পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৪৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার অভ্যন্তরে কুরআনের কোন অংশই নেই, সে বিরান ঘরের মত।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ قَابُوسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ مِنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ
তাখরীজ: সাহমী, তারীখ জুরজান পৃ: ৪১২; আহমাদ ১/২২৩; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১৪; তাবারাণী, কাবীর ১২/১০৯ নং ১২৬১৯; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৮৪; ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৭২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮৫; হাকিম, মুসতাদরাক ১/৫৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩৩৪৯। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।’
হাকিম বলেন, তারা বর্ণনা না করলেও এর সনদ সহীহ। তবে যাহাবী তার অনুসরণে বলেছেন, আমি বলছি, (এর বর্ণনাকারী) কাবুস দুর্বল।’
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৪৬. আবীল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ কুরআন হলো আল্লাহর ভোজসভা, ফলে তোমার সাধ্যমত তা থেকে গ্রহণ করো। কেননা, আমার জানামতে সর্বাধিক ধন-সম্পদ শুন্য ঘর হলো সেই ঘর যার মধ্যে আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশই নেই। অনুরূপ যে অন্তরের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশই নেই, তা সেইরূপ ধ্বংসপ্রাপ্ত, যেরূপ বিরাণ ঘর, যেখানে কোনো লোক বসবাস করে না।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ حَازِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو سِنَانٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ فَخُذُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنِّي لَا أَعْلَمُ شَيْئًا أَصْفَرَ مِنْ خَيْرٍ مِنْ بَيْتٍ لَيْسَ فِيهِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ شَيْءٌ وَإِنَّ الْقَلْبَ الَّذِي لَيْسَ فِيهِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ شَيْءٌ خَرِبٌ كَخَرَابِ الْبَيْتِ الَّذِي لَا سَاكِنَ لَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮৬ নং ১০০৭১ সংক্ষিপ্তাকারে সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক ৫৯৯৮; তাবারানী, কাবীর ৯/১৩৮ নং ৮৬৪২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি ও পূর্ববর্তী কিছু হাদীস।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৪৭. আবূল আহওয়াস (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ’তোমরা এ কুরআন শিক্ষা কর, কেননা, কুরআনের একটি হরফ পাঠ করার কারণে তোমাদেরকে দশটি সাওয়াব দেওয়া হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলে একটি হয়ফ; বরং আলিফ, লাম এবং মীম প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা হরফ, যার প্রত্যেকটির জন্য দশটি করে সাওয়াব রয়েছে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَعَلَّمُوا هَذَا الْقُرْآنَ فَإِنَّكُمْ تُؤْجَرُونَ بِتِلَاوَتِهِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ بْ الم وَلَكِنْ بِأَلِفٍ وَلَامٍ وَمِيمٍ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৮৬৪৮, ৮৬৪৯; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬০ মাওকুফ হিসেবে সহীহ; আব্দুর রাযযাক ৫৯৯৩ মুনকাতি সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৬১ নং ৯৯৮১, ১০০৭১।
বুখারী, কাবীর ১/২১৬; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১২; মারফু’ হিসেবে যার সনদ সহীহ। তিরমিযী, বলেন, এটি কেউ কেউ ইবনু মাসউদ থেকে মাওকুফ হিসেবে আবার কেউ কেউ মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, এ সূত্রে গারীব।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৪৮. হাফস ইবনু ইনান আল হানাফী থেকে বর্ণিত, আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: যে ঘরে কুরআন পাঠ করা হয়, সেই ঘর তার বাসিন্দাদের উপর প্রশস্ত হয়ে যায়, সেখানে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হয়, শয়তানরা সেই ঘর থেকে দূরে থাকে, এবং তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। আর যে ঘরে কুরআন পাঠ করা হয় না, তা তার বাসিন্দাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে যায়, সেখান থেকে ফেরেশতাগণ দূরে থাকে, শয়তানরা সেই ঘরে উপস্থিত হয় এবং তার ধন-সম্পদ কমে যায়।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ عِنَانٍ الْحَنَفِيُّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ إِنَّ الْبَيْتَ لَيَتَّسِعُ عَلَى أَهْلِهِ وَتَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ وَتَهْجُرُهُ الشَّيَاطِينُ وَيَكْثُرُ خَيْرُهُ أَنْ يُقْرَأَ فِيهِ الْقُرْآنُ وَإِنَّ الْبَيْتَ لَيَضِيقُ عَلَى أَهْلِهِ وَتَهْجُرُهُ الْمَلَائِكَةُ وَتَحْضُرُهُ الشَّيَاطِينُ وَيَقِلُّ خَيْرُهُ أَنْ لَا يُقْرَأَ فِيهِ الْقُرْآنُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮৭ নং ১০০৭৬; ইবনুল মুবারক, যুহদ নং ৭৯০; ইবনুল যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৮৫ মুনকাতি সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৪৯. উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কুরআনকে চামড়ার ভেতরে রেখে তা যদি আগুণেও নিক্ষেপ করা হয়, তবুও তা পুড়বে না।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مِشْرَحِ بْنِ هَاعَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَوْ جُعِلَ الْقُرْآنُ فِي إِهَابٍ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ مَا احْتَرَقَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৪৫ তে।
সংযোজনী: ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ২; তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার নং ৯০৬; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ৩০৩; আহমাদ ৪/১৫১ ১৫৫; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩০৮ নং ৮৫০; আবীল ফযল রাযী, নং ১২৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৬৯৯; ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২৪৬।
আর এর শাহিদ রয়েছে উসামাহ ইবনু মালিক আলখাতমী হতে তাবারাণী, কাবীর ১৭/১৮৬ নং ৪৯৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৭০০; ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৪১। তবে এতে ফযল ইবনু মুখতার রয়েছে যে মুনকার ও বাতিল হাদীস সমুহ বর্ণনা করে, ফলে তার শাহিদ বর্ণনা একে শক্তিশালী করে না।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫০. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: তোমরা কুরআন পাঠ কর, কেননা, কুরআন কিয়ামতের দিবসে কতই না উত্তম সুপারিশকারী! কিয়ামত দিবসে কুরআন এসে বলবে: হে রব! তাকে মর্যাদার অলংকারে অলংকৃত করুন। তখন তাকে মর্যাদার অলংকারে অলংকৃত করা হবে। (সে আবার বলবে:) হে রব! তাকে মর্যাদার পোশাক পরিধান করান। তখন তাকে মর্যাদার পোষাক পরানো হবে। (সে আবার বলবে:) হে রব! তাকে মর্যাদার মুকুট পরিধান করান। তখন তাকে মর্যাদার মুকুট পরিধান করানো হবে। (এরপর সে বলবে:) ইয়া রব! আপনি তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। কেননা, আপনার সন্তুষ্টির পরে আর কিছু নেই।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ نِعْمَ الشَّفِيعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّهُ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا رَبِّ حَلِّهِ حِلْيَةَ الْكَرَامَةِ فَيُحَلَّى حِلْيَةَ الْكَرَامَةِ يَا رَبِّ اكْسُهُ كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ فَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ يَا رَبِّ أَلْبِسْهُ تَاجَ الْكَرَامَةِ يَا رَبِّ ارْضَ عَنْهُ فَلَيْسَ بَعْدَ رِضَاكَ شَيْءٌ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১৬; হাকিম, মুসতাদরাক ১/৫৫২; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৯৬, ১৯৯৭।
তিরমিযী বলেন, ‘হাদীসটি হাসান সহীহ।’
হাকিম বলেন, ‘তারা উভয়ে বর্ণনা না করলেও হাদীসটির সনদ সহীহ।’ যাহাবী বলেন, ‘সহীহ। ইবনু খুযাইমা এটি মারফু’ হিসেবে শু’বাহ হতে বর্ণনা করেছেন।’
আমরা বলছি: শু’বাহ হতে এটি মারফু’ ও মাওকুফ দু’ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে শু’বাহ’র মারফু’ বর্ণনা মুতাবিয়াত হলো যাইদাহ, মারফু’ হওয়াটা তার দিকেই ফিরে যায়। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫১. মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কুরআন (কিয়ামত দিবসে) তার সাথীর (পাঠকারীর) জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। সে বলবে: হে রব! প্রত্যেক কর্মকারীর তার কর্মের পুরস্কার বা বিনিময় পেয়ে থাকে। আর আমি তাকে ভোগ-আনন্দ ও ঘুম হতে বিরত রেখেছিলাম। তাই আপনি তাকে সম্মানিত করুন।তখন তাকে বলা হবে: তোমার ডান হাত প্রশস্ত কর। (সে প্রশস্ত করলে) তা আল্লাহর সন্তুষ্টি দ্বারা ভরপুর করে দেয়া হবে। এরপর তাকে বলা হবে: তোমার বাম হাত প্রশস্ত কর। (সে প্রশস্ত করলে) তা আল্লাহর সন্তুষ্টি দ্বারা ভরপুর করে দেয়া হবে। এবং তাকে মর্যাদার পোষাক পরানো হবে, তাকে মর্যাদার অলংকারে অলংকৃত করা হবে এবং তাকে মর্যাদার মুকুট পরিধান করানো হবে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَزَارِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ يَقُولُ يَا رَبِّ لِكُلِّ عَامِلٍ عُمَالَةٌ مِنْ عَمَلِهِ وَإِنِّي كُنْتُ أَمْنَعُهُ اللَّذَّةَ وَالنَّوْمَ فَأَكْرِمْهُ فَيُقَالُ ابْسُطْ يَمِينَكَ فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ ثُمَّ يُقَالُ ابْسُطْ شِمَالَكَ فَتُمْلَأُ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ وَيُكْسَى كِسْوَةَ الْكَرَامَةِ وَيُحَلَّى بِحِلْيَةِ الْكَرَامَةِ وَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯৬, ৪৯৭ নং ১০০৯৮, ১০০৯৯; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০২; সাঈদ ইবনু মানসূর ২২।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫২. মুসাইয়্যেব ইবনু রাফি’ঈ হতে বর্ণিত, আবী সালিহ (রহঃ) বলেন, কুরআন (কিয়ামত দিবসে) তার সাথীর (পাঠকারীর) জন্য সুপারিশ করবে। ফলে তাকে মর্যাদার পোষাক পরানো হবে। তখন কুরআন বলবে, হে রব! তার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন। তখন তাকে মর্যাদার মুকুট পরিধান করানো হবে।
তিনি বলেন, তারপর সে বলবে: হে রব! তার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, আর তাকে দান করুন এবং তাকে আরও দান করুন … তিনি বলেন, (অবশেষে) তিনি (আল্লাহ তা’আলা) বলবেন: আমার সন্তুষ্টি (তাকে দান করলাম)।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, উহাইব ইবনু ওয়ারদ বলেন, তোমার কুরআন পাঠ কর ইলমের উদ্দেশ্যে, তা পাঠকে শুধু (গতানুগতিক কোন) কাজ হিসেবে গণ্য করো না।
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَزَارِيُّ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ الْقُرْآنُ يَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ فَيُكْسَى حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُولُ رَبِّ زِدْهُ فَيُكْسَى تَاجَ الْكَرَامَةِ قَالَ فَيَقُولُ رَبِّ زِدْهُ فَإِنَّهُ فَإِنَّهُ فَيَقُولُ رِضَائِي قَالَ أَبُو مُحَمَّد قَالَ وُهَيْبُ بْنُ الْوَرْدِ اجْعَلْ قِرَاءَتَكَ الْقُرْآنَ عِلْمًا وَلَا تَجْعَلْهُ عَمَلًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯৫ নং ১০০৯৭; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০২।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমাদের কেউ কি তার ঘরে ফিরে এসে সেখানে তিনটি হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উষ্ট্রী পেতে পছন্দ করে?” আমরা বললাম, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ “তোমাদের কারো তিনটি আয়াত পাঠ করা তার জন্য তিনটি হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উষ্ট্রীর চেয়েও উত্তম।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْفَزَارِيُّ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ أَنْ يَجِدَ ثَلَاثَ خَلِفَاتٍ سِمَانٍ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَثَلَاثُ آيَاتٍ يَقْرَؤُهُنَّ أَحَدُكُمْ خَيْرٌ لَهُ مِنْهُنَّ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৩ নং ১০১২২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮০২; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৮২; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৯, ৭০, ৭১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৭৭; আহমাদ ২/৩৯৬-৩৯৭, ৪৬৬, ৪৯৬-৪৯৭; আবূ উবাইদ, ফাযাইল নং ১০২; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২২৪২।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৪. আবীল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নিশ্চয়ই এ কুরআন হলো আল্লাহর ভোজসভা, ফলে তোমার সাধ্যমত তা শিক্ষা করো। নিশ্চয়ই এ কুরআন হলো আল্লাহর রশি এবং প্রকাশ্য জ্যোতি, (অন্তরে রোগের) ঔষধ ও উপকারকারী, যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরে, তার জন্য এটি পাপমুক্তি-সংরক্ষণ (কারী); আর যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করবে, তা তার জন্য নাজাত (মুক্তির কারণ), সে বিচ্যুত বা ভ্রষ্ট হয় না যে তাওবা করার প্রয়োজন পড়বে; তা কখনো বক্র হয় না, যাকে সোজা করার প্রয়োজন হবে; এর বিস্ময়সমূহ কখনো ধ্বংস হবে না; আর পুন: পুন: পাঠের পরেও তা কখনো পুরান ও জীর্ণ হয়ে যাবে না। ফলে তোমরা তা পাঠ করতে থাক, কেননা, এ কুরআনের একটি হরফ পাঠ করার কারণে আল্লাহ তোমাদেরকে দশটি সাওয়াব দেবেন। জেনে রাখ, আমি এ কথা বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম (মিলে একটি হয়ফ); বরং আলিফ, লাম এবং মীম (প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা হরফ, যার প্রত্যেকটির জন্য দশটি করে সাওয়াব রয়েছে)।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ هُوَ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ فَتَعَلَّمُوا مِنْ مَأْدُبَتِهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ حَبْلُ اللَّهِ وَالنُّورُ الْمُبِينُ وَالشِّفَاءُ النَّافِعُ عِصْمَةٌ لِمَنْ تَمَسَّكَ بِهِ وَنَجَاةٌ لِمَنْ اتَّبَعَهُ لَا يَزِيغُ فَيَسْتَعْتِبُ وَلَا يَعْوَجُّ فَيُقَوَّمُ وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ فَاتْلُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلَاوَتِهِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ الم وَلَكِنْ بِأَلِفٍ وَلَامٍ وَمِيمٍ
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৮৫; আব্দুর রাযযাক ৬০১৭; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৩৯ নং ৮৬৪৬; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ১/১৩০-১৩১; হাকিম, মুসতাদরাক ১/৫৫৫; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ৪৯-৫০; নাসাঈ, আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ নং ৯৬৩; আবু নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ২/২৭৮ মারফু’ হিসেবে।
সাঈদ ইবনু মানসূর ১/৪৩ নং ৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৮৫ এ সনদে।
পূর্ণ ফায়িদাহ দেখুন, বিগত ৩৩৪৬ নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৫. যাইদ ইবনু আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হলেন। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর ছানা (গুণগান) বর্ণনা করে বললেন: “হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয় আমি এক জন মানুষ মাত্র। হয়তো অচিরেই আমার রবের দূত আমার নিকট এসে যাবে এবং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাব। কিন্তু আমি তোমাদের মাঝে দু’টো ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব যাতে রয়েছে হেদায়েত (পথনির্দেশনা) ও নূর। ফলে তোমরা আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে থাঁকবে এবং তা অনুসরণ করবে।” এরপর তিনি এ ব্যাপারে অনুপ্রাণীত করলেন এবং উত্সাহ দিলেন। এরপর তিনি বললেন: “এবং আমার আহলে বাইত- আমার পরিবার। আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি- তিনবার।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا خَطِيبًا فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَنِي رَسُولُ رَبِّي فَأُجِيبَهُ وَإِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ الثَّقَلَيْنِ أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَتَمَسَّكُوا بِكِتَابِ اللَّهِ وَخُذُوا بِهِ فَحَثَّ عَلَيْهِ وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ وَأَهْلَ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمْ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৬৬-৩৬৭; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪০৮; ((তিরমিযী, মানাকিব ৩৭৮৮)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৩।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৬. আবী ওয়াইল হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নিশ্চয়ই এ রাস্তা হলো সমাবেশ স্থল। আর সেখানে শয়তানেরা সমবেত হয়ে আহ্বান জানাতে থাকে, ’হে আল্লাহর বান্দারা! এ (ভ্রান্ত) পথই হলো (সঠিক) পথ।’ (আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যেই সে এরূপ আহ্বান জানাতে থাকে)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো। আর আল্লাহর রজ্জু হলো কুরআন।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ هَذَا الصِّرَاطَ مُحْتَضَرٌ تَحْضُرُهُ الشَّيَاطِينُ يُنَادُونَ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا الطَّرِيقُ فَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ فَإِنَّ حَبْلَ اللَّهِ الْقُرْآنُ
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২০২৫; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৪; সুয়ূতী, দুররে মানসূর ২/৬০; তাবারাণী, কাবীর ৯/২৪০ নং ৯০৩১, ৯০৩২; সাঈদ ইবনু মানসূর ৩/১০৮৩ নং ৫১৯।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৭. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো একটি সুরা শেষ না করা পর্যন্ত কুরআনের পাঠক ও শিক্ষাকারীর উপর ফিরিশতাগণ সালাত প্রেরণ (রহমতের দু’আ) করতে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন কুরআনের কোনো সূরা পাঠ করায় বা শিক্ষা দেয়, সে যেন তা শেষ না করে তার দু’টো আয়াত দিনের শেষে পাঠ করে তা সমাপ্ত করার জন্য রেখে দেয়, যাতে ফিরিশতাগণ পাঠকারী ও শিক্ষাকারীর উপর দিনের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সালাত প্রেরণ (রহমতের দু’আ) করতে থাকে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ إِنَّ قَارِئَ الْقُرْآنِ وَالْمُتَعَلِّمَ تُصَلِّي عَلَيْهِمْ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يَخْتِمُوا السُّورَةَ فَإِذَا أَقْرَأَ أَحَدُكُمْ السُّورَةَ فَلْيُؤَخِّرْ مِنْهَا آيَتَيْنِ حَتَّى يَخْتِمَهَا مِنْ آخِرِ النَّهَارِ كَيْ مَا تُصَلِّي الْمَلَائِكَةُ عَلَى الْقَارِئِ وَالْمُقْرِئِ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ إِلَى آخِرِهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৫ নং ১০১২৮ আবী উমামার বক্তব্য হিসেবে জাইয়্যেদ সনদে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও, হিন্দী, কানযুল উম্মালে একে হাকীম তিরমিযী’র প্রতি সম্বন্ধ করেছেন, যা হাকীম তিরমিযীর নাওয়াদিরুল উসূল পৃ: ৩৩৩ তে রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৮. শুরাহবিল বিন মুসলিম (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো। আর এ লটকানো কবিতাগুলি যেন তোমাদেরকে (কুরআন পাঠ থেকে) ধোকায় না ফেলে দেয়। অথচ যে অন্তর কুরআন সংরক্ষণ করেছে, আল্লাহ কখনোই তাকে শাস্তি দেবেন না।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا حَرِيزٌ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ هَذِهِ الْمَصَاحِفُ الْمُعَلَّقَةُ فَإِنَّ اللَّهَ لَنْ يُعَذِّبَ قَلْبًا وَعَى الْقُرْآنَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৫ নং ১০১২৮।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৫৯. সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবূ উমামাহ বাহিলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা কুরআন পাঠ করতে থাকো। আর তোমাদেরকে যেন (কবিতার মতো) এ কুরআন (পাঠ) ধোকায় না ফেলে দেয়। কারণ যে অন্তর কুরআন সংরক্ষণ করেছে, আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন না।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ هَذِهِ الْمَصَاحِفُ الْمُعَلَّقَةُ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُعَذِّبُ قَلْبًا وَعَى الْقُرْآنَ
তাখরীজ: বুখারী, খালকু আফ’আলীল ইবাদ পৃ: ৮৭। আর এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬০. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সকল নিমন্ত্রিত ব্যক্তিই চায়, তাকে যথাযোগ্য আপ্যায়ন করা হোক। আর কুরআন হলো আল্লাহর (ভোজের) নিমন্ত্রণ।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنْ مَعْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ لَيْسَ مِنْ مُؤَدِّبٍ إِلَّا وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى أَدَبُهُ وَإِنَّ أَدَبَ اللَّهِ الْقُرْآنُ
তাখরীজ: এটি বিগত ৩৩৪২ নং হাদীসের অংশবিশেষ।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬১. আবূল আহওয়াস (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এ কুরআন হলো আল্লাহর ভোজসভা। ফলে সেখানে যে ব্যক্তিই প্রবেশ করলো, সে নিরাপত্তা লাভ করলো।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَقُولُ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ فَمَنْ دَخَلَ فِيهِ فَهُوَ آمِنٌ
তাখরীজ: এটিও বিগত ৩৩৪২ নং হাদীসের অংশবিশেষ।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬২. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনকে ভালবাসে সে যেন আনন্দিত হয়।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ أَحَبَّ الْقُرْآنَ فَلْيُبْشِرْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৬ নং ১০১২৯; সাঈদ ইবনু মানসূর ১/১২ নং ৩।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৩. (অপর সনদে) আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনকে ভালবাসে সে যেন আনন্দিত হয়।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ أَحَبَّ الْقُرْآنَ فَلْيُبْشِرْ
তাখরীজ: আর এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৪. শা’বী হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, কিয়ামতের দিন কুরআন এসে তার সাথী (পাঠক)-এর জন্য শাফা’আত করবে এবং তাকে জান্নাতের দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। আবার তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে চালিয়ে নিয়ে যাবে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النُّجُودِ عَنْ الشَّعْبِيِّ أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ فَيَكُونُ لَهُ قَائِدًا إِلَى الْجَنَّةِ وَيَشْهَدُ عَلَيْهِ وَيَكُونُ لَهُ سَائِقًا إِلَى النَّارِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯৭ নং ১০১০২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৯৬, ১০৮; আবুল ফাযল আর রাযী, নং ১২৪ (কিছুটা ভিন্ন শব্দে।)
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “নিশ্চয়ই লোকদের মাঝে আল্লাহর ’আহল’ বা পরিজন রয়েছে।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কারা? তিনি বললেন: “আহলুল কুরআন’ বা কুরআনের অধিকারীগণ।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِينَ مِنْ النَّاسِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ قَالَ أَهْلُ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী, ২/৩ নং ১৮৮৫; আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৩/৬৩; আহমাদ ৩/১২৭-১২৮, ২৪২; নাসাঈ, কুবরা ৫/১৭ নং ৮০৩১; সুনান, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৬; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৫; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৭৫; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দমাহ নং ২১৫; আবুল ফাযল আর রাযী, নং ৩৭; হাকিম ১/৫৫৬ সহীহ সনদে।
বুসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ১/৯১ তে বলেন, এ সনদ সহীহ, সকলেই বিশ্বস্ত।’
খতীব, তারীখ ২/৩১১ অপর সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৬. কা’ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। কেননা, মনের উপলব্ধি, প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা, ইলমের ঝরণা, কালের বিবেচনায় আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নবতর কিতাব।[1] তিনি বলেন, তাওরাত কিতাবে আছে, হে মুহাম্মদ! আমি আপনার প্রতি নবতর তাওরাত নাযিল করেছি, যা অন্ধ দৃষ্টিকে, বধির কানকে এবং অনুভুতিহীন আবদ্ধ হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেবে।[2]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ مُغِيثٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ فَإِنَّهُ فَهْمُ الْعَقْلِ وَنُورُ الْحِكْمَةِ وَيَنَابِيعُ الْعِلْمِ وَأَحْدَثُ الْكُتُبِ بِالرَّحْمَنِ عَهْدًا وَقَالَ فِي التَّوْرَاةِ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي مُنَزِّلٌ عَلَيْكَ تَوْرَاةً حَدِيثَةً تَفْتَحُ فِيهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ৭৭।
[2] তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৮১ নং ১১৭৮৭ মুগীছ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r বলেছেন: “আমার নিকট নাযিল করা হয়েছে তাতে রয়েছে প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা, ইলমের ঝরণা; এর দ্বারা অন্ধ দৃষ্টিকে, অনুভুতিহীন আবদ্ধ হৃদয়কে এবং বধির কানকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।আর তা আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নবতর কিতাব।”
