ণনা ১ যে কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২ আমরা যেভাবে পূর্বে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে স্পষ্ট হাদীস ১ তিনটি পাথর দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ হাজত পূরণ হওয়ার পর পানি স্পর্শ করা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে পানি স্পর্শ করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পানি দ্বারা শৌচকার্য করা ২ টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুস্তাহাব ১ যখন কোন ব্যক্তি রাতে পেশাব করে তারপর ঘুমাতে চায়, তার জন্য মুস্তাহাব হলো রাতের নির্ধারিত যিকির আযকার সম্পাদন করার জন্য শৌচকার্য করার পর মুখমন্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ১
৯. কিতাবুস সালাত (كتاب الصلاة)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন কোন ব্যক্তির ফরযসমূহ প্রতিপালন করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত মর্মে বর্ণনা ১ (১) সালাতের ফরয ১ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালাম থেকে গ্রহণ করেছেন ২ একজন ব্যক্তির উপর দিনে-রাতে কয় ওয়াক্ত সালাত করা ফরয, সেই সম্পর্কে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ সালাতের ওয়াক্ত সংখ্যা কুরআনে অনির্দিষ্ট রেখেছেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা ও কাজের মাধ্যমে ওয়াক্ত সংখ্যা বর্ণনা করেছেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এক রাকাআত সালাত পড়া জায়েয নেই, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “যার সালাত ছুটে যাবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসরের সালাত ১ (২) সালাত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি হাদীসের যে শব্দে এই সংশয়ে নিপতিত হন যে, কোন ব্যক্তি সালাতের ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাত না আদায় করলে, সে কাফির বিবেচিত হবে ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় না করলে, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে না ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় না করলে, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে না যে, তার সাথে তার স্ত্রীর বায়েন তালেক হয়ে যাবে ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পরবর্তী সালাতের সময় প্রবেশ করা পর্যন্ত কোন সালাত আদায় না করলে, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে না যে, তা আদায় করার আগে মারা গেলে তাকে মুসলিমদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত আদায় না করলে, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি এমন কাফির হয়ে যাবে না যে, তার মুসলিম উত্তরাধিকারীগণ তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হবেন না, যদি সে সেই সালাত আদায় না করার আগে মারা যায়- এই ব্যাপারে চতুর্থ হাদীস ১ সালাত আদায় করা ফরয হওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি আদায় না করলে, এমনকি সেই সালাতের সময় চলে যায়, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি এমন কাফির হয়ে যাবে না যে, তার সম্পদ মুসলিমের নিকট ফাই (কাফিরদের থেকে যুদ্ধবিহীন প্রাপ্ত) সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে- এই ব্যাপারে পঞ্চম হাদীস ১ কোন ব্যক্তি ওজর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত আদায় না করলে, এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে এমন কুফর ব্যবহার করাকে আবশ্যক করে না, যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে- এই ব্যাপারে ষষ্ঠ হাদীস ১ কোন ব্যক্তি ঘুম ও ভুলে যাওয়া ছাড়াই যদি (ইচ্ছাকৃতভাবে) সালাত আদায় না করে, এমনকি সালাতের সময় শেষ হয়ে যায়, তবে এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় না মর্মে সপ্তম হাদীস ১ যে ব্যক্তি ভুলে যাওয়া, ঘুম বা অন্য কোন ওজর ছাড়াই সালাত পরিত্যাগ করে, এমনকি সালাতের শেষ হয়ে যায়, এতে সেই ব্যক্তি এমন কাফের হয়ে যাবে না যে, তার উপর কাফেরদের হুকুম বর্তাবে- এই ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে সংশয় নিরসনকারী অষ্টম হাদীস ১ যে হাদীস অপরিপক্ক ইলমের অধিকারী ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে বর্ণিত হাদীসসমূহের বিপরীত ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম যে, আরবরা অনেক সময় সূচনাতেই এমন নাম ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে- এই ব্যাপারে নবম হাদীস ১ আমরা যা ব্যাখ্যা করলাম যে, এসব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূচনাতেই এমন নাম ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে- এর বিশুদ্ধতা প্রমাণে দশম হাদীস ১ কিছু পাপের কাজ যা মানুষকে পরিণতিতে কুফরের দিকে ঠেলে দেয়, এমন পাপের ক্ষেত্রে আরবরা কোন কোন সময় কাফির নাম ব্যবহার করে থাকেন, যা আমরা পূর্বে হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছি ১ ফরয সালাতসমূহের যত্নবান না হওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ সালাত আদায়ে নিয়মিত না হওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “যার সালাত ছুটে যায়” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসরের সালাত ১ ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের সালাত ত্যাগ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ পূর্ববতী জাতীর লোকদের উপর আসরের সালাতকে পেশ করা হলে, তারা তা বিনষ্ট করে ১ (৩) সালাতের সময়সমূহ - ফরয সালাতসমূহের ওয়াক্তের বিবরণ ১ সালাতের প্রথম ও শেষ ওয়াক্ত সম্পর্কে হাদীস ১ সময়মতো সালাত আদায় করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমলের অন্তর্ভুক্ত ১ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “সময়মতো সালাত করা” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায় করা ১ ফরয সালাতসমূহ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় আমল ১ নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় আমল ১ সময়মতো সালাত আদায় করা শ্রেষ্ঠ আমল ১ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “সময়মতো সালাত করা” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায় করা ১ আওয়াল ওয়াক্তে সালাত করা মুস্তাহাব মর্মে হাদীস ১ যখন ইমাম (মুসলিম শাসক) সালাত নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করবে, তখন নির্দেশনা হলো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে আদায় করবে, তারপর ইমামের সাথে আদায় করবে, এটি তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে ১ যখন শাসকগণ সালাতকে নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করবে, তখন ব্যক্তির জন্য যা করা আবশ্যক ১ যে ব্যক্তি এক রাকাত পেয়ে যায়, সে পুরো সালাত পেয়ে গেলো ১ যে ব্যক্তি এক রাকাত পেয়ে যায়, তার সালাত ছুটে যায়নি ১ হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যেই হাদীসের মাধ্যমে এই সংশয়ে পড়ে যায় যে, কোন ব্যক্তি হয়তো এক রাকাত পেলে সব রাকাত পেয়ে যায় ১ কোন ব্যক্তি এক রাকাত পেলে, তার জন্য আবশ্যক হলো বাকী রাকাত পূর্ণ করা; এমন নয় যে, এক রাকাত পেলে সব রাকাত পাওয়া হয়ে যাবে ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, ইমাম যুহরীর হাদীসের সানাদগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে “যে ব্যক্তি জুমু্আর এক রাকাআত পাবে” তার সবগুলোই ত্রুটিপূর্ণ, যার কোনটাই সহীহ নেই ১ ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হবে, তখনই সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি হাদীসের যে শব্দে এই ধারণায় নিপতিত হন যে, ফর্সা করে ফজরের সালাত আদায় করা অন্ধকারে আদায় করার চেয়ে উত্তম ২ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই ধারণায় নিপতিত করে যে, ফর্সা করে ফজরের সালাত আদায় করা অন্ধকারে আদায় করার চেয়ে উত্তম ১ যে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করেছেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমাদের সালাতের সময় যা তুমি দেখলে তার মধ্যবর্তী সময়ে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই দিন ও আগের দিনের সালাত ১ প্রশ্নকারী যখন সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তখন তাকে সালাতের সময় সম্পর্কে জানানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাত একবার ফর্সা করে আদায় করেন আরেকবার সালাত ফরয হওয়ার প্রথম দিকে যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম ইমামতি করেন, তখন একবার ফজরের সালাত ফর্সা করে আদায় করেন, এই দুইবার ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমৃত্যু অন্ধকারে ফজরের সালাতের আদায় করেন; কখনই আর ফর্সা করে আদায় করেননি ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ফর্সা করে ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন ১ এই উম্মাহর মাঝে যে কারণে ফজরের সালাত প্রথম ফর্সা করে আদায় করা হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকারে ফজরের সালাত আদায় করতেন মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে ফজরের সালাত আদায় করতেন তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে সাথে নিয়ে যেভাবে ফজরের সালাত আদায় করতেন তার বিবরণ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা যা ইঙ্গিত করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে তৃতীয় হাদীস ১ যেই সময়ে প্রথম সালাত আদায় করা মু্স্তাহাব ৩ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ উল্লেখ করা হয়েছে যে গরমের সময় সালাত দেরিতে পড়ার নির্দেশ কেবল তখনই দেওয়া হয়েছে যখন গরম অত্যন্ত তীব্র হয় ১ প্রচন্ড গরমের সময় সালাত দেরি করে আদায় করার নির্দেশটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশে প্রযোজ্য ১ প্রচন্ড গরমের সময় সালাত দেরি করে আদায় করার নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য যোহরের সালাত; অন্য সালাত উদ্দেশ্য নয় ১ যখনই উত্তাপ প্রকট হবে, তখনই যোহরের সালাত বেশি করে বিলম্ব করবে এই মর্মে বর্ণনা ১ প্রচন্ড গরমের সময় সালাত দেরি করে যোহরের সালাত আদায় করার নির্দেশের কারণ ১ মুসলিম ব্যক্তির জন্য যে সময়ে জুমু‘আর সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ আমরা জুমু‘আর সালাতের যে সময় উল্লেখ করলাম, সেটি হলো সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর; আগে নয় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আসরের সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করতে ভালবাসে এবং তাড়াতাড়ি আদায় করতে অপছন্দ করে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যেই সময়ে আসরের সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাবীর বক্তব্য “তখনও সূর্য উঁচুতে থাকতো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মদীনার পার্শবর্তী এলাকায় গমন করার পর সূর্য উঁচুতে থাকতো ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আসরের সালাত বিলম্ব করে আদায় করা জরূরী-তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন, সে সময় সূর্য কেমন উঁচু থাকতো, তার বিবরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আসরের সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করা; বিলম্ব না করা ১ যে সময়ে মাগরিবের সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, মাগরিবের সালাতের সময় একটি নয় ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মাগরিবের সালাতের সময় একটি এর দুটো নির্ধারিত সময় নেই- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ শুভ্র রেখা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত ইশার সালাতকে বিলম্ব করা মুস্তাহাব ১ যেই সময়ে ইশার সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করতেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ইশার সালাতকে অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্ব করার অভিলাষ ১ ইশার সালাতকে বিলম্বে আদায় করা বৈধ যখন দূর্বল ব্যক্তিদের দুর্বলতার ভয় না থাকে এবং মু্ক্তাদীদের সম্মতি থাকে ১ রাতের কিছু অংশ পর্যন্ত ইশার সালাত বিলম্ব করা মুস্তাহাব, যদি এটি মু্ক্তাদীদের জন্য কষ্টকর না হয় ১ ইশার সালাতকে আওয়াল ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করা বৈধ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ এই রকম আমল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একাধিকবার হয়েছে- এই মর্মে হাদীস ১ যে হাদীসের সাথে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট হয়ে এমন ধারণার বশবর্তী হয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ইশার সালাত বিলম্ব করার বিষয়টি ইসলামের প্রথম যুগে ছিল ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “পৃথিবীতে তোমরা ছাড়া আর কেউ এই সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্যান্য ধর্মের লোক ১ আমরা যেই সালাতের কথা বর্ণনা করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন সময় তারপরেও আদায় করেছেন- এই মর্মে হাদীস ১ যেসময় পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইশার সালাত বিলম্ব করা ভালবাসতেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিরাচরিত সময় থেকে ইশার সালাতকে বিলম্ব করতেন না ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য (شَطْرَ اللَّيْلِ) এর দ্বারা রাতের অর্ধ রাত ১ ইশার সালাতকে আতামাহ বলার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ (৪) নিষিদ্ধ সময় সম্পর্কে - নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নফল সালাত শুরু না করা জরূরী হওয়া প্রসঙ্গে হাদীস ১ মক্কা ব্যতীত দুই সময়ে সালাত আদায় করার ব্যাপারে ধমকী ২ যেই কারণে এই দুই সময়ে সালাত আদায় করা নিষেধ করা হয়েছে ১ আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় ১ হাদীসে যে সময়গুলোতে সালাত আদায় করা নিষেধ করা হয়েছে, তার দ্বারা পুরো সময় উদ্দেশ্য নয় ১ যে সময়ে সালাত করা নিষিদ্ধ, যা আমরা উল্লেখ করলাম, তার দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সময়গুলোই; সবসময় উদ্দেশ্য নয় ১ আসর ও ফজরের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে যে হুশিয়ারী রয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসরের সালাত ও ফজরের সালাতের পর ১ যে কারণে এই দুই সময়ে সালাত করা নিষেধ করা হয়েছে ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি হয়তো আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এককভাবে বর্ণনা করেছেন তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ২ হাদীসে উল্লেখিত ধমকীর শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক কিন্তু এর দ্বারা খাছ - এই মর্মে হাদীস ২ যে হাদীস প্রমাণ করে যে, সূর্য উদয় ও সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় সব ধরণের সালাত আদায় করার ব্যাপারে ধমক দেওয়া হয়নি ১ উল্লেখিত যেসব সময়ে সালাত আদায় করার ব্যাপারে হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য ফরয সালাত নয় ১ ফজরের পর সালাত এবং আসরের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে যে হুশিয়ারী এসেছে, এর দ্বারা ফরয ও ছুটে যাওয়া সালাত উদ্দেশ্য নয়-এই ব্যাপারে অন্তর থেকে সন্দেহ নিরসনকারী হাদীস ১ আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে ধমকী দেওয়া হয়েছে, সেটি সব নফল সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় ১ আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে ধমকী দেওয়া হয়েছে, তা সব নফল সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়- এই ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ৩ আসরের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে যে হুশিয়ারী এর দ্বারা উদ্দেশ্য আসরের পর একটা নির্দিষ্ট সময়; আসরের পর পুরো সময় উদ্দেশ্য নয় ১ ফজরের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে যে হুশিয়ারী এর দ্বারা সব ধরণের সালাত উদ্দেশ্য নয় ১ ফজরের পর সালাত আদায় করার ব্যাপারে যে হুশিয়ারী এর দ্বারা সব সময় ও সব ধরণের সালাত উদ্দেশ্য নয় ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে হাদীসে উল্লেখিত সালাতটি ফজরের সালাত ছিল না, তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে হাদীস পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহের এই ব্যাখ্যা প্রদান করে যে, উক্ত সময়গুলোতে সালাত আদায় করার ব্যাপার হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে এর কোন কিছু নয়; পুরো সময় উদ্দেশ্য নয় ১ দ্বিতীয় হাদীস যা পূর্বের ব্যাখ্যাহীন হাদীসসমূহকে ব্যাখ্যা করে ১ আমরা যে মত পোষন করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস, যা দলীলের মত ১ যে কারণে এই দুই সময়ে সালাত আদায় করার ব্যাপারে হুশিয়ারী করা হয়েছে ১ যে হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আবূ ইসহাক হাদীসটি আসওয়াদ ও মাসরূক থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আবূ ইসহাক ছাড়া হাদীসটি আর কেউ বর্ণনা করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমৃত্যু আসরের পর দুই রাকাত সালাত নিয়মিত আদায় করেছেন ১ ইসলামের প্রথম যুগে যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের পর দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন ১ যেই ব্যস্ততার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের পরের দুই রাকাত সালাত আদায় করতে পারেননি, অতঃপর আসরের পর তা আদায় করেন ১ আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করা হয়েছিল” এখানে আদেশকারী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; অন্য কেউ নন ১ ইকামতের শব্দগুলো একবার একবার করে হবে, তবে قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ ব্যতীত ১ যে হাদীস প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আযানের শব্দগুলো দুইবার দুইবার আর ইকামতের শব্দগুলো একবার একবার করে নির্দেশ দিয়েছিলেন; অন্য কেউ এই নির্দেশ দেননি ১ যে হাদীস প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আযানের শব্দগুলো দুইবার দুইবার আর ইকামতের শব্দগুলো একবার একবার করে নির্দেশ দিয়েছিলেন; মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নির্দেশ দেননি, যেমনটা হাদীসে অনভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি মনে করে থাকে, যার ফলে হাদীসকে মূল উদ্দেশ্য থেকে লক্ষ্যচ্যুত করা হয় ১ তারজী‘সহ আযান দেওয়ার জন্য নির্দেশ, এই হাদীসটি তাদের মতের বিপরীত যারা তারজী‘সহ আযান দেওয়াকে অপছন্দ করেন ১ আযানে তারজী‘ ইকামতের বাক্য দুইবার করে বলার নির্দেশ প্রদান কেননা উভয়টি বৈধ ইখতিলাফ ১ মুয়ায্যিন যখন আযানে তারজী‘ করার ইচ্ছা করবেন, তখন প্রথম দুই শাহাদাহর ক্ষেত্রে আওয়াজ ক্ষীণ রাখবে, এর পরের এবং আগের বাক্যগুলোর ক্ষেত্রে আওয়াজ উঁচু করবে ১ সালাতের জন্য আযান শুনতে পেলে কী বলবে, তার বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য وأنا وأنا (আমিও, আমিও) এর ব্যাখ্যা ১ মুয়ায্যিন তার আযানে যা বলেন, যে ব্যক্তি মুয়ায্যিনের অনুরুপ কথা বলবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত ১ যে ব্যক্তি আযান শুনবে, মুয়ায্যিন যা বলে, সে-ও তা-ই বলবে এই ব্যাপারে নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “মুয়ায্যিন যা বলে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আযানের কিছু বাক্য; সব বাক্য উদ্দেশ্য নয় মর্মে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে আযান শুনবে, তখন মুয়ায্যিন যা বলে, সে-ও তা-ই বলবে, তবে হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ ও হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ ব্যতীত ১ যে ব্যক্তি আযান শুনার সময় আল্লাহর প্রিয়ভাজন নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মাকামে মাহমূদ চাইবে, তার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি আযান শুনার সময় আল্লাহর মনোনিত নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য জান্নাতে ওয়াসীলা চাইবে, তার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে ১ আরবরা عليه কে له অর্থে ব্যবহার করে থাকে, এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আব্দুর রহমান বিন যুবাইর এই হাদীস আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে শ্রবণ করেননি, তার ধারণা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি আযান শ্রবণ করার সময় আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর রাসূলের রিসালাতের ঘোষণা করবে, এবং আল্লাহ, তাঁর নাবী ও ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে, তার জন্য মহান আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তি সম্পর্কে বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, যে ব্যক্তি আযানের সময় তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বলবে, সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পায় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মুয়ায্যিনের আযান শুনে অনুরুপ বলে, তার দু‘আ কবূলের হওয়ার আশা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আযান ও ইকামতের মাঝে বেশি বেশি দু‘আ করা মুস্তাহাব, কেননা এসময়ের দু‘আ ফেরত দেওয়া হয় না ১ (৮) সালাতের শর্তসমূহ ১ সালাত আদায়ের জন্য জায়গার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীস আমরা উল্লেখ করলাম, তাকে প্রথম খাছকারী হাদীস ১ সালাত আদায়ের জন্য জায়গার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীসগুলোর দ্বিতীয় খাছকারী হাদীস ১ “পুরো জমিন সালাত আদায়ের স্থান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাধারণ বক্তব্যকে খাছকারী তৃতীয় হাদীস ২ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, উট বাধার স্থানে সালাত আদায় করা নিষেধ করা হয়েছে কারণ উটকে শয়তান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “কেননা উট শয়তান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” এই শব্দগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে শয়তান কাছে থাকার কারণে; প্রকৃত অর্থ বুঝানোর জন্য এমনটি বলা হয়নি ১ উট থাকার জায়গায় সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে এজন্য নয় যে, শয়তান সেখানে থাকে, এই ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ ওযূ ভেঙ্গে গেলে পুনরায় ওযূ করা ছাড়া সালাত কবূল করা হবে না ১ ওযূ না ভেঙ্গে গেলে কোন ব্যক্তি এক ওযূতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারে ১ যে সময়ে রাসূল (সা.) এক ওযূতে পাচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছিলেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম করেছিলেন, তার বর্ণনা ১ পানি ও পবিত্র মাটি না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ওযূ ও তায়াম্মুম ছাড়াই সালাত আদায় করা বৈধ ১ উরু ঢেকে রাখার নির্দেশ, কেননা উরু আওরাত বা আবশ্যক আবরণীয় অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ১ বালেগা নারীর মাথায় ওড়না না দিয়ে সালাত আদায় করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ ২ যখন কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করার ইচ্ছা করবে, তখন দুই কাপড়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ দুই কাপড়ে সালাতে আদায় করার নির্দেশ ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে মহান আল্লাহ রিযিকে প্রশস্ততা দান করেছেন, যদিও এক কাপড়ে সালাত আদায় করা সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট ২ কা‘বার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়ার আগে মুসলিমরা বাইতুল মাকদিসের দিকে কী পরিমাণ সময় মুখ করে সালাত আদায় করেছেন, তার বর্ণনা ১ ঐ সময়ে যারা বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন, তাদের সালাতকে ইমান নামে অভিহিতকরণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, নিয়ত ছাড়াই হয়তো সালাত আদায় করা শুদ্ধ হবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “অন্যথায় তা নফল হিসেবে গণ্য হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বিতীয় সালাত নফল হবে; প্রথম সালাত নয় ১ (৯) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফযীলত - পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় প্রবেশের সময় আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় ১ সালাত হেফাযতকারীদের জন্য ঈমান সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, ফরয সালাত ফরয জিহাদ অপেক্ষা উত্তম ১ সালাত বান্দার জন্য নৈকট্যের মাধ্যম; এর মাধ্যমে মানুষ তাদের মহান স্রষ্টার নিকটবর্তী হন ১ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারীর জন্য সফলতা সম্পর্কে বর্ণনা ১ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবাহমান নদীতে গোসলকারীর সাথে উপমা প্রদান ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উল্লেখিত হাদীসটি আ‘মাশ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত দন্ডনীয় পাপ কাজ সম্পদানকারী থেকে দন্ড বিধান মোচন করে দেয় ১ এই ব্যক্তি যে দন্ডনীয় কাজ করেছিলেন, সেটা এমন ছিল না যা দন্ড বিধানকে অবধারিত করে ১ দ্বিতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, সেটি এমন দন্ডনীয় কাজ ছিল না যা দন্ড বিধানকে অবধারিত করে এবং এই ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি এবং এই উম্মাহর অন্য যে কোন ব্যক্তির হুকুম একই ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে তৃতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করবে, কিয়ামতের দিন তার আযাব হবে না ১ উল্লেখিত হাদীসে ‘হক’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব ১ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার কারণে মহান আল্লাহ সালাত আদায়কারীকে ক্ষমা করে দেন, যখন সে কাবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে; তাকে নয় যে কাবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে না ১ রুকূ ও সাজদার মাধ্যমে সালাত আদায়কারীর গোনাহসমূহ ঝরে পড়ে ২ আসর ও ফজরের সময় ফেরেস্তাদের পালাক্রমে অবতরণ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি আসর ও ফজরের সালাত আদায় করে, তার জাহান্নামে না যাওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আসর ও ফজরের সময় ফেরেস্তাদের পালাক্রমে অবতরণ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আসর ও ফজরের সালাতকে দুটি শীতল সময়ের সালাত হিসেবে অবহিতকরণ ১ দুই শীতল সময়ের বর্ণনা যে সময় সালাত আদায় করলে, জান্নাতে প্রবেশের আশা করা যায় ২ দুই আসর তথা আসর ও ফজরের সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্যান্য সালাতের উপর এই দুই সালাতের ব্যাপারে অধিক গুরুত্বারোপ করা; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, সব সালাত আদায় না করে শুধু এই দুই সালাত আদায় করলে, তা যথেষ্ট হয়ে যাবে ১ ফজরের সালাত আদায়কারীর জন্য আল্লাহর দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আহলে কিতাবের কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে আসরের সালাত আদায় করলে, তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সালাতুল উসতা বা মধ্যবর্তী সালাত হলো ফজরের সালাত তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সালাতুল উসতা বা মধ্যবর্তী সালাত হলো ফজরের সালাত তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং সিয়াম পালন করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায় ১ মহান আল্লাহ রমযানের সিয়াম পালনকারী ও সালাত প্রতিষ্ঠাকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যখন সে কাবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে ১ যে ব্যক্তি জনমানবহীন মরু প্রান্তরে সালাতের শর্ত-শরায়েতসহ সালাত আদায় করে, মসজিদে সালাত আদায় করার চেয়ে পঞ্চাশ গুণ বেশি সাওয়াব প্রদান করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সালাতের জন্য প্রতীক্ষাকারীর জন্য মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে সালাত আদায় করার সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্ক্তব্য “তবে সে সালাতের মধ্যেই থাকে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যতক্ষন না সে ওযূ ভঙ্গ না করে ১ সালাতের প্রতীক্ষাকারীর জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা ও রহমতের দু‘আ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (১০) সালাতের বিবরণ - মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সালাত আদায় করার জন্য অন্তরকে উন্মুক্ত করা এবং মনের ওয়াসওয়াসা দূর করা ১ ফরয সালাত আদায় করার জন্য দন্ডায়মান ব্যক্তিকে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সালাতে সবচেয়ে বেশি ধীরস্থির থাকে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সবচেয়ে বেশি বিনীত থাকে, সে সর্বোত্তম মানুষের অন্যতম ১ যে সব কাজ করার কারণে কিছু ব্যক্তির সালাত কবূল করা হয় না ১ শ্রেষ্ঠ সালাত হলো ঐ সালাত যাতে কিয়াম দীর্ঘ করা হয় ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সালাত পরিপূর্ণ করে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করা ১ যখন কোন ব্যক্তি একাকী সালাত আদায় করবে, তখন তিনি যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারবে ১ সালাতে দাঁড়ানোর সময় আল্লাহর প্রশংসা কারীকে মহান আল্লাহ পছন্দ করেন ১ যখন কোন মুসল্লী দেয়াল সামনে রেখে সালাত আদায় করবে, তখন তার মাঝে ও দেয়ালের মাঝে কী পরিমাণ ফাঁকা রাখবে তার বর্ণনা ১ মানুষের জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি মসজিদের নির্দিষ্ট কোন জায়গায় সালাত আদায় করার ব্যাপারে প্রয়াসী হবেন এবং অধিকাংশ সালাত সেখানেই আদায় করবেন ১ সালাতে দাঁড়ানোর সময় দু‘আ করতে সচেষ্ট হওয়া মুস্তাহাব ১ কোন ব্যক্তি তার সালাতে কত তাকবীর দিবে তার বর্ণনা ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মানুষের জন্য আবশ্যক হলো প্রত্যেক উচু-নিচু করার সময় তাকবীর বলা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো রুকূ‘ থেকে মাথা উঠানোর সময় ব্যতীত প্রত্যেকবার মাথা উঠানো-নোয়ানোর সময় তাকবীর দেওয়া ১ কোন ব্যক্তি কিসের মাধ্যমে সালাত শুরু করবে তার বিবরণ ১ সালাত সূচনা করার জন্য তাকবীর বলার সময় হাতের আঙ্গুলগুলি সম্প্রসারিত রাখা মুস্তাহাব ১ সালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে হাদীস ১ সালাত শুরু করার পর কিরা‘আত শুরু করার আগে একজন ব্যক্তি কী দু‘আ করবে তার বর্ণনা ১ ফরয সালাত শুরু করার সময় এবং তাকবীর দেওয়ার পর একজন ব্যক্তি কী দু‘আ করবে তার বর্ণনা ১ আমরা যে দু‘আর কথা উল্লেখ করলাম, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকীবর দেওয়ার পর বলতেন; আগে নয় ২ আমরা যে দু‘আ বর্ণনা করলাম এটি ছাড়াও অন্য দু‘আ দ্বারাও সালাত শুরু করার বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে দু‘আ বর্ণনা করলাম, এছাড়া অন্য দু‘আ দ্বারাও সালাত শুরু করার বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো যখন তিনি ইমাম থাকবেন, তখন কিরা‘আত শুরু করার আগে কিছুক্ষন চুপ থাকা, যাতে তার পিছনের মুসল্লীরা সূরা ফাতিহার কিরা‘আতে শরীক হতে পারেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর বলা ও কিরা‘আত বলার মাঝে চুপ থাকার সময় কী বলতেন তার বর্ণনা ১ সালাতে কিরা‘আত শুরু করার আগে একজন ব্যক্তি কোন জিনিস থেকে আশ্রয় চাইবে তার বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ “কুরআন থেকে যা তোমাদের জন্য সহজ হয়, তা তোমরা পাঠ করো” মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যাকারী হাদীসসমূহ ১ “কুরআন থেকে যা তোমাদের জন্য সহজ হয়, তা তোমরা পাঠ করো” মহান আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূরাতুল ফাতিহা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে যা অবতীর্ণ করেছেন, তার ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করেছেন ১ মুক্তাদী ও একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরয হওয়া মর্মে বর্ণনা ১ সালাতে মুসল্লি ব্যক্তি তার প্রভুর সাথে যে মুনাজাতে লিপ্ত থাকে তার বিবরণ ১ মুক্তাদীর উপর ফরয হলো একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তির ন্যায় সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া ফরয মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য " সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু (তিলাওয়াত) করবে না" এর দ্বারা সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু তিলাওয়াত করা নিষেধ করা উদ্দেশ্য নয় মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য ফরয হলো সালাতের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা; এটা নয় যে, এক রাকাতে কিরা‘আত পাঠ করলে, বাকী সব রাকাতে পাঠ করার জন্য যথেষ্ট হবে ১ সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ না করা হলে সালাত অসম্পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে যে خِدَاجٌ (অসম্পূর্ণতার) কথা বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন অসম্পূর্ণতা, যাতে সালাত শুদ্ধ হয় না; এমন অসম্পূর্ণতা নয় যা সহ সালাত শুদ্ধ হয়ে যায় ২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকাশ্য সুস্পষ্ট ঘোষনা যে, সূরা ফাতিহা পাঠ ব্যতীত কোন সালাত হয় না, এই ব্যাপারে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে এসব হাদীসগুলো একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য প্রযোজ্য, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ কোন ব্যক্তি ইমাম অথবা মুক্তাদী হয়ে সালাত আদায় করার সময় সূরা ফাতিহা পাঠ না করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ কোন ব্যক্তি ইমাম, মুক্তাদী অথবা একাকী সালাত আদায় করার সময় সূরা ফাতিহা পাঠ না করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ সূরা ফাতিহা পাঠকে হাদীসে সালাত বলা হয়েছে, কেননা সূরা ফাতিহা পাঠ সালাতের একটি অংশ ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় বিসমিল্লাহ জোরে পড়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বিসমিল্লাহ অনুচ্চ আওয়াজে পাঠ করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কাতাদা এই হাদীসটি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বিসমিল্লাহ অনুচ্চ আওয়াজে পাঠ করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে দ্বিতীয় হাদীস ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো উল্লেখিত জায়াগায় বিসমিল্লাহ জোরে পড়া, যদিও এখানে কোন রকম শর্ত ছাড়াই বিসমিল্লাহ আস্তে ও জোরে দুইভাবেই পড়া জায়েয ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সালাতে বিসমিল্লাহ জোরে পড়তেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ খালিদ আল হায্যা হাদীসের যে শব্দ উল্লেখ করেছেন, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ সালাতে কোন ব্যক্তির ‘আমীন’ বলা ফেরেস্তাদের ‘আমীন’ বলার সাথে মিলে গেলে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ করা হয় ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করার সময় জোরে আমীন বলা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আমীন জোরে বলার সুন্নাতটি বিশুদ্ধ নয়, কেননা উল্লেখিত শব্দে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ ইমাম শু‘বার বিপরীত বর্ণনা করেছেন ১ সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করার সময় আরেকটি বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করতে না পারলে কী বলবে তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ভালভাবে সূরা ফাতিহা পড়তে জানে না, তার জন্য সালাতে তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর প্রভৃতি বলার নির্দেশ সম্পর্কে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা ভালভাবে পড়তে জানে না, তাকে ফার্সিতে কিরা‘আত পাঠ করার কথা যারা বলেন, তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ হাদীসে উল্লেখিত বাক্যগুলি আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় বাক্য ১ উত্তম বাক্য হলো চারটি, সেগুলোর যে কোন একটি দ্বারা শুরু করাতে কোন দোষ নেই এই মর্মে বর্ণনা ১ একই রাকাতে দুই সূরা এক সাথে পড়া বৈধ ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সূরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়াই হয়তো মুস্তাহাব ১ কোন কারণ বশত মুসল্লীর জন্য বৈধ হলো এক রাকাতে কোন সূরার শুরুর দিক থেকে অংশবিশেষ পাঠ করা; শেষ দিক থেকে নয় ১ ফজরের সালাতে যে সব সূরা পাঠ করবে তার বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, ফজরের সালাতে তাছাড়া অন্য কিছু পড়াও জায়েয মর্মে বর্ণনা ১ ফজরের সালাতে কিসারে মুফাস্সাল থেকে কিরা‘আত পাঠের উপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যেসব সূরা উল্লেখ করলাম, ফজরের সালাতে সেসব সূরা পাঠ করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ ইমামের জন্য জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে নির্দিষ্ট দুটি সূরা পাঠের উপর সীমাবদ্ধ থাকা মুস্তাহাব ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ ফজরের সালাতের কিরা‘আত এমন সীমাবদ্ধ নয় যে, তার ব্যতিক্রম করা কোন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় এই ব্যাপারে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যোহরের সালাতে কী পাঠ করতে হবে তার বর্ণনা ১ যোহর ও আসরের সালাতে কী পরিমাণ কিরা‘আত পাঠ করবে তার বর্ণনা ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যোহর ও আসরের সালাতের কিরা‘আত অনুমান করা হতো ১ যোহর ও আসরের সালাতের কিরা‘আতের বিবরণ ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার অতিরিক্ত তিলাওয়াত করাও বৈধ- মর্মে বর্ণনা ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবূ সা‘ঈদ খুদরীর হাদীসের বিপরীত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যোহর ও আসরের সালাতের পুরো কিরা‘আত জোরে পড়তেন না মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যোহরের সালাতের যে কিরাআতের কথা বর্ণনা করেছি, সেটা সূরা ফাতিহার পরে ছিল মর্মে বর্ণনা ১ মাগরিবের সালাতের কিরা‘আত প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে সূরার কথা বর্ণনা করলাম, মাগরিবের সালাতে তাছাড়া অন্য সূরা পড়াও বৈধ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মাগরিবের সালাতের কিরা‘আত এমন সীমাবদ্ধ নয় যে, তার অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না ১ মাগরিবের সালাতের কিরা‘আতের বিষয়ে আমরা যা বর্ণনা করলাম, মু্ক্তাদীদের সম্মতিতে তার চেয়ে বেশি কিরা‘আত পড়া যায় ১ মাগরিবের সালাতে কিসারে মুফাস্সালের সূরা পাঠের উপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ ১ ইশার সালাতের কিরা‘আতের বিবরণ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তাছাড়াও অন্য সূরা ইশার সালাতে পাঠ করা বৈধ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, উক্ত হাদীসটি আবুয যুবাইর এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনাকরী হাদীস ১ জুমার রাতের মাগরিব ও ইশার সালাতে যেসব সূরা পাঠ করা মুস্তাহাব ১ মানুষ সালাতে যা কিছু পাঠ করে, তন্মধ্যে আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় হলো সূরা ফালাক পাঠ করা ১ ইমামের পিছনে মুক্তাদীর জোরে কিরা‘আত পড়ার ব্যাপারে ধমকী ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “কী ব্যাপার! কুরআনে পাঠে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করা হচ্ছে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জোরে কিরাআত পাঠ করা; ইমামের পিছনে কিরা‘আত পাঠ করা উদ্দেশ্য নয় ২ এই হাদীসে যোহর বা আসরের যে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে, এটি হয়েছে আবূ আওয়ানার পক্ষ থেকে ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে নয় এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি কাতাদা যুরারাহ বিন আওফা থেকে শ্রবণ করেননি তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য, “আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ আমার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করছে (অথবা আমি যা পড়ছি, তা আমার মুখ থেকে নিয়ে নিচ্ছে)” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আওয়াজ উচু করাকে নাকচ করা; কিরাআতকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় ১ মুক্তাদীদের জন্য মাকরূহ হলো জোরে কিরা‘আত পড়া, যাতে ইমামের কিরা‘আতের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করা না হয় ১ এই মর্মে বর্ণনা যে, লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে আওয়াজ করে কিরা‘আত পড়ছিলেন, এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এমন কথা বলেছিলেন; এমন নয় যে, তাদের মাঝে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি কিরা‘আত পাঠ করেছিলেন ১ অতঃপর লোকজন উপদেশ গ্রহণ করে। তারপর তারা কিরা‘আত পাঠ থেকে বিরত থাকে” এটি যুহরীর বক্তব্য; আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “কী ব্যাপার! আমার সাথে কুরআন নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে!” যেই হাদীস অন্তর থেকে এই সংশয় দূর করে দেয় যে, উক্ত বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জোরে কিরা‘আত পড়া নাকচ করা; ইমামের পিছনে কিরা‘আত পাঠ করা নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় ১ যে হাদীসের মাঝে এই দলীল রয়েছে যে, কিরা‘আত পাঠ করা ওয়াজিব, যেভাবে আমরা বর্ণনা করেছি ১ যখন কোন ব্যক্তি ইমাম হবে, তখন তার জন্য বৈধ রয়েছে যে, যাতে লোকজন জামা‘আতে শামিল হতে পারে এজন্য সালাতের প্রথম রাকাত দীর্ঘায়িত করবেন ১ আমরা ইতিপূর্বে আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের যে ব্যাখ্যা করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো, আবূ সা‘ঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত ১ আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে যা বলা হয়েছে, সেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু প্রথম রাকাতে করতেন; অন্যান্য সব রাকাতে এরকম করতেন না মর্মে হাদীস ১ যেই হাদীস কোন কোন শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রুকূ‘তে যাওয়া এবং রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন বা দুই হাত উত্তোলন করা মুস্তাহাব ২ যেসব জায়গায় রফ‘ঊল ইয়াদাইন করার কথা আমরা বর্ণনা করলাম, সেসব জায়গায় রফ‘ঊল ইয়াদাইন করার সময় হাতকে জামার আস্তিন থেকে বের করা মুস্তাহাব ১ আমরা যেসব জায়গায় রফ‘ঊল ইয়াদাইন করার কথা বর্ণনা করলাম, সেসব জায়গায় কানের সীমা পর্যন্ত রফ‘ঊল ইয়াদাইন করা বৈধ ১ আমরা যেসব জায়গায় রফ‘ঊল ইয়াদাইন করার কথা বর্ণনা করলাম, সেসব জায়গায় কাঁধ পর্যন্ত রফ‘ঊল ইয়াদাইন করা মুস্তাহাব ২ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আবূ হুমাইদের হাদীসটি হয়তো ত্রুটিপূর্ণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু সালাতের বর্ণনা, মহান আল্লাহ যেই নাবী ও তাঁর বিষয় অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন ১ আমাদের উল্লেখিত মালিকের হাদীসটি সংক্ষিপ্ত, যার বিবরণ উবাইদুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসে রয়েছে ১ যেই হাদীসের মাধ্যমে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি আমাদের উল্লেখিত জায়গায় রফ‘উল ইয়াদাইন না করার মর্মে দলীল গ্রহণ করে ১ আমরা মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হালহালার যে হাদীস বর্ণনা করলাম তা সংক্ষিপ্ত হাদীস, বিস্তারিত আব্দুল হামীদ বিন জা‘ফরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য জরুরী হলো রুকূ‘ করা, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করা, যেমন সালাতের