পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ
অর্থাৎ, অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর। (সূরা জুমুআহ ১০)
(২৩৯৩) আবূ আব্দুল্লাহ যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে পাহাড় যাওয়া এবং কাঠের বোঝা পিঠে করে বয়ে আনা ও তা বিক্রি করা, যার দ্বারা আল্লাহ তার চেহারাকে (অপমান থেকে) বাঁচান, লোকেদের কাছে এসে ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম; চাহে তারা তাকে দিক বা না দিক।
وَعَنْ أَبِـيْ عَبدِ اللهِ الزُبَيرِ بنِ العَوَّامِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَأَنْ يَّأخُذَ أحَدُكُمْ أَحْبُلَهُ ثُمَّ يَأْتِيَ الْـجَبَلَ فَيَأْتِيَ بِـحُزْمَةٍ مِّنْ حَطَبٍ عَلٰى ظَهْرِهِ فَيَبِيْعَهَا فَيَكُفَّ اللهُ بِهَا وَجْهَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أنْ يَّسْألَ النَّاسَ أعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৪) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ ক’রে পিঠে ক’রে বয়ে আনা, কোন লোকের কাছে এসে ভিক্ষা করার চেয়ে অনেক ভাল; চাহে সে দিক বা না দিক।’’ (বুখারী ২০৭৪, ২৩৭৪, মুসলিম ২৪৪৯)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَأَنْ يَّـحْتَطِبَ أحَدُكُمْ حُزْمَةً عَلٰى ظَهْرِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أنْ يَّسْألَ أَحَداً فَيُعْطِيَهُ أَوْ يَمْنَعَهُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৫) উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকারিয়া (আঃ) ছুতোর (কাঠ-মিস্ত্রী) ছিলেন।
وَعَنهُ : أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ كَانَ زَكرِيّا نَـجَّارًا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৬) উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঊদ (আঃ) নিজ হাতের উপার্জন ছাড়া খেতেন না।
وَعَنهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كَانَ دَاوُدُ لَا يَأكُلُ إِلاَّ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৭) মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিজের হাতের উপার্জন থেকে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায়নি। আল্লার নবী দাউদ (আঃ) নিজ হাতের উপার্জন থেকে খেতেন।
وَعَنِ الْمِقدَامِ بنِ مَعْدِيْكَرِبَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا أكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أنْ يَأكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِه وَإنَّ نَبيَّ الله دَاوُدَ كَانَ يَأكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৮) রাফে’ বিন খাদীজ (রাঃ) বলেন, জিজ্ঞাসা করা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! কোন উপার্জন সবচেয়ে বেশি পবিত্র?’ উত্তরে তিনি বললেন, সবচেয়ে পবিত্র উপার্জন হল, যা মানুষের নিজ হাতের কাজ এবং সদুপায়ে ব্যবসার মাধ্যমে করা হয়।
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيْجٍ قَالَ: قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ؟ قَالَ عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُلُّ بَيْعٍ مَبْرُوْرٍ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৩৯৯)আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শ্রেষ্ঠ উপার্জন হল (শ্রমজীবীর) হাতের উপার্জন; যদি সে (তার কাজে) হিতাকাঙ্ক্ষী হয়।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ خَيْرُ الْكَسْبِ كَسْبُ يَدِ الْعَامِلِ إِذَا نَصَحَ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যে খাদ্য ভক্ষণ কর, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম খাদ্য হল তোমাদের নিজের হাতে কামাই করা খাদ্য। আর তোমাদের সন্তানগণ তোমাদের উপার্জিত ধনের পর্যায়ভুক্ত।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَطْيَبِ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَوَلَدُهُ مِنْ كَسْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এমন সময় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে একজন (সুস্বাস্থ্যবান) যুবক বের হয়ে এল। আমরা যখন তাকে দেখলাম এবং তার প্রতি দৃষ্টি ফেলে রাখলাম, তখন বললাম, যদি এই যুবক তার যৌবন, উদ্যম ও শক্তিকে আল্লাহর পথে ব্যয় করত! (তাহলে কতই না উত্তম হতো।) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এ কথা শুনে বললেন, (যুদ্ধে) খুন হওয়া ছাড়া কি আর আল্লাহর পথ নেই? যে ব্যক্তি নিজ পিতামাতার জন্য রুযী-সন্ধান করে, তার কাজ আল্লাহর পথে, যে ব্যক্তি নিজ ছেলেমেয়ের জন্য রুযী-সন্ধান করে, তার কাজ আল্লাহর পথে এবং যে ব্যক্তি নিজেকে সৎ রাখার জন্য রুযী-সন্ধান করে, তার কাজও আল্লাহর পথে। কিন্তু যে ব্যক্তি ধনবৃদ্ধিতে গর্ব করার জন্য কর্ম করে, তার কাজ তাগূত অথবা শয়তানের পথে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : بَيْنَمَا نَـحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا شَابٌّ مِنَ الثَّنِيَّةِ فَلَمَّا رَأَيْنَاهُ بِأَبْصَارِنَا قُلْنَا : لَوْ أَنَّ هَذَا الشَّابَ جَعَلَ شَبَابَهُ وَنَشَاطَهُ وَقُوَّتَهُ فِى سَبِيلِ اللهِ قَالَ فَسَمِعَ مَقَالَتَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ وَمَا سَبِيْلُ اللهِ إِلاَّ مَنْ قُتِلَ؟ مَنْ سَعٰـى عَلٰـى وَالِدَيْهِ فَفِى سَبِيلِ اللهِ وَمَنْ سَعَى عَلٰـى عِيَالِهِ فَفِى سَبِيلِ اللهِ وَمَنْ سَعٰـى عَلٰـى نَفْسِهِ لِيُعِفَّهَا فَفِى سَبِيلِ اللهِ وَمَنْ سَعٰـى عَلٰـى التَّكَاثُرِ فَهُوَ فِـىْ سَبِيْلِ الشَّيْطَانِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’অবশ্যই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র (মালই) কবুল করে থাকেন। আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই আদেশ করেছেন, যে আদেশ করেছেন আম্বিয়াগণকে। সুতরাং তিনি আম্বিয়াগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ’হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার কর এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।’ (সূরা মু’মিনূন ৫১)
আর তিনি (মুমিনদের উদ্দেশ্যে) বলেছেন, ’হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে সব রুজী দান করেছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর--।’ (সূরা বাক্বারাহ ১৭২)
অতঃপর তিনি সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে লম্বা সফর করে আলুথালু ধূলিমলিন বেশে নিজ হাত দু’টিকে আকাশের দিকে লম্বা করে তুলে দু’আ করে, ’হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রভু!’ কিন্তু তার আহার্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় লেবাস হারাম এবং হারাম দ্বারাই তার পুষ্টিবিধান হয়েছে। অতএব তার দু’আ কিভাবে কবুল হতে পারে?
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لاَ يَقْبَلُ إِلاَّ طَيِّبًا وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ (يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّىْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِيمٌ) وَقَالَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيْلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِىَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৩) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কা’ব বিন উজরার উদ্দেশ্যে বললেন, হে কা’ব বিন উজরাহ! সে মাংস কোন দিন বেহেশত্ প্রবেশ করতে পারবে না, যার পুষ্টিসাধন হারাম খাদ্য দ্বারা করা হয়েছে। (দারেমী ২৭৭৬, সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহা ৬/২১৪পৃ.)
হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী কা’ব বিন উজরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণনা করেছেন। কা’ব বলেন, আমাকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ... হে কা’ব বিন উজরাহ! যে মাংস হারাম খাদ্য দ্বারা প্রতিপালিত হবে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত। (সহীহ তিরমিযী ৫০১, বিশুদ্ধ সনদে)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ يَا كَعْبُ بْنِ عُجْرَةَ إِنَّهُ لَنْ يَّدْخُلِ الْجَـنَّةَ لَـحْـمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রুজী সন্ধানের ব্যাপারে জলদিবাজি করো না। পৃথিবীতে কোন বান্দাই তার ভাগ্যে নির্ধারিত সর্বশেষ রুযী অর্জন না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং রুযী সন্ধানে মধ্যবর্তী পন্থা (সুন্দর ও স্বাভাবিক বৈধ পথ) অবলম্বন কর। হালাল উপায় গ্রহণ কর এবং হারাম উপায় বর্জন কর।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَسْتَبْطِئُوا الرِّزْقَ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ عَبْدٌ يَمُوتُ حَتّٰـى يَبْلُغَهُ آخِرُ رِزْقٍ هُوَ لَهُ فَاتَّقُوا اللهَ وَأَجْمِلُوا فِى الطَّلَبِ مِنَ الْحَلاَلِ وَتَرْكِ الْحَرَامِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৫) আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরীল আমার হৃদয়ে প্রক্ষিপ্ত করেছেন যে, কোন আত্মাই তার ভাগ্যে নির্ধারিত সর্বশেষ আয়ু ও রুযী পূর্ণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং রুজী সন্ধানে মধ্যবর্তী পন্থা (সুন্দর ও স্বাভাবিক বৈধ পথ) অবলম্বন কর। রুযী আসতে দেরী দেখে তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার সন্ধানে উদ্বুদ্ধ না হয়। যেহেতু (রুযী আল্লাহর হাতে আর) তা তাঁর বাধ্য না হয়ে অর্জন করা যায় না।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنَّ رُوْحَ الْقُدُسِ نَفَثَ فيِْ رُوعِيْ أنّ نَفْسًا لنْ تَمُوتَ حَتّى تَسْتَكْمِلَ أجَلَها وَتَسْتَوْعِبَ رِزْقَها فاتّقُوا اللهَ وأجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ وَلَا يَحْمِلنَّ أحَدَكُمُ اسْتِبْطاءُ الرِّزْقِ أنْ يَّطْلُبَهُ بِمَعْصِيَةِ الله فَإِنَّ اللهَ تَعَالٰى لَا يُنالُ مَا عِنْدَهُ إِلَّا بِطاعَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৬) আবূ সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমানতদার, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন আম্বিয়া, সিদ্দীক্বীন ও শহীদগণের সাথে অবস্থান করবে।
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৭) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন কোন বান্দার পদযুগল তার প্রতিপালকের নিকট থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত সরবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে ৫টি জিনিস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে; তার আয়ু প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে যে, সে তা কিসে ক্ষয় করেছে? তার যৌবন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে যে, সে তা কিসে নষ্ট করেছে? তার ধন-সম্পদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে যে, সে তা কি উপায়ে উপার্জন করেছে এবং কোন্ পথে ব্যয় করেছে? এবং যে ইলম সে শিখেছিল, সে অনুযায়ী কি আমল করেছে?
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَزُولُ قَدْمَ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتّٰـى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ: عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَشَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ كَسَبَهُ وَفِيْمَا أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের উপর এমন একটি যুগ (অবশ্যই) আসবে, যখন সে এ কথার কোন পরোয়াই করবে না যে, সে যা গ্রহণ (উপার্জন) করছে তা হালালের শ্রেণীভুক্ত অথবা হারামের।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ أَمِنْ حَلَالٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪০৯) জুন্দুব বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মরণের পর) মানুষের যে অংশটি সবার আগে পঁচে দুর্গন্ধময় হবে তা হল তার পেট। সুতরাং যে ব্যক্তি সক্ষম যে, সে কেবল হালাল ছাড়া অন্য কিছু (হারাম) ভক্ষণ করবে না, সে যেন তা-ই করে। আর যে ব্যক্তি সক্ষম যে, সে আঁজলা পরিমাণ খুন বহিয়ে তার ও জান্নাতের মাঝে কোন অন্তরায় সৃষ্টি করবে না, সেও যেন তা-ই করে।
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُنْتِنُ مِنْ الْإِنْسَانِ بَطْنُهُ فَمَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَأْكُلَ إِلَّا طَيِّبًا فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يُحَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ بِمِلْءِ كَفِّهِ مِنْ دَمٍ أَهْرَاقَهُ فَلْيَفْعَلْ
পরিচ্ছেদঃ স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
(২৪১০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর একটি গোলাম ছিল। তিনি তার উপার্জন করা অর্থ তাকে জিজ্ঞাসা ক’রে (হালাল হলে) খেতেন। একদিন জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গিয়ে তার উপার্জিত কিছু খাবার খেয়ে ফেললেন। গোলাম বলল, ’আপনি কি জানেন, আপনি আজ কী খেলেন?’ তিনি বললেন, ’না তো। কিসের উপার্জন খাওয়ালে তুমি আজ?’ গোলাম বলল, ’জাহেলী যুগে আমি গণকের কাজ করতাম। এক ব্যক্তির ভাগ্য গণনা করেছিলাম। আমি ভাগ্য গণনার কিছুই জানতাম না। আসলে আমি তাকে ধোকা দিয়েছিলাম। আজ তার সাথে সাক্ষাৎ হলে সে সেই পারিশ্রমিক আমাকে দান করল। আর তাই আপনি ভক্ষণ করলেন।’ এ কথা শোনামাত্র তিনি নিজ মুখে আঙ্গুল ভরে পেটের সমস্ত খাবারটাই বমি করে দিলেন!