এর সনদ মুগীছ পর্যন্ত সহীহ। তবে এটি মুগীছের উপর মাওকুফ (তার নিজের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত)।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৭. আবী কিনানাহ হতে বর্ণিত, আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ কুরআন হলো তোমাদের জন্য সাওয়াব অর্জনের মাধ্যম, যিকিরের উপাদান, তোমাদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং তোমাদের পক্ষে বোঝা বহনকারী। তোমরা এ কুরআনের অনুসরণ করো, আর এ কুরআন যেন তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন না করে। কারণ যে ব্যক্তি কুরআনের অনুসরণ করবে, এর মাধ্যমে সে জান্নাতের বাগানে অবতরণ (অবস্থান) করবে। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে তার অনুগামী করবে, তা তার ঘাড় ধরে ঠেলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ مِخْرَاقٍ عَنْ أَبِي إِيَاسٍ عَنْ أَبِي كِنَانَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ كَائِنٌ لَكُمْ أَجْرًا وَكَائِنٌ لَكُمْ ذِكْرًا وَكَائِنٌ بِكُمْ نُورًا وَكَائِنٌ عَلَيْكُمْ وِزْرًا اتَّبِعُوا الْقُرْآنَ وَلَا يَتَّبِعْكُمْ الْقُرْآنُ فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعْ الْقُرْآنَ يَهْبِطْ بِهِ فِي رِيَاضِ الْجَنَّةِ وَمَنْ اتَّبَعَهُ الْقُرْآنُ يَزُخُّ فِي قَفَاهُ فَيَقْذِفُهُ فِي جَهَنَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَزُخُّ يَدْفَعُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮৪ নং ১০০৪৩, ১৩/২৮৬ নং ১৬৬৭১; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৭; সাঈদ ইবনু মানসূর ১/৪৯ নং ৮ ; আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৫৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২০২৩, ২০২৪।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৮. মুসা ইবনু আইয়্যূব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা ইয়াস ইবনু আমির বলতেন, আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার হাত ধরে বলেন, তুমি যদি আমার পরে বেঁচে থাক, তবে অচিরেই (দেখবে), তিন প্রকারে কুরআন পাঠ করা হবে: ১. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ২. তর্ক-বিতর্ক করার উদ্দেশ্যে এবং ৩. দুনিয়া (মাল-সম্পদ) কামাইয়ের উদ্দেশ্যে। আর তা দ্বারা যে যা-ই অন্বেষণ করবে, তা সে পাবে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ سَمِعْتُ عَمِّي إِيَاسَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ أَخَذَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بِيَدِي ثُمَّ قَالَ إِنَّكَ إِنْ بَقِيتَ سَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ فَصِنْفٌ لِلَّهِ وَصِنْفٌ لِلْجِدَالِ وَصِنْفٌ لِلدُّنْيَا وَمَنْ طَلَبَ بِهِ أَدْرَكَ
তাখরীজ: তাহক্বীক্ব, উস্তায আলী রিযা, মুসনাদু আলী নং ৭৩৪। তিনি একে যয়ীফ বলেছেন। তবে তা সেরূপ তথা যয়ীফ নয়।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৬৯. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললো, আপনার কুফাবাসী যিকিরকারী (অধিক কুরআন পাঠকারী খারেজীগণ) ভাইগণ আপনাকে সালাম প্রদান করেছেন। তখন তিনি বললেন, তাদের প্রতি সালাম। তাদেরকে আদেশ করো যে, তারা যেন কুরআনের হাতে তাদের আনুগত্যের লাগাম প্রদান করে (অর্থাৎ- তারা যেন কুরআনের হুকুমের আনুগত্য করে ও তার সাথে লেগে থাকে)। ফলে কুরআন তাদেরকে সরল-সোজা ও সহজ পথের দিকে অনুপ্রাণীত করবে এবং তাদেরকে বাড়াবাড়ি-জুলুম ও কাঠিন্য-কঠোরতা হতে দুরে রাখবে।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِأَبِي الدَّرْدَاءِ إِنَّ إِخْوَانَكَ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ مِنْ أَهْلِ الذِّكْرِ يُقْرِئُونَكَ السَّلَامَ فَقَالَ وَعَلَيْهِمْ السَّلَامُ وَمُرْهُمْ فَلْيُعْطُوا الْقُرْآنَ بِخَزَائِمِهِمْ فَإِنَّهُ يَحْمِلُهُمْ عَلَى الْقَصْدِ وَالسُّهُولَةِ وَيُجَنِّبُهُمْ الْجَوْرَ وَالْحُزُونَةَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২৭ নং ১০২১১; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭০. হারিছ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম কতক লোক সেখানে কথাবার্তায় নিমগ্ন। তখন আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি কি দেখছেন না যে, মসজিদে লোকেরা বাকবিতণ্ডায় নিমগ্ন হয়ে আছে? তখন তিনি বললেন, তারা কি তাই করছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, শোন, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “অচিরেই ফিতনাসমূহ আবির্ভাব হবে।” আমি বললাম, তা হতে বের হওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, “আল্লাহর কিতাব। আল্লাহর কিতাবে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের সকল সংবাদ রয়েছে এবং তোমাদের পরবর্তীদের সংবাদও রয়েছে, এবং তোমাদের মধ্যকার প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকাম রয়েছে। আর তা হলো চুড়ান্ত সত্য, এটি কোনো ঠাট্টা-তামাশার বস্তু নয়। দাপট-অহংকারবশত: যে ব্যক্তি একে বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। আর যে ব্যক্তি এ ব্যতীত অন্য কোথাও হেদায়েত-পথনির্দেশনা অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।
আর এ হলো আল্লাহর মজবুত রশি; আর এ হলো প্রজ্ঞাপুর্ণ যিকির; আর এ হলো সিরাতুল মুস্তাক্বীম-সরল-সোজা পথ। এ হলো সেই বস্তু যার মাধ্যমে প্রবৃত্তি-মনমর্জি বক্র হয় না, আর এর দ্বারা জবান অস্পষ্ট হয় না। আর এ থেকে উলামাগণ কখনো পরিতৃপ্ত হয় না; বার বার পাঠেও তা কখনো জীর্ণ ও পুরাতন হয় না; এর বিস্ময়সমূহ কখনো শেষ হয় না; এ হলো সেই কুরআন যা শুনে জ্বিনেরা এ কথা না বলে পারেনি যে, إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً (অর্থ: “আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি।” সুরা জ্বিন: ১) আর এ হলো সেই কুরআন, যার দ্বারা কেউ কথা বললে সত্য বলে; যার দ্বারা কেউ বিচার-ফায়সালা করলে, সে ন্যায়বিচার করে; এর দ্বারা যে আমল করে, সে প্রতিদান লাভ করলো; আর এর দিকে যে আহ্বান করলো, সে ’সিরাতুল মুস্তাক্বিম’ বা সরল পথের দিশা পেল।” (আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন,) হে আওয়ার, তুমি এ কুরআনকে অবলম্বন-অনুসরণ করো।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ الْجُعْفِيُّ عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ عَنْ أَبِي الْمُخْتَارِ الطَّائِيِّ عَنْ ابْنِ أَخِي الْحَارِثِ عَنْ الْحَارِثِ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا أُنَاسٌ يَخُوضُونَ فِي أَحَادِيثَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فَقُلْتُ أَلَا تَرَى أَنَّ أُنَاسًا يَخُوضُونَ فِي الْأَحَادِيثِ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ قَدْ فَعَلُوهَا قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَتَكُونُ فِتَنٌ قُلْتُ وَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا قَالَ كِتَابُ اللَّهِ كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ نَبَأُ مَا قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ هُوَ الَّذِي مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنْ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ فَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ وَهُوَ الَّذِي لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَلَا يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَهُوَ الَّذِي لَمْ يَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ أَنْ قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا هُوَ الَّذِي مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮২ নং ১০০৫৬; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯০৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৩৫, ১৯৩৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮১। (তিরমিযী বলেন: হাদীসটি গারীব। হামযা আয যিয়াত হতে ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। এর সনদ মাজহুল বা অজ্ঞাত। হারিছের বর্ণনা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।”
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭১. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার পরে অচিরেই আপনার উম্মাত ফিতনায় পতিত হবে। অত:পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, অথবা, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তা হতে পরিত্রাণের হওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, “মহা পরাক্রান্ত আল্লাহর কিতাব – কোনো মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না- অগ্র হতেও নয়, পশ্চাত হতেও নয়। এটা প্রজ্ঞাবান, প্রশংসনীয় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। (সুরা ফুসসিলাত: ৪২) আর যে ব্যক্তি এ ব্যতীত অন্য কোথাও হেদায়েত-পথনির্দেশনা অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। আর যে ব্যক্তি শাসন ক্ষমতা লাভ করবে, অত:পর সে এ ব্যতীত অন্যকিছু দ্বারা বিচার-ফায়সালা করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। আর এ হলো প্রজ্ঞাপুর্ণ যিকির ও সুস্পষ্ট আলোকবর্তিকা; আর সিরাতুল মুস্তাক্বীম-সরল-সোজা পথ।
এতে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের সকল খবরা-খবর এবং তোমাদের পরবর্তীদের সংবাদ রয়েছে, এবং তোমাদের মধ্যকার প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকাম রয়েছে। আর তা হলো চুড়ান্ত সত্য, এটি কোনো ঠাট্টা-তামাশার বস্তু নয়। এ হলো সেই কুরআন যা শুনে জ্বিনেরা এ কথা না বলে পারেনি যে, إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً (অর্থ: “আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। এটি সুপথে পরিচালিত করে।” সুরা জ্বিন: ১) বার বার পাঠেও তা কখনো জীর্ণ ও পুরাতন হয় না; এর উপদেশ-শিক্ষা বিস্ময়সমূহ কখনো নষ্ট হবে না এবং এর বিস্ময়সমূহ কখনো শেষ হবে না।” এরপর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হারিছকে বললেন, ’হে আওয়ার, তুমি একে (কুরআনকে) আঁকড়ে ধরো।’[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّتَكَ سَتُفْتَتَنُ مِنْ بَعْدِكَ قَالَ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ سُئِلَ مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا قَالَ الْكِتَابُ الْعَزِيزُ الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ مَنْ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَمَنْ وَلِيَ هَذَا الْأَمْرَ مِنْ جَبَّارٍ فَحَكَمَ بِغَيْرِهِ قَصَمَهُ اللَّهُ هُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَالنُّورُ الْمُبِينُ وَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ فِيهِ خَبَرُ مَنْ قَبْلَكُمْ وَنَبَأُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ وَهُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ وَهُوَ الَّذِي سَمِعَتْهُ الْجِنُّ فَلَمْ تَتَنَاهَى أَنْ قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا تَنْقَضِي عِبَرُهُ وَلَا تَفْنَى عَجَائِبُهُ ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ لِلْحَارِثِ خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ
তাখরীজ: খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুত্তাফাকীহ ১/৫৫, ৫৬; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭২. আবী হুররাহ হতে বর্ণিত, وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْراً كَثِيراً (অর্থ: “আর যাকে হিকমাত (প্রজ্ঞা) প্রদান করা হয়েছে, বস্তুত: তাকে প্রভূত কল্যাণ দেওয়া হয়েছে।” সুরা বাকারা: ২৬৯) ইবরাহীম (রহঃ) এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, (হিকমাত’ অর্থ:) কুরআনের জ্ঞান।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حُرَّةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا قَالَ الْفَهْمَ بِالْقُرْآنِ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ৩/৯০।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭৩. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, يُؤْتِى الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ (অর্থ: “আর তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত (প্রজ্ঞা) প্রদান করেন।” সুরা বাকারা: ২৬৯) এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব। যাকে ইচ্ছা তিনি কুরআন মাজীদের যথার্থ জ্ঞান দান করেন।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ وَرْقَاءَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ قَالَ الْكِتَابَ يُؤْتِي إِصَابَتَهُ مَنْ يَشَاءُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/২৩১ নং ৩০০৯; তাবারী, তাফসীর ৩/৯০।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭৪. আ’মাশ হতে বর্ণিত, খাইছামা তার স্ত্রীকে বলেন, এই তুমিই আমার বাড়িতে মদপানকারীকে প্রবেশ করতে দিয়েছ, যেখানে প্রতি তিন দিনে পুরো কুরআন পঠিত হতো।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ خَيْثَمَةَ قَالَ قَالَ لِامْرَأَتِهِ إِيَّاكِ أَنْ تُدْخِلِي بَيْتِي مَنْ يَشْرَبُ الْخَمْرَ بَعْدَ أَنْ كَانَ يُقْرَأُ فِيهِ الْقُرْآنُ كُلَّ ثَلَاثٍ
তাখরীজ: আলফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ৩/১৪৩ সহীহ সনদে; এছাড়া, আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৪/১১৫ তে সেখানে রয়েছে: খাইছামা বলেন, … আমি একজন মাত্র লোককে ভয় করি, সে আমার ভাই মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান, সে ফাসিক লোক মদপান করে। ফলে আমার বাড়িতে মদ পান করা হবে, তা আমি অপছন্দ করি। কেননা, সেখানে প্রতি তিনদিন পর কুরআন পাঠ (খতম) করা হয়।’ এর সনদ সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার মর্যাদা
৩৩৭৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা বাজার হতে কিংবা তোমাদের কোন প্রয়োজন সেরে বাড়িতে প্রবেশ করে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে কুরআনের তিনটি আয়াত পাঠ করা হতে তোমাদেরকে কিসে বাধা দেয়?[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ إِذَا رَجَعَ مِنْ سُوقِهِ أَوْ مِنْ حَاجَتِهِ فَاتَّكَأَ عَلَى فِرَاشِهِ أَنْ يَقْرَأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, যুহদ নং ৮০৭; ইবনু আদী, আল কামিল ১/২৪৯; তাবারাণী, কাবীর ১১/৩৯৮ নং ১২১১৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২০০৩, ২১৯৮ মারফু’ হিসেবে, এর সনদ সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ২. তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়
৩৩৭৬. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়।”[1]
باب خِيَارُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا النُّعْمَانُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৩ নং ১০১২১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদুল মুসনাদ ১/১৫৩; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১১;
ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩৬; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৮, ৩৯; তামাম ফী ফাওয়াইদুহ নং ১৩৬; কুযাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ১২৪১; খতীব, তারীখ ১/৪৫৯।
তিরমিযী বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবে আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (র)-এর সূত্র ছাড়া এই হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই ‘
আমরা বলছি: তবে হাদীসটি সহীহ। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২. তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়
৩৩৭৭. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে (অপরকে) কুরআন শিক্ষা দেয় অথবা (নিজে) তা শিখে।”
আবূ আব্দুর রহমান উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে কুরআন পড়িয়েছেন হাজ্জাজ আসার পুর্ব পর্যন্ত।তিনি বলেন, আমার এ বসার স্থানে তিনি আমাকে বসিয়েছিলেন।[1]
باب خِيَارُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عُثْمَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ خَيْرَكُمْ مَنْ عَلَّمَ الْقُرْآنَ أَوْ تَعَلَّمَهُ قَالَ أَقْرَأَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي إِمْرَةِ عُثْمَانَ حَتَّى كَانَ الْحَجَّاجُ قَالَ ذَاكَ أَقْعَدَنِي مَقْعَدِي هَذَا
তাখরীজ: ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২০৫; নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬১, ৬২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩২; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২২০৫, ২২০৬, ২২০৭।
আর মারফু’ অংশটুকুর আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৮। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ২/১৩৬-১৩৭; আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৭ -২৩৮; বাইহাকী, আল ই’তিকাদ পৃ: ৬২; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০-১৯।
পরিচ্ছেদঃ ২. তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়
৩৩৭৮. সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাদি: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং কুরআন (অপরকে) শিখায়।”তিনি বলেন, এরপর তিনি আমার হাত ধরে আমাকে এ স্থানে বসালেন আর আমি পাঠ করাচ্ছিলাম।[1]
باب خِيَارُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِيَارُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَ الْقُرْآنَ قَالَ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَقْعَدَنِي هَذَا الْمَقْعَدَ أُقْرِئُ
তাখরীজ: ইবনু মানসূর ১/১০২ নং ২০।
আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮১৪।
তবে হাদীসটি সহীহ পূর্বের হাদীসগুলি এর শাহিদ।
পরিচ্ছেদঃ ৩. যে ব্যক্তি কুরআন শেখার পর ভুলে যায়
৩৩৭৯. সা’দ ইবনু উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কুরআন শেখার পর তা ভুলে যায়, সে কিয়ামতের দিন হস্ত-কর্তিত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।”[1]
باب مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ثُمَّ نَسِيَهُ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عِيسَى عَنْ رَجُلٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَعَلَّمُ الْقُرْآنَ ثُمَّ يَنْسَاهُ إِلَّا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ أَجْذَمُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد عِيسَى هُوَ ابْنُ فَائِدٍ
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৬৯, ১৯৭০; আহমাদ ৫/২৮৪, ২৮৫; আবদ ইবনু হুমাইদ নং ৩০৬; বাযযার, কাশফুল আস্তার ২/২৫৪ নং ১৬৪২; আবূল ফাযল আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ১; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/১৩২; তাবারাণী, কাবীর নং ৫৩৯০, ৫৩৯২; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮৯; ইবনু আবী শাইবা ১০/৭৪ নং ১০০৪৪; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৯৬; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, কুরআনকে তুলে নেওয়ার পূর্বে তোমরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর। লোকেরা বললো, এ কুরআনের মাসহাফসমূহকে না হয় তুলে নেওয়া হলো, কিন্তু লোকদের অন্তরে যে মুখস্ত কুরআন রয়েছে, তা কিভাবে তুলে নেওয়া হবে? তিনি বললেন, এক রাতে তার নিকট আগমণকারী আসবে (এবং তাদের থেকে কুরআনকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে), অতঃপর তারা সকালে ঘুম থেকে উঠবে নিঃস্ব (কুরআন হীন) অবস্থায়। এমনকি তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমাও ভুলে যাবে। তখন তারা জাহিলী যুগের কথাবার্তা-ও কাব্য-কবিতাতে মত্ত হবে। আর এ সময় তাদের উপর প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) সংঘটিত হবে।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ نَاجِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَكْثِرُوا تِلَاوَةَ الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ قَالُوا هَذِهِ الْمَصَاحِفُ تُرْفَعُ فَكَيْفَ بِمَا فِي صُدُورِ الرِّجَالِ قَالَ يُسْرَى عَلَيْهِ لَيْلًا فَيُصْبِحُونَ مِنْهُ فُقَرَاءَ وَيَنْسَوْنَ قَوْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيَقَعُونَ فِي قَوْلِ الْجَاهِلِيَّةِ وَأَشْعَارِهِمْ وَذَلِكَ حِينَ يَقَعُ عَلَيْهِمْ الْقَوْلُ
তাখরীজ: বুখারী, কাবীর ৮/১০৭-১০৮ সংক্ষিপ্তাকারে প্রথম অংশটুকু।
ইবনুল মুবারাক, আয যুহদ নং ৮০৩ যয়ীফ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৩৪ নং ১০২৪২; ইবনু মানসূর ২/৩৩৫ নং ৯৭; হাকিম ৪/৫০৪; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮১; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৫৩ নং ৮৬৯৮, ৮৬৯৯, ৮৭০০ এর সনদ উত্তম।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮১. ইবনু আবী মুতী’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাতাদা বলতেন, তোমরা তোমাদের অন্তরগুলোকে তা দ্বারা আবাদ করো এবং তোমাদের ঘর-বাড়িগুলোকেও তা দ্বারা আবাদ কর। আমার (রাবী ইবনু আবী মুতী’) ধারণা, ’তা’ বলতে তিনি কুরআনকে বুঝিয়েছেন।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا سَلَّامٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي مُطِيعٍ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يَقُولُ اعْمُرُوا بِهِ قُلُوبَكُمْ وَاعْمُرُوا بِهِ بُيُوتَكُمْ قَالَ أُرَاهُ يَعْنِي الْقُرْآنَ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮২. যির হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক রাত্রিতে আগন্তুক এসে কুরআনকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে, ফলে কুরআনের মুসহাফে এবং কোন লোকের অন্তরে কুরআনের একটি আয়াতও বিদ্যমান থাকবে না।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ لَيُسْرَيَنَّ عَلَى الْقُرْآنِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَلَا يُتْرَكُ آيَةٌ فِي مُصْحَفٍ وَلَا فِي قَلْبِ أَحَدٍ إِلَّا رُفِعَتْ
তাখরীজ: দীঘাকারে ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৩৪ নং ১০২৪২; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮০; বুখারী, খালকু আফ’আলিল ইবাদ পৃ: ৮৬ সহীহ সনদে। আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৩. আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াকিদ হতে বর্ণিত, কাতাদা বলেন, ’যে ব্যক্তি কুরআনের নিকট বসে, অত:পর সেখান থেকে উঠে যায়, সে হয় লাভবান হয় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ অত:পর তিনি তিলাওয়াত করেন, অর্থ: “আর আমি কুরআন নাযিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও দয়া। কিন্তু তা সীমালঙ্ঘনকারীদের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” [সুরা বনী ইসরাঈল (ইসরা): ৮২][1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ مَا جَالَسَ الْقُرْآنَ أَحَدٌ فَقَامَ عَنْهُ إِلَّا بِزِيَادَةٍ أَوْ نُقْصَانٍ ثُمَّ قَرَأَ وَنُنَزِّلُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ:৫৬-৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৪. ছাবিত ইবনু আজলান আল-আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার নিকট বর্ণনা করা হতো যে, আল্লাহ তা’আলা জমিনবাসীদের উপর শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা করেন, কিন্তু যখন তিনি অল্প বয়স্ক যুবকদের হিকমাহ’ শিক্ষা করতে দেখেন, তখন তাদের উপর থেকে তা উঠিয়ে নেন। মারওয়ান বলেন, হিকমাহ অর্থ: আল-কুরআন।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا رِفْدَةُ الْغَسَّانِيُّ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ عَجْلَانَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ كَانَ يُقَالُ إِنَّ اللَّهَ لَيُرِيدُ الْعَذَابَ بِأَهْلِ الْأَرْضِ فَإِذَا سَمِعَ تَعْلِيمَ الصِّبْيَانِ الْحِكْمَةَ صَرَفَ ذَلِكَ عَنْهُمْ قَالَ مَرْوَانُ يَعْنِي بِالْحِكْمَةِ الْقُرْآنَ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৫. আবী আমর নামক এক বৃদ্ধ হতে বর্ণিত, মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পোশাক যেমন জীর্ণ-পুরাতন হয়ে যায়, তদ্রূপ অচিরেই লোকদের অন্তরে কুরআন ও জীর্ণ-পুরাতন হয়ে যাবে। ফলে তার অবক্ষয়-অবনতি ঘটবে। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তাতে কোনো মজা ও স্বাদ অনুভব করবে না। যেন নেকড়ের অন্তরের উপর তারা ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে (তাদের অন্তর নেকড়ের মত ধূর্ত হলেও উপরে তারা মেষের চামড়ার মতে পশম-কোমল পোশাক পরবে)। তাদের আমলসমূহ অত্যন্ত লোভনীয় হবে, কিন্তু তাতে ভয় মিশ্রিত থাকবে না; তারা (আমলে) শিথিলতা-অবহেলা করলেও তারা বলবে, আমরা তো অচিরেই (জান্নাতে) পৌঁছে যাব। আর যখন তারা মন্দ কাজ করবে, তখন বলবে, আমাদেরকে তো ক্ষমা করাই হবে। কেননা, আমরা তো আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করি নি।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنَا شَيْخٌ يُكَنَّى أَبَا عَمْرٍو عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ سَيَبْلَى الْقُرْآنُ فِي صُدُورِ أَقْوَامٍ كَمَا يَبْلَى الثَّوْبُ فَيَتَهَافَتُ يَقْرَءُونَهُ لَا يَجِدُونَ لَهُ شَهْوَةً وَلَا لَذَّةً يَلْبَسُونَ جُلُودَ الضَّأْنِ عَلَى قُلُوبِ الذِّئَابِ أَعْمَالُهُمْ طَمَعٌ لَا يُخَالِطُهُ خَوْفٌ إِنْ قَصَّرُوا قَالُوا سَنَبْلُغُ وَإِنْ أَسَاءُوا قَالُوا سَيُغْفَرُ لَنَا إِنَّا لَا نُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি। তবে মুহাম্মদ ইবনু নাসর, কিয়ামুল লাইল এ আবী লাইলা হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল মান্নান হা/৩৬১০ দ্র:–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৬. ’আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এটা খুবই খারাপ কথা যে, তোমাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক কেননা, উটের রশি থেকে উটের পলায়নের চেয়েও তা মানুষের অন্তর থেকে দ্রুত গতিতে চলে যায়।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بِئْسَمَا لِأَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ وَاسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ أَسْرَعُ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنْ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهَا
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০৩২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৫১৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৬২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৮৪ তে। এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৪, ৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৭. উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, আর তার ব্যাপারে যত্নবান হও এবং তা সুন্দর আওয়াজে পাঠ কর এবং তার (জ্ঞান) অর্জন করতে থাকো। কেননা যার হাতে আমার জীবন, অথবা, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম- অবশ্যই রশি ছিড়ে পলায়নপর উটের চেয়েও তা অধিক পলায়নপর।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى يَعْنِي ابْنَ عُلَيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ تَعَلَّمُوا كِتَابَ اللَّهِ وَتَعَاهَدُوهُ وَتَغَنَّوْا بِهِ وَاقْتَنُوهُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَوْ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنْ الْمَخَاضِ فِي الْعُقُلِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৭৭ নং ১০০৪০; আহমাদ ৪/১৪৬, ১৫০, ১৫৩; নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৯,৬০; মাওকুফ হিসেবে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৮. (অপর সনদে) উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, আর তার ব্যাপারে যত্নবান হও, তা সংরক্ষণ কর এবং তা সুন্দর আওয়াজে পাঠ করতে থাকো। কেননা যার হাতে আমার জীবন, অথবা, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম- অবশ্যই রশি ছিড়ে পলায়নপর উটের চেয়েও তা অধিক পলায়নপর।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعَلَّمُوا كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَتَعَاهَدُوهُ وَاقْتَنُوهُ وَتَغَنَّوْا بِهِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنْ الْمَخَاضِ فِي الْعُقُلِ
তাখরীজ: নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২৯০, ২৯১ নং ৮০০, ৮০১, ৮০২; আওসাত নং ৩২১১।
আমাদের বক্তব্য: হাদীসটি সহীহ। আগের টীকাটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৮৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৮৯. ইবনু আবী মুলাইকা (রহঃ) হতে বর্ণিত, ইকরিমাহ ইবনু আবূ জাহল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুরআনকে তার মুখমণ্ডলের উপর রেখে বলতেন, ’আমার রবের কিতাব, আমার রবের কিতাব।’[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ كَانَ يَضَعُ الْمُصْحَفَ عَلَى وَجْهِهِ وَيَقُولُ كِتَابُ رَبِّي كِتَابُ رَبِّي
তাখরীজ: হাকিম, ৩/২৪৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২২২৯; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩৭১ নং ১০১৮।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কুরআন (সংরক্ষণের) প্রতি যত্নবান হওয়া
৩৩৯০. ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) ফজর সালাত আদায় করার পর সুর্য্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কুরআন পড়তেন। রাবী বলেন, ছাবিতও এরূপ করতেন।[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ قَالَ كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ قَرَأَ الْمُصْحَفَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ وَكَانَ ثَابِتٌ يَفْعَلُهُ
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/৭৫।
পরিচ্ছেদঃ ৫. কুরআন আল্লাহর বাণী
৩৩৯১. ইয়াযীদ ইবনু যুরাঈ হতে বর্ণিত,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا مَا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آَمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ
(অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ মশা অথবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্রতর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে লজ্জাবোধ করেননা, সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে যে, তা সত্যই তাদের রবের পক্ষ হতে। আর যারা কাফির হয়েছে, তারা বলবে যে, এসকল নগন্য বস্তুর উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই বা কি? তিনি এর দ্বারা অনেককে বিপথগামী করে থাকেন এবং এর দ্বারা অনেককে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, আর্ এর দ্বারা তিনি শুধু ফাসিকদেরকেই (পাপাচারী, অনাচারী) বিপথগামী করে থাকেন।” (সুরা বাকারা: ২৬)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কাতাদা বলেন, এর অর্থ: তারা জানে যে, এটি দয়াময় আল্লাহর কালাম বা বাণী।’[1]
باب الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ قَالَ أَيْ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ كَلَامُ الرَّحْمَنِ
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ১/১৮৯; সেখানে অতিরিক্ত রয়েছে: ‘এবং তা আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সত্য।’ এর সনদও সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ৫. কুরআন আল্লাহর বাণী
৩৩৯২. আতিয়্যাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর নিকট তাঁর নিজ কালাম (বাণী)-এর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কোন কালাম নেই; এবং বান্দা কর্তৃক বার বার পঠিত আর কোনো কালামই আল্লাহর নিকট তাঁর নিজ কালামের চেয়ে অধিক প্রিয় নয়।[1]
باب الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ كَلَامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ كَلَامِهِ وَمَا رَدَّ الْعِبَادُ إِلَى اللَّهِ كَلَامًا أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ كَلَامِهِ
তাখরীজ: বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৪৪। এটি আতিয়ার বক্তব্য (মাওকুফ) হিসেবেও তিনি বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. কুরআন আল্লাহর বাণী
৩৩৯৩. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরতের পূর্বে) নিজেকে হজ্জের মওসুমে বিভিন্ন গোত্রের কাছে পেশ করে বলতেন: “এমন কোন ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে তার সম্প্রদায়ে নিয়ে যাবে? কেননা কুরায়শরা তো আমার রবের কালাম পৌঁছে দিতে আমাকে বাধা দিচ্ছে।”[1]
باب الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الثَّقَفِيُّ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ نَفْسَهُ فِي الْمَوْسِمِ عَلَى النَّاسِ فِي الْمَوْقِفِ فَيَقُولُ هَلْ مِنْ رَجُلٍ يَحْمِلُنِي إِلَى قَوْمِهِ فَإِنَّ قُرَيْشًا مَنَعُونِي أَنْ أُبَلِّغَ كَلَامَ رَبِّي
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৩৯০; ইবনু আবী শাইবা ১৪/৩১০ নং ১৮৪৩১; আবূ দাউদ, সুন্নাহ ৪৭৩৪; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন ২৯২৬; বুখারী, খালকু আফ’আলিল ইবাদ পৃ: ৬০; বাইহাকী, আল ইতিকাদ পৃ: ৬১; আবূ নুয়াইম, দালাইল নং ২১৭;; হাকিম, ২/৬১৩; ইবনু কাছীর, আল বিদায়া ৩/১৪৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১১৮।
পরিচ্ছেদঃ ৫. কুরআন আল্লাহর বাণী
৩৩৯৪. আবু যা’রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ কুরআন হলো আল্লাহর কালাম। ফলে তিনি তোমাদের সেসব অপরাধ ক্ষমা করবেন না, যা তোমরা তোমাদের মন-মর্জিমত এতে (এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে) সংযোজন করার দ্বারা করেছো।[1]
باب الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي الزَّعْرَاءِ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ فَلَا أَعْرِفَنَّكُمْ فِيمَا عَطَفْتُمُوهُ عَلَى أَهْوَائِكُمْ
তাখরীজ: বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৪২; আজুরী, আশ-শরীয়াহ পৃ: ৭৮ সহীহ সনদে; আরো দেখুন, মা’রিফাতু কুর্রাউল কিবার ১/৫২-৫৩;
বাইহাকী, আল ইতিকাদ পৃ: ৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৬. সকল বাণীর উপর আল্লাহর কালাম (বাণী)-এর মর্যাদা
৩৩৯৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান ও বরকতময় রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, কুরআন পাঠের ব্যস্ততা যাকে আমার কাছে প্রার্থনা করা থেকে এবং আমার যিকর বিরত রাখে আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে উত্তম প্রতিদান দিব। সব কালামের উপর আল্লাহর কালামের মর্যাদা সেরূপ যেরূপ সকল সৃষ্টি উপর আল্লাহর মর্যাদা রয়েছে।”[1]
باب فَضْلِ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّرْجُمَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَغَلَهُ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ عَنْ مَسْأَلَتِي وَذِكْرِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ ثَوَابِ السَّائِلِينَ وَفَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন ২৯২৭; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৭৪; উকাইলী, আয যুআফা ৪/৪৯; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৬; ইবনু হিব্বান, মাজরুহীন ২/২৭৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১০৬; বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৮; আল ই’তিকাদ পৃ: ৬২; শুয়াবুল ঈমান নং ২০১৫; ইবনুল আম্বারী, আল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা … (এর মুহাক্বিক্ব লম্বা করে এ দু’জন রাবী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য উল্লেখ করেছেন।–অনুবাদক))
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উমার ইবনুল খাত্তাব হতে ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হিমানী, আল মুসনাদ, যা হাফিজ তার ফাতহুল বারী ৯/৬৬ তে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, মুসনাদুশ শিহাব ২/৩২৬ নং ১৪৫৫। এ সনদে সাফওয়ান বিন আবী সুহবাহ রয়েছে যার সম্পর্কে ইখতিলাফ রয়েছে।
(এ সনদের সাফওয়ান বিন আবী সুহবাহকে মুহাক্বিক্ব ছিকাহ বলে গণ্য করেছেন এবং ইয়াহইয়া আল হিমানীর হাদীসকে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।–অনুবাদক।); এছাড়া, বুখারী, খালকু আফআলীল ইবাদ পৃ: ১০৯; কাবীর ২/১১৫ যয়ীফ সনদে।
তবে এর মুতাবিয়াত বর্ণনা করেছেন উছমান ইবনু যাফর হতে বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৭২ তে। আর তিনি বিশ্বস্ত রাবী।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৭/৩১৩ তে বর্ণিত। আর এটি হাসান হাদীস ইনশা আল্লাহ। এরপর অপর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা হতে, দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১০/২৩৭ নং ৯৩২০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৭৩, ৫৭৪; আল লা’আলী আল মাসনু’আহ ২/৩৪২-৩৪৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬. সকল বাণীর উপর আল্লাহর কালাম (বাণী)-এর মর্যাদা
৩৩৯৬. শাহর ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সৃষ্টিকুলের কালামের উপর আল্লাহর কালামের মর্যাদা সেরূপ যেরূপ সকল সৃষ্টি উপর আল্লাহর মর্যাদা।”[1]
باب فَضْلِ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَشْعَثَ الْحُدَّانِيِّ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى كَلَامِ خَلْقِهِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩৯; আবু দাউদ, মারাসীল নং ৫৩৫; আবূ ইয়ালা, মু’জামুস শুয়ূখ নং ২৯৪; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭০৫; বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৯; শুয়াবুল ঈমান নং ২২০৮ আবী হুরাইরা হতে, আর তা মাওকুফ … সনদ যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ৬. সকল বাণীর উপর আল্লাহর কালাম (বাণী)-এর মর্যাদা
৩৩৯৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে-সকল কিছুর চেয়ে কুরআন আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয়।”[1]
باب فَضْلِ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ شُيُوخِ مِصْرَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ الْقُرْآنُ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ
তাখরীজ: আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৮। এতে মিথ্যাবাদী রাবী রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. যখন তোমাদের মাঝে কুরআন নিয়ে মতভেদ হয়, তখন উঠে যাও
৩৩৯৮. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের (মনের) অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।”[1]
باب إِذَا اخْتَلَفْتُمْ بِالْقُرْآنِ فَقُومُوا
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا هَارُونُ الْأَعْوَرُ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ جُنْدُبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفْتُمْ عَلَيْهِ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০৬০; মুসলিম, ঈলম ২৬৬৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ১৫১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩২, ৭৫৯।
এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৬৭-২৬৮। এটি সামনেও আসছে মুরসাল ও মারফু’ হিসেবে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. যখন তোমাদের মাঝে কুরআন নিয়ে মতভেদ হয়, তখন উঠে যাও
৩৩৯৯. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মনের অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।”[1]
باب إِذَا اخْتَلَفْتُمْ بِالْقُرْآنِ فَقُومُوا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا
তাখরীজ: তবে পূর্বের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭. যখন তোমাদের মাঝে কুরআন নিয়ে মতভেদ হয়, তখন উঠে যাও
৩৪০০. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের (মনের) অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।”[1]
باب إِذَا اخْتَلَفْتُمْ بِالْقُرْآنِ فَقُومُوا
حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا
তাখরীজ: এটি পূর্বের ৩৩৯৩ নং হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৮. যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত
৩৪০১. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের কতককে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি; আবার তাদের কতককে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি; আবার তাদের কতক লোককে ঈমান ও কুরআন উভয়ই প্রদান করা হয়েছে; আবার কতক লোককে ঈমান ও কুরআন কোনটিই প্রদান করা হয়নি। এরপর তিনি এসকল লোকদের দৃষ্টান্ত দিতে লাগলেন। তিনি বলেন, যাকে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এক প্রকার সুগন্ধি গুল্মের মত যার স্বাদ তিক্ত। আর যাকে কুরআন ও ঈমান উভয়ই প্রদান করা হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন কমলালেবুর মত যা সুগন্ধযুক্ত, আবার খেতেও সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন ও ঈমান কোনটিই প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোন সুগন্ধও নেই।[1]
باب مَثَلِ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مِنْ النَّاسِ مَنْ يُؤْتَى الْإِيمَانَ وَلَا يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَلَا يُؤْتَى الْإِيمَانَ وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَا يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَلَا الْإِيمَانَ ثُمَّ ضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا قَالَ فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ الْإِيمَانَ وَلَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ فَمَثَلُهُ مَثَلُ التَّمْرَةِ حُلْوَةُ الطَّعْمِ لَا رِيحَ لَهَا وَأَمَّا مَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَلَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ فَمَثَلُ الْآسَةِ طَيِّبَةُ الرِّيحِ مُرَّةُ الطَّعْمِ وَأَمَّا الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ فَمَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ طَيِّبَةُ الرِّيحِ حُلْوَةُ الطَّعْمِ وَأَمَّا الَّذِي لَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ وَلَا الْإِيمَانَ فَمَثَلُهُ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ مُرَّةُ الطَّعْمِ لَا رِيحَ لَهَا
আর এটি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ: ৩৮৭ সহীহ সনদে; সংক্ষিপ্তাকারে ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২৯ নং ১০২২০ সনদ সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ৮. যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত
৩৪০২. আবূ মূসা আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এ কমলা লেবুর মত যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত। আর যে মু’মিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর মুনাফিক যে কুরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হান জাতীয় লতার মত, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর ঐ মুনাফিক যে কুরআন একেবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোন সুগন্ধও নেই।[1]
باب مَثَلِ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَرِيحُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ طَعْمُهَا حُلْوٌ وَلَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০২০; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৭২৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১, ৭৭০, ৭৭১।
এছাড়াও, রমহরমুজী, আল আমছাল নং ৪৭; আলিমুদ্দীন সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১৫১; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ১৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ৮. যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত
৩৪০৩. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাকে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হানা জাতীয় লতা-গুল্মের মত যা সুগন্ধযুক্ত, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যাকে কুরআন ও ঈমান উভয়ই প্রদান করা হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন কমলালেবুর মত যা সুগন্ধযুক্ত, আবার খেতেও সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন ও ঈমান কোনটিই প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যা র্দুগন্ধযুক্ত।[1]
باب مَثَلِ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ مَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْإِيمَانَ وَلَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَلَا رِيحَ لَهَا وَمَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَلَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ الْآسَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الَّذِي لَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ وَلَا الْقُرْآنَ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ رِيحُهَا خَبِيثٌ وَطَعْمُهَا خَبِيثٌ
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ: ৩৮৭ সহীহ সনদে; এটি গত হয়েছে নং ৩৩৯৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. এ কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ কোন কোন জাতীর উত্থান ঘটাবেন এবং কোন কোন জাতির পতন ঘটাবেন
৩৪০৪. নাফি’ ইবনু ’আবদুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি ’উসফান নামক স্থানে ’উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে মক্কার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। তিনি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে সালাম দেন। তখন ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেন, উপত্যকাবাসী (বেদুঈন)-দের জন্য তুমি কাকে প্রশাসক নিয়োগ করেছ? নাফি’ বলেন, আমি ইবনু আবযা কে তাদের প্রশাসক নিয়োগ করেছি। ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইবনু আবযা কে? তিনি বলেন, সে আমাদের একজন মুক্তদাস। ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি একজন মুক্তদাসকে জনগণের প্রশাসক নিয়োগ করলে? তিনি বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে তো মহান আল্লাহর কিতাবের বিশেষজ্ঞ আলিম, ফারায়িয সম্পর্কে অভিজ্ঞ। ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, শোন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা এই কিতাবের দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।”[1]
باب إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْقُرْآنِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ آخَرِينَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِعُسْفَانَ وَكَانَ عُمَرُ اسْتَعْمَلَهُ عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَنْ اسْتَخْلَفْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي فَقَالَ نَافِعٌ اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْهِمْ ابْنَ أَبْزَى فَقَالَ عُمَرُ وَمَنْ ابْنُ أَبْزَى فَقَالَ مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا فَقَالَ عُمَرُ فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ فَقَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ
তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৭ ও এর পরে নম্বরবিহীনভাবে; বাইহাকী, সালাত ৩/৮৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ২১০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭২।
এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মুশকিলীল আছার ৩/৫৭; আব্দুর রাযযাক নং ২০৯৪৩; আবীল ওয়ালীদ, আখবারু মক্কা ২/১৫২; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে ব্যক্তি মনযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনে তার মর্যাদা
৩৪০৫. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, তার জন্য একটি বিনিময়; আর যে ব্যক্তি তা মনযোগসহকারে শ্রবন করে তার জন্য রয়েছে দু’টি বিনিময়।[1]
باب فَضْلِ مَنْ اسْتَمَعَ إِلَى الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ إِنَّ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ لَهُ أَجْرٌ وَإِنَّ الَّذِي يَسْتَمِعُ لَهُ أَجْرَانِ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে ব্যক্তি মনযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনে তার মর্যাদা
৩৪০৬. আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াতও মনোযোগসহকারে শুনবে, তা তার জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ হবে।[1]
باب فَضْلِ مَنْ اسْتَمَعَ إِلَى الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا رَزِينُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ اسْتَمَعَ إِلَى آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৬০১২; ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১. যে ব্যক্তি তিলাওয়াতে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে
৩৪০৭. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কুরআনের সুদক্ষ পাঠক সম্মানিত লিপিকার মালাকের (ফিরিশতার) সাথে থাকবে। আর খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি (বারবার) কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।”[1]
باب فَضْلِ مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ وَهَمَّامٌ قَالَا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ فَهُوَ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ وَهُوَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِ فَلَهُ أَجْرَانِ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর নং ৪৯৩৭; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৬৭ তে।
এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭০, ৭১, ৭২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৯, ৩০; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩, ৪, ৫; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৯৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১৪/১৩৪; তামাম ফী ফাওয়াইদ নং ১১৯৬-১১৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ১১. যে ব্যক্তি তিলাওয়াতে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে
৩৪০৮. ইসমাঈল ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত, ওয়াহব যিমারী বলেন, আল্লাহ যাকে কুরআন দিয়েছেন, আর সে দিন রাত্রি তা পাঠ করে এবং কুরআন অনুযায়ী আমল করে এবং তার আনুগত্যের মধ্যেই মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামত দিবসে তিনি তাকে লিপিকার ও অনুগত-বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাথে উঠাবেন।
(বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেন, লিপিকার অর্থ: ফিরিশতা এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণ আ:।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তির কুরআনের প্রতি আগ্রহী, আর তা তার থেকে ছুটে যায় (মুখস্ত রাখতে পারে না), কিন্তু সে তা (পড়া বা মুখস্ত করা) ছাড়ে না, তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তির কুরআনের প্রতি আগ্রহী, আর তা তার থেকে ছুটে যায় (মুখস্ত রাখতে পারে না), কিন্তু সে এর অনুসরণের মধ্যেই মৃত্যু বরণ করে, তবে সে ব্যক্তি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম বলে গণ্য। আর তাকে লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে, যেমন ঈগল পাখিকে সকল পাখির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন সবুজ-শ্যামল বাগানকে এর আশপাশের ভূমির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে।
এরপর কিয়ামত দিবসে তাকে বলা হবে: সেসব লোকগুলো কোথায়, যারা আমার কিতাব তিলাওয়াত করতো, পশুপালের পেছনে লেগে থাকা যাদেরকে (তা থেকে) ভূলিয়ে রাখতে পারিনি? ফলে তাদেরকে (জান্নাতে) অমরত্ব ও নিয়ামত সমুহ দেওয়া হবে। আর তাদের পিতা-মাতা যদি আনুগত্যের মাঝে মৃত্যুবরণ করে থাকে, তবে তাদের উভয়ে মাথায় রাজমুকুট পরানো হবে। তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের আমল তো এ পর্যন্ত পৌঁছে না (এমন আমল তো আমরা করতে পারিনি যার বিনিময়ে আমরা এটি পেতে পারি)? তখন মহান আল্লাহ বলবেন, নিশ্চয়ই, কারণ তোমাদের সন্তানেরা আমার কিতাব পাঠ করতো (যার বিনিময়ে তোমাদেরকে তা দেওয়া হয়েছে)।[1]