শুরুতে রফ‘উল ইয়াদাইন করা হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে রুকূ‘ করা, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করার নির্দেশ দিয়েছেন এই মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে যা আদেশ করেছেন, মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক তা প্রতিপালন করা মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ইলম ও মর্যাদা বিবেচনায় এটা হতে পারে না যে, তিনি উল্লেখিত জায়গাগুলোতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখবেন না, যেহেতু তিনি বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন- তার এই কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ উত্তম মর্যাদান আলিম সুন্নাতের ব্যাপারে প্রচুর প্রয়াস ও অনুশীলন থাকা সত্ত্বেও তার কাছে কোন কোন সময় কিছু কিছু সুন্নাত গোপন থাকে, যা তার চেয়ে অধঃস্তন বা সমপর্যায়ের কোন আলিমের জানা থাকে-এই মর্মে বর্ণনা ১ সালাতের দ্বিতীয় রাকাত থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করা মুস্তাহাব ১ দ্বিতীয় রাকাত থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করা মুস্তাহাব ২ যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইমাম আ‘মাশ রহিমাহুল্লাহ মুসাইয়্যিব বিন রাফি‘ রহিমাহুল্লাহ থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ পূর্বের সংক্ষিপ্ত হাদীসের ব্যাখ্যাকারী হাদীস যা প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণকে সালাতে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যখন তারা সালাম ফেরানোর সময় হাত দিয়ে ইশারা করেছিলেন; রুকূ‘র সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করার সময় এই নির্দেশ দেওয়া হয়নি ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ তাতবীক (দুই হাতকে মুষ্টিবদ্ধ করে দুই হাঁটুর মাঝে রাখা) প্রথম দিকে বৈধ ছিল, তারপর হাত দুই হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় ১ রুকূ‘তে তাতবীক (দুই হাতকে মুষ্টিবদ্ধ করে দুই হাঁটুর মাঝে রাখা) ইসলামের প্রথম দিকে বৈধ ছিল, তারপর উক্ত বিধান রহিত করা হয় এবং হাত হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় ১ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তির রুকূ‘ ও সাজদার ব্যাপ্তি সম্পর্কে বর্ণনা ১ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো বারা‘ বিন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত ১ যে হাদীস অপরিপক্ক ইলমের অধিকারী ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ের বিপরীত ১ মুসল্লী ব্যক্তির কিছু রুকূ‘ ও সাজদার বিবরণ ১ সালাতে যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সাজদায় ত্রুটি করে, তার জন্য চোর উপাধী ব্যবহার প্রসঙ্গে ১ কোন ব্যক্তি যখন কোন সালাতে ত্রুটি করে, তখন তার আমলনামায় কিছু সালাতের কমতি লিপিবদ্ধ করা হয় ২ রুকূ‘ ও সাজদার সময় পিঠ সোজা না করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সাজদায় তার অঙ্গ-প্রত্যক সোজা না করে, তার সালাত জায়েয নয় মর্মে বর্ণনা ২ যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সাজদায় পিঠ সোজা করে না, সে ফিতরাত তথা ইসলামের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের উপর থাকে না ১ রুকূ ও সাজদায় কুরআন পাঠ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ মুসল্লী ব্যক্তির রুকূ ও সাজদায় কুরআন পাঠ করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ মুসল্লী ব্যক্তি তার সালাতে কী বলবে তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে রুকূ‘তে ও সাজদাতে আল্লাহর জন্য তাসবীহ বা পবিত্রতা পাঠ করার নির্দেশ ১ রুকূ‘তে তৃতীয় আরেকটি তাসবীহ পাঠের বৈধতা প্রসঙ্গে আলোচনা ১ রুকূ ও সাজদায় মহান আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ মানুষের জন্য বৈধ আছে যে, তিনি রুকূ‘র দু‘আতে জীবনের সমস্ত বিষয়কে আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করবে ১ রুকূ থেকে মাথা উত্তোলন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধীরস্থিরভাবে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাতে রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করে আল্লাহর কী প্রশংসা করবে তার বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম তা ফরয সালাতে পড়া জায়েয এই মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যে জায়গার কথা বর্ণনা করলাম, সেসব জায়গায় আল্লাহর প্রশংসা করার সময় তাঁর উপর জীবনের সবকিছু সোপর্দ করা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি সা‘ঈদ বিন আব্দুল আযীয এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় কী বলবে তার বর্ণনা ১ আমরা যেসব দু‘আ-যিকির উল্লেখ করলাম তাছাড়া অন্য কিছু পাঠ করাও বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যেসব দু‘আ-যিকির উল্লেখ করলাম, সেখানে الْوَاوِ (আর বা এবং) বিলুপ্ত করাও বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার পর আল্লাহর প্রশংসা করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা ১ কোন ব্যক্তি اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) বললে যদি এটা বলা ফেরেস্তাদের বলার সাথে মিলে যায়, তাহলে তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সাজদা করার সময় দুই হাতের তালূ রাখার আগে হাঁটু রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সাজদায় চেহারা মাটিতে রাখার নির্দেশ কেননা এটি আল্লাহর প্রতি বিনীত হওয়া প্রকাশ করে ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে হাতের তালূর উপর ভর করে সাজদা করার নির্দেশ, কেননা চেহারা যেমন সাজদা করে অনুরুপভাবে অন্যান্য অঙ্গগুলোও সাজদা করে ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো হাতের তালূর উপর ভর করে সাজদা করা ১ সাজদা করার সময় হাতের কনুইকে জমিন থেকে উঠিয়ে রাখার নির্দেশ ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সাজদার সময় দুই উরু একত্রিত রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ বার্ধক্য বা দুর্বলতা জনিত কারণে সাজদা করার সময় হাঁটুর সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো সাজদার সময় হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে এমন ফাঁকা রাখা, যাতে তার বগলের শুভ্রতা পরিলক্ষিত হয় ১ সাজদার সময় হাতের আঙ্গুলগুলিকে একত্রিত রাখা মুস্তাহাব ১ যখন কোন ব্যক্তি সাজদা করে, তখন তার সাথে সাতটি অঙ্গ সাজদা করে ১ যখন কোন ব্যক্তি সাজদা করে, তখন তার সাথে যে সাতটি অঙ্গ সাজদা করে তার বর্ণনা ১ যে কোন ব্যক্তি সাজদা করার ইচ্ছা করে, তাকে সাত অঙ্গের মাধ্যমে সাজদা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি আমর বিন দীনার ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই সাত অঙ্গের উপর সাজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সোজাভাবে সাজদা করার নির্দেশ ২ দু‘আ ও সাজদা করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া কেননা এই সময়ে বান্দা তার প্রভুর নিকটবর্তী হয় ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে যে সে সাজদায় তাসবীহ পাঠের সাথে সাথে দু‘আ করবে ১ মুসল্লী ব্যক্তি তার সালাতের সাজদায় যে তাসবীহ পাঠ করবে তার বিবরণ ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে যে সে সাজদায় তার গোনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো সাজদায় আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাওয়া ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি হয়তো উবাইদুল্লাহ বিন উমার এককভাবে বর্ণনা করেছেন তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো প্রথম ও তৃতীয় রাকাতের সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করার পর দাঁড়ানোর আগে বসা ১ প্রথম ও তৃতীয় রাকাতের সাজদা থেকে দাঁড়ানোর সময় জমিনের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো মুস্তাহাব ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো প্রথম রাকাতের ন্যায় দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতেও চুপ না থাকা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো সালাতের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করা আর শেষ দুই রাকাত তুলনামূলক হালকা করা ১ সালাতের প্রথম তাশাহহুদে বসা ফরয নয় মর্মে বর্ণনা ১ সালাতের প্রথম তাশাহহুদ মুসল্লীর উপর ফরয নয় মর্মে বর্ণনা ১ সালাতের প্রথম তাশাহহুদ মুসল্লীর উপর ফরয নয় মর্মে হাদীস ১ সালাতের প্রথম তাশাহহুদ মুসল্লীর উপর ফরয নয় মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির তাশাহহুদে দুই উরুর উপর হাত রাখা সম্পর্কে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তাশাহহুদে বাম উরু ও হাঁটুর উপর বাম হাত রাখা অনুরুপভাবে ডান উরু ও হাঁটুর উপর ডান হাত রাখা ১ তাশাহহুদে মুসল্লী ব্যক্তি তার আঙ্গুলগুলিকে কিভাবে রাখবে তার বিবরণ ১ উল্লেখিত জায়গায় যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তর্জনীর মাধ্যমে ইশারা করতেন ১ তর্জনীর মাধ্যমে ইশারা করার সময় তর্জনীকে কিছুটা হেলানো মু্স্তাহাব ১ তর্জনীর মাধ্যমে ইশারা কিবলার দিকে হওয়া জরুরী ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাতে যে তাশাহহুদ পাঠ করে তার বিবরণ ১ সালাতের বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাতের কোন তাশাহহুদ পাঠ করবে তার বিবরণ ২ আমরা যে তাশাহহুদ বর্ণনা করলাম, সালাতে সেটা ছাড়া অন্য তাশাহহুদ পড়া বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ দ্বিতীয় প্রকারের তাশাহহুদ পাঠ করার নির্দেশ, কেননা উভয় প্রকার তাশাহহুদের যে শব্দগত ভিন্নতা, সেটি বৈধ ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত সা‘ঈদ বিন যুবাইরের হাদীসের বিপরীত ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের পর ঐ দুটি রাকআত নিয়মিত পড়তেন ১ আমরা যে কারণ বর্ণনা করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যেই হাদীস ইলমে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে নিপতিত করে যে, ছুটে যাওয়া সালাত হয়তো সূর্য উদয়ের সময় আদায় করা যাবে না যতক্ষন না সূর্য শুভ্র হয়ে প্রকাশিত না হয় ১ আমরা যেই সালাতের বর্ণনা দিলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সালাত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আযান ও ইকামাত দিয়ে আদায় করেছেন ১ যে ব্যক্তি সূর্য উদয়ের আগে এক রাকাত সালাত পায়, সে তার সাথে আরেক রাকাত পড়ে নিবে; এই অবস্থায় সে সালাতকে নষ্ট করবে না ১ যে হাদীস এটি সুস্পষ্টভাবে অনুমতি দেয় যে, যে ব্যক্তি সূর্য উদয়ের আগে এক রাকাত সালাত পাবে, সে ব্যক্তি তারপর সেই রাকাতের সাথে আরেক রাকাত সালাত আদায় করবে, এটি তাদের মতের বিপরীত যারা বলে যে, এই অবস্থায় তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে ১ সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে কোন ব্যক্তি এক রাকাত পেলে সে ব্যক্তি আসরের সালাত পেয়েছে মর্মে বর্ণনা ১ আরবরা তাদের ভাষায় সাজদার ক্ষেত্রে রাকা'আত শব্দ ব্যবহার করে মর্মে বর্ণনা ১ যে বক্তি সূর্য উদয়ের আগে এক রাকাত পায় এবং সূর্য উদয়ের পর এক রাকাত সালাত পায়, সে ব্যক্তি এর মাধ্যমে ফজরের সালাত পেয়ে যায় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সূর্য উদিত হওয়ার আগে ফজরের এক রাকাত পায়, তার জন্য আবশ্যক হলো সূর্য উদিত হওয়ার পর অবিচ্ছিন্নভাবে তার সালাত পূর্ণ করা; সে সালাতকে ছেড়ে দিবে না ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন সুবহে সাদিক উদিত হবে, তখন ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত ব্যতীত আর কোন সালাত আদায় করবে না ১ মাগরিবের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্দেশ ১ সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতিতে মাগরিবের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন, কিন্তু তিনি কোন প্রতিবাদ করেননি ১ (৫) দুই সালাত এক সাথে আদায় করা ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে দুই সালাত এক সাথে আদায় করতেন ১ মুসাফির ব্যক্তি যোহর ও আসরের সালাত এক সাথে আদায় করতে চাইলে কিভাবে আদায় করবে তার বর্ণনা ১ মুসাফির ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করতে চাইলে কিভাবে আদায় করবে তার বিবরণ ১ দুই সালাত এক সাথে আদায় করতে চাইলে দুই সালাতের মাঝে সামান্য কাজ-কর্ম করা জায়েয ১ যেই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে দুই সালাত এক সাথে আদায় করতেন, বাহন থেকে নেমে; বাহনের উপর চড়ে চলমান অবস্থায় বা পদব্রজ অবস্থায় নয় ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মুকীম অবস্থায় কোন রকম ওজর ছাড়াই দুই সালাত এক সাথে আদায় করা যায় ১ যেসব জায়গায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম করতেন ১ (৬) সালাত আদায়ের জায়গাসমূহের বিবরণ ১ দুনিয়াতে সর্বোত্তম জায়গা হলো মসজিদ এই মর্মে বর্ণনা ১ আল্লাহর নিকট প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ এই মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আগমনের সময় মুসলিমদের কর্তৃক মসজিদে নববী নির্মাণ করার বর্ণনা ১ মন্দির ও গির্জার জায়গায় মুসলিমদের মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ ১ মানুষের জন্য বৈধ হলো মসজিদ নির্মানে সহযোগিতা করা যদিও তা কায়িক শ্রমের মাধ্যমেও হয় ১ যেই মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে, সেটি হলো মদীনার মসজিদ ১ যেই মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে, সেই মসজিদের বিবরণ ১ ইলমে হাদীসে যিনি মজবূত ইলম অর্জন করেননি, তিনি যেই হাদীসের মাধ্যমে এই সংশয়ে নিপতিত হন যে, রবী‘আহ বিন উসমানের হাদীসটি হয়তো ত্রুটিযুক্ত ১ সালাত এবং ভাল কাজের জন্য মসজিদকে অবস্থানের জায়গা বানিয়ে নেওয়া ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর দয়ার দৃষ্টিদান প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করবেন ১ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মসজিদ নির্মাণ করবে চাই সেটা ছোট হোক অথবা বড় হোক, তবে মহান আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য অনুরুপ একটি প্রাসাদ তৈরি করবেন ১ যে ব্যক্তি মানুষ চলাচলের রাস্তায় কংকর জমা করে অথবা পাথর বিন্যস্ত করে সালাত আদায় করার ব্যবস্থা করে দেয়, মহান আল্লাহ তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, এই মর্মে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ কোন ব্যক্তি মা‘যূর হলে তার জন্য বৈধ আছে, সে সালাত আদায় করার জন্য বাড়িতে একটি জায়গা নির্ধারণ করবে ১ মসজিদ নির্মাণ নিয়ে গর্ব করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ যে কারণে এমন করার ব্যাপারে ধমকী দেওয়া হয়েছে ২ যেসব মসজিদে সফর করা মুস্তাহাব ১ উল্লেখিত সংখ্যা ছাড়া অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল না এই মর্মে বর্ণনা ১ আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে যে সংখ্যা বলা হয়েছে, সেই সংখ্যা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল না এই মর্মে বর্ণনা ১ যে হাদীস কোন কোন আলেমকে এই সংশয়ে নিপতিত করে যে, উল্লেখিত তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের দিকে সফর করার জন্য বাহন প্রস্তুত করা জায়েয নেই ১ মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করার চেয়ে মসজিদে হারামে সালাত আদায় করা একশ গুণ সাওয়াব বেশি ২ যে ব্যক্তি যে কোন শহরের মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে একটি সাওয়াব এবং প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি গোনাহ মোচন করা হয়, যতক্ষন না সে বাড়িতে ফিরে আসে এভাবে লেখা হতেই থাকে, এই মর্মে হাদীস ১ অন্যান্য মসজিদে সালাত আদায় করার চেয়ে মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করার ফযীলত ১ অন্যান্য মসজিদে সালাত আদায় করার চেয়ে মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করা একশ গুণ সাওয়াব বেশি ১ পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় এই মর্মে বর্ণনা ১ যেই মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে, সেটি হলো মদীনার মসজিদ ১ মসজিদে কুবায় সালাত আদায় করলে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে একটি উমরার সাওয়াব দান করেন ১ বিভিন্ন অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক অধিক পরিমাণে মসজিদে কুবায় গমন প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি কুবা মসজিদে গমন করতে চায়, তার জন্য যেই দিনে কুবা মসজিদে গমন করা মুস্তাহাব ১ মসজিদে কুবায় সালাত আদায় করার জন্য গমন করা মুস্তাহাব ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যেই হাদীস বাহ্যিকভাবে পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের বিপরীত ১ যে ব্যক্তি মসজিদে আকসায় সালাত আদায় করে, আশা করা যায়, তিনি মসজিদ থেকে বের হবেন ঐ দিনের মত নিষ্পাপ অবস্থায়, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল ১ মসজিদ পবিত্র ও পরিস্কার করার নির্দেশ ১ মসজিদে কফ ফেলে তা না মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ধমকী ১ যে ব্যক্তি মসজিদের কিবলার দিকে থুথু ফেলে, সে মহান আল্লাহকে কষ্ট দেয়, এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মসজিদে থুথু ফেলে, এজন্য তার যে পাপ লিখা হয়, তা মোচন হওয়া সংক্রান্ত হাদীস ১ যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু ফেলবে, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে তার মুখে থুথু থাকবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “থুথু তার মুখে থাকবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে থাকবে ১ মসজিদে কফ ফেলা কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের মন্দ আমলের অন্তর্ভূক্ত থাকবে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যখন তার উম্মতের আমল পেশ করা হয়, তখন তাকে নগণ্য পাপের কাজগুলো দেখানো হয়, আবার বড় গোনাহের কাজগুলোও দেখানো হয় ১ যে ব্যক্তি মসজিদে কফ দেখে তা মাটিতে পুতে ফেলে তার মহান আল্লাহ সাদাকাহ করার সাওয়াব লিখে অনুগ্রহ করেন ১ যে ব্যক্তি অপ্রীতিকর গাছ (পেয়াজ-রসূন) ভক্ষন করবে, তার তিন দিন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ রসূন, পেয়াজ ও পলাণ্ডু (পেয়াজ জাতীয় সবজি) ভক্ষনকারী এসবের গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে গমন করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ২ এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন "আমাদের মজলিসে", এর দ্বারা তিনি "আমাদের মসজিদ" বোঝাতে চেয়েছেন ১ যে ব্যক্তি তীর নিয়ে মসজিদে গমন করবে, সে যেন তীরের ফলক ধরে গমন করে ১ হাদীসে উল্লেখিত ব্যক্তি মসজিদে তীর নিয়ে গমন করছিলেন তা সাদাকা করার জন্য ১ যে কারণে এই নির্দেশ করা হয়েছে ১ মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করার ব্যাপারে হুশিয়ারী, কেননা ক্রয়-বিক্রয়ে প্রায় অসার কথাবার্তা হয়ে থাকে ১ নশ্বর এই দুনিয়ার কোন কিছুর জন্য মসজিদে আওয়াজ উঁচু করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ৩ যে কোন একটি মসজিদে ইলম শিক্ষা করা বা কোন কিছুর অধ্যয়ন করতে চাইলে এক সাথে সমবেত না হয়ে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ মসজিদে মহিলাদের জন্য তাবূ স্থাপন করা জায়েয ১ অবিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য জায়েয আছে, জামা‘আত হয় এমন মসজিদে ঘুমানো ১ মসজিদে রুটি গোশত খাওয়া বৈধ ১ (৭) আযান ১ আযান দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে লটারী করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো নিয়মিত আযান দেওয়া বিশেষত যখন সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা উপত্যকার পাদদেশে থাকে- এই ব্যাপারে হাদীস ১ দুনিয়ার আযান দেওয়ার জন্য কিয়ামতের দিন জিন, ইনসান ও সমস্ত জিনিস মুয়ায্যিনের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে ১ আযান ও ইকামতের সময় শয়তান দুরে সরে যায় মর্মে বর্ণনা ১ শয়তান যখন আযানের সময় দুরে সরে যায়, তখন সে এতো দুরে যায় যেখানে সে আর আযান শুনতে পায় না ১ ইকামতের সময় শয়তান কী পরিমাণ দুরে সরে যায় তার বর্ণনা ১ তাকবীর বলার মাধ্যমে মুয়ায্যিনের জন্য স্বভাবজাত বৈশিষ্ট সাব্যস্তকরণ এবং আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য জাহান্নাম থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুয়ায্যিন ব্যক্তির আযানের আওয়াজ যতদূর পর্যন্ত পৌঁছবে ততদূর পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা হয় ১ মহান আল্লাহ মুয়ায্যিনকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যখন সে ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে আযান দিবে ১ মুয়ায্যিন ব্যক্তির আযান শুনে যারা সালাত আদায় করবে, মুয়ায্যিনের জন্য তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব হবে মর্মে হাদীস ১ দুনিয়াতে আযান দেওয়ার কারণে কিয়ামতের দিন দীর্ঘ সাওয়াবের প্রত্যাশা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি কেবল মু‘আবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুয়ায্যিনের জন্য আল্লাহর ক্ষমা সাব্যস্তকরণ ১ মুয়ায্যিনের আযান দেওয়ার জন্য ক্ষমা প্রাপ্তি সম্পর্কে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় আযান কেমন ছিল, তার বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় সালাতের জন্য ইকামত কেমন ছিল তার বর্ণনা ২ আমরা যে তাশাহ্হুদের বর্ণনা করলাম, তাছাড়া অন্য তাশাহ্হুদও সালাতে পড়া বৈধ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দেওয়ার আগে তাঁরা যা পড়তেন তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত বা দরুদ পাঠ করার আগে যে সালাম পেশ করতে হয় তার বিবরণ ১ আমরা যে সালামের বর্ণনা পেশ করলাম, তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত বা দরুদ পাঠ করার বিবরণ ১ লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঐ সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যে সালাত মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন ১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, কিভাবে তাশাহ্হুদের সময় তাঁর উপর সালাত বা দরুদ পেশ করবে ১ সালাতের তাশাহ্হুদের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত বা দরুদ পাঠ করার জন্য লোকদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মর্মে বর্ণনা ১ যে হাদীস, হাদীস শাস্ত্রে অপরিপক্ক ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, তাশাহ্হুদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত পেশ করা হয়তো ফরয নয় ১ পূর্বের হাদীসের ভাষ্য “যখন তুমি এটা বলবে...”এটি আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য; এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য নয়। যুহাইর রহিমাহুল্লাহ এই অংশকে হাদীসের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েছেন ১ উল্লেখিত বাক্যটি মাহফূয বা সহীহ নয় মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত পেশ করার নির্দেশ ও সালাত পেশ করার পদ্ধতির বর্ণনা ১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দ্বিতীয় প্রকারের সালাত বা দরুদ পেশ করার নির্দেশ কেননা উভয় দরুদের শব্দগত বিভিন্নতা বৈধ ১ তাশাহ্হুদের পর সালাম ফেরানোর আগে একজন ব্যক্তি কী দু‘আ পাঠ করবে তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি তাশাহ্হুদ পড়া শেষ করবে, তাকে সালাম ফেরানোর আগেই চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ একজন মুসল্লী ব্যক্তি তার সালাতে তাশাহ্হুদের পর যা থেকে আশ্রয় চাইবে তার বিবরণ ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য সালাতে দু‘আ করার সময় যে কারো নাম উল্লেখ করা বৈধ ১ সালাতের যে স্থানে আল্লাহর কাছে দু‘আ করলে, দু‘আকারী যা চাইবে, তা প্রদান করা হয় মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য জায়েয রয়েছে, কুর‘আন বর্হিভূত দু‘আ করা ১ সালাতে কুরআন বহির্ভুত দু‘আ করা বৈধ, যদিও তাতে মানুষের নাম থাকে ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সালাতে কোন ব্যক্তি কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ পড়লে, তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ সালাতে কোন ব্যক্তি কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ পড়া বৈধ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ করলে সালাত বিনষ্ট হয়ে যায়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সালাতে কোন ব্যক্তি কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ পড়লে, তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সালাতে কোন ব্যক্তি কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ পড়লে, তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে- তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয সালাতে পাঠ করতেন ১ সালাতে কুর‘আন বহির্ভুত দু‘আ পড়া বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ (১১) কুনূত প্রসঙ্গে ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাতের যে জায়গায় কুনূত পড়বেন তার বর্ণনা ১ বিভিন্ন সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুনূতের বিবরণ ১ সালাতে কুরআন বহির্ভুত দু‘আ করা বৈধ, যদিও তাতে মানুষের নাম থাকে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ সালাতে আমরা যে কুনূতের কথা বর্ণনা করলাম, পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ছেড়ে দেন মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য সালাতে দু‘আ করার সময় যে কারো নাম উল্লেখ করা বৈধ ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, দুর্যোগের সময় কারো জন্যই আদৌ কুনূত পড়া জায়েয নেই ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে এই হাদীসটি সালিম থেকে ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীসের বর্ণনা ১ বিভিন্ন সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক কুনূতে নাযেলাহ পাঠ না করা মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির সালাম ফেরানোর মাধ্যমে সালাত শেষ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাত শেষ করতে চাইলে কিভাবে সালাম ফেরাবে, তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি যে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করবে, তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি যে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করবে, তার পদ্ধতির বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ কোন ব্যক্তি যখন সালাতে শুধু এক দিকে সালাম ফিরাবে, সেটা কিভাবে ফেরাবে তার বর্ণনা ১ সালাত শেষে মুখ ফিরানোর বিবরণ ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য সালাতে বাম দিক দিয়ে ঘুরে বসাও জায়েয মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুগপৎভাবে ডান-বামে দুই দিক থেকেই মুখ ঘুরে বসতেন ১ যে কারণের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাম দিকে ঘুরে বসতেন, সে বিষয়ে আলোচনা। ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাম ফিরানোর পর কী বলবে, তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি আসিম আল আহওয়াল এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আসিম আল আহওয়ালের হাদীস হয়তো ত্রুটিযুক্ত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখিত যিকিরগুলো সালাম ফিরিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ইস্তিগফার পাঠ করার পর করবেন ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সালাতের পর সূরা নাস ও ফালাক পড়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাত শেষে যে তাহলীল পাঠ করবে, তার বিবরণ ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমল করতেন মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে হাদীসটি ওয়ার্রাদ থেকে ইমাম শা‘বী ও মুসাইয়্যিব বিন রাফে‘ ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ২ আরেক প্রকার তাহলীলের বর্ণনা যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক সালাতের পর বলতেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হিশাম বিন উরওয়া আবুয যুবাইর থেকে কোন হাদীস শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ এই হাদীসটি আবুয যুবাইর ইবনুয যুবাইর থেকে শ্রবণ করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ সালাতের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীরের কথা বর্ণনা করলাম, তা সালাতের পর পড়বে; সালাতের মধ্যে নয়- এই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সালাতের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করবে, তার কী পরিমাণ গোনাহ ক্ষমা করা হবে, তার বিবরণ ১ ফরয সালাতের পর যা বললে ব্যক্তি তার চেয়ে অগ্রগামী থেকেও অগ্রগামী হয় এবং তার থেকে পিছে পড়া ব্যক্তি তার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি ব্যতিত যে ব্যক্তি অনুরুপ আমল করে ১ আমরা যে তাহমীদ, তাসবীহ ও তাকবীরের কথা বর্ণনা করলাম, তার শেষে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, যাতে ১০০ সংখ্যা পূর্ণ হয় ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা কোন ব্যক্তি ফরয সালাতের পর পাঠ করলে, তার পূর্বের মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন মর্মে বর্ণনা ১ তাসবীহ, তাকবীর ও তাহমীদের সাথে তাহলীলও পাঠ করা, যাতে (১০০ পূর্ণ করতে) প্রত্যেকটি ২৫ বার পাঠ করা হয়- এই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ১০ বার করে সুবহানাল্লাহ, আল হামদু লিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার উপর ক্ষ্যান্ত থাকে, তার জন্য মহান আল্লাহ ১৫০০ সাওয়াব লিখে দেন ১ আমরা যেসব তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর বর্ণনা করলাম, এগুলি সালাতের পর পঠিতব্য এমন কিছু যিকির, যা পাঠকারী ব্যক্তি ব্যর্থ হয় না মর্মে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ফরয সালাতের পর আল্লাহর কাছে তাঁর যিকির, তাঁর শুকরিয়া আদায় ও তাঁর উত্তম ইবাদত করতে পারার জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করা ১ ফরয সালাতের পর আল্লাহর কাছে তাঁর যিকির, তাঁর শুকরিয়া আদায় ও তাঁর উত্তম ইবাদত করতে পারার জন্য তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করার নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মাগরিব ও ফজরের সালাতের পর সাত বার আশ্রয় চাইবে, মহান আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই!) ১ ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর যা পাঠ করলে চারজন দাস মুক্তি করার সমান সাওয়াব পাওয়া যায় এবং সে ব্যক্তি শয়তান থেকে নিরাপত্তা লাভ করে মর্মে বর্ণনা ২ সালাতের পর একজন ব্যক্তি কোন কোন বিষয় থেকে আশ্রয় চাইবে, তার বিবরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাতের পর মহান আল্লাহ যেন অনুগ্রহ করে তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাতের পর দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ চাওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর শত্রুদের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে সালাতের পর দুআয় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ফজরের সালাতের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত সেই স্থানে বসে থাকা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো ফজরের সালাতের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত তার সালাত আদায়ের স্থানে বসে থাকা ১ ইশার সালাতের পর আখেরাতের জন্য উপকারী নয় এমন বিষয়ে গল্প করার ব্যাপারে হুশিয়ারী সম্পর্কিত হাদীস ২ যাদের লাঠি রাতে আলো দিচ্ছিল সেখানে উসাইদ বিন হুযাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে যে আনসারী সাহাবী ছিলেন তার নামের বর্ণনা ১ ইশার সালাতের পর গল্প করা করার ব্যাপারে যে ধমকী দেওয়া হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য ইলমী বিষয়ে আলাপ-আলোচনা নয় এই মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ ইশার সালাতের পর মুসলিমদের জন্য উপকারী কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা বৈধ মর্মে স্পষ্ট হাদীস ১ ইশার সালাতের আগে পরকালের জন্য উপকারী বিষয়ে আলোচনা করা যায় এবং সেজন্য ইশার সালাত বিলম্ব করা যায় ১ (১২) ইমামতি ও জামা‘আতে সালাত আদায় প্রসঙ্গে - (জামা‘আতে সালাত আদায় করার ফযীলত) - কোন ব্যক্তি ফরয সালাত আদায় করার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হলে, যতক্ষন সে মসজিদে যাওয়ার জন্য হাঁটতে থাকে, ততক্ষন পর্যন্ত মহান আল্লাহ তার জন্য সালাত আদায় করার সাওয়াব লিখে দেন ১ সকাল সন্ধায় মসজিদে গমনকারীর জন্য মহান আল্লাহ জান্নাতে আপ্যায়ন প্রস্তুত করেন মর্মে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি ফরয সালাত আদায় করার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হলে, মহান আল্লাহ তাকে বাড়িতে না ফেরা পর্যন্ত সালাত আদায়কারী হিসেবে লিখে দেন ১ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে আসে, সে ব্যক্তি বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তার পদক্ষেপের জন্য গোনাহ মোচন করা হয় এবং মর্যাদা সমুন্নত করা হয় ১ মসজিদ থেকে যার বাড়ি দুরবর্তী হয়, তাকে মহান আল্লাহ এমন সাওয়াব দেন, যা মসজিদের নিকটবর্তী ব্যক্তিকে দেন না ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “তুমি যে সাওয়াবের প্রত্যাশা করেছো, আল্লাহ তোমাকে সব কিছুর সাওয়াব দিয়েছেন” ১ মসজিদ থেকে যার বাড়ি যত বেশি দুরে হবে, মহান আল্লাহ তাকে তত বেশি সাওয়াব দিবেন কেননা মসজিদে আসার জন্য যে পদক্ষেপগুলো ফেলা হয়, মহান আল্লাহ সেগুলিরও সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন ১ মসজিদে আসার জন্য যে পদক্ষেপগুলো ফেলা হয়, মহান আল্লাহ সেগুলিরও সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেন- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার মর্যাদাসমূহ সমুন্নত করা হয় এবং তার পাপসমূহ মোচন করা হয় ১ মসজিদে গমনকারী ব্যক্তির এক পদক্ষেপের কারণে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় আরেক পদক্ষেপের কারণে তার একটি পাপ মোচন হয় ১ মসজিদে গমনকারী ব্যক্তির এক পদক্ষেপের কারণে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন ১ যে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে মসজিদে হেটে গমন করে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে কিয়ামতের দিন নূর দান করবেন, যার মাধ্যমে সে ব্যক্তি ঐ সমাবেশে পথ চলবেন (আমরা আল্লাহর কাছে ঐ দিনের বারাকাহ প্রার্থনা করছি) ১ সালাতের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি মসজিদে গেলে তিনি মসজিদে প্রবেশের সময় কী বলবেন ১ মসজিদে প্রবেশকারীকে আল্লাহর রহমাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ একাকী সালাত আদায়কারীর চেয়ে জামা‘আতে সালাত আদায়কারীর সালাতের সাওয়াব ২৫ গুণ বেশি হওয়া মর্মে বর্ণনা ১ জামা‘আতে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের সাওয়াবের চেয়ে বেশি সাওয়াব পায় মর্মে বর্ণনা ১ একাকী সালাত কারীর উপর জামা‘আতে সালাত আদায় করার ফযীলত ১ উল্লেখিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় ১ আমাদের পূর্বে উল্লেখিত দুটি হাদীসে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “একাকী আদায়কারী ব্যক্তির সালাত” শব্দটি আম বা ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য খাস; যেভাবে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয় ১ সালাতে মুক্তাদীর সংখ্যা যত বেশি হবে, সেটা আল্লাহর কাছে তত বেশি প্রিয় হবে ১ যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের সালাত জামা‘আতে আদায় করবে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে পুরো রাত কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার সাওয়াব লিখে দিবেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি মুআম্মাল বিন ইসমাঈল এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি সুফিয়ান সাওরী এককভাবে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ফজর ও আসরের সালাত জামা‘আতে আদায়কারীর জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন মর্মে বর্ণনা ১ (১৩) জামা‘আতে সালাত আদায় করা ফরয এবং যে সব কারণে জামা‘আত তরক করা যায় ২ জামা‘আতে সালাত আদায় করার নির্দেশ ফরয নির্দেশক; মুস্তাহাব নির্দেশক নয় মর্মে হাদীস ১ প্রথম ওজর হলো অসুস্থতা, যার কারণে ব্যক্তি জামা‘আতে উপস্থিত হতে সক্ষম হয় না ১ দ্বিতীয় কারণ হলো মাগরিবের সালাতের সময় খাবার উপস্থিত হলে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য “রাতের খাবার খেতে তাড়াহুড়া করবে না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যখন কোন ব্যক্তির কাছে খাবার পরিবেশন করা হয় ১ রাতের খাবার উপস্থিত হলে জামা‘আত তরক করা জরুরী হয়, যখন কোন ব্যক্তি সিয়ামরত অবস্থায় থাকে অথবা কারো যদি খাদ্যের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ থাকে, এতে সে কষ্ট পায় ১ জামা‘আত তরক করার তৃতীয় কারণ ‘ভুলে যাওয়া’, যেই অবস্থা কোন কোন সময় মানুষের উপর আরোপিত হয় ১ চতুর্থ কারণ অতিরিক্ত স্থূল হওয়া, যার কারণে কোন ব্যক্তি জামা‘আতে উপস্থিত হতে পারে না ১ পঞ্চম কারণ পেশাব পায়খানার চাপ অনুভব করা ১ আমরা যে প্রাকৃতিক চাহিদার কথা বললাম, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি প্রাকৃতিক চাহিদা এমন হয় যে, তার কারণে মুসল্লী সালাতে অমনোযোগী হবে আর যদি সেরকম কোন কষ্ট অনুভব না করে, তবে এটি এখানে উদ্দেশ্য নয় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ২ জামা‘আত তরক করার ষষ্ঠ কারণ মসজিদে যাওয়ার পথে যদি নিজের জীবন বা সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে ১ সপ্তম কারণ কষ্টদায়ক প্রচন্ড ঠান্ডা থাকা ১ প্রচন্ড ঠান্ডার সময় বাড়িতে সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ অষ্টম কারণ কষ্টদায়ক বৃষ্টিপাত হওয়া ১ বৃষ্টিপাত হলে বাড়িতে সালাত আদায় করার নির্দেশ, যদিও তা কষ্টদায়ক না হয় ১ বৃষ্টি ও ঠান্ডা যদি যদিও দুটো এক সাথে না হয়; বরং এই দুটির কোন একটি হলেই, কোন ব্যক্তি জামা‘আত তরক করতে পারে ১ যারা খবরে ওয়াহেদ বা একজনের বর্ণনা গ্রহণ করে না তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ নিজ বাসস্থানে সালাত আদায় করার নির্দেশটি বৈধতা নির্দেশক; বাধ্যতামূলক নয় ১ বৃষ্টিপাত হলে বাড়িতে সালাত আদায় করার নির্দেশ, যদিও তা কষ্টদায়ক না হয় ১ নবম কারণ হলো পরিস্থিতি এমন হওয়া যে, ব্যক্তি তাতে হোঁচট খাওয়ার আশংকা করে ১ দশম কারণ কোন ব্যক্তির রসূন, পেয়াজ খাওয়া অতঃপর তার গন্ধ না যাওয়া পর্যন্ত মসজিদে না যাওয়া ১ আমরা পেয়াজ ও রসূনের যে হুকুম বর্ণনা করলাম, তাতে পলাণ্ডুও অন্তর্ভুক্ত মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যে কারণ উল্লেখ করলাম, বস্তুত এই কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুটি জিনিস খাওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারী করেছেন ১ আমরা যা কিছু বর্ণনা করলাম, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববী ও অন্যান্য যে কোন মসজিদ সমান ১ আমরা যা কিছু বর্ণনা করলাম, তা শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববী নয় বরং বরং অন্যান্য যে কোন মসজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে কারণে এই এই দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ খেলে জামা‘আতে আসতে নিষেধ করা হয় ১ যার মুখে রসূন ও পেঁয়াজের গন্ধ পাওয়া যেতো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বাকী‘ নামক স্থানের দিকে বের করে দিতেন ১ উল্লেখিত জিনিসগুলো রান্না করে খেয়ে জামা‘আতে উপস্থিত হওয়াতে কোন দোষ নেই মর্মে বর্ণনা ১ রান্না করা জিনিস আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিধানে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর রাসূল ও উম্মতের মাঝে ব্যবধান করেছেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা যদি কোন ব্যক্তি যদি অসুস্থতার চিকিৎসা হিসেবে কাঁচা খায়, তাহলে তার এই অবস্থায় জামা‘আতে উপস্থিত হওয়াতে কোন দোষ নেই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের জামা‘আতে উপস্থিত হয় না, তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য কী সেই মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেটা ইশার সালাতে না কারণে নয়-তাদের কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুনাফিকদের উপর এই দুটি সালাত সবচেয়ে কঠিন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় যারা জামা‘আতে অনুপস্থিত থাকতো, তাদের ব্যাপারে যা আশংকা করা হতো, তার বর্ণনা ১ আমরা যাদের কথা বর্ণনা করলাম, তাদের ব্যাপারে সাহাবীদের মন্দ ধারণা করার কারণ ১ তিন ব্যক্তির উপর শয়তান কর্তৃত্ব লাভ করে, যারা কোন গ্রাম অথবা শহরে থাকে অথচ জামা‘আতে সালাত আদায় করে না ১ (১৪) ইমামের অনুসরণ করা ফরয ১ উল্লেখিত সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সাহাবীগণ তাঁর অনুসরণে বসে সালাত আদায় করেছেন ১ সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে তাঁর নির্দেশে বসে সালাত আদায় করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশ ফরয নির্দেশক; মুস্তাহাব নির্দেশক নয় মর্মে হাদীস ১ আমরা যেদিকে ইঙ্গিত করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশ ফরয নির্দেশক; মুস্তাহাব নির্দেশক নয় মর্মে তৃতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশ ফরয নির্দেশক; মুস্তাহাব নির্দেশক নয় মর্মে চতুর্থ হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশ ফরয নির্দেশক; মুস্তাহাব নির্দেশক নয় মর্মে চতুর্থ হাদীস ২ যে হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশ মুস্তাহাব নির্দেশক; ফরয নির্দেশক নয় ১ হুমাইদ আত তউইলের হাদীসে শব্দকে ভিন্ন ব্যাখ্যাকারীর ব্যাখ্যাকে অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই হাদীসের ব্যাপক অর্থবোধক শব্দকে যারা বিপরীত ব্যাখ্যা করে তার বর্ণনা ১ শর্তহীন এই নির্দেশের যে ব্যক্তি ভিন্ন ব্যাখ্যা করে, তার ব্যাখ্যা অপনোদনকারী হাদীস ১ এই হাদীসের এই ব্যাখ্যাকারী যে ব্যাখ্যা করেছে, তা যে ভ্রান্ত সেই মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ ইমাম বসে সালাত আদায় করলে, মুক্তাদীরাও বসে সালাত আদায় করবে মর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশকে আমাদের কিছু ইমাম মানসুখ বা রহিত মনে করেন, তারা এই ব্যাপারে যেই হাদীসের কারণে এই সংশয়ে নিপতিত হয়েছেন, তার বিবরণ ১ যেই হাদীসটি বাহ্যত আমাদের উল্লেখিত পূর্বের হাদীসের বিপরীত, সেই হাদীসের বর্ণনা ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীসের আরেকটি সানাদ, যা কিছু মুহাদ্দিসকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বের নির্দেশকে রহিত করে দিয়েছে ১ যে হাদীসটি বাহ্যিকভাবে আমাদের পূর্বে উল্লেখিত আবূ ওয়াইলের হাদীসের বিপরীত ১ যে সালাতের ব্যাপারে হাদীসগুলো সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাহীনভাবে এসেছে, যা আমরা আগে বর্ণনা করেছি, সেই সম্পর্কে আলোচনা ১ আমরা যে সংক্ষিপ্ত শব্দ সংবলিত হাদীস বর্ণনা করলাম, সেটাকে ব্যাখ্যাকারী হাদীস ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে যে ব্যাখ্যাহীন শব্দ রয়েছে, সেটাকে ব্যাখ্যাকারী হাদীস ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আরেকটি হাদীস যা অনেক মানুষকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ আমরা যে দুই সালাতের বর্ণনা করলাম, তন্মধ্যে এই সালাত ছিল পরের সালাত ১ কোন সম্প্রদায়ের মাঝে যিনি বেশি কুরআন জানবেন, তিনি ইমামতির বেশি হকদার হবেন, যদিও সেখানে তারচেয়ে বেশি উচ্চ বংশের ও সম্মানিত ব্যক্তি থাকেন ১ কোন সম্প্রদায়ের লোকজন যখন কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হবে, তখন