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ لِأَبِـيْ بَكْرٍ غُلَامٌ يُخْرِجُ لَهُ الْخَرَاجَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ فَجَاءَ يَوْمًا بِشَيْءٍ فَأَكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ الْغُلَامُ أَتَدْرِي مَا هَذَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَمَا هُوَ قَالَ كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لِإِنْسَانٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَمَا أُحْسِنُ الْكِهَانَةَ إِلَّا أَنِّي خَدَعْتُهُ فَلَقِيَنِي فَأَعْطَانِي بِذَلِكَ فَهَذَا الَّذِي أَكَلْتَ مِنْهُ فَأَدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنِهِ
পরিচ্ছেদঃ নিজ কর্মে নিপুণতা
(২৪১১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শ্রেষ্ঠ উপার্জন হল (শ্রমজীবীর) হাতের উপার্জন; যদি সে (তার কাজে) হিতাকাঙ্ক্ষী হয়।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ خَيْرُ الْكَسْبِ كَسْبُ يَدِ الْعَامِلِ إِذَا نَصَحَ
পরিচ্ছেদঃ নিজ কর্মে নিপুণতা
(২৪১২) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তোমাদের কেউ কোন কাজ করলে সে যেন তা নৈপুণ্যের সাথে করে।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ إِذَا عَمِلَ أحَدُكُم عَمَلاً أنْ يُتْقِنَهُ
পরিচ্ছেদঃ নিজ কর্মে নিপুণতা
(২৪১৩) আমর বিন শুআইব, তিনি তাঁর পিতা, তিনি তাঁর (আমরের) দাদা হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ডাক্তারি করে, অথচ ডাক্তারি করা তার কাজ নয়, সে ব্যক্তি (রোগীর জন্য) যামিন।
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ تَطَبَّبَ وَلاَ يُعْلَمُ مِنْهُ طِبٌّ فَهُوَ ضَامِنٌ
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَـحْسَبُوْنَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللهِ عَظِيْمٌ
অর্থাৎ, তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে; যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে এ ছিল গুরুত্বর বিষয় (সূরা নূর ১৫)
তিনি আরো বলেন,
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ
অর্থাৎ, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (সূরা ফাজর ১৪)
(২৪১৪) নু’মান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, অবশ্যই হালাল বিবৃত ও স্পষ্ট এবং হারাম বিবৃত ও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দিহান বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দিহান বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে এবং যে ব্যক্তি সন্দিহানে পতিত হবে (সন্দিগ্ধ বস্তু ভক্ষণ করবে), সে হারামে পতিত হবে। (এর উদাহরণ সেই) রাখালের মত, যে নিষিদ্ধ চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার পক্ষে নিষিদ্ধ সীমানায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোন! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষেত চারণভূমি থাকে। আর শোন! আল্লাহর সংরক্ষেত চারণভূমি হল তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ। শোন! দেহের মধ্যে একটি মাংসপি- রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃৎপি- (অন্তর)।
وَعَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إنَّ الْـحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإنَّ الْـحَرامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبَهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ في الحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الحِمَى يُوشِكُ أنْ يَرْتَعَ فِيهِ ألاَ وَإنَّ لكُلّ مَلِكٍ حِمَىً ألاَ وَإنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ ألاَ وَإنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَت صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ ألاَ وَهِيَ القَلْبُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪১৫) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথে একটি খেজুর পেলেন। অতঃপর তিনি বললেন, যদি আমার এর সাদকাহ হওয়ার আশঙ্কা না হত, তাহলে আমি এটি খেয়ে ফেলতাম।
وعَنْ أَنَسٍ أنَّ النَّبِيَّ ﷺ وَجَدَ تَمْرَةً فِي الطَّرِيْقِ فَقَالَ لَوْلاَ أنِّـيْ أخَافُ أنْ تَكُوْنَ مِنَ الصَّدَقَةِ لَأَكَلْتُهَا
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪১৬) নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পুণ্যবত্তা হল সচ্চরিত্রতার নাম এবং পাপ হল তাই, যা তোমার অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং তা লোকে জেনে ফেলুক -এ কথা তুমি অপছন্দ কর।
وَعَنِ النَّوَّاسِ بنِ سَمْعَانَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ البِرُّ : حُسْنُ الْـخُلُقِ وَالْإِثْمُ : مَا حَاكَ فِيْ نَفْسِكَ وَكَرِهْتَ أنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪১৭) ওয়াবেস্বাহ ইবনে মা’বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি পুণ্যের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে এসেছ? আমি বললাম, ’জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, তুমি তোমার অন্তরকে (ফতোয়া) জিজ্ঞাসা কর। পুণ্য হল তা, যার প্রতি তোমার মন প্রশান্ত হয় এবং অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আর পাপ হল তা, যা মনে খট্কা সৃষ্টি করে এবং অন্তর সন্দিহান হয়; যদিও লোকেরা তোমাকে (তার বৈধ হওয়ার) ফতোয়া দিয়ে থাকে।
وَعَن وَابِصَةَ بْنِ مَعبَدٍ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ جِئْتَ تَسْألُ عَنِ الْبِرِّ ؟ قُلْتُ: نَعَمْ فَقَالَ اسْتَفْتِ قَلْبَكَ البرُّ : مَا اطْمَأنَّت إِلَيْهِ النَّفسُ وَاطْمأنَّ إِلَيْهِ القَلْبُ وَالإثْمُ : مَا حَاكَ في النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ وَإنْ أفْتَاكَ النَّاسُ وَأفْتَوكَ حديث حسن رواه أحمد والدَّارمِيُّ في مُسْنَدَيْهِمَا
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪১৮) আবূ সিরওয়াআহ উক্ববাহ ইবনে হারেস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ ইহাব ইবনে আযীযের এক কন্যাকে বিবাহ করলেন। অতঃপর তার নিকট এক মহিলা এসে বলল, ’আমি উক্ববাহকে এবং তার স্ত্রীকে দুধপান করিয়েছি। উক্ববাহ তাকে বললেন, ’তুমি যে আমাকে দুধ পান করিয়েছ তা তো আমি জানি না, আর তুমি আমাকে তার খবরও দাওনি। অতঃপর উক্ববাহ (সওয়ারীর উপর) সওয়ার হয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মদীনায় এলেন এবং এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সব বৃত্তান্ত শুনে) বললেন, যখন এ কথা বলা হয়েছে, তখন তুমি কি ক’রে বিবাহ বন্ধন অটুট রাখবে? সুতরাং উক্ববাহ (রাঃ) তাকে ত্যাগ করলেন এবং সে অন্য স্বামী গ্রহণ করল।
وَعَن أَبِـيْ سِرْوَعَةَ عُقبَةَ بنِ الحارِثِ أنَّهُ تَزَوَّجَ ابنَةً لأبي إهَابِ بنِ عَزِيزٍ فَأتَتْهُ امْرَأةٌ فَقَالَتْ: إنّي قَدْ أرضَعْتُ عُقْبَةَ وَالَّتِي قَدْ تَزَوَّجَ بِهَا فَقَالَ لَهَا عُقْبَةُ : مَا أعْلَمُ أنَّك أَرضَعْتِنِي وَلاَ أخْبَرْتِني فَرَكِبَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ بِالمَدِينَةِ فَسَأَلَهُ : فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَيْفَ ؟ وَقَد قِيلَ فَفَارَقَهَا عُقْبَةُ وَنَكَحَتْ زَوْجاً غَيْرَهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪১৯) আলীর পুত্র হাসান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (এ হাদীস) স্মরণ রেখেছি, তা বর্জন কর, যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে এবং তা গ্রহণ কর, যাতে তোমার সন্দেহ নেই।
وَعَنِ الحَسَنِ بنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : حَفِظتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪২০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর একজন ক্রীতদাস ছিল, যে চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ধার্যকৃত কর আদায় করত। আর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তার সেই আদায়কৃত অর্থ ভক্ষণ করতেন। (অবশ্য প্রত্যহ সে অর্থ হালাল কি না, তা জিজ্ঞাসা করে নিতেন।) একদিনের ঘটনা, ঐ ক্রীতদাস কোন একটা জিনিস এনে তাঁর খিদমতে হাজির করল। আর তিনি (সেদিন ভুলে কিছু জিজ্ঞাসা না করে) তা থেকে কিছু খেয়ে ফেললেন। দাসটি বলল, ’আপনি কি জানেন, এটা কোন্ জিনিস (যা আপনি ভক্ষণ করলেন)? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ’তা কী?’ দাসটি বলল, ’আমি জাহেলী যুগে একজন মানুষের ভাগ্য গণনা করেছিলাম। অথচ আমার ভাগ্য গণনা করার মত ভাল জ্ঞান ছিল না। আসলে আমি তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাকে (পারিশ্রমিক স্বরূপ) এই জিনিস দিলো, যা আপনি ভক্ষণ করলেন। এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নিজের হাত স্বীয় মুখের ভিতরে প্রবেশ করালেন এবং পেটের মধ্যে যা কিছু ছিল বমি ক’রে বের ক’রে দিলেন!
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ لأبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ غُلاَمٌ يُخْرِجُ لَهُ الخَرَاجَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ فَجَاءَ يَوْماً بِشَيءٍ فَأكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍفَقَالَ لَهُ الغُلامُ : تَدْرِي مَا هَذَا ؟ فَقَالَ أَبُو بكر : وَمَا هُوَ ؟ قَالَ : كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لإنْسَانٍ في الجَاهِلِيَّةِ وَمَا أُحْسِنُ الكَهَانَةَ إِلاَّ أنّي خَدَعْتُهُ فَلَقِيَنِي فَأعْطَانِي لِذَلِكَ هَذَا الَّذِي أكَلْتَ مِنْهُ فَأدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنِهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব
(২৪২১) নাফে’ থেকে বর্ণিত, উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) সর্বপ্রথম হিজরতকারীদের জন্য চার হাজার করে ভাতা নির্দিষ্ট করলেন এবং তাঁর ছেলে (আব্দুল্লাহর) জন্য সাড়ে তিন হাজার নির্দিষ্ট করলেন। তাঁকে বলা হল যে, ’তিনিও তো মুহাজিরদের একজন; অতত্রব আপনি তাঁর ভাতা কম করলেন কেন? উত্তরে তিনি বললেন, ’তার পিতা তাকে সাথে নিয়ে হিজরত করেছে। উমার (রাঃ) বলতেন, সে তার মত নয়, যে একাকী হিজরত করেছে।
وَعَن نَافِعٍ : أَنَّ عُمَرَ بنَ الخَطّابِ كَانَ فَرَضَ لِلمُهَاجِرينَ الأَوَّلِينَ أرْبَعَةَ الآفٍ وَفَرَضَ لابْنِهِ ثَلاَثَة آلافٍ وَخَمْسَمئَةٍ فَقيلَ لَهُ : هُوَ مِنَ المُهَاجِرينَ فَلِمَ نَقَصْتَهُ ؟ فَقَالَ : إنَّمَا هَاجَرَ بِهِ أبُوهُ يَقُوْلُ : لَيْسَ هُوَ كَمَنْ هَاجَرَ بِنَفْسِهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ সকাল-সকাল কাজ করার বরকত
(২৪২২) স্বাখর ইবনে অদাআহ গামেদী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালে বরকত দাও। আর তিনি যখন সেনার ছোট বাহিনী অথবা বড় বাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে সকালে রওয়ানা করতেন। স্বাখ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর ব্যবসার পণ্য সকালেই প্রেরণ করতেন। ফলে তিনি (এর বর্কতে) ধনী হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাল প্রচুর হয়েছিল।
وَعَنْ صَخرِ بنِ وَدَاعَةَ الغَامِدِيِّ الصَّحَابِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ ِلأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشَاً بَعَثَهُمْ مِنْ أوَّلِ النَّهَارِ وَكَانَ صَخْرٌ تَاجِراً وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ أوَّلَ النَّهَار فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ খাদ্য-শস্য মাপার মাহাত্ম্য
(২৪২৩) মিকদাম বিন মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের খাদ্যদ্রব্য মেপে রাখ, এতে তোমাদের জন্য বরকত দান করা হবে।
عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كِيلُوا طَعَامَكُمْ يُبَارَكْ لَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ মজুরকে মজুরী দান
(২৪২৪)আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ’কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির প্রতিবাদী। আর আমি যার প্রতিবাদী হব অবশ্যই তাকে পরাজিত করব। তন্মধ্যে প্রথম হল সেই ব্যক্তি, যে আমার নামে কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করল অতঃপর তা ভঙ্গ করল। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে তার মূল্য ভক্ষণ করল। আর তৃতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন মজুর খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরোপুরি কাজ নিল; অথচ সে তার মজুরী (পূর্ণরূপে) আদায় করল না।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ الله تَعَالَى : ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرَّاً فَأَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اسْتَأجَرَ أَجِيراً فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ মজুরকে মজুরী দান