باب فَضْلِ مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ
حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ وَهْبٍ الذِّمَارِيِّ قَالَ مَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ وَمَاتَ عَلَى الطَّاعَةِ بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ السَّفَرَةِ وَالْأَحْكَامِ قَالَ سَعِيدٌ السَّفَرَةُ الْمَلَائِكَةُ وَالْأَحْكَامُ الْأَنْبِيَاءُ قَالَ وَمَنْ كَانَ حَرِيصًا وَهُوَ يَتَفَلَّتُ مِنْهُ وَهُوَ لَا يَدَعُهُ أُوتِيَ أَجْرَهُ مَرَّتَيْنِ وَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ حَرِيصًا وَهُوَ يَتَفَلَّتُ مِنْهُ وَمَاتَ عَلَى الطَّاعَةِ فَهُوَ مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَفُضِّلُوا عَلَى النَّاسِ كَمَا فُضِّلَتْ النُّسُورُ عَلَى سَائِرِ الطَّيْرِ وَكَمَا فُضِّلَتْ مَرْجَةٌ خَضْرَاءُ عَلَى مَا حَوْلَهَا مِنْ الْبِقَاعِ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ قِيلَ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يَتْلُونَ كِتَابِي لَمْ يُلْهِهِمْ اتِّبَاعُ الْأَنْعَامِ فَيُعْطَى الْخُلْدَ وَالنَّعِيمَ فَإِنْ كَانَ أَبَوَاهُ مَاتَا عَلَى الطَّاعَةِ جُعِلَ عَلَى رُءُوسِهِمَا تَاجُ الْمُلْكِ فَيَقُولَانِ رَبَّنَا مَا بَلَغَتْ هَذَا أَعْمَالُنَا فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ ابْنَكُمَا كَانَ يَتْلُو كِتَابِي
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সুরা ফাতিহার ফযীলত
৩৪০৯. আব্দুল মালিক ইবনু উমাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) সকল রোগের ঔষধ।”[1]
باب فَضْلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي فَاتِحَةِ الْكِتَابِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭০; মুত্তাকী আল হিন্দ, কানযুল উম্মাল নং ২৫০০ ও খতীব তাবরীযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭০ এবং সুয়ূতী, দুররে মানসূর ১/৫ তে একে দারেমী ও বাইহাকীর শুয়াবুল ঈমানের দিকে সম্বোন্ধিত করেছেন। সুয়ুতী বলেন, এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।’ আরো দেখুন, আসরারুল মারফু’আ নং ৩১৩ ও কাশফুল খ’ফা নং ১৮১৬।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সুরা ফাতিহার ফযীলত
৩৪১০. আবূ সা’ঈদ ইবনু মু’আল্লা আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমি একদা মসজিদে নাববীতে সালাত আদায় করছিলাম,) এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গমণ করেন। তিনি বললেন, “আল্লাহ কি বলেননি যে, “ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা সাড়া দেবে আল্লাহ্ ও রাসূলের ডাকে, যখন তিনি তোমাদেরকে ডাক দেন।” (সূরাহ আনফালঃ ২৪)?” তারপর তিনি আমাকে বললেন, “আমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই আমি কি তোমাকে কুরআনের এক অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিব না?। এরপর যখন তিনি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন তিনি বললেন, الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক।” (সুরা ফাতিহাহ: ১) এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল তোমাদেরকেই দেয়া হয়েছে।”[1]
باب فَضْلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى الْأَنْصَارِيِّ قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُمْ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর নং ৪৪৭৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৬৮৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৭ তে।
এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৫; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ২/৭৭; আলিমুদ্দীন সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১১৪।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সুরা ফাতিহার ফযীলত
৩৪১১. উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) হলো ’সাব’উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত)।”[1]
باب فَضْلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৪৬; আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, যাওয়াইদু আলাল মুসনাদ ৫/১১৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ৫০০; হাকিম ১/৫৫৭ ও ২/২৫৭-২৫৮; বাইহাকী, সালাত ২/৩৭৫-৩৭৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৭৭-৭৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সুরা ফাতিহার ফযীলত
৩৪১২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তাওরাত ও ইনজিল ও যাবূর এবং কুরআনে এর অনুরূপ- অর্থাৎ ’উম্মুল কুরআন’ (ফাতিহা)-এর অনুরূপ কোনো সুরা নাযিল করা হয়নি। আর এটিই হলো ’সাবউল মাছানী’ (বারংবার পঠিত সাতটি আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।”[1]
باب فَضْلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أُنْزِلَتْ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ وَالْقُرْآنِ مِثْلُهَا يَعْنِي أُمَّ الْقُرْآنِ وَإِنَّهَا لَسَبْعٌ مِنْ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৮৭৫ ও তাফসীর নং ৩১২৫; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১১৫-১১৬।
তবে এর মুতাবিয়াত রয়েছে কুতাইবার সুত্রে তিরমিযী তে যা এর সনদকে সহীহতে পরিণত করে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সুরা ফাতিহার ফযীলত
৩৪১৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল হামদুলিল্লাহ্ (সুরা ফাতিহাহ) হল, ’উম্মুল কুরআন’, ’উম্মুল কিতাব’ ও সা’বউল মাছানী’ (বারংবার পঠিত সাতটি আয়াত)।”[1]
باب فَضْلِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَمْدُ لِلَّهِ أُمُّ الْقُرْآنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِي
তাখরীজ: তিরমিযী, তাফসীর নং ৩১২৪ তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ; আহমাদ, আল মুসনাদ ২/৪৪৮; বুখারী, তাফসীর নং ৪৭০৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮৭; বাইহাকী, সালাত ২/৩৭৬; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৫৭; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ২/৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সূরা বাক্বারার ফযীলত
৩৪১৪. আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যে বাড়িতে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, তা থেকে শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে বের হয়ে যায়।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَا مِنْ بَيْتٍ يُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ إِلَّا خَرَجَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضَرِيطٌ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৫ সনদ সহীহ; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৯; তাবারাণী, আওসাত নং ২২৬৯; সাগীর ১/৫৩-৫৪; কাবীর ৯/১৩৮ নং ৮৬৪৩; হাকিম নং ২০৬২, ২০৬৩।আর এটি সামনে আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সূরা বাক্বারার ফযীলত
৩৪১৫. খালিদ ইবনু মা’দান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সূরা বাকারা শিক্ষা করাতে কল্যাণ রয়েছে এবং তা পরিত্যাগ করাতে পরিতাপ রয়েছে। আর বাতিলপন্থীগণ (যাদুকররা) এটি (মোকাবেলা করতে) সক্ষম হবে না। আর এটি হলো কুরআনের শামিয়ানা স্বরূপ।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ تَعْلِيمُهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكُهَا حَسْرَةٌ وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ وَهِيَ فُسْطَاطُ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: আমি এটি খালিদের উপর মাওকুফ (তার বক্তব্য হিসেবে) আর কোথাও পাইনি। দেখুন, দুররে মানসূর ১/২০।
তবে এটি মারফু’ (আবূ উমামাহ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে) বর্ণিত আছে সহীহ মুসলিম ২৫২ (৮০৪) তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সূরা বাক্বারার ফযীলত
৩৪১৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক বস্তুর চুড়া থাকে; আর কুরআনের চুড়া হলো সুরা বাকারাহ। আবার প্রত্যেক বস্তুর মজ্জা বা শ্রেষ্ঠ অংশ থাকে; কুরআনের মজ্জা বা শ্রেষ্ঠ অংশ হলো মুফাস্সাল সুরাহ সমূহ। (সুরাহ হুজুরাত হতে শেষ পর্যন্ত)।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ سَنَامًا وَإِنَّ سَنَامَ الْقُرْآنِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَإِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ لُبَابًا وَإِنَّ لُبَابَ الْقُرْآنِ الْمُفَصَّلُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد اللُّبَابُ الْخَالِصُ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৮; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৩৮ নং ৮৬৪৪; হাকিম নং ২০৬০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৬ মাওকুফ হিসেবে।
মারফু’ হিসেবে হাকিম নং ২০৬০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৭ হাসান সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সূরা বাক্বারার ফযীলত
৩৪১৭. আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করে, তাকে জান্নাতে তার একটি তাজ বা মুকুট পরানো হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ تُوِّجَ بِهَا تَاجًا فِي الْجَنَّةِ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৫; আরও দেখুন, দুররে মানসুর ১/২১।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সূরা বাক্বারার ফযীলত
৩৪১৮. আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন শয়তান কোনো বাড়িতে সূরা বাকারা পাঠ করতে শোনে, তখন তা থেকে সে বের হয়ে যায়।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ تُقْرَأُ فِي بَيْتٍ خَرَجَ مِنْهُ
তাখরীজ: হাকিম নং ২০৬২; হাকিম ও যাহবী এর সনদকে সহীহ বলেছেন; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৯, ৪০।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪১৯. আইফা’ ইবনু আব্দুল কালাঈ’ বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলো, কুরআনের কোন সূরাটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।” (সুরা ইখলাস: ১)
লোকটি আবারও বলল, কুরআনের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন, “আয়াতুল কুরসী: (আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া আলহাইয়্যূল ক্বইয়্যূম।” (সুরাহ বাক্বারাহ: ২৫৫)
লোকটি আবার বললো, হে আল্লাহর নবী! কোন্ আয়াতটির (বরকত) আপনি ও আপনার উম্মাত লাভ করুক- আপনি তা পছন্দ করেন? তিনি বলেন, “সূরা বাক্বারার শেষাংশ; কেননা, তা আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থিত রহমতের ভাণ্ডারসমূহের অন্যতম, তা তিনি এ উম্মাতকে প্রদান করেছেন; আর দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোনো কল্যাণ নেই, যা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নেই।”[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنِي أَيْفَعُ بْنُ عَبْدٍ الْكَلَاعِيُّ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ سُورَةِ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ قَالَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ قَالَ آيَةُ الْكُرْسِيِّ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ قَالَ فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ قَالَ خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ لَمْ تَتْرُكْ خَيْرًا مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ
তাখরীজ: ছুলিছিয়াত ৬১টির মধ্যে নং ১৫ দু’ উস্তাদের তাহক্বীক্বকৃত: ১. আলী রেযা ও আহমাদ আল বাযরাহ।
হাফিজ ইবনু হাজার তার ইসাবাহ ১/২২২ তে বলেন: ‘দারেমী তার সনদে বলেন,…। এটি মুরসাল … অথবা মু’দ্বাল।’
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২০. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী এক জ্বিনের সাথে সাক্ষাৎ হলে সে তার সাথে লড়াই করতে লাগলো ফলে তিনিও তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হন। তখন লোকটি জ্বিনটিকে বললো, আমি লক্ষ্য করছি, তুমি খুব সুক্ষ্ম, কৃশকায় এবং তোমার হাতদু’টিও যেন কুকুরের হাতের মতোই (কৃশকায়)। আর তোমরা জ্বিন জাতি কি এমনই, কেবল তাদের মধ্যে তুমিই এমন (হালকা-পাতলা)? সে বললো, না, আল্লাহর কসম, আমিই তাদের মধ্যে সুঠামদেহী। তবে তুমি আমাকে পুণরায় আক্রমণ করে দেখ। তখন যদি তুমি আমাকে পরাজিত করতে পার, তবে আমি তোমার জন্য উপকারী একটি বিষয় তোমাকে শিখিয়ে দেব। ফলে তিনি তাকে পুণরায় আক্রমণ করলেন এবং তাকে পরাজিত করলেন।
অত:পর তিনি বললেন, এবার তবে আমাকে তা শিখিয়ে দাও। সে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। সে বললো, তুমি কি পাঠ করো: “আল্লাহু লা- ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যূম।” (সুরা বাক্বারাঃ ১৫৫)? তিনি বললেন, হাঁ, তা করি। সে বললো, যখন তুমি তা কোনো বাড়িতে পাঠ করবে, তখন অবশ্যই শয়তান তা থেকে বের হয়ে যাবে। আর তা গাধার গন্ধ ছড়ানোর মতো গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে বেরিয়ে যাবে। এরপর সকাল পর্যন্ত আর সেখানে প্রবেশ করবে না।[1]আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’যয়ীলু’ অর্থ সুক্ষ্ম বা পাতলা, ’শাখীতু’ অর্থ ’কৃশকায়’, ’যলীউ’ অর্থ বেশ শক্তিশালী’ এবং ’খাবাজু’ অর্থ গন্ধ।
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ لَقِيَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ رَجُلًا مِنْ الْجِنِّ فَصَارَعَهُ فَصَرَعَهُ الْإِنْسِيُّ فَقَالَ لَهُ الْإِنْسِيُّ إِنِّي لَأَرَاكَ ضَئِيلًا شَخِيتًا كَأَنَّ ذُرَيِّعَتَيْكَ ذُرَيِّعَتَا كَلْبٍ فَكَذَلِكَ أَنْتُمْ مَعْشَرَ الْجِنِّ أَمْ أَنْتَ مِنْ بَيْنِهِمْ كَذَلِكَ قَالَ لَا وَاللَّهِ إِنِّي مِنْهُمْ لَضَلِيعٌ وَلَكِنْ عَاوِدْنِي الثَّانِيَةَ فَإِنْ صَرَعْتَنِي عَلَّمْتُكَ شَيْئًا يَنْفَعُكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ تَقْرَأُ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّكَ لَا تَقْرَؤُهَا فِي بَيْتٍ إِلَّا خَرَجَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ لَهُ خَبَجٌ كَخَبَجِ الْحِمَارِ ثُمَّ لَا يَدْخُلُهُ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الضَّئِيلُ الدَّقِيقُ وَالشَّخِيتُ الْمَهْزُولُ وَالضَّلِيعُ جَيِّدُ الْأَضْلَاعِ وَالْخَبَجُ الرِّيحُ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৯/১৮৩-১৮৪ নং ৮৮২৪, ৮৮২৬; সূয়ূতী দুররে মানসুর ১/২০ এ বলেন: ইবনু আবীদ দুনিয়া, মাকাইদুশ শাইতান অধ্যায়ে ইবনু মাসউদ হতে বর্ণনা করেছেন…।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (বাড়িতে) রাতে সূরাহ বাক্বারার দশটি আয়াত পাঠ করবে, তবে শয়তান সেই রাতে সকাল পর্যন্ত আর ঐ বাড়িতে প্রবেশ করবে না। (আয়াত দশটি হলো:) প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও এর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত যার শুরু: لِلَّهِ مَا فِى السَّمَوَاتِ (“লিল্লাহি মা ফিস্ সামাওয়াতি… সুরা বাক্বারাহ: ২৮৪)[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يَدْخُلْ ذَلِكَ الْبَيْتَ شَيْطَانٌ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى يُصْبِحَ أَرْبَعًا مِنْ أَوَّلِهَا وَآيَةُ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَهَا وَثَلَاثٌ خَوَاتِيمُهَا أَوَّلُهَا لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৯/ ১৪৭ নং ৮৬৭৩। পুর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসগুলি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২২. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (বাড়িতে) সূরাহ বাক্বারার প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও আয়াতুল কুরসীর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত পাঠ করবে, তবে শয়তান এবং তার অপছন্দনীয় কোনো কিছু সেই দিন তার ও তার পরিবারের নিকটবর্তী হবে না। আর এটি যদি কোনো উন্মাদ বা জ্বিনগ্রস্ত ব্যক্তির উপর পাঠ করা হয়, তবে সে অবশ্যই সুস্থ্যতা লাভ করবে।[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ أَرْبَعَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةَ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَ آيَةِ الْكُرْسِيِّ وَثَلَاثًا مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَمْ يَقْرَبْهُ وَلَا أَهْلَهُ يَوْمَئِذٍ شَيْطَانٌ وَلَا شَيْءٌ يَكْرَهُهُ وَلَا يُقْرَأْنَ عَلَى مَجْنُونٍ إِلَّا أَفَاقَ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৬, ১৭৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪১২। আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৩. আবী ইসহাক এমন লোক হতে বর্ণনা করেছেন যিনি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছেন, আমি জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে ঘুমানোর সময় সূরা বাক্বারার শেষের এ সকল আয়াত গুলি না পড়ে। আর এগুলি হলো আরশের নিচের ধনভাণ্ডারের অন্যতম।[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَمَّنْ سَمِعَ عَلِيًّا يَقُولُ مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّ أَحَدًا يَعْقِلُ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَإِنَّهُنَّ لَمِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৬ তে সহীহ সনদে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসেবে। সূয়ূতী দুররে মানসুর ১/৩৭৮ এ বলেন: এটি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন‘দারেমী, ইবনু নাসর, ইবনু যরীস ও ইবনু মারদুবিয়াহ …।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৪. মুগীরা ইবনু সুবাঈ’ হতে বর্ণিত, যিনি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথীদের একজন ছিলেন[1]- তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (রাতে) ঘুমানোর সময় সূরাহ বাক্বারার দশটি আয়াত পাঠ করবে, তবে সেই ব্যক্তি কুরআন ভুলে যাবে না (আয়াত দশটি হলো): এর প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও এর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত।[2]
ইসহাক বলেন, ’যা সে হিফজ’ (মুখস্ত) করেছে, তা ভূলে যাবে না।
আবূ মুহাম্মদ বলেন, তাদের কেউ কেউ বলেন, মুগীরাহ ইবনু সুমাঈ।
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ الْبَقَرَةِ عِنْدَ مَنَامِهِ لَمْ يَنْسَ الْقُرْآنَ أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِهَا وَآيَةُ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَهَا وَثَلَاثٌ مِنْ آخِرِهَا قَالَ إِسْحَقُ لَمْ يَنْسَ مَا قَدْ حَفِظَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ الْمُغِيرَةُ بْنُ سُمَيْعٍ
[2] তাহক্বীক্ব: এটির সনদ মুগীরাহ পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪১৩, ২৪৭৩; সাঈদ ইবনু মানসূর ১৩৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৯৮; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৮৮২; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ১/২৩৩। তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গারীব।’ বাইহাকী এটি অপর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা পুর্বের চেয়েও অধিক দুর্বল।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৫. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী, সুরাহ ফাতিহা এবং সূরা মু’মিনের “হা-মীম” থেকে “ইলাইহিল মাসীর” পর্যন্ত (১.২.৩ নং আয়াত) তিলাওয়াত করবে তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে তার অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখবে না। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা পাঠ করবে সকাল পর্যন্ত সে তার অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখবে না।[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمُلَيْكِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ وَفَاتِحَةَ حم الْمُؤْمِنِ إِلَى قَوْلِهِ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ لَمْ يَرَ شَيْئًا يَكْرَهُهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَرَأَهَا حِينَ يُمْسِي لَمْ يَرَ شَيْئًا يَكْرَهُهُ حَتَّى يُصْبِحَ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। তবে আমরা ফাতহুল মান্নান হা/ ৩৬৫১ হতে সংযোজন করলাম: তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন নং ২৮৭৯ এবং তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব।’ বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৯৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৬. নু’মান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা একটি কিতাব লিপিবদ্ধ করেছেন। এর থেকে তিনি দুটো আয়াত নাযিল করেছেন, যে দুটোর মাধ্যমেই তিনি সূরা বাকারা শেষ করেছেন। যে বাড়িতে তিন রাত তা পাঠ করা হবে শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হবে না।”[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَرْمِيُّ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَيْ عَامٍ فَأَنْزَلَ مِنْهُ آيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا تُقْرَآنِ فِي دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبُهَا شَيْطَانٌ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩২; হাকিম নং ২০৬৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭২৬ তে।
এছাড়াও, আহমাদ ৪/২৭৪; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৮৮২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪০০।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৭. আবূ মাস’ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ যদি রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেদু’টিই তার জন্য যথেষ্ট হবে।”[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْآيَتَيْنِ الْآخِرَتَيْنِ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলূল কুরআন নং ৫০০৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮০৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৭ তে।
এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬১; নাসাঈ, ফাযাইলূল কুরআন নং ২৮, ২৯, ৪৩; আব্দুর রাযযাক নং ৬০২০;
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৮. আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আযম) এই দু’ আয়াতের মধ্যে নিহিত আছে: (অনুবাদ): “আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী।” (বাক্বারাঃ ২৫৫) এবং ’’আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ।’’ (২: ১৬৩)[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ
তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৬/৪৬১; ইবনু আবী শাইবা ১০/২৭২ নং ৯৪১২; ইবনু মাজাহ, দু’আ ৩৮৫৫; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৯৬; তিরমিযী, দাওয়াত নং ৩৪৭২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৮২; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ১/৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১২৬১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৮৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সুরা বাকারার প্রথমাংশ ও আয়াতুল কুরসীর ফযীলত
৩৪২৯. জুবাইর ইবনু নুফাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুরাহ বাক্বারাহ সমাপ্ত করেছেন এমন দু’টি আয়াত দ্বারা যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে তাঁর আরশের নিচের ভাণ্ডার হতে। ফলে তোমরা এ আয়াত দু’টি শিক্ষা কর এবং তোমাদের নারীদেরকে শিখাও, কেননা, এ হলো রহমত, কুরআন এবং দু’আ।”[1]
باب فَضْلِ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ
حَدَّثَنَا مُجَاهِدٌ هُوَ ابْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ خَتَمَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ بِآيَتَيْنِ أُعْطِيتُهُمَا مِنْ كَنْزِهِ الَّذِي تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَعَلَّمُوهُنَّ وَعَلِّمُوهُنَّ نِسَاءَكُمْ فَإِنَّهُمَا صَلَاةٌ وَقُرْآنٌ وَدُعَاءٌ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মারাসীল নং ৯১; হাকিম নং ২০৬৭; তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৪ মুরসাল হিসেবে।
আর হাকিম নং ২০৬৬ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪০৩ তে আবী যার হতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, যয়ীফ সনদে মুত্তাসিল হিসেবে।
মুসলিম হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন: “আমাকে সুরা বাক্বারার শেষাংশ দেওয়া হয়েছে আরশের নিচের ভাণ্ডার হতে।”
আমরা বলছি: এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/৩৮৩ ও ১৫১, ১৮০; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন ৫৩; নাসাঈ,ফাযাইলূল কুরআন নং ৪৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৯৯। এটি গত হয়েছে নং ৩৪১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সূরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরান এর ফযীলত
৩৪৩০. বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁকে আমি বলতে শুনেছি যে, “তোমরা সূরা বাক্বারা শিক্ষা কর, কেননা, এ দু’টি মনোহর জ্যোতি; আর তা শিক্ষা করাতে কল্যাণ রয়েছে এবং তা পরিত্যাগ করাতে পরিতাপ রয়েছে। আর বাতিলপন্থীগণ (যাদুকররা) এটি (মোকাবেলা করতে) সক্ষম হবে না।”
এরপর তিনি কিছু সময় চুপ করে থাকলেন। অত:পর তিনি বললেন: “তোমরা সূরা বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ শিক্ষা কর, কেননা, সে দুঁটি যেন সমুজ্জল জ্যোতি। কেননা, এ দুটি কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে তার পাঠকের জন্য যেন সে দুটি ’গামামা’ তথা দু’ খণ্ড মেঘ- কিংবা (তিনি বলেছিলেন) সে দুটি ’গায়ায়া’- তথা মেঘ বা বাদল; কিংবা যেন সে দুটি ডানা বিস্তারকারী পাখীর দুটি ঝাঁক।