ইমামের বেশি হকদার হবেন, যিনি হাদীস সম্পর্কে বেশি অবগত ২ হাদীসের বক্তব্য “তারা দুইজনেই কাছাকাছি বয়সের ছিলেন” এটি আবূ কিলাবা রহিমাহুল্লাহর বক্তব্য, যা খালিদ আত তাহ্হান হাদীসে ঢুকিয়ে দিয়েছেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমাদের একজন আযান ও ইকামত দিবে; দুইজনেই আযান, ইকামত দিবে এটা উদ্দেশ্য নয় ২ ইমামতির ক্ষেত্রে দুইজন ও তিনজনের হুকুম একই হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মানুষের ইমামতি করার ক্ষেত্রে কে বেশি উপযুক্ত, তার বর্ণনা ১ অন্ধ ব্যক্তি চক্ষুষ্মান মুক্তাদীর ইমামতি করতে পারবে মর্মে বর্ণনা ১ অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি জায়েয, যদি তাকে দেখাশোনা করার মতো লোক থাকে ১ যিনি লোকদের ইমামতি করবেন, তাকে সালাত হালকা করে আদায় করার নির্দেশ, কেননা তার পিছনে অসুস্থ মানুষ রয়েছে ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত হালকা করে আদায় করার নির্দেশ ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করে সংক্ষিপ্ত করা ১ ইমামের জন্য বৈধ আছে সালাতকে হালকা করা, যখন তিনি জানবেন যে, তার পিছনে ব্যস্ত মানুষ রয়েছে, যার সেখানে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাতের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করা আর শেষের দুই রাকাত হালকা করা ১ যখন কোন ব্যক্তি অন্যের সাথে সালাত আদায় করবে, তখন তার জন্য বৈধ রয়েছে সালাত দীর্ঘ করে আদায় করা ১ ইমাম যখন মুক্তাদীদেরকে সালাত শিক্ষা দিতে ইচ্ছা করবেন, তখন তার জন্য জায়েয আছে মুক্তাদীদের চেয়ে উঁচু জায়গায় সালাত আদায় করা ১ যেই হাদীস, হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ইমামের জন্য মুক্তাদীদের থেকে উঁচু জায়গায় সালাত আদায় করা জায়েয নেই ১ কোন ভ্রমণকারী ব্যক্তি যার কাছে ভ্রমণ করে যাবেন, তার বাড়িতে তার অনুমতি ছাড়া ইমামতি করার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ যে ব্যক্তি মসজিদে আসবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো ধীরস্থিরভাবে মসজিদে আসা এবং যা ছুটে যাবে পরে তা আদায় করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “আর যা ছুটে যাবে, তা (ইমামের সালামের পর) সম্পন্ন করবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আগে পড়া সালাতের সাথে ছুটে যাওয়া সালাত আদায় করে পূর্ণ করবে; এর বিপরীতটা উদ্দেশ্য নয় (অর্থাৎ ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো শেষ রাকাত হিসেবে গণ্য হবে; এগুলি প্রথম রাকাত হিসেবে গণ্য হবে না, যেমনটা হানাফী মাযহাবের অভিমত-অনুবাদক) ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেছেন, তার বর্ণনা ৩ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি সা‘ঈদ আল মাকবুরী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি এবং তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মতভেদ করা হয়েছে- তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ ইমামের জন্য বৈধ রয়েছে, মু্ক্তাদীদের নিয়ে সামনে কোন দেয়াল ছাড়াই খোলা মাঠে সালাত আদায় করা ১ জামা‘আত সংঘটিত হয় এমন মসজিদে, মসজিদের খুঁটি সামনে রেখে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ সালাতের প্রথম কাতার পৌঁছা, তাড়াতাড়ি (আগে আগে) মসজিদে যাওয়া এবং ফজর ও ইশার সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ ১ সালাতের প্রথম কাতার পূরণ করা, তারপর পরের কাতার পূরণ করার নির্দেশ কেননা এরকম করলে ফেরেস্তাগণ কাজের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হয় ১ প্রথমে আগের কাতার পূর্ণ করা, তারপর পরের কাতারে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ প্রথম কাতার থেকে পিছিয়ে থাকার ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীর জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন ১ প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করেছেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম হাদীসটি খালিদ বিন মা‘দান থেকে শ্রবন করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ কাতারের ডান দিকে সালাত আদায়কারীর জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন ১ কাতার সোজাকারীদের জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, যখন সেটি প্রথম কাতার হবে ১ সালাতে কাতার পূর্ণ করার ব্যাপারে যা করা মুস্তাহাব তার বিবরণ ১ যারা কাতার পূরণ করে, তাদের জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি উসামা বিন যাইদ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ কাতারসমূহ সোজার করার নির্দেশ, যাতে তা প্রতিপালন না করার কারণে লোকদের মাঝে মতভেদ তৈরি না হয় ১ যে কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনা ১ সালাতে দাঁড়ানোর সময় কাতার সোজা করার নির্দেশ সম্পর্কে বর্ণনা ১ সালাতে দাঁড়ানোর সময় ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তিনি মুক্তাদীদেরকে কাতার সোজা করার নির্দেশ দিবেন ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ সালাতে দাঁড়ানোর সময় ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তিনি মুক্তাদীদেরকে কাতার সোজা করার নির্দেশ দিবেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছিলেন ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাত শুরু করার আগে মুসল্লীদের গর্দান স্পর্শ করে করে কাতার সোজা করা ১ সালাত শুরু করার আগে ইমাম কর্তৃক মুক্তাদীদেরকে যা আদেশ করা মুস্তাহাব ১ সালাত শুরু করার আগে ইমাম মুক্তাদীদেরকে কাতারসমূহ সোজা করার নির্দেশ দিবেন, কেননা কাতার সোজা করা সালাতের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত ১ সালাতে কাতারসমূহ সোজার করার নির্দেশ প্রতিপালন না করলে, যা হওয়ার আশংকা করা হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমাদের চেহারাগুলোর মাঝে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “হৃদয়সমূহের মাঝে” ১ সালাতের কাতারসমূহ সোজা করা সালাতের সৌন্দরে্যর অন্তর্ভুক্ত ১ সালাতে মুক্তাদীর ইমাম থেকে ভিন্নতা অবলম্বনের ব্যাপারে হুশিয়ারী ১ সালাতে পুরুষ ও নারীর জন্য উত্তম ও মন্দ কাতারের বর্ণনা ১ মুক্তাদীদের মাঝে যারা জ্ঞানী তাদেরকে ইমামের পিছনে দাঁড়ানোর নির্দেশ ১ কোন জ্ঞানী ব্যক্তি মসজিদে উপস্থিত হলে প্রথম কাতার থেকে নবীনদের পিছিয়ে দেওয়া জায়েয হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা অথবা খুলে দুই পায়ের সামনে রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করতে পারে আবার চাইলে জুতা দুই পায়ের সামনে রাখতে পারে ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য জুতা পরিধান সালাত আদায় করা জায়েয, যদি তাতে নোংরা কিছু না থাকে ১ যিনি মসজিদে আসবেন, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি তার জুতার প্রতি লক্ষ্য করবেন, যদি তাতে নোংরা কিছু থাকে, তাহলে তা মুছে ফেলবেন ১ জুতা, মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করার নির্দেশ, কেননা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানরা জুতা, মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করে না ১ কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করতে পারে আবার চাইলে জুতা দুই পায়ের সামনে রাখতে পারে ১ মুসল্লী ব্যক্তি তার জুতা ডানে বা বামে রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসল্লী ব্যক্তি সালাত আদায় করার ইচ্ছা করলে, তার জুতা রাখার ব্যাপারে বর্ণনা ১ মুয়ায্যিন ইকামত দেওয়া শুরু করার পর নতুন করে সুন্নাত-নফল আদায় শুরু করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সালাত আদায় করেছিলেন, তার বিবরণ ১ এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ফজরের সালাত ও অন্যান্য সালাতের হুকুম একই ১ কোন ব্যক্তি যদি মসজিদে প্রবেশ করে এমন অবস্থায় যে, ইমাম রুকূ‘ অবস্থায় রয়েছেন, তবে তার জন্য এই রুখসত আছে যে, তিনি একাকী সালাত শুরু করে, তারপর রুকূর সময় কাতারে যুক্ত হবে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি হাসান থেকে আম্বাসা এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনে হাদীস ১ মুক্তাদী যখন ইমামের সাথে একাকী সালাত আদায় করবে, তখন তিনি কোথায় দাঁড়াবে তার বিবরণ ১ ইমামের সাথে জামাআতে সালাত আদায় করার ইচ্ছা করলে মুক্তাদি কোথায় দাঁড়াবে, তার বিবরণ ২ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দেওয়ার পর, তিনি পুনরায় সালাত আদায় করেন ১ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি তার মতো অনুরুপ অন্য মুক্তাদীর সাথে কাতারে যুক্ত হয়নি ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি হিলাল বিন ইয়াসাফ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি এই হাদীসটির প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিকৃতি করে এবং বলে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন তার ব্যাপারে এমন কিছু জেনেছিলেন, যা আমরা জানি না-তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যে বিষয়টি বর্ণনা করলাম, তার গুরুত্বারোপ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কাতারের পিছনে নারীদের স্থান প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যখন কোন মহিলা একাকী হবে, তখন জন্য বিধেয় হলো তিনি পুরুষদের কাতারের পিছনে একাকী সালাত আদায় করবেন, সেখান থেকেই তিনি ইমামের অনুসরণ করবেন; সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে না ১ যেই হাদীস আমাদের কিছু ইমামকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, এই বৃদ্ধা এই সালাতে একাকী ছিলেন না, তার সাথে আরেকজন মহিলা ছিলেন, সেই হাদীসের বর্ণনা ১ আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মা, তার খালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে যে সালাত আদায় করেন, সেটা ভিন্ন সালাত যা উম্মু সুলাইম একাকী আদায় করেছিলেন ২ মহিলাদের মসজিদে যেতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে দুই শর্তে তাদেরকে মসজিদে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার একটির বর্ণনা ১ যে দুই শর্তে তাদেরকে মসজিদে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তন্মধ্যে দ্বিতীয়টির বর্ণনা ১ তৃতীয় শর্ত, যার কারণে তাদেরকে রাতে মসজিদে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১ ইশার সালাতে মহিলাদের মসজিদে আসতে বারণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মেয়েরা যখন ইশার সালাত আদায় করার জন্য মসজিদে গমন করবে, তখন তারা কিভাবে বের হবে তার বিবরণ ১ মেয়েরা যখন ইশার সালাত আদায় করার জন্য মসজিদে গমন করবে, তখন তাদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মেয়েরা যখন ইশার সালাত আদায় করার জন্য মসজিদে গমন করবে, তখন সাজদা থেকে পুরুষদের সাজদা থেকে মাথা উঠে বসার আগে নারীদের মাথা উঠানো নিষেধ, যখন পুরুষরা অল্প পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় করে ১ মহিলাদের সালাত যত বেশি গোপনীয় জায়গায় হবে, ততবেশি তাতে সাওয়াব হবে ১ খুঁটির মাঝে জামা‘আত করে সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ এই সাধারণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাহ্যত বিপরীত আমল করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যেভাবে ইমামতি করলে ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ের সাওয়াব হয় তার বর্ণনা ১ ইমামকে না দেখার আগেই মুক্তাদীদের সালাতে দাঁড়ানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ উল্লেখিত ব্যাখ্যাহীন সংক্ষিপ্ত শব্দের ব্যাখ্যাকারী হাদীস ১ কোন ব্যক্তি কওমের মাঝে সর্বোত্তম হওয়া সত্তেও যদি মুয়ায্যিন ও অন্যান্য মুসল্লী তার সালাতে আসার জন্য অপেক্ষা না করে, তার জন্য মু্স্তাহাব হলো এতে কষ্ট না পাওয়া ১ যখন ইমাম না আসতে পারবে, তখন মুক্তাদীগণের প্রতি নির্দেশ হলো ইমামতি করার জন্য তারা তাদের একজনকে সামনে এগিয়ে দিবে ১ মুক্তাদী যখন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইমামের সাজদা দেওয়ার প্রতিক্ষায় থাকে, তখন মুক্তাদীর জন্য অবশ্য করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মুক্তাদীর জন্য আবশ্যক হলো ইমামের অনুসরণ করা, যদিও তিনি সালাতে কোন হক আদায়ে ত্রুটি করে ১ ইমামের আগে রুকূ‘ ও সাজদা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ ইমামের আগে রুকূ‘ ও সাজদা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইবনু মুহাইরিয এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ইমামের সালাম ফেরানোর পর মুক্তাদীর জন্য ‘আল্লাহু আকবার’ বলা জায়েয ১ যখন ইমামের পিছনে মুক্তাদী নারী ও পুরুষ থাকবে, তখন ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো সালাম ফেরানোর পর আপন জায়গায় কিছুক্ষন অপেক্ষা করা, যাতে পুরুষদের আগে নারীরা চলে যেতে পারে ১ যখন ইমাম সালাম ফেরাবেন, তখন পুরুষ মুসল্লীদের জন্য আবশ্যক হলো অপেক্ষা করা, যাতে নারী মুসল্লীরা বের হয়ে যেতে পারেন, তারপর তারা তাদের প্রয়োজনে বের হবেন ১ (১৫) সালাতে ওযূ ভেঙ্গে যাওয়া প্রসঙ্গে - ইমামের জন্য বৈধ রয়েছে যে, যখন সালাতে ওযূ ভেঙ্গে যাবে, তখন ওযূ নবায়ন করতে যাওয়ার সময় তিনি ইমামতির দায়িত্ব অন্য কারো উপর ন্যস্ত করবেন ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আবূ বাকরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত ১ যে ব্যক্তি সালাতে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ওযূ ভেঙ্গে ফেলে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি পুনরায় ওযূ করে নতুন করে সালাত করে করবেন; এটি তার মতের বিপরীত যিনি এক্ষেত্রে ১ ইমাম হোক অথবা মুক্তাদী হোক, যখন কোন ব্যক্তি সালাতে বায়ূ ত্যাগ করবে, তখন সে কিভাবে সালাত থেকে চলে যাবে তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি হিশাম বিন উরওয়া থেকে মুকাদ্দামী ছাড়া আর কেউ মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করে নাই, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ (১৬) মুসল্লী ব্যক্তির জন্য যা মাকরূহ আর যা মাকরূহ নয় ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই আয়াতটি পড়েনি ১ আমরা যে অর্থের দিকে ইশারা করলাম তা স্পষ্টকারী হাদীস ৩ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সালাতে কথা বলা হয়তো মদীনায় রহিত হয়েছে; মক্কায় নয় ১ আমরা আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহিমাহুল্লাহর যে হাদীস উল্লেখ করেছি, তাতে উল্লেখিত শব্দের জটিলতা যে হাদীসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ১ সালাতে মানুষের সাথে মানুষের কথা বলা নিষেধ কিন্তু সালাতে বান্দা কর্তৃক তাঁর প্রভুকে সম্বোধন নিষিদ্ধ নয় ১ সালাতে যা নিষেধ তা হলো মানুষের সাথে মানুষের কথা বলা কিন্তু সালাতে বান্দা কর্তৃক তাঁর প্রভুকে সম্বোধন নিষিদ্ধ নয় ১ হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যেই হাদীসকে রহিত হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বলে যে, হাদীসটিকে সালাতে কথা বলা রহিতকারী হাদীস রহিত করেছে ১ হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যেই হাদীস দিয়ে দলীল গ্রহণ করে এবং বলে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এই সালাতে উপস্থিত ছিলেন না ১ হে হাদীসগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সেই সালাতে উপস্থিত ছিলেন, এমন নয় যে, তিনি হাদীসটি অন্য সাহাবীর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটা হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি ধারণা করে থাকে, যেখানে তিনি হাদীসের মূলপাঠে গভীরভাবে নজর দেয়নি এবং সহীহ হাদীসসমূহে বুৎপত্তি অর্জন করেনি ৬ সালাতে ক্রন্দন করা জায়েয যদি সেটা দুনিয়ার কোন জিনিসের জন্য কান্না না হয় ১ সালাতে কেউ সালাম দিলে, মুখ দিয়ে উচ্চারণ না করে হাতের ইশারায় জবাব দেওয়া বৈধ ১ সালাতরত অবস্থায় কেউ সালাম দিলে মুসল্লী ব্যক্তি কিভাবে, তার জবাব দিবে, তার বর্ণনা ১ যদি সালাতে মাঝে লোকদের (ইমামের দৃষ্টি আকর্শন করার) প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে পুরুষদের জন্য ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা আর নারীদের জন্য করতালী দেওয়ার নির্দেশ ১ বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সালাত আদায় করার জন্য সামনে এগিয়ে দেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে; নিজের পক্ষ থেকে নয় ১ যদি সালাতে ইমামের দৃষ্টি আকর্শন করার প্রয়োজন পড়ে, তবে মুসল্লী এমন কিছু করবে, যার দ্বারা ইমাম বিষয়টি বুঝতে পারবে ১ সালাতে কোন কিছুর প্রয়োজন হলে মুসল্লী ব্যক্তির জন্য যা করা বৈধ ১ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তির কোন প্রয়োজন দেখা দিলে, ইশারা করা জায়েয ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে প্রয়োজনে বাম পায়ের নিচে থুথু ফেলার নির্দেশ; ডানে বা সামনে নয় ১ মুসল্লী ব্যক্তির ডানে বা সামনে থুথু ফেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসল্লী ব্যক্তির ডানে বা সামনে শ্লেষ্মা ফেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “অথবা পায়ের নিচে ফেলবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য বাম পা ১ যেই কারণে মুসল্লী ব্যক্তিকে সালাতে সামনে ও ডানে থুথু ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে ১ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তির যদি তাৎক্ষনিকভাবে কফ আসে, আর সে যদি তা তার বাম পায়ের নিচে পুতে দিতে না পারে, তবে সে তার কাপড়ে তা রেখে তার একাংশ আরেক অংশ দ্বারা ঘষে নিবে ২ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ আছে তার জুতায় কফ বা থুথু ফেলা ১ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তি কর্তৃক কঙ্কর স্পর্শ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, ইমাম যুহরী এই হাদীসটি সা‘ঈদ বিন মুসাইয়্যিব রহিমাহুল্লাহ থেকে শ্রবণ করেছেন; আবুল আস থেকে শ্রবণ করেননি- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ সালাতে এই নিষিদ্ধ কাজটি জরুরী প্রয়োজনে বৈধ ১ প্রচন্ড উত্তাপের সময় মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে হাতে কঙ্কর ঠান্ডা করে তার উপর সাজদা করা ২ মসজিদে কোন একটি স্থান নির্দিষ্ট করা নিষেধ, যখন কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করা অথবা যিকর করা ছাড়া অন্য কোন কারণে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিবে ১ মাথার পশ্চাৎভাগে ঝুটি বেঁধে সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ চুল ঝুটি বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করা মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে কাজ নিষেধের কথা আলোচনা করলাম, তা নিষিদ্ধ এই ভয়ে যে, হয়তো তার মাথাকে কুকুরের মাথায় পরিবর্তন করে দেয়া হবে ৩ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তির আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে কারণে কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো সালাতে এদিক-ওদিক না তাকিয়ে সালাতকে পরিপূর্ণ করার ইচ্ছা করা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে ডানে-বামে তাকানো জায়েয তবে কিবলা থেকে মুখ পুরোপুরি ঘুরিয়ে নেওয়া যাবে না ২ সালাতে ইশতেমালুস সাম্মা করে কাপড় পরিধান করা নিষেধ ১ এক কাপড়ে সালাত আদায় করা বৈধ ১ কোন ব্যক্তি এক কাপড়ে সালাত আদায় করলে, কিভাবে সালাত আদায় করবে তার বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি যখন এক কাপড়ে সালাত আদায় করে, তখন তিনি কাপড়ের প্রান্ত কিভাবে কাঁধের উপর রাখবেন তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে বোতাম লাগানোর পর এক কাপড়ে সালাত আদায় করা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে এক কাপড়ে সালাত আদায় করা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কাপড়ে সালাত আদায় করার বৈধতা দিয়েছেন তার বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি যখন এক কাপড়ে সালাত আদায় করবে, তখন তিনি কিভাবে পরিধান করবে তার বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি যখন এক কাপড়ে সালাত আদায় করবে, তখন তিনি কাপড় কিভাবে জড়িয়ে নিবে তার বর্ণনা ১ যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন কাপড় না পায়, তবে এক লুঙ্গি পরিধান করে তাতে সালাত আদায় করা জায়েয ১ এক কাপড়ে সালাত আদায় করা জায়েয ১ যখন কোন ব্যক্তি এক কাপড়ে সালাত আদায় করবে, তখন তাকে তাওয়াশ্শুহ করার নির্দেশ ১ কোন ব্যক্তি এক কাপড়ে সালাত আদায় করলে, কাপড়ের দুই প্রান্তকে বিপরীতভাবে দুই কাঁধের উপর রাখবে, কেননা কাপড়ের দুই প্রান্তকে বিপরীতভাবে দুই কাঁধের উপর না রাখা হলে হয়তো তা সাদল হবে আর না হয় ইশতেমালুস সাম্মা হবে (যা হাদীসে নিষিদ্ধ) ১ যখন কোন ব্যক্তির কাছে একটি মাত্র অপ্রশস্ত কাপড় থাকে, তখন সে তা কিভাবে পরিধান করবে, তার বর্ণনা ১ একাধিক কাপড় না পাওয়া গেলে এক কাপড়ে সালাত আদায় করা জায়েয ১ চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ কার্পেটের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ এই সালাতগুলো খাবার গ্রহণের পর ছিল, যে খাবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের নিকট খেয়েছিলেন ১ ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ ছোট চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করা বৈধ - [খুমরা (ছোট জায়নামাজ)] ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে হাদীস কোন কোন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সমস্ত জমিনই হয়তো পবিত্র, যাতে সালাত আদায় করা যায় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী “জমিনকে আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের স্থান করে দেওয়া হয়েছে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিছু জমিন; পুরো জমিন নয় মর্মে হাদীস ১ আমরা যে আম বা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ উল্লেখ করেছি, তাকে খাছকারী প্রথম দলীলের বর্ণনা ১ সালাত আদায়ের জন্য জায়গার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীস আমরা উল্লেখ করেছি, সেটাকে খাছকারী দ্বিতীয় হাদীস ১ “পুরো জমিন সালাত আদায়ের স্থান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাধারণ বক্তব্যকে খাছকারী তৃতীয় হাদীস ১ সালাত আদায়ের জন্য জায়গার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীস আমরা উল্লেখ করলাম, তাকে খাছকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, আশ‘আশ বিন মালিক থেকে হাফস বিন গিয়াস এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ সালাত আদায়ের জন্য জায়গার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীসগুলোর দ্বিতীয় খাছকারী হাদীস ১ গোরস্থানে সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি আশ‘আশ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ কবরের উপর বসা এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ কবরসমূহকে সালাত আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে কারণে কবরে সালাত আদায় করা নিষেধ করা হয়েছে ১ যারা কবরসমূহকে মসজিদ তথা সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করে তাদের প্রতি আল্লাহর লা‘নত ১ যখন কবরকে খনন করে তার (হাড়-হাড্ডি ও) মাটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তখন সেখানে সালাত আদায় করা জায়েয, যদিও আগে সেখানে কবর ছিল ১ মেয়েদের কাপড়ে সালাত আদায় করা বৈধ যদি তাতে কোন নাপাকী না থাকে ১ মেয়েদের চাদরে সালাত আদায় করা বৈধ যদি তাতে কোন নাপাকী না থাকে ১ কোন ব্যক্তি যেই কাপড়ে স্ত্রী সহবাস করেছে, সেই কাপড়ে সালাত আদায় করা জায়েয ১ উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “যখন তাতে কোন নাপাকি না দেখতেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্যে বীর্য নয় ২ লাল বর্ণের কাপড়ে সালাত আদায় করা জায়েয যদি তা তার জন্য হারাম না হয়ে থাকে ১ কাতারীয় চাদরে সালাত আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ নারীদের কাপড় ও তাদের কম্বলে সালাত না আদায় করা মুস্তাহাব ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য উত্তম হলো এমন কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করা, যা তাকে সালাতের মনোযোগ থেকে বিরত রাখে না ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখিত চাদরটি অন্যান্য মানুষদের মাঝে আবূ জাহম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠিয়েছিলেন ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য সালাতে পবিত্র জিনিস বহন করা বৈধ ১ উক্ত সালাতটি ফরয সালাত ছিল; নফল সালাত ছিল না মর্মে বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ যে, তিনি সালাত আদায় করবেন আর তার ও কিবলার মাঝে কোন মাহরাম নারী আড়াআড়িভাবে অবস্থান করবে ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে শুয়ে থাকতেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদা করতে চাইলে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কী করতেন তার বর্ণনা ১ কোন নারী তার সামনে শুয়ে থাকলে, সেই বরাবর সালাত আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে যখন সালাত আদায় করতেন, তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তাঁর ও তাঁর কিবলার মাঝে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন ২ আমরা যে সময়ের কথা উল্লেখ করলাম, সেসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে পা দিয়ে স্পর্শ করে জাগিয়ে তুলতেন; কথা বলতেন না ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সময় আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জাগিয়ে তুলতেন তার বর্ণনা ১ আমরা যে সময়ের কথা বর্ণনা করলাম, সে সময় আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে শুয়ে থাকতেন তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য সালাতে সামান্য কাজ করা বৈধ মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সালাতে সামান্য কাজ করলে, সালাত বাতিল হয়ে যায়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ সালাতে সাপ বিচ্ছু মারা বৈধ ১ সালাতরত অবস্থায় সাপ ও বিচ্ছু মারার আদেশ সংক্রান্ত আলোচনা ১ সালাতে মুসল্লী ব্যক্তির মুখ ঢাকা নিষেধ ১ প্রচন্ড উত্তাপের সময় মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ হলো সাজদার স্থানে তার কাপড় বিছিয়ে দেওয়া ১ প্রয়োজনে মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে ডানে-বামে হাঁটা ১ মুসল্লী কর্তৃক বিবাদমান দুই ব্যক্তিকে আলাদা করে দেওয়া ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সাধ্যমত হাই তোলাকে প্রতিহত করার নির্দেশ ১ মুসল্লী ব্যক্তিকে সাধ্যমত হাই তোলাকে প্রতিহত করা অথবা সেসময় মুখে হাত রাখার নির্দেশ ১ হাই প্রতিহত করার নির্দেশ মুসল্লী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য ক্ষেত্রে নয় মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি হাই তুলবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি মুখে হাত রাখবেন, তার ভিতর শয়তান প্রবেশ করার আশংকায় ১ মুসল্লী ব্যক্তির সালাতে সুতরার বিবরণ ১ খালি জায়গায় সুতরা ছাড়া সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যখন কোন মুসল্লী সুতরা ছাড়া সালাত আদায় করবে, তখন তার সামনে দিয়ে গমন করা বৈধ ১ উক্ত সালাতে তাওয়াফকারী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে কোন সুতরা ছিল না ১ মুসল্লী ব্যক্তির সামনে দিয়ে আড়াআড়িভাবে যাতায়াত করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসল্লী ব্যক্তির সামনে দিয়ে গমন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসল্লী ব্যক্তির সামনে দিয়ে গমন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসল্লী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তির সাথে লড়াই করার নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “কেননা সে একটা শয়তান” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার সাথে শয়তান রয়েছে, যার উপর প্রমাণ করে তার এই কাজ; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, মুসলিম ব্যক্তি শয়তান হয়ে যায় ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সাথে লড়াই করবেন ১ কোন ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় থাকলে, যদি কোন মেষ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায়, তবে তার জন্য বৈধ রয়েছে মেষকে বাধা দেওয়া ১ যখন কোন ব্যক্তি সামনে সুতরা নিয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি সুতরার কাছাকাছি দাঁড়াবেন ১ যে কারণে সুতরার কাছাকাছি দাঁড়ানোর জন্য মুসল্লী ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১ যখন কোন ব্যক্তি সুতরা সামনে রেখে সালাত আদায় করবে, তখন তার মাঝে ও সুতরার মাঝে কী পরিমাণ ব্যবধান রাখবে তার বিবরণ ১ মুসল্লী ব্যক্তি যখন কোন কিছুকে সুতরা বানাবে, তখন সেই সুতরা থেকে দুরে দাঁড়ানো মাকরূহ ১ লাঠি, বর্শা কোন কিছু না পেলে সেক্ষেত্রে ফাঁকা জায়গায় মুসল্লী ব্যক্তির জন্য দাগ কেটে সুতরা গ্রহণ করার জায়েয ১ মুসল্লী ব্যক্তি সামনে যে সুতরা গ্রহণ করবেন বা দাগ কাটবেন, তা লম্বালম্বি হবে; আড়াআড়ি হবে না ১ কোন ফাকা জায়গায় বর্শা বা কোন সুতরা না পাওয়া গেলে মুসল্লী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে তার বাহনকে সুতরা বানানো ১ সুতরা মুসল্লী ব্যক্তির সালাত বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে, যদিও তার পিছন দিয়ে গাধা, কুকুর ও নারীরা গমন করে ১ সুতরা মুসল্লী ব্যক্তির সালাত বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে, যদিও তার পিছন দিয়ে গাধা, কুকুর ও নারীরা গমন করে ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মুসল্লী ব্যক্তির সামনে দিয়ে গাধা অতিক্রম করলে সালাত বিনষ্ট হয় না ১ যেই সালাত আদায়কালে সামনে দিয়ে গাধা অতিক্রম করছিল, সেই সালাতে সামনে বর্শা গাড়া হয়েছিল, বর্শা স্থাপন করা হলে, এটি সালাতকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে, যদিও সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ও নারীরা অতিক্রম করে ১ নিশ্চয়ই এই হুকুম ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার সামনে হাওদার পিছনের কাষ্ঠ বরাবর কোন কিছু (সুতরা হিসেবে) না থাকে ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো মারফূ‘ নয় ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি মাওকূফ; মারফূ‘ নয়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ এই কর্মের উপর আমল করা নাজায়েয হবে, যখন সেই সিফাত না থাকবে, যা আমরা বর্ণনা করলাম ১ উক্ত হাদীসে নারীদের কথা ব্যাপকভাবে বলা হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিছু নারী; সব নারী উদ্দেশ্য নয় ১ উক্ত হাদীসে কুকুরের কথা ব্যাপকভাবে বলা হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিছু কুকুর; সব কুকুর উদ্দেশ্য নয় ২ হাদীসে অপরিপক্ক ব্যক্তিকে যে হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ নিশ্চয়েই সালাত বিনষ্ট হয় কুকুর, গাধা ও নারী সামনে দিয়ে অতিক্রম করার কারণে; এগুলো সামনে আড়াআড়িভাবে থাকা অথবা এগুলো কুকুর, গাধা ও নারী হওয়ার কারণে সালাত বিনষ্ট হয়ে যায় না ১ এই তিনটি জিনিস সালাতকে বিনষ্ট করে দিবে, যখন মুসল্লী ব্যক্তির সামনে কোন সুতরা না থাকবে ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় যে সালাত আদায় করেছিলেন, সেখানে তাঁর সামনে সুতরা ছিল, আর গাধীটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে ঘাস চরে খাচ্ছিল ১ (১৭) সালাত দ্বিতীয়বার আদায় করা ২ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, নিষেধাজ্ঞাটি কেবল ফরয সালাতের প্রযোজ্য, যেখানে কোন ব্যক্তি হুবহু একই সালাত দ্বিতীয়বার ফরয হিসেবে আদায় করে; সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় যেখানে ব্যক্তি দ্বিতীয়বার আদায় করার ক্ষেত্রে নফল নিয়ত করে ১ যে ব্যক্তি মসজিদে জামা‘আতে সালাত আদায় করেছে, তার জন্য বৈধ রয়েছে সেই মসজিদে পুনরায় জামা‘আতে সালাত আদায় করা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি উহাইব এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি কোন সালাত জামা‘আতে আদায় করবেন, তার সেই সালাতে তার কওমের লোকদের ইমামতি করবে ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইশার সালাতের ইমামতি করেননি, যেই ইশার ফরয সালাত তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আদায় করেছিলেন- তার এই কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি স্বীয় ফরয সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করেছেন, তার জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি অন্য লোকদের ঐ সালাতের ইমামতি করবেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে ফরয সালাত আদায় করতেন; নফল সালাত নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি বাড়িতে অথবা তার আসবাবপত্রের কাছে সালাত আদায় করে, তারপর এমন মসজিদে আসে, যেখানে জামা‘আত হচ্ছে, তবে সেই ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ যখন সালাতের জামা‘আত বিলম্বে কায়েম করা হবে, তখন ব্যক্তির প্রতি নির্দেশ হলো তিনি একাকী সেই সালাত পড়ে নিবেন, তারপর লোকদের সাথে জামা‘আতে দ্বিতীয়বার আদায় করবেন, যদি তা সময়ের মধ্যে আদায় করা হয় ১ (১৮) বিতর সালাত ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে তৃতীয় হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে চতুর্থ হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে পঞ্চম হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে ষষ্ঠ হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে সপ্তম হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে অষ্টম হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে নবম হাদীস ১ বিতর সালাত ফরয নয় মর্মে দশম হাদীস ১ যে ব্যক্তি সকাল করে এমন অবস্থায় যে, সে বিতর সালাত আদায় করেনি, তবে তার জন্য বিতর নেই মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, বিতর সালাত কেবল মাটিতেই পড়তে হবে-তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় করতে চাইবে, সেই বিতর সালাতের বিবরণ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তা আমল করা বৈধতার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি রাতের সালাত আদায় করবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো এক রাকাত বিতরের উপর সীমাবদ্ধ থাকা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এক রাকাত সালাত পড়া বৈধ নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি এক রাকাত বিতরকে বাতিল বলে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এক রাকাত সালাত আদায় করা বৈধ নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে উরওয়া এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ পৃথক না করে একাধারে তিন রাকাত বিতর সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হয়তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে প্রত্যেক চার রাকাত এক সালামে এবং তিন রাকাত বিতর এক সালামে আদায় করতেন ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “তিনি চার রাকাত পড়তেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই সালামে এবং তাঁর বক্তব্য “তিনি তিন রাকাত পড়েছেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই সালামে, যাতে বিতর সালাত রাতের সালাতের শেষে এক রাকাত হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে (তিন রাকাত বিতর সালাতকে) বিভাজন সৃষ্টি করতেন মর্মে বর্ণনা ১ জোড় ও বেজোড়ের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিন রাকাত বিতর সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি জোড় ও বিজোড়ের মাঝে এক সালামের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করতেন ১ জোড় ও বিজোড়ের মাঝে সালামের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করার সময় আওয়াজ উঁচু করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে কেউ তিন রাকাত বিতর পড়তে চায় তার জন্য তা জায়েজ কিনা তা উল্লেখ করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন রাতে এক রাকাতের অধিক বিতর সালাত আদায় করতেন মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যেসব সংখ্যা উল্লেখ করলাম, তাছাড়াও অন্য সংখ্যায়ও বিতর সালাত আদায় করা জায়েয মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি পাঁচ রাকাত বিতর সালাত আদায় করবে তখন তা কিভাবে আদায় করবে তার বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা আমল করার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি সাত রাকাত বিতর সালাত আদায় করবে তখন তা কিভাবে আদায় করবে তার বর্ণনা ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য নয় রাকাত বিতর সালাত আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করলে, তার জন্য বিতর সালাত কখন আদায় করা মুস্তাহাব- সে সম্পর্কে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করবে, তখন তিনি বিতর সালাত কখন আদায় করবেন তার বর্ণনা ১ ফজর হওয়ার আগেই দ্রুত বিতর সালাত আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ ১ একজন ব্যক্তির বৈধ হলো জন্য যখন তিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার আশা রাখেন, তখন বিতর সালাতকে শেষ রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা আর তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার আশা না থাকলে ঘুমানোর আগে বিতর পড়া ১ মানুষের জন্য বৈধ আছে তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে বিতর সালাত প্রথম রাতে বা শেষ রাতে আদায় করা ১ বিতর সালাত, যার বিবরণ দিয়েছি, তাতে সূরা ইখলাস পাঠের সাথে সূরা নাস ও ফালাক যোগ করা বৈধ ১ কোন ব্যক্তির রাতের প্রথমাংশ ও শেষাংশে দুইবার বিতর পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বিতর সালাত শেষ করার পর আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষনা করা ১ (১৯) নফল সালাতের বিবরণ - যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত ফরয সালাত বাদে নফল-সুন্নাত সালাত আদায় করবে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন ১ যেসব সুন্নাত সালাত পড়ার কারণে মহান আল্লাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করবেন, সেসব সালাতের বিবরণ ১ যে ব্যক্তি আসরের আগে ৪ রাকাত সালাত আদায় করে, তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক রহমত প্রাপ্তির দু‘আ ১ ফরয সালাতের আগে ও পরের নির্দিষ্ট কিছু সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মুস্তাহাব ১ যখনই কোন ব্যক্তি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করবে, তখনই তার আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে ফজরের আগে দুই রাকাত সালাত আদায়ে তৎপর হওয়া মুস্তাহাব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গনীমতের মালের প্রতি অগ্রগামী হওয়ার চেয়েও ফজরের দুই রাকাত সালাতের প্রতি বেশি অগ্রগামী হতেন মর্মে বর্ণনা ১ ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং এই দুই রাকাত সালাত দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সমস্ত সহায়-সম্পদ অপেক্ষা উত্তম মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের আগে দুই রাকাত সালাতের কিরা‘আতে যা পাঠ করতেন তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সালাতে সূরা ইখলাস পাঠ করে, তার জন্য ঈমান সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ ফজরের দুই রাকাতে সূরা ইখলাস পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান ১ সুবহে সাদিকের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার প্রথম দিকে ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফজরের আগে দুই রাকাত সালাত আদায়ে তৎপর হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ফজরের আগে দুই রাকাত সালাত হালকা করে আদায় করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো তা হালকা করে আদায় করা ১ যখন কোন ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো তা হালকা করে আদায় করা ১ ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর ডান পার্শ্বের উপর শয়ন করা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করতে চায়, তাকে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাতের পর শয়ন করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ ফজরের ফরয সালাতের ইকামত হওয়ার পর ফজরের সুন্নাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, ফজরের ফরয সালাতের ইকামত দেওয়ার পর কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে, তার জন্য জরুরী হলো ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করা, যদিও এতে তার ফরযের এক রাকাত ছুটে যায়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি জামা‘আত পায় কিন্তু ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত পড়তে পারেনি, তার জন্য বৈধ আছে যে তিনি ফরযের পর তা আদায় করবেন ১ যে ব্যক্তির ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত ছুটে যায়, তাকে সূর্য উদয়ের পর তা আদায় করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ একজন মুসল্লী ব্যক্তি যোহরের ফরযের আগে কী পড়বেন তার বিবরণ ১ যোহরের ফরযের আগে চার রাকাত সুন্নাত পড়াও বৈধ ১ আমরা যেসব সালাতের বিবরণ দিলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেসব সালাত বাড়িতে আদায় করতেন; মসজিদে নয় ২ এমন কিছু করার নির্দেশ প্রসঙ্গে যা বাহ্যত আমাদের পূর্বে উল্লেখিত কর্মের বিপরীত ১ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন সালাত আদায় করবে, তাকে জুমু‘আর পর চার রাকাত সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ জুমু‘আর পর যে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশটি ঐচ্ছিকতা নির্দেশক; আবশ্যকতা নির্দেশক নয় মর্মে হাদীস ২ জুমু‘আর পর যে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশটি ঐচ্ছিকতা নির্দেশক; আবশ্যকতা নির্দেশক নয় মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ জুমু‘আর পর যে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশটি ঐচ্ছিকতা নির্দেশক; আবশ্যকতা নির্দেশক নয় মর্মে বর্ণনা ১ জুমু‘আর পর যে চার রাকাত সালাত পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা দুই সালামে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এক সালামে নয় মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু‘আর পর যে চার রাকাত সালাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, সেটা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই সালামে পড়া; এক সালামে নয় মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক জুমু‘আর পর দুই রাকাত সালাত ঘরে আদায় করা এমন বিষয় নয় যে, তা তিনি কেবল ঘরেই পড়েছেন ১ হাদীসের যে শব্দরুপ কোন আলিম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, এই বর্ণনাটি হয়তো সহীহ-মাহফূয ১ উল্লেখিত হাদীসের শেষাংশ আবূ সালিহের বক্তব্য; যা ইবনু ইদরীস হাদীসের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েছেন মর্মে বর্ণনা ১ যেই জায়গায় জুমু‘আর দুই রাকাত ও মাগরিবের দুই রাকাত সালাত পড়া হবে তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি কোন ফরয সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করে, তার প্রতি নির্দেশ হলো প্রত্যেক ফরয সালাতের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করা ১ মাগরিবের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করা বৈধ ১ মুসল্লী ব্যক্তির প্রতি নির্দেশ হলো তিনি যেন বাড়িতে আদায় করার জন্য সালাতের একটা অংশ রেখে দেন ১ সুন্নাত-নফল সালাতগুলো বাড়িতে আদায় করলেই ব্যক্তির জন্য বেশি সাওয়াব হয় মর্মে বর্ণনা ১ যখন