(২৪২৫) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি যে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার নিকট থেকে তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহর আত্মসাৎ করে নেয়। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে নেয়। আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে খামোখা প্রাণী হত্যা করে।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا طَلَّقَهَا وَذَهَبَ بِمَهْرِهَا وَرَجُلٌ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً فَذَهَبَ بِأُجْرَتِهِ وَآخَرُ يَقْتُلُ دَابَّةً عَبَثًا
পরিচ্ছেদঃ মজুরকে মজুরী দান
(২৪২৬) আবূ হুরাইরা (ইবনে উমার, আনাস ও জাবের) (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মজুরকে তার ঘাম শুকাবার পূর্বে তোমরা তার মজুরী দিয়ে দাও।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِىُّ ﷺ أعْطِ الأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ
পরিচ্ছেদঃ মজুরকে মজুরী দান
(২৪২৭) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) এর খাজাঞ্চী তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, গোলামদেরকে তাদের আহার দিয়েছে কি? খাজাঞ্চী বলল, ’না।’ তিনি বললেন, ’যাও, তাদেরকে তা দিয়ে দাও। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যার আহারের দায়িত্বশীল তাকে তা (না দিয়ে) আটকে রাখে।
عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو إِذْ جَاءَهُ قَهْرَمَانٌ لَهُ فَدَخَلَ فَقَالَ أَعْطَيْتَ الرَّقِيقَ قُوتَهُمْ قَالَ لاَ قَالَ فَانْطَلِقْ فَأَعْطِهِمْ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يَحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إنَّ اللهَ يَأمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأمَانَاتِ إِلٰـى أَهْلِهَا
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। (সূরা নিসা ৫৮)
তিনি আরো বলেছেন,
فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِيْ اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ
অর্থাৎ, যদি তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস কর, তাহলে যাকে বিশ্বাস করা হয় (যার কাছে আমানত রাখা হয়) সে যেন (বিশ্বাস বজায় রেখে) আমানত প্রত্যর্পণ করে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। (সূরা বাক্বারাহ ২৮৩)
(২৪২৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরার পূর্বে বিভিন্ন প্রার্থনা করার সময় ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনাও করতেন। এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো ঋণ থেকে খুব বেশী আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন। (তার কারণ কী?) প্রত্যুত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কারণ, মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে (ওয়াদাখেলাফী করে)।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ، فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ: مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنْ الْمَغْرَمِ، فَقَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪২৯) সুহাইব আল-খায়র (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঋণ করার পর তার মনে পাকা এই সংকল্প রাখে যে, সে তা পরিশোধ করবে না, সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে ’চোর’ হয়ে সাক্ষাৎ করবে।
عن صُهَيْبٍ الْخَيْرِ عَنْ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ يَدَيَّنُ دَيْنًا وَهُوَ مُجْمِعٌ أَنْ لاَ يُوَفِّيَهُ إِيَّاهُ لَقِىَ الله سَارِقًا
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩০) মুহাম্মাদ বিন জাহশ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুবহানাল্লাহ! ঋণের ব্যাপারে কী কঠিনতাই না অবতীর্ণ হয়েছে! সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে মৃত্যুবরণ করে, অতঃপর জীবিত হয়ে পুনরায় জিহাদে মৃত্যুবরণ করে, অতঃপর আবার জীবিত হয়ে আবারও শহীদ হয়, আর সে ঋণগ্রস্ত হয় -তাহলে ঐ ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করতে সক্ষম হবে না।
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَحَشٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سُبْحَانَ اللهِ مَاذَا أَنْزَلَ مِنَ التَّشْدِيْدِ فِى الدَّيْنِ، وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلاً قُتِلَ فِى سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ أُحْيِىَ ثُمَّ قُتِلَ مَرَّتَيْنِ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتّٰـى يُقْضَى عَنْهُ دَيْنُهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩১) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঋণ পরিশোধ না করার পাপ ছাড়া শহীদের সমস্ত পাপকে মাফ করে দেওয়া হবে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يُغْفَرُ لِلشَّهِيْدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلاَّ الدَّيْنَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩২) আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে উল্লেখ করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। এ কথা শুনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কী মনে করেন, যদি আমি আল্লাহর রাস্তায় খুন হয়ে যাই, তাহলে কি আমার পাপসমূহকে মাফ করা হবে?’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যের সাথে সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপদ না হয়ে আল্লাহর রাস্তায় খুন হয়ে যাও তাহলে।
অতঃপর (সে যখন কিছু দূর চলে গেল, তখন তাকে ডেকে) বললেন, তুমি কী যেন বললে? সে বলল, আপনি কী মনে করেন, যদি আমি আল্লাহর রাস্তায় খুন হয়ে যাই, তাহলে কি আমার পাপসমূহকে মাফ করা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যের সাথে সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়ে এবং পশ্চাদপদ না হয়ে আল্লাহর রাস্তায় খুন হয়ে যাও তাহলে। তবে ঋণ পরিশোধ না করার পাপ মাফ করবেন না। কারণ, জিবরীল আমাকে এ কথাই বললেন।
عَنْ أَبِى قَتَادَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ أَنَّ الْجِهَادَ فِى سَبِيلِ اللهِ وَالإِيمَانَ بِاللهِ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِى سَبِيلِ اللهِ تُكَفَّرُ عَنِّى خَطَايَاىَ؟ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِى سَبِيلِ اللهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَيْفَ قُلْتَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِى سَبِيلِ اللهِ أَتُكَفَّرُ عَنِّى خَطَايَاىَ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلاَّ الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ لِى ذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৩) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ৩ টি জিনিস থেকে পবিত্র থেকে মৃত্যুবরণ করবে, সে ব্যক্তি বেহেশত্ প্রবেশ করবে। আর তা হল, অহংকার, গনীমতের মালে খেয়ানত ও ঋণ।
عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ : الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৪) সালামাহ বিন আক্ওয়া’ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। ইতি মধ্যে একটি জানাযা উপস্থিত হলে লোকেরা তাঁকে তার জানাযা পড়তে বললেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি ঋণ পরিশোধ বাকী আছে? সকলে বলল, ’না।’ তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, সেকি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বলল, ’না।’ অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়লেন।
এরপর আর একটি জানাযা উপস্থিত হলে সকলে তাঁকে তার জানাযা পড়তে অনুরোধ করল। তিনি তার সম্পর্কেও প্রশ্ন করলেন, ওর কি কোন ঋণ পরিশোধ বাকী আছে? বলা হল, ’হ্যাঁ।’ বললেন, ওকি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বলল, ’তিন দীনার।’ তা শুনে তিনি তার জানাযা পড়লেন। অতঃপর তৃতীয় জানাযা উপস্থিত হলে এবং লোকেরা শেষ নামায পড়তে আবেদন জানালে তার সম্বন্ধেও তিনি একই প্রশ্ন করলেন, ওর কি কোন ঋণ পরিশোধ বাকী আছে? বলল, তিন দীনার। বললেন, ওকি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বলল, ’না।’ একথা শুনে বললেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযা পড়ে নাও। তখন আবু কাতাদাহ বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! ওর জানাযা আপনি পড়ুন। আমি ওর ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিচ্ছি।’
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ فَقَالُوا صَلِّ عَلَيْهَا فَقَالَ هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ قَالُوا لَا قَالَ فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا قَالُوا لَا فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى فَقَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلِّ عَلَيْهَا قَالَ هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ قِيلَ نَعَمْ قَالَ فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا قَالُوا ثَلَاثَةَ دَنَانِيرَ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّالِثَةِ فَقَالُوا صَلِّ عَلَيْهَا قَالَ هَلْ تَرَكَ شَيْئًا قَالُوا لَا قَالَ فَهَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ قَالُوا ثَلَاثَةُ دَنَانِيرَ قَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ قَالَ أَبُو قَتَادَةَ صَلِّ عَلَيْهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জানাযা পড়ার জন্য যখন কোন ঋণগ্রস্ত মুর্দাকে হাযির করা হত, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, ঋণ পরিশোধ করার মত কোন মাল ও ছেড়ে যাচ্ছে কি? সুতরাং উত্তরে যদি তাঁকে বলা হত যে, ’হ্যাঁ, পরিশোধ করার মত মাল ছেড়ে যাচ্ছে’ তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন। নচেৎ বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও।
অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁর জন্য বিভিন্ন বিজয় দান করলেন তখন তিনি বললেন, মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের চাইতে আমিই অধিক হকদার (দায়িত্বশীল।) সুতরাং যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যাবে, তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার উপর এবং যে সম্পদ রেখে মারা যাবে, তার অধিকারী হবে তার ওয়ারেসীনরা।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يُؤْتَى بِالرَّجُلِ الْمَيِّتِ عَلَيْهِ الدَّيْنُ فَيَسْأَلُ هَلْ تَرَكَ لِدَيْنِهِ مِنْ قَضَاءٍ فَإِنْ حُدِّثَ أَنَّهُ تَرَكَ وَفَاءً صَلَّى عَلَيْهِ وَإِلاَّ قَالَ صَلُّوا عَلٰى صَاحِبِكُمْ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْفُتُوحَ قَالَ أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ فَمَنْ تُوُفِّىَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَعَلَىَّ قَضَاؤُهُ وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَهُوَ لِوَرَثَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে? সাহাবাগণ বললেন, ’আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যার কোন দিরহাম নেই, যার কোন আসবাব-পত্র নেই।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে (আসল) নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতে নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে সে দেখবে যে, সে একে গালি দিয়েছে, ওর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, এর মাল আত্মসাৎ করেছে, ওকে খুন করেছে, একে মেরেছে— ইত্যাদি। সুতরাং প্রতিশোধ স্বরূপ একে নিজের নেকী দান করবে, ওকেও নিজের নেকী দান করবে। পরিশেষে যখন নেকী নিঃশেষ হয়ে যাবে অথচ তার প্রতিশোধ শেষ হবে না, তখন ওদের গোনাহ নিয়ে এর ঘাড়ে চাপানো হবে এবং সবশেষে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে!