কিয়ামতের দিন যখন কবর ফেটে যাবে তখন কুরআন তার পাঠকের নিকট পর্যুদস্ত লোকের অবয়বে উপস্থিত হয়ে বলবে, তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ? তখন লোকটি বলবে, নাতো, আমি তো তোমাকে চিনি না। তখন কুরআন বলবে, আমিই তোমার সাথী, কুরআন। এই আমিই তোমাকে দিনে পিপাসার্ত-পরিশ্রান্ত করেছি এবং রাতে বিনিদ্র করেছি। আর প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ব্যবসায় মুনাফা লাভ করে, আর আজকে তুমিও তোমার সকল ব্যবসার মুনাফা লাভ করবে। তখন তার ডান হাতে রাজত্ব দান করা হবে, তার বাম হাতে অমরত্ব দান করা হবে, আর তার মাথায় মর্যাদা (এর মুকুট) পরানো হবে। আর তার মাতা-পিতাকে দু’প্রস্থ পোশাক পরিধান করানো হবে, যা দুনিয়াতে তাদের জন্য তৈরী করা হয়নি। তখন তারা উভয়ে বলবে, আমাদেরকে এ পোশাক পরিধান করানো হলো (কেন)? তখন তাদের উভয়কে বলা হবে, তোমাদের উভয়ের সন্তানদের কুরআনকে গ্রহণ করার জন্য। তখন তাকে (কুরআন পাঠককে) বলা হবে: তুমি পাঠ করতে থাকে এবং জান্নাতের সিড়ি ও কামরা বেয়ে উপরে আরোহন করতে থাকো। তার দ্রুত বা ধীর পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার আরোহন করা চলতেই থাকবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا بَشِيرٌ هُوَ ابْنُ الْمُهَاجِرِ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا الزَّهْرَاوَانِ وَإِنَّهُمَا تُظِلَّانِ صَاحِبَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ غَيَايَتَانِ أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ وَإِنَّ الْقُرْآنَ يَلْقَى صَاحِبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِينَ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ كَالرَّجُلِ الشَّاحِبِ فَيَقُولُ لَهُ هَلْ تَعْرِفُنِي فَيَقُولُ مَا أَعْرِفُكَ فَيَقُولُ أَنَا صَاحِبُكَ الْقُرْآنُ الَّذِي أَظْمَأْتُكَ فِي الْهَوَاجِرِ وَأَسْهَرْتُ لَيْلَكَ وَإِنَّ كُلَّ تَاجِرٍ مِنْ وَرَاءِ تِجَارَتِهِ وَإِنَّكَ الْيَوْمَ مِنْ وَرَاءِ كُلِّ تِجَارَةٍ فَيُعْطَى الْمُلْكَ بِيَمِينِهِ وَالْخُلْدَ بِشِمَالِهِ وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ وَيُكْسَى وَالِدَاهُ حُلَّتَيْنِ لَا يُقَوَّمُ لَهُمَا الدُّنْيَا فَيَقُولَانِ بِمَ كُسِينَا هَذَا وَيُقَالُ لَهُمَا بِأَخْذِ وَلَدِكُمَا الْقُرْآنَ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَاصْعَدْ فِي دَرَجِ الْجَنَّةِ وَغُرَفِهَا فَهُوَ فِي صُعُودٍ مَا دَامَ يَقْرَأُ هَذًّا كَانَ أَوْ تَرْتِيلًا
তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৫/৩৪৮; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯২-৪৯৩ নং ১০০৯৪; ইবনু মাজাহ, দু’আ ৩৭৮১; হাকিম নং ২০৫৭; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৪।
(তবে এর শুরু হতে ‘এবং রাতে বিনিদ্র করেছি।’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন নং ৪০৮ তে।–অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সূরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরান এর ফযীলত
৩৪৩১. সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, তোমাদের এক ভাই স্বপ্নে দেখেছে যে, লোকদেরকে একটি পাহাড়ের সরু বিপজ্জনক একটি ফাটলের ভিতর ঢুকানো হচ্ছে। আর পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে দু’টি সবুজ (খেজুর) গাছ যারা ডেকে বলছিল, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন লোক আছে যে, সুরাহ বাক্বারা পাঠ করে? তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন লোক আছে যে, সুরাহ আলে ইমরাণ পাঠ করে? এরপর যখন এক ব্যক্তি বলল, হাঁ। তখন এ দু’টি গাছ তাদের (ফলের) কাঁদিসহ তার নিকটবর্তী হলো, এমনকি এ দু’টি তাদের কাঁদিসহ ঝুলে রইল। অত:পর এ ব্যক্তিকে নিয়ে এ গাছ দু’টি পাহাড়ের নিকট গর্ব করতে লাগল।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ عَنْ أَبِي يَحْيَى سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أُمَامَةَ يَقُولُ إِنَّ أَخًا لَكُمْ أُرِيَ فِي الْمَنَامِ أَنَّ النَّاسَ يَسْلُكُونَ فِي صَدْعِ جَبَلٍ وَعْرٍ طَوِيلٍ وَعَلَى رَأْسِ الْجَبَلِ شَجَرَتَانِ خَضْرَاوَانِ تَهْتِفَانِ هَلْ فِيكُمْ مَنْ يَقْرَأُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ هَلْ فِيكُمْ مَنْ يَقْرَأُ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ نَعَمْ دَنَتَا بِأَعْذَاقِهِمَا حَتَّى يَتَعَلَّقَ بِهِمَا فَتَخْطِرَانِ بِهِ الْجَبَلَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْأَعْذَاقُ الْأَغْصَانُ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩৬। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সূরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরান এর ফযীলত
৩৪৩২. মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এক ব্যক্তি সুরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ পাঠ করল। তখন তিনি (আব্দুল্লাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি এমন দু’টি সুরাহ পাঠ করলে, যাতে রয়েছে ’ইসমে আ’যম’ (আল্লাহর মহান নাম), যা দ্বারা দু’আ করলে দু’আ কবুল হয়, যা দ্বারা কোন কিছু চাইলে প্রদান করা হয়।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَرَأَ رَجُلٌ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ فَقَالَ قَرَأْتَ سُورَتَيْنِ فِيهِمَا اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى
তাখরীজ: ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৪৪ যয়ীফ সনদে।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আসমা বিনতে ইয়াযিদ হতে যা গত হয়েছে নং ৩৪২৪ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু উমামাহ হতে তাহাবী, মুশকিলীল আছার ১/৬৩; তাবারাণী, কাবীর ৮/২৮২ নং ৮৯২৫; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৪৭; হাকিম নং ১৮৬১ উত্তম সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সূরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরান এর ফযীলত
৩৪৩৩. আত্তাফ হতে বর্ণিত, কা’ব (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সুরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিনে এ সুরাহ দু’টি এসে বলবে, হে আমাদের রব্ব, এর কাছে কোনো কৈফিয়ত চাইবেন না।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عَطَّافٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ جَاءَتَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَقُولَانِ رَبَّنَا لَا سَبِيلَ عَلَيْهِ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সুরাহ আলে ইমরানের ফযীলত
৩৪৩৪. হানযালাহ আল বাকরী হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সুরাহ আলে ইমরান পাঠ করে সে লোক সম্পদশালী এবং সে স্ত্রীলোক সুসজ্জিতা।[1]
باب فِي فَضْلِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ حَنْظَلَةَ الْبَكْرِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مَنْ قَرَأَ آلَ عِمْرَانَ فَهُوَ غَنِيٌّ وَالنِّسَاءُ مُحَبِّرَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مُحَبِّرَةٌ مُزَيِّنَةٌ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৩৭-২৩৮, সেখানে স্ত্রীলোক সুসজ্জিতা’ এ অংশটুকু নেই; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৬১৫; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৫ মু’দ্বাল সনদে; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১২৪।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সুরাহ আলে ইমরানের ফযীলত
৩৪৩৫. আবুল খাইর হতে বর্ণিত, উছমান ইবনু আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরাহ আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করবে, তার জন্য কিয়ামুল লাইল’ (রাতের সালাত আদায়)-এর সাওয়াব লেখা হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ مَنْ قَرَأَ آخِرَ آلِ عِمْرَانَ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭১ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১১৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সুরাহ আলে ইমরানের ফযীলত
৩৪৩৬. মাকহুল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরাহ আলে ইমরান পাঠ করবে, তার জন্য ফিরিশতাগণ রাত পর্যন্ত রহমতের দু’আ করতে থাকবে।[1]
باب فِي فَضْلِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِلَى اللَّيْلِ
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭২ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সুরাহ আলে ইমরানের ফযীলত
৩৪৩৭. শা’বী হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নি:সম্বল হতদরিদ্র ব্যক্তির কতই না উত্তম গুপ্তধন সূরা আলে ইমরান, যা সে শেষ রাতে সালাতে পাঠ করে।[1]
باب فِي فَضْلِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ أَبُو عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ الْأَشْجَعِيُّ حَدَّثَنِي مِسْعَرٌ حَدَّثَنِي جَابِرٌ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ فِيمَا وَقَعَ فِيهِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ نِعْمَ كَنْزُ الصُّعْلُوكِ سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ يَقُومُ بِهَا فِي آخِرِ اللَّيْلِ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৩৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৬১৬; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৫ মু’দ্বাল সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. সুরাহ আলে ইমরানের ফযীলত
৩৪৩৮. আবী সালীল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (পথে) আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি উপত্যকায় আশ্রয় গ্রহণ করল, যা ছিল জ্বিনদের আবাসস্থল, যেখানে জ্বিনগ্রস্ত লোক ব্যতীত কেউ সেখানে রাত্রি যাপন করত না। আর এ উপত্যকার পাশেই দু’জন সন্ন্যাসী (দরবেশ) বাস করতো। এরপর যখন রাত্রি ঘনিয়ে এলে দরবেশদের একজন অপরজনকে বলতে লাগল, আল্লাহর কসম, লোকটি ধ্বংস হয়ে গেল।’
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি সুরা আলে ইমরান পাঠ করা আরম্ভ করল। তখন তারা (দরবেশ) দু’জন বলতে লাগলো, এ ব্যক্তি তো এমন উত্তম সুরাহ পাঠ করলো, সম্ভবত: (এর কারণে) সে মুক্তি লাভ করবে।
বর্ণনাকারী বলেন, এর সে লোকটি নিরাপত্তার সাথে সকালে উঠলো।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবূ সালীল হলেন যুরাইব বিন নুক্বাইর- তাকে ইবনু নুফাইর বলা হতো।
باب فِي فَضْلِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ قَالَ أَصَابَ رَجُلٌ دَمًا قَالَ فَأَوَى إِلَى وَادِي مَجَنَّةٍ وَادٍ لَا يُمْسِي فِيهِ أَحَدٌ إِلَّا أَصَابَتْهُ حَيَّةٌ وَعَلَى شَفِيرِ الْوَادِي رَاهِبَانِ فَلَمَّا أَمْسَى قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ هَلَكَ وَاللَّهِ الرَّجُلُ قَالَ فَافْتَتَحَ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ قَالَا فَقَرَأَ سُورَةً طَيِّبَةً لَعَلَّهُ سَيَنْجُو قَالَ فَأَصْبَحَ سَلِيمًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو السَّلِيلِ ضُرَيْبُ بْنُ نُقَيْرٍ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সুরা আন’আমের ফযীলত
৩৪৩৯. মুসাইয়্যিব ইবনু রাফি’ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাতটি তিওয়াল (লম্বা) সূরা হলো তাওরাতের ন্যায়, দু’ দু’শ আয়াতবিশিষ্ট সূরাগুলি হলো ইনজিলের ন্যায়, মাছানী (ফাতিহাহ) যাবুরের ন্যায়। আর অবশিষ্ট পুরো কুরআনই মর্যাদার অধিকারী।[1]
باب فَضَائِلِ الْأَنْعَامِ وَالسُّوَرِ
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ السَّبْعُ الطُّوَلُ مِثْلُ التَّوْرَاةِ وَالْمِئِينَ مِثْلُ الْإِنْجِيلِ وَالْمَثَانِي مِثْلُ الزَّبُورِ وَسَائِرُ الْقُرْآنِ بَعْدُ فَضْلٌ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৫৪ নং ১০৩২০।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সুরা আন’আমের ফযীলত
৩৪৪০. আব্দুল্লাহ ইবনু খলীফাহ হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সুরাহ আন’আম কুরআনের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সূরা সমূহের অন্তর্গত।[1]
باب فَضَائِلِ الْأَنْعَامِ وَالسُّوَرِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ عُمَرَ قَالَ الْأَنْعَامُ مِنْ نَوَاجِبِ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৪০; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১২৫; দেখুন, দুররে মানসুর ৩/৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সুরা আন’আমের ফযীলত
৩৪৪১. আব্দুল্লাহ ইবনু রাবাহ হতে বর্ণিত, কা’ব বলেন, তাওরাতের শুরু সূরা আন’আম দিয়ে, আর এর সমাপ্তি সূরাহ হুদ দিয়ে।[1]
باب فَضَائِلِ الْأَنْعَامِ وَالسُّوَرِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ فَاتِحَةُ التَّوْرَاةِ الْأَنْعَامُ وَخَاتِمَتُهَا هُودٌ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৫৫ নং ১০৩২৩। দেখুন, দুররে মানসুর ৩/৩৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সুরা আন’আমের ফযীলত
৩৪৪২. (উক্ত রাবী) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা জুমু’আর দিনে সুরাহ হুদ পাঠ কর।”[1]
باب فَضَائِلِ الْأَنْعَامِ وَالسُّوَرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اقْرَءُوا سُورَةَ هُودٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. সুরা আন’আমের ফযীলত
৩৪৪৩. কা’ব হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা জুমু’আর দিনে সুরাহ হুদ পাঠ কর।”[1]
باب فَضَائِلِ الْأَنْعَامِ وَالسُّوَرِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَءُوا سُورَةَ هُودٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মারাসীল নং ৫৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৩৮। আরও দেখুন, দুররে মানছুর ১/৩১৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. সূরাহ কাহফের ফযীলত
৩৪৪৪. খালিদ ইবনু মা’দান বলেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের দশ আয়াত পাঠ করবে, তার দাজ্জালের ভয় থাকবে না।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْكَهْفِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَتْنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ الْكَهْفِ لَمْ يَخَفْ الدَّجَّالَ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮০৯ তে।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮৫-৭৮৬ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৪৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৪৩; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৮২; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১২৮-১২৯; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৬৭৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. সূরাহ কাহফের ফযীলত
৩৪৪৫. যিরর ইবনু হুবাইশ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতে যেকোন সময় উঠার জন্য সূরাহ কাহফের শেষাংশ পাঠ করবে, সে সে সময়ই উঠতে পারবে।বর্ণনাকারী আব্দাহ বলেন, আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং অনুরূপ ফলই পেয়েছি।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْكَهْفِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ عَبْدَةَ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ آخِرَ سُورَةِ الْكَهْفِ لِسَاعَةٍ يُرِيدُ يَقُومُ مِنْ اللَّيْلِ قَامَهَا قَالَ عَبْدَةُ فَجَرَّبْنَاهُ فَوَجَدْنَاهُ كَذَلِكَ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৪৬; আরও দেখুন, সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১৩০।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. সূরাহ কাহফের ফযীলত
৩৪৪৬. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য তার ও বাইতুল আতিক্ব (কা’বা)-এর মধ্যবর্তী জায়গা নূরে আলোকিত হয়ে যাবে।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ الْكَهْفِ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا أَبُو هَاشِمٍ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنْ النُّورِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৪৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৪৪; নাসাঈ, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৯৫৩ মাওকুফ হিসেবে। তবে নাসাঈ, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৯৫২; তাবারাণী, আওসাত নং ১৪৭৮; হাকিম নং ২০৭২; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৪৬ মারফু’ হিসেবে।
তবে নাসাঈ বলেছেন এটি মাওকুফ হিসেবেই সঠিক।
তাবারাণী বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু কাছীর ব্যতীত আর কেউ এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেনি। বাইহাকী বলেন, এটি মাওকুফ হিসেবেই মাহফুজ (সংরক্ষিত)।
আমাদের বক্তব্য: মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করাটা হলো যিয়াদাহ (অতিরিক্ত); আর বিশ্বস্ত রাবীর ‘যিয়াদাহ’ (অতিরিক্ত বর্ণনা) গ্রহণযোগ্য। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৪৭. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা ’মুনজিয়্যাহ’ (’নাজাত দানকারী’) পাঠ কর আর তা হলো: “আলিফ লাম মীম (১) তানযীল।” [সুরা আস সিজদা: ১-২] কেননা, আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, কোন এক লোক কেবল এ সুরাটিই পাঠ করতো, এ ব্যতীত আর কোনো কিছুই পাঠ করতো না। আর সে ছিল অনেক পাপী। (মৃত্যুর পরে) এ ব্যক্তির উপর এ সুরা তার ডানা বিছিয়ে দিয়েছিল, এবং (তার জন্য আল্লাহর নিকট শাফা’আত করে) বলেছিল: হে রব্ব, তাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা, সে আমাকে প্রচুর পরিমাণে পাঠ করেছে। ফলে রব তার ব্যাপারে তার শাফা’আত কবুল করবেন। তিনি বলবেন, তার সকল পাপ পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দাও এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দাও।’[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَتْنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ اقْرَءُوا الْمُنَجِّيَةَ وَهِيَ الم تَنْزِيلُ فَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَقْرَؤُهَا مَا يَقْرَأُ شَيْئًا غَيْرَهَا وَكَانَ كَثِيرَ الْخَطَايَا فَنَشَرَتْ جَنَاحَهَا عَلَيْهِ وَقَالَتْ رَبِّ اغْفِرْ لَهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُكْثِرُ قِرَاءَتِي فَشَفَّعَهَا الرَّبُّ فِيهِ وَقَالَ اكْتُبُوا لَهُ بِكُلِّ خَطِيئَةٍ حَسَنَةً وَارْفَعُوا لَهُ دَرَجَةً
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৬ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন।
দেখুন, দুররে মানসুর ৫/১৭০-১৭১। এটি সামনেও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৪৮. কা’ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (“আলিফ লা-ম, মী-ম (১) তানযীল”) [সুরাহ আস সাজদা: ১-২] ও “তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক” (সুরাহ মুলক:১) পাঠ করবে, তার জন্য ৭০ টি সাওয়াব লেখা হবে, এর জন্য ৭০ টি পাপ মোচন করা হবে এবং এর জন্য ৭০ টি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ كَعْبٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ وَ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ كُتِبَ لَهُ سَبْعُونَ حَسَنَةً وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا سَبْعُونَ سَيِّئَةً وَرُفِعَ لَهُ بِهَا سَبْعُونَ دَرَجَةً
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৪৯. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (“আলিফ লা-ম, মী-ম (১) তানযীল”) [সুরাহ আস সাজদা: ১-২] তার পাঠকের জন্য কবরে বিতর্ক করবে। সে বলবে: হে আল্লাহ, আমি যদি আপনার কিতাবের অংশ হয়ে থাকি, তবে আপনি তার ব্যাপারে আমার শাফা’আত কবুল করুন। আর আমি যদি আপনার কিতাবের অংশ না হয়ে থাকি, তবে আপনি আপনার কিতাব থেকে আমাকে মুছে দিন। আর এটি তার উপর ডানাবিস্তারকারী পাখির মতো হবে। এরপর সে তার জন্য আল্লাহর নিকট শাফা’আত করবে। এভাবে সে তাকে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেবে। আর “তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক” (সুরাহ মুলক: ১) এর সম্পর্কে অনুরূপ (বর্ণনা করেছেন)। আর খালিদ ইবনু মা’দান এ দু’টি পাঠ না করে রাত্রি যাপন করতেন না।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا خَالِدٍ عَامِرَ بْنَ جَشِيبٍ وَبَحِيرَ بْنَ سَعْدٍ يُحَدِّثَانِ أَنَّ خَالِدَ بْنَ مَعْدَانَ قَالَ إِنَّ الم تَنْزِيلُ تُجَادِلُ عَنْ صَاحِبِهَا فِي الْقَبْرِ تَقُولُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ مِنْ كِتَابِكَ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَإِنْ لَمْ أَكُنْ مِنْ كِتَابِكَ فَامْحُنِي عَنْهُ وَإِنَّهَا تَكُونُ كَالطَّيْرِ تَجْعَلُ جَنَاحَهَا عَلَيْهِ فَيُشْفَعُ لَهُ فَتَمْنَعُهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَفِي تَبَارَكَ مِثْلَهُ فَكَانَ خَالِدٌ لَا يَبِيتُ حَتَّى يَقْرَأَ بِهِمَا
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৬ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন।
দেখুন, দুররে মানসুর ৫/১৭১।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৫০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’টি সূরাহ পাঠ না করে ঘুমাতেন করতেন না।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ لَيْثٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ وَتَبَارَكَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪২৪ নং ৯৮৬৫; আহমাদ, আল মুসনাদ ৩/৩৪০; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৮৯৪; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৪৩;
ইবনু সুন্নী, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৬৭৫; হাকিম নং ৩৫৪৫ সেখানে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে…। তিনি বলেন, আসলে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার নিকট হাদীস বর্ণনা করেননি, তাকে এ বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান কিংবা ইবনু সাফওয়ান। আর যদি এ সাফওয়ান সাফওয়ান ইবনু সালমি হয়ে তবে হাদীসটি সহীহ। আর যদি আবী সাফওয়ান ইবনু মাসউদ সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তা মুরসাল আর তিনি মাজহুল রাবী।
বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ১২০৭; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৪২ জাবির হতে সহীহ সনদে। আরও দেখুন, এ হাদীসের উপর তিরমিযীর টিকা ও মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৫৫ এবং দুররে মানসুর ৫/১৭০।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৫১. তাউস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এ দু’টি সুরাহ কে কুরআনের অন্য যে কোন সূরার চেয়ে অতিরিক্ত ৬০টি সাওয়াব প্রদানের মাধ্যমে মর্যাদাবান করা হয়েছে।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ قَالَ فُضِّلَتَا عَلَى كُلِّ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ بِسِتِّينَ حَسَنَةً
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪২৪ নং ৯৮৬৬; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩৩, ২৩৭; আব্দুর রাযযাক নং ৬০৩৫ ইবনু আবী কাছীর সূত্রে তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সূরাহ সাজদা ও সুরাহ মুলক পাঠ করার নির্দেশ দিতেন। কারণ এ দু’টি সুরার প্রত্যেক আয়াত অন্য সুরার ৭০ আয়াতের সমান। আর যে ব্যক্তি এ দু’টি সুরাহ ইশার শেষে পাঠ করবে, সে যেন তার লাইলাতুল ক্বদরে পাঠ করলো।’ আমার বক্তব্য হলো, এ সনদ মু’দ্বাল। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. সুরাহ তানযীলুস সিজদা ও তাবারাকা (মুলক) এর ফযীলত
৩৪৫২. মুররাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কোন লোককে কবরে রাখা হবে, তখন তার নিকট কবরের পার্শ্বদেশ থেকে এক (ফেরেশতা) আগমণ করে। এরপর কুরআনের তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরাহ তার পক্ষ হতে বিতর্ক করতে আরম্ভ করে।’ তিনি (বর্ণনাকারী মুররাহ) বলেন, এরপর আমি ও মাসরুক্ব লক্ষ্য করে দেখলাম, কুরআনের ’তাবারাকা’ (সুরাহ মুলক) ব্যতীত আর কোনো সুরাহ-ই তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট নয়।[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَتَبَارَكَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ مُرَّةَ يَقُولُ أُتِيَ رَجُلٌ فِي قَبْرِهِ فَأُتِيَ جَانِبُ قَبْرِهِ فَجَعَلَتْ سُورَةٌ مِنْ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً تُجَادِلُ عَنْهُ حَتَّى قَالَ فَنَظَرْنَا أَنَا وَمَسْرُوقٌ فَلَمْ نَجِدْ فِي الْقُرْآنِ سُورَةً ثَلَاثِينَ آيَةً إِلَّا تَبَارَكَ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩৪;
ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৬০ মাওকুফ হিসেবে সহীহ সনদে; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩২; আব্দুর রাযযাক নং ৬০২৫; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৪০ নং ৮৬৫১ সনদ হাসান।
পরিচ্ছেদঃ ২০. সূরাহ ত্ব-হা ও ইয়াসীন এর ফযীলত
৩৪৫৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা আসমানসমুহ ও পৃথিবী সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্বে সুরাহ ত্ব-হা ও ইয়াসীন পাঠ করলেন। যখন ফেরেশতাগণ শুনলেন, তা শুনলেন, তখন বললেন, সুসংবাদ সেই সকল লোকদের জন্য, যাদের উপর এটি নাযিল হবে। আর সুসংবাদ সেই বক্ষের জন্যও, যে এটাকে বহন (ধারণ) করবে। আর সুসংবাদ সেই মুখের জন্যও যে একে পাঠ করবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ سُورَةِ طه وَ يس
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُهَاجِرِ بْنِ الْمِسْمَارِ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ ذَكْوَانَ عَنْ مَوْلَى الْحُرَقَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَرَأَ طه وْ يس قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفِ عَامٍ فَلَمَّا سَمِعَتْ الْمَلَائِكَةُ الْقُرْآنَ قَالَتْ طُوبَى لِأُمَّةٍ يَنْزِلُ هَذَا عَلَيْهَا وَطُوبَى لِأَجْوَافٍ تَحْمِلُ هَذَا وَطُوبَى لِأَلْسِنَةٍ تَتَكَلَّمُ بِهَذَا
তাখরীজ: তাবারাণী, আওসাত ৪৩৭৩; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ নং ৬০৭; ইবনু খুযাইমা, আত তাওহীদ নং ২৩৬; ইবনু হিব্বান, মাজরুহীন ১/১০৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৫০; আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩২; ইবনু জাওযী, আল মাওযু’আত ১/১১০; ইবনু আদী, আল কামিল ১/২১৮; উকাইলী, আয যু’আফা ১৬৬; ইবনু হিব্বান ও ইবনুল জাওযী বলেন, এ মতন (বক্তব্য) মাওযু’ বা জাল। আরও দেখুন, আল লা’আলী আল মাসনু’আ ১/১০; মীযানুল ই’তিদাল ১/৬৭; মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ২১. সুরাহ ইয়াসীনের ফযীলত