ব্যক্তি প্রাণবন্ত থাকে, তখন তাকে নফল সালাত আদায় করার নির্দেশ, আর যখন তা না থাকবে, তখন নফল সালাত আদায় না করার নির্দেশ ১ যখন কোন ব্যক্তিকে ঘুম পরাভূত করবে, তখন নফল সালাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা কেননা তার ব্যাপারে এই ভয় আছে যে, সে হয়তো এমন কিছু বলে ফেলবে যা সে জানে না ১ দিনে-রাতে নফল-সুন্নাত সালাত কিভাবে আদায় করবে তার বিবরণ ১ মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির দুই রাকাত সালাত আদায় না করে বসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির দুই রাকাত সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে বসার আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “সে যেন বসার আগে দুটি সাজদা করে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই রাকা‘আত সালাত মর্মে বর্ণনা ১ মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে বসা অথবা কোন কিছু জিজ্ঞেস করার আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ ইমাম খুতবা প্রদান কালীন সময়ে কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন ১ ইমাম খুতবা প্রদান কালীন সময়ে কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন ১ ইমাম খুতবা প্রদান কালীন সময়ে কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে, তার জন্য জরুরী হলো তিনি দুই রাকাত সালাত হালকা করে আদায় করবেন ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত ব্যক্তির কোন সালাত ছুটে যায়নি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তা কাযা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনটা দাবী করে থাকেন তারা, যারা এই হাদীসকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং নিজের মত করে এর অর্থ বের করেছেন ৩ নফল সালাত জামা‘আতে আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ নফল সালাত বসে আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বসে আদায়কৃত সালাতের সময়ের ব্যাপ্তি প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ‘ করার ইচ্ছা করার সময় উঠে দাঁড়াতেন ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “যখন তিনি বসে সালাত আদায় করতেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যখন তিনি বসে সালাত শুরু করতেন, তখন তিনি বসে রুকূ‘ করতেন ১ যখন কোন ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করবে তখন কিভাবে সালাত আদায় করবে তার বিবরণ ১ বসে সালাত আদায়কারীর উপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারী এবং শুয়ে সালাত আদায়কারীর উপর বসে সালাত আদায়কারীর সালাতের ফযীলত ১ কোন ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে যা করা মুস্তাহাব তার বর্ণনা ১ (২০) বাহনের উপর সালাত করা প্রসঙ্গে - বাহনের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ বাহনের উপর সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও কিবলা তার পিছন দিকে থাকে ১ কোন ব্যক্তির জন্য এটাতে কোন দোষ নেই যে, তিনি সফরে তার বাহনের উপর সালাত আদায় করবেন, তার বাহন যেদিকেই মুখ করুক না কেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব সালাত যা তিনি বাহনের উপর পড়তেন, এগুলি নফল সালাত ছিল; ফরয সালাত ছিল না ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি ইবনু ওয়াহাব আমর বিন হারিস থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুসাফির ব্যক্তির জন্য বাহনের উপর নফল সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও কিবলা তার পিছন দিকে থাকে ২ বাহনের উপর রুকূ‘ ও সাজদা করার বিবরণ ১ বাহনের উপর নফল সালাত আদায় করার সময় সাজদা রুকূ‘ অপেক্ষা বেশি নিচু হওয়া আবশ্যক ১ বাহনের উপর সালাত আদায় করার বিবরণ ১ বাহনের উপর সালাত আদায়কারী ব্যক্তির রুকু ও সিজদার বর্ণনা উল্লেখ করা ১ (২১) সালাতুয যুহা বা চাশতের সালাতের বিবরণ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, উল্লেখিত হাদীসটি কাহমাস বিন হাসান এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাশতের সালাত সাব্যস্তকরণ ১ যে হাদীস প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবসময় চাশতের সালাত আদায় করতেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয় রাকা‘আত চাশতের সালাত আদায় করতেন তার বিবরণ ১ চাশতের সালাত নিয়মিত আদায় করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি দিবসের প্রথম ভাগে চার রাকা‘আত সালাত আদায় করলে, সেটা তার জন্য দিবসের শেষ ভাগের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে ১ দিবসের প্রথম ভাগে চার রাকা‘আত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব, যাতে সেটা তার জন্য দিবসের শেষ ভাগে যথেষ্ট হয়ে যায় ১ ফজরের পর দুই রাকা‘আত চাশতের সালাত আদায়কারীর জন্য বিশাল গানীমত লাভ সাব্যস্তকরণ ১ চাশতের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিয়ত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে আট রাকা‘আত চাশতের সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ চাশতের সালাতের কিয়াম, রুকূ‘, সাজদা সমান হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ উটের বাচ্চার পা সূর্যতাপে উত্যপ্ত হওয়ার সময়ে চাশতের সালাত আদায় করা হলে, সেটি সালাতুল আওয়াবীন হিসেবে পরিগণিত হয় ১ চাশতের সালাত আদায় করার কারণে মহান আল্লাহ সাদাকা করা সাওয়াব লিখে দেন ১ (২২) তারাবীহ সালাত প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “কিন্তু আমি আশংকা করেছি যে, রাতের এই সালাত তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে যাবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিয়ামুল লাইল ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, রমযানের তারাবীহ সালাত সুন্নাত নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে, মহান আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন ১ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ অবধি তারাবীহ সালাত আদায় করে, মহান আল্লাহ্‌ তার জন্য পুরো রাত কিয়াম করার সাওয়াব লিপিবদ্ধ করে দিয়ে তার প্রতি অনুগ্রহ করেন ১ পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের শব্দের আমরা যে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ কুরআন পাঠে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি নারীদের নিয়ে তারাবীহ সালাত জামা‘আতে আদায় করবেন ১ পুরুষ ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি নারীদের নিয়ে তারাবীহ সালাত জামা‘আতে আদায় করবেন ১ (২৩) কিয়ামুল লাইল ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কিয়ামুল লাইল প্রথমে ফরয ছিল, তারপর তা নফলে পরিণত হয় ১ ঘুমানোর সময় শয়তান যে মানুষের মাথার পশ্চাৎভাগে গিরা দেয়, সালাতুল লাইলের জন্য জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে সে গিরা খুলে ফেলা মুস্তাহাব ১ আমরা যেমনটা উল্লেখ করলাম যে, শয়তান পুরুষদের মাথার পশ্চাৎভাগে গিরা দেয়, অনুরুপভাবে সে নারীদের মাথার পশ্চাৎভাগেও গিরা দেয় ১ মুসলিম ব্যক্তি ঘুমানোর সময় তার ওযূর অঙ্গ-প্রতঙ্গের উপর তার মাথার পশ্চাৎভাগে গিরা দেওয়া হয় ১ যে ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে সকাল করে, তার জন্য কল্যাণ সাব্যস্তকরণ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো রাতের আধারে তাহাজ্জুদ সালাতে লেগে থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া এবং আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার (অর্থাৎ জিহাদের) সময় অটল-অবিচল থাকা ১ যে ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজন ও বিছানা ছেড়ে সালাতের জন্য উঠে তার প্রিয় প্রভুর চমকপ্রদ প্রতিদানের আশায়, তার প্রতি মহান আল্লাহ ফেরেস্তাদের কাছে খুশি প্রকাশ করেন ১ যে ব্যক্তি রাতের আধারে দাঁড়িয়ে তার প্রভুর কাছে খোশামোদ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বেশি বেশি কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা, যাতে এর বদৌলতে নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকতে পারে ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বেশি বেশি কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা, যাতে প্রতি রাতের যে সময়ে দু‘আ কবূল করা হয় তিনি সেই সময়টি পেতে পারেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বেশি বেশি কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা এবং ঘুমের উপর ভরসা না করা ১ ফরযের পর সর্বশ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা ১ রাতের প্রথমভাগে নফল সালাত আদায় করার চেয়ে শেষ বা মধ্যরাতে সালাত আদায় করা উত্তম মর্মে বর্ণনা ১ শেষ রাতের সালাতে ফেরেস্তাগণ উপস্থিত থাকেন মর্মে বর্ণনা ১ পরিবারের লোকদের সালাতুল লাইল পড়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ পরিবারের লোকদের পানি ছিটা দিয়ে হলেও সালাতুল লাইলের জন্য জাগিয়ে তুলা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি সালাতুল লাইলের জন্য তার স্ত্রীকে জাগিয়ে তুলে, অতঃপর তারা দুইজনে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, তবে মহান আল্লাহ তাদেরকে ‘অধিক যিকিরকারী নর ও অধিক যিকিরকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্ক্তব্য “তার পরিবারকে জাগিয়ে তুলে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার স্ত্রী ১ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর প্রিয় প্রভুর সাথে একান্ত আলাপে নিমগ্ন হতেন, তখন তিনি সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে এমন নির্দেশ দেন ১ ঐ ব্যক্তি গাফিল নন যে ব্যক্তি ১০ আয়াত পাঠ করে কিয়ামুল লাইল করে, যে ব্যক্তি ১০০ আয়াত পাঠ করে কিয়ামুল লাইল করে, তাকে বিনীত-অনুগত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় আর যে ব্যক্তি ১০০০ আয়াত পাঠ করে কিয়ামুল লাইল করে, তাকে প্রভুত সাওয়াব লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয় ১ কানাতির (নেকির স্তর বা পুরস্কারের মাপকাঠি) এর পরিমাণ এবং যাকে এই পরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়, সেটা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু অপেক্ষা উত্তম হিসেবে বিবেচিত হবে ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর জন্য মুস্তাহাব হলো প্রত্যেক রাতে সূরা ইয়াসিন পড়া, যাতে এর বদৌলতে পূর্বের গোনাহ ক্ষমার আশা করা যায় ১ যখন কোন ব্যক্তি অন্য কোন সূরা কিরা‘আত করতে পারবে না, তখন তার জন্য সূরা বাকারার শেষ আয়াত যথেষ্ট হয়ে যাবে ১ তাহাজ্জুদ সালাতে সূরা ইখলাস পাঠ করার উপর ক্ষ্যান্ত থাকা যথেষ্ট হবে, কেননা এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান যখন কোন ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি পাঠ করতে অপারগ হবে ১ যে ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় আশংকা করে যে, সে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতে পারবে না, তার প্রতি নির্দেশ হলো বিতরের সালাতের পর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত প্রদান, যাকে মহান আল্লাহ কুরআন দান করেছেন অতঃপর সে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে, কুরআনের ইলমের উপর শয়ন করে, যাতে সে পেশকৃত দৃষ্টান্তের অনুরুপ মর্যাদা লাভ করতে পারে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন তখন তিনি কী পাঠ করতেন তার বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে তারতীলের সাথে কিরা‘আত করে সালাতুল লাইল আদায় করতেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল লাইল আদায় করার সময় কিরা‘আত জোরে পাঠ করতেন মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সব সালাতের কিরা‘আত জোরে পড়তেন না ১ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ব্যক্তির যদি নির্ধারিত নফল ইবাদত পালনে ঘুম পরাভূত করে, তবে তার প্রতি ঘুমানোর নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তিকেও এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও তার উপর ঘুম প্রাবল্যতা লাভ না করে ১ রাতে বা দিনের কোন সালাতে তন্দ্রার কারণে যার কাছে কিরা‘আত ভারি হয়ে যাবে, তার জন্য জরুরি হলো (নফল) সালাত পড়া ছেড়ে দেওয়া ১ যেই কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ ১ একজন মানুষের জন্য রাতে ততক্ষন পর্যন্ত সালাত আদায় করা বৈধ, যতক্ষন পর্যন্ত না ঘুম তাকে পরাভূত করেছে ১ যে ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার জন্য মনে মনে নিয়ত করে, অতঃপর ঘুম তাকে পরাভূত করে ফেলে, ফলে সে সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে, তাকে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার নিয়ত অনুযায়ী সাওয়াব দান করেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সময়ে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার জন্য উঠতেন তার বিবরণ ১ আল্লাহর নাবী দাঊদ আলাইহিস সালামের কিয়াম ও সিয়ামের বর্ণনা ১ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর পর তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন মর্মে হাদীস ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কিয়ামুল লাইলের বিবরণ দিলাম, তা তিনি ঘুমানোর পর পড়তেন মর্মে বর্ণনা ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কিয়ামুল লাইলের বিবরণ দিলাম তা তিনি ইশা ও ফজরের মাঝে রাতের প্রথম ভাগে ঘুমানোর পর পড়তেন মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার জন্য জাগ্রত হবে, তখন তিনি কী বলবেন তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, হাদীসটি ইমাম আওযাঈ রহিমাহুল্লাহ ইয়াহইয়া বিন কাসীর থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর যা পাঠ করার পর সালাত আদায় করলে সেই সালাত কবূল করা হয় তার বিবরণ ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কী প্রশংসা করতেন এবং দু‘আ করতেন তার বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমানে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা যে দু‘আর বিবরণ দিলাম, তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ সালাত শুরু করার পর তাকবীরে তাহরীমার পর কিরা‘আত শুরু করার আগে বলতেন; সালাত শুরু করার আগে নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ সালাত শুরু করার সময় তাঁর প্রভুর কাছে মতভেদপূর্ণ বিষয়ে হকের দিশা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করতেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ সালাত শুরু করার সময় বারবার তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ পাঠ করতেন ১ সালাতুল লাইল শুরু করার সময় আমরা যে তাকবীর, তাসবীহ ও তাহমীদের বর্ণনা দিলাম, তার চেয়ে বেশি বলা বৈধ ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর জন্য বৈধ হলো তার আওয়াজ উঁচু করা, যাতে তার আওয়াজ শ্রবণকারীদের শোনাতে পারে ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি রহমতের আয়াত পাঠ করার সময় আল্লাহর রহমত চাইবেন আর আযাবের আয়াত পাঠ করার সময় আযাব থেকে আশ্রয় চাইবেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ সালাতে রহমতের আয়াত পাঠ করার সময় তাঁর প্রভুর নিকট রহমত চাইতেন আর আযাবের আয়াত পাঠ করার সময় আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন ১ যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি প্রথমে হালকা দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করবেন ১ মুসল্লী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো তাহাজ্জুদ সালাতের কিয়াম দীর্ঘ করা, কেননা উত্তম সালাত হলো ঐ সালাত যাতে কিয়াম দীর্ঘ করা হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে দুই রাকা‘আত হালকা সালাত আদায় করার পর দীর্ঘ করে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন, যা পরের দুই রাকা‘আত অপেক্ষা দীর্ঘতর হতো ১ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর জন্য বৈধ রয়েছে দীর্ঘ করে রুকূ ও কিয়াম করা ১ তাহাজ্জুদ সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ অবস্থান করতেন তার বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয় রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন তার বিবরণ ১ যে কয় রাকা‘আত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাহাজ্জুদ সালাতের যে বিবরণ পেশ করলাম, তার ব্যতিক্রম সালাতের বিবরণ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাহাজ্জুদ সালাতের যে বিবরণ পেশ করলাম, তার ব্যতিক্রম সালাতের বিবরণ ১ তাহাজ্জুদ সালাতের আমরা যে সংখ্যা বর্ণনা করেছি, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাকা‘আত বিতর সালাত আদায় করেছেন ১ আমরা হাদীসসমূহের যে ব্যাখ্যা করেছি, সে অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের সালাত বিভিন্ন রকম ছিল মর্মে হাদীস ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত এবং শেষে বিতর সালাত আদায়ের বিবরণ সংক্রান্ত হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো এক রাকা‘আত বিতর সালাত আদায় করা ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বিভিন্ন রকম তাহাজ্জুদ সালাতের উল্লেখ করলাম, তার সবগুলো সহীহ, সুপ্রমাণিত; এসবের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর প্রতি নির্দেশ হলো তিনি তার সর্বশেষ সালাত এক রাকা‘আত করবেন, যা তার বিতর সালাত হিসেবে পরিগণিত হবে ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর প্রতি নির্দেশ হলো তার সব সালাতের শেষে এক রাকা‘আত বিতর সালাত আদায় করবে সুবহে সাদিকের আগে; পরে নয় ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর প্রতি নির্দেশ হলো তিনি তার সর্বশেষ সালাত এক রাকা‘আত করবেন, যা তার বিতর সালাত হিসেবে পরিগণিত হবে, যদিও সে ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা না করে ১ যে ব্যক্তি রাতে সালাত আদায় করে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি শেষ সালাত এক রাকা‘আত বিতর করবেন ১ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর জন্য বৈধ রয়েছে, তার সেই সালাতে অন্যের ইমামতি করা ১ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতে যে কিয়ামুল লাইলের বর্ণনা দিলাম, সেসব রাকা‘আতে কিয়াম সমান সমান করতেন ১ নফল সালাত রাতে জামা‘আতে আদায় করা বৈধ ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাতের যে বিবরণ পেশ করেছি, তা তিনি মুকীম অবস্থায় যেভাবে আদায় করতেন, অনুরুপভাবে সফর অবস্থাতেও আদায় করতেন মর্মে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি যখন দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে অপারগ হবে, তখন তার জন্য বৈধ রয়েছে যে, তিনি বসে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করবেন ১ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বসে সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বয়োঃবৃদ্ধ হয়ে যান, তখন তিনি বসে সালাত আদায় করতেন ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাত্রির তাহাজ্জুদের পরে বিতরের নামাজ আদায় করার পরেও একজন ব্যক্তি দু’রাকাত সালাত আদায় করতে পারেন — তবে তা ফজরের সুন্নাত দুই রাকাতের বাইরে। ১ বিতরের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন, তাতে তিনি যা পড়তেন তার বিবরণ ১ তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর জন্য বৈধ রয়েছে যে, তিনি তার নির্ধারিত নফল ইবাদত শেষ করার পর সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগে কাত হয়ে শয়ন করবেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন রাতে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগে রাতের সালাত শেষে হালকা ঘুমাতেন ১ আমরা যে ঘুমের বিবরণ দিলাম, যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে এভাবে ঘুমাতেন তার বর্ণনা ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহের বিপরীত ১ দ্বিতীয় হাদীস যা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে বাহ্যত এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত হাদীসসমূহের বিপরীত ১ রাতে কোন ব্যক্তির তাহাজ্জুদ সালাতে অভ্যস্ত হওয়ার পর তা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ রাতের তাহাজ্জুদ ছুটে গেলে তা দিনে আদায় করা মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি রাতে তার নির্ধারিত নফল ইবাদত ঘুমের কারণে আদায় করতে পারে না, অতঃপর তা দিনে ফজর থেকে যোহরের মাঝে আদায় করে, তবে তার জন্য নির্ধারিত সময়ে আদায়ের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় ১ যদি কোন কারণে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ব্যক্তির তাহাজ্জুদ ছুঁটে যায়, তবে তার জন্য উত্তম হলো তিনি অনুরুপ সংখ্যায় সালাত দিনে আদায় করবেন ১ যদি কোন কারণে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ব্যক্তির তাহাজ্জুদ ছুঁটে যায়, তবে তার জন্য উত্তম হলো তিনি অনুরুপ সংখ্যায় সালাত দিনে আদায় করবেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে অসুস্থ থাকতেন, তখন তিনি রাতের নির্ধারিত নফল ইবাদত দিনে পালন করতেন ১ (২৪) ছুটে যাওয়া সালাত কাযা করা - সালাত আদায়ে করতে ভুলে যাওয়া ব্যক্তি তা স্মরণ হওয়া মাত্র আদায় করবে মর্মে বর্ণনা ১ এক জনের পক্ষ থেকে আরেকজনের সালাত আদায় করা জায়েয নেই মর্মে হাদীস ১ হাদীস ও হাদীসের মূল বক্তব্যের বুঝের বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ছুটে যাওয়া সালাত হয়তো পরের দিন ঐ সালাতের সময় পুনরায় আদায় করতে হবে ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত নির্দেশটি ঐচ্ছিক নির্দেশ, এটি তার জন্য যে তা পুনরায় আদায় করতে চায়; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, যে কারো কোন সালাত ছুটে গেলে তা দুই বার আদায় করবে; একবার যখন স্মরণ হবে আরেকবার যখন সেই সালাতের দ্বিতীয়বার সময় আসবে ১ যেই কারণে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যান, ছুটে যাওয়া সালাত আদায় করার জন্য ১ আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “দুইটি সাজদা করেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফজরের আগে দুই রাকা‘আত সালাত ১ কোন ব্যক্তির যোহরের দুই রাকা‘আত সুন্নাত ছুটে গেলে যদি তা আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত না পড়া হয়, তবে তা আর আদায় করতে হবে না, আসরের পর আদায় করার বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য খাস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাহু সাজদাকে ‘শয়তানের জন্য অবমাননাকারী’ হিসেবে নামকরণ ২ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমানে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সালাতে সাহু সাজদা সালাম ফেরানোর পর দিয়েছিলেন; আগে নয় মর্মে বর্ণনা ১ সালাতে সন্দেহ হলে ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহু সিজদার নির্দেশ — এটি সালাম ফেরানোর পর আদায় করার বিষয় — সালামের আগে নয় ১ সালাতে সঠিকতা জানতে সচেষ্ট ব্যক্তি যখন ভুল করবে, তখন তার জন্য জরুরী হলো প্রথম সালামের পর দুটি সাহু সাজদা করা ১ যোহরের সালাত কোন ব্যক্তি যদি ভুলে চতুর্থ রাকা‘আতে না বসে ভুলে পাঁচ রাকা‘আত আদায় করে, তবে এজন্য তাকে সেই সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে না ১ সালাতে সঠিকতা জানতে সচেষ্ট ব্যক্তি সন্দেহ পোষন করলে, তার জন্য জরুরী হলো সালামের পর দুটি সাহু সাজদা করা ১ রাকা‘আত সংখ্যা নিয়ে সংশয়ে নিপতিত ব্যক্তি যখন নিম্ন সংখ্যা ধরে তার উপর সালাত পূর্ণ করবে, তখন তার জন্য জরুরী হলো সালাম ফেরানোর আগে দুটো সাহু সাজদা করা; সালাম ফেরানোর পরে নয় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ কথা বলার নির্দেশ, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্তর ব্যবহার করা; জবান দ্বারা কথা বলা উদ্দেশ্য নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তবে সে ব্যক্তি যেন বলে, “তুমি মিথ্যা বলেছো!” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মনে মনে নয়; জবান দ্বারা নয় ১ নূন্যতম সংখ্যার উপর ভিত্তি করে যে ব্যক্তি সালাতকে পূর্ণতা দান করেছে, তার জন্য জরুরী হলো যখন সে সন্দেহ পোষন করবে, তখন সে সালাতের (সালামের) আগে দুটো সাহু সাজদা দিবে; পরে নয় ১ নূন্যতম সংখ্যার উপর ভিত্তি করে যে ব্যক্তি সালাতকে পূর্ণতা দান করেছে, তার জন্য জরুরী হলো সালামের আগে দুটো সাহু সাজদা দিবে; পরে নয়- আমাদের এই কথার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীস ১ নূন্যতম সংখ্যার উপর সালাত বিনির্মানকারী ব্যক্তি যখন সালাতের ব্যাপারে সন্দিহান হবে, তখন তার জন্য জরুরী হলো অতিরিক্ত সেই রাকা‘আতে রুকূ‘ ও সাজদা উত্তমরুপে সম্পাদন করা ১ সালামের পর সাহু সাজদাকারী ব্যক্তির জন্য জরুরী হলো তাশাহ্হুদ পাঠ করা তারপর দ্বিতীয়বার সালাম ফেরানো ২ যখন কোন ব্যক্তি সালাম ফেরানোর পর সাজদায়ে সাহু করবে, যা আমরা বর্ণনা করলাম, তার জন্য জরুরী হলো তারপর তাশাহহুদ পাঠ করা অতঃপর সালাম ফেরানো ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সাজদায়ে সাহু সর্বাবস্থায় সালামের আগে হবে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত ইমরান বিন হুসাইন ও মু‘আবিয়া বিন হুদাইজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের বিপরীত- তার কথা অপনোদনকারী তৃতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকা‘আতের বৈঠক না দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তার সাহু সাজদার বিবরণ ১ (২৫) যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকা‘আতের বৈঠক না দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তিনি সালাম ফেরানোর আগে সাহু সাজদা দিবেন; পরে নয় ১ যেই সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফেরানোর আগে সাহু সাজদা করেছেন, সেই সালাতের বিবরণ ১ যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকা‘আতের বৈঠক না দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তার উপর দুটি সাহু সাজদা ছাড়া আর কোন কিছু ওয়াজিব নয় ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই সুন্নাহটি আব্দুর রহমান আল আ‘রাজ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি সালাতে ভুলে যায়, তারপর সে সঠিকতায় ফিরে আসে, তার উপর কী করণীয় তার বর্ণনা ১ এই হাদীসে যাইদ বিন উনাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “صَلَّى بِهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যোহরের পাঁচ রাকা‘আত ১ ব্যাখ্যাহীন নির্দেশ, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মগত আমল ব্যাখ্যা করে, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি ২ ইউনূস আল আইলাঈ বর্ণিত হাদীসে সালাত পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে তার বিবরণ ১ আমরা যেই সালাতের বিবরণ দিলাম, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফেরানোর পর দুটি সাজদা করার মাধ্যমে সালাত পূর্ণ করে ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উক্ত সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন না, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ দ্বিতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উক্ত সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন ১ (২৬) মুসাফির সংক্রান্ত বিধি-বিধান ১ যে ব্যক্তি সফরের জন্য পাথেয় নেওয়া নাজায়েয মনে করে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ কোন ব্যক্তি সফর করার ইচ্ছা করলে, তার জন্য কী দু‘আ করবে তার বর্ণনা ১ সফরের জন্য বিদায়ের সময় কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কী বলে দু‘আ করলে আল্লাহ তাকে হেফাযত করবে ১ যে ব্যক্তি উটের পিঠে আরোহন করতে চায়, সে যেন বিসমিল্লাহ বলে, যাতে সে এর মাধ্যমে উটের পৃষ্ঠদেশ থেকে শয়তানকে তাড়িয়ে দিতে পারে ১ সফরে বের হওয়ার সময় যখন কোন ব্যক্তি বাহনে আরোহন করতে ইচ্ছা করে, তখন কী বলবে তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আবুয যুবাইরে হাদীস যা আমরা উল্লেখ করলাম, সেটা হাম্মাদ বিন সালামাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ উক্ত দু‘আয় আরো কিছু শব্দ বৃদ্ধি করা জায়েয ১ যখন কোন বান্দা সফরের উদ্দেশ্যে বাহনে আরোহন করবে, তখন সে কী বলে আল্লাহর প্রশংসা করবে তার বিবরণ ১ মুসাফির ব্যক্তি যতক্ষন পর্যন্ত সফরে থাকে, ততক্ষন পর্যন্ত তার দু‘আ ফেরত দেওয়া হয় না ১ মুসাফির ব্যক্তি তার বাসস্থানে যেই দু‘আ পাঠ করলে, সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত সমস্ত অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকবে ১ মুসাফির ব্যক্তি সফরে ফজরের আগে কী বলবে তার বর্ণনা ১ মুসাফির ব্যক্তিকে প্রত্যেক উঁচু জায়গায় তাকবীর বলার নির্দেশ ১ যখন কোন ব্যক্তি অনাবৃষ্টির অঞ্চলে সফর করবে, তখন বাহনে চড়ে দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করার নির্দেশ ১ রাতে একাকী সফর করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মানুষ চলাচলের ভালো রাস্তায় রাতে যাত্রা বিরতি দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যখন সফরে হাঁটা কষ্টকর হবে এবং সফর কষ্টসাধ্য হবে, তখন কী করা মুস্তাহাব সে সম্পর্কে বর্ণনা ১ সফর থেকে ফিরে এসে কী বলবে তার বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দীর্ঘ সফরের সময় দ্রুত স্বদেশে ফিরে যাওয়া ১ মুসাফির ব্যক্তি যখন কোন নগরীতে প্রবেশ করার ইচ্ছা করবে তখন কী বলবে তার বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সফর থেকে যখন সে তার শহরের কাছাকাছি আসবে, তখন তিনি দ্রুত চলবেন ১ মুসাফির ব্যক্তি যখন সফর থেকে আগমন করে তখন কী বলবে তার বর্ণনা ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমাদের বর্ণিত শু‘বার হাদীসটি হয়তো ত্রুটিযু্ক্ত ২ যেই হাদীস আমাদের পূর্বে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত হাদীসের ব্যাখ্যা প্রদান করে, সেই হাদীসের বিবরণ ১ সফর থেকে আগমনকারীর প্রতি নির্দেশ হলো তিনি বাড়িতে প্রবেশ করার আগে মাসজিদে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করবে ১ যখন কোন ব্যক্তি সফর থেকে বাড়িতে প্রবেশ করবে, তখন সে কী বলবে তার বিবরণ ১ সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করার ব্যাপারে স্ত্রীকে সম্মত করানোর নির্দেশ ১ (২৭) মেয়েদের সফর করা প্রসঙ্গে ১ যেই মাহরাম ছাড়া নারীদের সফর করা নিষেধ, সেই মাহরামের বিবরণ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ এই নিষেধাজ্ঞাটি বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা; উত্তমতামূলক নয় ১ সাথে কোন মাহরাম ছাড়া কোন নারীর তিন রাত সফর করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে দ্বিতীয় হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে তৃতীয় হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে চতুর্থ হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে পঞ্চম হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে হাদীস ১ হাদীসে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কম দিনের সফরের বৈধতা উদ্দেশ্য নয় মর্মে ষষ্ঠ হাদীস ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, নারীদের জন্য হয়তো মাহরাম ছাড়া তিন দিনের কম সফর করা জায়েয ১ সফরের দুরত্ব কম হোক অথবা বেশি হোক, কোন নারীর জন্য এটা বৈধ নয় নয় মাহরাম ছাড়া সফর করা ১ সফরের দুরত্ব কম হোক অথবা বেশি হোক, কোন নারীর জন্য এটা বৈধ নয় নয় মাহরাম ছাড়া সফর করা ১ হাদীসের যে শব্দ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এই হাদীস বর্ণনায় আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অভিযু্ক্ত করেছেন ১ এই নিষেধাজ্ঞা পালন বাধ্যতামূলক; উত্তমতামূলক নয় ১ (২৮) সফরে সালাত আদায় প্রসঙ্গে ১ সালাত যখন প্রথমে ফরয করা হয়েছিল, তখন সফর ও মুকীম উভয় অবস্থাতেই দুই রাকা‘আত ছিল ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “সালাত দুই রাকা‘আত দুই রাকা‘আত ফরয করা হয়” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রথম যখন সালাত ফরয করা হয় ১ মুকীম অবস্থার সালাতে বৃদ্ধি করা হয় ফজর ও মাগরিবের সালাত ব্যতিত ১ সফরে সালাত কসর নির্দেশটি বৈধতা নির্দেশক; বাধ্যতামূলক নয় মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “অতএব তোমরা আল্লাহর দানকে গ্রহণ করো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করা অবকাশ; এর দ্বারা এমন অবধারিত হওয়া উদ্দেশ্য নয়, যার ব্যত্যয় ঘটানো যায় না ১ সফরে সালাত কসর করার বিষয়টি গ্রহণ করার নির্দেশ কেননা এটি আল্লাহর সাদাকাহ, যা তিনি তাঁর বান্দাকে দান করেছেন ১ আল্লাহর রুখসত গ্রহণ করা মুস্তাহাব কেননা আল্লাহ তা কবূল করা পছন্দ করেন ১ যে ব্যক্তি হাশেমীয় ৪৮ মাইল সফর করার ইচ্ছা করবে, তার জন্য জায়েয আছে, প্রথম মারহালা (২৪ মাইল) থেকেই সফর করা ১ আমরা যে সফরের কথা উল্লেখ করলাম, সেরকম সফরের ইচ্ছাকারী ব্যক্তির জন্য জায়েয নেই সালাত কসর করা, যতক্ষন না সে তার শহরকে ত্যাগ করে ১ আমরা যে সফরের কথা উল্লেখ করলাম, যখন কোন ব্যক্তি এমন দুরত্বে সফর করার ইচ্ছা করবে, তখন তার জন্য জায়েয আছে সালাত কসর করা, যখন সে তার শহরকে ছেড়ে যাবে- এই মর্মে হাদীস ১ এরকম কাজ করা ঐ ব্যক্তির জন্য জায়েয, যে ব্যক্তি এমন সফর করার ইচ্ছা করে, যাতে কসর করা বৈধ- এই মর্মে হাদীস ১ মুসাফির ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো যখন তিনি শহরের আবাসস্থল পিছনে রেখে আসবে, তখন থেকে সালাত কসর করা ১ যেই সফরের চূড়ান্ত সীমায় কসর অবধারিত হয়, সেই সফরের চূড়ান্ত সীমায় না পৌঁছেও সালাত কসর করা যায় ১ মুসাফির ব্যক্তি যখন কোন মানযিল বা শহরে অবস্থান করবে, কিন্তু তিনি সেখানে চার দিন অবস্থান করার নিয়ত না করবে, তখন তার জন্য সেখানে সালাত কসর করা বৈধ, যদিও তাতে সে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত হাদীসের বিপরীত ১ যেই হাদীস বাহ্যত আমাদের উল্লেখিত পূর্বের ইকরামার হাদীসের বিপরীত ১ মুসাফির ব্যক্তি যখন কোন কোন জায়গায় চার দিনের বেশি অবস্থান করে, কিন্তু তিনি সেখানে চার দিন অবস্থান করার নিয়ত না করে থাকে, তখন তার জন্য সেখানে সালাত কসর করা বৈধ, যদিও সে সেখানে চার দিনের বেশি অবস্থান করে ১ মুসাফির ব্যক্তির জন্য বৈধ হলো ফরয সালাতের আগে ও পরে নফল-সুন্নাত সালাত ছেড়ে দেওয়া ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, কোন ব্যক্তি কোন শহরে ১০ দিন অবস্থান করার নিয়ত করবে, তিনি সালাত কসর করতে পারবে ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মক্কায় যে কোন অবস্থায় অবস্থান করলে তিনি সালাত কসর করতে পারবেন ১ হাজীদের জন্য হজ চলাকালিন সময়ে সালাত কসর করা বৈধ ১ হজের দিনগুলিতে মিনায় অবস্থান করার সময় যে ব্যক্তি পূর্ণ সালাত আদায় করার নির্দেশ দেয়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হজের দিনগুলিতে মিনায় অবস্থান করার সময় হাজীদের জন্য জরুরী হলো পূর্ণ সালাত আদায় করা, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ (২৯) তিলাওয়াতের সাজদা - যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করার সময় সাজদা করে, তার জান্নাতে প্রবেশের আশা ১ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ শ্রবণ করবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো তিলাওয়াতে সাজদার সময় সাজদা করা ১ সুরা ইনশিকাক পাঠ করার সময় সাজদা করা মুস্তাহাব ১ সূরা নাজম পাঠ করার সময় সাজদা না করা বৈধ ১ সূরা নাজম পাঠ করার সময় মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদা করা মুস্তাহাব ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, উল্লেখিত হাদীস সাধারণ অর্থবোধক শব্দ দ্বারা সর্ব সাধারণ উদ্দেশ্য নয়; বরং কিছু উদ্দেশ্য ১ সূরা সোয়াদ পাঠ করার সময় সাজদা করা মুস্তাহাব ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা সোয়াদে সাজদা করেছেন ১ সূরা আলাক পাঠ করার সময় সাজদা করা মুস্তাহাব ১ সালাতের সাজদার আয়াত পাঠ করলে সাজদা করার সময় কী বলবে, তার বিবরণ ১ কুরআনের নির্দিষ্ট কিছু জায়াগার সাজদার আয়াত পাঠ করার সময় সাজদা করা ফরয নয় মর্মে বর্ণনা ১ (৩০) জুমু‘আর সালাত প্রসঙ্গে - শেষ্ঠ দিন হলো জুমু‘আর দিন ১ জুমু‘আর দিন যেই আমলগুলো কোন ব্যক্তি করলে তিনি জান্নাতের অধিবাসী হবেন ২ মহান আল্লাহ জুমু‘আর দিনের সেই সময়ের দু‘আ কবূল করেন, যখন ব্যক্তি কল্যাণের দু‘আ করে; মন্দ দু‘আ নয় ১ জুমু‘আয় সকাল সকাল উপস্থিত হওয়ার দিক দিয়ে মানুষের সাওয়াব প্রাপ্তিতে তারতম্য ১ জুমু‘আর দিনের উক্ত ফযীলত ঐ ব্যক্তির জন্য যিনি নাপাকীর গোসলের ন্যায় গোসল দিয়ে জুমু‘আয় উপস্থিত হয় ১ যে ব্যক্তি জুমু‘আর শর্তসমূহ পূরণ করে, জুমু‘আয় উপস্থিত হয়, তাকে পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়া হয় ১ যদি মহান আল্লাহ কাউকে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দান করেন, তবে তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি জুমু‘আর জন্য দুটি পরিচ্ছন্ন কাপড় রেখে দিবেন, যা জুমু‘আহ ছাড়া অন্য কোন সময় পরিধান করবে না ১ মিসওয়াক করা এবং উত্তম পোশাক পরিধান করা জুমু‘আর সেসব শর্তসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা দুই জুমু‘আর মধ্যবর্তী গোনাহসমূহ মোচন করে দেয় ১ উল্লেখিত ফযীলত ওযূকারী ব্যক্তির জন্যও অর্জিত হতে পারে, যদি সে গোসল না-ও করে কিন্তু উল্লেখিত শর্তসমূহ পালন করে ১ আমরা পূর্বের হাদীসগুলোর যে ব্যাখ্যা দিয়েছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ উল্লেখিত গুনাবলীসহ জুমু‘আয় আগমনকারীকে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে প্রতিটি পদক্ষেপের কারণে এক বছরের ইবাদত করার সাওয়াব দান করেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “مَنْ غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ” যা আমরা ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, জুমু‘আর সালাত মূলত চার রাকা‘আত; দুই রাকা‘আত নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর জুমু‘আহ ফরয করা হলে, তারা মতভেদে লিপ্ত হয় ১ জুমু‘আর সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ, যাতে তার নাম গাফেলদের মাঝে লিপিবদ্ধ করা না হয় ১ অবহেলা করে তিন জুমু‘আহ ত্যাগকারীর অন্তরে মহান আল্লাহ মোহর মেরে দেন ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, যে ব্যক্তি সেভাবে জুমু‘আহ ছেড়ে দেয়, তবে আল্লাহ তার অন্তরে কিভাবে মোহর মেরে দিবেন তার বর্ণনা ২ সাদাকাহ করার এই উত্তমতা নির্দেশক নির্দেশটি ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি ওজর ছাড়া জুমু‘আহ ত্যাগ করে; ওজর বশত জুমু‘আহ ত্যাগকারীর জন্য এই আদেশ প্রযোজ্য নয় ১ জুমু‘আর দিন সালাত আদায় করার জন্য মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ ঈদ ও জুমু‘আয় সালাত দীর্ঘ করা এবং খুতবাকে সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ ১ জুমু‘আর দিন মাসজিদে তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির প্রতি জায়গা পরিবর্তন করার নির্দেশ ১ জুমু‘আর দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় অনর্থক কাজ না করা জরূরী মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলে, তা জুমু‘আয় উপস্থিত হওয়া নাকচ করা প্রসঙ্গে ১ জুমু‘আর দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার ভাইকে “চুপ থাকো” বলা নিষেধ প্রসঙ্গে ১ শাহাদাহ ছাড়া খুতবাহকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তিত হাতের সাথে উপমা প্রদান ১ ভাষনের সময় শাহাদাহ পাঠ না করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ২ খতীবের জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে তিনি খুতবায় সাজদার আয়াত পাঠ করার পর সাজদা না করে খুতবা চালিয়ে যাবেন ১ খতীবের জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তিনি যার সাথে কথা বলতে চাইবেন, তার সাথে প্রয়োজনে কথা বলতে পারবেন ১ কোন প্রয়োজনের সময় কিভাবে খুতবা দিবে, তার বিবরণ ১ খুতবা মধ্যম ও সংক্ষিপ্ত হওয়া জরুরী ১ দুই খুতবার মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলতেন তার বিবরণ ১ ভাষনের সময় কোন ব্যক্তির আবেগাপ্লুত হওয়া প্রসঙ্গে ১ ইমাম যখন সালাত আদায় করার জন্য মিম্বার থেকে অবতরণ করবেন, তখন তার জন্য বৈধ রয়েছে কোন মুসল্লীর সাথে কোন প্রয়োজন থাকলে তাতে নিয়োজিত হওয়ার পর সালাত আদায় করবেন ১ জুমু‘আর সালাতে কিরা‘আতের বিবরণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ জুমু‘আর সালাতের দ্বিতীয় রাকা‘আতে সূরা গাশিয়া পড়া বৈধ ১ জুমু‘আর সালাতের প্রথম রাকা‘আতে সূরা আ‘লা পড়া বৈধ ১ জুমু‘আর সালাত সম্পন্ন করার পর কাইলূলাহ করা বৈধ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ (৩১) দুই ঈদ সংক্রান্ত বিধি-বিধান - শ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানীর দিন এবং তার পরের দিন ১ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে খাওয়া আর কুরবানীর দিন সালাত শেষ করার পর খাওয়া মুস্তাহাব ১ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে খেজুর খাওয়া মুস্তাহাব ১ ঈদের দিন বিজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া মু্স্তাহাব ১ ঈদগাহে যাওয়া-আসার সময় রাস্তা পরিবর্তন করা মুস্তাহাব ১ কুমারী, পর্দানশীন ও ঋতুবতী নারীর জন্য বৈধ আছে মুসলিমদের ঈদে উপস্থিত হওয়া ১ ঋতুবতী মহিলারা মুসলিমদের ঈদে উপস্থিত হলে, তাদের জন্য আবশ্যক হলো তারা মুসল্লার এক পাশে থাকবে ১ ঈদের সালাতের আগে ও পরে নফল সালাত ত্যাগ করা বৈধ ১ দুই ঈদের সালাত আযান ও ইকামত ছাড়াই পড়া ওয়াজিব ১ ঈদের সালাতে কী পড়বে তার বিবরণ ১ আমরা যেসব সূরার বর্ণনা দিলাম, ঈদের সালাতে তাছাড়া অন্য সূরা পড়াও জায়েয ১ যদি একই দিন ঈদ ও জুমু‘আহ হয়, তাতে আমরা যে বর্ণনা করেছি তা অনুযায়ী কিরাত (কুরআন তিলাওয়াত) করা তার জন্য বৈধ।" ১ ঈদের সালাত খুতবার আগে হওয়া ওয়াজিব ১ ঈদের খুতবা সালাতের পরে হওয়া জরুরী; আগে নয় ১ কোন কোন অবস্থায় বাহনের উপর খুতবা দেওয়া জায়েয ১ দুই ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করার ক্ষেত্রে বরাবর ১ (৩২) চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত ৩ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করার নির্দেশ করেছেন, সেই সালাতের বিবরণ ১ সূর্য গ্রহণের এই ধরণের সালাত কিভাবে আদায় করা হবে তার বিবরণ ১ চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় যে সালাত আদায় করার নির্দেশ করা হয়েছে, সেই সালাত অব্যাহত রাখতে হবে গ্রহণ ছেড়ে চন্দ্র বা সূর্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ১ সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সালাত আদায় করার নির্দেশ ১ হাদীসের শব্দ “তোমরা দু‘আ করো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা সালাত আদায় করো, যেমনটা আমরা উল্লেখ করলাম ১ সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ প্রত্যক্ষ করার সময় সালাত আদায় করার সাথে সাথে দু‘আ-ইস্তিগফার করার নির্দেশ ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সূর্য গ্রহণের সালাত হয়তো অন্যান্য সালাতের মতো ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সালাত আদায় না করে দু‘আ করাই যথেষ্ট, যখন কোন ব্যক্তি অন্যান্য সালাতের ন্যায় সালাত আদায় করবে ১ এই সূর্য গ্রহণের সালাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে আদায় করতেন, তার বিবরণ ১ এই ধরণের সূর্য গ্রহণের সালাত কিভাবে আদায় করবে তার বিবরণ ১ আমরা যে সূর্য গ্রহণের সালাতের কথা উল্লেখ করলাম, সেই সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য বৈধ আছে তিনি প্রথম রাকা‘আতে যে সূরা পড়বেন, দ্বিতীয় রাকা‘আতে অন্য সূরা পড়বেন ১ আমরা যে সূর্য গ্রহণের সালাতের কথা বর্ণনা করলাম, যে ব্যক্তি সেই সালাত আদায় করবে, তার জন্য জরুরী হলো তাশাহ্হুদ ও সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করা ১ সূর্য গ্রহণের দ্বিতীয় ধরণের সালাতের বিবরণ ১ নিদর্শনের সালাতের বিবরণ ১ সূর্য গ্রহণের এই ধরণের সালাতে ছয় রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করা আবশ্যক ১ সূর্য অথবা চন্দ্র গ্রহণের সময় যখন সালাত আদায় করার ইচছা করবে,তখন সাদাকাহ করার সাথে সাথে বেশি বেশি মহান আল্লাহর তাকবীর বলা মুস্তাহাব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তাকবীর দিবে এবং সাদাকাহ করবে” এখানে দু‘আ করো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা সালাত আদায় করবে, কেননা সালাতকে দু‘আ হিসেবে অভিহিত করা হয় ১ সূর্য অথবা চন্দ্র গ্রহণ প্রত্যক্ষ করার সময় ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব ১ যখন কোন ব্যক্তি সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করে, তারপর সালাতের কিছু আদায় করার পর সূর্য গ্রহণ কেটে যায়, তবে তার জন্য জরুরী হলো বাকী সালাত অন্যান্য সালাতের ন্যায় সম্পন্ন করবে; সূর্যগ্রহণের সালাতের মত আদায় করবে না ১ সূর্য গ্রহণের সালাতে জোরে কিরা‘আত পড়া বৈধ ১ সূর্য গ্রহণের সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য জোরে কিরা‘আত পড়া বৈধ ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সূর্য গ্রহণের সালাতে হয়তো কিরা‘আত জোরে পড়তে হয় না ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, চন্দ্র গ্রহণের সালাতে সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পিছনের কাতারে ছিলেন, যেখান থেকে তিনি আওয়াজ শুনতে পারেননি ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সূর্য গ্রহণের সালাতে হয়তো কিরা‘আত জোরে পড়তে হয় না ১ মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে বরকত লাভ করবে; হয়তো আল্লাহর কাছে তাওবা করবে নতুবা নিজের জন্য ভালো কোন আমল করবে ১ সূর্য অথবা চন্দ্র গ্রহণের সময় দাস মুক্ত করার নির্দেশ, যে ব্যক্তি দাস মুক্ত করার সামর্থ রাখে ২ (৩৩) ইস্তিসকা বা পানি প্রার্থনার সালাত - অনাবৃষ্টির সময় মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো সৎকর্মশীল মানুষদের কাছে মুসলিমদের জন্য পানি প্রার্থনা ও দু‘আ আবেদন করা ১ অনাবৃষ্টি হলে ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো মানুষের জন্য আল্লাহর কাছে পানি প্রার্থনা করা ১ আমাদের পূর্বের বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কারণে মুঁচকি হেসেছিলেন, তার বিবরণ ১ মুসলিমদের মাঝে অনাবৃষ্টি হলে কী দু‘আ করবে, তার বিবরণ ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত আদায় করবে, তখন দু‘আ কবূল হওয়ার আশায় সাথে সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের নিবেন ১ ইস্তিসকার সালাত ঈদের সালাতের মতোই পড়া জরুরী ১ ইস্তিসকার সালাতের সময় অধিক পরিমাণ দু‘আ করা মুস্তাহাব ১ ইস্তিসকার সালাতে কিরা‘আত জোরে পড়া বৈধ ১ ইস্তিসকার সালাতে কিরা‘আত জোরে পড়া জরুরী ১ ইমাম যখন ইস্তিসকার সালাত আদায় করবেন, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো খুতবার সময় চাদর উল্টানো ১ ইস্তিসকার সালাত আদায়কারীর জন্য চাদরের এক পাশ থেকে আরেক পাশ পরিবর্তন না করে সেটাকে উল্টানো জায়েয ১ (৩৪) ভীতিকালীন সালাত - মুসলিম ও আল্লাহর শত্রু কাফিরদের মুখোমুখী হওয়ার সময় ভীতির বিবরণ ১ ভীতিকালীন সময়ে জামা‘আতে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করতে চাইলে কিভাবে আদায় করবে, তার বিবরণ ১ প্রথম কাতার তাদের ভাইদের কাতারে যাবে, আর তারা সালাত আদায় আদায় করার জন্য ইমামের কাছে আসবে, যা আমরা বর্ণনা করলাম ১ আমরা যাদের কথা বর্ণনা করলাম, তাদের ভাইদের নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন, তারা সেই রাকা‘আত সালাত কাযা করেননি বরং তারা এক রাকা‘আতের উপর ক্ষ্যান্ত থেকেছেন ১ ভীতিকালীন সময়ের সালাতে অস্ত্র ধারণ করা বৈধ ১ ভীতিকালীন সময়ে প্রয়োজনে দ্বিতীয় প্রকার সালাতের বিবরণ ১ ভীতিকালীন সময়ে তৃতীয় প্রকারের সালাত ১ আমরা যে ভীতিকালীন সালাতের কথা বর্ণনা করলাম, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জায়গায় পড়েছেন, তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ উক্ত হাদীসটি আবূ আইয়্যাশ আয যুরাকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি এবং আবূ আইয়্যাশ আয যুরাকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাহাবী নন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যে সালাতের কথা বর্ণনা করলাম, তাতে শত্রুরা মুসলিমদের ও তাদের কিবলার মাঝে ছিল ১ ভীতিকালীন সময়ে চতুর্থ প্রকারের সালাত ১ ভীতিকালীন সময়ে পঞ্চম প্রকারের সালাত ১ আমরা যে সালাতের বিবরণ পেশ করলাম, তাতে সাহাবীগণ পরস্পরকে পাহারা দিতেন মর্মে বর্ণনা ১ ভীতিকালীন সময়ে ষষ্ঠ প্রকারের সালাত ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আবূ বাকরাহ থেকে হাসান হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সুলাইমান ইয়াশকুরী থেকে কাতাদা এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যে সালাতের বিবরণ দিলাম, সেই সালাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেই জায়গায় আদায় করেছেন, তার বিবরণ ১ ভীতিকালীন সময়ে সপ্তম প্রকারের সালাত ২ ভীতিকালীন সময়ে অষ্টম প্রকারের সালাত ১ ভীতিকালীন সময়ে নবম প্রকারের সালাত ১ প্রচন্ড ভীতির সময় যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাতকে বিলম্বিত করা জায়েয ১ আমরা যে অবস্থার কথা বর্ণনা করলাম, যদি কোন ব্যক্তি সে অবস্থায় সালাতকে বিলম্বিত করে পরবর্তীতে আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি ভীতিকালীন সালাতের মতো আদায় করবে না, বরং স্বাভাবিক সালাতের মতো আদায় করবে ১ যখন কোন ব্যক্তি শত্রুর মুখোমুখী হবে, এবং যুদ্ধে ব্যস্ত থাকবে, তখন তার জন্য বৈধ আছে আছে যুদ্ধ শেষ হওয়া অবধি সালাতকে বিলম্বিত করা ১