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ قَالُوا الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَلاَ مَتَاعَ فَقَالَ إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِى يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِى قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِى النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৭) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি দীনার অথবা দিরহাম ঋণ রেখে মারা যাবে, সে ব্যক্তিকে (কিয়ামতে) নিজের নেকী থেকে পরিশোধ করতে হবে। কারণ, সেখানে কোন দীনার নেই, কোন দিরহামও নেই।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دِينَارٌ أَوْ دِرْهَمٌ قُضِىَ مِنْ حَسَنَاتِهِ لَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এই পছন্দ করতাম যে, ঋণ পরিশোধের জন্য পরিমাণ মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না হতেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি।
عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا يَسُرُّنِي أَنْ لَا يَمُرَّ عَلَيَّ ثَلَاثٌ وَعِنْدِي مِنْهُ شَيْءٌ إِلَّا شَيْءٌ أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৩৯) আমর বিন শারীদ নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তির টাল-বাহানা নিজের জন্য অপমান ও শাস্তিকে বৈধ করে নেয়।
[ঋণ করে তা পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোন স্বার্থে তা পরিশোধ করতে টালবাহানা ও ছেঁচ্ড়ামি করলে ঋণদাতার পক্ষে তার এই দুর্ব্যবহারের চর্চা করা বৈধ হয়ে যায়। যেমন বিচার-বিভাগ কর্তৃক তার ঐ টালবাহানার উপর শাস্তি বা জেল দেওয়া ন্যায়সঙ্গত।]
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ لَىُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঋণ পরিশোধে সামর্থ্য ব্যক্তির টাল-বাহানা করা অন্যায়। আর যখন কোন ঋণী ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির হাওয়ালা করে দেবে, তখন ঋণদাতার উচিত, তা অনুমোদন করা।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَطْلُ الْغَنِىِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلٰى مَلِىءٍ فَلْيَتْبَعْ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪১) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট এক বান্দাকে আনা হবে, যাকে তিনি ধন দান করেছিলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করবেন, ’তুমি দুনিয়াতে কী কী আমল করেছিলে?’ লোকটি বলবে, ’হে আমার প্রতিপালক! আমি এমন কিছু আমল করতে পারি নি। তবে আপনি আমাকে যে ধন দান করেছিলেন, তদ্দবারা আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। আর তাতে আমার চরিত্র এই ছিল যে, আমি সামর্থ্যবান ব্যক্তির প্রতি সরলতা প্রদর্শন করতাম এবং অসামর্থ্যবান ব্যক্তিকে (আমার পাওনা আদায়ে) সময় দিতাম।’ তখন মহান আল্লাহ বলবেন, ’এ ব্যাপারে আমি তোমার থেকে বেশী হকদার। (হে ফিরিশতামণ্ডলী!) আমার বান্দাকে তোমরা মুক্তি দাও।
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَتَي اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِهِ آتاهُ اللهُ مَالاً فَقَالَ لَهُ مَاذَا عَمِلْتَ في الدُّنْيا فقال مَا عَمِلْتُ مِنْ شَيْءٍ يا رَبِّ إلاَّ أنَّكَ آتَيْتَنِي مالاً فَكُنْتُ أبايِعُ النَّاسَ وَكَانَ مِنْ خُلُقِي أنْ أُيَسِّرَ على المُوسِرِ وأُنْظِرَ المُعْسِرَ قالَ الله تعالى أنا أحَقُّ بِذَلِكَ مِنْكَ تجاوَزُوا عنْ عَبْدِي
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি কোন দিন কোন নেক আমল করেনি। তবে সে লোককে ঋণ দান করত এবং নিজের তহসীলদার দূতকে বলত, ’সামর্থ্যবান ব্যক্তির নিকট থেকে আদায় কর, অসামর্থ্যবান ব্যক্তিকে অবকাশ দাও এবং মাফ করে দাও। সম্ভবতঃ আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দেবেন।’ অতঃপর লোকটি যখন মারা গেল, তখন আল্লাহ তাকে বললেন, ’তুমি কি কোন দিন কোন ভাল কাজ করেছ?’ লোকটি বলল, ’না। তবে আমার একজন (তহসীলদার) কিশোর ছিল। আমি মানুষকে ঋণ দান করতাম। আর আমি যখন তাকে সেই ঋণ আদায় করতে পাঠাতাম, তখন বলতাম, ’সামর্থ্যবান ব্যক্তির নিকট থেকে আদায় কর, অসামর্থ্যবান ব্যক্তিকে অবকাশ দাও এবং মাফ করে দাও। সম্ভবতঃ আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দেবেন।’ আল্লাহ বললেন, ’আমিও তোমাকে মাফ করে দিলাম।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: (إِنّ رَجُلاً لَمْ يَعْمَلْ خَيْراً قَطُّ، وَكَانَ يُدَايِنُ النّاسَ، فَيَقُوْلُ لرَسُولِهِ: خُذْ مَا تَيَسّرَ، واتْرُكْ مَا عَسُرَ، وَتَجَاوَزْ، لَعَلّ اللهَ تَعَالى أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنّا، فَلَمّا هَلَكَ قَالَ اللهُ عَزّ وَجَلّ لَهُ: هَلْ عَمِلْتَ خَيْراً قَطُّ؟ قَالَ: لا، إِلاّ أَنّهُ كَانَ لِي غُلامٌ وَكُنْتُ أُدَايِنُ النّاسَ، فإذَا بَعَثْتُهُ ليِتَقَاضَى، قُلْتُ لَهُ: خُذْ مَا تَيَسّرَ، وَاتْرُكْ مَا عَسُرَ، وَتَجَاوَزْ لَعَلّ اللهَ يَتَجَاوَزُ عَنّا، قَالَ اللهُ تَعَالَى: قَدْ تَجَاوَزْتُ عَنْكَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৩) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির একটি লোকের জান কবয করতে মালাকুল মাওত উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন, ’তুমি কি কোন নেক আমল করেছ?’ সে বলল, ’আমি (কোন ভাল কাজ করেছি বলে) জানি না।’ ফিরিশতা বললেন, ’ভেবে দেখ।’ লোকটি বলল, ’আমি এমন কিছু জানি না। তবে আমি লোকের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের কাজ করতাম। আর সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে (পাওনা আদায়ে) সময় দিতাম এবং অসামর্থ্যবান ব্যক্তিকে মাফ করে দিতাম।’ সুতরাং মহান আল্লাহ এই আমলের অসীলায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ رَجُلًا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَتَاهُ مَلَكٌ لِيَقْبِضَ نَفْسَهُ فَقَالَ لَهُ هَلْ عَمِلْتَ مِنْ خَيْرٍ فَقَالَ مَا أَعْلَمُ قِيلَ لَهُ انْظُرْ قَالَ مَا أَعْلَمُ شَيْئًا غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسَ وَأُجَازِفُهُمْ فَأُنْظِرُ الْمُعْسِرَ وَأَتَجَاوَزُ عَنْ الْمُوسِرِ فَأَدْخَلَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْجَنَّةَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঋণ-পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে সময় দেবে, অথবা তার ঋণ মকুব করে দেবে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ সেই দিন তাঁর আরশের ছায়া দান করবেন, যে দিন তাঁর সেই ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৫) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খুশীর সাথে এই কামনা করে যে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দুঃখকষ্ট থেকে রেহাই দেন, সে ব্যক্তির উচিত, ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ সহজ করে দেওয়া অথবা তার ঋণ মকুব করে দেওয়া।
وَعَنْ أَبِـيْ قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُنْجِيَهُ اللهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلْيُنَفِّسْ عَنْ مُعْسِرٍ أَوْ يَضَعْ عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৬) উক্ত আবূ কাতাদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ঋণ-পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে অবকাশ দেবে অথবা তার ঋণ মাফ করে দেবে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামতের দুঃখকষ্ট থেকে মুক্তি দেবেন।
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَنَظَرَ مُعَسَّرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَنْجَاهُ اللهُ مِنْ كُرْبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিম হতে তার পার্থিব বহু দুঃখকষ্টের মধ্যে একটিও দূর করে দেবে, আল্লাহ সেই ব্যক্তি হতে তার কিয়ামতের বহু দুঃখকষ্টের মধ্যে একটিকে দূরীভূত করবেন। যে (ঋণদাতা) ব্যক্তি কোন নিঃস্ব ঋণগ্রস্তকে অবকাশ (বা সহজ করে) দেবে, আল্লাহ তার জন্য ইহকাল ও পরকালে (সবকিছু) সহজ করে দেবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন করে নেবে, আল্লাহ তার দোষত্রুটিকে দুনিয়া ও আখেরাতে গোপন করে নেবেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দার সহায় থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يَسَّرَ عَلٰى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَاللهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৮) বুরাইদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঋণ-পরিশোধে অসমর্থ খাতককে (ঋণ পরিশোধ করতে) সময় দেবে, সে ব্যক্তি প্রত্যহ তার ঋণ-পরিমাণ সদকাহ করার সওয়াব লাভ করবে। আর এ সওয়াব সে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পাবে। পক্ষান্তরে মেয়াদ অতিক্রম হওয়ার পরও যদি সে তাকে আরো সময় দিয়ে থাকে, তাহলে সে তার বিনিময়ে তার ঋণের দ্বিগুণ পরিমাণ সদকাহ করার সমান সওয়াব প্রত্যহ অর্জন করবে।
وَعَنْ بُرَيدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةً قَبْلَ أَنْ يَّـحِلَّ الدَّيْنُ فَإِذَا حَلَّ الدَّيْنُ فَأَنْظَرَهُ فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلاَهُ صَدَقَةً
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৪৯) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলে মসজিদে নববীতে একদা কা’ব বিন মালিক, ইবনে আবী হাদরাদকে দেওয়া স্বীয় প্রাপ্য ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাকীদ করছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁদের উভয়ের গলার আওয়াজ উঁচু হলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাসা থেকে শুনতে পেলেন। তিনি বাইরে বের হয়ে এলেন এবং হুজরার পর্দা সরিয়ে ডাক দিলেন, ওহে কা’ব! কা’ব বললেন, ’হাজির, হাজির, হে আল্লাহর রসূল!’ অতঃপর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারায় তাঁর অর্ধেক ঋণ মকুব করে দিতে বললেন। কা’ব বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি তাই করলাম।’ তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণী ইবনে আবী হাদরাদকে বললেন, ওঠ (যাও), বাকী ঋণ পরিশোধ করে দাও।
عن كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِى حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِى الْمَسْجِدِ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتّٰـى سَمِعَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَهُوَ فِى بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ حَتّٰـى كَشَفَ سِجْفَ حُجْرَتِهِ وَنَادَى كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ فَقَالَ يَا كَعْبُ فَقَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ أَنْ ضَعِ الشَّطْرَ مِنْ دَيْنِكَ قَالَ كَعْبٌ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قُمْ فَاقْضِهِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫০) ইবনে উমার ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের প্রাপ্য হক আদায় করতে চাইবে তার উচিত, সে যেন সংযম ও সাধুতার সাথে তা আদায় চায়। তাতে সে তার হক পূর্ণ আদায় পাক অথবা আদায় না পাক।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ طَلَبَ حَقًّا فَلْيَطْلُبْهُ فِى عَفَافٍ وَافٍ أَوْ غَيْرِ وَافٍ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫১) আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট ঋণী ছিলেন। লোকটি ঋণ আদায় করতে এসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কর্কশ ভাষায় কটু কথা শুনাতে শুরু করে দিল। তা দেখে সাহাবাগণ তাকে (ধমক দিয়ে) বাধা দিতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হকদারের কথা বলার অধিকার আছে। তোমরা ওর ঋণ শোধ করে দাও।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ لِرَجُلٍ عَلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ حَقٌّ فَأَغْلَظَ لَهُ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُ النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ إِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالاً
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫২)আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, এক মরুবাসী (বেদুঈন) লোকের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু খেজুর ধার করেছিলেন। সে তাঁর নিকট নিজের পাওনা আদায় করতে এসে তাঁকে কটু কথা শুনাতে লাগল। এমনকি সে তাঁকে বলল, ’আপনি আমার ঋণ পরিশোধ না করলে, আমি আপনাকে মুশকিলে ফেলব!’ এ কথা শুনে সাহাবাগণ তাকে ধমক দিলেন ও বললেন, ’আরে বেআদব! জান তুমি কার সাথে কথা বলছ?’ লোকটি বলল, ’আমি আমার হক আদায় চাচ্ছি।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হকদারের সঙ্গ দিলে না কেন? অতঃপর তিনি খাওলাহ বিনতে কাইসের নিকট বলে পাঠালেন যে, যদি তোমার কাছে খেজুর থাকে, তাহলে আমাকে ধার দাও।
অতঃপর আমাদের খেজুর এলে তোমাকে পরিশোধ করে দেব। খাওলাহ বললেন, ’অবশ্যই দেব। আমার আব্বা আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর রসূল!’ অতঃপর তিনি খেজুর দিলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির ঋণ পরিশোধ করলেন এবং আরো কিছু বেশী খেতে দিলেন। লোকটি বলল, ’আপনি আমার হক পূরণ করলেন, আল্লাহ আপনার হক পূরণ করুক।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওরাই হল ভাল লোক, (যারা সুন্দরভাবে ঋণ পরিশোধ করে।) সে জাতি পবিত্র হবে না (বা না হোক), যে জাতির দুর্বল ব্যক্তি নিজ অধিকার অনায়াসে আদায় না করতে পেরেছে।
عَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يَتَقَاضَاهُ دَيْنًا كَانَ عَلَيْهِ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ حَتّٰـى قَالَ لَهُ أُحَرِّجُ عَلَيْكَ إِلَّا قَضَيْتَنِي فَانْتَهَرَهُ أَصْحَابُهُ وَقَالُوا وَيْحَكَ تَدْرِي مَنْ تُكَلِّمُ قَالَ إِنِّي أَطْلُبُ حَقِّي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ هَلَّا مَعَ صَاحِبِ الْحَقِّ كُنْتُمْ؟ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى خَوْلَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَ لَهَا إِنْ كَانَ عِنْدَكِ تَمْرٌ فَأَقْرِضِينَا حَتّٰـى يَأْتِيَنَا تَمْرُنَا فَنَقْضِيَكِ فَقَالَتْ نَعَمْ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ فَأَقْرَضَتْهُ فَقَضَى الْأَعْرَابِيَّ وَأَطْعَمَهُ فَقَالَ أَوْفَيْتَ أَوْفَى اللهُ لَكَ فَقَالَ أُولَئِكَ خِيَارُ النَّاسِ إِنَّهُ لَا قُدِّسَتْ أُمَّةٌ لَا يَأْخُذُ الضَّعِيفُ فِيهَا حَقَّهُ غَيْرَ مُتَعْتَعٍ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৩) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি রহম করুন, যে বিক্রয়কালে উদার, ক্রয়কালে উদার, ঋণ পরিশোধ কালে উদার এবং ঋণ আদায়কালেও উদার।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ رَحِمَ اللهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ وَإِذَا اشْتَرَى وَإِذَا اقْتَضَى