৩৪৫৪. হাসান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো রাতে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরাহ ইয়াসীন পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে।[1] বর্ণনাকারী বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, এটি পুরো কুরআনের সমান মর্যাদা রাখে।[2]
باب فِي فَضْلِ يس
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَلَغَنِي عَنْ الْحَسَنِ قَالَ مَنْ قَرَأَ يس فِي لَيْلَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ أَوْ مَرْضَاةِ اللَّهِ غُفِرَ لَهُ وَقَالَ بَلَغَنِي أَنَّهَا تَعْدِلُ الْقُرْآنَ كُلَّهُ
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে দেখুন, দুররে মানসুর ৫/২৫৬। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ আগের সনদই।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে পূর্বের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১. সুরাহ ইয়াসীনের ফযীলত
৩৪৫৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিটি বস্তুরই অন্তর আছে। কুরআনের অন্তর হল সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন পাঠ করলো, সে যেন দশ বার (পূর্ণ) কুরআন পাঠ করলো।”[1]
باب فِي فَضْلِ يس
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ عَنْ هَارُونَ أَبِي مُحَمَّدٍ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ قَلْبًا وَإِنَّ قَلْبَ الْقُرْآنِ يس مَنْ قَرَأَهَا فَكَأَنَّمَا قَرَأَ الْقُرْآنَ عَشْرَ مَرَّاتٍ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৮৮৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৬০, ২০৬১; ইবনু কাছীর, তাফসীর ৬/৫৪৭; সাখাবী, জামালুল কুর্রা’ ১/২৩৪; কুযাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ১০৩৫; সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৫/২৫৬; তারগীব ২/৩৭৭; কাশফুল খফা’ নং ৭০৯; মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ২১. সুরাহ ইয়াসীনের ফযীলত
৩৪৫৬. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরাহ ইয়াসীন পাঠ করবে, সেই রাতে তাকে ক্ষমা করা হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ يس
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ خَيْثَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ يس فِي لَيْلَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ غُفِرَ لَهُ فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৬২২৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৪ তে।
বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৪৬৩, ২৪৬৪ বিচ্ছিন্ন সনদে।
জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৪ একই ভাবে বিচ্ছিন্ন সনদে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬৫ তে।
আরও দেখুন, সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৫/২৫৭; তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৭ মুরসাল হিসেবে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. সুরাহ ইয়াসীনের ফযীলত
৩৪৫৭. আতা ইবনু আবী রাবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো দিনের প্রারম্ভে (সকালে) সুরাহ ইয়াসীন পাঠ করবে, তার সকল প্রয়োজন পুর্ণ করা হবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ يس
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ خَيْثَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ يس فِي صَدْرِ النَّهَارِ قُضِيَتْ حَوَائِجُهُ
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৪৬৩, ২৪৬৪ আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বিচ্ছিন্ন সনদে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২২৪ তে।
জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৪ একই ভাবে বিচ্ছিন্ন সনদে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬৫ তে।
আরও দেখুন, সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৫/২৫৭; তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৭ মুরসাল হিসেবে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. সুরাহ ইয়াসীনের ফযীলত
৩৪৫৮. শাহর ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে সুরাহ ইয়াসীন পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার দিনটি সহজ-সাবলীল করা হবে এবং যে ব্যক্তি রাতের প্রারম্ভে (সন্ধ্যায়) সুরাহ ইয়াসীন পাঠ করবে, সকাল পর্যন্ত তার রাতটি সহজ-সাবলীল করা হবে ।”[1]
باب فِي فَضْلِ يس
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحِمَّانِيُّ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَنْ قَرَأَ يس حِينَ يُصْبِحُ أُعْطِيَ يُسْرَ يَوْمِهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَرَأَهَا فِي صَدْرِ لَيْلِهِ أُعْطِيَ يُسْرَ لَيْلَتِهِ حَتَّى يُصْبِحَ
তাখরীজ: সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৫/২৫৭ তে দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৫৯. আব্দুল্লাহ ইবনু ঈসা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ঈমানও নিষ্ঠার সাথে জুমু’আর রাতে সূরা হা-মীম আদ দুখান পাঠ করবে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সকালে উঠবে।[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّهُ مَنْ قَرَأَ حم الدُّخَانَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِيمَانًا وَتَصْدِيقًا بِهَا أَصْبَحَ مَغْفُورًا لَهُ
তাখরীজ: সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/২৪-২৫ তে দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ হতে তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন ২৮৯১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৪৭৬ বিচ্ছিন্নতাসহ ও মাতরুক রাবীসহ।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৬০. আবী রাফী’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর রাতে সূরা আদ দুখান পাঠ করবে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সকালে উঠবে এবং তাকে আয়তলোচনা হুরের সাথে বিবাহ দেওয়া হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ الدُّخَانَ فِي لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ أَصْبَحَ مَغْفُورًا لَهُ وَزُوِّجَ مِنْ الْحُورِ الْعِينِ
তাখরীজ: সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/২৪ তে দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৬১. সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হা-মীম যুক্ত সুরাসমূহকে ’নববধূ’ নামকরণ করা হয়েছে।[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كُنَّ الْحَوَامِيمُ يُسَمَّيْنَ الْعَرَائِسَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১০/৫৫৮ নং ১০৩৩৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২৪৮২।
সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৫/৩৪৪ তে দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৬২. হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সকালে সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করে, সে যদি সেই দিন মৃত্যুবরণ করে, তবে তাকে শাহাদাতের সীল (টিকিট) প্রদান করা হবে এবং সন্ধ্যায় তা পাঠ করলে সে যদি সেই রাতে মৃত্যুবরণ করে, তবে তাকে শাহাদাতের সীল লাভ প্রদান করা হবে।[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ مَنْ قَرَأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ إِذَا أَصْبَحَ فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ طُبِعَ بِطَابَعِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ قَرَأَ إِذَا أَمْسَى فَمَاتَ مِنْ لَيْلَتِهِ طُبِعَ بِطَابَعِ الشُّهَدَاءِ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২২৭।
সুয়ূতী, দুররে মানসুর ১/২০২ তে দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৬৩. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ঘুমের পূর্বে ’মুসাব্বিহাত’ (যে সকল সূরা শুরু ’সাব্বাহা বা ইউসাব্বিহু’ দিয়ে) পাঠ করতেন এবং তিনি বলতেন: “এগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা এক হাজার আয়াতের সমান।”[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَعْنٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ الْمُسَبِّحَاتِ عِنْدَ النَّوْمِ وَيَقُولُ إِنَّ فِيهِنَّ آيَةً تَعْدِلُ أَلْفَ آيَةٍ
তাখরীজ: নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৫১।
নাসাঈ বলেন, ‘মু’আবিয়া বলেন: কোন কোন আহলে ইলম ছয়টি সুরাহকে মুসাব্বিহাত গণ্য করতেন: সুরাহ হাদীদ, হাশর, ওয়াল হাওয়ারিঈন (আস সফ); সুরাহ জুমু’আ, তাগাবুন এবং সুরা আ’লা।’
এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে বুকাইয়া হতে… খালিদ ইবনু মা’দান হতে … ইরবায ইবনু সারিয়াহ হতে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম… এর সনদ যয়ীফ। বুকাইয়া এটি আন’আন শব্দে বর্ণনা করেছেন আর তিনি মুদাল্লিস।
আবূ দাউদ, আদাব ৫০৫৭; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯২২; দাওয়াত ৩৪০৩; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৫০; আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৭১৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৬৮২; তাবারাণী, কাবীর ১৮/২৪৭ নং ৬২৪।
তবে আহমাদ ৪/১২৮ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫০৩ তে বুকাইয়া সূত্রে হাদ্দাছানা শব্দে আগের সনদে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ২২. হামীম আদ দুখান ও হাওয়ামীম (হামীমযুক্ত সুরাহ সমূহ) ও মুসাব্বিহাত সূরাহসমূহের ফযীলত
৩৪৬৪. মা’কিল ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ’আউযু বিল্লাহিস্ সামি’য়ি্ল আলিমি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম’ পাঠ করবে এবং (এরপর) সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত করে দেন, যাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকেন। আর যদি সে সন্ধ্যায় পাঠ করে তবুও সে সকাল পর্যন্ত অনুরূপ (ফযীলত) পেতে থাকবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ حم الدُّخَانِ وَالْحَوَامِيمِ وَالْمُسَبِّحَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ أَبُو الْعَلَاءِ الْخَفَّافُ حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي نَافِعٍ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَالَهَا مَسَاءً فَمِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/২৬; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯২৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৮০; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩০; তাবারাণী, কাবীর ২০/২২৯ নং ৫৩৭; কিতাবুদ দু’আ নং ৩০৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫০২।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. ক্বুল ইয়া আইয়্যহাল কাফিরুন (সুরা কাফিরুন) এর ফযীলত সম্পর্কে
৩৪৬৫. আবুল হাসান মুহাজির হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদের শাসনামলে এক ব্যক্তি কুফায় এলো। এরপর আমি তাকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন। তিনি বলেন, আমার হাঁটু তাঁর হাঁটুর সঙ্গে লাগানো ছিল, এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তিকে “ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” (সুরা কাফিরুন) পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, “সে শিরক হতে মুক্তি পেল।” আবার তিনি অপর এক ব্যক্তিকে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরা ইখলাস) পাঠ করতে শুনলেন, তখন তিনি বললেন, “তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ مُهَاجِرٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ زَمَنَ زِيَادٍ إِلَى الْكُوفَةِ فَسَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسِيرٍ لَهُ قَالَ وَرُكْبَتِي تُصِيبُ أَوْ تَمَسُّ رُكْبَتَهُ فَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ قَالَ بَرِئَ مِنْ الشِّرْكِ وَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ غُفِرَ لَهُ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩০৫ সনদ সহীহ; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৪০; আহমাদ ৪/৬৩, ৬৪, ৬৫ হাসান সনদে; সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/৪০৫ তে আহমদা, ইবনু যরীস, বাগাবীর প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. ক্বুল ইয়া আইয়্যহাল কাফিরুন (সুরা কাফিরুন) এর ফযীলত সম্পর্কে
৩৪৬৬. ফুরওয়াহ ইবনু নাওফিল তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন প্রয়োজন তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? তিনি বলেন, আমি আপনার নিকট এসেছি এজন্য যে, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় (দু’আ বা যিকির) শিখিয়ে দিবেন, যা আমি ঘুমের সময় পড়তে পারি। তিনি বললেন, “যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন “ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফিরূন” (সূরাহ কাফিরূন) পাঠ করবে, এরপর তুমি তা শেষ করে ঘুমাবে। কেননা, কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তিদানকারী।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَجِيءٌ مَا جَاءَ بِكَ قَالَ جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِي شَيْئًا أَقُولُهُ عِنْدَ مَنَامِي قَالَ فَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ فَاقْرَأْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَثُمَّ نَمْ عَلَى خَاتِمَتِهَا فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنْ الشِّرْكِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ১৫৯৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৬৩, ২৩৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮৯, ৭৯০ তে। এছাড়াও, আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৬৪; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৬৩৭, ১০৬৩৮। দেখুন, সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/৪০৫। (আবূ দাউদ, আদাব ৫০৫৫; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪০৩)
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৬৭. নাওফ আল বিকালী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ কুরআনকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছেন। অত:পর তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বানিয়েছেন।[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنَا إِيَاسٌ الْبِكَالِيُّ عَنْ نَوْفٍ الْبِكَالِيِّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ جَزَّأَ الْقُرْآنَ عَلَى ثَلَاثَةِ أَجْزَاءٍ فَجَعَلَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ثُلُثَ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৬৮. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) দশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। যে ব্যক্তি তা বিশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য দু’টি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। যে ব্যক্তি তা ত্রিশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য তিনটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে।” তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তো আমাদের অনেক প্রাসাদ হবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহ (এর ভাণ্ডার) এ থেকেও অধিক প্রশস্ত।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَقِيلٍ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ بُنِيَ لَهُ بِهَا قَصْرٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَ عِشْرِينَ مَرَّةً بُنِيَ لَهُ بِهَا قَصْرَانِ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَهَا ثَلَاثِينَ مَرَّةً بُنِيَ لَهُ بِهَا ثَلَاثَةُ قُصُورٍ فِي الْجَنَّةِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَنْ لَتَكْثُرَنَّ قُصُورُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُ أَوْسَعُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ وَزَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ مِنْ الْأَبْدَالِ
তাখরীজ: তাবারাণী, আওসাত নং ২৮৩ আবী হুরাইরা হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে …। এ সনদে দু’জন যয়ীফ রাবী রয়েছে।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মুয়ায ইবনু আনাস হতে আহমাদ ৩/৪৩৭ এ, যা ইবনু কাছীর তার তাফসীর, ৫/২৫১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯৩; উকাইলী, আয যু’আফা ২/৯৬; তাবারাণী, কাবীর ২০/১৮৪ নং ৩৯৭ ও ৩৯৮ যয়ীফ সনদে।
আমাদের বক্তব্য: মুরসাল সহ এ সকল বর্ণনাগুলি একটি অপরটিকে শক্তিশালী করবে ফলে হাদীসটি হাসান স্তরে উন্নীত হবে, আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৬৯. উতবাহ ইবনু যামরাহ ইবনু হাবীব তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, যে, তিনি যখন কোন সুরাহ পাঠ শেষ করতেন তখন তারপরই তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) পাঠ করতেন।[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَرَأَ سُورَةً فَخَتَمَهَا أَتْبَعَهَا بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭০. আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ কি এতে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে?” তারা (সাহাবাগণ) বললেন, কুরআনের তৃতীয়াংশ পড়তে তো আমরা অক্ষম অথবা দুর্বল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ কুরআনকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছেন। অত:পর তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য বানিয়েছেন।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبَانَ بْنِ يَزِيدَ الْعَطَّارِ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ قَالُوا نَحْنُ أَعْجَزُ وَأَضْعَفُ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ جَزَّأَ الْقُرْآنَ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ فَجَعَلَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ثُلُثَ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী ২/২৭ নং ১৯৯২;; আহমাদ ৫/১৯৫, ৬/৪৪২, ৪৪৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব নং ২১১; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১১; নাসাঈ, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৭০১; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৫২; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৫; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৬৮-২৬৯; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারিল আসবাহান ২/২৮৬; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৩৪।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭১. হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُجَمِّعٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯০১; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৮৭; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ১২২১, ১২২২; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৪ আবূ হুরাইরা হতে মারফু’ হিসেবে; এর সনদ সহীহ।
এছাড়াও, এর সহীহ শাহিদ রয়েছে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৮০ তে। আরও দেখুন, বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৩৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭২. যির হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস: ১) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ عَنْ سَلَّامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭৩. (অপর সনদে) যির হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ
তাখরীজ: নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫০৯, ১০৫১১; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৬৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪৩, ২৬২; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৬ যয়ীফ সনদে; তাবারাণী, কাবীর ১০/১৭২ নং ১০২৪৫, ১০৪৮৪ মারফু’ হিসেবে; তায়ালিসী ২/২৬ নং ১৯৯১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ২/৮০; বাযযার, বাহরুয যুখ্খার নং ১৮৬৬ যা কাশফুল আস্তার ৩/৮৫ নং ২২৯৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২২৪-২২৫ মারফু’ হিসেবে সহীহ সনদে। ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৮৯; আহমাদ ৪/১২২ সহীহ সনদে।…
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭৪. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এ সূরাহ ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে ভালবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ সূরাহ’র ভালবাসাই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُبُّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯৩, ৭৯৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৭৪, ১৭৭৫ তে।
এছাড়াও, রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৮; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯০; ইবনু খুযাইমা নং ৫৩৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব নং ১৩০৬।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭৫. হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান তার মাতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, “কুরআনের এক তৃতীয়াংশ অথবা তার সমান।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ ثُلُثُ الْقُرْآنِ أَوْ تَعْدِلُهُ
তাখরীজ: রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৭; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪২; তাবারাণী, কাবীর ২৫/৭৪ নং ১৮২; আওসাত- মাজমাউল বাহরাইন নং ৩৪৩৪; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫২; আহমাদ ৬/৪০৪; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৩১।
মালিক, কুরআন ১৯, মুরসালরূপে এবং আবূ সাঈদ হতে সহীহ সনদে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯১ তে।…
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭৬. এক মহিলা আনসারী সূত্রে আবূ আইয়্যুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি সে মহিলার নিকট আগমণ করে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, সে দিকে কি তোমরা লক্ষ্য কর না? মহিলা বললো, সম্ভবত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য কল্যাণই নিয়ে এসেছেন। তবে তা কি? তিনি বললেন, তিনি আমাদের বলেন: “তোমাদের কেউ কি এতে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে?” তিনি বলেন, আমরা আশংকা করলাম যে, তিনি হয়তো (কুরআন পাঠের) বাড়তি নির্দেশ দিবেন, যা পালন করতে আমরা অক্ষম। ফলে আমরা তাঁর কথার প্রতি উত্তর দিলাম না। এমনকি তিনি তিনবার একথাটি বললেন। এরপর তিনি বললেন, “তোমাদের কেউ কি এতে সক্ষম নয় যে, সে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) পাঠ করবে?”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالٍ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ امْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ أَتَاهَا فَقَالَ أَلَا تَرَيْنَ إِلَى مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ رُبَّ خَيْرٍ قَدْ أَتَانَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا هُوَ قَالَ قَالَ لَنَا أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ قَالَ فَأَشْفَقْنَا أَنْ يُرِيدَنَا عَلَى أَمْرٍ نَعْجِزُ عَنْهُ فَلَمْ نَرْجِعْ إِلَيْهِ شَيْئًا حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ أَمَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ
তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৮৯৮; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫১৪, ১০৫১৬, ১০৫১৭, ১০৫১৯; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৫৪, ২৫৯,২৬৮,; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৫-২৫৬। …
আমাদের বক্তব্য: হাদীসটি সহীহ। দেখুন, এর শাহিদ হিসেবে আবী সাঈদ খুদরীর হাদীসের উপর আমাদের টীকাটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০১৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস) এর ফযীলত
৩৪৭৭. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) পঞ্চাশবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”[1]
باب فِي فَضْلِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ نُوحِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ مُحَمَّدٍ الْعَطَّارِ عَنْ أُمِّ كَثِيرٍ الْأَنْصَارِيَّةِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ خَمْسِينَ مَرَّةً غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَ خَمْسِينَ سَنَةً
তাখরীজ: ইবনু কাছীর, তাফসীর ৮/৫৪৪ তে একে আবু ইয়ালা মাউসিলী’র প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন। কিন্তু আমি মাউসিলীর কোন কিতাবে পাইনি। এবং মাউসিলীর ছাত্রদের মধ্যে ইবনু হিব্বানের সহীহ তেও পাইনি।
তবে তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯০০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৪৭, ২৫৪৮; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৬৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/২০৪ অন্য সনদে আনাস হতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণান করেছেন: “যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) দু’শবার পাঠ করবে, তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল।
এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৬৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৬৪; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/১৮৭ তে অপর সুত্রে আনাস হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন: ““যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” (সুরাহ ইখলাস: ১) দু’শবার পাঠ করবে, তার দু’শ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” এর সনদও দুর্বল। এর বক্তব্য মুযতারিব (বিক্ষিপ্ত); এতে অস্বীকৃতি রয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. মু’আওয়িযাতাইন (সুরা ফালাক্ব ও নাস) এর ফযীলত
৩৪৭৮. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কদমে (তাঁর খিদমাতে) লেগে থাকতাম। এমতাবস্থায় আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে সূরাহ হুদ ও সুরাহ ইউসূফ শিক্ষা দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: “হে উক্ববাহ! কুরআনের “ক্বুল আউযু বিরব্বিল ফালাক্ব” (সূরাহ ফালাক্ব: ১) এর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ও তার নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূরাহ তুমি কখনো পাঠ করবে না।” বর্ণনাকারী ইয়াযীদ বলেন, (উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী) আবূ ইমরান মাগরিবের সালাতে তা পাঠ করা ছাড়তেন না।[1]
باب فِي فَضْلِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَابْنُ لَهِيعَةَ قَالَا سَمِعْنَا يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ تَعَلَّقْتُ بِقَدَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرِئْنِي سُورَةَ هُودٍ وَسُورَةَ يُوسُفَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عُقْبَةُ إِنَّكَ لَنْ تَقْرَأَ مِنْ الْقُرْآنِ سُورَةً أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ وَلَا أَبْلَغَ عِنْدَهُ مِنْ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ قَالَ يَزِيدُ فَلَمْ يَكُنْ أَبُو عِمْرَانَ يَدَعُهَا كَانَ لَا يَزَالُ يَقْرَؤُهَا فِي صَلَاةِ الْمَغْرِبِ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৫৯, ৫/১৫৫; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩১২ নং ৮৬০, ৮৬২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১২১৩; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৩৪, ১৭৩৫, ১৭৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯৫, ১৮১৮, ১৮৪২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৪ তে। এর বর্ণনাগুলি বিভিন্ন রকমের।
এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৮২-২৮৯; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৭১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. মু’আওয়িযাতাইন (সুরা ফালাক্ব ও নাস) এর ফযীলত
৩৪৭৯. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাঁটছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: “হে উক্ববাহ! বল। আমি বললাম, আমি কী বলব, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেন, এরপর তিনি আমার কথার জবাবে চুপ থাকলেন। এরপর তিনি আবার বললেন, “হে উক্ববাহ! বল। আমি বললাম, আমি কী বলব, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরপর তিনি আবার বললেন, “ক্বুল আউযু বিরব্বিল ফালাক্ব” (সূরাহ ফালাক্ব: ১) এরপর আমি এর শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এর অনুরূপ কোন প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা এবং কোন আশ্রয় প্রার্থনাকারীর আশ্রয় প্রার্থনা নেই।”[1]
باب فِي فَضْلِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ مَشَيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي قُلْ يَا عُقْبَةُ فَقُلْتُ أَيَّ شَيْءٍ أَقُولُ قَالَ فَسَكَتَ عَنِّي ثُمَّ قَالَ يَا عُقْبَةُ قُلْ فَقُلْتُ أَيَّ شَيْءٍ أَقُولُ قَالَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ فَقَرَأْتُهَا حَتَّى جِئْتُ عَلَى آخِرِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ مَا سَأَلَ سَائِلٌ وَلَا اسْتَعَاذَ مُسْتَعِيذٌ بِمِثْلِهَا
তাখরীজ: নাসাঈ, আল ইসতিয়াযাহ ৮/২৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৬৪। আগের ও পরের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. মু’আওয়িযাতাইন (সুরা ফালাক্ব ও নাস) এর ফযীলত
৩৪৮০. উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার উপরে এমন কতক আয়াত নাযিল করা হয়েছে যার মত আর কখনও দেখিনি কিংবা দেখা যায় নি । অর্থাৎ তা হল ’মু-আববিযাতাইন’।[1]
باب فِي فَضْلِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ هُوَ ابْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيَّ آيَاتٌ لَمْ أَرَ أَوْ لَمْ يُرَ مِثْلَهُنَّ يَعْنِي الْمُعَوِّذَتَيْنِ
তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৪; নাসাঈ, আল ইসতিয়াযাহ ৮/২৫৪; ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৫।আগের হাদীস দু’টি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলো, তার ফযীলত
৩৪৮১. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান ও আব্বাস ইবনু মাইমুন হতে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন, তামীম দারী বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।[1]
باب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ ح وَحَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ قَالَ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসগুলি দেখুন। এবং এর শাহিদ হাদীসও সামনে আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলো, তার ফযীলত
৩৪৮২. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে মুসল্লী (সালাত আদায়কারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ بِعَشْرِ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ مِنْ الْمُصَلِّينَ
তাখরীজ: বর্ণনা করেছেন ইবনু মানসূর ১/১১৬ নং ২৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২১৯৬ মারফু’ হিসেবে। এর সনদও যয়ীফ। আবী হাতিম তার ইলাল ১/১৫১ নং ৪২২ তে এ হাদীস সম্পর্কে তার ছেলের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেন, এটি ভূল, বরং এটি তামীম ও ফুযালা’র উপর মাওকুফ (তাদের ব্কতব্য)।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলো, তার ফযীলত
৩৪৮৩. কা’ব কুরাযী হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি দশটি আয়াত (রাতের সালাতে) পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।[1]
باب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: হাকিম নং ২০৪২; কিন্তু যাহাবী বলেছেন এটি ওয়াহীন (ত্রুটিযুক্ত)। ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৮ নং ১০১৩৭। আগের ও পরের হাদীসগুলি দেখুন। আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে ইবনু খুযাইমা নং ১১৪৩; হাকিম নং ২০৪১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৭০২। দেখুন, আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৬৫০ হতে ৩৬৫৮ পর্যন্ত। আর আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের হাদীসটির আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলো, তার ফযীলত
৩৪৮৪. মুগীরাহ ইবনু আব্দুল্লাহ আল জাদলী হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের (অমনোযোগীদের) মধ্যে লিখা হবে না।[1]
باب فَضْلِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৩ ও ইবনু মানসূর ১/২৯ নং ২৪ এর সনদে জাহালাত বা অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে। আগের টি দেখুন। আর এর পরের হাদীসটিও এর শাহিদ হয়। বিস্তারিত সামনে আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৮৫. আবীল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।[1]
باب مَنْ قَرَأَ خَمْسِينَ آيَةً
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِخَمْسِينَ آيَةً لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৮ নং ১০১৩৭; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৫৮ নং ১০১৩৫ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৮৬. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে পঞ্চাশটি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে ’হাফিজগণের মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ خَمْسِينَ آيَةً
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ بِخَمْسِينَ آيَةً فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ مِنْ الْحَافِظِينَ
তাখরীজ: এর সনদ গত হয়েছে ‘দশ আয়াত পাঠের ফযীলতে’ নং ৩৪৭৯ তে। এটি সামনেও আসছে একশত আয়াত পাঠের ফযীলতে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৮৭. আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বর্ণনাকারী সালিম এর স্থলে রাশিদ ইবনু সা’দ এর নাম উল্লেখ করেছেন।[2]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يُحَنَّسَ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ أَخِي أُمِّ الدَّرْدَاءِ فِي اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَكَانَ سَالِمٍ رَاشِدُ بْنُ سَعْدٍ
তাখরীজ: এটি সামনে আসছে। দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৬৫৬।
[2] এটি এ সনদে ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৬ নং ১০১৩১ তে বর্ণনা করেছেন। আর উম্মু দারদা হতে তার কোনো বর্ণনা নেই। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৮৮. কা’ব কুরাযী হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে একশ’টি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ‘দশ আয়াত পাঠের ফযীলতে’ নং ৩৪৮০ তে। এটি সামনেও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৮৯. তামীম দারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি রাতে একশ’টি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে সেই রাতের অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।”[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قُنُوتُ لَيْلَةٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১০৩; তাবারাণী, কাবীর ২/৫০ নং ১২৫২; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৪৩৮ হাসান সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৯০. আবী সালিহ হতে বর্ণিত, কা’ব কুরাযী বলেন, যে ব্যক্তি রাতে একশ’টি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ قَالَ كَعْبٌ مَنْ قَرَأَ مِائَةَ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৭ নং ১০১৩৩ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৯১. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে একশ’টি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ‘দশ আয়াত পাঠের ফযীলতে’ নং ৩৪৭৮, ৩৪৭৯ তে। ‘পঞ্চাশ আয়াত পাঠের ফযীলতে’ নং ৩৪৮৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৯২. আবীল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৮ নং ১০১৩৫। এটি গত হয়েছে নং ৩৪৮২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি একশটি আয়াত পাঠ করবে
৩৪৯৩. হাবীব ইবনু উবাইদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ يَقُولُ مَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৮/২১১ নং ৭৭৪৮ মারফু’ হিসেবে যয়ীফ সনদে। সেখানে রয়েছে: একশ’টি’ এর পরিবর্তে দশটি আয়াত’ এর কথা।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. যে ব্যক্তি দু’শ আয়াত পাঠ করে
৩৪৯৪. হাবীব ইবনু উবাইদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দুশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَتَيْ آيَةٍ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا حَرِيزٌ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ يَقُولُ مَنْ قَرَأَ مِائَتَيْ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৮/২১১ নং ৭৭৪৮ দীর্ঘাকারে যার সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. যে ব্যক্তি দু’শ আয়াত পাঠ করে
৩৪৯৫. আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দু’শটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।”[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَتَيْ آيَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يُحَنَّسَ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ أَخِي أُمِّ الدَّرْدَاءِ فِي اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ مِائَتَيْ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৩৪৮৪ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. যে ব্যক্তি দু’শ আয়াত পাঠ করে
৩৪৯৬. মুগীরাহ ইবনু আব্দুল্লাহ আল জাদলী হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের (অমনোযোগীদের) মধ্যে লিখা হবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দু’শটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে সফলকামদের মধ্যে লিখা হবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ بِمِائَتَيْ آيَةٍ
حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ عَشْرَ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَرَأَ بِمِائَتَيْ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْفَائِزِينَ
তাখরীজ: এর প্রথম অংশটি নং ৩৪৮১ তে এবং পরবর্তী অংশ নং ৩৪৮৫ তে গত হয়েছে। বিস্তারিত সে হাদীস দু’টির টীকায় দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি একশ থেকে এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৪৯৭. আবী নাযরাহ হতে বর্ণিত, আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দশটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে ’যাকিরীন’দের (অধিক যিকিরকারীদের) মধ্যে লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) পাঁচশ’টি আয়াত পাঠ করবে, সে সকালে উঠবে অশেষ বিনিময়সহ। তাকে বলা হলো, ’ক্বিনতার’ (অঢেল, অশেষ) কী জিনিস? তিনি বললেন, ’ষাঁড়ের চামড়া ভর্তি সোনার সমপরিমাণ।’[1]
باب مَنْ قَرَأَ مِنْ مِائَةِ آيَةٍ إِلَى الْأَلْفِ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ عَشْرَ آيَاتٍ كُتِبَ مِنْ الذَّاكِرِينَ وَمَنْ قَرَأَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنْ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَرَأَ بِخَمْسِ مِائَةِ آيَةٍ إِلَى الْأَلْفِ أَصْبَحَ وَلَهُ قِنْطَارٌ مِنْ الْأَجْرِ قِيلَ وَمَا الْقِنْطَارُ قَالَ مِلْءُ مَسْكِ الثَّوْرِ ذَهَبًا
তাখরীজ: বাইহাকী, নিকাহ ৭/২৩৩ অতি সংক্ষিপ্তাকারে; তাবারাণী, আওসাত ৭৬৭৪ মারফু’ হিসেবে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে), তবে এর সনদ যয়ীফ। আমরা সেটি তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়ােইদ নং ৩৬৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি একশ থেকে এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৪৯৮. হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) একশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তবে কুরআন ঐ রাতে তার বিরূদ্ধে বাদী হবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দু’শ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে পূর্ণ রাত ইবাদতকারীদের মধ্যে লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) পাঁচশ’ হতে এক হাজারটি আয়াত পাঠ করবে, সে সকালে এমন অবস্থায় ঘুম থেকে উঠবে যে, আখিরাতে ’ক্বিনতার’ (অঢেল সম্পদ) তার প্রাপ্য হবে।” তারা বললো, ’ক্বিনতার’ (অঢেল সম্পদ) আবার কী? তিনি বললেন, বার হাজার পরিমাণ।[1]
باب مَنْ قَرَأَ مِنْ مِائَةِ آيَةٍ إِلَى الْأَلْفِ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ مِائَةَ آيَةٍ لَمْ يُحَاجَّهُ الْقُرْآنُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَمَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ مِائَتَيْ آيَةٍ كُتِبَ لَهُ قُنُوتُ لَيْلَةٍ وَمَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ خَمْسَ مِائَةِ آيَةٍ إِلَى الْأَلْفِ أَصْبَحَ وَلَهُ قِنْطَارٌ فِي الْآخِرَةِ قَالُوا وَمَا الْقِنْطَارُ قَالَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا
তাখরীজ: আর এটি তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৮৬ তে একে দারেমী’র প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন। দেখুন, তাবারী, তাফসীর ৩/২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি একশ থেকে এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৪৯৯. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) তিনশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ’ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণে বিনিময় লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি (সালাতে) সাতশ’টি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য কী (লিখা) হবে আমি জানি না। তিনি বলেন, এ সনদে আবূ নুয়াইম রয়েছে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ مِنْ مِائَةِ آيَةٍ إِلَى الْأَلْفِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثَلَاثَ مِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ وَمَنْ قَرَأَ سَبْعَ مِائَةِ آيَةٍ لَا أَدْرِي أَيَّ شَيْءٍ قَالَ فِيهَا أَبُو نُعَيْمٍ بِقَوْلِهِ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে বিভিন্ন শব্দে নং ৩৪৮২ ও ৩৪৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৫০০. হাবীব ইবনু উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবূ উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ’ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণ সাওয়াব লিখা হবে। ’ক্বিরাত’ এসেছে এ ’ক্বিনতার’ (অশেষ, অঢেল) থেকেই, যা তোমাদের পূরো দুনিয়া (’র সম্পদ) দিয়েও পরিশোধ করা যাবে না। তিনি বলেন, তোমাদের পুরো দুনিয়া (’র সম্পদ) ও তার সমতুল্য হবে না।[1]
باب مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا حَرِيزٌ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ يَقُولُ مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ مِنْ الْأَجْرِ وَالْقِيرَاطُ مِنْ ذَلِكَ الْقِنْطَارِ لَا يَفِي بِهِ دُنْيَاكُمْ يَقُولُ لَا يَعْدِلُهُ دُنْيَاكُمْ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে নং ৩৪৯৭ তে এ শব্দে: ‘যে ব্যক্তি একশ’ আয়াত পাঠ করল, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।’ এবং ৩৪৯৮ তে যার শব্দাবলী: যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) দু’শ’টি আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগতদের (ইবাদতকারীদের) মধ্যে লিখা হবে।’
পরিচ্ছেদঃ ৩১. যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৫০১. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে (সালাতে) এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ’ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণ সাওয়াব লিখা হবে। আর ’ক্বিনতার’ (অশেষ, অঢেল)-এর মধ্যে থেকে ’ক্বিরাত’ পরিমাণ সম্পদও তোমাদের এ পূরো দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী (তথা অপরিসীম বিনিময়) অর্জন করবে।[1]
باب مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ وَالْقِيرَاطُ مِنْ الْقِنْطَارِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَاكْتَنَزَ مِنْ الْأَجْرِ مَا شَاءَ اللَّهُ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে নং ৩৪৭৮, ৩৪৭৯, ৩৪৮৩ ও ৩৪৮৮ তে।
তাবারাণী, কাবীর ২/৫০, ৫১ নং ১২৫৩; আওসাত নং ৮৪৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত পরিমাণ পাঠ করে
৩৫০২. আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি (রাতের সালাতে) এক হাজার আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ’ক্বিনতার’ (অশেষ) পরিমাণ সাওয়াব লিখা হবে। আর ’ক্বিনতার’ (অশেষ, অঢেল)-এর মধ্যে থেকে ’ক্বিরাত’ পরিমাণ সম্পদ একটি বিশাল পাহাড়ের সমপরিমাণ।”[1]
باب مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يُحَنَّسَ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ أَخِي أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ أَلْفَ آيَةٍ إِلَى خَمْسِ مِائَةٍ كُتِبَ لَهُ قِنْطَارٌ مِنْ الْأَجْرِ الْقِيرَاطُ مِنْهُ مِثْلُ التَّلِّ الْعَظِيمِ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৩৪৮৪ যার শব্দ: একশ’ আয়াত পাঠ করবে’ এবং ৩৪৯২ নং এ যার শব্দ: দু’শ আয়াত পাঠ করবে’।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৩. আবী সালিহ হতে বর্ণিত, আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ’ক্বিনতার’-এর পরিমাণ হলো বার হাজার।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَبَانُ الْعَطَّارُ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ الْقِنْطَارُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৬৩ তে মারফূ’ (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা) হিসেবে যার শব্দাবলী: ‘ক্বিনতার’-এর পরিমাণ হলো বার হাজার উকিয়াহ। আর প্রত্যেক উকিয়ার মধ্যবর্তী স্থানটি আসমান ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৪. আবী নাযরাহ আল আবদী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’ক্বিনতার’ হলো ষাঁড়ের চামড়া ভর্তি সোনার সমপরিমাণ।’[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي الْأَشْهَبِ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ الْعَبْدِيِّ قَالَ الْقِنْطَارُ مِلْءُ مَسْكِ ثَوْرٍ ذَهَبًا
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৩৪৯৪ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৫. আলী ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব (রহঃ) বলেন, ’ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার পরিমাণ।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ هُشَيْمٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْقِنْطَارُ أَرْبَعُونَ أَلْفًا
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৬. মুবারক হতে বর্ণিত, হাসান (রহঃ) বলেন, তোমাদের কারো দিয়াত পরিমাণ, বার হাজার পরিমাণ।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ مُبَارَكٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْقِنْطَارُ دِيَةُ أَحَدِكُمْ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৭. ইবনু আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, ’ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার দিনার পরিমাণ।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ مُسْلِمٍ هُوَ الزَّنْجِيُّ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْقِنْطَارُ سَبْعُونَ أَلْفَ دِينَارٍ
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৮. সালিম ইবনু আবীল জা’দ মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ’ক্বিনতার’ হলো বার শত উকিয়া পরিমাণ।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ الْقِنْطَارُ أَلْفُ أُوقِيَّةٍ وَمِائَتَا أُوقِيَّةٍ
তাখরীজ: দেখুন, তাফসীর তাবারী ৩/২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. ক্বিনতার এর পরিমাণ
৩৫০৯. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, ’ক্বিনতার’ হলো চল্লিশ হাজার মিছকাল পরিমাণ।[1]
باب كَمْ يَكُونُ الْقِنْطَارُ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ الْقِنْطَارُ سَبْعُونَ أَلْفَ مِثْقَالٍ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১০. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, তিনি মারফু’ হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ শুরু করার সময় সেখানে উপস্থিত রইলো, সে যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বিজয় লাভের সময় উপস্থিত রইলো। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ শেষ (খতম) করার সময় সেখানে উপস্থিত রইলো, সে যেন (জিহাদে প্রাপ্ত সম্পদ) গণিমত বন্টনের সময় উপস্থিত রইলো।”[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ رَفَعَهُ قَالَ مَنْ شَهِدَ الْقُرْآنَ حِينَ يُفْتَحُ فَكَأَنَّمَا شَهِدَ فَتْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ شَهِدَ خَتْمَهُ حِينَ يُخْتَمُ فَكَأَنَّمَا شَهِدَ الْغَنَائِمَ تُقْسَمُ
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৭-১০৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৭; আরও দেখুন, সাখাবী, জামালুল কুর্রা’ ১/১১২।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১১. কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত, মদীনার মসজিদে এক ব্যক্তি কুরআন পাঠ করছিল, তখন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন। এরপর যখন তার খতমের দিন এলো, তিনি দাঁড়িয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ وَضَعَ عَلَيْهِ الرَّصَدَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ خَتْمِهِ قَامَ فَتَحَوَّلَ إِلَيْهِ
তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৭-১০৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১২. ছাবিত আল বুনানী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যদি রাতে কুরআন খতমের নিকটবর্তী হতেন, তবে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তা (কুরআন পাঠ) থেকে কিছুটা বাকী রাখতেন। এরপর সকাল হলে তিনি তার পরিবার-পরিজনদের একত্রিত করে তাদের সাথে নিয়ে তা খতম (শেষ) করতেন।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَالِحٌ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ قَالَ كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِذَا أَشْفَى عَلَى خَتْمِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ بَقَّى مِنْهُ شَيْئًا حَتَّى يُصْبِحَ فَيَجْمَعَ أَهْلَهُ فَيَخْتِمَهُ مَعَهُمْ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৩. ছাবিত আল বুনানী (রহঃ) হতে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন কুরআন খতম করতেন, তখন তিনি তার সন্তান-সন্তুতি ও পরিবার-পরিজনদের একত্রিত করে তাদের জন্য দু’আ করতেন।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ قَالَ كَانَ أَنَسٌ إِذَا خَتَمَ الْقُرْآنَ جَمَعَ وَلَدَهُ وَأَهْلَ بَيْتِهِ فَدَعَا لَهُمْ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১/২৪২ নং ৬৭৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭০; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১০৯।