১০. কিতাবুল জানাইয এবং জানাযার পুর্বাপর সংশ্লিষ্ট বিষয় (كِتَابُ الْجَنَائِزِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا مُقَدَّمًا أَوْ مؤخراً)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন (১) বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ ও তার প্রতিদান সম্পর্কিত বর্ণনা - মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো ভাগ্যের ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ১ যখন কোন ব্যক্তির জীবনে উদ্দেশ্য পরিপন্থী বিষয় আসবে, তখন তার জন্য ওয়াজিব হলো তাতে অসন্তুষ্ট না হওয়া ১ আমরা যেদিকে ইশারা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ কোন ব্যক্তি দুনিয়ায় বিপদগ্রস্থ হলে তার প্রতি ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সুখে শুকরিয়া আদায়কারী আর বিপদে ধৈর্য ধারণকারী মুসলিমের জন্য কল্যাণ সাব্যস্তকরণ ১ মানুষের জন্য জরুরী হলো প্রতিটি পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করা, যদিও সেই পরীক্ষা ছোট হয় ১ যে ব্যক্তিকে দুনিয়ায় কোন পরীক্ষা দ্বারা পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে ব্যক্তি ধৈর্য ও শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমে তার মুকাবিলা করবে, তবে তার জন্য দুনিয়াতে তা অপসারিত হওয়া এবং পরকালে তার জন্য সঞ্চিত বদলা প্রাপ্তির আশা করা যায় ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো বিভিন্ন বিপদাপদ ও পরীক্ষায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো অনাগত বিভিন্ন বিপদাপদ ও পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তত রাখা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মানুষকে যখন বিপদাপদ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়, তখন তার জন্য জরুরী হলো নিজের মনকে এমন ক্রিয়া-কলাপের দিকে গমন করা থেকে বিরত রাখা, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে না; চোখের পানি আর অন্তরের দুঃখ ভারাক্রান্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা জরুরী নয় ১ উপর্যপুরি বালা-মুসীবতের সময় দ্বীনের উপর অটল থাকা জরুরী ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মহান আল্লাহ মুসলিম ব্যক্তির জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তার কারণে অনুগ্রহ করে তার পাপসমূহ মোচন করে দেন ১ মহান আল্লাহ মুসলিম ব্যক্তির জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তা এমনকি কাঁটা বিদ্ধ হওয়া বা তার চেয়ে বড়/ছোট কোন কষ্টের কারণে অনুগ্রহ করে তার পাপসমূহ মোচন করে দেন এবং তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন ১ যার উপর একের পর এক বিপদাপদ ও দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয়, মহান আল্লাহ তার কল্যাণ চান ১ এমন হয় যে, কোন বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতে অনেক মর্যাদা থাকে, কিন্তু সে দুনিয়াতে বিভিন্ন বালা-মুসিবত ও বিপদাপদ ছাড়া সেই পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না ১ মহান আল্লাহ যাকে দুনিয়াতে মৃগী রোগ দিয়ে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সেই ব্যক্তি তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ অনুগ্রহ করে পরকালে তার থেকে হিসাব উঠিয়ে নেন ১ কখনো কখনো মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দুনিয়াতে পাপের প্রতিদান দেন, যাতে এটা তার জন্য পাপ থেকে পবিত্রতার কারণ হয়ে যায় ১ মহান আল্লাহ দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি দিয়ে বান্দার কল্যাণ সাধন করতে চান মর্মে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ কোন কোন সময় তার কোন বান্দাকে বিভিন্ন ধরণের বালা-মুসীবত ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা দুনিয়াতে শাস্তি দেন, যাতে এটি তার পূর্বের গোনাহের কাফ্ফারা হয় ১ মুমিন ব্যক্তির জীবনে একের পর এক বিপদাপদ পাপকে এমনভাবে নিঃশেষ করে দেয় যে, পরকালে হিসাব নেওয়ার মতো আর কোন পাপ অবশিষ্ট থাকে না ১ বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির জন্য আমরা যেসব ওয়াদার কথা উল্লেখ করেছি, সেসব ওয়াদা ঐ ব্যক্তির জন্য যে বিপদাপদে আল্লাহর প্রশংসা করে; এসব ওয়াদা তাদের জন্য নয় যারা আল্লাহর ফায়সালায় নারাজ হয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মুমিন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অবনমিত হওয়ার ক্ষেত্রে শষ্যের সাথে উপমা প্রদান প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুসলিম ব্যক্তির কিছু কিছু অবস্থায় অসুস্থ হওয়া ভালো মর্মে বর্ণনা ১ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো মনের দুঃখ-কষ্টকে লাঘব করা ১ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের কোন কোন সময় কঠিন দুঃখ-কষ্ট দেওয়া হয় তাদের গোনাহসমূহ মোচন করে দেওয়ার জন্য ১ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের কখনো কখনো এমন কঠিন বিপদাপদের সম্মুখিন করা হয়, যা অন্যদের মুখোমুখী করা হয় না ১ মুসলিম ব্যক্তির দ্বীনদারিতা যখন মজবূত হয় তখন তার উপর বিপদাপদ কঠিন হয় আর যখন তার দ্বীনদারিতা হালকা হয়, তখন তার উপর বিপদাপদও হালকা হয় ১ সবচেয়ে বেশি বিপদাপদের সম্মুখীন হন নাবীগণ আলাইহিমুস সালাম, তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি, তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি ১ যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসবে, কূয়ার বালতি ও প্রাবনের পানি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছার চেয়েও দ্রুত গতিতে বিপদাপদ তার কাছে আসবে ১ মুসলিম ব্যক্তিকে তার পাপের কারণে কোন কোন সময় শারীরিক বিপদাপদ প্রদান করেন ১ নিশ্চয় বিপদাপদের মাধ্যমে কোন কোন পাপসমূহকে মোচন করে দেওয়া হয় ১ অসুখ-বিসুখ ও ব্যথা-বেদনা দিয়ে মহান আল্লাহ মুসলিমদের পাপসমূহ মোচন করে দেন ১ মহান আল্লাহ দুনিয়াতে মুসলিমদের অসুখ-বিসুখ ও ব্যথা-ব্যদনা দিয়ে পাপের প্রতিদান দিয়ে থাকেন, যাতে সেগুলি তাদের পাপের মোচনকারী হয়ে যায় ১ গাছ থেকে যেভাবে পাতা ঝরে পড়ে যায়, তদ্রুপ মহান আল্লাহ অসুস্থতার মাঝে মুসলিম ব্যক্তির পাপসমূহ মোচন করে দেন ১ অসুখ-বিসুখ মানুষের পাপসমূহ মোচন করে দেয়, যদিও অসুস্থততা সামান্য হয় ১ অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তি সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় যেসব আমল করতেন, মহান আল্লাহ তাদেরকে অসুস্থ ও মুসাফির অবস্থাতেও অনুরুপ কাজের সাওয়াব লিখে দেন ১ যার দুটি প্রিয় বস্তু তথা দুটো চোখ নষ্ট হয়ে যায়, তাকে আল্লাহ যে প্রতিদান দান করেন, তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি তার প্রিয় দুটি জিনিস (দুই চোখ) হারিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা যায়, যখন সে দুচোখকে ধরে রাখার ব্যাপারে থাকে আগ্রহী ১ এই মর্যাদা ঐ ব্যক্তির অর্জিত হবে, যে ব্যক্তি তাতে ধৈর্য ধারণ করবে এবং সাওয়াবের প্রত্যাশা করবে ১ যে ব্যক্তি পেটের রোগে মারা যায়, তার কবরের আযাব না হওয়া প্রসঙ্গে ১ যে ব্যক্তি প্রবাসে মারা যায়, তাকে তার জন্মস্থান থেকে সফরের জায়গা পর্যন্ত সমপরিমাণ জায়গা জান্নাতে প্রদান করা হয় ১ দুনিয়ার জীবনে কারো জ্বর হলে, মহান আল্লাহ এর বদৌলতে তাকে পাপ থেকে পবিত্র করবেন ১ জ্বর ও ব্যথা-বেদনার কারণে মুমিন ব্যক্তি সেভাবে পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়, যেভাবে লোহাকে হাপর থেকে বের করা হয় ১ আল্লাহর খাছ বান্দাদের জ্বরের ব্যথা দ্বিগুণ হয়, যাতে তারা এজন্য পরকালে পরিপূর্ণ প্রতিদান পান ১ জ্বরের ব্যথাকে গালি দেওয়া মাকরূহ কেননা এর মাধ্যমে তার পাপসমূহ বিদুরিত হবে ১ যে মুসলিম ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, আর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, তবে এর মাধ্যমে সে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারবে (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাই) ১ যে ব্যক্তির ঔরশজাত তিনজন সন্তান বালেগ হওয়ার আগে মারা যায়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে ব্যক্তির কথা বর্ণনা করলাম, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে যখন সে ব্যক্তি ঐ মুসিবতে সাওয়াবের আশা করবে; সেই ব্যক্তি ঐ প্রতিদান পাবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে ১ যার তিনজন সন্তান মারা যাবে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যার তিনজন সন্তান মারা যায় অতঃপর সে সাওয়াবের আশা করে ও সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে; তার জন্য নয় যে ব্যক্তি আল্লাহর ফায়সালায় অসন্তুষ্ট হয় ১ যার দুইজন সন্তান মারা যায় অতঃপর সে তাতে সাওয়াবের আশা করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যার দুইজন সন্তান মারা যায় অতঃপর সে জীবদ্দশায় তাদের সাথে সে উত্তম আচরণ করে, তবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে মর্মে বর্ণনা ১ যদি কোন মুসলিম ব্যক্তির দুইজন সন্তান মারা যায়, অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করে, তবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায় ১ যে ব্যক্তির একজন সন্তান মারা যায় আর সে তাতে সাওয়াবের প্রত্যাশা করে, তার জন্য জান্নাতের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সন্তান মৃত্যুবরণ করার সময় ইন্না লিল্লাহ... বলে ও আল্লাহর প্রশংসা করে, তার জন্য মহান আল্লাহ জান্নাতে ‘প্রশংসার প্রাসাদ’ তৈরি করেন ১ বিপদের সময় ইন্না লিল্লাহ... বলা এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যাতে তিনি এর বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করেন ১ কোন ব্যক্তির সন্তান শৈশবে মারা যাওয়া, সেই ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মহামারী আমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মৃত্যুর কারণ ছিল এবং এটি সৃষ্টির উপর আল্লাহর দয়া ১ কোন শহরে মহামারীর সুত্রপাত হলে, সেখানে প্রবেশ করা অথবা সেখান থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ২ বানী ইসরাঈলের উপর যে শাস্তি প্রেরণ করা হয়েছিল, নিশ্চয়ই মহামারী তার অবশিষ্টাংশ ১ (২) অসুস্থ ব্যক্তি তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় - অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যাওয়ার নির্দেশ, কেননা এটি পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ১ যখন কোন ব্যক্তি রোগীকে দেখতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়, তখন রহমতে প্রবেশ করে আর যখন সে রোগীর কাছে গিয়ে বসে, তখন সে রহমতের সাগরে ডুব দেয় ১ যারা রোগী দেখতে যায়, তারা এর মাধ্যমে জান্নাতের ফলের বাগিচা লাভ করে ১ রোগীকে দেখতে আসা ব্যক্তির জন্য ফেরেস্তাগণ সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ইস্তিগফার করতে থাকে ১ যখন কোন ব্যক্তি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো অসুস্থ ব্যক্তির মনকে খুশি করে, এমন কথা বলা ১ যিম্মীদের অসুস্থ্তার সময় তাদের দেখতে যাওয়া বৈধ ১ যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে দেখতে যায় অথবা অসুস্থতার সময় খোঁজ-খবর নিতে যায়, তার জন্য মহান আল্লাহ জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, অসুস্থতার সময় সুস্থতার জন্য দু‘আ না করা ওয়াজিব এবং তাকদীরের ফায়সালার উপর নির্ভর করা জরুরী, চাই সেটা পছন্দনীয় হোক অথবা অপছন্দনীয় হোক- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ নিজের অসুস্থতার সময় কীসের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবে তার বিবরণ ১ কোন ব্যক্তি শরীরে কোন ব্যথা অনুভব করলে, কোন দু‘আর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবে তার বিবরণ ১ যেই দু‘আ পড়লে ব্যথাতুর ব্যক্তির ব্যথা দূর হওয়ার আশা করা যায় ১ দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করলে যে দু‘আ পাঠ করা ওয়াজিব ১ অসুস্থ ব্যক্তি যে ব্যথা-বেদনা অনুভব করেন, সেজন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ ১ কোন ব্যক্তির জ্বর হলে কী দু‘আ পাঠ করবে, তার বিবরণ ১ কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম হলো নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য দুআ করার চেয়ে কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়া উত্তম ১ যখন কোন ব্যক্তি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাবে এবং তার জন্য দুআ করবে, তখন তার জন্য আবশ্যক হলো ডান হাত দিয়ে তাকে স্পর্শ করা ১ যখন কোন ব্যক্তি অসুস্থ ব্যক্তির কাছে আসবে, তখন কোন দুআ করবে তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অসুস্থ ব্যক্তিকে আনা হলে তিনি অধিকাংশ সময় উল্লেখিত দু‘আ করতেন ১ কোন কোন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আমরা যা বর্ণনা করলাম, সেটা ছাড়া অন্য দু‘আও করতেন ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার অসুস্থ মুসলিম ভাইয়ের সুস্থতার জন্য দু‘আ করা, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আল্লাহর ইবাদত পালন করতে পারেন ১ যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি অসুস্থ হবে এবং তার সুস্থতার আশা করা যাবে, তখন তার জন্য কী দু‘আ করবে, সে সম্পর্কে বর্ণনা ১ যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি অসুস্থ হবে, তখন মুস্তাহাব হলো তার জন্য দু‘আ করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুহাম্মাদ বিন হাতিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জন্য দু‘আ করেছিলেন, তখন তার হাত ভালো হয়ে গিয়েছিল ১ অসুস্থ ব্যক্তি যেই দুআ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করলে রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবে তার বর্ণনা ১ (৩) এই উম্মাহর আয়ুষ্কাল সম্পর্কে বর্ণনা - মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে তাদের আয়ুষ্কালের বিষয়ে অবকাশ দেন, যাতে তারা ভালো আমল করতে পারে, সেই দিনের জন্য, যেদিন তারা এর প্রচন্ড মুখাপেক্ষী হবে ১ অধিকাংশ মানুষের আয়ুষ্কাল সম্পর্কে বর্ণনা ১ মানুষের মাঝে উত্তম হলো ঐ ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘ আয়ুষ্কাল পেয়ে ভাল আমল করেন (মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন) ১ যিনি দীর্ঘায়ূ পান এবং সুন্দর আমল করেন, এমন ব্যক্তি কোন কোন সময় শহীদদের থেকেও উর্ধ্বে উঠে যান ১ আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তির চুল পেকে যায়, মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নূর দান করবেন ১ আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তির চুল পেকে যায়, মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নূর দান করবেন ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির চুল পেঁকে গেলে তার বদৌলতে মহান আল্লাহ সাওয়াব লিখ দেন, গোনাহ মিটিয়ে দেন এবং দুনিয়ায় তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন ১ যেই হাদীসের মাধ্যমে বাতিলপন্থী লোকেরা সুন্নাহপন্থী মুহাদ্দিসদের সমালোচনা করে থাকে ১ যে হাদীসের ব্যাখ্যায় ভুলে নিপতিত হয়েছেন একদল বিদ্বান, যারা হাদীসের জ্ঞানে পরিপক্কতা অর্জন করেনি ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, এই উম্মতের কারো বয়স ১০০ বছরের উপর এক বছরও অতিক্রম করবে না! ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বক্তব্য সেই সময়ে যারা ছিলেন, খাস করে তারা উদ্দেশ্য; ব্যাপকভাবে সবাই উদ্দেশ্য নয় ১ দ্বিতীয় হাদীস, যা প্রমাণ করে যে, আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পুর্বোক্ত ব্যাপক অর্থবোধক হাদীস দ্বারা সম্পূর্ণ ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয়; বরং কিছু উদ্দেশ্য ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “পৃথিবীতে কোন প্রাণী” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ দিন যারা ছিলেন ১ (৪) মৃত্যুর কথা স্মরণ করা প্রসঙ্গে - যা দুনিয়ার স্বাদ-আস্বাদনকে কমিয়ে দেয় অর্থাৎ মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করার নির্দেশ ১ যেই কারণে মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক পরিমাণ বলতেন মর্মে বর্ণনা ১ (৫) আশা-আকাঙ্খা প্রসঙ্গে - নশ্বর এই দুনিয়া আবাদ করার ব্যাপারে দীর্ঘ আশা-আকাঙ্খা লালন করা নিষেধ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “(মৃত্যুর) ব্যাপারটি এর চেয়েও দ্রুততর” এর দ্বারা এটা নয় যে, এটি তাৎক্ষনিকভাবে এখনি ঘটবে ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো নিজের মনে মৃত্যুর কথা নিকটবর্তী আর আশা-আকাঙ্খাকে দূরে রাখা ১ (৬) মৃত্যু কামনা করা প্রসঙ্গে - জীবনে কোন কষ্ট নেমে আসার কারণে মৃত্যুর জন্য দুআ করা নিষেধ ১ যেই কারণে মৃত্যু কামনা ও মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতে নিষেধ করা হয়েছে ১ যদি দু‘আ করতেই হবে, তবে মৃত্যু ও বেঁচে থাকার মধ্যে তার জন্য যা কল্যাণকর, সেটার জন্য প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ (৭) মুমূর্ষু ব্যক্তি প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুমূর্ষু ব্যক্তিকে কালেমা শাহাদাহর তালকীন করার নির্দেশ ১ যেই কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার বিবরণ ১ কোন মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হলে তার জন্য মাগফিরাত কামনা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে ১ কোন ব্যক্তির মুমূর্ষু হলে, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (৮) মৃত্যু, মুমিন ব্যক্তির আরাম, সুসংবাদ, তার রুহ, আমল ও তার প্রশংসা সম্পর্কিত বর্ণনা - মৃত্যু মুমিন ব্যক্তির জন্য স্বস্তি আর অসৎ লোকদের জন্য কষ্টদায়ক মর্মে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তির মাঝে যে নিদর্শন পাওয়া গেলে বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ তার সাথে সাক্ষাত করতে ভালবাসেন ১ যেই কারণে মানুষ আল্লাহর সাক্ষাতকে ভালবাসে এবং অপছন্দ করে সেই সম্পর্কে বর্ণনা ১ মুমিন ও কাফির ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় সুসংবাদ দেওয়ার বিবরণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ মুমিন ব্যক্তির রূহ কবজ করার সময় যেই আলামত প্রকাশ পায় তার বিবরণ ১ যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি মারা যায় তখন তিনি স্বস্তি পান আর কোন কাফির ব্যক্তি মারা, তখন তার অনিষ্ট থেকে অন্যান্যরা স্বস্তি পায় ১ মুমিন ব্যক্তি ও কাফির ব্যক্তির রূহ কবজের সময় কী আচরণ করা হয় তার বিবরণ ১ মৃত্যুর পর রূহগুলো পরস্পরকে চিনতে পারবে মর্মে বর্ণনা ১ যেই হাদীস অপাত্র থেকে ইলম গ্রহণকারীকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে, সমস্ত সৎ আমল বন্ধ হয়ে যায় ১ হাদীসের ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য “তার আমল ছিন্ন হয়ে যায়” এর দ্বারা ব্যাপকভাবে সব আমল উদ্দেশ্য নয় ১ কোন বক্তি কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে কোন পাপের কথা জানা থাকলে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ১ কোন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে মন্দ কিছু জানলে, তার মাধ্যমে তার নিন্দা করা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্ক্তব্য, “তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার সম্পর্কে ভালো না বলে মন্দ সমালোচনা করা ১ যেসব কারনে এরকম করতে নিষেধ করা হয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম একটি কারণের বিবরণ ১ যেসব কারনে এরকম করতে নিষেধ করা হয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম একটি কারণের বিবরণ ১ মানুষ মৃত ব্যক্তির ভালো বা মন্দ যা আলোচনা করে, সেটা তার জন্য অবধারিত হয়ে যায় ১ কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর লোকজন তার ভালো প্রশংসা করলে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ১ কোন মানুষের জন্য দুনিয়াতে অপর মানুষের ভালো প্রশংসা আল্লাহ সাব্যস্ত করেন ১ যে ব্যক্তির পক্ষে তার প্রতিবেশি লোকজন ভালো সাক্ষ্য দেন, মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, যদিও তার ব্যাপারে ভিন্ন (মন্দ) কিছু জানেন ১ যে ব্যক্তির ব্যাপারে লোকজন ভালো প্রশংসা করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায় কেননা তারা হলেন জমিনে আল্লাহর সাক্ষী ১ কোন মৃত ব্যক্তির পক্ষে দুইজন মুসলিম ব্যক্তি কল্যাণের সাক্ষ্য দিলে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (৯) গোসল করা - যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করাকে নাকচ করে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ সেই সময় আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কী বলেছিলেন তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে মাটি দিতে চায়, তার প্রতি নির্দেশ হলো বেজোড় সংখ্যায় মাটি দেওয়া ২ উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশে তার চুলগুলো আঁচড়িয়ে বেণী করে দিয়েছিলেন; উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নিজের পক্ষ থেকে এমনটি করেননি মর্মে বর্ণনা ১ (১০) কাফন করা প্রসঙ্গে - যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ভাইয়ের কাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো সুন্দর করে কাফন করা ১ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মৃত ব্যক্তিকে দুই কাপড়ে কাফন করা হয়তো সুন্নাত ১ ফযল বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার বক্তব্যে যে সংখ্যা বলা হয়েছে, সেই সংখ্যা ছাড়া অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নয় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিকে জামা ও পাগড়ীসহ কাফন দেওয়া সুন্নাত, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ (১১) মৃত ব্যক্তিকে বহন করা এবং তার কথা প্রসঙ্গে বর্ণনা ৩ নারীদের জন্য জানাযা অনুসরণ করা ও সেজন্য বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ নির্দিষ্ট কারণে জানাযা নিয়ে দ্রুত চলার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দ্রুত পদক্ষেপে জানাযা নিয়ে যাওয়া ১ যখন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার ইচ্ছা করবে, তখন তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া বৈধ ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন জানাযার সাথে চলবে, তখন জানাযার সাথে সামনে চলবে ১ যখন জানাযার সাথে চলবে, তখন জানাযার সাথে চলা বৈধ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সুফিয়ান বিন উআইনাহ হাদীসটি ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সুফিয়ান বিন উআইনাহ হাদীসটি বর্ণনায় ভুল করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ জানাযার সামনে দিয়ে হাঁটা এমন কাজ নয় যে, তার অন্যথা করা যাবে না মর্মে হাদীস ১ (১২) জানাযা দেখে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মানুষকে জানাযা দেখে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানাযা চলে যাওয়া অথবা জানাযা রেখে দেওয়া পর্যন্ত ১ জানাযা দেখার পর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবে, তার বিবরণ ১ যেই কারণে এই আদেশ করা হয়েছে, তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক জানাযা দেখার পর দাঁড়ানোর পর বসা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ জানাযা দেখার পর দাঁড়ানোর নির্দেশের পর বসার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (১৩) জানাযার সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে ২ আবূ কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “هُما إلَيَّ”এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই দুই দীনার পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার উপর ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের উল্লেখিত দুই হাদীসের বিপরীত ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করেননি ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় না করার বিষয়টি ইসলামের প্রথম যুগে ছিল ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় না করার বিষয়টি ইসলামের প্রথম যুগে বিভিন্ন দেশ বিজয় করার আগের বিষয় ছিল ১ আমাদের কিবলার অনুসরণকারী প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর জানাযার সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও তার ঋণ থাকে ১ জামা‘আত হয় এমন মাসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ যেই কারণে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এটি বলেছিলেন তার বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়তে চাইলে কিভাবে দাঁড়াবে তার বিবরণ ১ কোন ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়তে চাইলে কিভাবে তাকবীর দিবে তার বিবরণ ১ আমরা যে তাকবীরের বিবরণ দিলাম তার চেয়ে বেশি তাকবীর দেওয়াও বৈধ ১ জানাযার সালাতে কী দু‘আ করবে তার বিবরণ ১ জানাযার সালাতে সুরা ফাতিহা পড়া মু্স্তাহাব ১ জানাযার সালাতে সুরা ফাতিহা পড়া মু্স্তাহাব ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো যখন সে জানাযার সালাত আদায় করবে, তখন মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ভালো কাজের সাওয়াব বৃদ্ধি আর মন্দ কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ১ জানাযার সালাতে মৃত ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়া মুস্তাহাব (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই) ১ জানাযার সালাতে মৃত ব্যক্তির জন্য তার নিবাসের চেয়ে উত্তম নিবাস, তার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার চাওয়া মুস্তাহাব ১ যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য খাছ করে দু‘আ করা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইবনু ইসহাক এই হাদীসটি মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করে দাফনের জন্য প্রতিক্ষা করে, তাকে মহান আল্লাহ দুই কীরাত পরিমাণ সাওয়াব দান করেন ১ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করে দাফনের জন্য প্রতিক্ষা করে, তাকে মহান আল্লাহ যে দুই পাহাড় পরিমাণ সাওয়াব দান করেন তার বিবরণ ১ উল্লেখিত ফযীলত ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যে আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশায় উক্ত আমল করবে; লোক দেখানো, খ্যাতি লাভ বা কোন অধিকার আদায়ের জন্য যাবে না ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির জানাযার সালাতে একশ জন মুসলিম উপস্থিত হলে এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করলে, মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন ১ কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার সালাত ৪০ জন ব্যক্তি আদায় করলে এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করলে মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন ১ দাফনকৃত ব্যক্তির কবরের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ যার জানাযার সালাত ছুটে যাবে, তার জন্য বৈধ আছে কবরস্থ করার পর কবরের উপর সালাত আদায় করা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ ইলমে হাদীসে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেনি এবং সঠিক উৎস থেকে ইলমে হাদীস গ্রহণ করেনি, এমন ব্যক্তি যেই হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে কবরের উপর সালাত আদায় করা নাজায়েয মনে করে ১ যে হাদীস প্রমাণ করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কবরের উপর সালাত আদায় করার কারণ এটা ছিল না যে, তিনি এককভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করবেন; এটা উম্মতের অন্যান্যদের জন্য প্রযোজ্য নয় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি সুলাইমান আশ শায়বানী এককভাবে বর্ণনা করেছেন- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই কারণে কবরের উপর সালাত আদায় করা বৈধ ১ কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও গতরাতে দাফনকৃত কবর হয় ১ মানুষের জন্য বৈধ রয়েছে যখন তারা কবরের উপর সালাত আদায় করবে, তখন তারা ইমামের পিছনে কাতারবদ্ধ হবে ১ যেই হাদীস কোন কোন আলেমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আত্নহত্যাকারী ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়া জায়েয নেই ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ব্যভিচার করার কারণে যাকে প্রস্তরাঘাতে মারা হয়েছে, এমন ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়া হবে না ১ কোন ব্যক্তি আহত হওয়ার পর আত্নহত্যা করলে, ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তার জানাযার সালাত আদায় না করা ১ অন্য দেশে অনুপস্থিত মৃত ব্যক্তির জন্য গায়েবানা জানাযার সালাত আদায় করা জায়েয ১ যখন কোন ব্যক্তি ভিনদেশে মারা যাবে, তখন তার জন্য জামা‘আতে সালাত আদায় করা বৈধ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদশা নাজাশীর জানাযার সালাত পড়েছিলেন, যেদিন বাদশা নাজাশী মারা গিয়েছিলেন ১ কোন ব্যক্তি ভিনদেশে মারা গেলে, তার জন্য জানাযার সালাত আদায় করা বৈধ ১ যিনি নিজ দেশে মারা গিয়েছিলেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় তার জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন, তার নামের বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদশা নাজাশীর জানাযার সালাত পড়েছিলেন, যেদিন বাদশা নাজাশী মারা গিয়েছিলেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষদের কাছে নাজাশীর মৃত্যুসংবাদ দিয়েছিলেন সেই দিনেই, যেদিন বাদশা নাজাশী মারা গিয়েছিলেন ২ (১৪) দাফন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি জানাযার অনুগামী হবে তখন জানাযা না রাখা পর্যন্ত বসা নিষেধ ১ জানাযা উপস্থিত হলে জানাযা না রাখা পর্যন্ত না বসা মুস্তাহাব ১ জানাযার বিদায়দানকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো মৃত ব্যক্তিকে বগলী কবরে না রাখা পর্যন্ত না বসা ১ যেসব জিনিস জানাযার অনুগামী হয় অতঃপর সেখান থেকে যা ফিরে আসে আর যা তার সাথে থেকে যায় ১ আমরা যে হাদীস বর্ণনা করলাম তার শব্দ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ১ যখন কোন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখবে, তখন কী বলবে তার বিবরণ (আমরা আল্লাহর কাছে সেই সময়ের বারাকাহ চাচ্ছি) ১ যখন কোন ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখবে, তখন বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব ১ (১৫) কবরে মৃত ব্যক্তির বিভিন্ন অবস্থা - মুসলিম ও কাফির ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানোর আগে তারা জানতে পারে যে, পরবর্তীতে তাদের উপর ভালো প্রতিদান নাকি শাস্তি- কী নেমে আসবে মর্মে হাদীস ১ নিশ্চয়ই কবরের আযাব থেকে এই উম্মতের কেউ পরিত্রাণ পাবে না (আমরা আল্লাহর কাছে এর থেকে উত্তম নিরাপত্তা চাই) ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন সেটি পচে-গলে না যাওয়া পর্যন্ত কোন নড়াচড়া করে না- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মৃত ব্যক্তি চাই সে মুসলিম হোক অথবা কাফির, তাকে কবরে পরীক্ষা করা হবে ১ কবরে মানুষকে প্রশ্ন করা হবে এমন অবস্থায় যে, সেসময় তাদের জ্ঞান ঠিক থাকবে; এমন নয় যে, তাদের প্রশ্ন করা হবে আর তাদের জ্ঞান বিলুপ্ত থাকবে ১ মুসলিম ব্যক্তিকে যখন কবরে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন সেটা দিনের মতো মনে হবে এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় থাকবে ১ যে দুইজন ফেরেস্তা প্রশ্ন করবেন, তাদের নামের বিবরণ (মহান আল্লাহ আমাদেরকে অনুগ্রহ করে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় অটল রাখুন) ১ মুনকার ফেরেস্তার প্রশ্নের সময় মৃত ব্যক্তি কবরের পাশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের পদধ্বনি শুনতে পান (আমরা মহান আল্লাহর কাছে সেই সময় দৃঢ় থাকার জন্য প্রার্থনা করছি) ১ যে ব্যক্তি কবরের আযাবকে অস্বীকার করে তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুসলিম ও কাফির ব্যক্তি মুনকার ও নাকীর ফেরেস্তার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর কী করবে তার বিবরণ ১ কাফির ব্যক্তিকে কবরে যে আযাব দেওয়া হবে তার কিছু আযাবের বর্ণনা সম্পর্কে হাদীস ১ যে বিশালাকার সাপ কাফির ব্যক্তির কবরে চাপিয়ে দেওয়া হবে তার বিবরণ সম্পর্কে হাদীস ১ দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য যে বিলাপ করা হয় সেজন্য কবরে মৃত ব্যক্তির আযাব হয় মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফিরদের কবরের আযাব শুনানো হয়েছিল মর্মে বর্ণনা ১ মানুষকে কবরে শাস্তি দেওয়া হলে সেটা চতুষ্পদ প্রাণী শুনতে পায় ১ যেই কারণে মৃত ব্যক্তির কবরের আযাব মানুষ শুনতে পায় না তার বিবরণ ১ পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে না থাকার কারণেও কোন কোন সময় কবরের আযাব হয় মর্মে হাদীস ১ কবরের আযাব কোন কোন সময় চোগলখুরি করার কারণেও হয়ে থাকে মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো পরকালে কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকা ১ কবরবাসীকে দিনে দুইবার তার ঠিকানা তার সামনে পেশ করা হয়, যেখানে সে বসবাস করবে মর্মে বর্ণনা ১ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইচ্ছা করেছিলেন তাঁর রবের নিকট দোয়া করতে, যাতে তিনি তাঁর উম্মতকে কবরের আযাব শোনাতে পারেন ১ যেই হাদীস কোন কোন শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, যার জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে মৃত্যুর পর শাস্তি দেওয়া হয় ১ এই হাদীস কাফিরদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে; মুসলিমদের উদ্দেশ্যে নয় মর্মে বর্ণনা ২ অনভিজ্ঞ ব্যক্তি উক্ত সাধারণ হাদীসের ব্যাখ্যায় ভুল করে থাকে, সেটাকে স্পষ্টকারী দ্বিতীয় হাদীস ১ পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তির শাস্তি হয় মর্মে যে বক্তব্য, এর দ্বারা কাফির ব্যক্তি উদ্দেশ্য; মুসলিম মৃত ব্যক্তি নয় ১ দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য যে বিলাপ করা হয়, সেজন্য কবরে মৃত ব্যক্তির আযাব হয় মর্মে বর্ণনা ১ মেরুদন্ডের নিম্নাংশের টেলবোন ব্যতিত মানব দেহের পুরো শরীর সত্তা নিঃশেষ হয়ে যাবে মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, মানুষ মরে গেলে তার পুরো শরীর সত্তা নিঃশেষ হয়ে যায়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আদম সন্তানের মেরুদন্ডের নিম্নাংশের যেই টেলবোন ব্যতীত পুরো শরীর সত্তা ধ্বংস হয়ে যাবে, সেই অংশটুকুর পরিমাণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ (১৬) বিলাপ-আহাজারী এবং এই জাতীয় কার্যকলাপ সম্পর্কে বর্ণনা ১ আমরা হাদীসের যে সংখ্যা বর্ণনা করেছি, এর দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য নেননি মর্মে বর্ণনা ১ কিয়ামতের দিন বিলাপকারিনীর শাস্তির বিবরণ ১ বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে, সেসময় কোন নারী কর্তৃক অপরাপর নারীদেরকে কান্নায় সহযোগিতা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ২ ব্যাপক অর্থে এই ধরণের কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদীস ১ মৃতদের জন্য নারীদের বিলাপ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ২ মুসিবতে নিপতিত হয়ে গালে আঘাত করা, জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় চিৎকার করা নিষেধ ১ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে সে সময় মেয়েদের মাথার চুল মুন্ডন করা, বা উচ্চ আওয়াজে বিলাপ করা অথবা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা নিষেধ ২ উক্ত নিষিদ্ধ কাজকে ব্যাখ্যাকারী হাদীস ১ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে সে সময় যে ব্যক্তি জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় সান্ত্বনা দিবে, তাকে মন্দ কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে সে সময় যে ব্যক্তি বিরাগভাজন হওয়ার দিকে গমন করে, তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অভিসম্পাত করণ ১ বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করার সময় নারীদের কান্না করা নিষেধ ১ বিপদাপদের সময় যেই ধরণের কান্না করা নিষেধ তার বিবরণ ১ যদি বিলাপ না করা হয় তবে নারীদের জন্য জায়েয রয়েছে মৃত ব্যক্তির জন্য কান্না করা ১ সন্তান বা নাতি মৃত্যুবরণ করার কারণে কান্না করা জায়েয, যদি তাকদীরের ফায়সালার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে কান্না করা না হয় ১ বিপদাপদ দ্বারা পরীক্ষা করা হলে মানুষ জবান দ্বারা যা বলে, সেজন্য পাকড়াও করা হবে; অন্তরের দুঃখ ও চোখের অশ্রুর কারণে পাকড়াও করেন না ১ যদি কোন ব্যক্তিকে বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় অতঃপর এমন কিছু বলে যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, তবে তাকে এই বিপদাপদের জন্য সাওয়াব দেওয়া হয় না ১ কোন ব্যক্তিকে বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে, যদি সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে এমন কিছু সম্পাদন করে, যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, সেই ব্যক্তির প্রতি কঠোরতা ১ (১৭) বিভিন্ন কবর সম্পর্কিত বর্ণনা - কবর পাকা করা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা ১ কবরের উপর স্থাপনা নির্মাণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ কবরের উপর লেখা-লেখি করা নিষেধ ১ কবরবাসীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন বশত তার উপর বসা নিষেধ ১ জরুরী সময়ে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া মুসলিমদের কবরের উপর বসা নিষেধ ১ মৃত ব্যক্তিকে কষ্ট দেওয়া বিশেষত শারীরিক কোন কষ্ট না দেওয়ার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মুস্তাহাব ১ (১৮) কবর যিয়ারত করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - পুরুষদের জন্য মৃত ব্যক্তির কবর যিয়ারত করা বৈধ ১ কবর যিয়ারত করার নির্দেশ, কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ১ জুতা নিয়ে কবরস্থানে প্রবেশ করা নিষেধ ১ গোরস্থানে প্রবেশকারী ব্যক্তির প্রতি নির্দেশ হলো তিনি কবরবাসীর প্রতি সালাম প্রদান করবেন, এটা ঐ ব্যক্তির মতের বিপরীত যেই এর বিপরীত হুকুম প্রদান করে ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, গোরস্থানে প্রবেশ করলে عَلَيْكُمُ السَّلَامُ বলতে হয় السلام عليكم নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি গোরস্থানে প্রবেশ করবে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি নিজের ও গোরস্থানবাসীর জন্য নিরাপত্তা চাইবে (আমরা আল্লাহর কাছে সেই অবস্থায় বারাকাহ প্রার্থনা করছি) ১ যেই হাদীস দিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি এই মর্মে দলীল গ্রহণ করে যে, মুসলিমদের কর্তৃক মুশরিকদের কবর যিয়ারত করা বৈধ ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখিত কাজ করেছেন ১ আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে; বিস্তারিত বর্ণিত হয়নি ১ কবর যিয়ারতকারিণী মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যদিও তিনি উৎকৃষ্ট মর্যাদাশীল নারী হয়ে থাকেন ১ কবর যিয়ারতকারিনী মহিলাদের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অভিসম্পাত করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কবরের উপর বাতি ও মাসজিদ নির্মাণকারিনীদের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অভিসম্পাত করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কবরের উপর বাতি, মাসজিদ নির্মাণ এবং কবর যিয়ারত করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ ও ছবি অঙ্কন করা নিষেধ মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি নাবীদের কবরসমূহকে মাসজিদ বানায়, তার প্রতি আল্লাহর লা‘নত ১ (১৯) শহীদ সম্পর্কে বর্ণনা - শহীদদেরকে যদি তাদের শাহাদাতবরণ করার স্থান থেকে স্থানান্তরিত করা হয়, তবে তাদেরকে সেই স্থানেই ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ১ শহীদদেরকে শাহাদতবরণ করার জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ, যাতে তাদেরকে অন্যত্র দাফন করা না হয় ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আহত হয়ে তার সেই আহত অবস্থায় মারা যায়, তার জন্য শাহাদাত সাব্যস্ত করা সম্পর্কে বর্ণনা ১ যেই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শাহাদতবরণ না করেও শহীদের মর্যাদা পেতে পারে তার বিবরণ ১ আল্লাহর রাস্তায় নিহত না হয়েও যে ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পেতে পারে, তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নেননি মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “শহীদ পাঁচ প্রকার” দ্বারা উক্ত সীমিত সংখ্যা দ্বারা অন্য সংখ্যাকে নাকচ করা উদ্দেশ্য নেননি মর্মে বর্ণনা ১ যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে একজন ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও শহীদি মর্যাদা পেতে পারে তার বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে শাহাদত কামনা করবে, মহান আল্লাহ তাকে অনুগ্রহ করে শাহাদাতের প্রতিদান দান করবেন, যদিও সে বিছানায় মারা যায় ১ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শাহাদত কামনা করবে, তাকে আল্লাহ শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিবেন, যদিও বিছানায় তার মৃত্যু হয় ১ সম্পদের কারণে যাকে সীমালঙ্ঘন করে হত্যা করা হয়, তার জন্য আল্লাহ অনুগ্রহ করে শাহাদত লিপিবদ্ধ করে দেন ১ যে ব্যক্তি নিজের সম্পদের জন্য নিহত হয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব ও সে শাহাদতের মর্যাদা লাভ করে, চাই সে সম্পদ রক্ষার্থে লড়াই করুক অথবা না করুক ১ যেই হাদীস কোন কোন আলেমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, ইবনু উয়াইনার হাদীসটির সানাদ হয়তো বিচ্ছিন্ন ১ আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত ব্যক্তি যদি স্বীয় অস্ত্রের আঘাতে মারা যান, তার জন্য শাহাদত সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে বর্ণনা ১ জিহাদে যারা শহীদ হবেন, তাদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো তাদের রক্তগুলো ধুয়ে ফেলা হবে না এবং তাদের জানাযার সালাত আদায় করা হবে না ১ যেই হাদীস পুর্বে উল্লেখিত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের সাথে বাহ্যত বিরোধপূর্ণ ১ উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে কাজটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময়ে করেছিলেন, তার বিবরণ ১ (৯) কিতাবুস সালাতের পরিপূরক কিতাব - (৩৫) কা‘বায় সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কা‘বার ভিতরে সালাত আদায় করার প্রমাণ সম্পর্কিত বর্ণনা ১ কা‘বার ভেতরে যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন, তার বিবরণ ১ কাবা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকে শ্রবণ করেছিলেন মর্মে বর্ণনা ১ কাবা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দুই খুঁটির মাঝে সালাত আদায় করেছেন, সেই খুঁটি দুটি সামনের দুই খুঁটি ছিল ১ কাবা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই খুঁটির মাঝে যে সালাত আদায় করেছেন, সেখানে তাঁর দাঁড়ানোর বিবরণ ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত নাফে‘ রহিমাহুল্লাহ বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা‘বার ভিতরে সালাত আদায় করেছিলেন, তখন তাঁর ও দেওয়ালের মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল, তার বিবরণ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কা‘বা ঘরে সালাত আদায় করার বিষয়টিকে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কর্তৃক নাকচ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যে কর্ম উল্লেখ করলাম সেটাকে নাকচকারী স্পষ্ট দ্বিতীয় হাদীস ১