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি লোকের মাল নিয়ে আদায় করার ইচ্ছা রাখে, সে ব্যক্তির পক্ষ থেকে আল্লাহ তা আদায় করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নিয়ে আত্মসাৎ করার ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ তাকে (দুনিয়াতে ও আখেরাতে) ধ্বংস করেন।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللهُ عَنْهُ وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللهُ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৫) নবীপত্নী মাইমূনা (রাঃ) একদা ঋণ করলে তাঁকে বলা হল, ’হে মু’মিন-জননী! আপনি ঋণ করছেন, অথচ পরিশোধ করার মতো ক্ষমতা আপনার নেই। তিনি বললেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে, সে ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ সাহায্য করেন।
عَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ أنها اسْتَدَانَتْ فَقِيلَ لَهَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ تَسْتَدِينِينَ وَلَيْسَ عِنْدَكِ وَفَاءٌ قَالَتْ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ أَخَذَ دَيْنًا وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُؤَدِّيَهُ أَعَانَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৬) উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনাহ (রাঃ) ঋণ করতেন। তা দেখে তাঁর কিছু আত্মীয় তাঁকে এ ব্যাপারে মানা করল এবং এ কাজ তার জন্য সঙ্গত নয় বলে মত প্রকাশ করল। কিন্তু তিনি এ কাজ যে অসঙ্গত নয়, তার প্রমাণে বললেন, ’আমি আমার নবী ও প্রিয়তম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, যে কোনও মুসলিম ঋণ করে তা পরিশোধের ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ দুনিয়াতে তার পক্ষ থেকে তার ঐ ঋণ আদায় করে দেন।
عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ مَيْمُونَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تَدَّانُ دَيْنًا فَقَالَ لَهَا بَعْضُ أَهْلِهَا لا تَفْعَلِي وَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ: بَلَى سَمِعْتُ نَبِيِّي وَخَلِيلِي ﷺ يَقُوْلُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ تَدَايَنَ دَيْنًا يُرِيدُ أَدَاءَهُ إِلا أَدَّاهُ اللهُ عَنْهُ فِي الدُّنْيَا
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৭) উক্ত মাইমূনা (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঋণ নেওয়ার পর পরিশোধ করার নিয়্যাত রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পক্ষ থেকে তার ঋণ আদায় করে দেবেন।
عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ مَنِ ادَّانَ دَيْنًا يَنْوِي قَضَاءَهُ أَدَّى اللهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৮) আব্দুল্লাহ বিন জা’ফর (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা ঋণীর সাথে থাকেন, যতক্ষণ না সে তার ঋণ পরিশোধ করতে পেরেছে—যদি তার ঋণ আল্লাহর অপছন্দনীয় কোন বিষয়ে না হয় তবে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مَعَ الدَّائِنِ حَتّٰـى يَقْضِىَ دَيْنَهُ مَا لَمْ يَكُنْ فِيمَا يَكْرَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৫৯) উক্ববাহ বিন আমের জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাগণকে বলেছেন, (নিরাপত্তা লাভের পর) তোমরা তোমাদের আত্মাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করো না। সকলে বলল, ’তা কি (দ্বারা) হে আল্লাহর রসূল?!’ তিনি বললেন, ঋণ (দ্বারা)।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لأَصْحَابِهِ لاَ تُخِيفُوا أَنْفُسَكُمْ فَقِيلَ لَهُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ وَبِمَا نُخِيفُ أَنْفُسَنَا قَالَ بِالدَّيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৬০) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির সুপারিশ আল্লাহর ’হদ্দ্’ (দণ্ডবিধি) সমূহের কোন হদ্দ্ কায়েমের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হল, সে ব্যক্তি আল্লাহর অনুশাসনের বিরোধিতা করল।
যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করে মারা গেল (সে ব্যক্তি পরকালে তা পরিশোধ করবে)। কিন্তু সেদিন দীনার বা দিরহাম (টাকা-পয়সা) দ্বারা নয় বরং নেকী ও গোনাহ দ্বারা (পরিশোধ করতে হবে।)
যে ব্যক্তি জেনেশুনে কোন বাতিল (অন্যায়) বিষয়ে তর্কাতর্কি করে, সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রোষে থাকে; যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা বর্জন না করে।
আর যে ব্যক্তি কোন মুমিন মানুষের চরিত্রে এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নামের নর্দমায় বাস করতে দেবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে যা বলেছে তা হতে বের হয়ে এসেছে, কিন্তু তখন আর সে বের হতে পারবে না।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ فَقَدْ ضَادَّ اللهَ فِى مُلْكِهِ وَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ فَلَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ وَلَكِنَّهَا الْحَسَنَاتُ وَالسَّيِّئَاتُ وَمَنْ خَاصَمَ فِى بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُ لَمْ يَزَلْ فِى سَخَطِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتّٰـى يَنْزِعَ وَمَنْ قَالَ فِى مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ حُبِسَ فِى رَدْغَةِ الْخَبَالِ حَتّٰـى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৬১) আবু রাফে’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট হতে একটি তরুণ উট ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর নিকট সদকার উট এল তখন তিনি আবু রাফে’কে ঐ লোকটির তরুণ উট পরিশোধ করে দিতে আদেশ করলেন। আবু রাফে’ তাঁর নিকট এসে বললেন, ’সপ্তবর্ষীয় বাছাই করা ভালো ভালো উট ছাড়া অন্য কিছু পেলাম না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ একটিই ওকে দিয়ে দাও। কারণ, লোকেদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে, যে পরিশোধ করায় উত্তম।
عَنْ أَبِى رَافِعٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ اسْتَسْلَفَ مِنْ رَجُلٍ بَكْرًا فَقَدِمَتْ عَلَيْهِ إِبِلٌ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ فَأَمَرَ أَبَا رَافِعٍ أَنْ يَقْضِىَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ فَرَجَعَ إِلَيْهِ أَبُو رَافِعٍ فَقَالَ لَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلاَّ خِيَارًا رَبَاعِيًا فَقَالَ أَعْطِهِ إِيَّاهُ إِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৬২) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উট ধার করেছিলেন। তিনি যে বয়সের উট নিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশী বয়সের উট দিয়ে ধার পরিশোধ করলেন। আর বললেন, তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি যে ঋণ পরিশোধে শ্রেষ্ঠ।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ اسْتَقْرَضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سِنًّا فَأَعْطَى سِنًّا فَوْقَهُ وَقَالَ خِيَارُكُمْ مَحَاسِنُكُمْ قَضَاءً
পরিচ্ছেদঃ ঋণ দেওয়া, পরিশোধ নেওয়া, পাওনাদারের পাওনা আদায়
(২৪৬৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মরণের পর ঐ ঋণের কারণে) মু’মিনের আত্মা (জান্নাতের পথে) লটকে থাকবে; যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তার সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ نَفْسُ المؤمِنَ مُعَلَّقَةً بِدَيْنِهِ حَتّٰـى يُقْضَى عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ওরা সকলেই সমান।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ لَعَنَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’সাতটি ধ্বংসকারী কর্ম হতে দূরে থাক। সকলে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! তা কী কী?’ তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সূদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা কলঙ্ক দেওয়া।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوْبِقَاتِ قِيْلَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِىْ حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْـحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيْمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلِّى يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৬) আবূ জুহাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ায় দেগে নকশা করায় ও করে এমন মহিলাকে, সূদখোর ও সূদদাতাকে অভিশাপ করেছেন। কুকুর বিক্রয়ের মূল্য, বেশ্যাবৃত্তির উপার্জন গ্রহণ করতে তিনি নিষেধ করেছেন। আর মূর্তি (বা ছবি) নির্মাণকারীদেরকেও অভিশাপ করেছেন।
عن أَبِـيْ جُحَيْفَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ نَهٰـى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ وَثَمَنِ الْكَلْبِ وَكَسْبِ الْأَمَةِ وَلَعَنَ الْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ وَآكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَلَعَنَ الْمُصَوِّرَ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৭) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুদ (পাপের দিক থেকে) ৭০ প্রকার। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট (পাপের) সুদ হল মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা! (অর্থাৎ সুদ খাওয়ার গোনাহ মায়ের সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে ৭০ গুণ বেশী।)
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الرِّبَا سَبْعُونَ حُوبًا أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৮) যাঁকে ফিরিশতা শেষ গোসল দিয়েছিলেন, সেই হানযালার পুত্র আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জেনেশুনে মানুষের মাত্র এক দিরহাম খাওয়া সূদ আল্লাহর নিকটে ৩৬ ব্যভিচার অপেক্ষা অধিক গুরুত্বর।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَنْظَلَةَ غَسِيلِ الْمَلَائِكَةِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دِرْهَمٌ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৬৯) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তিই বেশীবেশী সূদ খাবে, তারই (মালের) শেষ পরিণাম হবে অল্পতা।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أَحَدٌ أَكْثَرَ مِنَ الرِّبَا إِلاَّ كَانَ عَاقِبَةُ أَمْرِهِ إِلَى قِلَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৭০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন জনপদে ব্যভিচার ও সূদ প্রকাশ লাভ করে, তখন তার বাসিন্দারা নিজেদের জন্য আল্লাহ আযযা অজাল্লার কিতাব (আযাব) বৈধ করে নেয়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا ظَهَرَ الزِّنَا وَالرِّبَا فِي قَرْيَةٍ فَقَدْ أَحَلُّوا بِأَنْفُسِهِمْ كِتَابَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৭১) উবাদাহ বিন স্বমেত কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উভয় বস্তুকে যেমনকার তেমন, সমান সমান এবং হাতে হাতে হতে হবে। অবশ্য যখন উভয় বস্তুর শ্রেণী বা জাত বিভিন্ন হবে তখন তোমরা তা যেভাবে (কমবেশী করে) ইচ্ছা বিক্রয় কর; তবে শর্ত হল, তা যেন হাতে হাতে নগদে হয়।
وعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلاً بِمِثْلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ يَدًا بِيَدٍ فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الأَصْنَافُ فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৭২) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা ’ঈনাহ’ ব্যবসা করবে এবং গরুর লেজ ধরে কেবল চাষ-বাস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে, আর জিহাদ ত্যাগ করে বসবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন হীনতা চাপিয়ে দেবেন; যা তোমাদের হৃদয় থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত দূর করবেন না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছ।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتّٰـى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ
পরিচ্ছেদঃ সূদ খাওয়া হারাম
(২৪৭৩) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ (কাউকে) ঋণ দেয়। অতঃপর (ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে) তাকে কোন উপঢৌকন দেওয়া হয় অথবা তাকে (ঋণগ্রহীতা নিজের গাড়ি বা) সওয়ারীতে চড়িয়ে কোথাও পৌঁছিয়ে দিতে চায় তবে সে যেন তার সওয়ারীতে না চড়ে এবং তার উপঢৌকনও গ্রহণ না করে। তবে হ্যাঁ, যদি এরূপ সদ্ব্যবহার (উপঢৌকন আদান-প্রদান ঋণ দেওয়ার) পূর্ব থেকেই জারী থাকে তবে (তার পরে) অনুরূপ কিছু গ্রহণ করায় দোষ নেই।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أُقْرِضَ أَحَدُكُمْ قَرْضًا فَأَهْدَىَ إِلَيْهِ طَبَقًا فَلاَ يَقْبَلْهُ أَوْ حَمَلَهُ عَلٰى دَابَّةٍ فَلاَ يَرْكَبْهَا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَبْلَ ذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيْمٌ
অর্থাৎ, তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত। (সূরা বাক্বারাহ ২৪৫)
তিনি অন্যত্র বলেন,
وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيْزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُم
অর্থাৎ, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা মাপ ও ওজনকে পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন কর এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না। (হূদ ৮৫)
তিনি আরো বলেন,
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِيْنَ الَّذِيْنَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ وَإِذَا كَالُوْهُمْ أَوْ وَزَنُوْهُمْ يُخْسِرُوْنَ أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوْثُوْنَ لِيَوْمٍ عَظِيْمٍ يَوْمَ يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থাৎ, ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে। এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। এক মহা দিবসে; যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের সম্মুখে। (মুত্বাফফিফীন ১-৬)