বাইহাকী, শুয়াব ২০৭১ এ এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর সনদে একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় রাবী (মাজাহিল) রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৪. আওযাঈ হতে বর্ণিত, আব্দাহ বলেন, কোন লোক দিনের বেলায় কুরআন খতম করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। আর রাতের বেলায় কুরআন খতম (শেষ) করলে সকাল পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَبْدَةَ قَالَ إِذَا خَتَمَ الرَّجُلُ الْقُرْآنَ بِنَهَارٍ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ فَرَغَ مِنْهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ
তাখরীজ: আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৬/১১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৫. যুরারাহ ইবনু আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহ’র নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন: “’আলহাল্লুল মুরতাহিলু।’ (যে ব্যক্তি গন্তেব্যে এসেই আবার রওনা হয়ে যায়।)” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ’আলহাল্লুল মুরতাহিলু’ আবার কী? ”কুরআনের সাথী যে কুরআনের শুরু থেকেপড়ে খতম করে, আবার শেষ করেই শুরু থেকে পাঠ আরম্ভ করে। যখনই (শেষে) আগমণ করে, তখনই সে আবার রওনা হয়ে যায়।”[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ صَالِحٍ الْمُرِّيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الْحَالُّ الْمُرْتَحِلُ قِيلَ وَمَا الْحَالُّ الْمُرْتَحِلُ قَالَ صَاحِبُ الْقُرْآنِ يَضْرِبُ مِنْ أَوَّلِ الْقُرْآنِ إِلَى آخِرِهِ وَمِنْ آخِرِهِ إِلَى أَوَّلِهِ كُلَّمَا حَلَّ ارْتَحَلَ
তাখরীজ: তিরমিযী, কিরাআত নং ২৯৪৯; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬৮ নং ১২৭৮৩; আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৬০, ৬/১৭৪; হাকিম নং ২০৮৮, ২২৮৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৬৯; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৮৭; যাহাবী, মু’জামুশ শুয়ূখ ২/২৯১ সনদ যয়ীফ।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে হাকিম নং ২০৯০ তে এর সনদও যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৬. আ’মাশ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম বলেন, কোন লোক দিনের বেলায় কুরআন খতম করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। আর রাতের বেলায় কুরআন খতম (শেষ) করলে সকাল পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে।
সুলাইমান বলেন, এরপর আমার সাথীদেরকে আমি দেখেছি যে, তারা দিনের শুরুতে ও রাতের শুরুতে কুরআন খতম করতে আনন্দ বোধ করতেন।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ جَرِيرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِذَا قَرَأَ الرَّجُلُ الْقُرْآنَ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَرَأَهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ سُلَيْمَانُ فَرَأَيْتُ أَصْحَابَنَا يُعْجِبُهُمْ أَنْ يَخْتِمُوهُ أَوَّلَ النَّهَارِ وَأَوَّلَ اللَّيْلِ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০, ৫১, ৫২, ৮০; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৯ সহীহ সনদে। দেখুন,
বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭৬। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৭. (অপর সনদে) আ’মাশ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে সুলাইমানের বক্তব্যটুকু নেই।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ قَوْلُ سُلَيْمَانَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৮. আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব হতে বর্ণিত, মুহারিব ইবনু দীছার বলেন, যে ব্যক্তি তার অন্তরের অন্ত:স্থল হতে কুরআন পাঠ করবে, তবে সে দুনিয়ায় অথবা আখিরাতে একটি দু’আ লাভ করবে।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مَالِكٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ كَانَتْ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا أَوْ فِي الْآخِرَةِ
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫১৯. ইয়াযীদ ইবনু আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তালহাহ ও আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ উভয়ে বলেন: কোন লোক দিনে বা রাতে কুরআন পাঠ করলে রাত পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। অপরজন বলেছেন: তাকে ক্ষমা করা হবে।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ طَلْحَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَا مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِلَى اللَّيْلِ وَقَالَ الْآخَرُ غُفِرَ لَهُ
আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ-এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭৫ যয়ীফ সনদে। ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯০ নং ১০০৮৮ সনদ মুনকাতি’, কখনো মু’দ্বাল। তবে তালহার হাদীসটি এর শাহিদ।
তালহার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৪ মাহফুজ হলে সনদ সহীহ।
আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/২৬; সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন খতম করে ….।” এর সনদ যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২০. ক্বাযায়াহ ইবনু সুওয়াইদ হতে বর্ণিত, হুমাইদ আল আ’রাজ বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এরপর দু’আ করে, চার হাজার মালাক (ফিরিশতা) তার দু’আ সংরক্ষণে নিয়োজিত থাকে।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ ثُمَّ دَعَا أَمَّنَ عَلَى دُعَائِهِ أَرْبَعَةُ آلَافِ مَلَكٍ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২১. শু’বাহ হতে বর্ণিত, হাকাম বলেন, মুজাহিদ আমার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেন, আমরা কুরআন খতম করার ইচ্ছা করেছি, সেজন্য আপনাকে দাওয়াত করছি। আর আমাদের নিকট একথা পৌঁছেছে যে, কুরআন খতমের সময়কালীন দু’আ কবুল করা হয়।তিনি বলেন, তাহলে (কুরআন খতমের সময়) তোমরা বেশি বেশি দু’আ কর।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ بَعَثَ إِلَيَّ قَالَ إِنَّمَا دَعَوْنَاكَ أَنَّا أَرَدْنَا أَنْ نَخْتِمَ الْقُرْآنَ وَإِنَّهُ بَلَغَنَا أَنَّ الدُّعَاءَ يُسْتَجَابُ عِنْدَ خَتْمِ الْقُرْآنِ قَالَ فَدَعَوْا بِدَعَوَاتٍ
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৪৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২০৭২; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১০৭; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯১ নং ১০০৮৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২২. মুসআব ইবনু সা’দ হতে বর্ণিত, সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন লোক রাতের প্রথমভাগে (সন্ধ্যায়) কুরআন খতম করলে সকাল পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। আর রাতের শেষ ভাগে কুরআন খতম (শেষ) করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালাইকা (ফিরিশতা)-গণ তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকে। ফলে কখনো কখনো আমাদের মধ্যকার কারো (খতম করতে) কিছু অংশ বাকী থাকলে আমরা তা সন্ধ্যা পর্যন্ত পিছিয়ে দিতাম কিংবা সকাল পর্যন্ত।[1]আবূ মুহাম্মদ বলেন, সা’দ হতে এ হাদীসটি হাসান।
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا هَارُونُ عَنْ عَنْبَسَةَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ قَالَ إِذَا وَافَقَ خَتْمُ الْقُرْآنِ أَوَّلَ اللَّيْلِ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ وَإِنْ وَافَقَ خَتْمُهُ آخِرَ اللَّيْلِ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِيَ فَرُبَّمَا بَقِيَ عَلَى أَحَدِنَا الشَّيْءُ فَيُؤَخِّرَهُ حَتَّى يُمْسِيَ أَوْ يُصْبِحَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا حَسَنٌ عَنْ سَعْدٍ
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
তবে নববী, হিলইয়াতুল আবরার পৃ: ১৮৩ তে একে দারেমীর প্রতি সন্বোন্ধিত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২৩. সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে বর্ণিত, আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) বলেন, কুরআন বহন করা (হিফজ করা) জান্নাত বাসীদের সুগন্ধি হবে।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ ابْنِ أَخِي بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ حَدَّثَنِي صَفْوَانُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ حَمَلَةُ الْقُرْآنِ عُرَفَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২৪. আব্দুল মালিক হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) প্রতি দু’রাতে কুরআন খতম করতেন।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّهُ كَانَ يَخْتِمُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَتَيْنِ
তাখরীজ: আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৭৩।
আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১৮২; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৫৮; সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বায়তুল হারামে এক রাকাআতে কুরআন খতম করতাম। সনদ সহীহ। দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ২/৫০৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২৫. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি কত দিনে কুরআন খতম করতে পারি? তিনি বললেন, “তুমি এক মাসে কুরআন খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে পঁচিশ দিনে খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, “তাহলে বিশ দিনে খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, “তাহলে পনেরো দিনে খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে দশ দিনে খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে পাঁচ দিনে খতম করো।” আমি (আরো অধিক) কষ্ট করতে সক্ষম। তিনি বললেন, “না” (এর কমে করো না)।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَمْ أَخْتِمُ الْقُرْآنَ قَالَ اخْتِمْهُ فِي شَهْرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ اخْتِمْهُ فِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ اخْتِمْهُ فِي عِشْرِينَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ اخْتِمْهُ فِي خَمْسَ عَشْرَةَ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ اخْتِمْهُ فِي عَشْرٍ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ اخْتِمْهُ فِي خَمْسٍ قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ قَالَ لَا
তাখরীজ: আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৫৬, ৮৫৭ তে। এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলূল কুরআন নং ৯১; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. কুরআন খতম করা সম্পর্কে
৩৫২৬. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম না করি।[1]
باب فِي خَتْمِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا أَقْرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ
তাখরীজ: এ শব্দে আমি এটি কোথাও পাইনি। তবে, আহমাদ ২/১৫৮ তে রয়েছে: “তবে প্রতি তিন দিনে খতম করো।’ এর সনদ যয়ীফ।
আবূ দাউদ, সালাত ১৩৯১; আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/১২২ তে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তুমি প্রতি তিন দিনে তা পাঠ (খতম) কর।” এর সনদ হাসান। আগের টীকাটি দেখুন।
আর “যে তিনদিনের কমে কুরআন খতম করবে, সে তা বুঝবে না।” শব্দে গত হয়েছে। সেখানে এর তাখরীজ দিয়েছি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫২৭. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভূক্ত নয় যে কুরআনকে মধুর সুরে তিলাওয়াত করে না।”[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَهِيكٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد النَّاسُ يَقُولُونَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي نَهِيكٍ
তাখরীজ: আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯, ৭৪৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬, ৭৭ তে। এছাড়াও, দুরুক্বী, মুসনাদে সা’দ নং ১২৭; রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৯০; ইবনু কাছীর , ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১৮৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৬১৩; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২০৯, ২১০; কুযাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ১১৯৪, ১১৯৫, ১১৯৬; আব্দ ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ১৫১; তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ১৩০৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫২৮. তাউস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কুরআন পাঠে স্বর ও কিরা’আতের দিক থেকে উত্তম কোন্ ব্যক্তি? তিনি বললেন: “সেই ব্যক্তি যাকে কুরআন পাঠের সময় তুমি আল্লাহকে ভয় করতে দেখবে।”[1] তাউস বলেন, তালক (রহঃ) এরূপ ব্যক্তি ছিলেন।
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا مِسْعَرٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ طَاوُسٍ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ النَّاسِ أَحْسَنُ صَوْتًا لِلْقُرْآنِ وَأَحْسَنُ قِرَاءَةً قَالَ مَنْ إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ أُرِيتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللَّهَ قَالَ طَاوُسٌ وَكَانَ طَلْقٌ كَذَلِكَ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৪৬ নং ৯৬৯৪; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১৬৫ যয়ীফ সনদে; আবূ নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/১৯; যিকরু আখবারিল আসবাহান ২/৯০ যয়ীফ সনদে।
এছাড়া, তাবারাণী, কাবীর ১১/৭ নং ১০১৫২ ও আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ১৬৫ যয়ীফ সনদে। আরও দেখুন, ইবনু কাছীর, বিদায়াহ ৯/২৪৩; আবী শামাহ, মুরশিদুল ওয়াজীয পৃ: ১৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫২৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা অন্য কোন বিষয়ের প্রতি ঐরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না, যেরূপ কান লাগিয়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ শুনেন।”[1] তার এক সাথী বলেন, এর অর্থ উচ্চ আওয়াজের সঙ্গে কুরআন পাঠ করা।
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَأْذَنْ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ وَقَالَ صَاحِبٌ لَهُ زَادَ يَجْهَرُ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০২৩; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯২।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৫১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৯ তে।
এছাড়াও, ; ইবনু কাছীর , ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১৭৯ সহীহ সনদে।
এটি গত হয়েছে এবং সামনেও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩০. (অপর সনদে) আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত, আবূ হুরাইরাহ রাঃ বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা অন্য কোন বিষয়ের প্রতি ঐরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না যেরূপ কান লাগিয়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ শুনেন।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ كَمَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ
তাখরীজ: পূর্বের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩১. আবূ সালামাহ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলতেন, হে আবূ মূসা! “তোমাকে দাঊদ (আঃ)-এর সুমধুর কন্ঠ দান করা হয়েছে।” আর তিনি অতি সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করতেন।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ لِأَبِي مُوسَى وَكَانَ حَسَنَ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ لَقَدْ أُوتِيَ هَذَا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০৪৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৩।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৭৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৯৭ তে।
এছাড়াও, বাইহাকী, ৩/১২, ১০/২৩১; শুয়াবুল ঈমান নং ২/৫২৬; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩২. আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে দেখলেই বলতেন: হে আবূ মূসা, আমাদেরকে আমাদের রবের কথা স্মরণ করিয়ে দিন।’ তখন তিনি তাঁর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতেন।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَيْضًا أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ إِذَا رَأَى أَبَا مُوسَى قَالَ ذَكِّرْنَا رَبَّنَا يَا أَبَا مُوسَى فَيَقْرَأُ عِنْدَهُ
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১৬৩; ইবনু কাছীর , ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১৯১-১৯২। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৬৪ এর পরে; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৯৬ তে।
এছাড়াও, বাইহাকী, শাহাদাত ১০/২৩১। এটি সামনেও আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৩. আবীল আহওয়াস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের কাউকে যেনে এ অবস্থায় দেখা না যায় যে, সে এক পায়ের উপরে আরেক পা উঠিয়ে সূর করে কুরআন পাঠ করছে, আর সূরা বাক্বারা পাঠ করা ছেড়ে দিচ্ছে। কেননা, শয়তান সেই ঘর/বাড়ি হতে পলায়ন করে, যেখানে সূরা বাক্বারা পাঠ করা হয়। আর (আসবাব সামগ্রী) শূণ্য ঘরের উপমা হলো সেই অন্তরের মত যা আল্লাহর কিতাব হতে শূণ্য।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَضَعُ إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى يَتَغَنَّى وَيَدَعُ أَنْ يَقْرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَفِرُّ مِنْ الْبَيْتِ يُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَإِنَّ أَصْفَرَ الْبُيُوتِ الْجَوْفُ يَصْفَرُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৯৮ যয়ীফ সনদে দীর্ঘাকারে; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮৬ নং ১০০৭৩ সহীহ সনদে; তাবারাণী, আওসাত নং ৭৭৬২ ও সগীর ১/৫৩ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৪. সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ’র পরিবারের কোন সদস্য হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, পথ প্রদর্শক সালামাহ মদীনায় এসে তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন সালিম (রহঃ) কে বলা হলো, আপনি যদি একটু আগে আসতেন, তবে আপনি তার (সুরালো) কিরা’আত শুনতে পেতেন। এরপর তিনি (সালিম) মসজিদের দরজার নিকট আসতেই তার কিরাআত শুনতে পেলেন। তখন তিনি ফিরে এসে বললেন, এতো সুরেলা আওয়াজ, সুরেলা আওয়াজ।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي بَعْضُ آلِ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَدِمَ سَلَمَةُ الْبَيْذَقُ الْمَدِينَةَ فَقَامَ يُصَلِّي بِهِمْ فَقِيلَ لِسَالِمٍ لَوْ جِئْتَ فَسَمِعْتَ قِرَاءَتَهُ فَلَمَّا كَانَ بِبَابِ الْمَسْجِدِ سَمِعَ قِرَاءَتَهُ رَجَعَ فَقَالَ غِنَاءٌ غِنَاءٌ
তাখরীজ: এটি আমি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৫. আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত, আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট আসতেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলতেন: আপনি আমাদেরকে আমাদের রবের কথা স্মরণ করিয়ে দিন।’ তখন তিনি তাঁর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতেন।[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا مُوسَى كَانَ يَأْتِي عُمَرَ فَيَقُولُ لَهُ عُمَرُ ذَكِّرْنَا رَبَّنَا فَيَقْرَأُ عِنْدَهُ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে নং ৩৫২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৬. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা অন্য কোন বিষয়ের প্রতি ঐরূপ কান লাগিয়ে শুনেন না, যেরূপ কান লাগিয়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর উচ্চ আওয়াজে সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ শুনেন।”[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ كَأَذَنِهِ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৪/১/৭৯; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১৬২।
এটি গত হয়েছে নং ৩৫২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৭. ইবনু বুরাইদাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আবূ মূসাকে দাঊদ (আঃ)-এর সুমধুর কন্ঠ দান করা হয়েছে।” [1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَقَدْ أُوتِيَ أَبُو مُوسَى مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৪৯; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৬৩ নং ৯৯৮৭; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৩; ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৪/১/৭৯, ২/২/১০৬; এছাড়াও, বাইহাকী, শাহাদাত ১০/২৩০; হাকিম নং ৭৭৫৭ সহীহ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে এক ব্যক্তির কুরআন তিলাওয়াত শোনেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন: “এই ব্যক্তি কে?” বলা হলো, ’আবদুল্লাহ ইবনু কায়েস। তিনি বলেন: “একে দাউদ (আ.)-এর সুমধুর কন্ঠস্বর দান করা হয়েছে।”[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَ قِرَاءَةَ رَجُلٍ فَقَالَ مَنْ هَذَا قِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَقَدْ أُوتِيَ هَذَا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৬৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৯৬ তে। ((ইবনু মাজাহ, সালাত ১৩৪১; আহমাদ ২/৪৫০।-ফাতহুল মান্নান নং ৩৭৭১।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৩৯. বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের (সুমধুর) কন্ঠস্বর দ্বারা কোরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর।”[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ عَنْ الْبَرَاءِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৮৭, ১৭০৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬০।
এছাড়াও, আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ১৬০; রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ২২; ইবনু কাছীর , ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ১৯০; হাকিম ১/৫৭১-৫৭৫ তে।
((আবূ দাউদ, সালাত ১৪৬৮; নাসাঈ, সালাত ১০১৫, ১০১৬; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৩৪২।--ফাতহুল মান্নান নং ৩৭৭২।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুরআন সুমধুর সূরে পাঠ করা
৩৫৪০. বারা ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের (সুমধুর) কন্ঠস্বর দ্বারা কোরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে। কেননা, সুমধুর কণ্ঠস্বর কুরআনের সৌন্দর্য্যকে বাড়িয়ে দেয়।”[1]
باب التَّغَنِّي بِالْقُرْآنِ
دَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ زَاذَانَ أَبِي عُمَرَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حَسِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ فَإِنَّ الصَّوْتَ الْحَسَنَ يَزِيدُ الْقُرْآنَ حُسْنًا
তাখরীজ: হাকিম ১/৫৭৫। খতীব, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২২০৮ তে একে দারেমীর প্রতি সম্বোন্থিত করেছেন। আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. গানের সুরে কুরআন পাঠ করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)
৩৫৪১. আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস হতে বর্ণিত, আ’মাশ (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গানের সুরে কুরআন পাঠ করল। তখন আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সেটি অপছন্দ করলেন।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, অপরজন বর্ণনা করেছেন: কুরআন পাঠ করলো গুরাক ইবনু আবীল খাযরাম।
باب كَرَاهِيَةِ الْأَلْحَانِ فِي الْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ عَنْ الْأَعْمَشِ قَالَ قَرَأَ رَجُلٌ عِنْدَ أَنَسٍ بِلَحْنٍ مِنْ هَذِهِ الْأَلْحَانِ فَكَرِهَ ذَلِكَ أَنَسٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَقَالَ غَيْرُهُ قَرَأَ غُورَكُ بْنُ أَبِي الْخِضْرِمِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০০/৪৬৬ নং ৯৯৯৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. গানের সুরে কুরআন পাঠ করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)
৩৫৪২. ইবনু আউন হতে বর্ণিত, মুহাম্মদ বলেন, তারা কুরআনকে এরূপ গানের সুরে পাঠ করাকে বিদআত (নব উদ্ভাবন) মনে করতেন।[1]
باب كَرَاهِيَةِ الْأَلْحَانِ فِي الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ عُلَيَّةَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ كَانُوا يَرَوْنَ هَذِهِ الْأَلْحَانَ فِي الْقُرْآنِ مُحْدَثَةً
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ করেননি।–অনুবাদক)
কাযীউল কুযাত আল মারওয়ারদী তার কিতাব, “আল হাবী” তে বলেন: সূর করে কুরআন পাঠের বিষয় হলো, যদি কুরআনের শব্দে অতিরিক্ত হরকত যোগ করার দ্বারা শব্দকে তার ‘সীগাহ’ হতে বের হয়ে যায়; অথবা, হরকতসমূহকে শব্দ থেকে বাদ দেওয়া, কিংবা মদ্দ’ বা লম্বা টানযুক্ত শব্দকে খাটো টানে পড়া, অথবা, খাটো টানকে লম্বা করে পড়া অথবা, এমনভাবে টেনে পড়া যাতে শব্দটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শব্দের অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যায়- এসবই হারাম, এরূপ পাঠকারী গুনাহগার হবে….।”
কিতাব মুসনাদু দারেমী শেষ হলো, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। এর উপর মন্তব্য করেছেন ফাকীহ মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল হামীদ আল কারশী আল মিসরী মক্কায় অবস্থান করছেন। আর এটি ছিল হারাম শরীফের মাদরাসাতু মানসুরিয়াহ’তে। আল্লাহ এর দ্বারা উপকৃত করুন…।