১১. কিতাবুয যাকাত (كتاب الزكاة)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন (১) হালাল উপায়ে সম্পদ জমা করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাসআলা - সম্পদ খরচ না করে ধরে রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা, কেননা আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ করা থেকে বিরত থাকে ১ ব্যক্তির জন্য হালাল পন্থায় উপার্জিত সম্পদ জমা করা জায়েয, যখন সে সম্পদের হক আদায় করবে ১ ব্যক্তির জন্য হালাল পন্থায় উপার্জিত সম্পদ জমা করা জায়েয, যখন সে সম্পদে আল্লাহর হক আদায় করবে ১ হাদীসের জ্ঞানে অপরিপক্ক ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হালাল পন্থায় সম্পদ জমা করা জায়েয নেই ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিম ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীস হয়তো আমাদের উল্লেখিত আবূ সালামার হাদীসের বিপরীত ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেছিলেন, তার বিবরণ ১ যেসব শর্তসাপেক্ষে একজন ব্যক্তি সম্পদ গ্রহণ করলে, তাতে বারাকাহ দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিবরণ ১ যখন কোন ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে আল্লাহর হক আদায় করবে, তখন তার উপর আর কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না, তবে সে যদি নফল দান করে, সেটা ভিন্ন কথা ১ যে ব্যক্তি ইলমে হাদীসের জ্ঞান মজবূতভাবে অর্জন করেনি, তাকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ সোনা ও রুপার গোলাম হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ বয়স ও সম্পদের প্রতি ভালবাসা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (মহান আল্লাহ আমাদেরকে এসবকে ভালবাসা থেকে রক্ষা করুন, তবে সেই আয়ু ও সম্পদ ব্যতিত, যা আমাদেরকে আল্লাহর কাছে দিতে সহায়ক হয়) ১ মহান আল্লাহ সম্পদকে আদম সন্তানের জন্য সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট করে দিয়েছেন ১ দুনিয়াতে যখন সম্পদের প্রাচুর্য প্রদান করা হবে, তখন মানুষের জন্য আবশ্যক হলো দুনিয়া ও তার বিপদ থেকে নিজেকে হেফাযত করা ১ সম্পদ কোন কোন সময় এই উম্মতের জন্য ফিতনার কারণ হয়ে যায় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের ব্যাপারে সম্পদের প্রাচুর্যতা ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন (মন্দ) কাজ করার আশংকা করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ নশ্বর দুনিয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশংকা ১ দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশংকা ২ মানুষ যে সম্পদ ন্যায় সঙ্গতভাবে গ্রহণ করে, তার বিবরণ ১ (২) লোভ-লালসা ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা - সম্পদ ও সম্মানের ব্যাপারে লোভ-লালসা থেকে দুরে থাকা জরুরী, কেননা এই দুটি জিনিস মানুষের দ্বীনকে নষ্ট করে দেয় ১ মানুষের বয়স যত বাড়ে, দুনিয়ার ব্যাপারে লোভ-লালসা তত বাড়ে তবে সেসব ব্যক্তি ছাড়া, যাদেরকে মহান আল্লাহ হেফাযত করে ১ বয়স্ক লোকদের মাঝে মহান আল্লাহ নশ্বর দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত লোভ-লালসা সৃষ্টি করে দেন ১ আদম সন্তানের মাঝে মহান আল্লাহ দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত লোভ-লালসা সৃষ্টি করে দেন, যদিও এই দুনিয়া নশ্বর এবং নোংরা ১ আমরা যে সম্পদের কথা বর্ণনা করলাম, সেটার যে হুকুম, খেজুর গাছের ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য ২ আমরা যে খেজুর গাছের কথা বর্ণনা করলাম, সেটার যে হুকুম, অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রেও আদম সন্তানের একই অবস্থা হয়, তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করে সে ছাড়া ১ যদি কোন ব্যক্তিকে এক উপত্যকা ভর্তি স্বর্ণ দেওয়া হয়, সেই ব্যক্তির হুকুম পূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তির মতই ১ সম্পদ বেশি কামনা করার ক্ষেত্রে দুই উপত্যকা ও এক উপত্যকার হুকুম একই ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “যদি আদম সন্তানের দুই উপত্যকা ভর্তি স্বর্ণ থাকে, তবুও সে তৃতীয় উপত্যকা ভর্তি স্বর্ণ কামনা করবে” এর ব্যাখ্যা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো অবৈধ পন্থায় জীবিকা উপার্জনে চেষ্টা না করা ১ রিজিক অন্বেষনে উত্তম পন্থা পরিহার করার সাথে সাথে রিযিককে দুরবর্তী মনে করা নিষেধ ১ যেই কারণে রিযিক অন্বেষনে সুন্দর পন্থা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ ১ মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো রিযিককে দুরবর্তী মনে না করা, সাথে সাথে হারাম বর্জন করে হালাল জীবিকা উপার্জনে অগ্রগামী হওয়া ১ রিযিক অন্বেষেনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা না করা ওয়াজিব হওয়া মর্মে হাদীস ১ যেই হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের বিপরীত ১ মানুষ যে সম্পদ রেখে মারা যায়, সেই সম্পদ সম্পর্কে বর্ণনা ১ (৩) যাকাতের ফযীলত - যে ব্যক্তি সালাত আদায় করা এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখার সাথে সাথে যাকাত প্রদান করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ ইমাম শু‘বা রহিমাহুল্লাহ এই হাদীসটি উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মাওহাব এবং তার বাবা উভয় থেকে শ্রবণ করেছেন ১ জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে সাথে সাথে অন্যান্য সমস্ত ফরয পালন করে এবং কাবীরাহ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে ১ সাদাকাহ করার কারণে সম্পদ কমে না বরং বাড়ে মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি তার গবাদি পশুর যাকাত আদায় করে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রভুত সাওয়াব দান করবেন ১ (৪) যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীর ব্যাপারে হুশিয়ারী - আল্লাহর ফরয বিধান পালনে কার্পণ্যতা আর আল্লাহর শত্রুদের সাথে যুদ্ধে ভীরুতা প্রদর্শন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মুসলিম ব্যক্তির হৃদয়ে ঈমান ও কৃপণতা একত্রিত না হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী ও হিজরতের পর কোন বেদুঈন মুরতাদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিসম্পাত ১ যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার শাস্তির বিবরণ ১ যে ব্যক্তি সম্পদে আল্লাহর হক আদায় করে না, তাকে কিয়ামতের দিন যা শাস্তি দেওয়া হবে তার বিবরণ ১ সেসব প্রাণীরা কিয়ামতের দিন তাদের মালিককে পদদলিত করবে, মালিক যাদের আল্লাহর হক আদায় করেনি ১ পুর্বে উল্লেখিত হাদীসে যে ভাল কাজ ও হক এর কথা বলা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফরয যাকাত; নফল দান উদ্দেশ্য নয় ১ যে ব্যক্তি পেছনে গুপ্তধন রেখে মারা যায়, কিয়ামতের দিন তার কী শাস্তি হবে তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি পেছনে গুপ্তধন রেখে মারা যাবে, কিয়ামতের দিন সে তার থেকে আশ্রয় চাইবে ১ যাকাত আদায় না করে সম্পদ জমাকারীর জন্য জাহান্নামের আগুনে শাস্তির বিবরণ (আল্লাহর কাছে আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে পানা চাই) ১ আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই বক্তব্য তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শ্রবণ করেছিলেন; এটা তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেননি ১ পুর্বে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, সেটা ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না; যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে, তার ক্ষেত্রে এসব প্রযোজ্য নয় ১ যেই হাদীস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, যেই সম্পদ জমা করলে, জমাকারীর জন্য পরকালে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি অবধারিত, সেটা সেই সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে সম্পদের যাকাত আদায় করা না, যদিও সেই সম্পদ প্রকাশ্য থাকে; আর যেই সম্পদের যাকাত আদায় করা হয়, কানযের (ধনভাণ্ডার) অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সেটা গুপ্তধন হয় ১ যেই হাদীস, হাদীস বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু বরণ করে এমন অবস্থায় যে, সে এই নশ্বর দুনিয়ার স্বর্ণ রেখে গিয়েছে, তবে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত ১ দ্বিতীয় হাদীস শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো মৃত্যু বরণ সময় পরবর্তী লোকদের জন্য কোন কিছু না রেখে যাওয়া ১ আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই সাহাবীর ব্যাপারে বলেছেন ‘দুটি সেক দেওয়ার মাধ্যম’ এবং ‘তিনটি সেক দেওয়ার মাধ্যম’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য নাছোড়বান্দা হয়ে মানুষের কাছে ভিক্ষাবৃত্তি করতো ১ (৫) যাকাত ফরয হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা - চতুষ্পদ প্রাণীতে ফরয যাকাতের বিস্তারিত বিবরণ ১ গবাদি পশুকে যাকাত আদায় করার জন্য তাদের পানি পান করার জায়গা থেকে উসূলকারীর নিকটে নিয়ে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ আল্লাহর বাণী “আপনি তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে পবিত্র করবে এবং এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন” এটাকে ব্যাখ্যাকারী হাদীসসমূহ ১ যাকাতের ক্ষেত্রে যে বয়সের উট ফরয হয়, তার চেয়ে বেশি বয়সের উট গ্রহণ করা জায়েয, যদি উটের মালিক, তা খুশি মনে প্রদান করে ১ শাসকদের জন্য যাকাত আদায় করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ সওয়ারের জন্তু ও দাসে যাকাত ওয়াজিব নয় মর্মে বর্ণনা ১ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য, “দাসেও কোন সাদাকাহ বা যাকাত নেই” এর দ্বারা সব ধরণের সাদাকাহ উদ্দেশ্য নয় ১ কোন প্রজার সম্পদের যাকাতের জামিন হওয়া ইমামের জন্য বৈধ ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো যাকাত প্রদানকারীর জন্য দুআ করা ১ (৬) উশর (উৎপাদিত ফসলে এক-দশমাংশ যাকাত দেওয়া) প্রসঙ্গে বর্ণনা - যে ব্যক্তি মনে করে যে, উৎপাদিত ফসল কম হোক অথবা বেশি হোক তাতে যাকাত দিতে হবে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে জমি থেকে উৎপাদিত অল্প পণ্যেও উশর দিতে হবে যেভাবে বেশি পণ্যে উশর দিতে হয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আমরা যে পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কথা বর্ণনা করলাম, কারো শষ্য সেই পরিমাণ পৌঁছলে, কী পরিমাণ সাদাকাহ ওয়াজিব হবে, তার বিবরণ ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো অনুমানকারীদের পাঠিয়ে লোকদের খেজুর ও আঙ্গুর অনুমান করা ১ অনুমানকারী খেজুরের ক্ষেত্রে যেভাবে অনুমান করে অনুরুপভাবে আঙ্গুরের ক্ষেত্রেও অনুমান করবে মর্মে বর্ণনা ১ অনুমানকারীর প্রতি নির্দেশ হলো যখন তিনি এক-দশমাংশ বা বিশ ভাগের এক ভাগ ওশর গ্রহণ করবেন, তখন মালিকের খাওয়ার জন্য জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ তাজা খেজুর ছেড়ে দেওয়া ১ জমিন থেকে কী পরিমাণ শষ্য উৎপাদিত হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে মর্মে হাদীস ১ এক ওয়াসাকের পরিমাণ কতো, যেখানে পাঁচ ওয়াসাক শষ্য জমিন থেকে উৎপাদিত হলে, তাতে যাকাত ওয়াজিব হয়- তার বিবরণ ১ হাদীসে উল্লেখিত সা‘ দ্বারা উদ্দেশ্য মাদীনার সা‘; পরবর্তীতে আবিস্কৃত অন্যান্য সা এখানে উদ্দেশ্য নয় ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, এক সা‘ সমান পাঁচ রতল ও এক রতলের এক-তৃতীয়াংশ, যেমনটা হিজায ও মিসরের উলামাগণ বলেছেন ১ বৃষ্টির পানি বা এই জাতীয় পানির মাধ্যমে উৎপাদিত শষ্য ও সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত শষ্যে উশরের হুকুম ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি ইউনুস ইমাম যুহরী থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ খেজুর ও শষ্যে সাদাকাহে এক-দশমাংশ ওয়াজিব হবে, যদি তা প্রাকৃতিম পানির মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, আর যদি তা কোন বাহন বা যান্ত্রিক সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় তাহলে বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে ১ বাগানের মালিকদের প্রতি নির্দেশ হলো প্রতিটি বাগানের থেকে এক থোকা করে খেজুর গরীব-মিসকীনদের জন্য মসজিদে ঝুলিয়ে রাখবে ১ যেই বাগানে ১০ ওয়াসাক পরিমাণ খেজুর উৎপাদিত হয়, সেই বাগানের মালিকের প্রতি নির্দেশ হলো তিনি সেখান থেকে এক থোকা খেজুর গরীব-মিসকীনদের জন্য মাসজিদে ঝুলিয়ে রাখবেন ১ (৭) যাকাত বন্টনের খাতসমূহ ১ মানুষের সাবলম্বী থাকার কোন সময়সীমা নেই মর্মে বর্ণনা ১ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশের লোকদের জন্য ফরয যাকাতের মাল ভক্ষন করা নিষেধ ২ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথা বলেছিলেন, তার বিবরণ ১ হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাদাকার খেজুর মুখে দেওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মুখে দিয়ে তা বের করেন ২ সাদাকার মাল ভক্ষন করা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে মুত্তালিব ও হাশিমের সন্তানগণ সমান মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো লোক চক্ষুর আড়ালে থাকা দরিদ্র লোকদের খুঁজে তাদেরকে সাদাকাহ প্রদান করে আর যাদেরকে জিজ্ঞেস না করলে নিজে থেকে মানুষের কাছে চায় না ১ (৮) সাদাকাতুল ফিতর প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ এক সা‘ যব বা এক সা‘ খেজুর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ পুর্বে বর্ণিত ব্যাখ্যাহীন হাদীসকে ব্যাখ্যাকারী হাদীস, যা ব্যাখ্যা করে যে, সাদাকাতুল ফিতর কেবল মুসলিমদের উপর ফরয; কাফেরদের উপর নয় ১ হাদীসে মুসলিমের কথা ইমাম মালিক বিন আনাস রহিমাহুল্লাহ এককভাবে বলেননি মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ আমরা যেদিকে ইঙ্গিত করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে তৃতীয় হাদীস ১ এক সা‘ পনির সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য ‘এক সা‘ খাদ্য দ্রব্য’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক সা‘ গম ১ কোন ব্যক্তির জন্য এক সা‘ কিসমিস সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েয ১ (৯) নফল সাদাকাহ ১ সাদাকাহ মহান প্রভুর ক্রোধকে প্রশমিত করে দেয় মর্মে বর্ণনা ১ একজন ব্যক্তির প্রদত্ত সাদাকাহ কিয়ামতের দিন তার জন্য ছায়া হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ অল্প পরিমাণ সাদাকাহ করার মাধ্যমে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বর্ণনা (আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই) ১ সুস্থ্, ব্যয়কুন্ঠ ব্যক্তি, যিনি দারিদ্রের ভয় করে, দীর্ঘায়ূ প্রত্যাশী ব্যক্তির দান উত্তম সেই ব্যক্তির চেয়ে যে যার অবস্থা এরকম নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাদাকাহ কারীকে যুদ্ধে ঢাল পরিধানকারীর সাথে দৃষ্টান্ত পেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাদাকাহ কারীকে দীর্ঘ হাতের সাথে দৃষ্টান্ত পেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাদাকাহ কারীকে দীর্ঘ হাতের সাথে দৃষ্টান্ত পেশ ১ সাদাকাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ঘোড়ার বাচ্চা প্রতিপালন করে বড় করার সাথে দৃষ্টান্ত পেশ ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আবুল হুবাব এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুসলিম ব্যক্তির দানকে মহান আল্লাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন, যাতে তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণভাবে প্রতিদান দিতে পারেন মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি সাঈদ আল মাকবূরী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ এই হাদীসগুলো উপমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার সাথে মানুষ সুপরিচিত, এর ধরণ বর্ণনা করা যাবে না বা এটাকে বাস্তবিক বিবেচনা করা যাবে না মর্মে হাদীস ২ পুরুষদেরকে অধিক পরিমাণে সাদাকাহ করার নির্দেশ ১ নারীদের অধিক পরিমাণে সাদাকাহ করার নির্দেশ ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের অধিক পরিমাণে সাদাকাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন ১ ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো এবং কাফিরদের হাত থেকে মুসলিম বন্দিদের মুক্তি করা ১ ইমাম যখন মুসলিমদের অভাব বুঝতে পারবেন, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো তিনি প্রজাদের কাছে সাদাকাহ আহবান করবেন ১ দুনিয়াতে দানকারীরা আখেরাতে উত্তম বিবেচিত হবে মর্মে হাদীস ১ মানুষের সেই সম্পদই বাকী থাকবে, যা সে কিয়ামত দিনের জন্য আগে প্রেরণ করে, যেদিন সে এর বড়ই মুখাপেক্ষী হবে এবং সেদিন সে এর মাধ্যমে উপকৃত হবে (মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেদিকে বারাকাহ দান করুন) ১ একজন মানুষের সম্পদ থেকে কোনটা সন্তানদের জন্য আর কোন তার পরকালের জন্য হবে ১ যে ব্যক্তি নিজের জন্য আগে যা পাঠিয়েছে এবং যা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছে, উভয় ক্ষেত্রে তার বিপরীত হওয়ার আশংকা করা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো পরকালের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া এবং দুনিয়ার যতটুকু সম্ভব নিজের জন্য আগে পাঠানো ১ মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো সে নশ্বর এই দুনিয়ার যা কিছু লাভ করবে, তা পরকালের জন্য অগ্রে পাঠানো ১ যে ব্যক্তি সাদাকাহ করে না, সে কৃপণ মর্মে বর্ণনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাদাকাহ কারীকে যুদ্ধে ঢাল পরিধানকারীর সাথে দৃষ্টান্ত পেশ ১ দানকারীর জন্য ফেরেস্তাগণ প্রতিবদলা প্রাপ্তি আর দান না করে সম্পদ ধারণকারীর জন্য ধ্বংসের দুআ মর্মে হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার সম্পদ থেকে যতটুকু সম্ভব দান করা ১ মুমূর্ষু অবস্থায় দান করার চেয়ে সুস্থ অবস্থায় দান করা উত্তম ১ যে ব্যক্তি জীবদ্দশায় সাদাকাহ না করে, মুমূর্ষু অবস্থায় সাদাকাহ করে, তার বিবরণ সম্পর্কে হাদীস ১ দুরবর্তীদের সাদাকাহ করার চেয়ে নিকটাত্নীয়দের সাদাকাহ করা উত্তম ১ সাদাকাহকারীর সাধ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণ সাদাকাহ করাও বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মু্স্তাহাব হলো দানের ক্ষেত্রে বাবা-মাকে অগ্রাধিকার দেওয়া তারপর পর্যায়ক্রমে নিকটবর্তী আত্নীয়কে প্রদান করা ১ সাদাকাহ করার ক্ষেত্রে অন্যের উপর নিকটাত্নীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো যখন সে সাদাকাহ করবে, তখন সে দুরের লোকদের আগে প্রথমে নিকটবর্তী লোকদের নিয়ে শুরু করবে ১ যে ব্যক্তি কোন কিছু দান বা খরচ করতে চায়, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি পর্যায়ক্রমে নিকটবর্তী লোকদের দ্বারা শুরু করবেন ২ নিকটাত্নীয়ের দান করা দাস মুক্ত করা অপেক্ষা উত্তম মর্মে বর্ণনা ১ রক্ত সম্পর্কীয় ব্যক্তিদের দান করলে, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সাদাকাহ করার সাওয়াবকে অন্তর্ভুক্ত করে ১ অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাদাকাহ হলো সেটাই যা স্বাবলম্বী অবস্থায় প্রদান করা হয় মর্মে বর্ণনা ১ অভাবী ব্যক্তির কাছে যা কিছু আছে, সেখান থেকে কিছু দান করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাদাকাহ ১ অঢেল সম্পদ থেকে প্রচুর দান অপেক্ষা অল্প সম্পদ থেকে সামান্য দান উত্তম ১ পানি পান করানো অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান ১ যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহর জন্য গোপনে দান করে অথবা গোপনে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে, তাকে মহান আল্লাহ ভালবাসেন ১ আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু চাওয়া হলে, যে ব্যক্তি গোপনে দান করে, তাকে আল্লাহ ভালবাসেন ১ যার অভাবী হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি জানা যায় না, দানের ক্ষেত্রে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব ১ যারা মানুষের কাছে সাহায্য তাদের চেয়ে, যারা মানুষের কাছে সাহায্য চায় না, দানের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো তার বন্ধু ও নিকটাত্নীয়ের পক্ষ থেকে সাদাকাহ করা, যখন সে মারা যায় ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বছরে তার অধিকারভুক্ত সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ করা ১ যে সাদাকাহ গ্রহণ করবে, তাকে সাদাকাহ প্রদান করা জায়েয, যদিও সে ব্যক্তি সেটা সাওয়াবের কাজ ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করে, যা সাদাকাহ প্রদানকারী ব্যক্তি প্রথমে জানতো না- এই মর্মে হাদীস ১ নারীর জন্য স্বামীর সম্পদ থেকে খরচ করা বৈধ, যদি এর কারণে কোন ফাসাদ তৈরি না হয় ১ যে নারী ফাসাদ সৃষ্টি না করে স্বামীর সম্পদ থেকে দান করে, তবে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে একটি সাওয়াব দান করেন, যেভাবে তার স্বামীর জন্য উপার্জন করার জন্য সাওয়াব রয়েছে, সেই নারীর জন্য নিয়তের কারণে সাওয়াব রয়েছে, অনুরুপভাবে সম্পদ হেফাযতকারী ব্যক্তির জন্যও সাওয়াব রয়েছে ১ যে সম্পদরক্ষক সাদাকাহকারীর সাথে সাওয়াবে অংশীদার হবে তার বিবরণ ১ মুনিবের সম্পদ থেকে দাসকে দান করার নির্দেশ আর সাওয়াব উভয়ের মাঝে আধা আধি হবে ১ কোন কোন সময় দান প্রদানকারী দান গ্রহণকারীর চেয়ে উত্তম বিবেচিত হয় ১ নিচু হাত হলো যেই হাত মানুষের কাছে সাহায্য চায়; সেই হাত নয় যা সাহায্য চাওয়া ছাড়াই কোন দান গ্রহণ করে মর্মে বর্ণনা ১ দান গ্রহণকারী হাতের চেয়ে দান প্রদানকারী হাত উত্তম ১ আমরা পূর্বের হাদীসের যে ব্যাখ্যা পেশ করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ সাদাকাহ করার সময় গুণে গুণে সাদাকাহ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ আত্নসাতের মাল থেকে সাদাকাহ করলে, তা কবূল করা হয় না ১ যদি সম্পদ হালালভাবে উপার্জন করা না হয়, তবে তা সাদাকাহ করার কারণে কোন সাওয়াব দেওয়া হয় না ১ কোন ব্যক্তি কোন বৃক্ষ রোপন করলে, যদি তার ফল থেকে কোন কিছু খেয়ে নেয়, তবে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে এর বদৌলতে সাদাকার সাওয়াব লিখে দেন ১ কোন মুসলিম ব্যক্তির উৎপাদিত ফল-ফসল থেকে পাখি ও হিংস্র প্রাণী কিছু খেয়ে নিলে, তাতে তার জন্য সাওয়াব রয়েছে ১ পুরো সম্পদ দান না করে কিছু দান করার নির্দেশ, কেননা এটিই উত্তম ১ যখন কোন ব্যক্তি দানের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চাইবে, তখন তার জন্য ওয়াজিব হলো পুরো সম্পদ দান না করে এক-তৃতীয়াংশ দান করার উপর সীমাবদ্ধ থাকা ১ কোন ব্যক্তি কর্তৃক পুরো সম্পদ দান করে অন্যের বোঝা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ সাহায্যপ্রার্থীর হাতে নিজ হাতে সাদাকাহ করার নির্দেশ ১ সাহায্যপ্রার্থীকে খালি হাতে ফেরত না দিয়ে উপস্থিত যে কোন কিছু দিয়ে বিদায় করার নির্দেশ ২ কোন দানকে অল্প জ্ঞান করা ও এমন দানকারীর ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ না করার জন্য নির্দেশ ১ (১০) যেসব আমলের ক্ষেত্রে সাদাকা করার হুকুম প্রযোজ্য হবে তার বিবরণ - যখন কোন ব্যক্তির সাদাকাহ করার সক্ষমতা না থাকবে, তখন সেই ব্যক্তির নিজের, পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে ২ যেসব আমলের মাধ্যমে নিঃস্ব ব্যক্তি সাদাকাহ করার সাওয়াব পাওয়া যাবে ১ কোন মুসলিম ব্যক্তি সাদাকাহ না করলেও উত্তম গুণাবলি/সৎকর্মের কারণে মহান আল্লাহ সাদাকাহ করার সাওয়াব লিখে দেন ১ কথা ও কাজের মাধ্যমে যে কোন ভালো কাজ করার কারণে মহান আল্লাহ সাদাকাহ করার সাওয়াব লিখে দেন মর্মে বর্ণনা ১ যেসব ভাল কাজের মাধ্যমে সাদাকাহ করার সাওয়াব হয় তার বিস্তারিত বিবরণ ১ যেসব কাজ করলে সাদাকাহ করার সাওয়াব লেখা হয়, তার বর্ণনা ১ (১১) দুনিয়াতে কাউকে অনুগ্রহ করে তা গণনা করে রাখা বৈধ ১ আল্লাহর জন্য দান করে যে ব্যক্তি খোটা দেয়, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না মর্মে বর্ণনা ১ ইলমে হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যেই হাদীস এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে এই হাদীসটির সনদ হয়তো বিচ্ছিন্ন ১ (১২) সাহায্য চাওয়া, সাহায্য গ্রহণ করা এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন: প্রতিবদলা দেওয়া, প্রশংসা করা, শুকরিয়া আদায় করা প্রভৃতি সম্পর্কিত বর্ণনা ১ পূর্বে বর্ণিত হাদীসের শব্দে আম বা সাধারণভাবে মানুষের কাছে না চাওয়ার নির্দেশটি মুস্তাহাব নির্দেশক; অবশ্য পালনীয় নয় মর্মে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ কাউকে স্বাবলম্বী করার পরেও কোন ব্যক্তি কর্তৃক নিজের জন্য ভিক্ষার দরজা খোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো মানুষের কাছে অধিক পরিমাণে না চাওয়া ১ নিরুপায় হলেও নাছোড় হয়ে ভিক্ষা চাওয়া নিষেধ ১ যেই কারণে একজন সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি নাছোড় ব্যক্তিতে পরিণত হয় ১ যে ব্যক্তি খাবারের অভাবে নয় বরং সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চায়, তার প্রতি নিষেধাজ্ঞা ১ স্বাবলম্বী ব্যক্তি কর্তৃক নশ্বর দুনিয়ার জিনিস মানুষের কাছে চাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ আমরা পূর্বের হাদীসের যে ব্যাখ্যা করেছি, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে হাদীস ১ কোন মানুষের কাছে যদি চলার মতো যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকে, তারপরেও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে, তবে সে এর মাধ্যমে জাহান্নামের অঙ্গারের সংখ্যাই বৃদ্ধি করে (আমরা আল্লাহর কাছে এর থেকে পানাহ চাই) ২ যেসব সীমিত (গণনাযোগ্য) অবস্থার কারণে মানুষের জন্য ভিক্ষা/চাওয়া বৈধ করা হয়েছে তার উল্লেখ ২ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত কবীসাহ বিন মুখারিক বর্ণিত হাদীসের বিরোধী ১ মানুষের প্রতি নির্দেশ হলো মাখলূকাতকে ছেড়ে আল্লাহর মাধ্যমে অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষীহীনতা অর্জন করবে, কেননা এ রকম ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহের মাধ্যমে মুখাপেক্ষীহীন করে দিবেন ১ যে ব্যক্তি মাখলূকাতকে ছেড়ে আল্লাহর মাধ্যমে অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষীহীনতা অর্জন করবে, মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে নিজ অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন করে দিবেন ১ যে ব্যক্তি মাখলূকাতকে ছেড়ে আল্লাহর মাধ্যমে অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষীহীনতা অর্জন করবে, মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে নিজ অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন করে দিবেন ১ এই দুনিয়ার নগণ্য কোন জিনিস সাহায্য চেয়ে কিংবা লোভাতুর হয়ে গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ এই দুনিয়ার নগণ্য কোন জিনিস লোভাতুর হয়ে গ্রহণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ নির্লোভ অবস্থায় না চাওয়াতেই কোন কিছু প্রদান করা হলে তা গ্রহণ করাতে কোন দোষ নেই ২ যদি না চাইতেই কাউকে এই নশ্বর দুনিয়ার কোন কিছু প্রদান করা হয়, তবে তা গ্রহণ করার নির্দেশ ১ নির্লোভ অবস্থায় কোন কিছু প্রদান করা হলে, তা গ্রহণকারীর প্রতি বারাকাহ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে বর্ণনা ১ কোন মানুষের প্রতি তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে ইহসান করা হলে, তার জন্য ওয়াজিব হলো সেটার শুকরিয়া আদায় করা ১ যার সাথে ভালো কিছু করা হয় তার প্রতি নির্দেশ হলো, প্রতিদান দেওয়া ২ মানুষের জন্য জরুরী হলো তার মুসলিম ভাইয়ের ভালো ও মন্দ উভয় ধরণের কাজের জন্য ভালো করা ১ মানুষের জন্য জরুরী হলে কেউ কোন অনুগ্রহ করলে, তার শুকরিয়া আদায় করতে কুন্ঠিত না হওয়া, চাই সে অনুগ্রহ কম হোক বা বেশি হোক ১ কেউ কারো জন্য ভালো কিছু করলে তার প্রশংসা করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি কারো জন্য ভালো কিছু করলে যদি তার প্রতিদান দেওয়ার সামর্থ না থাকে, তাহলে যে দুআ করলে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হয়ে যাবে তার বর্ণনা ১ কেউ কারো কোন অনুগ্রহ করলে, তার জন্য ওয়াজিব হলো তার শুকরিয়া আদায় করা ১ কোন ব্যক্তি ভালো কিছু করলে, তার প্রশংসা করা হলে সেটা তার ভালো কর্মের বদলা হয়ে যায় মর্মে বর্ণনা ১
১২. কিতাবুস সিয়াম (كتاب الصوم)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন (১) সিয়ামের ফযীলত - সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ বেশুমার প্রতিদান দান করবেন মর্মে বর্ণনা ১ আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম রাখার কারণে একজন ব্যক্তি সত্তর বছরের দূরে অবস্থান করে ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিরা এককভাবে রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে ১ প্রত্যেক ইবাদতের জন্য জান্নাতে কিছু দরজা আছে, যার দ্বারা তার অনুসারীদের ডাকা হবে; কিন্তু সাওমের জন্য শুধুমাত্র একটি দরজা আছে ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন তাদের সেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে, অতঃপর সেখান দিয়ে তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না ১ রাইয়ান নামক দরজাটি সিয়াম পালনকারী সর্বশেষ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করার পর বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে সেখান দিয়ে তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময় মর্মে বর্ণনা ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট কিয়ামতের দিন মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময় হবে মর্মে বর্ণনা ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ দুনিয়াতেও কোন কোন সময় মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময় হয় মর্মে বর্ণনা ১ সিয়ামের সমতুল্য আর কোন নফল আমল নেই মর্মে বর্ণনা ২ সিয়াম বান্দার জন্য জাহান্নাম থেকে ঢাল স্বরুপ, এর মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করবে ১ ইফতার করার সময় দুআ কবূল হওয়ার আশা করা যায় মর্মে বর্ণনা ১ সিয়াম পালনকারী কোন মুসলিম ব্যক্তিকে যে ব্যক্তি ইফতার করায়, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে সিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব দান করেন ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির নিকট যখন খাদ্য খাওয়া হয়, তখন খাবার শেষ না করা পর্যন্ত ফেরেস্তাগন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন ১ (২) রমজানের ফযীলত - যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন এবং রমজান মাস ফযীলতের ক্ষেত্রে সমান মর্মে বর্ণনা ১ ঈমানসহ ও সাওয়াবের আশায় সিয়াম পালনকারীর জন্য আল্লাহর ক্ষমা সাব্যস্ত করার ব্যাপারে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি রমযানের সীমারেখা জেনে রমযানের সিয়াম পালন করবে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন ১ রমযানে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্তকরণ, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধকরণ ও শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা সম্পর্কে বর্ণনা ১ রমযানে অবাধ্য-বিদ্রোহী শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়; অন্যদের নয় মর্মে বর্ণনা ১ রমযানের শেষ দশকে ভাল কাজে সচেষ্ট হওয়া মুস্তাহাব ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে রমযানের শেষ দশকে ইবাদতে সচেষ্ট হওয়া মুস্তাহাব ১ রমযান মাসে যে ব্যক্তি সালাত আদায় ও যাকাত আদায় করার পাশাপাশি দিনে সিয়াম রাখে ও রাতে কিয়াম করে, মহান আল্লাহ তাকে সিদ্দীক ও শহীদদের অন্তর্ভু্ক্ত লিপিবদ্ধ করেন ১ কোন ব্যক্তির এরকম বলা নিষেধ যে, আমি পুরো রমযান সিয়াম রেখেছি, কারণ সালাতে ত্রুটি সংঘটিত হতে পারে মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত অনুসরণে রমযানে মুসলিমদের উপর অনুগ্রহ ও দান করা মুস্তাহাব ১ (৩) নতুন চাঁদ দেখা - যখন মানুষের কাছে মেঘের কারণে চাঁদ না দেখা যায়, তবে শা‘বান মাস ৩০ দিন ধরার নির্দেশ ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা ধরে নিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ৩০ দিন ধরে নিবে মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা ধরে নিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ৩০ দিন ধরে নিবে মর্মে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো শা‘বান মাস ৩০ দিন গুণে রাখা তারপর রমযামের সিয়াম পালন করা ১ যখন মানুষের কাছে মেঘের কারণে চাঁদ না দেখা যায়, তবে শা‘বান মাস ৩০ দিন ধরার নির্দেশ ১ রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে যদি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়, তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি সিমাক বিন হারব এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তার মারফূ বর্ণনা সঠিক নয়- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, রমযান হয়তো ৩০ দিনের কম হয় না ২ দ্বিতীয় হাদীস যা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, মাস হয়তো ২৯ দিনে হয়; ৩০ দিনে হয় না! ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য "২৯ দিন" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোন কোন মাস; সব মাস নয় ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “২৯ দিন“ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোন কোন মাস; সব মাস নয় ১ দ্বিতীয় হাদীস সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোন কোন মাস ২৯ দিনে হয়; সব মাস নয় ১ মাস কোন কোন সময় ২৯ দিনেও হয় মর্মে বর্ণনা ১ কোন কোন সময় মাস পূর্ণ ৩০ দিনেও হয় মর্মে বর্ণনা ১ ঈদের চাঁদের ক্ষেত্রে একদল লোকের সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মেঘের কারণে যখন শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখা যাবে, তখন লোকদের জন্য জরুরী হলো রমযান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তবে তোমরা ৩০ দিন সিয়াম রাখবে”এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি তোমরা নতুন চাঁদ দেখতে না পাও ১ মেঘের কারণে যখন শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখা যাবে, তখন লোকদের জন্য জরুরী হলো রমযান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা ১ (৪) সাহারী খাওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ সাদা রেখা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আকাশের পূর্ব দিগন্তে আড়াআড়িভাবে উদিত উদ্ভাস ১ নিশ্চয়ই আরবের গোত্রভেদে ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাহারীকে বরকতময় প্রাতের খাবার হিসেবে অভিহিতকরণ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাহারীকে বরকতময় প্রাতের খাবার হিসেব অভিহিতকরণ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি সিয়াম রাখার ইচ্ছা করে, তাকে সাহারী খাওয়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সাহারী ভক্ষনকারীর জন্য ফেরেস্তাগণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি রাতে সাহারীর আযান শুনবে তার প্রতি নির্দেশ হলো সাহারী খাওয়া ৩ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে কারণে বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাতে আযান দিতেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ প্রথম শর্ত সাপেক্ষে যে কাজটি বৈধ করা হয়েছে, তা দ্বিতীয় শর্ত পাওয়া গেলে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি সিয়াম রাখতে চায়, তার জন্য মুস্তাহাব হলো খেজুর দ্বারা সাহারী খাওয়া ১ যে ব্যক্তি সাহারী খেতে চায়, তার প্রতি নির্দেশ হলো অন্তত পানি পান করে হলেও সাহারী খাওয়া ১ যেই কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার বিবরণ ১ (৫) সিয়ামের আদবসমূহ ১ সিয়ামের ক্ষেত্রে নূন্যতম যা থেকে বিরত থাকতে হয় তা হল পানাহার থেকে বিরত থাকা ১ শুধুমাত্র পানাহার ও স্ত্রী সংগম থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সিয়াম পরিপূর্ণ হয় না; বস্তুত নিষিদ্ধ জিনিসসমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সিয়াম পরিপূর্ণ হয় ১ আল্লাহর আনুগত্য নয়, এমন কথা ও কাজের মাধ্যমে সিয়ামকে ত্রুটিপূর্ণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যখন কোন সিয়াম পালনকারীর সাথে অজ্ঞতাপূর্ণ আচরণ করা হবে, তখন তার জন্য জরুরী হলো বলা যে, আমি সিয়াম রেখেছি ১ অজ্ঞতাপূর্ণ আচরণকারী ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির কথা “নিশ্চয়ই আমি সিয়াম রেখেছি” এটা মনে মনে বলবে; জবান দ্বারা নয় মর্মে হাদীস ১ আমরা যেদিকে ইঙ্গিত করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ (৬) জুনুবী (নাপাকী) ব্যক্তির সিয়ামের বর্ণনা ১ এই হাদীসটি আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফযল বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ তাদের বক্তব্য “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুনুবী অবস্থায় ভোর করেছেন, তারপর তিনি সিয়াম রেখেছেন।