(২৪৭৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর (জাবেরের) নিকট থেকে একটি উট ক্রয় করলেন। সুতরাং তিনি তার মূল্য পরিশোধ করার সময় (স্বর্ণ-রৌপ্য প্রাপ্য অপেক্ষা) ওজনে বেশি দিলেন। (বুখারী ২৬০৪, মুসলিম ৪১৮৯)
وَعَن جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ اِشْتَرَى مِنْهُ بَعِيرًا، فَوَزَنَ لَهُ فَأَرْجَحَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৭৫) আবূ সাফওয়ান সুআইদ ইবনে ক্বাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও মাখরামাহ আব্দী ’হাজার’ নামক জায়গা থেকে কিছু কাপড় (বিক্রির উদ্দেশ্যে) আমদানি করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে পায়জামার দর-দাম করতে লাগলেন। আমার নিকটে একজন কয়াল (মাপনদার) ছিল, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে (স্বর্ণরৌপ্য) ওজন ক’রে দিত। সুতরাং তিনি কয়ালকে বললেন, ওজন কর ও একটু ঝুঁকিয়ে ওজন কর।
وَعَن أَبِـيْ صَفْوَان سُويْدِ بنِ قَيسٍ قَالَ : جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَمَةُ العَبْدِيُّ بَزّاً مِنْ هَجَرَ فَجَاءَنَا النَّبِيُّ ﷺ فَسَاوَمَنَا بسَرَاوِيلَ وَعِندِيْ وَزَّانٌ يَزِنُ بِالأَجْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْوَزَّانِ زِنْ وَأَرْجِحْ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৭৬) উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আযযা অজাল্ল এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন, যে ক্রয়-বিক্রয়, বিচার ও ঋণ আদায় করার সময় ছিল অতি সরল।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَدْخَلَ اللهُ رَجُلًا الْجَنَّةَ كَانَ سَهْلًا مُشْتَرِيًا وَبَائِعًا وَقَاضِيًا وَمُقْتَضِيًا
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৭৭) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে রহম করেন, যে ক্রয়-বিক্রয় ও ঋণ আদায়কালে অতি সরল মানুষ।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ رَحِمَ اللهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ وَإِذَا اشْتَرَى وَإِذَا اقْتَضَى
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৭৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি বাতিল করে দেয়, (অর্থাৎ তার পছন্দ না হলে মূল্য ফিরিয়ে দিয়ে বস্তু ফেরৎ নেয়) আল্লাহ সেই ব্যক্তির অপরাধকে কিয়ামতের দিন ক্ষমা করে দেবেন।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا أَقَالَهُ اللهُ عَثْرَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৭৯) আবূ খালেদ হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত (চুক্তি পাকা বা বাতিল করার) স্বাধীনতা রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পৃথক (বিক্রয়-স্থল হতে স্থানান্তরিত) না হবে। আর যদি তারা সত্য কথা বলে এবং (পণ্যদ্রব্যের প্রকৃতত্ব) খুলে বলে, (দোষ-ত্রুটি গোপন না রাখে,) তাহলে তাদের কেনাবেচার মধ্যে বরকত দেওয়া হয়। আর তারা যদি (দোষ-ত্রুটি) গোপন রাখে এবং মিথ্যা বলে, তাহলে তাদের দু’জনের কেনাবেচার বরকত রহিত করা হয়।
عَنْ أَبِـيْ خَالِدٍ حَكِيمِ بنِ حِزَامٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ البَيِّعَانِ بالخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإنْ صَدَقا وَبيَّنَا بُوركَ لَهُمَا في بيعِهمَا وإنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بركَةُ بَيعِهِما مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৮০) আব্দুর রহমান বিন শিবল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ব্যবসায়ীরাই ’ফাজের’ (পাপাচারী)। সাহাবাগণ বললেন, ’আল্লাহ কি ব্যবসাকে হালাল করেননি?’ তিনি বললেন, অবশ্যই। কিন্তু তারা কসম করে পাপ করে এবং কথা বলতে মিথ্যা বলে।
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ التُّجَّارَ هُمْ الْفُجَّارُ قَالَ رَجُلٌ: يَا نَبِيَّ اللهِ أَلَمْ يُحِلَّ اللهُ الْبَيْعَ؟ قَالَ إِنَّهُمْ يَقُوْلُونَ فَيَكْذِبُونَ وَيَحْلِفُونَ وَيَأْثَمُونَ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মওকুফ করার ফযীলত
(২৪৮১) রিফাআহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন ফাজের (পাপাচারী) হয়ে (কবর থেকে) উঠবে। তবে সে নয়, যে (তার ব্যবসায়) আল্লাহকে ভয় করে, (লোকের প্রতি) এহসানী করে এবং সত্য কথা বলে।
عَنْ رِفَاعَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ التُّجَّارَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلاَّ مَنِ اتَّقَى اللهَ وَبَرَّ وَصَدَقَ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
শহুরে লোক গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রি করা, পণ্যদ্রব্য বাজারে পৌঁছনোর পূর্বেই বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করা হারাম, মুসলিম ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা উত্থাপন করা, কোন মুসলিম ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব পেশ করা; যতক্ষণ না সে ক্রয়-বিক্রয় বা বৈবাহিক প্রস্তাব সম্পর্কে অনুমতি দেয় অথবা তা প্রত্যাখ্যান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত হারাম।
(২৪৮২) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কোন শহুরে লোক কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে; যদিও সে তার সহোদর ভাই হয়।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: نَهٰـى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ يَّبِيْعَ حَاضِرٌ لِّبَادٍ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لِأَبِيْهِ وَأُمِّهِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৩) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাজারে নামার পূর্বে কোন পণ্য (বাজারের বাইরে) আগে বেড়ে ক্রয় করবে না।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَتَلَقَّوُا السِّلَعَ حَتّٰـى يُهْبَطَ بِهَا إلَى الأَسْوَاقِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (বাজারের) বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে না। আর কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে। ত্বাউস তাঁকে বললেন, ’কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে’ এর অর্থ কী? তিনি বললেন, ’সে যেন তার দালালি না করে।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَتَلَقَّوُا الرُّكْبَانَ وَلاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ فَقَالَ لَهُ طَاوُوسٌ: مَا لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ ؟ قَالَ : لاَ يَكُونُ لَهُ سِمْسَاراً متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য বেচতে শহুরে লোককে নিষেধ করেছেন। (তিনি বলেছেন,) ক্রেতাকে প্রতারিত ক’রে মূল্য বৃদ্ধির জন্য দালালি করো না। কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করবে না। আর কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব দেবে না। কোন মহিলা তার বোনের (সতীনের) তালাক চাইবে না; যাতে সে তার পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলে দেয়। (এবং একাই স্বামীপ্রেমের অধিকারিণী হয়।)
অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্য ক্রয় করার জন্য (বাজারের) বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে, মুহাজির হয়ে মরুবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে, (বিয়ের সময়) মহিলার তার বোনের (সতীনকে) তালাক দিতে হবে এরূপ শর্তারোপ করতে এবং (মুসলিম) ভাইয়ের দর-দাম করার উপর দর-দাম করতে বারণ করেছেন। আর তিনি (প্রতারণার দালালি করে) পণ্যের দাম বাড়াতে এবং কয়েকদিন ধরে পশুর স্তনে দুধ জমা রেখে তা ফুলিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلاَ تَنَاجَشُوا وَلاَ يَبِيع الرَّجُلُ عَلٰى بَيْعِ أَخْيِهِ وَلاَ يَخْطُبُ عَلٰى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلاَ تَسْأَلُ المَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَكْفَأَ مَا فِي إِنائِهَا
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ : نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنِ التَّلَقِّي، وَأَنْ يَبْتَاعَ المُهَاجِرُ لِلأَعْرَابِيِّ وَأَنْ تَشْتَرِطَ المَرْأةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا وَأَنْ يَسْتَامَ الرَّجُلُ عَلٰى سَوْمِ أَخِيهِ وَنَهَى عَنِ النَّجْشِ وَالتَّصْرِيَةِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৬) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন অপরের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহ প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব না দেয়। কিন্তু যদি সে তাকে সম্মতি জানায় (তবে তা বৈধ)।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلٰى بَيْعِ بَعْضٍ وَلاَ يَخْطُبْ عَلٰى خِطْبَةِ أَخِيْهِ إِلاَّ أَنْ يَأذَنَ لَهُ متفق عليه وهذا لفظ مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৭) উক্ববাহ ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মু’মিন অপর মু’মিনের ভাই। কোন মু’মিনের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলবে। আর এটাও বৈধ নয় যে, সে ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব দেবে; যতক্ষণ না সে বর্জন করে।
وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ المُؤْمِنُ أَخُو المُؤْمِنِ فَلاَ يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَبْتَاعَ عَلٰى بَيْعِ أَخِيهِ وَلاَ يَخْطُبَ عَلٰى خِطْبَةِ أَخِيهِ حَتّٰـى يذَرَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৮) মা’মার বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাপী ছাড়া অন্য কেউ (দুষ্প্রাপ্যতার সময়) খাদ্য গুদামজাত করে না।
عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৮৯) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপুষ্ট হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তাঁকে বলা হল, পরিপুষ্টতা’ কী? তিনি বললেন, লাল হয়ে যাওয়া। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (উক্ত সময়ের পূর্বে ফল-ফসল বিক্রয় করলে) আল্লাহর সৃষ্ট কোন দুর্যোগে ফল-ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বিক্রেতা তার ভাইয়ের নিকট হতে কিসের বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করবে?
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتّٰـى تُزْهِيَ فَقِيلَ لَهُ: وَمَا تُزْهِي؟ قَالَ حَتّٰـى تَحْمَرَّ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَرَأَيْتَ إِذَا مَنَعَ اللهُ الثَّمَرَةَ بِمَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مَالَ أَخِيهِ؟
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯০) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফল বিক্রি করে, অতঃপর তা প্রাকৃতিক দুর্যোগগ্রস্ত হয়ে যায়, তাহলে সে যেন তার ভাইয়ের মাল থেকে কিছুও গ্রহণ না করে। তোমাদের কেউ কিসের বিনিময়ে নিজ মুসলিম ভাইয়ের মাল ভক্ষণ করবে?
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنْ بِعْتَ مِنْ أَخِيكَ تَمْرًا فَأَصَابَتْهَا جَائِحَةٌ فَلاَ يَحِلُّ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ মদ ও তার মূল্য, মৃত ও তার মূল্য এবং শূকর ও তার মূল্যকে হারাম ঘোষণা করেছেন।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ الْخَمْرَ وَثَمَنَهَا وَحَرَّمَ الْمَيْتَةَ وَثَمَنَهَا وَحَرَّمَ الْخِنْزِيرَ وَثَمَنَهُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯২) আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের মূল্য, বেশ্যার উপার্জন ও কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, যখন কেউ কুকুরের মূল্য চাইতে আসবে, তখন তার হাতে মাটি ভরে দাও।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْخَمْرِ وَمَهْرِ الْبَغِىِّ وَثَمَنِ الْكَلْبِ وَقَالَ إِذَا جَاء يَطْلُبُ ثَمَنَ الْكَلْبِ فَامْلَأْ كَفَّهُ تُرَابًا
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৩) আবু জুহাইফা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্ত ও কুকুরের মূল্য এবং বেশ্যার উপার্জন গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর সুদখোর, সুদদাতা, চেহারা (নকশা করার জন্য) দাগে বা দাগায় এমন নারী এবং মূর্তি (বা ছবি) নির্মাতাকে অভিসম্পাত করেছেন।
عَنْ أَبِـيْ جُحَيْفَةَ قَالَ: نَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَثَمَنِ الدَّمِ وَنَهَى عَنْ الْوَاشِمَةِ وَالْمَوْشُومَةِ وَآكِلِ الرِّبَا وَمُوكِلِهِ وَلَعَنَ الْمُصَوِّرَ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৪) আবূ উমামাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা গায়িকা (ক্রীতদাসী) ক্রয়-বিক্রয় করো না এবং তাদেরকে (গান) শিক্ষা দিয়ো না। গায়িকা দাসী ব্যবসায় কোন মঙ্গল নেই এবং তার মূল্য হারাম। আর অনুরূপ কারণে অবতীর্ণ হয়েছে (কুরআন মাজীদের) এই আয়াতঃ এক শ্রেণীর লোক আছে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অন্ধভাবে অসার বাক্য ক্রয় করে (বেছে নেয়) এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা লুক্বমান ৬)
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ لَا تَبِيعُوا الْقَيْنَاتِ وَلَا تَشْتَرُوهُنَّ وَلَا تُعَلِّمُوهُنَّ وَلَا خَيْرَ فِي تِجَارَةٍ فِيهِنَّ وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ وَفِي مِثْلِ هَذَا أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الْآيَةَ وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৫) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্তুতকারককে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে, তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয় তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَعَنَ اللهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৬) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে মক্কায় ঘোষণা করেন যে, অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রসূল মদ, মৃত প্রাণী, শূকর ও মূর্তির ব্যবসাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। বলা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! মৃত প্রাণীর চর্বি সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি? যেহেতু তা দিয়ে পানি-জাহাজ ও চামড়া তেলানো হয় এবং লোকেরা বাতি জ্বালায়?’ উত্তরে তিনি বললেন, না, তা হারাম। আর এই সময় তিনি বললেন, আল্লাহ ইয়াহুদ জাতিকে ধ্বংস করুন। আল্লাহ যখন তাদের উপর মৃত প্রাণীর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল!
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ إِنَّ اللهَ وَرَسُوْلَهُ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالْأَصْنَامِ فَقِيلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهَا يُطْلَى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ فَقَالَ لَا هُوَ حَرَامٌ، ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عِنْدَ ذَلِكَ قَاتَلَ اللهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللهَ لَمَّا حَرَّمَ شُحُومَهَا جَمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ইয়াহুদ জাতিকে অভিশাপ করুন। যখন তাদের উপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, তখন তারা (তা গলিয়ে) বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছিল। অথচ মহান আল্লাহ যখন কোন জিনিসকে হারাম করেন, তখন তিনি তার মূল্যও হারাম করেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَعَنَ اللهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا وَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا حَرَّمَ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ ثَمَنَهُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, একদা উম্মুল মুমিনীন মাইমূনাহ (রাঃ) এর স্বাধীন করা দাসীকে একটি বকরী দান করা হলে সেটা পরবর্তীতে মারা যায়। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, তোমরা এর চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে উপকৃত হলে না? বলা হল, এটা তো মৃত। তিনি বললেন, একে ভক্ষণ করাই কেবল হারাম করা হয়েছে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تُصُدِّقَ عَلٰى مَوْلاَةٍ لِمَيْمُونَةَ بِشَاةٍ فَمَاتَتْ فَمَرَّ بِهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ هَلاَّ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا فَدَبَغْتُمُوهُ فَانْتَفَعْتُمْ بِهِ فَقَالُوا إِنَّهَا مَيْتَةٌ فَقَالَ إِنَّمَا حَرُمَ أَكْلُهَا
-
(বুখারী ১৪৯২, ২২২১, ৫৫৩১, মুসলিম ৮৩২)
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৪৯৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরওয়াহ (রাঃ) কে একটি কুরবানীর পশু বা ছাগল খরীদ করতে একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেন। তিনি ঐ দীনার দ্বারা দুটি ছাগল খরীদ করলেন। অতঃপর একটিকে এক দীনারে বিক্রয় করে সেই দীনার সহ ঐ ছাগল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমর্পণ করলে তিনি তাঁর ব্যবসায় বর্কতের দু’আ দিলেন। সুতরাং তিনি মাটি ক্রয় করলেও তাতে লাভবান হতেন। (বুখারী ৩৬৪২, আবু দাঊদ ৩৩৮৪)
অনুরূপ তিনি হাকীম বিন হিযাম (রাঃ) কে একটি দীনার দিয়ে একটি কুরবানীর পশু ক্রয় করতে বলেছিলেন। তিনি দীনারটি দিয়ে একটি কুরবানীর পশু ক্রয় করে পুনরায় তা দুই দীনারে বিক্রয় করে দেন। অতঃপর একটি দীনার দ্বারা আবার একটি কুরবানীর পশু ক্রয় করে দীনার সহ পশু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রদান করেন। তিনি দীনারটিকে সদকাহ করেছিলেন এবং হাকীমের ব্যবসায় বর্কতের দু’আ দিয়েছিলেন। (আবু দাঊদ ৩৩৮৬, তিরমিযী ১২৮০, হাদীসটি যয়ীফ, দেখুন মিশকাতের টীকা, হাদীস ২৯৩৭, যয়ীফ আবু দাঊদ ৭৩৩, আউনুল মা’বুদ ৯/২৩৮-২৪৩)
عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَعْطَاهُ دِينَارًا يَشْتَرِي لَهُ بِهِ شَاةً فَاشْتَرَى لَهُ بِهِ شَاتَيْنِ فَبَاعَ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ وَجَاءَهُ بِدِينَارٍ وَشَاةٍ فَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ فِي بَيْعِهِ وَكَانَ لَوْ اشْتَرَى التُّرَابَ لَرَبِحَ فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৫০০) আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একদা বাজারের জিনিস-পত্রের দর বেড়ে যায়। লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি বাজার-দর নির্ধারণ ক’রে দিন।’ তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহই বাজার-দর নির্ধারণকারী, জীবিকা সঙ্কুচনকারী, রুযী সম্প্রসারণকারী, রুযীদাতা।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ غَلَا السِّعْرُ بِالْمَدِينَةِ عَلٰى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ النَّاسُ يَا رَسُوْلَ اللهِ غَلَا السِّعْرُ سَعِّرْ لَنَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّزَّاقُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
(২৫০১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ অপরের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং কেউ অপরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। (অথবা কেউ অপরের ক্ষতি করবে না এবং অপরের ক্ষতি করার পরিবর্তেও ক্ষতি করবে না।)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কসম খাওয়া মকরূহ; যদিও তা সত্য হয়
(২৫০২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কসম পণ্যদ্রব্য বিক্রয় বৃদ্ধি করে বটে; (কিন্তু) তা লাভ (বরকত) বিনষ্ট করে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيرَةَ قَالَ : سَمِعتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ الْـحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কসম খাওয়া মকরূহ; যদিও তা সত্য হয়
(২৫০৩) আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা কেনাবেচার সময় অধিকাধিক কসম খাওয়া থেকে দূরে থাক। কেননা, তা বিক্রয় বৃদ্ধি করে; (কিন্তু) বরকত মুছে দেয়।
وَعَنْ أَبِـيْ قَتَادَةَ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الحَلِفِ فِي البَيْعِ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কসম খাওয়া মকরূহ; যদিও তা সত্য হয়
(২৫০৪) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকিয়েও দেখবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য হবে যন্ত্রণাপ্রদ শাস্তি। তিনি এ কথাটি পুনঃপুনঃ তিনবার বললেন। আমি বললাম, ’ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা কারা হে আল্লাহর রসূল?’ তিনি বললেন, তারা হল, যে ব্যক্তি গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে ’দিয়েছি-দিয়েছি’ বলে প্রচার করে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম করে যে তার পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করে।
وَعَن أَبِـيْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلاَثَ مِرَارٍ قَالَ أَبُو ذرٍّ : خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ المُسْبِلُ وَالمنَّانُ وَالمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالحَلِفِ الكاذِبِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কসম খাওয়া মকরূহ; যদিও তা সত্য হয়
(২৫০৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চার ব্যক্তিকে আল্লাহ ঘৃণা করেন; (আর তারা হল,) কথায় কথায় শপথকারী ব্যবসায়ী, অহংকারী গরীব, ব্যভিচারী বৃদ্ধ এবং অত্যাচারী শাসক।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرْبَعَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : الْبَيَّاعُ الْحَلاَّفُ وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ وَالشَّيْخُ الزَّانِي وَالإِمَامُ الْجَائِرُ
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কসম খাওয়া মকরূহ; যদিও তা সত্য হয়
(২৫০৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা এক বেদুঈন একটি বকরী নিয়ে (আমার) পাশ দিয়ে গেল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ’তুমি এটাকে ৩ দিরহামে বিক্রি করবে?’ উত্তরে সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম!’ অতঃপর সে সেটাকে (ঐ ৩ দিরহামেই) বিক্রি করল। আমি এ খবর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, সে তার দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে বিক্রি করেছে।
عَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : مَرَّ أَعْرَابِيٌّ بِشَاة فَقُلْتُ : تَبِيعُنِيهَا بِثَلاَثَة دَرَاهِمَ؟ قَالَ : لاَ وَاللهِ ثُمَّ بَاعَنِيهَا فَذَكَرتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَاه
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
আল্লাহ তাআলা বলেন,
والَّذِينَ يُؤْذُونَ المُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتاناً وإثْماً مُبِيناً
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
(২৫০৭) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইকে কোন জিনিস বিক্রয় করার সময় তার কোন ত্রুটি বয়ান না করে (গোপন করে রাখে)।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ :’’الْمُسْلِمُ أَخُوْ الْمُسْلِمِ لَا يَحِلُّ لِمَنْ بَاعَ مِنْ أَخِيْهِ بَيْعًا يَعْلَمُ فِيْهِ عَيْبًا إِلاَّ بَيْنَهُ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫০৮) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। ধোঁকাবাজ ও চালবাজ জাহান্নামে যাবে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا، وَالْمَكْرُ وَالْخِدَاعُ فِي النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫০৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের উপর অস্ত্র তোলে। আর যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাজারে) এক খাদ্যরাশির নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাতে নিজ হাত ঢুকালেন। তিনি আঙ্গুলে অনুভব করলেন যে, ভিতরের শস্য ভিজে আছে। বললেন, ওহে ব্যাপারী! এ কী ব্যাপার? ব্যাপারী বলল, হে আল্লাহর রসূল! ওতে বৃষ্টি পড়েছে। তিনি বললেন, ভিজেগুলোকে শস্যের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকে দেখতে পেত? (জেনে রেখো!) যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا
وفي رواية لَهُ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ مَرَّ عَلٰى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً فَقَالَ مَا هذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ؟ قَالَ : أَصَابَتهُ السَّمَاءُ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوقَ الطَّعَامِ حَتّٰـى يرَاهُ النَّاسُ مَنْ غشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫১০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (ক্রয় করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতার জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য ক্রেতা আকৃষ্ট ক’রে) দালালি করো না।
وَعَنهُ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ تَنَاجَشُوا متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫১১) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, (তিনি বলেন,) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করার) দালালি করতে নিষেধ করেছেন।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهىَ عَنِ النَّجْشِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫১২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক এসে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিবেদন করল যে, সে ব্যবসা বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধোঁকা খায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার সাথে তুমি কেনাবেচা করবে, তাকে বলে দেবে যে, ধোঁকা যেন না হয়। (অর্থাৎ, আমার পণ্য বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার থাকবে।)
وَعَنهُ قَالَ : ذَكَرَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ أنَّهُ يُخْدَعُ في البُيُوعِ ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ بَايَعْتَ فَقُلْ : لاَ خِلاَبَةَ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫১৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না। (বুখারী হা/৬১৩৩, মুসলিম হা/৭৬৯০)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ قَالَ لاَ يُلْدَغُ المُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
(২৫১৪) মুস্তাওরিদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ...আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে (অথবা নিজেকে) সুনাম ও লোক-প্রদর্শনের জায়গায় রেখে (তার ভুয়া প্রশংসা ও মিথ্যা কারামত ও বুযুর্গী বর্ণনা করে উপার্জন করবে), আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন অনুরূপ (মিথ্যুক বলে) প্রচার ও প্রসিদ্ধির জায়গায় রাখবেন।
عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ وَمَنْ قَامَ بِرَجُلٍ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ فَإِنَّ اللهَ يَقُومُ بِهِ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ দেহ-ব্যবসা
(২৫১৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুকুরের মূল্য, গণকের উপার্জন এবং বেশ্যাবৃত্তির অর্থ হালাল নয়।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ يَحِلُّ ثَمَنُ الْكَلْبِ وَلاَ حُلْوَانُ الْكَاهِنِ وَلاَ مَهْرُ الْبَغِىِّ
পরিচ্ছেদঃ দেহ-ব্যবসা
(২৫১৬) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মদের মূল্য হারাম, ব্যভিচারের উপার্জন হারাম, কুকুরের মূল্য হারাম, তবলা হারাম।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بن عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَمَنُ الْخَمْرِ حَرَامٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ حَرَامٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ حَرَامٌ وَالْكُوبَةُ حَرَامٌ
পরিচ্ছেদঃ দেহ-ব্যবসা
(২৫১৭) আবূ মাসঊদ বাদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
وَعَنْ أَبِـيْ مَسعُودٍ البَدْرِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الكَلْبِ، وَمَهْرِ البَغِيِّ، وَحُلْوَانِ الكَاهِنِ
পরিচ্ছেদঃ দেহ-ব্যবসা
(২৫১৮) রাফে’ বিন খাদীজ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজ্জাম (শিঙা লাগিয়ে বদ রক্ত বের করে যে, তার) উপার্জন খাবীস (অপবিত্র), কুকুরের মূল্য খাবীস এবং বেশ্যার উপার্জন খাবীস।
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِىِّ خَبِيثٌ
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫১৯) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنْ قَامَتْ السَّاعَةُ وَبِيَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَقُومَ تقوم حَتّٰـى يَغْرِسَهَا فَلْيَفْعَلْ
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫২০) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মৃত ভূমিকে জীবিত করে, সে ব্যক্তির তাতে সওয়াব রয়েছে। আর তা হতে পশু-পক্ষী ভক্ষণ করলে, তাতে তার সাদকা হবে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَلَهُ مِنْهَا يَعْنِي أَجْرًا وَمَا أَكَلَتْ الْعَوَافِي مِنْهَا فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ
পরিচ্ছেদঃ বাজার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা
(২৫২১) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অথবা ফসল বোনে অতঃপর তা হতে কোন পাখী, মানুষ অথবা পশু (তার ফল ইত্যাদি) খায়, তখন ঐ খাওয়া ফল-ফসল তার জন্য সদকাহ স্বরূপ হয়।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ إِلَّا كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫২২) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অতঃপর তা হতে যা (পাখী, মানুষ অথবা পশু দ্বারা তার ফল ইত্যাদি) খাওয়া হয়, তা তার জন্য সদকাহ স্বরূপ হয়। যা চুরি হয়ে যায়, তাও তার জন্য সদকাহ স্বরূপ হয় এবং যে কেউ তা (ব্যবহার) দ্বারা উপকৃত হয়, তাও তার জন্য কিয়ামত অবধি সদকাহ স্বরূপ হয়।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلاَّ كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةً وَلاَ يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلاَّ كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫২৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমি ভাগচাষে দিতে নিষেধ করেননি। আসলে তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট কিছু নেওয়ার বিনিময়ে মুসলিম ভাইকে জমি চাষ করতে দেওয়ার চাইতে, তাকে বিনিময় ছাড়া চাষ করে খেতে দেওয়া উত্তম।
عن ابن عَبَّاسٍ قال: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ لَمْ يَنْهَ عَن المخابرة، إِنَّمَا قَالَ يَمْنَحُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا خَرْجًا مَعْلُومًا