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গোসল করার পর এরকম করেছেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক এই নিষিদ্ধ কাজ সম্পাদন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ নিশ্চয়ই এরকম করা রমযান ও অন্যান্য মাসেও বৈধ করা হয়েছে, চাই সেটার কারণ স্ত্রী সংগম করা হোক অথবা স্বপ্নদোষ হোক ১ দ্বিতীয় হাদীস যা এই নিষিদ্ধ কাজ বৈধ হওয়ার উপর প্রমাণ করে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে তৃতীয় হাদীস ১ নিষিদ্ধ কাজটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য খাছ ছিল না; বরং এটি তাঁর ও উম্মত; সবার জন্যই খাছ ছিল ১ জুনুবী অবস্থায় ভোর করলে তার সিয়ামের বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ জুনুবী অবস্থায় ভোর করলে সেই দিন সিয়াম রাখার বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর জুনুবী গোসল করা এবং সেদিন সিয়ামের নিয়ত করা বৈধ ১ জুনুবী অবস্থায় ভোর হয়ে গেলে সেদিন সিয়াম রাখার বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান হয়তো হাদীসটি উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছ থেকে শ্রবণ করেননি ১ আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশাম রহিমাহুল্লাহ হাদীসটি সরাসরি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ও উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তিনি হাদীসটি তার বাবার মধ্যস্থতায়ও তাদের থেকে শ্রবণ করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি হয়তো আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারিস এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ নিষিদ্ধ কাজটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য খাছ ছিল না; বরং এটি তাঁর ও উম্মত; সবার জন্যই প্রযোজ্য ১ (৭) ইফতার করা ও দ্রুত ইফতার করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে কারণে সিয়াম পালনকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো দ্রুত ইফতার করা ১ মাগরিবের সালাতের আগে দ্রুত ইফতার করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো দ্রুত ইফতার করা, যদিও সেটা মাগরিবের সালাতের আগে হয় ১ যতদিন মানুষ দ্রুত ইফতার করবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের জন্য কল্যাণ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে বর্ণনা ১ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তারাই যারা দ্রুত ইফতার করে ১ সিয়াম পালনকারীর জন্য দ্রুত ইফতার করা মুস্তাহাব, এটা তাদের কথার বিপরীত যারা দেরিতে ইফতার করার নির্দেশ দেয় ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্রুত ইফতার করা পছন্দ করতেন ১ ‌‌যে ব্যক্তি সৎ কাজ করার ক্ষেত্রে সময়ের প্রতি লক্ষ্য করার জন্য বিভিন্ন উপায় ও উপকরণ ব্যবহার করাকে বাতিল সাব্যস্ত করে, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যখন কোন ব্যক্তি সিয়াম রাখবে, তার জন্য বৈধ রয়েছে ইফতারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা ১ সিয়াম পালনকারীর জন্য যেই সময়ে ইফতার করা বৈধ তার বর্ণনা ১ যখন সূর্য ডুবে যাবে, তখন সিয়াম পালনকারীর জন্য ইফতার করা বৈধ ১ সিয়াম পালনকারীর জন্য যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো খেজুর দিয়ে ইফতার করা, যদি খেজুর না পাওয়া যায়, তবে পানি দিয়ে ইফতার করা ১ (৮) সিয়াম কাযা করা প্রসঙ্গে - (একজন নারীর জন্য বৈধ রয়েছে, তার ফরয সিয়াম আগামী শা‘বান পর্যন্ত বিলম্বে কাযা করা) ১ যে ব্যক্তি নফল সিয়ামের নিয়ত করে অতঃপর তা ভঙ্গ করে, তাকে সেই সিয়াম কাযা করার নির্দেশ ১ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি কারীর উপর সিয়াম কাযা করা ওয়াজিব কিন্তু কারো অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে তার উপর সিয়াম কাযা করা ওয়াজিব নয় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি ভুল বশত পানাহার করে, তার জন্য সিয়াম কাযা করা জরুরী নয় মর্মে বর্ণনা ২ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ভুলবশত কোন কিছু খেয়ে নেয়, তার উপর কাযা বা কাফফারা কোন কিছু জরূরী নয় মর্মে বর্ণনা ১ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি ভুলবশত কোন কিছু পানাহার করলে তার জন্য বৈধ রয়েছে সিয়ামকে পূর্ণ করা, এতে তার কোন দোষ নেই ১ ৯ - কাফফারার বিধান ১ আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানে দিনে স্ত্রী সহবাসকারীকে দাস মুক্ত করার সামর্থ না থাকলে দুই মাস সিয়াম পালন করার, সিয়াম পালন করার সামর্থ না থাকলে ৬০ জন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়ানোর আদেশ করেছিলেন; এমন নয় যে তিনি এই তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন ১ প্রশ্নকারীর বক্তব্য “আমি স্ত্রী সংগম করেছি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রমযান মাসে ১ রমযানে স্ত্রী সহবাসকারী ব্যক্তি যখন মিসকিনকে খাদ্য দিতে চাইবে, তিনি প্রত্যেক মিসকিনকে এক মুদ (৬২৫ গ্রাম) খাবার দিবেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানে সহবাসকারী ব্যক্তিকে ইস্তিগফার করার পাশাপাশি কাফফারা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে বর্ণনা ১ ‌‌রমযানে স্ত্রী সহবাসকারী ব্যক্তির উপর যদি বিরতিহীনভাবে দুই মাস সিয়াম রাখা ওয়াজিব হয়, অতঃপর অবহেলা করার কারণে তা পালন না করে মারা যায়, তবে তার মৃত্যুর পর সেই সিয়াম তার পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে মর্মে হাদীস ১ রমযানে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাসকারীর জন্য কাফফারা প্রদান করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানে এই ব্যক্তিকে দাস মুক্ত করা ও বিরতিহীনভাবে দুই মাস সিয়াম পালন করার সামর্থ না থাকার কারণে, খাদ্য খাওয়ানোর আদেশ করেছিলেন ১ ‌‌রমযানে স্ত্রী সহবাসকারী ব্যক্তির উপর যদি বিরতিহীনভাবে দুই মাস সিয়াম রাখা ওয়াজিব হয়, অতঃপর অবহেলা করার কারণে তা পালন না করে মারা যায়, তবে তার মৃত্যুর পর সেই সিয়াম তার পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে মর্মে হাদীস ১ (১০) সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির রক্তমোক্তম করা প্রসঙ্গে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার সাথে বাহ্যিকভাবে বিরোধপূর্ণ কাজ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, আমাদের উল্লেখিত আবূ কিলাবার হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত ১ আসিম রহিমাহুল্লাহ পূর্বে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক তার বিপরীত বর্ণনা ১ আমরা যে কাজের কথা আগে বর্ণনা করেছি, তা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ কোন ব্যক্তি সিয়ামরত অবস্থায় রক্তমোক্ষম করতে চাইলে কিসের মাধ্যমে রক্তমোক্ষম করে নিবে তার বিবরণ ১ (১১) সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির চুম্বন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি উরওয়া বিন যুবাইর এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ এই ধরনের কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের বাদ দিয়ে কেবল আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার সাথেই করেননি ১ এই ধরণের কাজ সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ, যে ব্যক্তি নিজের রিপুর তাড়নাকে সংবরণ করতে পারবে এবং অপ্রীতিকর পরিণাম থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে ১ সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ, যদি তার পরে অপ্রীতিকর না ঘটে ১ এই ধরণের কাজ ফরয ও নফল সিয়াম উভয় ক্ষেত্রেই জায়েয ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির জন্য হয়তো তার স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ নয় ১ পুর্বে বর্ণিত মুহাম্মাদ বিন আশআসের হাদীসের সাথে বাহ্যত বিপরীতধর্মী হাদীসের বর্ণনা ১ (১২) মুসাফির ব্যক্তির সিয়াম প্রসঙ্গে ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সফরে সিয়াম রাখা হয়তো জায়েয নেই ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়াম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তার বিবরণ ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সফরে সিয়াম রাখা হয়তো জায়েয নেই ১ যে কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে সিয়াম রাখা অপছন্দ করেছেন, তার বিবরণ ১ সফরে সিয়াম রাখা অপছন্দনীয় হওয়ার কারণ হলো ব্যক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা; এজন্য নয় যে, সফরে সিয়াম রাখা পূণ্যের বিপরীত কাজ ১ আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে এমন দ্বিতীয় বর্ণনার উল্লেখ ১ সফরে অসুস্থতার জন্য মুসাফির ব্যক্তির জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ ১ পদব্রজ বা দুর্বল মুসাফির ব্যক্তিকে সিয়াম ভঙ্গ করার নির্দেশ ১ সফরে সিয়াম রাখা নিষেধ, যখন কোন ব্যক্তি জানবে যে, সিয়াম তাকে দুর্বল করে দিবে এবং সে তার অন্য সঙ্গীদের বোঝা হয়ে যাবে ১ মুসাফির ব্যক্তি নিজের মাঝে শক্তিমত্তা অনুভব করলে সিয়াম রাখা এবং দুর্বলতা অনুভব করলে সিয়াম ভঙ্গ করাতে কোন দোষ নেই ১ সফরে কোন কোন অবস্থায় সিয়াম পালনকারীর চেয়ে সিয়াম ভঙ্গকারীগণ উত্তম বিবেচিত হন ১ সফর অবস্থায় একজন ব্যক্তির জন্য সিয়াম রাখা বা ভঙ্গ করার ইখতিয়ার রয়েছে মর্মে বর্ণনা ১ মুসাফির ব্যক্তি নিজের মাঝে শক্তিমত্তা অনুভব করলে সিয়াম রাখা এবং দুর্বলতা অনুভব করলে সিয়াম ভঙ্গ করাতে কোন দোষ নেই ১ মুসাফির ব্যক্তি নিজের মাঝে শক্তিমত্তা অনুভব করলে সিয়াম রাখা এবং দুর্বলতা অনুভব করলে সিয়াম ভঙ্গ করাতে কোন দোষ নেই ১ রমযান মাসে সফর করলেও সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ মুসাফির ব্যক্তির জন্য ফরয সিয়াম ভঙ্গ করাও বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সফরে সিয়াম ভঙ্গ করেছিলেন, তার বিবরণ ১ যে হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ সফরে সিয়াম ভঙ্গ করার নির্দেশটি বৈধতামূলক অবশ্য পালনীয় নির্দেশ নয় মর্মে বর্ণনা ১ সফরে সিয়াম রাকার চেয়ে সিয়াম ভঙ্গ করা উত্তম মর্মে হাদীস ১ (১৩) অন্যের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন প্রসঙ্গে বর্ণনা - যে ব্যক্তি মনে করে যে, সিয়াম একজনের পক্ষ থেকে আরেকজন পালন করতে পারে না, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সিয়াম একজনের পক্ষ থেকে আরেকজন পালন করতে পারে না, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ (১৪) নিষিদ্ধ সিয়ামের বিবরণ - কোন ব্যক্তি কর্তৃক নিজের উপর এই পরিমাণ সিয়াম চাপিয়ে নেওয়া নিষেধ, যাতে তার দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১ স্বামীর উপস্থিতিতে স্ত্রীকে যে সিয়াম রাখতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটা রমযান মাস ছাড়া অন্য সময়ে প্রযোজ্য ১ স্বামীর উপস্থিতিতে স্ত্রীকে যে সিয়াম রাখতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটা রমযান মাস ছাড়া অন্য সময়ে প্রযোজ্য ১ (১৫) সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ যেই কারণে সাওমে বিসাল থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তার বিবরণ ১ এক সাহারী থেকে আরেক সাহারী পর্যন্ত বিসাল করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ সাওমে বিসাল পালন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ সাওমে বিসাল পালন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ (১৬) সারা বছর সিয়াম রাখা প্রসঙ্গে বর্ণনা - ‌‌সারা বছর সিয়াম না রাখার বৈধতা, যদিও কোন ব্যক্তি শক্তিশালী হয় ২ এই নিষেধাজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য পুরো জামানা নয়; বরং কিছু অংশ মর্মে হাদীস ১ সারা বছর একাধারে সিয়াম রাখার নিষেধ প্রসঙ্গে বর্ণনা ৩ (১৭) সন্দেহের দিনে সিয়াম রাখা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ এই নিষিদ্ধ কাজটি যেভাবে পালন করার বৈধতা রয়েছে তার বিবরণ ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো উল্লেখিত নিষিদ্ধ কাজের বিরোধী ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি কি এই মাসের শেষের দিকে কোন সিয়াম রেখেছো?” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শা‘বান মাসের শেষের দিকে ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর বিপরীত ১ যে কারণে অর্ধ শা‘বানে সিয়াম রাখতে বারণ করা হয়েছে তার বর্ণনা ১ অর্ধ শা‘বানের পর নতুন করে সিয়াম শুরু করা নিষেধ মর্মে বর্ণনা ১ এই নিষিদ্ধ কাজটি যেভাবে পালন করার বৈধতা রয়েছে, তার বিবরণ ১ সেই দিন সিয়াম রাখা নিষেধ, যে দিনের ব্যাপারে ব্যক্তি সন্দেহ পোষন করে যে, এটা কি শা‘বান মাস নাকি রমযান মাস ১ সন্দেহের দিনে সিয়াম রাখা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি এমন দিনে সিয়াম পালন করে, যে দিনের ব্যাপারে ব্যক্তি সন্দেহ পোষন করে যে, এটা কি শা‘বান মাস নাকি রমযান মাস-তবে সে ব্যক্তি পাপী, অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে, যদি সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত থাকে ১ যে দিনের ব্যাপারে ব্যক্তি সন্দেহ পোষন করে যে, এটা কি শা‘বান মাস নাকি রমযান মাস-সে দিন সিয়াম রাখা নিষেধ ১ যে দিনের ব্যাপারে ব্যক্তি সন্দেহ পোষন করে যে, এটা কি শা‘বান মাস নাকি রমযান মাস-সে দিন সিয়াম রাখা বৈধ, যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় ১ (১৮) ঈদের দিন সিয়াম রাখা প্রসঙ্গে বর্ণনা - দুই ঈদের দিন সিয়াম রাখা নিষেধ ১ ‌‌মুসলিমদের ঈদের দিন সিয়াম রাখা নিষেধ মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য, “ঈদের দিন কোন সিয়াম নেই” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ১ (১৯) তাশরীকের দিনগুলোতে সিয়াম রাখা প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দিনগুলোতে সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন, তার বিবরণ ১ (২০) আরাফার দিনের সিয়াম - আরাফায় অবস্থানকারীদের জন্য আরাফার সিয়াম না রাখা মুস্তাহাব, যাতে তারা শক্তিশালী অবস্থায় দুআয় মনোনিবেশ করতে পারেন ১ আরাফার দিন আরাফায় অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে সিয়াম না রাখা, যাতে শক্তিশালী অবস্থায় সেদিন দুআ করতে পারে ১ আরাফায় অবস্থানকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো সিয়াম রাখা যাতে তিনি শক্তিশালী থেকে দুআ ও রোনাজারি করতে পারেন ১ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এই হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার আজাদকৃত দাস উমাইর এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম ১০ দিন সিয়াম না রাখা বৈধ, যদিও কোন ব্যক্তি সিয়াম রাখার কারণে দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ থাকে ১ (২১) জুমুআর দিন সিয়াম রাখা প্রসঙ্গে ১ যে কারণে তিনি এই সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন, তার বিবরণ ২ অন্যান্য দিন ও রাত বাদ দিয়ে শুধু জুমু‘আর দিন ও রাত ইবাদতের জন্য খাস করে নেওয়া নিষেধ হওয়া সম্পর্কে বর্ণনা ১ খাস করে জুমু'আর দিন ও রাতে ইবাদত করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ যখন কোন ব্যক্তি জুমুআর দিনের সাথে বৃহস্প্রতিবার বা শনিবার সিয়াম রাখবে, তখন সেটা তার জন্য বৈধ হবে ১ (২২) শনিবার সিয়াম রাখা সম্পর্কে বর্ণনা - এককভাবে শুধু শনিবার সিয়াম রাখা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা ১ যেই কারণে শনিবার সিয়াম রাখা নিষেধ, সেটার বর্ণনা এবং শনিবারের সাথে আরেক দিন সিয়াম রাখলে সেটা জায়েয হবে মর্মে বর্ণনা ১ (২৩) নফল সিয়াম প্রসঙ্গে বর্ণনা - যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, দিবসের কিয়দংশ সিয়াম রাখা যায় না, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ দিনের কিছু অংশেও কোন কোন সময় সিয়াম হয় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি আশুরার দিন সিয়াম রাখতে ভুলে যায়, তাকে দিনের বাকী অংশ সিয়াম রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আশুরার পুরা দিন সিয়াম রাখা মুস্তাহাব, আর যে ব্যক্তি পুরো দিন সিয়াম রাখতে পারে না, তার জন্য দিবসের কিছু অংশ সিয়াম রাখা মুস্তাহাব ১ মুসলিমদের উপর রমযানের সিয়াম ফরয হওয়ার আগে আশুরার সিয়াম ফরয ছিল মর্মে বর্ণনা ১ রমযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পর এখন একজন ব্যক্তির জন্য আশুরার সিয়াম পালন করা বা না করার এখতিয়ার রয়েছে ২ যে ব্যক্তি মনে করে যে, সিয়াম রাখা বা না রাখার ঐচ্ছিকতা ও ফিদিয়া দেওয়ার বিষয়টি আশুরার সিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; রমযানের সিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ আশুরার সিয়াম রাখার নির্দেশ, কেননা এই দিনে মহান আল্লাহ তাঁর সাথে কথোপকথনকারী নবী আলাইহিস সালামকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধবাদী ও শত্রুতা পোষনকারীকে ধ্বংস করেছিলেন ১ আশুরার সিয়াম পালনের নির্দেশটি মুস্তাহাব নির্দেশক; অবশ্য পালনীয় নয় মর্মে বর্ণনা ১ আশুরার দিন সিয়াম রাখার নির্দেশ, কেননা ইয়াহুদিরা এটাকে ঈদ বানিয়ে নিয়েছে, ফলে তারা এই সিয়াম পালন করে না ১ একজন ব্যক্তির জন্য নফল সিয়ামের নিয়ত দিনেও করা বৈধ, যদিও সে রাতে সিয়াম রাখার কোন নিয়ত না করে থাকে ১ নফল সিয়াম রাতে নিয়ত না করেও দিনে নিয়ত করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি সকালে নাস্তা না পাবে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো সেদিন সিয়াম রাখা ১ মহান আল্লাহ আশুরার সিয়াম রাখার কারণে মুসলিম ব্যক্তির এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেন এবং আরাফার সিয়াম পালন করার কারণে অনুগ্রহ করে দুই বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেন ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “এটি সেই বছর এবং আগের গোনাহ মোচন করে দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্বের এক বছর মাত্র ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো আশুরার আগে একদিন সিয়াম রাখা, যাতে সে আশুরার সিয়াম পালনের ব্যাপারে মজবূত হতে পারে ১ ‌‌যে ব্যক্তি আইয়ামে বীযের সিয়ামের চেয়ে বেশি সিয়াম পালনের সক্ষমতা রাখে, তার প্রতি অর্ধ যামানা অর্থাৎ একদিন পর পর সিয়াম রাখার নির্দেশ ১ যে ব্যক্তি রমযানের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম পালন করবে, তার জন্য মহান আল্লাহ সারা বছর সিয়াম পালনের সাওয়াব লিখে দেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, উক্ত হাদীসটি আবূ আইয়ূব থেকে উমার বিন সাবিত এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ মুহাররম মাসের সিয়াম রাখার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান কেননা এটা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিয়াম ১ এক দফা সিয়াম রাখা আরেক দফা সিয়াম না রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ ‌‌যে ব্যক্তি আইয়ামে বীযের সিয়ামের চেয়ে বেশি সিয়াম পালনের সক্ষমতা রাখে, তার প্রতি অর্ধ যামানা অর্থাৎ একদিন পর পর সিয়াম রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ একজন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো একদিন সিয়াম রাখা আর একদিন সিয়াম না রাখা কেননা এটা দাউদ আলাইহিস সালামের সিয়াম আর কোন ব্যক্তি এরকম করার সামর্থ না রাখলে তবে একদিন সিয়াম রাখা অতঃপর দুই দিন সিয়াম না রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আল্লাহর নবী দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়ামের উপর সীমিত থাকা সম্পর্কে বর্ণনা ১ মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট কিছু দিন সিয়াম রাখা ১ সোমবার সিয়াম রাখা ‍মুস্তাহাব কেননা এই দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং এই দিন তাঁর উপর সর্বপ্রথম অহী অবতীর্ণ হয়েছিল ১ সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালনের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ‍গুরুত্বারোপ করা সম্পর্কে বর্ণনা ১ সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং মহান স্রষ্টার কাছে বান্দাদের আমল পেশ করা হয় মর্মে বর্ণনা ১ নিয়মিত জুমু‘আর দিন সিয়াম রাখা মুস্তাহাব, যখন তার সাথে অনুরুপ সিয়াম যুক্ত করে রাখা হবে ১ শনিবার ও রবিবার সিয়াম রাখা মুস্তাহাব, কেননা এই দুই দিন আহলে কিতাবদের ঈদের দিন ১ যেই হাদীস কোন কোন আলিমকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত আয়িশা ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ আমরা যেদিকে ইশারা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ প্রত্যেক মাসে তিনটি সিয়াম রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মাসে তিনটি সিয়াম উজ্জ্বল রাতের দিনগুলোতে রাখা মুস্তাহাব ১ উজ্জ্বল রাতের তিনটি সিয়ামের বদৌলতে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে সারা বছর সিয়াম রাখার সাওয়াব লিখে দেন ১ যে ব্যক্তি মাসে তিনটি সিয়াম রাখবে, মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে তাকে সারা বছর সিয়াম ও কিয়াম করার সাওয়াব লিখে দিবেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ একজন ব্যক্তির জন্য জায়েয রয়েছে এই তিনটি সিয়াম মাসের যে কোন সময় পালন করতে পারবে ১ আইয়ামে বীযের সিয়াম রাখার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ মাসের তিনটি সিয়াম যে কোন সময় রাখার ব্যাপারে ইখতিয়ার রয়েছে ১ মাসের তিন দিন সিয়াম রাখার কারণে মহান আল্লাহ মাসের বাকী দিন সিয়াম রাখার সাওয়াব লিখে দেন ১ আমরা পূর্বে বর্ণিত ইমাম শু‘বাহ বর্ণিত হাদীসের যে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণকারী হাদীস ১ আমরা পূর্বে বর্ণিত ইমাম শু‘বাহ বর্ণিত হাদীসের যে ব্যাখ্যা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ (২৪) ই‘তেকাফ ও লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা ২ রমযানে অব্যাহতভাবে ই‘তেকাফ করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, হাদীসটি হুমাইদ আত তাবীল এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ রমযানে অব্যাহতভাবে ই‘তেকাফ করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রমযানের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত ই‘তেকাফ করা প্রসঙ্গে ১ ই‘তেকাফ কারী ব্যক্তি তার ই‘তেকাফ করার স্থানে কখন প্রবেশ করবে, তার বর্ণনা ১ জামাআতে সালাত আদায় করা হয় এমন মাসজিদে একজন স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর সাথে ই‘তেকাফ করা জায়েয ১ ই‘তেকাফকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে, মাথা ধৌত করা এবং এ কাজে অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করা ১ ই‘তেকাফকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে, মাথা আচড়ানো, যদি তার চুল থাকে এবং এ কাজে অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই‘তেকাফরত অবস্থায় মাথা আচড়ানো ও ধৌত করার জন্য মাসজিদ থেকে বের না হয়েই মাথা আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হুজরার দিকে বের করে দিতেন মর্মে বর্ণনা ১ একজন স্ত্রীর জন্য জায়েয রয়েছে ই‘তেকাফরত স্বীমাকে ই‘তেকাফের স্থানে দেখতে যাওয়া ১ যে কারণে ই‘তেকাফকারী ব্যক্তি বাড়িতে যেতে পারে তার বিবরণ ১ ই‘তেকাফকারী ব্যক্তি ই‘তেকাফের স্থান থেকে সকালে বের হবেন; সন্ধায় নয় মর্মে হাদীস ১ ই‘তেকাফকারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হলো রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা ১ যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর তালাশ করতে চায়, তাকে তা শেষ সাত রাতে তালাশ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার নির্দেশটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে শেষ দশ রাত তালাশ করতে অক্ষম হয় মর্মে হাদীস ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাইলাতুল কদর ঘুমে স্বপ্নে দেখেছিলেন; জাগ্রত অবস্থায় নয় ২ লাইলাতুল কদর (নির্দিষ্ট করার ব্যাপারটি) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলে গিয়েছিলেন, তার বিবরণ ১ লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির আশায় ২৭ তম রাত্রি জাগরণ করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ একজন মানুষের জন্য বৈধ রয়েছে, রমযানে লাইলাতুল কদর পাওয়ার ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো ১ ঈমানসহ ও সাওয়াবের আশায় যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর রাতে কিয়াম করবে, মহান আল্লাহ তার পূর্বের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন মর্মে বর্ণনা ১ লাইলাতুল কদর কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক বছরে রমযানের শেষ দশকে হবে মর্মে বর্ণনা ১ লাইলাতুল কদর শেষ দশকে সাব্যস্ত করার ব্যাপারে বর্ণনা ১ লাইলাতুল কদর রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে; জোড় রাতে নয় মর্মে বর্ণনা ১ লাইলাতুল কদর রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে রয়েছে; তার আগের বেজোড় রাতে নয় মর্মে বর্ণনা ১ লাইলাতুল কদর প্রত্যেক বছর শেষ দশকের রাতগুলোতে স্থানান্তরিত হয়; সব বছরে এটি একই রাতে হয় না মর্মে হাদীস ১ লাইলাতুল কদর রাতের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ এবং উজ্জ্বল হবে ১ লাইলাতুল কদরের রাতের পর সকালে সূর্য উদিত হওয়ার বিবরণ ১ লাইলাতুল কদরের আলামত হলো এই রাতের পর সকালে সূর্য উদিত হবে, তার কোন কিরণ থাকবে না ১ লাইলাতুল কদরের রাতের পর সকালে সূর্য এর কিরণ না থাকার অবস্থাটি সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে উদিত হওয়া পর্যন্ত বলবত থাকবে; সারা দিন থাকবে না ১
১৩. কিতাবুল হজ্ব (كتاب الحج)
সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ুন (১) হজ ও উমরার ফযীলত - মহান আল্লাহর প্রতিনিধি তিন শ্রেণির মানুষ মর্মে বর্ণনা ১ হজ ও উমরাহর মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তির পাপ ও দরিদ্র দূর হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যেই হজ্জে স্ত্রী সংগম ও পাপাচার করা হয় না, মহান আল্লাহ সেই হজের বিনিময়ে বান্দার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেন মর্মে বর্ণনা ১ মুসলিম ব্যক্তির এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহর গোনাহ মোচন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ বাইতুল্লাহর পাশ্বে তাওয়াফকারীর পদক্ষেপের কারণে তার মর্যাদা সমুন্নত করা, সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা এবং পাপসমূহ মোচন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি কর্তৃক রুকনে ইয়ামানী (দক্ষিণ পাশ্বের দুই রুকন) স্পর্শ করার কারণে পাপ মোচন হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রমযানে উমরাহ করা হজের সমতুল্য হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ কোন ব্যক্তি মাসজিদে আকসা থেকে উমরাহ করলে, মহান আল্লাহ তার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করে দেন মর্মে বর্ণনা ১ নারীদের হজ পালন পুরুষদের জিহাদ করার সমতুল্য মর্মে বর্ণনা ১ যাকে মহান আল্লাহ অর্থনৈতিক প্রশস্ততা দান করেছেন, তারপর সে প্রতি পাঁচ বছরে একবার বাইতুল্লাহর যিয়ারত করে না, তার জন্য বঞ্চনা সাব্যস্ত করা সম্পর্কে বর্ণনা ১ (২) হজ ফরয হওয়া সম্পর্কে বর্ণনা - “আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে (বাইতুল্লাহয়) যাওয়ার সামর্থ রয়েছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য” আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে হাদীস ১ যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ'য় যাওয়ার সামর্থ রাথে, তার জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরয; প্রত্যেক বছর নয় মর্মে বর্ণনা ২ কোন ব্যক্তির উপর হজ ফরয হওয়ার পর এক বছর থেকে আরেক বছর বিলম্ব করা জায়েয ১ (৩) মক্কার ফযীলত - “মক্কা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ভূমি এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান।” ১ মক্কা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় ভুমি ছিল ১ রুকন তথা হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিম এর পাথর দুটি জান্নাতের ইয়াকূতসমূহের মাঝে দুটি ইয়াকূত ১ হাজরে আসওয়াদের জন্য জবান সাব্যস্ত করা, কেননা যে ব্যক্তি এটাকে সত্যনিষ্ঠভাবে স্পর্শ করবে, এটি তার জন্য সাক্ষ্য দিবে ১ হাজরে আসওয়াদের জন্য জবান কিয়ামতের দিন হবে; দুনিয়াতে নয় মর্মে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ ‌‌যমযম কূপ কখন প্রকাশ করেন, তার বিবরণ ১ মহান আল্লাহর হারামের ভিতরে অস্ত্র বহন করা নিষেধ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হারামের কাঁটা উপড়ে ফেলা যাবে না, সেখানকার হারানো জিনিস কুড়িয়ে নেওয়া যাবে না, তবে যদি সেই ব্যক্তি প্রচারক হয় (তবে তিনি কুড়িয়ে নিয়ে প্রচার করতে পারবেন) ১ যে ব্যক্তি হারামে বিদ‘আতের প্রবর্তন করে অথবা কোন মুসলিমের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির সাথে ঘাতকতা করে, তার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিসম্পাত করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “আমাদের কাছে পড়ার মতো কোন কিতাব নেই, তবে আল্লাহর কিতাব ও আমার তরবারীর খাপের মধ্যে যে পুস্তিকা রয়েছে, সেটা ছাড়া।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবণ করে লিপিবদ্ধ করেছি ১ ইসলাম কাউকে হত্যা করা অবধারিত না করলে হারামের সীমানায় কোন কুরাইশী ব্যক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হারামের সীমানায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য দিবসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রক্তপাত করা বৈধ ছিল মর্মে বর্ণনা ১ হারামের সীমানায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য দিবসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রক্তপাত করা বৈধ ছিল, তারপর সেটা চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যায় মর্মে বর্ণনা ১ মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে ইবনু খতলকে হত্যা করা হয় মর্মে বর্ণনা ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ১ (৪) মদীনার ফযীলত প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর প্রভুর কাছে এই মর্মে প্রার্থনা করা যে, তিনি যেন মদীনাকে তাঁর কাছে মক্কার মতো বা তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দেন ১ যেই হাদীস শ্রোতাকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসের বাহ্যিক অর্থ ব্যবহার করা যাবে না; বরং বাহ্যিক বক্তব্যের মাঝে এর স্বরুপ লুকায়িত রয়েছে ১ মাদীনাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ‘তাবাহ’ নামকরণ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মদীনায় ঈমান একত্রিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাদীনায় ঈমান একত্রিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মাদীনায় বসবাস কারী ব্যক্তির জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান সম্পর্কে বর্ণনা ১ দাজ্জাল সারা পৃথিবীর মাঝে কেবল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না মর্মে বর্ণনা ১ নিশ্চয়ই মাদীনাবাসী দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাবে, সে তাদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না (আমরা আল্লাহর কাছে দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই) ১ মাদীনা সেখান থেকে মন্দ লোকদের দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর ময়লা দূর করে মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি বিরাগভাজন হয়ে মাদীনা থেকে বের হয়ে যাবে, মহান আল্লাহ তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম মানুষ সেখানে নিয়ে আসবেন মর্মে বর্ণনা ১ নিশ্চয়ই মাদীনাবাসী মানুষদের মাঝে শ্রেষ্ঠ আর যারা বিরাগভাজন হয়ে মাদীনা থেকে বের হয়ে চলে যায়, তারা সবচেয়ে মন্দ লোক মর্মে হাদীস ১ মাদীনা সেখান থেকে মন্দ লোকদের দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর ময়লা দূর করে মর্মে বর্ণনা ১ মাদীনার আলিমগণ অন্য আলিমদের অপেক্ষা উত্তম হবে মর্মে হাদীস ১ যে ব্যক্তি মাদীনাবাসীর ক্ষতি করতে চাইবে, মহান আল্লাহ তাকে এমন বিপদে ফেলবে, যা তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মাদীনাবাসীকে যে কোন বিপদের মাধ্যমে ভয় দেখায়, মহান আল্লাহও তাকে ভীতিকর অবস্থায় ফেলবেন মর্মে বর্ণনা ১ যারা কষ্ট স্বীকার করে ধৈর্যধারণ করে মাদীনায় অবস্থান করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন এবং তার জন্য সুপারিশ করবেন মর্মে বর্ণনা ২ মাদীনায় মৃত্যুবরণ কারীর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ প্রাপ্তি প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তি মাদীনায় মারা যাবে, মাদীনা তার জন্য সুপারিশ করবে মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মাদীনার জন্য দ্বিগুণ বারাকাহ চাওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মদীনার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক দ্বিগুণ বারাকাহর দু‘আ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মাদীনাবাসীর পরিমাপে বারাকাহর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উল্লেখিত দু‘আ করেছেন, তখন তিনি ওযূ করে নিয়েছেন মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মাদীনাবাসীর জন্য তাদের খেজুরে বারাকাহর দু‘আ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর প্রিয়পাত্রকে বাকী‘গোরস্থানের অধিবাসীদের জন্য দু‘আ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিম্বারের কাছে তাঁর আনুগত্য করার কারণে ব্যক্তির জান্নাত প্রাপ্তির আশা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিম্বার ও কবরের মাঝে কোন ভালো কাজ করবে, সে ব্যক্তির জান্নাতের বাগিচাসমূহ হতে একটি বাগিচা লাভ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মাদীনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গার মাঝে প্রাণী শিকার করা নিষেধ, কেননা মহান আল্লাহ এটাকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে হারাম ঘোষণা করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হারামের অন্তর্ভুক্ত বৃক্ষ কাটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ মদীনা থেকে আহলে কিতাবদের বিতাড়িত করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কামনা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (৫) হজের আগের কার্যাবলি সম্পর্কিত বর্ণনা - উটের হাওদার উপর হজ সম্পাদন করা বৈধ, যদিও ব্যক্তি অন্য কিছুর মাধ্যমে হজ করার সামর্থ রাখে ১ মুসা আলাইহিস সালামের অনুসরণে পায়ে হেঁটে হজ করা বৈধ, যদিও সে ব্যক্তি বাহনে চড়তে সামর্থবান হয় ১ যেই ব্যক্তির স্ত্রীর উপর হজ ফরয হয়েছে, কিন্তু সেই ব্যক্তি ছাড়া তার আর কোন মাহরাম নেই, তবে সেই ব্যক্তির জন্য স্ত্রীর সাথে হজ করা নফল জিহাদ অপেক্ষা উত্তম মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তির স্ত্রী ফরয হজ পালন করার জন্য বের হবে, তখন সেই ব্যক্তির জন্য স্ত্রীর সাথে হজ করা নফল জিহাদ অপেক্ষা উত্তম মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যে নিষেধের কথা বর্ণনা করলাম, সেটা স্রেফ শিষ্টাচার নির্দেশক নয়; বরং হারাম নির্দেশক মর্মে বর্ণনা ১ (৬) হজের মীকাতসমূহের বর্ণনা - যে ব্যক্তি হজ বা উমরাহ করার ইচ্ছা করবে, তাকে মীকাত থেকে ইহরাম বাধার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ হাজীদের জন্য মীকাত এবং ইহরামের সময় কী পরিধান করবে, তার বিবরণ ১ যদি কোন হাজীর পথ মাদীনা বা তার আশপাশ দিয়ে হয়, তাহলে তিনি কোথায় থেকে ইহরাম বাঁধবেন, তার বিবরণ ১ কোন ব্যক্তি মক্কায় অবস্থানকালে হজ করার নিয়ত করলে, কখন ইহরাম বাঁধবে তার বিবরণ ১ যুল কা‘দাহ মাসে উমরাহ করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ২ (৭) ইহরাম বাঁধা - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ মুহরিম ব্যক্তির জন্য ইহরাম বাঁধার পরেও (আগে ব্যবহৃত) সুগন্ধির চিহ্ন বিদ্যমান থাকা বৈধ ২ মুহরিম ব্যক্তির জন্য ইহরাম বাঁধার পরেও (আগে ব্যবহৃত) সুগন্ধির চিহ্ন বিদ্যমান থাকা বৈধ ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বক্তব্য “ইহরাম বাঁধার সময়” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইহরাম বাঁধার আগে ১ কেউ অসুস্থ থাকলে ইহরামের ক্ষেত্রে শর্ত করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম যুবাআহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরামের ক্ষেত্রে শর্ত করার অনুমতি দিয়েছিলেন কারণ তিনি অসুস্থ ছিলেন ১ কেউ অসুস্থ থাকলে ইহরামের ক্ষেত্রে শর্ত করার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হাজীর জন্য এটা বৈধ যে, সে তার কোন ভাইয়ের ইহরামের নিয়ত অনুসারে নিয়ত করবে, এটা জানার পর যে সেটা পরে সংঘটিত হবে ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে ইহরামের কথা বর্ণনা করলাম তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি স্বীয় জামা পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বাঁধে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি সেটা খুলে ফেলবেন; এটা তার কথার বিপরীত, যে জামা ছিঁড়ে ফেলার নির্দেশ দেয় ১ এই প্রশ্নকারী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে প্রশ্ন করেছিলেন, সেটার সময় সম্পর্কে বর্ণনা ৪ মুহরিম ব্যক্তির জন্য চামড়ার মোজা পরিধান বৈধ, যদি জুতা না পায় অথবা পায়ের টাখনুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে ফেলে ২ মুহরিম ব্যক্তি জুতা ও লুঙ্গি না পেলে তার জন্য চামড়ার মোজা ও পাজামা পরিধান করা বৈধ রয়েছে ১ মুহরিম ব্যক্তি জুতা না পেলে যে রকম মোজা পরিধান করবে, তার বিবরণ ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, মুহরিম ব্যক্তি যদি জুতা না পেয়ে চামড়ার মোজা পরিধান করে অথবা লুঙ্গি না পেয়ে পাজামা পরিধান করে, তবে তাকে দম বা কুরবানী দিতে হবে- তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ হাজীদের জন্য আকীক উপত্যকায় সালাত আদায় করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি হজের ইহরাম বেঁধেছে, তার প্রতি নির্দেশ হলো তিনি মক্কায় আগমনের সময় সেটাকে উমরাহয় পরিণত করবেন, অতঃপর নতুন করে হজের ইহরাম বাঁধবেন ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হজের ইহরামকে উমরাহতে পরিণত করার এই নির্দেশ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যিনি সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আসেননি; তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যিনি সাথে কুরবানী পশু নিয়ে এসেছেন মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যে নির্দেশের কথা বর্ণনা করলাম, সেটা মুস্তাহাব ও নির্দেশনামূলক ছিল; ওয়াজিব নির্দেশ ছিল না মর্মে বর্ণনা ১ পুর্বে বর্ণিত তিনটি হাদীসে যে শুধু হজের ইহরাম বাঁধার কথা বর্ণনা করা হয়েছে, এমনটা কিছু সাহাবী করেছেন; সব সাহাবী নয় মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি তার প্রথম ইহরামকে উমরাহ বানিয়ে নেয় তাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থেকে দ্বিতীয় বার হজের ইহরাম বাঁধার আদেশ করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ একজন মানুষের জন্য বৈধ রয়েছে, এমন শিশুকে নিয়ে হজ করা, যার নফল হজ হয় না; ফরয হজ হওয়া তো আরো দূরের কথা ১ আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করার যে বিবরণ পেশ করলাম, সেটা কোথায় করা হয়েছিল, তার বিবরণ ১ যখন কোন ব্যক্তি হজ বা উমরাহ করার সংকল্প করে, তখন তিনি যে তালবিয়া পাঠ করবেন, তার বিবরণ ১ আমরা যে তালবিয়া উল্লেখ করলাম, তার চেয়ে বেশি বলাও জায়েয মর্মে বর্ণনা ১ তারবিয়া পাঠকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো তালবিয়া পাঠের সময় দুই আঙ্গুল কানে ঢুকানো ১ হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো উচ্চ স্বরে তালবিয়া পাঠ করা ১ যেই কারণে এই আদেশ করা হয়েছে তার বর্ণনা ১ যেই সময়ে হাজী ব্যক্তি তালবিয়া পাঠ ছেড়ে দিবেন, তার বিবরণ ১ (৮) মক্কায় প্রবেশ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - কোন কারণবশত মক্কায় ইহরাম বিহীন অবস্থায় প্রবেশ করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ যে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় ইহরাম বিহীন অবস্থায় প্রবেশ করেন তার বিবরণ ১ যেই জায়গা দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করা মুস্তাহাব, তার বিবরণ ১ হাজীদের জন্য মক্কা প্রবেশের সময় যা করা মুস্তাহাব তার বিবরণ ১ হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারী যখন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতে চাইবে, তখন কিভাবে তাওয়াফ করবে, তার বিবরণ ১ মুহরিম ব্যক্তির বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার বিবরণ ১ যেই কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুর্বে বর্ণিত রমল করেছেন তার বিবরণ ২ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের বিপরীত ২ হিজর কা‘বার অন্তর্ভুক্ত মর্মে বর্ণনা ১ যেই কারণে কুরাইশরা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ভিত্তিসমূহ থেকে কমিয়ে দিয়েছিল তার বিবরণ ২ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইচ্ছা ছিল বাইতুল্লাহকে ভেঙ্গে দিয়ে হিজরকে বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করতে ১ ইফরাদ হজ সম্পাদনকারীর জন্য বৈধ রয়েছে, তার হজের জন্য সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে একটি একবার সাঈ করা; তাওয়াফে যিয়ারাহ করার সময় পুনরায় সাঈ করবে না মর্মে বর্ণনা ১ অমুসলিম ও বিবস্ত্র ব্যক্তির বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ১ বাইতুল্লাহ তাওয়াফকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা ১ আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা আমল করার ব্যাপারে দ্বিতীয় হাদীস ১ বাইতুল্লাহর পাশে তাওয়াফকারীর জন্য হাজরে আসওয়াদ একই সাথে চুম্বন করা ও না করা উভয়টি বৈধ ১ তাওয়াফকারী ব্যক্তির জন্য হাজরে আসওয়াদ হাত দিয়ে স্পর্শ করার পর হাতে চুম্বন করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ বাইতুল্লাহর তাওয়াফকারী ব্যক্তি যখন হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতে না পারবে, তখন তার জন্য বৈধ রয়েছে সেদিকে ইশারা করা ১ হাজী ব্যক্তি তাওয়াফ করার সময় রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে কী বলবে তার বিবরণ ১ বাইতুল্লাহ তাওয়াফকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো দুই রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার উপর সীমাবদ্ধ থাকা ১ বাহনের উপর আরোহন করা অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ বাহনের উপর আরোহন করা অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা বৈধ যখন মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে ১ অসুস্থ নারীর জন্য বাহনে আরোহী অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা বৈধ ১ কোন মুসলিম ব্যক্তিকে নাকে লাগাম লাগিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া নিষেধ, কেননা মহান আল্লাহ মুসলিমদের সাথে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো আচরণ করা থেকে তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইবনু জুরাইজ এই হাদীসটি সুলাইমান আল আহওয়াল থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ অসুস্থ হাজীর জন্য বাহনে আরোহী অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা বৈধ ১ হজের সময় কোন নারীর ঋতুস্রাব শুরু হলে তিনি শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হাজীদের মত সমস্ত কাজ করবেন মর্মে বর্ণনা ২ যদিও বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সালাত, তবুও এই সময় কথা বলা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ বাইতুল্লাহর পাশে তাওয়াফকারী ব্যক্তি পিপাসার্ত হলে, তাওয়াফের সময় পানি পান করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে পানি পান করার কথা বর্ণনা করলাম, সেটা যমযমের পানি ছিল মর্মে বর্ণনা ১ (৯) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তির জন্য সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা ফরয; তরক করা বৈধ নয় ১ যেই হাদীস প্রমাণ করে যে, হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তির জন্য সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা ফরয; তরক করা বৈধ নয় ১ হাদীসের যেই শব্দ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করা হয়তো ফরয নয় ১ হজ ও উমরাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি যখন সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের উপর আরোহন করবেন, তখন কী বলবেন তার বিবরণ ১ (১০) মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়া - তারবিয়ার দিনে হাজির জন্য মক্কায় নয় বরং মিনায় যোহর নামায পড়া মুস্তাহাব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের নিকট আল্লাহর শত্রুদের উপর বদ দু‘আ করা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই হাদীসটি ইসমাঈল বিন খালিদ ইবনু আবী আওফা থেকে শ্রবণ করেননি, তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ কোন কারণবশত সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে বাহনে চড়ে সাঈ করা যায় মর্মে বর্ণনা ১ ভোরে মিনা থেকে আরাফায় যাওয়ার সময় তাহলীল ও তাকবীর বলা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (১১) আরাফা ও মুযদালিফায় অবস্থান ও সেখান থেকে রওয়ানা হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হজে আরাফায় অবস্থান ফরয হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি আরাফায় যোহর-আসরের সালাত থেকে সেই রাতের ফজরের সময়ের মাঝে যে কোন সময় অবস্থান করবে, তার হজ পূর্ণ হয়ে যাবে ১ যে ব্যক্তি যোহর ও আসরের সালাত একসাথে আদায় করার পর থেকে ফজর উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের মাঝে দিনে বা রাতে যে কোন সময় আরাফায় অবস্থান করবে, আর ফজর উদিত হবে মুযদালিফায়, তবে তার হজ পরিপূর্ণ হয়ে যাবে মর্মে বর্ণনা ১ হাজীরা যখন আরাফায় অবস্থান করেন, তখন মহান আল্লাহ তাদের নিয়ে ফেরেস্তাদের নিকট গর্ব করেন মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি আরাফার দিন আরাফায় উপস্থিত হয়, তার জন্য জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতির আশা করা যায় মর্মে বর্ণনা ১ হাজীদের আরাফাহ ও মুযদালিফায় অবস্থান করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আরাফা থেকে বের হয়ে মিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিবরণ ১ হাজীদের জন্য আরাফার স্থলে মিনায় অবস্থান করা এবং সেখান থেকে রওয়ানা হওয়া জায়েয নেই মর্মে বর্ণনা ১ যখন কোন ব্যক্তি হজ করবে, তখন আরাফায় অবস্থান ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করা সম্পর্কে বর্ণনা ১ হাজীদের জন্য মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত একসাথে আদায় করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ হাজী ব্যক্তি হারামের অধিবাসী না হলে, তার জন্য দুই সালাত একসাথে আদায় করার হুকুম এবং তার জন্য জরুরী হলো মুসাফিরের ন্যায় সালাত আদয় করা; মুকীমের মতো নয় ১ মুযদালিফা থেকে মিনায় যাওয়ার সময় সম্পর্কে বর্ণনা ১ মুযদালিফা থেকে রাতে নারীদের আগে পাঠিয়ে দেওয়া জায়েয হওয়া মর্মে বর্ণনা ১ হাজী ব্যক্তির জন্য বৈধ রয়েছে তার পরিবারের দুর্বল ব্যক্তিদের মুযদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে আগে পাঠানো ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বৈধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ২ আমরা যে বিষয়টি বর্ণনা করলাম, তা পরিবারের দুর্বল নারী-পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য মর্মে বর্ণনা ১ দুর্বল নারী ও শিশুদের জন্য মুযদালিফা থেকে রাতে রওয়ানা হওয়া বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তার পরিবারে দুর্বল লোকদের মুযাদালিফা থেকে রাতে পাঠিয়ে দেওয়া ১ (১২) জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত ১ সূর্য উদয়ের আগে হাজীদের কঙ্কর নিক্ষেপ করা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ হাজীরা যেই জায়গায় দাঁড়িয়ে জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে তার বিবরণ ১ জামরায় যে কঙ্কর নিক্ষেপ করা হয়, সেটার বিবরণ ১ জামরায় নুড়ি পাথরের ন্যায় ছোট ছোট কঙ্কর নিক্ষেপ করার নির্দেশ ১ হাজীরা জামরায় যে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তার সংখ্যার বিবরণ ১ বাহনের উপর আরোহী অবস্থায় জামরায় পাথর নিক্ষেপের সময় লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষন দেওয়া বৈধ, যখন তিনি ইমাম হবেন, তিনি লোকদের বিভিন্ন আদেশ-নিষেধ করবেন ১ বিভিন্ন সময়ে বাহনের উপর ভাষন দেওয়া বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ (১৩) মাথা মুন্ডন ও কুরবানী করা - হাজীর জন্য কঙ্কর নিক্ষেপের আগে কুরবানী করা অথবা কুরবানী করার আগে মাথা মুন্ডন করা বৈধ, এসব কাজ কোন ক্ষতিকে অবধারিত করে না মর্মে বর্ণনা ১ যে ব্যক্তি কুরবানী করার আগে মাথা মুন্ডন করে তাকে কুরবানী করার নির্দেশ আর যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপের আগে কুরবানী করে, তাকে কঙ্কর নিক্ষেপ করার নির্দেশ এবং এটাতে কোন ক্ষতি নেই মর্মে বর্ণনা ১ একজন মুহরিম ব্যক্তির জন্য কুরবানী করার আগে মাথা মুন্ডন করা এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করার আগে কুরবানী করা জায়েয মর্মে বর্ণনা ১ মাথা মুন্ডনের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো ডান দিক থেকে শুরু করবে, তারপর বাম দিক মুন্ডন করবে মর্মে বর্ণনা ১ আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথার চুল ছোটকারীর চেয়ে মাথা মুন্ডনকারীর জন্য বেশি দু‘আ করেছেন মর্মে বর্ণনা ১ ১৪) তাওয়াফে যিয়ারহ করার জন্য মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - মুহরিম ব্যক্তি যখন তাওয়াফে যিয়ারাহ করার ইচ্ছা পোষন করবেন, তখন তার জন্য মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা বৈধ রয়েছে মর্মে বর্ণনা ১ তাওয়াফে যিয়ারাহ করার জন্য মিনা থেকে রওয়ানা দেওয়ার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি মনে করে যে, মারফূ সূত্রে এই হাদীসটি ভুল তার কথা অপনোদনকারী হাদীস ১ যেই হাদীস অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো পূর্বে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসের বিপরীত ১ যে ব্যক্তি মিনা থেকে তাওয়াফে যিয়ারাহ করার জন্য বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো মিনায় এসে যোহরের সালাত আদায় করা ১ (১৫) তাশরীকের দিনগুলোতে (১১, ১২, ১৩ ই যুল হিজ্জাহ) জামরায় কঙ্কর পাথর করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - মিনার দিনগুলোতে জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ কোন ব্যক্তি কর্তৃক জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা এবং কঙ্কর নিক্ষেপ করার সময় পর্যন্ত সেখানে দাঁড়ানোর বিবরণ ১ মক্কার রাখালদের জন্য এটা বৈধ রয়েছে যে, তারা দুইজনের কঙ্কর জমা করে একদিন নিক্ষেপ করবে মর্মে বর্ণনা ১ মিনার রাতগুলোতে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পরিবারের লোকদেরকে হাজীদের পানি পান করার জন্য মক্কায় রাত্রি যাপন করার বৈধতা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি নির্দেশটি অবকাশ ও মুস্তাহাবমুলক নির্দেশ ছিল; বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না মর্মে বর্ণনা ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, সেটাকে সুস্পষ্টকারী দ্বিতীয় হাদীস ১ মিনার দিনসমূহ এবং যে ব্যক্তি সেসব দিনসমূহের মাঝে তরা করে দুইদিনে কঙ্কর নিক্ষেপের কাজ সমাধা করবে, তার কোন ক্ষতি না থাকার ব্যাপারে বর্ণনা ১ মিনায় অবস্থানকারী হাজী ব্যক্তির সালাতের বিবরণ ১ হজ ও উমরাহ পালনকারী ব্যক্তির জন্য বানিজ্য করা বৈধ মর্মে বর্ণনা ১ (১৬) তাওয়াফে সদব বা বিদায়ী তাওয়াফের জন্য মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করা প্রসঙ্গে বর্ণনা - হাজীদের জন্য মুস্তাহাব হলো মক্কা থেকে ফিরে আসার রাতে মুহাসসাবে অবস্থান করা ১ হাজীদের জন্য মু্স্তাহাব হলো যখন তারা ফিরে আসার ইচ্ছা করবেন, তখন তারা সেই রাতে মুহাসসাবে রাত্রি যাপন করবেন, যাতে তাদের জন্য প্রস্থান করা সহজ হয় ১ (১৭) উল্লেখিত বিষয়ে পরিশিষ্ট ১ নিষিদ্ধ কাজটি কিছু নারীকে সম্পাদন করার অনুমতি প্রসঙ্গে বর্ণনা ২ ঋতুবতী নারীদের বিদায়ী তাওয়াফ না করে রওয়ানা হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, যখন সে ইতিপূর্বে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে থাকে ১ উল্লেখিত কাজে ঋতুবতী মহিলাদের হুকুমের মধ্যে প্রসূতি নারীদের হুকুমও অন্তর্ভুক্ত হবে, কেননা নিফাস শব্দটি হায়েয অর্থেও ব্যবহৃত হয় এবং উভয়ের কারণ এক ১ ঋতুবতী নারীদের বিদায়ী তাওয়াফ না করে রওয়ানা হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, যখন সে হায়েযের রক্ত দেখার আগে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে যিয়ারাহ করবে করে থাকে ১ কোন মহিলার যখন তাওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়েয হবে, তখন তাকে রওয়ানা দেওয়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ ঋতুবতী নারীদের যখন সে ইতিপূর্বে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে, তখন তার জন্য রওয়ানা হওয়ার অনুমতি রয়েছে, যদিও সে বিদায়ী তাওয়াফ না করে থাকে ১ আমরা যা উল্লেখ করলাম, তার বিশুদ্ধতা প্রমাণে দ্বিতীয় হাদীস ১ তাওয়াফে ইফাযাহ করার পর মুহাজির ব্যক্তির অবস্থান করা প্রসঙ্গে বর্ণনা ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “বিদায়ী তাওয়াফ করার পর (মক্কা থেকে) হিজরতকারী ব্যক্তির জন্য তিন দিন অবস্থান করার ইখতিয়ার রয়েছে।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মক্কায় অবস্থান করা ১ হাজীদের জন্য যেই গিরিপথ দিয়ে মক্কা থেকে বের হওয়া মুস্তাহাব, সেটার বর্ণনা ১ নিজ দেশে ফেরার সময় মক্কার যেই জায়গা থেকে প্রত্যাবর্তন করা মুস্তাহাব, তার বিবরণ ১ (১৮) কিরান হজের বিবরণ - যেই হাদীসের মাধ্যমে আমাদের কিছু ইমাম তামাত্তু হজ মুস্তাহাব হওয়ার উপর দলীল গ্রহণ করেন, সেটার বর্ণনা ১ সুবাই বিন মা‘বাদ যে ইহরাম বেঁধেছিলেন, তার বিবরণ ১ যে ব্যক্তি সাথে হাদী (কুরবানীর পশু) সাথে নিয়ে আসবে, তিনি তার ইহরামকে হজ ও উমরাহ উভয়টির জন্য নির্ধারণ করবেন মর্মে বর্ণনা ১ তামাত্তু হজ পালনকারীর জন্য হজ ও উমরাহর জন্য এক তাওয়াফ ও সাঈ যথেষ্ট মর্মে বর্ণনা ১
১ আবূ জুহায়ম আনসারী (রাঃ) (Abu Juhaim Ansari (RA))
২ আবূ মারওয়ান (রহ.) (Abu Marwan)
৩ আবূ সালিহ যায়য়্যাত (রহঃ) (Abu Saleh Zayyat (RH))
৪ ইয়াজিদ বিন মিকদাম (রহ.) (Yazid Ibn Mikdam (RH))
৫ জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাঃ) (Juyariah Bint Harith (RA))
৬ নাওফাল আল আশজা‘ঈ (রাঃ) (Nawfal Al Ashjai)
৭ নাফি‘ (রহঃ) (Nafi (RH))
৮ মা’দান ইবনু তলহাহ আল ইয়া’মুরী (রহ.) (Madan Ibn Talha Al-Yamuri (RH))
৯ মু’আবিয়াহ ইবনু খাদীজ (রাঃ) (Muawiyah ibn khadij)
১০ মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ) (Mutarrif Ibn Abdullah (RH))
১১ সা‘ঈদ ইবনু হারিস (রহঃ) (Said Ibnu Haris (RH))
১২ হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাঃ) (Haritha Ibn Wahab (RA))
১৩ হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (Husain (RA))
১৪ আ‘মাশ (রহঃ) (Aamash (RH))
১৫ আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) (Awaf Ibn Malik (RA))
১৬ আওস ইবনু আওস (রাঃ) (Awas Ibn Awas (RA))
১৭ আওসাত বিন আমের আল বাজালী (রহ.) (Awlat bin amer al-bajali)
১৮ আগার আল-মুযানী (রাঃ) (Agharr al-Muzani)
১৯ আতা ইবনু ইয়াসার (রহ.) (Aata Ibn Yasar (RH))
২০ আতীক আল আনসারী (রাঃ) (Atiq Al-Ansari (RA))
২১ আত্তাব বিন আসীদ (রাঃ) (Attab Ibn Asid)
২২ আদ-দাহহাক ইবনে কায়েস (রাঃ) (Ad-Dahhak Ibn Qays)
২৩ আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) (Adi Ibn Hatim (RA))
২৪ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) (Anas ibn Malik (RA))
২৫ আবদু খায়ের (রহঃ) (Abdu Khayer (RH))
২৬ আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) (Abdur Rahman Ibn Yazid (RH))
২৭ আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Awaf (RA))
২৮ আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Abza (RA))
২৯ আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ) (Abdur Rahman Ibn Abis)
৩০ আবদুর রহমান ইবনু আবূ ‘আমীরাহ্ (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Abu Amirah (RA))
৩১ আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) (Abdur Rahman Ibn Abi lailah (RH))
৩২ আবদুর রহমান ইবনু শিবল (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Shibl (RA))
৩৩ আবদুর রহমান ইবনু শুমাসাহ্‌ (রহ.) (Abdur Rahman Ibn Shumasha (RH))
৩৪ আবদুর রহমান ইবনু হাসানাহ্ (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Hasanah (RA))
৩৫ আবদুল হামীদ ইবনু মাহমুদ (রহ.) (Abdul Hamid Ibn Mahmud (RH))
৩৬ আবদুল্লাহ ইবন উকায়ম (রাঃ) (Abdullah Ibn Ukaym)
৩৭ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) (Abdullah Ibn Umar (RA))
৩৮ আবদুল্লাহ ইবন দায়লামী (রহঃ) (Abdullah Ibn Dailami)
৩৯ আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) (Abdullah Ibn Buraidah (RH))
৪০ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রাবী‘আ (রহঃ) (Abdullah Ibn Amir Ibn Rabiah (RH))
৪১ আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) (Abdullah Ibn Abu Awfa (RA))
৪২ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) (Abdullah Ibn Abbas (RA))
৪৩ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) (Abdullah Ibn Amar Ibnul Aass (RA))
৪৪ আবদুল্লাহ ইবনু আমির আল ইয়াহসাবী (রাযিঃ) (Abdullah ibn amir al yahsabi)
৪৫ আবদুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম ইবনু কারিয (রহ.) (Abdullah Ibn Ibrahim Ibn Kariz (RH))
৪৬ আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফার (রাঃ) (Abdullah Ibn Jafar (RA))
৪৭ আবদুল্লাহ ইবনু দ্বীনার (রহঃ) (Abdullah Ibn Dinar (RH))
৪৮ আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) (Abdullah Ibn Busar (RA))
৪৯ আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) (Abdullah Ibn Mugaffal (RA))
৫০ আবদুল্লাহ ইবনু সাইব (রাঃ) (Abdullah Ibn Sayeb (RA))
৫১ আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) (Abdullah Ibn Sarjis (RA))
৫২ আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম (রহঃ) (Abdullah Ibn Hashim)
৫৩ আবদুল্লাহ ইবনে মুহায়রীয (রহঃ) (Abdullah Ibn Muhairiz)
৫৪ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ) (Abdullah Ibn Masud)
৫৫ আবদুল্লাহ ইব্‌নু শাদ্দাদ (রহঃ) (Abdullah Ibn Shaddad (RA))
৫৬ আবদুল্লাহ বিন আমের (Abdullah Bin Amer)
৫৭ আবদুল্লাহ বিন শাকীক আল উকাইলী (রহ.) (Abdullah Bin Shaqiq Al Uqayli (RH))
৫৮ আবদুল্লাহ বিন শিখখীর (রাঃ) (Abdullah Ibn Shikkhir (RA))
৫৯ আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) (Abdullah Ibn Salam)
৬০ আবদুল্লাহ্ ইবন আবু কাতাদা (রহ.) (Abdullah Ibn Abu Qatada (RH))
৬১ আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ) (Abdullah Ibn Zayed (RA))
৬২ আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী (রহঃ) (Abdullah Ibn Abdur Rahman Ansari Mazini (RH))
৬৩ আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাঃ) (Abdullah Ibn Buhaina (RA))
৬৪ আবদুল্লাহ্ ইবনু হারিস (রহঃ) (Abdullah Ibn Harith (RA))
৬৫ আবদুল্লাহ্ ইবনু-যুবায়র (রাঃ) (Abdullah Ibn zubair (RA))
৬৬ আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাঃ) (Abdullah Muzani (RA))
৬৭ আবান ইবন উসমান (রহঃ) (Aban Ibn Uthman)
৬৮ আবিস ইবন রবীআ (রহঃ) (Abis Ibn Rabiah (RH))
৬৯ আবু ‘ইনাবাহ আল খাওলানী (রাঃ) (Abu Inabah Al Khawlani (RA))
৭০ আবু আইয়্যাশ আয যুরাকী (রাঃ) (Abu ayeash aj zuraki (RA))
৭১ আবু আব্দুর রহমান আস সুলামী (রহঃ) (Abu Abdur Rahman As-Sulami (RH))
৭২ আবু আমরাহ আল আনসারী (রাঃ) (Abu Amrah Al Ansari (RA))
৭৩ আবু ইদরিস খাওলানী (রহ.) (Abu Idris Khawlani (RH))
৭৪ আবু ইয়া'ফুর (রহঃ) (Abu Yafur)
৭৫ আবু কাসীর (রহঃ) (Abu Kathir (RH))
৭৬ আবু কাহিল আল আহমাসী (রাঃ) (Abu kahil al ahomasi (RA))
৭৭ আবু মালেক আল-আশজাঈ (রহঃ) (Abu Malik Ashjai)
৭৮ আবু মাহযুরা (রাঃ) (Abu Mahzura (RA))
৭৯ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ) (Abu Tufayel (RA))
৮০ আবুদ দারদা (রাঃ) (Abud Darda (RA))
৮১ আবুয্ যুবায়র (রহঃ) (Abuz Jubair (RH))
৮২ আবুল ‘আলা ইবনুল হাযরামী (Abul Ala Ibnul Hazrami)
৮৩ আবুল আলীয়া (রহঃ) (Abul Alia (RH))
৮৪ আবুল আসওয়াদ (রহঃ) (Abul Aswad (RH))
৮৫ আবুল আহওয়াস (রহঃ) (Abul Ahwash (RH))
৮৬ আবুল জা‘দ আদ্ব দ্বোমরী (রাঃ) (Abul Jadd aad domri (RA))
৮৭ আবুল হাওরা সাদী (রহঃ) (Abul Hawra Sadi)
৮৮ আবুশ-শা‘সা (রহঃ) (Abush-Sasa (RH))
৮৯ আবূ উমামাহ্ বাহিলী (রাঃ) (Abu Umamah Bahili (RA))
৯০ আবূ ‘উসমান (রহঃ) (Abu Usman (RH))
৯১ আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) (Abu Ayeub Ansari (RA))
৯২ আবূ ইসহাক (রহঃ) (Abu Ishak (RH))
৯৩ আবূ উমামা ইবনে হুনাইফ (Abu Umama Ibn Hunaif)
৯৪ আবূ উমামাহ বিন সাহল (রহঃ) (Abu Umamah Bin Sahal (RH))
৯৫ আবূ উসাইদ (রাঃ) (Abu Usaid (RA))
৯৬ আবূ ওয়াইল (রহঃ) (Abu Waile (RH))
৯৭ আবূ ওয়াকিদ আল-লায়সী (রাঃ) (Abu Wakid Al Layisi (RA))
৯৮ আবূ কাতাদা বিন রিবঈ (রা.) (Abu qatada bin ribyee)
৯৯ আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ) (Abu Qatada al-Ansari (RA))
১০০ আবূ কিলাবাহ্ (রহঃ) (Abu Kilaba (RH))
১০১ আবূ ক্বাতাদাহ সালামী (রাঃ) (Abu Qatada salami (RA))
১০২ আবূ জা‘ফার (রহঃ) (Abu Jafar (RH))
১০৩ আবূ জুরাই হুজাইমী (রাঃ) (Abu Juraiy Al-Hujaimi (RA))
১০৪ আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) (Abu Juhaifah (RA))
১০৫ আবূ ত্বলহা (রাঃ) (Abu Talha (RA))
১০৬ আবূ বকর ইবনে আবূ মুসা আশ‘আরী (রাঃ) (Abu Bakar Ibn Abu Musa Ashari (RA))
১০৭ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) (Abu Bakar Siddiq (RA))
১০৮ আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) (Abu Bakr Ibn Abdur Rahman (RH))
১০৯ আবূ বাকরা (রাঃ) (Abu Bakra (RA))
১১০ আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ) (Abu Barzah Al-Aslami (RA))
১১১ আবূ বাসরা আল গিফারী (রাঃ) (Abu Bashra Al Gifari (RA))
১১২ আবূ বুরদাহ্ ইবনু আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) (Abu Burdah Ibn Abu Musa Ashari (RA))
১১৩ আবূ মা‘মার (রহঃ) (Abu Mamar (RH))
১১৪ আবূ মারসাদ আল-গানাবী (রাঃ) (Abu Marsad Al Ganami)
১১৫ আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ) (Abu Malik Ashari (RA))
১১৬ আবূ মালীহ্ আল হুযালী (রহঃ) (Abu Malih Al Hujali (RH))
১১৭ আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) (Abu Masud Ansari (RA))
১১৮ আবূ মিনহাল (রহঃ) (Abu Minhal (RH))
১১৯ আবূ মুসলিম (রহঃ) (Abu Muslim (RH))
১২০ আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ) (Abu Musa al Ashari (RA))
১২১ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ) (Abu Dharr Al Gifari (RA))
১২২ আবূ রাফি‘ (রাঃ) (Abu Rafi (RA))
১২৩ আবূ রাযীন আল ‘উকায়লী (রাঃ) (Abu Razin Ukayli (RA))
১২৪ আবূ শুরাইহ্ খুওয়াইলিদ ইবনু আমর খুযায়ী (রা.) (Abu Shuraih Khuwailid bin Amr Al-Khuzai (RA))
১২৫ আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘আল্লা (রাঃ) (Abu Sayed Ibn Mualla (RA))
১২৬ আবূ সা‘লাবাহ্ আল খুশানী (রাঃ) (Abu Salabah Al Khushani (RA))
১২৭ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) (Abu Sayed Khudri (RA))
১২৮ আবূ সাঈদ ইবনু আবূ ফাযালাহ্ আল-আনসারী (রাঃ) (Abu Sayed Ibn abu fadalah Al-Ansari (RA))
১২৯ আবূ সালামাহ্ (রহঃ) (Abu Salamah (RH))
১৩০ আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) (Abu salamah Ibn Abdur Rahman)
১৩১ আবূ সুমামা আল হান্নাত (রহ.) (Abu sumama al hannat)
১৩২ আবূ সুহাইল ইবনু মালিক (রহ.) (Abu suhayl ibn malik)
১৩৩ আবূ হাযিম (রাঃ) (Abu Hazim)
১৩৪ আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার (রহ.) (Abu Hazim Ibn Dinar (RH))
১৩৫ আবূ হুমাইয়াহ আশ-শা’বানী (রহঃ) (Abu Humaywa Aash-shabani (RH))
১৩৬ আবূ হুমায়দ সা‘ঈদ (রাঃ) (Abu Humaid Sayed (RA))
১৩৭ আবূ হুরায়রা (রাঃ) (Abu Hurairah (RA))
১৩৮ আবূল আলা ইবনু শিখখীর (রহঃ) (Abul Ala Ibn Shikkhir (RH))
১৩৯ আবূল ফাযল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) (Abul Fadal Abbas Ibn Abdul Muttalib (RA))
১৪০ আবূস সাহবা (রহঃ) (Abus Sahba)
১৪১ আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Samurah (RA))
১৪২ আব্দুর রহমান ইবনে গান্‌ম (রহঃ) (Abdur Rahman Ibn Ganm)
১৪৩ আব্দুর রহমান বিন ইয়ামার আদ দিয়ালী (রাঃ) (Abdur rahman bin yamar aad diyali)
১৪৪ আব্দুর রহমান বিন কাতাদাহ আস সুলামী (রাঃ) (Abdur Rahman Ibn Qatadah As-Sulami (RA))
১৪৫ আব্দুল আযীয ইবন সুহায়ব (রহঃ) (Abdul Aziz Ibn Suhayb (RH))
১৪৬ আব্দুল্লাহ বিন আদী বিন হামরা আয যুহরী (রা.) (Abdullah bin adi bin hamra az zuhari)
১৪৭ আব্দুল্লাহ বিন কাইস (রা.) (Abdullah Bin Qais (RA))
১৪৮ আব্দুল্লাহ বিন কুরত (রাঃ) (Abdullah Bin Qurt)
১৪৯ আব্দুল্লাহ বিন সামিত (রা.) (Abdullah bin samit)
১৫০ আব্দুল্লাহ বিন হারিস বিন জুয (রা.) (Abdullah bin Harith bin Juz)
১৫১ আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ) (Abbad ibn Tamim (RH))
১৫২ আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) (Abbas Ibn Abdul Muttalib (RA))
১৫৩ আব্বাস ইবনু সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) (Abbas Ibn Sahal Ibn Saad (RA))
১৫৪ আমর ইবন হুরায়স (রাঃ) (Amar Ibn Huraiyes (RA))
১৫৫ আমর ইবনু আবূ হাসান (রহঃ) (Amar Ibn Abu Hasan (RH))
১৫৬ আমর ইবনু উমাইয়াহ (রাঃ) (Amar Ibn Umaiyah (RA))
১৫৭ আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) (Amar Ibn Maimun (RH))
১৫৮ আমর ইবনু মুররা (রহঃ) (Amar Ibn Murrah (RH))
১৫৯ আমর ইবনুল আস (রাঃ) (Amar Ibnul Aas (RA))
১৬০ আমর বিন হামিক আল খুযা‘ঈ (রাঃ) (Amar Ibn Hamiq Al-Khujaye (RA))
১৬১ আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) (Amrah BInt Abdur Rahman)
১৬২ আমির ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) (Amir Ibn Abdullah)
১৬৩ আমির ইবন সা'দ (রহঃ) (Amir Ibn Saad (RH))
১৬৪ আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) (Amir Ibn Rabiah (RA))
১৬৫ আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) (Ammar Ibn Yasir (RA))
১৬৬ আয়িশ ইবনু আনাস (রহ.) (Ayesh Ibn Anas (RH))
১৬৭ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) (Ayesha Bint Abu Bakar Siddique (RA))
১৬৮ আল-হাকাম ইবনে আমর (রাঃ) (Al-Hakam Ibn Amr)
১৬৯ আলকামা ইবন ওক্কাস (রহঃ) (Alqamah Ibn Waqqas)
১৭০ আলকামাহ (রহঃ) (Alqamah (RH))
১৭১ আলা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) (Ala Ibn Abdur Rahman)
১৭২ আলিয়া বিনতে সুবায়ঈ (রহঃ) (Alia Bint Subaiyi)
১৭৩ আলী ইবনু আবদুর রহমান মু'আবী (রহঃ) (Ali ibn Abuar Rahman al Muawi)
১৭৪ আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) (Ali Ibn Abi Talib (RA))
১৭৫ আলী ইবনু রাবী'আ (রহঃ) (Ali ibn Rabiah)
১৭৬ আলী ইবনু শায়বান (রাঃ) (Ali Ibn Shayban (RA))
১৭৭ আসওয়াদ (রহঃ) (Aswad (RH))
১৭৮ আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ) (Aswad Ibn Yazid)
১৭৯ আসমা বিন হারিসা (রা.) (Asma bin harisa)
১৮০ আসমা বিনতু ‘উমায়স (রাঃ) (Asma Bint Umays (RA))
১৮১ আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) (Asma Bin Abu Bakar (RA))
১৮২ আসিম ইবন হুমায়দ (রহঃ) (Asim Ibn Humayd)
১৮৩ আহনাফ ইব্‌ন কায়স (রহঃ) (Ahnaf Ibn Kayes (RH))
১৮৪ ইউসাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা (Yousairah (RA))
১৮৫ ইকরিমা (রহঃ) (Ikrimah (RH))
১৮৬ ইকরিমা ইবনু খালিদ (রহঃ) (Ikrimah Ibn Khalid (RH))
১৮৭ ইবন আবূ মুলায়কা (রহঃ) (Ibn Abu Mulayka (RH))
১৮৮ ইবনু জুরায়জ (রহঃ) (Ibn Jurayez (RH))
১৮৯ ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ) (Ibn Shihab (RH))
১৯০ ইবরাহীম ইবনু সুওয়ায়দ (রহঃ) (Ibrahim ibn Suwaid)
১৯১ ইব্রাহীম তাইমী (রহঃ) (Ibrahim Taimi (RH))
১৯২ ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) (Imran Ibn Hussain (RA))
১৯৩ ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ) (Yaz Ibn Himar Al-Mushjayi (RA))
১৯৪ ইয়ায বিন আব্দুল্লাহ বিন সারহ (রহ.) (Yaz bin abdullah bin sarah)
১৯৫ ইয়াযিদ বিন আসওয়াদ (রাঃ) (Yazid Ibn Aswad)
১৯৬ ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) (Yazid ibn sabit)
১৯৭ ইয়াযীদ ইবনু হায়্যান (রহঃ) (Yazid ibn Hayyan)
১৯৮ ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ) (Yala Ibn Umaiya (RA))
১৯৯ ইয়ালা বিন মামলাক (রহ.) (Yala bin mamlak)
২০০ ইয়াহইয়া ইবন ওলীদ ইবন উবাদা ইবন সামিত (Yahya Ibn Walid Ibn Ubada Ibn Samit)
২০১ ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর (রহঃ) (Yahia Ibn Abi Kathir (RH))
২০২ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার (রহঃ) (Yahya Ibn Yamar)
২০৩ ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ ইসহাক (রহ.) (Yahiya Ibn Abu Ishak (RH))
২০৪ ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) (Irbaz Ibn Sariyah (RA))
২০৫ ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) (Ishak Ibn Ibrahim)
২০৬ ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন কিনানা (রহ.) (Ishaq bin abdullah bin kinanah)
২০৭ ঈসা ইবনু তালহা (রহঃ) (Isa Ibn Talha (RA))
২০৮ উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) (Uqbah Ibn Amir (RA))
২০৯ উনাইসা বিনতু খুবাইব (রা.) (Unaisha bint khubaib (RA))
২১০ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) (Ubai Ibn Kaab (RA))
২১১ উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবন ‘উতবাহ (রহঃ) (Ubaidullah Ibn Abdullah Ibn Utbah (RH))
২১২ উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ) (Ubada Ibnus Samit (RA))
২১৩ উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু রাফে (রহ.) (Ubaidullah Ibn Abu Rafe)
২১৪ উমর ইবনু আবূ সালামাহ (রাঃ) (Umar Ibn Abu Salamah (RA))
২১৫ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (Umar Ibnul Khattab (RA))
২১৬ উমাইয়্যাহ্ ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহ.) (Umayyah ibn Abdullah (RH))
২১৭ উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ) (Umayma Bint Rukayka (RA))
২১৮ উমারাহ ইবনে রুবিয়্যাহ (রাঃ) (Umara Ibn Rubiayah (RA))
২১৯ উমারাহ বিনতু কা’ব (রাঃ) (Umara Bint Kaab (RA))
২২০ উম্মু আইয়ূব (রা.) (Ummu Ayeub)
২২১ উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) (Ummu Atiyah (RA))
২২২ উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাঃ) (Ummu Qays Bint Mihsan (RA))
২২৩ উম্মু খালিদ বিনতে খালিদ ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) (Ummu Khaled Bint Khalid Ibn Sa'id (RA))
২২৪ উম্মু জামিল বিনতু মুজাল্লিল (রা.) (Ummu Jamil bint mujallil)
২২৫ উম্মু ফাযল (রাঃ) (Ummu Fazl (RA))
২২৬ উম্মু বুজাইদ (রাঃ) (Ummu Buzaid (RA))
২২৭ উম্মু মুবাশ্শির (রাঃ) (Ummu Mubashir)
২২৮ উম্মু সালামাহ (রাঃ) (Ummu Salamah (RA))
২২৯ উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাঃ) (Ummu Hani Bint Abu Talib (RA))
২৩০ উম্মু হাবীবা (রাঃ) (Ummu Habiba (RA))
২৩১ উম্মু হুমাইদ (রাঃ) (Ummu Humayd (RA))
২৩২ উম্মুদ দারদা (রাঃ) (Ummud Darda (RA))
২৩৩ উরওয়া ইবন মুদাররিস (রাঃ) (Urwa Ibn Mudarris (RA))
২৩৪ উরওয়াহ (রহঃ) (Urwah (RH))
২৩৫ উরওয়াহ বিন যুবাইর (রহ.) (Urwah Bin Jubair (RH))
২৩৬ উসমান ইবন আফফান (রাঃ) (Uthman Ibn Affan (RA))
২৩৭ উসমান ইবন আবুল আস (রাঃ) (Uthman Ibn Abul Aass (RA))
২৩৮ উসমান ইবনু আবূল-আস আস-সাকাফী (রাঃ) (Uthman Ibn Abul Aas Ass Sakafi (RA))
২৩৯ উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) (Usama Ibn Zayed (RA))
২৪০ উসামাহ্ ইবনু শরীক (রাঃ) (Usamah Ibn Sharik (RA))
২৪১ উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) (Usayed Ibn huzayr (RA))
২৪২ ওয়াবিসা বিন মা’বাদ জুহানী (রাঃ) (Wabisa Ibn Ma'bad Juhani)
২৪৩ ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) (Wail Ibn Hujr (RA))
২৪৪ ওয়াররাদ (রহঃ) (Warrad)
২৪৫ ওয়াসিলাহ ইবনু আসকা‘ (রাঃ) (wasila Ibn Aska (RA))
২৪৬ কবীসা ইবন মুখারিক আল হিলালী (রাঃ) (Qabisha ibn mukhariq al hilali (RA))
২৪৭ কয়স ইবনু ‘আসিম (রাঃ) (Qayes Ibn Asim (RA))
২৪৮ কয়স ইবনু আব্বাদ (রাঃ) (Qayes Ibn Abbad (RA))
২৪৯ কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) (Kaab Ibn Ujra (RA))
২৫০ কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) (Kaab Ibn Malik (RA))
২৫১ কা’ব ইবনে ইয়ায (রাঃ) (Kaab Ibn iyaz (RA))
২৫২ কাইস বিন কাহদ (রা.) (Qaish bin kahad (RA))
২৫৩ কাতাদাহ (রহঃ) (Qatada (RH))
২৫৪ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ) (Qatadah inn Numan (RA))
২৫৫ কাবশা বিনতে কা’ব ইবনু মালিক (Kabsha Bint Kaab Ibn Malik)
২৫৬ কাবীসা ইবন যুআয়ব (রহঃ) (Kabisha ibn Jhuaib (RH))
২৫৭ কায‘আ (রহঃ) (Kaz'ah (RH))
২৫৮ কায়েস ইবনে তালক (রহঃ) (Qays Ibn Talk)
২৫৯ কাসিম (রহঃ) (Qasim (RH))
২৬০ কাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহঃ) (Qasim Ibn Muhammad (RH))
২৬১ কাসিম বিন হাস্সান (রহ.) (Qashim bin hassan)
২৬২ কাসীর ইবনু কায়স (রহঃ) (Kathir ibn Qayes (RH))
২৬৩ কিনানাহ আল আদাবী (রহ.) (Kinanah al adabi)
২৬৪ কুররাহ ইবনু খালিদ (রহঃ) (Kurrah Ibn Khalid (RH))
২৬৫ কুরায়ব (রহ.) (Kuraib (RH))
২৬৬ কুর্রা (রা.) (Kurrah)
২৬৭ ক্বায়স ইবন আবু হাযিম (রাঃ) (Qayes Ibn Abu Hazim (RA))
২৬৮ খাওলা বিনতু হাকীম আস্ সুলামিয়্যাহ্ (রাযিঃ) (Khawla bint Hakim Sulamiyya (RA))
২৬৯ খাওলা বিনতে কায়েস (রাঃ) (Khawla Bint Qays)
২৭০ খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) (Khabbab ibn al-Aratt)
২৭১ খালিদ বিন আদী আল জুহানী (রাঃ) (Khalid bin aadi al juhani)
২৭২ খাল্লাদ ইবন সায়িব (রহঃ) (Khallad Ibn Sayeb (RH))
২৭৩ খুফাফ বিন রহাদ্বহ আল গিফারী (রা.) (Khufaf bin rohadah al gifari)
২৭৪ খুযাইমাহ ইবনু ছাবিত আল আনসারী (রাঃ) (Khuzaimah Ibn Sabith Al-Ansari (RA))
২৭৫ গুযয়ফ ইবনুল হারিস (রাঃ) (Guzyaf Ibnul Harith (RA))
২৭৬ ছা'আছা ইবন মুয়াবিয়া (রহঃ) (Saasa Ibn Muawiah (RH))
২৭৭ জা‘ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) (Jafar Ibn Muhammad (RH))
২৭৮ জাবির ইবনু আতীক (রাঃ) (Jabir Ibn Atiq (RA))
২৭৯ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) (Jabir Ibn Abdullah Ansari (RA))
২৮০ জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) (Jabir Ibn Samurah (RA))
২৮১ জারহাদ (রাঃ) (Jarhad (RA))
২৮২ জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ) (Jarir Ibn Abdullah Al-BajlI (RA))
২৮৩ জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) (Jundub Ibn Abdullah (RA))
২৮৪ জুবায়র ইবন নুফায়র (রহঃ) (Jubair Ibn Nufayr (RH))
২৮৫ জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ) (Jubair Ibn Mutim (RA))
২৮৬ তলক (রাঃ) (Talaq (RA))
২৮৭ তাঊস (রহঃ) (Taus (RH))
২৮৮ তাওস আল ইয়ামানী (রহ.) (Tawsh al yamani)
২৮৯ তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) (Tariq Ibn Shihab (RH))
২৯০ তারিক বিন সুআইদ হাযরামী (রা.) (Tariq bin suyaid hazrami (RA))
২৯১ তালক ইবনে আলী (রাঃ) (Talk Ibn Ali)
২৯২ তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) (Talha Ibnu Ubaidullah (RA))
২৯৩ ত্বলহাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আওফ (রহঃ) (Talha Ibn Abdullah Ibn Awuf)
২৯৪ ত্বারিক ইবনু আবদুল্লাহ আল মুহারিবী (রাঃ) (Tarikq Ibn Abdullah Al-Muharibi (RA))
২৯৫ নাওফাল বিন মুআবিয়া (রাঃ) (Nawfal Bin Muawia)
২৯৬ নাও্ওয়াস ইবনু সাম্‘আন (রাঃ) (Nawwas Ibn Saman (RA))
২৯৭ নাযযাল ইবনু সাবরা (রহ.) (Nazzal Ibn Sabra (RH))
২৯৮ নু‘আয়ম মুজমির (রহঃ) (Nu'aim Mujmir (RH))
২৯৯ নু’আইম ইবনু হাম্মার (রাঃ) (Nuwyaim ibn hammar (RA))
৩০০ নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ) (Numan Ibn Bashir (RA))
৩০১ নুমাইর আল-খুযাঈ (রাঃ) (Numayer Al Khuzai (RA))
৩০২ ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) (Fatima Bint Qayes (RA))
৩০৩ ফাযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) (Fazl Ibn Abbas (RA))
৩০৪ ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ) (Fadala Ibn Ubayd (RA))
৩০৫ ফাযালা বিন উবাইদ (রাঃ) (Fajalah Ibn Ubayed (RA))
৩০৬ ফাযালাহ বিন আব্দুল্লাহ লাইসী (রা.) (Fadalah Ibn Abdullah Layisi (RA))
৩০৭ ফারওয়া ইবন নওফাল (রহ.) (Farwa Ibn Nowfal (RH))
৩০৮ বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ) (Bara ibnu azib (RA))
৩০৯ বিলাল ইবনু হারিস (রাঃ) (Bilal Ibn Harith (RA))
৩১০ বুরায়দাহ ইবনু হুসাইব আল-আসলামী (রাঃ) (Buraidah Ibn Husayeb Al-Aslami (RA))
৩১১ বুসর ইবন আবূ আরতাত (রাঃ) (Bushar Ibn Abu Artat)
৩১২ বুসর ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) (Bushar Ibn Sayed (RH))
৩১৩ বুসর বিন মিহজান (রহঃ) (Bushar ibn mihzan)
৩১৪ বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান (রাঃ) (Bushrah Bint Safwan (RA))
৩১৫ মা‘ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) (Maqil Ibn Yasar (RA))
৩১৬ মাইমূনাহ (রাঃ) (Maimunah (RA))
৩১৭ মায়মূনাহ্ (রাঃ) (Maymunah (RA))
৩১৮ মালিক ইবনু সা‘সা‘আ (রাঃ) (Malik Ibn Sas'a (RA))
৩১৯ মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) (Malik Ibn Huairith (RA))
৩২০ মালিক বিন নাযলাহ (রা.) (Malik bin nazalah)
৩২১ মাসউদ বিন হাকাম (রহ.) (Masud bin hakam)
৩২২ মাসরূক (রহঃ) (Mashruk)
৩২৩ মাহমূদ ইবনুর-রাবী (রাঃ) (Mahmud Ibnur Rabi (RA))
৩২৪ মিকদাদ ইবন আসওয়াদ (রাঃ) (Mikdad Ibn Aaswad)
৩২৫ মিকদাম বিন মা’দীকারিব (রাঃ) (Mikdam Ibn Madiqarib)
৩২৬ মিনহাল (রাঃ) (Minhal (RA))
৩২৭ মিসওয়ার বিন ইয়াযিদ আসাদী (রাঃ) (Miswar bin yazid asadi)
৩২৮ মু'আযাহ আল ‘আদাবিয়্যাহ (রহ.) (Muadaha Al Adabiyah (RH))
৩২৯ মু‘আইকিব (রাঃ) (Muaikib (RA))
৩৩০ মু‘আবিয়াহ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ) (Muawiyah Ibn Abu sufiyan (RA))
৩৩১ মু‘আবিয়াহ্ ইবনু কুররাহ্ (রহঃ) (Muawiyah Ibn kurrah (RH))
৩৩২ মু‘আবিয়াহ্ ইবনু হাকাম (রাঃ) (Muawiyah Ibn Hakam (RA))
৩৩৩ মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) (Muadh Bin Jabal (RA))
৩৩৪ মুখদাজী (রহঃ) (Mukhdaji)
৩৩৫ মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) (Mugira Ibn Shuba (RA))
৩৩৬ মুজাম্মি ইবনু ইয়াহইয়া আল আনসারী (রহ.) (Mujammi Ibn Yahea al-ansari (RH))
৩৩৭ মুজাহিদ (রহঃ) (Mujahid (RH))
৩৩৮ মুতাররিফ (রহঃ) (Mutarrif (RH))
৩৩৯ ‍মুতী (রা.) (Muti)
৩৪০ মুত্তালিব ইবন আবু ওয়াদা'আহ (রাঃ) (Muttalib Ibn Abu Wada (RA))
৩৪১ মুত্তালিব বিন হানতব (রহ.) (Muttalib bin hantab (RH))
৩৪২ মুস‘আব ইবনু সা‘দ (রহ.) (Musaab Ibn Saad (RH))
৩৪৩ মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) (Muhajir ibn Kunfudh (RA))
৩৪৪ মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আস-সাকাফী (রহঃ) (Muhammad Ibn Abu Bakr As-Sakafi)
৩৪৫ মুহাম্মদ ইবন হাতিব (রাঃ) (Muhammad Ibn Hatib (RA))
৩৪৬ মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হিব্বান (রহঃ) (Muhammad Ibn Yahya Ibn Hibban (RH))
৩৪৭ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহঃ) (Muhammad Ibn Amar (RH))
৩৪৮ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) (Muhammad ibn Amr ibn 'Ata (RH))
৩৪৯ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) (Muhammad Ibn Abdur Rahman)
৩৫০ মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহ.) (Muhammad Ibn Sirin (RA))
৩৫১ মুহাম্মাদ বিন সাইফী আল আনসারী (রা.) (Muhammad bin saifi al ansari)
৩৫২ মূসা ইবন সালামা হুযালী (রাঃ) (Musa Ibn Salamah Huzali (RA))
৩৫৩ যাইদ বিন উকবাহ (রহ.) (Zayed bin uqbah)
৩৫৪ যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) (Zayed Ibn Arkam (RA))
৩৫৫ যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) (Zayad Ibn Wahab (RH))
৩৫৬ যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) (Zayed Ibn Khalid (RA))
৩৫৭ যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) (Zayed Ibn Sabith (RA))
৩৫৮ যায়নাব সাকাফিয়্যা (রাঃ) (Zaynab Sakafiyya)
৩৫৯ যায়েদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) (Zayed ibn Khalid Al-Juhani (RA))
৩৬০ যিয়াদ ইবনু ‘ইলাকা (রহ.) (Ziad ibn Ilaka (RH))
৩৬১ যির ইবন হুবায়শ (রহঃ) (Zir Ibn Hubaysh)
৩৬২ যুহরী (রহঃ) (Zuhuri (RH))
৩৬৩ রবী'আহ্ ইবনু কা'ব আল আসালামী (রাঃ) (Rabiah Bin Kaab Al-Aslami)
৩৬৪ রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) (Rafi Ibn Khadij (RA))
৩৬৫ রাবিআহ বিন আল গায (রহ.) (Rabiah bin al gaz)
৩৬৬ রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ) (Rifaa Ibn Rafi Zuraki (RA))
৩৬৭ রিফা‘আহ বিন ‘আরাবাহ আল জুহানী (রাঃ) (Rifah Bin Arabah Al Juhani (RA))
৩৬৮ রুবায়্যি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাঃ) (Rubayyi Bint Muawiyah (RA))
৩৬৯ লাকিত্ব ইবনু সাবরাহ (রাঃ) (Lakit Ibn Sabrah (RH))
৩৭০ শা‘বী (রহঃ) (Shabi (RH))
৩৭১ শাক্বীক ইবনু সালামা (রহঃ) (Shaqiq Ibn Salamah (RH))
৩৭২ শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ) (Shaqiq Ibn Abdullah)
৩৭৩ শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) (Shaddad Ibn Awus (RA))
৩৭৪ শারীদ ইবন সুআয়দ (রাঃ) (Sharid Ibn Suwwaid (RA))
৩৭৫ শুরাইহ ইবনু হানী (রহঃ) (Shuraih Ibn Hani (RH))
৩৭৬ শুরায়হ (রহঃ) (Shurayh (RH))
৩৭৭ সা'ঈদ ইবনু 'আবদুল আযীয (রহিমাহুল্লাহ) (Sayed Ibn Abdul Aziz (RH))
৩৭৮ সা'ঈদ ইবনু সাম'আন (রহ.) (Sayed Ibn Samman (RH))
৩৭৯ সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) (Saad Ibn Ubada (RA))
৩৮০ সা'দ ইবন হিশাম (রহঃ) (Saad Ibn Hisham (RH))
৩৮১ সা'লাবাহ্ ইবনু যাহদাম (রাঃ) (Thalabah ibn zahadam (RA))
৩৮২ সা‘ঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) (Sayed Ibn Yasar (RH))
৩৮৩ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) (Sayed Ibn Jubair (RH))
৩৮৪ সা‘দ ইবনু মালিক (রাঃ) (Saad Ibn Malik (RA))
৩৮৫ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) (Saad Ibn Abu Waqqas (RA))
৩৮৬ সাইব বিন খাল্লাদ (রহ.) (Sayeb ibn khallad)
৩৮৭ সাঈদ আল-মাকবুরী (রহঃ) (Sayed Al Makburi)
৩৮৮ সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) (Sayed Ibn Musayyeb (RH))
৩৮৯ সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) (Sayed Ibn Zayed (RA))
৩৯০ সাওবান (রাঃ) (Thawban (RA))
৩৯১ সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) (Safwan Ibn Muhriz)
৩৯২ সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ) (Safwan Ibn Assal)
৩৯৩ সাফিয়্যা বিনত আবূ উবায়দ (রহঃ) (Safiyya bint Abu Ubaid)
৩৯৪ সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ) (Safiya Bint Huwai)
৩৯৫ সাফ্ওয়ান ইবনু ই‘য়ালা (রহঃ) (Safwan Ibn Yala (RH))
৩৯৬ সাবিত আল বুনানী (রহঃ) (Sabit Al Bunani)
৩৯৭ সাবিত ইবন যাহহাক আনসারী (রাঃ) (Sabit Ibn Zahhak Ansari (RA))
৩৯৮ সামুরা ইবন সাহম (রাঃ) (Samura Ibn Sahm)
৩৯৯ সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) (Samura Ibn Jundub (RA))
৪০০ সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) (Sayeb ibn Yazid (RA))
৪০১ সালমান ইবনু ‘আমির আয্ যব্বী (রাঃ) (Salman Ibn amir Az-Zabbi (RA))
৪০২ সালমান ফারসী (রাঃ) (Salman Farsi (RA))
৪০৩ সালাবা ইবন যাহদাম ইয়ারবু'ঈ (রাঃ) (Sa'laba Ibn Zahdam)
৪০৪ সালামা ইবন কুহায়াল (রহঃ) (Salama Ibn Kuhail (RH))
৪০৫ সালামা ইবনু কাইস (রাঃ) (Salamah bin Qais )
৪০৬ সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ) (Salamah Ibn Akwah (RA))
৪০৭ সালামাহ বিন আযরাক (রা.) (Salamah bin azkar)
৪০৮ সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ) (Salim Ibn Abdullah (RH))
৪০৯ সালিহ (রহঃ) (Salih (RH))
৪১০ সাহল ইবন হানযালিয়্যা (রাঃ) (Sahal ibn al-Hanzaliyyah)
৪১১ সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ) (Sahl Ibn Abu Hasma (RA))
৪১২ সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) (Sahl Ibn Hunaif (RA))
৪১৩ সাহল বিন সা'দ (রাঃ) (Sahal Bin Saad (RA))
৪১৪ সাহল বিন হানিফ (রাঃ) (Sahal Bin Hanif (RA))
৪১৫ সিমাক ইবন হারব (রহঃ) (Simak Ibn Harb)
৪১৬ সিমাক বিন হানাফী (রহ.) (Simak bin hanafi)
৪১৭ সিলাহ বিন যুফার (রহ.) (Silah bin zufar)
৪১৮ সু‘দা আল মুর্রিয়্যাহ (রাঃ) (Suda Al Muriyah (RA))
৪১৯ সুওয়াইদ ইবনু গাফালা (রহঃ) (Suwaid Ibn Gafala (RH))
৪২০ সুওয়াইদ ইবনু নু‘মান (রাঃ) (Suwaid Ibn Numan (RA))
৪২১ সুফ্ইয়ান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আস্ সাকাফী (রাঃ) (Sufyan Ibn Abdullah As-Sakafi (RA))
৪২২ সুমামা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস (রহ.) (Sumama Ibn Abdullah Ibn Anas (RA))
৪২৩ সুরাকাহ্ ইবনু মালিক ইবনু জু‘শুম (রাঃ) (Suraka Ibn Malik Ibn Jushum (RA))
৪২৪ সুলাইম বিন জাবির আল হুজাইমী (রা.) (Sulaim Ibn Jabir Al Hudaimi (RA))
৪২৫ সুলাইমান আল ইয়াশকুরী (রহ.) (Sulaiman Al Yashkuri)
৪২৬ সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) (Sulaiman Ibn Yasar (R))
৪২৭ সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) (Sulayman Ibn Surad (RA))
৪২৮ সুহায়ব আর্ রূমী (রাঃ) (Suhayb Ar Rumi)
৪২৯ হাইয়্যান আবুন নাযর (রহ.) (Hayan Abun Nazar)
৪৩০ হাকাম ইবনু আরাজ (রহঃ) (Hakam Ibn Aaraj)
৪৩১ হাকিম ইবনু মুআবিয়াহ (রহঃ) (Hakim Ibn Muawiyah (RH))
৪৩২ হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) (Hakim Ibn Hizam (RA))
৪৩৩ হাফসাহ (রাঃ) (Hafsa (RA))
৪৩৪ হামযা (রাঃ) (Hamza (RA))
৪৩৫ হামযা বিন আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা.) (Hamza Bin Abdullah Bin Umar (RA))
৪৩৬ হামযাহ বিন ‘আমর আল-আসলামী (রাঃ) (Hamzah bin ’Amro Al-Aslami (RA))
৪৩৭ হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রহঃ) (Hammad Ibn Zayed (RHa))
৪৩৮ হাম্মাম (রহঃ) (Hammam (RH))
৪৩৯ হাম্মাম ইবনু হারিস (রহঃ) (Hammam Ibn Haris (RH))
৪৪০ হারিস বিন মুসলিম (রাঃ) (Harith Inb Muslim)
৪৪১ হাসান (রহঃ) (Hasan (RH))
৪৪২ হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহ আর-রাকাশী (রহঃ) (Hittan Ibn Abdullah Ar-Rakashi)
৪৪৩ হিরমাস ইবন যিয়াদ (রাঃ) (Hirmas Ibn Zayd)
৪৪৪ হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ) (Hilal Ibn Yasaf (RH))
৪৪৫ হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) (Hisham Ibn Urwah (RH))
৪৪৬ হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) (Humran Ibn Aban (RH))
৪৪৭ হুমায়দ (রহঃ) (Humayd (RH))
৪৪৮ হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) (humayed ibn Abdur Rahman (RH))
৪৪৯ হুযায়ফাহ ইবন আল-ইয়ামান (রাঃ) (Hudaifah ibn al-Yaman (RA))
৪৫০ হুলব আত তা‘ঈ (রাঃ) (Hulb att taye)
হাদিসের QR কোড
Hadith QR
স্ক্যান করলে এই লিঙ্কটি ওপেন হবে
ডাউনলোড QR
লিঙ্ক কপি করা হয়েছে
হাদিস কপি হয়েছে
বর্তমান বুকমার্ক

বই ও অধ্যায়

পড়ার মোড

ফন্ট সাইজ
বাংলা
100%
عربي
100%
Eng
100%

ভাষা দেখান/লুকান

কপিরাইট


2013-2026 Hadithbd, All rights reserved.
Developer: Rokon UL Haque
Privacy policy
Bangla text convrter

Get Bangla Hadith App on Google Play store
Get Bangla Hadith App on Apple store

ডোনেশন


হাদিসবিডি'র প্রজেক্টসমূহে সহযোগিতা করুন, হাদিসবিডি একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত দ্বীনভিত্তিক প্রজেক্ট। এটি কোনো দল বা সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা এই কল্যাণময় কাজকে আরও বেগবান ও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে, ইন-শা-আল্লাহ।
ডোনেট করুন

যোগাযোগ


ROKON-UL-HAQUE (রোকন উল হক)
info@hadithbd.com
facebook.com/hadithbd
youtube.com/c/hadithbdTube
x.com/hadithbd
instagram.com/hadithbdcom
ট্যাগ ম্যানেজমেন্ট