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫২৪) রাফে’ বিন খাদীজ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের জমি তাদের অনুমতি ছাড়া চাষ করবে, সে কেবল চাষের খরচ পাবে এবং জমির ফসলের কোন ভাগ পাবে না।
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ زَرَعَ فِى أَرْضِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَلَيْسَ لَهُ مِنَ الزَّرْعِ شَىْءٌ وَلَهُ نَفَقَتُهُ
পরিচ্ছেদঃ চাষাবাদের মাহাত্ম্য
(২৫২৫) আব্দুল্লাহ বিন হুবশী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (খামোখা) কোন কুল গাছ কেটে ফেলবে (যে গাছের নিচে মুসাফির বা পশু-পক্ষী ছায়া গ্রহণ করত), সে ব্যক্তির মাথাকে আল্লাহ সোজা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُبْشِىٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَطَعَ سِدْرَةً صَوَّبَ اللهُ رَأْسَهُ فِى النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ পশু-পালন
(২৫২৬) উম্মে হানী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, বাড়িতে ছাগল পালো। কারণ তাতে বরকত আছে।
عَنْ أم هَانِئٍ قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخِذُوا الْغَنَمَ فَإِنَّ فِيهَا بَرَكَةً
পরিচ্ছেদঃ পশু-পালন
(২৫২৭) উরওয়াহ বারেক্বী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উট তার পালনকারীর জন্য সম্মান ও ইজ্জত, ভেঁড়া-ছাগল হল বরকত। আর কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে বাঁধা আছে কল্যাণ।
عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الإِبِلُ عِزٌّ لأَهْلِهَا وَالْغَنَمُ بَرَكَةٌ وَالْخَيْرُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِي الْخَيْلِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ পশু-পালন
(২৫২৮) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া হল তিনটিঃ একটি রহমানের জন্য, একটি ইনসানের জন্য এবং আরেকটি শয়তানের জন্য। সুতরাং যেটি রহমানের জন্য, তা হল সেটি, যেটিকে আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) বাঁধা হয়েছে। তার খাদ্য, লাদ ও পেসাব ইত্যাদি তার (মালিকের) মীযানে রাখা হবে। শয়তানের ঘোড়া সেটি, যেটির মাধ্যমে জুয়া খেলা বা বাজি ধরা হয়। আর ইনসানের ঘোড়া সেটি, যেটিকে মানুষ বেঁধে রেখে তার পেটের বাচ্চা অনুসন্ধান করে। সুতরাং সে তাকে দারিদ্র্য থেকে পর্দা করে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْخَيْلُ ثَلَاثَةٌ فَفَرَسٌ لِلرَّحْمَنِ وَفَرَسٌ لِلْإِنْسَانِ وَفَرَسٌ لِلشَّيْطَانِ فَأَمَّا فَرَسُ الرَّحْمَنِ فَالَّذِي يُرْبَطُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَعَلَفُهُ وَرَوْثُهُ وَبَوْلُهُ وَذَكَرَ مَا شَاءَ اللهُ وَأَمَّا فَرَسُ الشَّيْطَانِ فَالَّذِي يُقَامَرُ أَوْ يُرَاهَنُ عَلَيْهِ وَأَمَّا فَرَسُ الْإِنْسَانِ فَالْفَرَسُ يَرْتَبِطُهَا الْإِنْسَانُ يَلْتَمِسُ بَطْنَهَا فَهِيَ تَسْتُرُ مِنْ فَقْرٍ
পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
কৃতজ্ঞ ধনী ঐ ব্যক্তি যে বৈধ পন্থায় ধনার্জন করে এবং তা বৈধ ও বিধেয় পথে ব্যয় করে।
এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَأَمَّا مَنْ أعْطٰى وَاتَّقٰـى وَصَدَّقَ بِالْـحـُسْنٰـى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْـيُسْرَى
অর্থাৎ, সুতরাং যে দান করে ও আল্লাহকে ভয় করে, এবং সদ্বিষয়কে সত্যজ্ঞান করে। অচিরেই আমি তার জন্য সুগম ক’রে দেব (জান্নাতের) সহজ পথ। (সূরা লায়ল ৫-৭)
তিনি আরো বলেন,
وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقٰـى الَّذِيْ يُؤْتِـي مَالَهُ يَتَزَكّٰـى وَمَا لِأَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِّعْمَةٍ تُـجْزٰى إِلاَّ ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلٰـى وَلَسَوْفَ يَرْضٰـى
অর্থাৎ, আর আল্লাহভীরুকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে এবং তার প্রতি কারো কোন অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়। কেবল তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়। আর সে অচিরেই সন্তুষ্ট হবে। (সূরা লায়ল ১৭-২১)
তিনি আরো বলেন,
إنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإنْ تُـخْفُوْهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقراءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ
অর্থাৎ, তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করবেন, বস্তুতঃ তোমরা যা কর, আল্লাহ তা অবহিত। (সূরা বাক্বারাহ ২৭১)
তিনি আরো বলেছেন,
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰـى تُنْفِقُوا مِمَّا تُـحِبُّوْنَ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيْمٌ
অর্থাৎ, তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা আলে ইমরান ৯২)
(২৫২৯) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ (১) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে হক পথে অকাতরে দান করার ক্ষমতা দান করেছেন এবং (২) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, অতঃপর সে তার দ্বারা ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।’’ (বুখারী ৭৩, ১৪০৯, মুসলিম ১৯৩৩)
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ : رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلٰى هَلَكَتِهِ في الحَقّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
(২৫৩০) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়ঃ (১) ঐ ব্যক্তির (হিংসা করা যায়) যাকে আল্লাহ কুরআন (শিক্ষা) দিয়েছেন অতঃপর সে দিবারাত্রি তার যত্ন করে (তেলাঅত ও আমল করে) এবং (২) ঐ ব্যক্তির (হিংসা করা যায়) যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর সে দিবারাত্রি তা দান করে।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ : رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ القُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
(২৫৩১) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা গরীব মুহাজির (সাহাবাগণ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো উঁচু উঁচু মর্যাদা ও চিরস্থায়ী সম্পদের অধিকারী হয়ে গেল।’ তিনি বললেন, ’’তা কিভাবে?’’ তাঁরা বললেন, ’তারা নামায পড়ছে যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা রোযা রাখছে যেমন আমরা রাখছি। কিন্তু তারা সাদকাহ করছে, আর আমরা করতে পারছি না। তারা দাস মুক্ত করছে, আর আমরা পারছি না।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিস শিখিয়ে দেব না, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের মর্যাদা লাভ করবে, তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অগ্রবর্তী থাকবে এবং তোমাদের মত কাজ যে করবে, সে ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠতর হতে পারবে না? তাঁরা বললেন, ’অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! (আমাদেরকে তা শিখিয়ে দিন।)’ তিনি বললেন, ’’প্রত্যেক (ফরয) নামাযের পরে ৩৩ বার ক’রে ’সুবহানাল্লাহ’, ’আল্লাহু আকবার’ ও ’আল-হামদু লিল্লাহ’ বলবে।’’ অতঃপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’আমরা যে আমল করছি, সে আমল আমাদের ধনী ভাইয়েরা শোনার পর তারাও আমল শুরু ক’রে দিয়েছে? (এখন তো তারা আবার আমাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ে যাবে।)’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ হল আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أنَّ فُقَراءَ المُهَاجِرينَ أتَوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَوا : ذَهَبَ أهْلُ الدُّثُورِ بِالدَّرَجَاتِ العُلَى وَالنَّعِيم المُقِيمِ فَقَالَ وَمَا ذَاك فَقَالَوا : يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ وَلاَ نَتَصَدَّقُ وَيَعْتِقُونَ وَلاَ نَعْتِقُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺأفَلا أُعَلِّمُكُمْ شَيْئاً تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلاَ يَكُونُ أحَدٌ أفْضَلَ مِنْكُمْ إِلاَّ مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ تُسَبِّحُونَ وَتُكَبِّرُونَ وَتَحْمِدُونَ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ مَرَّةً فَرَجَعَ فُقَرَاء المُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَوا: سَمِعَ إخْوَانُنَا أهلُ الأمْوالِ بِمَا فَعَلْنَا فَفَعَلُوا مِثلَهُ ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ذَلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ متفقٌ عَلَيْهِ وَهَذا لفظ رواية مسلم
পরিচ্ছেদঃ বাজার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা
(২৫৩২) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ঐ বান্দাকে ভালোবাসেন, যে পরহেযগার (সংযমশীল), অমুখাপেক্ষী (ধনী) ও আত্মগোপনকারী।
وَعَنْ سَعْدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ الله ﷺ يَقُوْلُ إنَّ الله يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الغَنِيّ الْخَفِيَّ
পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
(২৫৩৩) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা আইয়ুব নবী (আঃ) (নির্জনে) উলঙ্গ গোসল করছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর সম্মুখে একদল সোনার পঙ্গপাল পড়লে তিনি তা নিজের কাপড়ে ভরতে লাগলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে বললেন, ’হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এ সব থেকে অমুখাপেক্ষী (ধনী) করিনি?’ আইয়ুব বললেন, ’অবশ্যই হে আমার প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! কিন্তু তোমার বরকত থেকে আমার এতটুকু অমুখাপেক্ষিতা নেই।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا فَخَرَّ عَلَيْهِ جَرَادٌ مِنْ ذَهَبٍ فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَحْتَثِي فِي ثَوْبِهِ فَنَادَاهُ رَبُّهُ يَا أَيُّوبُ أَلَمْ أَكُنْ أَغْنَيْتُكَ عَمَّا تَرَى قَالَ بَلَى وَعِزَّتِكَ وَلَكِنْ لَا غِنَى بِيْ عَنْ بَرَكَتِكَ
পরিচ্ছেদঃ কৃতজ্ঞ ধনীর মাহাত্ম্য
(২৫৩৪) আমর বিন আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠিয়ে আমাকে আমার পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অস্ত্র সহ ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম আর তখন তিনি ওযূ করছিলেন। আমার দিকে মাথা তুলে একবার তাকিয়ে আবার মাথা নামিয়ে নিয়ে বললেন, ’’আমি তোমাকে এক সৈন্যদলের আমীর হিসাবে পাঠাতে ইচ্ছা করেছি। আল্লাহ তোমাকে গনীমতের মাল সহ নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন। আর আমার সদিচ্ছা যে, তোমার মাল হোক।’’ তখন আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি মালের জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি। বরং ইসলাম গ্রহণ করেছি ইসলামকে ভালোবেসে এবং আপনার সঙ্গ লাভের আশায়।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আমর! সৎ মানুষের জন্য পবিত্র মাল কতই না উত্তম!
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُوْلُ بَعَثَ إِلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ خُذْ عَلَيْكَ ثِيَابَكَ وَسِلَاحَكَ ثُمَّ ائْتِنِي، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَصَعَّدَ فِيَّ النَّظَرَ ثُمَّ طَأْطَأَهُ فَقَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَكَ عَلٰى جَيْشٍ فَيُسَلِّمَكَ اللهُ وَيُغْنِمَكَ وَأَرْغَبُ لَكَ مِن الْمَالِ رَغْبَةً صَالِحَةً قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَسْلَمْتُ مِنْ أَجْلِ الْمَالِ وَلَكِنِّي أَسْلَمْتُ رَغْبَةً فِي الْإِسْلَامِ وَأَنْ أَكُونَ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا عَمْرُو نِعْمَ الْمَالُ الصَّالِحُ لِلْمَرْءِ الصَّالِحِ
পরিচ্ছেদঃ শরীয়ত-সম্মত খাত ছাড়া, অন্য খাতে ধন-সম্পদ নষ্ট করা নিষিদ্ধ
(২৫৩৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তিনি তোমাদের জন্য পছন্দ করেন যে, তোমরা তাঁর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করো না এবং আল্লাহর রজ্জুকে জামাআতবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না। আর তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেন তা হল, অহেতুক আলোচনা-সমালোচনায় লিপ্ত হওয়া, অধিকাধিক প্রশ্ন করা এবং ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَرْضَى لَكُمْ ثَلاَثاً وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاَثاً : فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعاً وَلاَ تَفَرَّقُوا، وَيَكْرَهُ لَكُمْ : قِيلَ وَقَالَ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ وَإِضَاعَةَ المَالِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ শরীয়ত-সম্মত খাত ছাড়া, অন্য খাতে ধন-সম্পদ নষ্ট করা নিষিদ্ধ
(২৫৩৬) মুগীরাহ ইবনে শু’বাহর লেখক অর্রাদ হতে বর্ণিত, মুআবিয়া (রাঃ) এর নামে একটি পত্রে মুগীরা আমার দ্বারা এ কথা লিখালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই দু’আ পড়তেন,
’’লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা-নিয়া লিমা আ’ত্বাইতা, অলা মু’ত্বিয়া লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ্।’’
অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না।
(তাছাড়া তাতে এ কথাও লিখালেন যে,) ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহেতুক কথাবার্তা বলতে, ধন-সম্পদ বিনষ্ট করতে এবং অধিকাধিক প্রশ্ন করতে নিষেধ করতেন। আর তিনি মাতা-পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করতে, মেয়েদেরকে জীবন্ত প্রোথিত করতে এবং প্রাপকের নায্য অধিকার রোধ করতে ও অনধিকার বস্তু তলব করতেও নিষেধ করতেন।’
وَعَنْ وَرَّادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ : أَمْلَى عَلَيَّ المُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتابٍ إلَى مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَقُوْلُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ وَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَنْهَى عَنْ قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةِ المَالِ وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقُوقِ الأُمَّهَاتِ وَوَأْدِ البَنَاتِ وَمَنْعٍ وَهَاتِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ বাজার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা
(২৫৩৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান হল মসজিদ। আর সবচেয়ে ঘৃণ্য স্থান হল বাজার।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَحَبُّ الْبِلاَدِ إلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا وَأَبْغَضُ البِلاَدِ إلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا
পরিচ্ছেদঃ বাজার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা
(২৫৩৮) সালমান ফারেসী (রাঃ) এর উক্তি (মওকূফ সূত্রে) বর্ণিত, তিনি বলেন, ’তুমি যদি পার, তাহলে সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী হবে না এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থানকারী হবে না। কারণ, বাজার শয়তানের আড্ডাস্থল; সেখানে সে আপন ঝাণ্ডা গাড়ে।
বারক্বানী তাঁর ’সহীহ’ গ্রন্থে সালমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী হয়ো না এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থানকারী হয়ো না। কারণ, সেখানে শয়তান ডিম পাড়ে এবং ছানা জন্ম দেয়।
وَعَنْ سَلمَانَ الفَارِسِي مِنْ قَولِهِ قَالَ : لاَ تَكُونَنَّ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَوَّلَ مَنْ يَدْخُلُ السُّوقَ وَلاَ آخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهَا فَإِنَّهَا مَعْرَكَةُ الشَّيْطَانِ وَبِهَا يَنْصِبُ رَايَتَهُ رَوَاهُ مُسْلِمُ هَكَذَا ورواه البرقاني في صَحِيْحِهِ عَنْ سَلمَانَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَكُنْ أَوَّلَ مَنْ يَدْخُلُ السُّوقَ وَلاَ آخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهَا فِيهَا بَاضَ الشَّيْطَانُ وَفَرَّخَ